(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: -)
جامع التحصيل في أحكام المراسيل القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: جامع التحصيل في أحكام المراسيل
المؤلف: صلاح الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدي بن عبد الله الدمشقي العلائي (ت 761 هـ)
المحقق: حمدي عبد المجيد السلفي [ت 1433 هـ]
الناشر: عالم الكتب - بيروت
الطبعة: الثانية، 1407 - 1986
عدد الأجزاء: 1
في الحاشية: أهم تعليقات التحقيق
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুরসাল হাদীসের বিধানাবলী সংবলিত সংকলন বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: মুরসাল হাদীসের বিধানাবলী সংবলিত সংকলন
লেখক: সালাহুদ্দীন আবু সাঈদ খলিল বিন কায়কালদী বিন আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকী আল-আলাঈ (মৃ. ৭৬১ হি.)
সম্পাদক: হামদী আব্দুল মাজীদ আস-সালাফী [মৃ. ১৪৩৩ হি.]
প্রকাশক: আলমুল কুতুব - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৭ - ১৯৮৬
খণ্ড সংখ্যা: ১
পাদটীকায়: গুরুত্বপূর্ণ তাহকীকী টীকা
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المحققإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ) (يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا) (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا) .
اللهم صل على محمد وآله وصحبه أجمعين.
أما بعد فإن كتاب جامع التحصيل في أحكام المراسيل تأليف الحافظ صلاح الدين العلائي من أجمع وأحسن ما ألف في موضوع الحديث المرسل وقد شهد بذلك الحفاظ من بعده وقد عزمنا بإذن الله وتوفيقه على تحقيق الكتاب بغية نشره بإشارة من بعض الإخوان المهتمين بالحديث النبوي الشريف وعلومه.
أما المؤلف فهو الشيخ الإمام العالم العلامة الحافظ الناقد المتقن المحقق المدقق صلاح الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدي العلائي الشافعي ولد في شهر ربيع الأول من سنة أربع وتسعين وستمائة من الهجرة النبوية في مدينة دمشق أخذ الحديث من كثيرين منهم الحافظ أبو الحجاج المزي والحافظ الذهبي وأخذ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
(হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।) (হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।) (হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।)
হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
অতঃপর, হাফেজ সালাহউদ্দীন আল-আলায়ী রচিত ‘জামেউত তাহসিল ফি আহকামিল মারাসিল’ গ্রন্থটি মুরসাল হাদিসের বিধান সংক্রান্ত বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম পূর্ণাঙ্গ ও শ্রেষ্ঠ একটি কাজ। তাঁর পরবর্তী যুগের হাফেজগণও এ কথার সাক্ষ্য দিয়েছেন। আমরা আল্লাহর ইচ্ছা ও তাঁর তাওফিকে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস ও এর ইলমের প্রতি আগ্রহী কিছু ভাইয়ের পরামর্শে গ্রন্থটি প্রকাশের উদ্দেশ্যে সম্পাদনা (তাহকিক) করার সংকল্প করেছি।
লেখকের পরিচয়: তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা, হাফেজ, সমালোচক, সুনিপুণ ও সূক্ষ্মদর্শী গবেষক সালাহউদ্দীন আবু সাঈদ খলিল ইবনে কাইকালদি আল-আলায়ী আশ-শাফেয়ি। তিনি হিজরি ৬৯৪ সালের রবিউল আউয়াল মাসে দামেস্ক নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাফেজ আবু আল-হাজ্জাজ আল-মিজ্জি এবং হাফেজ আয-যাহাবিসহ অনেকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং গ্রহণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٦)
الفقه من الشيخ كمال الدين بن الزملكاني وبرهان الدين الفركاح الفزاري
وتلمذ على شيخ الإسلام ابن تيمية وغيرهم. وتولى تدريس الحديث بالناصرية والأسدية وفي دار الحديث الحمصية وولي التدريس في المدرسة الصلاحية بالقدس ثم أضيف إليه درس الحديث بالتنكزية وتولى مشيخة دار الحديث السيفية وتولى في ثالث المحرم من سنة إحدى وستين وسبعمائة ودفن في مقبرة باب الرحمة بالقدس الشريف. وتلمذ عليه الكثيرون منهم الحافظ ابن كثير وعبد الوهاب بن السبكي وإبراهيم بن جماعة وابن الملقن وغيرهم. وترك آثاراً كثيرة في مختلف العلوم مما يدل على غزارة علمه فيها. وقد أحصى له بعض من ترجم له 52 مؤلفاً في مختلف العلوم. وأثنى عليه كثير من العلماء كالحافظ الذهبي وابن رافع وابن السبكي والحنبلي والحسيني وابن تغري بردى والشوكاني وغيرهم.
جامع التحصيل في أحكام المراسيل
توجد منه نسخة في مكتبة راغب باشا باستانبول برقم 236. ونسخة في المكتبة الظاهرية تحت رقم 405 حديث في 100 ورقة ونسخة أخرى في مكتبة المدرسة القادرية في بغداد.
وقد قمنا بتصوير نسخة المدرسة القادرية وتقع في 109 ورقة وخطها جيد جداً وقرئت على المؤلف وقوبلت بأصله وكتب عليها المؤلف بخطه ما يلي:
- الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى -
قرأ علي جميع هذا الكتاب الشيخ الفقيه الإمام العالم المحدث الحافظ المتقن البارع سراج الدين شرف الفقهاء والمحدثين فخر الفضلاء المدققين (1) أبو حفص عمر بن الشيخ الإمام الأوحد الأستاذ أبي الحسن علي بن أبي العباس أحمد بن محمد المرسي الأصل ثم القاهري الشافعي أولى الله النفع به ووصل الخيرات بسببه وقابل نسخته على نسختي حالة القراءة وأنا ممسك الأصل الذي
--------------------------------------------
শেখ কামালুদ্দিন ইবনুল জামলাকানি এবং বুরহানুদ্দিন আল-ফুরকাহ আল-ফাজরি থেকে ফিকহ অর্জন করেছেন
এবং তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ও অন্যদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি নাসিরিয়া ও আসাদিয়া মাদরাসায় এবং দারুল হাদিস হিমসিয়াতে হাদিস পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর তিনি জেরুজালেমের সালাহিয়া মাদরাসায় পাঠদানের দায়িত্ব পান, অতঃপর এর সাথে তানকিজিয়া মাদরাসায় হাদিস পাঠদান যুক্ত করা হয় এবং তিনি দারুল হাদিস সাইফিয়ার প্রধান শাইখের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ৭৬১ হিজরির ৩রা মহররম ইন্তেকাল করেন এবং পবিত্র জেরুজালেমের বাবু রহমাহ গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর কাছে হাফেজ ইবনে কাসির, আব্দুল ওয়াহাব ইবনে সুবকি, ইব্রাহিম ইবনে জামায়াহ, ইবনুল মুলাক্কিন এবং আরও অনেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞানে বহু জ্ঞানগর্ভ রচনা রেখে গেছেন, যা সেই সব বিষয়ে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়। তাঁর জীবনীকারদের কেউ কেউ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর ৫২টি গ্রন্থের তালিকা করেছেন। হাফেজ জাহাবি, ইবনে রাফে, ইবনে সুবকি, আল-হানবালি, আল-হুসাইনি, ইবনে তাগরি বারদি, শাওকানি এবং আরও অনেক আলেম তাঁর উচ্চ প্রশংসা করেছেন।
জামিউত তাহসিল ফি আহকামিল মারাসিল
ইস্তাম্বুলের রাগিব পাশা লাইব্রেরিতে ২৩৬ নম্বর অধীনে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। আরেকটি পাণ্ডুলিপি দাহেরিয়া লাইব্রেরিতে ৪০৫ নম্বর হাদিস সেকশনে ১০০ পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত আছে এবং অপর একটি পাণ্ডুলিপি বাগদাদের কাদরিয়া মাদরাসা লাইব্রেরিতে রয়েছে।
আমরা কাদরিয়া মাদরাসার পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করেছি যা ১০৯ পৃষ্ঠা সম্বলিত এবং এর হস্তলিপি অত্যন্ত চমৎকার। এটি লেখকের সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং তাঁর মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। লেখক নিজ হাতে এর ওপর নিম্নোক্ত কথাগুলো লিখেছেন:
- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর -
আমার নিকট এই সম্পূর্ণ কিতাবটি পাঠ করেছেন শেখ, ফকিহ, ইমাম, আলেম, মুহাদ্দিস, হাফেজ, সুদক্ষ ও পারদর্শী সিরাজুদ্দিন, ফকিহ ও মুহাদ্দিসদের সম্মান, সূক্ষ্মদর্শী গুণীজনদের গর্ব (১) আবু হাফস উমর ইবনে শেখ ইমাম আল-আওহাদ উস্তাদ আবুল হাসান আলি ইবনে আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, যিনি মূলত মুরসি এবং পরবর্তীতে কায়রোর বাসিন্দা শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী। আল্লাহ তাঁর দ্বারা উম্মতকে উপকৃত করুন এবং তাঁর মাধ্যমে কল্যাণ অব্যাহত রাখুন। পাঠ করার সময় তিনি তাঁর পাণ্ডুলিপিটি আমার পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে নিয়েছেন এবং আমি তখন সেই মূল কপিটি ধরে রেখেছিলাম যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٧)
بخطي وسمع من أول الكتاب إلى حرف الحاء من معجم الرواة فيه الشيخ الإمام العالم العابد الأوحد عماد الدين صدر الأعيان علم المفيدين فريد الوقت برهان الدين أبو إسحاق إبراهيم بن عبد الرحمن بن جماعة الكتاني وكانت القراءة المذكورة في مجالس متعددة بالمسجد الأقصى والمدرسة الصلاحية من القدس الشريف حماه الله تعالى صادف آخرها يوم السبت الرابع عشر من شهر المحرم سنة خمسين وسبعمائة أحسن الله تقضيها وأجزت المذكورين جميع ما يجوز لي وعني روايته عن مقول ـ لعله معقول ـ ومنقول بشرطه المعتبر عند أهله زادها الله من فضله.
قال ذلك وكتبه خليل بن كيكلدي بن عبد الله العلائي الشافعي لطف الله به حامداً الله تعالى ومصلياً على نبيه محمد وآله ومسلماً وحسبنا الله ونعم الوكيل.
فظهر من هذا التاريخ أن ذلك بعد تأليف الكتاب بأربع سنوات حيث انتهى من تأليفه سنة ست وأربعين وسبعمائة كما ذكر ذلك في آخر الكتاب أنظر نموذج الورقات الثلاث.
ولهذا جعلنا هذه النسخة الأصل.
وأما نسخة الظاهرية فقد استعرنا من الأستاذ صبحي السامرائي مصورته شكر الله مسعاه حيث جعل مكتبته الغنية بالمصورات مفتوحة لكل مستفيد وقابلناها بالأصل حيث ظهر فيها كثير من الأخطاء والنقص الفاحش إلا أننا استفدنا من تعليقات الكاتب محمد بن زريق من تلاميذ سبط ابن العجمي كما يظهر من تعليقاته وأنه محدث. وقد أشرنا في بعض الأماكن إلى لافها مع الأصل.
عملنا في الكتاب
1- قمنا بالاستنساخ من الأصل وقابلنا نسختنا بالأصل وبالنسخة الظاهرية.
2- نقلنا التعليقات الموجودة بهامش الظاهرية.
3- علقنا في بعض الأماكن ما يقتضيه التحقيق.
আমার হস্তাক্ষরে এবং কিতাবের শুরু থেকে বর্ণনাকারীদের অভিধানের 'হা' বর্ণ পর্যন্ত এতে শ্রবণ করেছেন শায়খ, ইমাম, আলিম, ইবাদতগুজার, অদ্বিতীয়, ইমাদুদ্দিন, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শিরোমণি, জ্ঞানান্বেষীদের আলোকবর্তিকা, সমকালের অনন্য ব্যক্তি, বুরহানুদ্দিন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে জামাআহ আল-কিনানি। উক্ত পাঠ কুদস শরিফের মাসজিদুল আকসা এবং মাদ্রাসা আল-সালাহিয়্যাহ-তে একাধিক মজলিসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল—আল্লাহ তায়ালা একে রক্ষা করুন। এর শেষ মজলিসটি অনুষ্ঠিত হয় সাতশত পঞ্চাশ হিজরি সালের মুহাররম মাসের চৌদ্দ তারিখ শনিবার। আল্লাহ এর সমাপ্তিকে উত্তম করুন। আর আমি উল্লেখিত ব্যক্তিদের নিকট আমার পক্ষ থেকে বর্ণিত হওয়া বৈধ এমন সমস্ত যৌক্তিক ও শ্রুত বিষয়ের বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করলাম, যা এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিকট গ্রহণযোগ্য শর্ত সাপেক্ষে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর অনুগ্রহে এটি বৃদ্ধি করে দিন।
এটি বলেছেন এবং লিখেছেন খলিল ইবনে কাইকালদি ইবনে আবদুল্লাহ আল-আলাই আল-শাফিঈ—আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি সদয় হোন—আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করে এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের উপর দরুদ ও সালাম পেশ করে। আর আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
এই তারিখ থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি কিতাবটি রচনার চার বছর পরের ঘটনা; যেহেতু কিতাবটির রচনা সাতশত ছেচল্লিশ হিজরি সালে সম্পন্ন হয়েছিল, যেমনটি কিতাবের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনটি পৃষ্ঠার নমুনা দেখুন।
এই কারণেই আমরা এই পাণ্ডুলিপিটিকে মূল পাঠ হিসেবে গ্রহণ করেছি।
আর জহিরিয়া পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে, আমরা উস্তাদ সুবহি আল-সামাররাই-এর কাছ থেকে তাঁর নিকট রক্ষিত কপি ধার নিয়েছি—আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন—যেহেতু তিনি পাণ্ডুলিপিতে সমৃদ্ধ তাঁর পাঠাগারটি প্রত্যেক উপকারভোগীর জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আমরা এটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং এতে অনেক ভুল ও প্রকট বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে আমরা লেখক মুহাম্মদ বিন জুরাইকের টীকাগুলো থেকে উপকৃত হয়েছি, যিনি সিবত ইবনুল আজমির ছাত্রদের একজন ছিলেন, যেমনটি তাঁর টীকা থেকে স্পষ্ট হয় এবং তিনি একজন মুহাদ্দিস ছিলেন। আমরা কিছু কিছু স্থানে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এর পার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করেছি।
কিতাব সম্পাদনায় আমাদের কাজ
১- আমরা মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি তৈরি করেছি এবং আমাদের অনুলিপিটিকে মূল ও জহিরিয়া পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছি।
২- আমরা জহিরিয়া পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকা বা মার্জিনে থাকা নোটগুলো গ্রহণ করেছি।
৩- আমরা কিছু কিছু স্থানে তাহকিকের প্রয়োজনে টীকা প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٨)
4 - راجعنا فيما لدينا من مراجع ما نقله المؤلف منهم وأحلنا إليها في التعليقات.
5- خرجنا بعض الأحاديث.
6- بالنسبة للمختلفين في صحبتهم أحلنا إلى الاستيعاب والإصابة طبعة مصطفى محمد.
7- قابلت قسم التراجم مع تراجم كتاب المراسيل لابن أبي حاتم فظهر أنه لم يستوعبها كلها بل ترك ثلاث عشرة ترجمة استدرك محمد بن زريق ترجمتين منها وبقي إحدى عشرة ترجمة استدركناها في آخر الكتاب نقلاً من الكتاب المذكور. كما ظهر لي بعض الاختلاف في النقل. وقد وضعت دائرة سوداء كبيرة قبل رقم كل ترجمة أوردها ابن أبي حاتم في كتابه.
8- وضعت أرقاماً لتراجم المدلسين ولتراجم المعروفين بالإرسال هذا ما استطعته في هذه الحالة المستعجلة وسوف أقوم بتحقيق الكتاب بشكل أوسع إن وفقني الله وبتخريج أحاديثه المذكورة فيه والتوسع في التراجم إذا دعت الحاجة إلى ذلك كما استدرك عليه في تراجم المدلسين والمعروفين بالإرسال وأرتبه على حروف المعجم بدقة حيث فيها تقديم وتأخير ووضع كثير من التراجم في غير مواضعها وأبين أيضاً حالة كل راو منهم جرحاً وتعديلاً حيث أورد المؤلف كثيراً من الضعفاء والمتروكين وقد نبه على بعضهم. لأن الجرح المؤثر في الراوي يكفي في ترك روايته فلا حاجة إلى كونه يرسل. وأبين حالة المختلفين في صحبتهم حيث إن كثيرين منهم من الصحابة فلا يدخلون في هذا القسم حيث إن روايتهم وإن كانت مرسلة فمرسل الصحابي يحتج به كما سيذكره المؤلف. وسنرجئ ذلك إلى الطبعة الثانية إن شاء الله تعالى.
الكتب المؤلفة في المراسيل1- كتاب المراسيل لابن أبي حاتم طبع طبعات عديدة وآخرها سنة 1397هجرية بتحقيق الأستاذ شكر الله نعمة الله
৪ - আমাদের নিকট বিদ্যমান উৎসগ্রন্থগুলোর মধ্যে লেখক যা তাদের থেকে উদ্ধৃত করেছেন তা আমরা পর্যালোচনা করেছি এবং টীকাগুলোতে সেগুলোর প্রতি নির্দেশ করেছি।
৫- আমরা কিছু হাদিসের তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করেছি।
৬- যাদের সাহাবী হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আমরা 'আল-ইসতিআব' এবং 'আল-ইসাবাহ'-এর মুস্তফা মুহাম্মদ সংস্করণের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।
৭- আমি জীবনী অধ্যায়টিকে ইবনে আবি হাতিমের 'কিতাবুল মারাসিল'-এর জীবনীর সাথে মিলিয়ে দেখেছি। তাতে প্রতীয়মান হয়েছে যে, তিনি সবগুলো জীবনী অন্তর্ভুক্ত করেননি, বরং তেরটি জীবনী বাদ দিয়েছেন। মুহাম্মাদ বিন জুরাইক এর মধ্যে দুটি জীবনী সংযোজন করেছেন এবং বাকি এগারোটি জীবনী অবশিষ্ট ছিল, যা আমরা উল্লিখিত গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করে বইটির শেষে যুক্ত করেছি। এছাড়া উদ্ধৃতির ক্ষেত্রেও কিছু পার্থক্য আমার নজরে এসেছে। ইবনে আবি হাতিম তার গ্রন্থে যেসকল জীবনী উল্লেখ করেছেন, তার প্রত্যেকটির নম্বরের আগে আমি একটি বড় কালো বৃত্ত চিহ্ন প্রদান করেছি।
৮- আমি মুদাল্লিস এবং যারা ইরসালের জন্য পরিচিত তাদের জীবনীর জন্য নম্বর প্রদান করেছি। এই জরুরি অবস্থায় আমি এটুকুই করতে সক্ষম হয়েছি। আল্লাহ যদি আমাকে তৌফিক দান করেন, তবে আমি গ্রন্থটির আরও বিস্তৃত তাহকীক সম্পন্ন করব, এতে বর্ণিত হাদিসগুলোর তাখরিজ করব এবং প্রয়োজনে জীবনীগুলোর আরও বিস্তারিত বর্ণনা দেব। সেইসাথে মুদাল্লিস এবং ইরসালের জন্য পরিচিতদের বাদ পড়া জীবনীগুলো সংযোজন করব এবং সেগুলোকে বর্ণানুক্রমিকভাবে নির্ভুলভাবে সাজাব; কারণ বর্তমান বিন্যাসে আগে-পাছে হওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং অনেক জীবনী ভুল স্থানে রাখা হয়েছে। আমি প্রত্যেক বর্ণনাকারীর জারহ (সমালোচনা) ও তা’দীল (প্রশংসা) সংক্রান্ত অবস্থাও বর্ণনা করব, যেহেতু লেখক অনেক দুর্বল ও পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীর উল্লেখ করেছেন এবং তাদের কয়েকজনের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। কারণ বর্ণনাকারীর ওপর প্রভাবশালী জারহ বা ত্রুটিই তার বর্ণনা বর্জনের জন্য যথেষ্ট, সেক্ষেত্রে তার বর্ণনা মুরসাল হওয়ার প্রয়োজন নেই। যাদের সাহাবী হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ আছে তাদের অবস্থাও আমি স্পষ্ট করব; কেননা তাদের মধ্যে অনেকে সাহাবী ছিলেন, তাই তারা এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। কারণ তাদের বর্ণনা মুরসাল হলেও 'মুরসালে সাহাবী' দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য, যা লেখক পরবর্তীতে উল্লেখ করবেন। ইনশাআল্লাহ তায়ালা, আমরা দ্বিতীয় সংস্করণের জন্য এ কাজগুলো মুলতবি রাখছি।
আল-মারাসিল বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ১- ইবনে আবি হাতিমের 'কিতাবুল মারাসিল', এটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং এর সর্বশেষটি ১৩৯৭ হিজরিতে উস্তাদ শুকরুল্লাহ নি'মাতুল্লাহর তাহকীকে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٩)
2 - كتاب المراسيل لأبي داود طبع الكتاب مجرداً من الأسانيد في مطبعة التقدم وأعادت مطبعة محمد علي صبيح طبعه
3- كتاب بيان المراسيل لأبي بكر أحمد بن هارون البرديجي ذكره الحافظ في فتح الباري كما سيأتي
4- التفصيل لمبهم المراسيل للخطيب البغدادي
5- مختصر التفصيل للنووي، توجد نسخة منه في الأسكوريال تحت رقم 1957.
6- تمييز المزيد في متصل الأسانيد للخطيب أيضاً
7- تعليقات الحافظ العراقي على جامع التحصيل.
8- تحفة التحصيل في ذكر رواة المراسيل للحافظ العراقي الابن
9- حواشي سبط ابن العجمي على جامع التحصيل
10- رسالة في المرسل لابن عبد الهادي توجد منه نسخة منها في معهد المخطوطات في جامعة الدول العربية
وقد استوعب المؤلف في كتابه هذا جميع ما كتبه غيره حيث يشير إليه في أثناء كلامه. فقد ذكر تعريف المرسل والمعضل والمنقطع لغة ثم أعقبه بتعريفها اصطلاحاً وبين اختلاف المحدثين في تعاريفها ثم ذكر أقوال العلماء في الاحتجاج بالمرسل وأعقبه بذكر أدلتهم ثم ذكر أدلة من رد المرسل بعد أن بين أقوالهم وأسهب في كل ذلك ثم اختار ما هو المختار. ثم أعقب ذلك بذكر فروع وفوائد في بيان من قيل عنه أنه لا يرسل إلا عن ثقة وذكر أمثلة لما يعتضد به المرسل ثم ذكر انفراد ابن برهان بقول في المرسل وأعقبه بظاهر كلام إمام الحرمين حول المرسل ثم تعرض لمسند من دأبه الإرسال هل يقبل أم لا؟ ثم ذكر أن الإرسال شامل للمعضل والمنقطع..
ثم تعرض لحديث الراوي عمن لم يلقه وأعقبه القول في التدليس فتكلم على تدليس السماع وتدليس الشيوخ وذكر بعض المشهورين بالتدليس ثم ذكر طبقات المدلسين الخمسة ثم تكلم في ألفاظ الأداء ثم أعقبه بذكر الألفاظ المحتملة للسماع مثل لفظ عن وإن وقال فلان وذكر فلان وغيرها ثم تعرض
২ - আবু দাউদের কিতাবুল মারাসীল; গ্রন্থটি সনদসমূহ ছাড়াই আত-তাকাদদুম ছাপাখানায় মুদ্রিত হয়েছিল এবং মুহাম্মদ আলী সাবিহ ছাপাখানা এটি পুনরায় মুদ্রণ করেছে।
৩- আবু বকর আহমদ ইবনে হারুন আল-বারদিজীর কিতাবুল বায়ান আল-মারাসীল; হাফিজ (ইবনে হাজার) এটি ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন যেমনটি সামনে আসবে।
৪- খতীব আল-বাগদাদীর আত-তাফসীল লি মুবহামিল মারাসীল।
৫- ইমাম নববীর মুখতাসারুত তাফসীল; এর একটি পাণ্ডুলিপি এসকোরিয়ালে ১৯৫৭ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত আছে।
৬- খতীবের তাময়ীযুল মাযীদ ফী মুত্তাসিলিল আসানীদ।
৭- জামিুত তাহসীলের ওপর হাফিজ ইরাকীর টীকা।
৮- হাফিজ ইরাকীর পুত্র রচিত তুহফাতুত তাহসীল ফী যিকর রুওয়াতিল মারাসীল।
৯- জামিুত তাহসীলের ওপর সিবত ইবনুল আজমীর পার্শ্বটীকা।
১০- ইবনে আব্দুল হাদী রচিত রিসালা ফিল মুরসাল; এর একটি অনুলিপি আরব লীগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে সংরক্ষিত আছে।
লেখক তাঁর এই গ্রন্থে অন্যদের লেখা সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং আলোচনার মাঝে সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি আভিধানিকভাবে মুরসাল, মু'দাল ও মুনকাতি'-এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন এবং এরপর পারিভাষিকভাবে সেগুলোর সংজ্ঞা দিয়েছেন। মুহাদ্দিসগণের সংজ্ঞাগত পার্থক্যও তিনি স্পষ্ট করেছেন। অতঃপর মুরসাল হাদীসকে দলীল হিসেবে গ্রহণের বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মতামতসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং এর সপক্ষে তাঁদের প্রমাণাদি পেশ করেছেন। এরপর যারা মুরসালকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তাঁদের মতামত বর্ণনা করে তাঁদের প্রমাণাদি উল্লেখ করেছেন। এসকল বিষয়ে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং শেষে পছন্দনীয় মতটি গ্রহণ করেছেন। এরপর এর কিছু শাখা ও উপকারিতা বর্ণনা করেছেন যে, কার ব্যাপারে বলা হয় যে তিনি শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ছাড়া ইরসাল করেন না। মুরসাল হাদীস কী কী দ্বারা শক্তিশালী হয় সেগুলোর উদাহরণ দিয়েছেন। এরপর মুরসাল হাদীস সম্পর্কে ইবনে বুরহানের একক বক্তব্য এবং ইমামুল হারামাইনের মুরসাল সংক্রান্ত জাহিরি (প্রকাশ্য) বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। এরপর এমন রাবীর মুসনাদ নিয়ে আলোচনা করেছেন যার অভ্যাস হলো ইরসাল করা, তা গ্রহণ করা হবে কি না? অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইরসাল বিষয়টি মু'দাল ও মুনকাতি' উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
এরপর তিনি এমন রাবীর হাদীস বর্ণনা নিয়ে আলোচনা করেছেন যার সাথে বর্ণনাকারীর সাক্ষাৎ হয়নি। এরপর তাদলীস সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি তাদলীসুত সামা এবং তাদলীসুশ শুয়ূখ নিয়ে কথা বলেছেন এবং তাদলীসের জন্য প্রসিদ্ধ কতিপয় ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি মুদাল্লিসদের পাঁচটি স্তর উল্লেখ করেছেন। এরপর হাদীস বর্ণনার শব্দসমূহ নিয়ে কথা বলেছেন। এরপর শ্রবণের সম্ভাবনা আছে এমন শব্দসমূহ যেমন: 'আন', 'ইন্না', 'অমুক বলেছেন', 'অমুক উল্লেখ করেছেন' ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এরপর...
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
للمراسيل الخفي إرسالها وبين أربعة طرق لمعرفة المرسل الخفي وضرب لكل منها أمثلة.
ثم ألحق بذلك تراجم الرواة المحكوم على روايتهم بالإرسال وبذلك انتهى الكتاب والله الموفق
يوم الخميس26جمادى الأولى سنة1389هجرية
الموافق4-5-1978ميلادية
المحقق
أبو مصطفى
حمدي عبد المجيد السلفي
লুকায়িত মুরসাল বর্ণনাসমূহ এবং লুকায়িত মুরসাল বর্ণনাকারীকে চেনার চারটি পদ্ধতি তিনি বর্ণনা করেছেন এবং প্রত্যেকটির জন্য উদাহরণ পেশ করেছেন।
অতঃপর তিনি এর সাথে সেই সমস্ত রাবীদের জীবনী যুক্ত করেছেন যাদের বর্ণনাকে মুরসাল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই কিতাবটি সমাপ্ত হলো এবং আল্লাহই তাওফীক দানকারী।
বৃহস্পতিবার, ২৬ জুমাদাল উলা, ১৩৮৯ হিজরি
মোতাবেক ৪-৫-১৯৭৮ ঈসায়ী
মুহাক্কিক
আবু মুস্তফা
হামদী আব্দুল মাজীদ আস-সালাফী
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٢١)
بسم الله الرحمن الرحيم
وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت
الحمد لله القديم الذي لم يزل قبل كل شيء أولا الرحيم الذي ما برح لعباده المؤمنين ملاذا وموئلا الكريم إذ جعل لهم من لدنه سندا إلى جنابه موصلا وأبقى حديثهم الحسن بالأعمال الصحيحة عاليا في الملا ووصل منقطعهم بمزيد لطفه فأزال مبهما وكشف معضلا وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إلها واحدا منعما مفضلا وأشهد أن محمدا عبده ورسوله أفضل من جاء عن ربه مرسلا وأكمل من قام بالحق حتى أمسى جانب الضلال متروكا مهملا الذي خصه بأوضح المعجزات كتابا منزلا وأبان به من أنواع الهداية ما كان مجملا صلى الله وسلم عليه وعلى آله وأصحابه الذين تبوأوا الإيمان منزلا وأعذبوا بنقلهم لمن جاء بعدهم من شريعته منهلا
أما بعد فإن الله سبحانه فضل هذه الأمة فشرف الإسناد وخصها باتصاله دون من سلف من العباد وأقام لذلك في كل عصر من الأئمة الأفراد والجهابذة النقاد من بذل جهده في ضبطه وأحسن الاجتهاد وطلب الوصول إلى غوامض علله فظفر بنيل المراد وذلك من معجزات نبينا صلى الله عليه وسلم التي أخبر بوقوعها ودعا لمن قام بهذه الخصيصة وكرع في ينبوعها فقال صلى الله عليه وسلم يسمعون ويسمع منكم ويسمع ممن يسمع منكم رواه أبو داود في سننه الجامع
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি।
সমস্ত প্রশংসা সেই অনাদি আল্লাহর জন্য, যিনি সবকিছুর পূর্বে সর্বদা 'প্রথম' হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন। তিনি সেই পরম দয়ালু, যিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য সর্বদা আশ্রয়স্থল ও নিরাপত্তা হয়ে আছেন। তিনি পরম দাতা, যেহেতু তিনি নিজের পক্ষ থেকে তাদের জন্য এমন এক সনদ (সূত্র) নির্ধারণ করেছেন যা তাঁর সান্নিধ্য পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। তিনি মানুষের মাঝে তাদের উত্তম আলোচনাকে সঠিক আমলের মাধ্যমে উচ্চকিত রেখেছেন এবং তাঁর বিশেষ অনুগ্রহে তাদের বিচ্ছিন্নতাকে জুড়ে দিয়েছেন; ফলে তিনি অস্পষ্টতাকে দূর করেছেন এবং জটিল বিষয়কে উন্মোচন করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি এক ইলাহ, নিয়ামতদাতা ও অনুগ্রহকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল; তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে প্রেরিতদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সত্য প্রতিষ্ঠাকারীদের মধ্যে পূর্ণতম, এমনকি তাঁর প্রচেষ্টায় গোমরাহির পথ পরিত্যক্ত ও অবহেলিত হয়েছে। যাকে তিনি সুস্পষ্ট মুজিজার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং অবতীর্ণ কিতাবের দ্বারা বিভিন্ন প্রকার হিদায়াত স্পষ্ট করেছেন যা পূর্বে অস্পষ্ট ছিল। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবৃন্দের ওপর, যারা ঈমানকে নিজেদের আবাসস্থল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং যারা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে শরীয়তের প্রস্রবণকে বিশুদ্ধভাবে পৌঁছে দিয়েছেন।
অতপর, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, ফলে তিনি সনদকে সম্মানিত করেছেন এবং পূর্ববর্তী বান্দাদের বাদ দিয়ে এই উম্মতকে নিরবচ্ছিন্ন সনদের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। আর তিনি এর সংরক্ষণের জন্য প্রত্যেক যুগে এমন অনন্য ইমাম ও দক্ষ সমালোচক তৈরি করেছেন, যারা এটি সংরক্ষণে নিজেদের পূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং সর্বোত্তম ইজতিহাদ করেছেন। তারা সনদের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ অনুসন্ধানে সচেষ্ট হয়েছেন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে সফল হয়েছেন। আর এটি আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুজিজাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার ঘটার ব্যাপারে তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন এবং যারা এই বৈশিষ্ট্য ধারণ করবে ও এর ঝরনাধারা থেকে পান করবে তাদের জন্য তিনি দোয়া করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা (আমার থেকে) শুনছো, আর তোমাদের থেকেও শোনা হবে, এবং যারা তোমাদের থেকে শুনবে তাদের থেকেও শোনা হবে।" এটি আবু দাউদ তাঁর সুনানে জামে-তে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وقال صلى الله عليه وسلم نضر الله امرءا سمع مقالتي فأداها إلى من لم يسمعها فرب مبلغ أوعى من سامع
فباتصال الإسناد عرف الصحيح من السقيم وصان الله هذه الشريعة عن قول كل أفاك أثيم فلذلك كان الإرسال في الحديث علة يترك بها ويتوقف عن الاحتجاج به بسببه لما في إبهام المروي عنه من الغرر والاحتجاج المبني على الخطر وقد اختلف العلماء قديما وحديثا فيه وكثرت أقوالهم وتباينت آراؤهم وتعارضت أفعالهم فاستخرت الله تعالى وعلقت هذا الكتاب لبيان ذلك وإيضاح ما هو إلى الصواب أقوم المسالك جامعا فيه بين طريقة أهل الحديث وأئمة الأصول والفقهاء الذين في الرجوع إليهم أنفس حصول ذاكرا من المنقول ما أمكن الوصول إليه ومن المباحث النظرية ما يعول عند التحقيق عليه مميزا في ذلك الفث من السمين مبينا ما هو الضعيف من المتين مؤديا في جميعه حق النصيحة الواجبة علي نازعا رداء التعصب حسب الجهد والطاقة عن منكبي وإلى الله تعالى أرغب في الهداية لى الصواب والنفع به عاجلا ويوم المآب وأن يجعله خالصا لوجهه الكريم وسببا لنيل النعيم وسميته جامع التحصيل في أحكام المراسيل ورتبته على ستة أبواب الباب الأول في تحقيق الحديث المرسل وبيان حده الباب الثاني في ذكر مذاهب العلماء فيه الباب الثالث في الاحتجاج لكل قول وبيان الراجح من ذلك الباب الرابع في فروع وفوائد غزيرة يترتب بها ما تقدم الباب الخامس في بيان المراسيل الخفي إرسالها في أثناء السند الباب السادس في معجم الرواة المحكوم على روايتهم بالإرسال
وبالله تعالى استعين لما قصدت وأسأله التوفيق والإعانة فيما أردت فهو حسبنا ونعم الوكيل والله يقول الحق وهو يهدي السبيل
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে এবং তা এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিয়েছে যে তা শোনেনি। কেননা অনেক সময় যার কাছে সংবাদ পৌঁছানো হয়, সে স্বয়ং শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি সংরক্ষণকারী ও সমঝদার হয়।"
সুতরাং সনদের অবিচ্ছিন্নতার মাধ্যমেই ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনা থেকে সহীহ বর্ণনাকে পৃথক করা সম্ভব হয়েছে এবং আল্লাহ এই শরীয়তকে প্রত্যেক চরম মিথ্যাবাদী ও পাপিষ্ঠের কথা থেকে রক্ষা করেছেন। এই কারণেই হাদীসের মধ্যে 'ইরসাল' (সূত্রবিচ্যুতি) এমন একটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয় যার কারণে হাদীসটি বর্জন করা হয় এবং এর মাধ্যমে দলীল পেশ করা থেকে বিরত থাকা হয়; কারণ যার থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে তার অস্পষ্টতার মাঝে ঝুঁকি বিদ্যমান এবং এর ওপর ভিত্তি করে দলীল গ্রহণ করা বিপৎসংকুল। এ বিষয়ে প্রাচীন ও বর্তমান যুগের আলেমগণ মতভেদ করেছেন, এ প্রসঙ্গে তাঁদের বক্তব্য বহুবিধ হয়েছে, মতামত ভিন্ন হয়েছে এবং তাঁদের কর্মপন্থাও পরস্পর বিরোধী হয়েছে। তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা (ইস্তিখারা) করেছি এবং এই বিষয়টি বর্ণনা করার জন্য এবং যা সত্যের অধিক নিকটবর্তী সেই পথটি স্পষ্ট করার জন্য এই কিতাবটি রচনা করেছি। এতে আমি হাদীসশাস্ত্রবিদ, উসূলবিদ এবং ফকীহগণের পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়েছি, যাঁদের দিকে প্রত্যাবর্তন করাই হলো জ্ঞান অর্জনের শ্রেষ্ঠ উপায়। এখানে আমি উদ্ধৃত বর্ণনাসমূহের মধ্যে যতটুকু সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে তা উল্লেখ করেছি এবং সেই সব তাত্ত্বিক আলোচনা স্থান দিয়েছি যার ওপর সূক্ষ্ম তাহকীকের ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয়। এর মাধ্যমে আমি অসার থেকে সারবস্তুকে পৃথক করেছি এবং দুর্বল বর্ণনা থেকে শক্তিশালী বর্ণনাকে স্পষ্ট করেছি। এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে আমি আমার ওপর অর্পিত নসীহতের (সদুপদেশ) আবশ্যিক হক আদায় করেছি এবং সাধ্যমতো স্বীয় স্কন্ধ থেকে পক্ষপাতের চাদর ছুঁড়ে ফেলেছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে সঠিক পথের দিশা এবং দুনিয়া ও আখেরাতে এর মাধ্যমে উপকারের প্রার্থনা করছি। তিনি যেন একে তাঁর মহান সত্তার জন্য নিবেদিত করেন এবং জান্নাতের নেয়ামত লাভের অসিলা বানান। আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি 'জামি' আত-তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল' এবং একে ছয়টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি। প্রথম অধ্যায়: মুরসাল হাদীসের হাকীকত ও এর সংজ্ঞা নির্ধারণ প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় অধ্যায়: এ বিষয়ে আলেমগণের মাযহাবসমূহ উল্লেখ প্রসঙ্গে। তৃতীয় অধ্যায়: প্রতিটি মতের সপক্ষে দলীল পেশ এবং এর মধ্য থেকে অগ্রগণ্য মতটি স্পষ্টীকরণ প্রসঙ্গে। চতুর্থ অধ্যায়: বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা ও প্রচুর ফায়েদা বর্ণনা প্রসঙ্গে, যা পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট। পঞ্চম অধ্যায়: এমন সব মুরসাল বর্ণনা স্পষ্টীকরণ প্রসঙ্গে যার বিচ্যুতি সনদের মাঝখানে অস্পষ্ট রয়ে গেছে। ষষ্ঠ অধ্যায়: সেই বর্ণনাকারীদের অভিধান যাদের বর্ণনাকে 'ইরসাল' (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
আর আমি যা সংকল্প করেছি সে ব্যাপারে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাচ্ছি এবং আমি যা ইচ্ছা করেছি তাতে তাঁর তাওফীক ও সহায়তা প্রার্থনা করছি। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহ সত্য কথা বলেন এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
(الباب الأول في حد الحديث المرسل والفصل بينه وبين غيره)ههنا ثلاثة ألفاظ في اصطلاحهم وهي المرسل والمنقطع والمعضل فلنذكر أولا تحقيقها لغة وبيان استعارتها لما نحن بصدده ثم بعد ذلك الكلام في دلالتها اصطلاحا
أمل المرسل فأصله من قولهم أرسلت كذا إذا أطلقته ولم تمنعه كما في قوله تعالى ألم تر أنا أرسلنا الشياطين على الكافرين فكأن المرسل أطلق الإسناد ولم يقيده برا ومعروف وقد أشار الإمام المزري إلى هذا ويحتمل أن يكون من قوله جاء القوم أرسالا أي قطعا متفرقين قال ابن سيدة الرسل بفتح الراء والسين القطيع من كل شيء والجمع إرسال وجاؤوا رسلة رسلة أي جماعة جماعة
قلت ومنه الحديث إن الناس دخلوا على النبي صلى الله عليه وسلم بعد موته فصلوا عليه أرسالا أي فرقا متقطعة يتبع بعضهم بعضا فكأنه تصور من هذا اللفظ الاقتطاع فقيل للحديث الذي قطع إسناده وبقي غير متصل مرسل أي كل طائفة منهم لم تلق الأخرى ولا لحقتها ويحتمل أن يكون أصله من الإسترسال وهو الطمأنينة إلى الإنسان والثقة به فيما يحدثه فكان المرسل للحديث اطمأن إلى من أرسل عنه ووثق به لمن يوصله إليه وهذا اللائق بقول
(প্রথম পরিচ্ছেদ: মুরসাল হাদিসের সংজ্ঞা এবং এটি ও অন্যান্য প্রকারের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ প্রসঙ্গে)মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় এখানে তিনটি শব্দ রয়েছে: মুরসাল, মুনকাতি' এবং মু'দাল। আমরা প্রথমে এগুলোর আভিধানিক বিশ্লেষণ এবং আমাদের আলোচ্য বিষয়ের সাথে এগুলোর রূপক প্রয়োগের বর্ণনা প্রদান করব, এরপর এগুলোর পারিভাষিক অর্থ নিয়ে আলোচনা করব।
মুরসাল শব্দটির মূল উৎস হলো তাদের কথা—'আমি অমুক বস্তুকে ছেড়ে দিয়েছি', যখন আপনি সেটিকে মুক্ত করে দেন এবং বাধা প্রদান না করেন; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: 'তুমি কি দেখনি যে, আমি শয়তানদেরকে কাফিরদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি?' যেন মুরসাল বর্ণনাকারী সনদটিকে মুক্ত করে দিয়েছেন এবং কোনো পরিচিত ও প্রখ্যাত বর্ণনাকারীর মাধ্যমে সেটিকে সীমাবদ্ধ করেননি। ইমাম আল-মাযারি একথার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এটিও সম্ভব যে, কথাটি 'লোকেরা দলে দলে এসেছে' থেকে নির্গত হয়েছে, যার অর্থ হলো বিচ্ছিন্ন দলসমূহ। ইবনে সিদাহ বলেছেন: রা এবং সীন বর্ণের ফাতহা (যবর) সহ 'আর-রাসল' হলো কোনো কিছুর ছোট পাল বা দল, এর বহুবচন হলো 'ইরসাল'। তারা 'রুসলাতান রুসলাতান' অর্থাৎ দলে দলে এসেছে।
আমি বলি: এখান থেকেই হাদিসে এসেছে যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর লোকেরা তাঁর কাছে প্রবেশ করে দলে দলে তাঁর জানাযার সালাত আদায় করেছিলেন; অর্থাৎ এমন কিছু বিচ্ছিন্ন দল যারা একে অপরের অনুগামী হয়েছিল। যেন এই শব্দটির মধ্যে বিচ্ছিন্নতার ধারণাটি কল্পনা করা হয়েছে, তাই যে হাদিসের সনদ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তা নিরবচ্ছিন্ন থাকেনি, তাকে মুরসাল বলা হয়। অর্থাৎ তাদের প্রত্যেকটি দল অন্য দলের সাথে সাক্ষাৎ করেনি এবং একে অপরের নাগাল পায়নি। এটিও সম্ভব যে, এর মূল উৎস হলো 'ইসতিরসাল', যার অর্থ হলো কোনো ব্যক্তির ওপর আশ্বস্ত হওয়া এবং তার বর্ণিত বিষয়ের ওপর আস্থা রাখা। সুতরাং হাদিস মুরসালকারী ব্যক্তি যার থেকে মুরসাল করেছেন তার ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়েছেন এবং যার কাছে তিনি হাদিসটি পৌঁছাচ্ছেন তার কাছে বর্ণনাকারীর বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করেছেন। এটি সেই উক্তির সাথে সংগতিপূর্ণ...
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
المحتج بالمرسل كمل سيأتي في أدلتهم إن شاء الله تعالى لكن يرد عليه أن خلقا من الرواة أرسلوا الحديث مع عدم الثقة براويه الذي أرسلوا عنه ويجوز أيضا أن يكون المرسل من قولهم ناقة مرسال أي سريعة السير قال كعب بن زهير
… أمست سعاد بأرض لا يبلغها
… إلى العتاق النجيبات المراسيل
… فكأن المرسل للحديث أسرع فيه عجلا فحذف بعض أسناده والكل محتمل
وأما المنقطع ويقال له أيضا المقطوع وهو ما حذف من إسناده رجل في أثنائه فالمعنى فيه ظاهر لأن الانقطاع نقيض الاتصال ويكونان في المعاني كما في الأجسام ومنه قوله تعالى وتقطعت بهم الأسباب فتقطعوا أمرهم بينهم زبرا وما أشبه ذلك
وأما المعضل فقال الشيخ أبو عمرو بن الصلاح رحمة الله عليه أسحاب الحديث يقولون أعضله فهو معضل بفتح الضاد وهذا اصطلاح مشكل المأخذ من حيث اللغة وبحثت فوجدت له قولهم أمر عضيل أي مستغلق شديد قال ولا التفات في ذلك إلى معضل بكسر الضاد وإن كان مثل عضيل في المعنى انتهى كلامه
قلت أصل العضل المنع الشديد مأخذه من العضلة وهي كل لحم صلب في عصب قاله الراغب قال الله تعالى ولا تعضلوهن لتذهبوا ببعض ما آتيتموهن ثم قيل منه عضلت المرأة تعضيلا إذا نشب الولد في بطنها وبقي معترضا ثم قيل منه داء عضال إذا أعيا الأطباء علاجه وأمر معضل بكسر الضاد إذا كان شديدا لا يقوم به صاحبه
قال الجوهري أعضلني فلان أعياني أمره وأعضل الأمر اشتد واستغلق وحكى ابن سيدة فيه الثلاثي أيضا فقال في المحكم عضل
মুরসাল দ্বারা দলিল প্রদানকারীর বিষয়টি তাদের দলিলসমূহের আলোচনায় শীঘ্রই আসবে, ইনশাআল্লাহ। তবে এর উত্তরে বলা যায় যে, একদল বর্ণনাকারী এমন রাবির বিশ্বস্ততা নিশ্চিত না করেই হাদিস মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার থেকে তারা মুরসাল করেছেন। আবার এটাও সম্ভব যে, মুরসাল শব্দটি তাদের 'নাকাতুন মিরসাল' (দ্রুতগামী উষ্ট্রী) কথাটি থেকে এসেছে। কাব বিন জুহাইর বলেন
… সুয়াদ এমন এক জনপদে পৌঁছেছে যেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়
… কেবল উৎকৃষ্ট ও শক্তিশালী দ্রুতগামী উষ্ট্রীদের মাধ্যমেই
… যেন হাদিস মুরসালকারী ব্যক্তি এতে তাড়াহুড়ো করেছেন, ফলে এর সনদের কিছু অংশ বাদ পড়ে গেছে। এই সবকটিই সম্ভাব্য।
আর মুনকাতি বা বিচ্ছিন্ন হাদিস, যাকে মাকতুও বলা হয়, এটি হলো যার সনদের মধ্যবর্তী স্থান থেকে কোনো বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে। এর অর্থটি সুস্পষ্ট, কারণ 'বিচ্ছিন্নতা' হলো 'সংযুক্তির' বিপরীত। এটি বস্তুগত বিষয়ের মতো অর্থগত বিষয়েও ব্যবহৃত হয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: এবং তাদের মধ্যকার সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে, এবং তারা তাদের দ্বীনি বিষয়কে নিজেদের মধ্যে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ।
আর মুদাল সম্পর্কে শায়খ আবু আমর বিন আস-সালাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ বলেন 'আদহালাহু' (তিনি একে কঠিন করেছেন), তাই এটি 'মুদাল' (দদ বর্ণে জবরসহ)। এটি ভাষাতাত্ত্বিকভাবে উৎপত্তিগত দিক থেকে একটি জটিল পরিভাষা। আমি অনুসন্ধান করে দেখেছি যে, তাদের একটি কথা আছে 'আমরুন আদিল' অর্থাৎ অত্যন্ত জটিল ও কঠিন বিষয়। তিনি আরও বলেন, এক্ষেত্রে দদ বর্ণে যেরসহ 'মুদিল' শব্দের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা হবে না, যদিও তা অর্থের দিক থেকে 'আদিল'-এর মতোই। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।
আমি বলি, 'আদল' শব্দের মূল অর্থ হলো কঠোরভাবে বাধা দেওয়া। এর উৎপত্তি 'আদালাহ' (পেশি) থেকে, যা স্নায়ুর সাথে লেগে থাকা শক্ত গোশতকে বোঝায়; এটি আল-রাগিব বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: তোমরা তাদেরকে সংকটে ফেলো না (বা বাধা দিও না), যাতে তোমরা তাদের প্রদত্ত সম্পদের কিছু অংশ আত্মসাৎ করতে পারো। এরপর সেখান থেকে বলা হয়েছে, যখন গর্ভস্থ সন্তান মায়ের পেটে আটকে যায় এবং আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে, তখন তাকে 'আদালাত আল-মারআহ' বলা হয়। এরপর দুরারোগ্য ব্যাধিকে 'দাউন উদাল' বলা হয় যখন চিকিৎসকরা এর চিকিৎসায় অক্ষম হয়ে পড়েন। আর 'আমরুন মুদিল' (দদ বর্ণে যেরসহ) বলা হয় যখন বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন হয় এবং এর কর্তা তা সামলাতে পারে না।
আল-জাওহারি বলেন: অমুক ব্যক্তি আমাকে তার বিষয়ে পরিশ্রান্ত করে ফেলেছে এবং বিষয়টি কঠিন ও রুদ্ধ হয়ে গেছে। ইবনে সিদাহ এই শব্দটির তিন অক্ষরবিশিষ্ট রূপও বর্ণনা করেছেন, তিনি 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে বলেছেন: আদিলা।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
من الأمر وأعضل اشتد وغلظ وكذلك قال الأزهري أيضا في التهذيب عضلت عليه ضيقت عليه أمره وحلت بينه وبين ما يرومه ظلما قال الله تعالى فلا تعضلوهن أن ينكحن أزواجهن الآية فيكون قولهم حديث معضل مأخوذا من هذا الثلاثي لأنه يتعدى حينئذ ينفسه بالهمزة ويكون الرواي له بإسقاط رجلين منه فأكثر قد ضيق المجال على من يؤدية إليه وحال بينه وبين معرفة رواته بالتعديل أو الجرح وشدد عليه الحال كما في قولهم أمر عضيل أي مستغلق شديد ويكون ذلك الحديث معضلا لإعضال الرواي له والله أعلم
هذا ما يتعلق بهذه الألفاظ من حيث اللغة وأما من حيث الاستعمال ففيه احتلاف كثير والذي يظهر من كلام الشافعي رضي الله عنه أن المنقطع والمرسل واحد لأنه قال في كتابه الرسالة المنقطع مختلف فمن شاهد أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم من التابعين فحدث حديثا منقطعا عن النبي صلى الله عليه وسلم اعتبر عليه بأمور وذكر الوجوه التي يأتي ذكرها فيما بعد إن شاء الله تعالى ثم قال في آخر كلامه فأما من بعد كبار التابعين الذين كثرت مشاهدتهم لبعض أصحاب رسول الله فلا أعلم منهم واحدا يقبل مرسله
وقال الحافظ أبو بكر الخطيب في كتابه الكفاية لا خلاف بين أهل العلم إن إرسال الحديث الذي ليس بمدلس هو رواية الراوي عمن لم يعاصره أو لم يلقه نحو رواية سعيد بن المسيب وأبي سلمة بن عبد الرحمن وعروة بن الزبير ومحمد بن المنكدر والحسن البصري ومحمد بن سيرين وقتادة وغيرهم من التابعين عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وبمثابته في غير التابعين نحو رواية ابن جريج عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة ورواية مالك بن أنس عن القاسم بن
বিষয়টি যখন কঠিন ও জটিল হয়ে পড়ে। অনুরূপভাবে আযহারীও 'আত-তাহযীব' গ্রন্থে বলেছেন, 'আমি তার ওপর সংকীর্ণতা সৃষ্টি করেছি' অর্থাৎ তার বিষয়টি তার জন্য কঠিন করে দিয়েছি এবং সে যা পেতে চায় তার মাঝে যুলুমবশত অন্তরায় সৃষ্টি করেছি। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা তাদের বাধা দিও না যেন তারা তাদের স্বামীদের বিবাহ করতে পারে" (আয়াত)। সুতরাং তাঁদের 'হাদীসে মু'দাল' কথাটি এই ত্রি-অক্ষরবিশিষ্ট মূল ধাতু থেকে গৃহীত, কারণ তখন এটি (হামযাহ যোগে) সকর্মক হয়। আর বর্ণনাকারী যখন হাদীসের সনদ থেকে দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে বাদ দেন, তখন তিনি যার কাছে হাদীসটি বর্ণনা করছেন তার জন্য ক্ষেত্রটি সংকীর্ণ করে দেন এবং 'তা'দীল' (নির্ভরযোগ্যতা যাচাই) বা 'জারহ' (ত্রুটি চিহ্নিতকরণ)-এর মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের চেনার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করেন। আর তার জন্য বিষয়টি কঠিন করে দেন, যেমনটি বলা হয় 'আমরে আদীল' অর্থাৎ অত্যন্ত জটিল ও কঠিন বিষয়। বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে এই জটিলতা সৃষ্টির কারণেই সেই হাদীসটিকে 'মু'দাল' বলা হয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
ভাষাগত দিক থেকে এই শব্দগুলোর সংশ্লিষ্ট আলোচনা এটিই। আর ব্যবহারের দিক থেকে এতে অনেক মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা থেকে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, 'মুনকাতি' এবং 'মুরসাল' একই বিষয়। কারণ তিনি তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে বলেছেন: "মুনকাতি হাদীস নিয়ে মতভেদ রয়েছে; সুতরাং তাবিঈদের মধ্যে যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের দেখেছেন, তাঁরা যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে 'মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে হাদীস বর্ণনা করেন, তবে তা কিছু বিষয়ের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।" এরপর তিনি সেই দিকগুলো উল্লেখ করেছেন যা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আলোচিত হবে। অতঃপর তিনি তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেছেন: "আর বড় তাবিঈ—যাঁদের রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো কোনো সাহাবীর সাথে অধিক সাক্ষাৎ ঘটেছে—তাঁদের পরবর্তী স্তরের যারা আছেন, তাঁদের কারো 'মুরসাল' হাদীস গ্রহণযোগ্য বলে আমার জানা নেই।"
হাফিয আবু বকর আল-খাতীব তাঁর 'আল-কিফায়াহ' গ্রন্থে বলেছেন: "আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, মুদাল্লাস নয় এমন হাদীসের 'ইরসাল' হলো বর্ণনাকারীর এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করা যাঁর তিনি সমসাময়িক ছিলেন না অথবা যাঁর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটেনি। যেমন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান, উরওয়াহ ইবনুল যুবায়র, মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির, হাসান বসরী, মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন, কাতাদাহ এবং অন্যান্য তাবিঈগণের রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করা। তাবিঈ নন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিষয় প্রযোজ্য, যেমন উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে ইবনে জুরাইজের বর্ণনা এবং আল-কাসিম ইবনে এর থেকে মালিক ইবনে আনাসের বর্ণনা...
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
محمد بن أبي بكر الصديق رضي الله عنه ورواية حماد بن أبي سليمان عن علقمة وكذلك رواية الرواي عمن عاصره ولم يلقه كرواية سفيان الثوري وشعبة عن الزهري وما كان نحو ذلك مما لم نذكره فالحكم في الجميع عندنا واحد انتهى كلامه
وقال أبو الحسين بن القطان من أئمة أصحابنا المتقدمين في كتابة أصول الفقه جملة المرسل هو أن يروي بعض التابعين أن النبي صلى الله عليه وسلم قال كذا وكذا أو أن يترك بينه وبين رجل رجلا
وكذلك قال الإمام المازري في شرح البرهان أما المرسل فهو رواية التلميذ عن شيخ شيخه كقول سحنون قال مالك وقول مالك قال ابن عمر ومعلوم أن سحنون لم يلق مالكا ولا مالك لقي ابن عمر رضي الله عنهما وهكذا إذا قال مالك عن نافع عن النبي صلى الله عليه وسلم أو عن عطاء عن النبي صلى الله عليه وسلم وكذلك قول مالك في الموطأ أن ابن شهاب قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول آمين وذكر أمثلة أخرى غير هذه
وقال الإمام أبو الحسن الأبياري في شرح البرهان حاصل المرسل وإن تعددت صورها أن يكون في طريق الخبر راو ملتبس العين أما بأن لا يذكر أو أن يذكر على الإبهام وكذلك قال أبو الحسن البصري أحد رؤوس المعتزلة في كتابه المعتمد المرسل أن يسمع الرجل الحديث من زيد عن عمرو فإذا رواه قال قال عمرو وأضرب عن ذكر زيد فلم يذكره
وقال الإمام أبو العباس القرطبي أحد المتأخرين من أئمة المالكية في كتابه الوصول المرسل عند الأصوليين والفقهاء عبارة عن الخبر الذي يكون
मुহাম্মদ ইবন আবু বকর আস-সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) এবং হাম্মাদ ইবন আবু সুলাইমান আলকামা থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তদ্রূপ সমসাময়িক হওয়া সত্ত্বেও সাক্ষাৎ ঘটেনি এমন বর্ণনাকারীর বর্ণনা, যেমন সুফিয়ান আস-সাওরী ও শু’বার যুহরী থেকে বর্ণনা এবং এই জাতীয় যা আমরা উল্লেখ করিনি—আমাদের নিকট এ সবগুলোর বিধান এক। তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ।
আমাদের পূর্বসূরি ইমামদের অন্তর্ভুক্ত আবুল হোসেন ইবনুল কাত্তান তাঁর উসুলুল ফিকহ গ্রন্থে বলেছেন: সংক্ষেপে মুরসাল হলো কোনো তাবেয়ীর এটি বর্ণনা করা যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এমন বলেছেন, অথবা তাঁর এবং বর্ণিত ব্যক্তির মাঝে কোনো একজন ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া।
অনুরূপভাবে ইমাম আল-মাযিরী ‘শারহুল বুরহান’-এ বলেছেন: আর মুরসাল হলো কোনো ছাত্রের তার উস্তাদের উস্তাদ থেকে বর্ণনা করা; যেমন সাহনুনের উক্তি—‘মালেক বলেছেন’, এবং মালেকের উক্তি—‘ইবন উমর বলেছেন’। অথচ এটি সুবিদিত যে, সাহনুন ইমাম মালেকের সাথে সাক্ষাৎ করেননি এবং ইমাম মালেকও ইবন উমরের (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) সাথে সাক্ষাৎ করেননি। একইভাবে যদি মালেক নাফে’র সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে, অথবা আতা’র সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তদ্রূপ মুওয়াত্তায় ইমাম মালেকের এই বক্তব্য যে—ইবন শিহাব বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আমীন’ বলতেন। তিনি এ ছাড়াও আরও অন্যান্য উদাহরণ উল্লেখ করেছেন।
ইমাম আবুল হাসান আল-আবিয়্যারী ‘শারহুল বুরহান’-এ বলেছেন: মুরসালের সারকথা হলো—এর রূপ বিবিধ হলেও—খবরের সনদে এমন একজন বর্ণনাকারী থাকা যার সত্তা অস্পষ্ট; হয় তাকে উল্লেখ না করার মাধ্যমে, অথবা অস্পষ্টভাবে উল্লেখ করার মাধ্যমে। একইভাবে মুতাজিলাদের অন্যতম প্রধান আবুল হাসান আল-বসরী তাঁর ‘আল-মুতামাদ’ গ্রন্থে বলেছেন: মুরসাল হলো কোনো ব্যক্তির যায়দ থেকে আমরের সূত্রে হাদিস শোনা, অতঃপর যখন সে বর্ণনা করে তখন বলে—‘আমর বলেছেন’ এবং যায়দকে উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকে, ফলে তাকে উল্লেখ করে না।
মালেকি ইমামদের মধ্যে পরবর্তী যুগের অন্যতম ইমাম আবুল আব্বাস আল-কুরতুবী তাঁর ‘আল-উসুল’ গ্রন্থে বলেছেন: উসুলবিদ ও ফকিহদের নিকট মুরসাল বলতে এমন খবরকে বোঝায় যা...
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
في سنده انقطاع بأن يحدث واحد منهم عمن لم يلقه ولاأخذ عنه وخص كثير من المحدثين اسم المرسل بما سكت فيه عن الصحابي واسم المنقطع بما سكت فيه عن غيره
قلت وهكذا قال الحافظ أبو بكر الخطيب بعد كلامه المتقدم إلا أن أكثر ما يوصف بالإرسال من حيث الاستعمال ما رواه التابعي عن النبي صلى الله عليه وسلم وأما ما رواه تابع التابعي عن النبي صلى الله عليه وسلم فيسمونه المعضل
وقال الإمام أبو عمر بن عبد البر أما المرسل فإن هذا الاسم أوقعوه بإجماع على حديث التابعي الكبير عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل أن يقول أبو أمامة بن سهل بن حنيف أو عبيد الله بن عدي بن الخيار أو عبد الله بن عامر بن ربيعة أو من كان مثلهم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذلك من كان دون هؤلاء مثل سعيد بن المسيب وسالم بن عبد الله بن عمر وأبي سلمة بن عبد الرحمن والقاسم ابن محمد ومن كان مثلهم وكذلك علقمة ومسروق والحسن والشعبي وسعيد بن جبير ومن كان مثلهم من التابعين الذين يصح لهم لقاء الجماعة من الصحابة ومجالستهم فهذا هو المرسل عند أهل العلم ثم قال ومثله أيضا مما يجري مجراه عند بعض أهل العلم مرسل من دون هؤلاء مثل حديث ابن شهاب وقتاده وأبي حازم ويحيى بن سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم فقوم من أهل الحديث يسمونه مرسلا كمرسل كبار التابعين وقال آخرين حديث هؤلاء عن النبي صلى الله عليه وسلم يسمى منقطعا لأنهم لم يلقوا من الصحابة إلا الواحد والاثنين وأكثر روايتهم عن التابعين فما ذكروه عن النبي صلى الله عليه وسلم يسمى منقطعا قال والمنقطع عندي كل ما لا يتصل سواء كان معزوا الى النبي صلى الله عليه وسلم أو إلى غيره ثم مثل ذلك بمثل مالك عن يحيى بن سعيد عن عائشة وعن ابن شهاب عن أبي هريرة وعن زيد بن أسلم عن عمر بن الخطاب رضي الله عنهم وأمثال ذلك أنتهى
এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, আর তা এভাবে যে, তাদের মধ্যে কেউ এমন একজনের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন যার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি বা যার কাছ থেকে তিনি গ্রহণ করেননি। অনেক মুহাদ্দিস 'মুরসাল' নামটিকে তার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যে বর্ণনায় সাহাবীর নাম উহ্য রাখা হয়েছে, এবং 'মুনকাতি' নামটিকে তার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যাতে সাহাবী ব্যতীত অন্য কারো নাম উহ্য রাখা হয়েছে।
আমি বলি, হাফেজ আবু বকর আল-খতিবও তার পূর্ববর্তী আলোচনার পর অনুরূপ বলেছেন। তবে ব্যবহারের দিক থেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'মুরসাল' দ্বারা তা-ই বুঝানো হয় যা তাবেয়ী আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। আর তাবে-তাবেয়ী আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা বর্ণনা করেন তাকে তারা 'মু’দাল' বলে অভিহিত করেন।
এবং ইমাম আবু উমর ইবনে আব্দুল বার বলেছেন, মুরসাল-এর ক্ষেত্রে এই নামটিকে তারা ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রবীণ তাবেয়ীর ঐ হাদিসের ওপর প্রয়োগ করেছেন যা তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। যেমন আবু উমামা ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ বা উবায়দুল্লাহ ইবনে আদি ইবনে আল-খিয়ার বা আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিয়া অথবা তাদের মতো কেউ যদি বলেন, "আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন"। অনুরূপভাবে যারা এদের পরবর্তী স্তরের, যেমন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান, কাসেম ইবনে মুহাম্মদ এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ; তদ্রূপ আলকামা, মাসরুক, হাসান, শাবী, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং তাবেয়ীদের মধ্যে তাদের মতো ব্যক্তিবর্গ, যাদের জন্য সাহাবীদের এক বড় দলের সাথে সাক্ষাৎ ও তাদের মজলিসে বসা প্রমাণিত রয়েছে; ইলম অন্বেষী বিদ্বানদের নিকট এটিই হলো মুরসাল। অতঃপর তিনি বলেন, কিছু জ্ঞানীর নিকট তাদের পরবর্তী স্তরের লোকদের মুরসালও একই পর্যায়ভুক্ত বলে গণ্য হয়। যেমন ইবনে শিহাব, কাতাদাহ, আবু হাজেম এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ-এর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিস। মুহাদ্দিসদের এক দল একে প্রবীণ তাবেয়ীদের মুরসালের মতোই 'মুরসাল' বলে অভিহিত করেন। এবং অন্যরা বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এদের বর্ণিত হাদিসকে 'মুনকাতি' বলা হয়। কারণ তারা মাত্র এক বা দুইজন সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং তাদের অধিকাংশ বর্ণনা তাবেয়ীদের পক্ষ থেকে। তাই তারা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা উল্লেখ করেন তাকে 'মুনকাতি' বলা হয়। তিনি বলেন, আমার নিকট 'মুনকাতি' হলো প্রতিটি তা-ই যার সনদ অবিচ্ছিন্ন নয়, তা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হোক বা অন্য কারো দিকে। এরপর তিনি এর উদাহরণ দিয়েছেন যেমন মালেক বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি আয়েশা থেকে; অথবা ইবনে শিহাব থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে; কিংবা জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে এবং তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন—এই জাতীয় উদাহরণ। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وقال الحاكم أبو عبد الله الحافظ في كتابه علوم الحديث أما المرسل فإن مشايخ الحديث على أن الحديث المرسل هو الذي يرويه المحدث بأسانيد متصلة إلى التابعين فيقول التابعي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال وأكثر ما يروى المراسيل من أهل المدينة عن سعيد بن المسيب ومن أهل مكة عن عطاء بن أبي رباح ومن أهل مصر عن سعيد بن أبي هلال ومن أهل الشام عن مكحول الدمشقي ومن أهل البصرة عن الحسن بن أبي الحسن ومن أهل الكوفة عن إبراهيم بن يزيد النخعي وقد يروي الحديث بعد الحديث عن غيره من التابعين إلا أن الغلبة لرواية هؤلاء انتهى كلامه
فهذا القول من الحاكم رحمه الله يقتضي أن إرسال صغار التابعين ومتأخريهم يلحق بالمرسل وإن كانت رواياتهم عمن أدركوه من الصحابة يسيرة وجل رواياتهم إنما هي عن التابعين لأنه مثل ذلك بإبراهنم النخعي ومكحول
قال علي بن المدني لم يلق إبراهيم النخعي أحدا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وقد رأى أبا جحيفة وزيد بن أرقم وابن أبي أوفى فلم يسمع منهم
وقال يحيى بن معين إبراهيم أدخل على عائشة وهو صبي وكذلك قال أبو حاتم وأبو زرعة الرازيان دخل على عائشه رضي الله عنها وهو صبي ولم يسمع منها
وقد أثبتت جماعة غير هؤلاء أنه سمع منها وروايته عنها في سنن أبي داود والنسائي وابن ماجه
وأما مكحول فإنه أطلق الرواية عن جماعة من الصحابة رضي الله عنهم وقد قيل إنه لم يسمع إلا من أنس بن مالك وواثلة بن الأسقع وأبي أمامة وفضالة بن عبيد رضي الله عنهم قاله يحيى بن معين وغيره وأنكر أبو مسهر
হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয তাঁর ‘উলুমুল হাদিস’ গ্রন্থে বলেছেন, মুরসাল হাদিসের ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদগণের অভিমত হলো, মুরসাল হাদিস হলো সেটি যা মুহাদ্দিসগণ তাবিঈ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করেন এবং এরপর তাবিঈ বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন’। তিনি আরও বলেন, মদিনাবাসীদের মধ্য থেকে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, মক্কাবাসীদের মধ্য থেকে আতা ইবনে আবি রাবাহ, মিসরবাসীদের মধ্য থেকে সাঈদ ইবনে আবি হিলাল, শামবাসীদের মধ্য থেকে মাকহুল আদ-দিমাশকি, বসরাবাসীদের মধ্য থেকে হাসান ইবনুল হাসান (হাসান বসরি) এবং কুফাবাসীদের মধ্য থেকে ইব্রাহিম ইবনে ইয়াজিদ আন-নাখায়ির বর্ণনাতেই মুরসাল হাদিস বেশি পাওয়া যায়। কখনো কখনো অন্যান্য তাবিঈদের থেকেও একের পর এক মুরসাল হাদিস বর্ণনা করা হয়, তবে এদের বর্ণনাই প্রধান। তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ।
হাকিম রহমাতুল্লাহি আলাইহির এই বক্তব্যটি এই দাবি রাখে যে, ছোট বা পরবর্তী স্তরের তাবিঈদের বর্ণনাকেও ‘মুরসাল’ হিসেবে গণ্য করা হবে, যদিও সাহাবীদের থেকে তাদের সরাসরি বর্ণনার সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য এবং তাদের অধিকাংশ বর্ণনা মূলত অন্যান্য তাবিঈদের থেকে। কেননা তিনি এর উদাহরণ দিতে গিয়ে ইব্রাহিম নাখায়ি এবং মাকহুলের নাম উল্লেখ করেছেন।
আলী ইবনুল মাদিনি বলেছেন, ইব্রাহিম নাখায়ি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করেননি। যদিও তিনি আবু জুহাইফা, জায়েদ ইবনে আরকাম এবং ইবনে আবি আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহুমকে দেখেছিলেন, তবে তাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেননি।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন, ইব্রাহিম যখন বালক ছিলেন তখন তাঁকে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। একইভাবে আবু হাতিম ও আবু যুরআ আর-রাযিদ্বয়ও বলেছেন যে, তিনি বালক থাকাকালে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট প্রবেশ করেছিলেন কিন্তু তাঁর থেকে কোনো হাদিস শুনেননি।
তবে তাঁরা ছাড়া একদল আলিম সাব্যস্ত করেছেন যে, তিনি তাঁর (আয়িশার) থেকে হাদিস শুনেছেন। সুনানে আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ গ্রন্থে তাঁর সূত্রে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিস বিদ্যমান।
আর মাকহুলের ক্ষেত্রে কথা হলো, তিনি সাহাবীদের একটি দলের সূত্র দিয়ে সরাসরি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে বলা হয়ে থাকে যে, তিনি আনাস ইবনে মালিক, ওয়াসিলা ইবনুল আসকা, আবু উমামা এবং ফাদালা ইবনে উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ছাড়া আর কারো থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং অন্যরা এটি বলেছেন, তবে আবু মুসহির এটি অস্বীকার করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
سماعه من واثلة وقال ما صح عندنا أنه لقي إلا أنس بن مالك فقط وكذلك أنكر أبو حاتم الرازي رؤيته لأبي امامة والله أعلم
وحاصل كلام الحاكم وابن عبد البر نقلا عن أئمة الحديث اختصاص المرسل بما رواه التابعي عن النبي صلى الله عليه وسلم لكنه في التابعي الكبير متفق عليه وفي التابعي الصغير مختلف فيه هل هو مرسل أم لا وقد وافق الحاكم وابن عبد البر عليه جماعة من الأئمة منهم الأستاذ أبو بكر بن فورك فقال في كتابه أصول الفقه إذا قال التابعي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال كذا وكذا فهو معنى المرسل وكذلك قال الإمام أبو نصر بن الصباغ في كتابه العدة في أصول الفقه المرسل قول التابعي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يذكر من سمعه منه وكذلك قال الإمام أبو المظفر بن السمعاني ونحو منهما عبارة ابن برهان قال وصورة المراسيل أن يقول الراوي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو لم يسمع منه ولا ذكر الراوي المتوسط بينهما وكذلك قال القرافي في شرح التنقيح الإرسال هو إسقاط صحابي من السند
قلت وهذا هو الذي يقتضيه كلام جمهور أئمة الحديث في تعليلهم لا يطلقون المرسل إلا على ما أرسله التابعي عن النبي صلى الله عليه وسلم وقد قال الحاكم بعد كلامه المتقدم وأما مشايخ أهل الكوفة لكل من أرسل الحديث من التابعين واتباع التابعين ومن بعدهم من العلماء فإنه عندهم مرسل محتج به
قلت هذا قول الحنفية بأسرهم لكمن منهم من غلا من المتأخرين فقال يطلق المرسل على قول الرجل من أهل هذه الأعصار قال النبي صلى الله عليه وسلم كذا ومن المحققين منهم من خص ذلك بأهل الأعصار الأول وقد وافقهم جماعة من أئمة أصحابنا على نحو هذه العبارة
قال إمام الحرمين في البرهان من صور المرسل أن يقول الشافعي
তার ওয়াসিলা থেকে শ্রবণের বিষয়টি; তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট এটি বিশুদ্ধ নয় যে, তিনি আনাস ইবন মালিক ব্যতীত আর কারও সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তদ্রূপ আবু হাতিম আর-রাজি আবু উমামা (রাযি.)-কে তার দেখার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
হাদিসের ইমামদের থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে আল-হাকিম ও ইবন আব্দুল বার-এর বক্তব্যের সারকথা হলো, 'মুরসাল' কেবল সেই হাদিসকে বলা হয় যা একজন তাবেয়ি সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তবে প্রবীণ তাবেয়ির ক্ষেত্রে এটি সর্বসম্মত, আর নবীন তাবেয়ির ক্ষেত্রে এটি মুরসাল হবে কি না তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আল-হাকিম ও ইবন আব্দুল বার-এর সাথে একদল ইমাম একমত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন উস্তাদ আবু বকর ইবন ফুরাক। তিনি তার 'উসুলুল ফিকহ' গ্রন্থে বলেছেন: যখন তাবেয়ি বলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি বলেছেন, তখন সেটিই মুরসালের অর্থ। তদ্রূপ ইমাম আবু নাসর ইবন সাব্বাগ তার 'আল-উদ্দাহ ফি উসুলিল ফিকহ' গ্রন্থে বলেছেন: মুরসাল হলো তাবেয়ির এই কথা বলা যে, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন', অথচ তিনি কার থেকে শুনেছেন তা উল্লেখ করেননি। ইমাম আবু মুজাফফর ইবন সামআনি-ও অনুরূপ বলেছেন। ইবন বুরহানের ভাষ্যও তাদের কাছাকাছি; তিনি বলেছেন: মুরসালের ধরণ হলো রাবি বলবেন 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন', অথচ তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শোনেননি এবং মধ্যবর্তী রাবির নামও উল্লেখ করেননি। একইভাবে আল-কারাফি 'শারহুত তানকিহ' গ্রন্থে বলেছেন: ইরসাল হলো সনদ থেকে একজন সাহাবিকে বাদ দেওয়া।
আমি বলছি, হাদিসের অধিকাংশ ইমামদের দৃষ্টিভঙ্গি ও তাদের কারণ বর্ণনার ক্ষেত্রে এটিই ফুটে ওঠে; তারা কেবল তাবেয়ি কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রেরিত বর্ণনাকেই মুরসাল বলেন। আল-হাকিম তার পূর্বোক্ত বক্তব্যের পর বলেছেন: তবে কুফার মাশায়েখদের নিকট তাবেয়ি, তাবে-তাবেয়ি এবং তাদের পরবর্তী আলেমদের মধ্যে যারা হাদিস মুরসাল করেছেন, তাদের সবার বর্ণনাকেই তারা 'মুরসাল' হিসেবে গণ্য করেন এবং তা তাদের নিকট দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
আমি বলছি, এটি সকল হানাফিদের অভিমত। তবে তাদের পরবর্তী ফকিহদের মধ্যে কেউ কেউ অতিশয়তা করে বলেছেন যে, বর্তমান যুগের কোনো ব্যক্তি যদি বলেন 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি বলেছেন', তবে তাকেও মুরসাল বলা হবে। পক্ষান্তরে তাদের মধ্যকার মুহাক্কিকগণ এটিকে কেবল প্রথম দিকের যুগসমূহের সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। আমাদের ইমামগণের একটি দলও অনুরূপ বক্তব্যের সাথে একমত হয়েছেন।
ইমামুল হারামাইন 'আল-বুরহান' গ্রন্থে বলেছেন: মুরসালের একটি রূপ হলো ইমাম শাফেয়ি বলবেন...
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فهذه إضافة إلى الرسول مع السكوت عن ذكر الناقل عنه وهذا يجري في الرواة بعضهم عن بعض في الأعصار المتأخرة عن عصر النبي صلى الله عليه وسلم فإذا قال واحد من أهل عصر قال فلان وما لقيه ولا سمى من أخبره عنه فهو ملتحق بما ذكرناه قال ومن الصور أن يقول رجل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أو عن فلان الراوي من غير أن يسميه ومنها أن يقول أخبرني موثوق به مرضي عن فلان أو عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
قال ومن صور المراسيل إسناد الأخبار إلى كتب رسول الله صلى الله عليه وسلم وإنما التحق هذا القسم بالمرسلات من جهة الجهل بناقل الكتاب فلو ذكر من يعزي الخبر إلى الكتاب وحامله التحق الحديث بالمسندات هذا كله كلام الإمام رحمه الله
ومقتضاه أن ما سقط من إسناده رجلان فأكثر يسمى مرسلا لأنه مثل ذلك بقول الشافعي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وأقل ما بين الشافعي وبينه صلى الله عليه وسلم ثلاثة رجال وتبعه صاحبه أبو نصر بن القشيري على نحو هذه العبارة وكذلك قال الإمام الغزالي في المستصفى صورته أن يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من لم يعاصره أو يقول من لم يعاصر أبا هريرة قال أبو هريرة فأطلق ذلك ولم يقيده بقول التابعي وتبعه الشيخ موفق الدين الحنبلي في الروضة على نحو هذا الكلام وكذلك الآمدي في الأحكام وابن الحاجب في مختصريه وغير هذا
فيتحصل من مجموع ذلك في حد المرسل أقوال
أحدها وهو أكثرها اتساعا أن المرسل قول الواحد من أهل هذه الأعصار وما قبلها قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كما يقوله الغلاة من متأخري الحنفية
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—এটি হলো রাসুলের দিকে সম্বন্ধ করা অথচ বর্ণনাকারীর উল্লেখের ব্যাপারে নীরবতা বজায় রাখা। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগের পরের যুগগুলোর বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যারা একে অপরের থেকে বর্ণনা করেন। সুতরাং যখন পরবর্তী কোনো যুগের একজন ব্যক্তি বলেন, ‘অমুক বলেছেন’, অথচ তার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি এবং কে তাকে সংবাদ দিয়েছেন তার নামও উল্লেখ করেননি, তবে এটি আমাদের বর্ণিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি বলেন, এর একটি রূপ হলো কোনো ব্যক্তি কর্তৃক রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করা অথবা জনৈক বর্ণনাকারী থেকে তার নাম উল্লেখ না করে বর্ণনা করা। এর আরেকটি রূপ হলো এই বলা যে, ‘জনৈক নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি আমাকে অমুক থেকে অথবা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সংবাদ দিয়েছেন’।
তিনি বলেন, মুরসাল হওয়ার একটি রূপ হলো সংবাদসমূহকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চিঠিপত্র বা কিতাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা। এই প্রকারটি মুরসাল বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ হলো কিতাবটির বর্ণনাকারী সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকা। যদি সংবাদটিকে কিতাব ও তার বাহকের দিকে সম্বন্ধকারী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হতো, তবে হাদিসটি মুসনাদ বা সংযুক্ত বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হতো। এ সবই ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য।
এর দাবি হলো এই যে, যার সনদ থেকে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বাদ পড়ে তাকেও মুরসাল বলা হবে; কারণ তিনি শাফেয়ীর এই উক্তিকে উদাহরণ হিসেবে দিয়েছেন—‘রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন’, অথচ শাফেয়ী ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে ন্যূনতম তিন ব্যক্তির ব্যবধান রয়েছে। তাঁর অনুসারী আবু নাসর বিন আল-কুশাইরীও অনুরূপ বাক্য ব্যবহার করেছেন। একইভাবে ইমাম গাজালী ‘আল-মুস্তাসফা’ গ্রন্থে বলেছেন, এর রূপ হলো এমন ব্যক্তি বলবে ‘রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন’ যে তাঁর সমসাময়িক ছিল না, অথবা এমন কেউ বলবে ‘আবু হুরায়রা বলেছেন’ যে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমসাময়িক ছিল না। তিনি বিষয়টিকে সাধারণভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং একে তাবিঈর উক্তির সাথে শর্তযুক্ত করেননি। শায়খ মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন আল-হাম্বালী ‘আর-রাওদাহ’ গ্রন্থে অনুরূপ বক্তব্য অনুসরণ করেছেন, এবং আমেদী ‘আল-আহকাম’ গ্রন্থে, ইবনুল হাজিব তাঁর সংক্ষিপ্ত গ্রন্থদ্বয়ে এবং আরও অনেকে এমনটি করেছেন।
অতএব, এসবের সারমর্ম থেকে মুরসালের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে কয়েকটি মত পাওয়া যায়।
প্রথমটি—যা সবচেয়ে ব্যাপক—তা হলো বর্তমান বা পূর্ববর্তী যুগসমূহের কোনো ব্যক্তির এ কথা বলা যে, ‘রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন’, যেমনটি হানাফী মাযহাবের পরবর্তী যুগের কট্টরপন্থীরা বলে থাকেন।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وهو مقتضى كلام إمام الحرمين ومن تبعه لأنه مثل ذلك بالشافعي ولا فرق بين الشافعي ومن بعده ومثله أيضا ما إذا سقط في أثناء السند رجلان فأكثر يطلق عليه المرسل ويجري فيه الخلاف
وثانيهما وهو مقابله في التضييق اختصاص المرسل بما أرسله كبار التابعين الذين أدركوا كثيرا من الصحابة وتقل رواياتهم عن التابعين كسعيد بن المسيب وأبي سلمة بن عبد الرحمن ونحوهما وإن ما أرسله صغار التابعين فليس بمرسل يجري في الخلاف بل هو منقطع
وثالثها إن المرسل ما قال فيه التابعي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم سواء كان من كبار التابعين أو من صغارهم وهذا هو المشهور عند كثير من أهل الحديث وهو اختيار الحاكم وغيره
ورابعها إن المرسل ما سقط من سنده رجل واحد سواء كان المرسل له تابعيا او من بعده وهو ظاهر كلام الإمام الشافعي واختيار الخطيب والمزري وقد تقدم ذكره وعليه يدل كلام أبي حاتم الرازي وابنه عبد الرحمن وغيرهما من أئمة الحديث عند كلامهم في المراسيل كما سيأتي إن شاء الله تعالى
ولا شك في صحة إطلاق المرسل على هذا من حيث اللغة كما تقدم فعلى هذا هو والمنقطع سيان لغة واصطلاحا وعند ابن عبد البر أن المنقطع أعم وهو كل ما لم يتصل سنده سواء كان يعزى إلى النبي صلى الله عليه وسلم أو إلى غيره وأما المرسل فهو أخص منه وهو ما أرسله التابعي عن النبي صلى الله عليه وسلم وأما الحاكم وغيره فالمرسل والمنقطع عندهم يفترقان افتراق الخاصتين فالمرسل مخصوص بالتابعي عن النبي صلىالله عليه وسلم والمنقطع ما كان في إسناده قبل الوصول إلى التابعي راو لم يسمع من الذي فوقه وكذلك إذا أبهم الراوي شيخه فلم يسمعه يأن قال عن رجل ونحو ذلك فإنه منقطع عنه الحاكم على ما صرح به وليس مرسلا
এটি ইমামুল হারামাইন এবং তাঁর অনুসারীদের বক্তব্যের দাবি, কারণ তিনি শাফিঈর মাধ্যমে এর উদাহরণ দিয়েছেন। আর শাফিঈ এবং তাঁর পরবর্তীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। অনুরূপভাবে যদি সনদের মাঝখান থেকে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বাদ পড়ে, তবে তাকেও মুরসাল বলা হয় এবং এতে মতভেদ বিদ্যমান।
আর দ্বিতীয়টি—যা সংকীর্ণ করার ক্ষেত্রে এর বিপরীত—তা হলো মুরসালকে সেইসব বড় তাবেয়ীদের বর্ণনার সাথে সুনির্দিষ্ট করা যারা অনেক সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং তাবেয়ীদের থেকে যাদের বর্ণনা কম, যেমন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। আর ছোট তাবেয়ীরা যা বর্ণনা করেন তা সেই মুরসাল নয় যার ব্যাপারে মতভেদ চলে, বরং তা মুনকাতি।
আর তৃতীয়টি হলো, মুরসাল সেই হাদিস যাতে কোনো তাবেয়ী আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, চাই তিনি বড় তাবেয়ী হোন বা ছোট তাবেয়ী। এটিই অধিকাংশ হাদিসবিশারদদের নিকট প্রসিদ্ধ এবং ইমাম হাকিম ও অন্যান্যরা একেই পছন্দ করেছেন।
আর চতুর্থটি হলো, মুরসাল সেই হাদিস যার সনদ থেকে একজন ব্যক্তি বাদ পড়েছেন, চাই মুরসালকারী তাবেয়ী হোন বা তার পরবর্তী কেউ। ইমাম শাফিঈর বক্তব্য থেকে এটিই প্রকাশ পায় এবং খতিব ও মাযারি একেই গ্রহণ করেছেন, যার উল্লেখ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আবু হাতিম আল-রাজি ও তাঁর পুত্র আব্দুর রহমান এবং অন্যান্য হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণের মারাসীল বিষয়ক আলোচনা থেকে এটিই প্রমাণিত হয়, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।
আভিধানিক দিক থেকে একে মুরসাল বলা সঠিক হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সেই হিসেবে আভিধানিক ও পারিভাষিক উভয় দিক থেকেই মুরসাল ও মুনকাতি সমান। তবে ইবনে আব্দুল বার-এর মতে, মুনকাতি শব্দটি অধিক ব্যাপক; যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন নয় সেটিই মুনকাতি, চাই তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হোক বা অন্য কারো দিকে। আর মুরসাল হলো তার চেয়ে সুনির্দিষ্ট; যা তাবেয়ী সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে ইমাম হাকিম ও অন্যান্যদের মতে, মুরসাল ও মুনকাতি দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো দুটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের মতো। মুরসাল হচ্ছে তাবেয়ী কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনার সাথে নির্দিষ্ট। আর মুনকাতি হলো তাবেয়ী পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে সনদের কোনো স্তরে এমন বর্ণনাকারী থাকা যিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন রাবী থেকে হাদিস শোনেননি। অনুরূপভাবে যদি বর্ণনাকারী তাঁর উস্তাদের নাম অস্পষ্ট রাখেন এবং তাঁর থেকে সরাসরি না শুনে থাকেন, যেমন তিনি বলেন ‘এক ব্যক্তি থেকে’ বা এই জাতীয় শব্দ, তবে ইমাম হাকিমের স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী সেটি মুনকাতি হিসেবে গণ্য হবে, মুরসাল নয়।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وأما المعضل وهو ما سقط من إسناده رجلان فأكثر فهو والمرسل سواء عند الحنفية وإمام الحرمين ومن تابعه وعند الجمهور هو أخص من المنقطع والمرسل فكل معضل منقطع وليس كل منقطع معضلا ومن قصرالمرسل على ما سقط منه الصحابي فقط دون ما إذا سقط ذكر الصحابي والتابعي كما حكاه الخطيب عن أكثر أهل الحديث فهما عنده أعني المرسل والمعضل متباينان لا ينطلق أحدهما على الآخر والله أعلم
আর মু'দাল সম্পর্কে বলা যায় যে, এটি এমন হাদিস যার সনদ থেকে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী ধারাবাহিকভাবে বাদ পড়েছেন। হানাফীগণ, ইমামুল হারামাইন এবং তাঁর অনুসারীদের মতে এটি এবং মুরসাল একই পর্যায়ের। তবে জুমহুর উলামাদের মতে, এটি মুনকাতি' ও মুরসালের তুলনায় অধিকতর বিশিষ্ট; সুতরাং প্রতিটি মু'দালই মুনকাতি', কিন্তু প্রতিটি মুনকাতি' মু'দাল নয়। আর যারা মুরসালকে কেবল সেই বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন যেখান থেকে শুধুমাত্র সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে—সাহাবী ও তাবিঈ উভয়ের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি ব্যতিরেকে—যেমনটি খতীব অধিকাংশ মুহাদ্দিসের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাদের নিকট মুরসাল ও মু'দাল হলো পরস্পর ভিন্ন (মুতাবায়িন), এদের একটি অপরটির ওপর প্রযোজ্য হয় না। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
(الباب الثاني في ذكر مذاهب العلماء في قبول الحديث المرسل والاحتجاج به أو رده)
ولهم في ذلك مذاهب منتشرة يرجع حاصلها إلى ثلاثة أقوال وهي القبول مطلقا والرد مطلقا والتفصيل
فأما القابلون له المحتجون به فهم مالك وأبو حنيفة وجمهور أصحابهما وأكثر المعتزلة وهو أحد الروايتين عن أحمد بن حنبل رحمه الله وهؤلاء لهم في قبوله أقوال
أحدها قبول كل مرسل سواء بعد عهده وتأخر زمنه عن عصر التابعين حتى مرسل من في عصرنا إذا قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يصرح به على هذا الوجه إلا بعض الغلاة من متأخري الحنفية وهذا توسع غير مرضي بل هو باطل مردود بالإجماع في كل عصر على اعتبار الأسانيد والنظر في عدالة الرواة وجرحهم ولو جوز قبول مثل هذا لزالت فائدة الإسناد بالكلية وبطلت خصيصة هذه الأمة وسقط الاستدلال بالسنة على وجهها وظهور فساد هذا القول غني عن الإطالة فيه ولا تفريع عليه
وثانيها قبول مراسيل التابعين واتباعهم مطلقا إلا أن يكون المرسل عرف بلإرسال عن غير الثقات فإنه لا يقبل مرسله وأما بعد العصر الثالث فإن كان المرسل من أئمة النقل قبل مرسله وإلا فلا وهو قول عيسى بن إبان واختيار أبي بكر الرازي والبزدوي وأكثر المتأخرين من الحنفية وقال القاضي عبد الوهاب المالكي هذا هو الظاهر من المذهب عندي
(দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুরসাল হাদিস গ্রহণ ও তা দ্বারা দলিল পেশ করা অথবা তা প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে আলেমদের মতভেদের আলোচনা) এ বিষয়ে তাঁদের বিভিন্ন বিস্তারিত মাযহাব রয়েছে, যার সারসংক্ষেপ তিনটি মতের দিকে ফিরে যায়, আর তা হলো: সাধারণভাবে গ্রহণ করা, সাধারণভাবে প্রত্যাখ্যান করা এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা।
যাঁরা এটি গ্রহণ করেন এবং এটি দ্বারা দলিল পেশ করেন তাঁরা হলেন মালেক, আবু হানিফা, তাঁদের উভয়ের অধিকাংশ অনুসারী এবং মুতাজিলাদের অধিকাংশ। এটি আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি। এর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে তাঁদের কয়েকটি অভিমত রয়েছে:
প্রথমটি হলো সকল মুরসাল হাদিস গ্রহণ করা, চাই তার যুগ সুদূরপ্রসারী হোক এবং তাবেয়ীদের যুগ থেকে অনেক পরের হোক, এমনকি আমাদের যুগের কোনো ব্যক্তির মুরসাল বর্ণনাও (গ্রহণযোগ্য), যদি সে বলে 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন'। পরবর্তী যুগের হানাফী আলেমদের মধ্য থেকে কেবল কিছু চরমপন্থী ব্যতীত অন্য কেউ এই অভিমত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি। এটি একটি অসন্তোষজনক প্রশস্ততা, বরং এটি বাতিল এবং প্রত্যেক যুগে সনদের গুরুত্ব ও বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও ত্রুটি পর্যালোচনার বিষয়ে যে ঐকমত্য রয়েছে তার দ্বারা এটি প্রত্যাখ্যাত। যদি এই ধরনের বর্ণনা গ্রহণ করা বৈধ মনে করা হতো, তবে সনদের উপযোগিতা সম্পূর্ণরূপে লোপ পেত, এই উম্মতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বাতিল হয়ে যেত এবং সুন্নাহর যথাযথ পদ্ধতির মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়টি বিলুপ্ত হয়ে যেত। এই মতের অসারতা এতই স্পষ্ট যে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই এবং এর ওপর কোনো শাখা-বিধানও নেই।
দ্বিতীয়টি হলো তাবেয়ী এবং তাঁদের অনুসারীদের মুরসাল বর্ণনা সাধারণভাবে গ্রহণ করা, যদি না সেই বর্ণনাকারী অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকে মুরসাল বর্ণনা করার জন্য পরিচিত হন; সেক্ষেত্রে তাঁর মুরসাল গ্রহণ করা হবে না। আর তৃতীয় যুগের পরে যদি বর্ণনাকারী হাদিস বর্ণনার ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হন তবে তাঁর মুরসাল গ্রহণ করা হবে, অন্যথায় নয়। এটি ঈসা ইবনে আবানের অভিমত এবং আবু বকর আল-রাজি, আল-বাজদাবি ও অধিকাংশ পরবর্তী হানাফী আলেমদের পছন্দ। কাজি আব্দুল ওয়াহাব আল-মালিকি বলেন, আমার নিকট মাযহাবের স্পষ্ট অবস্থান এটাই।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وثالثهما اختصاص القبول بالتابعين فيما أرسلوه على اختلاف طبقاتهم وهذا هو الذي يقول به مالك وجمهور أصحابه وأحمد بن حنبل وكل من يقبل المرسل من أهل الحديث ثم من ألحق بالمرسل ما سقط في أثناء إسناده رجل واحد غير الصحابي يقبله أيضا كما يقبل المرسل وهو مقتضى مذهب المالكية في احتجاجهم ببلاغات الموطأ ومنقطعاته وهو الذي أضافه أبو الفرج القاضي إلى مالك ونصره
ورابعها اختصاص القبول بمراسيل كبار التابعين دون صغارهم الذين تقل روايتهم عن الصحابة كما حكاه ابن عبد البر فيما تقدم
ثم اختلف هؤلاء القائلون له في طبقته فمنهم من بالغ فيه حتى قال هو أعلى من المسند وأرجح منه لأن من أسند الحديث فقد أحالك على إسناده والنظر في أحوال رواته والبحث عنهم ومن أرسل منهم حديثا مع علمه ودينه وإمامته وثقته فقد قطع لك على صحته وكفاك النظر فيه وهذا قول كثير من الحنفية وبعض المالكية فيما حكى ابن عبد البر عنهم
وقال آخرون لا فرق بين المرسل والمسند بل هما سواء في وجوب الحجة والاستعمال وهو قول محمد بن جرير الطبري وأبي الفرج المالكي وأبي بكر الأبهري أحد أئمة المالكية أيضا وعند هؤلاء أنه متى تعارض مدلول حديثين واحدهما مرسل والآخر مسند فلا ترجيح بالإسناد على الإرسال بل بأمر آخر وهو غلو قريب من الذي قبله
وقال أكثر المالكية والمحققون من الحنفية كأبي جعفر الطحاوي وأبي بكر الرازي بتقديم المسند على المرسل عند التعارض وإن المرسل وإن كان يحتج به ويوجب العمل ولكنه دون المسند
قال ابن عبد البر وشبهوا ذلك بالشهود يكون بعضهم أفضل حالا من بعض وأقعد وأتم معرفة وإن كان الكل عدو لا جائزين الشهادة قال
তৃতীয়টি হলো, তাবিঈগণ তাদের বিভিন্ন স্তর নির্বিশেষে যা মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তা কবুল করার বিশেষত্ব। এটিই ইমাম মালিক, তাঁর অধিকাংশ অনুসারী, আহমদ ইবনে হাম্বল এবং হাদীস বিশারদদের মধ্যে যারা মুরসাল কবুল করেন, তাদের সকলের অভিমত। এরপর যারা মুরসালের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এমন বর্ণনাকে যার সনদের মাঝখানে সাহাবী ব্যতীত অন্য একজন রাবী বাদ পড়েছেন, তারাও মুরসালের মতোই তা কবুল করেন। মুয়াত্তা-র বালাগাত ও মুনকাতি' বর্ণনাগুলো দলীল হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে এটিই মালিকী মাযহাবের দাবি। আবু আল-ফারাজ আল-কাদী এই অভিমতটিই ইমাম মালিকের দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং এর পক্ষাবলম্বন করেছেন।
চতুর্থটি হলো, কেবল জ্যেষ্ঠ তাবিঈদের মুরসাল বর্ণনাগুলো কবুল করার বিশেষত্ব, কনিষ্ঠ তাবিঈদের নয়—যাঁদের সাহাবীগণ থেকে বর্ণনার সংখ্যা খুবই কম, যেমনটি ইবনে আবদিল বার ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছেন।
অতঃপর যারা এটি (মুরসাল) কবুল করেন, তারা এর স্তরের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে এত বাড়াবাড়ি করেছেন যে, তারা বলেছেন এটি মুসনাদ হাদীসের চেয়েও উচ্চতর এবং অধিক অগ্রগণ্য। কারণ, যিনি হাদীসের সনদ বর্ণনা করেন, তিনি আপনাকে সনদের ওপর এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তাদের নিয়ে গবেষণার ওপর সোপর্দ করেন। আর যিনি নিজের ইলম, দ্বীনদারিতা, ইমামত ও নির্ভরযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনো হাদীস মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন, তিনি আপনার জন্য এর বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন এবং আপনাকে এ নিয়ে গবেষণার ঝামেলা থেকে মুক্ত করেছেন। ইবনে আবদিল বার যেমনটি বর্ণনা করেছেন, এটি অনেক হানাফী এবং কিছু মালিকী আলিমের অভিমত।
অন্যরা বলেছেন, মুরসাল ও মুসনাদ হাদীসের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; বরং দলিল হওয়া এবং আমল করার আবশ্যিকতার ক্ষেত্রে উভয়ই সমান। এটি মুহাম্মদ ইবনে জারীর তাবারী, আবু আল-ফারাজ আল-মালিকী এবং মালিকী ইমামদের অন্যতম আবু বকর আল-আভহারীর অভিমত। তাদের মতে, যখন দুটি হাদীসের মর্মার্থের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয় এবং একটি মুরসাল ও অন্যটি মুসনাদ হয়, তখন কেবল সনদের কারণে মুসনাদকে মুরসালের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে না, বরং অন্য কোনো বিষয়ের ভিত্তিতে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আর এটি পূর্ববর্তী মতের কাছাকাছি একটি চরমপন্থা।
অধিকাংশ মালিকী এবং হানাফীদের মধ্যে মুহাক্কিকগণ, যেমন আবু জাফর আত-তাহাবী ও আবু বকর আর-রাযী, বৈপরীত্যের সময় মুরসালের ওপর মুসনাদকে প্রধান্য দেওয়ার কথা বলেছেন। তাদের মতে মুরসাল হাদীস যদিও দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং আমল করা আবশ্যক হয়, তবুও এটি মুসনাদের চেয়ে নিম্নস্তরের।
ইবনে আবদিল বার বলেন, তারা একে সাক্ষীদের সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে কারো অবস্থা অন্যের চেয়ে উত্তম হয় এবং অধিক সুদৃঢ় ও পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী হয়, যদিও সকলেই ন্যায়পরায়ণ এবং সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্য। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
وهذا قول أبي عبد الله بن خوار بنداد المالكي وغيره ثم قال ابن عبد البر وقال سائر اهل الفقه وجماعات أهل الحديث فيما علمت الانقطاع في الأثرعلة تمنع من إيجاب العمل به وسواء عارضه خبر متصل أم لا وقالوا إذا اتصل خبر وعارضه خبر متصل لم يعرج على المنقطع مع المتصل وكان المصير إلى المتصل دونه قال وحجتهم في رد المرسل ما أجمع عليه العلماء من الحاجة إلى عدالة المخبر عنه وأنه لا بد من علم ذلك انتهى كلامه
وهو يفيد أن الذي أراد بالانقطاع في قوله هو الإرسال أو أراد الأعم بكل اصطلاح
وقال مسلم الإمام رحمه الله في مقدمة كتابه الصحيح في أثناء كلام ذلك على وجه الإيراد والمرسل من الروايات في أصل قولنا وقول أهل العلم بالأخبار ليس بحجة
وهذا القول موافق لكلام ابن عبد البر الذي ذكرناه آنفا وهو الذي عليه جمهور أهل الحديث أو كلهم فهو قول عبد الرحمن ابن مهدي ويحيى بن سعيد القطان وعامة أصحابهما كابن المديني وأبي خيثمة زهير بن حرب ويحيى بن معين وابن أبي شيبة ثم أصحاب هؤلاء كالبخاري ومسلم وأبي داود والترمذي والنسائي وابن خزيمة وهذه الطبقة ثم من بعدهم كالدارقطني والحاكم والخطيب والبيهقي ومن يطول الكلام بذكرهم ممن صنف في الأحكام فقل من يدخل منهم في كتابه المراسيل إذا كان مقصورا على إخراج الحديث المرفوع
نعم من يذكر منهم في مصنفه أقوال الصحابة والتابعين فإنه يجيء بالحديث المرسل أحيانا كعبد الرزاق وسعيد بن منصور وابن أبي شيبة ألا ترى أبا داود السجستاني رحمه الله أفرد للمراسيل خارج السنن كتابا ولم يخرجها فيه وكلام الإمام أحمد بن حنبل في العلل يدل على ترجيح هذا القول لأنه وكل من يعلم
এটি আবু আবদুল্লাহ ইবনে খুওয়ার বানদাদ আল-মালিকি এবং অন্যদের অভিমত। অতঃপর ইবনে আবদ আল-বারর বলেন, ফিকহ শাস্ত্রের সকল ফকিহ এবং হাদিস বিশারদদের জামাতগুলোর বিষয়ে আমি যা জানি তা হলো, বর্ণনায় বিযুক্তি (ইনকিতা) এমন একটি ত্রুটি যা তার ওপর আমল করা ওয়াজিব হতে বাধা প্রদান করে, তা কোনো সংযুক্ত (মুত্তাসিল) খবরের বিরোধী হোক বা না হোক। তাঁরা বলেন, যখন একটি খবর সংযুক্ত হয় এবং একটি বিযুক্ত (মুনকাতি) খবর তার বিরোধিতা করে, তখন সংযুক্ত খবরের উপস্থিতিতে বিযুক্ত খবরের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হবে না; বরং সংযুক্ত খবরটিকেই গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, মুরসাল হাদিস প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে তাঁদের দলিল হলো সেই বিষয় যার ওপর আলেমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন, আর তা হলো—সংবাদদাতার সততা ও ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা এবং এটি জানা অপরিহার্য। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো।
এটি ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি তাঁর বক্তব্যে বিযুক্তি (ইনকিতা) বলতে মুরসাল উদ্দেশ্য নিয়েছেন অথবা সকল পরিভাষার সাধারণ অর্থটিই উদ্দেশ্য নিয়েছেন।
ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থের ভূমিকায় আলোচনার এক পর্যায়ে উল্লেখ করেছেন: আমাদের এবং হাদিস বিশারদদের মূল বক্তব্য অনুযায়ী, রেওয়ায়েতসমূহের মধ্যে 'মুরসাল' দলিল হিসেবে গণ্য নয়।
এই বক্তব্যটি ইবনে আবদ আল-বাররের সেই কথার সাথে সংগতিপূর্ণ যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি এবং অধিকাংশ বা সমস্ত হাদিস বিশারদগণ এর ওপরেই রয়েছেন। এটি আবদুর রহমান ইবনে মাহদি, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং তাঁদের প্রধান প্রধান অনুসারী যেমন—ইবনুল মাদিনী, আবু খাইসামা যুহাইর ইবনে হারব, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং ইবনে আবি শায়বার অভিমত। অতঃপর তাঁদের উত্তরসূরি যেমন—বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ এবং ইবনে খুজাইমা ও এই স্তরের আলেমগণ। এরপর তাঁদের পরবর্তীগণ যেমন—দারাকুতনি, হাকেম, খাতিব এবং বায়হাকি, যাঁদের নাম উল্লেখ করলে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে, যাঁরা শরীয়তের বিধান (আহকাম) বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে খুব কমই আছেন যারা তাঁদের কিতাবে মুরসাল হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন যদি সেই কিতাব কেবল 'মারফু' (রাসূলুল্লাহ ﷺ পর্যন্ত পৌঁছানো) হাদিস সংকলনের উদ্দেশ্যে রচিত হয়ে থাকে।
হ্যাঁ, তাঁদের মধ্য থেকে যাঁরা নিজ সংকলনে সাহাবী এবং তাবেয়ীদের বাণী উল্লেখ করেছেন, তাঁরা মাঝে মাঝে মুরসাল হাদিসও বর্ণনা করেছেন, যেমন—আবদুর রাজ্জাক, সাঈদ ইবনে মানসুর এবং ইবনে আবি শায়বা। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'সুনান' গ্রন্থের বাইরে মুরসাল হাদিসসমূহের জন্য পৃথক একটি কিতাব রচনা করেছেন এবং 'সুনান'-এর ভেতরে তা বর্ণনা করেননি। আর 'ইলাল' (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) শাস্ত্রে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের বক্তব্য এই অভিমতকেই প্রাধান্য দেওয়ার প্রমাণ বহন করে, কারণ তিনি এবং যারা এ বিষয়ে জ্ঞান রাখেন...
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
علم علل الحديث يعترض على مل روي مسندا بلإرسال له من بعض الطرق ويعلله به فلو كان المرسل حجة لازمة لما اعترض به
قال ابن أبي حاتم سمعت أبي وأبا زرعة يقولان لا يحتج بالمراسيل ولا تقوم الحجة إلا بالأسانيد الصحاح المتصلة وهذا هو قول جمهور الشافعية واختيار إسماعيل القاضي وابن عبد البر وغيرهما من المالكية والقاضي أبي بكر الباقلاني وجماعة كثيرون من أئمة الأصول ثم من هؤلاء من بالغ في الرد حتى لم يقبل مراسيل الصحابة كابن عباس وابن الزبير والنعمان ابن بشير وغيرهم من أصاغر الصحابة رضي الله عنهم الذين لم يسمعوا من النبي صلى الله عليه وسلم إلا اليسيير وأكثر رواياتهم أو عامتها عن الصحابة رضي الله عنهم
وهذا قول الأستاذ أبي اسحاق الاسفرائيني وطائفة يسيرة والجمهور على خلاف ذلك لأنه العلة في رد المرسل إنما هي الجهل بعدالة الراوي بجواز أن لا يكون عدلا وهذا منتف في حق الصحابة رضي الله عنهم لأن كلهم عدول ولا يضر الجهالة بعين الراوي منهم بغير كونه صحابيا
وهذا القول في التضييق مقابل للقول المتقدم الذي بالغ القائل به في التوسع حتى قبل مراسيل أهل هذه الأعصار وما قبلها
وعامة ما أعل به الأستاذ في رده ذلك أنا وجدنا لبعض الصحابة أحاديث حدثهم بها جماعة من التابعين فرووها عنهم وللخطيب البغدادي مصنف في ذلك وإذا كان ذلك موجودا فهو محتمل فيما أرسلو أن يكون هذا المرسل رواه عن مثله من الصحابة وأن يكون رواه عن تابعي حدثه به عن صحابي والجهالة مؤثرة في التابعين وإن لم تؤثر في الصحابة
وجواب هذا أن القدر الذي رواه بعض الصحابة عن بعض التابعين نزر يسير جدا والأحاديث المرفوعة فيه نادرة بل أكثره كلمات عنهم أو حكايات ونحو ذلك والغالب الأكثر الأعم إنما هو رواية الصحابي عن مثله فإذا أرسل الصحابي حديثا لم يسمعه من النبي صلى الله عليه وسلم فحمله على أنه سمعه من صحابي
ইলমুল ইলাল (হাদীছের ত্রুটি সংক্রান্ত বিদ্যা) এমন বর্ণনাকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করে যা কোনো কোনো সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হওয়ার কারণে মুসনাদ বর্ণনার ওপর আপত্তি সৃষ্টি করে। যদি মুরসাল বর্ণনা অকাট্য দলীল হতো, তবে এর দ্বারা আপত্তি উত্থাপন করা হতো না।
ইবনে আবী হাতিম বলেন, আমি আমার পিতা এবং আবূ যুরআহকে বলতে শুনেছি যে, মুরসাল বর্ণনা দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না এবং সহীহ ও অবিচ্ছিন্ন সনদ ছাড়া দলীল প্রতিষ্ঠিত হয় না। এটিই জমহুর শাফেঈগণের অভিমত এবং ইসমাইল কাযী, ইবনে আব্দুল বার ও মালিকী মাযহাবের অন্যান্য উলামায়ে কিরাম, কাযী আবূ বকর আল-বাকিলানী এবং উসূলে ফিকহের বহু ইমামগণের পছন্দ। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে এত বাড়াবাড়ি করেছেন যে, তারা সাহাবীগণের মুরসাল হাদীছও গ্রহণ করেননি; যেমন ইবনে আব্বাস, ইবনে যুবাইর, নুমান ইবনে বশীর এবং অন্যান্য ছোট সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে খুব অল্পই শুনেছেন এবং তাদের অধিকাংশ বা সাধারণ বর্ণনাগুলো অন্য সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মাধ্যমে প্রাপ্ত।
এটি উস্তাদ আবূ ইসহাক আল-ইসফারায়িনী এবং একটি ক্ষুদ্র দলের অভিমত। কিন্তু জমহুর উলামায়ে কিরাম এর পরিপন্থী মত পোষণ করেন। কারণ মুরসাল হাদীছ প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ হলো বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে অজ্ঞতা, যেহেতু তিনি নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারেন। কিন্তু সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ক্ষেত্রে এই বিষয়টি প্রযোজ্য নয়, কারণ তারা সকলেই ন্যায়পরায়ণ। আর সাহাবী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত থাকলে বর্ণনাকারীর সুনির্দিষ্ট পরিচয় না জানাটা কোনো ক্ষতি করে না।
সংকীর্ণতার ক্ষেত্রে এই অভিমতটি সেই পূর্ববর্তী মতের বিপরীত, যেটির প্রবক্তারা শিথিলতার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে বর্তমান যুগ এবং তার পূর্ববর্তী যুগের মুরসাল বর্ণনাগুলোকেও গ্রহণ করেছেন।
উস্তাদ তার প্রত্যাখ্যানে মূলত যে যুক্তি দেখিয়েছেন তা হলো, আমরা লক্ষ্য করেছি যে কোনো কোনো সাহাবী তাবেঈদের একটি দলের থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে খতীব আল-বাগদাদীর একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে। যখন এটি প্রমাণিত, তখন সাহাবীগণ যখন কোনো হাদীছ মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন, তখন এই সম্ভাবনা থাকে যে তিনি তা অন্য কোনো সাহাবীর কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন অথবা তিনি কোনো তাবেঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি পুনরায় তা কোনো সাহাবীর উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করেছেন। আর বর্ণনাকারীর পরিচয় অজ্ঞাত হওয়া তাবেঈদের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে, যদিও সাহাবীদের ক্ষেত্রে তা কোনো প্রভাব ফেলে না।
এর উত্তর হলো, সাহাবীগণ কর্তৃক তাবেঈদের থেকে বর্ণিত হাদীছের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য এবং এতে মারফূ হাদীছ খুবই বিরল। বরং এর অধিকাংশ হলো তাদের বাণী অথবা বিভিন্ন ঘটনা ইত্যাদি। সাধারণত ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাহাবীগণ তাদের মতো অন্য সাহাবীদের থেকেই বর্ণনা করেন। অতএব, কোনো সাহাবী যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি না শোনা কোনো হাদীছ মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে তা অন্য কোনো সাহাবীর কাছ থেকে শুনেছেন বলেই সাব্যস্ত হবে।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
مثله أولى من حمله على روايته عن التابعي لأن الحمل على الغالب أولى من الحمل على النادر الذي لم يكثر هذا ما لا ريب فيه وقد قال البراء بن عازب رضي الله عنه ليس كلنا سمع حديث النبي صلى الله عليه وسلم منه كانت لنا ضيعة وأشغال ولكن الناس لم يكونوا يكذبون يومئذ فيحدث الشاهد الغائب رواه الخطيب أبو بكر في الكفاية من حديث إبراهيم بن يوسف بن أبي إسحاق السبيعي عن أبيه عن جده عن البراء وروى نحوه عن أنس رضي الله عنه فهذا البراء من كبار الصحابة وقد صرح بأن بعض رواياته مرسلة عن مثله من الصحابة رضي الله عنهم
وأما القائلون بالتفضيل في القول والرد فلهم أيضا أقوال
أحدها الفرق بين من عرف عادته أنه لا يرسل إلا عن ثقة فيقبل مرسله وبين من عرف أنه يرسل عن كل أحد سواء كان ثقة أو ضعيفا فلا يقبل مرسله وهذا اختيار جماعة كثيرين من أئمة الجرح والتعديل كيحيى بن سعيد القطان وعلي بن المديني وغيرهما قال ابن أبي حاتم في أول كتابه المراسيل ثنا أحمد بن سنان قال كان يحيى بن سعيد القطان لا يرى إرسال الزهري وقتاده شيئا ويقول هو بمنزلة الريح ويقول هؤلاء قوم حفاظ كانوا إذا سمعوا الشيء علقوه
حدثنا صالح بن أحمد بن حنبل ثنا علي بن المديني قال مرسلات مجاهد أحب إلي من مرسلات عطاء بكثير كان عطاء يأخذ من كل ضرب حدثنا صالح بن أحمد ثنا علي بن المديني سمعت يحيى بن سعيد يقول مرسلات سعيد بن جبير أحب إلي من مرسلات عطاء قلت مرسلات مجاهد أحب إليك أو مرسلات طاووس قال ما أقربهما وبه عن يحيى قال مالك عن سعيد بن المسيب أحب إلي من سفيان عن إبراهيم قال يحيى وكل ضعيف
তার মতো (সাহাবী) থেকে বর্ণনা হিসেবে গণ্য করা একজন তাবেঈ থেকে বর্ণনা করার চেয়ে অধিকতর সমীচীন। কারণ যা সচরাচর ঘটে তাকে গ্রহণ করা বিরল বিষয়কে গ্রহণ করার চেয়ে শ্রেয়—এতে কোনো সন্দেহ নেই। বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "আমরা সবাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে সরাসরি হাদীস শুনিনি। আমাদের কৃষি জমি ও অন্যান্য ব্যস্ততা ছিল। কিন্তু সেই যুগে মানুষ মিথ্যা বলত না, তাই উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তিকে হাদীস শুনিয়ে দিত।" এটি খতীব আবু বকর 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে ইবরাহীম ইবনে ইউসুফ ইবনে আবি ইসহাক আস-সাবিঈ-এর হাদীস থেকে তাঁর পিতা ও দাদার মাধ্যমে বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এই বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু বড় সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর কিছু বর্ণনা তাঁর মতো অন্যান্য সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত।
আর যারা মুরসাল হাদীস গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে পার্থক্যের কথা বলেন, তাদেরও বেশ কিছু অভিমত রয়েছে।
প্রথমত: যার অভ্যাস এমন যে তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া মুরসাল বর্ণনা করেন না বলে পরিচিত, তাঁর মুরসাল গ্রহণযোগ্য। আর যিনি সবার থেকেই বর্ণনা করেন, চাই তিনি নির্ভরযোগ্য হোন বা দুর্বল, তাঁর মুরসাল গ্রহণযোগ্য নয়। এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, আলী ইবনুল মাদীনী এবং জারহ ও তা'দীল শাস্ত্রের বহু ইমামের পছন্দ। ইবনে আবি হাতেম তাঁর 'আল-মারাসীল' গ্রন্থের শুরুতে বলেছেন, আহমাদ ইবনে সিনান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান যুহরী ও কাতাদার মুরসালকে কিছুই মনে করতেন না। তিনি বলতেন, এটি বাতাসের মতো তুচ্ছ। তিনি আরও বলতেন, এরা ছিলেন হাফেয পর্যায়ের লোক, যখনই কিছু শুনতেন তা স্মৃতিবদ্ধ করে ফেলতেন।
সালিহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন, মুজাহিদের মুরসাল বর্ণনাগুলো আমার কাছে আতার মুরসাল বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি পছন্দনীয়। কারণ আতা সব ধরণের মানুষের থেকেই বর্ণনা গ্রহণ করতেন। সালিহ ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি, সাঈদ ইবনে জুবায়েরের মুরসালগুলো আমার কাছে আতার মুরসালের চেয়ে বেশি প্রিয়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কাছে মুজাহিদের মুরসাল নাকি তাউসের মুরসাল বেশি প্রিয়? তিনি বললেন, তারা উভয়েই কাছাকাছি। এবং ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে মালিকের বর্ণনা, ইবরাহীম থেকে সুফিয়ানের বর্ণনার চেয়ে আমার নিকট বেশি প্রিয়। ইয়াহইয়া বলেন, আর প্রতিটি মুরসালই দুর্বল।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
قال ومرسلات ابن أبي خالد يعني إسماعيل ليس بشيء ومرسلات عمرو بن دينار أحب إلي حدثني أبي قال سمعت يونس بن عبد الأعلى الصدفي يقول قال لي محمد ابن ادريس الشافعي نقول الأصل قرآن أو سنة فإن لم يكن فقياس عليهما وإذا اتصل الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وصح الإسناد منه فهو سنة وليس المنقطع بشيء ما عدا منقطع سعيد بن المسيب
قال أبو الحسين بن القطان وغيره من اصحابنا كشف الإمام الشافعي عن حديث ابن المسبي فوجده كله مسندا متصلا فاكتفى عن طلب كل حديث بعد فراغه من الجملة وذكر أبو نصر بن الصباغ عن جماعة من أصحابنا أن الشافعي رحمه الله إنما احتج بمراسيل ابن المسيب لأنه عرف من حاله أنه لا يرسل إلا عن الصحابة رضي الله عنهم فصار كأنه قال أخبرني بعض الصحابة أن النبي صلى الله عليه سلم قال كذا وكذا ولو قال ذلك لكان حجة فإن الصحابة قد زكاهم الله تعالى وأثنى عليهم في كتابه العزيز
وقال الإمام الغزالي في المستصفى والمختار على قياس رد المسل أن التابعي إذا عرف بصريح خبره أو بعادته أنه لا يروي إلا عن صحابي قبل مرسله وإن لم يعرف ذلك فلا يقبل لأنهم قد يروون عن غير الصحابي من الأعراب الذين لا صحبة لهم وإنما ثبت لنا عدالة أهل الصحبة وقد قال الزهري بعد الإرسال حدثني به رجل على باب عبد الملك
فهذا القول أرجح الأقوال في هذه المسألة وأعدلها كما سيأتي تقريره إن شاء الله تعالى وهو غير قول الرازي المتقدم لأن ذلك يقبل المرسل ما لم
তিনি বললেন, ইবনে আবি খালিদ অর্থাৎ ইসমাইলের মুরসাল বর্ণনাগুলো গ্রহণযোগ্য নয় এবং আমর ইবনে দিনারের মুরসাল বর্ণনাগুলো আমার কাছে অধিক প্রিয়। আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা আস-সাদাফিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ আমাকে বলেছেন: আমরা বলি যে মূল উৎস হলো কুরআন অথবা সুন্নাহ, যদি তা না থাকে তবে এই দুটির ওপর কিয়াস (অনুমান) করা হবে। আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিসটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হয় এবং এর সনদ সহীহ হয়, তখন তা সুন্নাহ হিসেবে গণ্য হয়; আর সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িবের মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) বর্ণনা ব্যতীত অন্য কোনো মুনকাতি বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।
আবু আল-হুসাইন ইবনুল কাত্তান এবং আমাদের অন্যান্য সাথীরা বলেছেন যে, ইমাম শাফিঈ ইবনে আল-মুসাইয়িবের হাদিসসমূহ অনুসন্ধান করে সেগুলোকে সম্পূর্ণ মুসনাদ ও মুত্তাসিল পেয়েছেন। ফলে সামগ্রিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি প্রতিটি হাদিস পৃথকভাবে তালাশ করার প্রয়োজন বোধ করেননি। আবু নাসর ইবনুস সাব্বাগ আমাদের একদল সাথীর সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) কেবল এ কারণেই ইবনে আল-মুসাইয়িবের মুরসাল বর্ণনা দ্বারা দলিল গ্রহণ করেছেন যে, তিনি তার অবস্থা সম্পর্কে জানতেন যে তিনি সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ব্যতীত অন্য কারো থেকে মুরসাল বর্ণনা করেন না। ফলে বিষয়টি এমন হলো যেন তিনি বললেন, "আমাকে জনৈক সাহাবী সংবাদ দিয়েছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এমন বলেছেন।" আর তিনি যদি এমনটা বলতেন তবে তা দলিল হিসেবে গণ্য হতো, কারণ মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে সাহাবীদের পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন এবং তাঁদের প্রশংসা করেছেন।
ইমাম গাযালী 'আল-মুস্তাসফা' গ্রন্থে বলেছেন এবং মুরসাল প্রত্যাখ্যানের নিয়মের ওপর পছন্দনীয় মতটি হলো: যদি কোনো তাবেঈর নিজের বক্তব্য বা অভ্যাসের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি সাহাবী ব্যতীত অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেন না, তবে তার মুরসাল গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি তা জানা না যায়, তবে তা গ্রহণ করা হবে না; কারণ তাঁরা কখনো কখনো সাহাবী নন এমন বেদুঈনদের থেকেও বর্ণনা করেন, অথচ আমাদের কাছে কেবল সাহাবীদেরই ন্যায়নিষ্ঠতা প্রমাণিত। ইমাম যুহরী একটি মুরসাল বর্ণনার পর বলেছিলেন, "আব্দুল মালিকের দরজায় এক ব্যক্তি আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন।"
এই মাসআলায় এই মতটিই সর্বাধিক অগ্রগণ্য এবং ন্যায়সঙ্গত, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হবে। এটি রাজির পূর্বোক্ত মতের চেয়ে ভিন্ন, কারণ ওই মতে মুরসাল গ্রহণ করা হয় যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
يعرف الراوي بالإرسال عن غير الثقات وهذا القول يتوقف عن قبول المرسل حتى يعلم أن الراوي لا يرسل إلا عن ثقة
القول الثاني إن كان المرسل من ائمة النقل المرجوع إلى قولهم في الجرح والتعديل قبل ما أرسله إذا جزم به وإن لم يكن كذلك فلا وهذا اختيار جماعة من الأصوليين منهم إمام الحرمين وابن الحاجب وغيرهما ولا فرق عند هؤلاء بين التابعين ومن بعدهم إلا أن إمام الحرمين فرق بالنسبة إلى عبارة المرسل كما سيأتي فيما بعد
والقول الثالث اعتبار المرسل بما يعضده من مرسل آخر أو مسند من وجه آخر أو قول بعض الصحابة أو غير ذلك كما سنبينه وهو اختيار الإمام الشافعي رحمه الله فيما رويناه عنه وهذا نصه قال المنقطع مختلف فمن شاهد أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فروى حديثا منقطعا اعتبر عليه بأمور أحدها أن ينظر الى ما أرسل من الحديث فإن شركه فيه الحفاظ المأمونون فأسندوه الى النبي صلى الله عليه وسلم على معنى ما روى كانت هذه دلالة على صحة ما قيل عنه وحفظه وإن انفرد به مرسلا قبل ما انفرد به من ذلك ويعتبر عليه بأن ينظر هل يوافقه مرسل آخر ممن قبل العلم عنه من غير رجاله الذين قبل عنهم فإن وجد ذلك قوي وهي أضعف من الأول وإن لم يوجد ذلك نظر إلى بعض ما يروى عن بعض الصحابة قولا له فإن وجد يوافق ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم كانت في هذه دلالة على أنه لم يأخذ رسله إلا عن أصل يصح إن شاء الله تعالى وكذلك أن وجد عوام من أهل العلم
বর্ণনাকারী যখন অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকে মুরসাল (বিচ্ছিন্ন সূত্রে) বর্ণনা করার জন্য পরিচিত হন, তখন এই অভিমত অনুসারে তার মুরসাল হাদীস গ্রহণ করা স্থগিত থাকবে, যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে বর্ণনাকারী কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকেই মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন।
দ্বিতীয় অভিমত হলো, যদি মুরসাল বর্ণনাকারী হাদীস বর্ণনার এমন ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হন যাদের বক্তব্য 'জারহ ও তাদীল' (সমালোচনা ও সত্যায়ন) শাস্ত্রে প্রামাণ্য হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে তার মুরসাল বর্ণনা কবুল করা হবে যদি তিনি তা দৃঢ়তার সাথে বর্ণনা করেন। আর যদি এমন না হয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে না। এটি উসুলবিদগণের একটি জামাতের পছন্দকৃত অভিমত, যাদের মধ্যে ইমামুল হারামাইন, ইবনুল হাজিব এবং অন্যান্যরা রয়েছেন। এই আলিমগণের নিকট তাবিঈ এবং তাদের পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে ইমামুল হারামাইন মুরসাল বর্ণনাকারীর শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য করেছেন, যা পরবর্তীতে বিস্তারিত আসবে।
তৃতীয় অভিমত হলো মুরসাল হাদীসকে এমন কোনো বিষয়ের মাধ্যমে বিবেচনা করা যা তাকে শক্তিশালী করে, যেমন অন্য কোনো মুরসাল হাদীস, অন্য কোনো সূত্রের মুসনাদ হাদীস, কোনো সাহাবীর বক্তব্য অথবা অনুরূপ অন্য কিছু, যা আমরা স্পষ্ট করব। এটি ইমাম শাফিয়ী (রহ.)-এর মনোনীত মত যা আমরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছি এবং এটিই তাঁর মূল ভাষ্য: তিনি বলেছেন, 'মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন সূত্রবিশিষ্ট হাদীস) নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের সাক্ষাত লাভ করেছেন এবং কোনো মুনকাতি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তা কয়েকটি বিষয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। প্রথমত, সেই মুরসাল হাদীসটির দিকে লক্ষ্য করা হবে; যদি নির্ভরযোগ্য হাফিযগণ হাদীসটির বর্ণনায় তাঁর সাথে শরিক হন এবং তাঁরা হাদীসটিকে একই অর্থে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে এটি তাঁর বর্ণিত হাদীসটির বিশুদ্ধতা ও মুখস্থের প্রখরতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তিনি মুরসাল বর্ণনায় একক হয়ে যান, তবে তা একক হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর বিষয়টি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও দেখা হবে যে, যার নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করা শুদ্ধ এমন অন্য কেউ এই মুরসাল হাদীসের সাথে একমত কি না, তবে তিনি যেন সেই বর্ণনাকারীর নিজস্ব উস্তাদদের বাইরের কেউ হন যাদের থেকে তিনি হাদীস গ্রহণ করেছেন। যদি এমনটি পাওয়া যায় তবে বর্ণনাটি শক্তিশালী হবে, যদিও তা প্রথম পদ্ধতির চেয়ে দুর্বল। আর যদি তাও পাওয়া না যায়, তবে কোনো সাহাবীর কোনো বক্তব্যের দিকে লক্ষ্য করা হবে। যদি তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদীসের সাথে মিলে যায়, তবে তা এই মর্মে দলিল হবে যে, তিনি ইনশাআল্লাহ কোনো সহীহ মূল উৎস থেকেই মুরসাল হাদীসটি গ্রহণ করেছেন। একইভাবে যদি আহলে ইলমগণের সাধারণ অভিমত এর অনুকূলে পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
يختون بمثل معنى ما روي عن النبي ثم يعتبر عليه بأن يكون إذا سمى من روى عنه لم يسم مجهولا ولا واهيا فيستدل بذلك على صحته فيما روى عنه حديثه أنقص كانت في هذه دلائل على صحة مخرج حديثه ومتى خالف ما وصفت أضر بحديثه حتى لا يسع أحدا منهم قبول مرسله وإذا وجدت هذه الدلائل بصحة حديثه بما وصفت أحببنا أن نقبل مرسله ولا نستطيع أن نزعم أن الحجة تثبت به ثبوتها بالمتصل وذلك أن معنى المنقطع مغيب يحتمل أن يكون حمل عمن يرغب عن الرواية عنه إذا سمي وأن بعض المنقطعات وإن وافقه مرسل مثله فقد يحتمل أن يكون مخرجهما واحدا من حيث لو سمي لم يقبل وإن قول بعض الصحابة إذا قال برأيه لو واقفه لم يدل على صحة مخرج الحديث دلالة قوية إذا نظر فيها ويمكن أن يكون إنما غلط به حين سمع قول بعض الصحابة يوافقه فأما من بعد كبار التابعين الذين كثرت مشاهدتهم لبعض أصحاب رسول الله فلا أعلم من يقبل مرسله لأمور أحدها أنهم أشد تجوزا فيمن يروون عنه والآخر أنهم يوجد عليهم الدلائل فيما أرسلوا لضعف مخرجه والآخر كثرة الإحالة في الأخبار وإذا كثرت الإحالة كان أمكن للوهم وضعف من يقبل منه هذا آخر كلام الإمام الشافعي رحمة الله عليه
وقد تصمن هذا الفصل البديع من كلامه أمورا
أحدها إن المرسل إذا أسند من وجه آخر دل ذلك على صحته وهذا
তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসের সমার্থবোধক বর্ণনা করেন। তারপর এর ওপর ভিত্তি করে এভাবে বিবেচনা করা হয় যে, তিনি যার থেকে বর্ণনা করেছেন তার নাম উল্লেখ করলে তিনি যেন অজ্ঞাত বা দুর্বল না হন। এর মাধ্যমে তার বর্ণিত হাদিসের বিশুদ্ধতার ওপর প্রমাণ পেশ করা হয়, যদিও তার হাদিসটি বর্ণনায় কিছুটা অসম্পূর্ণ হয়। এতে তার হাদিসের উৎসের বিশুদ্ধতার প্রমাণ পাওয়া যায়। আর যখন আমি যা বর্ণনা করেছি তার বিপরীত কিছু ঘটে, তখন তা তার হাদিসের জন্য ক্ষতিকর হয়, এমনকি তাদের কারোর পক্ষেই তার মুরসাল গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। যখন আমার বর্ণিত শর্তানুযায়ী তার হাদিসের বিশুদ্ধতার এই প্রমাণগুলো পাওয়া যায়, তখন আমরা তার মুরসাল গ্রহণ করা পছন্দ করি। তবে আমরা এই দাবি করতে পারি না যে, এর মাধ্যমে দলিল সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যেভাবে মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হাদিসের মাধ্যমে হয়। এর কারণ হলো, মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) হাদিসের প্রকৃত অবস্থা অস্পষ্ট থাকে; সম্ভাবনা থাকে যে এটি এমন কারো কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে যার নাম প্রকাশ পেলে তার থেকে বর্ণনা করা লোকে অপছন্দ করত। আবার কোনো কোনো মুনকাতি হাদিস, যদিও তার মতো অন্য কোনো মুরসাল সেটির সপক্ষে পাওয়া যায়, তবুও সম্ভাবনা থাকে যে উভয়ের উৎস একই, যা নাম উল্লেখ করলে গ্রহণযোগ্য হতো না। আর কোনো কোনো সাহাবীর বক্তব্য, যখন তিনি নিজের মত অনুযায়ী বলেন, তা যদি হাদিসের সাথে মিলেও যায়, তবুও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে তা হাদিসের উৎসের বিশুদ্ধতার ওপর শক্তিশালী প্রমাণ বহন করে না। সম্ভবত সাহাবীর সেই বক্তব্যটির সাথে মিল থাকার কারণে তিনি এটি শোনার সময় ভুল করেছেন। আর প্রবীণ তাবেয়ীগণ—যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের অনেককে প্রত্যক্ষ করেছেন—তাদের পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে আমি এমন কাউকে জানি না যারা তাদের মুরসাল গ্রহণ করেন। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে: প্রথমত, তারা কাদের থেকে বর্ণনা করছেন সে বিষয়ে অধিক শিথিলতা প্রদর্শন করেন। দ্বিতীয়ত, তাদের প্রেরিত (মুরসাল) বর্ণনার উৎসের দুর্বলতার কারণে সেগুলোর বিপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়। তৃতীয়ত, সংবাদের বর্ণনায় মধ্যস্থতাকারীর আধিক্য। আর যখন মধ্যস্থতাকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন তাতে ভ্রম ঘটা এবং যার থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে তার দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ইমাম শাফিঈ রহমতুল্লাহি আলাইহির বক্তব্য এখানেই শেষ।
তার বক্তব্যের এই চমৎকার পরিচ্ছেদটি বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে:
প্রথমত: মুরসাল হাদিস যখন অন্য কোনো সূত্র থেকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হয়, তখন তা এর বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে। আর এটি...
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٤١)
قد اعترض فيه على الإمام الشافعي فقيل إذا أسند المرسل من وجه آخر فأما أن يكون سند هذا المتصل مما تقوم به الحجة أولا فإن كان مما تقوم به الحجة فلا معنى للمرسل هنا ولا اعتبار به لأن العمل إنما هو بالمسند لا به وإن كان المسند مما لا تقوم به الحجة لضعف رجاله فلا اعتبار به حينئذ إذا كنت لا تقبل المرسل لأنه لم يعضده شيء
وجواب هذا أن مراده ما إذا كان طريق المسند مما تقوم بها الحجة وقولهم لا معنى للمرسل حينئذ ولا اعتبار به قلنا ليس كذلك من وجهين أحدهما أن المرسل يقوى بالمسند ويتبين به صحته ويكون فائدتهما حينئذ الترجيح على مسند آخر يعارضه لم ينضم اليه مرسل ولا شك أن هذه فائدة مطلوبة وثانيهما أن المسند قد يكون في درجة الحسن وبانضمام المرسل إليه يقوى كل منهما بالآخر ويرتقي الحديث بهما إلى درجة الصحة وهذا أمر جليل أيضا ولا ينكره إلا من لا مذاق له في هذا الشأن فقول المعترض أن كلام الإمام الشافعي رحمه الله لا فائدة فيه قول باطل
الأمر الثاني إن المرسل إذا لم يعضده مسند ولكن عضده مرسل مثله بسند آخر غير سند الأول فإنه حينئذ يقوى ولكنه يكون أنقص درجة من المرسل الذي أسند من وجه آخر
وقد اعترض الحنفية أيضا فيه على الإمام الشافعي وقالوا هذا ليس فيه إلا أنه انضم غير مقبول عنده إلى مثله فلا يفيدان شيئا كما إذا انضمت شهادة غير العدل إلى مثلها
وجوابه أيضا بمثل ما تقدم إنه بانضمام أحدهما إلى الآخر يقوي الظن أن له أصلا وإن كان كل منهما لا يفيد ذلك لمجرده وهذا كما قيل في الحديث الضعيف الذي ضعفه من جهة قلة حفظ رواية وكثرة بالكذب إذا روي مثله بسند آخر نظير هذا السند في الرواة فإنه يرتقي بمجموعهما إلى درجة الحسن لأنه يزول عنه حينئذ ما يخاف من سوء حفظ الرواة ويعتضد كل منهما بالآخر
এতে ইমাম শাফিঈর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, যখন মুরসাল হাদিস অন্য কোনো সূত্র থেকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হয়, তখন এই মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হাদিসের সনদটি হয়তো দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে অথবা হবে না। যদি তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়, তবে এখানে মুরসালের কোনো অর্থ নেই এবং এর কোনো গুরুত্বও নেই; কারণ আমল তো মুসনাদ হাদিসের ভিত্তিতেই হচ্ছে, মুরসালের ভিত্তিতে নয়। আর যদি মুসনাদ হাদিসটি বর্ণনাকারীদের দুর্বলতার কারণে দলিল হিসেবে অযোগ্য হয়, তবে যেহেতু আপনি মুরসাল হাদিস গ্রহণ করেন না কারণ একে শক্তিশালী করার মতো কিছু নেই, তাই সে ক্ষেত্রেও এর কোনো গুরুত্ব থাকে না।
এর উত্তর হলো, তাঁর (ইমাম শাফিঈর) উদ্দেশ্য হলো যখন মুসনাদ হাদিসের সূত্রটি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার মতো হয়। আর তাদের এই বক্তব্য যে, তখন মুরসাল হাদিসের কোনো অর্থ বা গুরুত্ব নেই—আমরা এর জবাবে বলব যে, বিষয়টি দুটি কারণে এমন নয়। প্রথমত, মুরসাল হাদিসটি মুসনাদ হাদিসের মাধ্যমে শক্তিশালী হয় এবং এর দ্বারা তার বিশুদ্ধতা প্রকাশ পায়। এমতাবস্থায় উভয়ের উপযোগিতা হলো এমন অন্য কোনো মুসনাদ হাদিসের বিপরীতে প্রাধান্য লাভ করা যার সাথে কোনো মুরসাল হাদিস যুক্ত নেই। আর নিঃসন্দেহে এটি একটি কাঙ্ক্ষিত উপকারিতা। দ্বিতীয়ত, মুসনাদ হাদিসটি হয়তো 'হাসান' স্তরের হতে পারে, আর এর সাথে মুরসাল হাদিসটি যুক্ত হওয়ার ফলে উভয়ই একে অপরের মাধ্যমে শক্তিশালী হয় এবং হাদিসটি এই দুটির সমন্বয়ে 'সহিহ' স্তরে উন্নীত হয়। এটিও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এই শাস্ত্রে যার সামান্যতম বোধশক্তি আছে তিনি ছাড়া আর কেউ এটি অস্বীকার করতে পারে না। অতএব, আপত্তিকারীর এই দাবি যে ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর কথায় কোনো উপকারিতা নেই, তা একটি অসার কথা।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, যখন কোনো মুরসাল হাদিসকে কোনো মুসনাদ হাদিস শক্তিশালী করে না, কিন্তু প্রথম সনদের ভিন্ন অন্য কোনো সনদে অনুরূপ আরেকটি মুরসাল হাদিস তাকে শক্তিশালী করে, তবে তখন সেটি শক্তিশালী হয়। তবে এটি সেই মুরসাল হাদিসের তুলনায় নিম্নস্তরের হবে যা অন্য কোনো সূত্র থেকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
হানাফিগণও এই বিষয়ে ইমাম শাফিঈর ওপর আপত্তি তুলেছেন এবং বলেছেন যে, এতে একজন অগ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারীর সাথে অনুরূপ আরেকজনেরই সংযুক্তি ঘটেছে যা কোনো ফল প্রদান করে না; যেমন একজন অবিশ্বস্ত সাক্ষীর সাক্ষ্যের সাথে অনুরূপ আরেকজনের সাক্ষ্য যুক্ত হলে কোনো লাভ হয় না।
এর উত্তরও পূর্বের মতোই। তা হলো, একটির সাথে অন্যটি যুক্ত হওয়ার ফলে এই প্রবল ধারণা তৈরি হয় যে এর কোনো ভিত্তি আছে, যদিও পৃথকভাবে তাদের কোনটিই শুধু নিজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে পারে না। এটি ঠিক তেমন, যেমনটি সেই দুর্বল হাদিসের ক্ষেত্রে বলা হয় যার দুর্বলতা বর্ণনাকারীর মুখস্থ শক্তির স্বল্পতা কিংবা মিথ্যাচারের আধিক্যের কারণে হয়ে থাকে; যখন এটি বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে এই সনদের অনুরূপ অন্য আরেকটি সনদে বর্ণিত হয়, তখন এই দুটির সমষ্টির কারণে তা 'হাসান' স্তরে উন্নীত হয়। কারণ তখন বর্ণনাকারীদের মুখস্থ শক্তির ত্রুটিজনিত যে ভয় ছিল তা দূর হয়ে যায় এবং তারা প্রত্যেকে একে অপরের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়।
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
وأما تشبيهه بالشهاده فليس كذلك لأن الرواية تفارق الشهادة في أشياء كثيرة ويقبل فيها ما لايقبل في الشهادة فكذلك هنا
الأمر الثالث أنه إذا لم يوجد مرسل مثله ولكن وجد عن بعض الصحابة رضي الله عنهم قول أو عمل يوافق هذا المرسل فإنه يدل على أن له أصلا ولا يطرح وفي كلام الشافعي بعد ذلك ما يقتضي أن الإعتبار بقول الصحابي أضعف من الاعتبار بقول الصحابي أضعف من الاعتبار بوجود مرسل آخر يوافقه يعني فروى الحديث مرسلا غلط حين سمع قول بعض الصحابه يوافقه يعني فروى الحديث مرسلا ولقائل أن يقول هذا الاحتمال مرجوح لأن هذا الراوي الذي أرسل متى كان بحيث يتطرق إليه تهمة مثل هذا الغلط والوهم لم يكن محلا لقبول ما روي من المسند فضلا عن المرسل وإن لم يكن كذلك بل كان من أهل الثقة والضبط فلا أثر حينئذ لهذا الاحتمال والمرسل يقوى بما روي عن بعض الصحابة من موافقته وخصوصا إذا كان ذلك مما يرجع فيه إلى التوقيف فإن الظاهر حينئذ أن ذلك الصحابي لم يقل به إلا وقد سمعه من النبي صلى الله عليه وسلم أو ممن سمعه منه فيدل على أن للمرسل أصلا فأما إن كان مما يمكن أن يكون الصحابي من قاله عن اجتهاد فليس الظاهر قويا حينئذ
الأمر الرابع أنه إذا وجد كثير من أهل العلم يفتون بمايوافق المرسل دل على أن له أصلا ولا شك أن الاعتبار بمثل هذا أضعف من الاعتبار بقول الصحابة إذ جاز أن يكون من قال بموافقته يقبل المرسل ويحتج به فيرجع الأمر إلى ذلك المرسل
الأمر الخامس أن ينظر في حال المرسل فإن كان إذا سمى شيخه لم يسم إلا مقبول القول ثقة قبل منه وإن كان يرسل عن كل ضرب من الناس وإذا سمى شيخه سمى تارة ضعيفا وأخرى مجهولا وأخرى واهيا لم يحتج بمرسله
وقد قال أبو عمر بن عبد البر وأبو الوليد الباجي لا خلاف أنه لا يجوز العمل بالمرسل إذا كان مرسله غير متحرز يرسل عن غيرالثقات وهذا
আর একে সাক্ষ্যের সাথে তুলনা করার বিষয়টি তেমন নয়; কারণ বর্ণনা বহু দিক থেকে সাক্ষ্য থেকে ভিন্নতর এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন অনেক কিছু গ্রহণ করা হয় যা সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হয় না, সুতরাং এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ।
তৃতীয় বিষয় হলো: যদি এর মতো অন্য কোনো মুরসাল হাদীস পাওয়া না যায়, কিন্তু কোনো কোনো সাহাবীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) পক্ষ থেকে এমন কোনো বক্তব্য বা আমল পাওয়া যায় যা এই মুরসাল হাদীসের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, তবে তা নির্দেশ করে যে এর একটি ভিত্তি রয়েছে এবং তা বর্জন করা যাবে না। ইমাম শাফিঈর পরবর্তী বক্তব্যে এমন কিছু রয়েছে যা দাবি করে যে, সাহাবীর বক্তব্যের মাধ্যমে সমর্থন গ্রহণ করা অন্য একটি সংগতিপূর্ণ মুরসাল হাদীস বিদ্যমান থাকার মাধ্যমে প্রাপ্ত সমর্থনের চেয়ে দুর্বলতর। অর্থাৎ, বর্ণনাকারী যখন সাহাবীর বক্তব্য হাদীসের সংগতিপূর্ণ শুনেছেন, তখন তিনি হাদীসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করে ভুল করেছেন। তবে কোনো আপত্তিকারী বলতে পারেন যে, এই সম্ভাবনাটি মারজুহ (দুর্বল); কারণ যে বর্ণনাকারী হাদীসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি যদি এমন হন যে তার প্রতি এই ধরনের ভুল বা ভ্রান্তির অভিযোগ আসার সুযোগ থাকে, তবে তার বর্ণিত মুসনাদ হাদীসই গ্রহণের যোগ্য হবে না, মুরসাল তো দূরের কথা। আর যদি তিনি এমন না হন, বরং বিশ্বস্ত ও নিখুঁত হেফজ শক্তির অধিকারী হন, তবে সেক্ষেত্রে এই সম্ভাবনার কোনো কার্যকারিতা নেই। আর মুরসাল হাদীস কোনো কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে বর্ণিত সংগতিপূর্ণ বর্ণনার দ্বারা শক্তিশালী হয়, বিশেষ করে যদি বিষয়টি এমন হয় যাতে কেবল ওহীর (তাওকীফ) মাধ্যমেই জ্ঞান লাভ সম্ভব; কারণ তখন বাহ্যত এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সেই সাহাবী এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিংবা তাঁর থেকে শ্রবণকারী কারও নিকট থেকেই শুনে বলেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, উক্ত মুরসাল হাদীসের একটি ভিত্তি রয়েছে। পক্ষান্তরে বিষয়টি যদি এমন হয় যা সাহাবীর পক্ষ থেকে ইজতিহাদের ভিত্তিতে বলা সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রে এই বাহ্যিক ধারণাটি অতটা শক্তিশালী হয় না।
চতুর্থ বিষয় হলো: যখন দেখা যায় যে অধিকাংশ আহলে ইলম সেই মুরসাল হাদীসের সাথে সংগতিপূর্ণ ফতোয়া প্রদান করছেন, তখন তা প্রমাণ করে যে এর একটি ভিত্তি রয়েছে। নিঃসন্দেহে এই ধরনের সমর্থন সাহাবীদের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রাপ্ত সমর্থনের চেয়ে দুর্বল; কারণ হতে পারে যারা এর সাথে সংগতিপূর্ণ মত দিয়েছেন তারা উক্ত মুরসাল হাদীসটিকেই গ্রহণ করেছেন এবং সেটি দ্বারাই দলিল পেশ করেছেন, ফলে বিষয়টি সেই মুরসাল হাদীসের দিকেই ধাবিত হয়।
পঞ্চম বিষয় হলো: মুরসালকারীর অবস্থার দিকে লক্ষ্য করা। যদি তিনি যখন তার উস্তাদের নাম উল্লেখ করেন তখন কেবল গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো নাম উল্লেখ না করেন, তবে তার মুরসাল হাদীস গ্রহণ করা হবে। আর যদি তিনি সব ধরণের মানুষের পক্ষ থেকেই মুরসাল বর্ণনা করেন এবং উস্তাদের নাম উল্লেখ করার সময় কখনো দুর্বল, কখনো অপরিচিত আবার কখনো অত্যন্ত দুর্বল বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেন, তবে তার মুরসাল হাদীস দলিল হিসেবে গণ্য হবে না।
আবু উমর ইবনে আব্দুল বার এবং আবু আল-ওয়ালীদ আল-বাজী বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, মুরসাল হাদীসের ওপর আমল করা বৈধ নয় যদি তার বর্ণনাকারী অসতর্ক হন এবং অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকে মুরসাল বর্ণনা করেন। আর এটি...
(খণ্ড: ১)
জামিউত তাহসীল ফী আহকামিল মারাসীল
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
الشرط وحده كاف في اعتبار المرسل وقبوله كما تقدم في احتجاج الإمام الشافعي بمراسيل سعيد بن المسيب
ثم إن هذا القول من الإمام الشافعي يقتضي أن المرسل عنده ليس مختصا بما روى التابعي عن النبي صلى الله عليه وسلم بحيث يكون قد أسقط منه الصحابي فقط إذ لو كان كذلك لما احتاج إلى هذا الاعتبار في شيوخ المرسل الذين يرسل عنهم بل يطلق المرسل على كل ما سقط منه رجل أو أكثر كما تقدم عن اختيار الخطيب وأنه اصطلاح جمهور الفقهاء وحينئذ فيشكل على ذلك قول الشافعي في آخر كلامه فأما من بعد كبار التابعين فلا أعلم من يقبل مرسله وأراد بذلك رد مراسيل صغار التابعين كالزهري ونحوه فمن بعدهم بطريق الأولى ويمكن الجمع بين الكلامين بأن الإمام الشافعي رحمه الله لم يقل برد مراسيل صغار التابعين مطلقا بالنسبة إليه وإلى غيره بل أشار إلى علمه وما يترتب على سبره أحوالهم ومقتضي ذلك أن من سبر أحوال الرواي وعرف منه أنه لا يرسل إلا عن عدل ثقة يحتج بمرسله لكن الإمام الشافعي لم يعرف هذه الحالة من أحد بعد كبار التابعين وقد أشار إلى ذلك في كلامه على حديث القهقهة فقال في كتاب الرسالة أنا الثقة عن ابن أبي ذئب عن ابن شهاب ان النبي صلى الله عليه وسلم أمر رجلا ضحك في الصلاة أن يعيد الوضوء والصلاة قال وقد أنا الثقة عن معمر عن ابن شهاب عن سليمان بن أرقم عن الحسن عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذا
قال الشافعي وابن شهاب عندنا إمام ولكن ابن أرقم واه ويقولون أنا نحابي ولو حابينا أحد لحابينا الزهري وإرسال الزهري عندنا ليس بشيء وذلك أنا نجده يروي عن سليمان بن أرقم
মুরসাল হাদীসকে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করার জন্য এই শর্তটিই যথেষ্ট, যেমনটি ইতিপূর্বে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের মুরসাল বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে ইমাম শাফি'ঈর দলিল প্রদানের ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত হয়েছে।
অতঃপর ইমাম শাফি'ঈর এই বক্তব্যটি এ কথাই দাবি করে যে, তাঁর নিকট 'মুরসাল' কেবল সেই বর্ণনা নয় যা একজন তাবিঈ সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন—যেখানে কেবল একজন সাহাবী বাদ পড়েছেন; কারণ যদি বিষয়টি এমনই হতো তবে যে সকল শায়খদের পক্ষ থেকে মুরসাল বর্ণনা করা হয়েছে তাদের অবস্থার বিবেচনার প্রয়োজন হতো না। বরং মুরসাল শব্দটি এমন প্রতিটি বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা থেকে এক বা একাধিক ব্যক্তি বাদ পড়েছে, যেমনটি ইতিপূর্বে খতীবের পছন্দের পরিভাষা হিসেবে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এটিই অধিকাংশ ফকিহদের পরিভাষা। এমতাবস্থায়, তাঁর বক্তব্যের শেষের দিকে ইমাম শাফি'ঈর এই কথাটি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে: "তবে বড় তাবিঈদের পরবর্তী স্তরের কারও মুরসাল বর্ণনা কেউ গ্রহণ করে বলে আমার জানা নেই।" এর মাধ্যমে তিনি যুহরী এবং তাঁর ন্যায় ছোট তাবিঈদের মুরসাল বর্ণনাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করতে চেয়েছেন এবং তাদের পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে তো এটি আরও জোরালোভাবে প্রযোজ্য। এই দুটি বক্তব্যের মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, ইমাম শাফি'ঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি নিজের পক্ষ থেকে বা অন্যের পক্ষ থেকে ছোট তাবিঈদের মুরসাল বর্ণনাকে ঢালাওভাবে প্রত্যাখ্যান করার কথা বলেননি; বরং তিনি তাঁর জ্ঞান এবং তাদের অবস্থা যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এর দাবি হলো এই যে, যে ব্যক্তি কোনো বর্ণনাকারীর অবস্থা যাচাই করে জানতে পারবেন যে তিনি কেবল বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া মুরসাল বর্ণনা করেন না, তবে তাঁর মুরসাল বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু ইমাম শাফি'ঈ বড় তাবিঈদের পরবর্তী অন্য কারও মাঝে এই গুণটির অস্তিত্ব পাননি। তিনি 'কাহকাহা' (সালাতে উচ্চস্বরে হাসা) সংক্রান্ত হাদীসের আলোচনায় এ দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং কিতাবুর রিসালায় বলেছেন: "আমাকে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ইবনে আবি যিব থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে উচ্চস্বরে হাসা ব্যক্তিকে উযু এবং সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।" তিনি আরও বলেছেন, "আমাকে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি মা'মার থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে আরকাম থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।"
ইমাম শাফি'ঈ বলেন, ইবনে শিহাব আমাদের নিকট একজন ইমাম, কিন্তু ইবনে আরকাম অত্যন্ত দুর্বল। তারা বলে যে আমরা পক্ষপাতিত্ব করি, অথচ যদি আমরা কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতাম তবে অবশ্যই যুহরীর প্রতি করতাম। কিন্তু যুহরীর মুরসাল বর্ণনা আমাদের নিকট গুরুত্বহীন, কারণ আমরা তাকে সুলাইমান ইবনে আরকামের নিকট থেকে বর্ণনা করতে দেখেছি।