(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: -)
الناسخ والمنسوخ وتنزيل القرآن - المنسوب للزهري القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: الناسخ والمنسوخ - وتنزيل القرآن بمكة والمدينة
المؤلف: محمد بن مسلم بن عبد الله بن شِهَاب الزهري (ت 124 هـ)
رواية: أبي عبد الرحمن محمد بن الحسين السلمي (412 هـ)
المحقق: حاتم صالح الضامن [ت 1434 هـ]
الناشر: مؤسسة الرسالة
الطبعة: الثالثة، 1418 هـ - 1998 م
عدد الصفحات: 45
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 محرم 1433
আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ ওয়া তানযীলুল কোরআন - যুহরীর প্রতি সম্বন্ধকৃত বিভাগ: উলূমুল কোরআন ও উসূলে তাফসীর
গ্রন্থ: আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ - এবং মক্কা ও মদিনায় কোরআন অবতীর্ণকরণ
লেখক: মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন আব্দুল্লাহ বিন শিহাব আল-যুহরী (মৃত্যু ১২৪ হিজরি)
বর্ণনা (رواية): আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সুলামী (৪১২ হিজরি)
গবেষক (محقق): হাতেম সালেহ আদ-দামেন [মৃত্যু ১৪৩৪ হিজরি]
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ মুহাররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ১)
الناسخ والمنسوخ للزهري المتوفى سنة 124 هـ
رواية أبي عبد الرحمن محمد بن الحسين السلمي
ويليه تنزيل القرآن بمكة والمدينة
১২৪ হিজরীতে ইন্তেকালকারী আয-যুহরী রচিত আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ
আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সুলামী-এর বর্ণনা (رواية)
এবং এর পরবর্তী অংশ হলো মক্কা ও মদীনায় কুরআন অবতীর্ণ হওয়া
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله ربّ العالمين والصلاة والسلام على رسوله العربي الأمين.
هذا كتاب آخر في الناسخ والمنسوخ، وهو رابع كتاب يصدر لنا في علم الناسخ والمنسوخ التي صدر منها،
1 - الناسخ والمنسوخ في كتاب الله تعالى: لقتادة بن دعامة المتوفى سنة 117 هـ.
2 - المصفى بأكف أهل الرسوخ من علم الناسخ والمنسوخ: لابن الجوزي المتوفى سنة 597 هـ.
3 - ناسخ القرآن العزيز ومنسوخه: لابن البارزي المتوفى سنة 738 هـ.
والكتاب الذي نقدمه اليوم روي عن الامام الزّهريّ المتوفى سنة 124 هـ وهو من أقدم الكتب في هذا الباب.
واخيرا أرجو أن يكون عملي خالصا لوجهه، والحمد لله على ما أنعم، انه نعم المولى ونعم النصير.
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত আরবি রাসুলের প্রতি।
এটি রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ক আরও একটি কিতাব। রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিজ্ঞানের ওপর এটি আমাদের প্রকাশিত চতুর্থ কিতাব, যার মধ্য থেকে ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে:
১ - আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ ফি কিতাবিল্লাহ তাআলা: রচনায় কতাদাহ ইবনে দি'আমাহ, মৃত্যু ১১৭ হিজরি।
২ - আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির-রুসুখ মিন ইলমিন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ: রচনায় ইবনুল জাওযি, মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি।
৩ - নাসিখুল কুরআনিল আজিজ ওয়া মানসুখুহু: রচনায় ইবনুল বারীজি, মৃত্যু ৭৩৮ হিজরি।
আজ আমরা যে কিতাবটি পেশ করছি তা ইমাম যুহরি থেকে বর্ণিত, যিনি ১২৪ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। এটি এই বিষয়ের প্রাচীনতম কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
পরিশেষে আমি আশা করি যে, আমার এই কাজটুকু যেন একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির নিমিত্তে হয়। আল্লাহ প্রদত্ত সকল নেয়ামতের জন্য তাঁরই প্রশংসা করছি। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ৭)
الزهري وكتابهمحمد بن مسلم بن عبيد الله بن عبد الله الأصغر بن شهاب بن عبد الله بن الحارث بن زهرة بن كلاب بن مرّة.
تابعي من أهل المدينة. ولد سنة 58 هـ كان أوّل من دوّن الحديث وأحد أكابر الحفاظ والفقهاء، نزل الشام واستقر بها.
وكان ثقة كثير الحديث والعلم والرواية. كتب الخليفة العادل عمر بن عبد العزيز إلى عماله: عليكم بابن شهاب فإنكم لا تجدون أحدا أعلم بالسنة الماضية منه.
وقال الليث بن سعد: ما رأيت عالما قط أجمع من ابن شهاب ولا أكثر علما منه.
توفي سنة 124 هـ (1).
--------------------------------------------
আয-যুহরি এবং তাঁর গ্রন্থমুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসগার ইবনে শিহাব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে যুহরা ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ।
তিনি মদিনার একজন তাবেয়ি (تابعي) ছিলেন। তিনি ৫৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সর্বপ্রথম হাদিস লিপিবদ্ধ করেন এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাফিজ (حفاظ) ও ফকিহ (فقهاء) ছিলেন। তিনি শামে (সিরিয়া) গমন করেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন এবং প্রচুর হাদিস, ইলম ও বর্ণনার অধিকারী ছিলেন। ন্যায়পরায়ণ খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাঁর গভর্নরদের নিকট লিখেছিলেন: "তোমরা ইবনে শিহাবের সান্নিধ্য গ্রহণ করো, কারণ তোমরা তাঁর চেয়ে অতীত সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী কাউকে পাবে না।"
লাইস ইবনে সাদ বলেন: "আমি ইবনে শিহাবের চেয়ে অধিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন এবং তাঁর চেয়ে অধিক ইলম সমৃদ্ধ কোনো আলেম কখনও দেখিনি।"
তিনি ১২৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ৮)
أمّا
كتاب الناسخ والمنسوخ المنسوب إلى الزهري فقد وصل إلينا مع كتاب آخر ينسب إلى الزهري نفسه وهو تنزيل القرآن وقد نشر هذا الكتاب الأخير الدكتور صلاح الدين المنجد سنة 1963 فله فضل السبق في ذلك.
والكتابان في مخطوطة واحدة تحتفظ بها دار الكتب المصرية تحت رقم 1084 تفسير وهي صورة عن الأصل الموجود في جامعة برنستن بالولايات المتحدة في مجموعة يهودا (228 - 2).
وتقع هذه المصورة في 14 صفحة، وهي مكتوبة بخط نسخ قديم وليس عليها تأريخ النسخ ولا اسم الناسخ ومن المرجح انها من خطوط القرن السابع الهجري.
ويشمل كتاب تنزيل القرآن الصفحتين الأخيرتين فقط.
والكتابان برواية أبي عبد الرحمن محمد بن الحسين السلميّ المتوفى سنة 412 هـ (*).
--------------------------------------------
যুহরি-র প্রতি আরোপিত
রহিতকারী ও রহিত (الناسخ والمنسوخ) বিষয়ক গ্রন্থটি আমাদের নিকট যুহরি-র নিজের প্রতি আরোপিত আরেকটি গ্রন্থ 'তানজিলুল কুরআন'-এর সাথে পৌঁছেছে। ডক্টর সালাহউদ্দীন আল-মুনাজ্জিদ ১৯৬৩ সালে এই শেষোক্ত গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন, এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনের কৃতিত্ব তাঁরই।
উভয় গ্রন্থ একই পাণ্ডুলিপিতে (مخطوطة) রয়েছে যা মিসরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া'-তে ১০৮৪ তাফসির নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির 'ইয়াহুদা সংগ্রহ'-এ (২২৮ - ২) থাকা মূল পাণ্ডুলিপির একটি প্রতিলিপি।
এই প্রতিলিপিটি ১৪ পৃষ্ঠার এবং এটি প্রাচীন নাসখ লিপিতে লিখিত। এতে অনুলিপির তারিখ বা অনুলিপিকারীর (ناسخ) নাম উল্লেখ নেই। প্রবল সম্ভাবনা যে, এটি হিজরি সপ্তম শতাব্দীর লিপি।
'তানজিলুল কুরআন' গ্রন্থটি কেবল শেষ দুই পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে।
উভয় গ্রন্থই ৪১২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণকারী আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-সুলামি-র বর্ণনা (رواية) সূত্রে প্রাপ্ত (*)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ৯)
والرواية عن الزهري جاءت عن طريق الوليد بن محمد الموقري المتوفى سنة 182 هـ وهو من تلاميذه إلّا أنّه متروك الحديث لا يجوز الاحتجاج به.
ويبقى الشكّ في نسبة الكتاب إلى الزهري قائما والله تعالى أعلم، والحمد لله أولا وآخرا.
আজ-জুহরি থেকে এই বর্ণনাটি আল-ওয়ালিদ বিন মুহাম্মদ আল-মুয়াকারি-এর সূত্রে এসেছে, যিনি ১৮২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তিনি তাঁর ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তবে তিনি পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (متروك الحديث); তাঁর দ্বারা দলিল পেশ করা (الاحتجاج) বৈধ নয়।
ফলে আজ-জুহরির প্রতি কিতাবটির সম্পৃক্ততার বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে, আর মহান আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে।
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ১০)
صفحة العنوان
শিরোনাম পাতা
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ১১)
الصفحة الأولى
প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ১২)
الصفحة الاخيرة
সর্বশেষ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الناسخ والمنسوخ للزهري المتوفى سنة 124 هـ
رواية أبي عبد الرحمن محمد بن الحسين السلمي
ويليه تنزيل القرآن بمكة والمدينة
যুহরির আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ মৃত্যু ১২৪ হিজরি
আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আস-সুলামি-র বর্ণনা (رواية)
এর পরবর্তী অংশ: মক্কা ও মদীনায় কুরআন অবতরণ
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم قال الشيخ الإمام العالم الأوحد الورع زين الدين واعظ المسلمين أبو الحسن ابن إبراهيم بن غنائم بن نجا الأنصاري قال: أخبرنا الشيخ الإمام الجليل عمدة الملك أبو البركات المقرئ المعروف بالشهرزوري قال: ثنا الشيخ الإمام ابو سعد ابن عثمان بن محمد العجلي قال: ثنا أبو عبد الله الحسين بن محمد بن الحسين الثقفي، ثنا أحمد بن محمد الصرصري، ثنا أبو طلحة أحمد بن محمد بن يوسف ابن مسعدة الفزاري قال: ثنا أبو اسحاق إبراهيم بن الحسين بن علي الهمذاني
سنة ثمان وسبعين وثلاث مائة، قال: ثنا أبو نعيم الفضل بن دكين (1)، ثنا سفيان ابن سعيد الثوري (2)، ثنا أبو حصين (3) قال: ثنا أبو عبد الرحمن عبد الله بن حبيب السلميّ (4) قال: مرّ عليّ بن أبي طالب، كرّم الله وجهه، بقاص يقصّ على الناس فقال له: علمت الناسخ من المنسوخ؟ فقال: لا. فقال له عليّ، عليه السلام: هلكت وأهلكت (5).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। শায়খ, ইমাম, অদ্বিতীয় আলেম, আল্লাহভীরু, মুসলিমদের ওয়াজকারী যাইন উদ্দিন আবুল হাসান ইবন ইব্রাহিম ইবন গানাইম ইবন নাজা আল-আনসারী বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মহান শায়খ ও ইমাম, উমদাতুল মুলক আবুল বারাকাত আল-মুকরি, যিনি শাহরাজুরি নামে পরিচিত। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) শায়খ ও ইমাম আবু সাদ ইবন উসমান ইবন মুহাম্মদ আল-ইজলি। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হুসাইন আস-সাকাফি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আহমাদ ইবন মুহাম্মদ আস-সারসারী। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু তালহা আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ইবন মাসআদাহ আল-ফাজারি। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন আল-হুসাইন ইবন আলী আল-হামদানি
তিনশ আটাত্তর হিজরি সনে। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু নুয়াইম আল-ফজল ইবন দুকাইন (১)। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সুফিয়ান ইবন সাঈদ আস-সাওরি (২)। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু হুসাইন (৩)। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবন হাবিব আস-সুলামি (৪)। তিনি বলেছেন: আলী ইবন আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন) জনৈক কাহিনীকারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে মানুষের কাছে কাহিনী শোনাচ্ছিল। তিনি তাকে বললেন: "তুমি কি রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) সম্পর্কে অবগত আছ?" সে উত্তর দিল: "না"। তখন আলী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাকে বললেন: "তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যদেরও ধ্বংস করেছ" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وحدّثنا موسى بن إسماعيل (6)، ثنا حمّاد (7) عن عطاء بن السائب (8) عن [أبي] البختري (9) قال: مرّ عليّ، عليه السلام، بمسجد الكوفة فرأى قاصّا يقصّ على الناس فقال: من هذا؟ فقالوا: رجل يحدّث الناس. فقال عليّ، عليه السلام: هذا يقول: اعرفوني اعرفوني أنا فلان بن فلان. ثمّ قال: اسألوه هل يعرف الناسخ من المنسوخ؟ فقالوا له: أمير المؤمنين يقول لك: تعرف الناسخ من المنسوخ؟ فقال: لا. فقال عليّ؛ فلا يرجع يحدّث حديثا (10).
ثنا شعبة قال: ثنا أبو الوليد قال: أخبرني أبو الحصين قال: سمعت أبا عبد الرحمن السلميّ يقول: قال علي بن أبي طالب، كرّم الله وجهه، لرجل يقصّ على الناس: هل تعلم الناسخ من المنسوخ؟ فقال: لا. فقال: هلكت وأهلكت (11).
حدثنا أبو نعيم [عن] سلمة (12) قال: ثنا نبيط بن شريط (13)، ثنا الضحّاك ابن مزاحم (14) قال؛ مرّ ابن عبّاس بقاص يقصّ فوكزه برجله ثم قال له: هل تدري الناسخ من المنسوخ؟ فقال: لا. فقال له: هلكت وأهلكت (15).
--------------------------------------------
আমাদের নিকট মূসা ইবন ইসমাঈল (৬) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ (৭) আতা ইবনুস সাইব (৮) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুল বাখতারী (৯) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আলী (আলাইহিস সালাম) কুফার মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি একজন গল্পকারকে দেখলেন যে মানুষের নিকট কিচ্ছা-কাহিনী শুনাচ্ছে। তিনি বললেন: এ কে? তারা বলল: এক ব্যক্তি যে মানুষের নিকট হাদিস বর্ণনা করছে। তখন আলী (আলাইহিস সালাম) বললেন: এ মূলত বলছে: "আমাকে চেনো, আমাকে চেনো, আমি অমুকের ছেলে অমুক।" এরপর তিনি বললেন: তাকে জিজ্ঞেস করো, সে কি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে জানে? তারা তাকে বলল: আমীরুল মুমিনীন আপনাকে জিজ্ঞেস করছেন: আপনি কি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে জানেন? সে বলল: না। তখন আলী (রা.) বললেন: সে যেন পুনরায় ফিরে এসে হাদিস বর্ণনা না করে (১০)।
শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল ওয়ালীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল হুসাইন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুর রহমান আস-সুলামীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আলী ইবন আবু তালিব (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) এক ব্যক্তিকে, যে মানুষের নিকট কিচ্ছা-কাহিনী শুনাচ্ছিল, তাকে বললেন: তুমি কি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে জানো? সে বলল: না। তখন তিনি বললেন: তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যদেরও ধ্বংস করেছ (১১)।
আবু নুআইম আমাদের নিকট সালামাহ (১২) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নুবাইত ইবন শারীত (১৩) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আদ-দাহহাক ইবন মুজাহিম (১৪) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইবন আব্বাস একজন গল্পকারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাকে পা দিয়ে আঘাত করলেন এবং তাকে বললেন: তুমি কি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে জানো? সে বলল: না। তখন তিনি তাকে বললেন: তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যদেরও ধ্বংস করেছ (১৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وبه ثنا مسدّد (16)، ثنا حميد الحماني عن سلمة بن نبيط عن الضحاك قال: ورد في تفسير قوله تعالى: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتابَ مِنْهُ آياتٌ مُحْكَماتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتابِ} (17)، ثم قال: {ما نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ} (18)، {وَأُخَرُ مُتَشابِهاتٌ} (19) فقال: هو ما قد نسخ.
وثنا مسدّد قال: ثنا عبد الوارث (20) عن حميد الأعرج (21) عن مجاهد (22): أَوْ نُنْسِها، قال نبدّل حكمها ونثبت خطّها.
--------------------------------------------
এবং তাঁর সূত্রে মুসাদ্দাদ (১৬) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), হুমায়দ আল-হিমমানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সালামাহ ইবনে নুবাইত থেকে, তিনি আদ-দাহহাক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছেন, যার কিছু আয়াত সুস্পষ্ট (محكمات), সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি} (১৭) এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, অতঃপর তিনি বলেন: {আমরা কোনো আয়াত রহিত (نسخ) করলে} (১৮), {এবং অন্যগুলো অস্পষ্ট (متشابهات)} (১৯) সে সম্পর্কে তিনি বলেন: এটি তা-ই যা ইতিপূর্বে রহিত (نسخ) করা হয়েছে।
এবং মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবদুল ওয়ারিস (২০) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হুমায়দ আল-আ’রাজ (২১) থেকে, তিনি মুজাহিদ (২২) থেকে বর্ণনা করেন: {অথবা আমরা তা বিস্মৃত করে দিলে}, তিনি বলেন: আমরা এর বিধান পরিবর্তন করি এবং এর লিখন পদ্ধতি বহাল রাখি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أول الناسخ ما رواه محمد بن مسلم الزهريثنا إبراهيم، ثنا أبو يزيد، هو محمد بن يزيد الهذلي، ثنا الوليد بن محمد الموقري الأموي المديني قال: حدثني محمد بن مسلم الزهري قال: هذا كتاب منسوخ القرآن. قال الله تعالى: {ما نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِها} (23). وقال عز وجل: {وَإِذا بَدَّلْنا آيَةً مَكانَ آيَةٍ} (24). وقال تعالى: {يَمْحُو اللهُ ما يَشاءُ وَيُثْبِتُ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْكِتابِ} (25).
وثنا إبراهيم، قال: ثنا أبو يزيد، ثنا الوليد بن محمد قال: حدثني محمد ابن مسلم الزهري قال: أوّل ما نسخ من القرآن من سورة البقرة القبلة. كانت نحو بيت المقدس، تحولت نحو الكعبة، فقال الله عز وجل: {وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَما تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللهِ إِنَّ اللهَ واسِعٌ عَلِيمٌ} (26). نسخ بقوله تعالى: {قَدْ نَرى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّماءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضاها فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ} (27).
--------------------------------------------
নাসিখ (রহিতকারী) (ناسخ) বিষয়ক বর্ণনাসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম যা মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আল-যুহরি বর্ণনা করেছেনইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু ইয়াজিদ—যিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-হুযালি—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আল-ওয়ালিদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাওকিরি আল-উমায়ি আল-মাদিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আল-যুহরি আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেছেন: এটি কুরআনের মানসুখ (রহিত) (منسوخ) বিষয়ক একটি কিতাব। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি কোনো আয়াত রহিত (نسخ) করলে অথবা তা বিস্মৃত করে দিলে..." (২৩)। তিনি আরও বলেন: "যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত বিনিময় করি..." (২৪)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা প্রতিষ্ঠিত রাখেন; আর তাঁর নিকটই রয়েছে উম্মুল কিতাব।" (২৫)।
ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবু ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আল-ওয়ালিদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আল-যুহরি আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেছেন: সূরা আল-বাকারাহ থেকে কুরআনের যে বিষয়টি সর্বপ্রথম রহিত (نسخ) হয়েছে তা হলো কিবলা। কিবলা বায়তুল মাকদিসের দিকে ছিল, যা পরবর্তীতে কাবার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: "পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।" (২৬)। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخ) হয়েছে: "আমি আকাশে আপনার বারবার মুখ ফিরানো দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব আপনি আপনার মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফিরান।" (২৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأيضا في آية الصوم قال الله تعالى: {فِدْيَةٌ طَعامُ مِسْكِينٍ} (28) و (مسكين) رواية. فكان أول الإسلام من شاء صام، ومن شاء افتدى بطعام مسكين. وقال فيها: {فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ}. نسخ منها: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كانَ مَرِيضاً أَوْ عَلى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} (29).
وقال أيضا: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيامُ كَما كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} (30). كانوا في أوّل الصيام إذا صلّى الناس العتمة ونام أحدهم حرم عليه الطعام والشراب والنساء، وصلوا (6) الصيام حتى الليلة المقبلة.
فاختان رجل نفسه فجامع أهله بعد ما صلّى العتمة فنسخ ذلك فقال: {عَلِمَ اللهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتابَ عَلَيْكُمْ وَعَفا عَنْكُمْ} (31). وهو عمر ابن الخطّاب، رضي الله عنه، وامرأته الأنصارية أم عاصم بن عمر واسمها جميلة بنت أبي عاصم الذي حماه الدّبر أن يؤخذ رأسه وقتلوا يومئذ أبا الجيلان بن هذيل وأسروا خبيب بن عدي وزيد بن الدثنة، فنسخ شأن الصوم والنساء فقال تعالى: {فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا ما كَتَبَ اللهُ لَكُمْ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ
--------------------------------------------
এ ছাড়া সিয়ামের আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বিনিময় হলো একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো} (২৮)। আর 'মিসকিন' হলো একটি বর্ণনা (رواية)। ইসলামের প্রাথমিক যুগে নিয়ম ছিল, যার ইচ্ছা সে রোজা রাখত আর যার ইচ্ছা সে একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে ফিদয়া বা বিনিময় প্রদান করত। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেছেন: {অতঃপর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতিরিক্ত সৎকাজ করবে তা তার জন্য কল্যাণকর হবে। আর রোজা রাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর উত্তম, যদি তোমরা জানতে।} তা থেকে রহিত (نسخ) করা হয়েছে: {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে সে যেন রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে সমসংখ্যক রোজা পূরণ করবে} (২৯)।
তিনি আরও বলেছেন: {তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} (৩০)। সিয়ামের বিধানের শুরুতে নিয়ম ছিল, যখন মানুষ এশার নামাজ আদায় করত এবং কেউ ঘুমিয়ে পড়ত, তখন তার জন্য খাবার, পানীয় এবং স্ত্রী-সহবাস হারাম হয়ে যেত; এবং তারা পরবর্তী রাত পর্যন্ত সিয়াম চালিয়ে যেত (৬)।
অতঃপর এক ব্যক্তি নিজের নফসের সাথে খিয়ানত করলেন এবং এশার নামাজ আদায়ের পর নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করলেন। তখন তা রহিত (نسخ) করে আল্লাহ বললেন: {আল্লাহ জানতেন যে তোমরা তোমাদের নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদের ক্ষমা করেছেন} (৩১)। তিনি ছিলেন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), এবং তাঁর আনসারী স্ত্রী উম্মে আসিম বিনতে ওমর, যাঁর নাম ছিল জামিলা বিনতে আবি আসিম—যাঁর পিতাকে মৌমাছির ঝাঁক তাঁর মাথা কেটে নিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছিল। সেদিন তারা আবুল জিলান ইবনে হুযাইলকে হত্যা করেছিল এবং খুবাইব ইবনে আদি ও যায়েদ ইবনে দাসিনাকে বন্দি করেছিল। অতঃপর সিয়াম ও স্ত্রীর বিধানটি রহিত (نسخ) করে আল্লাহ তাআলা বললেন: {এখন থেকে তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অনুসন্ধান করো। আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না তোমাদের নিকট সাদা রেখা কালো রেখা থেকে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ২০)
الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيامَ إِلَى اللَّيْلِ} (32).
والذي أنزلت فيه آية الصوم هو صرمة بن أبي أياس، غلبته عينه فنام فحرم عليه الطعام والشراب حتى الليلة المقبلة فأنزل الله عز وجل الرخصة في الصوم والفرح والنسوة، وذلك [قوله تعالى: {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيامِ الرَّفَثُ إِلى نِسائِكُمْ} (33).
قوله تعالى: {إِنْ تَرَكَ خَيْراً الْوَصِيَّةُ لِلْوالِدَيْنِ وَالأقربين} (34). نسخت بآية الميراث (35).
وقوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاثَةَ قُرُوءٍ وَلا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ ما خَلَقَ اللهُ فِي أَرْحامِهِنَّ إِنْ كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذلِكَ إِنْ أَرادُوا إِصْلاحاً} (36).
وذلك أنّ الرجل كان إذا طلّق زوجته كان أحقّ بردّها إن كان قد طلّقها ثلاثا. فلمّا أنزل الله عز وجل: {الطَّلاقُ مَرَّتانِ فَإِمْساكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسانٍ} (37). فضرب الله حينئذ أجلا لمن مات أو لمن طلّق.
فقال تعالى: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْواجاً وَصِيَّةً لِأَزْواجِهِمْ
--------------------------------------------
ভোরের কালো সুতা থেকে; অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো} (৩২)।
যাঁর সম্পর্কে সিয়ামের আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল তিনি হলেন সিরমাহ ইবনে আবি ইয়াস। তিনি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে পরবর্তী রাত না আসা পর্যন্ত তাঁর জন্য পানাহার নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সিয়ামের ক্ষেত্রে অনুমতি বা সহজ সুযোগ (رخصة), আনন্দ এবং স্ত্রীদের সান্নিধ্যের বিষয়ে অবকাশ প্রদান করে আয়াত নাজিল করলেন। আর তা হলো [আল্লাহ তাআলার বাণী: {সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন করা হালাল করা হয়েছে} (৩৩)।
আল্লাহ তাআলার বাণী: {যদি সে ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করা (তোমাদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হলো)} (৩৪)। এটি মিরাস (উত্তরাধিকার) সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে (৩৫)।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে। আর তাদের জন্য এটা বৈধ নয় যে, আল্লাহ তাদের জরায়ুতে যা সৃষ্টি করেছেন তা তারা গোপন করবে, যদি তারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে। আর তাদের স্বামীরা যদি সংশোধন চায়, তবে ওই সময়ের মধ্যে তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার অধিক হকদার} (৩৬)।
এর কারণ ছিল এই যে, কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিলে সে তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার অধিক হকদার বলে বিবেচিত হতো, যদিও সে তাকে তিন তালাক প্রদান করত। অতঃপর যখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা অবতীর্ণ করলেন: {তালাক দুই বার; তারপর হয় বিধিমত রাখা, না হয় সদয়ভাবে মুক্ত করে দেওয়া} (৩৭)। তখন আল্লাহ মৃত ব্যক্তির (স্ত্রী) কিংবা তালাকপ্রাপ্তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিলেন।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা বললেন: {আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং স্ত্রীদের রেখে যাবে, তারা তাদের স্ত্রীদের জন্য অসিয়ত করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ২১)
مَتاعاً إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْراجٍ} (38). فنسخها بآية الميراث التي فرض لهنّ فيها الربع والثّمن.
وقال تعالى: {وَلا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ} (39). فنسخ منها (7) ما أحلّ من المشركات من نساء أهل الكتاب من اليهود والنصارى في النكاح.
وقال الله عز وجل: {وَلا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئاً إِلَّا أَنْ يَخافا أَلَّا يُقِيما حُدُودَ اللهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيما حُدُودَ اللهِ فَلا جُناحَ عَلَيْهِما فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ} (40).
وقال تعالى: {لا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْساً إِلَّا وُسْعَها} (41). فيما فرض ان لم يستطع الحج ولا الجهاد أو لم يستطع أن يصلي قائما فيصلي جالسا. قال تعالى:
{وَإِنْ تُبْدُوا ما فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحاسِبْكُمْ بِهِ اللهُ فَيَغْفِرُ لِمَنْ يَشاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشاءُ} (42) نسخت بقوله تعالى: {لا يُكَلِّفُ
--------------------------------------------
...এক বছর পর্যন্ত সংস্থান এবং বের না করে দেওয়া} (৩৮)। অতঃপর একে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা রহিত (نسخ) করা হয়েছে, যাতে তাদের জন্য এক-চতুর্থাংশ ও এক-অষ্টমাংশ নির্ধারিত (فرض) করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে; অবশ্যই একজন মুমিন দাসী একজন মুশরিক নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে। আর মুশরিক পুরুষদের সাথে (তোমাদের নারীদের) বিয়ে দিও না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে; অবশ্যই একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে} (৩৯)। অতঃপর এর মধ্য হতে (৭) কিতাবধারী (আহলে কিতাব) ইহুদি ও খ্রিস্টান নারীদের বিয়ের ক্ষেত্রে যা বৈধ (أحل) করা হয়েছে তার দ্বারা রহিত (نسخ) করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের জন্য এটা বৈধ নয় যে, তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ তা হতে কিছু গ্রহণ করবে, তবে যদি উভয়েই আল্লাহ প্রদত্ত সীমারেখা বজায় রাখতে না পারার ভয় করে। অতঃপর যদি তোমরা ভয় করো যে তারা আল্লাহর সীমারেখা বজায় রাখতে পারবে না, তবে স্ত্রী যা দিয়ে নিজেকে মুক্ত করে নেবে (ফিদয়া দেবে) তাতে তাদের কারো কোনো অপরাধ নেই} (৪০)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না} (৪১)। এটি ঐ সকল অপরিহার্য বিধানের (فرض) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে কেউ হজ বা জিহাদ করতে সক্ষম নয়, অথবা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম নয় বিধায় বসে সালাত আদায় করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
{তোমাদের অন্তরে যা আছে তা যদি তোমরা প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো, আল্লাহ তোমাদের কাছে তার হিসাব নেবেন; অতঃপর তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছে শাস্তি দেবেন} (৪২)। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخت) হয়েছে: {আল্লাহ কাউকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ২২)
اللهُ نَفْساً إِلَّا وُسْعَها لَها ما كَسَبَتْ وَعَلَيْها مَا اكْتَسَبَتْ} (43) أي لا يكتب على أحد إلّا ما فعل وما عمل.
وقال في سورة النساء: {وَإِذا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُولُوا الْقُرْبى وَالْيَتامى وَالْمَساكِينُ فَارْزُقُوهُمْ مِنْهُ} (44). نسختها آية الميراث فيأخذ كلّ نفس ما كتب لها.
وفي أموال اليتامى قال: {وَمَنْ كانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كانَ فَقِيراً فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ} (45).
نسخت بقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوالَ الْيَتامى ظُلْماً إِنَّما يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ ناراً وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيراً} (46).
وقال تعالى: {وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفاحِشَةَ مِنْ نِسائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِنْكُمْ}
… إلى قوله: {سَبِيلًا} (47).
--------------------------------------------
{আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না; সে যা অর্জন করেছে তা তারই প্রাপ্য, আর যা সে কামাই করেছে তা তারই ওপর বর্তাবে} (৪৩) অর্থাৎ কারো আমলনামায় সে যা করেছে এবং যে কর্ম সম্পাদন করেছে তা ব্যতীত অন্য কিছু লিপিবদ্ধ করা হবে না।
আর তিনি সূরা আন-নিসায় বলেছেন: {আর যখন বণ্টনের সময় আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও মিসকিনরা উপস্থিত হয়, তখন তাদেরকে তা থেকে কিছু প্রদান করো} (৪৪)। উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াত এটিকে রহিত (نسختها) করেছে, ফলে প্রতিটি ব্যক্তি তার জন্য নির্ধারিত অংশই গ্রহণ করবে।
আর এতিমদের সম্পদের বিষয়ে তিনি বলেছেন: {আর যে সচ্ছল সে যেন বিরত থাকে, আর যে অভাবগ্রস্ত সে যেন ন্যায়সঙ্গতভাবে ভোগ করে} (৪৫)।
এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে: {নিশ্চয়ই যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা মূলত তাদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করছে এবং অচিরেই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে} (৪৬)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করো}
… তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {কোনো পথ} (৪৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهذه المرأة وحدها ليس معها رجل، فقال رجل كلاما، فقال الله عز وجل: {واللذان يَأْتِيانِها مِنْكُمْ فَآذُوهُما فَإِنْ تابا وَأَصْلَحا فَأَعْرِضُوا عَنْهُما} (48). أي فاعرضوا عن عذابهما.
وقال: لا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّساءَ كَرْهاً وَلا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ ما آتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ (49).
قال أبو يزيد: بلغني أنّ الرجل كان في الجاهليّة لا يورّث امرأة أبيه، لا يورّثها من الميراث شيئا حتى تفتدي ببعض ما أعطوها.
قال ابن شهاب: فوعظ الله سبحانه في ذلك عباده المؤمنين ونهاهم عنه.
وقال تعالى: {وَالَّذِينَ عَاقَدَتْ أَيْمانُكُمْ (8) فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ} (50).
قيل إنّ الرجل أول ما نزل رسول الله، صلى الله عليه وسلم، المدينة يحالف الرجل: إنّك ترثني وأرثك.
فنسخها الله عز وجل بقوله: {وَأُولُوا الْأَرْحامِ بَعْضُهُمْ أَوْلى بِبَعْضٍ فِي كِتابِ اللهِ إِنَّ اللهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (51).
--------------------------------------------
এবং এই নারী একাকী ছিলেন, তার সাথে কোনো পুরুষ ছিল না। তখন এক ব্যক্তি কিছু কথা বললেন, অতঃপর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বললেন: {তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন তাতে (অশ্লীলতায়) লিপ্ত হয়, তাদের শাস্তি দাও। অতঃপর যদি তারা তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয়, তবে তাদের থেকে বিমুখ হও (তাদের অব্যাহতি দাও)} (৪৮)। অর্থাৎ তাদের শাস্তি প্রদান করা থেকে বিমুখ হও।
এবং তিনি বলেছেন: {তোমাদের জন্য এটা বৈধ নয় যে, তোমরা জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হবে এবং তোমরা তাদের যা প্রদান করেছ তার অংশবিশেষ নিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের আটকে রেখো না; যদি না তারা প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়} (৪৯)।
আবু ইয়াজিদ বলেন: আমার নিকট এ সংবাদ পৌঁছেছে যে, জাহেলিয়াত যুগে কোনো ব্যক্তি তার পিতার স্ত্রীর উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে দিত না এবং তাকে মিরাস (উত্তরাধিকার) থেকে কোনো কিছুই প্রদান করত না, যতক্ষণ না সে তাকে প্রদত্ত সম্পদের অংশবিশেষের বিনিময়ে মুক্তিপণ দিত।
ইবনে শিহাব বলেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ বিষয়ে তাঁর মুমিন বান্দাদের উপদেশ দিয়েছেন এবং তাদের এ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যাদের সাথে তোমাদের ডান হাত অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে, তাদের প্রাপ্য অংশ তাদের দিয়ে দাও} (৫০)।
বলা হয়ে থাকে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন প্রথম মদিনায় আগমন করেন, তখন কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির সাথে এই মর্মে মৈত্রীচুক্তি করত যে: নিশ্চয়ই তুমি আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং আমি তোমার উত্তরাধিকারী হব।
অতঃপর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা রহিত (نسخ) করেছেন: {আর আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়রা একে অপরের অধিক নিকটবর্তী। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ} (৫১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال تعالى: {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقْرَبُوا الصَّلاةَ وَأَنْتُمْ سُكارى حَتَّى تَعْلَمُوا ما تَقُولُونَ} (52).
وقال تعالى: {يسألونك عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِما إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُما أَكْبَرُ مِنْ نَفْعِهِما} (53).
فنسخها الله عز وجل بقوله سبحانه: {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصابُ وَالْأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (54).
وقال تعالى: {إِلَّا الَّذِينَ يَصِلُونَ إِلى قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثاقٌ أَوْ جاؤُكُمْ حَصِرَتْ صُدُورُهُمْ أَنْ يُقاتِلُوكُمْ أَوْ يُقاتِلُوا قَوْمَهُمْ وَلَوْ شاءَ اللهُ لَسَلَّطَهُمْ عَلَيْكُمْ فَلَقاتَلُوكُمْ فَإِنِ اعْتَزَلُوكُمْ فَلَمْ يُقاتِلُوكُمْ وَأَلْقَوْا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ}
… إلى قوله: {سُلْطاناً مُبِيناً} (55).
وقال تعالى: {لا يَنْهاكُمُ اللهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِنْ
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলছ তা বুঝতে পার} (৫২)।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, এ দুটোর মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারও, কিন্তু তাদের পাপ তাদের উপকারের চেয়ে অনেক বড়} (৫৩)।
অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা রহিত করেছেন (نسخ): {হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়; অতএব তোমরা তা বর্জন করো যাতে তোমরা সফল হতে পারো} (৫৪)।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তবে তারা ছাড়া, যারা এমন এক কওমের সাথে মিলিত হয় যাদের সাথে তোমাদের চুক্তি রয়েছে, অথবা যারা তোমাদের কাছে এমন অবস্থায় আসে যে তাদের অন্তর তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে বা তাদের নিজেদের কওমের সাথে যুদ্ধ করতে কুণ্ঠিত। আর আল্লাহ যদি চাইতেন তবে অবশ্যই তাদেরকে তোমাদের ওপর ক্ষমতা দিতেন, ফলে তারা নিশ্চয়ই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত। অতএব তারা যদি তোমাদের থেকে পৃথক থাকে, তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের কাছে সন্ধির প্রস্তাব দেয়}
… মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {সুস্পষ্ট প্রমাণ} (৫৫)।
মহান আল্লাহ বলেন: {দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের নিজ দেশ থেকে তোমাদের বহিষ্কার করেনি, তাদের প্রতি...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
دِيارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ. إِنَّما يَنْهاكُمُ اللهُ عَنِ الَّذِينَ قاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَأَخْرَجُوكُمْ مِنْ دِيارِكُمْ وَظاهَرُوا عَلى إِخْراجِكُمْ أَنْ تَوَلَّوْهُمْ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ فَأُولئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} (56).
وقال تعالى: {إِلَّا الَّذِينَ عاهَدْتُمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ} (57) وهم بنو ضمرة بن بكر قد عاقد عليهم مخشيّ بن حويل: إنا نأمنكم وتأمنونا حتى ندبر وننظر في الأمر (58).
نسخ هؤلاء الأربعة، فقال تعالى: {بَراءَةٌ مِنَ اللهِ وَرَسُولِهِ إِلَى الَّذِينَ عاهَدْتُمْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ. فَسِيحُوا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللهِ وَأَنَّ اللهَ مُخْزِي الْكافِرِينَ} (59). فجعل لهم أجلا أربعة أشهر يسيحون في الأرض. {فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ [وَخُذُوهُمْ وَاقْعُدُوا (9) لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ فَإِنْ تابُوا وَأَقامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ إِنَّ اللهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (60).
--------------------------------------------
তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে (বহিষ্কার করেনি), তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে (আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না)। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন। আল্লাহ কেবল তাদের সাথেই বন্ধুত্ব করতে তোমাদের নিষেধ করেন যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদের বের করে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তারাই মূলত জালেম} (৫৬)।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {তবে মাসজিদুল হারামের নিকট যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে তারা ব্যতীত} (৫৭)। তারা ছিল বনু দামরা ইবনে বকর, যাদের পক্ষে মাখশি ইবনে হুওয়াইল এই মর্মে চুক্তি করেছিলেন যে: আমরা আপনাদের পক্ষ থেকে নিরাপদ থাকব এবং আপনারাও আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপদ থাকবেন যতক্ষণ না আমরা বিষয়টি পরিচালনা করি এবং এ ব্যাপারে ভেবে দেখি (৫৮)।
এই চারটি (চুক্তি) রহিত (نسخ) করা হয়েছে, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের প্রতি সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে। সুতরাং তোমরা জমিনে চার মাস পরিভ্রমণ কর এবং জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহকে হীনবল করতে পারবে না এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদের লাঞ্ছিতকারী} (৫৯)। ফলে তিনি তাদের জন্য জমিনে পরিভ্রমণের উদ্দেশ্যে চার মাস সময় নির্ধারণ করে দিলেন। {অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হবে, তখন মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা কর, তাদের বন্দী কর এবং প্রতিটি ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওত পেতে থাক। তবে যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (৬০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال عز وجل: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللهِ} (61).
وقال تعالى: {لا تَأْكُلُوا أَمْوالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْباطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجارَةً عَنْ تَراضٍ مِنْكُمْ} (62).
فنسخ هذا فقال: {وَلا عَلى أَنْفُسِكُمْ أَنْ تَأْكُلُوا مِنْ بُيُوتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ آبائِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أُمَّهاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ إِخْوانِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخَواتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَعْمامِكُمْ أَوْ بُيُوتِ عَمَّاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخْوالِكُمْ أَوْ بُيُوتِ خالاتِكُمْ أَوْ ما مَلَكْتُمْ مَفاتِحَهُ أَوْ صَدِيقِكُمْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُناحٌ أَنْ تَأْكُلُوا جَمِيعاً أَوْ أَشْتاتاً} (63).
وقال تعالى في الأنفال: {إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ يَغْلِبُوا أَلْفاً مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لا يَفْقَهُونَ} (64).
فضجّ المسلمون عند ذلك وقالوا: من يطيق ذلك وهل يقدر الرجل الواحد أن يلقى عشرة رجال؟.
فنسخ الله عز وجل ذلك بقوله: {الْآنَ خَفَّفَ اللهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যদি মুশরিকদের মধ্যে কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়} (৬১)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে তোমাদের পরস্পর সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা} (৬২)।
অতঃপর এটি রহিত (نسخ) করে তিনি বলেছেন: {তোমাদের নিজেদের জন্য কোনো দোষ নেই যে, তোমরা আহার করবে তোমাদের নিজেদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের পিতাদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের মায়েদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের ভাইদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের বোনদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের চাচাদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের ফুফুদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের মামাদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের খালাদের ঘর থেকে অথবা সেই সব ঘর থেকে যার চাবি তোমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অথবা তোমাদের বন্ধুদের ঘর থেকে। তোমরা একত্রে আহার করো অথবা পৃথক পৃথকভাবে, তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই} (৬৩)।
আল্লাহ তাআলা আল-আনফালে আরও বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন ধৈর্যশীল ব্যক্তি থাকে, তবে তারা দুইশ জনের ওপর বিজয়ী হবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে একশ জন থাকে, তবে তারা কাফেরদের মধ্য থেকে এক হাজার জনের ওপর বিজয়ী হবে, কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের বোধশক্তি নেই} (৬৪)।
তখন মুসলমানরা এতে বিচলিত হয়ে পড়লেন এবং বললেন: এটি সহ্য করার ক্ষমতা কার আছে? এবং একজন ব্যক্তি কি দশজন লোকের মোকাবিলা করতে সক্ষম?
অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা রহিত (نسخ) করেছেন: {এখন আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করে দিয়েছেন এবং তিনি অবগত হয়েছেন যে তোমাদের মধ্যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ضَعْفاً فَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ صابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَلْفٌ يَغْلِبُوا أَلْفَيْنِ بِإِذْنِ اللهِ وَاللهُ مَعَ الصَّابِرِينَ} (65).
وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَهاجَرُوا وَجاهَدُوا بِأَمْوالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللهِ وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا أُولئِكَ بَعْضُهُمْ أَوْلِياءُ بَعْضٍ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يُهاجِرُوا ما لَكُمْ مِنْ وَلايَتِهِمْ مِنْ شَيْءٍ حَتَّى يُهاجِرُوا} (66).
قيل: إنّ الأعرابي كان يرثه المهاجر، وكان المهاجر لا يورّثه.
فنسخ الله عز وجل ذلك بقوله: {وَأُولُوا الْأَرْحامِ بَعْضُهُمْ أَوْلى بِبَعْضٍ فِي كِتابِ اللهِ إِنَّ اللهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (67).
وقال تعالى: {وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَها وَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ} (68).
وقال تعالى: {قاتِلُوا الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَلا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ} (69).
وقال تعالى: {وَما كانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَما كانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} (70).
--------------------------------------------
}...দুর্বলতা। অতএব তোমাদের মধ্যে যদি একশত ধৈর্যশীল ব্যক্তি থাকে তবে তারা দুইশতের ওপর বিজয়ী হবে এবং যদি তোমাদের মধ্যে এক হাজার থাকে তবে তারা আল্লাহর অনুমতিক্রমে দুই হাজারের ওপর বিজয়ী হবে। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন} (৬৫)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আর যারা আশ্রয় দান করেছে ও সাহায্য করেছে—তারা একে অপরের বন্ধু। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করেনি, তারা হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের অভিভাবকত্বের সাথে তোমাদের কোনো সম্পর্ক নেই} (৬৬)।
বলা হয়েছে: মুহাজির ব্যক্তি গ্রাম্য আরবের (বেদুইন) উত্তরাধিকারী হতেন, কিন্তু গ্রাম্য আরব ব্যক্তি মুহাজিরের উত্তরাধিকারী হতেন না।
অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তা রহিত (نسخ) করলেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর আল্লাহর কিতাবে রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়রা একে অপরের অধিক হকদার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ} (৬৭)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যদি তারা সন্ধির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে আপনিও তার দিকে ঝুঁকে পড়ুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করুন} (৬৮)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমরা যুদ্ধ করো তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে না} (৬৯)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর আল্লাহ কখনোই তাদের শাস্তি দেবেন না যখন আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন, আর আল্লাহ তাদের ওপর আজাব দানকারী নন যখন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে} (৭০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فنسخت فقال تعالى: (10): {وَما لَهُمْ أَلَّا يُعَذِّبَهُمُ اللهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ
… إلى: كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ} (71).
فقاتلوا بمكّة فأصابهم خصاصة وجوع.
وقال في سورة براءة: {إِلَّا تَنْفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذاباً أَلِيماً} (72).
وقال أيضا: {ما كانَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَمَنْ حَوْلَهُمْ مِنَ الْأَعْرابِ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنْ رَسُولِ اللهِ وَلا يَرْغَبُوا بِأَنْفُسِهِمْ عَنْ نَفْسِهِ ذلِكَ بِأَنَّهُمْ لا يُصِيبُهُمْ ظَمَأٌ وَلا نَصَبٌ} (73).
نسخهما قوله تعالى: {وَما كانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ} (74).
وقال تعالى: {لا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ}
… إلى قوله: {يَتَرَدَّدُونَ} (75).
--------------------------------------------
অতঃপর তা রহিত (نسخت) করা হয়েছে; এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: (১০): {আর তাদের কী কারণ থাকতে পারে যে, আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না, অথচ তারা মসজিদুল হারাম থেকে বাধা প্রদান করে
… শেষ পর্যন্ত: তোমরা যে কুফরি করতে তার জন্য} (৭১)।
অতঃপর তারা মক্কায় যুদ্ধ করলেন এবং চরম অভাব ও ক্ষুধার সম্মুখীন হলেন।
এবং তিনি সূরা বারাআতে বলেন: {যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে তিনি তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন} (৭২)।
তিনি আরও বলেন: {মদিনাবাসী ও তাদের পার্শ্ববর্তী মরুবাসীদের জন্য সমীচীন নয় যে, তারা আল্লাহর রাসূলের পেছনে থেকে যাবে এবং তাঁর প্রাণের চেয়ে নিজেদের প্রাণকে বেশি প্রিয় মনে করবে। তা এ জন্য যে, তাদের যে তৃষ্ণা ও ক্লান্তি স্পর্শ করে...} (৭৩)।
এই উভয় আয়াতকে মহান আল্লাহর এই বাণীটি রহিত (نسخ) করেছে: {আর মুমিনদের পক্ষে একযোগে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। তবে তাদের প্রত্যেক বড় দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে} (৭৪)।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, তারা আপনার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করে না...} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {তারা তাদের সংশয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়} (৭৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
نسخها قوله تعالى: {فَإِذَا اسْتَأْذَنُوكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ}
… إلى قوله: {غَفُورٌ رَحِيمٌ} (76).
وقال تعالى: {الْأَعْرابُ أَشَدُّ كُفْراً وَنِفاقاً}
… إلى قوله تعالى: {عَلِيمٌ} (77).
نسخها قوله: {وَمِنَ الْأَعْرابِ مَنْ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ} إلى قوله تعالى: {قُرْبَةٌ لَهُمْ} (78).
وقال تعالى في سورة النحل: {مَنْ كَفَرَ بِاللهِ مِنْ بَعْدِ إِيمانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمانِ}
… إلى قوله تعالى: {عَظِيمٌ} (79).
نسخها [قوله]: {ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ هاجَرُوا مِنْ بَعْدِ ما فُتِنُوا ثُمَّ جاهَدُوا وَصَبَرُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِها لَغَفُورٌ رَحِيمٌ} (80).
--------------------------------------------
তা রহিত (نسخ) হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা: {অতঃপর তারা যখন তাদের কোনো কাজের জন্য আপনার কাছে অনুমতি চাইবে}
… তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (৭৬)।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {মরুবাসী আরবরা কুফরি ও নিফাকে অত্যন্ত কঠোর}
… মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {সর্বজ্ঞ} (৭৭)।
তা রহিত (نسخ) হয়েছে তাঁর এই বাণী দ্বারা: {আর মরুবাসীদের মধ্যে এমনও আছে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে} মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {তাদের জন্য নৈকট্যের উপায়} (৭৮)।
এবং মহান আল্লাহ সূরা আন-নাহল-এ বলেন: {যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহর সঙ্গে কুফরি করে—তবে সে ব্যক্তি ছাড়া যাকে বাধ্য করা হয় অথচ তার অন্তর ঈমানে অটল থাকে—}
… মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {মহান} (৭৯)।
তা রহিত (نسخ) হয়েছে [তাঁর এই বাণী] দ্বারা: {অতঃপর যারা ফিতনায় পতিত হওয়ার পর হিজরত করেছে, অতঃপর জিহাদ করেছে এবং ধৈর্য ধারণ করেছে, নিশ্চয় আপনার প্রতিপালক এসবের পর অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (৮০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال تعالى في سورة بني إسرائيل: {وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُما كَما رَبَّيانِي صَغِيراً} (81).
فنسخ منها قوله تعالى: {ما كانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كانُوا أُولِي قُرْبى مِنْ بَعْدِ ما تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحابُ الْجَحِيمِ} (82).
وقال عزّ من قائل: {وَلا تَجْهَرْ بِصَلاتِكَ وَلا تُخافِتْ بِها وَابْتَغِ بَيْنَ ذلِكَ سَبِيلًا} (83).
فنسخ بقوله تعالى: {وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعاً وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصالِ} (84).
وقال تعالى: {فَاصْدَعْ بِما تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ. إِنَّا كَفَيْناكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ} (85).
[قوله: {فَاصْدَعْ بِما تُؤْمَرُ} هذا محكم، وهذه الآية نصفها
--------------------------------------------
এবং আল্লাহ তাআলা সূরা বনী ইসরাঈলে বলেন: {আর বলো, ‘হে আমার রব! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন, যেমন তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছিলেন’} (৮১)।
অতঃপর এর মধ্য থেকে আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা রহিত (نسخ) করা হয়েছে: {নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়; তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, নিশ্চয় তারা জাহান্নামের অধিবাসী} (৮২)।
মহান সত্তা আরও বলেন: {আর তুমি তোমার সালাতে স্বর খুব উচ্চ করো না এবং খুব নিচুও করো না; বরং এ দুয়ের মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করো} (৮৩)।
অতঃপর আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে তা রহিত (نسخ) করা হয়েছে: {আর তুমি তোমার রবকে মনে মনে সবিনয়ে ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় অনুচ্চস্বরে স্মরণ করো সকালে ও সন্ধ্যায়} (৮৪)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতএব তোমাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা প্রকাশ্যে প্রচার করো এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। নিশ্চয় বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আমিই তোমার জন্য যথেষ্ট} (৮৫)।
[তাঁর বাণী: {অতএব তোমাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা প্রকাশ্যে প্রচার করো}—এটি সুদৃঢ় (محكم), এবং এই আয়াতের অর্ধেক অংশ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
منسوخ، فالمنسوخ قوله تعالى: {وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ} نسخ بآية السيف] (86).
وقال تعالى: (11) في سورة النور {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَناتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَداءَ}
… إلى قوله تعالى: {هم الفاسقون} (87).
نسخ منها [قوله]: {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْواجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَداءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ}
… (88) الآية. {إن كان من الصادقين} إلى آخر اللعان، فإن حلف فرّق عنهما ولم يجلد واحد منهما، وإن لم يحلف أقيم عليه الحدّ.
وقال تعالى: {وَقُلْ لِلْمُؤْمِناتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصارِهِنَّ}
… إلى قوله تعالى: {أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلى عَوْراتِ النِّساءِ} (89).
نسخ منها [قوله]: {وَالْقَواعِدُ مِنَ النِّساءِ اللَّاتِي لا يَرْجُونَ نِكاحاً}
… إلى قوله: {سَمِيعٌ عَلِيمٌ} (90).
--------------------------------------------
রহিত (منسوخ), আর রহিত (منسوخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং মুশরিকদের থেকে বিমুখ হও} যা তলোয়ারের আয়াত (আয়াতুস সাইফ) দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে] (৮৬)।
এবং মহান আল্লাহ সূরা আন-নূরের (১১) আয়াতে বলেন: {আর যারা সতী-সাধ্বী নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অত:পর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না...} মহান আল্লাহর বাণী: {তারাই পাপাচারী} পর্যন্ত (৮৭)।
এ থেকে [আল্লাহর বাণী] রহিত (نسخ) হয়েছে: {আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোনো সাক্ষী নেই...} (৮৮) আয়াতটি। {যদি সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়} থেকে লিয়ান (لعان) সংক্রান্ত বিষয়ের শেষ পর্যন্ত। যদি সে শপথ করে তবে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ করিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের কাউকেই বেত্রাঘাত করা হবে না, আর যদি সে শপথ না করে তবে তার ওপর নির্ধারিত শাস্তি (حدّ) প্রয়োগ করা হবে।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে...} মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা এমন শিশু যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে সচেতন নয়} পর্যন্ত (৮৯)।
এ থেকে [আল্লাহর বাণী] রহিত (نسخ) হয়েছে: {আর বৃদ্ধা নারীরা যারা বিবাহের আশা রাখে না...} মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} পর্যন্ত (৯০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال تعالى: {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَدْخُلُوا بُيُوتاً غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلى أَهْلِها
… إلى قوله: لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} (91).
نسخ منها قوله تعالى: {لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُناحٌ أَنْ تَدْخُلُوا بُيُوتاً غَيْرَ مَسْكُونَةٍ فِيها مَتاعٌ لَكُمْ}. وهي بيوت المتاجرة ومنازل الضيوف، فقال: {وَاللهُ يَعْلَمُ ما تُبْدُونَ وَما تَكْتُمُونَ} (92).
وفي الشعراء قوله تعالى: {وَالشُّعَراءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغاوُونَ} إلى قوله: {يَفْعَلُونَ} (93).
نسختها هذه الآية، قوله تعالى: {إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ وَذَكَرُوا اللهَ كَثِيراً} (94) إلى آخر السورة.
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ব্যতীত অন্য ঘরে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি প্রার্থনা করবে এবং তাদের বাসিন্দাদের সালাম দেবে
… মহান আল্লাহর বাণী পর্যন্ত: যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো} (৯১)।
তা থেকে আল্লাহ তাআলার এই বাণীটি রহিত (نسخ) করেছে: {তোমাদের জন্য সেই সব ঘরে প্রবেশ করাতে কোনো গুনাহ নেই যেগুলোতে কেউ বাস করে না এবং যাতে তোমাদের কোনো আসবাবপত্র বা উপকার রয়েছে}। আর সেগুলো হলো বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও মেহমানখানা। অতঃপর তিনি বলেন: {আর আল্লাহ জানেন যা তোমরা প্রকাশ করো এবং যা তোমরা গোপন করো} (৯২)।
এবং সুরা আশ-শুআরা-তে মহান আল্লাহর বাণী: {আর কবিদের অনুসরণ করে বিভ্রান্তরা} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {যা তারা করে} (৯৩)।
এই আয়াতটি তাকে রহিত (نسختها) করেছে, মহান আল্লাহর বাণী: {তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করেছে} (৯৪) সুরার শেষ পর্যন্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وفي حم الأحقاف قوله تعالى: {قُلْ ما كُنْتُ بِدْعاً مِنَ الرُّسُلِ وَما أَدْرِي ما يُفْعَلُ بِي وَلا بِكُمْ} (95).
نسختها هذه الآية، قوله تعالى: {إِنَّا فَتَحْنا لَكَ فَتْحاً مُبِيناً. لِيَغْفِرَ لَكَ اللهُ ما تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَما تَأَخَّرَ}
… إلى قوله: {وَيَهْدِيَكَ صِراطاً مُسْتَقِيماً} (96).
فعلم سبحانه ما يفعل به من الكرامة، فقال رجل من الأنصار: قد حدّثك ربّك ما يفعل بك من الكرامة فهنيئا لك يا رسول الله، فما يفعل بنا نحن؟ فقال سبحانه: {وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُمْ مِنَ اللهِ فَضْلًا كَبِيراً} (97).
وقال تعالى: {لِيُدْخِلَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِناتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهارُ} (98).
فبيّن تعالى في هذه الآية كيف يفعل به وبهم (99).
--------------------------------------------
সুরা আল-আহকাফ-এ আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, ‘আমি রাসূলদের মধ্যে নতুন কেউ নই। আমার সাথে এবং তোমাদের সাথে কী আচরণ করা হবে, তা আমি জানি না’} (৯৫)।
এই আয়াতটিকে রহিত (نسخ) করেছে আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {নিশ্চয় আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি। যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন…} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন} (৯৬)।
ফলে মহান আল্লাহ জানিয়ে দিলেন তাঁর প্রতি সম্মানের কী আচরণ করা হবে। তখন আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: ‘আপনার রব তো আপনাকে জানিয়ে দিয়েছেন আপনার সাথে সম্মানের কী আচরণ করা হবে, আপনার জন্য শুভকামনা হে আল্লাহর রাসূল! কিন্তু আমাদের সাথে কী করা হবে?’ তখন মহান আল্লাহ বললেন: {আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে বড় অনুগ্রহ} (৯৭)।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যাতে তিনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করান যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত} (৯৮)।
সুতরাং আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে স্পষ্ট করেছেন তাঁর সাথে এবং তাঁদের সাথে কী আচরণ করা হবে (৯৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ওয়া তানযিলুল কুরআন - আল মানসুব লিয যুহরি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
(12) وقال تعالى في سورة المجادلة: {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذا ناجَيْتُمُ الرَّسُولَ. فَقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْواكُمْ صَدَقَةً}
… إلى قوله تعالى: {غَفُورٌ رَحِيمٌ} (100).
فنسخت هذه الآية بقوله تعالى: {أَأَشْفَقْتُمْ أَنْ تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْواكُمْ صَدَقاتٍ}
… إلى قوله تعالى: {وَآتُوا الزَّكاةَ} (101).
وقال تعالى في سورة المزّمّل: {قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا. نِصْفَهُ. أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا. أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا} (102).
فنسخها قوله تعالى؛ {عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ فَتابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَؤُا ما تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ}
… إلى قوله تعالى: {وَآتُوا الزَّكاةَ} (103).
وقال تعالى: {إِنَّ ناشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وطأً وَأَقْوَمُ قِيلًا} (104).
--------------------------------------------
(১২) এবং আল্লাহ তাআলা সূরা আল-মুজাদালায় ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যখন রাসূলের সাথে চুপিচুপি কথা বলতে চাও, তখন তোমাদের চুপিচুপি কথা বলার পূর্বে সদকা প্রদান করো}
... আল্লাহ তাআলার বাণী: {ক্ষমাশীল পরম দয়ালু} পর্যন্ত (১০০)।
অতঃপর এই আয়াতটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (منسوخ) হয়েছে: {তোমরা কি তোমাদের চুপিচুপি কথা বলার পূর্বে সদকা প্রদান করতে ভীত হয়েছ?}
... আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং জাকাত প্রদান করো} পর্যন্ত (১০১)।
এবং আল্লাহ তাআলা সূরা আল-মুযাম্মিলে ইরশাদ করেছেন: {রাত্রিতে দণ্ডায়মান হোন কিছু অংশ বাদ দিয়ে; রাতের অর্ধেক অথবা তার চেয়ে কিছু কম করুন, অথবা তার চেয়ে বৃদ্ধি করুন এবং কুরআন তিলাওয়াত করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে} (১০২)।
অতঃপর একে আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা রহিত (نسخ) করা হয়েছে: {তিনি জানেন যে, তোমরা তা পুরোপুরি পালন করতে পারবে না, তাই তিনি তোমাদের প্রতি সদয় হয়েছেন। কাজেই কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ হয়, ততটুকু তিলাওয়াত করো}
... আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং জাকাত প্রদান করো} পর্যন্ত (১০৩)।
এবং আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই রাতে ইবাদতের জন্য ওঠা প্রবৃত্তি দমনে অত্যন্ত কার্যকর এবং কথা বলার জন্য অধিকতর অনুকূল} (১০৪)।
--------------------------------------------