(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
محاسن الدين الإسلامي   (عبد العزيز السلمان)

القسم: كتب عامة


الكتاب: محاسن الدين الإسلامي

المؤلف: عبد العزيز المحمد السلمان

ومادته: ضمن كتاب (موارد الظمآن في دروس الزمان)، للمؤلف، أفردت بالطبع مرارا

الطبعة: (بدون)

عدد الصفحات: 90

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 ربيع الآخر 1446

ইসলামি জীবনবিধানের সৌন্দর্যসমূহ   (আবদুল আজিজ আস-সালমান)

বিভাগ: সাধারণ কিতাবসমূহ


কিতাব: ইসলামি জীবনবিধানের সৌন্দর্যসমূহ

লেখক: আবদুল আজিজ আল-মুহাম্মদ আস-সালমান

এর বিষয়বস্তু: লেখকের (মাওয়ারিদুজ জামআন ফি দুরুসিয যামান), কিতাবের অন্তর্ভুক্ত; এটি স্বতন্ত্রভাবে কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে

সংস্করণ: (নেই)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯০

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশকাল: ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد للهِ الذي تَفَرّد بالجَلَال والعَظَمَة وِالعِزِ والكِبرِياءِ والجَمالِ واشكره شُكْرَ عَبد مُعترفٍ بالتَّقصير عن شكر بَعْضِ ما أوليه مِنْ الإنعامِ والإفضالِ وأَشْهَدُ أَنْ لا إلهَ إِلا اللهُ وحدَه لا شريكَ لَه وأشهدُ أن مُحمدًا عَبْده وَرَسُولهُ صلى اللهُ عليه وعلى آلهِ وصحبهِ وسَلَّمَ تَسْلِيْمًا كَثِيرًا.

وبعد فقد جَمَعْتُ جملةً مِنْ محاسنِ الدينِ الإسلامِي أوْدَعْتُها في ضِمن مَوَارِدِ الظمآن لِدرُوْسِ الزمانِ رأى بعضُ المحسنينَ أن تُفْرَدَ وَحْدَهَا وتطْبَعَ وتُوَزَّعَ على المسلمين وغيرهم لعل اللهَ سبحانه وتعالى أن يَنْفَعَ بها وَيِجْعَلها سببًا لِهِدايةِ مَنْ أَرَادَ اللهُ هَداَيَتهُ وَتَوْفِيقَهُ واللهُ المسئولُ أن يجِعلَ عَمَلنا خاِلصًا لِوجَهْهِ الكريم وأن يأجُرَ مَنْ طَبَعَها ومَن سَاعَدَ على نَشرِها ومَن قَرأَهاَ ومَنْ سَمعَهَا إنه سميعَ قريبَ مجيبُ اللهم صلي على محمد وآله وسلم.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মহিমা, মহত্ত্ব, মর্যাদা, গৌরব ও সৌন্দর্যে একক। আমি তাঁর প্রতি এমন এক বান্দার ন্যায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে তাঁর প্রদানকৃত নেয়ামত ও অনুগ্রহের সামান্য অংশের শুকরিয়া আদায়ের ক্ষেত্রেও নিজের ত্রুটি স্বীকার করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর, আমি ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্যমণ্ডিত বিষয়াবলীর একটি সংকলন তৈরি করেছি, যা আমি মওয়ারিদুজ জামআন লি দুরুসিয যামান গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। কিছু কল্যাণকামী ব্যক্তি অভিমত দিয়েছেন যে, একে স্বতন্ত্রভাবে বিন্যস্ত করে মুদ্রণ করা এবং মুসলিম ও অন্যদের মাঝে বিতরণ করা উচিত; যাতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এর দ্বারা উপকার দান করেন এবং একে সেই ব্যক্তির হিদায়াতের মাধ্যম বানান যাকে আল্লাহ হিদায়াত ও তাওফিক দান করতে চান। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং যিনি এটি মুদ্রণ করেছেন, যিনি এর প্রচারে সহায়তা করেছেন, যিনি এটি পাঠ করেছেন এবং যিনি শ্রবণ করেছেন—তাদের সকলকে প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী, অতি নিকটবর্তী ও দুআ কবুলকারী। হে আল্লাহ, মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌فصل: في ذِكْرِ بَعْضِ مَحَاسِنِ الدِّيْنِ الإسْلَامِي نَصَرهُ اللهُ

عباد الله قال الله تعالى- وهو أَصَدقُ القائَلين {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِينًا} أَكْمَلَ الدِّيْنَ، بالنَّصْرِ، والإظْهارِ علىَ الأدْيَانِ كُلِّهَا، فَنَصَرَ عَبْدَهُ وَرَسُوْلَهُ، وخَذَلَ أَهْلَ الشَّرْكِ انْخِذَالًا عَظَيْمَا، بَعْدَ مَا كاِنُوا حَرِيْصِيْنَ على صَدِّ المُؤْمِنِيْنَ عنَ دِيْنِهِمْ، طَامِعِيْنَ في ذَلِكَ، فَلَمَّا رَأَوْا عِزَّ الإسْلامِ وانْتِصَارَهُ يَئِسُوا كلَّ اليَأْسِ مِنْ المؤمِنِيْنَ، أَنْ يَرْجِعُوْا إِلى دِيْنِهِمْ، وصَارُوا يَخَافُونَ مِنْهُمْ ويَخْشَوْنَ: وأتَمَّ جَلَّ وعَلَا علَى عبادهَ نِعْمَتَه بالهدَايَةِ والتَوْفِيْقِ، والعِزِّ والتأيِيْدِ، ورَضِيَ الإسلامَ لَنَا دِيْنًا، اخْتَارَهُ لنَاَ مِنْ بَيْنِ الأَدْيان، فَهُوَ الدِيْنُ عندَ اللهِ لا غَيْر، قال تعالى {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} عبدَ اللهِ نَظَرَ أَصْحَابُ الأفكارِ البَرِيْيَةِ السَلِيْمَةِ في أِحْكامِ الإسْلامِ، فاعْتَنَقْوهُ، وتأمَّلُوا في
পরিচ্ছেদ: ইসলামি দ্বীনের কতিপয় সৌন্দর্যের বর্ণনা প্রসঙ্গে, আল্লাহ একে বিজয়ী করুন

আল্লাহর বান্দাগণ! মহান আল্লাহ বলেন—আর তিনি সর্বাধিক সত্যবাদী— "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।" তিনি বিজয় দান এবং সমস্ত দ্বীনের ওপর একে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের মাধ্যমে এই দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর বান্দা ও রাসূলকে সাহায্য করেছেন এবং শিরকপন্থীদের চরমভাবে লাঞ্ছিত করেছেন; অথচ তারা মুমিনদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে অত্যন্ত আগ্রহী ও উৎসুক ছিল। কিন্তু যখন তারা ইসলামের মর্যাদা ও বিজয় প্রত্যক্ষ করল, তখন তারা মুমিনদের পুনরায় তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে গেল এবং তারা মুমিনদের ভয় ও শঙ্কা করতে শুরু করল। আর মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর হিদায়াত, তাওফিক, মর্যাদা ও সমর্থনের মাধ্যমে তাঁর নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করেছেন। তিনি আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন এবং সমস্ত ধর্মের মধ্য থেকে এটি আমাদের জন্য মনোনীত করেছেন। সুতরাং আল্লাহর নিকট এই দ্বীন ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য নয়। মহান আল্লাহ বলেন, "আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করলে তার পক্ষ থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" আল্লাহর বান্দা! স্বচ্ছ ও সুস্থ চিন্তার অধিকারী ব্যক্তিগণ ইসলামের বিধানাবলির প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন এবং তা সানন্দে গ্রহণ করেছেন; আর তারা গভীর চিন্তা করেছেন...
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৪)
حِكَمِهِ الجَلِيْلةِ فأَحَبُّوهُ ومَلَكَتْ قُلُوْبَهُم مَبَادِئُهُ الحَكيِمَةُ فَعَظَّمُوه، وكُلَّما كانَ المرءُ سَلِيْمَ العَقْلِ، نِيّرَ البَصِيْرةِ، مَسْتَقِيمَ الفِكِر، اشْتَدَّ تَعَلُقُه به، لِما فيه مِنْ جمَيْلِ المحاسَن، وجَلِيلِ الفَضَائِلِ، جَاءَ الدِّيْنُ الإسلاميُ بعقَائدِ التوحِيْدِ، التي يَرتاحُ لها العقلُ السلَيمُ وُيقِرُهَا الطبعُ المسُتْقِيمُ، يَدْعوا إِلى اعْتِقَادِ أنَّ لِلْعَالَمِ إِلهًا واحِدًا لا شَريكَ لَه، أَوَّلًا لا ابْتِدَاءَ لَهُ، وآخِرًا لا انْتِهاءَ لَهَ، {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} لهُ القُدْرَةُ التَّامَةُ، والإِرَادَةُ المَطلقَةُ، والعِلْمُ المحِيْطُ، يُلْزِمُ الخلقَ الخضوعُ له والانقيادُ، والعَمَلَ على مَرْضَاتِهِ، بامْتَثالِ أمرِهِ سُبْحَانَهُ، واجْتِنَابِ نَهْيهِ نَصَبَ الأدلةَ واِلبَرَاهِيْنَ، في الأنْفُسِ والآفاقِ، وحَثَّ الِعقولَ على النَّظَرِ والاسْتِدَلالِ، لتَصلَ بالبُرْهانِ إلى معْرِفتِهِ وتعْظِيْمِهِ، والقيامِ بحُقوْقَهِ، فَتَراهُ تَارةً يَلْفُتُ نَظَرَكَ إلىَ أنه لا يُمْكَنُ أن تُوْجدَ نَفِسَكَ، ولا أَنْ تُوْحَدَ مِنْ دُوْنِ مُوْجِدٍ {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ} أمَا كَوْنُ الإنسانِ مُوْجِدًا لِنَفْسِهِ فهذا أمْرَ ما ادَّعَاهُ الخلقُ، وأما وُجُودُ الإنسانِ هكذا مِنْ غير مِوْجِدٍ، فِأمْرَ يُنْكِرُهُ
তাঁর মহান প্রজ্ঞার কারণে তাঁরা তাঁকে ভালোবাসতেন এবং তাঁর বিজ্ঞ মূলনীতিসমূহ তাঁদের অন্তরকে জয় করেছিল, ফলে তাঁরা তাঁকে সম্মান করতেন। একজন মানুষ যত বেশি সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন, প্রখর অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী এবং সঠিক চিন্তার অধিকারী হন, তাঁর প্রতি তাঁর আসক্তি তত প্রবল হয়; কারণ তাঁর মাঝে রয়েছে চমৎকার সৌন্দর্য এবং মহান ফযিলতসমূহ। ইসলাম ধর্ম তাওহিদের আকিদা নিয়ে এসেছে, যাতে সুস্থ বিবেক প্রশান্তি পায় এবং ঋজু স্বভাব যা স্বীকার করে নেয়। এটি এই বিশ্বাসের দিকে আহ্বান জানায় যে, এই জগতের জন্য একজনই ইলাহ আছেন যাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি অনাদি যাঁর কোনো শুরু নেই এবং অনন্ত যাঁর কোনো শেষ নেই। "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।" তাঁরই রয়েছে পূর্ণ ক্ষমতা, নিরঙ্কুশ ইচ্ছা এবং পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান। তিনি সৃষ্টির ওপর তাঁর প্রতি বিনম্র হওয়া ও অনুগত থাকা এবং তাঁর আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জনের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক করেছেন। তিনি মানুষের নিজেদের মধ্যে এবং দিগন্তজুড়ে অসংখ্য দলিল ও প্রমাণ স্থাপন করেছেন এবং বিবেক-বুদ্ধিকে পর্যবেক্ষণ ও দলিলের মাধ্যমে সত্য অন্বেষণের প্রতি উৎসাহিত করেছেন, যাতে প্রমাণের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় ও মহত্ত্ব অনুধাবন এবং তাঁর অধিকারসমূহ আদায় করা যায়। ফলে আপনি দেখবেন তিনি কখনো আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এই দিকে যে, আপনি নিজে নিজেকে সৃষ্টি করতে পারেন না এবং কোনো অস্তিত্বদানকারী ছাড়াও আপনার অস্তিত্ব লাভ সম্ভব নয়: "তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?" মানুষের নিজেকে নিজে সৃষ্টি করার দাবি সৃষ্টির কেউ করেনি। আর কোনো অস্তিত্বদানকারী ছাড়াই মানুষের এভাবে অস্তিত্ব লাভ করা—এটি এমন এক বিষয় যা বিবেক অস্বীকার করে।
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৫)
مَنْطِقُ الفطرةِ ابتداءً ولا يَحْتَاجُ إلى جَدَلٍ كثيرٍ أو قليلٍ، وإذا كان هذان الَفَرْضَاِن باطِليْن، فإنِهِ لا يَبْقَى إلا الحقيقةُ، التي يَقُولُها القُرآنُ، وهيَ أَنْ الخَلْقَ خَلَقَهُ اللهُ الواحدُ الأحدُ الفرِدُ الصمدُ الذي {لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ}، وَتارَةً يَلْفُتُ النظرَ إلى السمواِتِ والأرضِ، فَهَلْ هُمْ خَلَقُوهَا، فإنها لم تَخْلَقْ نفسَها، كَمَا أنِهَّمُ لَمْ يَخْلَقُوا أنفسَهُم، وتارةً يفْتَحُ أمِامَ العقلِ والبَصَرِ صَحِيْفَةَ السماءِ، وَمَا حَوَتْ مِنْ شَمْس مُشْرِقَةٍ، وقَمَر مُنِيْرٍ، ونَجْمٍ مُضِئٍ، فَيقُوْلُ {تَبَارَكَ الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَاجًا وَقَمَرًا مُنِيرًا} وفي الآية الأخرى يَقول {هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ} ويَقُولُ {فَالِقُ الإِصْبَاحِ وَجَعَلَ اللَّيْلَ سَكَنًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} ويَقُول {أَفَلَمْ يَنْظُرُوا إِلَى السَّمَاءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْنَاهَا وَزَيَّنَّاهَا وَمَا لَهَا مِنْ فُرُوجٍ} ويقول {أَوَلَمْ يَنظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ} ويَقُولُ {الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَوَاتٍ طِبَاقًا مَا تَرَى فِي
এটি প্রারম্ভিকভাবেই স্বভাবজাত ফিতরাতের যুক্তি এবং এতে সামান্য বা অধিক কোনো বিতর্কের প্রয়োজন নেই। আর যদি এই দুটি প্রকল্প অসার (باطل) হয়, তবে কেবল সেই সত্যটিই অবশিষ্ট থাকে যা কুরআন ঘোষণা করে। আর তা হলো, এই সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ, যিনি একক ও অমুখাপেক্ষী; যিনি {কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি, আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই}। আবার কখনও দৃষ্টি আসমান ও জমিনের প্রতি নিবদ্ধ করা হয়—তারা কি এগুলো সৃষ্টি করেছে? কেননা আকাশ-জমিন তো নিজেকে নিজে সৃষ্টি করেনি, যেমন তারা নিজেরাও নিজেদের সৃষ্টি করেনি। আবার কখনও বিচারবুদ্ধি ও চাক্ষুষ দর্শনের সামনে আকাশের কিতাব উন্মোচিত করা হয়, যাতে রয়েছে প্রদীপ্ত সূর্য, উজ্জ্বল চাঁদ ও আলোকিত নক্ষত্র। আল্লাহ বলেন, {কত কল্যাণময় তিনি, যিনি আকাশে নক্ষত্ররাজি স্থাপন করেছেন এবং তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ ও উজ্জ্বল চাঁদ।} অন্য আয়াতে তিনি বলেন, {তিনিই সেই সত্তা যিনি সূর্যকে তেজস্কর এবং চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার জন্য কক্ষপথ নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা বছরের সংখ্যা ও হিসাব জানতে পারো।} তিনি আরও বলেন, {তিনিই প্রভাত উদ্ভাসক। তিনি রাতকে প্রশান্তিদায়ক এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসাবের মানদণ্ড করেছেন। এটি মহা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের সুনির্ধারিত পরিমাপ।} তিনি বলেন, {তবে কি তারা তাদের ওপরস্থ আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে, আমি তা কীভাবে নির্মাণ করেছি ও সুশোভিত করেছি এবং তাতে কোনো ফাটল নেই?} তিনি বলেন, {তারা কি আসমান ও জমিনের রাজত্ব এবং আল্লাহর সৃষ্টি করা বস্তুর ওপর দৃষ্টিপাত করেনি?} তিনি বলেন, {যিনি সাত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি দেখতে পাবে না...}
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৬)
خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِنْ تَفَاوُتٍ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَى مِنْ فُطُورٍ ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنقَلِبْ إِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِئًا وَهُوَ حَسِيرٌ} ومَرَةً يَلْفُتُ النَّظِرَ إِلى الأَرضِ، وما فِيْهَا مِنْ أَشْجَارٍ مُتَنَوِّعَةٍ، {وَفِي الأَرْضِ قِطَعٌ مُتَجَاوِرَاتٌ وَجَنَّاتٌ مِنْ أَعْنَابٍ وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوَانٌ وَغَيْرُ صِنْوَانٍ يُسْقَى بِمَاءٍ وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ فِي الأُكُلِ} فتشَاهِدُ شَجَرَ العِنَبِ، بِجِوِارِ شَجَر الحنظل، في قِطْعةٍ واحِدةٍ، تُسْقَى بماءٍ واحَدٍ، وقَدْ جَعَلَ لكُلِ شَجَرَةٍ جُذُوْرًا، تَمْتَصُّ بهِا مِنْ الأَرْضِ ما يَنَاسِبُهَا مِنْ الغِذَا الَذِي به قِوامُهَا وحَيَاتُهَا، وتَنْفَتِحُ كلُ واحدةٍ عن ثَمَرَةٍ تُخِالِفُ الأخْرَى في اللَّونِ والطَّعْمِ والرائحةِ، وكذلك باِقي الأشَجارِ الُمَتجَاوِرَة التِي أرضُها واحِدَة وَمَاؤُها واحِد، أَلَا يَدْلُ هَذا عَلىَ وُجَودِ صَانِعٍ حَكيمٍ قادِرٍ {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً} ومَرَةً يَلْفُتُ النظرَ إلى ما يُنَزَلُه مِنْ السماء، مِنَ الماء الذي به قِوامُ الحَيَاةِ، ولَوْ شَاءَ لَجَعَلَهُ أَجَاجًا، لا نَفْعَ فِيْهِ، وَمَرةً يَتَحَدَّثُ عن وحْدَانِيتِه وانْفِرَادِهِ بالمُلْكِ والتُّدْبير، {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ} الآية وفي الآية الأخْرَى يَقُولُ في
...পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে আপনি কোনো অসংগতি দেখতে পাবেন না। আপনি আবার দৃষ্টি ফিরাউন, আপনি কি কোনো ফাটল দেখতে পাচ্ছেন? তারপর আপনি বারবার দৃষ্টি ফিরাউন, সেই দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে আপনার দিকেই ফিরে আসবে।" আর কখনো তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জমিনের দিকে এবং তাতে বিদ্যমান বৈচিত্র্যময় বৃক্ষরাজির প্রতি, "আর জমিনে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখণ্ড এবং আঙুর বাগান, শস্যক্ষেত্র ও খেজুর গাছ—যার কিছু একই মূল থেকে উদগত আর কিছু ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে, যা একই পানি দ্বারা সেচিত হয়। আর আমি স্বাদ ও ফলনের ক্ষেত্রে তাদের একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।" ফলে আপনি দেখতে পান একই ভূখণ্ডে আঙুর গাছ এবং তার পাশেই মাকাল ফলের গাছ অবস্থিত, যা একই পানি দ্বারা সেচিত হচ্ছে। অথচ তিনি প্রতিটি গাছের জন্য এমন সব শিকড় নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যার মাধ্যমে সে জমিন থেকে তার প্রকৃতি অনুযায়ী সেই খাদ্য উপাদান শোষণ করে যার ওপর তার অস্তিত্ব ও জীবন নির্ভরশীল। আর প্রতিটি গাছ থেকে এমন ফল উৎপন্ন হয় যা বর্ণ, স্বাদ ও ঘ্রাণে অন্যটির থেকে ভিন্ন। অনুরূপভাবে পাশাপাশি অবস্থিত অন্যান্য বৃক্ষরাজির অবস্থাও তাই, যাদের মাটি এক এবং পানিও এক। এটি কি একজন প্রজ্ঞাময় ও সর্বশক্তিমান স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় না? "নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে।" আর কখনো তিনি আকাশ থেকে যা বর্ষণ করেন—সেই পানির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যার মধ্যে জীবনের ভিত্তি নিহিত। তিনি চাইলে একে লোনা ও পানের অযোগ্য করে দিতে পারতেন, যাতে কোনো উপকার থাকত না। আবার কখনো তিনি তাঁর একত্ববাদ এবং রাজত্ব ও বিশ্ব-পরিচালনায় তাঁর একক আধিপত্য সম্পর্কে আলোচনা করেন, "আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই..." (আয়াত)। আর অন্য আয়াতে তিনি বলেন—
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৭)
جَزَالَةِ لفْظٍ، وفَخَامَةِ مَعْنِىَ {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا} إلى غَير ذَلِكَ مِنْ الأدلة، وشَرَعَ لعَبَاده مِنْ العِبَادَاتِ ما يُهَذِّبُ النُفُوسَ ويُصَفِيْهَا ويُنَظِّمُ العِلَاقَاتِ ويُقَوّيْهَا، ويَجْمَعُ القُلُوبَ وُيزَكِيْهَا، وهَذا الذيَ جاءَ بهِ الإسْلامُ اتَّفَقَتْ في الدعوةِ إليه كلُ الرُّسُلِ، قال تعالى {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ يُنِيبُ}.

اللهمَ نَوِّرُ قُلُوبَنَا بنُوْرِ الإيَمانِ وأعِذْنا مِنْ شَرِ نفَوسِنا والشيطانِ وَوَفِّقْنَا لِطَاعَتِكَ وجَنِبْنَا العَصِيَانِ واغفر لنا ولوالدينا ولجميع المسلمين برحمتك يا أرحم الراحمين وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

‌‌فصل

فَقَدِ اعْتَرَفَ المُحَقِّقُونَ المُنْصِفُونَ: أَنَّ كلَّ عِلْمِ نَافِع دِيْنِي أو دُنْيَوِي أو سِيَاسِي قدَ دَلَّ عليه القُرآنُ
শব্দের প্রাঞ্জলতা এবং অর্থের গাম্ভীর্য {যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত আরও উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত} এবং এর পাশাপাশি অন্যান্য দলীলসমূহ (الأدلة); আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য এমন সব ইবাদত বিধিবদ্ধ করেছেন যা আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও নির্মল করে, পারস্পরিক সম্পর্ককে সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করে এবং অন্তরসমূহকে একত্রিত ও পবিত্র করে। ইসলাম যে আদর্শ নিয়ে এসেছে, তার দাওয়াতের ব্যাপারে সকল রাসূলই একমত ছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি আর যার নির্দেশ আমি ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম—এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং এতে মতভেদ করো না। তুমি মুশরিকদের যে বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছ তা তাদের কাছে অত্যন্ত ভারী মনে হয়। আল্লাহ যাকে চান নিজের জন্য মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে নিজের দিকে পথপ্রদর্শন করেন।}

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরসমূহকে ঈমানের আলোয় আলোকিত করুন এবং আমাদের নফসের অনিষ্ট ও শয়তান থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমাদের আপনার আনুগত্য করার তাওফিক দান করুন এবং পাপাচার থেকে আমাদের দূরে রাখুন। আমাদের, আমাদের পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে আপনার রহমতের মাধ্যমে ক্ষমা করুন, হে দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

 

‌‌অনুচ্ছেদ (فصل)

ন্যায়নিষ্ঠ গবেষকগণ (المحققون) স্বীকার করেছেন যে, প্রতিটি উপকারী জ্ঞান—চাই তা দ্বীনি, পার্থিব কিংবা রাজনৈতিক হোক—কুরআন তার প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৮)
دَلالةً لا شَكَ فَيهَا، فليْسَ في شَريعة الإسِلام ما تُحِيْلُه العقولُ، وإنما فيه ما تَشْهَدُ العُقولُ السَّلِيْمَةُ الزَّكِيَّةُ بصِدْقهِ ونَفْعِهِ وصَلاحِهِ، وكذلكَ أوامِرُهُ كِلُهَا عَدْلَ، لا حَيْفَ فِيها ولا ظُلْمَ، فَمَا أَمَرَ بَشَئٍ إلا وهُوَ خَيْرَ خالص، أو راجح، وما نهى عن شيء إلا وهو شر خالص، أو ما تزيد مفسدته على مصلحته، وكلما تدبر العاقل اللبيب أحكام الإسلام قوي إيمانه وإخلاصه، وعندما ما يتأمل ما يدعو إليه هذا الدين القويم يجده يدعو إلى مكارم الأخلاق، يدعو إلى الصدق والعفاف والعدل، وحفظ العهود، وأداء الأمانات، والإحسان إلى اليتيم والمسكين، وحسن الجوار، وإكرام الضيف، والتحلي بمكارم الأخلاق، يدعو إلى تحصيل التمتع بلذائذ الحياة في قصد واعتدال، يدعو إلى البر والتقوى وينهى عن الفحشاء والمنكر، والإثم والعدوان، لا يأمر إلا بما يعود على العالم بالسعادة والفلاح، ولا ينهي إلا عما يجلب الشقاء والمضرة للعباد.

وتأمل محاسن شرائع الإسلام الكبار، التي
এটি এমন এক নিদর্শন যাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইসলামি শরিয়তে এমন কিছু নেই যা বিবেক-বুদ্ধি অসম্ভব বলে গণ্য করে; বরং এতে এমন বিষয় রয়েছে যার সত্যতা, উপকারিতা এবং কল্যাণের ব্যাপারে সুস্থ ও পবিত্র বিবেক সাক্ষ্য প্রদান করে। তদ্রূপ এর সকল আদেশই ইনসাফপূর্ণ, তাতে কোনো অন্যায্য পক্ষপাতিত্ব বা জুলুম নেই। ইসলাম এমন কোনো কিছুর নির্দেশ দেয়নি যা নিরঙ্কুশ কল্যাণকর কিংবা প্রবল (راجح) নয়, এবং এমন কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করেনি যা নিরঙ্কুশ অমঙ্গলজনক কিংবা যার অপকারিতা উপকারের চেয়ে বেশি নয়। বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি যখনই ইসলামের বিধানাবলি নিয়ে গবেষণা করেন, তখনই তার ঈমান ও একনিষ্ঠতা সুদৃঢ় হয়। আর যখন তিনি এই সুদৃঢ় দ্বীন যা কিছুর দিকে আহ্বান জানায় তা নিয়ে নিবিড়ভাবে চিন্তা করেন, তখন দেখতে পান যে এটি মহান চরিত্রের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে; এটি সত্যবাদিতা, পবিত্রতা, ন্যায়বিচার, অঙ্গীকার রক্ষা, আমানত আদায়, এতিম ও অভাবী মানুষের প্রতি সদাচরণ, প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক, মেহমানদারি এবং মহৎ গুণাবলি অর্জনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। এটি পরিমিতিবোধ ও ভারসাম্যের সাথে জীবনের আনন্দ উপভোগের আহ্বান জানায়। এটি পুণ্য ও তাকওয়ার নির্দেশ দেয় এবং অশ্লীলতা, বর্জনীয় (منكر), পাপ ও সীমালঙ্ঘন থেকে বারণ করে। এটি কেবল সেই বিষয়েরই আদেশ দেয় যা বিশ্ববাসীর জন্য সুখ ও সফলতা বয়ে আনে এবং কেবল তা থেকেই নিষেধ করে যা বান্দাদের জন্য দুর্ভাগ্য ও ক্ষতির কারণ হয়।

ইসলামের সুমহান বিধানাবলির সেই সৌন্দর্য নিয়ে চিন্তা করুন, যা
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৯)
هي أقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت، فعندما تأمل الصلاة التي هي صلة بين العبد وبين ربه، تجد فيها الإخلاص لله، والإقبال عليه، والأدب والاحترام، والثناء والدعاء، والخضوع له، ومظهر الإجلال من العبد لربه، يؤدي واجب الإكبار والتعظيم والتقديس لسيده ومولاه، شأن العبد بين يدي سيده، يقف المرء بين يدي ربه، فيبتدئ بالاعتراف لله بأنه أكبر من كل شيء، وأنه مستحق لأن يعظم ويجل ويقدر (الله أكبر)، ثم يأخذ في الثناء على الله بما هو أهله، ويخصه بالعبادة، وطلب المعونة ضارعًا إليه بأن يهديه الصراط المستقيم، صراط الذين أنعم الله عليهم بالتوفيق والهداية، وأن يجنبه عن طريق المغضوب عليهم، لانحرافهم عن سواء السبيل، بعد أن عرفوه، وأن يبعده عن طريق الضالين، المنحرفين الذين عبدوا أهواءهم وشياطينهم.

وعندئذ تمتلئ النفس من عظمة الله وهيبته وجلاله، فيخر المرء ساجدًا لله على أشرف أعضائه، مظهرًا للذلة والمسكنة إلى من بيده مقاليد السموات
এগুলো হলো সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং বায়তুল্লাহর হজ সম্পাদন করা। যখন কেউ সালাত নিয়ে গভীর চিন্তা করে—যা মূলত বান্দা ও তার রবের মধ্যকার এক নিবিড় যোগসূত্র—তখন সে সেখানে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা, তাঁর অভিমুখী হওয়া, আদব ও সম্মানবোধ, স্তুতি ও প্রার্থনা, তাঁর প্রতি বিনম্রতা এবং রবের প্রতি বান্দার পক্ষ থেকে অগাধ শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ খুঁজে পায়। এর মাধ্যমে বান্দা তার মনিব ও অভিভাবকের প্রতি শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা, মহিমা কীর্তন এবং পবিত্রতা বর্ণনার আবশ্যিক দায়িত্ব পালন করে; যা মূলত একজন দাসের তার মনিবের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ারই নামান্তর। মানুষ যখন তার রবের সামনে দাঁড়ায়, তখন সে আল্লাহর প্রতি এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে শুরু করে যে, তিনি সবকিছুর চেয়ে বড় এবং তিনিই কেবল মহিমা, মর্যাদা ও সম্মানের প্রকৃত দাবিদার (আল্লাহু আকবার), অতঃপর সে আল্লাহর শান অনুযায়ী তাঁর প্রশংসা শুরু করে এবং কেবল তাঁরই ইবাদত ও সাহায্য কামনায় নিবিষ্ট হয়; অত্যন্ত বিনীতভাবে তাঁর কাছে প্রার্থনা করে যেন তিনি তাকে সরল পথ প্রদর্শন করেন—সেই পথ যাদের প্রতি আল্লাহ তাওফিক ও হেদায়েত দানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন। আর তাকে যেন তাদের পথ থেকে দূরে রাখেন যারা সত্য অনুধাবনের পর তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে অভিশপ্ত হয়েছে এবং তাকে যেন পথভ্রষ্টদের পথ থেকেও দূরে সরিয়ে রাখেন, যারা নিজ প্রবৃত্তি ও শয়তানের উপাসনা করে বিচ্যুত হয়েছে।

আর তখনই মানুষের অন্তর আল্লাহর মহত্ত্ব, গাম্ভীর্য ও প্রতাপে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, ফলে ব্যক্তি তার শরীরের সর্বশ্রেষ্ঠ অঙ্গগুলো নিয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে; যাঁর হাতে আসমানসমূহের চাবিকাঠি, তাঁর কাছে নিজের হীনতা ও দীনতা প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১০)
والأرض، فمزايا الصلاة من ناحية الدين، خضوع لرب العالمين، وخشوع واعتراف بعظمة القاهر القادر، ومتى استشعر القلب ذلك، وامتلأت النفس من هيبة الله، كف عن المحرمات، ولا عجب من ذلك، فإن الله يقول عن الصلاة {إِنَّ الصَّلاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ} وهي أكبر عون للعبد على مصالح دينه ودنياه، قال الله تعالى: {وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلاةِ}.

أما عونها على مصالح دينه، فلأن العبد إذا داوم على الصلاة، وحافظ عليها، قويت رغبته في الخير، وسهلت عليه الطاعات، وبذل الإحسان، بطمأنينة نفس، واحتساب، ورجاء للثواب، وأما عونها على مصالح الدنيا، فإنها تهون المشاق، وتسلى عن المصائب، والله سبحانه لا يضيع أجر من أحسن عملًا، فيجازيه بتيسير أموره، ويبارك في ماله وأعماله وفي تأديتها جماعة يحصل التعارف والتواصل،
এবং পৃথিবী। বস্তুত দ্বীনি দৃষ্টিকোণ থেকে সালাতের বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো—রাব্বুল আলামীনের প্রতি আনুগত্য এবং মহাপরাক্রমশালী ও সর্বশক্তিমান সত্তার মহত্ত্বের সামনে বিনয় ও স্বীকৃতি। যখনই অন্তর তা অনুধাবন করে এবং নফস আল্লাহর মহিমায় পরিপূর্ণ হয়, তখন তা যাবতীয় নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ আল্লাহ তাআলা সালাত সম্পর্কে ইরশাদ করেন: {নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ (منكر) হতে বিরত রাখে এবং আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ}। এটি বান্দার দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ লাভের ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ সহায়ক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো}।

দ্বীনি কল্যাণে এর সহায়তার বিষয়টি হলো—বান্দা যখন নিয়মিত সালাত আদায় করে এবং এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করে, তখন কল্যাণের প্রতি তার আগ্রহ সুদৃঢ় হয়, তার জন্য ইবাদতসমূহ সহজ হয়ে যায় এবং সে মনের প্রশান্তি, সওয়াব প্রাপ্তির নিয়ত ও প্রতিদানের প্রত্যাশায় ইহসান প্রদর্শন করে। আর দুনিয়াবি কল্যাণে এর সহায়তার বিষয়টি হলো—এটি যাবতীয় কষ্ট ও শ্রমকে লাঘব করে এবং বিপদ-আপদে সান্ত্বনা দান করে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা উত্তম আমলকারীর প্রতিদান বিনষ্ট করেন না; ফলে তিনি তার যাবতীয় বিষয় সহজ করে দেওয়ার মাধ্যমে তাকে পুরস্কৃত করেন এবং তার সম্পদ ও কর্মতৎপরতায় বরকত দান করেন। আর জামাতের সাথে সালাত আদায়ের মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচিতি ও সৌহার্দ্য অর্জিত হয়,
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১১)
والتوادد والتعاطف التراحم، ويسود الوقار والمحبة بين الصغير والكبير، ويحصل بذلك تعليم فعلي لصفة الصلاة.

وانظر إلى ما أوجبه الله من الزكاة، ترى محاسن جمة، منها اصلاح حال الفقراء، وسد حاجة المسكين، وقضاء دين المدين، ومنها التخلق بأخلاق الكرام، من السخاء والجود، والبعد عن أخلاق اللئام، ومنها أنها تطهر القلب من حب الدنيا ببذل اليسر، ومنها حفظ المال من المكدرات والمنغصات الحسية والمعنوية، ومنها الاستعانة بها على الجهاد في سبيل الله. والمصالح الكلية، التي لا يستغني عنها المسلمون، ومنها دفع صولة الفقراء، ومنها أنها دواء للمجتمع، وطب للنفوس بها يطهر المرء من رذيلة الشح، قال تعالى {وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} ومنها أنها لو أخرجها الأغنياء لانقطع دابر الاشتراكية المتطرفة، والشيوعية المسرفة.

ومنها أنها لو أديت تمامًا لحصل: بذلك راحة الحكام، وصرف مجهوداتهم إلى ما يعود على الأمم بالفلاح ورغد العيش.
পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহানুভূতি ও দয়া; এবং ছোট ও বড়দের মধ্যে গাম্ভীর্য ও ভালোবাসা বিরাজমান হয়। এর মাধ্যমে সালাতের পদ্ধতির একটি ব্যবহারিক শিক্ষা অর্জিত হয়।

আর আল্লাহ জাকাত প্রদান যে আবশ্যক করেছেন তার প্রতি লক্ষ করুন, আপনি প্রভূত সৌন্দর্য ও কল্যাণ দেখতে পাবেন। তার মধ্যে রয়েছে দরিদ্রদের অবস্থার সংশোধন, অভাবগ্রস্তদের প্রয়োজন পূরণ এবং ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধ। এর মধ্যে আরও রয়েছে মহানুভব ব্যক্তিদের চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া—যেমন দানশীলতা ও উদারতা—এবং নীচ স্বভাবের চরিত্র থেকে দূরে থাকা। এর মধ্যে এটিও রয়েছে যে, এটি দান করার সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে দুনিয়ার মোহ থেকে অন্তরকে পবিত্র করে। এর ফলে সম্পদ দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান কলুষতা ও বিড়ম্বনা থেকে সংরক্ষিত হয়। এর মাধ্যমে আল্লাহর পথে জিহাদ এবং মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য সামগ্রিক জনকল্যাণমূলক কাজে সহায়তা পাওয়া যায়। এর দ্বারা দরিদ্রদের ক্ষোভ ও আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রশমিত হয়। এটি সমাজের জন্য একটি মহৌষধ এবং আত্মার চিকিৎসা, যার মাধ্যমে ব্যক্তি কৃপণতার হীন স্বভাব থেকে পবিত্র হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং যাদেরকে অন্তরের কৃপণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম}। এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, ধনীরা যদি এটি যথাযথভাবে আদায় করত, তবে চরমপন্থী সমাজতন্ত্র ও সীমাতিরিক্ত সাম্যবাদের মূলোৎপাটন হতো।

এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, এটি যদি পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করা হতো, তবে তার মাধ্যমে শাসকদের স্বস্তি অর্জিত হতো এবং তাদের শ্রম ও প্রচেষ্টা এমন কাজে ব্যয় হতো যা জাতিসমূহের জন্য কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন বয়ে আনত।
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌قصيدة تتضمن التضرع لله جلا وعلا

يا فاطر الخلق البديع وكافلًا … أرزاق من هو صامت أو سائل

أو سعتهم جودًا فيا من عنده … رزق الجميع سحاب جودك هاطل

يا مسبغ البر الجزيل ومسبل العفو … العظيم عظيم فضلك وأبل

يا صاحب الاحسان يا مرخ لنا ألستر … الجميل عميم طولك طائل

يا عالم السر الخفي ومنجزا … ميعاد صدق قد حكاه الفاصل

يا من على العرش استوى يا صادق … وعد الوفي قضاء حكمك عادل

عظمت صفاتك يا عظيم فجل أن … يأتي المشبه ظالمًا ويشاكل

جلت فضائلك العظام فلم نجد … يحصي الثناء عليك فيها قائل
‌মহান আল্লাহ মহা মহিমান্বিত ও সুউচ্চ-এর সমীপে বিনীত প্রার্থনা সম্বলিত একটি কাসিদা

হে নিপুণ সৃষ্টির স্রষ্টা এবং মৌন কিংবা যাঞ্চাকারী … সকলের রিযিকের যামিনদার

আপনি স্বীয় বদান্যতায় সকলকে পরিব্যপ্ত করেছেন; হে সেই সত্তা যাঁর নিকট সবার রিযিক গচ্ছিত … আপনার দানশীলতার মেঘমালা সর্বদা বর্ষণমুখর

হে প্রচুর কল্যাণ দানকারী এবং সুমহান ক্ষমা অবতীর্ণকারী … আপনার সুমহান অনুগ্রহ হলো মুষলধারে বৃষ্টির ন্যায়

হে ইহসানের অধিকারী, হে আমাদের জন্য সুন্দর আবরণ লম্বিতকারী … আপনার অবারিত দান অত্যন্ত প্রশস্ত

হে প্রচ্ছন্ন রহস্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত এবং সত্য (صدق) প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকারী … যা ফয়সালাকারী সত্তা বর্ণনা করেছেন

হে সেই সত্তা যিনি আরশের ওপর সমুন্নত হয়েছেন, হে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সত্যবাদী … আপনার বিচারিক ফয়সালা ন্যায়পরায়ণ (عادل)

হে মহান! আপনার গুণাবলি (صفات) অত্যন্ত গরিমান্বিত; সুতরাং কোনো যালিম সাদৃশ্যদানকারী (مشبه) … যদি আপনার সদৃশ নির্ধারণের ধৃষ্টতা দেখায় তবে আপনি তার থেকে বহু ঊর্ধ্বে

আপনার সুমহান ফযিলতসমূহ অতিশয় মর্যাদাপূর্ণ, ফলে এমন কোনো বক্তা খুঁজে পাওয়া যায় না … যে আপনার যথাযথ প্রশংসা নিরূপণ করতে পারে
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৩)
الذنب أنت له بمنك غافر … ما لم يكن شركًا ففضلك حاصل

يعصيك جم ثم تصفح عنهم … ولتوبة العاصي بحلمك قابل

رب يربي العالمين ببره … ويزيدهم من فضله ويواصل

يعطيهموا ما أملوا من جوده … ونواله أبدًا إليهم واصل

تعصيه وهو يسوق نحوك دائمًا … نعمًا وعن شكر لها أنت غافل

ستر الذنوب وزاد في بذل العطا … مالا تكون لبعضه تستاهل

متفضل أبدًا وأنت لجوده … تنسى وتغفل هل تعي يا غافل

يدنو وتبعد ثم أنت لفضله … بقبائح العصيان منك تقابل

وإذا دجى ليل الخطوب وأظلمت … طرق السلامة بل قلاك النازل
আপনি আপনার অনুগ্রহে পাপ মার্জনা করেন … যতক্ষণ না তা শিরক হয়, তবে আপনার অনুগ্রহ সুনিশ্চিত।

অগণিত সৃষ্টি আপনার অবাধ্য হয়, অতঃপর আপনি তাদের ক্ষমা করেন … আর আপনার সহনশীলতায় অবাধ্যের তওবা গ্রহণ করেন।

রব, যিনি স্বীয় মহানুভবতায় বিশ্ববাসীকে প্রতিপালন করেন … এবং তাদের প্রতি আপন অনুগ্রহ বৃদ্ধি করেন ও তা নিরন্তর রাখেন।

তিনি তাদের তা-ই দান করেন যা তারা তাঁর বদান্যতা হতে প্রত্যাশা করে … আর তাঁর দান সর্বদা তাদের নিকট পৌঁছাতে থাকে।

আপনি তাঁর নাফরমানি করছেন অথচ তিনি সর্বদা আপনার দিকে ধাবিত করছেন … অজস্র নেয়ামত, অথচ আপনি তার শোকর আদায়ে গাফেল।

তিনি পাপসমূহ গোপন রেখেছেন এবং দান-দক্ষিণা বৃদ্ধি করেছেন … যার সামান্য অংশেরও আপনি উপযুক্ত নন।

তিনি সর্বদা অনুগ্রহ বর্ষণকারী, অথচ আপনি তাঁর মহানুভবতার কথা … বিস্মৃত হন ও গাফেল থাকেন; হে উদাসীন, আপনি কি সচেতন হবেন?

তিনি সমীপবর্তী হন আর আপনি দূরে সরে যান, অতঃপর আপনি তাঁর অনুগ্রহের … বিপরীতে আপনার কদর্য অবাধ্যতা পেশ করেন।

আর যখন সংকটের রজনী ঘনীভূত হয় এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায় … নিরাপত্তার পথসমূহ, বরং বিপদ আপনার ওপর আপতিত হয়।

(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وعلمت أن لا منجي ثم تلاحمت … سبل الخلاص وخاب فيها الآمل

وأيست من وجه النجاة فمالها … طرق وقد عظم البلا المتنازل

وقنطت من ضعف اليقين ولم يكن … سبب ولا يدنو لها متناول

يأتيك من الطافه الفرج الذي … فيه نجاتك ليس يشغل شاغل

في لحظة يأتيك لطف فارج … لم تحتسبه وأنت عنه غافل

يا موجد الأشياء من ألقى إلى … أحد سواك فإن ذلك باقل

يا طيب الأسماء من يقصد إلى … أبواب غيرك فهو غر جاهل

ومن استراح بغير ذكرك أورجا … من غيركم فضلًا فذاك المائل

ومن استظل بغير ظلك راجيًا … أحدًا سواك فذاك ظل زائل
আমি জানলাম যে কোনো ত্রাণকর্তা নেই, অতঃপর মুক্তির … পথসমূহ রুদ্ধ হয়ে গেল এবং আশাবাদীরা তাতে হতাশ হলো

আর আমি নাজাতের পথ থেকে নিরাশ হলাম, কারণ এর কোনো … পথ নেই এবং আপতিত বিপদ চরম আকার ধারণ করেছে

ইয়াকিনের দুর্বলতার কারণে আমি হতাশ হয়ে পড়লাম, কোনো … কারণ বিদ্যমান ছিল না এবং কোনো অবলম্বনও হাতের নাগালে ছিল না

তাঁর করুণাসমূহ থেকে তোমার কাছে এমন মুক্তি আসবে যাতে … তোমার নাজাত রয়েছে, যা অন্য কোনো ব্যস্ততা দ্বারা বিঘ্নিত হবে না

এক মুহূর্তের মধ্যেই তোমার কাছে এমন এক সংকটমোচনকারী করুণা আসবে … যা তুমি কল্পনাও করোনি এবং সে সম্পর্কে তুমি ছিলে গাফেল

হে সকল বস্তুর স্রষ্টা! আপনি ব্যতীত অন্য কারো কাছে যে হাত পাতে … তবে সে তো ব্যর্থ

হে উত্তম নামসমূহের অধিকারী! যে আপনার দ্বার ব্যতীত অন্য কারো … দ্বারে যায়, সে তো এক প্রবঞ্চিত মূর্খ

আর যে আপনার জিকির ব্যতীত অন্য কিছুতে প্রশান্তি খোঁজে অথবা আপনি … ব্যতীত অন্য কারো কাছে অনুগ্রহের আশা করে, তবে সে তো সত্যবিচ্যুত

আর যে আপনার ছায়া ব্যতীত অন্য কারো আশ্রয়ে ছায়া পেতে চায় … তবে তা এক বিলীয়মান ছায়া মাত্র
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن استعاذ إذا عرته ملمة … بجلالكم ذا الرئي رائي باسل

والرائي في عكس الذي حبرته … بسوى جنابك فهو رأئي مائل

عمل أريد به سواك فإنه … عمل يرد على الذي هو عامل

لو صلى ذاك وصام حج فإن ذا … عمل وإن زعم المرائي باطل

وإذا رضيت فكل شيء هين … حسبي رضاك فكل شيء زائل

أنت المنى ورضاك سؤلي في الدجى … وإذا حصلت فكل شيء حاصل

أنا عبد سوابق كل على … معبوده يا بئس ما أنا فاعل

ولقد أتى العبد المسيء ميممًا … مولاه أوزار الكبائر حامل

قد أثقلت ظهري الذنوب وسودت … وجهي المعاصي ثم ذا أنا سائل
যে ব্যক্তি বিপদগ্রস্ত হয়ে আপনার মহত্ত্বের আশ্রয় গ্রহণ করে … সেই ব্যক্তি সাহসী অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন।

আর যে ব্যক্তি আমি যা অলঙ্কৃত করেছি তার বিপরীতে … আপনার সান্নিধ্য ছাড়া অন্য কারো মুখাপেক্ষী হয়, সে এক বিচ্যুত দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন।

এমন আমল যা আপনি ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে করা হয়, তা … আমলকারীর নিকটই প্রত্যাখ্যান করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

সেই ব্যক্তি যদি সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে এবং হজ সম্পাদন করে, তবুও তা … এমন এক আমল যা লোকপ্রদর্শনকারীর দাবি সত্ত্বেও মূলত বাতিল (باطل)।

আর আপনি যদি সন্তুষ্ট থাকেন তবে সবকিছুই তুচ্ছ … আপনার সন্তুষ্টিই আমার জন্য যথেষ্ট, কারণ অবশিষ্ট সবকিছুই নশ্বর।

আপনিই আমার পরম আকাঙ্ক্ষা এবং অন্ধকারের নিস্তব্ধতায় আপনার সন্তুষ্টিই আমার প্রার্থনা … আর আপনাকে পাওয়া গেলে সবকিছুই অর্জিত হয়।

আমি এমন এক বান্দা যার পূর্ববর্তী সকল কর্ম তার মাবুদের অবাধ্যতায় লিপ্ত … হায়, আমি যা করছি তা কতই না মন্দ!

নিশ্চয়ই এই পাপিষ্ঠ বান্দা স্বীয় প্রতিপালকের অভিমুখী হয়ে এসেছে … সে নিজ স্কন্ধে কবীরা গুনাহের বোঝা বহন করে চলছে।

পাপসমূহ আমার পিঠকে ভারী করে দিয়েছে এবং নাফরমানি আমার মুখমণ্ডলকে … কৃষ্ণবর্ণ করে দিয়েছে; এমতাবস্থায় আমি আপনার নিকট যাঞ্ঝাকারী।
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬)
مالي سواك ولست أرجو غافرًا … صحف العيوب وستر عفوك شامل

ها قد أتيت وحسن ظني شافعي … إذ لم يكن عمل لدي يقابل

ولبست ثوب الخوف منك مع الرجى … ووسائلي ندم ودمع سائل

فاغفر لعبدك ما مضى وارزقه تو … به مقلع فيها الشروط كوامل

وارزقه علمًا نافعًا وارزقه تو … فيقًا لما ترضى ففضلك كامل

وافعل به ما أنت أهل جميله … يا من له اسمًا حسان فواضل

فإذا فعلت فحسن ظني صائب … والظن كل الظن أنك فاعل

اللهم اجعلنا لك شاكرين واجعلنا لك من الذاكرين واجعلنا من عبادك الصابرين المحسنين المتقين
তুমি ব্যতীত আমার কোনো আশ্রয় নেই এবং আমি তুমি ছাড়া অন্য কোনো ক্ষমাশীল সত্তার প্রত্যাশা করি না … দোষ-ত্রুটির খাতা এবং তোমার ক্ষমার আবরণ সর্বব্যাপী

এই যে আমি উপস্থিত হয়েছি এবং তোমার প্রতি আমার সুধারণাই আমার সুপারিশকারী … যেহেতু আমার নিকট এমন কোনো আমল নেই যা বিনিময়ে পেশ করা যায়

আমি তোমার প্রতি আশার সাথে ভয়ের পোশাক পরিধান করেছি … আর আমার মাধ্যম হলো অনুশোচনা এবং প্রবহমান অশ্রু

সুতরাং তোমার বান্দার অতীতকে ক্ষমা করে দাও এবং তাকে এমন তাও … বা নসিব করো যাতে পাপ বর্জন ও তার শর্তাবলী পূর্ণ থাকে

তাকে উপকারী জ্ঞান দান করো এবং তাকে এমন তাও … ফিক দান করো যা তোমার সন্তুষ্টির অনুকূল হয়, কেননা তোমার অনুগ্রহ পরিপূর্ণ

তার প্রতি তেমন আচরণ করো যা তোমার মহানুভবতার উপযুক্ত … হে সেই সত্তা, যাঁর নামসমূহ অতীব সুন্দর ও কল্যাণময়

যদি তুমি তা করো তবে তোমার প্রতি আমার সুধারণাই সঠিক প্রমাণিত হবে … আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস হলো যে তুমি অবশ্যই তা সম্পাদনকারী

হে আল্লাহ! আমাদেরকে তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপনকারী করো, আমাদেরকে তোমার জিকিরকারীদের অন্তর্ভুক্ত করো এবং আমাদেরকে তোমার ধৈর্যশীল, সৎকর্মপরায়ণ ও পরহেজগার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করো।
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭)
الذين أهلتهم لخدمتك ووفقتهم لمحبتك وطاعتك واغفر لنا ولوالدينا ولجميع المسلمين برحمتك يا أرحم الراحمين وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

‌‌"فصل "

وتأمل الصيام وما فيه من المحاسن التي منها أنه يبعث في الإنسان فضيلة الرحمة بالفقراء، والعطف على البائسين فإن الإنسان إذا جاع تذكر الفقير الجائع، ومنها أنه بامتناعه عن الأكل يعرف فضل نعمة الله عليه فيشكرها، ومنها أن الصيام يقوي النفس على الصبر والحلم، وهما تجنب كل ما من شأنه إثارة الغضب، لأن الصوم نصف الصبر، والصبر نصف الإيمان، ومنها أنه ينقي الجسم من الأخلاط الرديئة، ومنها أنه مهذب للنفوس، ومصفى للأرواح، ومطهر للأجسام، فله الأثر العجيب في حفظ القوى الباطنة، وحمايتها مما يضرها ثم هو عبادة وامتثال لأمر الله سبحانه، والمشقة الحاصلة من الصوم ليست بشيء في جانب رضي الله، طمعًا في
যাদেরকে আপনি আপনার খিদমতের যোগ্য করেছেন এবং আপনার মহব্বত ও আনুগত্যের তাওফিক দান করেছেন। আর আপনার রহমতের উসিলায় আমাদেরকে, আমাদের পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দিন, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

 

‌‌"পরিচ্ছেদ"

সিয়াম এবং এর মধ্যকার নানাবিধ কল্যাণ নিয়ে চিন্তা করুন। যার মধ্যে একটি হলো, এটি মানুষের অন্তরে অভাবীদের প্রতি দয়া ও দুর্গতদের প্রতি সহমর্মিতার সদ্গুণ জাগ্রত করে। কেননা মানুষ যখন নিজে ক্ষুধার্ত হয়, তখন সে অন্য ক্ষুধার্ত দরিদ্রের কথা স্মরণ করে। এর আরেকটি দিক হলো, পানাহার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে সে তার ওপর আল্লাহর নিয়ামতের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে পারে এবং এর শুকরিয়া আদায় করে। এর মধ্যে আরও একটি কল্যাণ হলো, সিয়াম ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার ওপর নফসকে শক্তিশালী করে; আর এ দুটি বিষয় হলো এমন প্রতিটি কাজ পরিহার করা যা ক্রোধ উদ্রেক করতে পারে। কেননা সিয়াম হলো ধৈর্যের অর্ধেক, আর ধৈর্য হলো ঈমানের অর্ধেক। এর অন্য একটি উপকারিতা হলো, এটি শরীরকে দূষিত উপাদানসমূহ থেকে পরিশুদ্ধ করে। এছাড়াও এটি নফসের সংস্কারক, আত্মার পরিচ্ছন্নতাকারী এবং দেহের পবিত্রতা দানকারী। মানুষের অভ্যন্তরীণ শক্তি সংরক্ষণ এবং অনিষ্টকর বিষয় থেকে সুরক্ষায় এর এক বিস্ময়কর প্রভাব রয়েছে। তদুপরি এটি একটি ইবাদত এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার আদেশের আনুগত্য। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ব্যাকুলতায় সিয়ামের মাধ্যমে অর্জিত কষ্ট তাঁর সন্তুষ্টির তুলনায় অতি নগণ্য...
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৮)
الثواب، والزلفى والأجر العظيم، إلى غير ذلك من المحاسن.

وتأمل ما في حج بيت الله من المحاسن، التي منها أنه مجمع لسراة المسلمين، يجتمعون فيه من مشارق الأرض ومغار بها في صعيد واحدٍ، يعبدون إلهًا واحدًا، قلوبهم متحدة، وأرواحهم مؤتلفة في الحج، يتذكر المسلمون الرابطة الدينية، وقوة الوحدة الإسلامية، وفي الحج تذكر لحال الأنبياء والمرسلين ومقامات الأصفياء المخلصين، كما قال تعالى {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى} وتذكير بحال سيد المرسلين وإمامهم، ومقاماته في الحج التي هي أجل المقامات، وهذا التذكير أعلى أنواع التذكيرات، فإنه تذكير بأحوال عُظماء الرُّسُلِ، إبراهيم و محمد صلى الله عليه وسلم، ومآثرهم الجليلة، وتعبداتهم الجميلة، والمتذكَّر بذلك مُؤْمِن بِالرُّسُل، مُعظم لَهُمْ، متأثر بمَقَامَاتِهِمُ السَّامِيةِ، مُقْتَدِ بِهِمْ، وَبِآثَارِهِم الحَمِيدَةِ، ذَاكر لمناقبهم وفَضَائِلِهِمْ، فَيَزْدَادُ به العبد إيماناً ويقيناً.
সওয়াব, নৈকট্য ও মহান প্রতিদানসহ আরও নানাবিধ কল্যাণ ও সৌন্দর্য।

আল্লাহর ঘরের হজের মধ্যে নিহিত কল্যাণসমূহ নিয়ে চিন্তা করুন; যার অন্যতম হলো এটি মুসলিমদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মিলনস্থল। পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত থেকে তাঁরা এক ময়দানে সমবেত হন এবং এক ইলাহের ইবাদত করেন; হজে তাঁদের অন্তরসমূহ ঐক্যবদ্ধ হয় এবং আত্মাসমূহ সংমিশ্রিত হয়। মুসলিমরা হজে ধর্মীয় বন্ধন এবং ইসলামী ঐক্যের শক্তির কথা স্মরণ করেন। হজে নবী ও রাসুলগণের অবস্থা এবং একনিষ্ঠ ও বিশুদ্ধ বান্দাদের উচ্চমর্যাদার কথা স্মরণে আসে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা ইবরাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো}। এটি রাসুলগণের সরদার ও তাঁদের ইমামের অবস্থা এবং হজে তাঁর মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ অবস্থান। আর এই স্মৃতিচারণ হলো স্মরণের সর্বোত্তম প্রকার; কারণ এটি মহান রাসুলগণের অবস্থা—ইবরাহিম ও মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)—এবং তাঁদের মহান কীর্তি ও সুন্দর ইবাদতসমূহের স্মারক। এর মাধ্যমে স্মরণকারী ব্যক্তি রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাসী ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন, তাঁদের উচ্চমর্যাদা দ্বারা প্রভাবিত হন এবং তাঁদের ও তাঁদের প্রশংসনীয় পদাঙ্ক অনুসরণকারী হন। তিনি তাঁদের মহিমা ও গুণাবলি স্মরণ করেন, যার ফলে বান্দার ইমান ও একিন বৃদ্ধি পায়।
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَمِنْ مَحَاسِنِ الحج تَصْفِيةُ النَّفس، وتَعْوِيدِها البدل والانفاق، وتَحَمّل المشاق، وترك الزينة والخيلاء، ومنها شُعُور المرء بمُسَاواتِهِ لِغَيْرِه، فلا مُلِكَ وَلا مَمْلُوكَ، ولا غنى ولا فقير، بَلِ الكُلُ هُنَاكَ سَوَاء، ومِنْ مَحاسن الحج التنقل في البلاد المعرفةِ أَحوالها، وَعَادَاتِ سُكَّانِها، وَزِيَارَةِ مُهْبَطِ الوحي، والرُّسُلِ الكرام، وَمِنْ مَحَاسِن الحج تَذَكَّرُ المُجمع العظيم في صَعِيدٍ وَاحِدٍ، يُسْمِعُهُم الدَّاعِي، وَيُنْفِدُهُم البَصَرُ، وذَلِكَ في المحْشَرِ (يَوْمَ يَقُومُ الناسُ لِرَبِّ العالمين حُفَاةً عُرَاةً غُرْلاً، وَمِنْ مَحَاسِنِهِ تَوْطِينُ النَّفْسِ عَلَى فِرَاقِ الأَهْلِ وَالْوَلَدِ، إذ لا بُدَّ مِنْ مُفَارَقَتِهم، فَلَوْ فَارَقَهُم فجأة حَصَلَ صُدمة عظيمة عِنْدَ الفراق، وَمِنْ مَحَاسِنِ الحَج أَنه مَتَى قَصَدَهُ يَتَزَوَّدُ لِسَفَرِه بكل ما يحتاج إليه، مُدَّةَ ذهابه وإيابه، فَيَتَزَوَّدُ لِلْعُقْبي، وهي السفرة الطويلة، التي لا رُجُوعَ بَعْدُهَا، حَتى يَبْعَثَ الله

الأُولِينَ وَالْآخِرِينَ.

وفي سَفَرِ الحج قَدْ يُجد ما يُحْتاجُ إِليهِ فِي غَيْرِ بَلَدِهِ، وَلَا يَجد في العقبى ما يحتاج إِليه لِلدّارِ الآخرة،
হজের অন্যতম সৌন্দর্য হলো নফসের পরিশুদ্ধি, একে ত্যাগ ও ব্যয়ে অভ্যস্ত করা, কষ্ট সহিষ্ণুতা এবং বাহ্যিক অলঙ্কার ও অহংকার বর্জন। এর মধ্যে আরও রয়েছে অন্যের সাথে নিজের সমতার অনুভূতি, ফলে সেখানে কোনো রাজা বা প্রজা এবং কোনো ধনী বা দরিদ্র নেই; বরং সেখানে সকলে সমান। হজের সৌন্দর্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো বিভিন্ন জনপদে পরিভ্রমণ করে সেখানকার অবস্থা ও অধিবাসীদের রীতিনীতি সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং ওহি (وحي) অবতরণস্থল ও সম্মানিত রাসূলগণের (رسل) স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ যিয়ারত করা। হজের অন্যতম মাহাত্ম্য হলো এক বিশাল ময়দানে সেই মহাসমাবেশের কথা স্মরণ করা, যেখানে আহ্বানকারীর ডাক সবার কাছে পৌঁছাবে এবং দৃষ্টি সকলকে পরিবেষ্টন করবে; আর তা হলো হাশরের (محشر) ময়দান (যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন ও খতনাবিহীন অবস্থায় দণ্ডায়মান হবে)। এর আরও একটি সৌন্দর্য হলো পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা, যেহেতু তাদের ত্যাগ করা অনিবার্য; সুতরাং যদি হঠাৎ বিচ্ছেদ ঘটত তবে তা বিচ্ছেদের সময় প্রচণ্ড মানসিক আঘাতের কারণ হতো। হজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, যখন কেউ হজের সংকল্প করে, তখন সে তার আসা-যাওয়ার পুরো সফরের জন্য প্রয়োজনীয় পাথেয় সংগ্রহ করে। এটি মূলত পরকালের (عقبى) তথা সেই দীর্ঘ সফরের পাথেয় সংগ্রহের প্রস্তুতিস্বরূপ, যেখান থেকে আর প্রত্যাবর্তনের সুযোগ নেই যতক্ষণ না আল্লাহ

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে পুনরুত্থিত করবেন।

হজের সফরে হয়তো নিজ দেশের বাইরেও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু পরকালে (عقبى) আখেরাতের আবাসের জন্য প্রয়োজনীয় পাথেয় সেখানে খুঁজে পাওয়া যাবে না,
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২০)
إِلَّا إِذا تَزَوَّدَهُ في الدُّنْيَا، قال تعالى {وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى}.

وَمِنْ مَحَاسِنِهِ أنَّ الانسانَ يَعْتَادُ التوكل على الله، لأنه لا يُمكنه أن يَحْمِلَ كُلِّ مَا يَحتاجُ إليه في سَفَرِه لِلْحَج، فلا بدَّ مِنْ التَّوَكُل عَلَى اللهِ تَعَالَى فِيْمَا حَمَلَهُ، وفيما لَمْ يَحْمِلُهُ مَعَ نَفْسِهِ، فيعتاد توكله إلى كل ما يحتاج إليه، ومِن محاسنه أنه إذا أحرم نَزَعَ المُخيط الذي هُوَ لبَاسُ الأَحْيَاءِ، ويَلْبَسُ غَيْرَه مِمَّا هو اشبه بلباس الأمْوَاتِ، فَيُجدِ ويَجْتَهِدُ في الاستعداد لما أمامه إلى ذلك من المحاسن التِي يَصْعُبُ حَصْرُهَا.

ثم تأمل محاسن الجهاد في سبيل الله، إِذْ فِيهِ قَمْعُ أَعْدَاء الله، ونصر أوليائه، وإعْلاء كلمة الاسلام، وَحَمَّلُ الكَافِرِ عَلَى تَرْكِ الكُفْرِ الذي هُوَ أَقْبَحُ الأَشْيَاء، والاقْبالُ عَلَى مَا هُوَ أَحْسَنُ الأشياء، وفيه إِخْرَاجُ البَشَرِ عَنْ دَرَجَةِ الْأَنْعَام، قال تعالى- في حَقِّ الكَفَرَةِ {إِنْ هُمْ إِلَّا كَالأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ} ومِن محاسنه
...তবে দুনিয়াতে পাথেয় সংগ্রহ করা ব্যতীত। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা পাথেয় গ্রহণ করো, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া।"

এর সৌন্দর্যসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো, মানুষ আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে অভ্যস্ত হয়। কারণ হজের সফরে প্রয়োজনীয় সবকিছু বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়; তাই সে যা সাথে নিয়েছে এবং যা নিতে পারেনি—উভয় ক্ষেত্রেই মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করা তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ফলে সে তার প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। এর সৌন্দর্যসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে যে, যখন সে ইহরাম বাঁধে, তখন সে সেলাই করা পোশাক বর্জন করে যা জীবিতদের পরিধেয়, এবং এমন কিছু পরিধান করে যা মৃতদের পোশাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ফলে সে তার সামনে যে ভবিষ্যৎ রয়েছে তার প্রস্তুতির ব্যাপারে সচেষ্ট ও মনোযোগী হয়। এ জাতীয় আরও অসংখ্য সৌন্দর্য রয়েছে যা গণনা করা দুঃসাধ্য।

অতঃপর আল্লাহর পথে জিহাদের সৌন্দর্যসমূহ নিয়ে চিন্তা করুন। কেননা এতে আল্লাহর শত্রুদের দমন করা, তাঁর বন্ধুদের সাহায্য করা এবং ইসলামের বাণীকে সমুন্নত করার বিষয়টি নিহিত রয়েছে। সেই সাথে কাফিরকে কুফর বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়—যা অত্যন্ত জঘন্য বিষয়—এবং তাকে সর্বোত্তম বিষয়ের দিকে ধাবিত করা হয়। এতে মানুষকে চতুষ্পদ জন্তুর পর্যায় থেকে বের করে আনা হয়। মহান আল্লাহ কাফিরদের সম্পর্কে বলেন: "তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও পথভ্রষ্ট।" এর সৌন্দর্যসমূহের মধ্যে আরও...
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২১)
اكتِسَابُ حَيَاةِ الأَبَدِ، فَإِنَّهُ إِنْ قُتِلُ فَقَدْ أَعْلَى دِينَ اللَّهِ، وَإِنَّ قتِلَ فَقَدْ أَحْيَا نَفْسَهُ، قال تعالى {وَلا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ}.

ومنها ما يحصل للمجاهد في سبيل الله من الثواب الجزيل، ومنها تكثر المسلمين، وتقليل الكَفَرَةَ، ومنها وهُوَ اعلاها امتثالُ أمْرِ الله حَيْثُ يَقُولُ {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لا تَكُونَ فِتْنَةٌ} وقوله {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُمْ مِنَ الْكُفَّارِ}.

وَمِنْ مَحَاسِن الجهادِ أَنَّهُم فِي الانْتِصَارِ يَغنَمُونِ وَيَشْكُرُونَ ويقتوون، وإِنْ أَدِيلَ عَليهِمُ الكُفَّارُ عَرَفُوا أَنَّ ذَلِكَ بِسَبَبِ معصيتهم وذنوبهم، وَفَشلِهِمْ وَتَنَازُعِهِمْ، فَيَلْجَوْا إلى الله متضرعين تائبين، ومِنْ مُحَاسِنِه أَنْ تَرَكَ الجِهَادِ سُبَبٌ لِلذلِ، الما ورد عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "إذا تَبَايَعْتُم بِالعِيْنَةِ، وأخذتُم بأذناب البقر، وتركتم الجهاد سلط
অনন্ত জীবন অর্জন করা; কেননা সে যদি নিহত হয় তবে সে আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করল, আর সে নিহত হয়ে মূলত নিজেকেই জীবিত করল। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত, তাদের রবের নিকট তারা রিযিকপ্রাপ্ত।}

এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর পথে মুজাহিদের জন্য অর্জিত বিপুল সওয়াব, মুসলমানদের সংখ্যাবৃদ্ধি এবং কাফেরদের সংখ্যা হ্রাস। আর এগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো আল্লাহর নির্দেশের আনুগত্য করা; যেমনটি তিনি বলেছেন: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয়} এবং তাঁর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।}

জিহাদের অন্যতম সৌন্দর্য হলো—বিজয়ের সময় তারা গনিমত লাভ করে, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে এবং শক্তিশালী হয়। আর যদি কাফেররা তাদের ওপর বিজয়ী হয়, তবে তারা বুঝতে পারে যে এটি তাদের নাফরমানি, পাপ, ব্যর্থতা ও পারস্পরিক বিবাদের কারণে হয়েছে; ফলে তারা বিনীত ও তওবাকারী হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যায়। এর অন্যতম কল্যাণ হলো—জিহাদ বর্জন করা লাঞ্ছনার কারণ; যেমনটি ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমরা ‘ঈনা’ পদ্ধতিতে লেনদেন করবে, গরুর লেজ ধরবে এবং জিহাদ বর্জন করবে, তখন আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন..."
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২২)
الله عليكم ذلا لا ينزعه حتى تُرْجِعُوا إلى دينكم" رواه أبو داود، ومن محاسن الجِهَادِ السّلامَة مِنَ النِّفَاقِ، الحَدِيث "ومن مَاتَ ولم يغز، ولم يحدث نفسه به مات عَلَى شُعْبَةِ من النفاق" رواه أبو داود والنسائي، وفي الحديث الآخرِ (مَنْ لقي الله بغير أثر جهاد، لقي الله وفيه ثلمة" وفي الحديث الآخر "ما ترك قوم الجهاد إلا عمهم الله بالعذاب" ومن محاسنه استخراج عبودية أولياء الله، في السراء والضراء، وفيما يحبون ويكرهون، إلى غير ذلك من الأدلة الدالة على محاسن الجهاد في سبيل الله، لإعلاء كلمة الله.

ثم تأمل ما جاءت به الشريعة من المعاملات، فمن محاسن البيع والشراء وصول الإنسان إلى ما يحتاج إليه من مأكل ومشرب وملبس ومسكن، ومن محاسنه قطع مسافة الطلب، فإن من طلب الشيء من معدنه يحتاج إلى الأسفار، وركوب المركوب، وتحمل الأخطار، ومتى وجده بالبيع سلم من الأخطار وسقط عنه مؤنة الأسفار، فانظر إلى العود
"...আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন, যা তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত অপসারিত করবেন না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসবে।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। জিহাদের অন্যতম সৌন্দর্য হলো নিফাক (نفاق) থেকে নিরাপদ থাকা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল অথচ সে যুদ্ধ করেনি এবং মনে মনে যুদ্ধের আকাঙ্ক্ষাও পোষণ করেনি, সে নিফাকের (نفاق) একটি শাখার ওপর মৃত্যুবরণ করল।" এটি আবু দাউদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন। অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি জিহাদের কোনো চিহ্ন ছাড়াই আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তার মাঝে একটি ত্রুটি বা ঘাটতি বিদ্যমান থাকবে।" অন্য এক হাদিসে আছে: "যে জাতিই জিহাদ বর্জন করেছে, আল্লাহ তাদের ওপর সাধারণভাবে আজাব বা শাস্তি অবতীর্ণ করেছেন।" জিহাদের আরেকটি সৌন্দর্য হলো সুখ ও দুঃখ এবং পছন্দ ও অপছন্দের উভয় অবস্থায় আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের দাসত্ব বা বন্দেগির স্বরূপ প্রকাশ করা। আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার লক্ষে আল্লাহর পথে জিহাদের সৌন্দর্যের ওপর এ জাতীয় আরও বহু দলিল বা প্রমাণ রয়েছে।

অতঃপর শরিয়ত প্রবর্তিত লেনদেনের বিষয়াবলি নিয়ে চিন্তা করুন। ক্রয়-বিক্রয়ের একটি মহিমা হলো মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানীয়, পোশাক ও বাসস্থানের সংস্থান হওয়া। এর আরেকটি সৌন্দর্য হলো কাঙ্ক্ষিত বস্তু অনুসন্ধানের দূরত্ব ঘুচিয়ে দেওয়া। কেননা কোনো বস্তু যদি তার আদি উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হয়, তবে দীর্ঘ ভ্রমণ, বাহনে আরোহণ এবং নানাবিধ বিপদের ঝুঁকি নিতে হয়। কিন্তু যখন তা ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে পাওয়া যায়, তখন ব্যক্তি যাবতীয় বিপদ থেকে নিরাপদ থাকে এবং সফরের কষ্ট ও ব্যয়ভার লাঘব হয়। অতএব লক্ষ্য করুন...
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৩)
والمسك، والسيارات والمكائن والأقمشة والهيل والسكر ونحو ذلك، معادنها بعيدة، فمن لطف الله بعباده أن سخر بعض الناس لبعض، وجاءت الشريعة الكاملة بحل أنواع المعاملات، كالإجارات والشركات، إلا ما دل الدليل على تحريمه، مما فيه ضرر أو ظلم أو جهالة أو نحو ذلك، فمن تأمل المعاملات الشرعية، رأى ارتباطها بصلاح الدين والدنيا، وشهد لله بسعة رحمته، ولطفه بعباده، وحكمته حيث أباح لعباده جميع الطيبات، ولم يمنع من ذلك إلا كل خبيث، ضار على الدين أو العقل أو البدن أو املال.

فمن محاسن الإجارة دفع حاجات العباد، بقليل من الإبدال ويسير من الأموال، فلا كل أحد يملك دارًا يسكنها، ولا سيارة يركبها، ولا طائرة يركبها، ولا طاحونة يطحن فيها، ولا مخزنًا لأمواله، ونحو ذلك مما يطول تعداده، فجوزت الإجارة، ولا حاجة إلى ذكر محاسن الصلح، فهو كما ذكره الله خير قال الله تعالى {وَالصُّلْحُ خَيْرٌ}.
কস্তুরী, যানবাহন, যন্ত্রপাতি, বস্ত্র, এলাচ, চিনি এবং এই জাতীয় অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী, যেগুলোর উৎসস্থল সুদূরপ্রসারী; সুতরাং এটি বান্দাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ মেহেরবানি যে তিনি মানুষকে একে অপরের অনুগত ও মুখাপেক্ষী করে দিয়েছেন। আর এই পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত বিভিন্ন প্রকার লেনদেনকে বৈধ করে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন ইজারা (ভাড়া) ও অংশীদারিত্ব, কেবল সেই বিষয়গুলো ব্যতীত যার নিষিদ্ধতার স্বপক্ষে দলিল বিদ্যমান; যাতে ক্ষতি, জুলুম, অজ্ঞতা (جهالة) অথবা এ জাতীয় কিছু রয়েছে। অতঃপর যে ব্যক্তি শরয়ি লেনদেনসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের সাথে এগুলোর নিবিড় যোগসূত্র প্রত্যক্ষ করবে এবং আল্লাহর প্রশস্ত রহমত, বান্দাদের প্রতি তাঁর করুণা ও হিকমতের সাক্ষ্য প্রদান করবে; যেহেতু তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সকল পবিত্র বস্তুকে হালাল করেছেন এবং দ্বীন, বিবেক, দেহ কিংবা সম্পদের জন্য ক্ষতিকর অপবিত্র বিষয়াদি ব্যতীত আর কিছুই নিষিদ্ধ করেননি।

ইজারার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সামান্য বিনিময় ও নগণ্য অর্থের মাধ্যমে বান্দাদের প্রয়োজন পূরণ করা; কারণ প্রত্যেকের পক্ষে এমন নিজস্ব গৃহের মালিক হওয়া সম্ভব নয় যেখানে সে বসবাস করবে, না কোনো গাড়ি, না কোনো বিমান, না শস্য পেষার যাঁতাকল, আর না ধন-সম্পদ গচ্ছিত রাখার কোনো গুদামের মালিক হওয়া সম্ভব। এ জাতীয় বিষয়ের তালিকা অনেক দীর্ঘ। তাই ইজারাকে বৈধ করা হয়েছে। আর আপস-মীমাংসার সৌন্দর্য আলোচনার অবকাশ নেই, কারণ আল্লাহ তাআলা যেমনটি উল্লেখ করেছেন যে তা-ই কল্যাণকর; মহান আল্লাহ বলেন: "আর আপস-মীমাংসাই হচ্ছে শ্রেয়"।
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأما الوكالة والكفالة ففيهما من الإحسان ما لا يخفى على أحد ممن اعتقد الشرع، ومن لم يعتقد، وعقل الشرائع، أو لم يعقل، احتاج إلى الوكالة والكفالة، فإن الله تعالى خلق الخلائق، وجعلهم مختلفين في القصد والهمم، فليس كل أحد يرغب أن يباشر الأعمال بنفسه، ولا كل يهتدي إلى المعاملات فمن لطف الله بخلقه إباحتها، فلا يليق بأصحاب المروآت، وأولياء الأمور، مباشرة البياعات كلها بأنفسهم، فالنبي صلى الله عليه وسلم باشر بعض الأمور بنفسه، تعليمًا لسنة التواضع، وبيانًا لجوازه، وأضاف بعض الأمور إلى غيره، وباشر ذبح الأضحية بنفسه، وفوض إلى علي ذبح قسم من هديه صلى الله عليه وسلم.

وأما الحسن في الكفالة، فإن فيها إظهار الشفقة والرحمة ومراعاة الأخوة، يبذل الذمة ليضمها إلى الذمة، فينفسح وجه المطالبة، ويسكن قلب المطالب بسبب السعة، قال الله تعالى {وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُونَ أَقْلامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ} إلى أن
আর প্রতিনিধিত্ব (وكالة) এবং জামিনদারিত্ব (كفالة) প্রসঙ্গে বলা যায় যে, এতে এমন কল্যাণ নিহিত রয়েছে যা শরিয়ত বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী, এবং যারা শরিয়তের বিধিবিধানের রহস্য অনুধাবন করে কিংবা করে না—কারও নিকটই অস্পষ্ট নয়। মানুষের জন্য প্রতিনিধিত্ব (وكالة) ও জামিনদারিত্ব (كفالة) প্রয়োজন। কেননা আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে সৃজন করেছেন এবং তাদের উদ্দেশ্য ও সংকল্পের মাঝে ভিন্নতা দান করেছেন। ফলে প্রতিটি মানুষের পক্ষে নিজে সরাসরি সকল কাজ আঞ্জাম দেওয়া সম্ভব হয় না, আর সবাই লেনদেনের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নয়। তাই স্বীয় সৃষ্টির প্রতি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ যে, তিনি এগুলোকে বৈধ করেছেন। কেননা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং নেতৃস্থানীয়দের পক্ষে সকল প্রকার ক্রয়-বিক্রয় নিজে সরাসরি পরিচালনা করা শোভনীয় নয়। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিনয় প্রদর্শনের সুন্নাহ (سنة) শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে এবং এর বৈধতা (جواز) বর্ণনার জন্য কিছু কাজ নিজে সরাসরি সম্পাদন করেছেন, আবার কিছু কাজ অন্যের ওপর ন্যস্ত করেছেন। তিনি কুরবানির পশু (أضحية) নিজে জবেহ করেছেন এবং তাঁর হাদয় (هدي) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি অংশ জবেহ করার দায়িত্ব আলীর প্রতি অর্পণ (تفويض) করেছিলেন।

আর জামিনদারিত্বের (كفالة) সৌন্দর্য হলো এতে সহানুভূতি, করুণা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এর মাধ্যমে এক ব্যক্তির দায়বদ্ধতাকে (ذمة) অন্য ব্যক্তির দায়বদ্ধতার (ذمة) সাথে যুক্ত করা হয়, ফলে পাওনা আদায়ের সুযোগ বিস্তৃত হয় এবং সচ্ছলতার কারণে পাওনাদারের অন্তর প্রশান্ত হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “আর আপনি তাদের নিকট ছিলেন না যখন তারা তাদের কলমগুলো নিক্ষেপ করছিল যে, তাদের মধ্যে কে মারইয়ামের দায়িত্ব গ্রহণ (كفالة) করবে...” শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৫)
جعل كافلها زكريا، كما قال تعالى {وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا} وإذا علمت محاسن الوكالة والكفالة، فالحوالة واضحة محاسنها ففي الحوالة كفالة ووكالة، وزيادة فراغ ذمة الأصيل، عن الحزن الطويل، فإذا قبلت حوالته أدخلت على قلب أخيك-بفراغ ذمته-سرورًا، ولا يخفي ما في إدخال السرور على المسلم من الأجر.

ومن محاسن الشفعة أن الجار ربما يكون في حاجة إلى هذه الحصة المبيعة، كأن يكون بيته ضيقًا، ويري اتساعه، أو تكون الأرض المشتركة بجوار مزارعه، ويحتاج إليها، ومن محاسنها التنبيه على عظم حق الجار والشريك، حيث أن له الحق في التقدم على غيره في الشراء، إلا إذا أسقط حقه بامتناعه عن الشراء، ومنها دفع ضرر الجار، وهو مادة الضرر.

وقال صلى الله عليه وسلم "لا ضرر ولا ضرار
আল্লাহ তাআলা যাকারিয়াকে তার অভিভাবক সাব্যস্ত করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং যাকারিয়াকে তার অভিভাবক বানিয়েছেন}। আপনি যখন প্রতিনিধিত্ব (وكالة) এবং জামিনদারিত্বের (كفالة) কল্যাণসমূহ সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন ঋণ হস্তান্তরের (حوالة) কল্যাণসমূহও আপনার কাছে স্পষ্ট হবে। কেননা ঋণ হস্তান্তরের (حوالة) মাঝে জামিনদারিত্ব (كفالة) ও প্রতিনিধিত্বের (وكالة) পাশাপাশি মূল ব্যক্তির দায়মুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির বিষয়টিও অতিরিক্ত হিসেবে রয়েছে। অতএব, আপনি যখন তার ঋণ হস্তান্তর (حوالة) কবুল করেন, তখন তার দায়মুক্তির মাধ্যমে আপনি আপনার ভাইয়ের অন্তরে আনন্দ দান করেন; আর একজন মুসলিমকে আনন্দ দেওয়ার মাঝে কী পরিমাণ সওয়াব রয়েছে তা কারো অজানা নয়।

শুফআ বা প্রাক-ক্রয়াধিকারের (شفعة) অন্যতম একটি কল্যাণ হলো—প্রতিবেশী সম্ভবত বিক্রিত এই অংশের মুখাপেক্ষী হতে পারেন; যেমন তার ঘরটি সংকীর্ণ হতে পারে এবং তিনি এর প্রশস্ততা কামনা করেন, অথবা অংশীদারিত্বের জমিটি তার চাষাবাদের জমির পাশে হতে পারে এবং তার এটির প্রয়োজন হতে পারে। এর আরও একটি কল্যাণ হলো—প্রতিবেশী ও অংশীদারের অধিকারের গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য রাখা, কেননা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অন্যের তুলনায় তার অগ্রাধিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে, যতক্ষণ না তিনি নিজে ক্রয় করতে অস্বীকার করে তার অধিকারটি ত্যাগ করেন। এর মাধ্যমে প্রতিবেশীর ক্ষতি (ضرر) প্রতিহত করা হয়, যা সকল অনিষ্টের উৎস।

আর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "ক্ষতি (ضرر) করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি (ضرار) করা যাবে না।"
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৬)
في الإسلام ولا شك عند أحد في حسن دفع ضرر التأذي بسبب المجاورة على الدوام، من إيقاد نيران، وإعلاء جدار، وإثارة غبار ودخان، وأعظم من ذلك سماع التلفزيون والمذياع، وإحداث أشياء تضر بملكه، ونحو ذلك من أنواع الضرر.

وأما الوديعة فمحاسنها ظاهرة، إذ فيها إعانة عباد الله في حفظ أموالهم، ووفاء الأمانة، وهو من أشرف الخصال عقلًا وشرعًا، ومن محاسنها أنها إحسان إلى عباد الله، والله يحب المحسنين، ومنها أنها سبب للتآلف والتآخي بين المسلمين وسبب لمحبة بعضهم لبعض.

ومن محاسن الإسلام النهي عن سوء الزوج لزوجته، وأن عليه أن يقارن بين المحاسن والمساوئ، فإذا كان منصفًا غض بصره عن المساوي، إذا كانت محاسنها تغمرها، لاضمحلالها فيها، وعن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "لا يفرك مؤمن مؤمنة، إن كره منها خلقا رضي منها آخر" رواه مسلم.
ইসলামে প্রতিবেশিত্বের কারণে স্থায়ীভাবে সৃষ্ট কষ্টের ক্ষতি প্রতিহত করার মাহাত্ম্যের ব্যাপারে কারও কোনো সন্দেহ নেই; যেমন—আগুন জ্বালানো, দেয়াল উঁচু করা এবং ধুলোবালি ও ধোঁয়া নির্গত করা। আর এর চেয়েও গুরুতর বিষয় হলো টেলিভিশন ও রেডিওর শব্দ শোনা এবং প্রতিবেশীর মালিকানাধীন সম্পদের ক্ষতি করে এমন কিছু করা কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি।

আর আমানত রক্ষার কল্যাণসমূহ সুস্পষ্ট; কারণ এতে আল্লাহর বান্দাদের সম্পদ সংরক্ষণে সহায়তা করা হয় এবং আমানত রক্ষা করা হয়। এটি বিবেক ও শরিয়তের দৃষ্টিতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এর অন্যতম সৌন্দর্য হলো এটি আল্লাহর বান্দাদের প্রতি ইহসান বা অনুগ্রহ প্রদর্শন করা, আর আল্লাহ অনুগ্রহকারীদের ভালোবাসেন। এছাড়া এটি মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক হৃদ্যতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টির এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা জন্মানোর কারণ।

ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দুর্ব্যবহার নিষিদ্ধ করা। স্বামীর উচিত তার স্ত্রীর গুণ ও দোষের মধ্যে তুলনা করা। স্বামী যদি ন্যায়পরায়ণ হয়, তবে সে ত্রুটিবিচ্যুতির দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেবে—যদি তার গুণাবলি সেই ত্রুটির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং আধিক্যের কারণে ত্রুটিগুলো তাতে বিলীন হয়ে যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে ঘৃণা না করে; যদি সে তার কোনো একটি স্বভাব অপছন্দ করে, তবে তার অন্য কোনো স্বভাবে সে সন্তুষ্ট হবে।" এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম।
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وأما الفرائض وتوزيع المال على الورثة فقد وضعه الله بنفسه، بحسب ما يعلمه من قرب وبعد ونفع، وما هو أولى ببر العبد، ورتبه ترتيبًا تشهد له العقول الصحيحة بالحسن وأنه لو وكل الأمر إلى آراء الناس وأهوائهم وإراداتهم، لحصل بسبب ذلك من الخلل والاختلال، وزوال الانتظام، وسوء الاختيار فوضى، ومن حملة المحاسن أن الحق السبب بالنسب.

فالسبب المناكحة والولاء، ولما جعل الله سبحانه عقد النكاح ذريعة المحبة والألفة، والازدواج، والاستئناس بين الناس، فلا يحسن أن يلحقها عند موت أحدهما مضاضة ألم الفراق ومن غير أن يرتفق أحدهما بما فصل عنه نوع ارتفاق، ثم جعل للزوج ضعف ما للمرأة من الزوج.

ومن جملة المحاسن أنه لم يورث عند اختلاف الدين، إذا مات المسلم فالكافر لا يورث منه، لأن الكافر وإن كان قريبًا نسبًا، فهو بعيد دينًا، لأن الكافر ميت لا يرث الميت، قال الله تعالى {أَوَمَنْ كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِي
আর ফারায়েজ (উত্তরাধিকার বিধান) এবং ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পদ বণ্টনের বিষয়টি আল্লাহ তাআলা স্বয়ং নির্ধারণ করেছেন; তিনি কার নৈকট্য, দূরত্ব ও উপকারিতা এবং বান্দার সদাচরণের জন্য কোনটি অধিকতর উপযোগী—সে সম্পর্কে তাঁর সম্যক জ্ঞান অনুযায়ী এটি বিধিবদ্ধ করেছেন। তিনি বিষয়টিকে এমন এক সুশৃঙ্খল বিন্যাসে সাজিয়েছেন যার বিশুদ্ধতা (صحيحة) ও উৎকর্ষের (الحسن) সাক্ষ্য সুস্থ বিবেকসমূহ প্রদান করে। যদি এই বিষয়টি মানুষের মতামত, খেয়াল-খুশি ও ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে তার ফলে বিশৃঙ্খলা, সংহতিহীনতা, শৃঙ্খলার বিনাশ এবং ভুল নির্বাচনের কারণে অরাজকতা সৃষ্টি হতো। এর সামগ্রিক সৌন্দর্যের একটি দিক হলো—তিনি উত্তরাধিকারের কারণকে (সাবাব) বংশীয় সম্পর্কের সাথে যুক্ত করেছেন।

আর সেই কারণগুলো হলো বৈবাহিক সম্পর্ক ও মিত্রতা (الولاء)। যেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিয়ের চুক্তিকে মানুষের মাঝে ভালোবাসা, সম্প্রীতি, দাম্পত্য ও হৃদ্যতার মাধ্যম বানিয়েছেন, তাই তাদের একজনের মৃত্যুতে বিচ্ছেদের নিদারুণ বেদনার সাথে কোনো প্রকার আর্থিক সংস্থান থেকে বঞ্চিত হওয়া সমীচীন নয়। অতঃপর তিনি স্বামীর জন্য স্ত্রীর অংশের দ্বিগুণ নির্ধারণ করেছেন।

এর অন্যতম সৌন্দর্য হলো—ধর্মের ভিন্নতার কারণে উত্তরাধিকার প্রদান করা হয় না। যখন কোনো মুসলিম মৃত্যুবরণ করে, তখন কাফির তার উত্তরাধিকারী হয় না। কারণ কাফির ব্যক্তি বংশীয়ভাবে নিকটাত্মীয় হলেও ধর্মীয়ভাবে সে দূরবর্তী। কেননা কাফির হলো মৃততুল্য, আর মৃত ব্যক্তি মৃতের উত্তরাধিকারী হয় না। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {আর যে মৃত ছিল, অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন এক আলো দান করেছি যার সাহায্যে সে মানুষের মাঝে...
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৮)
النَّاسِ} الآية، وقال تعالى {يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ}، وأما الكافر فيرث الكافر، لاستواء حاليهما وماليهما.

وأما الهبة فمستحبة، إذا أريد بها وجه الله، والأصل فيها قبل الإجماع-قوله تعالى {فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَرِيئًا} وقوله {وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ} والله سبحانه كريم جواد وهاب، ومن محاسنها أنها سبب للتحاب والتواد، كما في الحديث "تهادوا تحابوا"، ومن محاسنها أنها تسل السخيمة، وفي الحديث "تهادوا فإن الهدية تسل السخيمة"، وقد أهدى صلى الله عليه وسلم للنجاشي حلة، وأواقي من مسك، وكان صلى الله عليه وسلم يقبل الهدية ويثيب عليها، ومن محاسنها أنها تقوي الصلة، ومتى قويت الصلة سارت الأمة بقدم ثابت، فحسن الصلة بين أفراد الأمة سر نجاحها، ومن محاسنها وفرة الثقة بين المتهادين، إلى غير ذلك من المحاسن.

وأما النكاح فمستحب، ومحاسنه كثيرة،
...মানুষ} - এই আয়াত। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন}। আর কাফির কাফিরের উত্তরাধিকারী হয়, কারণ তাদের উভয়ের অবস্থা এবং পরিণাম অভিন্ন।

আর হেবা (দান) মুস্তাহাব, যদি এর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছা করা হয়। ইজমার পূর্বে এর মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা যদি খুশিমনে তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু ছেড়ে দেয়, তবে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে তৃপ্তিসহকারে ভোগ করো} এবং তাঁর বাণী: {আর সে সম্পদ দান করে তাঁর ভালোবাসায়}। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অত্যন্ত দয়ালু, পরম দাতা ও মহান দাতা। আর হেবার অন্যতম সৌন্দর্য হলো এটি পারস্পরিক মহব্বত ও হৃদ্যতার কারণ হয়, যেমনটি হাদিসে এসেছে: "তোমরা পরস্পরকে উপহার দাও, একে অপরকে ভালোবাসবে।" এর আরও একটি সৌন্দর্য হলো এটি মনের বিদ্বেষ দূর করে। হাদিসে এসেছে: "তোমরা পরস্পরকে উপহার দাও, কেননা উপহার মনের বিদ্বেষ দূর করে।" নবিজি (সা.) নাজাশীকে এক জোড়া পোশাক এবং কয়েক আউকিয়া মিশক উপহার পাঠিয়েছিলেন। তিনি (সা.) উপহার গ্রহণ করতেন এবং তার বিনিময়ে প্রতিদান দিতেন। এর অন্যতম সৌন্দর্য হলো এটি সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে, আর যখন সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়, তখন উম্মাহ এক দৃঢ় পদক্ষেপে পরিচালিত হয়। সুতরাং উম্মাহর ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সুসম্পর্কই হলো তার সফলতার রহস্য। এর অন্যতম সৌন্দর্য হলো উপহার আদান-প্রদানকারীদের মধ্যে আস্থা (ثقة) বৃদ্ধি পাওয়া—এরূপ আরও অনেক সৌন্দর্য রয়েছে।

আর বিবাহ হলো মুস্তাহাব এবং এর সৌন্দর্য অনেক।
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৯)
منها تحصين الفرج، ومنها تحصين الزوجة، ومنه حفظها والقيام بها، ومن محاسنه أنه طريقة الرسل، ومن محاسنه تكثير الأمة، وتكثير النسل، ومنها تحقيق مباهاة النبي صلى الله عليه وسلم، ومنها قضاء حوائجه من طبخ ونحوه، ومنها حفظ بيته وأولاده ومنها سكونه وطمأنينته إليها، واستئناسه بها، ومعاشرتها وغير ذلك من المصالح.

وأما الطلاق فمن محاسنه أن جعل الله عز وجل ملك الطلاق إلى الزوج، ومن محاسنه أن حكم بالحرمة الغليظة بعد الطلقات الثلاث، لأن الظاهر أن من طلق ثلاثًا رأى الصلاح في الفراق وعلق الشرع حل المطلقة ثلاثًا بالتزويج بزوج آخر، والدخول بها، ليصير هذا الشرط مانعًا له من العود إليها، ويثبت على رأي من الصلاح في مفارقتها، ومن المحاسن أنه لم يحكم بحرمتها على وجه لا رجوع فيه أصلا، فإنه ربما لا يصبر عنها فيهلك في ذلك، فالشرع جعل للوصول إليه سبيلًا، لكن بعدما يذوق الآخر عسيلتها، وتذوق عسيلته، ولا يجوز عن طريق
এর (বিবাহের) উপকারিতার মধ্যে রয়েছে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করা, স্ত্রীর সতীত্ব রক্ষা করা, তার হেফাজত করা এবং তার দেখাশোনা করা। এর অন্যতম সৌন্দর্য হলো এটি রাসূলগণের তরীকা, এর মাধ্যমে উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং বংশবৃদ্ধি ঘটে। এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গর্ববোধের বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়। এর মাধ্যমে রান্না-বান্নাসহ ঘরের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ হয় এবং ঘর ও সন্তান-সন্ততির সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। এর দ্বারা স্ত্রীর সান্নিধ্যে প্রশান্তি ও স্থিরতা অর্জিত হয়, তার সাথে হৃদ্যতা গড়ে ওঠে এবং সুন্দর দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করাসহ আরও অনেক কল্যাণ সাধিত হয়।

আর তালাকের সৌন্দর্যের দিক হলো, মহান আল্লাহ তালাকের অধিকার স্বামীর হাতে ন্যস্ত করেছেন। এর আরও সৌন্দর্য হলো যে, তিনি তিন তালাকের পর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান দিয়েছেন; কারণ বাহ্যত যে ব্যক্তি তিন তালাক প্রদান করে, সে বিচ্ছেদের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত বলে মনে করে। শরীয়ত তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীকে পুনরায় (পূর্বের স্বামীর জন্য) বৈধ হওয়ার বিষয়টিকে অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ এবং সহবাসের ওপর শর্তযুক্ত করেছে, যাতে এই শর্তটি তার জন্য পুনরায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং বিচ্ছেদের মাধ্যমে কল্যাণের যে সিদ্ধান্ত সে নিয়েছিল তাতে সে অটল থাকে। এর আরও একটি সৌন্দর্য হলো যে, তিনি একে এমন চূড়ান্তভাবে হারাম করেননি যাতে ফেরার কোনো পথই অবশিষ্ট না থাকে। কারণ সম্ভবত সে তার (স্ত্রীর) বিরহ সহ্য করতে না পেরে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে; তাই শরীয়ত পুনরায় তাকে ফিরে পাওয়ার একটি পথ রেখেছে, তবে তা দ্বিতীয় স্বামী তার সাথে এবং সে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে দাম্পত্য সুখ আস্বাদন করার পর। আর এটি কোনো উপায়ে বৈধ নয়...
(খণ্ড: ১) মাহাসিনুদ দীনিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩০)
التحليل، لحديث "لعن الله المحلل، والمحلل له" ومن محاسن الطلاق أن يكون في طهر لم يجامعها فيه، هذا هو السنة، فإنه إذا قضى وطره منها، انتقص ميله إليها طبعًا، فيبادر إلى مفارقتها بقليل داعية، ويسير أذية، فإن المرء إذا شبع من شيء سقط من عينه، وهان عليه، وإذا جاع قوي ذلك في قلبه فلا يحصل الطلاق عن روية، وربما يندم على ذلك، فيحتاج إلى نقص الطلاق، فكان الطلاق الحسن المسنون، أن يطلقها في طهر لم يجامعها فيه، فإن هذه الحال حالة كمال الرغبة، وتمام الميل، فالظاهر أنه لا يقدم على الطلاق في هذه الحالة، إلا لحاجة داعية، فرخص له في الطلاق.

ومن محاسنه أن جعل هزله جدًا، قال صلى الله عليه وسلم "ثلاث جدهن جد، وهزلهن جد، الطلاق والعتاق والنكاح فإذا عرف الإنسان أنه بمجرد تلفظه به، ولو مازحًا يقع، امتنع بإذن الله إذا كان عاقلًا.
তাহলিল (التحليل) তথা হালালা সংক্রান্ত হাদিস "আল্লাহ লানত করেছেন মুহাল্লিল এবং মুহাল্লাল লাহু-কে" এর বিশ্লেষণ। তালাকের অন্যতম সৌন্দর্য হলো এটি এমন তুহর (পবিত্রাবস্থা) এর মধ্যে সম্পন্ন হওয়া যাতে স্বামী স্ত্রীর সাথে সহবাস করেনি; এটাই হলো সুন্নাহ (السنة)। কেননা স্বামী যখন স্ত্রীর মাধ্যমে তার জৈবিক চাহিদা পূরণ করে ফেলে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি ঝোঁক কমে যায়। ফলে সামান্য কারণেই সে বিচ্ছেদের পথে পা বাড়াতে পারে এবং সামান্য বিরক্তির কারণেও তা করে ফেলে। কেননা মানুষ যখন কোনো বিষয়ে তৃপ্ত হয়ে যায়, তখন তার দৃষ্টিতে সেই জিনিসের গুরুত্ব কমে যায় এবং তা তুচ্ছ হয়ে পড়ে। আর যখন সে ক্ষুধার্ত থাকে, তখন তার অন্তরে সেই জিনিসের প্রতি টান প্রবল থাকে। এমতাবস্থায় তালাক গভীর চিন্তাভাবনা থেকে উৎসারিত হয় না এবং সম্ভবত পরবর্তীতে সে এ জন্য লজ্জিত হয়, ফলে সে তালাক বাতিল বা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। সুতরাং উত্তম ও মাসনুন (المسنون) তালাক হলো—এমন তুহরে তালাক প্রদান করা যাতে সে স্ত্রীর সাথে সহবাস করেনি। কেননা এই অবস্থাটি হলো পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এবং সম্পূর্ণ আকর্ষণের সময়। এমতাবস্থায় কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সাধারণত সে তালাক প্রদানে অগ্রসর হবে না; এ কারণেই তাকে এই অবস্থায় তালাক দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তালাকের সৌন্দর্যসমূহের আরেকটি হলো, এর উপহাসকেও গুরুত্ব (جد) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তিনটি বিষয় এমন যার গুরুত্বের সাথে করাও গুরুতর (جد), এবং উপহাসের ছলে করাও গুরুতর (جد): তালাক, দাসমুক্তি এবং বিবাহ।" অতএব যখন কোনো মানুষ জানতে পারে যে, স্রেফ উচ্চারণ করার মাধ্যমেই তা কার্যকর হয়ে যাবে—এমনকি ঠাট্টাবশত হলেও—তখন সে যদি বিবেকবান হয়, তবে আল্লাহর ইচ্ছায় সে এ থেকে বিরত থাকে।