(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: -)
أنشاب الكثب في أنساب الكتب القسم: فهارس الكتب والأدلة
الكتاب: أنشاب الكُثُب في أنساب الكتب (فهرست مرويات السيوطي)
المؤلف: جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي (ت 911 هـ)
المحقق: إبراهيم باجس عبد المجيد
تنبيه: وضع المحقق علامة نجمة (*) قبل العناوين التي علّم عليها السيوطي بـ (ك) استدراكا على «فهرست» ابن حجر.
كما نبه المحقق في الهامش على ما أغفل السيوطي علامة الاستدراك فيه
الناشر: مركز الملك فيصل للبحوث والدراسات الإسلامية
الموزع خارج السعودية: أروقة للدراسات والنشر، عمان - الأردن
الطبعة: الثانية، 1440 هـ - 2018 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الأولى 1447
আনশাবুল কুসুব ফি আনসাবিল কুতুব বিভাগ: কিতাবসমূহের নির্ঘণ্ট ও নির্দেশিকা
কিতাব: আনশাবুল কুসুব ফি আনসাবিল কুতুব (আস-সুয়ূতীর বর্ণিত কিতাবসমূহের নির্ঘণ্ট)
লেখক: জালালুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)
সম্পাদক: ইব্রাহিম বাজিস আবদুল মাজিদ
সতর্কবার্তা: সম্পাদক সেই শিরোনামগুলোর পূর্বে একটি তারকা চিহ্ন (*) ব্যবহার করেছেন যেগুলোকে সুয়ূতী ইবনে হাজারের «ফিহরিস্ট»-এর পরিশিষ্ট হিসেবে (ক) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছিলেন।
একইভাবে সম্পাদক টীকায় সেই স্থানগুলো সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন যেখানে সুয়ূতী পরিশিষ্টের চিহ্ন দিতে ভুল করেছিলেন।
প্রকাশক: কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
সৌদি আরবের বাইরে পরিবেশক: আরওয়িকাহ ফর স্টাডিজ অ্যান্ড পাবলিশিং, আম্মান - জর্ডান
সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪৪০ হিজরী - ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদাল উলা ১৪৪৭ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৫)
كلمة مركز الملك فيصل للبحوث والدراسات الإسلاميةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين.
وبعد،
فقد دأب مركز الملك فيصل للبحوث والدراسات الإسلامية منذ نشأته الميمونة المباركة على الإسهام الفاعل في نشر مجموعة مختارة من أعلاق التراث ونفائسه النادرة، وتكليف نُخبة من أفاضل المحققين المتمرسين بدقائق الفن للقيام بهذه المهمة على أكمل وجه ضمن التقاليد العلمية الراسخة في مسار التحقيق، وإخراج ذلك كله في طبعات علمية أنيقة استوفت مطالب التحقيق شكلا ومضمونا، بحيث غدت منشورات المركز شامةً في وجه التراث النضير، ويتطلع إلى الإسهام فيها خيرة الباحثين والمحققين.
وخلال هذه المسيرة الزاهرة أنجز المركز مجموعةً من كتب التراث القيمة التي ظفرت بتقدير أهل العلم والباحثين؛ لما توفّر لها من ضروب العناية والإتقان، وكان هذا التقدير حافزًا لمواصلة المسيرة، ومُشجّعًا على إعادة إصدار مجموعة مختارة من الكتب السابقة؛ لوضعها بين يدي الأجيال اللاحقة التي ربما لم يتيسر لها تلك النشرات الأصيلة المتميزة.
في هذا السياق من الاهتمام والرغبة الصادقة في التجديد وإحياء الكنوز
কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের বাণীসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত রাসূলের ওপর।
অতঃপর,
কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ তার শুভ সূচনালগ্ন থেকেই ঐতিহ্যের বাছাইকৃত মূল্যবান অংশ এবং বিরল রত্নভাণ্ডার প্রকাশে কার্যকর অবদান রেখে আসছে। এই দায়িত্বটি সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য গবেষণার এই সূক্ষ্ম শিল্পে অভিজ্ঞ একদল শ্রেষ্ঠ গবেষককে নিযুক্ত করা হয়েছে, যাতে তারা গবেষণার প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক রীতি অনুযায়ী এই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। এছাড়া এই সকল বিষয়কে মার্জিত বৈজ্ঞানিক সংস্করণে প্রকাশ করা হয়েছে যা আকার ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে গবেষণার সমস্ত দাবি পূরণ করে। ফলে কেন্দ্রের এই প্রকাশনাগুলো উজ্জ্বল ঐতিহ্যের ললাটে সৌন্দর্যতিলক স্বরূপ হয়ে উঠেছে এবং এতে অবদান রাখার জন্য শ্রেষ্ঠ গবেষক ও সম্পাদকগণ আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন।
এই উজ্জ্বল পথচলায় কেন্দ্রটি বেশ কিছু মূল্যবান ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থ সম্পন্ন করেছে যা আলেম সমাজ এবং গবেষকদের প্রশংসা অর্জন করেছে; কারণ সেগুলোতে যথাযথ যত্ন ও নিপুণতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রশংসা পথচলা অব্যাহত রাখার জন্য অনুপ্রেরণা এবং পূর্ববর্তী বাছাইকৃত গ্রন্থগুলোর পুনর্মুদ্রণের জন্য উৎসাহ যোগাচ্ছে; যাতে সেগুলো পরবর্তী প্রজন্মের হাতে পৌঁছে দেওয়া যায় যাদের কাছে হয়তো সেই মৌলিক ও স্বতন্ত্র প্রকাশনাগুলো সহজলভ্য ছিল না।
এই গুরুত্ব প্রদানের প্রেক্ষাপট এবং সংস্কার ও জ্ঞানভাণ্ডার পুনরুজ্জীবিত করার একনিষ্ঠ আকাঙ্ক্ষা থেকে
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৬)
التراثية تأتي نشرتنا لهذا الكتاب النافع «أنشاب الكثُب في أنساب الكتب» للحافظ جلال الدين السيوطي (المتوفى سنة 911 هجرية)، الذي نهض بأعباء تحقيقه باحث مختص في آثار هذا العلامة الموسوعي. وهو كتاب في فن الرواية مما أسماه سلفنا الصالح بالفهارس أو المشيخات أو المعاجم، حيث يسرد العالم أسماء الكتب التي أخذها بطرق التحمّل المعتبرة من القراءة والسماع والإجازة والمناولة، فنجد فيه مرآة صادقة لتقليد من أعرق التقاليد الثقافية الراسخة في حضارتنا العربية الإسلامية، هي قيمة العلم وطرق الأخذ عن الشيوخ من خلال هذا الاستقصاء الباهر لهذه الكتب التي قاربت الثلاثة آلاف كتاب، وفي إشارة واضحة إلى مدى ما يبلغه الصبر والدأب في طلب العلم لدى أسلافنا.
إن كتاب «أنشاب الكُثُب في أنساب الكتب» هو وثيقة تاريخية بالغة الدلالة على طبيعة التفكير العلمي ومدى الاهتمام بتحصيل المعرفة، وانخراط المجتمع المثقف في نشر المعرفة برجاله ونسائه، حيث نجد أسماء مجموعة من النساء اللواتي أسهمن في نشر العلم وتبليغه العلماء. وقد اقتدى السيوطي في كتابه هذا بجماعة ممن سبقوه، يأتي في مقدّمتهم حافظ عصره الإمام ابن حجر العسقلاني (المتوفى سنة 852 هجرية) صاحب الكتاب المشهور في هذا السياق «المعجم المفهرس»، فقدّم لنا هذا الفهرست الذي يشتمل على جملة مسموعاته وقراءاته ومناولاته وإجازاته، وبلغ عدد الكتب الواردة في هذا السفر النفيس (2819) كتابًا؛ افتتحها بصحيح البخاري، واختتمها بقصيدة الفرج للإمام أبي الفضل الأنصاري، مرورًا بمئات الكتب والأجزاء والمسانيد والمجاميع والمشيخات والأمالي، وانتهاء بدواوين بعض الشعراء الذين قلّ أن يشتغل بشعرهم علماء الحديث وفقهاء الشريعة.
ঐতিহ্যবাহী ধারায় হাফিজ জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) রচিত এই উপকারী গ্রন্থ ‘আনশাবুল কুথুব ফি আনসাবিল কুতুব’-এর আমাদের এই প্রকাশনাটি উপস্থাপিত হচ্ছে, যার সম্পাদনার গুরুভার বহন করেছেন এই বিশ্বকোষীয় পণ্ডিতের রচনাবলি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ একজন গবেষক। এটি বর্ণনাকলার এমন একটি গ্রন্থ যাকে আমাদের নেককার পূর্বসূরিগণ (সালাফ আস-সালেহীন) ফিহরিস্ত, মাশয়াখাত বা মু'জাম নামে অভিহিত করতেন; যেখানে আলেমগণ কিরাআত (পাঠ), সামা' (শ্রবণ), ইজাজত (অনুমতি) এবং মুনাওয়ালার (প্রদান) মতো নির্ভরযোগ্য জ্ঞানার্জনের পদ্ধতিতে প্রাপ্ত কিতাবগুলোর নাম ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেন। ফলে আমরা এতে আমাদের আরব-ইসলামি সভ্যতার অন্যতম সুদৃঢ় ও প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক বিশ্বস্ত প্রতিফলন দেখতে পাই, আর তা হলো ইলমের মর্যাদা এবং প্রায় তিন হাজার কিতাবের এই বিস্ময়কর অনুসন্ধানের মাধ্যমে শায়খদের নিকট থেকে ইলম অর্জনের পদ্ধতি। এটি আমাদের পূর্বসূরিদের ইলম অন্বেষণে ধৈর্য ও নিরলস প্রচেষ্টার সীমানা কতটুকু ছিল তার এক সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।
নিশ্চয়ই ‘আনশাবুল কুথুব ফি আনসাবিল কুতুব’ গ্রন্থটি বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার প্রকৃতি এবং জ্ঞান অর্জনে গভীর মনোনিবেশের পাশাপাশি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে জ্ঞান প্রসারে শিক্ষিত সমাজের সম্পৃক্ততার এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল। কারণ এখানে আমরা একদল মহীয়সী নারীর নাম খুঁজে পাই যারা ইলম প্রচার এবং আলেমদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন। ইমাম সুয়ূতী তাঁর এই কিতাবে তাঁর পূর্ববর্তী একদল মনীষীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ হাফিজ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি), যিনি এই ধারার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস’-এর প্রণেতা। তিনি আমাদের সামনে এই সূচিপত্রটি পেশ করেছেন যাতে তাঁর শ্রুত, পঠিত, প্রাপ্ত এবং অনুমোদিত সকল কিতাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই মূল্যবান গ্রন্থে উল্লিখিত কিতাবের সংখ্যা ২৮১৯-এ পৌঁছেছে; যা তিনি সহীহ বুখারী দিয়ে শুরু করেছেন এবং ইমাম আবু ফজল আল-আনসারির 'কাসিদাতুল ফারাজ' দিয়ে সমাপ্ত করেছেন। এর মাঝখানে রয়েছে শত শত কিতাব, জুজ, মাসানিদ, মাজমুআ, মাশয়াখাত এবং আমালি। এমনকি সবশেষে এমন কিছু কবির দিওয়ানও স্থান পেয়েছে যাদের কাব্য নিয়ে মুহাদ্দিস ও শরীয়তের ফকিহগণ খুব কমই চর্চা করে থাকেন।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৭)
إن من أروع ما اشتمل عليه هذا الكتاب احتفاظه بالصورة الدقيقة لتلقي العلم مع التحلي بالأمانة الأخلاقية في ذلك، فهو يذكر بالتفاصيل القدر المقروء أو المسموع من الكتاب، مع النص على القدر الفائت الذي لم يتمكن من قراءته أو سماعه، وهذا ملمح حضاري أخلاقي نادر ربما لا نجده في غير هذه الثقافة المستنيرة بنور الوحي ولهجة الصدق.
وهو كذلك سجل ثمين لغير قليل من الكتب التي نسمع بها ولا نعرف من أخبارها شيئًا. كما يستفيد المؤرّخ لحركة العلم من مثل هذا الكتاب عند الحديث عن الحركة العلمية ورصد مظاهر هيمنة مجموعة محددة من الكتب وانتشارها، وهو قبل ذلك وبعده مُحفّز عظيم التأثير للهمم وبَعْثِ الإرادة لتجديد سير الآباء في طلب العلم والحفاوة الصادقة بالمعرفة.
هذا وقد حظي الكتاب بعناية إضافية من المركز، مقابلة وتصحيحًا ومراجعة وفهرسة، فتضافرت جهود المحقق مع جهود المركز، فجاءت هذه الطبعة في غاية من الحسن والإجادة.
د. سعود السرحان
الأمين العام للمركز
الرياض
24 رجب 1439 هـ
الموافق 10 أبريل 2018 م
এই গ্রন্থটি যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছে তার মধ্যে অন্যতম চমৎকার বিষয় হলো জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে নৈতিক বিশ্বস্ততা বজায় রাখার পাশাপাশি তার সূক্ষ্ম চিত্রটি ধারণ করা। এতে গ্রন্থের পঠিত বা শ্রুত অংশের পরিমাণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করার পাশাপাশি সেই অংশের বর্ণনাও গুরুত্বের সাথে প্রদান করা হয়েছে যা পড়তে বা শুনতে পারা সম্ভব হয়নি। এটি একটি বিরল তামাদ্দুনিক ও নৈতিক বৈশিষ্ট্য যা সম্ভবত ওহীর আলো এবং সত্যনিষ্ঠার দ্বারা উদ্ভাসিত এই সংস্কৃতি ব্যতীত অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
একইভাবে এটি এমন বহু গ্রন্থের একটি মূল্যবান দলিল যা সম্পর্কে আমরা অবগত থাকলেও সেগুলোর বিবরণ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। এছাড়া জ্ঞানতাত্ত্বিক ইতিহাসের গবেষকগণ এ জাতীয় গ্রন্থ থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন যখন তারা বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের আলোচনা করেন এবং নির্দিষ্ট কিছু গ্রন্থের আধিপত্য ও প্রসারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেন। সর্বোপরি, এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে শাণিত করার এবং জ্ঞান অন্বেষণে পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক অনুসরণে সংকল্পবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে এক প্রভাবশালী উদ্দীপক।
এই গ্রন্থটি কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত যত্নের সাথে সম্পাদিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা, সংশোধন, পুনর্নিরীক্ষণ এবং নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করা। এভাবে মুহাক্কিকের প্রচেষ্টার সাথে কেন্দ্রের প্রচেষ্টা সমন্বিত হওয়ায় এই সংস্করণটি অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁতভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
ড. সাউদ আল-সারহান
কেন্দ্রের মহাসচিব
রিয়াদ
২৪ রজব ১৪৩৯ হিজরি
ইংরেজি ১০ এপ্রিল ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة التحقيقهذه هي رحلتي الثالثة مع الإمام السيوطي رحمه الله؛ رحلتي الأولى كانت قصيرة استمرت أياماً معدودات، صحبته في رسالة صغيرة ألفها، عنوانها «جزيل المواهب في اختلاف المذاهب»، تعرفت إلى شيء من شخصية هذا العالم الفذ، وأريحيته في قبول الرأي الآخر في مسائل الفقه والحديث، وأنبأتني عن عدم تعصبه لمذهبه الشافعي، بثنائه على كل علماء الأمة، وإيراده الكثير من النصوص والحوادث من واقع السلف الصالح: الصحابة ومن بعدهم، تُبين استيعاب كل منهم لرأي الآخر، وأن الاختلاف الفقهي لم يؤثر على العلاقات الشخصية بين علماء الأمة.
حببتني هذ الرحلة القصيرة بالرجل، وأيقنت أن وراء هذه الشخصية العالمة المتسامحة علماء أجلاء صقلوا شخصيته، وجعلوا منه إماماً مبرزاً في فنون شتى من المعارف والعلوم، لم يترك فنّاً من فنون العلوم إلا وكتب فيه، ما بين رسالة قصيرة في ورقة أو وريقات، وما بين كتاب ضخم في مجلدات عدة.
فأحببت التعرف إلى هؤلاء العلماء والمشايخ الذين كان لهم فضل تعليم الإمام السيوطي وتدريسه، فكانت رحلتي الثانية معه، وكانت أطول من سابقتها بكثير، فصحبته في رحلة ماتعة مع شيوخه الذين أخذ عنهم شتى أنواع العلوم والمعارف، فكانت تلك الرحلة مع كتابه الذي ترجم فيه لهؤلاء الأشياخ الأجلاء، والذي سماه «المنجم في المعجم»، ورأيت في هذا «المنجم»، الكثير الكثير من الكنوز والجواهر التي زينت عنق تلميذهم النجيب السيوطي، فكان عدادهم (195) جوهرة جميلة ما
সম্পাদনার ভূমিকাইমাম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে এটি আমার তৃতীয় সফর। আমার প্রথম সফরটি ছিল সংক্ষিপ্ত, যা মাত্র কয়েক দিন স্থায়ী হয়েছিল। তাঁর রচিত একটি ছোট পুস্তিকায় আমি তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছিলাম, যার শিরোনাম ছিল ‘জাযীলুল মাওয়াহিব ফী ইখতিলাফিল মাযাহিব’। সেখানে আমি এই অনন্যসাধারণ পণ্ডিতের ব্যক্তিত্ব এবং ফিকহ ও হাদীসের মাসআলাসমূহে অন্যের মতামতের প্রতি তাঁর উদারতা সম্পর্কে কিছুটা পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। এটি আমাকে তাঁর স্বীয় শাফেয়ী মাযহাবের প্রতি অন্ধ গোঁড়ামি না থাকার বিষয়ে অবহিত করেছিল; কারণ সেখানে তিনি উম্মাহর সকল আলেমের প্রশংসা করেছেন এবং সালাফে সালেহীন—সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের পরবর্তীগণের বাস্তব জীবন থেকে এমন অনেক উদ্ধৃতি ও ঘটনা উপস্থাপন করেছেন, যা অন্যের মতামতের প্রতি তাঁদের প্রত্যেকের সহনশীলতা প্রকাশ করে। এটি আরও স্পষ্ট করে যে, ফিকহী মতপার্থক্য উম্মাহর আলেমদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলত না।
এই সংক্ষিপ্ত সফরটি আমাকে এই ব্যক্তির প্রতি অনুরাগী করে তুলেছে এবং আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, এই মহৎ ও সহনশীল ব্যক্তিত্বের নেপথ্যে এমন কিছু মহান আলেম ছিলেন, যাঁরা তাঁর ব্যক্তিত্বকে মার্জিত করেছিলেন এবং তাঁকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় একজন অগ্রগণ্য ইমাম হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। তিনি ইলমের এমন কোনো শাখা বাদ দেননি যেখানে তিনি কোনো রচনা রেখে যাননি—চাই তা এক বা কয়েক পৃষ্ঠার কোনো ছোট রিসালাহ হোক কিংবা বহু খণ্ডের বিশাল কোনো গ্রন্থ।
তাই আমি সেইসব আলেম ও মাশায়েখদের সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হলাম, যাঁদের নিকট ইমাম সুয়ূতী শিক্ষা ও দীক্ষা লাভ করেছিলেন। ফলে তাঁর সাথে আমার দ্বিতীয় সফরটি শুরু হলো, যা ছিল পূর্বের তুলনায় অনেক দীর্ঘ। আমি তাঁর সেই শিক্ষকদের সাথে এক আনন্দময় সফরে তাঁর সঙ্গী হলাম, যাঁদের নিকট থেকে তিনি বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শাস্ত্রের পাঠ গ্রহণ করেছিলেন। সেই সফরটি ছিল তাঁর সেই গ্রন্থের সাথে, যেখানে তিনি তাঁর এই মহান উস্তাদগণের জীবনী সংকলন করেছেন এবং যার নাম রেখেছেন ‘আল-মুনাজজাম ফিল মু'জাম’। আমি এই ‘মুনাজজাম’ বা খনিতে এমন অসংখ্য ধনভাণ্ডার ও মণি-মুক্তা প্রত্যক্ষ করেছি, যা তাঁদের মেধাবী ছাত্র সুয়ূতীর কণ্ঠদেশকে সুশোভিত করেছিল। তাঁদের সংখ্যা ছিল ১৯৫টি মনোমুগ্ধকর রত্ন...
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১০)
بين شيخ وشيخة، نهل منهم مختلف أنواع العلوم؛ من تفسير وحديث وأصول وفقه وأدب وشعر وغير ذلك.
وهذه الرحلة، التي عرفتني بشيوخ هذا الإمام، زادت شوقي ورغبتي في التعرف إلى الكتب والمؤلفات التي قرأها عليهم .. فكانت الرحلة الثالثة هذه، والتي صحبته فيها شهوراً، بل سنوات عدة، زادت من حبي وإعجابي بهذا الإمام، الذي حق له أن يكون عالماً موسوعياً. كيف لا! وقد قرأ على أشياخه أو روى عنهم قرابة الثلاثة آلاف من الكتب التي ذكرها في هذا الكتاب.
وما كان ينقضي عجبي من الوقت الذي قضاه السيوطي في قراءة هذه الكتب وروايتها، ثم ما كان ينقضي عجبي من الوقت الذي قضاه السيوطي في تأليف غيرها من الكتب، التي بلغت العشرات، بل المئات، ما بين رسالة صغيرة في وريقات، أو كتاب كبير في مجلدات عدة.
وكنت أود أن أصحبه في رحلة رابعة، مع مؤلفاته وكتبه التي ألفها، ولكن سبقني إلى صحبته في هذه الرحلة أساتذة أجلاء وعلماء فضلاء؛ منهم: أستاذنا الدكتور يحيى محمود بن جنيد، وأحمد الشرقاوي إقبال، وسمير الدروبي، والخازندار والشيباني، فكتبوا عن مؤلفاته، ذاكرين أماكن وجود نسخها الخطية، والمطبوع منها وغير المطبوع، وما تصح نسبته إليه مما هو منتحل عليه.
وكان لزاماً علي أن أقرأ ما دونه هؤلاء الجلة من العلماء في رحلاتهم مع مؤلفات الإمام السيوطي، حتى تكتمل الصورة، فأكون قد عرفت منهجه في التفكير، وعرفت شيوخه في هذا المنهج، وعرفت الكتب والمؤلفات التي قرأها على شيوخه لصقل هذا المنهج، ثم عرفت الكتب والمؤلفات التي كتبها تطبيقاً لهذا المنهج الذي رسمه لنفسه، وارتاه ديناً يدين الله به.
অসংখ্য পুরুষ ও নারী উস্তাদের নিকট থেকে তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রের জ্ঞান আহরণ করেছেন; যেমন—তাফসির, হাদিস, উসুল, ফিকহ, সাহিত্য, কাব্য এবং আরও অনেক কিছু।
এই সফর, যা আমাকে এই ইমামের উস্তাদদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, তা তাঁদের কাছে তাঁর পঠিত গ্রন্থ ও রচনাবলি সম্পর্কে জানার আকাঙ্ক্ষাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সুতরাং এটি ছিল তৃতীয় সফর, যাতে আমি কয়েক মাস নয় বরং দীর্ঘ কয়েক বছর তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম; যা এই ইমামের প্রতি আমার ভালোবাসা ও মুগ্ধতাকে আরও বৃদ্ধি করেছে, যিনি যথার্থভাবেই একজন বিশ্বকোষীয় পণ্ডিত হওয়ার দাবি রাখেন। কেনই বা হবে না! অথচ তিনি তাঁর উস্তাদদের নিকট পাঠ করেছেন অথবা তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন প্রায় তিন হাজার কিতাব, যা তিনি এই গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম সুয়ূতী এই কিতাবগুলো পাঠ ও বর্ণনায় যে সময় ব্যয় করেছেন, তা নিয়ে আমার বিস্ময়ের সীমা ছিল না; তদ্রূপ সুয়ূতী অন্যান্য কিতাব রচনায় যে সময় অতিবাহিত করেছেন তা নিয়েও আমার বিস্ময় কাটছিল না, যার সংখ্যা কয়েক ডজন নয় বরং কয়েকশতে পৌঁছেছে—তা কয়েক পৃষ্ঠার ছোট কোনো পুস্তিকা হোক অথবা কয়েক খণ্ডের বিশাল কোনো গ্রন্থ।
আমি তাঁর রচিত গ্রন্থ ও রচনাবলি নিয়ে চতুর্থ এক সফরে তাঁর সঙ্গী হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এই সফরে আমার আগেই তাঁর সঙ্গী হয়েছেন বেশ কয়েকজন মহান শিক্ষক ও বিদগ্ধ আলেম; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আমাদের উস্তাদ ডক্টর ইয়াহইয়া মাহমুদ বিন জুনাইদ, আহমদ আল-শারকাবি ইকবাল, সামির আদ-দারুবি, আল-খাজিনদার এবং আশ-শায়বানি। তাঁরা তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে লিখেছেন এবং সেগুলোর পাণ্ডুলিপি কোথায় সংরক্ষিত আছে, কোনটি মুদ্রিত ও কোনটি অমুদ্রিত, এবং কোনগুলো তাঁর প্রতি সহিহভাবে সম্পৃক্ত আর কোনগুলো তাঁর নামে জাল করা হয়েছে—তা সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন।
পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে ওঠার জন্য ইমাম সুয়ূতীর রচনাবলি নিয়ে এই মহান আলেমদের লিখিত বিবরণগুলো পড়া আমার জন্য আবশ্যক ছিল। এর মাধ্যমে আমি তাঁর চিন্তাধারার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পেরেছি, এই পদ্ধতিতে তাঁর উস্তাদদের চিনতে পেরেছি এবং এই পদ্ধতিকে শাণিত করার জন্য তিনি তাঁর উস্তাদদের নিকট যেসকল কিতাব ও রচনাবলি পাঠ করেছেন সে সম্পর্কে জেনেছি। পরিশেষে সেই পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটিয়ে তিনি যেসকল কিতাব ও গ্রন্থ রচনা করেছেন—যা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করেছিলেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন—সে সম্পর্কেও অবগত হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقبل الحديث تفصيلاً عن رحلتي الثالثة مع الإمام السيوطي، أرى أنه لا بد من التعريف به تعريفاً مختصراً؛ إذ إنه، رحمه الله، بلغ من الشهرة بين العامة من المسلمين، فضلاً عن أهل العلم منهم، مبلغاً عظيماً، فلا يكاد يجهله أحد من المسلمين.
ترجمة مؤلف هذا الكتابوقد استأذنت الإمام السيوطي أن يعرفنا بنفسه، وذكر شيء من سيرته العطرة، وحياته العلمية؛ من طلب للعلم، وتدريس وتأليف، فأحالني على ما ذكره من ترجمته في كتابه «حسن المحاضرة في أخبار مصر والقاهرة»؛ فقال:
[الاسم والأسرة]:عبد الرحمن بن الكمال أبي بكر بن محمد بن سابق الدين بن الفخر عثمان بن ناظر الدين محمد بن سيف الدين خضر بن نجم الدين أبي الصلاح أيوب بن ناصر الدين محمد بن الشيخ همام الدين الهمام الخضيري الأسيوطي.
وإنما ذكرت ترجمتي في هذا الكتاب اقتداء بالمحدثين قبلي، فقل أن ألف أحد منهم تاريخاً إلا وذكر ترجمته فيه؛ وممن وقع له ذلك: الإمام عبد الغافر الفارسي في «تاريخ نيسابور»، وياقوت الحموي في «معجم الأدباء»، ولسان الدين ابن الخطيب في «تاريخ غرناطة»، والحافظ تقي الدين الفارسي في تاريخ مكة، والحافظ أبو الفضل ابن حجر في «قضاة مصر»، وأبو شامة في «الروضتين»؛ وهو أورعهم وأزهدهم.
فأقول: أما جدي الأعلى همام الدين؛ فكان من أهل الحقيقة، ومن مشايخ الطريق، ومن دونه كانوا من أهل الوجاهة والرياسة؛ منهم: من ولي الحكم ببلده،
ইমাম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে আমার তৃতীয় সফর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে আমি মনে করি যে, তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা আবশ্যক। কারণ তিনি সাধারণ মুসলিম এবং আলেম সমাজ উভয়ের কাছেই এতোটা প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন যে, কোনো মুসলিমের পক্ষেই তাঁকে না চেনা প্রায় অসম্ভব।
এই গ্রন্থের লেখকের জীবনীআমি ইমাম সুয়ূতীকে আমাদের নিকট নিজের পরিচয় প্রদান এবং তাঁর সুগন্ধিময় জীবনী ও ইলমি জিন্দেগীর কিছু অংশ—যেমন ইলম অন্বেষণ, অধ্যাপনা ও গ্রন্থ রচনা—উল্লেখ করার জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে তাঁর 'হুসনুল মুহাদারা ফি আখবারি মিসরি ওয়াল কাহিরা' গ্রন্থে নিজের সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, সেদিকে ইঙ্গিত করলেন। তিনি বললেন:
[নাম ও বংশপরিচয়]:আব্দুর রহমান ইবনুল কামাল আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন সাবিকুদ্দীন বিন ফখর উসমান বিন নাজিরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন সাইফুদ্দীন খিজির বিন নাজমুদ্দীন আবু সালাহ আইয়ুব বিন নাসিরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন শায়খ হুমামুদ্দীন আল-হুমাম আল-খুদাইরি আল-আসয়ূতী।
আমি এই কিতাবে নিজের জীবনী উল্লেখ করেছি আমার পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসগণের অনুসরণ করে। তাঁদের মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া দুষ্কর যিনি কোনো ইতিহাসগ্রন্থ রচনা করেছেন অথচ তাতে নিজের জীবনী উল্লেখ করেননি। যাঁরা এটি করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: 'তারিখে নিশাপুর' গ্রন্থে ইমাম আব্দুল গাফির আল-ফারিসি, 'মু'জামুল উদাবা' গ্রন্থে ইয়াকুত আল-হামাউই, 'তারিখে গ্রানাডা' গ্রন্থে লিসানুদ্দীন ইবনুল খতিব, 'তারিখে মক্কা' গ্রন্থে হাফেজ তকিউদ্দীন আল-ফারিসি, 'কুযাতু মিসর' গ্রন্থে হাফেজ আবুল ফজল ইবনে হাজার এবং 'আর-রওযাতাইন' গ্রন্থে আবু শামা; আর তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে অধিক পরহেজগার ও জাহিদ (দুনিয়াবিমুখ)।
আমি বলছি: আমার ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ হুমামুদ্দীন ছিলেন হাকীকত অন্বেষী এবং আধ্যাত্মিক পথের (তরীকতের) মাশায়েখদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম ছিলেন সামাজিক মর্যাদা ও নেতৃত্বের অধিকারী; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ স্বীয় অঞ্চলে শাসনভারও পরিচালনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومنهم من ولي الحسبة بها، ومنهم من كان تاجراً في صحبة الأمير شيخون، وبنى مدرسة بأسيوط، ووقف عليها أوقافاً، ومنهم من كان متمولاً، ولا أعرف منهم من خدم العلم حق الخدمة إلا والدي.
[النسبة والمولد]:وأما نسبتنا بالخضيري؛ فلا أعلم ما تكون إليه هذه النسبة إلا بالخضيرية: محلة ببغداد؛ وقد حدثني من أثق به أنه سمع والدي، رحمه الله تعالى، يذكر أن جده الأعلى كان أعجميّاً أو من الشرق؛ فالظاهر أن النسبة إلى المحلة المذكورة.
وكان مولدي بعد المغرب ليلة الأحد مستهل رجب سنة تسع وأربعين وثمانمائة.
[طلب العلم]:وحُملت في حياة أبي إلى الشيخ محمد المجذوب؛ رجل كان من كبار الأولياء بجوار المشهد النفيسي، فبرك علي. ونشأت يتيماً، فحفظت القرآن ولي دون ثماني سنين، ثم حفظت «العمدة»، و «منهاج الفقه» و «الأصول»، و «ألفية» ابن مالك؛ وشرعت في الاشتغال بالعلم، من مستهل سنة أربع وستين، فأخذت الفقه والنحو عن جماعة من الشيوخ، وأخذت الفرائض عن العلامة فرضي زمانه: الشيخ شهاب الدين الشار مساحي؛ الذي كان يقال: إنه بلغ السن العالية وجاوز المائة بكثير، والله أعلم بذلك؛ قرأت عليه في شرحه على «المجموع»، وأجزت بتدريس العربية في مستهل سنة ست وستين.
وقد ألفت في هذه السنة، فكان أول شيء ألفته: الاستعاذة والبسملة، وأوقفت عليه شيخنا شيخ الإسلام علم الدين البلقيني، فكتب عليه تقريظاً، ولازمته في الفقه
তাদের মধ্যে কেউ সেখানে হিসবা (বাজার তদারকি) পদে নিযুক্ত ছিলেন, কেউ আমির শাইখুনের সাহচর্যে থেকে ব্যবসা করতেন এবং আসিউতে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেছিলেন ও তার জন্য ওয়াকফ সম্পত্তি নির্ধারণ করেছিলেন। আবার তাদের কেউ কেউ অত্যন্ত সম্পদশালী ছিলেন। কিন্তু আমি তাদের মধ্যে আমার পিতা ছাড়া এমন কাউকে চিনি না, যিনি ইলম বা জ্ঞানের প্রকৃত সেবা করেছেন।
[বংশ পরিচয় ও জন্ম]:আর 'খুদাইরী' হিসেবে আমাদের যে নিসবত বা পরিচয়, তা বাগদাদের 'খুদাইরিয়া' নামক একটি মহল্লা ছাড়া আর কিছুর সাথে সম্পৃক্ত বলে আমার জানা নেই। আমার বিশ্বাসযোগ্য একজন ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি আমার পিতাকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলতে শুনেছেন—তাঁর ঊর্ধ্বতন কোনো পূর্বপুরুষ অনারব বা প্রাচ্যের অধিবাসী ছিলেন। সুতরাং বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, এই নিসবতটি উক্ত মহল্লার দিকেই নির্দেশ করে।
আমার জন্ম হয়েছিল ৮৪৯ হিজরির পহেলা রজব রবিবার দিবাগত রাতে মাগরিবের পর।
[ইলম অর্জন]:আমার পিতার জীবদ্দশায় আমাকে শায়খ মুহাম্মদ আল-মাজযূবের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; তিনি মাশহাদে নাফিসীর নিকটবর্তী এলাকার বড় মাপের একজন ওলী ছিলেন, তিনি আমাকে বরকত প্রদান করেন। আমি এতিম হিসেবে বেড়ে উঠি এবং আট বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কুরআন মুখস্থ করি। এরপর আমি 'উমদাহ', 'মিনহাজুল ফিকহ', 'উসুল' এবং ইবনে মালিকের 'আলফিয়্যাহ' মুখস্থ করি। ৮৬৪ হিজরির শুরু থেকে আমি ইলম অর্জনে আত্মনিয়োগ করি। আমি একদল শায়খের নিকট ফিকহ ও নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করি এবং তৎকালীন সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফারায়েয বিশেষজ্ঞ আল্লামা শায়খ শিহাবুদ্দীন আশ-শারমাসাহীর নিকট মিরাস বা উত্তরাধিকার আইন শিখি; যার সম্পর্কে বলা হতো যে, তিনি অত্যন্ত দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং শতবর্ষ অতিক্রম করেছিলেন, তবে আল্লাহই এ বিষয়ে সম্যক অবগত। আমি তাঁর কাছে 'আল-মাজমূ' গ্রন্থের ওপর তাঁর লিখিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করি এবং ৮৬৬ হিজরির শুরুতে আমি আরবি ভাষা শিক্ষাদানের অনুমতি লাভ করি।
আমি এই বছরেই গ্রন্থ রচনা শুরু করি। আমার সর্বপ্রথম রচনা ছিল: 'আল-ইস্তিয়াযাহ ওয়াল বাসমালাহ'। আমি এটি আমাদের উস্তাদ শায়খুল ইসলাম আলমউদ্দীন আল-বুলকিনীর নিকট উপস্থাপন করি এবং তিনি এর ওপর একটি প্রশংসামূলক ভূমিকা লিখে দেন। এরপর আমি ফিকহ শাস্ত্রের জন্য তাঁর সান্নিধ্যে থাকতে শুরু করি।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إلى أن مات؛ فلازمت ولده، فقرأت عليه من أول «التدريب» لوالده إلى الوكالة، وسمعت عليه من أول «الحاوي الصغير» إلى العدد، ومن أول «المنهاج» إلى الزكاة، ومن أول «التنبيه» إلى قريب من باب الزكاة، وقطعةً من «الروضة» من باب القضاء، وقطعة من «تكملة شرح المنهاج» للزركشي؛ ومن إحياء الموات إلى الوصايا أو نحوها، وأجازني بالتدريس والإفتاء من سنة ست وسبعين، وحضر تصديري.
فلما توفي سنة ثمان وسبعين لزمت شيخ الإسلام شرف الدين المناوي. فقرأت عليه قطعة من «المنهاج»، وسمعته عليه في التقسيم إلا مجالس فاتتني، وسمعت دروساً من «شرح البهجة»، ومن حاشية عليها، ومن تفسير البيضاوي.
ولزمت في الحديث والعربية شيخنا الإمام العلامة تقي الدين الشمني الحنفي، فواظبته أربع سنين، وكتب لي تقريظاً على «شرح ألفية ابن مالك»، وعلى «جمع الجوامع في العربية تأليفي، وشهد لي غير مرة بالتقدم في العلوم بلسانه وبنانه، ورجع إلى قولي مجرداً في حديث؛ فإنه أورد في حاشيته على الشفاء» حديث أبي الحمرا في الإسراء، وعزاه إلى تخريج ابن ماجه، فاحتجت إلى إيراده بسنده، فكشفت ابن ماجه في مظنته، فلم أجده، فمررت على الكتاب كله، فلم أجده، فاتهمت نظري، فمررت مرة ثانية فلم أجده، فعدت ثالثة فلم أجده؛ ورأيته في معجم الصحابة لابن قانع، فجئت إلى الشيخ وأخبرته، فبمجرد ما سمع مني ذلك أخذ نسخته، وأخذ القلم، فضرب على لفظ ابن ماجه، وألحق ابن قانع في الحاشية؛ فأعظمت ذلك وهبته لعظم منزلة الشيخ في قلبي، واحتقاري في نفسي، فقلت: ألا تصبرون، لعلكم تراجعون! فقال: لا، إنما قلدت في قولي ابن ماجه البرهان الحلبي. ولم أنفك عن الشيخ إلى أن مات.
ولزمت شيخنا العلامة أستاذ الوجود محيي الدين الكافيجي أربع عشرة سنة؛
তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত; এরপর আমি তাঁর পুত্রের সান্নিধ্যে অবস্থান করি এবং তাঁর নিকট তাঁর পিতার রচিত ‘আত-তাদরিব’ গ্রন্থের শুরু থেকে ওকালা (প্রতিনিধিত্ব) অধ্যায় পর্যন্ত পাঠ করি। এছাড়া তাঁর কাছে ‘আল-হাভি আস-সগির’ গ্রন্থের শুরু থেকে আদদ (সংখ্যা) অধ্যায় পর্যন্ত, ‘আল-মিনহাজ’ গ্রন্থের শুরু থেকে জাকাত অধ্যায় পর্যন্ত, এবং ‘আত-তানবিহ’ গ্রন্থের শুরু থেকে জাকাত অধ্যায়ের নিকটবর্তী অংশ পর্যন্ত শ্রবণ করি। সেই সাথে ‘আর-রাওদাহ’ গ্রন্থের বিচারকার্য (কাজা) অধ্যায়ের একটি অংশ এবং যারকাশি রচিত ‘তাকমিলাতু শারহিল মিনহাজ’ গ্রন্থের একটি অংশ; অর্থাৎ ভূমি আবাদকরণ (ইহয়াউল মাওয়াত) থেকে অসিয়ত বা তদ্রূপ বিষয় পর্যন্ত শ্রবণ করি। তিনি আমাকে ছিয়াত্তর হিজরি সন থেকে শিক্ষাদান ও ফতোয়া প্রদানের অনুমতি প্রদান করেন এবং আমার প্রথম পাঠদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অতঃপর যখন তিনি আটাত্তর হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, তখন আমি শায়খুল ইসলাম শারাফুদ্দিন আল-মুনাভির সান্নিধ্য গ্রহণ করি। তাঁর নিকট আমি ‘আল-মিনহাজ’ গ্রন্থের একটি অংশ পাঠ করি এবং পাঠ বিভাজন অনুযায়ী তা তাঁর নিকট শ্রবণ করি, তবে কিছু মজলিস আমার বাদ পড়ে গিয়েছিল। এছাড়া আমি ‘শারহুল বাহজাহ’ ও তার টীকা এবং ‘তাফসিরে বায়জাবি’র কিছু দরস শ্রবণ করি।
হাদিস ও আরবি ভাষায় আমি আমাদের শায়খ ইমাম আল্লামা তাকিউদ্দিন আশ-শামানি আল-হানাফির সান্নিধ্যে ছিলাম। আমি চার বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে তাঁর অনুগামী ছিলাম। তিনি আমার রচিত ‘শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক’ এবং আরবি ব্যাকরণ বিষয়ক আমার সংকলিত গ্রন্থ ‘জামউল জাওয়ামি’-এর ওপর প্রশংসাসূচক অভিমত লিখে দেন। তিনি তাঁর জবান ও লেখনীর মাধ্যমে বিভিন্ন বিদ্যায় আমার অগ্রগামিতার কথা একাধিকবার সাক্ষ্য দিয়েছেন। এমনকি একটি হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি কেবল আমার কথার ওপর ভিত্তি করে তাঁর পূর্বের অবস্থান পরিবর্তন করেন; ঘটনাটি হলো, তিনি ‘আশ-শিফা’র টিকায় মিরাজ সম্পর্কিত আবু হামরার একটি হাদিস উল্লেখ করেন এবং তা ইবনে মাজার সংকলন বলে নিসবত করেন। আমার কাছে হাদিসটি তার সনদসহ উপস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে, তাই আমি ইবনে মাজার কিতাবে তা পাওয়ার সম্ভাব্য স্থানে খুঁজি কিন্তু পাইনি। এরপর আমি পুরো কিতাবটি দেখেও তা পেলাম না। তখন আমি আমার নিজের দেখার ওপর সন্দেহ পোষণ করলাম এবং দ্বিতীয়বার খুঁজলাম, কিন্তু পেলাম না। তৃতীয়বারও খুঁজে যখন পেলাম না, তখন আমি হাদিসটি ইবনে কানি’র ‘মু’জামুস সাহাবা’ গ্রন্থে দেখতে পাই। আমি শায়খের কাছে এসে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি আমার কাছ থেকে এ কথা শোবামাত্রই নিজের পাণ্ডুলিপি ও কলম হাতে নিলেন এবং ‘ইবনে মাজা’ শব্দটি কেটে দিয়ে পার্শ্বটীকায় ‘ইবনে কানি’ যুক্ত করে দিলেন। আমার অন্তরে শায়খের সুউচ্চ মর্যাদা এবং নিজের প্রতি তুচ্ছতাবোধের কারণে তাঁর এমন দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ দেখে আমি অভিভূত হলাম এবং বিনয়ের সাথে বললাম: ‘আপনি কি কিছুটা সময় নেবেন না? সম্ভবত আপনি বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে দেখতে পারেন!’ তিনি বললেন: ‘না, আমি তো ইবনে মাজার কথা বলার ক্ষেত্রে বুরহান আল-হালাবিকে অন্ধভাবে অনুসরণ করেছিলাম।’ তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমি এই শায়খের সান্নিধ্য ত্যাগ করিনি।
আর আমি আমাদের শায়খ আল্লামা ওস্তাদুল উজুদ মহিউদ্দিন আল-কাফিয়াজির সান্নিধ্যে চৌদ্দ বছর অতিবাহিত করি;
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فأخذتُ عنه الفنونَ من التفسير والأصول والعربية والمعاني وغيرِ ذلكَ؛ وكتبَ لي إجازةً عظيمة.
وحضرتُ عند الشيخِ سيفِ الدين الحنفي دروساً عديدةً في «الكشاف» و «التوضيح» وحاشيتهِ عليه، و «تلخيص المفتاح»، و «العَضُد».
وشرعتُ في التصنيفِ في سنةِ ستٍ وستينَ، وبلغت مؤلفاتي إلى الآن ثلاثمائةِ كتابٍ سوى ما غسلتُهُ ورجعتُ عنه.
[الرحلات]:وسافرتُ، بحمدِ اللهِ تعالى، إلى بلادِ الشامِ والحجازِ واليمنِ والهندِ والمغربِ والتكرور، ولما حججتُ شربتُ من ماءِ زمزمَ لأمورٍ؛ منها: أن أصلَ في الفقهِ إلى رتبةِ الشيخِ سراج الدين البلقيني، وفي الحديثِ إلى رتبةِ الحافظِ ابنِ حجر.
[سِعَةُ العِلْمِ]:وأفتيتُ من مستهلِّ سنةِ إحدى وسبعينَ، وعقدتُ إملاء الحديثِ من مستهلِّ سنةِ اثنتين وسبعين.
ورُزِقتُ التبحرَ في سبعةِ علومٍ: التفسير، والحديث، والفقه، والنحو، والمعاني، والبيان، والبديع؛ على طريقةِ العربِ والبلغاء، لا على طريقةِ العجمِ وأهل الفلسفة.
والذي أعتقدهُ: أن الذي وصلتُ إليه من هذهِ العلومِ السبعةِ، سوى الفقهِ والنقول التي اطلعتُ عليها فيها، لم يصل إليه ولا وقف عليه أحدٌ من أشياخي؛ فضلاً عمَّن هو دونهم. وأما الفقهُ فلا أقولُ ذلك فيهِ؛ بل شيخي فيهِ أوسعُ نظراً،
আমি তাঁর নিকট তাফসির, উসুল, আরবি ভাষা, মা'আনি এবং অন্যান্য শাস্ত্র অধ্যায়ন করেছি; এবং তিনি আমার জন্য একটি মহান ইজাজত (অনুমতিপত্র) লিখে দিয়েছিলেন।
আর আমি শাইখ সাইফউদ্দিন আল-হানাফির নিকট 'আল-কাশশাফ', 'আত-তাওদিহ' ও তার ওপর তাঁর টিকা (হাশিয়া), 'তালখিসুল মিফতাহ' এবং 'আল-আদুদ' এর বহু পাঠে উপস্থিত হয়েছি।
আমি ৬৬ (৮৬৬) হিজরি সালে গ্রন্থ রচনায় প্রবৃত্ত হই এবং আমার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা বর্তমানে তিনশতে পৌঁছেছে, সেসব ব্যতীত যা আমি বিলুপ্ত করেছি এবং যা থেকে আমি প্রত্যাবর্তন করেছি।
[ভ্রমণসমূহ]:আল্লাহ তাআলার প্রশংসায় আমি সিরিয়া, হিজাজ, ইয়েমেন, ভারত, মাগরিব এবং তাকরুর দেশসমূহে ভ্রমণ করেছি। যখন আমি হজ সম্পাদন করি, তখন কয়েকটি বিষয়ের উদ্দেশ্যে জমজমের পানি পান করি; তার মধ্যে রয়েছে: ফিকহ শাস্ত্রে যেন আমি শাইখ সিরাজউদ্দিন আল-বুলকিনির স্তরে এবং হাদিস শাস্ত্রে হাফিজ ইবনে হাজরের স্তরে পৌঁছাতে পারি।
[জ্ঞানের ব্যাপকতা]:আমি ৭১ (৮৭১) হিজরি সালের শুরু থেকে ফতোয়া প্রদান শুরু করেছি এবং ৭২ (৮৭২) হিজরি সালের শুরু থেকে হাদিস শ্রুতিলিখনের মজলিস পরিচালনা করেছি।
আমি সাতটি শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য লাভ করেছি: তাফসির, হাদিস, ফিকহ, নাহু, মা'আনি, বায়ান এবং বাদি'; যা আরব ও বাগ্মীদের পদ্ধতিতে, অনারব এবং দার্শনিকদের পদ্ধতিতে নয়।
আমি যা বিশ্বাস করি তা হলো: ফিকহ এবং আমি যেসকল উদ্ধৃতি প্রত্যক্ষ করেছি সেগুলো ছাড়া এই সাতটি শাস্ত্রে আমি যে পর্যায়ে উপনীত হয়েছি, সেখানে আমার উস্তাদদের কেউ পৌঁছাতে পারেননি এবং তা অবগত হননি; আর যারা তাদের নিম্নস্তরের তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য। তবে ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে আমি তা বলছি না; বরং এক্ষেত্রে আমার উস্তাদ অধিক ব্যাপক দৃষ্টির অধিকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأطول باعاً؛ ودون هذه السبعة في المعرفة: أصول الفقه والجدل والتصريف، ودونها: الإنشاء والترسل والفرائض، ودونها: القراءات، ولم آخذها عن شيخ، ودونها: الطب، وأما علم الحساب فهو أعسر شيء علي وأبعده عن ذهني؛ وإذا نظرت في مسألة تتعلق به فكأنما أحاول جبلاً أحمله.
وقد كملت عندي الآن آلات الاجتهاد بحمد الله تعالى؛ أقول ذلك تحدثاً بنعمة الله تعالى لا فخراً؛ وأي شيء في الدنيا حتى يطلب تحصيلها بالفخر، وقد أزف الرحيل، وبدا الشيب، وذهب أطيب العمر! ولو شئتُ أن أكتب في كل مسألة مصنفاً بأقوالها وأدلتها النقلية والقياسية، ومداركها ونقوضها وأجوبتها، والموازنة بين اختلاف المذاهب فيها، لقدرت على ذلك، من فضل الله، لا بحولي ولا بقوتي، فلا حول ولا قوة إلا بالله، ما شاء الله، لا قوة إلا بالله.
وقد كنتُ في مبادئ الطلب قرأتُ شيئاً في علم المنطق، ثم ألقى الله كراهته في قلبي. وسمعتُ أن ابن الصلاح أفتى بتحريمه فتركته لذلك، فعوضني الله تعالى عنه علم الحديث، الذي هو أشرف العلوم.
[الشيوخ]:وأما مشايخي في الرواية سماعاً وإجازة فكثير؛ أوردتهم في المعجم الذي جمعتهم فيه، وعدتهم نحو مائة وخمسين
(1)؛ ولم أكثر من سماع الرواية لاشتغالي بما هو أهم، وهو قراءة الدراية.
--------------------------------------------
এবং অধিক পারদর্শী; জ্ঞানের ক্ষেত্রে এই সাতটির নিচে রয়েছে: উসুলুল ফিকহ (ফিকহের মূলনীতি), বিতর্কবিদ্যা এবং শব্দরূপান্তর (তাসরিফ)। তার নিচে: রচনাশৈলী, পত্রলিখন এবং ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন)। তার নিচে: কিরাত (কুরআন পাঠরীতি), যা আমি কোনো শাইখের নিকট থেকে গ্রহণ করিনি। তার নিচে: চিকিৎসাশাস্ত্র। আর গণিতশাস্ত্রের কথা বলতে গেলে, এটি আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন এবং আমার মেধা থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী বিষয়; যখনই আমি এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের দিকে তাকাই, মনে হয় যেন আমি একটি পাহাড় বহন করার চেষ্টা করছি।
মহান আল্লাহর প্রশংসায় এখন আমার নিকট ইজতিহাদের সরঞ্জামসমূহ পূর্ণতা পেয়েছে; আমি এটি মহান আল্লাহর নিআমতের শুকরিয়া স্বরূপ বলছি, অহংকার বশত নয়; দুনিয়াতে এমন কী আছে যা অর্জনের জন্য অহংকার করা সাজে, যখন বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে, বার্ধক্যের শুভ্রতা প্রকাশ পেয়েছে এবং জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় গত হয়ে গেছে! আমি যদি প্রতিটি মাসআলায় তার বিভিন্ন মতামত, নক্বলী (কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক) ও কিয়াসী (যৌক্তিক) দলীলসমূহ, সেগুলোর উৎস, খণ্ডন ও উত্তর এবং মাযহাবসমূহের মতভেদের তুলনামূলক আলোচনার সমন্বয়ে এক একটি গ্রন্থ রচনা করতে চাইতাম, তবে আল্লাহর অনুগ্রহে আমি তা করতে সক্ষম হতাম। এটি আমার কোনো শক্তি বা ক্ষমতায় নয়, বরং আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই। আল্লাহ যা চেয়েছেন তাই হয়েছে, আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
আমি জ্ঞানার্জনের প্রাথমিক অবস্থায় যুক্তিবিদ্যা বা মানতিক শাস্ত্র কিছুটা পড়েছিলাম, এরপর আল্লাহ আমার অন্তরে এর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দেন। আমি শুনেছিলাম যে, ইবনুস সালাহ এটি হারাম হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন, তাই আমি এটি পরিত্যাগ করি। ফলে মহান আল্লাহ আমাকে এর বিনিময়ে ইলমুল হাদীস দান করেছেন, যা ইলমসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ।
[শাইখগণ]:শ্রুত এবং ইজাজতপ্রাপ্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে আমার শাইখগণ সংখ্যায় অনেক; আমি তাদের নাম সেই 'মুজাম'-এ উল্লেখ করেছি যেখানে আমি তাদের একত্রিত করেছি। তাদের সংখ্যা প্রায় একশত পঞ্চাশ জন
(১); তবে আমি বর্ণনার শ্রবণে অধিক সময় দেইনি, কারণ আমি তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অর্থাৎ 'কিরাআতুত দিরায়া' (গবেষণামূলক পাঠ)-তে মশগুল ছিলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
[المؤلفات]:وهذه أسماء مصنفاتي لتستفاد:
• فن التفسير وتعلقاته والقراءات: الإتقان في علوم القرآن، الدر المنثور في التفسير المأثور، ترجمان القرآن في التفسير، المسند، أسرار التنزيل: يسمى «قطف الأزهار في كشف الأسرار»، لباب النقول في أسباب النزول، مفحمات الأقران في مبهمات القرآن، المهذب فيما وقع في القرآن من المعرَّب، الإكليل في استنباط التنزيل، تكملة تفسير الشيخ جلال الدين المحلي، التحبير في علوم التفسير، حاشية على تفسير البيضاوي، تناسق الدرر في تناسب السور، مراصد المطالع في تناسب المقاطع والمطالع، مجمع البحرين ومطلع البدرين في التفسير، مفاتيح الغيب في التفسير، الأزهار الفائحة على الفاتحة، شرح الاستعاذة والبسملة، الكلام على أول الفتح، وهو تصدير ألقيته لما باشرت التدريس بجامع شيخون بحضرة شيخنا البلقيني، شرح الشاطبية، الألفية في القراءات العشر، خمائل الزهر في فضائل السور، فتح الجليل للعبد الذليل في الأنواع البديعية المستخرجة من قوله تعالى: {اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا} الآية، وعدتها مائة وعشرون نوعاً، القول الفصيح في تعيين الذبيح، اليد البسطى في الصلاة الوسطى، معترك الأقران في مشترك القرآن.
• فن الحديث وتعلقاته: كشف المغطى في شرح الموطا، إسعاف المبطا برجال الموطا، التوشيح على الجامع الصحيح، الديباج على صحيح مسلم بن الحجاج، مرقاة الصعود إلى سنن أبي داود، شرح ابن ماجه، تدريب الراوي في شرح تقريب النووي، شرح ألفية العراقي، الألفية، وتسمى «نظم الدرر في علم الأثر»، وشرحها يسمى «قطر الدرر»، التهذيب في الزوائد على التقريب، عين الإصابة في معرفة الصحابة، كشف التلبيس عن قلب أهل التدليس، توضيح المدرك في
[রচনাবলী]:উপকার গ্রহণের সুবিধার্থে আমার রচিত গ্রন্থাবলির নামসমূহ এখানে উল্লেখ করা হলো:
• তাফসির শাস্ত্র, এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং কিরাআতসমূহ: আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন, আদ-দুররুল মানসুর ফিত-তাফসিরিল মাসুর, তরজুমানুল কুরআন ফিত-তাফসির, আল-মুসনাদ, আসরারুত তানজিল: যার নাম ‘কাতফুল আজহার ফি কাশফিল আসরার’, লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুজুল, মুফহামাতুল আকরান ফি মুবহামাতিল কুরআন, আল-মুহাযযাব ফিমা ওয়াকাআ ফিল কুরআন মিনাল মুআররাব, আল-ইকলীল ফি ইসতিনবাতিত তানজিল, শায়খ জালালুদ্দিন আল-মাহাল্লির তাফসিরের পরিশিষ্ট, আত-তাহবীর ফি উলূমিত তাফসির, তাফসিরে বায়দাবীর ওপর হাশিয়া (টীকা), তানাসুকুদ্ দুরার ফি তানাসুবিস সুওয়ার, মারাসিদুল মাতালি ফি তানাসুবিল মাকাত্বি ওয়াল মাতালি, মাজমাউল বাহরাইন ওয়া মাতলাউল বাদরাইন ফিত তাফসির, মাফাতিহুল গায়িব ফিত তাফসির, আল-আজহারুল ফাইহাহ আলাল ফাতিহা, শারহুল ইস্তিআযা ওয়াল বাসমালাহ, আল-কালামু আলা আউয়ালিল ফাতহ—এটি একটি উদ্বোধনী বক্তব্য যা আমি আমাদের শায়খ আল-বুলকিনির উপস্থিতিতে শায়খুনি জামে মসজিদে অধ্যাপনা শুরু করার সময় প্রদান করেছিলাম, শারহুশ শাতিবিয়্যাহ, দশ কিরাআতের ওপর আল-আলফিয়্যাহ, খামাইলুয যাহর ফি ফাদাইলিস সুওয়ার, ফাতহুল জলীল লিল আবদিয জলীল—আল্লাহ তাআলার বাণী: "আল্লাহ ঈমানদারদের অভিভাবক" আয়াতটি থেকে উদ্ভাবিত একশ বিশ প্রকারের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিষয়ের বর্ণনা, আল-কাওলুল ফাসিহ ফি তাইয়িনিল যাবিহ, আল-ইয়াদুল বাসত্বা ফিস সালাতিল উসত্বা, মুতরাকুল আকরান ফি মুশতারাকিল কুরআন।
• হাদিস শাস্ত্র ও এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি: কাশফুল মুগাত্ত্বা ফি শারহিল মুয়াত্ত্বা, ইসআফুল মুবাত্ত্বা বিরিজালি আল-মুয়াত্ত্বা, আত-তাওশীহ আলাল জামিউস সহীহ, আদ-দীবায আলা সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ, মিরকাতুস সুউদ ইলা সুনানি আবি দাউদ, শারহু ইবনি মাজাহ, তদীবুর রাবি ফি শারহি তাকরিবিন নাওয়াবি, শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি, আল-আলফিয়্যাহ—যার নাম ‘নাযমুদ দুরার ফি ইলমিল আসার’ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম ‘কাতরুদ্ দুরার’, আত-তাহযিব ফিত যাওয়াইদ আলাত তাকরিব, আইনুল ইসাবাহ ফি মা'রিফাতিস সাহাবাহ, কাশফুত তালবীস আন কালবি আহলিত তাদলীস, তাওদীহুল মুদরিক ফি...
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تصحيح المستدرك، اللآلي المصنوعة في الأحاديث الموضوعة، النكت البديعات على الموضوعات، الذيل على القول المسدد، القول الحسن في الذب عن السنن، لب اللباب في تحرير الأنساب، تقريب الغريب، المدرج إلى المدرج، تذكرة المؤتسي بمن حدث ونسي، تحفة النابه بتلخيص المتشابه، الروض المكلل والورد المعلَّل في المصطلح، منتهى الآمال في شرح حديث «إنما الأعمال»، المعجزات والخصائص النبوية، شرح الصدور بشرح حال الموتى والقبور، والبدور السافرة عن أمور الآخرة، ما رواه الواعون في أخبار الطاعون، فضل موت الأولاد، خصائص يوم الجمعة، منهاج السنة، ومفتاح الجنة، تمهيد الفرش في الخصال الموجبة لظل العرش، بزوغ الهلال في الخصال الموجبة للظلال، مفتاح الجنة في الاعتصام بالسنة، مطلع البدرين فيمن يُؤتى أجرين، سهام الإصابة في الدعوات المجابة، الكلم الطيب، القول المختار في المأثور من الدعوات والأذكار، أذكار الأذكار، الطب النبوي، كشف الصلصلة عن وصف الزلزلة، الفوائد الكامنة في إيمان السيدة آمنة، ويُسمى أيضاً التعظيم والمنة في أن أبوي النبي صلى الله عليه وسلم في الجنة، المسلسلات الكبرى، جياد المسلسلات، أبواب السعادة في أسباب الشهادة، أخبار الملائكة، الثغور الباسمة في مناقب السيدة آمنة، مناهج الصفا في تخريج أحاديث الشفا، الأساس في مناقب بني العباس، در السحابة فيمن دخل مصر من الصحابة، زوائد شعب الإيمان للبيهقي، لم الأطراف وضم الأتراف، إطراف الأشراف بالإشراف على الأطراف، جامع المسانيد، الفوائد المتكاثرة في الأخبار المتواترة، الأزهار المتناثرة في الأخبار المتواترة، تخريج أحاديث الدرة الفاخرة، تخريج أحاديث الكفاية - يسمى «تجربة العناية» - الحصر والإشاعة لأشراط الساعة، الدرر المنتشرة في الأحاديث المشتهرة، زوائد الرجال على تهذيب الكمال، الدر المنظم في الاسم المعظم، جزء في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، من عاش من الصحابة مائة وعشرين، جزء
আল-মুস্তাদরাকের সংশোধন, জাল হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে কৃত্রিম মুক্তোমালা, জাল হাদিসসমূহের ওপর চমৎকার টীকা, আল-কাউলুল মুসাদ্দাদের পরিশিষ্ট, সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় উত্তম বক্তব্য, বংশধারা নির্ধারণে সারসংক্ষেপ, দুষ্প্রাপ্য বিষয়ের সহজবোধ্যকরণ, মুদরাজ হাদিসের সোপান, হাদিস বর্ণনা করে যারা ভুলে গেছেন তাদের স্মারক, সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের সংক্ষেপে সজাগ ব্যক্তির উপহার, পরিভাষা শাস্ত্রে মুকুটিত উদ্যান ও সুগন্ধি গোলাপ, ‘নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’ হাদিসের ব্যাখ্যায় চরম আকাঙ্ক্ষা, নববী মুজিজা ও অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ, মৃত ব্যক্তি ও কবরের অবস্থা বর্ণনার মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তি, পরকালীন বিষয়ের উন্মোচিত পূর্ণিমা, প্লেগ রোগের খবরে সচেতনদের বর্ণনা, সন্তানদের অকালমৃত্যুর ফযিলত, জুমার দিনের বৈশিষ্ট্যসমূহ, সুন্নাহর পথ ও জান্নাতের চাবিকাঠি, আরশের ছায়া লাভের কারণসমূহের বর্ণনা, ছায়া লাভের কারণসমূহের নতুন চাঁদের উদয়, সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে জান্নাতের চাবিকাঠি, যাদের দ্বিগুণ প্রতিদান দেওয়া হবে তাদের ব্যাপারে জোড়া পূর্ণিমার উদয়স্থল, কবুলকৃত দোয়ার অব্যর্থ তীরসমূহ, পবিত্র বাণীসমূহ, বর্ণিত দোয়া ও জিকিরসমূহের মধ্যে মনোনীত বক্তব্য, জিকিরসমূহের নির্যাস, নববী চিকিৎসা, ভূমিকম্পের বর্ণনায় রহস্য উন্মোচন, সায়্যিদা আমিনার ঈমানের ব্যাপারে নিহিত উপকারিতা—যার অপর নাম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতামাতা জান্নাতি হওয়ার ব্যাপারে সম্মান ও অনুগ্রহ—বৃহত্তর মুসালসাল হাদিসসমূহ, উৎকৃষ্ট মুসালসাল হাদিসসমূহ, শাহাদাতের কারণসমূহের মাধ্যমে সৌভাগ্যের দ্বারসমূহ, ফেরেশতাদের সংবাদসমূহ, সায়্যিদা আমিনার মর্যাদায় হাস্যোজ্জ্বল সীমান্ত, আশ-শিফা গ্রন্থের হাদিস যাচাইয়ের স্বচ্ছ পথ, আব্বাসীয় বংশের মর্যাদার ভিত্তি, মিশরে প্রবেশকারী সাহাবীদের বর্ণনায় মেঘের মুক্তো, বায়হাকির ‘শুয়াবুল ইমান’-এর অতিরিক্ত বর্ণনা, হাদিসের সূত্রাবলি সংগ্রহ ও সংকলন, হাদিসের সূত্রের ওপর দৃষ্টিদানের মাধ্যমে অভিজাতদের আনন্দ, মুসনাদ সংকলন, মুতাওয়াতির বর্ণনাসমূহের প্রচুর উপকারিতা, মুতাওয়াতির বর্ণনাসমূহের বিকীর্ণ পুষ্পরাজি, ‘আদ-দুররাতুল ফাখিরা’ গ্রন্থের হাদিস যাচাই, ‘আল-কিফায়া’ গ্রন্থের হাদিস যাচাই—যার নাম ‘তাজরিবাতুল ইনায়াহ’—কিয়ামতের আলামতসমূহের সংকলন ও প্রচার, প্রচলিত হাদিসসমূহের ছড়িয়ে থাকা মুক্তোমালা, ‘তাহযিবুল কামাল’-এর রাবীদের ওপর অতিরিক্ত সংযোজন, মহান নামের সুশৃঙ্খল মুক্তো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ সংক্রান্ত একটি খণ্ড, যেসব সাহাবী একশো বিশ বছর বেঁচে ছিলেন তাদের আলোচনা সংক্রান্ত একটি খণ্ড।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
في أسماء المدلسين، اللمع في أسماء من وضع، الأربعون المتباينة، درر البحار في الأحاديث القصار، الرياضة الأنيقة في شرح أسماء خير الخليقة، المرقاة العلية في شرح الأسماء النبوية، الآية الكبرى في شرح قصة الإسرا، أربعون حديثاً من رواية مالك عن نافع عن ابن عمر، فهرست المرويات
(1)، بغية الرائد في الذيل على مجمع الزوائد، أزهار الآكام في أخبار الأحكام، الهبة السنية في الهيئة السنية، تخريج أحاديث شرح العقائد، فضل الجلد، الكلام على حديث ابن عباس: «احفظ الله يحفظك»، هو تصدير ألقيته لما وليت درس الحديث بالشيخونية، أربعون حديثاً في فضل الجهاد، أربعون حديثاً في رفع اليدين في الدعاء، التعريف بآداب التأليف، العشاريات، القول الأشبه في حديث: «من عرف نفسه فقد عرف ربه»، كشف النقاب عن الألقاب، نشر العبير في تخريج أحاديث الشرح الكبير، من وافقت كنيته كنية زوجه من الصحابة، ذم زيارة الأمراء، زوائد نوادر الأصول للحكيم الترمذي، تخريج أحاديث الصحاح - يسمى «فلق الصباح» - ذم المكس، آداب الملوك.
فن الفقه وتعلقاته: الأزهار الغَضَّة في حواشي الروضة، الحواشي الصغرى، مختصر الروضة: يسمى «القنية»، مختصر التنبيه: يسمى «الوافي»، شرح التنبيه، الأشباه والنظائر، اللوامع والبوارق في الجوامع والفوارق، نظم الروضة: يسمى «الخلاصة»، شرحه يسمى: «رفع الخصاصة»، الورقات المقدمة، شرح الروض، حاشية على القطعة للإسنوي، العذب السلسل في تصحيح الخلاف المرسل، جمع الجوامع، الينبوع فيما زاد على الروضة من الفروع، مختصر الخادم: يسمى «تحصين الخادم»، تشنيف الأسماع بمسائل الإجماع، شرح التدريب، الكافي، زوائد المهذب على الوافي، الجامع في الفرائض، شرح الرحبية في الفرائض، مختصر الأحكام السلطانية للماوردي.
--------------------------------------------
মুদাল্লিসীনদের নামের বর্ণনায়, জাল হাদীস রটনাকারীদের নামের বর্ণনায় ঔজ্জ্বল্য, আল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাহ (ভিন্নধর্মী চল্লিশ হাদীস), সংক্ষিপ্ত হাদীসসমূহে সাগরের মুক্তা, সৃষ্টির সেরা সত্তার নামসমূহের ব্যাখ্যায় মার্জিত অনুশীলন, নববী নামসমূহের ব্যাখ্যায় সুউচ্চ সোপান, ইসরার ঘটনার ব্যাখ্যায় মহা নিদর্শন, নাফে’র সূত্রে ইবনে উমর থেকে ইমাম মালিকের বর্ণিত চল্লিশ হাদীস, বর্ণিত রিওয়ায়াতসমূহের তালিকা
(১), মাজমাউয যাওয়াইদ-এর পরিশিষ্টে অনুসন্ধিৎসুর লক্ষ্য, আহকামের সংবাদের উঁচু ভূমির পুষ্পরাজি, সুউচ্চ অবয়বে মহান উপহার, শারহুল আকাইদের হাদীসসমূহের তাখরীজ, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার ফযীলত, ইবনে আব্বাসের হাদীস: ‘তুমি আল্লাহকে হিফাযত করো, তিনি তোমাকে হিফাযত করবেন’-এর ওপর আলোচনা—এটি একটি উপক্রমনিকা যা আমি শায়খুনিয়ায় হাদীস পাঠদানের দায়িত্বভার গ্রহণের সময় পেশ করেছিলাম, জিহাদের ফযীলতে চল্লিশ হাদীস, দুআয় হাত তোলার বিষয়ে চল্লিশ হাদীস, গ্রন্থ রচনার আদব বিষয়ক পরিচিতি, আল-উশারিয়্যাত, ‘যে নিজেকে চিনেছে সে তার রবকে চিনেছে’—এই হাদীসটির ব্যাপারে অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ বক্তব্য, উপাধিসমূহ থেকে পর্দা উন্মোচন, শারহুল কাবীরের হাদীসসমূহের তাখরীজে সুগন্ধি ছড়ানো, সাহাবীদের মধ্যে যাদের উপনাম তাদের স্ত্রীর উপনামের সাথে মিলেছে, শাসকদের নিকট গমনের নিন্দা, হাকীম তিরমিযীর নাওয়াদিরুল উসূলে অতিরিক্ত সংযোজন, সহীহ হাদীসসমূহের তাখরীজ—যার নাম ‘ফালাকুস সাবাহ’, অবৈধ কর আদায়ের নিন্দা, রাজন্যবর্গের আদব।
ফিকহ শাস্ত্র ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ: আর-রাওদাহর টীকায় সজীব পুষ্পরাজি, আল-হাওয়াশিস সুগরা (ছোট টীকা), আর-রাওদাহর সংক্ষিপ্তসার: যার নাম ‘আল-কুনইয়াহ’, আত-তানবীহ-এর সংক্ষিপ্তসার: যার নাম ‘আল-ওয়াফী’, আত-তানবীহ-এর শারহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর, আল-জাওয়ামি’ ও আল-ফাওয়াধিক-এর আলোকচ্ছটা ও দ্যুতি, আর-রাওদাহর কাব্যরূপ: যার নাম ‘আল-খুলাসাহ’, তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম ‘রাফউল খাসাসাহ’, আল-ওয়ারাকাতুল মুকাদ্দামাহ, শারহুর রাওদ, ইসনাভী রচিত অংশের ওপর টীকা, বিচ্ছিন্ন মতপার্থক্য নিরসনে সুমিষ্ট ঝর্ণাধারা, জামউল জাওয়ামি’, আর-রাওদাহর অতিরিক্ত মাসআলাসমূহের উৎসধারা, আল-খাদিম-এর সংক্ষিপ্তসার: যার নাম ‘তাহসীনুল খাদিম’, ইজমার মাসআলাসমূহের মাধ্যমে কর্ণের অলংকরণ, শারহুত তাদরীীব, আল-কাফী, আল-ওয়াফী-এর ওপর আল-মুহাযযাব-এর অতিরিক্ত মাসআলাসমূহ, ফারায়েয বা উত্তরাধিকার শাস্ত্রের সংকলন, ফারায়েয শাস্ত্রে আর-রাহবিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, মাওয়ার্দী রচিত আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহর সংক্ষিপ্তসার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
• الأجزاء المفردة في مسائل مخصوصة على ترتيب الأبواب: الظفر بقلم الظفر، الاقتناص في مسألة النماص، المستطرفة في أحكام دخول الحشفة، السلالة في تحقيق المقر والاستحالة، الروض الأريض في طهر المحيض، بذل العسجد لسؤال المسجد، الجواب الحزم عن حديث التكبير جزم، القذاذة في تحقيق محل الاستعاذة، ميزان المعدلة في شأن البسملة، جزء في صلاة الضحى، المصابيح في صلاة التراويح، بسط الكف في إتمام الصف، اللمعة في تحقيق الركعة لإدراك الجمعة، وصول الأماني بأصول التهاني، بلغة المحتاج في مناسك الحاج، السلاف في التفصيل بين الصلاة والطواف، شد الأثواب في سد الأبواب في المسجد النبوي، قطع المجادلة عند تغيير المعاملة، إزالة الوهن عن مسألة الرهن، بذل الهمة في طلب براءة الذمة، الإنصاف في تمييز الأوقاف، أنموذج اللبيب في خصائص الحبيب، الزهر الباسم فيما يزوج فيه الحاكم، القول المضي في الحنث في المضي، القول المشرق في تحريم الاشتغال بالمنطق، فصل الكلام في ذم الكلام، جزيل المواهب في اختلاف المذاهب، تقرير الإسناد في تيسير الاجتهاد، رفع منار الدين وهدم بناء المفسدين، تنزيه الأنبياء عن تسفيه الأغبياء، ذم القضاء، فضل الكلام في حكم السلام، نتيجة الفكر في الجهر بالذكر، طي اللسان عن ذم الطيلسان، تنوير الحلك في إمكان رؤية النبي والملك، أدب الفتيا، إلقام الحجر لمن زكى ساب أبي بكر وعمر، الجواب الحاتم عن السؤال الخاتم، الحجج المبينة في التفضيل بين مكة والمدينة، فتح المغالق من أنتِ طالق، فصل الخطاب في قتل الكلاب، سيف النظار في الفرق بين الثبوت والتكرار.
• فن العربية وتعلقاته: شرح ألفية ابن مالك: يسمى «البهجة المرضية في شرح الألفية»، الفريدة في النحو والتصريف والخط، النكت على الألفية والكافية والشافية
• নির্দিষ্ট বিষয়াবলীতে পরিচ্ছেদ অনুযায়ী বিন্যস্ত একক পুস্তিকাগুলো: বিজয়ের কলমে সাফল্য অর্জন, ভ্রু প্লাক করার মাসআলায় শিকার, লিঙ্গমুণ্ড প্রবেশের বিধানে চমৎকার সংকলন, স্থিতি ও রূপান্তর পর্যালোচনায় নির্যাস, ঋতুস্রাব পরবর্তী পবিত্রতা বিষয়ে সুগন্ধি বাগান, মসজিদের প্রশ্নের জন্য স্বর্ণদান, তাকবীরে জজম (সংক্ষিপ্ত করা) সম্পর্কিত হাদিসের বিষয়ে দৃঢ় উত্তর, আউযুবিল্লাহ পাঠের স্থান নির্ণয়ে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, বিসমিল্লাহর বিষয়ে ইনসাফের তুলাদণ্ড, চাশতের সালাত বিষয়ে একটি পুস্তিকা, তারাবিহর সালাত বিষয়ে আলোকবর্তিকা, কাতার পূর্ণ করার বিষয়ে হাতের তালু প্রশস্তকরণ, জুমুআ পাওয়ার জন্য রাকাত অর্জনের পর্যালোচনায় এক ঝলক আভা, অভিনন্দনের মূলনীতির মাধ্যমে আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছানো, হজের আহকামে অভাবীদের সম্বল, সালাত ও তাওয়াফের পার্থক্যের বিবরণে উত্তম সুধা, মসজিদে নববীর দরজাগুলো বন্ধ করার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি গ্রহণ, লেনদেন পরিবর্তনের সময় তর্কের অবসান, বন্ধক সংক্রান্ত মাসআলায় দুর্বলতা দূরীকরণ, দায়মুক্তি অনুসন্ধানে প্রচেষ্টা ব্যয়, ওয়াকফসমূহ পৃথকীকরণে ইনসাফ, প্রিয়নবীর (সা.) বৈশিষ্ট্যাবলীতে বুদ্ধিমানের আদর্শ, শাসক যে ক্ষেত্রে বিয়ে করান সে বিষয়ে হাস্যোজ্জ্বল ফুল, অতীত বিষয়ে শপথ ভঙ্গের ব্যাপারে উজ্জ্বল বক্তব্য, মানতিক বা যুক্তিবিদ্যা চর্চা হারাম হওয়ার বিষয়ে উদ্ভাসিত বাণী, ইলমুল কালামের নিন্দায় চূড়ান্ত কথা, মাযহাবগত মতপার্থক্য বিষয়ে প্রচুর উপহার, ইজতিহাদ সহজীকরণে সনদের বর্ণনা, দ্বীনের আলোকস্তম্ভ সমুন্নত করা এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ইমারত ধ্বংস করা, নির্বোধদের মূর্খতা থেকে নবীদের পবিত্রতা বর্ণনা, বিচারকার্যের নিন্দা, সালামের বিধান বিষয়ে আলোচনার শ্রেষ্ঠত্ব, উচ্চস্বরে জিকিরের বিষয়ে চিন্তার ফলাফল, চাদরের নিন্দায় জিহ্বা সংবরণ, নবী ও ফেরেশতাকে দেখার সম্ভাব্যতা বিষয়ে অন্ধকারের আলোকায়ন, ফতোয়া প্রদানের শিষ্টাচার, আবু বকর ও উমরের (রা.) গালমন্দকারীকে যে ব্যক্তি পবিত্র মনে করে তার মুখে পাথর নিক্ষেপ, শেষ প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর, মক্কা ও মদিনার শ্রেষ্ঠত্বের তুলনামূলক পর্যালোচনায় সুস্পষ্ট প্রমাণাদি, "তুমি তালাকপ্রাপ্তা" বাক্যটি থেকে উদ্ভূত জটিলতার সমাধান, কুকুর হত্যার বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা, সাব্যস্ত হওয়া ও পুনরাবৃত্তির পার্থক্যে পর্যবেক্ষকদের তলোয়ার।
• আরবি ভাষা ও এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি: ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যা: যার নাম «আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যায় সন্তোষজনক আনন্দ», ব্যাকরণ, রূপান্তর ও হস্তলিপি বিষয়ে অনন্যা পুস্তিকা, আলফিয়্যাহ, কাফিয়াহ ও শাফিয়াহর উপর টীকা।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২০)
والشذور والنزهة الفتح القريب على مغني اللبيب، شرح شواهد المغني، جمع الجوامع، شرحه يسمى «همع الهوامع» شرح الملحة، مختصر الملحة، مختصر الألفية ودقائقها، الأخبار المروية في سبب وضع العربية، المصاعد العلية في القواعد النحوية، الاقتراح في أصول النحو وجدله، رفع السِّنة في نصب الزنة، الشمعة المضيئة، شرح كافية ابن مالك، در التاج في إعراب مشكل المنهاج، مسألة ضربي زيداً قائماً، السلسلة الموشحة، الشهد شذا العرف في إثبات المعنى للحرف، التوشيح على التوضيح، السيف الصقيل في حواشي ابن عقيل، حاشية على شرح الشذور، شرح القصيدة الكافية في التصريف، قطر الندا في ورود الهمزة للندا، شرح تصريف العزي، شرح ضروري التصريف لابن مالك، تعريف الأعجم بحروف المعجم، نكت على شرح الشواهد للعيني، فجر الثمد في إعراب أكمل الحمد، الزند الوري في الجواب عن السؤال الكندري.
• فن الأصول والبيان والتصوف: شرح لمعة الإشراق في الاشتقاق، الكوكب الساطع في نظم جمع الجوامع، شرحه شرح الكوكب الوقاد في الاعتقاد، نكت على التلخيص: يسمى «الإفصاح»، عقود الجمان في المعاني والبيان، شرحه، شرح أبيات تلخيص المفتاح، مختصره، نكت على حاشية المطول لابن الفنري رحمه الله تعالى، حاشية على المختصر، البديعية، شرحها، تأييد الحقيقة العلية وتشييد الطريقة الشاذلية، تشييد الأركان في ليس في الإمكان أبدع مما كان، درج المعالي في نصرة الغزالي على المنكر المتغالي، الخبر الدال على وجود القطب والأوتاد والنجباء والأبدال، مختصر الإحياء، المعاني الدقيقة في إدراك الحقيقة، النقاية في أربعة عشر علماً، شرحها، شوارد الفوائد، قلائد الفرائد، نظم التذكرة: ويسمى «الفلك المشحون»، الجمع والتفريق في الأنواع البديعية.
শুজুর এবং নুযহাহ, মুগনি আল-লাবীব-এর ওপর আল-ফাতহুল কারীব, মুগনি-র কাব্য-নিদর্শনের ব্যাখ্যা, জামউল জাওয়ামি, এর ব্যাখ্যা যার নাম ‘হামউল হাওয়ামি’, আল-মিলহাহ-র ব্যাখ্যা, আল-মিলহাহ-র সংক্ষিপ্তসার, আলফিয়্যাহ এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়াবলির সংক্ষিপ্তসার, আরবি ভাষা প্রবর্তনের কারণ সম্পর্কে বর্ণিত সংবাদসমূহ, ব্যাকরণিক নিয়মাবলির সুউচ্চ সোপানসমূহ, নাহু শাস্ত্রের মূলনীতি ও বিতর্ক সম্পর্কিত আল-ইকতিরাহ, যিনাহ-র নাসব-এর ক্ষেত্রে সুন্নাহর উত্তোলন, উজ্জ্বল প্রদীপ, ইবনে মালিকের কাফিয়া-র ব্যাখ্যা, মিনহাজের জটিল অংশের ইরাব বর্ণনায় রাজমুকুটের মুক্তা, ‘দারবি যাইদান কায়িমান’ মাসআলাটি, অলংকৃত শৃঙ্খল, হরফের অর্থ প্রমাণের ক্ষেত্রে শাযাল উরফের মধু, আত-তাওযীহ-এর ওপর আত-তাউশীহ, ইবনে আকিলের টীকাসমূহে শাণিত তলোয়ার, শুজুর-এর ব্যাখ্যার ওপর টীকা, ইলমে তাসরিফ (শব্দ রূপান্তর)-এর ক্ষেত্রে কাফিয়া কাসিদার ব্যাখ্যা, সম্বোধনের ক্ষেত্রে হামযার আগমনের ব্যাপারে কাত্রুন নাদা, তাসরিফে ইজ্জি-র ব্যাখ্যা, ইবনে মালিকের যরুরি তাসরিফ-এর ব্যাখ্যা, বর্ণমালার মাধ্যমে অনারবদের পরিচয় করানো, আইনি-র শারহুশ শাওয়াহিদ-এর ওপর সূক্ষ্ম টীকা, আকমালুল হামদ-এর ইরাব বর্ণনায় ফজরুস সামাদ, কান্দারি প্রশ্নের উত্তরে প্রদীপ্ত কাষ্ঠখণ্ড।
• উসুল (মূলনীতি), বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) এবং তাসাউফ শাস্ত্র: ইশতিকাক (শব্দতত্ত্ব)-এর ক্ষেত্রে লুমাতুল ইশরাক-এর ব্যাখ্যা, জামউল জাওয়ামি-র কাব্যরূপ আল-কাওকাবুস সাতি, এর ব্যাখ্যা আকিদা শাস্ত্রের আল-কাওকাবুল ওয়াক্কাদ, আত-তালখিস-এর ওপর সূক্ষ্ম টীকা: যার নাম ‘আল-ইফসাহ’, মাআনি ও বায়ান শাস্ত্রে উকুদুল জুমান, এর ব্যাখ্যা, তালখিসুল মিফতাহ-এর কাব্যগুলোর ব্যাখ্যা, এর সংক্ষিপ্তসার, ইবনে ফনারি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর হাশিয়ায়ে মুতাউওয়াল-এর ওপর টীকা, আল-মুখতাসার-এর ওপর টীকা, আল-বাদিয়্যাহ, এর ব্যাখ্যা, উচ্চতর সত্যের সমর্থন এবং শাযলি তরীকার সুদৃঢ়করণ, ‘অস্তিত্বশীল জগতের চেয়ে সুন্দরতর কিছু সম্ভব নয়’—এ নীতির স্তম্ভসমূহ সুদৃঢ়করণ, চরমপন্থী অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে ইমাম গাজালির সমর্থনে মর্যাদার সোপান, কুতুব, আওতাদ, নুজাবা এবং আবদালগণের অস্তিত্বের প্রমাণবাহী সংবাদ, এহইয়া (উলূমিদ দীন)-এর সংক্ষিপ্তসার, সত্য উপলব্ধিতে সূক্ষ্ম অর্থসমূহ, চৌদ্দটি শাস্ত্রের সারসংক্ষেপ আন-নিকায়াহ, এর ব্যাখ্যা, শওয়ারিদুল ফাওয়াইদ (বিক্ষিপ্ত উপকারিতা), কালাইদুল ফারিদ (অমূল্য মুক্তামালা), তাযকিরাহ-র কাব্যরূপ: যার নাম ‘আল-ফুলকুল মাশহুন’, বাদি অলংকারের প্রকারভেদে আল-জামউ ওয়াত তাফরিক।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২১)
فن التاريخ والأدب: تاريخ الصحابة، وقد مر ذكره، طبقات الحفاظ، طبقات النحاة: الكبرى والوسطى والصغرى طبقات شعراء العرب، تاريخ الخلفاء، تاريخ مصر هذا، تاريخ سيوط، معجم شيوخي الكبير: يسمى «حاطب ليل وجارف سيل»، المعجم الصغير: يسمى «المنتقى»؛ ترجمة النووي، ترجمة البلقينيين، الملتقط من الدرر الكامنة، تاريخ العمر؛ وهو ذيل على «إنباء الغمر»، رفع الباس عن بني العباس، النفحة المسكية والتحفة المكية، على نمط «عنوان الشرف»، درر الكلم وغرر الحكم، ديوان خطب ديوان شعر، المقامات الرحلة الفيومية، الرحلة المكية، الرحلة الدمياطية، الرسائل إلى معرفة الأوائل، مختصر معجم البلدان، ياقوت الشماريخ في علم التاريخ، الجمانة، رسالة في تفسير ألفاظ متداولة، مقاطع الحجاز، نور الحديقة من نظم القول المجمل في الرد على المهمل، المنى في الكنى، فضل الشتاء، مختصر «تهذيب الأسماء للنووي»، الأجوبة الزكية عن الألغاز السبكية، رفع شأن الحبشان، أحاسن الأقباس في محاسن الاقتباس، تحفة المذاكر في المنتقى من تاريخ ابن عساكر، شرح بانت سعاد، تحفة الظرفاء بأسماء الخلفاء، قصيدة رائية، مختصر شفاء الغليل في ذم الصاحب والخليل.
وفاته: قلت: وبعد حياة حافلة من العطاء العلمي في شتى أنواع العلوم، توفي الإمام السيوطي، رحمه الله، سنة إحدى عشرة وتسعمائة.
الرحلة مع الكتاب:ونعود للحديث عن رحلتي الثالثة مع الإمام السيوطي، وهي هذه الرحلة التي صحبته فيها مع المؤلفات والكتب التي قرأها على شيوخه رحمهم الله.
وكان دليلي في هذه الرحلة، أخي وصديقي الدكتور عبد الله بن حمد
ইতিহাস ও সাহিত্য শিল্প: সাহাবীদের ইতিহাস, যার কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে; হাফেজগণের স্তরসমূহ; নাহুবিদদের স্তরসমূহ: বড়, মাঝারি ও ছোট; আরব কবিদের স্তরসমূহ; খলিফাদের ইতিহাস; মিসরের এই ইতিহাস; আস-সুয়ূতের ইতিহাস; আমার শায়খদের বৃহৎ অভিধান: যার নাম ‘রাতের কাঠুরিয়া ও প্লাবনের স্রোত’; ক্ষুদ্র অভিধান: যার নাম ‘নির্বাচিত সংগ্রহ’; ইমাম নববীর জীবনী; বুলকিনিগণের জীবনী; ‘আদ-দুরার আল-কামিনাহ’ থেকে চয়নকৃত অংশ; সময়ের ইতিহাস: যা ‘ইনবাউল গামর’ গ্রন্থের পরিশিষ্ট; বনু আব্বাস থেকে কষ্ট দূরীকরণ; ‘উনওয়ানুশ শারাফ’-এর ধাঁচে মেশক আমেজী সুবাস ও মক্কী উপহার; বাণীর মুক্তা ও প্রজ্ঞার জ্যোতি; খুতবা সংকলন; কাব্য সংকলন; মাকামাত; ফাইয়ুম সফরনামা; মক্কাহ সফরনামা; দামিয়েত্তা সফরনামা; আদি বিষয়সমূহ জানার তরে পত্রাবলি; দেশ-বিদেশের অভিধানের সংক্ষিপ্তসার; ইতিহাস বিজ্ঞানে গুচ্ছাকারে ইয়াকুত পাথর; মুক্তাদানা; প্রচলিত শব্দাবলির ব্যাখ্যা সংক্রান্ত পুস্তিকা; হিজাজের বিভিন্ন পরিচ্ছেদ; অবহেলার জবাবে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের কাব্যরূপ থেকে উদ্যানের আলো; উপনামের আকাঙ্ক্ষা; শীতকালের শ্রেষ্ঠত্ব; ইমাম নববীর ‘তাহজিবুল আসমা’র সংক্ষিপ্তসার; সুবকির ধাঁধাসমূহের পবিত্র উত্তর; আবিসিনীয়দের মর্যাদা বৃদ্ধি; উদ্ধৃতি গ্রহণের সৌন্দর্যে আলোকশিখা; ইবনে আসাকিরের ইতিহাস থেকে চয়নকৃত বর্ণনায় স্মারক উপহার; ‘বানাত সুয়াদ’ কাব্যের ব্যাখ্যা; খলিফাদের নামসহ বুদ্ধিমানদের জন্য উপহার; ‘রা’ অন্ত্যমিলের দীর্ঘ কবিতা; বন্ধু ও সখার নিন্দায় ‘শিফাউল গালীল’-এর সংক্ষিপ্তসার।
তাঁর মৃত্যু: আমি বলি: বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞানে জ্ঞানগর্ভ অবদানের এক সমৃদ্ধ জীবনের পর, ইমাম সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) নয়শত এগারো হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
বইটির সাথে যাত্রা:আমরা ইমাম সুয়ূতীর সাথে আমার তৃতীয় যাত্রার আলোচনার দিকে ফিরে আসি, আর এটিই সেই যাত্রা যেখানে আমি তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি ও সেই সব বইপত্রের সাথে তাঁর সহযাত্রী হয়েছি যা তিনি তাঁর শায়খদের (রাহিমাহুমুল্লাহ) নিকট পাঠ করেছিলেন।
এই যাত্রায় আমার পথপ্রদর্শক ছিলেন আমার ভাই ও বন্ধু ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন হামাদ।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২২)
المنصور، الذي دَلَّنِي مشكوراً على هذا السَّفَرِ النفيس، لما علم من عنايتي بكتب التراث عامَّةً، وكتب الإمام السيوطي خاصة. وأعلمني أن ابتداء الرحلة سيكون من تركيا، وتحديداً من مكتبة كوتاهية؛ حيث تحتفظ بنسخة فريدة من مخطوطة الكتاب تحت رقم (1340). وعمل أخي عبد الله، جزاه الله كل الخير، على تأمين نسخة مصورة من هذا الكتاب لتبدأ مرحلة أخرى وطويلة من الرحلة مع الإمام السيوطي.
توثيق صحة نسبة الكتاب للمؤلف:وقبل الشروع في هذه الرحلة الطويلة، كان لا بد من التوثُّق من صحة نسبة الكتاب إلى الإمام السيوطي. وبعد البحث والاستقصاء وجدت أنّ مِمَّا لا شك فيه صحة نسبة هذا السَّفَرِ إلى صاحبه الجليل الإمام السيوطي؛ حيث ذكره هو نفسه في أكثر من كتاب من مؤلفاته.
فقد ذكره في:
• حسن المحاضرة، بعنوان «فهرست المرويات».
• وكذلك في التحدث بنعمة الله.
• وفهرست مؤلفاته
(1).
• وزاد المسير في الفهرس الصغير (ص 77)، حيث قال: هذا جزء لطيف لخصته من فهرستي الكبير
(2).
--------------------------------------------
আল-মনসুর, যিনি সাধারণভাবে ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাবলি এবং বিশেষ করে ইমাম সুয়ূতীর গ্রন্থাবলির প্রতি আমার আগ্রহের কথা জেনে আমাকে কৃতজ্ঞচিত্তে এই মূল্যবান গ্রন্থের সন্ধান দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন যে, এই সফরের সূচনা হবে তুরস্ক থেকে, সুনির্দিষ্টভাবে কুতাহিয়া গ্রন্থাগার থেকে; যেখানে (১৩৪০) নম্বর অধীনে এই বইটির পাণ্ডুলিপির একটি অনন্য অনুলিপি সংরক্ষিত আছে। আমার ভাই আবদুল্লাহ—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—এই বইটির একটি আলোকচিত্র অনুলিপি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করেছেন, যাতে ইমাম সুয়ূতীর সাথে সফরের আরেকটি দীর্ঘ পর্যায় শুরু করা যায়।
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের সত্যতা প্রমাণ:এই দীর্ঘ সফর শুরু করার আগে, ইমাম সুয়ূতীর প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ বা নিসবতের সত্যতা নিশ্চিত করা আবশ্যক ছিল। অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর আমি দেখতে পেয়েছি যে, এই মহান গ্রন্থটি এর মহান লেখক ইমাম সুয়ূতীর হওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত; কারণ তিনি নিজেই তাঁর একাধিক গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন।
তিনি এটি উল্লেখ করেছেন:
• হুসনুল মুহাদারা-তে, ‘ফিহরিসতুল মারওয়িয়্যাত’ শিরোনামে।
• এবং একইভাবে আত-তাহাদ্দুছ বি-নি'মাতিল্লাহ গ্রন্থে।
• এবং তাঁর গ্রন্থতালিকায়
(১)।
• এবং যাদুল মাসীর ফিল ফিহরিসিস সাগীর (পৃষ্ঠা ৭৭) গ্রন্থে, যেখানে তিনি বলেছেন: এটি একটি সংক্ষিপ্ত অংশ যা আমি আমার বড় ফিহরিসত থেকে সংক্ষেপ করেছি
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كما ذكره السيوطي في الكتاب نفسه (ص 91) عند ذكره إسناده في صحيح مسلم، فقال: قال ابن الصلاح: (فلا ندري حملها عنه إجازة أو وجادة). ثم قال السيوطي: وهي مبينة في الفهرست الكبير.
قلت: وهذا القول بنصه ذكره المؤلف في إسناد صحيح مسلم الذي رواه في كتابنا هذا برقم (16).
• وذكره المؤلف أيضاً في كتابه في ترجمته لنفسه، والتي أوردناها آنفاً من كتاب حسن المحاضرة، وسماه «فهرست المرويات».
وهناك نصوص وأقوال أخرى ذكرها الإمام السيوطي في غير ما كتاب من كتبه، تتفق تماماً مع ما في هذا الكتاب. فعندما ذكر تصانيف الحافظ ابن حجر العسقلاني ص 379؛ قال: «أنبأني عنه غير واحد. ولي منه إجازة عامة، ولا أستبعد أن يكون لي منه إجازة خاصة؛ فإن والدي، رحمه الله، كان يغشى مجالسه؛ لأنه كان ينوب عنه في الحكم، وكنت كثيراً ما أحضر مع والدي مجالس الأكابر، فلا أستبعد أن يكون صحبني معه في شيء من مجالسه».
ونحن نجد هذا النص في كتابه «التحدث بنعمة الله»
(1) (ص 45)، كما نجده في كتاب طبقات الحفاظ (ص 580).
كما أن كثيراً من أسانيد هذا الكتاب قد وردت بنصها في كتب أخرى للإمام السيوطي؛ مثل: بغية الوعاة في طبقات النحاة، وزاد المسير في الفهرس الصغير، وغيرهما. وكثير من الأسانيد أيضاً رواها عن السيوطي من أتى بعده ممن ألف في المعاجم والمشيخات، كالرُّوداني في صلة الخلف بموصول السلف.
--------------------------------------------
যেমনটি সুয়ূতী এই কিতাবেই (পৃ. ৯১) সহীহ মুসলিমের প্রতি তাঁর সনদের উল্লেখ করার সময় বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: ইবনুল সালাহ বলেছেন: (আমরা জানি না তিনি এটি তাঁর নিকট থেকে ইজাযাহ নাকি ওয়াজাদাহ সূত্রে গ্রহণ করেছেন)। অতঃপর সুয়ূতী বলেছেন: আর এটি 'আল-ফিহরিস্ট আল-কাবীর'-এ বর্ণিত হয়েছে।
আমি বলছি: এই বক্তব্যটি হুবহু লেখক সহীহ মুসলিমের সনদে উল্লেখ করেছেন, যা তিনি আমাদের এই কিতাবে ১৬ নম্বর ক্রমিকে বর্ণনা করেছেন।
• লেখক এটি তাঁর নিজের জীবনচরিতেও উল্লেখ করেছেন, যা আমরা ইতিপূর্বে 'হুসনুল মুহাদারা' কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছি এবং তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘ফিহরিস্টুল মারওয়িয়্যাত’।
ইমাম সুয়ূতী তাঁর অন্যান্য কিতাবে আরও কিছু উদ্ধৃতি ও বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যা এই কিতাবের বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীর সংকলনসমূহ উল্লেখ করার সময় (পৃ. ৩৭৯) তিনি বলেছেন: "একাধিক ব্যক্তি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে সংবাদ দিয়েছেন। তাঁর নিকট থেকে আমার একটি সাধারণ 'ইজাযাহ' রয়েছে, এবং আমি এটি অসম্ভব মনে করি না যে আমার নিকট তাঁর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ইজাযাহও থাকতে পারে; কারণ আমার পিতা (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) তাঁর মজলিসগুলোতে যাতায়াত করতেন; কেননা তিনি বিচারকার্যে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন। আর আমি প্রায়শই আমার পিতার সাথে বড় বড় ব্যক্তিদের মজলিসে উপস্থিত থাকতাম, তাই তিনি আমাকে তাঁর কোনো মজলিসে নিয়ে গিয়েছিলেন—এমনটি হওয়া আমি অসম্ভব মনে করি না।"
আমরা এই বক্তব্যটি তাঁর 'আত-তাহাদ্দুসু বি-নি’মাতিল্লাহ' কিতাবে
(১) (পৃ. ৪৫) পাই, ঠিক যেমনটি আমরা 'তাবাকাতুল হুফফাজ' (পৃ. ৫৮০) কিতাবেও পেয়ে থাকি।
এছাড়া এই কিতাবের অনেক সনদ ইমাম সুয়ূতীর অন্যান্য কিতাবে হুবহু বর্ণিত হয়েছে; যেমন: 'বুগইয়াতুল উয়াত ফী তাবাকাতিন নুহাত', 'যাদুল মাসীর ফিল ফিহরিসিস সাগীর' এবং অন্যান্য। অনেক সনদ পরবর্তী লেখকদের মাধ্যমেও সুয়ূতী থেকে বর্ণিত হয়েছে যারা অভিধান (মু'জাম) এবং মাশয়াখাত বিষয়ক কিতাব রচনা করেছেন, যেমন 'সিলাতুল খালাফ বি-মাওসুলিস সালাফ' কিতাবে রূদানী বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ودليل آخر واضح دامغ، يثبت صحة نسبة الكتاب إلى الإمام السيوطي: هو أن الشيوخ الذين يروي عنهم في هذا الكتاب هم نفسهم الذين ترجم لهم في معجم شيوخه الموسوم «المنجم في المعجم»، وقد ذكر في تراجمهم كثيراً من الكتب التي قرأها عليهم أو رواها عنهم، مما هو مذكور في هذا الكتاب.
ومن أتى بعد السيوطي، من تلامذته وغيرهم ممن ترجم له، أو عُني بذكر مؤلفاته، أثبت له هذ الكتاب؛ من أمثال:
• الداودي في ترجمة السيوطي (ق 25). مخطوط، نسخة برلين.
• عبد القادر الشاذلي في كتاب «بهجة العابدين بترجمة حافظ العصر جلال الدين السيوطي» ص 196.
• حاجي خليفة في كشف الظنون 1/ 182.
• والبغدادي في هدية العارفين 1/ 536.
• والكتاني في فهرس الفهارس 2/ 931.
• وفيلهلم الورت (Wilhelm Ahlwardt) في فهرس المخطوطات العربية في مكتبة برلين 1/17.
• وأحمد الشرقاوي إقبال في مكتبة الجلال السيوطي ص 93.
• وأحمد الخازندار وإبراهيم الشيباني في كتابيهما دليل مخطوطات السيوطي وأماكن وجودها، (ص 262) في الطبعة الأولى، و (ص 141) في الطبعة الثانية.
والكتابان الأخيران اعتمدا على ما جاء في كشف الظنون وهدية العارفين وعقود الجوهر للعظم.
ইমাম সুয়ূতীর প্রতি এই কিতাবটির সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা প্রমাণকারী আরেকটি স্পষ্ট ও অকাট্য দলিল হলো এই যে, এই কিতাবে তিনি যেসব শায়েখদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সেই একই ব্যক্তি যাঁদের জীবনী তিনি তাঁর শায়েখদের অভিধান ‘আল-মুঞ্জাম ফিল মু’জাম’-এ বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁদের জীবনীতে এমন অনেক কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন যা তিনি তাঁদের নিকট পাঠ করেছেন অথবা তাঁদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, যা এই কিতাবে উল্লিখিত হয়েছে।
ইমাম সুয়ূতীর পরবর্তীকালে তাঁর যে সকল ছাত্র ও অন্যান্যরা তাঁর জীবনী লিখেছেন অথবা তাঁর গ্রন্থাবলি উল্লেখ করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন, তাঁরা এই কিতাবটিকে তাঁর রচনা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; যেমন:
• আদ-দাউদী, সুয়ূতীর জীবনীতে (পত্র ২৫)। পাণ্ডুলিপি, বার্লিন সংস্করণ।
• আব্দুল কাদির আশ-শাজিলী, ‘বাহজাতুল আবিদীন বি-তরজামাতি হাফিযিল আসর জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী’ কিতাবে, পৃষ্ঠা ১৯৬।
• হাজ্বী খলিফা, ‘কাশফুয যুনুন’ কিতাবে ১/১৮2।
• এবং আল-বাগদাদী, ‘হাদিয়াতুল আরিফীন’ কিতাবে ১/৫৩৬।
• এবং আল-কাত্তানী, ‘ফিহরিসুল ফাহারিস’ কিতাবে ২/৯৩১।
• এবং উইলহেম অ্যালওয়ার্ড (Wilhelm Ahlwardt), বার্লিন লাইব্রেরির আরবি পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগে ১/১৭।
• এবং আহমদ আশ-শারকাওয়ী ইকবাল, ‘মাকতাবাতুল জালাল আস-সুয়ূতী’ কিতাবে পৃষ্ঠা ৯৩।
• এবং আহমদ আল-খাযিনদার ও ইবরাহিম আশ-শাইবানী তাঁদের ‘দালিলু মাখতুতাতুস সুয়ূতী ওয়া আমাকিনু উজূদিহা’ কিতাবে, প্রথম সংস্করণে (পৃষ্ঠা ২৬২) এবং দ্বিতীয় সংস্করণে (পৃষ্ঠা ১৪১)।
শেষোক্ত কিতাব দুটি ‘কাশফুয যুনুন’, ‘হাদিয়াতুল আরিফীন’ এবং আল-আযম রচিত ‘উকূদুল জাওহার’-এ যা এসেছে তার ওপর নির্ভর করেছে।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عنوان الكتاب:وبعد التوثق من صحة نسبة الكتاب إلى الإمام السيوطي، كان لا بد من التوثق من صحة عنوان هذا الكتاب؛ فقد اتفق كل من سبق على ذكر الكتاب ونسبته إلى الإمام السيوطي، ولكنهم لم يتفقوا على عنوان واحد له، يوافق ما جاء في المخطوطة الوحيدة والفريدة التي اعتُمدت في التحقيق، وهو (أنشاب الكُثُب في أنساب الكتب).
وقد جاء العنوان عندهم كما يأتي:
في ترجمة السيوطي للداودي «أنشاب الكُثُب في أسماء الكتب».
ومثله في «بهجة العابدين» للشاذلي.
ومثله كذلك في الطبعة الثانية من دليل مخطوطات السيوطي وأماكن وجودها، وفي الطبعة الأولى كُتبت كلمة (انشاب) من غير ضبط لهمزة الألف.
في كشف الظنون: «إنشاب الكُثُب في أنساب الكتب»، بكسر الهمزة في (إنشاب)، وباقي العنوان كما في المخطوطة.
وفي هدية العارفين: «أنشاب الكتب في أنساب الكتب». فذكر «الكتب» في الموضعين.
ومثله في مكتبة الجلال السيوطي.
وفي فهرس الفهارس: «نشاب الكتب في أنساب الكتب»، فأسقط الألف من (أنشاب)، وجعل (الكتب) في الموضعين، كما فعل البغدادي في هدية العارفين.
বইয়ের শিরোনাম:ইমাম সুয়ূতী (রহ.)-এর প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার পর, এই গ্রন্থের শিরোনামের সঠিকতা নিশ্চিত করা আবশ্যক ছিল; পূর্ববর্তী যারা গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম সুয়ূতী (রহ.)-এর প্রতি এর সম্বন্ধ করেছেন তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন, কিন্তু তারা এর এমন কোনো একক শিরোনামের ব্যাপারে একমত হতে পারেননি যা এই তাহকীকে (সম্পাদনায়) ব্যবহূত একমাত্র এবং অনন্য পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; আর সেই শিরোনামটি হলো (আনশাবুল কুথুব ফী আনসাবিল কুতুব)।
তাদের নিকট শিরোনামটি নিম্নোক্তভাবে এসেছে:
আদ-দাঊদী কর্তৃক রচিত সুয়ূতীর জীবনীতে এসেছে: 'আনশাবুল কুথুব ফী আসমাইল কুতুব'।
আশ-শাযিলী রচিত 'বাহজাতুল আবিদীন'-এও অনুরূপ উল্লেখ রয়েছে।
একইভাবে 'দালীলু মাখতুতাতিস সুয়ূতী ওয়া আমাকিনি উজুতিহা'-এর দ্বিতীয় সংস্করণেও অনুরূপ এসেছে, আর প্রথম সংস্করণে 'আনশাব' শব্দটি আলিফের হামযাহর হরকত বা স্বরচিহ্ন ছাড়াই লেখা হয়েছিল।
'কাশফুয যুনূন'-এ বর্ণিত হয়েছে: 'ইনশাবুল কুথুব ফী আনসাবিল কুতুব', যেখানে 'ইনশাব' শব্দের হামযাহর নিচে কাসরাহ (যের) প্রদান করা হয়েছে এবং শিরোনামের অবশিষ্ট অংশ পাণ্ডুলিপির অনুরূপ।
'হাদিয়্যাতুল আরিফীন'-এ এসেছে: 'আনশাবুল কুতুব ফী আনসাবিল কুতুব'। এতে উভয় স্থানে 'কুতুব' শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে।
'মাকতাবাতুল জালাল আস-সুয়ূতী'-তেও অনুরূপ রয়েছে।
'ফিহরিসুল ফাহারিস'-এ এসেছে: 'নাশবুল কুতুব ফী আনসাবিল কুতুব', যেখানে 'আনশাব' শব্দ থেকে আলিফ বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং উভয় স্থানে 'কুতুব' শব্দ রাখা হয়েছে, যেমনটি আল-বাগদাদী 'হাদিয়্যাতুল আরিফীন'-এ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وعند ألْوَرت في فهرس مخطوطات برلين «انشاب الكُتَب في أنساب الكُتُب». فاتفق مع ما في المخطوطة في الكلمة الأولى من العنوان (انشاب)، لكنه لم يضبط الهمزة فيها؛ إن كانت فوقية أم تحتية (أَنْشَاب أم إِنْشَاب). كما أنه خالف المخطوطة في كلمة (الكتب)، فجعلها (الكُتب)، كما عند البغدادي والكتاني، لكنه زاد عليهما بضبط الكلمة بالشكل، فكانت بضم الكاف وفتح التاء المثناة.
مما سبق، نجد أنفسنا أمام مجموعة من العنوانات للكتاب متباينة فيما بينها، كما أنها تختلف قليلاً أو كثيراً عن العنوان المدوّن على المخطوطة، والتي كتبها أحد تلامذة المؤلف، وعليها خطه بالإجازة له.
كما أن الداودي والشاذلي، وهما من تلامذة السيوطي، قد ذكرا العنوان مطابقاً لما هنا، بل إن الشاذلي صاحب كتاب «بهجة العابدين» لَمَّا ذكر - في الباب الثالث من كتابه - أسماء مصنفات شيخه السيوطي، قال: «هذا فهرست العالم العلامة، حافظ العصر الجلال السيوطي، من نسخة عليها خط المؤلف».
ولا بد من الرجوع إلى ما ذكره المؤلف نفسه في عنوان الكتاب في مؤلفاته الأخرى.
فهو قد ذكره في حسن المحاضرة، وفي التحدث بنعمة الله، وفي زاد المسير في الفهرست الصغير، بعنوان «فهرست مروياتي»، أو «فهرست المرويات»، دون التصريح بالعنوان الذي بين أيدينا.
إلا أنه صرح به في فهرس مؤلفاته، مضافاً للعنوان الأول.
وقد طبع فهرس مؤلفات السيوطي طبعات عدة؛ أولها بتحقيق أستاذنا الدكتور يحيى محمود بن جنيد، ونشره في مجلة عالم الكتب بالرياض، مج 12، عدد 2، شوال، سنة (1411 هـ).
বার্লিন পাণ্ডুলিপি তালিকায় আলওয়ার্টের নিকট ‘ইনশাবুল কুতুব ফি আনসাবিল কুতুব’ নামে রয়েছে। শিরোনামের প্রথম শব্দে (ইনশাব) তিনি পাণ্ডুলিপির সাথে একমত পোষণ করেছেন, তবে তিনি এতে হামজার হরকত নির্ধারণ করেননি; সেটি উপরে না কি নিচে (আনশাব না কি ইনশাব)। তদুপরি তিনি ‘কুতুব’ শব্দের ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপির বিরোধিতা করেছেন এবং একে বাগদাদী ও কাত্তানীর ন্যায় ‘আল-কুতুব’ করেছেন; তবে তিনি তাদের চেয়ে এক কদম এগিয়ে শব্দটির হরকত নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা কাফ বর্ণে পেশ এবং তা বর্ণে যবর সহযোগে পঠিত।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বইটির বেশ কিছু শিরোনামের সম্মুখীন হই যেগুলোর মাঝে ভিন্নতা রয়েছে। একইভাবে পাণ্ডুলিপিতে লিখিত শিরোনামের সাথেও এগুলোর কমবেশি পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়; যে পাণ্ডুলিপিটি লেখকের জনৈক ছাত্র লিখেছেন এবং তাতে ছাত্রের প্রতি লেখকের অনুমোদনের (ইজাজাহ) স্বাক্ষর রয়েছে।
দাওউদী এবং শাযিলী—যারা উভয়েই সুয়ূতী রহ.-এর ছাত্র—শিরোনামটি বর্তমান শিরোনামের সাথে হুবহু উল্লেখ করেছেন। এমনকি ‘বাহজাতুল আবিদীন’ গ্রন্থের লেখক শাযিলী যখন তার গ্রন্থের তৃতীয় অধ্যায়ে তার উস্তাদ সুয়ূতীর রচনাবলীর নাম উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি বলেছেন: “এটি হলো মহাজ্ঞানী পণ্ডিত, সমসাময়িক হাফিয জালালুদ্দীন সুয়ূতীর ফিনহিরিস্ত (সূচিপত্র), যা লেখকের স্বহস্তাক্ষর সম্বলিত একটি কপি হতে সংগৃহীত।”
লেখক নিজে তার অন্যান্য গ্রন্থে এই বইটির শিরোনাম সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, সেদিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক।
তিনি তার ‘হুসনুল মুহাদারা’, ‘আত-তাহাদ্দুসু বি নি’মাতিল্লাহ’ এবং ‘যাদুল মাসীর ফিল ফিহিরিস্তিস সাগীর’ গ্রন্থসমূহে আমাদের হাতে থাকা বর্তমান শিরোনামটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে ‘ফিহিরিস্তু মারউইয়্যাতী’ অথবা ‘ফিহিরিস্তুল মারউইয়্যাত’ শিরোনামে উল্লেখ করেছেন।
তবে তিনি তার রচনাবলীর তালিকায় প্রথম শিরোনামটির পাশাপাশি এটিকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
সুয়ূতীর রচনাবলীর তালিকাটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে; তন্মধ্যে সর্বপ্রথম সংস্করণটি আমাদের উস্তাদ ডক্টর ইয়াহইয়া মাহমুদ বিন জুনাইদের তাহকীককৃত, যা রিয়াদের ‘আলামুল কুতুব’ সাময়িকীর ১২তম খণ্ড, ২য় সংখ্যা, শাওয়াল ১৪১১ হিজরীতে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
كما نشره الدكتور سمير الدروبي في مجلة مجمع اللغة العربية الأردني العدد 57، السنة الثالثة والعشرون، سنة (1420 هـ).
ونشره أيضاً الدكتور يوسف مرعشلي مع كتاب زاد المسير في الفهرس الصغير، في دار البشائر الإسلامية في بيروت، سنة (1428 هـ).
وجاء العنوان في نشرة مجلة عالم الكتب «فهرست المرويات: تُسمى إنشاب الكتب في أسماء الكتب».
وفي طبعة دار البشائر «فهرست المرويات: يسمى إنشاب الكتب في أسماء الكتب».
وفي نشرة مجمع اللغة العربية الأردني «فهرست المرويات: يُسمى أنشاب الكتب في أسماء الكتب».
فهذه النشرات الثلاث لفهرس المرويات اتفقت على عنوان واحد، وهو «أنشاب الكتب في أنساب الكتب»، على أن ضبط كلمة (أنشاب) في نشرة الدروبي جاء بفتح الهمزة لا كسرها، كما في النشرتين الآخرين.
وأمام هذا الاختلاف والتباين في ضبط العنوان، فإنني أميل إلى ترجيح ما ورد في عنوان المخطوط الذي بين أيدينا، والمعتمد في التحقيق؛ لأنه كُتب في حياة المؤلف، وعليه خطه، كما أن من كتبه هو أحد تلاميذ السيوطي، رحمه الله.
ويعضد هذا الترجيح ما جاء في كتابين لتلميذين من تلامذة المؤلف؛ وهما الداودي والشاذلي، وهما أعرف من غيرهما بتصانيف شيخهما. وزيادة على ذلك، فإن الشاذلي، كما أسلفنا، نقل أسماء مصنفات السيوطي، وهذا منها، من نسخة من «فهرست مروياته» عليها خطه، أعني خط السيوطي.
যেমনটি ডক্টর সমীর আদ-দুরুবি জর্ডানের আরবি ভাষা একাডেমি সাময়িকীর ৫৭তম সংখ্যায়, ২৩তম বর্ষে, (১৪২০ হিজরি) সনে প্রকাশ করেছেন।
এবং ডক্টর ইউসুফ মারআশলিও এটি 'যাদুল মাসির' গ্রন্থের সাথে 'আল-ফিহরিস আস-সাগির'-এ বৈরুতের দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে (১৪২৮ হিজরি) সনে প্রকাশ করেছেন।
এবং 'আলামুল কুতুব' সাময়িকীর প্রকাশনায় শিরোনামটি এভাবে এসেছে: "ফিহরিসতুল মারউইয়্যাত: যা ইনশাবুল কুতুব ফি আসমাইল কুতুব নামে অভিহিত"।
এবং দারুল বাশায়ির সংস্করণে রয়েছে: "ফিহরিসতুল মারউইয়্যাত: যা ইনশাবুল কুতুব ফি আসমাইল কুতুব নামে অভিহিত"।
এবং জর্ডানের আরবি ভাষা একাডেমির প্রকাশনায় রয়েছে: "ফিহরিসতুল মারউইয়্যাত: যা আনশাবুল কুতুব ফি আসমাইল কুতুব নামে অভিহিত"।
সুতরাং 'ফিহরিসুল মারউইয়্যাত'-এর এই তিনটি প্রকাশনা একটি শিরোনামের ব্যাপারে একমত হয়েছে, আর তা হলো "আনশাবুল কুতুব ফি আনসাবিল কুতুব"; তবে আদ-দুরুবির প্রকাশনায় 'আনশাব' শব্দটির উচ্চারণ হামযার জবর (ফাতহা) দিয়ে এসেছে, অন্য দুটি প্রকাশনার মতো যের (কাসরা) দিয়ে নয়।
শিরোনামের উচ্চারণের এই মতপার্থক্য ও বৈচিত্র্যের প্রেক্ষিতে, আমি আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপির শিরোনামে যা এসেছে এবং যা এই সম্পাদনায় নির্ভরযোগ্য হিসেবে গৃহীত হয়েছে, তাকেই প্রাধান্য দেওয়ার দিকে ঝুঁকছি; কারণ এটি লেখকের জীবদ্দশায় লেখা হয়েছিল এবং এতে তাঁর নিজস্ব হস্তাক্ষর রয়েছে। তদুপরি, এটি যিনি অনুলিপি করেছেন তিনি ইমাম আস-সুয়ুতির (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) অন্যতম ছাত্র ছিলেন।
এই প্রাধান্যদানকে আরও শক্তিশালী করে লেখকের দুজন ছাত্রের দুটি গ্রন্থে বর্ণিত তথ্য; তাঁরা হলেন আদ-দাউদি এবং আশ-শাযিলি, এবং তাঁরা অন্যদের তুলনায় তাঁদের শাইখের রচনাবলি সম্পর্কে অধিক অবগত। তদুপরি, আশ-শাযিলি—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—আস-সুয়ুতির রচনাবলির নামসমূহ (এটিও যার অন্তর্ভুক্ত) তাঁর 'ফিহরিসতু মারউইয়্যাতিহি'-এর এমন একটি অনুলিপি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যাতে লেখকের অর্থাৎ ইমাম আস-সুয়ুতির নিজস্ব হস্তাক্ষর ছিল।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أما ما ورد في النسخ الثلاث المطبوعة من «فهرست المرويات»، والاختلاف فيما بينها، فلا يعدو أن تكون كلمة (الكتب)، بالتاء المثناة، قد صُحفت عن كلمة (الكثب)، بالثاء المثلثة؛ إما في أصول النسخ الخطية التي اعتمدت في التحقيق، أو أنها قُرئت خطاً من قبل المحققين الفضلاء.
ورغم ذلك، أرى أنه لا بد من محاولة التدليل على ما ذهبت إليه في إثبات هذا، وفي الوقت نفسه توجيه الصيغ الأخرى للعنوان، والتي سبق ذكرها.
ويمكن حصر الاختلاف في العنوان في كلمتين: (أنشاب)، و (الكثب).
أما (أنشاب)، فالاختلاف الوارد عند من ذكروها: هل هي بفتح الهمزة (أنشاب)، أم بكسرها (إنشاب)؟
و (الكثب) في الموضوع الأول: هل هي بالثاء المثلثة (الكثب)، أم بالتاء المثناة (الكتب)؟ وإذا كانت بالتاء، فهل هي بضم التاء (الكُتُب)، أم بفتحها (الكُتَب)، كما ضبطها ألورت؟
فكان لزاماً علينا تفسير معنى هاتين الكلمتين مدار الاختلاف، والعمل على إيجاد رابط لغوي بينهما، يكون مقبولاً وموافقاً لما جاء في عنوان الكتاب، ومدللاً على معنى العنوان وفحوى الكتاب.
وبالرجوع إلى كلمة (أنشاب) في كتب اللغة، نجد أن أصلها (نشب)، وقد قال الزبيدي في تاج العروس، مادة (نشب): «نَشبَ العظم
… ؛ أي: عَلِقَ فيه
… . وأَنْشَبَه، فانْتَشَبَ، ونَشَّبَه، بالتشديد: أَعْلَقَه».
وقال أيضاً: «نشب الشيء في الشيء نَشَباً، كما ينشب الصيد في الحبالة».
أي: إن المقصود بالنشب هو علوق شيء بشيء حتى لا يستطاع الفكاك منه.
أما كلمة (الكُثُب)؛ فهي جمع (كثيب)، وتُجمع أيضاً على (كثبان) و (أكثبة).
‘ফিহরিস্টুল মারউইয়্যাত’-এর তিনটি মুদ্রিত সংস্করণে যা বর্ণিত হয়েছে এবং তাদের মধ্যকার যে পার্থক্য, তা মূলত দুই নুকতাওয়ালা ‘তা’ যুক্ত ‘আল-কুতুব’ শব্দটি তিন নুকতাওয়ালা ‘সা’ যুক্ত ‘আল-কুসুব’ শব্দ থেকে বিকৃত হওয়ার সম্ভাবনা ছাড়া আর কিছু নয়; হয় এটি সম্পাদনায় ব্যবহৃত মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে ভুল ছিল, অথবা এটি শ্রদ্ধেয় সম্পাদকগণের পাঠজনিত ভুল হতে পারে।
তা সত্ত্বেও, আমি মনে করি যে এটি প্রমাণ করার জন্য দলিল পেশ করা এবং একই সাথে শিরোনামের অন্যান্য রূপগুলো—যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা আবশ্যক।
শিরোনামের এই পার্থক্যকে দুটি শব্দে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে: ‘আনশাব’ এবং ‘আল-কুসুব’।
‘আনশাব’ শব্দের ক্ষেত্রে যারা এটি উল্লেখ করেছেন তাদের মাঝে মতভেদ হলো: এটি কি হামজার জবর সহকারে ‘আনশাব’ নাকি হামজার যের সহকারে ‘ইনশাব’?
আর প্রথম বিষয়ের ‘আল-কুসুব’ শব্দটি: এটি কি তিন নুকতাওয়ালা ‘সা’ সহকারে ‘আল-কুসুব’ নাকি দুই নুকতাওয়ালা ‘তা’ সহকারে ‘আল-কুতুব’? যদি এটি ‘তা’ দিয়ে হয়, তবে তা কি ‘তা’-এর পেশ সহকারে ‘আল-কুতুবু’ নাকি ‘তা’-এর জবর সহকারে ‘আল-কুতাবু’, যেমনটি আলওয়ার্ট নির্ধারণ করেছেন?
সুতরাং এই মতভেদের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া শব্দ দুটির অর্থ ব্যাখ্যা করা আমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে। সেই সাথে শব্দ দুটির মধ্যে এমন একটি ভাষাগত যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করা প্রয়োজন যা গ্রহণযোগ্য হবে এবং গ্রন্থের শিরোনামের সাথে সংগতিপূর্ণ হবে, যা শিরোনামের অর্থ ও গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তুর সাক্ষ্য দেবে।
অভিধান গ্রন্থসমূহে ‘আনশাব’ শব্দটি অনুসন্ধান করলে আমরা দেখতে পাই যে এর মূল হলো ‘নাশাবা’। যুবাইদী ‘তাজুল আরুস’ গ্রন্থের ‘নাশাবা’ পরিচ্ছেদে বলেছেন: «হাড় আটকে গিয়েছে
… ; অর্থাৎ: তাতে বিঁধে বা আটকে গিয়েছে
… । তিনি একে আটকে দিয়েছেন (আনশাবাহু), ফলে এটি আটকে গিয়েছে, এবং দ্বিত্ব সহকারে ‘নাশ্শাবাহু’ এর অর্থ হলো: তিনি একে আটকে দিয়েছেন»।
তিনি আরও বলেছেন: «কোনো বস্তু অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে আটকে পড়াকে ‘নশাবান’ বলা হয়, যেমন শিকার জালে আটকে যায়»।
অর্থাৎ, ‘নাশাব’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোনো জিনিসের সাথে অন্য কোনো জিনিসের এমনভাবে আটকে যাওয়া যেন তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব না হয়।
আর ‘আল-কুসুব’ শব্দটি হলো ‘কাসীব’-এর বহুবচন; এর আরও বহুবচন রূপ হলো ‘কুবসান’ এবং ‘আকসিবাহ’।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال الزبيدي في تاج العروس (كَثَب): «والكَثِيبُ: هو التَّلُّ المُسْتَطِيلُ المُحْدَوْدِبُ من الرَّمْل. وقيل: الكَثِيبُ من الرَّمْل: القِطْعَةُ تَنْقادُ».
وبجمع معنى الكلمتين، نجد أنهما تدلان على تماسك هذه (الكُثُب) بعضها مع بعض، حتى تبدو وكأنها سلسلة واحدة، لا ينفك واحد منها عن الآخر، كما يتضح من هاتين الصورتين.

এবং আয-জুবাইদী 'তাজুল আরুস' গ্রন্থে (কাছাব-এর আলোচনায়) বলেন: «আর আল-কাছীব হলো: বালুর তৈরি দীর্ঘ ও কুঁজবিশিষ্ট ঢিবি। আবার বলা হয়েছে: বালুর কাছীব হলো বালুর সেই খণ্ড যা প্রলম্বিত বা নিরবচ্ছিন্ন হয়»।
শব্দ দুটির অর্থ একত্রিত করলে আমরা দেখতে পাই যে, তা এই বালুস্তূপগুলোর (কুছুব) পারস্পরিক সংহতি বা একে অপরের সাথে লেগে থাকাকে নির্দেশ করে, এমনকি এগুলোকে একটি অবিচ্ছিন্ন শিকলের মতো মনে হয়, যার একটি অংশ অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, যেমনটি এই ছবি দুটি থেকে স্পষ্ট হয়।

(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقد سألت صديقنا الدكتور عوض البادي عن هذه الكلمة (أنشاب) وعلاقتها بالكُثُب، كونه من أهل منطقة الجوف في البادية الشمالية للمملكة العربية السعودية، التي تكثر فيها كُثُب الرمال، وكأنها أمواج البحر، فأفادني بأن كلمة (أنشاب) تعني (الأكتاف) من الإنسان، وهو أعلى ما في الجسم بعد الرأس، كما تُستعمل، مجازاً، للدلالة على أعلى الكثيب من الرمل، أو هي الكثبان المتشابكة.
وأرى هذا القول متوافقاً - إلى حد كبير- مع ما ذكره الزبيدي في تفسيره للكثيب بأنه «التَّلُّ المُسْتَطِيلُ المُحْدَوْدِبُ من الرَّمْل». وكأن أعلى هذه الكُثُب قد نشب بعضه في بعض وعلق وتماسك.
يبقى القول في همزة (أنشاب): هل هو بفتحها، فتكون (أنشاب)، جمع (نشب)، أم بكسرها، فتكون (إنشاب) على المصدر؛ أي: ربط هذه الكتب بعضها في بعض؟ وأرى أن كلا القولين له وجه، لكن الأولى إثبات ما أثبته المؤلف وتلاميذه من بعده في كتبهم. والله أعلم.
وكما جمعنا كلمتي المقطع الأول من العنوان، وهو (أنشاب الكُثُب)، فلا بد من جمع الكلمتين الأخريين في المقطع الثاني، وهما (أنساب الكتب)، ثم جمع المقطعين بعد ذلك ليتضح معنى العنوان كاملاً.
فأنساب الكتب، هي كأنساب القبائل والجماعات، يتصل النسب من الجد الأعلى إلى مَنْ دونه من ذريته. وكذلك الكتاب؛ تتصل سلسلة إسناده، أو (نَسَبُه) من مؤلفه إلى من دونه من الرواة عنه، حتى تكون حلقات يرتبط بعضها ببعض كالسلسلة. وهذا ما يميز أمة الإسلام عن غيرها من الأمم؛ أنَّ كتبها معروفة النسب، مروية بسلسلة من الرواة يلحق آخرها بمن قبله حتى يصل إلى مؤلف الكتاب، وقل مثل ذلك في رواية الأحاديث والأخبار. ويؤيد ذلك ما نقله المؤلف (ص 61) عن الحافظ ابن حجر: «الأسانيد أنساب الكتب».
আমি আমাদের বন্ধু ডক্টর আওয়াদ আল-বাদিকে এই (আনশাব) শব্দটি এবং বালিয়াড়ির সাথে এর সম্পর্ক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, যেহেতু তিনি সৌদি আরব রাজ্যের উত্তর মরুভূমি অঞ্চলের আল-জাওফ এলাকার বাসিন্দা, যেখানে বালিয়াড়িগুলো সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, 'আনশাব' শব্দটির অর্থ হলো মানুষের 'কাঁধ', যা মাথার পর শরীরের সর্বোচ্চ অংশ। এটি রূপকভাবে বালিয়াড়ির সর্বোচ্চ অংশ বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়, অথবা এটি দ্বারা একে অপরের সাথে মিশে থাকা বালিয়াড়িকে বোঝানো হয়।
আমি মনে করি এই কথাটি জুবায়দি কর্তৃক বালিয়াড়ির ব্যাখ্যার সাথে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তিনি একে "বালুর দীর্ঘ ও কুঁজো টিলা" হিসেবে অভিহিত করেছেন। যেন এই বালিয়াড়িগুলোর উপরিভাগ একে অপরের সাথে আটকে গেছে এবং দৃঢ়ভাবে সংবদ্ধ হয়েছে।
এখন 'আনশাব' শব্দের হামযাহ্ এর হরকত নিয়ে কথা থেকে যায়: এটি কি জবর দিয়ে হবে, ফলে তা 'আনশাব' (নাশব-এর বহুবচন) হবে? নাকি এটি জের দিয়ে হবে, ফলে তা ক্রিয়ামূল হিসেবে 'ইনশাব' হবে; যার অর্থ: এই বইগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা? আমি মনে করি উভয় মতেরই যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে, তবে লেখক এবং তার পরবর্তী ছাত্ররা তাদের বইয়ে যা লিখে গেছেন তা বহাল রাখাই শ্রেয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আমরা যেভাবে শিরোনামের প্রথম অংশের শব্দ দুটি অর্থাৎ 'আনশাবুল কুসুব' (বালিয়াড়ির উচ্চভাগ) বিশ্লেষণ করেছি, তেমনিভাবে দ্বিতীয় অংশের শব্দ দুটি অর্থাৎ 'আনসাবুল কুতুব' (বইয়ের বংশলতিকা) বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এরপর পুরো শিরোনামের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য উভয় অংশকে একত্রে মেলাতে হবে।
বইয়ের বংশলতিকা হলো গোত্র ও গোষ্ঠীর বংশলতিকার মতো, যেখানে সর্বোচ্চ পূর্বপুরুষ থেকে তার পরবর্তী বংশধরদের পর্যন্ত ধারাটি নিরবচ্ছিন্ন থাকে। বইয়ের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই; এর সনদ বা বর্ণনাসূত্র লেখক থেকে শুরু করে তার পরবর্তী বর্ণনাকারীদের পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে যুক্ত থাকে, যেন তা একে অপরের সাথে শিকলের মতো আংটায় আংটায় সংযুক্ত। আর এটাই মুসলিম উম্মাহকে অন্যান্য জাতি থেকে পৃথক করে; কারণ তাদের কিতাবসমূহের বংশলতিকা সুপরিচিত, যা বর্ণনাকারীদের এমন এক সূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত যার শেষ প্রান্ত তার পূর্ববর্তী প্রান্তর সাথে যুক্ত হয়ে মূল লেখকের কাছে পৌঁছায়। হাদিস এবং ঐতিহাসিক সংবাদ বর্ণনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। লেখক (পৃষ্ঠা ৬১) হাফেজ ইবনে হাজার থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা এই কথাকেই সমর্থন করে: "সনদসমূহ হলো কিতাবসমূহের বংশলতিকা।"
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وعندئذ نقول في توضيح العنوان: إن أنساب (الكتب) التي رواها الإمام السيوطي، رحمه الله، بسلسلة لا تنقطع من الأسانيد عن شيوخه، إلى مصنفي هذه الكتب، هي تماماً كسلسلة (الكُثُب) من الرمل التي لا ينفك بعضها عن بعض.
أما ما ورد بأن العنوان هو «أنشاب الكتب في أنساب الكتب»، على اعتبار أن كلمة (الكتب) قد تكررت مرتين في العنوان، كما ورد في الطبعات الثلاث لفهرست مرويات السيوطي، وفي هدية العارفين للبغدادي، وفي فهرس مكتبة برلين لألورت، ومكتبة الجلال السيوطي لأحمد الشرقاوي إقبال، فإن اعتبرنا أن (الكتب) الأولى مشابهة للثانية في الضبط؛ أي: بضم الكاف والتاء، فلا معنى لذلك حينئذ، مع مخالفته لمطلب السجع الذي كان مستعملاً ودارجاً عند المؤلفين في عنونة كتبهم.
وأما إذا قلنا بما أورده ألورت في فهرس مخطوطات برلين من ضبط كلمة (الكتب) الأولى بضم الكاف وفتح التاء المثناة (الكُتَب)، وإن كنا لا نعلم مستنده في ذلك، فإنه يمكن توجيه هذا الضبط من خلال تفسير كلمة (الكتب). وبالرجوع إلى تاج العروس، نجد قول الزبيدي في مادة (كتب): (الكُتبَةُ، بالضَّمِّ: السَّيْرُ الَّذِي يُخْرَزُ بِهِ المَزَادَةُ والقِرْبَة، وجَمْعُهَا كُتَبٌ).
فعلى ذلك يمكن تفسير العنوان بأن سلسلة أنساب الكتب أو أسانيدها هي مثل سلسلة السير الذي (ينشب) في جلد القربة أو المزادة، فيضم أطرافها بعضها إلى بعض.
هذا ما ظهر لي من القولين، وقد أهملت قولاً ثالثاً، وهو ما ورد عند الكتاني في فهرس الفهارس (نشاب الكتب
… )، بإسقاط الألف من (أنساب)، فهو مخالف لما ورد عند جميع من ذكر العنوان على تباين واختلاف فيما بينهم، كما أسلفنا. وقد يكون من أخطاء الطبع.
وبعد، فإني أرجح القول الأول، وهو العنوان المدون على المخطوطة، لمطابقته ما ذكره تلامذة المؤلف أولاً، ولأنه الأقرب إلى التفسير اللغوي ثانياً.
এমতাবস্থায় শিরোনামটি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে আমরা বলি যে, ইমাম সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর শিক্ষকদের থেকে অবিচ্ছিন্ন সনদের ধারায় এই গ্রন্থগুলোর রচয়িতাদের পর্যন্ত যেসব গ্রন্থের বংশলতিকা বর্ণনা করেছেন, তা ঠিক বালুর স্তূপের সেই ধারার মতো যা একটি অপরটি থেকে অবিচ্ছেদ্য।
আর যে শিরোনামটি 'আনশাবুল কুতুব ফী আনসাবিল কুতুব' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে—এই বিবেচনায় যে, শিরোনামে 'কুতুব' শব্দটি দুবার এসেছে, যেমনটি সুয়ূতীর বর্ণিত কিতাবের তালিকার তিনটি সংস্করণে, বাগদাদীর 'হাদিয়্যাতুল আরিফীন'-এ, অ্যালওয়ার্টের বার্লিন লাইব্রেরির ক্যাটালগে এবং আহমদ আশ-শারকাবী ইকবালের 'মাকতাবাতুল জালাল আস-সুয়ূতী'-তে এসেছে—যদি আমরা ধরি যে প্রথম 'কুতুব' শব্দটি উচ্চারণের দিক থেকে দ্বিতীয়টির মতো (অর্থাৎ কাফ ও তা বর্ণে পেশসহ), তবে এর কোনো অর্থ হয় না। উপরন্তু, এটি সেই অন্ত্যমিল বা 'সাজ'-এর পরিপন্থী যা লেখকদের মাঝে তাঁদের বইয়ের নামকরণের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত ছিল।
আর অ্যালওয়ার্ট বার্লিন পাণ্ডুলিপি তালিকায় প্রথম 'কুতুব' শব্দটির উচ্চারণের ক্ষেত্রে কাফ বর্ণে পেশ এবং তা বর্ণে জবর (কুতাব) বলে যা উল্লেখ করেছেন, যদিও এ বিষয়ে তাঁর ভিত্তি কী তা আমাদের জানা নেই, তবুও এই উচ্চারণটি 'কুতাব' শব্দের ব্যাখ্যার মাধ্যমে সমর্থন করা যেতে পারে। 'তাজুল আরূস' অভিধানের দিকে তাকালে আমরা 'কাতাবা' মূলধাতুর অধীনে যুবায়দীর বক্তব্য পাই যে: (আল-কুতবাহ—পেশসহ—হলো সেই চামড়ার ফিতা যা দিয়ে মশক বা পানির পাত্র সেলাই করা হয়, আর এর বহুবচন হলো কুতাব)।
সেই অনুযায়ী শিরোনামটির ব্যাখ্যা এমন হতে পারে যে, গ্রন্থগুলোর বংশলতিকার ধারা বা সেগুলোর সনদগুলো হলো সেই ফিতার মতো যা মশক বা পানির পাত্রের চামড়ার ভেতরে গেঁথে থাকে এবং এর প্রান্তগুলোকে একটির সাথে অন্যটিকে যুক্ত করে রাখে।
এই দুই মত থেকে আমার কাছে এটিই প্রতীয়মান হয়েছে। আমি তৃতীয় একটি মতকে উপেক্ষা করেছি, যা কাত্তানীর 'ফিহরিসুল ফাহারিস'-এ এসেছে (নাশাবুল কুতুব
… )। সেখানে 'আনসাব' শব্দ থেকে আলিফ বাদ দেওয়া হয়েছে; এটি আমরা আগে যেমনটি উল্লেখ করেছি যে, যারা শিরোনামটি বর্ণনা করেছেন তাদের প্রত্যেকের বর্ণনারই বিরোধী। এটি সম্ভবত মুদ্রণজনিত কোনো ত্রুটি হতে পারে।
পরিশেষে, আমি প্রথম মতটিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছি, যা পাণ্ডুলিপিতে লিখিত শিরোনাম। কারণ প্রথমত এটি লেখকের ছাত্রদের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দ্বিতীয়ত এটি ভাষাগত ব্যাখ্যার অধিক নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ويبقى الأمر اجتهاداً، وباب الاجتهاد في ذلك مفتوح أمام الباحثين ليدلوا بدلوهم في هذا. والله الموفق والهادي للصواب.
وصف النسخة:وبعد التوثق من صحة نسبة الكتاب، ثم التوثق من صحة العنوان، رأيت من المستحسن وصف هذا السفر النفيس وذكر ناسخه، ومالكيه، وعدد أوراقه، وما إلى ذلك.
وحال هذه المخطوطة كحال كثير من المخطوطات العربية، فقد هاجر كثير منها من بلد إلى آخر، وهذه المخطوطة كتبت في مصر، ثم سافرت وارتحلت حتى حل بها المقام في مكتبة كوتاهية في البلاد التركية، وهي محفوظة في هذه المكتبة برقم (1340)
(1).
وتقع في 136 ورقة، في كل منها 27 سطراً.
وتاريخ نسخها هو: يوم الأربعاء سادس عشر جمادى الآخرة سنة (890 هـ).
--------------------------------------------
বিষয়টি ইজতিহাদ (গবেষণা) হিসেবেই থাকছে, আর এ বিষয়ে গবেষকদের নিজ নিজ মতামত প্রদানের জন্য ইজতিহাদের দ্বার উন্মুক্ত। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী।
কপির বর্ণনা:বইটির সম্বন্ধের সঠিকতা নিশ্চিত হওয়ার পর এবং এর শিরোনামের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর, আমি এই মূল্যবান পাণ্ডুলিপিটির বর্ণনা প্রদান করা এবং এর অনুলিপিকারক, মালিকগণ, পৃষ্ঠাসংখ্যা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি।
এই পাণ্ডুলিপিটির অবস্থা অন্যান্য অনেক আরবি পাণ্ডুলিপির মতোই, যার অনেকগুলোই এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিটি মিসরে লেখা হয়েছিল, তারপর এটি স্থানান্তরিত ও সফর করতে করতে তুরস্কের কুতাহিয়াহ লাইব্রেরিতে এসে পৌঁছেছে। এটি বর্তমানে উক্ত লাইব্রেরিতে (১৩৪০) নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে
(১)।
এটি ১৩৬টি পাতা সম্বলিত, যার প্রতিটিতে ২৭টি করে লাইন রয়েছে।
এটি অনুলিপি করার তারিখ হলো: ৮৯০ হিজরি সনের ১৬ই জুমাদাল আখিরাহ, বুধবার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وكُتِبَ عنوانها، وكذلك عنوانات الكتب في المتن بالمداد الأحمر، أما الأسانيد فكتبت بالمداد الأسود.
وخطها نسخي جميل، إلا أن جمال الخط لا يشفع للناسخ ما وقع فيه من تحريفات وتصحيفات في النص، عملت على إصلاحها وتصويبها، وقد نبهت على ذلك في مواضعه من الحواشي.
وقد أصابت الرطوبة الخفيفة الورقة الأولى منها، ولم تؤثر على قراءة النص. إلا أن مجلد المخطوط، سامحه الله، قام بقص أوراقها من دون أن يتنبه إلى أن هناك كلاماً قد ذهب بهذا الفعل، ومنه الإجازة التي كتبها المؤلف بخطه لناسخ هذا الكتاب.
وهناك نصوص أخرى جار عليها مقص المجلد، عملت على استدراكها من مظانها في الكتب الأخرى، أشرت إليها في أماكنها من الكتاب.
أما الناسخ، فهو (بدر الدين أبو المحاسن حسن)، إلا أنه لم يدوّن اسمه على هذه المخطوطة، لا في أولها، ولا في نهايتها عند تدوينه تاريخ النسخ. لكننا نجد اسمه، أو جزءاً من اسمه، في إجازة المصنف له، والتي دونها على الورقة الأولى من المخطوطة. وجاء في هذه الإجازة ما نصه: «الحمد لله،، سمع من لفظي هذا السند صاحب الكتاب، الجناب العالي الفاضلي الكاملي بدر الدين أبو المحاسن حسن [. . . . .]، وأجزت له ولأولاده وذريته رواية جميع ما تضمنه هذا الفهرس، وسائر ما لي من تأليف ونظم ونثر. كتبه الفقير عبد الرحمن [. . . . . .]».
وقد أثر القص على الورقة، فذهب ببعض كلمات الإجازة. والله المستعان.
لكنني اهتديت بفضل الله، إلى هذا الناسخ، وهو من المهتمين بتصانيف
এর শিরোনাম এবং মূল পাঠ্যের অন্তর্ভুক্ত গ্রন্থসমূহের শিরোনামসমূহ লাল কালিতে লেখা হয়েছে, আর সনদসমূহ কালো কালিতে লেখা হয়েছে।
এর হস্তলিপি চমৎকার নাসখি শৈলীর, তবে হস্তলিপির এই সৌন্দর্য লিপিকরের সেই সমস্ত বিকৃতি ও পাঠ্যগত ভুলের জন্য ওজর হতে পারে না যা পাঠ্যের মধ্যে ঘটেছে; আমি সেগুলো সংস্কার ও সংশোধনের কাজ করেছি এবং টীকাপত্রের সংশ্লিষ্ট স্থানে তা নির্দেশ করেছি।
পাণ্ডুলিপিটির প্রথম পাতায় সামান্য আর্দ্রতা লেগেছে, তবে তা পাঠোদ্ধারে কোনো প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু পাণ্ডুলিপিটির বাঁধাইকারী—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন—এর পাতাগুলো এমনভাবে কেটেছেন যে তিনি খেয়াল করেননি এর ফলে কিছু কথা হারিয়ে গেছে; যার মধ্যে লেখকের নিজ হাতে এই গ্রন্থের লিপিকরের জন্য লেখা অনুমতিপত্রটিও (ইজাজত) রয়েছে।
এছাড়া আরও কিছু পাঠ্যাংশ রয়েছে যা বাঁধাইকারীর কাঁচির নিচে পড়ে নষ্ট হয়েছে; আমি অন্যান্য সম্ভাব্য উৎস গ্রন্থ থেকে সেগুলো অনুসন্ধান করে পূরণ করার চেষ্টা করেছি এবং বইয়ের যথাস্থানে তা উল্লেখ করেছি।
লিপিকরের পরিচয় হলো তিনি (বদরুদ্দীন আবুল মাহাসিন হাসান), তবে তিনি এই পাণ্ডুলিপির শুরুতে বা শেষে নকল করার তারিখ লিপিবদ্ধ করার সময় নিজের নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু আমরা তার নাম বা নামের একাংশ লেখকের দেওয়া সেই অনুমতিপত্রে খুঁজে পাই, যা তিনি পাণ্ডুলিপির প্রথম পাতায় লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এই অনুমতিপত্রের ভাষ্য ছিল নিম্নরূপ: «সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এই গ্রন্থের অধিকারী, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, বিদগ্ধ ও পূর্ণজ্ঞানী বদরুদ্দীন আবুল মাহাসিন হাসান [. . . . .] আমার মুখ থেকে এই সনদটি শ্রবণ করেছেন। আমি তাকে এবং তার সন্তান ও বংশধরদের এই সূচিপত্রে অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয় এবং আমার রচিত অন্য সকল গ্রন্থ, কবিতা ও গদ্য বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করলাম। এটি লিখেছেন অভাবী বান্দা আবদুর রহমান [. . . . . .]»।
পাতা কাটার প্রভাব পৃষ্ঠার ওপর পড়েছে, ফলে অনুমতিপত্রের কিছু শব্দ হারিয়ে গেছে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
তবে আল্লাহর অনুগ্রহে আমি এই লিপিকরের সন্ধান পেয়েছি, তিনি (লেখকের) রচনাবলির প্রতি আগ্রহী ব্যক্তিদের একজন...
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাছাব ফি আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
شيخه السيوطي. وقد ترجم له السخاوي في الضوء اللامع (3/ 130) ترجمة مختصرة، فقال: «حسن بن ثابت بن إسماعيل بن علي، البدر الزمزمي المكي. حفظ البهجة والألفية، وعرضهما على جماعة، وتميز في الفرائض والحساب، وأخذهما عن قريبه نور الدين، وفي الميقات؛ أخذه عن قريبه الجمال محمد بن أبي الفتح، ودخل الشام وغيرها».
كما ترجم له النجم الغزي في الكواكب السائرة بأعيان المائة العاشرة (1/ 177)؛ فقال: «حسن بن ثابت بن إسماعيل، الشيخ الإمام الحيسوب المفيد، بدر الدين الزمزمي المكي. خادم بئر زمزم، وسقاية العباس، رضي الله تعالى عنه، نزيل دمشق الشافعي. أخذ العلم عن قريبه الشيخ إبراهيم الزمزمي وغيره، ثم اعتنى بعلم الزيارج، وبتصانيف الشيخ جلال الدين السيوطي، رحمه الله تعالى. وتوفي بالمدرسة الباذرائية داخل دمشق في سابع عشر ربيع الأول تقريباً، سنة إحدى وعشرين وتسعمائة تحقيقاً، و دفن بمقبرة باب الصغير، رحمه الله تعالى».
وعن الغزي أخذ الترجمة ابن العماد الحنبلي في شذرات الذهب (10/ 141).
ويبدو أن الزمزمي هذا كان مهتماً بنسخ الكتب واقتنائها، ومنها تصانيف الجلال السيوطي، كما ذكر الغزي؛ فقد كتب نسخة من كتاب «المطالع السعيدة في شرح الفريدة» للسيوطي، وهي محفوظة في مخطوطات مكتبة العلامة الجليلي في كرمانشاه بإيران
(1)، كما كتب نسخة من كتاب «الكوكب الدري» لجمال الدين الإسنوي، المتوفى سنة (772 هـ). وهذه النسخة محفوظة في مكتبة شيستربيتي، ومنها نسخة في جامعة الكويت برقم (4269).
--------------------------------------------
তাঁর উস্তাদ ছিলেন আস-সুয়ূতী। আস-সাখাভী 'আদ-দাও আল-লামি' (৩/১৩০) গ্রন্থে তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন: "হাসান ইবনে সাবিত ইবনে ইসমাইল ইবনে আলী, আল-বদর আল-যামযামী আল-মাক্কী। তিনি 'আল-বাহজাহ' এবং 'আল-আলফিয়্যাহ' মুখস্থ করেন এবং একদল আলিমের নিকট তা পেশ করেন। তিনি ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) এবং গণিতশাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং এ দুটি বিষয় তাঁর নিকটাত্মীয় নূরুদ্দীনের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন। আর সময় নির্ধারণ বিদ্যা (আল-মীকাত) তিনি তাঁর নিকটাত্মীয় আল-জামাল মুহাম্মদ ইবনে আবিল ফাতহ-এর নিকট থেকে গ্রহণ করেন এবং তিনি শাম (সিরিয়া) ও অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করেন।"
তেমনিভাবে আন-নাজম আল-গাযযী 'আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়্যিরাহ বি-আ'য়ানিল মিয়াতিল হাশিরহা' (১/১৭৭) গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন: "হাসান ইবনে সাবিত ইবনে ইসমাইল, শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ গণিতবিদ, বদরুদ্দীন আল-যামযামী আল-মাক্কী। তিনি যমযম কূপ এবং আল-আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)-এর পানীয় সেবাকেন্দ্রের খাদেম ছিলেন এবং দামেশকে বসবাসকারী শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি তাঁর নিকটাত্মীয় শায়খ ইব্রাহিম আল-যামযামী ও অন্যদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। অতঃপর তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং শায়খ জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা)-এর রচনাবলির প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করেন। তিনি দামেশকের অভ্যন্তরে আল-মাদরাসাতুল বাযরাঈয়্যাহ-তে আনুমানিক নয়শ একুশ হিজরি সনের সতেরো রবীউল আউয়াল ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বাব আস-সাগীর কবরস্থানে দাফন করা হয়, আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।"
আর আল-গাযযীর নিকট থেকে ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী 'শাযারাতুয যাহাব' (১০/১৪১) গ্রন্থে এই জীবনীটি গ্রহণ করেছেন।
প্রতীয়মান হয় যে, এই যামযামী বইপত্র অনুলিপি করা এবং তা সংগ্রহ করার প্রতি আগ্রহী ছিলেন, যার মধ্যে জালাল আস-সুয়ূতীর রচনাবলিও ছিল, যেমনটি গাযযী উল্লেখ করেছেন। তিনি সুয়ূতীর 'আল-মাতালি আস-সাঈদা ফী শারহিল ফারীদা' গ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছিলেন, যা ইরানের কেরমানশাহে আল্লামা আল-জালীলী লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি সংগ্রহে সংরক্ষিত আছে
(১)। একইভাবে তিনি জামালুদ্দীন আল-ইসনাভী (মৃত্যু ৭৭২ হিজরি)-এর 'আল-কাওয়াকাব আদ-দুররী' গ্রন্থের একটি অনুলিপিও লিখেছিলেন। এই কপিটি চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে এবং এর একটি অনুলিপি কুয়েত ইউনিভার্সিটিতে ৪২৬৯ নম্বর সংগ্রহে বিদ্যমান।
--------------------------------------------