(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: -)
المشروع والممنوع في المسجد - محمد العرفج   (محمد بن علي العرفج)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: المشروع والممنوع في المسجد

المؤلف: محمد بن علي العرفج

الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولي، 1419هـ

عدد الصفحات: 36

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মসজিদে বৈধ ও নিষিদ্ধ কার্যাবলি - মুহাম্মদ আল-আরফাজ   (মুহাম্মদ বিন আলী আল-আরফাজ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: মসজিদে বৈধ ও নিষিদ্ধ কার্যাবলি

লেখক: মুহাম্মদ বিন আলী আল-আরফাজ

প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[مقدمة]

المشروع والممنوع في المسجد
[ভূমিকা]

মসজিদে অনুমোদিত এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة إن الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله. {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1] {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71] وبعد. . فعملا بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم «لا يشكر الله من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২] {হে মানব সমাজ, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়স্বজনদের (অধিকার) বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [নিসা: ১] {হে মুমিনগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আহযাব: ৭০ - ৭১] অতঃপর... রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী অনুযায়ী আমল করার নিমিত্তে: «সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না যে...
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৪)
لا يشكر الناس» فإني أشكر الله سبحانه وتعالى ثم أشكر معالي وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - الذي شرفني بالحديث عن موضوع المشروع والممنوع في المساجد - ضمن أعمال ندوة عمارة المساجد، والمعرض المصاحب لها بجامعة الملك سعود المقرر عقدها في شوال 1419هـ.

ذلك لأنه موضوع حيوي مهم لكل مسلم، لا سيما وأن المسجد هو شريان حياة المسلمين في أمور دينهم ودنياهم بما يمارسونه من إقامة الصلوات الخمس والجمعة، وبما يتلقون من دروس ومواعظ، وندوات ومحاضرات، وخطب وحلق قرآن وغيرها، مما يفرح المسلم الذي يهتم ويشارك في بناء المساجد، والحرص عليها عملًا بقوله صلى الله عليه وسلم: «من سرته حسنته فهو مؤمن، ومن ساءته سيئته فهو مؤمن» فيزيد المهتم بذلك اهتماما وتعاونا، وربما يوقظ غافلا عن هذا الجانب فيشارك فتتضافر الجهود، ويتعاون الجميع على عمارة المساجد حسيا ومعنويا، فيحصل الأجر العظيم مستشعرين قول الحق سبحانه وتعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى} [المائدة: 2] وقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله ليدخل الجنة السهم ثلاثة نفر صانعه يحتسب الأجر ومنبله والمناول له» .
"যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না [সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না]"—আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি, অতঃপর ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি—যিনি কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪১৯ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে অনুষ্ঠিতব্য 'মসজিদ স্থাপত্য' বিষয়ক সেমিনার ও তৎসংলগ্ন প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে আমাকে 'মসজিদে বৈধ (مشروع) ও নিষিদ্ধ (ممنوع) বিষয়াবলী' সম্পর্কে আলোচনার সুযোগ দিয়ে সম্মানিত করেছেন।

এটি এজন্য যে, বিষয়টি প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে মসজিদ হলো মুসলিমদের দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় বিষয়ের প্রাণস্পন্দন; যেখানে তারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও জুমা কায়েম করে এবং বিভিন্ন দরস, নসিহত, সেমিনার, বক্তৃতা, খুতবা ও কুরআনি হালকাসহ অন্যান্য বিষয়ে অংশগ্রহণ করে। এটি সেই মুসলিমকে আনন্দিত করে যে মসজিদের নির্মাণে গুরুত্ব দেয় ও শরিক হয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী অনুযায়ী এর প্রতি যত্নশীল থাকে: "যার নেক আমল তাকে আনন্দিত করে এবং যার বদ আমল তাকে ব্যথিত করে, সে-ই হলো মুমিন (مؤمن)।" ফলে এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আগ্রহ ও সহযোগিতাকে আরও বৃদ্ধি করে এবং সম্ভবত এই বিষয়ে কোনো অসচেতন ব্যক্তিকে জাগ্রত করে, ফলে সেও এতে অংশগ্রহণ করে। এভাবে সকলের প্রচেষ্টার সমন্বয় ঘটে এবং মসজিদের আধ্যাত্মিক ও কাঠামোগত আবাদে সবাই পরস্পরকে সহযোগিতা করে। এর মাধ্যমে তারা মহান সওয়াব অর্জন করেন এবং মহান সত্য সুবহানাহু ওয়া তায়ালার এই বাণীর গুরুত্ব অনুভব করেন: "তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো" [সূরা আল-মায়িদাহ: ২]। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি তীরের বিনিময়ে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করান: এর প্রস্তুতকারক যে সওয়াবের আশা রাখে, তীর নিক্ষেপকারী এবং যে তাকে তীরটি এগিয়ে দেয়।"
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৫)
لذا أؤكد على الحرص بالاهتمام بالمساجد، سواء بالرأي والمشورة أو بالجاه أو الشفاعة الحسنة، أو بالمال أو تولي الإمامة والأذان، أو إلقاء المحاضرات والدروس أو تولي حلق القرآن أو الدلالة على الخير كل حسب استطاعته عملا بقوله صلى الله عليه وسلم: «الدال على الخير كفاعله» ، وقوله صلى الله عليه وسلم: «من دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجر من فعله من غير أن ينقص من أجورهم شيئا» .

 

‌‌[تعريف المشروع في المسجد]

تعريف المشروع في المسجد: هو ما يشرع فعله في المسجد وجوبا كان ذلك أو استحبابا.

 

‌‌[تعريف الممنوع في المسجد]

تعريف الممنوع في المسجد: هو ما يمنع فعله في المسجد تحريما أو كراهة.

 

‌‌[أهمية المساجد في حياة المسلمين]

أهمية المساجد في حياة المسلمين: المسجد لغة: من سجد يسجد سجودا إذا وضع جبهته على الأرض.

والمسجد شرعا: الأصل فيه كل موضع من الأرض لقوله صلى الله صلى الله عليه وسلم: «جعلت لي الأرض مسجدا وطهورا، فأيما رجل من أمتي أدركته الصلاة فليصل» . وهذا من
তাই আমি মসজিদের প্রতি যত্নবান ও সজাগ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করছি, তা পরামর্শ ও সুপরামর্শের মাধ্যমেই হোক, কিংবা প্রভাব-প্রতিপত্তি বা উত্তম সুপারিশের মাধ্যমে, অথবা অর্থ দিয়ে কিংবা ইমামতি ও আজানের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে, অথবা বক্তৃতা ও পাঠ প্রদানের মাধ্যমে কিংবা কুরআনের হালকায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অথবা কল্যাণের দিকে পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে - প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী কাজ করবে: "কল্যাণের পথপ্রদর্শক ব্যক্তি উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব লাভ করবে" এবং তাঁর (সা.) বাণী: "যে ব্যক্তি হিদায়াতের (هدى) দিকে আহ্বান জানাবে, সে তার অনুসারীদের সমান সওয়াব লাভ করবে, তবে এতে তাদের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না।"

 

‌‌[মসজিদে বিধিবদ্ধ বিষয়ের সংজ্ঞা]

মসজিদে বিধিবদ্ধ (مشروع) বিষয়ের সংজ্ঞা: এটি হলো এমন কাজ যা মসজিদে সম্পাদন করা শরিয়তসম্মত, তা আবশ্যিক (وجوب) হোক বা পছন্দনীয় (استحباب)।

 

‌‌[মসজিদে নিষিদ্ধ বিষয়ের সংজ্ঞা]

মসজিদে নিষিদ্ধ বিষয়ের সংজ্ঞা: এটি হলো এমন কাজ যা মসজিদে সম্পাদন করা থেকে বিরত রাখা হয়, তা হারামের (تحريم) অন্তর্ভুক্ত হোক বা অপছন্দনীয় (كراهة)।

 

‌‌[মুসলিম জীবনে মসজিদের গুরুত্ব]

মুসলিম জীবনে মসজিদের গুরুত্ব: শাব্দিক অর্থে মসজিদ: এটি 'সাজাদা-ইয়াসজুদু-সুজুদ' থেকে আগত, যখন কেউ তার কপাল মাটিতে রাখে।

শরয়ী পরিভাষায় মসজিদ: এর মূল হলো জমিনের প্রতিটি স্থান, কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমার জন্য সমগ্র জমিনকে সিজদার স্থান ও পবিত্রকারী করা হয়েছে। সুতরাং আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তি যেখানেই সালাতের সময় পাবে, সে যেন সেখানেই সালাত আদায় করে নেয়।" এটি...
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৬)
خصائص هذه الأمة، قال القاضي عياض: لأن من كان قبلنا كانوا لا يصلون إلا في موضع يتيقنون طهارته، ونحن خصصنا بجواز الصلاة في جميع الأرض إلا ما نهي عنه.

وقال القرطبي: هذا ما خص الله به نبيه، وكان الأنبياء قبله إنما أبيحت لهم الصلوات في مواضع مخصوصة كالبيع والكنائس. ثم إن العُرف خصص المسجد بالمكان المهيأ للصلوات الخمس، حتى يخرج المصلى الذي يجتمع فيه للأعياد ونحوها، فلا يعطى حكمه.

ولما كان السجود أشرف أفعال الصلاة، لقرب العبد من ربه، اشتق منه اسم المكان للموضع الذي بني للصلاة فيه، فقيل: مسجد، ولم يقولوا: (مركع) مثلا أو غيره مما يشتق من أفعال الصلاة.

فالمساجد بيوت الله سبحانه وتعالى ولمكانتها وفضلها ذكرها الله سبحانه في ثمان وعشرين آية من كتابه الكريم، وأضافها إلى نفسه إضافة تشريف وتكريم، فقال سبحانه: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18] ورغب سبحانه في بنائها وعمارتها وأخبر أن عُمَّارها المؤمنون بالله واليوم الآخر قال تعالى: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ} [التوبة: 18]
এই উম্মতের বৈশিষ্ট্যসমূহ; কাযী আইয়ায বলেন: কারণ আমাদের পূর্ববর্তীগণ কেবল এমন স্থানেই সালাত আদায় করতেন যেটির পবিত্রতা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতেন। আর আমাদেরকে নিষিদ্ধ স্থানসমূহ ব্যতীত সমগ্র জমিনে সালাত আদায়ের বৈধতা প্রদানের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে।

ইমাম কুরতুবী বলেন: এটি এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নবীকে বিশেষিত করেছেন। তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের জন্য কেবল বিশেষ কিছু নির্দিষ্ট স্থানেই সালাত বৈধ ছিল, যেমন সিনাগগ ও গির্জা। অতঃপর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী 'মসজিদ' শব্দটিকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জন্য নির্ধারিত স্থানের সাথে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে; এমনকি ঈদের নামায বা অনুরূপ জমায়েতের জন্য ব্যবহৃত ময়দানও এর অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে একে মসজিদের বিধান দেওয়া হয় না।

যেহেতু সিজদা সালাতের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ কাজ—কেননা বান্দা তখন তার রবের সবচেয়ে নৈকট্য লাভ করে—তাই সালাতের জন্য নির্মিত স্থানের নাম এই কাজ থেকেই ব্যুৎপত্তি লাভ করেছে। ফলে একে 'মসজিদ' (সিজদার স্থান) বলা হয়েছে; একে 'মারকা' (রুকু করার স্থান) বা সালাতের অন্য কোনো কাজ থেকে নির্গত নামে অভিহিত করা হয়নি।

সুতরাং মসজিদসমূহ হলো মহান আল্লাহর ঘর। এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবের আটাশটি আয়াতে এর উল্লেখ করেছেন এবং সম্মান ও মর্যাদাস্বরূপ একে নিজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} [সূরা জিন: ১৮]। তিনি মসজিদ নির্মাণ ও আবাদ করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, এর আবাদকারীগণ হলো আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী মুমিনগণ। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ কেবল তারাই আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে} [সূরা তাওবা: ১৮]।
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৭)
فالمساجد دور عبادة وذكر وتضرع وخضوع لله سبحانه، ومواضع تسبيح، وابتهال وتذلل بين يدي الله سبحانه، ورغبة فيما عنده من الأجر الكبير ومقام تهجد، وترتيل لكتاب الله وحفظ له، وغوص وراء معانيه، كما أخبر سبحانه أن تعطيل المسجد، ومنع الناس من ذكر الله فيه ظلم، قال تعالى: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا أُولَئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَنْ يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ} [البقرة: 114] وجعل القرآن الكريم الدفاع عن المساجد وحمايتها مطلبا من مطالب هذا الدين يشرع لأجله القتال في سبيله، قال تعالى: {وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا} [الحج: 40]

قال القرطبي رحمه الله تعالى عن هذه الآية: أي لولا ما شرعه الله سبحانه وتعالى للأنبياء والمؤمنين من قتال الأعداء لاستولى أهل الشرك وعطلوا ما يبنيه أرباب الديانات من مواضع العبادات، ولكنه دفع بأن أوجب القتال ليتفرغ أهل الدين للعبادة وليس هذا بغريب فالمساجد أحب البقاع إلى الله، وهي
মসজিদসমূহ হলো ইবাদত, জিকির, মহান আল্লাহর নিকট রোনাজারি এবং তাঁর আনুগত্য প্রকাশের কেন্দ্র। এগুলো তাসবিহ পাঠের স্থান, মহান আল্লাহর দরবারে আকুতি ও বিনয় প্রকাশের জায়গা, তাঁর নিকট সংরক্ষিত সুমহান প্রতিদানের প্রত্যাশা ও তাহাজ্জুদের স্থান। এছাড়াও এগুলো আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত, হিফজ এবং এর অন্তর্নিহিত অর্থের গভীরে অবগাহনের কেন্দ্র। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জানিয়েছেন যে, মসজিদের কার্যকারিতা বন্ধ করে দেওয়া এবং সেখানে আল্লাহর জিকির করতে মানুষকে বাধা দেওয়া একটি জুলুম। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদগুলোতে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করে? এদের তো সেখানে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছাড়া প্রবেশ করার অধিকারই ছিল না। তাদের জন্য দুনিয়াতে রয়েছে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে রয়েছে মহাশাস্তি।} [আল-বাকারাহ: ১১৪] আর পবিত্র কুরআন মসজিদ রক্ষা ও এর সুরক্ষাকে এই দ্বীনের অন্যতম দাবি হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, যার জন্য আল্লাহর পথে লড়াই করার বিধান দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ যদি মানুষের একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেত সন্ন্যাসীদের মঠ, গির্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ, যেখানে আল্লাহর নাম অধিক পরিমাণে স্মরণ করা হয়।} [আল-হাজ্ব: ৪০]

ইমাম আল-কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নবী ও মুমিনদের জন্য শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের যে বিধান দিয়েছেন, তা যদি না থাকতো তবে শিরকপন্থীরা আধিপত্য বিস্তার করত এবং ধর্মপ্রাণ লোকদের নির্মিত ইবাদতগাহগুলো অকেজো করে দিত। কিন্তু তিনি লড়াইকে আবশ্যক করার মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছেন, যাতে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা ইবাদতের জন্য অবসর পান। আর এটি আশ্চর্যের কিছু নয়, কারণ মসজিদ হলো আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ড, এবং এটি
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৮)
قلعة الإيمان ومنطلق إعلان التوحيد لله سبحانه وتعالى، فهي المدرسة التي خرجت الجيل الأول، ولا زالت بحمد الله تخرج الأجيال، وهي ميدان العلم والشورى والتعارف والتآلف، إليها يرجع المسافر أول ما يصل إلى بلده شاكرا الله سلامة العودة مستفتحا أعماله بعد العودة بالصلاة في المسجد إشعارا بأهميته وتقديمه على المنزل تذكيرا بنعمة الله سبحانه وتوثيقا للرابطة القوية للمسجد. ولذا تجد أن النبي صلى الله عليه وسلم أول عمل قام به بعد هجرته من مكة إلى المدينة بناء المسجد المسمى مسجد قباء.

والذي ورد ذكره في القرآن الكريم في قوله سبحانه: {لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَنْ تَقُومَ فِيهِ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ} [التوبة: 108] وسار على ذلك الخلفاء الراشدون وغيرهم في القرون المفضلة، ومن بعدهم من السلف الصالح، حتى يرث الله الأرض ومن عليها.

ويقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى: وكانت مواضع الأئمة ومجامع الأمة هي المساجد، فإن النبي صلى الله عليه وسلم أسس مسجده على التقوى، ففيه الصلاة والقراءة والذكر وتأمير الأمراء وتعريف العرفاء، وفيه يجتمع المسلمون عنده لما أهمهم من أمر دينهم ودنياهم.
এটি ঈমানের দুর্গ এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার একত্ববাদ (توحيد) ঘোষণার সূতিকাগার। এটি এমন এক মাদ্রাসা যা প্রথম প্রজন্মকে গড়ে তুলেছে এবং আল্লাহর প্রশংসায় এখনও প্রজন্ম গড়ে তুলছে। এটি জ্ঞান (علم), পরামর্শ (شورى), পারস্পরিক পরিচিতি ও সম্প্রীতির ময়দান। মুসাফির তার দেশে পৌঁছানোর পর সর্বপ্রথম আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং প্রত্যাবর্তনের পর মসজিদে সালাত (صلاة) আদায়ের মাধ্যমে নিজের কাজ শুরু করার জন্য সেখানে ফিরে আসে। এটি মসজিদের গুরুত্ব এবং গৃহের ওপর এর অগ্রাধিকারের বহিঃপ্রকাশ, যা আল্লাহর নেয়ামতকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং মসজিদের সাথে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে। এই কারণেই আপনি লক্ষ্য করবেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের পর সর্বপ্রথম যে কাজটি করেছিলেন তা হলো মসজিদে কুব্বা নির্মাণ।

যার উল্লেখ পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {নিশ্চয়ই যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার (تقوى) ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটিই আপনার সালাত আদায়ের জন্য অধিকতর যোগ্য। সেখানে এমন লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে এবং আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।} [সূরা আত-তাওবাহ: ১০৮]। ন্যায়নিষ্ঠ খলিফাগণ (الخلفاء الراشدون) এবং শ্রেষ্ঠ যুগসমূহের (القرون المفضلة) অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের পরবর্তী নেককার পূর্বসূরীগণ (السلف الصالح) এই পথই অনুসরণ করেছেন, যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও এর উপর যা আছে তার উত্তরাধিকারী হবেন।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইমামদের অবস্থানস্থল এবং উম্মতের মিলনস্থল ছিল মসজিদসমূহ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মসজিদ তাকওয়ার (تقوى) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেখানে সালাত (صلاة), তিলাওয়াত, জিকির (ذكر), নেতৃবর্গ (أمراء) নিযুক্তকরণ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের (عرفاء) সাথে পরিচিতি সম্পন্ন হতো। সেখানে মুসলমানগণ তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর নিকট একত্রিত হতেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[مشروعية عمارة المساجد الحسية]

مشروعية عمارة المساجد الحسية أ- العمارة لغة: ما يعمر به المكان، وعمارة المساجد بمعناها العام تشمل العمارة بنوعيها الحسية والمعنوية، فهي تشمل بناء وإنشاء المساجد، وترميمها وخدمتها وتنظيفها، والصلاة فيها ولزومها وعبادة الله فيها، وتعيين الأئمة والمؤذنين فيها، وفتح حلق الذكر فيها من تعليم القرآن والفقه والتفسير والحديث وغيرها من العلوم النافعة، وإجراء الأرزاق على العاملين فيها، وإنارتها وفرشها والوقف عليها، مما فيه مصلحة لها، كوقف مساكن للإمام والمؤذن والمعلم وطلاب العلم فيها وعمل المياضئ وغير ذلك من مصالحها.

قال القرطبي في تفسير قوله تعالى: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ} [التوبة: 18] الآية. قال: قد أثبت الإيمان في الآية لمن عَمَّر المساجد بالصلاة فيها وتنظيفها وإصلاح ما وهي منها وآمن بالله.

 

‌‌[الأدلة من الكتاب على مشروعية عمارة المساجد]

الأدلة من الكتاب على مشروعية عمارة المساجد جاء الحث على عمارة المساجد في كتاب الله تعالى إما
‌‌[মসজিদের বাহ্যিক আবাদ বা নির্মাণের বৈধতা]

মসজিদের বাহ্যিক আবাদ বা নির্মাণের বৈধতা। ক- শাব্দিক অর্থ: যা দ্বারা কোনো স্থান আবাদ করা হয়। মসজিদের আবাদ বলতে এর ব্যাপক অর্থে বাহ্যিক ও আত্মিক—উভয় প্রকার আবাদকেই বোঝায়। এটি মসজিদের নির্মাণ ও প্রতিষ্ঠা, এর সংস্কার, সেবা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, তথায় নামাজ আদায়, তথায় অবস্থান ও আল্লাহর ইবাদত করা, ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগ করা, তথায় কুরআন, ফিকহ, তাফসির, হাদিস এবং অন্যান্য উপকারী ইলম শিক্ষার জন্য জিকিরের হালকাসমূহ উন্মুক্ত করা, মসজিদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করা, মসজিদের আলোকসজ্জা ও বিছানার ব্যবস্থা করা এবং মসজিদের স্বার্থে ওয়াকফ করার বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন: ইমাম, মুয়াজ্জিন, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা এবং ওজুখানা নির্মাণসহ মসজিদের অন্যান্য কল্যাণমূলক কাজ।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহর মসজিদসমূহ কেবল তারাই আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান আনে} [আত-তাওবা: ১৮] - এই আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে ইমাম আল-কুরতুবি বলেন: তিনি এই আয়াতে তাদের জন্য ঈমান সাব্যস্ত করেছেন যারা নামাজ আদায়, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং জীর্ণ অংশ সংস্কারের মাধ্যমে মসজিদ আবাদ করেন এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেন।

 

‌‌[মসজিদ আবাদের বৈধতার বিষয়ে কুরআন থেকে দলিলসমূহ]

মসজিদ আবাদের বৈধতার বিষয়ে কুরআন থেকে দলিলসমূহ: মহান আল্লাহর কিতাবে মসজিদ আবাদ করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, চাই তা...
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১০)
في عموم الأدلة الدالة على مشروعية الإنفاق في سبيل الخير وإما نصا صريحا في عمارة المساجد فهي على نوعين:

النوع الأول: النصوص العامة: ومن ذلك:

(1) قوله تعالى: {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ} [آل عمران: 92] ففي هذه الآية حث على الإنفاق في سبيل الخير، واستنهاض للهمم في الإنفاق من أغلى ما يملكه الإنسان في سبيل الله تعالى، ولذلك لما سمع أبو طلحة رضي الله عنه هذه الآية بادر إلى وقف أحب أمواله إليه، وهي بيرحاء (حديقة مشهورة) .

(2) قوله تعالى: {وَمَا يَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ يُكْفَرُوهُ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالْمُتَّقِينَ} [آل عمران: 115]

النوع الثاني: الأدلة الخاصة بعمارة المساجد: ومن ذلك:

(1) قوله تعالى: {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ} [النور: 36] والمراد بالبيوت هنا المساجد، ومعنى
কল্যাণের পথে ব্যয় করার বৈধতা (مشروعية) নির্দেশকারী সাধারণ দলীলসমূহ (الأدلة) এবং মসজিদ নির্মাণের ব্যাপারে স্পষ্ট পাঠ্য (نص صريح) মূলত দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: সাধারণ পাঠ্যসমূহ (النصوص العامة): যার অন্তর্ভুক্ত হলো:

(১) মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা কক্ষনো পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে ব্যয় করো। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।} [আলে ইমরান: ৯২]। এই আয়াতে কল্যাণের পথে ব্যয় করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে এবং মানুষের মালিকানাধীন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করার উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলা হয়েছে। এই কারণেই যখন আবু তালহা (রা.) এই আয়াতটি শুনলেন, তিনি তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সম্পদটি ওয়াকফ (وقف) করার জন্য দ্রুত এগিয়ে এলেন, যা ছিল 'বাইরুহা' (একটি সুপরিচিত বাগান)।

(২) মহান আল্লাহর বাণী: {তারা ভালো কাজ যা-ই করুক না কেন, তা কস্মিনকালেও অস্বীকার করা হবে না। আর আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।} [আলে ইমরান: ১১৫]

দ্বিতীয় প্রকার: মসজিদ নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট দলীলসমূহ (الأدلة الخاصة): যার অন্তর্ভুক্ত হলো:

(১) মহান আল্লাহর বাণী: {সেই সব ঘরে (মসজিদে), যেগুলোকে সমুন্নত রাখতে এবং যেখানে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন} [আন-নূর: ৩৬]। এখানে ‘ঘরসমূহ’ (البيوت) বলতে মসজিদসমূহকে বোঝানো হয়েছে, আর এর অর্থ হলো...
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১১)
أذن: أي أمر وقضى، ومعنى ترفع: تبنى وتعلى، قاله مجاهد وعكرمة فيما نقله القرطبي.

وقال الشيخ ابن سعدي: {أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ} [النور: 36] هذان مجموع أحكام المساجد، فيدخل في رفعها: بنائها، وكنسها وتنظيفها من النجاسات والأذى، وصونها من المجانين والصبيان الذين لا يتحرزون عن النجاسات، وعن الكفار، وأن تصان عن اللغو فيها، ورفع الأصوات بغير ذكر الله. فالله تعالى أمر ووصى بعمارة المساجد والقيام عليها وصيانتها، بل ذكر تعالى أن عمارة المساجد هي وظيفة الأنبياء كما في قوله تعالى:

(2) {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [البقرة: 127] فالله تعالى يشيد بنبيه وخليله إبراهيم عليه السلام ببناءه للبيت الحرام. وتشير الآية إلى أن بناء المساجد من الأعمال الخيرية التي يثاب عليها الإنسان مع القبول، فجاء في آخر الآية ما يرشد إلى أن بناء البيت من الأعمال الصالحة التي عملها
অনুমতি দিয়েছেন: অর্থাৎ আদেশ করেছেন এবং ফয়সালা করেছেন। আর 'উন্নত করা হবে' (ترفع) এর অর্থ হলো: নির্মাণ করা হবে এবং উচ্চ করা হবে; এটি মুজাহিদ এবং ইকরিমা বর্ণনা করেছেন যা কুরতুবী উদ্ধৃত করেছেন।

শেখ ইবনে সাদী বলেন: {যাতে তা উন্নত করা হয় এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা হয়} [আন-নূর: ৩৬]। এ দু’টি বিষয় মসজিদের যাবতীয় বিধানের সমষ্টি। সুতরাং একে 'উন্নত করার' (رفع) অন্তর্ভুক্ত হলো: তা নির্মাণ করা, ঝাড়ু দেওয়া, অপবিত্রতা ও ময়লা-আবর্জনা থেকে পরিষ্কার রাখা, পাগল ও শিশুদের থেকে সুরক্ষা করা যারা অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকে না এবং কাফিরদের থেকে (হিফাজত করা)। এছাড়াও অনর্থক কথাবার্তা এবং আল্লাহর যিকর ছাড়া উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে একে রক্ষা করা। মহান আল্লাহ মসজিদসমূহ আবাদ করার, সেগুলোর তদারকি করার এবং রক্ষণাবেক্ষণ করার আদেশ ও অসিয়ত করেছেন। বরং আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন যে, মসজিদ আবাদ করা নবীদের দায়িত্ব, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে:

(২) {এবং যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল বায়তুল্লাহর ভিত্তি উত্তোলন করছিল (তখন তারা বলছিল), হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা} [আল-বাকারা: ১২৭]। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী ও খলীল ইবরাহীম আলাইহিস সালামের বায়তুল হারাম নির্মাণের প্রশংসা করছেন। এ আয়াতটি নির্দেশ করে যে, মসজিদ নির্মাণ সেই সব কল্যাণমূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত যার বিনিময়ে মানুষ কবুলিয়াতের সাথে সওয়াবপ্রাপ্ত হয়। আয়াতের শেষে এমন বিষয় এসেছে যা ইঙ্গিত দেয় যে, বায়তুল্লাহ নির্মাণ সেই সব নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত যা তিনি সম্পাদন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১২)
إبراهيم مع ابنه إسماعيل، حيث سألا ربهما أن يتقبل منهما عملهما إنه هو السميع العليم.

(3) قال تعالى: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ فَعَسَى أُولَئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ} [التوبة: 18] ففي هذا النص القرآني شهادة لعُمَّار المساجد، ذلك أن عمارة المساجد من شأن المؤمنين وهم الحقيقيون بعمارة المساجد حسيا ومعنويا.

 

‌‌[الأدلة من السُنَّة على مشروعية عمارة المساجد]

الأدلة من السُنَّة على مشروعية عمارة المساجد وردت أحاديث كثيرة عن النبي صلى الله عليه وسلم في عمارة المساجد وبنائها، فمن ذلك:

(1) حديث عثمان رضي الله عنه وفيه: أني سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «من بنى مسجدا يبتغي به وجه الله بنى الله له مثله في الجنة» .

(2) رواية محمود بن لبيد أن عثمان قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
ইব্রাহিম তার পুত্র ইসমাইলের সাথে, যেখানে তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করেছিলেন যেন তিনি তাদের আমল কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

(৩) মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর মাসজিদসমূহ আবাদ করবেন তারাই, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায় তারা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।} [আত-তাওবাহ: ১৮] সুতরাং এই কুরআনি পাঠে মাসজিদ আবাদকারীদের জন্য একটি সাক্ষ্য রয়েছে, কারণ মাসজিদ আবাদ করা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য এবং তারাই প্রকৃতরূপে মাসজিদকে বাহ্যিক ও আত্মিকভাবে আবাদকারী।

 

‌‌[মাসজিদ আবাদের বৈধতার বিষয়ে সুন্নাহ থেকে প্রমাণাদি]

মাসজিদ আবাদের বৈধতার বিষয়ে সুন্নাহ থেকে প্রমাণাদি: মাসজিদ আবাদ ও তা নির্মাণের বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তন্মধ্যে কয়েকটি হলো:

(১) উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, যাতে রয়েছে: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি মাসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি গৃহ নির্মাণ করবেন» ।

(২) মাহমুদ ইবনে লাবিদ কর্তৃক বর্ণিত বর্ণনা (رواية) যে, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
«من بنى مسجدا لله بنى له في الجنة مثله» .

(3) عن عمر بن الخطاب قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من بنى مسجدا يذكر فيه اسم الله بنى الله له بيتا في الجنة» .

(4) عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من بنى لله مسجدا صغيرا كان أو كبيرا بنى له الله بيتا في الجنة» .

(5) عن جابر بن عبد الله أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من بنى مسجدا لله كمفحص قطاة أو أصغر بنى الله له بيتا في الجنة» .

(6) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن مما يلحق المؤمن من عمله وحسناته بعد موته عِلْما عَلَّمه ونشره، وولدا صالحا تركه، ومصحفا ورثه، أو مسجدا بناه، أو بيتا لابن السبيل بناه، أو نهرا أجراه، أو صدقة أخرجها من ماله في صحته وحياته يلحقه من بعد موته» .

(7) ما رواه البخاري وغيره عن أنس رضي الله عنه لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة أمر ببناء المسجد، فأرسل إلى بني النجار فقال:
«যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন।» .

(৩) উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এমন একটি মসজিদ নির্মাণ করবে যেখানে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।» .

(৪) আনাস থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, তা ছোট হোক কিংবা বড়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।» .

(৫) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য তিতির পাখির ডিম পাড়ার বাসার মতো কিংবা তার চেয়েও ছোট একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।» .

(৬) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও পুণ্যকর্মের মধ্য থেকে যা তার সাথে যুক্ত হয় তা হলো: সেই জ্ঞান যা সে শিক্ষা দিয়েছে ও প্রচার করেছে, তার রেখে যাওয়া সৎ সন্তান, উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাওয়া পবিত্র কুরআনের কপি, তার নির্মিত মসজিদ, মুসাফিরদের জন্য নির্মিত সরাইখানা, তার প্রবাহিত করা নদী অথবা সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় তার সম্পদ থেকে দান করা সদকা; এই আমলগুলো তার মৃত্যুর পর তার সাথে যুক্ত হয়।» .

(৭) যা বুখারি ও অন্যান্যরা আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় আগমন করলেন, তখন তিনি মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি বনু নাজ্জার গোত্রের নিকট লোক পাঠালেন এবং বললেন:
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৪)
«يا بني النجار ثامنوني بحائطكم هذا» .

 

‌‌[الأدلة على مشروعية المساجد الحسية من آثار الصحابة والتابعين]

ما أثر عن الصحابة والتابعين في مشروعية عمارة المساجد لقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أسوة حسنة لأصحابه رضوان الله عليهم، فحين بدأ الرسول صلى الله عليه وسلم لم يتخلفوا عن مشاركته في عمارة المسجد، بل ساهموا في توسعة المسجد مرات متعاقبة، وكان لأحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم في عمارة المساجد مكانة في نفوس أصحابه، فأنشأوا المساجد وعمروها في أماكن مختلفة، ومواقع متعددة أشير إلى بعض مساهمات الصحابة والتابعين في هذا المجال، فمن ذلك:

(1) بناء أبي بكر الصديق مسجدا بفناء داره وذلك قبل الهجرة، مما يعد أول ما بني من المساجد في الإسلام، فعن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت: (لم أعقل أبوي إلا وهما يدينان الدين، ولم يمر علينا يوم إلا يأتينا فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم طرفي النهار وبكرة وعشية، ثم بدا لأبي بكر فابتنى مسجدا بفناء داره،
«হে বনী নাজ্জার! তোমরা আমার কাছে তোমাদের এই বাগানটির মূল্য নির্ধারণ করো»।

 

‌‌[সাহাবী (صحابة) ও তাবেঈগণের (تابعين) বর্ণনা (أثر) থেকে দৃশ্যমান মসজিদ নির্মাণের বৈধতার প্রমাণাদি]

মসজিদ নির্মাণের বৈধতা সম্পর্কে সাহাবী (صحابة) ও তাবেঈগণের (تابعين) নিকট থেকে যা বর্ণিত (أثر) হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের জন্য এক সর্বোত্তম আদর্শ ছিলেন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (মসজিদ নির্মাণ) শুরু করলেন, তখন তাঁরা তাঁর সাথে মসজিদ নির্মাণে অংশগ্রহণ করতে পিছিয়ে থাকেননি; বরং তাঁরা ধারাবাহিকভাবে একাধিকবার মসজিদ সম্প্রসারণে অবদান রেখেছেন। মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহ তাঁর সাহাবীদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ফলে তাঁরা বিভিন্ন স্থানে ও বহুবিধ অবস্থানে মসজিদ স্থাপন ও আবাদ করেছিলেন। এই ক্ষেত্রে সাহাবী (صحابة) ও তাবেঈগণের (تابعين) কিছু অবদানের কথা আমি উল্লেখ করছি, যার অন্তর্ভুক্ত হলো:

(১) হিজরতের পূর্বে আবু বকর সিদ্দিক (রা.) কর্তৃক তাঁর ঘরের আঙিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করা, যা ইসলামে নির্মিত প্রথম মসজিদগুলোর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমি আমার পিতামাতাকে দ্বীনের অনুসারী হিসেবেই বড় হতে দেখেছি। আমাদের ওপর এমন কোনো দিন অতিবাহিত হতো না যে দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের দুই প্রান্তে—সকাল ও সন্ধ্যায়—আমাদের এখানে আসতেন না। অতঃপর আবু বকরের মনে এক সংকল্প জাগল এবং তিনি তাঁর ঘরের আঙিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فكان يصلي فيه ويقرأ القرآن، فيقف عليه نساء المشركين وأبناؤهم يعجبون منه وينظرون إليه، وكان أبو بكر رجلا بكاء لا يملك عينيه إذا قرأ القرآن، فأفزع ذلك أشراف قريش من المشركين) .

(2) بناء عمار بن ياسر مسجدا يصلي فيه، وهو أول ما بني في الإسلام بالمدينة، فقد ذكر الجراعي بعض الروايات التي تفيد أن أول من اتخذ مسجدا في بيته يصلي فيه عمار بن ياسر. وأشار إلى سبق أبي بكر لعمار في بناء المسجد، فيكون المراد أن عمار بنى أول مسجد في الإسلام بالمدينة.

(3) مشاركة الصحابة رضوان الله عليهم في بناء مسجد قباء، وهو المسجد الذي أسس على التقوى المذكور في قوله تعالى: {لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَنْ تَقُومَ فِيهِ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ} [التوبة: 108] ومسجد قباء كان أسس بالمدينة أول يوم، فإنه بني قبل مسجد النبي صلى الله صلى الله عليه وسلم. ولقد قام رسول الله صلى الله عليه وسلم يشاركه صحابته الكرام ببناء مسجد قباء، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم أول
তিনি সেখানে নামাজ পড়তেন এবং কুরআন তিলাওয়াত করতেন। ফলে মুশরিকদের নারী ও সন্তানরা সেখানে দাঁড়িয়ে যেত, তারা তা দেখে বিস্মিত হতো এবং তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকত। আবু বকর (রা.) ছিলেন অতিশয় ক্রন্দনশীল ব্যক্তি; কুরআন পাঠ করার সময় তিনি তাঁর অশ্রু সংবরণ করতে পারতেন না। এটি মুশরিকদের মধ্য হতে কুরাইশ নেতাদের আতঙ্কিত করে তুলল।

(2) আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.) কর্তৃক একটি মসজিদ নির্মাণ করা যেখানে তিনি নামাজ পড়তেন। আর এটিই ছিল মদিনায় ইসলামের প্রথম নির্মিত (মসজিদ)। আল-জুরায়ি এমন কিছু বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে, আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.)-ই প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁর ঘরে নামাজ পড়ার জন্য একটি মসজিদ নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে আবু বকরের আম্মারের চেয়ে অগ্রগামী হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। সুতরাং এর উদ্দেশ্য হলো—আম্মার মদিনায় ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।

(3) মসজিদে কুবা নির্মাণে সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর অংশগ্রহণ। আর এটিই হলো সেই মসজিদ যার ভিত্তি তাকওয়ার ওপর স্থাপিত, যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে উল্লিখিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই যে মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর স্থাপিত হয়েছে, তা আপনার দাঁড়ানোর জন্য অধিকতর উপযুক্ত। সেখানে এমন সব লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে এবং আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।" [আত-তওবা: ১০৮]। মসজিদে কুবা মদিনায় প্রথম দিনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদের পূর্বেই নির্মিত হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্মানিত সাহাবীদের সাথে নিয়ে মসজিদে কুবা নির্মাণে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন প্রথম...
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
مَنْ وضع حجرا في قبلته، ثم جاء أبو بكر فوضع حجرا إلى جانب حجر رسول الله، ثم جاء عمر بحجر فوضعه إلى حجر أبى بكر، ثم جاء عثمان بحجر فوضعه إلى جنب حجر عمر، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليضع كل رجل حجره حيث أحب» .

(4) المشاركة في بناء مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم: فعن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قدم إلى المدينة فنزل في علو المدينة في حي يقال لهم بنو عمرو بن عوف، فأقام فيهم أربع عشرة ليلة، ثم إنه أرسل إلى ملأ بني النجار فجاءوا متقلدين بسيوفهم. قال: فكأني أنظر إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم على راحلته وأبو بكر ردفه، وملأ بني النجار حوله حتى ألقى بفناء أبي أيوب. قال: فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي حيث أدركته الصلاة، ويصلي في مرابض الغنم، ثم إنه أمر بالمسجد. قال: فأرسل إلى ملأ بني النجار فجاءوا فقال صلى الله عليه وسلم: «يا بني النجار ثامنوني بحائطكم هذا» قالوا: لا والله لا نطلب ثمنه إلا إلى الله. قال أنس: فكان فيه ما أقول: كان فيه نخل وقبور
যে ব্যক্তি তাঁর কিবলার দিকে একটি পাথর স্থাপন করলেন, এরপর আবু বকর আসলেন এবং রাসূলুল্লাহর পাথরের পাশে একটি পাথর স্থাপন করলেন, অতঃপর উমর একটি পাথর নিয়ে আসলেন এবং তা আবু বকরের পাথরের পাশে স্থাপন করলেন, এরপর উসমান একটি পাথর নিয়ে আসলেন এবং তা উমরের পাথরের পাশে স্থাপন করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "প্রত্যেক ব্যক্তি যেন তার পাথর সেখানে রাখে যেখানে সে পছন্দ করে।" .

(৪) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদ নির্মাণে অংশগ্রহণ: আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় আগমন করলেন এবং মদিনার উচ্চভূমিতে বনু আমর ইবনে আউফ নামক গোত্রে অবতরণ করলেন। তিনি সেখানে চৌদ্দ রাত অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বনু নাজ্জারের নেতৃবৃন্দের নিকট সংবাদ পাঠালেন; তারা তলোয়ার পরিহিত অবস্থায় আসলেন। আনাস (রা.) বলেন: আমি যেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর সওয়ারির পিঠে দেখতে পাচ্ছি এবং আবু বকর তাঁর পিছনে বসা ছিলেন, আর বনু নাজ্জারের নেতৃবৃন্দ তাঁর চারপাশে ছিলেন, যতক্ষণ না তিনি আবু আইয়ুবের আঙিনায় অবতরণ করলেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেখানেই সালাতের সময় হতো সেখানেই সালাত আদায় করতেন এবং তিনি ভেড়ার খোঁয়াড়েও সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিলেন। তিনি বনু নাজ্জারের নেতৃবৃন্দের নিকট সংবাদ পাঠালেন। তারা আসলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে বনু নাজ্জার! তোমরা তোমাদের এই বাগানটির মূল্য নির্ধারণ করো।" তারা বলল: "না, আল্লাহর কসম! আমরা এর মূল্য কেবল আল্লাহর নিকটই প্রত্যাশা করি।" আনাস বলেন: সেখানে আমি যা বলছি তা বিদ্যমান ছিল: তাতে ছিল খেজুর গাছ এবং কবরসমূহ...
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
المشركين وخرب، فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالنخل فقطع، وبقبور المشركين فنبشت، وبالخرب فسويت قال: فصفوا النخل قبلة وجعلوا عضادتيه حجارة، ولم يكتف عمر ببناء المسجد الأقصى فقط، بل أمر ببناء مسجد عند كل كنيسة.

بالإضافة إلى إنشاء المساجد فقد كان للصحابة والتابعين جهود مشكورة في أعمال التوسعة للمساجد القائمة، وسأقتصر على ذكر بعض التوسعات في المساجد الثلاثة فقط.

أولا: المسجد الحرام: بادر صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم والتابعون إلى توسعة المسجد الحرام كلما اقتضت الحاجة لذلك، فكانت أول توسعة للمسجد الحرام في خلافة عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ثم في عهد عثمان رضي الله عنه وعبد الله بن الزبير، ثم توالت التوسعات من حكام المسلمين من أمويين وعباسيين ومماليك وعثمانيين.

ثم بعد ذلك تعاقب على توسعته وعمارته حكام المسلمين على مر التاريخ، فعمَّره المماليك ثم العثمانيون، حتى كانت العمارة والتوسعة العملاقة في العهد السعودي والتي لم
...মুশরিকদের এবং ধ্বংসাবশেষ; অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুর গাছগুলো কাটার নির্দেশ দিলেন এবং সেগুলো কাটা হলো, মুশরিকদের কবরগুলো খনন করার নির্দেশ দিলেন এবং সেগুলো খুঁড়ে ফেলা হলো, আর ধ্বংসাবশেষগুলো সমান করার নির্দেশ দিলেন এবং সেগুলো সমান করা হলো। তিনি বলেন: এরপর তারা খেজুর গাছগুলোকে কিবলার দিকে সারিবদ্ধ করলেন এবং এর দুই পাশের চৌকাঠ পাথর দিয়ে তৈরি করলেন। আর ওমর (রা.) কেবল মসজিদুল আকসা নির্মাণ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি প্রতিটি গির্জার পাশে একটি করে মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান মসজিদগুলোর সম্প্রসারণের কাজে সাহাবী (صحابة) ও তাবেয়ীগণের (تابعين) প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ছিল। আমি কেবল তিনটি প্রধান মসজিদের কিছু সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব।

প্রথমত: মসজিদুল হারাম: যখনই প্রয়োজন হয়েছে, তখনই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবী (صحابة) এবং তাবেয়ীগণ (تابعين) মসজিদুল হারাম সম্প্রসারণে উদ্যোগী হয়েছেন। মসজিদুল হারামের প্রথম সম্প্রসারণ হয়েছিল ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর খিলাফতকালে। এরপর উসমান (রা.) এবং আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের (রা.)-এর আমলে। এরপর উমাইয়া, আব্বাসীয়, মামলুক এবং উসমানীয় মুসলিম শাসকদের হাত ধরে একের পর এক সম্প্রসারণের কাজ চলতে থাকে।

এরপর ইতিহাসের পরিক্রমায় মুসলিম শাসকরা পর্যায়ক্রমে এর সম্প্রসারণ ও নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান। মামলুকরা এর সংস্কার করেন, এরপর উসমানীয়রা; অবশেষে সৌদি যুগে এক বিশাল নির্মাণ ও সম্প্রসারণ কাজ সম্পাদিত হয় যা ইতিপূর্বে কখনো...
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
تتوقف حتى الآن، وآخرها توسعة خادم الحرمين الشريفين الملك فهد بن عبد العزيز حفظه الله، وهي مستمرة ومتجددة لا تتوقف.

ثانيا: المسجد النبوي: كما قام صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم والتابعون بتوسعة المسجد الحرام فلم يقصروا في عمارة وتوسعة المسجد النبوي الشريف فأول توسعة للمسجد النبوي الشريف كانت في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، حينما دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى توسعة المسجد، فبادر عثمان بن عفان رضي الله عنه بالقيام بتكليف هذه التوسعة، فعن قتادة رضي الله عنه قال: كانت بقعة إلى جانب المسجد، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «من يشتريها ويوسعها في المسجد وله مثلها في الجنة» فاشتراها عثمان فوسعها في المسجد، وفي عهد أبي بكر الصديق رضي الله عنه احتاج المسجد إلى بعض الإصلاحات، فجدده أبو بكر رضي الله عنه، وفي خلافة عمر بن الخطاب قام عمر رضي الله عنه بتوسعته وبنائه سنة سبع عشرة للهجرة.

وفي عهد عثمان رضي الله عنه جدده عثمان تجديدا
এখন পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে, যার সর্বশেষটি হলো দুই পবিত্র মসজিদের সেবক বাদশাহ ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) এর সময়ের সম্প্রসারণ; যা একটি চলমান ও নবায়নকৃত প্রক্রিয়া এবং কখনো থেমে থাকে না।

দ্বিতীয়ত: মসজিদে নববী: যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (صحابة) এবং তাবেয়ীগণ (التابعون) মসজিদুল হারামের সম্প্রসারণ করেছিলেন, তেমনি তাঁরা মসজিদে নববী শরীফের নির্মাণ ও সম্প্রসারণেও কোনো ত্রুটি করেননি। মসজিদে নববী শরীফের প্রথম সম্প্রসারণ সংঘটিত হয়েছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশাতেই; যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদ সম্প্রসারণের আহ্বান জানালেন, তখন উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই সম্প্রসারণের ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসেন। কাতাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মসজিদের পাশে একটি ভূমিখণ্ড ছিল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «কে এই ভূমিটি ক্রয় করে তা মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করবে, যার বিনিময়ে জান্নাতে তার জন্য অনুরূপ প্রতিদান থাকবে?» তখন উসমান সেটি ক্রয় করেন এবং মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করে এর সম্প্রসারণ করেন। আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে মসজিদের কিছু সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিলে তিনি তা সংস্কার করেন। অতঃপর ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে সতের হিজরি সালে তিনি মসজিদটির সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণ করেন।

এবং উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাসনামলে তিনি পুনরায় এর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও নবায়ন করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
كاملا سنة تسع وعشرين هجرية وزاد فيه زيادة كبيرة، فزاد فيه من ناحية القبلة ومن الغرب، وزاد فيه من الشمال أيضا، وبنى جداره بالحجارة المنقوشة، وطلى الجدران بالقصة أو الجبس، وجعل عمده من الحجارة بدل اللبن، وسقفه بخشب الساج، وفتح نوافذ في أعلى الجدار قرب السقف.

ثم بعد ذلك توالت التوسعات وتحسين العمارة على أيدي الحكام المسلمين من أمويين وعباسيين وغيرهم، حتى أعاد الخليفة الوليد بن عبد الملك بناءه فيما بين سنتي ثمان وثمانين وإحدى وستين هجرية، وذلك على أيدي واليه في المدينة عمر بن عبد العزيز، فزاد فيه من جهة الشرق والغرب والشمال، وأدخل فيه حجر زوجات النبي صلى الله عليه وسلم، وكان البناء من الحجارة المنقوشة، وجعل سواريه من الحجارة المطابقة، وحشيت بعمد الحديد. إلى أن جاءت التوسعة السعودية الكبيرة وآخرها توسعة خادم الحرمين الشريفين العملاقة جزاه الله عن المسلمين خيرا.

ثالثا: المسجد الأقصى: لا شك أن أول من بنى المسجد الأقصى بعد الفتح
পুরো উনত্রিশ হিজরি সালে এবং এতে বড় ধরনের পরিবর্ধন সাধন করেন। তিনি কিবলার দিক থেকে এবং পশ্চিম দিক থেকে অংশ বর্ধিত করেন, সেই সাথে উত্তর দিক থেকেও অংশ বর্ধিত করেন। তিনি এর দেয়াল খোদাই করা পাথর দিয়ে নির্মাণ করেন, দেয়ালগুলোতে জিপসাম বা চুনাপাথরের প্রলেপ দেন, এর স্তম্ভগুলো কাঁচা ইটের পরিবর্তে পাথর দিয়ে তৈরি করেন এবং এর ছাদ সাজ কাষ্ঠ দিয়ে নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি ছাদের নিকটবর্তী দেয়ালের উপরিভাগে জানালা স্থাপন করেন।

এরপর উমাইয়া, আব্বাসীয় ও অন্যান্য মুসলিম শাসকদের হাতে ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণ ও স্থাপত্যশৈলীর উন্নয়ন চলতে থাকে। অবশেষে খলিফা ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক ৮৮ থেকে ৬১ হিজরি সালের মধ্যে এটি পুনর্নির্মাণ করেন। মদিনায় তাঁর গভর্নর উমর ইবনে আব্দুল আজিজের তত্ত্বাবধানে এই কাজ সম্পন্ন হয়। তিনি এর পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর দিকে অংশ বর্ধিত করেন এবং এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নীগণের কক্ষসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেন। এর নির্মাণকাজ ছিল খোদাই করা পাথর দিয়ে এবং তিনি এর স্তম্ভগুলো সুবিন্যস্ত পাথর দিয়ে তৈরি করেন, যা লোহার দণ্ড দিয়ে মজবুত করা হয়েছিল। পরিশেষে সৌদি শাসনামলের বৃহৎ সম্প্রসারণ এবং সর্বশেষ খাদেমুল হারামাইন শরীফাইনের বিশাল সম্প্রসারণ সম্পন্ন হয়; আল্লাহ তাঁকে মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

তৃতীয়ত: মসজিদুল আকসা: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিজয়ের পর প্রথম যিনি মসজিদুল আকসা নির্মাণ করেন...
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২০)
الإسلامي هو أمير المؤمنين عمر بن الخطاب، ولقد اهتم الخلفاء والملوك ببناء المسجد الأقصى وعمارته في مختلف العصور، وبقي عامرا حتى احتله اليهود فهدموا كثيرا من المباني الإسلامية، وأحرقوا المسجد وأقاموا الحفريات حوله نسأل الله تعالى أن يخلصه من أيديهم.
ইসলামি বিজেতা হলেন আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব। বিভিন্ন যুগে খলিফা ও রাজন্যবর্গ মসজিদুল আকসার নির্মাণ ও সংস্কারের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং ইহুদিদের দখলের পূর্ব পর্যন্ত এটি আবাদ ছিল। অতঃপর তারা অসংখ্য ইসলামি স্থাপনা ধ্বংস করেছে, মসজিদে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং এর চতুর্পাশে খননকার্য পরিচালনা করেছে। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে তাদের হাত থেকে মুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌[مشروعية الوقف على المساجد]

مشروعية الوقف على المساجد الوقف لغة: مصدر وقف وهو الحبس والتسبيل.

وشرعا: هو تحبيس الأصل وتسبيل المنفعة.

قد دل الكتاب والسنة وإجماع الصحابة على مشروعية الأوقاف.

فمن الكتاب: قوله تعالى: {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} [آل عمران: 92] فإن أبا طلحة رضي الله عنه لما سمعها بادر إلى وقف أحب أمواله إليه، وهي بيرحاء (حديقة مشهورة) .

ومن السنة: (1) ما رواه مسلم عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا مات الإنسان انقطع عمله إلا من ثلاثة: إلا من صدقة جارية أو علْم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له» ، والصدقة الجارية محمولة عند العلماء على الوقف، ولذلك قال النووي في شرح هذا الحديث: فيه دليل لصحة أصل الوقف وعظيم ثوابه. . . والصدقة الجارية هي الوقف.
[মসজিদের অনুকূলে ওয়াকফ করার বৈধতা]

মসজিদের অনুকূলে ওয়াকফ করার বৈধতা। শাব্দিক অর্থে ওয়াকফ: এটি ‘ওয়াকফ’ শব্দের মূল ধাতু, যার অর্থ হলো আটকে রাখা এবং উৎসর্গ করা।

শরিয়তের পরিভাষায়: এটি হলো মূল সম্পদকে আটকে রাখা এবং তার উপযোগকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করা।

কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমত ওয়াকফের বৈধতার ওপর প্রমাণ পেশ করে।

কুরআন থেকে দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা কখনোই পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে ব্যয় করো} [আল-ইমরান: ৯২]। আবু তালহা (রা.) যখন এই আয়াতটি শুনলেন, তখন তিনি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ ‘বাইরুহা’ (একটি প্রসিদ্ধ বাগান) ওয়াকফ করার জন্য দ্রুত উদ্যোগ নিলেন।

সুন্নাহ থেকে দলিল: (১) ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি মাধ্যম ব্যতীত তার আমল বন্ধ হয়ে যায়: প্রবহমান দান, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।” আলেমদের নিকট প্রবহমান দান বলতে ওয়াকফকেই বোঝানো হয়েছে। এ কারণেই ইমাম নববী এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: এতে ওয়াকফের মূলভিত্তির বৈধতা (صحة) এবং এর মহান সওয়াবের দলিল রয়েছে... আর প্রবহমান দানই হলো ওয়াকফ।
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২২)
(2) ما رواه البخاري ومسلم عن ابن عمر رضي الله عنهما قال ": أصاب عمر بخيبر أرضا، فأتى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: أصبت أرضا لم أصب مالا قط أنفس منه، فكيف تأمرني به؟ قال: «إن شئت حبست أصلها وتصدقت بها» . فتصدق عمر بأنه لا يباع أصلها ولا يوهب، ولا يورث في الفقراء والقربى والرقاب وفي سبيل الله والضيف وابن السبيل، ولا جناح على من وليها أن يأكل منها بالمعروف، أو يطعم صديقا غير متمول فيه.

قال ابن حجر: وحديث عمر هذا أصل في مشروعية الوقف.

(3) فعل الرسول صلى الله عليه وسلم فقد روى البخاري وغيره عن عمرو بن الحارث ختن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخي جويرية بنت الحارث قال: ما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم عند موته درهما ولا دينارا، ولا عبدا ولا أمة، ولا شيئا إلا بغلته البيضاء وسلاحه، وأرضا جعلها صدقة.

قال ابن حجر: إنه تصدق لمنفعة الأرض، فصار حكمها حكم الوقف.
(2) ইমাম বুখারি ও মুসলিম ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "উমর (রা.) খায়বারে একখণ্ড ভূমি লাভ করেন। অতঃপর তিনি নবী (সা.)-এর নিকট এসে আরজ করলেন: 'আমি এমন একখণ্ড ভূমি লাভ করেছি যা অপেক্ষা অধিক উৎকৃষ্ট সম্পদ আমি ইতিপূর্বে কখনো পাইনি। সুতরাং আপনি আমাকে এ বিষয়ে কী নির্দেশ প্রদান করেন?' তিনি (সা.) বললেন: 'তুমি চাইলে এর মূল সত্ত্বটি সংরক্ষণ করতে পারো এবং তা সদকা করে দিতে পারো।' তখন উমর (রা.) এই মর্মে তা সদকা করেন যে, এর মূল অংশটি বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং তা উত্তরাধিকারসূত্রে বণ্টিত হবে না। এই সদকা অভাবগ্রস্ত, নিকটাত্মীয়, দাসমুক্তি, আল্লাহর পথ, মেহমান ও মুসাফিরদের কল্যাণে ব্যয় হবে। আর এর তত্ত্বাবধানকারীর জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে তা থেকে আহার করা অথবা কোনো বন্ধুকে আহার করানোতে কোনো বাধা নেই, যদি তা থেকে সম্পদ গচ্ছিত করার উদ্দেশ্য না থাকে।"

ইবনে হাজার বলেন: উমর (রা.)-এর এই হাদিসটি ওয়াকফ এর বৈধতার একটি মূল ভিত্তি (أصل)।

(3) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল: ইমাম বুখারি ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শ্যালক এবং জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিস (রা.)-এর ভাই আমর ইবনুল হারিস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর ইন্তেকালের সময় কোনো দিরহাম, দিনার, দাস, দাসী কিংবা অন্য কোনো বস্তু রেখে যাননি; কেবল তাঁর সাদা খচ্চরটি, তাঁর অস্ত্রসমূহ এবং এমন একখণ্ড ভূমি রেখে গিয়েছিলেন যা তিনি সদকা হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন।"

ইবনে হাজার বলেন: নিশ্চয়ই তিনি জমির উপযোগিতা সদকা করেছিলেন, ফলে এর বিধান ওয়াকফের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أما إجماع الصحابة: فقد قال القرطبي: أن المسألة إجماع من الصحابة، وذلك أن أبا بكر وعمر وعثمان وعليا، وعائشة وفاطمة وعمرو بن العاص وابن الزبير وجابرا كلهم وقفوا الأوقاف، وأوقافهم بمكة والمدينة معروفة ومشهورة.

وقال ابن قدامة: قال جابر: لم يكن أحد من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ذا مقرة إلا وقف، وهذا إجماع منهم، ولا شك أن أعظم الأوقاف ما كان على دور العبادة من المساجد والمدارس ونحوها.
সাহাবায়ে কিরামের ঐকমত্য (إجماع) প্রসঙ্গে ইমাম কুরতুবি বলেন: এ বিষয়টি সাহাবায়ে কিরামের একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع); কারণ আবু বকর, উমর, উসমান, আলি, আয়িশা, ফাতিমা, আমর ইবনুল আস, ইবনুয যুবাইর এবং জাবির সকলেই ওয়াকফ করেছেন। মক্কা ও মদীনায় তাঁদের ওয়াকফসমূহ সুপরিচিত এবং প্রসিদ্ধ (مشهور)।

ইবনু কুদামা বলেন: জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে সামর্থ্যবান এমন কেউ ছিলেন না যিনি ওয়াকফ করেননি, আর এটি তাঁদের পক্ষ থেকে একটি ঐকমত্য (إجماع)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহানতম ওয়াকফ হলো ইবাদতখানা যেমন—মসজিদ, মাদ্রাসা ও এজাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য করা ওয়াকফ।
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌[مشروعية الصرف على عمارة المساجد وصيانتها]

مشروعية الصرف على عمارة المساجد وصيانتها عمارة المساجد تحتاج إلى دعم مستمر وتمويل متواصل، حتى يمكن أن تقوم المساجد برسالتها، ويمكن إبراز أهم مصادر تمويل عمارة المساجد على النحو الآتي:

(1) الأوقاف المحبسة لعمارة وصيانة المساجد: وهي الأوقاف التي وقفت على المساجد، واشترط محبسوها أن يصرف ريعها وغلتها في عمارة المساجد وصيانتها، وهذا يعتبر من أهم عمارة المساجد على مر التاريخ.

(2) الأوقاف الخيرية العامة: أي الأوقاف الخيرية التي جعلت غلتها في وجوه البر العامة؛ لأن عمارة المساجد من أعظم وجوه البر.

(3) بيت مال المسلمين: وهي الأموال العامة التي في خزانة الدولة الإسلامية مما ينفق منه على مصالح المسلمين المختلفة (وهو يتمثل في هذا الوقت بوزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد) .

(4) تبرعات أهل الخير والإحسان وتحبساتهم: وما زال
‌[মসজিদ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয়ের বৈধতা]

মসজিদ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয়ের বৈধতা। মসজিদের আবাদ বা নির্মাণের জন্য ক্রমাগত সহায়তা এবং নিরবচ্ছিন্ন অর্থায়নের প্রয়োজন হয়, যাতে মসজিদসমূহ তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারে। মসজিদ নির্মাণের অর্থায়নের প্রধান উৎসসমূহ নিম্নরূপভাবে তুলে ধরা যেতে পারে:

(1) মসজিদ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট ওয়াকফসমূহ: এগুলো হচ্ছে সেই সমস্ত ওয়াকফ যা মসজিদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে এবং ওয়াকফকারীগণ এই শর্তারোপ করেছেন যে, এগুলোর লভ্যাংশ ও উপস্বত্ব মসজিদের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করা হবে। এটি ইতিহাসের পরিক্রমায় মসজিদ আবাদের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।

(2) সাধারণ জনকল্যাণমূলক ওয়াকফসমূহ: অর্থাৎ সেই সকল জনকল্যাণমূলক ওয়াকফ যেগুলোর আয় সাধারণ নেক কাজে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত; কারণ মসজিদ আবাদ করা নেক কাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।

(3) মুসলিমদের বায়তুল মাল: এটি ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে গচ্ছিত সাধারণ সম্পদ যা মুসলিমদের বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক কাজে ব্যয় করা হয় (বর্তমানে যা ইসলামী বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছে)।

(4) দানশীল ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের অনুদান ও তাদের উৎসর্গসমূহ: আর এটি এখনও...
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
هذا المصدر معمول به منذ بدأ الرسول صلى الله عليه وسلم بعمارة مسجده في المدينة المنورة أول ما هاجر إلى يومنا هذا يتسابق أهل الخير من المسلمين على عمارة المساجد وصيانتها والإيصاء بعمارتها وإنشائها لما علموه من حث الشارع على هذه العمارة وترغيبه فيها.

ومن مشاريع الدولة التي تنفذها وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد التي لم يقتصر نشاطها داخل المملكة، بل قامت ببناء المساجد الكثيرة خارج المملكة، وتبرعات أهل الخير والإحسان الذين شجعتهم الدولة على البذل والإحسان انطلاقا من قوله سبحانه وتعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى} [المائدة: 2] فتضافرت جهود الدولة مع جهود المواطنين في سبيل بناء المساجد وصيانتها.
এই উৎসটি তখন থেকেই কার্যকর যখন থেকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের প্রারম্ভে মদিনা মুনাওয়ারায় তাঁর মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। আজ পর্যন্ত মুসলিমদের মধ্য থেকে কল্যাণকামী ব্যক্তিরা মসজিদ নির্মাণ, এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং মসজিদ নির্মাণের অসিয়ত ও তা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করে আসছেন; কারণ তাঁরা এই নির্মাণ কাজের প্রতি শরীয়ত প্রবর্তকের পক্ষ থেকে উৎসাহ ও উদ্দীপনা প্রদানের বিষয়টি অবগত হয়েছেন।

ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত রাষ্ট্রীয় প্রকল্পসমূহ এর অন্তর্ভুক্ত, যাদের কার্যক্রম কেবল কিংডমের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা কিংডমের বাইরেও অসংখ্য মসজিদ নির্মাণ করেছে। এছাড়া রয়েছে সৎ ও পরোপকারী ব্যক্তিদের দান-সদকা, যাদেরকে রাষ্ট্র মহান আল্লাহর এই বাণীর ভিত্তিতে দান ও বদান্যতায় উৎসাহিত করেছে: “তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো” [সূরা আল-মায়িদাহ: ২]। ফলে মসজিদ নির্মাণ ও এর রক্ষণাবেক্ষণের পথে রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টার সাথে নাগরিকদের প্রচেষ্টাও একীভূত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌[الممنوعات في المساجد]

الممنوعات في المساجد 1 - يمنع وينزه المسجد عن النجاسات والقاذورات: وفي الحديث عن أنس بن مالك: «بينما نحن في المسجد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، إذ جاء أعرابي فقام يبول في المسجد، فقال أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: مه مه، قال: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا تزرموه، دعوه) فتركوه حتى بال، ثم إن رسول الله صلى الله عليه وسلم دعاه، فقال: (إن هذه المساجد لا تصلح لشيء من هذا البول ولا القذر، إنما هي لذكر الله عز وجل والصلاة وقراءة القرآن» ، أو كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: فأمر رجلا من القوم فجاء بدلو من ماء فشنه صلى الله عليه وسلم. هذا لفظ مسلم.

2 - يستهين بعض الناس بالبصاق: فلا يبالون بأن يبصقوا على الأرض أو على الجدران في أي مكان حتى في المسجد، وإذا كان البصاق على الأرض في الطرقات أذى وإضرار للغير، ومجافاة لآداب السلوك - وبخاصة بعد انتشار المناديل الورقية وغيرها- فإن فعله في المسجد أكثر إيذاء، حتى عده الشارع خطيئة، فقد روى الشيخان عن قتادة عن أنس عن
‌‌[মসজিদে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ]

মসজিদে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ ১ - মসজিদকে অপবিত্রতা (نجاسات) ও নোংরামি (قاذورات) থেকে পবিত্র রাখা এবং এসব থেকে মুক্ত রাখা আবশ্যক: আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: «একদা আমরা যখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মসজিদে ছিলাম, তখন জনৈক গ্রাম্য লোক এসে মসজিদে প্রস্রাব করতে শুরু করল। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ বললেন: থামো, থামো। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (তাকে বাধা দিও না, তাকে ছেড়ে দাও)। ফলে তারা তাকে প্রস্রাব শেষ করা পর্যন্ত ছেড়ে দিলেন। এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ডেকে বললেন: (নিশ্চয়ই এই মসজিদগুলো প্রস্রাব বা নোংরামির কোনো কিছুর জন্য উপযুক্ত নয়; এগুলো কেবল মহান আল্লাহর জিকির, সালাত এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য)» অথবা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেমনটি বলেছেন। এরপর তিনি উপস্থিত লোকদের একজনকে নির্দেশ দিলে সে এক বালতি পানি নিয়ে এল এবং তিনি তা (প্রস্রাবের ওপর) ঢেলে দিলেন। এটি মুসলিম-এর শব্দবিন্যাস (لفظ)।

2 - কিছু মানুষ থুতু ফেলাকে তুচ্ছজ্ঞান করে: তারা যেখানে-সেখানে, এমনকি মসজিদেও মাটিতে কিংবা দেয়ালে থুতু ফেলতে দ্বিধাবোধ করে না। অথচ রাস্তায় থুতু ফেলা যেখানে অন্যের জন্য কষ্টদায়ক, ক্ষতিকর এবং শিষ্টাচার বহির্ভূত—বিশেষ করে টিস্যু পেপার ও অন্যান্য জিনিসের সহজলভ্যতার পর—সেখানে মসজিদে এমনটি করা আরও বেশি কষ্টদায়ক। এমনকি শরিয়ত প্রণেতা একে অপরাধ (خطيئة) হিসেবে গণ্য করেছেন। বুখারি ও মুসলিম (الشيخان) ক্বাতাদাহ সূত্রে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে...
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
النبي صلى الله عليه وسلم قال: «البزاق في المسجد خطيئة، وكفارتها دفنها» ، وروى مسلم عن أبي ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «عرضت عليَّ أعمال أمتي حسنها وسيئها، فوجدت في محاسن أعمالهم الأذى يماط عن الطريق، ووجدت في مساوئ أعمالها النخاعة تكون في المسجد لا تدفن» .

3 - تنزيه المسجد عن الروائح الكريهة: سواء أكانت من آثار أطعمة أو من غيرها، وقد ترجم البخاري لذلك بقوله: (باب ما جاء في الثوم النيئ والبصل والكراث) . روى مسلم من حديث طويل عن عمر أنه خطب الناس يوم الجمعة، وفيه (ثم إنكم أيها الناس تأكلون شجرتين لا أراهما إلا خبيثتين: هذا البصل والثوم، لقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا وجد ريحهما من الرجل في المسجد، فأمر به فأخرج إلى البقيع فمن أكلها فليمتهما طبخا) قال العلماء: ويلحق بالثوم والبصل والكراث كل ما له رائحة كريهة من المأكولات وغيرها. قال القاضي عياض: ويلحق به من أكل فجلا وكان يتجشأ.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মসজিদে থুতু ফেলা একটি অপরাধ (خطيئة), আর এর কাফফারা (كفارة) হলো তা পুঁতে ফেলা», এবং মুসলিম আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার উম্মতের ভালো ও মন্দ সব আমল আমার সামনে পেশ করা হয়েছে। আমি তাদের ভালো আমলগুলোর মধ্যে পেয়েছি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা, আর তাদের মন্দ আমলগুলোর মধ্যে পেয়েছি মসজিদের ভেতর থাকা শ্লেষ্মা যা পুঁতে ফেলা হয়নি»।

৩ - মসজিদকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখা: চাই তা খাবারের প্রভাব থেকে হোক বা অন্য কোনো কিছু থেকে। ইমাম বুখারি এ বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এই শিরোনামে: (কাঁচা রসুন, পিঁয়াজ ও কুরাছ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে)। মুসলিম ওমরের (রা.) সূত্রে একটি দীর্ঘ হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জুমার দিন লোকদের সামনে খুতবা দিয়েছিলেন, তাতে ছিল: (অতঃপর হে লোকসকল! তোমরা এমন দুটি উদ্ভিদ ভক্ষণ করো যেগুলোকে আমি কেবল নিকৃষ্ট (خبيثتين) হিসেবেই দেখি: এই পিঁয়াজ ও রসুন। আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি, যখন তিনি মসজিদের কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে এগুলোর গন্ধ পেতেন, তখন তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন এবং তাকে বাকী-র দিকে বের করে দেওয়া হতো। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলো খাবে, সে যেন রান্নার মাধ্যমে সেগুলোর গন্ধ দূর করে দেয়)। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: রসুন, পিঁয়াজ ও কুরাছের সাথে এমন সব ভক্ষণীয় বা অন্য কিছু যুক্ত হবে যার দুর্গন্ধ রয়েছে। কাজী আইয়ায বলেছেন: যে ব্যক্তি মূলা খায় এবং যার ঢেকুর আসে, সেও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
4 - لا يدخل المسجد حائض ولا جنب عند جمهور العلماء، لحديث عائشة قالت: (جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم ووجوه بيوت أصحابه شارعة في المسجد، فقال: وجهوا هذه البيوت عن المسجد، ثم دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يصنع القوم شيئا رجاء أن ينزل فيهم رخصة، فخرج إليهم فقال: «وجهوا هذه البيوت عن المسجد، فإني لا أحل المسجد لحائض ولا جنب» ، وقد أجاز بعض العلماء مرور الجنب في المسجد دون الجلوس فيه، لقوله تعالى: {وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا} [النساء: 43] وأجاز بعضهم المكث للجنب في المسجد إن توضأ.

5 - من فقد شيئا فليطلبه خارج المسجد: ولا يرفع صوته في المسجد ليعرف بما ضاع منه، ويطلب ردها ممن وجدها، فقد جاء النهي عن هذا فيما رواه مسلم عن أبى هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من سمع رجلا ينشد ضالة في المسجد، فليقل: لا ردها الله عليك، فإن المساجد لم تبن لهذا» ، وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال:
4 - অধিকাংশ আলিমের (جمهور العلماء) মতে ঋতুবতী নারী এবং অপবিত্র (جنب) ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করবে না। এটি আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন এবং দেখলেন তাঁর সাহাবীদের ঘরের দরজাগুলো মসজিদের দিকে উন্মুক্ত। তখন তিনি বললেন: “এই ঘরগুলোর মুখ মসজিদ থেকে সরিয়ে নাও।” এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রবেশ করলেন এবং লোকেরা কোনো পরিবর্তন করল না এই আশায় যে হয়তো তাদের ব্যাপারে কোনো সহজ বিধান (رخصة) নাযিল হবে। এরপর তিনি তাদের নিকট বের হয়ে এসে বললেন: “এই ঘরগুলোর মুখ মসজিদ থেকে সরিয়ে নাও, কারণ আমি ঋতুবতী ও অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য মসজিদকে বৈধ করি না”)। তবে কোনো কোনো আলিম মসজিদে অবস্থান না করে অপবিত্র (جنব) ব্যক্তির কেবল পথ অতিক্রম করার অনুমতি দিয়েছেন, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {আর অপবিত্র (جنب) অবস্থায় নয়, যতক্ষণ না তোমরা গোসল কর, তবে পথ অতিক্রমকারী (عابري سبيل) হলে ভিন্ন কথা} [আন-নিসা: ৪৩]। আবার তাঁদের কেউ কেউ অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য যদি সে অজু করে তবে মসজিদে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছেন।

5 - যার কোনো কিছু হারিয়ে যায় সে যেন তা মসজিদের বাইরে অনুসন্ধান করে: হারানো জিনিসের পরিচয় দেওয়ার জন্য সে যেন মসজিদে উচ্চস্বরে আওয়াজ না দেয় এবং যে তা পেয়েছে তার থেকে যেন তা ফেরত না চায়। কেননা এ বিষয়ে মুসলিম কর্তৃক আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কাউকে মসজিদে হারানো বস্তু খুঁজতে শোনে, সে যেন বলে: ‘আল্লাহ যেন তা তোমাকে ফিরিয়ে না দেন, কারণ মসজিদসমূহ এই উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়নি’।” এবং আমর ইবন শুআইব তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
«نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الشراء والبيع في المسجد، وأن تنشد فيه الأشعار، وأن تنشد فيه الضالة. . وعن الحلق يوم الجمعة قبل الصلاة» رواه أحمد وأصحاب السنن.

6 - يمنع رفع الصوت في المسجد: استنبط العلماء من النهي عن نشدان الضالة في المسجد، وعن البيع والشراء فيه كراهة رفع الصوت في المسجد؛ لأن رفع الصوت ملازم لما سبق.

7 - يمنع اتخاذ المسجد على قبر: فقد نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك، ولم يشغله مرضه الذي توفي فيه عن أن يحذر الأمة من ذلك، حتى ولو كان القبر قبر نبي، خوفا من المبالغة في تعظيمه والافتتان به، وربما أدَّى ذلك إلى الشرك، كما آل الأمر بكثير من الأمم السابقة.

فعن عائشة قالت: قال النبي صلى الله عليه وسلم في مرضه الذي مات فيه: «لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» .

8 - يمنع شد الرحال لغير المساجد الثلاثة: ولم يرخص النبي صلى الله عليه وسلم إلا إلى المساجد الثلاثة التي قال
«রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করা, কবিতা আবৃত্তি করা এবং হারানো বস্তু অনুসন্ধান করা থেকে নিষেধ করেছেন। . . এবং জুমুআর দিন সালাতের পূর্বে গোল হয়ে বসা থেকেও (নিষেধ করেছেন)» এটি আহমাদ এবং আসহাবে সুনান বর্ণনা করেছেন।

৬ - মসজিদে উচ্চস্বরে শব্দ করা নিষিদ্ধ: আলেমগণ মসজিদে হারানো বস্তু তালাশ করা এবং সেখানে ক্রয়-বিক্রয় করার নিষেধাজ্ঞা থেকে মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলা মাকরূহ হওয়ার বিষয়টি নিরূপণ করেছেন; কারণ উচ্চস্বরে কথা বলা উল্লিখিত কাজগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট।

৭ - কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা নিষিদ্ধ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ থেকে নিষেধ করেছেন। এমনকি তাঁর মৃত্যুশয্যার অসুস্থতাও উম্মতকে এ বিষয়ে সতর্ক করা থেকে তাঁকে বিরত রাখেনি, যদিও সেটি কোনো নবীর কবর হয়; এই ভয়ে যেন তাঁর সম্মান প্রদর্শনে অতিরঞ্জন করা না হয় এবং তাঁকে নিয়ে ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা না থাকে, যা হয়তো শিরকের দিকে ধাবিত করতে পারে, যেমনটি পূর্ববর্তী অনেক উম্মতের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর যে অসুস্থতায় ইন্তেকাল করেন তাতে বলেছিলেন: «আল্লাহ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতি লানত করুন, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে»।

৮ - তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফর করা নিষিদ্ধ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল সেই তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) সফর করার অনুমতি দেননি যে সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন
(খণ্ড: ১) আল-মাশরুউ ওয়াল মামনুউ ফিল মাসজিদ - মুহাম্মাদ আল-আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم «لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام والمسجد الأقصى ومسجدي هذا» . .) أي المسجد النبوي.

نقل القرطبي عن بعض العلماء تلخيصا جيدًا، مما ينبغي أن يراعي في الآداب والممنوعات في المسجد فقال: وقد جمع بعض العلماء في ذلك خمس عشرة خصلة، فقال:

من حرمة المسجد أن يسلم وقت الدخول إن كان القوم جلوسًا، وإن لم يكن في المسجد أحد قال: السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، وأن يركع ركعتين قبل أن يجلس، وألا يشتري أو يبيع، ولا يسل فيه سهما ولا سيفا، ولا يطلب فيه ضالة، ولا يرفع فيه صوتا بغير ذكر الله تعالى، ولا يتكلم فيه بأحاديث الدنيا، ولا يتخطى رقاب الناس، ولا ينازع في المكان، ولا يضيق على أحد في الصف، ولا يمر بين يدي مصل، ولا ييصق ولا يتنخم ولا يتمخط فيه، ولا يفرقع أصابعه، ولا يعبث بشيء من جسده، وأن ينزه عن النجاسات والصبيان والمجانين، وإقامة الحدود، وأن يكثر ذكر الله تعالى ولا يغفل عنه. فإذا فعل هذه الخصال فقد أدَّى حق المسجد، وكان حرزا له وحصنا من الشيطان الرجيم.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদেশের ওপর ভিত্তি করে: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না: মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আকসা এবং আমার এই মসজিদ।" অর্থাৎ মসজিদে নববী।

আল-কুরতুবী কিছু আলেমের পক্ষ থেকে একটি চমৎকার সারসংক্ষেপ উদ্ধৃত করেছেন, যা মসজিদের আদব ও নিষিদ্ধ বিষয়াবলির ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। তিনি বলেন: কিছু আলেম এ বিষয়ে পনেরটি গুণের কথা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

মসজিদের মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হলো— প্রবেশের সময় যদি লোকজন উপবিষ্ট থাকে তবে তাদের সালাম প্রদান করা। আর মসজিদে কেউ না থাকলে বলবে: 'আস-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন' (আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। বসার আগে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা, সেখানে ক্রয়-বিক্রয় না করা, সেখানে তীর বা তলোয়ার কোষমুক্ত না করা, হারানো বস্তু তালাশ না করা এবং মহান আল্লাহর জিকির ব্যতীত অন্য কোনো প্রয়োজনে উচ্চস্বরে কথা না বলা। সেখানে দুনিয়াবি কথাবার্তা না বলা, মানুষের ঘাড় টপকে সামনে না যাওয়া, জায়গা নিয়ে বিবাদ না করা, কাতারে কাউকে সংকীর্ণতায় না ফেলা, কোনো নামাজির সামনে দিয়ে যাতায়াত না করা, থুতু কিংবা কফ-শ্লেষ্মা না ফেলা, আঙুল না ফোটানো এবং শরীরের কোনো অঙ্গ নিয়ে অনর্থক নাড়াচাড়া না করা। এছাড়া নাপাকি, শিশু, পাগল এবং দণ্ডবিধি কার্যকর করা থেকে মসজিদকে পবিত্র রাখা এবং মহান আল্লাহর জিকির অধিক পরিমাণে করা ও তা থেকে গাফেল না হওয়া। যদি কেউ এই কাজগুলো সম্পাদন করে, তবে সে মসজিদের হক আদায় করল এবং তা তার জন্য বিতাড়িত শয়তান থেকে সুরক্ষা ও দুর্গ স্বরূপ হবে।