(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: -)
من أحكام العيدين والكسوف القسم: مسائل فقهية
الكتاب: صلاة العيدين
المؤلف: -
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية باسم: «صلاة العيدين» ، بدون بيانات
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 23
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দুই ঈদ ও গ্রহণের কতিপয় বিধান বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: দুই ঈদের সালাত
লেখক: -
প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই নামে প্রকাশিত হয়েছে: «দুই ঈদের সালাত» , কোনো তথ্য ছাড়াই
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: 23
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: 8 জিলহজ 1431
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ১)
[في أحكام صلاة العيدين]
[مشروعية صلاة العيدين صلاة العيدين]في أحكام صلاة العيدين صلاة العيدين (عيد الفطر وعيد الأضحى) مشروعة بالكتاب والسنة وإجماع المسلمين، وقد كان المشركون يتخذون أعيادا (زمانية ومكانية) فأبطلها الإسلام، وعوض عنها عيد الفطر وعيد الأضحى؛ شكراً لله تعالى على أداء هاتين العبادتين العظيمتين: صوم رمضان، وحج بيت الله الحرام.
* وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ أنه لما قدم المدنية، وكان لأْهِلهاَ يومان يلعبون فيهما؛ قال صلى الله عليه وسلم: " «قد أبدلكم الله بهما خيراً منهما، يوم النحر، ويوم الفطر» " (1) .
فلا تجوز الزيادة على هذين العيدين بإحداث أعياد أخرى كأعياد الموالد وغيرها؛ لأن ذلك زيادة على ما شرعه الله، وابتداع في الدين، ومخالفة لسنة سيد المرسلين، وتشبه بالكافرين، سواء (سُميِّت) أعياداً أو ذكريات أو أياماً أو أسابيع أو أعواماً، كل ذلك ليس من (سُنّة) الإسلام، بل هو من فعل الجاهلية، وتقليد للأمم الكفرية من الدول الغربية وغيرها، وقد قال صلى الله عليه وسلم: " «من تشبه بقوم، فهو منهم» " (2) وقال صلى الله عليه وسلم: " «إن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة» " (3) .
نسأل الله أن يرينا الحق حقا ويرزقنا اتباعه، وأن يرينا الباطل باطلاً ويرزقنا اجتنابه.
وسمي العيد عيداً؛ لأنه يعود ويتكرر كل عام، ولأنه يعود بالفرح والسرور، ويعود الله فيه بالإحسان على عباده إثر أدائهم لطاعته بالصيام والحج.
* والدليل على مشروعية صلاة العيد قوله تعالى: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} [الكوثر: 2] وقوله تعالى: {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى - وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى} [الأعلى: 14 - 15]
وكان النبي صلى الله عليه وسلم والخلفاء من بعده يداومون عليها (4) .
--------------------------------------------
[দুই ঈদের সালাতের বিধান প্রসঙ্গে]
[দুই ঈদের সালাতের বৈধতা]দুই ঈদের সালাতের (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা) বিধানসমূহ কুরআন, সুন্নাহ (سنة) এবং মুসলিমদের ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা বিধিবদ্ধ (مشروع)। মুশরিকরা নির্দিষ্ট সময় ও স্থান কেন্দ্রিক কিছু উৎসব পালন করত, ইসলাম সেগুলোকে বাতিল করে দিয়েছে এবং তার পরিবর্তে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা দান করেছে; যাতে রমজানের সিয়াম পালন এবং আল্লাহর পবিত্র ঘর হজের মতো দুটি মহান ইবাদত সম্পন্ন করার জন্য আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করা যায়।
* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন দেখলেন মদিনাবাসীদের দুটি দিন রয়েছে যাতে তারা খেলাধুলা ও আনন্দ করে। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আল্লাহ তোমাদেরকে এই দুটির পরিবর্তে তদপেক্ষা উত্তম দুটি দিন দান করেছেন; নহরের দিন (ঈদুল আযহা) ও ফিতরের দিন (ঈদুল ফিতর)" (১)।
সুতরাং এই দুই ঈদের অতিরিক্ত অন্য কোনো উৎসব যেমন জন্মবার্ষিকী বা অন্য কিছু উদ্ভাবন করা জায়েজ নেই; কারণ তা আল্লাহর বিধিবদ্ধ বিধানের অতিরিক্ত কিছু করা, দ্বীনের মধ্যে নব-আবিষ্কৃত বিষয় (ابتداع), রাসুলগণের সর্দারের সুন্নাহর (سنة) বিরোধিতা এবং কাফিরদের সদৃশ হওয়া। চাই সেগুলোকে ঈদ বলা হোক বা স্মৃতিচারণ বা দিবস বা সপ্তাহ বা বছর—এর কোনোটিই ইসলামের সুন্নাহর (سنة) অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এগুলো জাহেলি যুগের কর্মকাণ্ড এবং পশ্চিমা বিশ্বসহ অন্যান্য কুফরি জাতির অন্ধ অনুকরণ। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত" (২)। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ (محدثات), এবং প্রত্যেক বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)" (৩)।
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তা অনুসরণের তৌফিক দান করেন, আর বাতিলকে বাতিল হিসেবে দেখান এবং তা বর্জন করার তৌফিক দান করেন।
ঈদকে 'ঈদ' বলা হয় কারণ এটি প্রতি বছর ফিরে আসে এবং বারবার আবর্তিত হয়। এছাড়া এটি আনন্দ ও খুশি নিয়ে ফিরে আসে এবং বান্দারা সিয়াম ও হজের মতো আনুগত্যের কাজ সম্পন্ন করার পর আল্লাহ এতে তাদের ওপর দয়া ও অনুগ্রহ বর্ষণ করেন।
* ঈদের সালাত বিধিবদ্ধ হওয়ার দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন} [কাওসার: ২] এবং তাঁর বাণী: {সফলকাম হয়েছে সেই ব্যক্তি, যে পবিত্রতা অর্জন করেছে - এবং তার রবের নাম স্মরণ করে সালাত আদায় করেছে} [আলা: ১৪-১৫]।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরবর্তী খলিফাগণ নিয়মিত এই সালাত আদায় করতেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ২)
[حضور النساء صلاة العيد]وقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم بها حتى النساء، فيسن للمرأة حضورها غير متطيبة ولا لابسة لثياب زينة أو شهرة؛ لقوله عليه الصلاة والسلام: " «وليخرُجنَ تفلاتٍ» "، ويعتزلن الرجال، " «ويعتزلُ الحيُضُ المصلَّى» " (1) قالت أم عطية رضي الله عنها: " «كنا نُؤْمرُ أن نخرُجَ يوم العيد، حتى تخرُج البِكرُ من خدرها، وحتى تخرج الُحيَّضُ، فيكُن خَلْفَ الناس، فيكبِّرنَ بتكبيِرهم، ويدعُونَ بدعائِهم؛ يرجون بركة ذلك اليومِ وُطهرتَهَ» " (2) .
*والخروج لصلاة العيد وأداء صلاة العيد على هذا النمط المشهودِ من الجميع فيه إظهار لشِعار الإسلام؛ فهي من أعلام الدين الظاهرة.
--------------------------------------------
[ঈদের সালাতে নারীদের উপস্থিতি]নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদেরও এতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং নারীদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার না করে এবং সৌন্দর্য প্রকাশকারী বা লোকদেখানো পোশাক না পরে সেখানে উপস্থিত হওয়া সুন্নাহ (سنة); কারণ তাঁর (عليه الصلاة والسلام) বাণী: "তারা যেন সাধারণ পোশাকে (সুগন্ধিহীন অবস্থায়) বের হয়", এবং তারা পুরুষদের থেকে আলাদা থাকবে, আর "ঋতুবতী নারীরা সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকবে।" (১) উম্মে আতিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: "আমাদের নির্দেশ দেওয়া হতো যেন আমরা ঈদের দিন বের হই, এমনকি কুমারী মেয়েরা তাদের অন্তরাল থেকেও বের হতো এবং ঋতুবতী নারীরাও বের হতো। তারা মানুষের পেছনে অবস্থান করত এবং তাদের সাথে তাকবির পাঠ করত ও তাদের সাথে দুআ করত; তারা সেই দিনের বরকত (بركة) ও পবিত্রতা আশা করত।" (২) ।
*ঈদের সালাতের জন্য বের হওয়া এবং সকলের উপস্থিতিতে এই পদ্ধতিতে ঈদের সালাত আদায় করার মধ্যে ইসলামের নিদর্শনের বহিঃপ্রকাশ ঘটে; এটি দ্বীনের অন্যতম প্রকাশ্য নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩)
[أولُ صلاةٍ صلاها النبي صلى الله عليه وسلم للعيد]* وأولُ صلاةٍ صلاها النبي صلى الله عليه وسلم للعيد يوم الفِطرِ من السنة الثانيةِ من الهجرة، ولم يزلْ صلى الله عليه وسلم يواظبُ عليها حتى فارق الدنيا، صلوات الله وسلامهُ عليه.
واستمر عليها المسلمون خَلفاً عن سلف، فلو تركها أهلُ بلدٍ مع استكمال شروطها فيهم، قاتلهم الإمامُ؛ لأنها من أعلام الدينِ الظاهرة كالأذان.
[নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আদায়কৃত প্রথম ঈদের সালাত]* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরি দ্বিতীয় বর্ষের ঈদুল ফিতরের দিন সর্বপ্রথম ঈদের সালাত আদায় করেন এবং ওফাত পর্যন্ত তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধারাবাহিকভাবে তা পালন করে গেছেন; তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
মুসলিমদের মাঝে পূর্বসূরীদের (سلف) অনুসরণে উত্তরসূরীরা (خلف) এটি অব্যাহত রেখেছেন। সুতরাং কোনো জনপদের অধিবাসীরা যদি এই সালাতের শর্তাবলি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তা বর্জন করে, তবে ইমাম তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন; কেননা এটি আযানের ন্যায় দ্বীনের অন্যতম প্রকাশ্য নিদর্শন (أعلام الدين الظاهرة)।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ৪)
[أداء صلاة العيد في صحراءٍ قريبةٍ من البلدِ]* وينبغي أن تؤْدَّى صلاةُ العيد في صحراءٍ قريبةٍ من البلدِ؛ لأنَّ النبي صلى الله عليه وسلم كان يصلِّي العيدين في المصلَّى الذي على باب المدينة، فعن أبي سعيد: " «كانَ النبي صلى الله عليه وسلم يخرجُ في الفطر والأَضحى إلى المصلَّى» " (1) .
ولم يُنقَلْ أنهُ صلاها في المسجدِ لغيرِ عُذْرٍ، ولأن الخروجَ إلى الصحراءِ أوقع لهيبة المسلمين والإسلام، وأظهرُ لشعاِئرِ الدين، ولا مشقَّةَ في ذلك؛ لعدم تكرُّرِه، بخلاف الجمعة، إلا في مكة المشرفةِ؛ فإنها تصلى في المسجدِ الحرام.
--------------------------------------------
[লোকালয়ের নিকটবর্তী কোনো উন্মুক্ত প্রান্তরে (صحراء) ঈদের সালাত আদায় করা]* আর ঈদের সালাত লোকালয়ের নিকটবর্তী কোনো উন্মুক্ত প্রান্তরে (صحراء) আদায় করা উচিত; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার প্রবেশদ্বারে অবস্থিত ঈদগাহে (المصلَّى) দুই ঈদের সালাত আদায় করতেন। আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহের (المصلَّى) উদ্দেশ্যে বের হতেন।" (১) ।
আর কোনো ওজর (عذر) ব্যতীত তিনি মসজিদে সালাত আদায় করেছেন বলে বর্ণিত হয়নি। তাছাড়া উন্মুক্ত প্রান্তরে বের হওয়া মুসলিম ও ইসলামের গাম্ভীর্য প্রকাশের জন্য অধিক কার্যকর এবং দ্বীনের নিদর্শনসমূহ (شعائر) প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিক স্পষ্ট। এতে কোনো কষ্টও নেই, কারণ এটি জুমুআর মতো বারবার করতে হয় না। তবে মক্কা মুকাররমার বিষয়টি ব্যতিক্রম; কারণ সেখানে সালাত মসজিদে হারামে আদায় করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[وقت صلاةُ العيد]* وَيبْدَأُ وقت صلاة العيد إذا ارتفعت الشمس بعد طلوعها قدر رُمْحٍ؛ لأنه الوقت الذي كان النبي صلى الله عليه وسلم يصليها فيه، ويمتد وقتها إلى زوال الشمس.
* فإن لم يَعْلَم بالعيد إلا بعد الزوال، صلوا من الغد قضاءً؛ لما روى أبو عميرٍ ابن أنس عن عمومة له من الأنصار، قالوا: " «غُمَّ علينا هلال شوال، فأَصبحنا صياماً، فجاء ركبٌ في آخر النهار، فشهدوا أنهم رأوا الهلال بالأمس، فأمر النبيُّ صلى الله عليه وسلم الناس أن يفطِروا من يومهم، وأن يَخرُجوا غداً لعيدهم» " (1) فلو كانت تُؤدى (بَعْدَ) الزوال، لما أخرها النبيُّ صلى الله عليه وسلم إلى الغد ولأنّ صلاة العيد شُرِع لها الاجتماع العام فلا بُدَّ أن يَسْتسقْها وقْتٌ يتمكن الناس. . . يتمكن الناس من التهُّيئِ لها.
--------------------------------------------
[ঈদের সালাতের ওয়াক্ত]* ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সালাতের সময় শুরু হয় যখন সূর্য উদয়ের পর তা এক বর্শা পরিমাণ উপরে ওঠে; কারণ এটি সেই সময় যে সময়ে নবী (সা.) এই সালাত আদায় করতেন এবং এর সময় সূর্য ঢলে পড়া (জাওয়াল) পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
* যদি জাওয়াল বা সূর্য ঢলে পড়ার আগ পর্যন্ত ঈদের সংবাদ না জানা যায়, তবে তারা পরবর্তী দিন কাজা হিসেবে তা আদায় করবে; কারণ আবু উমাইর ইবনে আনাস তার আনসারী চাচাদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা বলেন: "শাওয়ালের চাঁদ আমাদের কাছে মেঘাচ্ছন্ন ছিল, তাই আমরা রোজা রাখা অবস্থায় ভোর করলাম। দিনের শেষভাগে একদল আরোহী এসে সাক্ষ্য দিলেন যে তাঁরা গতকাল চাঁদ দেখেছেন। তখন নবী (সা.) লোকজনকে সেদিনের রোজা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন এবং পরদিন ঈদের সালাতের জন্য বের হওয়ার নির্দেশ দিলেন।" (১) যদি জাওয়াল পরবর্তী সময়ে সালাত আদায় করা যেত, তবে নবী (সা.) তা পরের দিন পর্যন্ত বিলম্বিত করতেন না। তাছাড়া ঈদের সালাত যেহেতু ব্যাপক জনসমাবেশের জন্য প্রবর্তিত হয়েছে, তাই এর জন্য এমন একটি সময়ের প্রয়োজন যাতে মানুষ এর প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
[تقديمُ صلاةِ الأضحى وتأخيرُ صلاةَ الفطرِ]* ويُسَنُ: تقديمُ صلاةِ الأضحى وتأخيرُ صلاةَ الفطرِ؛ لما روى الشافعي مرسلاً؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم كَتبَ إلى عمرو بن عزم: " «أَنْ عَجِّلِ الأضحَى، وَأَخِّر الفطر، وذكرِ الناسِ» " (1) وليتسع وقتُ التضحية بتقديِم الصلاة في الأضحى، ولِيتسع الوقتُ لإخراج زكاةِ الفطر قَبلَ صلاةِ الفطر.
--------------------------------------------
[ঈদুল আযহার সালাত আগে আদায় করা এবং ঈদুল ফিতরের সালাত বিলম্বে আদায় করা]* আর এটি সুন্নাত: ঈদুল আযহার সালাত দ্রুত (আগে) আদায় করা এবং ঈদুল ফিতরের সালাত বিলম্বে আদায় করা; কারণ ইমাম শাফিঈ বিচ্ছিন্ন (مرسل) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনে হাযম-এর নিকট লিখেছিলেন: "তুমি ঈদুল আযহার সালাত দ্রুত আদায় করো, আর ঈদুল ফিতরের সালাত বিলম্বে করো এবং মানুষকে উপদেশ দাও।" (১) যাতে ঈদুল আযহার সালাত আগে আদায়ের মাধ্যমে কুরবানি করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়, এবং ঈদুল ফিতরের সালাতের পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর প্রদানের জন্য প্রশস্ত সময় লাভ করা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
[أكل تمرات قبل الخرُوج لصلاة الفطر وعدمه يوم النحر حتى يصلِّي]* ويُسنُّ: أن يأَكلَ قبل الخرُوج لصلاة الفطر تَمَرَاتٍ، وأن لا يَطْعَمَ يوم النحر حتى يصلِّي؛ لقول بُرَيْدَةَ: " «كان النبي صلى الله عليه وسلم لا يخرجُ يومَ الفِْطِر حتى يُفِطرَ ولا يَطْعَمُ يومَ النحر حتى يصلِّيَ» " (1) .
قال الشيخ تقيُّ الدين: (لما قدَّم اللهُ الصلاة على النحرِ في قوله: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} [الكوثر: 2] وقدَّمَ التزكي على الصلاة في قوله: {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى - وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى} [الأعلى: 14 - 15] [الأعلى 14 - 15] ؛ كانت السنةُ أن الصدقَة قبلَ الصلاة في عيد الفطر، وأن الذبحَ بعد الصلاة في عيد النحر)
--------------------------------------------
[ঈদুল ফিতরের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে কয়েকটি খেজুর আহার করা এবং ঈদুল আযহার দিন নামাজ পড়ার আগ পর্যন্ত কিছু না খাওয়া]* আর এটি সুন্নাত (سنة): ঈদুল ফিতরের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে কয়েকটি খেজুর আহার করা এবং ঈদুল আযহার দিন নামাজ আদায় করার আগ পর্যন্ত কিছু না খাওয়া; কেননা বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে বের হতেন না এবং ঈদুল আযহার দিন নামাজ আদায় করার আগে কিছু ভক্ষণ করতেন না" (১)।
শায়খ তাকিউদ্দিন বলেন: (যেহেতু আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণী: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কুরবানি করুন} [কাওসার: ২]-এ নামাজের বিষয়টিকে কুরবানির আগে রেখেছেন এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই সে সফলকাম হয়েছে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে, আর তার রবের নাম স্মরণ করেছে ও নামাজ আদায় করেছে} [আলা: ১৪-১৫]-এ পরিশুদ্ধিকে (যাকাত) নামাজের আগে রেখেছেন; তাই সুন্নাত (سنة) হলো ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে সদকা প্রদান করা এবং ঈদুল আযহার নামাজের পরে জবেহ করা।)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
[التبكيُر في الخروج لصلاة العيدِ]*ويُسَنُّ التبكيُر في الخروج لصلاة العيدِ ليتمكَّنَ من الدُّنُوِّ من الإمام، وتحصُلَ له فضيلةُ انتظارِ الصلاةِ فيكثرَ ثوابهُ
[ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে অতি প্রত্যুষে বের হওয়া]*ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে অতি প্রত্যুষে বের হওয়া সুন্নাত (سنة), যাতে ইমামের নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব হয় এবং নামাজের জন্য অপেক্ষা করার মর্যাদা অর্জিত হয়, যার ফলে তার সওয়াব বৃদ্ধি পায়।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
[التجمل لصلاةِ العيد]*ويُسَنُّ أن يتجمَّلَ المسلمُ لصلاةِ العيد بلُبْس أَحَسنِ الثياب لحديث جابر «كانت للنبي صلى الله عليه وسلم جَُّبةٌ يلبسُها في العيدين ويومَ الجمعة» (1) .
وعن ابن عمر أنه كان يلبسُ في العيدينِ أَحسنَ ثيابهِ (2) .
--------------------------------------------
[ঈদের নামাজের জন্য সৌন্দর্যমন্ডিত হওয়া]*এবং এটি সুন্নাত (مسنون) যে, মুসলিম ব্যক্তি ঈদের নামাজের জন্য সর্বোত্তম পোশাক পরিধানের মাধ্যমে সৌন্দর্যমন্ডিত হবে; জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি জুব্বা ছিল যা তিনি দুই ঈদ ও জুমার দিনে পরিধান করতেন» (১)।
এবং ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি দুই ঈদে তাঁর সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
[الاستيطان شرط لصلاةِ العيد]* ويُشَتَرطُ الصلاةِ العيد الاستيطانُ بأن يكون الذي يقيمونها مستوطنين في مساكنَ مبنيةٍ بما جرت العادةُ بالبناءِ به، كما في صَلاةِ الجمعة، فلا تُقامُ صلاة العيد إلا حيث يسوغُ إقامة صلاة الجمعة لأن النبي صلى الله عليه وسلم وافقَ العيدَ في حجته، ولم يصلها، وكذلك خلفاؤُه من بعده
[ঈদের নামাজের জন্য স্থায়ী আবাসন একটি শর্ত]* আর ঈদের নামাজের জন্য স্থায়ী আবাসনকে শর্ত করা হয়েছে; অর্থাৎ যারা এটি আদায় করবেন তাদের এমন সব স্থায়ী আবাসে বসবাসকারী হতে হবে যা সাধারণত ঘরবাড়ি হিসেবে নির্মাণ করা হয়, যেমনটি জুমার নামাজের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। সুতরাং যেখানে জুমার নামাজ কায়েম করা বৈধ, কেবল সেখানেই ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হজের সময় ঈদের দিন পেয়েছিলেন কিন্তু তিনি তা আদায় করেননি এবং তাঁর পরবর্তী খলিফাগণও তাঁর পরে অনুরূপ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
[صفة وأحكام صلاة العيد]* وصلاةُ العيد ركعتان قبل الخطبة لقول ابن عمر «كان رسولُ الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر وعمرُ وعثمانُ يصلون العيدين قبل الخطبة» (1) .
وقد استفاضت السنةُ بذلك، وعليه عامةُ أهل العلم، قال الترمذي (والعملُ عليه عند أَهلِ العلم من أَصحابِ النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم، أن صلاة العيدين قبل الخطبة)
وحكمةُ تأْخيرِ الخُطبةِ عن صلاة العيد وتقديمها على صلاة الجمُعة أن خُطبةَ الجمُعة شرطٌ للصلاة، والشرطُ مقدمٌ على المشروطِ، بخلاف خطبة العيد، فإنها سنةٌ
* وصلاةُ العيدين ركعتان بإِجماع المسلمين؛ وفي الصحيحين وغيرهما عن ابن عباس «أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى يومَ الفطر ركعتين لم يصل قبلهما ولا بعدهما» (2) وقال عمرُ «صلاة الفِطِْر والأضحى ركعتان، تمامٌ غير قصر، على لسان نبيكم صلى الله عليه وسلم، وقد خاب من افترى» (3) .
* ولا يُشرَعُ لصلاة العيد أذانٌ ولا إقامةٌ؛ لما روى مسلم عن جابر «صلَّيت مع النبي صلى الله عليه وسلم العيد غيَر مَّرةٍ ولا مرَّتين فبدأ بالصلاة قبل الخطبة، بغير أذان ولا إقامة» (4) .
* ويُكِّبرُ في الركعة الأُولى بعد تكبيرةِ الإحرام والاستفتاح وقبل التعوذُّ والقراءة ستَّ تكبيراتٍ وتكبيرةُ الإحرام ركنٌ، لا بُدَّ منها، لا تنعقِدُ الصلاةُ بدونها، وغيرهُا من التكبيراتِ سنة
* ثم يستفتحُ بعدَها؛ لأن الاستفتاح في أول الصلاةِ، ثم يأتي بالتكبيراتِ الزوائدِ الستِّ، ثم يتعوذ عَقِبَ التكبيرةِ السادسة؛ لأن التعوُّذ للقراءة فيكونُ عندها، ثم يقرأُ
* ويُكبرِّ في الركعةِ الثانيةِ قَبْلَ القراءَة خمس تكبيراتٍ غير تكبيرة الانتقال؛ لما روى أحمدَ عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده «أن النبي صلى الله عليه وسلم كبَّر في عيدٍ ثنتي عَشْرَة تكبيرةً سبعاً في الأُولى، وخمساً في الآخرة» (5) .
* ورُويَ غيرُ ذلك في عدد التكبيرات، قال الإمام أَحمدُ رضي الله عنه (اختلف أَصحابُ النبي صلى الله عليه وسلم في التكبير، وكلهُّ جائز)
* ويرفعُ يديه مع كلِّ تكبيرةٍ؛ لأنه صلى الله عليه وسلم كانَ يرفَعُ يديه مع التكبير (6) .
* ويُسنُّ أن يقول بين كل تكبيرتين الله أكبُر كبيراً، والحمد لله كثيراً، وسبحان الله بُكرةً وأصيلاً، وصلى الله على محمد النبي وآله وسلم تسليماً كثيراً؛ لقول عقبة بن عامر سألت ابن مسعود عما يقوله بعد تكبيراتِ العيدِ؟ قال (يحمد الله، ويثُني عليه، ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم (7) .
ورواه البيهقيُّ بإسناده عن ابن مسعود قولاً وفعلاً
وقال حذيفة (صدق أبو عبد الرحمن)
وإن أتى بذكرٍ غير هذا، فلا بأس؛ لأنه ليس فيه ذكرٌ معين
قال ابن القيم (كان يسكتُ بين كل تكبيرتين سكتةً يسيرةً، ولم يُحفظْ عنه ذكرٌ معين بين التكبيراتِ) أهـ
* وإن شك في عدد التكبيرات بنىَ على القينِ وهو الأَقلُّ
* وإن نسي التكبيرَ الزائدَ حتى شَرَعَ في القراءة، سقط لأنهُ سنةٌ فات مَحَلهُّا
* وكَذَا إن أَدْرَكَ المأمومُ الإمام بعدما شَرَعَ في القراَءةِ، لم يأت بالتكبيراتِ الزوائدِ، أو أدركه راكعاً؛ فإنه يكبرُ تكبيرةَ الإحرام، ثم يركعُ، ولا يشتغل بقضاءِ التكبير
* وصلاة العيد ركعتانِ، يجهر الإمامُ فيهما بالقراءة لقول ابن عمر «كان النبي صلى الله عليه وسلم يجهرُ بالقراءة في العيدين وفي الاستسقاءِ» (8) .
وقد أَجمع العلماءُ على ذلك، ونقله الخَلَفُ عن السَّلفَ، واستمرَّ عملُ المسلمين عليه
*ويقرأُ في الركعة الأُولى بعد الفاتحة بـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} [الأعلى: 1] [الأعلى: 1] ، ويقرأُ في الركعة الثانيةِ بالغاشية؛ لقول سمرة «إن النبيَّ صلى الله عليه وسلم كان يقرأُ في العيدين بـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} [الأعلى: 1] [الأعلى: 1] ، و {هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ} [الغاشية: 1] [الغاشية: 1] . . .» (9) .
أو يقرأُ في الركعة الأُولى بـ ((ق)) ، وفي الثانية بـ {اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ} [القمر: 1] [القمر: 1] ، لما في صحيح مسلم، والسنن وغيرها أنه صلى الله عليه وسلم «كان يقرأُ بـ ((ق)) ، وبـ اقْتَرَبَتِ» (10) .
قال شيخ الإسلام ابن تيمية (مهما قرأُ به جاز كما تجوزُ القراءةُ في نحوها من الصلواتِ، لكن إن قرأُ ((ق)) ، واقْتَرَبَتِ، أو نحو ذلك مما جاء في الأثر؛ كان حسناً، وكان قراءتُه صلى الله عليه وسلم في المجامع الكبارِ بالسور المشتملة على التوحيدِ والأمر والنهي والمبدأَ والمعاد وقصص الأنبياءِ مع أممهم وما عاملَ الله به من كذبهم وكفر بهم، وما حل بهم من الهلاك والشقاء، ومن آمن بهم وصدقهم وما لهم من النجاة والعافية) (11) انتهى
--------------------------------------------
[ঈদের সালাতের বৈশিষ্ট্য ও বিধান]* ইবনে উমর (রা.)-এর উক্তি অনুযায়ী ঈদের সালাত খুতবার পূর্বে দুই রাকাত। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ ﷺ, আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.) খুতবার পূর্বেই দুই ঈদের সালাত আদায় করতেন" (১)।
এ বিষয়ে সুন্নাহ ব্যাপকভাবে বর্ণিত (مستفيض) হয়েছে এবং অধিকাংশ আহলে ইলম এরই ওপর রয়েছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন: "রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবী ও অন্যান্য আহলে ইলমের নিকট আমল এই যে, দুই ঈদের সালাত খুতবার পূর্বেই অনুষ্ঠিত হবে।"
ঈদের খুতবা সালাতের পরে এবং জুমার খুতবা সালাতের পূর্বে হওয়ার হিকমত হলো, জুমার খুতবা সালাতের জন্য শর্ত (شرط); আর শর্ত (شرط) সাধারণত মাশরুত (مشروط - যার জন্য শর্তারোপ করা হয়েছে) এর পূর্বেই আসে। পক্ষান্তরে ঈদের খুতবা হলো সুন্নাহ (سنة)।
* মুসলিমদের ঐক্যমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে দুই ঈদের সালাত দুই রাকাত। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমসহ অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, "নবী ﷺ ঈদুল ফিতরের দিনে দুই রাকাত সালাত আদায় করেছেন, যার পূর্বে বা পরে অন্য কোনো সালাত আদায় করেননি" (২)। উমর (রা.) বলেন: "তোমাদের নবীর ﷺ জবানে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সালাত পূর্ণাঙ্গ দুই রাকাত, এতে কোনো কসর (قصر) নেই; আর যে মিথ্যা অপবাদ দেয় সে ধ্বংস হয়" (৩)।
* ঈদের সালাতের জন্য কোনো আজান ও ইকামত (إقامة) বিধিবদ্ধ নয়; কেননা ইমাম মুসলিম জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "আমি নবী ﷺ-এর সাথে একাধিকবার ঈদের সালাত আদায় করেছি, তিনি খুতবার পূর্বে আজান ও ইকামত (إقامة) ছাড়াই সালাত শুরু করতেন" (৪)।
* প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমা (تكبيرة الإحرام) ও সানা (استفتاح) পাঠের পর এবং তাআউয (تعوذ) ও কিরাতের পূর্বে ছয়টি তাকবির প্রদান করবেন। তাকবিরে তাহরিমা (تكبيرة الإحرام) হলো একটি রুকন (ركن), যা আবশ্যিক এবং এটি ছাড়া সালাত সংঘটিত হবে না; তবে অন্যান্য তাকবিরগুলো সুন্নাহ (سنة)।
* এরপর তিনি সানা (استفتاح) পাঠ করবেন; কেননা সানা সালাতের শুরুতেই পড়তে হয়। এরপর অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির দেবেন। ষষ্ঠ তাকবিরের পর তাআউয (تعوذ) পাঠ করবেন; কারণ তাআউয কিরাতের জন্য, তাই তা কিরাতের সাথেই হওয়া উচিত। এরপর কিরাত পাঠ করবেন।
* দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পূর্বে ইন্তিকালের তাকবির (تكبيرة الانتقال - এক রুকন থেকে অন্য রুকনে যাওয়ার তাকবির) ছাড়াও পাঁচটি তাকবির দেবেন। ইমাম আহমাদ আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, "নবী ﷺ ঈদের সালাতে বারোটি তাকবির দিতেন; প্রথম রাকাতে সাতটি এবং দ্বিতীয় রাকাতে পাঁচটি" (৫)।
* তাকবিরের সংখ্যার ব্যাপারে অন্য বর্ণনাও রয়েছে। ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেন: "নবী ﷺ-এর সাহাবীগণ তাকবিরের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন, যার সবগুলোই বৈধ (جائز)।"
* প্রতিটি তাকবিরের সাথে হাত উত্তোলন (رفع اليدين) করবেন; কেননা নবী ﷺ তাকবিরের সাথে হাত উত্তোলন করতেন (৬)।
* দুই তাকবিরের মাঝে 'আল্লাহু আকবার কাবিরা, ওয়ালহামদুলিল্লাহি কাসিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতান ওয়া আসিলা, ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামা তাসলিমান কাসিরা' বলা সুন্নাহ (سنة)। উকবাহ ইবনে আমির (রা.) বলেন, আমি ইবনে মাসউদ (রা.)-কে ঈদের তাকবিরের মাঝে কী পড়তে হয় তা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করবে এবং নবী ﷺ-এর ওপর দরুদ পাঠ করবে" (৭)।
বায়হাকি এটি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে কথা ও কাজ উভয় সূত্রেই বর্ণনা করেছেন।
হুজাইফা (রা.) বলেন: "আবু আব্দুর রহমান (ইবনে মাসউদ) সত্য বলেছেন।"
যদি কেউ এর পরিবর্তে অন্য কোনো জিকির করে তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই; কারণ এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো জিকির নির্ধারিত নেই।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "তিনি ﷺ প্রতি দুই তাকবিরের মাঝে অল্প সময় বিরতি নিতেন, তবে তাকবিরগুলোর মাঝে তাঁর থেকে নির্দিষ্ট কোনো জিকির সংরক্ষিত নেই।" সমাপ্ত।
* যদি কেউ তাকবিরের সংখ্যায় সন্দেহ পোষণ করে তবে নিশ্চিতের (يقين) ওপর ভিত্তি করবে, আর তা হলো ক্ষুদ্রতম সংখ্যা।
* যদি কেউ অতিরিক্ত তাকবিরগুলো ভুলে গিয়ে কিরাত শুরু করে দেয়, তবে তা রহিত হয়ে যাবে; কেননা এটি একটি সুন্নাহ (سنة) যার সময় পার হয়ে গেছে।
* অনুরূপভাবে, মুক্তাদি যদি ইমামকে কিরাত শুরু করার পর পায়, তবে সে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো দেবে না। আবার যদি ইমামকে রুকু অবস্থায় পায়, তবে সে তাকবিরে তাহরিমা (تكبيرة الإحرام) দিয়ে রুকুতে চলে যাবে, তাকবির কাজা করতে ব্যস্ত হবে না।
* ঈদের সালাত দুই রাকাত, যাতে ইমাম উচ্চস্বরে (جهر) কিরাত পাঠ করবেন। ইবনে উমর (রা.) বলেন: "নবী ﷺ দুই ঈদ ও ইসতিসকার সালাতে উচ্চস্বরে (جهر) কিরাত পাঠ করতেন" (৮)।
উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে ঐক্যমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন এবং এটি সালাফদের থেকে পরবর্তী প্রজন্মের নিকট ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে এবং মুসলিমদের আমল এর ওপরই অব্যাহত রয়েছে।
* প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা আল-আলা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-গাশিয়াহ পাঠ করা সুন্নাহ (سنة); সামুরা (রা.)-এর উক্তি অনুযায়ী: "নবী ﷺ দুই ঈদে 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা' এবং 'হাল আতাকা হাদিসুল গাশিয়াহ' পাঠ করতেন..." (৯)।
অথবা প্রথম রাকাতে সূরা ক্বাফ এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-কামার পাঠ করবেন। কেননা সহিহ মুসলিম, সুনান ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী ﷺ "সূরা ক্বাফ এবং সূরা ইকতারাবাত (আল-কামার) পাঠ করতেন" (১০)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "যেকোনো সূরা পাঠ করা বৈধ (جائز), যেমনটি অন্যান্য সালাতে বৈধ। তবে যদি সূরা ক্বাফ ও আল-কামার অথবা আসারে (أثر) বর্ণিত অনুরুপ সূরাগুলো পাঠ করা হয় তবে তা উত্তম হবে। বড় বড় সমাবেশে নবী ﷺ-এর কিরাতের বৈশিষ্ট্য ছিল এমন সূরা পাঠ করা যা তাওহিদ, আদেশ-নিষেধ, সৃষ্টিতত্ত্ব, পরকাল, নবীদের কিচ্ছা ও তাঁদের উম্মতদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি—বিশেষ করে মিথ্যারোপ ও কুফরির কারণে তাদের ধ্বংস ও দুর্দশা এবং ঈমানদারদের মুক্তি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে" (১১)। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
[خطبة العيد]* فإذا سلم من الصلاة، خطب خُطبتين، يجلِس بينهما؛ لما روى عبيد الله بن عتبة؛ قال السنةُ أن يخطُب الإمامُ في العيدين خطبتين، يفصل بينهما، بجلوس (1) .
ولابن ماجه عن جابر «خطب قائماً؛ ثم قعد قعدة ثم قام» (2) .
وفي الصحيح وغيره «بدأ بالصلاة قبل الخطبة، ثم قام متوكئاً على بلالٍ، فأمر بتقوى الله، وحث على طاعته» (3) الحديث
ولمسلم «ثم ينصرفُ، فيقومُ مقابلَ الناس، والناس جلوسٌ على صفوفِهم» (4) .
ويحثُّهم في خُطبة عيدِ الفِطر على إِخراج صدقةِ الفطر، ويبينُ لهم أَحكامَها من حيث مقدارها، ووقت إِخراجِها، ونوع المُخْرَج فيها
ويرغبهم في خطبة عيد الأضحى في ذبحِ الأُضْحِيَّة، ويبينُ لهم أَحكامَها؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم ذكرَ في خُطبة الأَضحى كثيراً من أحكامها (5) .
وهكذا ينبغي للخُطباء أن يركَّزوا في خُطبِهمْ على المناسبات، فيبينوا للناس ما يحتاجون إلى بيانه في كل وقتٍ بحسبهِ بعدَ الوصيةَّ بتقوى الله والوعظِ والتذكيرِ، لا سيما في هذه المجامع العظيمة والمناسبات الكريمة، فإنه ينبغي أن تُضمَّن الخطبةُ ما يفيدُ المستمعَ ويذكِّر الغافلَ ويعلِّمُ الجاهلَ
* وينبغي حضورُ النِّساءِ لصلاةِ العيد؛ كما سبق بيانه، وينبغي أن توجَّه إليهن موعظةٌ خاصة ضِمْنَ خُطبة العيد؛ لأنه عليه والصلاة والسلام لما رأَى أنه لم يُسْمِع النساءَ أتاهُنَّ فوعظهن وحثَّهن على الصدقة (6) .
وهكذا ينبغي أن يكونَ للنساء نصيبٌ من موضوعِ خُطبة العيد لحاجتهن إلى ذلك، واقتداءُ بالنبي صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
[ঈদের খুতবা]* নামাজের পর যখন তিনি সালাম ফিরিয়ে শেষ করবেন, তখন ইমাম দুটি খুতবা প্রদান করবেন এবং দুটির মাঝে বসবেন। কারণ উবাইদুল্লাহ বিন উতবাহ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: সুন্নাহ (سنة) হলো ইমাম দুই ঈদে দুটি খুতবা দেবেন এবং একটি বৈঠকের মাধ্যমে দুই খুতবার মাঝে পার্থক্য করবেন (১)।
ইবনে মাজাহ-এ জাবির থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, «তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন; এরপর কিছুক্ষণ বসলেন এবং পুনরায় দাঁড়ালেন» (২)।
সহিহ (صحيح) ও অন্যান্য কিতাবে এসেছে: «তিনি খুতবার আগে নামাজ দিয়ে শুরু করলেন, এরপর বিলালের ওপর ভর করে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহভীতির নির্দেশ দিলেন ও তাঁর আনুগত্যে উৎসাহিত করলেন» (৩) হাদিস।
মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে: «অতঃপর তিনি ফিরে আসলেন এবং মানুষের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ালেন, এমতাবস্থায় মানুষ তাদের সারিতে বসা ছিল» (৪)।
তিনি ঈদুল ফিতরের খুতবায় মুসল্লিদের সদকাতুল ফিতর আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করবেন এবং তাদের নিকট এর পরিমাণ, আদায়ের সময় এবং কী ধরনের বস্তু প্রদান করতে হবে সে সম্পর্কিত বিধানসমূহ বর্ণনা করবেন।
আর ঈদুল আযহার খুতবায় তিনি তাদের কুরবানি করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করবেন এবং এর বিধানসমূহ স্পষ্ট করবেন; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহার খুতবায় কুরবানির অনেক আহকাম বর্ণনা করেছিলেন (৫)।
খতিবদের জন্য এভাবেই উচিত তাদের খুতবায় সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের ওপর গুরুত্বারোপ করা। তারা আল্লাহভীতির নসিহত, ওয়াজ ও স্মরণের পর প্রতিটি সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষের জন্য যা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন তা বর্ণনা করবেন। বিশেষ করে এই বিশাল জনসমাবেশ ও মহিমান্বিত উপলক্ষগুলোতে খুতবার মধ্যে এমন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত যা শ্রোতাদের জন্য কল্যাণকর হবে, গাফেল ব্যক্তিকে সচেতন করবে এবং অজ্ঞ ব্যক্তিকে শিক্ষা প্রদান করবে।
* যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, মহিলাদের জন্য ঈদের নামাজে উপস্থিত হওয়া উচিত। আর ঈদের খুতবার মধ্যেই তাদের উদ্দেশ্যে বিশেষ নসিহত প্রদান করা সমীচীন; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন যে তিনি মহিলাদের শোনাতে পারেননি, তখন তিনি তাদের নিকট আসলেন এবং তাদের নসিহত করলেন ও সদকা করার ব্যাপারে উৎসাহিত করলেন (৬)।
অনুরূপভাবে, প্রয়োজনের নিরিখে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে ঈদের খুতবার আলোচ্য বিষয়ে মহিলাদের জন্য একটি অংশ থাকা উচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
[الصلاة قبل صلاة العيد وبعدَها]
[في موضعها]* ومن أَحكامِ صلاةِ العيد أنهُ يُكرَهُ التنفُّل قبلهَا وبعدَها في موضعها، حتى يفارِقَ المصلى؛ لقول ابن عباس «صلى النبي صلى الله عليه وسلم يومَ عيدِ ركعتين لم يُصَلِّ قبلهما ولا بعدهما» (1) ولئلا يتوهم أن لها راتبه قبلهاَ أو بعدَها
قال الإمام أحمد (أهلُ المدنيةِ لا يَتَطَوعونَ قبلهَا ولا بعدَها)
وقال الزهريُّ (لم أًسمعْ أحداً من علماِئنا يذكُرُ أن أَحداً من سَلَفِ هذه الأمة كان يصلي قبلَ تلك الصلاة ولا بعدها، وكان ابنُ مسعودٍ وحذيفةُ ينهيان الناس عن الصلاة قبلها) (2) .
--------------------------------------------
[ঈদের নামাজের আগে ও পরে সালাত আদায়][নামাজের স্থানে]* ঈদের নামাজের একটি বিধান হলো, নামাজের স্থানে এর আগে বা পরে নফল (تطوع) নামাজ আদায় করা অপছন্দনীয় (مكروه), যতক্ষণ না মুসল্লি ঈদগাহ ত্যাগ করেন; কেননা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদের দিন দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন, এর আগে বা পরে কোনো নামাজ পড়েননি» (১) এবং যাতে কেউ ধারণা না করে যে এর আগে বা পরে কোনো নিয়মিত সুন্নাত (راتبة) রয়েছে।
ইমাম আহমাদ বলেন (মদিনাবাসীরা এর আগে বা পরে কোনো নফল (تطوع) ইবাদত করতেন না)।
যুহরী বলেন (আমি আমাদের কোনো আলেমের কাছ থেকে শুনিনি যে, এই উম্মতের পূর্বসূরিদের (سلف) মধ্যে কেউ এই নামাজের আগে বা পরে নামাজ পড়তেন। আর ইবনে মাসউদ ও হুজাইফা (রা.) লোকদের এর আগে নামাজ পড়তে নিষেধ করতেন) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[إذا رجع إلى منزله]* فإذا رجع إلى منزله، فلا بأْس أن يصلي فيه؛ لما روى أحمدُ وغيره «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إَذا رجعَ إلى منزلِه من العيد صل ركعتين» (1) .
--------------------------------------------
[যখন তিনি নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করবেন]* অতঃপর যখন তিনি নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করবেন, তখন সেখানে সালাত আদায় করায় কোনো দোষ নেই; যেহেতু ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঈদ থেকে নিজ গৃহে ফিরতেন, তখন দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[قضاؤها لمن فاتته]* ويُسَنُّ لمن فاتته صلاةُ العيدِ أو فاتهَ بعضُها قضاؤُها على صفتها بأن يصليها ركعتين بتكبيراِتها الزوائِد لأن القضاءَ يحكي الأداءَ، ولعمومِ قوله صلى الله عليه وسلم «فما أَدركتم فصلُّوا وما فاتكم فَأَتمُّوا»
فإذا فاتته ركعةٌ مع الإمام، أضافَ إليها أُخرى
وإن جاءَ والإمامُ يخطبٌ جلس لاستماع الخُطبة، فإذا انتهت صلاها قضاءً، ولا بأس بقضائها منفرداً أو مع جماعة
[যার (ঈদের নামাজ) ছুটে গেছে তার কাজা (قضاء)]* যার ঈদের নামাজ সম্পূর্ণ বা আংশিক ছুটে গেছে, তার জন্য এটি তার প্রকৃত নিয়মে কাজা (قضاء) করা সুন্নাত। অর্থাৎ সে অতিরিক্ত তাকবিরসহ দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, কারণ কাজা (قضاء) মূলত আদায়ের (أداء) অনুরূপ হয়ে থাকে। এছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ (عام) বাণীর কারণেও এটি প্রমাণিত: "তোমরা (নামাজের) যতটুকু অংশ পাও তা আদায় করো, আর যা তোমাদের থেকে ছুটে যায় তা পূর্ণ করো।"
সুতরাং ইমামের সাথে যদি কারো এক রাকাত ছুটে যায়, তবে সে তার সাথে অপর এক রাকাত যুক্ত করে নেবে।
আর যদি কেউ এমন সময় উপস্থিত হয় যখন ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, তবে সে খুতবা শোনার জন্য বসে পড়বে। খুতবা শেষ হলে সে তা কাজা (قضاء) হিসেবে আদায় করবে। এই নামাজ একাকী কিংবা জামাতের সাথে কাজা (قضاء) করাতে কোনো অসুবিধা নেই।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
[التكبير في العيدين]
[التكبيُر المطلقُ]* ويسن في العيدين التكبيُر المطلقُ وهو الذي لا يتقيدُ بوقتِ يرفعُ به صوتهَ، إلا الأُنثى فلا تجهرُ به، فيكبرُ في ليلتي العيدين، وفي كل عشر ذو الحجة؛ لقوله تعالى
{وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ} [البقرة: 185] [البقرة: 185] ، ويجهرُ به في البيوت والأسواقِ والمساجد وفي كل موضعٍ يجوزُ فيه ذكر الله تعالى، ويجهرُ به في الخروجِ إلى المصلى؛ لما أخرجه الدارقطني وغيره عن ابن عمر (أنه كان إذا غدا يوم الفطر ويوم الأضحى، يجهرُ بالتكبير، حتى يأتي المصلى، ثم يكبرُ حتى يأتي الإمام) (1) وفي الصحيح «كُنا نؤمرُ بإخراج الحيُض فيكبرنَّ بتكبيرِهم» ، ولمسلم «يُكبرنَّ مع الناس» (2) فهو مستحبٌ لما فيه من إظهارِ شعائرِ الإسلام
والتكبيرُ في عيد الفطر آكدُ، لقوله تعالى {وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ} [البقرة: 185] [البقرة: 185] ، فهو في هذا العيد آكد؛ لأن الله أمر به
--------------------------------------------
[দুই ঈদে তকবির পাঠ]
[অবারিত তকবির (التكبير المطلق)]* দুই ঈদে অবারিত তকবির (التكبير المطلق) পাঠ করা সুন্নাহ, আর এটি হলো সেই তকবির যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ নয় এবং যার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজ কণ্ঠস্বর উচ্চ করে, তবে নারী উচ্চস্বরে তকবির পাঠ করবে না। সুতরাং দুই ঈদের রাতে এবং জিলহজের (প্রথম) দশ দিনে তকবির পাঠ করা হবে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে:
{যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শনের কারণে তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো।} [আল-বাকারা: ১৮৫], এবং ঘরবাড়ি, বাজার, মসজিদ ও যেখানে মহান আল্লাহর জিকির করা বৈধ এমন প্রত্যেক স্থানে উচ্চস্বরে তকবির পাঠ করা হবে। ঈদগাহে গমনের সময়ও উচ্চস্বরে তকবির পাঠ করতে হয়; কেননা দারাকুতনি ও অন্যান্য ইমামগণ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (তিনি যখন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে সকালে বের হতেন, তখন উচ্চস্বরে তকবির পাঠ করতেন যতক্ষণ না ঈদগাহে পৌঁছাতেন; এরপর ইমামের আসা পর্যন্ত তিনি তকবির পাঠ করতেন)। (১) সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: «আমাদেরকে ঋতুমতী নারীদের বের করার নির্দেশ দেওয়া হতো, ফলে তারা পুরুষদের তকবিরের সাথে তকবির পাঠ করত», এবং মুসলিম-এর বর্ণনায় রয়েছে «তারা মানুষের সাথে তকবির পাঠ করত» (২)। সুতরাং এটি মুস্তাহাব (مستحب), কারণ এতে ইসলামের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ পায়।
ঈদুল ফিতরের তকবির পাঠ অধিক সুনিশ্চিত, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শনের কারণে তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো} [আল-বাকারা: ১৮৫]। সুতরাং এই ঈদে এটি অধিক সুনিশ্চিত; যেহেতু আল্লাহ এর নির্দেশ দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[التكبير المقيد]* ويزيدُ عيدُ الأضحى بمشروعيةِ التكبيرِ المقيد فيه، وهو التكبيرُ الذي شُرِعَ عَِقبَ كل صلاةِ فريضةٍ في جماعةِ، فيلتفت الإمامُ إلى المأمومين، ثم يكبرُ ويكبرونَ؛ لما رواه الدارقطني وابن أبي شيبة وغيرهما من حديث جابر «أَنَّه كان صلى الله عليه وسلم إذا صلى الصبح من غداةِ عرفة، يقولُ الله أَكبرُ» (1) الحديث
ويبتدأُ التكبيرُ المقيد بأَدبارِ الصلواتِ
في حق غير المحرُِمِ من صلاةِ الفجرِ يومَ عرَفَة إلى عصرِ آخر أيام التشريق
وأما المحُِرمُ، فيبتدئُ التكبيرُ المقيد في حقه من صَلاةِ الظُّهر يومِ النحر إلى عصر آخِر أيام التشريقِ، لأنه قبل ذلك مشغولٌ بالتلبية
روى الدارقطني عن جابر «كان النبي صلى الله عليه وسلم يُكبرُ في صلاة الفجر يوم عرفة إلى صلاة العصر من آخر أَيَّام التشريق حين يسلم من المكتوبات» (2) وفي لفظ «كان إذا صلى الصبحَ من غداةِ عرفة؛ يُقبلُ على أصحابه فيقول على مكانكم، ويقول الله أَكَبرُ، الله أَكبرُ، لا إلا إله الله، والله أَكبرُ، الله أكبر، ولله الحمد» (3) .
وقال الله تعالى {وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ} [البقرة: 203] [البقرة: 203] ، وهي أيام التشريق
وقال الإمام النووي (هو الراجع، وعليه العمل في الأَمصار)
وقال شيخُ الإسلام ابنُ تيمية (أصحُّ الأقوالِ في التكبيرِ الذي عليه الجمهورَ من السلفِ والفقهاءِ من الصحابةِ والأَئمة أن يكِّبرَ من فجر يوم عرفةَ إلى آخِرِ أَيام التشريق عَقِبَ كل صلاةٍ؛ لما في السنن «يومُ عرفةَ ويومُ النَّحِر وأَيَّامُ منى عيدُنا أَهلَ الإسلام، وهِيَ أَيامُ أكلٍ وشربٍ وذكرٍ لله» (4) .
وكونْ المحرم يبتدئُ التكبيرَ المقيد من صلاةِ الظهرِ يوم النحر؛ لأن التلبيةَ تُقطَعُ برمي جمرةِ العقبةِ، ووقتُ رميِ جمرةِ العقبةِ المسنونُ ضُحَى يومِ النحر، فكان المحُِرمُ فيه كالمحُل، فلو رمى جمرةَ العقبةِ قبلَ الفجرِ، فلا يبتدئ التكبيرَ إلا بعدَ صلاةِ الظهرِ أيضاً؛ عملاً على الغالب) (5) انتهى
--------------------------------------------
[সীমাবদ্ধ তাকবির (التكبير المقيد)]* ঈদুল আযহায় সীমাবদ্ধ তাকবির (التكبير المقيد) বিধানসম্মত (مشروعية) হওয়ার কারণে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। এটি সেই তাকবির যা জামাতের (جماعة) সাথে আদায়কৃত প্রতিটি ফরজ (فريضة) সালাতের পর বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ইমাম মুক্তাদিদের দিকে মুখ ফেরাবেন, তারপর তিনি তাকবির বলবেন এবং মুক্তাদিরাও তাকবির বলবে; কারণ দারা কুতনি ও ইবনে আবি শায়বাহ সহ অন্যান্যরা জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আরাফাতের দিনের ভোরে ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি বলতেন: আল্লাহু আকবার» (১) হাদিসটির শেষ পর্যন্ত।
সালাতের পরবর্তী এই সীমাবদ্ধ তাকবির (التكبير المقيد) শুরু হয়:
যিনি ইহরাম অবস্থায় নেই (غير المحرم) তার ক্ষেত্রে, আরাফাতের দিনের ফজরের সালাত থেকে শুরু করে তাশরিকের শেষ দিনের আসর পর্যন্ত।
আর যিনি ইহরাম অবস্থায় আছেন (المحرم) তার ক্ষেত্রে, সীমাবদ্ধ তাকবির (التكبير المقيد) শুরু হয় কোরবানির দিনের জোহরের সালাত থেকে তাশরিকের শেষ দিনের আসর পর্যন্ত; কারণ এর আগে তিনি তালবিয়া পাঠে ব্যস্ত থাকেন।
দারা কুতনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের দিনের ফজরের সালাত থেকে তাশরিকের শেষ দিনের আসরের সালাত পর্যন্ত ফরজ (المكتوبات) সালাতসমূহের সালাম ফিরানোর পর তাকবির পাঠ করতেন» (২)। আর এক বর্ণনায় রয়েছে: «তিনি যখন আরাফাতের দিনের ভোরে ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন সাহাবিদের দিকে ফিরে বলতেন: তোমরা তোমাদের নিজ নিজ স্থানে থাকো। এরপর তিনি বলতেন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ» (৩)।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো নির্দিষ্ট দিনসমূহে} [সূরা আল-বাকারাহ: ২০৩], আর এগুলো হলো তাশরিকের দিনসমূহ।
ইমাম নববী বলেছেন: (এটিই অগ্রগণ্য মত এবং বিভিন্ন জনপদে এর ওপরই আমল বিদ্যমান)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: (তাকবিরের বিষয়ে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) যে মতের ওপর পূর্বসূরি (السلف), ফকিহ (الفقهاء), সাহাবি এবং ইমামগণ (الأئمة) রয়েছেন, তা হলো আরাফাতের দিনের ফজর থেকে তাশরিকের শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিটি সালাতের পর তাকবির বলা; কারণ সুনান গ্রন্থসমূহে এসেছে: «আরাফাতের দিন, কোরবানির দিন এবং মিনার দিনগুলো আমাদের মুসলমানদের ঈদের দিন, আর এগুলো পানাহার ও আল্লাহর জিকিরের দিন») (৪)।
ইহরামধারী (المحرم) ব্যক্তি কেন কোরবানির দিনের জোহরের সালাত থেকে সীমাবদ্ধ তাকবির (التكبير المقيد) শুরু করবেন, তার কারণ হলো: জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে তালবিয়া পাঠ বন্ধ হয়ে যায়, আর জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের সুন্নাত সময় হলো কোরবানির দিনের চাশতের সময়। ফলে ইহরামধারী ব্যক্তি তখন ইহরামমুক্ত ব্যক্তির ন্যায় হয়ে যান। তাই তিনি যদি ফজরের আগেই জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করেন, তবুও তিনি জোহরের সালাতের আগে তাকবির শুরু করবেন না; যা অধিকাংশ অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত) (৫) সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
[صفةُ التكبير]* وصفةُ التكبير أَن يقولَ الله أَكبر، الله أَكبر، لا إله إلا الله، والله أَكبر، الله أَكبر، ولله الحمد
[তাকবীরের পদ্ধতি (صفة)]* তাকবীরের পদ্ধতি (صفة) হলো এই বলা যে: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[التهنئة في العيدين]* ولا بأس بتهنئة الناس بعضهم بعضاً، بأن يقول لغيره تقبل الله منا ومنك
قال شيخ الإسلام ابن تيمية (قد روي عن طائفة من الصحابة أنهم كانوا يفعلونه، ورخص فيه الأئمة كأحمد وغيره) (1) أهـ
والمقصودُ من التهنئة التودُّد وإظهارُ السرور وقال الإمام أحمد (لا أبتدئ به، فإن ابتدأَني أَحدٌ أَجبتهُ)
وذلك لأن جوابَ التحيةِ واجبٌ، وأما الابتداء بالتهنئةُ، فليس سنةً مأموراً بها، ولا هو أيضاً مما نُهيَ عنه، ولا بأَسَ بالمصافحة في التهنئةِ، والله تعالى أعلم
* * *
--------------------------------------------
[দুই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়]* মানুষের একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ে কোনো দোষ নেই, যেমন অন্যকে বলা: "আল্লাহ আমাদের এবং আপনার পক্ষ থেকে কবুল করুন"।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেন, (সাহাবায়ে কিরামের একটি দল থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তারা এটি করতেন এবং ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ইমামগণ এতে অনুমতি দিয়েছেন) (১) সমাপ্ত।
আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের মূল উদ্দেশ্য হলো সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং আনন্দ প্রকাশ করা। ইমাম আহমাদ বলেন, (আমি নিজে থেকে এটি শুরু করি না, তবে কেউ আমাকে প্রথমে শুভেচ্ছা জানালে আমি তার উত্তর দিয়ে থাকি)।
এর কারণ হলো অভিবাদনের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব (واجب), তবে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সূচনা করা কোনো আদিষ্ট সুন্নাহ (سنة) নয়, আবার এটি এমন কিছুও নয় যা নিষেধ করা হয়েছে। শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় মুসাফাহা করাতে কোনো অসুবিধা নেই। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
[في أَحكامِ صَلاةِ الكُسُوفِ]
[اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ من آيات الله]باب
في أَحكامِ صَلاةِ الكُسُوفِ قال الله تعالى {هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذَلِكَ إِلَّا بِالْحَقِّ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [يونس: 5] [يونس: 5] .
وقال تعالى {وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ} [فصلت: 37] [فصلت: 37] .
[সূর্যগ্রহণের নামাজের বিধান প্রসঙ্গে][রাত, দিন, সূর্য এবং চাঁদ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত]পরিচ্ছেদ
সূর্যগ্রহণের নামাজের বিধান প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, {তিনিই সেই সত্তা, যিনি সূর্যকে তেজদীপ্ত আলো এবং চাঁদকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার জন্য কক্ষপথ নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা বছরের সংখ্যা ও হিসাব জানতে পারো। আল্লাহ এগুলো কেবল যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন।} [ইউনুস: ৫] [ইউনুস: ৫] ।
এবং মহান আল্লাহ বলেন, {তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত, দিন, সূর্য ও চাঁদ। তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না এবং চাঁদকেও নয়; বরং সিজদা করো আল্লাহকে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো।} [ফুসসিলাত: ৩৭] [ফুসসিলাত: ৩৭] ।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
[حكم صلاة الكسوف]* صلاةُ الكسوفِ سنةٌ مؤكدةٌ باتفاق العلماء، ودليلُها السنةُ الثانيةُ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
[সূর্যগ্রহণের নামাজের বিধান]* আলেমদের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী সূর্যগ্রহণের নামাজ একটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة); আর এর প্রমাণ (دليل) হলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সুন্নাত (سنة)।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
[الكسوف آيةٌ من آياتِ الله يخوف اللهُ بها عبادهَ]* والكسوفُ آيةٌ من آياتِ الله يخوف اللهُ بها عبادهَ، قال تعالى {وَمَا نُرْسِلُ بِالْآيَاتِ إِلَّا تَخْوِيفًا} [الإسراء: 59] [الإسراء: 59] .
[সূর্যগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের একটি নিদর্শন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন]* আর সূর্যগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের একটি নিদর্শন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, {আর আমি কেবল ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই নিদর্শনসমূহ প্রেরণ করি} [আল-ইসরা: ৫৯] [আল-ইসরা: ৫৯]।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ঈদাইনি ওয়াল কুসুফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
[كسوف الشمس في عهدِ رسول الله صلى الله عليه وسلم]* ولما كسفت الشمسُ في عهدِ رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ خرجَ إلى المسجدِ مسرعاً فزعاً، يَجُرُّ ثوبَهُ فصلى بالناس، وأَخبرَهم: أن الكسوفَ آيةٌ من آيات الله، يخوفُ الله به عباده، وأنه قد يكون سبب نزول عذابٍ بالناس، وأمر بما يُزيلهُ، فأَمر بالصلاةِ عند حصولهِ والدعاِء والاستغفارِ، والصداقةِ والعتقِ، وغير ذلك من الأعمالِ الصالحةِ؛ حتى (ينكشف) ما بالناس.
[রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সূর্যগ্রহণ]* যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সূর্যগ্রহণ হলো; তখন তিনি অত্যন্ত ভীত ও ত্বরান্বিত অবস্থায় নিজের চাদর টেনে টেনে মসজিদের দিকে বেরিয়ে গেলেন এবং উপস্থিত লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি তাদের অবহিত করলেন যে: নিশ্চয়ই সূর্যগ্রহণ মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের (آيات الله) মধ্য হতে একটি নিদর্শন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ভীতি প্রদর্শন করেন। এটি মানুষের ওপর শাস্তি (عذاب) নাজিল হওয়ার কারণও হতে পারে। তিনি এই অবস্থা দূরকারী কার্যাবলীর নির্দেশ দিয়েছেন; ফলে তিনি এটি সংঘটিত হওয়ার সময় সালাত আদায়, দোয়া (دعاء), ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار), দান-সদকা ও দাসমুক্তির এবং অন্যান্য নেক আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন; যতক্ষণ না মানুষের ওপর আপতিত এই অবস্থা দূরীভূত (ينكشف) হয়।