(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: -)
دليل مكتبة المرأة المسلمة   (أحمد بن عبد العزيز الحمدان)

القسم: فهارس الكتب والأدلة


اسم الكتاب: دليل مكتبة المرأة المسلمة

المؤلف: أحمد بن عبد العزيز السليمان الحمدان

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসলিম নারীর লাইব্রেরি গাইড   (আহমাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-হামদান)

বিভাগ: বইয়ের তালিকা ও নির্দেশিকা


বইয়ের নাম: মুসলিম নারীর লাইব্রেরি গাইড

লেখক: আহমাদ বিন আব্দুল আজিজ আস-সুলাইমান আল-হামদান

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক (আওকাফ) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[বইয়ের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে মিল রয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: -)
- أ -

 

‌‌[الجزء الأول]

‌‌[مقدمة الناشر]

مقدمة الناشر الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:

ها نحن - أيها القارئ الكريم - نجدد العهد والصلة بك مع هذا الكتاب الجديد الذي نفتتح به سلسلة " عالم المرأة والأسرة " تحقيقا لهدفنا في " العناية بثقافة المرأة والطفل والأسرة "، ولعل هذه المحاور الثلاثة تعد أكثر العناصر أهمية في بناء الجيل والمجتمع الإسلامي المنتظر.

فالمرأة سند الرجال، ومربية الأجيال، وصانعة الأبطال، وهي المدرسة الأولى في حياة كل إنسان.

الأم مدرسة إذا أعددتها … أعددت شعبا طيب الأعراق

المرأة هي الأم الرؤوم، والزوجة الودود، والبنت العطوف، وهي بذلك ركن ركين وأساس متين في البناء الأسري.

وأطفال اليوم هم رجال المستقبل، وتعليمهم في الصغر كالنقش في الحجر، وتربيتهم على الإيمان والتقوى، وتنشئتهم على الفضيلة والإصلاح، صياغة قوية ودعامة متينة لمستقبل إسلامي يجدد ذكرى أسلافنا من العلماء والقواد والزهاد والمصلحين.

وينشأ ناشئ الفتيان منا … على ما كان عوده أبوه

والأسرة هي البوتقة والنظام الإسلامي الذي يجتمع في الرجل والمرأة في علاقة شرعية نظيفة، وصلة إنسانية سامية، ويشكلان مظلة تحمي وترعى الأبناء والبنات، ولبنة في بناء المجتمع.

والعناية بهذه العناصر مهمة لازمة للأمة وخاصة في هذا العصر، حيث توجه
- অ -

 

‌‌[প্রথম খণ্ড]

‌‌[প্রকাশকের ভূমিকা]

প্রকাশকের ভূমিকা। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

হে সম্মানিত পাঠক! আমরা এই নতুন কিতাবটির মাধ্যমে আপনার সাথে আমাদের অঙ্গীকার ও সম্পর্ক নবায়ন করছি, যার মাধ্যমে আমরা "নারী ও পরিবার জগত" সিরিজের উদ্বোধন করছি। এটি মূলত "নারী, শিশু ও পরিবারের সংস্কৃতির প্রতি যত্নবান হওয়া"-র লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে। সম্ভবত এই তিনটি অক্ষই আগামীর প্রত্যাশিত প্রজন্ম এবং ইসলামী সমাজ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

কারণ নারী পুরুষের সহায়িকা, প্রজন্মের শিক্ষিকা এবং বীরদের নির্মাতা; তিনি প্রতিটি মানুষের জীবনের প্রথম বিদ্যাপীঠ।

মা একটি বিদ্যাপীঠ; যদি তুমি তাঁকে প্রস্তুত করো … তবে তুমি এক উত্তম বংশোদ্ভূত জাতি প্রস্তুত করলে।

নারী হলেন মমতাশীল মা, প্রেমময়ী স্ত্রী এবং স্নেহময়ী কন্যা; আর এভাবেই তিনি পারিবারিক কাঠামোর এক মজবুত স্তম্ভ ও দৃঢ় ভিত্তি।

আর আজকের শিশুরাই আগামী দিনের পুরুষ। শৈশবে তাদের শিক্ষা পাথরের খোদাইয়ের মতো। তাদের ঈমান ও তাকওয়ার ওপর গড়ে তোলা এবং সচ্চরিত্র ও সংশোধনের ওপর বড় করে তোলা হলো এক শক্তিশালী নির্মাণ এবং আগামীর ইসলামী ভবিষ্যতের এক সুদৃঢ় ভিত্তি, যা আমাদের পূর্বসূরী উলামা, সেনাপতি, যাহিদ ও সংস্কারকদের স্মৃতিকে পুনর্জীবিত করবে।

আমাদের মধ্যকার কিশোর সেভাবেই বেড়ে ওঠে … যেভাবে তার পিতা তাকে অভ্যস্ত করান।

আর পরিবার হলো সেই আধার ও ইসলামী ব্যবস্থা, যেখানে নারী ও পুরুষ একটি পবিত্র শরয়ি সম্পর্ক এবং এক সুমহান মানবিক বন্ধনে মিলিত হয়। তারা এমন একটি ছায়া তৈরি করে যা ছেলে-মেয়েদের রক্ষা ও লালন-পালন করে এবং এটি সমাজ বিনির্মাণের একটি একক বা ভিত্তি।

আর এই উপাদানগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়া উম্মাহর জন্য একটি আবশ্যকীয় কাজ, বিশেষ করে এই যুগে, যেখানে পরিচালিত হচ্ছে...
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: -)
- ب -

 

جهود إفسادية عظمى، ذات وسائل وإمكانيات كبرى من أجل إفساد المرأة، ومسخ الطفولة، وهدم الأسرة.

ونحن لا ندعي أننا سنقوم بهذه المهمة الجسيمة والخطيرة في الوقت نفسه، ولكننا نتشرف بأن نسهم بقدر استطاعتنا واجتهادنا لنقدم ما لعله يكون فيه شيء من إبراء الذمة، وجزء من أداء الواجب، والقليل مع القليل يكثر ويبارك الله فيه إن شاء الله.

لا تحقرن من الأمور صغيرة … إن الجبال من الحصى

وهذا الكتاب الذي بين يديك هو البداية " وأول الغيث قطر ثم ينهمر " وهو الجزء الأول من أربعة أجزاء سيتوالى إصدارها تباعا، ونأمل أن لا يكون الفاصل الزمني بينها طويلا.

وتأتي أهمية هذا الكتاب وفائدته من وجوه عدة:

1 - أنه دراسة نقدية فاحصة لعدد كبير من كتب المرأة والأسرة المتداولة بين أيدي الناس.

2 - أن العرض والتعليق والنقد لتلك الكتب لم يكن نتاج استعراض عابر أو مطالعة جزئية، بل هو ثمرة قراءة مستوعبة متأنية.

3 - أن المؤلف متوفر على دراسة الفقه من خلال الجمع بين التلقي على المشايخ، والدراسة الأكاديمية الجامعية، إضافة إلى سعة اطلاعه، ودأبه وجلده في مجال القراءة والبحث والدراسة، كما أنه قريب من قضايا المرأة من خلال عمله في ميدان الدعوة محاضرا ومجيبا على الاستفتاءات في موضوعات النساء.

4 - فكرة الكتاب التي تقدم للمرأة خلاصة علم واطلاع ودراسة تزيل عنها الحيرة في اختيار الكتب المناسبة، وتكفيها مؤنة التقويم والتفضيل، وتوجهها نحو حاجتها الفقهية أو الفكرية أو غيرها في الكتب المختلفة.

5 - الملاحق التي في آخر كل جزء من أجزاء الكتاب، والتي عنيت بتقديم
- খ -

 

নারীকে কলুষিত করা, শৈশবকে বিকৃত করা এবং পরিবার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বিশাল মাধ্যম ও সক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাপক ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

আমরা এই দাবি করছি না যে, একই সাথে এই গুরুভার এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজ আমরাই সম্পন্ন করব; তবে আমাদের সাধ্য ও প্রচেষ্টানুযায়ী অবদান রাখতে পেরে আমরা সম্মানিত বোধ করছি যাতে এমন কিছু পেশ করা যায় যা সম্ভবত দায়িত্বমুক্তির একটি মাধ্যম এবং কর্তব্য পালনের একটি অংশ হবে। অল্পে অল্পে অনেক হয় এবং আল্লাহ যদি চান তবে তাতে বরকত দান করবেন ইনশাআল্লাহ।

ক্ষুদ্র কোনো বিষয়কে তুচ্ছজ্ঞান করো না … নিশ্চয় পাহাড় তো নুড়ি পাথরেরই সমষ্টি।

আপনার হাতে থাকা এই বইটি হলো প্রারম্ভ— "আর বৃষ্টির শুরু তো ফোঁটা দিয়েই হয়, এরপর তা মুষলধারে ঝরে"— এবং এটি চার খণ্ডের প্রথম খণ্ড যা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে। আমরা আশা করি এগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান দীর্ঘ হবে না।

এই বইটির গুরুত্ব ও উপযোগিতা বেশ কিছু দিক থেকে পরিলক্ষিত হয়:

১ - এটি মানুষের হাতে বিদ্যমান নারী ও পরিবার বিষয়ক বিপুল সংখ্যক বইয়ের একটি সূক্ষ্ম সমালোচনামূলক গবেষণা।

২ - ঐ সকল বইয়ের উপস্থাপনা, পর্যালোচনা ও সমালোচনা কোনো আকস্মিক পর্যবেক্ষণ বা আংশিক পাঠের ফল নয়, বরং এটি গভীর ও ধৈর্যশীল পাঠের ফসল।

৩ - লেখক শায়খদের নিকট সরাসরি পাঠ গ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পড়াশোনার সমন্বয়ে ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন। এর পাশাপাশি রয়েছে তাঁর ব্যাপক অধ্যয়ন, এবং পাঠ, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে তাঁর নিরলস পরিশ্রম ও ধৈর্য। তদুপরি, দাওয়াতি ময়দানে বক্তা হিসেবে এবং নারী বিষয়ক মাসআলা-মাসায়েলের উত্তরদাতা হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি নারী সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর খুব নিকটবর্তী।

৪ - বইটির মূল ভাবনা যা নারীর সামনে জ্ঞান, অবগতি ও গবেষণার এমন এক নির্যাস পেশ করে যা উপযুক্ত বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার সংশয় দূর করে, বইয়ের মান নিরূপণ ও শ্রেষ্ঠত্ব বাছাইয়ের কষ্ট লাঘব করে এবং বিভিন্ন বইয়ের মধ্য থেকে তার প্রয়োজনীয় ফিকহী, বুদ্ধিবৃত্তিক বা অন্যান্য বিষয়ের দিকে তাকে দিকনির্দেশনা দেয়।

৫ - বইটির প্রতি খণ্ডের শেষে যুক্ত পরিশিষ্টসমূহ, যা উপস্থাপনের প্রয়াস পেয়েছে—
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: -)
- جـ -

 

معلومات مهمة عن إنتاج المرأة العلمي، وما قدم عن موضوعات المرأة من الرسائل العلمية الجامعية، وما كتب عنها من مقالات ونحو ذلك، يعد عملا شبيها بالعمل الموسوعي الذي يشير ويحيل إلى مصادر كثيرة من الكتب والمجلات لم يكن لكثير من القراء العلم بها أو القدرة على الحصول والاطلاع عليها.

وبعد، فهذا هو الجزء الأول من كتاب " دليل مكتبة المرأة المسلمة " يشتمل على تعريف وعرض ونقد لخمسين كتابا من كتب المرأة والأسرة، مع ملحق عن الرسائل العلمية للطالبات في الجامعات السعودية، وكذا الرسائل المكتوية في موضوعات المرأة من قبل الطلاب والطالبات على حد سواء.

إننا نرى أن تقديم هذا الكتاب خدمة علمية وثقافية متميزة، وخطوة نحو التوجيه والتوعية لأخواتنا القارئات اللواتي نخصهن بالمخاطبة لأول مرة في هذا الكتاب مع وعدنا بالتواصل معهن من خلال أجزائه الباقية وموضوعات وعناوين أخرى في المستقبل القريب بمشيئة الله تعالى.

وأخيرا فإننا نلفت النظر إلى مقدمة المؤلف التي فيها خلاصة مهمة عن اتجاهات المؤلفين لكتب المرأة والأسرة، وبيان لمنهج المؤلف في كتابه هذا، ونحن نضم صوتنا إلى صوته في طلبنا من الجميع - رجالا ونساء - إهداءنا أخطاءنا، وإرشادنا لقصورنا، كما نفتح الباب للإسهام في الكتابة في هذه السلسلة المهمة بحوثا جادة وكتبا نافعة للمرأة والأسرة، وسيسعدنا أن نسعى لنشرها وتوزيعها تعميما للفائدة، وطمعا في الأجر والمثوبة.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
- জিম -

 

নারীদের জ্ঞানগত অবদান, নারী বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণাপত্র এবং এ সংক্রান্ত প্রবন্ধ ইত্যাদি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি একটি বিশ্বকোষীয় কাজের সমতুল্য, যা এমন অনেক বই ও সাময়িকীর প্রতি নির্দেশ করে এবং সূত্র প্রদান করে যে সম্পর্কে অধিকাংশ পাঠকের কোনো ধারণা ছিল না অথবা তা সংগ্রহ করে দেখার সক্ষমতা ছিল না।

অতঃপর, এটি হলো "মুসলিম নারী গ্রন্থাগার নির্দেশিকা" গ্রন্থের প্রথম খণ্ড। এতে নারী ও পরিবার বিষয়ক পঞ্চাশটি বইয়ের পরিচিতি, উপস্থাপনা ও পর্যালোচনা স্থান পেয়েছে। এর সাথে সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রীদের উপস্থাপিত গবেষণাপত্রের একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করা হয়েছে, সেই সাথে ছাত্র ও ছাত্রী উভয়ের পক্ষ থেকেই নারী বিষয়ক বিভিন্ন প্রসঙ্গের ওপর রচিত গবেষণাপত্রগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আমরা মনে করি যে, এই গ্রন্থটি উপস্থাপন করা একটি বিশিষ্ট জ্ঞানগত ও সাংস্কৃতিক সেবা এবং আমাদের পাঠিকা বোনদের দিকনির্দেশনা ও সচেতন করার লক্ষ্যে একটি পদক্ষেপ, যাদেরকে আমরা এই বইটিতে প্রথমবারের মতো বিশেষভাবে সম্বোধন করছি। মহান আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় অদূর ভবিষ্যতে এই গ্রন্থের পরবর্তী খণ্ডগুলো এবং অন্যান্য বিষয় ও শিরোনামের মাধ্যমে তাঁদের সাথে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

পরিশেষে, আমরা লেখকের ভূমিকাটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে নারী ও পরিবার বিষয়ক বইয়ের লেখকদের প্রবণতা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ এবং এই গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতির বর্ণনা রয়েছে। আমরাও লেখকের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের কাছে আমাদের ভুলত্রুটিগুলো উপহার হিসেবে দেওয়ার এবং আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ সিরিজে নারী ও পরিবার সংক্রান্ত তথ্যবহুল গবেষণা ও উপকারী গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে অবদান রাখার পথ আমরা উন্মুক্ত রাখছি। ব্যাপক কল্যাণের লক্ষ্যে এবং সওয়াব ও প্রতিদানের আশায় সেগুলো প্রকাশ ও বিতরণ করতে পারলে আমরা আনন্দিত হব।

আমাদের সর্বশেষ আহ্বান হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[المقدمة]

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وعلى آله وصحبه.

أما بعد:

فإن العالم الإسلامي - اليوم - يعيش أهله صحوة إسلامية عامة، شملت: الرجل والمرأة، الصغير والكبير، الجاهل والمتعلم، التقي وغير التقي. حتى أصبحت - هذه الصحوة - شغلهم الشاغل، والمالك لحيز كبير من تفكيرهم، وحديث أكثر مجالسهم، وأكثر وسائل إعلامهم: المقروءة والمسموعة والمرئية، فمنهم من ملكت لبه، فأصبح يعمل لها ليل نهار، ويبذل كل ما في وسعه من أجلها، ومنهم من اكتفى بالسير في ركابها، ومنهم من أحبها وأحب أهلها لكنه بقي مكتوف اليدين تجاهها، ومنهم من وقف منها موقف المستريب المتشكك، ومنهم من عادى أهلها، وقعد لهم كل مرصد، و {كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى شَاكِلَتِهِ فَرَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَنْ هُوَ أَهْدَى سَبِيلًا} [الإسراء: 84] (1) .

وقضية شديدة خطورتها - كهذه - بل هي أشد قضايا مسلمي هذا العصر خطورة، كتب عنها من الكتب والنشرات والتقارير والمقالات ما لا يعلم عدده إلا الله سبحانه، وعقدت من أجلها مؤتمرات وندوات، وألقيت محاضرات وكلمات، وخططت من أجلها مخططات، كما حيكت ضدها دسائس ومؤامرات {وَقَدْ مَكَرُوا مَكْرَهُمْ وَعِنْدَ اللَّهِ مَكْرُهُمْ وَإِنْ كَانَ مَكْرُهُمْ لِتَزُولَ مِنْهُ الْجِبَالُ} [إبراهيم: 46] (2) .

وأكثر ذلك مرصود مدون، حتى تكونت مكتبات ضخمة في كثير من قضايا هذه الصحوة المباركة وأهلها.

وإن المتتبع لحركة المطابع، وما تقذفه كل يوم من كتب وغيرها، ليدرك - تماما - أن متابعة ورصد كل ذلك متعذر لآحاد الناس.

ومن أبرز قضايا هذه الصحوة، ومن أخطرها، ومما بسببها تقذف المطابع آلاف الكتب والنشرات والدوريات والمقالات: قضية المرأة المسلمة، حتى تكونت - من جراء

--------------------------------------------

(1) سورة الإسراء الآية 84.

(2) سورة إبراهيم الآية 46.
[ভূমিকা]

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবৃন্দের ওপর।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই বর্তমান মুসলিম বিশ্বের অধিবাসীগণ একটি সাধারণ ইসলামি জাগরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছেন, যা পুরুষ ও নারী, ছোট ও বড়, অজ্ঞ ও শিক্ষিত, পরহেযগার ও পরহেযগার নয়—সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এমনকি এই জাগরণ তাদের প্রধান ব্যস্ততায় পরিণত হয়েছে এবং তাদের চিন্তার এক বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছে। এটি তাদের অধিকাংশ মজলিসের আলোচনা এবং তাদের অধিকাংশ গণমাধ্যমের (পাঠ্য, শ্রাব্য ও দৃশ্যমান) প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ এমন আছেন যাঁদের অন্তর এটি জয় করে নিয়েছে, ফলে তিনি এর জন্য দিন-রাত কাজ করছেন এবং এর জন্য নিজের সাধ্যমতো সবকিছু বিলিয়ে দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে কেউ এমনও আছেন যারা কেবল এর অনুগামী হয়ে চলাই যথেষ্ট মনে করেছেন। আবার কেউ কেউ একে এবং এর ধারক-বাহকদের ভালোবাসেন, কিন্তু এর প্রতি কোনো ভূমিকা না রেখে হাত গুটিয়ে বসে আছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর প্রতি সন্দিহান ও সংশয়বাদীর অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর ধারক-বাহকদের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছেন এবং তাদের অপেক্ষায় প্রতিটি ঘাঁটিতে ওত পেতে বসেছেন। আর "প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বভাব অনুযায়ী কাজ করে, সুতরাং আপনার পালনকর্তা ভালোভাবেই জানেন কে অধিকতর সঠিক পথে আছে।" [সূরা আল-ইসরা: ৮৪] (১)।

আর এই পর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও স্পর্শকাতর বিষয়—বরং এটি বর্তমান যুগের মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুতর বিষয়—যাকে কেন্দ্র করে এত পরিমাণ বই, পুস্তিকা, রিপোর্ট ও প্রবন্ধ লেখা হয়েছে যার সংখ্যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ছাড়া আর কেউ জানেন না। একে কেন্দ্র করে অসংখ্য সম্মেলন ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে, লেকচার ও বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে; তেমনি এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছে। "তারা তাদের ষড়যন্ত্র করেছিল, আর আল্লাহর কাছে তাদের সেই ষড়যন্ত্র (উপযুক্ত জবাব) সংরক্ষিত আছে, যদিও তাদের ষড়যন্ত্র এমন ছিল যা পাহাড়কে টলিয়ে দেওয়ার মতো।" [সূরা ইবরাহীম: ৪৬] (২)।

এগুলোর বেশিরভাগই পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করা হয়েছে, এমনকি এই বরকতময় জাগরণ ও এর ধারক-বাহকদের বহু বিষয়ে বিশাল বিশাল লাইব্রেরি গড়ে উঠেছে।

আর ছাপখানাসমূহের গতিবিধি এবং প্রতিদিন সেখান থেকে নির্গত হওয়া বই ও অন্যান্য সামগ্রী যারা পর্যবেক্ষণ করেন, তারা পুরোপুরি উপলব্ধি করেন যে, কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে এই সবকিছুর অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণ করা অসম্ভব।

এই জাগরণের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং যার কারণে ছাপখানাসমূহ হাজার হাজার বই, পুস্তিকা, সাময়িকী ও প্রবন্ধ প্রকাশ করছে, তা হলো: মুসলিম নারীর বিষয়; এমনকি এর ফলে—

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৮৪।

(২) সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৪৬।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
ذلك - مكتبة - لا أقول: إنها ضخمة، مقارنة بغيرها - لكنها شديدة الخطورة، والتعامل معها اطلاعا وقراءة واستفادة بحاجة ماسة إلى حذر شديد، وقراءة فاحصة لكل سطر من سطورها.

ومن واقع اطلاع على هذه المكتبة - بالذات - وتعامل طويل معها، وتكرار توجيه أسئلة عنها من رجال ونساء من مختلف المستويات، منها - أي من هذه الأسئلة - ما يكون عن قضايا طرحت في بعض هذه الكتب، ومنها عن أسماء بعض الكتب الجيدة التي تناولت قضايا المرأة، ومنها عن قوائم بأسماء نخبة منها، تكون نواة لمكتبة منزلية أو مدرسية، من واقع ذلك كله تبين لي أن مؤلفي هذه الكتب - رجالا ونساء - أقسام بينها اختلاف وتفاوت، وقد لا تجد بينها ائتلافا - أحيانا - فمنهم:

- من أئمة المسلمين: كتبوا عن المرأة، إما رواية لأحاديث تخصها، وآثار تتحدث عنها، وأشعار تصف حالها.

أو كتبوا في الأحكام الفقهية المتعلقة بها.

فكتب هؤلاء الأئمة - رحمهم الله تعالى - المصادر الأصلية لمن أراد أن يستقي معلومات عن المرأة، وأقوالهم وآراؤهم مرجع المسلم لفهم النصوص، والجمع بين ما يحتاج منها إلى جمع.

- ومنهم - أي من كتب عن المرأة - علماء معاصرون، اقتفوا آثار من سبقهم من أئمة المسلمين الأوائل، ومشوا على طريقهم المستقيم، في فهم النصوص، والاهتداء بهديهم في ذلك، مع التنبيه لما يحاك ضد المرأة المسلمة - اليوم - من دسائس، وما يدبر ضدها من خطط، فردوا على ذلك، وحذروا منه، وبينوا زيف ما نسب وينسب إلى الإسلام زورا وبهتانا. على تفاوت بينهم في ذلك ـ فمنهم مقتصد ومنهم مكثر.

- ومنهم: كتاب محدثون، يغلب عليهم حب الإسلام، والإخلاص له، والغيرة عليه، مع ضعف في العلم الشرعي، وكثير منهم أكثر من القراءة في كتب المستشرقين وأتباعهم، فحمله حبه للدين وغيرته عليه على الرد، فألف كتبا في ذلك.

ولكن الغيرة والاندفاع مع ضعف التحصيل الشرعي لا يكفيان؛ لأن ضعف الجانب الشرعي عند هؤلاء يؤدي - في بعض الأحيان - إلى الغلو في الرد، فيقع في نفي أمور
সেটি—একটি লাইব্রেরি—অন্যান্যগুলোর তুলনায় আমি একে বিশাল বলছি না—তবে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। জ্ঞান অর্জন, পঠন এবং উপযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে এর সাথে ডিল করার জন্য চরম সতর্কতা এবং এর প্রতিটি ছত্রের গভীর পর্যবেক্ষণ একান্ত প্রয়োজন।

বিশেষত এই লাইব্রেরিটি পর্যবেক্ষণ এবং এর সাথে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার প্রেক্ষিতে, এবং বিভিন্ন স্তরের নারী-পুরুষের পক্ষ থেকে এ সম্পর্কে বারবার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের আলোকে; যেসব প্রশ্নের কিছু ছিল এই বইগুলোর কোনোটিতে আলোচিত বিষয়াদি সম্পর্কে, কিছু ছিল নারী সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে রচিত উত্তম কিছু বইয়ের নাম সম্পর্কে, আবার কিছু ছিল বইয়ের এমন একটি বাছাইকৃত তালিকা সম্পর্কে যা পারিবারিক বা স্কুল লাইব্রেরির ভিত্তি হতে পারে—এই সবকিছু থেকে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই বইগুলোর লেখকরা—চাই তারা পুরুষ হোন বা নারী—বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত যাদের মধ্যে পার্থক্য ও বৈচিত্র্য বিদ্যমান, এবং কখনো কখনো তাদের মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া না-ও যেতে পারে। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

- মুসলিম ইমামগণ: তাঁরা নারী সম্পর্কে লিখেছেন; হয় তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিস বর্ণনা করেছেন, অথবা তাদের নিয়ে বর্ণিত আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) এবং তাদের অবস্থা বর্ণনাকারী কবিতা সংকলন করেছেন।

অথবা তাঁরা তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ফিকহি বিধিবিধান নিয়ে লিখেছেন।

এই ইমামগণ—আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহম করুন—তাদের কিতাবসমূহ হলো সেইসব ব্যক্তির জন্য মৌলিক উৎস যারা নারী সম্পর্কে তথ্য আহরণ করতে চায়। মূল পাঠসমূহ অনুধাবন এবং একাধিক পাঠের মধ্যে যেখানে সমন্বয়ের প্রয়োজন সেখানে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে মুসলিমদের জন্য তাঁদের বক্তব্য ও মতামতই হলো মূল রেফারেন্স।

- এবং তাঁদের মধ্যে—অর্থাৎ যারা নারী সম্পর্কে লিখেছেন—রয়েছেন সমকালীন ওলামায়ে কেরাম। তাঁরা পূর্ববর্তী মুসলিম ইমামদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং মূল পাঠসমূহ অনুধাবনে তাঁদের সরল পথ অবলম্বন করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলেছেন। এর পাশাপাশি তাঁরা বর্তমান সময়ে মুসলিম নারীর বিরুদ্ধে যে সকল ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে এবং যেসব পরিকল্পনা করা হচ্ছে সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁরা সেগুলোর জবাব দিয়েছেন, এ সম্পর্কে সাবধান করেছেন এবং ইসলামের নামে যেসব মিথ্যা ও অপবাদ আরোপ করা হয়েছে বা হচ্ছে তার অসারতা প্রমাণ করেছেন। এই কাজে তাঁদের মধ্যে তারতম্য রয়েছে—কেউ সংক্ষেপে করেছেন আবার কেউ বিস্তারিতভাবে।

- এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আধুনিক লেখকবৃন্দ, যাদের মধ্যে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা, নিষ্ঠা ও আত্মমর্যাদাবোধ প্রবল, কিন্তু তাদের শরয়ি জ্ঞানের ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে প্রাচ্যবিদ (ওরিয়েন্টালিস্ট) এবং তাদের অনুসারীদের বইপত্র বেশি পড়েছেন। অতঃপর দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মমর্যাদাবোধ থেকে তাঁরা তার প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং এ বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন।

কিন্তু আত্মমর্যাদাবোধ ও আবেগ থাকলেও শরয়ি জ্ঞানের দুর্বলতার কারণে তা যথেষ্ট নয়; কারণ এদের মধ্যে শরয়ি দিকের দুর্বলতা কখনো কখনো প্রতিবাদের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির দিকে নিয়ে যায়, ফলে তাঁরা কোনো কোনো বিষয় অস্বীকার করে বসেন...
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
شرعية ثابتة، لظنه أنها تؤدي إلى أن يجد أعداء الدين فرصة للطعن فيه، وقد يقع العكس، فينسب إلى الدين ما ليس منه، ظنا منه أن روح الدين - كما يقولون - تقره وتؤيده. وهذا مكمن خطر شديد في كتابات هذه الفئة.

- ومنهم: صنف قريب من الصنف السابق، إلا أنه مستاء من وضع المسلمين المتخلف ماديا عن الغرب، وبهره بهرج المدنية الغربية، فأصبح يكتب - وهذه العقيدة مسيطرة عليه - وهو لا يرى شيئا مما عند المسلمين من حق وباطل لا ترضى عنه المدنية الغربية إلا وسعى - بجد وحماسة تحت سيطرة تلك العقدة - إلى إنكار ذلك الأمر، وإن كان مجمعا عليه عند أئمة المسلمين.

بل زاد الطين بلة أن أصبح بعضهم ينادي - صراحة - بضرورة صياغة الإسلام من جديد - زعموا - ليواكب المدنية الغربية، وأن هذه الصياغة - التي نصب نفسه حكما، بل مشرعا فيها - سترضي الغرب، وستزول - بذلك - عقبات دخولهم الإسلام، ونسي أو تناسى قوله تعالى: {وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ} [البقرة: 120] (1) .

- ومنهم: كُتَّاب فيهم ضعف في العلم الشرعي، أو ضعف في صياغة كتاب مفيد للمرأة المسلمة، وبعض كتبهم تصل إلى درجة من الضعف، يرى المنصف أنها لا تساوي قيمة المداد الذي كتبت به.

- ومنهم: كُتَّاب يندرجون في مراتب بين هذه الأقسام التي ذكرت آنفا.

- ومنهم: كُتَّاب - ليس هذا الكتاب موضوعا من أجلهم، وهم أعداء الإسلام، والمتربصون به الدوائر، من مستشرقين ومستغربين ومختلف الأصناف المعادية للإسلام - كتبوا عن المرأة المسلمة وقد أعرضت عن ذكرهم صفحا.

هذه الأقسام - التي ذكرت آنفا - هم مؤلفو مكتبة المرأة المسلمة، وأسماؤهم مسطرة على أغلفة كتبها، وخيرهم وشرهم هو المدون على صفحاتها، وهو المادة التي تتكون منها ثقافة المرأة المسلمة غالبا.

وإن المسلم - رجلا وامرأة - ليقف - في كثير من الأحيان - حائرا أمام مكتبة المرأة المسلمة

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة الآية 120.
একটি প্রতিষ্ঠিত শরীয়াহ বিধান, এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যে, এটি ধর্মের শত্রুদের জন্য তাতে আঘাত করার সুযোগ করে দেবে। আবার এর বিপরীতও ঘটতে পারে, যেখানে তিনি মনে করেন যে ধর্মের মূল স্পিরিট - যেমনটি তারা বলে থাকেন - এটিকে স্বীকৃতি দেয় এবং সমর্থন করে, এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যা ধর্মের অংশ নয় তাকেও ধর্মের সাথে সম্পর্কিত করেন। আর এটিই এই শ্রেণির লেখকদের লেখায় এক চরম বিপদের ক্ষেত্র।

- তাদের মধ্যে রয়েছে: পূর্ববর্তী শ্রেণির কাছাকাছি একটি ধরণ, তবে তারা পশ্চিমাদের তুলনায় মুসলমানদের বৈষয়িক অনগ্রসরতায় অসন্তুষ্ট। পশ্চিমী সভ্যতার বাহ্যিক চাকচিক্য তাদের বিমোহিত করেছে। ফলে এই হীনম্মন্যতা তাদের ওপর চেপে বসার পর তারা লিখতে শুরু করেছে। মুসলিমদের নিকট বিদ্যমান সত্য বা মিথ্যার মধ্যে পশ্চিমী সভ্যতা যা কিছু অপছন্দ করে, সেই মানসিকতার প্রভাবে পড়ে তারা তাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করে; যদিও বিষয়টি মুসলিম ইমামগণের নিকট সর্বসম্মত হয়।

এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে যখন তাদের কেউ কেউ স্পষ্টভাবে ইসলামকে নতুন করে সাজানোর - যেমনটি তারা দাবি করে - আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে তা পশ্চিমী সভ্যতার সাথে সংগতিপূর্ণ হতে পারে। এই নতুন রূপরেখায় - যেখানে তারা নিজেদের বিচারক এমনকি আইনপ্রণেতা হিসেবে নিয়োগ করেছে - তা পশ্চিমাদের সন্তুষ্ট করবে এবং এর মাধ্যমে তাদের ইসলামে প্রবেশের পথে সব বাধা দূর হয়ে যাবে। তারা মহান আল্লাহর বাণী ভুলে গেছে বা ভুলে থাকার ভান করছে: "আর ইয়াহূদী ও নাসারারা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তাদের মিল্লাত বা আদর্শ অনুসরণ করেন" [আল-বাকারা: ১২০] (১)।

- তাদের মধ্যে রয়েছে: এমন কিছু লেখক যাদের শরয়ী জ্ঞানের অভাব রয়েছে, অথবা মুসলিম নারীদের জন্য একটি উপকারী বই রচনার যোগ্যতায় দুর্বলতা রয়েছে। তাদের কিছু বই এতোটাই নিম্নমানের যে একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি মনে করবেন যে বইটি যে কালি দিয়ে লেখা হয়েছে তার সমমূল্যেরও তা নয়।

- তাদের মধ্যে রয়েছে: এমন লেখক যারা উপরে উল্লিখিত এই বিভাগগুলোর বিভিন্ন স্তরে অন্তর্ভুক্ত।

- তাদের মধ্যে রয়েছে: এমন লেখক - যাদের জন্য এই বইটি রচিত হয়নি এবং তারা ইসলামের শত্রু যারা ইসলামের অমঙ্গল কামনা করে; যেমন প্রাচ্যবিদ, পাশ্চাত্য অনুরাগী এবং ইসলাম বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী - তারা মুসলিম নারী সম্পর্কে লিখেছে কিন্তু আমি তাদের আলোচনার বিষয়টি এড়িয়ে গেছি।

উপরে উল্লিখিত এই বিভাগগুলোই হলো মুসলিম নারীদের লাইব্রেরির লেখকদের প্রকারভেদ। তাদের নাম বইগুলোর মলাটে লিপিবদ্ধ এবং তাদের ভালো-মন্দ দিকগুলো বইগুলোর পৃষ্ঠায় নথিবদ্ধ হয়ে আছে। আর এটিই হলো সেই উপকরণ যা দিয়ে সাধারণত মুসলিম নারীর সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।

আর একজন মুসলিম - সে পুরুষ হোক বা নারী - অনেক সময় মুসলিম নারীদের লাইব্রেরির সামনে বিভ্রান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১২০।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
المنوعة، أيها يختار؟ وأيها مفيد له؟ وما يصلح لهذه الفئة وتلك؟ فإن ما يصلح للزوجة قد يكون سما للأم، وهكذا قد يكون العكس.

وإن المرأة لتصاب - في بعض الأحيان - بخيبة أمل عندما يحضر لها زوجها أو والدها أو أخوها كتابا، فنتصفحه فتجده لا يفي بحاجتها، وقد تجد فيه سموما تتلقفها - إن كانت غير عالمة - دون فهم وبصيرة، وهذا خطر يواجه أكثر النساء في مكتبة المرأة المسلمة.

وقد يكون الكتاب جيدا، لكنه ليس مناسبا لها، فتكون بكرا والكتاب يعالج مشكلات الزوجين، أو تكون مبتدئة والكتاب خاص بالباحثات، أو تكون مقصرة أو منحرفة والكتاب خاص بمن نذرت نفسها للدعوة إلى الله سبحانه، وهكذا.

كل هذه الأسباب - مجتمعة - كانت السبب وراء إخراج هذا الكتاب، رجوت من الله عز وجل أن تجد فيه المرأة المسلمة دليلا يعرفها بمجموعة جيدة من الكتب والمقالات، التي تخصها أو لها تعلق بها.

وقد سلكت المنهج التالي في كتابة هذا الدليل:

أولا: كان انتقاء الكتب - من قسم المرأة في مكتبتي - عشوائيا، فكنت أقرأ الكتاب من أوله إلى آخره، دون تفريق بين كتاب وكتاب.

ثانيا: كنت أكتب ملخصا عن كل قسم من أقسام الكتاب، واكتب ملاحظاتي عليه.

ثالثا: وضعت حدا معينا لقبول الكتاب ضمن هذا الدليل، وأي كتاب تجاوز هذا الحد استبعدته.

رابعا: بعد الانتهاء من قراءة الكتاب أضع تلخيصا عاما له في نقاط، حسب تقسيم مؤلفه، في أبواب، أو فصول، أو مباحث، ثم أذكر رأيي المتواضع فيه، وحرصت على ذكر الفئة التي يصلح لهن هذا الكتاب، وأذكر - أحيانا - طريقة الاستفادة منه، قراءة منفردة، أو انتقاء، أو مذاكرة، أو محاضرة، أو توزيعا.

خامسا: ذكرت ما أرى أنه انتقاد للكتاب، إما في صياغة أو جانب من جوانبه العلمية. وأذكر - أحيانا - بعض الاقتراحات على بعض الكتب، التي أرى أنها مناسبة لتحسين وضعها.
বিবিধ প্রকারের মধ্য থেকে সে কোনটি নির্বাচন করবে? কোনটি তার জন্য উপকারী? আর কোনটিই বা এই শ্রেণি বা ওই শ্রেণির জন্য উপযোগী? কেননা, যা স্ত্রীর জন্য কল্যাণকর, তা মায়ের জন্য বিষতুল্য হতে পারে; একইভাবে এর বিপরীতটিও হতে পারে।

নারী অনেক সময় হতাশায় নিপতিত হয় যখন তার স্বামী, পিতা বা ভাই তার জন্য কোনো বই নিয়ে আসে। সে বইটি নেড়েচেড়ে দেখে এবং অনুভব করে যে তা তার প্রয়োজন পূরণ করছে না। এমনকি সে তাতে এমন কিছু বিষাক্ত বিষয়ও পেতে পারে, যা সে—যদি অজ্ঞ হয়—সঠিক বুঝ ও অন্তর্দৃষ্টি ছাড়াই গ্রহণ করে ফেলে। মুসলিম নারীর পাঠাগারের ক্ষেত্রে অধিকাংশ নারীই এই ঝুঁকির সম্মুখীন হন।

কখনো বইটি হয়তো মানসম্মত হতে পারে, কিন্তু তা তার জন্য উপযুক্ত নয়। যেমন—সে হয়তো অবিবাহিতা অথচ বইটি দম্পতিদের সমস্যা নিয়ে রচিত। অথবা সে হয়তো প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী অথচ বইটি গবেষকদের জন্য নির্দিষ্ট। অথবা সে হয়তো কর্তব্যকর্মে শিথিল কিংবা পথচ্যুত অথচ বইটি তাদের জন্য যারা মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের কাজে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। বিষয়গুলো এমনই হতে পারে।

এই সকল কারণ সমন্বিতভাবেই এই গ্রন্থটি সংকলনের পেছনে মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন মুসলিম নারী এতে এমন একটি নির্দেশিকা খুঁজে পায়, যা তাকে একগুচ্ছ উত্তম বই ও প্রবন্ধের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে, যা তার সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট।

এই নির্দেশিকাটি রচনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করেছি:

প্রথমত: আমার পাঠাগারের নারী বিভাগ থেকে বই নির্বাচন ছিল কোনো বিশেষ ক্রম ছাড়াই; আমি প্রতিটি বই এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তাম এবং কোনো বইয়ের মাঝে ভেদাভেদ করতাম না।

দ্বিতীয়ত: আমি বইয়ের প্রতিটি পরিচ্ছেদের একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করতাম এবং তার ওপর আমার পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ করতাম।

তৃতীয়ত: এই নির্দেশিকায় কোনো বই অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আমি একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করেছি। কোনো বই সেই মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে আমি তা বর্জন করেছি।

চতুর্থত: বই পাঠ সমাপ্ত করার পর আমি লেখকের বিন্যাস অনুযায়ী অধ্যায়, পরিচ্ছেদ বা অনুচ্ছেদে বিভক্ত করে এর একটি সাধারণ সারসংক্ষেপ পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করেছি। অতঃপর সে সম্পর্কে আমি আমার বিনীত মতামত ব্যক্ত করেছি। এই বইটি কোন শ্রেণির পাঠিকাদের জন্য উপযোগী হবে তা উল্লেখ করার ব্যাপারে আমি সচেষ্ট ছিলাম। অনেক ক্ষেত্রে বইটি থেকে উপকৃত হওয়ার পদ্ধতিও উল্লেখ করেছি—যেমন একক পঠন, বাছাইকৃত পঠন, সম্মিলিত মুজাকারা, লেকচার প্রদান কিংবা বিতরণের মাধ্যমে।

পঞ্চমত: বইটির বিন্যাসশৈলী বা এর ইলমী দিকের কোনো বিষয়ে আমার দৃষ্টিতে যা সমালোচনাযোগ্য মনে হয়েছে, তা আমি উল্লেখ করেছি। আবার কখনো কখনো কিছু বইয়ের মানোন্নয়নে যা উপযোগী বলে মনে হয়েছে, সে ব্যাপারে কিছু পরামর্শও প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
سادسا: رأيت أنه من المناسب وضع صورة لغلاف الكتاب قبل البدء في الحديث عنه، لإضفاء نوع من الحيوية على هذا الدليل، ومحاولة لجعل القارئة تعيش في جوه، فتكون الفائدة أكبر.

سابعا: قبل الحديث عن أي كتاب وضعت بعض البيانات عنه، وهي: عنوانه، واسم مؤلفه، والناشر، ومكانه، ورقم الطبعة، وتاريخها - إن وجد - ثم أذكر مواصفات الكتاب طولا وعرضا وعدد صفحاته.

ثامنا: كل كتاب رأيت أنه لا يصلح للقراءة استبعدته، وعدم الصلاحية يكون بسبب كثرة الأخطاء، أو شناعتها، حتى طمست جانب الخير الذي فيه.

وأنا ما زلت أستخير وأستشير في إفرادها في جزء مستقل.

تاسعا: إيرادي للكتاب في هذا الدليل لا يعني موافقتي لكل ما ذكر فيه من أقوال وآراء، بل إذا كان الكتاب مفيدا، وأخطاؤه ليست - كما أو كيفا - مانعة من التعريف به فإني أعرف به، وأذكر محاسنه، وأذكر ما أراه من ملاحظات عليه - في الغالب -.

عاشرا: هذا الدليل يتكون من أجزاء، وهذا هو الجزء الأول منه عرفت فيه خمسين كتابا، ثم وضعت فهرسا عاما لجميع رسائل الدكتوراه والماجستير والبحوث المكملة التي نوقشت في جامعات المملكة العربية السعودية، ابتداء من عام 1389 هـ إلى عام 1409 هـ (1) وقد راعيت في هذا الفهرس الأمور التالية:

أولا: أوردت فيه جميع الرسائل المقدمة من النساء، سواء كانت متعلقة بمكتبة المرأة المسلمة أم لا، حتى تعلم المرأة علم اليقين أنها تستطيع أن تتعلم وتتثقف وتبرز في التقدم العلمي دون حاجة إلى الاختلاط بالرجال، ودون حاجة إلى نزع حجابها، كما كانت قدواتها من نساء النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهن ممن جاء بعدهن من عالمات المسلمين، يتعلمن ويعلمن وهن مخدرات في بيوتهن، لا يرين الرجال ولا يرونهم، وحتى تلقم دعاة التهتك والتحلل حجرا يقول لهم: كذبتم، وكذبت ادعاءاتكم، فإن المسلمة قادرة - بعون الله - أن تنال العلم دون الاختلاط أو نزع الحجاب، وأن الشارع الحكيم لا يمكن أن يفرض عليهن ما

--------------------------------------------

(1) حسب ما جاء في دليل الرسائل الجامعية الذي صدر عن مركز الملك فيصل للدراسات الإسلامية بالرياض عام 1410 هـ.
ষষ্ঠত: আমি এই নির্দেশিকাটিকে প্রাণবন্ত করতে এবং পাঠিকাকে এর পরিবেশে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টায় বইটির বিষয়ে আলোচনা শুরু করার আগে তার মলাটের ছবি দেওয়াকে উপযুক্ত মনে করেছি, যাতে এর উপকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়।

সপ্তমত: যেকোনো বই সম্পর্কে আলোচনার আগে আমি সে সম্পর্কে কিছু তথ্য উল্লেখ করেছি, যা হলো: এর শিরোনাম, লেখকের নাম, প্রকাশক, প্রকাশনা স্থান, সংস্করণ নম্বর এবং তারিখ—যদি থাকে—এরপর আমি বইটির দৈর্ঘ্য-প্রস্থ এবং এর পৃষ্ঠা সংখ্যার বিবরণ উল্লেখ করি।

অষ্টমত: যে বইটি পড়ার উপযোগী নয় বলে আমি মনে করেছি, তাকে বাদ দিয়েছি। অনুপযুক্ত হওয়ার কারণ হলো ভুলের আধিক্য অথবা ভুলের ভয়াবহতা, যা এর মধ্যকার ভালো দিকগুলোকে বিলীন করে দিয়েছে।

আর আমি এগুলোকে একটি স্বতন্ত্র খণ্ডে বিন্যস্ত করার বিষয়ে এখনও ইস্তিখারা ও পরামর্শ করছি।

নবমত: এই নির্দেশিকায় কোনো বইকে অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ এই নয় যে, আমি তাতে উল্লিখিত সকল বক্তব্য ও মতামতের সাথে একমত। বরং যদি বইটি উপকারী হয় এবং এর ভুলগুলো—পরিমাণ বা গুণগত দিক থেকে—তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় না হয়, তবে আমি তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিই, তার ভালো দিকগুলো উল্লেখ করি এবং তার ওপর আমার পর্যবেক্ষণসমূহ—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—উল্লেখ করি।

দশমত: এই নির্দেশিকাটি কয়েকটি খণ্ডের সমন্বয়ে গঠিত, এবং এটি এর প্রথম খণ্ড যাতে আমি পঞ্চাশটি বইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি। এরপর আমি সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১৩৮৯ হিজরি থেকে ১৪০৯ হিজরি পর্যন্ত (১) আলোচিত সকল পিএইচডি ও মাস্টার্স থিসিস এবং সম্পূরক গবেষণাসমূহের একটি সাধারণ নির্ঘণ্ট প্রদান করেছি। এই নির্ঘণ্টে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ রেখেছি:

প্রথমত: আমি এতে নারীদের দ্বারা উপস্থাপিত সকল থিসিস অন্তর্ভুক্ত করেছি, তা মুসলিম নারীদের লাইব্রেরির সাথে সম্পর্কিত হোক বা না হোক; যাতে নারীরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে, তারা পুরুষদের সাথে মেলামেশা ছাড়াই এবং পর্দা ত্যাগ করার প্রয়োজন ছাড়াই জ্ঞান অর্জন করতে পারে, সুশিক্ষিত হতে পারে এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে। যেমনটা তাদের আদর্শ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী মুসলিম বিদুষী নারীগণ ছিলেন; তাঁরা পর্দার আড়ালে নিজ ঘরে অবস্থান করেই শিক্ষা গ্রহণ করতেন এবং শিক্ষা দিতেন, তাঁরা পুরুষদের দেখতেন না এবং পুরুষরাও তাঁদের দেখতে পেত না। আর এটি বেহায়াপনা ও চারিত্রিক স্খলনপন্থীদের মুখে চপেটাঘাতস্বরূপ যা তাদের বলবে: তোমরা মিথ্যা বলেছো এবং তোমাদের দাবিগুলো মিথ্যা, কেননা মুসলিম নারী—আল্লাহর সাহায্যে—মেলামেশা বা পর্দা ত্যাগ ছাড়াই জ্ঞান অর্জনে সক্ষম। আর প্রজ্ঞাবান বিধানদাতা তাদের ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দিতে পারেন না যা...

--------------------------------------------

(১) রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ থেকে ১৪১০ হিজরিতে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় থিসিস নির্দেশিকায় যা এসেছে সেই অনুযায়ী।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
يمنعهن من تحصيل العلم المفيد لهن، بل على العكس، لقد أثبتت الدراسات والواقع الذي نعيشه: أن المرأة تتلقى العلم بعيدا عن الرجال أكثر نجاحا وتحصيلا من المتهتكة التي أصبح شغلها الشاغل التفنن في طرق التزين أمام الطلبة والمدرسين.

ثانيا: أوردت جميع الرسائل العلمية - المقدمة من قبل الرجال - الخاصة بالمرأة، وما يتعلق بها من تربية الأولاد وأحكام الأسرة عموما.

ثالثا: بلغ مجموع عدد هذه الرسائل (586) رسالة منها (16) رسالة دكتوراه و (557) رسالة ماجستير، و (13) بحثا تكميليا.

رابعا: رتبت هذه الرسائل حسب الترتيب الألفبائي لأوائل حروف كلمات عنوان الرسالة، مبتدئا برسالة الدكتوراه، ثم رسائل الماجستير، ثم البحوث التكميلية.

خامسا: احتوى هذا الفهرس على: عنوان الرسالة، واسم المتقدم بها، والجامعة، والكلية، والتخصص، وتاريخ المناقشة.

وإني أسأل الله عز وجل أن ينفع بهذا الدليل، وأن يجعله كاسمه دليلا للمرأة المسلمة في مكتبتها.

وأنا على استعداد - إن شاء الله - لتلقي ملاحظات الإخوة القراء واقتراحاتهم على العنوان التالي:

جدة. ص. ب 42340 الرمز البريدي 21451.

كتبه

أحمد بن عبد العزيز الحمدان

في غرة شهر ربيع الآخر

عام 1414 هـ
এটি তাদের জন্য উপকারী জ্ঞান অর্জনে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না; বরং এর বিপরীতে, বিভিন্ন গবেষণা এবং আমাদের বর্তমান বাস্তবতায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে: পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে শিক্ষা গ্রহণকারী নারী সেই বেপর্দা নারীর তুলনায় অধিকতর সফল ও বেশি জ্ঞান অর্জনে সক্ষম, যার প্রধান ব্যস্ততা হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাত্র ও শিক্ষকদের সামনে নিজেকে সাজিয়ে উপস্থাপন করার নানা কৌশলে পারদর্শিতা দেখানো।

দ্বিতীয়ত: এখানে পুরুষদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত সেই সকল গবেষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা নারী সংশ্লিষ্ট এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি যেমন: সন্তান লালন-পালন ও সাধারণভাবে পারিবারিক বিধি-বিধান।

তৃতীয়ত: এই গবেষণাপত্রগুলোর মোট সংখ্যা (৫৮৬) টি। এর মধ্যে (১৬) টি পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, (৫৫৭) টি মাস্টার্স থিসিস এবং (১৩) টি সম্পূরক গবেষণা।

চতুর্থত: এই গবেষণাপত্রগুলোকে তাদের শিরোনামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করা হয়েছে; শুরুতে পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, এরপর মাস্টার্স থিসিস এবং সবশেষে সম্পূরক গবেষণাগুলো স্থান পেয়েছে।

পঞ্চমত: এই নির্দেশিকায় গবেষণাপত্রের শিরোনাম, গবেষকের নাম, বিশ্ববিদ্যালয়, অনুষদ, বিশেষায়িত বিষয় এবং মৌখিক পরীক্ষার তারিখ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন এই নির্দেশিকার মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন এবং এর নামানুসারেই একে মুসলিম নারীর পাঠাগারে একটি প্রকৃত দিকনির্দেশক হিসেবে কবুল করেন।

ইনশাআল্লাহ, আমি নিম্নোক্ত ঠিকানায় পাঠক ভাইদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ গ্রহণ করতে প্রস্তুত আছি:

জেদ্দা। পি.ও বক্স ৪২৩৪০, পোস্টাল কোড ২১৪৫১।

এটি লিখেছেন

আহমদ বিন আব্দুল আজিজ আল-হামদান

রবিউস সানি মাসের শুরুতে

১৪১৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌[الكتاب الأول إباحة التحلي بالذهب المحلق للنساء]

الكتاب الأول

إباحة التحلي بالذهب المحلق للنساء المؤلف: إسماعيل بن محمد الأنصاري.

المواصفات: 96 صفحة، مقاس 16×23سم

لكل جواد كبوة، ولكل عالم هفوة، والمعصوم من عصمة الله سبحانه وتعالى، ولو أن امرأ تتبع هفوة كل عالم ليأخذ بها لاجتمع فيه الشر، لذلك كان العلماء، وما زالوا، يحذرون من زلة العالم، وينهون عن متابعته فيها.

وهذه الزلات على قسمين، قسم يبيح أمرا، وقسم يحرم، فما كان منها في جانب التحريم ظهر استنكاره من العلماء والعامة، من العلماء لعلمهم بخطئه، ووجوب تبيين الحق للناس عليهم، ومن العامة لأنهم يرون أن هذا التحريم يمنعهم من أمر مباح ألفوا فعله، وفي منعهم منه حرج عليهم.

وزلات مبيحة، يظهر استنكارها من العلماء لعلمهم بخطأ المبيح، ووجوب تبيين الحق للناس عليهم، أما العامة فإن هذه الزلات المبيحة تلقى رواجا عند كثير منهم، خاصة إذا جاءت موافقة لشهواتهم ورغباتهم.

وهذا سر رواج كثير من الفتاوى الشاذة بين كثير من الناس، مع مخالفة أكثرها للنصوص الصحيحة الصريحة التي وقع الإجماع عليها.

وبهذه الفتاوى الشاذة، التي يروج لها بعض من لا يتقي الله سبحانه، يشغل العلماء، وتهدر طاقات كثير منهم، وتستنزف أوقاتهم، ويشغلون عما هو أهم، من إرشاد العباد، بتعليمهم الحق، وتحذيرهم من الباطل.

وتعم الفوضى الفكرية، ويقع الاضطراب والبلبلة عند كثير من العوام، وتهتز بعض الثوابت لديهم، وهذه أمور خطيرة على الأمة المسلمة.
‌[প্রথম বই: মহিলাদের জন্য গোলাকার স্বর্ণের অলঙ্কার পরিধানের বৈধতা]

প্রথম বই

মহিলাদের জন্য গোলাকার স্বর্ণের অলঙ্কার পরিধানের বৈধতা। লেখক: ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারী।

বিবরণ: ৯৬ পৃষ্ঠা, মাপ ১৬×২৩ সে.মি.

প্রতিটি তেজি ঘোড়ারই হোঁচট খাওয়া আছে, প্রতিটি আলিমেরই পদস্খলন আছে; আর সেই ব্যক্তিই সংরক্ষিত যাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা রক্ষা করেছেন। যদি কোনো ব্যক্তি প্রতিটি আলিমের পদস্খলনগুলো খুঁজে খুঁজে তা গ্রহণ করতে থাকে, তবে তার মাঝে সকল মন্দ এসে সমবেত হবে। এই কারণেই আলেমগণ সর্বদা আলিমের বিচ্যুতি সম্পর্কে সতর্ক করে এসেছেন এবং সে বিষয়ে তাঁকে অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন।

এই বিচ্যুতিগুলো দুই প্রকার: এক প্রকার কোনো বিষয়কে বৈধ করে এবং অন্য প্রকার হারাম করে। হারামের ক্ষেত্রে যে বিচ্যুতিগুলো ঘটে, সেগুলোর প্রতিবাদ আলেম ও সাধারণ মানুষ—উভয় পক্ষ থেকেই প্রকাশ পায়। আলেমদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ আসে কারণ তাঁরা এর ভুল সম্পর্কে অবগত এবং মানুষের কাছে সত্য স্পষ্ট করা তাঁদের ওপর অপরিহার্য। আর সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে কারণ তাঁরা মনে করেন যে, এই হারাম ঘোষণাটি তাঁদেরকে এমন একটি বৈধ কাজ থেকে বিরত রাখছে যাতে তাঁরা অভ্যস্ত, আর এতে তাঁদের জন্য সংকীর্ণতা সৃষ্টি হচ্ছে।

আর বৈধতা প্রদানকারী বিচ্যুতিগুলোর ক্ষেত্রে আলেমদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ দেখা যায়, কারণ তাঁরা বৈধতা দানকারীর ভুল সম্পর্কে অবগত এবং মানুষের সামনে সত্য স্পষ্ট করা তাঁদের দায়িত্ব। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে, এই ধরনের বৈধতা দানকারী বিচ্যুতিগুলো অনেকের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করে, বিশেষ করে যখন তা তাঁদের প্রবৃত্তি ও আকাঙ্ক্ষার অনুকূলে হয়।

আর এটিই হলো অনেক মানুষের মধ্যে বহু বিচ্ছিন্ন ফতোয়া জনপ্রিয় হওয়ার রহস্য, যদিও সেগুলোর অধিকাংশ এমন সহীহ ও অকাট্য দলিলের পরিপন্থী যার ওপর ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এসব বিচ্ছিন্ন ফতোয়ার মাধ্যমে—যা এমন কিছু লোক প্রচার করে যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে ভয় করে না—আলেমদের ব্যস্ত রাখা হয়, তাঁদের অনেকের মেধা ও শ্রম অপচয় করা হয় এবং তাঁদের মূল্যবান সময় কেড়ে নেওয়া হয়। ফলে তাঁরা আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ—যেমন বান্দাদের সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়া, সত্য শিক্ষা দেওয়া এবং বাতিল থেকে সতর্ক করা—থেকে গাফেল হয়ে পড়েন।

এর ফলে বুদ্ধিভিত্তিক বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, অনেক সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং তাঁদের নিকটস্থ কিছু অকাট্য বিশ্বাসও টালমাটাল হয়ে পড়ে। আর মুসলিম উম্মাহর জন্য এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
لذلك حرص العلماء -أعلى الله منارهم - على بيان خطأ من أخطأ، حتى لا يروج خطؤه بين المسلمين.

ومن هذه البيانات: هذا الكتاب، الذي بين فيه مؤلفه -جزاه الله خيرا عن الإسلام والمسلمين- صحة الإجماع الذي وقع في مسألة فرغ منها العلماء منذ قرون طويلة، فجاء في هذا العصر من يخرق هذا الإجماع، ويحرم ما أجمع المسلمون على حله.

وقد قسم المؤلف الكتاب إلى مقدمة، وستة أبواب، وخاتمة.

ذكر في المقدمة دلالة الكتاب والسنة الصحيحة على جواز تحلي النساء بالذهب المحلق، ونصوص العلماء -رحمهم الله تعالى - في كون إباحته أمرا قد أجمع عليه السلف والخلف.

والباب الأول: ذكر فيه ما استدل به من رأى تحريم الذهب المحلق على النساء، وأجاب فيه عن كل دليل بما يكفي ويشفي - إن شاء الله - حيث أورد كلام أهل العلم في توجيه أدلة من قال بتحريم الذهب المحلق، بكونها ضعيفة، أو منسوخة، أو وردت في حق من تركت أداء زكاته، أو أظهرته أمام من لا يحل لها أن تظهره أمامه، أو أرادت به الفخر والخيلاء.

وقد استغرق هذا الباب قرابة أربعين صفحة، وهو أطول أبواب الكتاب.

الباب الثاني: رد فيه على من ادعى عدم وقوع الإجماع في هذه المسألة، وذكر أدلة إباحة التحلي بالذهب المحلق للنساء من الكتاب والسنة، ومنها أحاديث قد صححها من قال بالتحريم.

وأفاض في بيان حجية الإجماع، وإمكان وقوعه، وكلام أهل العلم في هذه المسألة.

الباب الثالث: أجاب فيه على اعتراض من اعترض على دعوى النسخ في أدلة المحرمين.

الباب الرابع: أجاب فيه على اعتراض من اعترض على دعوى أن الوعيد في حق من لم تؤد زكاته.
এজন্য আলেমগণ—আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে সমুন্নত করুন—ভুলকারীর ভুল বর্ণনার ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছেন, যাতে করে তার ভুল মুসলমানদের মাঝে ছড়িয়ে না পড়ে।

আর এই বর্ণনাসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো: এই কিতাবটি, যাতে এর লেখক—আল্লাহ তাকে ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—সেই ইজমার (ঐক্যমত্যের) সঠিকতা বর্ণনা করেছেন যা এমন একটি মাসআলার ক্ষেত্রে সাব্যস্ত হয়েছে যা আলেমগণ বহু শতাব্দী পূর্বেই মীমাংসা করে গেছেন। অতঃপর বর্তমান যুগে এমন কেউ এসেছেন যিনি এই ইজমাকে ভঙ্গ করেছেন এবং এমন বিষয়কে হারাম করেছেন যার বৈধতার ব্যাপারে মুসলমানগণ ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন।

লেখক এই কিতাবটিকে একটি ভূমিকা, ছয়টি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছেন।

তিনি ভূমিকায় নারীদের গোলাকার স্বর্ণালঙ্কার পরিধানের বৈধতার ওপর কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর প্রমাণাদি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া এটি যে বৈধ, তার ওপর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী উলামায়ে কেরাম—আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন—যে ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন সে বিষয়ে আলেমদের বক্তব্যসমূহও তুলে ধরেছেন।

প্রথম অধ্যায়: এতে তিনি তাদের দলিলগুলো উল্লেখ করেছেন যারা নারীদের জন্য গোলাকার স্বর্ণালঙ্কার হারাম মনে করেন। তিনি ইনশাআল্লাহ পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনকভাবে প্রতিটি দলিলের জবাব দিয়েছেন। যেখানে তিনি গোলাকার স্বর্ণালঙ্কার হারাম বলনেওয়ালাদের দলিলগুলোর ব্যাখ্যায় আলেমদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন যে, দলিলগুলো হয় দুর্বল, অথবা রহিত, অথবা তা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা এর যাকাত আদায় করেনি, অথবা যারা এটি এমন ব্যক্তির সামনে প্রকাশ করেছে যাদের সামনে তা প্রকাশ করা বৈধ নয়, অথবা তারা এর মাধ্যমে গর্ব ও অহংকার করতে চেয়েছে।

এই অধ্যায়টি প্রায় চল্লিশ পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত এবং এটি কিতাবটির দীর্ঘতম অধ্যায়।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে তিনি সেই ব্যক্তির খণ্ডন করেছেন যিনি এই মাসআলায় ইজমা সংঘটিত না হওয়ার দাবি করেছেন। তিনি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নারীদের গোলাকার স্বর্ণালঙ্কার ব্যবহারের বৈধতার দলিলসমূহ উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে এমন কিছু হাদিসও রয়েছে যেগুলোকে হারাম বলনেওয়ালারাও সহীহ বলেছেন।

তিনি ইজমার প্রামাণ্যতা, এর সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা এবং এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।

তৃতীয় অধ্যায়: এতে তিনি সেই ব্যক্তির আপত্তির জবাব দিয়েছেন যিনি হারাম বলনেওয়ালাদের দলিলসমূহ রহিত হওয়ার দাবির ওপর আপত্তি তুলেছেন।

চতুর্থ অধ্যায়: এতে তিনি সেই ব্যক্তির আপত্তির জবাব দিয়েছেন যিনি এই দাবির ওপর আপত্তি করেছেন যে, শাস্তির হুঁশিয়ারি কেবল তাদের জন্য যারা এর যাকাত আদায় করেনি।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الباب الخامس: ذكر فيه الرد على الاستدلال بحديث النهي عن لبس الذهب إلا مقطعا، وكونه حديثا ضعيفا، وما حمل عليه على فرض صحته.

الباب السادس: ذكر فيه الرد على المحرم بفعل أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها.

وختم الكتاب بذكر رد بعض علماء الهند على القائل بتحريم الذهب المحلق للنساء.

والكتاب جيد في بابه، وفيه مباحث علمية مهمة تحتاجها الداعية، خاصة إذا واجهت من أخذت بهذه الفتوى الشاذة، وهو يعد مرجعا مهما للذين ألفوا في هذا الباب ممن جاء بعد المؤلف.

إلا أنه يؤخذ عليه شدة عبارته -أحيانا - وقسوته في رده على المخالف، وكان بإمكانه -حفظه الله- أن يبين الخطأ دون حاجة إلى الشدة والقسوة.

والكتاب صالح للباحثات، ومن تأثرت بتلك الفتوى الشاذة، والله أعلم.
পঞ্চম অধ্যায়: এখানে বিচ্ছিন্ন টুকরো ছাড়া স্বর্ণ পরিধান নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত হাদিস দ্বারা দলীল প্রদানের খণ্ডন এবং হাদিসটি দুর্বল হওয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে; আর হাদিসটি যদি সহিহ ধরে নেওয়া হয় তবে সেটির ব্যাখ্যা কী হবে তাও বর্ণিত হয়েছে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: এখানে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার আমলের মাধ্যমে যারা স্বর্ণ হারাম বলেন, তাদের প্রতিউত্তর উল্লেখ করা হয়েছে।

আর গ্রন্থটি সমাপ্ত করা হয়েছে নারীদের জন্য গোলাকার স্বর্ণালঙ্কার হারামের প্রবক্তার বিরুদ্ধে ভারতের কতিপয় আলেমদের জবাব প্রদানের মাধ্যমে।

গ্রন্থটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইলমি আলোচনা রয়েছে যা একজন নারী দাঈর জন্য প্রয়োজন, বিশেষ করে যখন তিনি এমন কারো সম্মুখীন হন যিনি এই শায বা বিচ্ছিন্ন ফতোয়াটি গ্রহণ করেছেন। এছাড়া এটি লেখকের পরবর্তী সময়ে যারা এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত।

তবে গ্রন্থটির ওপর একটি আপত্তি হলো—মাঝে মাঝে এর ভাষা অত্যন্ত কঠোর এবং বিরোধীদের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে রুক্ষতা পরিলক্ষিত হয়। অথচ তিনি (আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন) কঠোরতা ও রুক্ষতা অবলম্বন না করেই ভুলটি ধরিয়ে দিতে পারতেন।

গ্রন্থটি নারী গবেষক এবং যারা এই শায ফতোয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন তাদের জন্য উপযোগী। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌[الكتاب الثاني إتحاف الخلان بحقوق الزوجين في الإسلام]

الكتاب الثاني

إتحاف الخلان

بحقوق الزوجين في الإسلام المؤلف: د. فيحان بن شالي المطيري.

الناشر: دار العاصمة، الرياض، ط1، عام 1411هـ.

المواصفات: 480 صفحة، 25×17سم.

قسم المؤلف الكتاب إلى مقدمة ومدخل وثمانية فصول وخاتمة.

تكلم في المقدمة: عن أهمية الحياة الزوجية، وضرورة معرفة حقوق الزوجين، ثم ذكر أسباب اختيار الموضوع، وخطة البحث، وأسلوبه فيه، ثم جعل المدخل في الأسس التي يقوم عليها نظام الحياة الزوجية، وهي: العدالة، والشورى، والدرجة التي فضل الله بها الرجل، والقيومية الحسية والمعنوية التي ألزم الإسلام بها الرجل، وجعلها من الحقوق التي عليه أداؤها.

أما الفصل الأول: فخصصه للحديث عن حق الرجل على زوجته، وقسمه إلى أربعة مباحث:

الأول: خدمة المرأة زوجها. الثاني: حق الوطء والاستمتاع.

الثالث: احترام حقوقه أثناء غيابه.

الرابع: حق الزوج وتصرفات الزوجة، مثل صيامها بدون إذنه، وصدقتها من ماله، وهبتها من ماله وخروجها معه من بلدها.

والفصل الثاني: حقوق المرأة على زوجها، وجعله في مباحث:

الأول: في الصداق.
[দ্বিতীয় গ্রন্থ: ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার বিষয়ে বন্ধুদের উপহার]

দ্বিতীয় গ্রন্থ

বন্ধুদের উপহার

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার বিষয়ে। লেখক: ড. ফাইহান বিন শালি আল-মুতাইরি।

প্রকাশক: দারুল আসিমা, রিয়াদ, ১ম সংস্করণ, ১৪১১ হিজরি।

বৈশিষ্ট্যসমূহ: ৪৮০ পৃষ্ঠা, ২৫×১৭ সে.মি.।

লেখক গ্রন্থটিকে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, আটটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছেন।

তিনি ভূমিকায় আলোচনা করেছেন: দাম্পত্য জীবনের গুরুত্ব এবং স্বামী-স্ত্রীর অধিকার জানার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে, অতঃপর বিষয়টি নির্বাচনের কারণ, গবেষণা পরিকল্পনা এবং এতে অনুসৃত পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি উপক্রমণিকাটি সাজিয়েছেন দাম্পত্য জীবন ব্যবস্থার মূল ভিত্তিগুলোর আলোকে, আর সেগুলো হলো: ন্যায়বিচার, পরামর্শ, সেই মর্যাদা যার মাধ্যমে আল্লাহ পুরুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক অভিভাবকত্ব যা ইসলাম পুরুষের ওপর আবশ্যক করেছে এবং একে তার আদায়যোগ্য অধিকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছে।

আর প্রথম অধ্যায়: এটি তিনি স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকার নিয়ে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং একে চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম: স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সেবা। দ্বিতীয়: সহবাস ও সম্ভোগের অধিকার।

তৃতীয়: স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার অধিকারসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।

চতুর্থ: স্বামীর অধিকার এবং স্ত্রীর কর্মকাণ্ড, যেমন স্বামীর অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর রোজা রাখা, তার সম্পদ থেকে সদকা করা, তার সম্পদ থেকে হেবা বা দান করা এবং স্বামীর সাথে নিজ দেশ থেকে প্রস্থান করা।

আর দ্বিতীয় অধ্যায়: স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকার, এবং একে তিনি কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছেন:

প্রথম: মোহরানা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الثاني: في النفقة.

الثالث: في الكسوة.

الرابع: في السكن.

الخامس: في حسن المعاملة.

السادس: في التعليم.

السابع: في الوطء والاستمتاع، وقد أفاض المؤلف في الحديث عن هذا الموضوع، وقسم هذا المبحث إلى عدة مطالب وفروع، وفي حاجة المرأة الطبيعية لهذا الأمر، وطرق الاستمتاع، ومحاله، للمتطهرة، والحائض والنفساء والمستحاضة، ومن أتى حائضا، وكفارة فعله، ومدة النفاس، وآداب الجماع، والعزل وأحكامه.

الفصل الثالث: تعدد الزوجات، ووضعه قبل الإسلام وبعده، وحكمه، وشروطه، والقسم للزوجات المسلمات وغير المسلمات، وحكم القسم حال السفر، والقرعة، وبعض الشبه والرد عليها.

الفصل الرابع: نشوز الزوجة، والطرق الشرعية لعلاجه، وأحكام الحكمين.

الفصل الخامس: الطلاق، وكونه حقا للزوج، وقسمه إلى مباحث:

الأول: معنى الطلاق.

الثاني: الأصل فيه.

الثالث: أحكامه.

الرابع: كونه بيد الزوج، ومن يقع منه، ومن لا يقع منه، والخلاف في ذلك على التفصيل، مثل: طلاق الصغير، والمكره، والمجنون، والسكران.

الخامس: سبب كون الطلاق بيد الزوج.

السادس: الطلاق السني والبدعي.
দ্বিতীয়: ভরণপোষণ প্রসঙ্গে।

তৃতীয়: পোশাক-পরিচ্ছদ প্রসঙ্গে।

চতুর্থ: আবাসন প্রসঙ্গে।

পঞ্চম: সদ্ব্যবহার প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ: শিক্ষা-দীক্ষা প্রসঙ্গে।

সপ্তম: সহবাস ও আনন্দ উপভোগ প্রসঙ্গে; লেখক এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এই আলোচনাটিকে কয়েকটি অনুচ্ছেদ ও শাখায় বিভক্ত করেছেন। এতে রয়েছে: এই বিষয়ে নারীর স্বাভাবিক প্রয়োজনীয়তা, আনন্দ উপভোগের পদ্ধতি ও স্থানসমূহ; পবিত্রাবস্থায়, ঋতুকালীন, নিফাস (সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব) এবং ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) অবস্থায় নারীর বিধান; যে ব্যক্তি ঋতুকালীন অবস্থায় সহবাস করে তার বিধান ও কাফফারা; নিফাসের সময়সীমা; সহবাসের আদব এবং আযল (বীর্য বাইরে ফেলা) ও এর বিধানসমূহ।

তৃতীয় অধ্যায়: বহুবিবাহ; ইসলামপূর্ব ও ইসলাম পরবর্তী সময়ে এর অবস্থান, এর বিধান, এর শর্তাবলি, মুসলিম ও অমুসলিম স্ত্রীদের মধ্যে সময় বণ্টন, সফর অবস্থায় সময় বণ্টনের বিধান, লটারি পদ্ধতি এবং কিছু সংশয় ও তার খণ্ডন।

চতুর্থ অধ্যায়: স্ত্রীর অবাধ্যতা (নুশূয), এর প্রতিকারের শরয়ী পদ্ধতিসমূহ এবং দুই সালিসের বিধান।

পঞ্চম অধ্যায়: তালাক এবং এটি স্বামীর অধিকার হওয়া প্রসঙ্গে; তিনি এই বিষয়টিকে কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম: তালাকের অর্থ।

দ্বিতীয়: তালাকের মূল ভিত্তি।

তৃতীয়: তালাকের বিধানসমূহ।

চতুর্থ: তালাক স্বামীর হাতে হওয়া এবং কার পক্ষ থেকে তালাক কার্যকর হয় আর কার পক্ষ থেকে হয় না—এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত মতভেদ; যেমন: অপ্রাপ্তবয়স্ক, বাধ্য হওয়া ব্যক্তি, উন্মাদ এবং মাতাল ব্যক্তির তালাক।

পঞ্চম: তালাক স্বামীর হাতে হওয়ার কারণ।

ষষ্ঠ: সুন্নাহসম্মত তালাক এবং বিদআতী তালাক।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل السادس: الخلع، وكونه حقا للزوجة، وقد قسم هذا الفصل إلى مباحث:

الأول: معنى الخلع.

الثاني: حكمه.

الثالث: أركانه وشروطه.

الرابع: مقدار الفدية فيه.

الخامس: الآثار المترتبة عليه، والخلاف في ذلك.

الفصل السابع: أسباب عدم استقرار الحياة الزوجية، وذكر منها: الجهل، وضعف الإيمان، وسوء التصرف، والتعالي، والتقليد الأعمى، وبعض الأسباب الخلقية والخلقية والسهر خارج المنزل، والطمع المالي، وعدم العدل، وسوء الظن، وسوء الفهم، والميل إلى بعض الأولاد دون بعض، وعدم الرضا، وتدخل بعض الأقارب، وخروج المرأة بدون إذن زوجها، والخلوة المحرمة، وقد ذكر حلول بعض هذه المشكلات.

الفصل الثامن: في آداب قدوم المسافر على أهله ليلا.

وختم المؤلف الكتاب بذكر أهم نتائج البحث، في إحدى وعشرين نقطة.

والكتاب مهم جدا في بابه، جمع فيه المؤلف بين حقوق الزوجين، مع ذكر أدلة كل قول يورده، وذكر الخلاف في كل مسألة خلافية يوردها، ويعمل على الترجيح بطريقة علمية نزيهة، وأدب جم مع كل عالم يورد رأيه.

وقد جمع المؤلف في كتابه شتات مادة غزير جدا، من بطون كتب الفقه الكثيرة الطويلة، وحشد لها الأدلة من مصادرها الأصيلة، مع حسن التنسيق والتبويب، وجودة العرض، والحرص على بيان سماحة الشريعة، ومراعاتها في إحكامها جانبي الرجل والمرأة في آن واحد، دون أن يطغى جانب على آخر، وبين كيف أعطت كلا من الزوجين من الحقوق ما يكفل سعادته، وتسيير حياته الزوجية.

والكتاب يعد بحق إثراء لمكتبة المرأة المسلمة، وحقيق ألا تخلو منه مكتبة منزلية، وأن
ষষ্ঠ অধ্যায়: খুলা এবং এটি স্ত্রীর একটি অধিকার হিসেবে। এই অধ্যায়টি কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করা হয়েছে:

প্রথম: খুলার অর্থ।

দ্বিতীয়: এর বিধান।

তৃতীয়: এর রুকন ও শর্তাবলি।

চতুর্থ: এতে ফিদিয়ার পরিমাণ।

পঞ্চম: এর আনুষঙ্গিক প্রভাব এবং এ বিষয়ে মতভেদ।

সপ্তম অধ্যায়: দাম্পত্য জীবন স্থিতিশীল না হওয়ার কারণসমূহ। এর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে: অজ্ঞতা, ঈমানের দুর্বলতা, অসদাচরণ, অহংকার, অন্ধ অনুকরণ, শারীরিক ও চারিত্রিক কিছু কারণ, ঘরের বাইরে রাত জাগরণ, আর্থিক লোভ, ইনসাফ না করা, কুধারণা, ভুল বুঝাবুঝি, এক সন্তানের প্রতি অন্য সন্তানের চেয়ে বেশি ঝুঁকে পড়া, অসন্তুষ্টি, নিকটাত্মীয়দের হস্তক্ষেপ, স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর বাইরে যাওয়া এবং নিষিদ্ধ নির্জনতা। লেখক এই সমস্যাগুলোর কিছু সমাধানও উল্লেখ করেছেন।

অষ্টম অধ্যায়: কোনো মুসাফিরের রাতে নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসার আদব সম্পর্কে।

লেখক একুশটি পয়েন্টে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে বইটি সমাপ্ত করেছেন।

বইটি এর বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে লেখক স্বামী-স্ত্রীর অধিকারগুলোকে একত্রিত করেছেন এবং প্রতিটি মতের পক্ষে দলিল উল্লেখ করেছেন। প্রতিটি মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়ে তিনি ভিন্ন ভিন্ন মত উল্লেখ করেছেন এবং একটি নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অগ্রাধিকারমূলক মতটি নির্ণয় করেছেন, আর প্রতিটি আলেমের মত উল্লেখ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত শিষ্টাচার বজায় রেখেছেন।

লেখক তার বইটিতে অসংখ্য বিস্তৃত ফিকহ গ্রন্থ থেকে বিপুল পরিমাণ বিক্ষিপ্ত তথ্য একত্রিত করেছেন এবং মূল উৎসগুলো থেকে সেগুলোর দলিল উপস্থাপন করেছেন। এর পাশাপাশি বিন্যাস ও অধ্যায় বিন্যাস ছিল অত্যন্ত সুন্দর, উপস্থাপনা ছিল চমৎকার এবং শরিয়তের উদারতা ফুটিয়ে তোলার বিষয়ে তিনি সচেষ্ট ছিলেন। তিনি তার বিধানসমূহে পুরুষ ও নারী উভয় পক্ষকে সমানভাবে লক্ষ্য রেখেছেন, যাতে এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর প্রাধান্য না পায়। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে শরিয়ত স্বামী-স্ত্রী উভয়কে এমন অধিকার দিয়েছে যা তাদের সুখ এবং দাম্পত্য জীবনের সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করে।

বইটি প্রকৃতপক্ষে মুসলিম নারীদের পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করেছে এবং এটি কোনো পারিবারিক পাঠাগারে না থাকা সমীচীন নয়, এবং
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
يكون مادة تعليمية لكل داعية تنشد إصلاح المجتمع، وذلك بإلقاء مادته على النساء في شكل دروس مرتبة منسقة مختصرة من مباحث هذا الكتاب القيم. والله أعلم.
এটি সমাজ সংস্কারে আগ্রহী প্রত্যেক নারী দাঈর জন্য একটি শিক্ষামূলক উপকরণ হবে; আর তা হবে এই মূল্যবান গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়সমূহ থেকে সুবিন্যস্ত, সুসংবদ্ধ এবং সংক্ষিপ্ত পাঠ আকারে নারীদের নিকট এর বিষয়বস্তু উপস্থাপনের মাধ্যমে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[الكتاب الثالث أثر التربية الإسلامية في أمن المجتمع الإسلامي]

الكتاب الثالث

أثر التربية الإسلامية في أمن المجتمع الإسلامي المؤلف: الدكتور عبد الله بن أحمد قادري.

الناشر: دار المجتمع، جدة، ط1، عام 1409هـ.

المواصفات: 394صفحة، 17×24سم.

قسم المؤلف كتابه إلى مقدمة وتمهيد وثلاثة أبواب وخاتمة، تحدث في المقدمة عن أسباب السعادة، وأسباب الشقاء، وأهمية التربية الإسلامية، وسبب اختياره الكتابة في هذا الموضوع.

أما التمهيد فقد قسمه إلى ثلاثة مطالب، الأول: في معنى الأمن، والثاني: قسميه الدنيوي والأخروي، والثالث: في أصول الحياة الطيبة.

الباب الأول: تربية الفرد المسلم، وفيه فصلان:

الفصل الأول: تربية الفرد المسلم بالعلم النافع، وفيه ثمانية مباحث، المبحث الأول المقصود بالعلم هنا، وأنه هدى الله.

الثاني: العلم بالله تعالى، وكونه أساس العلم النافع، وركائز هذا العلم: العلم بألوهية الله، والعلم بشمول علم الله وإحاطته بكل شيء، والعلم بقدرة الله التامة على كل شيء، والعلم بعدل الله الكامل، والعلم بصفات الله وأسمائه، وأثر هذه الركائز على تربية الفرد المسلم، وبعده عن كل ما يسخط ربه.

المبحث الثالث: العلم بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وطريق هذا العلم، وأثره في نفوس الذين أخذوا به، وعلى رأسهم صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

المبحث الرابع: العلم برسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو التيقن بأنه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكون هذا
[তৃতীয় গ্রন্থ: ইসলামী সমাজের নিরাপত্তায় ইসলামী শিক্ষার প্রভাব]

তৃতীয় গ্রন্থ

ইসলামী সমাজের নিরাপত্তায় ইসলামী শিক্ষার প্রভাব। লেখক: ড. আবদুল্লাহ বিন আহমদ কাদরী।

প্রকাশক: দারুল মুজতামা, জেদ্দা, ১ম সংস্করণ, ১৪০৯ হিজরি।

বিবরণ: ৩৯৪ পৃষ্ঠা, ১৭×২৪ সেমি।

লেখক তাঁর গ্রন্থটিকে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছেন। ভূমিকায় তিনি সৌভাগ্যের কারণসমূহ, দুর্ভাগ্যের কারণসমূহ, ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব এবং এই বিষয়ে তাঁর লেখার কারণ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

আর উপক্রমণিকাকে তিনি তিনটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন। প্রথম: নিরাপত্তার অর্থ; দ্বিতীয়: এর দুনিয়াবী ও পরকালীন প্রকারভেদ; এবং তৃতীয়: সুন্দর জীবনের মূলনীতিসমূহ।

প্রথম অধ্যায়: মুসলিম ব্যক্তির শিক্ষা ও লালন-পালন, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: উপকারী জ্ঞানের মাধ্যমে মুসলিম ব্যক্তির শিক্ষা, এতে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদ: এখানে জ্ঞান বলতে যা উদ্দেশ্য, আর তা হলো আল্লাহর হেদায়েত।

দ্বিতীয়: মহান আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান এবং এটিই উপকারী জ্ঞানের মূল ভিত্তি হওয়া। এই জ্ঞানের স্তম্ভসমূহ হলো: আল্লাহর উলুহিয়্যাত (উপাস্যত্ব) সম্পর্কে জ্ঞান, আল্লাহর জ্ঞানের ব্যাপকতা ও সবকিছুর ওপর তাঁর পরিবেষ্টন সম্পর্কে জ্ঞান, সবকিছুর ওপর আল্লাহর পূর্ণ ক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞান, আল্লাহর পূর্ণ ন্যায়বিচার সম্পর্কে জ্ঞান এবং আল্লাহর গুণাবলি ও নামসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান। মুসলিম ব্যক্তির শিক্ষায় এবং তাঁর প্রতিপালকের অসন্তুষ্টি জাগায় এমন সব কিছু থেকে তাঁর দূরে থাকার ক্ষেত্রে এই স্তম্ভগুলোর প্রভাব।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান এবং এই জ্ঞান অর্জনের পথ, আর যারা এটি গ্রহণ করেছেন তাদের অন্তরে এর প্রভাব; যাদের শীর্ষে রয়েছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জ্ঞান, আর তা হলো তিনি যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়া, এবং এটিই...
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
اليقين يقتضي متابعته صلى الله عليه وسلم، وكذا تصديقه وحبه.

المبحث الخامس: العلم باليوم الآخر، وأثره في ضبط تصرفات المسلم، ولزوم تربية الفرد على الإيمان به، ودوام تذكره؛ لأنه الرقيب الذاتي في نفس المسلم عليها.

المبحث السادس: العلم بالملائكة، ووظائفهم، وفائدة ذلك على المسلم.

المبحث السابع: العلم بوجوب محبة الله ورسوله، وأن من انعدمت محبة الله ورسوله من قلبه فقد فقد إيمانه، وخطورة تربية الفرد على التعلق بمحبة غير الله ورسوله، والدمار والهلاك الذي سيقوده للأمة أمثال هذا الفرد من الناس.

المبحث الثامن: العلم بأن الله واهب الحياة والرزق، وأن الفرد المؤمن بهذا الأمر مضبوط في كل تحركاته وسكناته بأوامر الشارع لا يحيد عنها.

الفصل الثاني: تربية الفرد المسلم بالعمل الصالح، حيث بين المؤلف في افتتاحية هذا الفصل، من هو الذي له حق تحديد العمل الصالح من الفاسد؟ وأن الاضطراب في الإجابة على هذا السؤال أنتج أنماطا من السلوك والنشاط متناقضة في عالم اليوم، خاصة في تحديد الحرية الفردية، وما نتج عنها من تخبط وتباين في التعريف، وكيف جدد الإسلام العمل الصالح، وشرط له شرطين: الإخلاص، والمتابعة. ثم شرع في مباحث هذا الفصل، وهي: المبحث الأول: في الحض على طاعة الله وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم وأنهما سبب النجاة والفلاح، وطرق التمسك بالعمل الصالح وترك السيء.

المبحث الثاني: اكتساب الحرية الحقة، وأنها في إفراد الله سبحانه وتعالى بالعبادة.

المبحث الثالث: نماذج تطبيقية لأثر التربية الإسلامية، حيث ذكر أمثلة على سرعة التنفيذ اختيارا وامتثالا، وسهولة إثبات الجريمة بإقرار الجاني خوفا من الله، ورفض الإغراء، واحتمال المكاره رغبة فيما عند الله، والورع، وكل تلك الأمثلة كانت عن جيل الصحابة رضي الله عنهم.
ইয়াকীন বা সুদৃঢ় বিশ্বাস তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণকে অপরিহার্য করে, ঠিক তেমনই তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং তাঁকে ভালোবাসা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আখেরাত বা পরকাল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং মুসলিমের আচরণের ওপর এর প্রভাব, এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে ব্যক্তিকে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এবং সর্বদা তা স্মরণ রাখা; কারণ এটি মুসলিমের অন্তরে তার নিজের ওপর এক স্বীয় পর্যবেক্ষণকারী।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাগণ সম্পর্কে জ্ঞান, তাঁদের কার্যাবলি এবং মুসলিমের জন্য এর উপকারিতা।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসা ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে জ্ঞান লাভ, এবং যার অন্তর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা বিদায় নিয়েছে সে তার ঈমান হারিয়েছে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত অন্য কারো প্রতি আসক্ত হওয়ার ভিত্তিতে ব্যক্তিকে গড়ে তোলার ভয়াবহতা এবং এই ধরণের ব্যক্তিরা উম্মাহর ওপর যে ধ্বংস ও বিনাশ বয়ে আনবে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ যে জীবন ও রিযিক দাতা সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং এই বিষয়ে বিশ্বাসী ব্যক্তি তার সকল নড়াচড়া ও স্থিরতায় শরীয়ত প্রণেতার নির্দেশের অনুগত থাকে, যা থেকে সে বিচ্যুত হয় না।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সৎকর্মের মাধ্যমে মুসলিম ব্যক্তিকে গড়ে তোলা। লেখক এই অধ্যায়ের সূচনায় স্পষ্ট করেছেন যে, সৎকর্ম ও মন্দকর্ম নির্ধারণের অধিকার কার? তিনি দেখিয়েছেন যে, এই প্রশ্নের উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি বর্তমান বিশ্বে পরস্পরবিরোধী আচরণ ও কর্মকাণ্ডের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এবং এর ফলে সংজ্ঞায়নের যে বিশৃঙ্খলা ও বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়েছে। আর ইসলাম কীভাবে সৎকর্মকে পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং এর জন্য দুটি শর্তারোপ করেছে: ইখলাস বা নিষ্ঠা এবং মুতাবাহ বা রাসূলের অনুসরণ। অতঃপর তিনি এই অধ্যায়ের পরিচ্ছেদগুলো আলোচনা শুরু করেন, যা হলো: প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্যের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এই উভয়টিই মুক্তি ও সফলতার কারণ, এবং সৎকর্ম আঁকড়ে ধরার ও মন্দ বর্জনের পথসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন এবং তা নিহিত রয়েছে কেবলমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদতের মধ্যে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামী শিক্ষার প্রভাবের প্রায়োগিক দৃষ্টান্ত। এখানে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও আনুগত্যের সাথে দ্রুত নির্দেশ পালনের উদাহরণ পেশ করেছেন, আল্লাহর ভয়ে অপরাধীর স্বীকারোক্তির মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণের সহজতা, প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করা, আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তার প্রত্যাশায় কষ্ট সহ্য করা এবং পরহেযগারি—এই সমস্ত উদাহরণই ছিল সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) প্রজন্মের।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الباب الثاني: تربية الأسرة المسلمة، وفيه فصلان:

الفصل الأول: ضرورة وجود الأسرة المسلمة، وأساسها، وفيه مبحثان:

الأول: ضرورة وجود الأسرة المسلمة، وذلك أن النظام الأسري -عموما - قانون فطري لكل زوجين، وأنه لا يوجد قانون ينوب عنه.

المبحث الثاني: الأساس في بناء الأسرة المسلمة: الزوجة الصالحة، والزوج الصالح، وصفات كل.

الفصل الثاني: قدم له المؤلف بمقدمة قصيرة عن ضرورة معرفة كل فرد في العائلة -سواء كان من أصلها أو طارئ عليها - واجبه ليقوم به خير قيام، ثم ذكر المبحث الأول: في حقوق الوالدين.

المبحث الثاني: في حقوق الزوج على زوجته، حيث تحدث عن عظيم حقه، ووجوب اجتهاد الزوجة في القيام به، وأن طاعته واجبة في غير معصية الله، ووجوب ابتعاد الزوجة عن كل ما يؤذي زوجها، ووجوب قرارها في البيت، وعدم خروجها إلا بإذنه، وعدم إذنها لأحد في بيته إلا بإذنه، وفي هذه الأمور ذروة الأمن الأسري، وكذلك عدم صومها تطوعا إلا بإذنه، والحرص على تربية أولادها تربية إسلامية، والقيام على شئونهم، وما في ذلك من تحقيق لما هو مطلوب منها شرعا، لقوله صلى الله عليه وسلم: «والمرأة راعية في بيت زوجها ومسئولة عن رعيتها» وكذلك اعترافها بإحسانه، وعدم إنكار نعمته وأثر ذلك في إسعاد الزوج، ورضاه عن حياته الزوجية، وحفظ ماله، وعدم التفريط فيه، وأثر ذلك على رضاه عن أسرته وشعوره بالأمن النفسي من قبلهم، وكذلك عن تمكينها أجنبيا من الخلوة بها، ومواساتها الزوج، وإدخال السرور عليه، وقد ضرب المؤلف لذلك أمثلة، وتحدث عن تسليمها بإمرته الأسرة في حدود ما شرع الله، وأن أمور الناس لا يمكن أن تنتظم إلا بوجود من يتولى أمرهم، وكذلك الأسرة لا يمكن أن يستقر وضعها إلا بوجود الأب القائم على شئونها، والأم الراعية لحقوق أسرتها وحقوق زوجها، وطاعته في حدود ما شرع الله، وكذا ضرورة تقارب سياسة الأبوين في تدبير
দ্বিতীয় অধ্যায়: মুসলিম পরিবারের প্রতিপালন, এতে রয়েছে দুইটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসলিম পরিবারের অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা ও এর ভিত্তি, এতে রয়েছে দুইটি অনুচ্ছেদ:

প্রথম: মুসলিম পরিবারের অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা; আর তা এই জন্য যে, পারিবারিক ব্যবস্থা -সাধারণভাবে- প্রত্যেক দম্পতির জন্য একটি স্বভাবজাত নিয়ম, এবং এমন কোনো আইন নেই যা এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুসলিম পরিবার গঠনের ভিত্তি: নেককার স্ত্রী, নেককার স্বামী এবং প্রত্যেকের গুণাবলি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখক এই পরিচ্ছেদের শুরুতে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের -সে পরিবারের মূল সদস্য হোক বা আগন্তুক- নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা পেশ করেছেন, যাতে প্রত্যেকে তা সর্বোত্তমভাবে পালন করতে পারে। অতঃপর তিনি প্রথম অনুচ্ছেদটি উল্লেখ করেছেন: পিতা-মাতার অধিকার প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকার প্রসঙ্গে। এখানে তিনি স্বামীর মহান অধিকার এবং তা পালনে স্ত্রীর প্রচেষ্টার আবশ্যকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আল্লাহর অবাধ্যতা নয় এমন বিষয়ে স্বামীর আনুগত্য করা ওয়াজিব। স্বামীর জন্য কষ্টদায়ক হয় এমন সব বিষয় থেকে স্ত্রীর দূরে থাকা আবশ্যক। তার জন্য নিজ গৃহে অবস্থান করা আবশ্যক এবং স্বামীর অনুমতি ব্যতীত বাইরে বের হওয়া যাবে না। স্বামীর অনুমতি ছাড়া কাউকে তার ঘরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না; আর এসব বিষয়ের মধ্যেই পারিবারিক নিরাপত্তার চরম সার্থকতা নিহিত। তদ্রূপ স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নফল রোজা না রাখা, সন্তানদের ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলার ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া এবং তাদের দেখাশোনা করা—এর মাধ্যমে মূলত তার ওপর অর্পিত শরয়ি দায়িত্বই পালিত হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে: "আর নারী তার স্বামীর ঘরের দায়িত্বশীল এবং সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।" একইভাবে স্বামীর উপকারের স্বীকৃতি দেওয়া, তার অনুগ্রহ অস্বীকার না করা—আর এর প্রভাব পড়ে স্বামীর সুখ এবং দাম্পত্য জীবনে তার সন্তুষ্টির ওপর। স্বামীর সম্পদ হিফাজত করা এবং তাতে কোনো প্রকার অবহেলা না করা—এর প্রভাব পড়ে পরিবারের ওপর স্বামীর সন্তুষ্টি এবং তাদের পক্ষ থেকে মানসিক নিরাপত্তা লাভের ওপর। তদ্রূপ কোনো পরপুরুষকে তার সাথে নির্জনে অবস্থানের সুযোগ না দেওয়া, স্বামীকে সান্ত্বনা দেওয়া এবং তাকে আনন্দিত করা। লেখক এ সম্পর্কে কিছু উদাহরণ পেশ করেছেন। তিনি আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে পরিবারের ওপর স্বামীর নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। মানুষের কোনো বিষয় সুশৃঙ্খল হতে পারে না যতক্ষণ না তাদের বিষয়াদি দেখাশোনার জন্য কেউ নিয়োজিত থাকে। একইভাবে পরিবারের অবস্থাও স্থিতিশীল হতে পারে না যতক্ষণ না পিতা তার বিষয়াদি পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন এবং মাতা তার পরিবার ও স্বামীর অধিকারের তত্ত্বাবধান করেন এবং আল্লাহর বিধানের সীমার মধ্যে তার আনুগত্য করেন। সেই সাথে গৃহ পরিচালনায় পিতা-মাতার কর্মপন্থা ও নীতির মধ্যে মিল থাকার প্রয়োজনীয়তা...
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
شئون منزلهما، وتفاهمهما على ذلك.

المبحث الثالث: حقوق المرأة على الزوج والولي، حيث ذكر المؤلف حقوق المرأة قبل الزواج، بالتأكد من رضاها بالزواج ممن تقدم لها، وحقها على وليها أن يبحث لها عن كفء صالح، وأن يعرضها عليه، وعدم جواز عضلها إذا طلبها الكفء، وأن لا يقدم الخاطب على الزواج بها إلا بعد التأكد من رغبتها، ولذلك شرع الإسلام النظر إلى المرأة قبل الزواج بها، وإعطاء المهر المتيسر للمرأة، وعدم المغالاة فيه، ثم تحدث عن حقوق المرأة عند البناء بها، وذلك بإظهار الزواج للناس، وذلك يكون بإظهار أسرتي العروسين وجيرانهم الفرح والسرور، ومن مظاهره الضرب بالدف والغناء غير المحرم، وكذا إقامة الزوج الوليمة المتيسرة وإقامته عند زوجته المدة المأذون بها شرعا بعد البناء، ثم تحدث عن حقوق المرأة في فترة الحياة الزوجية، وهي: تعليمها أمور دينها، وتربيتها على ذلك، ومعاشرتها معاشرة حسنة، والتلطف بها، وعدم استعمال العنف معها، وصرف النظر عن أخطائها، وبذلك ما تحتاجه من النفقة والكسوة مما يكفي أمثالها، والإذن لها بالخروج من بيتها لقضاء حوائجها، وعدم طرقها ليلا إذا أطال الغيبة، حتى لا يدخل عليها إلا وقد تهيأت له، وكانت على حالة تسره.

وعدم هجرها أو ضربها إلا لسبب مشروع، وعدم إفشاء سرها، وجواز إبقائها في عصمته بدون قسم إذا طلبت منه ذلك، إن كان قد كرهها ونوى طلاقها، وهو ما فعله رسول الله صلى الله عليه وسلم مع أم المؤمنين سودة رضي الله عنها، وقد وهبت يومها لأم المؤمنين عائشة رضي الله عنها، وكذا عدم الحلف على هجرها، وعدم غشيانها، وهو الإيلاء، وعدم جواز مضرتها ليكرهها على افتداء نفسها منه، وأن يوقع الطلاق لعدتها المشروعة إذا أراد طلاقها، وهو الطهر الذي لم يجامعها فيه، أو أن تكون حاملا قد استبان حملها، وكذا وجوب النفقة والسكنى لها إذا كان طلاقها رجعيا، ثم تحدث المؤلف عن حقوق المرأة بعد الفراق، فذكر حقها في رضاع ولدها منه، لكونها أحق وأحن عليه من غيرها، وحقها في حضانة ولدها ما لم تتزوج، فإن تزوجت فقد أسقطت حقها بزواجها، وكذلك تمتيع المطلقة التي لم يدخل بها، أو لم يسم لها صداقا.

المبحث الرابع: حقوق الأولاد على الوالدين، ومن يقوم بشئونهم، تحدث فيه عن
তাদের গৃহস্থালী বিষয় এবং সে বিষয়ে তাদের পারস্পরিক সমঝোতা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্বামী ও অভিভাবকের নিকট নারীর অধিকার। যেখানে লেখক বিবাহের পূর্বে নারীর অধিকারসমূহ উল্লেখ করেছেন—যেমন প্রস্তাবকারীর সাথে বিবাহে তার সম্মতি নিশ্চিত করা; অভিভাবকের ওপর নারীর অধিকার হলো তিনি তার জন্য একজন উপযুক্ত ও সৎ পাত্র সন্ধান করবেন এবং তার নিকট প্রস্তাব পেশ করবেন; যোগ্য পাত্র প্রস্তাব দিলে তাকে বিয়েতে বাধা প্রদান করা বৈধ নয়; এবং কোনো পাণিপ্রার্থী নারীর ইচ্ছার বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিবে না। এই কারণেই ইসলাম বিবাহের পূর্বে কনেকে দেখার এবং নারীকে সহজসাধ্য মোহর প্রদান ও তাতে অতিরঞ্জন না করার বিধান দিয়েছে। এরপর তিনি বাসর রাতে বা দাম্পত্য জীবন শুরুর প্রাক্কালে নারীর অধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন, আর তা হলো মানুষের নিকট বিবাহের ঘোষণা দেওয়া। যা বর-কনের উভয় পরিবার ও প্রতিবেশীদের আনন্দ ও খুশি প্রকাশের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আর এর বহিঃপ্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হলো দফ বাজানো এবং হারাম নয় এমন গান গাওয়া। তদ্রূপ স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী ওলিমা বা বিবাহোত্তর ভোজের আয়োজন করা এবং বাসর রাতের পর শরিয়ত অনুমোদিত সময় পর্যন্ত স্ত্রীর নিকট অবস্থান করা। এরপর তিনি দাম্পত্য জীবনে নারীর অধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা হলো: তাকে দ্বীনি বিষয় শিক্ষা দেওয়া এবং সে অনুযায়ী তাকে গড়ে তোলা, তার সাথে উত্তম আচরণ করা, তার প্রতি কোমল হওয়া, তার সাথে সহিংস আচরণ না করা, তার ভুলত্রুটিগুলো এড়িয়ে চলা, তার সমপর্যায়ের নারীদের জন্য পর্যাপ্ত হয় এমন ভরণপোষণ ও পোশাকের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনীয় প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া এবং দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর রাতে হঠাৎ বাড়িতে না আসা, যাতে তিনি স্ত্রীর নিকট এমন অবস্থায় উপস্থিত হন যখন স্ত্রী তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং এমন অবস্থায় আছে যা তাকে আনন্দ দেয়।

এবং শরিয়তসম্মত কারণ ব্যতীত তাকে পরিত্যাগ না করা বা প্রহার না করা, তার গোপন বিষয় প্রকাশ না করা এবং যদি স্ত্রী অনুরোধ করে তবে পালা বণ্টন ব্যতীত তাকে নিজ বিবাহাধীনে রাখা বৈধ, যদি স্বামী তাকে অপছন্দ করেন এবং তালাক প্রদানের ইচ্ছা করেন। আর এটিই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মুমিনীন সওদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে করেছিলেন, যখন তিনি তার নির্ধারিত দিনটি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে দান করেছিলেন। তদ্রূপ তাকে বর্জন করা বা তার সাথে সহবাস না করার শপথ না করা, যা 'ঈলা' নামে পরিচিত। এবং তাকে কষ্ট দেওয়া বৈধ নয় যাতে সে মুক্তিপণ প্রদানের মাধ্যমে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে বাধ্য হয়। আর যদি তিনি তাকে তালাক দিতেই চান, তবে যেন শরিয়তসম্মত ইদ্দতের সময় তালাক প্রদান করেন, যা হলো এমন পবিত্র অবস্থা যাতে তিনি তার সাথে সহবাস করেননি অথবা এমন গর্ভবতী অবস্থা যখন গর্ভ নিশ্চিতভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তদ্রূপ তালাক যদি রাজয়ী বা প্রত্যাবর্তনযোগ্য হয়, তবে তার ভরণপোষণ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা ওয়াজিব। এরপর লেখক বিচ্ছেদের পর নারীর অধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি তার সন্তানকে দুগ্ধপান করানোর অধিকারের কথা উল্লেখ করেছেন, কেননা অন্যের তুলনায় মা-ই এর বেশি হকদার এবং সন্তানের প্রতি অধিক মমতাশীল। আর বিবাহ না করা পর্যন্ত সন্তানের লালন-পালনের অধিকার তার থাকবে, তবে বিবাহ করলে তিনি এই অধিকার হারাবেন। একইভাবে সেই তালাকপ্রাপ্তা নারীকে 'মুতা' বা উপহার প্রদান করা যার সাথে বাসর সম্পন্ন হয়নি অথবা যার মোহর নির্ধারিত ছিল না।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতা এবং সন্তানদের দেখাশোনা কারীদের ওপর সন্তানদের অধিকার। এতে তিনি আলোচনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
السعي في تحصين الأولاد من الشيطان قبل وجودهم بالدعاء والالتجاء إلى الله من شر الشيطان الرجيم، والعناية بهم في أرحام أمهاتهم، بالنفقة على الأم الحامل المطلقة، من أجل جنينها، ووقاية الأم -عموما - مما قد يؤذي ما في رحمها، وكذا طلب الأولاد، وإظهار السرور بهم، وذكر الله في آذانهم عند ولادتهم، والاعتناء بغذائهم وتمرينهم عليه، واختيار الاسم الحسن للولد، وإظهار شكر الله على هبتهم بالذبح تقربا له سبحانه، والعناية بتنظيفهم، وإزالة الأذى عنهم، ووجوب إرضاع الصغير، وكفالته حتى يستغني بنفسه، وتعليمه العلم النافع، وتربيته على العمل الصالح، ومراعاة أحواله، واستعداده، وتوجيهه إلى ما يرغب من أوجه الاكتساب والأعمال المباحة، وتمرينه على الحركة والعمل، وتجنيبه البطالة والكسل، وإعفافه بالنكاح عند الحاجة والمقدرة.

المبحث الخامس: حقوق السيد والمستأجر على العبد والأجير، حيث تحدث عن طاعة العبد لسيده، والأجير لمستأجره في غير معصية، وأن يكون العبد والأجير أمينين ناصحين.

المبحث السادس: حقوق العبد على السيد والأجير على المستأجر، وتواضع السيد والمستأجر وعدم تكبرهما، وأداء حق الأجير وعدم ظلمه، والعفو عن الخادم إذا أخطأ، والنفقة عليه، بإطعامه من طعام السيد، وإلباسه من لباسه، وأن يبذل السيد جهده في عتق عبيده.

المبحث السابع: العدل الأسري بين الزوجان في المبيت والنفقة والكسوة قدر الاستطاعة، وبدون تكلف، والعدل بين الأولاد في المعاملة والعطية.

الباب الثالث: تربية المجتمع، وفيه ثلاث فصول:

الأول: السعي لتحقيق الأخوة الإسلامية، تحدث فيه المؤلف عن المحبة في الله، وكيف يأمن المجتمع المتحاب بعضه بعضا، وكذا التزاور والتواصل، والدعوة إلى الطعام وإجابتها، وإعانة المحتاجين والضعفاء، وإفشاء السلام، وأثره في بث روح التآلف، والتواد، وطلاقة الوجه، وطيب الكلمة، وأنهما صدقتان، وسببان عظيمان لإزالة الوحشة والنفرة، والتواضع وقبول الحق، والعفو والسماحة ودفع السيئة بالحسنة،
সন্তানদের অস্তিত্বে আসার পূর্বেই দোয়ার মাধ্যমে এবং বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনার মাধ্যমে তাদেরকে শয়তান থেকে সুরক্ষিত রাখার প্রচেষ্টা চালানো; এবং মায়েদের গর্ভে থাকা অবস্থায় তাদের যত্ন নেওয়া, যেমন গর্ভস্থ ভ্রূণের খাতিরে তালাকপ্রাপ্তা গর্ভবতী মায়ের জন্য ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা; এবং সাধারণভাবে মাকে এমন সব বিষয় থেকে রক্ষা করা যা তার গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি করতে পারে। তদ্রূপ সন্তান কামনা করা, তাদের আগমনে আনন্দ প্রকাশ করা, জন্মের সময় তাদের কানে আল্লাহর জিকির করা, তাদের পুষ্টির বিষয়ে যত্নবান হওয়া এবং তাতে তাদের অভ্যস্ত করা, সন্তানের জন্য সুন্দর নাম নির্বাচন করা, আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া এই সন্তানের শুকরিয়া স্বরূপ তাঁর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে পশু জবাই করার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, তাদের পরিচ্ছন্নতার প্রতি খেয়াল রাখা, তাদের থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা, শিশুকে দুগ্ধপান করানোর আবশ্যকতা এবং স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত তার লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করা। এছাড়া তাকে উপকারী জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া, নেক আমলের ওপর গড়ে তোলা, তার অবস্থা ও যোগ্যতার প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং তাকে কাঙ্ক্ষিত বৈধ উপার্জন ও কর্মসংস্থানের দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করা, তাকে সচল থাকা ও পরিশ্রমের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাকে বেকারত্ব ও অলসতা থেকে দূরে রাখা। আর প্রয়োজন ও সামর্থ্য থাকলে বিবাহের মাধ্যমে তাকে চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জনে সহায়তা করা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: দাস ও শ্রমিকের ওপর মনিব ও নিয়োগকর্তার অধিকার। এখানে পাপ নয় এমন কাজে মনিবের প্রতি দাসের এবং নিয়োগকর্তার প্রতি শ্রমিকের আনুগত্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া দাস ও শ্রমিকের আমানতদার ও হিতাকাঙ্ক্ষী হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মনিবের ওপর দাসের এবং নিয়োগকর্তার ওপর শ্রমিকের অধিকার। মনিব ও নিয়োগকর্তার বিনয় এবং তাদের অহংকার বর্জন করা; শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করা ও তার প্রতি জুলুম না করা; খাদেম ভুল করলে তাকে ক্ষমা করা; মনিবের খাবার থেকে তাকে খাওয়ানো এবং তার পোশাক থেকে তাকে পরানোর মাধ্যমে তার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা; এবং মনিব যেন তার দাসদের মুক্ত করার ক্ষেত্রে যথাসাধ্য প্রচেষ্টা ব্যয় করে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: রাতযাপন, ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে সামর্থ্যানুযায়ী এবং লৌকিকতা বর্জন করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক ইনসাফ কায়েম করা; এবং সন্তানদের মধ্যে আচরণ ও দান-দক্ষিণার ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা।

তৃতীয় অধ্যায়: সমাজ সংস্কার ও প্রতিপালন; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম: ইসলামী ভ্রাতৃত্ব অর্জনের প্রচেষ্টা। লেখক এখানে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা এবং কীভাবে একটি পরস্পরকে ভালোবাসা প্রদানকারী সমাজ একে অপরের নিকট নিরাপদ থাকে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তদ্রূপ পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ রক্ষা করা, খাবারের দাওয়াত দেওয়া ও তা কবুল করা, অভাবী ও দুর্বলদের সাহায্য করা, সালামের প্রচার এবং হৃদ্যতা ও সম্প্রীতির ভাব সঞ্চারে এর প্রভাব, হাসোজ্জ্বল মুখ এবং উত্তম কথা—আর এ দুটি যে সদকা এবং একাকিত্ব ও অনীহা দূর করার মহান উপায়—সেসব বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া বিনয়, সত্য গ্রহণ করা, ক্ষমা ও উদারতা এবং মন্দের প্রতিবাদ ভালোর মাধ্যমে করা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
والإيثار، وحسن الظن، ونصر المظلوم، وستر المسلم، وتعليم الجاهل، والرفق به، والإحسان إلى الجار، وحب الطاعات وبغض الفواحش، وأداء الواجبات والحقوق إلى أصحابها، حيث يطمئن صاحب الحق فيأمن على حقه من أن يعتدي عليه غيره، والصدقة الجارية، والنصح لكل مسلم.

الفصل الثاني: تجنب الأسباب المؤدية إلى فقد الأخوة الإسلامية أو ضعفها، وذلك باجتناب الظلم والحسد، والاحتقار والسخرية، والهجر والقطيعة، وترك ما يثير الشك والخوف في نفس المسلم، واجتناب الغيبة والنميمة، ومنافسة المسلم فيما بدأ فيه من معاملات، والابتعاد عن الغش والكذب، وهذه الأدواء إن لم تجتث من جذورها فإن المجتمع المسلم سيعيش في رعب وخوف، وينعدم أمنه؛ لأنه يصبح أفراده لا يأمن بعضهم بعضا على شيء من أمورهم، من النفوس والأهل والأموال. الفصل الثالث: تحقيق معنى الولاء والبراء في نفوس المجتمع المسلم؛ لأنه لا يمكن أن يسود الأمن مجتمعا لا يتناصح ويتعاون ويتناصر ويتحاب أفراده، ولا يمكن أن يأمن مجتمع لا يقف أفراده صفا واحدا في وجه أعدائهم، والخلل من فرد واحد قد يخلخل الصفوف، ويزعزع الأمن، وهذان الأصلان: الولاء والبراء، من أعظم أسباب حصول العزة المطلوبة من الشارع الحكيم، وقد أسهب المؤلف في بيان معنى الولاء والبراء، وأهلهما، ومظاهرهما، وضرب أمثلة على ذلك، وتحدث عن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وصلته بهذا الباب، ومراتبه، وذروته، وأهله، ووسائله، وحالاته، وطرق معاملة غير المسلمين، وعدم التشبه بهم، وجهاد الكفار، وأقسام العزة.

الخاتمة: شملت نتائج البحث.

والكتاب مهم للغاية، والأسرة المسلمة تحتاجه حاجة شديدة، ولا غنى للمربين -على اختلاف مراتبهم - عن قراءته، والعمل بما جاء فيه، وترسم خطاه، فهو كتاب فريد -فيما أعلم - في بابه، أجاد فيه مؤلفه في ربط أسباب وجود الأمن وانعدامه، وطرق تنميته والمحافظة عليه، بالنصوص الشرعية -من الكتاب والسنة وأقوال العلماء - التي أوردها في الكتاب، ولم أر -مع قلة اطلاعي - من سبقه إلى هذا الأسلوب في ربط النصوص وتربية
এবং পরোপকারিতা, সুধারণা পোষণ, মজলুমকে সাহায্য করা, মুসলিমের দোষ গোপন রাখা, অজ্ঞকে শিক্ষা দেওয়া ও তার সাথে কোমল আচরণ করা, প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ, নেক আমলের প্রতি ভালোবাসা ও অশ্লীলতার প্রতি ঘৃণা পোষণ এবং হকদারদের নিকট তাদের ওয়াজিব ও প্রাপ্য অধিকারসমূহ আদায় করা, যাতে হকদার ব্যক্তি নিশ্চিন্ত হতে পারে এবং অন্যের পক্ষ থেকে তার হকের উপর কোনো আক্রমণের আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকে, আর সদকায়ে জারিয়াহ এবং প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণকামিতা।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ইসলামী ভ্রাতৃত্ব বিলুপ্ত বা দুর্বল হওয়ার কারণসমূহ বর্জন করা; আর তা হলো জুলুম, হিংসা, অবজ্ঞা, উপহাস, সম্পর্ক ত্যাগ ও বিচ্ছেদ পরিহার করা এবং মুসলিমের মনে সন্দেহ ও ভয় উদ্রেককারী বিষয়গুলো বর্জন করা, গিবত ও চোগলখোরি পরিহার করা, কোনো মুসলিম কোনো লেনদেন শুরু করলে তাতে তার সাথে প্রতিযোগিতা না করা এবং প্রতারণা ও মিথ্যা থেকে দূরে থাকা। এই ব্যাধিগুলো যদি শেকড় থেকে উপড়ে ফেলা না হয়, তবে মুসলিম সমাজ আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে নিমজ্জিত হবে এবং তাদের নিরাপত্তা বিলুপ্ত হবে; কারণ তখন সমাজের সদস্যরা একে অপরের কাছে নিজেদের জীবন, পরিবার ও সম্পদের বিষয়ে নিরাপদ থাকবে না। তৃতীয় অধ্যায়: মুসলিম সমাজের অন্তরে মিত্রতা ও শত্রুতার (ওয়ালা ও বারা) অর্থের প্রতিফলন ঘটানো; কারণ এমন সমাজে নিরাপত্তা বিরাজ করা সম্ভব নয় যেখানে সদস্যরা একে অপরকে নসিহত করে না, একে অপরকে সহযোগিতা ও সাহায্য করে না এবং পরস্পরকে ভালোবাসে না। আর এমন সমাজ নিরাপদ থাকতে পারে না যার সদস্যরা শত্রুর মোকাবিলায় এক কাতারে দাঁড়ায় না। একজন ব্যক্তির বিচ্যুতিও কাতারগুলোকে বিশৃঙ্খল করতে পারে এবং নিরাপত্তাকে টলিয়ে দিতে পারে। এই দুটি মূলনীতি—মিত্রতা ও শত্রুতা—হলো প্রজ্ঞাময় শরিয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে কাম্য মর্যাদা অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কারণ। লেখক মিত্রতা ও শত্রুতার অর্থ, এর উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গ ও এর বহিঃপ্রকাশসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন, এ ব্যাপারে উদাহরণ পেশ করেছেন এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের সাথে এই বিষয়ের সম্পর্ক, এর স্তরসমূহ, এর চূড়া, এর হকদারগণ, এর মাধ্যমসমূহ, এর বিভিন্ন অবস্থা, অমুসলিমদের সাথে আচরণের পদ্ধতি, তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন না করা, কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং মর্যাদার প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

উপসংহার: এতে গবেষণার ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বইটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মুসলিম পরিবারের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাদানকারী বা মুরুব্বিদের জন্য এটি পাঠ করা, এতে যা রয়েছে তদনুযায়ী আমল করা এবং এর নির্দেশনা অনুসরণ করা অপরিহার্য। আমার জানামতে, এটি তার নিজ বিষয়ে একটি অনন্য কিতাব। লেখক এতে কিতাব, সুন্নাহ ও উলামায়ে কিরামের উক্তি থেকে বর্ণিত শরিয়তের দলিলের সাথে নিরাপত্তার অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের কারণসমূহ এবং তা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের পদ্ধতিসমূহের সমন্বয়ে অত্যন্ত নিপুণতা দেখিয়েছেন। আমার সীমিত জানাশোনা অনুযায়ী, দলিলের সাথে নصوص (শাস্ত্রীয় ভাষ্য) ও তারবিয়াতের (দীক্ষাদান) সমন্বয়ের এই পদ্ধতিতে আমি ইতিপূর্বে কাউকে দেখিনি।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الفرد والأسرة والمجتمع بالأمن الذي تنشده البشرية، وكيف يستطيع المسلم -بتوفيق من الله تعالى- أن يحافظ على الأمن، ويعيش في ظله، إذ أنفذ ما أمره به الشارع الحكيم، وغرس في نفوس الناشئة المعاني العظيمة التي بحثها المؤلف في هذا الكتاب النافع، بإذن الله.

وأرى أن الكتاب يسد ثغرة عظيمة مهمة للغاية، تحتاجه مكتبة المرأة المسلمة، بل والمجتمع بأسره، وقراءته وتعلم ما جاء فيه لا غنى للأسرة بأسرها عنه. والله أعلم.
ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ সেই নিরাপত্তার মাধ্যমে ধন্য হবে যা মানবজাতি প্রত্যাশা করে। আর কীভাবে একজন মুসলিম—আল্লাহ তায়ালার তৌফিকে—নিরাপত্তা রক্ষা করতে এবং এর ছায়াতলে বসবাস করতে সক্ষম হয়, যখন সে প্রাজ্ঞ শরীয়ত দাতার নির্দেশনাবলী বাস্তবায়ন করে এবং নতুন প্রজন্মের অন্তরে সেই মহান তাৎপর্যসমূহ প্রোথিত করে যা লেখক এই উপকারী গ্রন্থে আল্লাহর ইচ্ছায় আলোচনা করেছেন।

আমি মনে করি যে, এই গ্রন্থটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল শূন্যতা পূরণ করবে, যা মুসলিম নারীদের পাঠাগার, বরং সমগ্র সমাজের জন্য অপরিহার্য। এটি পাঠ করা এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি শিক্ষা করা থেকে বিমুখ থাকা কোনো পরিবারের পক্ষেই সম্ভব নয়। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌[الكتاب الرابع أثر الخادمات الأجنبيات في تربية الطفل]

الكتاب الرابع

أثر الخادمات الأجنبيات في تربية الطفل المؤلف: عنبرة حسين عبد الله الأنصاري.

الناشر: دار المجتمع، جدة، ط1، عام 1411هـ.

المواصفات: 284صفحة، 16×24سم.

تعرضت الأسرة السعودية لكثير من التغيرات الاقتصادية والاجتماعية، وكان من أبرز هذه التغيرات: ظاهرة الخادمات الأجنبيات في البيت السعودي، واحتكاكهن بالأطفال، وتأثيرهن عليهم، فجاءت هذه الدراسة: في أثر الخادمات على تربية الطفل (رسالة ماجستير) .

قسمت المؤلفة الكتاب إلى أربعة فصول، الأول: في التغير الاقتصادي الاجتماعي، حيث تحدثت عن ماهية التغير، وعوامله وأنواعه، ثم التغير في المجتمع السعودي: عوامله، ومراحله، ومظاهره. الفصل الثاني: الأسرة والطفولة، حيث تحدثت عن الأسرة -عموما - مفهومها، وأنواعها، ووظائفها، ثم الطفولة، ومفهوم النمو وخصائصه، وذكرت حاجات الطفل باعتبارها نتائج طبعية للنمو، وضرورات أساسية له، وخطورة عدم إشباع هذه الحاجات، وما يحدث إذا أساءت الأسرة إشباعها، وأهم هذه الحاجات الجسدية والدينية، والنفسية، والاجتماعية، والعقلية.

الفصل الثالث: ذكرت فيه أسباب وجود الخادمات، ومواصفاتهن، ودور الأم في تربية الطفل المسلم، وخطورة تفويض هذه المهمة للخادمة، والسلبيات المترتبة على ذلك.

الفصل الرابع: الدراسة الميدانية للبحث، ونتائجها، وكانت هذه الدراسة على أربع مئة أم، عاملة وغير عاملة، من العوائل غير الوافدة، في مدينتي مكة المكرمة وجدة. ثم ذكرت
[চতুর্থ গ্রন্থ: শিশু লালন-পালনে বিদেশি পরিচারিকাদের প্রভাব]

চতুর্থ গ্রন্থ

শিশু লালন-পালনে বিদেশি পরিচারিকাদের প্রভাব। লেখক: আম্বারা হুসাইন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী।

প্রকাশক: দারুল মুজতামা, জেদ্দা, ১ম সংস্করণ, ১৪১১ হিজরি।

বিবরণ: ২৮৪ পৃষ্ঠা, ১৬×২৪ সেমি।

সৌদি পরিবারসমূহ ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য হলো: সৌদি পরিবারগুলোতে বিদেশি পরিচারিকাদের উপস্থিতি, শিশুদের সাথে তাদের মেলামেশা এবং তাদের ওপর পরিচারিকাদের প্রভাব। এরই প্রেক্ষিতে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে: শিশু লালন-পালনে পরিচারিকাদের প্রভাব (মাস্টার্স থিসিস)।

লেখিকা গ্রন্থটিকে চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন। প্রথম অধ্যায়: অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন প্রসঙ্গে, যেখানে তিনি পরিবর্তনের স্বরূপ, এর প্রভাবকসমূহ ও প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন; অতঃপর সৌদি সমাজের পরিবর্তন: এর কারণ, পর্যায় ও বহিঃপ্রকাশসমূহ বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয় অধ্যায়: পরিবার ও শৈশব। এখানে তিনি সাধারণভাবে পরিবার—এর ধারণা, প্রকারভেদ ও কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। অতঃপর শৈশব, বিকাশের ধারণা ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করেছেন। তিনি শিশুর প্রয়োজনগুলোকে বিকাশের স্বাভাবিক ফলাফল এবং মৌলিক আবশ্যকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন; সেই সঙ্গে এই প্রয়োজনগুলো পূরণ না করার ঝুঁকি এবং পরিবার যদি তা যথাযথভাবে পূরণে ব্যর্থ হয় তবে কী ঘটে, সে সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এসকল প্রয়োজনের মধ্যে শারীরিক, ধর্মীয়, মানসিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয় অধ্যায়: এতে তিনি পরিচারিকা রাখার কারণসমূহ, তাদের বৈশিষ্ট্য, মুসলিম শিশু লালন-পালনে মায়ের ভূমিকা, পরিচারিকার হাতে এই দায়িত্ব অর্পণের ঝুঁকি এবং এর ফলে সৃষ্ট নেতিবাচক দিকগুলো উল্লেখ করেছেন।

চতুর্থ অধ্যায়: গবেষণার মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষা ও এর ফলাফল। এই সমীক্ষাটি মক্কা মুকাররমা ও জেদ্দা শহরের চারশ জন স্থানীয় (অ-প্রবাসী) পরিবারের কর্মজীবী ও গৃহিণী মায়ের ওপর পরিচালিত হয়েছে। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
التوصيات بعد النتائج.

والكتاب مهم جدا، وهو دراسة علمية جادة لشريحة لا بأس بعددها في مجتمعنا، أبانت نتائج خطيرة، يجدر بالجميع الاطلاع عليها، والاستفادة منها، خاصة وأنها سهلت النتائج بجداول تبرز أهم هذه النتائج بيسر وسهولة.
ফলাফল-পরবর্তী সুপারিশসমূহ।

বইটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এটি আমাদের সমাজের এক উল্লেখযোগ্য অংশকে নিয়ে করা একটি বস্তুনিষ্ঠ ও গভীর গবেষণাকর্ম, যা কিছু গুরুতর ফলাফল প্রকাশ করেছে। এগুলো সকলের অবগত হওয়া এবং এ থেকে উপকৃত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষত যেহেতু গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলোকে বিভিন্ন সারণির মাধ্যমে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌[الكتاب الخامس أحكام النساء]

الكتاب الخامس

أحكام النساء المؤلف: أبو الفرج جمال الدين عبد الرحمن بن الجوزي.

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت، ط2، عام 1405هـ.

المواصفات: 160 صفحة، 16×24سم.

افتتح المؤلف كتابه بمقدمة ذكر فيها سبب تأليفه، وهو أنه رأى انصراف الناس عن ذكر الآخرة، وأنه تأمل في أسباب ذلك فوجده الجهل بالعلم، ووجد أحق الناس به وأحوجهم إليه النساء، لبعدهن -في الغالب - عن مجالس العلم، بسبب انشغالهن بالصغار وشئون المنزل، ولكون الأطفال ينشأون في حجورهن، فيخرجون لا يعرفون أحكام الشعائر التعبدية، وإن أفلحت المرأة، وخرجت لمجالس الوعظ، فإنها كثيرا لا تسلم من التبرج، وافتتان الناس بها، وافتتانها برؤية الرجال، مع أن غالب مجالس الوعظ لا تعلمهن أحكام الشرع التي تخصهن، لذلك ألف الكتاب فيما يخصهن من أحكام.

ثم شرع المؤلف يذكر علامات البلوغ، ثم وجوب طلب العلم على المرأة، وتعليم الصغار الصلاة، والتفريق بينهم في المضاجع، ثم ذكر أحكام النساء، حسب ما جاءت مرتبة في كتب الفقه: الطهارة فالصلاة، إلخ.

ثم تحدث عن بعض الآداب مثل: بر الوالدين، وحرمة الغيبة، والقذف، وفضول الكلام والنظر، والسحر، والزنا، والتبرج، وغير ذلك من المنكرات المنتشرة.

ثم ذكر الحث على الزواج، وحقوق الزوج، وإثم عصيانه، وثواب الزوجة الصابرة المحتسبة، ووجوب العدل بين الأولاد، والنهي عن الدعاء عليهم، وإثم أذى الجار، وثواب من مات لها سقط، والتحذير من النياحة، وأحكام الحداد، ونحو ذلك من آداب.

ثم ترجم لبعض فضليات النساء، من سارة إلى زمن المؤلف، ذكر فيه ستا وستين
[পঞ্চম কিতাব: নারীদের বিধান]

পঞ্চম কিতাব

নারীদের বিধান। লেখক: আবুল ফারাজ জামালুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনুল জাওজি।

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২য় সংস্করণ, ১৪০৫ হিজরি।

বৈশিষ্ট্য: ১৬০ পৃষ্ঠা, ১৬×২৪ সেমি।

লেখক তার কিতাবটি একটি ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছেন যেখানে তিনি এটি রচনার কারণ উল্লেখ করেছেন। সেটি হলো, তিনি লক্ষ্য করেছেন যে মানুষ আখেরাতের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে এবং তিনি এর কারণসমূহ নিয়ে চিন্তা করে দেখেছেন যে এর মূল কারণ হলো ইলম বা জ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞতা। তিনি আরও লক্ষ্য করেছেন যে, এই ইলমের সবচেয়ে বেশি হকদার এবং এর প্রতি সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী হলো নারীরা; কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা ইলমি মজলিসগুলো থেকে দূরে থাকে, ছোট শিশুদের লালন-পালন ও ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে। এছাড়া শিশুরা তাদের কোলেই বেড়ে ওঠে, ফলে তারা ইবাদতের নিয়মকানুন না জেনেই বড় হয়। আর নারী যদি সফল হয় এবং নসিহতের মজলিসে বের হয়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে বেপর্দা হওয়া, মানুষের জন্য ফিতনা হওয়া এবং পরপুরুষকে দেখার ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকে না। তার ওপর অধিকাংশ নসিহতের মজলিসগুলোতে তাদের জন্য বিশেষায়িত শরয়ি বিধানসমূহ শেখানো হয় না। তাই তিনি তাদের জন্য বিশেষ বিধানাবলি নিয়ে এই কিতাবটি রচনা করেছেন।

এরপর লেখক বালেগ হওয়ার লক্ষণসমূহ উল্লেখ করা শুরু করেছেন। তারপর নারীর জন্য ইলম অর্জন করা এবং ছোটদের সালাত শিক্ষা দেওয়া ও তাদের বিছানা আলাদা করার আবশ্যকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। অতঃপর ফিকহের কিতাবসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী নারীদের বিধানাবলি উল্লেখ করেছেন: যেমন পবিত্রতা, এরপর সালাত ইত্যাদি।

এরপর তিনি কিছু আদব বা শিষ্টাচার নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেমন: পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ, গিবত করার নিষিদ্ধতা, অপবাদ দেওয়া, অনর্থক কথা ও দৃষ্টি, জাদু, জিনা, বেপর্দা হওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রচলিত মন্দ কাজসমূহ।

এরপর তিনি বিবাহের প্রতি উৎসাহ প্রদান, স্বামীর অধিকার, তার অবাধ্য হওয়ার গুনাহ, ধৈর্যশীল ও সওয়াবের প্রত্যাশী স্ত্রীর প্রতিদান, সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করার আবশ্যকতা, তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে নিষেধ করা, প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার গুনাহ, যার গর্ভপাত হয়ে সন্তান মারা গেছে তার সওয়াব, বিলাপ করে কান্নাকাটির ব্যাপারে সতর্কতা, শোক পালনের বিধান এবং এই জাতীয় অন্যান্য শিষ্টাচারসমূহ উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি সারা থেকে শুরু করে লেখকের সময় পর্যন্ত কিছু মহীয়সী নারীর জীবনী আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি ছেষট্টি জন নারীর কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
ترجمة، وبها ختم الكتاب.

والكتاب جيد ومفيد -في الجملة - وأبوابه قصيرة غير مملة، فبعضها لا يتجاوز بضعة أسطر، والمؤلف يتنقل بالقارئ من روضة إلى أخرى، فمرة يتكلم عن الأحكام، ومرة عن الآداب، ومرة عن الأخلاق، ومرة يوصي، ومرة ينصح، وينبه على كثير من أخطاء النساء، مدعما أكثر أقواله بالأدلة. وختم الكتاب بباب ماتع، وهو ترجم النساء.

والكتاب جيد للقراءة على عموم النساء، الجاهلة والمتعلمة.
জীবনীসমূহ, যার মাধ্যমে গ্রন্থটি সমাপ্ত করা হয়েছে।

গ্রন্থটি সামগ্রিকভাবে উৎকৃষ্ট ও ফলপ্রসূ—এর পরিচ্ছেদগুলো সংক্ষিপ্ত ও শ্রান্তিহীন, যার কোনোটি কয়েক চরণের অধিক নয়। লেখক পাঠককে এক উদ্যান থেকে অন্য উদ্যানে পরিভ্রমণ করান; কখনো তিনি শরয়ি বিধান নিয়ে আলোচনা করেন, কখনো শিষ্টাচার নিয়ে, কখনো নৈতিকতা নিয়ে, আবার কখনো অসিয়ত ও নসিহত প্রদান করেন এবং নারীদের নানাবিধ ভুলত্রুটির বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি তাঁর অধিকাংশ বক্তব্যকে দলিলের মাধ্যমে সুদৃঢ় করেছেন। তিনি গ্রন্থটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় পরিচ্ছেদ দ্বারা সমাপ্ত করেছেন, যা হলো নারীগণের জীবনসংক্ষেপ।

গ্রন্থটি সর্বসাধারণ নারী—অল্পশিক্ষিত ও বিদুষী সবার পাঠের জন্যই অত্যন্ত উপযোগী।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌[الكتاب السادس أختي المسلمة كيف تستقبلين مولودك الجديد]

الكتاب السادس

أختي المسلمة كيف تستقبلين مولودك الجديد المؤلف: نشأت المصري.

الناشر: مكتبة القرآن، القاهرة، ط1، عام 1403هـ.

المواصفات: 96 صفحة، 16×24سم.

قسم المؤلف كتابه إلى ثلاثة أبواب، الباب الأول: فترة ما قبل الولادة، وفيه أربعة فصول.

الفصل الأول: قبل الزواج، وما يجب على الزوجين، من حسن الاختيار، وخطورة دخول هذه المرحلة بتبعات الانحراف السابق، إن كان.

الفصل الثاني: قرار الزواج، وكيف يتم، والصفات التي ينبغي على الشباب البحث عنها في الفتيات.

الفصل الثالث: سلوك الزوجين بعد الزواج، ومدى تمسكهما بأوامر الشارع، وأثر ذلك عليهما وعلى أولادهما.

الفصل الرابع: فترة الحمل، وبعض النصائح للمرأة وقت حملها، والعوامل المؤثرة على الجنين.

الباب الثاني: فترة ما بعد الولادة، وفيه ثمانية فصول، الفصل الأول: البشارة، والتهنئة بالمولود، وصيغة التهنئة.

الفصل الثاني: الأذان والإقامة في أذن المولود بعد الولادة.

الفصل الثالث: تحنيك المولود، وكونه سنة عن النبي صلى الله عليه وسلم.

الفصل الرابع: حلق الرأس، وفوائده، ومحذوراته.
[ষষ্ঠ গ্রন্থ: হে মুসলিম বোন, আপনি কীভাবে আপনার নবজাতককে স্বাগত জানাবেন]

ষষ্ঠ গ্রন্থ

হে মুসলিম বোন, আপনি কীভাবে আপনার নবজাতককে স্বাগত জানাবেন। লেখক: নাাশআত আল-মিসরি।

প্রকাশক: মাকতাবাতুল কুরআন, কায়রো, ১ম সংস্করণ, ১৪০৩ হিজরি।

বিবরণ: ৯৬ পৃষ্ঠা, ১৬×২৪ সেমি।

লেখক তাঁর গ্রন্থটিকে তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন। প্রথম অধ্যায়: জন্ম-পূর্ব সময়কাল, এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: বিবাহের পূর্বে এবং স্বামী-স্ত্রীর জন্য যা আবশ্যক, যেমন সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন এবং যদি পূর্ববর্তী কোনো বিচ্যুতি থেকে থাকে তবে তার রেশ নিয়ে এই পর্যায়ে প্রবেশের ঝুঁকি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিবাহের সিদ্ধান্ত এবং তা কীভাবে সম্পন্ন হয়, এবং যুবকদের মেয়েদের মাঝে যে গুণাবলি সন্ধান করা উচিত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রীর আচরণ এবং শরিয়ত প্রবর্তকের নির্দেশের প্রতি তাদের অবিচল থাকার মাত্রা, এবং তাদের ও তাদের সন্তানদের ওপর এর প্রভাব।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গর্ভাবস্থা এবং গর্ভবতী থাকাকালীন মহিলার জন্য কিছু উপদেশ এবং ভ্রূণের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: জন্ম-পরবর্তী সময়কাল, এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম পরিচ্ছেদ: সুসংবাদ এবং নবজাতকের আগমনে অভিনন্দন জ্ঞাপন ও অভিনন্দনের বাক্যসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জন্মের পর নবজাতকের কানে আজান ও ইকামত প্রদান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবজাতকের তাহনিক করা এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি সুন্নাত।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মাথা মুণ্ডন করা, এর উপকারিতা এবং এর বর্জনীয় দিকসমূহ।
(খণ্ড: ১) দালিলু মাকতাবাতিল মারআতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
الفصل الخامس: العقيقة، تعريفها، وحكمها، وأدلتها، وحكم التصدق بثمنها، ووقتها، وحكمتها، وشروطها.

الفصل السادس: تسمية المولود، وقتها، ومن يقوم بها، وأفضل الأسماء، والمحاكاة لأسماء الغربيين، وتكنية الصغير، وتعدد الأسماء.

الفصل السابع: الختان، وأول من اختتن، وحكم الاختتان، ووقته، وحكم ختان الأنثى.

الفصل الثامن: كيف يستقبل المولود إذا كان أنثى، وكون الضجر منها وسخطها من سلوك الجاهلية، وأمثلة لبعض فضليات النساء.

الباب الثالث: شخصية الطفل، وقد قسمه إلى خمسة فصول.

الفصل الأول: استثمار النواحي الإيجابية لدى الطفل، وضرورة تعليمه الصلاة في الصغر؛ وفوائد مواظبته عليها.

الفصل الثاني: علاج النزعات غير السوية في الطفل، وتغييرها إلى طباع حميدة؛ وضرب المؤلف مثالا بالعدل.

الفصل الثالث: تقوية الطفل نفسيا، وتربيته على التمسك بالسنة، وحب الأخلاق الحميدة، والنفور من القبيحة، وهكذا.

الفصل الرابع: تقوية الطفل جسميا، وضرورة الاهتمام بغذائه وفوائد الغذاء لأجهزته الجسمية، ثم ذكر بعض التوجيهات الغذائية، وضرورة تغذية الطفل بحليب الأم، وفوائد هذا الحليب، ثم ذكر بعض الجداول الخاصة بالغذاء والوزن والطول.

ثم ذكر بعض التوجيهات الصحية للطفل قبل بلوغه ستة أشهر، وبعد ذلك إلى سنة.

الفصل الخامس: ملاحظات حول بعض عادات الطفل، مثل: وضع الأصبع في الفم، والعناد، والاشتراط في الأكل، والثناء عليه. . . إلخ.

والكتاب جيد، مختصر، وفيه بعض الفوائد التي تحتاج الأم معرفتها، وإن كانت
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আকিকা, এর সংজ্ঞা, বিধান, দলিলসমূহ, এর মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ সদকা করার বিধান, এর সময়, তাৎপর্য এবং এর শর্তাবলি।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: নবজাতকের নামকরণ, নামকরণের সময়, কে নামকরণ করবে, শ্রেষ্ঠ নামসমূহ, পশ্চিমাদের নামের অনুকরণ, শিশুকে উপনাম প্রদান এবং একাধিক নাম রাখা।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: খাতনা, সর্বপ্রথম কে খাতনা করেছিলেন, খাতনার বিধান, এর সময় এবং মেয়েদের খাতনার বিধান।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: নবজাতক কন্যা সন্তান হলে তাকে কীভাবে গ্রহণ করা হবে, তার প্রতি বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট হওয়া জাহেলিয়াতের আচরণ এবং কতিপয় পুণ্যবতী নারীর উদাহরণ।

তৃতীয় অধ্যায়: শিশুর ব্যক্তিত্ব, লেখক এটিকে পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন।

প্রথম পরিচ্ছেদ: শিশুর ইতিবাচক দিকগুলোর সদ্ব্যবহার করা, ছোটবেলা থেকেই তাকে সালাত শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং নিয়মিত সালাত আদায়ের উপকারিতা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিশুর অস্বাভাবিক প্রবণতাগুলোর প্রতিকার এবং তা প্রশংসনীয় স্বভাবে রূপান্তর করা; লেখক এখানে ইনসাফ বা ন্যায়ের উদাহরণ পেশ করেছেন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শিশুকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করা, তাকে সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার ওপর গড়ে তোলা, উত্তম চরিত্রের প্রতি ভালোবাসা এবং মন্দ স্বভাবের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা ইত্যাদি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শিশুকে শারীরিকভাবে শক্তিশালী করা, তার পুষ্টির বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য পুষ্টির উপকারিতা; এরপর তিনি পুষ্টি বিষয়ক কিছু নির্দেশনা উল্লেখ করেছেন, শিশুকে মায়ের বুকের দুধ পান করানোর প্রয়োজনীয়তা ও এর উপকারিতা বর্ণনা করেছেন এবং পরিশেষে খাবার, ওজন ও উচ্চতা বিষয়ক কিছু তালিকা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি ছয় মাস বয়স পর্যন্ত এবং পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত শিশুর স্বাস্থ্যবিষয়ক কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শিশুর কিছু অভ্যাস সম্পর্কিত পর্যবেক্ষণ, যেমন: মুখে আঙুল দেওয়া, জেদ করা, খাবারের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করা, তার প্রশংসা করা... ইত্যাদি।

বইটি চমৎকার ও সংক্ষিপ্ত, এতে এমন কিছু উপকারী বিষয় রয়েছে যা একজন মায়ের জানা প্রয়োজন, যদিও...