(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: -)
تحفة المسؤول في شرح مختصر منتهى السول   (يحيى بن موسى الرهوني)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: تحفة المسؤول في شرح مختصر منتهى السول

المؤلف: أبو زكريا يحيى بن موسى الرهوني (ت 773 هـ)

المحقق: جـ 1، 2 (الدكتور الهادي بن الحسين شبيلي)، جـ 3، 4 (يوسف الأخضر القيم)

الناشر: دار البحوث للدراسات الإسلامية وإحياء التراث - دبي، الإمارات

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2002 م

عدد الأجزاء: 4

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 شعبان 1438

মুখতাসার মুনতাহাস সূল-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ তুহফাতুল মাসউল   (ইয়াহইয়া ইবনে মুসা আল-রাহুনী)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ

কিতাব: মুখতাসার মুনতাহাস সূল-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ তুহফাতুল মাসউল

লেখক: আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মুসা আল-রাহুনী (মৃত্যু ৭৭৩ হিজরি)

সম্পাদক: খণ্ড ১, ২ (ডক্টর আল-হাদী বিন আল-হুসাইন শাবিলি), খণ্ড ৩, ৪ (ইউসুফ আল-আখদার আল-কায়্যিম)

প্রকাশক: দারুল বুহুস লিদ দিরাসাতিল ইসলামিয়া ওয়া ইহয়ায়িত তুরাস - দুবাই, আরব আমিরাত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছে: মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ-এর তত্ত্বাবধানে রাবিতাতুন নুসসাখ টিম

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাবান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

اللهم صل على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليمًا.

الحمد لله الذي باين بين العقول، مباينة أوهمت الأكثر اختلافها بالفضول، ومنعها من القضاء في أحكامه المتعلقة بأفعال المكلفين بتحليل أو تحريم، وأرشد القدسية منها معرفة استنباط الأحكام عن الأدلة الشرعية الراجعة إلى الكلام القديم، والصلاة على من به وصل علماء هذه الأمة أنبياء بني إسرائيل، النبي الأمي المكتوب في التوراة والإنجيل، وعلى آله وصحبه الذين حفظوا شرعه، وبلغوا إلينا أصله وفرعه.

أما بعد: فإن العقول السليمة متطابقة، والشرائع بأسرها متوافقة، على أن العلم من أكمل الكمالات، لا سيما علم الأحكام الشرعيات، فإنها وسائل مقاصد العباد، ومناط مصالحهم في المعاش والمعاد.

ولما كان لا سبيل إلى دركها دون معرفة مدركها، تعين معرفة أصلها، وتبين أن مرتبته من العلوم مرتبة أجلها.

وأعظم ما صنف فيه على الإطلاق «المختصر» ، الذي عكف عليه العلماء في سائر الآفاق، المنسوب إلى الشيخ الإمام العالم السالك، أبي عمرو
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর রহমত এবং পরিপূর্ণ শান্তি বর্ষণ করুন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিবেকবুদ্ধির মাঝে এমন পার্থক্য সৃষ্টি করেছেন, যে পার্থক্যের কারণে অধিকাংশ মানুষ এর মাঝে অনর্থক বৈপরীত্যের ধারণা পোষণ করে। আর তিনি বুদ্ধিবৃত্তিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আমলসমূহের হালাল বা হারামের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফয়সালা প্রদান করা থেকে বিরত রেখেছেন। এবং তিনি পবিত্র বিবেকসমূহকে সেই কদীম বা চিরন্তন কালামের দিকে প্রত্যাবর্তনশীল শরয়ী দলিলসমূহ থেকে বিধিবিধান উদ্ঘাটনের জ্ঞান অর্জনে পরিচালিত করেছেন। আর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁর বরকতে এই উম্মতের আলিমগণ বনী ইসরাঈলের নবীদের মর্যাদায় উপনীত হয়েছেন; তিনি সেই উম্মী নবী যাঁর উল্লেখ তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত রয়েছে। এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপরও (সালাত বর্ষিত হোক), যাঁরা তাঁর শরীয়তকে সংরক্ষণ করেছেন এবং আমাদের নিকট এর মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখাগুলো পৌঁছে দিয়েছেন।

অতঃপর: সুস্থ বিবেকসমূহ পরস্পর ঐকমত্য পোষণ করে এবং সমস্ত শরীয়ত একমত যে, জ্ঞান হলো পূর্ণতার সর্বোত্তম সোপান, বিশেষ করে শরয়ী বিধিবিধান সংক্রান্ত জ্ঞান; কেননা তা বান্দাদের লক্ষ্যসমূহ অর্জনের মাধ্যম এবং ইহকাল ও পরকালে তাদের কল্যাণের মূল ভিত্তি।

আর যেহেতু সেই উৎসসমূহ জানা ব্যতীত এগুলো উপলব্ধি করার কোনো পথ নেই, সেহেতু এর মূলনীতি (উসূল) জানা আবশ্যক হয়ে পড়েছে এবং এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, জ্ঞানরাজ্যে এর মর্যাদা অত্যন্ত সুমহান।

আর এই বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে নিঃসন্দেহে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো ‘আল-মুখতাসার’, সারা বিশ্বের আলিমগণ যার প্রতি নিবিষ্ট হয়েছেন এবং যা শায়খ, ইমাম, আলিম ও সাধক আবু আমর-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১২৬)
عثمان بن الحاجب المالكي، فإنه مختصر وجيز النظم، كثير العلم، فقد تصدى لشرحه الفحول من [العلماء] ، فذللوا منه كل صعب، كالأصفهاني، والتستري، والقطب.

ولما سمع مني بعض الأصحاب بعض معاني هذا الكتاب، أشار عليّ بأن أشرحه شرحًا يكشف عن وجهه النقاب، ويذلل ما غفل عنه الشراح من الصعاب، ظنًا منه أن ليس وراء مرتبتي مضاف لطيف الخاطر، ولا فوق درجتي في معرفة هذا الكتاب مطرح لشعاع الناظر، كلا ومظان الفكر نزار القدر، والإحاطة ممتنعة على كل البشر.

ولعله اعتقد من غير علم، وإن بعض الظن إثم، فاعتللت بأن للكتاب
উসমান বিন আল-হাজিব আল-মালিকি [রচিত গ্রন্থ], এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ বিন্যাস সম্পন্ন এবং প্রচুর ইলম বা জ্ঞানে ভরপুর। উলামাদের মধ্যে যারা বিজ্ঞ ও সুপণ্ডিত ছিলেন তারা এর ব্যাখ্যা প্রদানে ব্রতী হয়েছেন এবং এর প্রতিটি কঠিন বিষয়কে সহজসাধ্য করেছেন, যেমন আল-আসফাহানি, আত-তুস্তারি এবং আল-কুতুব।

যখন আমার কিছু সাথী আমার নিকট থেকে এই কিতাবের কিছু অর্থ শ্রবণ করলেন, তখন তারা আমাকে এই পরামর্শ দিলেন যে আমি যেন এর এমন একটি ব্যাখ্যা লিখি যা এর রহস্য উন্মোচন করবে এবং পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাকারগণ যেসকল কঠিন বিষয়াবলি সম্পর্কে গাফেল ছিলেন তা সহজ করবে। তারা ধারণা করেছিলেন যে, সূক্ষ্ম চিন্তাশীলদের মাঝে আমার স্তরের ঊর্ধ্বে আর কোনো স্তর নেই এবং এই কিতাব সম্পর্কে জ্ঞানের ক্ষেত্রে আমার মর্যাদার উপরে কোনো পর্যবেক্ষকের দৃষ্টির বিচরণ নেই। কিন্তু না, চিন্তাশক্তির ক্ষেত্রগুলো অত্যন্ত সীমিত এবং পূর্ণাঙ্গ পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান অর্জন করা সকল মানুষের জন্যই অসম্ভব।

হয়তো তিনি সঠিক জ্ঞান ছাড়াই এমনটি বিশ্বাস করেছেন, আর নিশ্চয়ই কোনো কোনো ধারণা পাপ। তাই আমি এই ওজর পেশ করলাম যে, কিতাবটির জন্য...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১২৭)
بضعة عشر شرحًا، وإن كان بعضها مطرحًا، وإن لي في هذا العلم إصابة غرض أرميه، وإضاءة سقط أريه، واستخراج نكتب يلطف مسلكها، ومستودعات لطائف يدق سلكها، وغوامض أسرار كانت عن الشراح وراء أستار، إذا سرد ما أوردوه تحصيل الحاصل، وانتحاله فعل الغمر الجاهل.

ثم قلت: لولا ما رسم لنا المتقدمون في كتبهم، ودونوا من أوضاع علمهم، لكان سبيلنا قد انقطع مما يعلمونه، وذكرت وعيد {[لتبيننه] للناس ولا تكتمونه} ، فأجبته مع علمي بأن من صنف فقد استهدف، ومن ألف فقد أبدى صفحة عقله، وبين عن مقدار علمه وجهله.

هذا وإنه لابد أن يقع في يد أحد رجلين:

إما عالم، تعلم أن / الصواب قصدي، والحق إرادتي، فيصلح سهوًا إن وقع مني، ويغتفر زللًا إن صدر عني، لاعترافي قبل اقترافي، وإقراري قبل إيرادي وإصداري.

وإما جاهل، أحب الأشياء إليه، وأقلها لديه، عيب أهل العلم، لمنافرته إياهم، وبعد شكله عن أشكالهم، إذ من جهل شيئًا عابه، ومن
দশটিরও বেশি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যদিও সেগুলোর কিছু বর্জনীয়। এই শাস্ত্রে আমার এমন একটি লক্ষ্য রয়েছে যা আমি অর্জন করতে চাই, এবং বিলুপ্তপ্রায় বিষয়াদি আমি আলোকিত করতে চাই। আমি এমন কিছু সূক্ষ্ম নির্যাস বের করতে চাই যার পথ অত্যন্ত সাবলীল, এবং এমন কিছু গূঢ় রহস্যের ভাণ্ডার উন্মোচন করতে চাই যার বিন্যাস অতি সূক্ষ্ম। সেখানে এমন কিছু গোপন রহস্য রয়েছে যা পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাকারীদের নিকট পর্দার আড়ালে ছিল। তারা যা বর্ণনা করেছেন তার পুনরাবৃত্তি করা কেবল চর্বিত চর্বণ মাত্র, আর তা নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া একজন মূর্খ ও অজ্ঞ ব্যক্তির কাজ।

এরপর আমি বললাম: পূর্বসূরিগণ যদি তাদের কিতাবসমূহে আমাদের জন্য পথরেখা অঙ্কন করে না যেতেন এবং তাদের অর্জিত ইলম লিপিবদ্ধ না করতেন, তবে তাদের জানা বিষয়সমূহ থেকে আমাদের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। এমতাবস্থায় আমি সেই কঠোর হুঁশিয়ারির কথা স্মরণ করলাম যা এই আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: “অবশ্যই তোমরা তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না।” তাই আমি এই আহবানে সাড়া দিলাম, যদিও আমি জানি যে—যে ব্যক্তিই কোনো গ্রন্থ রচনা করে সে নিজেকে সমালোচনার লক্ষ্যে পরিণত করে; আর যে ব্যক্তিই কিছু সংকলন করে সে তার বিবেকের স্বরূপ উন্মোচন করে এবং তার জ্ঞান ও অজ্ঞতার পরিমাপ স্পষ্ট করে দেয়।

এই গ্রন্থটি অবশ্যই দুই প্রকার ব্যক্তির যেকোনো একজনের হাতে পড়বে:

হয়তো কোনো আলেম, যিনি জানেন যে সঠিকতা পাওয়াই আমার সংকল্প এবং সত্যই আমার উদ্দেশ্য। ফলে আমার পক্ষ থেকে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তিনি তা সংশোধন করে দেবেন এবং কোনো বিচ্যুতি ঘটে থাকলে তা ক্ষমা করে দেবেন। কারণ আমি ত্রুটি করার আগেই তা স্বীকার করে নিয়েছি এবং গ্রন্থটি উপস্থাপনের পূর্বেই নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেছি।

অথবা কোনো জাহিল বা অজ্ঞ ব্যক্তি, যার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং সবচেয়ে তুচ্ছ কাজ হলো আলেমদের দোষত্রুটি খোঁজা। কারণ তাদের প্রতি তার জন্মগত বিদ্বেষ রয়েছে এবং তাদের স্বভাবের সাথে তার স্বভাবের কোনো মিল নেই। কেননা মানুষ কোনো বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ থাকলে তারই নিন্দা করে; আর যে ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১২৮)
حسد أمرًا اغتابه.

وأرجو أن يكون شرحًا يذهب وصم العجز والافتقار عن الأصحاب، ويتبين منه أصول الفقه على مذهب إمام صاحب الكتاب، يعول المالكية في أصولهم عليه، وتنحل أغراض المؤلف إليه، وتندفع به بعض الشكوك الواردة، ويقع به التنبيه على أوهامه الشاردة.

وأبو عمرو [وإن كان] من سعة الحفظ والنبل، ومن الثقات في الضبط والنقل، في المحل الذي لا يُجهل، وبحيث يقصر عنه الثناء الأحفل، لكن البشر غير معصومين من الزلل، ولا مبرئين من الوهم والخطل، والعالم من عدت هفواته، وأحصيت سقطاته، كفى بالمرء نبلًا أن تعد معايبه.

والله تعالى أسأل أن يجعله علمًا باقيًا بعد الممات، ومرادًا من عموم: «إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث».
যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে ঈর্ষা পোষণ করে, সে তার গীবত (পরনিন্দা) করে।

আমি আশা করি যে এটি এমন এক ব্যাখ্যা হবে যা সহচরদের থেকে অক্ষমতা ও দৈন্যের কলঙ্ক দূর করবে; এর মাধ্যমে কিতাবের লেখকের ইমামের মাযহাব অনুযায়ী উসুলুল ফিকহ (ফিকহের মূলনীতিসমূহ) স্পষ্ট হবে, মালিকীগণ তাদের মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে যার ওপর নির্ভর করেন এবং এর মাধ্যমেই গ্রন্থকারের উদ্দেশ্যসমূহ উন্মোচিত হবে। এর দ্বারা উত্থাপিত কিছু সংশয় অপসারিত হবে এবং তাঁর বিক্ষিপ্ত ভ্রান্তিগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হবে।

আর আবু আমর—যদিও তিনি স্মৃতিশক্তির প্রখরতা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী এবং নির্ভুলতা ও বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, এমন এক সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী যা কারো অজানা নয় এবং যার স্তুতিতে অঢেল প্রশংসাও অপ্রতুল—তবে মানুষ পদস্খলন থেকে নিষ্পাপ নয় এবং ভ্রান্তি ও ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত নয়। বস্তুত আলিম তো তিনিই যার বিচ্যুতিগুলো সীমিত এবং যার পদস্খলনগুলো গণনা করা যায়; কোনো ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটাই যথেষ্ট যে তার দোষত্রুটিগুলো গণনা করা যায়।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি একে মৃত্যুর পর এক অবিনশ্বর ইলম হিসেবে কবুল করেন এবং একে এই সাধারণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত করেন: "যখন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ব্যতীত তার আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১২৯)
وها أن أشرع في المقصود، مستعينًا بواجب الوجود، وأسميه: «تحفة المسؤول في شرح مختصر منتهى السول».
আর এখন আমি ওয়াজিবুল উজুদ (অনিবার্য অস্তিত্ববান সত্তা)-এর সাহায্য প্রার্থনা করে উদ্দিষ্ট বিষয়টি শুরু করছি এবং এর নাম রাখছি: «তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসার মুনতাহাস সূল»।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৩১)
قال: (وينحصر في: المبادئ والأدلة السمعية والترجيح والاجتهاد).

أقول: ينحصر المبحوث عنه في المختصر المذكور، فيكون من قسمة الكلي إلى جزئياته.

ويفسر أيضًا ضمير وينحصر بالمختصر؛ لأنه جارى به الإحكام لسيف الدين، الذي قال فيه: «رتبته على أربعة قواعد: الأولى في المبادئ … إلى آخره»؛ ولأن المبادئ ليست جزءًا من الأصول، [وهي جزء من المختصر] ، فيكون من قسمة الكل إلى الأجزاء

ويفسر أيضًا بالأصول؛ لأن الضمير في قوله: «فالمبادئ حده وفائدته
তিনি বলেন: (এটি সীমাবদ্ধ: প্রারম্ভিক বিষয়াবলী, শ্রুতিগত দলীলসমূহ, প্রাধান্যদান এবং ইজতিহাদ-এর মধ্যে)।

আমি বলি: পর্যালোচিত বিষয়টি উল্লিখিত এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, ফলে এটি হবে সামান্য (কুল্লি)-কে তার বিশেষ (জুযইয়াত)-সমূহে বিভক্ত করার অন্তর্ভুক্ত।

এবং ‘সীমাবদ্ধ হওয়া’ ক্রিয়ার সর্বনামকে ‘সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ’ হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়; কারণ এটি সাইফুদ্দীন (আল-আমিদী)-এর ‘আল-ইহকাম’ গ্রন্থকে অনুসরণ করেছে, যাতে তিনি বলেছিলেন: «আমি এটিকে চারটি মূলনীতির ওপর সাজিয়েছি: প্রথমটি প্রারম্ভিক বিষয়াবলী প্রসঙ্গে … শেষ পর্যন্ত»; এবং যেহেতু প্রারম্ভিক বিষয়াবলী উসূলের অংশ নয়, [তবে তা সংক্ষিপ্ত গ্রন্থের অংশ], ফলে এটি হবে সমগ্রকে তার অংশসমূহে বিভক্ত করার মতো।

আবার এটি ‘উসূল’ দ্বারাও ব্যাখ্যা করা হয়; কারণ তাঁর বাণী: «অতএব প্রারম্ভিকা হলো এর সংজ্ঞা ও উপকারিতা...»-এর মধ্যকার সর্বনামটি...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৩২)
واستمداده» يعود على ما عاد عليه ضمير وينحصر، وعد المبادئ [جزءًا] من الأصول إما تغليبًا، أو لأن الأدلة لما توقفت على المبادئ بوجه، وكان لها مدخل في معرفة الأحكام، صح انقسام الأصول إليها وإلى الثلاثة، على معنى الأجزاء، على تجوز فيها.

أو نقول: هي جزء من الأصول، وسنده ما سيأتي.

لا يقال: حق التقسيم أن يكون بعد معرفة مورده، إذ التصديق مسبوق بالتصور. لأنا نقول: لا يشترط التصور الحدي أو الرسمي، بل باعتبار ما، وهو إن كان للمختصر فهو متصور باعتبار وصفه الذي وصفه به المؤلف المصنف، وإن كان للأصول فهي متصور [باعتبار] اسمها.
"এবং এর উৎস-উপাদান" কথাটি সেই বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে যেদিকে "এবং এটি সীমাবদ্ধ" এর সর্বনামটি ফিরেছে। প্রারম্ভিক বিষয়াবলিকে মূলনীতির অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে হয় প্রাধান্য প্রদানের ভিত্তিতে, অথবা দলিলসমূহ যেহেতু কোনো একভাবে এই প্রারম্ভিক বিষয়াবলির ওপর নির্ভরশীল এবং বিধানসমূহ জানার ক্ষেত্রে এগুলোর ভূমিকা রয়েছে, তাই মূলনীতিকে এই প্রারম্ভিক বিষয়সমূহ এবং অবশিষ্ট তিনটির মধ্যে বিভাজন করা 'অংশ' হওয়ার অর্থে শুদ্ধ হয়েছে, তবে তা রূপক হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে।

অথবা আমরা বলতে পারি: এটি মূলনীতিরই একটি অংশ, এবং এর সপক্ষে প্রমাণ সামনে আলোচিত হবে।

এমনটি বলা যাবে না যে: "বিভাজনের দাবি হলো তা তার প্রয়োগক্ষেত্র পরিজ্ঞাত হওয়ার পরে হওয়া উচিত, কারণ কোনো বিষয়কে সত্য বলে মেনে নেওয়া (তাসদিক) তা অনুধাবনের (তাসাউর) ওপর নির্ভরশীল।" কেননা আমরা বলি: এখানে সংজ্ঞাভিত্তিক বা বৈশিষ্ট্যভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ অনুধাবন শর্ত নয়, বরং যেকোনোভাবে একটি সাধারণ ধারণা থাকাই যথেষ্ট। সুতরাং এটি যদি এই সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপের ক্ষেত্রে হয়, তবে গ্রন্থকার একে যে বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন সেই হিসেবেই তা অনুধাবিত। আর যদি তা উসুলের ক্ষেত্রে হয়, তবে তা তার নামের মাধ্যমেই অনুধাবিত।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
ووجه الحصر في المذكور اسقرائي.

ومن رام حصرًا عقليًا اعتقل دونه، ومن قصد تسهيل الاستقراء وتقليل الانتشار قال:

المبحوث / عنه في المختصر، إما أن يكون بيان ما يتمكن العالم به من الاستنباط، وهو المقصود إثباته من أصول الفقه بالذات، أو ما يتوقف عليه المقصود بالذات بوجه ما، والثاني المبادئ، والأول ينحصر في الثلاثة، إذ لا يتمكن [من] الاستنباط من الأدلة بدون معرفتها، ولا بدون الاجتهاد لأنه ما لم يعلم الاجتهاد [وحكمه] وأحكامه، لا يمكنه الاستنباط، ولا بدون الترجيح؛ لكون غالب الأدلة ظنيًا قد تتعارض فلا يتمكن من
উল্লিখিত বিষয়সমূহের সীমাবদ্ধতার ধরন হলো আরোহী (ইস্তিকরায়ি)।

আর যে ব্যক্তি এর যৌক্তিক সীমাবদ্ধতা তালাশ করবে, সে তাতে অক্ষম হবে। আর যে ব্যক্তি আরোহ পদ্ধতিকে সহজ করতে এবং বিষয়বস্তুর বিস্তার কমাতে চেয়েছেন, তিনি বলেছেন:

এই মুখতাসার বা সারসংক্ষেপে যা আলোচিত হয়েছে, তা হয় এমন বিষয়ের বর্ণনা যার দ্বারা একজন আলেম ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ) করতে সক্ষম হন—আর এটিই মূলত উসুলুল ফিকহের মাধ্যমে সাব্যস্ত করার আসল উদ্দেশ্য—অথবা এমন বিষয় যার ওপর উক্ত মূল লক্ষ্যটি কোনো না কোনোভাবে নির্ভর করে। দ্বিতীয়টি হলো 'মাবাদি' বা প্রারম্ভিক বিষয়াবলি। আর প্রথমটি তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ; কেননা দলিলসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ব্যতীত তা থেকে বিধান আহরণ [করা] সম্ভব নয়, এবং ইজতিহাদ ব্যতীতও তা সম্ভব নয়; কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত ইজতিহাদ, [তার বিধান] ও এর নিয়মাবলি জানা না যাবে, ততক্ষণ ইস্তিনবাত করা সম্ভব হবে না। এবং তারজিহ (প্রাধান্য নির্ধারণ) ছাড়াও তা সম্ভব নয়; যেহেতু অধিকাংশ দলিলই ধারণাভিত্তিক (যন্নি) হওয়ার কারণে সেগুলোর মধ্যে বিরোধ দেখা দিতে পারে, ফলে সে সক্ষম হবে না...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
الاستنباط بدون الترجيح، والاستقراء دل على حصول التمكن بها من غير توقف على غيرها.

قيل عليه: نفس الاجتهاد لا يكون جزءًا من المختصر، ومعرفته لا تكفي؛ لأن انتفاء المعارض يعلم [بنفس] الاجتهاد لا بالعلم به.

وأيضًا: إن أريد بالأدلة الكلية، لم يتم الحصر؛ لتوقف الاستنباط على [الأدلة] التفصيلية.

وإن أريد التفصيلية، يلزم أن يكون معرفتها والبحث عنها في الأصول، وليس كذلك.

وأيضًا: التقليد والتخيير والوقف عما يبحث فيه، وليس واحدًا من الأربعة.

ورد الأول: أن نختار القسم الثاني، على معنى أنه إذا حصل المذكور تمكن من الاستنباط، وعنده يعلم انتفاء المعارض.
প্রাধান্য প্রদান ব্যতিরেকে বিধান আহরণ, এবং আরোহী পদ্ধতি নির্দেশ করেছে যে, অন্য কিছুর ওপর নির্ভর না করেই এর মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জিত হয়।

এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে: স্বয়ং ইজতিহাদ এই সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপের অংশ নয় এবং এর পরিচিতিই যথেষ্ট নয়; কারণ বিরোধপূর্ণ প্রমাণের অনুপস্থিতি স্বয়ং ইজতিহাদের মাধ্যমেই অবগত হওয়া যায়, তা সম্পর্কে কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানের মাধ্যমে নয়।

আরও বলা হয়েছে: যদি সামগ্রিক দলিলসমূহ উদ্দেশ্য হয়, তবে সীমাবদ্ধকরণ পূর্ণ হবে না; কারণ বিধান আহরণ বিস্তারিত দলিলসমূহের ওপর নির্ভরশীল।

আর যদি বিস্তারিত দলিলসমূহ উদ্দেশ্য হয়, তবে সেগুলোর পরিচিতি এবং তা নিয়ে অনুসন্ধান করা উসুল শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়।

আরও বলা হয়েছে: তাকলিদ, ইখতিয়ার এবং কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দানে বিরত থাকা—এগুলো তো আলোচিত বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত, অথচ এগুলোর কোনটিই ওই চারটির একটিও নয়।

প্রথমটির উত্তর হলো: আমরা দ্বিতীয় প্রকারটি বেছে নিই, এই অর্থে যে—যখন উল্লিখিত বিষয়গুলো অর্জিত হয়, তখন বিধান আহরণের সক্ষমতা তৈরি হয় এবং সেই প্রেক্ষাপটেই বিরোধপূর্ণ প্রমাণের অনুপস্থিতি অবগত হওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৩৫)
ورد الثاني أيضًا: بأنا نختار القسم الأول.

قوله: (الاستنباط يتوقف على معرفة التفصيلية).

قلنا: نعم، لكن لا على التفصيل، بل يتوقف [على] معرفة التفصيلية بالجملة، وذلك غير خارج عن الأربعة؛ لأن معرفة الأدلة الكلية على وجه كلي، معرفة الأدلة التفصيلية بوجوه.

ورد الثالث: بأنه عبر بلفظ الترجيح عنه وعن الوقف والتخيير، وبلفظ الاجتهاد عنه وعن التقليد، إطلاقًا لاسم المقابل [الأهم] على الشيء ومقابله.

قال: (فالمبادئ: حده، وفائدته، واستمداده).

أقول: قدم [الكلام على] المبادئ وضعًا لتقدمها طبعًا؛ لأن من حاول علمًا لابد أن يتصوره، إذ لا يطلب ما لا يتصور فائدته؛ لأن
দ্বিতীয় আপত্তির উত্তরও দেয়া হয়েছে এই বলে যে: আমরা প্রথম বিভাগটিকেই পছন্দ করছি।

তাঁর বক্তব্য: (বিধান আহরণ বিস্তারিত জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল)।

আমরা বলি: হ্যাঁ, তবে বিস্তারিতভাবে নয়, বরং এটি সামগ্রিকভাবে বিস্তারিত দলীলের জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল, আর তা এই চারটির বাইরে নয়; কারণ সামগ্রিকভাবে সামগ্রিক দলীলের জ্ঞান হলো বিভিন্ন দিক থেকে বিস্তারিত দলীলসমূহেরই জ্ঞান।

তৃতীয়টির উত্তর দেয়া হয়েছে এই বলে যে: তিনি 'তারজীহ' (প্রাধান্যদান) শব্দ দ্বারা একে এবং 'ওয়াকফ' (স্থগিত রাখা) ও 'তাখয়ীর' (পছন্দের সুযোগ প্রদান)-কে বুঝিয়েছেন, আর 'ইজতিহাদ' শব্দ দ্বারা একে এবং 'তাকলীদ' (অনুসরণ)-কে বুঝিয়েছেন; যা মূলত বস্তুর ওপর তার [অধিক গুরুত্বপূর্ণ] বিপরীত নাম প্রয়োগের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেছেন: (সুতরাং প্রারম্ভিক বিষয়সমূহ হলো: এর সংজ্ঞা, এর উপকারিতা এবং এর উৎস)।

আমি বলছি: তিনি বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক বিষয়সমূহের [আলোচনাকে] আগে রেখেছেন কারণ প্রকৃতিগতভাবে এগুলো অগ্রগণ্য; কেননা যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট হয়, তাকে অবশ্যই তা কল্পনা করতে হবে, যেহেতু যার উপকারিতা কল্পনা বা অনুধাবন করা যায় না, তা অন্বেষণ করা হয় না; কারণ
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
طلب ما لا فائدة فيه عبث، وأن يحصل ما يستمد منه أولى؛ ليستعين به على تحصيل المطلوب، والحصر في الثلاثة استقرائي.

والمتقدم طبعًا: هو الذي يحتاج إليه المتأخر، ولا يكون علة له، والثلاثة كذلك. والمبادئ عند المنطقيين هي: الأشياء التي ينبني مباحث ذلك العلم عليها، وهي: إما تصورات، وهي تعريف أشياء تستعمل في ذلك العلم، وهي: موضوعه، وأجزاؤه، وأنواعه، وأعراضه الذاتية، وأنواعها.

وإما تصديقات، وهي المقدمات التي يتألف منها قياسات منتجة لمسائل ذلك العلم، وهي إما بينة بنفسها، / وإما مسلمة في ذلك العلم غير مبرهن
যা নিরর্থক তার অন্বেষণ করা বৃথা, আর যা থেকে সাহায্য লাভ করা যায় তা অর্জন করা অধিকতর শ্রেয়; যেন এর দ্বারা অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা নেওয়া যায়। আর এই তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধতা হলো আরোহী গবেষণালব্ধ।

স্বভাবগতভাবে যা অগ্রবর্তী তা হলো সেটি যার মুখাপেক্ষী হয় পরবর্তীটি, অথচ সেটি তার জন্য কারণ হয় না; আর এই তিনটিও তদ্রূপ। যুক্তিবিদদের নিকট মূলনীতিসমূহ হলো: সেই বিষয়সমূহ যার ওপর ওই বিজ্ঞানের আলোচনাগুলো ভিত্তি করে। এগুলো হয় ধারণা, যা মূলত ওই বিজ্ঞানে ব্যবহৃত বিষয়গুলোর সংজ্ঞা; যথা: তার আলোচ্য বিষয়, তার অংশসমূহ, তার প্রকারসমূহ, তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং সেগুলোর প্রকারসমূহ।

অথবা এগুলো হলো প্রত্যয়ন, যা এমন সব প্রস্তাবনা যার সমন্বয়ে ওই বিজ্ঞানের মাসয়ালাসমূহ উৎপাদনকারী যুক্তিপ্রক্রিয়া গঠিত হয়। এগুলো হয় হয় স্বতস্ফূর্তভাবে স্পষ্ট, অথবা ওই বিজ্ঞানে স্বীকৃত কিন্তু যার প্রমাণ পেশ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
عليها فيه، لبناء مسائل ذلك العلم عليها، سواء كانت مسلمة في نفسها أو مقبولة، على أن يبرهن عليها في علم آخر.

فالحد والفائدة ليسا من المبادئ على هذا، فلا تكون أجزاءً للأصول وإن كانت أجزاءً للمختصر لأن المبادئ عندهم [من] أجزاء العلم، وإنما يسمون المذكور مقدمات العلم، ولقائل أن يقول: المذكور من أجزاء العلم. أما الاستمداد؛ فلأن العلم ينبني عليه، والمبادئ هي الأشياء التي ينبني عليها العلم، فالاستمداد من المبادئ لأصول الفقه، ومن المسائل لعلم الكلام، وعلم العربية، وعلم الفقه.

وصرح سيف الدين بأن الاستمداد من المبادئ، والحد أيضًا من المبادئ، لاستلزامه تعريف الموضوع وذلك من المبادئ، [وكذا القول بعينه في الفائدة].

واعلم أن المبادئ تطلق على ما يتوقف عليه المقصود بوجه، وهو المستعمل عند أكثر الأصوليين، فإن توقف تصوره عليه فهو الحد، وإن توقف باعتبار الشروع فهو الفائدة، وإن توقف البحث عن مسائله عليه
এর ওপর, যাতে সেই শাস্ত্রের মাসআলাসমূহ তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা যায়; চাই সেগুলো নিজের মধ্যেই স্বত:সিদ্ধ হোক কিংবা স্বীকৃত হোক, এই শর্তে যে অন্য কোনো শাস্ত্রে সেগুলোর প্রমাণ পেশ করা হবে।

সুতরাং এই সংজ্ঞা এবং উপকারিতা এই মতানুসারে মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে এগুলো উসুলের অংশ হবে না, যদিও তা সংক্ষিপ্তসার বা মুখতাসারের অংশ হতে পারে; কারণ তাদের মতে মূলনীতিসমূহ শাস্ত্রের অংশ। তারা উল্লিখিত বিষয়গুলোকে শাস্ত্রের ভূমিকা হিসেবে অভিহিত করেন। কেউ বলতে পারেন যে, উল্লিখিত বিষয়গুলো শাস্ত্রেরই অংশ। আর উৎস গ্রহণ বা ইস্তিমদাদ-এর বিষয়টি এমন যে, যেহেতু শাস্ত্র এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, আর মূলনীতিসমূহ হলো এমন বিষয় যার ওপর শাস্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তাই ইস্তিমদাদ হলো উসুলুল ফিকহের মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর ইলমুল কালাম, আরবি ভাষাতত্ত্ব এবং ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এগুলো মাসআলা সমূহের অন্তর্ভুক্ত।

সাইফ উদ্দিন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, উৎস গ্রহণ মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত, এবং সংজ্ঞাও মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি আলোচ্য বিষয়ের পরিচয় প্রদানকে আবশ্যক করে, আর তা মূলনীতিসমূহেরই অংশ। [উপকারিতার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য]।

জেনে রাখুন যে, ‘মূলনীতি’ শব্দটি এমন সব বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় যার ওপর উদ্দেশ্য কোনো না কোনোভাবে নির্ভর করে। অধিকাংশ উসুলবিদের নিকট এটিই ব্যবহূত পরিভাষা। যদি বিষয়টির ধারণা লাভ করা তার ওপর নির্ভর করে, তবে তা হলো সংজ্ঞা; যদি শাস্ত্রটি শুরু করার বিষয়টি তার ওপর নির্ভর করে, তবে তা হলো উপকারিতা; আর যদি এর মাসআলাসমূহ নিয়ে গবেষণা করা তার ওপর নির্ভর করে...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
فهو الاستمداد.

قال: (أما حده لقبًا: فالعلم بالقواعد التي يتوصل بها إلى استنباط الأحكام الشرعية الفرعية عن أدلتها التفصيلية).

أقول: لما كان تقدم الحد على الاثنين أيضًا طبعًا قدمه وضعًا، وأصول الفقه مركب إضافي له معنيان:

أحدهما: ما يفهم من مفرديه عن تقييدهما الأول بالثاني، وهو المعنى الإضافي.

والثاني: مسماه الذي هو العلم الخاص، وهو لقب له منقول عن الأول؛ لأن معناه الإضافي: أدلة الفقه، ومعناه اللقبي: العلم بالقواعد التي يستنبط الفقه منها.

قيل: فلا يصدق مفهومه الإضافي على مفهومه اللقبي.

قلت: المفهوم الإضافي اصطلاحًا غير صادق على اللقبي، والمفهوم الإضافي لغة صادق على اللقبي؛ لأن مفهومه اللغوي: الأشياء التي ينبني عليها الفقه، إذ الأصل ما ينبني عليه غيره، وذلك صادق على العلم بالقواعد. وانتصب لقبًا على التمييز، ميزه ليعلم أن التعريف لمفهومه اللقبي لأنه أهم مفهوميه؛ لأن وضع الكتاب لـ[بيان] مفهومه اللقبي، مع أنه حد له باعتبار كونه مفردًا، والثاني حده باعتبار كونه مركبًا، والمفرد قبل
আর এটিই হলো জ্ঞানের উৎস বা উপকরণের ক্ষেত্র।

তিনি বলেন: (পারিভাষিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে: এটি এমন কতগুলো মূলনীতি বা নিয়মাবলীর জ্ঞান, যার মাধ্যমে বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে শাখা-প্রশাখা সংবলিত শরয়ি বিধানসমূহ আহরণ বা উদ্ভাবন করার সক্ষমতা অর্জিত হয়)।

আমি বলি: যেহেতু সংজ্ঞাটি স্বাভাবিক নিয়মেই অন্য দুটির আগে আসে, তাই বিন্যাসের ক্ষেত্রেও একে অগ্রগণ্য করা হয়েছে। উসুলুল ফিকহ হলো একটি সম্বন্ধযুক্ত যৌগিক শব্দ যার দুটি অর্থ রয়েছে:

একটি হলো: এর পৃথক শব্দদ্বয় থেকে যা বোঝা যায় যখন প্রথমটিকে দ্বিতীয়টির সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; আর এটিই হলো সম্বন্ধসূচক অর্থ।

আর দ্বিতীয়টি হলো: এর বিশেষ নামগত অর্থ যা একটি বিশেষ শাস্ত্রকে বোঝায়। এটি একটি পারিভাষিক নাম যা প্রথম অর্থ থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। কারণ এর সম্বন্ধসূচক অর্থ হলো: ফিকহ-এর দলীলসমূহ। আর এর পারিভাষিক অর্থ হলো: ঐ সকল মূলনীতির জ্ঞান যা থেকে ফিকহ আহরণ করা হয়।

বলা হয়ে থাকে: এমতাবস্থায় এর সম্বন্ধসূচক ধারণাটি এর পারিভাষিক ধারণার ওপর প্রযোজ্য হয় না।

আমি বলি: পারিভাষিক পরিভাষায় সম্বন্ধসূচক ধারণাটি পারিভাষিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হলেও, আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা পারিভাষিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সত্য ও প্রযোজ্য। কেননা এর আভিধানিক ধারণা হলো: এমন সব বিষয় যার ওপর ফিকহ ভিত্তি করে গড়ে ওঠে; কারণ 'আসল' (মূল) হলো এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে। আর এটি মূলনীতির জ্ঞানের ক্ষেত্রেও সত্য ও প্রযোজ্য। আর 'পারিভাষিক' শব্দটি এখানে 'তাময়ীয' হিসেবে নসব বা জবরযুক্ত হয়েছে। একে বিশিষ্ট করা হয়েছে যাতে এটি জানা যায় যে, এই সংজ্ঞাটি তার পারিভাষিক ধারণার জন্য প্রদান করা হয়েছে; কারণ এটি এর দুটি ধারণার মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা গ্রন্থটি রচনার মূল উদ্দেশ্যই হলো এর পারিভাষিক ধারণার ব্যাখ্যা প্রদান করা। তদুপরি, এটি একক শব্দ হিসেবে তার সংজ্ঞা, আর দ্বিতীয়টি যৌগিক শব্দ হিসেবে তার সংজ্ঞা। আর একক বিষয়টি যৌগিক বিষয়ের পূর্বেই আসে...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
المركب.

ومعنى الكلام: أن حد المفهوم المدلول عليه [بلفظ] أصول الفقه الذي هو لقب عليه. واحتجنا إلى هذا؛ لأن اللقب صفة للفظ، والحد للمعنى، واللقب علم دل على مدح أو ذم، وهو [هنا] دال على أعظم المدائح؛ لأنه إذا / كان علمًا على قواعد من شأنها أن يتوصل بها إلى استنباط الأحكام الشرعية التي هي سبب السعادة، فهو أعظم مدح، وهم علم جنس كأسامة؛ لأن الحد للكليات لا للشخصيات.

قيل عليه: هذا الاسم للمجموع من حيث هو، بحيث لا يصدق على غيره، ونفس تصوره مانع من الشركة، إذ لا يوجد أمران كل واحد منهما ذلك المجموع من حيث هو، بخلاف أسامة فيكون علم شخص لا علم جنس.

قلت: لما كان العلم صفة حقيقية تلزمها إضافة، أو نفس الإضافة
যৌগিক।

আলোচনার অর্থ হলো: 'উসূলে ফিকহ' শব্দের দ্বারা যা বুঝানো হয়, সেই ধারণার সংজ্ঞা প্রদান করা, যা এর জন্য একটি উপাধি হিসেবে নির্ধারিত। আমাদের এটির প্রয়োজন হয়েছে কারণ উপাধি হলো শব্দের গুণ, আর সংজ্ঞা হলো অর্থের জন্য। উপাধি এমন একটি বিশেষ্য যা প্রশংসা বা নিন্দা প্রকাশ করে। এখানে এটি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশংসা নির্দেশ করছে; কারণ যখন এটি এমন কতিপয় মূলনীতির নাম হয় যার মাধ্যমে শরয়ী বিধানাবলি উদ্ভাবন করা সম্ভব—যা সৌভাগ্যের কারণ—তখন এটিই হবে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশংসা। আর এটি 'উসামাহ'-এর মতো একটি জাতিবাচক বিশেষ্য; কারণ সংজ্ঞা প্রদান করা হয় সামগ্রিক বিষয়ের জন্য, কোনো ব্যক্তিবাচক বিষয়ের জন্য নয়।

এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে: এই নামটি তার সামগ্রিক সত্তার জন্য এমনভাবে নির্ধারিত যে, তা অন্য কারো ওপর প্রযোজ্য হয় না। এর সঠিক উপলব্ধিই এতে অন্যের অংশীদারিত্বকে বাধা প্রদান করে, যেহেতু এমন দুটি বিষয় পাওয়া সম্ভব নয় যার প্রত্যেকটিই সেই একই সামগ্রিক সত্তা হিসেবে গণ্য। এটি 'উসামাহ'-এর বিপরীত, ফলে এটি জাতিবাচক বিশেষ্য না হয়ে বরং ব্যক্তিবাচক বিশেষ্য হবে।

আমি বলব: যেহেতু জ্ঞান একটি প্রকৃত গুণ যার জন্য সম্বন্ধ বা নিসবত অপরিহার্য, অথবা এটি স্বয়ং সম্বন্ধ...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৪০)
على الرأيين، فالحقيقة واحدة، والأفراد ما اتصف به الأشخاص.

وقيل: العلم بالقواعد؛ لأنه لابد له من متعلق، سواء قلنا: إنه إضافة، أو [قلنا]: صفة تلزمها إضافة.

والمتعلق هو المعلوم، وقيده بأمر خاص؛ لأن المطلق إذا تقيد بأمور خاصة حصل نوع منه، إذ تحصل النوع يكون بخصوصية المتعلق به، ولما كان تحصل أصول الفقه بتقييد العلم بالقواعد، قيده بها.

والعلم [و] إن كان يتعدى بنفسه، لكن لما كان إعمال المصدر باللام قليلًا، قواه بالباء.

والقاعدة: الأمر الكلي المنطبق على الجزئيات لتعرف أحكامها منه، فخرج العلم بالجزئيات وبعض القواعد؛ لأن الألف واللام للاستغراق، ولا يصح تفسير القواعد بالأدلة الكلية [من] الكتاب والسنة والإجماع؛ لأن القواعد قولنا: الكتاب حجة، السنة حجة، إذ نفس الكتاب ليس مما يتوصل به إلى الاستنباط، نعم يتوصل بغيره إلى الاستنباط عنه.

وقوله: (التي يتوصل بها إلى الاستنباط) إشارة إلى أنه وسيلة، وذكر
উভয় মতানুসারে মূল বাস্তবতা অভিন্ন, আর ব্যক্তিবর্গ যা দ্বারা বিশেষিত হয় তাই হলো এর একক রূপ।

আর বলা হয়েছে: এটি হলো মূলনীতিসমূহের জ্ঞান; কারণ এর জন্য একটি সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকা আবশ্যক, চাই আমরা একে সম্বন্ধ বলি অথবা এমন একটি গুণ বলি যার জন্য সম্বন্ধ অপরিহার্য।

আর সংশ্লিষ্ট বিষয়টি হলো জ্ঞাত বিষয়, এবং তিনি একে একটি বিশেষ বিষয়ের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করেছেন; কারণ ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ যখন বিশেষ কোনো বিষয়ের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ হয়, তখন তার একটি প্রকার অর্জিত হয়। কেননা কোনো প্রকারের অস্তিত্ব লাভ তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষত্বের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। যেহেতু উসূলে ফিকহ-এর স্বরূপ অর্জন হয় জ্ঞানকে মূলনীতিসমূহের সাথে সীমাবদ্ধ করার মাধ্যমে, তাই তিনি একে তার মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ করেছেন।

'ইলম' (জ্ঞান) শব্দটি যদিও সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে, তবে 'লাম' অব্যয়ের সাথে মাসদারের ব্যবহার যেহেতু কম, তাই তিনি একে 'বা' অব্যয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন।

মূলনীতি হলো এমন এক সামগ্রিক বিষয় যা তার অন্তর্ভুক্ত আংশিক বিষয়সমূহের ওপর প্রযোজ্য হয়, যাতে তার থেকে সেগুলোর বিধান জানা যায়। ফলে আংশিক বিষয়সমূহের জ্ঞান এবং আংশিক কিছু মূলনীতির জ্ঞান এর থেকে বহির্ভূত হয়ে গেল; কারণ এখানে 'আলিফ-লাম' শব্দটি ব্যাপকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। আর কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা-এর মতো সামগ্রিক দলিলসমূহ দ্বারা মূলনীতির ব্যাখ্যা করা সঠিক হবে না; কারণ মূলনীতি হলো আমাদের এই কথা: "কিতাব দলিল", "সুন্নাহ দলিল"। কেননা কিতাব স্বয়ং এমন কোনো বিষয় নয় যার মাধ্যমে সরাসরি বিধান আহরণ করা যায়, বরং অন্য কিছুর মাধ্যমে তা থেকে বিধান আহরণ করা সম্ভব হয়।

আর তাঁর উক্তি: (যার মাধ্যমে বিধান আহরণে পৌঁছানো যায়) এটি একটি ইঙ্গিত যে এটি একটি মাধ্যম, এবং তিনি উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৪১)
الاستنباط إشارة إلى الاستخراج فإن فيه كلفة، وفيه إشارة إلى أن بقاء الإنسان ببقاء الأحكام، كما أن [بقاءه] ببقاء الماء المستنبط.

وأيضًا: العلم حياة الروح كما أن الماء حياة البدن، ولم يخرج به شيء؛ لأن القاعدة من شأنها التوصل.

وقوله: (الأحكام) فصل خرج به الصنائع.

وقوله: (الشرعية) فصل خرج به اللغوية والعقلية، كقواعد الحساب والعربية.

وقوله: (الفرعية عن أدلتها التفصيلية) لبيان الواقع، أو شأنها ذلك، فهو لتمام تصور المحدود، إذ لم يوجد علم بقواعد توصل بها إلى استنباط أحكام شرعية أصولية حتى يحترز بالفرعية عنه؛ لأن الأحكام الأصولية إنما استفيدت من آيات وأخبار، ولم يوجد علم بقواعد توصل به إلى استنباط أحكام شرعية فرعية عن أدلة إجمالية حتى يحترز بالتفصيلية عنه.

قولهم: احترز بالفرعية عما / توصل به إلى الأصولية، ككون الإجماع حجة، والقياس دليلًا.
'ইসতিনবাত' (আহরণ) শব্দটি কোনো কিছু বের করে আনার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে, কারণ এতে শ্রমসাধ্যতা রয়েছে। এতে এই ইশারাও রয়েছে যে, মানুষের অস্তিত্বের স্থায়িত্ব যেমন উত্তোলিত পানির ওপর নির্ভরশীল, তেমনি তার (আধ্যাত্মিক) স্থায়িত্ব শারয়ি বিধানের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভরশীল।

আরও বলা যায়: জ্ঞান হলো আত্মার জীবন যেমন পানি হলো দেহের জীবন। এর মাধ্যমে কোনো কিছু বাদ পড়েনি; কারণ মূলনীতির বৈশিষ্ট্যই হলো উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া।

তাঁর উক্তি: (বিধানসমূহ) হলো একটি ব্যবচ্ছেদকারী শব্দ যার মাধ্যমে কারিগরি বা শিল্পবিদ্যাসমূহ (সংজ্ঞার বাইরে) চলে গিয়েছে।

তাঁর উক্তি: (শরয়ি) হলো একটি ব্যবচ্ছেদকারী শব্দ যার মাধ্যমে ভাষাগত ও বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়সমূহ বাদ পড়ে গিয়েছে, যেমন গণিত ও আরবি ব্যাকরণের নিয়মাবলি।

তাঁর উক্তি: (বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে আহরিত শাখা-প্রশাখাগত বিধান) বাস্তব অবস্থা বর্ণনা করার জন্য অথবা এটি এর বৈশিষ্ট্য বুঝানোর জন্য। এটি সংজ্ঞায়িত বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ ধারণার জন্য আনা হয়েছে; কারণ এমন কোনো শাস্ত্রের অস্তিত্ব নেই যা এমন কিছু মূলনীতি প্রদান করে যার মাধ্যমে মৌলিক শরয়ি বিধান আহরণ করা যায়, যাতে 'শাখা-প্রশাখাগত' শব্দের মাধ্যমে তা থেকে বিরত থাকা বা তা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কেননা মৌলিক বিধানসমূহ কেবল আয়াত ও বর্ণনা (হাদিস) থেকে গৃহীত হয়েছে। আবার এমন কোনো শাস্ত্রও নেই যা এমন কিছু নিয়ম প্রদান করে যার মাধ্যমে সামষ্টিক দলিল থেকে শাখা-প্রশাখাগত শরয়ি বিধান আহরণ করা যায়, যাতে 'বিস্তারিত' শব্দের মাধ্যমে তা থেকে বিরত থাকা বা তা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।

তাদের উক্তি: 'শাখা-প্রশাখাগত' শব্দের মাধ্যমে সেই সকল বিষয় থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে যা মৌলিক বিষয়ের দিকে নিয়ে যায়, যেমন ইজমা দলিল হওয়া এবং কিয়াস প্রমাণ হওয়া।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৪২)
وعلم الكلام: علم بقواعد توصل به إلى استنباط أحكام شرعية أصولية مردود؛ لأن علم الكلام توصل به إلى إثباتها لا إثبات حجيتها.

قيل عليه: قولكم: «لم يوجد علم يحترز بالتفصيلية عنه» ، إن أردتم لم يوجد مدونًا مسلم.

وإن أردتم في نفس الأمر فممنوع؛ لأنه إذا ثبت أن لنا أدلة إجمالية يستدل بها على الأحكام، فلابد للاستدلال بها من كيفية، وليست الكيفية ضرورية، ولابد لنا من بيان، فيوجد في نفس الأمر علم مبين لكيفية الاستدلال، وذلك العلم من شأنه أن يتوصل به إلى أحكام شرعية فرعية عن أدلة إجمالية وليس بأصول فقه، فيجب الاحتراز عنه.

وفيه نظر؛ لأن ما ثبت بالإجمال كقولهم يجب بالمقتضى ولا يجب بالنافي لا يعلم أن التوصل إلى استنباطه بقواعد، لجواز أن يكون ما يتوصل به إلى استنباط أحكام شرعية فرعية عن أدلة إجمالية جزئيات وعلى التعريف شكوك.

الأول: أنه يدخل علم الخلاف.

ورد: بأنه علم بجزئيات، أو علم بقواعد يتوصل بها إلى حفظ
এবং ইলমুল কালাম (কালাম শাস্ত্র): এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান যার মাধ্যমে মৌলিক শরয়ি বিধানসমূহ উদ্ঘাটন করা যায়—এই ধারণাটি প্রত্যাখ্যাত; কারণ ইলমুল কালামের মাধ্যমে সেই বিধানগুলোকে প্রমাণ করা হয়, সেগুলোর প্রামাণিকতা সাব্যস্ত করা হয় না।

এর ওপর বলা হয়েছে: আপনাদের উক্তি: "এমন কোনো শাস্ত্র পাওয়া যায়নি যাকে 'বিস্তারিত' (তাফসিলি) বিশেষণের মাধ্যমে আলাদা করার প্রয়োজন পড়ে"—যদি আপনাদের উদ্দেশ্য হয় যে সংকলিত আকারে তা পাওয়া যায় না, তবে তা মেনে নেওয়া হলো।

কিন্তু যদি আপনাদের উদ্দেশ্য হয় বাস্তব অস্তিত্বের ক্ষেত্রে, তবে তা অগ্রহণযোগ্য; কারণ যখন এটি প্রমাণিত যে আমাদের নিকট এমন কিছু সামগ্রিক দলিল রয়েছে যা দিয়ে বিধানাবলি সাব্যস্ত করা হয়, তখন সেই দলিল ব্যবহারের একটি পদ্ধতি থাকা অপরিহার্য। আর সেই পদ্ধতিটি স্বতঃসিদ্ধ নয়, বরং আমাদের জন্য এর ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। ফলে বাস্তবে এমন একটি শাস্ত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায় যা দলিল পেশ করার পদ্ধতি বর্ণনা করে। আর সেই শাস্ত্রের প্রকৃতি হলো এর মাধ্যমে সামগ্রিক দলিল হতে শরয়ি শাখা বিধানসমূহ উদ্ঘাটন করা হয় এবং তা উসুলুল ফিকহ নয়, তাই সেটি থেকে পৃথক রাখা আবশ্যক।

এতে পর্যালোচনার অবকাশ আছে; কারণ যা সামগ্রিকভাবে প্রমাণিত—যেমন তাদের কথা: 'দাবির প্রেক্ষিতে ওয়াজিব হবে এবং রদকারীর কারণে ওয়াজিব হবে না'—তা জানা যায় না যে কতিপয় মূলনীতির মাধ্যমে তার উদ্ঘাটন সম্ভব কি না। কারণ এটি সম্ভব যে, সামগ্রিক দলিল থেকে শরয়ি শাখা বিধান উদ্ঘাটনের মাধ্যমটি কেবল কতগুলো আংশিক বিষয় মাত্র। আর এই সংজ্ঞার ব্যাপারে কিছু সংশয় বিদ্যমান।

প্রথমত: এতে ইলমুল খিলাফ (মতভেদ সংক্রান্ত শাস্ত্র) অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।

এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: এটি আংশিক বিষয়াবলির জ্ঞান, অথবা এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান যার মাধ্যমে (মতাদর্শ) সংরক্ষণের পথ পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
الأحكام لا إلى استنباطها.

الثاني: أنه غير منعكس؛ لأن خبر الواحد والقياس ظنيان، وكذلك الأمر للوجوب، والنهي للتحريم، والألف واللام للعموم، بل أكثر قواعده أمور ظنية.

ورد: بأن كون الأمر للوجوب إلى آخره من مسائله، وهو غنما قال: العلم بالقواعد التي يتوصل بها إلى استنباط الأحكام.

والجواب: أن المراد بالعلم المعنى الأعم الصادق على الظن.

قال بعضهم: لا نسلم أن خبر الواحد والقياس من قواعده، بل القاعدة كون كل واحد منهما مفيد للظن، فالظن متعلق بما أفاده، والعلم متعلق بإفادته.

قلت: وهذا معنى حسن أيضًا، وما قيل من أن المذكور يفيد ظنًا، لكن القطع بوجوب العمل به بصدق كونها معلومة باطل؛ لأن ذلك لا يخرجها عن إفادتها الظن، وكون الظن يجب العمل به [قطعًا] أمر آخر.

الثالث: أنه اعتبر الحد إضافة العلم إلى المعلوم، والإضافة خارجة عن حقيقته، فلا يكون حدًا.
বিধানসমূহ, এর উদ্ভাবন নয়।

দ্বিতীয়ত: এটি ব্যাপ্তিবিরোধী; কারণ একক বর্ণনা এবং কিয়াস উভয়ই ধারণানির্ভর, তেমনিভাবে আদেশের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হওয়া, নিষেধের ক্ষেত্রে হারাম হওয়া এবং ‘আলিফ-লাম’ ব্যাপকতা বুঝানোও ধারণানির্ভর; বরং এর অধিকাংশ নীতিমালাই ধারণানির্ভর বিষয়।

এর প্রত্যুত্তরে বলা হয়েছে: আদেশ ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি এবং এর পরবর্তী বিষয়গুলো এর মাসয়ালাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর তিনি তো কেবল বলেছেন: ‘ঐ সকল মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যার মাধ্যমে বিধানসমূহ উদ্ভাবন করা যায়।’

আর জবাব হলো: এখানে ‘জ্ঞান’ দ্বারা এর ব্যাপক অর্থ উদ্দেশ্য যা ধারণার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।

কেউ কেউ বলেছেন: আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে একক বর্ণনা এবং কিয়াস এর মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত, বরং মূলনীতি হলো এদের প্রতিটিই ধারণা প্রদানকারী হওয়া। সুতরাং ধারণা সংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে যা অর্জিত হয় তার সাথে সম্পৃক্ত, আর জ্ঞান এর তথ্য প্রদানের গুণের সাথে সম্পৃক্ত।

আমি বলি: এটিও একটি সুন্দর অর্থ। আর যা বলা হয়েছে যে, উল্লিখিত বিষয়গুলো ধারণা প্রদান করে, কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি অকাট্য হওয়ার কারণে তাকে জ্ঞাত বিষয় হিসেবে গণ্য করা সঠিক হওয়াটি বাতিল; কারণ এটি তাকে ধারণা প্রদানকারী হওয়া থেকে বের করে দেয় না, আর সেই ধারণার ওপর ভিত্তি করে আমল করা [অকাট্যভাবে] ওয়াজিব হওয়া একটি ভিন্ন বিষয়।

তৃতীয়ত: সংজ্ঞার ক্ষেত্রে তিনি জ্ঞানের সম্পৃক্ততাকে বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করেছেন, আর এই সম্পৃক্ততা বিষয়ের প্রকৃত সত্তার বহির্ভূত, তাই এটি পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা হতে পারে না।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
ورد: بأن العلم إن كان نفس الإضافة فلا إشكال، وإن كان صفة يلزمها إضافة، فلا نسلم أن الإضافة إلى المعلوم خارجة عن العلم المضاف إلى القواعد المذكورة، والخارج عن المطلق لا يلزم خروجه عن المقيد؛ لأن المراد من علم الأصول العلم المضاف لا المطلق، مع أن التعريف بالخارجي عند المصنف يطلق عليه [اسم] الحد.

/ الرابع: [أنه] لا يطرد؛ لأن الحساب يتوصل به إلى بعض مسائل الفرائض، وكذا العربية، وكذا علم الكلام.

ورد: بأن ما يتوصل به من ذلك فهو مبدأ للأصول فهو منه، والحساب استنبط به بعض متعلقات الأحكام لا نفس الأحكام.

الخامس: قوله: (التي يتوصل) يريد بالفعل أو بالقوة، فإن أريد الأول لم ينعكس؛ لخروج من علم تلك القواعد ولم يتوصل إلى الاستنباط بالفعل، وإن أريد الثاني لم يطرد؛ لدخول علم الله تعالى، وعلم الرسول صلى الله عليه وسلم، ولا يطلق على ذلك أصول.

وأجيب: نختار الثاني، وعدم الإطلاق لكون أسمائه توقيفية.
এর উত্তর হলো: যদি জ্ঞান কেবল একটি সম্পর্ক হয় তবে কোনো সমস্যা নেই। আর যদি এটি এমন একটি গুণ হয় যার সাথে সম্পর্ক থাকা অনিবার্য, তবে আমরা এটি মেনে নেব না যে, জ্ঞাত বিষয়ের সাথে সম্পর্কটি উল্লিখিত মূলনীতিগুলোর সাথে সম্পৃক্ত জ্ঞানের বাইরে। আর যা সাধারণ বিষয় থেকে পৃথক, তা নির্দিষ্ট বিষয় থেকেও পৃথক হওয়া জরুরি নয়; কারণ ইলমে উসূল দ্বারা এখানে সম্পৃক্ত জ্ঞানই উদ্দেশ্য, সাধারণ জ্ঞান নয়। তদুপরি, গ্রন্থকারের নিকট বহির্স্থ কোনো বিষয় দ্বারা সংজ্ঞা প্রদান করাকেও সংজ্ঞার্থ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

চতুর্থ আপত্তি: এটি সর্বব্যাপ্ত নয়; কারণ পাটীগণিতের মাধ্যমে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কিছু মাসআলা সম্পর্কে জানা যায়, তদ্রূপ আরবি ভাষা এবং ইলমে কালামের মাধ্যমেও।

এর উত্তর হলো: এসবের মাধ্যমে যা অর্জিত হয় তা উসূলের মূল ভিত্তি, সুতরাং তা এর অন্তর্ভুক্ত। আর পাটীগণিত দ্বারা বিধানের কিছু অনুষঙ্গ উদ্ভাবন করা হয়েছে, স্বয়ং বিধান নয়।

পঞ্চম আপত্তি: তাঁর উক্তি—(যার মাধ্যমে পৌঁছানো যায়)—দ্বারা তিনি কর্মগতভাবে নাকি সক্ষমতাগতভাবে উদ্দেশ্য নিয়েছেন? যদি প্রথমটি উদ্দেশ্য হয়, তবে তা বিপরীতমুখীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় না; কারণ যে ব্যক্তি ওইসব মূলনীতি জানে অথচ বাস্তবে কোনো বিধান উদ্ভাবন করেনি, সে এর বাইরে থেকে যায়। আর যদি দ্বিতীয়টি উদ্দেশ্য হয়, তবে তা সর্বব্যাপ্ত হয় না; কারণ এর মধ্যে মহান আল্লাহর জ্ঞান এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জ্ঞানও অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে, অথচ সেগুলোকে 'উসূল' বলা হয় না।

এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: আমরা দ্বিতীয়টিই গ্রহণ করছি। আর সে ক্ষেত্রে 'উসূল' শব্দ ব্যবহার না করার কারণ হলো আল্লাহর নামসমূহ শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
السادس: أصول الفقه القواعد، ويعرض لها العلم، فلا يصلح جنسًا. وأجيب: بأنه لما كان علمًا، والعلم إنما يتخصص - كما تقدم - بخصوصية المتعلق به وأضيف إلى القواعد، صار أصول الفقه العلم بالقواعد.

قال: (وأما حده مضافًا: فالأصول: الأدلة).

أقول: لما عرف المفهوم اللقبي، عرف بعد [ذلك] الإضافي، وتعريفه إنما يكون بتعريف المضاف والمضاف إليه.

أما المضاف: فالأصول جمع أصل، وهو ما منه الشيء لغةً، أو ما يبنى عليه غيره.

وأما اصطلاحًا: فالأصول: الأدلة، والألف واللام للعهد، أي أدلة الفقه؛ لأنه لما أضيف الأصل إلى الفقه وهو علم، كان بمعنى الدليل، كما يقال: الأصل في هذا الكتاب، وهو حد لفظي بعد النقل؛ لأن العلم بالقواعد مسمى الأصول، والأدلة حد لذلك المسمى بعد النقل، وأما قبله فلا؛ إذ الأدلة الكتاب والسنة لا العلم بالقواعد، وإن حمل الأصل على معناه اللغوي حتى يكون معناه ما يستند الفقه إليه، كان حدًا له لا بعد النقل.

قال: (الفقه: العلم بالأحكام الشرعية الفرعية عن أدلتها التفصيلية بالاستدلال).

أقول: لما تكلم عن المضاف، أخذ الآن يتكلم في المضاف إليه.
ষষ্ঠত: উসুলুল ফিকহ হলো নীতিমালাসমূহ, এবং জ্ঞান এর ওপর আপতিত হয়, তাই এটি একটি সাধারণ শ্রেণি হিসেবে উপযুক্ত নয়। এর উত্তরে বলা হয়েছে: যেহেতু এটি একটি জ্ঞান, আর জ্ঞান কেবল তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষত্বের মাধ্যমেই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়—যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে—এবং একে নীতিমালার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, ফলে উসুলুল ফিকহ ‘নীতিমালা বিষয়ক জ্ঞান’ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

তিনি বলেন: (আর সম্বন্ধযুক্ত হিসেবে এর সংজ্ঞা: উসুল হলো দলিলসমূহ)।

আমি বলছি: যখন পারিভাষিক অর্থ সংজ্ঞায়িত করা হলো, এরপর সম্বন্ধযুক্ত অর্থের পরিচয় প্রদান করা হচ্ছে। আর এর সংজ্ঞা কেবল সম্বন্ধিত পদ (মুদাফ) ও যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে (মুদাফ ইলাইহি) -এর সংজ্ঞায়নের মাধ্যমেই সম্ভব।

সম্বন্ধিত পদের ক্ষেত্রে: উসুল হলো 'আসল'-এর বহুবচন। আভিধানিক অর্থে আসল হলো তা, যা থেকে কোনো বস্তুর উদ্ভব ঘটে, অথবা যার ওপর অন্য কিছু ভিত্তি করে।

আর পারিভাষিক অর্থে: উসুল হলো দলিলসমূহ; আর এখানে আলিফ ও লাম নির্দিষ্টকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ ফিকহশাস্ত্রের দলিলসমূহ। কারণ যখন 'আসল' শব্দটিকে 'ফিকহ'-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয় এবং ফিকহ যখন একটি জ্ঞান বা শাস্ত্র, তখন তা 'দলিল' অর্থ প্রদান করে। যেমন বলা হয়: এই কিতাবের আসল বা ভিত্তি। এটি পারিভাষিক রূপান্তরের পরের একটি শাব্দিক সংজ্ঞা; কারণ নীতিমালা বিষয়ক জ্ঞানই হলো 'উসুল' হিসেবে নামকৃত বিষয়, আর দলিলসমূহ হলো সেই নামকৃত বিষয়ের সংজ্ঞা (রূপান্তরের পর)। তবে রূপান্তরের পূর্বে এটি সংজ্ঞা নয়; কারণ তখন দলিল বলতে কুরআন ও সুন্নাহকে বুঝায়, নীতিমালা সংক্রান্ত জ্ঞানকে নয়। আর যদি আসল শব্দটিকে তার আভিধানিক অর্থে গ্রহণ করা হয় যাতে এর অর্থ হয়—ফিকহ যার ওপর নির্ভর করে—তবে তা রূপান্তরের আগে থেকেই এর সংজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি বলেন: (ফিকহ হলো: গবেষণার মাধ্যমে বিস্তারিত দলিলসমূহ হতে প্রাপ্ত শরীয়তের শাখাগত বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান)।

আমি বলছি: তিনি যখন সম্বন্ধিত পদ (মুদাফ) নিয়ে আলোচনা শেষ করলেন, এখন তিনি যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে (মুদাফ ইলাইহি) সে বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
والفقه لغة: الفهم، قال الله تعالى: {لا تفقهون تسبيحهم} أي لا تفهمون، وقال: {ما نفقه كثيرًا مما تقول} أي [لا نفهم]. وقيل: فهم الأشياء الدقيقة، إذ لا يقال: فقهت أن السماء فوقنا.

قلت: [والأول] أصح، وكونه لا يقال: فقهت أن السماء فوقنا؛ لأنه لا يقال: فهمت أن السماء فوقنا.

وفي الاصطلاح: ما ذكر فالعلم جنس، وليس المراد من العلم بالأحكام تصورها؛ لأن ذلك من مبادئ أصول الفقه.

وأيضًا: التصور لا يحصل عن الدليل، وليس المراد التصديق بثبوتها؛ لأن ذلك من علم الكلام، بل التصديق بتعلقها بأفعال المكلفين.

والعلم بمعنى الاعتقاد الراجح لا بمعنى اليقين، وإلا لم يدخل المقلد،
ভাষাগতভাবে ফিকহ হলো: অনুধাবন করা। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তাদের তাসবিহ বুঝতে পারো না} অর্থাৎ তোমরা অনুধাবন করো না। তিনি আরও বলেন: {আপনি যা বলেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না} অর্থাৎ [আমরা অনুধাবন করি না]। কেউ কেউ বলেন: এটি হলো সূক্ষ্ম বিষয়াবলি অনুধাবন করা; কারণ এটি বলা হয় না যে: 'আমি ফিকহ করেছি যে আকাশ আমাদের উপরে'।

আমি বলি: [প্রথম মতটিই] অধিকতর সঠিক। আর 'আমি ফিকহ করেছি যে আকাশ আমাদের উপরে' কথাটি না বলার কারণ হলো—এমন ক্ষেত্রে 'আমি বুঝেছি যে আকাশ আমাদের উপরে' এটাও বলা হয় না।

পারিভাষিক অর্থে: যা উল্লেখ করা হয়েছে তাতে জ্ঞান হলো একটি সাধারণ শ্রেণী। আর বিধানাবলির জ্ঞান বলতে সেগুলোর কেবল কল্পনা বা ধারণা করা উদ্দেশ্য নয়; কারণ তা উসূলুল ফিকহের প্রাথমিক বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত।

অধিকন্তু: ধারণা দলিলের মাধ্যমে অর্জিত হয় না। আর এর দ্বারা সেগুলোর সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টিকে সত্যায়ন করাও উদ্দেশ্য নয়; কারণ তা ইলমুল কালামের অন্তর্ভুক্ত। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মের সাথে সেগুলোর সংশ্লিষ্টতাকে সত্যায়ন করা।

এখানে জ্ঞান প্রবল বিশ্বাসের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, নিশ্চিত ধ্রুব সত্যের অর্থে নয়; অন্যথায় মুকাল্লিদ বা অনুসারীরা এর অন্তর্ভুক্ত হতো না।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
فلا يحتاج إلى إخراجه، ولم يتوجه إيراد المصنف على الحد /، ولأن الفقه من باب الظنون لأن دليله ظني، والناتج عن الظني ظني، وما يحاولونه من رده إلى العلم فباطل، ولنقرره أولًا، ثم لنجب عنه.

وتقريره: أن يقول المجتهد: هذا الحكم غلب على ظني، وكلما غلب على ظني فهو حكم الله تعالى في حقي إجماعًا، فينتج: هذا حكم الله تعالى في حقي إجماعًا.

الأولى وجدانية، والثانية إجماعية، فهما قطعيتان، والناتج عن [القطعي قطعي]؛ ولأنه إذا ظن الحكم، إما أن يعمل بالطرف الراجح وهو المطلوب، أو بهما وهو ج مع بين النقيضين، أو لا بهما فيرتفع النقيضان، أو بالطرف المرجوح، وترجيح المرجوح خلاف المعقول، فصدق قولنا: الحكم يجب العمل به قطعيًا، وكون الظن وقع في طريقه لا يضر؛ لأنه وقع الظن محمولًا في الصغرى، موضوعًا في الكبرى، ولا
অতএব তা বের করার প্রয়োজন নেই, এবং সংজ্ঞার ওপর লেখকের আপত্তি ধোপে টেকেনি। কেননা ফিকহ হলো প্রবল ধারণার (dhann) অন্তর্ভুক্ত, কারণ এর দলিলগুলো ধারণাপ্রসূত বা আনুমানিক। আর আনুমানিক দলিল থেকে যা উৎপন্ন হয় তা আনুমানিকই হয়। তারা একে নিশ্চিত জ্ঞানের (ilm) দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার যে চেষ্টা করেন তা বাতিল। আমরা প্রথমে বিষয়টি সাব্যস্ত করি, তারপর এর উত্তর প্রদান করি।

আর এর বর্ণনা হলো: একজন মুজতাহিদ বলবেন: এই বিধানটি আমার প্রবল ধারণায় এসেছে। আর যখনই কোনো বিষয় আমার প্রবল ধারণায় আসে, তখন ঐক্যমত্য (ijma) অনুযায়ী তা আমার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বিধান। এর ফল দাঁড়ায়: এটিই ঐক্যমত্য অনুযায়ী আমার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বিধান।

প্রথম প্রাঙ্গণটি অনুভবজাত (wijdan), এবং দ্বিতীয়টি ঐক্যমত্যভিত্তিক। সুতরাং এই দুটিই অকাট্য। আর অকাট্য থেকে যা উৎপন্ন হয় তা অকাট্যই হয়। তদুপরি, যখন তিনি কোনো বিধান অনুমান করেন, তখন হয় তিনি শক্তিশালী দিকের ওপর আমল করবেন—আর এটিই উদ্দিষ্ট; অথবা উভয় দিকের ওপর—যা হবে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের সমন্বয়; অথবা দুটির কোনোটিই নয়—যার ফলে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ই অপসারিত হয়ে যায়; অথবা দুর্বল দিকের ওপর—আর দুর্বল দিককে অগ্রাধিকার দেওয়া বিবেকবুদ্ধি পরিপন্থী। সুতরাং আমাদের এই কথা সত্য প্রমাণিত হলো যে: বিধানটির ওপর আমল করা অকাট্যভাবেই আবশ্যক। আর এর পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় অনুমানের উপস্থিতি কোনো ক্ষতি করে না; কারণ 'অনুমান' শব্দটি ক্ষুদ্রতর প্রাঙ্গণে বিধেয় হিসেবে এবং বৃহত্তর প্রাঙ্গণে উদ্দেশ্য হিসেবে এসেছে, এবং...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
يلزم من كون المحمول ظنيًا كون القضية ظنية إذا كانت النسبة يقينية.

وأجيب عن الأول: بأنه إضمار في التعريف؛ لأن قولنا: «العلم بالأحكام» لا يدل على وجوب العمل [بها] ، والمجاز يجتنب في التعريف، والحدود الناقصة والرسوم وإن كانت دلالتها على المحدود
প্রেডিকেট (মহমুল) ধারণাপ্রসূত হওয়ার কারণে বিষয়টিও ধারণাপ্রসূত হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে, যদি সম্বন্ধটি (নিসবাত) সুনিশ্চিত হয়।

প্রথম আপত্তির উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে: এটি সংজ্ঞার মধ্যে একটি প্রচ্ছন্নতা (ইযমার); কেননা আমাদের বক্তব্য: 'বিধানাবলির জ্ঞান' বলতে [সেগুলোর] ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়া বোঝায় না। সংজ্ঞার ক্ষেত্রে রূপক (মাজায) পরিহার করা হয়। অসম্পূর্ণ সংজ্ঞা (হুদূদে নাকিসাহ) ও বর্ণনাধর্মী সংজ্ঞা (রুসূম) যদিও সংজ্ঞায়িত বস্তুর প্রতি নির্দেশ করে...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
والمرسوم مجازًا، لكن لم يرد بها المحدود والمرسوم، بل المراد المفهوم المطابقي، ودلالتها عليه بالحقيقة.

وأيضًا: هذا دليل كلي يتمشى له في كل جزئية، والفقه ما كان عن أدلة تفصيلية.

وأيضًا: هذا البحث مبني على تصويب كل مجتهد، ومختار المصنف خلافه، فلا يحمل كلامه على ما ينافي مختاره.

وأيضًا: الظن متعلق بأنه الحكم المطلوب، والعلم بتحريم المخالفة، يصدق كون الأحكام مظنونة، وإلا اجتمع الظن والعلم.

وأيضًا: يلزم أن يكون من يعلم أن العمل بمقتضى الظن بالأحكام واجب فقيه وإن لم يعلم غير هذه القضية.

وأيضًا: لا يلزم من غلبة الظن بشيء العلم بتلك الغلبة، إذ لا يلزم من حصول أمر تعقله، وإلا لتسلسلت المتعقلات.
এবং যা রূপকভাবে বর্ণিত হয়েছে, তবে তা দ্বারা সীমাবদ্ধ বা সংজ্ঞায়িত উদ্দেশ্য নয়; বরং এর দ্বারা আভিধানিক অর্থই উদ্দেশ্য এবং এর ওপর এর নির্দেশিকা বাস্তব ভিত্তিক।

অধিকন্তু: এটি একটি সামগ্রিক দলিল যা প্রতিটি আংশিক বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, অথচ ফিকহ হচ্ছে তা-ই যা বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে অর্জিত হয়।

আরও কথা হলো: এই আলোচনাটি প্রত্যেক মুজতাহিদকে সঠিক সাব্যস্ত করার মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, অথচ গ্রন্থকারের পছন্দনীয় মত এর বিপরীত। সুতরাং তার বক্তব্যকে এমন কিছুর ওপর প্রয়োগ করা যাবে না যা তার নিজের পছন্দনীয় মতের পরিপন্থী।

তদুপরি: প্রবল ধারণা বা 'যান্ন' উদ্দিষ্ট বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর বিধানের বিরোধিতা করার অবৈধতা নিশ্চিত জ্ঞান বা 'ইলম' এর সাথে সংশ্লিষ্ট; এর মাধ্যমেই বিধানসমূহ ধারণা-প্রসূত হওয়ার বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়, অন্যথায় ধারণা এবং নিশ্চিত জ্ঞান একই সাথে একত্র হয়ে যেত।

আরও কথা হলো: অন্যথায় এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, যে ব্যক্তি জানে যে বিধানের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণার দাবি অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব, সে একজন ফকিহ হিসেবে গণ্য হবে, যদিও সে এই একটি মাসআলা ছাড়া অন্য কিছু না জানে।

অধিকন্তু: কোনো বিষয়ে প্রবল ধারণা হওয়ার মাধ্যমে সেই প্রাবল্য সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান থাকা অনিবার্য নয়; কারণ কোনো বিষয় অর্জিত হলেই তা বুদ্ধিগতভাবে অনুধাবন করা আবশ্যক নয়, অন্যথায় বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধাবনের ক্ষেত্রে অসীম ধারাবাহিকতা বা 'তাসালসুল' তৈরি হবে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৫০)
وأجيب عن الثاني: بأن نختار القسم الثالث، وعدم العمل قد يكون لعدم الجزم بأحدهما، مع أن الواقع لا يخلو عن أحدهما، والمحال ارتفاعهما في الواقع.

سلمنا، ونختار الرابع.

قوله: (خلاف المعقول) إنما ذلك لو كان المرجوح عنده هو المرجوح في الواقع، وهو غير لازم، إذ قد يكون الظن غير مطابق، ثم لو صح ما ذكر يلزم انحصار الفقه في الوجوب، فإن قال: المراد وجوب اعتقاد الحكم على الوجه المظنون، قلنا: لا دلالة لقولنا العلم بالأحكام على قولنا: العلم بوجوب اعتقاد العمل بالأحكام، فيكون فاسدًا.

قوله: (بالأحكام) جمع حكم، والمراد به / هنا المتعلق بأفعال المكلفين بالاقتضاء أو التخيير أو الوضع تعلقًا تنجيزيًا، وهو الذي قال في النسخ: (ونعني بالحكم ما يحصل على المكلف بعد أن لم يكن) ، ونسبتها إلى الشرع من جهة أن استفادة العلم متعلق بأفعال المكلفين من الشرع، لا أن
দ্বিতীয়টির উত্তর হলো: আমরা তৃতীয় প্রকারটি গ্রহণ করছি; আর আমল না করা কোনো একটির ব্যাপারে দৃঢ় নিশ্চয়তা না থাকার কারণে হতে পারে, যদিও বাস্তবতা এই দুটির কোনো একটি থেকে মুক্ত নয়, এবং বাস্তবে উভয়টির অনুপস্থিতি অসম্ভব।

আমরা বিষয়টি মেনে নিলাম এবং চতুর্থ প্রকারটি গ্রহণ করলাম।

তার বক্তব্য: (বিবেচনাবোধের পরিপন্থী) এটি কেবল তখনই হতো যদি তার নিকট যা মারজুহ (অপ্রধান), তা বাস্তবেও মারজুহ হতো; অথচ এটি আবশ্যক নয়, কারণ ধারণা (জান্ন) বাস্তবতার সাথে অসংগতিপূর্ণ হতে পারে। অতঃপর যা উল্লেখ করা হয়েছে তা যদি সঠিক হয়, তবে ফিকহ কেবল ওয়াজিব বা আবশ্যকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। যদি তিনি বলেন: এর উদ্দেশ্য হলো ধারণাকৃত পন্থায় বিধানের প্রতি বিশ্বাসের আবশ্যকতা, তবে আমরা বলব: আমাদের কথা ‘বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান’ দ্বারা ‘বিধান অনুযায়ী আমল করার বিশ্বাসের আবশ্যকতা সম্পর্কে জ্ঞান’-এর ওপর কোনো প্রমাণ নেই; ফলে তা অসার বা বাতিল হবে।

তার বক্তব্য: (বিধানাবলি দ্বারা) এটি ‘হুকুম’-এর বহুবচন; আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা মুকাল্লাফ বা শরিয়তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কার্যাবলির সাথে দাবি, স্বাধীনতা প্রদান অথবা নির্ধারণের মাধ্যমে সুনিশ্চিতভাবে সংশ্লিষ্ট। এটিই সেই বিষয় যা তিনি ‘নসখ’ (রহিতকরণ) অধ্যায়ে বলেছেন: (আর হুকুম বলতে আমরা তা-ই বুঝি যা মুকাল্লাফের ওপর অর্পিত হয় আগে তা না থাকার পর)। আর শরিয়তের দিকে এর সম্বন্ধ করার কারণ হলো, মুকাল্লাফদের কার্যাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান শরিয়ত থেকেই অর্জিত হয়, এটি এমন নয় যে...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৫১)
ثبوتها من الشرع؛ لأنها قديمة قائمة بذاته تعالى، ونسبتها إلى الفرعية من جهة تعلقها بالعمل الذي هو فرع العلم، والأدلة التفصيلية هي الأدلة الجزئية. قال بعضهم: إن متعلق العلم إما أن يكون غير مفتقر إلى محل أو لا، والأول الذات الكريمة والجواهر، والثاني إما أن يكون تأثيرًا في الغير أو لا، والأول الفعل كالتسخين والتبريد، [وإنما] قلنا: تأثيرًا في الغير ولم نقل: مبدأ التأثير؛ لأن مبدأ التأثير في الغير هو الفاعل لا الفعل، والثاني إما أن يكون مقتضيًا لنسبة مفيدة أو لا، والأول الحكم، [قلت: وفيه نظر؛ لأن الحكم قسم من الكلام، والكلام نسبة على ما ذكر المصنف، لا أنه يقتضي النسبة] ، والثاني الصفة الحقيقية كالقدرة والإرادة.

فقوله: (الأحكام) خرج الذوات والأفعال والصفات الحقيقية.

[قلت: وهذا إنما يتمشى على رأي الحكماء والمعتزلة، وإلا فالكلام من الصفات الحقيقة عند الأشاعرة].
এগুলোর সাব্যস্তকরণ শরিয়ত থেকে; কারণ এগুলো অনাদি এবং মহান আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান। আর এগুলোকে শাখা হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কর্মের সাথে সংশ্লিষ্টতার দিক থেকে, যা জ্ঞানের একটি শাখা। এবং বিস্তারিত দলিলসমূহ হলো আংশিক দলিলসমূহ। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: জ্ঞানের সংশ্লিষ্ট বিষয় হয়তো কোনো আধারের মুখাপেক্ষী হবে না অথবা হবে। প্রথমটি হলো সম্মানিত সত্তা এবং মৌলিক উপাদানসমূহ। দ্বিতীয়টি হয়তো অন্যের ওপর কোনো প্রভাব হবে অথবা হবে না। প্রথমটি হলো কর্ম, যেমন উত্তপ্ত করা এবং শীতল করা। [মূলত] আমরা বলেছি: অন্যের ওপর প্রভাব, এবং আমরা প্রভাবের উৎস বলিনি; কারণ অন্যের ওপর প্রভাবের উৎস হলো কর্তা, কর্ম নয়। এবং দ্বিতীয়টি হয়তো কোনো অর্থবহ সম্পর্কের দাবিদার হবে অথবা হবে না। প্রথমটি হলো বিধান। [আমি বলছি: এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ বিধান হলো বাণীর একটি প্রকার, আর গ্রন্থকার যা উল্লেখ করেছেন সেই অনুযায়ী বাণী হলো স্বয়ং সম্পর্ক, এটি সম্পর্কের দাবিদার নয়]। এবং দ্বিতীয়টি হলো প্রকৃত গুণ, যেমন ক্ষমতা এবং ইচ্ছা।

সুতরাং তাঁর উক্তি: (বিধানসমূহ) দ্বারা সত্তা, কর্মসমূহ এবং প্রকৃত গুণসমূহ বহির্ভূত হয়েছে।

[আমি বলছি: এটি কেবল দার্শনিক এবং মুতাজিলাদের মত অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ; অন্যথায় আশআরিদের মতে বাণী হলো প্রকৃত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত]।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৫২)
وبالشرعية خرج العقلية، وبالفرعية خرج الأصولية.

قيل: إن أردتم بالفرعية ما تعلق بالعمل الذي هو ناشئ عن العلم، يلزم أن يكون قولنا: الكتاب حجة فرعًا، لتعلقه بالعمل؛ لأنه إذا كان حجة يجب العمل به، وإن أردتم ما تفرع عن الغير، لزم أن تكون الأصول فروعصا، لتفرعها عن الكلام، وإن أردتم ما لم يتفرع عنه غيره، لزم أن لا تكون الفروع التي يتفرع عنها غيرها فروعًا.

ورد: بأنا نختار الأول، والمراد تعلق العلم بكيفية العمل لا بواسطة، بخلاف هذا، أو نختار الثاني، والكلام دل على ثبوتها لا على حجيتها.

وقوله: (عن أدلتها التفصيلية) إن علق بالفرعية، فهو لبيان الواقع ولا يخرج به شيئًا، وبقيد الاستدلال يخرج علم الله تعالى، وعلم الملائكة، وعلم الرسول صلى الله عليه وسلم، وما علم من دين الأمة بالضرورة، وعلم المستفتي.

وإن علق بالعلم، خرج علم الله تعالى، وعلم الرسول صلى الله عليه وسلم، والملائكة، وما علم من دين الأمة بالضرورة بقوله: (عن أدلتها التفصيلية).

وبقيد الاستدلال يخرج المستفتي؛ لأن علم الله تبارك وتعالى لا عن دليل وعلم الرسول صلى الله عليه وسلم لا عن دليل، بل بإعلام الله تعالى بالوحي، أو بخلق ذلك في قلبه، وعلم الملك ضروري، وما علم من دين الأمة بالضرورة ليس عن دليل، والكل ليس بفقه.
'শরয়ী' শর্তের মাধ্যমে বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়গুলো সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে এবং 'শাখাভিত্তিক' শর্তের মাধ্যমে মূলনীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাদ পড়েছে।

বলা হয়েছে: যদি আপনারা 'শাখাভিত্তিক' বলতে এমন বিষয় উদ্দেশ্য করেন যা আমল বা কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যা ইলম (জ্ঞান) থেকে উদ্ভূত, তবে আমাদের এই কথাটি যে—'কিতাব (কুরআন) একটি দলিল'—এটিও একটি শাখা বা ফুরু হিসেবে গণ্য হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে, কারণ এটি কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট; কেননা এটি দলিল হলে সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব। আর যদি আপনারা এমন বিষয় উদ্দেশ্য করেন যা অন্য কোনো বিষয় থেকে উৎসারিত, তবে 'উসুল' বা মূলনীতিগুলোকেও 'ফুরু' বা শাখা হিসেবে গণ্য করা আবশ্যক হয়ে পড়বে, কারণ সেগুলো ইলমুল কালাম থেকে উৎসারিত। আর যদি আপনারা এমন বিষয় উদ্দেশ্য করেন যা থেকে অন্য কিছু উৎসারিত হয় না, তবে যে সকল শাখা থেকে অন্যান্য বিষয় উৎসারিত হয়, সেগুলোকে শাখা না বলা আবশ্যক হয়ে পড়বে।

উত্তর দেওয়া হয়েছে: আমরা প্রথমটিই গ্রহণ করছি, আর এখানে আমলের পদ্ধতির সাথে ইলমের সংশ্লিষ্টতা সরাসরি উদ্দেশ্য, কোনো মাধ্যম ছাড়াই—যা এর বিপরীত। অথবা আমরা দ্বিতীয়টি গ্রহণ করছি, আর ইলমুল কালাম তো সেগুলোর অস্তিত্ব প্রমাণ করে, তাদের দলিল হওয়ার বিষয়টি নয়।

এবং তাঁর বক্তব্য: '(সেগুলোর বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে)'—যদি এটি 'শাখাভিত্তিক' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তা বাস্তব অবস্থা বর্ণনার জন্য এবং এর দ্বারা কোনো কিছু সংজ্ঞার বাইরে যায় না। আর 'ইস্তিদলাল' (দলিল প্রয়োগ) এর শর্তের মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইলম, ফেরেশতাদের ইলম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইলম, উম্মতের দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞাত বিষয়সমূহ এবং ফতোয়া প্রার্থনাকারীর ইলম সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়।

আর যদি তা 'ইলম' বা জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে মহান আল্লাহর ইলম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইলম, ফেরেশতাদের ইলম এবং উম্মতের দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞাত বিষয়সমূহ—'সেগুলোর বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে' এই বক্তব্যের মাধ্যমে বাদ পড়ে যায়।

এবং 'ইস্তিদলাল' বা দলিল প্রয়োগের শর্তের মাধ্যমে ফতোয়া প্রার্থনাকারী বাদ পড়ে যায়; কারণ মহান বরকতময় আল্লাহর ইলম কোনো দলিলের মুখাপেক্ষী নয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইলমও দলিলের মুখাপেক্ষী নয়, বরং তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত অথবা তাঁর অন্তরে তা সৃষ্টি করার মাধ্যমে প্রাপ্ত। আর ফেরেশতার ইলম হলো অত্যাবশ্যকীয়, এবং উম্মতের দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞাত বিষয়সমূহ দলিলের মুখাপেক্ষী নয়। আর এর কোনোটিই ফিকহ নয়।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
لا يقال: علم الله سبحانه وتعالى عن الدليل، لأن العلم بالعلة يستلزم العلم بالمعلول، لأنا نقول: الأدلة معرفات لا علل.

وأيضًا: كل ما حصل عن الدليل فهو كسبي، وكل كسبي حادث. قيل: قيد الاستدلال مستغنى عنه، إذ علم المستفتي ليس عن دليل. وأجيب: لما كان علمه عن علم المفتي، وعلم المفتي عن الدليل، فعلمه عن الدليل لكن بواسطة، فقيد الاستدلال يخرجه، إذ لم يعلم بالاستدلال.

قلت: وفيه نظر؛ لأنه حينئذ لا يكون متعلقًا بالعمل بل بصفة، بمعنى المعلومة عن أدلة تفصيلية؛ لأنه علم ما علمه الغير عن دليل، لا أنه هو علم عن الدليل، وأيضًا: يرد مثل ذلك في قولنا بالاستدلال؛ لأن ما علم المستفتي صدق أنه علم عن الأدلة بالاستدلال بالنسبة إلى المفتي، معأن علم المستفتي فعن دليل كلي، وهو: هذا أفتاني به المفتي، وكل ما أفتاني به فهو حكم الله تعالى في حقي.

والفقه ما كان عن أدلة تفصيلية، لكن ثبت في بعض النسخ، ولأن قولنا: الاستدلال يخرجه فتغير على هذا، والحق أنه متعلق بالعلم؛ لأن الحكم قديم، فالعلم به عن الدليل، لا أن نفسه عن الدليل.
এ কথা বলা যাবে না যে: মহান আল্লাহ তাআলার জ্ঞান দলিলের মাধ্যমে প্রাপ্ত, কারণ কারণের জ্ঞান কার্যের জ্ঞানকে অপরিহার্য করে তোলে; এর কারণ হিসেবে আমরা বলি: দলিলসমূহ কেবল পরিচয় প্রদানকারী, কারণ নয়।

অধিকন্তু: দলিলের মাধ্যমে যা কিছু অর্জিত হয় তা উপার্জিত, আর প্রতিটি উপার্জিত বিষয়ই অভিনব। কেউ কেউ বলেন: 'ইস্তিদলাল' (দলিল প্রয়োগ)-এর শর্তটি নিষ্প্রয়োজন, কারণ ফতোয়া প্রত্যাশীর (মুস্তাফতি) জ্ঞান দলিলের মাধ্যমে নয়। এর জবাবে বলা হয়েছে: যেহেতু তার জ্ঞান মুফতির জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল, আর মুফতির জ্ঞান দলিলের ওপর নির্ভরশীল, সেহেতু তার জ্ঞান পরোক্ষভাবে দলিলের মাধ্যমেই অর্জিত। তবে 'ইস্তিদলাল'-এর শর্তটি তাকে সংজ্ঞার বাইরে রাখে, যেহেতু সে নিজে দলিল প্রয়োগের মাধ্যমে তা জানতে পারেনি।

আমি বলি: এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ তখন এটি কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়ে সিফাত বা গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, অর্থাৎ বিস্তারিত দলিল থেকে অবগত হওয়া তথ্যের অর্থে; কারণ সে এমন বিষয় জেনেছে যা অন্য কেউ দলিলের মাধ্যমে জেনেছে, এমন নয় যে সে নিজে দলিলের মাধ্যমে তা অবগত হয়েছে। তদুপরি: 'ইস্তিদলাল' বা দলিল প্রয়োগ বলার ক্ষেত্রেও অনুরূপ আপত্তির অবকাশ থাকে; কারণ মুস্তাফতি যা জেনেছে তা মুফতির নিরিখে দলিলের মাধ্যমে দলিল প্রয়োগ করে জানার সংজ্ঞায় পড়ে। অথচ মুস্তাফতির জ্ঞান মূলত একটি সামগ্রিক দলিলের ওপর নির্ভরশীল, আর তা হলো: মুফতি আমাকে এই ফতোয়া দিয়েছেন, আর মুফতি আমাকে যা ফতোয়া প্রদান করেছেন তা-ই আমার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বিধান।

আর ফিকহ হলো তা-ই যা বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে অর্জিত হয়, তবে কোনো কোনো অনুলিপিতে এটি ভিন্নভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এবং যেহেতু আমাদের বক্তব্য: 'ইস্তিদলাল' তাকে বহির্ভূত করে দেয়, তাই এর ওপর ভিত্তি করে বিষয়টিতে পরিবর্তন আসে। আর সত্য কথা হলো, এটি জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট; কারণ বিধানটি অনাদি (কাদিম), তাই সেই বিধান সম্পর্কে জ্ঞানটি দলিলের মাধ্যমে অর্জিত হয়, খোদ বিধানটি দলিলের মাধ্যমে সৃষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মাসউল ফি শারহি মুখতাসারি মুনতাহাস সূল (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
قال: (وأورد: إن كان المراد بالبعض، لم يطرد الدخول المقلد، وإن كان الجميع، لم ينعكس لثبوت لا أدري.

وأجيب: بالبعض ويطرد؛ لأن المراد بالأدلة الأمارات، وبالجميع وينعكس؛ لأن المراد تهيؤه للعلم بالجميع).

أقول: يجب أن يكون الحد مساويًا للمحدود في العموم والخصوص ولا يكون أعم، إذ لا دلالة للأعم على الأخص، ولا أخص لأن الأخص أخفى [ولا يعرف به] ، فحينئذ هذا التعريف فاسد؛ لأن الألف واللام إن كانت لا للاستغراق، يلزم أن يكون ما علمه المقلد فقهًا، وليس كذلك فقد وجد الحد ولا محدود، وهو عدم الاطراد، وإن كانت للاستغراق، يلزم تحقيق المحدود بدون الحد؛ لأن مالكًا سئل في أربعين مسألة، فقال في ست وثلاثين: لا أدري، وما علم مالك فقه، فقد ثبت المحدود ولا حد وهو عدم للانعكاس، وأنكره بعضهم بأن الحد للحقيقة من غير تعرض
তিনি বলেন: (একটি আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে যে: যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় অংশবিশেষ, তবে তা মুকাল্লিদকে অন্তর্ভুক্ত করার কারণে সামঞ্জস্যপূর্ণ (ইতরিদ) হবে না। আর যদি তা দ্বারা সমগ্র উদ্দেশ্য হয়, তবে 'আমি জানি না' কথাটি সাব্যস্ত হওয়ার কারণে তা ব্যাপ্তির ক্ষেত্রে সঠিক (ইন'ইকাস) হবে না।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: অংশবিশেষ উদ্দেশ্য হলে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; কারণ এখানে দলিল বলতে আলামত বা ইঙ্গিতমূলক প্রমাণসমূহ উদ্দেশ্য। আর সমগ্র উদ্দেশ্য হলেও এটি সঠিক হবে; কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সমগ্র বিষয়ে জ্ঞান লাভের সক্ষমতা বা যোগ্যতা)।

আমি বলছি: সংজ্ঞাকে সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সাথে সাধারণত্ব ও বিশেষত্বের দিক থেকে সমপর্যায়ের হতে হয়। এটি অধিক সাধারণ হবে না, কারণ সাধারণ কোনো কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বহন করে না। আবার এটি অধিক সুনির্দিষ্ট বা সংকীর্ণও হবে না, কারণ নির্দিষ্টতর বিষয়টি অধিকতর অস্পষ্ট [এবং এর মাধ্যমে পরিচয় লাভ করা যায় না]। এমতাবস্থায় এই সংজ্ঞাটি ত্রুটিপূর্ণ; কারণ আলিফ ও লাম যদি সামগ্রিকতা (ইসতিগরাক) বোঝানোর জন্য না হয়, তবে মুকাল্লিদ যা জানে তাকেও ফিকহ বলতে হয়, অথচ বিষয়টি সেরকম নয়। এখানে সংজ্ঞা পাওয়া গেলেও সংজ্ঞায়িত বিষয়টি অনুপস্থিত, যা হচ্ছে সামঞ্জস্যের অভাব (আদামুল ইতরিদ)। আর যদি তা সামগ্রিকতা বোঝানোর জন্য হয়, তবে সংজ্ঞা ছাড়াই সংজ্ঞায়িত বিষয়ের উপস্থিতি আবশ্যক হয়ে পড়ে; কারণ ইমাম মালেককে চল্লিশটি মাসয়ালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তার মধ্যে ছত্রিশটি সম্পর্কেই বলেছিলেন: 'আমি জানি না'। অথচ ইমাম মালেক যা জানতেন তা ফিকহ হিসেবে সাব্যস্ত। ফলে এখানে সংজ্ঞায়িত বিষয়টি সাব্যস্ত থাকলেও সংজ্ঞা অনুপস্থিত, যা হচ্ছে ব্যাপ্তির অভাব (আদামুল ইন'ইকাস)। আর কেউ কেউ একে অস্বীকার করেছেন এই বলে যে, সংজ্ঞা প্রদান করা হয় মূলত প্রকৃত স্বরূপ বা হাকিকাত বর্ণনার জন্য, অন্য কোনো বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই।