(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الطبقات السنية في تراجم الحنفية   (تقي الدين ابن عبد القادر التميمي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الطبقات السنية في تراجم الحنفية

المؤلف: المولى تقي الدين بن عبد القادر التميمي الداري الغزي المصري الحنفي (ت 1010 هـ)

المحقق: عبد الفتاح محمد الحلو [ت 1414 هـ]

الناشر: دار الرفاعي - الرياض، السعودية

الطبعة: الطبعة: الأولى، (1403 - 1410 هـ) = (1983 - 1989 م)

عدد الأجزاء: 4

تنبيه: هذه الطبعة تشتمل على نصف الكتاب فقط، وتوفي المحقق قبل طبع بقيته

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হানাফী মনীষীদের জীবনী বর্ণনায় আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়্যাহ   (তাকিউদ্দীন ইবনে আব্দুল কাদির আত-তামীমী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: হানাফী মনীষীদের জীবনী বর্ণনায় আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়্যাহ

লেখক: আল-মাওলা তাকিউদ্দীন ইবনে আব্দুল কাদির আত-তামীমী আদ-দারী আল-গাজ্জী আল-মিসরী আল-হানাফী (ওফাত ১০১০ হিজরি)

সম্পাদক: আবদুল ফাত্তাহ মুহাম্মদ আল-হুলু [ওফাত ১৪১৪ হিজরি]

প্রকাশক: দারুর রিফায়ী - রিয়াদ, সৌদি আরব

সংস্করণ: সংস্করণ: প্রথম, (১৪০৩ - ১৪১০ হিজরি) = (১৯৮৩ - ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ)

খণ্ড সংখ্যা: ৪

সতর্কবার্তা: এই সংস্করণটি গ্রন্থের কেবল অর্ধেক অংশ অন্তর্ভুক্ত করে, এবং বাকি অংশ মুদ্রণের পূর্বেই সম্পাদক ইন্তেকাল করেন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌كلمة الناشر

 

بسم الله العلي القدير وبحمده تبدأ (دار الرفاعي للنشر والطباعة والتوزيع) خطوة جريئة جديدة في سبيل سلاسلها المنتظمة في عالم النشر … حينما تقدم لقرائها فى العالم العربي بل والاسلامي كافة هذه السلسلة الجديدة وهى سلسلة كتب (الطبقات) حيث تعنى بنشر ما لم ينشر من هذه الكتب أو باعادة نشر ما أصبح نادراً منها .. ولا نبالغ حينما نقول أن هذه الخطوة كانت أجرأ خطوة اتخذتها هذه الدار الناشئة حتى الآن ذلك لأن عبء نشر الكتب الضخمة من التراث مما تنوء به كبريات المؤسسات والهيئات ولكن الدار تحملت هذه التبعة الكبيرة متسلحة بحسن ثقتها أولاً وقبل كل شيء بالله عز وجل، ثم، وهذا ثانياً وتالياً، بحسن تعضيد قرائها سواء كان هؤلاء القراء ممثلين فى شخصيات اعتبارية من مؤسسات علمية أو جهات رسمية أو من عامة القراء المهتمين بمثل هذه الكتب الدسمة التي حملت إلينا راوئع تراثنا في فن التراجم ذلك الفن العظيم الذى بلغت به الأمة العربية الاسلامية شأواً بعيداً نادر المثال.

(دار الرفاعي للنشر والطباعة والتوزيع) تبدأ اليوم خطوتها الواسعة هذه بكتاب عظيم هو موسوعة (الطبقات السنية فى تراجم الحنفية) لمؤلفه العلامة تقى الدين التميمى وهذه الموسوعة تعد أكبر كتاب في تراجم أتباع الإمام أبي حنيفة فقد وصل فيه صاحبه إلى مشارف القرن الحادي عشر الهجري وضم في استقصاء أعمال السابقين عليه وزاد عليهم ما هداه إليه البحث وما أفادته به المعاصرة.

ومؤلف هذا الكتاب يجمع إلى جانب اشتغاله بالفقه والقضاء عناية بالأدب والبحث التاريخي، بل لقد كان أديباً شاعراً فلا غرو أن حفل كتابه العظيم هذا بالمختارات الأدبية والفوائد التاريخية. فهذا الكتاب لا يعد مرجعاً فى التراجم الحنفية فحسب بل هو تصوير دقيق للمجتمعات العربية والإسلامية عبر القرون بكل ما فى هذه المجتمعات من جوانب فكرية وأدبية واجتماعية.

ولقد تولى تحقيق هذا الكتاب وتمحيصه وفهرسته عالم من علماء التحقيق وفارس من فرسانه هو الدكتور/ عبد الفتاح الحلو الذى نذر نفسه لهذا العمل العلمي الضخم.

وان دار الرفاعي إذ تقدم اليوم هذه الباكورة لتأمل أن تقدم بعدها حصاداً من كتب الطبقات خدمة للتراث العربي الاسلامى إسهاماً منها فى النهضة الفكرية الشاملة التى تشهدها المملكة العربية السعودية في هذا العصر الزاهر من عصورها وستوالى الدار إن شاء الله تعالى تقديم أجزاء الكتاب متتالية كما ستقدم في نهايته فهرساً علمياً شاملاً دقيقاً لإفادة الباحثين.

 

ومن الله نستمد العون ومنه نسأل التوفيق والسداد فهو الهادى الى سواء السبيل ونصلي ونسلم على أشرف أنبيائه سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

دار الرفاعي

للنشر والطباعة والتوزيع
প্রকাশকের কথা

 

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁর প্রশংসার সাথে (দার আল-রিফায়ি প্রকাশনা, মুদ্রণ ও বিতরণ) প্রকাশনা জগতে তার নিয়মিত ধারাবাহিকের পথে একটি নতুন সাহসী পদক্ষেপ শুরু করছে … যখন তারা আরব বিশ্ব তথা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের পাঠকদের সামনে এই নতুন সিরিজটি উপস্থাপন করছে, আর তা হলো ‘তাবাকাত’ (জীবনীগ্রন্থ) বিষয়ক গ্রন্থমালা; যেখানে এই বইগুলোর মধ্যে যা প্রকাশিত হয়নি তা প্রকাশ করা অথবা যা বিরল হয়ে পড়েছে তা পুনপ্রকাশের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা যখন বলি যে, এই উদীয়মান প্রকাশনা সংস্থার নেওয়া এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ, তখন আমরা মোটেও অতিরঞ্জিত করছি না। কারণ ঐতিহ্যবাহী সুবিশাল গ্রন্থসমূহ প্রকাশের ভার বহন করা বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর জন্যও দুঃসাধ্য, কিন্তু এই প্রকাশনী এই বিশাল দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে প্রথমত এবং সর্বাগ্রে আল্লাহর প্রতি—যিনি পরাক্রমশালী ও মহান—পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে পাথেয় করে। এরপর দ্বিতীয়ত, তার পাঠকদের অকৃত্রিম সহযোগিতার ওপর ভরসা করে, চাই সেই পাঠকরা বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থার মতো কোনো আইনি সত্তা হোক, কিংবা এই ধরনের সমৃদ্ধ বইয়ের প্রতি আগ্রহী সাধারণ পাঠক হোক; যা আমাদের কাছে আমাদের জীবনী অভিধান শিল্পের গৌরবময় ঐতিহ্য বয়ে এনেছে—এটি এমন এক মহান শিল্প যার মাধ্যমে আরব-ইসলামি উম্মাহ এক অনন্য ও সুদূরপ্রসারী উচ্চতায় পৌঁছেছে যা উদাহরণ হিসেবে বিরল।

(দার আল-রিফায়ি প্রকাশনা, মুদ্রণ ও বিতরণ) আজ তাদের এই সুদীর্ঘ যাত্রার সূচনা করছে এক মহান গ্রন্থের মাধ্যমে, যা হলো আল্লামা তাকিউদ্দীন আত-তামিমি রচিত ‘আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফি তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ’ নামক বিশ্বকোষ। এই বিশ্বকোষটি ইমাম আবু হানিফার অনুসারীদের জীবনীর ওপর সর্ববৃহৎ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। এতে লেখক হিজরি একাদশ শতাব্দীর দোরগোড়ায় উপনীত হয়েছেন এবং তার পূর্বসূরিদের কাজগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংগ্রহের পাশাপাশি নিজস্ব গবেষণা ও সমসাময়িক অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত তথ্য এতে যুক্ত করেছেন।

এই গ্রন্থের লেখক ফিকহ ও বিচারকার্যে নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি সাহিত্য ও ঐতিহাসিক গবেষণায় বিশেষ মনোযোগী ছিলেন। বস্তুত তিনি একজন সাহিত্যিক ও কবি ছিলেন, তাই তাঁর এই মহান গ্রন্থটি যে সাহিত্যিক চয়ন ও ঐতিহাসিক তথ্যে ভরপুর থাকবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। ফলে এই গ্রন্থটি কেবল হানাফি জীবনীগ্রন্থের একটি রেফারেন্সই নয়, বরং এটি শতাব্দীকাল ধরে আরব ও ইসলামি সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক, সাহিত্যিক ও সামাজিক সকল দিকের এক নিখুঁত চিত্রায়ন।

এই গ্রন্থের সম্পাদনা, যাচাই-বাছাই ও নির্ঘণ্ট তৈরির দায়িত্ব পালন করেছেন সম্পাদনা শিল্পের অন্যতম বিশেষজ্ঞ ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ আল-হিলু, যিনি এই বিশাল বৈজ্ঞানিক কর্মের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

দার আল-রিফায়ি আজ এই প্রথম ফলটি পেশ করার মাধ্যমে আশা পোষণ করে যে, এরপর তারা ‘তাবাকাত’ গ্রন্থসমূহের একটি সফল ফসল উপহার দেবে, যা আরব-ইসলামি ঐতিহ্যের সেবায় এবং সৌদি আরব এই গৌরবোজ্জ্বল যুগে যে ব্যাপক বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের সাক্ষী হচ্ছে, তাতে অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে। ইনশাআল্লাহ, প্রকাশনীটি ধারাবাহিকভাবে বইটির খণ্ডগুলো প্রকাশ করবে এবং গবেষকদের সুবিধার্থে এর শেষে একটি ব্যাপক ও নিখুঁত বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্ট যুক্ত করবে।

 

আমরা আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করি, কারণ তিনিই সঠিক পথপ্রদর্শক। আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করছি তাঁর শ্রেষ্ঠ নবী আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর।

 

দার আল-রিফায়ি

প্রকাশনা, মুদ্রণ ও বিতরণ
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤)
- أ -

 

‌‌مقدمة التحقيق

1

 

‌‌لقى مذهب الإمام الأعظم أبى حنيفة النعمان بن ثابت التّيمىّ الكوفىّ ما هو قمين به من الإجلال والإكبار لدى الفقهاء والدارسين لأصول التشريع الإسلامىّ، فى القديم والحديث، وحظى حظوة هائلة فى ظل الخلافة العباسية ببغداد والخلافة العثمانية بالقسطنطينية، فتصدر رجاله حلقات العلم، وتسلموا منصب الفتوى، وشغلوا كراسىّ القضاء.

ولعل هذا هو الذى صرفهم عن تدوين تراجم رجال المذهب ردحا طويلا من الزمان، فقد سبقهم إلى هذا الشافعية، فبدءوا مبكرين، فى النصف الأول من القرن الخامس للهجرة، وكان أول من صنف منهم فى ذلك الإمام أبو حفص عمر بن على المطوّعىّ، المتوفى نحو سنة 440 هـ، صنّف للإمام أبى الطيب سهل الصّعلوكىّ كتابا، سماه «المذهب فى ذكر شيوخ المذهب»، ثم تبعه الناس، حتى جاء تاج الدين أبو نصر عبد الوهّاب بن على بن عبد الكافى السّبكىّ المتوفى سنة 771 هـ، فخرج على الناس بموسوعته الكبرى فى تراجم علماء مذهب الشافعىّ «طبقات الشافعية الكبرى(1)».

أما علماء الحنفية، فقد تأخر بهم القصد إلى القرن الثامن للهجرة، وظلت تراجمهم مضمّنة فى كتب التاريخ العامة، وتواريخ البلدان، وطبقات الأدباء واللغويين والفقهاء، ثم نشطوا لهذا الأمر، فحفلت القرون: الثامن، والتاسع، والعاشر، والحادى عشر، والثالث عشر، بمؤلفات كثيرة، ترجمت لعلماء المذهب، وتضمنت أخبارهم، واشتملت على مسائلهم.

ففى القرن الثامن ألّف نجم الدين إبراهيم بن على بن أحمد الطّرسوسىّ المتوفى سنة

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة التحقيق لطبقات الشافعية الكبرى 1/ 20، وما بعدها.
- আ -

 

‌‌সম্পাদনার ভূমিকা

১

 

‌‌ইমাম আজম আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত আত-তাইমি আল-কুফি (রহ.)-এর মাজহাব প্রাচীন ও আধুনিককালের ফকিহ এবং ইসলামি বিধিব্যবস্থার মূলনীতি গবেষকদের নিকট যথাযোগ্য শ্রদ্ধা ও মহানুভবতা লাভ করেছে। বাগদাদের আব্বাসীয় খিলাফত এবং কনস্টান্টিনোপলের উসমানীয় খিলাফতের ছায়াতলে এটি ব্যাপক প্রভাব ও প্রতিপত্তি অর্জন করে। এর ফলে এই মাজহাবের আলেমগণ ইলমি মজলিসসমূহের শীর্ষস্থান অলঙ্কৃত করেন, ফতোয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বিচারিক পদগুলোতে আসীন হন।

সম্ভবত এই ব্যাপক কর্মব্যস্ততাই দীর্ঘকাল ধরে তাঁদেরকে নিজ মাজহাবের মনীষীদের জীবনী সংকলনের কাজ থেকে বিরত রেখেছিল। এ কাজে শাফেয়ীগণ তাঁদের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন; তাঁরা হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর প্রথমার্ধেই এই ধারার সূচনা করেন। তাঁদের মধ্যে এ বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেন ইমাম আবু হাফস উমর ইবনে আলী আল-মুতাওয়িঈ (মৃত্যু আনুমানিক ৪৪০ হিজরি)। তিনি ইমাম আবু তৈয়ব সাহল আস-সা'লুকির জন্য একটি কিতাব রচনা করেন, যার নাম দেন ‘আল-মাজহাব ফি জিকরি শুয়ুখিল মাজহাব’। এরপর অন্যরাও তাঁর অনুসরণ করেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত তাজউদ্দীন আবু নাসর আব্দুল ওয়াহাব ইবনে আলী ইবনে আব্দুল কাফি আস-সুবকি (মৃত্যু ৭৭১ হিজরি)-এর আগমন ঘটে এবং তিনি শাফেয়ী মাজহাবের আলেমদের জীবনী সংবলিত তাঁর বিশাল বিশ্বকোষ ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা(১)’ সুধীমহলে উপস্থাপন করেন।

পক্ষান্তরে হানাফি আলেমদের ক্ষেত্রে এই সংকলনের লক্ষ্যটি হিজরি অষ্টম শতাব্দী পর্যন্ত বিলম্বিত হয়। তাঁদের জীবনীগুলো মূলত সাধারণ ইতিহাসের কিতাবসমূহ, বিভিন্ন নগরের ইতিহাসগ্রন্থ, এবং সাহিত্যিক, ভাষাবিদ ও ফকিহদের জীবনচরিত সংক্রান্ত সাধারণ গ্রন্থসমূহে অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে তাঁরা এ কাজে উদ্যমী হন, ফলে অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দী এই মাজহাবের আলেমদের জীবনী, তাঁদের জীবনের ঘটনাবলি এবং তাঁদের উদ্ভাবিত মাসায়েল সংবলিত বহু রচনায় সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

অষ্টম শতাব্দীতে নাজমুদ্দীন ইব্রাহিম ইবনে আলী ইবনে আহমদ আত-তারসুসি (মৃত্যু...) একটি গ্রন্থ রচনা করেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা-এর সম্পাদনার ভূমিকা ১/২০ এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
- ب -

 

758 هـ. كتاب «وفيات الأعيان من مذهب النعمان(1)»

وجمع صلاح الدين عبد الله بن محمد بن إبراهيم بن المهندس المتوفى سنة 769 هـ تاريخا كبيرا لفقهاء الحنفية، يذكر ابن حجر أنه تعب عليه؛ فإنه طالع كتبا كثيرة ببلاد متفرقة(2).

ثم جاء أبو محمد محيى الدين عبد القادر بن محمد بن نصر الله القرشىّ المتوفى سنة 775 هـ.

فأخرج كتابه «الجواهر المضية فى طبقات الحنفية(3)»

ويذكر حاجى خليفة أن القرشىّ أول من صنف فى طبقات الحنفية، يذكر هذا مرتين، مرة عند التعريف بطبقات الحنفية، وأخرى عند ذكر الجواهر المضية، حيث يقول: «وفيه لحن كثير وتصحيف؛ لأنه أول تأليف، والرجل معذور».

وكتاب الجواهر المضية أكبر ما وصل إلينا من كتب طبقات الحنفية، ولكنه صغير كما يقول التقىّ التّميمىّ بالنسبة إلى كثرة رجال المذهب، وسعة القول فيهم(4).

وقد طبع الكتاب بحيدرآباد الدكن بالهند، سنة 1332 هـ، فى جزءين(5).

وفى القرن التاسع ألّف صارم الدين إبراهيم بن محمد بن أيدمر ابن دقماق القاهرىّ المتوفى سنة 809 هـ، كتاب «نظم الجمان فى طبقات أصحاب إمامنا النعمان(6)».

ويذكر التقىّ التّميمىّ أنه لم يقف على هذا الكتاب(7).

ويقول حاجى خليفة: وقفت على المجلد الأول والثانى منه بخطه، ويذكر أن فى هامشه بخط بعض العلماء أن الشيخ مجد الدين(8) اختصر طبقات الحافظ عبد القادر، فهو مختصر لا مبتكر، لكنه زاد عليه قليلا، وهذا الرجل، يعنى ابن دقماق، لم يزد على ذلك إلا قليلا جدا.

--------------------------------------------

(1) كشف الظنون 2019،2/ 1098، وانظر: الجواهر المضية، ترجمة رقم 148، وهو فيه: «أحمد بن على»، وانظر حاشيته، الدرر الكامنة 45،1/ 44، الفوائد البهية 10.

(2) الدرر الكامنة 2/ 387، كشف الظنون 2/ 1099.

(3) الدرر الكامنة 3/ 6، الفوائد البهية 99، كشف الظنون 1097،617،1/ 616، معجم المطبوعات 33.

(4) انظر الطبقات السنية، صفحة 5.

(5) كما قمت بتحقيقه، وابتدأ نشره سنة 1398 هـ /1978 م.

(6) الضوء اللامع 1/ 145، الطبقات السنية ترجمة رقم 73، كشف الظنون 1961،2/ 1098.

(7) انظر ترجمة رقم 73، من هذا الجزء.

(8) يعنى محمد بن يعقوب الفيروزآبادي، الآتى ذكره.
- খ -

 

৭৫৮ হিজরি। 'ওফায়াতুল আইয়ান মিন মাজহাবিন নুমান(১)' গ্রন্থ।

এবং সালাহুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুহান্দিস (মৃত্যু ৭৬৯ হিজরি) হানাফী ফকীহদের একটি বৃহৎ ইতিহাস সংকলন করেছেন। ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এর পেছনে অনেক পরিশ্রম করেছেন; কেননা তিনি বিভিন্ন দেশের অসংখ্য গ্রন্থ অধ্যয়ন করেছিলেন(২)।

অতঃপর আসলেন আবু মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন নাসরুল্লাহ আল-কুরাশি (মৃত্যু ৭৭৫ হিজরি)।

তিনি তার গ্রন্থ 'আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়া ফি তাবাকাতিল হানাফিয়াহ(৩)' প্রকাশ করেন।

হাজি খলিফা উল্লেখ করেছেন যে, আল-কুরাশিই প্রথম ব্যক্তি যিনি হানাফী তবাকাত (জীবনী অভিধান) সংকলন করেছেন। তিনি এটি দুইবার উল্লেখ করেছেন; একবার হানাফী তবাকাত পরিচিতি প্রদানের সময় এবং অন্যবার 'আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়া' আলোচনার সময়। সেখানে তিনি বলেন: "এতে প্রচুর ভাষাগত ভুল ও লিপি-বিভ্রান্তি রয়েছে; কারণ এটি ছিল প্রথম সংকলন, আর লোকটির ওজর গ্রহণযোগ্য।"

'আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়া' গ্রন্থটি হানাফী তবাকাত বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে আমাদের কাছে পৌঁছানো সর্ববৃহৎ কাজ। তবে তাকিউদ্দীন আত-তামিমির মতে, এই মাযহাবের ইমামদের আধিক্য এবং তাদের সম্পর্কে আলোচনার ব্যাপ্তির তুলনায় এটি সংক্ষিপ্ত(৪)।

গ্রন্থটি ১৩৩২ হিজরিতে ভারতের হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে(৫)।

এবং নবম শতাব্দীতে সারিমুদ্দীন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আইদামুর ইবনে দুকমাক আল-কাহিরি (মৃত্যু ৮০৯ হিজরি) 'নাযমুল জুমান ফি তাবাকাতি আসহাবি ইমামিনান নুমান(৬)' গ্রন্থটি রচনা করেন।

তাকিউদ্দীন আত-তামিমি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই গ্রন্থটি পাননি(৭)।

হাজি খলিফা বলেন: আমি তার স্বহস্তে লিখিত এর প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড দেখেছি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর টীকায় কোনো কোনো আলিমের হস্তাক্ষরে লেখা রয়েছে যে, শায়খ মাজদুদ্দীন(৮) হাফেজ আব্দুল কাদিরের 'তাবাকাত' সংক্ষেপ করেছেন। সুতরাং এটি একটি সংক্ষিপ্তসার, মৌলিক কোনো কাজ নয়; তবে তিনি এতে সামান্য সংযোজন করেছেন। আর এই ব্যক্তি, অর্থাৎ ইবনে দুকমাক, এর ওপর খুব সামান্যই বৃদ্ধি করেছেন।

--------------------------------------------

(১) কাশফুয যুনুন ২০১৯, ২/ ১০৯৮; এবং দেখুন: আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়া, জীবনী নং ১৪৮, সেখানে রয়েছে: "আহমদ বিন আলী"; আরও দেখুন এর টীকা, আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪৫, ১/ ৪৪, আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ ১০।

(২) আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/ ৩৮৭, কাশফুয যুনুন ২/ ১০৯৯।

(৩) আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/ ৬, আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ ৯৯, কাশফুয যুনুন ১০৯৭, ৬১৭, ১/ ৬১৬, মুজামুল মাতবুয়াত ৩৩।

(৪) দেখুন: আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৫।

(৫) যেমনটি আমি এটি সম্পাদনা করেছি এবং এর প্রকাশনা ১৩৯৮ হিজরি / ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয়েছে।

(৬) আদ-দাওউল লামি ১/ ১৪৫, আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ জীবনী নং ৭৩, কাশফুয যুনুন ১৯৬১, ২/ ১০৯৮।

(৭) এই খণ্ডের ৭৩ নং জীবনীটি দেখুন।

(৮) অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি, যার আলোচনা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
- ج -

 

وكتاب ابن دقماق، كما يذكر حاجى خليفة، فى ثلاث مجلدات؛ الأول: فى مناقب أبى حنيفة، والثانى والثالث: فى أصحابه.

وقد امتحن ابن دقماق بسبب هذا الكتاب؛ لأنه وجد فيه حطّ على الإمام الشافعىّ، حكم على ابن دقماق بسببه بالتّعزير والحبس(1).

وجاء بعده مجد الدين أبو طاهر محمد بن يعقوب الفيروزآباديّ الشّيرازىّ الشافعىّ، المتوفى سنة 817 هـ، فألف كتاب: «المرقاة الوفيّة فى طبقات الحنفية(2)»، وقد سبق ذكر ما وجد بهامش «نظم الجمان» من أنه مختصر من طبقات الحافظ عبد القادر القرشىّ.

ولتقىّ الدين أحمد بن على بن عبد القادر المقريزىّ، المتوفى سنة 845 هـ «تذكرة»، جمع منها قاسم بن قطلو بغا مادّة كتابه «تاج التراجم(3)».

وصنف القاضى بدر الدين أبو محمد محمود بن أحمد بن موسى العينىّ، المتوفى سنة 855 هـ، «كتابا» فى طبقات الحنفية(4).

كما صنف زين الدين أبو العدل قاسم بن قطلو بغا السودونىّ الجمالىّ، المتوفى سنة 879 هـ كتابا مختصرا، سماه «تاج التراجم» استفاد فيه من «تذكرة» أستاذه المقريزىّ، ومن الجواهر المضيّة، واقتصر فيه على ذكر من له تصنيف منهم، وعدد تراجمه 330 ترجمة(5).

طبع هذا الكتاب أول مرة فى ليبسيك، سنة 1862 م، وطبع معه فهرست بأسماء الرجال، وملحوظات باللغة الألمانية لغوستاف فلوجل.

وأعادت طبعه مكتبة المثنى ببغداد، سنة 1962 م.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمة رقم 73، من هذا الجزء، وكشف الظنون 2/ 1098.

(2) تاج العروس (الكويت) 1/ 43، البدر الطالع 2/ 280، الضوء اللامع 10/ 79، كشف الظنون 2/ 1098، 1657.

(3) تاج التراجم 3، كشف الظنون 1/ 269.

(4) حاشية الجواهر المضية (طبع الهند) 2/ 165، الضوء اللامع 10/ 131 - 135، كشف الظنون 2/ 1098.

(5) البدر الطالع 2/ 45، شذرات الذهب 7/ 326، الضوء اللامع 6/ 184 - 190، الفوائد البهية 99، كشف الظنون 2/ 1097،1/ 269، معجم المطبوعات 216.
- জ -

 

এবং হাজি খলিফা যেমন উল্লেখ করেছেন, ইবনে দুকমাকের বইটি তিন খণ্ডে; প্রথম খণ্ড: আবু হানিফার গুণাবলি সম্পর্কে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড: তাঁর অনুসারীদের সম্পর্কে।

এই বইটির কারণে ইবনে দুকমাক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন; কারণ এতে ইমাম শাফিয়ীর অবমাননা পাওয়া গিয়েছিল, যার ফলে ইবনে দুকমাককে এই কারণে তা’যীর (শাসনমূলক শাস্তি) এবং কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল(১)।

তাঁর পরে এসেছিলেন মাজদুদ্দিন আবু তাহের মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি আশ-শিরাজি আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু ৮১৭ হি.), তিনি 'আল-মিরকাতুল ওয়াফিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ(২)' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। 'নাজমুল জুমান'-এর টীকায় যা পাওয়া গেছে তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি হাফেজ আব্দুল কাদির আল-কুরাশির 'তাবাকাত' গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার।

তাকিউদ্দিন আহমদ বিন আলি বিন আব্দুল কাদির আল-মাকরিজি (মৃত্যু ৮৪৫ হি.)-এর একটি 'তাযকিরা' (স্মারক) রয়েছে, যেখান থেকে কাসিম বিন কুতলুবুগা তাঁর 'তাজুত তারাজিম(৩)' গ্রন্থের উপকরণ সংগ্রহ করেছেন।

এবং কাজি বদরুদ্দিন আবু মুহাম্মদ মাহমুদ বিন আহমদ বিন মুসা আল-আইনি (মৃত্যু ৮৫৫ হি.) হানাফিদের জীবনী (তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ) বিষয়ে একটি 'কিতাব'(৪) রচনা করেন।

একইভাবে যাইনুদ্দিন আবুল আদল কাসিম বিন কুতলুবুগা আস-সুদুনি আল-জামালি (মৃত্যু ৮৭৯ হি.) একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেন, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন 'তাজুত তারাজিম'। এতে তিনি তাঁর উস্তাদ আল-মাকরিজির 'তাযকিরা' এবং 'আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ' থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং এতে তিনি কেবল তাঁদের জীবনী উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন যাঁদের কোনো রচনা রয়েছে। এর জীবনীর সংখ্যা হলো ৩৩০টি(৫)।

এই বইটি ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে লিপজিগে প্রথমবার মুদ্রিত হয় এবং এর সাথে ব্যক্তিদের নামের একটি তালিকা এবং গুস্তাভ ফুগেলের জার্মান ভাষার কিছু নোটও মুদ্রিত হয়।

১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদের মাকতাবাতুল মুসান্না এটি পুনরায় মুদ্রণ করে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন এই খণ্ডের জীবনী নং ৭৩, এবং কাশফুয যুনুন ২/ ১০৯৮।

(২) তাজুল আরুস (কুয়েত) ১/ ৪৩, আল-বাদরুত তালি' ২/ ২৮০, আদ-দাউউল লামি' ১০/ ৭৯, কাশফুয যুনুন ২/ ১০৯৮, ১৬৫৭।

(৩) তাজুত তারাজিম ৩, কাশফুয যুনুন ১/ ২৬৯।

(৪) জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ-এর টীকা (ভারত সংস্করণ) ২/ ১৬৫, আদ-দাউউল লামি' ১০/ ১৩১ - ১৩৫, কাশফুয যুনুন ২/ ১০৯৮।

(৫) আল-বাদরুত তালি' ২/ ৪৫, শাযারাতুয যাহাব ৭/ ৩২৬, আদ-দাউউল লামি' ৬/ ১৮৪ - ১৯০, আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ ৯৯, কাশফুয যুনুন ২/ ১০৯৭, ১/ ২৬৯, মু'জামুল মাতবু'আত ২১৬।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
- د -

 

ويذكر ابن الشّحنة فى هوامشه على الجواهر المضية أن الإمام مسعود بن شيبة عماد الدين السّندىّ، وابن سابق، جمعا طبقات أصحاب أبى حنيفة(1).

ولابن الشّحنة هذا، وهو أبو الفضل محمد بن محمد الثّقفىّ الحلبىّ، المعروف بابن الشّحنة الصغير، المتوفى، سنة 890 هـ كتاب «طبقات الحنفية» فى عدة مجلدات(2).

أما القرن العاشر، فقد زخر بعدد كبير من كتب تراجم الحنفية.

فقد ألّف شمس الدين محمد بن على بن أحمد بن طولون الصّالحىّ الدمشقىّ، المتوفى سنة 953 هـ، كتاب «الغرف العليّة فى تراجم متأخّرى الحنفية(3)».

وألّف شمس الدين بن آجا محمد بن محمد «كتابا» فى طبقات الحنفية، فى ثلاث مجلدات(4).

واختصر إبراهيم بن محمد إبراهيم الحلبىّ، المتوفى سنة 956 هـ، كتاب صلاح الدين عبد الله بن محمد المهندس، الذى سبقت الإشارة إليه(5)، كما اختصر «الجواهر المضية(6)».

وألّف محمد بن عمر، حفيد آق شمس الدين، المتوفى سنة 959 هـ كتابا فى طبقات الحنفية(7).

وجمع المولى على بن أمر الله الحنّائىّ، المتفى سنة 979 هـ، «مختصرا» على إحدى وعشرين طبقة، كتب فيه المشاهير، بدأ بالإمام الأعظم، وختم بابن كمال باشا(8).

--------------------------------------------

(1) كشف الظنون 2/ 1099. وإحدى نسخ الجواهر المضية المخطوطة تملكها ابن السابق، وله تقييدات عليها. انظر مقدمة التحقيق للجواهر المضية صفحة 88.

(2) البدر الطالع 2/ 263، الضوء اللامع 9/ 295، كشف الظنون 1099،2/ 1098.

(3) شذرات الذهب 8/ 298، كشف الظنون 1202،2/ 1098، وسماه «إسحاق بن حسن الحارثى الصالحى، ابن طولون»، الكواكب السائرة 2/ 52.

(4) كشف الظنون 2/ 1098.

(5) انظر صفحة ب السابقة.

(6) كشف الظنون 2/ 1099،1/ 617.

(7) كشف الظنون 2/ 1098.

(8) ريحانة الألباء 2/ 249 - 269، العقد المنظوم 2/ 375 - 388، كشف الظنون 2/ 1099.
- দ -

 

ইবনে আশ-শিহনা আল-জাওয়াহির আল-মুদিয়্যাহ-এর ওপর তার পাদটীকায় উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মাসউদ বিন শায়বাহ ইমাদ উদ্দীন আস-সিন্ধি এবং ইবনে সাবিক ইমাম আবু হানিফার অনুসারীদের জীবনী গ্রন্থ (তাবাকাত) সংকলন করেছেন(১)।

এই ইবনে আশ-শিহনা—যিনি হলেন আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আস-সাকাফি আল-হালাবি, ইবনে আশ-শিহনা আস-সাগীর নামে পরিচিত, মৃত্যু ৮৯০ হিজরি—তার কয়েক খণ্ডে 'তাবাকাত আল-হানাফিয়্যাহ' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে(২)।

দশম শতাব্দী হানাফি আলেমদের জীবনী বিষয়ক প্রচুর গ্রন্থে সমৃদ্ধ ছিল।

শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ বিন তুলুন আস-সালিহি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৯৫৩ হিজরি) 'আল-গুরাফ আল-আলিয়্যাহ ফি তারাজিমিল মুতাআখখিরিনাল হানাফিয়্যাহ'(৩) গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

এবং শামসুদ্দিন বিন আজা মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ তিন খণ্ডে হানাফিদের জীবনীর ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন(৪)।

ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ ইবরাহিম আল-হালাবি (মৃত্যু ৯৫৬ হিজরি) সালাহ উদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মুহান্দিসের গ্রন্থটি সংক্ষিপ্ত করেছেন, যার উল্লেখ ইতিপূর্বে করা হয়েছে(৫); তিনি 'আল-জাওয়াহির আল-মুদিয়্যাহ' গ্রন্থটিও সংক্ষিপ্ত করেছেন(৬)।

আক শামসুদ্দিনের পৌত্র মুহাম্মদ বিন উমর (মৃত্যু ৯৫৯ হিজরি) হানাফিদের জীবনীর ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন(৭)।

মাওলা আলী বিন আমরুল্লাহ আল-হান্নাই (মৃত্যু ৯৭৯ হিজরি) একুশটি স্তরে (তাবাকাত) বিন্যস্ত একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ সংকলন করেছেন, যেখানে তিনি প্রখ্যাত আলেমদের কথা লিখেছেন। তিনি ইমাম আজম (আবু হানিফা) থেকে শুরু করেছেন এবং ইবনে কামাল পাশার মাধ্যমে শেষ করেছেন(৮)।

--------------------------------------------

(১) কশফ উজ-জুনুন ২/ ১০৯৯। আল-জাওয়াহির আল-মুদিয়্যাহ-এর একটি পাণ্ডুলিপির মালিক ছিলেন ইবনে আস-সাবিক এবং তাতে তার কিছু টীকা রয়েছে। দেখুন আল-জাওয়াহির আল-মুদিয়্যাহ-এর সম্পাদনার ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৮৮।

(২) আল-বদর আত-তালি ২/ ২৬৩, আদ-দাও আল-লামি ৯/ ২৯৫, কশফ উজ-জুনুন ১০৯৯, ২/ ১০৯৮।

(৩) শাজারাতুজ জাহাব ৮/ ২৯৮, কশফ উজ-জুনুন ১২০২, ২/ ১০৯৮, এবং তিনি তাকে "ইসহাক বিন হাসান আল-হারিসি আস-সালিহি, ইবনে তুলুন" নামে অভিহিত করেছেন, আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়ারাহ ২/ ৫২।

(৪) কশফ উজ-জুনুন ২/ ১০৯৮।

(৫) পূর্ববর্তী 'বা' পৃষ্ঠাটি দেখুন।

(৬) কশফ উজ-জুনুন ২/ ১০৯৯, ১/ ৬১৭।

(৭) কশফ উজ-জুনুন ২/ ১০৯৮।

(৮) রায়হানাতুল আলিব্বা ২/ ২৪৯-২৬৯, আল-আকদ আল-মানজুম ২/ ৩৭৫-৩৮৮, কশফ উজ-জুনুন ২/ ১০৯৯।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
- هـ -

 

وألّف محمود بن سليمان الرومىّ الكفوىّ، المتوفى سنة 990 هـ، كتاب «كتائب أعلام الأخيار من فقهاء مذهب النعمان المختار».

وهو كتاب كبير يقع فى 573 هـ ورقة(1).

كما صنّف قطب الدين محمد بن علاء الدين أحمد بن محمد النّهروانىّ (النهروالى) الهندىّ الحنفىّ، المتوفى سنة 990 هـ، «كتابا» فى طبقات الحنفية، فى أربع مجلدات، ثم احترق مع كتبه، ثم كان فى صدد تجديدها، ولم يمهل(2).

وجاء القرن الحادى عشر، فألّف تقىّ الدين التميمىّ كتاب «الطبقات السنية فى تراجم الحنفية»، وهو هذا الذى نقدّم له.

ثم ألّف نور الدين على بن سلطان (محمد سلطان) الهروىّ القارى، المتوفى سنة 1014 هـ، كتاب «الأثمار الجنيّة فى أسماء الحنفية(3)».

وفى القرن الثالث عشر، شغل أبو الحسنات محمد بن عبد الحىّ اللّكنوىّ الهندىّ، المتوفى سنة 1304 هـ، بهذا الأمر، ورأى أنه لو جمع رجال المذهب فى كتاب، فسيصير المجموع أكبر، لا ينتفع به إلا الأندر، ففرّقهم فى أكثر من كتاب، فصنع لرجال «الهداية» كتاب «مقدمة الهداية»، وجعل له ذيلا سماه «مذيّلة الدّراية»، وأفرد لتراجم شراح «الجامع الصغير»، وأرباب المتون المشهورة، وأصحاب الكتب المعروفة، رسالة سماها «النافع الكبير» وذكر من له أو لكتابه ذكر فى «شرح الوقاية» كما ذكر شرّاح «الوقاية» ومحشّى شرح «الوقاية»، وشرّاح «النقاية» فى مقدمة شرحه لشرح الوقاية، المسمى ب «السّعاية فى كشف ما فى شرح الوقاية».

ثم اطّلع على كتاب الكفوىّ، ولخّص منه تراجم الفقهاء دون حذف ما يتعلّق بها، ثم حذف الفوائد الفقهية، وزاد بعد ذلك عليها، وسمّى عمله هذا «الفوائد البهية فى تراجم الحنفية»، فرغ منه سنة 1292 هـ(4).

--------------------------------------------

(1) الأعلام 8/ 49، الفوائد البهية 3.

(2) البدر الطالع 2/ 57، خبايا الزوايا 87 أ، ريحانة الألباء 1/ 407، شذرات الذهب 8/ 420، كشف الظنون 2/ 1098.

(3) البدر الطالع 1/ 445، خلاصة الأثر 3/ 185، الفوائد البهية 8،3.

(4) الفوائد البهية 248،4،3، معجم المطبوعات 1595.
- হি. -

 

মাহমুদ ইবনে সুলাইমান আর-রুমি আল-কাফাউই (মৃত্যু ৯৯০ হিজরি) 'কাতায়েবু আলামিল আখইয়ার মিন ফুকাহায়ি মাজহাবিন নুমানিল মুখতার' গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

এটি একটি বিশাল গ্রন্থ যা ৫৭৩ পৃষ্ঠার(১)।

তেমনিভাবে কুতুবুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলাউদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আন-নাহরাওয়ানি (আন-নাহরাওয়ালি) আল-হিন্দি আল-হানাফি (মৃত্যু ৯৯০ হিজরি) হানাফি ফকিহদের জীবনী নিয়ে চার খণ্ডে একটি 'কিতাব' সংকলন করেছিলেন। পরবর্তীতে তার কিতাবপত্রের সাথে সেটিও পুড়ে যায়। এরপর তিনি তা পুনরায় সংকলন করার সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু সময় পাননি(২)।

এরপর একাদশ শতাব্দী আসে, তখন তাকিউদ্দিন আত-তামিমি 'আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়্যাহ ফি তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ' গ্রন্থটি রচনা করেন, যা আমরা এখন উপস্থাপন করছি।

অতঃপর নুরউদ্দিন আলি ইবনে সুলতান (মুহাম্মদ সুলতান) আল-হারাউই আল-কারি (মৃত্যু ১০১৪ হিজরি) 'আল-আসমারুল জানিয়্যাহ ফি আসমাইল হানাফিয়্যাহ(৩)' গ্রন্থটি রচনা করেন।

আর ত্রয়োদশ শতাব্দীতে আবুল হাসানাত মুহাম্মদ ইবনে আবদুল হাই আল-লাখনবি আল-হিন্দি (মৃত্যু ১৩০৪ হিজরি) এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন। তিনি দেখলেন যে, যদি মাজহাবের ইমাম ও ফকিহদের সকলকে একটি গ্রন্থে একত্রিত করা হয়, তবে সংকলনটি বিশাল হয়ে যাবে এবং খুব বিরল ক্ষেত্র ছাড়া এর দ্বারা উপকৃত হওয়া সম্ভব হবে না। তাই তিনি তাদের নিয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। 'আল-হিদায়া' গ্রন্থের ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে তিনি 'মুকাদ্দিমাতুল হিদায়া' গ্রন্থটি রচনা করেন এবং তার একটি পরিশিষ্ট তৈরি করে নাম দেন 'মুদাইয়িলাতুদ দিরায়া'। তিনি 'আল-জামি আস-সগির'-এর ব্যাখ্যাকারকগণ, প্রসিদ্ধ মূল পাঠসমূহের (মুতুন) লেখকগণ এবং পরিচিত কিতাবসমূহের রচয়িতাদের জীবনীর জন্য 'আন-নাফিউল কাবির' নামক একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেন। এছাড়া 'শারহুল বিকায়া' কিতাবে যাদের বা যাদের কিতাবের উল্লেখ রয়েছে, সেই সাথে 'শারহুল বিকায়া'-এর ব্যাখ্যাকারকগণ ও টীকাকারগণ এবং 'আন-নিকায়া'-এর ব্যাখ্যাকারকগণের কথা তিনি 'শারহুল বিকায়া'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আস-সিআয়াহ ফি কাশফি মা ফি শারহিল বিকায়া'-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি আল-কাফাউই-এর গ্রন্থটি দেখেন এবং ফকিহদের জীবনীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ বাদ না দিয়েই এর একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেন। তবে তিনি এতে থাকা ফিকহি আলোচনাগুলো বাদ দিয়ে দেন এবং পরবর্তীতে এর ওপর আরও তথ্য যোগ করেন। তিনি তার এই কর্মের নাম দেন 'আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ ফি তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ', যা তিনি ১২৯২ হিজরিতে সম্পন্ন করেন(৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-আলাম ৮/ ৪৯, আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ ৩।

(২) আল-বাদরুত তালি ২/ ৫৭, খাবায়াজ জাওয়ায়া ৮৭/আ, রাইহানাতুল আলিব্বা ১/ ৪০৭, শাজারাতুজ জাহাব ৮/ ৪২০, কাশফুজ জুনুন ২/ ১০৯৮।

(৩) আল-বাদরুত তালি ১/ ৪৪৫, খুলাসাতুল আসার ৩/ ১৮৫, আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ ৮, ৩।

(৪) আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ ২৪৮, ৪, ৩, মুজামুল মাতবুয়াত ১৫৯৫।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
- و -

 

ومن عجب أن صاحب هذا الكتاب، لم يطلع على «الطبقات السنية» للتقىّ التّميمىّ، ولم يترجم له بين رجاله.

وقد طبع هذا الكتاب فى مصر، بمطبعة السعادة، سنة 1324 هـ، كما طبع بحاشيته «التعليقات السنية على الفوائد البهية»، للمؤلف أيضا.

 

2

 

‌‌وكتاب التقىّ التميمىّ «الطبقات السنية فى تراجم الحنفية»

يقف شامخا بين هذه المؤلفات، فقد جمع فى إسهاب تراجم رجال المذهب حتى نهاية القرن العاشر للهجرة، من كل المصادر التى وقعت لمؤلّفه، والتى ذكر طرفا منها فى مقدمة الكتاب(1)، ورتبه على حروف المعجم، وأضاف إلى آخره لحقا بالكنى والأنساب والأبناء، فاستحق بهذا شهادة حاجى خليفة له؛ حيث يقول(2): «ثم جاء تقىّ الدين بن عبد القادر المصرىّ، وصنف فى ذلك- أى فى طبقات الحنفية-كتابا كبيرا جمع فيه تراجم الحنفية، فأوعى وأجاد، وهو أجلّ الكتب المؤلفة فى تراجم أهل الرّأى، أدرج فيه رجال الشّقائق ومن بعده إلى زمانه».

وقد شهد له أيضا الشهاب الخفاجىّ، حيث يقول(3): «وله تصانيف سمعناها منه، منها طبقات الحنفية، وهى فى مجلدات، جمع فيها من شقائق النّعمان كلّ ثمرة جنية».

وكذلك يذكر الأمين المحبّىّ أن(4) «أحسن ماله من التآليف طبقات الحنفية، وقفت على حصّة منها، جمع فيها جملة من علماء الروم، وعظمائها، وأكابر سراتها، ورؤسائها».

وقد قرّظ هذا الكتاب المولى سعد الدين المعروف بخواجه زاده والمولى جوى زاده، والمولى زكريا، والمولى عبد الغنى، والمولى أحمد الأنصارىّ، من علماء الدولة العثمانية(5).

ومن تقريظ المولى سعد الدين للطبقات(6):

كتاب طاب تعبيرا يحاكى … عبيرا فائحا فى الرّوح سار

--------------------------------------------

(1) صفحات 5 - 7 من هذا الجزء.

(2) كشف الظنون 2/ 1098.

(3) ريحانة الألباء 2/ 28.

(4) خلاصة الأثر 1/ 479.

(5) كشف الظنون 2/ 1098.

(6) خلاصة الأثر 3/ 420، وانظر ريحانة الألبّاء 2/ 273.
- ও -

 

এবং এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, এই বইটির লেখক তাকিউদ্দীন তামিমীর 'আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ' সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং তাঁর জীবনীও তাঁর বর্ণিত ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখ করেননি।

এই বইটি ১৩২৪ হিজরিতে মিশরের আস-সাআদাহ ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়েছে, এর সাথে টীকা হিসেবে লেখকের রচিত 'আত-তালিকাতুস সানিয়্যাহ আলাল ফাওয়ায়িদিল বাহিয়্যাহ'ও মুদ্রিত হয়েছে।

 

২

 

‌তাকিউদ্দীন তামিমীর গ্রন্থ 'আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ ফি তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ'

এই গ্রন্থটি এই ধরণের রচনাবলীর মধ্যে অনন্য উচ্চতায় আসীন, কারণ এতে হিজরি দশম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত এই মাযহাবের ব্যক্তিবর্গের জীবনী অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে সংকলিত হয়েছে। লেখক তাঁর নাগালে পাওয়া সমস্ত উৎস থেকে এটি সংগ্রহ করেছেন, যার কিছু অংশের কথা তিনি বইয়ের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন(১)। তিনি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন এবং শেষে উপনাম, বংশ পরিচয় ও সন্তানদের নিয়ে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছেন। এই কারণে তিনি হাজি খলিফার প্রশংসার যোগ্য হয়েছেন; যেখানে তিনি বলেন(২): "এরপর তাকিউদ্দীন বিন আব্দুল কাদির আল-মিসরি আসলেন এবং তিনি এ বিষয়ে—অর্থাৎ হানাফিদের জীবনীর ওপর—একটি বিশাল গ্রন্থ রচনা করলেন যাতে তিনি হানাফিদের জীবনীসমূহ সংগৃহীত করেছেন। তিনি এতে সবটুকুই ধারণ করেছেন এবং চমৎকারভাবে সম্পন্ন করেছেন। এটি আহলুর রা’য়-দের (হানাফি আলেমদের) জীবনীতে রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর একটি। এতে তিনি 'আশ-শাকাইক' গ্রন্থের ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁর সময় পর্যন্ত পরবর্তী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"

শিহাব আল-খাফাজিও তাঁর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনি বলেন(৩): "তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে যা আমরা তাঁর কাছ থেকে শুনেছি, যার মধ্যে একটি হলো তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ। এটি কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত, যাতে তিনি 'শাকাইকুন নুমান' থেকে প্রতিটি পরিপক্ক ফল সংগ্রহ করেছেন।"

অনুরূপভাবে আল-আমিন আল-মুহিব্বি উল্লেখ করেছেন যে(৪): "তাঁর রচনাবলীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ। আমি এর একটি অংশ দেখেছি, যাতে তিনি রোমের একদল আলেম, তাঁদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের মহান নেতা ও প্রধানদের জীবনী সংকলন করেছেন।"

উসমানীয় সালতানাতের আলেমদের মধ্যে মাওলা সাদ উদ্দিন (যিনি খাজা জাদা নামে পরিচিত), মাওলা জুয়ি জাদা, মাওলা জাকারিয়া, মাওলা আব্দুল গনি এবং মাওলা আহমদ আল-আনসারি এই বইটির প্রশংসা বাণী (তাকরিজ) লিখেছেন(৫)।

তাবাকাত গ্রন্থের প্রতি মাওলা সাদ উদ্দিনের প্রশংসা বাণীর একটি অংশ হলো(৬):

বইটি ভাষায় মনোমুগ্ধকর যা সুবাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ... যা রুহের গভীরে সৌরভ ছড়িয়ে দেয়।

--------------------------------------------

(১) এই খণ্ডের ৫ - ৭ পৃষ্ঠা।

(২) কাশফুয যুনুন ২/ ১০৯৮।

(৩) রাইহানাতুল আলিব্বা ২/ ২৮।

(৪) খুলাসাতুল আসার ১/ ৪৭৯।

(৫) কাশফুয যুনুন ২/ ১০৯৮।

(৬) খুলাসাতুল আসার ৩/ ৪২০, এবং দেখুন রাইহানাতুল আলিব্বা ২/ ২৭৩।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
- ز -

 

كنشر القطر عطّر كلّ قطر … وكالدّارىّ فاح بكلّ دار

بيمن دار منه على تميم … يليق بأن يكون تميم دارى

ومن تقريظ المولى شيخ الإسلام زكريا بن بيرام له(1):

هذا كتاب فاق فى أقرانه … يسبى العقول بكشفه وبيانه

سفر جليل عبقرىّ فاخر … سحر حلال جاء من سحبانه

أوراقه أشجار روض زاهر … قد تجتنى الثمرات من أفنانه

لله درّ مؤلّف فاق الورى … بفرائد فغدا فريد زمانه

فجزاه ربّ العالمين بلطفه … طبقات عزّ فى فسيح جنانه

كما قرّظه بمقطوعة نثرية، تجدها فى خلاصة الأثر، ونفحة الريحانة، عقب هذا الشعر.

ويذكر حاجى خليفة أن التقىّ التميمىّ أتمّ تأليف هذا الكتاب سنة 993 هـ، ثم يعود فيذكر أنه أتمّ تأليفه بمدينة فوّة، وهو قاض بها سنة 989 هـ(2)، فكيف يصح هذا القول؟

لقد أتم التقىّ التميمىّ كتابه سنة 989 هـ، جاء هذا فى آخره حيث يقول: «تم تأليف هذا الكتاب .. على يد جامعه .. تقى الدين بن عبد القادر التميمىّ الدّارىّ القاضى بمدينة فوّة(3) من المزاحمتين، وذلك فى نهار الخميس المبارك، عاشر شهر رجب الفرد، من شهور سنة 989 أحسن الله ختامها»، ولعله ذهب بعد ذلك بالكتاب إلى حاضرة الخلافة سنة 993 هـ، وقدّمه إلى من عمله برسمه، وهو السلطان مراد خان بن سليم(4)، وكوفئ على ذلك بقضاء مدينة قونية، فقد جاء فى هامش آخر صفحة من نسخة المصنف بخطّ دقيق: «ألفه بمدينة قونية، وهو قاض، فى زمن مراد خان بن سليم».

--------------------------------------------

(1) حديقة الأفراح 123، خلاصة الأثر 2/ 173، نفحة الريحانة 3/ 60.

(2) كشف الظنون 1099،2/ 1098.

(3) بليدة على شاطئ النيل قرب رشيد. معجم البلدان 3/ 924.

(4) انظر صفحة من المقدمة.
- যা -

 

বৃষ্টির সুবাসের মতো যা প্রতিটি জনপদকে সুবাসিত করেছে … আর সুগন্ধি বিক্রেতার মতো যা প্রতিটি ঘরে সুরভি ছড়িয়েছে

তাঁর গৃহের কল্যাণে যা তামীমের ওপর বর্ষিত … সে তামীম দারী হওয়ারই যোগ্য

এবং এর প্রতি মাওলা শাইখুল ইসলাম যাকারিয়া বিন বেরাম-এর প্রশংসা বাণী(১):

এটি এমন এক কিতাব যা তার সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছে … এটি তার তথ্য উন্মোচন ও বর্ণনার সাবলীলতায় বুদ্ধিবৃত্তিকে বিমোহিত করে

এক মহান, অনন্য ও গৌরবময় পাণ্ডুলিপি … এক বৈধ জাদু যা এর চমৎকার বাগ্মিতা থেকে উৎসারিত

এর পাতাগুলো প্রস্ফুটিত বাগানের বৃক্ষরাজি … যার শাখা-প্রশাখা থেকে ফল আহরণ করা যায়

ধন্য সেই লেখক যিনি সৃষ্টিজগতকে ছাড়িয়ে গেছেন … তাঁর অনন্য রত্নরাজির মাধ্যমে তিনি তাঁর সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন

রব্বুল আলামীন যেন তাঁর অনুগ্রহে তাঁকে প্রতিদান দান করেন … তাঁর প্রশস্ত জান্নাতে সম্মানের উচ্চ স্তরসমূহ

যেমনটি তিনি একটি গদ্য রচনার মাধ্যমেও এর প্রশংসা করেছেন, যা আপনি এই কবিতার পরেই 'খুলাসাতুল আসার' এবং 'নাফহাতুর রায়হানা' গ্রন্থে পাবেন।

হাজী খলিফা উল্লেখ করেছেন যে, তাক্বী তামীমী ৯৯৩ হিজরীতে এই কিতাবটির সংকলন সমাপ্ত করেন। এরপর তিনি আবার উল্লেখ করেন যে, তিনি ফুওয়াহ শহরে থাকাকালীন ৯৮৯ হিজরীতে এর সংকলন সমাপ্ত করেন যখন তিনি সেখানকার বিচারক ছিলেন(২)। সুতরাং এই উক্তিটি কীভাবে সঠিক হতে পারে?

প্রকৃতপক্ষে তাক্বী তামীমী ৯৮৯ হিজরীতে তাঁর কিতাবটি সমাপ্ত করেন। এটি কিতাবের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে তিনি বলেন: «এই কিতাবটির সংকলন সমাপ্ত হলো... এর সংকলকের হাতে... তাক্বীউদ্দীন বিন আব্দুল ক্বাদির তামীমী দারী, যিনি মুযাহিমাতাইনের ফুওয়াহ(৩) শহরের বিচারক ছিলেন। এটি সম্পন্ন হয়েছে ৯৮৯ হিজরী সালের রজব মাসের দশ তারিখ মোবারক বৃহস্পতিবার দিবাগত দিনে, আল্লাহ এর সমাপ্তি সুন্দর করুন।» সম্ভবত এরপর তিনি ৯৯৩ হিজরীতে কিতাবটি নিয়ে খিলাফতের রাজধানীতে গমন করেন এবং যাঁর আদেশে এটি রচিত হয়েছিল, সেই সুলতান মুরাদ খান বিন সেলিমের(৪) কাছে এটি পেশ করেন। এর বিনিময়ে তাঁকে কুনিয়া শহরের বিচারক হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। লেখকের পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার পার্শ্বটীকায় সূক্ষ্ম অক্ষরে লেখা আছে: «তিনি এটি কুনিয়া শহরে বিচারক থাকাকালীন সুলতান মুরাদ খান বিন সেলিমের আমলে রচনা করেছেন।»

--------------------------------------------

(১) হাদীকাতুল আফরাহ ১২৩, খুলাসাতুল আসার ২/ ১৭৩, নাফহাতুর রায়হানা ৩/ ৬০।

(২) কাশফুয যুনুন ১০৯৯, ২/ ১০৯৮।

(৩) রশীদের নিকটবর্তী নীল নদের তীরের একটি ছোট শহর। মুজামুল বুলদান ৩/ ৯২৪।

(৪) ভূমিকার একটি পৃষ্ঠা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
- ح -

 

3

 

‌‌أما صاحب الطبقات السنية، فهو(1):

تقى الدين بن عبد القادر التميمىّ الدّارىّ الغزّىّ المصرىّ الحنفىّ.

لم تذكر مصادر ترجمته سنة مولده، وذكر الأستاذ كحالة أنه ولد سنة 950 هـ، ولعله استنبط ذلك من أنه توفّى فى سنّ الكهولة، وكانت وفاته سنة 1005 هـ، وذكر المحبّىّ أن وفاته كانت بمصر، يوم السبت خامس جمادى الآخرة، سنة 1010 هـ.

ولم تذكر لنا المصادر شيوخه، ولا تلامذته، ولم نعلم من أحواله الاجتماعية إلا أن ولده حسنا كان عاقّا له، وفى ذلك يقول(2):

حسن نونه مقدّمة … لعن الله من يؤخّرها

يعنى أنه نحس.

وقد رحل إلى الروم، فقد ذكر الخفاجىّ أنه كانت بينه وبين التقىّ مودة أكيدة، ومراسلات ومكاتبات بالروم(3).

وذكر المحبّىّ أنه جال فى البلاد، ودخل الروم(4).

وقد اشتغل التقىّ التميمىّ بالقضاء، ويذكر كحالة أنه تولّى القضاء بالجيزة وتوابعها، وعلى هامش نسخة الطبقات التى يقال إنها بخط المصنف أنه كان قاضيا بقونية، وفى آخر الطبقات يذكر التميمىّ أنه أتمها سنة 989 هـ وهو قاض بمدينة فوّة.

ويذكر الخفاجىّ أنه قبل تولّيه القضاء كان عزوفا عنه، مقبلا على العبادة متزهّدا، ثم ساقه القدر إلى القضا، فرضى بما قدّره الله وقضى(5).

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته: خلاصة الأثر 480،1/ 479، خبايا الزوايا 134 ب، ريحانة الألباء 2/ 27 - 31، كشف الظنون 2050،2049،1838،1099،1098،2/ 1017،394،385،1/ 152، معجم المؤلفين لكحالة 3/ 91، بروكلمان 2/ 312، ملحق 2/ 429.

(2) كشف الظنون 2/ 1017.

(3) ريحانة الألباء 2/ 31.

(4) خلاصة الأثر 1/ 479.

(5) ريحانة الألباء 2/ 27.
- ح -

 

৩

 

‌‌'আল-তাবাকাত আস-সানিয়্যাহ'-এর লেখকের প্রসঙ্গে বলা যায়, তিনি হলেন(১):

তাকিউদ্দীন বিন আব্দুল কাদির আল-তামিমি আদ-দারি আল-গাজ্জি আল-মিসরি আল-হানাফি।

তার জীবনীগ্রন্থসমূহে তার জন্মসাল উল্লেখ করা হয়নি। তবে উস্তাদ কাহহালা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৯৫০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। সম্ভবত তিনি এটি এই তথ্য থেকে অনুমান করেছেন যে, তিনি প্রৌঢ়াবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং তার মৃত্যু হয়েছিল ১০০৫ হিজরিতে। অন্যদিকে আল-মুহিব্বি উল্লেখ করেছেন যে, তার মৃত্যু মিশরে, ১০১০ হিজরির ৫ই জুমাদাল আখিরাত রোজ শনিবার হয়েছিল।

উৎসগ্রন্থসমূহ আমাদের কাছে তার উস্তাদ বা ছাত্রদের কথা উল্লেখ করেনি। তার সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আমরা কেবল এটুকু জানতে পারি যে, তার পুত্র হাসান তার প্রতি অবাধ্য ছিল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন(২):

হাসানের 'নুন' (নাহাস বা অমঙ্গল) সামনে... আল্লাহ তাকে লানত করুন যে একে পেছনে সরিয়ে দেয়।

অর্থাৎ তিনি বুঝিয়েছেন যে সে অমঙ্গলজনক।

তিনি রোম সফর করেছিলেন। আল-খাফাজি উল্লেখ করেছেন যে, তার এবং তাকিউদ্দীনের মধ্যে গভীর হৃদ্যতা ছিল এবং রোমে থাকাকালীন তাদের মধ্যে চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও যোগাযোগ চলত(৩)।

আল-মুহিব্বি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন এবং রোমে প্রবেশ করেছেন(৪)।

তাকি আল-তামিমি বিচারকার্য (কাজা) পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। কাহহালা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি গিজা ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোর বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। 'তাবাকাত'-এর যে পাণ্ডুলিপিটি লেখকের নিজস্ব হস্তলিপি বলে পরিচিত, তার প্রান্তটীকায় (হাশিয়া) উল্লেখ আছে যে, তিনি কোনিয়ার বিচারপতি ছিলেন। 'তাবাকাত'-এর শেষে তামিমি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি ৯৮৯ হিজরিতে সম্পন্ন করেন যখন তিনি ফুওয়াহ শহরের বিচারপতি ছিলেন।

আল-খাফাজি উল্লেখ করেছেন যে, বিচারপতির পদ গ্রহণ করার আগে তিনি এর প্রতি বিমুখ ছিলেন এবং ইবাদতে মগ্ন ও দুনিয়াবিমুখ ছিলেন। অতঃপর তাকদির তাকে বিচারকার্যের দিকে নিয়ে যায়, ফলে আল্লাহ যা নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছিলেন তিনি তাতে সন্তুষ্ট হন(৫)।

--------------------------------------------

(১) তার জীবনীগ্রন্থের উৎসসমূহ: খুলাসাতুল আসার ১/৪৭৯, ৪৮০; খাবায়াল জাওয়ায়া ১৩৪ খ; রায়হানাতুল আলিব্বা ২/২৭-৩১; কাশফুয যুনুন ১০৯৮, ১০৯৯, ১৮৩৮, ২০৪৯, ২০৫০, ১/১৫২, ২/৩৮৫, ৩৯৪, ১০১৭; কাহহালা প্রণীত মু'জামুল মুয়াল্লিফিন ৩/৯১; ব্রোকলম্যান ২/৩১২, পরিশিষ্ট ২/৪২৯।

(২) কাশফুয যুনুন ২/১০১৭।

(৩) রায়হানাতুল আলিব্বা ২/৩১।

(৪) খুলাসাতুল আসার ১/৪৭৯।

(৫) রায়হানাতুল আলিব্বা ২/২৭।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
- ط -

 

وقد عبّر التقىّ التميمىّ عن ضيقه بهذا المنصب، وألمه لمهانة الفقهاء بقوله(1):

أحبابنا نوب الزمان كثيرة … وأمرّ منها رفعة السّفهاء

فمتى يفيق الدهر من سكراته … وأرى اليهود بذلّة الفقهاء

وقال(2):

ما أبصرت عين امرئ … فى الدهر يوما مثلنا

عشق وحرمان به … أبدا ترانا فى عنا

الدّون لا نرضى به … والعال لا يرضى بنا

وقد ساق الخفاجىّ طرفا من شعر التقىّ التميمىّ(3)، يدل على تمكّنه من ناصية البيان، كما ضمّن التميمىّ طبقاته بعض قصائده، ومنها قصيدته التى مدح بها معاصره أحمد بن حسن ابن عبد المحسن الرومىّ، وقد بلغت أبياتها 68 بيتا، افتتحها بقوله(4):

لى فى الغرام بمن أهوى صبابات … لها نهايات من يهوى بدايات

ومنها أيضا قصيدته التى مدح بها السلطان مراد خان بن السلطان سليم خان، حين قدّم إليه كتابه «الطبقات السنية» وبلغت أبياتها 19 بيتا، افتتحها بقوله(5):

دانت لهيبتك الأيّام والأمم … وقد أطاعك فيها السيف والقلم

وتقدم البيت الذى يذمّ فيه ولده العاقّ، ولعله من رسالة كلها على هذا النحو، كما تجد كثيرا من الأبيات المفرّقة، والمقطوعات المنثورة من شعره فى «الطبقات».

وهو صاحب نثر أيضا، ذكر ذلك الشهاب الخفاجىّ(6).

--------------------------------------------

(1) ريحانة الألباء 2/ 28.

(2) ريحانة الألباء 29،2/ 28، وذكر الخفاجى أن العال بمعنى العالى، وقال: إنها عامية مبتذلة.

(3) ريحانة الألباء 2/ 29 - 31، والمحبى أيضا فى: خلاصة الأثر 480،1/ 479، ونفحة الريحانة 3/ 220.

(4) القصيدة فى ترجمة رقم 177، من هذا الجزء.

(5) القصيدة فى مقدمة هذا الجزء صفحة 9

(6) ريحانة الألباء 2/ 28.
- ত্ব -

 

তাকি আত-তামিমি এই পদের কারণে তাঁর বিরক্তি এবং ফকিহদের অমর্যাদার জন্য তাঁর দুঃখ প্রকাশ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে(১):

হে আমাদের প্রিয়জন, কালের বিপদ-আপদ অনেক … আর তার চেয়েও তিক্ত হলো নির্বোধদের উচ্চমর্যাদা প্রাপ্তি।

কাল কখন তার মত্ততা থেকে সজাগ হবে … যাতে আমি ইহুদিদের দেখব ফকিহদের মতো লাঞ্ছিত অবস্থায়।

এবং তিনি বলেছেন(২):

কোনো মানুষের চোখ দেখেনি … কালে আমাদের মতো কোনো দিন।

এতে রয়েছে ভালোবাসা ও বঞ্চনা … সর্বদা আপনি আমাদের কষ্টে দেখতে পাবেন।

নীচতাকে আমরা পছন্দ করি না … আর উচ্চতা আমাদের নিয়ে সন্তুষ্ট নয়।

খাফাজি, তাকি আত-তামিমির কবিতার কিছু অংশ উদ্ধৃত করেছেন(৩), যা তাঁর বাগ্মিতার দক্ষতার পরিচয় দেয়। একইভাবে তামিমি তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে নিজের কিছু কাসিদা (কবিতা) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সেই কাসিদাটি যাতে তিনি তাঁর সমসাময়িক আহমদ বিন হাসান ইবনে আব্দুল মুহসিন আল-রুমির প্রশংসা করেছেন। এর চরণ সংখ্যা ৬৮-তে পৌঁছেছে, যার সূচনা তিনি করেছেন এই বলে(৪):

যাকে আমি ভালোবাসি তার প্রেমে আমার রয়েছে অনুরাগ … যার শেষ হলো প্রেমিকের ভালোবাসার শুরু।

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে সেই কাসিদাটি যাতে তিনি সুলতান সেলিম খানের পুত্র সুলতান মুরাদ খানের প্রশংসা করেছেন, যখন তিনি তাঁর কাছে «আত-তাবাকাত আস-সানিয়্যাহ» গ্রন্থটি পেশ করেন। এর চরণ সংখ্যা ১৯-এ পৌঁছেছে, যার সূচনা তিনি করেছেন এই বলে(৫):

আপনার প্রভাবের নিকট দিনকাল ও জাতিসমূহ নত হয়েছে … আর এতে তলোয়ার ও কলম আপনার আনুগত্য করেছে।

এবং সেই চরণটি পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে যাতে তিনি তাঁর অবাধ্য সন্তানের নিন্দা করেছেন; সম্ভবত এটি এমন একটি রিসালা (চিঠি) থেকে নেওয়া যা সম্পূর্ণই এই ধাঁচের। এছাড়া আপনি «তাবাকাত»-এ তাঁর কবিতার অনেক বিক্ষিপ্ত চরণ এবং ছড়িয়ে থাকা কাব্যংশ খুঁজে পাবেন।

তিনি গদ্যেরও রচয়িতা ছিলেন, শিহাব আল-খাফাজি তা উল্লেখ করেছেন(৬)।

--------------------------------------------

(১) রাইহানাতুল আলিব্বা ২/ ২৮।

(২) রাইহানাতুল আলিব্বা ২৯, ২/ ২৮; খাফাজি উল্লেখ করেছেন যে 'আল-আল' মানে হলো 'আল-আলি' (উচ্চ), এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি প্রচলিত সাধারণ শব্দ।

(৩) রাইহানাতুল আলিব্বা ২/ ২৯ - ৩১; আল-মুহিব্বিও উল্লেখ করেছেন: খুলাসাতুল আসার ১/ ৪৭৯, ৪৮০ এবং নাফহাতুর রাইহানাহ ৩/ ২২০।

(৪) কাসিদাটি এই খণ্ডের ১৭৭ নম্বর জীবনীতে রয়েছে।

(৫) কাসিদাটি এই খণ্ডের ভূমিকা অংশের ৯ নম্বর পৃষ্ঠায় রয়েছে।

(৬) রাইহানাতুল আলিব্বা ২/ ২৮।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
- ى -

 

4

 

‌‌وكانت ثقافة التقى التميمىّ ثرّة فيّاضة، أخذ من منابع عدة، ولم يقتصر على الفقه علما يصل عن طريقه إلى منصة القضاء، وإنما أتقن علوم اللسان، ويتضح هذا من إيثاره إيراد القصائد والنكت الأدبية فى كتابه «الطبقات السنية»، واعتذاره عن ذلك بأنه أحبّ ألا يخلو كتابه عن الأدب، وأتقن أيضا علم التاريخ، والمقدمة التى قدم بها لكتابه «الطبقات السنية»، وما حوت من إرشادات للمؤرخ، ومعالم لقارئ التاريخ، تغنى عن الحديث فى ذلك.

وقد ترك من المؤلفات:

1 - تذكرة، ذكرها حاجى خليفة، فى كشف الظنون 1/ 385.

2 - حاشيته على شرح ابن المصنف بدر الدين أبى عبد الله محمد بن محمد، المعروف بابن مالك، وهى حاشية جمع فيها أقوال الشراح وحاكم فيما بينهم. ذكرها حاجى خليفة، فى كشف الظنون 152،1/ 151.

3 - السيف البرّاق فى عنق الولد العاقّ، رسالة له ألفها لما كان ولده الحسن عاقاّ له، ومنها البيت الذى تقدّم:

حسن نونه مقدّمة … لعن الله من يؤخّرها

ذكرها حاجى خليفة فى كشف الظنون 2/ 1017.

4 - الطبقات السنية فى تراجم الحنفيّة، ذكرها حاجى خليفة فى كشف الظنون 1/ 394 باسم «التراجم السنيّة فى طبقات الحنفيّة» وذكرها فى 1099،2/ 1098 باسم «الطبقات السنية».

وذكر القسم الخاص بترجمة الإمام الأعظم، فى 2/ 1838.

كما ذكرها بروكلمان، فى تاريخ الأدب العربى 2/ 312، ملحق 2/ 429، وتقدم الحديث عنها.

5 - مختصر «يتيمة الدهر» لأبى منصور عبد الملك بن محمد بن إسماعيل الثّعالبىّ
- ৪ -

 

৪

 

‌‌তকি আল-তামিমীর জ্ঞান ও সংস্কৃতি ছিল সমৃদ্ধ ও প্রবহমান, তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে জ্ঞান আহরণ করেছিলেন। তিনি কেবল বিচারকের আসনে আসীন হওয়ার মাধ্যম হিসেবে ফিকহ শাস্ত্রে জ্ঞান অর্জন করেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি ভাষাবিজ্ঞানেও পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। এটি তাঁর ‘আত-তাবাকাত আস-সানিয়্যাহ’ গ্রন্থে কবিতা ও সাহিত্যিক সূক্ষ্ম রসদ সংযোজনের প্রতি তাঁর অগ্রাধিকার দেওয়া থেকে স্পষ্ট হয়। তিনি এর কৈফিয়ত হিসেবে বলেন যে, তিনি চেয়েছিলেন তাঁর গ্রন্থটি যেন সাহিত্যবর্জিত না হয়। তিনি ইতিহাস বিজ্ঞানেও দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর ‘আত-তাবাকাত আস-সানিয়্যাহ’ গ্রন্থের ভূমিকা এবং ইতিহাসবিদদের জন্য তাতে বর্ণিত দিকনির্দেশনা ও ইতিহাসের পাঠকের জন্য বিধৃত পথচিহ্নসমূহ এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়।

তিনি যেসব গ্রন্থাবলি রেখে গেছেন:

১ - তাজকিরা: হাজি খলিফা ‘কাশফুয যুনুন’ (১/৩৮৫) গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন।

২ - ইবনুল মুসান্নিফ বদরুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ (যিনি ইবনে মালিক নামে পরিচিত) এর শারহ-এর ওপর তাঁর হাশিয়া (টীকা)। এটি এমন একটি হাশিয়া যেখানে তিনি ব্যাখ্যাকারকদের অভিমতগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন। হাজি খলিফা ‘কাশফুয যুনুন’ (১/১৫১, ১৫২) গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন।

৩ - আস-সাইফুল বাররাক ফি উনুকিল ওয়ালাদিল আক্ক (অবাধ্য সন্তানের ঘাড়ে ঝকঝকে তলোয়ার): এটি তাঁর একটি পুস্তিকা যা তিনি তখন রচনা করেছিলেন যখন তাঁর পুত্র হাসান তাঁর অবাধ্য হয়েছিল। ইতিপূর্বে উল্লিখিত কবিতাটি এখান থেকেই নেওয়া:

হাসানের ‘নুন’ অগ্রবর্তী ... যে একে পিছিয়ে দেয় আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিন

হাজি খলিফা ‘কাশফুয যুনুন’ (২/১০১৭) গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন।

৪ - আত-তাবাকাত আস-সানিয়্যাহ ফি তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ: হাজি খলিফা ‘কাশফুয যুনুন’ (১/৩৯৪) গ্রন্থে একে ‘আত-তারাজিম আস-সানিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ’ নামে এবং (২/১০৯৮, ১০৯৯) পৃষ্ঠায় ‘আত-তাবাকাত আস-সানিয়্যাহ’ নামে উল্লেখ করেছেন।

ইমাম আযমের জীবনীর জন্য বিশেষায়িত অংশটি (২/১৮৩৮) পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রোকলম্যানও ‘তারিখুল আদাবিল আরাবি’ (২/৩১২, পরিশিষ্ট ২/৪২৯) গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন এবং এ নিয়ে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।

৫ - আবু মনসুর আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আস-সা’লাবীর ‘ইয়াতিমাতুদ দাহর’ গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
- ك -

 

النّيسابورىّ، المتوفى سنة 429 هـ. ذكر ذلك حاجى خليفة، فى كشف الظنون 2/ 2049، وقال: إنه اختصرها فى مقدار نصفها.

6 - مختصر «ذيل اليتيمة» لحسن بن مظفّر النّيسابورىّ، المتوفى سنة 443 هـ، ذكره حاجى خليفة، فى كشف الظنون 2/ 2050، وقال: «ومختصرها إلى نصفها لتقى الدين بن عبد القادر المصرى».

ولست أدرى إن كان الضمير فى «مختصرها، نصفها» راجع إلى اليتيمة أم إلى ذيلها، فإن السياق موهم.

وذكر بروكلمان فى تاريخ الأدب العربى، الملحق 2/ 429 أن لتقىّ الدين التّميمىّ كتاب «منافع القرآن، وما فى كل آية من البرهان»، نقل ذلك عن حاجى خليفة، وأشار إلى نسختين فى أكسفورد والجزائر، وقد رجعت إلى كشف الظنون، فوجدت الكتاب للحكيم التميمىّ، لا لتقى الدين التميمىّ.

 

5

 

‌‌وقد اعتمدت فى تحقيق هذا الكتاب على النسخ الآتية:

1 - نسخة كتبت بخط المؤلف، خط نسخى، يوجد منها المجلد الأول، وينتهى بترجمة أحمد بن محمد بن محمد الخجندىّ، وجاء فى آخرها: «هذا آخر المجلد الأول من كتاب الطبقات السنية فى تراجم الحنفية، رضي الله عنهم أجمعين، وكتبه مؤلفه الفقير الواثق بالملك البارى، تقى الدين بن عبد القادر التميمىّ الدّارى، عفا الله عنه بمنّه ولطفه، وصلّى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم. ويتلوه فى الجزء الثانى، ترجمة أحمد بن محمد بن محمود بن سعيد الغزنوىّ، معيد درس الكاسانىّ، رحمه الله تعالى»، وبعد كلمة «الدارى» بخط دقيق «المصرى»، وفى هامش هذه الصفحة تعليقات بخط دقيق، هى: «أول تأليفه .... »، «ألفه بمدينة قونية وهو قاض بها فى زمن مراد خان بن سليم»، «المتوفى قبل 1005»، «

الشريف بخط مؤلفه … » وعلى صدر النسخة تملّك فى العاشر من ربيع الثانى، سنة 1061 هـ، باسم محمد بيرم الرابع، وتملّك آخر سنة 1141 هـ، باسم بقاء الدين عبد الباقى الشهير ببولبلى زاده، وتقع النسخة فى 100 ورقة، ومسطرتها 32 سطرا، ومصورتها محفوظة بمعهد المخطوطات، جامعة الدول العربية، برقم 1124 تاريخ، عن مكتبة السيد حسن حسنى
- কা -

 

নিশাপুরী, যিনি ৪২৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। হাজি খলিফা 'কাশফুন জুনুন' গ্রন্থে (২/২০৪৯) এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি এটিকে এর অর্ধেক পরিমাণে সংক্ষিপ্ত করেছেন।

৬ - হাসান ইবনে মুজাফফর আন-নিশাপুরী (মৃত্যু ৪৪৩ হি.) রচিত 'জাইলুল ইয়াতিমাহ'-এর সংক্ষিপ্তসার। হাজি খলিফা 'কাশফুন জুনুন' গ্রন্থে (২/২০৫০) এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আর তাকিউদ্দীন বিন আব্দুল কাদির আল-মিসরি এটিকে অর্ধেক পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত করেছেন।"

আর আমি জানি না যে, 'তার সংক্ষিপ্তসার' ও 'তার অর্ধেক' শব্দগুলোতে সর্বনামটি (জমির) 'আল-ইয়াতিমাহ' গ্রন্থের দিকে ফিরেছে নাকি তার পরিশিষ্টাংশের (জাইল) দিকে, কারণ প্রসঙ্গের বিন্যাস অস্পষ্ট।

ব্রোকলম্যান 'তারিখুল আদাব আল-আরাবি' (পরিশিষ্ট ২/৪২৯) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাকিউদ্দীন আত-তামিমির 'মানাফিউল কুরআন ওয়া মা ফি কুল্লি আয়াতিন মিনাল বুরহান' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে। তিনি এটি হাজি খলিফা থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং অক্সফোর্ড ও আলজেরিয়ায় এর দুটি পাণ্ডুলিপির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তবে আমি 'কাশফুন জুনুন' পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, গ্রন্থটি হাকিম আত-তামিমির, তাকিউদ্দীন আত-তামিমির নয়।

 

৫

 

‌‌এই গ্রন্থটির সম্পাদনায় (তাহকিক) আমি নিম্নলিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোর উপর নির্ভর করেছি:

১ - লেখকের স্বহস্তে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি, যা নাসখ লিপিতে রচিত। এর প্রথম খণ্ডটি সংরক্ষিত আছে এবং এটি আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-খুজান্দি-এর জীবনীতে শেষ হয়েছে। এর শেষে উল্লেখ করা হয়েছে: "এটি 'আত-তবাকাতুস সানিয়্যাহ ফি তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ' (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের সমাপ্তি। এটি লিখেছেন এর লেখক, স্রষ্টা ও অধিপতির উপর আস্থাশীল নিঃস্ব বান্দা তাকিউদ্দীন বিন আব্দুল কাদির আত-তামিমি আদ-দারি, আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। দ্বিতীয় খণ্ডে এরপর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন সাঈদ আল-গজনভি-এর জীবনী শুরু হবে, যিনি আল-কাসানির পাঠের পুনরাবৃত্তিকারী (মুয়িদ) ছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।" এবং 'আদ-দারি' শব্দের পরে সূক্ষ্ম অক্ষরে 'আল-মিসরি' লেখা রয়েছে। এই পৃষ্ঠার পার্শ্বটীকায় সূক্ষ্ম অক্ষরে কিছু মন্তব্য রয়েছে, সেগুলো হলো: "তাঁর রচনার সূচনা...", "তিনি এটি কনিয়া শহরে রচনা করেন যখন তিনি মুরাদ খান বিন সেলিমের আমলে সেখানে বিচারক ছিলেন", "১০০৫ হিজরির পূর্বে মৃত্যুবরণকারী", "

লেখকের স্বহস্তে লিখিত সম্মানিত … " এবং পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে ১০৬১ হিজরির ১০ই রবিউস সানি তারিখে চতুর্থ মুহাম্মদ বায়রাম-এর নামে মালিকানা সত্ত্ব উল্লেখ আছে। ১১৪১ হিজরিতে বুলবুলি জাদাহ নামে পরিচিত বকাউদ্দীন আব্দুল বাকির নামে আরেকটি মালিকানা সত্ত্ব রয়েছে। পাণ্ডুলিপিটি ১০০ পৃষ্ঠা সংবলিত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ৩২টি লাইন রয়েছে। এর অনুলিপি আরব লিগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে ইতিহাস বিভাগে ১১২৪ নম্বরে সংরক্ষিত আছে, যা সাইয়্যেদ হাসান হাসানির লাইব্রেরি থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
- ل -

 

عبد الوهاب بتونس، وهذه النسخة تخلّ ببعض التراجم، وتسقط منها بعض الأوراق، وبيان ذلك فى حواشى الكتاب.

وقد رمزت لهذه النسخة بالرمز «ص».

2 - نسخة كتبت بخط نسخى جيد، مضبوط بعضه بالحركات، كتبها عبد الوهاب بن محمد زين العابدين بن محمد شمس الدين الخطيب نسبا الإدكاوىّ بلدا الشافعىّ مذهبا، وفرغ من كتابتها يوم الخميس العاشر من شهر جمادى الآخرة، من شهور سنة 1025 هـ. وعلى النسخة مقابلة قام بها منصور بن عبد اللطيف الرّشيدىّ الأزهرىّ الشافعىّ، مقابلة حميدة جيدة مفيدة على أصل مؤلفه، كان الفراغ منها صبيحة يوم الاثنين المبارك، ثالث عشرى صفر، من شهور سنة 1027 هـ.

وطالع النسخة رجل يقال له الحسن، وذكر أن النسخة سقيمة، وأن جامعها ليس هناك، بل هو طالب للتشاعر، وشكّك فى مقابلة الرشيدىّ على نسخة المؤلف.

وقد راجعت النسخة فوجدتها سليمة تغلب عليها الصحة، ووجدت بعض التقييدات أثرا لمراجعة الرشيدىّ، ويبدو أن سخط المطّلع على الكتاب حمله على نكران كل فضل للمؤلف والكاتب والمقابل.

وتقع هذه النسخة فى 596 ورقة، ومسطرتها 32 سطرا، وأرقام أوراقها هى المقيدة على طرّة الكتاب، وهى محفوظة بدار الكتب المصرية برقم 2112 تاريخ طلعت.

وقد رمزت لهذه النسخة بالرمز «ط».

3 - نسخة كتبت بخط نسخى، فى القرن العاشر، تنتهى بترجمة الحسين بن عبيد الله بن هبة الله بن حمزة القزوينىّ، من حرف الحاء، وتقع فى 139 ورقة، ومقاسها 27*19 سم، وهى مصورة من مكتبة سوهاج 376 تاريخ، ومحفوظة بمعهد المخطوطات، جامعة الدول العربية برقم 310 تاريخ.

وقد رمزت لهذه النسخة بالرمز «س».

4 - نسخة كتبت بخط نسخى، سنة 1085 هـ، وتقع فى 465 ورقة، ومسطرتها 33 سطرا، ومقاسها كبير، وهى مصورة عن مكتبة نور عثمانية 3391، ومحفوظة فى معهد
- লাম -

 

তিউনিসিয়ার আবদুল ওয়াহহাবের নিকট সংরক্ষিত, আর এই পাণ্ডুলিপিটিতে কিছু জীবনীতে ঘাটতি রয়েছে এবং এর কিছু পৃষ্ঠা হারিয়ে গেছে, যার বিবরণ বইটির টীকাগুলোতে দেওয়া হয়েছে।

আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে 'সোয়াদ' সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

২ - এটি একটি উন্নত নাসখ লিপিতে লিখিত পাণ্ডুলিপি, যার কিছু অংশ হরকতসহ সুবিন্যস্ত। এটি লিখেছেন আবদুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মাদ জয়নুল আবেদিন বিন মুহাম্মাদ শামসুদ্দিন আল-খাতিব (বংশসূত্রে), ইদকাভি (শহরসূত্রে) এবং শাফেয়ি (মাজহাবসূত্রে)। তিনি ১০২৫ হিজরি সালের জুমাদিউল আখিরা মাসের দশম দিন বৃহস্পতিবার এর অনুলিপি সম্পন্ন করেন। পাণ্ডুলিপিটির ওপর মানসুর বিন আবদুল লতিফ আর-রাশিদি আল-আযহারি আশ-শাফেয়ি কর্তৃক একটি সংশোধন (মুকাবালা) সম্পন্ন হয়েছে। এটি লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে একটি প্রশংসনীয়, নিখুঁত এবং উপকারী সংশোধন ছিল, যা ১০২৭ হিজরি সালের সফর মাসের তেইশ তারিখ সোমবার সকালে সমাপ্ত হয়।

আল-হাসান নামে পরিচিত এক ব্যক্তি পাণ্ডুলিপিটি পাঠ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, পাণ্ডুলিপিটি ত্রুটিপূর্ণ এবং এর সংকলক সেখানে দক্ষ ছিলেন না, বরং তিনি কবি সাজার চেষ্টাকারী একজন ছাত্র মাত্র; তিনি লেখকের পাণ্ডুলিপির সাথে রাশিদির করা সংশোধনের ব্যাপারেও সন্দেহ পোষণ করেছেন।

আমি পাণ্ডুলিপিটি পর্যালোচনা করেছি এবং এটিকে নির্ভুল পেয়েছি যাতে বিশুদ্ধতাই প্রবল। এতে রাশিদির সংশোধনের চিহ্ন হিসেবে কিছু টীকাও আমি পেয়েছি। মনে হচ্ছে, কিতাবটি পাঠকারীর বিদ্বেষ তাকে লেখক, লিপিকার এবং সংশোধনকারীর সকল গুণ অস্বীকার করতে প্ররোচিত করেছে।

এই পাণ্ডুলিপিটি ৫৯৬টি পৃষ্ঠা সম্বলিত, যার প্রতি পৃষ্ঠায় ৩২টি করে লাইন রয়েছে। এর পৃষ্ঠা নম্বরগুলো বইটির মলাটে লিপিবদ্ধ আছে এবং এটি মিশরের দারুল কুতুব-এ '২১১২ তারিখ তালাত' নম্বরে সংরক্ষিত।

আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে 'ত' সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

৩ - দশম শতাব্দীতে নাসখ লিপিতে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি, যা 'হা' বর্ণমালার অধীনে হুসাইন বিন উবাইদুল্লাহ বিন হিবাতুল্লাহ বিন হামজা আল-কাযভিনি-এর জীবনী দিয়ে শেষ হয়েছে। এটি ১৩৯টি পৃষ্ঠা সম্বলিত এবং এর আকার ২৭*১৯ সেমি। এটি সোহাগ লাইব্রেরির '৩৭৬ ইতিহাস' থেকে সংগৃহীত এবং আরব লীগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে '৩১০ ইতিহাস' নম্বরে সংরক্ষিত।

আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে 'সিন' সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

৪ - ১০৮৫ হিজরি সালে নাসখ লিপিতে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি। এটি ৪৬৫টি পৃষ্ঠা সম্বলিত, যার প্রতি পৃষ্ঠায় ৩৩টি লাইন রয়েছে। এর আকার বেশ বড়। এটি 'নূর উসমানিয়া ৩৩৯১' লাইব্রেরি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে এবং এটি ইনস্টিটিউটে সংরক্ষিত...
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
- م -

 

المخطوطات، جامعة الدول العربية، برقم 310 تاريخ.

وقد رمزت لهذه النسخة بالرمز «ن».

5 - نسخة تشتمل على الكنى والأنساب والألقاب والبنين، كتبت بخط نسخى، كتبها عبد الجواد بن على الأبيارىّ، وكان الفراغ من كتابتها فى أوائل شهر ذى القعدة سنة 1046 هـ. (كتبت هكذا سنة 146 .. )، وتقع في 83 ورقة، ومسطرتها 25 سطرا، وهى محفوظة بدار الكتب المصرية، برقم 2065 تاريخ طلعت.

وقد رمزت لهذه النسخة بالرمز «ك».

وقد اهتديت فى عملى أيضا بنسختين، رجعت إليهما لماما، ولم أشر إلى موطن الرجوع؛ لاتفاقهما مع النسخ الأخرى، ولتأخّرهما، وهما:

1 - نسخة كتبت بخط نسخى، سنة 1275 هـ، بخط أحمد بن الجزايرلى، وهى فى جزءين كل منهما فى 300 ورقة، ومسطرتها 27 سطرا، وهى محفوظة بدار الكتب المصرية، برقم 55 مكتبة حليم.

2 - نسخة كتبت بخط نسخى، سنة 1284 هـ، وتقع فى أربعة أجزاء، الأول 593 صفحة، والثانى 520 صفحة، والثالث 587 صفحة، والرابع 503 صفحة، ومقاسها 20*15 سم، وهى محفوظة بدار الكتب المصرية برقم 540 تاريخ تيمور.

وقد اعتمدت قسم الكنى والألقاب والأنساب والأبناء من هذه النسخة للمراجعة مع النسخة «ك» ورمزت إليه بالرمز «ت».

وهاتان النسختان الأخيرتان مصورتان فى معهد المخطوطات، جامعة الدول العربية، برقم 310 تاريخ،1124 تاريخ.

*** أما بعد، فإنى أضرع إلى الله عز وجل أن يوفقنى إلى إخلاص النية فى هذا العمل، وأن يرزقنى الصبر عليه والإتقان له، وأن يجزل لى ثوابه، وأن يعم المسلمين بنفعه، إنه سميع مجيب.

 

عبد الفتاح محمد الحلو

القاهرة فى 29 من ذى القعدة 1388 هـ.(1)

16 من فبراير 1969 هـ.

--------------------------------------------

(1) هذا تاريخ الصدور الأول.
- ম -

 

পাণ্ডুলিপি বিভাগ, আরব লিগ, ৩১০ নম্বর ইতিহাস।

এই পাণ্ডুলিপিটিকে আমি ‘ন’ (নুন) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

৫ - একটি পাণ্ডুলিপি যাতে উপনাম (কুনিয়া), বংশপরিচয়, লকব এবং সন্তানদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; এটি নাসখ লিপিতে আবদুল জাওয়াদ বিন আলী আল-আবইয়ারী কর্তৃক লিখিত। এটি লিখন সমাপ্ত হয়েছে ১০৪৬ হিজরি সনের জিলকদ মাসের শুরুতে (পাণ্ডুলিপিতে এভাবে ১৪৬ লেখা হয়েছে...), এটি ৮৩টি পত্র সম্বলিত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২৫টি সারি রয়েছে। এটি মিসরের জাতীয় গ্রন্থাগারে (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ) ‘তালাত ইতিহাস’ বিভাগে ২০৬৫ নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে।

এই পাণ্ডুলিপিটিকে আমি ‘ক’ (কাফ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

আমি আমার এই কাজে আরও দুটি পাণ্ডুলিপির সাহায্য নিয়েছি, যা আমি মাঝেমধ্যে দেখেছি। তবে আমি সেগুলোর রেফারেন্স প্রদান করিনি; কারণ অন্যান্য পাণ্ডুলিপির সাথে সেগুলোর মিল রয়েছে এবং সেগুলো পরবর্তী সময়ের। সেই দুটি হলো:

১ - এটি নাসখ লিপিতে ১২৭৫ হিজরি সনে আহমদ বিন আল-জাজাইরলি কর্তৃক লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি। এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্রতিটি খণ্ড ৩০০টি পত্র সম্বলিত। এর প্রতি পৃষ্ঠায় ২৭টি সারি রয়েছে। এটি মিসরের জাতীয় গ্রন্থাগারে ‘হালিম লাইব্রেরি’ বিভাগে ৫৫ নম্বরে সংরক্ষিত।

২ - এটি নাসখ লিপিতে ১২৮৪ হিজরি সনে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি যা চার খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ড ৫৯৩ পৃষ্ঠা, দ্বিতীয় খণ্ড ৫২০ পৃষ্ঠা, তৃতীয় খণ্ড ৫৮৭ পৃষ্ঠা এবং চতুর্থ খণ্ড ৫০৩ পৃষ্ঠা। এর আকার ২০*১৫ সেমি। এটি মিসরের জাতীয় গ্রন্থাগারে ‘তাইমুর ইতিহাস’ বিভাগে ৫৪০ নম্বরে সংরক্ষিত।

আমি ‘ক’ পাণ্ডুলিপির সাথে পর্যালোচনার জন্য এই পাণ্ডুলিপিটির উপনাম, লকব, বংশপরিচয় ও সন্তানদের নামের অংশের ওপর নির্ভর করেছি এবং এটিকে ‘ত’ (তা) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

শেষোক্ত এই পাণ্ডুলিপি দুটির মাইক্রোফিল্ম আরব লিগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে ৩১০ ইতিহাস ও ১১২৪ ইতিহাস নম্বরে সংরক্ষিত আছে।

*** অতঃপর, আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট বিনীত প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাকে এই কাজে নিয়তের একাগ্রতা (ইখলাস) নসিব করেন, আমাকে ধৈর্য ও নিপুণতা দান করেন, আমাকে এর ভরপুর সওয়াব দান করেন এবং এর দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী।

 

আবদ আল-ফাত্তাহ মুহাম্মদ আল-হিলু

কায়রো, ২৯ জিলকদ ১৩৮৮ হিজরি।(১)

১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ।

--------------------------------------------

(১) এটি প্রথম প্রকাশের তারিখ।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
- ن -

 

الصفحة الأولى من النسخة «ص»، المحفوظة بمعهد المخطوطات، برقم 1124 تاريخ
- ন -

 

পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে ১১২৪ ইতিহাস নম্বরে সংরক্ষিত ‘স’ পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
- س -

 

الصفحة الأخيرة من النسخة «ص»، المحفوظة بمعهد المخطوطات، برقم 1124 تاريخ
- সোয়াদ -

 

পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে সংরক্ষিত ১১২৪ নং ইতিহাসভুক্ত 'সোয়াদ' পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
- ع -

 

الصفحة الأولى من النسخة «ط»، المحفوظة بدار الكتب المصرية، برقم 2112 تاريخ طلعت
- আ -

 

মিশরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যা-তে সংরক্ষিত ২১১২ নম্বর ‘তারীখে তালাত’ (সংগ্রহের) ‘ত্ব’ পাণ্ডুলিপিটির প্রথম পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
- ف -

 

الصفحة الأخيرة من النسخة «ط»، المحفوظة بدار الكتب المصرية، برقم 2112 تاريخ طلعت
- ফা -

 

দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যা-তে ২১১২ নম্বর তালাত ইতিহাস (তারিখ তালাত) হিসেবে সংরক্ষিত ‘ত্ব’ পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
- ص -

 

اللوحة الأولى من النسخة «س»، المحفوظة بمعهد المخطوطات، برقم 310 تاريخ
- পৃষ্ঠা -

 

পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে সংরক্ষিত, ৩১০ নম্বর ইতিহাস ভুক্ত ‘সিন’ অনুলিপির প্রথম পাতা।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
- ق -

 

اللوحة الأخيرة من النسخة «س»، المحفوظة بمعهد المخطوطات، برقم 310 تاريخ
- ক -

 

পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে ৩১০ নম্বর ইতিহাস হিসেবে সংরক্ষিত ‘স’ পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পাতা।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الطبقات السنية في تراجم الحنفية   (تقي الدين ابن عبد القادر التميمي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الطبقات السنية في تراجم الحنفية

المؤلف: المولى تقي الدين بن عبد القادر التميمي الداري الغزي المصري الحنفي (ت 1010 هـ)

المحقق: عبد الفتاح محمد الحلو [ت 1414 هـ]

الناشر: دار الرفاعي - الرياض، السعودية

الطبعة: الطبعة: الأولى، (1403 - 1410 هـ) = (1983 - 1989 م)

عدد الأجزاء: 4

تنبيه: هذه الطبعة تشتمل على نصف الكتاب فقط، وتوفي المحقق قبل طبع بقيته

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়্যাহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ   (তাকিউদ্দীন ইবনে আব্দুল কাদির আত-তামিমী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়্যাহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ

লেখক: আল-মাওলা তাকিউদ্দীন বিন আব্দুল কাদির আত-তামিমী আদ-দারী আল-গাজ্জী আল-মিসরী আল-হানাফী (মৃত্যু ১০১০ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল ফাত্তাহ মুহাম্মদ আল-হিলউ [মৃত্যু ১৪১৪ হিজরি]

প্রকাশক: দারুর রিফাই - রিয়াদ, সৌদি আরব

সংস্করণ: সংস্করণ: প্রথম, (১৪০৩ - ১৪১০ হিজরি) = (১৯৮৩ - ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ)

খণ্ড সংখ্যা: ৪

সতর্কবার্তা: এই সংস্করণে কেবল বইটির অর্ধেক অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এবং বাকি অংশ ছাপার পূর্বেই সম্পাদক ইন্তেকাল করেন

[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدّين كله ولو كره المشركون، وأيّده بأصحاب كالنجوم يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر وبهم أصحاب الضلالة يهتدون، وأتبعهم بعلماء كأنبياء بنى إسرائيل يعلّمون الناس من شريعة نبيّهم ما يجهلون، صلّى الله وسلّم عليه وعلى آله وصحبه، عدد ما كان، وما يكون، صلاة وسلاما دائمين متلازمين إلى يوم يبعثون.

وبعد؛ فإنّ من أراد النجاة فى الدّارين، والسّعادة فى الحالين، والاتّباع بالإحسان، والإحسان باتّباع الأعيان، فعليه بسلوك طريقة من سلف من الأئمة المهتدين، والعلماء العاملين، والفضلاء المحقّقين والمحقّقين الفاضلين، ممّن لم يرد بالعلم مماراة ولا مباهاة، ولا مجادلة ولا مضاهاة، بل قصر ليله على العبادة، ونهاره على الإفادة، يقول الحقّ ويعمل به، ويفعل الخير ويرشد إليه، لا تأخذه فى الله لومة لائم، ولا يصدّه عن الحقّ رهبة ظالم.

ولا سبيل إلى هذا السّبيل إلا بعد معرفتهم، والوقوف على جليّتهم، والإحاطة بأوصاف أخيارهم، والاطّلاع على جملة أخبارهم.

ولمّا(1) كان هذا أمرا يتعذّر، وعملا يتعسّر، بل لا يدخل تحت مقدور البشريّة، ولا يمكن إدراكه بالكليّة، وقد قيل: ما لا يدرك كلّه لا يترك كلّه، وواجب علينا أن نبدأ بالأهمّ، والأولى فالأولى.

وكان(2) من أهمّ المهمّات أن يعرف الشخص أوّلا من جعله(3) وسيلة فى الهداية بينه

--------------------------------------------

(1) فى ط، ن: «وقد»، والمثبت فى: ص.

(2) فى ط، ن: «فأقول»، والمثبت فى: ص.

(3) فى ط، ن: «جعل»، والمثبت فى: ص.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে একে অন্য সকল দীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে; এবং তিনি তাঁকে নক্ষত্রতুল্য সাহাবীগণের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন, যাঁরা সৎকাজের আদেশ দেন ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন এবং যাঁদের মাধ্যমে পথভ্রষ্টরা হিদায়াত লাভ করে; এবং তিনি তাঁদের অনুসারী হিসেবে এমন আলিমদের পাঠিয়েছেন যাঁরা বনী ইসরাঈলের নবীগণের ন্যায়, তাঁরা মানুষকে তাঁদের নবীর শরীয়ত থেকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দেন যা তারা জানে না; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন—যা অতীতে হয়েছে এবং যা ভবিষ্যতে হবে তার সমপরিমাণ—এমন দরূদ ও সালাম যা সর্বদা ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত চলতে থাকবে।

অতঃপর; নিশ্চয় যে ব্যক্তি উভয় জগতে মুক্তি এবং উভয় অবস্থায় সৌভাগ্য কামনা করে, আর ইহসানের সাথে অনুসরণ এবং মহান ব্যক্তিদের অনুসরণের মাধ্যমে ইহসান অর্জন করতে চায়, তার জন্য আবশ্যক হলো পূর্ববর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণ, আমলকারী আলিমগণ, গুণী গবেষকগণ এবং মর্যাদাবান সত্যানুসন্ধানীগণের পথ অনুসরণ করা; যাঁরা ইলমের মাধ্যমে বিতর্ক, অহংকার, ঝগড়া কিংবা লোকদেখানো কোনো উদ্দেশ্য পোষণ করেননি; বরং তাঁরা তাঁদের রাতকে ইবাদতে এবং দিনকে মানুষের উপকারে ব্যয় করেছেন; তাঁরা সত্য বলেন ও সে অনুযায়ী আমল করেন এবং কল্যাণের কাজ করেন ও সেদিকে দিকনির্দেশনা দেন; আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দা তাঁদেরকে বিচলিত করে না এবং কোনো জালেমের ভয় তাঁদেরকে সত্য থেকে বিচ্যুত করে না।

আর এই পথে চলার কোনো উপায় নেই তাঁদেরকে চেনা, তাঁদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া, তাঁদের মধ্যকার উত্তম ব্যক্তিদের গুণাবলি আয়ত্ত করা এবং তাঁদের সামগ্রিক ইতিহাস ও ঘটনাবলি জানার ব্যতিরেকে।

যেহেতু(১) এটি একটি দুরুহ ব্যাপার এবং কঠিন কাজ, বরং যা মানুষের সাধ্যাতীত এবং যা সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করা অসম্ভব; আর বলা হয়ে থাকে যে: যা পূর্ণরূপে পাওয়া যায় না, তা পূর্ণরূপে ত্যাগ করা উচিত নয়; তাই আমাদের ওপর আবশ্যক হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দিয়ে শুরু করা এবং ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার প্রদান করা।

আর(২) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, একজন ব্যক্তি সর্বপ্রথম তাকে চিনবে যাকে সে(৩) নিজের ও হিদায়াতের মাঝে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে...

--------------------------------------------

(১) 'ত' ও 'ন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এবং অবশ্যই", আর 'স' পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা-ই মূল পাঠে রাখা হয়েছে।

(২) 'ত' ও 'ন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "অতঃপর আমি বলছি", আর 'স' পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা-ই মূল পাঠে রাখা হয়েছে।

(৩) 'ত' ও 'ন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "বানিয়েছেন", আর 'স' পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা-ই মূল পাঠে রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ١) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤)
وبين الله، وقلّده فيما يراه، وتبعه فيما يتحرّاه،(1) اقتضى الحال(1) على أن نقتصر على ذكر أئمّتنا الذين بهم نهتدى، وبأقوالهم وأفعالهم نقتدى.

وهم(2) إمام الأئمّة، وسراج الأمة(3) وأمين الله تعالى على حفظ شريعته فى أرضه، والمميّز لعباده بين واجبه وفرضه(3)، أبو حنيفة النعمان(4) بن ثابت(4) الكوفىّ(5)، تغمده الله بالرحمة والرّضوان، وأسكنه فسيح الجنان(5)، وأصحابه الذين أخذوا عنه، واقتدوا به، واتّبعوه بإحسان، إلى زمننا هذا، رضى الله تعالى عنهم أجمعين؛ فإن فيهم كفاية، لمن أراد الهداية، ونهاية، لمن أراد الدّراية، وليس فى أصحاب المذاهب أجلّ منهم، ولا أحد

2 - وعاصرهم أو جاء بعدهم يستغنى عنهم،/فالناس خصوصا فى الفقه عيال عليهم، وفى الرّحلة أجلّ من تضرب أكباد(6) الإبل إليهم، ما تركوا علما يمكن تعلّمه إلاّ حصّلوه، ولا فعلا محمودا إلا فعلوه.

وقد صنّف(7) فى مناقبهم وفضائلهم وطبقاتهم، كتب كثيرة، ومجلدات كبيرة، غير أن تقادم الزمان أخلق جدّتها، وأنقص عدّتها؛ فإن غالبها كان بالعراقين مقرّه، وبدار السّلام مثواه ومستقرّه، وكان منها أيضا بما وراء النهر، ما لا يدخل تحت الحصر، ممّا حال بيننا وبينه بعد المراحل، وانقطاع القوافل، وتداول الفتن، وتناوب صروف الزمن، وضاعت الكتب، بعضها بالإغراق، وبعضها بالإحراق، واندرست الآثار، ونسيت الأخبار، وأصيب الإسلام وأهله، فانا لله وإنا إليه راجعون.

فخطر(8) فى خلدى أن أجمع كتابا مفردا، جامعا لتراجم السّادة الحنفيّة، مستوفيا لأخبارهم وفضائلهم ومناقبهم، وذكر مؤلّفاتهم ومصنّفاتهم، ومحاسن أشعارهم، ونوادر

--------------------------------------------

(1 - 1) فى ط: «فعزمنا على»، وفى ن: «فعزمنا»، والمثبت فى: ص.

(2) فى ط، ن: «فأولهم» والمثبت فى: ص.

(3 - 3) ساقط من: ص، وهو فى: ط، ن.

(4 - 4) ساقط من: ط، ن، وهو فى: ص.

(5 - 5) ساقط من: ص، وهو فى: ط، ن.

(6) فى ط، ن: «آباط»، والمثبت فى: ص.

(7) فى ط، ن: «ألف الناس»، والمثبت فى: ص.

(8) من هنا إلى قوله: «لأن كل واحد» فى بيان قاعدة التاريخ التى شرحها المصنف، والتى تأتى فى صفحة ( .. )، أوراق ساقطة من: ص، وهى فى: ط، ن.
এবং আল্লাহর মধ্যে; আর তিনি যা সঠিক মনে করেছেন তাতে তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং তিনি যা অনুসন্ধান করেছেন তাতে তাঁর অনুগামী হয়েছেন।(১) বর্তমান পরিস্থিতি(১) এই দাবি করে যে, আমরা কেবল আমাদের সেই সকল ইমামদের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব যাদের মাধ্যমে আমরা হেদায়েত লাভ করি এবং যাদের কথা ও কাজের আমরা অনুসরণ করি।

তাঁরা(২) হলেন ইমামদের ইমাম, উম্মতের প্রদীপ(৩) এবং আল্লাহর জমিনে তাঁর শরিয়ত হেফাজতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বিশ্বস্ত আমানতদার, যিনি আল্লাহর বান্দাদের জন্য ওয়াজিব ও ফরজের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণকারী(৩); আবু হানিফা নুমান(৪) ইবনে সাবিত(৪) আল-কুফি(৫)। আল্লাহ তাঁকে রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন এবং জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে স্থান দান করুন(৫)। আরও রয়েছেন তাঁর সেই সকল সঙ্গী (ছাত্র) যারা তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং নিষ্ঠার সাথে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁর অনুগামী হয়েছেন; আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন। কারণ যারা হেদায়েত চায় তাদের জন্য তাঁদের মধ্যে যথেষ্ট পাথেয় রয়েছে এবং যারা প্রজ্ঞা ও সমঝ চায় তাদের জন্য তাঁরাই চূড়ান্ত লক্ষ্য। মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে তাঁদের চেয়ে মহান আর কেউ নেই, আর তাঁদের সমসাময়িক

২ - কিংবা পরবর্তী যুগের এমন কেউ নেই যারা তাঁদের থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে। বস্তুত মানুষ বিশেষ করে ফিকহ শাস্ত্রে তাঁদের মুখাপেক্ষী। জ্ঞান অর্জনের সফরে তাঁরাই সেই মহান ব্যক্তিত্ব যাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য উটের পিঠ সঞ্চালিত করে দূর-দূরান্ত পাড়ি দেওয়া হয়(৬)। তাঁরা এমন কোনো ইলম বাদ দেননি যা শেখা সম্ভব ছিল অথচ তাঁরা তা অর্জন করেননি, আর এমন কোনো প্রশংসনীয় কাজ নেই যা তাঁরা করেননি।

তাঁদের গুণাবলি, ফজিলাত এবং স্তর বিন্যাস সম্পর্কে(৭) অনেক কিতাব ও বড় বড় খণ্ড রচিত হয়েছে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেগুলোর নতুনত্ব ম্লান হয়ে গেছে এবং সংখ্যাও কমে গেছে। কারণ সেগুলোর অধিকাংশের মূল কেন্দ্র ছিল দুই ইরাক এবং আবাসস্থল ও স্থিতি ছিল দারুস সালামে (বাগদাদে)। এর বাইরে মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলেও এমন অনেক কিতাব ছিল যা গণনার বাইরে। কিন্তু আমাদের ও সেই কিতাবগুলোর মাঝে দীর্ঘ দূরত্ব, কাফেলা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া, উপর্যুপরি ফেতনা এবং যুগের বিবর্তন অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বহু কিতাব হারিয়ে গেছে—কিছু পানিতে ডুবে আর কিছু আগুনে পুড়ে। ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো বিলীন হয়ে গেছে এবং ঘটনাবলি বিস্মৃত হয়েছে। ইসলাম ও মুসলমানরা বিপদাক্রান্ত হয়েছে; সুতরাং আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তাঁরই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন।

অতঃপর আমার মনে উদয় হলো(৮) যে, আমি একটি স্বতন্ত্র কিতাব সংকলন করি যা হানাফি উলামায়ে কেরামের জীবনীর ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহ হবে; যেখানে তাঁদের ঘটনাবলি, মর্যাদা ও গুণাবলি পূর্ণাঙ্গরূপে স্থান পাবে এবং তাঁদের রচিত গ্রন্থাবলি ও সংকলনসমূহ, সুন্দর কাব্যসমূহ ও দুর্লভ বিষয়াবলির উল্লেখ থাকবে...

--------------------------------------------

(১ - ১) 'ত' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আমরা সংকল্প করেছি", 'ন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আমরা সংকল্প করেছি", এবং যা মূল পাঠে রাখা হয়েছে তা 'স' পাণ্ডুলিপির।

(২) 'ত' ও 'ন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তাদের প্রথমজন", এবং মূল পাঠে যা রয়েছে তা 'স' পাণ্ডুলিপির।

(৩ - ৩) 'স' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে, তবে 'ত' ও 'ন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে।

(৪ - ৪) 'ত' ও 'ন' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে, তবে 'স' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে।

(৫ - ৫) 'স' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে, তবে 'ত' ও 'ন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে।

(৬) 'ত' ও 'ন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "বগল" (অর্থাৎ উটের বগলে আঘাত করে দ্রুত চালানো), মূল পাঠটি 'স' পাণ্ডুলিপির।

(৭) 'ত' ও 'ন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "মানুষ রচনা করেছে", মূল পাঠটি 'স' পাণ্ডুলিপির।

(৮) এখান থেকে লেখকের বলা "কারণ প্রত্যেক ব্যক্তি" পর্যন্ত ইতিহাসের নিয়ম বর্ণনায় যা লেখক ব্যাখ্যা করেছেন এবং যা (..) পৃষ্ঠায় আসবে—এই অংশগুলো 'স' পাণ্ডুলিপি থেকে হারিয়ে গেছে, তবে 'ত' ও 'ন' পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ١) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
أخبارهم، وغير ذلك، بحسب الطّاقة، ونهاية القدرة، وإلاّ فهم ممّن لا يمكن حصره، ولا يطمع فى الإحاطة به، ولا فى الوصول إليه.

فانتخبت ذلك من الكتب المعتبرة، التى يرجع فى النّقل إليها، ويعوّل فى الرواية عليها؛ من ذلك:

«تاريخ الخطيب البغدادىّ».

«تاريخ ابن خلّكان».

«تاريخ ابن كثير».

«الدّرر الكامنة فى أعيان المائة الثامنة»، للحافظ ابن حجر.

«إنباء الغمر بأنباء العمر» له أيضا.

«رفع الإصر عن قضاة مصر» له أيضا.

ذيله، المسمّى ب «بغية العلماء والرّواة» لتلميذه الشيخ شمس الدّين السّخاوىّ.

«طبقات اللغويّين والنحاة»، للحافظ جلال الدّين السّيوطىّ.

«طبقات المفسّرين»، له أيضا.

«نظم العقيان فى أعيان الأعيان»، له أيضا.

«الرّوض البسّام فى من ولى قضاء الشام»، لأحمد بن اللبودىّ(1).

«الجواهر المضيّة فى طبقات الحنفيّة»، للشيخ عبد القادر القرشىّ، وهي أكبر طبقات وقفت عليها لأئمّتنا السّادة الحنفيّة، مع أنها مختصرة بالنسبة إلى شأن من صنّفت فى حقّهم.

«طبقات الحنفية»، للشهاب المقريزىّ(2).

«طبقات الحنفية»، للشيخ قاسم بن قطلوبغا الحنفىّ.

--------------------------------------------

(1) أبو العباس أحمد بن خليل اللبودى، المتوفى نحو سنة خمس وأربعين وتسعمائة.

واللبودى: نسبة إلى عمل اللبود، وكان أبو العباس من أهل صالحية دمشق، وبدمشق موضع يقال له اللبادين، نسبة إلى عمل اللبود من الصوف، وهذا الموضع مشرف على باب جيرون.

معجم البلدان 4/ 345، هدية العارفين 1/ 143.

(2) المقريزى هو تقى الدين فى جميع مصادر ترجمته، وقد تبع المؤلف صاحب تاج التراجم، فلقبه شهاب الدين، انظر تاج التراجم 3.
তাদের সংবাদ এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ, সামর্থ্য অনুযায়ী এবং সাধ্যের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত। অন্যথায়, তাঁরা এমন যাঁদের সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব নয় এবং তাঁদের সকলকে বেষ্টন করা কিংবা তাঁদের পূর্ণ পরিচয় লাভ করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা করাও সম্ভব নয়।

সুতরাং আমি সেসব নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ হতে এগুলো চয়ন করেছি, উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে যেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয় এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে যেগুলোর ওপর নির্ভর করা হয়। তার মধ্যে রয়েছে:

«খতীব আল-বাগদাদীর ইতিহাস»।

«ইবনে খাল্লিকানের ইতিহাস»।

«ইবনে কাসীরের ইতিহাস»।

হাফেজ ইবনে হাজার বিরচিত «আদ-দুরারুল কামিনাহ ফী আয়ানিল মায়াতিল সামিনাহ»।

তাঁরই রচিত «ইনবাউল গুমর বি-আনবাউল উমর»।

তাঁরই রচিত «রাফউল ইসর আন কুদাতিল মিসর»।

উক্ত গ্রন্থের পরিশিষ্ট, যার নাম «বুগইয়াতুল উলামা ওয়ার রুওয়াত», এটি তাঁর ছাত্র শায়খ শামসুদ্দীন আস-সাখাবীর রচনা।

হাফেজ জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতীর «তাবাকাতুল লুগাবিইয়্যিন ওয়ান নুহাত»।

তাঁরই রচিত «তাবাকাতুল মুফাসসিরীন»।

তাঁরই রচিত «নাযমুল উকইয়ান ফী আয়ানিল আয়ান»।

আহমাদ বিন আল-লাবূদীর «আর-রাওদুল বাসসাম ফী মান ওয়ালি কাদাআশ শাম»(১)।

শায়খ আব্দুল কাদির আল-কুরাশীর «আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ»; এটি আমাদের হানাফী মাযহাবের সম্মানিত ইমামগণের জীবনী সংক্রান্ত আমার দেখা সর্ববৃহৎ তাবাকাত গ্রন্থ, যদিও যাঁদের সম্মানে এটি সংকলিত হয়েছে তাঁদের শান ও মর্যাদার তুলনায় এটি সংক্ষিপ্ত।

শিহাব আল-মাকরীযীর «তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ»(২)।

শায়খ কাসিম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফীর «তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ»।

--------------------------------------------

(১) আবুল আব্বাস আহমাদ বিন খলীল আল-লাবূদী, যিনি আনুমানিক নয়শত পঁতাল্লিশ হিজরী সালে ইন্তেকাল করেন।

আল-লাবূদী: এটি 'লাবূদ' (পশমী কম্বল) তৈরির পেশার সাথে সম্পৃক্ত একটি নিসবত। আবুল আব্বাস দামেস্কের সালিহিয়া এলাকার অধিবাসী ছিলেন। দামেস্কে 'লাব্বাদীন' নামক একটি স্থান রয়েছে, যা পশম দিয়ে লাবূদ তৈরির পেশার কারণে এই নাম পেয়েছে। এই স্থানটি 'বাবু জাইরুন'-এর দিকে অবস্থিত।

মু'জামুল বুলদান ৪/৩৪৫, হাদিয়াতুল আরিফীন ১/১৪৩।

(২) মাকরীযী তাঁর জীবনীর সকল উৎস অনুসারে মূলত 'তাকীয়ুদ্দীন'। লেখক এখানে 'তাজুত তারাজিম' গ্রন্থের লেখকের অনুসরণ করে তাঁকে 'শিহাবুদ্দীন' উপাধিতে ভূষিত করেছেন। দেখুন: তাজুত তারাজিম ৩।
(খণ্ড: ١) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
«طبقات الفقهاء»، لأبى إسحاق الشّيرازىّ، وهي شاملة لسائر الفقهاء الكبار، والمجتهدين الأخيار، من أصحاب المذاهب المتّبعة، وغير المتّبعة، من الصّحابة، والتابعين وغيرهم، إلى الزمن الذى كان فيه، رحمه الله تعالى.

«يتيمة الدّهر»، للثّعالبىّ.

«تتمّة اليتيمة»، له أيضا

«دمية القصر»، للباخرزىّ.

«الخريدة» للعماد الكاتب.

«تاريخ قزوين» لأبى القاسم الرّافعىّ.

«تاريخ جرجان»، للحافظ السّهمىّ.

«تاريخ آل رسول» بغير ألف ولام، للخزرجىّ.

«معجم البلدان» لياقوت الحموىّ.

«طبقات المحدّثين»، للحافظ الذّهبىّ.

«تاريخ الإسلام» له أيضا.

«العبر» له أيضا.

«ذيل العبر»، للحافظ زين الدّين العراقىّ.

«ذيل الذّيل»، لولده الحافظ ولىّ الدّين العراقىّ.

«طبقات النحاة»، لابن قاضى شهبة.

«الوافي بالوفيات»، للصّلاح الصّفدىّ.

«أعيان العصر/وأعوان النّصر» له أيضا.

«الشّقائق»، لابن طاش كبرى.

«تهذيب الأسماء واللغات»، للإمام النّووىّ.

«تاريخ الصّعيد» للأدفوىّ.

«تاريخ اليافعىّ».

«أسماء شيوخ ابن حجر».

«أسماء شيوخ السّيوطىّ».

«مرآة الزمان»، لسبط ابن الجوزىّ.
আবু ইসহাক আশ-শিরাজীর ‘তাবাকাতুল ফুকাহা’, যা অনুসরণীয় এবং অ-অনুসরণীয় মাযহাবের সাহাবী, তাবিঈ এবং অন্যদের মধ্য থেকে বড় বড় ফকীহ এবং শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদদের অন্তর্ভুক্ত করে রচিত, তাঁর সময়কাল পর্যন্ত, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

আস-সা’লাবীর ‘ইয়াতীমাতুদ দাহর’।

তাঁরই রচিত ‘তাতিন্মাতুল ইয়াতীমা’।

আল-বাখারযীর ‘দুময়াতুল কাসর’।

আল-ইমাদ আল-কাতিবের ‘আল-খারীদা’।

আবুল কাসিম আর-রাফেয়ীর ‘তারিখে কাযভীন’।

হাফেজ আস-সাহমীর ‘তারিখে জুরজান’।

আল-খাযরাজীর ‘তারিখু আলি রাসুল’ (আলিফ এবং লাম ব্যতীত)।

ইয়াকুত আল-হামাভীর ‘মু’জামুল বুলদান’।

হাফেজ আয-যাহাবীর ‘তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন’।

তাঁরই রচিত ‘তারিখুল ইসলাম’।

তাঁরই রচিত ‘আল-ইবার’।

হাফেজ যাইনুদ্দীন আল-ইরাকীর ‘যাইলুল ইবার’।

তাঁর পুত্র হাফেজ ওয়ালীউদ্দীন আল-ইরাকীর ‘যাইলুয যাইলে’।

ইবনে কাযী শুহবার ‘তাবাকাতুন নুহাত’।

সালাহ আস-সাফাদীর ‘আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত’।

তাঁরই রচিত ‘আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর’।

ইবনে তাশ কুবরার ‘আশ-শাকায়িক’।

ইমাম আন-নববীর ‘তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত’।

আল-আদফুওয়ীর ‘তারিখে সা’ঈদ’।

‘তারিখে ইয়াফেয়ী’।

‘ইবনে হাজার এর উস্তাদগণের নাম’।

‘সুয়ূতী এর উস্তাদগণের নাম’।

সিবত ইবনুল জাওযীর ‘মিরআতুয যামান’।
(খণ্ড: ١) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
«الذيل على مرآة الزمان»، لليونينىّ.

«المنتظم» لابن الجوزىّ.

وغير ذلك من التواريخ، والطبقات والتراجم، وأسماء الرجال ودواوين الشعراء، ومجاميع الأدباء، ومن أفواه الثّقات، وأعيان الرّواة، ولا أنقل شيئا إلا بعد أن يشهد له العقل والنّقل، وغلبة الظنّ بالصحة.

وقد صدّرت هذا الكتاب بمقدمة، تشتمل على بيان من ألّفته باسمه، وعملته برسمه، وعلى فوائد مهمّة، تتعلق بفنّ التاريخ، لا يسع المؤرّخ جهلها، وعلى بيان ما اصطلحت عليه في هذا الكتاب، وهى(1) مقدّمة تحتوى على أبواب وفصول، جعلها الله تعالى منتجة لكل خير، موصّلة لكل مأمول؛ بمنّه وكرمه.

وسمّيته «الطبقات السنيّة فى تراجم الحنفية».

نفع الله تعالى به، وأثاب عليه، بمنّه(2) وكرمه؛ إنه على كل ما يشاء قدير، وبالإجابة قمن وجدير.

--------------------------------------------

(1) فى ن: «وفى»، والمثبت فى: ط.

(2) ساقط من: ط، وهو فى: ن.
আল-ইউনিনি রচিত ‘আয-যাইল আলা মিরআতিয যামান’।

ইবনুল জাওযি রচিত ‘আল-মুনতাজাম’।

এবং এ ছাড়াও অন্যান্য ইতিহাসগ্রন্থ, তাবাকাত (পর্যায়ক্রমিক জীবনী), জীবনীগ্রন্থ, আসমাউর রিজাল (বর্ণনাকারীদের পরিচয়), কবিদের কাব্যসংগ্রহ, সাহিত্যিকদের সংকলনসমূহ থেকে এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মুখনিঃসৃত কথা ও বিশিষ্ট বর্ণনাকারীদের থেকে [তথ্য সংগ্রহ করেছি]। আমি কোনো কিছুই উদ্ধৃত করি না যতক্ষণ না বিচারবুদ্ধি ও বর্ণনা (নকল) তার সপক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং তার বিশুদ্ধতার বিষয়ে প্রবল ধারণা জন্মে।

আমি এই কিতাবটি একটি মুখবন্ধের মাধ্যমে শুরু করেছি, যার মধ্যে রয়েছে—যার নামে আমি এটি রচনা করেছি এবং যার সস্মৃতিতে এটি তৈরি করেছি তার বিবরণ; ইতিহাসতত্ত্ব সংশ্লিষ্ট এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞাতব্য বিষয়, যা কোনো ঐতিহাসিকের পক্ষে না জানা সংগত নয়; এবং এই কিতাবে আমি যে পরিভাষাগুলো গ্রহণ করেছি তার বর্ণনা। এটি এমন এক ভূমিকা যা বিভিন্ন অধ্যায় ও অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত। আল্লাহ তাআলা তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে একে সকল কল্যাণের ফলদায়ক এবং প্রতিটি প্রত্যাশা অর্জনের মাধ্যম করে দিন।

আমি এর নামকরণ করেছি ‘আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ ফি তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ’।

আল্লাহ তাআলা তাঁর দয়া ও করুণায় এর দ্বারা উপকার দান করুন এবং এর ওপর সওয়াব দান করুন; নিশ্চয়ই তিনি যা চান তার ওপর সর্বশক্তিমান এবং দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত যোগ্য ও উপযুক্ত।

--------------------------------------------

(১) ‘নুন’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘ওয়া ফি’ (এবং এতে), আর যা মূল পাঠে রাখা হয়েছে তা ‘ত্ব’ পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান।

(২) ‘ত্ব’ পাণ্ডুলিপি থেকে এটি বাদ পড়েছে, তবে এটি ‘নুন’ পাণ্ডুলিপিতে আছে।
(খণ্ড: ١) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌باب

فى بيان من ألّفته باسمه، وعملته برسمه

وهو صاحب القرآن السّعيد، وسلطان الأوان المديد، وإسكندر الزمان، وفخر آل عثمان، من تفتخر الملوك بتقبيل أعتابه، وتتباهى السّلاطين بخدمة أبوابه، ومن أنام الأنام فى ظلّ عدله، وأحيا موات العدم بوافر إحسانه وفضله، ونصر الدّين المحمّدىّ وأقام مناره، وخفض كلمة الباطل وأذهب شعاره، وشمل شمل الكفر بعزتّه كلّ خزى ونكال، وتسلّط على ذويه كلّ قهر ووبال.

فلم يبق غراب إلا غربت شمسه، ولا مقاتل إلاّ وسالت على الصّوارم نفسه، ولا ذهب إلا ذهب إلى خزائنه المعمورة، ولا حريم لهم(1) إلا وقد هتكت حرمته المستورة، ولا قلعة إلاّ قلعت من أصولها، ولا قافلة إلا قطعت عن قفولها.

وأطلق سيوفه الباترة، في أعناق طغاة الرّوافض الفاجرة، فما أبقى لهم شملا إلاّ بدّده(2)، ولا جمعا إلاّ أفرده(3) ولا قوة إلا أضعفها، ولا مهجة إلا أتلفها.

وأصبح الرّفض مرفوضا وناصره … في ذلة وإمام الحقّ قاهره

وشوكة السّنة الغرّاء قد قويت … فكلّ قطر بها تزهى منابره

وهو السّلطان الأعظم، والخاقان الأكرم؛ سيف الله القاطع، وشهابه اللامع، والمحامى عن دينه والمدافع، والذّابّ عن حرمه والممانع، السّلطان مراد خان(4)، أدام الله دولته إلى آخر الزمان، ابن السّلطان سليم خان، ابن السّلطان سليمان خان، ابن السّلطان سليم خان ابن السّلطان بايزيد خان، ابن السّلطان محمّد خان-فاتح قسطنطينيّة، حماها الله

--------------------------------------------

(1) ساقط من: ط، وهو فى: ن.

(2) فى ط: «أبدره»، والمثبت فى: ن.

(3) فى ط: «فرره»، والمثبت فى: ن.

(4) تولى السلطان مراد الحكم سنة اثنتين وثمانين وتسعمائة، وتوفى سنة ثلاث بعد الألف، وكان له اشتغال ومشاركة فى بعض العلوم، وله شعر بليغ بالعربية والفارسية والتركية، وكان يميل إلى علم التصوف، محبا للعلماء، تقيا. وكانت وفاته عن خمس وخمسين سنة.

حقائق الأخبار 1/ 564 - 568، خلاصة الأثر 4/ 341 - 354.
পরিচ্ছেদ

যার নামে আমি এটি রচনা করেছি এবং যার সম্মানে এটি প্রস্তুত করেছি তার বর্ণনায়

তিনি হলেন সৌভাগ্যবান যুগ-অধিপতি, দীর্ঘ সময়ের সুলতান, সমসাময়িক আলেকজান্ডার এবং উসমানীয় বংশের গৌরব; যাঁর চৌকাঠ চুম্বন করতে সম্রাটগণ গর্ববোধ করেন এবং যাঁর দ্বারে সেবা করতে সুলতানগণ অহংকার করেন। যিনি তাঁর ন্যায়ের ছায়ায় সৃষ্টিজগতকে শান্তিতে রেখেছেন এবং তাঁর অঢেল করুণা ও অনুগ্রহের মাধ্যমে মৃতপ্রায় অস্তিত্বকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তিনি মুহাম্মদী দ্বীনকে সাহায্য করেছেন এবং এর আলোকবর্তিকা সমুন্নত করেছেন; বাতিলের বাণীকে অবদমিত করেছেন এবং এর চিহ্ন মুছে ফেলেছেন। তিনি তাঁর প্রতাপের মাধ্যমে কুফরের সমাবেশকে চরম লাঞ্ছনা ও শাস্তির অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এর অনুসারীদের ওপর প্রবল আধিপত্য ও দুর্ভোগ চাপিয়ে দিয়েছেন।

ফলে কোনো কাক (শত্রু) অবশিষ্ট থাকেনি যার সূর্য অস্তমিত হয়নি, এমন কোনো যোদ্ধা বাকি নেই যার প্রাণ ধারালো তলোয়ারের আঘাতে ঝরে পড়েনি। কোনো স্বর্ণ অবশিষ্ট থাকেনি যা তাঁর সমৃদ্ধ কোষাগারে জমা হয়নি। তাদের এমন কোনো অন্তঃপুর নেই যার গোপন মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়নি। এমন কোনো দুর্গ নেই যা তার শিকড় থেকে উপড়ে ফেলা হয়নি এবং এমন কোনো কাফেলা নেই যা তার প্রত্যাবর্তন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি।

এবং তিনি তাঁর ধারালো তলোয়ারগুলোকে পাপাচারী রাফেজি বিদ্রোহীদের ঘাড়ে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। তিনি তাদের এমন কোনো গোষ্ঠী অবশিষ্ট রাখেননি যা তিনি ছিন্নভিন্ন করেননি, এমন কোনো সমাবেশ রাখেননি যা তিনি বিচ্ছিন্ন করেননি, এমন কোনো শক্তি রাখেননি যা তিনি দুর্বল করেননি এবং এমন কোনো প্রাণ রাখেননি যা তিনি ধ্বংস করেননি।

ফলে রাফেজি মতবাদ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং তার সাহায্যকারী... অপমানে নিমজ্জিত হয়েছে, আর সত্যের ইমাম তার ওপর বিজয়ী হয়েছেন।

উজ্জ্বল সুন্নাহর প্রতাপ শক্তিশালী হয়েছে... যার ফলে প্রতিটি অঞ্চলের মিম্বরসমূহ তার দ্বারা সুশোভিত হয়েছে।

তিনি হলেন মহান সুলতান এবং অত্যন্ত সম্মানিত খাকান; আল্লাহর ধারালো তলোয়ার এবং তাঁর প্রদীপ্ত উল্কাপিন্ড। তিনি আল্লাহর দ্বীনের রক্ষক ও সাহায্যকারী এবং তাঁর পবিত্র স্থানসমূহের হেফাযতকারী ও প্রতিরোধক। তিনি সুলতান মুরাদ খান, আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর রাষ্ট্রকে স্থায়ী রাখুন। তিনি সুলতান সেলিম খানের পুত্র, তিনি সুলতান সুলাইমান খানের পুত্র, তিনি সুলতান সেলিম খানের পুত্র, তিনি সুলতান বায়েজিদ খানের পুত্র, তিনি সুলতান মুহাম্মদ খানের পুত্র—যিনি কনস্টান্টিনোপল বিজয়ী, আল্লাহ একে রক্ষা করুন।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি 'ত' থেকে বাদ পড়েছে, তবে এটি 'ন' পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান।

(২) পাণ্ডুলিপি 'ত'-তে রয়েছে: 'আবদারা-হু', আর 'ন' পাণ্ডুলিপিতে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা-ই গ্রহণ করা হয়েছে।

(৩) পাণ্ডুলিপি 'ত'-তে রয়েছে: 'ফাররা-হু', আর 'ন' পাণ্ডুলিপিতে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা-ই গ্রহণ করা হয়েছে।

(৪) সুলতান মুরাদ ৯৮২ হিজরিতে শাসনভার গ্রহণ করেন এবং ১০০৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। বিভিন্ন বিদ্যায় তাঁর চর্চা ও অংশগ্রহণ ছিল। আরবি, ফারসি ও তুর্কি ভাষায় তাঁর প্রাঞ্জল কবিতা রয়েছে। তিনি তাসাউফ শাস্ত্রের প্রতি অনুরাগী, আলেমদের প্রতি প্রীতিভাজন এবং মুত্তাকী ছিলেন। পঞ্চান্ন বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

হাকায়িকুল আখবার ১/ ৫৬৪ - ৫৬৮, খুলাসাতুল আসার ৪/ ৩৪১ - ৩৫৪।
(খণ্ড: ١) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
عن كل آفة وبليّة-ابن السّلطان مراد خان، ابن السلطان محمّد خان، ابن السّلطان بايزيد خان، ابن السّلطان مراد خان الغازى، ابن السّلطان أورخان، ابن السّلطان عثمان الغازى، الذى تنسب إليه هذه السّلاطين. أدام الله/أيّام دولتهم، وخلّد أوقات سعادتهم، ورحم أوّلهم، ونصر آخرهم، ولا ردّ لهم راية عن غاية، ولا حساما عن نهاية.

ولا زالت أيّام هذا السّلطان فى سعادة وإقبال، وعظمة وإجلال؛ فإنه ما زال يقرّب أهل العلم من ساحة إحسانه، ويأويهم إلى كنف جوده وامتنانه، ويقابل محسنهم بالإحسان، ومسيئهم بالغفران، وفاضلهم بالإفضال، وكبيرهم بالإكرام والإجلال.

فرغب فى تحصيل العلوم من لم تكن له رغبة، وتأهّب للاشتغال من لم يكن عنده أهبة، وصار كلّ منهم يظهر بالتأليف مقدوره، ويبذل فى التّصنيف ميسوره، ويشرّف ما ألّفه وصنّفه، بخدمة سدّته السّنيّة، وأبوابه العليّة، ويبلغ به من إحسانه أقصى المرام والأمنيّة.

فأحببت أن أدخل نفسى فى عدادهم وإن لم أكن لذلك أهلا، وأضرب معهم فى الخدمة بسهم وإن لم أكن ممّن يعرف الضرب أصلا.

فالكريم يغضّ عن الزّلّة، والحليم يعفو عن الذنب؛ والخيار يستر العوار، والكلام يشرف بمن قيل فيه.

وقد شرّفت نظمى بمديحه، وقلت فيه قصيدة، أحببت أن أجعلها فى هذه المقدّمة مقدّمة، وفى هذه الترجمة مفخّمة.

وهى هذه:

دانت لهيبتك الأيّام والأمم … وقد أطاعك فيها السّيف والقلم

وليس يخرج عن أمر أمرت به … إلاّ شقىّ به قد زلّت القدم

وأصبح الجور لا يجار ولا … يلفى له فى جميع الأرض معتصم

والعدل فى كفّه ماض أشمّ به … من عصبة الظلم والعدوان ينتقم

لا يظلم الذئب شاة البرّ ليس لها … راع سواه وقد أودى به النّهم

هذا الذى قيل فى أمثال من سلفوا … من كثرة الأمن يمشى الذئب والغنم

يحصى الحصا قبل أن تحصى مآثره … والغيث يفنى ولا تفنى له نعم

يكاثر الرّمل فى الهيجاء عسكره … وكلّ من شئت منهم وحده أمم

هو المراد الذى ربّ العباد قضى … فى عالم الذّرّ أن يحيى به العدم
সমস্ত আপদ-বিপদ থেকে—সুলতান মুরাদ খান বিন সুলতান মুহাম্মদ খান বিন সুলতান বায়েজিদ খান বিন সুলতান মুরাদ খান আল-গাজী বিন সুলতান ওরখান বিন সুলতান উসমান আল-গাজী, যাঁর প্রতি এই সুলতানগণ সম্বন্ধযুক্ত। আল্লাহ তাঁদের শাসনকালকে দীর্ঘস্থায়ী করুন, তাঁদের সৌভাগ্যের মুহূর্তগুলোকে চিরস্থায়ী করুন, তাঁদের পূর্বসূরিদের প্রতি রহম করুন, তাঁদের উত্তরসূরিদের সাহায্য করুন, তাঁদের কোনো পতাকাকে লক্ষ্যচ্যুত না করুন এবং তাঁদের কোনো তলোয়ারকে নিস্ফল না করুন।

এই সুলতানের দিনগুলো সর্বদা সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি, মহিমা ও মর্যাদায় অতিবাহিত হতে থাকুক; কারণ তিনি সর্বদা জ্ঞানীদের তাঁর অনুগ্রহের আঙিনায় নিকটবর্তী করেন, তাঁদেরকে তাঁর দানশীলতা ও অনুগ্রহের ছায়ায় আশ্রয় দেন। তিনি তাঁদের সদাচারীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন, অপরাধীদের ক্ষমা করেন, গুণীদের মর্যাদা দান করেন এবং বড়দের সম্মান ও মহিমা প্রদান করেন।

ফলে জ্ঞান অর্জনে যাদের আগ্রহ ছিল না তারাও আগ্রহী হয়ে উঠেছে, এবং প্রস্তুতি ছিল না এমন ব্যক্তিরাও কাজে মনোনিবেশ করার জন্য তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকেই রচনার মাধ্যমে নিজ সামর্থ্য প্রকাশ করতে শুরু করেছেন এবং গ্রন্থ প্রণয়নে নিজ সাধ্য অনুযায়ী শ্রম ব্যয় করছেন। তাঁরা তাঁদের রচিত ও সংকলিত গ্রন্থসমূহ তাঁর মহিমান্বিত দরবার এবং উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন দ্বারে পেশ করার মাধ্যমে সম্মানিত করছেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর অনুগ্রহ থেকে পরম লক্ষ্য ও অভিপ্রায় লাভ করছেন।

তাই আমিও চাইলাম নিজেকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করতে যদিও আমি তার যোগ্য নই, এবং তাঁদের সাথে খিদমতে অংশ নিতে যদিও আমি মোটেও এই কাজে পারদর্শী নই।

কারণ উদার ব্যক্তি বিচ্যুতি উপেক্ষা করেন, ধৈর্যশীল ব্যক্তি অপরাধ ক্ষমা করেন; শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা দোষ গোপন করেন, আর যার সম্পর্কে কথা বলা হয়, তাঁর মাধ্যমেই কথা মহিমান্বিত হয়।

আমি আমার পদ্যকে তাঁর প্রশংসার মাধ্যমে সম্মানিত করেছি এবং তাঁর সম্পর্কে একটি কবিতা বলেছি, যেটিকে আমি এই মুখবন্ধের ভূমিকা এবং এই অনুবাদের গৌরব হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছি।

আর তা হলো এই:

কাল এবং জাতিসমূহ তোমার প্রতাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে … আর তোমার কাছে তলোয়ার ও কলম অনুগত হয়েছে

তোমার আদেশ করা কোনো নির্দেশ থেকে কেউ বিচ্যুত হয় না … কেবল সেই দুর্ভাগা ব্যতীত যার পা বিচ্যুত হয়েছে

জুলুম এখন অসহায় হয়ে পড়েছে এবং … সমগ্র পৃথিবীতে তার জন্য কোনো আশ্রয়স্থল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না

ন্যায়বিচার তাঁর হাতে অটলভাবে বহমান … যার মাধ্যমে তিনি অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনকারী দল থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন

নেকড়ে এখন প্রান্তরের মেষের ওপর জুলুম করে না যার … তুমি ব্যতীত আর কোনো রাখাল নেই, অথচ ক্ষুধার তীব্রতা তাকে প্রায় শেষ করে দিচ্ছিল

এটিই সেই কথা যা পূর্ববর্তীদের প্রবাদে বলা হতো … অতিশয় নিরাপত্তার কারণে নেকড়ে ও মেষ একত্রে বিচরণ করে

তাঁর কীর্তিসমূহ গণনা করার আগেই কংকরসমূহ গণনা করা সম্ভব … আর বৃষ্টি শেষ হয়ে যেতে পারে কিন্তু তাঁর নেয়ামতসমূহ ফুরাবে না

যুদ্ধের ময়দানে তাঁর সৈন্যবাহিনী বালুকণার চেয়েও সংখ্যায় অধিক … তাঁদের মধ্যে যাঁকেই তুমি চাও, সে একাই একটি জাতি (উম্মত)

তিনিই সেই মুরাদ (কাঙ্ক্ষিত), যাঁর ব্যাপারে বান্দাদের রব … রূহের জগতে ফয়সালা করেছেন যে, তাঁর মাধ্যমেই তিনি শূন্যতাকে প্রাণদান করবেন
(খণ্ড: ١) আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়াহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
وأن تعود به الدنيا كما بدئت … علما وعدلا وجودا دونه الدّيم

أما ترى العلم ينمو كلّ آونة … والجهل يزداد نقصا ليس ينكتم

أما ترى علم الإسلام مرتفعا … والكفر أصبح لا بند ولا علم

والمال فاض وفاض الباذلون له … وكلّ أرض على من حلّها حرم

يا آل عثمان يا من لا نظير لهم … بين الملوك وهل يرجى نظيرهم

يا من بأعتابهم من حين ما نصبت … شفاه كلّ ملوك الأرض تستلم

لم تصف للناس أيّام ولا سلمت … من التكدّر إلا فى زمانكم

فالله يبقى لأهل الأرض دولتكم … فإنّها دولة يحيى بها النّسم

والله يعيطكم ما لا يحيط به … وصف ولا عن مداه تفصح الكلم

/ولا تزال الورى فى ظلّ دولتكم … بخفض عيش وثغر الدّهر يبتسم
পৃথিবী যেন সেভাবেই ফিরে আসে যেভাবে তার সূচনা হয়েছিল … জ্ঞান, ন্যায়বিচার এবং এমন বদান্যতায় যার কাছে মেঘমালাও তুচ্ছ।

আপনি কি দেখছেন না যে জ্ঞান প্রতি মূহুর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে … এবং মূর্খতা উত্তরোত্তর হ্রাস পাচ্ছে যা গোপন করার অবকাশ নেই।

আপনি কি দেখছেন না ইসলামের নিশান সমুন্নত হচ্ছে … আর কুফর এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে তার কোনো পতাকা বা চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।

সম্পদের প্রাচুর্য ঘটেছে এবং দানশীলদের সংখ্যাও বেড়েছে … আর প্রতিটি ভূমি সেখানে বসবাসকারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।

হে উসমানীয় বংশধর! হে আপনারা যাদের কোনো সমকক্ষ নেই … রাজন্যবর্গের মাঝে; আর তাদের কি কোনো সমকক্ষ আশা করা যায়?

হে সেই মহান সত্তা যাদের দোরগোড়া যখন থেকে স্থাপিত হয়েছে … পৃথিবীর সকল রাজাদের ওষ্ঠাধর সেখানে চুম্বনরত।

মানুষের দিনগুলো কখনো স্বচ্ছ ছিল না এবং তারা নিরাপদ ছিল না … পঙ্কিলতা থেকে, একমাত্র আপনাদের সময়কাল ব্যতীত।

সুতরাং আল্লাহ পৃথিবীবাসীর জন্য আপনাদের রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী করুন … কারণ এটি এমন এক রাষ্ট্র যার মাধ্যমে প্রাণকূল জীবন লাভ করে।

আর আল্লাহ আপনাদের এমন কিছু দান করুন যা কোনো বর্ণনা পরিবেষ্টন করতে পারে না … এবং কোনো শব্দ যার মহিমা প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।

আর সৃষ্টিজগত সর্বদা আপনাদের শাসনের ছায়াতলে থাকবে … স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনে, যেখানে মহাকালের মুখমণ্ডল হাস্যোজ্জ্বল।