(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الفوائد السنية في شرح الألفية القسم: أصول الفقه
الكتاب: الفوائد السنية في شرح الألفية
المؤلف: البرماوي شمس الدين محمد بن عبد الدائم (763 - 831 هـ)
المحقق: عبد الله رمضان موسى
الناشر: مكتبة التوعية الإسلامية للتحقيق والنشر والبحث العلمي، الجيزة - مصر [طبعة خاصة بمكتبة دار النصيحة، المدينة النبوية - السعودية]
الطبعة: الأولى، 1436 هـ - 2015 م
عدد الأجزاء: 5 (متسلسلة الترقيم، وقد نُشرت -خطأ- في بعض النسخ الإلكترونية السابقة بترقيم مستقل لكل مجلد؛ خلافا للمطبوع)
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 محرم 1440
আল-ফাওয়ায়েদ আস-সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
কিতাব: আল-ফাওয়ায়েদ আস-সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
লেখক: আল-বারমাওয়ি শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল দায়েম (৭৬৩ - ৮৩১ হিজরি)
গবেষক: আব্দুল্লাহ রামাদান মুসা
প্রকাশক: মাকতাবাতুত তাওইয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ তাহকিক, প্রকাশনা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য, গিজা - মিশর [দারুন নাসিহা লাইব্রেরি, মদিনাতুন নববীয়াহ - সৌদি আরবের জন্য বিশেষ সংস্করণ]
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৬ হিজরি - ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত, এবং পূর্ববর্তী কিছু ইলেকট্রনিক কপিতে -ভুলবশত- প্রতিটি খণ্ডের জন্য স্বতন্ত্র নম্বর দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছিল; যা মুদ্রিত কপির পরিপন্থী)
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নাসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (সুলাইমান আল-রাজিহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ মুহররম ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
من نوادر مخطوطات علم أصول الفقه (5)
الفوائد السنية في شرح الألفية
تأليف
الحافظ البرماوي شمس الدين محمد بن عبد الدائم (763 - 831 هـ)
وهو شرح لألفيته (1032 بيتا) في علم أصول الفقه
قال عنه: «هذا الكتاب هو جملة ما حصلت في طول عمري».
يطبع لأول مرة محققا على ثماني مخطوطات
تحقيق
الشيخ عبد الله رمضان موسى
كلية الشريعة
[الجزء الأول]
ইলমুল উসুলুল ফিকহের দুর্লভ পাণ্ডুলিপিসমূহ হতে (৫)
আল-ফাওয়ায়েদ আস-সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
রচনায়
আল-হাফিজ আল-বারমাভি শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুদ দায়িম (৭৬৩ - ৮৩১ হিজরি)
এটি ইলমুল উসুলুল ফিকহের উপর তাঁর রচিত আলফিয়্যাহ-এর (১০৩২ পংক্তি) একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ
তিনি এটি সম্পর্কে বলেছেন: «এই গ্রন্থটি আমার সারা জীবনের অর্জিত সমস্ত জ্ঞানের নির্যাস»।
আটটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়ে এটি প্রথমবারের মতো মুদ্রিত হচ্ছে
সম্পাদনায়
শায়খ আব্দুল্লাহ রমজান মুসা
শরীয়াহ অনুষদ
[প্রথম খণ্ড]
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى للكتاب
1436 هـ - 2015 م
حقوق الطبع والنشر محفوظة كافة على مكتبة التوعية الإسلامية
رقم الإيداع بدار الكتب المصرية 2349/ 2014
طبعة خاصة لمكتبة النصيحة بإذن الناشر
مَكتبة دار النصيحة
المملكة العربية السعودية - المدينة النبوية - حي الفيصلية - أمام الباب الجنوبي للجامعة الإسلامية
جوال: 00966595982046 - ت وفاكس: 0096648470708
البريد الإلكتروني: Daralnasihaa@gmail.com
الناشر: مكتبة التوعية الإسلامية للتحقيق والنشر والبحث العلمي
هاتف محمول: 01118737605 - 01005255140
البريد الإلكتروني: EmadSMF@Gmail.Com (أو) Emad_altaw 3 ia@Hotmail.Com
للمراسلات: عماد صابر المرسي ص. ب: 174 الرقم البريدي: 12556 بريد الهرم - الجيزة
গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ
১৪৩৬ হি. - ২০১৫ খ্রি.
প্রকাশনা ও মুদ্রণের যাবতীয় স্বত্ব মাকতাবাতুত তাওইয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহর নিকট সংরক্ষিত
মিসরীয় দারুল কুতুবের জমাসংখ্যা ২৩৪৯/ ২০১৪
প্রকাশকের অনুমতিক্রমে মাকতাবাতুন নাসিহার জন্য বিশেষ সংস্করণ
মাকতাবাতু দারিন নাসিহা
সৌদি আরব - মদিনা মুনাওয়ারা - আল-ফয়সালিয়্যাহ এলাকা - ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ফটকের সামনে
মোবাইল: ০০৯৬৬৫৯৫৯৮২০৪৬ - ফোন ও ফ্যাক্স: ০০৯৬৬৪৮৪৭০৭০৮
ইমেইল: Daralnasihaa@gmail.com
প্রকাশক: মাকতাবাতুত তাওইয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ লিত-তাহকিক ওয়ান-নাশর ওয়াল-বাহসিল ইলমি
মোবাইল ফোন: ০১১১৮৭৩৭৬০৫ - ০১০০৫২৫৫১৪০
ইমেইল: EmadSMF@Gmail.Com (অথবা) Emad_altaw3ia@Hotmail.Com
পত্রযোগাযোগের জন্য: ইমাদ সাবের আল-মুরসি, পি.ও. বক্স: ১৭৪, পোস্টাল কোড: ১২৫৫৬, আল-হারাম পোস্ট - গিজা
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدمة المُحَقِّقالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله الصادق الأمين، أَمَّا بَعْد:
على الرغم مِن طُول ممارستي لِعِلْم أصول الفقه - دراسةً وتدريسًا - منذ عام 1989 م تقريبًا وحتى الآن واطِّلاعي على أكثر مِن مائتي كتاب في هذا العِلم (من المطبوع والمخطوط) إلَّا أنني - لسنوات عديدة - كنتُ أتمنى اقتناء ألفية الإمام شمس الدين البرماوي في أصول الفقه وشَرْحِه لها، ذلك الإمام الأُصولي المُحَقِّق المُدَقِّق الذي وجدتُ كثيرًا مِن علماء أصول الفقه المشهورين يحرصون حرصًا شديدًا على نَقْل أقواله وترجيحاته وتقريراته وتحريراته وتنبيهاته.
كَمْ تمنيتُ الحصول على هذا الشرح، هذا الكنز الثمين الذي اغترف منه العديد من أئمة أصول الفقه مِن بَعْده، فَطَال بحثي وسؤالي عنه، ولم يَكُن إلَّا جواب واحد: الكتاب لَمْ يُطْبَع بَعْد!
ثُم كان مِن فَضل الله تعالى عَلَيَّ - بعد البحث الشديد في دور المخطوطات وفهارسها في عِدَّة دول ومساعدة الفضلاء - أنْ تمكنتُ مِن الحصول عَلَى:
(8) ثماني مخطوطات للألفية مع شرحها.
(5) خمس مخطوطات لِنَظْم الألفية.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর। এরপর:
১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দীর্ঘকাল ধরে উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের চর্চা—অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা—অব্যাহত রাখা সত্ত্বেও এবং এই শাস্ত্রের দুইশতাধিক গ্রন্থ (মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি) দেখার সুযোগ হওয়া সত্ত্বেও, আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে ইমাম শামসুদ্দীন আল-বারমাভীর উসূলে ফিকহ বিষয়ক 'আলফিয়্যাহ' এবং এর ওপর তাঁর কৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সংগ্রহের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে আসছিলাম। তিনি ছিলেন এমন একজন উসূলবিদ ইমাম, গবেষক ও সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিত, যাঁকে আমি দেখেছি যে উসূলে ফিকহের বহু প্রসিদ্ধ আলেম তাঁর বক্তব্য, অগ্রাধিকারসমূহ, সিদ্ধান্তসমূহ, বিশ্লেষণসমূহ ও সতর্কবার্তাগুলো উদ্ধৃত করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।
আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পাওয়ার জন্য কতই না আকাঙ্ক্ষা করেছি! এটি এক অমূল্য ভাণ্ডার, যেখান থেকে তাঁর পরবর্তী উসূলে ফিকহের বহু ইমাম জ্ঞান আহরণ করেছেন। ফলে এটি খুঁজে পেতে আমার অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসা দীর্ঘায়িত হয়েছিল, কিন্তু উত্তর ছিল একটাই: বইটি এখনও মুদ্রিত হয়নি!
অতঃপর আল্লাহর অনুগ্রহে—বিভিন্ন দেশের পাণ্ডুলিপি কেন্দ্রসমূহ ও তাদের সূচিপত্রগুলোতে নিবিড় অনুসন্ধান এবং গুণীজনদের সহযোগিতার পর—আমি লাভে সক্ষম হয়েছি:
(৮) আলফিয়্যাহ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থের আটটি পাণ্ডুলিপি।
(৫) আলফিয়্যাহর কাব্যরূপের পাঁচটি পাণ্ডুলিপি।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وكان بعضها مِن النُّسَخ النفيسة جدًّا، فمنها ما قُرِئَ على البرماوي وكتب عليها البرماوي بِخَطِّه في مواضع عديدة، ومنها ما كُتب في حياة البرماوي (سنة 830 هـ)، وتمت مقابلته على نُسخة المؤلِّف في حياته.
وتَعَجَّبْتُ كثيرًا من أنَّ هذه اللؤلؤة المكنونة لم تَظْهَر وتَخْرُج إلى النور حتى الآن، فلم تُطْبَع!
فقررتُ الاعتكاف
(1)؛ لتحقيقها، والعناية بها، ودراستها، وضَبْط نَصِّها؛ لإخراجها إلى النور بطباعتها، فتتوفر بين أيدي أَهْل العِلم وطَلَبة العِلم الشرعي، خاصةً هؤلاء الذين يَعْلمون عُلُو مكانة الحافظ البرماوي ومكانة ألفِيَّته المشهورة في عِلْم أصول الفقه، فإنهم يَسْعون مُسارعين ويبذلون وُسْعَهم؛ لاقتنائها والفوز بفوائدها.
وبمجموع هذه النُّسَخ أَرَى أنني - بفضل الله تعالى - قد قَدَّمْتُ نَصًّا كاملًا على درجة عالية مِن الإتقان مِن ألفية شمس الدين البرماوي في عِلْم أصول الفقه مع شرحه
(2).
--------------------------------------------
এগুলোর মধ্যে কিছু ছিল অত্যন্ত মূল্যবান পাণ্ডুলিপি। তার মধ্যে এমন কিছু ছিল যা আল-বারমাউয়ির সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আল-বারমাউয়ি অনেক স্থানে নিজ হাতে তাতে মন্তব্য লিখেছেন। আবার কিছু পাণ্ডুলিপি আল-বারমাউয়ির জীবদ্দশায় (৮৩০ হিজরি) লিখিত হয়েছিল এবং তাঁর জীবদ্দশাতেই লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তা মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
আমি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিলাম যে, এই লুক্কায়িত মুক্তাটি এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে আলোর মুখ দেখেনি এবং এটি মুদ্রিতও হয়নি!
তাই আমি এর তাহকিক (সম্পাদনা), যত্ন প্রদান, অধ্যয়ন এবং এর মূল পাঠ নির্ভুল করার জন্য বিশেষ একাগ্রতার সাথে আত্মনিয়োগ
(১) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; যাতে মুদ্রণের মাধ্যমে একে আলোর মুখ দেখানো যায় এবং এটি আলিম সমাজ ও শরয়ী ইলম অন্বেষণকারীদের হাতে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে তারা, যারা হাফেজ আল-বারমাউয়ির সুউচ্চ মর্যাদা এবং উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর বিখ্যাত 'আলফিয়্যাহ'-এর গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত। তারা এটি সংগ্রহ করতে এবং এর উপকারিতা লাভে সচেষ্ট থাকেন ও সাধ্যমতো চেষ্টা করেন।
এই সকল পাণ্ডুলিপির সমন্বয়ে আমি মনে করি যে—আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে—আমি উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে শামসুদ্দিন আল-বারমাউয়ির 'আলফিয়্যাহ' এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের
(২) একটি অত্যন্ত নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ পাঠ উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ما الذي يتضمنه كتابُنا هذا الذي بين يديك؟
أَلَّف البرماويُّ أوَّلًا "النبذة الزكية في القواعد الأصلية"، ثُم نَظَمها في ألفِيَّته المشهورة "النبذة الألفية في الأصول الفقهية" سَنة 818 هـ، ثُم شرح الألفية سَنة 828 هـ، واسْم الشرح "الفوائد السنية في شرح الألفية"، وقد صَرَّح البرماوي بذلك في آخِر ألفيته وشرحِها.
قال حاجي خليفة (1004 - 1067 هـ) في كتابه "كشف الظنون": ("النبذة الزكية في القواعد الأصلية" .. لشمس الدين محمد بن عبد الدائم البرماوي الشافعي .. ، جمعها خالية عن الخلاف والدليل، ثُم نَظَمَها "أَلْفِيَّة"، وشَرَحَها أيضًا)
(1). انتهى
وقال كمال الدين ابن أبي شريف (822 - 906 هـ) في كتابه "الدرر اللوامع في تحرير شرح جمع الجوامع": (المُخَصَّص بِمُعَيَّن حُجة، والمُخَصَّص بِمُبْهَم ليس حُجة .. ، وَعَلَى هَذَا مَشَى الْبِرْمَاوِيُّ فِي "النُّبْذَةِ" وَ"الْأَلْفِيَّةِ" وَشَرْحِهَا)
(2).
وقد حَقَّقتُ أوَّلًا نَظْمَ أَلْفِيَّة البرماوي "النبذة الألفية في الأصول الفقهية" وأَصْلَها "النُّبْذة الزكية في القواعد الأصلية" له أيضًا، وطُبِعَا - بفضل الله تعالى - في مجلد واحد، نَشَرتهما مكتبة التوعية الإسلامية لأول مرة في معرض القاهرة الدولي للكتاب في يناير 2014 م.
وكتابنا هذا - الذي بين يديك - هو الشرح الوافي للبرماوي "الفوائد السنية في شرح الألفية"، يخرج إلى النور مطبوعًا لأول مرة بفضل الله تعالى.
--------------------------------------------
আপনার হাতে থাকা আমাদের এই কিতাবটিতে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে?
আল-বারমাউয়ী প্রথমে "আন-নুবজাতুয যাকিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল আসলিয়্যাহ" রচনা করেন, এরপর ৮১৮ হিজরীতে তিনি এটিকে তাঁর বিখ্যাত আলফিয়্যাহ (এক হাজার পঙক্তির কাব্য) "আন-নুবজাতুল আলফিয়্যাহ ফিল উসুলিল ফিকহিয়্যাহ"-তে ছন্দোবদ্ধ করেন। অতঃপর ৮২৮ হিজরীতে তিনি এই আলফিয়্যাহর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন, যার নাম হলো "আল-ফাওয়াইদুস সুন্নিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ"। আল-বারমাউয়ী তাঁর আলফিয়্যাহ ও এর ব্যাখ্যার শেষে এ কথাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
হাজি খলিফা (১০০৪ - ১০৬৭ হিজরী) তাঁর "কাশফুয যুনুন" গ্রন্থে বলেন: ("আন-নুবজাতুয যাকিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল আসলিয়্যাহ"... শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল দায়িম আল-বারমাউয়ী আশ-শাফেয়ীর একটি রচনা... তিনি এটি মতভেদ ও দলিলবিহীন অবস্থায় সংকলন করেছেন, অতঃপর একে "আলফিয়্যাহ" হিসেবে ছন্দোবদ্ধ করেছেন এবং এর ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন)
(১)। সমাপ্ত
কামালুদ্দীন ইবনে আবি শরীফ (৮২২ - ৯০৬ হিজরী) তাঁর "আদ-দুরারুল লাওয়ামি' ফি তাহরীরি শারহি জামউল জাওয়ামি'" গ্রন্থে বলেন: (সুনির্দিষ্ট বিষয় দ্বারা বিশেষিত করা দলিলযোগ্য, আর অস্পষ্ট বিষয় দ্বারা বিশেষিত করা দলিলযোগ্য নয়... আর আল-বারমাউয়ী তাঁর "আন-নুবজাহ", "আলফিয়্যাহ" এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই পথেই চলেছেন)
(২)।
আমি প্রথমে আল-বারমাউয়ীর ছন্দোবদ্ধ আলফিয়্যাহ "আন-নুবজাতুল আলফিয়্যাহ ফিল উসুলিল ফিকহিয়্যাহ" এবং তাঁর মূল গ্রন্থ "আন-নুবজাতুয যাকিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল আসলিয়্যাহ" এর তাহকীক সম্পন্ন করেছি। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সেগুলো এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে এবং মাকতাবাতুত তাওইয়াতিল ইসলামিয়্যাহ ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রথমবারের মতো সেগুলো প্রকাশ করেছে।
আর আপনার হাতে থাকা আমাদের এই বইটি হলো আল-বারমাউয়ীর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আল-ফাওয়াইদুস সুন্নিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ", যা আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে প্রথমবারের মতো মুদ্রিত হয়ে আলোর মুখ দেখছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
والكلام في هذه المقدمة في مباحث:
المبحث الأول: بيان حِرص كثير مِن علماء الأصول على نَقْل أقوال البرماوي وتقريراته.
المبحث الثاني: ترجمة الإمام شمس الدين البرماوي، وتوثيق نِسبة الكتاب له.
المبحث الثالث: بيان منهج الإمام البرماوي في نَظْمِ الألفية وأَصْلِها وشَرْحِها.
المبحث الرابع: تَقَدُّم البرماوي في عِلْم الحديث وأَثَره في شَرْحه لِلْأَلْفِيَّة.
المبحث الخامس: تَقَدُّم البرماوي في الفقه وأَثَره في شَرْحه لِلْأَلْفِيَّة.
المبحث السادس: مَذْهَب الإمام البرماوي وأَثَره في شَرْحه لِلْأَلْفِيَّة.
المبحث السابع: عقيدة البرماوي وأَثَرها في شَرْحه لِلْأَلْفِيَّة.
المبحث الثامن: اشتمال شرح البرماوي على فوائد لم يذكرها الزركشي في "البحر".
المبحث التاسع: بيان دَرَجة دِقَّة البرماوي في نَقْل كلام غَيْره.
المبحث العاشر: بيان حرص البرماوي على أنْ يَقرأ على شيوخه ما كَتَبه أو نَسَخه مِن كُتُبهم ومقابلة نُسخته على أَصلهم، وكذلك كان يُقرأ عليه ما كُتِبَ أو نُسِخ مِن كُتُبه.
المبحث الحادي عشر: وصف نُسَخ مخطوطات أَلْفِيَّة البرماوي وأَصْلها وشَرْحِها.
المبحث الثاني عشر: ملاحظاتي حول نُسَخ المخطوطات.
المبحث الثالث عشر: الجهود السابقة لتحقيق هذه الألفية وشَرْحها.
المبحث الرابع عشر: عَمَلِي في الكتاب.
المبحث الخامس عشر: تنبيهات مهمة.
وفيما يأتي تفصيل ذلك.
এই ভূমিকার আলোচনাটি কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-বারমাভী-র উক্তি ও সিদ্ধান্তসমূহ উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে অনেক উসুলবিদের আগ্রহের বর্ণনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম শামসুদ্দিন আল-বারমাভী-র জীবনী এবং তাঁর প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধের প্রামাণ্যতা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আলফিয়্যাহ রচনা, এর মূল এবং এর ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে ইমাম আল-বারমাভী-র পদ্ধতির বর্ণনা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হাদীস শাস্ত্রে আল-বারমাভী-র শ্রেষ্ঠত্ব এবং আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যায় এর প্রভাব।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ফিকহ শাস্ত্রে আল-বারমাভী-র শ্রেষ্ঠত্ব এবং আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যায় এর প্রভাব।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ইমাম আল-বারমাভী-র মাযহাব এবং আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যায় এর প্রভাব।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: আল-বারমাভী-র আকিদাহ এবং আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যায় এর প্রভাব।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: আল-বারমাভী-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে এমন সব উপকারিতার সমাবেশ যা আল-যারকাশী তাঁর "আল-বাহর" গ্রন্থে উল্লেখ করেননি।
নবম পরিচ্ছেদ: অন্যের বক্তব্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে আল-বারমাভী-র সূক্ষ্মতার মাত্রার বর্ণনা।
দশম পরিচ্ছেদ: আল-বারমাভী তাঁর উস্তাদদের নিকট যা কিছু লিখেছেন বা তাঁদের কিতাব থেকে যা নকল করেছেন তা তাঁদের সামনে পাঠ করার এবং নিজের পাণ্ডুলিপিকে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহের বর্ণনা; একইভাবে তাঁর রচিত বা নকলকৃত কিতাবসমূহ তাঁর সামনে পাঠ করা হতো।
একাদশ পরিচ্ছেদ: আল-বারমাভী-র আলফিয়্যাহ, এর মূল এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপিগুলো সম্পর্কে আমার পর্যবেক্ষণ।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: এই আলফিয়্যাহ এবং এর ব্যাখ্যার সম্পাদনার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাসমূহ।
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: কিতাবটিতে আমার সম্পাদিত কাজ।
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাসমূহ।
নিম্নে এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المبحث الأول: بيان حِرص كثير مِن علماء الأصول على نَقْل أقوال البرماوي وتقريراتهكان يصيبني الملل أحيانًا مِن بعض الكُتُب الأصولية التي لا تكاد تجد فيها تحريرًا لمسألة، وإنما كان مؤلِّفُها مُجَرَّد ناقل عَمَّن سبقوه، فما هي إلَّا تكرار لِمَا في غَيْرها من الكُتُب.
وقد استقر في ذهني جَمْعٌ مِن أئمة أصول الفقه - أصحاب التقريرات والتحريرات المفيدة - الذين تمنيتُ كثيرًا اقتناء مؤلَّفاتهم الأصولية.
ومِن هؤلاء: شمس الدين البِرْمَاوي؛ فلقد رأيتُ العديد مِن أئمة أصول الفقه يحرصون في مؤلفاتهم على نَقْل أقوال البرماوي وتقريراته وتحريراته مِن أَلْفِيَّته "النبذة الألفية في الأُصول الفقهية" وشَرْحِه لها "الفوائد السنية في شرح الألفية".
ومن هؤلاء (على سبيل المثال، لا الحصر):
1 - الإمام علاء الدين المرداوي (817 - 885 هـ): ذكر في مقدمة كتابه "التحبير شرح التحرير" الكُتُب الأصولية التي اعتمد عليها، فذكر منها: "منظومة البرماوي، وشَرْحها". فكان المرداوي - في أكثر من (400) أربعمائة موضع - ينقل أقوال البرماوي وتقريراته واختياراته الأصولية، وإليكم بعض عباراته:
(صرح بِهَذَا الْبرمَاوِيُّ فِي شرح منظومته، اخْتَارَ الْبرمَاوِيُّ فِي شرح منظومته، قال البرماوي في شرح منظومته، الْبرمَاوِيُّ وَغَيره استدلوا لذَلِك، ذَكَرَه الْبرمَاوِيُّ، حكاه
প্রথম পরিচ্ছেদ: বারমাউয়ীর বক্তব্য ও সিদ্ধান্তসমূহ উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে উসুল শাস্ত্রের অনেক আলিমের আগ্রহের বর্ণনামাঝে মাঝে আমি উসুল শাস্ত্রের এমন কিছু কিতাব নিয়ে একঘেয়েমি অনুভব করতাম যেগুলোতে কোনো মাসআলার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (তাহরির) পাওয়া যায় না; বরং সেগুলোর লেখকগণ ছিলেন তাঁদের পূর্বসূরিদের থেকে নিছক উদ্ধৃতি প্রদানকারী মাত্র। ফলে সেগুলো অন্য কিতাবসমূহে যা আছে তারই পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছু নয়।
আমার মনে উসুলুল ফিকহের এমন একদল ইমামের নাম গেঁথে গিয়েছিল—যাঁরা ছিলেন উপকারী সিদ্ধান্ত ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের অধিকারী—যাঁদের উসুল বিষয়ক গ্রন্থাবলি সংগ্রহ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমার ছিল।
তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শামসুদ্দিন আল-বারমাউয়ী; কেননা আমি উসুলুল ফিকহের অনেক ইমামকে দেখেছি যে তাঁরা তাঁদের গ্রন্থসমূহে বারমাউয়ীর 'আন-নুবযাতুল আলফিয়্যাহ ফিল উসুলিল ফিকহিয়্যাহ' নামক আলফিয়্যাহ (হাজার পঙক্তির কাব্য) এবং তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-ফাওয়াইদ আস-সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ' থেকে তাঁর বক্তব্য, সিদ্ধান্ত ও বিশ্লেষণগুলো উদ্ধৃত করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।
তাঁদের মধ্য থেকে কতিপয় হলেন (উদাহরণস্বরূপ, তবে এঁদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়):
১ - ইমাম আলাউদ্দিন আল-মারদাউয়ী (৮১৭ - ৮৮৫ হিজরি): তিনি তাঁর 'আত-তাহবির শারহুত তাহরির' কিতাবের ভূমিকায় উসুল শাস্ত্রের সেই সকল কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলোর ওপর তিনি নির্ভর করেছেন; সেখানে তিনি 'বারমাউয়ীর মানযুমা এবং তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ'-এর কথা উল্লেখ করেছেন। মারদাউয়ী চারশ (৪০০)-এরও বেশি স্থানে বারমাউয়ীর বক্তব্য, সিদ্ধান্ত এবং উসুল সংক্রান্ত পছন্দসমূহ (ইখতিয়ারাত) উদ্ধৃত করেছেন। নিচে তাঁর কিছু উক্তি প্রদান করা হলো:
(বারমাউয়ী তাঁর মানযুমার ব্যাখ্যায় এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন; বারমাউয়ী তাঁর মানযুমার ব্যাখ্যায় এটি পছন্দ করেছেন; বারমাউয়ী তাঁর মানযুমার ব্যাখ্যায় বলেছেন; বারমাউয়ী এবং অন্যান্যরা এর সপক্ষে দলীল পেশ করেছেন; বারমাউয়ী এটি উল্লেখ করেছেন; বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
البرماوي، نقل الْبرمَاوِيُّ عَنهُ، اخْتَارَ هَذَا الْبرمَاوِيُّ، فَجعل الْبرمَاوِيُّ الْمَسْأَلتَيْنِ وَاحِدَة، كَلَام الْبرمَاوِيّ وَغَيره يَقْتَضِي أَنه محَل وفَاق، بَنَى الْبرمَاوِيُّ وَغَيره الْمَسْألَة على .. ، قَطَع بذلك الْبرمَاوِيُّ، حَكَاهُ الْبرمَاوِيُّ عَن أَكثر الحنَفِيَّة، ترْجم الْبرمَاوِيُّ الْمَسْأَلَة بِأَن .. ، تكلم على ذَلِك الْبرمَاوِيُّ وَأطَال، الْبرمَاوِيُّ صحَّح مَا قَالَه ابْن الْعِرَاقِيّ وَغَيره، ذكر هَذِه الْأَقْوَال الْبرمَاوِيُّ، عَلَّلَ ذَلِك الْبرمَاوِيُّ، رَدَّه الْبرمَاوِيُّ فقال .. ، ذكر الْبرمَاوِيّ أَحْكَام النِّيَّة واستقصاها فأجاد وَأفَاد).
2 - شهاب الدين القسطلاني (851 - 923 هـ): اهتم في كتابه "إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري" بنقل أقوال شمس الدين البرماوي وتقريراته وتَعَقُّباته، فجاء ذِكْره في ثلاثمائة موضع تقريبًا، وإليكم بعض عباراته:
(قال البرماوي في شرح ألفيته، حكاه البرماوي، نقله عنه البرماوي، لكن تَعَقَّبَه البرماوي، قال البرماوي في شرح العمدة، كذا قرره الحافظ ابن حجر والبرماوي، قَرَّرَه البرماوي، كذا ضبطها البرماوي، نَبَّه عليه البرماوي، كذا قدَّره البرماوي، جَوَّز البرماوي، قَوَّى البرماوي، أجاب البرماوي بأن .. ، وَجَّهَه البرماوي، أشار البرماوي، صرّح به البرماوي، قال البرماوي: فيه نظر، صَوَّب البرماوي الأُولى، زاد البرماوي).
3 - زين الدين زكريا الأنصاري (824 - 926 هـ): على الرغم مِن صِغَر كتابه "غاية الوصول في شرح لب الأصول" إلَّا أنه ذكر البرماوي في أكثر مِن (20) عشرين موضعًا، وإليكم بعض عباراته:
(قرره شيخُنا العلَّامة الجلال المحلي بما لا مزيد عليه واستبعده أيضًا شيخُه العلَّامة الشمس البرماوي، أفردتهما تبعًا للعلَّامة البرماوي، قال البرماوي، استظهره
আল-বারমাউয়ী; আল-বারমাউয়ী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; আল-বারমাউয়ী এটি পছন্দ করেছেন; অতঃপর আল-বারমাউয়ী মাসয়ালা দুটিকে একই মাসয়ালা হিসেবে গণ্য করেছেন; আল-বারমাউয়ী এবং অন্যদের বক্তব্য দাবি করে যে এটি একটি ঐকমত্যের বিষয়; আল-বারমাউয়ী এবং অন্যরা মাসয়ালাটিকে .. এর ওপর ভিত্তি করেছেন; আল-বারমাউয়ী এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন; আল-বারমাউয়ী এটি অধিকাংশ হানাফী আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছেন; আল-বারমাউয়ী মাসয়ালাটির শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে যে ..; আল-বারমাউয়ী এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন; আল-বারমাউয়ী ইবনুল ইরাকী ও অন্যদের বক্তব্যকে সঠিক বলেছেন; আল-বারমাউয়ী এই মতসমূহ উল্লেখ করেছেন; আল-বারমাউয়ী এর কারণ দর্শিয়েছেন; আল-বারমাউয়ী এটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন ..; আল-বারমাউয়ী নিয়তের বিধানাবলি উল্লেখ করেছেন এবং এর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছেন, অতঃপর তিনি অত্যন্ত চমৎকার ও উপকারী আলোচনা করেছেন।
২ - শিহাবুদ্দিন আল-কাসতালানি (৮৫১ - ৯২৩ হিজরি): তিনি তাঁর গ্রন্থ "ইরশাদুস সারি লি-শারহি সহিহিল বুখারি"-তে শামসুদ্দিন আল-বারমাউয়ীর বক্তব্য, সিদ্ধান্ত এবং পর্যালোচনাসমূহ উদ্ধৃত করার প্রতি মনোনিবেশ করেছেন; ফলে গ্রন্থটিতে প্রায় তিনশটি স্থানে তাঁর উল্লেখ এসেছে। আপনাদের সামনে তাঁর কিছু অভিব্যক্তি তুলে ধরা হলো:
(আল-বারমাউয়ী তাঁর আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন; আল-বারমাউয়ী এটি বর্ণনা করেছেন; আল-বারমাউয়ী তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন; কিন্তু আল-বারমাউয়ী এর ওপর পর্যালোচনা করেছেন; আল-বারমাউয়ী 'শারহুল উমদাহ' গ্রন্থে বলেছেন; হাফেজ ইবনে হাজার এবং আল-বারমাউয়ী একে এভাবেই স্থির করেছেন; আল-বারমাউয়ী এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন; আল-বারমাউয়ী একে এভাবেই লিপিবদ্ধ করেছেন; আল-বারমাউয়ী এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন; আল-বারমাউয়ী এটি এভাবেই নির্ধারণ করেছেন; আল-বারমাউয়ী একে অনুমোদন করেছেন; আল-বারমাউয়ী একে শক্তিশালী করেছেন; আল-বারমাউয়ী উত্তর দিয়েছেন যে ..; আল-বারমাউয়ী এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন; আল-বারমাউয়ী ইঙ্গিত করেছেন; আল-বারমাউয়ী এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন; আল-বারমাউয়ী বলেছেন: এতে পর্যালোচনার অবকাশ আছে; আল-বারমাউয়ী প্রথমটিকে সঠিক বলেছেন; আল-বারমাউয়ী এটি বৃদ্ধি করেছেন)।
৩ - যাইনুদ্দিন জাকারিয়া আল-আনসারি (৮২৪ - ৯২৬ হিজরি): তাঁর "গইয়াতুল উসুল ফি শারহি লুব্বিল উসুল" গ্রন্থটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও তিনি সেখানে বিশটিরও বেশি স্থানে আল-বারমাউয়ীর উল্লেখ করেছেন। তাঁর কিছু অভিব্যক্তি নিম্নরূপ:
(আমাদের শায়খ আল্লামা জালাল আল-মহল্লি একে এমন পরিপূর্ণভাবে স্থির করেছেন যার ওপর আর কোনো কথা নেই, এবং তাঁর শায়খ আল্লামা শামস আল-বারমাউয়ীও একে দূরবর্তী মনে করেছেন; আল্লামা বারমাউয়ীর অনুকরণে আমি ওই দু’টিকে পৃথক করেছি; আল-বারমাউয়ী বলেছেন; তিনি একেই অধিক স্পষ্ট ও প্রবল মনে করেছেন)
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
البرماوي، نَبَّه على ذلك العلامة البرماوي، به صرح الشمس البرماوي، اعتمده السبكي والبرماوي، "هذا تركه البرماوي من ألفيته وذكره في شرحها مع زيادة، ومثَّل له بالآية، ثُم قال .. "، فَرَّق البرماوي بأنَّ .. ، أجاب عنه البرماوي بأنَّ .. ، صَوَّبه البرماويُّ).
4 - تقي الدين ابن النجار (898 - 972 هـ): اهتم بِنقل أقوال البرماوي وتحريراته واختياراته وذلك فيما يقارب (100) مائة موضع من كتابه "شرح الكوكب المنير" في أصول الفقه.
5 - شهاب الدين الرملي (المتوفى: 957 هـ): ذكر البرماوي في فتاويه، فقد جاء في "فتاوى الرملي، ص 195": (قَالَ الْبِرْمَاوِيُّ فِي شَرْحِ أَلْفِيَّتِهِ
… ).
6 - شهاب الدين ابن قاسم العبَّادي (المتوفى: 992 هـ): ذكر شمس الدين البرماوي في عِدة مواضع مِن كتابه "الآيات البينات على شرح جمع الجوامع":
فقال في كتابه هذا (2/ 326): (اقتضاه كلام البرماوي
… ، وحينئذ يندفع عنه اعتراض البرماوي).
وقال في (2/ 344): (وبه صرح البرماوي).
وقال في (2/ 373): (تبع فيه الشارح شيخه البرماوي في شرح ألفيته).
7 - زين الدين عبد الرؤف المناوي (952 - 1031 هـ): نقل عن الشمس البرماوي في عِدة مواضع مِن كُتُبه، منها قوله في كتابه "فيض القدير شرح الجامع الصغير":
(وهو ما جرى عليه جَمْعٌ منهم البرماوي، قال الكرماني والبرماوي وأبو زرعة، لكن قال البرماوي، تَعَقَّبه البرماوي بأنَّ .. ).
আল-বারমাউয়ী, আল্লামা আল-বারমাউয়ী এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন, শামস আল-বারমাউয়ী এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, সুবকী এবং আল-বারমাউয়ী এটি গ্রহণ করেছেন, "এটি আল-বারমাউয়ী তার আলফিয়্যাহ থেকে বাদ দিয়েছেন এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে অতিরিক্ত তথ্যসহ উল্লেখ করেছেন এবং আয়াত দ্বারা এর উদাহরণ দিয়েছেন, তারপর তিনি বলেছেন...", আল-বারমাউয়ী এই বলে পার্থক্য করেছেন যে..., আল-বারমাউয়ী এর উত্তর দিয়েছেন যে..., আল-বারমাউয়ী একে সঠিক বলেছেন)।
৪ - তাকীউদ্দীন ইবনুন নাজ্জার (৮৯৮ - ৯৭২ হি.): তিনি তার উসুলুল ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থ "শারহুল কাওকাবিল মুনীর"-এর প্রায় ১০০ (একশত) স্থানে আল-বারমাউয়ীর বক্তব্য, বিশ্লেষণ এবং চয়নসমূহ উদ্ধৃত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
৫ - শিহাবুদ্দীন আর-রামলী (মৃত্যু: ৯৫৭ হি.): তিনি তার ফাতাওয়া গ্রন্থে আল-বারমাউয়ীর উল্লেখ করেছেন। "ফাতাওয়া আর-রামলী, পৃষ্ঠা ১৯৫"-এ এসেছে: (আল-বারমাউয়ী তার আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন
… )।
৬ - শিহাবুদ্দীন ইবনু কাসিম আল-আব্বাদী (মৃত্যু: ৯৯২ হি.): তিনি তার "আল-আয়াতুল বাইয়িনাত আলা শারহি জামউল জাওয়ামি" গ্রন্থের বেশ কয়েকটি স্থানে শামসুদ্দীন আল-বারমাউয়ীর উল্লেখ করেছেন:
তিনি তার এই গ্রন্থের (২/ ৩২৬) পৃষ্ঠায় বলেছেন: (আল-বারমাউয়ীর বক্তব্য এটিই দাবি করে
… , এবং তখন আল-বারমাউয়ীর আপত্তিটি নিরসন হয়ে যায়)।
এবং তিনি (২/ ৩৪৪) পৃষ্ঠায় বলেছেন: (এবং এটিই আল-বারমাউয়ী স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন)।
এবং তিনি (২/ ৩৭৩) পৃষ্ঠায় বলেছেন: (এতে ব্যাখ্যাকার তার শিক্ষক আল-বারমাউয়ীকে তার আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থে অনুসরণ করেছেন)।
৭ - যাইনুদ্দীন আব্দুর রউফ আল-মুনাউয়ী (৯৫২ - ১০৩১ হি.): তিনি তার গ্রন্থসমূহের বেশ কয়েকটি স্থানে শামস আল-বারমাউয়ী থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে তার "ফয়জুল কাদীর শারহুল জামিউস সাগীর" গ্রন্থে তার এই উক্তি:
(এবং এটিই তাদের একটি দল অবলম্বন করেছেন যাদের মধ্যে আল-বারমাউয়ী রয়েছেন। আল-কিরমানী, আল-বারমাউয়ী এবং আবু যুরআ বলেছেন, তবে আল-বারমাউয়ী বলেছেন, আল-বারমাউয়ী এই বলে তাকে খণ্ডন করেছেন যে
.. )।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وكذلك قوله في كتابه "اليواقيت والدرر في شرح نخبة ابن حجر، 2/ 358": (وَعَلَيْه جرى الْبرمَاوِيُّ في "نبذته" و"ألفيته").
8 - محمد بن إسماعيل الأمير الصنعاني (1099 - 1182 هـ): ذكر البرماوي في (10) عشرة مواضع من كتابه "إجابة السائل" في أصول الفقه، وإليكم بعض عباراته:
("بلغ بهَا الْفَاضِل الْبرمَاوِيُّ فِي منظومته وَشَرْحهَا إِلَى أَكثر من ثَلَاثِينَ نوعًا وعَدَّ أمثلتها"، "ذهب جمَاعَة من محققي الشَّافِعِيَّة - كالرازي وَأَتْبَاعه والسبكي والبرماوي وَغَيرهم - إِلَى أَنه .. "، "قَالَ الْبرمَاوِيّ: إِنَّ أَرْجَح المْذَاهب هَذَا"، "سَبقه إِلَى هَذَا الْبرمَاوِيُّ فِي شرح منظومته قَائِلًا .. ").
وكذلك ذكره في عدة مواضع من كتابه "توضيح الأفكار لمعاني تنقيح الأنظار"، وإليكم بعض عباراته:
(ذكر هذا البرماوي في شرح ألفيته في أصول الفقه، ذكره البرماوي في شرح ألفيته في الأصول، قال البرماوي، استدل به البرماوي، حكاه البرماوي).
وذكره أيضًا في كتابه "سبل السلام، 2/ 11" حيث قال: (وَقَدْ حَقَّقَ الْبِرْمَاوِيُّ الْكَلَامَ فِي شَرْحِ أَلْفِيَّتِهِ فِي أُصُولِ الْفِقْهِ).
তেমনিভাবে তার কিতাব "আল-ইয়াওয়াকিত ওয়াদ-দুরার ফি শারহি নুখবাতি ইবনি হাজার, ২/ ৩৫৮"-এ তার বক্তব্য: (এবং আল-বারমাভি তার "নুবযাহ" ও "আলফিয়্যাহ"-তে এর ওপরই চলেছেন)।
৮ - মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-আমির আস-সানআনি (১০৯৯ - ১১৮২ হিজরি): তিনি উসুলুল ফিকহ বিষয়ক তার কিতাব "ইজাবাতুস সায়িল"-এর ১০ (দশ) টি স্থানে আল-বারমাভিকে উল্লেখ করেছেন, এবং আপনাদের জন্য তার কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হলো:
("বিদ্বান আল-বারমাভি তার কাব্যগ্রন্থ ও এর ব্যাখ্যায় এগুলোকে ত্রিশটিরও বেশি প্রকারে পৌঁছে দিয়েছেন এবং এগুলোর উদাহরণ গণনা করেছেন", "শাফেয়ী মুহাক্কিকদের একটি জামাত—যেমন আর-রাজি ও তার অনুসারীগণ, আস-সুবকি, আল-বারমাভি এবং অন্যান্যরা—এই মত পোষণ করেছেন যে..", "আল-বারমাভি বলেছেন: নিশ্চয়ই এটিই সবচেয়ে অগ্রগণ্য মত", "আল-বারমাভি তার কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যায় এই বলে তার অগ্রগামী হয়েছেন..")।
তেমনিভাবে তিনি তার "তাওদিহুল আফকার লি-মাআনি তানকিহিল আনজার" কিতাবের বেশ কয়েকটি স্থানে তাকে উল্লেখ করেছেন, এবং আপনাদের জন্য তার কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হলো:
(আল-বারমাভি এটি উসুলুল ফিকহের আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন, আল-বারমাভি এটি উসুলের আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন, আল-বারমাভি বলেছেন, আল-বারমাভি এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, আল-বারমাভি এটি বর্ণনা করেছেন)।
এবং তিনি তার কিতাব "সুবুলুস সালাম, ২/ ১১"-এ তাকে উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: (এবং আল-বারমাভি উসুলুল ফিকহে তার আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যায় এ বিষয়ে সুনিপুণ আলোচনা করেছেন)।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثاني: ترجمة شمس الدين البرماوي، وتوثيق نسبة الكتاب لهقال الحافظ تاج الدين ابن الغرابيلي
(1) (796 - 835 هـ) في ترجمة البرماوي: (هو أحد الأئمة الأجلاء .. ، فريد دهره، ووحيد عصره، ما رأيت أَقْعَد منه بفنون العلوم .. ، وصَنَّف التصانيف المفيدة، منها: "شرح البخاري" شرح حسن، ولَخَّص "المهمات" و"التوشيح"، ونَظَم "ألفية" في أصول الفقه لم يُسبق إلى مِثل وَضْعها، وشَرَحها شرحًا حافلًا نحو مجلدين، وكان يقول: "أكثر هذا الكتاب هو جُملة ما حَصَّلْتُ في طول عُمري". وشرح "لامية ابن مالك" شرحًا في غاية الجودة، .. وَحَشى الحواشي المفيدة،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শামসুদ্দিন আল-বারমাওয়ির জীবনী এবং তাঁর প্রতি কিতাবটির সম্পৃক্ততার প্রমাণিকতাহাফেজ তাজউদ্দিন ইবনুল গরাবিলি
(১) (৭৯৬ - ৮৩৫ হি.) আল-বারমাওয়ির জীবনীতে বলেন: (তিনি অন্যতম মহান ইমাম.., তাঁর সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং যুগের একক ব্যক্তিত্ব। আমি ইলমের বিভিন্ন শাখায় তাঁর চেয়ে বেশি পারদর্শী আর কাউকে দেখিনি.., তিনি বহু উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: "শরহে বুখারি" যা একটি উত্তম ব্যাখ্যাগ্রন্থ, তিনি "আল-মুহিম্মাত" ও "আত-তাওশিহ" গ্রন্থদ্বয়কে সংক্ষেপ করেছেন। তিনি উসূলুল ফিকহ বিষয়ে একটি "আলফিয়্যাহ" (এক হাজার পঙক্তির কবিতা) রচনা করেছেন যার বিন্যাসের কোনো নজির আগে ছিল না এবং তিনি এর প্রায় দুই খণ্ডের এক বিশাল ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন। তিনি বলতেন: "এই কিতাবটির অধিকাংশ অংশই হলো আমার সারা জীবনের অর্জিত ইলমের সমষ্টি।" তিনি "লামিয়াতু ইবনি মালিক"-এর অত্যন্ত চমৎকার একটি ব্যাখ্যা লিখেছেন.., এবং তিনি বহু উপকারী টীকা সংযোজন করেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وعلَّق التعاليق النّفيسة والفتاوي العجيبة، وكان من عجائب دهره)
(1).
وقال تقي الدين ابن قاضي شهبة (779 - 851 هـ) في كتابه "طبقات الشافعية": (مُحَمَّد بن عبد الدَّائِم بن مُوسَى: الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم المفنن شمس الدِّين أَبُو عبد الله، الْعَسْقَلَانِي الأَصْل، الْبرمَاوِيّ، الْمصْرِيّ، مولده فِي ذِي الْقعدَة سنة ثَلَاث وَسِتِّين وَسَبْعمائة. وَأَخَذَ عَن: الشَّيْخ سراج الدِّين البُلْقِينِي، وَالشَّيْخ سراج الدِّين ابْن الملقن، وَالشَّيْخ زين الدِّين الْعِرَاقِيّ، وَالشَّيْخ عز الدِّين ابْن جمَاعَة، ومجد الدِّين الْبرمَاوِيّ، وَالْقَاضِي بدر الدِّين ابْن أبي الْبقاء ..
تميز فِي الْفِقْه والنحو والْحَدِيث وَالْأُصُول .. ، وَأقَام بِمصْر يشغل ويفتي .. ، ثمَّ قدم دمشق .. سنة إِحْدَى وَعشْرين .. وَجلسَ فِي الجْامِع يُقْرِئ، وَاجْتمعَ عَلَيْهِ الطَّلبَة، وَظهر فَضلُه، وَقُصِد بالفتاوى، ثمَّ عَاد إِلَى مصر، ثمَّ قدم دمشق ثَانِيًا فِي سنة ثَلَاث وَعشْرين بِطَلَب من قَاضِي الْقُضَاة، وناب فِي الْقَضَاء .. وَولي إِفْتَاء دَار الْعدْل .. ، وأقرأ .. "الْمِنْهَاج" فِي سَنة و"التنبيه" فِي سَنة أُخْرَى وَ"الْحَاوِي" فِي أُخْرَى، ثمَّ عَاد إِلَى مصر .. سَنة سِتّ وَعشْرين، وَحج من مصر سَنة ثَمَان وَعشْرين، وجاور بِمَكَّة، وَرجع إِلَى مصر فِي سنة ثَلَاثِين .. ، وَمَات فِي جُمَادَى الْآخِرَة سنة إِحْدَى وَثَلَاثِين وَثَمَانِمائَة .. ، وَله "الألفية" فِي الْأُصُول وَشَرحهَا، .. ، وَغير ذَلِك)
(2).
وقال الحافظ ابن حجر العسقلاني (773 هـ - 852 هـ) في كتابه "إنباء الغمر بأبناء العمر": (البرماوي الشيخ شمس الدين .. تفقه وهو شاب .. وسمع معنا من جماعة من المشايخ، ولازم الشيخ بدر الدين الزركشي وتمهر به، وحضر دروس الشيخ سراج
--------------------------------------------
এবং তিনি মূল্যবান টীকা ও বিস্ময়কর ফতোয়াসমূহ প্রদান করেছেন, এবং তিনি তাঁর সময়ের অন্যতম বিস্ময় ছিলেন।)
(১).
তাকিউদ্দীন ইবন কাজি শুহবাহ (৭৭৯ - ৮৫১ হিজরি) তাঁর "তাবাকাতুশ শাফিইয়াহ" গ্রন্থে বলেছেন: (মুহাম্মদ ইবন আবদুদ দাইম ইবন মুসা: শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, বহুবিদ্যায় পারদর্শী শামসুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ, মূলগতভাবে আসকালানি, বারমাউয়ি, মিসরি; তাঁর জন্ম সাতশত তেষট্টি হিজরি সনের জিলকদ মাসে। তিনি শাইখ সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনি, শাইখ সিরাজুদ্দীন ইবনুল মুলক্কিন, শাইখ যাইনুদ্দীন আল-ইরাকি, শাইখ ইযযুদ্দীন ইবনু জামাআহ, মাজদুদ্দীন আল-বারমাউয়ি এবং কাজি বদরুদ্দীন ইবন আবু বাক্কা... এর নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন।
তিনি ফিকহ, নাহু, হাদিস ও উসুল শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন... এবং মিসরে অবস্থান করে পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের কাজ আঞ্জাম দেন... অতঃপর আটশ একুশ সনে তিনি দামেস্কে আসেন... এবং জামে মসজিদে পাঠদানের জন্য বসেন, শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে সমবেত হয় এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়। ফতোয়ার জন্য তাঁর শরণাপন্ন হওয়া শুরু হয়। এরপর তিনি মিসরে ফিরে যান। অতঃপর আটশ তেইশ সনে প্রধান বিচারপতির আহ্বানে দ্বিতীয়বার দামেস্কে আসেন এবং বিচারকার্যে স্থলাভিষিক্ত হন... তিনি দারুল আদলের ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন... তিনি এক বছরে "আল-মিনহাজ", অন্য বছরে "আত-তানবিহ" এবং পরবর্তী বছরে "আল-হাউয়ি" পাঠদান করেন। এরপর আটশ ছাব্বিশ সনে পুনরায় মিসরে ফিরে যান এবং আটশ আটাশ সনে মিসর থেকে হজ পালন করেন। তিনি মক্কায় অবস্থান করেন এবং আটশ ত্রিশ সনে মিসরে ফিরে আসেন... এবং আটশ একত্রিশ হিজরি সনের জমাদিউল আখিরা মাসে ইন্তেকাল করেন... উসুল শাস্ত্রে তাঁর "আল-আলফিয়্যাহ" ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ আরও অনেক রচনা রয়েছে।)
(২).
হাফেজ ইবন হাজার আল-আসকালানি (৭৭৩ হিজরি - ৮৫২ হিজরি) তাঁর "ইনবাউল গুমর বি আবনাইল উমর" গ্রন্থে বলেছেন: (বারমাউয়ি শাইখ শামসুদ্দীন... তিনি যুবক থাকাবস্থায় ফিকহ অর্জন করেন... তিনি আমাদের সাথে একদল শাইখের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি শাইখ বদরুদ্দীন আজ-যারকাশিকে সার্বক্ষণিকভাবে অনুসরণ করেন এবং তাঁর নিকট দক্ষতা লাভ করেন। তিনি শাইখ সিরাজের পাঠদানসমূহে উপস্থিত হতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الدين البلقيني وقرأ عليه بعضها، وقد سمعتُ بقراءته على الشيخ "مختصر المزني" ..
وكان حسن الخط، كثير المحفوظ، قوي الهمة ..
وله منظومات وتصانيف، منها: "شرح العمدة"، ومنظومة في أسماء رجالها وشرحها، وشرح "البخارى" في أربع مجلدات .. ، ثُم ولي نيابة الحكم عن ابن أبي البقاء .. ثُم ناب عن الجلال البلقيني، ثُم عن الإخنائي .. ، وكان للطلبة به نفع، وفي كل سَنة يتم كتابًا من المختصرات، فيأتي على آخِره ويعمل له وليمة .. ، حج في سنة ثمان وعشرين، جاور بمكة سنة تسع وعشرين)
(1). انتهى
وقال الحافظ شمس الدين السخاوي (831 - 902 هـ) في "الضوء اللامع لأهل القرن التاسع": (مُحَمَّد بن عبد الدَّائِم .. الْبرمَاوِيّ، ثمَّ القاهري، الشَّافِعِي. وُلد .. سنة ثَلَاث وَسِتِّينَ وَسَبْعمائة .. ، ولازم الْبَدْر الزَّرْكَشِي وتمهر بِهِ وحرر بعض تصانيفه، وَحضر دروس البُلْقِينِي وَقَرَأَ عَلَيْهِ، وَأخذ أَيْضًا عَن الأبناسي وَابْن الملقن والعراقي وَغَيرهم .. وَصَحب الْجلَال ابن أبي الْبقاء .. ، وَعَكَفَ عَلَيْهِ الطَّلبَة، وأقرأ "التَّنْبِيه" وَ"الْحَاوِي" و"المنهاج" كل ذَلِك فِي سَنة، وَغير ذَلِك؛ فاشتهرت فضيلته .. ، وتصدى للإفتاء والتدريس والتصنيف، وانتفع بِهِ خَلْقٌ بِحَيْثُ صَار طلبته رؤوسًا فِي حَيَاته، وباشر وظائف الْوَلِي الْعِرَاقِي نِيَابَة عَن حفيده .. ، وَحج فِي سنة ثَمَان وَعشْرين، وجاور الَّتِي بعْدهَا، وَنشر الْعلم أَيْضًا هُنَاكَ، ثمَّ عَاد فِي سنة ثَلَاثِينَ ..
وَكَانَ إِمَامًا عَلَّامَة فِي الْفِقْه وأصوله والعربية وَغَيرهَا، مَعَ حسن الْخط وَالنَّظم ..
وَمن تصانيفه: "شرح البُخَارِيّ" فِي أَربع مجلدات .. ، وَ"شرح الْعُمْدَة" .. ، وَله أَيْضًا منظومة فِي أَسمَاء رجالها وَشَرحهَا، و"ألفية" فِي أصُول الْفِقْه وَشَرحهَا .. ، ومنظومة
--------------------------------------------
দীন আল-বুলকিনি এবং তাঁর কাছে এর কিছু অংশ পাঠ করেছেন। আমি শেখের নিকট তাঁর "মুখতাসার আল-মুযানী" পাঠ করতে শুনেছি...
তিনি সুন্দর হস্তাক্ষরের অধিকারী ছিলেন, প্রচুর মুখস্থ রাখতেন এবং অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ছিলেন...
তাঁর অনেক পদ্যকাব্য ও গ্রন্থাবলি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: "শারহুল উমদাহ", এর বর্ণনাকারীদের নামের ওপর একটি পদ্যকাব্য ও তাঁর ব্যাখ্যা, এবং চার খণ্ডে "সহিহ বুখারি"র ব্যাখ্যাগ্রন্থ... এরপর তিনি ইবনে আবু আল-বাকার পক্ষ থেকে বিচারকের প্রতিনিধিত্ব লাভ করেন... এরপর জালাল আল-বুলকিনির পক্ষ থেকে এবং পরে আল-ইখনায়ির পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন... শিক্ষার্থীরা তাঁর দ্বারা উপকৃত হতো। প্রতি বছর তিনি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর মধ্য থেকে একটি গ্রন্থ শেষ করতেন, আর যখন সেটি শেষ হতো তখন তিনি ভোজের আয়োজন করতেন... তিনি আটশ আটাশ হিজরিতে হজ পালন করেন এবং আটশ ঊনত্রিশ হিজরিতে মক্কায় অবস্থান করেন)
(১)। সমাপ্ত
হাফেজ শামসুদ্দিন আস-সাখাভি (৮৩১ - ৯০২ হি.) "আদ-দাও আল-লামি লি আহলিল কারনিত তাসি" গ্রন্থে বলেন: (মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল দায়িম... আল-বারমাউয়ি, অতঃপর আল-কাহেরি, আশ-শাফেয়ি। তিনি সাতশ তেষট্টি হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন... তিনি বদর আজ-যারকাশিকে সার্বক্ষণিক অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে থেকে দক্ষতা অর্জন করেছেন ও তাঁর কিছু গ্রন্থ সংকলনে সহায়তা করেছেন। তিনি আল-বুলকিনির পাঠদানে উপস্থিত হতেন এবং তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও তিনি আল-আবনাাসি, ইবনুল মুলাক্কিন, আল-ইরাকি এবং অন্যদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন... তিনি জালাল ইবনে আবিল বাকার সান্নিধ্য লাভ করেন... শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে ভিড় জমাতো। তিনি এক বছরেই "আত-তানবিহ", "আল-হাউয়ি" এবং "আল-মিনহাজ" পড়িয়েছেন, এছাড়া আরও অনেক কিছু; ফলে তাঁর পাণ্ডিত্য প্রসিদ্ধি লাভ করে... তিনি ফতোয়া প্রদান, অধ্যাপনা ও গ্রন্থ রচনার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর মাধ্যমে বহু সৃষ্টি (মানুষ) উপকৃত হয়েছে, এমনকি তাঁর ছাত্ররা তাঁর জীবদ্দশাতেই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়। তিনি ওয়ালি আল-ইরাকির নাতির প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর কার্যাবলি পরিচালনা করেন... তিনি আটশ আটাশ হিজরিতে হজ করেন এবং তার পরের বছর সেখানে অবস্থান করেন এবং সেখানেও ইলম প্রচার করেন। এরপর তিনি আটশ ত্রিশ হিজরিতে ফিরে আসেন...
তিনি ফিকহ, উসুলুল ফিকহ, আরবি ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে একজন প্রাজ্ঞ ইমাম ও আল্লামা ছিলেন, সেই সঙ্গে তাঁর হস্তাক্ষর ও কাব্যরচনা ছিল অত্যন্ত সুন্দর...
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: চার খণ্ডে "সহিহ বুখারি"র ব্যাখ্যাগ্রন্থ... "শারহুল উমদাহ"... এছাড়াও তাঁর একটি পদ্যকাব্য রয়েছে এর বর্ণনাকারীদের নামের ওপর এবং তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। উসুলুল ফিকহের ওপর একটি "আলফিয়্যাহ" ও তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ... এবং একটি পদ্যকাব্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فِي الْفَرَائِض، وَشرح "لامية الْأَفْعَال" لِابْنِ مالك، و"البهجة الوردية"، و"زوائد الشذور"، وَعمل مُخْتَصرًا فِي السِّيرَة النَّبَوِيَّة وَكتب عَلَيْهَا حَاشِيَة، ولَخَّص "الْمُهِمَّات" للأسنوي. وَلم يزل قَائِما بنشر الْعلم تصنيفًا وإقراءً حَتَّى مَاتَ فِي يَوْم الْخَمِيس .. جُمَادَى الثَّانِيَة سنة إِحْدَى وَثَلَاثِينَ بِبَيْت المقدس .. ، وَقد انتشرت تلامذته فِي الْآفَاق، وَمِنْهُم: الْمحلي، والمناوي، والعبادي، وطبقة قبلهم، ثمَّ طبقَة تليهم. وَحدث بِالْقَاهِرَة وَمَكَّة ودمشق وَبَيت المقدس. سمع مِنْهُ الْأَئِمَّة: كالزين رضوَان بِالْقَاهِرَةِ، والتقي ابْن فَهد بِمَكَّة، وَابْن نَاصِر الدِّين بِدِمشْق. وروى لنا عَنهُ خَلْقٌ)
(1).
وقال السخاوي في ترجمة شيخه الحافظ ابن حجر العسقلاني: (تَفَقَّهَ بالأبناسي .. وبالبلقيني .. وَسمع عَلَيْهِ بِقِرَاءَة الشَّمْس الْبرمَاوِيّ فِي "مُخْتَصر الْمُزنِيَ")
(2).
وقال في ترجمة جلال الدين المحلي: (فَأخذ الْفِقْه وأصوله والعربية عَن الشَّمْس الْبرمَاوِيّ، وَكَانَ مُقيمًا مَعَه بالبيبرسية؛ فَكثر انتفاعه بِهِ لذَلِك)
(3). انتهى
وقال الإمام الشوكاني (1173 - 1250 هـ) في كتابه "البدر الطالع بمحاسن مَن بَعْد القرن السابع": ((مُحَمَّد بن عبد الدائم .. الْبرمَاوِيّ .. تصدَّى للإفتاء والتدريس والتصنيف، وانتفع بِهِ النَّاس، وطار صيته، وَصَارَ طَلبتُه رُؤَسَاء فِي حَيَاته .. وَكَانَ إِمَامًا فِي الْفِقْه وأصوله والعربية وَغير ذَلِك .. ، وَله ألفية فِي أصُول الْفِقْه، وَشرحهَا)
(4).
قلتُ: وقد سبق (ص: 5 - 6) نَقْل كلام ابن حاجي خليفة وابن أبي شريف.
--------------------------------------------
ফারায়েজ শাস্ত্রে, এবং ইবনে মালিকের "লামিয়াতুল আফআল"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, "আল-বাহজাতুল ওয়ারদিয়্যাহ", "জাওয়াইদুশ শুজুর", এবং সীরাতে নববীর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেন ও তার ওপর একটি হাশিয়া (টীকা) লেখেন, আর তিনি আসনাভির "আল-মুহিম্মাত"-এর সংক্ষিপ্তসার প্রস্তুত করেন। তিনি গ্রন্থ রচনা এবং পাঠদানের মাধ্যমে ইলম প্রচারের কাজে নিয়োজিত থাকেন, যে পর্যন্ত না তিনি ৮৩১ হিজরি সালের জমাদিউল সানি মাসের এক বৃহস্পতিবার বাইতুল মুকাদ্দাসে ইন্তেকাল করেন। তার ছাত্ররা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলেন; তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: আল-মহল্লি, আল-মুনাওয়ি, আল-ইবাদি এবং তাদের পূর্ববর্তী একদল ও পরবর্তী একদল উলামা। তিনি কায়রো, মক্কা, দামেস্ক ও বাইতুল মুকাদ্দাসে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার নিকট থেকে আইম্মায়ে কেরাম হাদিস শুনেছেন, যেমন: কায়রোতে যাইন রেদওয়ান, মক্কায় তাকি ইবনে ফাহাদ এবং দামেস্কে ইবনে নাসিরুদ্দিন। তার নিকট থেকে অসংখ্য লোক বর্ণনা করেছেন)
(১)।
সাখাবি তার উস্তাদ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির জীবনীতে বলেন: (তিনি আল-আবনাসি এবং আল-বুলকিনি থেকে ফিকহ অর্জন করেছেন... এবং তিনি শামস আল-বারমাওয়ির পাঠের মাধ্যমে "মুখতাসারুল মুজানি" শ্রবণ করেছেন)
(২)।
তিনি জালালুদ্দিন মহল্লির জীবনীতে বলেন: (তিনি শামস আল-বারমাওয়ির নিকট থেকে ফিকহ, উসুলে ফিকহ এবং আরবি ব্যাকরণ অর্জন করেছেন। তিনি বাইবারসিয়া মাদরাসায় তার সাথেই অবস্থান করতেন; ফলে তিনি তার নিকট থেকে প্রভূত উপকার লাভ করেছেন)
(৩)। সমাপ্ত
ইমাম শাওকানি (১১৭৩ - ১২৫০ হিজরি) তার "আল-বাদরুত তালি' বি মাহাসিনি মান বা'দাল করনিস সাবি'" গ্রন্থে বলেন: ((মুহাম্মদ বিন আব্দুল দায়িম... আল-বারমাওয়ি... ফতোয়া প্রদান, পাঠদান এবং গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন। মানুষ তার মাধ্যমে উপকৃত হয়, তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তার ছাত্ররা তার জীবদ্দশায়ই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিতে পরিণত হন... তিনি ফিকহ, উসুলে ফিকহ, আরবি ব্যাকরণ এবং অন্যান্য বিষয়ে ইমাম ছিলেন... এবং উসুলে ফিকহ বিষয়ে তার একটি আলফিয়া (সহস্র শ্লোকবিশিষ্ট কাব্য) ও তার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে)
(৪)।
আমি বলছি: ইতিপূর্বে (৫-৬ পৃষ্ঠায়) ইবনে হাজি খলিফা এবং ইবনে আবু শরিফের বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تنبيه: هناك مؤلفات للبرماوي ذكرها في شرح الألفية وقد ذكرتها كُتُب التراجم، وهناك مؤلفات له لم أقف عليها في كُتب التراجم.
فمن مؤلفاته التي لم أقف عليها:
1 - "تحقيق القول بالصمات عن مشكلات الصفات"، "إيضاح الفصول مِن منهاج الأصول". ذكرهما البرماوي في شرح الألفية.
قال الإمام البرماوي في شرح ألفيته (1/ 179): (وقد اجتمعت هذه النقول المتفرقة والأقوال المنتشرة بما قررناه، وقد بسطتها في "إيضاح الفصول مِن منهاج الأصول" بما يَتَعَيَّن على مُرِيده الوقوفُ عليه).
وقال أيضًا (2/ 859): (وقد بينتُ في مقدمة كتابي المُسمى بـ "تحقيق القول بالصمات عن مشكلات الصفات" وجوهًا مِن الترجيح).
2 - ما كَتبه ناسخ مخطوط "النبذة الزكية" على الورقة الأولى: (له تعليقة على "علوم الحديث" لابن الصلاح كما قاله في شرحه "النهر على الزهر"
(1) .. ، وله "تكحيل العيون بما في السِّيَر مِن الفنون" قاله في شرحه "النهر على الزهر"، وله شرح خطبة "الحاوي الصغير" وعندي منه نسختان .. ، وله إملاء على "التنقيح" أصل "التحرير" لابن شيخه الولي العراقي، وهو عند بعض أصحابنا).
ومن مؤلفاته التى ذكرها في شرحه وذكرتها كتب التراجم:
1 - "جمع العُدة لفهم العمدة": قال الإمام البرماوي في شرح ألفيته (2/ 692): (وفى الحديث مباحث أخرى ذكرتها في "جمع العُدة لفهم العمدة"، فراجعها).
--------------------------------------------
সতর্কবার্তা: আল-বারমাউয়ীর এমন কিছু রচনা রয়েছে যা তিনি আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (শারহুল আলফিয়্যাহ) উল্লেখ করেছেন এবং জীবনীগ্রন্থগুলোতেও সেগুলোর উল্লেখ রয়েছে। আবার তাঁর এমন কিছু রচনাও রয়েছে যা আমি জীবনীগ্রন্থগুলোতে খুঁজে পাইনি।
তাঁর সেই রচনাগুলোর মধ্যে যেগুলো আমি খুঁজে পাইনি:
১ - "তাহকিকুল কওল বিস-সামাত আন মুশকিলাতিস সিফাত", "ইজাহুল ফুসুল মিন মিনহাজিল উসুল"। বারমাউয়ী এই গ্রন্থ দুটির কথা তাঁর শারহুল আলফিয়্যাহ-তে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম বারমাউয়ী তাঁর শারহুল আলফিয়্যাহ (১/ ১৭৯) গ্রন্থে বলেন: (আমরা যা নির্ধারণ করেছি, তার মাধ্যমে এই বিচ্ছিন্ন উদ্ধৃতি ও ছড়িয়ে থাকা মতামগুলো একত্রিত হয়েছে। আর আমি "ইজাহুল ফুসুল মিন মিনহাজিল উসুল" গ্রন্থে এগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি, যা কোনো অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তির জন্য অবগত হওয়া আবশ্যক)।
তিনি আরও বলেন (২/ ৮৫৯): (আমি আমার "তাহকিকুল কওল বিস-সামাত আন মুশকিলাতিস সিফাত" নামক কিতাবের ভূমিকায় রাজেহ বা অগ্রাধিকারের বিভিন্ন দিক বর্ণনা করেছি)।
২ - "আন-নুবজাতুজ জাকিয়্যাহ" পাণ্ডুলিপির নকলকারী প্রথম পৃষ্ঠায় যা লিখেছেন: (ইবনুস সালাহ-এর "উলুমুল হাদীস"-এর ওপর তাঁর একটি তালীক বা টীকা রয়েছে, যেমনটি তিনি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আন-নাহরু আলায যাহর"
(১)-এ উল্লেখ করেছেন... এবং তাঁর "তাকহিলুল উয়ুন বিমা ফিস-সিয়ার মিনাল ফুনুন" নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা তিনি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আন-নাহরু আলায যাহর"-এ উল্লেখ করেছেন। এছাড়া "আল-হাভী আস-সগীর"-এর খুতবা বা ভূমিকার ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে এবং আমার কাছে এর দুটি কপি আছে... এবং তাঁর উস্তাদপুত্র ওয়ালী আল-ইরাকীর "আত-তাহরীর"-এর মূল গ্রন্থ "আত-তানকীহ"-এর ওপর তাঁর একটি ইমলা বা শ্রুতলিখন রয়েছে, যা আমাদের কোনো কোনো সঙ্গীর কাছে সংরক্ষিত আছে)।
তাঁর সেই রচনাগুলোর মধ্যে যেগুলো তিনি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং জীবনীগ্রন্থগুলোতেও সেগুলোর বর্ণনা এসেছে:
১ - "জামউল উদদাহ লি-ফাহমিল উমদাহ": ইমাম বারমাউয়ী তাঁর শারহুল আলফিয়্যাহ (২/ ৬৯২) গ্রন্থে বলেন: (এই হাদীসটিতে আরও কিছু আলোচনা রয়েছে যা আমি "জামউল উদদাহ লি-ফাহমিল উমদাহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছি, সুতরাং সেখানে দেখে নিন)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال أيضًا في شرح ألفيته (1/ 257): (وقد بسطت ذلك في "شرح العمدة" في باب "شروط البيع"، فَراجِعْه؛ فإنه نفيس).
2 - "شرح الصدور بشرح زوائد الشذور": قال الإمام البرماوي في شرح ألفيته (2/ 916): (وقد بسطتُ المسألة بسطًا شافيًا في "شرح الصدور بشرح زوائد الشذور" لابن هشام في النحو، فليطلَب منه؛ فإنه مهم).
3 - "شرح لاميّة الأفعال": قال الإمام البرماوي في شرح ألفيته (2/ 939): (وقد أوضحتُ في "شرح لاميّة الأفعال" لابن مالك هذا المعنى، وذكرتُ الفرقَ بين الاشتقاق والتصريف بما يتعين الوقوف عليه).
المبحث الثالث: بيان منهج الإمام البرماوي في نَظْم الألفية وأَصْلِها وشَرْحِهاقد يَرِد السؤال التالي في ذهن القارئ: ما الفَرْق بين: "النبذة الزكية في القواعد الأصلية"، والأَلْفيَّة، والشرح الوافي "الفوائد السنية"؟
ويتضح الجواب ببيان منهج الإمام البرماوي في كُتُبه:
اقتصر البرماوي في "النبذة الزكية" على بيان القول الراجح، ولم يتعرض لِذِكْر الخلاف بين الأصوليين، وكذلك لم يتعرض لِذِكْر الأدلة والاعتراضات عليها والأجوبة عنها. ومَشَى على ذلك أيضًا في نَظْم الألفية.
أمَّا في الشرح الوافي "الفوائد السنية في شرح الألفية" فنجده يَذكر مواضع الإجماع والخلاف وأدلة كل قول، ثم يذكر القول الراجح وأدلته، ويجيب عن أدلة المخالفين،
এবং তিনি তাঁর আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থেও (১/ ২৫৭) বলেছেন: (আমি এটি 'শারহুল উমদাহ' গ্রন্থের 'ক্রয়-বিক্রয়ের শর্তাবলি' অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, সুতরাং সেটি অধ্যয়ন করো; কারণ এটি অত্যন্ত মূল্যবান)।
২ - "শারহুস সুদুর বিশারহি যাওয়াইদিশ শুযুর": ইমাম বারমাভী তাঁর আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (২/ ৯১৬) বলেছেন: (আমি ইবনে হিশামের নাহু শাস্ত্রীয় গ্রন্থ 'শারহুস সুদুর বিশারহি যাওয়াইদিশ শুযুর'-এর ব্যাখ্যায় এই মাসআলাটি পর্যাপ্তভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, সুতরাং সেখান থেকে তা তালাশ করা উচিত; কারণ এটি গুরুত্বপূর্ণ)।
৩ - "শারহু লামিয়াতিল আফআল": ইমাম বারমাভী তাঁর আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (২/ ৯৩৯) বলেছেন: (আমি ইবনে মালিকের 'লামিয়াতুল আফআল'-এর ব্যাখ্যায় এই অর্থটি স্পষ্ট করেছি এবং ইশতিকাক ও তাসরিফের মধ্যকার পার্থক্য উল্লেখ করেছি যা অবগত হওয়া আবশ্যক)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আলফিয়্যাহর কাব্যরূপ, এর মূল এবং এর ব্যাখ্যায় ইমাম বারমাভীর মানহাজ বর্ণনাপাঠকের মনে নিচের প্রশ্নটি জাগতে পারে: 'আন-নুবযাতুয যাকিইয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল আসলিয়্যাহ', 'আলফিয়্যাহ' এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-ফাওয়ায়িদুস সানিয়্যাহ'-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
ইমাম বারমাভীর গ্রন্থসমূহের মানহাজ বর্ণনার মাধ্যমে উত্তরটি স্পষ্ট হবে:
বারমাভী 'আন-নুবযাতুয যাকিইয়্যাহ' গ্রন্থে কেবল শক্তিশালী মতটি বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং উসুলবিদদের মধ্যকার মতভেদ উল্লেখ করেননি। অনুরূপভাবে তিনি দলীলসমূহ, সেগুলোর ওপর উত্থাপিত আপত্তি এবং সেগুলোর উত্তরও উল্লেখ করেননি। তিনি আলফিয়্যাহর কাব্যরূপের ক্ষেত্রেও এই একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
পক্ষান্তরে, বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-ফাওয়ায়িদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ'-তে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি ইজমা ও মতভেদের স্থানসমূহ এবং প্রতিটি মতের দলীল উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি শক্তিশালী মতটি ও তার দলীলসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং বিরোধীদের দলীলসমূহের উত্তর প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
حتى أطال في مسائل عديدة.
ومِن ذلك قوله في مسألة "الإجماع السكوتي": (وإنما أَطَلْتُ في هذه المسألة .. لأنها مِن أُمهات الأُصُول ومِن المحتاج لإيضاحه).
وقال في موضع آخَر: (وإنما أطلتُ في هذا لاحتياج الشافعية لمثله).
وقال في موضع ثالث: (إنما أطلتُ الكلام على "الواو"؛ لأنها من المهمات).
وقال في موضع رابع: (فقد اتضحت المسألة والحقُّ فيها ولله الحمد، وإنما أطلتُ فيها بالنسبة لهذا المختصر لأنَّ أمر التكفير معضل وخطر عظيم).
وقال أيضًا: (وسأذكر في هذا الشرح ما يظهرُ مِن تفريعات في الفقه في بعض المسائل على ذلك إنْ شاء الله تعالى).
فصار كتابه موسوعة ضخمة في عِلْم أصول الفقه وتطبيقاته الفقهية، ومَرْجِعًا لا يَستغني عنه الباحثون في هذا العِلْم.
المبحث الرابع: تَقَدُّم البرماوي في عِلْم الحديث وأَثَره في شَرْحه لِلأَلْفِيَّةقال تقي الدين ابن قاضي شهبة (779 - 851 هـ) في كتابه "طبقات الشافعية": (مُحَمَّد بن عبد الدَّائِم بن مُوسَى: الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم .. الْبرمَاوِيّ .. تميز فِي الْفِقْه والنحو والْحَدِيث وَالْأُصُول).
قلتُ: فالإمام البرماوي أُصولي عالِم بالحديث، وقد سبق ذِكْر شَرْحه "صحيح
এমনকি তিনি অনেকগুলো মাসআলায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
এর মধ্যে "ইজমা-ই সুকুতী" (মৌন ঐকমত্য) এর মাসআলায় তাঁর বক্তব্য হলো: (আমি এই মাসআলায় দীর্ঘ আলোচনা করেছি... কারণ এটি উসূলের মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে)।
তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: (আমি এতে দীর্ঘ আলোচনা করেছি কারণ শাফেয়ীদের এর ন্যায় আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে)।
তিনি তৃতীয় এক স্থানে বলেছেন: (আমি "ওয়াও" (বর্ণটি) সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেছি; কারণ এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত)।
তিনি চতুর্থ এক স্থানে বলেছেন: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, মাসআলাটি এবং এতে সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থের তুলনায় আমি এতে দীর্ঘ আলোচনা করেছি কারণ তাকফীরের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং বড় বিপদের বিষয়)।
তিনি আরও বলেছেন: (যদি মহান আল্লাহ চান, তবে আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে কিছু মাসআলার ভিত্তিতে ফিকহী শাখা-প্রশাখা যা প্রকাশ পায় তা উল্লেখ করব)।
ফলে তাঁর গ্রন্থটি উসূলে ফিকহ এবং এর ফিকহী প্রয়োগের ক্ষেত্রে এক বিশাল বিশ্বকোষে পরিণত হয়েছে এবং এটি এই বিষয়ের গবেষকদের জন্য এক অপরিহার্য রেফারেন্সে রূপান্তরিত হয়েছে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হাদিস শাস্ত্রে আল-বারমাভীর পারদর্শিতা এবং আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এর প্রভাবতাকীউদ্দীন ইবনে কাযী শুহবা (৭৭৯ - ৮৫১ হিজরী) তাঁর "তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ" গ্রন্থে বলেছেন: (মুহাম্মাদ বিন আব্দুল দায়িম বিন মুসা: শাইখ, ইমাম, আলেম... আল-বারমাভী... তিনি ফিকহ, নাহু, হাদিস এবং উসূলে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন)।
আমি বলছি: ইমাম আল-বারমাভী ছিলেন একজন উসূলবিদ এবং হাদিস বিশারদ আলেম, আর ইতিপূর্বে তাঁর "সহীহ" এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
البخاري"
(1) وتعليقته على مقدمة ابن الصلاح في علوم الحديث، مما يجعل لكتابه هذا ميزة كبرى لا توجد في كثير من كُتُب أصول الفقه الأخرى، ولبيان ذلك أذكر خمسة أمثلة مما جاء في كتابه "الفوائد السنية":
المثال الأول: قال الإمام البرماوي (3/ 1017): (وأما جواب القاضي أبي بكر والإمام والغزالي ومَن تبعهم بالطعن في الحديث فعجيب؛ فإنه في "الصحيحين").
المثال الثاني: قال الإمام البرماوي (1/ 186): (ودليله أيضًا حديثُ: "رُفِعَ القَلَم عن ثلاث: عن الصبي حتى يَبْلغ، وعن النائم حتى يستيقظ، والمجنون حتى يفيق". رواه الأربعة مِن حديث علي، وقال الترمذي: "حسن"، وأخرجه ابن حبان والحاكمُ وقال: "صحيح على شرط الشيخين". وأخرجه البخاري موقوفًا مُعَلَّقًا بِالجَزْم، ورواه أبو داود والنسائي وابنُ ماجه وابنُ حبان مِن رواية عائشة، وقال الحاكم: "صحيح على شرط مسلم". وقال الشيخ تقي الدين ابن دقيق العيد في "الإمام": إنه أَقْوَى إسنادًا مِن رواية عَلِي). انتهى كلام البرماوي.
المثال الثالث: قال الإمام البرماوي (1/ 213): (وقد يُرَجَّح هذا بحديث أبي هريرة: "نَهَى صلى الله عليه وسلم عن صوم يوم عرفة". أخرجه أبو داود والنسائي وابن ماجه، وفيه ضَعْفٌ وإنْ كان الحاكم صححه وقال: "على شرط البخاري"). انتهى كلام البرماوي.
قلتُ: لم يَغْتَر البرماوي بتصحيح الحاكم للحديث، وقد قال البرماوي في موضع آخَر: (ثم بعد ذلك يرجح ما كان على شرطهما، ثم ما كان على شرط البخاري، ثم ما هو على شرط مسلم، كما يفعل ذلك الحاكم في "مستدركه" وإنْ كان فيه تساهل وعليه انتقادات).
--------------------------------------------
বুখারি
(১) এবং হাদিস বিজ্ঞানে ইবনে আস-সালাহর মুকাদ্দিমার ওপর তার টীকা, যা তার এই কিতাবটিকে এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রদান করে যা উসুলে ফিকহের অন্য অনেক কিতাবে পাওয়া যায় না। এটি স্পষ্ট করার জন্য আমি তার 'আল-ফাওয়ায়েদ আস-সুন্নিয়াহ' কিতাব থেকে পাঁচটি উদাহরণ উল্লেখ করছি:
প্রথম উদাহরণ: ইমাম আল-বারমাভি (৩/ ১০১৭) বলেছেন: (আর হাদিসের ওপর আপত্তির মাধ্যমে কাজি আবু বকর, ইমাম (জুওয়াইনি), আল-গাজালি এবং তাদের অনুসারীদের দেয়া উত্তর বিস্ময়কর; কারণ এটি 'সহিহাইন' বা বুখারি ও মুসলিমে রয়েছে)।
দ্বিতীয় উদাহরণ: ইমাম আল-বারমাভি (১/ ১৮৬) বলেছেন: (এর দলিল সেই হাদিসটিও: "তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে: শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয় এবং পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়"। চার ইমাম আলির হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, আর তিরমিজি বলেছেন: "হাসান"। ইবনে হিব্বান ও হাকেম এটি সংকলন করেছেন এবং হাকেম বলেছেন: "শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ"। বুখারি এটি মাওকুফ ও মুয়াল্লাক হিসেবে দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন। আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও ইবনে হিব্বান এটি আয়েশার বর্ণনা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম বলেছেন: "মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ"। আর শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে দাকিক আল-ঈদ 'আল-ইমাম' গ্রন্থে বলেছেন: এটি আলির বর্ণনার চেয়ে সনদের দিক থেকে অধিক শক্তিশালী)। বারমাভির বক্তব্য শেষ হলো।
তৃতীয় উদাহরণ: ইমাম আল-বারমাভি (১/ ২১৩) বলেছেন: (আর এটি আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে প্রাধান্য পেতে পারে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন"। আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ এটি সংকলন করেছেন। এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে, যদিও হাকেম একে সহিহ বলেছেন এবং বলেছেন: "বুখারির শর্তানুযায়ী")। বারমাভির বক্তব্য শেষ হলো।
আমি বলছি: আল-বারমাভি হাদিস শুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে হাকেমের বক্তব্যের দ্বারা বিভ্রান্ত হননি। বারমাভি অন্য স্থানে বলেছেন: (অতঃপর এরপর তাদের উভয়ের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী যা রয়েছে তাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, এরপর যা বুখারির শর্তানুযায়ী, এরপর যা মুসলিমের শর্তানুযায়ী, যেমনটি হাকেম তার 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে করেছেন, যদিও তাতে শিথিলতা রয়েছে এবং তার ওপর সমালোচনাও রয়েছে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قلتُ: وقد أصاب البرماوي في تصريحه بضعف الحديث؛ فالإسناد مداره على مهدي بن حرب العبدي الهجري، وهو سبب الحكم بضعف الحديث
(1).
وقال الإمام أبو جعفر العقيلي في كتابه "الضعفاء الكبير"
(2): (رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ عليه السلام بِأَسَانِيدَ جِيَادٍ أَنَّهُ لَمْ يَصُمْ يَوْمَ عَرَفَةَ، وَلا يَصِحُّ عَنْهُ أَنَّهُ نَهَى عَنْ صَوْمِهِ، وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: "صَوْمُ يَوْمِ عَرَفَة كَفَّارَةُ سَنَتَيْنِ، سَنَةٍ مَاضِيَة، وَسَنَةٍ مُسْتَقْبلَة").
قلتُ: فَقَوْل البرماوي وافَقَ قول أئمة الحديث المتقدمين.
المثال الرابع: قال الإمام البرماوي (5/ 2098): (وفي الحديث: "ما رآه المسلمون حسنًا فهو عند الله حسن" .. رواه أحمد والدارمي عن ابن مسعود موقوفًا عليه، ومَن رَفَعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقد أخطأ، ورَفْعُه مِن حديث أَنَس إسناده ساقط لا يُحتج به). انتهى
قلتُ: كلام الإمام البرماوي هنا دقيق ومتين، ويتضح ذلك مما يلي:
قال الحافظ ابن حجر في "الأمالي المطلقة"
(3): (لَمْ أَرَ في شَيْءٍ مِنْ طُرُقِه التَّصْرِيحَ بِرَفْعِهِ).
وقال أيضًا في "الدراية في تخريج أحاديث الهداية"
(4): (لم أجده مرفوعًا).
قلتُ: بل ذكره الخطيب البغدادي بإسناده في "تاريخ بغداد"
(5): (عَنْ أَنَسِ بْنِ
--------------------------------------------
আমি বলছি: আল-বারমাভি হাদিসটিকে দুর্বল বলে যে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন, তা সঠিক হয়েছে; কেননা এর বর্ণনাসূত্র মাহদী বিন হারব আল-আবদি আল-হাজরির ওপর আবর্তিত, আর তিনিই হাদিসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করার কারণ
(১)।
ইমাম আবু জাফর আল-উকাইলি তাঁর "আদ-দুয়াফা আল-কাবির" গ্রন্থে বলেছেন
(২): (নবী আলাইহিস সালাম থেকে উত্তম বর্ণনাসূত্রসমূহের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আরাফার দিন রোজা রাখেননি, এবং তাঁর পক্ষ থেকে এই রোজা নিষেধ করার বিষয়টি প্রমাণিত নয়। তবে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আরাফার দিনের রোজা দুই বছরের কাফফারা; বিগত বছর এবং আগামী বছর")।
আমি বলছি: আল-বারমাভির বক্তব্য পূর্ববর্তী হাদিস বিশারদ ইমামগণের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।
চতুর্থ উদাহরণ: ইমাম আল-বারমাভি বলেছেন (৫/ ২০৯৮): (আর হাদিসে এসেছে: "মুসলমানরা যাকে উত্তম মনে করে, আল্লাহর নিকটও তা উত্তম" .. এটি ইমাম আহমাদ ও দারেমি ইবনে মাসউদ থেকে তাঁর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর যিনি একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত করেছেন, তিনি ভুল করেছেন। আর আনাস থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসটির সনদ বর্জনীয়, যা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়)। সমাপ্ত
আমি বলছি: ইমাম আল-বারমাভির কথা এখানে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সুদৃঢ়, যা নিম্নোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়:
হাফিজ ইবনে হাজার "আল-আমালি আল-মুতলাকাহ" গ্রন্থে বলেছেন
(৩): (আমি এর কোনো বর্ণনাসূত্রেই মারফু হওয়ার স্পষ্ট উল্লেখ দেখিনি)।
তিনি আরও "আদ-দিরায়াহ ফি তাখরিজি আহাদিসিল হিদায়াহ" গ্রন্থে বলেছেন
(৪): (আমি এটি মারফু হিসেবে পাইনি)।
আমি বলছি: বরং আল-খাতিব আল-বাগদাদি "তারিখে বাগদাদ" গ্রন্থে তাঁর বর্ণনাসূত্রে এটি উল্লেখ করেছেন
(৫): (আনাস বিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
مَالِك، قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ الله نَظَرَ فِي قُلُوبِ الْعِبَادِ فَلَمْ يَجِدْ قَلْبًا أَتْقَى مِنْ أَصْحَابِي؛ وَلِذَلِكَ اخْتَارَهُمْ، فَجَعَلَهُمْ أَصْحَابًا، فَمَا اسْتَحْسَنُوا فَهُوَ عِنْدَ الله حَسَنٌ، وَمَا اسْتَقْبَحُوا فَهُوَ عِنْدَ الله قَبِيحٌ"). انتهى
قلتُ: وفي إسناده سليمان بن عمرو النخعي، قال الحافظ ابن حجر في "لسان الميزان"
(1): (كَذَّبه ونَسَبَه إلى الوَضْع مِن المتقدمين والمتأخرين ممن نُقِل كلامهم في الجرح أو ألَّفوا فيه فوق الثلاثين نَفْسًا). انتهى
قلتُ: فكلام البرماوي فيه أمران:
أولهما: عِلمه برواية الرفع.
ثانيهما: عِلمه بأنَّ رواية الرفع إسنادها ساقط لا يُحتج به.
فَقَوْل البرماوي يدل على أنه عالِمٌ بالحديث.
المثال الخامس: قال الإمام البرماوي (4/ 1671): (الثاني: أن يكون العموم في ذلك الحكم المسئول عنه، كقوله صلى الله عليه وسلم وقد سُئل عن بئر بُضاعة وهي بئر يُلقى فيها الحيض والنتن ولحوم الكلاب: "إن الماء طهور لا ينجسه شيء". رواه أحمد وأبو داود والترمذي والنسائي، وقال أحمد: "صحيح". وقال الترمذي: "حسن". وفي بعض نُسَخه: "حسن صحيح". وصححه أيضًا ابن معين وغيره.
وهو يَرُد قول الدارقطني: إنه غير ثابت
(2). ويقع في كُتب كثير من أصحابنا - وكذا
--------------------------------------------
মালেক (বর্ণনা করেছেন), তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের অন্তরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং আমার সাহাবীদের অন্তরের চেয়ে অধিক মুত্তাকী আর কোনো অন্তর পাননি; এই কারণেই তিনি তাঁদেরকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁদেরকে সাহাবী বানিয়েছেন। সুতরাং তাঁরা যা উত্তম মনে করেন, আল্লাহর কাছে তা উত্তম; আর তাঁরা যা মন্দ মনে করেন, আল্লাহর কাছে তা মন্দ।" (সমাপ্ত)
আমি বলছি: এর সনদে সুলাইমান বিন আমর আন-নাখায়ী রয়েছে। হাফেয ইবনে হাজার 'লিসানুল মিজান'
(১)-এ বলেছেন: (পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আলেমদের মধ্যে যারা 'জারহ' (সমালোচনা) সংক্রান্ত বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন অথবা এই বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে ত্রিশের অধিক ব্যক্তি তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন এবং তার দিকে হাদিস জাল করার অপবাদ আরোপ করেছেন)। (সমাপ্ত)
আমি বলছি: বারমাভীর কথার মধ্যে দুটি বিষয় রয়েছে:
প্রথমত: 'রাফ' (রাসূল পর্যন্ত পৌঁছানো) বর্ণনা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান।
দ্বিতীয়ত: 'রাফ' বর্ণনার সনদ যে পরিত্যক্ত এবং এটি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, সে সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান।
সুতরাং বারমাভীর এই কথাটি প্রমাণ করে যে তিনি হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন।
পঞ্চম উদাহরণ: ইমাম বারমাভী (৪/ ১৬৭১) বলেছেন: (দ্বিতীয়ত: যে বিধানটি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে তার মধ্যে ব্যাপকতা থাকা। যেমন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী—যখন তাঁকে বুযাআ'হ কুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যা এমন একটি কুয়া ছিল যাতে ঋতুস্রাবের কাপড়, দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু এবং কুকুরের গোশত ফেলা হতো—তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং নাসাঈ। ইমাম আহমাদ বলেছেন: "সহীহ"। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: "হাসান"। তাঁর কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে আছে: "হাসান সহীহ"। ইবনে মাঈন এবং অন্যান্যরাও একে সহীহ বলেছেন।
আর এটি আদ-দারাকুতনীর এই উক্তিকে খণ্ডন করে যে: 'এটি সাব্যস্ত নয়'। আমাদের অনেক সাথীদের কিতাবেও এটি পাওয়া যায় - এবং তদ্রূপ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقع في "مختصر ابن الحاجب" في الأصول - زيادة في هذا الحديث: "إلا ما غَيَّر لونه أو طعمه أو ريحه". وهو تخليط؛ فإنَّ هذا حديث آخَر ليس فيه ذِكر بئر بُضاعة، رواه ابن ماجه: "إنَّ الماء لا ينجسه إلا ما غلب على ريحه وطعمه ولونه". ورواه الدارقطني بلفظ: "لا ينجسه إلا ما غيَّر ريحه أو طعمه". ولم يذكر اللون، بل لا يُعرف لِلَّون ذِكر في غير ابن ماجه
(1). وقال الشافعي: "هذا الحديث لا يُثْبِت أهل الحديث مِثله". وقال أبو حاتم الرازي: "الصحيح أنه مُرْسل"). انتهى كلام البرماوي.
قلتُ: مَن يراجع المصادر يجد صحة ما ذكره الإمام البرماوي (سوى ما ذكرتُه في هامش هذه الصفحة).
والتخليط الذي ذكره الإمام البرماوي قد وقع فيه مِن كبار علماء أصول الفقه: الجويني (478 هـ) في "التلخيص، ص 176"، الغزالي (505 هـ) في "المستصفى، ص 235"، ابن عقيل (513 هـ) في "الوَاضِح في أصُولِ الفِقه، 2/ 17"، الآمدي (631 هـ)
--------------------------------------------
উসুল শাস্ত্রের "মুখতাসার ইবনুল হাজিব"-এ এই হাদিসটিতে একটি সংযোজন ঘটেছে: "তবে যা তার রঙ, স্বাদ অথবা গন্ধ পরিবর্তন করে দেয়"। এটি একটি সংমিশ্রণ (ভুল); কারণ এটি ভিন্ন একটি হাদিস যেখানে বিরে বুদাআ-এর কোনো উল্লেখ নেই। ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই পানিকে কোনো কিছু অপবিত্র করে না তবে যা তার গন্ধ, স্বাদ ও রঙের ওপর প্রবল হয়ে যায়"। আর দারাকুতনি এটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "সেটিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না তবে যা তার গন্ধ অথবা স্বাদ পরিবর্তন করে দেয়"। সেখানে তিনি রঙের কথা উল্লেখ করেননি, বরং ইবনে মাজাহ ছাড়া অন্য কোথাও রঙের উল্লেখ পাওয়া যায় না
(১)। ইমাম শাফেয়ী বলেন: "হাদিস বিশারদগণ এই হাদিসের মতো কোনো হাদিসকে সাব্যস্ত করেন না"। আবু হাতিম আর-রাজি বলেন: "সঠিক মত হলো এটি একটি মুরসাল (বিচ্ছিন্ন) হাদিস"। বারমাউয়ির বক্তব্য সমাপ্ত।
আমি বলছি: যারা মূল উৎসসমূহ পর্যালোচনা করবেন তারা ইমাম বারমাউয়ি যা উল্লেখ করেছেন তার সত্যতা খুঁজে পাবেন (এই পৃষ্ঠার টীকায় আমি যা উল্লেখ করেছি তা ব্যতীত)।
ইমাম বারমাউয়ি যে সংমিশ্রণের কথা উল্লেখ করেছেন, উসুলুল ফিকহের বড় বড় আলেমদের ক্ষেত্রেও তা ঘটেছে: জুওয়াইনি (৪৭৮ হি.) "আত-তালখিস, পৃষ্ঠা ১৭৬" গ্রন্থে, গাজালি (৫০৫ হি.) "আল-মুসতাসফা, পৃষ্ঠা ২৩৫" গ্রন্থে, ইবনে আকিল (৫১৩ হি.) "আল-ওয়াদিহ ফি উসুলিল ফিকহ, ২/১৭" গ্রন্থে, আমিদি (৬৩১ হি.)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
في "الإحكام في أصول الأحكام، 2/ 257"، ابن الحاجب في مختصره الأصولي، السعد التفتازاني (793 هـ) في "شرح التلويح على التوضيح، 1/ 114"، شمس الدين الأصفهاني (749 هـ) في "بيان المختصر شرح مختصر ابن الحاجب، 2/ 151".
المثال السادس: قال البرماوي (2/ 588): (أما الرواية فلهُم ألفاظ غير ذلك تَوَسُّعًا، وجعلوها مراتب، أعلاها: أن يجمع بين لفظين متحدي المعني؛ تأكيدًا، كأن يقول: "ثبتٌ حُجةٌ" أو "ثبتٌ حافظٌ" .. قاله الذهبي في مقدمة "الميزان".
الثانية: وهي ما بدأ بها ابن أبي حاتم وابن الصلاح، أنْ يقول: ثقةٌ، أو: متقنٌ، أو: ثبتٌ، أو: حجةٌ .. قال الخطيب: "أرفع العبارات أن يقول: حجةٌ، أو: ثقةٌ" ..
الرابعة: أن يقول: "محلُّه الصدق" أو "رَووا عنه" أو "شيخ" أو "وسط" أو "صالح الحديث" أو "مُقارب" بفتح الراء وكسرها كما حكاه صاحب "الأحوذي". على أن ابن أبي حاتم وابن الصلاح جعلَا "محله الصدق" من الرتبة التي قبل هذه، لكن صاحب "الميزان" جعلها من الرابعة).
المثال السابع: قال البرماوي (ص 550 - 551): (واعْلم أن شرط تَحمُّل الصغير التمييز، ونُقل عن المحدثين اعتبار خَمس سنين .. وذلك لِمَا رواه البخاري .. عن محمود بن الربيع، قال: "عقلتُ من النبي صلى الله عليه وسلم مَجَّة مَجَّها في وجهي مِن دلوٍ وأنا ابن خمس سنين". وبوَّب عليه البخاري: "متى يصح سماع الصغير؟ ".
.. ولكن الراجح عند محققي المحدثين اعتبار التمييز وأن تمييز محمود كان في هذا السن، فلا يقاس به إلا مَن مَيَّز مثله، وإن كان القول باعتبار الخمس هو قول الجمهور الذي نقله القاضي عياض في "الإلماع" عن أهل الصنعة. وقال ابن الصلاح: "إنه الذي استقر عليه عمل أهل الحديث". ومما يدل على اعتبار التمييز قول أحمد وقد سُئل: متى
"আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম, ২/ ২৫৭", ইবনুল হাজিব তার মুখতাসারুল উসুলি-তে, আস-সা'দ আত-তাফতাজানি (৭৯৩ হি.) "শারহুত তালউইহ আলাত তাওদিহ, ১/ ১১৪"-তে, শামসুদ্দিন আল-আসবাহানি (৭৪৯ হি.) "বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনিল হাজিব, ২/ ১৫১"-তে উল্লেখ করেছেন।
ষষ্ঠ উদাহরণ: আল-বারমাউয়ি (২/ ৫৮৮) বলেছেন: (বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের আরও বিস্তৃত শব্দাবলি রয়েছে, যেগুলোকে তারা বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করেছেন। এর সর্বোচ্চ স্তর হলো: তাকিদ বা দৃঢ়তা প্রদানের জন্য একই অর্থবোধক দুটি শব্দকে একত্রিত করা; যেমন বলা: "সাবতুন হুজ্জাহ" অথবা "সাবতুন হাফিজ" .. আয-যাহাবি তার "আল-মিজান" গ্রন্থের ভূমিকায় এটি বলেছেন।
দ্বিতীয় স্তর: যা দ্বারা ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনুস সালাহ শুরু করেছেন, তা হলো: "সিকাহ", অথবা "মুতকিন", অথবা "সাবত", অথবা "হুজ্জাহ" .. আল-খাতিব বলেছেন: "সর্বোচ্চ শব্দাবলি হলো—হুজ্জাহ অথবা সিকাহ বলা" ..
চতুর্থ স্তর: "মাহাল্লুহুস সিদক" অথবা "রউ আনহু" অথবা "শাইখ" অথবা "ওয়াসাত" অথবা "সালিহুল হাদিস" অথবা "মুকারিব" র-এ ফাতহ বা কাসরা যোগে, যেমনটি "আল-আহওয়াযি" গ্রন্থের লেখক বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য যে, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনুস সালাহ "মাহাল্লুহুস সিদক" শব্দটিকে এর আগের স্তরে রেখেছেন, কিন্তু "আল-মিজান" গ্রন্থের লেখক একে চতুর্থ স্তরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন)।
সপ্তম উদাহরণ: আল-বারমাউয়ি (পৃষ্ঠা ৫৫০ - ৫৫১) বলেছেন: (জেনে রাখুন যে, শিশুর হাদিস গ্রহণের শর্ত হলো তামিয (ভালো-মন্দ পার্থক্যের ক্ষমতা)। মুহাদ্দিসগণের পক্ষ থেকে পাঁচ বছর বয়সকে মানদণ্ড হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে .. এর কারণ হলো ইমাম বুখারি যা বর্ণনা করেছেন .. মাহমুদ ইবনে রাবি থেকে, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বালতি থেকে কুলি করে আমার মুখে পানি ছিটিয়েছিলেন, যা আমার মনে আছে; তখন আমার বয়স ছিল পাঁচ বছর।" ইমাম বুখারি এর ওপর অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন: "কখন শিশুর হাদিস শ্রবণ শুদ্ধ হয়?"।
.. কিন্তু গবেষক মুহাদ্দিসগণের নিকট অধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো তামিয বা বিচারবুদ্ধিকে বিবেচনায় নেওয়া এবং মাহমুদ ইবনে রাবির তামিয এই বয়সেই অর্জিত হয়েছিল। সুতরাং যার বিচারবুদ্ধি তার মতো হয়েছে, তাকেই কেবল তার সাথে তুলনা করা যাবে। যদিও পাঁচ বছরকে মানদণ্ড ধরার বিষয়টি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত, যা কাজি আইয়াজ তার "আল-ইলমা" গ্রন্থে হাদিস বিশারদদের থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনুস সালাহ বলেন: "আহলে হাদিস বা হাদিস বিশারদগণের আমল এর ওপরই স্থির হয়েছে।" আর তামিয বা বিচারবুদ্ধিকে মানদণ্ড ধরার ব্যাপারে ইমাম আহমদের উক্তি প্রমাণস্বরূপ, যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: কখন)
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يجوز سماع الصبي للحديث؟ فقال: إذا عقل وضبط). انتهى كلام البرماوي.
المثال الثامن: قال البرماوي (2/ 643): (والحاصل أنَّ المجهول ظاهرًا وباطنًا - أي: وهو معروف العَيْن برواية عَدْلين عنه - لا تُقبل روايته. قال بعضهم: بالإجماع. وجرى عليه في "جمع الجوامع". وهو مردود بحكاية ابن الصلاح فيه عن الجماهير أنه لا يُقبَل).
المثال التاسع: قال شمس الدين البرماوي (1/ 711) في "الإجازة":
(اختلفوا في الرواية بها، والراجح الجواز، بل حكى القاضي أبو بكر والباجي وغيرهما من الأصوليين الاتفاق عليه. وهو عجيب؛ فقد قال بالمنع شعبة، قال: "ولو صحت الإجازة لبطلت الرحلة". وقال به أيضًا أبو زرعة الرازي، وقال: "لو صحت لذهب العلم"، وإبراهيم الحربي كما نقله عنه الخطيب ثم ابن الصلاح وإنِ اضطرب في النقل عنه). انتهى كلام البرماوي.
المثال العاشر: قال البرماوي (2/ 645): (فائدة: عند المحدِّثين مِن أقسام "المستور" أيضًا مَن عُرف - بِذِكره في الجملة - عَيْنُه وعدالته ولكن جُهل تعيينه، كإيهام الصحابي، وكقول الراوي: "أخبرني فلان أو فلان" والفَرْض أنهما عَدْلان، فهذا لا يضر. أمَّا لو جُهِلت عدالة أحدهما أو قال: "أخبرني فلان أو غيرُه"، فلا يُحتج به حينئذ).
قلتُ: وقد أطال شمس الدين البرماوي في شرح الأبيات المتعلقة بمصطلح الحديث (وهي الأبيات رقم: 257 إلى 368) في كتابه هذا (2/ 490 - 760).
الخلاصة:
يتضح مِن هذه الأمثلة أننا في هذا الكتاب أمام عالم بالحديث، فشمس الدين البرماوي أُصولي عالِم بالحديث، مما يجعل لكتابه هذا ميزة كبرى لا توجد في كثير من كُتُب أصول الفقه الأخرى.
শিশুর হাদীস শ্রবণ কি বৈধ? তিনি বললেন: যখন সে অনুধাবন করতে এবং তা সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে। আল-বারমাউয়ীর বক্তব্য সমাপ্ত।
অষ্টম উদাহরণ: বারমাউয়ী (২/৬৪৩) বলেছেন: (সারকথা হলো যে, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে যে 'মাজহুল' (অজ্ঞাত) - অর্থাৎ, যার সত্তা দুই জন ন্যায়পরায়ণ রাবীর বর্ণনার মাধ্যমে পরিচিত - তার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না। কেউ কেউ একে সর্বসম্মতিক্রমে বলেছেন। 'জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থেও এই মতটি অনুসরণ করা হয়েছে। তবে ইবনুস সালাহ জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের উদ্ধৃতি দিয়ে এই মতটি খণ্ডন করেছেন যে এটি গ্রহণ করা হবে না)।
নবম উদাহরণ: শামসুদ্দিন বারমাউয়ী (১/৭১১) 'ইজাজাহ' সম্পর্কে বলেছেন:
(এর মাধ্যমে বর্ণনা করার বিষয়ে তারা দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং গ্রহণযোগ্য মত হলো এটি বৈধ। এমনকি কাজী আবু বকর, বাজি এবং অন্যান্য উসুলবিদরা এ বিষয়ে ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন। তবে এটি আশ্চর্যজনক; কারণ শু'বাহ এটি নিষিদ্ধ করেছেন, তিনি বলেছেন: "যদি ইজাজাহ সঠিক হতো, তবে ইলম অর্জনে সফর করার প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যেত"। আবু যুরআহ আর-রাযীও একই মত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন: "যদি এটি সঠিক হতো, তবে ইলম হারিয়ে যেত"। ইবরাহিম আল-হারবীও একই কথা বলেছেন যেমনটি আল-খতিব এবং তারপর ইবনুস সালাহ তার থেকে বর্ণনা করেছেন, যদিও তার বর্ণনার উদ্ধৃতিতে কিছুটা অসংলগ্নতা রয়েছে)। আল-বারমাউয়ীর বক্তব্য সমাপ্ত।
দশম উদাহরণ: বারমাউয়ী (২/৬৪৫) বলেছেন: (একটি শিক্ষণীয় বিষয়: মুহাদ্দিসগণের নিকট 'মাস্তুর'-এর প্রকারভেদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত যার সত্তা এবং ন্যায়পরায়ণতা সাধারণভাবে পরিচিত কিন্তু নির্দিষ্টভাবে তাকে চেনা যায় না। যেমন কোনো সাহাবীর নাম অস্পষ্ট রাখা, অথবা বর্ণনাকারীর এ কথা বলা: "আমাকে অমুক অথবা অমুক সংবাদ দিয়েছেন" যখন ধরে নেওয়া হয় যে তারা উভয়েই ন্যায়পরায়ণ, এমতাবস্থায় এটি কোনো ক্ষতি করে না। তবে যদি তাদের মধ্যে কোনো একজনের ন্যায়পরায়ণতা অজ্ঞাত থাকে অথবা তিনি বলেন: "আমাকে অমুক অথবা অন্য কেউ সংবাদ দিয়েছেন", তবে সেই সময় এটি দলিল হিসেবে পেশ করা যাবে না)।
আমি বলব: শামসুদ্দিন বারমাউয়ী তার এই কিতাবে (২/৪৯০-৭৬০) হাদীসের পরিভাষা সংক্রান্ত কবিতাগুলোর (কবিতা নম্বর: ২৫৭ থেকে ৩৬৮) ব্যাখ্যায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
সারকথা:
এই উদাহরণগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, আমরা এই কিতাবটিতে একজন হাদীসবিশারদ আলেমের সম্মুখীন হয়েছি। কেননা শামসুদ্দিন বারমাউয়ী একজন উসুলবিদ হওয়ার পাশাপাশি হাদীস শাস্ত্রেও পণ্ডিত ছিলেন। এটি তার এই কিতাবকে এমন এক বিশেষ মর্যাদা দান করেছে যা উসুলুল ফিকহের অন্য অনেক কিতাবে পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الخامس: تَقَدُّم البرماوي في الفقه وأَثَره في شَرْحه لِلأَلْفِيَّةأُلَخِّص - فيما يلي - ما تَقَدَّم نَقْلُه فيما يتعلق بمكانته الفقهية، ثم أذكر أثَر ذلك في كتابه "الفوائد السنية":
قال ابن قاضي شهبة في "طبقات الشافعية": (الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم .. الْبرمَاوِيّ .. تميز فِي الْفِقْه والنحو والْحَدِيث وَالْأُصُول .. ، وَأقَام بِمصْر يشغل ويفتي .. ، ثمَّ قدم دمشق .. وَقُصِد بالفتاوى .. ، وَولي إِفْتَاء دَار الْعدْل).
وقال الحافظ ابن حجر: (البرماوي .. سمعتُ بقراءته على الشيخ "مختصر المزني").
وقال الحافظ السخاوي: (الْبرمَاوِيّ .. كَانَ إِمَامًا عَلَّامَة فِي الْفِقْه وأصوله .. ).
وقال الإمام الشوكاني: (البرماوي .. كان إمامًا في الفقه وأصوله .. ).
قلتُ: فالبرماوي الأُصولي كان إمامًا في الفقه؛ ونرى أَثَر ذلك واضحًا من جهتين:
الجهة الأُولى: اجتهاده في الابتعاد عن تَناوُل ما لا يفيد من المباحث والمسائل.
الجهة الثانية: اجتهاده في ذِكر الكثير مِن الفروع والتطبيقات الفقهية.
وإليكم تفصيل ذلك:
الجهة الأُولى: اجتهاده في الابتعاد عن تَناوُل ما لا يفيد من المباحث والمسائل:
وذلك بخلاف المتكلمين - أصحاب عِلم الكلام - الذين امتلأت مؤلفاتهم في أصول الفقه بمسائل ومباحث جَدَلية عقيمة لا فائدة لها.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ফিকহ শাস্ত্রে আল-বারমাউয়ির অগ্রগামিতা এবং আলফিয়্যাহ-এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)-এ তাঁর প্রভাবনিম্নে আমি ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর অবস্থান সম্পর্কিত পূর্বে বর্ণিত বিষয়গুলোর সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করছি এবং এরপর তাঁর রচিত "আল-ফাওয়াইদ আস-সুন্নিয়্যাহ" গ্রন্থে এর প্রভাব উল্লেখ করছি:
ইবনে ক্বাদি শুহবাহ "ত্ববাক্বাতুশ শাফিঈয়্যাহ" গ্রন্থে বলেন: (শায়খ, ইমাম, আলিম... আল-বারমাউয়ি... তিনি ফিকহ, নাহু, হাদিস ও উসুল শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন... তিনি মিসরে অবস্থান করে পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের কাজ আঞ্জাম দিতেন... এরপর তিনি দামেস্কে আগমন করেন... এবং ফতোয়ার জন্য তাঁর শরণাপন্ন হওয়া হতো... এবং তিনি দারুল আদলের মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন)।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: (আল-বারমাউয়ি... আমি শায়খের নিকট তাঁর "মুখতাসারুল মুজানি" পাঠ শ্রবণ করেছি)।
হাফেজ আস-সাখাবি বলেন: (আল-বারমাউয়ি... তিনি ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রে একজন আল্লামা ইমাম ছিলেন... )।
ইমাম আশ-শাওকানি বলেন: (আল-বারমাউয়ি... তিনি ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রে একজন ইমাম ছিলেন... )।
আমি বলছি: উসুলবিদ আল-বারমাউয়ি ফিকহ শাস্ত্রে একজন ইমাম ছিলেন; আর আমরা এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দুটি দিক থেকে দেখতে পাই:
প্রথম দিক: ফায়দাহীন বা অনর্থক আলোচনা ও মাসআলাসমূহ বর্জন করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা.
দ্বিতীয় দিক: প্রচুর পরিমাণে ফিকহি শাখা-প্রশাখা ও প্রায়োগিক মাসআলা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা।
এর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
প্রথম দিক: ফায়দাহীন বা অনর্থক আলোচনা ও মাসআলাসমূহ বর্জন করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা:
এটি মুতাকাল্লিমদের—ইলমুল কালামের অনুসারী—বিপরীত চিত্র, যাঁদের উসুলুল ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ অসার ও নিষ্ফল বিতর্কমূলক মাসআলা ও আলোচনায় পূর্ণ, যার কোনো উপকারিতা নেই।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وإليكم بعض تصريحاته بذلك في كتابه هذا:
قال الإمام البرماوي (3/ 1067): (عادة الأصوليين يختمون مباحث اللغة بذكر بعض معاني حروف تتداول في القرآن والسُّنة يحتاج إليها غالبًا في مواضع الاستدلال .. ، ولم أقتصر على حرفين أو ثلاثة كما فعل ابن الحاجب، ولا أوسع كما فعل صاحب "جمع الجوامع" وكثير من الحنفية في مختصراتهم. وربما ذكروا أحكامًا نحوية متعلقة ببعضها قليلة الجدوى في الاستدلال، بل سلكتُ طريقًا وسطًا).
وقال في إحدى المسائل (4/ 1857): (ولم أذكر هذه المسألة في النَّظم؛ لِمَا فيها من خشونة العبارة وعدم جدواها في الفقه).
وقال (1/ 130): (وليس تحت هذا الخلاف كبيرُ فائدة؛ فلا حاجة للتطويل فيه).
وقال (1/ 430): (وفي كيفية الخلاف طُرق كثيرة في بيان محله ومحل القطع يَطُول ذِكرها، ولا فائدة فيه).
وقال (1/ 134): (وفي الموضع مباحثُ أخرى ليس في التطويل بها كبيرُ فائدة).
وقال (1/ 163): (وهنا أسئلة وشكوك جدواها قليل، فلا حاجة للتطويل بها).
وقال (2/ 777): (وإنما أَسْقَطتُ هذه المسألة من النَّظم وهي في "جمع الجوامع"؛ لقِلة جدواها).
وقال (2/ 777): (وكذلك أسقطتُ مسألة "إنه ليس لكل معنى لفظ .. "؛ لوضوح المراد بها، وقِلَّة نفعها في الاستدلال).
وقال (3/ 1172): (ونُقِلت فيه مذاهب أخرى إما ضعيفة أو داخلة فيما سبق، أَعْرَضْنَا عن حكايتها؛ لعدم جدواها).
الجهة الثانية: اجتهاده في ذِكر الكثير مِن الفروع والتطبيقات الفقهية:كان البرماوي إمامًا في الفقه، لذلك نجده - في شرح ألفية الأصول - يذكر كثيرًا
আপনাদের জন্য তাঁর এই কিতাবে এ সংক্রান্ত তাঁর কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হলো:
ইমাম আল-বারমাভী (৩/ ১০৬৭) বলেন: (উসূলবিদদের রীতি হলো তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহতে প্রচলিত এমন কিছু হরফের (অব্যয়) অর্থ আলোচনার মাধ্যমে ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনার ইতি টানেন, দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সাধারণত যেগুলোর প্রয়োজন পড়ে...। আমি ইবনুল হাজিবের মতো মাত্র দুই বা তিনটি হরফেই সীমাবদ্ধ থাকিনি, আবার "জামউল জাওয়ামি" এর লেখক এবং বহু হানাফী আলেম তাঁদের সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসমূহে যেমনটি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তেমন দীর্ঘও করিনি। তাঁরা সম্ভবত এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কিছু নাহবী (ব্যাকরণগত) বিধান উল্লেখ করেছেন যা দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে খুব একটা ফলপ্রসূ নয়; বরং আমি একটি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছি)।
তিনি অন্যতম একটি মাসআলায় (৪/ ১৮৫৭) বলেন: (আমি এই মাসআলাটি নযমে (কবিতায়) উল্লেখ করিনি; কারণ এর বর্ণনাভঙ্গি বেশ জটিল এবং ফিকহশাস্ত্রে এর কোনো উপকারিতা নেই)।
তিনি বলেন (১/ ১৩০): (এই মতপার্থক্যের পেছনে তেমন বড় কোনো ফায়দা নেই; তাই এটি দীর্ঘ করার প্রয়োজন নেই)।
তিনি বলেন (১/ ৪৩০): (মতপার্থক্যের স্বরূপ বর্ণনায় এর ক্ষেত্র এবং অকাট্যতার ক্ষেত্র বর্ণনার অনেক পদ্ধতি রয়েছে যা উল্লেখ করা দীর্ঘ হবে এবং তাতে কোনো ফায়দা নেই)।
তিনি বলেন (১/ ১৩৪): (এই স্থানে আরও কিছু আলোচনা রয়েছে যা দীর্ঘ করায় তেমন কোনো ফায়দা নেই)।
তিনি বলেন (১/ ১৬৩): (এখানে এমন কিছু প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে যেগুলোর ফলপ্রসূতা নগণ্য, তাই সেগুলো দীর্ঘ করার প্রয়োজন নেই)।
তিনি বলেন (২/ ৭৭৭): (আমি এই মাসআলাটি নযম থেকে বাদ দিয়েছি—অথচ এটি "জামউল জাওয়ামি"-তে রয়েছে—এর উপকারিতা কম হওয়ার কারণে)।
তিনি বলেন (২/ ৭৭৭): (অনুরূপভাবে আমি এই মাসআলাটিও বাদ দিয়েছি যে, "প্রতিটি অর্থের জন্য শব্দ থাকা আবশ্যক নয়..."; কারণ এর উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট এবং দলীল উপস্থাপনে এর উপকারিতা সামান্য)।
তিনি বলেন (৩/ ১১৭২): (এ বিষয়ে অন্যান্য মাযহাবও বর্ণিত হয়েছে যা হয় দুর্বল অথবা পূর্বোক্ত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত; সেগুলোর বর্ণনা আমরা এড়িয়ে গেছি কারণ এতে কোনো ফায়দা নেই)।
দ্বিতীয় দিক: প্রচুর ফিকহী শাখা-প্রশাখা ও প্রয়োগিক মাসআলা বর্ণনায় তাঁর ইজতিহাদ:বারমাভী ফিকহশাস্ত্রে একজন ইমাম ছিলেন, এ কারণেই আমরা তাঁকে দেখি—শারহ আলফিয়াতুল উসূল-এ—তিনি প্রচুর পরিমাণে উল্লেখ করেন...
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
من التطبيقات والفروع الفقهية المَبْنِيَّة على هذه الأصول والقواعد، ولا شك أنَّ هذا يساهم في فَهْم واستيعاب الأصول.
بل إنه قد أطال في ذِكر هذه التطبيقات في مواضع عديدة، حتى يمكننا القول بأنَّ كتابه "الفوائد السنية" يكاد يكون موسوعة في التطبيقات الفقهية للقواعد الأصولية.
ويوضح هذا قوله في كتابه هذا (2/ 624) بعد أن ذكر كثيرًا من الفروع الفقهية: (والفروع في ذلك كثيرة، وإنمَّا هذا أنموذج تُستحضَر به القواعد، وتتمهَّد به).
قلتُ: وهذه ميزة عظيمة الفائدة لا توجد في كثير من الكُتب الأصولية المشهورة.
ولَعَلَّ ذلك مِن أسباب قَوْل البرماوي عن كتابه هذا: (أكثر هذا الكتاب هو جُملة ما حَصَّلْتُ في طول عُمري)
(1).
وقد قال في مقدمة كتابه هذا: (وسأذكر في هذا الشرح ما يظهرُ مِن تفريعات في الفقه في بعض المسائل على ذلك إنْ شاء الله تعالى).
وإليكم بعض عباراته في كتابه هذا:
قال: (تنبيه: مما يناسِبُ هذه القاعدة مِن الفروع:
… ).
فذكر هذه الفروع، ثم قال: (وأنت إذَا تتبعت الفروع، لم تجدها تخرج عن ذلك).
وقال: (اختلاف الأصوليين في هذه المسألة يناظره اختلاف الفقهاء في أنه إذا بطل الخصوص، هل يبقى العموم؟ وفيه فروع كثيرة، منها: .. ، ومنها: .. ، ومنها: .. ، ومنها: .. ، ومنها: .. ، ومنها: .. ، ومنها: .. ، ومنها: .. ، ومنها: .. ).
--------------------------------------------
এই উসূল (মূলনীতি) এবং কাওয়াইদ (নিয়মাবলী)-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি ফিকহী প্রয়োগ এবং শাখা-প্রশাখা থেকে এটি স্পষ্ট; আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি উসূলগুলো বুঝতে এবং আত্মস্থ করতে সহায়তা করে।
বরং তিনি অনেক স্থানে এই প্রয়োগগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, এমনকি আমরা বলতে পারি যে, তাঁর "আল-ফাওয়াইদ আস-সুন্নিয়্যাহ" বইটি উসূলী কাওয়াইদসমূহের ফিকহী প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় একটি বিশ্বকোষ স্বরূপ।
তাঁর এই বইয়ের (২/৬২৪) বক্তব্যটি এটিই স্পষ্ট করে, যেখানে তিনি অনেক ফিকহী শাখা উল্লেখ করার পর বলেছেন: (এ বিষয়ে শাখা-প্রশাখা অনেক রয়েছে, তবে এটি কেবল একটি নমুনা মাত্র যার দ্বারা নিয়মাবলী স্মরণ করা যায় এবং তা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়)।
আমি বলছি: এটি অত্যন্ত উপকারী একটি বৈশিষ্ট্য যা অনেক প্রসিদ্ধ উসূলী গ্রন্থে পাওয়া যায় না।
সম্ভবত এটিই বারমাভীর তাঁর এই কিতাব সম্পর্কে এমনটি বলার অন্যতম কারণ: (এই কিতাবের অধিকাংশ হলো আমার সারা জীবনের অর্জিত জ্ঞানের সারনির্যাস)
(১)।
তিনি তাঁর এই কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন: (আমি ইনশাআল্লাহ তা'আলা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে ফিকহের এমন সব শাখা বর্ণনা করব যা এর ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ পায়)।
তাঁর এই কিতাব থেকে কিছু উদ্ধৃতি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হলো:
তিনি বলেছেন: (সতর্কবার্তা: এই নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শাখা-প্রশাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে: … )।
অতঃপর তিনি এই শাখাগুলো উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: (আপনি যদি শাখা-প্রশাখাগুলো অনুসন্ধান করেন, তবে সেগুলোকে এর বাইরে পাবেন না)।
তিনি আরও বলেছেন: (এই মাসআলায় উসূলবিদদের মতপার্থক্য ফকীহগণের সেই মতপার্থক্যর অনুরূপ যে, যখন বিশেষত্ব (খুসসূস) বাতিল হয়ে যায়, তখন কি ব্যাপকতা (উমুম) অবশিষ্ট থাকে? এর অনেক শাখা রয়েছে, তার মধ্যে: .. , এবং তার মধ্যে: .. , এবং তার মধ্যে: .. , এবং তার মধ্যে: .. , এবং তার মধ্যে: .. , এবং তার মধ্যে: .. , এবং তার মধ্যে: .. , এবং তার মধ্যে: .. , এবং তার মধ্যে: .. )।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال: (استثنى ابن القاص في "التلخيص" من قاعدة "إنَّ اليقين لا يُرفَع بالشك" إحدى عشرة مسألة، وَرَدَّ عليه القفال الكل، ولكن الأرجح مع ابن القاص في كثير: أحدها
… ، ثانيها
… ، ثالثها
… ، رابعها
… ، خامسها
… ، حادي عشرها
… ).
وقال: (وسِوَى ما سبق من الفروع الفقهية: لو قال
… ، ولو أوصى لأقاربه
… ، ولو قال
… ، وفروع الفقه على هذه المسألة لا تنحصر، وفي هذه الإشارة كفاية).
وقال: (وقع في كلام أصحابنا في الفقه مسألتان قد يتفرعان على هذه القاعدة، ووقع فيهما اضطراب شديد، نذكرهما باختصار
… ).
وقال: (ومما يتفرع على القاعدة ما نُقل عن الشافعي
… ).
وقال: (ويتفرع على هذه القاعدة مسائل، منها: عقود البياعات
… ).
وقال: (من فروع هذه القاعدة:
… ).
وقال: (ويتفرع على الأول من الفقه
… ).
وقال: (مما يتفرع من الفقه على الخلاف المذكور: .. ).
وقال: (مما فَرَّعه بعض المتأخرين على الخلاف في هذه المسألة:
… ).
وقال: (الخلاف في هذه المسألة مذكور في الفقه مُفَرَّع عليه مسائل، سيأتي ذِكر شيءٍ منها).
وقال: (ونشأ عن ذلك فرع ذكره الهروي في "الإشراف" والماوردي في "الحاوي" والروياني في "البحر"، وهو
… ).
وقال: (وفي الفروع الفقهية مما يشهد لإفادة المضاف المفرد العموم:
… ).
তিনি বলেন: (ইবনুল কাস তার "আত-তালখিস" গ্রন্থে "নিশ্চয়ই সংশয় দ্বারা নিশ্চিত জ্ঞান দূরীভূত হয় না" এই মূলনীতি থেকে এগারোটি মাসআলা ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল-কাফফাল এর সবকটি খণ্ডন করেছেন, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইবনুল কাসের মতটিই অধিক বিশুদ্ধ: তার প্রথমটি
… , দ্বিতীয়টি
… , তৃতীয়টি
… , চতুর্থটি
… , পঞ্চমটি
… , একাদশতমটি
… )।
তিনি বলেন: (পূর্বোক্ত ফিকহি শাখা-প্রশাখাগুলো ছাড়াও: যদি তিনি বলেন
… , এবং যদি তিনি তার আত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করেন
… , এবং যদি তিনি বলেন
… , আর এই মাসআলার ওপর ভিত্তি করে ফিকহের শাখা-প্রশাখা অগণিত, এই ইশারাটুকুই যথেষ্ট)।
তিনি বলেন: (আমাদের মাযহাবের ইমামগণের ফিকহি আলোচনায় এমন দুটি মাসআলা এসেছে যা এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে হতে পারে, এবং সে দুটির ক্ষেত্রে তীব্র মতপার্থক্য ঘটেছে, আমরা সংক্ষেপে সেগুলো উল্লেখ করছি
… )।
তিনি বলেন: (এই মূলনীতির ওপর যা কিছু শাখা হিসেবে বিন্যস্ত হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো ইমাম শাফেয়ী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে
… )।
তিনি বলেন: (এই মূলনীতির ওপর বেশ কিছু মাসআলা বিন্যস্ত হয়, তার মধ্যে একটি হলো: ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি
… )।
তিনি বলেন: (এই মূলনীতির শাখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো:
… )।
তিনি বলেন: (প্রথমটির ওপর ফিকহি মাসআলা হিসেবে বিন্যস্ত হয়েছে
… )।
তিনি বলেন: (উল্লিখিত মতভেদের ওপর ফিকহি মাসআলা হিসেবে যা বিন্যস্ত হয়েছে: .. )।
তিনি বলেন: (পরবর্তী যুগের আলেমদের কেউ কেউ এই মাসআলার মতভেদের ওপর ভিত্তি করে যা বিন্যস্ত করেছেন:
… )।
তিনি বলেন: (এই মাসআলার মতভেদ ফিকহি কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে অনেক মাসআলা বিন্যস্ত করা হয়েছে, যার কিছু সামনে উল্লেখ করা হবে)।
তিনি বলেন: (এর থেকে একটি শাখা মাসআলা উদ্ভূত হয়েছে যা আল-হারওয়ী তার "আল-ইশরাফ" গ্রন্থে, আল-মাওয়ারদী তার "আল-হাভি" গ্রন্থে এবং আর-রুয়ানি তার "আল-বাহর" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো
… )।
তিনি বলেন: (ফিকহি শাখা-প্রশাখাগুলোর মধ্যে যা এই সাক্ষ্য দেয় যে 'মুদাফ মুফরাদ' (একবচন সম্বন্ধযুক্ত শব্দ) ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে:
… )।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المبحث السادس: مَذْهَب الإمام البرماوي وأَثَره في شَرْحه لِلأَلْفِيَّةصرح شمس الدين البرماوي في مُقدمة أَلْفِيَّته بأنه شافعي، فقال:
بِاسْمِ الحمِيدِ قال عَبْدٌ يَحْمَدُ
… ذَا البِرْمَوِيُّ الشافِعِيْ مُحَمَّدُ
وقد ظهر أَثَر ذلك في كتابه هذا، فكان يهتم كثيرًا بتحرير مذهب الإمام الشافعي في مسائل أصول الفقه، ويرجع في ذلك إلى كُتُب الإمام الشافعي القديمة والجديدة، الفقهية والأصولية، وينقل نصوصه، ويُعَلِّق عليها، ويُحَرِّر مَذهبه.
وقال في مقدمة كتابه هذا: (وأشرتُ بقولي: "أصولنا" .. إلى مراعاة أصول الشافعية في هذه الألفية حَسْب القدرة، وسأذكر في هذا الشرح ما يظهرُ مِن تفريعات في الفقه في بعض المسائل على ذلك إنْ شاء الله تعالى). انتهى
قلتُ: ولا يُتَوَهَّم مِن ذلك اقتصاره على ذِكر أصول الشافعية، بل سيراعي أصول الشافعية، فإنه في كل مسألة يتناول المذاهب الأخرى، ويَعْرِض أدلة المذاهب كلها ويناقشها ويذكر ما عليها من اعتراضات، ويُرَجِّح مع ذِكر أسباب الترجيح.
ومِن أمثلة مراعاته أصول الشافعي قوله في الألفية:
98 - فَإنَّهُ مُكَلَّفٌ بِالْحُكْمِ
… نَصَّ عَلَيْهِ الشَّافِعِيْ في "الْأُمِّ"
وقوله:
303 - وَعَنْ عُمُومٍ مُطْلَقًا هُوَ الْخَبَرْ
… أَوْ مَا إلى ذَا الشَّافِعِيْ في الْمُخْتَصَرْ
وقوله:
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ইমাম আল-বারমাওয়ীর মাযহাব এবং তাঁর আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যায় এর প্রভাবশামসুদ্দীন আল-বারমাওয়ী তাঁর আলফিয়্যাহর ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন যে তিনি শাফিঈ, তিনি বলেন:
প্রশংসিত আল্লাহর নামে এক বান্দা বলছে যিনি প্রশংসা করেন
… এই বারমাওয়ী শাফিঈ মুহাম্মাদ
তাঁর এই গ্রন্থে এর প্রভাব প্রকাশ পেয়েছে; তিনি উসূলে ফিকহের মাসআলাগুলোতে ইমাম শাফিঈর মাযহাবকে সুসংহত করার ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি ইমাম শাফিঈর প্রাচীন ও নতুন এবং ফিকহ ও উসূল বিষয়ক কিতাবসমূহের শরণাপন্ন হন, তাঁর বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেন, সেগুলোর ওপর টীকা প্রদান করেন এবং তাঁর মাযহাবকে সুবিন্যস্তভাবে উপস্থাপন করেন।
তিনি তাঁর এই গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: (আমি আমার উক্তি: "আমাদের উসূলসমূহ" দ্বারা... সাধ্যমতো এই আলফিয়্যাহতে শাফিঈগণের উসূলসমূহ বজায় রাখার প্রতি ইঙ্গিত করেছি। ইনশাআল্লাহ তাআলা আমি এই ব্যাখ্যায় এর ওপর ভিত্তি করে ফিকহের কতিপয় মাসআলায় যেসব শাখা-প্রশাখা প্রকাশ পায় তা উল্লেখ করব)। সমাপ্ত।
আমি (লেখক) বলছি: এর দ্বারা যেন এমন ভ্রম না হয় যে তিনি কেবল শাফিঈ উসূল বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। বরং তিনি শাফিঈ উসূল বজায় রাখার পাশাপাশি প্রতিটি মাসআলায় অন্যান্য মাযহাবগুলো নিয়েও আলোচনা করেন, সকল মাযহাবের দলিলসমূহ উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করেন এবং সেগুলোর ওপর কৃত আপত্তিগুলো উল্লেখ করেন, আর প্রাধান্য প্রদানের কারণসহ সঠিক মতটিকে অগ্রাধিকার দেন।
ইমাম শাফিঈর উসূল অনুসরণের উদাহরণগুলোর মধ্যে আলফিয়্যাহ-তে তাঁর এই উক্তিটি অন্যতম:
৯৮ - কেননা তিনি বিধানের মাধ্যমে আদিষ্ট
… ইমাম শাফিঈ "আল-উম্ম" গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন
এবং তাঁর উক্তি:
৩০৩ - আর সাধারণভাবে ব্যাপকতা থেকে যা বর্ণিত তা হলো খবর
… অথবা ইমাম শাফিঈ "আল-মুখতাসার" গ্রন্থে যেদিকে ইঙ্গিত করেছেন
এবং তাঁর উক্তি:
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়াইদুস সানিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
691 - بِمُطْلَقٍ، قُلْتُ: وَنَصُّ الشَّافِعِيْ
… في "الْأُمِّ" ثُمَّ في "الْبُوَيْطِيْ" التَّابِعِ
المبحث السابع: عقيدة البرماوي وأَثَرها في شَرْحه لِلأَلْفِيَّةصَرح البرماوي بأنه أَشْعَرِي، فقال في "الفوائد السنية، 2/ 913": (قولي: "عَنِ الْإمَامِ الْأَشْعَرِيْ" إشارة إلى أنه إمامنا وقدوتنا، نلقَى الله عز وجل باتِّباعه في معتقداته).
قلتُ: وقد ظهر أثر ذلك في تناوُله لبعض المسائل، أذكر منها ثلاثة أمثلة:
المثال الأول: قال شمس الدين البرماوي (1/ 196): (الإيمان هو التصديق).
قلتُ (عبد الله رمضان): هذا يوافق قولًا مِن أقوال فرقة المرجئة.
وفي ذلك يقول الإمام ابن تيمية: (أكثر الأشعرية مرجئة، وأَقربهم الكلابية، يقولون: "الإيمان" هو التصديق بالقلب والقول باللسان، والأعمال ليست منه)
(1).
قلتُ: فقول الأشعرية يخالف إجماع أهل السُّنة مِن السلف الصالح ومَن بَعْدهم.
وفي ذلك قال الإمام ابن تيمية في "مجموع الفتاوى": (وَقَدْ حَكَى غَيْرُ وَاحِدٍ إجْمَاعَ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْحَدِيثِ عَلَى أَنَّ الْإِيمَانَ قَوْلٌ وَعَمَلٌ)
(2).
قلتُ: وأكتفي بنقل ثلاثة تصريحات لكبار أئمة المسلمين المتقدمين:
--------------------------------------------
৬৯১ - সাধারণভাবে, আমি বলছি: এবং শাফেয়ীর ভাষ্য
… "আল-উম্ম" গ্রন্থে তারপর অনুসারী "আল-বুওয়াইতি" গ্রন্থে
সপ্তম পরিচ্ছেদ: বারমাউয়ীর আকিদাহ এবং আলফিয়ার ব্যাখ্যায় (শারহ) তার প্রভাববারমাউয়ী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে তিনি আশআরি, তিনি "আল-ফাওয়াইদ আস-সুন্নিয়্যাহ, ২/৯১৩" গ্রন্থে বলেছেন: (আমার উক্তি: "ইমাম আশআরি থেকে" এটি একটি ইঙ্গিত যে তিনি আমাদের ইমাম ও আমাদের আদর্শ, তাঁর আকিদাহসমূহের অনুসরণের মাধ্যমেই আমরা মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করব)।
আমি বলছি: কিছু মাসআলা আলোচনার ক্ষেত্রে এর প্রভাব ফুটে উঠেছে, আমি এখান থেকে তিনটি উদাহরণ উল্লেখ করছি:
প্রথম উদাহরণ: শামসুদ্দিন বারমাউয়ী (১/১৯৬) বলেছেন: (ঈমান হলো বিশ্বাস বা তাসদিক)।
আমি (আব্দুল্লাহ রমাদান) বলছি: এটি মুরজিয়া ফেরকার মতসমূহের একটি মতের সাথে সংগতিপূর্ণ।
এই প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: (অধিকাংশ আশআরিই হলো মুরজিয়া, আর তাদের মধ্যে যারা সত্যের অধিক নিকটবর্তী তারা হলো কুল্লাবিয়া, তারা বলে: "ঈমান" হলো অন্তরের বিশ্বাস এবং জিহ্বার মৌখিক স্বীকৃতি, আর আমল বা কাজ এর অন্তর্ভুক্ত নয়)
(১)।
আমি বলছি: সুতরাং আশআরিদের এই বক্তব্য সালাফে সালেহীন এবং তাদের পরবর্তী আহলে সুন্নাহর ইজমার (ঐক্যমত্যের) পরিপন্থী।
এই বিষয়ে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ "মাজমুউল ফাতাওয়া" গ্রন্থে বলেছেন: (একাধিক আলেম আহলে সুন্নাহ ও আহলে হাদিসের ইজমা বর্ণনা করেছেন যে, ঈমান হলো কথা ও কাজ)
(২)।
আমি বলছি: আমি পূর্ববর্তী যুগের মুসলিমদের বড় ইমামদের তিনটি বক্তব্য উদ্ধৃত করার ওপরই ক্ষান্ত থাকছি:
--------------------------------------------