(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: -)
فتح القريب المجيب في شرح ألفاظ التقريب = القول المختار في شرح غاية الاختصار   (محمد بن قاسم الغزي)

القسم: الفقه الشافعي


الكتاب: فتح القريب المجيب في شرح ألفاظ التقريب = القول المختار في شرح غاية الاختصار (ويعرف بشرح ابن قاسم على متن أبي شجاع)

المؤلف: محمد بن قاسم بن محمد بن محمد، أبو عبد الله، شمس الدين الغزي، ويعرف بابن قاسم وبابن الغرابيلي (ت 918 هـ)

بعناية: بسام عبد الوهاب الجابي [ت 1438 هـ]

الناشر: الجفان والجابي للطباعة والنشر، دار ابن حزم للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2005 م

عدد الأجزاء: 1

أعده للشاملة: واسم كان الإندونيسي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1433

তাকরীবের শব্দসমূহের ব্যাখ্যায় নিকটবর্তী উত্তরদাতার বিজয় = সংক্ষিপ্ততার চূড়ান্ত সীমার ব্যাখ্যায় মনোনীত বক্তব্য   (মুহাম্মদ বিন কাসিম আল-গাজ্জি)

বিভাগ: শাফেয়ী ফিকহ


গ্রন্থ: ফাতহুল কারীব আল-মাজীব ফি শারহি আলফাজিত তাকরীব = আল-কাওলুল মুখতার ফি শারহি গায়াতিল ইখতিসার (এবং এটি আবু শুজা-এর মতনের ওপর ইবনে কাসিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে পরিচিত)

লেখক: মুহাম্মদ বিন কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ، আবু আব্দুল্লাহ، শামসুদ্দিন আল-গাজ্জি، এবং তিনি ইবনে কাসিম ও ইবনুল গারাবিলি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৯১৮ হিজরি)

তত্ত্বাবধানে: বাসসাম আব্দুল ওয়াহহাব আল-জাবি [মৃত্যু ১৪৩৮ হিজরি]

প্রকাশক: আল-জাফান ওয়াজ-জাবি মুদ্রণ ও প্রকাশনা، দার ইবনে হাযম মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৫ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ওয়াসিম কান আল-ইন্দোনেশীয়

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশের তারিখ: ৬ মহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

قال الشيخُ الإمامُ العالم العلَاّمة، شمسُ الدين أبو عبد الله، محمد بن قاسم الشافعي - تغَمَّده الله برحمته ورضوانه، آمين: الحمد لِلّهِ تبرُّكا بفاتحة الكتاب، لأنها ابتداء كل أمر ذي بالٍ، وخاتمة كل دعاء مُجاب، وآخر دعوى المؤمنين في الجنة، دار الثواب؛ أحمده أن وَفَّقَ مَنْ أراد مِن عباده للتَّفَقُّه في الدين على وَفْق مُراده. وأصلي وأسلم على أفضل خلقه محمد سيد المرسلين، القائل: «مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ»؛ وعلى آله وصحبه مُدةَ ذِكرِ الذاكِرين وسَهو الغافلين.

وبعد؛ هذا كتاب في غاية الاختصار والتهذيب، وضعتُه على الكتاب المسمى بـ «التقريب» لينتفع به المحتاج من المبتدئين لفروع الشريعة والدين، وليكون وسيلةً لنجاتي يومَ الدين، ونفعًا لعباده المسلمين؛ إنه سميع دعاء عباده، وقريب مجيب، ومن قصده لا يخيب. {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ} [البقرة: 186].

واعلم أنه يوجد في بعض نُسَخ هذا الكتاب في غير خطبته تسميته تارة بـ «التقريب»، وتارة بـ «غاية الاختصار»؛ فلذلك سميته باسمين: أحدهما «فتح القريب المجيب في شرح ألفاظ التقريب»، والثاني «القول المختار في شرح غاية الاختصار».
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উপস্থাপনা

শায়খ, ইমাম, আলেম, আল্লামা শামসুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন কাসিম আশ-শাফিয়ী—আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন, আমীন—বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহর কিতাবের প্রারম্ভিক অংশের বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে; কেননা তা প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সূচনা, প্রতিটি কবুল হওয়া দোয়ার সমাপ্তি এবং সওয়াবের ঘর জান্নাতে মুমিনদের শেষ আহ্বান। আমি তাঁর প্রশংসা করি যে, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা করেছেন তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের তৌফিক দান করেছেন। আর আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা, রাসূলগণের সরদার মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন"; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের প্রতি, যতক্ষণ স্মরণকারীরা তাঁকে স্মরণ করবে এবং গাফেলরা গাফিলতিতে থাকবে।

অতঃপর; এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত একটি কিতাব। আমি এটি ‘আত-তাকরীব’ নামক কিতাবের ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছি, যাতে শরীয়ত ও দ্বীনের শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে আগ্রহী প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে এবং এটি যেন পরকালে আমার নাজাতের উসিলা এবং তাঁর মুসলিম বান্দাদের জন্য উপকারী হয়; নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বান্দাদের দোয়া শ্রবণকারী, অতি নিকটবর্তী ও কবুলকারী, এবং যে তাঁর কাছে প্রার্থনা করে সে বিফল হয় না। "আর আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন আমি তো নিশ্চয়ই নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই যখন সে আমাকে আহ্বান করে।" [বাকারা: ১৮৬]।

জেনে রাখুন যে, এই কিতাবের কিছু পাণ্ডুলিপিতে এর ভূমিকার বাইরে কোথাও এর নাম ‘আত-তাকরীব’ এবং কোথাও ‘গায়াতুল ইখতিসার’ পাওয়া যায়; তাই আমি কিতাবটির দুটি নাম রেখেছি: একটি হলো ‘ফাতহুল কারীবিল মুজিব ফি শারহি আলফাযিত তাকরীব’ এবং দ্বিতীয়টি হলো ‘আল-কাওলুল মুখতার ফি শারহি গায়াতিল ইখতিসার’।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ২০)
قال الشيخ الإمام أبو الطيب، ويشتهر أيضا بأبي شُجاع شهاب الملة والدين، أحمد بن الحسين بن أحمد الأصفهاني - سقى الله ثراه صبيب الرحمة والرضوان، وأسكنه أعلى فراديس الجنان: (بسم الله الرحمن الرحيم) أبتدئ كتابي هذا. واللهُ اسمُ الذات الواجب الوجود، والرحمن أبلغ من الرحيم. (الحمد لله) هو الثناء على الله تعالى بالجميل على جهة التعظيم، (ربِّ) أي مالك (العَالَمين) بفتح اللام، وهو كما قال ابن مالك: اسمُ جَمْع خاص بمن يعقل، لا جمعٌ ومفردُه عالَمٌ بفتح اللام، لأنه اسم عام لما سوى الله، والجمع خاصٌّ بمن يعقل.

(وصلَّى الله) وسلَّم (على سيدنا محمد النبي) هو - بالهمز وتركه: إنسان
শাইখ ইমাম আবু তাইয়্যেব, যিনি আবু শুজা শিহাবুল মিল্লাতি ওয়াদ দ্বীন আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আহমাদ আল-আস্ফাহানী নামেও প্রসিদ্ধ—আল্লাহ তাআলা তাঁর কবরকে রহমত ও সন্তুষ্টির বারিধারায় সিক্ত করুন এবং তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ ফেরদাউসে বসবাস করার সুযোগ দান করুন—তিনি বলেছেন: (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে) আমি আমার এই কিতাবটি শুরু করছি। 'আল্লাহ' হলো সেই সত্তার নাম যার অস্তিত্ব অনিবার্য, আর 'আর-রাহমান' শব্দটি 'আর-রাহিম' অপেক্ষা অধিক অর্থবোধক। (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) তা হলো সম্মানের সাথে সুন্দর গুণাবলির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার গুণগান করা। (রব) অর্থাৎ মালিক (আলামীন) 'লাম' বর্ণে জবরসহ। এটি ইবনে মালিকের উক্তি অনুযায়ী এমন একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য যা কেবল জ্ঞানসম্পন্ন সত্তাদের জন্য ব্যবহৃত হয়; এটি এমন কোনো বহুবচন নয় যার একবচন 'আলাম' (লাম বর্ণে জবরসহ), কারণ 'আলাম' শব্দটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুর জন্য সাধারণ নাম, কিন্তু এর এই বহুবচন রূপটি কেবল জ্ঞানসম্পন্নদের জন্য নির্দিষ্ট।

(এবং আল্লাহর রহমত) ও শান্তি (বর্ষিত হোক আমাদের নেতা নবী মুহাম্মাদের ওপর)। তিনি—হামযা যোগে বা হামযা বর্জন করে—হলেন একজন মানুষ।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ২১)
أوحي إليه بشرع يعمل به وإن لم يُؤمَر بتبليغه؛ فإن أُمر بتبليغه فنبيٌّ ورسول أيضا. والمعنى ينشئ الصلاة والسلام عليه. ومحمَّدٌ عَلَم منقول من اسم مفعول المضعف العين، والنبيُّ بدل منه أو عطف بيان عليه. (و) على (آله الطاهرين) هم كما قال الشافعي: أقاربه المؤمنون من بني هاشم وبني المطلب. وقيل - واختاره النووي: أنهم كل مسلم. ولعل قوله: «الطاهرين» منتزع من قوله تعالى: {وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا} [الأحزاب:33]، (و) على (صحابته)، جمع صاحب النبي. وقوله (أجمعين) تأكيد لصحابته.

ثم ذكر المصنف أنه مسؤول في تصنيف هذا المختصر بقوله: (سألني بعضُ الأصدقاء)، جمع صديق. وقوله: (حفظهم الله تعالى) جملة دعائية،
যার কাছে এমন শরিয়ত ওহি করা হয়েছে যার ওপর তিনি আমল করবেন, যদিও তাকে তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়নি; আর যদি তাকে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে তিনি নবী এবং রাসূলও বটে। এর অর্থ হলো তাঁর ওপর সালাত ও সালাম পেশ করা। মুহাম্মদ শব্দটি 'আইন' বর্ণে দ্বিত্বযুক্ত 'ইসম মাফউল' থেকে গৃহীত একটি বিশেষ্য, আর 'নবী' শব্দটি তার বদল (বিকল্প) অথবা আতফে বয়ান (ব্যাখ্যামূলক বিশেষণ)। এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর; ইমাম শাফেয়ীর মতে তারা হলেন বনী হাশেম ও বনী মুত্তালিবের মুমিন আত্মীয়স্বজন। এবং বলা হয়ে থাকে—যা ইমাম নববী পছন্দ করেছেন—তারা হলেন প্রত্যেক মুসলিম। সম্ভবত তাঁর 'পবিত্রগণ' কথাটি মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তিনি তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে চান" [আহজাব: ৩৩] থেকে গৃহীত। এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর; যা নবীর সাথী শব্দের বহুবচন। আর তাঁর 'সকলে' কথাটি সাহাবীদের জন্য তাকিদ স্বরূপ।

অতঃপর গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন যে, এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি সংকলনের জন্য তাঁকে অনুরোধ করা হয়েছিল, তাঁর এই কথার মাধ্যমে: "আমার কিছু বন্ধু আমাকে অনুরোধ করেছেন", যা বন্ধু শব্দের বহুবচন। আর তাঁর কথা "আল্লাহ তাআলা তাদের রক্ষা করুন" এটি একটি দুআসূচক বাক্য।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ২২)
(أن أعملَ مختصرا)، هو ما قل لفظه وكثر معناه (في الفقه)، هو لغةً الفهمُ، واصطلاحًا العلمُ بالأحكام الشرعية العملية المكتسب من أدلتها التفصيلية،

(على مذهب الإمام) الأعظم المجتهد، ناصر السنة والدين، أبي عبد الله محمد بن إدريس بن العباس ابن عثمان بن شافع (الشافعي) وُلد بغزة سنة خمسين ومائة، ومات - (رحمة الله تعالى عليه ورضوانه) - يومَ الجُمُعة سلخ رجب سنة أربع ومائتين.

ووصف المصنف مختصره بأوصاف، منها أنه (في غاية الاختصار ونهاية الإيجاز). والغاية والنهاية متقاربان، وكذا الاختصار والإيجاز؛ ومنها أنه (يقرب على المتعلم) لفروع الفقه (درسه، ويسهل على المبتدئ حفظه) أي استحضاره على ظهر قلب لمن يرغب في حفظ مختصر في الفقه. (و) سألني أيضا بعض الأصدقاء (أن أكثر فيه) أي المختصر (من التقسيمات) للأحكام الفقهية. (و) من (حصر) أي ضبط (الخصال) الواجبة
(যাতে আমি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করি), এটি এমন গ্রন্থ যার শব্দ কম কিন্তু অর্থ ব্যাপক (ফিকহ শাস্ত্রের ওপর), যা শাব্দিক অর্থে হলো উপলব্ধি, আর পারিভাষিক অর্থে বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ হতে আহরিত ব্যবহারিক শরয়ী বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান।

(ইমামের মাযহাব অনুযায়ী) যিনি মহান মুজতাহিদ, সুন্নাহ ও দ্বীনের সাহায্যকারী, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস ইবনে আব্বাস ইবনে উসমান ইবনে শাফে' (আশ-শাফেঈ)। তিনি একশত পঞ্চাশ হিজরি সনে গাজায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন—(আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষণ করুন)—দুইশত চার হিজরি সনের রজব মাসের শেষ দিন জুমার দিনে।

গ্রন্থকার তাঁর এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটিকে কিছু বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো এটি (সংক্ষিপ্তকরণের চূড়ান্ত ও সারসংক্ষেপের শেষ সীমা)। এখানে ‘চূড়ান্ত’ ও ‘শেষ সীমা’ শব্দদ্বয় কাছাকাছি অর্থবোধক, অনুরূপভাবে ‘সংক্ষিপ্তকরণ’ ও ‘সারসংক্ষেপ’ শব্দদুটিও। এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি (শিক্ষার্থীর নিকট সহজ করে দেয়) ফিকহ শাস্ত্রের শাখা-প্রশাখাগুলোর (পাঠ গ্রহণ, এবং প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য তা মুখস্থ করা সহজ করে দেয়), অর্থাৎ যারা ফিকহ শাস্ত্রের কোনো সংক্ষিপ্ত কিতাব মুখস্থ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য তা স্মৃতিপটে গেঁথে রাখা সহজ করে দেয়। (এবং) আমাকে আরও কিছু বন্ধু অনুরোধ করেছিলেন (যাতে আমি এতে—অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটিতে—অধিক পরিমাণে যুক্ত করি) ফিকহী বিধানসমূহের (শ্রেণিবিন্যাসসমূহ)। (এবং) যাতে (সীমাবদ্ধ করি) অর্থাৎ সুবিন্যস্ত করি ওয়াজিব বা আবশ্যিক (বিষয়সমূহ)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ২৩)
والمندوبة وغيرهما؛ (فأجبته إلى) سؤاله في (ذلك طالبا للثواب) من الله جزاءً على تصنيف هذا المختصر، (راغبا إلى الله سبحانه وتعالى في الإعانة من فضله على تمام هذا المختصر و (في التوفيق للصواب) وهو ضد الخطأ، (إنه) تعالى (على ما يشاء) يريد (قدير) أي قادر، (وبعباده لطيف خبير) بأحوال عباده.

والأول مقتبس من قوله تعالى: {اللَّهُ لَطِيفٌ بِعِبَادِهِ} [الشورى: 19]، والثاني من قوله تعالى: {وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ} [الأنعام: 18]. واللطيف والخبير اسمان من أسمائه تعالى. ومعنى الأول العالِمُ بدقائق الأمور ومشكلاتها؛ ويطلق أيضا بمعنى الرفيق بهم؛ فالله تعالى عالم بعباده وبمواضع حوائجهم، رفيق بهم. ومعنى الثاني قريب من معنى الأول؛ ويقال: خَبَرتُ الشيء أخبر، فأنا به خبير، أي عليم. قال المصنف رحمه الله تعالى:
এবং মুস্তাহাব ও অন্যান্য বিষয়াবলি; (অতঃপর আমি তাঁর নিকট তাঁর) সেই আবেদনের (সাড়া দিয়েছি এই সংক্ষিপ্ত সারটি সংকলনের বিনিময়ে) আল্লাহর নিকট (সওয়াব বা প্রতিদান প্রত্যাশা করে), (এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার নিকট তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে এই সংক্ষিপ্ত সারটি সমাপ্ত করার ক্ষেত্রে সহায়তা কামনা করে) এবং (সঠিক বিষয়ের তাওফীক কামনা করে), যা ভুলের বিপরীত। (নিশ্চয়ই তিনি) তা‘আলা (যা ইচ্ছা করেন) বা যা চান (তাতেই সক্ষম), অর্থাৎ ক্ষমতাশালী, (এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত) অর্থাৎ তাঁর বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত।

আর প্রথমটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত: {আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি সূক্ষ্মদর্শী} [আশ-শূরা: ১৯], এবং দ্বিতীয়টি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে: {আর তিনিই প্রজ্ঞাময়, সম্যক পরিজ্ঞাত} [আল-আন‘আম: ১৮]। 'আল-লতিফ' (সূক্ষ্মদর্শী) এবং 'আল-খাবির' (সম্যক পরিজ্ঞাত) মহান আল্লাহর নামসমূহের মধ্য হতে দুটি নাম। প্রথমটির অর্থ হলো বিষয়াবলির অতি সূক্ষ্ম ও জটিল দিকগুলো সম্পর্কে অবগত সত্তা; এটি তাদের প্রতি সদয় হওয়ার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে এবং তাদের প্রয়োজনের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত ও তাদের প্রতি সদয়। আর দ্বিতীয়টির অর্থ প্রথমটির অর্থের নিকটবর্তী; বলা হয়ে থাকে: আমি বিষয়টি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি, ফলে আমি সে বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত, অর্থাৎ জ্ঞানী। গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহু তা‘আলা) বলেন:
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌كتاب أحكام الطهارة

والكتاب لغةً مصدرٌ بمعنى الضَمِّ والجَمْع، واصطلاحًا اسمٌ لجنس من الأحكام. أما الباب فاسم لنوع مما دخل تحت ذلك الجنس.

والطَّهارة بفتح الطاء لغةً النظافةُ، وأما شرعًا ففيها تفاسير كثيرةٌ؛ منها قولهم: فعل ما تستباح به الصلاةُ، أي من وضوء وغسل وتيمم وإزالة نجاسة. أما الطُّهَارَة بالضم، فاسم لبقية الماء.

 

•‌‌ أنواع المياه

ولما كان الماء آلةً للطهارة استطرد المصنفُ لأنواع المياه، فقال: (المياهُ التي يجوز) أي يصحُّ (التطهير بها سبعُ مِياه: ماءُ السماءِ) أي النازل منها، وهو المطر
পবিত্রতার বিধানসমূহ সংক্রান্ত কিতাব

অভিধানিক অর্থে ‘কিতাব’ শব্দটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যার অর্থ হলো একত্রিত করা ও জমা করা। আর পারিভাষিক অর্থে এটি একজাতীয় বিধানাবলীর সমষ্টির নাম। আর ‘বাব’ (পরিচ্ছেদ) হলো সেই জাতের অন্তর্ভুক্ত বিশেষ প্রকারের নাম।

ত্বা বর্ণে ফাতহাহ (যবর) যোগে ‘ত্বাহারাত’ অভিধানে পরিচ্ছন্নতাকে বলা হয়। আর শরিয়তের পরিভাষায় এর অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে; তার মধ্যে একটি হলো: এমন কাজ সম্পাদন করা যার মাধ্যমে সালাত বৈধ হয়, অর্থাৎ অজু, গোসল, তায়াম্মুম এবং নাপাকি দূর করা। আর ত্বা বর্ণে দ্বম্মাহ (পেশ) যোগে ‘তুহারাত’ হলো (অজু বা গোসলের পর) অবশিষ্ট পানির নাম।

 

•‌পানির প্রকারভেদসমূহ

যেহেতু পানি পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম, তাই গ্রন্থকার আনুষঙ্গিকভাবে পানির প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন: (যেসব পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ) অর্থাৎ শুদ্ধ (তা সাত প্রকার পানি: আসমানের পানি) অর্থাৎ যা আসমান থেকে বর্ষিত হয়, আর তা হলো বৃষ্টি।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ২৫)
(وماء البحر) أي الملح، (وماءُ النهر) أي الحلو (وماء البئر، وماء العين، وماء الثلج، وماء البرد). ويجمع هذه السبعة قولك: ما نزل من السماء أو نبع من الأرض على أي صفة كان من أصل الخِلْقَة.

 

•‌‌ أقسام المياه

(ثم المياه) تنقسم (على أربعة أقسام): أحدها (طاهر) في نفسه (مُطَهِّر) لغيره (غير مكروهٍ استعمالُه، وهو الماء المطلق) عن قيد لازم؛ فلا يضر القيد المنفك كماء البئر في كونه مطلقا. (و) الثاني (طاهر) في نفسه (مطهر) لغيره (مكروه استعماله) في البدن، لا في الثوب؛ (وهو الماء المشمس) أي المسخن بتأثير الشمس فيه.
(এবং সমুদ্রের পানি) অর্থাৎ লোনা পানি, (এবং নদীর পানি) অর্থাৎ মিষ্টি পানি (এবং কূপের পানি, এবং ঝরনার পানি, এবং বরফের পানি, এবং শিলার পানি)। এই সাত প্রকার পানিকে আপনার এই কথাটি একত্র করে: যা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয় অথবা যা জমিন থেকে নির্গত হয়, সৃষ্টিগতভাবে তা যে গুণেই থাকুক না কেন।

 

•‌‌ পানির প্রকারভেদ

(অতঃপর পানি) (চার ভাগে) বিভক্ত: তার একটি হলো যা স্বয়ং (পবিত্র) ও অন্যকে (পবিত্রকারী) এবং যার (ব্যবহার মাকরূহ নয়; আর তা হলো নিঃশর্ত পানি) যা কোনো অবিচ্ছেদ্য বিশেষণ থেকে মুক্ত; সুতরাং কূপের পানির মতো বিচ্ছেদ্য বিশেষণ তা নিঃশর্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি করে না। (এবং) দ্বিতীয়টি হলো যা স্বয়ং (পবিত্র) ও অন্যকে (পবিত্রকারী) কিন্তু শরীরে (তার ব্যবহার মাকরূহ), কাপড়ে নয়; (আর তা হলো রৌদ্রে তপ্ত পানি) অর্থাৎ সূর্যের প্রভাবে যা উত্তপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ২৬)
وإنما يكره شرعًا بقُطْر حارٍّ في إناء منطَبَع إلَاّ إناء النقدين لصَفاء جوهرهما. وإذا برد زالت الكراهة. واختار النووي عدم الكراهة مطلقا. ويُكره أيضا شديد السخونة والبرودة.

(و) القسم الثالث (طاهر) في نفسه (غير مطهر لغيره، وهو الماء المُستعمَل) في رفع حدث أو إزالة نجس إن لم يتغير ولم يزد وزنُه بعد انفصاله عما كان بعد اعتبار ما يتشربه المغسول من الماء؛ (والمتغير) أي ومن هذا القسم الماءُ المتغير أحدُ أوصافه (بما) أي بشيء (خالطه من الطاهرات) تغيُّرًا يمنع إطلاق اسم الماء عليه؛ فإنه طاهر غير طهور، حسيا كان التغير أو تقديريا؛ كأن اختلط بالماء ما يوافقه في صفاته، كماء الورد المنقطع الرائحة والماء المستعمل؛ فإن لم يمنع اطلاق اسم الماء عليه، بأن كان تغيّره بالطاهر يسيرا أو بما يوافق الماء في صفاته، وقدر مخالفا ولم يغيره فلا يسلب طهوريته؛ فهو مطهر لغيره.

واحترز بقوله: «خالطه» عن الطاهر المجاورُ له؛ فإنه باق على طهوريته ولو كان التغير كثيرا؛ وكذا المتغير بمخالط لا يستغني الماء عنه، كطين وطُحْلَب وما في مقرِّه وممره، والمتغير بطول المكث، فإنه طهور.

(و) القسم الرابع (ماء نجس) أي متنجس، وهو قسمان:
এবং তা শারঈভাবে কেবল গ্রীষ্মপ্রধান দেশে পিটিয়ে তৈরি করা ধাতব পাত্রে ব্যবহার করা মাকরূহ, তবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ছাড়া, তাদের উপাদানের বিশুদ্ধতার কারণে। আর তা ঠান্ডা হয়ে গেলে মাকরূহ হওয়া বা অপছন্দনীয়তা দূর হয়ে যায়। ইমাম নববী (রহ.) কোনো অবস্থাতেই মাকরূহ না হওয়ার মতকে গ্রহণ করেছেন। এছাড়া অত্যধিক গরম এবং অত্যধিক ঠান্ডা পানি ব্যবহার করাও মাকরূহ।

(এবং) তৃতীয় প্রকার হলো এমন পানি যা স্বয়ং (পবিত্র), কিন্তু (অন্যকে পবিত্রকারী নয়; আর তা হলো ব্যবহৃত পানি) যা হাদাছ (অজু-গোসলের অপবিত্রতা) দূর করতে বা নাপাকি অপসারণে ব্যবহৃত হয়েছে, যদি তাতে কোনো পরিবর্তন না ঘটে এবং ধৌত বস্তু থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ধৌত বস্তু কর্তৃক শোষিত পানির পরিমাণ বিবেচনার পরেও তার ওজন বৃদ্ধি না পায়; (এবং পরিবর্তিত পানি) অর্থাৎ এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো ঐ পানি যার কোনো একটি গুণ পরিবর্তন হয়ে গেছে (এমন কিছুর মাধ্যমে) অর্থাৎ এমন কোনো (পবিত্র বস্তু যা তার সাথে মিশেছে), যে পরিবর্তন পানিকে সাধারণভাবে 'পানি' বলা থেকে বাধা প্রদান করে; নিশ্চয়ই তা পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়, চাই সেই পরিবর্তন দৃশ্যমান হোক বা অনুমিত; যেমন পানির সাথে এমন কিছু মিশে যাওয়া যার গুণাগুণ পানির অনুরূপ, যেমন ঘ্রাণহীন গোলাপজল এবং ব্যবহৃত পানি; আর যদি তা সাধারণভাবে 'পানি' বলাকে বাধাগ্রস্ত না করে—যেমন পবিত্র বস্তু দ্বারা পরিবর্তন সামান্য হওয়া অথবা এমন কিছুর মাধ্যমে হওয়া যা গুণের দিক দিয়ে পানির অনুরূপ, আর তাকে পানির গুণের বিপরীত কিছু ধরে নিলেও যদি তা পানিকে পরিবর্তন না করে—তবে তার পবিত্রকারিতা অপসারিত হবে না; সুতরাং তা অন্যকে পবিত্রকারী হবে।

তিনি তাঁর "মিশে যাওয়া" কথাটি দ্বারা পার্শ্ববর্তী পবিত্র বস্তু থেকে পানিকে পৃথক করেছেন; কারণ এটি তার পবিত্রকারিতা বজায় রাখে যদিও পরিবর্তন অনেক বেশি হয়; অনুরূপভাবে ঐ মিশ্রণকারী বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত পানি যা থেকে পানির মুক্ত থাকা সম্ভব নয়, যেমন কাদা ও শ্যাওলা এবং পানির অবস্থানস্থল ও প্রবাহপথে যা থাকে, এবং দীর্ঘকাল অবস্থান করার ফলে পরিবর্তিত পানি; কারণ নিশ্চয়ই তা পবিত্রকারী।

(এবং) চতুর্থ প্রকার হলো (নাপাক পানি) অর্থাৎ নাপাকিযুক্ত পানি, আর তা দুই প্রকার:
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ২৭)
أحدهما (وهو الذي حلَّت فيه نجاسةٌ) تغير أم لا، (وهو) أي والحال أنه ماء (دون القلتين). ويستثنى من هذا القسم الميتة التي لا دمَ لها سائل عند قتلها أو شقّ عضو منها كالذُباب، إن لم تطرح فيه ولم تغيره؛ وكذا النجاسة التي لا يدركها الطرفُ؛ فكل منهما لا ينجس الماء. ويستثنى أيضا صور مذكورات في المبسوطات.

وأشار للقسم الثاني من القسم الرابع بقوله: (أو كان) كثيرا (قلتين) فأكثر (فتغير) يسيرا أو كثيرا.

(والقلتان خمسمائة رطل بغدادي تقريبا في الأصح) فيهما. والرطل البغدادي عند النووي مائة وثمانية وعشرون درهما وأربعة أسباع درهم. وترك المصنف قسما خامسا، وهو الماء المطهر الحرام، كالوضوء بماء مغصوب أو مسبل للشرب.
এর একটি (হলো সেটি যাতে নাপাকি পতিত হয়েছে) তা পরিবর্তিত হোক বা না হোক, (এবং তা) অর্থাৎ এমতাবস্থায় যে পানি (দুই কুল্লার কম)। এই প্রকার থেকে এমন মৃত প্রাণী ব্যতিক্রম যার হত্যার সময় বা এর কোনো অঙ্গ কাটার সময় তা থেকে রক্ত প্রবাহিত হয় না যেমন মাছি, যদি তা পানিতে নিক্ষেপ করা না হয় এবং তা পানির পরিবর্তন না ঘটায়; অনুরূপভাবে এমন নাপাকি যা দৃষ্টিগোচর হয় না; সুতরাং এদের কোনোটিই পানিকে অপবিত্র করবে না। বিস্তারিত গ্রন্থাবলীতে উল্লিখিত আরও কিছু বিষয়ও ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে।

চতুর্থ প্রকারের দ্বিতীয় অংশটির প্রতি তিনি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: (অথবা তা ছিল) অধিক পরিমাণ (দুই কুল্লা) বা তার বেশি (অতঃপর তা পরিবর্তিত হয়ে গেল) অল্প হোক বা অধিক।

(আর দুই কুল্লা হলো বাগদাদী ওজনে প্রায় পাঁচশত রতল, এটিই অধিকতর সঠিক মত) এ দুটির ক্ষেত্রে। ইমাম নববীর মতে বাগদাদী রতল হলো একশত আটাশ দিরহাম এবং এক দিরহামের সাত ভাগের চার ভাগ। গ্রন্থকার পঞ্চম একটি প্রকার ছেড়ে দিয়েছেন, আর তা হলো পবিত্রকারী অথচ হারাম পানি, যেমন জবরদখলকৃত পানি বা পান করার জন্য ওয়াকফকৃত পানি দিয়ে ওযু করা।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ২৮)
•‌‌ تطهير جلود الميتة

{فصل} في ذكر شيء من الأعيان المتنجسة وما يطهر منها بالذباغ وما لا يطهر.

(وجلود الميتة) كلها (تطهُر بالدباغ) سواء في ذلك ميتة مأكول اللحم وغيره. وكيفية الذبغ أن ينزع فضول الجلد مما يُعَفِّنه من دم ونحوه، بشيء حِرِّيف كعفص، ولو كان الحريف نجسًا كذرق حمام كفى في الدبغ (إلا جلدَ الكلب والخنزير وما تولد منهما أو من أحدهما) مع حيوان طاهر، فلا يطهر بالدباغ.

(وعظمُ الميتةِ وشعرُها نجسٌ) وكذا الميتة أيضا نجسة. وأريد بها الزائلة الحياة بغير ذكاة شرعية؛ فلا يستثنى حينئذ جنين المُذَكَّاة إذا خرج من بطن أمه ميتًا، لأن ذكاته في ذكاة أمه، وكذا غيره من المستثنيات المذكورة في المبسوطات. ثم استثنى من شعر الميتة قوله: (إلا الآدمي) أي فإن شعره طاهر كمَيتَتِه.
•‌মৃত পশুর চামড়া পবিত্রকরণ

{পরিচ্ছেদ} নাপাক বস্তুসমূহ এবং তার মধ্য থেকে যা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের (দাবাগাত) মাধ্যমে পবিত্র হয় ও যা পবিত্র হয় না, তার বর্ণনায়।

(মৃত পশুর চামড়া) সবই (চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পবিত্র হয়), চাই তা গোশত খাওয়া হয় এমন পশু হোক বা অন্য কিছু। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি হলো—রক্ত বা এই জাতীয় যা চামড়াকে পচিয়ে ফেলে, চামড়ার সেই অতিরিক্ত অংশগুলোকে কোনো তীব্র বা ঝাঁঝালো বস্তু যেমন মাজন ফল (গ্যালনাট) দ্বারা দূর করা। যদি সেই তীব্র বস্তুটি অপবিত্রও হয়, যেমন কবুতরের বিষ্ঠা, তবুও তা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য যথেষ্ট হবে। (তবে কুকুর ও শুকরের চামড়া এবং এই দুটি থেকে অথবা এই দুটির কোনো একটির সাথে কোনো পবিত্র পশুর মিলনে যা জন্ম নেয় তা ছাড়া); এগুলো চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পবিত্র হবে না।

(মৃত পশুর হাড় ও পশম নাপাক) এবং অনুরূপভাবে মৃত পশুও নাপাক। এখানে মৃত বলতে সেই প্রাণীকে বোঝানো হয়েছে যার প্রাণ শারয়ি জবেহ ব্যতীত নির্গত হয়েছে। এমতাবস্থায় জবেহকৃত পশুর পেট থেকে যদি মৃত বাচ্চা বের হয় তবে তাকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে না (অর্থাৎ তা অপবিত্র নয়); কারণ তার জবেহ তার মায়ের জবেহ দ্বারাই সম্পন্ন হয়ে যায়। একইভাবে বিস্তারিত কিতাবসমূহে বর্ণিত অন্যান্য ব্যতিক্রমগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর মৃত প্রাণীর পশমের মধ্য থেকে তিনি এই কথাটি ব্যতিক্রম করেছেন: (মানুষ ব্যতীত) অর্থাৎ মানুষের চুল বা পশম পবিত্র, যেমন তার মৃতদেহও পবিত্র।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ২৯)
•‌‌ استعمال الأواني

{فصل} في بيان ما يحرم استعماله من الأواني وما يجوز. وبدأ بالأول فقال:

(ولا يجوز) في غير ضرورة لرجل أو امرأة (استعمال) شيء من (أواني الذهب والفضة)، لا في أكل ولا في شرب ولا غيرهما؛ وكما يحرم استعمال ما ذكر يحرم اتخاذه من غير استعمال في الأصح. ويحرم أيضا الإناء المَطْلِيّ بذهب أو فضة إن حصل من الطِلَاء شيءٌ بعرضه على النار.

(ويجوز استعمال) إناء (غيرهما) أي غير الذهب والفضة (من الأواني) النفيسة، كإناء ياقوت.

ويحرم الإناء المضبب بضبة فضة كبيرة عرفًا لزينة؛ فإن كانت كبيرة لحاجة جاز مع الكراهة، أو صغيرة عرفا لزينة كرهت، أو لحاجة فلا تكره. أما ضبة الذهب فتحرم مطلقا، كما صححه النووي.

 

•‌‌ السواك

{فصل} في استعمال آلة السواك. وهو من سُنَن الوضوء؛ ويطلق السواك أيضا على ما يستاك به من أراك ونحوه.
•‌‌ পাত্রের ব্যবহার

{পরিচ্ছেদ} পাত্রসমূহের ব্যবহারের মধ্যে যা হারাম এবং যা জায়েজ তার বর্ণনায়। তিনি প্রথম বিষয়টি দিয়ে শুরু করে বললেন:

(এবং জায়েজ নয়) বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত পুরুষ বা মহিলার জন্য (ব্যবহার করা) কোনো কিছু (সোনা ও রুপার পাত্রসমূহ) হতে, আহারের ক্ষেত্রে নয়, পানের ক্ষেত্রে নয় এবং অন্য কোনো ক্ষেত্রেও নয়; আর যেমনটি উল্লেখিত বস্তুর ব্যবহার হারাম, তেমনি বিশুদ্ধতম মতানুসারে তা ব্যবহার করা ছাড়াও সংগ্রহে রাখা হারাম। আর সোনা বা রুপার প্রলেপ দেওয়া পাত্রও হারাম হবে, যদি আগুনের তাপে সেই প্রলেপ থেকে কিছু অংশ পৃথক করা সম্ভব হয়।

(এবং ব্যবহার করা জায়েজ) (এই দুটি ছাড়া অন্য) অর্থাৎ সোনা ও রুপা ব্যতীত (অন্যান্য পাত্রসমূহ) যা অত্যন্ত মূল্যবান, যেমন ইয়াকুতের পাত্র।

আর প্রথাগতভাবে সৌন্দর্যের জন্য রুপার বড় জোড়া বা পাত (দাব্বাহ) লাগানো পাত্র ব্যবহার করা হারাম; তবে যদি প্রয়োজনের তাগিদে জোড়াটি বড় হয় তবে তা মাকরূহসহ জায়েজ, অথবা প্রথাগতভাবে সৌন্দর্যের জন্য ছোট জোড়া হয় তবে তা মাকরূহ, আর যদি প্রয়োজনের জন্য হয় তবে তা মাকরূহ হবে না। তবে সোনার জোড়া বা পাত লাগানো পাত্র নিরঙ্কুশভাবে হারাম, যেমনটি ইমাম নববী বিশুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন।

 

•‌‌ মেসওয়াক

{পরিচ্ছেদ} মেসওয়াক ব্যবহারের উপকরণের বিবরণে। আর এটি ওযুর সুন্নতসমূহের অন্তর্ভুক্ত; আর মেসওয়াক শব্দটি সেই বস্তুর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা দ্বারা মেসওয়াক করা হয়, যেমন আরাক কাঠ এবং এই জাতীয় অন্য কিছু।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৩০)
(والسواك مستحب في كل حال) ولا يكره تنزيها (إلا بعد الزوال للصائم) فرضا أو نفلا؛ وتزول الكراهة بغروب الشمس. واختار النووي عدم الكراهة مطلقا.

(وهو) أي السواك (في ثلاثة مواضع أشدُّ استحبابا) من غيرها؛ أحدها: (عند تغيُّر الفم من أزم) قيل: هو سكوت طويل. وقيل: هو ترك الأكل. وإنما قال: (وغيره) ليشتمل تغيُّر الفم بغير أزم، كأكل ذي ريح كريه من ثَومٍ وبَصَل وغيرهما؛ (و) الثاني (عند القيام) أي الاستيقاظ (من النوم)؛ (و) الثالث (عند القيام إلى الصلاة)، فرضا أو نفلا.

ويتأكد أيضا في غير الثلاثة المذكورة مما هو مذكور في المطولات، كقراءة القرآن، واصفرار الأسنان.

ويسن أن ينوي بالسواك السنةَ؛ وأن يستاك بيمينه، ويبدأ بالجانب الأيمن من فمه، وأن يمره على سقف حلقه امرارا لطيفا، وعلى كراسي أضراسه.
(মিসওয়াক করা প্রতিটি অবস্থায় মুস্তাহাব) এবং তা মাকরূহ তানজিহি নয় (তবে রোযা পালনকারীর জন্য সূর্য ঢলে যাওয়ার পর ব্যতীত) তা ফরজ হোক বা নফল; আর সূর্যাস্তের মাধ্যমে এই মাকরূহের বিধান দূরীভূত হয়। ইমাম নববী কোনো অবস্থাতেই মাকরূহ না হওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

(এবং এটি) অর্থাৎ মিসওয়াক করা (তিনটি ক্ষেত্রে) অন্যান্য ক্ষেত্র অপেক্ষা (অধিকতর মুস্তাহাব); তার মধ্যে একটি হলো: (দীর্ঘক্ষণ মুখ বন্ধ রাখার কারণে মুখের গন্ধ পরিবর্তিত হওয়ার সময়)। বলা হয়েছে: এটি হলো দীর্ঘ সময় নীরব থাকা। আবার বলা হয়েছে: তা হলো আহার বর্জন করা। লেখক যে (এবং অন্য কিছু) কথাটি বলেছেন, তা যেন উক্ত কারণ ব্যতীত অন্য কারণেও মুখের গন্ধ পরিবর্তনকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন রসুন, পেঁয়াজ ও এজাতীয় দুর্গন্ধযুক্ত কোনো কিছু আহার করা; (এবং) দ্বিতীয়টি হলো (দাঁড়ানোর সময়) অর্থাৎ (ঘুম থেকে) জাগ্রত হওয়ার সময়; (এবং) তৃতীয়টি হলো (সালাতের জন্য দাঁড়ানোর সময়), তা ফরজ হোক বা নফল।

উল্লিখিত তিনটি ক্ষেত্র ছাড়াও বিস্তারিত গ্রন্থাবলিতে বর্ণিত অন্যান্য ক্ষেত্রেও এটি বিশেষভাবে গুরুত্ব লাভ করে, যেমন কুরআন তিলাওয়াতের সময় এবং দাঁত হলদে হয়ে গেলে।

মিসওয়াক করার সময় সুন্নতের নিয়ত করা সুন্নত; এবং ডান হাত দিয়ে মিসওয়াক করা, মুখের ডান দিক থেকে শুরু করা এবং তালুর ওপর দিয়ে আলতোভাবে ও মাড়ির দাঁতসমূহের ওপর দিয়ে মিসওয়াক চালনা করা সুন্নত।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৩১)
•‌‌ فروض الوضوء

{فصل} في فروض الوُضوء. وهو بضم الواو - في الأشهر - اسم للفعل، وهو المراد هنا؛ وبفتح الواو اسم لما يتوضأ به. ويشتمل الأولُ على فروض وسُنَن.

وذكر المصنف الفروض في قوله: (وفروض الوضوء ستة أشياء): أحدها (النية). وحقيقتها شرعا قصد الشيء مقترنا بفعله؛ فإن تراخى عنه سمي عزما. وتكون النية (عندَ غسل) أول جزء من (الوجه) أي مقترنة بذلك الجزء، لا بجميعه، ولا بما قبله، ولا بما بعده؛ فينوي المتوضئ عند غسل ما ذُكر رفعَ حدث من أحداثه، أو ينوي استباحة مفتقر إلى وضوء، أو ينوي فرض الوضوء، أو الوضوء فقط، أو الطهارة عن الحدث. فإن لم يقل عن الحدث لم يصحَّ. وإذا نوى ما يعتبر من هذه النيات وشرك معه نية تنظف أو تبرد صحّ وضوؤه.

(و) الثاني (غسل) جميع (الوجه). وحَدُّه طولاً ما بين منابت شعر الرأس غالبا، وآخر اللحيين؛ وهما العظمان اللذان ينبت عليهما الأسنان السفلى، يجتمع مقدمهما في الذقن، ومؤخرهما في الأذن. وحدُّه عرضا
ওযুর ফরযসমূহ

{পরিচ্ছেদ} ওযুর ফরযসমূহ প্রসঙ্গে। প্রসিদ্ধতম অভিমত অনুযায়ী, 'ওয়াও' বর্ণে পেশ যোগে (উযু) হলো কাজের নাম, আর এখানে এটিই উদ্দেশ্য; আর 'ওয়াও' বর্ণে জবর যোগে (ওয়াদু) ঐ বস্তুর (পানির) নাম যা দিয়ে ওযু করা হয়। প্রথমটি (অর্থাৎ ওযু) ফরয ও সুন্নাতসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।

গ্রন্থকার ফরযসমূহ উল্লেখ করে বলেছেন: (ওযুর ফরযসমূহ ছয়টি): তার একটি হলো (নিয়ত)। শরীয়তের পরিভাষায় এর প্রকৃত অর্থ হলো কোনো কাজ করার সাথে সাথেই তা করার সংকল্প করা; যদি সংকল্প কাজ থেকে পিছিয়ে যায় (আগে করা হয়), তবে তাকে 'আযম' বা দৃঢ় ইচ্ছা বলা হয়। আর নিয়ত হবে (মুখমন্ডলের) প্রথম অংশ (ধোয়ার সময়), অর্থাৎ ওই অংশের সাথে যুক্ত অবস্থায়; পুরো মুখমন্ডল ধোয়ার সাথে নয়, আর তার আগের বা পরের কোনো অংশের সাথেও নয়। সুতরাং ওযুকারী ব্যক্তি উল্লিখিত অংশ ধোয়ার সময় তার কোনো একটি অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করবে, অথবা ওযু প্রয়োজন এমন কাজ বৈধ করার নিয়ত করবে, অথবা ওযুর ফরয আদায়ের নিয়ত করবে, অথবা কেবল ওযুর নিয়ত করবে, অথবা অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করবে। যদি 'অপবিত্রতা থেকে' কথাটি না বলে, তবে তা সহীহ হবে না। আর যদি এই গ্রহণযোগ্য নিয়তগুলোর কোনো একটি করে এবং তার সাথে পরিষ্কার হওয়া বা শীতলতা অর্জনের নিয়তও যুক্ত করে, তবে তার ওযু সহীহ হয়ে যাবে।

(এবং) দ্বিতীয়টি হলো পুরো (মুখমন্ডল ধোয়া)। দৈর্ঘ্যে এর সীমানা হলো সাধারণত মাথার চুল গজানোর স্থান থেকে দুই চোয়ালের হাড়ের শেষ পর্যন্ত; এই দুটি এমন হাড় যাতে নিচের পাটির দাঁতগুলো গজে থাকে, এ দুটির সম্মুখভাগ চিবুকে মিলিত হয় এবং পশ্চাৎভাগ কানের কাছে গিয়ে ঠেকে। আর প্রস্থে এর সীমানা হলো...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৩২)
ما بين الأذنين.

وإذا كان على الوجه شعرٌ خفيف أو كثيف وجب إيصال الماء إليه مع البشرة التي تحته.

وأما لحية الرجل الكثيفة بأن لم يرَ المخاطبُ بشرتَها من خلالها فيكفي غسل ظاهرها، بخلاف الخفيفة، وهي ما يرى المخاطب بشرتها، فيجب إيصال الماء لبشرتها، وبخلاف لحية امرأة وخنثى، فيجب إيصال الماء لبشرتهما ولو كثفا.

ولا بد مع غسل الوجه من غسل جزء من الرأس والرقبة وما تحت الذقن.

(و) الثالث (غسل اليدين إلى المِرْفَقين). فإن لم يكن له مرفقان اعتبر قدرهما. ويجب غسل ما على اليدين من شعر وسلعة وأصبع زائدة وأظافير. ويجب إزالة ما تحتها من وسخ يمنع وصول الماء.

(و) الرابع (مَسْحُ بعض الرأس) مِن ذَكر أو أنثى أو خنثى؛ أو مسح بعض شعر في حد الرأس.

ولا تتعيَّن اليد للمسح، بل يجوز بخرقة وغيرها. ولو غسل رأسه بدل مسحها جاز. ولو وضع يده المبلولة ولم يحركها جاز.

(و) الخامس (غسل الرجلين إلى الكعبين) إن لم يكن المتوضئ لابسا للخفين؛ فإن كان لابسهما وجب عليه مسح الخفين أو غسل الرجلين. ويجب غسل ما عليهما من شعر وسلعة وأصبع زائدة كما سبق في اليدين.
দুই কানের মধ্যবর্তী স্থান।

চেহারায় পাতলা বা ঘন চুল থাকলে তার ওপর এবং তার নিচের ত্বকে পানি পৌঁছানো ওয়াজিব।

আর পুরুষের ঘন দাড়ি—যার মধ্য দিয়ে সম্বোধনকারী ব্যক্তি চামড়া দেখতে পায় না—তার ক্ষেত্রে কেবল উপরিভাগ ধৌত করাই যথেষ্ট। তবে পাতলা দাড়ির বিষয়টি ভিন্ন, যা দিয়ে সম্বোধনকারী ব্যক্তি চামড়া দেখতে পায়; সেক্ষেত্রে চামড়ায় পানি পৌঁছানো ওয়াজিব। আর নারী ও হিজড়ার দাড়ির বিষয়টিও ভিন্ন, তাদের দাড়ি ঘন হলেও চামড়ায় পানি পৌঁছানো ওয়াজিব।

মুখমণ্ডল ধৌত করার সময় মাথার কিছু অংশ, ঘাড় এবং থুতনির নিচের কিছু অংশ ধৌত করা আবশ্যক।

(এবং) তৃতীয়ত (দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করা)। যদি কারও কনুই না থাকে, তবে তার সম্ভাব্য স্থানটি বিবেচনা করতে হবে। দুই হাতের ওপর থাকা চুল, অতিরিক্ত গোশত, অতিরিক্ত আঙুল এবং নখ ধৌত করা ওয়াজিব। নখের নিচে থাকা এমন ময়লা দূর করা ওয়াজিব যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়।

(এবং) চতুর্থত (মাথার কিছু অংশ মাসাহ করা); তা পুরুষ, নারী বা হিজড়া যাই হোক না কেন; অথবা মাথার সীমানার ভেতরে থাকা কিছু চুল মাসাহ করা।

মাসাহ করার জন্য হাতই নির্দিষ্ট নয়, বরং কাপড় বা অন্য কিছু দিয়েও তা করা জায়েজ। যদি কেউ মাসাহ করার পরিবর্তে মাথা ধুয়ে ফেলে, তবে তা জায়েজ হবে। আর যদি কেউ তার ভেজা হাত মাথার ওপর রাখে এবং নাড়াচাড়া না করে, তবুও তা জায়েজ হবে।

(এবং) পঞ্চমত (উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করা) যদি ওজুকারী ব্যক্তি মোজা পরিহিত না থাকে। আর যদি সে মোজা পরিহিত থাকে, তবে মোজা মাসাহ করা অথবা পা ধৌত করা তার ওপর ওয়াজিব। পায়ের ওপর থাকা চুল, অতিরিক্ত গোশত এবং অতিরিক্ত আঙুল ধৌত করা ওয়াজিব, যেমনটি হাতের ক্ষেত্রে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
(و) السادس (الترتيب) في الوضوء (على ما) أي على الوجه الذي (ذكرناه) في عد الفروض. فلو نسي الترتيب لم يكف. ولو غسل أربعة أعضائه دفعةً واحدة بإذنه ارتفع حدث وجهه فقط.

 

•‌‌ سنن الوضوء

(وسننه) أي الوضوء (عشرة أشياء)، وفي بعض نسخ المتن: «عشر خصال»: (1 التسمية) أوَّلَه. وأقلها بسم الله، وأكملها بسم الله الرحمن الرحيم؛ فإن ترك التسمية أوَّلَه أتى بها في أثنائه؛ فإن فرغ من الوضوء لم يأت بها.

(2 وغسل الكفين) إلى الكوعين قبل المضمضة، ويغسلهما ثلاثا إن تردد في طهرهما (قبل إدخالهما الإناءَ) المشتمل على ماء دون القلتين؛ فإن لم يغسلهما كره له غمسهما في الإناء، وإن تيقن طهرهما لم يُكرَه غَمسُهما.

(3 والمضمضة) بعد غسل الكفين. ويحصل أصل السنة فيها بإدخال الماء في الفم سواء أداره فيه ومجه أم لا؛ فإن أراد الأكمل مجه.
(এবং) ষষ্ঠটি হলো অজুর মধ্যে (তারতিব) বা ধারাবাহিকতা রক্ষা করা (সেই অনুযায়ী) অর্থাৎ সেই পদ্ধতিতে যা (আমরা উল্লেখ করেছি) ফরযসমূহ গণনার ক্ষেত্রে। সুতরাং যদি কেউ ধারাবাহিকতা ভুলে যায়, তবে তা যথেষ্ট হবে না। আর যদি কেউ তার অনুমতিক্রমে অজুর চারটি অঙ্গ একবারে ধৌত করে, তবে শুধুমাত্র তার চেহারার অপবিত্রতা (হাদাস) দূর হবে।

 

•‌‌ অজুর সুন্নতসমূহ

(আর এর সুন্নতসমূহ) অর্থাৎ অজুর (দশটি বিষয়), এবং মূল পাঠের কোনো কোনো কপিতে রয়েছে: ‘দশটি গুণ’: (১. তাসমিয়া বা বিসমিল্লাহ বলা) এর শুরুতে। এর সর্বনিম্ন স্তর হলো ‘বিসমিল্লাহ’, আর এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’; যদি শুরুতে তাসমিয়া ছেড়ে দেয়, তবে তা অজুর মাঝখানে আদায় করবে; আর যদি অজু শেষ করে ফেলে, তবে তা আর আদায় করবে না।

(২. এবং কবজি পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করা) কুলি করার পূর্বে, এবং সে হাত দুটি তিনবার ধৌত করবে যদি সেগুলোর পবিত্রতার ব্যাপারে তার সন্দেহ থাকে (পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর পূর্বে) যা দুই কুল্লার কম পানি ধারণ করে; যদি সে হাত দুটি ধৌত না করে, তবে তার জন্য সেগুলো পাত্রে ডুবানো মাকরুহ, আর যদি সেগুলোর পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়, তবে সেগুলো ডুবানো মাকরুহ হবে না।

(৩. এবং কুলি করা) উভয় হাত ধৌত করার পর। আর এর মাধ্যমে সুন্নতের মূল ভিত্তি অর্জিত হবে মুখে পানি প্রবেশ করানোর দ্বারা, চাই সে পানি মুখের ভেতরে ঘুরাক এবং তা বাইরে নিক্ষেপ করুক অথবা না করুক; তবে যদি সে পূর্ণাঙ্গ নেকি চায়, তবে সে যেন তা বাইরে নিক্ষেপ করে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৩৪)
(4 والاستنشاق) بعد المضمضة. ويحصل أصل السنة فيه بإدخال الماء في الأنف، سواء جذبه بنفسه إلى خياشيمه ونثره أم لا؛ فإن أراد الأكمل نثره.

والمبالغة مطلوبة في المضمضة والاستنشاق. والجمع بين المضمضة والاستنشاق بثلاث غرف يتمضمض من كل منها ثم يستنشق أفضل من الفصل بينهما.

(5 ومسح جميع الرأس) وفي بعض نسخ المتن «واستيعاب الرأس بالمسح». أما مسح بعض الرأس فواجب كما سبق. ولو لم يرد نزع ما على رأسه من عمامة ونحوها كمل بالمسح عليها.

(6 ومسح) جميع (الأذنين ظاهرهما وباطنهما بماء جديد) أي غير بلل الرأس. والسنة في كيفية مسحهما أن يدخل مسبحتيه في صماخيه ويديرهما على المعاطف، ويمرّ إبهاميه على ظهورهما، ثم يلصق كفيه، وهما مبلولتان بالأذنين استظهارا.

(7 وتخليل اللحية الكَثَّة) بمثلثة من الرجُل؛ أما لحية الرجل الخفيفة ولحية المرأة والخنثى فيجب تخليلهما.
(৪ এবং নাকে পানি দেওয়া) মুখ কুলি করার পর। আর নাকে পানি দেওয়ার মাধ্যমে সুন্নতের মূল অংশ অর্জিত হয়, চাই সে নিজ নিঃশ্বাসের মাধ্যমে তা নাকের বাঁশিতে টেনে নিয়ে ঝেড়ে ফেলুক বা না করুক; তবে যদি সে পূর্ণতা চায় তবে যেন তা ঝেড়ে ফেলে।

মুখ কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে মুবালাগা (অধিক যত্নসহকারে করা) কাম্য। তিন আজলা পানি দিয়ে কুলি ও নাকে পানি দেওয়াকে একত্র করা—যেখানে প্রতি আজলা দিয়ে কুলি করার পর নাকে পানি দেওয়া হবে—তা কুলি ও নাকে পানি দেওয়াকে পৃথক করার চেয়ে উত্তম।

(৫ এবং সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ করা) এবং মূলগ্রন্থের কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: “মাসাহর মাধ্যমে পুরো মাথাকে বেষ্টন করা”। আর মাথার কিয়দাংশ মাসাহ করা ওয়াজিব, যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। যদি কেউ তার মাথার উপর থাকা পাগড়ি বা এই জাতীয় বস্তু খুলতে না চায়, তবে সে তার ওপর মাসাহ করার মাধ্যমে তা পূর্ণ করবে।

(৬ এবং উভয় কানের) বহির্ভাগ ও অভ্যন্তরীণ ভাগ (নতুন পানি দিয়ে মাসাহ করা) অর্থাৎ যা মাথার অবশিষ্ট আর্দ্রতা থেকে ভিন্ন। কান মাসাহ করার সুন্নাহ পদ্ধতি হলো—উভয় তর্জনী কানের ছিদ্রে প্রবেশ করিয়ে কানের ভাঁজগুলোতে ঘোরানো এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় কানের পিঠের ওপর দিয়ে চালনা করা, এরপর পূর্ণতার জন্য ভেজা দুই হাতের তালু উভয় কানের সাথে চেপে ধরা।

(৭ এবং পুরুষের ঘন দাড়ি খিলাল করা)। তবে পুরুষের পাতলা দাড়ি এবং নারী ও হিজড়া ব্যক্তির দাড়ির ক্ষেত্রে খিলাল করা ওয়াজিব।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وكيفيته أن يُدخِل الرجلُ أصابعه من أسفل اللحية.

(8 وتخليل أصابع اليدين وَالرِّجلين) إن وصل الماء إليها من غير تخليل؛ فإن لم يصِل إلا به - كالأصابع الملتفة - وجب تخليلها؛ وإن لم يتأت تخليلها لالتحامها حرم فتقُها للتخليل. وكيفية تخليل اليدين بالتشبيك، والرِجلين بأن يبدأ بخنصر يده اليسرى من أسفلِ الرِّجل مبتدئا بخنصر الرِجل اليمنى خاتما بخنصر اليسرى.

(9 وتقديم اليمنى) من يديه ورجليه (على اليسرى) منهما. أما العضوان اللذان يسهل غسلهما معا كالخدين فلا يقدم الأيمن منهما، بل يطهران دفعة واحدة.

وذكر المصنف سنية تثليث العضو المغسول والممسوح في قوله: (10 والطهارة ثلاثا ثلاثا). وفي بعض النسخ «والتكرار» أي للمغسول والممسوح، (والموالاة). ويعبر عنها بالتتابع؛ وهي أن لا يحصل بين العضوين
এর পদ্ধতি হলো এই যে, ব্যক্তি তার আঙ্গুলসমূহ দাড়ির নিচের দিক থেকে প্রবেশ করাবে।

(৮. হাত ও পায়ের আঙ্গুলসমূহ খিলাল করা) যদি খিলাল করা ছাড়াই সেখানে পানি পৌঁছে যায়; আর যদি খিলাল করা ব্যতীত পানি না পৌঁছে—যেমন একে অপরের সাথে লেগে থাকা আঙ্গুলসমূহ—তবে সেক্ষেত্রে খিলাল করা ওয়াজিব। আর যদি আঙ্গুলগুলো পরস্পরের সাথে মিশে থাকার কারণে খিলাল করা সম্ভব না হয়, তবে খিলাল করার উদ্দেশ্যে সেগুলো চিরে আলাদা করা হারাম। দুই হাত খিলাল করার পদ্ধতি হলো আঙ্গুলগুলো একে অপরের ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া, আর পা খিলাল করার পদ্ধতি হলো বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে পায়ের নিচের দিক থেকে শুরু করা; এক্ষেত্রে ডান পায়ের কনিষ্ঠ আঙ্গুল থেকে শুরু করে বাম পায়ের কনিষ্ঠ আঙ্গুলে গিয়ে শেষ করবে।

(৯. ডান অংশকে প্রাধান্য দেওয়া) হাত ও পায়ের ক্ষেত্রে বাম অংশের ওপর ডান অংশকে আগে ধৌত করা। তবে যে সকল অঙ্গ একত্রে ধৌত করা সহজ যেমন দুই গাল, সেক্ষেত্রে ডান দিককে আগে ধৌত করা হবে না, বরং উভয়টি একই সাথে পবিত্র করবে।

গ্রন্থকার ধৌতকৃত এবং মাসেহকৃত অঙ্গসমূহ তিনবার করে ধৌত করা সুন্নত হওয়ার বিষয়টি তাঁর এই উক্তিতে উল্লেখ করেছেন: (১০. এবং তিনবার করে পবিত্রতা অর্জন করা)। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'পুনরাবৃত্তি' শব্দটি এসেছে, যা ধৌতকৃত ও মাসেহকৃত অঙ্গের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, (এবং মুওয়ালাত বা অবিরত রাখা)। একে 'তাতাবু' বা ধারাবাহিকতাও বলা হয়; আর তা হলো দুই অঙ্গ ধৌত করার মাঝে যেন এমন ব্যবধান না হয়—
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৩৬)
تفريقٌ كثير، بل يطهر العضو بعد العضو، بحيث لا يجف المغسول قبله مع اعتدال الهواء والمزاج والزمان.

وإذا ثلث فالاعتبار لآخر غسلة. وإنما تندب الموالاة في غير وضوء صاحب الضرورة؛ أما هو فالموالاة واجبة في حقه. وبقي للوضوء سنن أخرى مذكورة في المطولات.

 

•‌‌ الاستنجاء

{فصل} في الاستنجاء وآداب قاضي الحاجة. (والاستنجاء) - وهو «من نَجوت الشيءَ»، أي قطعته، فكأن المستنجي يقطع به الأذى عن نفسه - (واجب من) خروج (البول والغائط) بالماء أو الحجر وما في معناه من كل جامد طاهر قالع غير محترم، (و) لكن (الأفضل أن يستنجي) أوَّلا (بالأحجار ثم يُتبعَها) ثانيا (بالماء). والواجب ثلاث مسحات ولو بثلاثة أطراف حجر واحد.

(ويجوز أن يقتصر) المستنجي (على الماء أو على ثلاثة أحجار يُنقي بهن المحلَّ) إن
অধিক পৃথকীকরণ (দীর্ঘ বিরতি না দেওয়া), বরং একটির পর একটি অঙ্গ ধৌত করা, যাতে স্বাভাবিক আবহাওয়া, মেজাজ এবং সময়ে পূর্বের ধৌত করা অঙ্গটি শুকিয়ে না যায়।

আর যদি তিনবার করে ধৌত করা হয়, তবে সর্বশেষ ধৌত করার সময়টিই ধর্তব্য হবে। মুয়ালাত বা বিরতিহীনতা কেবল সাধারণ ব্যক্তির ওজুর ক্ষেত্রে মুস্তাহাব; কিন্তু ওজরগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা ওয়াজিব। ওজুর আরও কিছু সুন্নত রয়েছে যা বিস্তারিত গ্রন্থসমূহে আলোচিত হয়েছে।

 

•‌‌ ইসতিনজা

{পরিচ্ছেদ} ইসতিনজা এবং হাজত সম্পন্নকারীর আদব প্রসঙ্গে। (ইসতিনজা) - যা ‘নাজাওতুশ শাই’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ আমি তা কেটে ফেলেছি; যেন ইসতিনজাকারী এর মাধ্যমে নিজের থেকে কষ্টদায়ক বস্তুকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে - (ওয়াজিব) (প্রস্রাব ও পায়খানা) নির্গত হওয়ার পর পানি অথবা পাথর অথবা সমজাতীয় প্রতিটি কঠিন, পবিত্র, ময়লা দূর করতে সক্ষম এবং সম্মানিত নয় এমন বস্তু দ্বারা। (এবং) তবে (উত্তম হলো) প্রথমে (পাথর দ্বারা ইসতিনজা করা, অতঃপর) দ্বিতীয়ত (পানির অনুসরণ করা)। আর ওয়াজিব হলো তিনবার মোছা, যদিও তা একটি পাথরের তিন দিক দ্বারা হয়।

(আর কেবল) পানির (উপর অথবা তিনটি পাথরের উপর সীমাবদ্ধ থাকা জায়েজ, যা দ্বারা স্থানটি পরিষ্কার করা হয়) যদি
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৩৭)
حصل الإنقاء بها، وإلا زاد عليها حتى ينقى. ويسن بعد ذلك التثليث.

(فإذا أراد الاقتصارَ على أحدهما، فالماء أفضل) لأنه يزيل عين النجاسة وأثرها. وشرط أجزاء الاستنجاء بالحجر أن لا يجفَّ الخارج النجسُ، ولا ينتقلَ عن محل خروجه، ولا يطرأ عليه نجسٌ آخر أجنبي عنه؛ فإن انتفى شرط من ذلك تعيَّن الماءُ.

(ويجتنب) وجوبا قاضي الحاجة (استقبالَ القبلة) الآن وهي الكعبة، (واستدبارها في الصحراء)؛ إن لم يكن بينه وبين القبلة ساترٌ، أو كان ولم يبلغ ثلثي ذراع، أو بلغهما وبَعُد عنه أكثر من ثلاثة أذرع بذراع الآدمي - كما قاله بعضهم. والبنيان في هذا كالصحراء بالشرط المذكور إلا البناءَ المُعَدَّ لقضاء الحاجة، فلا حرمةَ فيه مطلقا. وخرج بقولنا: «الآنَ» مَا كان قِبلةً أولاً كبَيتِ المقدس؛ فاستقباله واستدباره مكروه.

(ويجتنب) أدبًا قاضي الحاجة (البولَ والغائط في الماء الراكد)؛ أما الجاري فيكره في القليل منه دون الكثير، لكن الأولى اجتنابه. وبحث النووي تحريمه في القليل جاريا كان أو راكدا.
এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হবে, অন্যথায় পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত আরও বৃদ্ধি করবে। এরপর তিনবার করা সুন্নত।

(যদি কেউ কেবল একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে চায়, তবে পানিই উত্তম) কারণ তা নাপাকির মূল সত্তা এবং তার চিহ্ন উভয়ই দূর করে। পাথরের মাধ্যমে ইস্তিনজা যথেষ্ট হওয়ার শর্ত হলো—নির্গত নাপাকি শুকিয়ে না যাওয়া, নির্গমন স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে না পড়া এবং এর ওপর বাইরের অন্য কোনো নাপাকি এসে না পড়া; যদি এগুলোর কোনো একটি শর্ত অনুপস্থিত থাকে, তবে পানি ব্যবহার করা অবধারিত হয়ে যায়।

হাজত পূরণকারীর জন্য (কিবলার দিকে মুখ করা) যা বর্তমানে কাবা, (এবং উন্মুক্ত স্থানে কিবলার দিকে পিঠ দেওয়া) ওয়াজিবভাবে (বর্জনীয়); যদি তার ও কিবলার মাঝে কোনো আড়াল না থাকে, অথবা আড়াল থাকলেও তা উচ্চতায় দুই-তৃতীয়াংশ হাত পরিমাণ না হয়, কিংবা তা দুই-তৃতীয়াংশ হাত পরিমাণ হলেও তা থেকে মানুষের হাতের মাপে তিন হাতের বেশি দূরত্বে হয়—যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন। দালানকোঠার হুকুমও এক্ষেত্রে উল্লিখিত শর্তসাপেক্ষে উন্মুক্ত স্থানের মতোই, তবে হাজত পূরণের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যতীত; কারণ সেখানে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আমাদের ‘বর্তমানে’ কথাটি দ্বারা সেই স্থানটি বাদ পড়েছে যা আগে কিবলা ছিল যেমন বাইতুল মাকদিস; সুতরাং সেদিকে মুখ করা বা পিঠ দেওয়া মাকরুহ।

হাজত পূরণকারীর জন্য আদব হিসেবে (বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব ও পায়খানা করা) (বর্জনীয়); আর প্রবাহমান পানির ক্ষেত্রে অল্প পানিতে মাকরুহ কিন্তু বেশি পানিতে নয়, তবে তা বর্জন করাই উত্তম। ইমাম নববী অল্প পানির ক্ষেত্রে তা হারাম হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন, চাই তা প্রবাহমান হোক বা বদ্ধ।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৩৮)
(و) يجتنب أيضا البول والغائط (تحت الشجرة المثمرة) وقت الثمر وغيره؛ (و) يجتنب ما ذكر (في الطريق) المسلوك للناس (و) في موضع (الظل) صيفًا، وفي موضع الشمس شِتاءً، (و) في (الثقب) في الأرض، وهو النازل المستدير. ولفظ الثقب ساقط في بعض نسخ المتن.

(ولا يتكلم) أدبا لغير ضرورة قاضي الحاجة (على البول والغائط)؛ فإن دعت ضرورة إلى الكلام، كمن رأى حيَّةً تقصد إنسانا لم يكره الكلام حينئذ.

(ولا يستقبل الشمسَ والقمر ولا يستدبرهما) أي يكره له ذلك حالَ قضاء حاجته، لكن النووي في الروضة وشرح المهذب قال: إن استدبارهما ليس بمكروه؛ وقال في شرح الوسيط: إنَّ تركَ استقبالهما واستدبارهما سواء، أي فيكون مباحا. وقال في التحقيق: إن كراهة استقبالهما لا أصل لها.

وقوله: «ولا يستقبل» إلخ ساقطٌ في بعض نُسَخ المتن.
(এবং) ফলবান বৃক্ষের নিচে ফল আসার সময় এবং অন্য সময়েও প্রস্রাব ও পায়খানা করা পরিহার করবেন; (এবং) মানুষের চলাচলের রাস্তায় যা উল্লেখ করা হয়েছে (প্রস্রাব-পায়খানা) তা পরিহার করবেন, (এবং) গ্রীষ্মকালে ছায়ার স্থানে, আর শীতকালে রোদের স্থানে, (এবং) ভূমির গর্তে, আর তা হলো ভূমিতে নিম্নগামী গোলাকার ছিদ্র। আর মূল পাঠের কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'গর্ত' শব্দটি বাদ পড়েছে।

(এবং) শৌচকার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তি শিষ্টাচারস্বরূপ কোনো জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত প্রস্রাব ও পায়খানা করার সময় কথা বলবেন না; তবে যদি কথা বলার আবশ্যকতা দেখা দেয়, যেমন কেউ কোনো সাপকে কোনো মানুষের দিকে যেতে দেখল, তবে সেই মুহূর্তে কথা বলা মাকরুহ হবে না।

(এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে সামনে রাখবেন না এবং সেগুলোর দিকে পিঠও দেবেন না) অর্থাৎ হাজত পূরণের সময় এমন করা তার জন্য মাকরুহ হবে। কিন্তু ইমাম নববী 'রাওদা' ও 'শারহুল মুহাযযাব'-এ বলেছেন: সেগুলোর দিকে পিঠ দেওয়া মাকরুহ নয়; এবং তিনি 'শারহুল ওয়াসীত'-এ বলেছেন: সেগুলোকে সামনে রাখা বা পিঠ দেওয়া ত্যাগ করা সমান, অর্থাৎ তা মুবাহ হবে। আর তিনি 'তাহকীক'-এ বলেছেন: সেগুলোকে সামনে রাখা মাকরুহ হওয়ার কোনো ভিত্তি নেই।

আর লেখকের উক্তি: "এবং তিনি সামনে রাখবেন না" ইত্যাদি অংশটি মূল পাঠের কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৩৯)
•‌‌ نواقض الوضوء

{فصل} في نواقض الوضوء، المُسماة أيضا بأسباب الحدث. (والذي يُنقِض) أي يُبطِل (الوضوءَ سِتَّةُ أشياء): أحدها (ما خرجَ من) أحد (السبيلين)،

أي القُبل والدُبر، من متوضئ حيٍّ واضح، معتادا كان الخارج كبول وغائط أو نادرا كدم وحصا، نجسًا كهذه الأمثلة أو طاهرا كدود، إلا المني الخارجَ باحتلام من متوضئ ممكن مقعده من الأرض فلا ينقض؛ والمشكل إنما ينتقض وضوؤه بالخارج من فرجيه جميعا.

(و) الثاني (النوم على غير هيئة المتمكن) - وفي بعض نسخ المتن زيادة «من الأرض» - بمقعده. والأرض ليست بقيد. وخرج بـ «المتمكن» ما لو نام قاعدا غير متمكن أو نام قائما أو على قفاه ولو متمكنا.

(و) الثالث (زوال العقل) أي الغلبة عليه (بسُكَر أو مرض) أو جُنون أو إغماء أو غير ذلك.

(و) الرابع (لمس الرجلِ المرأةَ الأجنبيةَ) غيرَ المَحْرَم ولو ميتة. والمراد
অযুর ভঙ্গের কারণসমূহ

{পরিচ্ছেদ} অযুর ভঙ্গের কারণসমূহ প্রসঙ্গে, যা অপবিত্রতার কারণ হিসেবেও অভিহিত হয়। (যা নষ্ট করে) অর্থাৎ বাতিল করে (অযুকে, তা ছয়টি বিষয়): তার একটি হলো (যা বের হয়) দুটি (পথের) যেকোনো একটি দিয়ে,

অর্থাৎ সম্মুখ পথ বা পশ্চাৎ পথ দিয়ে, কোনো জীবিত ও স্পষ্ট লিঙ্গধারী ব্যক্তির অযু থাকা অবস্থায়। নির্গত বস্তুটি স্বাভাবিক হোক যেমন প্রস্রাব ও মল, অথবা অস্বাভাবিক হোক যেমন রক্ত ও পাথর; অপবিত্র হোক যেমন এই উদাহরণগুলো, অথবা পবিত্র হোক যেমন কৃমি। তবে অযু অবস্থায় জমিনের ওপর পাছা স্থির রেখে বসা ব্যক্তির স্বপ্নদোষের ফলে নির্গত বীর্য অযু ভঙ্গ করে না। আর লিঙ্গ পরিচয়হীন ব্যক্তির অযু কেবল তখনই ভঙ্গ হবে যখন তার উভয় পথ দিয়েই কিছু নির্গত হবে।

(এবং) দ্বিতীয়টি হলো (এমন অবস্থায় ঘুমানো যাতে পাছা স্থিরভাবে লেগে না থাকে) - মূল পাঠের কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'জমিনের ওপর' কথাটি অতিরিক্ত রয়েছে - অর্থাৎ নিজের পাছা দিয়ে। তবে জমিন এখানে কোনো শর্ত নয়। 'স্থিরভাবে বসা'র বিপরীত হলো যদি কেউ স্থির না হয়ে বসে ঘুমায়, অথবা দাঁড়িয়ে ঘুমায়, কিংবা চিৎ হয়ে শুয়ে ঘুমায়—যদিও সে স্থিরভাবে থাকে (তবুও অযু ভেঙে যাবে)।

(এবং) তৃতীয়টি হলো (বিবেচনা শক্তি লোপ পাওয়া) অর্থাৎ এর ওপর কোনো কিছু প্রবল হওয়া (নেশা বা অসুস্থতার কারণে) অথবা পাগল হওয়া, মূর্ছা যাওয়া বা এজাতীয় অন্য কিছুর কারণে।

(এবং) চতুর্থটি হলো (পুরুষ কর্তৃক মাহরাম নয় এমন পরনারী স্পর্শ করা) যদিও সে মৃত হয়। আর উদ্দেশ্য হলো
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৪০)
بالرجل والمرأة ذكر وأنثى بلغا حدَّ الشهوة عرفا؛ والمراد بالمَحْرَم مَن حَرُم نكاحُها لأجل نسب أو رضاع أو مصاهرة. وقوله: (مِن غير حائل) يُخرِج ما لو كان هناك حائل فلا نقض حينئذ.

(و) الخامس، وهو آخر النواقض (مس فرج الآدمي بباطن الكف) من نفسه وغيره، ذكرا أو أنثى، صغيرا أو كبيرا، حيا أو ميتا. ولفظ الآدمي ساقط في بعض نسخ المتن، وكذا قوله: (ومس حلقة دبره) أي الآدمي ينقض (على) القول (الجديد). وعلى القديم لا ينقض مس الحلقة. والمراد بها ملتقى المنفذ؛ وبباطن الكف الراحة مع بطون الأصابع. وخرج بباطن الكف ظاهره وحِرفه ورؤوس الأصابع وما بينها، فلا نقض بذلك أي بعد التحامل اليسير.
পুরুষ এবং নারী বলতে এমন একজন পুরুষ ও একজন নারীকে বোঝানো হয়েছে যারা প্রথাগতভাবে কামোত্তেজনার সীমায় পৌঁছেছে; আর মাহরাম বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যার সাথে বংশগত সম্পর্ক, দুগ্ধপান সম্পর্ক অথবা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে বিবাহ হারাম। এবং তাঁর কথা: (আড়াল ব্যতীত) দ্বারা সেই অবস্থাকে বাদ দেওয়া হয়েছে যেখানে কোনো আড়াল থাকে; সেক্ষেত্রে অজু ভঙ্গ হবে না।

(এবং) পঞ্চম, যা অজু ভঙ্গের শেষ কারণ (হাতের তালুর ভিতরের অংশ দিয়ে মানুষের লজ্জাস্থান স্পর্শ করা), তা নিজের হোক বা অন্যের, পুরুষ হোক বা নারী, ছোট হোক বা বড়, জীবিত হোক বা মৃত। আর 'মানুষ' শব্দটি মূল পাঠের কিছু পাণ্ডুলিপিতে বাদ পড়েছে, অনুরূপভাবে তাঁর কথা: (এবং তার মলদ্বার স্পর্শ করা) অর্থাৎ মানুষের মলদ্বার স্পর্শ করলে অজু ভেঙে যায় নতুন অভিমত অনুযায়ী। আর পুরাতন অভিমত অনুযায়ী মলদ্বার স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গ হয় না। আর এটি দ্বারা নির্গমন পথের সংযোগস্থলকে বোঝানো হয়েছে; এবং হাতের তালুর ভিতরের অংশ বলতে আঙুলের ভিতরের অংশসহ করতলকে বোঝানো হয়েছে। হাতের তালুর ভিতরের অংশ বলার মাধ্যমে হাতের পিঠ, পার্শ্বদেশ, আঙুলের অগ্রভাগ এবং আঙুলসমূহের মধ্যবর্তী স্থানকে বাদ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং সামান্য চাপের পরেও এগুলোর মাধ্যমে স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গ হবে না।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৪১)
•‌‌ موجبات الغسل

{فصل} في موجب الغسل. والغسل لغةً سَيَلَان الماء على الشيء مطلقا، وشرعا سيلانه على جميع البدن بنية مخصوصة.

(والذي يُوجِب الغسلَ سِتةُ أشياء؛ ثلاثة) منها (تشترك فيها الرجال والنساء؛ وهي: التقاء الختانين). ويعبر عن هذا الالتقاء بإيلاج حيٍّ واضح غَيَّب حَشفَة الذَكَر منه أو قدرها من مقطوعها في فرج؛ ويصير الآدمي المُولَج فيه جُنبًا بإيلاج ما ذُكر؛ أما الميت فلا يعاد غسله بإيلاج فيه. وأما الخُنثى المشكل فلا غسل عليه بإيلاج حشفته، ولا بإيلاج في قُبُله.

(و) من المشترك (إنزال) أي خروج (المني) من شخص بغير إيلاج، وإن قل المني كقطرة، ولو كانت على لون الدم، ولو كان الخارج بجماع أو غيره، في يقظة أو نوم، بشهوة أو غيرها، من طريقه المعتاد أو غيره، كأن انكسر صلبه فخرج منيُّه. (و) من المشترك (الموت) إلا في الشهيد.
‌ গোসলের কারণসমূহ

{পরিচ্ছেদ} গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ প্রসঙ্গে। আভিধানিক অর্থে ‘গোসল’ হলো কোনো বস্তুর ওপর সাধারণভাবে পানি প্রবাহিত করা। আর শরয়ি পরিভাষায় বিশেষ নিয়তে সমস্ত শরীরের ওপর পানি প্রবাহিত করা।

(যেসব বিষয় গোসল ওয়াজিব করে তা ছয়টি; তার মধ্যে তিনটি) এমন (যাতে নারী ও পুরুষ উভয়ে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত; আর তা হলো: খতনা করা স্থানদ্বয়ের মিলন)। এই মিলন বলতে কোনো স্পষ্ট জীবিত ব্যক্তি কর্তৃক লিঙ্গের অগ্রভাগ অথবা কর্তিত লিঙ্গের ক্ষেত্রে সমপরিমাণ অংশ যোনিপথে প্রবেশ করানোকে বোঝায়; আর যার মধ্যে উক্ত লিঙ্গ প্রবেশ করানো হয়েছে সেই মানুষটি এর ফলে অপবিত্র হয়ে যাবে; তবে মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার মধ্যে লিঙ্গ প্রবেশের কারণে তাকে পুনরায় গোসল করানো লাগবে না। আর ‘খুনসা মুশকিলে’র (জটিল উভলিঙ্গ) ক্ষেত্রে তার লিঙ্গের অগ্রভাগ প্রবেশের কারণে তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে না, এবং তার সামনের যোনিপথে লিঙ্গ প্রবেশের কারণেও তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে না।

(এবং) সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে (বীর্যপাত) অর্থাৎ লিঙ্গ প্রবেশ ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তি থেকে (বীর্য) নির্গত হওয়া, যদিও বীর্যের পরিমাণ এক ফোঁটার মতো সামান্য হয়, এমনকি তা যদি রক্তের বর্ণের মতোও হয়। চাই তা সহবাসের মাধ্যমে নির্গত হোক বা অন্য কোনোভাবে, জাগ্রত অবস্থায় হোক বা নিদ্রায়, কামভাবের সাথে হোক বা কামভাব ছাড়া, স্বাভাবিক পথে হোক বা অন্য কোনো পথে—যেমন পিঠের হাড় ভেঙে যাওয়ার ফলে বীর্য নির্গত হওয়া। (এবং) সাধারণ কারণগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো (মৃত্যু), তবে শহীদ ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৪২)
(وثلاثة تختص بها النساء؛ وهي: الحيض)، أي الدم الخارج من امرأة بلغت تسع سنين، (والنفاس) وهو الدم الخارج عقب الولادة؛ فإنه موجب للغسل قطعا، (والوِلادة) المصحوبة بالبلل موجبة للغسل قطعا. والمجردة عن البلل موجبة في الأصح.

 

•‌‌ فرائض الغسل

{فصل} (وفرائض الغسل ثلاثة أشياء): أحدها (النية)، فينوي الجُنُبُ رَفعَ الجَنَابَة أو الحدث الأكبر ونحو ذلك، وتنوي الحائض والنفساء رفع حدث

الحيض أو النفاس. وتكون النية مقرونة بأول الفرض، وهو أول ما يغسل من أعلى البدن أو أسفله؛ فلو نوى بعد غسل جزء وجبت إعادته.

(وإزالة النجاسة إن كانت على بدنه) أي المغتسل. وهذا ما رجحه الرافعي؛ وعليه فلا يكفي غسلة واحدة عن الحدث والنجاسة.
(এবং তিনটি বিষয় মহিলাদের সাথে খাস; আর তা হলো: হায়েয), অর্থাৎ নয় বছর বয়সে পৌঁছানো মহিলার শরীর থেকে নির্গত রক্ত, (এবং নিফাস) যা সন্তান জন্মদানের পর নির্গত রক্ত; নিশ্চয়ই এটি নিশ্চিতভাবে গোসল ওয়াজিব করে, (এবং সন্তান প্রসব) যা আর্দ্রতার সাথে হয় তাও নিশ্চিতভাবে গোসল ওয়াজিব করে। আর আর্দ্রতাহীন প্রসবও বিশুদ্ধতম অভিমত অনুযায়ী গোসল ওয়াজিব করে।

 

•‌‌ গোসলের ফরযসমূহ

{পরিচ্ছেদ} (গোসলের ফরয তিনটি বিষয়): তার একটি হলো (নিয়ত করা), সুতরাং জুনুব (অপবিত্র) ব্যক্তি জানাবাত দূর করার বা বড় অপবিত্রতা দূর করার বা এই জাতীয় নিয়ত করবে, আর হায়েয ও নিফাসগ্রস্ত নারী হায়েয বা নিফাসের অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করবে। আর নিয়ত ফরযের শুরুর সাথে যুক্ত হতে হবে, যা হলো শরীরের উপরের অংশ বা নিচের অংশ ধোয়া শুরু করার সময়; সুতরাং যদি কোনো অংশ ধোয়ার পর নিয়ত করে, তবে ঐ অংশটি পুনরায় ধোয়া ওয়াজিব।

(এবং নাপাকি দূর করা যদি তা তার শরীরে থাকে) অর্থাৎ গোসলকারীর শরীরে। এটিই ইমাম রাফেয়ি প্রাধান্য দিয়েছেন; আর এর ভিত্তিতে বড় অপবিত্রতা ও বাহ্যিক নাপাকি উভয়ের জন্য একবার ধোয়া যথেষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৪৩)
ورجح النووي الاكتفاء بغسلة واحدة عنهما. ومحله ما إذا كانت النجاسة حُكميَّةً؛ أما إذا كانت النجاسة عينية وجب غسلتان عنهما.

(وإيصال الماء إلى جميع الشعر والبشرة). وفي بعض النسخ بدل جميعِ «أصولِ»؛ ولا فرق بين شعر الرأس وغيره، ولا بين الخفيف منه والكثيف. والشعر المضفور إن لم يصل الماء إلى باطنه إلا بالنقض وجب نقضه. والمراد بالبشرة ظاهر الجلد؛ ويجب غسل ما ظهر من صماخي أذنيه، ومن أنف مجدع، ومن شقوق بدن؛ ويجب إيصال الماء إلى ما تحت القلفة من الأقلف، وإلى ما يبدو من فرج المرأة عند قعودها لقضاء حاجتها. ومما يجب غسله المَسرُبة، لأنها تظهر في وقت قضاء الحاجة؛ فتصير من ظاهر البدن.

 

•‌‌ سنن الغسل

(وسننه) أي الغسل (خمسة أشياء: التسمية والوضوء) كاملا (قبله)، وينوي به المغتسل سنة الغسل إن تجردت جنابته عن الحدث الأصغر، وإلا نوى به الأصغرَ؛
ইমাম নববী উভয়টির জন্য একটি ধৌত করা যথেষ্ট হওয়ার মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আর এটি তখনই প্রযোজ্য যখন নাপাকি 'হুকমি' (অদৃশ্য) হয়; কিন্তু যদি নাপাকি 'আইনি' (দৃশ্যমান) হয়, তবে উভয়ের জন্য দুইবার ধৌত করা ওয়াজিব।

(এবং শরীরের সমস্ত চুল ও চামড়ায় পানি পৌঁছানো)। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'সমস্ত' শব্দের পরিবর্তে 'গোড়া' শব্দটি রয়েছে; আর মাথার চুল ও অন্যান্য চুলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, এবং পাতলা বা ঘন চুলের মধ্যেও কোনো তফাৎ নেই। আর বিনুনি করা চুলের ভেতরে যদি তা না খোলা পর্যন্ত পানি না পৌঁছায়, তবে তা খোলা ওয়াজিব। আর 'বাশারা' বলতে ত্বকের বহিরাংশ উদ্দেশ্য; এবং কানের দুই ছিদ্রের দৃশ্যমান অংশ, কর্তিত নাকের ভেতরের অংশ এবং শরীরের ফাটলসমূহ ধৌত করা ওয়াজিব; এবং খতনা না করা ব্যক্তির লিঙ্গাগ্রের চামড়ার নিচের অংশে পানি পৌঁছানো ওয়াজিব, এবং হাজত পূরণের জন্য বসার সময় নারীর লজ্জাস্থানের যতটুকু অংশ প্রকাশ পায় সেখানেও পানি পৌঁছানো ওয়াজিব। আর যা ধৌত করা ওয়াজিব তার অন্তর্ভুক্ত হলো মলদ্বার, কারণ এটি হাজত পূরণের সময় প্রকাশ পায়; ফলে তা শরীরের বহিরাংশের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

 

•‌‌ গোসলের সুন্নতসমূহ

(এবং গোসলের সুন্নতসমূহ) অর্থাৎ গোসলের সুন্নত (পাঁচটি বিষয়: বিসমিল্লাহ বলা এবং) গোসলের (পূর্বে) পূর্ণাঙ্গ (ওজু করা); আর গোসলকারী এর মাধ্যমে গোসলের সুন্নতের নিয়ত করবে যদি তার জানাবাত (বড় নাপাকি) ছোট নাপাকি থেকে মুক্ত থাকে, অন্যথায় সে এর মাধ্যমে ছোট নাপাকির নিয়ত করবে;
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৪৪)
(وإمرار اليد على) ما وصلت إليه من (الجسد)؛ ويعبر عن هذا الإمرار بالدلك؛ (والموالاة) وسبق معناها في الوضوء؛ (وتقديم اليمنى) من شقيه (على اليسرى). وبقي من سنن الغسل أمور مذكورة في المبسوطات. منها التثليث وتخليل الشعر.

 

•‌‌ الاغتسالات المسنونة

{فصل} (والاغتسالات المسنونة سبعةَ عشرَ غسلا: غسل الجمعة) لحاضرها. ووقته من الفجر الصادق، (و) غسل (العيدين) الفطر والأضحى. ويدخل وقت هذا الغسل بنصف الليل، (والاستسقاء) أي طلب السُقْيا من الله تعالى،
(শরীরের) যে অংশে (হাত পৌঁছায় তার ওপর হাত বুলানো); এবং এই হাত বুলানোকে মর্দন বলা হয়; (এবং বিরতিহীনতা), যার অর্থ অযুর আলোচনায় পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে; (এবং শরীরের ডান দিককে বাম দিকের আগে ধোয়া)। গোসলের আরও কিছু সুন্নত রয়েছে যা বিস্তারিত গ্রন্থাবলিতে বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে তিনবার ধোয়া এবং চুল খিলাল করা।

 

•‌‌ সুন্নত গোসলসমূহ

{পরিচ্ছেদ} (সুন্নত গোসল সতেরোটি: জুমার গোসল) জুমায় উপস্থিত হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য। এর সময় সুবহে সাদিক থেকে শুরু হয়, (এবং) দুই (ঈদের) অর্থাৎ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার গোসল। এই গোসলের সময় মধ্যরাত থেকে শুরু হয়, (এবং ইস্তিসকার) অর্থাৎ মহান আল্লাহর নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করার গোসল,
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৪৫)
(والخسوف) للقمر، (والكسوف) للشمس، (والغسل من غسل الميت) مسلما كان أو كافرا، (و) غسل (الكافر إذا أسلم) إن لم يجنب في كفره أو لم تحض الكافرة، وإلا وجب الغسل بعد الإسلام في الأصح. وقيل يسقط إذا أسلم، (والمجنون والمغمى عليه إذا أفاقا)، ولم يتحقق منهما إنزال؛ فإن تحقق منهما إنزال وجب الغسل على كل منهما (والغسل عند) إرادة (الإحرام)، ولا فرق في هذا الغسل بين بالغ وغيره، ولا بين مجنون وعاقل، ولا بين طاهر وحائض؛ فإن لم يجد المُحْرِم الماءَ تيمم، (و) الغسل (لدخول مكة) لمحرم بحج أو عمرة، (وللوقوف بعرفة) في تاسع ذي الحجة، (وللمبيت بمزدلفة،
(চন্দ্র) গ্রহণের জন্য, (এবং সূর্য) গ্রহণের জন্য, (এবং মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর কারণে গোসল করা) চাই সে মুসলিম হোক বা কাফির, (এবং) (কাফিরের) গোসল (যখন সে ইসলাম গ্রহণ করে) যদি সে তার কুফরি অবস্থায় জানাবাতগ্রস্ত না হয়ে থাকে কিংবা কাফির নারী ঋতুবতী না হয়ে থাকে; অন্যথায় অধিকতর সঠিক মতানুসারে ইসলাম গ্রহণের পর গোসল করা ওয়াজিব। আর বলা হয়েছে যে, ইসলাম গ্রহণ করলে তা রহিত হয়ে যায়। (এবং পাগল ও বেহুঁশ ব্যক্তি যখন সুস্থ হয়), এমতাবস্থায় যে তাদের থেকে বীর্যপাত নিশ্চিত হয়নি; তবে যদি তাদের বীর্যপাত নিশ্চিত হয়, তবে তাদের প্রত্যেকের ওপর গোসল করা ওয়াজিব। (এবং গোসল করা) যখন (ইহরামের) ইচ্ছা করা হয়; আর এই গোসলের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, এবং উন্মাদ ও বুদ্ধিমানের মধ্যে এবং পবিত্র ব্যক্তি ও ঋতুবতী নারীর মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই। যদি ইহরামকারী পানি না পায় তবে সে তায়াম্মুম করবে। (এবং) হজ্জ বা উমরার ইহরামকারীর (মক্কায় প্রবেশের জন্য) গোসল করা, (এবং আরাফায় অবস্থানের জন্য) যিলহজ্জের নয় তারিখে, (এবং মুযদালিফায় রাত্রিযাপনের জন্য,
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৪৬)
ولرمي الجمار الثلاث) في أيام التشريق الثلاثة؛ فيغتسل لرمي كل يوم منها غسلا. أما رمي جمرة العقبة في يوم النحر فلا يغتسل له لقرب زمنه من غسل الوقوف، (و) الغسل (للطواف) الصادق بطواف قدوم وإفاضة ووداع. وبقية الأغسال المسنونة مذكورة في المطولات.

 

•‌‌ المسح على الخفين

{فصل} (والمسح على الخفين جائزٌ) في الوضوء، لا في غسل فرض أو نفل، ولا في إزالة نجاسة؛ فلو أجنب ودَميت رِجْلُه فأراد المسح بدلا عن غسلِ الرِّجل لم يُجْزِ، بل لا بد من الغسل.

وأشعر قوله «جائز» أن غسل الرجلين أفضل من المسح. وإنما يجوز مسح الخفين، لا أحدهما
এবং (তিন জামারাতে পাথর নিক্ষেপের জন্য) আইয়ামে তাশরীকের তিন দিনে; সুতরাং সে এই দিনগুলোর প্রতিদিনের পাথর নিক্ষেপের জন্য গোসল করবে। আর কোরবানির দিনে জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপের জন্য গোসল করবে না, কারণ আরাফায় অবস্থানের গোসলের সময়ের সাথে এর নিকটবর্তী হওয়ার কারণে। (এবং) গোসল (তওয়াফের জন্য), যা তওয়াফে কুদুম, ইফাজাহ ও বিদার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর অবশিষ্ট মাসনুন গোসলসমূহ বিস্তারিত গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হয়েছে।

 

•‌‌ মোজার উপর মাসাহ করা

{পরিচ্ছেদ} (মোজার উপর মাসাহ করা জায়েজ) ওজুর ক্ষেত্রে, ফরজ বা নফল গোসলের ক্ষেত্রে নয় এবং অপবিত্রতা দূর করার জন্যও নয়; সুতরাং যদি কেউ অপবিত্র হয় এবং তার পায়ে রক্ত লাগে, এরপর সে পা ধোয়ার পরিবর্তে মাসাহ করতে চায়, তবে তা যথেষ্ট হবে না; বরং ধৌত করা আবশ্যক।

তাঁর "জায়েজ" উক্তিটি ইঙ্গিত দেয় যে, দুই পা ধৌত করা মাসাহ করার চেয়ে উত্তম। আর অবশ্যই উভয় মোজার উপর মাসাহ করা জায়েজ, কেবল একটির উপর নয়।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল ক্বারীবিল মুজীব ফী শারহি আলফাযিত তাক্বরীব = আল ক্বাউলুল মুখতার ফী শারহি গায়াতিল ইখতিসার (পৃষ্ঠা: ৪৭)
فقط إلا أن يكون فاقد الأخرى.

(بثلاثة شرائط: أن يبتدئ) أي الشخص (لبسهما بعد كمال الطهارة)؛ فلو غسل رِجلاً وألبسها خفها ثم فعل بالأخرى كذلك لم يكفِ. ولو ابتدأ لبسهما بعد كمال الطهارة ثم أحدث قبل وصول الرِّجْل قدمَ الخف لم يُجْزِ المسح.

(وأن يكونا) أي الخفان (ساترين لمحل غسل الفرض من القدمين) بكعبيهما؛ فلو كانا دون الكعبين كالمداس لم يكفِ المسح عليهما. والمراد بالساتر هنا الحائل، لا مانع الرؤية، وأن يكون الستر من أسفل ومن جوانب الخفين، لا من أعلاهما؛ (وأن يكونا مما يمكن تتابع المشي عليهما) لتردد مسافر في حوائجه من حط وترحال.

ويؤخذ من كلام المصنف كونهما قويين بحيث يمنعان نفوذ الماء. ويشترط أيضا طهارتهما؛ ولو لبس خفًّا فوق خف لشدة البرد مثلا؛ فإن كان الأعلى صالحا للمسح دون الأسفل صح المسح على الأعلى؛ وإن كان الأسفل صالحا للمسح دون الأعلى فمسح الأسفل صح أو الأعلى فوصل البلل للأسفل صحَّ إن قصد الأسفل أو قصدهما معا، لا إن
কেবল তখনই, যদি না সে অপরটি হারায়।

(তিনটি শর্তের সাথে: শুরু করবে) অর্থাৎ ব্যক্তি (তা পরিধান করা পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পর); সুতরাং যদি সে এক পা ধৌত করে এবং তার মোজা পরিধান করে, তারপর অন্য পায়ের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করে, তবে তা যথেষ্ট হবে না। আর যদি সে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পর মোজা পরিধান করা শুরু করে, অতঃপর পা মোজার তলায় পৌঁছানোর পূর্বেই অপবিত্র হয়ে যায় (ওজু ভেঙে যায়), তবে মাসেহ করা বৈধ হবে না।

(এবং হতে হবে) অর্থাৎ মোজাদ্বয় (উভয় পায়ের ফরয ধৌত করার স্থান আবৃতকারী) তাদের উভয় টাখনুসহ; সুতরাং যদি সেগুলো টাখনুর নিচে হয় যেমন মাদারস (এক প্রকার জুতা), তবে সেগুলোর উপর মাসেহ করা যথেষ্ট হবে না। এখানে আবৃতকারী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আড়ালকারী, দৃষ্টির প্রতিবন্ধক হওয়া নয়। আর এই আবরণ হতে হবে মোজার নিচের দিক এবং পার্শ্বসমূহ থেকে, ওপরের দিক থেকে নয়; (এবং হতে হবে এমন যা পরিধান করে একাধারে চলাফেরা করা সম্ভব হয়) একজন মুসাফিরের মালপত্র নামানো ও যাত্রা করার প্রয়োজনে চলাফেরার মতো।

লেখকের বক্তব্য থেকে এটিও গৃহীত হয় যে, মোজাদ্বয় এমন শক্তিশালী হতে হবে যা পানি প্রবেশে বাধা দেয়। এছাড়া সেগুলোর পবিত্র হওয়াও শর্ত; যদি প্রচণ্ড শীতের কারণে কেউ মোজার ওপর মোজা পরিধান করে; এমতাবস্থায় যদি উপরেরটি মাসেহ করার উপযোগী হয় কিন্তু নিচেরটি না হয়, তবে উপরেরটির ওপর মাসেহ করা শুদ্ধ হবে; আর যদি নিচেরটি মাসেহ করার উপযোগী হয় কিন্তু উপরেরটি না হয়, তবে নিচেরটি মাসেহ করলে তা শুদ্ধ হবে, অথবা উপরেরটি মাসেহ করার ফলে যদি আর্দ্রতা নিচেরটি পর্যন্ত পৌঁছায় তবে তা শুদ্ধ হবে যদি সে নিচেরটির মাসেহ করার সংকল্প করে অথবা উভয়টির একত্রে সংকল্প করে, অন্যথায় নয়...