(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: -)
نهاية المحتاج إلى شرح المنهاج القسم: الفقه الشافعي
الكتاب: نهاية المحتاج إلى شرح المنهاج
المؤلف: شمس الدين محمد بن أبي العباس أحمد بن حمزة شهاب الدين الرملي (ت 1004هـ)
الناشر: دار الفكر، بيروت
الطبعة: ط أخيرة - 1404هـ/1984م
عدد الأجزاء: 8
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
- بأعلى الصفحة: كتاب «نهاية المحتاج إلى شرح المنهاج» للرملي
- بعده (مفصولا بفاصل) : حاشية أبي الضياء نور الدين بن علي الشبراملسي الأقهري (1087هـ)
- بعده (مفصولا بفاصل) : حاشية أحمد بن عبد الرزاق المعروف بالمغربي الرشيدي (1096هـ)
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ বিভাগ: শাফেয়ি ফিকহ
কিতাব: নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
লেখক: শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবিল আব্বাস আহমদ বিন হামজাহ শিহাবুদ্দিন আর-রামলি (মৃ. ১০০৪ হি.)
প্রকাশক: দারুল ফিকর, বৈরুত
সংস্করণ: সর্বশেষ সংস্করণ - ১৪০৪ হি./১৯৮৪ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ৮
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
- পৃষ্ঠার শীর্ষে: রামলি বিরচিত «নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ» কিতাব
- এরপর (বিচ্ছেদচিহ্ন দ্বারা পৃথককৃত) : আবু জিয়া নুরুদ্দিন বিন আলি আশ-শুবরামালসি আল-আকহারির টিকা (১০৮৭ হি.)
- এরপর (বিচ্ছেদচিহ্ন দ্বারা পৃথককৃত) : আহমদ বিন আব্দুল রাজ্জাক, যিনি আল-মাগরিবি আর-রাশিদি নামে পরিচিত, তার টিকা (১০৯৬ হি.)
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٣)
[خُطْبَةُ الْكِتَاب]بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي شَيَّدَ
ــ
[حاشية الشبراملسي] بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ.
هَذِهِ حَوَاشٍ مُفِيدَةٌ جَلِيلَةٌ وَفَوَائِدُ جَمَّةٌ جَمِيلَةٌ، وَتَحْقِيقَاتٌ وَتَحْرِيرَاتٌ، وَأَبْحَاثٌ وَتَدْقِيقَاتٌ، أَفَادَهَا عَلَّامَةُ الْأَنَامِ شَيْخُ الْإِسْلَامِ أَبُو الضِّيَاءِ وَالنُّورِ، نُورُ أَئِمَّةِ الدِّينِ شَيْخُ الشَّافِعِيَّةِ فِي زَمَانِهِ، وَإِمَامُ الْفُقَهَاءِ وَالْقُرَّاءِ وَالْمُحَدِّثِينَ فِي عَصْرِهِ وَأَوَانِهِ، مَنْ إلَيْهِ الْمُنْتَهَى فِي الْعُلُومِ الْعَقْلِيَّةِ وَالنَّقْلِيَّةِ، وَاسْتِخْرَاجُ نَتَائِجِ الْأَفْكَارِ الصَّحِيحَةِ بِقَرِيحَتِهِ الْمُتَلَأْلِئَةِ الْمُضِيئَةِ، أُسْتَاذُ الْأُسْتَاذِينَ، نُورُ أَئِمَّةِ الدِّينِ، الْأُسْتَاذُ أَبُو الضِّيَاءِ وَالنُّورِ [عَلِيٌّ الشبراملسي] أَدَامَ اللَّهُ النَّفْعَ بِهِ وَبِعُلُومِهِ الْبَاهِرَةِ، فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ.
أَمْلَاهَا عَلَى شَرْحِ مِنْهَاجِ الْإِمَامِ النَّوَوِيِّ لِلْعَلَّامَةِ شَيْخِ الْإِسْلَامِ، مُحَمَّدٍ شَمْسِ الْأَئِمَّةِ وَالدِّينِ ابْنِ شَيْخِ الْإِسْلَامِ أَحْمَدَ شِهَابِ الدِّينِ الرَّمْلِيِّ تَغَمَّدَنَا اللَّهُ وَإِيَّاهُمْ بِرَحْمَتِهِ وَرِضْوَانِهِ آمِينَ، ثُمَّ أَشَارَ بِتَجْرِيدِهَا مِنْ هَوَامِشِ نُسْخَةِ مُسْتَمْلِيهِ الْعُمْدَةِ الشَّيْخِ أَحْمَدَ الدَّمَنْهُورِيِّ، بَعْدَ أَنْ كَتَبَهَا مِنْ لَفْظِهِ، وَقَرَأَهَا عَلَيْهِ الْمَرَّةَ بَعْدَ الْأُخْرَى عِنْدَ مُطَالَعَةِ دُرُوسِهِ وَتَقَاسِيمِهِ بِالْجَامِعِ الْأَزْهَرِ، نَفَعَ اللَّهُ بِهَا بِمَنِّهِ وَكَرَمِهِ آمِينَ.
(قَوْلُهُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي شَيَّدَ) أَيْ رَفَعَ، وَفِيهِ اسْتِعَارَةٌ تَصْرِيحِيَّةٌ تَبَعِيَّةٌ، وَذَلِكَ لِأَنَّهُ شَبَّهَ إظْهَارَ مَا بُنِيَ عَلَيْهِ
ــ
[حاشية الرشيدي] بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ، وَلَا عُدْوَانَ إلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ الْمُبِينُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ سَيِّدُ الْمُرْسَلِينَ وَإِمَامُ الْمُتَّقِينَ، الْقَائِلُ، وَهُوَ الصَّادِقُ الْأَمِينُ «مَنْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ» وَصَلَّى اللَّهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ صَلَاةً وَسَلَامًا دَائِمَيْنِ إلَى يَوْمِ الدِّينِ.
[أَمَّا بَعْدُ] فَيَقُولُ الْعَبْدُ الضَّعِيفُ " أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمَغْرِبِيُّ ثُمَّ الرَّشِيدِيُّ ": هَذِهِ بَنَاتُ أَفْكَارٍ وَخَرَائِدُ أَبْكَارٍ تَتَعَلَّقُ بِنِهَايَةِ الْمُحْتَاجِ إلَى شَرْحِ الْمِنْهَاجِ، لِسَيِّدِنَا وَمَوْلَانَا شَيْخِ الْإِسْلَامِ وَالْمُسْلِمِينَ وَعُمْدَةِ النَّاسِ فِي هَذَا الْحِينِ شَمْسِ الْمِلَّةِ وَالدِّينِ مُحَمَّدِ بْنِ مَوْلَانَا شَيْخِ الْإِسْلَامِ بِلَا نِزَاعٍ، وَخَاتِمَةِ الْمُحَقِّقِينَ بِلَا دِفَاعٍ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ حَمْزَةَ الرَّمْلِيِّ، تَغَمَّدَهُمَا اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ، وَأَسْكَنَهُمَا فَسِيحَ جَنَّتِهِ، مِمَّا أَجْرَاهُ قَلَمُ التَّقْدِيرِ عَلَى يَدِ الْعَبْدِ الْفَقِيرِ، غَالِبُهَا مُلْتَقَطٌ مِنْ دَرْسِ شَيْخِي وَأُسْتَاذِي وَقُدْوَتِي وَمَلَاذِي الْبَدْرِ السَّارِي وَالْكَوْكَبِ النَّهَارِيِّ مُحَقِّقِ الزَّمَانِ وَمُدَقِّقِ الْوَقْتِ وَالْأَوَانِ مَوْلَانَا وَسَيِّدِنَا شَيْخِ الْإِسْلَامِ الشَّيْخِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَلِيِّ الدِّينِ الْبُرُلُّسِيِّ، أَمْتَعَ اللَّهُ الْوُجُودَ بِعُلُومِهِ، وَأَقَرَّ
[গ্রন্থের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুদৃঢ় করেছেন—
—
[হাশিয়া আল-শুবরামানালসি] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর ওপর।
এগুলো হলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও মহান কিছু টীকা এবং প্রচুর ও চমৎকার কিছু জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, গবেষণা, সংকলন, বিশ্লেষণ ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ। এগুলো প্রদান করেছেন মানবজাতির শ্রেষ্ঠ আল্লামা, শায়খুল ইসলাম, আবু আল-দিয়া ওয়াল নূর, দীনের ইমামগণের জ্যোতি, স্বীয় সময়ের শাফেয়ী মাযহাবের প্রধান শায়খ এবং নিজ যুগের ফকিহ, কারী ও মুহাদ্দিসগণের ইমাম; আকলি (যুক্তিভিত্তিক) ও নাকলি (উদ্ধৃতিভিত্তিক) জ্ঞান বিজ্ঞানে যার কাছেই চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে এবং যিনি স্বীয় উজ্জ্বল ও উদ্ভাসিত মেধার মাধ্যমে সঠিক চিন্তা-ভাবনার ফলাফল নিংড়ে বের করে আনেন; উস্তাদদের উস্তাদ, দীনের ইমামগণের জ্যোতি, উস্তাদ আবু আল-দিয়া ওয়াল নূর [আলী আল-শুবরামানালসি]। আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর উজ্জ্বল ইলমের মাধ্যমে দীর্ঘকাল উপকার অর্জনের তৌফিক দান করুন।
তিনি এগুলো আল্লামা শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ শামস আল-আইম্মাহ ওয়াল দীন, ইবনে শায়খুল ইসলাম আহমদ শিহাব আল-দীন আল-রামলির রচিত ইমাম নববীর মিনহাজ-এর শরহের ওপর বর্ণনা (ইমলা) করেছেন; আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ও তাঁদেরকে স্বীয় রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা আবৃত করুন, আমীন। অতঃপর তিনি এগুলোকে তাঁর নির্ভরযোগ্য লিপিকার শায়খ আহমদ আল-দামানহুরির কপির পার্শ্বটীকা থেকে পৃথক করার নির্দেশ দেন; লিপিকার এগুলো তাঁর (শুবরামানালসির) মৌখিক উচ্চারণ থেকে লিখেছিলেন এবং জামে আল-আজহারে তাঁর পাঠদান ও আলোচনার পুনরাবৃত্তির সময় বারবার তাঁর কাছে এগুলো পাঠ করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর দয়া ও করুণায় এর মাধ্যমে উপকার দান করুন, আমীন।
(তাঁর বাণী: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সুদৃঢ় করেছেন) অর্থাৎ যিনি উচ্চকিত করেছেন। এতে একটি 'ইস্তিআরাহ তাসরিহিয়্যাহ তাবায়িয়্যাহ' অলঙ্কার রয়েছে। আর তা এজন্য যে, তিনি যা কিছুর ওপর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে সেটিকে প্রকাশ করাকে তুলনা করেছেন—
—
[হাশিয়া আল-রাশিদি] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য এবং সীমা লঙ্ঘনকারীদের ছাড়া আর কারো ওপর শত্রুতা নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি সত্য ও স্পষ্ট অধিপতি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি রাসূলগণের নেতা ও মুত্তাকীদের ইমাম। তিনি সত্যবাদী ও আমানতদার হিসেবে বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।" তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত চিরস্থায়ী দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
[অতঃপর] দুর্বল বান্দা "আহমদ ইবনে আবদ আল-রাজ্জাক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-মাগরিবী অতঃপর আল-রাশিদি" বলছেন: এগুলো হলো গভীর চিন্তার ফসল এবং অস্পৃশ্য জ্ঞান-রত্নরাজি, যা আমাদের নেতা ও অভিভাবক, ইসলাম ও মুসলিমদের শায়খ এবং বর্তমান সময়ের মানুষের নির্ভরস্থল শামস আল-মিল্লাত ওয়াল দীন মুহাম্মাদ—যিনি বিনাবাক্যে আমাদের নেতা শায়খুল ইসলামের পুত্র এবং বিনা তর্কে গবেষকগণের শেষ আশ্রয়স্থল আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে হামজাহ আল-রামলির পুত্র—তাঁর রচিত 'নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহ তাঁদের উভয়কে স্বীয় রহমত দ্বারা আবৃত করুন এবং তাঁর প্রশস্ত জান্নাতে স্থান দান করুন। এগুলো সেই জ্ঞান যা তাকদিরের কলম এই দরিদ্র বান্দার হাতের মাধ্যমে প্রবাহিত করেছে। এর অধিকাংশই আমার শায়খ, উস্তাদ, আদর্শ ও আশ্রয়স্থল, প্রবহমান পূর্ণিমা এবং দিবাভাগের নক্ষত্র, বর্তমান সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী গবেষক ও সূক্ষ্মদর্শী আল্লামা আমাদের নেতা ও অভিভাবক শায়খুল ইসলাম শায়খ আবদ আল-রহমান ইবনে ওয়ালি আল-দীন আল-বুরুুল্লুসির দরস থেকে সংগৃহীত। আল্লাহ তাআলা তাঁর ইলম দ্বারা জগতকে উপকৃত করুন এবং নয়ন জুড়ান...
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٤)
بِمِنْهَاجِ دِينِهِ أَرْكَانَ الشَّرِيعَةِ الْغَرَّاءِ
ــ
[حاشية الشبراملسي] الْإِسْلَامُ بِرَفْعِ الْبِنَاءِ وَتَقْوِيَتِهِ بِالشِّيدِ رَفْعًا تَامًّا، وَاسْتَعَارَ لَهُ اسْمَهُ وَهُوَ التَّشْيِيدُ. وَفِي الْمُخْتَارِ: الشِّيدُ بِالْكَسْرِ كُلُّ شَيْءٍ طُلِيَتْ بِهِ الْحَائِطُ مِنْ جِصٍّ وَبَلَاطٍ، وَشَادَهُ جَصَّصَهُ مِنْ بَابِ بَاعَ، وَالْمَشِيدُ بِالتَّخْفِيفِ الْمَعْمُولُ بِالشِّيدِ، وَالْمُشَيَّدُ بِالتَّشْدِيدِ الْمُطَوَّلُ اهـ.
وَمِنْهُ يُعْلَمُ صِحَّةُ كَوْنِهِ اسْتِعَارَةً مِنْ حَيْثُ إنَّهُ شَبَّهَ إظْهَارَهُ بِتَشْيِيدِ الْبِنَاءِ الَّذِي هُوَ تَطْوِيلُهُ، هَذَا وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَجَازًا مُرْسَلًا مِنْ بَابِ إطْلَاقِ الْمَلْزُومِ وَهُوَ التَّشْيِيدُ وَإِرَادَةٌ لَازِمَةٌ وَهُوَ التَّقْوِيَةُ (قَوْلُهُ: بِمِنْهَاجِ دِينِهِ) أَيْ بِالطَّرِيقِ الْمُوَصِّلَةِ إلَى دِينِهِ وَهُوَ مَا شَرَعَهُ اللَّهُ مِنْ الْأَحْكَامِ، وَالْمُرَادُ بِالطَّرِيقِ الْمُوَصِّلَةِ إلَيْهِ مَا جَاءَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَحَادِيثِ الْأَحْكَامِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ الْأَدِلَّةِ وَالْأَئِمَّةُ الَّذِينَ قَامُوا بِإِظْهَارِ ذَلِكَ وَتَحْرِيرِهِ وَنَقْلِهِ، وَحِينَئِذٍ فَالْمُرَادُ بِالشَّرِيعَةِ مُضَافَةً لِلْأَرْكَانِ هُوَ مَا شَرَعَهُ اللَّهُ مِنْ الْأَحْكَامِ، فَهُوَ عَيْنُ الدِّينِ الْمُفَسَّرِ بِمَا مَرَّ، فَكَأَنَّهُ قَالَ الَّذِي أَظْهَرَ بِالطَّرِيقِ الْمُوَصِّلَةِ إلَى مَا شَرَعَهُ اللَّهُ مِنْ الْأَحْكَامِ أَرْكَانَ ذَلِكَ الشَّرْعِ، وَإِنَّمَا أَقَامَ الظَّاهِرَ الَّذِي مَرْجِعُهُ الدِّينِ مَقَامَ الْمُضْمَرِ وَهُوَ لَفْظُ الشَّرِيعَةِ لِيَصِفَهُ بِالْغَرَّاءِ.
وَحِينَئِذٍ فَالْمُرَادُ بِالْأَرْكَانِ: الْأَجْزَاءُ الَّتِي اشْتَمَلَتْ الْأَحْكَامُ الْمَشْرُوعَةُ عَلَيْهَا كَوُجُوبِ الصَّلَاةِ أَوْ الصَّلَاةِ نَفْسِهَا، وَيَكُونُ إطْلَاقُ الْحُكْمِ عَلَيْهَا مَجَازًا مِنْ بَابِ إطْلَاقِ اسْمِ الْمُتَعَلِّقِ بِالْكَسْرِ عَلَى اسْمِ الْمُتَعَلِّقِ بِالْفَتْحِ (قَوْلُهُ: الشَّرِيعَةُ الْغَرَّاءُ) هِيَ فِي الْأَصْلِ تَأْنِيثُ الْأَغَرِّ وَهُوَ اسْمٌ لِلْفَرَسِ الَّذِي فِي جَبْهَتِهِ بَيَاضٌ
ــ
[حاشية الرشيدي] أَعْيُنَ أَهْلِ الْعِلْمِ بِوَافِرِ فُهُومِهِ عِنْدَ قِرَاءَتِهِ لِلْكِتَابِ الْمَرْقُومِ عَلَى وَجْهِ الْعُمُومِ، مَعَ مُذَاكَرَةِ إخْوَانِ الصَّفَاء وَخِلَّانِ الْوَفَاءِ مِمَّنْ عَادَتْ عَلَيْهِ بَرَكَةُ ذَلِكَ الْمَجْلِسِ السَّعِيدِ بِثَغْرِ رَشِيدٍ، جَعَلَهُ اللَّهُ وَسَائِرَ بِلَادِ الْمُسْلِمِينَ دَارَ إسْلَامٍ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَحَمَاهُ مِمَّنْ قَصَدَهُ بِسُوءٍ وَرَامَهُ، دَوَّنْتهَا لِتُسْتَفَادَ وَيَعُمُّ نَفْعُهَا إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى بَيْنَ الْعِبَادِ، أَقْتَصِرُ فِيهَا عَلَى مَا يَتَعَلَّقُ بِأَلْفَاظِ الْكِتَابِ وَمَا فِيهِ مِنْ الْأَحْكَامِ، وَأُوجِزُ الْكَلَامَ حَسْبَ الطَّاقَةِ إلَّا حَيْثُ اقْتَضَى الْمَقَامُ، لَا أَتَعَرَّضُ فِيهَا لِمَا تَكَلَّمَ عَلَيْهِ شَيْخُنَا بَرَكَةُ الْوُجُودِ وَمَحَطُّ رِحَالِ الْوُفُودِ، الْمُجْمَعُ عَلَى أَنَّهُ فِي هَذَا الْوَقْتِ الْجَوْهَرُ الْفَرْدُ وَالْإِمَامُ الْأَوْحَدُ، قَامُوسُ الْعُلُومِ وَقَابُوسُ الْفُهُومِ، الْبَصِيرُ بِقَلْبِهِ مَوْلَانَا شَيْخُ الْإِسْلَامِ نُورُ الدِّينِ عَلِيٌّ الشبراملسي، أَمْتَعَ اللَّهُ الْوُجُودَ بِحَيَاتِهِ، وَعَادَ عَلَيَّ وَعَلَى الْمُسْلِمِينَ مِنْ بَرَكَاتِهِ وَلَحَظَاتِهِ فِيمَا أَمْلَاهُ عَلَى هَذَا الْكِتَابِ لِأَنَّ ذَلِكَ مَفْرُوغٌ مِنْهُ، وَالْغَرَضُ تَجْدِيدُ الْفَائِدَةِ لِلطُّلَّابِ إلَّا حَيْثُ سَنَحَ لِلْخَاطِرِ مَا تَظْهَرُ نُكْتَتُهُ لِلنَّاظِرِ. وَأَنَا أَقُولُ بَذْلًا لِلنَّصِيحَةِ الَّتِي هِيَ الدِّينُ وَإِرْشَادُ الْمُسْتَرْشِدِينَ، لَا تَبَجُّحًا وَافْتِخَارًا؛ لِأَنِّي دُونَ ذَلِكَ رُتْبَةً وَمِقْدَارًا: إنَّ هَذِهِ الْفَوَائِدَ وَالصِّلَاتِ وَالْعَوَائِدَ مِمَّا يَتَعَيَّنُ مُرَاجَعَتُهُ عَلَى كُلِّ مَنْ أَرَادَ الرُّجُوعَ إلَى هَذَا الْكِتَابِ الَّذِي هُوَ عُمْدَةُ النَّاسِ فِي هَذَا الْحِينِ مِنْ الْمُسْتَفِيدِينَ وَالْحُكَّامِ وَالْمُفْتِينَ، فَإِنَّهَا مُتَكَفِّلَةٌ حَسْبَ الطَّاقَةِ بِتَتَبُّعِ مَوَادِّ الْكِتَابِ مَعَ التَّنْبِيهِ عَلَى مَا عَدَلَ فِيهِ عَنْ صَوْبِ الصَّوَابِ كَمَا سَتَرَاهُ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فِي مَوَاطِنِهِ مِنْ الدُّرِّ الْمُسْتَخْرَجِ مِنْ مَعَادِنِهِ.
وَاعْلَمْ أَنِّي حَيْثُ أَنْسُبُ إلَى التُّحْفَةِ فَمُرَادِي تُحْفَةُ الْمُحْتَاجِ الَّذِي هُوَ شَرْحُ خَاتِمَةِ الْمُحَقِّقِينَ الشِّهَابِ " ابْنِ حَجَرٍ الْهَيْتَمِيِّ " سَقَى اللَّهُ ثَرَاهُ، وَاَللَّهُ الْمَأْمُولُ وَالْمَسْئُولُ فِي التَّفَضُّلِ بِالْإِثَابَةِ وَالْقَبُولِ.
(قَوْلُهُ: رحمه الله وَنَفَعَنَا بِهِ: بِمِنْهَاجِ دِينِهِ) أَيْ طَرِيقِهِ بِمَعْنَى دَلَائِلِهِ بِقَرِينَةِ مُقَابَلَتِهِ بِالْأَحْكَامِ فِي الْفِقْرَةِ الثَّانِيَةِ بِنَاءً عَلَى أَنَّهَا جَمْعُ حُكْمٍ، فَالْمَعْنَى شَيَّدَ دِينَهُ بِدَلَائِلِهِ إذْ الشَّرِيعَةُ هِيَ الدِّينُ مَاصَدَقًا، وَهُوَ احْتِرَاسٌ إذْ الْمُشَيِّدُ لِأَرْكَانِ الشَّيْءِ بِغَيْرِ طَرِيقِهِ لَا يَأْمَنُ الْخَطَأَ، وَفِيهِ اسْتِعَارَةٌ بِالْكِنَايَةِ، شَبَّهَ الشَّرِيعَةَ بِالْبِنَاءِ، وَأَثْبَتَ لَهُ الْأَرْكَانَ تَخْيِيلًا وَالتَّشْيِيدَ تَرْشِيحًا، وَمِثْلُهُ يُقَالُ فِي نَظَائِرِهِ الْآتِيَةِ، وَهَذَا أَوْلَى مِنْ جَعْلِ شَيْخِنَا لَهُ مِنْ الِاسْتِعَارَةِ الْمُصَرِّحَةِ التَّبَعِيَّةِ كَمَا لَا يَخْفَى بَلْ هُوَ الْمُتَعَيَّنُ
তাঁর দ্বীনের আদর্শ পদ্ধতির মাধ্যমে উজ্জ্বল শরীয়তের রুকনসমূহকে (দৃঢ় করেছেন)।
—
[আশ-শুবরামাল্লিসীর হাশিয়া]ইসলাম হলো ভবনকে উঁচুকরণ এবং চুন-সুরকি দ্বারা একে পূর্ণাঙ্গভাবে মজবুত করা। লেখক এর জন্য 'তাশয়ীদ' (মজবুত করা) শব্দটিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। 'আল-মুখতার' গ্রন্থে রয়েছে: 'শীয়দ' (জের সহ) অর্থ হলো দেয়ালের প্রলেপ দেওয়ার উপকরণ যেমন চুন বা প্লাস্টার। আর 'শাদাহু' অর্থ সেটিকে চুনকাম করেছে, যা 'বা-আ' (ক্রিয়া রূপের) অধ্যায় থেকে এসেছে। 'মাশীয়দ' (তাসদীদ ছাড়া) অর্থ যা চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত। আর 'মুশায়্যাদ' (তাসদীদ সহ) অর্থ সুউচ্চ বা দীর্ঘায়িত। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
এ থেকে এটি রূপক হওয়ার যথার্থতা প্রতীয়মান হয়, কারণ লেখক শরীয়ত প্রকাশ করাকে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের সাথে তুলনা করেছেন। এছাড়া এটি 'মাজাজে মুরসাল'ও হতে পারে, যেখানে মূল বিষয় (তাশয়ীদ বা মজবুত করা) উল্লেখ করে তার অপরিহার্য ফলশ্রুতি (তাকভিয়াত বা শক্তিশালীকরণ) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। (লেখকের উক্তি: তাঁর দ্বীনের আদর্শ পদ্ধতির মাধ্যমে) অর্থাৎ তাঁর দ্বীন পর্যন্ত পৌঁছানোর পথের মাধ্যমে, আর তা হলো আল্লাহ প্রদত্ত শরীয়তের বিধানসমূহ। দ্বীন পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ বলতে এখানে উদ্দেশ্য হলো নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত বিধিবিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহ ও অন্যান্য দলিলসমূহ এবং সেই সকল ইমামগণ যারা একে প্রকাশ, বিশ্লেষণ এবং বর্ণনা করেছেন। এমতাবস্থায়, রুকনসমূহের দিকে সম্বন্ধযুক্ত 'শরীয়ত' বলতে উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ প্রদত্ত বিধানসমূহ, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত 'দ্বীন' শব্দেরই সমার্থবোধক। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: যিনি আল্লাহ প্রদত্ত বিধান পর্যন্ত পৌঁছানোর পদ্ধতির মাধ্যমে সেই শরীয়তের রুকনসমূহকে প্রকাশ করেছেন। এখানে তিনি 'দ্বীন' নামক প্রকাশ্য বিশেষ্যটিকে সর্বনামের স্থলে ব্যবহার করেছেন যাতে একে 'উজ্জ্বল' (আল-গাররা) বিশেষণে বিশেষিত করা যায়।
এমতাবস্থায় রুকনসমূহ বলতে উদ্দেশ্য হলো শরীয়তের বিধানসমূহ যে সকল অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন সালাত ওয়াজিব হওয়া অথবা স্বয়ং সালাত। আর এই অংশগুলোর ওপর 'হুকুম' (বিধান) শব্দটির প্রয়োগ রূপক হিসেবে করা হয়েছে। (লেখকের উক্তি: উজ্জ্বল শরীয়ত) এটি মূলত 'আগার' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ, যা এমন ঘোড়ার নাম যার কপালে শুভ্রতা বা তিলক রয়েছে।
—
[আর-রশিদীর হাশিয়া]এই কিতাবটি পাঠ করার সময় ইলমের অধিকারীদের চক্ষুসমূহকে তাঁর প্রভূত প্রজ্ঞার মাধ্যমে শীতল করেছেন, পাশাপাশি রশিদ বন্দরের সেই সৌভাগ্যময় মজলিসের বরকতধন্য নিষ্ঠাবান ও বিশ্বস্ত বন্ধু-বান্ধবদের সাথে জ্ঞানগর্ভ আলোচনার মাধ্যমে। আল্লাহ একে এবং মুসলিমদের সকল জনপদকে কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের আবাসভূমি হিসেবে কবুল করুন এবং একে অনিষ্টকারীদের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমি এটি সংকলন করেছি যাতে বান্দাদের মাঝে ইনশাআল্লাহ এর উপকারিতা ছড়িয়ে পড়ে। আমি এতে কিতাবের শব্দাবলি এবং এর বিধিবিধান সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব এবং সামর্থ্য অনুযায়ী কথা সংক্ষেপ করব, যতক্ষণ না প্রসঙ্গের খাতিরে বর্ণনার প্রয়োজন হয়। আমাদের উস্তাদ, যিনি এই জগতের বরকতস্বরূপ, সকল জ্ঞানপিপাসুর আশ্রয়স্থল, এবং বর্তমান সময়ের অদ্বিতীয় রত্ন ও একক ইমাম হিসেবে স্বীকৃত, ইলমের সাগর এবং প্রজ্ঞার আধার, অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী আমাদের মাওলা শায়খুল ইসলাম নূরুদ্দীন আলী আশ-শুবরামাল্লিসী—আল্লাহ তাঁর দীর্ঘ হায়াত দ্বারা জগতকে ধন্য করুন এবং তাঁর বরকত ও কৃপাদৃষ্টি আমার ও মুসলিমদের ওপর বজায় রাখুন—তিনি এই কিতাবের ওপর যা কিছু শ্রুতিলিপি করিয়েছেন, আমি তার পুনরাবৃত্তি করব না। কারণ সেগুলো পর্যাপ্তভাবে করা হয়েছে। আমার উদ্দেশ্য হলো তালিবে ইলমদের জন্য ফায়দাকে নতুন আঙ্গিকে পেশ করা, যদি না বিশেষ কোনো সূক্ষ্ম বিষয় আমার চিন্তায় উদিত হয়। আমি এখানে কেবল দ্বীনি নসিহত এবং সঠিক পথ সন্ধানকারীদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বলছি, অহংকার বা গর্বের বশবর্তী হয়ে নয়; কারণ আমি সেই উচ্চ মর্যাদার অনেক নিচে। এই ফায়দা ও সংযোজনগুলো এমন যা এই কিতাবটি পাঠকারী সকল শিক্ষার্থী, বিচারক এবং মুফতিদের জন্য অবশ্যই পর্যালোচনার দাবি রাখে, যা বর্তমানে মানুষের প্রধান অবলম্বন। আমি সাধ্যমতো কিতাবের বিষয়বস্তু অনুসরণের পাশাপাশি যেখানে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে সে বিষয়েও সতর্ক করেছি, যা আপনি ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে মুক্তার মতো দামী ইলম হিসেবে দেখতে পাবেন।
জেনে রাখুন, আমি যখনই 'তুহফা'র দিকে সম্বন্ধ করব, তখন আমার উদ্দেশ্য হবে 'তুহফাতুল মুহতাজ', যা মুহাক্কিকগণের শেষ আশ্রয়স্থল শিহাবউদ্দিন ইবনে হাজার আল-হাইতামী (আল্লাহ তাঁর কবরকে সিক্ত করুন) এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আল্লাহর নিকটই এর উত্তম প্রতিদান ও কবুলিয়াত প্রার্থনা করছি।
(লেখকের উক্তি: আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং আমাদের তাঁর দ্বারা উপকৃত করুন: তাঁর দ্বীনের আদর্শ পদ্ধতির মাধ্যমে) অর্থাৎ তাঁর পথের মাধ্যমে তথা তাঁর দলিলসমূহের মাধ্যমে। দ্বিতীয় বাক্যে 'আহকাম' (বিধান) শব্দের বিপরীতে এটি আসায় এমন অর্থ নেওয়া হয়েছে, কারণ আহকাম হলো হুকুমের বহুবচন। সুতরাং এর অর্থ হলো: তিনি তাঁর দ্বীনকে এর দলিলসমূহের মাধ্যমে সুসংহত করেছেন, যেহেতু শরীয়ত ও দ্বীন বাস্তবে একই বিষয়। এটি একটি সতর্কতা স্বরূপ, কারণ যে ব্যক্তি কোনো জিনিসের মূল ভিত্তিগুলোকে সঠিক পথ ছাড়া অন্য কোনোভাবে মজবুত করতে চায়, সে ভুল থেকে নিরাপদ নয়। এখানে 'ইসতিয়ারা বিল কিনায়া' রয়েছে; শরীয়তকে একটি ভবনের সাথে তুলনা করা হয়েছে, রুকনসমূহকে ভবনের খুঁটি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে এবং তাশয়ীদ বা মজবুত করাকে তার অনুষঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী অনুরূপ জায়গাগুলোতেও একই কথা প্রযোজ্য। আমাদের উস্তাদ একে 'ইসতিয়ারা তাসরিহিয়া তাবায়িয়া' হিসেবে যা গণ্য করেছেন, তার চেয়ে এটিই অধিক উত্তম, বরং এটিই সুনির্ধারিত।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٥)
وَسَدَّدَ بِأَحْكَامِهِ فُرُوعَ الْحَنِيفِيَّةِ السَّمْحَاءِ مَنْ عَمِلَ بِهِ فَقَدْ اتَّبَعَ سَبِيلَ الْمُؤْمِنِينَ، وَمَنْ خَرَجَ عَنْهُ خَرَجَ عَنْ مَسَالِكِ الْمُعْتَبِرِينَ، أَحْمَدُهُ سُبْحَانَهُ عَلَى مَا عَلَّمَ، وَأَشْكُرُهُ عَلَى مَا هَدَى وَقَوَّمَ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، الْمَالِكُ الْمَلِكُ الْحَقُّ الْمُبِينُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ الْمَبْعُوثُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ، وَنُورًا لِسَائِرِ الْخَلَائِقِ إلَى يَوْمِ الدِّينِ، أَرْسَلَهُ حِينَ دَرَسَتْ أَعْلَامُ الْهُدَى وَظَهَرَتْ أَعْلَامُ الرَّدَى، وَانْطَمَسَ مَنْهَجُ الْحَقِّ وَعَفَا، وَأَشْرَفَ مِصْبَاحُ الصِّدْقِ عَلَى الأنطفا، فَأَعْلَى مِنْ الدِّينِ
ــ
[حاشية الشبراملسي] فَوْقَ الدِّرْهَمِ لَكِنَّهَا تُطْلَقُ عَلَى الْمَشْهُورِ وَالْخِيَارِ وَهُوَ الْمُرَادُ هُنَا (قَوْلُهُ: وَسَدَّدَ بِأَحْكَامِهِ) أَيْ اللَّهِ أَوْ الدِّينِ، وَعَلَى الثَّانِي فَالْإِضَافَةُ بَيَانِيَّةٌ بِنَاءً عَلَى أَنَّ الدِّينَ مَا شَرَعَهُ اللَّهُ مِنْ الْأَحْكَامِ، وَهُوَ مَا رَجَّحَهُ الشَّارِحُ فِيمَا يَأْتِي فِي شَرْحِ قَوْلِ الْمُصَنِّفِ فِي الدِّينِ إلَخْ (قَوْلُهُ: فُرُوعَ الْحَنِيفِيَّةِ) أَيْ الْمِلَّةِ الْحَنِيفِيَّةِ وَالْحَنِيفُ الْمَائِلُ عَنْ الْبَاطِلِ إلَى الْحَقِّ (قَوْلُهُ: السَّمْحَاءِ) أَيْ السَّهْلَةِ (قَوْلُهُ: فَقَدْ اتَّبَعَ سَبِيلَ الْمُؤْمِنِينَ) أَيْ طَرِيقَهُمْ الْمُوَصِّلَةِ إلَى الْحَقِّ وَهُوَ دِينُ الْإِسْلَامِ (قَوْلُهُ: وَمَنْ خَرَجَ عَنْهُ) وَفِي نُسْخَةٍ وَقَفَ: أَيْ حَبَسَ نَفْسَهُ عَنْهُ بِأَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِهِ (قَوْلُهُ: عَلَى مَا عَلَّمَ) مَا مَصْدَرِيَّةٌ أَوْ مَوْصُولَةٌ وَالْعَائِدُ مَحْذُوفٌ، وَالْمَعْنَى عَلَى تَعْلِيمِهِ أَوْ عَلَى الَّذِي عَلَّمَهُ (قَوْلُهُ: عَلَى مَا هَدَى) مَا مَصْدَرِيَّةٌ أَيْضًا (قَوْلُهُ: وَقَوَّمَ) أَيْ أَصْلَحَ، وَهَذَانِ الْفِعْلَانِ مُنَزَّلَانِ مَنْزِلَةَ اللَّازِمِ كَمَا فِي فُلَانٍ يُعْطِي، وَالْمَعْنَى عَلَى هِدَايَتِهِ وَتَقْوِيمِهِ.
(قَوْلُهُ: الْمَالِكُ) مِنْ الْمِلْكِ بِالْكَسْرِ وَهُوَ التَّعَلُّقُ بِالْأَعْيَانِ الْمَمْلُوكَةِ، وَالْمَلِكُ مِنْ الْمُلْكِ بِالضَّمِّ وَهُوَ التَّصَرُّفُ بِالْأَمْرِ وَالنَّهْيِ، فَكَأَنَّهُ قِيلَ: الْمَالِكُ لِجَمِيعِ الْمَوْجُودَاتِ الْمُتَصَرِّفُ فِيهَا بِالْأَمْرِ وَالنَّهْيِ (قَوْلُهُ: وَنُورًا لِسَائِرِ الْخَلَائِقِ) عَطْفٌ مُغَايِرٌ لِلرَّحْمَةِ مَفْهُومًا، فَإِنَّ النُّورَ فِي الْأَصْلِ كَيْفِيَّةٌ تُدْرِكُهَا الْبَاصِرَةُ أَوَّلًا، وَبِوَاسِطَتِهَا تُدْرَكُ سَائِرُ الْمُبْصِرَاتِ، وَهُوَ فِي حَقِّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى مُنَوِّرٌ، فَهُوَ مُسَاوٍ لِلرَّحْمَةِ مِنْ حَيْثُ الْمَاصَدَقَ أَوْ هُوَ مِنْ جُزْئِيَّاتِهَا (قَوْلُهُ: حِينَ دَرَسَتْ) أَيْ عَفَتْ، يُقَالُ دَرَسَ الرَّسْمُ عَفَا وَبَابُهُ دَخَلَ، وَدَرَسَهُ الرِّيحُ وَبَابُهُ نَصَرَ يَتَعَدَّى وَيَلْزَمُ اهـ مُخْتَارٌ.
فَعَلَى اللُّزُومِ هُوَ مَبْنِيٌّ لِلْفَاعِلِ وَعَلَى التَّعَدِّي لِلْمَفْعُولِ (قَوْلُهُ: أَعْلَامُ الْهُدَى) أَيْ آثَارُهُ، وَفِي الْمُخْتَارِ الْعَلَمُ بِفَتْحَتَيْنِ الْعَلَامَةُ، وَهُوَ أَيْضًا الْجَبَلُ وَعَلَمُ الثَّوْبِ وَالرَّايَةُ (قَوْلُهُ وَظَهَرَتْ أَعْلَامُ الرَّدَى) بِالْقَصْرِ، يُقَالُ رَدِيَ بِالْكَسْرِ كَصَدِيَ: أَيْ هَلَكَ انْتَهَى مُخْتَارٌ. وَفِي الْقَامُوسِ: رَدَى كَرَمَى (قَوْلُهُ: وَانْطَمَسَ مَنْهَجُ الْحَقِّ) أَيْ خَفِيَ (قَوْلُهُ: وَعَفَا) أَيْ ذَهَبَ (قَوْلُهُ وَأَشْرَفَ) أَيْ قَارَبَ (قَوْلُهُ: فَأَعْلَى مِنْ الدِّينِ) أَيْ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ عَطْفٌ عَلَى أَرْسَلَ عَطْفُ مُسَبَّبٍ عَلَى سَبَبٍ
ــ
[حاشية الرشيدي] قَوْلُهُ: بِأَحْكَامِهِ) بِفَتْحِ الْهَمْزَةِ جَمْعُ حُكْمٍ فَالضَّمِيرُ فِيهِ لِلدِّينِ أَوْ لِلَّهِ أَوْ بِكَسْرِهَا مَصْدَرُ أَحْكَمَ: أَيْ أَتْقَنَ، فَالضَّمِيرُ فِيهِ لِأَحَدِ ذَيْنِك، أَوْ لِلتَّشْيِيدِ الْمَفْهُومِ مِنْ شَيَّدَ، وَهَذَا هُوَ الْأَنْسَبُ كَمَا لَا يَخْفَى، وَعَلَى الْفَتْحِ فَالْمُرَادُ بِالْفُرُوعِ مَوْضُوعَاتُ الْمَسَائِلِ الَّتِي تَرِدُ عَلَيْهَا الْأَحْكَامُ، وَعَلَى الْكَسْرِ فَالْمُرَادُ بِهَا نَفْسُ الْأَحْكَامِ (قَوْلُهُ: مَنْ عَمِلَ بِهِ) أَيْ بِالدِّينِ أَوْ بِالْمِنْهَاجِ، وَالْأَوَّلُ أَنْسَبُ بِمَا فُسِّرَتْ بِهِ آيَةُ {وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ} [النساء: 115] مِنْ أَنَّ الْمُرَادَ بِسَبِيلِهِمْ مَا هُمْ عَلَيْهِ مِنْ الْأَعْمَالِ وَالِاعْتِقَادَاتِ (قَوْلُهُ: وَنُورًا) أَيْ رَحْمَةً بِقَرِينَةِ نِسْبَتِهِ إلَى سَائِرِ الْخَلَائِقِ الشَّامِلِ لِلدَّوَابِّ وَالْجَمَادَاتِ وَغَيْرِهِمَا، الْمُسْتَحِيلُ فِي حَقِّهَا مَعْنَى الْهِدَايَةِ (قَوْلُهُ: حِينَ دُرِسَتْ أَعْلَامُ الْهُدَى) أَيْ الدِّينِ بِمَعْنَى الْأَحْكَامِ، وَقَوْلُهُ وَانْطَمَسَ مَنْهَجُ الْحَقِّ: أَيْ طَرِيقُهُ بِمَعْنَى دَلَائِلِهِ بِقَرِينَةِ مَا يَأْتِي بَعْدَهُ، وَقَوْلُهُ فَأَعْلَى مِنْ الدِّينِ مَعَالِمَهُ رَاجِعٌ إلَى قَوْلِهِ وَانْطَمَسَ مَنْهَجُ الْحَقِّ إلَخْ عَلَى طَرِيقِ اللَّفِّ وَالنَّشْرِ الْمُرَتَّبِ، وَقَوْلُهُ فَانْشَرَحَ بِهِ: أَيْ بِالدِّينِ، وَقَوْلُهُ وَانْزَاحَتْ بِهِ: أَيْ بِإِعْلَاءِ دَلَائِلِ حُكْمِ الشَّرْعِ إذْ الشُّبَهُ إنَّمَا تَنْزَاحُ بِالدَّلَائِلِ، فَفِيهِ أَيْضًا لَفٌّ وَنَشْرٌ مُرَتَّبٌ، وَإِنَّمَا قَالَ: وَأَشْرَفَ مِصْبَاحُ الصِّدْقِ عَلَى الِانْطِفَاءِ، وَلَمْ يَقُلْ وَانْطَفَأَ كَسَوَابِقِهِ؛ لِأَنَّهُمْ كَانُوا فِي الْجَاهِلِيَّةِ يَحْرِصُونَ عَلَى الصِّدْقِ وَعَدَمِ الْكَذِبِ، فَالصِّدْقُ كَانَ مَوْجُودًا بِخِلَافِ مَا قَبْلَهُ (قَوْلُهُ: فَأَعْلَى مِنْ الدِّينِ) الْمُرَادُ مِنْهُ مَا مَرْجِعُهُ الْعَقَائِدُ، فَلَا يَرِدُ أَنَّهُ يَقْتَضِي أَنَّهُ قَرَّرَ شَرِيعَةَ مَنْ قَبْلَهُ، وَهُوَ
এবং তিনি তাঁর বিধানাবলির মাধ্যমে উদার হানিফী আদর্শের শাখা-প্রশাখাসমূহকে সুদৃঢ় করেছেন। যে ব্যক্তি তা অনুযায়ী আমল করবে, সে মুমিনদের পথ অনুসরণ করল; আর যে তা থেকে বিচ্যুত হলো, সে বিজ্ঞজনদের পথ থেকে বিচ্যুত হলো। আমি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা পূর্বক তাঁর প্রশংসা করছি যা তিনি শিক্ষা দিয়েছেন সেজন্য এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি যা তিনি হিদায়াত দান করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন সেজন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক এবং অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি প্রকৃত মালিক, সর্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী এবং সুস্পষ্ট সত্য। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে জগতসমূহের জন্য রহমত হিসেবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত সকল সৃষ্টির জন্য আলো হিসেবে পাঠানো হয়েছে। তিনি তাঁকে এমন সময় প্রেরণ করেছেন যখন হিদায়াতের নিশানসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং ধ্বংসের চিহ্নসমূহ প্রকাশ পেয়েছিল, সত্যের পথ মিটে গিয়েছিল ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং সত্যবাদিতার প্রদীপ নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর তিনি দ্বীনকে সমুন্নত করলেন
ــ
[হাশিয়া আশ-শাবরামাল্লিসী] দিরহামের ঊর্ধ্বে, তবে এটি প্রসিদ্ধ ও উত্তম অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এখানে সেটাই উদ্দেশ্য। (তাঁর উক্তি: এবং তিনি তাঁর বিধানাবলির মাধ্যমে সুদৃঢ় করেছেন) অর্থাৎ আল্লাহর বিধানাবলি অথবা দ্বীনের বিধানাবলি। দ্বিতীয় সম্ভাবনা অনুযায়ী এটি 'ইদাফাতে বায়ানিয়া' বা ব্যাখ্যামূলক সম্বন্ধ হবে, এই ভিত্তির ওপর যে, দ্বীন হলো আল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত বিধানাবলি। আর এটিই ব্যাখ্যাকার সামনে গ্রন্থকারের উক্তি 'দ্বীনের মধ্যে' এর ব্যাখ্যায় প্রাধান্য দিয়েছেন। (তাঁর উক্তি: হানিফী আদর্শের শাখা-প্রশাখাসমূহ) অর্থাৎ হানিফী মিল্লাত বা ধর্মাদর্শ। 'হানিফ' হলো সেই ব্যক্তি যে বাতিল থেকে বিমুখ হয়ে সত্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে। (তাঁর উক্তি: উদার) অর্থাৎ সহজ-সরল। (তাঁর উক্তি: সে মুমিনদের পথ অনুসরণ করল) অর্থাৎ তাদের সেই পথ যা সত্যের দিকে পৌঁছে দেয়, আর তা হলো ইসলাম ধর্ম। (তাঁর উক্তি: আর যে তা থেকে বিচ্যুত হলো) একটি কপিতে 'থেমে গেল' শব্দ রয়েছে, অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমল না করার মাধ্যমে নিজেকে তা থেকে বিরত রাখল। (তাঁর উক্তি: যা তিনি শিক্ষা দিয়েছেন সেজন্য) এখানে 'মা' শব্দটি মাসদার হিসেবে অথবা সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যার অব্যয়টি উহ্য। এর অর্থ হলো—তাঁর শিক্ষা দেওয়ার কারণে অথবা যা তিনি শিক্ষা দিয়েছেন তার ওপর। (তাঁর উক্তি: যা তিনি হিদায়াত দিয়েছেন সেজন্য) এখানেও 'মা' শব্দটি মাসদার হিসেবে ব্যবহৃত। (তাঁর উক্তি: এবং সুবিন্যস্ত করেছেন) অর্থাৎ সংশোধন করেছেন। এই দুটি ক্রিয়া এখানে অকর্মক ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যেমন বলা হয় 'অমুক ব্যক্তি দান করে'। এর অর্থ হলো—তাঁর হিদায়াত ও সংশোধনের কারণে।
(তাঁর উক্তি: মালিক) এটি 'মিলক' ধাতু থেকে আগত যার অর্থ মালিকানাধীন বস্তুর ওপর অধিকার। আর 'মালিক' (রাজা) শব্দটি 'মুলক' থেকে আগত যার অর্থ আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে কর্তৃত্ব করা। যেন বলা হয়েছে: তিনি সকল বিদ্যমান বস্তুর মালিক এবং আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে সেগুলোতে নিয়ন্ত্রণকারী। (তাঁর উক্তি: এবং সকল সৃষ্টির জন্য আলো হিসেবে) এটি ধারণাগত দিক থেকে রহমতের ওপর ভিন্ন একটি বিষয় হিসেবে সংযুক্ত হয়েছে। কারণ 'নূর' বা আলো মূলত এমন একটি গুণ যা প্রথমত দৃষ্টিশক্তি অনুভব করে এবং যার মাধ্যমে অন্যান্য দৃশ্যমান বস্তুসমূহ অনুভূত হয়। আর এটি নবী (সা.)-এর ক্ষেত্রে 'আলোদানকারী' অর্থে ব্যবহৃত। সুতরাং এটি বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে 'রহমত' এর সমার্থক অথবা রহমতেরই একটি বিশেষ অংশ। (তাঁর উক্তি: যখন বিলুপ্ত হয়েছিল) অর্থাৎ মিটে গিয়েছিল। বলা হয় চিহ্নটি বিলুপ্ত হয়েছে বা মিটে গেছে। এটি দখালা এবং নাসারা উভয় অনুচ্ছেদে ব্যবহৃত হয় এবং সকর্মক ও অকর্মক উভয় অর্থেই আসে।—মুখতার।
সুতরাং অকর্মক হিসেবে এটি কর্তৃবাচ্য এবং সকর্মক হিসেবে এটি কর্মবাচ্য হবে। (তাঁর উক্তি: হিদায়াতের নিশানসমূহ) অর্থাৎ তার চিহ্নসমূহ। মুখতার গ্রন্থে আছে: 'আলাম' (দুই জবরসহ) অর্থ হলো চিহ্ন। এর অর্থ পাহাড়, কাপড়ের পাড় এবং পতাকাও হয়। (তাঁর উক্তি: এবং ধ্বংসের চিহ্নসমূহ প্রকাশ পেয়েছিল) শব্দটি আলিফে মাকসুরাসহ। বলা হয় ধ্বংস হয়েছে, যেমন বলা হয় পিপাসার্ত হয়েছে।—মুখতার। কামুস গ্রন্থে আছে: এটি রাময় ধাতু থেকে এসেছে। (তাঁর উক্তি: সত্যের পথ মিটে গিয়েছিল) অর্থাৎ অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। (তাঁর উক্তি: এবং জরাজীর্ণ হয়েছিল) অর্থাৎ চলে গিয়েছিল। (তাঁর উক্তি: এবং উপক্রম হয়েছিল) অর্থাৎ নিকটবর্তী হয়েছিল। (তাঁর উক্তি: অতঃপর তিনি দ্বীনকে সমুন্নত করলেন) অর্থাৎ মুহাম্মদ (সা.)। এটি 'প্রেরণ করেছেন' ক্রিয়ার ওপর ফলশ্রুতি হিসেবে সংযুক্ত হয়েছে।
ــ
[হাশিয়া আর-রাশিদী] (তাঁর উক্তি: তাঁর বিধানাবলির মাধ্যমে) হামযাহ এর জবরসহ এটি 'হুকুম' শব্দের বহুবচন, তখন সর্বনামটি দ্বীন অথবা আল্লাহর দিকে ফিরবে। আর যদি যের দিয়ে পড়া হয়, তবে এটি 'ইহকাম' এর মাসদার হবে যার অর্থ সুদৃঢ় করা; সেক্ষেত্রে সর্বনামটি উক্ত দুইটির কোনো একটির দিকে ফিরবে অথবা 'শাইয়্যাদা' ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত সুদৃঢ়করণের দিকে ফিরবে। আর এটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ যেমনটি স্পষ্ট। জবর দিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে 'শাখা-প্রশাখা' দ্বারা উদ্দেশ্য হবে মাসআলাগুলোর মূল বিষয়বস্তু যেগুলোর ওপর বিধান আরোপিত হয়। আর যের দিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এর দ্বারা স্বয়ং বিধানাবলি উদ্দেশ্য হবে। (তাঁর উক্তি: যে ব্যক্তি তা অনুযায়ী আমল করবে) অর্থাৎ দ্বীন বা পথের ওপর। আর প্রথমটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ সেই আয়াতের তাফসীরের সাথে যেখানে বলা হয়েছে 'এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে' [নিসা: ১১৫]; যার অর্থ হলো—মুমিনরা যে আমল ও আকিদার ওপর রয়েছে। (তাঁর উক্তি: এবং আলো হিসেবে) অর্থাৎ রহমত হিসেবে, কারণ এর সম্পর্ক সকল সৃষ্টির সাথে করা হয়েছে যা পশু এবং জড় পদার্থকেও অন্তর্ভুক্ত করে, অথচ তাদের ক্ষেত্রে হিদায়াতের অর্থ অসম্ভব। (তাঁর উক্তি: যখন হিদায়াতের নিশানসমূহ বিলুপ্ত হয়েছিল) অর্থাৎ বিধানরূপী দ্বীন। আর তাঁর উক্তি 'সত্যের পথ মিটে গিয়েছিল' অর্থাৎ সত্যের রাস্তা বা প্রমাণাদি, যা পরবর্তী বাক্যের মাধ্যমে বোঝা যায়। আর তাঁর উক্তি 'অতঃপর তিনি দ্বীনের নিদর্শনসমূহ সমুন্নত করলেন'—এটি 'সত্যের পথ মিটে গিয়েছিল' বাক্যের দিকে বিন্যস্তভাবে ফিরেছে। আর তাঁর উক্তি 'অতঃপর তা দ্বারা প্রশান্তি পেল'—অর্থাৎ দ্বীন দ্বারা। আর তাঁর উক্তি 'এবং তা দ্বারা দূরীভূত হলো'—অর্থাৎ শরীয়তের বিধানের প্রমাণসমূহ সমুন্নত করার মাধ্যমে, কেননা প্রমাণাদির মাধ্যমেই সংশয় দূরীভূত হয়। এখানেও বিন্যস্ত বর্ণনা ভঙ্গি রয়েছে। তিনি 'সত্যবাদিতার প্রদীপ নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল' বলেছেন, কিন্তু আগের বাক্যগুলোর মতো 'নির্বাপিত হয়েছিল' বলেননি; কারণ জাহেলিয়াতের যুগেও তারা সত্যবাদিতার প্রতি আগ্রহী ছিল এবং মিথ্যা পরিহার করত। সুতরাং সত্যবাদিতা তখন বিদ্যমান ছিল, কিন্তু অন্য বিষয়গুলো সেরকম ছিল না। (তাঁর উক্তি: অতঃপর দ্বীন থেকে সমুন্নত করলেন) এর দ্বারা সেই বিষয়গুলো উদ্দেশ্য যা আকিদার দিকে ফিরে যায়। সুতরাং এটি পূর্ববর্তী নবীদের শরীয়ত বহাল রাখার দাবি করে—এমন কোনো আপত্তি এখানে আসবে না। আর এটি...
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٦)
مَعَالِمَهُ، وَسَنَّ حُكْمَ الشَّرْعِ دَلَائِلَهُ، فَانْشَرَحَ بِهِ صُدُورُ أَهْلِ الْإِيمَانِ، وَانْزَاحَتْ بِهِ شُبُهَاتُ أَهْلِ الطُّغْيَانِ.
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ خُلَفَاءِ الدِّينِ وَحُلَفَاءِ الْيَقِينِ، مَصَابِيحِ الْأُمَمِ وَمَفَاتِيحِ الْكَرَمِ، وَكُنُوزِ الْعِلْمِ وَرُمُوزِ الْحِكَمِ، صَلَاةً وَسَلَامًا دَائِمَيْنِ مُتَلَازِمَيْنِ بِدَوَامِ النَّعَمِ وَالْكَرَمِ.
(وَبَعْدُ) فَإِنَّ الْعُلُومَ وَإِنْ كَانَتْ تَتَعَاظَمُ شَرَفًا وَتَطْلُعُ فِي سَمَاءِ كَوْكَبِهَا شُرَفًا، وَيُنْفِقُ الْعَالِمُ مِنْ خَزَائِنِهَا وَكُلَّمَا زَادَ ازْدَادَ رُشْدًا
ــ
[حاشية الشبراملسي] قَوْلُهُ: مَعَالِمُهُ) أَيْ عَلَامَاتُهُ وَفِي الْمُخْتَارِ الْمَعْلَمُ الْأَثَرُ يُسْتَدَلُّ بِهِ عَلَى الطَّرِيقِ انْتَهَى (قَوْلُهُ: فَانْشَرَحَ بِهِ) أَيْ بِالرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَطْفُ مُسَبَّبٍ عَلَى سَبَبٍ (قَوْلُهُ: وَانْزَاحَتْ بِهِ) أَيْ انْدَفَعَتْ وَهُوَ مُطَاوِعُ زَاحَ، تَقُولُ زُحْتُهُ فَانْزَاحَ بِمَعْنَى نَحَّيْته.
قَالَ فِي الْمِصْبَاحِ: زَاحَ الشَّيْءَ عَنْ مَوْضِعِهِ يَزُوحُ زَوْحًا مِنْ بَابِ قَالَ، وَيُزِيحُ زَيْحًا مِنْ بَابِ سَارَ تَنَحَّى، وَقَدْ يُسْتَعْمَلُ مُتَعَدِّيًا بِنَفْسِهِ فَيُقَالُ زُحْته، وَالْأَكْثَرُ أَنْ يَتَعَدَّى بِالْهَمْزَةِ فَيُقَالُ أَزَحْته إزَاحَةً اهـ.
(قَوْلُهُ: خُلَفَاءِ الدِّينِ) أَيْ الَّذِينَ صَارُوا خُلَفَاءَ عَلَى الدِّينِ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ الَّذِينَ اسْتَخْلَفَهُمْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَوْ اللَّهُ،
وَفِي الْمِصْبَاحِ: خَلَفْت فُلَانًا عَلَى أَهْلِهِ وَمَالِهِ خِلَافَةً صِرْت خَلِيفَتَهُ، وَخَلَفْته جِئْت بَعْدَهُ، وَالْخِلْفَةُ بِالْكَسْرِ اسْمٌ مِنْهُ كَالْقَعْدَةِ لِهَيْئَةِ الْقُعُودِ، وَاسْتَخْلَفْته جَعَلْته خَلِيفَةً، فَخَلِيفَةٌ يَكُونُ بِمَعْنَى فَاعِلٍ وَبِمَعْنَى مَفْعُولٍ (قَوْلُهُ: وَحُلَفَاءِ الْيَقِينِ) يَحْتَمِلُ أَنَّ الْإِضَافَةَ فِيهِ لِأَدْنَى مُلَابَسَةٍ، وَذَلِكَ أَنَّهُمْ لَمَّا عَاهَدُوهُ وَوَفَّوْهُ بِعُهُودِهِمْ كَانُوا كَالْمُقْسِمِينَ بِأَيْمَانٍ وَوَفَّوْا بِهَا فَجَعَلَهُمْ حُلَفَاءَ وَأَضَافَهُمْ إلَى الْيَقِينِ، وَيُحْتَمَلُ أَنَّهُ شَبَّهَهُمْ فِي انْقِيَادِهِمْ لِلرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وَعَدَمِ مُخَالَفَتِهِمْ لَهُ بِالْمُتَحَالَفِينَ عَلَى أَمْرٍ مُتَيَقَّنٍ لَا يَتَخَلَّفُونَ عَنْهُ، فَتَكُونُ اسْتِعَارَةً تَصْرِيحِيَّةً تَبَعِيَّةً.
(قَوْلُهُ: وَكُنُوزِ الْعِلْمِ) وَفِي نُسْخَةٍ: وَكُنُوزِ أَهْلِ الْحِكَمِ، وَعَلَى كُلٍّ فَالْمُرَادُ بِالْكَنْزِ هُنَا الْمَحَلُّ الَّذِي يُحْفَظُ فِيهِ الْعِلْمُ وَفِي الْأَصْلِ الْمَالُ الْمَكْنُوزُ، فَهُوَ مَجَازٌ مِنْ بَابِ تَسْمِيَةِ الْمَحَلِّ بِاسْمِ الْحَالِّ فِيهِ، وَلَوْ عَبَّرَ بِالْمَعَادِنِ لَكَانَ أَوْلَى لِأَنَّهَا جَمْعُ مَعْدَنٍ وَهُوَ الْمَكَانُ (قَوْلُهُ: وَرُمُوزِ الْحِكَمِ) أَيْ هُمْ رُمُوزٌ لِلْحِكَمِ لِاسْتِفَادَتِهَا وَأَخْذِهَا مِنْهُمْ، وَسَمَّاهُمْ رُمُوزًا؛ لِأَنَّهُمْ يُشِيرُونَ إلَيْهَا بِبَيَانِ بَعْضِ الْأَحْكَامِ؛ لِأَنَّهُمْ لَمْ يَتَصَدَّوْا لِتَدْوِينِهَا، بَلْ كَانُوا يُجِيبُونَ عَمَّا سُئِلُوا عَنْهُ بِحَسَبِ الْوَقَائِعِ، وَالرَّمْزُ: الْإِشَارَةُ وَالْإِيمَاءُ بِالشَّفَتَيْنِ وَالْحَاجِبِ (قَوْلُهُ: تَتَعَاظَمُ شَرَفًا) أَيْ فِي الْمِقْدَارِ: أَيْ لَا يَعْظُمُ عِنْدَهَا شَيْءٌ، لَكِنَّ الْفِقْهَ أَشْرَفُهَا كَمَا يَأْتِي فِي قَوْلِهِ فَلَا مِرْيَةَ إلَخْ (قَوْلُهُ: شَرَفًا) قَالَ فِي الْمُخْتَارِ: الشَّرَفُ بِفَتْحِ الشِّينِ وَالرَّاءِ: الْعُلُوُّ وَالْمَكَانُ الْعَالِي، ثُمَّ قَالَ: وَشُرْفَةُ الْقَصْرِ وَاحِدَةٌ الشُّرَفِ كَغُرْفَةٍ وَغُرَفٍ اهـ.
وَعَلَيْهِ فَيَنْبَغِي أَنْ يُضْبَطَ قَوْلُهُ تَتَعَاظَمُ شَرَفًا بِالْفَتْحِ، وَقَوْلُهُ كَوَاكِبُهَا شُرَفًا بِضَمِّ الشِّينِ وَفَتْحِ الرَّاءِ؛ وَالْمَعْنَى: أَنَّهَا وَإِنْ تَعَاظَمَتْ فِي عُلُوِّ الْمِقْدَارِ وَطَلَعَتْ أَمَاكِنَ الْكَوَاكِبِ الْمُرْتَفِعَةِ فَلَا مِرْيَةَ إلَخْ (قَوْلُهُ: وَكُلَّمَا زَادَ) أَيْ فِي الِاتِّفَاقِ (قَوْلُهُ: ازْدَادَ رُشْدًا) بِضَمِّ الرَّاءِ وَسُكُونِ الشِّينِ وَفَتْحِهِمَا، وَعِبَارَةُ الْمُخْتَارِ
ــ
[حاشية الرشيدي] خِلَافُ الْمَذْهَبِ (قَوْلُهُ: فَإِنَّ الْعُلُومَ وَإِنْ كَانَتْ إلَخْ) وَقَعَ مِثْلُ هَذَا التَّرْكِيبِ فِي خُطْبَةِ الْكَنْزِ لِلْحَنَفِيَّةِ وَلَفْظُهُ: وَهُوَ وَإِنْ خَلَا عَنْ الْعَوِيصَاتِ وَالْمُشْكِلَاتِ فَقَدْ تَحَلَّى بِمَسَائِلِ الْفَتَاوَى وَالْوَاقِعَاتِ.
قَالَ شَارِحُهُ مِسْكِينٌ، أَيْ لِمَنْ يَخْلُو وَإِنْ خَلَا عَنْ الْعَوِيصَاتِ فَقَدْ تَحَلَّى، فَعَلَى هَذَا تَكُونُ الْفَاءُ لِلْجَزَاءِ وَتَكُونُ الْوَاوُ لِلْعَطْفِ، وَإِنْ عَلَى أَصْلِهِ لِلشَّرْطِ إلَّا أَنَّهَا فِي اسْتِعْمَالِهَا الشَّائِعِ فِي مِثْلِ هَذِهِ الْمَوَاضِعِ لِمُجَرَّدِ التَّأْكِيدِ؛ وَالْمَعْنَى: وَإِنْ تَحَقَّقَ وَتَقَرَّرَ أَنَّهُ خَلَا عَنْ الْعَوِيصَاتِ وَإِنْ خَرَجَتْ عَنْ إفَادَةِ مَعْنَى الشَّرْطِ فَتُجْعَلُ لِلْوَصْلِ وَتُجْعَلُ الْوَاوُ لِلْحَالِ مَعَ التَّكَلُّفِ فِي ذِي الْحَالِ، وَأَيْضًا الْفَاءُ لَا تَدْخُلُ فِي خَبَرِ الْمُبْتَدَإِ إلَّا فِي الْمَوْصُولِ بِالْفِعْلِ وَالظَّرْفِ وَالنَّكِرَةِ الْمَوْصُوفَةِ بِهِمَا انْتَهَى.
وَمِثْلُهُ يُقَالُ فِيمَا هُنَا فَيُقَدَّرُ خَبَرٌ مُنَاسِبٌ، وَلَك أَنْ تَلْتَزِمَ الْوَجْهَ الثَّانِيَ الَّذِي أَشَارَ إلَيْهِ بِنَاءً عَلَى مَذْهَبِ الْأَخْفَشِ الْمُجِيزِ لِاقْتِرَانِ الْفَاءِ بِالْخَبَرِ مُطْلَقًا، وَمَذْهَبِ سِيبَوَيْهِ الْمُجِيزِ لِمَجِيءِ الْحَالِ مِنْ الْمُبْتَدَإِ (قَوْلُهُ: وَتَطْلُعُ فِي سَمَاءِ كَوْكَبِهَا شَرَفًا) أَيْ فِي مَنْزِلَةِ الشَّرَفِ الْمَعْرُوفَةِ
তার নিদর্শনসমূহকে প্রকাশ করেছেন, এবং শরিয়তের বিধানসমূহকে এর প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এর ফলে ঈমানদারদের বক্ষসমূহ উন্মোচিত হয়েছে এবং এর দ্বারা অবাধ্যদের সংশয়সমূহ দূরীভূত হয়েছে।
আল্লাহ সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা দ্বীনের প্রতিনিধি ও দৃঢ় বিশ্বাসের মিত্র, উম্মতসমূহের প্রদীপ ও বদান্যতার চাবিকাঠি, জ্ঞানের ভাণ্ডার ও প্রজ্ঞার রহস্য। এমন সালাত ও সালাম যা নিয়ামত ও অনুগ্রহের স্থায়িত্বের ন্যায় স্থায়ী ও অবিচ্ছিন্ন।
(অতঃপর) নিশ্চয়ই জ্ঞানসমূহ যদিও সম্মানের দিক থেকে মহিমান্বিত এবং উচ্চমর্যাদার আকাশে তার নক্ষত্ররাজি উদিত হয়, আর আলেমগণ এর ভাণ্ডার থেকে ব্যয় করেন এবং যতই তা বৃদ্ধি পায় ততই সঠিক পথের দিশা বৃদ্ধি পায়।
▬▬
[শুুবরামান্লিসীর হাশিয়া] (তাঁর বাণী: এর নিদর্শনসমূহ) অর্থাৎ এর চিহ্নসমূহ। 'আল-মুখতার' গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'আল-মা'লাম' হলো এমন চিহ্ন যার মাধ্যমে পথ চেনা যায়। সমাপ্ত। (তাঁর বাণী: এর ফলে উন্মোচিত হয়েছে) অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে। এটি কারণের ওপর ফলাফলের সংযোজন। (তাঁর বাণী: এর দ্বারা দূরীভূত হয়েছে) অর্থাৎ বিতাড়িত হয়েছে। এটি 'যাহা' ক্রিয়ার অনুগামী রূপ। আপনি বলবেন, 'আমি তাকে সরিয়ে দিয়েছি ফলে সে সরে গেছে'।
'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'যাহা' কোনো কিছুকে তার স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া। এটি 'কালা' এর ওজনে 'যাওহান' এবং 'সারা' এর ওজনে 'ইয়াযীহু' হিসেবে ব্যবহৃত হয় যার অর্থ সরে যাওয়া। কখনও এটি সরাসরি সকর্মক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, তখন বলা হয় 'আমি তাকে সরিয়ে দিয়েছি'। তবে হামজা যোগে 'ইযাহাতান' বলাই অধিক প্রচলিত। সমাপ্ত।
(তাঁর বাণী: দ্বীনের খলীফাগণ) অর্থাৎ যাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে দ্বীনের প্রতিনিধি হয়েছেন, অথবা যাঁদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা আল্লাহ প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন।
'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে আছে: 'আমি অমুকের পরিবার ও সম্পদের দেখাশোনার ভার নিয়েছি' অর্থে প্রতিনিধি হওয়া বুঝায়। আর 'আমি তার পরে এসেছি' অর্থেও এটি ব্যবহৃত হয়। 'খিলফাহ' (নীচে যের যোগে) বসার ভঙ্গির মতো একটি বিশেষ অবস্থা বুঝানোর নাম। আর 'আমি তাকে প্রতিনিধি বানিয়েছি' অর্থে 'ইসতাখলাফতুহু' ব্যবহৃত হয়। সুতরাং 'খলীফা' শব্দটি কর্তা ও কর্ম উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে। (তাঁর বাণী: ইয়াকীনের মিত্রগণ) সম্ভবত এখানে সম্বন্ধটি সামান্য সংশ্লিষ্টতার কারণে হয়েছে। আর তা হলো, যেহেতু তাঁরা তাঁর সাথে অঙ্গীকার করেছিলেন এবং তা পূর্ণ করেছিলেন, তাই তাঁরা যেন শপথকারী এবং অঙ্গীকার রক্ষাকারী। ফলে তাঁদেরকে মিত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং ইয়াকীনের (দৃঢ় বিশ্বাস) সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। আবার এমনও হতে পারে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁদের আনুগত্য ও তাঁর অবাধ্য না হওয়ার বিষয়টি এমন এক বিষয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে যেখানে পরস্পর অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তিগণ কোনো সুনিশ্চিত বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে এবং তা থেকে বিচ্যুত হয় না। সেক্ষেত্রে এটি একটি রূপক অলংকার (ইস্তিআরা তাসরীহিয়্যাহ তাবাহিয়্যাহ) হবে।
(তাঁর বাণী: জ্ঞানের ভাণ্ডার) অন্য পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'প্রজ্ঞাবানদের ভাণ্ডার'। উভয় ক্ষেত্রেই ভাণ্ডার বলতে এখানে এমন স্থান উদ্দেশ্য যেখানে জ্ঞান সংরক্ষিত থাকে। মূলত এর অর্থ সঞ্চিত ধন। এটি স্থানের নামে সেখানে অবস্থানকারীর নামকরণ করার মতো একটি রূপক ব্যবহার। যদি তিনি 'খনি' শব্দ ব্যবহার করতেন তবে তা অধিক উত্তম হতো, কারণ তা খনির বহুবচন যা স্থান বুঝায়। (তাঁর বাণী: প্রজ্ঞার রহস্য) অর্থাৎ তাঁরা প্রজ্ঞার জন্য সংকেত স্বরূপ, কারণ তাঁদের থেকেই তা গ্রহণ ও আহরণ করা হয়। তাঁদেরকে সংকেত বলা হয়েছে কারণ তাঁরা কিছু বিধান বর্ণনার মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করেন। কেননা তাঁরা জ্ঞান সংকলনে আত্মনিয়োগ করেননি, বরং ঘটিত বিষয়ের প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দিতেন। আর সংকেত বা ইশারা হলো ঠোঁট বা ভ্রু দিয়ে ইঙ্গিত করা। (তাঁর বাণী: সম্মানের দিক থেকে মহিমান্বিত) অর্থাৎ পরিমাণের দিক থেকে। অর্থাৎ এর চেয়ে মহৎ কিছু নেই। তবে ফিকহ শাস্ত্র এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত, যেমনটি সামনে তাঁর এই উক্তিতে আসবে: 'এতে কোনো সন্দেহ নেই' ইত্যাদি। (তাঁর বাণী: শারাফ) 'আল-মুখতার' গ্রন্থে আছে: শীন ও রা বর্ণের যবর যোগে 'শারাফ' অর্থ উচ্চতা ও উঁচু স্থান। অতঃপর তিনি বলেছেন: প্রাসাদের চূড়াকে 'শুরাফ' বলা হয় (গুরফাহ ও গুরাফ-এর ওজনে)। সমাপ্ত।
সেই অনুযায়ী 'তাতাআযযামু শারাফান' শব্দটি যবর যোগে এবং 'কাওয়াকিবুহা শুরাফান' শব্দটি শীন-এ পেশ ও রা-তে যবর যোগে পড়া উচিত। এর অর্থ হবে: যদিও জ্ঞানসমূহ তার সুউচ্চ মর্যাদায় মহিমান্বিত হয় এবং নক্ষত্ররাজির ন্যায় সুউচ্চ স্থানে উদিত হয়, তবুও এতে কোনো সন্দেহ নেই যে... (ইত্যাদি)। (তাঁর বাণী: এবং যতই তা বৃদ্ধি পায়) অর্থাৎ ব্যয়ের ক্ষেত্রে। (তাঁর বাণী: ততই সঠিক পথের দিশা বৃদ্ধি পায়) রা-তে পেশ ও শীন-এ সাকিন যোগে অথবা উভয়টিতে যবর যোগে। 'আল-মুখতার'-এর ভাষ্য...
▬▬
[রশীদীর হাশিয়া] মাযহাবের পরিপন্থী। (তাঁর বাণী: নিশ্চয়ই জ্ঞানসমূহ যদিও ইত্যাদি) হানাফীগণের 'কানয' গ্রন্থের ভূমিকাতেও এই ধরণের বাক্য গঠন পরিলক্ষিত হয়, যার শব্দরূপ হলো: 'যদিও এটি জটিলতা ও সমস্যাবলি থেকে মুক্ত, তবুও এটি ফাতাওয়া ও বাস্তব ঘটনাবলির মাসয়ালা দ্বারা সজ্জিত।'
এর ব্যাখ্যাকার মিসকীন বলেছেন: অর্থাৎ যে ব্যক্তি জটিলতা মুক্ত হতে চায়, সে যদিও এটি মুক্ত পায় তবুও এতে সজ্জিত বিষয়াদি পায়। এই ভিত্তিতে 'ফা' অক্ষরটি প্রতিদান হিসেবে এবং 'ওয়াও' অক্ষরটি সংযোজক হিসেবে গণ্য হবে। আর 'ইন' শব্দটি মূলত শর্তের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে এই ধরণের স্থানে এর বহুল ব্যবহার কেবল গুরুত্বারোপের জন্য। এর অর্থ হলো: যদিও এটি নিশ্চিত ও প্রমাণিত হয় যে এটি জটিলতা থেকে মুক্ত। যদি এটি শর্তের অর্থ থেকে বের হয়ে যায় তবে একে সংযোগকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং 'ওয়াও' অক্ষরটিকে হাল (অবস্থা) হিসেবে ধরা হবে, যদিও অবস্থাওয়ালা নির্ধারণে কিছুটা কষ্টকল্পনা রয়েছে। অধিকন্তু, খবরের শুরুতে 'ফা' যুক্ত হয় না যদি না তা ক্রিয়া, যরফ বা গুণবাচক বিশেষ্য দ্বারা গঠিত হয়। সমাপ্ত।
এখানেও অনুরূপ কথা বলা হবে এবং একটি উপযুক্ত খবর কল্পনা করে নিতে হবে। আপনি চাইলে দ্বিতীয় অভিমতটিও গ্রহণ করতে পারেন যার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এটি আখফাশের মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে যা খবরের সাথে সাধারণভাবে 'ফা' যুক্ত করা বৈধ মনে করে, অথবা সিবওয়াইহির মাযহাব অনুযায়ী যা মুবতাদা থেকে 'হাল' আসাকে বৈধ মনে করে। (তাঁর বাণী: এবং উচ্চমর্যাদার আকাশে তার নক্ষত্ররাজি উদিত হয়) অর্থাৎ পরিচিত সুউচ্চ সম্মানের মর্যাদায়।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٧)
وَعَدِمَ سَرَفًا، فَلَا مِرْيَةَ فِي أَنَّ الْفِقْهَ وَاسِطَةُ عِقْدِهَا وَرَابِطَةُ حُلَلِهَا وَعِقْدِهَا وَخَالِصَةُ الرَّائِجِ مِنْ نَقْدِهَا، بِهِ يُعْرَفُ الْحَلَالُ وَالْحَرَامُ، وَيَدِينُ الْخَاصُّ وَالْعَامُّ، وَتَبِينُ مَصَابِيحُ الْهُدَى مِنْ ظَلَامِ الضَّلَالِ وَضَلَالِ الظَّلَامِ، قُطْبُ الشَّرِيعَةِ وَأَسَاسُهَا، وَقَلْبُ الْحَقِيقَةِ الَّذِي إذَا صَلَحَ صَلَحَتْ وَرَأْسُهَا، وَأَهِلَّةُ سُرَاةِ الْأَرْضِ الَّذِينَ لَوْلَاهُمْ لَفَسَدَتْ بِسِيَادَةِ جُهَّالِهَا وَضَلَّتْ أُنَاسُهَا:
لَا تُصْلِحُ النَّاسَ فَوْضَى لَا سُرَاةَ لَهُمْ
… وَلَا سُرَاةَ إذَا جُهَّالُهُمْ سَادُوا
إيه وَلَوْلَاهُمْ لَاتَّخَذَ النَّاسُ رُؤَسَاءَ جُهَّالًا، فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا، وَخَبَطُوا خَبْطَ عَشْوَاءَ حَيْثُمَا قَامُوا وَحَلُّوا وَشَكَتْ الْأَرْضُ مِنْهُمْ وَقْعَ أَقْدَامِ قَوْمٍ اسْتَزَلَّهُمْ الشَّيْطَانُ فَزَلُّوا، فَلِلَّهِ دَرُّ الْفُقَهَاءِ هُمْ نُجُومُ السَّمَاءِ
ــ
[حاشية الشبراملسي] رَشَدَ يَرْشُدُ مِثْلَ قَعَدَ يَقْعُدُ وَرُشْدًا بِضَمِّ الرَّاءِ، وَفِيهِ لُغَةٌ أُخْرَى مِنْ بَابِ طَرِبَ اهـ (قَوْلُهُ: وَعَدِمَ سَرَفًا) قَالَ فِي الْمِصْبَاحِ: أَسْرَفَ إسْرَافًا جَاوَزَ الْقَصْدَ، وَالسَّرَفُ بِفَتْحَتَيْنِ اسْمٌ مِنْهُ، وَسَرِفَ سَرَفًا مِنْ بَابِ تَعِبَ جَهِلَ أَوْ غَفَلَ فَهُوَ سَرَفٌ، وَطَلَبْتهمْ فَسَرِفْتهمْ بِمَعْنَى أَخْطَأْت أَوْ جَهِلْت (قَوْلُهُ: فَلَا مِرْيَةَ) الْفَاءُ زَائِدَةٌ فِي خَبَرِ إنَّ، وَجُمْلَةُ وَإِنْ كَانَتْ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ الِاسْمِ وَالْخَبَرِ، وَالْمِرْيَةُ الشَّكُّ.
قَالَ فِي الْمُخْتَارِ: الْمِرْيَةُ الشَّكُّ، وَقَدْ يُضَمُّ، وَقُرِئَ بِهِمَا قَوْله تَعَالَى {فَلا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِنْهُ} [هود: 17] .
(قَوْلُهُ: وَاسِطَةُ عِقْدِهَا) أَيْ أَشْرَفُهَا وَالْعِقْدُ بِالْكَسْرِ الْقِلَادَةُ (قَوْلُهُ: بِهِ يُعْرَفُ) أَيْ بِالْفِقْهِ يُعْرَفُ (قَوْلُهُ: وَيَدِينُ بِهِ الْخَاصُّ وَالْعَامُّ) أَيْ يَتَعَبَّدُ بِهِ إلَخْ، وَيُقَالُ دَانَهُ يَدِينُهُ دِينًا بِالْكَسْرِ: أَذَلَّهُ وَاسْتَعْبَدَهُ فَدَانَ اهـ مُخْتَارٌ (قَوْلُهُ: وَتَبِينُ مَصَابِيحُ إلَخْ) أَيْ تَظْهَرُ بِهِ إنْ قُرِئَ بِالتَّاءِ، فَإِنْ قُرِئَ بِالْيَاءِ كَمَا فِي بَعْضِ النُّسَخِ فَلَا تَقْدِيرَ؛ لِأَنَّ فَاعِلَهُ يَعُودُ عَلَى الْفِقْهِ، وَالْمَعْنَى: أَنَّهُ يُظْهِرُ مَصَابِيحَ الْهُدَى وَيُمَيِّزُهَا (قَوْلُهُ: وَأَسَاسُهَا) كَالتَّفْسِيرِيِّ؛ لِأَنَّ قُطْبَ الشَّيْءِ هُوَ أَصْلُهُ الَّذِي يَرْجِعُ إلَيْهِ، وَمِنْهُ قُطْبُ الرَّحَا وَقُطْبُ الْقَوْمِ سَيِّدُهُمْ الَّذِي يَدُورُ عَلَيْهِ أَمْرُهُمْ وَيَرْجِعُ إلَيْهِ (قَوْلُهُ وَرَأْسُهَا) أَيْ الَّذِي هُوَ مِنْهَا كَالرَّأْسِ حَقِيقَةً (قَوْلُهُ سَرَاةُ الْأَرْضِ) أَيْ سَادَاتُهُمْ جَمْع سَرِيٍّ وَهُوَ بِفَتْحِ السِّينِ.
قَالَ فِي الْمُخْتَارِ: وَهُوَ جَمْعٌ عَزِيزٌ إذْ لَمْ يُجْمَعْ فَعِيلٌ عَلَى فَعَلَةِ وَلَا يُعْرَفُ غَيْرُهُ اهـ بِحُرُوفِهِ.
وَفِي الْمِصْبَاحِ: وَالسَّرِيُّ الرَّئِيسُ وَالْجَمْعُ سَرَاةٌ، وَهُوَ جَمْعٌ عَزِيزٌ لَا يَكَادُ يُوجَدُ لَهُ نَظِيرٌ؛ لِأَنَّهُ لَا يُجْمَعُ فَعِيلٌ عَلَى فَعَلَةِ، وَجَمْعُ السَّرَاةِ سَرَوَاتٌ اهـ (قَوْلُهُ: لَا سَرَاةَ لَهُمْ) صِفَةٌ كَاشِفَةٌ لِفَوْضَى.
وَفِي الْمُخْتَارِ: قَوْمٌ فَوْضَى بِوَزْنِ سَكْرَى لَا رَئِيسَ لَهُمْ اهـ (قَوْلُهُ: إيهِ) اسْمُ فِعْلٍ أَيْ زِدْنِي (قَوْلُهُ: خَبْطَ عَشْوَاءَ) قَالَ فِي الْمُخْتَارِ: الْعَشْوَاءُ النَّاقَةُ الَّتِي لَا تُبْصِرُ مَا أَمَامَهَا فَهِيَ تَخْبِطُ بِيَدَيْهَا كُلَّ شَيْءٍ. وَرَكِبَ فُلَانٌ الْعَشْوَاءَ: إذَا خَبَطَ أَمْرَهُ عَلَى غَيْرِ بَصِيرَةٍ.
وَفِي الْمِصْبَاحِ: عَشِيَ عَشًّا مِنْ بَابِ تَعِبَ ضَعُفَ بَصَرُهُ فَهُوَ أَعْشَى وَالْمَرْأَةُ عَشْوَاءُ اهـ (قَوْلُهُ: وَشَكَتْ الْأَرْضُ مِنْهُمْ) هُوَ اسْتِعَارَةٌ بِالْكِنَايَةِ، فَإِنَّهُ شَبَّهَ الْأَرْضَ بِالْعُقَلَاءِ الَّذِينَ يَتَظَلَّمُونَ وَأَثْبَتَ لَهَا الشِّكَايَةَ تَخْيِيلًا (قَوْلُهُ: وَقْعَ أَقْدَامِ قَوْمٍ) بَدَلٌ مِنْ الْمَجْرُورِ بِمِنْ بَدَلُ اشْتِمَالٍ فَهُوَ بِالْجَرِّ أَوْ مِنْ الْجَارِّ وَالْمَجْرُورِ فَيَكُونُ مَنْصُوبًا، وَقَوْلُهُ قَوْمٌ مِنْ إقَامَةِ الظَّاهِرِ مَقَامَ الْمُضْمَرِ، وَكَأَنَّهُ لِيَصِفَهُمْ بِقَوْلِهِ اسْتَزَلَّهُمْ الشَّيْطَانُ إلَخْ (قَوْلُهُ: الشَّيْطَانُ) قَالَ بَعْضُهُمْ: الشَّيْطَانُ كُلُّ جِنِّيٍّ كَافِرٍ سُمِّيَ شَيْطَانًا؛ لِأَنَّهُ شَطَنَ: أَيْ بَعُدَ عَنْ رَحْمَةِ اللَّهِ. وَقِيلَ؛ لِأَنَّهُ شَاطٌّ بِأَعْمَالِهِ: أَيْ احْتَرَقَ بِسَبَبِهَا.
قَالَ الْجَاحِظُ: الْجِنِّيُّ إذَا كَفَرَ وَظَلَمَ وَتَعَدَّى وَأَفْسَدَ فَهُوَ شَيْطَانُ، فَإِنْ قَوِيَ عَلَى حَمْلِ الْمَشَاقِّ وَالشَّيْءِ الثَّقِيلِ وَعَلَى اسْتِرَاقَةِ السَّمْعَ فَهُوَ مَارِدٌ، فَإِنْ زَادَ عَلَى ذَلِكَ فَهُوَ عِفْرِيتٌ، كَذَا قَالَهُ بَعْضُ شُرَّاحِ الْبُرْدَةِ عِنْدَ قَوْلِ الْمُصَنِّفِ: وَخَالِفْ النَّفْسَ وَالشَّيْطَانَ وَاعْصِهِمَا. (قَوْلُهُ: فَلِلَّهِ دَرُّ الْفُقَهَاءِ) صِيغَةُ مَدْحٍ. قَالَ فِي شَرْحِ التَّوْضِيحِ: إنَّهُ كِنَايَةٌ عَنْ فِعْلِ الْمَمْدُوحِ الصَّادِرِ، وَإِنَّمَا أَضَافَ الْفِعْلَ إلَى اللَّهِ تَعَالَى قَصْدًا لِإِظْهَارِ التَّعَجُّبِ مِنْهُ؛ لِأَنَّهُ
ــ
[حاشية الرشيدي] عِنْدَ أَهْلِ الْهَيْئَةِ، وَلَا يَضُرُّ كَوْنُ الشَّرَفِ هُنَا مَأْخُوذًا مِنْ الشَّرَفِ الْأَوَّلِ؛ لِأَنَّهُ صَارَ فِي اصْطِلَاحِهِمْ اسْمًا لِأَمْرٍ مَخْصُوصٍ وَهَذَا أَوْلَى مِمَّا سَلَكَهُ شَيْخُنَا فِي حَاشِيَتِهِ.
(قَوْلُهُ: وَقْعَ) مَعْمُولٌ لِشَكَتْ كَمَا هُوَ الظَّاهِرُ خِلَافًا لِجَعْلِ شَيْخِنَا لَهُ بَدَلًا
এবং অপচয়মুক্ত হলেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ফিকহ হলো তার কণ্ঠহারের মধ্যমণি, তার ভূষণ ও বন্ধনের যোগসূত্র এবং তার প্রচলিত মুদ্রার বিশুদ্ধ নির্যাস। এর মাধ্যমেই হালাল ও হারাম চেনা যায়, এর মাধ্যমেই বিশিষ্ট ও সাধারণ মানুষ আনুগত্য প্রকাশ করে। এর মাধ্যমেই হিদায়াতের প্রদীপসমূহ গোমরাহির অন্ধকার এবং অন্ধকারের বিভ্রান্তি থেকে পৃথক ও স্পষ্ট হয়। এটি শরিয়তের মূল কেন্দ্রবিন্দু ও তার ভিত্তি এবং হাকিকতের (প্রকৃত সত্যের) হৃৎপিণ্ড; যা সংশোধন হলে সব সংশোধন হয়ে যায়, আর এটিই তার শীর্ষ। এটি জমিনের সেই সরদারদের উদিত চাঁদ, যারা না থাকলে মূর্খদের নেতৃত্বে পৃথিবী ফাসাদে ভরে যেত এবং মানুষ পথভ্রষ্ট হতো:
নেতৃত্বহীন বিশৃঙ্খল অবস্থায় মানুষ সংশোধন হয় না... আর যখন মূর্খরা নেতা হয় তখন কোনো নেতৃত্বই থাকে না।
হ্যাঁ, তারা না থাকলে মানুষ মূর্খদের নেতা বানিয়ে নিত; ফলে তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দিত এবং নিজেরাও পথভ্রষ্ট হতো ও অন্যকেও পথভ্রষ্ট করত। তারা যেখানেই অবস্থান করত বা পদার্পণ করত, সেখানেই অন্ধকার রাতে দৃষ্টিহীন উটনীর মতো হাতড়াত। আর জমিন তাদের বিরুদ্ধে সেই সম্প্রদায়ের পদভারের অভিযোগ করত, যাদেরকে শয়তান পদস্খলিত করেছে এবং তারা বিচ্যুত হয়েছে। সুতরাং ফকিহগণ কতই না চমৎকার! তারা আকাশের নক্ষত্রতুল্য।
--
[শিবরামালসির টীকা] 'রশাদা' (পথ পাওয়া) ক্রিয়াটি 'রশাদা ইয়ারশুডু' হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেমন 'কাআদা ইয়াকউডু'। এর একটি মাসদার হলো 'রুশদান' (রা বর্ণে পেশ যোগে)। এতে 'তরিব' অধ্যায় থেকে অন্য একটি ভাষাগত প্রয়োগও রয়েছে। (তার উক্তি: এবং অপচয়মুক্ত হলেন) 'মিসবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আসরাফা' অর্থ সীমা লঙ্ঘন করা। 'সারাফ' (দুই জবরের সাথে) হলো এর মাসদার। আর 'সারিফা' (ক্লান্ত হওয়া অর্থে) অর্থ হলো সে অজ্ঞ রইল বা গাফেল হলো। 'আমি তাদের অনুসন্ধান করলাম কিন্তু তাদের পেলাম না'—এখানে এর অর্থ আমি ভুল করলাম বা আমি জানলাম না। (তার উক্তি: কোনো সন্দেহ নেই) এখানে 'ফা' বর্ণটি 'ইন্না' এর খবরের সাথে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে। আর 'যদিও' যুক্ত বাক্যটি 'ইন্না'-র ইসিম ও খবরের মাঝে মধ্যবর্তী বাক্য। 'মিরইয়াহ' অর্থ হলো সন্দেহ।
'মুখতার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'মিরইয়াহ' হলো সন্দেহ। কখনো এতে পেশ দিয়েও (মুরইয়াহ) পড়া হয়। মহান আল্লাহর বাণী "ফাতা তাকু ফি মিরইয়াতিন মিনহু" (হুদ: ১৭)—এ উভয় কিরাআতেই পড়া হয়েছে।
(তার উক্তি: কণ্ঠহারের মধ্যমণি) অর্থাৎ এর সর্বোত্তম অংশ। 'ইকদ' (ই বর্ণে যের যোগে) অর্থ হলো কণ্ঠহার। (তার উক্তি: এর মাধ্যমে চেনা যায়) অর্থাৎ ফিকহ শাস্ত্রের মাধ্যমে চেনা যায়। (তার উক্তি: এর মাধ্যমে বিশিষ্ট ও সাধারণ মানুষ আনুগত্য প্রকাশ করে) অর্থাৎ এর মাধ্যমে ইবাদত করে। বলা হয়, 'দানাহু ইয়াদিনু দিনান' অর্থাৎ তাকে বশীভূত করল বা দাসে পরিণত করল, ফলে সে অনুগত হলো—মুখতার। (তার উক্তি: প্রদীপসমূহ স্পষ্ট হয়) অর্থাৎ এর মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যদি তা 'তা' বর্ণ দিয়ে (তাবিনু) পড়া হয়। আর যদি কোনো কোনো পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী 'ইয়া' বর্ণ দিয়ে (ইয়াবিনু) পড়া হয়, তবে এখানে অতিরিক্ত কিছুর প্রয়োজন নেই, কারণ এর কর্তা (ফাইল) ফিকহ-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। এর অর্থ হলো: এটি হিদায়াতের প্রদীপসমূহকে প্রকাশ করে এবং সেগুলোকে পৃথক করে দেয়। (তার উক্তি: এবং তার ভিত্তি) এটি অনেকটা ব্যাখ্যামূলক শব্দ; কারণ কোনো কিছুর 'কুতুব' বা কেন্দ্রবিন্দু বলতে তার সেই মূলকে বোঝায় যার দিকে সব ফিরে আসে। এর থেকেই জাঁতার কেন্দ্রবিন্দু বা কওমের সরদারকে কুতুব বলা হয়, যাকে কেন্দ্র করে তাদের যাবতীয় কার্যাদি আবর্তিত হয় এবং যার কাছে সবাই ফিরে আসে। (তার উক্তি: এবং তার শীর্ষ) অর্থাৎ যা ফিকহ শাস্ত্রের জন্য ঠিক তেমনই যেমন শরীরের জন্য মাথা। (তার উক্তি: জমিনের সরদারগণ) অর্থাৎ তাদের নেতাগণ। এটি 'সারিই' শব্দের বহুবচন, যা সিন বর্ণে জবর যোগে গঠিত।
'মুখতার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি একটি বিরল বহুবচন, কারণ 'ফায়িল' ওজনের শব্দ সাধারণত 'ফায়ালাহ' ওজনে বহুবচন হয় না এবং এটি ছাড়া অন্য কোনো উদাহরণ জানা নেই।
'মিসবাহ' গ্রন্থে আছে: 'সারিই' অর্থ নেতা এবং বহুবচন হলো 'সারাআহ'। এটি অত্যন্ত বিরল একটি বহুবচন যার কোনো নজির বা সদৃশ পাওয়া যায় না, কারণ 'ফায়িল' ওজনের শব্দ 'ফায়ালাহ' ওজনে বহুবচন হয় না। আবার 'সারাআহ' শব্দের বহুবচন হলো 'সারাওয়াত'। (তার উক্তি: তাদের কোনো নেতা নেই) এটি 'ফাওদা' (বিশৃঙ্খলা) শব্দের একটি স্পষ্টকারী বিশেষণ।
'মুখতার' গ্রন্থে আছে: 'কাওমুন ফাওদা' (সাকরা ওজনের মতো) অর্থ হলো এমন সম্প্রদায় যাদের কোনো নেতা নেই। (তার উক্তি: ইহে) এটি একটি ইসমে ফিল (ক্রিয়া বিশেষ্য), এর অর্থ হলো 'আমাকে আরও বলো'। (তার উক্তি: অন্ধের মতো হাতড়ানো) 'মুখতার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আশওয়া' হলো সেই মাদী উট যা তার সামনের কিছু দেখতে পায় না, ফলে সে তার পা দিয়ে সবকিছু মাড়াতে থাকে। যখন কেউ কোনো বিষয়ে সঠিক দূরদর্শিতা ছাড়াই কাজ করে, তখন বলা হয় সে 'আশওয়া'-তে চড়েছে।
'মিসবাহ' গ্রন্থে আছে: 'আশিয়া আশা'-এর অর্থ হলো তার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে গেছে। এমন পুরুষকে 'আশা' এবং নারীকে 'আশওয়া' বলা হয়। (তার উক্তি: জমিন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল) এটি একটি রূপক অলংকার (ইস্তিয়ারা মাকনিয়া)। এখানে জমিনকে এমন বিবেকবান সত্তার সাথে তুলনা করা হয়েছে যারা অবিচারের অভিযোগ করে এবং কল্পিতভাবে জমিনের জন্য অভিযোগ সাব্যস্ত করা হয়েছে। (তার উক্তি: এক সম্প্রদায়ের পদভার) এটি 'মিন' বর্ণ দ্বারা মাজরুরকৃত শব্দের বদল-ই-ইশতিমাল, তাই এটি যের যুক্ত হবে। অথবা এটি যার-মাজরুর থেকে বদল হওয়ায় নসব যুক্ত হতে পারে। আর এখানে 'কওম' (সম্প্রদায়) শব্দটি দৃশ্যমান বিশেষ্য হিসেবে আনা হয়েছে সর্বনামের স্থলে; সম্ভবত তাদেরকে এই গুণাবলির মাধ্যমে বর্ণনা করার জন্য যে—শয়তান তাদের পদস্খলিত করেছে ইত্যাদি। (তার উক্তি: শয়তান) কেউ কেউ বলেন: শয়তান হলো প্রত্যেক কাফির জিন। তাকে শয়তান বলা হয় কারণ সে 'শাতানা' অর্থাৎ আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে গেছে। আবার বলা হয়, কারণ সে তার কর্মফলের কারণে 'শাতুন' অর্থাৎ দগ্ধ।
জাহিজ বলেছেন: জিন যখন কুফরি করে, জুলুম করে, সীমালঙ্ঘন করে এবং ফাসাদ সৃষ্টি করে, তখন সে শয়তান। যদি সে কঠোর পরিশ্রম ও ভারী বস্তু বহনে এবং আসমানি বার্তা আড়ি পেতে শুনার সক্ষমতা অর্জন করে, তবে সে 'মারিদ'। আর যদি তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়, তবে সে 'ইফরিত'। এভাবেই 'বুরদাহ' শরিফের কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার মুসান্নিফের এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "তুমি নফস ও শয়তানের বিরোধিতা করো এবং তাদের অবাধ্য হও।" (তার উক্তি: ফকিহগণ কতই না চমৎকার) এটি একটি প্রশংসাসূচক বাক্য। 'শরহুত তাওদিহ'-এ বলা হয়েছে: এটি প্রশংসিত ব্যক্তির কৃতকর্মের একটি রূপক প্রকাশ। আর এখানে কর্মটিকে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে বিস্ময় প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে; কারণ তিনি...
--
[রশিদির টীকা] জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নিকট, আর এখানে 'শরাফ' শব্দটি পূর্বের 'শরাফ' থেকে নেওয়া হওয়ায় কোনো ক্ষতি নেই; কারণ তাদের পরিভাষায় এটি একটি বিশেষ বিষয়ের নাম হয়ে গেছে। আর এটিই অধিকতর উত্তম আমার শাইখ তার টীকায় যা বলেছেন তার চেয়ে।
(তার উক্তি: ওয়াকআ - পদভার) এটি 'শাকাত' (অভিযোগ করল) ক্রিয়ার মাফউল (কর্ম), যেমনটি আপাতদৃষ্টিতে স্পষ্ট হয়। আমার শাইখ একে 'বদল' হিসেবে গ্রহণ করলেও তা সঠিক নয়।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٨)
تُشِيرُ إلَيْهِمْ بِالْأَكُفِّ الْأَصَابِعُ وَشُمُّ الْأُنُوفِ، يَخْضَعُ إلَيْهِمْ كُلُّ شَامِخِ الْأَنْفِ رَافِعٍ، حَلَّقُوا عَلَى سُوَرِ الْإِسْلَامِ كَسِوَارِ الْمِعْصَمِ قَائِلِينَ لِأَهْلِهِ وَالْحَقُّ سَامِعٌ:
أَخَذْنَا بِآفَاقِ السَّمَاءِ عَلَيْكُمْ
… لَنَا قَمَرَاهَا وَالنُّجُومُ الطَّوَالِعُ
زَيَّنَ اللَّهُ الْأَرْضَ بِمَوَاطِئِ أَقْدَامِهِمْ فَالشِّفَاهُ تُقَبِّلُ خِلَالَهَا، وَبِإِحَاطَةِ أَحْكَامِهِمْ وَإِحْكَامِهِمْ تَذْكُرُ حَرَامَهَا وَحَلَالَهَا، وَتَرْشُفُ مِنْ زُلَالِهَا مَا حَلَا لَهَا، وَلَقَدْ سَارُوا فِي مَسَالِكِ الْفِقْهِ غَوْرًا وَنَجْدًا، وَدَارُوا عَلَيْهِ هَائِمِينَ بِهِ وَجْدًا، فَمِنْهُمْ مَنْ سَارَ عَلَى مَنْهَجِ مِنْهَاجِ الطَّرِيقِ الْوَاضِحِ أَحْسَنَ سَيْرٍ، وَجَرَى فِي أَحْوَالِهِ عَلَى مِنْوَالِهِ غَيْرَ مُتَعَرِّضٍ إلَى غَيْرٍ، وَمِنْهُمْ مَنْ جَعَلَ دَأْبَهُ رَدَّ الْخُصُومِ وَخَصْمَ الْمُخَالِفِينَ فَلَا يَفُوتُهُ الطَّائِفُ فِي الْأَرْضِ وَلَوْ أَنَّهُ الطَّائِرُ فِي السَّمَاءِ يَحُومُ، وَإِقَامَةَ الْحُجَجِ وَالْبَرَاهِينِ مِنْهَا مَعَالِمُ لِلْهُدَى وَمَصَابِيحُ لِلدُّجَى
ــ
[حاشية الشبراملسي] تَعَالَى مُنْشِئُ الْعُجَابِ، فَمَعْنَى قَوْلِهِمْ لِلَّهِ دَرُّهُ، فَارِسًا: مَا أَعْجَبَ فِعْلَهُ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ التَّعَجُّبُ مِنْ لَبَنِهِ الَّذِي ارْتَضَعَهُ مِنْ ثَدْيِ أُمِّهِ: أَيْ مَا أَعْجَبَ هَذَا اللَّبَنَ الَّذِي نَزَلَ بِهِ مِثْلُ هَذَا الْوَلَدِ الْكَامِلِ فِي هَذِهِ الصِّفَةِ اهـ. (قَوْلُهُ: تُشِيرُ إلَيْهِمْ بِالْأَكُفِّ الْأَصَابِعُ) فَالْأَصَابِعُ فَاعِلُ أَشَارَتْ، وَبِالْأَكُفِّ ظَرْفٌ مُسْتَقِرٌّ حَالٌ مِنْهَا: أَيْ أَشَارَتْ الْأَصَابِعُ حَالَةَ كَوْنِهَا مَعَ الْأَكُفِّ، يُرِيدُ أَنَّ الْإِشَارَةَ وَقَعَتْ بِمَجْمُوعِ الْأَصَابِعِ وَالْأَكُفِّ اهـ دَمَامِينِيٌّ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ: إنَّ فِيهِ قَلْبًا وَالْأَصْلُ أَشَارَتْ الْأَكُفُّ بِالْأَصَابِعِ (قَوْلُهُ شُمُّ الْأُنُوفِ) هُوَ مِنْ إضَافَةِ الصِّفَةِ إلَى الْمَوْصُوفِ، وَاللَّامُ فِي الْأُنُوفِ عِوَضٌ عَنْ الْمُضَافِ إلَيْهِ: أَيْ أُنُوفُهُمْ شُمٌّ جَمْعُ أَشَمَّ. قَالَ فِي الْمِصْبَاحِ الشَّمَمُ ارْتِفَاعُ الْأَنْفِ، وَهُوَ مَصْدَرٌ: مِنْ بَابِ تَعِبَ، فَالرَّجُلُ أَشَمُّ وَالْمَرْأَةُ شَمَّاءُ مِثْلَ أَحْمَرَ وَحَمْرَاءَ اهـ.
وَقَالَ فِي الْقَامُوسِ: وَالْأَشَمُّ السَّيِّدُ وَالْمَنْكِبُ الْمُرْتَفِعُ (قَوْلُهُ: شَامِخٌ) قَالَ فِي الْقَامُوسِ: شَمَخَ الْجَمَلُ عَلَا وَطَالَ، وَالرَّجُلُ بِأَنْفِهِ تَكَبَّرَ (قَوْلُهُ: حَلَّقُوا) أَحَاطُوا بِهِ وَدَارُوا حَوْلَهُ كَدَوَرَانِ السِّوَارِ عَلَى الْمِعْصَمِ. وَفِي النِّهَايَةِ: فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مِثْلُ هَذِهِ وَحَلَّقَ: أَيْ بِتَشْدِيدِ اللَّامِ بِأُصْبُعَيْهِ الْإِبْهَامِ وَاَلَّتِي تَلِيهَا، وَعَقَدَ عَشْرًا: أَيْ بِأَنْ جَعَلَ رَأْسَ السَّبَّابَةِ فِي وَسَطِ الْإِبْهَامِ اهـ مِنْهُ (قَوْلُهُ غَوْرًا وَنَجْدًا) الْمَعْنَى: يَبْحَثُونَ عَنْ الْأَحْكَامِ خَفَايَاهَا وَجَلَايَاهَا كَأَنَّهُمْ سَارُوا فِي تَحْصِيلِ ذَلِكَ فِي الطَّرَقَاتِ الْمُنْخَفِضَةِ وَالْمُرْتَفِعَةِ، وَالْغَوْرُ فِي الْأَصْلِ: قَعْرُ كُلِّ شَيْءٍ، وَالنَّجْدُ مَا ارْتَفَعَ مِنْ الْأَرْضِ اهـ مُخْتَارٌ (قَوْلُهُ: مَنْ سَارَ عَلَى مَنْهَجٍ إلَخْ) يُتَأَمَّلُ مَعْنَى هَذَا التَّرْكِيبِ، فَإِنَّ كُلًّا مِنْ الْمَنْهَجِ وَالْمِنْهَاجِ مَعْنَاهُ الطَّرِيقُ الْوَاضِحُ، وَلَعَلَّهُ أَرَادَ بِالطَّرِيقِ الَّذِي عَبَّرَ عَنْهُ بِالْمَنْهَجِ مَا يُتَوَصَّلُ بِهِ لِاسْتِنْبَاطِ الْحُكْمِ مِنْ الدَّلِيلِ، وَبِالطَّرِيقِ الَّذِي عَبَّرَ عَنْهُ بِالْمِنْهَاجِ الْأَدِلَّةُ أَنْفُسُهَا كَالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، وَبِالطَّرِيقِ الْوَاضِحِ دِينُ الْإِسْلَامِ، كَمَا أَطْلَقَ عَلَيْهِ الصِّرَاطَ فِي قَوْله تَعَالَى {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} [الفاتحة: 6] .
(قَوْلُهُ: وَمِنْهُمْ مَنْ جَعَلَ دَأْبَهُ) أَيْ شَأْنَهُ وَعَادَتَهُ كَالْمُصَنِّفِ (قَوْلُهُ: رَدَّ الْخُصُومِ) أَيْ مَنْ أَرَادَ الطَّعْنَ فِيمَا ذَهَبُوا إلَيْهِ مِنْ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ، وَقَوْلُهُ فَلَا يَفُوتُهُ الطَّائِفُ: أَيْ لَا يَفُوتُهُ مَنْ أَبْدَى شُبْهَةً وَإِنْ بَعُدَ وَانْتَهَى فِي الْبُعْدِ إلَى أَنَّ أَشْبَهَ الطَّائِرَ فِي السَّمَاءِ (قَوْلُهُ: وَخَصَمَ الْمُخَالِفِينَ) أَيْ غَلَبَهُمْ.
قَالَ فِي الْمِصْبَاحِ: خَاصَمْته مُخَاصَمَةً وَخِصَامًا وَخَصَمْته أَخْصِمُهُ مِنْ بَابِ قَتَلَ: إذَا غَلَبْته فِي الْخُصُومَةِ، وَقَالَ فِي غَلَبَ غَلَبَهُ غَلَبًا مِنْ بَابِ ضَرَبَ وَالِاسْمُ الْغَلَبُ بِفَتْحَتَيْنِ وَالْغَلَبَةُ أَيْضًا (قَوْلُهُ: مِنْهَا مَعَالِمُ لِلْهُدَى) أَيْ مِنْ الْبَرَاهِينِ: يَعْنِي أَنَّ أَدِلَّتَهُمْ مِنْهَا مَا قَصَدَ بِهِ إثْبَاتَ مَا ذَهَبُوا إلَيْهِ مِنْ الْحَقِّ
ــ
[حاشية الرشيدي] مِنْ مَجْرُورٍ مِنْ بَدَلِ اشْتِمَالٍ (قَوْلُهُ: حَرَامَهَا وَحَلَالَهَا) أَيْ الْأَحْكَامَ أَوْ الْأَرْضَ وَقَوْلُهُ وَيُرْشَفُ بِالْبِنَاءِ لِلْمَفْعُولِ وَقَوْلُهُ مَا حَلَا لَهَا أَيْ مِنْهَا: أَيْ الْأَحْكَامِ أَوْ الْأَرْضِ، وَيَجُوزُ أَنْ تَكُونَ الضَّمَائِرُ رَاجِعَةً إلَى الشِّفَاهِ فَيُقْرَأُ تُذْكَرُ وَتُرْشَفُ بِالْمُثَنَّاةِ الْفَوْقِيَّةِ، وَهُوَ الْأَنْسَبُ (قَوْلُهُ: وَخَصْمَ الْمُخَالِفِينَ) بِمَعْنَى قَطْعِهِمْ وَإِفْحَامِهِمْ، لَا بِمَعْنَى مُخَاصَمَتِهِمْ الَّتِي هِيَ مُغَالَبَتُهُمْ وَفَخْرُهُمْ؛ لِأَنَّهُ يَأْبَاهَا اللَّفْظُ وَالْمَعْنَى وَإِنْ قَالَ بِهِ شَيْخُنَا (قَوْلُهُ: مِنْهَا مَعَالِمُ لِلْهُدَى إلَخْ) شَبَّهَ الْحُجَجَ وَالْبَرَاهِينَ بِالنُّجُومِ
হাতের তালু ও আঙ্গুলসমূহ তাদের দিকে ইশারা করে এবং উচ্চমস্তক ও উন্নত নাসিকাসম্পন্ন প্রতিটি ব্যক্তি তাদের কাছে অবনমিত হয়। তারা ইসলামের প্রাচীরের চারদিকে কবজির চুড়ির মতো বেষ্টন করে আছেন এবং ইসলামের অনুসারীদের উদ্দেশ্যে তারা বলছেন—আর সত্য তা শ্রবণ করছে:
আমরা তোমাদের জন্য আকাশের দিগন্তসমূহ অধিকার করেছি
… আমাদের জন্য রয়েছে তার চন্দ্রদ্বয় এবং উদিত নক্ষত্ররাজি।
আল্লাহ তায়ালা তাদের পায়ের পদচিহ্ন দ্বারা জমিনকে সুশোভিত করেছেন, ফলে ওষ্ঠাধর সেগুলোর মাঝে চুম্বন করে। তাদের বিধানসমূহের পরিবেষ্টন ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে মানুষ তার হারাম ও হালালকে স্মরণ করে এবং এর সুপেয় পানি থেকে নিজেদের পছন্দমতো পান করে। তারা ফিকহশাস্ত্রের গভীর ও উচ্চ পথে বিচরণ করেছেন এবং অত্যন্ত অনুরাগের সাথে তাতে নিমগ্ন হয়ে পরিভ্রমণ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ তো সুস্পষ্ট পদ্ধতির পথে সর্বোত্তম পন্থায় চলেছেন এবং অন্য কোনো দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে তার নিজস্ব ধারায় স্বীয় অবস্থা অতিবাহিত করেছেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ রয়েছেন যারা বিরুদ্ধবাদীদের খণ্ডন করা এবং বিরোধীদের পরাস্ত করাকে নিজেদের ব্রত বানিয়েছেন, ফলে জমিনে বিচরণকারী কোনো সংশয়বাদীই তাকে ফাঁকি দিতে পারে না, যদিও সে আকাশে উড্ডয়নকারী পাখির মতো পরিভ্রমণ করে। আর তারা এমন সব প্রমাণ ও দলিল প্রতিষ্ঠা করেছেন যা হেদায়েতের নিদর্শন এবং অন্ধকারের প্রদীপস্বরূপ।
—
[শুবরামালিসীর হাশিয়া] মহান আল্লাহ অদ্ভুত বিষয়সমূহ সৃষ্টিকারী। সুতরাং তাদের উক্তি 'লিল্লাহি দাররুহু ফারিসান' এর অর্থ হলো: তার কাজ কতই না বিস্ময়কর! আর এও সম্ভাবনা আছে যে, বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে সেই দুধের প্রতি যা সে তার মায়ের স্তন থেকে পান করেছে। অর্থাৎ, এই দুধ কতই না বিস্ময়কর যার মাধ্যমে এমন গুণসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ সন্তান জন্মলাভ করেছে। (তাঁর উক্তি: আঙ্গুলসমূহ হাতের তালুসহ তাদের দিকে ইশারা করে) এখানে 'আঙ্গুলসমূহ' হলো ইশারা করার কর্তা, আর 'হাতের তালুসহ' হলো একটি স্থিতিশীল অবস্থা (হাল)। অর্থাৎ আঙ্গুলগুলো হাতের তালুর সাথে থাকা অবস্থায় ইশারা করেছে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইশারাটি আঙ্গুল ও হাতের তালু উভয়ের সমন্বয়ে সংঘটিত হয়েছে—এটি দামামিনী বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন যে, এখানে শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ হয়েছে এবং মূল বাক্যটি হলো 'হাতের তালু আঙ্গুলসমূহ দ্বারা ইশারা করেছে'। (তাঁর উক্তি: উন্নত নাসিকাধারী) এটি গুণবাচক শব্দের বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধ করার উদাহরণ। আর 'নাসিকা' শব্দে যে আলিফ-লাম আছে তা সম্বন্ধিত পদের স্থলাভিষিক্ত। অর্থাৎ তাদের নাসিকাগুলো হলো উন্নত। 'আশাম্ম' এর বহুবচন হলো 'শুম্ম'। মিসবাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'শামাম' মানে হলো নাকের উচ্চতা, এটি একটি মূলধাতু। পুরুষ হলে 'আশাম্ম' এবং নারী হলে 'শাম্মা' বলা হয়, যেমন লাল বর্ণের ক্ষেত্রে 'আহমার' ও 'হামরা' বলা হয়।
কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আশাম্ম' মানে হলো নেতা এবং সুউচ্চ কাঁধ। (তাঁর উক্তি: শামিখ) কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: উট যখন উঁচু ও দীর্ঘ হয় তখন তাকে 'শামাখা' বলা হয়, আর মানুষ যখন অহংকারবশত নাক উঁচু করে তখন তাকেও তাই বলা হয়। (তাঁর উক্তি: হাল্লাকূ) অর্থাৎ তারা এটিকে বেষ্টন করেছে এবং এর চারদিকে ঘুরেছে যেভাবে কবজির ওপর চুড়ি ঘুরে থাকে। নিহায়া গ্রন্থে আছে: 'আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর থেকে এই পরিমাণ উন্মুক্ত হয়েছে'—এবং তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার পাশের আঙ্গুল দিয়ে বৃত্ত তৈরি করলেন। এবং দশের গিরা দিলেন অর্থাৎ তর্জনীর মাথা বৃদ্ধাঙ্গুলির মাঝখানে রাখলেন। (তাঁর উক্তি: গভীর ও উচ্চ ভূমি) এর অর্থ হলো: তারা বিধানসমূহের গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়গুলো অনুসন্ধান করেন, যেন তারা তা অর্জনের জন্য নিচু ও উঁচু পথে চলেছেন। মূলত 'গাওর' মানে হলো কোনো জিনিসের গভীরতা আর 'নাজদ' মানে হলো জমিনের উঁচু অংশ—এটি মুখতার গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। (তাঁর উক্তি: যে পদ্ধতির ওপর চলেছে ইত্যাদি) এই বাক্যের গঠনের অর্থের ব্যাপারে চিন্তা করা প্রয়োজন, কারণ 'মানহাজ' এবং 'মিনহাজ' উভয়ের অর্থই হলো সুস্পষ্ট পথ। সম্ভবত তিনি 'মানহাজ' শব্দ দ্বারা সেই পথকে বুঝিয়েছেন যা দলিল থেকে বিধান উদঘাটনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর 'মিনহাজ' শব্দ দ্বারা মূল দলিলসমূহকে বুঝিয়েছেন যেমন কুরআন ও সুন্নাহ, আর 'সুস্পষ্ট পথ' দ্বারা ইসলাম ধর্মকে বুঝিয়েছেন, যেমনটি আল্লাহ তায়ালার বাণী {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন}-এ পথ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
(তাঁর উক্তি: তাদের কেউ একে স্বীয় ব্রত বানিয়েছেন) অর্থাৎ এটি তার কাজ ও অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, যেমনটি গ্রন্থকারের ক্ষেত্রে দেখা যায়। (তাঁর উক্তি: বিরুদ্ধবাদীদের খণ্ডন করা) অর্থাৎ যারা তাদের গ্রহণকৃত শরয়ি বিধানসমূহের ওপর কটাক্ষ করতে চায়। আর তাঁর উক্তি 'জমিনে বিচরণকারী তাকে ফাঁকি দিতে পারে না'—অর্থাৎ কোনো সংশয় সৃষ্টিকারী তাকে এড়াতে পারে না, যদিও সে অনেক দূরে চলে যায় এবং দূরত্বের দিক থেকে আকাশে উড্ডয়নকারী পাখির মতো হয়ে যায়। (তাঁর উক্তি: বিরোধীদের পরাস্ত করা) অর্থাৎ তাদের ওপর বিজয় লাভ করা।
মিসবাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমি তার সাথে বিতর্ক করেছি এবং আমি তাকে পরাস্ত করেছি—যখন তুমি বিতর্কে তাকে পরাজিত করবে। গালাবা এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে সে তাকে জয় করেছে, আর এর বিশেষ্য হলো বিজয়। (তাঁর উক্তি: তাতে হেদায়েতের নিদর্শনাবলী রয়েছে) অর্থাৎ দলিলসমূহের মধ্যে। এর অর্থ হলো, তাদের দলিলসমূহের মধ্যে এমন কিছু আছে যার দ্বারা তারা তাদের গ্রহণকৃত সত্যকে প্রমাণ করার ইচ্ছা করেছেন।
—
[রশিদী’র হাশিয়া] এটি একটি বদল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। (তাঁর উক্তি: তার হারাম ও হালাল) অর্থাৎ বিধানসমূহের অথবা জমিনের। আর তাঁর উক্তি 'পান করা হয়' এটি কর্মবাচ্য হিসেবে ব্যবহৃত। আর 'যা তার কাছে সুস্বাদু মনে হয়' অর্থাৎ বিধানসমূহ বা জমিন থেকে। আর এও সম্ভব যে, সর্বনামগুলো ওষ্ঠাধরের দিকে ফিরেছে, সেক্ষেত্রে ক্রিয়াগুলো স্ত্রীবাচক হিসেবে পড়তে হবে এবং এটাই অধিকতর মানানসই। (তাঁর উক্তি: বিরোধীদের পরাস্ত করা) এর অর্থ হলো তাদের কথা বন্ধ করে দেওয়া এবং নিরুত্তর করা, তাদের সাথে কেবল ঝগড়া করা নয়; কারণ শব্দ ও অর্থ এর পরিপন্থী, যদিও আমাদের শায়খ এটি বলেছেন। (তাঁর উক্তি: তাতে হেদায়েতের নিদর্শনাবলী রয়েছে ইত্যাদি) তিনি যুক্তি ও প্রমাণসমূহকে নক্ষত্রের সাথে তুলনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٩)
وَالْأُخْرَيَاتُ رُجُومٌ، وَسَيِّدُ طَائِفَةِ الْعُلَمَاءِ مِنْ الْقَرْنِ السَّادِسِ وَإِلَى هَذَا الْحِينِ وَصَاحِبُ الْفَضْلِ عَلَى أَهْلِ الْمَشَارِقِ وَالْمَغَارِبِ ذُو الْفَضْلِ الْمُبِينِ، الضَّارِبُ مَعَ الْأَقْدَمِينَ بِسَهْمٍ وَالنَّاسُ تَضْرِبُ فِي حَدِيدٍ بَارِدٍ، فَهُوَ الْمُعَوَّلُ عَلَيْهِ عِنْدَ كُلِّ صَادِرٍ وَوَارِدٍ، تَقَدَّمَ عَلَى أَهْلِ زَمَنِهِ تَقَدُّمَ النَّصِّ عَلَى الْقِيَاسِ، وَسَبَقَ وَهِيَ تُنَادِيهِ مَا فِي وُقُوفِك سَاعَةٌ مِنْ بَاسِ، وَتَصَدَّرَ وَلَوْ عُورِضَ لَقَالَ لِسَانُ الْحَالِ «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ» مَنْ أَنْفَقَ مِنْ خَزَائِنِ عِلْمِهِ وَلَمْ يَخْشَ مِنْ ذِي الْعَرْشِ إقْلَالًا هَكَذَا هَكَذَا وَإِلَّا فَلَالَا، قَالَ: فَلَمْ يَتْرُكْ مَقَالًا لِقَائِلٍ، وَتَسَامَى فَلَمْ يَسْمَعْ أَيْنَ الثُّرَيَّا مِنْ يَدِ الْمُتَنَاوِلِ وَتَعَالَى فَكَأَنَّمَا هُوَ لِلنَّيِّرَيْنِ مُتَطَاوِلٌ، وَتَصَاعَدَ دَرَجَ السِّيَادَةِ حَتَّى فَاقَ الْآفَاقَ وَتَبَاعَدَ عَنْ دَرَجَاتِ مُعَارِضِيهِ فَسَاقَ أَتْبَاعَهُ أُمَمًا وَسَاقَ، وَمَضَى وَخَلَّفَ ذِكْرًا بَاقِيًا
ــ
[حاشية الشبراملسي] الْوَاضِحِ، وَمِنْهَا مَا قَصَدَ بِهِ إبْطَالَ شُبَهِ الْمُبْطِلِينَ، فَأَشْبَهَتْ الشُّهُبُ الَّتِي تُرْجَمُ بِهَا الشَّيَاطِينُ الْمُسْتَرِقُونَ لِلسَّمْعِ (قَوْلُهُ: وَالْأُخْرَيَاتُ رُجُومٌ) أَيْ كَالْحِجَارَةِ يُرْمَى بِهَا وَهِيَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ قَوْلِنَا، وَمِنْهَا مَا قَصَدَ بِهِ إبْطَالَ إلَخْ (قَوْلُهُ: وَسَيِّدُ) مُبْتَدَأٌ خَبَرُهُ قَوْلُهُ الْآتِي الْقُطْبُ الرَّبَّانِيُّ إلَخْ
1 -(قَوْلُهُ: مِنْ الْقَرْنِ السَّادِسِ) الصَّوَابُ الْقَرْنُ السَّابِعُ لَا السَّادِسُ، فَقَدْ صَرَّحَ ابْنُ السُّبْكِيّ وَغَيْرُهُ بِأَنَّهُ مَاتَ فِي سَنَةِ سِتٍّ وَسَبْعِينَ وَسِتِّمِائَةٍ عَنْ نَحْوِ سِتٍّ وَأَرْبَعِينَ سَنَةً اهـ.
وَيُمْكِنُ الْجَوَابُ بِأَنَّ الْمُرَادَ مِنْ آخِرِ الْقَرْنِ السَّادِسِ؛ لِأَنَّهُ لَمَّا كَانَتْ وِلَادَتُهُ فِي الْقَرْنِ السَّابِعِ وَكَثِيرًا مَا تَمْتَدُّ حَيَاةُ مَنْ كَانَ مَوْجُودًا فِي الْقَرْنِ السَّادِسِ إلَى زَمَنِ وِلَادَةِ الْمُصَنِّفِ، وَيَسْتَفِيدُ مِمَّا قَالَهُ بَعْدَ وِلَادَتِهِ فَتَكُونُ لَهُ السِّيَادَةُ عَلَى مَنْ اسْتَفَادَ مِنْهُ مِنْ أَهْلِ الْقَرْنِ السَّادِسِ، بَلْ وَعَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ كَانَ مَوْجُودًا مِنْ كَثِيرٍ مِنْ الْأَئِمَّةِ، وَتَمَيَّزَ عَلَيْهِمْ الْمُصَنِّفُ بِفَضِيلَتِهِ، كَأَنَّهُ حَصَلَتْ لَهُ السِّيَادَةُ عَلَى أَهْلِهِ جَمِيعًا، فَتَكُونُ سِيَادَتُهُ مِنْ أَوَّلِهِ وَهُوَ عَقِبَ الْقَرْنِ السَّادِسِ وَمَا اتَّصَلَ بِهِ مِمَّا قَبْلَهُ (قَوْلُهُ عِنْدَ كُلِّ صَادِرٍ وَوَارِدٍ) قَالَ فِي الْمِصْبَاحِ: صَدَرَ الْقَوْلَ صُدُورًا مِنْ بَابِ قَعَدَ وَأَصْدَرْته بِالْأَلِفِ وَأَصْلُهُ الِانْصِرَافُ، يُقَالُ صَدَرَ الْقَوْمُ وَأَصْدَرْنَاهُمْ: إذَا صَرَفْتهمْ، وَصَدَرْت مِنْ الْمَوْضِعِ صَدْرًا مِنْ بَابِ قَتَلَ: رَجَعْت اهـ.
وَفِيهِ وَرَدَ الْبَعِيرُ وَغَيْرُهُ الْمَاءَ يَرِدُهُ وُرُودًا: بَلَغَهُ وَوَافَاهُ مِنْ غَيْرِ دُخُولٍ، وَقَدْ يَكُونُ دُخُولًا، وَالِاسْمُ الْوَرْدُ بِالْكَسْرِ، وَأَوْرَدْته الْمَاءَ وَالْوِرْدُ خِلَافُ الصَّدْرِ، وَالْإِيرَادُ خِلَافُ الْإِصْدَارِ انْتَهَى (قَوْلُهُ وَهِيَ تُنَادِيهِ) أَيْ أَهْلُ زَمَنِهِ، وَأُنِّثَ لِكَوْنِ الْأَهْلِ بِمَعْنَى الْجَمَاعَةِ (قَوْلُهُ: وَلَوْ عُورِضَ) أَيْ أَرَادَ أَحَدٌ أَنْ يُعَارِضَهُ (قَوْلُهُ: لَقَالَ لِسَانُ الْحَالِ) أَيْ فِي حَقِّهِ (قَوْلُهُ: قَالَ) أَيْ تَكَلَّمَ ذَلِكَ الْإِمَامُ فَلَمْ يَتْرُكْ إلَخْ (قَوْلُهُ: وَتَسَامَى) أَيْ ارْتَفَعَ، وَقَوْلُهُ فَلَمْ يُسْمَعْ: أَيْ فَكَأَنَّهُ يُشِيرُ إلَى أَنَّهُ لِشِدَّةِ عُلُوِّهِ صَعِدَ السَّمَاءَ فَلَمْ يُسْمَعْ لِكَمَالِ بُعْدِهِ قَوْلُ الْقَائِلِ فِي حَقِّهِ: أَيْنَ الثُّرَيَّا إلَخْ (قَوْلُهُ: وَتَعَالَى) عَطْفُ تَفْسِيرٍ عَلَى تَسَامَى (قَوْلُهُ: مُتَطَاوِلٌ) أَيْ مَنَاظِرُ لَهُمَا فِي الْعُلُوِّ وَالنُّورِ (قَوْلُهُ: حَتَّى فَاقَ الْآفَاقَ) أَيْ أَهْلَ جَمِيعِ النَّوَاحِي، فَهُوَ كَقَوْلِهِ تَعَالَى وَاسْأَلْ الْقَرْيَةَ (قَوْلُهُ: فَسَاقَ أَتْبَاعَهُ أُمَمًا) أَيْ أَوَّلَهُمْ وَآخِرَهُمْ، فَهُوَ تَمْيِيزٌ لِأَتْبَاعِهِ وَهُوَ بِفَتْحِ الْهَمْزَةِ، وَقَوْلُهُ وَسَاقَ: أَيْ خَلَّفَ، وَهَذَا مَأْخُوذٌ مِنْ قَوْلِهِمْ سَاقَةُ الْجَيْشُ لِمُؤَخَّرِهِمْ كَمَا فِي مُخْتَارِ الصِّحَاحِ
ــ
[حاشية الرشيدي] وَقَسَّمَهَا إلَى ثَلَاثَةِ أَقْسَامٍ ثَابِتَةٍ لَهَا فِي الْقُرْآنِ بِهَا الْعِنْوَانُ، وَهَذَا أَوْلَى مِمَّا فِي حَاشِيَةِ شَيْخِنَا (قَوْلُهُ: وَسَيِّدُ) مُبْتَدَأٌ خَبَرُهُ مُحْيِي الدِّينِ أَوْ قَدْ مَلَأ (قَوْلُهُ: مِنْ الْقَرْنِ السَّادِسِ) صَوَابُهُ السَّابِعُ (قَوْلُهُ: عِنْدَ كُلِّ صَادِرٍ وَوَارِدٍ) أَيْ كُلُّ مَنْ يَصْدُرُ، وَيَرِدُ مِنْ النَّاسِ، أَوْ كُلُّ مَا يَصْدُرُ، وَيَرِدُ مِنْ الْوَقَائِعِ (قَوْلُهُ: وَهِيَ) أَيْ الْمَعَالِي، وَالْمَرَاتِبُ الْمَعْلُومَةُ مِنْ الْمَقَامِ عَلَى حَدِّ {حَتَّى تَوَارَتْ بِالْحِجَابِ} [ص: 32] ، وَيَجُوزُ رُجُوعُهُ إلَى أَهْلِ الْمَشَارِقِ، وَالْمَغَارِبِ وَهَذَا أَوْلَى مِمَّا سَلَكَهُ شَيْخُنَا.
(قَوْلُهُ: وَتَسَامَى فَلَمْ يُسْمَعْ أَيْنَ الثُّرَيَّا إلَخْ) بِبِنَاءِ يُسْمَعُ لِلْمَفْعُولِ، وَالْمَعْنَى: تَسَامَى فِي نَيْلِ الْفَضَائِلِ فَحَصَلَ أَعْلَاهَا الْمُشَبَّهُ بِالثُّرَيَّا فِي الْبُعْدِ، فَبَطَلَ هَذَا الْمَثَلُ الَّذِي هُوَ أَيْنَ الثُّرَيَّا إلَخْ الَّذِي قُصِدَ مِنْهُ الِاسْتِبْعَادُ فَلَمْ يُسْمَعْ بَعْدَ ذَلِكَ، إذْ بَعْدَ وُقُوعِ النَّيْلِ بِالْفِعْلِ لَا اسْتِبْعَادَ فَتَأَمَّلْهُ، وَهَذَا أَوْلَى مِمَّا سَلَكَهُ شَيْخُنَا (قَوْلُهُ: مُتَطَاوِلٌ) الْأَوْلَى مُطَاوِلٌ
وَالْأُخْرَيَاتُ رُجُومٌ (এবং অন্যগুলো শয়তান তাড়ানোর উল্কাপিণ্ড সদৃশ), তিনি হলেন ষষ্ঠ শতাব্দী হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ওলামা সম্প্রদায়ের নেতা এবং পূর্ব ও পশ্চিমের অধিবাসীদের প্রতি অনুগ্রহের অধিকারী ও সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্বের মালিক। তিনি প্রাচীনদের সাথে পূর্ণ অংশীদারিত্ব লাভ করেছেন, যখন অন্য মানুষরা ঠান্ডা লোহায় আঘাত করছিল (অর্থাৎ বৃথা চেষ্টা করছিল)। তিনি প্রতিটি বহির্গামী ও অন্তর্মুখী বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়। তিনি আপন সময়ের লোকেদের ওপর সেভাবেই অগ্রগণ্য যেভাবে কিয়াসের (অনুমান) ওপর নস (সুস্পষ্ট পাঠ) অগ্রগণ্য। তিনি এমনভাবে এগিয়ে গিয়েছেন যে মহত্ত্ব তাঁকে আহ্বান করে বলছিল: "আপনার এই অবস্থানে এক মুহূর্তের জন্যও কোনো অসুবিধা নেই"। তিনি এমন উচ্চাসনে সমাসীন হয়েছেন যে, কেউ যদি তাঁর বিরোধিতা করত তবে বিদ্যমান অবস্থা এই কথাই বলত যে, "আবু বকরকে আদেশ করো যেন সে মানুষের ইমামতি করে।" তিনি আপন জ্ঞানের ভাণ্ডার হতে অকাতরে দান করেছেন এবং আরশের অধিপতির পক্ষ থেকে কোনো কমতির আশঙ্কা করেননি; এভাবেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয় নতুবা নয়। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি কোনো বক্তার জন্য আর কোনো বক্তব্য অবশিষ্ট রাখেননি। তিনি এত উচ্চে আরোহণ করেছেন যে, যিনি নক্ষত্র ধরতে চান তার হাত থেকে সুরাইয়া নক্ষত্র কত দূরে—এই প্রবাদ আর প্রযোজ্য রইল না। তিনি উচ্চতায় এমন স্তরে পৌঁছেছেন যেন তিনি সূর্য ও চন্দ্রের সাথে পাল্লা দিচ্ছেন। তিনি শ্রেষ্ঠত্বের সোপানে এমনভাবে আরোহণ করেছেন যে দিগন্তসমূহকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন এবং বিরোধীদের স্তর থেকে অনেক উচ্চে চলে গিয়েছেন। ফলে তিনি তাঁর অনুসারীদের দলবদ্ধভাবে পরিচালিত করেছেন এবং এক উজ্জ্বল স্মৃতি রেখে গিয়েছেন।
--
[শুবরামাল্লিসীর টীকা] স্পষ্ট, এবং এর মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যার দ্বারা বাতিলপন্থীদের সংশয় নিরসন করার উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। ফলে তা সেই উল্কাপিণ্ডের সদৃশ হয়েছে যা দিয়ে সংবাদ চুরি করা শয়তানদের বিতাড়িত করা হয়। (তাঁর কথা: এবং অন্যগুলো উল্কাপিণ্ড) অর্থাৎ পাথরের ন্যায় যা নিক্ষেপ করা হয়; আর তা আমাদের পূর্বোক্ত বক্তব্যেরই অংশ। এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বাতিলকে নস্যাৎ করা ইত্যাদি। (তাঁর কথা: এবং নেতা) এটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য), এর খবর (বিধেয়) হলো সামনে আগত কুতুবুর রব্বানী শব্দটি।
১ -(তাঁর কথা: ষষ্ঠ শতাব্দী হতে) সঠিক হলো সপ্তম শতাব্দী, ষষ্ঠ নয়। ইবনুস সুবকী ও অন্যান্যরা স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ৬৭৬ হিজরীতে প্রায় ৪৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন।
এর একটি উত্তর এমন হতে পারে যে, এখানে ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষ ভাগ উদ্দেশ্য; কারণ তাঁর জন্ম সপ্তম শতাব্দীতে হলেও অনেক সময় ষষ্ঠ শতাব্দীতে বিদ্যমান ব্যক্তিদের জীবন মুসান্নিফের (গ্রন্থকার) জন্মকাল পর্যন্ত দীর্ঘ হয় এবং তাঁর জন্মের পর তারা তাঁর থেকে উপকৃত হন। ফলে ষষ্ঠ শতাব্দীর যারা তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন, তাদের ওপর তাঁর নেতৃত্ব সাব্যস্ত হয়। বরং অনেক বড় বড় ইমাম যারা সে সময় বিদ্যমান ছিলেন, তাঁদের ওপরও মুসান্নিফ তাঁর ফযিলতের কারণে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। যেন তাঁর নেতৃত্ব সেই শতাব্দীর সকল অধিবাসীর ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে তাঁর এই নেতৃত্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর শুরু থেকে বা তার সাথে সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী সময় থেকেই গণ্য হবে। (তাঁর কথা: প্রতিটি বহির্গামী ও অন্তর্মুখী বিষয়ে) মিসবাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: সাদারা শব্দটি কাকাআদা এর ওজনে ব্যবহৃত হয় যার মূল অর্থ হলো প্রস্থান করা বা ফিরে আসা। বলা হয়, কাওম বা দলটি প্রস্থান করল। সাদারতু মিনাল মাওদি অর্থ আমি স্থানটি থেকে ফিরে এলাম।
এবং এতেই রয়েছে ওয়ারাদা, যখন উট বা অন্য কিছু পানির ঘাটে পৌঁছে, ভেতরে প্রবেশ করা ছাড়াই বা কখনো ভেতরে প্রবেশ সহকারে; এর ইসিম হলো উইর্দ। আওরাদতুহু মানে আমি তাকে পানি পানের স্থানে নিয়ে এলাম। উইর্দ হলো সাদর এর বিপরীত এবং ঈরাদ হলো ইসদার এর বিপরীত। (তাঁর কথা: এবং সে তাকে আহ্বান করছে) অর্থাৎ তাঁর সময়ের অধিবাসীরা; আর এখানে স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহার করা হয়েছে কারণ আহল (অধিবাসী) শব্দটি জামাআত (সমষ্টি) অর্থে ব্যবহৃত হয়। (তাঁর কথা: যদি বিরোধ করা হতো) অর্থাৎ যদি কেউ তাঁর বিরোধিতা করতে চাইত। (তাঁর কথা: তবে বিদ্যমান অবস্থা বলত) অর্থাৎ তাঁর শানে বা তাঁর ক্ষেত্রে। (তাঁর কথা: তিনি বলেছেন) অর্থাৎ সেই ইমাম কথা বলেছেন এবং কোনো সুযোগ অবশিষ্ট রাখেননি। (তাঁর কথা: এবং তিনি উচ্চে আরোহণ করেছেন) অর্থাৎ উপরে উঠেছেন। এবং তাঁর কথা 'শোনা যায়নি': অর্থাৎ তিনি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার কারণে যেন আকাশে উঠে গিয়েছেন, ফলে অতি দূরত্বের কারণে তাঁর ক্ষেত্রে কোনো বক্তার এই কথা শোনা যায়নি যে: সুরাইয়া নক্ষত্র ধরা ছোঁয়ার কত বাইরে ইত্যাদি। (তাঁর কথা: এবং উচ্চতায় পৌঁছেছেন) এটি তাসামা শব্দের সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। (তাঁর কথা: পাল্লা দিচ্ছেন) অর্থাৎ উচ্চতা ও জ্যোতিতে তাদের সমকক্ষ হচ্ছেন। (তাঁর কথা: দিগন্তসমূহকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন) অর্থাৎ সকল অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। এটি আল্লাহ তাআলার বাণী "গ্রামবাসীদের জিজ্ঞেস করো" এর মতো। (তাঁর কথা: অনুসারীদের দলবদ্ধভাবে পরিচালিত করেছেন) অর্থাৎ তাঁদের প্রথম ও শেষ সকলকেই; এটি তাঁর অনুসারীদের জন্য তাময়িয এবং এটি হামযার যবর যোগে। আর তাঁর কথা 'পরিচালিত করেছেন': অর্থাৎ পেছনে রেখে গিয়েছেন। এটি তাঁদের কথা সাকাতুল জায়শ (সৈন্যবাহিনীর পশ্চাদ্ভাগ) থেকে নেওয়া হয়েছে।
--
[রশীদীর টীকা] এবং তিনি একে তিনটি স্থায়ী ভাগে বিভক্ত করেছেন যা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে এবং এর দ্বারাই শিরোনামটি পরিচয় লাভ করেছে। এটি আমাদের শাইখের টীকায় যা আছে তার চেয়ে উত্তম। (তাঁর কথা: এবং নেতা) এটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য), এর খবর হলো মুহিউদ্দীন অথবা কদ মালা (পরিপূর্ণ করেছেন)। (তাঁর কথা: ষষ্ঠ শতাব্দী হতে) এর সঠিক হলো সপ্তম। (তাঁর কথা: প্রতিটি বহির্গামী ও অন্তর্মুখী বিষয়ে) অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তি যে প্রস্থান করে বা প্রবেশ করে, অথবা প্রতিটি ঘটনা যা ঘটে বা উপস্থিত হয়। (তাঁর কথা: এবং সে) অর্থাৎ সুউচ্চ মর্যাদা ও স্তরসমূহ যা উক্ত স্থান বা প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায়, যেমনটি এই আয়াতে রয়েছে: "যতক্ষণ না তা পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ল" [ছোয়াদ: ৩২]। আর এটি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিবাসীদের দিকে প্রত্যাবর্তন করাও জায়েয আছে এবং এটিই আমাদের শাইখের অবলম্বিত পদ্ধতির চেয়ে উত্তম।
(তাঁর কথা: তিনি উচ্চে আরোহণ করেছেন ফলে শোনা যায়নি সুরাইয়া নক্ষত্র কোথায় ইত্যাদি) এখানে ইউসমাউ শব্দটি মাজহুল (কর্মবাচ্য) হিসেবে পড়তে হবে। অর্থ হলো: তিনি ফযিলত অর্জনে এত উচ্চে আরোহণ করেছেন যে, সুরাইয়া নক্ষত্রের মতো দূরবর্তী সর্বোচ্চ শিখরও অর্জন করেছেন। ফলে এই প্রবাদটি বাতিল হয়ে গিয়েছে যা দ্বারা কোনো কিছুকে অসম্ভব মনে করা হতো, তাই এরপর আর তা শোনা যায়নি। কেননা বাস্তবে যখন কোনো কিছু অর্জিত হয়ে যায়, তখন আর তা অসম্ভব থাকে না। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন। আর এটি আমাদের শাইখের ব্যাখ্যার চেয়ে অধিক উত্তম। (তাঁর কথা: মুতাতাবিইল) এর চেয়ে মুতাবিল শব্দটি বেশি উত্তম।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
مَا سَطَرَ عِلْمَهُ فِي الْأَوْرَاقِ، شَيْخُ الْإِسْلَامِ بِلَا نِزَاعٍ وَبَرَكَةُ الْأَنَامِ بِلَا دِفَاعٍ الْقُطْبُ الرَّبَّانِيُّ وَالْعَالِمُ الصَّمَدَانِيُّ مُحْيِي الدِّينِ النَّوَوِيُّ، تَغَمَّدَهُ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ، وَنَفَعَنَا وَالْمُسْلِمِينَ بِبَرَكَتِهِ بِجَاهِ مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَعِتْرَتِهِ، قَدْ مَلَأَ عِلْمُهُ الْآفَاقَ وَأَذْعَنَ لَهُ أَهْلُ الْخِلَافِ وَالْوِفَاقِ، وَأَجَلُّ مُصَنَّفٍ لَهُ فِي الْمُخْتَصَرَاتِ وَتُسْكَبُ عَلَى تَحْصِيلِهِ الْعَبَرَاتُ، كِتَابُ الْمِنْهَاجِ مَنْ لَمْ تَسْمَحْ بِمِثْلِهِ الْقَرَائِحُ، وَلَمْ تَطْمَحْ إلَى النَّسْجِ عَلَى مِنْوَالِهِ الْمَطَامِحُ، بَهَرَ بِهِ الْأَلْبَابَ وَأَتَى فِيهِ بِالْعَجَبِ الْعُجَابِ، وَأَبْرَزَ مُخَبَّآتِ الْمَسَائِلِ بِيضَ الْوُجُوهِ كَرِيمَةَ الْأَحْسَابِ، أَبْدَعَ فِيهِ التَّأْلِيفَ وَزَيَّنَهُ بِحُسْنِ التَّرْصِيعِ وَالتَّرْصِيفِ، وَأَوْدَعَهُ الْمَعَانِيَ الْغَزِيرَةَ بِالْأَلْفَاظِ الْوَجِيزَةِ، وَقَرَّبَ الْمَقَاصِدَ الْبَعِيدَةَ بِالْأَقْوَالِ السَّدِيدَةِ، فَهُوَ يُسَاجِلُ الْمُطَوَّلَاتِ عَلَى صِغَرِ حَجْمِهِ، وَيُبَاهِلُ الْمُخْتَصَرَاتِ بِغَزَارَةِ عِلْمِهِ، وَيَطْلُعُ كَالْقَمَرِ سَنَاءً وَيُشْرِقُ كَالشَّمْسِ بَهْجَةً وَضِيَاءً، وَلَقَدْ أَجَادَ فِيهِ الْقَائِلُ حَيْثُ قَالَ:
قَدْ صَنَّفَ الْعُلَمَاءُ وَاخْتَصَرُوا فَلَمْ
… يَأْتُوا بِمَا اخْتَصَرُوهُ كَالْمِنْهَاجِ
جَمَعَ الصَّحِيحَ مَعَ الْفَصِيحِ وَفَاقَ بِال
… تَرْجِيحِ عِنْدَ تَلَاطُمِ الْأَمْوَاجِ
ــ
[حاشية الشبراملسي] قَوْلُهُ: مَا سَطَرَ عِلْمَهُ فِي الْأَوْرَاقِ) أَيْ مُدَّةَ تَسْطِيرِ مَا أَلَّفَهُ فِي الْأَوْرَاقِ (قَوْلُهُ: الْقُطْبُ الرَّبَّانِيُّ) أَيْ الْمُتَأَلِّهُ وَالْعَارِفُ بِاَللَّهِ تَعَالَى اهـ مُخْتَارٌ. وَالْمُتَأَلِّهُ الْمُتَعَبِّدُ كَمَا فِي الْمِصْبَاحِ. وَقَالَ الشَّيْخُ فِي الْكِتَابِ الْمَذْكُورِ أَيْضًا: الرَّبَّانِيُّ الْمَنْسُوبُ إلَى الرَّبِّ: أَيْ الْمَالِكُ. وَقَالَ ابْنُ حَجَرٍ فِي شَرْحِ الْأَرْبَعِينَ: الرَّبَّانِيُّ هُوَ مِنْ أُفِيضَتْ عَلَيْهِ الْمَعَارِفُ الْإِلَهِيَّةُ فَعَرَفَ رَبَّهُ وَرَبَّى النَّاسَ بِعِلْمِهِ انْتَهَى. فَمَا ذَكَرَهُ مُبَيِّنٌ لِلْمُرَادِ بِالنِّسْبَةِ إلَى الرَّبِّ (قَوْلُهُ: وَالْعَالِمُ الصَّمَدَانِيُّ) أَيْ الْمَنْسُوبُ إلَى الصَّمَدِ: أَيْ الْمَقْصُودُ فِي الْحَوَائِجِ، قَالَهُ شَيْخُ الْإِسْلَامِ فِي شَرْحِ الرِّسَالَةِ الْقُشَيْرِيَّةِ اهـ.
وَلَعَلَّ الْمُرَادَ هُنَا مِنْ النِّسْبَةِ أَنَّهُ يَعْتَمِدُ فِي أُمُورِهِ كُلِّهَا عَلَى اللَّهِ بِحَيْثُ لَا يَلْتَجِئُ إلَى غَيْرِهِ تَعَالَى فِي أَمْرٍ مَا اهـ (قَوْلُهُ: مُحْيِي الدِّينِ) لَقَبُهُ وَاسْمُهُ يَحْيَى (قَوْلُهُ: وَعِتْرَتِهِ) بِالْمُثَنَّاةِ الْفَوْقِيَّةِ، وَالْعِتْرَةُ كَمَا فِي الْمُخْتَارِ نَسْلُ الرَّجُلِ وَرَهْطُهُ الْأَدْنَوْنَ اهـ (قَوْلُهُ: وَأَذْعَنَ لَهُ) أَيْ انْقَادَ (قَوْلُهُ: عَلَى تَحْصِيلِهِ) أَيْ حَفِظَهُ (قَوْلُهُ: الْعَبَرَاتِ) أَيْ الدُّمُوعَ (قَوْلُهُ: كِتَابُ الْمِنْهَاجِ مَنْ لَمْ إلَخْ) أَيْ كِتَابُ مَنْ لَمْ إلَخْ نَزَّلَهُ مَنْزِلَةَ الْعَاقِلِ فَعَبَّرَ عَنْهُ بِمَنْ لِكَثْرَةِ الِانْتِفَاعِ بِهِ كَمَا يُنْتَفَعُ بِأَصْحَابِ الرَّأْيِ فَيَكُونُ اسْتِعَارَةً مُصَرَّحَةً (قَوْلُهُ: وَلَمْ تَطْمَحْ) أَيْ تَلْتَفِتْ، وَعِبَارَةُ الْمُخْتَارِ: طَمَحَ بَصَرُهُ إلَى الشَّيْءِ: ارْتَفَعَ، وَبَابُهُ خَضَعَ، وَطِمَاحًا أَيْضًا بِالْكَسْرِ اهـ (قَوْلُهُ: بَهَرَ بِهِ) أَيْ غَلَبَ بِهِ اهـ مُخْتَارٌ.
وَفِي الْمِصْبَاحِ: بَهَرَهُ بَهْرًا مِنْ بَابِ نَفَعَ: غَلَبَهُ وَفَضَلَهُ، وَمِنْهُ قِيلَ لِلْقَمَرِ الْبَاهِرُ لِظُهُورِهِ عَلَى جَمِيعِ الْكَوَاكِبِ (قَوْلُهُ: بِالْعَجَبِ الْعُجَابِ) أَيْ بِالشَّيْءِ الْغَرِيبِ بِالنِّسْبَةِ لِأَمْثَالِهِ مِمَّا هُوَ عَلَى حَجْمِهِ، فَالْعُجَابُ وَصْفٌ قَصَدَ بِهِ الْمُبَالَغَةَ قَالَ الْبَيْضَاوِيُّ فِي تَفْسِيرٍ قَوْله تَعَالَى {إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} [ص: 5] : أَيْ بَلِيغٌ فِي الْعَجَبِ، فَإِنَّهُ خِلَافُ مَا أَطْبَقَ عَلَيْهِ آبَاؤُنَا وَمَا نُشَاهِدُهُ مِنْ أَنَّ الْوَاحِدَ لَا يَفِي عِلْمُهُ وَقُدْرَتُهُ بِالْأَشْيَاءِ الْكَثِيرَةِ اهـ (قَوْلُهُ: وَالتَّرْصِيفُ) قَالَ الدَّمَامِينِيُّ فِي التَّرْصِيفِ مَا حَاصِلُهُ: لَمْ يُسْمَعْ الْفِعْلُ فِي هَذِهِ الْمَادَّةِ إلَّا مُجَرَّدًا، يُقَالُ رَصَفْت الْحِجَارَةَ بِالتَّخْفِيفِ رَصْفًا: إذَا وَضَعْت بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ. وَقَالَ فِي الْمُخْتَارِ: بَابُهُ نَصَرَ، وَقَالَ فِيهِ أَيْضًا: التَّرْصِيعُ التَّرْكِيبُ اهـ (قَوْلُهُ فَهُوَ يُسَاجِلُ) أَيْ يُعْطِي كَعَطَائِهَا: أَيْ يُفِيدُ كَإِفَادَتِهَا، وَأَصْلُهُ يُغَالِبُ فِي الْإِعْطَاءِ فَيَغْلِبُ غَيْرَهُ وَهُوَ بِالْجِيمِ مُخْتَارٌ (قَوْلُهُ: وَيُبَاهِلُ الْمُخْتَصَرَاتِ) أَيْ يُغَالِبُ (قَوْلُهُ: وَيَطْلُعُ) بَابُهُ دَخَلَ مُخْتَارٌ (قَوْلُهُ كَالْقَمَرِ سَنَاءً) بِالْمَدِّ: أَيْ شَرَفًا
ــ
[حاشية الرشيدي] قَوْلُهُ: مَا سَطَرَ عِلْمُهُ) مَا فِيهِ مَصْدَرِيَّةٌ (قَوْلُهُ: وَتُسْكَبُ) الْوَاوُ لِلْحَالِ، وَيَجُوزُ أَنْ تَكُونَ عَاطِفَةً لِجَوَازِ عَطْفِ الْفِعْلِ عَلَى الِاسْمِ الشَّبِيهِ بِالْفِعْلِ، فَهُوَ مَعْطُوفٌ عَلَى مُصَنَّفٍ، وَيَنْحَلُّ الْمَعْنَى إلَى قَوْلِنَا، وَأَجَلُّ مَا صَنَّفَهُ فِي الْمُخْتَصَرَاتِ، وَأَجَلُّ مَا تُسْكَبُ، وَيَجُوزُ عَطْفُهُ عَلَى مَا فِي الْمُخْتَصَرَاتِ (قَوْلُهُ: عَلَى تَحْصِيلِهِ) أَيْ فِي شَأْنِ تَحْصِيلِهِ فَوْتًا أَوْ حُصُولًا فَعَلَى بِمَعْنَى فِي (قَوْلُهُ: تُطْمَحُ) أَيْ تُرْفَعُ كَمَا فِي الْمُخْتَارِ، وَهُوَ أَصْوَبُ مِمَّا فِي حَاشِيَةِ شَيْخِنَا (قَوْلُهُ: الْمَطَامِحُ) أَيْ مَحَلَّاتُ الطَّمَحِ، وَهُوَ الْإِبْصَارُ (قَوْلُهُ: بِيضٍ) بِالْجَرِّ وَصْفُ الْمُخَبَّآتِ أَوْ بِالنَّصْبِ حَالٌ مِنْهُ، وَهُوَ أَبْلَغُ لِإِفَادَتِهِ أَنَّهُ الَّذِي بَيَّضَهَا بِالتَّرْفِيهِ وَنَحْوِهِ، وَأَظْهَرَ كَرَامَةَ أَنْسَابِهَا
যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর জ্ঞান পত্রপল্লবে লিপিবদ্ধ থাকবে, তিনি নিঃসন্দেহে শাইখুল ইসলাম এবং বিনাবাক্যে সৃষ্টির জন্য কল্যাণ ও বরকতস্বরূপ; রব্বানী কুতুব এবং সমদানী আলিম মুহিউদ্দীন আন-নববী। আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে সিক্ত করুন এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর পরিবার ও তাঁর বংশধরদের উসিলায় তাঁর বরকতের মাধ্যমে আমাদের ও সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন। তাঁর ইলম দিগন্তব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিরুদ্ধবাদী ও অনুসারী সকলেই তাঁর কাছে নতি স্বীকার করেছে। তাঁর রচিত সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম এবং যা অর্জনের জন্য অশ্রু বিসর্জন দেওয়া হয়, তা হলো কিতাবুল মিনহাজ; এমন কিতাব যার মতো কিছু রচনা করতে প্রতিভাধরগণ সক্ষম হয়নি এবং যার সমতুল্য কিছু বুননের আকাঙ্ক্ষা কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষীও করেনি। এর মাধ্যমে তিনি জ্ঞানীদের অভিভূত করেছেন এবং এতে বিস্ময়কর সব বিষয় নিয়ে এসেছেন। তিনি মাসআলাগুলোর লুকায়িত দিকগুলোকে উজ্জ্বল চেহারা ও সুমহান আভিজাত্যসহ ফুটিয়ে তুলেছেন। এতে তিনি রচনার অভিনাবত্ব দেখিয়েছেন এবং একে চমৎকার বিন্যাস ও সুশৃঙ্খল সজ্জায় অলঙ্কৃত করেছেন। সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে তিনি এতে বিপুল অর্থের সমাবেশ ঘটিয়েছেন এবং সঠিক বক্তব্যের মাধ্যমে দূরবর্তী লক্ষ্যসমূহকে নিকটবর্তী করেছেন। এটি ছোট কলেবরের হওয়া সত্ত্বেও বিশদ গ্রন্থগুলোর সাথে পাল্লা দেয় এবং ইলমের প্রাচুর্যের কারণে অন্যান্য সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে। এটি উচ্চমর্যাদায় চাঁদের মতো উদিত হয় এবং আনন্দ ও জ্যোতিতে সূর্যের মতো প্রজ্বলিত হয়। এ সম্পর্কে জনৈক কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:
নিশ্চয়ই উলামায়ে কেরাম গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তা সংক্ষেপ করেছেন, কিন্তু তাঁরা
… মিনহাজের মতো কোনো সংক্ষিপ্তসার আনতে পারেননি।
এটি বিশুদ্ধ মতের সাথে প্রাঞ্জল ভাষাকে একত্রিত করেছে এবং মতভেদের উত্তাল
… তরঙ্গের মাঝে সঠিক সিদ্ধান্তটি বেছে নেওয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।
--
[হাশিয়া আশ-শুবরামাল্লিসি] তাঁর উক্তি: (যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর জ্ঞান পাতায় পাতায় লিপিবদ্ধ থাকবে) অর্থাৎ কাগজে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ লিপিবদ্ধ থাকার সময়কাল পর্যন্ত। (তাঁর উক্তি: রব্বানী কুতুব) অর্থাৎ যিনি ইবাদতগুজার এবং মহান আল্লাহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানী। 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে রয়েছে যে, 'মুতাআল্লিহ' মানে হলো ইবাদতগুজার। শাইখ উক্ত কিতাবে আরও বলেছেন: 'রব্বানী' শব্দটি 'রব' অর্থাৎ মালিক বা প্রতিপালকের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। ইবনে হাজার 'আরবাঈন'-এর শারহে বলেছেন: 'রব্বানী' হলেন তিনি যাঁর ওপর ঐশী জ্ঞান ঢেলে দেওয়া হয়েছে, ফলে তিনি তাঁর রবকে চিনেছেন এবং তাঁর ইলম দিয়ে মানুষকে গড়ে তুলেছেন। সুতরাং তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা 'রব' শব্দের দিকে সম্বন্ধের উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে। (তাঁর উক্তি: সমদানী আলিম) অর্থাৎ 'সমদ' এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত; যার অর্থ হলো সকল প্রয়োজনে যাঁর মুখাপেক্ষী হওয়া হয়। শাইখুল ইসলাম 'রিসালাহ কুশাইরিয়্যাহ'-এর শারহে এমনটিই বলেছেন।
সম্ভবত এখানে সম্বন্ধের উদ্দেশ্য হলো তিনি তাঁর সমস্ত কাজে আল্লাহর ওপর এমনভাবে নির্ভর করেন যে কোনো বিষয়েই আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন না। (তাঁর উক্তি: মুহিউদ্দীন) এটি তাঁর উপাধি এবং তাঁর নাম হলো ইয়াহইয়া। (তাঁর উক্তি: তাঁর বংশধর) 'ইতরাহ' শব্দের অর্থ হলো—যেমনটি 'মুখতার' গ্রন্থে রয়েছে—ব্যক্তির বংশধর এবং তাঁর নিকটতম আত্মীয়বর্গ। (তাঁর উক্তি: নতি স্বীকার করেছে) অর্থাৎ অনুগত হয়েছে। (তাঁর উক্তি: তা অর্জনের জন্য) অর্থাৎ তা মুখস্থ করার জন্য। (তাঁর উক্তি: অশ্রু) অর্থাৎ চোখের পানি। (তাঁর উক্তি: মিনহাজ গ্রন্থ এমন যে ইত্যাদি) অর্থাৎ এমন একজনের গ্রন্থ যিনি...। এখানে কিতাবটিকে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, তাই এর ব্যাপক উপকারের কারণে 'মা' এর পরিবর্তে 'মান' (ব্যক্তিবচক সর্বনাম) ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের থেকে উপকৃত হওয়া যায়, তাই এটি একটি রূপক অলঙ্কার। (তাঁর উক্তি: আকাঙ্ক্ষা করেনি) অর্থাৎ ভ্রুক্ষেপ করেনি। 'মুখতার' গ্রন্থের ভাষ্য হলো: কোনো বস্তুর দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ হওয়া বা উচ্চাভিলাষী হওয়া। (তাঁর উক্তি: অভিভূত করেছেন) অর্থাৎ এর মাধ্যমে তিনি বিজয়ী হয়েছেন।
'মিসবাহ' গ্রন্থে রয়েছে: 'বাহারাহু' মানে সে তার ওপর বিজয়ী হয়েছে এবং শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। এখান থেকেই চাঁদকে 'বাহির' বলা হয়, কারণ এটি সমস্ত নক্ষত্রের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। (তাঁর উক্তি: বিস্ময়কর সব বিষয় নিয়ে) অর্থাৎ এর সমজাতীয় এবং সমআয়তনের গ্রন্থগুলোর তুলনায় এটি একটি অনন্য সাধারণ বিষয়। 'উজাব' শব্দটি অতিশয়োক্তি বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। বায়যাভী মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই এটি এক বিস্ময়কর বস্তু} [ছোয়াদ: ৫]-এর তাফসিরে বলেন: অর্থাৎ এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর। কেননা এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের অনুসৃত পথ এবং আমাদের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার পরিপন্থী যে, একজন ব্যক্তির জ্ঞান ও ক্ষমতা এত বিপুল সংখ্যক বিষয়কে আয়ত্ত করতে পারে। (তাঁর উক্তি: সুশৃঙ্খল সজ্জা) দামামিনী 'তারসিফ' সম্পর্কে যা বলেছেন তার সারমর্ম হলো: এই ধাতুর ক্রিয়াপদ কেবল 'মুজাররাদ' (মৌলিক রূপ) হিসেবেই শোনা গেছে। বলা হয়, আমি পাথরগুলো একটির ওপর একটি রেখেছি। 'মুখতার' গ্রন্থে বলা হয়েছে এটি 'নাসারা' বাব থেকে। তিনি আরও বলেছেন: 'তারসি' অর্থ হলো বিন্যস্ত করা। (তাঁর উক্তি: পাল্লা দেয়) অর্থাৎ বড় গ্রন্থগুলোর মতোই উপকার প্রদান করে। এর মূল অর্থ হলো পানি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করা এবং অন্যের ওপর জয়ী হওয়া। (তাঁর উক্তি: শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে) অর্থাৎ অন্য সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোকে ছাড়িয়ে যায়। (তাঁর উক্তি: উদিত হয়) এটি 'দাখালা' বাব থেকে। (তাঁর উক্তি: উচ্চমর্যাদায় চাঁদের মতো) অর্থাৎ আভিজাত্য ও সম্মানে।
--
[হাশিয়া আর-রশিদি] তাঁর উক্তি: (যা লিপিবদ্ধ হয়েছে) এখানে 'মা' শব্দটি মাসদারিয়া। (তাঁর উক্তি: বিসর্জন দেওয়া হয়) এখানে 'ওয়াও' শব্দটি হাল (অবস্থা) বুঝানোর জন্য এসেছে। এটি আতিফাহ (সংযোজক) হওয়াও সম্ভব, কারণ বিশেষ্যের ওপর ক্রিয়ার সংযোজন জায়েজ। ফলে এটি 'মুসান্নাফ' শব্দের ওপর আতফ হবে এবং অর্থ হবে: তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম এবং যা অর্জনের জন্য অশ্রু বিসর্জন দেওয়া হয় তা শ্রেষ্ঠতম। (তাঁর উক্তি: তা অর্জনের ক্ষেত্রে) অর্থাৎ তা অর্জন হওয়া বা না হওয়ার বিষয়ের ক্ষেত্রে। এখানে 'আলা' বর্ণটি 'ফি' (মধ্যে/ক্ষেত্রে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। (তাঁর উক্তি: আকাঙ্ক্ষা করেনি) অর্থাৎ উন্নত বা উচ্চাভিলাষী হয়নি যেমনটি 'মুখতার' গ্রন্থে আছে। এটিই অধিকতর সঠিক। (তাঁর উক্তি: আকাঙ্ক্ষাসমূহ) অর্থাৎ উচ্চদৃষ্টির স্থানসমূহ। (তাঁর উক্তি: উজ্জ্বল) এটি মাজরুর (জেরযুক্ত) হয়ে 'মুখাব্বাআত' এর বিশেষণ হতে পারে, অথবা মানসুব (যবরযুক্ত) হয়ে 'হাল' হতে পারে। দ্বিতীয়টি অধিক অর্থবহ, কারণ এটি বুঝায় যে তিনিই একে স্বাচ্ছন্দ্য ও সৌন্দর্যের মাধ্যমে উজ্জ্বল করেছেন এবং এর আভিজাত্যকে প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ١١)
لِمَ لَا وَفِيهِ مَعَ النَّوَوِيِّ الرَّافِعِيُّ
… حَبْرَانِ بَلْ بَحْرَانِ كَالْعَجَاجِ
مَنْ قَاسَهُ بِسِوَاهُ مَاتَ وَذَاكَ مِنْ
… خَسْفٍ وَمِنْ غَبْنٍ وَسُوءِ مِزَاجٍ
وَقَالَ الْآخَرُ:
لَقِيت خَيْرًا يَا نَوِيُّ
… وَوُقِيَتْ مِنْ أَلَمِ النَّوَى
فَلَقَدْ نَشَا بِك عَالِمٌ
… لِلَّهِ أَخْلَصَ مَا نَوَى
وَعَلَا عُلَاهُ وَفَضْلُهُ
… فَضْلَ الْحُبُوبِ عَلَى النَّوَى
جَزَاهُ اللَّهُ تَعَالَى عَنْ صَنِيعِهِ جَزَاءً مَوْفُورًا، وَجَعَلَ عَمَلَهُ مُتَقَبَّلًا وَسَعْيَهُ مَشْكُورًا، وَلَمْ تَزَلْ الْأَئِمَّةُ الْأَعْلَامُ قَدِيمًا وَحَدِيثًا كُلٌّ مِنْهُمْ مُذْعِنٌ لِفَضْلِهِ وَمُشْتَغِلٌ بِإِقْرَائِهِ وَشَرْحِهِ، وَعَادَ عَلَى كُلٍّ مِنْهُمْ بَرَكَةُ عَلَّامَةٍ نَوَى فَبَلَغَ قَصْدَهُ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَبَعْضُ شُرُوحِهِ عَلَى الْغَايَةِ فِي التَّطْوِيلِ، وَبَعْضُهَا اقْتَصَرَ فِيهِ غَالِبًا عَلَى الدَّلِيلِ وَالتَّعْلِيلِ.
هَذَا وَقَدْ أَرْدَفَهُ مُحَقِّقُ زَمَانِهِ وَعَالِمُ أَوَانِهِ وَحِيدُ دَهْرِهِ وَفَرِيدُ عَصْرِهِ فِي سَائِرِ الْعُلُومِ، الْمَنْثُورِ مِنْهَا وَالْمَنْظُومِ، شَيْخُ مَشَايِخِ الْإِسْلَامِ عُمْدَةُ الْأَئِمَّةِ الْأَعْلَامِ جَلَالُ الدِّينِ الْمَحَلِّيُّ، تَغَمَّدَهُ اللَّهُ تَعَالَى بِرَحْمَتِهِ وَأَسْكَنَهُ فَسِيحَ جَنَّتِهِ، بِشَرْحٍ كَشَفَ بِهِ الْمُعَمَّى وَجَلَا الْمُغْمَى، وَفَتَحَ بِهِ مُقْفَلَ أَبْوَابِهِ وَيَسَّرَ لِطَالِبِيهِ سُلُوكَ شِعَابِهِ، وَضَمَّنَهُ مَا يَمْلَأُ الْأَسْمَاعَ وَالنَّوَاظِرَ وَيُحَقِّقُ مَقَالَ الْقَائِلِ كَمْ تَرَكَ الْأَوَّلُ لِلْآخِرِ إلَّا أَنَّ الْقَدَرَ لَمْ يُسَاعِدْهُ عَلَى إيضَاحِهِ وَمَنَعَهُ مِنْ ذَلِكَ خَشْيَةَ فَجْأَةِ الْمَقْضِيِّ
ــ
[حاشية الشبراملسي] وَرِفْعَةً مُخْتَارٌ، فَهُوَ تَمْيِيزٌ أَوْ مَنْصُوبٌ عَلَى نَزْعِ الْخَافِضِ (قَوْلُهُ مَاتَ) أَيْ هَلَكَ حَسْرَةً (قَوْلُهُ: مِنْ خَسْفٍ) وَفِي نُسْخَةٍ حَنَقٍ، وَمَعْنَى مَا فِي الْأَصْلِ أَنَّهُ مَاتَ مِنْ التَّغَيُّرِ الَّذِي حَصَلَ لَهُ الْمُشْبِهُ لِذَهَابِ ضَوْءِ الْقَمَرِ، وَمَعْنَى الثَّانِي الْغَيْظُ، يُقَالُ حَنِقَ حَنَقًا مِنْ بَابِ تَعِبَ اغْتَاظَ (قَوْلُهُ: وَعَلَا عُلَاهُ) وَفِي نُسْخَةٍ عَدَاهُ فَضْلُهُ: أَيْ عَلَا فَضْلُهُ عَلَى أَعْدَائِهِ (قَوْلُهُ: بَرَكَةُ عَلَّامَةٍ نَوَى) كَانَ الظَّاهِرُ أَنْ يَقُولَ بَرَكَتُهُ، لَكِنَّهُ أَقَامَ الظَّاهِرَ مَقَامَ الضَّمِيرِ لِمَا اشْتَمَلَ عَلَيْهِ (قَوْلُهُ جَلَالُ الدِّينِ) كَانَ مَوْلِدُهُ سَنَةَ إحْدَى وَتِسْعِينَ وَسَبْعِمِائَةٍ، وَمَاتَ مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَسِتِّينَ وَثَمَانِمِائَةٍ وَعُمْرُهُ نَحْوُ ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ سَنَةً، وَأَخَذَ الْفِقْهَ عَنْ الشَّيْخِ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْعِرَاقِيِّ، وَهُوَ عَنْ الشَّيْخِ عَلَاءِ الدِّينِ الْعَطَّارِ، وَهُوَ عَنْ الْإِمَامِ النَّوَوِيِّ (قَوْلُهُ: الْمُعَمَّى) فِي بَعْضِ النُّسَخِ بَعْدَهُ: وَزَاحَ بِهِ، بَدَلَ قَوْلِهِ: وَجَلَا بِهِ الْمُغَمَّى (قَوْلُهُ: سُلُوكَ شِعَابِهِ) أَيْ طُرُقَهُ الضَّيِّقَةَ كَذَا قِيلَ. قَالَ فِي الْمِصْبَاحِ: الشِّعْبُ بِالْكَسْرِ الطَّرِيقُ، وَقِيلَ الطَّرِيقُ فِي الْجَبَلِ وَالْجَمْعُ شِعَابٌ اهـ.
وَعَلَيْهِ فَإِنَّمَا يَظْهَرُ التَّقْيِيدُ بِالضَّيِّقَةِ عَلَى الثَّانِي؛ لِأَنَّ مِنْ شَأْنِ الطَّرِيقِ بَيْنَ الْجَبَلَيْنِ ذَلِكَ، وَأَمَّا عَلَى الْأَوَّلِ فَالْمُتَبَادِرُ التَّفْسِيرُ بِالطُّرُقِ لَا بِقَيْدٍ (قَوْلُهُ: فَجْأَةَ الْمَقْضِيِّ) عِبَارَةُ الْمِصْبَاحِ فَجِئْت الرَّجُلَ أَفْجَأَهُ مَهْمُوزٌ مِنْ بَابِ تَعِبَ، وَفِي لُغَةٍ بِفَتْحَتَيْنِ جِئْته بَغْتَةً، وَالِاسْمُ الْفُجَاءَةُ بِالضَّمِّ وَالْمَدِّ، وَفِي لُغَةٍ وِزَانَ تَمْرَةٍ، وَفَجِئَهُ الْأَمْرُ مِنْ بَابَيْ تَعِبَ وَنَفَعَ
ــ
[حاشية الرشيدي] قَوْلُهُ: مِنْ سَحْقٍ) بِسِينٍ ثُمَّ حَاءٍ؛ وَفِي نُسْخَةٍ حَنَقٍ، وَالْأَظْهَرُ أَنْ تَكُونَ الْإِشَارَةُ فِي قَوْلِهِ وَذَاكَ لِلْقِيَاسِ الْمَفْهُومِ مِنْ قَاسَهُ؛ لِأَنَّ السَّحْقَ لَا يُؤَدِّي إلَى الْمَوْتِ عَادَةً، وَفِي نُسْخَةِ مِنْ خَسْفٍ بِتَقْدِيمِ الْخَاءِ عَلَى السِّينِ، وَفِيهَا رِكَّةٌ فِي الْمَعْنَى (قَوْلُهُ: وَقَالَ الْآخَرُ: لَقِيت خَيْرًا يَا نَوَى إلَخْ) الْأَنْسَبُ سِيَاقُ هَذَا فِيمَا مَرَّ فِي مِدْحَةِ الْمُصَنِّفِ؛ لِأَنَّ مَا هُنَا فِي مِدْحَةِ الْكِتَابِ.
(قَوْلُهُ: عَلَامَةُ نَوَى) الْمَقَامُ هُنَا لِلْإِظْهَارِ كَمَا صَنَعَ الشَّارِحُ؛ لِأَنَّ مَا قَبْلَهُ فِي مِدْحَةِ الْكِتَابِ خِلَافًا لِمَنْ جَعَلَ الْمَقَامَ لِلْإِضْمَارِ (قَوْلُهُ: وَبَعْضُهَا اُقْتُصِرَ) بِالْبِنَاءِ لِلْمَفْعُولِ (قَوْلُهُ: كَشَفَ مِنْهُ الْمُعْمَى إلَخْ) أَيْ بِأَنْ حَلَّ مِنْهُ الْعِبَارَاتِ وَلَوْ بِالْإِشَارَةِ إلَى ذَلِكَ بِعِبَارَةٍ وَجِيزَةٍ لِيُوَافِقَ قَوْلَهُ الْآتِي فَتَرَكَهُ عَسِرَ التَّفَهُّمِ إلَخْ (قَوْلُهُ: كَشَفَ مِنْهُ) فِي نُسْخَةٍ بِهِ بَدَلَ مِنْهُ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ وَاَلَّتِي بَعْدَهَا وَهِيَ أَنْسَبُ بِقَوْلِهِ وَفَتَحَ إلَخْ، إلَّا أَنَّ النُّسْخَةَ الْأُولَى أَبْلَغُ لِمَا فِيهَا مِنْ الِاسْتِعَارَةِ بِالْكِنَايَةِ الْأَبْلَغُ مِنْ الْحَقِيقَةِ (قَوْلُهُ: مَا يَمْلَأُ الْأَسْمَاعَ وَالنَّوَاظِرَ) لَا يَمْتَلِئَانِ إلَّا مِنْهَا لِإِعْرَاضِهِمَا عَمَّا عَدَاهَا (قَوْلُهُ: عَلَى إيضَاحِهِ) أَيْ الشَّرْحِ كَمَا لَا يَخْفَى (قَوْلُهُ: وَمَنَعَهُ مِنْ ذَلِكَ خَشْيَةُ إلَخْ) فِيهِ مَنْعٌ ظَاهِرٌ، فَإِنَّ تَرْكَهُ عَلَى هَذَا النَّمَطِ مَقْصُودٌ لَهُ: أَيْ مَقْصُودٌ
কেন হবে না, অথচ এতে ইমাম নববীর সাথে ইমাম রাফিয়ীও রয়েছেন
… তাঁরা দুইজন বিজ্ঞ আলিম, বরং তরঙ্গবিক্ষুব্ধ উত্তাল দুই সমুদ্রের ন্যায়।
যে ব্যক্তি তাঁকে অন্যের সাথে তুলনা করবে সে ধ্বংস হবে, আর তা হবে
… অবনমন, প্রবঞ্চনা ও মেজাজের ভারসাম্যহীনতার কারণে।
অন্য একজন কবি বলেছেন:
হে নববী, আপনি কল্যাণের সাক্ষাৎ পেয়েছেন
… এবং বিচ্ছেদের যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
আপনার মাধ্যমে এমন এক আলিমের উদ্ভব হয়েছে
… যিনি আল্লাহর জন্য নিজের নিয়তকে একান্ত খাঁটি করেছিলেন।
তাঁর উচ্চমর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব ছাপিয়ে গেছে
… যেমন দানা বীজের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে।
মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর কর্মের জন্য পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করুন, তাঁর আমল কবুল করুন এবং তাঁর প্রচেষ্টাকে প্রশংসিত করুন। প্রাচীন ও আধুনিক কালের শ্রেষ্ঠ ইমামগণ সর্বদা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কাছে নতি স্বীকার করেছেন এবং তাঁর কিতাব পাঠদানে ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে ব্যাপৃত রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের ওপর সেই আল্লামার বরকত বর্ষিত হয়েছে যিনি উত্তম নিয়ত করেছিলেন, ফলে তিনি তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছেছেন। প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি মানুষ তা-ই পায় যা সে নিয়ত করে। তাঁর ওপর লিখিত কোনো কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ অতি দীর্ঘায়িত হয়েছে, আবার কোনো কোনোটিতে মূলত দলিল ও যৌক্তিক কারণ বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে।
এর পরপরই তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ গবেষক, স্বীয় যুগের অদ্বিতীয় আলিম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায়—গদ্য ও পদ্য উভয় ক্ষেত্রে—নিজের সময়ের অনন্য ব্যক্তিত্ব, শাইখুল ইসলামদেরও উস্তাদ, শ্রেষ্ঠ ইমামগণের আশ্রয়স্থল জালালুদ্দিন আল-মাহাল্লী। আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমতে সিক্ত করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন। তিনি এমন এক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন যার মাধ্যমে রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে এবং অস্পষ্টতা দূরীভূত হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি কিতাবের রুদ্ধ দুয়ারগুলো উন্মুক্ত করেছেন এবং জ্ঞানান্বেষীদের জন্য এর দুর্গম পথগুলো সুগম করে দিয়েছেন। তিনি এতে এমন সব বিষয় সন্নিবেশিত করেছেন যা কান ও চোখকে তৃপ্ত করে এবং প্রবাদবাক্যটিকে সত্য প্রমাণ করে যে, 'পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন'। তবে নিয়তি তাঁকে এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা সমাপ্ত করার সুযোগ দেয়নি এবং মৃত্যুর আকস্মিক আশঙ্কাই তাঁকে এ থেকে বিরত রেখেছে।
--
[হাশিয়া আশ-শুবরামাল্লিসি]এবং 'রিফআতান' (উচ্চতা) শব্দটি মনোনীত, এটি তাময়িজ অথবা উহ্য হরফে জারের কারণে মানসুব হয়েছে। (তাঁর কথা: সে মারা গেছে) অর্থাৎ আক্ষেপ বা অনুশোচনায় ধ্বংস হয়েছে। (তাঁর কথা: খাসফ হতে) একটি পাণ্ডুলিপিতে 'হানাক' (ক্রোধ) শব্দ রয়েছে। মূল পাঠের অর্থ হলো সে সেই পরিবর্তনের কারণে ধ্বংস হয়েছে যা চন্দ্রগ্রহণ বা আলো চলে যাওয়ার সাদৃশ্য রাখে। আর দ্বিতীয় পাঠের অর্থ হলো প্রচণ্ড রাগ। বলা হয়: সে রাগান্বিত হয়েছে যেমন ক্লান্ত হওয়া বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। (তাঁর কথা: তাঁর উচ্চমর্যাদা ছাপিয়ে গেছে) অন্য পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব শত্রুদের অতিক্রম করে গেছে। (তাঁর কথা: আল্লামার বরকত যিনি নিয়ত করেছেন) বাহ্যত 'তাঁর বরকত' বলা উচিত ছিল, কিন্তু গুণের আধিক্যের কারণে সর্বনামের স্থলে স্পষ্ট বিশেষ্য পদ ব্যবহার করা হয়েছে। (তাঁর কথা: জালালুদ্দিন) তাঁর জন্ম সাতশ একানব্বই হিজরি সনে এবং তিনি আটশ চৌষট্টি হিজরি সনের প্রথম দিনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় তিয়াত্তর বছর। তিনি ফিকহ শাস্ত্র অর্জন করেছেন শাইখ আবদুর রহিম আল-ইরাকি থেকে, তিনি শাইখ আলাউদ্দিন আল-আত্তার থেকে এবং তিনি ইমাম নববী থেকে। (তাঁর কথা: আল-মুআম্মা/রহস্যময়) কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে এরপর 'তার মাধ্যমে দূরীভূত হয়েছে' কথাটি রয়েছে, যা 'অস্পষ্টতা দূর করেছেন' বাক্যের পরিবর্তে এসেছে। (তাঁর কথা: এর দুর্গম পথগুলো) অর্থাৎ এর সংকীর্ণ পথসমূহ—এরূপ বলা হয়েছে। 'মিসবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'শীব' (জের যুক্ত শিন দিয়ে) অর্থ পথ, আবার বলা হয়েছে পাহাড়ের মধ্যে পথ, এর বহুবচন হলো 'শিআব'। ইতি।
সেই হিসেবে 'সংকীর্ণ' হওয়ার শর্তটি দ্বিতীয় সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়; কেননা দুই পাহাড়ের মাঝখানের পথ সাধারণত তেমনই হয়ে থাকে। তবে প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী এর অর্থ হবে কেবল পথসমূহ, কোনো শর্ত ছাড়াই। (তাঁর কথা: মৃত্যুর আকস্মিকতা) 'মিসবাহ' গ্রন্থের ভাষ্য হলো: আমি লোকটির কাছে আকস্মিক এসেছি, এটি হামজা যুক্ত ক্রিয়া, 'তা'ইবা' বাব থেকে। অন্য মতে এটি দুই জবর সহকারে হয়, যার অর্থ আমি তার কাছে হঠাৎ এসেছি। এর বিশেষ্য হলো 'ফুজআহ' (পেশ ও মাদ্ সহকারে)। অন্য মতে এটি 'তামরাহ' এর ওজনে হবে। আর বিষয়টি আকস্মিক ঘটাকে 'তাহিবা' ও 'নাফাআ' উভয় বাব থেকেই বর্ণনা করা হয়।
--
[হাশিয়া আর-রাশিদি](তাঁর কথা: সাহক হতে) সিন ও হা বর্ণের সমন্বয়ে; একটি পাণ্ডুলিপিতে 'হানাক' (ক্রোধ) শব্দ রয়েছে। অধিক স্পষ্ট মত হলো যে, 'ওয়াজালিকা' (আর তা) বাক্যাংশের ইশারাটি 'ক্বাসা' শব্দ থেকে প্রাপ্ত কিয়াসের দিকে; কেননা চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া (সাহক) সাধারণত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায় না। অন্য পাণ্ডুলিপিতে সিন বর্ণের আগে খা দিয়ে 'খাসফ' (অবনমন) পাঠ রয়েছে, তবে এটি অর্থের দিক থেকে কিছুটা দুর্বল। (তাঁর কথা: অন্য একজন বলেছেন: হে নববী, আপনি কল্যাণের সাক্ষাৎ পেয়েছেন ইত্যাদি) এই কবিতাটির বর্ণনা লেখকের প্রশংসার অংশে হওয়াই বেশি উপযোগী ছিল; কেননা বর্তমান অনুচ্ছেদটি কিতাবের প্রশংসা বিষয়ক।
(তাঁর কথা: আল্লামা নববী) এখানে স্পষ্ট নাম উল্লেখ করাই প্রাসঙ্গিক ছিল যা ব্যাখ্যাকার করেছেন; কারণ এর পূর্ববর্তী অংশ কিতাবের প্রশংসায় ছিল, যারা সর্বনাম ব্যবহারের কথা বলেছেন তাদের মতের বিপরীতে। (তাঁর কথা: কোনো কোনোটিতে সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে) এটি কর্মবাচ্য রূপে পঠিত। (তাঁর কথা: রহস্য উন্মোচিত হয়েছে ইত্যাদি) অর্থাৎ এর বাক্যগুলোর জট খুলে দিয়েছেন, যদিও তা সংক্ষিপ্ত কোনো বাক্য ব্যবহারের মাধ্যমে ইশারা করা হয়ে থাকে, যাতে পরবর্তীতে আসা তাঁর এই কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যে 'তিনি এটিকে বুঝার জন্য কঠিন অবস্থায় রেখে গেছেন ইত্যাদি'। (তাঁর কথা: তা থেকে উন্মোচিত হয়েছে) একটি পাণ্ডুলিপিতে 'বিহি' (তার দ্বারা) শব্দ রয়েছে যা 'মিনহু' (তা থেকে) এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে—এই মাসয়ালায় এবং এর পরবর্তী মাসয়ালায়। এটি তাঁর 'উন্মুক্ত করেছেন' কথাটির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে প্রথম পাঠটি অধিক অলঙ্কারপূর্ণ; কারণ এতে বিশেষ ধরনের রূপক অলঙ্কার রয়েছে যা আক্ষরিক অর্থের চেয়েও বেশি অর্থবহ। (তাঁর কথা: যা কান ও চোখকে তৃপ্ত করে) কান ও চোখ এ কিতাব ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা তৃপ্ত হবে না, কারণ তারা অন্য সব কিছু থেকে বিমুখ হয়ে কেবল এর দিকেই নিবিষ্ট থাকে। (তাঁর কথা: এর বর্ণনার ওপর) অর্থাৎ ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর, যা স্পষ্ট। (তাঁর কথা: মৃত্যুর আকস্মিক আশঙ্কা তাকে এ থেকে বিরত রেখেছে) এতে স্পষ্ট আপত্তি রয়েছে, কারণ এই পদ্ধতিতে কিতাবটি রেখে যাওয়া তাঁর উদ্দেশ্যই ছিল: অর্থাৎ এটিই কাঙ্ক্ষিত।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
مِنْ مَحْتُومِ حَمَامِهِ، فَتَرْكُهُ عُسْرَ الْفَهْمِ كَالْأَلْغَازِ لِمَا احْتَوَى عَلَيْهِ مِنْ غَايَةِ الْإِيجَازِ، وَلَقَدْ طَالَمَا سَأَلَنِي السَّادَةُ الْأَفَاضِلُ وَالْوَارِثُونَ عِلْمَ الْأَوَائِلِ فِي وَضْعِ شَرْحٍ عَلَى الْمِنْهَاجِ يُوَضِّحُ مَكْنُونَهُ وَيُبْرِزُ مَصُونَهُ، فَأَجَبْتهمْ إلَى ذَلِكَ فِي شَهْرِ الْقَعْدَةِ الْحَرَامِ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ وَتِسْعِمِائَةٍ بَعْدَ تَكَرُّرِ رُؤْيَا دَلَّتْ عَلَى حُصُولِ الْمَرَامِ، وَأَرْدَفْتهمْ بِشَرْحٍ يُمِيطُ لِثَامَ مُخَدَّرَاتِهِ وَيُزِيحُ خِتَامَ كُنُوزِهِ وَمُسْتَوْدَعَاتِهِ، أُنَقِّحُ فِيهِ الْغَثَّ مِنْ السَّمِينِ، وَأُمَيِّزُ فِيهِ الْمَعْمُولَ بِهِ مِنْ غَيْرِهِ بِتَوْضِيحٍ مُبِينٍ، أُورِدَ الْأَحْكَامَ فِيهِ تَتَبَخْتَرُ اتِّضَاحًا، وَأَتْرُكُ الشَّبَهَ تَتَضَاءَلُ افْتِضَاحًا، أَطْلُبُ حَيْثُ يَقْتَضِي الْمَقَامُ، وَأُوجِزُ إذَا اتَّضَحَ الْكَلَامُ، خَالٍ عَنْ الْإِسْهَابِ الْمُمِلِّ، وَعَنْ الِاخْتِصَارِ الْمُخِلِّ، وَأَذْكُرُ فِيهِ بَعْضَ الْقَوَاعِدِ وَأَضُمُّ إلَيْهِ مَا ظَهَرَ مِنْ الْفَوَائِدِ، فِي ضِمْنِ تَرَاكِيبَ رَائِقَةٍ وَأَسَالِيبَ فَائِقَةٍ، لِيَتِمَّ بِذَلِكَ الْأَرَبُ وَيُقْبِلُ الْمُشْتَغِلُونَ يَنْسَلُّونَ إلَيْهِ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ، مُقْتَصِرًا فِيهِ عَلَى الْمَعْمُولِ بِهِ فِي الْمَذْهَبِ، غَيْرَ مُعْتَنٍ بِتَحْرِيرِ الْأَقْوَالِ الضَّعِيفَةِ رَوْمًا لِلِاخْتِصَارِ فِي الْأَغْلَبِ.
فَحَيْثُ أَقُولُ فِيهِ قَالَا أَوْ رَجَّحَا فَمُرَادِي بِهِ إمَامَا الْمَذْهَبِ الرَّافِعِيُّ وَالْمُصَنِّفُ تَغَمَّدَهُمَا اللَّهُ بِعَفْوِهِ وَمِنْهُ، وَأَمْطَرَ عَلَى قَبْرِهِمَا شَآبِيبَ رَحْمَتِهِ وَفَضْلِهِ، وَحَيْثُ أَطْلَقْت لَفْظَ الشَّارِحِ فَمُرَادِي بِهِ مُحَقِّقُ الْوُجُودِ الْجَلَالُ الْمَحَلِّيُّ عَفَا عَنْهُ الْغَفُورُ الْوَدُودُ، وَرُبَّمَا أَتَعَرَّضُ لِحَلِّ بَعْضِ مَوَاضِعِهِ الْمُشْكِلَةِ تَيْسِيرًا عَلَى الطُّلَّابِ مُسْتَعِينًا فِي ذَلِكَ وَغَيْرِهِ بِعَوْنِ الْمَلِكِ الْوَهَّابِ، وَحَيْثُ أَطْلَقْت لَفْظَ الشَّيْخِ فَمُرَادِي بِهِ شَيْخُ مَشَايِخِ الْإِسْلَامِ زَكَرِيَّا تَغَمَّدَهُ اللَّهُ تَعَالَى بِرَحْمَتِهِ.
وَمَا وَجَدْته أَيُّهَا الْوَاقِفُ عَلَى هَذَا الْكِتَابِ وَالْمُتَمَسِّكِ مِنْهُ بِمَا يُوَافِقُ الصَّوَابَ فِي كَلَامِي مِنْ إطْلَاقٍ أَوْ تَقْيِيدٍ أَوْ تَرْجِيحٍ مَعْزُوًّا لِوَالِدِي وَشَيْخِي شَيْخِ مَشَايِخِ الْإِسْلَامِ عُمْدَةِ الْأَئِمَّةِ الْعُلَمَاءِ الْأَعْلَامِ، شَيْخِ الْفَتْوَى وَالتَّدْرِيسِ وَمَحَلِّ الْفُرُوعِ وَالتَّأْسِيسِ، شَيْخِ زَمَانِهِ بِالِاتِّفَاقِ بَيْنَ أَهْلِ الْخِلَافِ وَالْوِفَاقِ، تَغَمَّدَهُ اللَّهُ تَعَالَى بِرَحْمَتِهِ وَأَسْكَنَهُ بُحْبُوحَةَ جَنَّتِهِ، فَهُوَ الْمُعَوَّلُ عَلَيْهِ عِنْدَهُ؛ لِأَنَّ رَأْيَهُ عَلَيْهِ اسْتَقَرَّ، وَمَا عُزِيَ إلَيْهِ مِمَّا يُخَالِفُهُ فَبِسَبَبِ مَا هُوَ شَأْنُ الْبَشَرِ، وَعُمْدَتِي فِي الْعَزْوِ لِفَتَاوِيهِ مَا قَرَأْته مِنْهَا عَلَيْهِ، ثُمَّ مَرَّ عَلَيْهَا بِنَفْسِهِ، وَفِي الْعَزْوِ لَمُعْتَمَدَاتِهِ مَا وَجَدْته عَلَى أَجَلِّ الْمُؤَلَّفَاتِ عِنْدَهُ مُصَحَّحًا بِخَطِّهِ لَمْ يَحُلْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ ذَلِكَ إلَّا السَّبَبُ النَّاقِلُ لَهُ لِرَمْسِهِ، وَوَاللَّهِ لَمْ أَقْصِدْ بِذَلِكَ نَقْصَ أَحَدٍ عَنْ رُتْبَتِهِ، وَلَا التَّبَحْبُحَ بِنَشْرِ الْعِلْمِ وَفَضِيلَتِهِ، وَإِنَّمَا الْقَصْدُ مِنْهُ نُصْحُ الْمُسْلِمِينَ بِإِظْهَارِ الصَّوَابِ خَشْيَةَ مِنْ آيَةٍ نَزَلَتْ فِي مُحْكَمِ الْكِتَابِ.
وَأَسْأَلُ اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ أَنْ يَمُنَّ عَلَيَّ بِإِتْمَامِ هَذَا الشَّرْحِ الْبَدِيعِ الْمِثَالِ الْمَنِيعِ الْمَنَالِ، الْفَائِقِ بِحُسْنِ نِظَامِهِ عَلَى عُقُودِ اللَّآلِئِ، الْجَامِعِ
ــ
[حاشية الشبراملسي] أَيْضًا، وَفَاجَأَهُ مُفَاجَأَةً: أَيْ عَاجَلَهُ اهـ (قَوْلُهُ: مِنْ مَحْتُومِ حَمَامِهِ) مِنْ إضَافَةِ الصِّفَةِ إلَى الْمَوْصُوفِ، وَالْمَعْنَى: خَشْيَةَ فَجْأَةِ مَوْتِهِ الْمُحَقَّقِ (قَوْلُهُ: سَنَةَ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ وَتِسْعِمِائَةٍ) وَقَالَ ابْنُ حَجَرٍ: إنَّ شُرُوعَهُ فِي شَرْحِهِ كَانَ فِي ثَانِي عَشَرَ مُحَرَّمٍ الْحَرَامِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَخَمْسِينَ وَتِسْعِمِائَةٍ (قَوْلُهُ: وَأَرْدَفْتهمْ بِشَرْحٍ يُمِيطُ) أَيْ يُزِيلُ (قَوْلُهُ: الْغَثُّ مِنْ السَّمِينِ) أَيْ أُبَيِّنُ الْجَيِّدَ مِنْ الرَّدِيءِ، وَالْغَثُّ بِفَتْحِ الْغَيْنِ الْمُعْجَمَةِ وَبِالْمُثَلَّثَةِ: الْمَهْزُولُ (قَوْلُهُ تَتَضَاءَلُ) أَيْ تَضْعُفُ (قَوْلُهُ: خَالٍ عَنْ الْإِسْهَابِ) أَيْ التَّطْوِيلِ (قَوْلُهُ: بُحْبُوحَةَ جَنَّتِهِ) أَيْ وَسَطَهَا (قَوْلُهُ مَا هُوَ شَأْنُ الْبَشَرِ) أَيْ مِنْ السَّهْوِ (قَوْلُهُ: وَبَيْنَ ذَلِكَ) أَيْ الْمُصَحَّحِ عَلَيْهِ وَهُوَ شَرْحُ الرَّوْضِ (قَوْلُهُ: وَلَا التَّبَحْبُحَ) أَيْ الْفَرَحَ وَهُوَ بِالْحَاءِ الْمُهْمَلَةِ، يُقَالُ بَحْبَحَهُ فَبَحْبَحَ أَفْرَحَهُ فَفَرِحَ اهـ مُخْتَارٌ (قَوْلُهُ: نَزَلَتْ فِي مُحْكَمِ الْكِتَابِ) أَيْ فِي شَأْنِ كَتْمِ الْعِلْمِ وَهِيَ قَوْله تَعَالَى {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ} [البقرة: 159] الْآيَةَ (قَوْلُهُ: الْمَنِيعِ الْمَنَالِ) أَيْ الْمَنِيعِ الْعَطَاءِ.
وَالْمَعْنَى: أَنَّ مَسَائِلَهُ لِعِزَّتِهَا كَأَنَّهَا مَمْنُوعَةٌ
ــ
[حاشية الرشيدي] وَلَوْ كَانَ قَصْدُهُ الْإِيضَاحَ لَصَنَّفَهُ فِي مُدَّةٍ أَقَلَّ مِنْ الْمُدَّةِ الَّتِي وَقَعَ لَهُ تَصْنِيفُهُ فِيهَا، فَمِنْ الْمَشْهُورِ أَنَّهُ صَنَّفَهُ فِي أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ عَامًا (قَوْلُهُ: عَلَى الْمِنْهَاجِ) إنَّمَا أُبْرِزَ لِئَلَّا يُتَوَهَّمَ رُجُوعُ الضَّمِيرِ إلَى شَرْحِ الْجَلَالِ (قَوْلُهُ: كُنُوزَهُ وَمُسْتَوْدَعَاتِهِ) أَيْ مَا كُنِزَ وَمَا اُسْتُوْدِعَ، أَوْ مَحَلُّ الْكَنْزِ وَالِاسْتِيدَاعِ، وَهُوَ الْأَنْسَبُ بِذِكْرِ الْخَتْمِ (قَوْلُهُ: قَالَا أَوْ رَجَّحَا) أَيْ وَنَحْوَهُمَا مِمَّا فِيهِ ضَمِيرُ تَثْنِيَةٍ (قَوْلُهُ: خَشْيَةً مِنْ آيَةٍ) يَعْنِي {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى} [البقرة: 159] الْآيَةَ الَّتِي حَمَلَتْ أَبَا هُرَيْرَةَ عَلَى كَثْرَةِ التَّحْدِيثِ كَمَا فِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ.
(قَوْلُهُ: وَأَسْأَلُ اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ أَنْ يَمُنَّ عَلَيَّ بِإِتْمَامِ إلَخْ) التَّعْبِيرُ
তার সুনিশ্চিত মৃত্যুর আশঙ্কায়; তাই এর চরম সংক্ষিপ্ততার কারণে এর ব্যাখ্যা বর্জন করা ধাঁধার ন্যায় বুঝা কঠিন ছিল। শ্রেষ্ঠ সুধীবৃন্দ এবং পূর্বসূরিদের ইলমের উত্তরসূরিরা আমার নিকট মিনহাজ-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার জন্য দীর্ঘকাল যাবৎ অনুরোধ করে আসছিলেন, যা এর গোপন রহস্যগুলোকে স্পষ্ট করবে এবং সংরক্ষিত বিষয়গুলোকে ফুটিয়ে তুলবে। অতঃপর আমি নয়শত তেষট্টি হিজরীর যুল-ক্বাদাহ মাসে তাদের সেই আহ্বানে সাড়া প্রদান করি, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের ইঙ্গিতবাহী বারবার স্বপ্ন দেখার পর। আমি তাদের জন্য এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ উপহার দিয়েছি যা এর পর্দার আড়ালে থাকা বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করে এবং এর গুপ্তধন ও ভাণ্ডারের সীলমোহর সরিয়ে দেয়। এতে আমি অসার বিষয় থেকে সারবস্তুকে পরিমার্জন করেছি এবং সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যার মাধ্যমে আমলযোগ্য মতকে অন্যদের থেকে পৃথক করেছি। এতে আমি আহকামসমূহকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছি এবং সংশয়গুলোকে লাঞ্ছিত অবস্থায় বর্জন করেছি। আমি সেখানে দীর্ঘ বর্ণনা করেছি যেখানে স্থানের দাবি রয়েছে এবং সংক্ষেপ করেছি যখন বক্তব্য স্পষ্ট হয়েছে। এটি বিরক্তিকর দীর্ঘসূত্রিতা এবং ত্রুটিপূর্ণ সংক্ষিপ্ততা থেকে মুক্ত। এতে আমি কিছু মূলনীতি উল্লেখ করেছি এবং এর সাথে প্রকাশ পাওয়া বিভিন্ন ফায়দাগুলোকে সুন্দর বিন্যাস ও অনন্য শৈলীতে যুক্ত করেছি, যাতে উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় এবং শিক্ষার্থীরা সবদিক থেকে এর দিকে ধাবিত হয়। এতে আমি মাযহাবের আমলযোগ্য মতের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে দুর্বল মতগুলো পর্যালোচনার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করিনি।
যখন আমি এতে বলব 'তারা উভয়ে বলেছেন' অথবা 'তারা উভয়ে প্রাধান্য দিয়েছেন', তখন আমার উদ্দেশ্য হলো মাযহাবের দুই ইমাম রাফেঈ এবং মূল লেখক—আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর ক্ষমা ও দানে ঢেকে রাখুন এবং তাঁদের কবরে তাঁর রহমত ও অনুগ্রহের বারিধারা বর্ষণ করুন। আর যখন আমি 'ব্যাখ্যাকারক' শব্দটি নিরঙ্কুশভাবে ব্যবহার করব, তখন আমার উদ্দেশ্য হবে অস্তিত্বের গবেষক জালাল আল-মহল্লী—ক্ষমাশীল ও প্রেমময় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। শিক্ষার্থীদের জন্য সহজসাধ্য করার লক্ষ্যে আমি মাঝে মাঝে এর কিছু জটিল স্থান উন্মোচনের প্রয়াস পাব, এক্ষেত্রে এবং অন্যান্য বিষয়ে দানশীল অধিপতির সাহায্য প্রার্থনা করছি। আর যখন আমি 'শায়খ' শব্দটি নিরঙ্কুশভাবে ব্যবহার করব, তখন আমার উদ্দেশ্য হবে শায়খুল ইসলামগণের শায়খ যাকারিয়া—আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর রহমতে ঢেকে রাখুন।
হে এই কিতাব পাঠকারী! আমার বক্তব্যে কোনো শর্তহীনতা, শর্তযুক্ততা কিংবা কোনো বিষয়ের প্রাধান্য দান যা আমার পিতা ও উস্তাদ, শায়খুল ইসলামগণের শায়খ, ইমাম ও উলামাদের স্তম্ভ, ফতোয়া ও পাঠদানের শায়খ, শাখা জ্ঞান ও মূলনীতির আধার, বিরুদ্ধবাদী ও অনুসারীদের ঐকমত্যে তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ শায়খের প্রতি নিসবত করা হয়েছে (আল্লাহ তাকে তাঁর রহমতে ঢেকে রাখুন এবং জান্নাতের তলদেশে স্থান দিন)—আপনি যদি তা সঠিকের অনুকূলে পান তবে সেটিই তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য; কারণ তাঁর রায় সেটির ওপরই স্থির হয়েছিল। আর তাঁর দিকে নিসবতকৃত যা কিছু এর পরিপন্থী পাওয়া যায়, তা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের কারণে হয়েছে। তাঁর ফতোয়া উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে আমার মূল ভিত্তি হলো আমি তাঁর নিকট যা পাঠ করেছি এবং যা তিনি নিজে যাচাই করেছেন। আর তাঁর নির্ভরযোগ্য মতসমূহ উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে আমার ভিত্তি হলো যা আমি তাঁর নিকটস্থ অতি মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থসমূহে তাঁর নিজ হাতের লেখায় সংশোধিত অবস্থায় পেয়েছি; তাঁর মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনো কারণ এর অন্তরায় হয়নি। আল্লাহর কসম! আমি এর দ্বারা কারো মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্য করিনি, কিংবা ইলম ও তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রচারের মাধ্যমে আত্মঅহংকারও উদ্দেশ্য নয়। বরং এর উদ্দেশ্য হলো কুরআনুল কারীমের একটি আয়াতের ভয়ে সত্য প্রকাশের মাধ্যমে মুসলিমদের কল্যাণ কামনা করা।
এবং আমি আল্লাহর অনুগ্রহের নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এই চমৎকার ব্যাখ্যানের কাজ সমাপ্ত করার তাওফিক দান করেন, যা একটি দুর্লভ আদর্শ এবং যার প্রাপ্তি অত্যন্ত কঠিন; যা তার বিন্যাস শৈলীর সৌন্দর্যে মুক্তার মালার চেয়েও শ্রেষ্ঠ এবং যা সংগ্রহকারী...
--
[হাশিয়াতিশ শুবরামাল্লিসি] অর্থাৎ আচমকা আসা। 'ফাজাআহু মুফাজাআতান' মানে সে তাকে ত্বরান্বিত করল। (মূল পাঠের অংশ: তার সুনিশ্চিত মৃত্যুর আশঙ্কায়) এটি গুণের দিকে গুণান্বিতের সম্বন্ধ; এর অর্থ হলো: তার সুনিশ্চিত মৃত্যুর আকস্মিকতার আশঙ্কা। (মূল পাঠের অংশ: নয়শত তেষট্টি হিজরী সালে) ইবনে হাজার বলেন: তিনি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি শুরু করেছিলেন নয়শত আটান্ন হিজরীর বারো মহররম তারিখে। (মূল পাঠের অংশ: আমি তাদের জন্য এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ উপহার দিয়েছি যা উন্মোচিত করে) অর্থাৎ দূর করে। (মূল পাঠের অংশ: অসার বিষয় থেকে সারবস্তু) অর্থাৎ আমি মন্দ থেকে ভালোকে পৃথক করেছি। 'আল-গাস' মানে কৃশ বা দুর্বল। (মূল পাঠের অংশ: লাঞ্ছিত হয়) অর্থাৎ দুর্বল হয়ে যায়। (মূল পাঠের অংশ: দীর্ঘসূত্রিতা থেকে মুক্ত) অর্থাৎ দীর্ঘ করা থেকে। (মূল পাঠের অংশ: জান্নাতের তলদেশে) অর্থাৎ তার মধ্যস্থলে। (মূল পাঠের অংশ: যা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য) অর্থাৎ ভুল-ভ্রান্তি। (মূল পাঠের অংশ: এবং এর মধ্যে) অর্থাৎ যার ওপর সংশোধন করা হয়েছে, আর তা হলো 'শারহুর রওদ'। (মূল পাঠের অংশ: আত্মঅহংকার নয়) অর্থাৎ আনন্দ নয়; এটি 'হা' বর্ণ দিয়ে। বলা হয়: সে তাকে আনন্দিত করল ফলে সে আনন্দিত হলো। (মূল পাঠের অংশ: কুরআনুল কারীমে অবতীর্ণ হয়েছে) অর্থাৎ ইলম গোপন করার ব্যাপারে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই যারা গোপন করে যা আমি নাযিল করেছি স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ থেকে..." [সূরা বাকারা: ১৫৯]। (মূল পাঠের অংশ: যার প্রাপ্তি অত্যন্ত কঠিন) অর্থাৎ যার দান সুউচ্চ।
এর অর্থ হলো: এর মাসআলাগুলো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার কারণে মনে হয় যেন সেগুলো নাগালের বাইরে।
--
[হাশিয়াতির রাশিদি] যদি লেখকের উদ্দেশ্য কেবল স্পষ্ট করা হতো, তবে তিনি এটি রচনায় যে সময় নিয়েছেন তার চেয়ে কম সময়ে এটি রচনা করতেন। এটি প্রসিদ্ধ যে, তিনি চব্বিশ বছর ধরে এটি রচনা করেছেন। (মূল পাঠের অংশ: মিনহাজ-এর ওপর) এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যাতে এই ধারণা না হয় যে, সর্বনামটি 'শারহুল জালাল'-এর দিকে ফিরছে। (মূল পাঠের অংশ: এর গুপ্তধন ও ভাণ্ডারসমূহ) অর্থাৎ যা সঞ্চিত এবং যা আমানত রাখা হয়েছে, অথবা সঞ্চয় ও আমানত রাখার স্থান; আর এটিই 'সীলমোহর' শব্দটির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। (মূল পাঠের অংশ: তারা উভয়ে বলেছেন বা প্রাধান্য দিয়েছেন) অর্থাৎ দ্বিবচন সর্বনাম যুক্ত এই জাতীয় শব্দ। (মূল পাঠের অংশ: একটি আয়াতের ভয়ে) অর্থাৎ "নিশ্চয়ই যারা গোপন করে যা আমি নাযিল করেছি স্পষ্ট নিদর্শন ও হিদায়াত থেকে..." [সূরা বাকারা: ১৫৯] আয়াতটি; যা আবু হুরায়রা (রা.)-কে অধিক হাদিস বর্ণনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল, যেমনটি সহীহ বুখারীতে রয়েছে।
(মূল পাঠের অংশ: এবং আমি আল্লাহর অনুগ্রহের নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে সমাপ্ত করার তাওফিক দান করেন ইত্যাদি) এই প্রকাশভঙ্গিটি...
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
لِفَوَائِدَ وَمَحَاسِنَ قَلَّ أَنْ تَجْتَمِعَ فِي مِثْلِهِ مِنْ كِتَابٍ فِي الْعُصُرِ الْخُوَّالِ، أَسَّسْت فِيهِ مَا يُعِينُ عَلَى فَهْمِ الْمَنْقُولِ، وَبَيَّنْت فِيهِ مَصَاعِدَ يُرْتَقَى فِيهَا قَاصِدُ النُّقُولِ، فَهُوَ لُبَابُ الْعُقُولِ وَعُبَابُ الْمَنْقُولِ وَصَوَابُ كُلِّ قَوْلٍ مَقْبُولٍ، مَخَّضْت فِيهِ عِدَّةَ كُتُبٍ مِنْ الْفَنِّ مُشْتَهِرَةٍ وَمُؤَلَّفَاتٍ مُعْتَبَرَةٍ، مِنْ شُرُوحِ الْكِتَابِ وَشُرُوحِ الْإِرْشَادِ وَشَرْحَيْ الْبَهْجَةِ وَالرَّوْضِ وَشَرْحِ الْمَنْهَجِ وَالتَّصْحِيحِ وَغَيْرِهَا لِلْمُتَأَخِّرِينَ وَإِخْوَانِنَا السَّادَةِ الْأَفَاضِلِ الْمُعَاصِرِينَ عَلَى اخْتِلَافِ تَنَوُّعِهَا، فَأَخَذْت زُبْدَهَا وَدُرَرَهَا، وَمَرَرْت عَلَى رِيَاضٍ جُمْلَةً مِنْهَا عَلَى كَثْرَةِ عَدَدِهَا، وَاقْتَطَفْت ثَمَرَهَا وَزَهْرَهَا، وَغُصْت بِحَارَهَا فَاسْتَخْرَجْت جَوَاهِرَهَا وَدُرَرَهَا، فَلِهَذَا تَحَصَّلَ فِيهِ مِنْ الْعُلُومِ وَالْفَوَائِدِ مَا تُبَتُّ عِنْدَهُ الْأَعْنَاقُ بَتًّا، وَتَجَمَّعَ فِيهِ مَا تَفَرَّقَ فِي مُؤَلَّفَاتٍ شَتَّى، عَلَى أَنِّي لَا أَبِيعُهُ بِشَرْطِ الْبَرَاءَةِ مِنْ كُلِّ عَيْبٍ، وَلَا ادَّعَى أَنَّهُ جَمَعَ سَلَامَةَ كَيْفٍ وَالْبَشَرُ مَحَلُّ النَّقْصِ بِلَا رَيْبٍ وَسَتَفْتَرِقُ النَّاسُ فِيهِ ثَلَاثَ فِرَقٍ:
فِرْقَةٌ تَعْرِفُ شَمْسَ مَحَاسِنِهِ وَتُنْكِرُهَا، وَتَجْتَلِي عَرَائِسَهُ وَتَلْتَقِطُ فَوَائِدَهُ وَكَأَنَّهَا لَا تُبْصِرُهَا، ثُمَّ تَتَشَعَّبُ قَبِيلَتَيْنِ خَيْرُهُمَا لَا تَنْطِقُ بِرُؤْيَتِهِ وَلَا تَذْكُرُهَا، وَالْأُخْرَى تَبِيتُ مِنْهُ فِي نَعَمٍ وَتُصْبِحُ تُكَفِّرُهَا
وَأَظْلَمُ أَهْلِ الظُّلْمِ مَنْ بَاتَ حَاسِدًا
… لِمَنْ بَاتَ فِي نَعْمَائِهِ يَتَقَلَّبُ
لَعِبَ بِهَا شَيْطَانُ الْحَسَدِ وَشَدَّ وِثَاقَهَا الَّذِي لَا يُوثَقُ بِهِ بِحَبْلٍ مِنْ مَسَدٍ وَتَصَرَّفَ فِيهَا وَالشَّيْطَانُ يَجْرِي مِنْ ابْنِ آدَمَ مَجْرَى الدَّمِ فِي الْجَسَدِ، تَصَرَّفَ فِيهِمْ فَنَوَى كُلٌّ مِنْهُمْ السُّوءَ وَلِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى وَتَحَكَّمَ فَغَوَى بِحُكْمِهِ مَنْ غَوَى وَجَرَى بِهِمْ فِي مَيْدَانِ الْحَسَدِ حَتَّى صُرِفَ عَنْ الْهُدَى.
وَآخَرُ مِنْ فِئَةٍ ثَانِيَةٍ يَسْمَعُ كَلَامَهُ وَلَا يَفْهَمُهُ، وَيَسْبَحُ فِي بَحْرِهِ وَلَا يَعْلَمُهُ، وَيُصْبِحُ ظَمْآنًا وَفِي الْبَحْرِ فَمُهُ، وَمِثْلُ هَذَا لَا يُفْتَقَدُ حُضُورُهُ إذَا غَابَ، وَلَا يُؤَهَّلُ لَأَنْ يُعَابَ إذَا عَابَ:
وَكَمْ مِنْ عَائِبٍ قَوْلًا صَحِيحًا
… وَآفَتُهُ مِنْ الْفَهْمِ السَّقِيمِ
وَآخَرُ مِنْ فِئَةٍ ثَالِثَةٍ يَغْتَرِفُ مِنْ بَحْرِهِ وَيَعْتَرِفُ بِبِرِّهِ وَبِرِّهِ، وَيَقْتَطِفُ مِنْ زَهْرِهِ مَا هُوَ أَزْهَرُ مِنْ الْأُفُقِ وَزَهْرِهِ، وَيَلْزَمُ
ــ
[حاشية الشبراملسي] عَلَى غَيْرِهِ مِنْ الْكُتُبِ (قَوْلُهُ: أَسَّسْت فِيهِ) أَيْ ذَكَرْت
وَفِي الْمِصْبَاحِ أَسَّسْته تَأْسِيسًا جَعَلْت لَهُ أَسَاسًا: أَيْ أَصْلًا (قَوْلُهُ: وَعُبَابُ الْمَنْقُولِ) أَيْ بَحْرُهُ (قَوْلُهُ: مَخَّضْت فِيهِ إلَخْ) أَيْ انْتَخَبْتهَا وَأَخَذْت خَالِصَهَا مِنْ مَخَّضْت اللَّبَنَ إذَا أَخَذْت زُبْدَهُ مِنْ بَابِ قَطَعَ وَنَصَرَ وَضَرَبَ اهـ مُخْتَارٌ (قَوْلُهُ: وَشَرْحَيْ الْبَهْجَةِ وَالرَّوْضِ) أَيْ لِشَيْخِ الْإِسْلَامِ رحمه الله (قَوْلُهُ: الْأَفَاضِلِ الْمُعَاصِرِينَ) أَيْ كَابْنِ حَجَرٍ وَالْخَطِيبِ (قَوْلُهُ: مَا تُبَتُّ عِنْدَهُ إلَخْ) أَيْ تُقْطَعُ قَبْلَ وُصُولِهَا إلَيْهِ أَيْ مَنْ أَرَادَ أَنْ يُنَاظِرَهُ هَلَكَ قَبْلَ وُصُولِهِ إلَيْهِ، وَكَنَّى بِذَلِكَ عَنْ عَجْزِهِ عَنْ مُعَارَضَتِهِ.
(قَوْلُهُ: لَا تَنْطِقُ بِرُؤْيَتِهِ) وَفِي نُسْخَةٍ بِرِيبَةٍ: أَيْ بِتُهْمَةٍ لَهُ فِيمَا نَقَلَهُ (قَوْلُهُ: لِمَنْ بَاتَ فِي نَعْمَائِهِ يَتَقَلَّبُ) فَاعِلُ يَتَقَلَّبُ مُسْتَتِرٌ يَعُودُ عَلَى مَنْ بَاتَ حَاسِدًا وَالْمَعْنَى: مَنْ بَاتَ يَتَقَلَّبُ فِي نِعَمِ شَخْصٍ أَوْلَاهَا إلَيْهِ وَهُوَ يَحْسُدُ ذَلِكَ الْمُنْعِمَ فَهُوَ أَظْلَمُ أَهْلِ الظُّلْمِ (قَوْلُهُ: بِحَبْلٍ) مُتَعَلِّقٌ بِقَوْلِهِ وَشَدَّ إلَخْ (قَوْلُهُ: فَنَوَى كُلٌّ مِنْهُمْ السُّوءَ) أَيْ بِأَنْ نَوَى فِي نَفْسِهِ انْتِقَاصَهُ فَذَكَرَ لَهُ مَسَاوِيَ لَيْسَتْ مُطَابِقَةً لِلْوَاقِعِ حَسَدًا وَإِرَادَةَ أَنَّ النَّاسَ يَتْرُكُونَهُ (قَوْلُهُ فِي مَيْدَانِ الْحَسَدِ إلَخْ) الْمَيْدَانُ بِفَتْحِ الْمِيمِ وَكَسْرِهَا كَمَا فِي الْقَامُوسِ (قَوْلُهُ: حَتَّى صُرِفَ عَنْ الْهُدَى)
ــ
[حاشية الرشيدي] بِالْإِتْمَامِ يَقْتَضِي أَنَّهُ أَنْشَأَ الْخُطْبَةَ فِي خِلَالِ الشَّرْحِ وَكَانَ قَدْ أَسَّسَ فِيهِ مَا يَأْتِي، فَقَوْلُهُ فِيمَا يَأْتِي أَسَّسْت إلَى آخِرِهِ عَلَى حَقِيقَتِهِ بِالنِّسْبَةِ لِلْبَعْضِ (قَوْلُهُ: وَصَوَابُ كُلِّ قَوْلٍ مَقْبُولٍ) الْإِضَافَةُ فِيهِ بَيَانِيَّةٌ، وَإِلَّا اقْتَضَى أَنَّ الْمَقْبُولَ مِنْهُ صَوَابٌ وَغَيْرُهُ وَلَيْسَ كَذَلِكَ (قَوْلُهُ: فَأَخَذْت زَبَدَهَا وَدِرَرَهَا) بِكَسْرِ الدَّالِ جَمْعُ دَرٍّ بِالْفَتْحِ (قَوْلُهُ: مِنْ شُرُوحِ الْكِتَابِ إلَخْ) لَا يَصِحُّ أَنْ تَكُونَ مِنْ فِيهِ بَيَانِيَّةً؛ لِأَنَّهُ يَقْتَضِي أَنَّهُ لَخَّصَ فِيهِ جَمِيعَ شُرُوحِ الْمِنْهَاجِ، وَالْإِرْشَادِ، وَلَا يَخْفَى أَنَّهُ لَيْسَ كَذَلِكَ، فَتَعَيَّنَ أَنْ تَكُونَ لِلتَّبْعِيضِ أَوْ الِابْتِدَاءِ، لَكِنْ لَا يَصِحُّ حِينَئِذٍ قَوْلُهُ: وَشَرْحَيْ الْبَهْجَةِ إلَخْ فَتَأَمَّلْ (قَوْلُهُ: خَيْرَهُمَا لَا تَنْطِقُ إلَخْ) أَيْ مَعَ أَنَّهَا مُنْكِرَةٌ لِمَحَاسِنِهِ إذْ هُوَ الْمُقْسِمُ، فَمَعْنَى الْإِنْكَارِ حِينَئِذٍ عَدَمُ الِاعْتِرَافِ أَعَمُّ مِنْ الرَّمْيِ بِالْقَبِيحِ وَعَدَمِهِ، وَلْيُنْظَرْ الْفَرْقُ حِينَئِذٍ بَيْنَ إحْدَى الْقَبِيلَتَيْنِ، وَالْأُخْرَى، فَإِنَّ الْكُفْرَ اللُّغَوِيَّ الَّذِي هُوَ مُرَادٌ فِيهَا مَعْنَاهُ الْإِنْكَارُ فَلْيُحَرَّرْ.
(قَوْلُهُ: فِي مَيْدَانِ الْحَسَدِ) الْأَوْلَى مَيْدَانِ الضَّلَالِ (قَوْلُهُ: أَزْهَرُ مِنْ الْأُفُقِ وَزُهُورُهُ) أَيْ إضَاءَتُهُ، وَفِي نُسَخٍ وَزَهْرُهُ
এমন সব উপকারিতা ও সৌন্দর্যের জন্য যা বিগত যুগে এই ধরণের গ্রন্থে খুব কমই একত্রিত হয়েছে। আমি এতে এমন কিছু মূলনীতি স্থাপন করেছি যা বর্ণিত বিষয়াবলি বুঝতে সহায়ক হবে এবং এতে এমন সব সোপান বর্ণনা করেছি যার মাধ্যমে বর্ণনাসমূহ অন্বেষণকারী উপরে আরোহণ করতে পারবে। সুতরাং এটি হলো জ্ঞানীদের সারবস্তু, বর্ণিত তথ্যের উত্তাল সমুদ্র এবং প্রতিটি গ্রহণযোগ্য মতের সঠিক রূপ। আমি এতে এই শাস্ত্রের বেশ কিছু প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ মন্থন করেছি; যেমন কিতাব (মিনহাজ)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, ইরশাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, বাহজাহ ও রওযের দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, মানহাজের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, তাসহিহ এবং পরবর্তী যুগের ও আমাদের সমসাময়িক ফাজিল শ্রেষ্ঠ ভাইদের বিভিন্ন ধরণের গ্রন্থ। আমি সেগুলোর নির্যাস ও মুক্তাসমূহ গ্রহণ করেছি এবং এগুলোর বিপুল সংখ্যার মাঝে একগুচ্ছ বাগানের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছি। আমি সেগুলোর ফল ও ফুল আহরণ করেছি এবং সেগুলোর সমুদ্রে ডুব দিয়ে জওহর ও মুক্তা বের করে এনেছি। ফলে এতে এমন সব জ্ঞান ও উপকারিতা অর্জিত হয়েছে যার সামনে (বিরোধিতাকারীদের) ঘাড় পুরোপুরি নত হয়ে যায় এবং এতে বিভিন্ন গ্রন্থে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিষয়াবলি একত্রিত হয়েছে। তবে আমি এটি প্রতিটি ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকার শর্তে পেশ করছি না এবং এটি সম্পূর্ণ নিখুঁত হওয়ার দাবিও করছি না; কারণ মানুষ নিঃসন্দেহে ত্রুটির আধার। মানুষ এই গ্রন্থের ব্যাপারে তিন দলে বিভক্ত হবে:
এক দল এর সৌন্দর্যের সূর্যকে চিনবে কিন্তু তা অস্বীকার করবে। তারা এর রূপ দেখবে এবং এর উপকারিতাগুলো কুড়িয়ে নেবে কিন্তু এমন ভাব করবে যেন তারা তা দেখছেই না। অতঃপর তারা দুই উপদলে বিভক্ত হবে—তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভালো দলটি এর শ্রেষ্ঠত্ব দেখার কথা মুখে আনবে না এবং তা উল্লেখ করবে না। আর অপর উপদলটি এই গ্রন্থের নেয়ামতের মধ্যে রাত কাটাবে কিন্তু সকালে উঠে তা অস্বীকার করবে।
অত্যাচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জালেম সেই ব্যক্তি, যে এমন ব্যক্তির প্রতি হিংসা পোষণ করে রাত কাটায়
… যে তার (হিংসুকের) দেওয়া অনুগ্রহের মধ্যেই রাত অতিবাহিত করে।
হিংসার শয়তান তাকে নিয়ে খেলেছে এবং তার ওপর এমন সুদৃঢ় রশি দিয়ে বাঁধন কষেছে যার ওপর আস্থা রাখা যায় না। শয়তান তাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, আর শয়তান তো আদম সন্তানের শরীরের রক্ত চলাচলের জায়গায় চলাচল করে। সে তাদের নিয়ন্ত্রণ করেছে, ফলে তাদের প্রত্যেকে মন্দের নিয়ত করেছে, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পায় যার সে নিয়ত করে। সে তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে, ফলে তার হুকুমে যে পথভ্রষ্ট হওয়ার সে হয়েছে এবং সে তাদের হিংসার ময়দানে এমনভাবে নিয়ে গেছে যে শেষ পর্যন্ত তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
দ্বিতীয় দলের এক ব্যক্তি তার কথা শুনে কিন্তু তা বোঝে না। সে এর সমুদ্রে সাঁতার কাটে কিন্তু তা জানে না। সে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় সকাল করে অথচ তার মুখ সমুদ্রের ভেতরেই থাকে। এই ধরণের লোকের অনুপস্থিতিতে তাকে খোঁজা হয় না এবং সে যদি দোষারোপ করে তবে তার দোষারোপকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না:
কত দোষারোপকারী আছে যে সঠিক কথাকেও ত্রুটিযুক্ত বলে
… অথচ তার বিপদটি এসেছে তার রুগ্ন বোধশক্তি থেকে।
তৃতীয় দলের অন্য এক ব্যক্তি এর সমুদ্র থেকে অঞ্জলি ভরে গ্রহণ করে এবং এর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ মহত্ত্ব স্বীকার করে। সে এর ফুল থেকে এমন সব পুষ্প আহরণ করে যা দিগন্ত ও তার নক্ষত্ররাজি থেকেও অধিক দীপ্তিময়। আর সে আঁকড়ে ধরে...
ــ
[শুবরামাল্লিসীর হাশিয়া]অন্যান্য গ্রন্থের তুলনায়। (তাঁর উক্তি: আমি এতে স্থাপন করেছি) অর্থাৎ আমি উল্লেখ করেছি।
মিসবাহ গ্রন্থে আছে: আমি এটি প্রতিষ্ঠা করেছি অর্থাৎ আমি এর জন্য ভিত্তি বা মূল তৈরি করেছি। (তাঁর উক্তি: বর্ণিত বিষয়ের উত্তাল সমুদ্র) অর্থাৎ এর সমুদ্র। (তাঁর উক্তি: আমি এতে মন্থন করেছি ইত্যাদি) অর্থাৎ আমি সেগুলো থেকে নির্বাচন করেছি এবং সেগুলোর খাঁটি অংশ গ্রহণ করেছি। এটি দুগ্ধ মন্থন করা থেকে নেওয়া হয়েছে যখন তার ননী বা মাখন গ্রহণ করা হয়; এটি কাতায়া, নাসারা এবং দরবা বাব থেকে এসেছে—মুখতার। (তাঁর উক্তি: বাহজাহ ও রওযের দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ) অর্থাৎ শায়খুল ইসলাম (রহ.)-এর। (তাঁর উক্তি: সমসাময়িক ফাজিলগণ) অর্থাৎ ইবনে হাজার ও খতিব (শিলবিনী)-এর মতো ব্যক্তিগণ। (তাঁর উক্তি: যার সামনে ঘাড় কাটা পড়ে যায় ইত্যাদি) অর্থাৎ তাঁর কাছে পৌঁছানোর আগেই তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; অর্থাৎ যে ব্যক্তি তাঁর সাথে বিতর্ক করতে চায় সে তাঁর কাছে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস হয়ে যায়। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর বিরোধিতায় অন্যদের অক্ষমতাকে রূপকভাবে বুঝিয়েছেন।
(তাঁর উক্তি: এর শ্রেষ্ঠত্ব দেখার কথা মুখে আনবে না) কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'সন্দেহবশত' (বি-রিবাতিন) আছে: অর্থাৎ তিনি যা বর্ণনা করেছেন তাতে তাঁর প্রতি অভিযোগের কারণে। (তাঁর উক্তি: যে তার দেওয়া অনুগ্রহের মধ্যেই রাত অতিবাহিত করে) 'ইয়াতাকাল্লাবু' ক্রিয়ার কর্তা উহ্য আছে যা 'মান বাতা হাসিদান' (যে হিংসা করে রাত কাটায়)-এর দিকে ফিরবে। অর্থ হলো: যে ব্যক্তি অন্য কারো অনুগ্রহের মধ্যে রাত কাটায় যা সে তাকে প্রদান করেছে, অথচ সে সেই দাতার প্রতি হিংসা করে, তবে সে-ই অত্যাচারীদের মধ্যে বড় জালেম। (তাঁর উক্তি: রশি দিয়ে) এটি 'এবং সে কষেছে' উক্তির সাথে সম্পর্কিত। (তাঁর উক্তি: ফলে তাদের প্রত্যেকে মন্দের নিয়ত করেছে) অর্থাৎ মনে মনে তাঁকে খাটো করার নিয়ত করেছে এবং হিংসাবশত ও মানুষ যাতে তাঁকে ত্যাগ করে সেই উদ্দেশ্যে তাঁর এমন সব দোষ বর্ণনা করেছে যা বাস্তবের সাথে মিল নেই। (তাঁর উক্তি: হিংসার ময়দানে ইত্যাদি) ময়দান শব্দের মিম বর্ণে জবর ও যের উভয়টি হতে পারে, যেমন কামূস গ্রন্থে আছে। (তাঁর উক্তি: শেষ পর্যন্ত সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে)।
ــ
[রশিদী’র হাশিয়া]সমাপ্ত করার মাধ্যমে বোঝা যায় যে তিনি ব্যাখ্যার মাঝখানে খুতবা (ভূমিকা) রচনা করেছেন এবং পরবর্তীতে যা আসবে তা আগেই এতে স্থাপন করেছিলেন। সুতরাং পরবর্তীতে যা আসবে (আমি স্থাপন করেছি ইত্যাদি) তাঁর এই উক্তিটি কোনো কোনো অংশের সাপেক্ষে প্রকৃত অর্থেই সঠিক। (তাঁর উক্তি: এবং প্রতিটি গ্রহণযোগ্য মতের সঠিক রূপ) এখানে সম্বন্ধটি বর্ণনামূলক (ইযাফাত বায়ানিয়্যাহ); অন্যথায় এর অর্থ হতো যে তাঁর কাছ থেকে কেবল গ্রহণযোগ্যটিই সঠিক এবং অন্যটি সঠিক নয়, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। (তাঁর উক্তি: আমি সেগুলোর নির্যাস ও মুক্তাসমূহ গ্রহণ করেছি) দাল বর্ণে যের দিয়ে এটি 'দারুন' শব্দের বহুবচন। (তাঁর উক্তি: কিতাবের ব্যাখ্যাসমূহ থেকে ইত্যাদি) এখানে 'মিন' (থেকে) বর্ণটি বর্ণনামূলক (বায়ানিয়্যাহ) হওয়া সঠিক নয়; কারণ এর অর্থ দাঁড়াবে তিনি মিনহাজ ও ইরশাদের সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থ এখানে সারসংক্ষেপ করেছেন, অথচ এটি যে বাস্তব নয় তা গোপন কোনো বিষয় নয়। সুতরাং এটি আংশিকতা (তাব'ঈয) বা প্রারম্ভিকতা (ইবতিদা)-এর জন্য হওয়া নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তবে সেক্ষেত্রে 'বাহজাহ-এর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ' উক্তিটি সঠিক হয় না; সুতরাং বিষয়টি ভেবে দেখুন। (তাঁর উক্তি: তাদের মাঝে ভালোটি মুখে আনবে না ইত্যাদি) অর্থাৎ যদিও তারা এর সৌন্দর্যের অস্বীকারকারী, যেহেতু এটিই বিভাজনকারী। তখন অস্বীকারের অর্থ দাঁড়াবে স্বীকার না করা, যা মন্দ সাব্যস্ত করা বা না করার চেয়েও ব্যাপক। এমতাবস্থায় দুই উপদলের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করা উচিত; কেননা এখানে ভাষাগত 'কুফর' উদ্দেশ্য, যার অর্থ হলো অস্বীকার করা। সুতরাং এটি যাচাই করা প্রয়োজন।
(তাঁর উক্তি: হিংসার ময়দানে) 'বিভ্রান্তির ময়দানে' বলা অধিক উত্তম। (তাঁর উক্তি: দিগন্ত ও তার উজ্জ্বল নক্ষত্রের চেয়েও দীপ্তিময়) অর্থাৎ তার উজ্জ্বলতা। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'যাহরুহু' (তার ফুল) আছে।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
الثَّنَاءُ عَلَيْهِ لُزُومَ الْخُطَبِ لِلْمَنَابِرِ وَالْأَقْلَامِ لِلْمَحَابِرِ وَالْأَفْكَارِ لِلْخَوَاطِرِ، وَهَذِهِ الْفِرْقَةُ عَزِيزَةُ الْوُجُودِ، وَلَئِنْ وُجِدَتْ فَلَعَلَّهَا بَعْدَ سَكَنِ الْمُؤَلِّفِ اللُّحُودَ:
وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ نَشْرَ فَضِيلَةٍ
… طُوِيَتْ أَتَاحَ لَهَا لِسَانَ حَسُودِ
لَوْلَا اشْتِعَالُ النَّارِ فِيمَا جَاوَرَتْ
… مَا كَانَ يُعْرَفُ طِيبُ عَرْفِ الْعُودِ
فَالْحَسَدَةُ قَوْمٌ غَلَبَ عَلَيْهِمْ الْجَهْلُ وَطَمَّهُمْ وَأَعْمَاهُمْ حُبُّ الرِّيَاسَةِ وَأَصَمَّهُمْ، قَدْ نُكِبُوا عَنْ عِلْمِ الشَّرِيعَةِ وَنَسُوهُ، وَأَكَبُّوا عَلَى عِلْمِ الْفَلَاسِفَةِ وَتَدَارَسُوهُ يُرِيدُ الْإِنْسَانُ مِنْهُمْ أَنْ يَتَقَدَّمَ وَيَأْبَى اللَّهُ إلَّا أَنْ يَزِيدَهُ تَأْخِيرًا وَيَبْغِي الْعِزَّةَ وَلَا عِلْمَ عِنْدَهُ، فَلَا يَجِدُ لَهُ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا، وَمَعَ ذَلِكَ فَلَا تَرَى إلَّا أُنُوفًا مُشَمِّرَةً وَقُلُوبًا عَنْ الْحَقِّ مُسْتَكْبِرَةً، وَأَقْوَالًا تَصْدُرُ عَنْهُمْ مُفْتَرَاةً مُزَوَّرَةً، كُلَّمَا هَدَيْتهمْ إلَى الْحَقِّ كَانَ أَصَمَّ وَأَعْمَى لَهُمْ، كَأَنَّ اللَّهَ لَمْ يُوَكِّلْ بِهِمْ حَافِظِينَ يَضْبِطُونَ أَقْوَالَهُمْ وَأَفْعَالَهُمْ، فَالْعَالِمُ بَيْنَهُمْ مَرْجُومٌ تَتَلَاعَبُ بِهِ الْجُهَّالُ وَالصِّبْيَانُ، وَالْكَامِلُ عِنْدَهُمْ مَذْمُومٌ دَاخِلٌ فِي كِفَّةِ النُّقْصَانِ.
وَاَيْمُ اللَّهِ إنَّ هَذَا لَهْوُ الزَّمَانُ الَّذِي يَلْزَمُ فِيهِ السُّكُوتُ وَالْمَصِيرُ جِلْسًا مِنْ أَجْلَاسِ الْبُيُوتِ وَرَدُّ الْعِلْمَ إلَى الْعَمَلِ، لَوْلَا مَا وَرَدَ فِي صَحِيحِ الْأَخْبَارِ «مَنْ عَلِمَ عِلْمًا فَكَتَمَهُ أَلْجَمَهُ اللَّهُ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ» وَلِلَّهِ دَرُّ الْقَائِلِ حَيْثُ قَالَ:
ادْأَبْ عَلَى جَمْعِ الْفَضَائِلِ جَاهِدًا
… وَأَدِمْ لَهَا تَعَبَ الْقَرِيحَةِ وَالْجَسَدْ
وَاقْصِدْ بِهَا وَجْهَ الْإِلَهِ وَنَفْعَ مَنْ
… بَلَغَتْهُ مِمَّنْ تَرَاهُ قَدْ اجْتَهَدْ
وَاتْرُكْ كَلَامَ الْحَاسِدِينَ وَبَغْيَهُمْ
… هَمَلًا فَبَعْدَ الْمَوْتِ يَنْقَطِعُ الْحَسَدْ
ــ
[حاشية الشبراملسي] أَيْ مَنْ غَوَى (قَوْلُهُ: أَتَاحَ لَهَا لِسَانَ حَسُودٍ) أَيْ هَيَّأَ.
قَالَ فِي الْقَامُوسِ: تَاحَ لَهُ الشَّيْءُ يَتُوحُ تَهَيَّأَ كَتَاحَ يَتِيحُ وَأَتَاحَهُ اللَّهُ فَأُتِيحَ اهـ (قَوْلُهُ عَرْفِ الْعُودِ) هُوَ بِالْفَتْحِ. قَالَ فِي الْمُخْتَارِ: وَالْعَرْفُ الرِّيحُ طَيِّبَةً أَوْ مُنْتِنَةً اهـ (قَوْلُهُ فَالْحَسَدَةُ قَوْمٌ غَلَبَ عَلَيْهِمْ إلَخْ) مِنْ هُنَا إلَى آخِرِ الْأَبْيَاتِ الثَّلَاثَةِ الْآتِيَةِ مَأْخُوذٌ مِنْ آخِرِ الْإِتْقَانِ لِلسُّيُوطِيِّ بِرُمَّتِهِ وَحُرُوفِهِ (قَوْلُهُ: قَدْ نَكَبُوا عَنْ عِلْمِ الشَّرِيعَةِ) أَيْ تَحَوَّلُوا وَبَابُهُ نَصَرَ (قَوْلُهُ: إلَّا أُنُوفًا مُشَمِّرَةً) أَيْ مَرْفُوعَةً. قَالَ فِي الْمِصْبَاحِ: شَمَّرَ ثَوْبَهُ رَفَعَهُ: أَيْ فَالْفَاعِلُ رَافِعٌ وَالْمَفْعُولُ مَرْفُوعٌ (قَوْلُهُ: أَقْوَالُهُمْ وَأَفْعَالُهُمْ) وَفِي نُسْخَةٍ وَأَعْمَالُهُمْ (قَوْلُهُ: فَالْعَالِمُ بَيْنَهُمْ مَرْجُومٌ) كَذَا فِي النُّسَخِ، وَاَلَّذِي فِي الْإِتْقَانِ الْمَأْخُوذِ مِنْهُ هَذِهِ الْعِبَارَةُ مَوْجُومٌ بِالْوَاوِ. قَالَ فِي الْمَطَالِعِ: وَجَمَ يَجِمُ وُجُومًا وَهُوَ ظُهُورُ الْحُزْنِ وَتَقْطِيبُ الْوَجْهِ مَعَ تَرْكِ الْكَلَامِ انْتَهَى.
(قَوْلُهُ: دَاخِلٌ فِي كِفَّةِ النُّقْصَانِ) بِكَسْرِ الْكَافِ وَفَتْحِهَا اهـ مُخْتَارٌ (قَوْلُهُ: وَاَيْمُ اللَّهِ) أَيْ يَمِينُ اللَّهِ.
وَفِي الْمِصْبَاحِ: ايْمُنُ اسْمٌ اُسْتُعْمِلَ فِي الْقَسَمِ وَالْتُزِمَ رَفْعُهُ كَمَا اُلْتُزِمَ رَفْعُ لَعَمْرُ اللَّهِ، ثُمَّ قَالَ: وَقَدْ يُخْتَصَرُ مِنْهُ فَيُقَالُ وَاَيْمُ اللَّهِ بِحَذْفِ الْهَمْزَةِ وَالنُّونِ (قَوْلُهُ: مِنْ أَجْلَاسِ الْبُيُوتِ) كِنَايَةٌ عَنْ مُلَازَمَةِ الْبُيُوتِ وَهُوَ بِالْجِيمِ، وَفِي نُسْخَةٍ بِالْمُهْمَلَةِ، وَعِبَارَةُ الْمُخْتَارِ فِي فَصْلِ الْحَاءِ مِنْ بَابِ السِّينِ الْمُهْمَلَةِ حِلْسُ الْبَيْتِ كِسَاءٌ يُبْسَطُ تَحْتَ حُرِّ الثِّيَابِ، وَفِي الْحَدِيثِ «كُنْ حِلْسَ بَيْتِك» أَيْ لَا تَبْرَحْ مِنْهُ انْتَهَى، وَبِهِ يُعْلَمُ أَنَّ نُسْخَةَ الْحَاءِ الْمُهْمَلَةِ أَوْلَى لِمُطَابَقَتِهَا لِمَا فِي الْحَدِيثِ. وَفِي الْمُخْتَارِ أَيْضًا فِي فَصْلِ الْجِيمِ مِنْ بَابِ السِّينِ الْمُهْمَلَةِ: وَرَجُلٌ جُلَسَةٌ بِوَزْنِ هُمَزَةٍ: أَيْ كَثِيرُ الْجُلُوسِ، وَالْجِلْسَةُ بِالْكَسْرِ الْحَالُ الَّتِي يَكُونُ الْجَالِسُ عَلَيْهَا وَجَالَسَهُ فَهُوَ جِلْسُهُ وَجَلِيسُهُ كَمَا تَقُولُ خِدْنُهُ وَخَدِينُهُ، وَهُوَ صَحِيحٌ هُنَا أَيْضًا لَكِنَّ الْأَوَّلَ أَظْهَرُ (قَوْلُهُ: وَرَدَّ الْعِلْمَ إلَى الْعَمَلِ) أَيْ قَصَرَهُ عَلَى الْعَمَلِ بِهِ لِنَفْسِهِ (قَوْلُهُ تَعَبَ الْقَرِيحَةِ) أَيْ الطَّبْعِ. قَالَ فِي الْقَامُوسِ: الْقَرِيحَةُ أَوَّلُ مَاءٍ
ــ
[حاشية الرشيدي] فِي هَذَا وَفِيمَا قَبْلَهُ، وَهُوَ مُتَوَقِّفٌ عَلَى مَجِيءِ مَصْدَرِ زَهَرَهُ عَلَى زَهْرٍ، وَذَلِكَ؛ لِأَنَّ قِيَاسَ مَصْدَرِ فَعَلَ الْقَاصِرِ إنَّمَا هُوَ الْفُعُولُ (قَوْلُهُ: وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ نَشْرَ فَضِيلَةٍ إلَخْ) كَانَ الْأَنْسَبُ ذِكْرَهُ عِنْدَ ذِكْرِ الْقَبِيلَةِ الثَّانِيَةِ مِنْ الْفِرْقَةِ الْأُولَى (قَوْلُهُ: وَأَفْعَالَهُمْ) فِي نُسْخَةٍ، وَأَعْمَالَهُمْ، وَهِيَ الْأَنْسَبُ (قَوْلُهُ: حُلُسًا) فِي الصِّحَاحِ:، وَأَحْلَاسُ الْبُيُوتِ مَا يُبْسَطُ تَحْتَ حَرِّ
তাঁর প্রশংসা করা মিম্বরসমূহের জন্য খুতবার ন্যায়, দোয়াতসমূহের জন্য কলমের ন্যায় এবং চিন্তার জন্য ভাবনার ন্যায় অপরিহার্য। এই দলটি অস্তিত্বের দিক থেকে বিরল; যদি তাদের পাওয়াও যায়, তবে সম্ভবত তা লেখকের কবরে শায়িত হওয়ার পরে হবে:
যখন আল্লাহ কোনো অপ্রকাশিত গুণকে ছড়িয়ে দিতে চান
… তখন তিনি তার জন্য একজন হিংসুক ব্যক্তির জিহ্বাকে নিয়োজিত করেন।
যদি আগুনের দহন তার আশপাশে প্রজ্বলিত না হতো
… তবে আগর কাঠের সুগন্ধি সম্পর্কে জানাই যেত না।
হিংসুকরা এমন এক সম্প্রদায় যাদের ওপর অজ্ঞতা বিজয়ী হয়েছে, নেতৃত্বের মোহ তাদের আচ্ছন্ন ও অন্ধ করে দিয়েছে এবং বধির করে ফেলেছে। তারা শরীয়তের জ্ঞান থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তা ভুলে গিয়েছে। তারা দার্শনিকদের জ্ঞানের ওপর ঝুঁকে পড়েছে এবং তা পাঠ করেছে। তাদের কেউ চায় অগ্রগামী হতে, কিন্তু আল্লাহ তাকে পশ্চাৎপদতা বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কিছুই চান না। সে মর্যাদা অন্বেষণ করে অথচ তার কাছে কোনো জ্ঞান নেই, তাই সে নিজের জন্য কোনো অভিভাবক বা সাহায্যকারী পায় না। এতদসত্ত্বেও, আপনি কেবল উদ্ধত নাক এবং সত্যের প্রতি অহঙ্কারী অন্তরই দেখতে পাবেন। তাদের থেকে মিথ্যা ও বানোয়াট কথা প্রকাশ পায়। আপনি যখনই তাদের সত্যের দিকে আহ্বান করবেন, তা তাদের জন্য বধিরতা ও অন্ধত্বের কারণ হয়। যেন আল্লাহ তাদের ওপর কোনো হেফাযতকারী নিযুক্ত করেননি যারা তাদের কথা ও কাজসমূহ লিপিবদ্ধ করেন। ফলে তাদের মাঝে আলেম ব্যক্তি লাঞ্ছিত, যাকে নিয়ে মূর্খ ও বালকেরা খেলা করে এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তি তাদের নিকট দোষী সাব্যস্ত হয়, যে ঘাটতি বা অসম্পূর্ণতার পাল্লায় অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহর কসম! এটি এমন এক সময় যেখানে নীরব থাকা এবং ঘরের আসবাবপত্রের ন্যায় ঘরে অবস্থান করা এবং জ্ঞানকে আমলের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া আবশ্যক ছিল। যদি সহীহ বর্ণনায় এটি না আসত যে, 'যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান অর্জন করল অতঃপর তা গোপন করল, আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন'। আর কবির উক্তি কতই না চমৎকার যেখানে তিনি বলেছেন:
নিষ্ঠার সাথে গুণাবলী অর্জনে সচেষ্ট হও
… আর সে জন্য মেধা ও শরীরের ক্লান্তি অব্যাহত রাখো।
এর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং সে ব্যক্তির উপকারের ইচ্ছা করো
… যে তোমার পরিচিতদের মধ্যে চেষ্টা-প্রচেষ্টা করেছে।
হিংসুকদের কথা ও তাদের সীমালঙ্ঘনকে উপেক্ষা করো
… কারণ মৃত্যুর পর হিংসার অবসান ঘটে।
--
[আশ-শুবরামাল্লিসীর টীকা] অর্থাৎ যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়েছে। (তাঁর উক্তি: একজন হিংসুক ব্যক্তির জিহ্বাকে নিয়োজিত করেন) অর্থাৎ প্রস্তুত করেন।
কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: কোনো কিছু তার জন্য প্রস্তুত হওয়া। আল্লাহ তা সহজ করেছেন ফলে তা সহজ হয়েছে। (তাঁর উক্তি: আগর কাঠের সুগন্ধি) এটি যবর দিয়ে। মুখতার গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আরফ' মানে ঘ্রাণ, তা সুগন্ধি হোক বা দুর্গন্ধ। (তাঁর উক্তি: হিংসুকরা এমন এক সম্প্রদায় যাদের ওপর বিজয়ী হয়েছে... ইত্যাদি) এখান থেকে পরবর্তী তিনটি কবিতার শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি সুয়ূতী রহ.-এর আল-ইতকান গ্রন্থের শেষ অংশ থেকে সম্পূর্ণভাবে এবং আক্ষরিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। (তাঁর উক্তি: তারা শরীয়তের জ্ঞান থেকে বিচ্যুত হয়েছে) অর্থাৎ সরে গিয়েছে; এটি নাসারা বাব থেকে। (তাঁর উক্তি: কেবল উদ্ধত নাক) অর্থাৎ উন্নত বা উঁচানো। মিসবাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: সে তার কাপড় উঁচিয়েছে: অর্থাৎ কর্তা উঁচুকারী এবং কর্মটি উঁচানো। (তাঁর উক্তি: তাদের কথা ও কাজসমূহ) একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে 'তাদের কথা ও আমলসমূহ'। (তাঁর উক্তি: তাদের মাঝে আলেম ব্যক্তি লাঞ্ছিত) পাণ্ডুলিপিগুলোতে এমনই রয়েছে। তবে আল-ইতকান গ্রন্থে যেখান থেকে এই ইবারতটি নেওয়া হয়েছে, সেখানে 'মাওজুম' (ওয়াও দিয়ে) রয়েছে। মাতালি গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো কথা বলা বন্ধ করার সাথে সাথে বিষণ্ণতা প্রকাশ পাওয়া এবং মুখ মলিন করা।
(তাঁর উক্তি: অসম্পূর্ণতার পাল্লায় অন্তর্ভুক্ত) কাফ বর্ণে যের বা যবর উভয়ভাবেই পড়া যায়। (তাঁর উক্তি: আল্লাহর কসম) এটি আল্লাহর নামে একটি শপথ।
মিসবাহ গ্রন্থে আছে: 'আইমুন' একটি শব্দ যা শপথের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং 'লা-আমরুুল্লাহ'-এর ন্যায় এটি সর্বদাই পেশযুক্ত হয়। অতঃপর তিনি বলেছেন: এটি সংক্ষেপে 'আইমুল্লাহ' বলা হয় হামযা ও নূন বিলুপ্ত করে। (তাঁর উক্তি: ঘরের আসবাবপত্রের ন্যায়) এটি ঘরে সার্বক্ষণিক অবস্থান করার রূপক অর্থ। এটি জীম বর্ণ দিয়ে। অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে হা বর্ণ দিয়ে রয়েছে। মুখতার গ্রন্থের হা ও সীন অধ্যায়ে রয়েছে: 'হিলসুল বাইত' হলো ওই কাপড় যা দামী কাপড়ের নিচে বিছানো হয়। হাদীসে এসেছে, 'তুমি তোমার ঘরের আসবাব হও' অর্থাৎ ঘর থেকে বের হয়ো না। এর মাধ্যমে জানা গেল যে, হা বর্ণ বিশিষ্ট পাঠটিই উত্তম কারণ তা হাদীসের সাথে মিল রাখে। মুখতার গ্রন্থের জীম ও সীন অধ্যায়ে আরও রয়েছে: 'জুলাসাহ' মানে অধিক উপবেশনকারী। আর 'জিলসাহ' (যের দিয়ে) মানে বসার অবস্থা। আর সে তার সাথে বসল তাই সে তার সহচর। এটিও এখানে সঠিক হতে পারে, তবে পূর্বেরটি অধিক স্পষ্ট। (তাঁর উক্তি: এবং জ্ঞানকে আমলের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া) অর্থাৎ জ্ঞানকে কেবল নিজের আমলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। (তাঁর উক্তি: মেধার ক্লান্তি) অর্থাৎ স্বভাবজাত মেধা। কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'কারীহা' মানে কূপের প্রথম পানি।
--
[আর-রাশিদীর টীকা] এতে এবং এর পূর্বে যা রয়েছে। এটি 'যাহারাহু' এর মাসদার 'যাহর' আসার ওপর নির্ভরশীল; কারণ 'ফা'আলা' লাযিম ক্রিয়ার মাসদারের নিয়ম হলো 'ফুঊল' হওয়া। (তাঁর উক্তি: যখন আল্লাহ কোনো অপ্রকাশিত গুণকে ছড়িয়ে দিতে চান... ইত্যাদি) প্রথম দলের দ্বিতীয় প্রকার আলোচনার সময় এটি উল্লেখ করা অধিক মানানসই ছিল। (তাঁর উক্তি: এবং তাদের কাজসমূহ) একটি পাণ্ডুলিপিতে 'তাদের আমলসমূহ' রয়েছে, যা অধিক উপযুক্ত। (তাঁর উক্তি: আসবাবপত্রের ন্যায়) সিহাহ গ্রন্থে আছে: 'আহলাসুল বুয়ূত' হলো যা ঘরের নিচে বিছানো হয়।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وَأَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى إتْمَامَ هَذَا التَّوْضِيحِ عَلَى أُسْلُوبٍ بَدِيعٍ وَسَبِيلٍ بِالنِّسْبَةِ إلَى كَثِيرٍ مِنْ أَبْنَاءِ الزَّمَانِ مَنِيعٍ، مَعَ أَنَّ الْفِكْرَ عَنْهُ بِغَيْرِهِ مَقْطُوعٌ، وَلَمْ يُمْكِنْ تَيَسُّرُ صَرْفِ النَّظَرِ لَهُ إلَّا سَاعَةً فِي الْأُسْبُوعِ، هَذَا وَأَنَا مُعْتَرِفٌ بِالْعَجْزِ وَالْقُصُورِ، سَائِلٌ فَضْلَ مَنْ وَقَفَ عَلَيْهِ أَنْ يُصْلِحَ مَا يَبْدُو لَهُ مِنْ فُطُورٍ، وَأَنْ يَصْفَحَ عَمَّا فِيهِ مِنْ زَلَلٍ، وَأَنْ يُنْعِمَ بِإِصْلَاحِ مَا يُشَاهِدُهُ مِنْ خَلَلٍ، مُسْبِلًا عَلَيَّ ذَيْلَ كَرَمِهِ، مُتَأَمِّلًا كَلِمَهُ قَبْلَ إجْرَاءِ قَلَمِهِ، مُسْتَحْضِرًا أَنَّ الْإِنْسَانَ مَحَلُّ النِّسْيَانِ، وَأَنَّ الصَّفْحَ عَنْ عَثَرَاتِ الضِّعَافِ مِنْ شِيَمِ الْأَشْرَافِ، وَأَنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ، فَلِلَّهِ دَرُّ الْقَائِلِ حَيْثُ قَالَ:
وَمَنْ ذَا الَّذِي تُرْضَى سَجَايَاهُ كُلُّهَا
… كَفَى الْمَرْءَ نُبْلًا أَنْ تُعَدَّ مَعَايِبُهُ
وَسَمَّيْته: نِهَايَةُ الْمُحْتَاجِ إلَى شَرْحِ الْمِنْهَاجِ رَاجِيًا أَنَّ الْمُقْتَصِرَ عَلَيْهِ يَسْتَغْنِي بِهِ عَنْ مُطَالَعَةِ مَا سِوَاهُ مِنْ أَمْثَالِهِ، وَأَنْ يُدْرِكَ بِهِ مَا يَرْجُوهُ مِنْ آمَالِهِ، وَلَا يَمْنَعُ الْوَاقِفَ عَلَيْهِ دَاءُ الْحَسَدِ أَخْذَ مَا فِيهِ بِالْقَبُولِ، وَلَا اسْتِصْغَارَ مُؤَلِّفِهِ وَقَصْرِ نَظَرِهِ فِي النُّقُولِ، فَقَدْ قَالَ الْقَائِلُ:
لَا زِلْت مِنْ شُكْرِي فِي حُلَّةٍ
… لَابِسُهَا ذُو سَلَبٍ فَاخِرِ
يَقُولُ مَنْ تَطْرُقُ أَسْمَاعُهُ
… كَمْ تَرَكَ الْأَوَّلُ لِلْآخِرِ
فَلَيْسَ لِكِبَرِ السِّنِّ يَفْضُلُ الْفَائِلُ، وَلَا لِحِدْثَانِهِ يُهْتَضَمُ الْمُصِيبُ، وَإِنْ كَانَ لِذَلِكَ الْكَلَامِ أَوَّلُ قَائِلٍ فَلِلَّهِ دَرُّ الْقَائِلِ حَيْثُ قَالَ:
وَإِنِّي وَإِنْ كُنْت الْأَخِيرَ زَمَانُهُ
… لَآتٍ بِمَا لَمْ تَسْتَطِعْهُ الْأَوَائِلُ
ــ
[حاشية الشبراملسي] يُسْتَنْبَطُ مِنْ الْبِئْرِ كَالْقَرْحِ وَأَوَّلُ كُلِّ شَيْءٍ وَمِنْك طَبْعُك (قَوْلُهُ: أَنْ يُصْلِحَ مَا يَبْدُو لَهُ مِنْ فُطُورٍ) أَيْ خَلَلٍ مِنْ فَطَرَهُ إذَا شَقَّهُ: أَيْ خَلَّلَهُ، وَهَذَا مِنْ الْمُؤَلِّفِينَ كِنَايَةٌ عَنْ طَلَبِ مُحَاوَلَةِ الْأَجْوِبَةِ عَمَّا يُرَدُّ عَلَيْهِمْ مِنْ الِاعْتِرَاضَاتِ، وَلَيْسَ ذَلِكَ إذْنًا فِي تَغْيِيرِ كُتُبِهِمْ عَلَى الْحَقِيقَةِ، وَلَوْ انْفَتَحَ ذَلِكَ الْبَابُ لَبَطَلَ الْوُثُوقُ بِأَخْذِ شَيْءٍ مِنْ كَلَامِهِمْ، وَذَلِكَ؛ لِأَنَّ كُلَّ مَنْ طَالَعَ وَظَهَرَ لَهُ شَيْءٌ غَيَّرَ إلَى مَا ظَهَرَ لَهُ وَيَجِيءُ مِنْ بَعْدِهِ يَفْعَلُ مِثْلَهُ، وَهَكَذَا فَلَا يُوثَقُ بِنِسْبَةِ شَيْءٍ إلَى الْمُؤَلِّفِينَ لِاحْتِمَالِ أَنَّ مَا وَجَدَهُ مُثْبَتًا فِي كَلَامِهِمْ يَكُونُ مِنْ إصْلَاحِ بَعْضِ مَنْ وَقَفَ عَلَى كُتُبِهِمْ، وَلَا يُنَافِي مَا قَرَّرْنَاهُ قَوْلُهُ قَبْلَ إجْرَاءِ قَلَمِهِ الْمُشْعِرُ بِأَنَّهُ يُصْلِحُ مَا فِيهِ حَقِيقَةً لِجَوَازِ أَنْ يُرِيدَ بِهِ الْأَمْرَ بِالتَّأَمُّلِ قَبْلَ إظْهَارِ الِاعْتِرَاضِ عَلَيْهِ وَالْمُبَالَغَةِ فِيهِ. هَذَا وَلَيْسَ كُلُّ اعْتِرَاضٍ سَائِغًا مِنْ الْمُعْتَرِضِ، وَإِنَّمَا يَسُوغُ لَهُ اعْتِرَاضٌ بِخَمْسَةِ شُرُوطٍ كَمَا قَالَهُ الْأَبْشِيطِيُّ، وَعِبَارَتُهُ: لَا يَنْبَغِي لِمُعْتَرِضٍ اعْتِرَاضٌ إلَّا بِاسْتِكْمَالِ خَمْسَةِ شُرُوطٍ، وَإِلَّا فَهُوَ آثِمٌ مَعَ رَدِّ اعْتِرَاضِهِ عَلَيْهِ: كَوْنِ الْمُعْتَرِضِ أَعْلَى أَوْ مُسَاوِيًا لِلْمُعْتَرَضِ عَلَيْهِ، وَكَوْنِهِ يَعْلَمُ أَنَّ مَا أَخَذَهُ مِنْ كَلَامِ شَخْصٍ مَعْرُوفٍ، وَكَوْنِهِ مُسْتَحْضِرًا لِذَلِكَ الْكَلَامِ، وَكَوْنِهِ قَاصِدًا لِلصَّوَابِ فَقَطْ، وَكَوْنِ مَا اعْتَرَضَهُ لَمْ يُوجَدْ لَهُ وَجْهٌ فِي التَّأْوِيلِ إلَى الصَّوَابِ انْتَهَى.
أَقُولُ: وَقَدْ يُتَوَقَّفُ فِي الشَّرْطِ الْأَوَّلِ، فَإِنَّهُ قَدْ يُجْرِي اللَّهُ عَلَى لِسَانِ مَنْ هُوَ دُونَ غَيْرِهِ بِمَرَاحِلَ مَا لَا يُجْرِيهِ عَلَى لِسَانِ الْأَفْضَلِ (قَوْلُهُ: مِنْ شِيَمِ الْأَشْرَافِ) أَيْ خِصَالِهِمْ (قَوْلُهُ: كَفَى الْمَرْءُ نُبْلًا) أَيْ شَرَفًا وَفَضْلًا وَهُوَ بِضَمِّ النُّونِ كَمَا فِي الْمُخْتَارِ (قَوْلُهُ: مَنْ تَطْرُقُ) فِي نُسْخَةٍ مَنْ تَقْرَعُ، وَكُلٌّ مِنْهُمَا يَحْتَمِلُ أَنَّهُ بِالْيَاءِ التَّحْتِيَّةِ وَبِالتَّاءِ الْفَوْقِيَّةِ، فَالضَّمِيرُ عَلَى الْأَوَّلِ رَاجِعٌ لِلشُّكْرِ، وَعَلَى الثَّانِي لِلْحُلَّةِ (قَوْلُهُ: يَفْضُلُ الْفَائِلُ) هُوَ بِالْفَاءِ مَعْنَاهُ الْمُخْطِئُ فِي رَأْيِهِ. قَالَ فِي الْقَامُوسِ فِي فَصْلِ الْفَاءِ مِنْ بَابِ اللَّامِ: قَالَ رَأْيُهُ يَفِيلُ فُيُولَةً وَفَيْلَةً أَخْطَأَ وَضَعُفَ كَتَفَيَّلَ، وَفَيَّلَ رَأْيَهُ قَبَّحَهُ وَخَطَّأَهُ، وَرَجُلٌ فِيلُ الرَّأْيِ بِالْكَسْرِ وَالْفَتْحِ وَكَكَيِّسٍ، وَفَالُهُ وَفَائِلُهُ وَفَالٌ مِنْ غَيْرِ إضَافَةٍ ضَعِيفَةٌ وَالْجَمْعُ أَفْيَالٌ، وَفِي رَأْيِهِ فَيَالَةٌ وَفُيُولَةٌ وَمُفَايَلَةٌ، وَالْفِيَالُ بِالْكَسْرِ وَالْفَتْحِ لُعْبَةٌ وَتَقَدَّمَ فِي فَأَلَ، فَإِذَا أَخْطَأَ قِيلَ قَالَ رَأْيُك انْتَهَى. وَمَا ذَكَرَهُ مِنْ أَنَّهُ بِالْفَاءِ هُوَ الْمُنَاسِبُ لِقَوْلِهِ بَعْدُ يُهْتَضَمُ الْمُصِيبُ (قَوْلُهُ: وَلَا لَحِدْثَانِهِ) أَيْ صِغَرِهِ (قَوْلُهُ: وَإِنِّي وَإِنْ كُنْت الْأَخِيرَ زَمَانُهُ) مَرْفُوعٌ عَلَى أَنَّهُ
ــ
[حاشية الرشيدي] الثِّيَابِ (قَوْلُهُ: الْفَائِلُ) هُوَ بِالْفَاءِ أَيْ الْمُخْطِئُ فِي رَأْيِهِ
আমি মহান আল্লাহ তাআলার নিকট এই ব্যাখ্যার সমাপ্তি কামনা করছি এমন এক চমৎকার শৈলী ও পথে যা বর্তমান জামানার অনেক মানুষের কাছে দুর্লভ, যদিও অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে চিন্তা বিচ্ছিন্ন ছিল এবং সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা ছাড়া এর দিকে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় আমি নিজের অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা স্বীকার করছি এবং যারা এই কিতাবটি পাঠ করবেন তাদের নিকট প্রার্থনা করছি যেন তারা এতে প্রকাশ পাওয়া কোনো ত্রুটি সংশোধন করে দেন, এতে থাকা বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করেন এবং এতে দৃশ্যমান কোনো অসংগতি সংশোধনের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেন। তারা যেন আমার ওপর তাদের উদারতার আঁচল বিছিয়ে দেন এবং তাদের কলম চালানোর আগে কিতাবের শব্দগুলো নিয়ে গভীর চিন্তা করেন; এই কথা স্মরণে রেখে যে মানুষ হলো বিস্মৃতির আধার, আর দুর্বলের স্খলন ক্ষমা করা মহানুভব ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য। আর নিশ্চয়ই নেক কাজসমূহ গুনাহকে মিটিয়ে দেয়। কবির উক্তিটি কতই না চমৎকার যেখানে তিনি বলেছেন:
এমন কে আছে যার সব গুণাবলীই সন্তোষজনক? একজন মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে তার দোষগুলো গণনা করা যায়।
আমি এর নাম রেখেছি: ‘নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ’। আমি আশা করি যে ব্যক্তি কেবল এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে তার জন্য এটি সমজাতীয় অন্য কিতাব পাঠ থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে এবং এর মাধ্যমে সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে পারবে। এই কিতাবটি পাঠকারীকে যেন হিংসার ব্যাধি এতে থাকা বিষয়গুলো গ্রহণ করতে বাধা না দেয় এবং এর লেখকের অল্প বয়স কিংবা উদ্ধৃতি চয়নে তার দৃষ্টির সীমাবদ্ধতাকে যেন সে তুচ্ছজ্ঞান না করে। যেমন জনৈক কবি বলেছেন:
আপনার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার চাদর সর্বদা বিদ্যমান থাকবে, যার পরিধানকারী এক চমৎকার নেয়ামত লাভকারী।
যার কানেই তা পৌঁছাবে সেই বলবে: পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন!
কেননা বয়সের আধিক্যের কারণে কোনো ভুলকারী ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ হয়ে যায় না, আবার অল্প বয়সের কারণে কোনো সঠিক কথা বলা ব্যক্তি অবজ্ঞাত হয় না। যদিও এই কথার একজন আদি প্রবক্তা রয়েছেন, তবে সেই কবির কথা কতই না চমৎকার যেখানে তিনি বলেছেন:
আমি যদিও সময়ের বিচারে সবার শেষে এসেছি, তবুও আমি এমন কিছু নিয়ে আসব যা পূর্ববর্তীরা করতে সক্ষম হননি।
—
[হাশিয়াতে শুবরামাল্লিসি]
কূপ থেকে পানি তোলার মতো... (লেখকের কথা: ‘যাতে তিনি এতে প্রকাশ পাওয়া কোনো ত্রুটি সংশোধন করে দেন’) অর্থাৎ অসংগতি; যা ‘ফাতারা’ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ বিদীর্ণ করা অর্থাৎ ছিদ্র করা। লেখকদের পক্ষ থেকে এটি তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তির জবাব দেওয়ার প্রচেষ্টার একটি রূপক প্রকাশ মাত্র। এটি প্রকৃতপক্ষে তাদের কিতাব পরিবর্তনের অনুমতি নয়। যদি এই দ্বার উন্মুক্ত করা হয়, তবে তাদের বক্তব্য গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ তখন যে কেউ কিতাব পাঠ করবে এবং তার কাছে যা মনে হবে সে অনুযায়ী কিতাব পরিবর্তন করে ফেলবে এবং তার পরবর্তী ব্যক্তিও অনুরূপ করবে। ফলে লেখকদের দিকে কোনো বক্তব্য সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে আর আস্থা থাকবে না, কারণ তখন সম্ভাবনা থাকবে যে তাদের বক্তব্যে যা পাওয়া যাচ্ছে তা হয়তো পাঠকদের কারো সংশোধনের ফল। আমরা যা নির্ধারণ করলাম তার সাথে লেখকের পরবর্তী কথা ‘তার কলম চালানোর আগে’—যা বাহ্যত কিতাবটি সংশোধনের নির্দেশ দেয়—তা সাংঘর্ষিক নয়। কারণ এর দ্বারা তিনি হয়তো আপত্তি প্রকাশের আগে এবং এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করার আগে গভীর চিন্তার নির্দেশ বুঝিয়েছেন। তা ছাড়া প্রত্যেক আপত্তিকারীর আপত্তিই গ্রহণযোগ্য নয়; বরং তা পাঁচটি শর্ত সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য যা আবশীতি উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য হলো: কোনো আপত্তিকারীর জন্য আপত্তি করা সংগত নয় যতক্ষণ না সে পাঁচটি শর্ত পূর্ণ করে, অন্যথায় সে গুনাহগার হবে এবং তার আপত্তি তার দিকেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। শর্তগুলো হলো: আপত্তিকারীকে যার ওপর আপত্তি করা হচ্ছে তার সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে উচ্চপর্যায়ের হতে হবে; তিনি জানবেন যে তিনি যা গ্রহণ করছেন তা একজন পরিচিত ব্যক্তির বক্তব্য; সেই বক্তব্যটি তার স্মৃতিতে উপস্থিত থাকা; তার উদ্দেশ্য হতে হবে কেবল সত্য উদঘাটন; এবং যে বিষয়ের ওপর তিনি আপত্তি করছেন তার সঠিক কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ না থাকা। সমাপ্ত।
আমি বলি: প্রথম শর্তটির ব্যাপারে আপত্তি থাকতে পারে, কারণ আল্লাহ তাআলা কখনো কখনো এমন ব্যক্তির মুখে জ্ঞান প্রবাহিত করেন যিনি অন্যের চেয়ে অনেক নিম্নস্তরে অবস্থান করেন, যা তিনি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির মুখেও প্রবাহিত করেন না। (লেখকের কথা: ‘মহানুভব ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য’) অর্থাৎ তাদের স্বভাবসমূহ। (লেখকের কথা: ‘একজন মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটুকুই যথেষ্ট’) অর্থাৎ তার মর্যাদা ও ফযিলত। শব্দটি নুন বর্ণের পেশসহ যেমনটি মুখতার কিতাবে রয়েছে। (লেখকের কথা: ‘যার কানে পৌঁছাবে’) একটি কপিতে ‘তাকরউ’ শব্দ রয়েছে, আর উভয় শব্দের ক্ষেত্রেই ইয়া বা তা বর্ণ দিয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। প্রথমটি অনুযায়ী সর্বনামটি কৃতজ্ঞতার (শুকর) দিকে ফিরবে এবং দ্বিতীয়টি অনুযায়ী চাদরের (হুল্লা) দিকে ফিরবে। (লেখকের কথা: ‘ভুলকারী ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ হয়ে যায় না’) এটি ‘ফা’ বর্ণ দিয়ে, যার অর্থ যে তার মতে ভুল করে। ‘আল-কামুস’ কিতাবে ‘লাম’ অধ্যায়ের ‘ফা’ পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে: ‘ফালা রাইয়ুহু’ মানে তার মতামত ভুল ও দুর্বল হয়েছে। ‘ফায়্যালা রাইয়াহু’ মানে তার মতামতকে ভুল সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর ‘ফীলুর রাইয়্যি’ (জের, জবর বা তাশদিদসহ) মানে দুর্বল মত। ‘ফা-ইল’ অর্থও দুর্বল মত। এর বহুবচন হলো ‘আফইয়াল’। আর তার মতের ক্ষেত্রে ‘ফাইয়ালাহ’, ‘ফুয়ূলাহ’ এবং ‘মুফায়ালাহ’ শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়। ‘ফিয়াল’ (জের বা জবরসহ) একটি খেলার নাম। সুতরাং যখন কেউ ভুল করে তখন বলা হয় তোমার মতটি ভুল হয়েছে। সমাপ্ত। তিনি এখানে ‘ফা’ বর্ণ দিয়ে যে শব্দ উল্লেখ করেছেন তা তার পরবর্তী কথা ‘সঠিক কথা বলা ব্যক্তি অবজ্ঞাত হয় না’ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। (লেখকের কথা: ‘তার অল্প বয়সের কারণে’) অর্থাৎ তার ছোট হওয়ার কারণে। (লেখকের কথা: ‘আমি যদিও সময়ের বিচারে সবার শেষে এসেছি’) এটি ‘আনা’ এর খবর হওয়ার কারণে পেশযুক্ত হয়েছে...
—
[হাশিয়াতে রশিদি]
পোশাকসমূহ। (লেখকের কথা: ‘ভুলকারী ব্যক্তি’) এটি ‘ফা’ বর্ণ দিয়ে, অর্থাৎ যে তার মতের ক্ষেত্রে ভুলকারী।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وَلَقَدْ أَجَادَ الْقَائِلُ فِي قَوْلِهِ:
إنِّي لَأَرْحَمُ حَاسِدِيَّ لِفَرْطِ مَا
… ضَمَّتْ صُدُورُهُمْ مِنْ الْأَوْغَارِ
نَظَرُوا صَنِيعَ اللَّهِ بِي فَعُيُونُهُمْ
… فِي جَنَّةٍ وَقُلُوبُهُمْ فِي نَارِ
لَا ذَنْبَ لِي قَدْ رُمْت كَتْمَ فَضَائِلِي
… فَكَأَنَّمَا بَرْقَعْتهَا بِنَهَارِ
وَهَذِهِ الْإِطَالَةُ مِنْ بَابِ الْإِرْشَادِ وَالدَّلَالَةِ، أَعَاذَنَا اللَّهُ مِنْ حَسَدٍ يَسُدُّ بَابَ الْإِنْصَافِ، وَأَجَارَنَا مِنْ الْجَوْرِ وَالِاعْتِسَافِ وَلَمَّا كَانَتْ الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَقَرِيبًا كُلُّ مَا هُوَ آتٍ، نَوَيْت بِهِ الثَّوَابَ يَوْمَ النُّشُورِ وَطَمَعًا فِي دَعْوَةِ عَبْدٍ صَالِحٍ إذَا صِرْت مُنْجَدِلًا فِي الْقُبُورِ، لَا الثَّنَاءَ عَلَى ذَلِكَ فِي دَارِ الْغُرُورِ.
وَاعْلَمْ أَنَّ التَّأَسِّي بِكِتَابِ اللَّهِ سُنَّةٌ مُتَحَتِّمَةٌ وَالْعَمَلُ بِالْخَبَرِ الْآتِي طَرِيقَةٌ مُلْتَزَمَةٌ، وَهَذَا التَّأْلِيفُ أَثَرٌ مِنْ آثَارِهَا وَفَيْضٌ مِنْ أَنْوَارِهَا، فَلِذَلِكَ جَرَى الْمُصَنِّفُ كَغَيْرِهِ عَلَى ذَلِكَ الْمَنْهَجِ الْقَوِيمِ وَالطَّرِيقِ الْمُسْتَقِيمِ فَقَالَ:
(بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) الْبَاءُ فِيهَا قِيلَ إنَّهَا زَائِدَةٌ فَلَا تَحْتَاجُ إلَى مَا تَتَعَلَّقُ بِهِ، أَوْ لِلِاسْتِعَانَةِ أَوْ لِلْمُصَاحَبَةِ مُتَعَلِّقَةٌ بِمَحْذُوفِ اسْمِ فَاعِلٍ خَبَرِ مُبْتَدَإٍ مَحْذُوفٍ، أَوْ فِعْلٍ: أَيْ أُؤَلِّفُ أَوْ أَبْدَأُ، أَوْ حَالٍ مِنْ فَاعِلِ الْفِعْلِ الْمَحْذُوفِ: أَيْ أَبْتَدِئُ مُتَبَرِّكًا وَمُسْتَعِينًا بِاَللَّهِ، أَوْ مَصْدَرٍ مُبْتَدَأٍ خَبَرُهُ مَحْذُوفٌ: أَيْ ابْتِدَائِي بِسْمِ اللَّهِ ثَابِتٌ، وَلَا يَضُرُّ عَلَى هَذَا حَذْفُ الْمَصْدَرِ وَإِبْقَاءُ مَعْمُولِهِ؛ لِأَنَّهُ يُتَوَسَّعُ فِي الْجَارِّ وَالْمَجْرُورِ مَا لَا يُتَوَسَّعُ فِي غَيْرِهِمَا، وَتَقْدِيمُ الْمَعْمُولِ هَا هُنَا أَوْقَعُ كَمَا فِي قَوْلِهِ {بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا} [هود: 41] وَقَوْلُهُ {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} [الفاتحة: 5] لِأَنَّهُ أَهَمُّ وَأَدَلُّ عَلَى الِاخْتِصَاصِ وَأَدْخَلُ فِي التَّعْظِيمِ وَأَوْفَقُ
ــ
[حاشية الشبراملسي] فَاعِلُ الْأَخِيرِ بِمَعْنَى الَّذِي تَأَخَّرَ زَمَانُهُ وَتَجُوزُ فِيهِ الْإِضَافَةُ (قَوْلُهُ: مِنْ الْأَوْغَارِ) أَيْ حَرَارَاتِ الصُّدُورِ (قَوْلُهُ: طَرِيقَةٌ مُلْتَزَمَةٌ) أَيْ بَيْنَ الْقَوْمِ (قَوْلُهُ: مِنْ آثَارِهَا) أَيْ الطَّرِيقَةِ
(قَوْلُهُ: فَلَا تَحْتَاجُ إلَى مَا تَتَعَلَّقُ بِهِ) ظَاهِرُ نَفْيِ الْحَاجَةِ صِحَّةُ التَّعَلُّقِ، وَلَيْسَ مُرَادًا؛ لِأَنَّ الْحَرْفَ الزَّائِدَ وَمَا أَشْبَهَهُ لَا يَتَعَلَّقُ بِشَيْءٍ أَصْلًا، وَكَأَنَّهُ لَمْ يُبَالِ بِهَذَا الْإِيهَامِ؛ لِأَنَّ ذِكْرَ مَا لَا يُحْتَاجُ إلَيْهِ يُعَدُّ عَبَثًا عِنْدَ الْبُلَغَاءِ وَهُوَ لَا يَجُوزُ ارْتِكَابُهُ (قَوْلُهُ: أَوْ لِلِاسْتِعَانَةِ) أَيْ وَالْأَصَحُّ أَنَّهَا أَصْلِيَّةٌ فَتَتَعَلَّقُ بِمَحْذُوفٍ، وَمَعْنَاهَا: إمَّا الِاسْتِعَانَةُ وَإِمَّا الْمُصَاحَبَةُ، فَقَوْلُهُ أَوْ لِلِاسْتِعَانَةِ إلَخْ إشَارَةٌ إلَى مَا عُلِمَ أَنَّهُ الْأَصَحُّ (قَوْلُهُ: اسْمُ فَاعِلٍ) أَيْ ذَلِكَ الْمَحْذُوفُ اسْمُ فَاعِلٍ إلَخْ (قَوْلُهُ: خَبَرُ مُبْتَدَإٍ مَحْذُوفٍ) تَقْدِيرُهُ ابْتِدَائِي كَائِنٌ، وَعَلَى هَذَا الْوَجْهِ لَا عَمَلَ لِلْمَصْدَرِ فِي الْجَارِّ وَالْمَجْرُورِ (قَوْلُهُ: أَيْ أُؤَلِّفُ أَوْ أَبْدَأُ) وَالْجَارُّ حِينَئِذٍ ظَرْفُ لَغْوٍ (قَوْلُهُ: وَلَا يَضُرُّ عَلَى هَذَا) أَيْ عَلَى الْأَخِيرِ: أَمَّا عَلَى غَيْرِهِ فَلَا عَمَلَ لِلْمَصْدَرِ فِيهِ حَتَّى يَعْتَذِرَ عَنْهُ (قَوْلُهُ: وَإِبْقَاءُ مَعْمُولِهِ) وَالْفَرْقُ بَيْنَ هَذَا وَبَيْنَ قَوْلِهِ اسْمِ فَاعِلٍ إلَخْ أَنَّهُ ثَمَّ مُتَعَلِّقٌ بِنَفْسِ اسْمِ الْفَاعِلِ الْوَاقِعِ خَبَرًا كَمَا هُوَ وَاضِحٌ مِنْ كَلَامِهِ، وَذَلِكَ؛ لِأَنَّ اسْمَ الْفَاعِلِ الْمُقَدَّرَ حَيْثُ جُعِلَ خَبَرًا هُوَ مَأْخُوذٌ مِنْ كَانَ التَّامَّةِ، وَهُنَا مُتَعَلِّقٌ بِنَفْسِ الْمُبْتَدَإِ وَالْخَبَرُ مُقَدَّرٌ بَعْدَهُ مَحْذُوفٌ (قَوْلُهُ: وَتَقْدِيمُ الْمَعْمُولِ هَا هُنَا) هُوَ بِسْمِ اللَّهِ إلَخْ (قَوْلُهُ: كَمَا فِي قَوْلِهِ بِسْمِ اللَّهِ) أَيْ كَالتَّقْدِيمِ فِي قَوْلِهِ بِسْمِ اللَّهِ إلَخْ، وَقَوْلُهُ؛ لِأَنَّهُ
ــ
[حاشية الرشيدي] قَوْلُهُ: وَطَمَعًا) لَا بُدَّ لَهُ مِنْ تَقْدِيرِ عَامِلٍ أَيْ وَطَمِعْت طَمَعًا (قَوْلُهُ: التَّأَسِّي بِكِتَابِ اللَّهِ سُنَّةٌ) إنْ أُرِيدَ فِي كُلِّ الْأُمُورِ فَقَوْلُهُ مُتَحَتِّمَةٌ عَلَى إطْلَاقِهِ وَإِنْ أُرِيدَ فِي الْبُدَاءَةِ بِالْبَسْمَلَةِ، وَهُوَ اللَّائِقُ بِالْمَقَامِ فَقَوْلُهُ مُتَحَتِّمَةٌ بِمَعْنَى مُتَأَكِّدَةٍ وَعَبَّرَ بِهِ مُبَالَغَةً وَلَا يَحْتَاجُ إلَى مِثْلِ ذَلِكَ فِي قَوْلِهِ مُلْتَزَمَةٌ؛ لِأَنَّ مَعْنَاهُ الْتَزَمَهَا النَّاسُ.
(قَوْلُهُ: مِنْ آثَارِهَا) الضَّمِيرُ فِيهِ وَفِيمَا بَعْدَهُ لِلسُّنَّةِ وَالطَّرِيقَةِ اللَّتَيْنِ هُمَا التَّأَسِّي، وَالْعَمَلُ وَمَعْلُومٌ أَنَّ التَّأَسِّي، وَالْعَمَلَ بِمَا ذَكَرَهُمَا الْبُدَاءَةُ بِالْبَسْمَلَةِ فَيَنْحَلُّ الْكَلَامُ إلَى قَوْلِنَا هَذَا التَّأْلِيفُ أَثَرٌ مِنْ آثَارِ الْبُدَاءَةِ بِالْبَسْمَلَةِ، وَهُوَ وَإِنْ صَحَّ بِأَنْ يُقَالَ إنَّهُ إنَّمَا تَيَسَّرَ لِلْمُصَنِّفِ لِبُدَاءَتِهِ إيَّاهُ بِالْبَسْمَلَةِ، فَهُوَ أَثَرٌ مِنْ آثَارِ مَا ذُكِرَ بِهَذَا الِاعْتِبَارِ إلَّا أَنَّهُ لَا يُلَاقِيهِ قَوْلُهُ: بَعْدُ فَلِذَلِكَ جَرَى الْمُصَنِّفُ إلَخْ، وَيَجُوزُ أَنْ يُرَادَ بِقَوْلِهِ أَثَرٌ مِنْ آثَارِهَا أَنَّهُ مِنْ الْأُمُورِ الَّتِي هِيَ ذَاتُ بَالٍ تُبْدَأُ بِالْبَسْمَلَةِ، فَالْمُرَادُ أَنَّهُ مِنْ مَاصَدَق الْحَدِيثِ وَإِنْ كَانَ خِلَافَ الْمُتَبَادَرِ
(قَوْلُهُ: لِلِاسْتِعَانَةِ) مَعْطُوفٌ عَلَى قِيلَ لَا عَلَى مَدْخُولِهِ (قَوْلُهُ: أَوْ حَالٌ مِنْ فَاعِلِ الْفِعْلِ) مَعْطُوفٌ عَلَى قَوْلِهِ خَبَرُ مُبْتَدَأٍ كَمَا هُوَ ظَاهِرٌ، فَكَانَ يَنْبَغِي تَقْدِيمُهُ عَلَى قَوْلِهِ أَوْ فِعْلٌ؛ لِأَنَّهُ مَعْطُوفٌ عَلَى اسْمِ فَاعِلٍ، وَكَوْنُهُ خَبَرًا أَوْ حَالًا احْتِمَالَانِ فِيهِ (قَوْلُهُ: مُتَبَرِّكًا وَمُسْتَعِينًا)
বক্তা তাঁর উক্তিতে চমৎকার বলেছেন:
নিশ্চয়ই আমি আমার হিংসুকদের প্রতি করুণা করি, তাদের অন্তরে যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও বিদ্বেষ জমা হয়ে আছে তার কারণে।
তারা আমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ লক্ষ করে, ফলে তাদের চোখ জান্নাতে (নিয়ামত দর্শনে) থাকলেও তাদের অন্তর আগুনের (হিংসার) মধ্যে রয়েছে।
এতে আমার কোনো অপরাধ নেই, আমি তো আমার গুণাবলি গোপন রাখতে চেয়েছিলাম; কিন্তু তা যেন আমি দিবালোক দিয়ে আবৃত করতে চেয়েছিলাম।
আর এই দীর্ঘ আলোচনা দিকনির্দেশনা ও পথপ্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ আমাদের এমন হিংসা থেকে রক্ষা করুন যা ইনসাফের পথ বন্ধ করে দেয় এবং আমাদের জুলুম ও অন্যায় থেকে আশ্রয় দান করুন। যেহেতু সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং যা কিছু আসার তা নিকটবর্তী, তাই আমি হাশরের ময়দানে সওয়াবের আশায় এবং কবরে শায়িত হওয়ার পর কোনো নেক বান্দার দুআ পাওয়ার লোভে এটি রচনা করার নিয়ত করেছি; এই প্রতারণার আবাসে প্রশংসিত হওয়ার জন্য নয়।
জেনে রাখুন, আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ একটি অপরিহার্য সুন্নাহ এবং পরবর্তী বর্ণনার ওপর আমল করা একটি অনুসৃত পদ্ধতি। এই সংকলনটি সেই পদ্ধতিরই একটি নিদর্শন এবং তার আলোকধারার একটি প্রবাহ। তাই গ্রন্থকার অন্যান্যের মতো সেই সুদৃঢ় পথ ও সরল পথ অনুসরণ করে বলেছেন:
(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে) এখানে 'বা' অক্ষর সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি অতিরিক্ত, তাই এর কোনো কিছুর সাথে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই; অথবা এটি সাহায্য প্রার্থনা বা সংগ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে যা একটি উহ্য 'ইসমে ফায়েল' এর সাথে যুক্ত, যা একটি উহ্য 'মুবতাদা' এর 'খবর'; অথবা এটি একটি ক্রিয়ার সাথে যুক্ত: অর্থাৎ আমি সংকলন করছি বা আমি শুরু করছি; অথবা উহ্য ক্রিয়ার কর্তার 'হাল' হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে: অর্থাৎ আমি বরকত ও আল্লাহর সাহায্য কামনাকারী অবস্থায় শুরু করছি; অথবা এটি একটি 'মুবতাদা' যার 'খবর' উহ্য: অর্থাৎ আল্লাহর নামে আমার প্রারম্ভ সাব্যস্ত। এক্ষেত্রে মাসদার উহ্য রেখে তার মা'মূল অবশিষ্ট রাখলে কোনো ক্ষতি নেই; কারণ 'জার-মাজরুর' এর ক্ষেত্রে এমন বিস্তৃতি অনুমোদিত যা অন্য ক্ষেত্রে নয়। এখানে মা'মূলকে আগে আনা অধিক প্রভাবশালী, যেমনটি আল্লাহর বাণী "আল্লাহর নামেই এর গতি" এবং "আপনারই আমরা ইবাদত করি" এর মধ্যে হয়েছে। কারণ এটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষত্ব বোঝাতে অধিক অর্থবহ, অধিক সম্মানজনক এবং অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
--
[শুবরামাল্লিসীর টীকা] শেষোক্ত শব্দটির কর্তা অর্থ হলো যার সময়কাল পরে এসেছে এবং এতে সম্বন্ধ করা জায়েজ। (তাঁর উক্তি: আল-আওগার থেকে) অর্থাৎ অন্তরের উত্তাপ। (তাঁর উক্তি: অনুসৃত পদ্ধতি) অর্থাৎ ওলামাদের মাঝে প্রচলিত। (তাঁর উক্তি: তার নিদর্শনসমূহ থেকে) অর্থাৎ পদ্ধতির নিদর্শনসমূহ।
(তাঁর উক্তি: সুতরাং এর কোনো কিছুর সাথে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই) প্রয়োজন না থাকার বাহ্যিক অর্থ হলো যুক্ত হওয়া সঠিক, তবে এটি উদ্দেশ্য নয়; কারণ অতিরিক্ত হরফ এবং তার সদৃশ বিষয় কোনো কিছুর সাথেই যুক্ত হয় না। মনে হয় তিনি এই অস্পষ্টতার পরোয়া করেননি; কারণ অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের উল্লেখ অলঙ্কারবিদদের কাছে নিরর্থক হিসেবে গণ্য, যা করা সমীচীন নয়। (তাঁর উক্তি: অথবা সাহায্য প্রার্থনার জন্য) অর্থাৎ বিশুদ্ধতম মত হলো এটি মূলগত হরফ, তাই এটি উহ্য শব্দের সাথে যুক্ত হবে। এর অর্থ হয় সাহায্য প্রার্থনা অথবা সংগ। সুতরাং তাঁর উক্তি 'অথবা সাহায্য প্রার্থনার জন্য' ইত্যাদি সেই বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত যা বিশুদ্ধতম হিসেবে পরিচিত। (তাঁর উক্তি: ইসমে ফায়েল) অর্থাৎ সেই উহ্য শব্দটি হলো ইসমে ফায়েল ইত্যাদি। (তাঁর উক্তি: উহ্য মুবতাদার খবর) এর সম্ভাব্য রূপ হলো 'আমার প্রারম্ভ হচ্ছে...', আর এই অবস্থায় মাসদার যার-মাজরুর এর ওপর আমল করবে না। (তাঁর উক্তি: অর্থাৎ আমি সংকলন করছি বা শুরু করছি) এমতাবস্থায় যার-মাজরুর হবে 'যারফে লাগভ'। (তাঁর উক্তি: আর এতে কোনো ক্ষতি নেই) অর্থাৎ শেষোক্ত সুরতে। তবে অন্য সুরতগুলোতে মাসদারের কোনো আমল নেই যে তার পক্ষে অজুহাত পেশ করতে হবে। (তাঁর উক্তি: এবং তার মা'মূলকে অবশিষ্ট রাখা) এটি এবং তাঁর উক্তি 'ইসমে ফায়েল' ইত্যাদির মধ্যে পার্থক্য হলো যে, সেখানে সেটি খবরের স্থলে অবস্থিত ইসমে ফায়েলের সাথেই যুক্ত, যা তাঁর কথা থেকে স্পষ্ট। কারণ যে ইসমে ফায়েলকে খবর ধরা হয়েছে তা 'কানা তাম্মাহ' থেকে গৃহীত। আর এখানে সেটি মুবতাদার সাথেই যুক্ত এবং খবরটি তার পরে উহ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। (তাঁর উক্তি: এখানে মা'মূলকে আগে আনা) তা হলো 'বিসমিল্লাহ' ইত্যাদি। (তাঁর উক্তি: যেমনটি তাঁর বাণী বিসমিল্লাহ-তে আছে) অর্থাৎ যেভাবে 'বিসমিল্লাহ' ইত্যাদিতে আগে আনা হয়েছে। আর তাঁর উক্তি; কারণ এটি...
--
[রশিদী-র টীকা] (তাঁর উক্তি: এবং প্রত্যাশা স্বরূপ) এখানে একটি উহ্য ক্রিয়া মানতে হবে, অর্থাৎ: আমি প্রবলভাবে প্রত্যাশা করেছি। (তাঁর উক্তি: আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ একটি সুন্নাহ) যদি সব বিষয়ে বোঝানো হয়, তবে 'অপরিহার্য' শব্দটি তার সাধারণ অর্থেই থাকবে। আর যদি বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করার ক্ষেত্রে বোঝানো হয়—যা এই স্থানের উপযুক্ত—তবে 'অপরিহার্য' অর্থ হবে 'গুরুত্ববহ' এবং আধিক্য বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আর 'অনুসৃত' শব্দের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই; কারণ এর অর্থ হলো মানুষ এটি নিজের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছে।
(তাঁর উক্তি: তার নিদর্শনসমূহ থেকে) এখানে এবং পরবর্তী শব্দগুলোতে সর্বনামটি সেই সুন্নাহ ও পদ্ধতির দিকে ফিরবে যা হলো অনুসরণ এবং আমল করা। আর এটা জানা কথা যে, উল্লিখিত বিষয়গুলোর অনুসরণ ও আমল করার অর্থ হলো বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা। ফলে কথাটির সারমর্ম দাঁড়ায়: এই সংকলনটি বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করার একটি নিদর্শন। যদিও এটি এভাবে বলা সঠিক যে, গ্রন্থকারের জন্য এটি সহজ হয়েছে তাঁর বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করার কারণে; ফলে এটি সেই বিচারে উল্লিখিত বিষয়ের একটি নিদর্শন। তবে এর পরের বাক্য "তাই গ্রন্থকার এমনটি করেছেন" ইত্যাদির সাথে এটি পুরোপুরি খাপ খায় না। আর "তার নিদর্শনসমূহ থেকে" কথাটি দ্বারা এমনটিও বোঝানো সম্ভব যে, এটি এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা হয়। অর্থাৎ এটি হাদিসের উদ্দেশ্যভুক্ত বিষয়, যদিও তা সাধারণ বুঝের বাইরে।
(তাঁর উক্তি: সাহায্য প্রার্থনার জন্য) এটি 'বলা হয়েছে' শব্দের ওপর যুক্ত, তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের ওপর নয়। (তাঁর উক্তি: অথবা ক্রিয়ার কর্তার অবস্থা) এটি 'মুবতাদার খবর' কথাটির ওপর যুক্ত হয়েছে যা স্পষ্ট। তাই এটি 'ইসমে ফায়েল' শব্দটির আগে আনা উচিত ছিল; কারণ এটি ইসমে ফায়েলের ওপর যুক্ত হয়েছে। আর সেটি খবর হওয়া বা অবস্থা হওয়া—উভয়টিই এতে সম্ভাব্য। (তাঁর উক্তি: বরকত ও সাহায্য কামনাকারী অবস্থায়)
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
لِلْوُجُودِ، فَإِنَّ اسْمَهُ تَعَالَى مُقَدَّمٌ؛ لِأَنَّهُ قَدِيمٌ وَاجِبُ الْوُجُودِ لِذَاتِهِ، وَإِنَّمَا كُسِرَتْ الْبَاءُ وَمِنْ حَقِّ الْحُرُوفِ الْمُفْرَدَةِ أَنْ تُفْتَحَ لِاخْتِصَاصِهَا بِلُزُومِ الْحَرْفِيَّةِ وَالْجَرِّ، كَمَا كُسِرَتْ لَامُ الْأَمْرِ وَلَامُ الْجَرِّ إذَا دَخَلَتْ عَلَى الْمُظْهَرِ لِلْفَرْقِ بَيْنَهُمَا وَبَيْنَ لَامِ التَّأْكِيدِ؛ وَالِاسْمُ لُغَةً مَا أَبَانَ عَنْ مُسَمًّى؛ وَاصْطِلَاحًا مَا دَلَّ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهِ غَيْرِ مُتَعَرِّضٍ بِبِنْيَتِهِ لِزَمَانٍ، وَلَا دَالٌّ جُزْءٌ مِنْ أَجْزَائِهِ عَلَى جُزْءِ مَعْنَاهُ، وَالتَّسْمِيَةُ جَعْلُ ذَلِكَ اللَّفْظِ دَالًّا عَلَى ذَلِكَ الْمَعْنَى.
وَأَقْسَامُ الِاسْمِ تِسْعَةٌ:
أَوَّلُهَا الِاسْمُ الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ ذَاتِهِ.
ثَانِيهَا الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ جُزْءٍ مِنْ أَجْزَائِهِ ذَاتِهِ.
ثَالِثُهَا الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ صِفَةٍ حَقِيقِيَّةٍ قَائِمَةٍ بِذَاتِهِ.
رَابِعُهَا الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ صِفَةٍ إضَافِيَّةٍ فَقَطْ.
خَامِسُهَا الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ صِفَةٍ سَلْبِيَّةٍ.
سَادِسُهَا الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ صِفَةٍ حَقِيقِيَّةٍ مَعَ صِفَةٍ إضَافِيَّةٍ.
سَابِعُهَا الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ صِفَةٍ حَقِيقِيَّةٍ مَعَ صِفَةٍ سَلْبِيَّةٍ.
ثَامِنُهَا الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ صِفَةٍ إضَافِيَّةٍ مَعَ صِفَةٍ سَلْبِيَّةٍ.
تَاسِعُهَا الْوَاقِعُ
ــ
[حاشية الشبراملسي] أَهَمُّ عِلَّةٍ لِقَوْلِهِ أَوْقَعُ، وَقَوْلُهُ وَأَدَلُّ عَطْفٌ عَلَيْهِ وَكَذَا أَدْخَلُ وَأَوْفَقُ، وَقَوْلُهُ وَأَوْفَقُ لِلْوُجُودِ هُوَ مِنْ وَفِقَ أَمْرُهُ: أَيْ وُجِدَ مُوَافِقًا (قَوْلُهُ: لِأَنَّهُ قَدِيمٌ) أَيْ ذَاتُهُ وَهُوَ عِلَّةٌ لِقَوْلِهِ مُقَدَّمٌ (قَوْلُهُ: لِاخْتِصَاصِهَا بِلُزُومِ الْحَرْفِيَّةِ وَالْجَرِّ إلَخْ) أَمَّا غَيْرُهَا مِنْ الْحُرُوفِ فَفِيهِ مَا يَنْفَكُّ عَنْ الْحَرْفِيَّةِ كَالْكَافِ وَمَا يَنْفَكُّ عَنْ الْجَرِّ كَالْوَاوِ، وَإِنَّمَا كَانَ لُزُومُهَا لِهَذَيْنِ مُقْتَضِيًا لِكَسْرِهَا.
قَالَ الشَّيْخُ سَعْدُ الدِّينِ التَّفْتَازَانِيُّ: أَمَّا الْحَرْفِيَّةُ فَلِأَنَّهَا تَقْتَضِي الْبِنَاءَ عَلَى السُّكُونِ الَّذِي هُوَ عَدَمُ الْحَرَكَةِ، وَالْكَسْرُ يُنَاسِبُ الْعَدَمَ لِقِلَّتِهِ، إذْ لَا يُوجَدُ فِي الْفِعْلِ وَلَا فِي غَيْرِ الْمُنْصَرِفِ مِنْ الْأَسْمَاءِ وَلَا فِي الْحُرُوفِ إلَّا نَادِرًا، وَأَمَّا الْجَرُّ فَلِتَنَاسُبِ حَرَكَتِهَا الَّتِي هِيَ الْكَسْرَةُ عَمَلُهَا الَّذِي لَا تَنْفَكُّ عَنْهُ وَهُوَ الْجَرُّ الَّذِي هُوَ الْكَسْرَةُ أَصَالَةً انْتَهَى، عَبْدُ الْحَقِّ السَّنْبَاطِيُّ فِي شَرْحِ الْبَسْمَلَةِ.
(قَوْلُهُ: إذَا دَخَلَتْ) أَيْ لَامُ الْجَرِّ (قَوْلُهُ: عَلَى الْمُظْهِرِ) كَمَا فِي قَوْلِك الْمَالُ لِزَيْدٍ (قَوْلُهُ: بَيْنَهُمَا) أَيْ لَامِ الْأَمْرِ وَلَامِ الْجَرِّ (قَوْلُهُ: مَا أَبَانَ عَنْ مُسَمًّى) أَيْ أَظْهَرَ وَكَشَفَ (قَوْلُهُ: مَا دَلَّ) أَيْ لَفْظٌ دَلَّ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهِ: أَيْ بِنَفْسِهِ (قَوْلُهُ: غَيْرُ مُتَعَرِّضٍ) خَرَجَ بِهِ الْفِعْلُ (قَوْلُهُ: عَلَى جُزْءِ مَعْنَاهُ) خَرَّجَ الْمُرَكَّبَاتِ النَّاقِصَةَ كَالْإِضَافِيَّةِ وَالْمَزْجِيَّةِ (قَوْلُهُ: جَعَلَ ذَلِكَ اللَّفْظَ) خَرَّجَ بِهِ جَعْلَ الْفِعْلِ وَالْحَرْفِ دَالَّيْنِ عَلَى مَعْنَاهُمَا فَلَيْسَ وَاحِدٌ مِنْهُمَا تَسْمِيَةً، وَإِنْ كَانَ ذَلِكَ الْجَعْلُ وَضْعًا مُطْلَقًا، وَاسْمُ الْإِشَارَةِ فِي ذَلِكَ رَاجِعٌ لِقَوْلِهِ مَا دَلَّ إلَخْ (قَوْلُهُ وَأَقْسَامُ الِاسْمِ) أَيْ مِنْ حَيْثُ هُوَ سَوَاءٌ كَانَ الْمُسَمَّى بِذَلِكَ الْبَارِي أَوْ غَيْرُهُ تِسْعَةٌ.
سُئِلَ سَيِّدُنَا وَمَوْلَانَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ الشَّنَوَانِيُّ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - عَنْ قَوْلِ سَيِّدِنَا وَمَوْلَانَا الشَّيْخِ الْإِمَامِ الشَّارِحِ فِي قَوْلِهِ هُنَا وَأَقْسَامُ الِاسْمِ تِسْعَةٌ أَوَّلُهَا الِاسْمُ الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ ذَاتِهِ إلَخْ، أَوْضِحُوا الْجَوَابَ عَنْ هَذِهِ الْأَقْسَامِ الْمَذْكُورَةِ فَرْدًا فَرْدًا عَلَى حَسَبِ الْحَالِ. فَأَجَابَ بِمَا نَصُّهُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمُوَفِّقُ لِلصَّوَابِ:
أَوَّلُهَا نَحْوُ زَيْدٌ ذَاتُ الشَّيْءِ وَحَقِيقَتُهُ.
وَثَانِيهَا نَحْوُ حَيَوَانٌ وَنَاطِقٌ مِنْ قَوْلِك الْإِنْسَانُ حَيَوَانٌ أَوْ نَاطِقٌ.
وَثَالِثُهَا الْعَالِمُ وَالْقَادِرُ.
وَرَابِعُهَا نَحْوُ أَسْمَاءِ الْجِهَاتِ نَحْوُ يَمِينٍ وَشِمَالٍ فَإِنَّهَا لَمْ تُطْلَقْ عَلَى الْأَمَاكِنِ الْمَخْصُوصَةِ إلَّا بِاعْتِبَارِ مَا تُضَافُ إلَيْهِ.
وَخَامِسُهَا نَحْوُ الْأَزَلِيِّ، وَهُوَ مَا لَا ابْتِدَاءَ لَهُ.
وَسَادِسُهَا نَحْوُ الْمُكَوِّنِ لِلْعَالِمِ وَالْمُوجِدِ لَهُ، فَإِنَّ الْمُحَقِّقِينَ مِنْ الْمُتَكَلِّمِينَ وَهُمْ الْأَشَاعِرَةُ عَلَى أَنَّ التَّكْوِينَ مِنْ الْإِضَافَاتِ وَالِاعْتِبَارَاتِ الْعَقْلِيَّةِ مِثْلُ كَوْنِ الصَّانِعِ قَبْلَ كُلِّ شَيْءٍ وَبَعْدَهُ. وَالْحَاصِلُ فِي الْأَزَلِ هُوَ مُبْتَدَأُ التَّخْلِيقِ وَنَحْوُهُ وَهِيَ الْقُدْرَةُ.
وَسَابِعُهَا نَحْوُ وَاجِبِ الْوُجُودِ وَهُوَ الَّذِي يَكُونُ وُجُودُهُ مِنْ ذَاتِهِ: أَيْ لَيْسَ الْمُرَادُ أَنَّهُ كَانَ مَعْدُومًا وَأَوْجَدَتْهُ ذَاتُهُ، بَلْ الْمُرَادُ أَنَّهُ مَوْجُودٌ بِوُجُودٍ هُوَ أَعْلَمُ بِهِ لَيْسَ مَسْبُوقًا بِالْعَدَمِ، وَلَيْسَ وُجُودُهُ نَاشِئًا مِنْ شَيْءٍ، وَكَأَنَّهُ أَشَارَ إلَيْهِ بِقَوْلِهِ فَلَا يَحْتَاجُ إلَخْ، إلَّا إنْ جُعِلَ مَا ذَكَرَ تَفْسِيرًا لَهُ يَقْتَضِي أَنَّ مَفْهُومَ وَاجِبِ الْوُجُودِ السَّلْبُ وَحْدَهُ، فَالْأَوْلَى أَنْ يُقَالَ فِي تَفْسِيرِهِ
ــ
[حاشية الرشيدي] حَقُّ الْعِبَارَةِ مُسْتَعِينًا أَوْ مُصَاحِبًا عَلَى وَجْهِ التَّبَرُّكِ بِاسْمِ اللَّهِ (قَوْلُهُ: لِأَنَّهُ قَدِيمٌ) الضَّمِيرُ فِيهِ لِلَّهِ تَعَالَى (قَوْلُهُ: وَلَا دَلَّ جُزْءٌ مِنْ أَجْزَائِهِ إلَخْ) يَخْرُجُ الْمُرَكَّبُ مِنْهُ
অস্তিত্বের জন্য, কেননা মহান আল্লাহর নাম অগ্রগণ্য; কারণ তিনি অনাদি এবং আপন সত্তাগতভাবেই আবশ্যিক অস্তিত্বশীল। আর 'বা' বর্ণটিতে কাসরা (জের) প্রদান করা হয়েছে, অথচ একক বর্ণসমূহের নিয়ম হলো তাতে ফাতহা (জবর) হওয়া; এটি তার হরফিয়্যাত (অব্যয় হওয়া) এবং জারের (জের প্রদান) আবশ্যিকতার বৈশিষ্ট্যের কারণে। যেমন 'লামে আমর' এবং 'লামে জার' যখন স্পষ্ট বিশেষ্যের (মুজহার) ওপর প্রবেশ করে তখন তাতে কাসরা প্রদান করা হয়, যাতে এগুলোর এবং 'তাকীদের লামের' মধ্যে পার্থক্য করা যায়। আভিধানিক অর্থে 'নাম' হলো যা নামধারী সত্তাকে প্রকাশ করে। আর পারিভাষিক অর্থে তা হলো এমন শব্দ যা নিজের সত্তাগত একটি অর্থের ওপর দালালত (নির্দেশনা) করে এবং তার গঠন কোনো কালের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, আর তার কোনো অংশ সেই অর্থের কোনো অংশের ওপর নির্দেশনা দেয় না। আর 'নামকরণ' হলো সেই শব্দকে উক্ত অর্থের নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করা।
নামের প্রকারভেদ নয়টি:
প্রথমত: বস্তুর নিজস্ব সত্তার বিচারে তার ওপর প্রযুক্ত নাম।
দ্বিতীয়ত: বস্তুর সত্তার কোনো একটি অংশের বিচারে তার ওপর প্রযুক্ত নাম।
তৃতীয়ত: বস্তুর সত্তার সাথে বিদ্যমান কোনো প্রকৃত গুণের বিচারে তার ওপর প্রযুক্ত নাম।
চতুর্থত: কেবল কোনো আপেক্ষিক গুণের বিচারে বস্তুর ওপর প্রযুক্ত নাম।
পঞ্চমত: কোনো নেতিবাচক বা অভাবাত্মক গুণের বিচারে বস্তুর ওপর প্রযুক্ত নাম।
ষষ্ঠত: প্রকৃত গুণের সাথে আপেক্ষিক গুণের সমন্বয়ে বস্তুর ওপর প্রযুক্ত নাম।
সপ্তমত: প্রকৃত গুণের সাথে নেতিবাচক গুণের সমন্বয়ে বস্তুর ওপর প্রযুক্ত নাম।
অষ্টমত: আপেক্ষিক গুণের সাথে নেতিবাচক গুণের সমন্বয়ে বস্তুর ওপর প্রযুক্ত নাম।
নবমত: প্রযুক্ত...
ــ
[আশ-শুবরামানালসীর টীকা]তাঁর 'অধিক উপযোগী' বলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এবং তাঁর 'অধিক নির্দেশক' কথাটি এরই ওপর আবর্তিত, অনুরূপভাবে 'অধিক অন্তর্ভুক্ত' ও 'অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ' কথাটিও। তাঁর বক্তব্য 'অস্তিত্বের জন্য অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ' কথাটি এসেছে 'তার বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে' অর্থাৎ তা সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পাওয়া গেছে এই অর্থ থেকে। (তাঁর উক্তি: কারণ তিনি অনাদি) অর্থাৎ তাঁর সত্তা, আর এটি তাঁর 'অগ্রগণ্য' বলার কারণ। (তাঁর উক্তি: হরফিয়্যাত এবং জারের আবশ্যিকতার বৈশিষ্ট্যের কারণে ইত্যাদি) তবে অন্যান্য হরফ বা বর্ণের ক্ষেত্রে এমন কিছু আছে যা হরফিয়্যাত থেকে বিযুক্ত হতে পারে যেমন 'কাফ', আবার যা জার থেকে বিযুক্ত হতে পারে যেমন 'ওয়াও'। আর এই দুটি বিষয়ের আবশ্যিকতাই কাসরা বা জের প্রদানের দাবি রাখে।
শায়খ সাদ আদ-দীন আত-তাফতাজানী বলেছেন: হরফিয়্যাতের বিষয়টি এই জন্য যে, তা সুকুন বা স্থিরতার ওপর ভিত্তি করে হওয়াকে দাবি করে যা হলো নড়াচড়া বা হারাকাত না থাকা। আর কাসরা বা জের এই অভাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারণ এর স্বল্পতা; যেহেতু এটি ক্রিয়া পদ (ফে'ল), গায়রে মুনসারিফ ইসম এবং হরফের মধ্যে কদাচিৎ ছাড়া পাওয়া যায় না। আর জারের বিষয়টি হলো, তার হারাকাত তথা কাসরা এবং তার আমল যা থেকে সে বিযুক্ত হয় না অর্থাৎ জার (যা মূলত কাসরা)-এর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য। সমাপ্ত— আব্দুল হক আস-সানবাতি, বিস্মিল্লাহর শারহ-এ।
(তাঁর উক্তি: যখন প্রবেশ করে) অর্থাৎ জারের লাম। (তাঁর উক্তি: স্পষ্ট বিশেষ্যের ওপর) যেমন তোমার কথা: 'মালটি যায়েদের জন্য'। (তাঁর উক্তি: উভয়ের মধ্যে) অর্থাৎ লামে আমর ও লামে জারের মধ্যে। (তাঁর উক্তি: যা নামধারী সম্পর্কে স্পষ্ট করে) অর্থাৎ যা প্রকাশ ও উন্মোচন করে। (তাঁর উক্তি: যা দালালত করে) অর্থাৎ এমন শব্দ যা নিজের সত্তার ওপর অর্থাৎ নিজে নিজেই অর্থের নির্দেশনা দেয়। (তাঁর উক্তি: সংশ্লিষ্ট নয়) এর মাধ্যমে ক্রিয়া পদ (ফে'ল) বহির্ভূত হয়ে গেল। (তাঁর উক্তি: অর্থের কোনো অংশের ওপর) এর মাধ্যমে অসম্পূর্ণ যৌগিক শব্দ যেমন ইজাফি (সম্বন্ধযুক্ত) ও মাজজি (মিশ্রিত) শব্দগুলো বহির্ভূত হয়ে গেল। (তাঁর উক্তি: সেই শব্দকে নির্ধারণ করা) এর মাধ্যমে ফে'ল এবং হরফকে তাদের অর্থের নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করাকে বের করে দেওয়া হয়েছে, সুতরাং এগুলোর কোনটিই 'নামকরণ' নয়, যদিও সেই নির্ধারণ করাটি নিরঙ্কুশভাবে ভাষাগত নির্ধারণ (ওয়াদ'আ)। আর এই ক্ষেত্রে ইশারা সূচক শব্দটি 'যা নির্দেশনা দেয়'—এই কথার দিকেই ফিরেছে। (তাঁর উক্তি: নামের প্রকারভেদ) অর্থাৎ নাম হিসেবে তা নয়টি, চাই সেই নামধারী সত্তা মহান আল্লাহ হোন বা অন্য কেউ।
আমাদের নেতা ও অভিভাবক শায়খ আবু বকর আশ-শানাওয়ানী (রহিমাহুল্লাহ)-কে আমাদের নেতা ও অভিভাবক শায়খ ইমাম ব্যাখ্যাকারকের এই উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: 'নামের প্রকারভেদ নয়টি, প্রথমটি সত্তার বিচারে বস্তুর ওপর প্রযুক্ত নাম' ইত্যাদি। এই উল্লিখিত প্রকারগুলোর প্রত্যেকটির উত্তর অবস্থা অনুযায়ী বিশদভাবে বর্ণনা করুন। তিনি যা উত্তর দিয়েছিলেন তার মূল পাঠ হলো: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সঠিক পথের তাওফিক দাতা:
প্রথমটি: যেমন 'যায়েদ', যা বস্তুর সত্তা ও তার হাকীকত।
দ্বিতীয়টি: যেমন 'প্রাণী' এবং 'বাকশক্তি সম্পন্ন' হওয়া, যখন তুমি বলো মানুষ হলো প্রাণী অথবা বাকশক্তি সম্পন্ন।
তৃতীয়টি: যেমন 'জ্ঞানী' (আলিম) এবং 'ক্ষমতাবান' (কাদির)।
চতুর্থটি: যেমন দিকসমূহের নাম, যেমন 'ডান' ও 'বাম'; কেননা এগুলো নির্দিষ্ট স্থানের ওপর কেবল অন্য কিছুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া ছাড়া প্রযুক্ত হয় না।
পঞ্চমটি: যেমন 'অনাদি' (আজালি), যার কোনো শুরু নেই।
ষষ্ঠটি: যেমন 'জগতের স্রষ্টা' (মুকাউউইন) এবং তার অস্তিত্বদাতা; কেননা আশআরি মতাবলম্বী ইলমে কালাম শাস্ত্রবিদদের মতে 'সৃষ্টি করা' (তাকউইন) হলো একটি আপেক্ষিক ও বুদ্ধিগত বিষয়, যেমন সৃষ্টিকর্তার প্রতিটি বস্তুর আগে ও পরে থাকা। আর অনাদিকাল থেকে যা অর্জিত তা হলো সৃষ্টির সূচনা এবং অনুরূপ বিষয়, আর তা হলো কুদরত বা ক্ষমতা।
সপ্তমটি: যেমন 'আবশ্যিক অস্তিত্বশীল' (ওয়াজিবুল অজুদ), যার অস্তিত্ব তার আপন সত্তা থেকেই; অর্থাৎ এর অর্থ এই নয় যে তিনি অবিদ্যমান ছিলেন অতঃপর তাঁর সত্তা তাঁকে অস্তিত্ব দান করেছে, বরং এর অর্থ হলো তিনি এমন এক অস্তিত্বের মাধ্যমে বিদ্যমান যা তিনি ভালো জানেন, যা অনুপস্থিতি বা অনস্তিত্ব দ্বারা পূর্ববর্তিত নয় এবং তাঁর অস্তিত্ব কোনো কিছু থেকে উদ্ভূত নয়। যেন তিনি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে সেদিকেই ইশারা করেছেন: 'অতএব তিনি মুখাপেক্ষী নন' ইত্যাদি। তবে যদি এই উল্লেখটিকে তাঁর তাফসীর বা ব্যাখ্যা হিসেবে ধরা হয় তবে তা দাবি করে যে ওয়াজিবুল অজুদ-এর ধারণা কেবলই নেতিবাচক, তাই এর ব্যাখ্যায় বলাটাই উত্তম হবে...
ــ
[আর-রাশিদী’র টীকা]বাক্যটি হওয়ার কথা ছিল: আল্লাহর নামের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করে সাহায্যপ্রার্থী বা সঙ্গী হয়ে। (তাঁর উক্তি: কারণ তিনি অনাদি) এখানে সর্বনামটি মহান আল্লাহর দিকে ফিরেছে। (তাঁর উক্তি: তার কোনো অংশ নির্দেশনা দেয় না ইত্যাদি) এর মাধ্যমে যৌগিক শব্দসমূহ বের হয়ে যায়।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ مَجْمُوعِ صِفَةٍ حَقِيقِيَّةٍ وَإِضَافِيَّةٍ وَسَلْبِيَّةٍ.
وَالِاسْمُ عِنْدَ الْبَصْرِيِّينَ مِنْ الْأَسْمَاءِ الَّتِي حُذِفَتْ أَعْجَازُهَا لِكَثْرَةِ الِاسْتِعْمَالِ، وَبُنِيَتْ أَوَائِلُهَا عَلَى السُّكُونِ وَأُدْخِلَ عَلَيْهَا مُبْتَدَأٌ بِهَا هَمْزَةُ الْوَصْلِ، وَيَشْهَدُ لَهُ تَصْرِيفُهُ عَلَى أَسْمَاءٍ وَأَسَامِيَّ وَسَمَّى وَسَمَّيْت، وَمَجِيءُ سَمَا كَهَدَى لُغَةً فِيهِ بِدَلِيلِ قَوْلِهِمْ مَا سَمَاك وَالْقَلْبُ بَعِيدٌ غَيْرُ مُطَّرِدٍ. وَهُوَ مُشْتَقٌّ مِنْ السُّمُوِّ وَهُوَ الْعُلُوُّ، وَمِنْ السِّمَةِ عِنْدَ الْكُوفِيِّينَ وَهِيَ الْعَلَامَةُ؛ لِأَنَّهُ عَلَامَةٌ عَلَى مُسَمَّاهُ،
ــ
[حاشية الشبراملسي] مَوْجُودٌ لَيْسَ وُجُودُهُ مِنْ غَيْرِهِ، فَلَا يَحْتَاجُ فِي وُجُودِهِ وَلَا إيجَادِ مُرَادِهِ إلَى شَيْءٍ.
وَتَاسِعُهَا نَحْوَ لَفْظِ الْجَلَالَةِ فَإِنَّهُ أُطْلِقَ عَلَى الذَّاتِ الْمُسْتَجْمِعِ لِسَائِرِ صِفَاتِ الْكَمَالِ وَهِيَ حَقِيقِيَّةٌ نَحْوُ الْعِلْمِ وَالْقُدْرَةِ، وَإِضَافِيَّةٌ نَحْوُ الْخَلْقِ، وَسَلْبِيَّةٌ نَحْوُ لَيْسَ بِعَرَضٍ وَلَا جِسْمٍ، فَإِنَّهُ وَإِنْ كَانَ عَلَمًا لَا يُقْصَدُ بِهِ إلَّا الذَّاتُ بِالذَّاتِ فَقَدْ يَقْصِدُهُ بِهِ تَبَعًا غَيْرَ الذَّاتِ كَنَحْوِ الْإِلَهِ انْتَهَى بِحُرُوفِهِ.
وَلَمْ أَرَ الثَّامِنَ وَلَعَلَّهُ سَقَطَ مِنْ قَلَمِ النَّاسِخِ. أَقُولُ: وَلَعَلَّهُ كَالْأَوَّلِ فَإِنَّهُ عِبَارَةٌ عَنْ كَوْنِهِ سَابِقًا غَيْرَهُ وَهُوَ صِفَةٌ إضَافِيَّةٌ، وَأَنَّهُ لَا يَسْبِقُهُ غَيْرُهُ وَهُوَ صِفَةٌ سَلْبِيَّةٌ، وَكَالْقَيُّومِ فَإِنَّ مَعْنَاهُ كَوْنُهُ قَائِمًا بِنَفْسِهِ: أَيْ لَا يَحْتَاجُ إلَى غَيْرِهِ وَهُوَ سَلْبٌ، وَمُقَوِّمًا لِغَيْرِهِ وَهُوَ إضَافَةٌ.
ثُمَّ رَأَيْت بِخَطِّ بَعْضِ الْفُضَلَاءِ أَنَّهُ نَقَلَهُ مِنْ خَطِّ الشَّارِحِ مَا نَصُّهُ: فَائِدَةٌ أَقْسَامُ الِاسْمِ تِسْعَةٌ:
أَوَّلُهَا: الِاسْمُ الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ ذَاتِهِ كَسَائِرِ الْأَعْلَامِ.
ثَانِيهَا: الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ جُزْءٍ مِنْ أَجْزَاءِ ذَاتِهِ كَالْجَوْهَرِ لِلْجِدَارِ وَالْجِسْمِ لَهُ.
ثَالِثُهَا: الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ صِفَةٍ حَقِيقِيَّةٍ قَائِمَةٍ بِذَاتِهِ كَالْأَسْوَدِ وَالْأَبْيَضِ وَالْحَارِّ وَالْبَارِدِ.
رَابِعُهَا: الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ صِفَةٍ إضَافِيَّةٍ فَقَطْ كَالْمَعْلُومِ وَالْمَفْهُومِ وَالْمَذْكُورِ وَالْمَالِكِ وَالْمَمْلُوكِ.
خَامِسُهَا: الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ صِفَةٍ سَلْبِيَّةٍ كَأَعْمَى وَفَقِيرٍ وَسَلِيمٍ عَنْ الْآفَاتِ.
سَادِسُهَا: الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ صِفَةٍ حَقِيقِيَّةٍ مَعَ صِفَةٍ إضَافِيَّةٍ كَعَالِمٍ وَقَادِرٍ بِنَاءً عَلَى أَنَّ الْعِلْمَ وَالْقُدْرَةَ صِفَةٌ حَقِيقِيَّةٌ لَهَا إضَافَةٌ لِلْمَعْلُومَاتِ وَالْمَقْدُورَاتُ.
سَابِعُهَا: الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ صِفَةٍ حَقِيقِيَّةٍ مَعَ صِفَةٍ سَلْبِيَّةٍ كَقَادِرٍ لَا يَعْجَزُ وَعَالِمٍ لَا يَجْهَلُ.
ثَامِنُهَا: الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ صِفَةٍ إضَافِيَّةٍ مَعَ صِفَةٍ سَلْبِيَّةٍ كَلَفْظَةِ أَوَّلٍ فَإِنَّهُ عِبَارَةٌ عَنْ كَوْنِهِ سَابِقًا غَيْرَهُ وَهُوَ صِفَةٌ إضَافِيَّةٌ، وَأَنَّهُ لَا يَسْبِقُهُ غَيْرُهُ وَهُوَ صِفَةٌ سَلْبِيَّةٌ، وَكَالْقَيُّومِ فَإِنَّ مَعْنَاهُ كَوْنُهُ قَائِمًا بِنَفْسِهِ: أَيْ لَا يَحْتَاجُ إلَى غَيْرِهِ وَهُوَ سَلْبٌ وَمُقَوِّمًا لِغَيْرِهِ وَهُوَ إضَافَةٌ.
تَاسِعُهَا: الْوَاقِعُ عَلَى الشَّيْءِ بِحَسَبِ مَجْمُوعِ صِفَةٍ حَقِيقِيَّةٍ وَإِضَافِيَّةٍ وَسَلْبِيَّةٍ كَالْإِلَهِ فَإِنَّهُ يَدُلُّ عَلَى كَوْنِهِ مَوْجُودًا أَزَلِيًّا وَاجِبَ الْوُجُودِ لِذَاتِهِ، وَعَلَى الصِّفَاتِ السَّلْبِيَّةِ الدَّالَّةِ عَلَى التَّنْزِيهِ، وَعَلَى الصِّفَاتِ الْإِضَافِيَّةِ الدَّالَّةِ عَلَى الْإِيجَادِ وَالتَّكْوِينِ انْتَهَى كَذَا بِخَطِّ رم اهـ.
(قَوْلُهُ: وَبُنِيَتْ أَوَائِلُهَا إلَخْ) أَيْ وُضِعَتْ سَاكِنَةً، وَلَيْسَ الْمُرَادُ بِالْبِنَاءِ مُقَابِلَ الْإِعْرَابِ كَمَا هُوَ وَاضِحٌ؛ لِأَنَّ ذَاكَ شَرْطُهُ أَنْ يَكُونَ فِي الْآخِرِ (قَوْلُهُ وَيَشْهَدُ لَهُ) أَيْ لِمَا قَالَهُ الْبَصْرِيُّونَ (قَوْلُهُ: وَأَسَامِيَّ) الْأَوْلَى عَدَمُ كِتَابَتِهِ بِالْيَاءِ، وَكَأَنَّهُ رَسَمَهُ بِهَا إظْهَارًا لِلْعَجْزِ الْمَحْذُوفِ إنْ جُعِلَ جَمْعًا لِاسْمٍ، أَمَّا إذَا جُعِلَ أَسَامِيُّ جَمْعًا لِأَسْمَاءٍ وَهُوَ مَا صَرَّحَ بِهِ الْقُرْطُبِيُّ فَرَسْمُ الْيَاءِ مُتَعَيِّنٌ.
(قَوْلُهُ: بِدَلِيلِ قَوْلِهِمْ) إنَّمَا اسْتَدَلَّ عَلَى الْأَخِيرِ دُونَ غَيْرِهِ دَفْعًا لِمَا قَدْ يُقَالُ إنَّ مَجِيءَ سَمَا عَلَى ذَلِكَ الْوَجْهِ لَا يَدُلُّ لِجَوَازِ مَجِيئِهِ عَلَى بَعْضِ لُغَاتِ الِاسْمِ وَأَنَّ أَلِفَهُ مُبْدَلَةٌ مِنْ التَّنْوِينِ.
وَحَاصِلُ التَّوْجِيهِ أَنَّهُ لَوْ كَانَ كَذَلِكَ لَمَا ثَبَتَتْ الْأَلِفُ فِيهِ عِنْدَ الْإِضَافَةِ، بَلْ كَانَ يُقَالُ مَا سُمْكَ بِضَمِّ الْمِيمِ بِلَا أَلِفٍ (قَوْلُهُ: وَالْقَلْبُ بَعِيدٌ) أَيْ الَّذِي ذَهَبَ إلَيْهِ الْكُوفِيُّونَ (قَوْلُهُ: وَمِنْ السِّمَةِ عِنْدَ الْكُوفِيِّينَ) وَفِي
ــ
[حاشية الرشيدي] قَوْلُهُ: مُبْتَدَأٌ بِهَا) أَيْ حَالَ كَوْنِهَا: أَيْ الْأَسْمَاءِ مُبْتَدَأٌ بِهَا بِخِلَافِ مَا إذَا وَصَلَتْ (قَوْلُهُ: عَلَى أَسْمَاءٍ) أَيْ، فَإِنَّ أَصْلَهُ أَسْمَاوٌ، وَوَقَعَتْ الْوَاوُ مُتَطَرِّفَةً إثْرَ أَلِفٍ زَائِدَةٍ فَقُلِبَتْ هَمْزَةً وَقَوْلُهُ، وَأَسَامِي: أَيْ، فَإِنَّ أَصْلَهُ أَسَامُو قُلِبَتْ الْوَاوُ يَاءً لِتُنَاسِبَ الْكَسْرَةَ (قَوْلُهُ: وَسُمَيٌّ) بِضَمٍّ فَفَتْحٍ تَصْغِيرُ اسْمٍ: أَيْ، فَإِنَّ أَصْلَهُ سَمِيُّو اجْتَمَعَتْ الْوَاوُ، وَالْيَاءُ وَسُبِقَتْ إحْدَاهُمَا بِالسُّكُونِ فَقُلِبَتْ الْوَاوُ يَاءً، وَالتَّكْسِيرُ وَالتَّصْغِيرُ يَرُدَّانِ الْأَشْيَاءَ إلَى أُصُولِهَا.
وَقَوْلُهُ وَسُمِّيَتْ لِبَيَانِ حَذْفِ مُطْلَقِ الْعَجُزِ، وَإِلَّا فَهَذَا التَّصْرِيفُ إنَّمَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ يَائِيٌّ.
وَقَوْلُهُ: وَمَجِيءُ سُمًّا مُبْتَدَأً خَبَرُهُ لُغَةٌ، وَهُوَ جَوَابٌ عَمَّا أَوْرَدَهُ الْكُوفِيُّونَ عَلَيْهِمْ فِي مَجِيئِهِ غَيْرَ سَاكِنِ الْأَوَّلِ (قَوْلُهُ: وَالْقَلْبُ بَعِيدٌ إلَخْ) مُرَادُهُ بِهِ الرَّدُّ عَلَى
বস্তুর প্রকৃত, সম্পর্কযুক্ত এবং নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি অনুযায়ী।
বসরাবাসীদের মতে 'ইসমে'র (নাম) শেষ অংশ অত্যধিক ব্যবহারের কারণে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং এর শুরু সাকিন বা স্থির বর্ণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে, আর এর শুরুতে একটি হামজাতুল ওয়াসল যোগ করা হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে এর বিভিন্ন রূপান্তর যথা: আসমা (বহুবচন), আসামি, সাম্মা এবং সাম্মাইতু উল্লেখ করা যায়। সামা শব্দটি হাদীর মতো একটি ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার প্রমাণ হলো তাদের উক্তি 'মা সামাক' (তোমার নাম কী?)। এক্ষেত্রে অক্ষর পরিবর্তন হওয়ার বিষয়টি দূরবর্তী এবং অনিয়মিত। এটি 'সুমুউ' শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ উচ্চতা। আর কুফাবাসীদের মতে এটি 'সিমা' শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ চিহ্ন; কারণ এটি যার নাম রাখা হয়েছে তার জন্য একটি চিহ্ন।
ــ
[শুবারামালসির টীকা] তিনি এমন অস্তিত্বশীল যার অস্তিত্ব অন্য কারো থেকে নয়, তাই তিনি তাঁর অস্তিত্ব বা তাঁর ইচ্ছা বাস্তবায়নে কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নন।
নবম প্রকার হলো 'আল্লাহ' শব্দ, যা এমন সত্তার ওপর প্রয়োগ করা হয় যিনি সমস্ত পূর্ণতার গুণাবলি ধারণ করেন। এই গুণগুলো কয়েক প্রকার: প্রকৃত গুণ যেমন জ্ঞান ও ক্ষমতা; সম্পর্কযুক্ত গুণ যেমন সৃষ্টি করা; এবং নেতিবাচক গুণ যেমন তিনি কোনো বস্তু বা শরীর নন। যদিও এটি একটি ব্যক্তিবাচক বিশেষ্য যা দ্বারা কেবল স্বয়ং সত্তাকেই বোঝানো হয়, তবে সত্তার অনুগামী হিসেবে অন্য কিছুকেও বোঝানো হতে পারে যেমন ইলাহ। এটি হুবহু উদ্ধৃত হলো।
আমি অষ্টম প্রকারটি দেখিনি, সম্ভবত তা লিপিকারের কলম থেকে বাদ পড়েছে। আমি বলি: সম্ভবত তা প্রথম প্রকারের মতো, কারণ তা অন্য কারো তুলনায় অগ্রগামী হওয়ার বহিঃপ্রকাশ এবং এটি একটি সম্পর্কযুক্ত গুণ, আর তাঁর পূর্বে অন্য কেউ নেই—এটি একটি নেতিবাচক গুণ। যেমন 'কাইয়্যুম' শব্দটির অর্থ হলো তিনি নিজ সত্তায় দণ্ডায়মান: অর্থাৎ তিনি অন্য কারো মুখাপেক্ষী নন—এটি নেতিবাচক গুণ, এবং তিনি অন্যদের ধারক বা অস্তিত্ব দানকারী—এটি সম্পর্কযুক্ত গুণ।
অতঃপর আমি কয়েকজন বিদগ্ধ ব্যক্তির হস্তলিপিতে দেখলাম যে, তিনি ব্যাখ্যাকারীর হস্তলিপি থেকে বর্ণনা করেছেন, যার পাঠ হলো: উপকারিতা; নামের প্রকারভেদ নয়টি:
প্রথম: যা বস্তুর নিজস্ব সত্তার বিচারে প্রযুক্ত হয়, যেমন অন্যান্য ব্যক্তিবাচক বিশেষ্য।
দ্বিতীয়: যা সত্তার কোনো একটি অংশের বিচারে প্রযুক্ত হয়, যেমন দেয়ালের ক্ষেত্রে মূল উপাদান বা শরীর।
তৃতীয়: যা সত্তার মধ্যে বিদ্যমান কোনো প্রকৃত গুণের বিচারে প্রযুক্ত হয়, যেমন কালো, সাদা, গরম ও ঠান্ডা।
চতুর্থ: যা কেবল সম্পর্কযুক্ত গুণের বিচারে প্রযুক্ত হয়, যেমন জ্ঞাত, অনুধাবিত, উল্লিখিত, মালিক ও মালিকানাধীন।
পঞ্চম: যা কোনো নেতিবাচক গুণের বিচারে প্রযুক্ত হয়, যেমন অন্ধ, দরিদ্র এবং সকল আপদ থেকে মুক্ত।
ষষ্ঠ: যা প্রকৃত গুণের সাথে সম্পর্কযুক্ত গুণের সমন্বয়ে প্রযুক্ত হয়, যেমন জ্ঞানী ও ক্ষমতাশালী; এই ভিত্তিতে যে জ্ঞান ও ক্ষমতা হলো প্রকৃত গুণ যার সাথে জ্ঞাত ও ক্ষমতাবস্তুর একটি সম্পর্ক রয়েছে।
সপ্তম: যা প্রকৃত গুণের সাথে নেতিবাচক গুণের সমন্বয়ে প্রযুক্ত হয়, যেমন এমন ক্ষমতাশালী যিনি অক্ষম হন না এবং এমন জ্ঞানী যিনি অজ্ঞ নন।
অষ্টম: যা সম্পর্কযুক্ত গুণের সাথে নেতিবাচক গুণের সমন্বয়ে প্রযুক্ত হয়, যেমন 'আউয়াল' শব্দটি; এর অর্থ হলো তিনি অন্যের তুলনায় অগ্রগামী (সম্পর্কযুক্ত গুণ) এবং তাঁর পূর্বে অন্য কেউ নেই (নেতিবাচক গুণ)। অনুরূপভাবে 'কাইয়্যুম' শব্দটির অর্থ হলো তিনি নিজ সত্তায় দণ্ডায়মান: অর্থাৎ তিনি অন্য কারো মুখাপেক্ষী নন (নেতিবাচক) এবং তিনি অন্যদের অস্তিত্ব দানকারী (সম্পর্কযুক্ত)।
নবম: যা প্রকৃত, সম্পর্কযুক্ত ও নেতিবাচক—এই তিনটি গুণের সমষ্টির বিচারে প্রযুক্ত হয়, যেমন 'ইলাহ'; এটি তাঁর অনাদি অস্তিত্বশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তার ওপর প্রমাণ দেয়, আবার তাঁর পবিত্রতার পরিচায়ক নেতিবাচক গুণের ওপর প্রমাণ দেয় এবং সৃষ্টি ও অস্তিত্ব দানকারী সম্পর্কযুক্ত গুণের ওপরও প্রমাণ দেয়। 'রাম' এর হস্তলিপি থেকে এটি সমাপ্ত হলো।
(তাঁর উক্তি: এর শুরু গঠিত হয়েছে ইত্যাদি) অর্থাৎ একে সাকিন বা স্থির অবস্থায় রাখা হয়েছে। এখানে গঠন দ্বারা ব্যাকরণগত পরিবর্তনের বিপরীত পারিভাষিক শব্দ বোঝানো হয়নি, যেমনটি স্পষ্ট; কারণ তার শর্ত হলো শব্দের শেষে হওয়া। (তাঁর উক্তি: এর প্রমাণ দেয়) অর্থাৎ বসরাবাসীদের মতের স্বপক্ষে। (তাঁর উক্তি: আসামি) এটি ইয়াসহ না লেখাই উত্তম। সম্ভবত তিনি শব্দের বিলুপ্ত শেষ অংশ প্রকাশের জন্য ইয়াসহ লিখেছেন যদি একে 'ইসম' এর বহুবচন ধরা হয়। আর যদি 'আসামি' শব্দকে 'আসমা' এর বহুবচন ধরা হয় (যেমনটি ইমাম কুরতুবি স্পষ্ট করেছেন), তবে ইয়া লেখা আবশ্যক।
(তাঁর উক্তি: তাদের উক্তির প্রমাণস্বরূপ) তিনি কেবল শেষটির দলিল দিয়েছেন অন্যগুলোর নয়, যাতে কেউ এ কথা বলতে না পারে যে, 'সামা' শব্দের ব্যবহার নামের কোনো এক ভাষার ক্ষেত্রে এর প্রমাণ দেয় না, বরং এর আলিফটি তানউইন থেকে পরিবর্তিত হতে পারে। দলিল উপস্থাপনের সারসংক্ষেপ হলো: যদি বিষয়টি তেমনই হতো তবে সম্বন্ধ করার সময় আলিফটি বহাল থাকত না, বরং আলিফ ছাড়াই 'মা সুমকা' বলা হতো। (তাঁর উক্তি: অক্ষর পরিবর্তনটি দূরবর্তী) অর্থাৎ যা কুফাবাসীরা মনে করেন। (তাঁর উক্তি: কুফাবাসীদের মতে সিমা থেকে) এবং
ــ
[রাশিদীর টীকা] (তাঁর উক্তি: তা দ্বারা শুরু করা হয়) অর্থাৎ নামগুলো দিয়ে যখন কথা শুরু করা হয় সেই অবস্থায়, যখন তা অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হয় সেই অবস্থার বিপরীত। (তাঁর উক্তি: আসমা এর ওপর) অর্থাৎ এর মূল ছিল আসমাউ, অতিরিক্ত আলিফের পর ওয়াও শব্দের শেষে আসায় তাকে হামজা দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। (তাঁর উক্তি: আসামি) অর্থাৎ এর মূল ছিল আসামু, কাসরার সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য ওয়াও-কে ইয়া দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। (তাঁর উক্তি: সুমাইয়ুন) ইসম শব্দের ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ: এর মূল ছিল সুমাইয়ু, ওয়াও ও ইয়া একত্রে আসায় এবং আগেরটি সাকিন হওয়ায় ওয়াও-কে ইয়া দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। বহুবচন ও ক্ষুদ্রতাবাচক রূপান্তর শব্দকে তার মূলে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
আর তাঁর উক্তি 'সাম্মাইতু' মূল শব্দের শেষাংশ বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য, অন্যথায় এই রূপান্তরটি কেবল এটি ইয়া-মূলীয় হওয়ার প্রমাণ দেয়।
আর তাঁর উক্তি 'সুমান' শব্দের আসাটি মুবতাদা, যার খবর হলো এটি একটি ভাষা। এটি কুফাবাসীদের আপত্তির জওয়াব যারা বলেছিল যে এটি শব্দের শুরুতে সাকিন ছাড়াও ব্যবহৃত হয়। (তাঁর উক্তি: পরিবর্তনটি দূরবর্তী ইত্যাদি) এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো তাকে খণ্ডন করা।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وَهَذَا وَإِنْ كَانَ صَحِيحًا مِنْ حَيْثُ الْمَعْنَى لَكِنَّهُ فَاسِدٌ مِنْ حَيْثُ التَّصْرِيفِ لِمَا مَرَّ وَأَصْلُهُ وَسَمَ حُذِفَتْ الْوَاوُ وَعُوِّضَ عَنْهَا هَمْزَةُ الْوَصْلِ لِيَقِلَّ إعْلَالُهُ وَرُدَّ بِأَنَّ هَمْزَةَ الْوَصْلِ لَمْ تُعْهَدْ دَاخِلَةً عَلَى مَا حُذِفَ صَدْرُهُ فِي كَلَامِهِمْ وَالِاسْمُ إنْ أُرِيدَ بِهِ اللَّفْظُ فَغَيْرُ الْمُسَمَّى؛ لِأَنَّهُ يَتَأَلَّفُ مِنْ أَصْوَاتٍ مُقَطَّعَةٍ غَيْرِ قَارَّةٍ وَيَخْتَلِفُ بِاخْتِلَافِ الْأُمَمِ وَالْأَعْصَارِ وَيَتَعَدَّدُ تَارَةً وَيَتَّحِدُ أُخْرَى وَالْمُسَمَّى لَا يَكُونُ، كَذَلِكَ وَإِنْ أُرِيدَ بِهِ ذَاتُ الشَّيْءِ فَهُوَ الْمُسَمَّى، لَكِنَّهُ لَمْ يَشْتَهِرْ بِهَذَا الْمَعْنَى
وَأَمَّا قَوْله تَعَالَى {تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ} [الرحمن: 78] فَالْمُرَادُ بِهِ اللَّفْظُ؛ لِأَنَّهُ كَمَا يَجِبُ تَنْزِيهُ ذَاتِهِ وَصِفَاتِهِ عَنْ النَّقَائِصِ يَجِبُ تَنْزِيهُ الْأَلْفَاظِ الْمَوْضُوعَةِ لَهَا عَنْ الرَّفَثِ وَسُوءِ الْأَدَبِ، أَوْ الِاسْمُ فِيهِ مُقْحَمٌ لِلتَّعْظِيمِ وَالْإِجْلَالِ، وَإِنْ أُرِيدَ بِهِ الصِّفَةُ كَمَا هُوَ رَأْيُ أَبِي الْحَسَنِ الْأَشْعَرِيِّ انْقَسَمَ انْقِسَامَ الصِّفَةِ عِنْدَهُ: إلَى مَا هُوَ نَفْسُ الْمُسَمَّى كَالْوَاحِدِ وَالْقَدِيمِ، وَإِلَى مَا هُوَ غَيْرُهُ كَالْخَالِقِ
ــ
[حاشية الشبراملسي] الْمَنْهَجِ بَدَلُ هَذِهِ: وَقِيلَ مِنْ الْوَسْمِ انْتَهَى، وَهُمَا مَصْدَرَانِ لِوَسَمَ. قَالَ فِي الْمُخْتَارِ: وَسَمَهُ مِنْ بَابِ وَعَدَ وَسَمَهُ أَيْضًا انْتَهَى، يَعْنِي يُقَالُ: وَسَمَ يَسِمُ وَسْمًا وَسِمَةً كَمَا يُقَالُ وَعَدَ يَعِدُ وَعْدًا وَعِدَةً، وَعَلَى هَذَا فَحَقِيقَتُهُ وَضْعُ الْعَلَامَةِ لِأَنْفُسِهَا؛ لِأَنَّهَا أَثَرُ الْمَصْدَرِ لَا نَفْسُهُ.
وَفِي ابْنِ حَجَرٍ: وَأَصْلُ الِاسْمِ السُّمُوُّ وَهُوَ الِارْتِفَاعُ، حُذِفَ عَجُزُهُ وَعُوِّضَ عَنْهُ هَمْزَةُ الْوَصْلِ فَوَزْنُهُ افْعٌ، وَقِيلَ افْلٌ مِنْ السِّيمَا، وَقِيلَ اعْلٌ مِنْ الْوَسْمِ انْتَهَى.
وَهُوَ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ مِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ إنَّهُ مِمَّا حُذِفَتْ عَيْنُهُ لَا فَاؤُهُ وَلَا لَامُهُ فَفِيهِ ثَلَاثَةُ أَقْوَالٍ: مَحْذُوفُ اللَّامِ، وَقِيلَ الْعَيْنِ، وَقِيلَ الْفَاءِ. هَذَا مُرَادُهُ لَكِنْ فِي عِبَارَتِهِ قَلَاقَةٌ، وَمِنْ ثَمَّ كَتَبَ سَمِّ مَا نَصُّهُ: قَوْلُهُ وَقِيلَ افْلٌ قَدْ يَدُلُّ ظَاهِرُ الصَّنِيعِ أَنَّهُ فِي حَيِّزِ التَّفْرِيعِ عَلَى قَوْلِهِ حُذِفَ عَجُزُهُ إلَخْ مَعَ مَا قَبْلَهُ مَعَ أَنَّ ذَلِكَ لَا يَصِحُّ، إذْ حَذْفُ الْعَجُزِ لَا يَتَفَرَّعُ عَلَيْهِ أَنَّ الْوَزْنَ افْلٌ أَوْ اعْلٌ: أَيْ وَإِنَّمَا يَتَفَرَّعُ عَلَيْهِ أَنَّهُ افْعٌ فَلْيُجْعَلْ مُسْتَأْنَفًا أَوْ يُعْطَفْ عَلَى قَوْلِهِ وَأَصْلُ اسْمٍ سُمُوٌّ.
(قَوْلُهُ: وَهَذَا وَإِنْ كَانَ صَحِيحًا) الْإِشَارَةُ إلَى قَوْلِهِ وَمِنْ السِّمَةِ إلَخْ (قَوْلُهُ: لِمَا مَرَّ) أَيْ مِنْ تَصْرِيفِهِ عَلَى أَسْمَاءٍ إلَخْ (قَوْلُهُ: وَالِاسْمُ إنْ أُرِيدَ بِهِ اللَّفْظُ) أَيْ مَا صَدَقَ عَلَيْهِ هَذَا اللَّفْظُ، وَمِنْهُ لَفْظُ الِاسْمِ فَيَدْخُلُ فِيهِ نَحْوُ الْعَلِيمِ وَالْقَدِيرِ وَالْحَيِّ وَغَيْرِهَا (قَوْلُهُ: بِاخْتِلَافِ الْأُمَمِ) أَيْ لُغَاتِهِمْ، وَالْأُمَّةُ كَمَا فِي الْمِصْبَاحِ: أَتْبَاعُ النَّبِيِّ وَالْجَمْعُ أُمَمٌ مِثْلَ غُرْفَةٍ وَغُرَفٍ (قَوْلُهُ: وَالْمُسَمَّى لَا يَكُونُ كَذَلِكَ) أَيْ لَا يَخْتَلِفُ بِاخْتِلَافِ الْأُمَمِ وَالْأَعْصَارِ إلَخْ، وَقَوْلُهُ وَأَمَّا قَوْلُهُ إلَخْ وَارِدٌ عَلَى قَوْلِهِ لَكِنَّهُ لَمْ يَشْتَهِرْ إلَخْ (قَوْلُهُ: لَكِنَّهُ لَمْ يَشْتَهِرْ) عِبَارَةُ ابْنِ حَجَرٍ أَوْ الذَّاتِ عَيْنِهِ: أَيْ وَإِنْ أُرِيدَ بِهِ الذَّاتُ فَهُوَ عَيْنُهُ كَمَا لَوْ أَطْلَقَ؛ لِأَنَّ مِنْ قَوَاعِدِهِمْ أَنَّ كُلَّ حُكْمٍ وَرَدَ عَلَى اسْمٍ فَهُوَ عَلَى مَدْلُولِهِ انْتَهَى.
وَهِيَ قَدْ تُنَافِي قَوْلَ الشَّارِحِ إنَّهُ لَمْ يَشْتَهِرْ أَنَّهُ بِمَعْنَى الذَّاتِ. وَوَجْهُ الْمُنَافَاةِ أَنَّ اسْتِعْمَالَهُ بِمَعْنَى الذَّاتِ كَثِيرٌ فِي الْكَلَامِ، اللَّهُمَّ إلَّا أَنْ يُقَالَ إنَّ الَّذِي لَمْ يَشْتَهِرْ مَجِيئُهُ بِمَعْنَى الذَّاتِ مَجِيءُ الِاسْمِ بِمَعْنَى الذَّاتِ فِي غَيْرِ اسْتِعْمَالِهِ مَعَ عَامِلٍ كَأَنْ يُقَالَ مَثَلًا: لَفْظُ كَذَا هُوَ الذَّاتُ الْمَخْصُوصَةُ، وَاَلَّذِي كَثُرَ اسْتِعْمَالُهُ بِمَعْنَى الذَّاتِ اسْتِعْمَالُهُ مُرَكَّبًا مَعَ الْعَامِلِ كَقَوْلِك: اللَّهُ الْهَادِي وَمُحَمَّدٌ الشَّفِيعُ، وَقَدْ يُصَرِّحُ بِذَلِكَ قَوْلُ ابْنِ حَجَرٍ كَمَا لَوْ أَطْلَقَ. هَذَا وَقَدْ كَتَبَ سم عَلَيْهِ مَا نَصُّهُ: قَوْلُهُ؛ لِأَنَّ مِنْ قَوَاعِدِهِمْ إلَخْ، قَدْ يُقَالُ لَا دَلَالَةَ فِي هَذَا الدَّلِيلِ عَلَى الْمَطْلُوبِ؛ لِأَنَّ مَدْلُولَ لَفْظِ الِاسْمِ الْأَسْمَاءُ كَلَفْظِ اللَّهِ وَلَفْظِ الرَّحْمَنِ لَا نَفْسُ الذَّاتِ فَتَأَمَّلْهُ، اللَّهُمَّ إلَّا أَنْ يُرَادَ أَنَّ الذَّاتَ مَدْلُولٌ بِالْوَاسِطَةِ فَإِنَّهَا مَدْلُولُ الْمَدْلُولِ، وَلَا يَخْفَى مَا فِيهِ فَلْيُتَأَمَّلْ انْتَهَى.
وَهُوَ مَبْنِيٌّ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِالِاسْمِ لَفْظُهُ، وَهُوَ الْمُرَكَّبُ مِنْ الْهَمْزَةِ وَالسِّينِ وَالْمِيمِ، وَعَلَى مَا قُلْنَاهُ مِنْ أَنَّ الْمُرَادَ بِهِ مَا صَدَّقَهُ أَخْذًا مِنْ قَوْلِ ابْنِ حَجَرٍ كَمَا لَوْ أُطْلِقَ لَا يُتَوَجَّهُ مَا ذَكَرَهُ سم (قَوْلُهُ: بِهَذَا الْمَعْنَى) وَهُوَ كَوْنُ الِاسْمِ بِمَعْنَى الْمُسَمَّى
(قَوْلُهُ: الرَّفَثِ) قَالَ فِي الْمِصْبَاحِ: رَفَثَ فِي مَنْطِقِهِ رَفَثًا مِنْ بَابِ طَلَبَ، وَيَرْفِثُ بِالْكَسْرِ لُغَةً أَفْحَشَ فِيهِ (قَوْلُهُ: وَسُوءِ الْأَدَبِ) عَطْفُ تَفْسِيرٍ (قَوْلُهُ: أَوْ الِاسْمُ فِيهِ) أَيْ فِي تَبَارَكَ إلَخْ (قَوْلُهُ مُقْحَمٌ) أَيْ زَائِدٌ (قَوْلُهُ: انْقِسَامُ الصِّفَةِ عِنْدَهُ) أَيْ الْأَشْعَرِيِّ (قَوْلُهُ: إلَى مَا هُوَ نَفْسُ الْمُسَمَّى) وَمُرَادُهُمْ بِهِ مَا لَا يَزِيدُ مَفْهُومُهُ عَلَى الذَّاتِ كَالْقَدِيمِ، فَإِنَّ مَعْنَاهُ ذَاتٌ لَا أَوَّلَ لِوُجُودِهَا، فَلَمْ يَدُلَّ
ــ
[حاشية الرشيدي] الْكُوفِيِّينَ فِي رَدِّهِمْ عَلَى الْبَصْرِيِّينَ مَا مَرَّ عَنْهُمْ بِأَنَّ الْوَاقِعَ فِي التَّصَارِيفِ الْمَذْكُورَةِ فِيهِ قَلْبٌ مَكَانِيٌّ نُقِلَتْ الْوَاوُ مِنْ الصَّدْرِ وَجُعِلَتْ عَجُزًا (قَوْلُهُ: وَأَصْلُهُ وَسْمٌ) أَيْ عِنْدَ الْكُوفِيِّينَ
(قَوْلُهُ: وَأَمَّا قَوْله تَعَالَى {تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ} [الرحمن: 78] إلَخْ)
আর এটি অর্থগত দিক থেকে সঠিক হলেও রূপতাত্ত্বিক (সারফ) বিচারে ত্রুটিপূর্ণ, যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এর মূল হলো 'ওয়াসমুন' (চিহ্নিত করা), যেখান থেকে 'ওয়াও' বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে 'হামজাতুল ওয়াসল' যুক্ত করা হয়েছে যাতে শব্দটির রূপান্তরজনিত পরিবর্তন কম হয়। কিন্তু এর প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, আরবী ভাষায় এমন শব্দের শুরুতে 'হামজাতুল ওয়াসল' আসার নজির নেই যার শুরু থেকে কোনো বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে। আর 'ইসম' (নাম) দ্বারা যদি উচ্চারণগত শব্দকে বোঝানো হয়, তবে তা 'মুসাম্মা' (নামী বা মূল সত্তা) থেকে ভিন্ন; কারণ এটি কিছু বিচ্ছিন্ন ও অস্থায়ী ধ্বনির সমন্বয়ে গঠিত এবং বিভিন্ন জাতি ও যুগের প্রেক্ষাপটে তা পরিবর্তিত হয়। এছাড়া কখনো নাম একাধিক হয় আবার কখনো এক হয়, কিন্তু 'মুসাম্মা' (নামী বা সত্তা) এমন হয় না। আর যদি নাম দ্বারা বস্তুর সত্তাকে বোঝানো হয়, তবে সেটিই 'মুসাম্মা'; কিন্তু এই অর্থে শব্দটি প্রসিদ্ধি লাভ করেনি।
আর মহান আল্লাহর বাণী "আপনার রবের নাম বরকতময়" [আর-রাহমান: ৭৮]-এর ক্ষেত্রে নাম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শব্দ; কারণ যেভাবে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলিকে যাবতীয় দোষত্রুটি থেকে পবিত্র রাখা আবশ্যক, তেমনিভাবে সেই সত্তা ও গুণাবলির জন্য নির্ধারিত শব্দগুলোকেও অশ্লীলতা ও বেয়াদবি থেকে পবিত্র রাখা আবশ্যক। অথবা এখানে 'ইসম' (নাম) শব্দটি মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে। আর যদি 'ইসম' দ্বারা গুণ (সিফাত) উদ্দেশ্য হয়, যেমনটি আবু আল-হাসান আল-আশআরীর অভিমত, তবে এটি তার নিকট গুণের বিভাজনের মতোই বিভক্ত হবে: যা স্বয়ং 'মুসাম্মা' বা সত্তারই অন্তর্ভুক্ত, যেমন—এক (আল-ওয়াহিদ) এবং অনাদি (আল-কাদিম); আবার যা সত্তা থেকে ভিন্ন, যেমন—সৃষ্টিকর্তা (আল-খালিক)।
--
[হাশিয়া আশ-শুবরামাল্লিসি] 'আল-মানহাজ' গ্রন্থে এর পরিবর্তে রয়েছে: "বলা হয়েছে এটি 'ওয়াসম' থেকে এসেছে", এখানেই শেষ। এই দুটিই 'ওয়াসামা' ক্রিয়ার মাসদার (মূলক্রিয়া)। 'আল-মুখতার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি 'ওয়াআদা' এর ওজনে 'ওয়াসামাহু' আবার 'ওয়াসমাহু'ও বলা হয়, এখানেই শেষ। অর্থাৎ বলা হয়: 'ওয়াসামা-ইয়াসিমু-ওয়াসমান' এবং 'সিমাতান', যেমন বলা হয় 'ওয়াআদা-ইয়াঈদু-ওয়া’দান' এবং 'ইদাতান'। এই হিসেবে এর প্রকৃত অর্থ হলো কোনো কিছুর জন্য চিহ্ন নির্ধারণ করা; কারণ এটি মাসদারের (মূলক্রিয়া) প্রভাব, স্বয়ং মূলক্রিয়া নয়।
ইবনে হাজার (রহ.)-এর গ্রন্থে রয়েছে: 'ইসম'-এর মূল হলো 'সুমুউ' যার অর্থ উচ্চতা। এর শেষ বর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে শুরুতে 'হামজাতুল ওয়াসল' আনা হয়েছে, তাই এর ওজন হলো 'ইফ’উন'। আবার বলা হয়েছে এর ওজন 'ইফ’লুন', যা 'সীমা' থেকে এসেছে। আবার বলা হয়েছে এর ওজন 'ই’লুন', যা 'ওয়াসম' থেকে এসেছে, এখানেই শেষ।
এটি প্রমাণ করে যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন এটি এমন শব্দ যার মধ্যবর্ণ (আইন কালমা) বিলুপ্ত হয়েছে, আদি বা অন্ত বর্ণ নয়। সুতরাং এতে তিনটি মত রয়েছে: শেষ বর্ণ বিলুপ্ত হওয়া, মধ্যবর্ণ বিলুপ্ত হওয়া এবং আদি বর্ণ বিলুপ্ত হওয়া। এটিই তার উদ্দেশ্য, কিন্তু তার প্রকাশভঙ্গিতে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। এজন্যই 'সাম' (ইবনে কাসিম আল-আব্বাদি) লিখেছেন যার পাঠ নিম্নরূপ: তার উক্তি "বলা হয়েছে এর ওজন ইফ’লুন" বাহ্যত মনে হতে পারে যে এটি "শেষ বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে" উক্তির পরবর্তী শাখা হিসেবে এসেছে, কিন্তু এটি সঠিক নয়। কারণ শেষ বর্ণ বিলুপ্ত হলে তার ওজন 'ইফ’লুন' বা 'ই’লুন' হওয়া সম্ভব নয়; বরং তখন ওজন হবে 'ইফ’উন'। সুতরাং একে নতুন বাক্য হিসেবে গণ্য করা উচিত অথবা "ইসম-এর মূল সুমুউ" উক্তির ওপর আতফ (সংযুক্ত) করা উচিত।
(তার উক্তি: আর এটি যদিও সঠিক হয়) এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে "ওয়াসমাহ" উক্তির দিকে। (তার উক্তি: যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে) অর্থাৎ আসমা ইত্যাদি শব্দে এর রূপান্তর থেকে। (তার উক্তি: আর ইসম দ্বারা যদি শব্দকে বোঝানো হয়) অর্থাৎ এই শব্দের যা অর্থ হয়; আর এর মধ্যে 'ইসম' শব্দটিও অন্তর্ভুক্ত, ফলে 'আল-আলিম', 'আল-কাদির', 'আল-হাই' ইত্যাদি শব্দও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। (তার উক্তি: জাতিসমূহের ভিন্নতার কারণে) অর্থাৎ তাদের ভাষার ভিন্নতার কারণে। আর 'উম্মাহ' বলতে 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: নবীর অনুসারীগণ, এর বহুবচন হলো 'উমাম', যেমন 'গুরফাহ' থেকে 'গুরাফ'। (তার উক্তি: আর মুসাম্মা বা নামী এমন হয় না) অর্থাৎ জাতি ও যুগের ভিন্নতার কারণে সত্তা ভিন্ন হয় না। আর তার উক্তি "আর মহান আল্লাহর বাণী..." এটি "কিন্তু তা প্রসিদ্ধ হয়নি" উক্তির ওপর একটি আপত্তি হিসেবে এসেছে। (তার উক্তি: কিন্তু তা প্রসিদ্ধ হয়নি) ইবনে হাজারের ইবারত বা পাঠ হলো: "অথবা সত্তা স্বয়ং এটিই"; অর্থাৎ যদি তা দ্বারা সত্তা উদ্দেশ্য হয় তবে সেটিই 'মুসাম্মা', যেমনটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে হয়; কারণ তাদের একটি মূলনীতি হলো, কোনো নামের ওপর যে বিধান আপতিত হয়, তা তার অর্থের (সত্তা) ওপরই আপতিত হয়, এখানেই শেষ।
আর এটি শারহকার বা ব্যাখ্যাকারকের এই উক্তির পরিপন্থী হতে পারে যে, 'ইসম' শব্দটি সত্তা অর্থে প্রসিদ্ধ নয়। বিরোধের কারণ হলো, কালাম বা বাক্যে সত্তা অর্থে এর ব্যবহার প্রচুর। তবে এর উত্তর এভাবে দেওয়া যেতে পারে যে, যা প্রসিদ্ধ নয় তা হলো কোনো আমিল বা কারক ছাড়াই 'ইসম' শব্দটিকে সত্তা অর্থে ব্যবহার করা, যেমন এটি বলা যে: অমুক শব্দ হলো অমুক নির্দিষ্ট সত্তা। আর যা সত্তা অর্থে প্রচুর ব্যবহৃত হয়, তা হলো আমিলের সাথে যৌগিক অবস্থায় ব্যবহার, যেমন আপনার উক্তি: 'আল্লাহ পথপ্রদর্শক' এবং 'মুহাম্মদ শাফায়াতকারী'। ইবনে হাজারের উক্তি "যেমনটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে হয়" দ্বারা এটিই স্পষ্ট হয়। এ প্রসঙ্গে 'সাম' (আল-আব্বাদি) লিখেছেন যার পাঠ নিম্নরূপ: তার উক্তি; "যেহেতু এটি তাদের একটি মূলনীতি..." এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে, এই দলিলের মাধ্যমে উদ্দিষ্ট বিষয়টি প্রমাণিত হয় না; কারণ 'ইসম' শব্দের অর্থ হলো নামসমূহ যেমন—আল্লাহ, রহমান ইত্যাদি, স্বয়ং সত্তা নয়, বিষয়টি ভেবে দেখুন। তবে যদি উদ্দেশ্য হয় যে সত্তা হলো পরোক্ষ অর্থ (অর্থাৎ অর্থের অর্থ), তবে ভিন্ন কথা; তবে এতে যে দুর্বলতা আছে তা স্পষ্ট, সুতরাং বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত, এখানেই শেষ।
এটি সেই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, 'ইসম' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার শব্দরূপ, যা হামজা, সিন এবং মিম বর্ণ দ্বারা গঠিত। আর আমরা যা বলেছি যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা এর অর্থের ওপর প্রয়োগ হয়—যা ইবনে হাজারের উক্তি "নিঃশর্ত ব্যবহারের মতো" থেকে নেওয়া হয়েছে—তা ধরলে 'সাম' (আল-আব্বাদি) যা উল্লেখ করেছেন তা আর আপত্তিকর থাকে না। (তার উক্তি: এই অর্থে) অর্থাৎ 'ইসম' শব্দটি 'মুসাম্মা' (সত্তা) অর্থে হওয়া।
(তার উক্তি: রাফাথ বা অশ্লীলতা) 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: সে তার কথায় অশ্লীলতা করেছে, এটি 'তালাবা' এর ওজনে (রাফাসা-ইয়ারফুসু), আর ভাষাগতভাবে 'কাসরা' দিয়েও (ইয়ারফিসু) পড়া হয়, যার অর্থ কথায় অত্যন্ত অশ্লীলতা করা। (তার উক্তি: ও বেয়াদবি) এটি পূর্ববর্তী শব্দের ব্যাখ্যামূলক সংযোজন। (তার উক্তি: অথবা ইসম শব্দটি এতে) অর্থাৎ "তাবারাকা ইসমু রাব্বিকা" আয়াতে। (তার উক্তি: অতিরিক্ত) অর্থাৎ আলঙ্কারিক প্রয়োজনে অতিরিক্ত। (তার উক্তি: তার নিকট গুণের বিভাজন) অর্থাৎ ইমাম আশআরীর নিকট। (তার উক্তি: যা স্বয়ং মুসাম্মা বা সত্তারই অন্তর্ভুক্ত) তাদের উদ্দেশ্য হলো, যার ধারণা সত্তার অতিরিক্ত কিছু নয়, যেমন 'কাদিম' (অনাদি)। কারণ এর অর্থ হলো এমন সত্তা যার অস্তিত্বের কোনো শুরু নেই, ফলে এটি অতিরিক্ত কিছু নির্দেশ করে না।
--
[হাশিয়া আর-রাশিদি] বসরাবাসীদের ওপর কুফাবাসীদের আপত্তির ক্ষেত্রে যা গত হয়েছে যে, উল্লিখিত শব্দরূপের পরিবর্তনে মূলত স্থানিক পরিবর্তন (কালবে মাকানি) হয়েছে, যেখানে 'ওয়াও' বর্ণটিকে শব্দের শুরু থেকে শেষে স্থানান্তর করা হয়েছে। (তার উক্তি: এর মূল হলো ওয়াসন) অর্থাৎ কুফাবাসীদের মতে।
(তার উক্তি: আর মহান আল্লাহর বাণী {আপনার রবের নাম বরকতময়} [আর-রাহমান: ৭৮] ইত্যাদি)
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَالرَّازِقِ، وَإِلَى مَا لَيْسَ هُوَ وَلَا غَيْرُهُ كَالْحَيِّ وَالْعَلِيمِ وَالْقَادِرِ وَالْمُرِيدِ وَالْمُتَكَلِّمِ وَالْبَصِيرِ وَالسَّمِيعِ. لَا يُقَالُ: مُقْتَضَى حَدِيثِ الْبَسْمَلَةِ الْآتِي أَنْ يَكُونَ الِابْتِدَاءُ بِلَفْظَةِ الْجَلَالَةِ وَلَمْ يَكُنْ بِهَا بَلْ بِلَفْظَةِ بِسْمِ؛ لِأَنَّا نَقُولُ: كُلُّ حُكْمٍ وَرَدَ عَلَى اسْمٍ فَهُوَ فِي الْحَقِيقَةِ عَلَى مَدْلُولِهِ إلَّا بِقَرِينَةٍ كَضَرْبٍ فَعْلٍ، فَقَوْلُهُ بِسْمِ اللَّهِ أَبْتَدِئُ: مَعْنَاهُ أَبْتَدِئُ بِمَدْلُولِ اسْمِهِ وَهُوَ لَفْظُ الْجَلَالَةِ، فَكَأَنَّهُ قَالَ: بِاَللَّهِ أَبْتَدِئُ. وَإِنَّمَا لَمْ يَقُلْ بِاَللَّهِ؛ لِأَنَّ التَّبَرُّكَ وَالِاسْتِعَانَةَ بِذِكْرِ اسْمِهِ أَيْضًا، أَوْ لِلْفَرْقِ بَيْنَ الْيَمِينِ وَالتَّيَمُّنِ، أَوْ لِتَحْصِيلِ نُكْتَةِ الْإِجْمَالِ وَالتَّفْصِيلِ. وَاَللَّهُ عَلَمٌ عَلَى الذَّاتِ الْوَاجِبِ الْوُجُودِ الْمُسْتَحِقِّ لِجَمِيعِ الْمَحَامِدِ، وَأَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى أَنَّهُ اسْمُ اللَّهِ الْأَعْظَمِ، وَقَدْ ذُكِرَ فِي الْقُرْآنِ الْعَزِيزِ فِي أَلْفَيْنِ وَثَلَثِمِائَةٍ وَسِتِّينَ مَوْضِعًا؛ وَأَصْلُهُ إلَهٌ حُذِفَتْ هَمْزَتُهُ وَعُوِّضَ عَنْهَا الْأَلِفُ وَاللَّامُ؛ لِأَنَّهُ يُوصَفُ وَلَا يُوصَفُ بِهِ، وَلِأَنَّهُ لَا بُدَّ لَهُ مِنْ اسْمٍ تَجْرِي
ــ
[حاشية الشبراملسي] الْقَدِيمُ عَلَى صِفَةٍ حَقِيقِيَّةٍ قَائِمَةٍ بِالذَّاتِ بَلْ عَلَى سَلْبِ الْأَوَّلِيَّةِ عَنْهُ؛ وَمُرَادُهُمْ بِالْغَيْرِ مَا يُمْكِنُ انْفِكَاكُهُ عَنْ الذَّاتِ بِأَنْ يُمْكِنَ وُجُودُ الذَّاتِ بِدُونِهِ، كَالْخَلْقِ فَإِنَّهُ عِبَارَةٌ عَنْ الْإِيجَادِ مِنْ الْعَدَمِ، وَذَاتُهُ تَعَالَى فِي الْأَزَلِ مَوْجُودَةٌ غَيْرُ مُتَّصِفَةٍ بِالْإِيجَادِ بِالْفِعْلِ؛ وَمُرَادُهُمْ بِمَا لَيْسَ عَيْنَهُ وَلَا غَيْرَهُ أَنْ يَكُونَ مَفْهُومُهُ زَائِدًا عَلَى الذَّاتِ بِصِفَةٍ حَقِيقِيَّةٍ قَائِمَةٍ بِهَا وَلَا يُمْكِنُ انْفِكَاكُهَا عَنْهَا كَالْعَالِمِ، فَإِنَّ مُسَمَّاهُ الذَّاتُ الَّتِي قَامَ بِهَا الْعِلْمُ، فَالْعِلْمُ لَيْسَ عَيْنَ الذَّاتِ وَلَا غَيْرَهَا لِعَدَمِ انْفِكَاكِ الذَّاتِ عَنْهُ فَإِنَّ الْعِلْمَ قَدِيمٌ بِقِدَمِ الذَّاتِ (قَوْلُهُ: مُقْتَضَى حَدِيثِ الْبَسْمَلَةِ الْآتِي) وَإِنَّمَا أُورِدَ هَذَا هُنَا وَإِنْ كَانَ الْأَنْسَبُ بِحَسَبِ الظَّاهِرِ تَأْخِيرَهُ؛ لِأَنَّهُ لَمَّا بَيَّنَ أَنَّ الْمُرَادَ مِنْ الِاسْمِ اللَّفْظُ كَانَ ذَلِكَ مَنْشَأَ السُّؤَالِ فَذَكَرَهُ مُتَّصِلًا بِهِ (قَوْلُهُ كَضَرْبٍ) مِثَالٌ لِمَا أُرِيدَ لَفْظُهُ بِالْقَرِينَةِ (قَوْلُهُ وَهُوَ لَفْظٌ) أَيْ مَدْلُولُ لَفْظٍ، وَكَأَنَّ مُرَادَهُ أَنَّ هَذَا هُوَ الْعِلْمُ لِذَاتِهِ تَعَالَى، فَلَا يُقَالُ إنَّ مَدْلُولَ الِاسْمِ جَمِيعُ الْأَسْمَاءِ عَلَى مَا يُفِيدُهُ إضَافَةُ الِاسْمِ مِنْ الِاسْتِغْرَاقِ (قَوْلُهُ:؛ لِأَنَّ التَّبَرُّكَ) أَيْ إشَارَةً؛ لِأَنَّ إلَخْ (قَوْلُهُ: وَالِاسْتِعَانَةُ بِذِكْرِ اسْمِهِ أَيْضًا) أَيْ كَمَا هُوَ بِذِكْرِ ذَاتِهِ، فَلَيْسَ التَّبَرُّكُ مَقْصُورًا عَلَى الذَّاتِ، بَلْ كَمَا يَكُونُ بِهَا يَكُونُ بِالِاسْمِ (قَوْلُهُ وَالتَّيَمُّنُ) أَيْ التَّبَرُّكُ، وَهَذَا قَدْ يُشْعِرُ بِأَنَّ الْيَمِينَ لَا تَنْعَقِدُ بِقَوْلِهِ بِسْمِ اللَّهِ لَأَفْعَلَنَّ، قَالَ سم عَلَى ابْنِ حَجَرٍ: قَوْلُهُ حَذِرًا مِنْ إبْهَامِ الْقَسَمِ قَضَيْته أَنَّ بِسْمِ اللَّهِ لَا تَحْتَمِلُ الْقَسَمَ، وَفِيهِ كَلَامٌ فِي الْأَيْمَانِ انْتَهَى.
وَحَاصِلُهُ كَمَا ذَكَرَهُ الشِّهَابُ الْحِجَازِيُّ فِي مُخْتَصَرِ الرَّوْضَةِ أَنَّهُ يَمِينٌ (قَوْلُهُ أَوْ لِتَحْصِيلِ نُكْتَةِ الْإِجْمَالِ) هَذَا غَيْرُ ظَاهِرٍ إنْ أُرِيدَ بِالِاسْمِ الْأَعَمُّ مِنْ اسْمِهِ تَعَالَى وَغَيْرِهِ، وَأَمَّا إنْ أُرِيدَ بِهِ ذَاتُهُ تَعَالَى فَظَاهِرٌ، وَتَكُونُ الْإِضَافَةُ بَيَانِيَّةٌ، وَعِبَارَةُ ابْنِ حَجَرٍ وَلَمْ يَقُلْ بِاَللَّهِ حَذِرًا مِنْ إبْهَامِ الْقَسَمِ، وَلْيَعُمَّ جَمِيعَ أَسْمَائِهِ انْتَهَى.
وَهُوَ صَرِيحٌ فِي أَنَّ الْإِضَافَةَ حَقِيقِيَّةٌ، وَأَنَّ الْمَقْصُودَ مِنْهُ الْعُمُومُ عَلَى الْوَجْهِ الثَّانِي، وَأَنَّ نُكْتَةَ الْإِجْمَالِ وَالتَّفْصِيلِ إنَّمَا تُنَاسِبُ الْأَوَّلَ (قَوْلُهُ: وَاَللَّهُ عَلَمٌ عَلَى الذَّاتِ مَعَ قَوْلِهِ الْآتِي فَهُوَ مُرْتَجَلٌ) قَدْ يُنَافِيَانِ قَوْلَهُ وَأَصْلُهُ إلَخْ، فَإِنَّ ذَاكَ تَوْجِيهٌ لِمَنْ جَعَلَهُ مُشْتَقًّا فَلْيُرَاجَعْ. نَعَمْ يُمْكِنُ أَنْ يُحْمَلَ قَوْلُهُ عَلَمٌ عَلَى أَنَّهُ صَارَ كَذَلِكَ بِالْغَلَبَةِ كَمَا قِيلَ بِهِ، إلَّا أَنَّ قَوْلَهُ فَهُوَ مُرْتَجَلٌ لَا يُوَافِقُهُ، وَمِنْ ثُمَّ لَمْ يَذْكُرْ قَوْلَهُ فَهُوَ مُرْتَجَلٌ بَلْ اقْتَصَرَ عَلَى مَا تَقَدَّمَ وَإِنْ زَادَ التَّصْرِيحَ بِأَنَّهُ مِنْ الْأَعْلَامِ الْغَالِبَةِ مِنْ حَيْثُ إنَّ أَصْلَهُ الْإِلَهُ انْتَهَى (قَوْلُهُ عَلَى أَنَّهُ اسْمُ اللَّهِ الْأَعْظَمِ) وَهَذَا هُوَ الرَّاجِحُ (قَوْلُهُ: وَقَدْ ذُكِرَ فِي الْقُرْآنِ) أَيْ لَفْظُ اللَّهِ سبحانه وتعالى (قَوْلُهُ: وَلِأَنَّهُ لَا بُدَّ لَهُ) أَيْ
ــ
[حاشية الرشيدي] جَوَابٌ عَمَّا يَرِدُ عَلَى قَوْلِهِ لَكِنَّهُ لَمْ يَشْتَهِرْ بِهَذَا الْمَعْنَى كَأَنَّ قَائِلًا يَقُولُ لَهُ: كَيْفَ لَمْ يَشْتَهِرْ بِهِ وَقَدْ وَرَدَ بِهِ فِي الْقُرْآنِ مِنْ هَذِهِ الْآيَةِ، إذْ الْمُرَادُ بِالِاسْمِ فِيهَا الذَّاتُ بِدَلِيلِ إسْنَادِ تَبَارَكَ إلَيْهِ فَأَجَابَ بِذَلِكَ (قَوْلُهُ: لَا يُقَالُ: مُقْتَضَى حَدِيثِ الْبَسْمَلَةِ الْآتِي أَنْ يَكُونَ الِابْتِدَاءُ بِلَفْظَةِ الْجَلَالَةِ إلَخْ) فِيهِ مَنْعٌ ظَاهِرٌ؛ لِأَنَّ لَفْظَ الْحَدِيثِ الْآتِي «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» بِبَاءَيْنِ، وَهُوَ يَقْتَضِي أَنْ يَكُونَ الِابْتِدَاءُ بِهَذَا اللَّفْظِ، فَالْإِشْكَالُ مَدْفُوعٌ فَلَا يَحْتَاجُ إلَى جَوَابٍ.
وَقَوْلُهُ، وَأَنَّهُ لَا بُدَّ لَهُ الضَّمِيرُ فِيهِ لِلذَّاتِ (قَوْلُهُ: لِأَنَّهُ يُوصَفُ إلَخْ) تَعْلِيلٌ لِقَوْلِهِ السَّابِقِ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ إلَخْ.
এবং রিযিকদাতা, এবং যা তিনি নিজেও নন আবার তাঁর থেকে ভিন্নও নন, যেমন: চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, ইচ্ছাকারী, কথা বলনেওয়ালা, সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশ্রোতা। এটা বলা যাবে না যে: সামনে আগত বিসমিল্লাহর হাদীসের দাবি হলো প্রারম্ভ হতে হবে 'আল্লাহ' শব্দ দিয়ে, অথচ তা দিয়ে হয়নি বরং হয়েছে 'বিসম' শব্দ দিয়ে; কেননা আমরা বলি: কোনো নামের ওপর যে বিধান আপতিত হয়, তা মূলত তার অর্থের ওপরই বর্তায়, তবে যদি কোনো বিশেষ সূত্র থাকে, যেমন: 'দারব' একটি ক্রিয়ামূল। সুতরাং তাঁর উক্তি 'আল্লাহর নামে শুরু করছি'-এর অর্থ হলো: আমি তাঁর নামের অর্থ দ্বারা শুরু করছি যা হলো 'আল্লাহ' শব্দটি। যেন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর মাধ্যমে শুরু করছি। আর সরাসরি 'আল্লাহর মাধ্যমে' কেন বলা হলো না? কারণ তাঁর নামের জিকিরের মাধ্যমে বরকত লাভ করা ও সাহায্য প্রার্থনা করাও উদ্দেশ্য, অথবা শপথ এবং বরকত গ্রহণের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য, অথবা সংক্ষেপণ ও বিস্তারিত বর্ণনার সূক্ষ্ম রহস্য অর্জনের জন্য। 'আল্লাহ' হলো সেই সত্তার নাম যিনি অনিবার্য অস্তিত্ব এবং সকল প্রশংসার যোগ্য। অধিকাংশ আলিমের মতে এটিই আল্লাহর মহান নাম। পবিত্র কুরআনে এই শব্দটি দুই হাজার তিনশ ষাটটি স্থানে উল্লিখিত হয়েছে। এর মূল হলো 'ইলাহ', যার হামজাহ বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে আলিফ ও লাম যুক্ত করা হয়েছে; কারণ এটি গুণের মাধ্যমে বিশেষিত হয় কিন্তু এটি নিজে কারো গুণ হয় না, এবং এ কারণে যে সত্তার জন্য এমন একটি নাম থাকা অপরিহার্য যা পরিচালিত হয়
--
[শুবরামান্লিসীর টীকা] সত্তার সাথে বিদ্যমান কোনো বাস্তব গুণের ভিত্তিতে 'অনাদি' শব্দটি বলা হয় না, বরং তাঁর থেকে অনাদিত্বহীনতাকে নাকচ করার জন্য এটি বলা হয়। 'ভিন্ন' বলতে তারা এমন কিছু বুঝিয়েছেন যা সত্তা থেকে পৃথক হওয়া সম্ভব, অর্থাৎ সেই বস্তু ছাড়াও সত্তার অস্তিত্ব সম্ভব হওয়া; যেমন সৃষ্টি করা, কারণ এটি অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনয়নের নাম। আর মহান আল্লাহর সত্তা অনাদি কাল থেকেই বিদ্যমান ছিলেন, যদিও তখন তিনি কর্মগতভাবে সৃষ্টি করার গুণে গুণান্বিত ছিলেন না। আর যা হুবহু সত্তাও নয় আবার ভিন্নও নয় বলতে তারা বুঝিয়েছেন যে—তার মর্মার্থ সত্তার অতিরিক্ত এমন একটি বাস্তব গুণ যা সত্তার সাথে বিদ্যমান এবং সত্তা থেকে তা পৃথক হওয়া অসম্ভব, যেমন 'জ্ঞানী'। কারণ এর দ্বারা উদ্দিষ্ট হলেন সেই সত্তা যার সাথে জ্ঞান বিদ্যমান। অতএব জ্ঞান সত্তার হুবহু অংশও নয়, আবার সত্তা থেকে ভিন্ন কিছুও নয়; যেহেতু সত্তা থেকে জ্ঞানের পৃথক হওয়া অসম্ভব, কেননা জ্ঞান সত্তার অনাদিত্বের মতোই অনাদি। (তাঁর উক্তি: সামনে আগত বিসমিল্লাহর হাদীসের দাবি) এটি এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যদিও আপাতদৃষ্টিতে পরে উল্লেখ করাই অধিকতর সঙ্গত ছিল; কারণ যখন তিনি বর্ণনা করেছেন যে 'নাম' দ্বারা শব্দই উদ্দেশ্য, তখনই এই প্রশ্নের উদয় হয়, তাই তিনি এর সাথে মিলিয়েই তা উল্লেখ করেছেন। (তাঁর উক্তি: যেমন 'দারব') এটি সূত্রের মাধ্যমে শব্দকে উদ্দেশ্য করার উদাহরণ। (তাঁর উক্তি: এবং এটি একটি শব্দ) অর্থাৎ শব্দের অর্থ। যেন তাঁর উদ্দেশ্য হলো এটি মহান আল্লাহর সত্তার জন্য একটি নির্দিষ্ট নাম। সুতরাং এটি বলা যাবে না যে, নামের অর্থ হলো সকল নাম, যেমনটি 'নাম' শব্দটিকে সম্বন্ধযুক্ত করার ফলে ব্যাপকতা থেকে বুঝে আসে। (তাঁর উক্তি: কারণ বরকত লাভ করা) অর্থাৎ ইঙ্গিত হিসেবে। (তাঁর উক্তি: এবং তাঁর নামের জিকিরের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করাও উদ্দেশ্য) অর্থাৎ যেভাবে তাঁর সত্তার জিকিরের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা হয়; সুতরাং বরকত লাভ করা কেবল সত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সত্তার মাধ্যমে যেমন বরকত হয়, নামের মাধ্যমেও তেমন হয়। (তাঁর উক্তি: এবং বরকত গ্রহণ) অর্থাৎ বরকত হাসিল করা। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, 'আল্লাহর নামে আমি অবশ্যই এটি করব'—এই কথার দ্বারা শপথ সংঘটিত হবে না। ইবনে হাজারের ওপর সাম বলেছেন: তাঁর কথা 'শপথের সংশয় থেকে বাঁচার জন্য'—এর দাবি হলো 'বিসমিল্লাহ' শব্দটিতে শপথের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে শপথ অধ্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। সমাপ্ত।
এর সারসংক্ষেপ হলো যেমনটি শিহাব হিজাযী মুখতাসারুর রওদাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এটি একটি শপথ। (তাঁর উক্তি: অথবা ইজমালের সূক্ষ্ম রহস্য অর্জনের জন্য) এটি স্পষ্ট নয় যদি 'নাম' দ্বারা আল্লাহর নাম ও অন্যের নাম মিলিয়ে সাধারণ অর্থ উদ্দেশ্য হয়। তবে যদি তা দ্বারা কেবল মহান আল্লাহর সত্তা উদ্দেশ্য হয়, তবে তা স্পষ্ট; আর তখন সম্বন্ধটি হবে বর্ণনামূলক। ইবনে হাজারের ভাষ্য হলো—শপথের সংশয় থেকে বাঁচার জন্য এবং যেন তাঁর সকল নামকে শামিল করে সেজন্য 'আল্লাহর মাধ্যমে' বলা হয়নি। সমাপ্ত।
এটি স্পষ্ট যে, সম্বন্ধটি এখানে প্রকৃত এবং দ্বিতীয় সুরতে এর দ্বারা ব্যাপকতা উদ্দেশ্য। আর ইজমাল ও তাফসীলের বিষয়টি কেবল প্রথম সুরতের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। (তাঁর উক্তি: 'আল্লাহ' হলো সত্তার একটি নাম, সাথে তাঁর পরবর্তী উক্তি: এটি মৌলিক) এই দুটি কথা তাঁর উক্তি 'এর মূল হলো...' ইত্যাদির পরিপন্থী হতে পারে; কারণ সেটি তো ঐ ব্যক্তির দলিল যে একে উৎপন্ন মনে করে—বিষয়টি গবেষণাসাপেক্ষ। হ্যাঁ, তাঁর 'নাম' কথাটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব যে, এটি ব্যবহারের আধিক্যের কারণে নামে পরিণত হয়েছে যেমনটি বলা হয়ে থাকে। তবে তাঁর কথা 'এটি মৌলিক'—এর সাথে তা খাপ খায় না। এই কারণেই তিনি 'এটি মৌলিক' কথাটি উল্লেখ না করে পূর্বোক্ত কথার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যদিও তিনি এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এটি ব্যবহারের আধিক্যের কারণে নাম হওয়ার অন্তর্ভুক্ত যেহেতু এর মূল হলো 'ইলাহ'। সমাপ্ত। (তাঁর উক্তি: এটি আল্লাহর মহান নাম) এবং এটিই অগ্রগণ্য মত। (তাঁর উক্তি: এবং কুরআনে এটি উল্লিখিত হয়েছে) অর্থাৎ মহান আল্লাহর 'আল্লাহ' শব্দটি। (তাঁর উক্তি: এবং এ কারণে যে তাঁর জন্য অপরিহার্য) অর্থাৎ
--
[রশীদীর টীকা] তাঁর উক্তি 'কিন্তু এটি এই অর্থে প্রসিদ্ধ হয়নি'-এর ওপর যে আপত্তি আসে তার উত্তর। যেন কোনো প্রশ্নকারী বলছে: এটি প্রসিদ্ধ হবে না কেন, অথচ কুরআনের এই আয়াতে তা বর্ণিত হয়েছে? যেহেতু এই আয়াতে 'নাম' দ্বারা সত্তা উদ্দেশ্য হওয়ার দলিল হলো এর দিকে 'তাবারাকা' শব্দটির সম্বন্ধ করা। তাই তিনি এর মাধ্যমে উত্তর দিয়েছেন। (তাঁর উক্তি: এটা বলা যাবে না যে: সামনে আগত বিসমিল্লাহর হাদীসের দাবি হলো 'আল্লাহ' শব্দ দিয়ে শুরু হওয়া ইত্যাদি) এখানে একটি স্পষ্ট আপত্তি রয়েছে; কারণ সামনে আগত হাদীসের শব্দ হলো: 'প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়ে শুরু করা হয় না'—এখানে দুটি 'বা' বর্ণ রয়েছে। আর এটি দাবি করে যে, এই শব্দ সমষ্টি দিয়েই শুরু করতে হবে। সুতরাং জটিলতাটি অপসারিত হলো এবং উত্তরের প্রয়োজন রইল না।
আর তাঁর উক্তি 'এবং তাঁর জন্য অপরিহার্য'—এখানে সর্বনামটি সত্তার দিকে ফিরছে। (তাঁর উক্তি: কারণ এটি গুণের মাধ্যমে বিশেষিত হয় ইত্যাদি) এটি তাঁর পূর্বোক্ত উক্তি 'আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন...' ইত্যাদির কারণ বা ব্যাখ্যা।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
عَلَيْهِ صِفَاتُهُ وَلَا يَصْلُحُ لَهُ مِمَّا يُطْلَقُ عَلَيْهِ سِوَاهُ، وَلِأَنَّهُ لَوْ كَانَ وَصْفًا لَمْ يَكُنْ قَوْلُ: لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ تَوْحِيدًا مِثْلَ لَا إلَهَ إلَّا الرَّحْمَنُ فَإِنَّهُ لَا يَمْنَعُ الشَّرِكَةَ، فَهُوَ مُرْتَجَلٌ لَا اشْتِقَاقَ لَهُ. وَنُقِلَ عَنْ الشَّافِعِيِّ وَإِمَامِ الْحَرَمَيْنِ وَتِلْمِيذِهِ الْغَزَالِيِّ وَالْخَطَّابِيِّ وَالْخَلِيلِ وَسِيبَوَيْهِ وَابْنِ كَيْسَانَ وَغَيْرِهِمْ قَالَ بَعْضُهُمْ: وَهُوَ الصَّوَابُ وَهُوَ أَعْرَفُ الْمَعَارِفِ، فَقَدْ حُكِيَ أَنَّ سِيبَوَيْهِ رُئِيَ فِي الْمَنَامِ فَقِيلَ لَهُ: مَا فَعَلَ اللَّهُ بِك؟ فَقَالَ خَيْرًا كَثِيرًا لِجَعْلِي اسْمَهُ أَعْرَفَ الْمَعَارِفِ.
وَالْأَكْثَرُونَ عَلَى أَنَّهُ مُشْتَقٌّ، وَنُقِلَ عَنْ الْخَلِيلِ وَسِيبَوَيْهِ أَيْضًا وَاشْتِقَاقُهُ مِنْ أَلَهَ بِمَعْنَى عَبَدَ، وَقِيلَ مِنْ أَلِهَ إذَا تَحَيَّرَ؛ لِأَنَّ الْعُقُولَ تَتَحَيَّرُ فِي مَعْرِفَتِهِ؛ أَوْ مِنْ أَلَهْت إلَى فُلَانٍ: أَيْ سَكَنْت إلَيْهِ؛ لِأَنَّ الْقُلُوبَ تَطْمَئِنُّ بِذِكْرِهِ وَالْأَرْوَاحُ تَسْكُنُ إلَى مَعْرِفَتِهِ؛ أَوْ مِنْ أَلِهَ إذَا فَزِعَ مِنْ أَمْرٍ نَزَلَ عَلَيْهِ وَأَلَهَهُ غَيْرُهُ أَجَارَهُ، أَوْ أَلَهَ الْفَصِيلُ إذَا أُولِعَ بِأُمِّهِ؛ أَوْ مِنْ وَلَهَ إذَا تَحَيَّرَ وَتَخَبَّطَ عَقْلُهُ، وَكَأَنَّ أَصْلَهُ وَلَاهَ فَقُلِبَتْ الْوَاوُ هَمْزَةً لِاسْتِثْقَالِ الْكِسْرَةِ عَلَيْهَا. وَقِيلَ أَصْلُهُ لَاهٍ مَصْدَرُ لَاهَ يَلِيهِ لَيْهًا وَلَاهًا: إذَا احْتَجَبَ وَارْتَفَعَ.
قَالَ بَعْضُ الْمُحَقِّقِينَ: وَالْحَقُّ أَنَّهُ وَصْفٌ فِي أَصْلِهِ، لَكِنَّهُ لَمَّا غَلَبَ عَلَيْهِ بِحَيْثُ لَا يُسْتَعْمَلُ فِي غَيْرِهِ وَصَارَ كَالْعَلَمِ أُجْرِيَ مَجْرَاهُ فِي إجْرَاءِ الْأَوْصَافِ عَلَيْهِ وَامْتِنَاعِ الْوَصْفِ بِهِ وَعَدَمِ تَطَرُّقِ احْتِمَالِ الشَّرِكَةِ إلَيْهِ؛ لِأَنَّ ذَاتَه مِنْ حَيْثُ هِيَ بِلَا اعْتِبَارٍ أَمْرٌ آخَرُ حَقِيقِيٌّ أَوْ غَيْرُهُ غَيْرُ مَعْقُولَةٍ لِلْبَشَرِ فَلَا يُمْكِنُ أَنْ يَدُلَّ عَلَيْهِ بِلَفْظٍ، وَلِأَنَّهُ لَوْ دَلَّ عَلَى مُجَرَّدِ ذَاتِهِ الْمَخْصُوصَةِ لَمَا أَفَادَ ظَاهِرُ قَوْله تَعَالَى {وَهُوَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ} [الأنعام: 3] مَعْنًى صَحِيحًا، وَلِأَنَّ مَعْنَى الِاشْتِقَاقِ وَهُوَ كَوْنُ أَحَدِ اللَّفْظَيْنِ مُشَارِكًا لِلْآخَرِ فِي الْمَعْنَى وَالتَّرْكِيبِ حَاصِلٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْأُصُولِ الْمَذْكُورَةِ انْتَهَى. وَهُوَ عَرَبِيٌّ خِلَافًا لِلْبَلْخِيِّ حَيْثُ زَعَمَ أَنَّهُ مُعَرَّبٌ.
وَالرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ اسْمَانِ بُنِيَا لِلْمُبَالَغَةِ مِنْ رَحِمَ بِتَنْزِيلِهِ مَنْزِلَةَ اللَّازِمِ،
ــ
[حاشية الشبراملسي] لِذَاتِهِ تَعَالَى (قَوْلُهُ: وَلَا يَصْلُحُ لَهُ مِمَّا يُطْلَقُ عَلَيْهِ سِوَاهُ) أَيْ سِوَى لَفْظِ اللَّهِ (قَوْلُهُ: فَإِنَّهُ لَا يَمْنَعُ إلَخْ) أَيْ قَوْلُهُ لَا إلَهَ إلَّا الرَّحْمَنُ (قَوْلُهُ: وَنُقِلَ عَنْ الشَّافِعِيِّ) أَيْ كَوْنُهُ عَلَمًا (قَوْلُهُ وَاشْتِقَاقُهُ مِنْ أَلِهَ إلَخْ) أَيْ بِكَسْرِ اللَّامِ. قَالَ فِي الْمِصْبَاحِ: أَلِهَ يَأْلُهُ مِنْ بَابِ تَعِبَ إلَاهَةً بِمَعْنَى عَبَدَ عِبَادَةً انْتَهَى.
وَعِبَارَةُ الْمُخْتَارِ بِفَتْحِ اللَّامِ، وَمِثْلُهُ فِي ابْنِ حَجَرٍ (قَوْلُهُ: وَقِيلَ مِنْ أَلِهَ إلَخْ) قَالَ فِي الْمِصْبَاحِ: أَلِهَ يَأْلُهُ مِنْ بَابِ تَعِبَ إذَا تَحَيَّرَ وَأَصْلُهُ وَلِهَ يَوْلَهُ انْتَهَى.
وَلَعَلَّ الْفَرْقَ بَيْنَ هَذَا وَمَا يَأْتِي فِي قَوْلِهِ أَوْ مِنْ وَلِهَ إذَا تَحَيَّرَ الْإِبْدَالُ هُنَا وَعَدَمُهُ ثُمَّ (قَوْلُهُ إذَا أُولِعَ بِأُمِّهِ) بِالْبِنَاءِ لِلْمَفْعُولِ. قَالَ فِي الْمِصْبَاحِ: أُولِعَ بِالشَّيْءِ بِالْبِنَاءِ لِلْمَفْعُولِ يُولَعُ وَلُوعًا بِفَتْحِ الْوَاوِ عَلِقَ بِهِ، فِي لُغَةٍ وَلِعَ بِفَتْحِ اللَّامِ وَكَسْرِهَا يَلَعُ بِفَتْحِهَا فِيهِمَا مَعَ سُقُوطِ الْوَاوِ وَلْعًا بِسُكُونِ اللَّامِ وَفَتْحِهَا انْتَهَى.
(قَوْلُهُ: وَكَانَ أَصْلُهُ وَلَاهٍ) أَيْ عَلَى هَذَا الْقَوْلِ الْأَخِيرِ وَهُوَ قَوْلُهُ أَوْ مِنْ وَلِهَ إذَا تَحَيَّرَ إلَخْ (قَوْلُهُ وَالْحَقُّ أَنَّهُ) أَيْ اللَّهَ (قَوْلُهُ: وَصْفٌ) أَيْ مَعْبُودٌ (قَوْلُهُ: مَعْنًى صَحِيحًا) أَيْ لِاقْتِضَائِهِ أَنَّ ذَاتَهُ كَائِنَةٌ فِي السَّمَوَاتِ وَهُوَ غَيْرُ صَحِيحٍ، بِخِلَافِ مَا إذَا جُعِلَ وَصْفًا: فَإِنَّ مَعْنَاهُ الْمَعْبُودُ فِي السَّمَوَاتِ وَفِي الْأَرْضِ وَهُوَ ظَاهِرٌ، وَإِنَّمَا قَالَ ظَاهِرُ قَوْلِهِ لِإِمْكَانِ جَعْلِ الظَّرْفِ مُتَعَلِّقًا بِمَحْذُوفٍ كَأَنْ يُقَالَ الْأَصْلُ وَهُوَ اللَّهُ الْمَعْبُودُ فِي السَّمَوَاتِ وَفِي الْأَرْضِ (قَوْلُهُ الْأُصُولُ الْمَذْكُورَةُ) أَيْ فِي قَوْلِهِ وَاشْتِقَاقُهُ مِنْ أَلِهَ إلَخْ (قَوْلُهُ: وَهُوَ عَرَبِيٌّ) أَيْ لَفْظُ اللَّهِ سبحانه وتعالى
(قَوْلُهُ: مِنْ رَحِمَ بِتَنْزِيلِهِ) أَيْ بِأَنْ يَبْقَى عَلَى صِيغَتِهِ غَيْرَ مُتَعَلِّقٍ بِمَفْعُولٍ كَفُلَانٍ يُعْطِي فَيُقَالُ رَحِمَ
ــ
[حاشية الرشيدي] (قَوْلُهُ: لَا اشْتِقَاقَ لَهُ) يُلَائِمُ قَوْلَهُ فِيمَا مَرَّ وَأَصْلُهُ إلَهٌ إلَخْ الْمُوَافِقُ لِمَا عَلَيْهِ الْأَكْثَرُونَ الْآتِي وَفِي قَوْلِهِ مُرْتَجَلٌ لَا اشْتِقَاقَ لَهُ قَلَاقَةٌ؛ لِأَنَّهُ رُبَّمَا أَوْهَمَ أَنَّ قَوْلَهُ لَا اشْتِقَاقَ لَهُ مَفْهُومُ قَوْلِهِ مُرْتَجَلٌ، وَهُوَ غَيْرُ صَوَابٍ وَغَرَضُهُ أَنَّهُ مُرْتَجَلٌ لَا مَنْقُولٌ جَامِدٌ لَا مُشْتَقٌّ (قَوْلُهُ: لِأَنَّ ذَاتَهُ مِنْ حَيْثُ هِيَ إلَخْ) فِيهِ أَنَّهُ لَا يُشْتَرَطُ الْعِلْمُ إذَا وُضِعَ بِإِزَاءِ مُسَمَّى الْإِحَاطَةِ بِكُنْهِ ذَلِكَ الْمُسَمَّى، وَالْغَرَضُ مِنْ الْوَضْعِ أَنَّهُ إذَا أُطْلِقَ ذَلِكَ الْعِلْمُ فُهِمَ مِنْهُ ذَلِكَ الْمُسَمَّى، وَيَكْفِي فِي ذَلِكَ عِلْمُهُ بِوَجْهٍ كَمَا هُوَ ظَاهِرٌ
(قَوْلُهُ: اسْمَانِ بُنِيَا لِلْمُبَالَغَةِ) يَعْنِي صِفَتَيْنِ مُشَبَّهَتَيْنِ؛ لِأَنَّ الصِّفَةَ الْمُشَبَّهَةَ هِيَ الَّتِي يُشْتَرَطُ أَنْ تَكُونَ مِنْ لَازِمٍ وَبِهَا عَبَّرَ غَيْرُهُ، وَإِنَّمَا آثَرَ التَّعْبِيرَ بِاسْمَيْنِ لِيَتَنَزَّلَ عَلَى الرَّاجِحِ مِنْ كَوْنِ الرَّحْمَنِ صَارَ عَلَمًا بِالْغَلَبَةِ لَا صِفَةً، وَمَنْ عَبَّرَ بِصِفَتَيْنِ نَظَرَ إلَى الْأَصْلِ (قَوْلُهُ: مِنْ رَحِمَ) أَيْ مِنْ مَصْدَرِهِ، وَإِنَّمَا عَبَّرُوا بِالْفِعْلِ تَقْرِيبًا وَلِضِيقِ الْعِبَارَةِ، إذْ لَيْسَ
আল্লাহর গুণাবলি তাঁর ওপরই প্রযোজ্য এবং আল্লাহ শব্দ ব্যতীত অন্য কোনো শব্দ তাঁর জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ এটি যদি কেবল একটি গুণবাচক শব্দ হতো, তবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) বলা 'লা ইলাহা ইল্লার রহমান' (রহমান ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) বলার মতো তাওহীদ বা একত্ববাদ সাব্যস্ত করত না, কেননা দ্বিতীয়টি অংশীদারিত্বকে প্রতিহত করে না। অতএব এটি একটি মৌলিক বিশেষ্য, যার কোনো ব্যুৎপত্তি নেই। ইমাম শাফেয়ী, ইমামুল হারামাইন এবং তাঁর ছাত্র আল-গাজালি, আল-খাত্তাবি, আল-খালিল, সিবওয়াইহ, ইবনে কায়সান ও অন্যান্যদের থেকে এটিই বর্ণিত হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: এটিই সঠিক এবং এটি সকল পরিচিত সংজ্ঞার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুনিশ্চিত। বর্ণিত আছে যে, সিবওয়াইহকে স্বপ্নে দেখা হয়েছিল এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি উত্তর দিলেন: অঢেল কল্যাণ দান করেছেন, কারণ আমি তাঁর নামকে সকল পরিচিত সংজ্ঞার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুনিশ্চিত গণ্য করেছি।
অধিকাংশ আলিমের মতে এটি ব্যুৎপন্ন শব্দ। খালিল এবং সিবওয়াইহ থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে। এর ব্যুৎপত্তি 'আলাহা' থেকে যার অর্থ ইবাদত করা। আবার বলা হয় 'আলিহা' থেকে, যার অর্থ সে যখন বিভ্রান্ত হয়; কারণ মানুষের বুদ্ধি তাঁর পরিচয় লাভের ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত ও দিশেহারা হয়ে পড়ে। অথবা 'আলাহতু ইলা ফুলান' থেকে, যার অর্থ আমি তার কাছে প্রশান্তি পেলাম; কারণ আল্লাহর জিকিরে অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয় এবং তাঁর পরিচয় লাভে আত্মা শান্ত হয়। অথবা 'আলাহা' থেকে যখন কেউ তার ওপর আপতিত কোনো বিপদে আতঙ্কিত হয় এবং অন্য কেউ তাকে আশ্রয় দেয়। অথবা শাবক যখন তার মায়ের প্রতি অতি আসক্ত হয়। অথবা 'ওয়ালিহা' থেকে যখন কেউ বিভ্রান্ত হয় এবং তার বুদ্ধি দিশেহারা হয়ে পড়ে; যেন এর মূল রূপ ছিল 'ওয়ালাহ', অতঃপর 'ওয়াও' বর্ণটি 'হামজা'য় রূপান্তরিত হয়েছে কারণ এর নিচে কাসরা (জের) উচ্চারণ করা কষ্টসাধ্য ছিল। আরও বলা হয়েছে যে, এর মূল হলো 'লাহিন', যা 'লাহা-ইলিহু' ক্রিয়ামূল থেকে নির্গত এবং এর অর্থ হলো যখন কোনো কিছু আড়ালে থাকে বা উচ্চে আরোহণ করে।
জনৈক গবেষক বলেছেন: সত্য এই যে এটি মূলত গুণবাচক ছিল, কিন্তু যখন এটি আল্লাহর সত্তার ক্ষেত্রে এতটাই প্রাধান্য পেল যে অন্য কারো ক্ষেত্রে তা আর ব্যবহৃত হয় না, তখন তা একটি সংজ্ঞাবাচক নামের মতো হয়ে গেল। ফলে এর ওপর অন্যান্য গুণাবলি আরোপ করা যায়, কিন্তু একে অন্যের গুণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না এবং এর ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের কোনো সম্ভাবনা থাকে না। কারণ আল্লাহর সত্তা প্রকৃতগতভাবে যা, কোনো কিছুর বিবেচনা ছাড়া তা মানুষের বুদ্ধির অতীত; ফলে কোনো শব্দের মাধ্যমে সরাসরি সেই সত্তাকে নির্দেশ করা সম্ভব নয়। আর যদি এই শব্দ কেবল তাঁর বিশেষ সত্তাকেই নির্দেশ করত, তবে মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রকাশ্য অর্থ {আর তিনি আসমানসমূহে আল্লাহ} কোনো সঠিক অর্থ প্রদান করত না। এছাড়া ব্যুৎপত্তির অর্থ হলো দুটি শব্দের অর্থ ও গঠনে সামঞ্জস্য থাকা, যা এই শব্দ এবং উল্লেখিত মূল ধাতুগুলোর মধ্যে বিদ্যমান। সমাপ্ত। এটি একটি আরবি শব্দ, বলখীর দাবির বিপরীতে যিনি একে অনারবি থেকে আগত মনে করেন।
'আর-রহমান' এবং 'আর-রাহিম' শব্দ দুটি আধিক্য বোঝানোর জন্য 'রাহিমা' থেকে গঠিত হয়েছে, যা অকর্মক ক্রিয়ার মর্যাদা পেয়েছে।
--
[শুবরামাল্লিসীর হাশিয়া] আল্লাহর সত্তার জন্য (তাঁর উক্তি: আল্লাহ শব্দ ব্যতীত অন্য কোনো শব্দ তাঁর জন্য উপযুক্ত নয়) অর্থাৎ আল্লাহ শব্দ ব্যতীত অন্য কোনো শব্দ। (তাঁর উক্তি: কারণ এটি অংশীদারিত্বকে প্রতিহত করে না ইত্যাদি) অর্থাৎ তাঁর উক্তি 'লা ইলাহা ইল্লার রহমান'। (তাঁর উক্তি: শাফেয়ী থেকে বর্ণিত) অর্থাৎ এটি একটি সংজ্ঞাবাচক নাম হওয়া। (তাঁর উক্তি: এর ব্যুৎপত্তি 'আলিহা' থেকে ইত্যাদি) অর্থাৎ 'লাম' বর্ণে কাসরা (জের) যোগে। মিসবাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আলিহা-ইয়াহলাহু' শব্দটি 'তা'ইবা' অধ্যায় থেকে এসেছে যার অর্থ ইবাদত করা। সমাপ্ত।
মুখতার গ্রন্থের ভাষ্য অনুযায়ী এটি 'লাম' বর্ণে ফাতহা (জবর) যোগে, ইবনে হাজারের কিতাবেও অনুরূপ বর্ণিত। (তাঁর উক্তি: আর বলা হয় 'আলিহা' থেকে ইত্যাদি) মিসবাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আলিহা-ইয়াহলাহু' শব্দটি 'তা'ইবা' অধ্যায় থেকে এসেছে যখন কেউ বিভ্রান্ত হয় এবং এর মূল হলো 'ওয়ালিহা-ইয়াওলাহু'। সমাপ্ত।
সম্ভবত এই বক্তব্য এবং পরবর্তী বক্তব্য—'ওয়ালিহা' থেকে যার অর্থ বিভ্রান্ত হওয়া—এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য হলো এখানে বর্ণ পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু সেখানে হয়নি। (তাঁর উক্তি: যখন সে মায়ের প্রতি অতি আসক্ত হয়) এটি কর্মবাচ্যের ক্রিয়া। মিসবাহ গ্রন্থে আছে: কোনো কিছুর প্রতি আসক্ত হওয়া কর্মবাচ্যের রূপে ব্যবহৃত হয় যার ক্রিয়ামূল হলো 'ওলু'আন' (ওয়াও-এ ফাতহা যোগে); কোনো কোনো ভাষায় 'ওয়ালি'আ' (লাম-এ ফাতহা বা কাসরা যোগে) এবং এর বর্তমান কাল 'য়ালা'আ' (লাম-এ ফাতহা যোগে) এবং এর ক্রিয়ামূল 'ওয়াল'আন' (লাম সাকিন বা ফাতহা যোগে)। সমাপ্ত।
(তাঁর উক্তি: এর মূল ছিল 'ওয়ালাহিন') অর্থাৎ এই শেষোক্ত মত অনুযায়ী, যা হলো 'ওয়ালিহা' থেকে যার অর্থ বিভ্রান্ত হওয়া ইত্যাদি। (তাঁর উক্তি: সত্য এই যে এটি) অর্থাৎ 'আল্লাহ' শব্দটি। (তাঁর উক্তি: গুণবাচক) অর্থাৎ উপাস্য। (তাঁর উক্তি: সঠিক অর্থ) অর্থাৎ যদি মনে করা হয় তাঁর সত্তা আসমানসমূহে বিদ্যমান তবে তা সঠিক নয়; কিন্তু যখন একে গুণবাচক ধরা হবে, তখন এর অর্থ হবে: আসমানসমূহ ও জমিনে যিনি উপাস্য, আর তা অত্যন্ত স্পষ্ট। আর তিনি 'তাঁর বাণীর প্রকাশ্য রূপ' বলেছেন কারণ এই স্থানবাচক অব্যয়টিকে একটি উহ্য শব্দের সাথে সম্পৃক্ত করা সম্ভব, যেমন বলা হতে পারে: এর মূল হলো 'তিনিই আল্লাহ যিনি আসমানসমূহ ও জমিনে উপাস্য'। (তাঁর উক্তি: উল্লেখিত মূল ধাতুগুলো) অর্থাৎ তাঁর উক্তি: এর ব্যুৎপত্তি 'আলিহা' থেকে ইত্যাদি। (তাঁর উক্তি: এটি একটি আরবি শব্দ) অর্থাৎ মহান আল্লাহর নাম।
(তাঁর উক্তি: 'রাহিমা' থেকে গঠিত) অর্থাৎ এর রূপ অকর্মক হিসেবে অক্ষুণ্ণ রেখে কোনো কর্মপদ ছাড়াই ব্যবহৃত হবে, যেমন বলা হয় 'অমুক ব্যক্তি দান করে', তেমনি বলা হয়েছে 'রাহিমা' (তিনি দয়া করেছেন)।
--
[রশিদী'র হাশিয়া] (তাঁর উক্তি: যার কোনো ব্যুৎপত্তি নেই) এটি তাঁর পূর্ববর্তী কথা 'এর মূল হলো ইলাহ' ইত্যাদির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা অধিকাংশের মতের সাথে মিলে যায়। তবে তাঁর উক্তি 'এটি মৌলিক বিশেষ্য, যার কোনো ব্যুৎপত্তি নেই'-এর মধ্যে কিছুটা জটিলতা রয়েছে; কারণ এটি এই ভ্রান্ত ধারণা দিতে পারে যে ব্যুৎপত্তি না থাকাই হলো 'মূর্তাজাল' বা মৌলিক হওয়ার অর্থ। আসলে বিষয়টি তা নয়। তাঁর উদ্দেশ্য হলো এটি মৌলিক বিশেষ্য যা অন্য কোনো শব্দ থেকে রূপান্তরিত নয় এবং এটি একটি অজাত শব্দ, ব্যুৎপন্ন নয়। (তাঁর উক্তি: কারণ আল্লাহর সত্তা প্রকৃতগতভাবে যা ইত্যাদি) এতে আপত্তি এই যে, কোনো সত্তার নাম রাখার জন্য সেই সত্তার প্রকৃত স্বরূপকে পুরোপুরি আয়ত্ত করা শর্ত নয়। নামকরণের উদ্দেশ্য হলো যখন সেই নাম প্রকাশ করা হবে তখন সেই সত্তাকে বোঝা যাবে এবং সত্তার কোনো একটি দিক থেকে পরিচয় লাভ করাই এর জন্য যথেষ্ট, যেমনটি স্পষ্ট।
(তাঁর উক্তি: নাম দুটি আধিক্য বোঝানোর জন্য গঠিত) অর্থাৎ দুটি গুণবাচক বিশেষ্য (সিফাতে মুসাব্বাহা); কারণ গুণবাচক বিশেষ্য হওয়ার শর্ত হলো তা অকর্মক ক্রিয়া থেকে নির্গত হওয়া এবং অন্যরাও একে এই পরিভাষাতেই ব্যক্ত করেছেন। তিনি 'দুটি নাম' শব্দ জোড়া ব্যবহার করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন যাতে এই অগ্রগণ্য মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যে 'আর-রহমান' শব্দটি ব্যবহারের আধিক্যের কারণে একটি সংজ্ঞাবাচক নামে পরিণত হয়েছে, গুণবাচক নয়। আর যারা একে 'দুটি গুণ' বলেছেন তারা এর মূল রূপের দিকে লক্ষ্য করেছেন। (তাঁর উক্তি: 'রাহিমা' থেকে) অর্থাৎ এর ক্রিয়ামূল থেকে। তাঁরা ক্রিয়ার মাধ্যমে একে ব্যক্ত করেছেন সহজ করার জন্য এবং ভাষার সীমাবদ্ধতার কারণে, কারণ এটি এমন নয় যে...
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
أَوْ بِجَعْلِهِ لَازِمًا وَنَقْلِهِ إلَى فَعُلَ بِالضَّمِّ. وَالرَّحْمَةُ لُغَةً: رِقَّةُ الْقَلْبِ وَانْعِطَافٌ يَقْتَضِي التَّفَضُّلَ وَالْإِحْسَانَ، فَالتَّفَضُّلُ غَايَتُهَا، وَأَسْمَاءُ اللَّهِ تَعَالَى الْمَأْخُوذَةُ مِنْ نَحْوِ ذَلِكَ إنَّمَا تُؤْخَذُ بِاعْتِبَارِ الْغَايَاتِ الَّتِي هِيَ أَفْعَالٌ دُونَ الْمَبَادِي الَّتِي تَكُونُ انْفِعَالَاتٍ؛ فَالرَّحْمَةُ فِي حَقِّهِ تَعَالَى مَعْنَاهَا إرَادَةُ الْإِحْسَانِ فَتَكُونُ صِفَةَ ذَاتٍ، أَوْ الْإِحْسَانُ فَتَكُونُ صِفَةَ فِعْلٍ، فَهُوَ إمَّا مَجَازٌ فِي الْإِحْسَانِ أَوْ فِي إرَادَتِهِ، وَإِمَّا اسْتِعَارَةٌ تَمْثِيلِيَّةٌ
ــ
[حاشية الشبراملسي] اللَّهُ: أَيْ كَثُرَتْ رَحْمَتُهُ، وَقَوْلُهُ بِجَعْلِهِ لَازِمًا: أَيْ بِأَنْ يُحَوَّلَ مِنْ فَعِلَ بِكَسْرِ الْعَيْنِ إلَى فَعُلَ بِضَمِّهَا كَمَا ذَكَرَهُ بِقَوْلِهِ وَنَقَلَهُ إلَخْ، ثُمَّ مَا ذُكِرَ مِنْ جَعْلِهِ مِنْ رَحِمَ مَبْنِيٌّ عَلَى أَنَّ الصِّفَةَ مُشْتَقَّةٌ مِنْ الْفِعْلِ وَهُوَ رَأْيٌ، وَالصَّحِيحُ أَنَّهَا مُشْتَقَّةٌ مِنْ الْمَصْدَرِ كَالْفِعْلِ، وَعَلَيْهِ فَيُمْكِنُ تَقْدِيرُ مُضَافٍ فِي الْكَلَامِ: أَيْ مِنْ مَصْدَرِ رَحِمَ إلَخْ وَهُوَ الرُّحْمُ بِالضَّمِّ وَإِنْ كَانَ لَهُ مَصْدَرَانِ آخَرَانِ وَهُمَا الرَّحْمَةُ وَالْمَرْحَمَةُ؛ لِأَنَّ الِاشْتِقَاقَ مِنْ الْمَصْدَرِ الْمُجَرَّدِ دُونَ الْمَزِيدِ فِيهِ فَلَا يَكُونُ مُخَالِفًا لِلْمُخْتَارِ (قَوْلُهُ وَنَقْلِهِ إلَى فَعُلَ) عَطْفُ عِلَّةٍ عَلَى مَعْلُولٍ (قَوْلُهُ وَانْعِطَافٌ) عَطْفُ مُسَبَّبٍ عَلَى سَبَبٍ (قَوْلُهُ: مِنْ نَحْوِ ذَلِكَ) أَيْ مِنْ كُلِّ مَا اسْتَحَالَ مَعْنَاهُ الْحَقِيقِيُّ عَلَى اللَّهِ سبحانه وتعالى كَالْغَضَبِ وَالرِّضَا وَالْمَحَبَّةِ وَنَحْوِهَا، فَإِنَّهُ إنَّمَا يُؤْخَذُ بِاعْتِبَارِ الْغَايَاتِ؛ مَثَلًا الرَّحْمَةُ هِيَ رِقَّةُ الْقَلْبِ غَايَتُهَا الْإِنْعَامُ عَلَى مَنْ رَحِمَهُ، وَهَذَا بِنَاءً عَلَى أَنَّهَا مِنْ صِفَاتِ الْأَفْعَالِ وَهُوَ أَحَدُ قَوْلَيْنِ، ثَانِيهمَا أَنَّهَا مِنْ صِفَاتِ الذَّاتِ فَتُحْمَلُ عَلَى إرَادَةِ الْخَيْرِ، فَمَعْنَى الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ عَلَى الْأَوَّلِ الْمُنْعِمُ وَعَلَى الثَّانِي مُرِيدُ الْإِنْعَامِ دُونَ الْمَبَادِي الَّتِي تَكُونُ انْفِعَالَاتٍ كَرِقَّةِ الْقَلْبِ، وَأَشَارَ الشَّارِحُ إلَى الْقَوْلَيْنِ بِقَوْلِهِ فَالرَّحْمَةُ إلَخْ.
(قَوْلُهُ: أَوْ فِي إرَادَتِهِ) وَالْأَوْلَى أَنْ يُقَالَ: هُوَ حَقِيقَةٌ شَرْعِيَّةٌ فِيمَا ذَكَرَ مِنْ الْإِحْسَانِ أَوْ إرَادَتِهِ، وَعَلَيْهِ فَقَوْلُهُ إمَّا مَجَازٌ مَعْنَاهُ بِحَسَبِ أَصْلِهِ قَبْلَ اشْتِهَارِهِ شَرْعًا فِيمَا ذَكَرَ مِنْ الْغَايَاتِ (قَوْلُهُ وَإِمَّا اسْتِعَارَةٌ تَمْثِيلِيَّةٌ) وَيُرَدُّ عَلَيْهِ أَنَّ الِاسْتِعَارَةَ التَّمْثِيلِيَّةَ خَاصَّةٌ بِالْمَجَازِ الْمُرَكَّبِ، فَلَا بُدَّ فِيهَا مِنْ كَوْنِ الْمُشَبَّهِ مُنْتَزَعًا مِنْ عِدَّةِ أُمُورٍ، وَكَذَا الْمُشَبَّهُ بِهِ وَوَجْهُ الشَّبَهِ. وَفِي كَلَامِ السَّيِّدِ فِي حَوَاشِي الْكَشَّافِ عِنْدَ قَوْله تَعَالَى {خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ} [البقرة: 7] بَعْدَ أَنَّ جَوَّزَ فِي {خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ} [البقرة: 7] أَنْ يَكُونَ اسْتِعَارَةً وَأَنْ يَكُونَ تَمْثِيلًا مَا نَصُّهُ: وَإِذَا حُمِلَ عَلَى التَّمْثِيلِ كَانَ الْمُسْتَعَارُ لَفْظًا مُرَكَّبًا بَعْضُهُ مَلْفُوظٌ وَبَعْضُهُ مَنْوِيٌّ فِي الْإِرَادَةِ، وَسَنُطْلِعُك عَلَى أَنَّ مُلَاحَظَةَ الْمَعَانِي قَصْدًا إمَّا بِأَلْفَاظٍ مَذْكُورَةٍ أَوْ مُقَدَّرَةٍ فِي نَظْمِ الْكَلَامِ أَوْ مَنْوِيَّةٍ بِلَا ذِكْرٍ وَلَا تَقْدِيرٍ فِيهِ، وَإِنَّمَا صَرَّحَ بِالْخَتْمِ وَحْدَهُ وَبِالْغِشَاوَةِ وَحْدَهَا؛ لِأَنَّهُمَا الْأَصْلُ فِي تِلْكَ الْحَالَةِ الْمُرَكَّبَةِ، فَيُلَاحَظُ بَاقِي الْأَجْزَاءِ قَصْدًا بِأَلْفَاظٍ مُتَخَيَّلَةٍ، إذْ لَا بُدَّ فِي التَّرْكِيبِ مِنْ مُلَاحَظَاتٍ قَصْدِيَّةٍ مُتَعَلِّقَةٍ بِتِلْكَ الْأَجْزَاءِ، وَلَا سَبِيلَ إلَى ذَلِكَ إلَّا بِتَخَيُّلِ أَلْفَاظٍ بِإِزَائِهَا كَمَا يَقْتَضِيهِ جَرَيَانُ الْعَادَةِ وَيَشْهَدُ بِهِ رُجُوعُك إلَى وِجْدَانِك.
وَمِنْ فَوَائِدِ هَذِهِ الطَّرِيقَةِ جَوَازُ الْحَمْلِ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْ الِاسْتِعَارَةِ وَالتَّمْثِيلِ؛ فَعَلَى الْأَوَّلِ يَكُونُ التَّجَوُّزُ فِي لَفْظَيْ خَتَمَ وَغِشَاوَةً، وَعَلَى الثَّانِي لَا تَجُوزُ فِيهِمَا بَلْ فِي الْمَجْمُوعِ الْمُرَكَّبِ مِنْهُمَا وَمِنْ الْمَنْوِيِّ مَعَهُمَا إلَى آخِرِ مَا أَطَالَ بِهِ فَلْيُرَاجَعْ. وَقَدْ جَعَلَ بَعْضُ الْبَيَانِيِّينَ هَذَا بِحَسَبِ ظَاهِرِهِ تَأْيِيدًا لِلِاسْتِعَارَةِ، فَإِنَّهُ لَمَّا جَازَ أَنْ يُسْتَعَارَ الْخَتْمُ لِلْحِسِّيَّةِ الَّتِي لَا يَفُوتُ مَعَهَا بِالْكُلِّيَّةِ مَا هُوَ الْمَقْصُودُ
ــ
[حاشية الرشيدي] لَهُ مَصْدَرٌ وَاحِدٌ حَتَّى يُعَوَّلَ عَلَيْهِ، فَلَيْسَ مَبْنِيًّا عَلَى مَذْهَبِ الْكُوفِيِّينَ مِنْ أَنَّ الِاشْتِقَاقَ مِنْ الْفِعْلِ، ثُمَّ رَأَيْت الشِّهَابَ بْنَ عَبْدِ الْحَقِّ فِي شَرْحِ الْبَسْمَلَةِ سَبَقَ إلَى مَا ذَكَرْته مَعَ زِيَادَةٍ، لَكِنَّهُ جَعَلَ النُّكْتَةَ فِي الْعُدُولِ إلَى لَفْظِ الْفِعْلِ غَيْرَ مَا ذَكَرْته فَلْيُرَاجَعْ وَالنِّكَاتُ لَا تَتَزَاحَمُ، بَلْ مَا ذَكَرَهُ عِنْدَ التَّحْقِيقِ يَرْجِعُ إلَى مَا ذَكَرْته هَذَا كُلُّهُ إنْ كَانَ لَفْظُ رَحِمَ مَفْتُوحَ الْأَوَّلِ مَكْسُورَ الثَّانِي، وَإِنْ جُعِلَ مَضْمُومَ الْأَوَّلِ سَاكِنَ الثَّانِي مَصْدَرًا فَلَا إشْكَالَ كَمَا أَشَارَ إلَيْهِ الشِّهَابُ الْمَذْكُورُ فَانْدَفَعَ مَا فِي حَاشِيَةِ الشَّيْخِ (قَوْلُهُ: يَقْتَضِي التَّفَضُّلَ، وَالْإِحْسَانَ) أَيْ أَوْ إرَادَةَ ذَلِكَ.
وَقَوْلُهُ فَالتَّفَضُّلُ غَايَتُهَا: أَيْ أَوْ إرَادَتُهُ (قَوْلُهُ: الَّتِي تَكُونُ انْفِعَالَاتٍ) يَعْنِي كَيْفِيَّاتٍ، إذْ الِانْفِعَالَاتُ هِيَ قَبُولُ الْأَثَرِ كَلِينِ الشَّمْعِ الْقَابِلِ
অথবা একে অকর্মক করার মাধ্যমে এবং পেশযুক্ত 'ফাউলা' ছাঁচে রূপান্তরের মাধ্যমে। আভিধানিক অর্থে রহমত হলো: হৃদয়ের কোমলতা এবং এমন এক অনুকম্পা যা অনুগ্রহ ও ইহসানকে আবশ্যক করে। সুতরাং অনুগ্রহ হলো এর চূড়ান্ত লক্ষ্য। মহান আল্লাহর ঐ সকল নাম যা এই জাতীয় অর্থ থেকে গৃহীত হয়েছে, সেগুলো কেবল সেই চূড়ান্ত ফলাফলের বিবেচনায় গ্রহণ করা হবে যা মূলত কাজ, সেই প্রারম্ভিক অবস্থার বিবেচনায় নয় যা মূলত আবেগীয় প্রতিক্রিয়া; সুতরাং মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে রহমতের অর্থ হলো অনুগ্রহ করার ইচ্ছা, এমতাবস্থায় এটি একটি সত্তাগত গুণ (সিফাতে জাত), অথবা এর অর্থ হলো সরাসরি অনুগ্রহ করা, এমতাবস্থায় এটি একটি কর্মগত গুণ (সিফাতে ফে'ল)। সুতরাং এটি হয় অনুগ্রহের ক্ষেত্রে রূপক, অথবা অনুগ্রহ করার ইচ্ছার ক্ষেত্রে রূপক, অথবা এটি একটি উপমামূলক রূপক অলঙ্কার (ইস্তিআরা তামসিলিয়্যাহ)।
—
[হাশিয়ায়ে শিবরামালসি]আল্লাহ: অর্থাৎ তাঁর রহমত বা দয়া অনেক। তাঁর বক্তব্য ‘একে অকর্মক করার মাধ্যমে’: অর্থাৎ আইনের যের তথা 'ফায়িলা' থেকে আইনের পেশ তথা 'ফাউলা' ছাঁচে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে, যেমনটি তিনি তাঁর বক্তব্য ‘এবং একে স্থানান্তর করা...’ ইত্যাদিতে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর, ‘রাহিমা’ থেকে এটি গঠিত হওয়ার বিষয়টি এই মতের ওপর ভিত্তি করে যে, গুণবাচক শব্দ ক্রিয়া (ফে'ল) থেকে নির্গত হয়, যা একটি মত মাত্র। সঠিক মত হলো এটি ক্রিয়ার মতোই মূলধাতু (মাসদার) থেকে নির্গত। এই মতানুসারে এখানে শব্দে একটি উহ্য শব্দ কল্পনা করা যেতে পারে: অর্থাৎ ‘রাহিমা’র মূলধাতু থেকে... ইত্যাদি; যা হলো পেশযুক্ত ‘রুহমুন’, যদিও এর আরও দুটি মূলধাতু রয়েছে—'রাহমাতুন' ও 'মারহামাতুন'। কারণ শব্দ গঠন সাধারণত মূল শব্দ থেকে হয়, অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত শব্দ থেকে নয়; ফলে এটি মনোনীত মতের পরিপন্থী হবে না। (তাঁর বক্তব্য: ‘এবং একে ফাউলা ছাঁচে স্থানান্তর করা’) এটি কার্যকারণের ওপর ফলাফলের সংযুক্তি। (তাঁর বক্তব্য: ‘এবং অনুকম্পা’) এটি কারণের ওপর ফলাফলের সংযুক্তি। (তাঁর বক্তব্য: ‘এই জাতীয় অর্থ থেকে’) অর্থাৎ এমন সব অর্থ থেকে যার প্রকৃত অর্থ মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব, যেমন ক্রোধ, সন্তুষ্টি, ভালোবাসা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। এগুলো মূলত চূড়ান্ত ফলাফলের বিবেচনায় গ্রহণ করা হয়; উদাহরণস্বরূপ, রহমত হলো হৃদয়ের কোমলতা যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো যাকে দয়া করা হয় তাকে নেয়ামত প্রদান করা। আর এটি এই মতের ভিত্তিতে যে, রহমত কর্মগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত, যা দুটি মতের একটি। দ্বিতীয় মতটি হলো, এটি সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত, তাই একে কল্যাণের ইচ্ছা অর্থে গ্রহণ করা হবে। সুতরাং প্রথম মতানুসারে ‘রাহমান ও রাহীম’ শব্দের অর্থ হবে নেয়ামত দাতা, আর দ্বিতীয় মতানুসারে এর অর্থ হবে নেয়ামত প্রদানের ইচ্ছাকারী—সেই প্রারম্ভিক অবস্থার বিবেচনায় নয় যা আবেগীয় প্রতিক্রিয়া, যেমন হৃদয়ের কোমলতা। লেখক তাঁর বক্তব্য ‘সুতরাং রহমত...’ ইত্যাদির মাধ্যমে এই দুটি মতের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
(তাঁর বক্তব্য: ‘অথবা তাঁর ইচ্ছার ক্ষেত্রে’) অধিকতর উত্তম হলো এটি বলা যে: উল্লেখিত অনুগ্রহ বা এর ইচ্ছার ক্ষেত্রে এটি একটি শরয়ী হাকিকত (প্রকৃত অর্থ)। এমতাবস্থায় তাঁর বক্তব্য ‘হয় এটি রূপক’—এর অর্থ হবে শরীয়তে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে প্রসিদ্ধ হওয়ার পূর্বের মূল অর্থ অনুযায়ী। (তাঁর বক্তব্য: ‘অথবা এটি একটি উপমামূলক রূপক অলঙ্কার’) এর ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয় যে, উপমামূলক রূপক অলঙ্কার কেবল যৌগিক রূপকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে উপমেয়কে অবশ্যই একাধিক বিষয় থেকে আহরিত হতে হবে, অনুরূপভাবে উপমেয়-বিপরীত এবং উপমার ভিত্তিকে (ওয়াজহুশ শিবহ) হতে হবে। আল্লামা সায়্যিদ ‘কাশশাফ’ এর হাশিয়ায় মহান আল্লাহর বাণী ‘আল্লাহ তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন’ [বাকারা: ৭] এর আলোচনায় ‘মোহর মেরে দেওয়া’র ক্ষেত্রে রূপক এবং উপমা উভয়টি বৈধ হওয়ার পর যা বলেছেন তার সারকথা হলো: যখন একে উপমার ওপর প্রয়োগ করা হবে, তখন সেই রূপকটি হবে একটি যৌগিক শব্দ যার কিছু অংশ উচ্চারিত এবং কিছু অংশ মনে সংকল্পিত। আমরা আপনাকে অবগত করব যে, অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয় উদ্দেশ্যমূলকভাবে—তা কালামের বিন্যাসে উচ্চারিত শব্দের মাধ্যমে হোক বা উহ্য শব্দের মাধ্যমে হোক কিংবা কোনো উল্লেখ বা অনুমান ছাড়াই মনের সংকল্পের মাধ্যমে হোক। এখানে ‘মোহর মারা’ এবং ‘পর্দা’ শব্দ দুটিকেই কেবল স্পষ্ট করা হয়েছে কারণ সেই যৌগিক অবস্থার ক্ষেত্রে এ দুটিই মূল। ফলে বাকি অংশগুলো কল্পিত শব্দের মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে লক্ষ্য করা হয়। কারণ শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে সেই অংশগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যমূলক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে, আর এর কোনো পথ নেই কেবল তার বিপরীতে শব্দ কল্পনা করা ছাড়া, যেমনটি অভ্যাসের দাবি এবং তোমার নিজের উপলব্ধির সাক্ষ্য দেয়।
এই পদ্ধতির অন্যতম উপকারিতা হলো রূপক এবং উপমা—উভয়টির ওপর প্রয়োগ করার বৈধতা। প্রথম সুরতে ‘মোহর মারা’ এবং ‘পর্দা’ শব্দ দুটিতে রূপক হবে। আর দ্বিতীয় সুরতে এই দুটি শব্দে রূপক হবে না, বরং এই দুটি এবং এদের সাথে মনে সংকল্পিত বিষয়গুলোর সমষ্টিগত রূপটির মধ্যে রূপক হবে—তিনি বিষয়টিকে যতটুকু দীর্ঘ করেছেন সেই শেষ পর্যন্ত, সুতরাং তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। অলঙ্কার শাস্ত্রবিদদের কেউ কেউ বিষয়টিকে এর বাহ্যিক দিক বিবেচনায় রূপকের সমর্থন হিসেবে গণ্য করেছেন। কারণ যখন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের জন্য ‘মোহর মারা’ শব্দটিকে রূপক হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ হয়েছে যা দ্বারা উদ্দিষ্ট বিষয়টি পুরোপুরি হাতছাড়া হয় না...
—
[হাশিয়ায়ে রাশিদী]এর একটিই মূলধাতু রয়েছে যার ওপর নির্ভর করা যায়, সুতরাং এটি কুফী ব্যাকরণবিদদের সেই মতের ওপর ভিত্তি করে নয় যে শব্দ গঠন ক্রিয়া থেকে হয়। অতঃপর আমি শিহাব বিন আব্দুল হককে ‘বিসমিল্লাহর’ শারহ-এ দেখেছি যে, তিনি আমার উল্লেখ করা বিষয়ের দিকে অগ্রসর হয়েছেন এবং আরও কিছু যোগ করেছেন। তবে তিনি ‘ফে'ল’ বা ক্রিয়াবাচক শব্দের দিকে প্রত্যাবর্তনের রহস্যটি আমি যা উল্লেখ করেছি তা ব্যতীত অন্য কিছু বলেছেন, সুতরাং তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। রহস্য ও সূক্ষ্ম তত্ত্বসমূহ পরস্পরের সাথে সংঘর্ষ লিপ্ত হয় না; বরং তাঁর উল্লেখ করা বিষয়টি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের পর আমি যা উল্লেখ করেছি সেদিকেই ফিরে যায়। এই সব কিছু তখন প্রযোজ্য যদি ‘রাহিমা’ শব্দের প্রথম অক্ষরে জবর ও দ্বিতীয় অক্ষরে যের হয়। আর যদি প্রথম অক্ষরে পেশ ও দ্বিতীয় অক্ষরে জজম দিয়ে একে মূলধাতু (মাসদার) হিসেবে ধরা হয়, তবে কোনো সমস্যাই থাকে না, যেমনটি উল্লেখিত শিহাব ইঙ্গিত করেছেন। ফলে শায়খের হাশিয়ায় যা আছে তা নিরসন হয়ে যায়। (তাঁর বক্তব্য: অনুগ্রহ ও ইহসানকে আবশ্যক করে) অর্থাৎ অথবা এর ইচ্ছাকে আবশ্যক করে।
এবং তাঁর বক্তব্য ‘অনুগ্রহ হলো এর চূড়ান্ত লক্ষ্য’: অর্থাৎ অথবা এর ইচ্ছাই হলো এর লক্ষ্য। (তাঁর বক্তব্য: যা মূলত আবেগীয় প্রতিক্রিয়া) অর্থাৎ গুণাগুণ বা অবস্থা; কারণ আবেগীয় প্রতিক্রিয়া বা 'ইনফিআলাত' হলো কোনো প্রভাব গ্রহণ করা, যেমন মোম নরম হওয়ার মাধ্যমে প্রভাব গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
بِأَنْ مَثَّلَتْ تَعَالَى بِحَالِ مَلِكٍ عَطَفَ عَلَى رَعِيَّتِهِ وَرَقَّ لَهُمْ فَعَمَّهُمْ مَعْرُوفُهُ فَأُطْلِقَ عَلَيْهِ الِاسْمُ وَأُرِيدَ غَايَتُهُ الَّتِي هِيَ إرَادَةٌ، أَوْ فِعْلٌ لَا مَبْدَؤُهُ الَّذِي هُوَ انْفِعَالٌ. وَالرَّحْمَنُ أَبْلَغُ مِنْ الرَّحِيمِ؛ لِأَنَّ زِيَادَةَ الْبِنَاءِ تَدُلُّ عَلَى زِيَادَةِ الْمَعْنَى كَمَا فِي قَطَعَ وَقَطَّعَ وَكَبَارٍ وَكَبَّارٍ. وَنَقَضَ بِحِذْرٍ فَإِنَّهُ أَبْلَغُ مِنْ حَاذِرٍ، وَأُجِيبَ بِأَنَّ ذَلِكَ أَكْثَرِيٌّ لَا كُلِّيٌّ، وَبِأَنَّهُ لَا يُنَافِي أَنْ يَقَعَ فِي الْأَنْقَصِ زِيَادَةُ مَعْنًى بِسَبَبٍ آخَرَ كَالْإِلْحَاقِ بِالْأُمُورِ الْجَبَلِيَّةِ مِثْلَ شَرِهٌ وَنَهِمٌ وَبِأَنَّ الْكَلَامَ فِيمَا إذَا كَانَ الْمُتَلَاقِيَانِ فِي الِاشْتِقَاقِ مُتَّحِدَيْ النَّوْعِ فِي الْمَعْنَى كَغَرَثٍ وَغَرْثَانٍ وَصَدٍّ وَصَدْيَانٍ لَا كَحِذْرٍ وَحَاذِرٍ لِلِاخْتِلَافِ وَإِنَّمَا قُدِّمَ وَالْقِيَاسُ يَقْتَضِي التَّرَقِّي مِنْ الْأَدْنَى إلَى الْأَعْلَى كَقَوْلِهِمْ عَالِمٌ نِحْرِيرٌ وَجَوَادٌ فَيَّاضٌ؛ لِأَنَّهُ صَارَ كَالْعَلَمِ مِنْ حَيْثُ إنَّهُ لَا يُوصَفُ بِهِ غَيْرُهُ؛ لِأَنَّ مَعْنَاهُ الْمُنْعِمُ الْحَقِيقِيُّ الْبَالِغُ فِي الرَّحْمَةِ غَايَتَهَا وَذَلِكَ لَا يَصْدُقُ عَلَى غَيْرِهِ، بَلْ رَجَّحَ بَعْضُهُمْ كَوْنَهُ عَلَمًا، وَلِأَنَّهُ لَمَّا دَلَّ عَلَى جَلَائِلِ النَّعَمِ وَأُصُولِهَا ذَكَرَ الرَّحِيمَ لِيَتَنَاوَلَ مَا دَقَّ مِنْهَا وَلَطُفَ لِيَكُونَ كَالتَّتِمَّةِ لَهُ وَالرَّدِيفِ وَلِلْمُحَافَظَةِ عَلَى رُءُوسِ الْآيِ، وَالْأَبْلَغِيَّةُ تُوجَدُ تَارَةً بِاعْتِبَارِ الْكَمِّيَّةِ، وَلِهَذَا قِيلَ يَا رَحْمَنُ الدُّنْيَا؛ لِأَنَّهُ يَعُمُّ الْمُؤْمِنَ وَالْكَافِرَ، وَرَحِيمُ الْآخِرَةِ؛ لِأَنَّهُ يَخُصُّ الْمُؤْمِنَ، وَتَارَةً بِاعْتِبَارِ الْكَيْفِيَّةِ وَلِهَذَا قِيلَ يَا رَحْمَنُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَرَحِيمُ الدُّنْيَا؛ لِأَنَّ النِّعَمَ الْأُخْرَوِيَّةَ كُلُّهَا جِسَامٌ، وَأَمَّا النِّعَمُ الدُّنْيَوِيَّةُ فَجَلِيلَةٌ وَحَقِيرَةٌ وَقِيلَ هُمَا بِمَعْنًى وَاحِدٍ كَنُدْمَانٍ وَنَدِيمٍ وَجُمِعَ بَيْنَهُمَا تَأْكِيدًا، وَقِيلَ الرَّحِيمُ أَبْلَغُ.
وَقَدْ وَرَدَ إنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَنْزَلَ مِائَةَ كِتَابٍ وَأَرْبَعَةَ كُتُبٍ عَلَى سَبْعَةٍ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ، وَأَنَّهُ أَوْدَعَ مَا فِيهَا فِي أَرْبَعَةٍ، فِي الْقُرْآنِ وَالتَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالزَّبُورِ،
ــ
[حاشية الشبراملسي] أَعْنِي النُّطْقَ، كَانَ اسْتِعَارَتُهُ لِتِلْكَ الْهَيْئَاتِ الْمَانِعَةِ عَنْ الْمَقَاصِدِ بِالْمَرَّةِ أَوْلَى بِالْجَوَازِ، لَكِنَّ تَأْخِيرَهُ عَنْ التَّمْثِيلِ يَقْتَضِي أَنْ يُؤَيِّدَهُ أَيْضًا فَيُقَالُ حِينَئِذٍ لَا يُقْتَصَرُ فِي النَّسَبِ عَلَى مُجَرَّدِ الْحِسِّيَّةِ كَمَا فِي الِاسْتِعَارَةِ بَلْ يُعْتَبَرُ مَعَهُ حَالَةٌ مَخْصُوصَةٌ مُرَكَّبَةٌ مِنْ أُمُورٍ مُتَعَدِّدَةٍ عَلَى قِيَاسِ مَا سَبَقَ تَحْرِيرُهُ وَفِي الْبَيْتِ الثَّانِي نَوْعُ إشْعَارٍ بِاعْتِبَارِ التَّرْكِيبِ، انْتَهَى.
(قَوْلُهُ: بِأَنْ مَثَّلْت) أَيْ شَبَّهْت (قَوْلُهُ: مِثْلَ شَرِهٌ وَنَهِمٌ) مِثَالَانِ لَلْجَبَلِيِّ. وَالْمَعْنَى: أَنْ يُجْعَلَ الْحَذَرُ الْعَارِضُ لَهُ كَالصِّفَةِ الْجَبَلِيَّةِ الَّتِي طُبِعَ عَلَيْهَا، وَقَوْلُهُ وَنَهِمٌ صِفَةٌ مُشَبَّهَةٌ مِنْ نَهِمَ فِي الشَّيْءِ إذَا رَغِبَ فِيهِ، وَعِبَارَةُ الْمِصْبَاحِ: نَهِمَ فِي الشَّيْءِ يَنْهَمُ بِفَتْحَتَيْنِ نَهْمَةً بَلَغَ هِمَّتَهُ فِيهِ فَهُوَ نَهِيمُ، وَالنَّهَمُ بِفَتْحَتَيْنِ إفْرَاطُ الشَّهْوَةِ فَهُوَ مَصْدَرٌ مِنْ بَابِ تَعِبَ وَنَهِمَ نَهَمًا أَيْضًا زَادَتْ رَغْبَتُهُ فِي الْعِلْمِ، وَنَهَمَ يَنْهَمُ مِنْ بَابِ ضَرَبَ كَثُرَ أَكْلُهُ، وَنُهِمَ بِالشَّيْءِ بِالْبِنَاءِ لِلْمَفْعُولِ إذَا أُولِعَ بِهِ فَهُوَ مَنْهُومٌ انْتَهَى.
(قَوْلُهُ: وَإِنَّمَا قَدَّمَ) أَيْ الرَّحْمَنَ (قَوْلُهُ: كَقَوْلِهِمْ عَالِمٌ إلَخْ) مِثَالَانِ لِمَا فِيهِ التَّرَقِّي مِنْ الْأَدْنَى إلَى الْأَعْلَى، وَذَلِكَ؛ لِأَنَّ الْعَالِمَ أَدْنَى مِنْ النِّحْرِيرِ وَالْجَوَادُ أَدْنَى مِنْ الْفَيَّاضِ (قَوْلُهُ: بِاعْتِبَارِ الْكَمِّيَّةِ) أَيْ الْعَدَدِ (قَوْلُهُ: بِاعْتِبَارِ الْكَيْفِيَّةِ) أَيْ الصِّفَةِ، وَكَوْنُ هَذَا بِاعْتِبَارِ الْكَيْفِيَّةِ لَعَلَّهُ بِاعْتِبَارِ أَنَّهُ نَظَرَ فِيهِ لِلْجَسَامَةِ وَعَدَمِهَا، وَإِلَّا فَقَدْ يُقَالُ إنَّ هَذَا بِاعْتِبَارِ الْكَمِّيَّةِ وَالْكَيْفِيَّةِ، فَإِنَّ رَحْمَتَهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنْ اُسْتُفِيدَ عُمُومُهَا لِلْكَافِرِ وَالْمُؤْمِنِ مِنْ الِاسْمَيْنِ لَكِنْ قَدْ يُدَّعَى أَنَّ الرَّحْمَةَ الْمُسْتَفَادَةَ مِنْ الرَّحْمَنِ أَكْثَرُ أَفْرَادًا وَإِنْ كَانَ مَجْمُوعُ تِلْكَ الْأَفْرَادِ لِلْمُؤْمِنِ وَالْكَافِرِ (قَوْلُهُ كُلُّهَا جِسَامٌ) أَيْ عِظَامٌ وَهُوَ بِكَسْرِ الْجِيمِ (قَوْلُهُ عَلَى سَبْعَةٍ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ) هُمْ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم وَإِبْرَاهِيمُ وَمُوسَى وَعِيسَى وَدَاوُد وَشِيثٌ وَإِدْرِيسُ.
وَفِي شَرْحِ الْخَطِيبِ عَلَى أَبِي شُجَاعٍ مَا نَصُّهُ: فَائِدَةٌ قَالَ النَّسَفِيُّ فِي تَفْسِيرِهِ: قِيلَ الْكُتُبُ الْمُنَزَّلَةُ مِنْ السَّمَاءِ إلَى الدُّنْيَا مِائَةٌ وَأَرْبَعَةٌ: صُحُفُ شِيثٍ سِتُّونَ، وَصُحُفُ إبْرَاهِيمَ ثَلَاثُونَ، وَصُحُفُ مُوسَى قَبْلَ التَّوْرَاةِ عَشَرَةٌ، وَالتَّوْرَاةُ وَالْإِنْجِيلُ وَالزَّبُورُ وَالْفُرْقَانُ انْتَهَى. أَقُولُ: وَهُوَ مُخَالِفٌ لِمَا ذَكَرَهُ الشَّارِحُ مِنْ أَنَّهَا نَزَلَتْ عَلَى سَبْعَةٍ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ
ــ
[حاشية الرشيدي] لِلطَّبْعِ، فَإِذَا طُبِعَ صَارَ أَثَرُ الطَّبْعِ فِيهِ كَيْفًا (قَوْلُهُ: فَأُطْلِقَ عَلَيْهِ الِاسْمُ وَأُرِيدَ غَايَتُهُ) يَرِدُ عَلَيْهِ أَنَّ الْمُشَبَّهَ فِي الِاسْتِعَارَةِ التَّمْثِيلِيَّةِ لَا بُدَّ أَنْ يَكُونَ مُرَكَّبًا وَمُنْتَزَعًا مِنْ عِدَّةِ أُمُورٍ كَالْمُشَبَّهِ بِهِ وَكَوَجْهِ الشَّبَهِ، فَالصَّوَابُ تَقْرِيرُ الْمُشَبَّهِ هُنَا عَلَى غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ.
وَنَقَلَ شَيْخُنَا فِي حَاشِيَتِهِ هُنَا عَنْ حَوَاشِي الْكَشَّافِ لِلسَّيِّدِ مَا حَاصِلُهُ أَنَّ الْمُنْتَزَعَ فِي الِاسْتِعَارَةِ التَّمْثِيلِيَّةِ لَا يُشْتَرَطُ أَنْ يَكُونَ مِنْ أَلْفَاظٍ كُلِّهَا مَذْكُورَةٍ، بَلْ قَدْ يَكُونُ مِنْ أَلْفَاظٍ بَعْضُهَا مَذْكُورَةٌ وَبَعْضُهَا مُتَخَيَّلٌ (قَوْلُهُ: كَغَرِثَ وَغَرْثَانَ)
বিনা দ্বিধায় মহান আল্লাহকে এমন একজন বাদশাহর অবস্থার সাথে তুলনা করার মাধ্যমে, যিনি তাঁর প্রজাদের প্রতি সদয় হন এবং তাদের জন্য কোমলতা প্রদর্শন করেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহ তাদের সকলকে পরিবেষ্টন করে। এর মাধ্যমে সেই নামটি আল্লাহর জন্য প্রয়োগ করা হয়েছে এবং এর দ্বারা তাঁর দয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্যকে উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, যা হলো তাঁর ইচ্ছা অথবা কর্ম; এর প্রারম্ভিক অবস্থা (মানসিক আবেগ) উদ্দেশ্য নয়, যা মূলত একটি প্রতিক্রিয়া। আর 'আর-রাহমান' শব্দটি 'আর-রাহিম' অপেক্ষা অধিক অর্থবোধক; কারণ শব্দগঠনে আধিক্য অর্থের আধিক্য নির্দেশ করে, যেমন 'কাতাআ' ও 'কাত্তাআ' এবং 'কাবার' ও 'কাব্বার' শব্দের ক্ষেত্রে দেখা যায়। 'হিযর' শব্দের মাধ্যমে এই নিয়মের বিরোধিতা করা হয়েছে, কারণ এটি 'হাযির' অপেক্ষা অধিক অর্থবোধক (যদিও এর গঠন ছোট)। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম, সার্বজনীন নয়। এছাড়া এটি কোনো বাধা তৈরি করে না যে, অন্য কোনো কারণে (যেমন স্বভাবজাত বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করা) অপেক্ষাকৃত ছোট শব্দে অর্থের আধিক্য থাকতে পারে, যেমন 'শারিহ' ও 'নাহিম'। আরও বলা হয়েছে যে, এই আলোচনার ক্ষেত্র হলো যখন দুটি শব্দ একই মূলধাতু থেকে উৎপন্ন হয়ে অর্থের ধরনে এক হয়, যেমন 'গারাছ' ও 'গারছান' বা 'সাদি' ও 'সাদইয়ান'; কিন্তু 'হিযর' ও 'হাযির' এর মতো ভিন্ন প্রকৃতির ক্ষেত্রে নয়। 'আর-রাহমান' শব্দটিকে আগে উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ যুক্তির দাবি ছিল নিম্নতর থেকে উচ্চতরের দিকে অগ্রসর হওয়া (যেমন বলা হয় 'আলিম নিহরীর' এবং 'জাওয়াদ ফাইয়্যাদ')। এর কারণ হলো, 'আর-রাহমান' শব্দটি আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট নামের মতো হয়ে গেছে, যা অন্য কারো জন্য ব্যবহৃত হয় না। কারণ এর অর্থ হলো এমন প্রকৃত নেয়ামত দানকারী যিনি দয়ার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছেন, আর এটি অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। বরং কেউ কেউ একে 'আলম' বা নির্দিষ্ট নাম হিসেবেই প্রাধান্য দিয়েছেন। এছাড়া এটি যখন বড় ও মৌলিক নেয়ামতসমূহ নির্দেশ করে, তখন 'আর-রাহিম' উল্লেখ করা হয়েছে যাতে ক্ষুদ্র ও সূক্ষ্ম নেয়ামতসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এটি তার পরিপূরক ও অনুগামী হিসেবে গণ্য হয় এবং আয়াতের শেষাংশের মিল বজায় থাকে। অর্থগত আধিক্য কখনো পরিমাণের বিবেচনায় হয়; এ কারণেই বলা হয়েছে: হে দুনিয়ার রাহমান! কারণ এটি মুমিন ও কাফির উভয়কেই শামিল করে। আর আখেরাতের রাহিম; কারণ এটি কেবল মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট। আবার কখনো এটি গুণের বিবেচনায় হয়; এ কারণেই বলা হয়েছে: হে দুনিয়া ও আখেরাতের রাহমান এবং দুনিয়ার রাহিম। কারণ পরকালীন নেয়ামত সবই বিশাল, আর দুনিয়াবি নেয়ামত বড় এবং ছোট উভয়ই হতে পারে। কেউ কেউ বলেন শব্দ দুটি একই অর্থবোধক, যেমন 'নুদমান' ও 'নাদীম', এবং তাকীদ বা গুরুত্বের জন্য উভয়কে একত্রে আনা হয়েছে। আবার কেউ বলেন 'আর-রাহিম' শব্দটিই অধিক অর্থবোধক।
বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা একশত চারটি কিতাব সাতজন নবীর ওপর নাজিল করেছেন এবং সেগুলোতে যা কিছু ছিল তা চারটি কিতাবে গচ্ছিত রেখেছেন: কুরআন, তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাবুর।
──
[শুবরা মাল্লিসির টীকা] অর্থাৎ বাকশক্তি; এর মাধ্যমে এমন অবস্থার রূপক বর্ণনা করা যা উদ্দেশ্য অর্জনে সম্পূর্ণ বাধা দেয়, তা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত। তবে উপমার পরে একে উল্লেখ করার অর্থ একে সমর্থন করা। এমতাবস্থায় বলা হবে যে, সম্বন্ধের ক্ষেত্রে কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হওয়ার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না যেমনটি রূপক অলঙ্কারে হয়, বরং এর সাথে একটি নির্দিষ্ট অবস্থা বিবেচনা করা হবে যা একাধিক বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত, যেমনটি পূর্বে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় চরণে সংমিশ্রণ বা রচনার বিষয়ের দিকে এক ধরনের ইঙ্গিত রয়েছে। সমাপ্ত।
(তাঁর বক্তব্য: তোমরা তুলনা করেছ) অর্থাৎ সাদৃশ্য দিয়েছ। (তাঁর বক্তব্য: যেমন 'শারিহ' ও 'নাহিম') স্বভাবজাত অভ্যাসের দুটি উদাহরণ। এর অর্থ হলো: তার মধ্যে আকস্মিক যে সতর্কতা তৈরি হয় তাকে এমন স্বভাবজাত গুণের মতো গণ্য করা যা তার মজ্জাগত। 'নাহিম' শব্দটি সিফাতে মুশাব্বাহ যা 'নাহিমা' ধাতু থেকে উদ্ভূত, যখন কেউ কোনো কিছুর প্রতি অতিশয় আগ্রহী হয়। 'মিসবাহ' গ্রন্থের ভাষ্যমতে: 'নাহিমা ফিশ শাইয়ি' অর্থ সে তার আগ্রহের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে, তখন তাকে 'নাহীম' বলা হয়। আর 'নাহাম' হলো লালসার আধিক্য; এটি 'তাঈবা' বাব থেকে মাসদার। আবার 'নাহিমা নাহামান' অর্থ তার ইলমের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়া। 'নাহামা ইয়ানহামু' হলো 'দবারাবা' বাব থেকে, যার অর্থ তার ভোজন বৃদ্ধি পাওয়া। আর 'নুহিমা' (মাজহুল রূপে) অর্থ কোনো কিছুর প্রতি আসক্ত হওয়া, তখন তাকে 'মানহুম' বলা হয়। সমাপ্ত।
(তাঁর বক্তব্য: এবং একে আগে আনা হয়েছে) অর্থাৎ 'আর-রাহমান' শব্দটিকে। (তাঁর বক্তব্য: যেমন তাদের কথা 'আলিম' ইত্যাদি) এটি নিম্ন থেকে উচ্চ স্তরের দিকে ধাপ অতিক্রম করার দুটি উদাহরণ। এর কারণ হলো 'আলিম' অপেক্ষা 'নিহরীর' এবং 'জাওয়াদ' অপেক্ষা 'ফাইয়্যাদ' উচ্চস্তরের। (তাঁর বক্তব্য: পরিমাণের বিবেচনায়) অর্থাৎ সংখ্যার। (তাঁর বক্তব্য: গুণের বিবেচনায়) অর্থাৎ বৈশিষ্ট্যের। এটি গুণের বিবেচনায় হওয়ার কারণ সম্ভবত এতে নেয়ামতের বিশালতা বা ক্ষুদ্রতার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। নতুবা বলা যেতে পারে যে, এটি পরিমাণ ও গুণ উভয় বিবেচনায় হতে পারে। কেননা দুনিয়ায় তাঁর রহমত মুমিন ও কাফির সকলের জন্য ব্যাপক হওয়া সত্ত্বেও দাবি করা যেতে পারে যে, 'আর-রাহমান' থেকে প্রাপ্ত রহমতের ব্যক্তির সংখ্যা বেশি, যদিও সেই ব্যক্তিদের সমষ্টি মুমিন ও কাফির উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। (তাঁর বক্তব্য: সবকটিই বিশাল) অর্থাৎ অনেক বড়, যা জীম বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে উচ্চারিত। (সাতজন নবীর ওপর) তাঁরা হলেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ইব্রাহিম, মুসা, ঈসা, দাউদ, শীস এবং ইদ্রিস।
খতীবের 'আবু শুজা'র শরহে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো: ফায়দা - নাসাফী তাঁর তাফসীরে বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে আসমান থেকে দুনিয়ায় নাজিলকৃত কিতাব একশত চারটি। শীস (আ.)-এর ওপর ষাটটি সহীফা, ইব্রাহিম (আ.)-এর ওপর ত্রিশটি, তাওরাতের পূর্বে মুসা (আ.)-এর ওপর দশটি, এবং তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর ও ফুরকান। সমাপ্ত। আমি (শুবরা মাল্লিসি) বলি: এটি শারহে (মূল ব্যাখ্যাকার) যা উল্লেখ করেছেন তার পরিপন্থী যে কিতাবসমূহ সাতজন নবীর ওপর নাজিল হয়েছে।
──
[রশীদের টীকা] স্বভাবের জন্য। যখন কোনো কিছু স্বভাবজাত হয়, তখন সেই স্বভাবের প্রভাব তাতে একটি গুণ হিসেবে প্রকাশ পায়। (তাঁর বক্তব্য: ফলে নামটির প্রয়োগ করা হয়েছে এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে) এর ওপর আপত্তি আসে যে, প্রতিনিধিত্বমূলক রূপক বা ইস্তিআরাহ তামসিলিয়্যাহ-তে 'মুশাব্বাহ' বা যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে তাকে অবশ্যই একাধিক বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত হতে হবে যেমনটি 'মুশাব্বাহ বিহি' এবং 'ওয়াজহে শাবাহ' (তুলনার ভিত্তি)-র ক্ষেত্রে হয়। অতএব এখানে 'মুশাব্বাহ' কে এই পদ্ধতি ছাড়া অন্যভাবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে।
আমাদের শাইখ তাঁর টীকায় এখানে আল্লামা সাইয়্যেদ থেকে 'কাশশাফ' এর টীকা উদ্ধৃত করে বলেছেন যার সারকথা হলো: প্রতিনিধিত্বমূলক রূপক বা ইস্তিআরাহ তামসিলিয়্যাহ-তে এটি শর্ত নয় যে উপাদানগুলো সবকটি শব্দে উল্লেখ থাকতে হবে, বরং কখনো কিছু অংশ শব্দে উল্লেখ থাকে এবং কিছু অংশ কল্পনাপ্রসূত হতে পারে। (তাঁর বক্তব্য: যেমন 'গারিছা' ও 'গারছান')।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَأَوْدَعَ مَا فِيهَا فِي الْقُرْآنِ، وَأَوْدَعَ مَا فِي الْقُرْآنِ فِي الْفَاتِحَةِ، وَأَوْدَعَ مَا فِي الْفَاتِحَةِ فِي بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، بَلْ قِيلَ إنَّهُ أَوْدَعَ مَا فِيهَا فِي الْبَاءِ وَمَا فِي الْبَاءِ فِي النُّقْطَةِ
(الْحَمْدُ لِلَّهِ) افْتَتَحَ كِتَابَهُ بَعْدَ التَّيَمُّنِ بِالْبَسْمَلَةِ بِحَمْدِ اللَّهِ تَعَالَى أَدَاءً لِحَقِّ شَيْءٍ مِمَّا يَجِبُ عَلَيْهِ مِنْ شُكْرِ نَعْمَائِهِ الَّتِي تَأْلِيفُ هَذَا الْكِتَابِ أَثَرٌ مِنْ آثَارِهَا، وَاقْتِدَاءً بِالْكِتَابِ الْعَزِيزِ، وَعَمَلًا بِخَبَرِ «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِبَسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَهُوَ أَقْطَعُ» وَفِي رِوَايَةٍ «بِالْحَمْدُ لِلَّهِ» وَفِي رِوَايَةٍ «بِحَمْدِ اللَّهِ» وَفِي رِوَايَةٍ " بِالْحَمْدُ " وَفِي رِوَايَةٍ «كُلُّ كَلَامٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِالْحَمْدُ لِلَّهِ فَهُوَ أَجْذَمُ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَغَيْرُهُ وَحَسَّنَهُ ابْنُ الصَّلَاحِ وَغَيْرُهُ. وَمَعْنَى ذِي بَالٍ: أَيْ حَالٍ يُهْتَمُّ بِهِ، وَفِي رِوَايَةٍ لِأَحْمَدَ: «لَا يُفْتَتَحُ بِذِكْرِ اللَّهِ فَهُوَ أَبْتَرُ وَأَقْطَعُ.» فَإِنْ قِيلَ نَرَى كَثِيرًا مِنْ الْأُمُورِ يُبْتَدَأُ فِيهَا بِسْمِ اللَّهِ وَلَا تَتِمُّ وَكَثِيرًا بِعَكْسِ ذَلِكَ. قُلْنَا: لَيْسَ الْمُرَادُ التَّمَامَ الْحِسِّيَّ، وَلِهَذَا
ــ
[حاشية الشبراملسي] قَوْلُهُ: بَلْ قِيلَ إنَّهُ إلَخْ) أَيْ قَالَ بَعْضُهُمْ: فَلَيْسَ الْمُرَادُ بِهِ التَّضْعِيفَ (قَوْلُهُ: أَوْدَعَ مَا فِيهَا فِي الْبَاءِ) أَيْ؛ لِأَنَّهَا إشَارَةٌ إلَى: بِي كَانَ وَبِي مَا يَكُونُ، وَهَذَا الْمَعْنَى يَرْجِعُ إلَيْهِ جَمِيعُ مَا يُؤْخَذُ مِنْ الْقُرْآنِ، وَقَوْلُهُ وَمَا فِي الْبَاءِ فِي نُقْطَتِهَا: أَيْ؛ لِأَنَّهَا إشَارَةٌ إلَى الْمَرْكَزِ الْحَقِيقِيِّ الَّذِي عَلَيْهِ مَدَارُ الْأَشْيَاءِ وَهُوَ وَحْدَتُهُ تَعَالَى
(قَوْلُهُ: مِنْ شُكْرِ نَعْمَائِهِ) بَيَانٌ لِمَا يَجِبُ، وَنَبَّهَ بِهِ عَلَى أَنَّ شُكْرَ الْمُنْعِمِ وَاجِبٌ بِالشَّرْعِ. قَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ فِي حَاشِيَتِهِ عَلَى جَمْعِ الْجَوَامِعِ مَا حَاصِلُهُ: وَلَيْسَ الْمُرَادُ بِوُجُوبِ الشُّكْرِ أَنَّهُ إذَا أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَى الْعَبْدِ بِنِعْمَةٍ وَجَبَ عَلَيْهِ الشُّكْرُ فِي مُقَابَلَتِهَا حَتَّى يَأْثَمَ بِتَرْكِهِ، بَلْ الْمُرَادُ أَنَّهُ إذَا شَكَرَ عَلَيْهَا أُثِيبَ ثَوَابَ الْوَاجِبِ، وَفِيهِ كَلَامٌ حَسَنٌ فِي شَرْحِ الْأَرْبَعِينَ لِابْنِ حَجَرٍ فَلْيُرَاجَعْ (قَوْلُهُ: وَفِي رِوَايَةٍ بِالْحَمْدُ لِلَّهِ) هُوَ بِالرَّفْعِ: أَيْ بِهَذَا اللَّفْظِ؛ لِأَنَّهُ الَّذِي يَظْهَرُ عَلَيْهِ التَّعَارُضُ، أَمَّا لَوْ قُرِئَ بِالْجَرِّ كَانَ بِمَعْنَى رِوَايَةٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِحَمْدِ اللَّهِ، وَلَا تَعَارُضَ عَلَيْهَا؛ لِأَنَّ مَعْنَاهَا بِالثَّنَاءِ عَلَى اللَّهِ (قَوْلُهُ: وَفِي رِوَايَةٍ بِالْحَمْدُ) ظَاهِرُهُ أَنَّ لَفْظَ أَقْطَعَ مَعَ كُلٍّ مِنْهَا، وَفِي كَلَامِ ابْنِ حَجَرٍ مَا يَقْتَضِي أَنَّهُ كَمَا وَرَدَ بِهَا وَرَدَ بِأَجْذَمَ أَوْ أَبْتَرَ، وَعِبَارَتُهُ: كُلُّ أَمْرٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَفِي رِوَايَةٍ: بِحَمْدِ اللَّهِ فَهُوَ أَجْذَمُ، بِجِيمٍ فَمُعْجَمَةٍ، وَفِي رِوَايَةٍ أَقْطَعُ، وَفِي أُخْرَى أَبْتَرُ: أَيْ قَلِيلُ الْبَرَكَةِ، وَقِيلَ مَقْطُوعُهَا، وَفِي رِوَايَةٍ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَفِي أُخْرَى بِذِكْرِ اللَّهِ، وَهِيَ مُبَيِّنَةٌ لِلْمُرَادِ وَعَدَمِ التَّعَارُضِ بِفَرْضِ إرَادَةِ الِابْتِدَاءِ الْحَقِيقِيِّ فِيهِمَا، وَفِي أُخْرَى سَنَدُهَا ضَعِيفٌ: لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِحَمْدِ اللَّهِ وَالصَّلَاةِ عَلَيَّ فَهُوَ أَبْتَرُ مَمْحُوقٌ مِنْ كُلِّ بَرَكَةٍ اهـ.
(قَوْلُهُ: فَهُوَ أَجْذَمُ) عِبَارَةُ الْقَامُوسِ: الْأَجْذَمُ الْمَقْطُوعُ الْيَدِ أَوْ الذَّاهِبُ الْأَنَامِلِ، وَالْجُذَامُ كَغُرَابٍ عِلَّةٌ تَحْدُثُ مِنْ انْتِشَارِ السَّوْدَاءِ فِي الْبَدَنِ كُلِّهِ، جَذِمَ كَعَنِيَ فَهُوَ مَجْذُومٌ وَأَجْذَمُ، وَوَهَمَ الْجَوْهَرِيُّ فِي مَنْعِهِ أَيْ مَنْعِ إطْلَاقِ أَجْذَمَ عَلَى ذِي الدَّاءِ الْمَخْصُوصِ، ثُمَّ هَذَا التَّرْكِيبُ وَنَحْوُهُ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مِنْ التَّشْبِيهِ الْبَلِيغِ بِحَذْفِ الْأَدَاةِ، وَالْأَصْلُ هُوَ كَالْأَجْذَمِ فِي عَدَمِ حُصُولِ الْمَقْصُودِ مِنْهُ وَأَنْ يَكُونَ مِنْ الِاسْتِعَارَةِ، وَلَا يَضُرُّ الْجَمْعُ فِيهِ بَيْنَ الْمُشَبَّهِ وَالْمُشَبَّهِ بِهِ؛ لِأَنَّ ذَاكَ إنَّمَا يَمْتَنِعُ إذَا كَانَ عَلَى وَجْهٍ يُنْبِئُ عَنْ التَّشْبِيهِ لَا مُطْلِقًا لِلتَّصْرِيحِ بِكَوْنِهِ اسْتِعَارَةً فِي نَحْوِ قَدْ زَرَّأَ زُرَارَهُ عَلَى الْقَمَرِ عَلَى أَنَّ الْمُشَبَّهَ فِي هَذَا التَّرْكِيبِ مَحْذُوفٌ. وَالْأَصْلُ هُوَ نَاقِصٌ كَالْأَجْذَمِ، فَحَذَفَ الْمُشَبَّهَ وَهُوَ النَّاقِصُ وَعَبَّرَ عَنْهُ بِاسْمِ الْمُشَبَّهِ بِهِ، فَصَارَ الْمُرَادُ مِنْ الْأَجْذَمِ النَّاقِصَ، وَعَلَيْهِ فَلَا جَمْعَ بَيْنَ الطَّرَفَيْنِ، بَلْ الْمَذْكُورُ اسْمُ الْمُشَبَّهِ بِهِ فَقَطْ (قَوْلُهُ: وَحَسَّنَهُ ابْنُ الصَّلَاحِ) أَيْ ذَكَرَ أَنَّهُ حَسَنٌ فَلَا يُقَالُ إنَّهُ مُنَافٍ لِمَا قَالَهُ ابْنُ الصَّلَاحِ؛ لِأَنَّ
ــ
[حاشية الرشيدي] أَيْ جَيْعَانَ وَهُمَا صِفَتَانِ مُشَبَّهَتَانِ كَصَدٍ وَصَدْيَانَ: أَيْ عَطْشَانَ
(قَوْلُهُ: وَاقْتِدَاءً بِالْكِتَابِ الْعَزِيزِ وَعَمَلًا إلَخْ) عِلَّتَانِ لِلْبُدَاءَةِ بِالْبَسْمَلَةِ، وَالْحَمْدَلَةِ، بِخِلَافِ قَوْلِهِ السَّابِقِ: أَدَاءٌ لِحَقِّ شَيْءٍ مِمَّا وَجَبَ إلَخْ، وَيَصِحُّ كَوْنُهُ عِلَّةً لَهُمَا أَيْضًا؛ لِأَنَّ الْبَسْمَلَةَ أَيْضًا مُتَضَمِّنَةٌ لِلشُّكْرِ؛ لِأَنَّهُ الْوَصْفُ بِالْجَمِيلِ، وَفِيهَا ذَلِكَ مِنْ وَصْفِهِ تَعَالَى بِالرَّحْمَةِ عَلَى الْوَجْهِ الْمُتَقَدِّمِ (قَوْلُهُ: وَفِي رِوَايَةٍ بِحَمْدِ اللَّهِ) النُّكْتَةُ فِي ذِكْرِهَا إفَادَةُ عَدَمِ اشْتِرَاطِ لَفْظِ الْحَمْدِ الَّذِي أَفَادَتْ اشْتِرَاطَهُ الرِّوَايَةُ الْأُولَى، وَنُكْتَةُ رِوَايَةِ بِالْحَمْدُ بَعْدَ هَذِهِ إفَادَةُ عَدَمِ اشْتِرَاطِ لَفْظِ الْجَلَالَةِ فِي أَدَاءِ الْحَمْدِ، وَنُكْتَةُ الرِّوَايَةِ الْأَخِيرَةِ أَنَّهَا
আর তিনি সেগুলোতে (আসমানী কিতাবসমূহে) যা ছিল তা কুরআনের মধ্যে গচ্ছিত রেখেছেন, এবং কুরআনে যা ছিল তা ফাতিহার মধ্যে গচ্ছিত রেখেছেন, আর ফাতিহায় যা ছিল তা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীমের মধ্যে গচ্ছিত রেখেছেন। বরং বলা হয়েছে যে, তিনি এতে যা ছিল তা ‘বা’ (ب) অক্ষরের মধ্যে এবং ‘বা’-এর মধ্যে যা ছিল তা বিন্দুর (নুক্তার) মধ্যে গচ্ছিত রেখেছেন।
(সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) তিনি তাঁর কিতাবটি বিসমিল্লাহর মাধ্যমে বরকত হাসিলের পর মহান আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করেছেন, যাতে তাঁর সেই নেয়ামতসমূহের শুকরিয়া আদায়ের হকের কিয়দাংশ আদায় হয় যার একটি নিদর্শন হলো এই কিতাবটি রচনা করা। আর এটি তিনি করেছেন মহাগ্রন্থের (কুরআনের) অনুসরণ স্বরূপ এবং এই বর্ণনার ওপর আমল স্বরূপ যে: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম দিয়ে শুরু করা হয় না তা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন।" এক বর্ণনায় এসেছে: "আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) দ্বারা।" অন্য বর্ণনায়: "আল্লাহর প্রশংসার দ্বারা।" অন্য বর্ণনায়: "আলহামদু দ্বারা।" আরেক বর্ণনায় এসেছে: "প্রত্যেক কথা যা আলহামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হয় না তা হাতকাটা রোগীর ন্যায় (ত্রুটিপূর্ণ)।" এটি আবু দাউদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল সালাহ ও অন্যান্যরা একে হাসান বলেছেন। ‘যী বালিন’ (ذِي بَالٍ) এর অর্থ হলো: এমন অবস্থা যা গুরুত্বের দাবি রাখে। আহমদের এক বর্ণনায় আছে: "যা আল্লাহর যিকির দ্বারা শুরু করা হয় না তা লেজকাটা ও ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন।" যদি বলা হয়: আমরা তো দেখি অনেক কাজ বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা হয় কিন্তু তা সম্পন্ন হয় না, আবার অনেক কাজ এর বিপরীতে (শুরু না করেও) সম্পন্ন হয়। আমরা বলব: এখানে উদ্দেশ্য বাহ্যিক বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সমাপ্তি নয়, আর একারণেই—
ــ
[হাশিয়াউশ শুবরামাল্লিসি] (তাঁর উক্তি: বরং বলা হয়েছে যে ইত্যাদি) অর্থাৎ তাদের কেউ কেউ এটি বলেছেন; সুতরাং এর দ্বারা দুর্বলতা বুঝানো উদ্দেশ্য নয়। (তাঁর উক্তি: এতে যা ছিল তা ‘বা’-এর মধ্যে গচ্ছিত রেখেছেন) অর্থাৎ; কারণ এটি এই বিষয়ের দিকে ইশারা যে: "আমার মাধ্যমেই যা ছিল তা হয়েছে এবং আমার মাধ্যমেই যা হবে তা হচ্ছে," আর কুরআনের সারমর্ম এই অর্থেই নিহিত। (তাঁর উক্তি: এবং যা ‘বা’-এর মধ্যে ছিল তা এর বিন্দুর মধ্যে) অর্থাৎ; কারণ এটি সেই হাকীকী কেন্দ্রের দিকে ইশারা যার ওপর সকল বস্তু আবর্তিত হয়, আর তা হলো মহান আল্লাহর একত্ব।
(তাঁর উক্তি: তাঁর নেয়ামতসমূহের শুকরিয়া স্বরূপ) এটি ‘যা ওয়াজিব’ তার বর্ণনা, আর এর মাধ্যমে তিনি সতর্ক করেছেন যে নেয়ামতদাতার শুকরিয়া আদায় করা শরীয়তের দৃষ্টিতে ওয়াজিব। শায়খুল ইসলাম ‘জামউল জাওয়ামি’-এর ওপর তাঁর হাশিয়াতে যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: শুকরিয়া ওয়াজিব হওয়ার অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ বান্দার ওপর কোনো নেয়ামত দিলে তার বিনিময়ে শুকরিয়া আদায় করা এমন ওয়াজিব যে তা বর্জন করলে গুনাহগার হবে, বরং এর অর্থ হলো যদি সে শুকরিয়া আদায় করে তবে তাকে ওয়াজিব পালনের সওয়াব দেওয়া হবে। ইবনে হাজারের আরবাঈনের শরহে এ বিষয়ে চমৎকার আলোচনা আছে, সেটি দেখা যেতে পারে। (তাঁর উক্তি: এক বর্ণনায় আলহামদুলিল্লাহ দ্বারা) এটি রফ তথা পেশ যোগে: অর্থাৎ এই শব্দটির দ্বারা; কারণ এতেই বাহ্যিক বৈপরীত্য প্রকাশ পায়। কিন্তু যদি এটি জর তথা যের যোগে পড়া হয়, তবে তা ‘আল্লাহর প্রশংসা ছাড়া শুরু করা হয় না’—এই বর্ণনার অর্থে হবে, আর তখন কোনো বৈপরীত্য থাকবে না; কারণ এর অর্থ হলো আল্লাহর গুণকীর্তন করা। (তাঁর উক্তি: এক বর্ণনায় আলহামদু দ্বারা) এর প্রকাশ্য অর্থ হলো ‘আকতা’ (ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন) শব্দটি এগুলোর প্রত্যেকের সাথে রয়েছে। ইবনে হাজারের বক্তব্যে এমন কিছু রয়েছে যা দাবি করে যে এটি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তেমনি ‘আজযাম’ বা ‘আবতার’ শব্দেও বর্ণিত হয়েছে। তাঁর ইবারত হলো: "প্রত্যেক বিষয় যা আলহামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হয় না," এবং এক বর্ণনায়: "আল্লাহর প্রশংসার দ্বারা," "তা আজযাম (কুষ্ঠরোগাক্রান্ত/অসম্পূর্ণ)," জীম ও যাল সহযোগে। আর এক বর্ণনায় "আকতা" এবং অন্য বর্ণনায় "আবতার" অর্থাৎ বরকত কম হওয়া, কারো মতে বরকত ছিন্ন হওয়া। এক বর্ণনায় "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" দ্বারা এবং অন্য বর্ণনায় "আল্লাহর যিকির" দ্বারা এসেছে, যা উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে এবং উভয়টিকে হাকীকী শুরু ধরার ক্ষেত্রে বৈপরীত্য নিরসন করে। অন্য এক বর্ণনায় যার সনদ দুর্বল: "তাতে আল্লাহর প্রশংসা এবং আমার ওপর দরূদ পাঠ করে শুরু করা না হলে তা লেজকাটা এবং যাবতীয় বরকত থেকে বঞ্চিত।"
(তাঁর উক্তি: তা আজযাম) ‘আল-কামুস’-এর ইবারত হলো: ‘আজযাম’ হলো যার হাত কাটা বা যার আঙুলের অগ্রভাগ নেই। আর ‘জুযাম’ (কুষ্ঠ) হলো এমন এক ব্যাধি যা সারা শরীরে কৃষ্ণবর্ণের পিত্ত ছড়িয়ে পড়ার কারণে সৃষ্টি হয়। এর থেকে ‘জাযিমা’ শব্দের অর্থ সে কুষ্ঠরোগাক্রান্ত হয়েছে। জওহারী একে নির্দিষ্ট রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে নিষেধ করে ভুল করেছেন। অতঃপর এই বাক্য গঠন এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো অলঙ্কারপূর্ণ উপমা হওয়া সম্ভব যেখানে উপমার অব্যয়টি উহ্য থাকে; মূল বাক্যটি ছিল: এটি উদ্দেশ্য অর্জিত না হওয়ার ক্ষেত্রে আজযাম বা হাতকাটা ব্যক্তির মতো। আবার এটি রূপক হওয়াও সম্ভব। এক্ষেত্রে উপমান ও উপমেয় উভয়টিকে একত্রে উল্লেখ করা ক্ষতিকর নয়; কারণ সেটি তখনই নিষিদ্ধ হয় যখন তা উপমার সংবাদ দেয় এমনভাবে হয়, নতুবা রূপক হিসেবে এটি স্বীকৃত, যেমন বলা হয়: ‘সে চাঁদের ওপর বোতাম লাগিয়েছে’, তাছাড়া এই বাক্য গঠনে উপমেয়টি উহ্য। মূল বাক্যটি হলো: ‘এটি আজযামের মতো অসম্পূর্ণ’। এখানে উপমেয় তথা ‘অসম্পূর্ণ’ শব্দটিকে উহ্য রাখা হয়েছে এবং উপমান দ্বারা সেটি প্রকাশ করা হয়েছে, ফলে আজযাম দ্বারা অসম্পূর্ণ উদ্দেশ্য করা হয়েছে। সেই হিসেবে এখানে উভয় পক্ষকে একত্র করা হয়নি, বরং শুধুমাত্র উপমানের নামটি উল্লেখ করা হয়েছে। (তাঁর উক্তি: ইবনুল সালাহ একে হাসান বলেছেন) অর্থাৎ তিনি উল্লেখ করেছেন যে এটি হাসান; সুতরাং এটি বলা যাবে না যে এটি ইবনুল সালাহর কথার বিরোধী; কারণ—
ــ
[হাশিয়াউর রশীদি] অর্থাৎ ক্ষুধার্ত, আর এই দুটি হলো তৃষ্ণার্তের ন্যায় ‘সিফাতে মুশাব্বাহ’।
(তাঁর উক্তি: মহাগ্রন্থের অনুসরণ স্বরূপ এবং আমল স্বরূপ ইত্যাদি) এগুলো হলো বিসমিল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু করার দুটি কারণ। এটি তাঁর পূর্ববর্তী উক্তি—‘ওয়াজিবের কিয়দাংশ আদায়ের লক্ষ্যে’—এর বিপরীত। অবশ্য এটি উভয়টির কারণ হওয়াও সঠিক; কারণ বিসমিল্লাহও শুকরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে; যেহেতু শুকরিয়া হলো সুন্দর গুণাবলি বর্ণনা করা, আর এতে আল্লাহর পূর্বোক্ত দয়া বা রহমতের গুণ বর্ণনা বিদ্যমান। (তাঁর উক্তি: এক বর্ণনায় আল্লাহর প্রশংসার দ্বারা) এটি উল্লেখ করার নিগূঢ় রহস্য হলো ‘আলহামদু’ (প্রশংসা) শব্দটির অপরিহার্যতা না থাকা বুঝানো, যা প্রথম বর্ণনায় অপরিহার্য মনে হচ্ছিল। আর এরপর ‘আলহামদু দ্বারা’ বর্ণনার রহস্য হলো প্রশংসার হক আদায়ের ক্ষেত্রে ‘আল্লাহ’ (আল্লাহর নাম) শব্দের শর্তহীনতা বুঝানো। আর সর্বশেষ বর্ণনার রহস্য হলো—
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
قَالَ بَعْضُهُمْ: الْمُرَادُ مِنْ كَوْنِهِ نَاقِصًا أَنْ لَا يَكُونَ مُعْتَبَرًا فِي الشَّرْعِ، أَلَا تَرَى أَنَّ الْأَمْرَ الَّذِي اُبْتُدِئَ فِيهِ بِغَيْرِ اسْمِ اللَّهِ غَيْرُ مُعْتَبَرٍ شَرْعًا وَإِنْ كَانَ تَامًّا حِسًّا. وَلَا تَعَارُضَ بَيْنَ رِوَايَتَيْ الْبَسْمَلَةِ وَالْحَمْدَلَةِ؛ لِأَنَّ الِابْتِدَاءَ حَقِيقِيٌّ وَإِضَافِيٌّ، فَالْحَقِيقِيُّ حَصَلَ بِالْبَسْمَلَةِ وَالْإِضَافِيُّ بِالْحَمْدَلَةِ، أَوْ لِأَنَّهُ أَمْرٌ عُرْفِيٌّ يُعْتَبَرُ مُمْتَدًّا فَيَسَعُ أَمْرَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ، أَوْ؛ لِأَنَّ الْمَقْصُودَ الِابْتِدَاءُ بِذِكْرِ اللَّهِ عَلَى أَيِّ وَجْهٍ كَانَ بِدَلِيلِ رِوَايَةِ أَحْمَدَ السَّابِقَةِ.
وَالْحَمْدُ اللَّفْظِيُّ لُغَةً: هُوَ الثَّنَاءُ بِاللِّسَانِ عَلَى الْجَمِيلِ الِاخْتِيَارِيِّ عَلَى قَصْدِ التَّعْظِيمِ سَوَاءً أَتَعَلَّقَ بِالْفَضَائِلِ أَمْ بِالْفَوَاضِلِ، وَعُرْفًا: فِعْلٌ يُنْبِئُ عَنْ تَعْظِيمِ الْمُنْعِمِ بِسَبَبِ كَوْنِهِ مُنْعِمًا عَلَى الْحَامِدِ أَوْ غَيْرِهِ سَوَاءٌ كَانَ ذِكْرًا بِاللِّسَانِ أَمْ اعْتِقَادًا وَمَحَبَّةً بِالْجِنَانِ أَمْ عَمَلًا وَخِدْمَةً بِالْأَرْكَانِ " فَمَوْرِدُ اللُّغَوِيِّ
ــ
[حاشية الشبراملسي] التَّحْسِينَ فِي عَصْرِهِ غَيْرُهُ مُمْكِنٌ (قَوْلُهُ بِغَيْرِ اسْمِ اللَّهِ) كَمَا لَوْ اُبْتُدِئَ فِي الذَّبْحِ بِغَيْرِ اسْمِ اللَّهِ مِمَّا يُصَيِّرُهَا مَيْتَةً (قَوْلُهُ:؛ لِأَنَّ الِابْتِدَاءَ حَقِيقِيٌّ) لِقَائِلٍ أَنْ يَقُولَ: حَاصِلُ هَذَا الْجَوَابِ دَفْعُ التَّعَارُضِ بِحَمْلِ الِابْتِدَاءِ فِي خَبَرِ الْبَسْمَلَةِ عَلَى الْحَقِيقِيِّ وَفِي خَبَرِ الْحَمْدَلَةِ عَلَى الْإِضَافِيِّ، فَيُرَدُّ عَلَيْهِ أَنَّ التَّعَارُضَ كَمَا يَنْدَفِعُ بِهَذَا يَنْدَفِعُ بِعَكْسِهِ، فَمَا الدَّلِيلُ عَلَى إيثَارِ هَذَا؟ وَيُجَابُ بِأَنَّ الدَّلِيلَ عَلَيْهِ مُوَافَقَةُ الْكِتَابِ الْعَزِيزِ، وَإِلَى ذَلِكَ يُشِيرُ قَوْلُهُ وَقَدَّمَ الْبَسْمَلَةَ إلَخْ اهـ سم عَلَى الْبَهْجَةِ (قَوْلُهُ: وَالْإِضَافِيُّ بِالْحَمْدَلَةِ) أَيْ؛ لِأَنَّ تَعْرِيفَ الْأَوَّلِ هُوَ الَّذِي لَمْ يَتَقَدَّمْهُ شَيْءٌ، وَتَعْرِيفُ الثَّانِي هُوَ الَّذِي تَقَدَّمَ عَلَى شَيْءٍ سَوَاءٌ تَقَدَّمَ هُوَ عَلَى غَيْرِهِ أَوْ لَا، فَبَيْنَهُمَا عُمُومٌ وَخُصُوصٌ مُطْلَقٌ يَجْتَمِعَانِ فِيمَا لَمْ يَتَقَدَّمْ عَلَيْهِ شَيْءٌ وَيَتَقَدَّمُ هُوَ عَلَى غَيْرِهِ، وَيَنْفَرِدُ الْإِضَافِيُّ فِيمَا تَقَدَّمَ عَلَى غَيْرِهِ وَتَقَدَّمَ عَلَيْهِ غَيْرُهُ، فَالِابْتِدَاءُ بِالْبَسْمَلَةِ حَقِيقِيٌّ وَإِضَافِيٌّ، وَبِالْحَمْدَلَةِ إضَافِيٌّ لَا غَيْرُ، وَنُقِلَ بِالدَّرْسِ عَنْ الشَّيْخِ أَبِي بَكْرٍ الشَّنَوَانِيِّ مِثْلُهُ (قَوْلُهُ: الثَّنَاءُ بِاللِّسَانِ) ذِكْرُ اللِّسَانِ مُسْتَدْرَكٌ؛ لِأَنَّهُ لَا يَكُونُ إلَّا بِهِ.
وَالْجَوَابُ أَنَّهُ لِبَيَانِ الْوَاقِعِ أَوْ لِدَفْعِ تَوَهُّمٍ أَنَّهُ يَكُونُ الثَّنَاءُ مَا دَلَّ عَلَى التَّعْظِيمِ وَإِنْ كَانَ بِغَيْرِ اللِّسَانِ (قَوْلُهُ: سَوَاءٌ أَتَعَلَّقَ بِالْفَضَائِلِ أَمْ بِالْفَوَاضِلِ) سَوَاءٌ خَبَرٌ مُقَدَّمٌ، وَأَتَعَلَّقَ وَمَا بَعْدَهُ فِي مَوْضِعِ رَفْعٍ عَلَى أَنَّهُ مُبْتَدَأٌ. وَالْمَعْنَى تَعَلُّقُهُ بِالْفَضَائِلِ وَالْفَوَاضِلِ مُسْتَوٍ فِي أَنَّ الثَّنَاءَ عَلَى كُلٍّ مِنْهُمَا حَمْدٌ، وَيَجُوزُ أَنَّ سَوَاءٌ مُبْتَدَأٌ وَمَا بَعْدَهُ مَرْفُوعٌ بِهِ بِنَاءً عَلَى عَدَمِ اشْتِرَاطِ الِاعْتِمَادِ فِي إعْمَالِ الْوَصْفِ، وَيَجُوزُ أَنَّ سَوَاءٌ خَبَرُ مُبْتَدَإٍ مَحْذُوفٍ وَأَنَّ أَدَاةَ الشَّرْطِ مُقَدَّرَةٌ وَالْجُمْلَةُ الِاسْمِيَّةُ دَلِيلُ الْجَوَابِ، أَوْ هِيَ نَفْسُهُ عَلَى الْخِلَافِ فِي مِثْلِهِ. وَالْمَعْنَى: إنْ تَعَلَّقَ الثَّنَاءُ بِالْفَضَائِلِ أَمْ بِالْفَوَاضِلِ فَالْأَمْرَانِ سَوَاءٌ، وَكَتَبَ عَلَيْهِ شَيْخُنَا الزِّيَادِيُّ: الْفَضَائِلُ جَمْعُ فَضِيلَةٍ وَهِيَ النِّعَمُ اللَّازِمَةُ كَالْعِلْمِ وَالشَّجَاعَةِ، وَالْفَوَاضِلُ جَمْعُ فَاضِلَةٍ وَهِيَ النِّعَمُ الْمُتَعَدِّيَةُ كَالْإِحْسَانِ اهـ. أَقُولُ: مَعْنَى قَوْلِهِ كَالْعِلْمِ وَالشَّجَاعَةِ أَرَادَ بِهِ الْمَلَكَةَ الْحَاصِلَةَ عِنْدَهُ، أَمَّا التَّعْلِيمُ فَنِعْمَةٌ مُتَعَدِّيَةٌ، وَكَذَا دَفْعُ الْعَدُوِّ الْمُتَرَتِّبِ عَلَى الشَّجَاعَةِ (قَوْلُهُ: فَمَوْرِدُ اللُّغَوِيِّ) أَيْ الْمَحَلُّ الَّذِي يَرِدُ مِنْهُ الْحَمْدُ وَيَصْدُرُ، وَلَوْ
ــ
[حاشية الرشيدي] نَصٌّ فِي الْمَقْصُودِ؛ لِأَنَّ مَا هُنَا كَلَامٌ بَنَاهُ عَلَى الصَّحِيحِ مِنْ أَنَّ مُسَمَّى الْكُتُبِ الْأَلْفَاظُ بِاعْتِبَارِ دَلَالَتِهَا عَلَى الْمَعَانِي (قَوْلُهُ: قَالَ بَعْضُهُمْ) هُوَ الْبَيْضَاوِيُّ فِي تَفْسِيرِهِ، وَانْظُرْ مَا مَعْنَى عَدَمِ اعْتِبَارِهِ شَرْعًا (قَوْلُهُ: أَلَا تَرَى أَنَّ الْأَمْرَ) الْمُرَادُ بِهِ أَمْرٌ خَاصٌّ هُوَ الذَّبْحُ لِغَيْرِ اللَّهِ كَالذَّبْحِ لِلْأَصْنَامِ كَمَا أَفَادَهُ شَيْخُنَا فِي حَاشِيَتِهِ، وَحِينَئِذٍ فَلَا يَتِمُّ بِهِ الْمُدَّعَى؛ لِأَنَّ الْمُدَّعَى أَنَّ مَا لَا يُذْكَرُ فِيهِ اسْمُ اللَّهِ غَيْرُ مُعْتَبَرٍ شَرْعًا أَعَمُّ مِنْ أَنْ يُذْكَرَ فِيهِ غَيْرُ اسْمِ اللَّهِ تَعَالَى أَوْ لَا يُذْكَرُ شَيْءٌ (قَوْلُهُ: فِي تَعْرِيفِ الْحَمْدِ اللُّغَوِيِّ كَغَيْرِهِ عَلَى الْجَمِيلِ الِاخْتِيَارِيِّ، وَفِي تَعْرِيفِ الْعُرْفِيِّ بِسَبَبِ كَوْنِهِ مُنْعِمًا إلَخْ) صَرِيحٌ فِي أَنَّ الثَّنَاءَ لَا فِي مُقَابَلَةِ شَيْءٍ لَا يَكُونُ حَمْدًا لُغَوِيًّا وَلَا عُرْفِيًّا، وَهُوَ يُنَافِي تَصْرِيحَهُمْ بِأَنَّ الْحَمْدَ لَا فِي مُقَابَلَةِ شَيْءٍ مَنْدُوبٌ وَفِي مُقَابَلَتِهِ وَاجِبٌ، وَلَعَلَّ مُرَادَهُمْ بِالشَّيْءِ النِّعْمَةُ الْمُتَعَدِّيَةُ وَهِيَ الْفَاضِلَةُ (قَوْلُهُ: وَعُرْفًا) مَعْطُوفٌ عَلَى لُغَةً وَقَسِيمٌ لَهُ وَهُمَا قِسْمَا اللَّفْظِيِّ، فَيَصِيرُ تَقْدِيرُ الْكَلَامِ: وَالْحَمْدُ اللَّفْظِيُّ لُغَةً مَا مَرَّ، وَعُرْفًا فِعْلُ إلَخْ.
وَظَاهِرٌ أَنَّ هَذَا لَا يَصِحُّ إذْ الْفِعْلُ أَعَمُّ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَفْظِيًّا وَغَيْرَهُ كَمَا سَيَأْتِي، فَلَا بُدَّ مِنْ تَأْوِيلٍ فِي الْعِبَارَةِ (قَوْلُهُ: يُنْبِئُ عَنْ تَعْظِيمِ الْمُنْعِمِ) لَا يَخْفَى أَنَّ الْإِنْبَاءَ مَعْنَاهُ الْإِخْبَارُ وَالدَّلَالَةُ مَثَلًا، وَانْظُرْ مَا مَعْنَى إخْبَارِ الْجِنَانِ أَوْ دَلَالَتِهِ بِالْمَعْنَى الْمُقَابِلِ لِإِخْبَارِ اللِّسَانِ، وَالْأَرْكَانِ أَوْ
কেউ কেউ বলেছেন: (কাজটি) অপূর্ণাঙ্গ হওয়ার অর্থ হলো শরীয়তে তা গ্রহণযোগ্য না হওয়া। আপনি কি দেখছেন না যে, আল্লাহর নাম ব্যতিরেকে যে কাজ শুরু করা হয়েছে তা শরীয়তগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, যদিও তা ইন্দ্রিয়গতভাবে পূর্ণাঙ্গ হোক না কেন। আর বিসমিল্লাহ এবং আলহামদুলিল্লাহ-এর বর্ণনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; কারণ শুরু হওয়াটা দুই প্রকার: প্রকৃত এবং আপেক্ষিক। সুতরাং প্রকৃত শুরু বিসমিল্লাহর মাধ্যমে হয়েছে এবং আপেক্ষিক শুরু আলহামদুলিল্লাহর মাধ্যমে। অথবা এজন্য যে, এটি একটি প্রথাগত বিষয় যা দীর্ঘ সময়ব্যাপী ধরা হয়, ফলে এতে দুই বা ততোধিক বিষয় স্থান পায়। অথবা এজন্য যে, উদ্দেশ্য হলো যে কোনোভাবেই আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে শুরু করা, যার প্রমাণ হলো আহমদের পূর্বোক্ত বর্ণনা।
ভাষাগতভাবে শাব্দিক প্রশংসা (হামদ) হলো: সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ঐচ্ছিক সুন্দরের ওপর জিহ্বার মাধ্যমে প্রশংসা করা, তা গুণাবলি সংশ্লিষ্ট হোক বা অনুগ্রহ সংশ্লিষ্ট হোক। আর পারিভাষিক অর্থে: এটি এমন একটি কাজ যা নিআমত প্রদানকারীর সম্মানকে জ্ঞাপন করে, এই কারণে যে তিনি প্রশংসাকারী বা অন্য কারো ওপর নিআমত দানকারী; চাই তা জিহ্বার মাধ্যমে যিকির হোক, বা অন্তরের মাধ্যমে বিশ্বাস ও ভালোবাসা হোক, কিংবা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল ও খিদমত হোক। ভাষাগত প্রশংসার উৎস হলো...
--
[শাবরামাল্লিসীর টীকা]তার যুগে এটি সংস্কার করা ছাড়া অন্য কিছু সম্ভব ছিল না। (তাঁর উক্তি: আল্লাহর নাম ব্যতিরেকে) যেমন যদি যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম ব্যতিরেকে অন্য কিছুর নাম নিয়ে শুরু করা হয়, যা সেটিকে মৃত প্রাণীতে পরিণত করে। (তাঁর উক্তি: কারণ শুরু হওয়াটা প্রকৃত) জনৈক প্রশ্নকারী বলতে পারেন: এই উত্তরের সারমর্ম হলো বিসমিল্লাহর হাদীসে শুরু হওয়াকে 'প্রকৃত' এবং আলহামদুলিল্লাহর হাদীসে 'আপেক্ষিক' অর্থের ওপর প্রয়োগ করে বৈপরীত্য দূর করা। এর ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয় যে, বৈপরীত্য যেভাবে এর দ্বারা দূর হয়, তেমনি এর উল্টোটা করলেও দূর হয়। তাহলে এটিকে প্রাধান্য দেওয়ার দলীল কী? উত্তর হলো: এর দলীল হচ্ছে সম্মানিত কিতাবের (কুরআন) সাথে মিল থাকা। আর তাঁর কথা "বিসমিল্লাহকে অগ্রগণ্য করেছেন" ইত্যাদি দ্বারা সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে - বাহজাহ-এর ওপর সামার (সম) মন্তব্য সমাপ্ত। (তাঁর উক্তি: এবং আপেক্ষিক শুরু আলহামদুলিল্লাহর মাধ্যমে) অর্থাৎ কারণ প্রথমটির সংজ্ঞা হলো যার আগে কিছু নেই, আর দ্বিতীয়টির সংজ্ঞা হলো যা কোনো কিছুর আগে এসেছে, তা অন্য কিছুর পরে আসুক বা না আসুক। সুতরাং উভয়ের মধ্যে সাধারণ এবং বিশেষের সম্পর্ক রয়েছে। যে জিনিসের আগে কিছু নেই এবং যা অন্য কিছুর আগে আসে, তাতে উভয়ে একত্রিত হয়। আর আপেক্ষিক বিষয়টি সেখানে এককভাবে পাওয়া যায় যেখানে তা অন্য কিছুর আগে আসে এবং তার আগে অন্য কিছু থাকে। সুতরাং বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু হওয়াটা প্রকৃত এবং আপেক্ষিক উভয়ই, আর আলহামদুলিল্লাহর মাধ্যমে শুরু হওয়াটা কেবল আপেক্ষিক। পাঠচক্রে শায়খ আবু বকর আশ-শানাওয়ানী থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (তাঁর উক্তি: জিহ্বার মাধ্যমে প্রশংসা) 'জিহ্বা' উল্লেখ করাটি অতিরিক্ত; কারণ প্রশংসা তো কেবল এর মাধ্যমেই হয়।
উত্তর হলো: এটি বাস্তবতা বর্ণনা করার জন্য অথবা এই ভ্রম দূর করার জন্য যে প্রশংসা সম্মান প্রদর্শনকারী অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমেও হতে পারে যদিও তা জিহ্বা ছাড়া হয়। (তাঁর উক্তি: তা গুণাবলি সংশ্লিষ্ট হোক বা অনুগ্রহ সংশ্লিষ্ট হোক) 'সমান' (সাওয়াউন) এখানে পূর্ববর্তী খবর, আর 'তাআল্লাকা' এবং পরবর্তী অংশ মুবতাদা হিসেবে রফ-এর স্থানে আছে। অর্থ হলো: গুণাবলি এবং অনুগ্রহের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া এই ক্ষেত্রে সমান যে, এগুলোর প্রতিটির ওপর প্রশংসা করাই হলো হামদ। এটাও বৈধ যে, 'সমান' হলো মুবতাদা এবং পরবর্তী অংশ তার দ্বারা মারফূ, এই মতের ভিত্তিতে যে গুণবাচক বিশেষ্যের আমল করার জন্য পূর্ববর্তী পদের ওপর নির্ভর করা শর্ত নয়। এটাও সম্ভব যে, 'সমান' হলো উহ্য মুবতাদার খবর এবং শর্তবাচক অব্যয়টি উহ্য আছে, আর নামবাচক বাক্যটি জাওয়াবের দলীল অথবা নিজেই জাওয়াব - এ জাতীয় ক্ষেত্রে মতভেদ অনুযায়ী। অর্থ: যদি প্রশংসা গুণাবলি বা অনুগ্রহ সংশ্লিষ্ট হয় তবে উভয় বিষয় সমান। আমাদের শায়খ যিয়াদী এর ওপর লিখেছেন: ফাদাইল হলো ফদীলতের বহুবচন, যা হলো অনিবার্য নিআমত যেমন জ্ঞান ও বীরত্ব। আর ফাওয়াদিল হলো ফাদিলাহর বহুবচন, যা হলো ব্যাপ্ত নিআমত যেমন অনুগ্রহ (ইহসান)। আমি বলি: তাঁর কথা "যেমন জ্ঞান ও বীরত্ব" দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন অর্জিত সক্ষমতা। পক্ষান্তরে শিক্ষা দান করা একটি ব্যাপ্ত নিআমত, তেমনি বীরত্বের ফলশ্রুতিতে শত্রুকে প্রতিহত করাও ব্যাপ্ত নিআমত। (তাঁর উক্তি: ভাষাগত প্রশংসার উৎস হলো) অর্থাৎ যে স্থান থেকে প্রশংসা উৎসারিত হয় এবং প্রকাশিত হয়, যদিও...
--
[রাশিদীর টীকা]উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে এটি সুস্পষ্ট পাঠ; কারণ এখানকার কথাগুলো তিনি সেই সঠিক মতের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন যে, কিতাবসমূহের নাম মূলত অর্থবোধক শব্দাবলি। (তাঁর উক্তি: কেউ কেউ বলেছেন) তিনি হলেন বাইদাবী তাঁর তাফসীরে। আর শরীয়তে তা গ্রহণযোগ্য না হওয়ার অর্থ কী তা লক্ষ্য করুন। (তাঁর উক্তি: আপনি কি দেখছেন না যে বিষয়টি) এর দ্বারা একটি বিশেষ বিষয় উদ্দেশ্য, আর তা হলো আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য যবেহ করা যেমন মূর্তির জন্য যবেহ করা, যা আমাদের শায়খ তাঁর টীকাতে উল্লেখ করেছেন। এমতাবস্থায় এর দ্বারা দাবিটি পূর্ণ হয় না; কারণ দাবিটি ছিল: যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয় না তা শরীয়তগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় - এটি একটি ব্যাপক দাবি, তাতে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারো নাম নেওয়া হোক বা কোনো কিছুই উল্লেখ না করা হোক। (তাঁর উক্তি: ভাষাগত প্রশংসার সংজ্ঞায় অন্যদের মতো: ঐচ্ছিক সুন্দরের ওপর, এবং পারিভাষিক সংজ্ঞায়: নিআমত দাতা হওয়ার কারণে ইত্যাদি) এটি স্পষ্ট যে, কোনো কিছুর বিনিময় ছাড়া যে প্রশংসা তা ভাষাগত বা পারিভাষিক কোনো প্রশংসা হবে না। অথচ এটি তাদের সেই সুস্পষ্ট বক্তব্যের পরিপন্থী যে, কোনো কিছুর বিনিময় ছাড়া প্রশংসা করা মুস্তাহাব এবং বিনিময়ে প্রশংসা করা ওয়াজিব। সম্ভবত 'কোনো কিছু' দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো ব্যাপ্ত নিআমত যা হলো ফাদিলাহ। (তাঁর উক্তি: এবং পারিভাষিক অর্থে) এটি 'ভাষাগতভাবে' শব্দের ওপর সংযোজিত এবং তার প্রতিপক্ষ। এই দুটি হলো শাব্দিক প্রশংসার দুই প্রকার। ফলে বাক্যের মর্ম দাঁড়ায়: শাব্দিক প্রশংসা ভাষাগতভাবে তা-ই যা গত হয়েছে, আর পারিভাষিক অর্থে তা হলো এমন কাজ ইত্যাদি।
প্রকাশ্য যে, এটি সঠিক নয়; কারণ 'কাজ' শব্দটি শাব্দিক এবং শব্দ বহির্ভূত উভয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যেমন সামনে আসবে। সুতরাং ইবারতে ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। (তাঁর উক্তি: যা নিআমত প্রদানকারীর সম্মান জ্ঞাপন করে) এটি অস্পষ্ট নয় যে, 'জ্ঞাপন করা'-এর অর্থ হলো সংবাদ দেওয়া এবং নির্দেশ করা। আর লক্ষ্য করুন, জিহ্বার সংবাদের বিপরীতে অন্তরের সংবাদ বা নির্দেশের অর্থ কী হবে, এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের...
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
هُوَ اللِّسَانُ وَحْدَهُ وَمُتَعَلِّقُهُ يَعُمُّ النِّعْمَةَ وَغَيْرَهَا، وَمَوْرِدُ الْعُرْفِيُّ يَعُمُّ اللِّسَانَ وَغَيْرَهُ وَمُتَعَلِّقُهُ يَكُونُ النِّعْمَةُ وَحْدَهَا، فَاللُّغَوِيُّ أَعَمُّ بِاعْتِبَارِ الْمُتَعَلِّقِ وَأَخَصُّ بِاعْتِبَارِ الْمَوْرِدِ، وَالْعُرْفِيُّ بِالْعَكْسِ. وَالشُّكْرُ لُغَةً: فِعْلٌ يُنْبِئُ عَنْ تَعْظِيمِ الْمُنْعِمِ لِكَوْنِهِ مُنْعِمًا عَلَى الشَّاكِرِ. وَعُرْفًا: صَرْفُ الْعَبْدِ جَمِيعَ مَا أَنْعَمَ اللَّهُ بِهِ عَلَيْهِ مِنْ السَّمْعِ وَغَيْرِهِ إلَى مَا خُلِقَ لِأَجْلِهِ. وَالْمَدْحُ لُغَةً: الثَّنَاءُ بِاللِّسَانِ عَلَى الْجَمِيلِ مُطْلَقًا عَلَى قَصْدِ التَّعْظِيمِ، وَعُرْفًا: مَا يَدُلُّ عَلَى اخْتِصَاصِ الْمَمْدُوحِ بِنَوْعٍ مِنْ الْفَضَائِلِ، وَالذَّمُّ نَقِيضُ الْحَمْدِ، وَالْكُفْرَانُ نَقِيضُ الشُّكْرِ، وَالْهَجْوُ نَقِيضُ الْمَدْحِ، وَجُمْلَةُ الْحَمْدِ لِلَّهِ خَبَرِيَّةٌ لَفْظًا إنْشَائِيَّةٌ مَعْنًى لِحُصُولِ الْحَمْدِ بِهَا مَعَ الْإِذْعَانِ لِمَدْلُولِهَا.
وَقِيلَ إنَّهَا خَبَرِيَّةٌ لَفْظًا وَمَعْنًى، وَيَجُوزُ أَنْ تَكُونَ مَوْضُوعَةً شَرْعًا لِلْإِنْشَاءِ، وَالْحَمْدُ مُخْتَصٌّ بِاَللَّهِ كَمَا أَفَادَتْهُ الْجُمْلَةُ، سَوَاءٌ أَجُعِلَتْ لَامُ التَّعْرِيفِ فِيهِ لِلِاسْتِغْرَاقِ كَمَا عَلَيْهِ الْجُمْهُورُ وَهُوَ ظَاهِرٌ، أَمْ لِلْجِنْسِ كَمَا عَلَيْهِ الزَّمَخْشَرِيّ؛ لِأَنَّ لَامَ لِلَّهِ لِلِاخْتِصَاصِ فَلَا مَرَدَّ مِنْهُ لِغَيْرِهِ، إذْ الْحَمْدُ فِي الْحَقِيقَةِ كُلُّهُ
ــ
[حاشية الشبراملسي] عَبَّرَ بِالْمَصْدَرِ بَدَلَ الْمَوْرِدِ لَكَانَ أَوْلَى؛ لِأَنَّ الْمَوْرِدَ هُوَ مَا تَنْتَهِي إلَيْهِ الْإِبِلُ الشَّارِبَةُ مَثَلًا، وَالْمَصْدَرُ هُوَ مَا تُسَاقُ مِنْهُ لِلْمَاءِ، وَاللِّسَانُ مَحَلٌّ يَصْدُرُ مِنْهُ الْحَمْدُ لَا أَنَّهُ الَّذِي يَرِدُ عَلَيْهِ، لَكِنْ فِي اخْتِيَارِ الْمَوْرِدِ إشَارَةٌ إلَى أَنَّ الْحَمْدَ كَأَنَّهُ صَدَرَ عَنْ الْقَلْبِ فَوَرَدَ عَلَى اللِّسَانِ (قَوْلُهُ لِكَوْنِهِ مُنْعِمًا عَلَى الشَّاكِرِ) أَيْ أَوْ غَيْرِهِ، وَسَوَاءٌ كَانَ لِلْغَيْرِ خُصُوصِيَّةٌ بِالْحَامِدِ كَوَلَدِهِ وَصَدِيقِهِ أَوْ لَا وَلَوْ كَافِرًا (قَوْلُهُ: جَمِيعُ مَا أَنْعَمَ اللَّهُ بِهِ عَلَيْهِ) هَلْ يُشْتَرَطُ لِتَسْمِيَةِ صَرْفِهَا شُكْرًا كَوْنُ ذَلِكَ فِي وَقْتٍ وَاحِدٍ أَوْ لَا، فَيَكْفِي لِتَسْمِيَتِهَا بِذَلِكَ صَرْفُهَا كُلُّهَا فِي الطَّاعَةِ وَلَوْ حَصَلَ فِي أَوْقَاتٍ مُتَفَرِّقَةٍ فِيهِ نَظَرٌ، وَقُوَّةُ مَا نَقَلَهُ سم عَلَى ابْنِ حَجَرٍ عِنْدَ حَاشِيَةِ شَرْحِ الْمَطَالِعِ يُفِيدُ الْأَوَّلَ، وَيُمْكِنُ تَصْوِيرُهُ بِمَنْ حَمَلَ جِنَازَةً مُتَفَكِّرًا فِي مَصْنُوعَاتِ اللَّهِ، نَاظِرًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ لِئَلَّا يَزِلَّ بِالْمَيِّتِ، مَاشِيًا بِرِجْلِهِ إلَى الْقَبْرِ، شَاغِلًا لِسَانَهُ بِالذِّكْرِ وَأُذُنَهُ بِاسْتِمَاعِ مَا فِيهِ ثَوَابٌ كَالْأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيِ عَنْ الْمُنْكَرِ.
(قَوْلُهُ: مُطْلَقًا عَلَى قَصْدِ التَّعْظِيمِ) اخْتِيَارِيًّا كَانَ أَوْ غَيْرَهُ (قَوْلُهُ: وَالذَّمُّ نَقِيضُ الْحَمْدِ) أَيْ فَيَكُونُ لُغَةً: ذِكْرُ عُيُوبِ الْغَيْرِ، وَعُرْفًا: الْإِتْيَانُ بِمَا يُشْعِرُ بِالتَّحْقِيرِ، وَسَوَاءٌ كَانَ بِاللِّسَانِ أَوْ بِغَيْرِهِ، وَفِي تَعْبِيرِهِ بِالنَّقِيضِ تَجَوُّزٌ؛ لِأَنَّ نَقِيضَ كُلِّ شَيْءٍ رَفْعُهُ، وَمُجَرَّدُ عَدَمِ الثَّنَاءِ لَا يَكُونُ ذَمًّا (قَوْلُهُ: وَالْكُفْرَانُ نَقِيضُ الشُّكْرِ) عَبَّرَ بِالْكُفْرَانِ دُونَ الْكُفْرِ لِمَا قِيلَ إنَّ الْكُفْرَ إنْكَارُ مَا عُلِمَ مَجِيءُ الرَّسُولِ بِهِ ضَرُورَةً، وَالْكُفْرَانُ إنْكَارُ النِّعْمَةِ. وَعِبَارَةُ الْعَيْنِيِّ عَلَى الْبُخَارِيِّ: الْكُفْرَانُ مَصْدَرٌ كَالْكُفْرِ، وَالْفَرْقُ بَيْنَهُمَا أَنَّ الْكُفْرَ فِي الدِّينِ وَالْكُفْرَانَ فِي النِّعْمَةِ، وَفِي الْعُبَابِ الْكُفْرُ نَقِيضُ الْإِيمَانِ، وَقَدْ كَفَرَ بِاَللَّهِ كُفْرًا، وَالْكُفْرُ أَيْضًا جُحُودُ النِّعْمَةِ وَهُوَ ضِدُّ الشُّكْرِ، وَقَدْ كَفَرَهَا كَفُورًا وَكُفْرَانًا اهـ رحمهم الله. وَفِي الْمِصْبَاحِ: كَفَرَ بِاَللَّهِ يَكْفُرُ كُفْرًا وَكُفْرَانًا، وَكَفَرَ النِّعْمَةَ وَبِالنِّعْمَةِ أَيْضًا جَحَدَهَا اهـ.
وَهُوَ صَرِيحٌ فِي أَنَّ الْكُفْرَانَ يُطْلَقُ عَلَى إنْكَارِ مَا عُلِمَ مَجِيءُ الرَّسُولِ بِهِ فَهُوَ مُسَاوٍ لِلْكُفْرِ فَلَا يَتِمُّ مَا فِي الْعَيْنِيِّ (قَوْلُهُ: مَعْنًى لِحُصُولِ الْحَمْدِ بِهَا) عِلَّةٌ لِقَوْلِهِ إنْشَائِيَّةً (قَوْلُهُ: وَيَجُوزُ أَنْ تَكُونَ إلَخْ) قَوْلٌ آخَرُ (قَوْلُهُ:؛ لِأَنَّ لَامَ لِلَّهِ لِلِاخْتِصَاصِ) قَضِيَّتُهُ أَنَّ اللَّامَ لَوْ جُعِلَتْ لِغَيْرِ الِاخْتِصَاصِ لَا تُفِيدُ الْحَصْرَ، وَقَدْ يُشْكِلُ بِمَا ذَكَرُوهُ مِنْ إفَادَةِ الِاخْتِصَاصِ مِنْ نَحْوِ الْكَرَمِ فِي الْعَرَبِ مِمَّا كَانَ الْمُبْتَدَأُ فِيهِ مُعَرَّفًا فَاللَّامُ الْجِنْسِ سَوَاءٌ أَكَانَ الْخَبَرُ مُعَرَّفًا بِهَا أَمْ لَا، فَالْأَوْلَى جَعْلُ الْقَصْرِ فِيهِ
ــ
[حاشية الرشيدي] دَلَالَتِهِمَا (قَوْلُهُ: وَغَيْرُهَا) أَيْ، وَهُوَ الْفَضَائِلُ عَلَى مَا قَدَّمَهُ (قَوْلُهُ: عَلَى الشَّاكِرِ) أَيْ وَغَيْرِهِ كَمَا هُوَ كَذَلِكَ فِي بَعْضِ النُّسَخِ، لَكِنْ فِي أَوَائِلِ تَفْسِيرِ الْفَخْرِ الرَّازِيّ اخْتِيَارُ اشْتِرَاطِ وُصُولِ النِّعْمَةِ إلَى الشَّاكِرِ فِي تَحَقُّقِ الشُّكْرِ اللُّغَوِيِّ، فَإِنْ كَانَتْ النُّسْخَةُ الْأُولَى نُسْخَةَ الشَّيْخِ فَلَعَلَّهُ نَحَا هَذَا الْمَذْهَبَ (قَوْلُهُ: صَرَفَ الْعَبْدُ جَمِيعَ إلَخْ) أَيْ فِي آنٍ وَاحِدٍ كَمَا هُوَ ظَاهِرُ الْعِبَارَةِ، وَيُصَرِّحُ بِهِ مَا نَقَلَهُ الشِّهَابُ بْنُ قَاسِمٍ فِي حَوَاشِي التُّحْفَةِ عَنْ الدَّوَانِيّ، وَذَلِكَ بِأَنْ يَكُونَ الْإِنْسَانُ فِي مَقَامِ الْإِحْسَانِ الْمُشَارِ إلَيْهِ فِي حَدِيثِ جِبْرِيلَ، وَهُوَ أَظْهَرُ مِمَّا صَوَّرَهُ بِهِ شَيْخُنَا فِي حَاشِيَتِهِ كَمَا لَا يَخْفَى (قَوْلُهُ: عَلَى اخْتِصَاصِ الْمَمْدُوحِ) لَعَلَّ الْمُرَادَ بِالِاخْتِصَاصِ التَّحَقُّقُ بِهَذَا النَّوْعِ وَالِاتِّصَافُ بِهِ، لَا أَنَّهُ مُتَفَرِّدٌ بِهِ عَنْ غَيْرِهِ
এটি কেবল জিহ্বার কাজ এবং এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ামত এবং নিয়ামত ছাড়াও অন্য কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর প্রথাগত (শুকর)-এর উৎস হলো জিহ্বা এবং অন্যান্য অঙ্গ, আর এর সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো কেবল নিয়ামত। সুতরাং ভাষাগত (হামদ) সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিচারে ব্যাপকতর এবং উৎসের বিচারে সংকীর্ণতর; আর প্রথাগত (শুকর) এর বিপরীত। ভাষাগতভাবে শুকর হলো: এমন একটি কাজ যা নিয়ামতদাতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে একারণে যে, তিনি কৃতজ্ঞতাকারীর ওপর নিয়ামত দান করেছেন। আর প্রথাগতভাবে শুকর হলো: বান্দা তার প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত শ্রবণশক্তি ও অন্যান্য সকল নিয়ামতকে সেই উদ্দেশ্যেই ব্যয় করা যার জন্য তা সৃষ্টি করা হয়েছে। ভাষাগতভাবে মাদহ (প্রশংসা) হলো: সম্মানের উদ্দেশ্যে নিরঙ্কুশ সুন্দরের ওপর জিহ্বার মাধ্যমে প্রশংসা করা। আর প্রথাগতভাবে মাদহ হলো: যা প্রশংসিত ব্যক্তির কোনো বিশেষ গুণে বিশিষ্ট হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে। 'যাম' (নিন্দা) হলো হামদ-এর বিপরীত, 'কুফরান' (অকৃতজ্ঞতা) হলো শুকর-এর বিপরীত এবং 'হাজউ' (বিদ্রূপ) হলো মাদহ-এর বিপরীত। 'আলহামদুলিল্লাহ' বাক্যটি শব্দগতভাবে বর্ণনামূলক হলেও অর্থগতভাবে তা প্রকাশমূলক; কারণ এর মর্মার্থের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের সাথে সাথে এর মাধ্যমে প্রশংসা অর্জিত হয়।
বলা হয়েছে যে, এটি শব্দ এবং অর্থ উভয় দিক থেকেই বর্ণনামূলক। আবার এটি শরীয়ত কর্তৃক প্রকাশমূলক (ইনশায়িয়াহ) অর্থেও নির্ধারিত হওয়া সম্ভব। হামদ কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট, যেমনটি এই বাক্যটি নির্দেশ করে; চাই এতে সংজ্ঞাবাচক 'লাম' ব্যাপকতা বুঝানোর জন্য হোক—যেমনটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের মত এবং এটিই স্পষ্ট—অথবা তা জাতি বুঝানোর জন্য হোক—যেমনটি জামাখশারীর মত। কারণ 'লিল্লাহ' শব্দের 'লাম' অক্ষরটি বৈশিষ্ট্যায়নের জন্য, তাই আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দিকে এটি প্রত্যাবর্তনের সুযোগ নেই। কেননা প্রকৃতপক্ষে সকল প্রশংসাই আল্লাহর জন্য।
--
[শুবরামাল্লিসীর টীকা] এখানে 'মাওরিদ' (উৎসস্থল) শব্দের পরিবর্তে 'মাসদার' (উৎস) শব্দ ব্যবহার করা অধিক উত্তম হতো; কারণ 'মাওরিদ' হলো সেই জায়গা যেখানে পিপাসার্ত উট পানি পানের জন্য যায়, আর 'মাসদার' হলো যেখান থেকে পানি পানের জন্য নিয়ে আসা হয়। আর জিহ্বা হলো এমন একটি স্থান যেখান থেকে প্রশংসা নির্গত হয়, এমন নয় যে এর ওপর প্রশংসা আপতিত হয়। তবে 'মাওরিদ' শব্দ চয়নের মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, প্রশংসা যেন অন্তর থেকে নির্গত হয়ে জিহ্বায় এসে পৌঁছেছে। (তাঁর বক্তব্য: কৃতজ্ঞতাকারীর ওপর নিয়ামতদাতা হওয়ার কারণে) অর্থাৎ কৃতজ্ঞতাকারী বা অন্য কারো ওপর। চাই সেই অন্য ব্যক্তির সাথে প্রশংসাকারীর কোনো বিশেষ সম্পর্ক থাকুক যেমন সন্তান বা বন্ধু, অথবা না থাকুক—এমনকি সে কাফির হলেও। (তাঁর বক্তব্য: আল্লাহ তাকে যা কিছু দান করেছেন তার সবটুকু) এই নেয়ামত ব্যয় করাকে 'শুকর' নাম দেওয়ার জন্য কি তা একই সময়ে হওয়া শর্ত, নাকি নয়? বরং বিভিন্ন সময়ে হলেও যদি তা আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করা হয় তবে কি তাকে শুকর বলা যাবে? এ বিষয়ে চিন্তার অবকাশ রয়েছে। ইবনে হাজারের ওপর 'শাম' যে টীকা শারহুল মাতালিতে বর্ণনা করেছেন, তার শক্তি প্রথম মতটিকেই সমর্থন করে। আর এর একটি চিত্র এভাবে হতে পারে যে, কোনো ব্যক্তি জানাজা বহন করছে এবং আল্লাহর সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করছে, সামনে তাকিয়ে চলছে যাতে মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে পড়ে না যায়, পায়ে হেঁটে কবরের দিকে যাচ্ছে, জিহ্বাকে জিকিরে মশগুল রেখেছে এবং কানকে সওয়াব রয়েছে এমন কথা শ্রবণে নিয়োজিত রেখেছে—যেমন সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ।
(তাঁর বক্তব্য: সম্মানের উদ্দেশ্যে নিরঙ্কুশভাবে) চাই তা ঐচ্ছিক হোক বা অনৈচ্ছিক। (তাঁর বক্তব্য: নিন্দা হলো প্রশংসার বিপরীত) অর্থাৎ ভাষাগতভাবে এর অর্থ হবে: অন্যের দোষত্রুটি বর্ণনা করা; আর প্রথাগতভাবে: তুচ্ছজ্ঞান প্রকাশ করে এমন কিছু করা, চাই তা জিহ্বা দিয়ে হোক বা অন্য কিছু দিয়ে। তাঁর 'বিপরীত' (নাকিদ) শব্দটি ব্যবহার করার মাঝে কিছুটা রূপকতা রয়েছে; কারণ কোনো জিনিসের পরিপন্থী হলো তার অনুপস্থিতি, আর কেবল প্রশংসা না করাটাই নিন্দা নয়। (তাঁর বক্তব্য: অকৃতজ্ঞতা হলো কৃতজ্ঞতার বিপরীত) এখানে 'কুফর'-এর পরিবর্তে 'কুফরান' শব্দ ব্যবহার করেছেন; কারণ বলা হয়ে থাকে যে, 'কুফর' হলো রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা অকাট্যভাবে জানা থাকা সত্ত্বেও অস্বীকার করা, আর 'কুফরান' হলো নিয়ামত অস্বীকার করা। বুখারীর ওপর অয়নীর ভাষ্য হলো: কুফরান হলো কুফরের মতোই একটি উৎস শব্দ, এ দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো 'কুফর' ধর্মের ক্ষেত্রে এবং 'কুফরান' নিয়ামতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আল-উবাব গ্রন্থে আছে: কুফর হলো ঈমানের বিপরীত, আর আল্লাহর সাথে কুফরি করার ক্ষেত্রে কুফর শব্দ ব্যবহৃত হয়। আবার নিয়ামত অস্বীকার করাকেও কুফর বলা হয় যা শুকরের বিপরীত। আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন। আল-মিসবাহ গ্রন্থে আছে: আল্লাহর সাথে কুফরি করার ক্ষেত্রে 'কুফর' ও 'কুফরান' উভয়টিই ব্যবহৃত হয়, আবার নিয়ামত অস্বীকার করার ক্ষেত্রেও এগুলো ব্যবহৃত হয়।
এটি স্পষ্ট যে, রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা অস্বীকার করার ক্ষেত্রেও 'কুফরান' শব্দটির প্রয়োগ হয়। সুতরাং এটি 'কুফর' শব্দের সমার্থক, তাই অয়নীর বক্তব্যটি এখানে পূর্ণতা পায় না। (তাঁর বক্তব্য: অর্থগতভাবে এর মাধ্যমে প্রশংসা অর্জিত হওয়ার কারণে) এটি প্রকাশমূলক হওয়ার কারণ। (তাঁর বক্তব্য: এটি জায়েজ যে... ইত্যাদি) এটি আরেকটি মত। (তাঁর বক্তব্য: কারণ লিল্লাহ-র লাম অক্ষরটি বৈশিষ্ট্যায়নের জন্য) এর দাবি হলো, লাম যদি বৈশিষ্ট্যায়নের জন্য না হতো তবে তা সীমাবদ্ধতা বুঝাত না। অথচ তারা আরবে উদারতার ন্যায় বিষয়ের ক্ষেত্রে যে বৈশিষ্ট্যায়নের কথা উল্লেখ করেছেন তাতে জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেখানে উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট থাকে; সুতরাং সেখানে জাতিবাচক লামের ক্ষেত্রে বিধেয় নির্দিষ্ট হোক বা না হোক উভয় অবস্থাই সমান। তাই এতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করাই উত্তম।
--
[রশিদী-র টীকা] তাদের উভয়ের প্রমাণ। (তাঁর বক্তব্য: এবং অন্য কিছু) অর্থাৎ গুণাবলি, যা তিনি আগে উল্লেখ করেছেন। (তাঁর বক্তব্য: কৃতজ্ঞতাকারীর ওপর) অর্থাৎ এবং অন্য কারো ওপর, যেমনটি কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে। তবে ফখরুদ্দিন রাযীর তাফসীরের শুরুতে ভাষাগত শুকর সাব্যস্ত হওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতাকারীর নিকট নিয়ামত পৌঁছানোকে শর্ত হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। যদি প্রথম পাণ্ডুলিপিটি শায়খের নিজস্ব হয়, তবে সম্ভবত তিনি এই মতটিই অনুসরণ করেছেন। (তাঁর বক্তব্য: বান্দা ব্যয় করে... ইত্যাদি) অর্থাৎ একই সময়ে, যেমনটি পাঠ থেকে স্পষ্ট হয়। শিহাব বিন কাসিম তুহফার হাশিয়ায় দাওয়ানী থেকে যা নকল করেছেন তা এটিই স্পষ্ট করে। আর তা হলো মানুষ যেন 'ইহসান'-এর স্তরে থাকে যা জিবরাঈলের হাদীসে নির্দেশিত হয়েছে। আর এটিই অধিক স্পষ্ট সেই চিত্রের চেয়ে যা আমাদের শায়খ তার হাশিয়ায় বর্ণনা করেছেন। (তাঁর বক্তব্য: প্রশংসিত ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যের ওপর) সম্ভবত এখানে বৈশিষ্ট্য বলতে এই গুণের বাস্তবতা ও এর দ্বারা গুণান্বিত হওয়া বুঝানো হয়েছে; এটি নয় যে তিনি ছাড়া অন্য কেউ এই গুণের অধিকারী নন।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
لَهُ، إذْ مَا مِنْ خَيْرٍ إلَّا وَهُوَ مُوَلِّيهِ بِوَسَطٍ أَوْ غَيْرِ وَسَطٍ كَمَا قَالَ تَعَالَى {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ} [النحل: 53] وَفِيهِ إشْعَارٌ بِأَنَّهُ تَعَالَى حَيٌّ قَادِرٌ مُرِيدٌ عَالِمٌ، إذْ الْحَمْدُ لَا يَسْتَحِقُّهُ إلَّا مَنْ كَانَ هَذَا شَأْنَهُ، أَمْ لِلْعَهْدِ كَاَلَّتِي فِي قَوْله تَعَالَى {إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ} [التوبة: 40] كَمَا نَقَلَهُ الشَّيْخُ عِزُّ الدِّينِ بْنُ عَبْدِ السَّلَامِ، وَأَجَازَهُ الْوَاحِدِيُّ عَلَى مَعْنَى أَنَّ الْحَمْدَ الَّذِي حَمِدَ اللَّهُ بِهِ نَفْسَهُ وَحَمِدَهُ بِهِ أَنْبِيَاؤُهُ وَأَوْلِيَاؤُهُ مُخْتَصٌّ بِهِ، وَالْعِبْرَةُ بِحَمْدِ مَنْ ذَكَرَ فَلَا مَرَدَّ مِنْهُ لِغَيْرِهِ، وَأَوْلَى الثَّلَاثَةِ الْجِنْسُ، وَلَمَّا كَانَ اسْتِحْقَاقُهُ لِجَمِيعِ الْمَحَامِدِ لِذَاتِهِ لَمْ يَقُلْ الْحَمْدُ لِلْخَالِقِ أَوْ لِلرَّازِقِ أَوْ نَحْوِهِ لِئَلَّا يُوهِمَ أَنَّ اسْتِحْقَاقَهُ الْحَمْدَ لِذَلِكَ الْوَصْفِ، إذْ تَعْلِيقُ الْحُكْمِ بِالْمُشْتَقِّ يُشْعِرُ بِعِلِّيَّةِ الْمُشْتَقِّ مِنْهُ لِذَلِكَ الْحُكْمِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ثَمَانِيَةُ أَحْرُفٍ وَأَبْوَابُ الْجَنَّةِ ثَمَانِيَةٌ، فَمَنْ قَالَهَا عَنْ صَفَاءِ قَلْبِهِ اسْتَحَقَّ ثَمَانِيَةَ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ.
(الْبَرُّ) بِفَتْحِ الْبَاءِ: أَيْ الْمُحْسِنُ، وَقِيلَ اللَّطِيفُ، وَقِيلَ الصَّادِقُ فِيمَا وَعَدَ، وَقِيلَ خَالِقُ الْبِرِّ بِكَسْرِ الْبَاءِ الَّذِي هُوَ اسْمٌ جَامِعٌ لِلْخَيْرِ، وَقِيلَ الرَّفِيقُ بِعِبَادِهِ يُرِيدُ بِهِمْ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِهِمْ الْعُسْرَ، وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ مِنْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَا يُؤَاخِذُهُمْ بِجَمِيعِ جِنَايَاتِهِمْ، وَيَجْزِيهِمْ بِالْحَسَنَةِ عَشْرَ أَمْثَالِهَا وَلَا يَجْزِيهِمْ بِالسَّيِّئَةِ إلَّا مِثْلَهَا، وَيَكْتُبُ لَهُمْ الْهَمَّ بِالْحَسَنَةِ وَلَا يَكْتُبُ عَلَيْهِمْ الْهَمَّ بِالسَّيِّئَةِ، ذَكَرَهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي كِتَابِهِ الْأَسْمَاءُ وَالصِّفَاتُ (الْجَوَادُ)
ــ
[حاشية الشبراملسي] مُسْتَفَادًا مِنْ كَوْنِ الْمُبْتَدَإِ فِيهِ مُعَرَّفًا فَاللَّامُ الْجِنْسِ، وَقَدْ أَشَارَ إلَى أَنَّ الْمُبْتَدَأَ الْمُعَرَّفَ فَاللَّامُ الْجِنْسِ مَحْصُورٌ فِي الْخَبَرِ شَيْخُنَا الْعَلَّامَةُ الْأُجْهُورِيُّ بِقَوْلِهِ:
مُبْتَدَأٌ فَاللَّامُ جِنْسٍ عُرِّفَا
… مُنْحَصِرٌ فِي مُخْبِرٍ بِهِ وَفَا
وَإِنْ عُرِّيَ مِنْهَا وَعُرِّفَ الْخَبَرْ
… بِاللَّامِ مُطْلَقًا فَعَكْسٌ اسْتَقَرْ
اهـ.
(قَوْلُهُ: وَفِيهِ إشْعَارٌ) أَيْ فِي اخْتِصَاصِهِ بِاَللَّهِ (قَوْلُهُ: وَالْعِبْرَةُ بِحَمْدِ مَنْ ذُكِرَ) أَيْ أَمَّا حَمْدُ غَيْرِهِمْ فَكَالْعَدِمِ فَإِذَا صَدَرَ مِنْهُمْ حَمْدٌ لِغَيْرِهِ تَعَالَى لَا يَفُوتُ اخْتِصَاصُ الْحَمْدِ بِهِ لِمَا مَرَّ مِنْ أَنَّهُ بِمَنْزِلَةِ الْعَدَمِ (قَوْلُهُ: وَأَوْلَى الثَّلَاثَةِ الْجِنْسُ) أَيْ؛ لِأَنَّهُ يَدُلُّ بِالِالْتِزَامِ عَلَى ثُبُوتِ جَمِيعِ الْمَحَامِدِ لَهُ فَهُوَ اسْتِدْلَالٌ بُرْهَانِيٌّ، وَهُوَ كَدَعْوَى الشَّيْءِ بِبَيِّنَةٍ الَّذِي هُوَ أَقْوَى مِنْ الدَّعْوَةِ الْمُجَرَّدَةِ (قَوْلُهُ أَوْ نَحْوِهِ) أَيْ مَا ذُكِرَ (قَوْلُهُ: اسْتَحَقَّ ثَمَانِيَةَ أَبْوَابٍ) أَيْ اسْتَحَقَّ أَنْ يَدْخُلَ مِنْ أَيُّهَا شَاءَ فَيُخَيَّرُ بَيْنَهَا إكْرَامًا لَهُ، وَإِنَّمَا يَخْتَارُ مَا سَبَقَ فِي عِلْمِ اللَّهِ أَنَّهُ يَدْخُلُ مِنْهُ، فَلَا مُنَافَاةَ بَيْنَ كَوْنِهِ إنَّمَا يَدْخُلُ مِنْ الْبَابِ الَّذِي عَلِمَ اللَّهُ أَنَّهُ يَدْخُلُ مِنْهُ وَبَيْنَ تَخْيِيرِهِ بَيْنَ الثَّمَانِيَةِ أَبْوَابٍ (قَوْلُهُ وَقِيلَ اللَّطِيفُ) أَشْعَرَتْ حِكَايَتُهُ مَا عَدَا الْأَوَّلَ بِقِيلٍ بِضَعْفِهِ، وَيُوَافِقُهُ بَلْ يُصَرِّحُ بِهِ قَوْلُ ابْنِ حَجَرٍ، فَتَفْسِيرُهُ بِاللَّطِيفِ أَوْ الْعَالِي فِي صِفَاتِهِ أَوْ الْخَالِقِ الْبَرِّ أَوْ الصَّادِقِ فِيمَا وَعَدَ أَوْلِيَاءَهُ بَعِيدٌ: أَيْ لِمَا قَدَّمَهُ مِنْ أَنَّ الْبِرَّ بِسَائِرِ مَوَادِّهِ يَرْجِعُ لِلْإِحْسَانِ كَبَّرَ فِي يَمِينِهِ: أَيْ صَدَقَ، وَكَبَّرَ اللَّهُ حَجَّهُ: أَيْ قَبِلَهُ، وَأَبَرَّ فُلَانٌ عَلَى أَصْحَابِهِ: أَيْ عَلَاهُمْ، قَالَ: إلَّا أَنْ يُرَادَ بَعْضُ مَاصَدَقَاتِ أَوْ غَايَاتِ الْبِرِّ اهـ لَكِنْ نَازَعَهُ سم بِأَنَّ رُجُوعَهَا إلَيْهِ: أَيْ الْإِحْسَانِ لَا يَقْتَضِي أَنَّهُ الْمَدْلُولُ لِجَوَازِ أَنَّهَا الْمَدْلُولُ مِنْ حَيْثُ خُصُوصِهَا بَلْ ظَاهِرُ الْكَلَامِ ذَلِكَ فَتَأَمَّلْهُ.
(قَوْلُهُ: فِيمَا وَعَدَ) زَادَ ابْنُ حَجَرٍ أَوْلِيَاءَهُ (قَوْلُهُ: وَلَا يَكْتُبُ عَلَيْهِمْ الْهَمَّ بِالسَّيِّئَةِ) أَيْ حَيْثُ يُصَمِّمُوا عَلَيْهَا، وَإِلَّا كَتَبَ عَلَيْهِمْ إثْمَ التَّصْمِيمِ دُونَ إثْمِ السَّيِّئَةِ الَّتِي هَمُّوا بِهَا (قَوْلُهُ: الْجَوَادُ) وَالْإِشْعَارُ الْعَاطِفُ بِالتَّغَايُرِ الْحَقِيقِيِّ أَوْ الْمُنَزَّلِ مَنْزِلَتَهُ حُذِفَ هُنَا كَقَوْلِهِ تَعَالَى الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ مُسْلِمَاتٌ مُؤْمِنَاتٌ التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْآيَاتِ، وَأَتَى بِهِ فِي نَحْوِ الْأَوَّلِ وَالْآخَرِ ثَيِّبَاتٍ وَأَبْكَارًا الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنْ الْمُنْكَرِ ابْنُ حَجَرٍ، وَقَوْلُهُ
ــ
[حاشية الرشيدي] قَوْلُهُ: لَمْ يَقُلْ الْحَمْدُ لِلْخَالِقِ) أَيْ ابْتِدَاءً فَلَا يُنَافِيهِ أَنَّهُ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ الْبَرَّ الْجَوَّادَ إلَخْ وَأَشَارَ الْمُصَنِّفُ بِهَذَا الصَّنِيعِ إلَى اسْتِحْقَاقِهِ تَعَالَى لِلْحَمْدِ لِذَاتِهِ أَوَّلًا وَبِالذَّاتِ، وَلِصِفَاتِهِ ثَانِيًا وَبِالْعَرْضِ.
(قَوْلُهُ: أَيْ الْمُحْسِنِ) رَجَعَ إلَيْهِ الشِّهَابُ ابْنُ حَجَرٍ جَمِيعَ الْأَقْوَالِ الْآتِيَةِ، فَمَا قَالُوهُ فِيهَا مَاصَدَقَاتٌ أَوْ غَايَاتٌ لِلْإِحْسَانِ (قَوْلُهُ: وَلَا يُكْتَبُ عَلَيْهِمْ الْهَمُّ) أَيْ وَإِنْ صَمَّمُوا؛ لِأَنَّهُمْ إذَا صَمَّمُوا إنَّمَا يُكْتَبُ عَلَيْهِمْ التَّصْمِيمُ الْمُسَمَّى بِالْعَزْمِ الَّذِي هُوَ رُتْبَةٌ فَوْقَ الْهَمِّ، وَإِنَّمَا يُكْتَبُ عَلَيْهِمْ
লَهُ، إذْ مَا مِنْ خَيْرٍ إلَّا وَهُوَ مُوَلِّيهِ بِوَسَطٍ أَوْ غَيْرِ وَسَطٍ كَمَا قَالَ تَعَالَى {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ} [النحل: 53] وَفِيهِ إشْعَارٌ بِأَنَّهُ تَعَالَى حَيٌّ قَادِرٌ مُرِيدٌ عَالِمٌ، إذْ الْحَمْدُ لَا يَسْتَحِقُّهُ إلَّا مَنْ كَانَ هَذَا شَأْنَهُ، أَمْ لِلْعَهْدِ كَاَلَّتِي فِي قَوْله تَعَالَى {إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ} [التوبة: 40] كَمَا نَقَلَهُ الشَّيْخُ عِزُّ الدِّينِ بْنُ عَبْدِ السَّلَامِ، وَأَجَازَهُ الْوَاحِدِيُّ عَلَى مَعْنَى أَنَّ الْحَمْدَ الَّذِي حَمِدَ اللَّهُ بِهِ نَفْسَهُ وَحَمِدَهُ بِهِ أَنْبِيَاؤُهُ وَأَوْلِيَاؤُهُ مُخْتَصٌّ بِهِ، وَالْعِبْرَةُ بِحَمْدِ مَنْ ذَكَرَ فَلَا مَرَدَّ مِنْهُ لِغَيْرِهِ، وَأَوْلَى الثَّلَاثَةِ الْجِنْسُ، وَلَمَّا كَانَ اسْتِحْقَاقُهُ لِجَمِيعِ الْمَحَامِدِ لِذَاتِهِ لَمْ يَقُلْ الْحَمْدُ لِلْخَالِقِ أَوْ لِلرَّازِقِ أَوْ نَحْوِهِ لِئَلَّا يُوهِمَ أَنَّ اسْتِحْقَاقَهُ الْحَمْدَ لِذَلِكَ الْوَصْفِ، إذْ تَعْلِيَقُ الْحُكْمِ بِالْمُشْتَقِّ يُشْعِرُ بِعِلِّيَّةِ الْمُشْتَقِّ مِنْهُ لِذَلِكَ الْحُكْمِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ثَمَانِيَةُ أَحْرُفٍ وَأَبْوَابُ الْجَنَّةِ ثَمَانِيَةٌ، فَمَنْ قَالَهَا عَنْ صَفَاءِ قَلْبِهِ اسْتَحَقَّ ثَمَانِيَةَ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ।
সমস্ত প্রশংসা কেবল তাঁরই জন্য, কারণ এমন কোনো কল্যাণ নেই যা মাধ্যম বা মাধ্যম ছাড়াই তাঁর পক্ষ হতে আসে না, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমাদের কাছে যে নেয়ামত রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই} [আন-নাহল: ৫৩]। এর মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা চিরঞ্জীব, সর্বশক্তিমান, ইচ্ছাকারী এবং সর্বজ্ঞ; কারণ প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য তিনিই যার বৈশিষ্ট্য এমন। অথবা এখানে 'লাম' ব্যবহৃত হয়েছে পরিচিতি বা পূর্ব-উল্লিখিত (আহদ) অর্থে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণী: {যখন তারা দুজন গুহার মধ্যে ছিল} [আত-তাওবা: ৪০]। এটি শায়খ ইযযুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম ওয়াহিদী একে এই অর্থে বৈধ বলেছেন যে, যে প্রশংসার মাধ্যমে আল্লাহ নিজের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর নবী ও ওলীগণ তাঁর প্রশংসা করেছেন, তা কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট। এক্ষেত্রে যারা প্রশংসা করেছেন তাদের প্রশংসাই ধর্তব্য, তাই অন্য কারও দিকে তা ফেরার অবকাশ নেই। তবে এই তিন প্রকারের মধ্যে 'জিনস' (জাতিবাচক) হওয়াটাই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য। আর যেহেতু তাঁর সত্তার কারণেই তিনি সমস্ত প্রশংসার যোগ্য, তাই তিনি 'সৃষ্টিকর্তার জন্য প্রশংসা' বা 'রিযিকদাতার জন্য প্রশংসা' বা অনুরূপ কিছু বলেননি; যাতে এমন কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয় যে তাঁর প্রশংসা পাওয়ার যোগ্যতা কেবল সেই নির্দিষ্ট গুণাবলীর কারণে। কারণ কোনো বিধানকে কোনো ব্যুৎপন্ন শব্দের সাথে সম্পৃক্ত করা সেই বিধানের কারণ হিসেবে উক্ত শব্দের মূলকে নির্দেশ করে। আর 'আল-হামদুলিল্লাহ' বাক্যটি আটটি অক্ষর বিশিষ্ট এবং জান্নাতের দরজাও আটটি। সুতরাং যে ব্যক্তি স্বচ্ছ অন্তরে এটি বলবে, সে জান্নাতের আটটি দরজারই হকদার হবে।
(الْبَرُّ) بِفَتْحِ الْبَاءِ: أَيْ الْمُحْسِنُ، وَقِيلَ اللَّطِيفُ، وَقِيلَ الصَّادِقُ فِيمَا وَعَدَ، وَقِيلَ خَالِقُ الْبِرِّ بِكَسْرِ الْبَاءِ الَّذِي هُوَ اسْمٌ جَامِعٌ لِلْخَيْرِ، وَقِيلَ الرَّفِيقُ بِعِبَادِهِ يُرِيدُ بِهِمْ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِهِمْ الْعُسْرَ، وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ مِنْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَا يُؤَاخِذُهُمْ بِجَمِيعِ جِنَايَاتِهِمْ، وَيَجْزِيهِمْ بِالْحَسَنَةِ عَشْرَ أَمْثَالِهَا وَلَا يَجْزِيهِمْ بِالسَّيِّئَةِ إلَّا مِثْلَهَا، وَيَكْتُبُ لَهُمْ الْهَمَّ بِالْحَسَنَةِ وَلَا يَكْتُبُ عَلَيْهِمْ الْهَمَّ بِالسَّيِّئَةِ، ذَكَرَهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي كِتَابِهِ الْأَسْمَاءُ وَالصِّفَاتُ (الْجَوَادُ)
(আল-বার্) বা-তে যবর সহ: অর্থাৎ পরম হিতৈষী। কেউ বলেছেন: পরম দয়ালু। কেউ বলেছেন: প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সত্যবাদী। কেউ বলেছেন: 'বির' (বা-তে যের সহ)-এর স্রষ্টা, যা কল্যাণের একটি সামষ্টিক নাম। কেউ বলেছেন: বান্দাদের প্রতি কোমল, তিনি তাদের জন্য সহজতা চান এবং কাঠিন্য চান না; তিনি তাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং তাদের সকল অপরাধের জন্য পাকড়াও করেন না। তিনি একটি নেকির বিনিময়ে দশগুণ প্রতিদান দেন এবং একটি পাপের বদলে কেবল সমপরিমাণ শাস্তি দেন। তিনি তাদের কল্যাণের সংকল্প করলে তা নেকি হিসেবে লিখে দেন, কিন্তু মন্দ কাজের সংকল্প করলে তা গোনাহ হিসেবে লেখেন না। ইমাম বায়হাকী তাঁর 'আল-আসমা ওয়া আস-সিফাত' কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন। (আল-জাওয়াদ/পরম দাতা)।
ــ
[হাশিয়া আশ-শুবরামাল্লিসি]
مُسْتَفَادًا مِنْ كَوْنِ الْمُبْتَدَإِ فِيهِ مُعَرَّفًا فَاللَّامُ الْجِنْسِ، وَقَدْ أَشَارَ إلَى أَنَّ الْمُبْتَدَأَ الْمُعَرَّفَ فَاللَّامُ الْجِنْسِ مَحْصُورٌ فِي الْخَبَرِ شَيْخُنَا الْعَلَّامَةُ الْأُجْهُورِيُّ بِقَوْلِهِ:
এটি মুক্তাদা (উদ্দেশ্য) নির্দিষ্ট হওয়ার কারণে গৃহীত হয়েছে, ফলে 'লাম'টি জাতিবাচক (জিনস)। আমাদের শায়খ আল্লামা আল-উজহুরী ইঙ্গিত করেছেন যে, মুক্তাদা যদি 'লাম'-এ জিনস দ্বারা নির্দিষ্ট হয় তবে তা খবরে (বিধেয়) সীমাবদ্ধ থাকে। তিনি বলেন:
مُبْتَدَأٌ فَاللَّامُ جِنْسٍ عُرِّفَا
… مُنْحَصِرٌ فِي مُخْبِرٍ بِهِ وَفَا
মুক্তাদা যদি 'লাম'-এ জিনস দ্বারা নির্দিষ্ট হয়, তবে তা খবরে সীমাবদ্ধ হওয়ার পূর্ণতা পায়।
وَإِنْ عُرِّيَ مِنْهَا وَعُرِّفَ الْخَبَرْ
… بِاللَّامِ مُطْلَقًا فَعَكْسٌ اسْتَقَرْ
আর যদি তা মুক্ত থাকে এবং খবরটি 'লাম' দ্বারা নির্দিষ্ট হয়, তবে বিষয়টি বিপরীতভাবে স্থির হয়।
اهـ.
সমাপ্ত।
(قَوْلُهُ: وَفِيهِ إشْعَارٌ) أَيْ فِي اخْتِصَاصِهِ بِاَللَّهِ (قَوْلُهُ: وَالْعِبْرَةُ بِحَمْدِ مَنْ ذُكَرَ) أَيْ أَمَّا حَمْدُ غَيْرِهِمْ فَكَالْعَدِمِ فَإِذَا صَدَرَ مِنْهُمْ حَمْدٌ لِغَيْرِهِ تَعَالَى لَا يَفُوتُ اخْتِصَاصُ الْحَمْدِ بِهِ لِمَا مَرَّ مِنْ أَنَّهُ بِمَنْزِلَةِ الْعَدَمِ (قَوْلُهُ: وَأَوْلَى الثَّلَاثَةِ الْجِنْسُ) أَيْ؛ لِأَنَّهُ يَدُلُّ بِالِالْتِزَامِ عَلَى ثُبُوتِ جَمِيعِ الْمَحَامِدِ لَهُ فَهُوَ اسْتِدْلَالٌ بُرْهَانِيٌّ، وَهُوَ كَدَعْوَى الشَّيْءِ بِبَيِّنَةٍ الَّذِي هُوَ أَقْوَى مِنْ الدَّعْوَةِ الْمُجَرَّدَةِ (قَوْلُهُ أَوْ نَحْوِهِ) أَيْ مَا ذُكَرَ (قَوْلُهُ: اسْتَحَقَّ ثَمَانِيَةَ أَبْوَابٍ) أَيْ اسْتَحَقَّ أَنْ يَدْخُلَ مِنْ أَيُّهَا شَاءَ فَيُخَيَّرُ بَيْنَهَا إكْرَامًا لَهُ، وَإِنَّمَا يَخْتَارُ مَا سَبَقَ فِي عِلْمِ اللَّهِ أَنَّهُ يَدْخُلُ مِنْهُ، فَلَا مُنَافَاةَ بَيْنَ كَوْنِهِ إنَّمَا يَدْخُلُ مِنْ الْبَابِ الَّذِي عَلِمَ اللَّهُ أَنَّهُ يَدْخُلُ مِنْهُ وَبَيْنَ تَخْيِيرِهِ بَيْنَ الثَّمَانِيَةِ أَبْوَابٍ (قَوْلُهُ وَقِيلَ اللَّطِيفُ) أَشْعَرَتْ حِكَايَتُهُ مَا عَدَا الْأَوَّلَ بِقِيلٍ بِضَعْفِهِ، وَيُوَافِقُهُ بَلْ يُصَرِّحُ بِهِ قَوْلُ ابْنِ حَجَرٍ، فَتَفْسِيرُهُ بِاللَّطِيفِ أَوْ الْعَالِي فِي صِفَاتِهِ أَوْ الْخَالِقِ الْبَرِّ أَوْ الصَّادِقِ فِيمَا وَعَدَ أَوْلِيَاءَهُ بَعِيدٌ: أَيْ لِمَا قَدَّمَهُ مِنْ أَنَّ الْبِرَّ بِسَائِرِ مَوَادِّهِ يَرْجِعُ لِلْإِحْسَانِ كَبَّرَ فِي يَمِينِهِ: أَيْ صَدَقَ، وَكَبَّرَ اللَّهُ حَجَّهُ: أَيْ قَبِلَهُ، وَأَبَرَّ فُلَانٌ عَلَى أَصْحَابِهِ: أَيْ عَلَاهُمْ، قَالَ: إلَّا أَنْ يُرَادَ بَعْضُ مَاصَدَقَاتِ أَوْ غَايَاتِ الْبِرِّ اهـ لَكِنْ نَازَعَهُ سم بِأَنَّ رُجُوعَهَا إلَيْهِ: أَيْ الْإِحْسَانِ لَا يَقْتَضِي أَنَّهُ الْمَدْلُولُ لِجَوَازِ أَنَّهَا الْمَدْلُولُ مِنْ حَيْثُ خُصُوصِهَا بَلْ ظَاهِرُ الْكَلَامِ ذَلِكَ فَتَأَمَّلْهُ।
(তাঁর উক্তি: এর মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে) অর্থাৎ আল্লাহর সাথে এর নির্দিষ্ট হওয়ার বিষয়ে। (তাঁর উক্তি: যারা প্রশংসা করেছেন তাদের প্রশংসাই ধর্তব্য) অর্থাৎ অন্যদের প্রশংসা অস্তিত্বহীনর ন্যায়। সুতরাং তাদের পক্ষ থেকে অন্য কারও জন্য কোনো প্রশংসা প্রকাশিত হলেও আল্লাহর জন্য প্রশংসার নির্দিষ্টতা নষ্ট হয় না, কারণ আগে বলা হয়েছে যে তা অস্তিত্বহীনর সমান। (তাঁর উক্তি: তিনটির মধ্যে জাতিবাচক হওয়া প্রধান) অর্থাৎ কারণ এটি আনুষঙ্গিক নির্দেশনার মাধ্যমে প্রমাণ করে যে সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য সাব্যস্ত; ফলে এটি একটি অকাট্য দালিলিক প্রমাণ। এটি প্রমাণের মাধ্যমে কোনো দাবি পেশ করার মতো, যা কেবল নিছক দাবির চেয়ে শক্তিশালী। (তাঁর উক্তি: অথবা অনুরূপ) অর্থাৎ যা উল্লেখ করা হয়েছে। (তাঁর উক্তি: আটটি দরজার হকদার হবে) অর্থাৎ যে কোনোটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করার যোগ্য হবে এবং তাকে সম্মানিত করার জন্য পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে সে তা দিয়েই প্রবেশ করবে যা আল্লাহর জ্ঞানে আগে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে। সুতরাং আল্লাহ যে দরজা দিয়ে তার প্রবেশ নিশ্চিত জেনেছেন সেটি এবং আটটি দরজার মধ্যে তাকে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। (তাঁর উক্তি: কেউ বলেছেন পরম দয়ালু) প্রথমটি ছাড়া বাকিগুলো 'কেউ বলেছেন' শব্দ দিয়ে বর্ণনা করা এর দুর্বলতার প্রতি ইঙ্গিত করে। ইবনে হাজারের বক্তব্য এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বরং স্পষ্ট; তিনি বলেছেন: 'বার্'-এর ব্যাখ্যা 'লতিফ' (পরম দয়ালু) বা সুউচ্চ গুণসম্পন্ন বা কল্যাণের স্রষ্টা বা ওলীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে সত্যবাদী হিসেবে করা দূরবর্তী সম্ভাবনা। অর্থাৎ যেহেতু তিনি আগে উল্লেখ করেছেন যে 'বার্' শব্দটির সকল ব্যুৎপত্তি 'ইহসান' বা দয়ার দিকেই ফিরে যায়; যেমন শপথ রক্ষা করলে বলা হয় 'সে সত্য বলেছে'; আল্লাহ কারও হজ কবুল করলে বলা হয় 'আল্লাহ তা কবুল করেছেন'; কেউ সঙ্গীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব পেলে বলা হয় 'সে তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে'। তিনি বলেন: তবে যদি 'বার্'-এর কিছু প্রয়োগস্থল বা ফলাফল উদ্দেশ্য হয় তবে ভিন্ন কথা। তবে 'সম' (ইবনুল কাসিম) এর বিরোধিতা করে বলেছেন যে, এগুলোর উৎস 'দয়া' হওয়ার অর্থ এই নয় যে এটিই একমাত্র অর্থ; বরং বিশেষত্বের দিক থেকে এগুলোও অর্থ হওয়া সম্ভব এবং শব্দের বাহ্যিক রূপ তাই নির্দেশ করে, সুতরাং বিষয়টি ভেবে দেখুন।
(قَوْلُهُ: فِيمَا وَعَدَ) زَادَ ابْنُ حَجَرٍ أَوْلِيَاءَهُ (قَوْلُهُ: وَلَا يَكْتُبُ عَلَيْهِمْ الْهَمَّ بِالسَّيِّئَةِ) أَيْ حَيْثُ يُصَمِّمُوا عَلَيْهَا، وَإِلَّا كَتَبَ عَلَيْهِمْ إثْمَ التَّصْمِيمِ دُونَ إثْمِ السَّيِّئَةِ الَّتِي هَمُّوا بِهَا (قَوْلُهُ: الْجَوَادُ) وَالْإِشْعَارُ الْعَاطِفُ بِالتَّغَايُرِ الْحَقِيقِيِّ أَوْ الْمُنَزَّلِ مَنْزِلَتَهُ حُذِفَ هُنَا كَقَوْلِهِ تَعَالَى الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ مُسْلِمَاتٌ مُؤْمِنَاتٌ التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْآيَاتِ، وَأَتَى بِهِ فِي نَحْوِ الْأَوَّلِ وَالْآخَرِ ثَيِّبَاتٍ وَأَبْكَارًا الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنْ الْمُنْكَرِ ابْنُ حَجَرٍ، وَقَوْلُهُ
(তাঁর উক্তি: যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন) ইবনে হাজার 'তাঁর ওলীদের' শব্দটি যোগ করেছেন। (তাঁর উক্তি: মন্দ কাজের সংকল্প করলে তা লেখেন না) অর্থাৎ যদি তারা তা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়; অন্যথায় তাদের ওপর সেই সিদ্ধান্তের গোনাহ লেখা হবে, কিন্তু যে মন্দ কাজের সংকল্প করেছিল তার গোনাহ লেখা হবে না। (তাঁর উক্তি: আল-জাওয়াদ) আর প্রকৃত ভিন্নতা বা ভিন্নতার পর্যায়ভুক্ত কোনো কিছুর জন্য যে সংযোজক অব্যয় ব্যবহার করা হয়, তা এখানে বিলুপ্ত করা হয়েছে; যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল-মালিকুল কুদ্দুস}, {মুসলিমাতিন মু’মিনাতিন}, {আত-তাইবুন আল-আবিদুন} আয়াতসমূহে। আবার 'আল-আউয়াল ওয়াল আখির', 'সায়্যিবাতিও ওয়া আবকারা', 'আল-আমিরুনা বিল মারুফি ওয়ান নাহুনা আনিল মুনকার' এগুলোতে তা আনা হয়েছে। ইবনে হাজার। এবং তাঁর উক্তি:
ــ
[হাশিয়া আর-রশিদী]
قَوْلُهُ: لَمْ يَقُلْ الْحَمْدُ لِلْخَالِقِ) أَيْ ابْتِدَاءً فَلَا يُنَافِيهِ أَنَّهُ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ الْبَرَّ الْجَوَّادَ إلَخْ وَأَشَارَ الْمُصَنِّفُ بِهَذَا الصَّنِيعِ إلَى اسْتِحْقَاقِهِ تَعَالَى لِلْحَمْدِ لِذَاتِهِ أَوَّلًا وَبِالذَّاتِ، وَلِصِفَاتِهِ ثَانِيًا وَبِالْعَرْضِ।
(তাঁর উক্তি: সৃষ্টিকর্তার জন্য প্রশংসা বলেননি) অর্থাৎ শুরুতে বলেননি। সুতরাং এটি পরবর্তীতে 'আল-বার্ আল-জাওয়াদ' ইত্যাদি বলার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। গ্রন্থকার এই কর্মের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা প্রথমত এবং মূলত তাঁর সত্তার কারণে প্রশংসার যোগ্য, আর দ্বিতীয়ত তাঁর গুণাবলীর কারণে পরোক্ষভাবে প্রশংসার যোগ্য।
(قَوْلُهُ: أَيْ الْمُحْسِنِ) رَجَعَ إلَيْهِ الشِّهَابُ ابْنُ حَجَرٍ جَمِيعَ الْأَقْوَالِ الْآتِيَةِ، فَمَا قَالُوهُ فِيهَا مَاصَدَقَاتٌ أَوْ غَايَاتٌ لِلْإِحْسَانِ (قَوْلُهُ: وَلَا يُكْتَبُ عَلَيْهِمْ الْهَمُّ) أَيْ وَإِنْ صَمَّمُوا؛ لِأَنَّهُمْ إذَا صَمَّمُوا إنَّمَا يُكْتَبُ عَلَيْهِمْ التَّصْمِيمُ الْمُسَمَّى بِالْعَزْمِ الَّذِي هُوَ رُتْبَةٌ فَوْقَ الْهَمِّ، وَإِنَّمَا يُكْتَبُ عَلَيْهِمْ
(তাঁর উক্তি: অর্থাৎ হিতৈষী) শিহাব ইবনে হাজার পরবর্তী সকল মতকে এর দিকেই ফিরিয়ে নিয়েছেন। সুতরাং তারা যা বলেছেন তা দয়ারই বিভিন্ন প্রয়োগস্থল বা ফলাফল মাত্র। (তাঁর উক্তি: তাদের ওপর সংকল্প লেখা হয় না) অর্থাৎ যদিও তারা দৃঢ় সংকল্প করে; কারণ যখন তারা দৃঢ় সংকল্প করে তখন তাদের ওপর সেই দৃঢ় সংকল্প বা 'আযম' লেখা হয় যা সাধারণ সংকল্প বা 'হাম্ম'-এর চেয়ে উচ্চতর স্তর। আর তাদের ওপর লেখা হয়...
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
بِالتَّخْفِيفِ: أَيْ الْكَثِيرُ الْجُودِ أَيْ الْعَطَاءِ، قِيلَ لَمْ يُرَدْ بِالْجَوَادِ تَوْقِيفٌ وَأَسْمَاؤُهُ تَعَالَى تَوْقِيفِيَّةٌ، فَلَا يَجُوزُ اخْتِرَاعُ اسْمٍ أَوْ وَصْفٍ لَهُ سبحانه وتعالى إلَّا بِقُرْآنٍ أَوْ خَبَرٍ صَحِيحٍ مُصَرِّحٍ بِهِ لَا بِأَصْلِهِ الَّذِي اُشْتُقَّ مِنْهُ فَحَسَبُ: أَيْ وَبِشَرْطِ أَنْ لَا يَكُونَ ذِكْرُهُ لِمُقَابَلَةٍ كَمَا هُوَ ظَاهِرُ نَحْوِ {أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ} [الواقعة: 64] {وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} [آل عمران: 54] وَلَيْسَ كَذَلِكَ، بَلْ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي الْأَسْمَاءِ وَالصِّفَاتِ مُرْسَلًا وَاعْتَضَدَ بِمُسْنَدٍ وَبِالْإِجْمَاعِ.
(الَّذِي جَلَّتْ) أَيْ عَظُمَتْ وَالْجَلِيلُ الْعَظِيمُ (نِعَمُهُ) جَمْعُ نِعْمَةٍ بِكَسْرِ النُّونِ بِمَعْنَى إنْعَامٍ وَهُوَ الْإِحْسَانُ، وَأَمَّا النَّعْمَةُ بِفَتْحِ النُّونِ فَهِيَ التَّنَعُّمُ وَبِضَمِّهَا الْمَسَرَّةُ (عَنْ الْإِحْصَاءِ) بِكَسْرِ الْهَمْزَةِ وَبِالْمَدِّ: أَيْ الضَّبْطِ قَالَ تَعَالَى {أَحْصَاهُ اللَّهُ وَنَسُوهُ} [المجادلة: 6] (بِالْأَعْدَادِ) بِفَتْحِ الْهَمْزَةِ: أَيْ
ــ
[حاشية الشبراملسي] الْهَمَّ إذَا اتَّصَلَ بِالْفِعْلِ كَمَا صَرَّحَتْ بِهِ عِبَارَةُ جَمْعِ الْجَوَامِعِ خِلَافًا لِمَا وَقَعَ لِشَيْخِنَا فِي حَاشِيَتِهِ (قَوْلُهُ: أَيْ الْعَطَاءِ) كَذَا فِي نُسَخٍ، وَفَسَّرَهَا شَيْخُنَا فِي حَاشِيَتِهِ بِالْإِعْطَاءِ: أَيْ لِأَنَّ الْعَطَاءَ هُوَ الشَّيْءُ الْمُعْطَى، وَالْقَصْدُ وَصْفُ اللَّهِ تَعَالَى بِكَثْرَةِ الْإِسْدَاءِ وَالْإِعْطَاءِ، فَاَللَّهُ سبحانه وتعالى كَثِيرُ الْبَذْلِ وَالْإِعْطَاءِ لَا يَنْقَطِعُ إعْطَاؤُهُ فِي وَقْتٍ وَيُعْطِي الْقَلِيلَ وَالْكَثِيرَ، وَلَيْسَ الْقَصْدُ أَنَّهُ إذَا أَعْطَى لَا يُعْطِي إلَّا كَثِيرًا الصَّادِقَ بِالْإِعْطَاءِ مَرَّةً وَاحِدَةً؛ لِأَنَّهُ خِلَافُ الْوَاقِعِ، عَلَى أَنَّهُ فِي نُسَخٍ أَيْ الْإِعْطَاءَ: ثُمَّ لَا بُدَّ مِنْ تَقْيِيدِ الْجُودِ بِأَنَّهُ إعْطَاءُ مَا يَنْبَغِي لِمَنْ يَنْبَغِي كَمَا فَسَّرُوهُ بِهِ (قَوْلُهُ أَوْ خَبَرٍ صَحِيحٍ) أَيْ أَوْ حَسَنٍ كَمَا قَالَهُ الشِّهَابُ ابْنُ حَجَرٍ فِي شَرْحِ الْأَرْبَعِينَ (قَوْلُهُ: بِمَعْنَى إنْعَامٍ) لَمْ يُبْقِهِ عَلَى ظَاهِرِهِ لِمَا فِيهِ مِنْ إبْهَامِ أَنَّ سَبَبَ عَدَمِ حَصَرِهَا جَمْعُهَا فَيُنَافِي صَرِيحًا {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ} [إبراهيم: 34] الْمُقْتَضِي انْتِفَاءَ الْإِحْصَاءِ عَنْ كُلِّ فَرْدٍ فَرْدٍ مِنْ النِّعَمِ
ــ
[حاشية الرشيدي] الْهَمُّ إذَا اتَّصَلَ بِالْفِعْلِ كَمَا صَرَّحَتْ بِهِ عِبَارَةُ جَمْعِ الْجَوَامِعِ خِلَافًا لِمَا وَقَعَ لِشَيْخِنَا فِي حَاشِيَتِهِ (قَوْلُهُ: أَيْ الْعَطَاءُ) كَذَا فِي نُسَخٍ، وَفَسَّرَهَا شَيْخُنَا فِي حَاشِيَتِهِ بِالْإِعْطَاءِ أَيْ؛ لِأَنَّ الْإِعْطَاءَ هُوَ الشَّيْءُ الْمُعْطَى، وَالْقَصْدُ وَصْفُ اللَّهِ سبحانه وتعالى بِكَثْرَةِ الْإِسْدَاءِ، وَالْإِعْطَاءِ لَا يَنْقَطِعُ إعْطَاؤُهُ فِي وَقْتٍ، وَيُعْطِي الْقَلِيلَ، وَالْكَثِيرَ، وَلَيْسَ الْقَصْدُ أَنَّهُ إذَا أَعْطَى لَا يُعْطِي إلَّا كَثِيرًا الصَّادِقُ بِالْإِعْطَاءِ مَرَّةً وَاحِدَةً؛ لِأَنَّهُ خِلَافُ الْوَاقِعِ، عَلَى أَنَّهُ فِي نُسَخٍ: أَيْ الْإِعْطَاءُ، ثُمَّ لَا بُدَّ مِنْ تَقْيِيدِ الْجُودِ بِأَنَّهُ إعْطَاءُ مَا يَنْبَغِي لِمَنْ يَنْبَغِي كَمَا فَسَّرُوهُ بِهِ. (قَوْلُهُ: أَوْ خَبَرٍ صَحِيحٍ) أَيْ أَوْ حَسَنٍ كَمَا قَالَهُ الشِّهَابُ ابْنُ حَجَرٍ فِي شَرْحِ الْأَرْبَعِينَ (قَوْلُهُ: بِمَعْنَى إنْعَامٍ) لَمْ يُبْقِهِ عَلَى ظَاهِرِهِ لِمَا فِيهِ مِنْ إبْهَامِ أَنَّ سَبَبَ عَدَمِ حَصْرِهَا جَمْعُهَا فَيُنَافِي صَرِيحًا {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ} [إبراهيم: 34] الْمُقْتَضِيَ انْتِفَاءَ الْإِحْصَاءِ عَنْ كُلِّ فَرْدٍ فَرْدٍ مِنْ النِّعَمِ:
তখফিফ বা হালকা উচ্চারণে: অর্থাৎ প্রচুর দানশীল তথা প্রদানকারী। বলা হয়েছে যে, 'জাওয়াদ' (পরম দানশীল) নামটি তওকিফ (অহি-র নির্দেশ) ভিত্তিক নয়, অথচ মহান আল্লাহর নামসমূহ তওকিফিয়্যাহ (অহি দ্বারা নির্ধারিত)। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য কোনো নাম বা গুণ উদ্ভাবন করা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না সেটি কুরআন বা কোনো স্পষ্ট সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়। কেবল যে মূলধাতু থেকে শব্দটি উদগত হয়েছে তার ভিত্তিতেই নাম রাখা যাবে না। এর সাথে আরও শর্ত হলো, তাঁর সেই নামের উল্লেখ যেন কোনো কিছুর মোকাবিলায় বা তুলনা হিসেবে না হয়, যেমনটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়: "নাকি আমরাই বপনকারী?" [আল-ওয়াকিয়াহ: ৬৪] এবং "আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশলকারী" [আলে ইমরান: ৫৪]-এর ক্ষেত্রে। তবে বিষয়টি এমন নয় (অর্থাৎ জাওয়াদ নামটি কেবল মোকাবিলা হিসেবে আসেনি), বরং ইমাম তিরমিযী তাঁর জামে গ্রন্থে এবং বায়হাকি 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত' গ্রন্থে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি মুসনাদ বর্ণনা ও ইজমার (ঐক্যমত্য) মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে।
(যার মহিমান্বিত) অর্থাৎ মহান; আর 'জলীল' মানে মহান। (তাঁর নিয়ামতসমূহ) 'নিয়ামাত' শব্দটি 'নি'মাহ' শব্দের বহুবচন, যা নুন বর্ণে কাসরা যোগে 'ইনআম' তথা অনুগ্রহ বা ইহসানের অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর নুন বর্ণে ফাতহা যোগে 'না'মাহ' অর্থ হলো ভোগ-বিলাস, এবং যম্মাহ যোগে 'নু'মাহ' অর্থ হলো আনন্দ। (গণনার অতীত) হামজায় কাসরা ও মদ্দ যোগে: অর্থাৎ আয়ত্ত করা বা হিসাব করা। মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ তা গণনা করে রেখেছেন, অথচ তারা তা ভুলে গিয়েছে" [আল-মুজাদালাহ: ৬]। (সংখ্যার মাধ্যমে) হামজায় ফাতহা যোগে: অর্থাৎ
--
[হাশিয়া আশ-শুবরামাল্লিসি] চিন্তা বা ইচ্ছা যখন ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়, যেমনটি 'জামউল জাওয়ামে'র ইবারতে স্পষ্ট করা হয়েছে, যা আমাদের শায়খের হাশিয়ায় যা এসেছে তার বিপরীত। (তাঁর উক্তি: অর্থাৎ দান) বিভিন্ন কপিতে এভাবেই আছে, এবং আমাদের শায়খ তাঁর হাশিয়ায় একে 'প্রদান করা' হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। কারণ 'আতা' হলো যা প্রদান করা হয়েছে (বস্তু), অথচ উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলাকে প্রচুর দান ও প্রদানের গুণে গুণান্বিত করা। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রচুর দান ও প্রদানকারী, তাঁর দান কোনো সময়েই বিচ্ছিন্ন হয় না এবং তিনি অল্প ও অধিক উভয়ই দান করেন। উদ্দেশ্য এটা নয় যে, তিনি যখন দান করেন তখন কেবল অধিকই দান করেন যা কেবল একবার প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে; কারণ এটি বাস্তবতার পরিপন্থী। তাছাড়া কোনো কোনো কপিতে 'আল-ই'তা' (প্রদান করা) শব্দটিও রয়েছে। অতঃপর জুদ (দানশীলতা)-কে এই শর্তে সীমাবদ্ধ করতে হবে যে, এটি হলো যা উপযুক্ত তাকে তা প্রদান করা যা প্রদান করা সংগত, যেমনটি তারা এর ব্যাখ্যা করেছেন। (তাঁর উক্তি: অথবা সহিহ খবর) অর্থাৎ অথবা হাসান (গ্রহণযোগ্য) হাদিস, যেমনটি শিহাব ইবনে হাজার 'আরবাঈন'-এর শরহে বলেছেন। (তাঁর উক্তি: ইনআম বা অনুগ্রহের অর্থে) তিনি শব্দটিকে তার প্রকাশ্য অর্থের ওপর রাখেননি, কারণ তাতে এক প্রকার অস্পষ্টতা রয়েছে যে নিয়ামতসমূহ গণনা করতে না পারার কারণ হলো এর বহুবচন হওয়া। ফলে এটি "আর যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামত (একবচন) গণনা করো" [ইবরাহিম: ৩৪] আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্যের বিরোধী হয়ে যায়, যা প্রতিটি একক নিয়ামত গণনা করা অসম্ভব হওয়াকে আবশ্যক করে।
--
[হাশিয়া আর-রাশিদি] চিন্তা বা ইচ্ছা যখন ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়, যেমনটি 'জামউল জাওয়ামে'র ইবারতে স্পষ্ট করা হয়েছে, যা আমাদের শায়খের হাশিয়ায় যা এসেছে তার বিপরীত। (তাঁর উক্তি: অর্থাৎ দান) বিভিন্ন কপিতে এভাবেই আছে, এবং আমাদের শায়খ তাঁর হাশিয়ায় একে 'প্রদান করা' হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। কারণ প্রদান করা বা 'ই'তা' হলো যা প্রদান করা হয়েছে সেই বস্তু, আর উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে প্রচুর দান ও প্রদানের গুণে গুণান্বিত করা। তাঁর দান কোনো সময়েই বিচ্ছিন্ন হয় না এবং তিনি অল্প ও অধিক উভয়ই দান করেন। উদ্দেশ্য এটা নয় যে, তিনি যখন দান করেন তখন কেবল অধিকই দান করেন যা একবার প্রদানের ক্ষেত্রে সত্য হয়; কারণ এটি বাস্তবতার পরিপন্থী। তাছাড়া কোনো কোনো কপিতে এটি 'আল-ই'তা' (প্রদান করা) হিসেবে আছে। অতঃপর জুদ (দানশীলতা)-কে এই শর্তে সীমাবদ্ধ করতে হবে যে, এটি হলো যা উপযুক্ত তাকে তা প্রদান করা যা প্রদান করা সংগত, যেমনটি তারা এর ব্যাখ্যা করেছেন। (তাঁর উক্তি: অথবা সহিহ খবর) অর্থাৎ অথবা হাসান হাদিস, যেমনটি শিহাব ইবনে হাজার 'আরবাঈন'-এর শরহে বলেছেন। (তাঁর উক্তি: ইনআম বা অনুগ্রহের অর্থে) তিনি শব্দটিকে তার প্রকাশ্য অর্থের ওপর রাখেননি, কারণ তাতে এই অস্পষ্টতা রয়েছে যে নিয়ামতসমূহ গণনা করতে না পারার কারণ হলো এর বহুবচন হওয়া। ফলে এটি "আর যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামত (একবচন) গণনা করো" [ইবরাহিম: ৩৪] আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্যের বিরোধী হয়ে যায়, যা প্রতিটি একক নিয়ামত পৃথক পৃথকভাবে গণনা করা অসম্ভব হওয়াকে আবশ্যক করে।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
بِجَمِيعِهَا إذْ اللَّامُ فِيهَا لِلِاسْتِغْرَاقِ، فَانْدَفَعَ مَا قِيلَ إنَّ الْأَعْدَادَ جَمْعُ قِلَّةٍ، وَالشَّيْءُ قَدْ لَا يَضْبِطُهُ الشَّيْءُ الْقَلِيلُ وَيَضْبِطُهُ الْكَثِيرُ، فَكَانَ الصَّوَابُ أَنْ يَعْدِلَ عَنْهُ، وَيُعَبِّرَ بِالتَّعْدَادِ وَنَحْوِهِ وَالْبَاءُ فِي الْأَعْدَادِ لِلِاسْتِعَانَةِ أَوْ الْمُصَاحَبَةِ، وَنِعَمُ اللَّهِ تَعَالَى وَإِنْ كَانَتْ لَا تُحْصَى تَنْحَصِرُ فِي جِنْسَيْنِ دُنْيَوِيٍّ وَأُخْرَوِيٍّ وَالْأَوَّلُ قِسْمَانِ مَوْهِبِيٌّ وَكَسْبِيٌّ. وَالْمَوْهِبِيُّ قِسْمَانِ: رُوحَانِيٌّ كَنَفْخِ الرُّوحِ فِيهِ وَإِشْرَاقِهِ بِالْعَقْلِ وَمَا يَتْبَعُهُ مِنْ الْقُوَى كَالْفِكْرِ وَالْفَهْمِ وَالنُّطْقِ. وَجِسْمَانِيٌّ كَتَخْلِيقِ الْبَدَنِ وَالْقُوَى الْحَالَّةِ فِيهِ وَالْهَيْئَاتِ الْعَارِضَةِ لَهُ مِنْ الصِّحَّةِ وَكَمَالِ الْأَعْضَاءِ.
وَالْكَسْبِيُّ تَزْكِيَةُ النَّفْسِ عَنْ الرَّذَائِلِ وَتَحْلِيَتُهَا بِالْأَخْلَاقِ وَالْمَلَكَاتِ الْفَاضِلَةِ وَتَزْيِينُ الْبَدَنِ بِالْهَيْئَاتِ الْمَطْبُوعَةِ وَالْحُلِيِّ الْمُسْتَحْسَنَةِ وَحُصُولُ الْجَاهِ وَالْمَالِ، وَالثَّانِي أَنْ يَعْفُوَ عَمَّا فَرَطَ مِنْهُ وَيَرْضَى عَنْهُ وَيُبَوِّئَهُ فِي أَعْلَى عِلِّيِّينَ مَعَ الْمَلَائِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ.
(الْمَانُّ) أَيْ الْمُنْعِمُ مَنًّا مِنْهُ لَا وُجُوبًا عَلَيْهِ. وَقِيلَ الْمَانُّ الَّذِي يَبْدَأُ بِالنَّوَالِ قَبْلَ السُّؤَالِ، وَأَمَّا كَوْنُ الْمَانِّ بِمَعْنَى مُعَدِّدِ النِّعَمِ وَإِنْ كَانَ صِفَةَ مَدْحٍ فِي حَقِّ اللَّهِ تَعَالَى لَكِنَّهُ لَا يُنَاسِبُ هَذَا التَّرْكِيبَ (بِاللُّطْفِ) أَيْ بِالْإِقْدَارِ عَلَى الطَّاعَةِ، إذْ هُوَ بِضَمِّ اللَّامِ وَسُكُونِ الطَّاءِ الرَّأْفَةُ وَالرِّفْقُ، وَهُوَ مِنْ اللَّهِ خَلْقُ قُدْرَةِ الطَّاعَةِ فِي الْعَبْدِ، وَبِفَتْحِ اللَّامِ وَالطَّاءِ لُغَةً فِيهِ،
ــ
[حاشية الشبراملسي] وَصِحَّةُ الْحَمْدِ عَلَيْهَا إنَّمَا هُوَ مِنْ حَيْثُ صُدُورُهَا عَنْ الْإِنْعَامِ الَّذِي هُوَ مِنْ صِفَاتِهِ تَعَالَى.
قِيلَ وَلِأَنَّ نِعَمَهُ تَعَالَى مُحْصَاةٌ؛ لِأَنَّ كُلَّ مَا بَرَزَ فِي الْوُجُودِ كَذَلِكَ، وَإِنْعَامُهُ صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِهِ لَا نِهَايَةَ لِمُتَعَلَّقَاتِهَا، وَالْأُولَى أَوْلَى؛ لِأَنَّهَا وَإِنْ كَانَتْ مُحْصَاةً فِي نَفْسِ الْأَمْرِ لَكِنْ لَا قُدْرَةَ لِلْبَشَرِ عَلَى عَدِّهَا وَإِحْصَائِهَا، وَلَعَلَّ اقْتِصَارَهُ عَلَى تَفْسِيرِ النِّعْمَةِ بِالْإِنْعَامِ أَنَّهُ الْأَوْلَى هُنَا، وَإِلَّا فَالنِّعْمَةُ كَمَا تُطْلَقُ عَلَى ذَلِكَ تُطْلَقُ عَلَى الْأَثَرِ الْحَاصِلِ بِالْإِنْعَامِ، وَمِنْ ثُمَّ قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: وَهِيَ أَيْ النِّعْمَةُ حَقِيقَةُ كُلِّ مُلَائِمٍ تُحْمَدُ عَاقِبَتُهُ، وَمِنْ ثَمَّ قَالُوا لَا نِعْمَةَ لِلَّهِ عَلَى كَافِرٍ، وَإِنَّمَا مَلَاذُهُ اسْتِدْرَاجٌ انْتَهَى.
(قَوْلُهُ: إذْ اللَّامُ فِيهَا لِلِاسْتِغْرَاقِ) أَيْ؛ لِأَنَّ الْمُعَرَّفَ بِهَا مُفْرَدًا كَانَ أَوْ جَمْعًا لِلِاسْتِغْرَاقِ إنْ لَمْ يَتَحَقَّقْ عَهْدٌ، فَإِفَادَتُهَا لِلِاسْتِغْرَاقِ وَضْعِيٌّ لَا يَتَوَقَّفُ عَلَى قَرِينَةٍ، فَقَوْلُ ابْنِ حَجَرٍ بِقَرِينَةِ الْمَقَامِ فِيهِ نَظَرٌ (قَوْلُهُ: وَالْأَوَّلُ) أَيْ الدُّنْيَوِيُّ (قَوْلُهُ: وَجِسْمَانِيٌّ) بِكَسْرِ الْجِيمِ نِسْبَةً إلَى الْجِسْمِ، وَهُوَ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ فِي النَّسَبِ؛ لِأَنَّهُ جِسْمِيٌّ (قَوْلُهُ: وَالثَّانِي) أَيْ الْأُخْرَوِيُّ (قَوْلُهُ: وَأَمَّا كَوْنُ الْمَانِّ) مُبْتَدَأٌ (قَوْلُهُ: لَكِنَّهُ لَا يُنَاسِبُ) خَبَرٌ (قَوْلُهُ: أَيْ بِالْإِقْدَارِ عَلَى الطَّاعَةِ) هَذَا مُشْعِرٌ بِأَنَّ الْبَاءَ صِلَةُ الْمَانِّ. وَقَالَ الشَّيْخُ عَمِيرَةُ عَلَى الْمَحَلِّيِّ مَا نَصُّهُ: الظَّاهِرُ أَنَّ الْبَاءَ سَبَبِيَّةٌ لِئَلَّا يَلْزَمَ تَعَلُّقُ الْإِنْعَامِ بِالْإِقْدَارِ عَلَى الطَّاعَةِ انْتَهَى بِحُرُوفِهِ.
أَقُولُ: وَهُوَ غَيْرُ صَحِيحٍ، وَذَلِكَ؛ لِأَنَّ الْإِقْدَارَ صِفَةُ الْبَارِي فَلَا يَكُونُ مُنْعِمًا بِهِ، وَيُمْكِنُ دَفْعُهُ بِأَنَّ الْمَعْنَى أَنْعَمَ عَلَيْهِ بِأَنْ جَعَلَهُ قَادِرًا وَجَعْلُ الْعَبْدِ قَادِرًا عَلَى الطَّاعَةِ أَثَرٌ لِلْإِنْعَامِ (قَوْلُهُ وَالرِّفْقُ) عَطْفُ تَفْسِيرٍ (قَوْلُهُ: قُدْرَةِ الطَّاعَةِ) أَيْ سَوَاءٌ كَانَتْ فِعْلَ مَطْلُوبٍ أَوْ تَرْكَ مَعْصِيَةٍ، وَهُوَ بِهَذَا الْمَعْنَى مُرَادِفٌ لِلتَّوْفِيقِ. قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: وَقَدْ يُطْلَقُ التَّوْفِيقُ عَلَى أَخَصَّ مِنْ ذَلِكَ، وَمِنْ ثَمَّ قَالَ الْمُتَكَلِّمُونَ: اللُّطْفُ مَا يَحْمِلُ الْمُكَلَّفَ عَلَى الطَّاعَةِ، ثُمَّ إنْ حُمِلَ عَلَى فِعْلِ الْمَطْلُوبِ سُمِّيَ تَوْقِيفًا، أَوْ تَرْكِ الْقَبِيحِ سُمِّيَ عِصْمَةً انْتَهَى (قَوْلُهُ وَبِفَتْحِ اللَّامِ) عَطْفٌ عَلَى بِضَمِّ
ــ
[حاشية الرشيدي] أَيْ بِاعْتِبَارِ الْمُتَعَلِّقَاتِ، فَالْحَمْلُ عَلَى الْإِنْعَامِ وَإِنْ أَوْهَمَ أَنَّ عَدَمَ الْإِحْصَاءِ فِيهِ جَمْعِيَّتُهُ أَيْضًا، إلَّا أَنَّهُ لَيْسَ فِيهِ مُنَافَاةٌ صَرِيحَةٌ لِلْآيَةِ، وَهَذَا مَا أَشَارَ إلَيْهِ الشِّهَابُ ابْنُ حَجَرٍ وَوَجَّهَهُ شَيْخُنَا فِي حَاشِيَتِهِ بِغَيْرِ هَذَا فَرَاجِعْهُ (قَوْلُهُ: إذْ اللَّامُ فِيهَا لِلِاسْتِغْرَاقِ) أَيْ وَهِيَ إذَا دَخَلَتْ عَلَى الْجَمْعِ أَبْطَلَتْ مَعْنَى الْجَمْعِيَّةِ وَصَيَّرَتْ أَفْرَادَهُ آحَادًا عَلَى الصَّحِيحِ.
(قَوْلُهُ: مَنًّا مِنْهُ) أَيْ تَفَضُّلًا، وَلَوْ عَبَّرَ بِهِ لَكَانَ أَوْلَى، عَلَى أَنَّهُ لَا حَاجَةَ إلَيْهِ؛ لِأَنَّ نِعَمَ اللَّهِ كُلَّهَا كَذَلِكَ.
وَعِبَارَةُ التُّحْفَةِ مَعَ الْمَتْنِ الْمَانُّ مِنْ الْمِنَّةِ وَهِيَ النِّعْمَةُ مُطْلَقًا، أَوْ بِقَيْدِ كَوْنِهَا ثَقِيلَةً مُبْتَدَأَةً مِنْ غَيْرِ مُقَابِلٍ يُوجِبُهَا، فَنِعَمُهُ تَعَالَى مِنْ مَحْضِ فَضْلِهِ إلَى آخِرِ مَا ذَكَرَهُ (قَوْلُهُ: إذْ هُوَ بِضَمِّ اللَّامِ إلَخْ) جَوَابٌ عَنْ سُؤَالٍ مُقَدَّرٍ كَأَنَّ قَائِلًا يَقُولُ: كَيْفَ فَسَّرْته بِالْإِقْدَارِ آخِرَهُ مَعَ أَنَّ مَعْنَاهُ فِي الْأَصْلِ الرَّأْفَةُ وَالرِّفْقُ، وَالْإِقْدَارُ الْمَذْكُورُ لَيْسَ مِنْ جُمْلَةِ مَعَانِيهِ؟ وَحَاصِلُ جَوَابِهِ أَنَّهُ إنَّمَا عَدَلَ عَنْ الْأَصْلِ لِاسْتِحَالَةِ مَعْنَاهُ فِي حَقِّهِ تَعَالَى (قَوْلُ الْمُصَنِّفِ بِاللُّطْفِ) الْبَاءُ فِيهِ قَالَ الشَّيْخُ عَمِيرَةُ إنَّهَا لِلسَّبَبِيَّةِ: أَيْ
এর সবকটির মাধ্যমে; যেহেতু এতে বিদ্যমান 'লাম' অক্ষরটি ব্যাপকতা (ইসতিগরাক) বোঝানোর জন্য। ফলে সেই আপত্তি খণ্ডন হয়ে গেল যাতে বলা হয়েছে যে, 'আ’দাদ' (সংখ্যাসমূহ) শব্দটি স্বল্পতা জ্ঞাপক বহুবচন (জামউ কিল্লাত), আর কোনো স্বল্প বস্তু অনেক সময় কোনো বিষয়কে আয়ত্ত করতে পারে না, যা অধিক বস্তু পারে। সুতরাং সঠিক হতো যদি তিনি এটি পরিহার করে 'তা’দাদ' বা অনুরূপ শব্দ ব্যবহার করতেন। আর 'আ’দাদ' শব্দের শুরুতে 'বা' অক্ষরটি সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিয়ানা) অথবা সহাবস্থান (মুসাহাবাত) বোঝানোর জন্য। মহান আল্লাহর নিয়ামতসমূহ যদিও গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়, তবে তা প্রধানত দুই প্রকার: পার্থিব ও পরকালীন। প্রথম প্রকারটি আবার দুই ভাগে বিভক্ত: প্রতিভাগত (উপহারস্বরূপ) এবং অর্জনগত। প্রতিভাগত নিয়ামত আবার দুই প্রকার: আধ্যাত্মিক, যেমন—তাতে রুহ ফুঁকে দেওয়া এবং জ্ঞান ও এর অনুগামী শক্তি যেমন চিন্তা, বোধশক্তি ও বাকশক্তির মাধ্যমে তাকে আলোকিত করা; এবং শারীরিক, যেমন—দেহ সৃষ্টি করা এবং এতে বিদ্যমান শক্তিসমূহ ও সুস্থতা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পূর্ণতার মতো দেহঘটিত অবস্থা তৈরি করা।
আর অর্জনগত নিয়ামত হলো কুপ্রবৃত্তি থেকে আত্মাকে পবিত্র করা এবং মহৎ চরিত্র ও গুণাবলি দ্বারা তাকে সুশোভিত করা, আর শরীরকে স্বভাবজাত সৌন্দর্য ও পছন্দনীয় অলংকার দ্বারা সজ্জিত করা এবং পদমর্যাদা ও সম্পদ অর্জন করা। দ্বিতীয় প্রকার (পরকালীন নিয়ামত) হলো তিনি যেন বান্দার ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন, তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাকে নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের সাথে ইল্লিয়্যিনের সর্বোচ্চ স্থানে আসীন করেন।
(আল-মান্নু) অর্থাৎ নিয়ামতদাতা; তিনি নিজ পক্ষ থেকে অনুগ্রহস্বরূপ নিয়ামত দান করেন, এটি তাঁর ওপর আবশ্যক (ওয়াজিব) হিসেবে নয়। কেউ কেউ বলেন, 'আল-মান্নু' হলেন সেই সত্তা যিনি চাওয়ার আগেই দান করেন। তবে 'আল-মান্নু' বলতে যদি 'নিয়ামত গণনাকারী' উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, যদিও এটি মহান আল্লাহর শানে একটি প্রশংসামূলক গুণ, কিন্তু এই বাক্যের গঠনের সাথে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। (বিল-লুতফি) অর্থাৎ আনুগত্যের সক্ষমতা দানের মাধ্যমে। কারণ লুতফ শব্দটি 'লাম' বর্ণে পেশ ও 'তা' বর্ণে সাকিন যোগে দয়া ও কোমলতা বোঝায়। আল্লাহর পক্ষ থেকে লুতফ হলো বান্দার মধ্যে আনুগত্যের সক্ষমতা সৃষ্টি করা। আর 'লাম' ও 'তা' বর্ণে যবর যোগে পাঠ করা একটি ভাষাগত রীতি।
--
[হাশিয়া আশ-শিবরামাল্লিসি]আর নিয়ামতের ওপর হামদ বা প্রশংসা সহীহ হওয়ার কারণ হলো, তা নিয়ামত দান (ইন’আম) হিসেবে প্রকাশ পাওয়া, যা মহান আল্লাহর অন্যতম গুণ।
বলা হয়েছে: মহান আল্লাহর নিয়ামতসমূহ গণনাযোগ্য; কারণ অস্তিত্বে যা কিছু প্রকাশ পায় তা গণনাযোগ্য। আর তাঁর নিয়ামত দান (ইন’আম) হলো তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান একটি গুণ যার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির কোনো শেষ নেই। তবে প্রথম মতটিই (অগণিত হওয়া) অধিক উত্তম; কারণ যদিও বাস্তব ক্ষেত্রে তা গণনাযোগ্য হতে পারে, কিন্তু মানুষের পক্ষে তা গণনা করে শেষ করার সামর্থ্য নেই। সম্ভবত তিনি নিয়ামতের ব্যাখ্যায় 'ইন’আম' (নিয়ামত দান) পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছেন কারণ এটিই এখানে অধিক উপযুক্ত। অন্যথায় নিয়ামত শব্দটির প্রয়োগ যেমন ইন’আমের ওপর হয়, তেমনি ইন’আমের মাধ্যমে অর্জিত ফলের ওপরও হয়। এই কারণেই ইবনে হাজার বলেছেন: নিয়ামত হলো প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি সেই অনুকূল বিষয় যার পরিণতি প্রশংসনীয়। এই প্রেক্ষাপটেই উলামাগণ বলেছেন যে, কাফিরের ওপর আল্লাহর কোনো নিয়ামত নেই, বরং সে যা ভোগ করে তা কেবল 'ইসতিদরাজ' (ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া)। সমাপ্ত।
(তাঁর উক্তি: যেহেতু এতে বিদ্যমান 'লাম' অক্ষরটি ব্যাপকতার জন্য) অর্থাৎ কারণ আল-লাম যুক্ত শব্দ একবচন হোক বা বহুবচন, তা যদি নির্দিষ্ট কোনো কিছুর (আহদ) জন্য না হয়, তবে তা ব্যাপকতা (ইসতিগরাক) প্রকাশ করে। সুতরাং এটি ব্যাপকতা প্রকাশ করাটা শব্দগত বিষয়, যা কোনো প্রসঙ্গের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাই ইবনে হাজরের কথা—'প্রসঙ্গের কারণে'—এতে আপত্তির অবকাশ আছে। (তাঁর উক্তি: প্রথম প্রকারটি) অর্থাৎ পার্থিব। (তাঁর উক্তি: শারীরিক) 'জীম' বর্ণে যের যোগে, যা 'জিসম' (দেহ) এর দিকে সম্বন্ধিত। এটি ব্যাকরণগত নিয়মের ব্যতিক্রম, কারণ নিয়ম অনুযায়ী তা 'জিসমিয়্যুন' হওয়ার কথা ছিল। (তাঁর উক্তি: দ্বিতীয় প্রকার) অর্থাৎ পরকালীন। (তাঁর উক্তি: আর আল-মান্নু হওয়া) এটি মুক্তাদা। (তাঁর উক্তি: কিন্তু এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়) এটি খবর। (তাঁর উক্তি: অর্থাৎ আনুগত্যের সক্ষমতা দানের মাধ্যমে) এটি ইঙ্গিত দেয় যে 'বা' অক্ষরটি 'আল-মান্নু' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। শায়খ আমিরা 'আল-মাহাল্লী'র ওপর তাঁর টীকায় যা লিখেছেন তার মূল পাঠ হলো: স্পষ্টত 'বা' অক্ষরটি এখানে কারণ নির্দেশক (সাবাবিয়্যাহ), যাতে নিয়ামত দান কেবল আনুগত্যের সক্ষমতা দানের সাথে সীমাবদ্ধ না হয়ে যায়। সমাপ্ত।
আমি বলি: এটি সঠিক নয়। কারণ সক্ষম করা (ইকদার) মহান স্রষ্টার একটি গুণ, তাই তিনি এর মাধ্যমে নিয়ামত দানকারী (মুনয়িম) হতে পারেন না। তবে এই আপত্তিটি এভাবে খণ্ডন করা সম্ভব যে—এর অর্থ হলো তিনি তাকে সক্ষম করার মাধ্যমে তার ওপর অনুগ্রহ করেছেন, আর বান্দাকে আনুগত্যে সক্ষম করাটা হলো নিয়ামত দানের (ইন’আম) একটি ফল। (তাঁর উক্তি: ও কোমলতা) এটি ব্যাখ্যামূলক সংযোজন। (তাঁর উক্তি: আনুগত্যের সক্ষমতা) অর্থাৎ তা কোনো কাঙ্ক্ষিত কাজ করা হোক বা কোনো গুনাহ বর্জন করা হোক। এই অর্থে এটি 'তাওফিক' এর সমার্থক। ইবনে হাজার বলেন: তাওফিক শব্দটি কখনো এর চেয়েও বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। সেই কারণে মুতাকাল্লিমগণ (ধর্মতাত্ত্বিকরা) বলেছেন: লুতফ হলো এমন বিষয় যা মুকাল্লাফকে (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিকে) আনুগত্যে উদ্বুদ্ধ করে। এরপর যদি তা কাঙ্ক্ষিত কাজ করার ওপর হয়, তবে তাকে তাওফিক বলা হয়; আর যদি মন্দ কাজ বর্জনের ওপর হয়, তবে তাকে 'ইসমাত' (নিষ্পাপতা) বলা হয়। সমাপ্ত। (তাঁর উক্তি: আর 'লাম' বর্ণে যবর যোগে) এটি 'পেশ যোগে' কথাটির ওপর আতফ।
--
[হাশিয়া আর-রাশিদি] অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির বিবেচনায়। সুতরাং 'ইন’আম' (নিয়ামত দান) এর ওপর প্রয়োগ করা যদিও এই ধারণা দিতে পারে যে এর অগণিত হওয়ার বিষয়টি সমষ্টিগতভাবে, তবে এটি আয়াতের স্পষ্ট কোনো বিরোধী নয়। আল্লামা শিহাব ইবনে হাজার এই দিকেই ইশারা করেছেন এবং আমাদের উস্তাদ তাঁর হাশিয়ায় এটি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তাই সেটি দেখে নিন। (তাঁর উক্তি: যেহেতু এতে বিদ্যমান 'লাম' অক্ষরটি ব্যাপকতার জন্য) অর্থাৎ এই 'লাম' যখন বহুবচনের ওপর যুক্ত হয়, তখন তা বহুবচনের অর্থ বাতিল করে এর প্রতিটি সদস্যকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করে, এটাই বিশুদ্ধ মত।
(তাঁর উক্তি: মন্নান মিনহু) অর্থাৎ অনুগ্রহস্বরূপ। তিনি যদি 'তাফাদদুলান' (অনুগ্রহস্বরূপ) শব্দ ব্যবহার করতেন তবে অধিক উত্তম হতো, যদিও এর কোনো প্রয়োজন ছিল না; কারণ আল্লাহর সকল নিয়ামতই অনুরূপ।
মাতনসহ 'তুহফা'র ইবারত হলো: 'আল-মান্নু' শব্দটি 'মিননাহ' থেকে এসেছে, আর মিননাহ হলো সাধারণভাবে নিয়ামত, অথবা কোনো বিনিময় ছাড়াই যা দান করা হয়। সুতরাং মহান আল্লাহর নিয়ামতসমূহ তাঁর পক্ষ থেকে নিছক অনুগ্রহ। তাঁর আলোচনার শেষ পর্যন্ত... (তাঁর উক্তি: যেহেতু এটি 'লাম' বর্ণে পেশ যোগে ইত্যাদি) এটি একটি উহ্য প্রশ্নের উত্তর। যেন কোনো প্রশ্নকারী বলছেন: আপনি কেন এর ব্যাখ্যা শেষে 'সক্ষম করা' (ইকদার) দিয়ে করলেন, অথচ এর মূল অর্থ হলো দয়া ও কোমলতা, আর উক্ত 'সক্ষম করা' এর অর্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়? তাঁর উত্তরের সারসংক্ষেপ হলো: তিনি মূল অর্থ থেকে সরে এসেছেন কারণ মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে ঐ (আক্ষরিক) অর্থ হওয়া অসম্ভব। (মুসান্নিফের উক্তি: বিল-লুতফি) এতে বিদ্যমান 'বা' অক্ষরটি সম্পর্কে শায়খ আমিরা বলেছেন যে তা কারণ নির্দেশক (সাবাবিয়্যাহ): অর্থাৎ
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَيُطْلَقُ عَلَى مَا يَبِرُّ بِهِ الشَّخْصُ (وَالْإِرْشَادُ) أَيْ الْهِدَايَةُ لِلطَّاعَةِ فَإِنَّهُ مَصْدَرُ أَرْشَدَهُ بِمَعْنَى وَفَّقَهُ وَهَدَاهُ، وَالرَّشَادُ وَالرُّشْدُ بِضَمِّ الرَّاءِ وَإِسْكَانِ الشِّينِ وَبِفَتْحِهَا نَقِيضُ الْغَيِّ وَهُوَ الْهُدَى وَالِاسْتِقَامَةُ، يُقَالُ رَشِدَ يَرْشَدُ رُشْدًا بِوَزْنِ عَجِبَ يَعْجَبُ عَجَبًا وَبِوَزْنِ أَكَلَ يَأْكُلُ أَكْلًا بِضَمِّ الْهَمْزَةِ (الْهَادِي إلَى سَبِيلِ الرَّشَادِ) أَيْ الدَّالُّ عَلَى طَرِيقِ الِاسْتِقَامَةِ بِلُطْفٍ، وَمِنْ أَسْمَائِهِ الْهَادِي وَهُوَ الَّذِي بَصَّرَ عِبَادَهُ طَرِيقَ مَعْرِفَتِهِ حَتَّى أَقَرُّوا بِرُبُوبِيَّتِهِ.
وَهِدَايَةُ اللَّهِ تَعَالَى تَتَنَوَّعُ أَنْوَاعًا لَا يُحْصِيهَا عَدٌّ لَكِنَّهَا تَنْحَصِرُ فِي أَجْنَاسٍ مُتَرَتِّبَةٍ:
الْأَوَّلُ إفَاضَةُ الْقُوَى الَّتِي يَتَمَكَّنُ بِهَا مِنْ الِاهْتِدَاءِ إلَى مَصَالِحِهِ كَالْقُوَّةِ الْعَقْلِيَّةِ وَالْحَوَاسِّ الْبَاطِنِيَّةِ وَالْمَشَاعِرِ الظَّاهِرَةِ.
وَالثَّانِي نَصْبُ الدَّلَائِلِ الْفَارِقَةِ بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ وَالصَّلَاحِ وَالْفَسَادِ.
وَالثَّالِثُ الْهِدَايَةُ بِإِرْسَالِ الرُّسُلِ وَإِنْزَالِ الْكُتُبِ.
وَالرَّابِعُ أَنْ يَكْشِفَ عَلَى قُلُوبِهِمْ السَّرَائِرَ وَيُرِيَهُمْ الْأَشْيَاءَ كَمَا هِيَ بِالْوَحْيِ أَوْ الْإِلْهَامِ وَالْمَنَامَاتِ الصَّادِقَةِ وَهَذَا قِسْمٌ يَخْتَصُّ بِنَيْلِهِ الْأَنْبِيَاءُ وَالْأَوْلِيَاءُ (الْمُوَفِّقُ لِلتَّفَقُّهِ) اللَّامُ فِيهِ لِلتَّعْدِيَةِ (فِي الدِّينِ مِنْ لُطْفٍ بِهِ) مَفْعُولُ الْمُوَفِّقِ وَالضَّمِيرُ فِي بِهِ لِمَنْ بِاعْتِبَارِ لَفْظِهَا (وَاخْتَارَهُ) لَهُ (مِنْ الْعِبَادِ) الْمَفْعُولُ الثَّانِي لِاخْتَارَ،
ــ
[حاشية الشبراملسي] قَوْلُهُ: وَيُطْلَقُ عَلَى مَا يَبِرُّ بِهِ الشَّخْصُ) عَبَّرَ عَنْهُ ابْنُ حَجَرٍ بِقَوْلِهِ مَا بِهِ صَلَاحُ الْعَبْدِ أَخَرَةً، وَيُسَاوِيهِ التَّوْفِيقُ الَّذِي هُوَ خَلْقُ قُدْرَةِ الطَّاعَةِ فِي الْعَبْدِ مَاصَدَقًا لَا مَفْهُومًا انْتَهَى رحمه الله (قَوْلُهُ: يُقَالُ رَشَدَ يَرْشُدُ إلَخْ) هَذَا قَدْ يُشْعِرُ بِتَسَاوِي الِاسْتِعْمَالَيْنِ وَفِي الْمُخْتَارِ مَا يُخَالِفُهُ حَيْثُ قَالَ: الرَّشَادُ ضِدُّ الْغَيِّ، يُقَالُ رَشَدَ يَرْشُدُ مِثْلُ قَعَدَ يَقْعُدُ رُشْدًا بِضَمِّ الرَّاءِ، وَفِيهِ لُغَةٌ أُخْرَى مِنْ بَابِ طَرِبَ انْتَهَى. لَكِنْ فِي الْمِصْبَاحِ مَا يُوَافِقُ كَلَامَ الشَّارِحِ حَيْثُ قَالَ: الرُّشْدُ الصَّلَاحُ وَهُوَ خِلَافُ الْغَيِّ وَالضَّلَالِ وَهُوَ إصَابَةُ الصَّوَابِ، وَرَشِدَ رَشَدًا مِنْ بَابِ تَعِبَ وَرَشَدَ يَرْشُدُ مِنْ بَابِ قَتَلَ فَهُوَ أَرْشَدُ وَالِاسْمُ الرَّشَادُ انْتَهَى (قَوْلُهُ: أَيْ الدَّالُّ) زَادَ ابْنُ حَجَرٍ أَوْ الْمُوَصِّلُ انْتَهَى (قَوْلُهُ: وَالرَّابِعُ أَنْ يَكْشِفَ عَلَى قُلُوبِهِمْ) أَيْ يَظْهَرَ عَلَى قُلُوبِهِمْ إلَخْ (قَوْلُهُ: وَيُرِيَهُمْ الْأَشْيَاءَ) عَطْفُ تَفْسِيرٍ. وَفِي نُسْخَةٍ عَنْ قُلُوبِهِمْ الرَّيْنَ (قَوْلُهُ: الْمُوَفِّقُ) قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: أَيْ الْمُقَدِّرُ، وَهُوَ جَرَى عَلَى مَنْ يُجِيزُ غَيْرَ التَّوْقِيفِيَّةِ إذَا لَمْ يُوهِمْ نَقْصًا (قَوْلُهُ: اللَّامُ فِيهِ لِلتَّعْدِيَةِ) أَيْ فَهُوَ مَفْعُولٌ ثَانٍ لِلْمُوَفِّقِ، وَالْمَفْعُولُ الْأَوَّلُ مَنْ انْتَهَى ابْنُ حَجَرٍ: وَعَلَيْهِ فَمِنْ الْعِبَادِ بَيَانٌ لِمَنْ.
(قَوْلُهُ: الْمَفْعُولُ الثَّانِي) أَيْ مَعَ صِحَّةِ كَوْنِهِ مَفْعُولًا لِلْمُوَفِّقِ فَيَكُونُ مِنْ بَابِ التَّنَازُعِ، وَعَلَى هَذَا: أَيْ قَوْلُهُ مِنْ الْعِبَادِ الْمَفْعُولُ الثَّانِي لِاخْتَارَ وَالْمَفْعُولُ الْأَوَّلُ هُوَ الْهَاءُ فِي اخْتَارَهُ، وَيَجُوزُ أَنَّ مِنْ الْعِبَادِ بَيَانًا لِمَنْ، وَعَلَيْهِ فَمَفْعُولُ اخْتَارَ الثَّانِي قَوْلُهُ الَّذِي قَدَّرَهُ الشَّارِحُ فَلِلتَّفَقُّهِ صِلَةُ الْمُوَفِّقِ لَا عَلَى جِهَةِ الْمَفْعُولِيَّةِ، وَهَذَا
ــ
[حاشية الرشيدي] لِأَنَّهَا لَوْ جُعِلَتْ لِلتَّعْدِيَةِ يَلْزَمُ عَلَيْهِ مَحْظُورٌ، وَهُوَ أَنَّ الْإِقْدَارَ مِنْ أَوْصَافِهِ تَعَالَى فَلَا مَعْنَى لِإِنْعَامِهِ بِهِ وَجَعْلِهِ مُنْعِمًا بِهِ كَمَا وَجَّهَهُ بِذَلِكَ شَيْخُنَا فِي حَاشِيَتِهِ.
وَأَجَابَ عَنْهُ بِمَا فِيهِ وَقْفَةٌ.
وَأَقُولُ: الْإِقْدَارُ وَإِنْ كَانَ وَصْفًا لَهُ تَعَالَى إلَّا أَنَّهُ صِفَةُ فِعْلٍ، فَهُوَ حَادِثٌ فَلَا مَانِعَ مِنْ إنْعَامِهِ بِهِ فَتَأَمَّلْ (قَوْلُهُ: وَيُطْلَقُ عَلَى مَا يُبَرُّ بِهِ الشَّخْصُ) بِضَمِّ أَوَّلِ يُبَرُّ وَفَتْحِ ثَانِيهِ مَبْنِيًّا لِلْمَجْهُولِ، وَالضَّمِيرُ فِي يُطْلَقُ يَعُودُ إلَى اللَّطَفِ بِالْفَتْحِ لِأَقْرَبِ مَذْكُورٍ خِلَافًا لِمَا فِي حَاشِيَةِ شَيْخِنَا، وَعِبَارَةُ الصِّحَاحِ: أَلْطَفَهُ بِكَذَا أَيْ بَرَّهُ وَالِاسْمُ اللَّطَفُ بِالتَّحْرِيكِ، يُقَالُ: جَاءَتْنَا لَطَفَةٌ مِنْ فُلَانٍ: أَيْ هَدِيَّةٌ، وَشَيْخُنَا فَهِمَ أَنَّ الضَّمِيرَ رَاجِعٌ إلَى اللُّطْفِ بِالضَّمِّ، وَعَلَيْهِ فَيُقْرَأُ يَبَرُّ بِفَتْحِ أَوَّلِهِ بِمَعْنَى يَصِيرُ بِهِ بَارًّا وَلَا يَخْفَى مَا فِيهِ مَعَ مَا تَقَرَّرَ (قَوْلُهُ: أَيْ الْهِدَايَةُ) عَقِبَ قَوْلِ الْمُصَنِّفِ الْإِرْشَادِ هِيَ بِمَعْنَى الْإِيصَالِ إلَى الطَّاعَةِ الَّذِي هُوَ أَحَدُ مَعْنَيَيْهَا بِدَلِيلِ قَوْلِهِ مَصْدَرُ أَرْشَدَهُ بِمَعْنَى وَفَّقَهُ وَهَدَاهُ، وَإِنَّمَا صَنَعَ ذَلِكَ حَتَّى لَا يَتَكَرَّرَ مَعَ قَوْلِ الْمُصَنِّفِ الْآتِي الْهَادِي إلَى الرَّشَادِ الَّذِي هُوَ بِمَعْنَى الدَّلَالَةِ الْمَعْنَى الثَّانِي لِلْهِدَايَةِ، وَبِهَذَا التَّقْرِيرِ يَظْهَرُ حُسْنُ مَا سَلَكَهُ الشَّيْخُ عَلَى مَا قَرَّرَهُ الشِّهَابُ ابْنُ حَجَرٍ هُنَا (قَوْلُهُ: وَالرَّابِعُ أَنْ يَكْشِفَ إلَخْ) لَا يَظْهَرُ تَرْتِيبُ هَذَا عَلَى مَا قَبْلَهُ؛ لِأَنَّهُ قِسْمٌ بِرَأْسِهِ، وَإِنَّمَا يَظْهَرُ تَرَتُّبُهُ عَلَى الْأَوَّلِ فَلَعَلَّ قَوْلَهُ مُتَرَتِّبَةً: أَيْ فِي الْجُمْلَةِ (قَوْلُ الْمُصَنِّفِ مَنْ لَطَفَ بِهِ) أَيْ أَرَادَ بِهِ الْخَيْرَ كَمَا قَالَهُ الْمُحَقِّقُ الْجَلَالُ الْمَحَلِّيُّ أَخْذًا مِنْ
এবং এটি এমন বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় যার মাধ্যমে ব্যক্তি পুণ্য অর্জন করে। (আর ইরশাদ) অর্থাৎ আনুগত্যের দিকে পথপ্রদর্শন করা; কেননা এটি 'আর্শাদাহু' ক্রিয়ার মূল শব্দ, যা তাকে তৌফিক দেওয়া এবং পথপ্রদর্শন করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর 'রাশাদ' এবং 'রুশদ' (রা বর্ণে পেশ এবং শীন বর্ণে সাকিন অথবা জবর যোগে) হলো পথভ্রষ্টতার বিপরীত, যার অর্থ সঠিক পথপ্রাপ্তি এবং অটল থাকা। বলা হয়ে থাকে 'রাশিদা ইয়ারশাদু রুশদান', যা 'আজিবা ইয়াজাবু আজাবান' এবং 'আকালা ইয়াকুলু আকলান' (হামযায় পেশ যোগে) এর ওজনে ব্যবহৃত হয়। (সঠিক পথের দিকে পথপ্রদর্শক) অর্থাৎ যিনি অনুগ্রহের সাথে সঠিক পথের দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর অন্যতম নাম হলো 'আল-হাদী' (পথপ্রদর্শক), আর তিনি সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর পরিচয় লাভের পথ দেখিয়েছেন, ফলে তারা তাঁর প্রভুত্বকে স্বীকার করে নিয়েছে।
মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পথপ্রদর্শন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়, তবে তা সুশৃঙ্খল কিছু শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ করা যায়:
প্রথম: সেই সকল শক্তি বা সামর্থ্য দান করা যার মাধ্যমে মানুষ তার কল্যাণের দিকে পরিচালিত হতে সক্ষম হয়, যেমন বুদ্ধিবৃত্তি, অভ্যন্তরীণ বোধশক্তি এবং বাহ্যিক ইন্দ্রিয়সমূহ।
দ্বিতীয়: সত্য ও মিথ্যা এবং সংশোধন ও বিপর্যয়ের মধ্যে পার্থক্যকারী প্রমাণসমূহ স্থাপন করা।
তৃতীয়: রাসূল প্রেরণ এবং কিতাব অবতীর্ণ করার মাধ্যমে পথপ্রদর্শন করা।
চতুর্থ: ওহী, ইলহাম (অনুপ্রেরণা) অথবা সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে তাদের অন্তরে গোপন রহস্যসমূহ উন্মোচন করা এবং বস্তুসমূহকে তাদের প্রকৃতরূপে দেখানো। এটি এমন এক প্রকার যা নবী এবং ওলীগণের জন্য নির্ধারিত। (গভীর জ্ঞান অর্জনে তৌফিকদাতা) এখানে 'লাম' বর্ণটি কর্মপদকে নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। (দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অনুগ্রহের মাধ্যমে) এটি 'মুওয়াফফিক' (তৌফিকদাতা) শব্দের কর্মপদ এবং 'বিহি' এর সর্বনামটি সেই ব্যক্তির দিকে ফিরেছে যাকে তৌফিক দেওয়া হয়েছে। (এবং তিনি তাকে মনোনীত করেছেন) তাঁর জন্য (বান্দাদের মধ্য থেকে) এটি 'ইখতারা' (মনোনীত করা) ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্মপদ।
--
[শুবরামাল্লিসীর টীকা] তাঁর কথা: (এবং এটি এমন বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় যার মাধ্যমে ব্যক্তি পুণ্য অর্জন করে) ইবনে হাজার একে এভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, যার মাধ্যমে পরকালে বান্দার সংশোধন হয়। আর এটি 'তৌফিক' এর সমার্থক, যা হলো বান্দার মধ্যে আনুগত্যের সামর্থ্য সৃষ্টি করা; এটি বাস্তবতার নিরিখে এক হলেও সংজ্ঞাগতভাবে ভিন্ন। (তাঁর কথা: বলা হয়ে থাকে রাশিদা ইয়ারশাদু ইত্যাদি) এটি নির্দেশ করে যে উভয় ব্যবহারই সমান, তবে 'মুখতার' গ্রন্থে এর বিপরীত পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে: রাশাদ হলো পথভ্রষ্টতার বিপরীত, বলা হয় 'রাশাদা ইয়ারশুদু' যেমন 'কাআদা ইয়াকউদু', রা বর্ণে পেশ যোগে 'রুশদান'। এতে 'তরিবা' এর নিয়ম অনুযায়ী অন্য একটি ভাষাগত রীতিও রয়েছে। তবে 'মিসবাহ' গ্রন্থে শারহকার বা ব্যাখ্যাকারীর কথার সাথে মিল পাওয়া যায়, সেখানে বলা হয়েছে: রুশদ হলো সংশোধন, যা পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর বিপরীত এবং সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানো। এটি 'তাহিবা' এর নিয়ম অনুযায়ী 'রাশিদা রাশাদান' এবং 'কাতলা' এর নিয়ম অনুযায়ী 'রাশাদা ইয়ারশুদু' হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এর কর্তা হলো 'আরশাদ' এবং বিশেষ্য হলো 'রাশাদ'। (তাঁর কথা: অর্থাৎ দিকনির্দেশক) ইবনে হাজার এখানে 'অথবা গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া' কথাটি যোগ করেছেন। (তাঁর কথা: চতুর্থ হলো তাদের অন্তরে উন্মোচন করা) অর্থাৎ তাদের অন্তরে প্রকাশিত হওয়া ইত্যাদি। (তাঁর কথা: এবং তাদের বস্তুসমূহকে দেখানো) এটি আগের কথার ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা। অন্য এক পাণ্ডুলিপিতে 'তাদের অন্তর থেকে মরিচা দূর করা' শব্দ আছে। (তাঁর কথা: তৌফিকদাতা) ইবনে হাজার বলেন: অর্থাৎ নির্ধারণকারী। তিনি এটি সেই মত অনুযায়ী বলেছেন যারা আল্লাহর এমন নাম ব্যবহারের অনুমতি দেন যা সরাসরি কুরআন-সুন্নাহতে আসেনি, যদি তাতে কোনো ত্রুটির আভাস না থাকে। (তাঁর কথা: এখানে লাম বর্ণটি কর্মপদকে নির্দেশ করার জন্য) অর্থাৎ এটি 'মুওয়াফফিক' শব্দের দ্বিতীয় কর্মপদ এবং প্রথম কর্মপদটি হলো 'মান' (যে ব্যক্তি)। ইবনে হাজারের মতে: এক্ষেত্রে 'বান্দাদের মধ্য থেকে' কথাটি 'মান' এর পরিচয় স্পষ্টকারী হিসেবে গণ্য হবে।
(তাঁর কথা: দ্বিতীয় কর্মপদ) অর্থাৎ এটি একইসাথে 'মুওয়াফফিক' শব্দের কর্মপদ হওয়াও সঠিক, ফলে এটি তানাযু (একই পদের জন্য দুই ক্রিয়ার বিবাদ) এর অন্তর্ভুক্ত হবে। এই ভিত্তিতে: অর্থাৎ তাঁর কথা 'বান্দাদের মধ্য থেকে' হলো 'ইখতারা' ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্মপদ এবং প্রথম কর্মপদটি হলো 'ইখতারাহু' এর 'হু' সর্বনামটি। এটাও জায়েয যে 'বান্দাদের মধ্য থেকে' অংশটি 'মান' এর ব্যাখ্যা হবে; আর সেক্ষেত্রে 'ইখতারা' এর দ্বিতীয় কর্মপদ হবে শারহকারীর নির্ধারিত অংশটি। ফলে 'গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য' অংশটি তৌফিকদাতার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে, কর্মপদ হিসেবে নয়। এটিই সঠিক।
--
[রশিদী’র টীকা] কারণ একে যদি অতিক্রমণীয় (Transitive) হিসেবে ধরা হয় তবে একটি আপত্তির সৃষ্টি হয়, আর তা হলো সামর্থ্য প্রদান করা মহান আল্লাহর অন্যতম গুণ, তাই একে তাঁর নেয়ামত হিসেবে গণ্য করার কোনো অর্থ থাকে না, যেমনটি আমাদের উস্তাদ তাঁর টীকায় উল্লেখ করেছেন।
তিনি এর যে উত্তর দিয়েছেন তাতেও পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।
আমি বলি: সামর্থ্য প্রদান করা যদিও আল্লাহর গুণ, তবুও এটি কর্মগত গুণ (সিফাতে ফে’লী), তাই এটি নশ্বর বা সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং একে তাঁর পক্ষ থেকে নেয়ামত হিসেবে গণ্য করতে কোনো বাধা নেই। এটি ভেবে দেখার মতো। (তাঁর কথা: এটি এমন বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় যার মাধ্যমে ব্যক্তি পুণ্য লাভ করে) এখানে 'ইউবাররু' শব্দের প্রথম বর্ণে পেশ এবং দ্বিতীয় বর্ণে জবর হবে যা কর্মবাচ্য (Passive) নির্দেশ করে। আর 'ইউতলাকু' ক্রিয়ার সর্বনামটি 'লাতাফ' (জবর যোগে) এর দিকে ফিরবে যা নিকটবর্তী শব্দ, আমাদের উস্তাদের টীকায় যা বলা হয়েছে তার বিপরীতে। 'সিহাহ' গ্রন্থের বর্ণনা হলো: তাকে অমুক জিনিস দিয়ে অনুগ্রহ করা হয়েছে, আর বিশেষ্য হলো 'লাতাফ' (হরকত যোগে)। বলা হয়: আমাদের কাছে অমুকের পক্ষ থেকে একটি 'লাতাফাহ' অর্থাৎ উপহার এসেছে। আমাদের উস্তাদ বুঝেছেন যে সর্বনামটি 'লুতফ' (পেশ যোগে) এর দিকে ফিরছে, আর সেই ভিত্তিতে 'য়াবাররু' জবর যোগে পড়তে হবে যার অর্থ হবে সে এর মাধ্যমে পুণ্যবান হবে। যা আলোচনা করা হলো তার প্রেক্ষিতে এতে কী সমস্যা রয়েছে তা স্পষ্ট। (তাঁর কথা: অর্থাৎ পথপ্রদর্শন) লেখকের শব্দ 'ইরশাদ' এর পরেই এটি এসেছে, যার অর্থ হলো আনুগত্য পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। এটিই এর দুটি অর্থের একটি, যার প্রমাণ হলো শারহকারীর কথা: 'এটি আর্শাদাহু এর মূল শব্দ যা তৌফিক দেওয়া ও পথ দেখানো অর্থে ব্যবহৃত হয়'। তিনি এটি এজন্য করেছেন যাতে লেখকের পরবর্তী কথা 'সঠিক পথের দিকে পথপ্রদর্শক' এর সাথে পুনরাবৃত্তি না হয়, যা হেদায়াতের দ্বিতীয় অর্থ অর্থাৎ কেবল পথ দেখানোকে বোঝায়। এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে শেখ (শারহকারী) যা অনুসরণ করেছেন তার সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, যা শিহাব ইবনে হাজার এখানে বর্ণনা করেছেন। (তাঁর কথা: চতুর্থ হলো উন্মোচন করা ইত্যাদি) এর আগের প্রকারগুলোর সাথে এর ধারাবাহিকতা স্পষ্ট নয়; কারণ এটি একটি স্বতন্ত্র প্রকার। এর ধারাবাহিকতা কেবল প্রথম প্রকারের সাথেই স্পষ্ট হয়। তাই সম্ভবত 'সুশৃঙ্খল' বলতে সাধারণভাবে বোঝানো হয়েছে। (লেখকের কথা: যার প্রতি তিনি অনুগ্রহ করেছেন) অর্থাৎ যার জন্য তিনি কল্যাণ চেয়েছেন, যেমনটি মুহাক্কিক জালাল মাহাল্লী গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وَاللَّامُ فِيهِ لِلْجِنْسِ أَوْ لِلِاسْتِغْرَاقِ أَوْ لِلْعَهْدِ، وَأَشَارَ بِهَذَا إلَى خَبَرِ «مَنْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَالتَّوْفِيقُ خَلْقُ قُدْرَةِ الطَّاعَةِ وَتَسْهِيلُ سَبِيلِ الْخَيْرِ، وَيُعَبَّرُ عَنْهُ بِمَا يَقَعُ عِنْدَ صَلَاحِ الْعَبْدِ أَخَرَةً وَهُوَ عَكْسُ الْخِذْلَانِ.
وَفِي الْحَدِيثِ «لَا يَتَوَفَّقُ عَبْدٌ حَتَّى يُوَفِّقَهُ اللَّهُ» وَفِي أَوَائِلِ الْإِحْيَاءِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ «قَلِيلٌ مِنْ التَّوْفِيقِ خَيْرٌ مِنْ كَثِيرٍ مِنْ الْعِلْمِ» قَالَ الْقَاضِي الْحُسَيْنُ: وَالتَّوْفِيقُ الْمُخْتَصُّ بِالْمُتَعَلِّمِ أَرْبَعَةُ أَشْيَاءَ: شِدَّةُ الْعِنَايَةِ، وَمُعَلِّمٌ ذُو نَصِيحَةٍ، وَذَكَاءُ الْقَرِيحَةِ وَاسْتِوَاءُ الطَّبِيعَةِ: أَيْ خُلُوُّهَا عَنْ الْمَيْلِ لِغَيْرِ ذَلِكَ وَإِنْ لَمْ يَرْتَسِمْ فِيهَا وَتَتَكَيَّفْ بِمَا يُخَالِفُ الشَّيْءَ الْمُلْقَى إلَيْهَا. وَلَمَّا كَانَ التَّوْفِيقُ عَزِيزًا لَمْ يُذْكَرْ فِي الْقُرْآنِ إلَّا فِي قَوْله تَعَالَى {وَمَا تَوْفِيقِي إِلا بِاللَّهِ} [هود: 88] {إِنْ يُرِيدَا إِصْلاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا} [النساء: 35] {إِنْ أَرَدْنَا إِلا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا} [النساء: 62] وَظَاهِرٌ أَنَّ الْمُرَادَ ذِكْرُ لَفْظِهِ وَإِلَّا فَالْآيَتَانِ الْمُتَأَخِّرَتَانِ لَيْسَتَا مِنْ التَّوْفِيقِ الْمَذْكُورِ.
وَالتَّفَقُّهُ أَخْذُ الْفِقْهِ شَيْئًا فَشَيْئًا. وَالْفِقْهُ لُغَةً الْفَهْمُ، وَقِيلَ فَهْمُ مَا دَقَّ. قَالَ النَّوَوِيُّ: يُقَالُ فَقِهَ يَفْقَهُ فِقْهًا كَفَرِحَ يَفْرَحُ فَرَحًا، وَقِيلَ فِقْهًا بِسُكُونِ الْقَافِ وَابْنُ الْقَطَّاعِ وَغَيْرُهُ يُقَالُ: فَقِهَ بِالْكَسْرِ إذَا فَهِمَ، وَفَقُهَ بِالضَّمِّ إذَا صَارَ الْفِقْهُ لَهُ سَجِيَّةً، وَفَقَهَ بِالْفَتْحِ إذَا سَبَقَ غَيْرَهُ إلَى الْفَهْمِ.
وَشَرْعًا: الْعِلْمُ بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الْعَمَلِيَّةِ الْمُكْتَسَبُ مِنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ وَمَوْضُوعُهُ أَفْعَالُ الْمُكَلَّفِينَ؛ لِأَنَّهُ يَبْحَثُ فِيهِ عَنْهَا، وَالدِّينُ مَا شَرَعَهُ اللَّهُ مِنْ الْأَحْكَامِ، وَهُوَ وَضْعُ
ــ
[حاشية الشبراملسي] هُوَ الْوَجْهُ الثَّانِي فِي ابْنِ حَجَرٍ، وَالْأَوَّلُ أَنَّهُ بَيَانٌ لِمَنْ، وَعَلَيْهِ فَالْمَفْعُولُ الثَّانِي لِاخْتَارَ قَوْلُهُ الَّذِي قَدَّرَهُ الشَّارِحُ رحمه الله (قَوْلُهُ: مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ) أَيْ مِنْ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ كَمَا هُوَ مُصْطَلَحُ الْمُحَدِّثِينَ (قَوْلُهُ: وَتَسْهِيلُ سَبِيلِ الْخَيْرِ) تَبِعَ فِيهِ بَعْضَهُمْ احْتِرَازًا عَنْ الْكَافِرِ وَنَحْوِهِ، فَلَا تَوْفِيقَ عِنْدَهُمْ مَعَ قُدْرَتِهِمْ لِسَلَامَةِ أَعْضَائِهِمْ، لَكِنْ رَدَّ بِأَنَّ الْقُدْرَةَ هِيَ الصِّفَةُ الْمُقَارِنَةُ لِلْفِعْلِ، وَعَلَيْهِ فَالْكَافِرُ وَنَحْوُهُ لَا قُدْرَةَ لَهُ (قَوْلُهُ وَيُعَبَّرُ عَنْهُ) أَيْ مَجَازًا لِكَوْنِهِ لَازِمًا لِلتَّوْفِيقِ، وَهَذَا إنْ فُسِّرَ مَا بِهِ صَلَاحُ الْعَبْدِ بِمَا يَكُونُ مِنْ صِفَةِ بَنِي آدَمَ، وَإِلَّا بِأَنْ فُسِّرَ بِمَا هُوَ مِنْ فِعْلِهِ تَعَالَى كَخَلْقِهِ الْأَحْوَالَ الَّتِي تَكُونُ فِي الْعَبْدِ كَانَ مُسَاوِيًا لِلتَّوْفِيقِ (قَوْلُهُ: أَخَرَةً) أَيْ فِي آخِرِ أَمْرِهِ وَهُوَ بِوَزْنِ دَرَجَةٍ سَيِّد (قَوْلُهُ: مِنْ كَثِيرٍ مِنْ الْعِلْمِ) أَيْ الْخَالِي عَنْ التَّوْفِيقِ.
(قَوْلُهُ: وَالتَّوْفِيقُ الْمُخْتَصُّ إلَخْ) أَيْ وَالْمُرَادُ بِهِ تَيْسِيرُ الْأَسْبَابِ الْمُوَافِقَةِ لِلْمَقْصُودِ وَالْمُحَصِّلَةِ لَهُ (قَوْلُهُ: شِدَّةُ الْعِنَايَةِ) أَيْ الِاعْتِنَاءِ بِالطَّلَبِ وَدَوَامِهِ (قَوْلُهُ: وَإِنْ لَمْ يَرْتَسِمْ فِيهَا) أَيْ مَا يُلْقَى إلَيْهِ مِنْ الْمُعَلِّمِ وَلَوْ ظَنَّهُ خَطَأً، ثُمَّ بَعْدَ انْتِهَائِهِ يَتَأَمَّلُ فِيهِ بِمَا عِنْدَهُ، فَإِنْ ظَهَرَ لَهُ شُبْهَةٌ أَوْ رَدَّهَا عَلَى مُعَلِّمِهِ لِيُزِيلَهَا لَهُ إنْ أَمْكَنَ (قَوْلُهُ إنْ أَرَدْنَا إلَّا إحْسَانًا وَتَوْفِيقًا) تَبِعَ فِيهِ بَعْضَهُمْ.
وَفِي ابْنِ حَجَرٍ أَنَّهُ لِعِزَّتِهِ لَمْ يُذْكَرْ فِي الْقُرْآنِ إلَّا مَرَّةً فِي هُودٍ، قَالَ: وَلَيْسَ مِنْهُ {إِلا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا} [النساء: 62] {يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا} [النساء: 35] مِنْ الْوِفَاقِ الَّذِي هُوَ ضِدُّ الْخِلَافِ انْتَهَى رحمه الله، وَقَدْ أَشَارَ إلَى ذَلِكَ بِقَوْلِهِ وَظَاهِرُ إلَخْ (قَوْلُهُ: وَقِيلَ فِقْهًا بِسُكُونِ الْقَافِ) قَضِيَّتُهُ أَنَّ ذَلِكَ مَعَ فَتْحِ الْفَاءِ وَلَا مَانِعَ مِنْهُ (قَوْلُهُ بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الْعَمَلِيَّةِ) أَيْ الْمُتَعَلِّقَةِ بِكَيْفِيَّةِ عَمَلٍ كَوُجُوبِ الصَّلَاةِ وَالنِّيَّةِ، وَمِنْهُ يُعْلَمُ أَنَّ الْمُرَادَ بِالْعَمَلِ مَا يَشْمَلُ عَمَلَ الْقَلْبِ (قَوْلُهُ:؛ لِأَنَّهُ يَبْحَثُ فِيهِ عَنْهَا) وَاسْتِمْدَادُهُ مِنْ الْأَدِلَّةِ الْمُجْمَعِ عَلَيْهَا الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالْإِجْمَاعِ وَالْقِيَاسِ وَالْمُخْتَلَفِ فِيهَا كَالِاسْتِصْحَابِ
ــ
[حاشية الرشيدي] الْخَبَرِ الْآتِي، وَبِهِ يَنْدَفِعُ مَا يُقَالُ: اللُّطْفُ مُسَاوٍ لِلتَّوْفِيقِ مَاصَدَقًا أَوْ وَمَفْهُومًا، فَيَرْجِعُ كَلَامُ الْمُصَنِّفِ إلَى تَحْصِيلِ الْحَاصِلِ (قَوْلُهُ: لَهُ) عَقِبَ قَوْلِ الْمُصَنِّفِ وَاخْتَارَهُ تَبِعَ فِيهِ الْمُحَقِّقَ الْمَحَلِّيَّ، لَكِنَّ الْمُحَقِّقَ الْمَذْكُورَ قَدَّمَ لَهُ مَرْجِعًا هُوَ لَفْظُ الْخَيْرِ كَمَا قَدَّمْته عَنْهُ فِي الْقَوْلِ قَبْلَ هَذِهِ، وَالشَّيْخُ لَمَّا حَذَفَ ذَلِكَ وَتَبِعَهُ هُنَا أَوْهَمَ أَنَّ الضَّمِيرَ يَرْجِعُ إلَى الدِّينِ أَوْ التَّفَقُّهِ وَلَيْسَ لَهُ كَبِيرُ فَائِدَةٍ (قَوْلُهُ وَاللَّامُ فِيهِ لِلْجِنْسِ إلَخْ) عِبَارَةُ الشِّهَابِ ابْنِ حَجَرٍ عَقِبَ قَوْلِ الْمُصَنِّفِ مِنْ الْعِبَادِ لَفْظُهَا يَصِحُّ أَنْ يَكُونَ بَيَانًا لِمَنْ، فَأَلْ فِيهِ لِلْعَهْدِ، وَالْمَعْهُودِ {إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ} [الحجر: 42] إلَى أَنْ قَالَ أَوْ مَفْعُولًا ثَانِيًا لَاخْتَارَهُ فَأَلْ فِيهِ لِلْجِنْسِ (قَوْلُهُ: وَإِنْ لَمْ يُرْسَمْ) مَعْطُوفٌ عَلَى قَوْلِهِ عَنْ الْمَيْلِ
এতে ‘লাম’ (অক্ষরটি) জাতিবাচক (জিনস), সামগ্রিকতা প্রকাশকারী (ইস্তিগরাক) অথবা সুনির্দিষ্ট কিছুর (আহদ) বর্ণনার জন্য এসেছে। আর এর মাধ্যমে তিনি সেই হাদীসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যাতে বলা হয়েছে: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন"; এটি একটি সর্বসম্মত (মুত্তাফাকুন আলাইহি) হাদীস। আর তাওফিক (সফলতা দান) হলো ইবাদত করার সক্ষমতা সৃষ্টি করা এবং কল্যাণের পথকে সহজ করে দেওয়া। বান্দার পরিণাম ভালো হওয়ার সময় যা ঘটে, তার মাধ্যমেও একে প্রকাশ করা হয়; আর এটি ‘খিযলান’ বা লাঞ্ছনার বিপরীত।
হাদীসে এসেছে: "কোনো বান্দা ততক্ষণ তাওফিক পায় না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করেন।" আর ‘ইহইয়া’ গ্রন্থের শুরুর দিকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "সামান্য তাওফিক প্রচুর ইলমের চেয়ে উত্তম।" কাজী হুসাইন বলেছেন: একজন শিক্ষার্থীর জন্য নির্দিষ্ট তাওফিক চারটি বিষয়ের সমষ্টি: প্রগাঢ় যত্নশীলতা, একজন হিতাকাঙ্ক্ষী শিক্ষক, প্রখর মেধা এবং স্বভাবের সুস্থতা; অর্থাৎ দ্বীন ছাড়া অন্য কিছুর দিকে ঝুঁকে পড়া থেকে স্বভাব মুক্ত থাকা, যদিও তাতে বিপরীত কোনো বিষয়ের ছাপ না পড়ে এবং অর্পিত বিষয়ের বিপরীত কোনো বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত না হয়। যেহেতু তাওফিক অত্যন্ত দুর্লভ, তাই পবিত্র কুরআনে এর উল্লেখ মাত্র কয়েক জায়গায় এসেছে যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমার তাওফিক তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে} [হূদ: ৮৮], {যদি তারা উভয়ে মীমাংসা চায়, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে তাওফিক দান করবেন} [নিসা: ৩৫], {আমরা তো কেবল কল্যাণ ও তাওফিকই চেয়েছিলাম} [নিসা: ৬২]। এটি স্পষ্ট যে, এখানে তাওফিক শব্দের মূল রূপ বা অর্থের বর্ণনা উদ্দেশ্য, অন্যথায় পরবর্তী দুটি আয়াতে বর্ণিত তাওফিক দ্বারা এখানে উদ্দেশ্যকৃত (পারিভাষিক) তাওফিক বোঝানো হয়নি।
আর ‘তাফাক্কুহ’ হলো ধীরে ধীরে ফিকহ বা জ্ঞান অর্জন করা। আভিধানিক অর্থে ফিকহ হলো কোনো কিছু বোঝা; কেউ কেউ বলেছেন সূক্ষ্ম বিষয় উপলব্ধি করা। ইমাম নববী (রহি.) বলেন: এটি ‘ফাক্বিহা ইয়াফক্বাহু ফিক্বহান’ (কাসরা দিয়ে) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন ‘ফারিহা ইয়াফরাহু ফরাহান’। কেউ কেউ ‘ফিক্বহান’ শব্দে ‘ক্বাফ’ অক্ষরটিকে সাকিন হিসেবে পড়ার কথা বলেছেন। ইবনুল কাত্তাহ ও অন্যান্যরা বলেন: যখন কেউ বুঝতে পারে তখন ‘ফাক্বিহা’ (কাসরা দিয়ে), যখন ফিকহ তার মজ্জাগত স্বভাব হয়ে যায় তখন ‘ফাক্বুহা’ (যম্মাহ দিয়ে), আর যখন সে অন্যের চেয়ে আগে বুঝতে সক্ষম হয় তখন ‘ফাক্বাহা’ (ফাতহা দিয়ে) ব্যবহৃত হয়।
শরীয়তের পরিভাষায়: বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ থেকে আহরিত আমল-সংক্রান্ত শরয়ী বিধানসমূহের জ্ঞানকে ফিকহ বলা হয়। এর আলোচ্য বিষয় হলো মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের কার্যাবলি; কারণ এতে তাদের কার্যাবলি নিয়েই আলোচনা করা হয়। আর দ্বীন হলো আল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত সেই সকল বিধান...
ــ
[হাশিয়াতুশ শুবরামান্লিসি]এটি ইবনে হাজারের বর্ণিত দ্বিতীয় অভিমত। প্রথম অভিমত হলো এটি ‘মান’ (যাকে আল্লাহ চান) এর ব্যাখ্যা। আর সে অনুযায়ী ‘ইখতারা’ (তিনি নির্বাচন করেছেন) ক্রিয়াপদের দ্বিতীয় কর্ম (মাফউল) হলো ব্যাখ্যাকার (শারহ) রহি. যা অনুমান করেছেন। (মুত্তাফাকুন আলাইহি কথাটির অর্থ) অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, যেমনটি মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা। (কল্যাণের পথ সহজ করে দেওয়া প্রসঙ্গে) এতে তিনি একদল আলিমের অনুসরণ করেছেন যাতে কাফের ও অনুরূপ ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া যায়; কারণ তাদের মতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাদের তাওফিক নেই। কিন্তু এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, সক্ষমতা (কুদরত) হলো সেই গুণ যা কর্মের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত; সুতরাং সেই হিসেবে কাফের ও অনুরূপ ব্যক্তিদের কোনো সক্ষমতা নেই। (এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় কথাটির অর্থ) অর্থাৎ রূপকার্থে, কারণ এটি তাওফিকের জন্য অপরিহার্য। আর এটি তখনই প্রযোজ্য যখন ‘বান্দার সংশোধনকারী বিষয়’ বলতে মানবীয় গুণাবলীকে বোঝানো হয়; নতুবা যদি একে আল্লাহর কাজ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়—যেমন বান্দার মাঝে বিশেষ অবস্থার সৃষ্টি করা—তবে তা তাওফিকের সমার্থক হবে। (আখিরাতান কথাটির অর্থ) অর্থাৎ তার বিষয়ের শেষ পরিণতিতে, এটি ‘দারাজাহ’ শব্দের ওজনে হবে—সাঈদ। (প্রচুর ইলমের চেয়ে উত্তম কথাটির অর্থ) অর্থাৎ সেই ইলম যা তাওফিকশূন্য।
(শিক্ষার্থীর জন্য নির্দিষ্ট তাওফিক কথাটির অর্থ) অর্থাৎ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক এবং ফলপ্রসূ কারণসমূহকে সহজসাধ্য করে দেওয়া। (প্রগাঢ় যত্নশীলতা কথাটির অর্থ) অর্থাৎ জ্ঞান অন্বেষণে গভীর মনোনিবেশ এবং তা অব্যাহত রাখা। (যদিও তাতে বিপরীত কিছুর ছাপ না পড়ে কথাটির অর্থ) অর্থাৎ শিক্ষক তাকে যা শেখাবেন তাতে যদি সে ভুল মনে করে তবুও, অতঃপর পাঠ শেষ হওয়ার পর সে নিজের কাছে যা আছে তা দিয়ে তা নিয়ে চিন্তা করবে; এরপর যদি তার কাছে কোনো সংশয় জাগে তবে সে তা শিক্ষকের কাছে পেশ করবে যাতে সম্ভব হলে তিনি তা দূর করে দেন। (আমরা কল্যাণ ও তাওফিক ছাড়া আর কিছুই চাইনি আয়াতটি প্রসঙ্গে) তিনি এখানে কারও অনুসরণ করেছেন।
ইবনে হাজারের মতে, তাওফিকের গুরুত্ব ও দুর্লভতার কারণে পবিত্র কুরআনে এটি কেবল সূরা হুদে একবারই বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: {কল্যাণ ও তাওফিক} এবং {আল্লাহ তাদের মধ্যে তাওফিক দান করবেন} আয়াত দুটি এই তাওফিকের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এগুলো ‘ওয়াফাক’ বা মিলমিশ থেকে উদ্ভূত যা বিরোধের বিপরীত—তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত রহি.। তিনি ‘এটি স্পষ্ট’ কথাটির মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। (কেউ কেউ ক্বাফ বর্ণে সাকিন দিয়ে পড়ার কথা বলেছেন) এর দাবি হলো এটি ফা বর্ণে ফাতহা দিয়ে হবে এবং এতে কোনো বাধা নেই। (আমল-সংক্রান্ত শরয়ী বিধানসমূহ কথাটির অর্থ) অর্থাৎ কোনো আমলের পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়, যেমন সালাতের আবশ্যকতা এবং নিয়ত করা। এখান থেকেই বোঝা যায় যে, আমল বলতে অন্তরের আমলকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। (যেহেতু এতে তা নিয়ে আলোচনা করা হয় কথাটির অর্থ) আর এর উৎস হলো সর্বসম্মত দলিলসমূহ—কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস—এবং মতভেদপূর্ণ দলিলসমূহ যেমন ইসতিসহাব।
ــ
[হাশিয়াতুর রাশিদী]পরবর্তী হাদীসটি দ্বারা ঐ আপত্তির নিরসন হয় যাতে বলা হয়: ‘লুতফ’ (অনুগ্রহ) এবং ‘তাওফিক’ এর প্রয়োগ ও মর্মার্থ একই, ফলে গ্রন্থকারের বক্তব্য পুনরুক্তি মাত্র। (তার জন্য কথাটি) মূল লেখকের ‘তিনি নির্বাচন করেছেন’ এর পর এটি মুহাক্কিক মাহাল্লীর অনুসরণ। কিন্তু উক্ত মুহাক্কিক এর একটি পূর্ববর্তী নির্দেশক (মারজা) উল্লেখ করেছেন যা হলো ‘কল্যাণ’ শব্দ, যেমনটি আমি তার থেকে আগের আলোচনায় উল্লেখ করেছি। শেখ যখন তা বাদ দিয়ে এখানে অনুসরণ করেছেন, তখন এটি সংশয় সৃষ্টি করে যে সর্বনামটি হয়তো দ্বীন বা তাফাক্কুহ-র দিকে ফিরেছে, যার কোনো বিশেষ উপকারিতা নেই। (এতে ‘লাম’ বর্ণটি জাতিবাচক হওয়ার কথা) শিহাব ইবনে হাজারের বক্তব্য হলো, মূল লেখকের ‘বান্দাদের মধ্য থেকে’ কথাটির পর যে শব্দটি আছে, তার ‘আল’ বর্ণটি ‘আহদ’ বা সুপরিচিত কিছুর জন্য হওয়া সঠিক; আর পরিচিত বিষয়টি হলো {নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো আধিপত্য নেই} [হিজর: ৪২]। এরপর তিনি বলেন, অথবা এটি ‘ইখতারা’ এর দ্বিতীয় কর্ম হিসেবে হবে, তখন এতে ‘আল’ বর্ণটি জাতিবাচক হবে। (যদিও চিত্রিত না হয় কথাটি) এটি তার ‘ঝোঁক থেকে মুক্ত’ কথাটির ওপর সমম্বিত (আতাফ)।