(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: -)
في مهب المعركة القسم: كتب عامة
الكتاب: في مهب المعركة
المؤلف: مالك بن الحاج عمر بن الخضر بن نبي (ت 1393هـ)
الناشر: دار الفكر المعاصر بيروت - لبنان / دار الفكر دمشق - سورية
الطبعة: 1423هـ - 2002م / ط3: 1981م
عدد الصفحات: 173
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1433
সংগ্রামের মুখে বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
বই: সংগ্রামের মুখে
লেখক: মালেক বিন আল-হাজ ওমর বিন আল-খিজির বিন নবী (ওফাত (توفي) ১৩৯৩ হিজরি)
প্রকাশক: দার আল-ফিকর আল-মুআসির বৈরুত - লেবানন / দার আল-ফিকর দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ / ৩য় সংস্করণ: ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৩
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাযাইরি
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ মহরম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مالك بن نبي
مشكلات الحضارة
في مهب المعركة
دار الفكر المعاصر بيروت - لبنان
دار الفكر دمشق - سورية
মালিক বিন নবী
সভ্যতার সমস্যাবলি
লড়াইয়ের ঝঞ্ঝাবর্তে
দারুল ফিকর আল-মুআসির, বৈরুত - লেবানন
দারুল ফিকর, দামেস্ক - সিরিয়া
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
في مهب المعركة
রণাঙ্গনের ঝোড়ো হাওয়ায়
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مالك بن نبي
مشكلات الحضارة
في مهب المعركة
إرهاصات الثورة
إصدار دار الندوة
মালেক বিন নবী
সভ্যতার সমস্যাবলি
সংগ্রামের ঘূর্ণাবর্তে
বিপ্লবের পূর্বাভাস
দারুন নদওয়াহ সংস্করণ
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
إعادة
1423هـ - 2002م
ط3: 1981م
পুনর্মুদ্রণ
১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
তৃতীয় সংস্করণ: ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
إهداء
إلى شهداء الثورة الجزائرية الذين حققوا بدمائهم للأحلام التي تعبر عنها هذه الصفحات
مالك
উৎসর্গ
আলজেরীয় বিপ্লবের সেই সকল শহীদদের প্রতি, যাঁরা এই পৃষ্ঠাগুলোতে ব্যক্ত হওয়া স্বপ্নগুলোকে নিজেদের রক্তের বিনিময়ে বাস্তবে রূপদান করেছেন।
মালেক
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديممقالات كتبها الأستاذ مالك بن نبي رحمه الله في باريس، في نهاية الأربعينات وبداية الخمسينات.
وقد نشرها آنذاك في صحيفتين جزائرتين ناطقتين بالفرنسية، هما الشباب المسلم والجمهورية الجزائرية.
وحينما لجأ إلى القاهرة عام 1956 بدا له أن يترجم هذه المقالات وينشرها بالعربية. فكانت الطبعة الأولى عام 1961.
وقد سمى مجموعة المقالات هذه ((في مهب المعركة))، باعتبارها إرهاصا للثورة الجزائرية وتسويغا لدوافعها.
ففي المقالات تلمس فكر بن نبي وقد أحاط بشخصية الشعب الجزائري بل بشخصية العالم الثالث، الذي كان وما زال خارج إطار الحضارة الحديثة.
فمنذ منتصف الثلاثينات، برز المهندس مالك بن نبي يختط للنضال سبل الفعالية، ويمنح الشباب الجزائري آفاقا تبدد ضباب الاستعمار، ويضع لثقافة الجيل أسسا من أصالة التاريخ وقيم العقيدة.
هذه الأصالة تقرؤها في كل مقال كتبه مالك بن نبي، في هذه المجموعة، يواجه بشجاعة نادرة الاستعمار الجاثم على أرض الجزائر.
ولم يكن سبيله إلى تلك المواجهة، ما تعارف عليه سياسيو ذلك الزمن، من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাবিশিষ্ট চিন্তাবিদ অধ্যাপক মালিক বিন নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ১৯৪০-এর দশকের শেষভাগে এবং ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে প্যারিসে থাকাকালীন কিছু নিবন্ধ লিখেছিলেন।
তিনি তৎকালীন সময়ে আলজেরিয়ার ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত দুটি সংবাদপত্র 'আশ-শাবাব আল-মুসলিম' এবং 'আল-জুমহুরিয়াহ আল-জাযায়িরিয়াহ'-তে এগুলো প্রকাশ করেন।
১৯৫৬ সালে যখন তিনি কায়রোতে আশ্রয় গ্রহণ করেন, তখন এই নিবন্ধগুলো অনুবাদ করে আরবি ভাষায় প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৬১ সালে এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
তিনি এই নিবন্ধগুচ্ছের নাম দিয়েছিলেন 'ফি মাহাব্বিল মা’রাকাহ' (যুদ্ধের মুখে), যা আলজেরীয় বিপ্লবের পূর্বাভাস এবং এর পেছনের কারণগুলোর যৌক্তিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই নিবন্ধগুলোর মাধ্যমে মালিক বিন নবীর চিন্তাধারা উপলব্ধি করা যায়, যা আলজেরীয় জনগণের ব্যক্তিসত্তা এবং বিশেষ করে আধুনিক সভ্যতার বলয়ের বাইরে অবস্থানরত তৃতীয় বিশ্বের মানুষের স্বরূপকে ঘিরে আবর্তিত।
১৯৩০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকেই প্রকৌশলী মালিক বিন নবী সংগ্রামের কার্যকর পথরেখা অঙ্কন করে আবির্ভূত হন এবং আলজেরীয় যুবকদের এমন এক দিগন্তের পথ দেখান যা ঔপনিবেশিকতার কুয়াশা দূর করে দেয়। তিনি নতুন প্রজন্মের সংস্কৃতির জন্য ইতিহাসের মৌলিকত্ব এবং আকিদাহ (العقيدة)-এর মূল্যবোধের ভিত্তি স্থাপন করেন।
মালিক বিন নবীর এই সংকলনের প্রতিটি নিবন্ধে সেই মৌলিকত্বের ছাপ পাওয়া যায়, যেখানে তিনি আলজেরিয়ার মাটিতে চেপে বসা উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে বিরল সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছেন।
সেই মোকাবেলার ক্ষেত্রে তাঁর পথটি সমকালীন রাজনীতিকদের অনুসৃত প্রথাগত কোনো পথ ছিল না...
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ديماغوجية تلعب بعواطف الجماهير. فقد اختط مالك بن نبي طريقاً إلى عمق القضية، يطرح القواعد الثابتة لتطور التاريخ، ثم يشرع في بناء الذات الجزائرية على أساس تلك القواعد.
لم يكن يعنيه أن يلعن الإِدارة الاستعمارية. لقد اختار الطريق الأصعب والأشق عليه، حين اهتم بفضح وسائلها تنويرا للرأي وتبصرة للطريق.
ولم يكن الطريق إلا تلك الشروط الموضوعية لنهضة فاعلة.
لذلك أصدر في تلك الحقبة بالفرنسية، ـ[شروط النهضة الجزائرية]ـ، ثم ومن أجل ربط هذه الشروط بالقيم الإِسلامية التي رسمت حدود الأصالة الجزائرية، أصدر بالفرنسية في تلك المرحلة، ـ[الظاهرة القرآنية]ـ، ليضع للشباب الجزائري المتصل بالمنهج الديكارتي، ضوابط تمسك في نفسه عروة العقيدة.
وإذ هو يدعو إلى بعث جديد للقيم الإِسلامية التي كونت تاريخ الجزائر، نراه يطرح في تلك المرحلة أيضا كتابه بالفرنسية، (( Vocation de L'Islam)) المترجم إلى العربية بعنوان: ـ[وجهة العالم الإِسلامي]ـ.
وقد حاز هذا الكتاب في بداية الخمسينات شهرة واسعة، ومنح الشباب المسلم في الجزائر وخارجه، سبل الخروج من ذلك المستنقع الذي وقع فيه العالم الإِسلامي، والذي يطلق عليه مالك بن نبي رحمه الله مجتمع ما بعد الموحدين، وقد مني هذا المجتمع بمرض اجتماعي سماه ((القابلية للاستعمار)).
فمقالات بن نبي ـ[في مهب المعركة]ـ ليست إلا صدى لهذه الكتب، يتتبع أحداث تلك المرحلة في الإِطار السياسي أو الاجتماعي أو الثقافي، يحاول من خلالها تسليط الأضواء على المشاكل الحقيقية التي ينبغي للشباب الجزائري أن يتوفر بفعالية لحلها.
وبالرغم من عهد مضى في تاريخ الجزائر، تناولته هذه المقالات، فإنها لا تزال تحمل في طياتها نبض المشكلة وعمق حلولها.
এটি জনমোহিনী বাগাড়ম্বর ছিল না যা কেবল জনগণের আবেগকে পুঁজি করে। মালিক বিন নবী সমস্যার গভীরমূল পর্যন্ত একটি পথরেখা অঙ্কন করেছিলেন; তিনি ইতিহাসের বিবর্তনের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলি উপস্থাপন করেন এবং তারপর সেই নিয়মাবলির ভিত্তিতে আলজেরীয় সত্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
ঔপনিবেশিক প্রশাসনকে কেবল অভিশাপ দেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং তিনি নিজের জন্য কঠিনতম ও অত্যন্ত শ্রমসাধ্য পথটিই বেছে নিয়েছিলেন; তিনি জনমতকে সচেতন করতে এবং চলার পথকে সুস্পষ্ট করার জন্য তাদের কলাকৌশলসমূহ উন্মোচিত করার প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন।
আর সেই পথটি ছিল মূলত একটি কার্যকর নবজাগরণের জন্য প্রয়োজনীয় বস্তুনিষ্ঠ শর্তাবলি ছাড়া আর কিছুই নয়।
এই কারণেই তিনি সেই সময় ফরাসি ভাষায় ‘আলজেরীয় নবজাগরণের শর্তাবলি’ প্রকাশ করেন। অতঃপর এই শর্তগুলোকে আলজেরীয় ঐতিহ্যের সীমারেখা নির্ধারণকারী ইসলামি মূল্যবোধের সাথে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে তিনি সেই পর্যায়ে ফরাসি ভাষায় ‘কুরআনিক প্রপঞ্চ’ প্রকাশ করেন, যাতে দেকার্তীয় পদ্ধতির সাথে সম্পৃক্ত আলজেরীয় তরুণদের অন্তরে আকিদার দৃঢ় বন্ধন তৈরি করার মতো কিছু নীতিমালা প্রদান করা যায়।
তিনি যখন আলজেরীয় ইতিহাস বিনির্মাণকারী ইসলামি মূল্যবোধের এক নতুন পুনর্জাগরণের আহ্বান জানাচ্ছিলেন, তখন আমরা দেখি তিনি সেই পর্যায়ে ফরাসি ভাষায় তাঁর ‘ভকেশন অব ইসলাম’ বইটি উপস্থাপন করেন, যা আরবিতে ‘ইসলামি বিশ্বের অভিমুখ’ শিরোনামে অনূদিত হয়েছে।
পঞ্চাশের দশকের শুরুতে এই বইটি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করে এবং আলজেরিয়া ও তার বাইরের মুসলিম তরুণদের সেই চোরাবালি থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখায় যাতে ইসলামি বিশ্ব নিমজ্জিত ছিল। মালিক বিন নবী (রাহিমাহুল্লাহ) একে ‘মুওয়াহহিদ পরবর্তী সমাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন; আর এই সমাজ এমন এক সামাজিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিল যাকে তিনি ‘উপনিবেশিত হওয়ার প্রবণতা’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিন নবীর ‘সংগ্রামের ঝোড়ো হাওয়ায়’ প্রবন্ধগুলো মূলত এই বইগুলোরই প্রতিধ্বনি। সেখানে তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে সেই সময়ের ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করেন এবং এর মাধ্যমে আলজেরীয় তরুণদের সেই প্রকৃত সমস্যাগুলোর ওপর আলোকপাত করার চেষ্টা করেন, যা সমাধানের জন্য তাদের কার্যকরভাবে আত্মনিয়োগ করা প্রয়োজন।
যদপি আলজেরীয় ইতিহাসের একটি বিগত সময় নিয়ে এই প্রবন্ধগুলোতে আলোচনা করা হয়েছে, তবুও এগুলো আজও সমস্যার স্পন্দন এবং সমাধানের গভীরতা ধারণ করে আছে।
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فالاستقلال السياسي، الذي ظفرت به دول العالم الثالث فيما بعد، ما يزال يطرح مشكلة الاستقلال الاجتماعي والنفسي، ليواجه الإِنسان المتخلف مستقبله ومصيره بعيداً عن تبعية العالم الصناعي المستغِل.
فمقالات بن نبي ـ[في مهب المعركة]ـ حاولت في مرحلة التحضير للثورة الجزائرية تصفية المفاهيم الفكرية وتعديل المبادرات الوطنية بما يتفق وفعالية الكفاح في مختلف الأصعدة. لقد تناول بن نبي في هذه المقالات كل حدث سجله الصراع مع الاستعمار في الشمال الأفريقي، وناقش كل كلمة قيلت حول ذلك الصراع، وراقب كل حركة بدرت في هذا الإِطار.
وكان فيما يناقش ويراقب إنما يطرح القواعد الأساسية التي حالت معطيات الثقافة الغربية ومصطلحاتها دون الولوج إلى جوهرها.
من هنا تبدو مقالات بن نبي في مرحلة التحضير للثورة الجزائرية، ذات اتصال بمقالاته التي حررها بعد عشر سنوات، والتي تحدثت عن مرحلة ما بعد الاستقلال السياسي، والتي سننشرها إن شاء الله، بعد أن ترجمها الأستاذ مالك ووضعها في كتاب سماه ـ[بين الرشاد والتيه]ـ.
ففي كلا المرحلتين، تبدو المشكلة مرتبطة في حلولها، بنسق اجتماعي يحقق الشروط النفسية والثقافية لبناء حضارة.
إن هذا الكتاب يطرح للقارىء صورة من تاريخ ما قبل الثورة الجزائرية، ناضل فيها الأستاذ مالك نضال الأبطال، وهو يشرح في الوقت نفسه القواعد الأساسية التي طالما تناولها في كتبه.
ولقد راجعنا النص العربي بقدر ما أتاحت لنا المحافظة على أسلوب الأستاذ مالك وإنا لنرجو أن نكون قد بلغنا الأمانة كما ألقاها إلينا.
جزاه الله عنا كل خير وأسكنه فسيح جنانه.
عمر مسقاوي
طرابلس- لبنان
20 شعبان 1398
25 تموز 1978
রাজনৈতিক স্বাধীনতা, যা পরবর্তীতে তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহ অর্জন করেছে, তা সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক স্বাধীনতার প্রশ্নটিকে এখনো সমুজ্জ্বল রেখেছে; যাতে অনগ্রসর মানুষ শোষণকারী শিল্পোন্নত বিশ্বের পরাধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে তার ভবিষ্যৎ ও নিয়তির মুখোমুখি হতে পারে।
বেন নবীর নিবন্ধসমূহ —[সংগ্রামের ঝঞ্ঝাবর্তে]— আলজেরীয় বিপ্লবের প্রস্তুতি পর্বে বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণাসমূহ পরিচ্ছন্ন করার এবং বিভিন্ন স্তরে সংগ্রামের কার্যকারিতার সাথে সংগতি রেখে জাতীয় উদ্যোগগুলোর সংশোধন (تعديل) করার চেষ্টা করেছিল। বেন নবী এই নিবন্ধগুলোতে উত্তর আফ্রিকায় উপনিবেশবাদের সাথে সংঘটিত সংগ্রামের প্রতিটি ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন, সেই সংগ্রাম সম্পর্কে বলা প্রতিটি শব্দ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এই কাঠামোর মধ্যে প্রকাশ পাওয়া প্রতিটি আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করেছেন।
তিনি যা কিছু আলোচনা ও পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তাতে তিনি মূলত সেই মৌলিক নীতিমালাগুলো পেশ করছিলেন, যেগুলোর মূলসত্তায় প্রবেশ করার ক্ষেত্রে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির উপাত্ত ও পরিভাষাসমূহ অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এখান থেকেই আলজেরীয় বিপ্লবের প্রস্তুতি পর্বে বেন নবীর নিবন্ধগুলোর সাথে তার দশ বছর পর রচিত নিবন্ধগুলোর একটি যোগসূত্র ফুটে ওঠে, যেগুলোতে রাজনৈতিক স্বাধীনতা-উত্তর পর্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেগুলো প্রকাশ করব; অধ্যাপক মালেক সেগুলো অনুবাদ করে 'সঠিক পথ ও বিভ্রান্তির মাঝে' নামক গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
উভয় পর্যায়েই সমস্যার সমাধান একটি সামাজিক কাঠামোর সাথে সম্পৃক্ত বলে মনে হয়, যা সভ্যতা বিনির্মাণের মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক শর্তাবলি পূরণ করে।
এই বইটি পাঠকের সামনে বিপ্লব-পূর্ব আলজেরীয় ইতিহাসের একটি চিত্র তুলে ধরে, যেখানে অধ্যাপক মালেক বীরোচিত সংগ্রাম করেছেন। একই সাথে তিনি সেই মৌলিক নীতিমালাগুলো ব্যাখ্যা করেছেন যা তিনি দীর্ঘকাল ধরে তার বইগুলোতে আলোচনা করে এসেছেন।
আমরা অধ্যাপক মালেকের লিখনশৈলী অক্ষুণ্ণ রেখে সাধ্যমতো আরবি পাঠ্যটি পর্যালোচনা করেছি এবং আমরা আশা করি যে, তিনি আমাদের কাছে যে আমানত (الأمانة) গচ্ছিত রেখেছিলেন, তা আমরা যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে পেরেছি।
আল্লাহ তাকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে আবাসন দান করুন।
ওমর মেসকাউয়ি
ত্রিপোলি- লেবানন
২০ শাবান ১৩৯৮
২৫ জুলাই ১৯৭৮
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
مقدّمةبقلم الأستاذ محمود محمد شاكر
لعلي لا أبالغ إذا قلت: إن هذه المجموعة من مقالات أخي الأستاذ مالك بن نبي، هي عندي من أنفس ما كتب، لا لأنها تتناول موضوعا لا نزال نعيشه وعاش فيه من قبل آباؤنا، ولا تزال آثاره باقية فينا، تعمل عملا مدمراً في حياتنا كلها، ولا لأنها تاريخ متصل مغموس في الشرور التي ارتكبها الاستعمار في بلادنا، ولا لأنها تذكرة لنا ولأبنائنا بما يخشى أن ينسوه من النكبات التي حاقت بهم. كلا، بل هي أنفس شيء عندي، لأنها تكشف لنا عن فكر رجل خبير فكر في الأمور ساعة بعد ساعة، وقيد هذا الفكر في حينه، فإذا نحن نرى أنفسنا في ضوء ما كتب قديما، كأننا لم نتقدم خطوة في فهم البلاء الذي ينزل بنا ولا يزال ينزل.
وأشد النكبات التي يصاب بها البشر، نكبة الغفلة، لأنها محو لما تقوم به حياة الناس، والمرء لا يكون إنسانا نامياً إِلا مع اليقظة فإذا سلب اليقظة، فقد اسقر في حومة الموت والهلاك، وإن بقي حيا يتحرك.
وهذه المقالات المتفرقة المعاني، المتباعدة الأزمان، يضمها معنى واحد في زمان واحد، فالمعنى الذي يضمها هو معنى الاستعمار وهو معنى واحد، وإن اختلفت وسائل التعبير عنه قي نواحي الحياة الإِنسانية. والزمن الذي يجمعها، هو زمن واحد، هو زمن الاستعمار، وإن اختلفت عليه الأيام والليالي والشهور والسنوات. والنتيجة التي يخلص إليها قارئها، إذا أحسن القراءة وأخذها مأخذ الجد، هي أننا عشنا في أكبر مؤامرة على العالم الإِسلامي وتوابعه ولكننا مع ذلك لا نزال نعيش في هذه المؤامر كأنها تعني أحدا سوانا ولا تعنينا في شيء
ভূমিকাঅধ্যাপক মাহমুদ মুহাম্মদ শাকের-এর কলমে
আমি যদি বলি যে, আমার ভাই অধ্যাপক মালেক বিন নবী-র প্রবন্ধসমূহের এই সংকলনটি আমার দৃষ্টিতে তাঁর রচিত সর্বাপেক্ষা মূল্যবান লেখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তবে তাতে সম্ভবত কোনো অত্যুক্তি হবে না। এটি কেবল এজন্য নয় যে, এটি এমন এক বিষয় নিয়ে আলোকপাত করে যার মধ্যে আমরা এখনও বসবাস করছি এবং যা আমাদের পূর্বে আমাদের পিতৃপুরুষগণও প্রত্যক্ষ করেছেন, এবং যার ধ্বংসাত্মক প্রভাব আজও আমাদের সমগ্র জীবনে বিদ্যমান ও সক্রিয়। কিংবা এটি কেবল এজন্যও নয় যে, এটি আমাদের দেশগুলোতে উপনিবেশবাদ কর্তৃক সংঘটিত অনিষ্টসমূহে নিমজ্জিত এক অবিচ্ছিন্ন ইতিহাস; অথবা এটি আমাদের ও আমাদের সন্তানদের জন্য সেই সকল বিপর্যয়ের স্মারক—যা তারা ভুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়—যা তাদের ওপর আপতিত হয়েছে। মোটেও তা নয়; বরং এটি আমার কাছে সর্বাপেক্ষা মূল্যবান হওয়ার কারণ হলো, এটি আমাদের সামনে এমন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির চিন্তাধারাকে উন্মোচন করে, যিনি প্রতিটি বিষয় নিয়ে মুহূর্তের পর মুহূর্ত গভীরভাবে ভেবেছেন এবং সেই চিন্তাসমূহকে যথাসময়ে লিপিবদ্ধ করেছেন। ফলে আমরা অতীতে তাঁর লেখা সেই সব কথার আলোকে যখন নিজেদের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করি, তখন মনে হয় যে, আমাদের ওপর আপতিত এবং নিরন্তর বয়ে চলা এই বিপদগুলো অনুধাবনের ক্ষেত্রে আমরা এক কদমও অগ্রসর হতে পারিনি।
মানুষের ওপর আপতিত সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় হলো উদাসীনতার বিপর্যয়; কারণ এটি মানবজীবনের ভিত্তিমূলকেই নিশ্চিহ্ন করে দেয়। আর সচেতনতা ও সতর্কতা ব্যতিরেকে কোনো মানুষই প্রকৃত অর্থে বিকাশমান মানুষ হতে পারে না। সুতরাং যদি কারো থেকে সেই সচেতনতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তবে সে জীবিত ও সচল থাকলেও প্রকৃতপক্ষে মৃত্যু ও ধ্বংসের প্রান্তরেই অবস্থান করে।
আর ভিন্ন ভিন্ন অর্থবহ এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে রচিত এই প্রবন্ধগুলোকে একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে একটি মৌলিক ভাবই একসূত্রে গেঁথেছে। সেই ঐক্যবদ্ধকারী ভাবটি হলো উপনিবেশবাদ, এবং এটি একটিই অর্থ—যদিও মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমগুলো ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। আর যে সময়কালটি এই প্রবন্ধগুলোকে একত্রিত করেছে তা-ও অভিন্ন; আর তা হলো উপনিবেশবাদের যুগ, যদিও এর ওপর দিয়ে বহু দিন, রাত, মাস ও বছর অতিবাহিত হয়েছে। আর পাঠক যদি এই লেখাগুলো যথাযথভাবে এবং গুরুত্বের সাথে পাঠ করেন, তবে তিনি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন তা হলো—আমরা মুসলিম বিশ্ব ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশাল ষড়যন্ত্রের আবহে অতিবাহিত করছি; কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা এই ষড়যন্ত্রের মধ্যে এমনভাবে বসবাস করছি যেন এটি আমাদের ব্যতীত অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে এবং আমাদের সাথে এর কোনো সম্পর্কই নেই।
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
لأن المؤامرة تتم يوما بعد يوم ونحن نحيى في آثارها حياة المستمتع بأيامه ولياليه، وما أيامه ولياليه إلا بنات فلك الاستعمار، لا بنات فلك الشمس والقمر. وأنا لا أعني بهذا بلاغة ولا شعراً، ولكني أحسست ذلك كله وأنا أقرأ هذه المجموعة ساعة بعد ساعة.
فهذا المفكر الخبير، قد استطاح بحسن إِدراكه وبقوة بيانه وبدقة ملاحظته، أن يفتح عيوننا على الخيوط التي تنسج منها حياتنا تحت ظلام دامس قد أطلقة المستعمر ليخفي عنا مكره بنا وخداعه لنا، فإذا تم نسيج هذه الحياة، لبسناها كأنها حياة نابعة، من سر أنفسنا، وبذلك يتمكن أن يقودنا كالأنعام، ونحن نحسب أننا إنما نقود أنفسنا، وأننا نتصرف في هذه الحياة تصرف الحر الذي لا سلطان لأحد عليه. وهذا هو المعنى الذي يرمي إليه الأستاذ مالك باصطلاحه الذي وضعه وهو ((قابلية الاستعمار)).
وليس يخالجني شك أننا لن نظفر بما تتمناه قلوبنا، ولا بما تتبجح بذكره ألسنتنا، من حرية، أو استقلال، أو مجد أو كرامة، إلا إذا استطعنا أن نفكر في أمورنا تفكيرا صحيحا، مؤسسا على أصل من التنبه واليقظة والإِدراك. وظهور رجل مثل مالك بن نبي من بين شعب لقي من نكبة الاستعمار ما لم يلقه شعمب إسلامي آخر باعث على الرجاء والأمل، فأنا لا أعرف فيمن قرأت لهم أو سمعتهم من الناس ولا ممن في أيديهم مقاليد أمور الشعوب العربية والاسلامية رجلا فيه مثل هذا الحس الدقيق بالنكبة، أو مثل هذا التنبه الشامل للدسيسة، أو مثل هذه الاستقامة في فهم الوسائل المعقدة التي يستخدمها الاستعمار، أو مثل هذه الخبرة بالخسة التي تلبس ثياب النبل والشرف. وإنه ليحزنني أن يكون أمرنا اليوم كما قال الأول ((من البلاء أن يكون الرأي لمن يملكه دون من يبصره)).
فعسى أن تكون هذه المجموعة من المقالات دليلا مرشدا يفتح به الله عيونا عمياً وآذاناً صماً وقلوباً غلفاً، فيومئذ تتحقق لنا الأمنية التي لا نعيش إلا بها، ولا نسعى إلا إليها.
محمود محمد شاكر
কারণ ষড়যন্ত্র দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে এবং আমরা এর প্রভাবে এমন এক জীবন অতিবাহিত করছি যেন আমরা আমাদের দিন ও রাতগুলোকে কেবল উপভোগ করছি; অথচ এই দিন ও রাতগুলো সাম্রাজ্যবাদের কক্ষপথজাত সন্তান, সূর্য ও চন্দ্রের কক্ষপথজাত নয়। আমি এর মাধ্যমে কোনো আলঙ্কারিক ভাষা বা কাব্যিকতা বোঝাচ্ছি না, বরং ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই সংকলনটি পড়ার সময় আমি এই সবকিছুই গভীরভাবে অনুভব করেছি।
এই প্রাজ্ঞ চিন্তাবিদ তাঁর সূক্ষ্ম প্রজ্ঞা, বলিষ্ঠ প্রকাশভঙ্গি এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমাদের চক্ষু উন্মীলিত করতে সক্ষম হয়েছেন সেই তন্তুগুলোর প্রতি, যা দিয়ে এক নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের মাঝে আমাদের জীবনধারা বুনে দেওয়া হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদ এই অন্ধকার ছড়িয়ে দিয়েছে যাতে আমাদের বিরুদ্ধে তাদের চক্রান্ত ও প্রতারণা গোপন রাখা যায়। ফলে যখন এই জীবন-বুনন সম্পন্ন হয়, তখন আমরা একে এমনভাবে পরিধান করি যেন এটি আমাদের নিজস্ব সত্তার গহীন থেকে উৎসারিত কোনো জীবন। এর মাধ্যমে সে আমাদের চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় হাঁকিয়ে নিতে সক্ষম হয়, অথচ আমরা মনে করি যে আমরা নিজেরাই নিজেদের পরিচালিত করছি এবং আমরা এই জীবনে এমন স্বাধীনভাবে বিচরণ করছি যার ওপর অন্য কারো কোনো আধিপত্য নেই। আর এটাই সেই নিহিতার্থ যা উস্তাদ মালিক তাঁর প্রবর্তিত পরিভাষা ‘সাম্রাজ্যবাদ-মুখিতা’র মাধ্যমে লক্ষ্য করেছেন।
আমার মনে তিলমাত্র সন্দেহ নেই যে, আমাদের অন্তর যা আকাঙ্ক্ষা করে এবং আমাদের জিহ্বা যা নিয়ে গর্বভরে উচ্চারণ করে—সেই স্বাধীনতা, স্বায়ত্তশাসন, গৌরব কিংবা মর্যাদা—তার কিছুই আমরা লাভ করব না, যতক্ষণ না আমরা আমাদের বিষয়সমূহ নিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে চিন্তা করতে সক্ষম হব, যা সতর্কতা, সচেতনতা এবং সঠিক উপলব্ধির ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। মালিক বিন নবীর মতো একজন ব্যক্তির আবির্ভাব—এমন এক জাতির মধ্য থেকে যারা সাম্রাজ্যবাদের এমন নিদারুণ বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে যা অন্য কোনো মুসলিম জাতি হয়নি—তা এক মহান প্রত্যাশা ও আশার সঞ্চার করে। কারণ আমি যাঁদের লেখা পড়েছি বা যাঁদের কথা শুনেছি, কিংবা যাঁদের হাতে আরব ও মুসলিম জাতিগুলোর ভাগ্যনিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি রয়েছে, তাঁদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তিকে জানি না যাঁর মধ্যে এই বিপর্যয়ের প্রতি এমন সূক্ষ্ম অনুভূতি, কিংবা ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে এমন সামগ্রিক সতর্কতা, অথবা সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক ব্যবহৃত জটিল কৌশলসমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে এমন ঋজুতা, কিংবা আভিজাত্য ও সম্মানের আবরণে ঢাকা নীচতা সম্পর্কে এমন গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে। আর এটি আমাকে ব্যথিত করে যে, আজ আমাদের অবস্থা তেমনই হয়েছে যেমনটি পূর্ববর্তী এক মনীষী বলেছিলেন: “এটি এক চরম বিপদ যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তার কাছে থাকে যে তার মালিক, কিন্তু তার কাছে থাকে না যে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন।”
আশা করা যায় যে, এই প্রবন্ধ সংকলনটি এমন এক দিশারি পথপ্রদর্শক হবে যার মাধ্যমে আল্লাহ অন্ধ চোখ, বধির কান এবং মোহরযুক্ত অন্তরসমূহ উন্মুক্ত করে দেবেন। সেদিনই আমাদের সেই আজন্মলালিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে যা ছাড়া আমরা বাঁচি না এবং যা অর্জনই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
مقَدِّمَة المؤلفسبق لي أن نشرت في هذه السلسلة دراسة تحت عنوان ـ[الصراع الفكري في البلاد المستعمرة]ـ.
ولكنني شعرت خلال بعض ملاحظات أبداها إخوان يهتمون بهذه القضايا، أنه ربما يتبقى- عند من يقرأ تلك الدراسة من دون خبرة سابقة بالموضوع- يتبقى عنده شيء من الإِبهام حول الفكرة العامة التي يعرضها الكتاب. إبهام يتطلب رفعه مزيدا من التوضيح، حتى لا تبقى هذه الفكرة في نظر القارئ مجردة، لا تحيط بها إلا العموميات، وإلا الاعتبارات النظرية التي نفس فكرة الصراع هذا.
فالقارئ يريد الدخول في الموضوع عن طريق الظروف الواقعية، والتفاصيل المادية التي تحيط بفكرة الصراع الفكري، كما يحيط الوسط الطبيعي بالكائن الحي الذي يتكون فيه، ويتضمن كل الشروط اللازمة لتكوينه ونموه.
إن فكرة الصراع الفكري تكونت عندي في ظروف معينة وفي نطاق تجربة شخصية لم نستطع إلا ذكر بعض تفاصيلها عند الحاجة أما وصفها بالتفصيل فذلك نمسك عنه لسببين: لأن هذا الوصف لا يكون مجدياً إلا في كتاب مذكرات، ولأن بعض التفاصيل لا يتقبلها القارئ، حين يصورها الاستعمار كمبالغة مقصودة، حتى إن الكاتب يخطىء حين ينقلها بقصد الإِفادة.
إذ أسلوب الصراع الفكري يفرض أن لا تقال كل الوقائع التي تتصل به، ولا تذكر كل الظروف التي تحيط به في لحظة معينة.
فهناك حد وسط يجب التزامه بين الإِفراط الذي يستغله الاستعمار على
লেখকের ভূমিকাইতিপূর্বে আমি এই ধারাবাহিকে ‘উপনিবেশিত দেশসমূহে বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাত’ শিরোনামে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছি।
কিন্তু এই বিষয়গুলোতে আগ্রহী কিছু ভাইয়ের ব্যক্ত করা কিছু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমি অনুভব করেছি যে, যারা এই বিষয়ে পূর্ব-অভিজ্ঞতা ছাড়া উক্ত গবেষণাটি পড়বেন, তাদের নিকট গ্রন্থটিতে উপস্থাপিত সাধারণ ধারণা সম্পর্কে কিছুটা অস্পষ্টতা থেকে যেতে পারে। এমন এক অস্পষ্টতা যা দূর করার জন্য আরও ব্যাখ্যার প্রয়োজন, যাতে পাঠকের নিকট এই ধারণাটি কেবল বিমূর্ত হয়ে না থাকে, যার চতুষ্পার্শ্বে কেবল সাধারণ বিষয়াবলী এবং সেই তাত্ত্বিক বিবেচনাগুলো ছাড়া আর কিছুই নেই যা মূলত এই সংঘাতের ধারণারই অংশ।
কেননা পাঠক বাস্তব পরিস্থিতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাতের ধারণাকে বেষ্টন করে থাকা বস্তুগত খুঁটিনাটির মাধ্যমেই বিষয়টিতে প্রবেশ করতে চান, ঠিক যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ কোনো জীবন্ত সত্তাকে বেষ্টন করে থাকে যা তার মাঝে গড়ে ওঠে এবং তার গঠন ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সকল শর্ত ধারণ করে।
আমার মাঝে বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাতের ধারণাটি নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পরিমণ্ডলে গঠিত হয়েছে, যার কিছু খুঁটিনাটি প্রয়োজন সাপেক্ষে উল্লেখ করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না। তবে এর বিস্তারিত বর্ণনা থেকে আমরা দুটি কারণে বিরত থাকছি: কারণ এই বর্ণনা কেবল স্মৃতিকথা জাতীয় গ্রন্থেই ফলপ্রসূ হতে পারে, আর দ্বিতীয়ত, কিছু খুঁটিনাটি বিষয় পাঠক গ্রহণ করতে সক্ষম নাও হতে পারেন যখন উপনিবেশবাদ সেগুলোকে উদ্দেশ্যমূলক অতিরঞ্জন হিসেবে চিত্রিত করে, এমনকি লেখক যখন উপকারের উদ্দেশ্যে তা বর্ণনা করেন তখনো তিনি ভুল করতে পারেন।
কেননা বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাতের পদ্ধতি এটিই দাবি করে যে, এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বাস্তব ঘটনা প্রকাশ করা যাবে না এবং কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে একে পরিবেষ্টনকারী সকল পরিস্থিতি উল্লেখ করা যাবে না।
সুতরাং এমন একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক যা সেই অতিরঞ্জনের মাঝামাঝি থাকে, যাকে উপনিবেশবাদ নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে...
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أنه مبالغة، والتفريط الذي يستفيد منه أيضاً على أنه سكوت عن بعض الحقائق التي لا بد أن تقال.
فرغبة القارئ الذي يريد مزيداً من التوضيح تستحق أن تلبى في هذا الحد بالضبط.
فهذا الكتاب يهدف إلى ذلك وقد جمعنا فيه تحت عنوان ـ[في مهب المعركة]ـ بعض المقالات المترجمة، التي كتبت فعلا في ظروف المعركة الواقعية، بما يحيطها أحيانا من غموض عندما يريد الاستعمار أن يسدل الظلام على بعض المواقف المشبوهة التي ليس من مصلحته أن تعرف، وعلى بعض الأفكار التي لا يريد أن يرتفع الى مستواها الرأي العام، وعلى بعض التوجيهات حتى لا تصير واقعاً اجتماعياً.
إن المقالات المترجمة التي جمعناها في هذا الكتاب تتضمن هذه العناصر التي تكون مادة الصراع الفكري، وواقعه اليومي. الواقع الذي يريد الاستعمار أن يسدل عليه ستاراً من الظلام، حتى يبقى الرأي العام في قيود لا تراها إلا عين بصيرة وحتى يبقى الفكر في أغلال ما يسمى ((الواقعية)) وهي جحود الواقع، وحتى تبقى السياسة سوقا تشترى فيه الضمائر وتباع، ويبقى النشاط الاجتماعي معطلا بسبب شروط سلبية تفرضها إرادة خفية على حياتنا، ويجعلها من له بها صلة في بلادنا، مبررات فشلنا.
إننا ننشر هذه المقالات لأنها تعبر عن ذلك الواقع المرير الذي يدركه القارئ من دون تعليق من طرفنا، مع أننا نأتي أحيانا ببعض التعليق على الهامش عندما نراه ضروريا.
وننشرها لأنها تتصل بهذا الواقع من نواح مختلفة، من الناحية التاريخية عندما تصف ظروفا معينة مهدت للثورة الجزائرية مثلا، ومن الناحية العلمية عندما تضع بعض جوانب الاستعمار الخفية تحت المجهر، ومن الناحية الاجتماعية عندما تحاول فك بعض العقد وبعض المركبات التي نشأت في نفوسنا من مواجهة
এটি একটি অতিশয়োক্তি, এবং সেই শৈথিল্য যা থেকে সে সুবিধাও গ্রহণ করে, তা মূলত এমন কিছু সত্যের ব্যাপারে নীরবতা যা বলা অপরিহার্য।
সুতরাং যে পাঠক অধিকতর স্পষ্টীকরণ চান, তার সেই আকাঙ্ক্ষা এই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই পূরণ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
এই গ্রন্থটির লক্ষ্য মূলত সেটিই। আমরা এতে ‘সংগ্রামের ঝঞ্ঝাবর্তে’ শিরোনামের অধীনে কিছু অনূদিত প্রবন্ধ সংকলিত করেছি, যা প্রকৃতপক্ষে বাস্তব যুদ্ধের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছিল। এর চতুর্পার্শ্বে কখনো কখনো এমন অস্পষ্টতা বিরাজ করে যখন সাম্রাজ্যবাদ এমন কিছু সন্দেহজনক অবস্থানের ওপর অন্ধকারের যবনিকা টেনে দিতে চায় যা প্রকাশিত হওয়া তাদের স্বার্থের অনুকূল নয়, এবং এমন কিছু চিন্তাধারা যার স্তরে জনমত উন্নীত হোক তা তারা চায় না, এবং এমন কিছু দিকনির্দেশনা যেন তা সামাজিক বাস্তবে রূপ লাভ না করে।
আমরা এই গ্রন্থে যে অনূদিত প্রবন্ধগুলো সংকলন করেছি তাতে এমন সব উপাদান বিদ্যমান যা বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম এবং এর প্রাত্যহিক বাস্তবতার উপকরণ হিসেবে কাজ করে। এটি সেই বাস্তবতা যার ওপর সাম্রাজ্যবাদ অন্ধকারের এক পর্দা টেনে দিতে চায়, যাতে জনমত এমন এক শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে যা কেবল অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন চোখই প্রত্যক্ষ করতে পারে; এবং যাতে চিন্তা তথাকথিত ‘বাস্তববাদিতা’-র বেড়াজালে আটকে থাকে, যা মূলত বাস্তবতাকে অস্বীকার করারই নামান্তর। এর ফলে রাজনীতি এমন এক বাজারে পরিণত হয় যেখানে বিবেক কেনাবেচা চলে এবং সামাজিক তৎপরতা সেই নেতিবাচক শর্তাবলীর কারণে স্থবির হয়ে পড়ে যা এক অদৃশ্য সদিচ্ছা আমাদের জীবনের ওপর চাপিয়ে দেয়, আর আমাদের দেশে যাদের সাথে এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তারা একেই আমাদের ব্যর্থতার অজুহাত হিসেবে দাঁড় করায়।
আমরা এই প্রবন্ধগুলো প্রকাশ করছি কারণ এগুলো সেই তিক্ত বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে যা পাঠক আমাদের কোনো মন্তব্য ছাড়াই অনুধাবন করতে পারবেন; যদিও আমরা প্রয়োজনীয় মনে করলে কখনো কখনো পার্শ্বটীকায় কিছু মন্তব্য যুক্ত করেছি।
আমরা এগুলো প্রকাশ করছি কারণ এগুলো বিভিন্ন দিক থেকে এই বাস্তবতার সাথে সম্পর্কিত; ঐতিহাসিক দিক থেকে যখন এটি উদাহরণস্বরূপ আলজেরীয় বিপ্লবের পথ প্রশস্তকারী নির্দিষ্ট পরিস্থিতির বর্ণনা দেয়, তাত্ত্বিক দিক থেকে যখন এটি সাম্রাজ্যবাদের কিছু প্রচ্ছন্ন দিককে নিবিড় পর্যবেক্ষণের অধীনে নিয়ে আসে এবং সামাজিক দিক থেকে যখন এটি আমাদের অন্তরে সংঘাতের মুখোমুখি হওয়ার ফলে সৃষ্ট কিছু জটিলতা ও মানসিক গ্রন্থি উন্মোচনের চেষ্টা করে...
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بعض المشكلات التي لا زالت قائمة في البلاد الإسلامية، كمشكلة المرأة ومشكلة التراب، ومن الناحية الثقافية عندما تحاول توسيع الفكر عند شبابنا المثقف حتى يكون في موقفه إزاء بعض القضايا المتصلة بمصير الإنسانية وبمصيرنا، أكثر وعياً وأكثر فعالية.
القاهرة في 27/ 8/ 1961
مالك بن نبي
কিছু সমস্যা যা এখনও মুসলিম দেশগুলোতে বিদ্যমান রয়েছে, যেমন নারী সমস্যা ও মৃত্তিকা (ভূখণ্ড) সমস্যা; এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে যখন আমাদের শিক্ষিত যুবকদের চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়, যাতে মানবজাতির নিয়তি এবং আমাদের ভাগ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের প্রেক্ষাপটে তাদের অবস্থান আরও বেশি সচেতন ও কার্যকর হয়।
কায়রো, ২৭/ ৮/ ১৯৬১
মালিক বিন নবী
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الْفَصْلُ الْأَوَّلُالاِسْتِعْمَارُ تَحْتَ الْمِجْهَرِ• سيكولوجية الإستعمار
• الإستعمار يفتح وجهة ثالثة في التاريخ
• الفوضى الإستعمارية
ــ
প্রথম পরিচ্ছেদঅণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে উপনিবেশবাদ• উপনিবেশবাদের মনস্তত্ত্ব
• উপনিবেশবাদ ইতিহাসে তৃতীয় একটি দিক উন্মোচন করে
• ঔপনিবেশিক বিশৃঙ্খলা
ــ
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
سِيكُولُوجِيَّةُ الاِسْتِعْمَارِالجمهورية الجزائرية في 26/ 3/ 1954
ــ
لست أريد أن أقدم كتابا يدرس الاستعمار على طريقة التحليل النفسي، وبالخصوص لأن هذا الكتاب ظهر سنة 1948، وحاز على الشهرة حين ظهوره.
ولست أريد ذلك من ناحية أخرى، لأنني أعلم خطورة الظروف التي تحيط بالشباب الجزائري، في اللحظة الحاسمة التي يمر بها وهو يتطلع لـ ((الحقيقة الفعالة)) (1) أكثر مما يتطلع إلى حقيقة نظرية مجردة، ربما لا نفي بحقها إن لم يسبق لنا أن باشرنا أفكار فرويد والأساتذة الآخرين الذين أسسوا معه علم النفس.
ولكن بالنسبة إلى هذا الجانب النظري، فلنقتصر على الإشارة إلى النبذذ التي وفق الناشر في وضعها على غلاف الكتاب، كي يعطينا فكرة عن شخصية صاحبه وعن صلته بعلم النفس
… وهكذا يعطينا فعلا صورة ملخصة عن شخصية المسيو منوني، وعن اهتمامه بمشكلات علم النفس حيث كان يدرسها مع الأستاذ شارل بلونديل، عندما شغل بمدغشقر، كرسي الدراسات الفلسفية الذي أسسه هناك الأستاذ هنري بولهان، ثم استمر في تكوينه الخاص بمعية الدكتور لا كان بباريس.
فها نحن قد تزودنا بخبرة كافية عن مؤهلات المؤلف- إذا صح التعبير- لاستخدام علم النفس التحليلي في مثل هذا الموضوع، وهو يعرف قيمة هذه الوسيلة العلمية، ويعرف أنها ليست معصومة ولا مطلقة في اكتشاف الحقيقة، وهو يعلم زيادة عن هذا أن ميدان علم النفس التحليلي محدود، يختلف عن ميدان
--------------------------------------------
উপনিবেশবাদের মনস্তত্ত্বআলজেরীয় প্রজাতন্ত্র, ২৬/ ০৩/ ১৯৫৪
--
আমি এমন কোনো বই উপস্থাপন করতে করতে চাই না যা মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পদ্ধতিতে উপনিবেশবাদ নিয়ে আলোচনা করে; বিশেষ করে এই কারণে যে, এই বইটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং প্রকাশের পরপরই তা ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিল।
অন্য এক কারণেও আমি সেটি চাচ্ছি না; কারণ আমি আলজেরীয় যুবকদের ঘিরে থাকা পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত আছি। তারা বর্তমানে যে এক চূড়ান্ত মুহূর্ত অতিক্রম করছে, সেখানে তারা একটি বিমূর্ত তাত্ত্বিক সত্যের চেয়ে 'কার্যকর সত্যের' (১) প্রতি অধিকতর আগ্রহী। আমরা হয়তো সেই সত্যের প্রতি যথাযথ সুবিচার করতে পারব না, যদি না আমরা ইতিপূর্বে ফ্রয়েড এবং মনোবিজ্ঞান শাস্ত্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠাতা পণ্ডিতদের চিন্তাধারা সরাসরি অধ্যয়ন করে থাকি।
তবে এই তাত্ত্বিক দিকের ক্ষেত্রে, প্রকাশক বইয়ের প্রচ্ছদে যে সংক্ষিপ্ত টীকাগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সাথে যুক্ত করেছেন, আমরা কেবল সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেই সীমাবদ্ধ থাকব; যেন তা আমাদের লেখকের ব্যক্তিত্ব এবং মনোবিজ্ঞানের সাথে তাঁর সম্পর্ক সম্পর্কে একটি ধারণা প্রদান করে
… আর এভাবেই এটি আমাদের সামনে মঁসিয়ে মানোনির ব্যক্তিত্ব এবং মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন সমস্যার প্রতি তাঁর আগ্রহের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র পেশ করে। তিনি মাদাগাস্কারে থাকাকালীন অধ্যাপক হেনরি বোহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দর্শন চর্চা কেন্দ্রে অধ্যাপক চার্লস ব্লন্ডেলের সাথে এই বিষয়গুলো অধ্যয়ন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে প্যারিসে ডক্টর লাকানের সান্নিধ্যে নিজের বিশেষ গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখেন।
সুতরাং, এই ধরনের একটি বিষয়ে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে লেখকের যোগ্যতা সম্পর্কে—যদি এভাবে বলা যায়—আমাদের পর্যাপ্ত ধারণা অর্জিত হয়েছে। তিনি এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির গুরুত্ব জানেন এবং এটাও জানেন যে এটি সত্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে কোনো অভ্রান্ত বা পরম মাধ্যম নয়। তদুপরি তিনি জানেন যে, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রটি সীমাবদ্ধ এবং তা অন্য ক্ষেত্র থেকে ভিন্ন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
علم الأخلاق وميدان علم الحياة، أو علم ما قبل التاريخ
… ويستدل على هذا بنكتة طريفة يذكر فيها مغامرة بعثة علمية، ذهبت إلى إفريقيا الوسطى من أجل دراسة بعض العينات من القردة، فاكتشفت، أو اعتقدت أنها اكتشفت، حالة نفسية معينة تميز تلك القردة بينما يكشف علم النفس التحليلي أن تلك الحالة لا يمكن أن تكون إلا حالة ((أنا)) متحضر.
وهذه القصة المضحكة تعني أحد شيئين: إما أن الحالات النفسية ليست محددة بالكائنات التي تتصف بها، وأن علم النفس التحليلي أكبر خطأ حدث في تاريخ العلوم، وإما أن البعثة العلمية أخطأت في استخدام هذا العلم حتى إننها التقطت صورة نفسية، اعتقدت أنها صورة القردة المدروسة، بينما هي صورة الدارسين
… منعكسة على موضوع دراستهم.
وعندما يذكر منوني هذه القصة الطريفة، فإنه يشعرنا بأن الغرور الذي يسمى ((الانحراف المهني)) لا يستولي على عقله، وهذه المناعة من الخطأ الذي يقع فيه من يجمد على المنهج، تزيد في قيمة الدراسة التي يقدمها إلينا منوني، خصوصا وأننا نعتبر هذه القصة من حيث الموضوع أكثر مما نعتبرها من حيث المنهج.
إِن الواقع الاستعماري يهمنا في حد ذاته، قبل كل شيء، فالكتاب يلقي الضوء الكشاف على هذا الواقع، ولكنه يكشف لنا مجهولات أخرى، لا تتصل مباشرة بالموضوع، فتخرج هذه المجهولات من ظلمة جهلنا لتصبح في ضوئه معلومات جديدة تثري بصفة عامة دائرة معارفنا، مثل تلك الفكرة التي يعطيها منوني عن التناسب الغريب الموجود بين ((وحدة المكان)) أو الجانب الموضوعي و ((وحدة الإنسان)) أو الجانب الذاتي، فيفسر المؤلف بذلك النزعة العنصرية، أي الشيء الأساسي في نفسية الاستعمار، على أنها أثر لفاصل نفسي يجزىء الذات أو وحدة الـ ((أنا))، عناما يسقط هذا الفاصل الذاتي على سطخ الجانب الموضوعي ((وحدة النوع البشري)) فيجزئه إِلى جزأين، أحدهما له السلطة
নীতিশাস্ত্র এবং জীবনবিজ্ঞানের ক্ষেত্র, অথবা প্রাগৈতিহাসিক বিজ্ঞান
… এটি একটি কৌতুকপূর্ণ গল্পের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যেখানে একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিনিধি দলের অভিযানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা মধ্য আফ্রিকায় গিয়েছিল বানরের কিছু নমুনা অধ্যয়নের জন্য। সেখানে তারা আবিষ্কার করেছিল, অথবা তারা মনে করেছিল যে তারা আবিষ্কার করেছে—একটি নির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা যা সেই বানরদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। অথচ বিশ্লেষণাত্মক মনোবিজ্ঞান প্রকাশ করে যে, সেই অবস্থাটি কেবল একজন সভ্য মানুষের 'অহং' (Ego)-এর অবস্থাই হতে পারে।
এই হাস্যকর গল্পটি দুটি বিষয়ের যেকোনো একটিকে বোঝায়: হয় মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাগুলো সেই সব প্রাণীদের দ্বারা নির্ধারিত নয় যাদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে এগুলোকে গণ্য করা হয় এবং বিশ্লেষণাত্মক মনোবিজ্ঞান বিজ্ঞানের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় ভুল; অথবা সেই বৈজ্ঞানিক প্রতিনিধি দলটি এই বিজ্ঞানের প্রয়োগে ভুল করেছিল, এমনকি তারা এমন একটি মনস্তাত্ত্বিক চিত্র ধারণ করেছিল যেটিকে তারা গবেষণাধীন বানরদের চিত্র বলে মনে করেছিল, অথচ বাস্তবে তা ছিল গবেষকদের নিজেদেরই প্রতিচ্ছবি
… যা তাদের গবেষণার বিষয়ের ওপর প্রতিফলিত হয়েছিল।
মানোনি যখন এই কৌতুকপূর্ণ গল্পটি উল্লেখ করেন, তখন তিনি আমাদের অনুভব করান যে, তথাকথিত 'পেশাগত বিচ্যুতি' নামক অহংকার তাঁর মনকে আচ্ছন্ন করতে পারেনি। যারা নির্দিষ্ট পদ্ধতির ওপর স্থবির হয়ে থাকে তারা যে ভুলগুলো করে, সেই ভুল থেকে এই সুরক্ষা মানোনির উপস্থাপিত গবেষণার গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়; বিশেষ করে যেহেতু আমরা এই গল্পটিকে পদ্ধতির চেয়ে বিষয়ের দিক থেকেই বেশি বিবেচনা করি।
ঔপনিবেশিক বাস্তবতা আমাদের কাছে নিজস্বভাবেই গুরুত্বপূর্ণ, সবকিছুর আগে। এই বইটি সেই বাস্তবতার ওপর তীব্র আলোকপাত করে, তবে এটি আমাদের কাছে এমন কিছু অজানা বিষয়ও উন্মোচন করে যা সরাসরি বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়। ফলে এই অজানা বিষয়গুলো আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে নতুন তথ্যে পরিণত হয়, যা সাধারণভাবে আমাদের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে। যেমন মানোনি 'স্থানের ঐক্য' বা বস্তুনিষ্ট দিক এবং 'মানুষের ঐক্য' বা ব্যক্তিগত দিকের মধ্যে বিদ্যমান অদ্ভুত সামঞ্জস্য সম্পর্কে যে ধারণা দিয়েছেন। লেখক এর মাধ্যমে বর্ণবাদী প্রবণতাকে ব্যাখ্যা করেছেন—যা মূলত ঔপনিবেশিক মানসিকতার একটি মৌলিক উপাদান—একটি মনস্তাত্ত্বিক বিভাজনের প্রভাব হিসেবে, যা সত্তা বা 'অহং'-এর ঐক্যকে খণ্ডিত করে। যখন এই ব্যক্তিগত বিভাজনটি বস্তুনিষ্ট দিকের (মানবজাতির ঐক্য) ওপর আপতিত হয়, তখন তা একে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলে, যার একটির হাতে থাকে ক্ষমতা।
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والسيادة، والآخر عليه السمع والطاعة، كما يعتقد من يدين بالعنصرية.
وفكرة هذا الفاصل الذاتي شيء جدير بكل اهتمام في دراسة الواقع الاستعماري كظاهرة، والمؤلف يبين هذا الفاصل في الضمير الأوروبي، ولكن دون أن يحدد نقطة بدايته في التاربخ، وربما طابقت هذه النقطة اليوم الذي اكتشفت فيه أوروبا، في أعماق نفسها، ما أطلقت عليه ((ابن المستعمرات))، أو ((الإنسان الملون)).
وحيث لم يكن لدينا، أكثر مما لدى منوني، من معطيات التاريخ ما يكفي لتحديد تاريخ هذا الانفصال في الضمير الأوروبي، فقد كنا في دراسة سابقة (1) قدرنا هذا التاريخ بصورة تقريبية في العهد الروماني، في العهد الذي كانت فيه الحروب الفينيقية، بما تتصف به من شدة معاملة تعبر عنها تلك الكلمة المأثورة التي كان يرددها كاتون في كل مناسبة ((لا بد أن تحطم قرطاجة)) كانت تلك الحروب إرهاصا للحروب الاسعمارية كأنها تنذر بتلك المذبحة التي ستحدث في أمريكا يوم ينزل بأراضيها بيزار.
وإذا كان منوني يقتصر على اعتبار الأشياء في العهد الاستعماري الحديث، فإنه اعمى هذا قد قدر العوامل الاقتصادية والسياسية والستراتيجية التي تتصل بالنزعة الاستعمارية اتصالا تكوينيا، مع ذلك فهو يعتبر أن هذه العوامل كلها ((تؤدي مفعولها، كأسباب، في عقول مهيأة نفسيا)).
وهذا الاعتبار يمثل إلى حد ما المدخل المنهجي الذي ندخل به إِلى نظرية منوني، حيث ينشأ عنها مفهوم أولي يسميه ((موقفا استعماريا)).
إن ((الموقف الاستعماري)) ينشأ في نظر منوني كل مرة ينعكس فيها الـ ((أنا)) الأوروبي خارج إطار أوروبا، أي كل مرة يقع فيها اتصال بين ((الأوروبي)) و ((الأهلي))
--------------------------------------------
...এবং আধিপত্য, আর অন্যজনের ওপর অর্পিত হয় শ্রবণ ও আনুগত্য, যেমনটি বর্ণবাদীরা বিশ্বাস করে থাকে।
একটি প্রপঞ্চ হিসেবে ঔপনিবেশিক বাস্তবতা অধ্যয়নের ক্ষেত্রে এই স্বকীয় বিভাজনের ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বের দাবি রাখে। লেখক ইউরোপীয় বিবেকের এই বিভাজনটি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তবে ইতিহাসে এর সূচনালগ্ন সুনির্দিষ্ট করেননি। সম্ভবত এই সন্ধিক্ষণটি সেই দিনটির সাথে মিলে যায়, যেদিন ইউরোপ তার অন্তরাত্মার গহীনে এমন কাউকে আবিষ্কার করেছিল যাকে সে 'উপনিবেশের সন্তান' বা 'অশ্বেতাঙ্গ মানুষ' হিসেবে অভিহিত করেছিল।
যেহেতু ইউরোপীয় বিবেকের এই বিচ্ছেদের কাল নির্ধারণ করার জন্য মানোনির মতো আমাদের কাছেও পর্যাপ্ত ঐতিহাসিক তথ্য নেই, তাই আমরা পূর্ববর্তী একটি গবেষণায় (১) এই কালটিকে আনুমানিকভাবে রোমান যুগে নির্ধারণ করেছিলাম। সেই ফিনিশীয় যুদ্ধের সময়ে, যা এমন এক কঠোর আচরণের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল যা ক্যাটো প্রতিটি সুযোগে উচ্চারিত সেই প্রবাদতুল্য উক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করতেন: "কার্থেজকে অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে"। সেই যুদ্ধগুলো ছিল মূলত ঔপনিবেশিক যুদ্ধের পূর্বাভাস, যেন সেগুলো সেই গণহত্যারই আগাম সতর্কতা দিচ্ছিল যা আমেরিকায় সংঘটিত হয়েছিল যখন পিজারো তার মাটিতে পদার্পণ করেছিলেন।
যদিও মানোনি আধুনিক ঔপনিবেশিক যুগের বিষয়াবলি বিবেচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন, তা সত্ত্বেও তিনি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কৌশলগত উপাদানগুলোকে মূল্যায়ন করেছেন যা ঔপনিবেশিক প্রবণতার সাথে গঠনগতভাবে জড়িত। তা সত্ত্বেও, তিনি মনে করেন যে এই সমস্ত উপাদানগুলো "মানসিকভাবে প্রস্তুত মনে কারণ হিসেবে তাদের প্রভাব বিস্তার করে"।
এই বিবেচনাটি অনেকটা সেই পদ্ধতিগত প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে যার মাধ্যমে আমরা মানোনির তত্ত্বে প্রবেশ করি, যেখানে এর মাধ্যমে একটি প্রাথমিক ধারণার উদ্ভব ঘটে যাকে তিনি "ঔপনিবেশিক অবস্থান" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মানোনির দৃষ্টিতে, "ঔপনিবেশিক অবস্থান" তখনই তৈরি হয় যখনই ইউরোপীয় "অহং" ইউরোপের কাঠামোর বাইরে প্রতিফলিত হয়, অর্থাৎ যখনই "ইউরোপীয়" এবং "স্থানীয়দের" মধ্যে সংযোগ ঘটে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وإننا لنعرف، عن طريق علم الأجناس، معرفة كافية من هو الأول، ولكن من هو الثاني؟
الجواب هو: أن كل رجل غير أوروبي فهو ((أهلي)) بتعبير اللغة الفرنسية (( Indigène)) أو بتعبير اللغة الإِنجليزية (( Native)).
وأما شذوذ اتصالهما، الذي ينشىء الموقف الاستعماري فإنه صادر عن الفرق، الذي يلاحظه المؤلف، بين ((حرب استعمارية)) ومجرد حرب، يعبر عنها بالمصطلح العادي.
فنحن ندرك أن الدراسة منذ مقدمتها الأولى، ستتخذ اتجاهين: أحدهما خاص بدراسة ((المستعمِر)) والآخر خاص بدراسة ((المستعمَر))، وأن المعطيات النفسية الخاصة بهذين الاتجاهين هي التي تصوغ بالتالي التركيب الذي يطلق عليه منوني ((المواقف الاستعمارية)).
ولا شك أننا كنا ننتظر في الكتاب بعض الملامح، التي تعودنا، بمقتضى تجربتنا كمستعمَرين، أن نرى فيها ملامح ((المستعمِر)) ولكننا نتساءل هل يعترف المستعمَر، مثل ابن جزيرة مدغشقر الذي كان موضوع دراسة منوني على وجه الخصوص، هل يعترف بتلك الصورة التي يعطيها له منوني عندما يسمه بتلك السمة التي يطلق عليها مركب التبعية Complèxe de dépendance؟
ومهما يكن في الأمر فربما كان الشعور بالذات يحس بمعاكسة سواء عند ((المستعمَر)) إن لم يعترف بهذه الوصمة التي يصفه بها منوني، أو عند ((المستعمِر)) عندما يشعر أن المؤلف كشف بعض ملامحه الخفية، مثل تلك الوصمة التي يصف بها، الأوروبي في المستعمرات، على أنه لا يطلب فقط الفائدة المادية ولكنه يرغب أيضا في بعض الملذات النفسية الخطيرة.
فكل من عنده فكرة مسبقة عن بعض المذابح التي سجلها التاريخ في رصيد الاستعمار منذ سنة 1945، ويعرف ما كان فيها من تفنن سادي في الوحشية،
আমরা নৃবিজ্ঞানের (Ethnology) মাধ্যমে পর্যাপ্তভাবে জানি যে প্রথম পক্ষ কে, কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষ কে?
উত্তর হলো: ইউরোপীয় নয় এমন প্রতিটি মানুষই ফরাসি ভাষার পরিভাষায় ‘Indigène’ বা ইংরেজি ভাষার পরিভাষায় ‘Native’ হিসেবে ‘দেশজ’ (أهلي)।
আর তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের যে বৈচিত্র্য ঔপনিবেশিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, তা মূলত সেই পার্থক্য থেকে উদ্ভূত যা লেখক ‘ঔপনিবেশিক যুদ্ধ’ (حرب استعمارية) এবং সাধারণ পরিভাষায় প্রকাশিত নিছক যুদ্ধের মধ্যে লক্ষ্য করেছেন।
সুতরাং আমরা অনুধাবন করছি যে, এই অধ্যয়নটি তার প্রাথমিক ভূমিকা থেকেই দুটি গতিপথ গ্রহণ করবে: একটি ‘উপনিবেশকারী’ (المستعمِر) বিষয়ক অধ্যয়নের জন্য নির্দিষ্ট এবং অন্যটি ‘উপনিবেশিত’ (المستعمَر) বিষয়ক অধ্যয়নের জন্য নির্দিষ্ট। আর এই দুটি ধারার বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক উপাত্তগুলোই মূলত সেই কাঠামো গঠন করে যাকে মানোনি ‘ঔপনিবেশিক অবস্থান’ (المواقف الاستعمارية) বলে অভিহিত করেছেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমরা বইটিতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রত্যাশা করছিলাম যা উপনিবেশিত হিসেবে আমাদের অভিজ্ঞতার কারণে ‘উপনিবেশকারী’-র মধ্যে দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, মাদাগাস্কার দ্বীপের বাসিন্দার মতো একজন উপনিবেশিত ব্যক্তি—যিনি বিশেষভাবে মানোনির অধ্যয়নের মূল বিষয়বস্তু ছিলেন—তিনি কি মানোনির দেওয়া সেই চিত্রটি স্বীকার করবেন যেখানে তিনি তাকে ‘নির্ভরশীলতার জটিলতা’ (Complèxe de dépendance) নামক বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত করেছেন?
যাই হোক না কেন, সম্ভবত আত্মসত্তা একটি প্রতিকূলতা অনুভব করবে; তা সে ‘উপনিবেশিত’ (المستعمَر) ব্যক্তির ক্ষেত্রে হোক—যদি সে মানোনির দেওয়া এই তকমাটি স্বীকার না করে, অথবা ‘উপনিবেশকারী’ (المستعمِر) ব্যক্তির ক্ষেত্রে হোক—যখন সে অনুভব করবে যে লেখক তার কিছু প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য উন্মোচন করেছেন। যেমন সেই তকমা যার মাধ্যমে তিনি উপনিবেশগুলোতে অবস্থানরত ইউরোপীয়দের বর্ণনা করেছেন যে, তারা কেবল বৈষয়িক লাভই খুঁজে বেড়ায় না, বরং কিছু বিপজ্জনক মনস্তাত্ত্বিক আনন্দও লালন করে।
সুতরাং যার ১৯৪৫ সাল থেকে উপনিবেশবাদের ইতিহাসে নথিবদ্ধ কিছু গণহত্যার বিষয়ে পূর্বধারণা রয়েছে এবং সেখানে পাশবিকতার যে সডিস্টিক (Sadic) নিপুণতা ছিল তা সম্পর্কে যিনি অবগত আছেন...
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
يدرك إلى أي نوع من ((الملذات)) يشير المؤلف بهذه الكلمة.
ومهما يكن من أمر، فإن الصديق الباريسي الذي عرفني بمنوني، أراد أن يلفت نظري بصورة ما، إلى وجه تشابه بين ما يسم به المؤلف شخصية الملغاش أي ابن المستعمرات بصفة عامة عندما يصفها بـ ((مركب التبعية))، وبين الحالة الخاصة التي تكون عليها الشعوب المستعمَرة، وقد أشرت إليها في بعض دراساتي بمصطلح ((قابلية الاستعمار)).
ولكنني لا أرى وجه التشابه الذي يشير إليه صديقي على أنه ذو مدى بعيد، هذا إذا أخذنا في حسابنا العناصر الخاصة بكلتا النظريتين ولسنا نتساءل هنا!! هل سلوك التبعية الذي اتخذه المؤلف موضوع الدراسة في البيئة الملغاشية، هو خاص بهذه البيئة، أم إنه يتعدى حدودها ويكون قاسما مشتركاً لكل البلاد المستعمرة بالصورة التي يعتقدها صاحب الكتاب!! إنني لا أتصور في الشمال الأفريقي مريضا يقول للطبيب الذي عالجه وشفاه: ((أنت الآن أوروبيني)) أي أن يجعل بينه وبين رجل آخر صلة الملكية، التي تعبر عن ((سلوك تابع)) وعن موقف استعماري ينشئه تلقائيا سلوك فرد ملغاشي إزاء طبيب أوروبي عالجه.
وربما لا يكفي هذا كمقياس نميز به بين التبعية بمصطلح منوني وبين القابلية للاستعمار بالمصطلح الذي استخدمته، وهو ليس موضوع حديثنا بخصوص هذا التمييز إلا بصفة عابرة ومن أجل رفع الشبهة، لذا نقتصر على القول الذي يوضحه مما سيأتي: إن الفرق بين الحالتين اللتين يعبر عنهما كلا المصطلحين هو أننا من ناحية في مواجهة مركب مجتمع (المجتمع التابع) يكون قد بلغ حالة الركود وانتهى إلى التوازن الجامد بتطور نفساني طبيعي، أو فطري بينما نكون من ناحية أخرى أمام وضع مجتمع قد وصل إلى حالة الركود إثر نكسة اجتماعية، أي أننا في الحالة الأولى أمام مجتمع متماسك متجانس تكون الصلات العمودية فيه ((الأسرة)) أداة تماسك قوي للمجموعة كلها وفي الحالة الثانية أمام مجمتع متفكك منقسم إلى ذرات، تكون الصلات الأفقية فيه ((المجتمع))
লেখকের এই শব্দের মাধ্যমে কোন ধরনের ((ভোগবিলাস))-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা বোঝা যায়।
যা-ই হোক না কেন, প্যারিস নিবাসী সেই বন্ধু—যিনি আমাকে মাননোনির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন—তিনি কোনোভাবে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন সেই সাদৃশ্যের প্রতি, যা লেখক সাধারণভাবে মাদাগাস্কারবাসী তথা উপনিবেশিত সন্তানদের ব্যক্তিত্বকে 'অধীনতার গ্রন্থি' (مركب التبعية) হিসেবে অভিহিত করার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন; এবং সেই বিশেষ অবস্থার প্রতি, যার মধ্য দিয়ে উপনিবেশিত জাতিগুলো অতিবাহিত হয়, যেটিকে আমি আমার কিছু গবেষণায় 'উপনিবেশযোগ্যতা' (قابلية الاستعمار) পরিভাষা দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
কিন্তু আমার বন্ধু যে সাদৃশ্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, সেটিকে আমি খুব গভীর বা সুদূরপ্রসারী মনে করি না, যদি আমরা উভয় তত্ত্বের নিজস্ব উপাদানগুলো বিবেচনায় নিই। আমরা এখানে এই প্রশ্ন করছি না যে, লেখক মাদাগাস্কারের পরিবেশে যে 'অধীনতামূলক আচরণকে' পর্যালোচনার বিষয়বস্তু বানিয়েছেন, তা কি কেবল সেই পরিবেশেরই বৈশিষ্ট্য, নাকি তা সেই গণ্ডি ছাড়িয়ে সকল উপনিবেশিত দেশের জন্য একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য (قاسما مشتركاً), যেমনটি বইটির লেখক বিশ্বাস করেন!! আমি উত্তর আফ্রিকায় এমন কোনো রোগীর কল্পনা করতে পারি না, যে তাকে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলা ডাক্তারকে বলবে: "আপনি এখন আমার ইউরোপীয়", অর্থাৎ নিজের সাথে অন্য এক ব্যক্তির মালিকানাসূচক সম্পর্ক স্থাপন করা; যা একজন মাদাগাস্কারবাসীর পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসাকারী ইউরোপীয় ডাক্তারের প্রতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃষ্ট একটি 'অধীনতামূলক আচরণ' (سلوك تابع) এবং ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রকাশ করে।
মাননোনির পরিভাষায় 'অধীনতা' এবং আমার ব্যবহৃত পরিভাষায় 'উপনিবেশযোগ্যতা'র মধ্যে পার্থক্য করার জন্য সম্ভবত এটি যথেষ্ট মানদণ্ড নয়। আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু এই পার্থক্য নিরূপণ করা নয়, বরং কেবল প্রাসঙ্গিক ও সংশয় দূর করার খাতিরে এর উল্লেখ করা হয়েছে। তাই পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমরা এতটুকু বলতেই সীমাবদ্ধ থাকব যে: উভয় পরিভাষা দ্বারা প্রকাশিত দুটি অবস্থার মধ্যে পার্থক্য হলো—একদিকে আমরা এমন একটি সমাজ কাঠামোর (অধীনস্থ সমাজ) সম্মুখীন, যা স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক বিবর্তন বা সহজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমে স্থবিরতার পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং একটি অনড় ভারসাম্যে উপনীত হয়েছে; অন্যদিকে আমরা এমন একটি সমাজের পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে আছি, যা সামাজিক বিপর্যয়ের ফলে স্থবিরতায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ, প্রথম ক্ষেত্রে আমরা এমন একটি সংহতিপূর্ণ ও সমজাতীয় সমাজের মুখোমুখি যেখানে উলম্ব সম্পর্কগুলো ((পরিবার)) পুরো গোষ্ঠীর জন্য শক্তিশালী সংহতির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে; আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আমরা এমন একটি বিশৃঙ্খল ও অণু-পরমাণুর ন্যায় বিচ্ছিন্ন সমাজের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে আনুভূমিক সম্পর্কগুলোই হলো ((সমাজ))।
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
تلك التي من شأنها أن تربط المجموعة- شعبا أم أمة- قد تحللت نهائيا.
ويمكن أن نضيف إلى هذا المقياس الاجتماعي عنصرا نفسانيا يزيد في توضيح الفرق الذي نشير إليه: فالمجتمع الذي يعنيه منوني ينشىء مع الاستعمار صلة نفسية اجتماعية بينما ينشىء المجتمع الذي نعنيه صلة اجتماعيه نفسيه أي إن الأولوية في الحالة الأولى للعنصر النفساني، بينما الأولوية للعنصر الاجتماعي في الحالة الثانية.
ومهما يكن من أمر فإن مركب التبعية في نظر المؤلف يكون عند ((الأهلي)) شيئا نظيراً أو مقابلاً للنزعة الاستعمارية عند الأوروبي.
وهذان العنصران يكونان بطبيعة الحال موضوع فحص مدقق إذ أنهما يكونان الهيكل النظري الذي بنيت عليه الدراسة التي نتحدث في شأنها وندخل فيها هكذا بهذه التمهيدات مع ما يضيف إليها منوني من توضيحات لازمه، كالفرق بين الشخصية وهي ما تعطيه الوراثة الاجتماعية وانتاج الحضارة وبين ((الفرد)) وهو ثمرة كمية سلالية معينة. وهكذا يتبين أن الشيء الذي يطبع سلوك الفرد ليس لونه، أي الكمية السلالية، ولكن ثقافة البيئة التي ينشأ فيها.
وعليه فالبحث يتجه في هذا الاتجاه، فالمؤلف يدرس من ناحية التطور الذي أدى إلى ظهور النزعة الاستعمارية في أوروبا، ومن ناحية أخرى التطور الذي أدى إلى ظهور مركب التبعية بمدغشقر على سبيل المثال.
وفي كلتا الحالتين يرجع المؤلف- طبقا لمنهج علم النفس التحليلي- إلى مرحلة الطفولة.
فهو يرى أن ((التبعية)) تنشأ من شعور الطفل بعجزه، ذلك الشعور الذي يتكون وينمو عند الطفل الملغاشي بقدر ما يشاهد من قوة وحول عند والديه، وعند والده على وجه الخصوص، فيشعر أمامهما بمركب نقص، يحاول التخلص منه بتحويره إلى ((مركب تبعية)): المركب الذي ينزع من الطفل الفكرة والرغبة
সেই শক্তি বা বন্ধন যা একটি গোষ্ঠীকে—তা কোনো জনপদ হোক বা জাতি—একত্রে ধরে রাখে, তা সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে গেছে।
আমরা এই সামাজিক মানদণ্ডের সাথে একটি মনস্তাত্ত্বিক উপাদান যুক্ত করতে পারি যা আমাদের নির্দেশিত পার্থক্যটিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে: মানোনি যে সমাজের কথা বুঝিয়েছেন তা উপনিবেশবাদের সাথে একটি মনস্তাত্ত্বিক-সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলে, পক্ষান্তরে আমরা যে সমাজের কথা বলছি তা একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। অর্থাৎ, প্রথম ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক উপাদানটি প্রাধান্য পায়, আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সামাজিক উপাদানটি প্রাধান্য পায়।
যাই হোক না কেন, লেখকের দৃষ্টিতে 'স্থানীয় অধিবাসী'র মধ্যে বিদ্যমান 'পরাধীনতার গ্রন্থি' হলো ইউরোপীয়দের মধ্যে বিদ্যমান 'উপনিবেশবাদী প্রবণতা'র একটি সমান্তরাল বা বিপরীত রূপ।
এই উপাদান দুটি স্বাভাবিকভাবেই গভীর পর্যবেক্ষণের বিষয়, কারণ এগুলি সেই তাত্ত্বিক কাঠামো গঠন করে যার ওপর ভিত্তি করে আমাদের আলোচ্য গবেষণাটি দাঁড়িয়ে আছে। আমরা এই প্রাথমিক ভূমিকাগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি, সাথে মানোনি যুক্ত করেছেন প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসমূহ—যেমন 'ব্যক্তিত্ব' (যা সামাজিক উত্তরাধিকার এবং সভ্যতার উৎপাদনের ফল) এবং 'ব্যক্তি'র (যা একটি নির্দিষ্ট বংশগত বৈশিষ্ট্যের ফল) মধ্যে পার্থক্য। এভাবে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, কোনো ব্যক্তির আচরণকে যা প্রভাবিত করে তা তার গায়ের রঙ বা বংশগত বৈশিষ্ট্য নয়, বরং যে পরিবেশে সে বড় হয়ে ওঠে তার সংস্কৃতি।
সুতরাং, গবেষণাটি এই পথেই অগ্রসর হয়; লেখক একদিকে ইউরোপে উপনিবেশবাদী প্রবণতা বিকাশের বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন, অন্যদিকে উদাহরণস্বরূপ মাদাগাস্কারে পরাধীনতার গ্রন্থি তৈরির বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন।
উভয় ক্ষেত্রেই লেখক—মনোবিশ্লেষণমূলক পদ্ধতির অনুসরণে—শৈশবকালের পর্যায়ে ফিরে যান।
তিনি মনে করেন যে, 'পরাধীনতা'র জন্ম হয় শিশুর নিজের অক্ষমতার বোধ থেকে। এই অনুভূতি একজন মালাগাসি শিশুর মধ্যে তখন গঠিত ও বিকশিত হয় যখন সে তার পিতামাতার—বিশেষ করে তার বাবার—মধ্যে যে অসীম শক্তি ও সামর্থ্য প্রত্যক্ষ করে। ফলে তাদের সামনে সে একটি হীনম্মন্যতার গ্রন্থিতে ভোগে, যা থেকে সে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে সেটিকে একটি 'পরাধীনতার গ্রন্থি'তে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে। এটি এমন এক গ্রন্থি যা শিশুর মধ্য থেকে নিজস্ব চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষাকে কেড়ে নেয়।
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
في تكوين إرادة وسلطة شخصيتين، حيث لا يرى فيهما جدوى، بل يراهما مستحيلتين.
وعليه لا يبقى للطفل الملغاشي، في نظر المؤلف إلا أن يتقبل هذا الوضع كشيء طبيعي، ويرى في سلطة والديه الجبارة شيئا لازما لراحته، بل ((المرجع الأعلى)) عند الحاجة، أي أن الطفل ((الأهلي)) سيضع تلك السلطة في المكان الذي تضع فيه أوروبا مبدأ دينيا، ويلاحظ المؤلف في هذا السياق أن ((فرار الأوروبي)) من ((سلطة واقعية)) باسم ((سلطة معنوية))، هو الشيء الذي يكون العنصر الأول للتمييز بين الحالتين، إذ أن هذا ((الفرار)) هو ما طبع الحضارة الغربية وحدد حركتها التطورية.
وعلى كل، فإن الطفل- أينما كان- يخشى حالة ((الضياع)) Abandon ويعمل في الحقل العائلي كي لا يقع في ضياع ما.
فالقانون العام، هو أن ((التبعية العائلية)) تنشىء المشكلة السيكلوجية نفسها في كل مكان، والمأساة نفسها التي تواجه الصبيان، ولكن الحل لهذه المشكلة وهذه المأساة هو الذي يختلف من مكان إلى آخر: فالطفل الأوروبي، حسب رأي المؤلف، يصفي مركب التبعية العائلية بكبته أو بتبخيره (أي يحوله إلى حالة أخرى) فيتقبل مواجهة ((حالة الضياع))، ويتمثل الـ ((أنا)) عنده مركب النقص الذي ينشأ عن هذه الحالة، بينما يتقبل الطفل الأهلي ((حالة التبعية)) كي يتخلص من مركب النقص ومن الشعور بـ ((الضياع)).
وهكذا تنشأ، وفق رأي المؤلف، شخصيتان، ترتبط الأولى بـ ((علاقة عمودية)) ((حماية الأجداد المهيمنة)) والأخرى تواجه ((عقدة الضياع)) وتتغلب عليها لأنها تتقبل أخطار ((اللا-تبعية)).
وهذه الاعتبارات كلها تكون، في نظر المؤلف، المقدمة النفسية لما يسميه ((الموقف الاستعماري)) الذي يتحقق كلما يتدخل الأوروبي بصورة واقعية في
দুইটি ব্যক্তিত্বের ইচ্ছা ও কর্তৃত্ব গঠনের ক্ষেত্রে, যেখানে তিনি এগুলোর মাঝে কোনো সার্থকতা দেখেন না, বরং সেগুলোকে অসম্ভব বলে গণ্য করেন।
এমতাবস্থায় লেখকের দৃষ্টিতে মালাগাছি শিশুর জন্য এই পরিস্থিতিকে একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। সে তার পিতামাতার প্রবল কর্তৃত্বকে তার স্বস্তির জন্য একটি অপরিহার্য বিষয় হিসেবে দেখে, এমনকি প্রয়োজনে তাকে 'সর্বোচ্চ আশ্রয়স্থল' মনে করে। অর্থাৎ, সেই 'দেশীয়' শিশুটি এই কর্তৃত্বকে ঠিক সেই স্থানে স্থাপন করে যেখানে ইউরোপীয় সমাজ কোনো ধর্মীয় নীতিকে স্থান দেয়। লেখক এই প্রসঙ্গে লক্ষ্য করেছেন যে, 'মানসিক কর্তৃত্বের' নামে 'বাস্তব কর্তৃত্ব' থেকে 'ইউরোপীয়দের পলায়নই' হলো এই দুই অবস্থার মধ্যে পার্থক্যের মূল উপাদান; কারণ এই 'পলায়নই' পশ্চিমা সভ্যতাকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে এবং তার বিবর্তনীয় গতিপথ নির্ধারণ করেছে।
যা-ই হোক, শিশু—সে যেখানেই থাকুক না কেন—'বিচ্ছিন্নতা' বা 'পরিত্যক্ত হওয়ার' (Abandon) অবস্থাকে ভয় পায় এবং পারিবারিক পরিমণ্ডলে এমনভাবে কাজ করে যাতে সে কোনো প্রকার নিঃসঙ্গতার মুখে না পড়ে।
সাধারণ নিয়মটি হলো, 'পারিবারিক বশ্যতা' সব জায়গাতেই একই মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা এবং একই বিয়োগান্তক পরিস্থিতি তৈরি করে যা শিশুদের মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু এই সমস্যা ও পরিস্থিতির সমাধান এক এক স্থানে এক এক রকম হয়: লেখকের অভিমত অনুযায়ী, ইউরোপীয় শিশু তার পারিবারিক বশ্যতার গ্রন্থিকে (Complex) অবদমন বা রূপান্তরের মাধ্যমে (অর্থাৎ এটিকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত করে) নিরসন করে; ফলে সে 'বিচ্ছিন্নতার পরিস্থিতির' মুখোমুখি হওয়াকে গ্রহণ করে নেয়। এক্ষেত্রে তার 'সত্তা' বা 'অহং' (Ego) হীনম্মন্যতার সেই গ্রন্থিকে ধারণ করে যা এই অবস্থা থেকে সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে, দেশীয় শিশু হীনম্মন্যতা ও 'বিচ্ছিন্নতার' অনুভূতি থেকে মুক্তি পেতে 'বশ্যতার অবস্থাকেই' মেনে নেয়।
এভাবেই লেখকের মতে দুটি স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে: প্রথমটি একটি 'উল্লম্ব সম্পর্কের' মাধ্যমে 'পূর্বপুরুষদের আধিপত্যশীল সুরক্ষার' সাথে যুক্ত থাকে, আর অন্যটি 'বিচ্ছিন্নতার গ্রন্থির' মোকাবিলা করে এবং তা কাটিয়ে ওঠে, কারণ সে 'পরাধীনতাহীনতার' ঝুঁকি গ্রহণ করে।
এই সমস্ত বিবেচনাই লেখকের দৃষ্টিতে সেই মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট গঠন করে, যাকে তিনি 'ঔপনিবেশিক মনোভাব' বলে অভিহিত করেছেন। এটি তখনই বাস্তবায়িত হয় যখন কোনো ইউরোপীয় বাস্তবিকভাবে হস্তক্ষেপ করে...
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
دائرة ((الحياة الأهلية))، وقد نتصور أن هذا ((التدخل)) يحدث غالبا خلال حرب استعمارية تكون نتيجتها الأولى تبديد أو تعكير شبكة الصلات التقليدية التي تربط ((الأهلي)) بالوسط الذي يعيش فيه، كاشفة له فجأة عدم جدواها، أمام صلات جديدة يفرضها المستعمر في صورة ((حماية)) على البلاد المحتلة، ويتقبلها ابن البلاد كتعويض عن الصلات التقليدية التي كانت ترتبط بها راحته الشخصية، وفي هذا الوضع الجديد تمتزج، كما يرى المؤلف، صورة ((الإِنسان الأبيض)) عند ((الإنسان الأهلي))، ((بالأغوار النفسية البعيدة عن الشعور، حيث تمتزج بصورة الجد الطوطمي)).
وإذا كان هذا الامتزاج واقعيا، كما يعتقد المؤلف، فإننا نتصور أثره في الحياة الاجتماعية والفردية، ولكن الوثائق التي يستند لها في هذه القضية ليست كلها مسلمات لا تحتمل المناقشة، وبالأخص الوثيقة التي تناولها من الأدب الشعبي، كتلك الأقطوعة التي يقول فيها الشاعر الملغاشي:
كيف فتح أهل أوروبا البلاد؟!
إن هؤلاء الرجال المدهشين أتوا من وراء البحار بسرعة!
والبلاد التي فتحوها أصبحت آمنة.
لم يبق فيها قطاع طرق ولا عبيد لأنهم حرروا.
إن أصحاب العيون الزرقاء أولوا حول وقوة.
إن هذه العينة من الأدب الشعبي الملغاشي لا تقنعنا، لأننا غير واثقين من أنه التعبير الحقيقي عن الفكر الشعبي بمدغشقر، ولأننا نعرف عينات من هذا الأدب في الجزائر، ونعرف أنها لا تعبر عن الروح الشعبي الجزائري، بل نشعر أنها ملفقة تحت إشراف إِدارة الشؤون الأهلية، ونعرف أن الأدب المأجور لا يخص بلاداً دون أخرى، ولا عصراً دون عصر.
ومما يؤيد وجهة نظرنا، هو أن المؤلف نفسه، يعترف، بملاحظة على الهامش
((আদিবাসীদের জীবন))-এর পরিমণ্ডল, এবং আমরা কল্পনা করতে পারি যে এই ((হস্তক্ষেপ)) সাধারণত একটি ঔপনিবেশিক যুদ্ধের সময় ঘটে থাকে, যার প্রাথমিক ফলাফল হলো আদিবাসীদের সাথে তাদের পরিবেশের চিরাচরিত সম্পর্কের জাল ছিন্নভিন্ন বা ঘোলাটে করে দেওয়া। এটি হঠাৎ করেই তাদের কাছে সেই সম্পর্কের অসারতা প্রকাশ করে দেয়, যার বিপরীতে দখলদার শক্তি অধিকৃত দেশগুলোতে ((সুরক্ষা))-র নামে নতুন ধরনের সম্পর্ক চাপিয়ে দেয়। দেশের মানুষ তাদের ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে জড়িয়ে থাকা চিরাচরিত সম্পর্কের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই নতুন ব্যবস্থাকে গ্রহণ করে নেয়। লেখকের মতে, এই নতুন পরিস্থিতিতে ((শ্বেতাঙ্গ মানুষ))-এর ভাবমূর্তি ((আদিবাসী মানুষ))-এর মনে ((চেতনার অগোচরে থাকা মনস্তাত্ত্বিক গভীরতার সাথে মিশে যায়, যেখানে এটি টোটেমীয় পূর্বপুরুষের প্রতিচ্ছবির সাথে একীভূত হয়))।
এবং এই সংমিশ্রণ যদি বাস্তবসম্মত হয়, যেমনটি লেখক মনে করেন, তবে আমরা সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে এর প্রভাব কল্পনা করতে পারি। কিন্তু এই বিষয়ে তিনি যে সব নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করেছেন, সেগুলোর সবগুলোই এমন অকাট্য স্বীকৃত সত্য (مسلمات) নয় যে তা নিয়ে আলোচনা করা যাবে না। বিশেষ করে লোকসাহিত্যের যে নথিপত্রটি তিনি গ্রহণ করেছেন, যেমন মালাগাছি কবির সেই কবিতাংশটি যেখানে তিনি বলেছেন:
ইউরোপীয়রা কীভাবে এই দেশ জয় করল?!
এই বিস্ময়কর মানুষগুলো সমুদ্রের ওপার থেকে কত দ্রুত চলে এল!
এবং তারা যে দেশ জয় করল তা নিরাপদ হয়ে গেল।
সেখানে কোনো দস্যু বা ক্রীতদাস অবশিষ্ট রইল না, কারণ তাদের মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
নীল চোখের অধিকারীরা প্রজ্ঞা ও শক্তির অধিকারী।
মালাগাছি লোকসাহিত্যের এই নমুনাটি আমাদের আশ্বস্ত করতে পারে না, কারণ আমরা নিশ্চিত নই যে এটি মাদাগাস্কারের জনমানসের প্রকৃত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ কি না। কারণ আমরা আলজেরিয়াতে এই ধরনের সাহিত্যের নমুনা সম্পর্কে জানি এবং আমরা জানি যে সেগুলো আলজেরীয় জনমানসের আত্মার প্রতিফলন নয়। বরং আমরা অনুভব করি যে এগুলো 'আদিবাসী বিষয়ক দপ্তর'-এর তত্ত্বাবধানে বানোয়াট (ملفقة) উপায়ে তৈরি করা হয়েছে। আর আমরা জানি যে ভাড়াটে সাহিত্য কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা নির্দিষ্ট যুগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে যা সমর্থন করে তা হলো, লেখক নিজেই একটি পার্শ্বটীকা (هامش)-তে স্বীকার করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تنطق ((بالتقديرات السياسية المغامرة)) التي يعتمد عليها الاستعمار، فهو أحياناً يدعم ويبرر وجوده في المستعمرات بمثل هذه الشهادات.
ومهما يكن الأمر، فإن رسم ((الشخصية التابعة)) بما تستلزم من السمات، يرسم، على صورة ما، الجانب ((الأهلي)) فقط في الكتاب الذي يكتمل، بطبيعة الحال، بجانب ((أوروبي)) ملازم للنزعة أو ((الرسالة)) الاستعمارية.
فهذه الرسالة تغور جذورها في أعماق الشخصية الأوروبية كما يراها منوني، فتجعلها مطابقة لشخصية ديكارت، بل هو صانعها، لأنه يمثل في نظره الإنسان الذي تخلص من ((رعاية الأمومة)) وتقبل شعور ((الضياع)) كشعور باستقلاله، كشعور بانتصاره على ((خشية الضياع)) مبرهنا بذلك على ثمن وطريق أي تحرر يغنم به الفرد.
إن المؤلف يرى في ديكارت الرجل الذي حقق أسطورة بوتي بوسيه Petit Pouset (1) واخترع وسيلة الاهتداء إلى الطريق في ((غابة الشك)) كما يرى في المنهج الديكارتي المغامرة التي أتاحت للأوروبي أن يهتدي إلى ((تقديس الوسائل)) محولا ثقته من عالم الطاقات الخفية إلى عالم الطاقات الظاهرة Technique.
إننا ندرك هنا التقدير الذي يخص به المؤلف منهج ديكارت كطريقة تحرر، ولكن يصعب علينا في نفس الوقت إدراك السبب الذي جعل المؤلف، كعضو في لجنة تحضير لبرنامج توجيه مدرسي Pédagogie بمدغشقر، يفضل في هذا البرنامج ترجمة بلزاك على ترجمة ديكارت، كأنه لا يعتقد أن تفكير ديكارت سيقوم في المجتمع الملغاشي بالدور التحرري الذي قام به في المجتمع الغربي، أو كأنه .. يعبر هنا عن موقفه بتلك الطريقة التي يشير إليها هو نفسه عند الغربي، ويسميها ((رد فعل لا شعوري أمام الرجل الملون)) وهو على حد قوله ((رد فعل لا تحدد طبيعته بوضوح)).
--------------------------------------------
এটি সেই 'দুঃসাহসিক রাজনৈতিক মূল্যায়ন'-এর প্রতিধ্বনি করে যার ওপর উপনিবেশবাদ নির্ভর করে; কেননা সে মাঝে মাঝে এই জাতীয় সাক্ষ্যের মাধ্যমে উপনিবেশগুলোতে নিজের অস্তিত্বকে সমর্থন ও যৌক্তিক সাব্যস্ত করে।
যাই হোক না কেন, 'অধীনস্থ ব্যক্তিত্ব'-কে তার আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্যসহ চিত্রিত করা বইটিতে কোনো একভাবে কেবল 'দেশীয়' দিকটিকেই ফুটিয়ে তোলে, যা স্বভাবতই উপনিবেশবাদী প্রবণতা বা 'মিশন'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি 'ইউরোপীয়' দিকের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়।
এই মিশনের শিকড় ইউরোপীয় ব্যক্তিত্বের গভীরে প্রোথিত, যেমনটি মানোনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এটি সেই ব্যক্তিত্বকে দেকার্তের ব্যক্তিত্বের অনুরূপ করে তোলে; বরং তিনিই এর নির্মাতা। কারণ তাঁর দৃষ্টিতে দেকার্ত এমন এক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন যিনি 'মাতৃসুলভ অভিভাবকত্ব' থেকে মুক্ত হয়েছেন এবং 'বিচ্যুতি'-র অনুভূতিকে নিজের স্বাধীনতার অনুভূতি হিসেবে গ্রহণ করেছেন; যা 'বিচ্যুতির ভয়'-এর ওপর তাঁর বিজয়ের অনুভূতি হিসেবে গণ্য। এর মাধ্যমে তিনি ব্যক্তির অর্জিত যেকোনো মুক্তির মূল্য ও পথ সপ্রমাণ করেছেন।
লেখক দেকার্তের মধ্যে এমন এক ব্যক্তিকে দেখেন যিনি 'পুতি পুসে' Petit Pouset (১) এর রূপকথাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এবং 'সন্দেহের অরণ্যে' পথ খুঁজে পাওয়ার মাধ্যম উদ্ভাবন করেছেন। তেমনি তিনি দেকার্তীয় পদ্ধতির মাঝে এমন এক দুঃসাহসিক অভিযান খুঁজে পান যা ইউরোপীয়দের 'উপকরণের পবিত্রকরণ'-এর দিকে পরিচালিত করেছে; যার ফলে তিনি নিজের আস্থা অদৃশ্য শক্তির জগৎ থেকে দৃশ্যমান শক্তির Technique-এর জগতে স্থানান্তরিত করেছেন।
আমরা এখানে সেই মূল্যায়নের বিষয়টি বুঝতে পারি যা লেখক দেকার্তের পদ্ধতিকে মুক্তির একটি পথ হিসেবে বিশেষায়িত করেছেন। কিন্তু একই সময়ে আমাদের জন্য সেই কারণটি অনুধাবন করা কঠিন হয়ে পড়ে যে, কেন মাদাগাস্কারে স্কুল নির্দেশিকা কর্মসূচির Pédagogie প্রস্তুতি কমিটির সদস্য হিসেবে লেখক এই কর্মসূচিতে দেকার্তের অনুবাদের চেয়ে বালজাক-এর অনুবাদকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। মনে হয় যেন তিনি বিশ্বাস করেন না যে, দেকার্তের চিন্তাধারা মালাগাসি সমাজে সেই মুক্তিদায়ী ভূমিকা পালন করবে যা পশ্চিমা সমাজে করেছিল; অথবা মনে হয় যেন তিনি এখানে তাঁর অবস্থান এমনভাবে প্রকাশ করছেন যা তিনি নিজেই পশ্চিমাদের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন এবং যাকে তিনি 'অশ্বেতাঙ্গ মানুষের সামনে অবচেতন প্রতিক্রিয়া' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে এটি এমন এক 'প্রতিক্রিয়া যার প্রকৃতি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা যায় না'。
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولكن المهم في الأمر، هو أن منوني يصور لنا شخصية الأوروبي بحيث ندرك مباشرة الصلة الدقيقة الموجودة بين الفرد الذي تخلص من ((رعاية الأم)) والذي فارق الوطن الأم: الفرد الذي يغادر وطنه ويشق البحار من أجل أن ((يستعمر)) بلداً بعيداً.
ولكن هذه ((الرسالة الاستعمارية)) تطابق، في نظر المؤلف، حالة نفسية غريبة يحللها بكل دقة في شخص روبنسون كروزويه R.Crusoé وفي شخص آخر، بروسبيرو Prospers في إِحدى قصص شكسبير ((العاصفة)) La Tempète فيكشف في شخصيتهما نزعة يعتبرها أساسية في تحديد الشخصية الاستعمارية ويسميها ((الرغبة في عالم خال من البشر))، وفي هذا السياق نراه يكتشف أيضاً نزعة ابن المستعمرات أي مركب التبعية في شخص كليبان، رفيق بروسبيرو الذي يعيش معه في موقف استعماري حقيقي.
ولكن ((عندما نشر دنييل دوفويه Daniel Defae)) (1) حلمه الذي أودعه في قصته المشهورة، وجدت أوروبا نفسها أنها تحلم الحلم نفسه، أو بعبارة أخرى أن الرغبة في عالم خال من البشر ((صفة نفسية أوروبية شاملة تسم الروح الغربية بصورة عامة)) والمؤلف يرى في هذه السمة بما تشتمل عليه من نزعة ضد البشر، الشيء الذي يحدد الرسالة الاستعمارية في جذورها النفسية.
وكأنه في هذا كله يفسر معطيات النفس بخاصيات المكان، أو الاستعمار كظاهرة تتصل بجغرافية أوروبا التي تحدد نظرتها إلى العالم البعيد.
ولكننا نلاحظ بدورنا أن سحر البعد على العقول لا يخص أرضاً دون أخرى، ولا عصراً دون آخر بينما لا نجد أثر هذا التأثير الغريب على الاستعدادات النفسية كما أثر عليها في أوروبا حتى بعث فيها الروح الاستعمارية، ونلاحظ بوجه خاص أن سحر ((العالم البدائي)) لم يعمل عمله لأول مرة في أوروبا، بل
--------------------------------------------
কিন্তু এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, মানুনি আমাদের নিকট ইউরোপীয় চরিত্রের এমন এক চিত্র অঙ্কন করেছেন যাতে আমরা সরাসরি সেই ব্যক্তির মধ্যকার সূক্ষ্ম যোগসূত্রটি উপলব্ধি করতে পারি, যে ‘মাতৃ-আলিঙ্গন’ থেকে মুক্ত হয়েছে এবং মাতৃভূমি ত্যাগ করেছে: সেই ব্যক্তি যে তার স্বদেশ ছেড়ে দূরে কোনো দেশ ‘ঔপনিবেশিক’ (استعماري) করার লক্ষ্যে সমুদ্র পাড়ি দেয়।
কিন্তু লেখকের দৃষ্টিতে, এই ‘ঔপনিবেশিক লক্ষ্য’ (الرسالة الاستعمارية) একটি বিচিত্র মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার সাথে মিলে যায়, যা তিনি রবিনসন ক্রুসো (Robinson Crusoe) এবং শেক্সপিয়রের অন্যতম নাটক ‘দ্য টেম্পেস্ট’ (The Tempest)-এর চরিত্র প্রস্পেরো (Prospero)-এর মাধ্যমে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি তাদের চরিত্রের মধ্যে এমন একটি প্রবণতা উন্মোচন করেন যাকে তিনি ঔপনিবেশিক ব্যক্তিত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে মৌলিক বলে গণ্য করেন এবং একে ‘মানবশূন্য বিশ্বের আকাঙ্ক্ষা’ বলে অভিহিত করেন। এই প্রেক্ষাপটে আমরা তাকে উপনিবেশের অধিবাসীদের প্রবণতা অর্থাৎ প্রস্পেরোর সঙ্গী ক্যালিবান (Caliban)-এর চরিত্রে ‘পরাধীনতার মনস্তত্ত্ব’ আবিষ্কার করতে দেখি, যে তার সাথে এক বাস্তব ঔপনিবেশিক পরিস্থিতিতে বসবাস করে।
কিন্তু ‘ড্যানিয়েল ডিফো (Daniel Defoe) যখন তার বিখ্যাত গল্পে তার সেই স্বপ্নটি প্রকাশ করেন’ (১), তখন ইউরোপ নিজেকে সেই একই স্বপ্ন দেখতে পায়। অন্য কথায়, মানবশূন্য বিশ্বের আকাঙ্ক্ষা হলো ‘একটি সামগ্রিক ইউরোপীয় মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য যা সাধারণভাবে পশ্চিমা আত্মাকে চিহ্নিত করে’। লেখক এই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে নিহিত মানববিদ্বেষী প্রবণতাটিকে এমন কিছু হিসেবে দেখেন যা ঔপনিবেশিক লক্ষ্যকে (الرسالة الاستعمارية) তার মনস্তাত্ত্বিক মূলে সংজ্ঞায়িত করে।
মনে হয় যেন তিনি এই সবকিছুর মাধ্যমে আত্মার উপাদানগুলোকে স্থানের বৈশিষ্ট্য দিয়ে ব্যাখ্যা করছেন, অথবা উপনিবেশবাদকে (الاستعمار) ইউরোপের ভূগোলের সাথে সম্পর্কিত একটি প্রপঞ্চ হিসেবে দেখছেন যা সুদূর বিশ্বের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্ধারণ করে।
কিন্তু আমরা আমাদের পক্ষ থেকে লক্ষ্য করি যে, মনের ওপর দূরত্বের আকর্ষণ কোনো নির্দিষ্ট ভূমি বা কোনো নির্দিষ্ট যুগের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; অথচ মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতির ওপর এই বিচিত্র প্রভাবের চিহ্ন আমরা ইউরোপের মতো অন্য কোথাও পাই না, যা সেখানে ঔপনিবেশিক (استعمارية) চেতনাকে জাগ্রত করেছে। আমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য করি যে, ‘আদিম বিশ্বের’ মোহ ইউরোপে প্রথমবার কাজ করেনি, বরং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
نجد أنه أثر على مكتشفين كبار في عصور أخرى، ووجه أصحاب رحلات كبيرة، مثل ابن بطوطة، والمسعودي وأبو الفداء فجابوا العالم المتوحش الخاص بزمنهم، دون أن تستولي على عقولهم نزعة استعمارية بل كا نوا يجوبون البلاد لمجرد المعرفة والفائدة العلمية.
وإنه لمن خطأ الأبصار أن نتكلم كما تكلم كلود بورديه، في مقالة خصصها لمظاهرة ططوان (1) عن شيء يسميه هذا الصحافي ((الاستعمار العربي بأسبانيا)) وقد بينا في مقالة سابقة أن الاستعمار وجهة ثالثة (2) يدين بها تاريخ الانسانية لأوروبا.
كما أن أسطورة الجزيرة التي تشتمل على سحر البعد وعلى فكرة عالم غير مسكون، ليست خاصة بالأدب الأوروبي، بل نجد أثرها في الأدب العربي في قصة السندباد البحري وفي قصة حي بن يقظان، دون أن نجد فيه أثر النزعة الاستعمارية.
ولكننا نتساءل إذا كانت أسطورة الجزيرة الخالية تعبر حقيقة في الغرب عن الرغبة في عالم دون بشر.
فإننا نعرف بعض مظاهر الفكر الاستعماري بالجزائر حتى أننا نجد أنفسنا ملتزمين بشيء من التحفظ أمام هذا السؤال.
إننا نعرف على وجه المثال حقد الأوروبي الذي يعيش الواقع الاستعماري في بلد مستعمَر على أخيه الذي يأتي مباشرة من الوطن الأم فالحقد يكون واضحاً إِزاء لجنة التنقيب التي تعين في حالة اضطرارية للتنقيب عن بعض المظالم، كما شاهدنا ذلك هذه الأيام بمناسبة اللجنة التي ذهبت لدراسة الموقف بمراكش الآن
… كما نتذكر أيضاً كيف قوبل بقسطنطينة من طرف الجالية الأوروبية القاطنة بالمدينة رجل دين كبير هو الكردينال ليينار.
حتى أننا بعدما نتأمل هذه المظاهر كلها، نتساءل عن مقدار الإِصابة والتوفيق
--------------------------------------------
আমরা দেখতে পাই যে, এটি বিভিন্ন যুগের মহান আবিষ্কারকদের প্রভাবিত করেছে এবং ইবনে বতুতা, মাসউদী ও আবুল ফিদার মতো মহান পর্যটকদের পথপ্রদর্শন করেছে; ফলে তাঁরা তাঁদের সমসাময়িক সেই বন্য পৃথিবী পরিভ্রমণ করেছেন। কোনো ঔপনিবেশিক প্রবণতা তাঁদের চিন্তাজগতকে আচ্ছন্ন করেনি, বরং তাঁরা দেশ-দেশান্তরে ঘুরেছেন নিছক জ্ঞানার্জন ও বৈজ্ঞানিক উপকারের নিমিত্তে।
এটি চাক্ষুষ ভুল বা ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি যে, আমরা ক্লোদ বুর্দের মতো কথা বলব—যিনি তেতুয়ানের বিক্ষোভ (১) প্রসঙ্গে রচিত একটি নিবন্ধে একে ‘স্পেনে আরব উপনিবেশবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। অথচ আমরা পূর্ববর্তী একটি প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করেছি যে, উপনিবেশবাদ হলো একটি ‘তৃতীয় দিক’ (২), যার জন্য মানবজাতির ইতিহাস ইউরোপের কাছে ঋণী।
তদ্রূপ, দূরত্বের মোহময় জাদু এবং জনমানবহীন এক বিশ্বের ধারণাসম্বলিত দ্বীপের পৌরাণিক কাহিনী কেবল ইউরোপীয় সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য নয়; বরং আমরা আরবি সাহিত্যে সিন্দাবাদ এবং হাই ইবনে ইয়াকজানের গল্পেও এর প্রভাব খুঁজে পাই, যেখানে ঔপনিবেশিক প্রবণতার কোনো লেশমাত্র নেই।
তবে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে— জনশূন্য দ্বীপের এই রূপকথা কি বাস্তবে পাশ্চাত্যে মানুষহীন একটি পৃথিবীর আকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিফলিত করে?
আলজেরিয়ায় ঔপনিবেশিক চিন্তাধারার কিছু স্বরূপ আমাদের জানা আছে, যার ফলে এই প্রশ্নের সম্মুখে আমরা এক প্রকার সতর্কতা অবলম্বনে বাধ্য হই।
উদাহরণস্বরূপ, আমরা জানি সেই ইউরোপীয় নাগরিকের বিদ্বেষের কথা, যে কোনো উপনিবেশিত দেশে ঔপনিবেশিক বাস্তবতার মাঝে বাস করছে, তার সেই স্বজাতীয় ভাইয়ের প্রতি যে সরাসরি মাতৃভূমি থেকে সেখানে এসেছে। এই বিদ্বেষ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয় সেই অনুসন্ধান কমিটির প্রতি, যারা বিশেষ প্রয়োজনে কিছু অন্যায়ের তদন্তে নিযুক্ত হয়; যেমনটি আমরা সম্প্রতি মরক্কোর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় যাওয়া কমিটির ক্ষেত্রে লক্ষ্য করেছি... তদ্রূপ আমাদের মনে পড়ে কনস্টানটাইন শহরে বসবাসরত ইউরোপীয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রবীণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব কার্ডিনাল লিয়েনার-কে কীরূপ আচরণের মাধ্যমে বরণ করা হয়েছিল।
এমনকি এই সকল বিষয় পর্যালোচনার পর আমরা এর সঠিকতা ও সাফল্যের (توفيق) মাত্রা সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়ি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
في رأي منوني إلي إِزاء النزعة الاستعمارية، التي يسميها الرغبة في ((عالم دون بشر)) أليس من الأصح أن نسميها الرغبة في عالم بلا شهود؟ لأن كل من ينطوي على مركب الجريمة يحتاط من الشهود ويحقد عليهم، فالأوروبي القاطن بالمستعمرات يحتاط أحياناً من أخيه الذي يأتي زائراً من الوطن، لأنه يخشى منه أن يكون شاهداً على جريمته في سلوكه الاستعماري مع أهل البلد .. فالجزيرة البعيدة تكون إذا بالنسبة إليه بمثابة المكان الذي يجد فيه مأمنه المكان الذي لا تدركه فيه سلطة القوانين والأَخلاق والعادات.
ومهما يكن من الأمر فتحليل منوني يكشف لنا عقدة مرضية في الرسالة الاستعمارية، ولكنه لا يقف فيما يبدو عند الاحتمال الذي تكون فيه، كما نشعر بذلك أحياناً، هذه العقدة عاملا لا حضارياً أو فاسخاً للحضارة، كما يلاحظ ذلك أميه سيبزر في محاضرة ألقاها أخيراً عن المشكلة الاستعمارية.
وهذا العمل الفاسخ للحضارة واضح في ظروف معينة لأن كل مناسبة تتخذ فيها ((فكرة الأوروبي القاطن بالمستعمرات)) الصدارة على فكرة الأوروبي الساكن بالوطن الأم، تكون هذه مناسبة ينتصر فيها الظلم على القانون، والامتياز على الحق، والكسل على العمل، والمادة على الروح. أي أنها مناسبة تنتصر فيها النزعات اللاحضارية على القيم الحضارية، وفيها حركة تنعكس فتصبح سيراً الى الوراء، وعالم ينقلب فيرفع قدميه ويمشي على رأسه.
وعندما ننظر إلى الأشياء هذه النظرة، يعترينا شيء من الدهشة، حينما نرى المؤلف يشاطر أكثر من مرة الرأي الاستعماري الذي يرى أن ((المستعمِر)) أجدر من الأوروبي الذي لم يخرج من بلاده في تفهم القضايا القائمة بين الشعوب المستعمَرة والدول الاستعمارية وأنه أجدر بتحديد سياسة هذه الدول فيما وراء البحار، كان القضية قضية اختصاص في جريمة، على مذهب المسيو كاونه الذي يعتقد فيما يخص تونس، أن المشكلة القائمة هناك ليست بين الشعب التونسي المكافح وفرنسا، ولكن بين هذا الشعب والفئة الاستعمارية التي بيدها السلطة
উপনিবেশবাদ প্রবণতা সম্পর্কে মানোনির (Mannoni) দৃষ্টিভঙ্গি হলো—যাকে তিনি 'মানুষবিহীন পৃথিবী'র আকাঙ্ক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন—সেটিকে কি 'সাক্ষীবিহীন পৃথিবী'র আকাঙ্ক্ষা বলা অধিকতর সঠিক নয়? কারণ, যার মধ্যেই অপরাধ প্রবণতা বিদ্যমান, সে সাক্ষীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকে এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। উপনিবেশে বসবাসকারী ইউরোপীয়রা অনেক সময় নিজ দেশ থেকে আগত নিজের ভাইয়ের ব্যাপারেও সতর্ক থাকে; কারণ সে ভয় পায় যে, স্থানীয় অধিবাসীদের প্রতি তার ঔপনিবেশিক আচরণের ক্ষেত্রে ভাইটি তার অপরাধের সাক্ষী হয়ে দাঁড়াতে পারে...। সুতরাং, দূরবর্তী দ্বীপটি তার কাছে এমন এক আশ্রয়ের স্থান যেখানে সে নিরাপত্তা খুঁজে পায়; এমন এক জায়গা যেখানে আইন, নৈতিকতা এবং প্রথার কর্তৃত্ব তাকে স্পর্শ করতে পারে না।
বিষয়টি যাই হোক না কেন, মানোনির বিশ্লেষণ আমাদের কাছে ঔপনিবেশিক মিশনের একটি রুগ্ন মানসিক গ্রন্থি উন্মোচন করে। তবে তিনি এমন এক সম্ভাবনার সামনে এসে থেমে যান বলে মনে হয়, যেখানে আমরা কখনো কখনো অনুভব করি যে, এই মানসিক গ্রন্থিটি একটি অ-সভ্যতামূলক বা সভ্যতা বিধ্বংসী উপাদান হিসেবে কাজ করে—যেমনটি সম্প্রতি উপনিবেশবাদ সংক্রান্ত এক বক্তৃতায় এমাই সিজার (Aimé Césaire) পর্যবেক্ষণ করেছেন।
সভ্যতা বিধ্বংসী এই কাজ বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে অত্যন্ত স্পষ্ট। কারণ, যখনই 'উপনিবেশে বসবাসকারী ইউরোপীয়দের চিন্তা' মূল ভূখণ্ডের 'ইউরোপীয়দের চিন্তার' ওপর প্রাধান্য পায়, তখন সেই সুযোগে আইনের ওপর জুলুম, অধিকারের ওপর বিশেষ সুবিধা, কর্মের ওপর অলসতা এবং আত্মার ওপর জড়বাদ বিজয়ী হয়। অর্থাৎ, এটি এমন এক মুহূর্ত যেখানে অ-সভ্যতামূলক প্রবণতাগুলো সভ্যতাগত মূল্যবোধের ওপর জয়লাভ করে এবং এতে গতির এক বিপরীতমুখী প্রতিফলন ঘটে, যা পশ্চাৎপদতার দিকে ধাবিত হয়; যেন এক ওলটপালট হয়ে যাওয়া পৃথিবী যা তার পা উপরে তুলে মাথার ওপর ভর দিয়ে হাঁটছে।
আমরা যখন বিষয়গুলোকে এই দৃষ্টিতে দেখি, তখন আমাদের মধ্যে বিস্ময়ের উদ্রেক ঘটে যখন আমরা দেখি যে, লেখক বারবার সেই ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত পোষণ করছেন যা মনে করে যে, নিজ দেশ ত্যাগ না করা ইউরোপীয়দের তুলনায় 'উপনিবেশ স্থাপনকারী' ব্যক্তিরাই উপনিবেশিত জাতি এবং ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যাবলি অনুধাবনের ক্ষেত্রে অধিকতর যোগ্য। এমনকি তিনি মনে করেন যে, সমুদ্রপারবর্তী দেশগুলোতে এই রাষ্ট্রগুলোর নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তারাই বেশি উপযুক্ত। যেন বিষয়টি অপরাধের বিষয়ে এক প্রকার বিশেষজ্ঞ হওয়ার মতো; যেমনটি মসিঁয়ে কাউনের (Monsieur Caune) অভিমত—যিনি তিউনিসিয়া প্রসঙ্গে মনে করেন যে, সেখানে বিদ্যমান সমস্যাটি সংগ্রামী তিউনিসীয় জাতি এবং ফ্রান্সের মধ্যে নয়, বরং এই জাতি এবং সেই ঔপনিবেশিক গোষ্ঠীর মধ্যে যাদের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত।
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الحقيقية بتونس اليوم، وأن العقدة ليس حلها بباريس ولكن بتونس، أي في مأمن من القانون ومن ((الشهود)).
فهذه الملاحظات تدل على جانب ضعف وعلى وصمات سوداء في كتاب مشرق بالنور في نواحيه الأخرى .. ولكن ربما وقع المؤلف بما كان يحذر منه، فقد أراد أن يتجنب التورطات السياسية في كتاب يستولي عليه روح العلم إلا أن صاحبه تورط في بعض التعليقات وبعض الاستنتاجات المستعجلة.
ولقد نجد أنفسنا حائرين ونحن نقرأ الكتاب في هذه النقط السوداء: هل نربطها منطقياً بمسلمات الكتاب؟ أم ننسبها إلى ميل في نفس صاحبه إلى المساهمة في بعض الآراء الاستعمارية؟.
فعندما نرى الكاتب، بعد إدانته ((النزعة الأبوية)) في نفسية الاستعمار أي النزعة التي تجعل المستعمِر يطالب بحق الرقابة على المستعمَر، بدعوى أنه لم يبلغ رشده، نراه بعد ذلك يستخدم استعارة يستعيرها مما كتب الدكتور أندري برج عن ((الإِنسان العصري)) تراه يطبقها على الملقاشي ويحكم عليه بأنه ((لم يدرك بعد سن اليتم)) أي السن الذي يكون فيه الفرد قد تخلص من سلطة الوالدين وهو يشير طبعاً لسلطة الحماية الاستعمارية.
فعندما نقرأ استعارة كهذه في الكتاب، لا نعرف هل نربطها بمقدماته المنطقية، أم ننسبها إلى ورطة يقع فيها صاحبها دون شعور. وهكذا نجد نفوسنا حائرين أمام هذا الحكم ((العلمي)) الذي لا يصيب الحركة الوطنية في مدغشقر فقط، بل يصيب الحركات الوطنية التحررية كلها، وكفاح الشعوب المستعمرة من أجل حريتها، خصوصاً أن المؤلف يقرر بصفة عامة وجود ((نفسية أهلية))، كما كان ليفي بروهل يقرر العقلية البدائية ..
بل إن الكاتب يذهب أكثر من ذلك في اتجاه الفكر الاستعماري، عندما يصور ((النخبة البدائية)) كما صورها ليفي بروهل. ويضع على لسان من يمثلها،
আজকের তিউনিসিয়ার প্রকৃত অবস্থা এবং এই জটিলতার সমাধান প্যারিসে নয় বরং তিউনিসিয়াতেই, অর্থাৎ আইন ও সাক্ষীদের (الشهود) ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এই পর্যবেক্ষণগুলো একটি উজ্জ্বল গ্রন্থের অন্যান্য দিকগুলোর মাঝে কিছু দুর্বল (ضعيف) দিক এবং কালো দাগের প্রতি নির্দেশ করে। কিন্তু সম্ভবত লেখক যা থেকে সতর্ক করতে চেয়েছিলেন তার মধ্যেই তিনি নিজে পতিত হয়েছেন। তিনি একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক গ্রন্থে রাজনৈতিক জটিলতা এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও লেখক কিছু মন্তব্য ও তড়িঘড়ি করা কিছু সিদ্ধান্তে জড়িয়ে পড়েছেন।
এই অন্ধকার বিন্দুগুলো পড়ার সময় আমরা নিজেদের বিভ্রান্ত বোধ করি: আমরা কি এগুলোকে যৌক্তিকভাবে বইটির মৌলিক স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোর সাথে যুক্ত করব? নাকি এগুলোকে ঔপনিবেশিক কিছু মতামতে অংশীদার হওয়ার প্রতি লেখকের মানসিক ঝোঁক হিসেবে গণ্য করব?
যখন আমরা দেখি লেখক উপনিবেশবাদের মনস্তত্ত্বে ‘পিতৃতান্ত্রিক প্রবণতার’ নিন্দা করছেন—অর্থাৎ এমন এক প্রবণতা যা উপনিবেশবাদীকে শাসিতের ওপর অভিভাবকত্বের অধিকার দাবি করতে উদ্বুদ্ধ করে এই অজুহাতে যে সে এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি—তখন তাকে ডক্টর আন্দ্রে বার্গ-এর ‘আধুনিক মানুষ’ সংক্রান্ত একটি রূপক ব্যবহার করতে দেখা যায়। তিনি এটি মালাগাসিদের ওপর প্রয়োগ করেন এবং এই মর্মে ফয়সালা দেন যে, তারা এখনো ‘পিতৃহীনতার বয়সে পৌঁছায়নি’। অর্থাৎ এমন এক বয়স যখন একজন ব্যক্তি পিতামাতার কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হয়। এখানে তিনি অবশ্যই ঔপনিবেশিক অভিভাবকত্ব বা প্রটেক্টরেট শাসনের দিকেই ইঙ্গিত করছেন।
যখন আমরা বইটিতে এ ধরণের রূপক পাঠ করি, তখন আমরা বুঝতে পারি না যে এটিকে বইটির যৌক্তিক ভূমিকার সাথে সম্পর্কিত করব, নাকি একে লেখকের অবচেতনভাবে কোনো বিভ্রান্তিতে পড়ে যাওয়া বলে গণ্য করব। এভাবেই আমরা এই ‘বৈজ্ঞানিক’ সিদ্ধান্তের সামনে নিজেদের কিংকর্তব্যবিমূঢ় পাই, যা কেবল মাদাগাস্কারের জাতীয় আন্দোলনকেই আঘাত করে না, বরং সমস্ত স্বাধীনতাকামী জাতীয় আন্দোলন এবং স্বাধীনতার জন্য উপনিবেশিত জাতিগুলোর সংগ্রামকেও আঘাত করে। বিশেষ করে যেহেতু লেখক সাধারণভাবে একটি ‘দেশীয় মনস্তত্ত্ব’ থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন, যেমনটা লেভি-ব্রুহল ‘আদিম মানসিকতা’র বিষয়টি নির্ধারণ করেছিলেন।
বরং লেখক ঔপনিবেশিক চিন্তাধারার দিকে আরও অগ্রসর হন যখন তিনি ‘আদিম অভিজাত শ্রেণী’কে চিত্রিত করেন যেভাবে লেভি-ব্রুহল করেছিলেন। এবং এর প্রতিনিধিত্বকারীদের মুখে ভাষা তুলে দেন,
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
في نظره، أي على لسان التلميذ الملون الذي يقول للأستاذ الأوروبي: إِنك علمتني الكلام كي تتيح لي أن ألعنك به!!.
وعبارة كهذه تشبه إلى حد كبير ما يقوله المستعمرون عن ((الأهالي)) الذين تتاح لهم فرصة التعلم في الكليات الأوروبية، ((إننا نعطي لهؤلاء عصينا كي يجلدونا بها)).
ولكن رغم هذه العبارات، نجد أن النخبة الملونة تتكلم غالب الأحيان في الكتاب لغة كلبيان، (الرجل المقيد بمركب التبعية) وتطالب في النهاية بالطوق وبالعقال: رمزيْ ((التبعية)).
ولكن على تقدير أن هذه العناصر التحليلية تدخل حقيقة فيما يسميه الكاتب ((الموقف الاستعماري))، فهل يوحي الكتاب بطريقة حل وبوسائل الحل لمعالجة هذا الموقف؟.
وقد يتساءل فعلا الكاتب نفسه في نهاية الدراسة: ماذا نفعل؟ ويرد على نفسه بجواب يستقيه من فكرة بداغوجية لفرويد، فيقول: ((ومهما نفعل، فإننا لا نصيب في الموضوع)).
ولكن الموقف يخلق ضرورة مواجهته بصورة ما، مهما يكن فيها من الغموض، ولا شك أن تلك الصورة ستنتج من الاتجاهين اللذين اتجه إِليهما التحليل في الكتاب.
ففي اتجاه ابن المستعمرات، يقترح الكاتب تحرير شخصيته من دوافع التبعية، وبعث الروح الديمقراطي في المجتمع الذي يتصف بالتبعية.
فيعرض الكاتب من أجل ذلك عدداً من التوجيهات يراها مناسبة لهذا الغرض المزدوج.
ولكن هذه التوجيهات تبقى كلها، في نظر الكاتب، رهينة وسائل وإمكانيات تقع تحت تصرف الاستعمار، ((لأن المجتمع الاستعماري لا يترك للكائن المستعمر إلا تبعيته)).
তাঁর দৃষ্টিতে, অর্থাৎ সেই কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রের জবানিতে যে তার ইউরোপীয় শিক্ষককে বলছে: নিশ্চয়ই আপনি আমাকে কথা বলা শিখিয়েছেন যাতে আমি সেই কথা দিয়েই আপনাকে অভিশাপ দিতে পারি!!.
এই জাতীয় উক্তি অনেকাংশেই সেই কথার মতো যা ঔপনিবেশিকরা সেই সকল 'স্থানীয় অধিবাসী' সম্পর্কে বলে থাকে যাদের ইউরোপীয় কলেজগুলোতে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে: "আমরা এদের হাতে আমাদের লাঠি তুলে দিচ্ছি যাতে তারা তা দিয়ে আমাদেরকেই প্রহার করে" ।
কিন্তু এই ধরণের উক্তি থাকা সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাই যে, এই বইটিতে কৃষ্ণাঙ্গ অভিজাতরা প্রায়শই ক্যালিবান (পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ব্যক্তি) এর ভাষায় কথা বলে এবং পরিশেষে তারা গলার বেড়ি ও মস্তকাবরণ দাবি করে: যা "পরাধীনতার" দুটি প্রতীক।
তবে এই বিশ্লেষণধর্মী উপাদানগুলো প্রকৃতপক্ষে লেখক যাকে "ঔপনিবেশিক পরিস্থিতি" হিসেবে অভিহিত করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলে, বইটি কি এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কোনো সমাধানের পথ বা উপায়ের ইঙ্গিত দেয়?
গবেষণার শেষে লেখক নিজেই হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন: আমাদের করণীয় কী? এবং তিনি ফ্রয়েডের একটি শিক্ষামূলক ধারণা থেকে নিজের উত্তরের সূত্র গ্রহণ করে বলেন: "আমরা যা-ই করি না কেন, আমরা এই বিষয়ে লক্ষ্যভেদ করতে পারব না" ।
কিন্তু পরিস্থিতি এমন যে কোনো না কোনোভাবে এর মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে, তা সেটির রূপ যতই অস্পষ্ট হোক না কেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সেই রূপটি এই বইয়ের বিশ্লেষণের দুটি দিক থেকেই উদ্ভূত হবে।
উপনিবেশিত সন্তানদের ক্ষেত্রে লেখক তাদের ব্যক্তিত্বকে পরাধীনতার তাড়না থেকে মুক্ত করার এবং পরাধীনতাগ্রস্ত সমাজে গণতান্ত্রিক চেতনার পুনর্জাগরণের প্রস্তাব দেন।
সেই উদ্দেশ্যে লেখক বেশ কিছু দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করেছেন যা তিনি এই দ্বিমুখী লক্ষ্য অর্জনের জন্য উপযুক্ত মনে করেন।
কিন্তু লেখকের দৃষ্টিতে এই সমস্ত দিকনির্দেশনা শেষ পর্যন্ত সেই সব উপায় ও উপকরণের ওপর নির্ভরশীল যা উপনিবেশবাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, "কারণ ঔপনিবেশিক সমাজ কোনো পরাধীন সত্তার জন্য তার পরাধীনতা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট রাখে না" ।
(খণ্ড: ১)
ফী মাহাব্বিল মাআরাকাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ومن ناحية أخرى، فابن المستعمرات نفسه لا يبدو، في نظر الكاتب، مهتماً بإنجاز تطوره بصورة فعالة، حيث يراه في الحقل السياسي مثلا، لا تتجه مطالبه إلى تصفية ((التبعية)).
وهكذا تنتهي الدراسة في دائرة مفرغة تلتقي فيها في نظر الكاتب، نزعات الأوروبي الاستعماري ((المطرود من عالم الآخرين))، ونزعات ابن المستعمرات الذي لم يقم بثورته الفكرية، ولم يحول ثقته من الطاقات الخفية كي يعلقها بوسائل العلم والصناعة.
ولكن أليس الحل خارج هذه الدائرة المفرغة؟ في التطور الذي يدفع الحضارة اليوم إلى الشمول والعالمية، أي إلى حالة سيتضطر فيها الأوروبي إلى تقبل واحترام ((عالم الآخرين)) حيث تجدد فيه فكرته عن الإِنسان.
***
অন্যদিকে, খোদ উপনিবেশিত ব্যক্তিও লেখকের দৃষ্টিতে কার্যকরভাবে তার বিবর্তন সম্পন্ন করতে আগ্রহী বলে মনে হয় না; যেমন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে লেখক তাকে লক্ষ্য করেন যে, তার দাবিগুলো 'পরাধীনতা' নিরসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে না।
এভাবেই এই গবেষণাটি একটি দুষ্টচক্রে পর্যবসিত হয়, যেখানে লেখকের মতে, 'অন্যদের জগত থেকে বিতাড়িত' ঔপনিবেশিক ইউরোপীয়দের প্রবণতা এবং সেই সব উপনিবেশিতদের প্রবণতা একত্রিত হয়, যারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব ঘটায়নি এবং গূঢ় শক্তিনিচয়ের ওপর থেকে তাদের আস্থা (ثقة) সরিয়ে বিজ্ঞান ও শিল্পের উপকরণের ওপর ন্যস্ত করেনি।
কিন্তু এই দুষ্টচক্রের বাইরে কি কোনো সমাধান নেই? সেই বিবর্তনের মাঝে কি তা নেই যা আজ সভ্যতাকে সামগ্রিকতা ও বিশ্বজনীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে? অর্থাৎ এমন এক পরিস্থিতির দিকে যেখানে ইউরোপীয়রা 'অন্যদের জগত'কে গ্রহণ ও সম্মান করতে বাধ্য হবে, যেখানে মানুষের সম্পর্কে তার ধারণার নবায়ন ঘটবে।
***