(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة القسم: العقيدة
الكتاب: شرح كتاب قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة لابن تيمية
المؤلف: ناصر بن عبد الكريم العلي العقل
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 36 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
ইবনে তাইমিয়্যাহর ‘কায়েদায়ে জালিলা ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসিলা’ কিতাবের ব্যাখ্যা বিভাগ: আকিদাহ
বই: ইবনে তাইমিয়্যাহর ‘কায়েদায়ে জালিলা ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসিলা’ কিতাবের ব্যাখ্যা
লেখক: নাসির বিন আব্দুল কারিম আল-আলি আল-আকল
বইয়ের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব (আশ-শাবাকাহ আল-ইসলামিয়্যাহ) সাইট কর্তৃক অনুলিখন করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠের নম্বর - ৩৬টি পাঠ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২ হিজরি
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة
[1]الوسيلة المأمور بها شرعاً هي التقرب إلى الله سبحانه وتعالى على نحو ما شرع، بالدعاء والعبادة واتباع النبي صلى الله عليه وسلم، والتوسل بدعائه في حياته، واتباع سنته بعد مماته، كما أن من التوسل المشروع طلب الدعاء من الرجل الصالح، والكافر لا ينال شفاعة الشافعين؛ لأن الكفر مانع من الشفاعة.
‘কায়েদাহ জালীল্লাহ ফিত-তাওয়াসসুল ওয়াল-ওয়াসিলাহ’ কিতাবের ব্যাখ্যা
[১]শরয়ত মোতাবেক নির্দেশিত ‘ওয়াসিলা’ হলো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নৈকট্য অর্জন করা যেভাবে তিনি বিধান দিয়েছেন সে অনুযায়ী; আর তা হলো দোয়া, ইবাদত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণের মাধ্যমে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর দোয়ার মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুন্নতের অনুসরণ করা। একইভাবে বৈধ তাওয়াসসুলের অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো নেককার ব্যক্তির নিকট দোয়া চাওয়া। আর কাফের ব্যক্তি সুপারিশকারীদের সুপারিশ লাভ করবে না; কারণ কুফর সুপারিশ লাভের পথে প্রতিবন্ধক।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
مقدمة جامعة في التوسلبسم الله الرحمن الرحيم قال شيخ الإسلام قدس الله روحه: [الحمد لله؛ نستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله؛ أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله وكفى بالله شهيداً، أرسله بين يدي الساعة بشيراً ونذيراً، وداعياً إلى الله بإذنه وسراجاً منيراً، فهدى به من الضلالة، وبصر به من العمى، وأرشد به من الغي، وفتح به أعيناً عمياً، وآذاناً صماً، وقلوباً غلفاً، فبلغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده، وعبد ربه حتى أتاه اليقين من ربه، صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليماً].
في هذا الاستفتاح ينبغي التنبيه إلى أن الشيخ في هذا الدرس بدأ بكتاب جديد في ثنايا المجلد الأول من الفتاوى، ولذلك افتتح بخطبة الحاجة، وهو كتاب التوسل والوسيلة، وهذا الكتاب كما يوجد ضمن الفتاوى، فهو يوجد مستقلاً ومطبوعاً في كتاب متداول، فينبغي التنبه إلى أنه في هذه الافتتاحية سيبدأ في كتاب جديد يشمل باقي المجلد الذي بين أيدينا.
তওয়াসসুল বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ভূমিকাপরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। শাইখুল ইসলাম (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) বলেছেন: [সকল প্রশংসা আল্লাহর; আমরা তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; তিনি তাকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন যাতে একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তাকে কিয়ামতের প্রাক্কালে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে পাঠিয়েছেন। ফলে তিনি তাঁর মাধ্যমে মানুষকে পথভ্রষ্টতা থেকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, অন্ধত্ব থেকে দৃষ্টি দান করেছেন, বিভ্রান্তি থেকে সুপথে পরিচালিত করেছেন এবং এর দ্বারা অন্ধ চোখ, বধির কান ও মোহরাঙ্কিত অন্তরসমূহ উন্মোচিত করেছেন। অতঃপর তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন, আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন এবং তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে নিশ্চিত বিশ্বাস (মৃত্যু) আসা পর্যন্ত তাঁর ইবাদত করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর অফুরন্ত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।]
এই প্রারম্ভিকতায় এটি লক্ষ্য করা উচিত যে, শাইখ এই পাঠে ফাতাওয়ার প্রথম খণ্ডের ভেতরে একটি নতুন কিতাব শুরু করেছেন। এ কারণেই তিনি খুতবাতুল হাজাহ দিয়ে সূচনা করেছেন; আর তা হলো ‘কিতাবুত তওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলা’। এই কিতাবটি যেমন ফাতাওয়ার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তেমনি এটি স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রিত ও প্রচলিত কিতাব হিসেবেও পাওয়া যায়। সুতরাং এটি মনে রাখা প্রয়োজন যে, এই সূচনার মাধ্যমে তিনি একটি নতুন কিতাব শুরু করছেন যা আমাদের হাতে থাকা বর্তমান খণ্ডের বাকি অংশ জুড়ে রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
ابتغاء الوسيلة إلى الله بالإيمان بمحمد صلى الله عليه وسلم واتباعهقال المؤلف رحمه الله تعالى: [ففرق به بين الحق والباطل، والهدى والضلال، والرشاد والغي، وطريق أهل الجنة وطريق أهل النار، وبين أوليائه وأعدائه.
فالحلال ما حلله الله ورسوله، والحرام ما حرمه الله ورسوله، والدين ما شرعه الله ورسوله، وقد أرسله الله إلى الثقلين الجن والإنس، فعلى كل أحد أن يؤمن به وبما جاء به ويتبعه في باطنه وظاهره، والإيمان به ومتابعته هو سبيل الله وهو دين الله، وهو عبادة الله، وهو طاعة الله، وهو طريق أولياء الله، وهو الوسيلة التي أمر الله بها عباده في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ} [المائدة:35]، فابتغاء الوسيلة إلى الله إنما يكون لمن توسل إلى الله بالإيمان بمحمد واتباعه.
وهذا التوسل بالإيمان به وطاعته فرض على كل أحد باطناً وظاهراً، في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم وبعد موته؛ في مشهده ومغيبه، لا يسقط التوسل بالإيمان به وبطاعته عن أحد من الخلق في حال من الأحوال بعد قيام الحجة عليه، ولا بعذر من الأعذار، ولا طريق إلى كرامة الله ورحمته والنجاة من هوانه وعذابه إلا بالتوسل بالإيمان به وبطاعته.
وهو صلى الله عليه وسلم شفيع الخلائق، صاحب المقام المحمود الذي يغبطه به الأولون والآخرون، فهو أعظم الشفعاء قدراً وأعلاهم جاهاً عند الله.
وقد قال تعالى عن موسى: {وَكَانَ عِنْدَ اللَّهِ وَجِيهًا} [الأحزاب:69]، وقال عن المسيح: {وَجِيهًا فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ} [آل عمران:45]، ومحمد صلى الله عليه وسلم أعظم جاهاً من جميع الأنبياء والمرسلين، لكن شفاعته ودعاءه إنما ينتفع به من شفع له الرسول ودعا له، فمن دعا له الرسول وشفع له توسل إلى الله بشفاعته ودعائه، كما كان أصحابه يتوسلون إلى الله بدعائه وشفاعته، وكما يتوسل الناس يوم القيامة إلى الله تبارك وتعالى بدعائه وشفاعته صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليماً.
ولفظ التوسل في عرف الصحابة كانوا يستعملونه في هذا المعنى].
قبل أن يبدأ الشيخ تفصيله في التوسل أحب أن أشير أنه في هذه المقدمة أشار الشيخ إلى مجمل الموضوع وسيفصل فيما بعد، فأشار إلى حقيقة التوسل التي سيتكلم عنها؛ لأن المخالفين خالفوا في مفهوم التوسل وحقيقته فوقعوا في البدع، وذكر بإيجاز أن حقيقة التوسل هو التقرب إلى الله عز وجل، وأن كل تقرب على نحو مشروع إلى الله بالعبادة والدعاء واتباع الرسول صلى الله عليه وسلم فإن ذلك هو التوسل الحقيقي، وأنه يدخل في التوسل صور أيضاً هي نوع من التقرب، لكن يخفى أمرها على الناس، وقد أشار شيخ الإسلام هنا إلى شيء منها، وهي التوسل بدعاء النبي صلى الله عليه وسلم في حياته، أي: بطلب الدعاء منه، وهذه سيتكلم عنها الشيخ كثيراً؛ لأن الناس توهموا في مثل هذه الصورة أن التوسل يكون بذات النبي صلى الله عليه وسلم حياً وميتاً، وأن التوسل يكون بدعائهم من دون الله وصرف أنواع العبادة له أو لغيره من الخلق، فأراد أن يستفتح هذا الكتاب بهذه المقدمة التي ضمنها المفهوم الصحيح عن حقيقة التوسل، وأنه يعني التقرب إلى الله بعبادته بما شرع هو سبحانه وشرع رسوله صلى الله عليه وسلم، وأن الصور الأخرى التي تخرج عن هذا المعنى ملحقة به وهي صور محدودة، كالتوسل بدعاء النبي صلى الله عليه وسلم، وما سيذكره أيضاً فيما بعد من طلب الدعاء من المسلمين أو من الرجل الصالح، وأن هذا ليس فيه توسل بالذوات، إنما فيه طلب لأمر مشروع، وهو أن تطلب من المسلم أن يدعو لك وهو قادر حي مستطيع، وهذا من باب التعاون على البر والتقوى، ومن باب النصيحة لعامة المسلمين وخاصتهم، لا من باب التبرك أو التوسل بالذوات كما يفعل كثير من الجهلة.
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান এবং তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করালেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [এর মাধ্যমে তিনি সত্য ও মিথ্যা, হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতা, সঠিক পথ ও বিচ্যুতি, জান্নাতবাসীদের পথ ও জাহান্নামবাসীদের পথ এবং তাঁর বন্ধু ও শত্রুদের মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছেন।
সুতরাং হালাল তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হালাল করেছেন, আর হারাম তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম করেছেন। দীন হলো তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বিধিবদ্ধ করেছেন। আল্লাহ তাঁকে জিন ও মানবজাতির নিকট প্রেরণ করেছেন। অতএব, প্রত্যেকের ওপর ওয়াজিব হলো তাঁর প্রতি এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমান আনা এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে তাঁর অনুসরণ করা। তাঁর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর আনুগত্য করাই হলো আল্লাহর পথ, আল্লাহর দীন, আল্লাহর ইবাদত এবং আল্লাহর আনুগত্য। এটিই আল্লাহর বন্ধুদের পথ এবং এটিই সেই 'ওয়াসিলা' (মাধ্যম) যার নির্দেশ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দিয়েছেন তাঁর এই বাণীতে: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর নিকট ওয়াসিলা (নৈকট্য লাভের মাধ্যম) অন্বেষণ করো} [আল-মায়িদাহ: ৩৫]। সুতরাং আল্লাহর নিকট ওয়াসিলা অন্বেষণ করা কেবল তাদের জন্যই হতে পারে যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান ও তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট মাধ্যম তালাশ করে।
তাঁর প্রতি ঈমান ও তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে এই তাওয়াসসুল (মাধ্যম গ্রহণ) প্রত্যেকের ওপর গোপনে ও প্রকাশ্যে ফরজ; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় এবং তাঁর মৃত্যুর পর; তাঁর উপস্থিতিতে এবং অনুপস্থিতিতে। তাঁর প্রতি ঈমান ও তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করার আবশ্যকতা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কোনো অবস্থাতেই কোনো সৃষ্টির ওপর থেকে রহিত হয় না এবং কোনো অজুহাতেও তা মাফ হয় না। তাঁর প্রতি ঈমান ও আনুগত্যের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা ব্যতীত আল্লাহর সম্মান ও রহমত লাভ এবং তাঁর লাঞ্ছনা ও আজাব থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ নেই।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত সৃষ্টির সুপারিশকারী, মাকামে মাহমুদের অধিকারী, যার জন্য পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ তাঁর প্রতি ঈর্ষা পোষণ করবে। আল্লাহর নিকট তিনি সুপারিশকারীদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সম্মানের দিক থেকে সর্বোচ্চ।
আল্লাহ তাআলা মূসা সম্পর্কে বলেছেন: {এবং তিনি আল্লাহর নিকট মর্যাদাবান ছিলেন} [আল-আহযাব: ৬৯]। ঈসা সম্পর্কে বলেছেন: {দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদাবান} [আল-ইমরান: ৪৫]। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত নবী ও রাসূলদের তুলনায় অধিক মর্যাদাবান। তবে তাঁর সুপারিশ ও দুআ দ্বারা কেবল তারাই উপকৃত হবে যাদের জন্য রাসূল সুপারিশ করবেন এবং দুআ করবেন। অতএব, রাসূল যার জন্য দুআ ও সুপারিশ করবেন, সে তাঁর সুপারিশ ও দুআর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট তাওয়াসসুল করল, যেমনটি তাঁর সাহাবায়ে কিরাম তাঁর দুআ ও সুপারিশের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট তাওয়াসসুল করতেন এবং যেমনটি কিয়ামতের দিন মানুষ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট তাঁর দুআ ও সুপারিশের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করবে (তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)।
সাহাবায়ে কিরামের পরিভাষায় তারা 'তাওয়াসসুল' শব্দটি এই অর্থেই ব্যবহার করতেন]।
শাইখ তাওয়াসসুলের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগে আমি উল্লেখ করতে চাই যে, এই ভূমিকায় শাইখ মূল বিষয়টি সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন এবং পরবর্তীতে তিনি এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন। তিনি তাওয়াসসুলের প্রকৃত স্বরূপের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা নিয়ে তিনি কথা বলবেন; কারণ বিরোধীরা তাওয়াসসুলের ধারণা ও স্বরূপের ক্ষেত্রে ভিন্ন মত পোষণ করেছে এবং বিদআতে লিপ্ত হয়েছে। তিনি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন যে, তাওয়াসসুলের প্রকৃত অর্থ হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লার নৈকট্য লাভ করা। আর ইবাদত, দুআ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের মাধ্যমে শরীয়তসম্মত উপায়ে আল্লাহর প্রতিটি নৈকট্য লাভই হলো প্রকৃত তাওয়াসসুল। তাওয়াসসুলের অন্তর্ভুক্ত আরও কিছু রূপ রয়েছে যা এক প্রকারের নৈকট্য লাভ, কিন্তু মানুষের কাছে তার হাকিকত অস্পষ্ট। শাইখুল ইসলাম এখানে এর কিছু অংশের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তাঁর দুআর মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা, অর্থাৎ তাঁর কাছে দুআ চাওয়া। শাইখ এই বিষয়ে অনেক আলোচনা করবেন; কারণ মানুষ এই ধরনের বিষয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত বা মৃত অবস্থায় তাঁর সত্তার (জাতের) মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা যায় এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের কাছে দুআ চাওয়া অথবা তাঁর জন্য বা অন্য কোনো সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রকার ইবাদত উৎসর্গ করা যায়। তাই তিনি এই কিতাবটি এই ভূমিকা দিয়ে শুরু করতে চেয়েছেন যাতে তাওয়াসসুলের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে সঠিক ধারণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর তা হলো আল্লাহ যেভাবে বিধিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে বিধিবদ্ধ করেছেন সেই অনুযায়ী ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করা। এই অর্থের বাইরে অন্যান্য যে রূপগুলো রয়েছে সেগুলো এর সাথে সংযুক্ত এবং সেগুলো নির্দিষ্ট, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআর মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা। এবং পরবর্তীতে তিনি আরও উল্লেখ করবেন সাধারণ মুসলমানদের কাছে বা কোনো নেককার ব্যক্তির কাছে দুআ চাওয়া। এতে সত্তার মাধ্যমে কোনো তাওয়াসসুল নেই, বরং এটি একটি শরীয়তসম্মত বিষয় চাওয়া মাত্র; তা হলো একজন জীবিত ও সক্ষম মুসলিমের কাছে আপনার জন্য দুআ চাওয়া। এটি পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সাহায্য করার অন্তর্ভুক্ত এবং সাধারণ ও বিশেষ সকল মুসলিমের প্রতি সদুপদেশের অন্তর্ভুক্ত; এটি বরকত গ্রহণ বা সত্তার মাধ্যমে তাওয়াসসুল নয়, যেমনটি অনেক মূর্খ লোক করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
التوسل بدعاء النبي صلى الله عليه وسلم وشفاعته مع الإيمان بهقال المؤلف رحمه الله تعالى: [والتوسل بدعائه وشفاعته ينفع مع الإيمان به، وأما بدون الإيمان به فالكفار والمنافقون لا تغني عنهم شفاعة الشافعين في الآخرة.
ولهذا نهي عن الاستغفار لعمه وأبيه وغيرهما من الكفار، ونهي عن الاستغفار للمنافقين وقيل له: {سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ} [المنافقون:6]، ولكن الكفار يتفاضلون في الكفر كما يتفاضل أهل الإيمان في الإيمان].
إذاً: لو كانت الوسيلة بيد النبي صلى الله عليه وسلم مطلقاً دون أن تقيد بإذن الله عز وجل وبشروطها لقبل استغفاره لمن لم يأذن الله له، لكن لما شرط قبول الاستغفار بشروطه الشرعية، صار الأمر لا يرجع إلى الرسول صلى الله عليه وسلم، إنما يرجع إلى إذن الله عز وجل، وإلى ما شرعه الله لرسوله.
والرسول صلى الله عليه وسلم لما نهاه ربه عن أن يستغفر للمشركين، التزم هذا الأمر فلم يستغفر لهم، ولم يأمر به ولم يشرعه، لا كما يفعل كثير من المبتدعة الذين لا يفرقون بين هذا وذاك.
قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ولكن الكفار يتفاضلون في الكفر كما يتفاضل أهل الإيمان في الإيمان، قال تعالى: {إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ} [التوبة:37]، فإذا كان في الكفار من خف كفره بسبب نصرته ومعونته، فإنه تنفعه شفاعته في تخفيف العذاب عنه لا في إسقاط العذاب بالكلية، كما في صحيح مسلم عن العباس بن عبد المطلب أنه قال: (قلت: يا رسول الله، فهل نفعت أبا طالب بشيء، فإنه كان يحوطك ويغضب لك؟ قال: نعم، هو في ضحضاح من نار، ولولا أنا لكان في الدرك الأسفل من النار)، وفي لفظ: (إن أبا طالب كان يحوطك وينصرك ويغضب لك فهل نفعه ذلك؟ قال: نعم، وجدته في غمرات من نار فأخرجته إلى ضحضاح).
وفيه عن أبي سعيد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر عنده عمه أبو طالب فقال: (لعله تنفعه شفاعتي يوم القيامة، فيجعل في ضحضاح من النار يبلغ كعبيه، يغلي منهما دماغه) وقال: (إن أهون أهل النار عذاباً أبو طالب، وهو منتعل بنعلين من نار يغلي منهما دماغه).
وكذلك ينفع دعاؤه لهم بألا يعجل عليهم العذاب في الدنيا (كما كان صلى الله عليه وسلم يحكي نبياً من الأنبياء ضربه قومه وهو يقول: اللهم اغفر لقومي فإنهم لا يعلمون)، وروي أنه دعا بذلك: (أن اغفر لهم فلا تعجل عليهم العذاب في الدنيا)، قال تعالى: {وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِظُلْمِهِمْ مَا تَرَكَ عَلَيْهَا مِنْ دَابَّةٍ وَلَكِنْ يُؤَخِّرُهُمْ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى} [النحل:61].
وأيضاً فقد يدعو لبعض الكفار بأن يهديه الله أو يرزقه فيهديه أو يرزقه، كما دعا لأم أبي هريرة حتى هداها الله، وكما دعا لدوس فقال: (اللهم اهد دوساً وائت بهم) فهداهم الله.
وكما روى أبو داود أنه استسقى لبعض المشركين لما طلبوا منه أن يستسقي لهم، فاستسقى لهم، وكان ذلك إحساناً منه إليهم يتألف به قلوبهم، كما كان يتألفهم بغير ذلك].
على أي حال في هذا المقطع لا يزال الشيخ يقدم لما سيفصله، ليبين بعض الصور الجائزة في التوسل والصور الممنوعة، وأن الصور التي ورد استثناؤها من القاعدة كشفاعته صلى الله عليه وسلم لعمه أبي طالب لا يقاس عليها؛ لأنه لا يجوز القياس في أمور الغيب.
ثم إن هذه الشفاعة التي ستحدث لـ أبي طالب لا تكون في مصيره، إنما تكون فيما يتعلق بتخفيف العذاب عنه، ونعلم أن أهل النار تتفاوت درجاتهم فيها.
ثم إن هذه الصور التي تخرج عن القاعدة في ظاهرها صور محدودة جاءت عن الله تعالى وعن رسوله صلى الله عليه وسلم.
أما الصور الأخرى التي ابتدعها أهل الأهواء وتوسعوا في مفهوم الشفاعة فيها، فهي من الباطل الذي يتعارض مع أصول الشرع، لأنها قول على الله بغير علم، والقول على الله من أعظم الذنوب.
والله أعلم.
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআ ও তাঁর শাফাআতের মাধ্যমে অসীলা গ্রহণ এবং সাথে তাঁর প্রতি ঈমান থাকালেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [তাঁর দুআ ও শাফাআতের মাধ্যমে অসীলা গ্রহণ তাঁর প্রতি ঈমানের সাথে ফলপ্রসূ হয়; কিন্তু ঈমান ব্যতীত কাফির ও মুনাফিকদের জন্য আখিরাতে সুপারিশকারীদের সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না।
এ কারণেই তাঁর চাচা, পিতা এবং অন্যান্য কাফিরদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে নিষেধ করা হয়েছে, এবং মুনাফিকদের জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাঁকে বলা হয়েছে: {আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন, উভয়ই তাদের জন্য সমান; আল্লাহ কখনই তাদের ক্ষমা করবেন না} [আল-মুনাফিকুন: ৬]। তবে কাফিররা কুফরির দিক থেকে একে অপরের ওপর তারতম্য রাখে, ঠিক যেমন ঈমানদারগণ ঈমানের ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর তারতম্য রাখে]।
অতএব, যদি অসীলা গ্রহণ নিঃশর্তভাবে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে থাকত এবং তা আল্লাহর অনুমতি ও শর্তের অনুগামী না হতো, তবে আল্লাহ যার জন্য অনুমতি দেননি তার জন্য নবির ক্ষমা প্রার্থনা কবুল হতো। কিন্তু যখন ক্ষমা প্রার্থনা কবুল হওয়ার বিষয়টি শরয়ি শর্তাবলির সাথে যুক্ত করা হয়েছে, তখন বিষয়টি আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নির্ভর করে না; বরং তা আল্লাহর অনুমতি এবং আল্লাহ তাঁর রাসুলের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন তার ওপর নির্ভর করে।
আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন তাঁর রব মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে নিষেধ করলেন, তিনি এ আদেশ মেনে চললেন। ফলে তিনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেননি এবং এর নির্দেশও দেননি বা একে বিধিবদ্ধও করেননি। তিনি সেই সব বিদআতিদের মতো করেননি যারা এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না।
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [তবে কাফিররা কুফরির ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর তারতম্য রাখে, যেমন ঈমানদারগণ ঈমানের ক্ষেত্রে তারতম্য রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই মাস পিছিয়ে দেওয়া কুফরির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়} [আত-তাওবাহ: ৩৭]। সুতরাং কাফিরদের মধ্যে যাদের কুফরি তাঁর সাহায্য ও সহযোগিতার কারণে হালকা হয়েছে, তার ব্যাপারে নবির সুপারিশ আযাব হালকা করার ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হবে, তবে পুরোপুরি আযাব মুক্ত করার ক্ষেত্রে নয়। যেমন সহিহ মুসলিমে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: (আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি আবু তালিবের কোনো উপকার করতে পেরেছেন? কারণ সে আপনাকে রক্ষা করত এবং আপনার জন্য রাগান্বিত হতো। তিনি বললেন: হ্যাঁ, সে আগুনের একটি অগভীর স্তরে আছে। আমি না থাকলে সে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকত)। অন্য শব্দে আছে: (আবু তালিব আপনাকে রক্ষা করত, সাহায্য করত এবং আপনার হয়ে রাগ করত, এতে কি তার কোনো উপকার হয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি তাকে আগুনের গভীর তলায় পেয়েছিলাম, অতঃপর তাকে অগভীর স্তরে নিয়ে এসেছি)।
এতে আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর চাচা আবু তালিবের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: (সম্ভবত কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ তার উপকারে আসবে, তাকে আগুনের এমন এক অগভীর জায়গায় রাখা হবে যা তার গোড়ালি পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং যার তাপে তার মস্তিষ্ক ফুটতে থাকবে)। তিনি আরও বলেন: (জাহান্নামিদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাব হবে আবু তালিবের; সে আগুনের দুটি জুতো পরে থাকবে যার তাপে তার মস্তিষ্ক ফুটতে থাকবে)।
একইভাবে দুনিয়াতে তাদের ওপর আযাব ত্বরান্বিত না করার জন্য নবির করা দুআ তাদের উপকারে আসে (যেমনটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন নবির কথা বর্ণনা করছিলেন যাঁর জাতি তাঁকে প্রহার করেছিল এবং তিনি বলছিলেন: হে আল্লাহ, আমার জাতিকে ক্ষমা করুন, কারণ তারা জানে না)। বর্ণিত আছে যে, তিনি এভাবে দুআ করেছিলেন: (তাদের ক্ষমা করুন এবং দুনিয়াতে তাদের আযাব ত্বরান্বিত করবেন না)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের অন্যায়ের জন্য পাকড়াও করতেন তবে ভূ-পৃষ্ঠে কোনো জীবজন্তু ছাড়তেন না, কিন্তু তিনি তাদের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন} [আন-নাহল: ৬১]।
এছাড়া তিনি কোনো কোনো কাফিরের জন্য আল্লাহ যেন তাকে হিদায়াত দেন বা রিযিক দেন সেই দুআও করতেন, ফলে আল্লাহ তাকে হিদায়াত দিতেন বা রিযিক দিতেন। যেমন তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-এর মায়ের জন্য দুআ করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাকে হিদায়াত দিয়েছিলেন। আবার যেমন তিনি দাওস গোত্রের জন্য দুআ করে বলেছিলেন: (হে আল্লাহ, দাওস গোত্রকে হিদায়াত দিন এবং তাদের নিয়ে আসুন), ফলে আল্লাহ তাদের হিদায়াত দান করেছিলেন।
এবং যেমন আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কিছু মুশরিকের জন্য বৃষ্টির প্রার্থনা করেছিলেন যখন তারা তাঁর কাছে বৃষ্টির জন্য দুআ চেয়েছিল। ফলে তিনি তাদের জন্য বৃষ্টির দুআ করেন। এটি ছিল তাঁদের প্রতি তাঁর ইহসান বা অনুগ্রহ যাতে তাদের অন্তর জয় করা যায়, যেমনটি তিনি অন্যভাবেও তাদের অন্তর জয়ের চেষ্টা করতেন]।
যা-ই হোক, এই অংশে শায়খ তাঁর বিস্তারিত বর্ণনার জন্য ভূমিকা পেশ করছেন, যাতে অসীলা গ্রহণের বৈধ ও নিষিদ্ধ ক্ষেত্রগুলো স্পষ্ট হয়। আর মূল নিয়ম থেকে যে সব ক্ষেত্র ব্যতিক্রম হিসেবে বর্ণিত হয়েছে—যেমন তাঁর চাচা আবু তালিবের জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ—সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (অনুমান) করা যাবে না; কারণ গায়িব বা অদৃশ্যের বিষয়ে কিয়াস করা বৈধ নয়।
তদুপরি, আবু তালিবের জন্য যে সুপারিশ করা হবে তা তার চূড়ান্ত পরিণতির ক্ষেত্রে হবে না, বরং তা কেবল তার আযাব হালকা করার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে। আর আমরা জানি যে, জাহান্নামিদের আযাবের মাত্রায় তারতম্য রয়েছে।
এছাড়া বাহ্যিকভাবে মূল নিয়মের বাইরে মনে হওয়া এই ঘটনাগুলো অত্যন্ত সীমিত এবং আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত।
কিন্তু খেয়াল-খুশির অনুসারীরা যেসব নবতর পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে এবং শাফাআতের ধারণাকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করেছে, সেগুলো বাতিল এবং শরয়ি মূলনীতির পরিপন্থী। কারণ এটি ইলম বা জ্ঞান ছাড়া আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলার শামিল, আর জ্ঞান ব্যতীত আল্লাহ সম্পর্কে কিছু বলা সবচেয়ে বড় গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بيان أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أعظم الخلق جاهاً عند الله تعالىقال شيخ الإسلام رحمه الله تعالى: [وقد اتفق المسلمون على أنه صلى الله عليه وسلم أعظم الخلق جاهاً عند الله، لا جاه لمخلوق عند الله أعظم من جاهه، ولا شفاعة أعظم من شفاعته، لكن دعاء الأنبياء وشفاعتهم ليس بمنزلة الإيمان بهم وطاعتهم، فإن الإيمان بهم وطاعتهم توجب سعادة الآخرة والنجاة من العذاب مطلقاً وعاماً، فكل من مات مؤمناً بالله ورسوله صلى الله عليه وسلم، مطيعاً لله ورسوله صلى الله عليه وسلم؛ كان من أهل السعادة قطعاً، ومن مات كافراً بما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم كان من أهل النار قطعاً].
أراد الشيخ بذكر هذه الحقيقة تقرير أمر اتهم أهلُ الأهواء أهل السنة بأنهم ينكرونه أو قدحوا فيهم من هذا الجانب؛ ذلك أن أهل السنة والجماعة لما أنكروا على أهل البدع التوسل بذات النبي صلى الله عليه وسلم ودعائه من دون الله عز وجل في قبره وهو ميت، وأنكروا عليهم أنواعاً من التوسلات البدعية، وما زعموا أن له صلى الله عليه وسلم من الخصائص في الدنيا والآخرة ما لا يجوز إلا لله عز وجل، وحينما زعموا ذلك ظنوا أن من منع هذا فقد انتقص الرسول صلى الله عليه وسلم، فكأن الشيخ أراد أن يبين أن المسلمين اتفقوا على أنه صلى الله عليه وسلم أعظم الخلق جاهاً عند الله، وأن هذا الجاه إنما هو منَّة من الله عز وجل وفضل، وأن هذا الجاه الذي للنبي صلى الله عليه وسلم مشروط بشروطه وبضوابطه التي ذكرها الله عز وجل، وأن شفاعته راجعة إلى إذن الله وإلى انطباق الشروط حتى يأذن الله بها، وأنه لا يعني قولنا بأنه لا يجوز تقديس النبي صلى الله عليه وسلم أو التوسل به انتقاصه أبداً، بل يعني ذلك تكريمه صلى الله عليه وسلم من أن يحدث باسمه أو في دينه ما لا يجوز عند الله عز وجل، فإنما ذلك لحماية جنابه ولحماية حقه صلى الله عليه وسلم، بعكس ما يظن أهل الأهواء.
إذاً: اتفق المسلمون على أنه صلى الله عليه وسلم أعظم الخلق جاهاً عند الله، وأهل السنة هم أول من قرر ذلك، وأنه لا جاه لمخلوق عند الله أعظم من جاهه، والشفاعة العظمى دليل ذلك، بل أدلة ذلك متواترة، فهو أفضل الخلق على الإطلاق صلى الله عليه وسلم؛ أفضلهم ذاتاً، وأفضلهم جاهاً، وأفضلهم اعتباراً، وأفضلهم قدراً ومنزلة، وأقربهم إلى الله عز وجل، لكن لا يعني ذلك أن تكون له خصائص لا تجوز إلا الله، أو أن يتوسل به التوسل البدعي؛ لأن ذلك من انتقاص قدره لا من تعظيمه.
আল্লাহ তাআলার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টিজগতের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান হওয়ার বর্ণনাশাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেন: [মুসলমানগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলার নিকট সৃষ্টিজগতের মধ্যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাধিক মর্যাদাবান। আল্লাহর নিকট কোনো সৃষ্টির মর্যাদা তাঁর মর্যাদার চেয়ে বেশি নয় এবং কারো সুপারিশ তাঁর সুপারিশের চেয়ে মহান নয়। কিন্তু নবীদের দোয়া এবং তাঁদের সুপারিশ তাঁদের ওপর ঈমান আনা এবং তাঁদের আনুগত্য করার সমপর্যায়ের নয়। কারণ, তাঁদের ওপর ঈমান আনা এবং তাঁদের আনুগত্য করা পরকালীন সৌভাগ্য এবং আযাব থেকে মুক্তির জন্য নিরঙ্কুশ ও সাধারণ কারণ। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান রাখা অবস্থায় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যকারী হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে, সে নিশ্চিতভাবেই সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা অস্বীকার করে কাফের হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে, সে নিশ্চিতভাবেই জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।]
শাইখ এই সত্যটি উল্লেখ করার মাধ্যমে এমন একটি বিষয় প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন যার ভিত্তিতে প্রবৃত্তি পূজারীরা আহলুস সুন্নাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে তারা এটি অস্বীকার করে অথবা তারা এই দিক থেকে আহলুস সুন্নাহর নিন্দা করে। তা হলো, যখন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বিদআতিদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তার উসিলা দেওয়া এবং তাঁর মৃত্যুর পর কবরে আল্লাহর পরিবর্তে তাঁর নিকট দোয়া করা থেকে নিষেধ করেছে, এবং যখন তারা বিভিন্ন প্রকার বিদআতি উসিলা দেওয়া এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে এমন সব বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করা যা কেবল আল্লাহ তাআলার জন্যই নির্দিষ্ট—এসব অস্বীকার করেছে, তখন তারা প্রবৃত্তি পূজারীরা মনে করেছে যে, যে ব্যক্তি এগুলো নিষেধ করল সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা করল। তাই শাইখ যেন স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, মুসলমানগণ এ বিষয়ে একমত যে আল্লাহ তাআলার নিকট নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টিজগতের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান। আর এই মর্যাদা মূলত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দান ও অনুগ্রহ। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই মর্যাদা আল্লাহ তাআলার বর্ণিত শর্ত ও মূলনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। তাঁর সুপারিশ আল্লাহর অনুমতির ওপর এবং শর্তাবলি পূর্ণ হওয়ার ওপর নির্ভরশীল যেন আল্লাহ তাতে অনুমতি প্রদান করেন। আর আমাদের এই কথা বলার অর্থ কখনোই তাঁকে অবমাননা করা নয় যে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অতি-পবিত্রতা দান করা বা তাঁর মাধ্যমে বিদআতি উসিলা দেওয়া বৈধ নয়; বরং এর অর্থ হলো তাঁকে এমন বিষয় থেকে রক্ষা করে সম্মানিত করা যা তাঁর নামে বা তাঁর দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবন করা হয় যা আল্লাহর নিকট অনুমোদিত নয়। প্রবৃত্তি পূজারীদের ধারণার বিপরীতে এটি বরং তাঁর মর্যাদা ও তাঁর অধিকার সংরক্ষণের জন্যই করা হয়।
সুতরাং: মুসলমানগণ একমত হয়েছেন যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নিকট সৃষ্টিজগতের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান। আর আহলুস সুন্নাহই সর্বপ্রথম এটি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আল্লাহর নিকট অন্য কোনো সৃষ্টির মর্যাদা তাঁর মর্যাদার চেয়ে বেশি নয় এবং সুমহান সুপারিশ এর অন্যতম প্রমাণ। বরং এর স্বপক্ষে মুতাওয়াতির প্রমাণাদি রয়েছে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরঙ্কুশভাবে সৃষ্টিজগতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; সত্তাগতভাবে শ্রেষ্ঠ, মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ, গুরুত্বের বিচারে শ্রেষ্ঠ, মান-সম্মান ও মর্তবায় শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র সর্বাধিক নিকটবর্তী। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তাঁর জন্য এমন কোনো বৈশিষ্ট্য থাকবে যা আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য বৈধ নয়, অথবা তাঁর মাধ্যমে বিদআতি পদ্ধতিতে উসিলা দেওয়া হবে; কেননা তা তাঁর মর্যাদাকে খাটো করারই নামান্তর, তাঁকে সম্মান জানানো নয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
انتفاع العباد بالشفاعة والدعاء له شروط وموانعقال المؤلف رحمه الله تعالى: [وأما الشفاعة والدعاء، فانتفاع العباد به موقوف على شروط وله موانع، فالشفاعة للكفار بالنجاة من النار، والاستغفار لهم مع موتهم على الكفر لا تنفعهم، ولو كان الشفيع أعظم الشفعاء جاهاً، فلا شفيع أعظم من محمد صلى الله عليه وسلم، ثم الخليل إبراهيم، وقد دعا الخليل إبراهيم لأبيه واستغفر له كما قال تعالى عنه: {رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ} [إبراهيم:41]].
بعد أن بين أن النبي صلى الله عليه وسلم أعظم الناس جاهاً، ذكر أن الشفاعة والدعاء لها شروط وموانع، فإن شفاعته لا تنفع الكفار، فأراد أن يمهد بهذا المقام حتى يذكر الأدلة من الكتاب والسنة على أن شفاعة النبي صلى الله عليه وسلم وغيره من الشفعاء لا يمكن أن تشمل الكافرين أبداً، وأن الله عز وجل منع ذلك، وأن ذلك لا يعني الاستنقاص من جاه النبي صلى الله عليه وسلم أو جاه إبراهيم أو غيره من الأنبياء، إنما يعني أن الأمر راجع لله وحده، فله الأمر سبحانه لا معقب لحكمه ولا راد لقضائه.
সুপারিশ ও দোয়ার মাধ্যমে বান্দাদের উপকৃত হওয়ার শর্তাবলি ও অন্তরায়সমূহলেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আর সুপারিশ ও দোয়ার ক্ষেত্রে বান্দাদের উপকৃত হওয়া কিছু শর্তের ওপর নির্ভরশীল এবং এর কিছু অন্তরায় রয়েছে। সুতরাং কাফিরদের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুপারিশ করা এবং কুফর অবস্থায় তাদের মৃত্যুর পর তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা তাদের কোনো উপকারে আসবে না, যদিও সুপারিশকারী উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন সুপারিশকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেয়ে অধিক মর্যাদাবান কোনো সুপারিশকারী নেই, এরপর রয়েছেন খলীল ইব্রাহিম। খলীল ইব্রাহিম তাঁর পিতার জন্য দোয়া করেছিলেন এবং তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: {হে আমাদের পালনকর্তা, যেদিন হিসাব কায়েম হবে সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিও।} [ইব্রাহিম: ৪১]]।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করার পর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সুপারিশ ও দোয়ার কিছু শর্ত ও অন্তরায় রয়েছে। নিশ্চয়ই তাঁর সুপারিশ কাফিরদের কোনো উপকারে আসবে না। তিনি এই প্রসঙ্গের মাধ্যমে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এমন সব প্রমাণাদি উল্লেখ করার পথ প্রশস্ত করতে চেয়েছেন যা নির্দেশ করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বা অন্যান্য সুপারিশকারীদের সুপারিশ কখনোই কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারে না এবং মহান আল্লাহ তা নিষেধ করেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বা ইব্রাহিম বা অন্য কোনো নবীর মর্যাদাকে খাটো করা হচ্ছে। বরং এর অর্থ হলো এই যে, বিষয়টি একমাত্র আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী; সকল বিষয়ের কর্তৃত্ব একমাত্র মহান আল্লাহরই, তাঁর হুকুমের কোনো রদবদলকারী নেই এবং তাঁর ফয়সালার কোনো প্রতিরোধকারী নেই।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الأدلة على امتناع الشفاعة للكافرينقال رحمه الله تعالى: [وقد كان صلى الله عليه وسلم أراد أن يستغفر لـ أبي طالب اقتداء بإبراهيم، وأراد بعض المسلمين أن يستغفر لبعض أقاربه، فأنزل الله تعالى: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُوْلِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ} [التوبة:113]، ثم ذكر الله عذر إبراهيم فقال: {وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَنْ مَوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهٌ حَلِيمٌ * وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إِذْ هَدَاهُمْ حَتَّى يُبَيِّنَ لَهُمْ مَا يَتَّقُونَ} [التوبة:114 - 115].
وثبت في صحيح البخاري عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (يلقى إبراهيم أباه آزر يوم القيامة، وعلى وجه آزر قترة وغبرة، فيقول له إبراهيم: ألم أقل لك لا تعصني؟ فيقول له أبوه: فاليوم لا أعصيك، فيقول إبراهيم: يا رب أنت وعدتني ألا تخزني يوم يبعثون، وأي خزي أخزى من أبي الأبعد؟ فيقول الله عز وجل: إني حرمت الجنة على الكافرين، ثم يقال: انظر ما تحت رجليك فينظر، فإذا هو بذيخ متلطخ، فيؤخذ بقوائمه فيلقى في النار)].
الذيخ، هو الذئب، وذكر الضبع، وكله من جنس الذئب.
قال رحمه الله تعالى: [فهذا لما مات مشركاً لم ينفعه استغفار إبراهيم مع عظم جاهه وقدره، وقد قال تعالى للمؤمنين: {قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَمَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ رَبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ * رَبَّنَا لا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [الممتحنة:4 - 5]، فقد أمر الله تعالى المؤمنين بأن يتأسوا بإبراهيم ومن اتبعه، إلا في قول إبراهيم لأبيه: ((لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ)) فإن الله لا يغفر أن يشرك به.
وكذلك سيد الشفعاء محمد صلى الله عليه وسلم، ففي صحيح مسلم عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: (استأذنت ربي أن أستغفر لأمي فلم يأذن لي، واستأذنته أن أزور قبرها فأذن لي).
وفي رواية أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم زار قبر أمه فبكى وأبكى من حوله، ثم قال: (استأذنت ربي أن أستغفر لأمي فلم يأذن لي، واستأذنته في أن أزور قبرها فأذن لي، فزوروا القبور فإنها تذكر الموت).
وثبت عن أنس في الصحيح: (أن رجلاً قال: يا رسول الله أين أبي؟ قال: في النار، فلما قفى دعاه، فقال: إن أبي وأباك في النار).
وثبت أيضاً في الصحيح عن أبي هريرة: (لما أنزلت هذه الآية: {وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ} [الشعراء:214] دعا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قريشاً فاجتمعوا فعم وخص، فقال: يا بني كعب بن لؤي أنقذوا أنفسكم من النار، يا بني مرة بن كعب أنقذوا أنفسكم من النار، يا بني عبد شمس أنقذوا أنفسكم من النار، يا بني عبد مناف أنقذوا أنفسكم من النار، يا بني عبد المطلب أنقذوا أنفسكم من النار، يا فاطمة أنقذي نفسك من النار، فإني لا أملك لكم من الله شيئاً، غير أن لكم رحماً سأبلها ببلالها).
وفي رواية عنه: (يا معشر قريش! اشتروا أنفسكم من الله فإني لا أغني عنكم من الله شيئاً، يا بني عبد المطلب لا أغني عنكم من الله شيئاً، يا عباس بن عبد المطلب لا أغني عنك من الله شيئاً، يا صفية عمة رسول الله لا أغني عنك من الله شيئاً، يا فاطمة بنت رسول الله، سليني من مالي ما شئت لا أغني عنك من الله شيئاً).
وعن عائشة: (لما نزلت: {وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ} [الشعراء:214] قام رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فقال: يا فاطمة بنت محمد، يا صفية بنت عبد المطلب، لا أملك لكم من الله شيئاً، سلوني من مالي ما شئتم).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: (قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم خطيباً ذات يو
কাফিরদের জন্য সুপারিশ অসম্ভব হওয়ার দলীলসমূহতিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেন: [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহিম (আ.)-এর অনুসরণে আবু তালিবের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে চেয়েছিলেন, এবং কিছু মুসলিমও তাদের কিছু আত্মীয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে চেয়েছিলেন। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: {নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে; যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়, তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী} [আত-তাওবাহ: ১১৩]। এরপর আল্লাহ ইব্রাহিম (আ.)-এর ওজর বর্ণনা করে বলেন: {আর ইব্রাহিমের তার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা তো ছিল কেবল সেই ওয়াদার কারণে যা সে তাকে দিয়েছিল। অতঃপর যখন তার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে সে আল্লাহর শত্রু, তখন সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। নিশ্চয়ই ইব্রাহিম অত্যন্ত কোমলহৃদয় ও সহনশীল ছিলেন। আর আল্লাহ কোন কওমকে হিদায়াত দেওয়ার পর তাদের পথভ্রষ্ট করেন না, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট করেন যে বিষয়গুলো থেকে তাদের বেঁচে থাকতে হবে} [আত-তাওবাহ: ১১৪ - ১১৫]।
সহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (কিয়ামতের দিন ইব্রাহিম তার পিতা আজরের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। আজরের মুখমণ্ডল কালিমাচ্ছন্ন ও ধূলিমলিন থাকবে। তখন ইব্রাহিম তাকে বলবেন: আমি কি আপনাকে বলিনি যে আমার অবাধ্য হবেন না? তখন তার পিতা তাকে বলবে: আজ আমি তোমার অবাধ্য হব না। তখন ইব্রাহিম বলবেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে ওয়াদা দিয়েছিলেন যে, পুনরুত্থান দিবসে আমাকে অপদস্থ করবেন না। আমার এই দূরবর্তী পিতার অপদস্থতার চেয়ে বড় অপদস্থতা আর কী হতে পারে? তখন মহান আল্লাহ বলবেন: নিশ্চয়ই আমি কাফিরদের জন্য জান্নাত হারাম করেছি। এরপর বলা হবে: দেখ তোমার পায়ের নিচে কী আছে? তখন সে তাকাবে এবং দেখবে যে, সেখানে একটি রক্তমাখা ও পঙ্কিল হায়েনা পড়ে আছে। তখন সেটির পা ধরে টেনে তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে)]।
‘যীখ’ হলো নেকড়ে, এখানে হায়েনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এ সবই নেকড়ে জাতীয় প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত।
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেন: [সে যখন মুশরিক অবস্থায় মারা গেল, তখন ইব্রাহিমের উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান থাকা সত্ত্বেও ইব্রাহিমের ক্ষমা প্রার্থনা তার কোনো উপকারে আসেনি। মহান আল্লাহ মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: {তোমাদের জন্য ইব্রাহিম ও তার সাথীদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল: তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত কর তাদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের অস্বীকার করি। তোমাদের ও আমাদের মধ্যে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হলো, যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো। তবে ইব্রাহিমের তার পিতাকে বলা এই কথাটি ব্যতীত যে: আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, যদিও আল্লাহর কাছে আমি তোমার জন্য কোনো কিছুর মালিক নই। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার ওপরই ভরসা করেছি, আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছি এবং আপনার দিকেই শেষ ফিরে যাওয়া। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের কাফিরদের জন্য ফিতনার পাত্র বানাবেন না এবং আমাদের ক্ষমা করুন। হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [আল-মুমতাহিনা: ৪ - ৫]। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের আদেশ করেছেন যেন তারা ইব্রাহিম ও তার অনুসারীদের অনুসরণ করে, কেবল ইব্রাহিমের তার পিতাকে বলা এই কথাটি ব্যতীত: ((আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব))। কারণ আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না।
একইভাবে সুপারিশকারীদের সর্দার মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রেও; সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি আমার প্রতিপালকের কাছে আমার মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। আর আমি তাঁর কাছে তাঁর কবর জিয়ারত করার অনুমতি চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন)।
অন্য একটি বর্ণনায় আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মায়ের কবর জিয়ারত করেন, তখন তিনি কাঁদেন এবং তাঁর চারপাশের লোকদেরও কাঁদিয়ে দেন। এরপর তিনি বললেন: (আমি আমার প্রতিপালকের কাছে আমার মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। আর আমি তাঁর কাছে তাঁর কবর জিয়ারত করার অনুমতি চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন। অতএব তোমরা কবর জিয়ারত করো, কারণ তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়)।
সহীহ গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে প্রমাণিত: (এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কোথায়? তিনি বললেন: আগুনে। যখন লোকটি চলে যেতে লাগল, তিনি তাকে ডাকলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আমার পিতা এবং তোমার পিতা আগুনে)।
সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আরও প্রমাণিত হয়েছে: (যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: {আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} [আশ-শুআরা: ২১৪], তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের ডাকলেন। তারা সমবেত হলো, সাধারণ ও বিশেষ সবাই। তিনি বললেন: হে বনী কাব বিন লুয়াই! তোমরা নিজেদের আগুন থেকে বাঁচাও। হে বনী মুররা বিন কাব! তোমরা নিজেদের আগুন থেকে বাঁচাও। হে বনী আবদু শামস! তোমরা নিজেদের আগুন থেকে বাঁচাও। হে বনী আবদু মানাফ! তোমরা নিজেদের আগুন থেকে বাঁচাও। হে বনী আব্দুল মুত্তালিব! তোমরা নিজেদের আগুন থেকে বাঁচাও। হে ফাতিমা! তুমি নিজেকে আগুন থেকে বাঁচাও। কারণ আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আমি কোনো কিছুর মালিক নই। তবে তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, যা আমি রক্ষা করে চলব)।
তাঁর থেকে অন্য এক বর্ণনায় আছে: (হে কুরাইশ বংশের লোকরা! তোমরা আল্লাহর কাছ থেকে নিজেদের ক্রয় করে নাও, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কোনো উপকার করতে পারব না। হে বনী আব্দুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কোনো উপকার করতে পারব না। হে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কোনো উপকার করতে পারব না। হে সাফিয়্যাহ—রাসূলুল্লাহর ফুফু! আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কোনো উপকার করতে পারব না। হে ফাতিমা—রাসূলুল্লাহর মেয়ে! আমার সম্পদ থেকে যা চাও আমার কাছে চেয়ে নাও, কিন্তু আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার কোনো উপকার করতে পারব না)।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: (যখন {আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} [আশ-শুআরা: ২১৪] আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন: হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ! হে সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য কোনো কিছুর মালিক নই। আমার সম্পদ থেকে যা চাও আমার কাছে চেয়ে নাও)।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে খুতবা দিতে দাঁড়ালেন...
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الأسئلة
প্রশ্নাবলি
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
معنى قوله في الحديث: (سأبلها ببلالها)
السؤال ما معنى: (سأبلها ببلالها)؟
الجواب هذه ورد فيها تفسيرات كثيرة، لكن من أوضحها أنه سيبذل ما يستطيع لنفع رحمه في الدنيا، يعني: في الصلة الدنيوية فقط، أما الشفاعة فيما يتعلق بالهداية فلا ينفع رحمه بشيء، والشفاعة في الآخرة فيمن كان منهم كافراً فلا ينفع رحمه بشيء، فقيل: إن معنى (سأبلها ببلالها) هو ما يستطيع أن ينفعهم به في دنياهم، والدعاء لهم بالهداية والصلاح لا أكثر من ذلك.
হাদিসে বর্ণিত তাঁর এই বাণীর অর্থ: (আমি একে তার আর্দ্রতা দিয়ে সিক্ত করব) প্রশ্ন (আমি একে তার আর্দ্রতা দিয়ে সিক্ত করব) - এর অর্থ কী?
উত্তর এর স্বপক্ষে অনেক ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা হলো, তিনি পার্থিব জীবনে তাঁর আত্মীয়তার বন্ধনের উপকারে নিজের সামর্থ্যের সবটুকু বিলিয়ে দেবেন। অর্থাৎ: কেবল পার্থিব সম্পর্কের ক্ষেত্রে। তবে হেদায়েত সংক্রান্ত সুপারিশের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর আত্মীয়দের কোনো উপকার করতে পারবেন না। আর পরকালে তাদের মধ্যে যারা কাফের হবে, তাদের জন্য সুপারিশের ক্ষেত্রেও তিনি তাঁর আত্মীয়দের কোনো উপকার করতে পারবেন না। তাই বলা হয়েছে যে, ‘আমি একে তার আর্দ্রতা দিয়ে সিক্ত করব’ - এর অর্থ হলো, তিনি তাদের পার্থিব জীবনে যতটুকু উপকার করতে সক্ষম তা করবেন এবং তাদের হেদায়েত ও সংশোধনের জন্য দোয়া করবেন, এর বেশি কিছু নয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة القسم: العقيدة
الكتاب: شرح كتاب قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة لابن تيمية
المؤلف: ناصر بن عبد الكريم العلي العقل
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 36 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
‘কায়েদাতুন জালিলা ফি আত-তাওয়াসসুল ওয়া আল-ওয়াসিলা’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা বিভাগ: আকীদা
বই: ইবনে তাইমিয়্যাহর ‘কায়েদাতুন জালিলা ফি আত-তাওয়াসসুল ওয়া আল-ওয়াসিলা’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা
লেখক: নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আলী আল-আকল
বইয়ের উৎস: ইসলামি নেটওয়ার্ক (ইসলামওয়েব) ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিখিত অডিও পাঠসমূহ
http://www.islamweb.net
[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠ নম্বর - ৩৬টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ই রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة
[2]الشفاعة للعصاة من الموحدين ثابتة في نصوص الشريعة وإجماع أهل العلم، خلافاً للمبتدعة الذين أنكروها وردوها استدلالاً ببعض العمومات، ومقابل ذلك هناك من أثبت شريكاً ونداً مع الله من الملائكة والأنبياء والصالحين، وعبدوهم من دون الله ادعاءً أنهم شفعاء لهم عند الله.
وأهل الحق والسنة التزموا النصوص وفسروها على ما فهمها الصحابة والتابعون وأهل العلم المتبعين لهم.
কায়েদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসিলাহ কিতাবের ব্যাখ্যা
[২]একত্ববাদী পাপীদের জন্য শাফায়াত বা সুপারিশের বিষয়টি শরীয়তের দলীলসমূহ এবং আহলে ইলমগণের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত, সেই বিদআতীদের মতের বিপরীতে যারা একে অস্বীকার করেছে এবং কিছু সাধারণ দলীল দ্বারা একে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর বিপরীতে এমন একদল রয়েছে যারা ফেরেশতা, নবী এবং সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের আল্লাহর সাথে শরীক ও সমকক্ষ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে তাদের ইবাদত করেছে এই দাবি নিয়ে যে, তারা আল্লাহর নিকট তাদের জন্য সুপারিশকারী হবে।
সত্য ও সুন্নাহর অনুসারীগণ দলীলসমূহকে আঁকড়ে ধরেছেন এবং সাহাবী, তাবেয়ী ও তাঁদের অনুসারী আহলে ইলমগণ যেভাবে এগুলো বুঝেছেন, সেভাবেই তার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
الشفاعة الجائزة وموقف المبتدعة منهاقال شيخ الإسلام رحمه الله تعالى: [وأما شفاعته ودعاؤه للمؤمنين فهي نافعة في الدنيا والدين باتفاق المسلمين، وكذلك شفاعته للمؤمنين يوم القيامة في زيادة الثواب ورفع الدرجات متفق عليها بين المسلمين، وقد قيل: إن بعض أهل البدعة ينكرها.
وأما شفاعته لأهل الذنوب من أمته فمتفق عليها بين الصحابة والتابعين لهم بإحسان وسائر أئمة المسلمين الأربعة وغيرهم.
وأنكرها كثير من أهل البدع من الخوارج والمعتزلة والزيدية، وقال هؤلاء: من يدخل النار لا يخرج منها لا بشفاعة ولا غيرها، وعند هؤلاء ما ثم إلا من يدخل الجنة فلا يدخل النار، ومن يدخل النار فلا يدخل الجنة، ولا يجتمع عندهم في الشخص الواحد ثواب وعقاب].
بهذا يبين الشيخ صور الشفاعة الجائزة أو الشفاعة المشروعة، والصورة الأولى هي دعاء النبي صلى الله عليه وسلم في حياته للمؤمنين، فهي نافعة في الدنيا والدين باتفاق المسلمين.
وكذلك شفاعته صلى الله عليه وسلم في الآخرة لأهل الكبائر من أمته وغيرها من الشفاعات المثبتة، ثم ذكر الشيخ المعارضين في هذه الشفاعة، وهم المعتزلة والخوارج، وبهذا نفهم بأن هذا سيتكرر في كتاب التوسل والوسيلة الذي نحن فيه، ونفهم أن أهل البدع في موضوع الشفاعة على طرفي نقيض، أي: أن لهم رأيين متقابلين، وهذا كثير عند أهل البدع في كل الأصول التي خالفوا فيها أهل السنة والجماعة، نجد أنهم على طرفي نقيض والحق بينهما، ولذلك يقول كثير من أهل السنة: إن الحق يتوسط في خصومة أهل البدع بعضهم مع بعض، يعني: تجد أدلة المانعين للشفاعة هي أدلة أهل السنة في نفي الشفاعة المنفية، والذين يطلقون الشفاعة أدلتهم هي أدلة أهل السنة في إثبات الشفاعة بشروطها، فتجد هؤلاء في رد بعضهم على بعض يخدمون السنة وهم لا يشعرون، لكن الحق وسط بين هؤلاء وهؤلاء، فكما أن من أشار إليهم الشيخ قبل أكثر من درس من أهل التصوف وغيرهم يطلقون الشفاعة مطلقاً، حتى أنهم يطلبونها من الأموات الذين ليس لهم قدرة، ويطلبونها من الجمادات ويزعمونها لأوثانهم ومعبوداتهم، ولا يعترفون بشروطها عند الله عز وجل، فإنه يقابلهم آخرون ينكرون حتى الشفاعات المثبتة في الكتاب والسنة، وهم المعتزلة والزيدية والخوارج، فهؤلاء ينفون الشفاعات الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم، ومنها الشفاعة التي تواتر بها الخبر، وهي شفاعته صلى الله عليه وسلم لأهل الكبائر من أمته.
إذاً: هؤلاء -أي: الذين نفوا الشفاعة-، أدلتهم حجة على الذين أطلقوها بلا شروط، وأدلة أولئك حجة على النافين أو الذين ينكرون الشفاعة بلا قيد ولا شرط.
অনুমোদিত শাফায়াত এবং এ বিষয়ে বিদআতিদের অবস্থানশায়খুল ইসলাম (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দয়া করুন) বলেন: [আর মুমিনদের জন্য তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাফায়াত ও দুআ দুনিয়া ও দ্বীনের ক্ষেত্রে উপকারী হওয়ার বিষয়ে সকল মুসলিম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তেমনিভাবে কিয়ামতের দিন মুমিনদের সওয়াব বৃদ্ধি ও মর্তবা উন্নীত করার ক্ষেত্রে তাঁর শাফায়াতের বিষয়টি মুসলিমদের মাঝে সর্বসম্মত। তবে বলা হয়ে থাকে যে, কিছু বিদআতি এটি অস্বীকার করে।
আর তাঁর উম্মতের পাপাচারীদের জন্য তাঁর শাফায়াতের বিষয়টি সাহাবীগণ, নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেয়ীগণ এবং মুসলিমদের চার ইমামসহ অন্যান্য সকল ইমামের নিকট সর্বসম্মত।
কিন্তু বিদআতিদের অনেক দল যেমন খারেজি, মুতাজিলা এবং যায়দিয়া এটি অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে: যে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে সে আর সেখান থেকে বের হবে না—তা শাফায়াতের মাধ্যমে হোক বা অন্য কিছুর মাধ্যমে। তাদের মতে, সেখানে হয় কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে ফলে সে আর জাহান্নামে যাবে না, নতুবা কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে ফলে সে আর জান্নাতে যাবে না। তাদের নিকট একই ব্যক্তির মাঝে সওয়াব ও শাস্তি একত্রে জমা হওয়া সম্ভব নয়]।
এর মাধ্যমে শায়খ অনুমোদিত বা শরিয়তসম্মত শাফায়াতের রূপসমূহ বর্ণনা করেছেন। এর প্রথম রূপটি হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় মুমিনদের জন্য যে দুআ করতেন তা; এটি দুনিয়া ও দ্বীনের ক্ষেত্রে উপকারী হওয়ার বিষয়ে সকল মুসলিম একমত।
তেমনিভাবে পরকালে তাঁর উম্মতের কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াত এবং অন্যান্য প্রমাণিত শাফায়াতসমূহ। অতঃপর শায়খ এই শাফায়াতের বিরোধিতাকারীদের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা হলো মুতাজিলা ও খারেজি। এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, আমরা বর্তমানে যে 'কিতাবুত তাওয়াসসুল ওয়াল অসিলা' পাঠ করছি, তাতে এই বিষয়টি বারবার আসবে। আমরা আরও বুঝতে পারি যে, শাফায়াতের বিষয়ে বিদআতিরা দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। অর্থাৎ তাদের দুটি পরস্পর বিরোধী মত রয়েছে। এটি বিদআতিদের ক্ষেত্রে এমন প্রতিটি মূলনীতির (উসূল) বেলায় ঘটে থাকে যেখানে তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিরোধিতা করে। আমরা দেখি যে তারা দুটি চরম বিপরীত প্রান্তে অবস্থান করে, আর সত্য থাকে তাদের মাঝামাঝি। এ কারণেই অনেক আহলুস সুন্নাহর আলেম বলেন: সত্যের অবস্থান হলো বিদআতিদের একে অপরের সাথে পারস্পরিক বিরোধের মাঝামাঝি। অর্থাৎ শাফায়াত অস্বীকারকারীদের দলিলগুলো হলো সেই সব দলিল যা আহলুস সুন্নাহ প্রত্যাখ্যাত শাফায়াত নাকচ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন। আবার যারা কোনো শর্ত ছাড়াই শাফায়াতকে ঢালাওভাবে সাব্যস্ত করে, তাদের দলিলগুলো হলো সেই সব দলিল যা আহলুস সুন্নাহ নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে শাফায়াত সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন। ফলে দেখা যায় যে, তারা একে অপরের খণ্ডন করতে গিয়ে নিজেরাও অজান্তে সুন্নাহরই খিদমত করে ফেলে। কিন্তু সত্য হলো এই দুই চরমপন্থার মাঝামাঝি। শায়খ এক বা একাধিক পাঠ আগে যাদের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন অর্থাৎ সুফি ও অন্যান্যরা, তারা শাফায়াতকে শর্তহীনভাবে সাব্যস্ত করে; এমনকি তারা মৃত ব্যক্তিদের কাছেও শাফায়াত প্রার্থনা করে যাদের কোনো ক্ষমতা নেই। তারা জড় পদার্থের কাছেও শাফায়াত চায় এবং তাদের প্রতিমা ও উপাস্যদের জন্য শাফায়াতের দাবি করে। তারা মহান আল্লাহর কাছে শাফায়াতের শর্তাবলি স্বীকার করে না। এর বিপরীতে অন্য একটি দল রয়েছে যারা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত শাফায়াতগুলোকেও অস্বীকার করে; তারা হলো মুতাজিলা, যায়দিয়া ও খারেজি। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত শাফায়াতসমূহকে অস্বীকার করে, যার মধ্যে এমন শাফায়াতও রয়েছে যা মুতাওয়াতির বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত—অর্থাৎ তাঁর উম্মতের কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য তাঁর শাফায়াত।
সুতরাং যারা শাফায়াত অস্বীকার করেছে, তাদের দলিলগুলো ঐ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ যারা কোনো শর্ত ছাড়াই শাফায়াত সাব্যস্ত করে। আবার যারা ঢালাওভাবে শাফায়াত সাব্যস্ত করে, তাদের দলিলগুলো ঐ অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ যারা কোনো বাধ্যবাধকতা বা শর্ত ছাড়াই শাফায়াতকে সরাসরি অস্বীকার করে।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
الشفاعة في عصاة الموحدينقال رحمه الله تعالى: [وأما الصحابة والتابعون لهم بإحسان وسائر الأئمة كالأربعة وغيرهم، فيقرون بما تواترت به الأحاديث الصحيحة عن النبي صلى الله عليه وسلم: أن الله يخرج من النار قوماً بعد أن يعذبهم الله ما شاء أن يعذبهم، يخرجهم بشفاعة محمد صلى الله عليه وسلم، ويخرج آخرين بشفاعة غيره، ويخرج قوماً بلا شفاعة].
هذا كله ورد في حديث أبي سعيد الخدري وأبي هريرة وغيرهما في الصحيحين، ومفاده: أن الله عز وجل يأذن للنبي صلى الله عليه وسلم بعدة شفاعات: منها شفاعته للخلائق جميعاً بأن يفصل الله بينهم القضاء، ومنها شفاعته صلى الله عليه وسلم لطوائف من أهل الجنة بأن تفتح لهم أبوابها بعد أن توصد أمامهم، ومنها شفاعته صلى الله عليه وسلم لأهل الكبائر من أمته، ومنها شفاعة النبيين والصديقين والشهداء والصالحين والملائكة، ومنها شفاعة القرآن، وشفاعة الصيام كل هذه شفاعات يأذن الله بها ووردت أيضاً في الحديث، ثم بعد ذلك ثبت الخبر أن الله عز وجل حينما تحدث جميع هذه الشفاعات يقول الله عز وجل: شفع الملائكة وشفع النبيون ولم تبق إلا رحمة أرحم الراحمين، فيقبض قبضة بيده من أهل النار، فيخرجهم منها، ومنهم من لم يعمل خيراً قط، والله فعال لما يريد، له في عباده شئون، ويفعل في خلقه ما يشاء، ورحمته وسعت كل شيء، وذلك كله إلى الله عز وجل، وفي ذلك إعلام للعباد بألا يتألوا على الله، وليعلموا أن الأمور بيد الله، وليس للعباد أن يحكموا بأحكام على غيرهم، وليس لهم بأن يحكموا أفعال الله عز وجل بمقاييسهم، فالله فعال لما يريد، لو عذب الخلق جميعاً فله ذلك، ولو رحمهم جميعاً فله ذلك، لا راد لحكمه ولا معقب لقضائه.
إذاً: بعد استنفاذ الشفاعات يحدث هذا الذي يحدث، وهو أن الله عز وجل يخرج أقواماً من النار لم يعملوا خيراً قط.
وقوله: (لم يعملوا خيراً قط)، هذه كلمة مجملة، اختلف العلماء في تقريرها، وهل يشمل ذلك من لم يكن عنده إيمان ألبتة؛ لأن هذا ظاهر النصوص؛ لأنه ورد في الحديث نفسه، أنه قال: (أخرجوا من في قلبه مثقال شعيرة مثقال خردلة مثقال ذرة من النار)، والذرة هي الهباء التي لا يكاد يكون لها وزن، ثم بعد ذلك تأتي هذه القصة، فالله أعلم ما تفسير ذلك، وبعضهم فسره بتفسيرات ليس عليها دليل، منهم من قال: أن هؤلاء هم الذين أسلموا في آخر لحظة من حياتهم ولم يتمكنوا من أن يعملوا خيراً قط، لكن هذا يرد بأن الإسلام يجب ما قبله، وأن من أسلم بدل الله سيئاته حسنات، فتأتي كالجبال بإذن الله، لكن ومع ذلك تبقى المسألة محتملة، الله أعلم بمراده.
তাওহীদপন্থী পাপীদের জন্য সুপারিশতিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: [আর সাহাবীগণ, ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ এবং চার ইমাম ও অন্যান্য সকল ইমামগণ সেই বিষয়ে স্বীকৃতি প্রদান করেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ মুতাওয়াতির হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত: যে আল্লাহ তাআলা একদল লোককে জাহান্নাম থেকে বের করবেন, আল্লাহ তাঁদেরকে যতক্ষণ ইচ্ছা শাস্তি দেওয়ার পর। তিনি তাঁদেরকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশে বের করবেন, অন্যদের সুপারিশে আরও কিছু লোককে বের করবেন এবং একদল লোককে কোনো সুপারিশ ছাড়াই বের করবেন।]
এ সবই আবু সাঈদ আল-খুদরী, আবু হুরায়রা ও অন্যদের বর্ণিত বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে এসেছে। এর সারকথা হলো: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কয়েকটি সুপারিশের অনুমতি দেবেন: তার মধ্যে রয়েছে সকল সৃষ্টির জন্য তাঁর সুপারিশ যাতে আল্লাহ তাদের মধ্যে বিচার কার্য ফয়সালা করেন; জান্নাতবাসীদের কিছু দলের জন্য তাঁর সুপারিশ যাতে তাদের জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় যখন সেগুলো তাদের সামনে বন্ধ থাকবে; তাঁর উম্মতের কবিরা গুনাহগারদের জন্য তাঁর সুপারিশ; এছাড়াও নবীগণ, সত্যবাদীগণ, শহীদগণ, নেককারগণ ও ফেরেশতাদের সুপারিশ; এবং কুরআনের সুপারিশ ও রোযার সুপারিশ। এ সবই এমন সুপারিশ যার অনুমতি আল্লাহ দেবেন এবং এগুলো হাদীসেও এসেছে। তারপর সংবাদটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, যখন এই সব সুপারিশ সম্পন্ন হবে, তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলবেন: ফেরেশতারা সুপারিশ করেছে, নবীগণ সুপারিশ করেছেন এবং এখন কেবল আরহামুর রাহিমীনের (সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালুর) রহমত বাকি রয়েছে। অতঃপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে জাহান্নাম থেকে এক মুষ্টি লোক গ্রহণ করবেন এবং তাঁদের জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন, যাঁদের মধ্যে এমন লোকও থাকবে যারা কখনো কোনো ভালো কাজ করেনি। আর আল্লাহ যা চান তা-ই করেন, তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে তাঁর বিশেষ কর্ম রয়েছে, তিনি তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে যা ইচ্ছা করেন এবং তাঁর রহমত সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। এসবই আল্লাহ আযযা ওয়া জালের ইচ্ছাধীন। এতে বান্দাদের জন্য এই বার্তা রয়েছে যে, তারা যেন আল্লাহর ওপর কোনো বিষয়ে কসম বা হুকুম না চালায়, এবং তারা যেন জানে যে সব বিষয় আল্লাহর হাতে, আর বান্দাদের জন্য এটি সমীচীন নয় যে তারা অন্যদের ওপর চূড়ান্ত বিচার করবে, এবং তাদের জন্য এটিও সমীচীন নয় যে তারা আল্লাহর কাজসমূহকে তাদের নিজস্ব মাপকাঠি দিয়ে বিচার করবে। কারণ আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তিনি যদি সকল সৃষ্টিকে শাস্তি দেন তবে সেটি তাঁর অধিকার, আর যদি তিনি তাদের সকলকে দয়া করেন তবে সেটিও তাঁর অধিকার। তাঁর হুকুম রদ করার কেউ নেই এবং তাঁর ফয়সালাকে পিছিয়ে দেওয়ার কেউ নেই।
সুতরাং: সকল সুপারিশ শেষ হওয়ার পর সেই ঘটনাটি ঘটবে যা ঘটার, আর তা হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল জাহান্নাম থেকে এমন কিছু সম্প্রদায়কে বের করবেন যারা কখনো কোনো নেক আমল করেনি।
এবং তাঁর কথা: (কখনো কোনো নেক আমল করেনি), এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও ব্যাপক কথা, যার ব্যাখ্যায় উলামায়ে কেরাম ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। এটি কি এমন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করবে যার বিন্দুমাত্র ঈমান ছিল না? কারণ এটিই তো দলীলসমূহের বাহ্যিক অর্থ; যেহেতু হাদীসেই এসেছে যে তিনি বলেছেন: (জাহান্নাম থেকে বের করো যার অন্তরে একটি যবের ওজন পরিমাণ, একটি সরিষার দানা পরিমাণ বা একটি অণু পরিমাণ ঈমান আছে)। আর অণু বলতে এমন ধূলিকণা বোঝায় যার প্রায় কোনো ওজনই নেই। এরপরই এই বিষয়টি আসে। সুতরাং আল্লাহই ভালো জানেন এর ব্যাখ্যা কী। তাঁদের কেউ কেউ এমন ব্যাখ্যা করেছেন যার স্বপক্ষে কোনো দলীল নেই। তাঁদের মধ্যে কেউ বলেছেন: এরা হলো তারা যারা জীবনের শেষ মুহূর্তে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং কোনো নেক আমল করার সুযোগ পায়নি। কিন্তু এই মতটি এই যুক্তিতে খণ্ডন করা হয় যে, ইসলাম পূর্ববর্তী সকল পাপ মিটিয়ে দেয় এবং যে ইসলাম গ্রহণ করে আল্লাহ তার মন্দ কাজগুলোকে নেক আমল দ্বারা পরিবর্তন করে দেন, ফলে সেগুলো আল্লাহর ইচ্ছায় পাহাড়ের মতো হয়ে সামনে আসে। তবুও বিষয়টি সম্ভবনাময় থেকে যায়, আল্লাহই তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
أدلة المنكرين للشفاعةقال المؤلف رحمه الله تعالى: [واحتج هؤلاء المنكرون للشفاعة بقوله تعالى: {وَاتَّقُوا يَوْمًا لا تَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا وَلا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ} [البقرة:48]، وبقوله: {وَلا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلا تَنفَعُهَا شَفَاعَةٌ} [البقرة:123]، وبقوله: {مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لا بَيْعٌ فِيهِ وَلا خُلَّةٌ وَلا شَفَاعَةٌ} [البقرة:254]، وبقوله: {مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلا شَفِيعٍ يُطَاعُ} [غافر:18]، وبقوله: {فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ} [المدثر:48]].
শাফাআত অস্বীকারকারীদের দলিলসমূহলেখক (আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন) বলেছেন: [শাফাআত অস্বীকারকারী এই ব্যক্তিরা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: “আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন কেউ কারো কোনো কাজে আসবে না এবং কারো পক্ষ থেকে কোনো শাফাআত (সুপারিশ) গ্রহণ করা হবে না এবং কারো কাছ থেকে কোনো বিনিময় গ্রহণ করা হবে না।” [আল-বাকারাহ: ৪৮], এবং তাঁর এই বাণী দ্বারা: “এবং কারো কাছ থেকে কোনো বিনিময় গ্রহণ করা হবে না এবং কোনো শাফাআত তার উপকারে আসবে না।” [আল-বাকারাহ: ১২৩], এবং তাঁর এই বাণী দ্বারা: “সেই দিন আসার আগে, যে দিনে কোনো বেচাকেনা নেই, কোনো বন্ধুত্ব নেই এবং কোনো শাফাআত নেই।” [আল-বাকারাহ: ২৫৪], এবং তাঁর এই বাণী দ্বারা: “জালিমদের জন্য কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না এবং এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না যার কথা মান্য করা হবে।” [গাফির: ১৮], এবং তাঁর এই বাণী দ্বারা: “অতএব, সুপারিশকারীদের শাফাআত তাদের কোনো উপকারে আসবে না।” [আল-মুদ্দাসসির: ৪৮]]।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
سبب خطأ المبتدعة في رد الشفاعةهذه النصوص لو أخذت بمفردها دون إرجاعها إلى النصوص الأخرى، لكان ظاهرها يؤيد هؤلاء المعارضين الذين أنكروا الشفاعة.
وبعبارة أخرى: لو أخذت هذه النصوص مجردة عن القواعد السليمة لتفسير النصوص؛ وهي: تفسير القرآن بالقرآن، تفسير القرآن بالسنة، تفسير القرآن بفهوم الصحابة العرب الأقحاح الذين نزل عليهم القرآن، لكان ظاهرها يدل على قولهم بإنكار الشفاعة، لكن الصحيح والذي عليه أهل الحق، أن هذه النصوص لابد أن تفسر بالنصوص الأخرى؛ التي تذكر شروط الشفاعة والتي تستثني، ثم إن هذه النصوص مفسرة بفهم النبي صلى الله عليه وسلم وتقريره لها، ومفسرة بأقواله التي أثبتت الشفاعة على نحو آخر بشروط وضوابط، وهذا هو منهج السلف؛ أنهم لا يعرضون نصوص الوعد دون نصوص الوعيد، ولا يعرضون النصوص دون تحكيم القواعد الموضحة لها والمبينة والمفسرة، بل لا يضربون آيات الله بعضها ببعض، فإذا جاء نص ظاهره مثل هذا النص الذي يمنع الشفاعة مطلقاً، فلا يمكن تفسيره بمعزل عن النص الآخر الذي يثبت الشفاعة بشروطها.
وهذا المنهج هو الميزان الذي سلم به أهل السنة والجماعة في جميع نصوص الشرع، في الشفاعة وفي غيرها؛ وهو أنهم يأخذون بجميع النصوص، وهذا منهج اختل عند كثير من الناس في العصر الحاضر مع الأسف، لما قل علمهم وقل فقههم واعتمدوا على آرائهم وعقولهم، فصاروا يخبطون في فهمهم لنصوص الشرع وفي تفسيرهم لها، فيقعون فيما وقعت فيه الفرق أهل الأهواء والبدع.
সুপারিশ (শাফাআত) প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে বিদআতিদের ভুলের কারণএই দলিলসমূহকে যদি অন্যান্য দলিলের দিকে না ফিরিয়ে এককভাবে গ্রহণ করা হতো, তবে বাহ্যত এগুলোর অর্থ সেই সকল বিরোধীদেরই সমর্থন করত যারা শাফাআতকে অস্বীকার করেছে।
অন্য কথায়: যদি এই দলিলসমূহকে পাঠ ব্যাখ্যার সঠিক নীতিমালা ব্যতিরেকে গ্রহণ করা হতো; যথা: কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা, সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা, এবং সেই সকল খাঁটি আরব সাহাবীগণের বুঝের মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা যাদের ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, তবে বাহ্যত এগুলোর অর্থ তাদের শাফাআত অস্বীকার করার মতবাদের ওপরই প্রমাণ পেশ করত। কিন্তু সত্য বিষয়টি হলো—যার ওপর সত্যপন্থীগণ প্রতিষ্ঠিত—এই দলিলগুলোকে অবশ্যই অন্যান্য দলিলের আলোকে ব্যাখ্যা করতে হবে; যা শাফাআতের শর্তসমূহ উল্লেখ করে এবং যা একে সাধারণ হুকুম থেকে ব্যতিক্রম করে। অধিকন্তু, এই দলিলসমূহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বুঝ ও এগুলোর ব্যাপারে তাঁর অনুমোদনের মাধ্যমে ব্যাখ্যাত, এবং তাঁর ঐ সকল বাণীর মাধ্যমে ব্যাখ্যাত যা নির্দিষ্ট শর্ত ও নীতিমালার ভিত্তিতে অন্যভাবে শাফাআতকে সাব্যস্ত করেছে। আর এটিই হলো সালাফদের মানহাজ বা পদ্ধতি; তাঁরা প্রতিশ্রুতির বাণীসমূহকে শাস্তির সতর্কবাণী সম্বলিত বাণীসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করেন না, এবং কোনো পাঠ বা দলিলকে তার বিশদ বর্ণনাকারী ও ব্যাখ্যাকারী মূলনীতিসমূহের প্রয়োগ ব্যতীত পেশ করেন না। বরং তাঁরা আল্লাহর আয়াতের একটির সাথে অন্যটির সংঘর্ষ ঘটান না। সুতরাং যদি এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় যার বাহ্যিক রূপ এই দলিলের মতো যা নিরঙ্কুশভাবে শাফাআতকে নিষেধ করে, তবে সেটিকে শাফাআত সাব্যস্তকারী অন্য দলিল থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয় যা শর্তসাপেক্ষে একে সাব্যস্ত করে।
আর এই পদ্ধতিটিই হলো সেই মানদণ্ড যার মাধ্যমে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত শরীয়তের সমস্ত দলিলাদির ক্ষেত্রে সঠিক পথে থেকেছেন, চাই তা শাফাআতের বিষয়ে হোক বা অন্য কোনো বিষয়ে; আর তা হলো তাঁরা সমস্ত দলিলকে একত্রে গ্রহণ করেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান যুগে অনেক মানুষের মধ্যে এই পদ্ধতিতে বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে, যখন তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা হ্রাস পেয়েছে এবং তারা তাদের নিজস্ব অভিমত ও বুদ্ধিবৃত্তির ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছে। ফলে তারা শরীয়তের দলিলসমূহ অনুধাবন ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়েছে, এবং প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতি দলগুলো যে ভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছিল তারাও সেই একই ভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
جواب أهل السنة على أدلة المنكرين للشفاعةقال رحمه الله تعالى: [وجواب أهل السنة أن هذا يراد به شيئان: أحدهما: أنها لا تنفع المشركين، كما قال تعالى في نعتهم: {مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ * قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ * وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ * وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ * وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ * حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ * فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ} [المدثر:42 - 48] فهؤلاء نفى عنهم نفع شفاعة الشافعين لأنهم كانوا كفاراً.
والثاني: أنه يراد بذلك نفي الشفاعة التي يثبتها أهل الشرك، ومن شابههم من أهل البدع من أهل الكتاب والمسلمين، الذين يظنون أن للخلق عند الله من القدر أن يشفعوا عنده بغير إذنه، كما يشفع الناس بعضهم عند بعض فيقبل المشفوع إليه شفاعة الشافع لحاجته إليه رغبة ورهبة، وكما يعامل المخلوق المخلوق بالمعاوضة.
فالمشركون كانوا يتخذون من دون الله شفعاء من الملائكة والأنبياء والصالحين، ويصورون تماثيلهم فيستشفعون بها ويقولون: هؤلاء خواص الله، فنحن نتوسل إلى الله بدعائهم وعبادتهم ليشفعوا لنا، كما يتوسل إلى الملوك بخواصهم لكونهم أقرب إلى الملوك من غيرهم، فيشفعون عند الملوك بغير إذن الملوك، وقد يشفع أحدهم عند الملك فيما لا يختاره فيحتاج إلى إجابة شفاعته رغبة ورهبة، فأنكر الله هذه الشفاعة فقال تعالى: {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ} [البقرة:255]، وقال: {وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَوَاتِ لا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى} [النجم:26].
وقال عن الملائكة: {وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُكْرَمُونَ * لا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ * يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ} [الأنبياء:26 - 28].
وقال تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ لا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ * وَلا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ} [سبأ:22 - 23].
وقال تعالى: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لا يَعْلَمُ فِي السَّمَوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [يونس:18].
وقال تعالى: {وَأَنذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْ يُحْشَرُوا إِلَى رَبِّهِمْ لَيْسَ لَهُمْ مِنْ دُونِهِ وَلِيٌّ وَلا شَفِيعٌ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ} [الأنعام:51].
وقال تعالى: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُمْ مِنْ دُونِهِ مِن وَلِيٍّ وَلا شَفِيعٍ أَفَلا تَتَذَكَّرُونَ} [السجدة:4].
وقال تعالى: {وَلا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [الزخرف:86]، وقال تعالى: {وَلَقَدْ جِئْتُمُونَا فُرَادَى كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَتَرَكْتُمْ مَا خَوَّلْنَاكُمْ وَرَاءَ ظُهُورِكُمْ وَمَا نَرَى مَعَكُمْ شُفَعَاءَكُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكَاءُ لَقَدْ تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنكُمْ مَا كُنتُمْ تَزْعُمُونَ} [الأنعام:94]، وقال تعالى: {أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ شُفَعَاءَ قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا لا يَمْلِكُونَ شَيْئًا وَلا يَعْقِلُونَ * قُلْ لِلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعًا لَهُ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ * وَإِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ} [الزمر:43 - 45].
وقال تعالى: {وَخَشَعَتِ الأَصْوَاتُ لِلرَّحْمَنِ فَلا تَسْمَعُ إِلَّا هَمْسًا * يَوْمَئِذٍ لا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ وَرَضِيَ لَهُ قَوْلًا} [طه:108 - 109].
وقال صاحب يس: {وَمَا لِيَ لا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُو
শাফায়াত বা সুপারিশ অস্বীকারকারীদের দলিলের জবাবে আহলে সুন্নাতের উত্তরতিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: [আহলে সুন্নাতের উত্তর হলো, এর দ্বারা দুটি বিষয় উদ্দেশ্য: প্রথমটি: এটি মুশরিকদের কোনো উপকারে আসবে না, যেমনটি মহান আল্লাহ তাদের বর্ণনায় বলেছেন: {কীসে তোমাদেরকে সাকার-এ (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা নামায পড়তাম না, আমরা অভাবগ্রস্তদের খাবার দিতাম না, আমরা অনর্থক আলোচনাকারীদের সাথে অনর্থক আলোচনায় মত্ত থাকতাম এবং আমরা বিচার দিবসকে অস্বীকার করতাম, যতক্ষণ না আমাদের নিকট নিশ্চিত মৃত্যু উপস্থিত হলো। সুতরাং সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না।} [আল-মুদ্দাসসির: ৪২-৪৮]। সুতরাং এদের থেকে সুপারিশকারীদের সুপারিশের উপকারিতা নাকচ করা হয়েছে কারণ তারা কাফের ছিল।
দ্বিতীয়টি: এর দ্বারা সেই সুপারিশকে নাকচ করা উদ্দেশ্য যা শিরককারী এবং তাদের সদৃশ বিদআতি আহলে কিতাব ও মুসলিমরা সাব্যস্ত করে। তারা ধারণা করে যে, মহান আল্লাহর নিকট সৃষ্টির এমন কোনো ক্ষমতা বা মর্যাদা আছে যার মাধ্যমে তারা তাঁর অনুমতি ছাড়াই সুপারিশ করতে পারবে। যেমন মানুষ একে অপরের কাছে সুপারিশ করে এবং সুপারিশ গ্রহণকারী ব্যক্তি সুপারিশকারীর অভাব পূরণ করতে কিংবা তার প্রতি ভালোবাসা বা ভয়ের কারণে তার সুপারিশ গ্রহণ করে; অথবা যেভাবে এক সৃষ্টি অন্য সৃষ্টির সাথে বিনিময়মূলক আচরণ করে।
মুশরিকরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে ফেরেশতা, নবী এবং নেককার ব্যক্তিদের সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করত। তারা তাদের মূর্তি নির্মাণ করত এবং সেগুলোর মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করত। তারা বলত: এরা আল্লাহর বিশেষ প্রিয়পাত্র, তাই আমরা তাদের দুআ এবং ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর উসিলা তালাশ করি যেন তারা আমাদের জন্য সুপারিশ করে। ঠিক যেমন রাজাদের বিশেষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাদের নিকট পৌঁছানো হয়, কারণ তারা অন্যদের তুলনায় রাজাদের বেশি নিকটবর্তী। ফলে তারা রাজাদের অনুমতি ছাড়াই সুপারিশ করে। এমনকি কখনও কখনও তাদের কেউ রাজার নিকট এমন বিষয়েও সুপারিশ করে যা রাজা পছন্দ করেন না, কিন্তু রাজা ভালোবাসা বা ভয়ের কারণে সেই সুপারিশ গ্রহণ করতে বাধ্য হন। মহান আল্লাহ এই ধরনের সুপারিশকে অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: {কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?} [আল-বাকারা: ২৫৫]। তিনি আরও বলেছেন: {আকাশমণ্ডলে অনেক ফেরেশতা রয়েছে, যাদের সুপারিশ কোনো কাজেই আসবে না, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট তাকে অনুমতি দেওয়ার পর।} [আন-নাজম: ২৬]।
ফেরেশতাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {তারা বলে, দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন; তিনি অত্যন্ত পবিত্র! বরং তারা তো সম্মানিত বান্দা। তারা কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁকে অগ্রাহ্য করে না এবং তারা তাঁর আদেশ অনুযায়ী কাজ করে। তাদের সামনে যা আছে এবং পিছনে যা আছে তা তিনি জানেন। তিনি যার প্রতি সন্তুষ্ট, তারা কেবল তার জন্যই সুপারিশ করে এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত।} [আল-আম্বিয়া: ২৬-২৮]।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে (ইলাহ) মনে করো তাদেরকে ডাকো; তারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কিছুরও মালিক নয় এবং এতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই এবং তাদের মধ্য থেকে তাঁর কোনো সাহায্যকারীও নেই। তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট কারো সুপারিশ কাজে আসবে না।} [সাবা: ২২-২৩]।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং কোনো উপকারও করতে পারে না। তারা বলে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী। বলুন, তোমরা কি আল্লাহকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না? তিনি অত্যন্ত পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে।} [ইউনুস: ১৮]।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {আপনি এর মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করুন যারা ভয় করে যে, তাদের রবের নিকট এমন অবস্থায় একত্রিত করা হবে যখন তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক থাকবে না এবং কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না, যেন তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।} [আল-আনআম: ৫১]।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {আল্লাহই আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই; তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?} [আস-সাজদাহ: ৪]।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {আল্লাহ ছাড়া তারা যাদেরকে ডাকে তারা সুপারিশ করার মালিক নয়; তবে যারা সত্য সাক্ষ্য দেয় এবং তারা জানে (তারা সুপারিশ করতে পারবে)।} [আয-যুখরুফ: ৮৬]। তিনি আরও বলেছেন: {তোমরা আমার নিকট একা একা এসেছ ঠিক যেমন আমি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদের যা দান করেছিলাম তা তোমরা তোমাদের পিছনে ছেড়ে এসেছ। আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখছি না যাদের সম্পর্কে তোমরা ধারণা করতে যে, তারা তোমাদের ব্যাপারে অংশীদার। তোমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমরা যা ধারণা করতে তা তোমাদের থেকে হারিয়ে গেছে।} [আল-আনআম: ৯৪]। তিনি আরও বলেছেন: {নাকি তারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে? বলুন, যদিও তারা কোনো কিছুর মালিক না হয় এবং তারা না বোঝে তবুও কি? বলুন, সকল সুপারিশ আল্লাহরই অধীনে। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই। তারপর তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। যখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, তখন যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়; আর যখন আল্লাহ ছাড়া অন্যদের নাম নেওয়া হয়, তখন তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।} [আয-জুমার: ৪৩-৪৫]।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {দয়াময় আল্লাহর ভয়ে সকল শব্দ বিনীত হয়ে পড়বে, ফলে মৃদু গুঞ্জন ছাড়া তুমি আর কিছুই শুনতে পাবে না। সেদিন দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় সন্তুষ্ট হবেন, সে ছাড়া আর কারো সুপারিশ কাজে আসবে না।} [ত্বহা: ১০৮-১০৯]।
সূরা ইয়াসিনের সেই ব্যক্তি বলেছিলেন: {আমার কী হয়েছে যে আমি তাঁর ইবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন? এবং তাঁরই নিকট তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।} [ইয়াসিন: ২২]
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الأسئلة
প্রশ্নসমূহ
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
خلود أهل النار وعدم خروجهم منها
السؤال هل أهل النار يخلدون فيها؟
الجواب هذا هو ما ثبت في النصوص الشرعية، أن أهل النار الكفار مخلدون فيها.
জাহান্নামীদের চিরস্থায়িত্ব এবং সেখান থেকে তাদের বের না হওয়া প্রশ্ন জাহান্নামীরা কি সেখানে চিরকাল থাকবে?
উত্তর এটিই শরীয়তের দলীলসমূহ দ্বারা প্রমাণিত যে, জাহান্নামী কাফেররা সেখানে চিরকাল থাকবে।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بطلان القول بفناء الجنة والنار
السؤال هل النار تفنى وكذلك الجنة؟
الجواب هذا فرع عما سبق، فإذا قلنا: بأن أهل النار الخلص خالدون فيها، فكذلك من الضروري ألا تفنى النار، وكذلك بالضرورة الجنة، فنحن نعلم أن أهل الجنة مخلدون فيها، فمن الضروري أيضاً ألا تفنى الجنة، فهما رأيان متلازمان، أو قولان متلازمان، وهذا قول أهل السنة والجماعة.
والله أعلم.
জান্নাত ও জাহান্নাম বিলীন হয়ে যাওয়ার মতবাদের অসারতা প্রশ্ন জাহান্নাম কি বিলীন হয়ে যাবে এবং জান্নাতও কি?
উত্তর এটি পূর্ববর্তী আলোচনার একটি শাখা। সুতরাং যদি আমরা বলি যে, জাহান্নামের খাঁটি অধিবাসীগণ সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে, তবে জাহান্নাম বিলীন না হওয়াও অনিবার্য, ঠিক একইভাবে জান্নাতের বিষয়টিও অনিবার্য। আমরা জানি যে জান্নাতবাসীরা সেখানে চিরস্থায়ী হবে, সুতরাং জান্নাত বিলীন না হওয়াও আবশ্যকীয়। এই দুটি বিষয় একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্য অভিমত বা বক্তব্য, আর এটিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অভিমত।
আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة القسم: العقيدة
الكتاب: شرح كتاب قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة لابن تيمية
المؤلف: ناصر بن عبد الكريم العلي العقل
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 36 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
‘তাওয়াসসুল ও ওয়াসিলা সংক্রান্ত একটি মহান মূলনীতি’ বইটির ব্যাখ্যা বিভাগ: আকীদা
বই: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘তাওয়াসসুল ও ওয়াসিলা সংক্রান্ত একটি মহান মূলনীতি’ বইটির ব্যাখ্যা
লেখক: নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আলী আল-আকল
বইয়ের উৎস: অডিও লেকচার যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠের নম্বর - ৩৬টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة
[3]شفاعات النبي صلى الله عليه وسلم في الآخرة متنوعة ومتعددة، وهي خاصة بالموحدين من هذه الأمة، أما المشرك ولو كان محباً ومعظماً للنبي صلى الله عليه وسلم فهو محروم وممنوع من الشفاعة، ومهما توسل بالأنبياء أو الملائكة أو الصالحين واستشفع بهم فلا ينفعه شيء من ذلك.
‘কায়েদাহ জালীল্লাহ ফিত-তাওয়াসসুলি ওয়াল-ওয়াসিলাহ’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা
[৩]পরকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াত বিভিন্ন ও বহুমুখী, এবং এটি এই উম্মতের তাওহীদপন্থীদের জন্য নির্দিষ্ট। পক্ষান্তরে মুশরিক, সে যদিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসে এবং সম্মান করে, তবুও সে শাফায়াত থেকে বঞ্চিত ও নিষিদ্ধ। আর সে নবীগণ, ফেরেশতাগণ বা নেককার বান্দাদের মাধ্যমে যেভাবেই উসিলা ধরুক বা তাদের মাধ্যমে শাফায়াত কামনা করুক না কেন, এর কোনো কিছুই তাকে কোনো উপকার করবে না।
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
أقسام التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلمقال ابن تيمية رحمه الله تعالى: [فصل: ولفظ التوسل قد يراد به ثلاثة أمور: يراد به أمران متفق عليهما بين المسلمين].
الظاهر أنه يقصد التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن حديثه فيما بعد يتعلق أكثره بالتوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم، ثم بعد ذلك استطرد إلى التوسل بالأنبياء والملائكة، لكن في هذا التقسيم الذي بين أيدينا، وهو أن لفظ التوسل قد يراد به ثلاثة أمور يعني به التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم، وغيره يقاس عليه، إلا أن التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم له بعض الخصوصيات، لكن من حيث التنظير العام ما بعده يقاس عليه.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে উসীলা গ্রহণ করার প্রকারভেদইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [পরিচ্ছেদ: উসীলা শব্দটি দ্বারা তিনটি বিষয় উদ্দেশ্য হতে পারে: তার মধ্যে দুটি বিষয় এমন যার ওপর মুসলিমদের মাঝে ঐক্যমত রয়েছে]।
স্পষ্টত তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে উসীলা গ্রহণ করার বিষয়টিই উদ্দেশ্য করেছেন; কারণ তাঁর পরবর্তী আলোচনার অধিকাংশ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে উসীলা গ্রহণ করার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। এরপর তিনি নবীগণ ও ফেরেশতাদের মাধ্যমে উসীলা গ্রহণ করার প্রসঙ্গের দিকে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। তবে আমাদের সামনে থাকা এই বিভাজনে—অর্থাৎ উসীলা শব্দটি দ্বারা তিনটি বিষয় উদ্দেশ্য হওয়ার দ্বারা—তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে উসীলা গ্রহণ করাকেই বুঝিয়েছেন, এবং অন্যগুলোকে এর ওপর ভিত্তি করে কিয়াস করা হবে। তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে উসীলা গ্রহণ করার কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, কিন্তু সাধারণ তত্ত্বের ক্ষেত্রে পরবর্তী বিষয়গুলোকে এর ওপর কিয়াস করা যাবে।
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
التوسل بالإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم ودعائه وشفاعتهقال رحمه الله تعالى: [أحدهما: هو أصل الإيمان والإسلام، وهو التوسل بالإيمان به وبطاعته.
والثاني: دعاؤه وشفاعته، وهذا أيضاً نافع يتوسل به من دعا له وشفع فيه باتفاق المسلمين، ومن أنكر التوسل به بأحد هذين المعنيين فهو كافر مرتد يستتاب، فإن تاب وإلا قتل مرتداً.
ولكن التوسل بالإيمان به وبطاعته هو أصل الدين، وهذا معلوم بالاضطرار من دين الإسلام للخاصة والعامة، فمن أنكر هذا المعنى فكفره ظاهر للخاصة والعامة.
وأما دعاؤه وشفاعته وانتفاع المسلمين بذلك فمن أنكره فهو أيضاً كافر، لكن هذا أخفى من الأول، فمن أنكره عن جهل عرف ذلك، فإن أصر على إنكاره فهو مرتد، أما دعاؤه وشفاعته في الدنيا فلم ينكره أحد من أهل القبلة].
هذا الكلام كله يتعلق بالأمرين الأولين من التوسل به صلى الله عليه وسلم، وهما من التوسل المشروع، وكله متعلق بالتوسل به صلى الله عليه وسلم في حياته، فالشيخ لم يفصح عن النوع الثالث، لكنه ذكره ضمناً في الحديث عن الشفاعة يوم القيامة، أي: ذكر جزءاً من النوع الثالث.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান, তাঁর দুআ এবং তাঁর শাফাআতের মাধ্যমে উসিলা গ্রহণতিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: [তার মধ্যে একটি হলো: ঈমান ও ইসলামের মূল ভিত্তি, আর তা হলো তাঁর প্রতি ঈমান এবং তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ।
দ্বিতীয়টি হলো: তাঁর দুআ এবং তাঁর শাফাআত। এটিও উপকারী এবং মুসলিমদের ঐক্যমতে যার জন্য তিনি দুআ করেন বা যার জন্য শাফাআত করেন সে এর মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করতে পারে। আর যে ব্যক্তি এই দুই অর্থের কোনো একটির মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করাকে অস্বীকার করবে, সে কাফির ও মুরতাদ। তাকে তওবা করতে বলা হবে; যদি সে তওবা করে, অন্যথায় তাকে মুরতাদ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
তবে তাঁর প্রতি ঈমান এবং তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করাই হলো দ্বীনের মূল। এটি ইসলামের দ্বীন থেকে অকাট্যভাবে সর্বসাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট জ্ঞাত বিষয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এই অর্থটিকে অস্বীকার করবে, তার কুফরি সর্বসাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট সুস্পষ্ট।
আর তাঁর দুআ, শাফাআত এবং এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত হওয়া প্রসঙ্গে কথা হলো, যে এটি অস্বীকার করবে সেও কাফির। তবে এটি প্রথমটির তুলনায় কিছুটা অপ্রকাশ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত এটি অস্বীকার করবে তাকে তা জানানো হবে। এরপর যদি সে তা অস্বীকার করার ওপর অটল থাকে তবে সে মুরতাদ। আর দুনিয়াতে তাঁর দুআ ও শাফাআতের বিষয়টি আহলে কিবলার কেউ অস্বীকার করেনি]।
এই পুরো আলোচনাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে উসিলা গ্রহণের প্রথম দুটি প্রকারের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এ দুটিই শরিয়তসম্মত উসিলা। এর পুরোটাই তাঁর জীবদ্দশায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে উসিলা গ্রহণের সাথে সংশ্লিষ্ট। শাইখ এখানে তৃতীয় প্রকারটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, তবে কিয়ামতের দিনের শাফাআত সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যে পরোক্ষভাবে তা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, তিনি তৃতীয় প্রকারের একটি অংশ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم بعد مماتهوالنوع الثالث فيه ممنوع وفيه مشروع، وهو التوسل به صلى الله عليه وسلم وهو ميت، فالتوسل به في الدنيا وهو ميت ممنوع قطعاً، فإنه صلى الله عليه وسلم بعدما مات انقطع التوسل به، ولا يجوز دعاؤه، ولا يجوز نداؤه، فمن الشرك صرف أي نوع من أنواع العبادة له ودعاؤه ونحو ذلك، فهذا في الدنيا.
أما التوسل به وهو ميت -يعني: يوم القيامة- ففيه تفصيل: إن قصد به الشفاعة العظمى أو الشفاعة لأهل الكبائر فهذا يقر له بشروطه، وذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم يشفع الشفاعة التي وعده الله بها بشروطها.
إذاً: فالنوع الثالث: هو الاستشفاع به صلى الله عليه وسلم وهو ميت، فأغلب صوره شركية وبدعية، وكلها فيما يتعلق بالاستشفاع به في الدنيا وهو ميت، فلم يعد الاستشفاع به جائزاً إطلاقاً، فهو إما بدعة مغلظة وإما شرك، وهو الغالب.
মৃত্যুর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে উসিলা গ্রহণআর তৃতীয় প্রকারের মধ্যে নিষিদ্ধ ও বৈধ উভয় দিক রয়েছে, আর তা হলো তিনি মৃত অবস্থায় তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করা। সুতরাং দুনিয়াতে তিনি মৃত থাকা অবস্থায় তাঁর মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করা অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ; কেননা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করার পর তাঁর মাধ্যমে উসিলা গ্রহণের সুযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর তাঁর নিকট প্রার্থনা করা জায়েজ নেই এবং তাঁকে আহ্বান করাও জায়েজ নেই। অতএব তাঁর উদ্দেশ্যে যেকোনো প্রকার ইবাদত নিবেদন করা, তাঁর কাছে দোয়া করা এবং এই জাতীয় কাজগুলো শিরকের অন্তর্ভুক্ত; আর এটি দুনিয়ার বিধান সম্পর্কে বলা হলো।
পক্ষান্তরে তিনি মৃত থাকা অবস্থায় তাঁর মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ—অর্থাৎ কিয়ামতের দিন—এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে: যদি এর দ্বারা 'শাফায়াতে উজমা' (সর্বশ্রেষ্ঠ সুপারিশ) বা কবিরা গুনাহগারদের জন্য সুপারিশের উদ্দেশ্য হয়, তবে তা তার শর্তসাপেক্ষে স্বীকৃত। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সুপারিশ করবেন যার ওয়াদা আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন, তবে তা নির্ধারিত শর্তানুযায়ী হতে হবে।
অতএব, তৃতীয় প্রকারটি হলো: তিনি মৃত অবস্থায় তাঁর মাধ্যমে সুপারিশ (শাফায়াত) কামনা করা; এর অধিকাংশ রূপই শিরক ও বিদআতপূর্ণ। আর এর সবটুকুই দুনিয়াতে তিনি মৃত থাকা অবস্থায় সুপারিশ কামনার সাথে সংশ্লিষ্ট। ফলে তাঁর নিকট সুপারিশ কামনা করা এখন আর মোটেও জায়েজ নেই; বরং এটি হয় গুরুতর বিদআত অথবা শিরক, আর এটি শিরক হওয়াই এতে প্রবল।
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
عقيدة أهل السنة في إثبات الشفاعة في الآخرةقال المؤلف رحمه الله تعالى: [وأما الشفاعة يوم القيامة فمذهب أهل السنة والجماعة وهم الصحابة والتابعون لهم بإحسان وسائر أئمة المسلمين الأربعة وغيرهم: أن له شفاعات يوم القيامة خاصة وعامة، وأنه يشفع فيمن يأذن الله له أن يشفع فيه من أمته من أهل الكبائر، ولا ينتفع بشفاعته إلا أهل التوحيد المؤمنون دون أهل الشرك، ولو كان المشرك محباً له معظماًَ له لم تنقذه شفاعته من النار، وإنما ينجيه من النار التوحيد والإيمان به، ولهذا لما كان أبو طالب وغيره يحبونه ولم يقروا بالتوحيد الذي جاء به لم يمكن أن يخرجوا من النار بشفاعته ولا بغيرها.
وفي صحيح البخاري عن أبي هريرة رضي الله عنه أنه قال: (قلت: يا رسول الله! أي الناس أسعد بشفاعتك يوم القيامة؟ فقال: أسعد الناس بشفاعتي يوم القيامة من قال: لا إله إلا الله خالصاً من قلبه).
وعنه في صحيح مسلم أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لكل نبي دعوة مستجابة، فتعجل كل نبي دعوته، وإني اختبأت دعوتي شفاعة يوم القيامة، فهي نائلة إن شاء الله تعالى من مات من أمتي لا يشرك بالله شيئاً).
وفي السنن عن عوف بن مالك رضي الله عنه أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أتاني آت من عند ربي فخيرني بين أن يدخل نصف أمتي الجنة وبين الشفاعة، فاخترت الشفاعة، وهي لمن مات لا يشرك بالله شيئاً) وفي لفظ قال: (ومن لقي الله لا يشرك به شيئاً فهو في شفاعتي).
وهذا الأصل -وهو التوحيد- هو أصل الدين الذي لا يقبل الله من الأولين والآخرين ديناً غيره، وبه أرسل الله الرسل وأنزل الكتب، كما قال تعالى: {وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ} [الزخرف:45]، وقال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء:25]، وقال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَةُ} [النحل:36].
وقد ذكر الله عز وجل عن كل من المرسلين أنه افتتح دعوته بأن قال لقومه: ((اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ)).
وفي المسند عن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (بعثت بالسيف بين يدي الساعة حتى يعبد الله وحده لا شريك له، وجعل رزقي تحت ظل رمحي، وجعل الذل والصغار على من خالف أمري، ومن تشبه بقوم فهو منهم).
والمشركون من قريش وغيرهم الذين أخبر القرآن بشركهم واستحل النبي صلى الله عليه وسلم دماءهم وأموالهم وسبى حريمهم وأوجب لهم النار، كانوا مقرين بأن الله وحده خلق السماوات والأرض كما قال: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْلَمُونَ} [لقمان:25]، وقال: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ} [العنكبوت:61]، وقال تعالى: {قُلْ لِمَنِ الأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ * سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلا تَذَكَّرُونَ * قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ * سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلا تَتَّقُونَ * قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلا يُجَارُ عَلَيْهِ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ * سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ * بَلْ أَتَيْنَاهُمْ بِالْحَقِّ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ * مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذًا لَذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ} [المؤمنون:84 - 91].
وكان المشركون الذين جعلوا معه آلهة أخرى مقرين بأن آلهتهم مخلوقة، ولكنهم كانوا يتخذونهم شفعاء ويتقربون بعبادتهم إليه، كما قال تعالى: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لا يَعْلَمُ فِي السَّمَوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [يونس:18]، وقال تعالى: {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّه
পরকালে শাফায়াত সাব্যস্ত করার বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর আকিদালেখক (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) বলেন: [আর কিয়ামত দিবসের শাফায়াতের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব - যারা হলেন সাহাবীগণ, নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারী তাবেয়ীগণ এবং মুসলিমদের চার ইমামসহ অন্যান্য সকল ইমামগণ - হলো এই যে, কিয়ামত দিবসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ ও সাধারণ শাফায়াত রয়েছে। এবং আল্লাহ যার ব্যাপারে তাকে শাফায়াত করার অনুমতি দেবেন, তিনি তার উম্মতের বড় গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তাদের জন্য শাফায়াত করবেন। আর তার শাফায়াত দ্বারা কেবল তাওহীদপন্থী মুমিনগণই উপকৃত হবে, মুশরিকরা নয়। যদিও কোন মুশরিক তাকে ভালোবাসত এবং তাকে সম্মান করত, তবুও তার শাফায়াত তাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পারবে না। বরং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবে কেবল তাওহীদ এবং তার প্রতি ঈমান। একারণেই যখন আবু তালিব ও অন্যরা তাকে ভালোবাসতেন কিন্তু তিনি যে তাওহীদ নিয়ে এসেছিলেন তার স্বীকৃতি দেননি, তখন তার বা অন্য কারও শাফায়াতের মাধ্যমে তাদের পক্ষে জাহান্নাম থেকে বের হওয়া সম্ভব হয়নি।
সহীহ বুখারীতে আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: (আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আপনার শাফায়াত লাভে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষ কে হবে? তিনি বললেন: কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি হবে, যে অন্তর থেকে বিশুদ্ধভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে)।
সহীহ মুসলিমে তাঁর থেকেই বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (প্রত্যেক নবীর একটি কবুলযোগ্য দুআ রয়েছে, তাই প্রত্যেক নবীই তার সেই দুআটি দুনিয়াতেই করে ফেলেছেন। আর আমি আমার দুআটি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের শাফায়াতের জন্য জমা রেখেছি। আল্লাহ চাইলে এটি আমার উম্মতের ঐ ব্যক্তি লাভ করবে, যে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে)।
সুনান গ্রন্থসমূহে আউফ বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (আমার রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার কাছে আসলেন এবং আমাকে আমার অর্ধেক উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করা এবং শাফায়াতের মধ্যে যে কোন একটি বেছে নেওয়ার অধিকার দিলেন, তখন আমি শাফায়াতকে বেছে নিলাম। আর এটি তাদের জন্য যারা আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করেছে)। অন্য বর্ণনায় আছে: (যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরিক না করা অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে আমার শাফায়াত লাভ করবে)।
আর এই মূলনীতি - অর্থাৎ তাওহীদ - হলো দ্বীনের মূল ভিত্তি, যা ব্যতীত আল্লাহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কারও কাছ থেকেই অন্য কোন দ্বীন কবুল করবেন না। আল্লাহ এ দিয়েই রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল প্রেরণ করেছি তাদের জিজ্ঞেস করো, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত ইবাদত করার জন্য অন্য কোন উপাস্য নির্ধারণ করেছিলাম?} [যুখরুফ: ৪৫]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমার পূর্বে আমি যে রাসূলই পাঠিয়েছি, তাকে এ ওহীই দিয়েছি যে, আমি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।} [আম্বিয়া: ২৫]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। অতঃপর তাদের মধ্যে কাউকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং কারও ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে।} [নাহল: ৩৬]।
মহান আল্লাহ প্রত্যেক রাসূল সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তারা তাদের দাওয়াত শুরু করেছিলেন এই বলে: ((হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন উপাস্য নেই))।
মুসনাদে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে তলোয়ারসহ আমাকে পাঠানো হয়েছে, যতক্ষণ না একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করা হয় যাঁর কোন শরিক নেই। আর আমার রিযিক রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়ার নিচে, আর যারা আমার আদেশের বিরোধিতা করবে তাদের ওপর লাঞ্ছনা ও অপমান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত)।
কুরাইশ ও অন্যান্য মুশরিকরা যাদের শিরকের কথা কুরআন বর্ণনা করেছে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাদের রক্ত ও সম্পদ হালাল করেছিলেন, যাদের পরিবারের সদস্যদের যুদ্ধবন্দী করেছিলেন এবং যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত করেছিলেন, তারা এই স্বীকৃতি দিত যে, আল্লাহ একাই আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। যেমন আল্লাহ বলেছেন: {যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে: আল্লাহ। বলুন: সকল প্রশংসা আল্লাহরই। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।} [লুকমান: ২৫]। এবং তিনি বলেন: {আর আপনি যদি তাদের জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়োজিত করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে: আল্লাহ। তবে তারা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে?} [আনকাবুত: ৬১]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, পৃথিবী এবং তাতে যা আছে তা কার? যদি তোমরা জানো। তারা অচিরেই বলবে: আল্লাহর। বলুন, তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না? বলুন, সাত আকাশের অধিপতি এবং মহান আরশের অধিপতি কে? তারা অচিরেই বলবে: আল্লাহ। বলুন, তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না? বলুন, কার হাতে সকল কিছুর কর্তৃত্ব এবং যিনি আশ্রয় দান করেন কিন্তু যাঁর বিপরীতে কেউ আশ্রয় পেতে পারে না, যদি তোমরা জানো? তারা অচিরেই বলবে: আল্লাহ। বলুন, তবে তোমরা কোত্থেকে জাদুগ্রস্ত হচ্ছ? বরং আমি তাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছি এবং তারা তো অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোন উপাস্য নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক উপাস্য স্বীয় সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।} [মুমিনুন: ৮৪-৯১]।
মুশরিকরা যারা তাঁর সাথে অন্যান্য উপাস্য স্থির করেছিল, তারা এ কথা স্বীকার করত যে তাদের উপাস্যগুলো সৃষ্ট। কিন্তু তারা সেগুলোকে সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করত এবং তাদের ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য কামনা করত। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের ক্ষতি করতে পারে না এবং তাদের উপকারও করতে পারে না, এবং তারা বলে: এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। বলুন, তোমরা কি আল্লাহকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না? তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে।} [ইউনুস: ১৮]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে...}
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
أقسام الموصوفين بالشركقال المؤلف رحمه الله تعالى: [بين سبحانه بالمثل الذي ضربه لهم: أنه لا ينبغي أن يجعل مملوكه شريكه فقال: هل لكم مما ملكت أيمانكم من شركاء فيما رزقناكم، فأنتم فيه سواء يخاف أحدكم مملوكه كما يخاف بعضكم بعضاً، فإذا كان أحدكم لا يرضى أن يكون مملوكه شريكه فكيف ترضونه لأنفسكم؟ وهذا كما كانوا يقولون: له بنات، فقال تعالى: {وَيَجْعَلُونَ لِلَّهِ مَا يَكْرَهُونَ وَتَصِفُ أَلْسِنَتُهُمُ الْكَذِبَ أَنَّ لَهُمْ الْحُسْنَى لا جَرَمَ أَنَّ لَهُمُ النَّارَ وَأَنَّهُمْ مُفْرَطُونَ} [النحل:62]، وقد قال تعالى: {وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالأُنثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ * يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ * لِلَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الأَعْلَى وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [النحل:58 - 60].
والمشركون الذين وصفهم الله ورسوله بالشرك أصلهم صنفان: قوم نوح وقوم إبراهيم، فقوم نوح عليه السلام كان أصل شركهم العكوف على قبور الصالحين، ثم صوروا تماثيلهم ثم عبدوهم، وقوم إبراهيم عليه السلام كان أصل شركهم عبادة الكواكب والشمس والقمر، وكل من هؤلاء يعبدون الجن، فإن الشياطين قد تخاطبهم وتعينهم على أشياء وقد يعتقدون أنهم يعبدون الملائكة وإن كانوا في الحقيقة إنما يعبدون الجن؛ فإن الجن هم الذين يعينونهم ويرضون بشركهم، قال تعالى: {وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ يَقُولُ لِلْمَلائِكَةِ أَهَؤُلاءِ إِيَّاكُمْ كَانُوا يَعْبُدُونَ * قَالُوا سُبْحَانَكَ أَنْتَ وَلِيُّنَا مِنْ دُونِهِمْ بَلْ كَانُوا يَعْبُدُونَ الْجِنَّ أَكْثَرُهُمْ بِهِمْ مُؤْمِنُونَ} [سبأ:40 - 41].
والملائكة لا تعينهم على الشرك لا في المحيا ولا في الممات ولا يرضون بذلك، ولكن الشياطين قد تعينهم وتتصور لهم في صور الآدميين، فيرونهم بأعينهم ويقول أحدهم: أنا إبراهيم، أنا المسيح، أنا محمد، أنا الخضر، أنا أبو بكر، أنا عمر، أنا عثمان، أنا علي، أنا الشيخ فلان وقد يقول بعضهم عن بعض: هذا هو النبي فلان، أو هذا هو الخضر، ويكون أولئك كلهم جناً يشهد بعضهم لبعض، والجن كالإنس، فمنهم الكافر ومنهم الفاسق ومنهم العاصي وفيهم العابد الجاهل، فمنهم من يحب شيخاً فيتزيا في صورته ويقول: أنا فلان، ويكون ذلك في برية ومكان قفر، فيطعم ذلك الشخص طعاماً ويسقيه شراباً أو يدله على الطريق، أو يخبره ببعض الأمور الواقعة الغائبة، فيظن ذلك الرجل أن نفس الشيخ الميت أو الحي فعل ذلك، وقد يقول: هذا سر الشيخ وهذه رقيقته وهذه حقيقته، أو هذا ملك جاء على صورته، وإنما يكون ذلك جنياً، فإن الملائكة لا تعين على الشرك والإفك والإثم والعدوان، وقد قال الله تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِهِ فَلا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنكُمْ وَلا تَحْوِيلًا * أُوْلَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا} [الإسراء:56 - 57].
قال طائفة من السلف: كان أقوام يدعون الملائكة والأنبياء كالعزير والمسيح، فبين الله تعالى أن الملائكة والأنبياء عباد الله، كما أن الذين يعبدونهم عباد الله، وبين أنهم يرجون رحمته ويخافون عذابه ويتقربون إليه كما يفعل سائر عباده الصالحين].
শিরকে লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রকারভেদলেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [মহান আল্লাহ তাদের জন্য পেশকৃত উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে: কারও পক্ষে তার মালিকানাধীন দাসকে নিজের অংশীদার করা সমীচীন নয়। তিনি বলেছেন: "তোমাদের জন্য কি তোমাদের মালিকানাধীন দাসদের মধ্য থেকে এমন কোনো অংশীদার রয়েছে যা আমরা তোমাদেরকে রিযিক হিসেবে দিয়েছি, যাতে তোমরা তাতে সমান হয়ে যাও এবং তোমরা তাদেরকে সেভাবে ভয় করো যেভাবে তোমরা পরস্পরকে ভয় করো?" সুতরাং তোমাদের কেউ যদি তার দাসকে নিজের অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করতে পছন্দ না করে, তবে তোমরা আল্লাহর জন্য তা কীভাবে পছন্দ করো? আর এটি তেমনি, যেমন তারা বলত: আল্লাহর কন্যাসন্তান রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা আল্লাহর জন্য তা-ই স্থির করে যা তারা নিজেরা অপছন্দ করে এবং তাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের জন্য রয়েছে আগুন এবং তারা হবে অগ্রগামী।} [আন-নাহল: ৬২], মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার গ্লানি হেতু সে নিজ কওম থেকে আত্মগোপন করে। সে কি হীনতা সত্ত্বেও তাকে রেখে দেবে, নাকি তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যা ফয়সালা করে তা কতই না নিকৃষ্ট! যারা আখিরাতে ঈমান আনে না, তাদের জন্যই রয়েছে মন্দ উদাহরণ; আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [আন-নাহল: ৫৮-৬০]।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যাদেরকে শিরকের বিশেষণে বিশেষিত করেছেন, সেই মুশরিকরা মূলত দুই প্রকার: নূহের (আলাইহিস সালাম) কওম এবং ইবরাহীমের (আলাইহিস সালাম) কওম। নূহ আলাইহিস সালামের কওমের শিরকের মূল ভিত্তি ছিল নেককার ব্যক্তিদের কবরে অবস্থান করা (ইতিকাফ করা), তারপর তারা তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করে এবং পরিশেষে তাদের ইবাদত শুরু করে। আর ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কওমের শিরকের মূল ভিত্তি ছিল নক্ষত্র, সূর্য ও চন্দ্রের ইবাদত। আর এদের প্রত্যেকেই জিনের ইবাদত করে। কারণ শয়তানরা তাদের সাথে কথা বলে এবং বিভিন্ন কাজে তাদের সাহায্য করে। অনেক সময় তারা মনে করে যে তারা ফেরেশতাদের ইবাদত করছে, যদিও বাস্তবে তারা কেবল জিনেরই ইবাদত করে। কারণ জিনরাই তাদের সাহায্য করে এবং তাদের শিরকে সন্তুষ্ট থাকে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যেদিন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন, তারপর ফেরেশতাদের বলবেন, এরা কি তোমাদেরই ইবাদত করত? তারা বলবে, আপনি পবিত্র! আপনিই আমাদের অভিভাবক, তারা নয়; বরং তারা জিনেরই ইবাদত করত। তাদের অধিকাংশ তাদের প্রতিই ঈমান রাখত।} [সাবা: ৪০-৪১]।
আর ফেরেশতারা জীবনে বা মরণে কখনোই তাদের শিরকের ওপর সাহায্য করেন না এবং তারা এতে সন্তুষ্টও নন। তবে শয়তানরা তাদের সাহায্য করে এবং মানুষের রূপ ধরে তাদের সামনে আবির্ভূত হয়। তারা তাদের চাক্ষুষ দেখে এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে: আমি ইবরাহীম, আমি মসীহ, আমি মুহাম্মদ, আমি খিজির, আমি আবু বকর, আমি উমর, আমি উসমান, আমি আলী কিংবা আমি অমুক শায়খ। আবার কেউ কেউ একে অপরের সম্পর্কে বলে: ইনি হলেন অমুক নবী অথবা ইনি হলেন খিজির। অথচ তারা সবাই হচ্ছে জিন, যারা একে অপরের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। জিনরা মানুষের মতোই; তাদের মধ্যে কাফির আছে, ফাসিক আছে, পাপাচারী আছে এবং তাদের মধ্যে অজ্ঞ ইবাদতকারীও রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কোনো শায়খকে ভালোবাসে, ফলে সে তার রূপ ধারণ করে বলে: আমি অমুক। আর এটি ঘটে কোনো মরুভূমি বা জনমানবহীন স্থানে। সেখানে সে ব্যক্তিকে খাবার ও পানীয় দেয় অথবা তাকে পথ দেখিয়ে দেয় কিংবা অদৃশ্য কোনো ঘটে যাওয়া সংবাদ তাকে জানায়। তখন সেই লোকটি মনে করে যে, মৃত বা জীবিত সেই শায়খ নিজেই এই কাজটি করেছেন। সে হয়তো বলে: এটি শায়খের গুপ্ত রহস্য, এটি তাঁর সূক্ষ্ম সত্তা কিংবা তাঁর হাকীকত। অথবা সে মনে করে এটি কোনো ফেরেশতা যে তাঁর রূপে এসেছে। অথচ সে মূলত একজন জিন। কারণ ফেরেশতারা শিরক, মিথ্যাচার, পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সাহায্য করেন না। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে উপাস্য মনে করো তাদের ডাকো; তারা তোমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করার বা পরিবর্তনের কোনো ক্ষমতা রাখে না। তারা যাদেরকে ডাকে, তারা নিজেরাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের উপায় অনুসন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে কত বেশি নিকটবর্তী হতে পারে এবং তারা তাঁর দয়া আশা করে ও তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় আপনার রবের শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ।} [আল-ইসরা: ৫৬-৫৭]।
পূর্বসূরিদের একদল বলেছেন: কিছু সম্প্রদায় ফেরেশতা এবং নবীদের ডাকত, যেমন উযাইর ও মসীহ। তখন মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ফেরেশতা ও নবীগণ আল্লাহর বান্দা, ঠিক যেমন যারা তাদের ইবাদত করে তারাও আল্লাহর বান্দা। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, তারা তাঁর রহমতের আশা করে, তাঁর শাস্তিকে ভয় করে এবং তাঁর নৈকট্য অনুসন্ধান করে, যেমনটি অন্যান্য নেককার বান্দারা করে থাকে।]
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
أنواع الاستشفاع بالملائكة والنبيينقال رحمه الله تعالى: [والمشركون من هؤلاء قد يقولون: إنا نستشفع بهم أي نطلب من الملائكة والأنبياء أن يشفعوا، فإذا أتينا قبر أحدهم طلبنا منه أن يشفع لنا، فإذا صورنا تمثاله -والتماثيل إما مجسدة وإما تماثيل مصورة كما يصورها النصارى في كنائسهم- قالوا: فمقصودنا بهذه التماثيل تذكر أصحابها وسيرهم، ونحن نخاطب هذه التماثيل ومقصودنا خطاب أصحابها ليشفعوا لنا إلى الله، فيقول أحدهم: يا سيدي فلان، أو يا سيدي جرجس أو بطرس أو يا ستي الحنونة مريم، أو يا سيدي الخليل أو موسى بن عمران أو غير ذلك، اشفع لي إلى ربك، وقد يخاطبون الميت عند قبره: سل لي ربك، أو يخاطبون الحي وهو غائب كما يخاطبونه لو كان حاضراً حياً، وينشدون قصائد، يقول أحدهم فيها: يا سيدي فلان! أنا في حسبك أنا في جوارك، اشفع لي إلى الله، سل الله لنا أن ينصرنا على عدونا، سل الله أن يكشف عنا هذه الشدة، أشكو إليك كذا وكذا، فسل الله أن يكشف هذه الكربة.
أو يقول أحدهم: سل الله أن يغفر لي، ومنهم من يتأول قوله تعالى: {وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَحِيمًا} [النساء:64]، ويقولون: إذا طلبنا منه الاستغفار بعد موته كنا بمنزلة الذين طلبوا الاستغفار من الصحابة، ويخالفون بذلك إجماع الصحابة والتابعين لهم بإحسان وسائر المسلمين، فإن أحداً منهم لم يطلب من النبي صلى الله عليه وسلم بعد موته أن يشفع له ولا سأله شيئاً، ولا ذكر ذلك أحد من أئمة المسلمين في كتبهم، وإنما ذكر ذلك من ذكره من متأخري الفقهاء، وحكوا حكاية مكذوبة على مالك رضي الله عنه سيأتي ذكرها وبسط الكلام عليها إن شاء الله تعالى].
يقصد بذلك أن الصحابة رضي الله عنهم والتابعين وتابعيهم وأئمة السلف في القرون الثلاثة الفاضلة، لم يكن أحد منهم يأتي إلى قبر النبي صلى الله عليه وسلم فيسأله شيئاً ولا يطلب منه شيئاً لا لجلب نفع ولا لدفع ضر، هذا بإجماع أهل التحقيق من المسلمين، مع أن الصحابة تحدث لهم من الكروب والكوارث والمصائب الخاصة والعامة ما يستدعي أن يطلبوا لو كان ذلك مشروعاً من النبي صلى الله عليه وسلم أن يدعو الله، والمعنى أن الصحابة لم يكونوا يطلبون من النبي صلى الله عليه وسلم أن يدعو لهم، فهذه قاعدة عظيمة يجب استصحابها، وهي رد قاطع بين على جميع أهل الأهواء والبدع الذين يمارسون هذه الشركيات عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم، فإنه لم يرد ولم ينقل عن أحد من الأئمة المعتبرين أنه كان يقف على قبر النبي صلى الله عليه وسلم، ولا يجيز الوقوف لدعائه أو يطلب منه شيئاً لا من أمر الدين ولا من أمر الدنيا، ولا يطلب منه أن يدعو الله له.
بعضهم يقول: نعم، أنا لا أطلب من النبي صلى الله عليه وسلم شيئاً؛ لكن أطلب منه أن يدعو الله أن يفرج عن المسلمين مثلاً.
فنقول: هذا لم يحدث من الأئمة السابقين، بل كانوا إذا حدث أمر يتوجهون إلى القبلة ويدعون الله عز وجل جماعة وأفراداً مع قربهم من القبر.
إذاً: هذا إجماع على أن السلف لم يكن عندهم شيء من هذه البدع بإطلاق، فضلاً عن أن يقروها.
قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فهذه الأنواع من خطاب الملائكة والأنبياء والصالحين بعد موتهم عند قبورهم وفي مغيبهم، وخطاب تماثيلهم، هو من أعظم أنواع الشرك الموجود في المشركين من غير أهل الكتاب، وفي مبتدعة أهل الكتاب والمسلمين الذين أحدثوا من الشرك والعبادات ما لم يأذن به الله تعالى، قال الله تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} [الشورى:21]، فإن دعاء الملائكة والأنبياء بعد موتهم وفي مغيبهم وسؤالهم والاستغاثة بهم والاستشفاع بهم في هذه الحال، ونصب تماثيلهم بمعنى طلب الشفاعة منهم هو من الدين الذي لم يشرعه الله ولا ابتعث به رسولاً ولا أنزل به كتاباً، وليس هو واجباً ولا مستحباً باتفاق المسلمين، ولا فعله أحد من الصحابة والتابعين لهم بإحسان، ولا أمر به إمام من أئمة المسلمين، وإن كان ذلك مما يفعله كثير من الناس ممن له عبادة وزهد، ويذكرون فيه حكايات ومنامات، فهذا كله من الشيطان، وفيهم من ينظم القصائد في دعاء الميت والاستشفاع به والاستغاثة، أو يذكر ذلك في ضمن مديح الأنبياء والصالحين، فهذا كله ليس بمشروع ولا واجب ولا مستحب باتفاق أئمة المسلمين، ومن تعبد بعبادة ليست واجبة ولا مستحبة وهو يعتقدها واجبة أو مستحبة فهو ضال مبتدع بدعة سيئة لا بدعة حسنة باتفاق أئمة الدين، فإن الله لا يعبد إلا بما هو واجب أو مستحب.
وكثير من الناس يذكرون في هذه الأنواع من الشرك منافع ومصالح، ويحتجون عليها بحجج من جهة الرأي أو الذوق، أو من جهة التقليد والمنامات ونحو ذلك.
وجواب هؤلاء من طريقين: أحدهما: الاحتجاج بالنص والإجماع.
والثاني: القياس والذوق والاعتبار ببيان ما في ذلك من الفساد، فإن فساد ذلك راجح على
ফেরেশতা ও নবীগণের মাধ্যমে সুপারিশ কামনার প্রকারভেদতিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: [আর এই মুশরিকদের অনেকে বলতে পারে: আমরা তাঁদের মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করি; অর্থাৎ আমরা ফেরেশতা ও নবীগণের কাছে সুপারিশ করতে চাই। সুতরাং যখন আমরা তাঁদের কারো কবরে আসি, তখন আমরা তাঁদের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ প্রার্থনা করি। আর যখন আমরা তাঁদের প্রতিমূর্তি তৈরি করি—আর প্রতিমূর্তিগুলো হয় দেহধারী অথবা চিত্রিত, যেমন খ্রিস্টানরা তাদের গির্জাগুলোতে চিত্রিত করে থাকে—তখন তারা বলে: এই প্রতিমূর্তিগুলোর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো তাঁদের এবং তাঁদের জীবনীর কথা স্মরণ করা। আমরা এই প্রতিমূর্তিগুলোকে সম্বোধন করি এবং আমাদের উদ্দেশ্য হলো তাঁদের মূল ব্যক্তিদের সম্বোধন করা, যাতে তাঁরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করেন। তখন তাদের কেউ বলে: হে আমার সরদার অমুক, অথবা হে আমার সরদার জর্জেস বা পিটার, অথবা হে আমার দয়ালু কর্ত্রী মারিয়াম, অথবা হে আমার সরদার খলিল বা মুসা ইবনে ইমরান অথবা অন্য কেউ, আপনার রবের কাছে আমার জন্য সুপারিশ করুন। কখনো তারা কবরের পাশে মৃত ব্যক্তিকে সম্বোধন করে বলে: আপনার রবের কাছে আমার জন্য প্রার্থনা করুন; অথবা কোনো অনুপস্থিত জীবিত ব্যক্তিকে এমনভাবে সম্বোধন করে যেন তিনি উপস্থিত এবং জীবিত আছেন। তারা কবিতা আবৃত্তি করে, যার মধ্যে কেউ বলে: হে আমার সরদার অমুক! আমি আপনার আশ্রয়ে, আমি আপনার পাশে; আল্লাহর কাছে আমার জন্য সুপারিশ করুন। আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন যেন তিনি আমাদের শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য করেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন যেন তিনি আমাদের থেকে এই বিপদ দূর করেন। আমি আপনার কাছে অমুক অমুক বিষয়ে অভিযোগ করছি, সুতরাং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন যেন তিনি এই দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেন।
অথবা তাদের কেউ বলে: আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন যেন তিনি আমাকে ক্ষমা করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মহান আল্লাহর এই বাণীর অপব্যাখ্যা করে: {আর যখন তারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা আপনার কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রাসুলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তাওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত} [আন-নিসা: ৬৪]। তারা বলে: যদি আমরা তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, তবে আমরা সেই লোকদের স্থলাভিxtভুক্ত হব যারা সাহাবীগণের যুগে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল। তারা এর মাধ্যমে সাহাবী, উত্তমভাবে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ এবং অবশিষ্ট মুসলিমদের ঐকমত্যের (ইজমা) বিরোধিতা করে। কারণ, তাঁদের কেউই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পর তাঁর কবরের কাছে এসে সুপারিশ প্রার্থনা করেননি এবং তাঁর কাছে কোনো কিছু চাননি। মুসলিমদের ইমামদের কেউ তাঁদের কিতাবে এটি উল্লেখ করেননি। বরং পরবর্তী যুগের ফকিহদের মধ্যে যারা এটি উল্লেখ করেছেন, তারা ইমাম মালেক (রা.)-এর ওপর একটি মিথ্যা কাহিনী বর্ণনা করেছেন, যার আলোচনা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।]
এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, সাহাবী (রা.), তাবিঈ, তাবি-তাবিঈ এবং তিনটি শ্রেষ্ঠ যুগের সালাফদের ইমামগণের মধ্যে কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের কাছে এসে তাঁর কাছে কোনো কিছু চাইতেন না; উপকার লাভ বা অপকার দূর করার জন্যও কোনো প্রার্থনা করতেন না। মুসলিমদের সত্যনিষ্ঠ আলিমদের ঐকমত্যে এটি প্রমাণিত। অথচ সাহাবীগণের জীবনে এমন অনেক ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক দুঃখ-দুর্দশা ও বিপদ-আপদ এসেছিল, যা দাবি করত যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি বেঁচে থাকতেন তবে তাঁরা তাঁর কাছে আল্লাহর কাছে দুআ করার অনুরোধ জানাতেন। এর অর্থ হলো, সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (মৃত্যুর পর) তাঁর কাছে তাঁদের জন্য দুআ করার অনুরোধ করতেন না। এটি একটি মহান মূলনীতি যা সর্বদা স্মরণে রাখা আবশ্যক। এটি সকল প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতিদের জন্য একটি চূড়ান্ত ও স্পষ্ট জবাব, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের কাছে এই শিরকি কাজে লিপ্ত হয়। কারণ, নির্ভরযোগ্য কোনো ইমাম থেকে এটি বর্ণিত হয়নি এবং কোনো বর্ণনাও পাওয়া যায় না যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দুআ করার জন্য অবস্থান করেছেন, কিংবা তাঁর কাছে দ্বীন বা দুনিয়ার কোনো বিষয়ে কিছু চেয়েছেন, অথবা তাঁর কাছে আল্লাহর নিকট দুআ করার অনুরোধ করেছেন।
তাদের কেউ কেউ বলে: হ্যাঁ, আমি তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কোনো কিছু চাইছি না; বরং আমি তাঁর কাছে অনুরোধ করছি যেন তিনি আল্লাহর কাছে মুসলিমদের কষ্ট লাঘবের জন্য দুআ করেন।
আমরা বলি: এটি পূর্ববর্তী ইমামদের থেকে ঘটেনি। বরং যখন কোনো সমস্যা দেখা দিত, তখন তাঁরা কবরের নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও কিবলার দিকে মুখ করতেন এবং সম্মিলিতভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে মহান আল্লাহর কাছে দুআ করতেন।
অতএব, এটি একটি ইজমা বা ঐক্যমত যে, সালাফদের মধ্যে এই বিদআতগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না, সেগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া তো দূরের কথা।
লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: [সুতরাং কবরের পাশে বা তাঁদের অনুপস্থিতিতে ফেরেশতা, নবী ও নেককার ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর তাঁদের সম্বোধন করার এই প্রকারগুলো এবং তাঁদের প্রতিমূর্তিগুলোকে সম্বোধন করা—আহলুল কিতাব বহির্ভূত মুশরিকদের মধ্যে এবং আহলুল কিতাবের বিদআতিদের মধ্যে এবং সেই সব মুসলিমদের মধ্যে বিদ্যমান শিরকের অন্যতম বড় প্রকার যারা এমন শিরক ও ইবাদত উদ্ভাবন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ তাআলা দেননি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তবে কি তাদের এমন কিছু উপাস্য আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} [আশ-শুরা: ২১]। ফেরেশতা ও নবীদের তাঁদের মৃত্যুর পর বা তাঁদের অনুপস্থিতিতে ডাকা, তাঁদের কাছে চাওয়া, তাঁদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং এই অবস্থায় তাঁদের মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করা এবং তাঁদের সুপারিশ পাওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁদের প্রতিমূর্তি স্থাপন করা—এমন দ্বীন যা আল্লাহ প্রবর্তন করেননি, কোনো রাসুলকে দিয়ে পাঠাননি এবং কোনো কিতাবেও নাজিল করেননি। এটি মুসলিমদের ঐকমত্যে কোনো ওয়াজিব বা মুস্তাহাব নয়। সাহাবী ও তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারী তাবিঈদের কেউ এটি করেননি এবং মুসলিমদের কোনো ইমামও এর নির্দেশ দেননি। যদিও ইবাদত ও যুহদ পালনকারী অনেক মানুষ এই কাজগুলো করে থাকে এবং এ বিষয়ে তারা নানা কাহিনী ও স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে, তবে এ সব কিছুই শয়তানের পক্ষ থেকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত ব্যক্তিকে ডাকার জন্য, তাঁর মাধ্যমে সুপারিশ ও সাহায্য চাওয়ার জন্য কবিতা রচনা করে, অথবা নবী ও নেককারদের প্রশংসার মধ্যে এগুলো উল্লেখ করে। মুসলিম ইমামদের ঐকমত্যে এ সবের কোনোটিই শরিয়তসম্মত নয়, ওয়াজিব নয় এবং মুস্তাহাবও নয়। যে ব্যক্তি এমন কোনো ইবাদত করল যা ওয়াজিব বা মুস্তাহাব নয় এবং সেটিকে ওয়াজিব বা মুস্তাহাব মনে করে করল, তবে সে দ্বীনের ইমামদের ঐকমত্যে একজন ভ্রষ্ট ও মন্দ বিদআতকারী, এটি কোনো 'বিদআতে হাসানা' নয়। কারণ, ওয়াজিব বা মুস্তাহাব পদ্ধতি ছাড়া আল্লাহর ইবাদত করা যায় না।
আর অনেক মানুষ শিরকের এই প্রকারগুলোর মধ্যে বিভিন্ন উপকার ও কল্যাণের কথা উল্লেখ করে এবং এগুলোর সপক্ষে যুক্তি, রুচি অথবা তাকলিদ ও স্বপ্নের মাধ্যমে দলিল প্রদান করে।
এদের জবাব দুইভাবে দেওয়া যায়: এক. কুরআন-সুন্নাহর দলীল ও ইজমার মাধ্যমে দলিল পেশ করা।
দুই. কিয়াস, রুচি ও বিবেচনার মাধ্যমে এর মধ্যকার ফাসাদ বা অনিষ্টতা বর্ণনা করা। কারণ এর ফাসাদ বা অনিষ্টতা কল্যাণ অপেক্ষা অনেক বেশি...]
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الأسئلة
প্রশ্নসমূহ
(খণ্ড: ৩)
শারহু কিতাবি কায়িদাতিন জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الحكم على الجماعات والأحزاب
السؤال هذا سؤال يتكرر عن بعض الجماعات، وأحياناً يكون عن جماعات بأسمائها؟
الجواب قد لا يكون لمثل هذا السؤال موجب لمثل هذا الدرس، لكن أحب أن أجيب بجواب مجمل يشمل جميع الجماعات القائمة في الساحة: أولاً: نحن نعلم أن السنة والجماعة ليست شعاراً ولا حزباً ولا مناهج ولا تنسب إلى أشخاص ولا تنسب إلى فئات، السنة والجماعة وصف لكل من كان على الحق واقتدى بأئمة الدين الأحياء والأموات، وليس للسنة والجماعة شعار ولا وصف إلا الأوصاف الشرعية؛ فمن رفع شعاراً غير السنة والجماعة وشعار الإسلام العام زعماً أنه هو شعار السنة والجماعة فليس معه دليل.
ويتفرع عن هذا القاعدة الأخرى، وهي أن أي انتماء لأي اسم أو وصف غير الإسلام في عمومه أو غير السلف والسنة على وجه الخصوص فإنما هو بدعة، أي: أن الانتماء لهذه الأوصاف والأسماء والأشكال والجماعات والرايات والأحزاب والشعارات فهو بدعة بحد ذاته، حتى وإن كان على الحق، لأن مجرد الانتساب لغير الإسلام والسنة والجماعة والسلف بدعة؛ لأنها أسماء شرعية وردت فيها النصوص والآثار وأجمع عليها سلف الأمة.
يرد إشكال وهو ما يعمله كثير من المسلمين الآن من مقتضى أحوال العصر ووسائله ومن الأعمال المؤسسية، كأن يعمل الإنسان في مؤسسة حكومية أو مؤسسة خيرية أو مؤسسة خاصة؛ فهذه مسألة لا تدخل في الشعارات إلا إذا تعصب لها وعادى ووالى، واعتبر مناهجها مناهج متميزة عن بقية السنة والجماعة، فإذا وجد التميز وجد الابتداع، وكذلك إذا وجد الولاء والبراء حتى وإن كان لمؤسسة تجارية، أما مجرد العمل المؤسسي فليس بدعة، كأن يعمل مثلاً في مؤسسة الحرمين أو في الرابطة أو في الندوة أو في إحدى المؤسسات التطوعية الخالصة أو الرسمية، أو هيئة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، أو متعاون مع هيئة بطرق مشروعة أو نحو ذلك، فهذا مادام في حدود أعمال الخير المباحة المشروعة فليس من الانتماءات المبتدعة، لكن إذا كان الانتماء لجماعة أو حزب أو منهج أو شعار، أو اتجاه أو نحو ذلك، فالأصل فيه الابتداع، فإن وافق الحق فيكون أقرب إلى السنة، وإلا فيزداد ابتداعاً مع ابتداع.
أرجو أن تكون القاعدة واضحة، بصرف النظر عما سأل عنه السائل من تشخيص بعض الجماعات.
জামাত ও দলসমূহের ওপর বিধান প্রশ্নএটি এমন একটি প্রশ্ন যা কিছু জামাত সম্পর্কে বারবার করা হয়, আর কখনো কখনো তা নির্দিষ্ট জামাতের নাম উল্লেখ করে করা হয়?
উত্তরএই ধরনের পাঠে এই জাতীয় প্রশ্নের অবকাশ হয়তো নেই, তবে আমি একটি সামগ্রিক উত্তর দিতে চাই যা ময়দানে বিদ্যমান সকল জামাতকে অন্তর্ভুক্ত করবে: প্রথমত: আমরা জানি যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত কোনো স্লোগান নয়, কোনো দল নয়, কোনো মানহাজ (পদ্ধতি) নয় এবং তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত নয়। সুন্নাহ ও জামাত হলো এমন প্রতিটি ব্যক্তির বিশেষণ যারা হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং দ্বীনের জীবিত ও মৃত ইমামগণের অনুসরণ করে। শরয়ি বিশেষণ ব্যতীত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আর কোনো স্লোগান বা বিশেষত্ব নেই; সুতরাং সুন্নাহ ও জামাত এবং ইসলামের সাধারণ স্লোগান ব্যতীত অন্য কোনো স্লোগানকে সুন্নাহ ও জামাতের স্লোগান হিসেবে দাবি করে যারা উঁচিয়ে ধরে, তাদের কাছে কোনো দলিল নেই।
এখান থেকে আরেকটি মূলনীতি বেরিয়ে আসে, আর তা হলো—সাধারণভাবে ইসলাম কিংবা বিশেষভাবে সালাফ ও সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো নাম বা বিশেষণের দিকে যেকোনো সম্পৃক্ততা হলো বিদআত। অর্থাৎ: এই সকল বিশেষণ, নাম, আকৃতি, জামাত, ঝাণ্ডা, দল ও স্লোগানের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া নিজেই একটি বিদআত, এমনকি তারা হকের ওপর থাকলেও। কারণ ইসলাম, সুন্নাহ, জামাত এবং সালাফ ব্যতীত অন্য কিছুর সাথে কেবল সম্বন্ধ স্থাপন করাই বিদআত; কেননা এগুলো শরয়ি নাম যার স্বপক্ষে নস ও আছার (দলিল ও বর্ণনা) রয়েছে এবং উম্মতের সালাফগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
এখানে একটি সংশয় দেখা দিতে পারে, যা বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপট ও মাধ্যম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাজের প্রয়োজনে অনেক মুসলিম করে থাকেন। যেমন কোনো ব্যক্তির সরকারি প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা; এটি স্লোগান বা দলাদলির অন্তর্ভুক্ত হবে না—ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না সে এর প্রতি অন্ধ পক্ষালম্বন করে এবং এর ভিত্তিতে শত্রুতা ও মিত্রতা (ওয়ালা-বারা) পোষণ করে, আর এর কর্মপদ্ধতিকে অবশিষ্ট আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত থেকে স্বতন্ত্র মনে করে। সুতরাং যেখানেই এই স্বাতন্ত্র্য তৈরি হবে, সেখানেই বিদআতের উদ্ভব হবে। একইভাবে যদি শত্রুতা ও মিত্রতা (ওয়ালা-বারা) বিদ্যমান থাকে, এমনকি তা কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হলেও। তবে নিছক প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করা বিদআত নয়। যেমন উদাহরণস্বরূপ কেউ হারামাইন ফাউন্ডেশন, রাবেতা (ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগ), নাদওয়া (ওয়ামী), কোনো খাঁটি স্বেচ্ছাসেবী বা সরকারি প্রতিষ্ঠান অথবা ‘আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার’ সংস্থায় কাজ করে, কিংবা বৈধ উপায়ে কোনো সংস্থার সাথে সহযোগিতা করে; তবে এগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত বৈধ ও শরয়ি কল্যাণকর কাজের গণ্ডির মধ্যে থাকবে, ততক্ষণ তা বিদআতি সম্পৃক্ততা হিসেবে গণ্য হবে না। কিন্তু যদি কোনো জামাত, দল, মানহাজ, স্লোগান, বিশেষ মতাদর্শ বা এই জাতীয় কিছুর সাথে সম্পৃক্ততা হয়, তবে তার মূল ভিত্তি হলো বিদআত। এরপর যদি তা হকের অনুকূলে হয় তবে তা সুন্নাহর নিকটবর্তী হবে, অন্যথায় বিদআতের ওপর বিদআত বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
আমি আশা করি মূলনীতিটি স্পষ্ট হয়েছে, প্রশ্নকারী নির্দিষ্ট কিছু জামাত চিহ্নিত করার যে প্রশ্ন করেছেন তা বাদ দিয়েই।