(খণ্ড: ১) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: -)
طبقات المحدثين بأصبهان والواردين عليها   (أبو الشيخ الأصبهاني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: طبقات المحدثين بأصبهان والواردين عليها

المؤلف: أبو محمد عبد الله بن محمد بن جعفر بن حيان الأنصاري المعروف بأبِي الشيخ الأصبهاني (ت 369هـ)

المحقق: عبد الغفور عبد الحق حسين البلوشي

الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت

الطبعة: الثانية، 1412 - 1992

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আসবাহানের মুহাদ্দিসগণ এবং সেখানে আগমনকারীদের জীবনীস্তর   (আবুশ শায়খ আল-আসবাহানী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আসবাহানের মুহাদ্দিসগণ এবং সেখানে আগমনকারীদের জীবনীস্তর

লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে হাইয়ান আল-আনসারী, যিনি আবুশ শায়খ আল-আসবাহানী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৬৯ হিজরি)

সম্পাদক: আবদুল গফুর আবদুল হক হুসাইন আল-বালুশী

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১২ - ১৯৯২

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١)
طَبَقَاتُ الْمُحَدِّثِينَ بِأَصْبَهَانَ لِأَبِي الشَّيْخِ الْأَصْبَهَانِيِّ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَقَّ حَمْدِهِ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ، وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ كَثِيرًا أَخْبَرَنَا شَيْخُنَا أَبُو الحَجَّاجِ يُوسُفُ بْنُ خَلِيلِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدِّمَشْقِيُّ قَالَ: أبنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي زَيْدٍ الْكَرَّانِيُّ قَالَ: أبنا أَبُو طَاهِرٍ إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ جَعْفَرٍ الرَّاشتيناتيُّ، قَالَ شَيْخُنَا: وأبنا أَبُو الْمَحَاسِنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسِن بْنش الْحُسَيْنِ بْنِ الْأَصْفَهْبَدِ وَقَالَ: أبنا أَبُو الْفَضْلِ جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الثَّقَفِيُّ قَالَا: أبنا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي عَلِيٍّ الذَّكْوَانِيُّ قَالَ: أبنا الْإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفرِ بْنِ حَيَّانَ الْمَعْرُوفُ بِأَبِي الشَّيْخِ رحمه الله قَالَ: هَذَا كِتَابُ «طَبَقَاتِ أَسْمَاءِ الْمُحَدِّثِينَ مِمَّنْ قَدِمَ أَصْبَهَانَ» مِنَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ كَانَ بِهَا وَقْتَ فَتْحِهَا إِلَى زَمَانِنَا هَذَا مَعَ ذِكْرِ كُلِّ مَنْ تَفَرَّدَ بِهِ وَاحِدٌ مِنْهُمْ بِذَلِكَ الْحَدِيثِ وَلَمْ يَرْوِهِ غَيْرُهُ بِذَلِكَ الْإِسْنَادِ أَوْ حَدِيثٍ مِنْ حَدِيثِهِ، وَذِكْرِ أَنْسَابِهِمْ وَأَسَامِيهِمْ وَمَوْتِهِمْ عَلَى مَا رُوِيَ لَنَا وَذُكِرَ، وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ وَهُوَ حَسْبُنَا وَنِعْمَ الْوَكِيلُ. وَأَوَّلُ مَا نَذْكُرُ فِي كِتَابِنَا هَذَا: مَا رُوِيَ لَنَا فِي فَضْلِ بَلَدِنَا مِنْ دَعْوَةِ إِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلِ عليه السلام وَمَا قِيلَ فِي ذَلِكَ
আবুশ শাইখ আল-আসফাহানি রচিত আসফাহানের মুহাদ্দিসগণের স্তরসমূহ। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যা তাঁর প্রাপ্য। এবং নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। আমাদের শাইখ আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিল ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবি যাইদ আল-কাররানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির ইসহাক ইবনে আহমাদ ইবনে জাফর আর-রাশতিনতি। আমাদের শাইখ বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাহাসিন মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান ইবনুল হুসাইন ইবনুল আসফাহবাদ এবং তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল জাফর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আস-সাকাফি, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইবনে আবি বকর ইবনে আবি আলী আদ-দাকওয়ানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে হাইয়ান, যিনি আবুশ শাইখ নামে পরিচিত (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি বলেন: এটি হলো ‘সাহাবী ও তাবিঈগণের মধ্য থেকে যাঁরা আসফাহানে আগমন করেছেন এবং এর বিজয়ের সময় থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত যাঁরা সেখানে অবস্থান করেছেন তাঁদের মধ্য থেকে মুহাদ্দিসগণের নামের স্তরসমূহের’ কিতাব। এর সাথে সাথে তাঁদের মধ্যে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির উল্লেখ রয়েছে যিনি কোনো একটি হাদিস বর্ণনায় একক ছিলেন এবং তিনি ব্যতীত অন্য কেউ সেই সনদ বা সেই হাদিস বর্ণনা করেননি। আরও উল্লেখ রয়েছে তাঁদের বংশপরিচয়, নাম এবং তাঁদের মৃত্যু সম্পর্কে যা আমাদের কাছে বর্ণিত ও উল্লিখিত হয়েছে। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা, তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর এই কিতাবে আমরা সর্বপ্রথম যা উল্লেখ করছি তা হলো: আমাদের শহরের ফজিলত সম্পর্কে ইবরাহিম খলিল আলাইহিস সালামের দোয়া থেকে আমাদের নিকট যা বর্ণিত হয়েছে এবং সে বিষয়ে যা বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٤٧)
‌‌مُقَدِّمَةٌ هَذَا كِتَابُ «طَبَقَاتِ أَسْمَاءِ الْمُحَدِّثِينَ مِمَّنْ قَدِمَ أَصْبَهَانَ» مِنَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ كَانَ بِهَا وَقْتَ فَتْحِهَا إِلَى زَمَانِنَا هَذَا مَعَ ذِكْرِ كُلِّ مَنْ تَفَرَّدَ بِهِ وَاحِدٌ مِنْهُمْ بِذَلِكَ الْحَدِيثِ وَلَمْ يَرْوِهِ غَيْرُهُ بِذَلِكَ الْإِسْنَادِ أَوْ حَدِيثٍ مِنْ حَدِيثِهِ، وَذِكْرِ أَنْسَابِهِمْ وَأَسَامِيهِمْ وَمَوْتِهِمْ عَلَى مَا رُوِيَ لَنَا وَذُكِرَ، وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ وَهُوَ حَسْبُنَا وَنِعْمَ الْوَكِيلُ. وَأَوَّلُ مَا نَذْكُرُ فِي كِتَابِنَا هَذَا: مَا رُوِيَ لَنَا فِي فَضْلِ بَلَدِنَا مِنْ دَعْوَةِ إِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلِ عليه السلام وَمَا قِيلَ فِي ذَلِكَ
ভূমিকা এটি হলো ‘ইস্পাহানে আগমনকারী সাহাবী, তাবিঈন এবং শহরটি বিজয়ের সময় থেকে আমাদের এই বর্তমান কাল পর্যন্ত তথায় অবস্থানকারী মুহাদ্দিসগণের নামের স্তরবিন্যাস’ নামক গ্রন্থ। এতে তাদের মধ্য থেকে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে যারা নির্দিষ্ট কোনো হাদীস বর্ণনায় একক ছিলেন এবং অন্য কেউ সেই সনদে অথবা তার বর্ণিত হাদীস থেকে সেটি বর্ণনা করেননি। আমাদের নিকট যা বর্ণিত ও আলোচিত হয়েছে সেই অনুযায়ী এখানে তাদের বংশপরিচয়, নাম এবং মৃত্যুসন উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহই তৌফিকদাতা এবং তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক। আমাদের এই গ্রন্থে আমরা সর্বপ্রথম যা উল্লেখ করব তা হলো: ইবরাহীম খলীল আলাইহিস সালামের দোয়ার প্রেক্ষিতে আমাদের এই শহরের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে এবং এই বিষয়ে যা বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٤٨)
‌‌بَيَانُ مَا وَرَدَ فِي فَضْلِ أَصْبَهَانَ
আসবাহানের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিবরণ
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٤٨)
سَمِعْتُ مَنْ حَكَى ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ النَّحْوِيِّ قَالَ: " خَرَجَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ أَصْبَهَانَ إِلَى ذِي الرِّيَاسَتَيْنِ فِي حَوَائِجَ لَهُمْ فَقَالَ ذُو الرِّيَاسَتَيْنِ: مِنْ أَيْنَ أَنْتُمْ؟ قَالُوا مِنْ أَهْلِ أَصْبَهَانَ قَالَ: أَنْتُمْ مِنَ الَّذِينَ لَا يَزَالُ فِيهِمْ ثَلَاثُونَ رَجُلًا مُسْتَجَابِي الدُّعَاءِ قَالُوا: وَكَيْفَ ذَلِكَ؟ قَالَ ⦗ص: 149⦘: إِنَّ نَمْرُوذَ بْنَ كَنْعَانَ لَمَّا أَرَادَ أَنْ يَصْعَدَ إِلَى السَّمَاءِ كَتَبَ فِي الْبُلْدَانِ يَدْعُوهُمْ إِلَى مُحَارَبَةِ رَبِّ الْعَالَمِينَ فَأَجَابُوهُ كُلُّهُمْ إِلَّا أَهْلَ أَصْبَهَانَ فَحَمَلَ مِنْهُمْ ثَلَاثِينَ رَجُلًا مُقَيَّدِينَ فَلَمَّا أَنْ نَظَرُوا فِي وَجْهِ إِبْرَاهِيمَ صلى الله عليه وسلم آمَنُوا بِهِ ، فَقَالَ إِبْرَاهِيمُ: اللَّهُمَّ اجْعَلْ أَبَدًا بِأَصْبَهَانَ ثَلَاثِينَ رَجُلًا تَسْتَجِيبُ دُعَاءَهُمْ ، فَلَا يَزَالُ أَبَدًا بِأَصْبَهَانَ ثَلَاثُونَ رَجُلًا يُسْتَجَابُ دُعَاؤُهُمْ "
আমি এমন একজনের থেকে শুনেছি যিনি ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আন-নাহবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আসফাহানবাসীদের একটি দল তাদের বিশেষ প্রয়োজনে যুর রিয়াসাতাইনের কাছে গেল। তখন যুর রিয়াসাতাইন জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা কোথা থেকে এসেছ? তারা বলল: আসফাহান থেকে। তিনি বললেন: তোমরা সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদের মধ্যে সর্বদা এমন ত্রিশজন লোক থাকেন যাদের দোয়া কবুল করা হয়। তারা বলল: তা কীভাবে? তিনি বললেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৪৯⦘: নিশ্চয়ই কানআনের পুত্র নমরুদ যখন আকাশে ওঠার ইচ্ছা করেছিল, তখন সে বিভিন্ন জনপদে পত্র পাঠিয়ে তাদেরকে রাব্বুল আলামীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল। আসফাহানবাসী ব্যতীত সকলেই তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল। ফলে সে তাদের মধ্য থেকে ত্রিশজন ব্যক্তিকে শিকলবন্দী অবস্থায় নিয়ে গেল। অতঃপর তারা যখন ইব্রাহিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারার দিকে তাকাল, তখন তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনল। তখন ইব্রাহিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন: হে আল্লাহ, আসফাহানে সর্বদা এমন ত্রিশজন লোক রাখুন যাদের দোয়া আপনি কবুল করবেন। ফলে আসফাহানে সর্বদা এমন ত্রিশজন লোক বিদ্যমান থাকেন যাদের দোয়া কবুল করা হয়।"
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٤٩)
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْفَارِسِيُّ ، ثني أَبُو صَالِحٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ الضَّرَّابُ الْأَصْبَهَانِيُّ ، قَالَ: ثنا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ ، عَنْ رَجُلٍ ذَكَرَهُ ، عَنْ خُصَيْبِ بْنِ جَحْدَرٍ ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ: " لَمَّا تَأَبَّى نَمْرُوذُ ، وَجَحَدَ قُدْرَةَ الرَّبِّ عز وجل بَعَثَ إِلَى أَهْلِ النَّوَاحِي ⦗ص: 150⦘ يَحْشُرُهُمْ لِمُحَارَبَةِ رَبِّ الْعِزَّةِ فَتَفَرَّقُوا وَصَارُوا فِي جِبَالِ أَصْبَهَانَ وَقَالُوا: كَلَّا لَا نَجْحَدُ قُدْرَةَ الرَّبِّ رَبِّ السَّمَاءِ فَأَنْبَتَ اللَّهُ فِي تُرْبَتِهَا الزَّعْفَرَانَ وَأَلْقَى فِي جِبَالِهَا الشَّهْدَ فَبِهَا سَمَّى أَصْبَهَانَ أَيْ: وأصبه آن نه كه كافربند "
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে আহমদ আল-ফারিসি, তিনি বলেন: আমাকে বলেছেন আবু সালিহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব আদ-দাররাব আল-আসফাহানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নুআইম ইবনে হাম্মাদ, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যাকে তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি খুসাইব ইবনে জাহদার থেকে, তিনি ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন নমরুদ অবাধ্যতা করল এবং মহান ও পরাক্রমশালী রবের ক্ষমতা অস্বীকার করল, তখন সে বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে লোক পাঠাল ⦗পৃষ্ঠা: ১৫০⦘ যেন তাদেরকে মহিমান্বিত রবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য একত্রিত করা যায়। কিন্তু তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে আসফাহানের পাহাড়গুলোতে চলে গেল এবং তারা বলল: 'কখনোই নয়, আমরা রবের ক্ষমতাকে অস্বীকার করব না, যিনি আসমানের প্রতিপালক।' ফলে আল্লাহ সেই অঞ্চলের মাটিতে জাফরান উৎপন্ন করলেন এবং এর পাহাড়গুলোতে মধু ঢেলে দিলেন। আর একারণেই এর নাম আসফাহান রাখা হয়েছে, যার অর্থ হলো: এটি সেই স্থান নয় যেখানে কাফেররা অনুগত বা আবদ্ধ থাকে।"
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٥٠)
قَالَ إِسْحَاقُ: وَحَدَّثَنَا بِمَارَبِينَ يُوشَعُ بْنُ نُونٍ ، وَذَلِكَ أَنَّهُ يُقَالُ «كَانَ يَجُولُ فِي الدُّنْيَا فَدَخَلَ أَصْبَهَانَ فَنَزَلَ الْمَوْضِعَ الَّذِي يُدْعَى مَارَبِينَ ، وَإِنَّمَا سُمِّيَ مَارَبِينَ لِأَنَّهُمْ بَصُرُوا بِحَيَّةٍ ارْتَفَعَتْ مِنَ الْأَرْضِ فَقِيلَ لِيُوشَعَ مَارَبِينُ أَيِ انْظُرْ إِلَى الْحَيَّةِ فَسُمِّيَ مَارَبِينَ بِهَا»

ইসহাক বলেন: এবং ইউশা ইবনে নুন মারাবিনে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আর তা এজন্য যে বলা হয়: «তিনি পৃথিবীতে ভ্রমণ করছিলেন, তখন তিনি ইসফাহানে প্রবেশ করেন এবং মারাবিন নামক স্থানে অবতরণ করেন। প্রকৃতপক্ষে এর নাম মারাবিন রাখা হয়েছে কারণ তারা ভূমি থেকে উত্থিত একটি সাপ দেখেছিল, তখন ইউশাকে বলা হয়েছিল 'মারাবিন' অর্থাৎ 'সাপটির দিকে তাকাও', অতঃপর সেই সাপের কারণেই এর নাম মারাবিন রাখা হয়েছে।»

(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٥٠)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ فُورَكٍ ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ ، قَالَ: ثنا شَاذَّةُ بْنُ الْمِسْوَرِ ، قَالَ: ثنا نُصَيْرُ بْنُ الْأَزْهَرِ ، قَالَ: ثنا أَبُو عُبَيْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّاجِيُّ ، قَالَ: وَجَدْتُ فِي بَعْضِ الْكُتُبِ ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ " زَعَمَ بِأَنَّ نَمْرُوذَ بْنَ كَنْعَانَ كَتَبَ فِي الْبِلَادِ يَسْتَمِدُّهُمْ لِمُحَارَبَةِ رَبِّهِ تبارك وتعالى فَأَجَابُوهُ كُلُّهُمْ إِلَّا أَهْلَ أَصْبَهَانَ فَإِنَّهُمْ قَالُوا: نَحْنُ لَا طَاقَةَ لَنَا ⦗ص: 151⦘ بِمُحَارَبَةِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَوْ قَالَ رَبِّ السَّمَاءِ قَالَ: فَشَكَرَ اللَّهُ ذَلِكَ لَهُمْ فَطَيَّبَ مَاءَهُمْ وَطَيَّبَ فَوَاكِهَهُمْ وَطَيَّبَ هَوَاءَهُمْ " حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ رُسْتُمَ ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بَرْعُورَسْتَةَ ، قَالَ: ثنا أَبُو عَلِيِّ ابْنُ أُخْتِ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ الْهُجَيْمِيُّ قَالَ: ثنا إِسْحَاقُ بْنُ حُمَيْدِ ، ابْنِ أَخِي عُرْوَةَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ سَمِعْتُ بَعْضَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَقُولُ: سَارَ ذُو الْقَرْنَيْنِ فِي طَلَبِ مَاءِ الْحَيَوَانِ ، فَطَافَ الدُّنْيَا بِشَرْقِهَا وَغَرْبِهَا فَأَخَذَ عَلَى الْبَرِّ ، ثُمَّ رَجَعَ عَلَى الْبَحْرِ فَبَلَغَنَا وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنَّهُ لَمْ يَدَعْ مَدِينَةً إِلَّا دَخَلَهَا عَنْوَةً أَوْ صُلْحًا حَتَّى انْتَهَى إِلَى أَصْبَهَانَ وَدَخَلَ مَدِينَتَهَا فَلَمْ يَنْزِلْ فِيهَا وَخَرَجَ عَنْهَا حَتَّى بَلَغَ بَابَهَا الشَّرْقِيَّ ثُمَّ دَعَا الْفَعَلَةَ فَقَالَ: احْفِرُوا فِي هَذَا الْمَوْضِعِ حُفْرَةً حَتَّى تَبْلُغُوا إِلَى الْمَاءِ فَحَفَرُوا خَارِجَ الْبَابِ حُفْرَةً حَتَّى بَلَغُوا الْمَاءَ فِي سَاعَةٍ وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى دَابَّتِهِ فَقَالُوا: قَدْ بَلَغْنَا الْمَاءَ فَقَالَ: اكْبِسُوهَا وَرُدُّوا مَا أَخَرَجْتُمْ مِنْهَا فِي مَوْضِعِهِ حَتَّى تُعِيدُوهَا كَمَا كَانَ ، فَفَعَلُوا ذَلِكَ فَلَمْ يَرْمِ مَا أُخْرِجَ وَاحْتَاجَ إِلَى ⦗ص: 152⦘ زِيَادَةٍ فَقَالُوا: أَيُّهَا الْمَلِكُ قَدْ رَدَدْنَا مَا حَفَرْنَا مِنْهُ إِلَى الْمَوْضِعِ فَلَمْ تَسْتَوِ الْحُفْرَةُ وَلَا رَجَعَتْ إِلَى مَا كَانَتْ عَلَيْهِ فَقَالَ: هَذِهِ مَدِينَةٌ قَحْطِيَّةٌ لَا تَخْلُو مِنْ قَحْطِ الْمَطَرِ وَالسِّعْرِ الْغَالِي ، ثُمَّ ارْتَحَلَ عَنْهَا مِنْ سَاعَتِهِ وَمَضَى وَسَمِعْتُ الطَّحَّانَ يَحْكِي مِرَارًا كَثِيرَةً قَالَ: قَالَ لِيَ ابْنُ زُغْبَةَ بِمِصْرَ: بَلَغَنِي يَا أَهْلَ أَصْبَهَانَ أَنَّ سَهْلَكُمْ زَعْفَرَانُ ، وَجَبَلَكُمْ عَسَلٌ وَلَكُمْ فِي كُلِّ دَارٍ عَيْنُ مَاءٍ عَذْبٍ ، فَقُلْتُ: كَذَلِكَ بَلَدُنَا فَقَالَ: لَا أُصَدِّقُ هَذَا ، هَذِهِ الْجَنَّةُ بِعَيْنِهَا وَذُكِرَ أَنَّ الْحَجَّاجَ بْنَ يُوسُفَ وَلَّى عَلَى أَصْبَهَانَ وَهْزَاذَ بْنَ يَزْدَادَ

 

3 ⦗ص: 153⦘ الْأَنْبَارِيَّ وَكَانَ ابْنَ عَمٍّ لِكَاتِبِهِ فَكَتَبَ فِي بَعْضِ أَوْقَاتِ مَقَامِهِ بِأَصْبَهَانَ إِلَى الْحَجَّاجِ كِتَابًا وَصَفَ فِيهِ اخْتِلَالَ حَالِ أَصْبَهَانَ وَيَسْأَلُهُ نَظَرًا لَهُمْ بِبَعْضِ خَرَاجِهِمْ فَكَتَبَ إِلَيْهِ الْحَجَّاجُ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ، أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي اسْتَعْمَلْتُكَ يَا وَهْزَاذُ عَلَى أَصْبَهَانَ أَوْسَعِ الْمَمْلَكَةِ رُقْعَةً وَعَمَلًا وَأَكْثَرِهَا خَرَاجًا بَعْدَ فَارِسَ ، وَالْأَهْوَازِ ، وَأَزْكَاهَا أَرْضًا ، حَشِيشُهَا الزَّعْفَرَانُ وَالْوَرْدُ ، وَجِبَالُهَا الْإِثْمِدُ وَالْفِضَّةُ وَأَشْجَارُهَا الْجَوْزُ ، وَاللَّوْزُ ، وَالْكُرُومُ الْكَرِيمَةُ ، وَالْفَوَاكِهُ الْعَذْبَةُ طَيْرُهَا عَوَامِلُ الْعَسَلِ وَمَاؤُهَا فُرَاتٌ وَخَيْلُهَا الْمَاذِيَانَاتُ الْجِيَادُ أَنْظَفُ بِلَادِ اللَّهِ طَعَامًا ، وَأَلْطَفُهَا شَرَابًا وَأَصَحُّهَا تُرَابًا وَأَوْفَقُهَا هَوَاءً ، وَأَرْخَصُهَا لَحْمًا وَأَطْوَعُهَا أَهْلًا وَأَكْثَرُهَا صَيْدًا ، فَأَنَخْتَ يَا وَهْزَاذُ عَلَيْهَا بِكَلْكَلٍ اضْطُرَّ أَهْلُهَا إِلَى مَسْأَلَتِكَ مَا سَأَلْتَ لَهُمْ لِتَفُوزَ بِمَا يُوضَعُ عَنْهُمْ ، فَإِنْ كَانَ ذَلِكَ بَاطِلًا وَلَا أَبْعَدَكَ عَنْ ظَنِّ السُّوءِ فَسَتَرُدَّ فَتَعْلَمَ ، وَإِنْ صَدَقْتَ فِي بَعْضِهِ فَقَدْ أَخْرَبْتَ الْبَلَدَ ، أَتَظُنُّ يَا وَهْزَاذُ أَنَّا نُنْفِذُ لَكَ مَا مَوَّهْتَ وَسَحَرْتَ مِنَ الْقَوْلِ وَقَعَدْتَ تُشِيرُ عَلَيْنَا بِهِ ، فَعَضَّ يَا وَهْزَاذُ عَلَى غُرْلَةِ أَيْرِ أَبِيكَ وَمُصَّ بَظْرَ أُمِّكَ ، فَأَيْمُ اللَّهِ لَتَبْعَثَنَّ إِلَيَّ بِخَرَاجِ أَصْبَهَانَ كُلِّهِ أَوْ لَأَجْعَلَنَّكَ طَوَابِيقَ عَلَى أَبْوَابِ مَدِينَتِهَا فَاخْتَرْ لِنَفْسِكَ أَوْفَقَ الْأَمْرَيْنِ لَهَا أَوْ ذَرْ وَالسَّلَامُ ⦗ص: 154⦘ وَوُجِدَ فِي كِتَابِ الْأَوَائِلِ قَالَ: فَانْتَفَضُوا بِلَادَ الْمَمْلَكَةِ وَبِقَاعَهَا ، فَلَمْ يَجِدُوا تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ بَلَدًا أَجْمَعَ لِمَا طَلَبُوا مِنَ الْفُنُونِ الَّتِي يَخْتَارُونَهَا مِنَ الْأَشْيَاءِ مِنْ بِقَاعِ الْأَرْضِ وَبُلْدَانِ الْإِقْلِيمِ أَصَحَّهَا تُرْبَةً وَأَقَلَّهَا عُفُونَةً وَأَبْعَدَهَا مِنَ الزَّلَازِلِ وَالْخُسُوفِ ، وَأَعْلَكَهَا طِينًا وَأَبْقَاهَا عَلَى الدَّهْرِ بِنَاءً فَلَمْ يَجِدُوا تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ بَلَدًا أَجْمَعَ لِهَذِهِ الْأَوْصَافِ مِنْ أَصْبَهَانَ ، ثُمَّ فَتَّشُوا عَنْ بِقَاعِ هَذَا الْبَلَدِ فَلَمْ يَجِدُوا فِيهَا أَفْضَلَ مِنْ رُسْتَاقِ جَيٍّ ، وَلَا وَجَدُوا فِي رُسْتَاقِ جَيٍّ أَجْمَعَ لِمَا رَامَوْهُ مِنْ مَدِينَةِ جَيٍّ
আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ফুরাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী বিন আসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শায্যাহ বিন মিসওয়ার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট নুসায়র বিন আযহার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু উবায়দ মুহাম্মদ বিন আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আন-নাজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কোনো এক কিতাবে ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ থেকে পেয়েছি যে, "তিনি দাবি করেছেন, নামরূদ বিন কানআন বিভিন্ন দেশে এই মর্মে পত্র লিখেছিলেন যে, তিনি তার বরকতময় ও মহান প্রতিপালকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তাদের নিকট সাহায্য চাচ্ছেন। ফলে আসবাহানবাসী ব্যতীত অন্য সকলে তাকে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিল। আসবাহানবাসী বলেছিল: আমাদের ⦗পৃষ্ঠা: ১৫১⦘ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের বিরুদ্ধে—অথবা তিনি বলেছিলেন আকাশের প্রতিপালকের বিরুদ্ধে—যুদ্ধ করার মতো কোনো সামর্থ্য নেই। তিনি (রাবী) বলেন: আল্লাহ তাদের এই অবস্থানের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হলেন, ফলে তিনি তাদের পানি সুপেয় করলেন, তাদের ফলমূল সুস্বাদু করলেন এবং তাদের বাতাসকে নির্মল করলেন।" আমাদের নিকট আলী বিন রুস্তম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন বারউ রুস্তাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ বিন হারিস আল-হুজাইমীর ভাগ্নে আবু আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উরওয়ার ভ্রাতুষ্পুত্র ইসহাক বিন হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। আমি জনৈক জ্ঞানবান ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যুল-কারনায়ন চিরঞ্জীব হওয়ার পানির (আবে-হায়াত) সন্ধানে যাত্রা করেছিলেন। তিনি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত ভ্রমণ করেন। তিনি স্থলের পথ ধরলেন, অতঃপর সমুদ্র পথে ফিরে এলেন। আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে—আর আল্লাহই ভালো জানেন—যে তিনি এমন কোনো শহর ছাড়েননি যেখানে তিনি বলপ্রয়োগে বা সন্ধির মাধ্যমে প্রবেশ করেননি, যতক্ষণ না তিনি আসবাহানে পৌঁছালেন। তিনি এর শহরে প্রবেশ করলেন কিন্তু সেখানে অবস্থান করলেন না। তিনি শহর থেকে বের হয়ে এর পূর্ব ফটকে পৌঁছালেন। অতঃপর তিনি শ্রমিকদের ডেকে বললেন: "এই স্থানে একটি গর্ত খনন করো যতক্ষণ না তোমরা পানিতে পৌঁছাও।" ফলে তারা ফটকের বাইরে একটি গর্ত খনন করল এবং এক ঘণ্টার মধ্যেই পানিতে পৌঁছে গেল, তখন তিনি তার সওয়ারির ওপর আসীন ছিলেন। তারা বলল: "আমরা পানিতে পৌঁছে গেছি।" তিনি বললেন: "এটি ভরাট করে দাও এবং যা কিছু এখান থেকে বের করেছ তা পুনরায় সেখানে ফিরিয়ে দাও যেন এটি আগের মতো হয়ে যায়।" তারা তা-ই করল, কিন্তু যা বের করা হয়েছিল তা নিক্ষেপ করা সত্ত্বেও তা পূর্ণ হলো না বরং আরও ⦗পৃষ্ঠা: ১৫২⦘ অতিরিক্ত জিনিসের প্রয়োজন হলো। তারা বলল: "হে সম্রাট, আমরা এখান থেকে যা খনন করে বের করেছিলাম তা সব ফিরিয়ে দিয়েছি, তবুও গর্তটি সমান হচ্ছে না এবং আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে না।" তখন তিনি বললেন: "এটি একটি দুর্ভিক্ষপীড়িত শহর, এটি বৃষ্টির অভাব এবং উচ্চমূল্যের সংকট থেকে মুক্ত হবে না।" অতঃপর তিনি সেই মুহূর্তেই সেখান থেকে যাত্রা করলেন এবং চলে গেলেন। আমি আত্তাহ্হানকে অনেকবার বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: মিশরে ইবনে যুগবাহ আমাকে বলেছিলেন: "হে আসবাহানবাসী, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে তোমাদের সমতল ভূমি জাফরান আর তোমাদের পাহাড় হলো মধু, এবং তোমাদের প্রতিটি ঘরেই মিষ্টি পানির ঝরনা রয়েছে।" আমি বললাম: "আমাদের দেশ তেমনই।" তিনি বললেন: "আমি এটা বিশ্বাস করি না; এটি তো খোদ জান্নাত।" বর্ণিত আছে যে, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আসবাহানের শাসনকর্তা হিসেবে ওয়াহযাদ বিন ইয়াজদাদ

 

৩ ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৩⦘ আল-আনবারীকে নিযুক্ত করেছিলেন, যিনি ছিলেন তার সচিবের চাচাতো ভাই। আসবাহানে থাকাকালীন কোনো এক সময়ে তিনি হাজ্জাজের নিকট একটি পত্র লিখলেন যাতে তিনি আসবাহানের শোচনীয় অবস্থার বর্ণনা দিলেন এবং তাদের কিছু খাজনা মওকুফ করার মাধ্যমে তাদের প্রতি সদয় দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ করলেন। হাজ্জাজ তাকে উত্তরে লিখলেন: "বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। অত:পর, হে ওয়াহযাদ! আমি তোমাকে আসবাহানের দায়িত্ব দিয়েছি যা পরিধিতে সাম্রাজ্যের সবচেয়ে প্রশস্ত এলাকা এবং পারস্য ও আহওয়াজের পর সবচেয়ে বেশি খাজনা প্রদানকারী অঞ্চল। এর ভূমি অত্যন্ত উর্বর, যার ঘাস হলো জাফরান ও গোলাপ, এর পাহাড় হলো সুরমা ও রূপার খনি, এর গাছপালা হলো আখরোট, বাদাম ও উৎকৃষ্ট আঙুর লতা এবং মিষ্টি ফলমূল। এর পাখিগুলো মধু সংগ্রহকারী মৌমাছি, এর পানি ফোরাতের মতো সুপেয়, এর ঘোড়াগুলো অত্যন্ত উন্নত জাতের। এটি আল্লাহর জমিনের মধ্যে খাদ্যের দিক থেকে পরিচ্ছন্নতম, পানীয়র দিক থেকে সুস্বাদু এবং মাটির দিক থেকে স্বাস্থ্যকর। এর আবহাওয়া অত্যন্ত অনুকূল, মাংস সস্তা, অধিবাসীরা অনুগত এবং এখানে শিকারের প্রাচুর্য রয়েছে। অথচ হে ওয়াহযাদ, তুমি এর ওপর এমনভাবে চেপে বসেছ যে, এর অধিবাসীরা তোমার মাধ্যমে খাজনা মওকুফের আবেদন করতে বাধ্য হয়েছে যাতে তুমি সেই সুযোগে কিছু আত্মসাৎ করতে পারো। যদি এটি মিথ্যা হয়—আর আমি তোমার ব্যাপারে মন্দ ধারণা করা থেকে দূরে নই—তবে অচিরেই তোমাকে জবাবদিহি করতে হবে এবং তুমি তখন সত্য জানতে পারবে। আর যদি এর কিছু অংশ সত্য হয়, তবে তুমি দেশটিকে ধ্বংস করেছ। হে ওয়াহযাদ, তুমি কি মনে করো যে, তুমি যেসব অলংকৃত ও জাদুকরী কথা সাজিয়েছ এবং আমাদের নিকট পেশ করেছ তা আমি কার্যকর করব? হে ওয়াহযাদ, তুমি তোমার পিতার লিঙ্গাগ্রের চর্ম দংশন করো এবং তোমার মাতার ভগাঙ্কুর চোষণ করো। আল্লাহর কসম! হয় তুমি আমার নিকট আসবাহানের পূর্ণ খাজনা পাঠাবে, নয়তো আমি তোমাকে এই শহরের ফটকগুলোতে ইটের মতো গেঁথে দেব। অতএব নিজের জন্য যা কল্যাণকর তা বেছে নাও অথবা এটি ত্যাগ করো। ওয়াসসালাম।" ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৪⦘ 'কিতাবুল আওয়াইল'-এ পাওয়া গেছে যে, তিনি বলেন: "তারা সাম্রাজ্যের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল পরীক্ষা করে দেখল, কিন্তু আসমানের নিচে এমন কোনো দেশ পায়নি যা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত ও জনপদের মধ্য থেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত গুণাবলির ক্ষেত্রে আসবাহানের চেয়ে বেশি সমৃদ্ধ। এর মাটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ, পচনশীলতা সবচেয়ে কম, এটি ভূমিকম্প ও ভূমিধস থেকে সবচেয়ে নিরাপদ, এর মাটি অত্যন্ত আঠালো এবং এর দালানকোঠা দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়। তারা আসমানের নিচে আসবাহানের চেয়ে এই গুণাবলি সম্পন্ন আর কোনো শহর পায়নি। অতঃপর তারা এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা তল্লাশি করল এবং সেখানে জাই (Jayy) পরগনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু পেল না। আবার জাই পরগনার মধ্যেও তারা জাই শহরের চেয়ে অধিকতর কাঙ্ক্ষিত কোনো স্থান খুঁজে পায়নি।"
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٥٤)
أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ ، ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، رحمه الله قَالَ: «لَوْ لَمْ أَكُنْ رَجُلًا مِنْ قُرَيْشٍ لَأَحْبَبْتُ أَنْ أَكُونَ مِنْ أَهْلِ فَارِسَ أَوْ مِنْ أَصْبَهَانَ»
আবু খলিফাহ আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন, তিনি বলেন: আবুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল আজিজ ইবনে আবি সালামাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উসামাহ ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণিত, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি যদি কুরাইশ বংশের একজন ব্যক্তি না হতাম, তবে আমি পারস্যবাসী অথবা ইসফাহানবাসী হওয়া পছন্দ করতাম।”
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٥٤)
سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ الْمُذَكِّرَ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ الدَّقَّاقَ ، قَالَ: سَمِعْتُ بَعْضَ الْمُحَدِّثِينَ يَقُولُ: دَخَلَ أَيُّوبُ بْنُ زِيَادٍ ⦗ص: 155⦘ الْأَصْبَهَانِيُّ عَلَى الْمَأْمُونِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ فَقَالَ: يَا أَيُّوبُ صِفْ لِي أَصْبَهَانَ وَأَوْجِزْ: فَقَالَ: " يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَوَاؤُهَا طَيِّبٌ وَمَاؤُهَا عَذْبٌ وَحَشِيشُهَا الزَّعْفَرَانُ وَجِبَالُهَا الْعَسَلُ ، غَيْرَ أَنَّهَا لَا تَخْلُو مِنْ خِلَالٍ أَرْبَعَ: جَوْرُ سُلْطَانٍ ، وَغَلَاءُ السِّعْرِ ، وَقِلَّةُ الْمَطَرِ ، وَفَقْدُ مِيَاهٍ " ، فَأَطْرَقَ الْمَأْمُونُ سَاعَةً وَبِيَدِهِ قَضِيبٌ يَنْكُتُ بِهِ الْأَرْضَ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: يَا أَيُّوبُ لَعَلَّ قُرَّاءَهَا مُنَافِقُونَ ، ثُنَّاءَهَا شَرَبَةُ خُمُورٍ ، وَتُجَّارُهَا مُرْبُونَ ، وَفِي أَطْرَافِهَا لَا يُصَلُّونَ "
আমি আব্দুল্লাহ বিন উমর আল-মুযাক্কিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল আব্বাস আদ-দাক্কাককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি জনৈক হাদিস বিশারদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আইয়ুব বিন যিয়াদ ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৫⦘ আল-আসফাহানি আমিরুল মুমিনিন আল-মামুনের নিকট উপস্থিত হলেন। আল-মামুন বললেন: "হে আইয়ুব, আমার নিকট আসফাহানের বর্ণনা দাও এবং সংক্ষেপে বলো।" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, তার আবহাওয়া নির্মল, তার পানি সুপেয়, তার ঘাস জাফরানতুল্য এবং তার পাহাড়গুলো মধুময়; তবে তা চারটি বিষয় থেকে মুক্ত নয়: সুলতানের জুলুম, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অনাবৃষ্টি এবং পানির অভাব।" তখন আল-মামুন কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন, এমতাবস্থায় তাঁর হাতে একটি লাঠি ছিল যা দিয়ে তিনি মাটিতে মৃদু আঘাত করছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর মাথা তুললেন এবং বললেন: "হে আইয়ুব, সম্ভবত সেখানকার ক্বারিরা মুনাফিক, সেখানকার প্রশংসাকারীরা মদ্যপায়ী, সেখানকার ব্যবসায়ীরা সুদখোর এবং তার প্রান্তিক জনপদে তারা সালাত আদায় করে না।"
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٥٥)
ذِكْرُ الْأَشْيَاءِ الَّتِي خُصَّتْ بِهَا أَصْبَهَانُ ذَكَرُوا أَنَّ بِوَادِيَ أَصْبَهَانَ زَرَنْرُوذَ مَفِيضٌ يُسَمَّى هَنَّامٌ لَيْسَ فِي الْأَرْضِ مَفِيضٌ أَعْجَبَ مِنْهُ ،
ইসফাহান নগরী যেসব বৈশিষ্ট্যের জন্য বিশিষ্ট, সেগুলোর বর্ণনা। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, ইসফাহানের যরানরূয উপত্যকায় ‘হান্নাম’ নামক এমন একটি জলনির্গমন পথ রয়েছে, পৃথিবীতে যার চেয়ে অধিক বিস্ময়কর কোনো জলনির্গমন পথ আর নেই।
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٥٦)
وَذَلِكَ أَنَّ الْأَوْدِيَةَ الْكِبَارَ مَصَبُّهَا إِلَى الْبِحَارِ ، وَوَادِي زَرَنْرُوذَ يَنْصَبُّ فِي هَذَا الْمَفِيضِ وَهُوَ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ فَرْسَخًا فِي فَرْسَخَيْنِ لَا يَرْتَفِعُ الْمَاءُ فِي حَافَّاتِهِ عَنِ الْمِقْدَارِ الْمَعْهُودِ ، وَلَا يَنْقُصُ أَسْرَفَ الْمَدُّ أَمْ قَصَدَ ، وَيُفَرِّخُ فِيهِ طَيْرُ الْمَاءِ ، فَأَمَّا غَيْرُ الطَّيْرِ فَلَا يَقْدِرُ أَنْ يَقْرَبَهُ لِأَنَّهُ يَغُوصُ فِيهِ حَتَّى لَا يُرَى مِنْهُ شَيْءٌ ، وَبَيْنَ يَدَيْ هَذَا الْمَفِيضِ مَيْدَانٌ مُمْتَدٌّ إِلَى كَرْمَانَ كَسَطْرٍ مَمْدُودٍ لَا يَزِيدُ عَرْضُهُ عَلَى عَرْضِ الْمَيْدَانِ يَنْبُتُ الْقِلَامُ وَالطُّرَفَاءُ فِي جَانِبٍ مِنْهُ جَبَلٌ مِنْ طِينِ مَمْدُودٍ فَزِيَادَةُ مِيَاهِ كَرْمَانَ فِي أَيَّامِ الرَّبِيعِ يَكُونُ مِنْ وَادِي زَرَنْرُوذَ وَبِقَرْيَةِ دزيه مِنْ رُسْتَاقِ رويد شت رِمَالٌ كَأَنَّهَا جِبَالٌ لَا تَتَحَرَّكُ أَصْلًا وَلَوْ دَامَ هُبُوبُ الرِّيَاحِ الْعَاصِفَةِ عَلَيْهَا أَيَّامًا وَلَا يَدْخُلُ الزُّرُوعَ مِنْهَا شَيْءٌ ، وَبِقَاشَانَ فِي شِقِّ (دَارِمٍ) قَرْيَةٌ يُقَالُ لَهَا: هَذَا سُكَّانُ مِنْ آبِرُونَ عَلَى نِصْفِ فَرْسَخٍ فِيهَا حِصْنٌ

আর তা এজন্য যে, বড় বড় উপত্যকাগুলোর মোহনা সমুদ্রের দিকে। আর যরনরূদ উপত্যকাটি এই জলাধারে প্রবাহিত হয়, যা দৈর্ঘ্যে আঠারো ফরসাখ এবং প্রস্থে দুই ফরসাখ। এর তীরবর্তী অঞ্চলে পানির উচ্চতা স্বাভাবিক সীমার উপরে ওঠে না এবং পানির প্রবাহ প্রবল হোক বা পরিমিত, তা কখনও কমে না। এতে জলচর পাখিরা বংশবিস্তার করে; তবে পাখি ব্যতীত অন্য কোনো প্রাণী এর কাছে ভিড়তে পারে না, কারণ তারা এতে এমনভাবে তলিয়ে যায় যে তাদের আর কিছুই দেখা যায় না। এই জলাধারের সামনে কিরমান পর্যন্ত রেখার মতো বিস্তৃত একটি প্রান্তর রয়েছে, যার প্রশস্ততা উক্ত প্রান্তরের চেয়ে বেশি নয়। সেখানে নলখাগড়া ও ঝাউগাছ জন্মে। এর এক পাশে মাটির একটি দীর্ঘ পাহাড় রয়েছে। বসন্তকালে কিরমানের পানির আধিক্য মূলত যরনরূদ উপত্যকা থেকেই হয়। রুওয়াইদ শাত জেলার দযিহ্ গ্রামে পাহাড়ের ন্যায় এমন বালির স্তূপ রয়েছে যা মোটেও নড়াচড়া করে না, এমনকি যদি তার ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে থাকে তবুও। আর সেই বালি ফসলি জমির ভেতরে প্রবেশ করে না। কাশানের দারিম পার্শ্বস্থ অঞ্চলে একটি গ্রাম রয়েছে যাকে ‘আবিরূনের অধিবাসী’ বলা হয়; এটি আধা ফরসাখ দূরত্বে অবস্থিত এবং সেখানে একটি দুর্গ রয়েছে।

(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٥٧)
عَلَيْهَا خَنْدَقٌ وَيَطِيفُ بِهَذَا الْخَنْدَقِ رِمَالٌ كَالْجِبَالِ سَائِلُهُ تَنْتَقِلُ حَوَالَيِ الْخَنْدَقِ مِنْ بُقْعَةٍ إِلَى بُقْعَةٍ وَلَا يَدْخُلُ الْخَنْدَقَ مِنْهَا شَيْءٌ وَلَا حَبَّةٌ وَاحِدَةٌ فَإِنْ ذَهَبَ إِنْسَانٌ فَأَخَذَ مِنْ هَذَا الرَّمَلِ قَبْضَةً فَرَمَى بِهَا فِي هَذَا الْخَنْدَقِ هَبَّتْ مِنْ وَقْتِهَا رِيحٌ فَرَفَعَتْ ذَلِكَ الرَّمَلَ فِي الْهَوَاءِ إِلَى فَوْقُ حَتَّى تَكْسِحَ أَرْضَ الْخَنْدَقِ مِنْهُ ، وَعَلَى هَذِهِ الْقَرْيَةِ صَحْرَاءُ يُقَالُ لَهُ فَأْسٌ مَسَافَتُهَا فَرْسَخٌ فِي فَرْسَخٍ هِيَ بَيْنَ هَذِهِ الرِّمَالِ وَمُزْدَرَعُ هَذِهِ الْقَرْيَةِ فِيهَا سَبِيلُ هَذَا الصَّحْرَاءِ فِي نُتُوِّ الرَّمَلِ ، وَفِيهَا سَبِيلُ الْخَنْدَقِ وَفِي هَذَا الصَّحْرَاءِ أُعْجُوبَةٌ أُخْرَى وَهِيَ أَنَّ مَوَاشِي هَذِهِ الْقَرْيَةِ تَخْرُجُ إِلَيْهَا لِلرَّعْيِ فَتُخْلَطُ السِّبَاعُ بِهَا مُقْبِلَةٌ مِنَ الْبَرِّ وَلَا تَتَعَرَّضُ لِشَيْءٍ مِنْهَا ، وَيَدَّعِي أَهْلُ هَذِهِ الْقَرْيَةِ وَيَشْهَدُ لَهُمْ بِصِدْقِ دَعْوَاهُمْ أَهْلُ الْقُرَى الْمُجَاوَرَةِ لَهُمْ أَنَّ دِيكًا فِي قَرْيَتِهِمُ اسْتَوْحَشَ مُنْذُ سُنَيَّاتٍ فَعَدَلَ إِلَى هَذِهِ الصَّحْرَاءِ فَبَقِيَ بِهَا أَرْبَعَ سِنِينَ لَا يَتَعَرَّضُ لَهُ ثَعْلَبٌ وَلَا غَيْرُهُ فَيَدَّعِي أَهْلُ هَذِهِ الْقَرْيَةِ أَنَّهَا مُطَلْسَمَةٌ وَبِقَاشَانَ مِنْ جَانِبِ أردها عَلَى عَشَرَةِ فَرَاسِخَ مِنْ آبِرُونَ قَرْيَةٌ يُقَالُ لَهَا قالهر وَفِيهَا جَبَلٌ جَانِبَ مِنْهُ عَيْنٌ يَرْشَحُ الْمَاءُ رَشْحًا

তার ওপর একটি পরিখা রয়েছে এবং এই পরিখাকে ঘিরে পাহাড়ের ন্যায় এমন বালুকা রয়েছে যা বহমান এবং পরিখার চারদিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয়। তা থেকে কোনো কিছুই, এমনকি একটি দানাও পরিখায় প্রবেশ করে না। যদি কোনো ব্যক্তি গিয়ে এই বালু থেকে এক মুষ্টি গ্রহণ করে তা এই পরিখায় নিক্ষেপ করে, তবে তৎক্ষণাৎ বাতাস প্রবাহিত হয় এবং সেই বালুকে শূন্যে ওপরের দিকে উঠিয়ে নেয়, যতক্ষণ না পরিখার ভূমি তা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়। এই গ্রামের ওপর একটি মরুভূমি রয়েছে যাকে ‘ফাস’ বলা হয়, যার আয়তন এক ফারসাখ গুণ এক ফারসাখ। এটি এই বালুকাগুলোর মাঝখানে অবস্থিত এবং এই গ্রামের কৃষিজমিও সেখানে। এই মরুভূমির পথ বালুর উঁচু অংশের মধ্যে এবং সেখানেই পরিখার পথ। এই মরুভূমিতে আরও একটি বিস্ময়কর বিষয় রয়েছে, আর তা হলো—এই গ্রামের গবাদিপশু চারণের জন্য সেখানে বের হয়, তখন জঙ্গল থেকে আসা হিংস্র প্রাণীরা তাদের সাথে মিশে যায়, কিন্তু তারা এদের কোনো কিছুরই ক্ষতি করে না। এই গ্রামের অধিবাসীরা দাবি করে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকজন তাদের এই দাবির সত্যতার সাক্ষ্য দেয় যে, কয়েক বছর আগে তাদের গ্রামের একটি মোরগ বন্য হয়ে গিয়েছিল এবং এই মরুভূমিতে চলে গিয়েছিল। সেখানে সেটি চার বছর অবস্থান করেছিল, অথচ কোনো শিয়াল বা অন্য কোনো প্রাণী সেটিকে আক্রমণ করেনি। তাই এই গ্রামের লোকজন দাবি করে যে এটি জাদুকরী প্রভাবযুক্ত (তিলসম)। আর কাশান অঞ্চলের আরদাহা প্রান্ত থেকে আবিরুন অভিমুখে দশ ফারসাখ দূরত্বে কালহার নামক একটি গ্রাম রয়েছে। সেখানে একটি পাহাড় আছে যার একপাশে একটি ঝরনা রয়েছে যা থেকে পানি চুইয়ে পড়ে।

(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٥٨)
كَرَشْحِ الْأَبْدَانِ لِلْعَرَقِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَسِيلَ ذَلِكَ النَّدَى أَوْ يَسْقُطَ إِلَى الْقَرَارِ فَإِذَا كَانَ (ماه تير روز تير) مِنْهُ مِنْ كُلِّ سَنَةٍ اجْتَمَعَ هُنَاكَ أَهْلُ الرُّسْتَاقِ وَسَائِرُ الرَّسَاتِيقِ الْمُصَافِيَةِ لَهُ وَمَعَ كُلِّ إِنْسَانٍ آنِيَةٌ فَيَدْنُو الْوَاحِدُ بَعْدَ الْوَاحِدِ مِنْ ذَلِكَ الْجَبَلِ النَّدِيِّ وَيَقْرَعُهُ بِفِهْرٍ فِي يَدِهِ وَيَقُولُ بِالْفَارِسِيَّةِ كَلَامًا مَعْنَاهُ (بيدخت) اسْقِنِي مِنْ مَائِكَ فَإِنِّي أُرِيدُهُ لِكَذَا وَكَذَا وَيُذْكُرُ فِي خِطَابِهِ الْعِلَّةَ الَّتِي يُرِيدُ مُدَاوَاتَهَا ، فَيَجْتَمِعُ ذَلِكَ الرَّشْحُ مِنْ تِلْكَ الْأَمَاكِنِ الْمُتَفَرِّقَةِ إِلَى مَكَانٍ وَاحِدٍ ، فَيَسِيلُ قَطْرًا فِي آنِيَةِ الْمُسْتَشْفِي ، وَكَذَلِكَ مَنْ إِلَى جَنْبِهِ وَمَنْ هُوَ بِالْبُعْدِ مِنْهُ فَتَمْتَلِئُ تِلْكَ الْأَوَانِي فَيَسْتَشْفُونَ بِذَلِكَ الْمَاءِ طُولَ سَنَتِهِمْ فَيُشْفَوْنَ وَبِقَاشَانَ ثَمَّ قَرْيَةِ آبِرُونَ قَنَاتُهَا الَّتِي تُسَمَّى أسفذاب مِنْهَا شَرِبَ أَهْلُ آبِرُونَ وَصَحَارِيهَا وَالْقُرَى الَّتِي حَوْلَهَا وَمَفِيضُهَا بِقَرْيَةِ فِينَ ،
শরীরের ঘামের মতো, তবে সেই শিশির বা আর্দ্রতা গড়িয়ে পড়ে না বা নিচে জমা হয় না। প্রতি বছর যখন (মাহ্ তীর রোজ তীর) সময়টি আসে, তখন সেখানে সেই জনপদের এবং এর সংলগ্ন অন্যান্য জনপদসমূহের বাসিন্দারা সমবেত হয়। প্রত্যেকের সাথে একটি করে পাত্র থাকে, অতঃপর একে একে তারা সেই আর্দ্র পাহাড়ের নিকটবর্তী হয় এবং নিজেদের হাতে থাকা পাথর দিয়ে তাতে আঘাত করে। তারা ফারসি ভাষায় এমন কথা বলে যার অর্থ হলো: "(বিদখত), আমাকে তোমার পানি থেকে পান করাও, কেননা আমি এটি অমুক অমুক প্রয়োজনে চাচ্ছি।" সে তার আহ্বানে সেই রোগের কথা উল্লেখ করে যার সে চিকিৎসা করতে চায়। ফলে সেই বিভিন্ন স্থান থেকে নিঃসৃত নির্যাস এক জায়গায় জমা হয় এবং আরোগ্য প্রত্যাশীর পাত্রে ফোঁটা আকারে ঝরতে থাকে। একইভাবে তার পাশে থাকা এবং দূরে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ঘটে, ফলে সেই পাত্রগুলো পূর্ণ হয়ে যায়। তারা সারা বছর সেই পানি দ্বারা আরোগ্য লাভের চেষ্টা করে এবং সুস্থতা লাভ করে। আর কাশানে আবিরুন নামে একটি গ্রাম রয়েছে, যার জলপথটি আসফাযাব নামে পরিচিত; সেখান থেকে আবিরুনবাসী, এর মরুপ্রান্তর এবং এর পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহের অধিবাসীরা পানি পান করে। এর প্রবাহস্থল ফিন গ্রামে অবস্থিত।
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٥٩)
فَمِنَ الْخَوَّاصِ الَّتِي فِي هَذِهِ الْقَنَاةِ أَنَّ مَنْ يُلْقِي فِيهَا الْمَاءَ أَمْكَنَهُ السَّيْرُ إِلَى أَنْ يَنْتَهِيَ إِلَى مَوْضِعٍ فِيهَا مَحْدُودٍ مَعْرُوفٍ عِنْدَ أَهْلُ النَّاحِيَةِ فَإِنْ رَامَ تَجَاوُزَ ذَلِكَ الْمَوْضِعَ لَمْ يُمْكِنْهُ لِانْبِهَارٍ يَقَعُ عَلَيْهِ وَانْتِظَامِ نَفْسٍ يَعْتَرِيهِ فَإِنْ لَمْ يَرْجِعِ الْقَهْقَرَي وَقَعَ صَرِيعًا ، وَمِنْ خَوَاصِّهَا أَيْضًا أَنَّهُ لَمْ يُنْفَقْ عَلَيْهَا فِي عِمَارَتِهَا قَطُّ دِرْهَمٌ وَلَا دَخَلَ إِلَيْهَا مُذْ كَانَتْ قِنَاءً فَإِنِ انْهَارَ فِيهَا مِنْ جَوَانِبِهَا شَيْءٌ قَلَّ أَمْ كَثُرَ زَادَ مَاؤُهَا وَلَمَّا وَرَدَ عَمْرُو بْنُ اللَّيْثِ أَصْبَهَانَ رَامَ أَنْ يَطُمَّهَا فَجَمَعَ عَلَيْهَا أَهْلَ الرُّسْتَاقِ وَكَانُوا يَطْرَحُونَ الْكَبْسَ فِيهَا أَيَّامًا ، وَكَانَ الْمَاءُ كُلَّ يَوْمٍ يَزِيدُ وَيَصِيرُ إِلَى الزِّيَادَةِ حَتَّى رَجَعُوا عَنْهَا عَجْزًا مِنْهُمْ بِهَا وَمِنَ الْخَوَّاصِ الَّتِي بِأَصْبَهَانَ خَرَزَاتٌ فِي قُرًى بِعَيْنِهَا بِرُسْتَاقَيْ قَاشَانَ ورويدشت فَإِذَا غَشِيَتْ تِلْكَ الْقُرَى سَحَابَةٌ فِيهَا بَرَدٌ أَبْرَزُوا تِلْكَ
এই খালের (কানাত) বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি হলো যে, যে ব্যক্তি এতে নামবে সে একটি নির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ স্থান পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারবে, যা ওই অঞ্চলের অধিবাসীদের নিকট সুপরিচিত। যদি কেউ সেই স্থান অতিক্রম করার ইচ্ছা করে, তবে তার ওপর আপতিত এক প্রকার হতবুদ্ধিতা এবং শ্বাসকষ্টের কারণে তা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। এমতাবস্থায় সে যদি দ্রুত পিছু ফিরে না আসে, তবে সে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে যায়। এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো যে, এটি খাল হিসেবে নির্মিত হওয়ার পর থেকে এর রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কার কাজে কখনো একটি দিরহামও ব্যয় করতে হয়নি এবং এতে কেউ প্রবেশও করেনি। যদি এর পার্শ্ববর্তী কোনো অংশ ভেঙে পড়ে—তা অল্প হোক বা বেশি—তবে এর পানির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। যখন আমর ইবনে লাইস ইসফাহানে আসলেন, তিনি এটি ভরাট করে দেওয়ার ইচ্ছা করলেন। এজন্য তিনি গ্রামীণ জনপদ থেকে লোকবল সংগ্রহ করলেন এবং তারা কয়েক দিন ধরে এতে মাটি ও ভরাট করার সামগ্রী নিক্ষেপ করতে থাকল। কিন্তু প্রতিদিন পানি আরও বাড়তে থাকল এবং শেষ পর্যন্ত তারা অপারগ হয়ে সেই প্রচেষ্টা থেকে নিবৃত্ত হলো। ইসফাহানের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে কাশান ও রুইদাশতের নির্দিষ্ট কিছু গ্রামে বিদ্যমান কিছু বিশেষ পাথরখণ্ড (বা দানা)। যখন শিলাবৃষ্টির কোনো মেঘ সেই গ্রামগুলোকে আচ্ছন্ন করে, তখন তারা সেগুলো বের করে আনে।
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٦٠)
الْخَرَزَ وَعَلَّقُوهَا مِنْ شُرَفِ الْحِصْنِ فَتَنْقَشِعُ السَّحَابَةُ عَنِ الْقَرْيَةِ وَعَنْ صَحْرَائِهَا مِنْ سَاعَتِهَا وَتُسَمَّى هَذِهِ الْخَرَزَةُ بِالْفَارِسِيَّةِ (مهره بزرك) وَمِنْ خَوَاصِّ أَصْبَهَانَ أَنَّ قَرْيَةً مِنْ قُرَى أَصْبَهَانَ مِنْ رُسْتَاقِ قَاشَانَ يُقَالُ لَهَا قَهْرُوزَذَ بِهَا نَبَاتٌ يُبْسَطُ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ فَيَصِيرُ زُجَاجًا أَبْيَضَ صَافِيًا بَرَّاقًا وَقَدْ حُمِلَ ذَلِكَ الزُّجَاجُ إِلَى كَثِيرٍ مِنَ النَّاسِ أَقْطَاعُ مُشَكَّلَةٌ عَلَى هَيْئَاتِ ضُرُوبٍ مِنَ النَّبَاتِ ، وَأَهْلُ تِلْكَ النَّاحِيَةِ يُسْتَعْمَلُونَ ذَلِكَ الزُّجَاجَ فِي أَلْوَانٍ مِنَ الْأَدْوِيَةِ وَمِنْ خَوَاصِّ أَصْبَهَانَ مَرْجٌ بِقَرْيَتَيْ جكاذه ، وجورجرد مِنْ رُسْتَاقِ قَهِسْتَانَ فِيهَا حَيَّاتٌ تَنْتَشِرُ فِي حَافَّاتِ ذَلِكَ الْمَرْجِ وَعَلَى الطَّرِيقِ الشَّارِعِ طُولُ الْوَاحِدِ مِنْهَا مَا بَيْنَ الذِّرَاعِ إِلَى خَمْسَةِ أَذْرُعٍ ، فَيَتَلَاعَبُ الصِّبْيَانُ بِهَا ، وَيَلُوُونَهَا عَلَى أَيْدِيهِمْ وَأَبْدَانِهِمْ فَلَا تَلْسَعُ ،
পুঁতিগুলো নিয়ে তারা দুর্গের চূড়ায় ঝুলিয়ে দেয়, ফলে তৎক্ষণাৎ গ্রাম ও তার প্রান্তর থেকে মেঘ অপসারিত হয়। এই পুঁতিটিকে ফারসি ভাষায় 'মুহরাহ বুযুর্গ' বলা হয়। ইসফাহানের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি হলো ক্বাশান অঞ্চলের কাহরুযাদ নামক একটি গ্রাম; সেখানে এমন এক উদ্ভিদ জন্মে যা জমিনের উপরিভাগে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাদা, স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল কাঁচে পরিণত হয়। সেই কাঁচের বিভিন্ন খণ্ড যা উদ্ভিদের বিচিত্র আকৃতি ধারণ করে আছে, তা অনেক মানুষের নিকট নিয়ে আসা হয়েছে। ওই অঞ্চলের অধিবাসীরা এই কাঁচ বিভিন্ন প্রকার ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করে থাকে। ইসফাহানের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো কুহিস্তান অঞ্চলের জাকাযাহ ও জুরজারাদ গ্রামদ্বয়ের একটি চারণভূমি। সেখানে এমন কিছু সাপ রয়েছে যা সেই চারণভূমির কিনারায় এবং মূল রাস্তায় ছড়িয়ে থাকে। এগুলোর একেকটি এক হাত থেকে পাঁচ হাত পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। শিশুরা সেগুলো নিয়ে খেলাধুলা করে এবং নিজেদের হাতে ও শরীরে পেঁচিয়ে রাখে, কিন্তু সেগুলো দংশন করে না।
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٦١)
وَمِنْ خَوَاصِّ أَصْبَهَانَ بِرُسْتَاقِ قَهِسْتَانَ مَعْدِنُ فِضَّةٍ وَمَعْدِنُ صُفْرٍ ، وَالْفِضَّةُ تَخْرُجُ مِنْهَا ثَمَانِيَةَ مَثَاقِيلَ وَبِرُسْتَاقِ التَّيْمُرَةِ الْكُبْرَى مَعْدِنُ فِضَّةٍ، وَبِالتَّيْمُرَةِ الصُّغْرَى مَعْدِنُ ذَهَبٍ، وَآثَارُ هَذِهِ الْمَعَادِنِ وَآبَارُهَا بَاقِيَةٌ بَادِيَةٌ لِلْعُيُونِ وَبِرُسْتَاقِ الدَّارِ (طسوج جانان) فِي قَرْيَةٍ يُقَالُ لَهَا مَاثةُ دُوَيْبَةٍ فِي خِلْقَتِهَا الْخُنْفِسَاءُ ، صَغِيرَةٌ فِي جَرْمِ ذُبَابٍ ، تَدِبُّ فِي اللَّيْلَةِ الْمُظْلِمَةِ فَيَتَّقِدُ مِنْ ظَهْرِهَا مِثْلُ السَّرَّاجِ ، وَمَنْ أَخَذَ وَاحِدَةً مِنْهَا لَيْلًا فَأَبْصَرَهَا نَهَارًا رَأَى لَوْنَ ظَهْرِهَا الَّذِي يُضِيءُ شَبِيهًا بِلَوْنِ الطَّاوُوسِ خَضِرَةٌ فِي حُمْرَةٍ فِي صُفْرَةٍ وَتُسَمَّى هَذِهِ الدُّوَيْبَةُ براة ، وَفِي هَذِهِ النَّاحِيَةِ حِجَارَةٌ شَبَهَ السُّكَّرِ مُحَبَّبِ الْوَجْهِ يُؤْخَذُ مِنْهَا قِطْعَتَانِ وَيُضْرَبُ بَعْضُهَا بِبَعْضٍ فَتَخْرُجُ النَّارُ مِنْ بَيْنِهِمَا كَمَا تَخْرُجُ مِمَّا بَيْنَ الْحَجَرِ وَالْحَدِيدِ وَمِنْ خَوَاصِّ أَصْبَهَانَ رُسْتَاقِ قَاشَانَ فِي قَرْيَةٍ يُقَالُ لَهَا

ইসফাহানের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো কাহেস্তান জেলায় অবস্থিত রূপা ও পিতলের খনি। সেখান থেকে আট মিসকাল পরিমাণ রূপা উৎপাদিত হয়। তাইমুরাতুল কুবরা জেলায় রয়েছে রূপার খনি এবং তাইমুরাতুস সুগরা জেলায় রয়েছে স্বর্ণের খনি। এই সকল খনি ও সেগুলোর কূপের নিদর্শনাবলি অদ্যাবধি বিদ্যমান এবং প্রত্যক্ষগোচর। আদ্-দার (তসওয়াজ জানান) জেলার মাশাহ নামক গ্রামে এমন এক ক্ষুদ্র পতঙ্গ পাওয়া যায় যার অবয়ব গুবরে পোকার ন্যায়, কিন্তু আকারে মাছির মতো ছোট। অন্ধকার রাতে এটি যখন বিচরণ করে, তখন এর পৃষ্ঠদেশ থেকে প্রদীপের ন্যায় আলো বিচ্ছুরিত হয়। কেউ যদি রাতে এটি সংগ্রহ করে দিনে প্রত্যক্ষ করে, তবে সে এর উজ্জ্বল পৃষ্ঠদেশকে ময়ূরের বর্ণের ন্যায় দেখতে পাবে—যা লাল ও হলুদের আভা মিশ্রিত সবুজ বর্ণের। এই ক্ষুদ্র পতঙ্গটিকে 'বারাহ' নামে অভিহিত করা হয়। এই অঞ্চলে চিনির দানার ন্যায় উপরিভাগ বিশিষ্ট এমন কিছু পাথর পাওয়া যায়, যার এক খণ্ডের সাথে অন্য খণ্ডের আঘাত লাগলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নির্গত হয়, যেমনটি পাথর ও লোহার ঘর্ষণে ঘটে থাকে। ইসফাহানের অনন্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কাশান জেলার একটি গ্রামও অন্তর্ভুক্ত, যাকে বলা হয়

(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٦٢)
كرمند فِيهَا مَعِينٌ يَخْرُجُ مِنْهُ مَاءٌ غَزِيرٌ وَيُسْقَى مِنْهُ زُرُوعُ الْقَرْيَةِ وَيَشْرَبُهُ النَّاسُ وَالْبَهَائِمُ ، وَمَا يَفْضُلُ مِنْهُ يَنْصَبُّ إِلَى جَدْوَلٍ فَيَتَحَوَّلُ حِجَارَةً وَمِنْ خَوَاصِّهَا كَهْفٌ فِي جَبَلٍ مِنْ رُسْتَاقِ قَهِسْتَانَ بِقَرْيَةٍ يُقَالُ لَهَا فَازَةُ ، يَقْطُرُ مِنْ قُلَّتِهِ مَاءٌ فَإِذَا اسْتَقَرَّ فِي الْأَرْضِ تَحَوَّلَ حَجَرًا وَمِنْ خَوَاصِّهَا عَيْنٌ بِرُسْتَاقِ قَهِسْتَانَ فِي مَوْضِعٍ تُسَمَّى بوذم ، يَنْبُعُ مِنْهَا مَاءٌ صَافٍ مَرِيءٌ لَا يَشْرَبُهُ مِنَ النَّاسِ وَالدَّوَابِّ شَيْءٌ قَدْ عَلِقَ الْعَلَقُ بِحَلْقِهِ إِلَّا سَقَطَ مِنْ حَلْقِهِ وَمَاتَ مَكَانَهُ وَمِنْ خَوَاصِّهَا الْخِشَايَةُ وَهِيَ شَجَرَةٌ تَأْخُذُ أَغْصَانَهَا مِنَ الْهَوَاءِ أَكْثَرَ مِنْ مِقْدَارِ جَرِيبِ أَرْضٍ مُسْتَدِيرَةٍ مُلْتَفَّةِ الْأَغْصَانِ مُكْتَثِرَةِ الْأَوْرَاقِ ظِلُّهَا أَثْخَنُ مِنْ ظِلِّ الْجَبَلِ وَتَحْمِلُ كُلَّ سَنَةٍ خَرَائِطَ مُدَوَّرَةً مَمْلُوءَةً بَقًّا

কারমান্দ-এ একটি প্রস্রবণ রয়েছে যেখান থেকে প্রচুর পানি প্রবাহিত হয়। তা দ্বারা গ্রামের ফসলাদি সেচ করা হয় এবং মানুষ ও গবাদি পশু তা পান করে। এর যে অংশটুকু উদ্বৃত্ত থাকে, তা একটি নালায় গিয়ে পতিত হয় এবং পাথরে রূপান্তরিত হয়। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কাহেস্তান অঞ্চলের ফাযা নামক একটি গ্রামের পাহাড়ে অবস্থিত একটি গুহা। এর চূড়া থেকে পানি টপটপ করে পড়ে এবং যখন তা মাটিতে স্থির হয়, তখন তা পাথরে পরিণত হয়। এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো কাহেস্তান অঞ্চলের বুযম নামক স্থানে অবস্থিত একটি ঝরনা। সেখান থেকে স্বচ্ছ ও সুপেয় পানি নির্গত হয়। মানুষ কিংবা চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে যার গলায় জোঁক আটকে থাকে, সে এই পানি পান করা মাত্রই জোঁকটি তার গলা থেকে খসে পড়ে এবং তৎক্ষণাৎ মারা যায়। এর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো 'খিশায়াহ'; এটি এমন একটি বৃক্ষ যার ডালপালা শূন্যে এক জারীবের (জমির পরিমাপ বিশেষ) চেয়েও বেশি বৃত্তাকার স্থান জুড়ে বিস্তৃত। এর ডালগুলো ঘনভাবে প্যাঁচানো এবং প্রচুর পাতায় সমৃদ্ধ। এর ছায়া পাহাড়ের ছায়ার চেয়েও বেশি নিবিড়। প্রতি বছর এটি পতঙ্গে পূর্ণ গোলাকার থলি সদৃশ ফল ধারণ করে।

(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٦٣)
وَمِمَّا لَا يُوجَدُ مِنْهُ إِلَّا بِأَصْبَهَانَ الجاوشير وَالسكنبيج وَمِنْ خَوَاصِّ أَصْبَهَانَ عَيْنٌ بِقَرْيَةِ قزائن مِنْ رُسْتَاقِ القامزاذ فِي صَحْرَائِهَا يَكُونُ مُسْتَدَرَّاتُهَا ثَلَاثَةَ أَرْمَاحٍ ، تَبْرُزُ بِالْمَاءِ كُلَّ سَنَةٍ فِي أَيَّامِ الرَّبِيعُ سَبْعِينَ يَوْمًا مُحْصَاةً فَيَخْرُجُ مِنْهَا فِي مُدَّةِ هَذِهِ الْأَيَّامِ السَّمَكُ الَّذِي بِظَهْرِهِ عُقْرٌ ، فَإِذَا تَمَّتْ مُدَّةُ هَذِهِ السَّبْعِينَ الْيَوْمَ ، خَرَجَ مِنْ نُقْرَةِ الْعَيْنِ حَيَّةٌ سَوْدَاءُ عَظِيمَةٌ فَكَمَا تَخْرُجُ تَعُودُ فِي مَكَانِهَا وَيَنْقَطِعُ ذَلِكَ الْمَاءُ فَلَا تَرَاهُ الْعُيُونُ إِلَى السَّنَةِ الْقَابِلَةِ وَبِرُسْتَاقِ القامزاذ ثَمَّ (بطسوج الفيشو) كَانَ قَرْيَةٌ يُقَالُ لَهَا هَنَاءٌ بَيْنَ قَرْيَةِ سميرم وَقَلْعَةِ ابْنِ بَهَانْزَاذَ إِلَى جَانِبِهَا تَلٌّ كَبِيرٌ كَأَنَّهُ صَبِيبُ دَرَاهِمَ يُقَالُ لَهُ تَلُّ جَمٍّ ، وَذَلِكَ الصَّبِيبُ هُوَ دَرَاهِمُ مِنْ حِجَارَةٍ بِيضٍ

আর ইসফাহান ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না এমন জিনিসের মধ্যে রয়েছে জাওশির এবং সাকামবিজ। ইসফাহানের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি হলো কামজাদ জেলার কাজাইন গ্রামের একটি প্রস্রবণ, যা সেই অঞ্চলের মরুভূমিতে অবস্থিত। এর পানি নির্গমনের উচ্চতা তিনটি বল্লম পরিমাণ; এটি প্রতি বছর বসন্তকালে সুনির্দিষ্ট সত্তর দিন পানি নির্গত করে। এই দিনগুলোতে সেখান থেকে এমন মাছ বের হয় যাদের পিঠে ক্ষতচিহ্ন থাকে। যখন এই সত্তর দিনের মেয়াদ পূর্ণ হয়, তখন প্রস্রবণের গর্ত থেকে একটি বিশাল কালো সাপ বেরিয়ে আসে; এটি যেভাবে বের হয় ঠিক সেভাবেই স্বস্থানে ফিরে যায় এবং সেই পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আগামী বছর না আসা পর্যন্ত মানুষ তা আর দেখতে পায় না। কামজাদ জেলায় ফিশু পরগনায় সুমাইরাম গ্রাম ও ইবনে বাহানজাদের দুর্গের মধ্যবর্তী স্থানে হানা নামক একটি গ্রাম ছিল। এর পাশে একটি বিশাল ঢিবি রয়েছে যা দেখতে যেন দিরহামের স্তূপ, একে তাল্লে জাম্ম বলা হয়। আর সেই স্তূপটি মূলত দিরহামের ন্যায় গোলাকার সাদা পাথরের সমষ্টি।

(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٦٤)
بَرَّاقَةٍ إِذَا صُبَّتْ فِي كِيسٍ وُجِدَ لَهَا صَلِيلٌ كَصَلِيلِ الدَّرَاهِمِ عَلَى وَجْهَيْ كُلِّ حَجَرٍ دَائِرَتَانِ مُتَجَاوِرَتَانِ وَيَبْلُغُ مِنْ كَثْرَتِهِ أَنَّهُ لَوْ رَامَ سُلْطَانٌ نَقْلَهَا مِنْ مَكَانٍ إِلَى مَكَانٍ يَقْرُبُ مِنْهُ بِمِائَةِ جَمَلٍ يُوقِرُ فِي كُلِّ يَوْمٍ مَرَّاتٍ لَبَقَوْا فِي نَقْلِهَا شُهُورًا وَهَذَا شَيْءٌ لَا خَفَاءَ بِهِ وَأُعْجُوبَةٌ أُخْرَى هُنَاكَ وَهُوَ أَنَّ مَنْ سَكَنَ قَلْعَةَ ابْنِ بهانزاذ فِي أَيَّامِ الرَّبِيعِ يَرَى طُولَ لَيْلَتِهِ نِيرَانًا تَشْتَعِلُ مِنْ ذُرْوَةِ حِيطَانِ الْقَلْعَةِ ، وَإِذَا قَرُبَ مِنْهَا لَمْ يَجِدْهَا شَيْئًا ، وَكَذَلِكَ يَرَوْنَ إِذَا نَظَرَ بَعْضُهُمْ إِلَى رُءُوسِ بَعْضٍ فَكُلَّمَا كَانَ الرَّبِيعُ أَكْثَرَ أَمْطَارًا كَانَتْ تِلْكَ النَّارُ أَكْثَرَ اشْتِعَالًا وَكَانَتْ مُلُوكُ الْفُرْسِ لَا تُؤْثِرُ عَلَى أَصْبَهَانَ شَيْئًا مِنْ بُلْدَانِ مَمْلَكَتِهَا لِطِيبِ هَوَائِهَا وَنَمِيرِ مَائِهَا وَنَسِيمِ تُرْبَتِهَا ، وَالشَّاهِدُ عَلَى ذَلِكَ مَا هُوَ مَوْجُودٌ فِي رِوَايَاتِهِمُ الْمَوْدُعَةِ بُطُونَ الْكُتُبِ ، فَمِنْ ذَلِكَ: مَا يَأْثُرُهُ أَهْلُ بَيْتِ النُّوشَجَانِ ، وَإِسْحَاقَ ابْنَيْ عَبْدِ الْمَسِيحِ مِنْ أَخْبَارِ جَدِّهِمُ الْمُنْتَقِلُ مِنْ أَرْضِ الرُّومِ إِلَى أَصْبَهَانَ حَتَّى اسْتَوْطَنَهَا وَتَنَاسَلَ بِهَا: حَدَّثَنِي النُّوشَجَانُ ، عَنْ عَمِّهِ يَعْقُوبَ النَّصْرَانِيِّ أَنَّ فَيْرُوزَ بْنَ يَزْدَجَرْدَ

উজ্জ্বল, যা যখন থলিতে ঢালা হয় তখন দিরহামের ঝনঝন শব্দের মতো শব্দ পাওয়া যায়। প্রতিটি পাথরের উভয় পাশে দুটি করে পাশাপাশি বৃত্ত রয়েছে। এর প্রাচুর্য এত বেশি যে, কোনো সুলতান যদি একশটি উটের সাহায্যে সেগুলোকে এক স্থান থেকে নিকটবর্তী অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে চান—যেখানে উটগুলো প্রতিদিন কয়েকবার মাল বহন করবে—তবে তা সরাতে তাদের কয়েক মাস লেগে যাবে। এটি এমন এক বিষয় যা অস্পষ্ট নয়। সেখানে আরেকটি আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, বসন্তকালে যে ব্যক্তি ইবনে বাহানজাদ দুর্গে অবস্থান করে, সে সারারাত দুর্গের দেয়ালের শীর্ষদেশ থেকে আগুন জ্বলতে দেখে। কিন্তু যখন সে তার কাছে যায়, তখন কিছুই পায় না। একইভাবে তারা যখন একে অপরের মাথার দিকে তাকায়, তখনও তেমনটি দেখতে পায়। বসন্তে যত বেশি বৃষ্টিপাত হয়, সেই আগুন তত বেশি প্রজ্জ্বলিত হয়। পারস্যের রাজারা তাদের রাজ্যের অন্য কোনো শহরকে ইসফাহানের ওপর প্রাধান্য দিতেন না, সেখানকার নির্মল আবহাওয়া, সুমিষ্ট পানি এবং স্নিগ্ধ মাটির কারণে। এর প্রমাণ তাদের বর্ণনাসমূহে বিদ্যমান যা কিতাবসমূহের অভ্যন্তরে সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে রয়েছে: নুশাজান ও ইসহাক—আবদুল মসীহের এই দুই পুত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে বর্ণিত তাদের দাদার সংবাদ, যিনি রোম দেশ থেকে ইসফাহানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন এবং অবশেষে সেখানে বসতি স্থাপন করেন ও বংশবিস্তার করেন। নুশাজান আমাকে তার চাচা ইয়াকুব নাসরানীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, ফিরুজ বিন ইয়াজদাজিরদ...

(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٦٥)
الْمَلِكَ كَتَبَ إِلَى مَلِكِ مِنْ مُلُوكِ الرُّومِ قَدْ نَسِيتُ اسْمَهُ يَسْتَهْدِيهِ رَجُلًا مِنْ كِبَارِ حُكَمَائِهِ وَحُذَّاقِ أَطِبَّائِهِ ، فَأَنْفَذَ إِلَيْهِ رَجُلًا اخْتَارَهُ مِنْ بُلْدَانِ مَمْلَكَتِهِ فَلَمَّا وَفَدَ عَلَيْهِ قَالَ لَهُ: أَيُّهَا الْحَكِيمُ إِنَّمَا أَنْهَضْنَاكَ مِنْ أَرْضِكَ إِلَى أَرْضِنَا لِتَخَتْارَ لَنَا مِنْ بُلْدَانِ مَمْلَكَتِنَا بَلَدًا يَصِحُّ فِيهِ هَذِهِ الْأَرْكَانُ الْأَرْبَعَةُ الْكِبَارُ الَّتِي بِسَلَامَتِهَا يَطُولُ بَقَاءُ الْحَيَوَانِ ، وَبِاعْتِدَالِهَا تَصْحَبُ أَجْسَامَ الْحَيَوَانِ الصِّحَّةُ وَتُفَارِقُهَا الْعِلَّةُ يَعْنِي الْأَرْضَ ، وَالْمَاءَ ، وَالْهَوَاءَ ، وَالنَّارَ ، فَقَالَ: أَيُّهَا الْمَلِكُ وَكَيْفَ لِي بِإِدْرَاكِ ذَلِكَ؟ فَقَالَ: اسْتَقْرِئْ بُلْدَانَ مَمْلَكَتِنَا وَأَيَّ مَوْضِعٍ وَقَعَ اخْتِيَارُكَ عَلَيْهِ فَأَقِمْ بِهِ وَاكْتُبْ إِلَيَّ مِنْهُ لِأَتَقَدَّمَ فِي الزِّيَادَةِ فِي عِمَارَتِهِ وَأَتَحَوَّلُ إِلَيْهِ فَأَجْعَلُهُ دَارَ الْمَمْلَكَةِ فَانْتَدَبَ الرُّومِيَّ لَمَّا أَمَرَهُ وَطَافَ فِي بُلْدَانِ الْمَمْلَكَةِ فَوَقَعَ اخْتِيَارُهُ عَلَى أَصْبَهَانَ ، فَأَقَامَ بِهَا وَكَتَبَ إِلَى الْمَلِكِ فَيْرُوزَ أَنِّي جُلْتُ فِي مَمْلَكَتِكَ حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى بَلَدٍ لَا يَشُوبُ شَيْئًا مِنْ أَرْكَانِهِ فَسَادٌ وَقَدْ نَزَلْتُ أَنَا مِنْهُ فِيمَا بَيْنَ حِصْنَيْ قَرْيَةِ يَوَانَ فَإِنْ رَأَى الْمَلِكُ أَنْ يُقْطِعَنِي مَا بَيْنَ الْحِصْنَيْنِ مِنْ أَرْضِ يَوَانَ ، وَيُطْلِقَ لِي بِأَنْ أَبْنِيَ فِيهَا كَنِيسَةً وَدَارًا ، فَلَمَّا وَرَدَ كِتَابُهُ إِلَى فَيْرُوزَ أَطْلَقَ لَهُ مَا سَأَلَ ، فَبَنَى بِإِزَاءِ الْحِصْنَيْنِ مِنْ أَرْضِ يَوَانَ دَارَهُ وَرَفَعَ رُقْعَتَهَا فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي فِيهِ دَارُ النُّوشَجَانِ ، وَإِسْحَاقَ مِنْ يَوَانَ إِلَى السَّاعَةِ وَبَنَى بِإِزَاءِ الْحِصْنِ الْآخَرِ الْبَيْعَةَ وَبَنَى بِالْحِصْنِ الْآخَرِ مَوْضِعَ رُقْعَةِ

বাদশাহ রোমের রাজাদের মধ্য থেকে এক রাজার কাছে চিঠি লিখলেন—যার নাম আমি ভুলে গিয়েছি—তাঁর কাছে উপহার হিসেবে একজন বড় মাপের বিজ্ঞ ব্যক্তি ও নিপুণ চিকিৎসক চাইলেন। ফলে তিনি (রোম সম্রাট) তাঁর রাজ্যের শহরগুলো থেকে পছন্দ করে একজন ব্যক্তিকে তাঁর কাছে পাঠালেন। যখন তিনি তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন: হে বিজ্ঞ ব্যক্তি! আমি আপনাকে আপনার দেশ থেকে আমাদের দেশে কেবল এই জন্যই নিয়ে এসেছি, যাতে আপনি আমাদের রাজ্যের শহরগুলো থেকে আমাদের জন্য এমন একটি শহর নির্বাচন করেন যেখানে এই বড় চারটি মূল উপাদান সঠিকভাবে বিদ্যমান থাকে, যেগুলোর বিশুদ্ধতার ওপর প্রাণীর দীর্ঘ জীবন নির্ভরশীল এবং যেগুলোর ভারসাম্য বজায় থাকলে প্রাণীকুলের শরীরে সুস্থতা বিরাজ করে ও রোগব্যাধি তাদের ছেড়ে চলে যায়—অর্থাৎ মাটি, পানি, বায়ু ও অগ্নি। তখন তিনি বললেন: হে বাদশাহ! আমি কীভাবে তা অনুধাবন করব? তিনি বললেন: আমাদের রাজ্যের শহরগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করুন এবং যে স্থানটির ওপর আপনার পছন্দ স্থির হবে সেখানে অবস্থান করুন এবং সেখান থেকে আমাকে পত্র লিখুন, যাতে আমি সেটির আবাদ ও উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারি এবং সেখানে স্থানান্তরিত হয়ে সেটিকে রাজ্যের রাজধানী বানাতে পারি। অতঃপর রোমীয় সেই ব্যক্তি তাঁর আদিষ্ট কার্যে নিয়োজিত হলেন এবং রাজ্যের শহরগুলোতে পরিভ্রমণ করলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর পছন্দ ইসফাহানের ওপর স্থির হলো। তিনি সেখানে অবস্থান করলেন এবং বাদশাহ ফিরুজকে লিখে পাঠালেন যে, আমি আপনার রাজ্যে ততক্ষণ পরিভ্রমণ করেছি যতক্ষণ না এমন একটি শহরে পৌঁছেছি যার উপাদানগুলোর কোনোটিতেই কোনো প্রকার ত্রুটি বা বিপর্যয় মিশ্রিত নেই। আমি সেখানে ইয়াবান গ্রামের দুটি দুর্গের মধ্যবর্তী স্থানে অবতরণ করেছি। বাদশাহ যদি সঙ্গত মনে করেন তবে ইয়াবান ভূমির সেই দুর্গদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানটুকু আমাকে দান করবেন এবং আমাকে সেখানে একটি গির্জা ও একটি গৃহ নির্মাণের অনুমতি দেবেন। যখন ফিরুজের কাছে তাঁর চিঠি পৌঁছাল, তখন তিনি তাঁর প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। ফলে তিনি ইয়াবান ভূমির সেই দুর্গদ্বয়ের বিপরীতে নিজের বাড়ি নির্মাণ করলেন এবং এর ভিত্তি সেই স্থানে স্থাপন করলেন যেখানে বর্তমানে ইয়াবানের নুশাজান ও ইসহাকের বাড়ি অবস্থিত। তিনি অপর দুর্গের সামনে গির্জা নির্মাণ করলেন এবং অন্য দুর্গের স্থানে ভিত্তিস্থাপন করলেন...

(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٦٦)
الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ الْيَوْمَ لِأَنَّهُ كَانَ فِي الْأَصْلِ حِصْنَانِ مِنْ حُصُونِ قَرْيَةِ يَوَانَ وَوَقَعَتْ رُقْعَةُ مَوْضِعِ الْبَيْعَةِ عِنْدَ الْمَسْجِدُ الَّذِي عَلَى طَرَفِ مَيْدَانِ سُلَيْمَانَ وَبِنَاؤُهُ بَاقٍ إِلَى السَّاعَةِ ، وَتَقَدَّمَ فَيْرُوزُ مِنْ فَوْرِهِ ذَلِكَ إِلَى آذَرْشَابُورَ بْنِ آذَرْمَانَانَ الْأَصْفَهَانِيِّ ، وَكَانَ مُقِيمًا بِالْحَضْرَةِ بِالْمُبَارَزَةِ إِلَى أَصْبَهَانَ لِإِتْمَامِ بِنَاءِ سُوَرِ مَدِينَةِ جَيٍّ وَتَغْلِيقِ أَبْوَابِهَا ، فَلَمَّا اسْتَقَرَّ قَبَاذُ فِي الْمَمْلَكَةِ أَمَرَ الرُّومِيَّ أَنْ يَخْتَارَ لَهُ بَلَدًا مُعْتَدِلَ الْهَوَاءِ فِي الْأَزْمِنَةِ الْأَرْبَعَةِ الْمُتَوَسِّطَ فِي حَالِ اللُّدُونَةِ وَالرُّطُوبَةِ وَالْيُبُوسَةِ الَّذِي نُسَمِّيهِ خَفِيفٌ رَقِيقٌ مُضِيءٌ تَسْتَرْوِحُ إِلَيْهِ الْقُلُوبُ وَتَنْفَسِحُ لَهُ الْأَبْصَارُ ، وَيُخْتَارُ لَهُ مِنَ الْأَحْطَابِ أَطَنُّهَا صَوْتًا وَأَطْيَبُهَا رَائِحَةً الَّذِي يُلْهِبُ نِيرَانَهَا صَافٍ وَحَرُّهَا مُتَوَسِّطٌ وَدُخَانُهَا مَعَ قِلَّتِهِ عَذِيُّ وَيُخْتَارُ لَهُمْ مِنَ الْمِيَاهِ الْفُرَاتُ
আজকের জামে মসজিদটি, কারণ এটি মূলত ইয়ওয়ান গ্রামের দুর্গগুলোর মধ্য থেকে দুটি দুর্গ ছিল। আর বায়াতের স্থানের ভূমিটি সুলাইমান ময়দানের প্রান্তবর্তী মসজিদের নিকটবর্তী ছিল এবং এর নির্মাণশৈলী বর্তমান সময় পর্যন্ত অবশিষ্ট রয়েছে। ফিরোজ তৎক্ষণাৎ ইসফাহানি আজারমানানের পুত্র আজারশাপুরের নিকট অগ্রসর হলেন, যিনি জয় নগরের প্রাচীর নির্মাণ সম্পন্ন করতে এবং এর ফটকসমূহ রুদ্ধ করার জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর যখন কাবাদ সাম্রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেন, তখন তিনি রোমান ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন তার জন্য এমন এক শহর নির্বাচন করতে যার আবহাওয়া চার ঋতুতেই নাতিশীতোষ্ণ থাকে এবং যা আর্দ্রতা ও শুষ্কতার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ হয়; যাকে আমরা বলে থাকি হালকা, সূক্ষ্ম ও উজ্জ্বল; যাতে হৃদয় প্রশান্তি পায় এবং দৃষ্টি উন্মুক্ত হয়। আর তার জন্য এমন জ্বালানি কাঠ নির্বাচন করতে বললেন যা শব্দে অধিক অনুরণনকারী এবং সুগন্ধে সেরা; যার অগ্নিশিখা হবে স্বচ্ছ এবং উত্তাপ হবে পরিমিত, আর তার ধোঁয়া কম হওয়া সত্ত্বেও হবে নির্মল। আর তাদের জন্য সুপেয় মিষ্ট পানি নির্বাচন করতে বললেন।
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٦٧)
الزُّلَالُ الصَّافِي الْعَذْبُ الْخَفِيفُ الْوَزْنِ السَّرِيعُ الِامْتِزَاجِ بِالْحَرِّ وَالْبَرْدِ الْبَعِيدِ عَنِ الْيَنْبُوعِ الْمُنْحَرِفِ مِنَ الْغَرْبِ إِلَى الشَّرْقِ الشَّدِيدِ الْجِرْيَةِ الدَّائِمِ الْإِقْبَالِ لِلْمَطَالِعِ فَلَا يَشُوبُهُ طَعْمٌ كَرِيهٌ وَلَا رَائِحَةٌ مُنْكَرَةٌ وَلَا غَالِبُ الْبَيَاضِ وَلَا نَاصِعُ الْخُضْرَةِ وَلَا أَوْرَقُ الْقَتَمَةِ ، الطَّيِّبُ التُّرْبَةِ وَأَنْ يَخْتَارَ لَهُمْ مِنَ الْبُلْدَانِ أَطْيَبَهَا تُرْبَةً وَأَسْطَعَهَا رَائِحَةً وَأَصْفَاهَا هَوَاءً وَأَنْقَاهَا جَوًّا وَأَزْهَرَهَا كَوَاكِبًا وَأَوْضَحَهَا ضِيَاءً الَّتِي لَا عُيُونُ الْكِبْرِيتِ بِقُرْبِهَا ، وَإِذَا احْتُفِرَ فِيهَا آبَارٌ لَمْ يُحْتَجْ إِلَى طَمِّهَا ، الْقَرِيبَةُ اللِّينَةُ الْمُعْتَدِلَةُ الْحَرِّ وَالْبَرْدِ فِي الْأَزْمِنَةِ الْأَرْبَعَةِ ، لَا قَرِيبَةٌ مِنَ الْفَلَكِ وَلَا بَعِيدَةٌ مِنْهُ لَا مُرْتَفِعَةٌ صُعُودًا وَلَا مُنْخَفِضَةٌ هُبُوطًا وَلَا مُتَدَانِيَةٌ وَلَا مُتَبَايِنَةٌ مِنَ الْبِحَارِ مُوَازِيَةٌ لِوَسَطِ الْأَرْضِ ، وَحَيْثُ يَقِلُّ فِيهَا هُبُوبُ الرِّيَاحِ الْعَوَاصِفِ جَازَهَا نَهْرٌ عَظِيمٌ ، فَوَجَدْتُ أَيُّهَا الْمَلِكُ أَكْثَرَ هَذِهِ الْأَوْصَافِ الَّتِي يَفُوتُهَا الْقَلِيلُ مِنْهَا فِي إيرانشهر وَهُوَ أَصْبَهَانُ: وَوَجَدْنَا أَخْصَبَ بِقَاعِ الْمَمْلَكَةِ عَشَرَةَ مَوَاضِعَ

স্বচ্ছ, নির্মল, সুমিষ্ট এবং ওজনে হালকা পানি, যা দ্রুত উষ্ণতা ও শীতলতার সাথে সংমিশ্রিত হয়; যা উৎস হতে দূরবর্তী এবং পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে প্রবহমান ও ক্ষিপ্রগতি সম্পন্ন; যা সর্বদা উদয়স্থলের অভিমুখী থাকে বিধায় কোনো কটু স্বাদ বা অপ্রীতিকর গন্ধ এতে মিশ্রিত হতে পারে না। এর বর্ণ অত্যধিক শুভ্র নয়, গাঢ় সবুজ নয় এবং ধূলিমলিন ধূসরও নয়। মাটির বিশুদ্ধতা এবং জনপদসমূহের মধ্যে সেই স্থানটি তাদের জন্য নির্বাচন করা যার মাটি সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট, যার সুঘ্রাণ অত্যধিক প্রবল, যার বাতাস অত্যন্ত স্বচ্ছ, যার বায়ুমণ্ডল নির্মলতম, যেখানে নক্ষত্ররাজি অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং যার জ্যোতি সুস্পষ্ট। যার সন্নিকটে কোনো গন্ধকের প্রস্রবণ নেই এবং সেখানে কূপ খনন করা হলে তা পুনরায় ভরাট করার প্রয়োজন পড়ে না। যা নাতিশীতোষ্ণ এবং চার ঋতুতেই চরম উষ্ণতা ও শীতলতা থেকে মুক্ত। যা ঊর্ধ্বলোক থেকে অতি নিকটে নয় এবং তা থেকে অতি দূরেও নয়; উচ্চতায় খুব উঁচুতে নয় এবং অতল গভীরেও নয়। যা সমুদ্র থেকে খুব নিকটবর্তী নয় আবার তা হতে বিচ্ছিন্নও নয় এবং যা পৃথিবীর মধ্যভাগের সমান্তরালে অবস্থিত। যেখানে ঝড়ো হাওয়ার প্রকোপ কম এবং যা একটি বিশাল নদী অতিক্রম করেছে। হে রাজন! আমি এই বৈশিষ্ট্যাবলির অধিকাংশ—যার খুব সামান্যই সেখানে অনুপস্থিত—ইরানশাহরে অর্থাৎ ইসফাহানে পেয়েছি। আর আমরা সাম্রাজ্যের দশটি স্থানকে সর্বাধিক উর্বর ভূমি হিসেবে পেয়েছি।

(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٦٨)
: أَصْبَهَانُ ، وَأَرْمِينِيَّةُ ، وَأَذْرَبِيجَانُ ، ودسنين ، وماه دينار ، وماه نهاوند ، وماه كران ، وَكَرْمَانَ ، وقومس ،
: আসবাহান, আরমিনিয়া, আজারবাইজান, দসনীন, মাহ দিনার, মাহ নাহাওয়ান্দ, মাহ কারান, কারমান এবং কুমিস,
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٦٩)
وَطَبَرِسْتَانُ ، وَوَجَدْنَا أَخَفَّ بِقَاعِ مَمْلَكَتِهِ مَاءً عَشَرَةَ مَوَاضِعَ: زرنرود أَصْبَهَانُ ، وَدِجْلَةُ ، وَالْفُرَاتُ ، وماه سوران ، وَعَيْنٌ بقرميسين ، وماه ذَاتُ الْمَطَامِيرِ
এবং তাবারিন্তান; আর আমরা তাঁর সাম্রাজ্যের ভূখণ্ডগুলোর মধ্যে পানির দিক থেকে সবচেয়ে হালকা দশটি স্থান পেয়েছি: ইসফাহানের যরনারুদ, দজলা, ফোরাত, মাহ সূরান, কিরমিসিনের একটি ঝরনা এবং মাহ যাতুল মাতামির।
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٧٠)
وماه سبذان ، وماه جُنْدِ يَسَابُورَ ، وماه بَلْخٍ ، وماه سَمَرْقَنْدَ ، وَمِنَ الدَّلِيلِ عَلَى مَا ذَكَرَهُ الْفُرْسُ أَنَّ أَخَفَّ الْمِيَاهِ مَاءُ رزنروذ أَنَّ الْمُوَفَّقَ بَعْدَ وُرُودِهِ أَصْبَهَانَ لَمْ يَشْرَبْ غَيْرَ مَاءِ رزنروذ وَكَانَ يُنْقَلُ إِلَيْهِ مَطْبُوخًا إِلَى أَنْ مَاتَ ، وَوَجَدْنَا أَسْرَى بِقَاعِ مَمْلَكَتِهِ فَوَاكِهَ سَبْعِ مَوَاضِعَ: أَصْبَهَانُ ، وَالْمَدَائِنُ ،
এবং সাবাজানের পানি, জুন্দিসাবুরের পানি, বলখের পানি ও সমরকন্দের পানি। পারস্যবাসীরা যা উল্লেখ করেছে যে সবচেয়ে হালকা পানি হলো জায়ান্দে রুদের পানি, তার স্বপক্ষে প্রমাণ হলো—মুওয়াফফাক ইসফাহানে আসার পর থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত জায়ান্দে রুদের পানি ব্যতীত অন্য কোনো পানি পান করতেন না এবং এটি তাঁর নিকট সিদ্ধ করে আনা হতো। আমরা তাঁর সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ভূখণ্ডে সাতটি স্থানের ফল দেখতে পেয়েছি: ইসফাহান, আল-মাদাইন,
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٧١)
وَحُلْوَانُ ، ماه سبدان ، نهاوند وَالرَّيُّ ، نَيْسَابُورَ. وَوَجَدْنَا أَقْحَطَ بِقَاعِ مَمْلَكَتِهِ ميسان ، دشت ميسان ، كلبانية ، بادرايَا باكسايَا ، ماه سبذان. وَوَجَدْنَا أَوْبَأَ بِقَاعِ مَمْلَكَتِهِ النوبندجان ، سابورخواست ،
এবং হুলওয়ান, মাহ সাবাযান, নাহাওয়ান্দ ও আর-রাই, নিশাপুর। এবং আমরা তাঁর সাম্রাজ্যের সর্বাধিক অনাবৃষ্টিপ্রবণ ভূখণ্ডসমূহ পেয়েছি মাইসান, দাস্ত-ই-মাইসান, কালবানিয়া, বাদরাইয়া বাকসাইয়া, মাহ সাবাযান। এবং আমরা তাঁর সাম্রাজ্যের সর্বাধিক মহামারিপ্রবণ ভূখণ্ডসমূহ পেয়েছি আন-নওবান্দজান, সাবুরখাস্ত,
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٧٢)
جُرْجَان ، حلوان ، برذعة ، إصطخر ، زنجان. وَوَجَدْنَا أَعْقَلَ أَهْلِ مَمْلَكَتِهِ: أَصْبَهَانُ ، فَارِسُ ، الري ، جرجان ، همذان ، نهاوند ، ماه دينار ، الْحِيرَةِ. وَوَجَدْنَا أَجْهَلَ أَهْلِ مَمْلَكَتِهِ: أَصْبَهَانُ الْحِيرَةِ الْمَدَائِنُ ، ماه دينار ، نيسابور ، إصطخر ، الرَّيُّ ، طبرستان ، ونشوى. وَوَجَدْنَا أَمْكَنَ أَهْلِ مَمْلَكَتِهِ ماسبذان ، مهرجان ، خوزستان ،
জুরজান, হুলওয়ান, বারযাআ, ইস্তাখর, জানজান। আর আমরা তাঁর সাম্রাজ্যের অধিবাসীদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান পেয়েছি: আসবাহান, ফারস, রায়, জুরজান, হামদান, নাহাওয়ান্দ, মাহ দিনার, আল-হিরাহ। আর আমরা তাঁর সাম্রাজ্যের অধিবাসীদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মূর্খ পেয়েছি: আসবাহান, আল-হিরাহ, আল-মাদাইন, মাহ দিনার, নিশাপুর, ইস্তাখর, রায়, তাবারিستان, এবং নাশওয়া। আর আমরা তাঁর সাম্রাজ্যের অধিবাসীদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সচ্ছল পেয়েছি: মাসাবাদান, মিহরাজান, খুজেস্তান,
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٧٣)
الري ، الرويَان ، أَذْرَبِيجَانَ ، أَرْمِينِيَةَ ، الْمَوْصِلَ شهرزور ، وَالصامغان ، وَوَجَدْنَا أَنْصَرَ أَهْلِ مَمْلَكَتِهِ بِالْخَرَاجِ أَصْبَهَانَ ، كسكر ، عبرتا ، حلوان ، ماسبذان ، وهرمشير. وَوَجَدْنَا أَعْلَمَ أَهْلِ مَمْلَكَتِهِ بِالسِّلَاحِ أَصْبَهَانَ ، هَمَذَانَ ، الري ، وَسِجِسْتَانَ. وَوَجَدْنَا أَبْخَلَ أَهْلِ مَمْلَكَتِهِ مَرْو إصطخر ، دارابجرد ،
রায়, রুয়ান, আজারবাইজান, আরমিনিয়া, মসুল, শাহরাজুর এবং সামগান। আমরা তাঁর সাম্রাজ্যের অধিবাসীদের মধ্যে খেরাজ প্রদানের ক্ষেত্রে ইসফাহান, কাসকার, ইবারতা, হুলওয়ান, মাসাবাজান এবং হুরমুশিরকে সর্বাধিক সহযোগিতাকারী হিসেবে পেয়েছি। আমরা তাঁর সাম্রাজ্যের অধিবাসীদের মধ্যে সমরাস্ত্র বিদ্যায় ইসফাহান, হামাদান, রায় এবং সিজিস্তানকে সর্বাধিক পারদর্শী হিসেবে পেয়েছি। আমরা তাঁর সাম্রাজ্যের অধিবাসীদের মধ্যে মার্ভ, ইস্তাখ্র এবং দারাবজিরদকে সর্বাধিক কৃপণ হিসেবে পেয়েছি।
(খণ্ড: ١) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান ওয়াল ওয়ারিদীনা আলাইহা (পৃষ্ঠা: ١٧٤)
خوزستان ، ماسبذان ، دبيل ، ماه دينار ، وحلوان. وَوَجَدْنَا أَسْفَلَ أَهْلِ مَمْلَكَتِهِ البنديجان ، بادرايَا ، باكسايَا ، بهندف ، وفهور ، خوزستان ، وَوَجَدْنَا أَقَلَّ أَهْلِ مَمْلَكَتِهِ نَظَرًا فِي الْعَوَاقِبِ طَبَرِسْتَانَ ، أَرْمِينِيَةَ ، قومسن ، كوشان ، هراة ، كرمان ، ماه كران ، شهرزور. فَلَمَّا نَظَرَ قَبَاذُ فِيمَا تَقَدَّمَ مِنْ ذِكْرِ مَا قَالَهُ مِنَ الْبُلْدَانِ مَيَّزَ مَا بَيْنَ الْمَدَائِنِ إِلَى نَهْرِ بَلْخٍ ، وَمِنَ النَّوَاحِي كُلِّهَا وَعَرَفَ الْبِقَاعَ وَمَسَحَ الْبِلَادَ فَلَمْ يَجِدْ تُرَابًا أَنْزَهَ وَلَا أَعْذَبَ مَاءً وَلَا أَلَذَّ نَسِيمًا مِمَّا بَيْنَ قِرْمَاسِين إِلَى عَقَبَةَ هَمَذَانَ فَأَنْشَأَ قِرْمَاسِين ، وَبَنَى فِيهَا بِنَاءً لِنَفْسِهِ بِنَاءً مُعَمَّدًا عَلَى أَلْفِ كَرْمٍ ، فَلَمَّا فَرَغَ لَهُ مِنَ الْبِنَاءِ قَالَ: (كردم مان شَاهَانْ) فَسُمِّيَ «كردمانشاهان» ثُمَّ عُرِّبَ فَقِيلَ قِرْمَاسِينَ وَمَعْنَاهُ قَدْ بَنَيْتُ مَسْكَنَ الْمُلُوكِ. فَلَمَّا مَيَّزَ قَبَاذُ مَمْلَكَتَهُ وَعَرَفَ الْبِقَاعَ وَمَسَحَ الْبِلَادَ وَعَدَّ الْفَرَاسِخَ ، نَقَلَ

খুজিস্তান, মাসাবযান, দাবিল, মাহ দিনার এবং হুলওয়ান। আমরা তাঁর রাজ্যের প্রজাদের মধ্যে ভৌগোলিকভাবে নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী হিসেবে পেলাম বন্দিজান, বাদরায়া, বাকসায়া, বাহান্দাফ, ফুহুর এবং খুজিস্তানের অধিবাসীদের। আর পরিণামদর্শিতার ক্ষেত্রে তাঁর রাজ্যের প্রজাদের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা হিসেবে পেলাম তাবারিয়াস্তান, আরমিনিয়া, কুমিসন, কুশান, হেরাত, কেরমান, মাহ কারান এবং শাহরাজুরের অধিবাসীদের। অতঃপর কাবাদ যখন উল্লিখিত শহরগুলো নিয়ে তাঁর পূর্বোক্ত আলোচনা পর্যালোচনা করলেন, তখন তিনি মাদায়েন থেকে বলখ নদী পর্যন্ত এবং চারপাশের সকল অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করলেন। তিনি বিভিন্ন ভূখণ্ড সম্পর্কে অবগত হলেন এবং দেশসমূহ জরিপ করলেন। তিনি কিরমাসিন থেকে হামাদানের গিরিপথ পর্যন্ত এলাকার চেয়ে অধিক পরিচ্ছন্ন মাটি, অধিক সুপেয় পানি এবং অধিক আরামদায়ক স্নিগ্ধ বাতাস আর কোথাও খুঁজে পেলেন না। অতঃপর তিনি কিরমাসিন শহরটি গড়ে তুললেন এবং সেখানে নিজের বসবাসের জন্য এক হাজার স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে একটি ইমারত নির্মাণ করলেন। যখন নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলো, তখন তিনি বললেন: (করদম মান শাহান), ফলে এর নামকরণ করা হলো ‘করদমানশাহান’। পরবর্তীতে একে আরবীকরণ করে ‘কিরমাসিন’ বলা হতে থাকে, যার অর্থ হলো: ‘আমি রাজাদের আবাসস্থল নির্মাণ করেছি।’ অতঃপর যখন কাবাদ তাঁর সাম্রাজ্যের বিশেষত্ব নিরূপণ করলেন, বিভিন্ন ভূখণ্ড চিনলেন, দেশসমূহ জরিপ করলেন এবং ফারসাখসমূহ গণনা করলেন, তখন তিনি স্থানান্তর করলেন...