(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
تصحيح الحديث عند ابن الصلاح القسم: علوم الحديث
الكتاب: تصحيح الحديث عند الإمام ابن الصلاح - دراسة نقدية
المؤلف: حمزة عبد الله المليباري
الناشر: دار ابن حزم
الطبعة: الأولى، 1417هـ، 1997م
عدد الصفحات: 41
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনুস সালাহ-এর নিকট হাদিস সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
বই: ইমাম ইবনুস সালাহ-এর নিকট হাদিস সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) - একটি সমালোচনামূলক গবেষণা
লেখক: হামজা আব্দুল্লাহ আল-মালিব্বারি
প্রকাশক: দার ইবনে হাজম
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৭ হিজরি، ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
تصحيح الحديث عند ابن الصلاح
تصحيح الحديث
عند
الإمام ابن الصلاح
دراسة نقدية
بقلم
د. حمزة عبد الله المليباري
الأستاذ في مادة الحديث وعلومه
جامعة الأمير عبد القادر للعلوم الإسلامية
قسنطينة ـ الجزائر
بسم الله الرحمن الرحيم
بين يدي القارئ.
بفضل من الله تعالى أقدم لإخواني طلاب الحديث وعشاقه نمودجا من الدراسات النقدية، التي أصبحت اليوم محل اهتمامهم البالغ، عسى أن تدفعهم نحو فهم صحيح لمحتوى علوم الحديث، وأن يفتح لهم آفاقا جديدة من البحوث المبتكرة حول مسائلها المعقدة، والتي من الصعب حلها وإداراك مراميها بمجرد قراءة سطحية، ومراجعة عابرة.
وبادئ ذي بدء يخيل إلى قارئ عنوان هذا البحث أن ما ينطوى عليه ليس سوى تكرار ما ذكر في كتب المصطلح، وإعادة ما يعرفه الجميع، لكن الأمر ليس كذلك، حيث إن المحور الرئيسي الذي تدور عليه مباحثه يمثل توجيها موضوعيا لما جنح له الإمام إبن الصلاح ـ رحمه الله تعالى ـ من عدم إمكانية تصحيح الأحاديث وتحسينها لدى المتأخرين.
وهذا التوجيه مدعم بالواقع العلمي والتاريخي في شكل جديد لم يتصوره كثير من الباحثين والدارسين في علوم الحديث ـ
ইবনে আস-সালাহ-এর নিকট হাদিস বিশুদ্ধকরণ (تصحيح)
হাদিস বিশুদ্ধকরণ (تصحيح)
নিকট
ইমাম ইবনে আস-সালাহ
সমালোচনামূলক (نقدية) অধ্যয়ন
কলমে
ড. হামজাহ আবদুল্লাহ আল-মালিব বারী
হাদিস ও এর বিজ্ঞান (علوم) বিষয়ের অধ্যাপক
আমির আবদুল কাদের ইউনিভার্সিটি ফর ইসলামিক সায়েন্সেস
কন্সটান্টিন — আলজেরিয়া
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
পাঠকের প্রতি.
মহান আল্লাহর অনুগ্রহে আমি আমার হাদিস শিক্ষার্থী ও হাদিস অনুরাগী ভাইদের জন্য সমালোচনামূলক (نقدية) অধ্যয়নের একটি নমুনা পেশ করছি, যা বর্তমানে তাদের গভীর আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আশা করি এটি তাদের হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) বিষয়বস্তু সম্পর্কে সঠিক অনুধাবনের দিকে ধাবিত করবে এবং এর জটিল বিষয়গুলো সম্পর্কে উদ্ভাবনী গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে; যা কেবল ভাসাভাসা পাঠ কিংবা সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাধান করা এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুধাবন করা কঠিন।
প্রথমত, এই গবেষণার শিরোনাম দেখে পাঠকের মনে হতে পারে যে, এতে যা রয়েছে তা হাদিসের পরিভাষা (مصطلح) সংক্রান্ত গ্রন্থাবলিতে যা বর্ণিত হয়েছে তারই পুনরাবৃত্তি এবং যা সবাই জানে তারই পুনর্ব্যক্তকরণ মাত্র। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং এর গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো—পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرين) ক্ষেত্রে হাদিস বিশুদ্ধকরণ (تصحيح) ও হাসান সাব্যস্তকরণের (تحسين) অসম্ভাব্যতা সম্পর্কে ইমাম ইবনে আস-সালাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যে মত ব্যক্ত করেছেন, তার একটি বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা প্রদান করা।
আর এই ব্যাখ্যাটি বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার আলোকে এমন এক নতুন আঙ্গিকে সমর্থিত, যা হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) অনেক গবেষক ও শিক্ষার্থী কল্পনাও করতে পারেননি।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
حسب تتبعي ـ إذ أنهم ظلوا يعتقدون صواب ما اتفقت عليه كتب المصطلح من عدم تسليم القول للإمام ابن الصلاح ـ رحمه الله تعالى ـ في مسألة منع التصحيح. ولعل في قولي ما يدفع القارئ إلى التساؤل: ما مدى صحة الاستدراك على السابقين بما لم يخطر على بالهم جيمعا؟
لا جرم أن الأمر يثير الاستغراب لدى الكثيرين عندما تصبح القضايا العلمية يحسمها الإجلال والتقليد، وأما إن كانت موازينها ومقايسها الأدلة والبراهين فلا مجال للتساؤل حول استدراك اللاحق على السابق، ولا للاستغراب فيه.
وقد طرحت هذا الموضوع العلمي في رسالة صغيرة وعالجته بأسلوب موضوعي مجرد كي يسهل على القارئ تركيزه عليه، وينال متعة القراءة وحظ الفهم، وفي الختام لا يسعني إلا الابتهال إلى الله تعالى أن يتقبل هذا الجهد المتواضع في خدمة علوم الحديث.
تمهيد:يعتبر الإمام أبو عمرو بن الصلاح رحمه الله من أبرز فقهاء الشافعية في القرن السابع الهجري، ومن العلماء الراسخين في علوم الحديث، وقد أهلته إمامته في هذا الميدان لأن يصير رمزا يعيش في ذاكرة الأمة على مر العصور وكرا لدهور، واعترافا له على ما قدمه لهذه الأمة من خدمة علمية عظيمة للسنة النبوية الشريفة، بقيت إلى يومنا هذا نبعا عذبا ينهل منه المبتدئ من طلبة العلوم الشرعية، كما يرجع
আমার অনুসন্ধান অনুযায়ী—যেহেতু তারা পরিভাষা (المصطلح) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের সঠিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন যে, সহিহ সাব্যস্ত করা নিষিদ্ধকরণ (منع التصحيح)-এর মাসআলায় ইমাম ইবনে আস-সালাহ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—এর বক্তব্য বিনাবাক্যে মেনে নেওয়া হবে না। সম্ভবত আমার এই কথা পাঠককে এই প্রশ্ন তুলতে উদ্বুদ্ধ করবে যে: পূর্ববর্তীদের চিন্তায় যা আসেনি, এমন বিষয় দিয়ে তাঁদের ওপর সংশোধনী (الاستدراك) আনার বিষয়টি কতটা সঠিক?
নিঃসন্দেহে বিষয়টি অনেকের কাছে বিস্ময় জাগানিয়া যখন জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়গুলো কেবল সম্মান ও অন্ধ অনুসরণ (التقليد)-এর মাধ্যমে মীমাংসিত হয়। কিন্তু যদি এর মানদণ্ড ও পরিমাপক হয় দলিল ও প্রমাণসমূহ, তবে পূর্ববর্তীদের ওপর পরবর্তীদের সংশোধনী (الاستدراك) নিয়ে প্রশ্ন তোলার বা এতে বিস্মিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
আমি এই জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়টি একটি ছোট পুস্তিকায় উপস্থাপন করেছি এবং এটি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতিতে আলোচনা করেছি যাতে পাঠকের পক্ষে এতে মনোনিবেশ করা সহজ হয় এবং তিনি পাঠের আনন্দ ও অনুধাবনের সুযোগ লাভ করতে পারেন। পরিশেষে, হাদিস বিজ্ঞানের সেবায় এই বিনীত প্রচেষ্টা আল্লাহ তাআলা কবুল করুন—তাঁর নিকট এই প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
উপক্রমণিকা:ইমাম আবু আমর ইবনে আস-সালাহ (রহ.) সপ্তম হিজরি শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাফেয়ি ফকিহ (الفقهاء) এবং হাদিস বিজ্ঞানে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। এই ময়দানে তাঁর ইমামত তাঁকে উম্মাহর স্মৃতিতে যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকার মতো এক প্রতীকে পরিণত করেছে। পবিত্র সুন্নাহর (السنة) প্রতি তাঁর মহান জ্ঞানতাত্ত্বিক খিদমতের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ অবধি তা জ্ঞানপিপাসু নতুন শিক্ষার্থীদের কাছে এক সুমিষ্ট প্রস্রবণ হিসেবে রয়ে গেছে, যেখান থেকে তারা জ্ঞান আহরণ করে। তেমনিভাবে...
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
إليه الباحث المتمرس، فترتوي منه عقولهم المتعطشة إلى معرفة قواعد هذا العلم الشريف.
وعلى الرغم من أن مشاركة ابن الصلاح وإسهامه العلمي قد شمل جوانب كثيرة من علوم الشريعة ـ كالفقه والأصول والتفسير (1) كما تدل على ذلك مؤلفاته، إلا أن نجمه قد سطع بشكل خاص في علوم الحديث التي اقترن اسمه بها، بحيث صار ما إن تذكر مبادئ هذا الفن الشريف حتى يذكر معها كتاب هذا الإمام الجهبذ المعروف بمقدمة ابن الصلاح.
ويعد هذا الكتاب من أهم الكتب في علوم الحديث، إن لم يكن أهمها على الإطلاق، لأنه جاء تتويجا لكل الجهود التي سبقته، كما جاء تجديدا لحيويتها ونضارتها، نظرا لأسلوبه المبتكر في تناول مباحث ومبادئ هذا العلم وفق مقتضيات عصره، حيث نجده جمع المصطلحات الحديثية التي كانت متداولة بين المحدثين النقاد، ووضع لها تعاريف محددة، معتمدا في ذلك على فن المنطق، فجاءت تلك التعاريف جامعة مانعة وموجزة واضحة.
وبهذا العمل يكون ابن الصلاح قد ذلل ما كان صعبا، ومهد الطريق أمام المبتدئين لاستيعاب علم مصطلح الحديث وفهمه، بعد أن كان عسير التناول، لا يدرك مراميه، ولا يستفيد من المصنفات فيه إلا المتمكنون، وأصبح كتابه بذلك مدخلا لمعرفة مبادئ هذا الفن، ومقدمة لكتب الأحاديث بما
--------------------------------------------
এর মাধ্যমেই দক্ষ গবেষকগণ পরিতৃপ্ত হন এবং এই মহান ইলমের মূলনীতিসমূহ জানার জন্য তাদের তৃষ্ণার্ত জ্ঞানপিপাসা মিটে থাকে।
যদিও ইবনে আস-সালাহর অংশগ্রহণ ও ইলমী অবদান শরীয়তের বহু শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছে—যেমন ফিকহ (الفقه), উসুল (الأصول) এবং তাফসীর (التفسير) (১) যা তাঁর রচনাবলি দ্বারা প্রমাণিত—তথাপি তাঁর নক্ষত্র বিশেষভাবে হাদিস বিজ্ঞানেই উজ্জ্বল হয়েছে যার সাথে তাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এমনকি অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, যখনই এই মহান শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ আলোচিত হয়, তখনই এর সাথে এই বিজ্ঞ ইমামের কিতাব 'মুকাদ্দিমাহ ইবনে আস-সালাহ'-এর নাম উল্লেখ করা হয়।
এই কিতাবটি হাদিস বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়, যদি একে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণই না বলা হয়। কেননা এটি তাঁর পূর্ববর্তী সকল প্রচেষ্টার এক অনন্য চূড়া হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পাশাপাশি এটি ইলমের সজীবতা ও সতেজতাকে নতুনভাবে পুনরুদ্ধার করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে তৎকালীন যুগের চাহিদানুযায়ী এই বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় ও মূলনীতিসমূহ বর্ণনায় তাঁর উদ্ভাবনী পদ্ধতির কারণে। আমরা দেখতে পাই যে, তিনি হাদিসের ঐ সকল পরিভাষা (المصطلحات الحديثية) একত্রিত করেছেন যা সমালোচক হাদিস বিশারদগণের (المحدثين النقاد) মাঝে প্রচলিত ছিল এবং যুক্তিবিদ্যার (المنطق) ওপর নির্ভর করে সেগুলোর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। ফলে সেই সংজ্ঞাগুলো হয়েছে ব্যাপক অথচ সুনির্দিষ্ট (جامعة مانعة) এবং সংক্ষিপ্ত অথচ স্পষ্ট।
এই কাজের মাধ্যমে ইবনে আস-সালাহ যা কঠিন ছিল তাকে সহজ করে দিয়েছেন এবং হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) উপলব্ধি ও অনুধাবনের জন্য নবীন শিক্ষার্থীদের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছেন। অথচ ইতিপূর্বে এটি আহরণ করা ছিল দুঃসাধ্য; পারদর্শী বিশেষজ্ঞগণ ছাড়া এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবন করা ও এ বিষয়ক গ্রন্থগুলো থেকে উপকৃত হওয়া অন্য কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না। এর ফলে তাঁর এই কিতাবটি এই শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ জানার প্রবেশদ্বার এবং হাদিস গ্রন্থসমূহের ভূমিকা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ضمنه من تعاريف مركزة للمصطلحات الحديثة التي يصادفها طالب الحديث في تلك الكتب بمقدمة ابن الصلاح. ونظرا لأهمية هذا الكتاب، فقد حظي بقبول الأئمة الذين جاؤوا من بعد، وإقبالهم عليه، فتسابقوا إلى نيل شرف خدمته، وسعوا إلى شرحه وإيضاح مكنونه، والتعليق على مسائله، حتى صار أصلا لكثير من المصنفات في علوم الحديث، وفي ذلك يقول الحافظ ابن حجر.
" اجتمع في كتابه ما تفرق في غيره، فلهذا عكف الناس عليه وساروا بسيره، فلا يحصى كم ناظم له ومختصر، ومستدرك عليه ومقتصر، ومعارض له ومنتصر" (1)
ولم يكن ابن الصلاح مجرد جامع لآراء من سبقه من الأئمة، بل إن المطلع على كتابات هذا الإمام ـ في مقدمته وغيرها ـ يجد له اجتهادات وآراء مستقلة، وإضافات وانتقادات (2) شأنه في ذلك شأن كل مبدع ومبتكر، وهو إن خالف في بعض تلك الآراء غيره من أهل العلم، فذلك أمر طبيعي، به يكتمل أي علم.
وقد أثارت بعض آراء هذا الإمام اهتمام اللاحقين، وتعددت أساليبهم في الاعتراض عليها ولعل أبرز هذه الآراء ما صرح به في مقدمته حول مسألة التصحيح، حيث ادعى انعدام
--------------------------------------------
ইবনে আল-সালাহ-এর মুকাদ্দিমা-এর সেই কিতাবগুলোতে একজন হাদিসের শিক্ষার্থী যে পরিভাষাগুলোর (المصطلحات) সম্মুখীন হন, এতে সেগুলোর ঘনীভূত সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কিতাবটির গুরুত্বের বিবেচনায় এটি পরবর্তী যুগের ইমামদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে এবং তারা এর প্রতি অনুরাগী হয়েছেন। ফলে তারা এর খিদমত করার গৌরব অর্জনে প্রতিযোগিতা করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা প্রদান, এর অন্তর্নিহিত ভাব স্পষ্টকরণ ও এর মাসআলাগুলোর ওপর টীকা রচনার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, এমনকি এটি হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) বহু গ্রন্থের মূলে পরিণত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাফিজ ইবনে হাজার বলেন—
“তার কিতাবে এমন বিষয়গুলো একত্রিত হয়েছে যা অন্যদের কিতাবে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল। ফলে মানুষ এর প্রতি নিবিষ্ট হয়েছে এবং তার দেখানো পথ অনুসরণ করেছে। একে কাব্যরূপ দানকারী (ناظم), সংক্ষেপকারী (مختصر), অতিরিক্ত সংযোজনকারী (مستدرك), পরিমার্জনকারী (مقتصر), বিরোধিতাকারী (معارض) এবং সমর্থনকারীর (منتصر) কোনো ইয়ত্তা নেই।” (১)
ইবনে আল-সালাহ কেবল তার পূর্ববর্তী ইমামদের মতামতের সংকলকই ছিলেন না, বরং এই ইমামের রচনাবলি—তার মুকাদ্দিমা ও অন্যান্য কিতাবে—পর্যবেক্ষণকারী তার স্বতন্ত্র ইজতিহাদ (اجتهادات) ও দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন সংযোজন ও সমালোচনা (انتقادات) খুঁজে পাবেন। প্রত্যেক সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তাবিদের ক্ষেত্রে যেমনটি হয়ে থাকে। আর তিনি যদি এসব মতামতের কোনো কোনোটিতে অন্যান্য আলেমদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন, তবে তা একটি স্বাভাবিক বিষয়, যার মাধ্যমেই যেকোনো জ্ঞান পূর্ণতা লাভ করে।
এই ইমামের কিছু মতামত পরবর্তী প্রজন্মের আলেমদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং সেগুলোর ওপর আপত্তি উত্থাপনে তাদের পদ্ধতিও ছিল বিচিত্র। সম্ভবত এই মতামতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো তার মুকাদ্দিমায় সহিহায়ন বা বিশুদ্ধায়ন (التصحيح) সংক্রান্ত মাসআলা সম্পর্কে তিনি যা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তিনি বিলুপ্তির দাবি করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
إمكان تصحيح الأحاديث وتحسينها من طرف التأخرين، فقد قال رحمه الله في الفائدة الثانية من النوع الأول وهو معرفة الصحيح من الحديث ما يلي.
نص ابن الصلاح في تصحيح الأحاديث وتحسينها:" إذا وجدنا فيما نروي من أجزاء الحديث وغيرها حديثا صحيح الإسناد، ولم نجده في أحد الصحيحين، ولا منصوصا على صحته في شئ من مصنفات أئمة الحديث المعتمدة المشهورة، فإنا لا نتجاسر على جزم الحكم بصحته، فقد تعذر في هذه الأعصار الاستقلال بإدراك الصحيح بمجرد اعتبار الأسانيد، لأنه ما من إسناد من ذلك إلا ونجد في رجاله من اعتمد في روايته على ما في كتابه عريا عما يشترط في الصحيح من الحفظ والضبط والإتقان، فآل الأمر إذاً في معرفة الصحيح والحسن إلى الإعتماد على ما نص عليه أئمة الحديث في تصانيفهم المعتمدة المشهورة التي يؤمن فيها لشهرتها من التغيير والتحريف، وصار معظم المقصود بما يتداول من أسانيد خارجا من ذلك إبقاء سلسلة الإسناد التي خصت بها هذه الأمة ـزادها الله شرفا ـ آمين (1) .
ورغم أن كلام ابن الصلاح مقصود به مصنفات خاصة:
"أجزاء الحديث وغيرها" وفي ومن محدد: "في هذه الأعصار"
وبكيفية معينة: "بمجرد اعتبار الأسانيد " مما يجعل إدراك
--------------------------------------------
পরবর্তী যুগের আলেমদের পক্ষ থেকে হাদিস সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) করার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে; তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) প্রথম প্রকারের—অর্থাৎ হাদিসের মধ্য থেকে সহিহ (صحيح) চেনার—দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে নিম্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
হাদিস সহিহ (تصحيح) ও হাসান (تحسين) করার ব্যাপারে ইবনুল সালাহর বক্তব্য:"আমরা যদি আমাদের বর্ণিত হাদিসের সংকলন বা অন্য কোনো গ্রন্থে এমন কোনো হাদিস পাই যার সনদ সহিহ (صحيح الإسناد), কিন্তু সেটি সহিহাইন-এর কোনোটিতে পাইনি এবং হাদিস শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ ইমামদের কোনো কিতাবেও সেটির সহিহ (صحة) হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য নেই, তবে আমরা নিশ্চিতভাবে সেটিকে সহিহ (صحيح) হিসেবে হুকুম দেওয়ার সাহস করি না। কেননা বর্তমান যুগে কেবল সনদের (أسانيد) বিচারের ওপর ভিত্তি করে স্বতন্ত্রভাবে সহিহ (صحيح) নির্ণয় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ এমন কোনো সনদ (إسناد) নেই যার বর্ণনাকারীদের (رجال) মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যিনি তার বর্ণনার ক্ষেত্রে কেবল নিজের কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন, অথচ সহিহ (صحيح) হাদিসের জন্য শর্তকৃত মুখস্থ শক্তি (حفظ), নির্ভুলতা (ضبط) ও পূর্ণ দক্ষতা (إتقان) তার মধ্যে অনুপস্থিত। অতএব, সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হাদিস চেনার বিষয়টি এখন হাদিসের ইমামদের সেই সব নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করার স্তরে পৌঁছেছে, যা অধিক প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে নিরাপদ। আর এর বাইরে বর্তমানে প্রচলিত সনদগুলোর (أسانيد) মূল উদ্দেশ্য হলো এই উম্মতের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সনদ (إسناد) পরম্পরাকে টিকিয়ে রাখা—আল্লাহ এই উম্মতের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, আমিন (১)।
যদিও ইবনুল সালাহর এই বক্তব্য নির্দিষ্ট কিছু সংকলন সম্পর্কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে:
"হাদিসের সংকলন ও অন্যান্য" এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের ক্ষেত্রে: "এই যুগে"
এবং একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে: "কেবল সনদের (أسانيد) বিচারের মাধ্যমে" যা উপলব্ধিকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الواقع الحديثي في عصر ابن الصلاح، والملابسات المحيطة به، والمستجدات التي طرأت وتأثرت بها نظم الرواية أداء وتحملا، له أكبر الأثر في فهم كلام هذا الإمام
… رغم كل هذا فقد حمل الإمام النووي وغيره من العلماء ـ وكثير ما هم ـ ما ذكره ابن الصلاح على إطلاق المنع من التصحيح على جميع أنواع الأحاديث مما أفضى بهم إلى الإعتراض عليه ورفض العمل بمقتضى رأيه، غير أن المتتبع لسياق كلام هذا الإمام، محاولا فهمه على ضوء النتائج التي تسفرها الدراسة حول الظروف والملابسات التي أحاطت بالواقع الحديثي الذي عاشه المتأخرون ـ سوء من ناحية تلقي الأحاديث أم نشرهاـ يجد نفسه مضطرا إلى تصحيح رأي ابن الصلاح، ورفض الاعتراض عليه جملة وتفصيلا.
تحليل النص:فلقد وقع في كلامه رحمه الله بعض الأمور يتوقف فهمها على معرفة العادات التي استجدت في حلقات التحديث عند المتأخرين، ولا تتضح حقائقها إلا بعد الإحاطة بإدراك مناسبتها ودوافعها.
فمن هذه الأمور قوله: " من أجزاء الحديث وغيرها" وقوله " فقد تعذر في هذه الأعصار الاستقلال بإدراك الصحيح بمجرد اعتبار الأسانيد "وقوله: " ما من إسناد من ذلك إلا ونجد في رجاله من اعتمد في روايته على ما في كتابه عريا عما يشترط في الصحيح من الحفظ والضبط والإتقان.
ইবনে আস-সালাহ-এর সমকালীন হাদিস শাস্ত্রের বাস্তবতা, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং বর্ণনা (رواية) পদ্ধতির গ্রহণ (تحملا) ও প্রদানের (أداء) ক্ষেত্রে যে সকল নতুনত্ব ও পরিবর্তন দেখা দিয়েছিল, তা এই ইমামের বক্তব্য উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে
… এতৎসত্ত্বেও, ইমাম নববী ও অন্যান্য ওলামায়ে কিরাম —যাঁদের সংখ্যা অনেক— ইবনে আস-সালাহ-এর বক্তব্যকে সকল প্রকার হাদিসের ক্ষেত্রেই সহিহ নির্ধারণ (تصحيح) করার ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এর ফলে তাঁরা তাঁর বক্তব্যের ওপর আপত্তি তুলেছেন এবং তাঁর মত অনুযায়ী আমল করা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে কেউ যদি এই ইমামের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট অনুসরণ করেন এবং পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرون) সমকালীন হাদিস শাস্ত্রের বাস্তবতা —তা হাদিস গ্রহণ বা প্রচার যে দিক থেকেই হোক না কেন— এর চারপাশের পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতার ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফলের আলোকে তা বোঝার চেষ্টা করেন, তবে তিনি ইবনে আস-সালাহ-এর মতকে সঠিক হিসেবে গণ্য করতে (تصحيح) এবং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তিগুলো পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হবেন।
পাঠ বিশ্লেষণ:তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্যে এমন কিছু বিষয় স্থান পেয়েছে, যা বোঝার জন্য পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرون) হাদিস বর্ণনার আসরগুলোতে যে সকল নতুন প্রথার উদ্ভব হয়েছিল, তা জানা জরুরি। সেগুলোর পেছনের কারণ ও প্রেক্ষাপট সম্যকভাবে অনুধাবন করা ছাড়া এগুলোর প্রকৃত স্বরূপ স্পষ্ট হবে না।
এই বিষয়গুলোর মধ্যে তাঁর উক্তি অন্যতম: "হাদিসের অংশসমূহ (أجزاء) ও অন্যান্য হতে" এবং তাঁর বক্তব্য: "বর্তমান যুগে কেবল সনদসমূহের (الأسانيد) ওপর ভিত্তি করে স্বতন্ত্রভাবে সহিহ (الصحيح) হাদিস নির্ণয় করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।" এবং তাঁর উক্তি: "এর প্রতিটি সনদের (إسناد) বর্ণনাকারীদের (رجاله) মধ্যে আমরা এমন কাউকে পাই, যিনি তাঁর বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে নিজের কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন, অথচ সহিহ (الصحيح) হাদিসের জন্য শর্তকৃত মুখস্থশক্তি (الحفظ), নির্ভুলতা (الضبط) ও দৃঢ়তা (الإتقان) তাঁর মাঝে বিদ্যমান ছিল না।"
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقوله: " فآل الأمر إذاً في معرفة الصحيح والحسن إلى الاعتماد على ما نص عليه أئمة الحديث في تصانيفهم "وقوله: " وصار معظم المقصود بما يتداول من أسانيد، خارجا من ذلك إبقاء سلسلة الإسناد "
فما المقصود "بالأجزاء وغيرها "؟ وما معنى تعذر الاستقلال بإدراك الصحيح بمجرد اعتبار الأسانيد؟ وكيف يتم له التعميم بقوله: " ما من إسناد من ذلك إلا ونجد فيه خللا يضر الصحة؟ وهل يقصد بقوله: " فآل الأمر إذا في معرفة الصحيح والحسن " معرفة الصحيح والحسن في جميع الأحاديث أم في الأحاديث التي توجد في الأجزاء وغيرها؟
والإجابة على هذه التساؤلات تتوقف إلى حد كبير على ذكر بعض الأمور التاريخية، لها دور فعال في بلورتها.
مستجدات عصره وأثرها في معرفة الصحيح والحسن.
إن المسيرة التاريخية للسنة النبوية يمكن تقسيمها إلى مرحلتين زمنيتين كبيرتين، لك منهما معاليمها وخصائصها المميزة: فأما الأولى فيمكن تسميتها " بمرحلة الرواية " وهي ممتدة من عصر الصحابة إلى نهاية القرن الخامس الهجري تقريباً، وأبرز خصائصها هي كون الأحاديث تتلقى فيها وتنقل بواسطة الأسانيد والرواية المباشرة.
فالإسناد في هذه المرحلة كان بمثابة العمود الفقري، عليه يتم الاعتماد في تلقي الأحاديث ونقلها.
এবং তাঁর উক্তি: "সুতরাং সহিহ (الصحيح) ও হাসান (الحسن) চেনার বিষয়টি এখন হাদিসের ইমামগণ তাঁদের গ্রন্থসমূহে যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তার ওপর নির্ভর করার ওপরই পর্যবসিত হয়েছে।" এবং তাঁর উক্তি: "আর বর্তমানে প্রচলিত সনদগুলোর (أسانيد) অধিকাংশের উদ্দেশ্যই হলো সনদ বা সূত্রপরম্পরা (سلسلة الإسناد) রক্ষা করা।"
এখানে "আজযা ও অন্যান্য গ্রন্থ" দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? আর কেবল সনদগুলোর (الأسانيد) ওপর ভিত্তি করে স্বতন্ত্রভাবে সহিহ (الصحيح) নির্ণয় করা অসম্ভব হওয়ার অর্থ কী? তিনি কীভাবে ঢালাওভাবে এই উক্তি করলেন যে: "এমন কোনো সনদ (إسناد) নেই যার মধ্যে এমন কোনো ত্রুটি পাওয়া যাবে না যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে (الصحة) ক্ষতিগ্রস্ত করে"? আর তিনি কি তাঁর এই উক্তি "সুতরাং সহিহ (الصحيح) ও হাসান (الحسن) চেনার বিষয়টি এখন..." দ্বারা সকল হাদিসের ক্ষেত্রে সহিহ (الصحيح) ও হাসান (الحسن) চেনাকে বুঝিয়েছেন, নাকি কেবল আজযা ও অন্যান্য গ্রন্থে বিদ্যমান হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বহুলাংশে কিছু ঐতিহাসিক বিষয়ের বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল, যা এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তাঁর সময়ের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সহিহ (الصحيح) ও হাসান (الحسن) চেনার ক্ষেত্রে তার প্রভাব।
সুন্নাহর ঐতিহাসিক পথচলাকে বড় দুটি যুগে ভাগ করা যায়, যার প্রত্যেকটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা রয়েছে: প্রথমটিকে "রেওয়ায়েত বা বর্ণনা (الرواية) এর যুগ" বলা যেতে পারে, যা সাহাবিদের যুগ থেকে শুরু করে প্রায় হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এই যুগে হাদিসগুলো সনদসমূহ (الأسانيد) এবং সরাসরি বর্ণনার (الرواية) মাধ্যমে গৃহীত ও স্থানান্তরিত হতো।
সুতরাং এই যুগে সনদ (الإسناد) ছিল মেরুদণ্ডস্বরূপ, যার ওপর ভিত্তি করেই হাদিস গ্রহণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভর করা হতো।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأما المرحلة الثانية فيمكن تسميتها بـ" مرحلة بعد الرواية "، وفيها آلت ظاهرة الاعتماد على الأسانيد إلى التلاشي، لتبرز مكانها ظاهرة الاعتماد على الكتب والمدونات التي صنفها أصحاب المرحلة الأولى في أخذ الأحاديث ونقلها، وإن كان القرن السادس الهجري يمكن اعتباره فترة انعطاف وتحول من مرحلة إلى أخرى، إذ ظهر فيه من بعض الأئمة الاعتماد على الرواية على شاكلة الأولى بدل الاعتماد على الكتب.
وبينما كانت الكتب المصنفة في المرحلة الأولى تنقل الأحاديث بأسانيدها الخاصة، فإن جل الكتب التي ظهرت في المرحلة الثانية إنما تنقل الأحاديث بالاعتماد على المدونات التي ظهرت في المرحلة الأولى، وإن كانت أساليب النقل، وطرق الأخذ تختلف من كتاب إلى آخر.
فمسند الإمام أحمد ـ مثلا ـ وهو نموذج لكتب المرحلة الأولى، عمدته في نقل الأحاديث هي الإسناد والرواية المباشرة، ولذلك يقول فيه صاحبه: " حدثني فلان " إلى آخر الإسناد في كل حديث يذكره.
وأما كتاب تفسير ابن كثير ـ مثلا ـ وهو نموذج لكتب المرحلة الثانية، فإن عمدته في نقل الأحاديث هي الكتب المصنفة في عصر الرواية، ولذلك تراه يحكي عن أصحاب كتب المرحلة الأولى، ويقول: " قال الإمام أحمد في مسنده: حدثنا فلان " وهكذا..
আর দ্বিতীয় পর্যায়টিকে "বর্ণনা-পরবর্তী পর্যায়" হিসেবে নামকরণ করা যেতে পারে। এই যুগে সনদ (إسناد)-সমূহের ওপর নির্ভর করার প্রবণতা বিলুপ্ত হতে শুরু করে এবং তার পরিবর্তে প্রথম পর্যায়ের মনীষীদের সংকলিত কিতাব ও পাণ্ডুলিপিসমূহের ওপর নির্ভর করে হাদিস গ্রহণ ও বর্ণনার (رواية) ধারা প্রকট হয়ে ওঠে। যদিও হিজরি ষষ্ঠ শতাব্দীকে এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে উত্তরণের ক্রান্তিকাল হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে, কারণ এই সময়েও কিছু ইমামের মাঝে কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে প্রথম যুগের মতো বর্ণনার (رواية) ওপর ভিত্তি করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছিল।
প্রথম পর্যায়ে সংকলিত কিতাবসমূহ যেখানে নিজস্ব সনদ (إسناد)-সহ হাদিস বর্ণনা করত, সেখানে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকাশিত অধিকাংশ কিতাবই প্রথম পর্যায়ে সংকলিত পাণ্ডুলিপিসমূহের ওপর ভিত্তি করে হাদিস বর্ণনা করে; যদিও বর্ণনার শৈলী এবং গ্রহণের পদ্ধতি এক কিতাব থেকে অন্য কিতাবে ভিন্ন হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, ইমাম আহমদের মুসনাদ প্রথম পর্যায়ের কিতাবসমূহের একটি আদর্শ নমুনা। হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে এর মূল ভিত্তি হলো সনদ (إسناد) এবং সরাসরি বর্ণনা (رواية)। একারণেই এর সংকলক তাঁর উল্লিখিত প্রতিটি হাদিসে "অমুক আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني)" বলে সনদের (إسناد) শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেন।
পক্ষান্তরে, ইবনে কাসিরের তাফসির গ্রন্থটি দ্বিতীয় পর্যায়ের কিতাবসমূহের একটি উদাহরণ। হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে এর প্রধান ভিত্তি হলো বর্ণনার যুগে সংকলিত কিতাবসমূহ। এই কারণেই আপনি তাকে প্রথম পর্যায়ের গ্রন্থকারদের থেকে উদ্ধৃতি দিতে দেখেন এবং তিনি বলেন: "ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বলেছেন: অমুক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا)"... এভাবেই পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد بذلك المحدثون في كلتا المرحلتين جهودا مضنية لصيانة السنة وحفظها، وذلك بتقعيدهم لقواعد تتناسب مع مقتضيات كل مرحلة، وتستجيب للمستجدات الطارئة في كل منهما، فأنتج حفاظ المرحلة الأولى من الأصول الضوابط ما يضمن لهم صدق الرواة في رواياتهم، وضبطهم لها، في حين وضع المحدثون في المرحلة الثانية أنواعا أخرى من القواعد والشروط تساعدهم على حفظ الدواوين والمصنفات من احتمال عبث بعض الوراقين وتحريف الناسخين.
فكانت العناية في المرحلة الأولى منصبة على نقلة الأخبار ورواتها، والبحث عن أحوالهم، والتفتيش في مروياتهم بعد جمعها ومقارنتها، حتى أصبح بمقدورهم تمييز الرجال، ومعرفة الثقات والضعفاء والمتروكين، والإطلاع على الأسانيد الصحيحة والضعيفة والمنكرة والواهية، وإبقاؤها في محفوظاتهم وسجلاتهم، واستحضارها دون وقوع التداخل بينهما أو الاختلاط.
وأما في المرحلة الثانية ـ مرحلة ما بعد الرواية ـ فقد توجه اهتمام المحدثين إلى وضع ضوابط جديدة، من شأنها حفظ المدونات من التصحيف والتحريف والانتحال، ونقلها إلى الأجيال اللاحقة كما وضعها مؤلفوها.
فمن أهم تلك الضوابط: إثبات المحدث حقية النقل والإفادة بأي نوع من أنواع التحمل والتحصيل، وأما حيازتها المجردة بشراء أو غيره، فليست كافية للتعامل معها رواية
হাদিস বিশারদগণ সুন্নাহর সুরক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য উভয় পর্যায়েই কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাঁরা প্রতিটি পর্যায়ের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী বিভিন্ন মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন এবং প্রতিটি পর্যায়ের উদ্ভূত পরিস্থিতির যথাযথ মোকাবিলা করেছেন। প্রথম পর্যায়ের হাফেজগণ এমন কিছু মূলনীতি ও মানদণ্ড তৈরি করেছিলেন যা বর্ণনাকারীদের সত্যবাদিতা এবং তাদের নির্ভুলতা বা স্মৃতিশক্তি (ضبط) নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় পর্যায়ের হাদিস বিশারদগণ এমন কিছু ভিন্নধর্মী নিয়ম ও শর্ত নির্ধারণ করেন যা মূল সংকলন ও গ্রন্থসমূহকে কতিপয় লিপিকারের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ও বিকৃতি থেকে রক্ষা করতে সহায়ক হয়।
প্রথম পর্যায়ে মূল মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল সংবাদের বাহক ও বর্ণনাকারীদের ওপর, তাঁদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং বর্ণনাসমূহ সংগ্রহ ও তুলনামূলক পর্যালোচনার ওপর। এর ফলে বর্ণনাকারীদের মধ্যে পার্থক্য করা এবং নির্ভরযোগ্য (ثقات), দুর্বল (ضعفاء) ও পরিত্যক্ত (متروكين) বর্ণনাকারীদের চেনা সম্ভব হয়। পাশাপাশি সহিহ (صحيحة), দুর্বল (ضعيفة), মুনকার (منكرة) ও অত্যন্ত দুর্বল (واهية) সনদগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং সেগুলোকে নিজস্ব সংগ্রহ ও নথিতে এমনভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় যাতে সেগুলোর মাঝে কোনো প্রকার সংমিশ্রণ বা গোলমাল সৃষ্টি না হয়।
আর দ্বিতীয় পর্যায়ে—যা বর্ণনা-পরবর্তী যুগ—হাদিস বিশারদগণের মনোযোগ নিবদ্ধ হয় নতুন কিছু নীতিমালা প্রণয়নের দিকে, যার লক্ষ্য ছিল লিখিত গ্রন্থগুলোকে বর্ণগত বিকৃতি (تصحيف), শব্দগত পরিবর্তন (تحريف) এবং জালিয়াতি (انتحال) থেকে রক্ষা করা এবং সেগুলোকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মূল লেখকের সংকলন অনুযায়ী হুবহু পৌঁছে দেওয়া।
সেই নীতিমালার মধ্যে অন্যতম হলো: মুহাদ্দিস কোনো হাদিস গ্রহণ ও অর্জনের (التحمل والتحصيل) যেকোনো পদ্ধতির মাধ্যমে তা প্রাপ্তি ও বর্ণনার বৈধতা নিশ্চিত করবেন। কেবল ক্রয় বা অন্য কোনো উপায়ে কিতাব অর্জন করাই তা বর্ণনা (رواية) করার জন্য যথেষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وإفادة، كما حقق هذه المسالة أستاذنا الفاضل الدكتور أحمد محمد نور سيف في رسالة لطيفة: " عناية المحدثين بتوثيق المرويات " ـ جزاه الله تعالى خير الجزاء ـ ومن ثم أخذ يظهر اهتمام بالغ لدى المحدثين في الحصول على الأسانيد التي تم بها نقل الكتب والمدونات، والحفاظ عليها مهما كان نوعها وذلك قصد إثبات حقية روايتها، ونيل الشرف بوجود صلة بيهم وبين النبي صلى الله عليه وسلم عموما.
" وبما أن معظم الأحاديث استقرت في دواوين السنة وأصبحت هذه الدواوين هي المعتمدة في أخذ الأحاديث النبوية وصارت عناية المحدث منصبة على حفظ هذه الدواوين فلا داعي إذن إلى دراسة أحوال الرجال الذين يشكلون حلقات الإسناد الذي بواسطته يتم نقل هذه المصنفات عن أصحافبها، كما لا تبقى حاجة إلى تلك التحفظات الشديدة، والقوانين الصارمة في جرح الرواة وتديلهم، بل يكفي فيهم معرفة أحقيتهم وأهليتهم لرواية تلك المصنفات، بل يكفي فيهم معرفة أحقيتهم وأهليتهم لرواية تلك المصنفات، إضافة إلى ستر حالهم، وإن لم ينص على توثيقهم " (1) وقد بين ذلك ابن الصلاح رحمه الله بقوله ـ، وهذا نصه: " أعرض الناس في هذه الأعصار المتأخرة عن اعتبار مجموع ما بينا من الشروط في رواة الحديث ومشايخه، فلم يتقيدوا بها في رواياتهم، لتعذر الوفاء بذلك على نحول ما تقدم
--------------------------------------------
এবং উপকারী। যেমনটি আমাদের সম্মানিত উস্তাদ ডক্টর আহমদ মুহাম্মদ নূর সাইফ তাঁর একটি চমৎকার রিসালা (رسالة): "ইনায়াতুল মুহাদ্দিসিনা বি-তাউসিকিল মারউইয়্যাত"-এ যাচাই করেছেন—আল্লাহ তাআলা তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন—এরপর থেকে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে সেই সকল সনদ (أسانيد) সংগ্রহের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ দেখা দিতে শুরু করে, যেগুলোর মাধ্যমে কিতাব ও সংকলনসমূহ স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সেগুলোকে সংরক্ষণ করার গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়—তা যে প্রকারেরই হোক না কেন। এর উদ্দেশ্য ছিল তাদের বর্ণনার (رواية) বৈধতা প্রমাণ করা এবং সাধারণভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি যোগসূত্র থাকার সম্মান অর্জন করা।
"যেহেতু অধিকাংশ হাদিস সুন্নাহর সংকলনসমূহে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এই সংকলনগুলোই নববী হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে, আর মুহাদ্দিসগণের মনোযোগ এই সংকলনগুলো সংরক্ষণের ওপর নিবদ্ধ হয়েছে; তাই সেই সকল বর্ণনাকারীর (رجال) অবস্থা পর্যালোচনার আর কোনো প্রয়োজন নেই যারা ইসনাদ (إسناد) বা সূত্রের ধারক, যাদের মাধ্যমে এই কিতাবগুলো তাদের মূল লেখকদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। একইভাবে বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (جرح) ও প্রশংসা (تعديل) করার ক্ষেত্রে সেই কঠোর সতর্কতা এবং সুনিশ্চিত নিয়মাবলির প্রয়োজনীয়তাও আর অবশিষ্ট থাকে না। বরং তাদের ক্ষেত্রে এই কিতাবগুলো বর্ণনা করার অধিকার ও যোগ্যতা জানাই যথেষ্ট, পাশাপাশি তাদের বাহ্যিক অবস্থা ভালো থাকাই (ستر حالهم) যথেষ্ট, যদিও তাদের নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) সম্পর্কে স্পষ্টভাবে কিছু উল্লেখ করা না থাকে।" (১) ইমাম ইবনে সালাহ (রহ.) এটি স্পষ্ট করেছেন এবং তাঁর উক্তিটি হলো: "পরবর্তী যুগের মানুষ হাদিসের বর্ণনাকারী (رواة) ও তাদের শায়খদের (مشايخ) ক্ষেত্রে আমাদের বর্ণিত সকল শর্তাবলি বিবেচনার বিষয়টি বর্জন করেছেন। তারা তাদের বর্ণনার ক্ষেত্রে এগুলো মেনে চলেননি, কারণ পূর্বে যেভাবে আলোচিত হয়েছে সেভাবে তা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وكان عليه ما تقدم "،
" ووجه ذلك: ما قدمناه في أول كتابنا هذا (يعني مقدمة ابن الصلاح) من كون المقصود المحافظ على خصيصة هذه الأمة في الأسانيد، والمحاذرة من انقطاع سلسلتها، فليعتبر من الشروط المذكورة ما يليق بهذا الغرض على تجرده، وليكتف في أهلية الشيخ بكونه مسلما بالغا، علاقة، غير متظاهر بالفسق، وفي ضبطه بوجود سماعه مثبتا بخط غير متهم، وبروايته من أصل موافق لأصل شيخه " (1) .
كتب الأجزاء وغيرهاوهذا الوضع السائد في مرحلة ما بعد الرواية، والذي كان من أبز سماته هو حرص المحدثين على إيجاد صلة بينهم وبين أصحاب الدواوين عن طريق سلاسل من الأسانيد، والتي كانوا يجوبون الأقطار الإسلامية شرقا وغربا من أجل جمع وتحصيل أكبر قدر ممكن من هذه الأسانيد والسماعات، ثم يدونونها وفق أساليب خاصة اصطلح على تسميتها " بالمعجم " أو " الأثبات " أو " المشيخات " أو " الأجزاء " أو " الفهارس" وغيرها
…هذا الوضع الجديد جعل تلك الأسانيد لا تكاد تخلو من وجود خلل فيها من جراء تساهل محدثي هذه المرحلة في توفير شروط الصحة فيها، حيث اكتفوا في رجالها ـ أي تلك الأسانيد ـ بستر الحال، ولو لم يعرفوا العدالة والضبط.
--------------------------------------------
"আর বিষয়টি ছিল পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তদ্রূপ,"
"এর কারণ হলো: আমরা আমাদের এই কিতাবের শুরুতে (অর্থাৎ মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ) যা পেশ করেছি যে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো সনদসমূহের (الأسانيد) ক্ষেত্রে এই উম্মতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা এবং এর সিলসিলার বিচ্ছেদ (انقطاع) থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা। সুতরাং উল্লিখিত শর্তসমূহ (الشروط) থেকে কেবল সেটুকুই বিবেচনা করা উচিত যা কেবল এই উদ্দেশ্যের সাথেই সংগতিপূর্ণ। আর শায়খের (الشيخ) যোগ্যতার ক্ষেত্রে এটুকুতেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত যে, তিনি একজন মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, বিচক্ষণ এবং প্রকাশ্য পাপাচারের (الفسق) সাথে যুক্ত নন। আর তাঁর সংরক্ষণ দক্ষতার (ضبطه) ক্ষেত্রে তাঁর শ্রবণ (سماعه) কোনো নির্ভরযোগ্য হস্তাক্ষরে প্রমাণিত হওয়া এবং তাঁর বর্ণনা (روايته) তাঁর শায়খের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো মূল পাণ্ডুলিপি থেকে হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করতে হবে।" (১)।
আজজা এর কিতাবসমূহ ও অন্যান্যআর এটিই ছিল বর্ণনা (الرواية) পরবর্তী যুগের প্রচলিত অবস্থা, যার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল মুহাদ্দিসগণের দিওয়ান বা কিতাবসমূহের সংকলকদের সাথে সনদসমূহের (الأسانيد) সিলসিলার মাধ্যমে নিজেদের মাঝে এক যোগসূত্র তৈরির ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। এই সকল সনদ (الأسانيد) ও শ্রবণসমূহ (السماعات) সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাঁরা মুসলিম বিশ্বের পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তে পরিভ্রমণ করতেন। অতঃপর তাঁরা বিশেষ কিছু পদ্ধতিতে সেগুলো লিপিবদ্ধ করতেন যেগুলোকে পরিভাষায় 'আল-মু'জাম', 'আল-আতবাত', 'আল-মাশইয়াখাত', 'আল-আজজা' অথবা 'আল-ফাহারিস' ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হতো
…এই নতুন পরিস্থিতির ফলে সেই সনদসমূহ (الأسانيد) প্রায়শই ত্রুটিপূর্ণ হওয়া থেকে মুক্ত থাকত না, কারণ এই স্তরের মুহাদ্দিসগণ সনদের বিশুদ্ধতার (الصحة) শর্তসমূহ (الشروط) নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছিলেন। তাঁরা সেই সনদগুলোর (الأسانيد) বর্ণনাকারীদের (الرجال) ক্ষেত্রে কেবল বাহ্যিক সততা বা অপ্রকাশিত অবস্থা (بستر الحال) থাকলেই সন্তুষ্ট হতেন, যদিও তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং সংরক্ষণ দক্ষতা (الضبط) সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যেত না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والجدير بالذكر أن ما سبق توضيحه من ظروف بروز ظاهرة الاعتماد على الكتب بسماتها المميزة، لا يعني أن ظاهرة الاعتماد على الأسانيد في نقل الأحاديث قد انقطعت بشكل نهائي، فقد كان بعض محدثي المرحلة الثانية كلما ظفروا ببعض الأحاديث بأسانيد عالية ـ سواء كانت تلك الأسانيد تمر بأصحاب الصحاح والدواوين الأخرى، ام لا تمر بشيء منها ـ حرصوا على تسجيلها في مشيخاتهم وبرامجهم حسب تراجم الشيوخ الذين استفادوها منهم، وقد يصنفون كتبا خاصة لذكر تلك الأحاديث، وهي التي تعرف باسم " الأجزاء " ومن تتبع كتب المتأخرين في التراجم يعثر على مزيد من التفاصيل حول هذه المسألة.
ولا بأس أن نسوق بعض النصوص كي تتضح صورة الأجزاء واهتمام المتأخرين بتصنيفها.
يقول الإمام الذهبي رحمه الله: " خرج يوسف بن خليل المتوفى سنة 555هـ أجزاء عوالي: عوالي هشام بن عروة، وعوالي الأعمش، وعوالي ابن حنيفة، وعوالي أبي عاصم النبيل، وما اجتمع فيه أربعة من الصحابة " (1) . وجمع أبو نعيم الأصبهاني، صاحب كتاب الحلية ما وقع له عاليا من حديث أبي نعيم الملائي ـ وهو الفضل بن دكين ـ
--------------------------------------------
উল্লেখযোগ্য যে, বইয়ের ওপর নির্ভর করার প্রবণতা এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে যা পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তার অর্থ এই নয় যে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সনদসমূহের (الأسانيد) ওপর নির্ভর করার ধারাটি সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় স্তরের কিছু মুহাদ্দিস যখনই উচ্চমানের সনদ (أسانيد عالية) সম্বলিত কোনো হাদিস লাভ করতেন—চাই সেই সনদগুলো সিহাহ এবং অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতাদের মাধ্যমে পৌঁছে থাকুক বা না থাকুক—তারা সেগুলোকে তাদের 'মাশাইখাত' এবং 'বারামিজ' গ্রন্থে সেই শাইখদের জীবনী (التراجم) অনুযায়ী সংরক্ষণ করতে সচেষ্ট হতেন যাদের কাছ থেকে তারা সেগুলো অর্জন করেছিলেন। এমনকি তারা এই হাদিসগুলো সংকলনের জন্য বিশেষ কিতাবও রচনা করতেন, যা 'আজযা' (الأجزاء) নামে পরিচিত। পরবর্তী যুগের জীবনীগ্রন্থগুলো (التراجم) যারা অনুসন্ধান করবেন, তারা এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাবেন।
'আজযা' (الأجزاء) এর স্বরূপ এবং এটি সংকলনে পরবর্তী যুগের আলেমদের আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য কিছু পাঠ উপস্থাপন করা যেতে পারে।
ইমাম দাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "৫৫৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইউসুফ বিন খলিল কিছু উচ্চমানের আজযা (أجزاء عوالي) সংকলন করেছেন: হিশাম বিন উরওয়ার আওয়ালি, আ'মাশের আওয়ালি, ইবনে হানিফার আওয়ালি, আবু আসিম আল-নাবিলের আওয়ালি এবং এমন হাদিস যাতে চারজন সাহাবী (الصحابة) একত্রিত হয়েছেন।" (১)। আর 'হিলয়াহ' গ্রন্থের লেখক আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি আবু নুয়াইম আল-মুলাইয়ি—যিনি ফজল বিন দুকাইন—তার থেকে প্রাপ্ত উচ্চমানের (عاليا) হাদিসগুলো সংগ্রহ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
في جزء من طرق مختلفة، وعدة ذلك ثمانية وسبعون حديثا، بعضها آثار (1) . ويقول البكرى ـ وهو الحسن بن محمد ـ المتوفى سنة 606هـ: " اجتمع لي في رحلتي وأسفاري ما يزيد على مائة وستين بلدا أو قرية، أفردت لها معجما، فسألني بعض الطلبة أربعين حديثا للبلدان، فجمعتها أربعين من المدن الكبار، عن أربعين صحابيا، لأربعين تابعيا" (2) .
المتأخرون وأسانيدهم وأمثلة روايتهم العالية:فعناية المحدثين بالاحتفاظ بالأحاديث برواية مباشرة بعوالي أسانيدها ـ وإن كان ذلك على نطاق ضيق ـ إلى جانب اهتمامهم البالغ بالاعتماد على المدونات ونقلها بأسانيد متنوعة أمر لم ينقطع كما ظهر لنا من النصوص السابقة وغيرها كثيرة. فالأجزاء تحوي أحاديث معدودة ظفر بها أصحابها بعوالي الأسانيد، منها ما يمر على الصحاح أو الكتب المعتمدة، ومنها مالا يمر على شيء منها، وأسوق هنا هنا بعض الأمثلة كي تتضح بجلاء أحاديث الأجزاء وغيرها وطبيعة أسانيدها التي هي مناط البحث.
--------------------------------------------
একটি ক্ষুদ্র সংকলনের (جزء) বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে সংকলিত হাদিসের সংখ্যা আঠাত্তরটি, যার মধ্যে কিছু রয়েছে আসার (آثار) (১)। এবং আল-বাকরি — তিনি হলেন হাসান বিন মুহাম্মদ — মৃত্যু ৬০৬ হিজরি, বলেন: "আমার সফর ও ভ্রমণে একশ ষাটেরও বেশি দেশ বা গ্রাম একত্রিত হয়েছে, যেগুলোর জন্য আমি একটি অভিধান (معجم) তৈরি করেছি। অতঃপর কিছু ছাত্র আমার কাছে বিভিন্ন দেশ সম্পর্কিত চল্লিশটি হাদিস প্রার্থনা করল, তাই আমি বড় বড় শহরগুলো থেকে চল্লিশ জন সাহাবি (صحابيا) ও চল্লিশ জন তাবেয়ির (تابعيا) সূত্রে চল্লিশটি হাদিস সংকলন করলাম" (২)।
পরবর্তী যুগের আলেমগণ (المتأخرون), তাঁদের সনদসমূহ (أسانيد) এবং তাঁদের সুউচ্চ বর্ণনার (روايتهم العالية) উদাহরণ:হাদিস শাস্ত্রবিদদের (المحدثين) পক্ষ থেকে সরাসরি বর্ণনার মাধ্যমে সুউচ্চ সনদসহ (عوالي أسانيدها) হাদিসসমূহ সংরক্ষণ করার প্রচেষ্টা — যদিও তা সীমিত পরিসরে ছিল — এবং এর পাশাপাশি সংকলিত গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করা ও বিভিন্ন সনদের (أسانيد) মাধ্যমে তা বর্ণনা করার প্রতি তাঁদের গভীর আগ্রহ এমন এক বিষয় যা কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি, যেমনটি পূর্ববর্তী উদ্ধৃতিসমূহ এবং আরও অনেক কিছু থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। এই ক্ষুদ্র সংকলনগুলোতে (الأجزاء) সীমিত সংখ্যক হাদিস রয়েছে যা তার সংকলকগণ সুউচ্চ সনদের (بعوالي الأسانيد) মাধ্যমে লাভ করেছেন। এগুলোর মধ্যে কিছু হাদিস সিহাহ কিংবা নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আবার কিছু এমন যা এগুলোর কোনোটিতেই নেই। আমি এখানে কিছু উদাহরণ তুলে ধরছি যাতে ক্ষুদ্র সংকলনের (الأجزاء) হাদিসসমূহ ও অন্যান্য বিষয় এবং সেগুলোর সনদের (أسانيد) প্রকৃতি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যা এই গবেষণার মূল বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المثال الأول وتحليله:يقول الذهبي:
(1) أخبرني القاضي تقي الدين سليمان بن حمزة
(2) قال أخبرنا شيخنا الحافظ ضياء الدين محمد
(3) قال أخبرني أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد
(4) قال أخبرنا أبو جعفر الصيدلاني
(5) قال أخبرنا أبو علي الحداد ـ حضورا ـ
(6) قال أخبرنا أبو نعيم الحافظ
(7) قال حدثنا ابن خلا د
(8) قال حدثنا الحارث بن محمد
(9) قال حدثنا يزيد بن هارون
(10) قال حدثنا حميد الطويل
(11) عن انس، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سقط من فرسه فجحش شقه، أو فخذه، وآلى من نسائه شهرا
… الحديث (1) .
فروى الحافظ الذهبي هذا الحديث بإسناد عدد رواته أحد عشر راويا، مما يجعل الإسناد عاليا، فقد قال هو: " وأعلى ما يقع لنا ولأضرابنا في هذا الزمان من الأحاديث الصحيحة المتصلة بالسماع ما بيننا وبين النبي صلى الله عليه وسلم فيه
--------------------------------------------
প্রথম উদাহরণ এবং এর বিশ্লেষণ:আল-যাহাবি বলেন:
(১) কাজী তাকিউদ্দিন সুলাইমান ইবন হামজাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন
(২) তিনি বলেন, আমাদের শাইখ আল-হাফিজ দিয়াউদ্দিন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(৩) তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন
(৪) তিনি বলেন, আবু জাফর আস-সাইদালানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(৫) তিনি বলেন, আবু আলী আল-হাদ্দাদ —উপস্থিত থাকাকালীন— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(৬) তিনি বলেন, আবু নুআইম আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(৭) তিনি বলেন, ইবন খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
(৮) তিনি বলেন, আল-হারিস ইবন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
(৯) তিনি বলেন, ইয়াজিদ ইবন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
(১০) তিনি বলেন, হুমায়দ আত-তাবিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
(১১) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন, ফলে তাঁর শরীরের এক পার্শ্ব অথবা উরু ছিলে গেল এবং তিনি তাঁর স্ত্রীদের থেকে এক মাসের জন্য ইলা (বিচ্ছিন্ন থাকা) করেছিলেন... হাদিস (১)।
হাফিজ যাহাবি এই হাদিসটি এমন একটি সনদ (إسناد) দ্বারা বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারী সংখ্যা এগারো জন, যা সনদ (إسناد)-টিকে উচ্চপর্যায়ের (عالياً) করে তুলেছে। তিনি নিজেই বলেছেন: "আমাদের এবং আমাদের সমসাময়িকদের নিকট এই যুগে শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে সংযুক্ত সহিহ (صحيحة) হাদিসগুলোর মধ্যে যা সর্বোচ্চ (أعلى) স্তরের তা হলো, যা আমাদের এবং নবী (সা.)-এর মাঝে বিদ্যমান..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
اثنا عشر رجلا، وبالإجازة في الطريق: أحد عشر، وذلك كثير، وبضعف يسير غير واه: عشرة (1) . فإسناد الحديث الذي رواه الذهبي آنفا مكون برواة المرحلتين: فأنس، وتلميذه حميد الطويل، وتلميذه يزيد بن هارون وتلميذه الحارث بن محمد، وتلميذه ابن خلا د، وتلميذه أبو نعيم، رجال الحديث في عصر الرواية، في حين أن بقية الرواة من رجال عصر ما بعد الرواية، فعندما يتكون الإسناد برواة المرحلة الأولى لا سيما بأمثال يزيد بن هارون ومن فوقه إلى أنس، يصبح طبقة متميزة ومختارة في الصحاح، على عكس رواة المرحلة الثانية، فإنه لا يخلو الإسناد المشكل بهم من خلل مانع من صحته لصعوبة تحقق شروطها للأسباب التي فصلناها آنفا.
فقد ظهر الخلل هنا ـ إضافة إلى أمور أخر ـ حين سمع أبو جعفر الصيدلاني من أبي علي الحداد قبل بلوغه لسن التمييز، ولهذا وصف تلقيه منه هذا الحديث بالحضور، وهي كلمة اصطلح عليها المتأخرون في حالة ما إذا سمع الراوي قبل أن يتأهل لذلك. وسماع الصبي قبل تمييزه لا اعتبار له عند المحدثين لا سيما المتقدمين، وتساهل فيه المتأخرون حيث إن الاعتماد على الكتاب، وليس على ما تحمله ورواه.
--------------------------------------------
বারোজন ব্যক্তি, এবং সনদে ইজাজত (إجازة) থাকলে এগারোজন, যা সংখ্যায় অনেক; আর সামান্য দুর্বলতা (ضعف يسير) যা অসার নয় (غير واه) এমন অবস্থায় দশজন (১)। ইমাম আজ-জাহাবি ইতিপূর্বে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তার সনদ (إسناد) দুই পর্যায়ের বর্ণনাকারী (رواة) নিয়ে গঠিত। আনাস, তাঁর ছাত্র হুমাইদ আত-তবিল, তাঁর ছাত্র ইয়াজিদ বিন হারুন, তাঁর ছাত্র আল-হারিস বিন মুহাম্মদ, তাঁর ছাত্র ইবনে খাল্লাদ এবং তাঁর ছাত্র আবু নুয়াইম হলেন বর্ণনা যুগের (عصر الرواية) হাদিসের বর্ণনাকারী (رجال الحديث)। যেখানে অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ (رواة) পরবর্তী বর্ণনা যুগের ব্যক্তি। সুতরাং যখন সনদ (إسناد) প্রথম স্তরের বর্ণনাকারীদের (رواة) নিয়ে গঠিত হয়, বিশেষ করে ইয়াজিদ বিন হারুন ও তাঁর ঊর্ধ্বে আনাস পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে, তখন এটি সহিহ গ্রন্থসমূহের একটি স্বতন্ত্র ও বাছাইকৃত স্তর হিসেবে গণ্য হয়। দ্বিতীয় স্তরের বর্ণনাকারীদের (رواة) বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ তাঁদের দ্বারা গঠিত সমস্যাযুক্ত সনদ (إسناد) এমন ত্রুটি (خلل) থেকে মুক্ত নয় যা এর বিশুদ্ধতা (صحة) অর্জনে বাধা দেয়। কারণ ইতিপূর্বে বর্ণিত কারণসমূহের দরুন বিশুদ্ধতার শর্তাবলি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এখানে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি একটি ত্রুটি (خلل) পরিলক্ষিত হয়, যখন আবু জাফর আস-সাইদালানি বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন বয়সে (سن التمييز) পৌঁছানোর আগেই আবু আলি আল-হাদ্দাদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। এই কারণে তাঁর এই হাদিস গ্রহণকে উপস্থিতি (حضور) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে; এটি এমন একটি পরিভাষা যা পরবর্তী যুগের আলেমগণ (متأخرون) সেই বর্ণনাকারীর (راوٍ) ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন, যে যোগ্য হওয়ার আগেই হাদিস শুনেছে। আর বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়ার আগে শিশুর হাদিস শ্রবণের কোনো গ্রহণযোগ্যতা (اعتبار) হাদিস বিশারদগণের (محدثين) নিকট নেই, বিশেষ করে পূর্ববর্তী যুগের আলেমগণের (متقدمين) নিকট। তবে পরবর্তী যুগের আলেমগণ (متأخرون) এ ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন (تساهل) করেছেন, কারণ তখন নির্ভরতা ছিল পাণ্ডুলিপির ওপর, বর্ণনাকারীর ধারণকৃত বিষয় বা বর্ণনার ওপর নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فتصحيح الأحاديث باعتبار هذا الإسناد الطويل الذي ظهر لنا خلل في الجزء الثاني منه أمر متعذر، إذ أن أبا جعفر الصيدلاني اعتمد في رواية هذا الحديث على كتابه دون أن يتم له سماع صحيح من أبي على الحداد، وهذا ما أراده ابن الصلاح سابقا بقوله: " لأنه ما من إسناد من ذلك إلا ونجد في رجاله من اعتمد في روايته على ما في كتابه عريا عما يشترط في الصحيح من الحفظ والظبط والإتقان، وتراجم هؤلاء الرواة المتأخرون متوفرة في كتب التراجم، كثيرا ما نجد فيهم نصوصا صريحة في التعديل والتوثيق.
هذا، وإن العلو في المرحلة الثانية لا يتحقق في أسانيدها إلا وقيه خلل يظهر من التساهل في مراعاة الشروط في التحمل السليم والتلقي الصحيح، وقد رأينا آنفا الإمام الذهبي يقول: " وأعلى ما يقع لنا ولأضرابنا في هذا الزمان من الأحاديث الصحيحة المتصلة بالسماع ما بيننا وبين النبي صلى الله عليه وسلم اثنا عشر رحلا، وبالإجازة في الطريق ـ أي في السند ـ أحد عشر، وذلك كثير، ويضعف يسير غير واه: عشرة اهـ. فبقدر ما يكون الإسناد عاليا بقلة عدد الرواة يزداد فيه الخلل.
على أن الحديث قد رواه البخاري في كتاب الصلاة، باب الصلاة في السطوح والمنبر والخشب (1) من طريق محمد بن عبد الرحيم، عن يزيد بن هارون به، وبه يتبين أن سند الذهبي قد
--------------------------------------------
সুতরাং এই দীর্ঘ সনদের (إسناد) প্রেক্ষিতে হাদিসসমূহের বিশুদ্ধতা যাচাই (تصحيح) করা একটি অসম্ভব বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার দ্বিতীয় অংশে আমাদের কাছে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে। কেননা, আবু জাফর আস-সাইদালানি এই হাদিসটি বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে তার কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন, অথচ আবু আলি আল-হাদ্দাদের নিকট থেকে তার সঠিক (صحيح) শ্রবণ (سماع) সম্পন্ন হয়নি। আর ইবনে আস-সালাহ ইতিপূর্বে একথাই বুঝাতে চেয়েছেন তার এই বাণীর মাধ্যমে: "কেননা এমন কোনো সনদ (إسنাদ) নেই যার বর্ণনাকারীদের (رجال) মধ্যে আমরা এমন কাউকে পাব না, যে তার বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে কিতাবের ওপর নির্ভর করেছে, অথচ সহিহ (صحيح) হওয়ার জন্য আবশ্যকীয় শর্তাবলি যেমন মুখস্থশক্তি (حفظ), নির্ভুলতা (ضبط) এবং পাণ্ডিত্য (إتقان) থেকে সে মুক্ত ছিল।" এই পরবর্তী যুগের বর্ণনাকারীদের (رواة) জীবনী (تراجم) জীবনীগ্রন্থগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে এবং আমরা প্রায়শই তাদের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্যতা সাব্যস্তকরণ (تعديل) ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে সত্যায়ন (توثيق) বিষয়ক স্পষ্ট বক্তব্য খুঁজে পাই।
তদুপরি, দ্বিতীয় পর্যায়ের উচ্চমার্গীয় সনদ (العلو) তার সনদসমূহে (أسانيد) ততক্ষণ পর্যন্ত অর্জিত হয় না যতক্ষণ না তাতে ত্রুটি প্রকাশ পায়, যা মূলত সঠিক গ্রহণ (تحمل) ও নির্ভুল আহরণ (تلقي) এর ক্ষেত্রে শর্তাবলি পরিপালনে শিথিলতা (تساهل) থেকে উদ্ভূত। আমরা ইতিপূর্বে ইমাম আয-যাহাবিকে বলতে দেখেছি: "বর্তমান সময়ে আমাদের এবং আমাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছে শ্রবণ (سماع) এর মাধ্যমে সংযুক্ত (متصلة) সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহের মধ্যে যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা হলো আমাদের এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাঝে বারোজন ব্যক্তি; আর ইজাজত (إجازة) বা অনুমতির মাধ্যমে পথে—অর্থাৎ সনদে (سند)—এ সংখ্যা এগারো জন। এটি অনেক বেশি, আর দশজন হলে তা সামান্য দুর্বল (يضعف) হয় তবে অসার (واه) নয়।" সুতরাং বর্ণনাকারীদের (رواة) সংখ্যা স্বল্পতার কারণে সনদ (إسنাদ) যতটা উচ্চপর্যায়ের (عاليا) হয়, তাতে ত্রুটি ততটাই বৃদ্ধি পায়।
উল্লেখ্য যে, হাদিসটি বুখারি 'কিতাবুস সালাত', 'বাবুস সালাত ফিস সুতুহ ওয়াল মিম্বার ওয়াল খাশাব' (১) অধ্যায়ে মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাহিমের সূত্র (طريق) হয়ে ইয়াজিদ বিন হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, আয-যাহাবির সনদ (سند)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
مر على صحيح البخاري، حيث اشتركا في يزيد بن هارون، ومن فوقه إلى أنس، وهذا بمثابة تصحيح البخاري لهذا الحديث مما يغني عن اعتبار الإسناد الذي رواه به الحافظ الذهبي، وهذا ما قيد به ابن الصلاح كلامه حين قال: " ولم نجده في أحد الصحيحين، ولا منصوصا على صحته في شيء من مصنفات أئمة الحديث المعتمدة المشهورة.
المثال الثاني وتحليله:وهو مثال الإسناد المستقبل الذي لا يشارك شيئا من الدواوين المتعمدة التي تنص على صحة الحديث.
يقول الإمام الذهبي:
(1) أخبرنا عمر بن عبد المنعم
(2) قال أخبرنا عبد الصمد بن محمد ـ حضوراـ
(3) قال أخبرنا علي بن مسلم
(4) قال أخبرنا ابن طلاب
(5) قال أخبرنا ابن جميع
(6) قال حدثنا الحسن بن إدريس القافلاني
(7) قال حدثنا عيسى بن أبي حرب
(8) قال حدثنا يحي بن أبي بكير
(9) قال حدثنا سفيان
(10) عن سليمان التيمي
এটি সহীহ বুখারী-এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেহেতু তারা ইয়াজিদ ইবনে হারুন এবং তার ঊর্ধ্বতনের রাবিদের মাধ্যমে আনাস (রা.) পর্যন্ত বর্ণনায় শরীক হয়েছেন। এটি ইমাম বুখারী কর্তৃক এই হাদিসটিকে বিশুদ্ধ ঘোষণা (تصحيح) করার সমতুল্য, যা হাফিজ যাহাবী যে সনদ (إسناد) দ্বারা হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তা বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। ইবনে সালাহ তার বক্তব্যকে এটি দ্বারাই সীমাবদ্ধ করেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: "আমরা এটি সহীহাইন-এর কোনোটিতে খুঁজে পাইনি এবং হাদিসের নির্ভরযোগ্য (معتمدة) ও প্রসিদ্ধ ইমামগণের কোনো সংকলনেও এর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই।"
দ্বিতীয় উদাহরণ ও তার বিশ্লেষণ:এটি এমন একটি স্বতন্ত্র সনদ (إسناد مستقل)-এর উদাহরণ যা নির্ভরযোগ্য সংকলনসমূহের (دواوين معتمدة) কোনোটির সাথেই সংশ্লিষ্ট নয়, যেগুলোতে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
ইমাম যাহাবী বলেন:
(1) ওমর ইবনে আব্দুল মুনইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)
(2) তিনি বলেন, আব্দুস সামাদ ইবনে মুহাম্মদ —উপস্থিতির মাধ্যমে (حضورا)— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)
(3) তিনি বলেন, আলী ইবনে মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)
(4) তিনি বলেন, ইবনে তুল্লাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)
(5) তিনি বলেন, ইবনে জামী' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)
(6) তিনি বলেন, হাসান ইবনে ইদ্রিস আল-কাফলানি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا)
(7) তিনি বলেন, ঈসা ইবনে আবি হারব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا)
(8) তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا)
(9) তিনি বলেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا)
(10) সুলাইমান আত-তাইমি থেকে (عن)
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
(11) عن أبي عثمان
(12) عن أسامة بن زيد
أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا ترجعوا بعدي كفارا، يضرب بعضكم رقاب بعض، ثم قال الذهبي: " رواته ثقا ت، وهذا من الأفراد، لم يخرجوه في كتب الستة" (1) . قلت: وإنما أخرجه بعضهم من حديث ابن عمر وأبي بكرة فظهر مما ذكره الحافظ الذهبي أن سند هذا الحديث المشكل من اثني عشر رجلا لم يمر على الكتب الستة، والحكم عليه بالصحة أو بالضعف متوقف على اعتبار هذا السند من أوله إلى آخره، وقد رأينا في مستهل الإسناد شيئا يمنع صحته، وهو عدم صحة السماع عند عمر بن عبد المنعم، حيث بين أنه لم يكن وقت تلقيه من عبد الصمد بن محمد متأهلا له.
المثال الثالث وتحليله:وهو ما رواه الإمام ابن الصلاح رحمه الله بسنده العالي، ليختتم به كتابه المعروف بمقدمة ابن الصلاح، قال رحمه الله تعالى:
(1) أخبرنا الشيخ المعمر أبو حفص عمر قراءة عليه
(2) قال: أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الباقي
(3) قال: أخبرنا أبو إسحاق بن عمر أحمد البرمكي
(4) قال: أخبرنا أبو محمد عبد الله بن إبراهيم
--------------------------------------------
(১১) আবু উসমান থেকে বর্ণিত
(১২) উসামা বিন যায়েদ থেকে বর্ণিত
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার পরে তোমরা কাফেরে পরিণত হয়ো না, যে অবস্থায় তোমরা একে অপরের গর্দান কর্তন করবে।" অতঃপর আয-যাহাবী বলেন: "এর বর্ণনাকারীবৃন্দ নির্ভরযোগ্য (ثقات), এবং এটি একক (الأفراد) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, তাঁরা কুতুবে সিত্তাহ-তে এটি সংকলন করেননি" (১)। আমি বলছি: তাঁদের কেউ কেউ এটি ইবনে উমর ও আবু বাকরাহ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ যাহাবী যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এই সমস্যাপুর্ণ হাদিসের সনদ (سند) বারোজন ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত যা কুতুবে সিত্তাহ-তে স্থান পায়নি। এবং এর ওপর বিশুদ্ধতা (الصحة) বা দুর্বলতার (الضعف) হুকুম আরোপ করা এই সনদকে (السند) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। আর আমরা সনদের (الإسناد) শুরুতেই এমন কিছু দেখেছি যা এর বিশুদ্ধতাকে (صحته) বাধাগ্রস্ত করে, আর তা হলো উমর বিন আব্দুল মুনইমের শ্রবণ (السماع) বিশুদ্ধ না হওয়া, কেননা তিনি স্পষ্ট করেছেন যে আব্দুল সামাদ বিন মুহাম্মদের নিকট থেকে গ্রহণের সময় তিনি এর উপযুক্ত ছিলেন না।
তৃতীয় উদাহরণ এবং তার বিশ্লেষণ:এটি ইমাম ইবনুস সালাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর উচ্চস্তরের সনদ (بسنده العالي) সহ বর্ণনা করেছেন, যা দিয়ে তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ সমাপ্ত করেছেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
(১) দীর্ঘায়ুপ্রাপ্ত শায়খ আবু হাফস উমর তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(২) তিনি বলেছেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(৩) তিনি বলেছেন: আবু ইসহাক বিন উমর আহমদ আল-বারমাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(৪) তিনি বলেছেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(5) قال: حدثنا أبو مسلم إبراهيم بن عبد الله الكجي
(6) قال: حدثنا محمد بن عبد الله الأنصاري
(7) قال: حدثنا سليمان التيمي
(8) عن انس
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا هجرة بين المسلمين فوق ثلاثة أيام. أو قال ثلاث ليال (1) .
فالجزء الأول من هذا الإسناد لم يسلم من الخلل حيث أن أبا بكر محمد بن عبد الباقي، شيخ ابن الصلاح لم يكن متأهلا للسماع والتحمل وقت سماعه من أبي إسحاق الكجي، فقد قال الذهبي: بكر به ـ يعني محمد بن عبد الباقي ـ أبوه، وسمعه من أبي إسحاق البرمكي، جزء الأنصاري وما معه حضورا في السنة الربعة (2) .
وعليه فلا ينبغي التسرع إلى تصحيح مثل هذه الأحاديث اغترارا بشهرة السلسلة في الجزء الثاني من إسناد المتأخرين لأنه ينبغي التحقق من ثبوت الحديث عن ذلك الجزء المشهور وذلك بورود نص على صحته في كتاب معتمد، وثبوته عن أحد من أئمة الحديث، ولا شك أن عملية التصحيح باعتبار جميع أجزاء الإسناد ـ دون الاعتماد على ما نص عليه الأئمة في كتبهم المعتمدة ـ أمر يكاد يكون متعذرا، إن لم يكن كذلك
--------------------------------------------
(5) তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আল-কাজ্জি।
(6) তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারী।
(7) তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান আত-তাইমি।
(8) আনাস (রা.) হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়। অথবা তিনি বলেছেন তিন রাতের বেশি (১)।
এই সূত্রের (إسناد) প্রথম অংশটি ত্রুটিমুক্ত নয়, কারণ ইবনে আস-সালাহ-এর উস্তাদ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি যখন আবু ইসহাক আল-কাজ্জির নিকট থেকে শ্রবণ করেছিলেন, তখন তিনি হাদিস শ্রবণ (سماع) ও গ্রহণ করার (تحمل) যোগ্য ছিলেন না। ইমাম আয-যাহাবি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকির পিতা তাকে শৈশবেই নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি আবু ইসহাক আল-বারমাকির নিকট থেকে 'জুযউল আনসারী' ও তৎসংলগ্ন বিষয়গুলো চতুর্থ হিজরি সনে উপস্থিতির (حضور) মাধ্যমে শ্রবণ করেছিলেন (২)।
অতএব, পরবর্তী যুগের বর্ণনাকারীদের সূত্রের (إسناد) দ্বিতীয় অংশের প্রসিদ্ধি দেখে বিভ্রান্ত হয়ে এই ধরনের হাদিসগুলোকে বিশুদ্ধ সাব্যস্ত (تصحيح) করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। কারণ উক্ত প্রসিদ্ধ অংশটি থেকে হাদিসটি সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি কোনো নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে তার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে অথবা হাদিসের ইমামদের কারো নিকট থেকে তা প্রমাণিত হওয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহে ইমামগণ যা উল্লেখ করেছেন তার ওপর নির্ভর না করে সূত্রের (إسناد) সকল অংশ বিবেচনা করে বিশুদ্ধতা নির্ণয়ের (تصحيح) প্রক্রিয়াটি প্রায় অসম্ভব একটি বিষয়, যদি না এটিই বাস্তব সত্য হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لصعوبة تحقق سلامة الإسناد في المرحلة الثانية من جميع النقائص. وفي ختام هذا التحليل التاريخي للمرحلتين اللتين مرت بهما السنة النبوية، يصبح من اليسير تحرير الأمور التي وقعت في كلام ابن الصلاح، وتحديد مقصوده منها
مقصود ابن الصلاح بالأجزاء وغيرها:فالأجزاء، وإن كانت تطلق على جميع المصنفات التي تعالج مسائل جزئية، إلا أن التي تعرض لها ابن الصلاح وخصصها بمسألة التصحيح لا يقصد بها جميع المصادر الحديثية، وإنما يرد بها هنا تصانيف المتأخرين التي يجمعون فيها بعض الأحاديث التي سمعوها بأسانيد عالية.
والمقصود بغيرها في كلام ابن الصلاح، ما هو على شاكلة الأجزاء، من مشيخات، وأثبات، وفهارس، وبرامج وغيرها من التأليفات التي يورد فيها المتأخرون الأحاديث بأسانيدهم العالية والطويلة حسب مناسبات تراجم الشيوخ الذين تلقوها منهم، وغيرهم، ومن هنا يظهر وجه تخصيص ابن الصلاح الأجزاء بالذكر في مستهل كلامه رغم شهرة المسانيد والسنن وكثرة تداولها لديهم.
توجيه رأي ابن الصلاح وتحقيقه:وعليه، فقد أصبح واضحا مغزى قوله: " تعذر في هذه الأعصار الاستقلال بإدراك الصحيح بمجرد اعتبار السند " لأن أسانيد الأحاديث التي تمر بالمرحلتين جميعا لا يسلم الجزء الذي
দ্বিতীয় স্তরে সনদ (إسناد)-এর বিশুদ্ধতা সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত থাকা নিশ্চিত করার কঠিনসাধ্যতার কারণে। সুন্নাহ যে দুটি স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, তার এই ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের শেষে ইবনুস সালাহ-এর বক্তব্যে যা বর্ণিত হয়েছে তা পর্যালোচনা করা এবং তাঁর উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করা সহজ হয়ে যায়।
ইবনুস সালাহ-এর উদ্দেশ্য 'আজজা' (أجزاء) ও অন্যান্য কিতাব দ্বারা:‘আজজা’ (أجزاء), যদিও এমন সমস্ত সংকলনের ওপর প্রয়োগ করা হয় যা আংশিক বা বিশেষ মাসআলা নিয়ে রচিত, তবে ইবনুস সালাহ সহিহ সাব্যস্ত করার (تصحيح) মাসআলায় যে বিষয়টি আলোচনা করেছেন এবং একে সুনির্দিষ্ট করেছেন, তার দ্বারা হাদিসের সকল মূল উৎসসমূহ উদ্দেশ্য নয়। বরং এখানে তিনি পরবর্তী যুগের আলেমদের (متأخرين) সেই সব সংকলনকে বুঝিয়েছেন যাতে তাঁরা উচ্চ সনদ (أسانيد عالية)-এর মাধ্যমে শোনা কিছু হাদিস সংকলন করেছেন।
আর ইবনুস সালাহ-এর বক্তব্যে ‘অন্যান্য’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘আজজা’ (أجزاء)-এর সমজাতীয় কিতাবসমূহ, যেমন: মাশায়াখাত (مشيخات), আসবাত (أثبات), ফিহরিসত (فهارس), বারামিজ (برامج) এবং অন্যান্য সংকলনসমূহ, যেখানে পরবর্তী যুগের আলেমগণ তাদের উচ্চ সনদ (أسانيد عالية) ও দীর্ঘ সনদ (أسانيد طويلة) দ্বারা সেই সব শায়খদের (شيوخ) জীবনী অনুসারে হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন যাদের থেকে তাঁরা তা গ্রহণ করেছেন। এখান থেকেই ইবনুস সালাহ-এর বক্তব্যের শুরুতে মুসনাদ ও সুনান গ্রন্থসমূহের প্রসিদ্ধি এবং সেগুলোর ব্যাপক ব্যবহার থাকা সত্ত্বেও বিশেষভাবে ‘আজজা’ (أجزاء)-এর নাম উল্লেখ করার কারণ স্পষ্ট হয়।
ইবনুস সালাহ-এর মতামতের ব্যাখ্যা ও পর্যালোচনা:এর প্রেক্ষিতে তাঁর এই বক্তব্যের তাৎপর্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে: "বর্তমান সময়ে কেবল সনদ (سند)-এর ওপর নির্ভর করে স্বতন্ত্রভাবে সহিহ (صحيح) হাদিস নিরূপণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।" কারণ যেসব হাদিসের সনদ (أسانيد) উভয় স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে, তার সেই অংশটি ত্রুটিমুক্ত থাকে না যা...
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يمر بالمرحلة الثانية منها من خلل قادح في الصحة، وذلك ناتج عن التساهل في مراعاة شروطها الضرورية في حق الرواة المتأخرين كما سبق توضيحه آنفا، فالتصحيح بالاعتماد على سندها ـ إذن ـ أمر متعذر.
وأما إذا لم يعتبر ذلك الجزء من الإسناد، وإنما يعتمد على الجزء الثاني المسجل في المدونات الثابتة المعتمدة فلا يبقى أي مبرر لتعذر التصحيح وصعوبته، ويبقى الأمر متوقفا فقط على أهلية الباحث للدراسة والنقد، وهو ما لم يتعرض له ابن الصلاح هنا، وإنما كلامه متجه إلى الأحاديث التي ترد في "الأجزاء " والمشيخات "وغيرها.
ومن هنا تم له الاستدلال بقوله: " ما من إسناد من ذلك أي مما يروي في الأجزاء وغيرها، إلا ونجد فيه خللا " إذ أنه لم يقصد به التعميم والشمولية، وإنما كلامه مرتبط بالجزء الأول من أسانيد الأحاديث الذي يمر بالمرحلة الثانية، وبهذا يزول التناقض الظاهري بين كلام ابن الصلاح هذا، وبين قوله السابق " إذا وجدنا فيما نروي من أجزاء حديثية وغيرها حديثا صحيح الإسناد "، إذ أنه يحتمل أن يكون مراده بصحيح الإسناد الجزء الثاني من الإسناد والمتمثل في سلسلة رواة معروفين، مثل: مالك عن نافع عن ابن عمر، ونحوه، أو أن يكون المقصود به صحته ظاهرا بكون الأشخاص المذكورين في السند معروفين، فإن الخلل يقع غالبا من جهة التلقي أو الأداء، وذلك أمر غامض.
এটি এর দ্বিতীয় স্তরের মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধতা (الصحة) বিনষ্টকারী এমন এক ত্রুটির মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়, যা মূলত পরবর্তী যুগের বর্ণনাকারীদের (الرواة المتأخرين) ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তসমূহ পরিপালনে শিথিলতার ফলাফল, যেমনটি ইতিপূর্বে স্পষ্ট করা হয়েছে। সুতরাং, উক্ত সনদের (سند) ওপর নির্ভর করে হাদিস বিশুদ্ধ নির্ধারণ (التصحيح) করা তখন অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পক্ষান্তরে যদি সনদের (الإسناد) সেই অংশটি বিবেচনায় না নেওয়া হয়, বরং নির্ভরযোগ্য ও প্রতিষ্ঠিত সংকলনসমূহে লিপিবদ্ধ দ্বিতীয় অংশের ওপর নির্ভর করা হয়, তবে হাদিস বিশুদ্ধ নির্ধারণ (التصحيح) অসম্ভব বা কঠিন হওয়ার আর কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে না। তখন বিষয়টি কেবল গবেষকের গবেষণা ও পর্যালোচনার যোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল থাকে। ইবনে সালাহ এখানে এই দিকটি নিয়ে আলোচনা করেননি, বরং তাঁর কথাগুলো সেই হাদিসসমূহ কেন্দ্রিক যা আজযা, মাশইয়াখাত ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
এ কারণেই তাঁর পক্ষে এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলিল পেশ করা সম্ভব হয়েছে যে: "সেই সনদগুলোর (إسناد) মধ্যে—অর্থাৎ যা আজযা ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত—এমন কোনো সনদ নেই যাতে আমরা ত্রুটি খুঁজে পাই না।" কেননা তিনি এর দ্বারা সাধারণীকরণ বা সর্বজনীনতা বোঝাননি; বরং তাঁর কথাটি হাদিসের সনদসমূহের (أسانيد) সেই প্রথম অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট যা দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমেই ইবনে সালাহের এই বক্তব্য এবং তাঁর পূর্ববর্তী উক্তি—"যদি আমরা আমাদের বর্ণিত হাদিসগ্রন্থের অংশবিশেষ ও অন্যান্য সূত্রে কোনো সহিহ সনদবিশিষ্ট (صحيح الإسناد) হাদিস খুঁজে পাই"—এর মধ্যকার আপাত বৈপরীত্য দূরীভূত হয়। কারণ এটি সম্ভব যে, সহিহ সনদ (صحيح الإسناد) বলতে তিনি সনদের (الإسناد) দ্বিতীয় অংশটি বুঝিয়েছেন যা সুপরিচিত বর্ণনাকারী পরম্পরায় গঠিত, যেমন: মালিক নাফে'র সূত্রে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে বাহ্যিক বিশুদ্ধতা (صحته ظاهرا) যেহেতু সনদে (السند) উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ সুপরিচিত। প্রকৃতপক্ষে ত্রুটি সাধারণত হাদিস গ্রহণ (التلقي) বা হাদিস বর্ণনা (الأداء) করার ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয়।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فابن الصلاح لم يرد جميع الأحاديث في مسألة التصحيح ومنعه، حسبما يدل على ذلك سياق كلامه، وإنما قصد خصوص ما ورد في الأجزاء ونحوها فحسب، ولا يشكل قوله: " فآل الأمر إذاً في معرفة الصحيح والحسن
… إلخ " على ما ذكرنا، معناه: في معرفة صحة أو حسن أحاديث الأجزاء ونحوها، وليس مطلق الأحاديث.
فابن الصلاح مصيب في رأيه وادعائه، لأنه ليس بوسع المتأخرين تصحيح الأحاديث التي تروى في أجزاء الحديث والمشيخات وغيرهما بالأسانيد الطويلة الممتدة إلى النبي صلى الله عليه وسلم، بمجرد اعتبار تلك الأسانيد التي لا يكاد يخلو الجزء الذي يمر بالمرحلة الثانية منها من خلل، نظرا لتساهل محدثي مرحلة ما بعد الرواية في تطبيق قواعد الجرح والتعديل الصارمة على رجال تلك الأسانيد، تأثرا منهم بظروف هذه المرحلة، والمستجدات التي حدثت فيها.
فليس بوسع المتأخرين إذن ـ نظرا لهذه الحيثية ـ تصحيح الأحاديث الموجودة في الأجزاء والمسيخات وغيرها إلا إذا ثبت تصحيحها أو تحسينها عن إمام من أئمة النقد في مرحلة الرواية أو إذا اعتمدوا على إسناد المرحلة الأولى وحده.
وأما الأحاديث التي ت
… ضمنتها بطون الدواوين المشهورة في مرحلة الرواية والتي لم يسبق تصحيحها ولا تضعيفها من قبل الناقدين المتقدمين، فإن ابن الصلاح لم يتعرض لها هنا كما هو الظاهر من سياق نصوصه، حيث إن طبيعة الأدلة والبراهين
ইবনে আস-সালাহ সহিহায়ন (تصحيح) ও এর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সকল হাদিসকে উদ্দেশ্য করেননি, যেমনটি তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নির্দেশ করে। বরং তিনি কেবল আজজা এবং এই জাতীয় গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হাদিসগুলোকেই নির্দিষ্ট করেছেন। আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের বিপরীতে তাঁর এই উক্তি— "সুতরাং সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হাদিস চেনার বিষয়টি পর্যবসিত হলো... ইত্যাদি"—কোনো জটিলতা সৃষ্টি করে না; এর অর্থ হলো: আজজা ও এই জাতীয় কিতাবসমূহের হাদিস সহিহ (صحيح) বা হাসান (حسن) হওয়ার বিষয়টি জানা, ঢালাওভাবে সকল হাদিস নয়।
এ ক্ষেত্রে ইবনে আস-সালাহ তাঁর অভিমত ও দাবিতে সঠিক, কেননা পরবর্তী যুগের আলেমদের (متأخرين) পক্ষে আজজাউল হাদিস, মাশয়াখাত এবং অন্যান্য সংকলনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ সনদের (أسانيد) মাধ্যমে বর্ণিত হাদিসগুলোকে কেবল সেই সনদগুলোর (أسانيد) ওপর ভিত্তি করে সহিহায়ন (تصحيح) করা সম্ভব নয়। কারণ দ্বিতীয় স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত এই সনদগুলোর (أسانيد) অংশ বিশেষ ত্রুটিমুক্ত হওয়া দুষ্কর। এর কারণ হলো, রেওয়ায়েত পরবর্তী যুগের হাদিস বিশারদগণ (محدثين) তৎকালীন পরিস্থিতির প্রভাবে উক্ত সনদগুলোর (أسانيد) রাবিদের ওপর জারহ ও তাদিলের (جرح وتعديل) কঠোর নিয়মনীতি প্রয়োগে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন।
সুতরাং এই প্রেক্ষিত বিবেচনায় পরবর্তী যুগের আলেমদের (متأخرين) পক্ষে আজজা, মাশয়াখাত এবং অন্যান্য সংকলনের হাদিসসমূহকে সহিহায়ন (تصحيح) করা সম্ভব নয়, যদি না রেওয়ায়েত যুগের কোনো বিশেষজ্ঞ সমালোচক ইমামের পক্ষ থেকে সেগুলোর সহিহায়ন (تصحيح) বা হাসান সাব্যস্তকরণ (تحسين) প্রমাণিত হয়, অথবা যদি তাঁরা কেবল প্রথম স্তরের সনদের (إسناد) ওপর নির্ভর করেন।
আর যেসব হাদিস রেওয়ায়েত যুগের প্রসিদ্ধ সংকলনসমূহের (দাওয়াইন) অন্তর্ভুক্ত এবং পূর্ববর্তী যুগের সমালোচকগণ (متقدمين) ইতিপূর্বে সেগুলোকে সহিহায়ন (تصحيح) বা জঈফ সাব্যস্তকরণ (تضعيف) করেননি, ইবনে আস-সালাহ এখানে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেননি, যেমনটি তাঁর লেখনীর প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। যেহেতু তথ্য-প্রমাণ ও দলিলের প্রকৃতি...
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
التي ساقها لتدعيم دعواه، وتخصيصه الأجزاء بالذكر في مستهل كلامه رغم شهرة دواوين السنة وكثرة تدوالها بينهم، كل ذلك دليل على أنه لم يقصد بقوله السابق إلا الأجزاء والمشيخات ونحوها من المؤلفات التي اشتهرت في عصره دون سواها من السنن والمسانيد وغيرها.
ومما يدعمه ما ذكره في مبحث " الحسن " بعد ضبطه نوعية الحديث الضعيف الذي يرتقي إلى الحسن بوروده من غير وجه ـ من قوله: " وهذه جملة تفاصيلها تدرك بالمباشرة والبحث " (1) وكذا قوله في مبحث " الشاذ ": إذا انفرد الراوي بشيء نظر فيه: فإن كان ما ينفرد به مخالفا لما رواه من هو أولى منه بالحفظ لذلك وأضبط، كان ما انفرد به شاذا مردودا، فإن لم تكن فيه مخالفة لما رواه غيره وإنما هو أمر رواه هو ولم يروه غيره، لينظر في هذا الراوي المنفرد: فإن كان عدلا حافظا موثوقا بإتقانه وضبطه قبل ما انفرد به، إلى أن قال ابن الصلاح: فإن كان المنفرد به غير بعيد من درجة الحافظ الضابط المقبول تفرده: استحسنا حديثه ذلك، ولم نحطه إلى قبيل الحديث الضعيف " (2) .
فهذه بعض نصوص ابن الصلاح التي تؤيد أنه ـ رحمه الله تعالى ـ لم يقصد بكلامه إطلاق المنع في جميع أنواع الحديث ـ كما بيناه آنفا ـ حيث إنه أقر هنا ـ بصريح كلامه ـ
--------------------------------------------
যা তিনি তাঁর দাবির সমর্থনে উপস্থাপন করেছেন এবং তাঁর বক্তব্যের শুরুতে 'আজযা' (খণ্ড)-সমূহের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা—সুন্নাহর সংকলনসমূহের প্রসিদ্ধি ও সেগুলোর ব্যাপক প্রচলন থাকা সত্ত্বেও—এসবই প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর পূর্বোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে কেবল 'আজযা', 'মাশয়খাত' এবং তাঁর যুগে প্রচলিত এই জাতীয় রচনাগুলোকেই বুঝিয়েছেন; সুনান, মুসনাদ এবং অন্যান্য গ্রন্থসমূহকে নয়।
একে আরও জোরালো করে 'হাসান (الحسن)' বিষয়ক আলোচনায় তাঁর প্রদত্ত বক্তব্য, যেখানে তিনি সেই শ্রেণির দুর্বল (الضعيف) হাদিসকে সুনির্দিষ্ট করার পর—যা একাধিক সূত্রের মাধ্যমে আসার কারণে হাসান (الحسن) পর্যায়ে উন্নীত হয়—বলেছেন: "এগুলো এমন কিছু মূলনীতি যার বিস্তারিত বিবরণ সরাসরি চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে অনুধাবন করা যায়।" (১) অনুরূপভাবে 'শায (الشاذ)' বিষয়ক আলোচনায় তাঁর বক্তব্য: "যখন কোনো বর্ণনাকারী এককভাবে কোনো কিছু বর্ণনা করেন, তখন তা পর্যালোচনা করা হবে: যদি তাঁর সেই একক বর্ণনাটি এমন কোনো ব্যক্তির বর্ণনার পরিপন্থী হয় যিনি হিফয ও নির্ভুলতার ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে অগ্রগণ্য ও অধিকতর প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (وأضبط), তবে তাঁর সেই একক বর্ণনাটি শায (شاذا) ও প্রত্যাখ্যাত (مردودا) বলে গণ্য হবে। আর যদি অন্য কারো বর্ণনার সাথে কোনো বৈপরিত্য না থাকে, বরং বিষয়টি কেবল তিনিই বর্ণনা করেছেন আর কেউ করেননি, তবে সেই একক বর্ণনাকারীর অবস্থা দেখা হবে: যদি তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدلا), হাফিজ (حافظا) এবং তাঁর প্রজ্ঞা ও নির্ভুলতার (وضبطه) ব্যাপারে বিশ্বস্ত হন, তবে তাঁর একক বর্ণনাটি গ্রহণ করা হবে।" ইবনুস সালাহ আরও বলেন: "যদি বর্ণনাকারী এমন হন যিনি হাফিজ ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (الضابط) ব্যক্তিদের—যাদের একক বর্ণনা গ্রহণযোগ্য—তাদের স্তর থেকে খুব একটা দূরে নন, তবে আমরা তাঁর সেই হাদিসটিকে হাসান হিসেবে গ্রহণ করব এবং তাকে দুর্বল (الضعيف) হাদিসের পর্যায়ভুক্ত করব না।" (২)।
এগুলো ইবনুস সালাহ-এর কিছু বক্তব্য যা সমর্থন করে যে, তিনি—রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা—তাঁর কথার মাধ্যমে সকল প্রকার হাদিসের ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে নিষেধাজ্ঞা বুঝাতে চাননি—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করেছি—কেননা তিনি এখানে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে স্বীকার করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بإمكانية تصحيح الأحاديث وتحسينها وتضعيفها من طرف المتأخرين، من خلال النظر والبحث في أسانيدها المشكلة برواة عصر الرواية، إذا كانت منصوصة وثابتة في الكتب المصادر المعتمدة، ولا شك أن هذه النصوص وغيرها تصبح لغوا وعديمة المعنى، لو كان قصد ابن الصلاح هو إطلاق المنع على جميع الأحاديث.
يضاف إلى هذا أن الأحاديث والآثار حين استقرت في ثنايا أمهات الكتب التي تم نقلها عن مؤلفيها جيلا عن جيل وفق الشروط التي اخترعت بغية توفير الضمانات الكافية أثناء النقل، لئلا يقع فيها تصحيف أو تزوير أو انتحال، وأصبحت تلك الكتب صالحة للرجوع إليها والاعتماد عليها في تلقي الآثار والأقوال.. كل ذلك يجعل عملية تصحيح تلك الأحاديث أو تضعيفها ممكنا جدا، ولا يحتاج إلا إلى القدرة العلمية التي تؤهل صاحبها للنظر في أسانيد تلك الأحاديث التي يرويها المؤلفون في عصر الرواية، ولم يعد لاعتبار السند الذي تنقل به تلك الكتب دور ولا أثر يذكر.
وبما أن قوله: " ما من إسناد من ذلك إلا ونجد في رجاله من اعتمد في روايته على ما في كتابه عريا عما يشترط في الصحيح من الحفظ والضبط والإتقان لا يمكن حمله إلا على سلسلة الأسانيد التي تتداول في مرحلة ما بعد الرواية، تحقق أن الإمام ابن الصلاح لم يقصد بمنع التصحيح إلا الأحاديث التي تروى في "الأجزاء" و"المشيخات" ونحوها بأسانيد طويلة
পরবর্তী যুগের (متأخرين) পণ্ডিতদের পক্ষ থেকে হাদিসসমূহকে সহিহ (تصحيح), হাসান (تحسين) এবং জইফ (تضعيف) সাব্যস্ত করার সম্ভাবনা বিদ্যমান রয়েছে। এটি সম্ভব হয় রিওয়ায়াত বা বর্ণনা যুগের বর্ণনাকারীদের (رواة) সমন্বয়ে গঠিত সনদগুলোর (أسانيد) প্রতি দৃষ্টিপাত ও গবেষণার মাধ্যমে, যদি সেগুলো নির্ভরযোগ্য মূল গ্রন্থসমূহে বর্ণিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই সকল বর্ণনা এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ নিরর্থক ও অর্থহীন হয়ে পড়বে, যদি ইবনে আস-সালাহ-এর উদ্দেশ্য সকল হাদিসের ওপর ঢালাওভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতো।
এর সাথে যোগ করা যায় যে, হাদিস ও আসার (الآثار) সমূহ যখন মূল গ্রন্থাবলির মধ্যে স্থায়ী হয়েছে, যা তাদের রচয়িতাদের থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এমন শর্তাবলির ভিত্তিতে স্থানান্তরিত হয়ে এসেছে যা হস্তান্তরের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উদ্ভাবিত হয়েছিল, যাতে সেগুলোতে কোনো প্রকার শব্দের বিকৃতি (تصحيف), জালিয়াতি (تزوير) বা অপবাদ (انتحال) না ঘটে। এবং এই গ্রন্থগুলো আসার (الآثار) ও উক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার ও নির্ভর করার যোগ্য হয়ে উঠেছে। এই সব কিছু ওই হাদিসগুলোকে সহিহ (تصحيح) বা জইফ (تضعيف) করার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সম্ভবপর করে তোলে। এর জন্য শুধুমাত্র সেই বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা প্রয়োজন যা এর অধিকারীকে রিওয়ায়াত বা বর্ণনা যুগে লেখকদের বর্ণিত হাদিসগুলোর সনদগুলোর (أسانيد) পর্যালোচনার যোগ্য করে তোলে। আর সেই গ্রন্থগুলো যে সনদের (السند) মাধ্যমে পরিবাহিত হয়েছে, তার কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা বা প্রভাব এখন আর অবশিষ্ট নেই।
যেহেতু তাঁর বক্তব্য: "এমন কোনো সনদ (إسناد) নেই যার বর্ণনাকারীদের (رجال) মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া পাওয়া যাবে না যিনি তাঁর বর্ণনায় কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন, অথচ সহিহ (الصحيح) হওয়ার জন্য আবশ্যকীয় শর্ত যেমন- হিফজ বা মুখস্থ শক্তি (الحفظ), দাবত বা নির্ভুলতা (الضبط) এবং ইতকান বা পারদর্শিতা (الإتقان) থেকে মুক্ত ছিলেন"—এই কথাটিকে বর্ণনা-পরবর্তী যুগে প্রচলিত সনদগুলোর (الأسانيد) ধারা ছাড়া অন্য কিছুর ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। ফলে এটি নিশ্চিত হয় যে, ইমাম ইবনে আস-সালাহ সহিহ সাব্যস্তকরণ (التصحيح) নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে কেবল সেই হাদিসগুলোকেই বুঝিয়েছেন যা দীর্ঘ সনদে (أسانيد) "আজজা" (الأجزاء), "মাশয়াখাত" (المشيخات) এবং এই জাতীয় গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تمر عبر المرحلتين جميعا.
على أن الأمر إذا لم يكن كما ذكرنا سابقا فلا يخلو قوله: "فآل الأمر إذاً في معرفة الصحيح والحسن إلى الاعتماد على ما نص عليه أئمة الحديث في تصانيفهم المعتمدة المشهورة التي يؤمن فيها لشهرتها من التغيير والتحريف " من تناقض صريح، كما بينه الحافظ ابن حجر رحمه الله (1) ، حيث إنه لا فرق بين أحكامهم وآرائهم، وبين أحاديثهم التي أوردوها في كتبهم في الاعتماد عليها، إن كانت الكتب معتمدة مشهورة ومنقولة جيلا عن جيل بأسانيد لا تكاد تتوفر فيها شروط الصحة كما حررنا سابقا.
فإن كان الاعتماد عليها صالحا لقبول أحكامهم دون اعتبار سندها صار صالحا أيضا لأخد أحاديثهم، كي ينظر ويبحث في صحتها وضعفها، فلا أثر إذن لاعتبار أسانيد المصنفات، بل يكفي اعتبار ثبوتها وصحة نسبتها وسلامتها من التحريف والتصحيف والتزوير فحسب.
مواقف المعارضين له:فابن الصلاح رحمه الله مصيب في دعواه، دقيق في تعبيره، وقوي في براهينه، لكن العلماء اللاحقين خالفوه في ذلك، بل انتقدوه، وما ذلك إلا لكونهم حملوا كلامه على
--------------------------------------------
এটি উভয় স্তরের মাধ্যমেই অতিক্রান্ত হয়।
তবে বিষয়টি যদি আমরা পূর্বে যা উল্লেখ করেছি সেরূপ না হয়, তবে তাঁর এই বক্তব্য: "অতঃপর সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن) নির্ণয়ের ক্ষেত্রে হাদিসের ইমামগণ তাঁদের সেই সকল নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ সংকলনসমূহে যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তার ওপর নির্ভর করার দিকেই বিষয়টি পর্যবসিত হয়, যেগুলো তাদের প্রসিদ্ধির কারণে পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে নিরাপদ"—এটি স্পষ্ট বৈপরীত্য থেকে মুক্ত নয়। যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বর্ণনা করেছেন (১)। কারণ, তাঁদের হুকুম ও মতামতের ওপর নির্ভর করা এবং তাঁদের কিতাবসমূহে বর্ণিত হাদিসগুলোর ওপর নির্ভর করার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, যদি কিতাবগুলো নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ হয় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এমন সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয় যাতে সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তাবলি পাওয়া প্রায় অসম্ভব, যেমনটি আমরা পূর্বে ব্যাখ্যা করেছি।
যদি সনদ বিবেচনা না করেই তাঁদের হুকুমগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে সেই সকল কিতাবের ওপর নির্ভর করা সঠিক হয়, তবে তাঁদের বর্ণিত হাদিসগুলো গ্রহণ করাও সঠিক হবে, যাতে সেগুলোর সহিহ (صحيح) এবং জয়িফ (ضعيف) হওয়ার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করা যায়। এমতাবস্থায় মূল গ্রন্থগুলোর সনদের কোনো প্রভাব থাকে না, বরং সেগুলো প্রমাণিত হওয়া, সেগুলোর নিসবত সঠিক হওয়া এবং বিকৃতি, ভুল পাঠ ও জালিয়াতি থেকে মুক্ত হওয়াই যথেষ্ট।
তাঁর বিরোধিতাকারীদের অবস্থান:ইবনুস সালাহ (রহ.) তাঁর দাবিতে সঠিক ছিলেন, তাঁর বর্ণনা ছিল সূক্ষ্ম এবং তাঁর প্রমাণাদি ছিল শক্তিশালী। কিন্তু পরবর্তী যুগের আলেমগণ এই বিষয়ে তাঁর বিরোধিতা করেছেন, বরং তাঁরা তাঁর সমালোচনা করেছেন। আর এটি এ কারণেই যে, তাঁরা তাঁর বক্তব্যকে এমনভাবে গ্রহণ করেছেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
محمل واسع (1) ، وأولوه على أن المتأخرين ليسوا بأهل لتصحيح الأحاديث ونقدها مطلقة، دون تقييدها بالأجزاء وغيرها، حتى أن فيهم من راح يربط رأي ابن الصلاح هذا بمسألة الاجتهاد الذي أغلق بابه تعسفا، وهذه أقوال بعض من هؤلاء:
الإمام النووي ورأيه:يقول الإمام النووي رحمه الله: "من رأى في هذه الأزمان حديثا صحيح الإسناد في كتاب أو جزء لم ينص على صحته حافظ معتمد: قال الشيخ ـ يعني ابن الصلاح ـ لا يحكم بصحته لضعف أهل هذه الأزمان، والأظهر عندي جوازه لمن تمكن وقويت معرفته " (2) .
الحافظ العراقي ورأيه:يقول الحافظ العراقي رحمه الله: "وما رجحه النووي هو الذي عليه عمل أهل الحديث، فقد صحح جماعة من المتأخرين أحاديث لم نجد لمن تقدمهم فيها تصحيحا (3) .
الحافظ ابن حجر ورأيه:يقول الحافظ ابن حجر رحمه الله: " معناه أن
--------------------------------------------
এটি একটি ব্যাপক ব্যাখ্যা (১), এবং তারা এর ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, পরবর্তীকালের (المتأخرون) আলিমগণ কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সাধারণভাবে হাদিসসমূহকে সহিহ (تصحيح) সাব্যস্ত করা এবং সেগুলোর পর্যালোচনার (نقد) যোগ্য নন, যতক্ষণ না সেগুলো কোনো ক্ষুদ্র সংকলন (الأجزاء) বা অন্য কিছুর সাথে সীমাবদ্ধ থাকে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইবনে আস-সালাহর এই অভিমতটিকে ইজতিহাদ (الاجتهاد) বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, যার দরজা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের বক্তব্য নিম্নরূপ:
ইমাম নববী এবং তাঁর অভিমত:ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যদি বর্তমান যুগে কেউ কোনো কিতাব বা ক্ষুদ্র সংকলনে (جزء) এমন কোনো হাদিস পায় যার সনদ সহিহ (صحيح الإسناد), কিন্তু কোনো নির্ভরযোগ্য হাফিজ (حافظ) সেটির সহিহ (صحة) হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দেননি; তবে শাইখ—অর্থাৎ ইবনে আস-সালাহ—বলেছেন: এই যুগের লোকদের দুর্বলতার কারণে সেটিকে সহিহ (صحيح) বলে হুকুম দেওয়া যাবে না। তবে আমার নিকট অধিক স্পষ্ট মত হলো—যিনি দক্ষ এবং যার জ্ঞান গভীর, তার জন্য এটি বৈধ।" (২) ।
হাফিজ ইরাকি এবং তাঁর অভিমত:হাফিজ ইরাকি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "ইমাম নববী যা প্রাধান্য দিয়েছেন, তার ওপরই আহলে হাদিসদের আমল বিদ্যমান। কেননা পরবর্তীকালের (المتأخرون) একদল আলিম এমন অনেক হাদিসকে সহিহ (صحح) সাব্যস্ত করেছেন, যেগুলোর ব্যাপারে পূর্ববর্তীদের (المتقدمون) কোনো সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) আমরা পাইনি (৩) ।
হাফিজ ইবনে হাজার এবং তাঁর অভিমত:হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এর অর্থ হলো যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الاعتماد على ما نص السابقون من التصحيح والتحسين يلزم منه تصحيح ما ليس بصحيح، لأن كثيرا من الأحاديث التي صححها المتقدمون اطلع غيرهم من الأئمة فيها على علل تحطها عن رتبة الصحيح، ولا سيما من كان لا يرى التفرقة بين الصحيح والحسن كابن خزيمة وابن حيان، وللحاذق الناقد بعدهما الترجيح بين كلاميهما بميزان العدل، والعمل بما يقتضيه الإنصاف، ويعود الحال إلى النظر والتفتيش الذي يحاول المصنف سد بابه.
" وكلامه ـ يعني ابن الصلاح ـ يقتضي الحكم بصحة ما نقل من الأئمة المتقدمين فيما حكموا بصحته في كتبهم المتعمدة المشهورة، والطريق التي وصل بها إلينا كلامهم على الحديث بالصحة أو غيرها، هي الطريق ذاتها التي وصلت بها إلينا أحاديثهم، فإن أفاد الإسناد صحة المقالة عنهم، فليفد أيضا الصحة بأنهم حدثوا بذلك الحديث، ويبقى النظر منصبا على الرجال الذين فوقهم، وأكثرهم رجال الصحيح" (1) .
ثم رد الحافظ ابن حجر استدلال ابن الصلاح على دعواه فقال: " ما استدل به على تعذر التصحيح في هذه الأعصار المتأخرة بما ذكره من كون الأسانيد ما منها إلا وفيه من لم يبلغ درجة الضبط والحفظ والإتقان، ليس بدليل ينهض لصحة ما ادعاه من التعذر، لأن الكتاب المشهور الغني بشهرته عن اعتبار الإسناد منا إلى مصنفه كسنن النسائي مثلا، لا يحتاج
--------------------------------------------
পূর্বসূরিদের পক্ষ থেকে বর্ণিত সহিহ বলে গণ্য করা (تصحيح) এবং হাসান বলে গণ্য করা (تحسين)-এর ওপর নির্ভর করার অনিবার্য ফল হলো এমন হাদিসকেও সহিহ (صحيح) বলে গণ্য করা যা প্রকৃতপক্ষে সহিহ (صحيح) নয়। কারণ, পূর্ববর্তী ইমামগণ যে সকল হাদিসকে সহিহ (صحيح) বলেছেন, পরবর্তী অনেক ইমাম তাতে এমন কিছু গোপন ত্রুটি (علل) প্রত্যক্ষ করেছেন যা হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) স্তর থেকে নিচে নামিয়ে দেয়। বিশেষ করে তাদের ক্ষেত্রে যারা সহিহ (صحيح) ও হাসান (الحسن)-এর মধ্যে পার্থক্য করেন না, যেমন ইবনে খুজাইমাহ ও ইবনে হিব্বান। পরবর্তীকালের দক্ষ সমালোচক (الناقد)-এর জন্য ন্যায়বিচারের মাপকাঠিতে তাঁদের উভয় পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে প্রাধান্য প্রদান (الترجيح) করার এবং ইনসাফের দাবি অনুযায়ী আমল করার সুযোগ রয়েছে। আর বিষয়টি পুনরায় সেই পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের দিকেই ফিরে যায়, যার পথ গ্রন্থকার রুদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন।
"এবং তাঁর—অর্থাৎ ইবনে আল-সালাহ-এর—বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহে পূর্ববর্তী ইমামগণ যেসকল হাদিসকে সহিহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, সেগুলোর বর্ণনার ভিত্তিতে সেগুলোকে সহিহ (صحيহ) হিসেবে হুকুম দেওয়া আবশ্যক হয়। আর যে পদ্ধতির মাধ্যমে হাদিসটি সহিহ (صحيح) বা অন্য কোনো স্তরের হওয়ার ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য আমাদের নিকট পৌঁছেছে, তা সেই একই পদ্ধতি যার মাধ্যমে তাঁদের বর্ণিত হাদিসগুলো আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। সুতরাং সনদ (الإسناد) যদি তাঁদের পক্ষ থেকে সেই বক্তব্যের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে, তবে এটিও প্রমাণ করা উচিত যে তাঁরা সেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। এমতাবস্থায় কেবল তাঁদের ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে পর্যবেক্ষণের বিষয়টি বাকি থাকে, যাদের অধিকাংশই সহিহ (صحيح) পর্যায়ের বর্ণনাকারী।" (১)।
তারপর হাফিজ ইবনে হাজার ইবনে আল-সালাহ-এর দাবির বিপরীতে তাঁর পেশকৃত যুক্তির প্রত্যুত্তর দিয়ে বলেন: "পরবর্তী এই যুগে হাদিস সহিহ বলে গণ্য করা (تصحيح) অসম্ভব হওয়ার বিষয়ে তিনি যে দলিল পেশ করেছেন—অর্থাৎ সনদগুলোর (الأسانيد) মধ্যে এমন কেউ না কেউ রয়েছেনই যারা স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (الضبط), মুখস্থ রাখা (الحفظ) ও নিখুঁতভাবে সংরক্ষণের (الإتقان) স্তরে পৌঁছাতে পারেননি—তা তাঁর দাবিকৃত অসম্ভাব্যতা প্রমাণের জন্য কোনো বলিষ্ঠ দলিল নয়। কারণ, যে কিতাবটি তার অতিশয় প্রসিদ্ধির কারণে আমাদের থেকে মূল সংকলক পর্যন্ত সনদের (الإسناد) বিবেচনার মুখাপেক্ষী নয়, যেমন সুনান নাসায়ি, তা সনদের প্রয়োজন রাখে না..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
في صحة نسبته إلى النسائي إلى اعتبار حال رجال الإسناد منا إلى مصنفه" (1) .
ثم قال: " وكأن المصنف ـ يعني ابن الصلاح ـ إنما اختار ما اختاره من ذلك بطريق نظر ي، وهو أن المستدرك للحاكم كتاب كبير جدا يصفو له منه صحيح كثير زائد على ما في الصحيحين على ما ذكر المصنف ـ يعني ابن الصلاح ـ بعد، وهو مع حرصه على جمع الصحيح الزائد على الصحيحين واسع الحفظ، كثير الاطلاع غزير الرواية، فيبعد كل البعد أن يوجد حديث بشرط الصحة لم يمزجه في مستدركه".
"وهذا في الظاهر مقبول إلا أنه لا يحسن التعبير عنه بالتعذر، ثم الاستدلال على صحة دعوى التعذر بدخول الخلل في رجال الإسناد، فقد بينا أن الخلل إذا سلم إنما هو فيما بيننا وبين المصنفين، أما من المصنفين فصاعدا فلا، وأما ما استدل به شيخنا ـ وهو العراقي ـ على صحة ما ذهب إليه الشيخ محي الدين ـ النووي ـ من جواز الحكم بالتصحيح لمن تمكن وقويت معرفته، بأن من عاصر ابن الصلاح قد خالفه فيما ذهب إليه، وحكم بالصحة لأحاديث لم يوجد لأحد من المتقدمين الحكم بتصحيحها، فليس بدليل ينهض على رد ما اختاره ابن الصلاح، لأنه مجتهد وهم مجتهدون، فكيف ينقض الاجتهاد بالاجتهاد؟ وما أوردناه في نقض دعواه أوضح فيما يظهر، "
--------------------------------------------
নাসাঈর প্রতি এর সম্বন্ধের সঠিকতার (صحة) ক্ষেত্রে আমাদের থেকে গ্রন্থকার পর্যন্ত সনদের বর্ণনাকারীদের (رجال الإسناد) অবস্থার বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।" (১) ।
অতঃপর তিনি বলেন: "মনে হচ্ছে গ্রন্থকার—অর্থাৎ ইবনে আল-সালাহ—তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তার অভিমতটি বেছে নিয়েছেন। আর তা হলো, হাকীমের আল-মুستাদরাক একটি অতি বিশাল কিতাব, যাতে বুখারী ও মুসলিমের অতিরিক্ত অনেক সহীহ (صحيح) হাদিস সংকলিত হয়েছে, যেমনটি গ্রন্থকার—অর্থাৎ ইবনে আল-সালাহ—পরবর্তীতে উল্লেখ করেছেন। তিনি বুখারী ও মুসলিমের অতিরিক্ত সহীহ (صحيح) হাদিস সংগ্রহের প্রতি আগ্রহী হওয়ার পাশাপাশি প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (واسع الحفظ), ব্যাপক জানাশোনার অধিকারী এবং প্রচুর বর্ণনার (رواية) অধিকারী ছিলেন। ফলে এটি সুদূরপরাহত যে, সহীহ হওয়ার শর্ত (بشرط الصحة) পূরণ করে এমন কোনো হাদিস পাওয়া যাবে যা তিনি তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেননি।"
"বাহ্যিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্য, তবে একে 'অসম্ভব' (تعذر) শব্দে ব্যক্ত করা সমীচীন নয়। অতঃপর সনদের বর্ণনাকারীদের (رجال الإسناد) মধ্যে ত্রুটি প্রবেশের মাধ্যমে এই 'অসম্ভব' হওয়ার দাবির সঠিকতার (صحة) ওপর দলিল পেশ করা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করেছি যে, ত্রুটি যদি মেনেও নেওয়া হয়, তবে তা কেবল আমাদের এবং গ্রন্থকারদের মধ্যবর্তী স্তরে বিদ্যমান; কিন্তু গ্রন্থকারদের পর থেকে পরবর্তী স্তরগুলোতে তা নয়। আর আমাদের শাইখ—যিনি ইরাকী—শাইখ মহিউদ্দিন আন-নববীর অভিমতের সঠিকতার (صحة) সপক্ষে যে দলিল দিয়েছেন—যা হলো যার সক্ষমতা ও গভীর জ্ঞান রয়েছে তার জন্য সহীহ হিসেবে রায় (تصحيح) দেওয়া জায়েজ—এই যুক্তিতে যে, ইবনে আল-সালাহ-এর সমসাময়িকগণ তার মতের বিরোধিতা করেছেন এবং এমন সব হাদিসকে সহীহ হিসেবে রায় (تصحيح) দিয়েছেন যা পূর্ববর্তীদের কেউ সহীহ (تصحيح) করেননি; তা ইবনে আল-সালাহ-এর মনোনীত মতকে খণ্ডন করার মতো কোনো জোরালো দলিল নয়। কারণ তিনি একজন মুজতাহিদ (مجتهد) এবং তারাও মুজতাহিদ (مجتهد); আর কীভাবে এক ইজতিহাদ (اجتهاد) দ্বারা অন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) বাতিল হতে পারে? তার দাবি খণ্ডনে আমরা যা উপস্থাপন করেছি তা-ই অধিকতর স্পষ্ট বলে প্রতীয়মান হয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহুল হাদীসি ইনদা ইবনিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
والله أعلم، انتهى قول الحافظ (1) .
وقد تبع هؤلاء الأئمة في هذا كل من جاء بعدهم، وسلكوا مسلكهم، واقتفوا طريقهم، وساروا على أسلوبهم، وأصبح ما ذكره الإمام النووي أمرا مسلما لديهم.
الحافظ السيوطي ومحاولة الاستدراك عليهم:غير أن الحافظ السيوطي رحمه الله حاول أن يجمع بين قول ابن الصلاح وقول المعترضين عليه محاولة لم تسلم من تعسف وتكلف كما يظهر ذلك جليا من الفقرات الآتية المخصصة للعرض والمناقشة.
يقول الحافظ السيوطي: " والتحقيق عندي أنه لا اعتراض على ابن الصلاح، ولا مخالفة بينه وبين من صحح في عصره أو بعده، وتقرير ذلك أن الصحيح قسمان: صحيح لذاته، وصحيح لغيره كما هو مقرر في كتاب ابن الصلاح وغيره، والذى منعه ابن الصلاح إنما هو القسم الأول دون الثاني، كما تعطيه عبارته، وذلك أنه يوجد في جزء من الأجزاء حديث بسند واحد من طريق واحد، لم تتعدد طرقه، ويكون ظاهر الإسناد الصحة لاتصاله، وثقة رجاله، فيريد الإسناد أن يحكم لهذا الحديث بالصحة لذاته بمجرد هذا الظاهر، ولم يوجد لأحد من أئمة الحديث الحكم عليه بالصحة، فهذا ممنوع قطعا، لأن مجرد ذلك لا يكتفي به في الحكم بالصحة،
--------------------------------------------
আল্লাহই সর্বজ্ঞ, হাফিযের বক্তব্যের এখানেই সমাপ্তি (১)।
পরবর্তীতে আগমনকারী সকলেই এই বিষয়ে এই ইমামগণের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের পথ ও পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। ইমাম নববী যা উল্লেখ করেছেন, তা তাঁদের কাছে একটি স্বীকৃত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
হাফিয সুয়ূতী এবং তাঁদের ওপর সংশোধনী (استدراك) প্রদানের প্রচেষ্টা:তবে হাফিয সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) ইবনুস সালাহ-এর বক্তব্য এবং তাঁর ওপর যারা আপত্তি করেছেন তাঁদের বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেছেন; এমন এক প্রচেষ্টা যা জোরপূর্বক ব্যাখ্যা এবং কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত নয়, যা উপস্থাপনা ও পর্যালোচনার জন্য নির্ধারিত পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলো থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে।
হাফিয সুয়ূতী বলেন: "আমার নিকট সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো এই যে, ইবনুস সালাহ-এর ওপর কোনো আপত্তি নেই এবং তাঁর যুগের বা পরবর্তী সময়ের যারা সহীহ (صحيح) হওয়ার রায় দিয়েছেন, তাঁদের সাথেও তাঁর কোনো বিরোধিতা নেই। এর ব্যাখ্যা হলো, সহীহ (صحيح) দুই প্রকার: স্বয়ংসম্পূর্ণ সহীহ (صحيح لذاته) এবং অন্যের সহায়তায় সহীহ (صحيح لغيره), যেমনটি ইবনুস সালাহ-এর কিতাব ও অন্যান্য গ্রন্থে নির্ধারিত রয়েছে। ইবনুস সালাহ যা নিষেধ করেছেন তা কেবল প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে, দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে নয়, যেমনটি তাঁর বক্তব্য থেকে প্রকাশ পায়। তা এই যে, কোনো পুস্তিকার মধ্যে একটি মাত্র সনদ (سند) ও একটি মাত্র সূত্রের (طريق) মাধ্যমে কোনো হাদিস পাওয়া যায় যার একাধিক সূত্র (طرق) নেই, আর কেবল বাহ্যিকভাবে সেই সনদের (الإسناد) সহীহ হওয়া (الصحة) প্রতীয়মান হয় তার ধারাবাহিকতা সংযুক্ত (اتصاله) থাকার কারণে এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়ার কারণে। ফলে কেউ কেবল এই বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই সনদের (الإسناد) মাধ্যমে হাদিসটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ সহীহ (صحيح لذاته) হিসেবে হুকুম দিতে চায়, অথচ হাদিসের ইমামগণের মধ্য থেকে কেউ সেটি সহীহ (صحيح) হওয়ার ব্যাপারে কোনো হুকুম দেননি। এমতাবস্থায় এটি নিশ্চিতভাবে নিষিদ্ধ, কারণ সহীহ (صحيح) হওয়ার হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে কেবল এতটুকুই যথেষ্ট নয়।
--------------------------------------------