(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফী ইআদাতিল ইমামিস সালাতা দুনা মান সাল্লা ওয়ারাআহু ফিল জামাআতি - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: -)
مسألة في إعادة الإمام الصلاة دون من صلى وراءه في الجماعة - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: مسألة في إعادة الإمام الصلاة دون من صلى وراءه في الجماعة

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (18)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

জামাআতে ইমামের পেছনে সালাত আদায়কারীদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ইমামের পুনরায় সালাত আদায়ের মাসআলা - «আসারুল মুয়াল্লিমি» এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই: জামাআতে ইমামের পেছনে সালাত আদায়কারীদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ইমামের পুনরায় সালাত আদায়ের মাসআলা

[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (১৮)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ উজাইর শামস

পর্যালোচনা করেছেন: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - সুলায়মান বিন আবদুল্লাহ আল-উমাইর

প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়াইদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি

শামেলার জন্য পেশ করেছে: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৮) মাসআলাতুন ফী ইআদাতিল ইমামিস সালাতা দুনা মান সাল্লা ওয়ারাআহু ফিল জামাআতি - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২১১)
الرسالة السادسة والعشرون

مسألة في إعادة الإمام الصلاةَ دون من صلَّى

وراءه في الجماعة
২৬তম পত্র

ইমামের সালাত পুনরায় আদায়ের মাসআলা তাদের ব্যতিরেকে যারা সালাত আদায় করেছেন

জামাতের সাথে তাঁর পেছনে
(খণ্ড: ১৮) মাসআলাতুন ফী ইআদাতিল ইমামিস সালাতা দুনা মান সাল্লা ওয়ারাআহু ফিল জামাআতি - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২১৩)
[كتب أحد العلماء إلى الشيخ المعلمي ما يلي:]

عمدتي المحقق الشيخ عبد الرحمن المعلمي حفظه الله وطوَّل عمره، آمين.

«لو بان حدث الإمام بعد الصلاة وقد صلّى بجماعةٍ لزمتْه الإعادةُ دونهم». فلم أقف على دليل هذا القول أبدًا ــ وقد طالعتُ وراجعت في محله ــ سوى تعليلات، كقولهم: نظرًا لاعتقاد المأموم تصح صلاته دون صلاة إمامه، مع أن الإمام غير مستقل بصلاته، بل هو حامل لصلاته وصلاةِ مَن خلفه. وكان القياس صحة صلاة مَن خلفه بصحة صلاته وبطلانها ببطلانها.

وأيضًا أن قولهم «لا عبرة في الخطأ البيّن خطؤه» يقتضي لزوم إعادة صلاة من خلف الإمام، حيث إنه تبيَّن لهم الخطأ البيِّن خطؤه.

والله يا سيدي! ما عرفتُ توجيه هذه المسألة ولا وقفتُ لها بدليل من كتاب وسنة، اللهم إلّا أن يكون إجماعًا. وأما القياس فغير قائلٍ لصحتها، بل يقتضي بطلانها على ما ظهر للحقير فحقِّقوا لنا، لا زلتم أهلًا لذلك.

وأما قولي «من كتاب وسنة» فعلى ما أوردت العلماء في كتبهم من النصوص، لا نفس الكتاب والسنة.

[فأجاب الشيخ بما يلي:]

الحمد لله.

لا يخفى عليكم أن الأصل في جميع الأعمال عدم الوجوب، فلا يجب علينا شيء إلا بدليل. وقد أُوجبت علينا الصلاة، وعلَّمنا النبي صلى الله عليه
[একজন আলিম শায়খ আল-মুয়াল্লিমীর নিকট নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লিখে পাঠিয়েছেন:]

আমার আস্থাভাজন গবেষক (محقق) শায়খ আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমী, আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন এবং তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন, আমীন।

«যদি সালাতের পর ইমামের অপবিত্রতা (حدث) প্রকাশ পায় এবং তিনি জামাতের সাথে সালাত আদায় করে থাকেন, তবে পুনরায় সালাত আদায় করা কেবল তাঁর ওপরই আবশ্যক হবে, মুক্তাদীদের ওপর নয়।» আমি এই বক্তব্যের কোনো দলীল (دليل) কখনোই খুঁজে পাইনি—যদিও আমি সংশ্লিষ্ট স্থানে তা অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করেছি—কেবল কিছু যৌক্তিক কারণ দর্শানো (تعليلات) ব্যতীত। যেমন তাঁদের উক্তি: মুক্তাদীর বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সালাত বিশুদ্ধ (صحيح) হবে যদিও ইমামের সালাত বিশুদ্ধ (صحيح) নয়; অথচ ইমাম তাঁর সালাতে স্বতন্ত্র নন, বরং তিনি নিজের এবং তাঁর পেছনের মুক্তাদীদের সালাতের ভার বহনকারী। আর কিয়াস (قياس) বা যুক্তি অনুসারে ইমামের সালাত বিশুদ্ধ (صحيح) হওয়ার সাথে মুক্তাদীদের সালাত বিশুদ্ধ (صحيح) হওয়া এবং ইমামের সালাত বাতিল (باطل) হওয়ার সাথে মুক্তাদীদের সালাতও বাতিল (باطل) হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল।

তদুপরি তাঁদের একটি মূলনীতি হলো «স্পষ্ট ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর আর কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়», যা ইমামের পেছনের ব্যক্তিদের সালাত পুনরায় আদায়ের দাবি রাখে; যেহেতু তাঁদের কাছে এখন ভুলটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

হে আমার সাইয়্যিদ! আল্লাহর কসম, আমি এই মাসআলার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা জানতে পারিনি এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর কোনো দলীল (دليل) খুঁজে পাইনি, যদি না এটি ইজমা (إجماع) হয়ে থাকে। আর কিয়াস (قياس) তো এর বিশুদ্ধতার (صحة) পক্ষে নয়, বরং এই অধমের নিকট যা প্রতীয়মান হয়েছে সে অনুযায়ী এটি বাতিল (بطلان) হওয়ার দাবি রাখে। অতএব, আপনি আমাদের জন্য বিষয়টি তাহকীক (تحقيق) করে দিন, আপনি সর্বদা এর যোগ্য।

আর আমার উক্তি «কুরআন ও সুন্নাহ থেকে» বলতে আমি আলিমগণ তাঁদের কিতাবসমূহে যে সকল নস (نصوص) বা উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন তা বুঝাতে চেয়েছি, সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ নয়।

[শায়খ নিম্নোক্তভাবে উত্তর প্রদান করেছেন:]

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আপনার নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, সকল আমলের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো আবশ্যকতা না থাকা (عدم الوجوب), সুতরাং দলীল (دليل) ব্যতীত আমাদের ওপর কোনো কিছু ওয়াজিব (واجب) হবে না। আমাদের ওপর সালাত আবশ্যক করা হয়েছে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের তা শিক্ষা দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১৮) মাসআলাতুন ফী ইআদাতিল ইমামিস সালাতা দুনা মান সাল্লা ওয়ারাআহু ফিল জামাআতি - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২১৪)
وآله وسلم كيفيتها، فكان الأصل أنها تصح على كل حالة، ولكن جاء الدليل باشتراط الطهارة من الحدثين والنجس ثوبًا وبدنًا ومكانًا، واشتراط ستر العورة واستقبال القبلة ونحوها، فعُلِم أنها لا تصحُّ صلاة بدون ذلك، وأنها لا تنعقد معها، وإذا عرضت في أثنائها أبطلتها، على ما فيها من تفصيل. وكان الأصل عدم شرع جماعة، فشُرِعت. وكان الأصل أن لا يتحمل الإمام عن المأموم شيئًا، وأن فائدة الصلاة إنما هي مجرد الربط، فورد أنه من أدرك الإمام راكعًا فركع معه أدرك الركعة، فعلمنا أنه تحمَّل عنه الفاتحة، وورد إلزام المأموم بقراءة الفاتحة فعلمنا أنه لا يحمل عنه إلّا في حق المسبوق.

ثم الأصل أنها إذا انعقدت الصلاة لا يُبطلها إلا اختلال شرط في حقّ المصلي، فورد غيرها، كالكلام والأكل والعمل، وفيها تفصيل. وقام الدليل على أن التلبس بالعبادة الفاسدة باطل، فعلمنا أن ربط الصلاة بمن نعلم بطلانَ صلاته باطل، ولما لزم منه التلاعب لم تنعقد الصلاة، وأُلحِق به الكافر مطلقًا والمرأة وذو النجاسة الظاهرة لتقصير المقتدي، وحيث انتفى التلاعب والتقصير في حق المقتدي بالمحدث وذي النجاسة الخفية بقي على الأصل في عدم البطلان، فمن ادعى البطلان فعليه الدليل، إلّا أنه أُلحق بالبطلان الاقتداءُ بالكافر المخفي لكفره لغِلَظِ شأن الكفر، مع كونه لا يُتصور منه إمامةٌ أصلًا، بخلاف المحدِث فإنها تصح منه في حالة تيمُّمه، ولو نازعنا في بطلانها لمجرد التقصير لكان للنزاع حظٌّ من النظر، وبالأولى في حق الكافر المخفي لكفره.

أما الإجماع فلا إجماع، فالمسألة خلافية.

وأما الدليل فمثلنا يكتفي بكلام أهل الحواشي، وأهل الحواشي يكتفون
...এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—তার পদ্ধতির বর্ণনা। মূলনীতি (أصل) ছিল যে তা সব অবস্থায় শুদ্ধ (صحيح) হবে, কিন্তু উভয় প্রকার অপবিত্রতা (حدثين) এবং পোশাক, শরীর ও স্থান নাপাকি (نجس) থেকে পবিত্র (طهارة) হওয়ার শর্তের সপক্ষে দলিল এসেছে। এছাড়া সতর আবৃত করা (ستر العورة), কিবলামুখী হওয়া (استقبال القبلة) এবং অনুরূপ বিষয়গুলোর শর্তারোপ করা হয়েছে। ফলে জানা গেল যে, এগুলো ব্যতিরেকে কোনো সালাত শুদ্ধ (صحيح) হয় না এবং এগুলোর উপস্থিতিতে তা সংঘটিত হয় না; আর সালাত চলাকালীন এগুলোর কোনোটি দেখা দিলে তা সালাতকে বাতিল (باطل) করে দেয়—যার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। ইতিপূর্বে বিধান ছিল জামাআত (جماعة) বিধিবদ্ধ না থাকা, অতঃপর তা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। মূলনীতি (أصل) ছিল যে ইমাম (إمام) মুক্তাদির (مأموم) পক্ষ থেকে কোনো ভার বহন করবেন না এবং সালাতের উপকারিতা কেবল স্রেফ ইক্তিদা বা যুক্ত হওয়া। কিন্তু বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইমামকে রুকুকারী (راكع) অবস্থায় পেল এবং তাঁর সাথে রুকু করল, সে ওই রাকাত (ركعة) পেয়ে গেল। এতে আমরা জানতে পারলাম যে, ইমাম তার পক্ষ থেকে সুরা ফাতিহার ভার বহন করেছেন। আবার মুক্তাদির জন্য সুরা ফাতিহা পাঠ আবশ্যিক হওয়ার বর্ণনাও এসেছে, ফলে আমরা বুঝতে পারলাম যে, মাসবুক (مسبوق) ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে ইমাম এই ভার বহন করেন না।

অতঃপর মূলনীতি (أصل) হলো, সালাত একবার সংঘটিত হয়ে গেলে মুসল্লির ক্ষেত্রে কোনো শর্তের ব্যাঘাত ঘটা ব্যতীত তা বাতিল (باطل) হয় না। তবে এর বাইরেও কিছু বিষয় বর্ণিত হয়েছে, যেমন কথা বলা, পানাহার করা এবং আমল বা কাজ করা, যাতে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। আর দলিল একথার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, ফাসিদ (فاسدة) ইবাদতে লিপ্ত হওয়া বাতিল (باطل)। ফলে আমরা জানতে পারলাম যে, যার সালাত বাতিল (باطل) হওয়া সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত, তার সাথে সালাতকে যুক্ত করাও বাতিল (باطل)। যেহেতু এতে খামখেয়ালিপনা অনিবার্য হয়ে পড়ে, তাই সালাত সংঘটিত হয় না। আর মুক্তাদির (مقتدي) অবহেলার কারণে এর সাথে নিঃশর্তভাবে কাফির (كافر), নারী এবং প্রকাশ্য নাপাকি থাকা ব্যক্তিকে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যেখানে অপবিত্র ব্যক্তি (محدث) বা অপ্রকাশ্য নাপাকি থাকা ব্যক্তির পেছনে ইক্তিদা করার ক্ষেত্রে মুক্তাদির (مقتدي) কোনো খামখেয়ালিপনা বা অবহেলা থাকে না, সেখানে বাতিল (باطل) না হওয়ার মূলনীতির (أصل) ওপরই বিষয়টি বহাল থাকবে। অতএব, যে ব্যক্তি বাতিল (باطل) হওয়ার দাবি করবে, তাকেই দলিল পেশ করতে হবে। তবে কুফরের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর হওয়ার কারণে আত্মগোপনকারী কাফিরের পেছনে ইক্তিদা করাকেও বাতিলের (باطل) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; যদিও তার ক্ষেত্রে ইমামতি আদতেই কল্পনা করা যায় না। এর বিপরীতে অপবিত্র ব্যক্তির (محدث) বিষয়টি ভিন্ন, কারণ তায়াম্মুমের অবস্থায় তার সালাত শুদ্ধ (صحيح) হয়। আর যদি আমরা কেবল অবহেলার কারণে তা বাতিল (باطل) হওয়ার বিষয়ে বিতর্ক করি, তবে সে বিতর্কের তাত্ত্বিক অবকাশ থাকতে পারে, আর আত্মগোপনকারী কাফিরের ক্ষেত্রে তা আরও জোরালোভাবে প্রযোজ্য।

আর ইজমা (إجماع)-এর বিষয়ে কথা হলো, এখানে কোনো ইজমা (إجماع) নেই, বরং বিষয়টি মতভেদপূর্ণ (خلافية)।

আর দলিলের ক্ষেত্রে আমাদের মতো ব্যক্তিদের জন্য টীকাভাষ্যকারদের (أهل الحواشي) কথাটুকুই যথেষ্ট, আর টীকাভাষ্যকাররাও যথেষ্ট মনে করেন
(খণ্ড: ১৮) মাসআলাতুন ফী ইআদাতিল ইমামিস সালাতা দুনা মান সাল্লা ওয়ারাআহু ফিল জামাআতি - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২১৫)
بكلام شرح «المنهاج» ونحوه، والشرَّاح يكتفون بكلام الشيخين، والشيخان يكتفيان بكلام الأصحاب، والأصحاب بكلام الإمام الشافعي رضي الله تعالى عنه، والعهدة عليه.

ولكننا نقول: قال الله سبحانه وتعالى: {وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [الأنعام: 164]، فلا يلزم من بطلان صلاة الإمام بطلان صلاة المأموم إلّا حيث وقع من المأموم تقصير، كأن كان إمامُه امرأةً أو كافرًا معلنًا أو ذا نجاسة ظاهرة. نعم قال الإمام النووي في «منهاجه»(1): قلت الأصح المنصوص وقول الجمهور أن مُخفيَ الكفر هنا كمُعلِنه.

قال الشيخ عميرة(2): «علل الشافعي رضي الله عنه مسألة الكافر بأنه لا يجوز أن يكون إمامًا، بخلاف الجنب كما في حالة تيممه».

ويُستدلُّ أيضًا بما رواه أبو داود(3) عن أبي بكرة أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم دخل في صلاة الفجر، فأومأ بيده أن مكانَكم، ثم جاء ورأسُه يَقطُر، فصلَّى بهم. ورواه أيضًا من طريق أخرى(4) قال في أوله: «فكبَّر»، وقال في آخره: «فلما قضى الصلاة قال: إنما أنا بشر، إني كنت جنبًا». ورواه من طريق أخرى(5) مرسلًا، قال فيها: «فكبَّر ثم أومأ بيده … إلخ». ثم حكى

--------------------------------------------

(1) (1/ 234).

(2) «حاشيته على شرح المحلّي» (1/ 232).

(3) رقم (233).

(4) رقم (234).

(5) عقب الحديث (234).
'আল-মিনহাজ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ বা এ জাতীয় গ্রন্থের বক্তব্যের মাধ্যমে; আর ব্যাখ্যাকারগণ 'শাইখাইন'-এর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেন, 'শাইখাইন' আসহাবগণের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেন এবং আসহাবগণ ইমাম শাফিয়ী (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)-এর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেন; আর এর দায়ভার তাঁর ওপরই বর্তায়।

কিন্তু আমরা বলি: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {আর কোনো বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না} [আল-আন'আম: ১৬৪]। অতএব, ইমামের সালাত বাতিল হওয়ার কারণে মুক্তাদির সালাত বাতিল হওয়া আবশ্যক নয়, যদি না মুক্তাদির পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা ঘটে; যেমন ইমাম যদি নারী হয়, কিংবা প্রকাশ্য কাফির হয় অথবা প্রকাশ্য নাপাকি যুক্ত হয়। হ্যাঁ, ইমাম নববী তাঁর 'মিনহাজ' গ্রন্থে(১) বলেছেন: আমি বলি যে, অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) ও বর্ণিত মত এবং জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগুরু আলিমদের বক্তব্য হলো—এখানে কুফরি গোপনকারী ব্যক্তি প্রকাশ্য কাফিরের মতোই।

শাইখ উমাইরা(২) বলেছেন: "ইমাম শাফিয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কাফিরের মাসআলাটিকে এভাবে যুক্তিযুক্ত করেছেন যে, তার জন্য ইমাম হওয়া জায়েয নয়, যা জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির বিপরীত; যেমনটি তার তায়াম্মুমের অবস্থায় হয়ে থাকে।"

আবু বকরা (রা.) থেকে আবু দাউদ(৩) যা বর্ণনা করেছেন তা দ্বারাও দলীল পেশ করা হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাতে প্রবেশ করলেন, অতঃপর হাত দিয়ে ইশারা করলেন যে, তোমরা তোমাদের নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো। এরপর তিনি ফিরে আসলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর মাথা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছিল, অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি এটি অন্য একটি সূত্র (طريق)(৪) থেকেও বর্ণনা করেছেন যার শুরুতে বলা হয়েছে: "অতঃপর তিনি তাকবীর দিলেন", এবং শেষে বলা হয়েছে: "যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: আমি কেবল একজন মানুষ, আমি অপবিত্র ছিলাম।" তিনি এটি অন্য একটি সূত্র (طريق)(৫) থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যাতে বলা হয়েছে: "অতঃপর তিনি তাকবীর দিলেন এবং হাত দিয়ে ইশারা করলেন … ইত্যাদি।" অতঃপর তিনি বর্ণনা করেন

--------------------------------------------

(১) (১/ ২৩৪)।

(২) «হাশিয়াতুহু আলা শারহিল মাহাল্লি» (১/ ২৩২)।

(৩) নং (২৩৩)।

(৪) নং (২৩৪)।

(৫) হাদিস নং ২৩৪ এর অব্যবহিত পরে।
(খণ্ড: ১৮) মাসআলাতুন ফী ইআদাতিল ইমামিস সালাতা দুনা মান সাল্লা ওয়ারাআহু ফিল জামাআতি - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২১৬)
عن مالك روايتين مُثبِتتين للتكبير(1). فربما يقوم بهذه الطرق دليل، وإن كانت الطرق الصحيحة تُثبت أنه انصرف قبلَ أن يكبر.

ووجه الاستدلال أنه يؤخذ من تلك الطرق أنه صلى الله عليه وآله وسلم لم يأمرهم باستئناف النية والتحريم، بدليل أنه إنما أومأ عليهم إيماءً، وإذا صحَّ جزءٌ من الصلاة خلف الجنب صحت كلها، ولا مانع، وبالأولى الحدث الأصغر والنجاسة ونحوها.

ومما يدلُّ له أيضًا قصة سيدنا عمر رضي الله عنه حين طُعِن فاستخلف وأمضى المسلمون صلاتهم، وفيهم أكابر الصحابة رضوان الله عليهم، ولم يبالوا بكون إمامهم قد بطلت صلاته.

وأما قولكم: «لا عبرة بالخطأ البيِّن خطؤه»، فإنما هو: «لا عبرة بالظن البيِّن خطؤه». وهذا معتبر في العقود، كما عبَّروا عنه بقولهم: العبرة في العقود لما في نفس الأمر لا بما في ظن المكلّف. ومثاله: لو باع مال مورثه ظانًّا حياته، فبان أنه كان قد مات، فيصح. وأما في العبادات فقالوا: العبرة بما في نفس الأمر وبما في ظن المكلف معًا. فلو صلَّى خلف إنسان يظنُّه محدِثًا، فبان أنه كان متوضئًا، فصلاة المؤتمّ باطلة. وأما ما في نفس الأمر فيعتبر في العبادات إلّا حيثُ انتفى التقصير عن البحث، كما يظهر من كلامهم هنا. لكنهم في مسألة الكافر المخفي لكفره اعتبروه مع عدم التقصير. والله أعلم.

نعم قولكم: «إن الإمام حامل لصلاته وصلاة مَن خلفه» ما معناه: فإن

--------------------------------------------

(1) عقب الحديث (234).
ইমাম মালিক থেকে তাকবির সাব্যস্তকারী দুটি বর্ণনা (رواية) প্রমাণিত হয়েছে(১)। সম্ভবত এই সূত্রগুলোর (طرق) মাধ্যমে একটি দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও সহিহ (صحيح) সূত্রগুলো (طرق) প্রমাণ করে যে তিনি তাকবির দেওয়ার পূর্বেই নামাজ শেষ করে ফিরে গিয়েছিলেন।

আর দলিলের যৌক্তিক ভিত্তি (وجه الاستدلال) হলো যে, সেই সূত্রগুলো (طرق) থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে নতুন করে নিয়ত এবং তাহরিমা (নামাজ শুরু করার তাকবির) বাঁধার নির্দেশ দেননি; যার প্রমাণ হলো তিনি তাদের প্রতি কেবল ইশারা করেছিলেন। আর যদি জানাবাত (বড় নাপাকি) অবস্থায় থাকা ব্যক্তির পেছনে নামাজের অংশবিশেষ সহিহ (صحيح) হয়, তবে পুরো নামাজই সহিহ (صحيح) হবে, এবং এতে কোনো বাধা নেই। আর হাদাছে আসগর (ছোট নাপাকি) এবং নাজাসাত (নাপাকি) ইত্যাদির ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য।

এর আরেকটি প্রমাণ হলো সাইয়্যিদিনা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনা, যখন তিনি ছুরিকাহত হয়েছিলেন তখন তিনি অন্যকে ইমাম স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন এবং মুসলিমগণ তাদের নামাজ সম্পন্ন করেছিলেন। তাদের মধ্যে প্রথিতযশা সাহাবীগণ উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের ইমামের নামাজ বাতিল হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে তারা গ্রাহ্য করেননি।

আর আপনাদের এই কথা: «যে ভুল সুস্পষ্ট তার কোনো ধর্তব্য নেই» — এটি মূলত হবে: «যে ধারণার ভুল সুস্পষ্ট তার কোনো ধর্তব্য নেই»। এটি চুক্তির (আকদ) ক্ষেত্রে বিবেচিত, যেমনটি তারা এই বলে ব্যক্ত করেছেন: চুক্তির ক্ষেত্রে ধর্তব্য হলো বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা, মুকাল্লাফের ধারণার ওপর নয়। উদাহরণস্বরূপ: কেউ যদি তার উত্তরাধিকার প্রদানকারীর সম্পদ এই মনে করে বিক্রয় করে যে তিনি জীবিত আছেন, কিন্তু পরে প্রকাশ পায় যে তিনি মারা গিয়েছিলেন, তবে তা সহিহ (صحيح) হবে। আর ইবাদতের ক্ষেত্রে ফকিহগণ বলেছেন: প্রকৃত অবস্থা এবং মুকাল্লাফের ধারণা উভয়ই ধর্তব্য। সুতরাং যদি কেউ এমন ব্যক্তির পেছনে নামাজ পড়ে যাকে সে অপবিত্র মনে করে, কিন্তু পরে প্রকাশ পায় যে তিনি অজু অবস্থায় ছিলেন, তবে মুক্তাদির নামাজ বাতিল হবে। তবে ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রকৃত অবস্থা তখনই বিবেচিত হয় যখন অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা না থাকে, যেমনটি এখানে তাদের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়। কিন্তু তারা এমন কাফিরের মাসআলায় যার কুফর গোপন ছিল, অনুসন্ধানে অবহেলা না থাকা সত্ত্বেও একে বিবেচনা করেছেন। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

হ্যাঁ, আপনাদের কথা: «ইমাম নিজের এবং তার পেছনের মুক্তাদিদের নামাজের ভার বহনকারী» — এর অর্থ হলো: কেননা

--------------------------------------------

(১) হাদিস (২৩৪) এর পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১৮) মাসআলাতুন ফী ইআদাতিল ইমামিস সালাতা দুনা মান সাল্লা ওয়ারাআহু ফিল জামাআতি - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২১৭)
المأمومين مكلفون بأداء جميع الأركان، كالنية والتحرم وقراءة الفاتحة، إلّا أن الإمام يتحمل الفاتحة عن المسبوق. وكذلك إذا بان حدثُ الإمام لم تجزِئ المسبوقَ تلك الركعةُ، لأن الإمام حينئذٍ لم يكن أهلًا للتحمل. ولا يُنكَر أن بين الإمام والمأموم رابطة قوية، بحيث يؤدي تمام صلاة الإمام إلى تمام صلاة المأموم ونقصها إلى نقصها، وكذا العكس، بدليل ما رواه النسائي(1) أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم صلَّى صلاة الصبح، فقرأ الروم، فالتبس عليه، فلما صلّى قال: «ما بال أقوام يصلُّون معنا لا يُحسِنون الطهور، وإنما يُلبِّس علينا القرآنَ أولئك». وفي هذا الحديث بحث اجتنيناه من كلام مولانا الإمام(2) أيَّده الله. أما أنه يؤدي بطلانها إلى بطلانها فلا يطلق ذلك، لما مرَّ. والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) (2/ 156) من حديث شبيب أبي روح عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم. وهو حديث حسن.

(2) هو الإدريسي.
মুক্তাদিগণ সকল রুকন আদায়ে আদিষ্ট, যেমন নিয়ত, তাকবিরে তাহরিমা এবং সুরা ফাতিহা পাঠ। তবে ইমাম মাসবূকের পক্ষ থেকে ফাতিহার দায়িত্ব বহন করেন। একইভাবে যদি ইমামের অপবিত্রতা প্রকাশ পায়, তবে মাসবূকের সেই রাকাতটি আদায় হবে না; কারণ ইমাম তখন দায়িত্ব গ্রহণের যোগ্য ছিলেন না। এটি অনস্বীকার্য যে, ইমাম ও মুক্তাদির মধ্যে এক সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে, যার ফলে ইমামের সালাত পূর্ণাঙ্গ হওয়া মুক্তাদির সালাত পূর্ণাঙ্গ হওয়ার এবং তাতে ত্রুটি থাকা মুক্তাদির সালাতে ত্রুটি হওয়ার কারণ হয়, এবং এর বিপরীতটিও প্রযোজ্য। এর প্রমাণ হলো নাসায়ি(১) কর্তৃক বর্ণিত হাদিস যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের সালাত আদায় করলেন এবং সুরা আর-রূম তিলাওয়াত করলেন। তিলাওয়াতকালে তাঁর নিকট আয়াতগুলো ওলটপালট হয়ে গেল। সালাত শেষে তিনি বললেন: «সেই সব লোকদের কী হলো যারা আমাদের সাথে সালাত আদায় করে অথচ উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে না? মূলত তারাই আমাদের ওপর কুরআন তিলাওয়াতকে ওলটপালট করে দেয়»। এই হাদিস বিষয়ে আমরা আমাদের ইমাম(২) —আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন— এর কালাম থেকে একটি আলোচনা গ্রহণ করেছি। আর ইমামের সালাত বাতিল হওয়া মুক্তাদির সালাত বাতিল হওয়ার কারণ হওয়ার বিষয়টি নিরঙ্কুশভাবে বলা যাবে না, যা ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) (২/ ১৫৬) শাবিব আবু রাওহ-এর সূত্রে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একজন সাহাবি থেকে বর্ণিত। এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস।

(২) তিনি হলেন আল-ইদ্রিসি।