(খণ্ড: ১) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: -)
إرشاد العامه إلى معرفة الكذب وأحكامه - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: إرشاد العامه إلى معرفة الكذب وأحكامه

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (19)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عبد الرحمن بن حسن بن قائد

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

ইর্শাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিব ওয়া আহকামিহি - «আসারুল মুয়াল্লিমি»-এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


কিতাব: ইর্শাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিব ওয়া আহকামিহি

[আসারু আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৯)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

মুহাক্কিক (সম্পাদক): মুহাম্মদ উযাইর শামস

পর্যবেক্ষণ করেছেন: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - আবদুর রহমান বিন হাসান বিন কায়েদ

প্রকাশক: দারু আলামিল ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওযি

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি

শামেলার জন্য পেশ করেছেন: ‘আতাআত আল-ইলম’ ফাউন্ডেশন، আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
الرسالة الثالثة

إرشاد العَامِه إلى معرفة الكذب وأحكامه
তৃতীয় পত্র

মিথ্যা (الكذب) এবং এর বিধানাবলি সম্পর্কে সাধারণ জনগণের জন্য নির্দেশনা
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
الحمد لله حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، اللهم صلِّ على محمد وعلى آل محمد، كما صليت على آل إبراهيم، وبارك على محمد وعلى آل محمد، كما باركت على آل إبراهيم، إنك حميد مجيد.

أما بعد، فإنني لما نظرت في ما وقع من الاختلاف في العقائد والأحكام، ورأيت كثرة التأويل للنصوص الشرعية، تبين لي في كثير من ذلك أنه تكذيبٌ لله عز وجل ورسله، ثم رأيت في كلام بعض الغلاة ما هو صريح في نسبة الكذب إلى الله تعالى ورسله، وفي كلام من دونهم ما يقرب من ذلك، ووقع التلبيس على أكثر المسلمين لالتباسٍ في حقيقة الكذب، فجرَّني البحث إلى تحقيق معنى الكذب، فرأيت أن أفرد ذلك في رسالتي هذه، وأسأل الله تعالى التوفيق.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যে প্রশংসা অগণিত, পবিত্র ও বরকতময়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনিভাবে আপনি ইব্রাহিম ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। আর মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেমনিভাবে আপনি ইব্রাহিম ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত দান করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

অতঃপর, আমি যখন আকীদা ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মতভেদগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করলাম এবং শরয়ি দলীলসমূহের অপব্যাখ্যার আধিক্য প্রত্যক্ষ করলাম, তখন আমার নিকট এর অনেকাংশেই স্পষ্ট হলো যে, তা আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করারই নামান্তর। এরপর আমি কতিপয় চরমপন্থীর (غلاة) বক্তব্যে এমন বিষয় লক্ষ্য করলাম যা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি সুস্পষ্ট মিথ্যা (كذب) আরোপ করার শামিল। আর তাদের নিম্নস্তরের ব্যক্তিদের বক্তব্যেও এর কাছাকাছি বিষয় বিদ্যমান। মিথ্যার (كذب) প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অস্পষ্টতার কারণে অধিকাংশ মুসলিম বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন। তাই এই অনুসন্ধান আমাকে মিথ্যার (كذب) প্রকৃত অর্থ উদঘাটনের দিকে ধাবিত করেছে। এ কারণে আমি আমার এই পুস্তিকায় বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করা সমীচীন মনে করেছি। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
‌‌الخبر

الخَبَر بفتحتين: الاسم من الإخبار، والإخبار: إفعالٌ، من الخُبْر بضم فسكون.

وقد اتفقوا على أن الخُبْر ــ بضم فسكون ــ العلم ببواطن الأمور، وعلى أن الأصل في همزة «أفعلَ» أن تكون للتعدية، فقضية هذا أن يكون معنى قولهم: «أخبرت فلانًا» جعلته ذا خبرٍ، أي ذا علمٍ بباطن. فالظاهر أن هذا هو الأصل، ولكن خُصَّ بما يكون بالقول.

وعلى هذا فالخَبَر ــ بفتحتين ــ كان ينبغي أن يخص بالقول الذي يحصل به جعْلُ المخاطب ذا خُبْرٍ ــ بضم فسكون ــ، فيختص بما يطابق الواقع، لكنهم توسعوا فيه، فأطلقوه على ما يخالف الواقع أيضًا.

وقال أهل العلم: الخبر ما يحتمل الصدق والكذب لذاته.

وقال الراغب في «المفردات»(1): الخُبْر ــ بضم فسكون ــ العلم بالأشياء المعلومة من جهة الخبر.

كذا قال! وهو عكس التحقيق، ومما يدفعه تسمية الله عز وجل نفسه خبيرًا، فتدبر.

--------------------------------------------

(1) (ص 273).
সংবাদ (الخبر)

খবর (الخَبَر) দুই ফাতহা (যবর) সহকারে: এটি 'ইখবার' (الإخبار) ক্রিয়ামূলের বিশেষ্য, আর 'ইখবার' শব্দটি 'ইফআল' (إفعال) ছিগাহর অন্তর্ভুক্ত যা 'খুবর' (الخُبْر) — পেশ এবং সাকিন বিশিষ্ট — শব্দ থেকে এসেছে।

আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, 'খুবর' (الخُبْر) — পেশ এবং সাকিন সহকারে — হলো বিষয়সমূহের অভ্যন্তরীণ গূঢ় রহস্য সম্পর্কে জ্ঞান। আর 'আফ'আলা' (أفعلَ) ছিগাহর শুরুতে 'হামজা' (همزة) আসার মূল উদ্দেশ্য হলো শব্দটিকে সকর্মক (التعدية) করা। সেই অনুযায়ী তাঁদের 'আমি অমুককে সংবাদ দিয়েছি' (أخبرت فلانًا) উক্তির মর্মার্থ হলো: আমি তাকে অভ্যন্তরীণ সংবাদের অধিকারী করেছি অর্থাৎ তাকে গূঢ় বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান দান করেছি। বাহ্যত এটিই শব্দটির মূল অর্থ; তবে পরবর্তীতে একে কেবল মৌখিক বক্তব্যের (القول) জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে, খবর (الخَبَر) — দুই ফাতহা সহকারে — শব্দটিকে কেবল সেই বক্তব্যের (القول) জন্য নির্দিষ্ট করা উচিত ছিল যার মাধ্যমে সম্বোধিত ব্যক্তি কোনো গূঢ় রহস্য বা খুবর (الخُبْر) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। ফলে এটি কেবল বাস্তবসম্মত খবরের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকা বাঞ্ছনীয় ছিল, কিন্তু তাঁরা একে ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছেন এবং বাস্তববিমুখ বা মিথ্যা তথ্যের ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ ঘটিয়েছেন।

বিদ্বানগণ বলেছেন: সংবাদ (الخبر) হলো এমন বিষয় যা তার সত্তাগত দিক থেকে সত্য (الصدق) ও মিথ্যা (الكذب) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

আল-রাগিব তার আল-মুফরাদাত গ্রন্থে লিখেছেন: খুবর (الخُبْر) — পেশ এবং সাকিন সহকারে — হলো সংবাদের (الخبر) মাধ্যমেই জ্ঞাত বিষয়সমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

তিনি এমনই বলেছেন! অথচ এটি সঠিক গবেষণার (التحقيق) পরিপন্থী। যে বিষয়টি তাঁর এই দাবিকে নাকচ করে দেয় তা হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক নিজেকে 'খাবির' (সবকিছুর অভ্যন্তরীণ গূঢ় রহস্য সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত) হিসেবে নামকরণ করা। বিষয়টি অনুধাবন করুন।

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা: ২৭৩)।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
‌‌الصدق والكذب

حكوا(1) عن أهل السنة والجمهور: أن الصدق مطابقة الخبر للواقع في نفس الأمر، والكذب عدم مطابقته له في نفس الأمر.

وحكوا عن النظَّام: أن الصدق هو مطابقة الخبر للواقع في اعتقاد المخبِر، والكذب عدم مطابقته له في اعتقاده.

وعن الجاحظ: أن الصدق مطابقة الخبر للواقع في نفس الأمر وفي اعتقاد المخبِر، والكذب عدم مطابقته له فيهما، وما دون ذلك لا يسمى صدقًا ولا كذبًا.

وذهب الراغب(2) إلى نحو هذا، إلا أنه قال: إن ما دون ذلك صدقٌ من جهةٍ، كذبٌ من جهةٍ.

وزعم بعض المتأخرين أن الصدق والكذب إذا نسبا إلى الخبر فكما قاله الجمهور، وإن نسبا إلى المخبر فكما قاله النظَّام.

والصواب مع الجمهور، لكن غلب في العرف أن لا يقال للكذب خطأً «كذب»، بل يقال: خطأ وغلط، إلا حيث يقصد نسبة المخبر إلى التقصير، أو يقصد التنفير عن اتباعه.

وعلى هذا يُحمل ما روي عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم من قوله: «كذب

--------------------------------------------

(1) يراجع في هذا الموضوع: «شرح جمع الجوامع» للمحلي (2/ 111 وما بعدها) و «إرشاد الفحول» (ص 39، 40) و «شروح التلخيص» (1/ 173 وما بعدها).

(2) «المفردات» (ص 478، 479).
সত্যবাদিতা (الصدق) ও মিথ্যা (الكذب)

আহলে সুন্নাহ ও সংখ্যাগুরু (الجمهور) আলেমদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে(১): সত্যবাদিতা (الصدق) হলো কোনো সংবাদ (الخبر) বাস্তব ঘটনার (الواقع) সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া, আর মিথ্যা (الكذب) হলো বাস্তব ঘটনার সাথে সংবাদের অসংগতিপূর্ণ হওয়া।

নাজ্জাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: সত্যবাদিতা (الصدق) হলো সংবাদটি সংবাদদাতার বিশ্বাসের (اعتقاد) সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া, আর মিথ্যা (الكذب) হলো তার বিশ্বাসের সাথে সংবাদের অসংগতিপূর্ণ হওয়া।

জাহিজ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: সত্যবাদিতা (الصدق) হলো সংবাদটি বাস্তব ঘটনা ও সংবাদদাতার বিশ্বাস—উভয় দিক থেকেই সংগতিপূর্ণ হওয়া, আর মিথ্যা (الكذب) হলো উভয়ের সাথেই অসংগতিপূর্ণ হওয়া। এর বাইরে যা কিছু আছে তাকে সত্য বা মিথ্যা কোনোটিই বলা হবে না।

রাগির(২) এই মতের কাছাকাছি মত পোষণ করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: এর মধ্যবর্তী বিষয়গুলো এক দিক থেকে সত্য (صدق) এবং অন্য দিক থেকে মিথ্যা (كذب)।

পরবর্তী যুগের (المتأخرين) কোনো কোনো আলেম দাবি করেছেন যে, সত্যবাদিতা (الصدق) ও মিথ্যা (الكذب) শব্দদ্বয় যদি সংবাদের (الخبر) দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তবে তা সংখ্যাগুরু (الجمهور) আলেমদের মত অনুযায়ী বিবেচিত হবে; আর যদি সংবাদদাতার (المخبر) দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তবে তা নাজ্জামের মত অনুযায়ী হবে।

সঠিক মত হলো সংখ্যাগুরু (الجمهور) আলেমদের মতটিই। তবে সাধারণ ব্যবহারে (العرف) ভুলবশত কোনো অসত্য বলা হলে তাকে 'মিথ্যা' (كذب) বলা হয় না, বরং তাকে 'ভুল' (خطأ) বা 'ভ্রান্তি' (غلط) বলা হয়; কেবল তখনই একে 'মিথ্যা' বলা হয় যখন সংবাদদাতার অবহেলা নির্দেশ করা বা তার অনুসরণ থেকে লোকজনকে সতর্ক করা উদ্দেশ্য থাকে।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত এই বাণীর অর্থও এরই ওপর ভিত্তি করে ধরা হবে, যেখানে তিনি বলেছেন: «সে মিথ্যা বলেছে (كذب)...»

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়ে দ্রষ্টব্য: আল-মাহাল্লি রচিত ‘শারহু জামউল জাওয়ামি’ (২/১১১ এবং পরবর্তী অংশ), ‘ইরশাদুল ফুহুল’ (পৃ. ৩৯, ৪০) এবং ‘শুরাহুত তালখিস’ (১/১৭৩ এবং পরবর্তী অংশ)।

(২) ‘আল-মুফরাদাত’ (পৃ. ৪৭৮, ৪৭৯)।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
أبو السنابل»(1)، وبقية الأمثلة التي ذكرها ابن عبد البر(2) وغيره.

 

‌‌الخبر المحتمل لمعنيين أو أكثر

لم يتعرض أهل البيان عند كلامهم في تعريف الصدق والكذب لفرقٍ بين الخبر الذي لا يحتمل إلا معنى واحدًا، والخبر المحتمل لمعنيين فأكثر.

ووجه ذلك أن المحتمل لمعنيين مثلًا، إن كان احتماله لهما على السواء بدون رجحان، فذلك راجع إلى معنى واحد.

ألا ترى أنه لو كان لك أخوان غائبان، فجاءك رجل فقال: «مات أحد أخويك» كان هذا معنى واحدًا؟ فهكذا إذا قال ــ حيث لا قرينة ترجِّح أحدهما ــ: «مات أخوك». فهكذا الخبر المحتمل لمعنيين بدون رجحان.

وإن كان ظاهرًا راجحًا في أحد المعنيين، والآخر مرجوحٌ، فقد اتفقوا على أن المعنى الذي يجب أن يبنى عليه ويُحكم به هو الظاهر الراجح. فإذا قيل لك: «مات أخوك»، ولا قرينة، فالمعنى الذي يقضى به لهذا الخبر هو أن أخاك الحقيقي قد مات موتًا حقيقيًّا، ولا يلتفت إلى احتمال غير ذلك. فالصدق والكذب في هذا الخبر مدارهما على ذاك المعنى الظاهر الراجح.

ثم رأيت في «البيان والتبيين» للجاحظ (1/ 183(3) طبعة القاهرة سنة

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في «المسند» (4273) من حديث ابن مسعود، وأعلَّه في كتاب «العلل» (4795) بالإرسال.

(2) «جامع بيان العلم وفضله» (2/ 1102 - 1105). وانظر: «التمهيد» (9/ 289، 290).

(3) (1/ 337، 338) تحقيق عبد السلام هارون. والنص طويل، ولذا لم يثبته الشيخ ولم نثبته، فليراجع هناك.
আবুস সানাবিল(১), এবং ইবন আবদিল বার(২) ও অন্যদের উল্লেখিত অবশিষ্ট উদাহরণসমূহ।

 

‌‌দুই বা ততোধিক অর্থ বহনকারী সংবাদ

অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ সত্য ও মিথ্যার সংজ্ঞা প্রদানকালে এমন সংবাদ যা কেবল একটি অর্থ বহন করে এবং যা দুই বা ততোধিক অর্থ বহন করে—এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেননি।

এর কারণ হলো, উদাহরণস্বরূপ যা দুটি অর্থের সম্ভাবনা রাখে, যদি তার উভয় সম্ভাবনা কোনোটির প্রাধান্য ব্যতিরেকে সমান হয়, তবে তা একটি অর্থেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।

আপনি কি দেখছেন না যে, যদি আপনার দুইজন ভাই অনুপস্থিত থাকেন এবং একজন লোক আপনার কাছে এসে বলে: «আপনার এক ভাই মারা গেছেন», তবে এটি কি একটি অর্থই প্রকাশ করে না? অনুরূপভাবে যখন সে বলে—যেখানে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো কোনো লক্ষণ বিদ্যমান নেই—: «আপনার ভাই মারা গেছেন»। প্রাধান্য ব্যতিরেকে দুটি অর্থের সম্ভাবনা রাখে এমন সংবাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ।

আর যদি তা কোনো একটি অর্থের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য (ظاهر) ও প্রবল হয় এবং অন্যটির ক্ষেত্রে অপ্রধান হয়, তবে তারা এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, যে অর্থের ওপর ভিত্তি করতে হবে এবং যার মাধ্যমে বিধান প্রদান করতে হবে তা হলো সেই প্রকাশ্য (ظاهر) বিষয়টিই। সুতরাং আপনাকে যদি বলা হয়: «আপনার ভাই মারা গেছেন», এবং সেখানে অন্য কোনো লক্ষণ না থাকে, তবে এই সংবাদ থেকে যে অর্থটি নির্ধারিত হবে তা হলো আপনার প্রকৃত ভাই প্রকৃতপক্ষেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এর বাইরে অন্য কোনো সম্ভাবনার দিকে ভ্রূক্ষেপ করা হবে না। কাজেই এই সংবাদের সত্যতা ও মিথ্যা সেই প্রকাশ্য (ظاهر) ও প্রবল অর্থের ওপরই আবর্তিত হবে।

অতঃপর আমি জাহিযের «আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন» গ্রন্থে দেখেছি (১/ ১৮৩(৩) কায়রো সংস্করণ, বছর...

--------------------------------------------

(১) আহমাদ এটি মুসনাদ (৪২৭৩) গ্রন্থে ইবন মাসউদের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আল-ইলাল (৪৭৯৫) গ্রন্থে একে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন।

(২) «জামি বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি» (২/ ১১০২ - ১১০৫)। আরও দেখুন: «আত-তামহিদ» (৯/ ২৮৯, ২৯০)।

(৩) (১/ ৩৩৭, ৩৩৮) আবদুস সালাম হারুনের সম্পাদনা। মূল পাঠটি দীর্ঘ হওয়ায় শায়খ তা উল্লেখ করেননি এবং আমরাও করিনি, সুতরাং সেখান থেকে দেখে নেওয়া যেতে পারে।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
1332) ما لفظه: «وسئل (ابن شُبرمة) عن رجل … كلامًا يطول»، فجَزْم النظَّام بأن ذلك كذبٌ ــ أي حيث لا قرينة ــ موافقٌ لما تقدم، وأما الجاحظ فإنه جزم بأن أدنى منازلِه أن لا يسمى صدقًا، وتوقف عن الجزم بأنه يسمى كذبًا.

وكأن علماء البيان لم يلتفتوا إلى هذا التوقف؛ لأن الجاحظ موافقٌ على أن الخبر إذا خالف الواقع ولم يعتقد المخبر مطابقته فهو كذب، وموافقٌ على أن المعنى الذي يُقضى به للخبر هو الظاهر الراجح، فلزمه الجزم بأن ذلك كذبٌ، فلا عبرة بتوقفه.

وقد يقال: لعله إنما توقف لأن هناك قرينة قد يعرفها بعض السامعين دون بعض، فلا يطلق على الخبر: كذب؛ لأن منهم من يعرف القرينة فلا يفهم خلاف الواقع، ولا يطلق عليه: صدق؛ لأن منهم من لا يعرف القرينة فيفهم خلاف الواقع.

فإن كان إنما لحظ هذا فلا نزاع في ذلك؛ فإن الخبر صدقٌ بالنظر إلى من يعرف القرينة، وكذبٌ بالنظر إلى من لا يعرفها، فليس بصدقٍ مطلقًا، ولا كذبٍ مطلقًا، والجمهور لا ينازعون في هذا.

 

‌‌إرادة المخبر وإضماره

إذا كان للخبر معنى ظاهر راجح، ويحتمل احتمالًا مرجوحًا معنًى آخر، وقد أراد المخبر عند بناء الخبر أن يكون كذلك= فلا ريب أنه أراد أن يكون المعنى الذي حقه أن يفهم من الخبر هو الظاهر الراجح، ثم قد يضمر في نفسه المعنى الراجح، وقد يضمر المرجوح.

ومعنى الإضمار: أن يخيّل لنفسه عند تلفظه بالخبر أنه يقصد به هذا
১৩৩২) এর ভাষ্য হলো: «এবং (ইবনে শুবরুমাহ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল … দীর্ঘ কথা», সুতরাং আল-নাজ্জামের এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যে তা হলো মিথ্যা (كذب) — অর্থাৎ যেখানে কোনো প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিত (قرينة) নেই — তা পূর্বোক্ত আলোচনার সাথে সংগতিপূর্ণ। আর আল-জাহিজের বক্তব্য হলো, তিনি এই বিষয়ে সুনিশ্চিত যে এর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো একে সত্য (صدق) বলা যাবে না, তবে একে মিথ্যা (كذب) বলে অভিহিত করার ক্ষেত্রে তিনি কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।

এবং মনে হয় যে, অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ এই বিরত থাকার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি; কারণ আল-জাহিজ এই বিষয়ে একমত যে, সংবাদ (خبر) যদি বাস্তবতার পরিপন্থী হয় এবং সংবাদ প্রদানকারী যদি মনে করেন যে তা বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তবে তা মিথ্যা (كذب)। তিনি এই বিষয়েও একমত যে, সংবাদের ক্ষেত্রে যে অর্থটি নির্ধারিত হবে তা হলো সুস্পষ্ট (ظاهر) ও অগ্রগণ্য (راجح) অর্থ। ফলে এটি মিথ্যা (كذب) হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করা তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল; সুতরাং তাঁর এই বিরত থাকার কোনো গুরুত্ব নেই।

বলা হতে পারে যে: সম্ভবত তিনি এই কারণে বিরত থেকেছেন কারণ সেখানে এমন কোনো প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিত (قرينة) থাকতে পারে যা কোনো কোনো শ্রোতা জানলেও অন্যরা জানে না। সুতরাং সেই সংবাদকে (خبر) ঢালাওভাবে মিথ্যা (كذب) বলা যাবে না; কারণ তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেই প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিতটি (قرينة) জানে, ফলে তারা একে বাস্তবতার পরিপন্থী হিসেবে বুঝে না। আবার একে সত্য (صدق) বলেও অভিহিত করা যাবে না; কারণ তাদের মধ্যে কেউ সেই প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিতটি (قرينة) জানে না, ফলে সে একে বাস্তবতার পরিপন্থী হিসেবেই বুঝে থাকে।

যদি তিনি কেবল এই বিষয়টিই লক্ষ্য করে থাকেন, তবে এতে কোনো বিরোধ নেই; কারণ সংবাদটি (خبر) সেই ব্যক্তির প্রেক্ষাপটে সত্য (صدق) যে প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিতটি (قرينة) জানে, আর সেই ব্যক্তির প্রেক্ষাপটে মিথ্যা (كذب) যে তা জানে না। সুতরাং এটি নিরঙ্কুশভাবে সত্য (صدق) নয় এবং নিরঙ্কুশভাবে মিথ্যাও (كذب) নয়। জুমহুর (جمهور) তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমগণও এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন না।

 

‌‌সংবাদ প্রদানকারীর ইচ্ছা এবং অর্থ গোপন রাখা (إضمار)

যখন সংবাদের (خبر) জন্য কোনো সুস্পষ্ট (ظاهر) ও অগ্রগণ্য (راجহ) অর্থ থাকে এবং এর পাশাপাশি অন্য একটি দুর্বল বা গুরুত্বহীন (مرجوح) অর্থের সম্ভাবনা থাকে, আর সংবাদ প্রদানকারী সংবাদটি গঠনের সময় অনুরূপ ইচ্ছাই পোষণ করেন—তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি সেই অর্থটিই উদ্দেশ্য নিয়েছেন যার দাবি হলো সুস্পষ্ট (ظاهر) ও অগ্রগণ্য (راجح) হওয়া। অতঃপর তিনি মনে মনে কখনো সেই অগ্রগণ্য (راجح) অর্থটি গোপন রাখতে পারেন, আবার কখনো দুর্বল বা গুরুত্বহীন (مرجوح) অর্থটি মনে গোপন (إضمار) করতে পারেন।

আর মনে গোপন করার (إضمار) অর্থ হলো: সংবাদটি উচ্চারণের সময় নিজের মনে এই কল্পনা করা যে, তিনি এর দ্বারা এই অর্থটিই উদ্দেশ্য নিচ্ছেন।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৮০)
المعنى أو ذاك، فإن أضمر الراجح فلا خفاء أنه إن كان هو الواقع فالخبر صدق، وإلا فكذبٌ. وإن أضمر المرجوح، فقد يكون خلاف الواقع، وقد يكون هو الواقع، فانظر فيما إذا كان خلاف الواقع، هل يصير الخبر كذبًا، وهل يَلزمُ المخبرَ قبحُ الكذب وذمُّه وإثمه؟

وذلك كأن تعلم أن والد زيد مات في ليلة ولم ينم فيها، فتُبكِّر إلى زيد قاصدًا أن تخبره خبرًا يكون ظاهره الراجح هو الواقع أي الموت، ويحتمل خلاف الواقع وهو النوم، فتقول له: مات أبوك البارحة، وتضمر في نفسك عند قولك: «مات» معنى «نام»، وليس هناك قرينة.

أقول: لا يخفى على من يتدبر أن هذا الإضمار لا يصير به الخبر كذبًا، ولا يلزم المخبرَ اسمُ الكذب ولا قبحه ولا ذمه ولا إثمه. نعم، قد يُكره له ذاك التخيل، كما يكره للرجل تخيلُ أنه يلابس معصية، هذا أشد ما قد يقال فيه.

ونظيره أن تَعمِد إلى عصير تفاح ــ مثلًا ــ تعلم أنه حلال، فتصبَّه في كأسٍ تُشبه في الجملة الكأسات التي يشرب الفجار فيها الخمر، وتخيِّل لنفسك أنه خمر، وتشربه مع ذاك العلم وذاك التخيل. أو تَعمِد إلى امرأتك فتكسوها ثوبًا يشبه في الجملة ثوبًا رأيته على أجنبية، ثم تواقعها عالمًا بأنها امرأتك، متخيلًا أنها تلك الأجنبية.

فهل يلزمك بهذا اسم شرب الخمر والزنا وإثمهما؟

فانظر الآن في عكس هذا، وهو أن يكون المعنى الظاهر الراجح من الخبر هو المخالف للواقع، والمعنى المرجوح مطابق للواقع، وأضمره المخبر، وذلك كأن يكون الواقع أن والد زيدٍ لم يمت وإنما نام، فقصدتَ زيدًا عازمًا على أن تخبره خبرًا يكون الظاهر الراجح منه هو الموت الذي تعلم أنه
এই অর্থ বা ওই অর্থ; সুতরাং যদি সংবাদ প্রদানকারী প্রবল (الراجح) বিষয়টি মনে গোপন রাখে, তবে এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই যে, যদি তা বাস্তবসম্মত হয় তবে সংবাদটি সত্য (صدق), অন্যথায় তা মিথ্যা (كذب)। আর যদি সে অপ্রবল (المرجوح) বিষয়টি মনে গোপন রাখে, তবে তা বাস্তবের পরিপন্থী হতে পারে আবার বাস্তবসম্মতও হতে পারে। এখন লক্ষ্য করুন, যদি তা বাস্তবের পরিপন্থী হয়, তবে কি সংবাদটি মিথ্যায় (كذب) পরিণত হবে? আর সংবাদ প্রদানকারীর ওপর কি মিথ্যার (كذب) কদর্যতা, নিন্দা ও গুনাহ বর্তাবে?

যেমন ধরা যাক, আপনি জানেন যে জায়েদের পিতা কোনো এক রাতে মারা গেছেন এবং তিনি সেই রাতে ঘুমাননি। এমতাবস্থায় আপনি জায়েদের কাছে খুব ভোরে গেলেন এই উদ্দেশ্যে যে তাকে এমন একটি সংবাদ দেবেন যার প্রবল (الراجح) বাহ্যিক রূপটি হবে বাস্তব অর্থাৎ মৃত্যু, তবে তা বাস্তবের পরিপন্থী অর্থাৎ ঘুমের সম্ভাবনাও রাখে। অতঃপর আপনি তাকে বললেন: "গত রাতে তোমার পিতা মারা গেছেন", অথচ আপনি আপনার মনে "মারা গেছেন" শব্দটির দ্বারা "ঘুমিয়েছেন" অর্থটি গোপন রাখলেন, অথচ সেখানে কোনো ইঙ্গিত বা সূত্র (قرينة) বিদ্যমান নেই।

আমি বলি: যারা গভীরভাবে চিন্তা করেন তাদের নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই রূপ গোপন করার কারণে সংবাদটি মিথ্যায় (كذب) পরিণত হয় না এবং সংবাদ প্রদানকারীর ওপর মিথ্যার (كذب) অপবাদ, কদর্যতা, নিন্দা বা গুনাহও বর্তায় না। হ্যাঁ, তার জন্য এই রূপ কল্পনা করা অপছন্দনীয় (مكروه) হতে পারে, যেমন কোনো ব্যক্তির জন্য কোনো পাপে লিপ্ত হওয়ার কল্পনা করা অপছন্দনীয় (مكروه); এর চেয়ে বেশি আর কিছু বলা যায় না।

আর এর দৃষ্টান্ত হলো—উদাহরণস্বরূপ—আপনি আপেলের রস নিলেন যা আপনি হালাল (حلال) বলে জানেন। অতঃপর তা এমন একটি পাত্রে ঢাললেন যা মূলত পাপাচারীদের মদ পান করার পাত্রের সদৃশ এবং আপনি মনে মনে কল্পনা করলেন যে এটি মদ, অতঃপর সেই জ্ঞান ও কল্পনা থাকা সত্ত্বেও তা পান করলেন। অথবা আপনি আপনার স্ত্রীর কাছে গেলেন এবং তাকে এমন একটি পোশাক পরালেন যা মূলত কোনো পরনারীর অঙ্গে দেখা পোশাকের মতো। অতঃপর আপনি আপনার স্ত্রী হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েও তার সাথে মিলিত হলেন এই কল্পনা নিয়ে যে সে ওই পরনারী।

তবে কি এই কারণে আপনার ওপর মদ পান বা ব্যভিচারের (زنا) নাম ও গুনাহ বর্তাবে?

এখন এর বিপরীত বিষয়টি দেখুন, আর তা হলো সংবাদের প্রবল (الراجح) বাহ্যিক অর্থটি বাস্তবের পরিপন্থী হওয়া এবং অপ্রবল (المرجوح) অর্থটি বাস্তবের অনুকূল হওয়া, যা সংবাদ প্রদানকারী মনে গোপন রেখেছে। আর তা এমন যে, বাস্তব অবস্থা হলো জায়েদের পিতা মারা যাননি বরং ঘুমিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় আপনি জায়েদের কাছে এই সংকল্প নিয়ে গেলেন যে তাকে এমন সংবাদ দেবেন যার প্রবল (الراجح) বাহ্যিক রূপটি হবে মৃত্যু, যা আপনি জানেন যে...
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৮১)
خلاف الواقع، ويكون محتملًا احتمالًا مرجوحًا لمعنى مطابق للواقع، وهو النوم، فقلتَ له: «مات أبوك البارحة»، وأضمرت في نفسك معنى «نام»، ولا قرينة. فهل تخرج بهذا عن اسم الكذب وقبحه وذمه وإثمه؟

ونظير هذا أن تعمد إلى خمر تعلم أنها خمر محرمة، فتصبَّها في قعبٍ وتشربها، مخيِّلًا لنفسك أنها حليب. أو تعمد إلى امرأة جارك وأنت بها عارف، فتلقي عليها ثوبًا من ثياب امرأتك، وتواقعها مخيلًا لنفسك أنها امرأتك. فهل يخرجك هذا عن اسم شرب الخمر والزنا وإثمهما؟

وبهذا يتضح أننا إن سمينا تخيل المتكلم للمعنى المرجوح إرادةً، فليست هي إرادة المتكلم التي ينبغي أن يُناط بها الحكم، وإنما إرادته التي ينبغي أن يناط بها الحكم هي إرادته عند بناء الخبر أن يكون ظاهرًا راجحًا في معنى، فإن كان يعتقد أن ذاك المعنى حق وصدق فلم يرد إلا الصدق، وإن كان لا يعتقد ذلك فقد أراد الكذب ولا بدَّ.

وقد حصل بيدنا مثالٌ للدعوى الباطلة، لكن إنما يظهر البطلان حيث يظهر عدم التأويل، وإنما يتم ذلك في مثالٍ غير صالح للتأويل، وذلك كأن تشير لصاحبك إلى حصاةٍ وتقول: «أرى أسدًا»، فهذه دعوى باطلةٌ وكذب.

أما البطلان؛ فلأن الحصاة لا تكون أسدًا حقيقة، كما هو واضح، ولا مجازًا؛ لفقد العلاقة المعتبرة التي يترتب عليها التأويل.

وأما الكذب؛ فلأن الخبر مخالف للواقع، لأن المجاز لا يصح، فيبقى اللفظ على حقيقته، أي أن الحصاة أسد حقيقي، وظهور بطلان هذا لا يوجب العدول عنه، إذ ليس هنا معدلٌ صحيح، فلا معنى للعدول عن باطلٍ
বাস্তবতার পরিপন্থী (خلاف الواقع), এবং এমন একটি অর্থের ক্ষেত্রে দূরবর্তী সম্ভাবনা (احتمال مرجوح) রাখে যা বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন ঘুম। এমতাবস্থায় আপনি কাউকে বললেন: «গত রাতে তোমার বাবা মারা গেছেন», অথচ আপনি মনে মনে «ঘুমিয়েছেন» অর্থটি গোপন রাখলেন, আর সেখানে কোনো ইঙ্গিত (قرينة) ছিল না। তবে কি এর মাধ্যমে আপনি মিথ্যা (الكذب), তার কদর্যতা, নিন্দা ও পাপ থেকে নিষ্কৃতি পাবেন?

এর উদাহরণ হলো, আপনি জেনেশুনে মদ গ্রহণ করলেন যা আপনি জানেন যে এটি নিষিদ্ধ (محرمة) মদ, তারপর তা একটি পেয়ালায় ঢেলে পান করলেন এবং মনে মনে কল্পনা করলেন যে এটি দুধ। অথবা আপনি জেনেশুনে আপনার প্রতিবেশীর স্ত্রীর কাছে গেলেন এবং তার ওপর আপনার স্ত্রীর কোনো একটি কাপড় রাখলেন এবং তার সাথে মিলিত হলেন এই কল্পনা করে যে সে আপনার স্ত্রী। তবে কি এটি আপনাকে মদ পান এবং ব্যভিচারের (الزنا) নাম ও তাদের পাপ থেকে মুক্ত করবে?

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, বক্তার দূরবর্তী অর্থের (المعنى المرجوح) কল্পনাকে যদি আমরা ইচ্ছা (إرادة) হিসেবে অভিহিত করি, তবে তা বক্তার সেই ইচ্ছা নয় যার ওপর বিধান (الحكم) নির্ভরশীল হওয়া উচিত। বরং যে বিধানের সাথে যে ইচ্ছাটি সম্পৃক্ত হওয়া উচিত তা হলো সংবাদ (الخبر) নির্মাণের সময় তার সেই ইচ্ছা—যাতে অর্থটি প্রকাশ্য (ظاهر) ও প্রবল (راجح) হয়। সুতরাং সে যদি বিশ্বাস করে যে সেই অর্থটি সত্য ও সঠিক, তবে সে সত্যই (الصدق) ইচ্ছা করেছে। আর যদি সে তা বিশ্বাস না করে, তবে সে অবশ্যই মিথ্যার (الكذب) ইচ্ছা পোষণ করেছে।

আমাদের হাতে একটি অসার দাবির (الدعوى الباطلة) উদাহরণ এসেছে। তবে অসারতা (البطلان) তখনই স্পষ্ট হয় যখন ব্যাখ্যার (التأويل) অবকাশ থাকে না। আর এটি এমন উদাহরণের ক্ষেত্রেই সম্ভব যা ব্যাখ্যার (التأويل) অযোগ্য। যেমন আপনি আপনার সঙ্গীকে একটি নুড়ি পাথরের দিকে ইশারা করে বললেন: «আমি একটি সিংহ দেখছি», এটি একটি অসার দাবি এবং মিথ্যা (كذب)।

অসারতা (البطلان) হওয়ার কারণ হলো, নুড়ি পাথর প্রকৃতপক্ষে (حقيقة) সিংহ নয়—যেমনটি স্পষ্ট, আর রূপকভাবেও (مجازًا) নয়; কারণ এখানে সেই নির্ভরযোগ্য সম্পর্কের (العلاقة المعتبرة) অভাব রয়েছে যার ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা (التأويل) প্রদান করা যায়।

আর মিথ্যা (الكذب) হওয়ার কারণ হলো, সংবাদটি (الخبر) বাস্তবতার পরিপন্থী (مخالف للواقع)। যেহেতু রূপক অর্থ (المجاز) এখানে সঠিক নয়, তাই শব্দটি তার প্রকৃত অর্থেই (حقيقته) বহাল থাকবে। অর্থাৎ, নুড়ি পাথরটি একটি প্রকৃত সিংহ; আর এর অসারতা স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তা থেকে সরে আসা আবশ্যক নয়, কারণ এখানে কোনো সঠিক বিকল্প নেই। সুতরাং অসার বিষয় থেকে সরে আসার কোনো অর্থ হয় না।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৮২)
إلى باطل.

نعم، قد يقال: الأشبه أن المتكلم لم يرد أن الحصاة أسد حقيقة، وإنما أراد أنها أسد مجازًا، جهلًا منه بوجه المجاز، وظنًّا لصحته في مثل ذلك، فإن احتمال الجهل المركب في هذا أقرب من احتمال دعوى أنها أسد حقيقة. وعلى هذا فالكذب بحاله، فإن حاصل الخبر: «أرى أسدًا مجازيًّا» وهذا أيضًا باطل، ومخالف للواقع.

وبالجملة، فهذا الاستعمال لا هو حقيقة ولا مجاز، فهو كما قال السعد في «المطول»(1): من قبيل ما لا يعتدُّ به، ولا يعدُّ في الحقيقة ولا في المجاز، بل ينسب قائله إلى ما يكره، كما صرح به في «المفتاح».

وقريب منه قول عبد الحكيم(2): كلامٌ لغوٌ لا يصدر عن عاقل، فضلًا عن أن يكون صادقًا أو كاذبًا.

أقول: فكأن السكاكي لاحظ ذلك فسمى نحو قولك ــ مشيرًا إلى حصاة ــ: «أرى أسدًا» دعوى باطلة، ولم يسمها كذبًا.

وقريب منه تفسير الشارح العلامة(3) للدعوى الباطلة بأنها ما يكون على خلاف الواقع.

--------------------------------------------

(1) انظر «فيض الفتاح» (ج 2/ 160). [المؤلف].

(2) «فيض الفتاح» (ج 2/ 172). [المؤلف].

(3) المصدر السابق (4/ 152). والشارح العلَّامة هو القطب الشيرازي (ت 710).
বাতিলের (باطل) দিকে।

হ্যাঁ, বলা যেতে পারে: অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় হলো, বক্তা সম্ভবত পাথরটি প্রকৃত (حقيقة) অর্থে সিংহ—তা বোঝাতে চাননি, বরং তিনি একে রূপক (مجازًا) অর্থে সিংহ বুঝিয়েছেন; আর এটি তার রূপকের ধরন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং এই জাতীয় ক্ষেত্রে এর সঠিকতার বিষয়ে তার ধারণার কারণে হয়েছে। কেননা এক্ষেত্রে জটিল মূর্খতার (الجهل المركب) সম্ভাবনা বিষয়টি প্রকৃত (حقيقة) অর্থে সিংহ হওয়ার দাবির চেয়ে অধিক নিকটতর। এই ভিত্তিতে মিথ্যা (كذب) তার নিজ অবস্থায় বহাল থাকে; কারণ সংবাদের (خبر) সারকথা দাঁড়ায়: ‘আমি একটি রূপক সিংহ দেখছি’, আর এটিও বাতিল (باطل) এবং বাস্তবতাবিরোধী।

মোটের ওপর, এই ব্যবহারটি প্রকৃত (حقيقة) নয় এবং রূপক (مجاز)ও নয়। এটি তেমনি, যেমনটি আল-সা’দ ‘আল-মুতাউওয়াল’ গ্রন্থে বলেছেন: এটি এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা ধর্তব্য নয় এবং একে প্রকৃত (حقيقة) বা রূপক (مجاز) কোনোটিই গণ্য করা হয় না। বরং এর বক্তাকে এমন কিছুর দিকে সম্বন্ধ করা হয় যা অপছন্দনীয়, যেমনটি ‘আল-মিফতাহ’ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর কাছাকাছি হলো আব্দুল হাকিমের বক্তব্য: এটি একটি নিরর্থক কথা যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রকাশ পেতে পারে না, সত্য (صادق) বা মিথ্যা (كاذب) হওয়া তো দূরের কথা।

আমি বলি: সম্ভবত আল-সাক্কাকি বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন, তাই তিনি একটি পাথরের দিকে ইশারা করে আপনার এই উক্তিকে— ‘আমি একটি সিংহ দেখছি’— ভিত্তিহীন দাবি (دعوى باطلة) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং একে মিথ্যা (كذب) বলেননি।

আর এর কাছাকাছি হলো আল্লামা ব্যাখ্যাকারীর ভিত্তিহীন দাবির (دعوى باطلة) সেই ব্যাখ্যা, যা বাস্তবতার পরিপন্থী।

--------------------------------------------

(১) দেখুন ‘ফায়দুল ফাত্তাহ’ (খণ্ড ২/১৬০)। [লেখক]।

(২) ‘ফায়দুল ফাত্তাহ’ (খণ্ড ২/১৭২)। [লেখক]।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (৪/১৫২)। আর আল্লামা ব্যাখ্যাকারী হলেন কুতুবুদ্দিন আল-শিরাজি (মৃত্যু ৭১০ হিজরি)।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
وأما تفسير السيد(1) لها بالجهل المركب، فقد مر وجهه.

وأما ما سمّاه السكاكي كذبًا، فيحتاج بيانه إلى تمهيد.

فأقول: إذا قلت: «رأيتُ أسدًا»، وأضمرتَ في نفسك أن تريد بقولك: «أسدًا» رجلًا شجاعًا، ولم تنصب قرينة، فالخبر إنما يعطي أسدًا حقيقيًّا، وهذا مخالف لما أضمرته على كل حال.

ثم قد يكون الخبر مخالفًا للواقع في نفس الأمر وفي اعتقادك، كأن يكون الواقع أنك رأيت رجلًا شجاعًا، واعتقدت ذلك وتعمدت ترك القرينة، وقد يكون مخالفًا للواقع في نفس الأمر فقط، كأن تكون رأيت لصًّا رجلًا شجاعًا مختبئًا في غار بعيد، فعرفت ذلك وأردت الإخبار به، وظننت أن هناك قرينة والواقع أنه لا قرينة، أو تكون حسبته أسدًا حقيقيًّا، ولكن أحببت أن تخبر بأنه رجل شجاع، وغفلت عن نصب القرينة.

وقد يكون موافقًا للواقع في نفس الأمر فقط، كأن تكون رأيت أسدًا حقيقيًّا في غار، فعرفت ذلك، ولكن أردت الإخبار بأنه رجل شجاع، وغفلت عن نصب القرينة، أو حسبته رجلًا شجاعًا وأردت الإخبار بذلك، وغفلت عن نصب قرينة، أو حسبته رجلًا شجاعًا، ولكن أردت إيهامَ أنه أسد حقيقي، فتأولت في نفسك، وتركت نصب القرينة عمدًا.

وأغلب هذه الصور وقوعًا وأقربها إلى الاشتباه بالاستعارة هي الأولى، وهي كذبٌ عمدٌ.

--------------------------------------------

(1) انظر «فيض الفتاح» (4/ 152).
আর ‘সাইয়্যিদ’(১) এর (উক্ত বিষয়ের) ব্যাখ্যা ‘জটিল অজ্ঞতা’ (الجهل المركب) হিসেবে প্রদান করার বিষয়টি সম্পর্কে এর আগে আলোচনা করা হয়েছে।

আর সাক্কাকী যাকে ‘মিথ্যা’ (كذبًا) হিসেবে অভিহিত করেছেন, তার স্বরূপ বর্ণনার জন্য একটি ভূমিকার প্রয়োজন।

আমি বলছি: যদি আপনি বলেন, «আমি একটি সিংহ দেখেছি», আর মনে মনে এই ইচ্ছা পোষণ করেন যে, ‘সিংহ’ শব্দ দ্বারা একজন সাহসী ব্যক্তিকে বোঝাবেন, অথচ আপনি কোনো ‘সূত্র’ (قرينة) স্থাপন করেননি, তবে সেই ‘সংবাদ’ (الخبر) কেবল প্রকৃত সিংহকেই বোঝাবে। আর এটি সর্বাবস্থায় আপনার মনে যা নিহিত ছিল তার পরিপন্থী হবে।

অতঃপর সেই সংবাদটি বাস্তব পরিস্থিতি এবং আপনার ‘বিশ্বাস’ (اعتقاد)-এর দিক থেকে ‘বাস্তবতাবিরোধী’ (مخالفًا للواقع) হতে পারে। যেমন: বাস্তবে আপনি একজন সাহসী ব্যক্তিকে দেখেছেন এবং আপনি তা-ই বিশ্বাস করেন, কিন্তু আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে ‘সূত্র’ (قرينة) বর্ণনা করা বর্জন করেছেন। আবার কখনো সংবাদটি কেবল বাস্তব পরিস্থিতির দিক থেকে ‘বাস্তবতাবিরোধী’ (مخالفًا للواقع) হতে পারে। যেমন: আপনি হয়তো দূরের কোনো গুহায় আত্মগোপনকারী কোনো সাহসী চোরকে দেখেছেন এবং বিষয়টি অবগত হয়ে তা সংবাদ হিসেবে দিতে চেয়েছেন; আপনি ধারণা করেছেন যে সেখানে কোনো ‘সূত্র’ (قرينة) বিদ্যমান রয়েছে, অথচ বাস্তবে সেখানে কোনো ‘সূত্র’ (قرينة) নেই। অথবা হতে পারে আপনি তাকে প্রকৃত সিংহ মনে করেছেন, কিন্তু আপনি তাকে সাহসী ব্যক্তি হিসেবে সংবাদ দিতে চেয়েছেন এবং ‘সূত্র’ (قرينة) স্থাপনের বিষয়ে গাফিলতি করেছেন।

আবার সংবাদটি কেবল বাস্তব পরিস্থিতির ‘অনুকূল’ (موافقًا للواقع) হতে পারে। যেমন: আপনি গুহায় একটি প্রকৃত সিংহ দেখেছেন এবং তা জানতেন, কিন্তু আপনি তাকে একজন সাহসী ব্যক্তি হিসেবে সংবাদ দিতে চাইলেন এবং ‘সূত্র’ (قرينة) স্থাপনে উদাসীনতা প্রদর্শন করলেন। অথবা আপনি তাকে সাহসী ব্যক্তি মনে করে সেই সংবাদ দিতে চাইলেন এবং ‘সূত্র’ (قرينة) দিতে গাফিলতি করলেন। অথবা আপনি তাকে সাহসী ব্যক্তি মনে করলেন, কিন্তু তাকে প্রকৃত সিংহ বলে বিভ্রান্ত করতে চাইলেন; ফলে আপনি মনে মনে এর একটি ব্যাখ্যা বা ‘তাউইল’ করলেন এবং ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ (عمدًا) কোনো ‘সূত্র’ (قرينة) স্থাপন করা বর্জন করলেন।

ঘটার দিক থেকে এসব সুরতের মধ্যে অধিকাংশ এবং ‘রূপক’ (استعارة)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিকটতর হলো প্রথম সুরতটি, আর তা হলো ‘ইচ্ছাকৃত মিথ্যা’ (كذبٌ عمدٌ)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফয়জুল ফাত্তাহ (৪/ ১৫২)।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৮৪)
فبنى السكاكي عليها فعبَّر بالكذب، وكذلك بنى عليها السيد الجرجاني، ففسَّر الكذب بالكذب العمد.

أما الشارح العلامة فكأنه لاحظ تلك الصور كلها، ورأى أن المشترك بينها جميعًا هو مخالفة الخبر لما في الضمير، أي للمعنى الذي يضمره المتكلم في نفسه، ففسر الكذب بذلك.

ثم جاء صاحب «تلخيص المفتاح»، فعدل عن عبارة «المفتاح»، إلى قوله(1): [والاستعارة تفارق الكذب بالبناء على التأويل ونصبِ القرينة على إرادة خلاف الظاهر].

والظاهر أنه بنى على تسمية الدعوى الباطلة كذبًا، وقد تقدم وجه ذلك، ثم ضم هذا الكذب إلى الذي سماه السكاكي كذبًا، فكأنه قال: والاستعارة تفارق الكذب الذي سماه السكاكي دعوى باطلة، والكذب الذي سماه كذبًا، بالتأويل والقرينة.

وعبارته تحتمل معنيين:

الأول: أن يكون أراد أنها تفارق الكذب الذي هو الدعوى الباطلة بالتأويل، وتفارق الكذب الآخر بالقرينة.

المعنى الثاني: أن يكون بنى على أن التأويل والقرينة متلازمان، إذا وُجِد أحدهما وجد الآخر، فالاستعارة تفارق كلًّا من الكذب بقسميه بكلٍّ من التأويل والقرينة.

--------------------------------------------

(1) (ص 306 بشرح البرقوقي)، وانظر «شروح التلخيص» (4/ 68).
অতঃপর সাক্কাকি এর উপর ভিত্তি করে একে মিথ্যা (كذب) হিসেবে ব্যক্ত করেছেন এবং একইভাবে সাইয়্যেদ জুরজানিও এর উপর ভিত্তি করে মিথ্যা (كذب)-কে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা (كذب عمد) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তবে আল্লামা ব্যাখ্যাকারী সম্ভবত সেই সকল চিত্রই পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তিনি দেখেছেন যে তাদের সকলের মধ্যে সাধারণ বিষয়টি হলো সংবাদ (خبر)-এর সাথে অন্তরের বিশ্বাসের অমিল হওয়া, অর্থাৎ বক্তা তার মনে যে অর্থটি গোপন রেখেছে তার পরিপন্থী হওয়া; তাই তিনি মিথ্যা (كذب)-কে এর মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করেছেন।

অতঃপর 'তালখিসুল মিফতাহ'-এর লেখক আসলেন এবং তিনি 'মিফতাহ'-এর বর্ণনা শৈলী পরিবর্তন করে তার এই বক্তব্যে উপনীত হলেন(১): [এবং রূপক (استعارة) মিথ্যা (كذب) থেকে পৃথক হয় ব্যাখ্যা (تأويل)-এর ওপর ভিত্তি করার মাধ্যমে এবং বাহ্যিক (ظاهر) অর্থের বিপরীত উদ্দেশ্য গ্রহণের ওপর সূত্র (قرينة) স্থাপনের মাধ্যমে]।

আর বাহ্যত এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি বাতিল দাবি (دعوى باطلة)-কে মিথ্যা (كذب) হিসেবে নামকরণ করার ওপর ভিত্তি করেছেন, যার যৌক্তিকতা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। অতঃপর তিনি এই মিথ্যা (كذب)-কে সাক্কাকি যেটিকে মিথ্যা (كذب) বলেছেন তার সাথে যুক্ত করেছেন; ফলে বিষয়টি যেন এমন দাঁড়ায় যে: রূপক (استعارة) সাক্কাকি কর্তৃক বাতিল দাবি (دعوى باطلة) হিসেবে অভিহিত মিথ্যা (كذب) এবং যেটিকে তিনি মিথ্যা (كذب) হিসেবে নামকরণ করেছেন, উভয় প্রকার থেকেই ব্যাখ্যা (تأويل) ও সূত্র (قرينة)-এর মাধ্যমে পৃথক হয়।

আর তার এই উক্তিটি দুটি অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে:

প্রথমটি: তিনি হয়তো এটিই উদ্দেশ্য নিয়েছেন যে, রূপক (استعارة) সেই মিথ্যা (كذب) যা বাতিল দাবি (دعوى باطلة) হিসেবে গণ্য হয় তার থেকে ব্যাখ্যা (تأويل)-এর মাধ্যমে পৃথক হয়, আর অন্য প্রকার মিথ্যা (كذب) থেকে সূত্র (قرينة)-এর মাধ্যমে পৃথক হয়।

দ্বিতীয় অর্থ: তিনি হয়তো এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেছেন যে, ব্যাখ্যা (تأويل) ও সূত্র (قرينة) একে অপরের পরিপূরক; যদি একটির অস্তিত্ব থাকে তবে অন্যটিরও অস্তিত্ব থাকে। ফলে রূপক (استعارة) উভয় প্রকার মিথ্যা (كذب)-এর প্রত্যেকটি থেকেই ব্যাখ্যা (تأويل) ও সূত্র (قرينة) উভয়ের মাধ্যমেই পৃথক হয়।

--------------------------------------------

(১) (বরকুকির ব্যাখ্যাসহ পৃষ্ঠা ৩০৬), এবং দেখুন 'শুরুহুত তালখিস' (৪/ ৬৮)।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৮৫)
وبيان استلزام التأويل للقرينة ما نبه عليه شارحه السعد التفتازاني في الكلام على التأويل في المجاز العقلي، فإنه قال(1): «ومعنى التأويل: طلب ما يؤول إليه من الحقيقة، أو الموضع الذي يؤول إليه من العقل، وحاصله أن تنصب قرينة».

قال الدسوقي في حواشيه(2): «المراد ملاحظة الحقيقة أو الموضع ملاحظة يعتدُّ بها، وهي إنما تكون مع القرينة … ».

فالحاصل أن التأويل الذي يعتد به هو ما كان مع القرينة، فلا اعتداد بالتأويل الذهني الذي لا قرينة معه.

وأما استلزام القرينة للتأويل، فلأن القرينة هي الدليل الذي يمنع من إرادة المتكلم للظاهر، ويدل على إرادته غيره، وهذا إنما يتحقق في نحو قولك ــ مشيرًا إلى رجلٍ ــ: «أرى أسدًا»؛ لأمرين:

الأول: أن المخاطب يرى أنك عاقل لا تكابر ولا تعبث، فيبعد أن تريد أن الرجل أسد حقيقة.

الثاني: أن هناك مسوغًا واضحًا للتأويل، بأن تكون أردت أن الرجل شجاع، فشبهته بالأسد، وادعيت وتأولت على ما هو معروف.

فأما إذا أشرت إلى حصاةٍ قائلًا: «أرى أسدًا» فالأمر الثاني منتفٍ، وبانتفائه يضعف الأمر الأول.

فالمشاهدة والإشارة قرينة في المثال الأول؛ لأنها مانعة من إرادة

--------------------------------------------

(1) انظر «شروح التلخيص» (1/ 234).

(2) المصدر السابق.
ব্যাখ্যা (تأويل)-এর জন্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণের (قرينة) আবশ্যিকতার বিষয়টি এর ব্যাখ্যাদাতা আস-সাদ আল-তাফতাজানি 'বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক' (المجاز العقلي)-এর ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা (تأويل) সংক্রান্ত আলোচনায় নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেন(১): «ব্যাখ্যা (تأويل)-এর অর্থ হলো: প্রকৃত অর্থের (حقيقة) দিকে প্রত্যাবর্তনের অনুসন্ধান করা, অথবা বুদ্ধিবৃত্তিক যে অবস্থানের দিকে তা প্রত্যাবর্তন করে তার অনুসন্ধান করা। এর সারকথা হলো একটি প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (قرينة) স্থাপন করা।»

আদ-দুসুকি তাঁর টীকাগ্রন্থে(২) বলেন: «উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত অর্থ (حقيقة) বা বিষয়টি এমনভাবে লক্ষ্য করা যা নির্ভরযোগ্য (يعتد بها), আর এটি কেবল প্রাসঙ্গিক প্রমাণের (قرينة) মাধ্যমেই সম্ভব … »।

সুতরাং সারকথা হলো, যে ব্যাখ্যা (تأويل) নির্ভরযোগ্য (يعتد به) তা কেবল প্রাসঙ্গিক প্রমাণের (قرينة) সাথেই হয়ে থাকে। অতএব, এমন কোনো মানসিক ব্যাখ্যার (تأويل) কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই যার সাথে কোনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (قرينة) নেই।

আর ব্যাখ্যার (تأويل) জন্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণের (قرينة) আবশ্যিকতার কারণ হলো, প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (قرينة) হলো এমন দলিল যা বক্তার উদ্দেশ্য হিসেবে বাহ্যিক অর্থকে (ظاهر) গ্রহণ করতে বাধা প্রদান করে এবং তা ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এটি কেবল আপনার এমন বক্তব্যের ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয় যখন আপনি কোনো ব্যক্তির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন— «আমি একটি সিংহ দেখছি»; এর কারণ দুটি:

প্রথমত: সম্বোধিত ব্যক্তি দেখেন যে আপনি একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি, যিনি হঠকারিতা বা তামাশা করেন না। ফলে আপনি লোকটিকে প্রকৃতপক্ষেই সিংহ (حقيقة) হিসেবে বোঝাচ্ছেন—এমনটি হওয়া সুদূরপরাহত।

দ্বিতীয়ত: সেখানে ব্যাখ্যার (تأويل) জন্য একটি সুস্পষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে; তা হলো আপনি ব্যক্তিটিকে সাহসী বোঝাতে চেয়েছেন, ফলে তাকে সিংহের সাথে তুলনা করেছেন এবং সুপরিচিত নিয়ম অনুযায়ী দাবি ও ব্যাখ্যা (تأويل) করেছেন।

পক্ষান্তরে, যদি আপনি একটি পাথরের দিকে ইশারা করে বলেন— «আমি একটি সিংহ দেখছি», তবে দ্বিতীয় কারণটি অনুপস্থিত থাকে; আর তা অনুপস্থিত হওয়ার কারণে প্রথম বিষয়টিও দুর্বল হয়ে পড়ে।

সুতরাং প্রথম উদাহরণে প্রত্যক্ষ করা এবং ইশারা করা হলো একটি প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (قرينة); কারণ এটি উদ্দেশ্য গ্রহণে বাধা প্রদান করে—

--------------------------------------------

(1) দেখুন শুরূহুত তালখিস (১/২৩৪)।

(2) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৮৬)
الظاهر، دالة على إرادة غيره إرادةً سائغة، وليست في المثال الثاني كذلك.

فإن قيل: فإذا كان صاحب «التلخيص» بنى على تلازم التأويل والقرينة كما زعمتَ، فهلّا اكتفى بأحدهما؟

قلت: كأنه أراد أن ينبِّه على أن كلًّا منهما مقصودٌ لذاته، فالتأويل هو الذي يدفع الدعوى الباطلة، والقرينة كالشرط له، والقرينة هي التي تدفع الكذب، والتأويل كالشرط لها.

وذكر ابن السبكي في «جمع الجوامع»(1)

ما نُسب إلى بعض الظاهرية من نفي وقوع المجاز في الكتاب والسنة، فقال المحلي في شرحه(2): «قالوا: لأنه كذب بحسب الظاهر، كما في قولك للبليد: هذا حمار، وكلام الله ورسوله منزه عن الكذب. وأجيب بأنه لا كذب مع اعتبار العلاقة».

اعترضه بعضهم(3) بأن الذي يدفع الكذب هو القرينة، فكان ينبغي أن يقول: لا كذب مع وجود القرينة.

ويجاب عن هذا بأجوبة:

الأول: أن القرينة عند الأصوليين شرط، فالمراد اعتبار العلاقة على الوجه المعتدّ به، وإنما يكون ذلك بوجود الشرط، وهو القرينة.

الثاني: أن يقال: مراده باعتبار العلاقة اعتبارها من كلٍّ من المتكلم والمخاطب، فاعتبار المتكلم لها ملاحظته لها بالتشبيه والدعوى والتأويل،

--------------------------------------------

(1) (1/ 308) بشرح المحلي ..

(2) المصدر السابق.

(3) هو البناني صاحب الحاشية على شرح المحلي في الموضع المذكور.
প্রকাশ্য (الظاهر), যা অন্য কিছুর বৈধ অভিপ্রায় নির্দেশ করে, কিন্তু দ্বিতীয় উদাহরণে বিষয়টি তেমন নয়।

যদি বলা হয়: ‘আত-তালখীস’ প্রণেতা যদি আপনার দাবি অনুযায়ী ব্যাখ্যা (التأويل) ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (القرينة) অবিচ্ছেদ্যতার ওপর ভিত্তি করে থাকেন, তবে কেন তিনি একটির মাধ্যমেই ক্ষান্ত হলেন না?

আমি বলব: সম্ভবত তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করতে চেয়েছেন যে, এদের প্রত্যেকেই স্বয়ং অভিপ্রেত। ফলে ব্যাখ্যা (التأويل) হচ্ছে তা, যা বাতিল দাবিকে খণ্ডন করে এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (القرينة) তার জন্য শর্তস্বরূপ। আবার পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (القرينة) হচ্ছে তা, যা মিথ্যাকে অপনোদন করে এবং ব্যাখ্যা (التأويل) তার জন্য শর্তস্বরূপ।

ইবনে আস-সুবকী ‘জামউল জাওয়ামি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন(১)

কতিপয় জাহিরী (الظاهرية) মতাবলম্বীদের প্রতি কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে রূপক (المجاز) ব্যবহারের বিষয়টিকে অস্বীকার করার যে মতটি নিসবত করা হয়েছে, সে সম্পর্কে আল-মহল্লী তাঁর শরহে বলেন(২): “তারা বলেন: কারণ তা বাহ্যিক দিক থেকে মিথ্যা বলে গণ্য হয়; যেমন আপনি কোনো নির্বোধকে বললেন: ‘এটি একটি গাধা’। অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণী মিথ্যা থেকে পবিত্র। এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, সম্পর্ক (العلاقة) বিবেচনায় নিলে আর তা মিথ্যা থাকে না।”

তাদের কেউ কেউ এর ওপর আপত্তি (اعترضه) তুলেছেন(৩) এই বলে যে, মিথ্যাকে যা অপনোদন করে তা হলো পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (القرينة)। সুতরাং এটি বলা উচিত ছিল যে: পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (القرينة) বিদ্যমান থাকলে কোনো মিথ্যা থাকে না।

এর স্বপক্ষে কয়েকটি উত্তর প্রদান করা হয়েছে:

প্রথমত: মূলনীতিবিদদের (الأصوليين) নিকট পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (القرينة) একটি শর্ত। সুতরাং এখানে উদ্দেশ্য হলো গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে সম্পর্ক (العلاقة) বিবেচনা করা। আর তা শর্ত তথা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (القرينة) উপস্থিতির মাধ্যমেই কেবল সম্ভব।

দ্বিতীয়ত: বলা যেতে পারে যে, সম্পর্ক (العلاقة) বিবেচনা দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো বক্তা ও সম্বোধিত ব্যক্তি উভয়ের পক্ষ থেকে তা বিবেচনা করা। ফলে বক্তার পক্ষ থেকে তা বিবেচনা করার অর্থ হলো উপমা (التشبيه), দাবি (الدعوى) ও ব্যাখ্যার (التأويل) মাধ্যমে তা লক্ষ্য করা।

--------------------------------------------

(১) (১/৩০৮) আল-মহল্লীর শরহসহ...

(২) পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) তিনি হলেন আল-বান্নানী, উল্লিখিত স্থানে আল-মহল্লীর শরহের ওপর হাশিয়া (টীকা) প্রণেতা।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৮৭)
على ما هو معروف في علم البيان. وملاحظة المخاطب لها تصوره لها على حسب ذلك، ومعلوم أن المخاطب إنما يلاحظها إذا كان هناك ما يدل عليها، وهذا الدليل هو‌‌ القرينة.

الثالث ــ وهو التحقيق ــ: أن الكذب الذي زعمه الظاهري إنما هو الكذب بحسب الظاهر، ومقصوده به ما يتراءى في نحو المثال الذي ذكره، وهو قولك للبليد: «هذا حمار».

والذي يتراءى هنا ليس هو الكذب الحقيقي، فإن العلاقة موجودة مشهورة، والقرينة واضحة، وهي المشاهدة والإشارة، فالسامع يعلم أن المتكلم لم يدَّعِ أن ذاك الإنسان حمار حقيقة، وإنما أراد وصفه بشدة البلادة، ولكنه مع ذلك يتراءى له أن لفظ الخبر مخالف للواقع؛ لأن الإنسان لا يكون حمارًا، وهذا الترائي لم يأت من غفلة عن القرينة، بل هي بغاية الوضوح، والسامع عارف لها، ولم يأت من عدم العلاقة، فإن العلاقة موجودة معروفة، وإنما يأتي من عدم ملاحظة العلاقة على ما ينبغي، بالتشبيه والدعوى والتأويل، على ما هو مشروح في كتب البيان.

فأراد المحلِّي أن المتكلم إذا اعتبر العلاقة على ذاك الوجه لم يكن الخبر كذبًا حقيقيًّا، ولا ظاهرًا، والسامع إذا لاحظ ذلك على ما ينبغي زال ما كان يتراءى له، فإن لم يلاحظ فمن تقصيره أُتي.

القرينة

أجمع أهل العلم على أنه لا بد للمجاز من قرينة، سواءً من قال منهم: هي ركن، ومن قال: هي شرط.
অলঙ্কার শাস্ত্রের সুপরিচিত নিয়ম অনুযায়ী। সম্বোধিত ব্যক্তির এটি অনুধাবন করা তার উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল। আর এটি সুনিশ্চিত যে, সম্বোধিত ব্যক্তি কেবল তখনই তা অনুধাবন করতে পারে যখন সেখানে এমন কিছু থাকে যা তাকে নির্দেশ করে; আর এই নির্দেশকই হলো‌‌ অনুষঙ্গ (القرينة)।

তৃতীয়—এবং এটিই সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (التحقيق)—হলো: জাহেরিগণ যে মিথ্যা (الكذب) দাবি করেছেন, তা মূলত বাহ্যিক বিচারে মিথ্যা; আর এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো যা তাঁর উল্লিখিত উদাহরণের মতো প্রতীয়মান হয়। যেমন কোনো নির্বোধকে আপনার বলা: "এটি একটি গাধা"।

এখানে যা প্রতীয়মান হচ্ছে তা প্রকৃত মিথ্যা (الكذب) নয়; কারণ (শব্দ ও অর্থের মধ্যে) সম্পর্ক বিদ্যমান ও সুপরিচিত এবং এর অনুষঙ্গ (القرينة) স্পষ্ট। আর তা হলো প্রত্যক্ষ করা এবং ইঙ্গিত করা। সুতরাং শ্রোতা জানেন যে, বক্তা দাবি করছেন না যে ওই মানুষটি প্রকৃতপক্ষে একটি গাধা; বরং তিনি তাকে চরম নির্বুদ্ধিতার বিশেষণে বিশেষায়িত করতে চেয়েছেন। তা সত্ত্বেও তার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, সংবাদ বা বর্ণনার (الخبر) শব্দগুলো বাস্তবের বিপরীত; কারণ মানুষ কখনো গাধা হতে পারে না। আর এই প্রতীয়মান হওয়াটি অনুষঙ্গ (القرينة) সম্পর্কে অসাবধানতা থেকে আসেনি, বরং তা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং শ্রোতা সে সম্পর্কে অবগত। আবার এটি সম্পর্কের অনুপস্থিতি থেকেও আসেনি, কারণ সম্পর্কটি বিদ্যমান ও পরিচিত। বরং এটি এসেছে যথাযথভাবে সম্পর্কের প্রতি লক্ষ্য না করার কারণে—উপমা, দাবি এবং ব্যাখ্যা (التأويل) করার মাধ্যমে, যেমনটি অলঙ্কার শাস্ত্রের কিতাবগুলোতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সুতরাং আল-মহল্লী বোঝাতে চেয়েছেন যে, বক্তা যদি সম্পর্কটিকে ওই দিক থেকে বিবেচনা করেন, তবে বর্ণনাটি (الخبر) প্রকৃত বা বাহ্যিক কোনো বিচারেই মিথ্যা (الكذب) হবে না। আর শ্রোতা যদি যথাযথভাবে তা অনুধাবন করেন, তবে তার কাছে যা প্রতীয়মান হচ্ছিল তা দূর হয়ে যাবে। আর যদি তিনি তা অনুধাবন করতে না পারেন, তবে তা তার নিজস্ব ত্রুটির কারণেই হবে।

অনুষঙ্গ (القرينة)

বিদ্বানগণ একমত হয়েছেন যে, রূপক (المجاز) ব্যবহারের জন্য অবশ্যই একটি অনুষঙ্গ (القرينة) থাকতে হবে; চাই তাদের মধ্যে কেউ একে মৌলিক উপাদান (ركن) বলুন অথবা শর্ত (شرط) বলুন।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৮৮)
وأجمعوا أنه إذا لم يكن هناك قرينة فالكلام على حقيقته، وإن كان معناه الحقيقي مخالفًا للواقع فأهل السنة والجمهور يسمونه كذبًا، وغيرهم يشترط في تسميته كذبًا أن لا يكون المتكلم يعتقد أنه مطابق للواقع.

والقرينة الصحيحة هي الدليل الصحيح الذي يكون المتكلم عالمًا به وبدلالته على خلاف الظاهر، وبأن من شأنه أن لا يخفى على السامع.
পণ্ডিতগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যদি সেখানে কোনো প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিত (قرينة) না থাকে, তবে কথাটি তার প্রকৃত অর্থেই গণ্য হবে। আর যদি এর প্রকৃত অর্থ বাস্তবের পরিপন্থী হয়, তবে আহলে সুন্নাত এবং জমহুর (جمهور) ওলামায়ে কেরাম একে মিথ্যা (كذب) হিসেবে অভিহিত করেন। পক্ষান্তরে অন্যান্যরা কোনো কথাকে মিথ্যা (كذب) বলার ক্ষেত্রে শর্তারোপ করেন যে, বক্তা যেন এটি বিশ্বাস না করেন যে কথাটি বাস্তবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আর সঠিক প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিত (قرينة) হলো সেই সঠিক প্রমাণ (دليل), যা সম্পর্কে বক্তা অবগত এবং এর দ্বারা বাহ্যিক অর্থ (ظاهر)-এর বিপরীত অর্থ নির্দেশিত হওয়ার বিষয়েও তিনি জ্ঞাত; আর বিষয়টি এমন প্রকৃতির যা শ্রোতার নিকটও গোপন থাকার কথা নয়।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
‌‌المطلب الثاني(1)

في محطِّ المطابقة

المتكلم قد يعتقد الواقعة على ما هي عليه، وقد يعتقدها على خلاف ما هي عليه، ثم قد يريد أن يخبر بها على ما اعتقده، وقد يريد أن يخبر بها على خلافه، وقد يريد أن يكون الخبر صالحًا ولو على بعدٍ لما يعتقده، مفهمًا ظاهرًا لخلاف ما يعتقده.

ومدار الصدق والكذب إنما هو على الواقع في نفس الأمر من جهة، وعلى مدلول الخبر نفسه من الجهة الأخرى، فإن تطابقا فصدقٌ، وإلا فكذبٌ.

ومدلول الخبر هو ما حقُّه أن يفهم منه مع ملاحظة القرائن، فإذا سمعنا خبرًا، فنظرنا فيه، ولاحظنا القرائن فوجدناه مفهمًا لمعنى، فزعم زاعم أنه بذاك المعنى غير مطابق للواقع= كان بزعمه هذا زاعمًا أن الخبر كذب، وأن المخبر به كاذبٌ.

ولا يدفع هذا أن يقول: لعل المتكلم أراد بهذا الخبر غير ظاهره، ونقول له: إن كان المتكلم لم يجهل ولم يخطئ، فقد أراد ــ ولا بدَّ ــ أن يكون خبره هذا مفهمًا لما هو مفهم له، فإن كان مع ذلك تأول في نفسه معنى آخر فلا شأن لنا به؛ لأن الكلام إنما وضع للإفهام، وحق المتكلم أن يكون كلامه مع ما ينصبه من القرائن صورة مطابقة للمعنى الذي في نفسه.

ولا ريب أن الخبر إنما يطابق حق المطابقة ما أراد المتكلم أن يكون

--------------------------------------------

(1) كتب قبله: «بسم الله الرحمن الرحيم».
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ(১)

বাস্তবতার সাথে সংগতির (المطابقة) প্রেক্ষিত প্রসঙ্গে

বক্তা কখনো কোনো ঘটনাকে তার প্রকৃত রূপ অনুযায়ী বিশ্বাস করতে পারেন, আবার কখনো বাস্তবতার বিপরীতেও বিশ্বাস করতে পারেন। অতঃপর তিনি কখনো ঘটনাটিকে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী বর্ণনা করার ইচ্ছা পোষণ করেন, আবার কখনো তা বিশ্বাসের বিপরীতে সংবাদ (الخبر) দেওয়ার ইচ্ছা করেন। আবার কখনো তিনি সংবাদটি এমনভাবে দিতে চান যাতে তা—দূরবর্তীভাবে হলেও—তার বিশ্বাসের অনুকূল হতে পারে, যদিও আপাতদৃষ্টিতে তা তার বিশ্বাসের বিপরীত অর্থ প্রদান করে।

সত্যতা (الصدق) ও মিথ্যা (الكذب) হওয়ার ভিত্তি মূলত একদিক থেকে ঘটনার বাস্তব রূপ এবং অন্যদিকে সংবাদের (الخبر) নিজস্ব তাৎপর্যের (مدلول) ওপর। যদি এই দুইটির মধ্যে সংগতি (المطابقة) থাকে তবে তা সত্য (الصدق), অন্যথায় তা মিথ্যা (الكذب)।

সংবাদের (الخبر) তাৎপর্য (مدلول) হলো তা-ই, যা পারিপার্শ্বিক আলামতসমূহ (قرائن) বিবেচনার মাধ্যমে তা থেকে অনুধাবন করা বাঞ্ছনীয়। সুতরাং যখন আমরা কোনো সংবাদ শুনি এবং তা নিয়ে চিন্তা করি ও পারিপার্শ্বিক আলামতসমূহ (قرائن) লক্ষ্য করি, তখন যদি দেখি যে তা কোনো একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করছে, অথচ কেউ দাবি করে যে সেই অর্থটি বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়—তবে সে তার এই দাবির মাধ্যমে মূলত সংবাদটিকে মিথ্যা (الكذب) এবং সংবাদদাতাকে মিথ্যাবাদী (كاذب) হিসেবেই সাব্যস্ত করল।

এক্ষেত্রে কেউ যদি বলে, "হয়তো বক্তা এই সংবাদের মাধ্যমে এর প্রকাশ্য অর্থ (الظاهر) উদ্দেশ্য করেননি"—তবে তার এ কথার দ্বারা পূর্বোক্ত বিষয়টি নাকচ হয়ে যায় না। আমরা তাকে বলব: যদি বক্তা অজ্ঞ না হয়ে থাকেন এবং কোনো ভুল না করে থাকেন, তবে তিনি অবশ্যই চেয়েছেন যে তার এই সংবাদটি সেই অর্থই প্রকাশ করুক যা তা থেকে বোঝা যাচ্ছে। এরপরও যদি তিনি মনে মনে ভিন্ন কোনো অর্থের ব্যাখ্যা (تأول) পোষণ করে থাকেন, তবে সেটি আমাদের বিচার্য বিষয় নয়; কারণ কথা বা ভাষা সৃষ্টিই করা হয়েছে কোনো কিছু বোঝানোর জন্য। আর বক্তার দায়িত্ব হলো—প্রয়োজনীয় আলামতসমূহ (قرائن) যুক্ত করার মাধ্যমে—তার বক্তব্যকে এমন এক অবয়ব দান করা যা তার মনের অর্থের সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ (المطابقة) হয়।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সংবাদটি যথার্থভাবে কেবল তখনই সংগতিপূর্ণ (المطابقة) হয়, যখন বক্তা যা হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন...

--------------------------------------------

(১) এর আগে লেখা ছিল: "বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম"।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৯০)
مفهمًا له، فهذا هو المعنى النفسي الذي حق أن يعتد به، وعليه ينبغي أن يحمل ما يقع في كلام أهل العلم «المراد كذا»، «لعل المراد كذا»، ونحو ذلك، ومن قال غير هذا فقد غلط.
তাকে বিষয়টি বোধগম্য করার মাধ্যমে; এটিই হলো সেই মনস্তাত্ত্বিক মর্মার্থ যা ধর্তব্য (يعتد به) হওয়ার যোগ্য, এবং বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্যে ‘উদ্দেশ্য হলো এমন’, ‘সম্ভবত উদ্দেশ্য হলো এমন’ এবং এই জাতীয় যা কিছু পরিলক্ষিত হয়, তাকে এরই ওপর প্রয়োগ করা বাঞ্ছনীয়। আর যে ব্যক্তি এর বিপরীতে কিছু বলে, সে নিশ্চিতভাবেই ভুল (غلط) করেছে।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৯১)
‌‌المطلب الثالث

في المجاز

ليس المراد هنا الإفاضة في أحكام المجاز، وإنما نُلِمُّ منه بما يتعلق بموضوعنا على الاختصار.

اتفق القائلون بالمجاز على أن المجاز المفرد هو: «الكلمة المستعملة في غير ما وُضِعت له في اصطلاحٍ به التخاطب على وجهٍ يصح، وذلك بأن يكون بين المعنى الموضوع له والمعنى المستعمل فيه علاقة معتبرة»(1).

هذا أصح تعريف استقر عليه الأمر. وبقية التعريفات تحوم حول هذا المعنى.

ثم اتفقوا على أنه لا بد للمجاز من قرينة معتبرة، إلا أن كثيرًا من الأصوليين يجعلون القرينة شرطًا لصحة الاستعمال بقصد الإفهام، وصحة الحمل في فهم الكلام.

فعندهم أن من رأى إنسانًا مشؤومًا فقال: «رأيت غرابًا» مريدًا بالغراب ذاك الإنسان= كان هذا مجازًا، لكنه يجب على المتكلم إذا أراد الإفهام أن ينصب قرينة.

وكذلك لا يسوغ لمن يسمع آخر يقول: «رأيت غرابًا» أن يحمله على معنى «رأيت إنسانًا مشؤومًا» إلا إذا كانت هناك قرينة معتبرة.

وعُلم من هذا ــ مع ما تقدم ــ أن من لم ير غرابًا، ولكن رأى إنسانًا

--------------------------------------------

(1) انظر «فيض الفتاح» (4/ 132) و «شروح التلخيص» (4/ 22 - 26).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

রূপক (المجاز) প্রসঙ্গে

এখানে রূপক (المجاز)-এর বিধানাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা উদ্দেশ্য নয়, বরং আমরা কেবল সংক্ষেপে আমাদের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশটুকুই আলোচনা করব।

যারা রূপক (المجاز)-এর প্রবক্তা, তারা এ বিষয়ে একমত যে একক রূপক (المجاز المفرد) হলো: «এমন শব্দ যা আলাপ-আলোচনার পরিভাষায় তার মূল নির্ধারিত অর্থ ব্যতিরেকে অন্য অর্থে সঠিক উপায়ে ব্যবহৃত হয়; আর তা এমনভাবে হতে হয় যেন শব্দটির মূল নির্ধারিত অর্থ এবং ব্যবহৃত অর্থের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে»(১)।

এটিই সর্বাধিক সঠিক সংজ্ঞা যার ওপর বিষয়টি স্থির হয়েছে। অন্যান্য সংজ্ঞাগুলোও এই অর্থের চতুষ্পার্শ্বেই আবর্তিত হয়।

অতঃপর তারা একমত হয়েছেন যে, রূপক (المجاز)-এর জন্য একটি গ্রহণযোগ্য অনুষঙ্গ বা নির্দেশক (قرينة) থাকা আবশ্যক। তবে অনেক উসুলবিদ (الأصوليين) এই অনুষঙ্গ বা নির্দেশক (قرينة)-কে শ্রোতাকে বোঝানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহারের শুদ্ধতার জন্য এবং কথা বোঝার ক্ষেত্রে তার অর্থ গ্রহণের শুদ্ধতার জন্য শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন।

তাদের নিকট বিষয়টি হলো, যদি কেউ কোনো অশুভ ব্যক্তিকে দেখে বলে: «আমি একটি কাক দেখেছি» এবং কাক দ্বারা সেই ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে—তবে তা রূপক (مجاز) হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু বক্তা যদি শ্রোতাকে বিষয়টি বোঝাতে চায়, তবে তার ওপর একটি অনুষঙ্গ বা নির্দেশক (قرينة) স্থাপন করা আবশ্যক।

অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি অন্যকে বলতে শুনল: «আমি একটি কাক দেখেছি», তার জন্য একে «আমি একজন অশুভ ব্যক্তিকে দেখেছি» অর্থে গ্রহণ করা বৈধ হবে না, যতক্ষণ না সেখানে কোনো গ্রহণযোগ্য অনুষঙ্গ বা নির্দেশক (قرينة) বিদ্যমান থাকে।

এর দ্বারা—এবং পূর্বালোচিত বিষয় থেকে—এটি জানা গেল যে, যে ব্যক্তি কাক দেখেনি, বরং একজন মানুষ দেখেছে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন ফায়দুল ফাত্তাহ (৪/ ১৩২) এবং শুরুহুত তালখিস (৪/ ২২ - ২৬)।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৯২)
مشؤومًا، فقال مخبرًا لغيره: «رأيت غرابًا»، وأراد إنسانًا مشؤومًا، ولكن لم ينصب قرينة= يكون كاذبًا، ويكون الكلام كذبًا؛ لأن المعنى المفهوم منه غير مطابق للواقع.

وهؤلاء قد لا يذكرون القرينة عند تعريف المجاز؛ لأنها عندهم ليست ركنًا له، ولكن يعلم من مواضع أخرى من كلامهم أنه لا بد منها، على حسب ما ذكرنا.

ونقلوا عن الظاهرية منع وقوع المجاز في كلام الله عز وجل وكلام رسوله. قال المحلي في «شرح جمع الجوامع»(1): «قالوا: لأنه كذبٌ بحسب الظاهر، كما في قولك للبليد: هذا حمار، وكلام الله ورسوله منزه عن الكذب».

ثم قال: «وأجيب: بأنه لا كذب مع اعتبار العلاقة».

اعترضه بعضهم(2)، فقال: «إذا تأملت قول المجيب: مع اعتبار العلاقة، وقول المستدل: بحسب الظاهر= وجدت الجواب غير ملاقٍ للدليل، والمناسب سوق الدليل مجردًا عن قوله: بحسب الظاهر».

أقول: سوق الدليل مجردًا عنها لا وجه له؛ لأنها من كلام المستدل، فأنى يجوز للحاكي إسقاطها؟

ثم قال المعترض(3): «ثم الكذب لازم لإرادة المعنى الحقيقي،

--------------------------------------------

(1) (1/ 308) مع حاشية البناني.

(2) هو البناني في حاشيته.

(3) أي البناني في الموضع المذكور.
অশুভ, অতঃপর সে অন্যকে সংবাদ প্রদান করে বলল: «আমি একটি দাঁড়কাক দেখেছি», অথচ সে একজন অশুভ ব্যক্তিকে বুঝাতে চেয়েছিল, কিন্তু কোনো ইঙ্গিত (قرينة) উপস্থাপন করেনি = তবে সে মিথ্যাবাদী (كاذب) হবে এবং কথাটি মিথ্যা (كذب) হিসেবে গণ্য হবে; কারণ তা থেকে যে অর্থ অনুধাবন করা হচ্ছে তা বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।

আর তারা রূপক (مجاز) এর সংজ্ঞায়নের সময় হয়তো ইঙ্গিত (قرينة) উল্লেখ করেন না; কারণ তাদের নিকট এটি তার কোনো রুকন (ركن) নয়, তবে তাদের আলোচনার অন্যান্য স্থান থেকে জানা যায় যে এটি আবশ্যক, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।

আর তারা যাহিরি (الظاهرية) মাজহাবের অনুসারীদের থেকে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের কালামে রূপক (مجاز) সংঘটিত হওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। আল-মহাল্লি ‘শারহু জামউল জাওয়ামি’ গ্রন্থে বলেছেন(১): «তারা বলেছেন: কারণ এটি বাহ্যিক দিক থেকে মিথ্যা (كذب), যেমন আপনার কোনো নির্বোধ ব্যক্তিকে বলা: 'এটি একটি গাধা', অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালাম মিথ্যা (كذب) থেকে পবিত্র»।

অতঃপর তিনি বলেন: «এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: রূপক সম্পর্ক (العلاقة) বিবেচনা করলে তা আর মিথ্যা (كذب) থাকে না»।

তাদের কেউ কেউ এর ওপর আপত্তি (اعترض) করেছেন(২) এবং বলেছেন: «যখন আপনি উত্তরদাতার উক্তি: 'সম্পর্ক (العلاقة) বিবেচনা করলে' এবং দলিল প্রদানকারীর উক্তি: 'বাহ্যিক দিক থেকে' নিয়ে চিন্তা করবেন = তখন আপনি উত্তরটিকে দলিলের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পাবেন। আর যথাযথ হতো দলিলটিকে 'বাহ্যিক দিক থেকে' কথাটি ছাড়াই উপস্থাপন করা»।

আমি বলি: এটি ছাড়া দলিল উপস্থাপন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই; কারণ এটি দলিল প্রদানকারীর নিজস্ব বক্তব্য, সুতরাং বর্ণনাকারীর জন্য তা বাদ দেওয়া কীভাবে বৈধ হতে পারে?

অতঃপর আপত্তিকারী (المعترض)(৩) বলেন: «অতঃপর প্রকৃত অর্থ (المعنى الحقيقي) গ্রহণ করার জন্য মিথ্যা (كذب) হওয়া অপরিহার্য...

--------------------------------------------

(১) (১/ ৩০৮) আল-বান্নানির টীকা (حاشية) সহ।

(২) তিনি হলেন আল-বান্নানি তাঁর টীকায় (حاشية)।

(৩) অর্থাৎ উল্লেখিত স্থানে আল-বান্নানি।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৯৩)
فارتفاعه إنما هو بإرادة المعنى المجازي، والدال عليه هو القرينة، فانتفاء الكذب لأجل وجود القرينة».

أقول: الظاهرية يعرفون ويعترفون أن في الكتاب والسنة ما لا يحصى من الكلمات المستعملة في معانٍ لولا القرينة لكانت ظاهرة في غيرها، ولكنهم يزعمون أن ذلك كله من الحقيقة، ويقولون: غاية الأمر أن العرب وضعت الكلمة لهذا المعنى بحيث يفهم منها مطلقًا، ووضعتها لهذا المعنى الثاني بحيث يفهم منها مع القرينة، ككلمة «أسد» للسبع المعروف وللرجل الشجاع، وهي على كلا الحالين حقيقة، إذ لم تستعمل إلا فيما وضعت له.

فمحطُّ إنكارهم إنما هو أن تأتي في الكتاب والسنة كلمة مستعملة في معنى لم توضع له في أصل اللغة.

وقولهم: «لأنه كذب بحسب الظاهر» يعنون به أن العربي المخاطب بلغة العرب إنما يحمل الكلمة على ما وضعت له في أصل اللغة، فإذا سمع كلمة «أسد» عرف أنها موضوعة للسبع المعروف وللرجل الشجاع، فإذا رآها مجردة عن القرينة عرف أن المراد بها السبع المعروف، وإذا رآها مع القرينة عرف أن المراد بها الرجل الشجاع، فهي عنده بمنزلة حروف (ج ح خ) في الكتابة، الشكل موضوع لكل من الثلاثة، فإذا أهمل عرف أنه الحاء المهملة، وإذا نقط من تحته عرف أنه الجيم، وإذا نقط من فوقه عرف أنه الخاء المعجمة، ومع ذلك فالشكل مشترك بين الحروف الثلاثة، أصلٌ في كل منها.

فعلى هذا فإذا أشرت لعربي إلى رجلٍ، فقلت: «هذا أسد» عرف فورًا أنك تريد أنه شجاع، لكن إذا أشرت إلى رجلٍ، فقلت: هذا حمار، فإنه
এর নিরসন মূলত রূপক (مجازي) অর্থ গ্রহণের উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে এবং তা নির্দেশকারী বিষয় হলো অনুষঙ্গ (قرينة); সুতরাং অনুষঙ্গের (قرينة) উপস্থিতির কারণেই মিথ্যার সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়।

আমি বলব: জাহিরিয়্যাহরা জানেন এবং স্বীকার করেন যে, কুরআন ও সুন্নাহর মাঝে এমন অসংখ্য শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যেগুলোর অর্থ অনুষঙ্গ (قرينة) ব্যতিরেকে একরূপ হতো এবং অনুষঙ্গের কারণে অন্যরূপ প্রকাশ্য (ظاهرة) হতো। কিন্তু তারা দাবি করেন যে, এ সবই হলো প্রকৃত (حقيقة) অর্থ। তারা বলেন: বিষয়টির মূল কথা হলো, আরবরা কোনো একটি শব্দকে একটি বিশেষ অর্থের জন্য নির্ধারণ করেছে যা সাধারণভাবে বোঝা যায়, আবার সেই একই শব্দকে দ্বিতীয় অন্য একটি অর্থের জন্যও নির্ধারণ করেছে যা কেবল অনুষঙ্গের (قرينة) মাধ্যমেই বোঝা সম্ভব। যেমন: 'আসাদ' (সিংহ) শব্দটি পরিচিত হিংস্র প্রাণীর জন্য এবং সাহসী ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত; এমতাবস্থায় উভয় ক্ষেত্রেই এটি প্রকৃত (حقيقة) অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ এটি যে অর্থের জন্য নির্ধারিত ছিল তা ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়নি।

সুতরাং তাদের আপত্তির মূল বিষয় হলো কুরআন ও সুন্নাহর মাঝে এমন কোনো শব্দ ব্যবহৃত হওয়া যা ভাষার মূলে সেই অর্থের জন্য নির্ধারিত ছিল না।

আর তাদের কথা: "কেননা এটি আপাতদৃষ্টিতে (بحسب الظاهر) মিথ্যা," এর দ্বারা তারা বোঝাতে চেয়েছেন যে, আরবি ভাষায় সম্বোধিত কোনো ব্যক্তি কোনো শব্দকে সেই অর্থের ওপরই প্রয়োগ করে যার জন্য সেটি ভাষার মূলে নির্ধারিত ছিল। সুতরাং যখন সে 'আসাদ' (সিংহ) শব্দটি শোনে, তখন সে জানে যে এটি পরিচিত হিংস্র প্রাণী এবং সাহসী ব্যক্তি—উভয় অর্থেই ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। এমতাবস্থায় যখন সে শব্দটি অনুষঙ্গ (قرينة) মুক্ত অবস্থায় দেখে, তখন সে বোঝে যে এর দ্বারা পরিচিত হিংস্র প্রাণীই উদ্দেশ্য। আর যখন সে এটি অনুষঙ্গের (قرينة) সাথে দেখে, তখন বোঝে যে এর দ্বারা সাহসী ব্যক্তি উদ্দেশ্য। এটি তার নিকট লিখনের ক্ষেত্রে (জ, হ, খ) এই বর্ণগুলোর মতো; যাদের মূল কাঠামো এই তিনটির প্রত্যেকের জন্যই নির্ধারিত। যখন এটি বিন্দুহীন থাকে, তখন সে বোঝে যে এটি 'হা' (الحاء المهملة), যখন নিচে বিন্দু দেওয়া হয়, তখন বোঝে যে এটি 'জিম' (الجيم), আর যখন উপরে বিন্দু দেওয়া হয়, তখন বোঝে যে এটি 'খা' (الخاء المعجمة)। তা সত্ত্বেও, মূল কাঠামোটি এই তিন বর্ণের মধ্যেই সাধারণ (مشترك) এবং প্রত্যেকের জন্যই এটি মূল ভিত্তি।

সুতরাং এই নিয়মানুযায়ী, আপনি যদি কোনো আরবের সামনে কোনো ব্যক্তির দিকে ইশারা করে বলেন: "এ একজন সিংহ," তবে সে তাৎক্ষণিকভাবে বুঝে নেবে যে আপনি তার সাহসিকতা বোঝাচ্ছেন। কিন্তু যদি আপনি কোনো ব্যক্তির দিকে ইশারা করে বলেন: "এ একজন গাধা," তবে সে...
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৯৪)
يتراءى له أن هذا كذب بمنزلة أن تشير له إلى كتابٍ، وتقول: هذا فرس. ثم إذا علم أنك إنما أردت البلادة فهمها، ولكنه كما يفهم المراد من الكلمة الأعجمية.

فيقول الظاهرية: إنه ليس في قولك للرجل: «هذا أسد» كذبٌ في الظاهر، فإن الكلمة موضوعة للرجل الشجاع بشرط القرينة، وقد وُجِدت، بخلاف قولك: «هذا حمار» فإنه كذبٌ في الظاهر، لأن الكلمة لم توضع في أصل اللغة لذلك.

ونظير قولك: «هذا أسد» أن تشير لكاتبٍ إلى حرف «ح» قائلًا: هذا جيم.

ونظير قولك: «هذا حمار» أن تشير له إلى رقم (3) قائلًا: هذا جيم. فإنه يتراءى له أن هذا كذبٌ، حتى يتنبه للمناسبة بأن حرف (ج) يُعدُّ في حساب الجُمَّل بثلاثة.

فتدبر ما قدمناه وتحقَّقْه، وبذلك يظهر لك أن جواب المحلي ــ تبعًا لمن تقدمه ــ هو المناسب لقول الظاهرية.

وقد ذكر هذا الجواب عينه البهاء السبكي في «عروس الأفراح»(1).

وحاصله: أنه قد عُرِف عن العرب أنها إذا وجدت علاقة معتبرة بين المعنيين، يطلقون لفظ أحدهما على الآخر، وينصبون قرينة، وإن لم يسمعوا من تقدمهم استعمل تلك الكلمة في ذاك المعنى.

وبهذا عُلِم أن الكلمات كما هي موضوعة لمعانيها الخاصة، فهي

--------------------------------------------

(1) انظره ضمن «شروح التلخيص» (4/ 68 - 69).
তাঁর কাছে মনে হয় যে এটি একটি মিথ্যা (كذب), যেন আপনি একটি বইয়ের দিকে ইশারা করে বললেন: এটি একটি ঘোড়া। অতঃপর যখন তিনি জানতে পারেন যে আপনি এর মাধ্যমে কেবল জড়বুদ্ধিতা বা নির্বুদ্ধিতা বোঝাতে চেয়েছেন, তখন তিনি তা বুঝতে পারেন; তবে তিনি তা সেভাবেই বোঝেন যেভাবে কোনো বিদেশি শব্দের অর্থ বোঝা হয়।

যাহিরিপন্থীরা (الظاهرية) বলেন: কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে আপনার বলা 'এটি একটি সিংহ' কথাটির বাহ্যিক অর্থে কোনো মিথ্যা (كذب) নেই; কারণ শব্দটি বীর পুরুষের জন্য নির্ধারিত হয়েছে প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিতের শর্তে, আর এখানে তা পাওয়া গিয়েছে। পক্ষান্তরে আপনার বলা 'এটি একটি গাধা' কথাটি বাহ্যিকভাবে মিথ্যা (كذب); কারণ মূল ভাষায় শব্দটি এই অর্থের জন্য নির্ধারিত হয়নি।

আপনার বলা 'এটি একটি সিংহ' কথাটির দৃষ্টান্ত হলো—একজন লেখকের কাছে 'হা' (ح) অক্ষরের দিকে ইঙ্গিত করে বলা: এটি 'জীম' (ج)।

আর আপনার বলা 'এটি একটি গাধা' কথাটির দৃষ্টান্ত হলো—কাউকে '৩' সংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করে বলা: এটি 'জীম' (ج)। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে মনে হবে এটি একটি মিথ্যা (كذب), যতক্ষণ না তিনি এই সামঞ্জস্যের প্রতি লক্ষ্য করেন যে, আবজাদ পদ্ধতি বা জুম্মাল গণনায় (حساب الجُمَّل) 'জীম' (ج) অক্ষরটিকে তিন হিসেবে গণ্য করা হয়।

সুতরাং আমরা যা পেশ করেছি তা নিয়ে চিন্তা করুন এবং তা যাচাই করুন; এর মাধ্যমে আপনার কাছে স্পষ্ট হবে যে, আল-মাহাল্লির উত্তরটিই—পূর্ববর্তীদের অনুসরণে—যাহিরিপন্থীদের (الظاهرية) মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাহাউদ্দিন আস-সুবকি হুবহু এই উত্তরটিই 'আরুসুল আফরাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন(১)।

এর সারকথা (حاصل) হলো: আরবদের থেকে এটি জানা গিয়েছে যে, যখন তারা দুটি অর্থের মধ্যে কোনো গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক খুঁজে পায়, তখন তারা একটির শব্দ অন্যটির ওপর প্রয়োগ করে এবং একটি ইঙ্গিত সাব্যস্ত করে, যদিও তারা তাদের পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে সেই শব্দটিকে ওই অর্থে ব্যবহার করতে না শুনে থাকে।

এর দ্বারা জানা গেল যে, শব্দসমূহ যেভাবে তাদের নিজস্ব অর্থের জন্য নির্ধারিত, ঠিক তেমনি তারা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শুরুহুত তালখিস (৪/ ৬৮-৬৯)।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৯৫)
موضوعة أيضًا لتستعمل مع القرينة في كل ما بينها وبينه علاقة معتبرة.

وإذا ثبت وجود الوضع صارت كلمة «حمار» على فرض أنها لم تُسمع عن المتقدمين مستعملة في البليد، بمنزلة كلمة «أسد»؛ لثبوت أن تلك موضوعة، كما أن هذه موضوعة، وإذا ثبت الوضع بحجته لم يلتفت إلى عدم السماع، كما في صيغ اسم الفاعل والمفعول وغيرها.

أما البيانيون وغيرهم فعندهم أن نصب القرينة ركنٌ للمجاز، لا شرطٌ فقط، وزادوا في التعريف قولهم(1): «مع قرينة عدم إرادة المعنى الموضوع له».

ثم ذكروا أن الكلمة المستعملة فيما لم توضع له في اصطلاحٍ به التخاطب تكون على أقسام:

الأول: المجاز، وهو ما لُوحِظت فيه علاقة معتبرة، ونُصبت معه قرينة معتبرة دالة على عدم إرادة المعنى الموضوع له.

الثاني: الكناية، وهي كالمجاز، إلا أن القرينة فيها لا تدل على عدم إرادة المعنى الموضوع له، بل تدل على إرادة غيره.

الثالث: الارتجال، وهو أن تطلق الكلمة على وجه استئناف وضع جديد، كمن يشير إلى طفل ولد له، فيقول: هذا طلحة، ويريد تسميته بذلك.

الرابع: الغلط، كأن تشير إلى كتاب، تريد أن تقول: «هذا كتاب» فيجري على لسانك: «هذا فرس».

--------------------------------------------

(1) انظر «فيض الفتاح» (4/ 132) و «شروح التلخيص» (4/ 25).
এটিও নির্ধারিত (موضوعة) হয়েছে যেন সংকেতের (القرينة) সাথে এমন সব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যেখানে শব্দ দুটির মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক (علاقة معتبرة) বিদ্যমান।

যখন ভাষাতাত্ত্বিক নির্ধারণের (الوضع) অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়, তখন ‘গাধা’ শব্দটি—ধরে নেওয়া যাক এটি পূর্ববর্তীদের (المتقدمين) থেকে শোনা যায়নি—নির্বোধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে, যেমনটি ‘সিংহ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়; কারণ এটি প্রমাণিত যে সেটি নির্ধারিত (موضوعة), ঠিক যেমন এটিও নির্ধারিত (موضوعة)। আর যখন দলিলের মাধ্যমে নির্ধারণ (الوضع) প্রমাণিত হয়ে যায়, তখন তা শোনা না যাওয়ার (عدم السماع) বিষয়টি আর গণ্য করা হয় না, যেমনটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل), কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول) এবং অন্যান্য রূপের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

পক্ষান্তরে অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ (البيانيون) এবং অন্যদের মতে, সংকেত (القرينة) স্থাপন করা রূপকের (المجاز) জন্য একটি রুকন বা মূল স্তম্ভ (ركن), এটি কেবল শর্ত (شرط) নয়। তারা সংজ্ঞায় এই কথাটি বৃদ্ধি করেছেন(১): "নির্ধারিত মূল অর্থ (المعنى الموضوع له) উদ্দেশ্য না হওয়ার সংকেতের (قرينة) সাথে।"

অতঃপর তারা উল্লেখ করেছেন যে, কথোপকথনের পরিভাষায় (اصطلاح) যে শব্দ তার জন্য নির্ধারিত নয় এমন অর্থে ব্যবহৃত হয়, তা কয়েক প্রকার হতে পারে:

প্রথম: রূপক (المجاز), এটি এমন শব্দ যাতে একটি গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক (علاقة معتبرة) লক্ষ করা হয় এবং এর সাথে এমন একটি গ্রহণযোগ্য সংকেত (قرينة معتبرة) স্থাপন করা হয় যা নির্ধারিত মূল অর্থ (المعنى الموضوع له) উদ্দেশ্য না হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে।

দ্বিতীয়: পরোক্ষ ইঙ্গিত (الكناية), এটি রূপকের (المجاز) মতোই, তবে এতে সংকেতটি (القرينة) নির্ধারিত মূল অর্থ (المعنى الموضوع له) উদ্দেশ্য না হওয়ার ওপর প্রমাণ করে না, বরং এটি অন্য অর্থ উদ্দেশ্য হওয়ার ওপর প্রমাণ করে।

তৃতীয়: তাৎক্ষণিক নামকরণ (الارتجال), এটি হলো কোনো নতুন নামকরণের (وضع جديد) সূচনা হিসেবে শব্দ প্রয়োগ করা; যেমন কেউ তার নবজাতক শিশুর দিকে ইঙ্গিত করে বলল: "এটি তালহা", এবং সে এর মাধ্যমে তার নাম রাখা উদ্দেশ্য করে।

চতুর্থ: ভুল (الغلط), যেমন আপনি একটি বইয়ের দিকে ইশারা করে বলতে চাইলেন: "এটি একটি বই", কিন্তু আপনার জিহ্বায় চলে এল: "এটি একটি ঘোড়া"।

--------------------------------------------

(১) দেখুন 'ফায়দুল ফাত্তাহ' (৪/ ১৩২) এবং 'শুয়ুহুত তালখিস' (৪/ ২৫)।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৯৬)
الخامس: اللغو، كأن تشير لبصيرٍ إلى كتاب، قائلًا: «هذا فرس»، قاصدًا هذا القول، مع عدم ملاحظتك لعلاقة معتبرة، ومع علمك بالقرينة الدالة للمخاطب على أن المشار إليه ليس بفرس.

أقول: وهذا الخامس يصدق عليه تعريف الكذب.

فإن قيل: فلماذا لم يذكروا في الأقسام ما إذا استعملت الكلمة في غير ما وضعت له لعلاقة معتبرة، ولكن لم تُنصب قرينة معتبرة، كما إذا كنت لم تر غرابًا، وإنما رأيت رجلًا مشؤومًا، فقلت لمن لا يعرف الواقع: «رأيت غرابًا»، ولم تنصب قرينة.

قلت: هذه الصورة غير واردة عليهم؛ لأنهم يحكمون فيها بأن الكلمة إنما استعملت فيما وضعت له، ولذلك إذا تبين لهم الواقع جزموا بأن هذا الخبر كذب. فقد ذكروا في الكلام على الإسناد العقلي أن من أقسام الحقيقة قولك: «جاء زيد» وأنت تعلم أنه لم يجئ.

وقال السعد في «المطول»(1) بعد هذا المثال: «فهذا أيضًا إسنادٌ إلى ما هو له عنده في الظاهر؛ لأن الكاذب لا ينصب قرينة على خلاف إرادته».

ثم ذكر بعد ذلك ما يؤخذ منه أنه لو كانت مع هذا قرينة، فإن كانت هناك علاقة فمجازٌ، وإلا فمن القسم الخامس الذي سميناه لغوًا.

فعُلِم من هذا أنه عند عدم القرينة يكون كذبًا، سواءً لوحظت علاقة، أم لا.

--------------------------------------------

(1) انظر «فيض الفتاح» (2/ 159).
পঞ্চম: অসার বাক্য (لغو), যেমন কোনো দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিকে একটি বই দেখিয়ে বলা: «এটি একটি ঘোড়া», এই বাক্যটিই উদ্দেশ্য হওয়া সত্ত্বেও, যেখানে আপনার মাঝে কোনো গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক (علاقة معتبرة) লক্ষ্য করার অভাব রয়েছে, এবং আপনার এ বিষয়ে জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও যে শ্রোতার কাছে এমন ইঙ্গিত (قرينة) বিদ্যমান যা প্রমাণ করে যে নির্দেশিত বস্তুটি ঘোড়া নয়।

আমি বলব: আর এই পঞ্চম প্রকারের ক্ষেত্রে মিথ্যার (كذب) সংজ্ঞা প্রযোজ্য হয়।

যদি বলা হয়: তবে তারা প্রকারভেদের (أقسام) মধ্যে সেই বিষয়টি কেন উল্লেখ করেননি যেখানে কোনো শব্দকে তার মূল অর্থের পরিবর্তে অন্য অর্থে ব্যবহার করা হয় একটি গ্রহণযোগ্য সম্পর্কের (علاقة معتبرة) কারণে, কিন্তু কোনো গ্রহণযোগ্য ইঙ্গিত (قرينة معتبرة) স্থাপন করা হয়নি? যেমনটি ঘটে যখন আপনি কোনো দাঁড়কাক দেখেননি, বরং একজন অশুভ ব্যক্তিকে দেখেছেন, অতঃপর বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে বললেন: «আমি একটি দাঁড়কাক দেখেছি», অথচ আপনি কোনো ইঙ্গিত (قرينة) প্রদান করেননি।

আমি বলব: এই বিষয়টি তাদের ওপর আপতিত হয় না; কারণ তারা এক্ষেত্রে এই ফয়সালা করেন যে, শব্দটি তার মূল অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, আর এই কারণেই যখন তাদের কাছে বাস্তব অবস্থা স্পষ্ট হয়, তখন তারা নিশ্চিতভাবে বলেন যে এই সংবাদটি (الخبر) একটি মিথ্যা (كذب)। তারা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্বন্ধ (الإسناد العقلي) বিষয়ক আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, প্রকৃত অর্থের (الحقيقة) প্রকারসমূহের মধ্যে একটি হলো আপনার এই উক্তি: «যায়েদ এসেছে», অথচ আপনি জানেন যে সে আসেনি।

আর আস-সা'দ তার আল-মুতাউওয়াল গ্রন্থে এই উদাহরণের পরে বলেছেন: «এটিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে বক্তার নিকট যা হওয়ার কথা তার দিকেই সম্বন্ধ (إسناد) করা; কারণ মিথ্যাবাদী (الكاذب) তার ইচ্ছার বিপরীতে কোনো ইঙ্গিত (قرينة) প্রদান করে না»।

অতঃপর তিনি এরপর এমন বিষয় উল্লেখ করেছেন যা থেকে বোঝা যায় যে, যদি এর সাথে কোনো ইঙ্গিত (قرينة) থাকত, তবে সেখানে যদি কোনো সম্পর্ক (علاقة) বিদ্যমান থাকে তবে তা রূপক (مجاز) হিসেবে গণ্য হবে, অন্যথায় তা পঞ্চম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে যাকে আমরা অসার বাক্য (لغو) হিসেবে নামকরণ করেছি।

এর থেকে জানা গেল যে, ইঙ্গিতের (القرينة) অনুপস্থিতিতে তা মিথ্যা (كذب) হিসেবে গণ্য হবে, চাই সেখানে কোনো সম্পর্কের (علاقة) বিষয়টি লক্ষ্য করা হোক বা না হোক।

--------------------------------------------

(1) দেখুন ফায়যুল ফাত্তাহ (২/ ১৫৯)।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৯৭)
وذكروا في الفرق بين الاستعارة والكذب ما يفيد هذا أيضًا، ووقع لبعضهم تخليط هناك، فلا بأس بتحرير المقام.

ذكر السكاكي في «المفتاح»(1) أن الاستعارة ــ وهي مجاز كما لا يخفى ـ تفارق الدعوى الباطلة ببناء الدعوى في الاستعارة على التأويل، أي بملاحظة العلاقة المعتبرة، وتفارق الكذب بنصب القرينة المانعة عن إرادة الظاهر، يعني: والدعوى الباطلة لا تأويل معها، والكاذب لا ينصب قرينة.

وهذا صريح ــ كما لا يخفى ــ في أنها إذا فقدت القرينة، والكلام بظاهره غير مطابق للواقع، فهو كذبٌ، سواءٌ أوُجِد تأويل أم لا.

وقد فُسِّرت عبارة «المفتاح» على ثلاثة أوجه:

الأول: نقل عن شارحه العلامة القطب الشيرازي(2)، ذكروا أنه فسر «الباطل» بما يكون على خلاف الواقع، والكذب بما يكون على خلاف ما في الضمير.

الثاني: تفسير شارحه السيد الشريف الجرجاني(3)، ذكر أن السكاكي أراد بالدعوى الباطلة الجهل المركب، وصاحبه مصرٌّ على دعواه، متبرئٌ عن التأويل، فضلًا عن نصب القرينة، وأراد بالكذب: الكذب العمد، وصاحبه لا ينصب القرينة، بل يروج ظاهره، لكن لا مانع من قصد التأويل في ذهنه، فلذا

--------------------------------------------

(1) (ص 373).

(2) انظر «فيض الفتاح» (4/ 152).

(3) المصدر السابق.
রূপক (استعارة) এবং মিথ্যা (كذب)-এর মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়ে তারা এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা এই বিষয়টিও স্পষ্ট করে। সেখানে কারো কারো ক্ষেত্রে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে, তাই এ বিষয়টি পরিষ্কার করতে কোনো বাধা নেই।

সাক্কাকি তার 'মিফতাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, রূপক (استعارة) - যা একটি রূপক অর্থ প্রদানকারী (مجاز) শব্দ এবং এটি সবার কাছেই স্পষ্ট - তা একটি অসত্য দাবি (دعوى باطلة) থেকে পৃথক। কারণ রূপক (استعارة)-এর ক্ষেত্রে দাবিটি ব্যাখ্যা (تأويل)-এর ওপর ভিত্তি করে করা হয়, অর্থাৎ একটি গ্রহণযোগ্য সম্পর্কের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়। অন্যদিকে, এটি মিথ্যা (كذب) থেকে পৃথক হয় এমন একটি ইঙ্গিত (قرينة) স্থাপনের মাধ্যমে যা শব্দটির প্রকাশ্য রূপ (ظاهر) গ্রহণ করতে বাধা দেয়। অর্থাৎ: অসত্য দাবির সাথে কোনো ব্যাখ্যা (تأويل) থাকে না, আর মিথ্যাবাদী কোনো ইঙ্গিত (قرينة) স্থাপন করে না।

এটি সুস্পষ্ট - যেমনটি গোপন নয় - যে যখন কোনো ইঙ্গিত (قرينة) পাওয়া যায় না এবং কথাটি তার প্রকাশ্য রূপে (ظاهر) বাস্তবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না, তখন তা মিথ্যা (كذب) হিসেবে গণ্য হবে, চাই সেখানে কোনো ব্যাখ্যা (تأويل) থাকুক বা না থাকুক।

'মিফতাহ'-এর এই বক্তব্যটি তিনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে:

প্রথম: এর ব্যাখ্যাকার আল্লামা কুতুবুদ্দিন শিরাজী থেকে বর্ণিত হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি 'অসত্য' (باطل) বলতে বাস্তবতার পরিপন্থী বিষয়কে বুঝিয়েছেন এবং 'মিথ্যা' (كذب) বলতে মনের বিশ্বাসের পরিপন্থী বিষয়কে বুঝিয়েছেন।

দ্বিতীয়: এর ব্যাখ্যাকার সাইয়্যিদ শরীফ জুরজানী-এর ব্যাখ্যা। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাক্কাকি অসত্য দাবি (دعوى باطلة) বলতে জটিল মূর্খতা (جهل مركب) বুঝিয়েছেন, যার অধিকারী ব্যক্তি তার দাবির ওপর অটল থাকে এবং ব্যাখ্যা (تأويل) থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে, এমনকি সে কোনো ইঙ্গিত (قرينة)-ও প্রদান করে না। আর তিনি মিথ্যা (كذب) বলতে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা (كذب عمد) বুঝিয়েছেন, যার প্রবক্তা কোনো ইঙ্গিত (قرينة) দেয় না বরং এর প্রকাশ্য রূপটিই (ظاهر) প্রচার করে, তবে তার মনে কোনো ব্যাখ্যার (تأويل) উদ্দেশ্য থাকাতে কোনো বাধা নেই, তাই...

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা ৩৭৩)।

(২) দেখুন 'ফায়দুল ফাত্তাহ' (৪/ ১৫২)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৯৮)
خص التأويل بمفارقة الباطل، و [خص](1) نصب القرينة بمفارقة الكذب. هكذا نقله عبد الحكيم في «حواشي المطول»(2).

الثالث: تفسير عبد الحكيم، قال(3): «الأظهر عندي أن الاستعارة من حيث المعنى تشابه الدعوى الباطلة، ومن حيث اللفظ تشابه الكلام الكاذب، فتبيين الفرق بأن مبنى معناها على التأويل، بخلاف الدعوى الباطلة، وأن مبنى لفظها على نصب القرينة، بخلاف الكذب».

واعترض السعد في «المطول» كلام العلامة، قال(4): «وأنت تعلم أن تفسيره الكذب خلاف ما عليه الجمهور واختاره السكاكي».

واعترض عبد الحكيم كلام السيد الشريف فقال(5): «فيه أنه مع كونه خلاف ظاهر العبارة، إذ لا قرينة على تخصيص الدعوى الباطلة بالجهل المركب، والكذب بالكذب العمد، أنه لا وجه لتخصيص مفارقة الاستعارة بهذين، فإنها تفارق الدعوى الباطلة مطلقًا ــ سواءٌ كان مع اعتقاد المطابقة أو لا ــ بالتأويل، وعن الكذب مطلقًا ــ سواءٌ كان عمدًا أو خطأً ــ بنصب القرينة».

أقول: هناك صور:

--------------------------------------------

(1) المعكوفتان من المؤلف.

(2) «فيض الفتاح» (4/ 152).

(3) انظر المصدر السابق.

(4) المصدر السابق.

(5) المصدر السابق.
তিনি ব্যাখ্যা (التأويل)-কে বাতিল (الباطل) থেকে পৃথক করার মাধ্যমে এবং [নির্দিষ্ট করেছেন] লক্ষণ স্থাপন (نصب القرينة)-কে মিথ্যা (الكذب) থেকে পৃথক করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করেছেন। আব্দুল হাকিম ‘হাওয়াশিউল মুতাউওয়াল’-এ এভাবেই বর্ণনা করেছেন(2).

তৃতীয়ত: আব্দুল হাকিমের ব্যাখ্যা; তিনি বলেন(3): “আমার নিকট অধিক স্পষ্ট বিষয় হলো, অর্থের দিক থেকে রূপক (الاستعارة) বাতিল দাবির (الدعوى الباطلة) সাদৃশ্য রাখে এবং শব্দের দিক থেকে মিথ্যা (الكذب) কথার সাদৃশ্য রাখে। সুতরাং পার্থক্যের বিষয়টি এভাবে স্পষ্ট হয় যে, এর অর্থের ভিত্তি হলো ব্যাখ্যা (التأويل)-এর ওপর, যা বাতিল দাবির (الدعوى الباطلة) বিপরীত। আর এর শব্দের ভিত্তি হলো লক্ষণ স্থাপনের (نصب القرينة) ওপর, যা মিথ্যার (الكذب) বিপরীত।”

আস-সাদ ‘মুতাউওয়াল’-এ আল্লামার বক্তব্যের ওপর আপত্তি উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন(4): “আপনি জানেন যে, মিথ্যার (الكذب) বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যা জমহুর (الجمهور)-এর পরিপন্থী এবং যা সাক্কাকী পছন্দ করেছেন তারও বিপরীত।”

আব্দুল হাকিম আস-সাইয়্যিদ আশ-শরিফ-এর বক্তব্যের ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেন(5): “এতে কথা আছে যে, এটি বাহ্যিক ভাষ্যের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও বাতিল দাবিকে (الدعوى الباطلة) জটিল অজ্ঞতা (الجهل المركب)-এর সাথে এবং মিথ্যাকে (الكذب) ইচ্ছাকৃত মিথ্যার (الكذب العمد) সাথে নির্দিষ্ট করার কোনো লক্ষণ (القرينة) নেই। এছাড়াও রূপকের (الاستعارة) পার্থক্যকে এই দুটির সাথে নির্দিষ্ট করারও কোনো কারণ নেই; কারণ রূপক (الاستعارة) নিঃশর্তভাবে বাতিল দাবি (الدعوى الباطلة) থেকে পৃথক—চাই তা বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার বিশ্বাস নিয়ে হোক বা না হোক—ব্যাখ্যা (التأويل)-এর মাধ্যমে। এবং এটি নিঃশর্তভাবে মিথ্যা (الكذب) থেকে পৃথক—চাই তা ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত—লক্ষণ স্থাপনের (نصب القرينة) মাধ্যমে।”

আমি বলছি: এখানে কয়েকটি সুরত রয়েছে:

--------------------------------------------

(1) থার্ড ব্র্যাকেটটি লেখকের পক্ষ থেকে।

(2) ‘ফয়জুল ফাত্তাহ’ (৪/ ১৫২)।

(3) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন।

(4) পূর্বোক্ত উৎস।

(5) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৯৯)
الأولى: أن ترى إنسانًا من بعيد، فتظنه غرابًا، فتقول: «رأيت غرابًا»، مريدًا بذلك وفق ما ظننته.

الثانية: أن تعلم أنه إنسان، ومع ذلك تقول لمن تراه لا يعرف الواقع: «رأيت غرابًا»، وتتأول في نفسك الغراب بإنسانٍ مشؤومٍ، ولا قرينة.

الثالثة: أن تعلم أنه إنسانٌ، ومع ذلك تقول لمن تراه لا يعرف الواقع: «رأيت غرابًا»، ولا تتأول في نفسك.

فكل من هذه الصور يصدق عليه أنه دعوى باطلة، وأنه كذب. أما الأولى والثالثة؛ فظاهر، وأما الثانية؛ فبحسب الظاهر المحكوم به، إذ لا عبرة بالتأويل النفسي مع عدم القرينة.

لكن الصورة الأولى أولى بأن تسمى دعوى باطلة؛ لأنها كما شاركت الأُخريين في ظهور الدعوى بحسب ظاهر اللفظ، امتازت عنهما بتحقق الدعوى في الاعتقاد.

والأولى أبعد عن الكذب؛ لأن صاحبها مخطئ، وقد تقدم أن الغالب في العرف أن لا يقال فيمن كذب خطأً: «كذب»، وإنما يقال: «أخطأ»، ومن الناس من لا يسمي ذلك كذبًا البتة.

والاعتقاد أمرٌ معنوي، وكذلك التأويل في النفس. وظاهر الكلام يتعلق باللفظ، وكذلك القرينة. والاستعارة تشتبه من حيث المعنى باعتقاد الباطل؛ لأنها مبنية على دعوى دخول المشبه في جنس المشبه به، وتخيل ذلك في النفس، فهي من هذه الجهة مشابهة للصورة الأولى، ولكنها تفارقها ببناء الدعوى في الاستعارة على التأويل.
প্রথমত: আপনি দূর থেকে একজন মানুষকে দেখলেন এবং তাকে একটি কাক মনে করলেন, অতঃপর আপনি বললেন: "আমি একটি কাক দেখেছি," এর দ্বারা আপনি নিজের ধারণানুযায়ী অর্থই উদ্দেশ্য করেছেন।

দ্বিতীয়ত: আপনি জানেন যে সে একজন মানুষ, তা সত্ত্বেও আপনি এমন ব্যক্তিকে—যে বাস্তব অবস্থা জানে না—বললেন: "আমি একটি কাক দেখেছি," এবং আপনি নিজের মনে কাক বলতে একজন অশুভ ব্যক্তিকে ব্যাখ্যা (تأويل) করলেন, অথচ কোনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (قرينة) নেই।

তৃতীয়ত: আপনি জানেন যে সে একজন মানুষ, তা সত্ত্বেও আপনি এমন ব্যক্তিকে—যে বাস্তব অবস্থা জানে না—বললেন: "আমি একটি কাক দেখেছি," এবং আপনি নিজের মনে কোনো ব্যাখ্যা (تأويل) করেননি।

এই রূপগুলোর প্রত্যেকটিই একটি মিথ্যা দাবি (دعوى باطلة) এবং মিথ্যা (كذب) হিসেবে গণ্য। প্রথম ও তৃতীয় রূপের ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট; আর দ্বিতীয় রূপটির ক্ষেত্রে বাহ্যিক হুকুম অনুযায়ী তা মিথ্যা (كذب) হিসেবে গণ্য, কারণ কোনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (قرينة) না থাকলে মনের অভ্যন্তরীণ ব্যাখ্যার (تأويل) কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।

তবে প্রথম রূপটি মিথ্যা দাবি (دعوى باطلة) হিসেবে অভিহিত হওয়ার অধিকতর যোগ্য; কারণ এটি শাব্দিক বাহ্যিক দিক থেকে অন্য দুটির সাথে দাবি প্রকাশের ক্ষেত্রে অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও, বিশ্বাসের ক্ষেত্রে দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে সে দুটি থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

আর প্রথম রূপটি মিথ্যা (كذب) থেকে অধিক দূরবর্তী; কারণ এর প্রবক্তা ভুলকারী (مخطئ), আর ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সাধারণত ভুলবশত মিথ্যাবাদীকে "মিথ্যা বলেছে" (كذب) বলা হয় না, বরং বলা হয়: "সে ভুল করেছে" (أخطأ), আর মানুষের মধ্যে এমনও কেউ কেউ আছেন যারা একে একেবারেই মিথ্যা (كذب) বলেন না।

বিশ্বাস একটি অর্থগত বিষয়, আর মনের ভেতরের ব্যাখ্যাও (تأويل) তদ্রূপ। কথার বাহ্যিক দিকটি শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণও (قرينة) তাই। রূপক (استعارة) অর্থের দিক থেকে মিথ্যা বিশ্বাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ; কারণ এটি উপমেয়কে উপমানের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি এবং মনের মধ্যে তা কল্পনা করার ওপর ভিত্তি করে গঠিত। সুতরাং এই দিক থেকে এটি প্রথম রূপের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে রূপকের ক্ষেত্রে দাবিটি ব্যাখ্যার (تأويل) ওপর ভিত্তি করে হওয়ার কারণে এটি তার থেকে ভিন্ন।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২০০)
والاستعارة تشتبه بالكذب الذي لا خطأ فيه؛ لأن القائل: «رأيت أسدًا يرمي» يعلم أن الرجل ليس بأسد، فهي من هذه الجهة مشابهة للصورتين الأخريين، لكنها تفارقهما بالقرينة.

فقد بان بهذا وجه صنيع السكاكي، وبان به توجيه التفاسير الثلاثة، بل واتفاقها في المآل، فإن العلّامة حمل الدعوى الباطلة على الاعتقاد المخالف للواقع، وهذه هي الصورة الأولى، وحمل الكذب على خلاف ما في الضمير، وذلك في الصورتين الأخريين، فإن ظاهر الكلام فيهما كما هو مخالفٌ للواقع، فهو مخالفٌ لما في الضمير؛ لعلم المتكلم بخلاف ما أفهمه كلامه. وإنما خصَّ السكاكي ثم العلّامة الكذب بذلك لأنه كذبٌ اتفاقًا، لغةً وعرفًا.

والسيد فسّر الدعوى الباطلة بالجهل المركب، وهي الصورة الأولى، والكذب بالعمد، وذاك في الصورتين الأخريين، فاتفقا.

وعبد الحكيم ذكر أن الاستعارة من حيث المعنى تشابه الدعوى الباطلة، وقد علمت أن ذلك إنما يتحقق في الصورة الأولى؛ لتحقق الدعوى في الاعتقاد، وهو أمر معنوي.

وذكر أنها من حيث اللفظ تشابه الكلام الكاذب، والأَولى بملاحظة ذلك الصورتان الأخريان؛ لأنهما كذبٌ اتفاقًا، لغةً وعرفًا، وكذب الكلام فيهما آكد لمخالفته لما في الواقع ولما عند المتكلم، ومدار الكذب فيهما على اللفظ فقط لمطابقة علم المتكلم للواقع.

والمقصود أن هؤلاء اتفقوا على أن الصورة الثانية كذبٌ، وأن إضمار التأويل لا يدفع الكذب.
রূপক (استعارة) সেই মিথ্যার (كذب) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যাতে কোনো ভুল নেই; কারণ বক্তা যখন বলেন: "আমি একজন সিংহকে তীর ছুড়তে দেখেছি", তখন তিনি জানেন যে ব্যক্তিটি সিংহ নয়। সুতরাং এই দিক থেকে এটি অন্য দুটি সুরতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে এটি অনুষঙ্গের (قرينة) মাধ্যমে সে দুটি থেকে পৃথক হয়।

এর মাধ্যমে সাক্কাকির কর্মপন্থা স্পষ্ট হলো এবং তিনটি ব্যাখ্যার ধরনও পরিষ্কার হলো, বরং পরিণতির দিক থেকে এগুলোর ঐকমত্যও ফুটে উঠল। আল্লামা (তাফতাজানি) 'বাতিল দাবি'-কে বাস্তব-বিরোধী বিশ্বাসের ওপর প্রয়োগ করেছেন, আর এটি হলো প্রথম সুরত। অন্যদিকে তিনি মিথ্যাকে (كذب) অন্তরের বিশ্বাসের বিপরীত হওয়ার ওপর প্রয়োগ করেছেন, যা অন্য দুটি সুরতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা সেই দুটি সুরতে কথার বাহ্যিক রূপ যেমন বাস্তবের বিপরীত, তেমনি তা অন্তরের বিশ্বাসের পরিপন্থীও; কারণ বক্তা তার কথার মাধ্যমে যা বোঝাচ্ছেন, তিনি নিজে তার বিপরীতটি জানেন। সাক্কাকি এবং আল্লামা মিথ্যাকে (كذب) এর সাথেই নির্দিষ্ট করেছেন কারণ এটি আভিধানিক ও পারিভাষিক উভয় দিক থেকেই সর্বসম্মতভাবে মিথ্যা (كذب)।

সাইয়্যিদ (শরিফ জুরজানি) 'বাতিল দাবি'-কে জটিল অজ্ঞতা (جهل مركب) দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন, যা প্রথম সুরত। আর মিথ্যাকে (كذب) ইচ্ছাকৃত (عمد) হওয়া দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন, যা অন্য দুটি সুরতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে উভয়ে একমত হলেন।

আব্দুল হাকিম উল্লেখ করেছেন যে, রূপক (استعارة) অর্থের দিক থেকে 'বাতিল দাবি'-র সদৃশ। আর আপনি জেনেছেন যে, এটি কেবল প্রথম সুরতেই বাস্তবায়িত হয়; কারণ বিশ্বাসের ক্ষেত্রে দাবির অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যা একটি অর্থগত বিষয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, রূপক (استعارة) শব্দের দিক থেকে মিথ্যা (كذب) কথার সদৃশ। আর এটি বিবেচনার জন্য পরবর্তী দুটি সুরত অধিক উপযোগী; কারণ সেগুলো আভিধানিক ও পারিভাষিক উভয় দিক থেকেই সর্বসম্মতভাবে মিথ্যা (كذب)। সেই সুরত দুটিতে কথার মিথ্যা (كذب) হওয়া অধিক সুনিশ্চিত, যেহেতু তা বাস্তব ও বক্তার জ্ঞান—উভয়েরই পরিপন্থী। সেখানে মিথ্যার (كذب) ভিত্তি কেবল শব্দের ওপর, কারণ বক্তার জ্ঞান বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ।

মূল উদ্দেশ্য হলো, তারা এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে দ্বিতীয় সুরতটি মিথ্যা (كذب), এবং অন্তরে ব্যাখ্যার (تأويل) গোপন সংকল্প রাখা মিথ্যাকে (كذب) দূর করে না।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২০১)
أما صاحب «التلخيص» فقال(1): «الاستعارة تفارق الكذب بالبناء على التأويل ونصب القرينة على إرادة خلاف الظاهر».

قال السعد في «المطول»(2): «يعني أن في الاستعارة دعوى … مبنية على تأويل … ولا تأويل في الكذب. وأيضًا لا بد في الاستعارة من قرينة مانعة من إرادة المعنى الحقيقي الموضوع له، دالةٍ على أن المراد خلاف الظاهر، بخلاف الكذب، فإنه لا تُنصب فيه قرينة على إرادة خلاف الظاهر، بل يُبذل المجهود في ترويج ظاهره».

وهذا الكلام إذا تُدبِّر وقورِن بكلام هذين الرجلين في مواضع أخرى ــ كما سبق لهما في الكلام على الإسناد العقلي ــ تبين أنه غير مخالف لما تقدم، فإن الدعوى الباطلة التي تشابه الدعوى التي في الاستعارة هي ما في الصورة الأولى، كما تقدم.

فغاية الأمر أن صاحب «التلخيص» أدرج الصورة الأولى في الكذب، ثم بين أن الفرق بوجهين:

الأول: التأويل، وهذا يختصُّ بالصورة الأولى.

الثاني: بالقرينة، وهي تعمُّ الصور الثلاث.

فكأنه يقول: إن الفرق بين الاستعارة وبين الكذب خطأً ــ وذلك في الصورة الأولى ــ بالتأويل والقرينة. فالتأويل يدفع خطأ الاعتقاد، والقرينة تدفع الأمرين، أي: الخطأ في الاعتقاد ومخالفة الكلام للواقع.

--------------------------------------------

(1) (ص 306 بشرح البرقوقي). وانظر «شروح التلخيص» (4/ 68).

(2) (ص 584)، وهو في «فيض الفتاح» (4/ 152).
أما 'আল-তালখিস'-এর লেখক বলেছেন(১): "রূপক (الاستعارة) ও মিথ্যার (الكذب) মধ্যে পার্থক্য হলো, এটি ব্যাখ্যার (التأويل) ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং বাহ্যিক অর্থের (الظاهر) বিপরীত কিছু বোঝানোর জন্য এখানে সংকেত (القرينة) স্থাপন করা হয়।"

আস-সা'দ 'আল-মুতাউওয়াল' গ্রন্থে বলেছেন(২): "অর্থাৎ রূপকের (الاستعارة) মধ্যে এমন একটি দাবি থাকে... যা ব্যাখ্যার (التأويل) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত... কিন্তু মিথ্যার (الكذب) মধ্যে কোনো ব্যাখ্যা (التأويل) নেই। অধিকন্তু, রূপকের (الاستعارة) ক্ষেত্রে এমন একটি প্রতিবন্ধক সংকেত (القرينة) থাকা আবশ্যক যা শব্দের মূল প্রকৃত অর্থ (المعنى الحقيقي) গ্রহণ করতে বাধা দেয় এবং এটি নির্দেশ করে যে উদ্দিষ্ট অর্থটি বাহ্যিক অর্থের (الظاهر) বিপরীত। মিথ্যার (الكذب) বিষয়টি এর উল্টো, কারণ সেখানে বাহ্যিক অর্থের (الظاهر) বিপরীত কিছু বোঝানোর জন্য কোনো সংকেত (القرينة) রাখা হয় না, বরং তার বাহ্যিক রূপটিকেই সত্য হিসেবে প্রচার করার জন্য সবটুকু প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়।"

যদি এই বক্তব্যটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং অন্যান্য স্থানে এই দুই ব্যক্তির বক্তব্যের সাথে তুলনা করা হয় — যেমনটি মানসিক সম্বন্ধ (الإسناد) প্রসঙ্গে তাদের আলোচনায় অতিবাহিত হয়েছে — তবে স্পষ্ট হয় যে এটি পূর্বোক্ত আলোচনার পরিপন্থী নয়। কেননা, যে ভিত্তিহীন দাবিটি রূপকের (الاستعارة) দাবির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তা প্রথম সুরত (الصورة) বা পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোদ্দাকথা হলো, 'আল-তালখিস'-এর লেখক প্রথম সুরতকে (الصورة) মিথ্যার (الكذب) অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অতঃপর দুটি দিক থেকে পার্থক্য বর্ণনা করেছেন:

প্রথমত: ব্যাখ্যা (التأويل), আর এটি প্রথম সুরত (الصورة) বা পদ্ধতির সাথে খাস (خاص) বা নির্দিষ্ট।

দ্বিতীয়ত: সংকেত (القرينة) দ্বারা, যা তিনটি সুরত (الصورة) বা পদ্ধতির ক্ষেত্রেই আম (عام) বা সাধারণ।

যেন তিনি বলতে চাইছেন: ভুলবশত রূপক (الاستعارة) ও মিথ্যার (الكذب) মধ্যকার পার্থক্য — যা প্রথম সুরতের (الصورة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য — তা হলো ব্যাখ্যা (التأويل) এবং সংকেত (القرينة) দ্বারা। সুতরাং ব্যাখ্যা (التأويل) বিশ্বাসগত ভুলকে দূর করে, আর সংকেত (القرينة) উভয় বিষয়কে প্রতিহত করে; অর্থাৎ: বিশ্বাসগত ভুল এবং বাস্তবতার সাথে বক্তব্যের অসঙ্গতি।

--------------------------------------------

(১) (বারকুকির ব্যাখ্যাসহ (شرح) ৩০৬ পৃষ্ঠা)। এবং দেখুন 'শুরূহুত তালখিস' (৪/ ৬৮)।

(২) (৫৮৪ পৃষ্ঠা), এবং এটি 'ফয়জুল ফাত্তাহ' (৪/ ১৫২) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১৯) ইরশাদুল আম্মাহ ইলা মা’রিফাতিল কাযিবি ওয়া আহকামিহি - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২০২)
والفرق بينها وبين الكذب عمدًا ــ وذلك في الصورتين الأخريين ــ بالقرينة.

 

‌‌الفرق بين المجاز والكذب

أجمعوا على أنه لابد للمجاز من علاقة وقرينة، وإنما اختلفوا في القرينة: أركن هي أم شرط؟

ولا ريب أن الخبر إذا كان فيه مجازٌ صحيح العلاقة، ظاهر القرينة= يكون المعنى الظاهر الراجح منه هو المعنى المجازي، فإذا كان المعنى المجازي هو الواقع؛ فالخبر صدق حتمًا.

والنظر هنا في أمور:

الأول: إذا تجوَّز المخبر في نفسه ولم ينصب قرينة، فلا ريب أن ذلك لا يكون مجازًا؛ لفقد القرينة التي هي ركن أو شرط، وهل يكون حينئذٍ كذبًا؟

لا ريب أنه عند فقد القرينة يكون المعنى الظاهر الراجح غير المعنى المجازي، وأنه إذا كان ذاك الظاهر الواضح غير مطابق للواقع كان الخبر كذبًا، وقد ذكر علماء البيان في بحث الاستعارة أنها مجاز علاقته المشابهة، وأنها مبنية على دعوى دخول المشبه في جنس المشبه به، وأن هذه الدعوى مبنية على تأويلٍ، وهو جعل أفراد المشبه به نوعين، على ما هو مشروح في كتب البيان.

وبعد أن ذكر السكاكي في «المفتاح» ذلك، ذكر(1) أن الاستعارة تفارق

--------------------------------------------

(1) راجع للنقول الآتية: «فيض الفتاح» (ج 4/ص 151 وما بعدها).
এবং এর মাঝে ও ইচ্ছাকৃত মিথ্যার (الكذب عمداً) পার্থক্য হলো পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (القرينة) মাধ্যমে—আর তা পরবর্তী দুই সুরতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

 

‌‌রূপক (المجاز) ও মিথ্যার (الكذب) মধ্যে পার্থক্য

আলেমগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, রূপকের (المجاز) জন্য অবশ্যই একটি সম্পর্ক (العلاقة) এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (القرينة) থাকতে হবে; তবে তাঁরা পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (القرينة) সম্পর্কে মতভেদ করেছেন যে, এটি কি রুকন (ركن) নাকি শর্ত (شرط)?

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো সংবাদের (الخبر) মধ্যে যদি এমন রূপক (مجاز) থাকে যার সম্পর্ক (العلاقة) সঠিক এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (القرينة) স্পষ্ট হয়, তবে তা থেকে যে প্রকাশ্য ও অগ্রগণ্য (الراجح) অর্থটি বুঝে আসে, তা হবে রূপক অর্থই। সুতরাং রূপক অর্থটি যদি বাস্তবসম্মত হয়, তবে সেই সংবাদটি (الخبر) নিশ্চিতভাবেই সত্য (صدق)।

আর এখানে বিষয়টি কয়েকটি দিক থেকে বিবেচ্য:

প্রথমত: সংবাদদাতা (المخبر) যদি নিজের মনে রূপকের ইচ্ছা পোষণ করেন কিন্তু কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (القرينة) স্থাপন না করেন, তবে নিঃসন্দেহে তা রূপক (مجاز) বলে গণ্য হবে না; কারণ সেখানে পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (القرينة) অনুপস্থিতি রয়েছে, যা একটি রুকন (ركن) বা শর্ত (شرط)। এমতাবস্থায় তা কি মিথ্যা (كذب) বলে গণ্য হবে?

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (القرينة) অনুপস্থিতিতে রূপক অর্থের পরিবর্তে কেবল প্রকাশ্য ও অগ্রগণ্য (الراجح) অর্থটিই সাব্যস্ত হয়। আর যদি সেই প্রকাশ্য ও স্পষ্ট অর্থটি বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ না হয়, তবে সংবাদটি (الخبر) মিথ্যা (كذب) বলে গণ্য হবে। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ ইস্তিআরা (الاستعارة) সংক্রান্ত আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, এটি এমন একটি রূপক (مجاز) যার সম্পর্ক (العلاقة) হলো সাদৃশ্য (المشابهة)। এটি মূলত উপমেয়কে (المشبه) উপমানের (المشبه به) অন্তর্ভুক্ত করার দাবির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এই দাবিটি ব্যাখ্যার (تأويل) ওপর ভিত্তি করে করা হয়; যা উপমানের (المشبه به) ব্যক্তিবর্গকে দুই প্রকারে বিভক্ত করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেমনটি অলঙ্কারশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

সাক্কাকি 'মিফতাহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করার পর বর্ণনা করেছেন(১) যে, ইস্তিআরা (الاستعارة) পৃথক হয়ে থাকে...

--------------------------------------------

(১) পরবর্তী উদ্ধৃতিগুলোর জন্য দেখুন: ফয়জুল ফাত্তাহ (৪র্থ খণ্ড/১৫১ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী)।