(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: -)
كشف الستور في نهي النساء عن زيارة القبور   (حماد الأنصاري)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: كشف الستور في نهي النساء عن زيارة القبور

المؤلف: حماد بن محمد الأنصاري (ت 1418 هـ)

الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة

الطبعة: السنة 13 / العدد - 52 - 1401 هـ/1981 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 49

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কাশফুস সুতুর ফি নাহয়িন নিসা আন জিয়ারাতিল কুবুর   (হাম্মাদ আল-আনসারি)

বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল


বই: কাশফুস সুতুর ফি নাহয়িন নিসা আন জিয়ারাতিল কুবুর

লেখক: হাম্মাদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি (মৃত্যু: ১৪১৮ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়، মদিনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: ১৩তম বর্ষ / সংখ্যা - ৫২ - ১৪০১ হিজরি/১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌مدْخل

…

كشفُ السُتور فِي نهي النِّسَاء عَن زِيَارَة الْقُبُور

للشَّيْخ حَمَّاد الْأنْصَارِيّ الْأُسْتَاذ بالدراسات الْعليا بالجامعة

الْحَمد لله رب الْعَالمين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيد الْأَنْبِيَاء وَالْمُرْسلِينَ نَبينَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه وَمن تَبِعَهُمْ بِإِحْسَان إِلَى يَوْم الدّين. وَبعد:

فَلَمَّا كَانَ حكم زِيَارَة النِّسَاء للقبور من الْمسَائِل الْمُخْتَلف فِيهَا بَين الْعلمَاء مَا بَين مُبِيح ومانع ومفصل، وَالْحَاجة إِلَى معرفَة حكم الله فِيهَا تهم الْجَمِيع، رَأَيْت من الْوَاجِب عَليّ أَدَاء للنصيحة للخاصة والعامة بَيَان الْحق الَّذِي يجب أَن يدين بِهِ كل مُسلم غيور. بِذكر النُّصُوص الصَّحِيحَة الْمَانِعَة من زِيَارَة النِّسَاء للقبور على الْإِطْلَاق، مُبينًا أَن الِاسْتِدْلَال على الْجَوَاز بِرِوَايَة "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زوارات الْقُبُور" غير مُسلم بِهِ، كَمَا أَن تَضْعِيف رِوَايَة "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زائرات الْقُبُور" لَيْسَ صَحِيحا؛ لما سأذكره عَن أَئِمَّة الشَّأْن الَّذين يجب الرُّجُوع إِلَيْهِم فِي مثل هَذَا الميدان. هَذَا وَقد سميت هَذِه العجالة " كشف الستور عَن حكم زِيَارَة النِّسَاء للقبور" مُرَتبا لَهَا على العناوين التالية:

1- اخْتِلَاف الْعلمَاء فِي هَذِه الْمَسْأَلَة.

2- المخرجون لأحاديث اللَّعْن إِجْمَالا.

3- تَفْصِيل رِوَايَات المخرجين.

4- سَنَد حَدِيث (زائرات) بطريقيه.

5- الْكَلَام على سندي هَذَا الحَدِيث.

6- ضبط زَاي (زوارات) .

7- تَفْصِيل أَدِلَّة الْمَنْع.
ভূমিকা

…

কাশফুত সুতুর ফি নাহয়িন নিসায়ি আন যিয়ারাতিল কুবুর (মহিলাদের কবর জিয়ারত নিষেধ প্রসঙ্গে সংশয় নিরসন)

শাইখ হাম্মাদ আল-আনসারী কর্তৃক, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের সরদার আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। অতঃপর:

যেহেতু নারীদের কবর যিয়ারতের বিধান এমন একটি মাসআলা যা আলেমদের মধ্যে মতভেদপূর্ণ—যার মধ্যে বৈধতা দানকারী, নিষেধকারী এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানকারী অবস্থান রয়েছে—এবং এ বিষয়ে আল্লাহর বিধান জানার প্রয়োজনীয়তা সকলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমি আলেম ও সাধারণ জনগণের প্রতি নসিহত করার দায়বদ্ধতা থেকে সেই সত্য বর্ণনা করা আমার ওপর আবশ্যক মনে করেছি যার প্রতি প্রত্যেক আত্মমর্যাদাশীল মুসলিমের অনুগত থাকা উচিত। এটি নারীদের কবর যিয়ারত ঢালাওভাবে নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে সহিহ (صحيحة) দলিলসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি এটিও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, "রাসূলুল্লাহ (সা.) অধিক হারে কবর যিয়ারতকারিনী নারীদের (زوارات) অভিশাপ দিয়েছেন" এই বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে বৈধতার পক্ষে দলিল পেশ করা গ্রহণযোগ্য নয়। তেমনিভাবে "রাসূলুল্লাহ (সা.) কবর যিয়ারতকারিনী নারীদের (زائرات) অভিশাপ দিয়েছেন" এই বর্ণনার দুর্বলতা (تضعيف) সাব্যস্ত করাও সঠিক (صحيح) নয়; যা আমি এই শাস্ত্রের ইমামদের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করব যাদের দিকেই এই ময়দানে প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক। আমি এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটির নাম দিয়েছি "কাশফুত সুতুর আন হুকমি যিয়ারাতিন নিসায়ি লিল কুবুর" এবং একে নিম্নোক্ত শিরোনামে বিন্যস্ত করেছি:

1- এই মাসআলায় আলেমদের মতভেদ।

2- অভিশাপ সংক্রান্ত হাদিসসমূহের বর্ণনাকারীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা।

3- বর্ণনাকারীদের বর্ণনা (روايات) সমূহের বিস্তারিত বিবরণ।

4- উভয় সূত্রে ‘যাইরাত’ (زائرات) সংক্রান্ত হাদিসের সনদ (سند)।

5- এই হাদিসের সনদদ্বয় (سندي) সম্পর্কিত আলোচনা।

6- ‘যাওয়ারাতি’ (زوارات) শব্দের ‘যা’ (ز) বর্ণের যব্ত বা সঠিক উচ্চারণ ও লিখন পদ্ধতি (ضبط)।

7- নিষেধাজ্ঞার দলিলসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩০)
8- أَدِلَّة المجيزين وَالْجَوَاب عَنْهَا.

9- نقل جملَة من كَلَام أَئِمَّة التَّحْقِيق فِي هَذِه الْمَسْأَلَة.

10- خَاتِمَة: فِي أَن هدي السّلف فِي الِاتِّبَاع ومجانبة الابتداع.

والآن الشُّرُوع فِي الْمَقْصُود وَمن الله المدد الْمَزِيد.
8- অনুমোদনকারীদের দলিলসমূহ এবং সেগুলোর উত্তর।

9- এই মাসআলা প্রসঙ্গে গবেষক ইমামগণের একগুচ্ছ বক্তব্য উদ্ধৃতকরণ।

10- উপসংহার (خاتمة): পূর্বসূরীদের (سلف) আদর্শ ছিল অনুসরণের (اتباع) এবং বিদআত (ابتداع) বর্জনের ওপর।

এখন মূল বিষয়ের সূচনা করা হচ্ছে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকেই উত্তরোত্তর সাহায্য কাম্য।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩০)
1-‌‌ اخْتِلَاف الْعلمَاء فِي هَذِه الْمَسْأَلَة:

اخْتلف الْعلمَاء فِي زِيَارَة النِّسَاء للقبور على ثَلَاثَة أَقْوَال: وَهِي ثَلَاث رِوَايَات عَن الإِمَام أَحْمد رحمه الله:

أَولا: الْكَرَاهَة من غير تَحْرِيم كَمَا هُوَ مَنْصُوص الإِمَام أَحْمد رحمه الله فِي إِحْدَى الرِّوَايَات عَنهُ، وَاسْتدلَّ لَهُ بِحَدِيث أم عَطِيَّة الْمُتَّفق عَلَيْهِ "نهينَا عَن اتِّبَاع الْجَنَائِز وَلم يعزم علينا" وَإِلَيْهِ ذهب أَكثر الشَّافِعِيَّة وَبَعض الْحَنَفِيَّة.

ثَانِيًا: أَنَّهَا مُبَاحَة لَهُنَّ غير مَكْرُوهَة، وَبِه قَالَ أَكثر الْحَنَفِيَّة والمالكية وَهُوَ الرِّوَايَة الْأُخْرَى عَن الإِمَام أَحْمد رَحمَه الله تَعَالَى. وَاسْتدلَّ لَهُ بِحَدِيث مُسلم عَن بُرَيْدَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ: "كنت نَهَيْتُكُمْ عَن زِيَارَة الْقُبُور فزوروها". وَبِحَدِيث عَائِشَة فِي زِيَارَة أَخِيهَا عبد الرَّحْمَن؛ وبحديثها أَيْضا عِنْد مُسلم "مَا أَقُول لَهُم؟ قَالَ قولي" الحَدِيث. وَبِحَدِيث أنس رضي الله عنه "مر النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِامْرَأَة تبكى عِنْد قبر" الحَدِيث.

ثَالِثا: التَّحْرِيم لأحاديث اللَّعْن وَغَيرهَا مِمَّا يعضدها وَهُوَ مَذْهَب بعض الْمَالِكِيَّة وَالشَّافِعِيَّة وَالْحَنَفِيَّة، وَإِلَيْهِ ذهب أَكثر أهل الحَدِيث وَهُوَ الرِّوَايَة الثَّالِثَة عَن الإِمَام أَحْمد رحمه الله. كَمَا حَكَاهَا الْعَلامَة عَليّ بن سُلَيْمَان المرداوي فِي كِتَابه (الْإِنْصَاف فِي معرفَة الرَّاجِح من الْخلاف على مَذْهَب الإِمَام المبجل أَحْمد بن حَنْبَل) قَالَ مَا نَصه: "وَعنهُ أَي عَن الإِمَام أَحْمد رِوَايَة ثَالِثَة: يحرم كَمَا لَو علمت بِأَنَّهُ يَقع مِنْهَا محرم، ذكره الْمجد وَاخْتَارَ هَذِه الرِّوَايَة بعض الْأَصْحَاب، وحكاها ابْن تَمِيم وَجها. اهـ

قلت: وَهُوَ اخْتِيَار شيخ الْإِسْلَام أبي الْعَبَّاس بن تَيْمِية وتلميذه الْعَلامَة ابْن الْقيم وَالنَّوَوِيّ فِي مَجْمُوعه وَالشَّيْخ المجدد مُحَمَّد بن عبد الْوَهَّاب وَكثير من أَئِمَّة التَّحْقِيق الْآتِي ذكر أَقْوَالهم بعد إِن شَاءَ الله تَعَالَى.
1-‌‌ এ মাসআলায় আলেমদের মতভেদ:

নারীদের কবর জিয়ারত করার ব্যাপারে আলেমগণ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন এবং এগুলো ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনটি বর্ণনা (روايات):

প্রথমত: হারাম (تحريم) হওয়া ব্যতীত অপছন্দনীয় (كراهة), যেমনটি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (روايات) স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এর সপক্ষে উম্মু আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে: "আমাদেরকে জানাজার অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমাদের ওপর কঠোরতা করা হয়নি।" অধিকাংশ শাফেয়ী এবং কিছু হানাফী আলেম এই মত গ্রহণ করেছেন।

দ্বিতীয়ত: এটি নারীদের জন্য বৈধ (مباحة) এবং অপছন্দনীয় (مكروهة) নয়। অধিকাংশ হানাফী ও মালিকী আলেম এই কথা বলেছেন এবং এটি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অন্য একটি বর্ণনা (رواية)। এর সপক্ষে বুরাইদাহ বর্ণিত মুসলিম-এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা জিয়ারত করো।" এছাড়া তাঁর ভাই আব্দুর রহমানের কবর জিয়ারত বিষয়ে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস এবং মুসলিম-এ বর্ণিত তাঁর অন্য হাদিস: "আমি তাদের উদ্দেশ্যে কী বলব? তিনি বললেন, তুমি বলো..." এবং আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের পাশে ক্রন্দনরত এক মহিলার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন..." এর মাধ্যমেও দলিল পেশ করা হয়েছে।

তৃতীয়ত: হারাম (تحريم), অভিশাপ সম্বলিত হাদিসসমূহ এবং একে শক্তিশালীকারী অন্যান্য দলিলের কারণে। এটি কিছু মালিকী, শাফেয়ী ও হানাফী আলেমদের মাযহাব এবং অধিকাংশ আহলে হাদিস এই মত গ্রহণ করেছেন। এটি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তৃতীয় বর্ণনা (رواية)। যেমনটি আল্লামা আলী বিন সুলাইমান আল-মারদাওয়ী তাঁর গ্রন্থ (আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহি মিনাল খিলাফি আলা মাযহাবিল ইমামিল মুবাজ্জালি আহমাদ বিন হাম্বল)-এ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "তাঁর থেকে অর্থাৎ ইমাম আহমাদ থেকে একটি তৃতীয় বর্ণনা (رواية) রয়েছে: এটি হারাম (يحرم), যেমনটি যদি জানা যায় যে এর ফলে মহিলার পক্ষ থেকে কোনো নিষিদ্ধ (محرم) কাজ সংঘটিত হবে। মাজদ এটি উল্লেখ করেছেন এবং কিছু সহচর এই বর্ণনাটি পছন্দ করেছেন এবং ইবনে তামীম একে একটি অভিমত (وجها) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: এটিই শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম, ইমাম নববী তাঁর আল-মাজমু' গ্রন্থে, শাইখ মুজাদ্দিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এবং অনেক গবেষক ইমামগণের পছন্দকৃত মত, যাঁদের বক্তব্য ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَاعْلَم أَن الْقَائِل بِالْإِبَاحَةِ مُقَيّد لَهَا بِمَا إِذا لم تشْتَمل زِيَارَة النِّسَاء للقبور على مَا يَفْعَله كثير من نسَاء زَمَاننَا من الْمُنكر قولا وفعلاً، بل مَا يَفْعَله كثير من جهلة الرِّجَال أَيْضا، فَلَا خلاف إِذا فِي الْحُرْمَة كَمَا لَا يخفى على المطلع الْخَبِير إِذا حصل مَا ذكر.

وَهَذِه مَذَاهِب الْعلمَاء فِي هَذِه الْمَسْأَلَة. وَقد ذهب بعض أَهل زَمَاننَا إِلَى جَوَاز زِيَارَة النِّسَاء للقبور مَا لم تَتَكَرَّر محتجا بِرِوَايَة "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زوارات الْقُبُور" على أَنَّهَا للْمُبَالَغَة مضعفاً رِوَايَة "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زائرات الْقُبُور" تقليداً لمن فهم ذَلِك قبله من غير تَحْقِيق، وَهُوَ خلاف لَا يعْتد بِهِ إِذْ لَيْسَ لَهُ حَظّ من نظرٍ وَقد قيل:

وَلَيْسَ كل خلاف جَاءَ مُعْتَبرا … إِلَّا خلاف لَهُ حَظّ من النّظر

أَي من نظر صَحِيح وَسَيَأْتِي الْجَواب عَن أَدِلَّة الْجَمِيع إِن شَاءَ الله تَعَالَى غير منكرين مَا صَحَّ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، بل كَمَا قَالَ الْعَلامَة شمس الدّين بن الْقيم رَحمَه الله تَعَالَى: "ندين الله بِكُل مَا صَحَّ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا نجْعَل بعضه لنا وَبَعضه علينا، فَنقرَ مَا لنا على ظَاهره ونتأول مَا علينا على خلاف ظَاهره، بل الْكل لنا لَا نفرق بَين شَيْء من سنَنه، بل نتلقاها كلهَا بِالْقبُولِ ونقابلها بِالسَّمْعِ وَالطَّاعَة، ونتبعها أَيْن تَوَجَّهت ركائبها وننزل مَعهَا أَيْن نزلت مضاربها، فَلَيْسَ الشَّأْن فِي الْأَخْذ بِبَعْض سنَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَترك بَعْضهَا، بل الشَّأْن فِي الْأَخْذ بجملتها وتنزيل كل شَيْء مِنْهَا مَنْزِلَته وَوَضعه بموضعه وَالله الْمُسْتَعَان وَعَلِيهِ التكلان".
জেনে রাখুন যে, যারা বৈধতার (الإباحة) প্রবক্তা তারা একে শর্তযুক্ত করেছেন এই মর্মে যে, নারীদের কবর জিয়ারত যেন আমাদের বর্তমান সময়ের অনেক নারীর কথা ও কাজের মাধ্যমে কৃত গর্হিত (المنكر) কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত না হয়, বরং অনেক মূর্খ পুরুষ যা করে থাকে তা থেকেও যেন মুক্ত থাকে। সুতরাং উল্লিখিত বিষয়গুলো ঘটলে এর নিষিদ্ধতা বা হারামের (الحرمة) ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই, যেমনটি কোনো অভিজ্ঞ ও ওয়াকিফহাল ব্যক্তির নিকট অস্পষ্ট নয়।

এই মাসয়ালায় আলেমগণের মাযহাব বা অভিমতসমূহ এগুলিই। বর্তমান সময়ের কেউ কেউ নারীদের কবর জিয়ারতকে জায়েজ মনে করেছেন যতক্ষণ না তা বারবার করা হয়। তিনি "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর জিয়ারতকারিণীদের অভিশাপ দিয়েছেন" এই বর্ণনা (رواية) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, এটি আধিক্য বুঝানোর জন্য। তিনি "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর জিয়ারতকারিণীদের অভিশাপ দিয়েছেন" এই বর্ণনাটিকে (رواية) কোনো প্রকার অনুসন্ধান ছাড়াই পূর্বসূরিদের অন্ধ অনুসরণের মাধ্যমে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন। এটি এমন এক মতবিরোধ যা ধর্তব্য (معتبر) নয়, কারণ এর কোনো সঠিক বিচার-বুদ্ধিপ্রসূত ভিত্তি নেই। যেমনটি বলা হয়েছে:

প্রচলিত সকল মতভেদই গ্রহণযোগ্য (معتبر) নয় … কেবল সেই মতভেদ ছাড়া যার গবেষণালব্ধ ভিত্তি রয়েছে

অর্থাৎ সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ হতে প্রাপ্ত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে যা বিশুদ্ধ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে তা অস্বীকার না করে ইনশাআল্লাহ সকলের দলিলের উত্তর সামনে আসবে। বরং যেমনটি আল্লামা শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে যা কিছু বিশুদ্ধ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর আনুগত্য করি। আমরা এর একাংশকে নিজেদের পক্ষে এবং অপরাংশকে নিজেদের বিপক্ষে সাব্যস্ত করি না। ফলে যে অংশ আমাদের অনুকূলে তা এর বাহ্যিক অর্থের ওপর বহাল রাখি, আর যা আমাদের প্রতিকূলে তা বাহ্যিক অর্থের বিপরীতে ব্যাখ্যা করি। বরং সবটুকুই আমাদের জন্য, আমরা তাঁর সুন্নাহর কোনো বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করি না। বরং আমরা সবটুকুই কবুল করে নেই এবং শ্রবণ ও আনুগত্যের সাথে তা গ্রহণ করি। তাঁর সুন্নাহর কাফেলা যেদিকে যায় আমরা সেদিকেই অনুগমন করি এবং তা যেখানে অবতরণ করে আমরাও সেখানেই অবস্থান গ্রহণ করি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর কিছু অংশ গ্রহণ করা আর কিছু অংশ বর্জন করার মধ্যে কোনো সার্থকতা নেই। বরং সার্থকতা হলো সুন্নাহর পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করা এবং তার প্রতিটি বিষয়কে স্ব স্ব স্থানে ও মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর ওপরই ভরসা।"
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩১)
2-‌‌ المخرجون لأحاديث اللَّعْن إِجْمَالا:

1- أخرج الإِمَام أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه حَدِيث النَّهْي عَن زِيَارَة النِّسَاء للقبور من ثَلَاثَة طرق:

أَولا: من طَرِيق أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه.

ثَانِيًا: من طَرِيق أبي صَالح عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما.

ثَالِثا: من طَرِيق عبد الرَّحْمَن بن حسان عَن أَبِيه رضي الله عنهما.

2- وخرجه أَبُو دَاوُد 3- وَالنَّسَائِيّ 4- وَأَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ عَن ابْن عَبَّاس فَقَط.

وَكَذَلِكَ 5- خرجه ابْن حبَان فِي صَحِيحه عَن أبي هُرَيْرَة وَابْن عَبَّاس، 6- وَالْحَاكِم عَن حسان بن ثَابت رضي الله عنه.
2-‌‌ লানত সংক্রান্ত হাদিসসমূহের সংকলনকারীদের (المخرجون) সামগ্রিক বিবরণ:

1- ইমাম আহমদ, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ নারীদের কবর জিয়ারত নিষেধ সংক্রান্ত হাদিসটি তিনটি সূত্র (طرق) থেকে বর্ণনা করেছেন:

প্রথমত: আবু সালামাহ-এর সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।

দ্বিতীয়ত: আবু সালেহ-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।

তৃতীয়ত: আবদুর রহমান বিন হাসসান-এর সূত্রে তাঁর পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।

2- আর এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, ৩- নাসায়ি ৪- এবং আবু দাউদ তায়ালিসি শুধুমাত্র ইবনে আব্বাস থেকে।

অনুরূপভাবে ৫- ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি আবু হুরায়রা ও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং ৬- হাকেম এটি হাসসান বিন সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩২)
3-‌‌ تَفْصِيل رِوَايَات المخرجين:

أما الإِمَام أَحْمد فقد رَوَاهُ بلفظين:

أَولا: رَوَاهُ عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه بِلَفْظ "إِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لعن زوارات الْقُبُور".

وَأَيْضًا: عَن حسان مثله.

ثَانِيًا: عَن ابْن عَبَّاس بِلَفْظ "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زائرات الْقُبُور والمتخذين عَلَيْهَا الْمَسَاجِد والسرج".

وَأما أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَأَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ فقد أَخْرجُوهُ كلهم عَن ابْن عَبَّاس مثل لفظ الإِمَام أَحْمد الْمُتَقَدّم عَنهُ. وَكَذَلِكَ ابْن حبَان فقد رَوَاهُ عَن ابن عَبَّاس وَأبي هُرَيْرَة مثله. وَأما التِّرْمِذِيّ فقد رَوَاهُ من طرق الإِمَام أَحْمد الثَّلَاثَة الْمُتَقَدّمَة وَلَفظه عَن ابْن عَبَّاس "أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لعن زائرات الْقُبُور" وَعَن أبي هُرَيْرَة وَحسان بِلَفْظ " لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زوارات الْقُبُور". بعد أَن ترْجم لَهَا بقوله: بَاب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَة زِيَارَة الْقُبُور للنِّسَاء، ثمَّ قَالَ: هَذَا حَدِيث حسن صَحِيح وَقد رأى بعض أهل الْعلم أَن هَذَا كَانَ قبل أَن يرخص النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رخص دخل فِي رخصته الرِّجَال وَالنِّسَاء، وَقَالَ بَعضهم: إِنَّمَا كره زِيَارَة الْقُبُور للنِّسَاء لقلَّة صبرهن وَكَثْرَة جزعهن.

وَرَوَاهُ أَيْضا ابْن مَاجَه فِي سنَنه من الطّرق الثَّلَاثَة الْمُتَقَدّمَة عِنْد الْإِمَامَيْنِ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ كلهَا بِلَفْظ "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زُوَّارات الْقُبُور" ، بعد أَن بوب لَهَا بقوله: بَاب مَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن زِيَارَة النِّسَاء للقبور، وَقَالَ فِي الزَّوَائِد: إِسْنَاد حَدِيث حسان بن ثَابت صَحِيح وَرِجَاله ثِقَات.

فَتبين من هَذَا أَن لفظ "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زوارات الْقُبُور" جَاءَ من الطّرق الثَّلَاثَة الْمُتَقَدّمَة أَعنِي: عَن ابْن عَبَّاس، وَثَانِيا عَن أبي هُرَيْرَة وثالثا عَن حسان بن ثَابت رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ.

وَأَن لفظ "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زائرات الْقُبُور" جَاءَ من طَرِيقين.

أَولا: عَن ابْن عَبَّاس عِنْد الإِمَام أَحْمد وأبى دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن حبَان وَأبي دَاوُد الطَّيَالِسِيّ.

وَثَانِيا: عَن أبي هُرَيْرَة عِنْد ابْن حبَان وَالله أعلم.
3-‌‌ বর্ণনাকারীদের বর্ণনার বিস্তারিত বিবরণ:

ইমাম আহমদ এটি দুটি শব্দে বর্ণনা করেছেন:

প্রথমত: তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে, "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.) কবর যিয়ারতকারী অধিক ক্রন্দনকারী মহিলাদের (زوارات الْقُبُور) অভিশাপ দিয়েছেন।"

এবং একইভাবে হাসসান (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এই শব্দে যে, "রাসূলুল্লাহ (সা.) কবর যিয়ারতকারী মহিলাদের (زائرات الْقُبُور) এবং যারা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করে ও সেখানে প্রদীপ জ্বালায় তাদের অভিশাপ দিয়েছেন।"

আর আবু দাউদ, নাসাঈ এবং আবু দাউদ তায়ালিসি—তাঁরা সকলেই এটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে ইমাম আহমদের ইতিপূর্বে উল্লিখিত শব্দের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনে হিব্বানও এটি ইবনে আব্বাস (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একই শব্দে বর্ণনা করেছেন। আর তিরমিযী এটি ইমাম আহমদের উল্লিখিত তিনটি সূত্র (طرق) থেকেই বর্ণনা করেছেন; ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে তাঁর শব্দ হলো: "রাসূলুল্লাহ (সা.) কবর যিয়ারতকারী মহিলাদের (زائرات الْقُبُور) অভিশাপ দিয়েছেন", এবং আবু হুরায়রা (রা.) ও হাসসান (রা.) থেকে শব্দ হলো: "রাসূলুল্লাহ (সা.) কবর যিয়ারতকারী অধিক ক্রন্দনকারী মহিলাদের (زوارات الْقُبُور) অভিশাপ দিয়েছেন।" তিনি এর শিরোনাম দিয়েছেন এই বলে: "নারীদের কবর যিয়ারত অপছন্দনীয় হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ", এরপর তিনি বলেছেন: এটি হাসান সহীহ (حسن صَحِيح) হাদিস। উলামাদের কেউ কেউ মনে করেন, এটি নবী (সা.) এর অনুমতি দেওয়ার পূর্বের কথা। যখন তিনি অনুমতি দিলেন, তখন সেই অনুমতির অন্তর্ভুক্ত পুরুষ ও নারী উভয়ই শামিল হন। আবার কেউ কেউ বলেছেন: নারীদের কবর যিয়ারত অপছন্দ করা হয়েছে তাদের ধৈর্য কম হওয়ার কারণে এবং অধিক বিলাপের আশঙ্কায়।

ইবনে মাজাহ-ও তাঁর সুনান-এ ইমাম আহমদ ও তিরমিযীর বর্ণিত উল্লিখিত তিনটি সূত্র (طرق) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) কবর যিয়ারতকারী অধিক ক্রন্দনকারী মহিলাদের (زوارات الْقُبُور) অভিশাপ দিয়েছেন।" তিনি এর শিরোনাম দিয়েছেন: "নারীদের কবর যিয়ারত নিষেধ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ"। আর তিনি যাওয়াইদ গ্রন্থে বলেছেন: হাসসান বিন সাবিত (রা.)-এর হাদিসের সনদটি (إِسْنَاد) সহীহ (صَحِيح) এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثِقَات)।

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, "রাসূলুল্লাহ (সা.) কবর যিয়ারতকারী অধিক ক্রন্দনকারী মহিলাদের (زوارات الْقُبُور) অভিশাপ দিয়েছেন"—এই শব্দটি উল্লিখিত তিনটি সূত্র (طرق) থেকে এসেছে; অর্থাৎ প্রথমত ইবনে আব্বাস (রা.), দ্বিতীয়ত আবু হুরায়রা (রা.) এবং তৃতীয়ত হাসসান বিন সাবিত (রা.) থেকে (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমায়িন)।

এবং "রাসূলুল্লাহ (সা.) কবর যিয়ারতকারী মহিলাদের (زائرات الْقُبُور) অভিশাপ দিয়েছেন"—এই শব্দটি দুটি সূত্র (طريقين) থেকে এসেছে।

প্রথমত: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে, যা ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান এবং আবু দাউদ তায়ালিসির নিকট বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, যা ইবনে হিব্বানের নিকট বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
4-‌‌ سَنَد حَدِيث "زائرات" بطريقيه:

وَسَنَد الْجَمِيع عَن ابْن عَبَّاس مَا يَلِي:

قَالَ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده: حَدثنَا يحيى عَن شُعْبَة حَدثنَا مُحَمَّد بن جحادة عَن أبي صَالح عَن ابْن عَبَّاس فَذكره.

وَمثله بِإِسْنَادِهِ عِنْد من تقدّمت الْإِشَارَة إِلَيْهِم، إِلَّا أَن ابْن حبَان رَوَاهُ أَيْضا بِسَنَد آخر عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه فَقَالَ: أخبرنَا مُحَمَّد بن عبد الله بن الْجُنَيْد حَدثنَا قُتَيْبَة بن سعيد حَدثنَا أَبُو عوَانَة عَن عمر بن أبي سَلمَة عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ: "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زائرات الْقُبُور والمتخذين عَلَيْهَا الْمَسَاجِد والسرج" فَهَذَا الحَدِيث رُوِيَ عَن كل من أبي هُرَيْرَة وَابْن عَبَّاس رضي الله عنهم بِلَفْظ "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زوارات الْقُبُور"، وبلفظ "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زائرات الْقُبُور"، كَمَا صرح بِهِ التِّرْمِذِيّ فِي جَامعه، وَابْن مَاجَه فِي سنَنه، فَلهَذَا قَالَ التِّرْمِذِيّ: هَذَا حَدِيث حسن صَحِيح لِكَثْرَة طرقه، وَقَالَ شيخ الْإِسْلَام تَقِيّ الدّين بن تَيْمِية رَحمَه الله تَعَالَى: هَذَا مَعَ أَنه لَيْسَ فِي الإسنادين من يتهم بِالْكَذِبِ وَمثل هَذَا حجَّة بِلَا ريب، وَهَذَا من أَجود الْحسن الَّذِي شَرطه التِّرْمِذِيّ، فَإِنَّهُ جعل الْحسن مَا تعدّدت طرقه وَلم يكن شاذاً، وَهَذَا الحَدِيث تعدّدت طرقه وَلَيْسَ فِيهَا مُتَّهم وَلَا خَالفه أَحد من الثِّقَات، هَذَا لَو كَانَ عَن صَاحب وَاحِد فَكيف إِذا كَانَ هَذَا رَوَاهُ عَن صَاحب وَذَاكَ عَن آخر فَهَذَا كُله يبين أَن الحَدِيث فِي الأَصْل مَعْرُوف.
4-‌‌ "যাইরাত" (কবর যিয়ারতকারিণী নারী) সংক্রান্ত হাদিসের উভয় সূত্রের সনদ (سند):

এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সকল সূত্রের সনদ (سند) নিম্নরূপ:

ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া হাদিস বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন জুহাদাহ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে; অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

এবং যাদের প্রতি পূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তাঁদের নিকটও তাঁর সনদ (إسناد)-সহ অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। তবে ইবনে হিব্বান আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অপর একটি সনদে (سند) এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-জুনাইদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন কুতাইবাহ বিন সাঈদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানাহ, তিনি উমর বিন আবি সালামাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের যিয়ারতকারিণী নারী এবং কবরের উপর মসজিদ নির্মাণকারী ও চেরাগ প্রজ্জ্বলনকারীদের অভিশাপ দিয়েছেন।" সুতরাং এই হাদিসটি আবু হুরায়রা ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) উভয়ের নিকট থেকে "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের অতি যিয়ারতকারিণী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন" শব্দে এবং "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের যিয়ারতকারিণী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন" শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি তিরমিযী তাঁর জামি'তে এবং ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এই কারণেই তিরমিযী বলেছেন: এই হাদিসটি এর সূত্রসমূহের (طرق) আধিক্যের কারণে হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)। শাইখুল ইসলাম তাক্বীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) বলেছেন: এটি এমন যে, এর উভয় সনদের (إسناد) মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) এবং নিঃসন্দেহে এ ধরনের বর্ণনা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য। আর এটি তিরমিযী কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সর্বোত্তম হাসান (حسن) পর্যায়ের; কারণ তিনি সেই হাদিসকে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করেছেন যার একাধিক সূত্র (طرق) রয়েছে এবং যা শায (شاذ) নয়। আর এই হাদিসটির একাধিক সূত্র (طرق) রয়েছে এবং তাতে অভিযুক্ত (متهم) কেউ নেই, আর নির্ভরযোগ্যদের (ثقات) কেউ এর বিরোধিতা করেননি। এটি তো তখনই (হাসান হতো) যদি একজন মাত্র সাহাবী থেকে বর্ণিত হতো; তবে যখন এটি একজন সাহাবী থেকে এবং ওটি অন্যজন থেকে বর্ণিত হয়েছে, তখন তো এটি আরও শক্তিশালী। সুতরাং এসব কিছুই স্পষ্ট করে যে, হাদিসটি মূলত সুপরিচিত (معروف)।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الْكَلَام على سندي هَذَا الحَدِيث

…

5- الْكَلَام على سَنَد هَذَا الحَدِيث:

1- وَأما أَبُو صَالح الرَّاوِي عَن ابْن عَبَّاس، فقد اخْتلف فِي اسْمه على قَوْلَيْنِ:

القَوْل الأول: أَنه ميزَان الْبَصْرِيّ أَبُو صَالح، وَبِهَذَا جزم ابْن حبَان فِي الصَّحِيح فِي النَّوْع السَّادِس من الثَّانِي وفى التَّاسِع وَالْمِائَة من الثَّانِي أَيْضا بعد أَن أورد هَذَا الحَدِيث من رِوَايَة عبد الْوَارِث عَن مُحَمَّد بن جحادة، وَأقرهُ ابْن الْقيم فِي تَهْذِيب سنَن أبي دَاوُد وقوّى هَذَا القَوْل بِأَنَّهُ (ميزَان) وَلَكِن صحف فِي طبعة مُخْتَصر سنَن أبي دَاوُد بِلَفْظ: (مهْرَان) وَالصَّحِيح أَنه (ميزَان) كَمَا فِي تَهْذِيب التَّهْذِيب لِابْنِ حجر. وميزان هَذَا قَالَ فِيهِ يحيى بن معِين- وَهُوَ من أَشد النَّاس مقَالَة فِي الرِّجَال-: "إِنَّه ثِقَة مَأْمُون". وَذكره ابْن حبَان فِي الثِّقَات. وَقَالَ الْحَاكِم فِي الصَّحِيح: "هُوَ ثِقَة". وَلم يذكرهُ الْمزي وَلَا الْخُلَاصَة وَلَا الْمِيزَان وَلَا لِسَانه. وَقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي تَهْذِيب التَّهْذِيب: "إِن أَبَا صَالح ميزَان روى التِّرْمِذِيّ عَن طَرِيقه فِي كتاب الْجَنَائِز من طَرِيق عبد الْوَارِث بن سعيد عَن مُحَمَّد بن جحادة عَن أيى صَالح عَن ابْن عَبَّاس" يُشِير إِلَى هَذَا الحَدِيث.
এই হাদিসের সনদদ্বয়ের (سند) আলোচনা

…

৫- এই হাদিসের সনদের (سند) আলোচনা:

১- ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনাকারী আবু সালেহ সম্পর্কে বলা যায় যে, তার নামের ব্যাপারে দুটি মতভেদ রয়েছে:

প্রথম মত: তিনি হলেন আবু সালেহ মিজান আল-বাসরি। ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে দ্বিতীয় ভাগের ষষ্ঠ প্রকারে এবং দ্বিতীয় ভাগের ১০৯তম পরিচ্ছেদেও এই বিষয়ে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন। তিনি আব্দুল ওয়ারিস কর্তৃক মুহাম্মদ ইবনে জুহাদাহর সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণনা করার পর তা উল্লেখ করেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম 'তাহজিবু সুনানি আবি দাউদ'-এ এটিকে সমর্থন করেছেন এবং এই মতকে শক্তিশালী করেছেন যে তিনি হলেন (মিজান)। তবে 'মুখতাসারু সুনানি আবি দাউদ'-এর মুদ্রিত সংস্করণে শব্দবিপর্যয় (تصحيف) হয়ে শব্দটি 'মেহরান' হয়ে গেছে। কিন্তু সঠিক হলো যে তিনি 'মিজান', যেমনটি ইবনে হাজার আসকালানির 'তাহজিবুত তাহজিব' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর এই মিজান সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে মাইন—যিনি বর্ণনাকারীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন—বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون)"। ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আল-হাকিম তার সহিহ গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)"। আল-মিযযি, 'আল-খুলাসাহ', 'আল-মিজান' কিংবা 'লিসান' গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করেননি। হাফেজ ইবনে হাজার 'তাহজিবুত তাহজিব' গ্রন্থে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আবু সালেহ মিজান সম্পর্কে তিরমিজি তার 'কিতাবুল জানাইজ'-এ আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সাইদ-এর সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে জুহাদাহ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন"—তিনি মূলত এই হাদিসটির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩৪)
القَوْل الثَّانِي: أَن أَبَا صَالح هَذَا هُوَ (باذام مولى أم هَانِئ) وَيُقَال بالنُّون (باذان) وَجزم بِهَذَا الْحَاكِم وَعبد الْحق الإشبيلي فِي الْأَحْكَام وَابْن الْقطَّان وَابْن عَسَاكِر وَالْمُنْذِرِي وَابْن دحْيَة وَغَيرهم قَالَه فِي التَّهْذِيب.

فعلى كلا الْقَوْلَيْنِ فَإِن الحَدِيث بِرِوَايَة "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زائرات الْقُبُور" حَدِيث صَحِيح سَوَاء كَانَ من رِوَايَة (ميزَان) أَو من رِوَايَة (باذام مولى أُم هَانِئ) فقد قَالَ أَبُو حَاتِم فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل: "لم أر أحدا من أَصحابنا ترك أَبَا صَالح مولى أم هَانِئ وَمَا سَمِعت أحدا من النَّاس يَقُول فِيهِ شَيْئا، وَلم يتْركهُ سعيد وَلَا زَائِدَة وَلَا عبد الله بن عُثْمَان"، وَقَالَ يحيى بن معِين: "أَبُو صَالح مولى أُم هَانِئ لَيْسَ بِهِ بَأس فَإِذا روى عَنهُ الْكَلْبِيّ فَلَيْسَ بِشَيْء وَإِذا روى عَنهُ غير الْكَلْبِيّ فَلَيْسَ بِهِ بَأْس، لِأَن الْكَلْبِيّ يحدث بِهِ مرّة من رَأْيه وَمرَّة عَن أبي صَالح" اهـ. وَهَذَا والله أعلم هُوَ أعدل الْأَقْوَال فِي أَمر أبي صَالح مولى أُم هَانِئ كَمَا أَشَارَ إِلَى ذَلِك الْعَلامَة الْمُحَقق الشَّيْخ أَحْمد شَاكر، قَالَ فِي حَاشِيَته على مُسْند الإِمَام أَحْمد: "وَالْحق أَن أَبَا صَالح مولى أم هَانِئ ثِقَة لَيْسَ لمن ضعفه حجَّة وَإِنَّمَا تكلمُوا فِيهِ من أجل التَّفْسِير الْكثير الْمَرْوِيّ عَنهُ وَالْحمل فِي ذَلِك على تِلْمِيذه مُحَمَّد بن السَّائِب الْكَلْبِيّ وَدَعوى ابْن حبَان أَنه لم يسمع من ابْن عبا س غلط عَجِيب، فَإِن أَبَا صَالح تَابِعِيّ قديم روى عَمَّن هُوَ أقدم من ابْن عَبَّاس كَأبي هُرَيْرَة وعَلى بن أبي طَالب وَأم هَانِئ والله أعلم".

2- الطَّرِيق الثَّانِي: عَن أَبى هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ ابْن حبَان: أخبرنَا مُحَمَّد بن عبد الله بن الْجُنَيْد حَدثنَا قُتَيْبَة بن سعيد حَدثنَا أَبُو عوَانَة عَن عمر بن أبي سَلمَة عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة فَذكر الحَدِيث. وَعمر هَذَا هُوَ: عمر بن أبي سَلمَة بن عبد الرَّحْمَن ابْن عَوْف أَخُو مُسلم مديني الأَصْل، قَالَ أَبُو حَاتِم: "هُوَ عِنْدِي صَالح صَدُوق يكْتب حَدِيثه وَلَا يحْتَج بِهِ يُخَالف فِي بعض الشَّيْء". وَقَالَ الذَّهَبِيّ: صحّح لَهُ التِّرْمِذِيّ حَدِيث "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زوارات الْقُبُور"، فناقشه عبد الْحق وَقَالَ: "عمر ضَعِيف عِنْدهم" - فأسرف عبد الْحق. وَقَالَ ابْن معِين فِي رِوَايَة أَحْمد بن أَبى خَيْثَمَة عَنهُ:" لَيْسَ بِهِ بَأْس" وَذكره ابْن حبَان فِي الثِّقَات وَقَالَ الْحَافِظ فِي التَّقْرِيب:"صَدُوق يُخطئ مَاتَ سنة 132 هـ".

وبكلام الْحَافِظ ابْن حجر هَذَا عرفنَا أَن عمر الْمَذْكُور وَإِن كَانَ يُخطئ إِذا انْفَرد كَمَا يُشِير إِلَيْهِ كَلَام الْحَافِظ، وَلَكِن مَعَ وجود طَرِيق آخر لهَذَا الحَدِيث عَن (ميزَان الْبَصْرِيّ) على الصَّحِيح وَعَن مولى أم هَانِئ على قَول يتَبَيَّن أَن عمر فِي هَذَا الحَدِيث لم يُخطئ فصح على هَذَا تَصْحِيح التِّرْمِذِيّ لهَذَا الحَدِيث كَمَا صرح بتصحيح التِّرْمِذِيّ لَهُ الذَّهَبِيّ وبإسراف الإشبيلي فِي تَضْعِيفه. فَتبين من هَذَا صِحَة هَذَا الحَدِيث من غير مدافعة وَالله أعلم.
দ্বিতীয় অভিমত: এই আবু সালিহ হলেন উম্মে হানির আযাদকৃত দাস বাযাম (باذام)। তাকে ‘নুন’ সহযোগে বাযান (باذان) হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। আল-হাকিম, আল-আহকাম গ্রন্থে আব্দুল হক আল-ইশবিলি, ইবনুল কাত্তান, ইবনে আসাকির, আল-মুনযিরি, ইবনে দিহইয়া এবং অন্যরা এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত ব্যক্ত করেছেন। তাহযিব গ্রন্থে এ কথা বলা হয়েছে।

সুতরাং উভয় অভিমত অনুযায়ী, "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর জিয়ারতকারী নারীদের লানত করেছেন" হাদিসটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস; চাই তা মিযানের বর্ণনা হোক কিংবা উম্মে হানির আযাদকৃত দাস বাযামের বর্ণনা হোক। আবু হাতিম 'আল-জারহ ওয়া আল-তাদিল (الجرْح وَالتَّعْدِيل)' গ্রন্থে বলেছেন: "আমি আমাদের সঙ্গীদের কাউকে উম্মে হানির আযাদকৃত দাস আবু সালিহকে বর্জন করতে দেখিনি এবং মানুষের কাউকে তার সম্পর্কে বিরূপ কিছু বলতে শুনিনি। সাঈদ, যাইদাহ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান কেউই তাকে বর্জন করেননি।" ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন বলেছেন: "উম্মে হানির আযাদকৃত দাস আবু সালিহের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)। তবে যখন তার থেকে কালবি বর্ণনা করে, তখন তা ধর্তব্য নয় (ليس بشيء); আর কালবি ছাড়া অন্য কেউ তার থেকে বর্ণনা করলে তাতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ কালবি কখনো তার থেকে নিজের মতামত বর্ণনা করে, আবার কখনো আবু সালিহের বরাতে বর্ণনা করে।" এটিই, আল্লাহ ভালো জানেন, উম্মে হানির আযাদকৃত দাস আবু সালিহের ব্যাপারে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অভিমত, যেমনটি আল্লামা মুহাক্কিক শেখ আহমাদ শাকির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি মুসনাদে আহমাদ-এর টিকায় বলেছেন: "সঠিক কথা হলো উম্মে হানির আযাদকৃত দাস আবু সালিহ একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী। যারা তাকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন তাদের কাছে কোনো দলিল নেই। তার সম্পর্কে বিরূপ আলোচনা কেবল তার থেকে বর্ণিত (مروي) প্রচুর তাফসিরের কারণে করা হয়েছে, যার দায়ভার তার ছাত্র মুহাম্মদ ইবনে সায়িব আল-কালবির ওপর বর্তায়। আর ইবনে হিব্বানের এই দাবি যে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে শ্রবণ করেননি, তা একটি বিস্ময়কর ভুল (غلط عجيب)। কেননা আবু সালিহ একজন প্রাচীন তাবেয়ি (تابعي), যিনি ইবনে আব্বাসের চেয়েও অগ্রজ আবু হুরায়রা, আলী ইবনে আবি তালিব এবং উম্মে হানি থেকে বর্ণনা করেছেন।"

২- দ্বিতীয় সূত্র: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। ইবনে হিব্বান বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল জুনাইদ, তিনি কুতাইবা ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি আবু আওয়ানা থেকে, তিনি উমর ইবনে আবি সালামা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। এই উমর হলেন: উমর ইবনে আবি সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, তিনি মুসলিমের ভাই এবং মূলত মদিনার অধিবাসী। আবু হাতিম বলেন: "তিনি আমার নিকট ভালো (صالح) ও সত্যবাদী (صدوق); তার হাদিস লিখে রাখা যাবে কিন্তু তার মাধ্যমে দলিল পেশ করা যায় না (لا يحتج به), কারণ তিনি কিছু ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেন।" ইমাম যাহাবি বলেন: তিরমিযি তার বর্ণিত "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর জিয়ারতকারী নারীদের লানত করেছেন" হাদিসটিকে সহিহ (صحّح) বলেছেন। আব্দুল হক এর প্রতিবাদ করে বলেছেন: "উমর তাদের নিকট দুর্বল (ضعيف)।" তবে আব্দুল হক এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছেন। ইবনে মায়িন, আহমাদ ইবনে আবি খাইসামার বর্ণনায় উমর সম্পর্কে বলেছেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)।" ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الثقات) তালিকায় উল্লেখ করেছেন। আল-হাফিজ ইবনে হাজার 'তাকরিব' গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী তবে ভুল করেন (صدوق يخطئ), মৃত্যু ১৩২ হিজরি।"

হাফিজ ইবনে হাজরের এই বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, উল্লিখিত উমর যদি এককভাবে বর্ণনা করেন (انفرد), তবে তিনি ভুল করেন (يخطئ), যেমনটি হাফিজ ইশারা করেছেন। কিন্তু এই হাদিসের যেহেতু অন্য একটি সূত্র মিযান আল-বসরির মাধ্যমে এবং অন্য একটি মতানুসারে উম্মে হানির দাসের মাধ্যমে বিদ্যমান রয়েছে, তাই এটি স্পষ্ট হয় যে উমর এই হাদিসে ভুল করেননি। সুতরাং এই হাদিসটির ক্ষেত্রে ইমাম তিরমিযির সহিহায়ন (تصحيح) সঠিক সাব্যস্ত হয়, যেমনটি যাহাবি স্পষ্টভাবে ইমাম তিরমিযির সহিহায়নকে (تصحيح) সমর্থন করেছেন এবং ইশবিলি তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করার (تضعيفه) ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে হাদিসটি কোনো সংশয় ছাড়াই সহিহ (صحة) হিসেবে প্রমাণিত হলো। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩৫)
6-‌‌ ضبط زَاي زوارات:

هَذَا مَعَ أَن رِوَايَة "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زوارات الْقُبُور" هِيَ بِمَعْنى زائرات لِأَن زوَّارات بِضَم الزَّاي الْمُعْجَمَة كَمَا قَالَه الْجلَال الْمحلي فِي شرح الْمِنْهَاج والسيوطي وَأقرهُ السندي والمناوي وَصَاحب تنقيب الروَاة شرح الْمشكاة قَالَ هَؤُلَاءِ: "الدائر على الْأَلْسِنَة ضم الزَّاي من زوارات، جمع زوار جمع زائرة سَمَاعا وزائر قِيَاسا. وَقيل زوّارات للْمُبَالَغَة فَلَا يَقْتَضِي وُقُوع اللَّعْن على وُقُوع الزِّيَارَة إِلَّا نَادرا. ونوزع بِأَنَّهُ إِنَّمَا قَابل الْمُقَابلَة بِجَمِيعِ الْقُبُور، وَمن ثمَّ جَاءَ فِي رِوَايَة أبي دَاوُد زائرات بِلَا مُبَالغَة" انْتهى. فعلى هَذَا الضَّبْط فَهِيَ بِمَعْنى زائرات لَا للْمُبَالَغَة كَمَا ظَنّه كثير من طلبة الْعلم فصيغة الْمُبَالغَة بِفَتْح الزَّاي لَا بضَمهَا، كَمَا أَن الصِّيغَة الدَّالَّة على النّسَب بِالْفَتْح أَيْضا كَقَوْلِه عز وجل: {وَمَا رَبُّكَ بِظَلَاّمٍ لِلْعَبِيدِ} وَذَلِكَ مَعْلُوم عِنْد أهل التصريف قَالَ ابْن مَالك فِي ألفيته:

فعّال أَو مِفعَال أَو فعُول … بِكَثْرَة عَن فَاعل بديل

وَقَالَ فِي النّسَب:

وَمَعَ فَاعل وفعَّال فعل … فِي نسب أَغنى عَن اليا فَقبل

فَيكون معنى زوّارات الْقُبُور: ذَوَات زِيَارَة الْقُبُور على أَن الصِّيغَة للنسب. فاتفقت الرِّوَايَتَانِ على منع النِّسَاء من زِيَارَة الْقُبُور مُطلقًا. فعلى هَذَا فَلَيْسَ فِي هَذِه الرِّوَايَة دَلِيل على جَوَاز زِيَارَة النِّسَاء للقبور إِن لم تَتَكَرَّر، كَمَا يَقُول بِهِ بعض النَّاس، مَعَ أَن صِحَة رِوَايَة "زائرات" كَمَا تقدم نَص صَرِيح فِي أَن زوّارات لَيست للْمُبَالَغَة. بل إِمَّا أَن تكون هَذِه الصِّيغَة على مَا تقدم من أَنَّهَا بِالضَّمِّ وَإِمَّا أَن تكون للنسب تَوْفِيقًا بَين الدَّلِيلَيْنِ فَإِن الْجمع بَين الدَّلِيلَيْنِ مَتى أمكن فَهُوَ أولى من طرح أَحدهمَا أَو دَعْوَى التَّعَارُض بَينهمَا، قَالَ شيخ الْإِسْلَام تَقِيّ الدّين ابْن تَيْمِية رحمه الله: "وَإِذا كَانَت زِيَارَة النِّسَاء للقبور مَظَنَّة وسبباً للأمور الْمُحرمَة وَالْحكمَة هُنَا غير مضبوطة فَإِنَّهُ لَا يُمكن أَن يحد الْمِقْدَار الَّذِي لَا يُفْضِي إِلَى ذَلِك وَلَا التَّمْيِيز بَين نوع وَنَوع" إِلَى آخر مَا سَيَأْتِي من كَلَامه إِن شَاءَ الله تَعَالَى.

فَإِذا اسْتَقر وضوح دلَالَة هَذَا الحَدِيث على الْمَنْع مُطلقًا وَأَن اخْتِلَاف اللَّفْظَيْنِ لَفْظِي لَيْسَ بَينهمَا فَارق على مَا ذكرنَا فَاعْلَم أَن هُنَاكَ نصوصاً صَحِيحَة تؤيد مَا أسلفناه دافعة لتأويل سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى مَالا يحْتَملهُ النَّص إِلَّا بتكلف ظَاهر، مقررة لذَلِك الْمَعْنى الْعَظِيم وَتلك الْقَاعِدَة الشَّرْعِيَّة الْكُبْرَى الَّتِي أَجمعت عَلَيْهَا الْأمة، وَذَلِكَ أَن سد الذرائع مَطْلُوب ومقدم على جلب الْمَنَافِع قَالَ الله تَعَالَى: {وَلا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ
৬-‌‌ 'যুওয়ারাত' (زوارات) শব্দের 'যা' (ز) বর্ণের উচ্চারণ বিন্যাস:

এর সাথে সাথে "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর জিয়ারতকারী নারীদের (যুওয়ারাতিল কুবুর) অভিশাপ দিয়েছেন" এই বর্ণনা (رواية) টি মূলত 'যায়িরাত' (জিয়ারতকারী নারী) অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ 'যুওয়ারাত' (زوارات) শব্দটি 'যা' (ز) বর্ণে পেশ (যাম্মাহ) যোগে গঠিত, যেমনটি মিনহাজের ব্যাখ্যাগ্রন্থে জালাল আল-মহল্লী এবং সুয়ূতী বলেছেন এবং সিন্ধি, মুনাবী ও মিশকাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তান্কীবুর রুওয়াত'-এর লেখক একে সমর্থন করেছেন। তারা বলেছেন: "মানুষের মুখে মুখে 'যুওয়ারাত' শব্দের 'যা' বর্ণে পেশ দিয়ে পড়ার বিষয়টিই প্রচলিত। এটি 'যুওয়ার' শব্দের বহুবচন, যা শ্রুতিগতভাবে 'যায়িরাহ' এর বহুবচন এবং ব্যাকরণগত নিয়মানুযায়ী 'যায়ির' এর বহুবচন। কেউ কেউ বলেছেন, 'যুওয়ারাত' শব্দটি আধিক্য (مبالغة) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে এটি কেবল তখনই অভিশাপের দাবি রাখে যখন জিয়ারত অত্যন্ত ঘনঘন বা বারবার করা হয়, যা কদাচিৎ ঘটে থাকে। তবে এই মতটি খণ্ডন করা হয়েছে এই যুক্তিতে যে, এখানে মূলত সকল কবরের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এই কারণেই সুনানে আবু দাউদ-এর বর্ণনায় কোনো আধিক্য (مبالغة) ছাড়াই 'যায়িরাত' (زائرات) শব্দটি এসেছে।" সমাপ্ত। সুতরাং এই উচ্চারণ বিন্যাস অনুযায়ী এটি 'যায়িরাত' অর্থেই ব্যবহৃত, আধিক্য (مبالغة) বুঝানোর জন্য নয়—যেমনটি অনেক ইলম অন্বেষণকারী মনে করে থাকেন। কারণ আধিক্যবোধক রূপ 'যা' বর্ণে জবর (ফাতহা) দিয়ে গঠিত হয়, পেশ দিয়ে নয়। যেমনটি সম্বন্ধ বা নসব-এর ক্ষেত্রেও জবর দিয়ে হয়ে থাকে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনার রব বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুমকারী নন}। এটি রূপতত্ত্ববিদদের নিকট সুপরিচিত। ইবনে মালিক তার আলফিয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন:

ফা'আল (فعّال), মিফ'আল (مِفعَال) অথবা ফাউল (فعُول)... 'ফা'ইল' এর বিকল্প হিসেবে আধিক্য (مبالغة) বুঝাতে প্রচুর ব্যবহৃত হয়।

নসব বা সম্বন্ধের ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন:

এবং 'ফা'ইল', 'ফা'আল' ও 'ফা'িল' শব্দগুলো... নসবের ক্ষেত্রে 'ইয়া' এর প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়।

অতএব, 'যুওয়ারাতিল কুবুর' এর অর্থ হবে: কবর জিয়ারতের সাথে সম্পৃক্ত নারীগণ, যদি শব্দটিকে নসব বা সম্বন্ধের অর্থে ধরা হয়। ফলে উভয় বর্ণনা (رواية) নারীদের কবর জিয়ারত করাকে সাধারণভাবে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। সুতরাং, এই বর্ণনাটিতে (رواية) নারীদের জন্য কবর জিয়ারত করা বৈধ হওয়ার কোনো দলিল নেই যদি তা বারবার না হয়—যেমনটি কিছু মানুষ বলে থাকেন। অধিকন্তু 'যায়িরাত' এই বর্ণনাটির (رواية) বিশুদ্ধতা (صحة), যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ যে 'যুওয়ারাত' শব্দটি আধিক্য (مبالغة) বুঝানোর জন্য নয়। বরং হয় এই শব্দটি পূর্বে বর্ণিত পেশ দিয়ে পড়ার নিয়মানুযায়ী হবে অথবা উভয় দলিলের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য নসব বা সম্বন্ধের অর্থে হবে। কেননা যখনই দুটি দলিলের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা সম্ভব হয়, তখন কোনো একটিকে বর্জন করা বা তাদের মধ্যে বৈপরীত্য (تعارض) দাবি করার চেয়ে সামঞ্জস্য বিধান করাই উত্তম। শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নারীদের কবর জিয়ারত করা যখন নিষিদ্ধ বিষয়ের ক্ষেত্র ও কারণ হয়ে দাঁড়ায়, আর এর হিকমত যেহেতু নির্দিষ্টভাবে পরিমাপযোগ্য নয়, তাই এমন কোনো মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় যা ঐ নিষিদ্ধ দিক পর্যন্ত পৌঁছাবে না এবং এর বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে পার্থক্য করাও সম্ভব নয়..." ইনশাআল্লাহ সামনে তার আলোচনার বাকি অংশ আসবে।

যখন সাধারণভাবে এই হাদিসের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো এবং শব্দগত পার্থক্যের কারণে অর্থের কোনো তফাৎ নেই বলে সাব্যস্ত হলো—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—তখন জেনে রাখুন যে, এখানে আরও কিছু সহিহ (صحيحة) নস বা পাঠ রয়েছে যা আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনাকে সমর্থন করে। এসব দলিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর এমন সব ব্যাখ্যাকে প্রতিহত করে যা সুস্পষ্ট কষ্টকল্পনা ব্যতীত নস বা পাঠের বাহ্যিক অর্থ বহন করতে পারে না। এটি ঐ মহান উদ্দেশ্য এবং শরিয়তের সেই বৃহৎ মূলনীতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে যার ওপর উম্মত ঐক্যমত পোষণ করেছে; আর তা হলো 'সাদদুয যারাই' (ক্ষতিকর পথ বন্ধ করা) কাম্য এবং এটি উপকার লাভের চেয়ে অগ্রগণ্য। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের পূজা করে, তোমরা তাদের গালি দিও না...}
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْواً بِغَيْرِ عِلْمٍ} ، وَفِي الحَدِيث الصَّحِيح "وَلَوْلَا أَن قَوْمك حديثو عهد بِكفْر لهدمت الْكَعْبَة وبنيتها على قَوَاعِد إِبْرَاهِيم" مَعَ الْعلم أَنه لَيْسَ هُنَاكَ مصلحَة راجحة فِي زيارتها للقبور كَمَا هُوَ الْحَال بِالنِّسْبَةِ للرِّجَال وَالله أعلم.

...যাতে তারা অজ্ঞতাবশত সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহকে গালি না দেয়}। আর বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসে এসেছে: "যদি তোমার সম্প্রদায় কুফরি ত্যাগের ক্ষেত্রে নতুন না হতো, তবে আমি কাবা ভেঙে ইব্রাহিমের ভিত্তির ওপর তা পুনর্নির্মাণ করতাম।" এর সাথে এ বিষয়টিও স্বীকৃত যে, নারীদের কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রাধিকারযোগ্য (راجحة) কল্যাণ নেই, যেমনটি পুরুষদের ক্ষেত্রে রয়েছে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩৬)
7-‌‌ تَفْصِيل أَدِلَّة الْمَنْع:

أَولا: مَا تقدم عَن ثَلَاثَة من سَادَات أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مخبرين عَنهُ بلعنه زائرات الْقُبُور، وَهُوَ إِمَّا خبر عَن الله فَهُوَ خبر صدق، وَإِمَّا دُعَاء من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، فيا ويل من دَعَا عَلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهَذَا اللَّعْن مُفِيد لحكمين هما: التَّحْرِيم والوعيد فَهَذَا الْوَعيد الشَّديد دَلِيل على أَن زِيَارَة النِّسَاء للقبور مُحرمَة بل وكبيرة من الْكَبَائِر، لِأَن معنى اللَّعْن هُوَ الطَّرْد والإبعاد عَن رَحْمَة الله تَعَالَى. قَالَ الشَّيْخ تَقِيّ الدّين بن تَيْمِية رَحمَه الله تَعَالَى فِي كِتَابه (رفع الملام عَن الْأَئِمَّة الْأَعْلَام) - مَا نَصه: "إِن الْعلمَاء متفقون على وجوب الْعَمَل بِأَحَادِيث الْوَعيد فِيمَا اقتضته من التَّحْرِيم، وَإِنَّمَا خَالف بَعضهم فِي الْعَمَل بآحادها فِي الْوَعيد خَاصَّة، فَأَما بِالتَّحْرِيمِ فَلَيْسَ فِيهِ خلاف مُعْتَد بِهِ" إِلَى أَن قَالَ: "بل إِذا كَانَ فِي الحَدِيث وَعِيد كَانَ ذَلِك أبلغ فِي اقْتِضَاء التَّحْرِيم على مَا تعرفه الْقُلُوب".

ثَانِيًا: روى الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده، وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ فِي سُنَنهمَا، وَابْن حبَان فِي صَحِيحه، وَالْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك من حَدِيث ربيعَة بن سيف الْمعَافِرِي عَن أبي عبد الرَّحْمَن الحبُلى عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ: "قبرنا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَوْمًا، فَلَمَّا فَرغْنَا انْصَرف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وانصرفنا مَعَه، فَلَمَّا حاذينا بِهِ وتوسط الطَّرِيق إِذا نَحن بِامْرَأَة مقبلة، فَلَمَّا دنت إِذا هِيَ فَاطِمَة فَقَالَ لَهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: مَا أخرجك يَا فَاطِمَة من بَيْتك؟ قَالَت: يَا رَسُول الله رحمت على أهل هَذَا الْمَيِّت ميتهم، فَقَالَ لَهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: فلعلك بلغت الكُدَى - يَعْنِي: الْمَقَابِر، بِضَم الْكَاف وَفتح الدَّال الْمُهْملَة مَقْصُورا- قَالَت: معَاذ الله وَقد سَمِعتك تذكر فِيهَا مَا تذكر. قَالَ: لَو بلغت مَعَهم الكُدى مَا رَأَيْت الْجنَّة حَتَّى يَرَاهَا جد أَبِيك. فَسَأَلت ربيعَة عَن الكُدى فَقَالَ: الْقُبُور".

ثَالِثا: روى ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ عَن عَليّ رضي الله عنه قَالَ: "خرج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِذا نسْوَة جُلُوس فَقَالَ: مَا يجلسكن؟ قُلْنَ: نَنْتَظِر الْجِنَازَة. قَالَ: هَل تغسلن؟ قُلْنَ: لَا، قَالَ: هَل تدلين فِيمَن يدلى؟ قُلْنَ: لَا، قَالَ فارجعن مَأْزُورَات غير
৭-‌‌ নিষেধাজ্ঞার দলীলসমূহের বিস্তারিত বিবরণ:

প্রথমত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণের (أصحاب) মধ্য হতে যে তিনজনের বর্ণনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তাঁরা তাঁর পক্ষ থেকে কবর জিয়ারতকারী নারীদের প্রতি অভিশাপ দেওয়ার সংবাদ দিয়েছেন। এটি হয় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সংবাদ, যা সত্য সংবাদ; অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে কৃত বদ-দুআ। অতএব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার বিরুদ্ধে বদ-দুআ করেছেন, তার জন্য দুর্ভোগ অনিবার্য। আর এই অভিশাপ দুটি বিধান সাব্যস্ত করে: হারাম (تحريم) এবং শাস্তির হুঁশিয়ারি (وعيد)। সুতরাং এই কঠোর হুঁশিয়ারি (وعيد) একথাই প্রমাণ করে যে, নারীদের কবর জিয়ারত করা নিষিদ্ধ (محرمة), বরং তা কবিরা গুনাহসমূহের (كبيرة من الكبائر) অন্তর্ভুক্ত; কারণ অভিশাপের অর্থ হলো আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত ও দূর করে দেওয়া। শেখ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ তাঁর 'রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম' গ্রন্থে লিখেছেন—যার পাঠ নিম্নরূপ: "নিশ্চয়ই আলেমগণ শাস্তির হুঁশিয়ারি (وعيد) সম্বলিত হাদিসসমূহের দাবি অনুযায়ী কোনো বিষয় হারাম (تحريم) হওয়ার ক্ষেত্রে সেগুলোর ওপর আমল করার বিষয়ে একমত। তবে তাঁদের কেউ কেউ বিশেষভাবে শাস্তির হুঁশিয়ারি (وعيد) কার্যকর হওয়ার বিষয়ে একক বর্ণনা তথা আহাদ (آحاد) হাদিসের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করেছেন। কিন্তু হারাম (تحريم) হওয়ার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো মতভেদ নেই।" তিনি আরও বলেন: "বরং হাদিসে যখন শাস্তির হুঁশিয়ারি (وعيد) থাকে, তখন তা হারাম (تحريم) হওয়ার দাবিকে আরও জোরালোভাবে ব্যক্ত করে, যা অন্তরসমূহ সহজেই অনুধাবন করতে পারে।"

দ্বিতীয়ত: ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ, আবু দাউদ ও নাসাঈ তাঁদের সুনান-এ, ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ-তে এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক-এ রবিআ ইবনে সাইফ আল-মাআফিরি থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দাফনকার্য সম্পন্ন করলাম। যখন আমরা অবসর হলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে চললেন এবং আমরাও তাঁর সাথে ফিরে চললাম। যখন আমরা তাঁর বরাবর রাস্তার মাঝামাঝি পৌঁছালাম, তখন হঠাৎ আমাদের সামনে একজন নারীকে আসতে দেখলাম। যখন তিনি নিকটবর্তী হলেন, দেখা গেল তিনি ফাতেমা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: হে ফাতেমা! তোমাকে ঘর থেকে কিসে বের করল? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি তাদের মৃত সদস্যের কারণে সমবেদনা জানাতে এসেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: সম্ভবত তুমি ‘কুদা’ (অর্থাৎ কবরস্থান - المقابر, শব্দটি কাফ বর্ণে পেশ এবং দাল বর্ণে জবরসহ মাকসুর তথা হ্রস্ব স্বরে গঠিত) পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলে? তিনি বললেন: আল্লাহর পানাহ! অথচ আমি আপনাকে এ বিষয়ে যা বলার তা বলতে শুনেছি। তিনি বললেন: যদি তুমি তাদের সাথে কবরস্থান (الكُدى) পর্যন্ত পৌঁছাতে, তবে জান্নাত দেখতে পেতে না যতক্ষণ না তোমার পিতার দাদা তা প্রত্যক্ষ করেন। রবিআ-কে ‘কুদা’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: তা হলো কবরসমূহ (القبور)।"

তৃতীয়ত: ইবনে মাজাহ ও বায়হাকি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং কিছু নারীকে বসে থাকতে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা কীসের জন্য বসে আছো? তারা বলল: আমরা জানাজার অপেক্ষা করছি। তিনি বললেন: তোমরা কি গোসল করাও? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তোমরা কি কবরে নামানো লোকদের সাথে অংশগ্রহণ করো? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তবে তোমরা পাপের বোঝা নিয়ে, সওয়াবহীন অবস্থায় ফিরে যাও।"
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩৭)
مَأْجُورَات". وَهَذَا كَمَا قَالَ الإِمَام ابْن الْقيم رَحمَه الله تَعَالَى "يدل على أَن اتباعهن الْجَنَائِز وزر لَا أجر لَهُنَّ فِيهِ إِذْ لَا مصلحَة لَهُنَّ وَلَا للْمَيت فِي اتباعهن لَهَا، بل فِيهِ مفْسدَة للحي وَالْمَيِّت" اهـ.

رَابِعا: روى البُخَارِيّ وَمُسلم وَأحمد وَابْن جرير وَأَبُو يعلى الْموصِلِي وَالطَّبَرَانِيّ عَن أم عَطِيَّة قَالَت: "لما قدم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَة جمع نسَاء الْأَنْصَار فِي بَيت وَفِيه ونهانا عَن اتِّبَاع الْجَنَائِز وَلم يعزم علينا".

وَالدّلَالَة من الْأَحَادِيث الثَّلَاثَة الْمُتَأَخِّرَة- على منع النِّسَاء من زِيَارَة الْقُبُور- ظَاهِرَة، إِذْ فِي مَنعهنَّ من اتِّبَاع الْجَنَائِز دَلِيل على مَنعهنَّ من زِيَارَة الْمَقَابِر، وَالْعلَّة بَين الْحكمَيْنِ مُشْتَركَة وَسَيَأْتِي مَا يشد الْمَنْع وَيُؤَيِّدهُ.

وفى حَدِيثي عبد الله بن عمر وَعلي رضي الله عنهم دَلِيل على أَن نهي النِّسَاء عَن اتِّبَاع الْجَنَائِز فِي حَدِيث أم عَطِيَّة نهي تَحْرِيم لَا نهي تَنْزِيه كَمَا قَالَ بِهِ بعض أهل الْعلم رَحِمهم الله تَعَالَى. وَقد رأى عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه نسَاء فِي جَنَازَة فطردهن وَقَالَ: "والله لأرجع إِن لم ترجعن وحصبهن بِالْحِجَارَةِ"، ذكره ابْن الْحَاج فِي الْمدْخل والله أعلم.
প্রতিদানপ্রাপ্ত"। এবং এটি যেমন ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এটি প্রমাণ করে যে, তাদের (নারীদের) জানাজার অনুসরণ করা একটি পাপ, যাতে তাদের জন্য কোনো সওয়াব নেই। কারণ তাদের জানাজার অনুগমনের মধ্যে তাদের নিজেদের জন্য বা মৃত ব্যক্তির জন্য কোনো কল্যাণ নেই; বরং এতে জীবিত এবং মৃত উভয়ের জন্যই অনিষ্ট রয়েছে।" সমাপ্ত।

চতুর্থত: বুখারি, মুসলিম, আহমাদ, ইবনে জারির, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি এবং তাবারানি উম্মে আতিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় আগমন করলেন, তিনি আনসার নারীদের একটি ঘরে একত্রিত করলেন এবং সেখানে তিনি আমাদের জানাজার অনুসরণ করতে নিষেধ করলেন, তবে আমাদের ওপর তা কঠোরভাবে আবশ্যক করেননি।"

নারীদের কবর জিয়ারত থেকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে পূর্বোল্লিখিত তিনটি হাদিসের নির্দেশ সুস্পষ্ট (ظاهرة)। কেননা তাদের জানাজার অনুসরণ থেকে নিষেধ করার মধ্যে কবর জিয়ারত থেকে নিষেধ করারও প্রমাণ নিহিত রয়েছে। এই উভয় বিধানের পেছনের কারণ (علة) অভিন্ন। অচিরেই এমন বর্ণনা আসবে যা এই নিষেধাজ্ঞাকে আরও সুদৃঢ় ও সমর্থিত করবে।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাদিসদ্বয়ে প্রমাণ রয়েছে যে, উম্মে আতিয়্যাহর হাদিসে বর্ণিত নারীদের জানাজার অনুগমনে নিষেধাজ্ঞাটি হারামের নিষেধাজ্ঞা (نهي تحريم), তানজিহি বা অপছন্দনীয়তার নিষেধাজ্ঞা (نهي تنزيه) নয়; যেমনটি কোনো কোনো আলেম (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জানাজায় কিছু নারীকে দেখে তাদের তাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম! যদি তোমরা ফিরে না যাও তবে অবশ্যই আমি ফিরে যাব।" এবং তিনি তাদের পাথর ছুড়েছিলেন। ইবনুল হাজ এটি 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌أَدِلَّة الْمُجِيز ين وَالْجَوَاب عَنْهَا

…

8- أَدِلَّة المجيزين وَالْجَوَاب عَنْهَا:

اسْتدلَّ المجيزون لزيارة النِّسَاء للقبور بِمَا يَلِي:

أَولا: بِحَدِيث أم عَطِيَّة الْمُتَّفق عَلَيْهِ قَالَ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه: حدتنا قبيصَة بن عقبَة حَدثنَا سُفْيَان عَن خَالِد عَن أم الْهُذيْل عَن أم عَطِيَّة رضي الله عنها قَالَت: "نهينَا عَن اتِّبَاع الْجَنَائِز وَلم يعزم علينا".

ثَانِيًا: حَدِيث أنس عِنْد البُخَارِيّ قَالَ فِي صَحِيحه: حَدثنَا آدم حَدثنَا شُعْبَة حَدثنَا ثَابت عَن أنس بن مَالك رضي الله عنه قَالَ: "مر النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِامْرَأَة تبْكي عِنْد قبر فَقَالَ: اتَّقِ الله واصبري، قَالَت: إِلَيْك عني فَإنَّك لم تصب بمصيبتي وَلم تعرفه، فَقيل لَهَا إِنَّه النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَأَتَت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَلم تَجِد عِنْده بوابين فَقَالَت: لم أعرفك فَقَالَ: إِنَّمَا الصَّبْر عِنْد الصدمة الأولى".

ثَالِثا: حَدِيث بُرَيْدَة عِنْد مُسلم أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "كنت نَهَيْتُكُمْ عَن زِيَارَة الْقُبُور. فزوروها فَإِنَّهَا تذكر الْمَوْت".

رَابِعا: حَدِيث عَائِشَة عِنْد مُسلم وَالنَّسَائِيّ وَفِيه قَالَت: "كَيفَ أَقُول لَهُم يَا رَسُول الله؟ قَالَ: قولي السَّلَام على أهل الديار من الْمُؤمنِينَ وَالْمُسْلِمين" الحَدِيث.
‌‌বৈধতা দানকারীদের প্রমাণাদি এবং সেগুলোর প্রত্যুত্তর

…

৮- বৈধতা দানকারীদের প্রমাণাদি এবং সেগুলোর প্রত্যুত্তর:

নারীদের কবর জিয়ারত বৈধ মনে করেন যারা, তারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

প্রথমত: উম্মে আতিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসের মাধ্যমে। ইমাম বুখারি তার সহিহ বুখারি গ্রন্থে বলেছেন: কুবাইসাহ ইবনে উকবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি খালিদ থেকে, তিনি উম্মুল হুযাইল থেকে এবং তিনি উম্মে আতিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমাদেরকে জানাজার অনুগমন করতে নিষেধ করা হয়েছিল, তবে আমাদের ওপর তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি।"

দ্বিতীয়ত: সহিহ বুখারি-তে বর্ণিত আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস। ইমাম বুখারি তার সহিহ বুখারি গ্রন্থে বলেছেন: আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি একটি কবরের পাশে কাঁদছিলেন। তিনি বললেন: আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো। মহিলাটি বলল: আপনি আমার নিকট থেকে দূরে সরুন, কারণ আপনি আমার মতো বিপদে পড়েননি। তিনি নবীজিকে চিনতে পারেননি। পরবর্তীতে তাকে বলা হলো যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন। এরপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরজায় আসলেন এবং সেখানে কোনো দ্বাররক্ষী পেলেন না। তিনি বললেন: আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। তখন নবীজি বললেন: নিশ্চয়ই ধৈর্য হলো বিপদের প্রথম আঘাতের মুহূর্তেই।"

তৃতীয়ত: সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত বুরাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। অতএব, তোমরা তা জিয়ারত করো, কেননা তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।"

চতুর্থত: সহিহ মুসলিম এবং সুনানে নাসায়ি-তে বর্ণিত আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিস, যাতে তিনি বলেছেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমি তাদের উদ্দেশ্যে কী বলব? তিনি বললেন: তুমি বলো, মুমিন ও মুসলিম গৃহবাসীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক"— হাদিসটি।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩৮)
خَامِسًا: حَدِيث عبد الله بن أبي مليكَة عِنْد التِّرْمِذِيّ فِي زِيَارَة عَائِشَة رضي الله عنها قبر أَخِيهَا عبد الرَّحْمَن بن أَبى بكر قَالَ ابْن أبي مليكَة: توفّي عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر بالحبشى، فَحمل إِلَى مَكَّة فَدفن فِيهَا فَلَمَّا قدمت عَائِشَة رضي الله عنها أَتَت قبر عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر فَذكر الحَدِيث وَفِيه أَنَّهَا قَالَت: "لَو شهدتك لما زرتك".

سادساً: رِوَايَة الْبَيْهَقِيّ عَن بسطَام بن مُسلم عَن أَبي التياح يزِيد بن حميد عَن عبد الله بن أبي مليكَة " أَن عَائِشَة رضي الله عنها أَقبلت ذَات يَوْم من الْمَقَابِر، فَقلت لَهَا: يَا أم الْمُؤمنِينَ من أَيْن أَقبلت؟ قَالَت: من قبر أخي عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر، فَقلت لَهَا: أَلَيْسَ كَانَ نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن زِيَارَة الْقُبُور؟ قَالَت: كَانَ نهى ثمَّ أَمر بزيارتها".

سابعاً: مَا رَوَاهُ الْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه قَالَ: حَدثنَا أَبُو حميد أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَامِد الْعدْل بالطابران- حَدثنَا تَمِيم بن مُحَمَّد، حَدثنَا أَبُو مُصعب الزُّهْرِيّ، حَدثنِي مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل بن أبي فديك، أَخْبرنِي سُلَيْمَان بن دَاوُد عَن جَعْفَر بن مُحَمَّد عَن أَبيه عَن عَليّ بن الْحُسَيْن عَن أَبِيه أَن فَاطِمَة بنت مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم كَانَت تزور قبر عَمها حَمْزَة كل جُمُعَة فَتُصَلِّي وتبكي عِنْده.

قَالَ الْحَاكِم: "رُوَاته عَن آخِرهم ثِقَات"، وَتعقبه الذَّهَبِيّ فِي تلخيصه فَقَالَ: "هَذَا مُنكر جدا وَسليمَان ضَعِيف".

هَذِه جملَة مَا استدلوا بِهِ على الْجَوَاز وَقد أوردهَا شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية وفصّل الْجَواب عَنْهَا فِي كثير من كتبه، كَمَا استوفى ذكرهَا وَالْجَوَاب عَنْهَا شمس الدّين بن الْقيم- رَحمَه الله تَعَالَى- وَذَلِكَ فِي تهذيبه لسنن أبي دَاوُد وَنحن إِن شَاءَ الله نلخص مَا ذكره هَذَانِ الإمامان وَمَا ذكره غَيرهمَا مَعَ مَا يفتح الله بِهِ علينا فِي هَذَا الْمقَام والله الْمُسْتَعَان.

أما حَدِيث أم عَطِيَّة رضي الله عنها: فَمحل استدلالهم من قَوْلهَا "وَلم يعزم علينا"، وَالْجَوَاب عَنهُ كَمَا قَالَ الإِمَام أَبُو الْعَبَّاس بن تَيْمِية رحمه الله قَالَ مَا نَصه: "وَأما قَول أم عَطِيَّة: (وَلم يعزم علينا) فقد يكون مرادها لم يُؤَكد النَّهْي وَهَذَا يَقْتَضِي التَّحْرِيم وَقد تكون هِيَ ظنت أَنه لَيْسَ بنهي تَحْرِيم، وَالْحجّة فِي قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَا فِي ظن غَيره". وَقَالَ ابْن الْقيم رَحمَه الله تَعَالَى: "وَأما قَول أُم عَطِيَّة فَهُوَ حجَّة للْمَنْع وَقَوْلها وَلم يعزم علينا إِنَّمَا نفت فِيهِ وصف النَّهْي وَهُوَ النَّهْي الْمُؤَكّد بالعزيمة وَلَيْسَ ذَلِك شرطا فِي اقْتِضَاء
পঞ্চম: তিরমিজি-তে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকার হাদিস, যা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কর্তৃক তাঁর ভাই আবদুর রহমান ইবনে আবি বকরের কবর জিয়ারত সংক্রান্ত। ইবনে আবি মুলাইকা বলেন: আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর 'হাবাশি' নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন, অতঃপর তাঁকে মক্কায় নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়। যখন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আসলেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি বকরের কবরের নিকট আসলেন এবং হাদিসটি বর্ণনা করলেন, যাতে উল্লেখ আছে যে তিনি বলেছিলেন: "আমি যদি তোমার (মৃত্যুর) সময় উপস্থিত থাকতাম, তবে তোমার কবর জিয়ারত করতাম না।"

ষষ্ঠ: বায়হাকি-র বর্ণনা, যা বিস্তাম ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আবুল তায়্যাহ ইয়াজিদ ইবনে হুমাইদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণনা করেন যে, "আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) একদিন কবরস্থান থেকে ফিরে আসছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: হে উম্মুল মুমিনীন, আপনি কোথা থেকে আসলেন? তিনি বললেন: আমার ভাই আবদুর রহমান ইবনে আবি বকরের কবর থেকে। আমি তাঁকে বললাম: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেননি? তিনি বললেন: তিনি নিষেধ করেছিলেন, অতঃপর জিয়ারত করার আদেশ দিয়েছিলেন।"

সপ্তম: হাকেম তাঁর মুসতাদরাক গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হুমাইদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামিদ আল-আদল আত-তাবারানি বর্ণনা করেছেন—আমাদের নিকট তামিমি ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু মুসআব আজ-জুহরি বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আবি ফুদাইক বর্ণনা করেছেন, আমাকে সুলাইমান ইবনে দাউদ সংবাদ দিয়েছেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলি ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি জুমুয়াবার তাঁর চাচা হামজার কবর জিয়ারত করতেন, সেখানে সালাত আদায় করতেন এবং কাঁদতেন।

হাকেম বলেন: "এর বর্ণনাকারীদের সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقات)"। যাহাবি তাঁর তালখিস-এ এর পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেন: "এটি অত্যন্ত আপত্তিকর (منكر) এবং সুলাইমান দুর্বল (ضعيف)"।

বৈধতার সপক্ষে তারা যে সমস্ত দলিল পেশ করেন এগুলো তার সমষ্টি। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এগুলো উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর অনেক কিতাবে এগুলোর বিস্তারিত উত্তর দিয়েছেন। তেমনিভাবে শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাহজিবু সুনানি আবি দাউদ গ্রন্থে এগুলো সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন এবং উত্তর দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আমরা এই দুই ইমাম এবং অন্যান্যের আলোচনার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করব, সাথে আল্লাহ এই বিষয়ে আমাদের জন্য যা উন্মুক্ত করবেন তা-ও উল্লেখ করব। আর আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

উম্মে আতিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের দলিলের ভিত্তি হলো তাঁর এই বক্তব্য: "আমাদেরকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়নি"। এর উত্তর সম্পর্কে ইমাম আবু আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তার ভাষ্য হলো: "উম্মে আতিয়্যাহর কথা—(আমাদেরকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়নি)—এর দ্বারা হতে পারে তিনি বুঝিয়েছেন যে, নিষেধটি গুরুত্বের সাথে বা তাকিদসহ দেওয়া হয়নি, আর এটি হারামেরই দাবি রাখে। আবার এ-ও হতে পারে যে, তিনি একে হারাম হওয়ার মতো নিষেধ মনে করেননি। অথচ দলিল হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর মধ্যে, অন্যের ধারণার মধ্যে নয়।" ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "উম্মে আতিয়্যাহর কথাটি মূলত নিষেধাজ্ঞার পক্ষেই দলিল। আর তাঁর উক্তি—'আমাদেরকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়নি'—এর মাধ্যমে তিনি কেবল নিষেধাজ্ঞার একটি গুণকে অস্বীকার করেছেন, যা হলো দৃঢ় সংকল্পের সাথে জোর দিয়ে নিষেধ করা। আর এটি কোনো বিষয়ের নিষেধাজ্ঞার (অপরিহার্যতা) জন্য শর্ত নয়..."
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৩৯)
التَّحْرِيم بل مُجَرّد النَّهْي كَاف، وَلما نهاهن انتهين لطواعيتهن لله وَلِرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم فاستغنين عَن الْعَزِيمَة عَلَيْهِنَّ، وَأم عَطِيَّة لم تشهد فِي ذَلِك النَّهْي وَقد دلّت أَحَادِيث لعنة الزائرات على الْعَزِيمَة فَهِيَ مثبتة للعزيمة فَيجب تَقْدِيمهَا".

قلت: وَفِي حَدِيثي عبد الله بن عَمْرو وَعلي رضي الله عنهم الْمُتَقَدّم ذكرهمَا مَا يدل على أَن نهيهن عَن اتِّبَاع الْجَنَائِز نهي تَحْرِيم لَا تَنْزِيه، وَفِي ذَلِك دَلِيل وَاضح على مَنعهنَّ من زِيَارَة الْقُبُور إِذْ الْعلَّة بَين الْحكمَيْنِ مُشْتَركَة فصح أَن الِاسْتِدْلَال بِهِ فِي جَانب الْمَنْع أولى وأَرجح والله أعلم.

وَأما حَدِيث أنس عِنْد البُخَارِيّ: "مر النَّبِي صلى الله عليه وسلم بامرأَة تبْكي عِنْد قبر على صبي لَهَا، فَقَالَ: اتَّقِ الله واصبري" الحَدِيث؛ فَهُوَ كَذَلِك حجَّة للْمَنْع لِأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لم يقرها بل أمرهَا بتقوى الله الَّتِي هِيَ فعل مَا أَمر بِهِ وَترك مَا نهى عَنهُ وَمن جُمْلَتهَا النَّهْي عَن زِيَارَة النِّسَاء للقبور وَقَالَ لَهَا: "اصْبِرِي" وَمَعْلُوم أَن مجيئها للقبر وبكاءها منَاف للصبر، فَلَمَّا أَبَت أَن تقبل مِنْهُ لِأَنَّهَا لم تعرفه انْصَرف عَنْهَا، فَلَمَّا علمت أَنه صلى الله عليه وسلم هُوَ الْآمِر لَهَا جَاءَتْهُ تعتذر إِلَيْهِ من مُخَالفَة أمره. فَأَي دَلِيل فِي هَذَا الحَدِيث على جَوَاز زِيَارَة النِّسَاء للقبور؟ وَمَعَ هَذَا فَلَا يعلم أَن هَذِه الْقَضِيَّة كَانَت بعد لَعنه صلى الله عليه وسلم زائرات الْقُبُور، وَنحن نقُول إِمَّا أَن تكون دَالَّة على الْجَوَاز فَلَا دلَالَة على تأخرها عَن أَحَادِيث الْمَنْع، أَو تكون دَالَّة على الْمَنْع لأمرها بتقوى الله فَلَا دلَالَة فِيهَا على الْجَوَاز، وعَلى كلا التَّقْدِيرَيْنِ فَلَا تعَارض هَذِه الْقَضِيَّة أَحَادِيث الْمَنْع وَلَا يُمكن دَعْوَى نسخهَا بهَا وَالله أعلم.

وأَما حَدِيث بُرَيْدَة رضي الله عنه: فقد قَالَ المجيزون: إِن هَذَا الْخطاب يتَنَاوَل النِّسَاء بِعُمُومِهِ، بل هن المُرَاد بِهِ فَإِنَّهُ إِنَّمَا علم نَهْيه عَن زيارتها للنِّسَاء دون الرِّجَال وَهَذَا صَرِيح فِي النّسخ لِأَنَّهُ قد صرح فِيهِ بِتَقْدِيم النَّهْي وَلَا ريب فِي أَن الْمنْهِي عَن زِيَارَة الْقُبُور هُوَ الْمَأْذُون لَهُ فِيهَا وَالنِّسَاء قد نهين عَنْهَا فيتناولهن الْإِذْن.

وَالْجَوَاب عَن هَذَا: أَن الصِّيغَة فِي هَذَا الحَدِيث هِيَ خطاب للذكور، وَالنِّسَاء وَإِن دخلن فِيهِ تَغْلِيبًا فَهَذَا حَيْثُ لَا يكون دَلِيل صَرِيح يَقْتَضِي عدم دخولهن، وأَما حَدِيث التَّحْرِيم فَمن أظهر الْقَرَائِن على عدم دخولهن فِي خطاب الذُّكُور، وَقد كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي أول الْإِسْلَام قد نهي عَن زِيَارَة الْقُبُور صِيَانة لجَانب التَّوْحِيد وقطعاً للتعلق بالأموات وسدا لذريعة الشّرك، الَّتِي أَصْلهَا تَعْظِيم الْقُبُور وعبادتها كَمَا قَالَ ابْن عَبَّاس رَضِي
হারাম হওয়া (تحريم) বরং কেবল নিষেধ (নিষেধ/نهي)-ই যথেষ্ট। যখন তিনি তাদের নিষেধ করলেন, তখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর প্রতি আনুগত্যের কারণে বিরত থাকলেন, ফলে তাদের ওপর কঠোর বিধান (عزيمة)-এর আর প্রয়োজন রইল না। আর উম্মে আতিয়্যাহ সেই নিষেধাজ্ঞার সময় উপস্থিত ছিলেন না। কবর যিয়ারতকারিণী নারীদের অভিশাপ সংক্রান্ত হাদিসগুলো কঠোর বিধান (عزيمة)-এর প্রমাণ দেয়, যা কঠোরতা সাব্যস্তকারী (مثبتة), তাই একেই প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক (واجب)।

আমি বলি: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর এবং আলী (রা.)-এর পূর্বে বর্ণিত হাদিসদ্বয়ে এমন কিছু রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, জানাজার অনুসরণ থেকে তাদের বারণ করাটা হারাম হওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা (نهي تحريم), অপছন্দনীয় হওয়ার জন্য (نهي تنزيه) নয়। এতে নারীদের কবর যিয়ারত থেকে বিরত রাখার সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে, যেহেতু উভয় বিধানের মূল কারণ (علة) অভিন্ন। সুতরাং এটি সঠিক যে, নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা অধিকতর উত্তম ও অগ্রগণ্য (أرجح), আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

আর Sahih Bukhari-তে বর্ণিত আনাস (রা.)-এর হাদিস: "নবী (সা.) এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি তাঁর সন্তানের কবরের পাশে কাঁদছিলেন, তখন তিনি বললেন: আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো" (হাদিস); এটিও নিষেধাজ্ঞার স্বপক্ষে দলিল (حجة), কারণ নবী (সা.) তাকে সমর্থন করেননি বরং তাকে আল্লাহভীতির (تقوى الله) নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহভীতির অর্থ হলো যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা পালন করা এবং যা নিষেধ করা হয়েছে তা বর্জন করা। যার অন্তর্ভুক্ত হলো নারীদের কবর যিয়ারতের নিষেধাজ্ঞা। তিনি তাকে বলেছিলেন: "ধৈর্য ধরো"। এটি সুবিদিত যে, কবরে আসা এবং কান্না করা ধৈর্যের পরিপন্থী। যখন মহিলাটি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাল কারণ সে তাঁকে চিনতে পারেনি, তখন তিনি সেখান থেকে চলে গেলেন। যখন সে জানতে পারল যে তিনি (সা.)-ই তাকে নির্দেশ প্রদানকারী ছিলেন, তখন সে তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণের জন্য ওজর পেশ করতে এল। সুতরাং এই হাদিসে নারীদের কবর যিয়ারত বৈধ হওয়ার কী দলিল আছে? অধিকন্তু, এটিও জানা নেই যে এই ঘটনাটি কবর যিয়ারতকারিণী নারীদের অভিশাপ দেওয়ার পরের কি না। আমরা বলি— হয় এটি বৈধতার প্রমাণ দেয়, তবে নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলোর পরে হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই; অথবা এটি আল্লাহভীতির নির্দেশের কারণে নিষেধাজ্ঞারই প্রমাণ দেয়, যাতে বৈধতার কোনো প্রমাণ নেই। উভয় অবস্থাতেই এই ঘটনাটি নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক (تعارض) নয় এবং এর মাধ্যমে সেগুলোকে রহিত (نسخ) করার দাবি করাও সম্ভব নয়। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

আর বুরাইদাহ (রা.)-এর হাদিস সম্পর্কে যারা একে বৈধ মনে করেন (المجيزون) তারা বলেন: এই সম্বোধনটি তার ব্যাপকতার (عموم) কারণে নারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। বরং তারাই এর মূল উদ্দেশ্য, কারণ এটি জানা ছিল যে কবর যিয়ারতের নিষেধাজ্ঞাটি নারীদের জন্য ছিল, পুরুষদের জন্য নয়। এটি স্পষ্টভাবে রহিত (نسخ) হওয়ার প্রমাণ দেয়, কারণ এতে পূর্বের নিষেধাজ্ঞার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যাকে কবর যিয়ারত থেকে নিষেধ করা হয়েছিল তাকেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেহেতু নারীদের নিষেধ করা হয়েছিল, তাই এই অনুমতি তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করে।

এর উত্তর হলো: এই হাদিসের শব্দরূপটি (صيغة) পুরুষবাচক সম্বোধন। নারীরা যদিও অধিকাংশের বিধান অনুযায়ী (تغليبا) এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তবে তা কেবল তখনই সম্ভব যখন তাদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট দলিল (دليل صريح) না থাকে। আর হারাম হওয়ার (تحريم) হাদিসটি পুরুষবাচক সম্বোধনে তাদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার অন্যতম সুস্পষ্ট লক্ষণ (قرائن)। ইসলামের প্রাথমিক যুগে তাওহিদের সংরক্ষণের স্বার্থে, মৃতদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে এবং শিরকের পথ রুদ্ধ করার (سدا لذريعة) উদ্দেশ্যে নবী (সা.) কবর যিয়ারত নিষেধ করেছিলেন। শিরকের মূলে ছিল কবরের প্রতি অতিসম্মান প্রদর্শন এবং তার ইবাদত করা, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন...
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৪০)
الله عَنْهُمَا: "فَلَمَّا تمكن التَّوْحِيد من قُلُوبهم واضمحل الشّرك وَاسْتقر الدّين أذن فِي زِيَارَة يحصل بهَا مزِيد الْإِيمَان وتذكير مَا خلق العَبْد لَهُ من دَار الْبَقَاء فَأذن حينئذٍ فِيهَا فَكَانَ نَهْيه عَنْهَا للْمصْلحَة وإذنه فِيهَا للْمصْلحَة. وَأما النِّسَاء فَإِن هَذِه الْمصلحَة وَإِن كَانَت مَطْلُوبَة مِنْهُنَّ لَكِن مَا يقارن زيارتهن من الْمَفَاسِد الَّتِي يعلمهَا الْخَاص وَالْعَام من فتْنَة الْأَحْيَاء وإيذاء الْأَمْوَات وَالْفساد الَّذِي لَا سَبِيل إِلَى دَفعه إِلَّا بمنعهن مِنْهَا أعظم مفْسدَة من مصلحَة يسيرَة تحصل لَهُنَّ بالزيارة، والشريعة مبناها على تَحْرِيم الْفِعْل إِذا كَانَت مفسدته أرجح من مصْلحَته، ورجحان هَذِه الْمفْسدَة لَا خَفَاء بِهِ، فمنعهن من الزِّيَارَة من محَاسِن الشَّرِيعَة". اهـ، من كَلَام ابْن الْقيم مُلَخصا.

وَقَالَ شَيْخه شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية رَحمَه الله تَعَالَى: "إِن الْخطاب فِي الْإِذْن فِي قَوْله: فزوروها لم يتَنَاوَل النِّسَاء فَلَا يدخلن فِي الحكم النَّاسِخ، وَالْعَام إِذا عرف أَنه بعد الْخَاص لم يكن نَاسِخا لَهُ عِنْد الْجُمْهُور فَكيف إِذا لم يعلم أَن هَذَا الْعَام بعد الْخَاص، إِذْ قد يكون قَوْله: "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زوارات الْقُبُور" بعد إِذْنه للرِّجَال فِي الزِّيَارَة يدل على ذَلِك أَنه قرنه بالمتخذين عَلَيْهَا الْمَسَاجِد والسرج، وَمَعْلُوم أَن اتخاذها الْمنْهِي عَنهُ مُحكم كَمَا دلّت عَلَيْهِ الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة وَالصَّحِيح أَن النِّسَاء لم يدخلن فِي الْإِذْن فِي زِيَارَة الْقُبُور لعدة أوجه:

الأول: أَن قَوْله صلى الله عليه وسلم "فزوروها" صِيغَة تذكير وَصِيغَة التَّذْكِير إِنَّمَا تنَاول الرِّجَال بِالْوَضْعِ وَقد تتَنَاوَل النِّسَاء أَيْضا على سَبِيل التغليب لَكِن هَذَا فِيهِ قَولَانِ.

الثَّانِي: أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم علل الْإِذْن للرِّجَال بِأَن ذَلِك يذكر الْمَوْت ويرقق الْقلب ويدمع الْعين وَمَعْلُوم أَن الْمَرْأَة إِذا فتح لَهَا هَذَا الْبَاب أخرجهَا إِلَى الْجزع وَالنَّدْب والنياحة لما فِيهَا من الضعْف وَقلة الصَّبْر، وَإِذا كَانَت زِيَارَة النِّسَاء مَظَنَّة وسبباً للأمور الْمُحرمَة وَالْحكمَة هُنَا غير مضبوطة فَإِنَّهُ لَا يُمكن أَن يحد الْمِقْدَار الَّذِي لَا يُفْضِي إِلَى ذَلِك وَلَا التَّمْيِيز بَين نوع وَنَوع، وَمن أصُول الشَّرِيعَة أَن الْحِكْمَة إِذا كَانَت خُفْيَة أَو منتشرة علق الحكم بمظنتها فَيحرم هَذَا الْبَاب سدا للذريعة كَمَا حرم النّظر إِلَى الزِّينَة الْبَاطِنَة وكما حرمت الْخلْوَة بالأجنبية وَلَيْسَ فِي ذَلِك من الْمصلحَة مَا يُعَارض هَذِه الْمفْسدَة فانه لَيْسَ فِي ذَلِك إِلَّا دعاؤها للْمَيت وَذَلِكَ مُمكن فِي بَيتهَا"، إِلَى أَن قَالَ رحمه الله: "إِن قَوْله صلى الله عليه وسلم "من صلى على جَنَازَة فَلهُ قِيرَاط وَمن تبعها حَتَّى تدفن فَلهُ قيراطان" مَعْلُوم أَنه أدل على الْعُمُوم من صِيغَة التَّذْكِير الْمُتَقَدّمَة فَإِن لفظ (من) يتَنَاوَل الرِّجَال وَالنِّسَاء بِاتِّفَاق النَّاس، وَقد علم بالأحاديث الصَّحِيحَة أَن هَذَا الْعُمُوم لم يتَنَاوَل النِّسَاء لنهي النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَهُنَّ عَن
আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন: "অতঃপর যখন তাঁদের অন্তরে তাওহিদ সুদৃঢ় হলো, শিরক বিলীন হলো এবং দীন প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন তিনি কবর যিয়ারতের অনুমতি প্রদান করলেন যার মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং বান্দাকে যে পরকালের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই তিনি তখন এর অনুমতি দিয়েছিলেন। সুতরাং তাঁর পূর্বের নিষেধ করাটাও ছিল জনকল্যাণে এবং পরবর্তী অনুমতি দেওয়াটাও ছিল জনকল্যাণে। আর নারীদের ক্ষেত্রে যদিও এই কল্যাণ তাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত ছিল, কিন্তু তাদের যিয়ারতের সাথে সংশ্লিষ্ট নানাবিধ অপকারিতা—যা বিশিষ্ট ও সাধারণ সকলে অবগত—যেমন জীবিতদের ফিতনায় ফেলা, মৃতদের কষ্ট দেওয়া এবং এমন বিশৃঙ্খলা যা তাদের যিয়ারত থেকে বিরত রাখা ছাড়া প্রতিকার করা সম্ভব নয়, সেই অপকারিতা যিয়ারতের মাধ্যমে প্রাপ্ত সামান্য কল্যাণের চেয়ে অনেক বড়। আর শরীয়তের ভিত্তি হলো কোনো কাজ তখনই হারাম করা হয়, যখন তার অপকারিতা কল্যাণের চেয়ে বেশি হয়। আর এই অপকারিতার আধিক্য কোনো লুকানো বিষয় নয়। তাই তাদের যিয়ারত থেকে বিরত রাখা শরীয়তের অন্যতম সৌন্দর্য।" — ইবনুল কাইয়্যিমের কথা থেকে সংক্ষিপ্ত সার।

এবং তাঁর উস্তাদ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: "অনুমতি সংক্রান্ত তাঁর এই বাণী 'তোমরা তা যিয়ারত করো'-তে নারীরা অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই তারা রহিতকারী (ناسخ) বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর সাধারণ (عام) বর্ণনা যদি বিশেষ (خاص) বর্ণনার পরে আসে বলে জানা যায়, তবুও তা জমহুর উলামাদের মতে রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে গণ্য হয় না। তাহলে যখন এই সাধারণ (عام) বর্ণনাটি বিশেষ (خاص) বর্ণনার পরের কি না তা জানাই না যায়, তখন তা কীভাবে রহিতকারী হতে পারে? কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: 'আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারতকারী নারীদের লানত করেছেন'—এটি পুরুষদের জন্য যিয়ারতের অনুমতির পরবর্তী সময়ের হতে পারে। এর প্রমাণ হলো, তিনি একে কবরের ওপর মসজিদ ও প্রদীপ স্থাপনকারীদের বর্ণনার সাথে যুক্ত করেছেন। আর এটি সুপরিচিত যে, কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ নিষেধ হওয়ার বিষয়টি সুদৃঢ় (محكم), যেমনটি সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ প্রমাণ করে। আর সঠিক কথা হলো, নারীরা কবর যিয়ারতের অনুমতির আওতাভুক্ত নয়, যার বেশ কিছু কারণ রয়েছে:

প্রথমত: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী 'তোমরা তা যিয়ারত করো' শব্দটি পুংলিঙ্গবাচক শব্দরূপ। আর পুংলিঙ্গবাচক শব্দরূপ ভাষাগত গঠনের দিক থেকে কেবল পুরুষদেরই বোঝায়। তবে প্রাধান্য দেওয়ার (তাগলিব) ভিত্তিতে এটি নারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, কিন্তু এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের অনুমতি দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়, অন্তর বিগলিত করে এবং চোখে অশ্রু আনে। আর এটি জানা কথা যে, নারীদের জন্য এই পথ খুলে দেওয়া হলে তা তাদের দুর্বলতা ও ধৈর্যহীনতার কারণে বিলাপ, শোকগাঁথা ও উচ্চস্বরে কান্নাকাটির দিকে নিয়ে যাবে। আর যখন নারীদের যিয়ারত নিষিদ্ধ কাজের ক্ষেত্র ও কারণ হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, এবং এখানে বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয়, কারণ নিষিদ্ধের দিকে ধাবিত করবে না এমন পরিমাণ নির্ধারণ করা বা এক প্রকার নারীর সাথে অন্য প্রকারের পার্থক্য করা সম্ভব নয়। আর শরীয়তের অন্যতম মূলনীতি হলো, কোনো হিকমত বা প্রজ্ঞা যদি অস্পষ্ট বা অসংলগ্ন হয়, তবে বিধানকে তার আশঙ্কার সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়। ফলে ফিতনার পথ বন্ধ করার স্বার্থে এই বিষয়টি হারাম করা হয়েছে, যেমনটি অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের দিকে তাকানো হারাম করা হয়েছে এবং পরনারীর সাথে নির্জনে অবস্থান হারাম করা হয়েছে। আর এর মধ্যে এমন কোনো কল্যাণ নেই যা এই অপকারিতার মোকাবিলা করতে পারে, কারণ এতে মৃত ব্যক্তির জন্য কেবল দোয়াই করার সুযোগ রয়েছে, যা তার নিজ ঘরে অবস্থান করেই করা সম্ভব।" এরপর তিনি (রহ.) বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী: 'যে ব্যক্তি জানাজার সালাত আদায় করবে তার জন্য এক কিরাত এবং যে ব্যক্তি দাফন হওয়া পর্যন্ত জানাজার অনুসরণ করবে তার জন্য দুই কিরাত'—এটি সর্বজনবিদিত যে, পূর্বোক্ত পুংলিঙ্গবাচক শব্দরূপের চেয়ে এটি ব্যাপকতা (عموم)-এর ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্ট। কারণ 'যে ব্যক্তি' (من) শব্দটি সর্বসম্মতভাবে পুরুষ ও নারী উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহের মাধ্যমে জানা গেছে যে, এই ব্যাপকতা (عموم) নারীদের অন্তর্ভুক্ত করে না। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিষেধ করেছেন...
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৪১)
اتِّبَاع الْجَنَائِز فَإِذا لم يدخلن فِي هَذَا الْعُمُوم فَكَذَلِك لَا يدخلن فِي الْعُمُوم الْمُتَقَدّم بطرِيق الأولى … فَإِذا كَانَ النِّسَاء لم يدخلن فِي عُمُوم اتِّبَاع الْجَنَائِز مَعَ مَا فِي ذَلِك من الصَّلَاة على الْمَيِّت فَأن لَا يدخلن فِي زِيَارَة الْقُبُور الَّتِي غايتها دون الصَّلَاة عَلَيْهِ بطرِيق الأولى، وعَلى هَذَا فَيكون الْإِذْن فِي زِيَارَة الْقُبُور مَخْصُوصًا بِالرِّجَالِ، وَخص بلعنه صلى الله عليه وسلم زائرات الْقُبُور فَيكون من الْعَام الْمَخْصُوص" اهـ وبمثل هَذَا قَالَ الْعَلامَة النَّوَوِيّ فِي شرح مُسلم: "هَذَا من الْأَحَادِيث الَّتِي تجمع النَّاسِخ والمنسوخ وَهُوَ صَرِيح فِي نسخ نهي الرِّجَال عَن زيارتها، وأَجمع على أَن زيارتها سنة لَهُم، أما النِّسَاء ففيهن خلاف لِأَصْحَابِنَا وَقدمنَا أَن مَنْ مَنعهنَّ قَالَ: النِّسَاء لَا يدخلن فِي خطاب الرِّجَال وَهُوَ الصَّحِيح عِنْد الْأُصُولِيِّينَ" اهـ. مِنْهُ بِلَفْظِهِ.

وَأما حَدِيث عَائِشَة: عِنْد مُسلم وَالنَّسَائِيّ الَّذِي فِيهِ قَالَت: "كَيفَ أَقُول لَهُم" الحَدِيث فَالْجَوَاب عَنهُ من وُجُوه:

أَولهَا: حمل سؤالها للرسول صلى الله عليه وسلم وتعليمه إِيَّاهَا على مَا إِذا اجتازت بِقَبْر فِي طريقها بِدُونِ قصد للزيارة، وَلَفظ الحَدِيث لَيْسَ فِيهِ تَصْرِيح بالزيارة عِنْد من خرّجه بل قَالَت: مَاذَا أَقُول لَهُم؟ وَلذَلِك صرح الْعلمَاء- رَحِمهم الله تَعَالَى- بِأَنَّهُ يجوز لَهَا أَن تَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاء فِي هَذِه الْحَال، بل وَلَا تسمى زائرة وَالْحَالة هَذِه، فَكَأَنَّهَا رضي الله عنها قَالَت مَاذَا أَقُول إِذا جزت بِقَبْر فِي الطَّرِيق فَقَالَ: "قولي السَّلَام على أهل الديار من الْمُؤمنِينَ وَالْمُسْلِمين" الحَدِيث.. وَلَا أدل على ذَلِك من قَوْلهَا فِي زيارتها لأَخِيهَا عبد الرَّحْمَن "لَو شهدتك لما زرتك" وَإِلَّا لما كَانَ لقولها هَذَا كَبِير معنى، وَإِن فِي حمل الحَدِيث على هَذَا جمعا بَينه وَبَين أَدِلَّة الْمَنْع ودفعاً للتعارض عَن سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِن الْجمع بَين الدَّلِيلَيْنِ مَتى أمكن فَهُوَ أولى من طرح أَحدهمَا أَو دَعْوَى التَّعَارُض بَينهمَا قَالَ صَاحب مراقي السُّعُود فِي ذَلِك:

وَالْجمع وَاجِب مَتى مَا أمكنا … إِلَّا فللأخير نسخ بَينا

وَثَانِيها: أَن حَدِيث عَائِشَة هَذَا يحْتَمل احْتِمَالا قَوِيا أَنه كَانَ على الْبَرَاءَة الْأَصْلِيَّة ثمَّ نقل عَنْهَا إِلَى التَّحْرِيم الْعَام فنسخ نهي الرِّجَال عَن الزِّيَارَة وَبَقِي نهي النِّسَاء على عُمُومه كَمَا أَشَارَ إِلَى ذَلِك الْمُنْذِرِيّ رضي الله عنه بقوله: قد كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم نهى عَن زِيَارَة الْقُبُور نهيا عَاما للرِّجَال وَالنِّسَاء ثمَّ أذن للرِّجَال فِي زيارتها وَاسْتمرّ النَّهْي فِي حق النِّسَاء لوُرُود مَا يَقْتَضِي تخصيصهن فِي ذَلِك الحكم من أَحَادِيث اللَّعْن وَغَيرهَا".
জানাযার অনুসরণ; যদি তারা (মহিলারা) এই সাধারণ নিয়ম (العموم)-এর অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে তারা অধিকতর সংগতভাবে পূর্বোক্ত সাধারণ নিয়ম (العموم)-এরও অন্তর্ভুক্ত হবে না … যদি মহিলারা জানাযার অনুসরণের সাধারণ নিয়ম (العموم)-এর অন্তর্ভুক্ত না হয়ে থাকে—অথচ এতে মৃত ব্যক্তির ওপর জানাযার সালাত পড়ার বিষয়ও রয়েছে—তবে কবর যিয়ারতের ক্ষেত্রে তারা অন্তর্ভুক্ত না হওয়া আরও অধিকতর সংগত, যার উদ্দেশ্য জানাযার সালাতের চেয়েও কম। এর ওপর ভিত্তি করে, কবর যিয়ারতের অনুমতি পুরুষদের জন্য সুনির্দিষ্ট (مخصوصا) হবে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারতকারী নারীদের অভিশাপ প্রদানের মাধ্যমে তাদের পৃথক করেছেন, ফলে এটি সুনির্দিষ্ট সাধারণ নিয়ম (العام المخصوص)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে।" সমাপ্ত। ঠিক অনুরূপ কথা আল্লামা নববী শরহ মুসলিমে বলেছেন: "এটি সেই সকল হাদিসের অন্তর্ভুক্ত যা রহিতকারী (الناسخ) এবং রহিত (المنسوخ)-কে একত্রিত করে। এটি পুরুষদের জন্য যিয়ারত নিষিদ্ধের রহিতকরণ (نسخ)-এর ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট। আর ঐক্যমত হয়েছে যে, তাদের জন্য যিয়ারত করা সুন্নাহ (سنة)। তবে মহিলাদের ব্যাপারে আমাদের সাথীদের (ফকীহদের) মাঝে মতভেদ রয়েছে। আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, যারা তাদের নিষেধ করেছেন তারা বলেছেন: মহিলারা পুরুষদের প্রতি সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এটিই উসুলবিদদের নিকট বিশুদ্ধ (الصحيح)।" সমাপ্ত। তার শব্দেই উদ্ধৃত।

আর আয়েশা (রা.)-এর যে হাদিস মুসলিম ও নাসাঈতে রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: "আমি তাদের জন্য কী বলব?", সেই হাদিসটির উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়:

প্রথমত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার প্রশ্ন এবং তাকে শেখানোর বিষয়টি সেই পরিস্থিতির ওপর প্রয়োগ করা হবে যখন তিনি যিয়ারতের উদ্দেশ্য ছাড়াই পথিমধ্যে কোনো কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবেন। হাদিসটির শব্দপ্রবাহে যারা এটি সংকলন করেছেন তাদের নিকট যিয়ারতের কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই, বরং তিনি বলেছেন: "আমি তাদের জন্য কী বলব?" এই কারণেই উলামায়ে কেরাম—রহিমাহুমুল্লাহ—স্পষ্ট করেছেন যে, এই অবস্থায় তার জন্য এই দোয়া করা বৈধ, বরং এমতাবস্থায় তাকে যিয়ারতকারী বলা হবে না। যেন তিনি (রা.) বলেছিলেন, যখন আমি পথিমধ্যে কোনো কবরের পাশ দিয়ে যাব তখন কী বলব? তিনি বললেন: "বলো—মুমিন ও মুসলিম ঘরবাসীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক..."। এর চেয়ে বড় দলিল আর নেই যা তিনি তার ভাই আব্দুর রহমানের যিয়ারতের সময় বলেছিলেন, "যদি আমি তোমার (মৃত্যুর) সময় উপস্থিত থাকতাম, তবে আমি তোমার যিয়ারত করতাম না।" অন্যথায় তার এই কথার বিশেষ কোনো অর্থ থাকত না। হাদিসটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে এটি এবং নিষেধাজ্ঞার দলিলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সম্ভব হবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) থেকে বৈপরীত্য দূর হবে। কেননা যখনই দুটি দলিলের মধ্যে সমন্বয় সম্ভব হয়, তখন একটিকে বর্জন করা বা তাদের মধ্যে বৈপরীত্যের দাবি করার চেয়ে সমন্বয় করাই উত্তম। এ বিষয়ে 'মারাকিউস সাউদ'-এর লেখক বলেছেন:

সমন্বয় করা ওয়াজিব যখনই তা সম্ভব হয় … অন্যথায় সর্বশেষটি স্পষ্ট রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হবে।

দ্বিতীয়ত: আয়েশা (রা.)-এর এই হাদিসটির ক্ষেত্রে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি মৌলিক বৈধতা (البراءة الأصلية)-এর স্তরে ছিল, অতঃপর তা থেকে সাধারণ হারামের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। ফলে পুরুষদের জন্য যিয়ারতের নিষেধাজ্ঞা রহিতকরণ (نسخ) করা হয়েছে এবং মহিলাদের জন্য নিষেধাজ্ঞা তার সাধারণ নিয়ম (عمومه)-এ বহাল রয়েছে। যেমনটি আল-মুন্দিরী (রা.) তার এই কথার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য সাধারণভাবে কবর যিয়ারত নিষেধ করেছিলেন। অতঃপর পুরুষদের জন্য যিয়ারতের অনুমতি দেন, আর মহিলাদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকে; কারণ তাদের এই বিধান থেকে সুনির্দিষ্ট করার (تخصيصهن) ক্ষেত্রে অভিশাপ ও অন্যান্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَقَالَ شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية رَحمَه الله تَعَالَى: وَقد قرن الرَّسُول صلى الله عليه وسلم لعننة الزائرات بلعنة المتخذين عَلَيْهَا الْمَسَاجِد والسرج، وَمَعْلُوم أَن اتِّخَاذ الْمَسَاجِد والسرج، لم يقل أحد من الْعلمَاء بِجَوَازِهِ فَكَذَلِك مَا قرن بِهِ من لعنة الزائرات والله أعلم.

وَالثَّالِث: أَن عَائِشَة رضي الله عنها لَيست كَغَيْرِهَا من النِّسَاء لما تحلت بِهِ من الْآدَاب اللائقة بزيارة الْقُبُور لقُوَّة إيمَانهَا وعظيم صبرها وَكَمَال عقلهَا ووفور فَضلهَا، قَالَ الله تَعَالَى فِي عُمُوم نسَاء النَّبِي صلى الله عليه وسلم {يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ} (الْأَحْزَاب / 33) وَقَالَ عليه الصلاة والسلام: "كمل من الرِّجَال كثير وَلم يكمل من النِّسَاء إِلَّا مَرْيَم ابْنة عمرَان وآسية وَأَن فضل عَائِشَة على النِّسَاء كفضل الثَّرِيد على سَائِر الطَّعَام" أما غَيرهَا من النِّسَاء فَإِنَّهُ لَا يُؤمن مِمَّن زارت الْقَبْر لجهالتها وَضعف عزيمتها وَقرب جزعها أَن ترتكب شَيْئا من الْمَحْظُورَات كالنياحة والجزع والتعديد خُصُوصا فِي زَمَاننَا هَذَا الَّذِي انْضَمَّ إِلَى مَا ذكر كَثْرَة تبرج النِّسَاء وارتكابهن فتْنَة العري والتبرج والاختلاط، وَمن لَهُ غيرَة فِي الدّين وبَصِيرَة بقواعد الشَّرِيعَة عرف وجاهة مَا ذكر والله الْمُسْتَعَان.

الرَّابِع: حمل سؤالها للرسول صلى الله عليه وسلم وتعليمه إِيَّاهَا على أَنَّهَا مبلغة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمثل هَذَا فِي السّنة كثير فِي تعلمهَا وَأَخذهَا من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا تخبر بِهِ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رضوَان الله عَلَيْهِم مَعَ عدم شرعيته فِي حق النِّسَاء. قَالَ الزَّرْكَشِيّ- فِي الْإِجَابَة لإيراد مَا استدركته عَائِشَة على الصَّحَابَة- أخرج مُسلم عَن دَاوُد بن عَامر بن سعد بن أبي وَقاص عَن أَبِيه أَنه كَانَ قَاعِدا عِنْد عبد الله بن عمر إِذْ طلع خباب صَاحب الْمَقْصُورَة فَقَالَ: يَا عبد الله بن عمر أَلا تسمع مَا يَقُول أَبُو هُرَيْرَة إِنَّه سمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: "من خرج مَعَ جَنَازَة من بَيتهَا وَصلى عَلَيْهَا ثمَّ تبعها حَتَّى تدفن كَانَ لَهُ قيراطان من أجر كل قِيرَاط مثل أحد، وَمن صلى عَلَيْهَا ثمَّ رَجَعَ كَانَ لَهُ من الْأجر مثل أحد" فَأرْسل ابْن عمر خباباً إِلَى عَائِشَة يسْأَلهَا عَن قَول أبي هُرَيْرَة ثمَّ يرجع إِلَيْهِ فيخبره بِمَا قَالَت. وَأخذ ابْن عمر قَبْضَة من حَصى الْمَسْجِد يقلبها فِي يَده حَتَّى رَجَعَ إِلَيْهِ الرَّسُول فَقَالَ: قَالَت عَائِشَة: صدق أَبُو هُرَيْرَة. فَضرب ابْن عمر بالحصى الَّذِي كَانَ فِي يَده الأَرْض وَقَالَ: لقد فرطنا فِي قراريط كَثِيرَة" اهـ.

وَقد لَاحَ لَك مِمَّا تقدم من الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة أَن هَذَا الْعُمُوم لم يتَنَاوَل النِّسَاء لوُرُود النَّهْي الْخَاص من النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن اتباعهن الْجَنَائِز فَكَذَلِك مَا هُنَا فاحفظ ذَلِك وَكن بِهِ حفيا وتدبر بِعَين الْبَصِير بمرامي الشَّرِيعَة وقواعدها فسيظهر لَك بمعونة الله صِحَة مَا ذَكرْنَاهُ ورجحان مَا أبديناه وَلَا حوله وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه.
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর জিয়ারতকারী নারীদের অভিশাপ দেওয়াকে কবরস্থানে মসজিদ নির্মাণকারী এবং সেখানে চেরাগ বা বাতি প্রজ্জ্বলনকারীদের ওপর অভিশাপ দেওয়ার সাথে যুক্ত করেছেন। এটা সুবিদিত যে, উলামায়ে কেরামের মধ্যে কেউই কবরস্থানে মসজিদ নির্মাণ বা বাতি প্রজ্জ্বলন করা বৈধ বলেননি; একইভাবে এর সাথে সংশ্লিষ্ট জিয়ারতকারী নারীদের ওপর অভিশাপের বিষয়টিও (অবৈধ)। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

তৃতীয়ত: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) অন্য সাধারণ নারীদের মতো ছিলেন না। কারণ তিনি কবর জিয়ারতের জন্য উপযুক্ত আদব ও শিষ্টাচার দ্বারা অলঙ্কৃত ছিলেন, যা তার সুদৃঢ় ঈমান, সুমহান ধৈর্য, পূর্ণাঙ্গ বুদ্ধিমত্তা এবং অসামান্য ফযিলতের কারণে অর্জিত হয়েছিল। মহান আল্লাহ নবীর স্ত্রীদের সাধারণ মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন: {হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও} (আল-আহযাব/৩৩)। আর নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছেন, কিন্তু নারীদের মধ্যে মারইয়াম বিনতে ইমরান এবং আছিয়া ব্যতীত কেউ পূর্ণতা লাভ করেননি। আর নারীদের ওপর আয়েশার শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন সমস্ত খাবারের ওপর সারিদ-এর শ্রেষ্ঠত্ব।" পক্ষান্তরে অন্য নারীদের ক্ষেত্রে কবরের কাছে গিয়ে তাদের মূর্খতা, দুর্বল সংকল্প এবং দ্রুত বিচলিত হওয়ার কারণে তারা নিষিদ্ধ কাজসমূহ যেমন—বিলাপ করা, অস্থিরতা প্রকাশ করা এবং উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করার মতো বিষয়ে লিপ্ত হবে না, এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বিশেষ করে আমাদের বর্তমান সময়ে যখন উল্লিখিত বিষয়গুলোর সাথে যুক্ত হয়েছে নারীদের অধিক সৌন্দর্য প্রদর্শন এবং উলঙ্গপনা, রূপচর্চা ও নারী-পুরুষের অবাধ সংমিশ্রণের মতো ফিতনার শিকার হওয়া। যার মধ্যে দ্বীনি আত্মমর্যাদাবোধ এবং শরীয়তের মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে, তিনি বর্ণিত বিষয়গুলোর যথার্থতা অনুধাবন করতে পারবেন। আল্লাহর সাহায্যই কাম্য।

চতুর্থত: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তার প্রশ্ন করা এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তাকে শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টিকে এভাবে গ্রহণ করতে হবে যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে একজন প্রচারকারিণী ছিলেন। সুন্নাহর মধ্যে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে কোনো বিষয় শিখতেন বা গ্রহণ করতেন যা পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অবহিত করতেন, যদিও নারীদের ক্ষেত্রে সেই বিষয়টি বৈধ ছিল না। আল-জারকাশি—'আল-ইজাবাহ লি ইলাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবা' গ্রন্থে—উল্লেখ করেছেন যে, মুসলিম দাউদ ইবনে আমির ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের কাছে বসা ছিলেন। এমন সময় মাকসুরার অধিপতি খাব্বাব উপস্থিত হয়ে বললেন: হে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর! আবু হুরায়রা যা বলছেন তা কি আপনি শুনেছেন? তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি তার ঘর থেকে জানাজার সাথে বের হয়, জানাজার সালাত আদায় করে এবং দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অনুগমন করে, তার জন্য দুই কিরাত নেকি রয়েছে, যার প্রতিটি কিরাত ওহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি শুধু সালাত আদায় করে ফিরে আসে, তার জন্য ওহুদ পাহাড়ের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে।" তখন ইবনে উমর খাব্বাবকে আয়েশার নিকট পাঠালেন তাকে আবু হুরায়রার বক্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এবং ফিরে এসে তাকে অবহিত করতে। ইবনে উমর মসজিদের কিছু কঙ্কর হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকলেন যতক্ষণ না বার্তাবাহক ফিরে আসে। অতঃপর সে ফিরে এসে বলল: আয়েশা বলেছেন: আবু হুরায়রা সত্য বলেছেন। তখন ইবনে উমর হাতের কঙ্করগুলো মাটিতে ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেন: "আমরা তো অনেক কিরাত (সওয়াব) অবহেলায় হারিয়ে ফেলেছি।"

পূর্ববর্তী সহিহ (صحيح) হাদিসগুলো থেকে আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই সাধারণ বিধানটি নারীদের অন্তর্ভুক্ত করে না। কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে জানাজার অনুসরণ করার ব্যাপারে নারীদের প্রতি বিশেষ নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ; সুতরাং এটি মনে রাখুন এবং এর প্রতি যত্নবান হোন। শরীয়তের লক্ষ্য ও মূলনীতিসমূহ গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বিবেচনা করুন, তাহলে আল্লাহর সাহায্যে আমাদের বর্ণিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা (صحة) এবং আমাদের উপস্থাপিত মতের প্রাধান্য আপনার নিকট প্রতিভাত হবে। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় বা শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وخلاصة القَوْل أَن فِي حمل الحَدِيث على أحد الْوُجُوه الْمَذْكُورَة جمعا بِعَين الْأَحَادِيث وتأليفاً لسنن كَثِيرَة نذْكر فِيهَا مَا يَلِي:

أَولا: مُوَافَقَته للنَّهْي الْخَاص من النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن زِيَارَة الْقُبُور كَمَا فِي أَحَادِيث اللَّعْن وَمَا فِي مَعْنَاهَا كحديثي عبد الله بن عَمْرو وَعلي رضي الله عنهم.

ثَانِيًا: أَن فِي حمل الحَدِيث على ذَلِك جمعا بَينه وَبَين قَوْلهَا الْمُتَأَخر قطعا على ذَلِك - لَو شهدتك لما زرتك- وَإِلَّا لما كَانَ فِي قَوْلهَا هَذَا كَبِير معنى.

ثَالِثا: مُوَافَقَته لحَال الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم حَيْثُ لم ينْقل فِيمَا نعلم أَن نِسَاءَهُمْ كن يزرن الْمَقَابِر، وَلَو كَانَ شَيْء من ذَلِك لنقل إِلَيْنَا كَمَا نقل إِلَيْنَا سَائِر سيرهم وَمَا جرى بَينهم من القضايا والمناظرات فِي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة، فَلَمَّا لم ينْقل إِلَيْنَا شَيْء من ذَلِك دلّ على أَنهم آمنُوا بِالنَّهْي وأقروه على ظَاهره كَمَا جَاءَ من غير بحث وَلَا نظر، وَهَذَا هُوَ مَذْهَب أهل الحَدِيث وأئمة التَّحْقِيق كثر الله سوادهم، قَالَ الإِمَام أَبُو الْعَبَّاس بن تَيْمِية رحمه الله: "وَمَا علمنَا أَن أحدا من الْأَئِمَّة اسْتحبَّ لَهُنَّ زِيَارَة الْقُبُور وَلَا كَانَ النِّسَاء على عهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم وخلفائه الرَّاشِدين يخْرجن إِلَى زِيَارَة الْقُبُور كَمَا يخرج الرِّجَال" اهـ بِلَفْظِهِ.

رَابِعا: أَن الْمحرم لَا بُد أَن يشْتَمل على مفْسدَة مَحْضَة أَو راجحة وزيارة النِّسَاء للقبور تشْتَمل على مفاسد كَثِيرَة فِي الْغَالِب فالتحريم إِذا ألصق بأصول الْفَرْع ومقاصده.

خَامِسًا: أَن أَحَادِيث النَّهْي تَضَمَّنت حكما منطوقاً بِهِ، وَحَدِيث عَائِشَة عِنْد مُسلم صَحِيح غير صَرِيح فِيمَا اسْتدلَّ بِهِ عَلَيْهِ، إِذْ لم تقل مَاذَا أَقُول إِذا زرت الْقُبُور بل قَالَت مَا أَقُول لَهُم، وَهَذَا يحْتَمل الزِّيَارَة وَغَيرهَا. قَالَ أَبُو بكر الْحَازِمِي فِي كِتَابه الِاعْتِبَار: "الْوَجْه الثَّالِث وَالثَّلَاثُونَ من وُجُوه التَّرْجِيح أَن يكون الحكم الَّذِي تضمنه أحد الْحَدِيثين منطوقاً بِهِ وَمَا تضمنه الحَدِيث الآخر يكون مُحْتملا" اهـ. أَي فَيجب تَقْدِيم مَا هُوَ مَنْطُوق بِهِ.

سادساً: أَن عَامَّة الْعلمَاء قد رجحوا الدَّلِيل الحاظر كَحَدِيث اللَّعْن فِي هَذَا الْمقَام على دَلِيل الْإِبَاحَة كَحَدِيث عَائِشَة عِنْد مُسلم على احْتِمَاله، فَمن ادّعى بعد ذَلِك أَنه أُبِيح بعد الْمَنْع فَعَلَيهِ الْبَيَان لاسيما وَقد ذكر هَذَا الْوَعيد الشَّديد فِي جَانب الْمَنْع فَالْمَسْأَلَة إِذا لَا مسرح فِيهَا للِاجْتِهَاد والله أعلم.

سابعاً: أَن مِمَّا يرجح بِهِ أحد الْحَدِيثين على الآخر كَثْرَة الْعدَد فِي أحد الْجَانِبَيْنِ وهى مُؤثرَة فِي بَاب الرِّوَايَة لِأَنَّهَا تقرب مِمَّا يُوجب الْعلم وَهُوَ التَّوَاتُر كَمَا حكى ذَلِك الْحَافِظ أَبُو بكر الْحَازِمِي فِي اعْتِبَاره.
সংক্ষেপে বলা যায় যে, বর্ণিত দিকগুলোর কোনো একটির ওপর ভিত্তি করে হাদিসটিকে গ্রহণ করার মাধ্যমে বিভিন্ন হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং বহু সুন্নাহকে একত্রিত করা সম্ভব হয়; যার সপক্ষে আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উল্লেখ করছি:

প্রথমত: এটি কবর জিয়ারত সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে আসা বিশেষ নিষেধাজ্ঞার সাথে সংগতিপূর্ণ; যেমনটি লানত বা অভিশাপ সংক্রান্ত হাদিসসমূহে এবং একই অর্থবহ অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে, যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে আমর এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম কর্তৃক বর্ণিত দুটি হাদিস।

দ্বিতীয়ত: হাদিসটিকে উক্ত অর্থের ওপর প্রয়োগ করলে তার এবং পরবর্তীতে আয়েশা (রা.)-এর অকাট্য উক্তি—"আমি যদি তোমার মৃত্যুকালে উপস্থিত থাকতাম, তবে তোমার জিয়ারত করতাম না"—এর মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়। অন্যথায় তার এই উক্তির কোনো বিশেষ তাৎপর্য থাকে না।

তৃতীয়ত: এটি সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর অবস্থার সাথেও সংগতিপূর্ণ। কারণ আমাদের জানামতে এমন কোনো বর্ণনা নেই যে, তাদের মহিলারা কবর জিয়ারত করতেন। যদি এমন কিছু ঘটত, তবে অন্যান্য জীবনবৃত্তান্ত এবং শরিয়তের বিধান নিয়ে তাদের মধ্যকার আলোচনা ও বিতর্কের মতো এটিও আমাদের কাছে বর্ণিত হতো। যেহেতু এ জাতীয় কিছু বর্ণিত হয়নি, তাই এটিই প্রমাণিত হয় যে তারা এই নিষেধাজ্ঞার ওপর ঈমান এনেছিলেন এবং বাহ্যিক অর্থের ওপরই তা বহাল রেখেছিলেন। এটিই হলো হাদিস বিশারদ (أهل الحديث) এবং নিবিড় গবেষণাকারী ইমামগণের (أئمة التحقيق) মাযহাব বা মতাদর্শ, আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন। ইমাম আবু আব্বাস ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন: "আমাদের জানা মতে কোনো ইমামই নারীদের জন্য কবর জিয়ারত মুস্তাহাব বলেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে নারীরা পুরুষদের মতো কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে বের হতেন না।"—উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

চতুর্থত: কোনো নিষিদ্ধ (محرم) বিষয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই তা কেবলই অনিষ্টকর অথবা এর অনিষ্টকারিতা মঙ্গলের চেয়ে বেশি হতে হয়। আর নারীদের কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে সাধারণত বহু অনিষ্ট নিহিত থাকে। ফলে এই হারাম সাব্যস্ত হওয়া (التحريم) বিষয়টি ফقه এর মূলনীতি ও উদ্দেশ্যের সাথেই সম্পৃক্ত।

পঞ্চমত: নিষেধাজ্ঞার হাদিসসমূহ স্পষ্ট উচ্চারিত (منطوقا به) বিধান অন্তর্ভুক্ত করে। পক্ষান্তরে সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি সহিহ (صحيح) হলেও তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুস্পষ্ট (غير صريح) নয়। কারণ তিনি বলেননি যে 'আমি যদি কবর জিয়ারত করি তবে কী বলব', বরং তিনি বলেছিলেন 'আমি তাদের জন্য কী বলব'। এটি জিয়ারত ছাড়াও অন্য সম্ভাবনার অবকাশ রাখে। আবু বকর আল-হাজিমি তাঁর আল-ইতিবার কিতাবে বলেছেন: "প্রাধান্য প্রদানের (الترجيح) তেত্রিশতম দিক হলো—দুটি হাদিসের একটির বিধান যদি স্পষ্ট উচ্চারিত (منطوقا به) হয় এবং অন্য হাদিসটি যদি অস্পষ্ট বা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে (محتملا)।"—উদ্ধৃতি সমাপ্ত। অর্থাৎ, সেক্ষেত্রে যা স্পষ্ট উচ্চারিত তা-ই অগ্রগণ্য হবে।

ষষ্ঠত: অধিকাংশ আলেম এই ক্ষেত্রে বৈধতার দলিলের (যেমন সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত আয়েশা রা.-এর হাদিসটি, যার মধ্যে অস্পষ্টতা রয়েছে) বিপরীতে নিষেধাজ্ঞার দলিলকে (যেমন লানত বা অভিশাপ সংক্রান্ত হাদিস) প্রাধান্য (رجحوا) দিয়েছেন। এরপরও যারা দাবি করেন যে এটি নিষেধাজ্ঞার পর বৈধ করা হয়েছে, তাদের ওপরই প্রমাণের দায়িত্ব বর্তায়। বিশেষত যেখানে নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে কঠোর হুঁশিয়ারি বর্ণিত হয়েছে, সেখানে ইজতিহাদ (الاجتهاد) করার কোনো অবকাশ নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।

সপ্তমত: দুটি হাদিসের একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য প্রদানের (يرجح) অন্যতম মাধ্যম হলো একদিকের বর্ণনাকারীদের সংখ্যার আধিক্য। বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে এর প্রভাব অনস্বীকার্য; কারণ এটি সুনিশ্চিত জ্ঞানের নিকটবর্তী করে যা মুতাওয়াতির (التواتر) হিসেবে পরিচিত। যেমনটি হাফেজ আবু বকর আল-হাজিমি তাঁর আল-ইতিবার কিতাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৪৪)
قلت: وَقد لَاحَ لَك مِمَّا تقدم أَن عدد جَانب الْمَنْع أَكثر وَالِاسْتِدْلَال بهَا أظهر وبالله التَّوْفِيق.

وَالْجَوَاب عَن حَدِيثهَا فِي زيارتها لأَخِيهَا عبد الرَّحْمَن هُوَ كَمَا قَالَ الْحَافِظ بن الْقيم فِي تَهْذِيب السّنَن: "إِن الْمَحْفُوظ فِي هَذَا الحَدِيث حَدِيث التِّرْمِذِيّ مَعَ مَا فِيهِ، وَعَائِشَة إِنَّمَا قدمت مَكَّة لِلْحَجِّ فمرت على قبر أَخِيهَا فِي طريقها فوقفت عَلَيْهِ وَهَذَا لَا بَأْس بِهِ، إِنَّمَا الْكَلَام فِي قَصدهَا الْخُرُوج لزيارة الْقُبُور وَلَو قدر أَنَّهَا عدلت إِلَيْهِ وقصدت زيارته فَهِيَ قد قَالَت: "لَو شهدتك لما زرتك" وَهَذَا يدل بالصراحة أَن من المستقر الْمَعْلُوم عِنْدهَا أَن النِّسَاء لَا يشرع لَهُنَّ زِيَارَة الْقُبُور وَإِلَّا لم يكن فِي قَوْلهَا ذَلِك معنى" اهـ.

وَأما رِوَايَة الْحَاكِم الَّتِي فِيهَا أَن عَائِشَة قَالَت لمن سَأَلَهَا نهى عَنْهَا ثمَّ أَمر بزيارتها فقد قَالَ الإِمَام تَقِيّ الدّين بن تَيْمِية: "لَا حجَّة فِي حَدِيث عَائِشَة هَذَا، فَإِن المحتج عَلَيْهَا احْتج بِالنَّهْي الْعَام فَدفعت ذَلِك بِأَن النَّهْي مَنْسُوخ وَهُوَ كَمَا قَالَت رضى الله عَنْهَا وَلم يذكر لَهَا المحتج النَّهْي الْمُخْتَص بِالنسَاء الَّذِي فِيهِ لعنهن على الزِّيَارَة يبين ذَلِك قَوْلهَا قد أَمر بزيارتها فَهَذَا يبين أَنه أَمر بهَا أمرا يَقْتَضِي الِاسْتِحْبَاب، والاستحباب إِنَّمَا هُوَ ثَابت للرِّجَال خَاصَّة وَلَكِن عَائِشَة بيّنت أَن أمره الثَّانِي نسخ نَهْيه الأول فَلم يصلح أَن يحْتَج بِهِ، وَهُوَ أَن النِّسَاء على أصل الْإِبَاحَة، وَلَو كَانَت عَائِشَة تعتقد أَن النِّسَاء مأمورات بزيارة الْقُبُور لكَانَتْ تفعل ذَلِك كَمَا يَفْعَله الرجل وَلم تقل لأَخِيهَا لما زرتك". وَقَالَ ابْن الْقيم رحمه الله فِي هَذِه الرِّوَايَة: إِنَّهَا من رِوَايَة بسطَام بن مُسلم، وَلَا صَحَّ فَإِن عَائِشَة رضي الله عنها تأولت مَا تَأَول غَيرهَا من دُخُول النِّسَاء فِي الْإِذْن، وَالْحجّة فِي قَول الْمَعْصُوم لَا فِي تَأْوِيل الرَّاوِي، وَتَأْويل الرَّاوِي إِنَّمَا يكون مَقْبُولًا حَيْثُ لَا يُعَارضهُ مَا هُوَ أقوى مِنْهُ وَهَذَا الحَدِيث قد عَارضه أَحَادِيث منع زِيَارَة النِّسَاء للقبور" اهـ.

(تَنْبِيه) : قَول ابْن الْقيم رَحمَه الله تَعَالَى إِن هَذَا الحَدِيث من رِوَايَة بسطَام ابْن مُسلم وَلَو صَحَّ قد يفهم مِنْهُ أَن هَذَا الحَدِيث ضَعِيف من جِهَة بسطَام هَذَا وَلَيْسَ الْأَمر كَمَا يظنّ بل بسطَام بن مُسلم ثِقَة كَمَا قَالَ الْحَافِظ فِي التَّقْرِيب: "بسطَام بن مُسلم بن نمير العوذي بِفَتْح الْمُهْملَة وبسكون الْوَاو، بَصرِي ثِقَة من السَّابِعَة" اهـ. وَقَالَ أَحْمد: "صَالح الحَدِيث لَيْسَ بِهِ بَأْس"، وَقَالَ ابْن معِين وَأَبُو زرْعَة: "ثِقَة" وَالله أعلم.

وَأما مَا رَوَاهُ الْحَاكِم أَن فَاطِمَة بنت مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم كَانَت تزور قبر عَمها حَمْزَة كل جُمُعَة الحَدِيث. فَهُوَ حَدِيث ضَعِيف مُنكر كَمَا قَالَه الذَّهَبِيّ فِي تلخيصه وتضعيفه
আমি বলি: পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞার পক্ষের দলিলের সংখ্যা অধিক এবং সেগুলোর মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন অধিকতর স্পষ্ট। আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল সাফল্য।

তার (আয়েশা রা.) ভাই আব্দুর রহমানের কবর জিয়ারত সংক্রান্ত হাদিসের উত্তর হলো তা-ই, যা হাফেজ ইবনুল কাইয়িম 'তাহজীবুস সুনান' গ্রন্থে বলেছেন: "এই হাদিসে যা সংরক্ষিত (محفوظ) তা হলো তিরমিজির হাদিস, যদিও তাতে কিছু (দুর্বলতা) রয়েছে। আর আয়েশা (রা.) মূলত হজের উদ্দেশ্যে মক্কায় এসেছিলেন, অতঃপর পথে তার ভাইয়ের কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন, আর এতে কোনো অসুবিধা নেই। মূলত আলোচনার বিষয় হলো কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়া। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে তিনি সেদিকে মোড় নিয়েছিলেন এবং জিয়ারতেরই ইচ্ছা করেছিলেন, তবে তিনি তো বলেছিলেন: 'যদি আমি তোমার মৃত্যুকালে উপস্থিত থাকতাম, তবে তোমার জিয়ারত করতাম না।' এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তার নিকট এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও জানা বিষয় ছিল যে নারীদের জন্য কবর জিয়ারত বিধিসম্মত নয়; নতুবা তার এই কথার কোনো অর্থ থাকত না।" সমাপ্ত।

আর হাকিমের সেই বর্ণনা, যাতে আয়েশা (রা.) তাকে প্রশ্নকারীকে বলেছিলেন যে, (রাসূলুল্লাহ ﷺ) তা থেকে নিষেধ করেছিলেন, অতঃপর তা জিয়ারত করার নির্দেশ দিয়েছেন; সে বিষয়ে ইমাম তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়াহ বলেছেন: "আয়েশা (রা.)-এর এই হাদিসে কোনো দলিল নেই। কারণ, যে ব্যক্তি তার নিকট দলিল পেশ করেছিল সে সাধারণ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দলিল দিয়েছিল। তিনি তার উত্তরে বলেন যে, সেই নিষেধাজ্ঞাটি রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে। তিনি (রা.) যা বলেছেন তা সত্য। কিন্তু সেই প্রশ্নকারী তার নিকট নারীদের জন্য বিশেষ নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করেনি, যাতে জিয়ারতের কারণে তাদের ওপর অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। তার কথা 'তিনি তা জিয়ারত করার আদেশ দিয়েছেন' এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, তিনি এমন এক আদেশ দিয়েছেন যা মুস্তাহাব হওয়া (الاستحباب) দাবি করে। আর এই মুস্তাহাব হওয়া কেবল পুরুষদের জন্যই সাব্যস্ত। কিন্তু আয়েশা (রা.) স্পষ্ট করেছেন যে তার দ্বিতীয় আদেশটি প্রথম নিষেধাজ্ঞাকে রহিত করেছে। সুতরাং এটি দলিল হিসেবে পেশ করার উপযুক্ত নয় যে নারীরা মূল বৈধতার (الإباحة) ওপর রয়েছে। আয়েশা (রা.) যদি বিশ্বাস করতেন যে নারীরা কবর জিয়ারতের জন্য আদিষ্ট, তবে তিনি পুরুষদের মতোই তা করতেন এবং তার ভাইয়ের কবরে বলতেন না যে 'আমি তোমার জিয়ারত করতাম না'।" এবং ইবনুল কাইয়িম (রহ.) এই বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন: "এটি বিস্তাম ইবনে মুসলিমের বর্ণনা। আর যদি তা সহিহ না-ও হয়, তবে আয়েশা (রা.) অন্যান্যদের মতোই এই ব্যাখ্যা করেছেন যে নারীরাও সাধারণ অনুমতির অন্তর্ভুক্ত। অথচ দলিল হলো মাসুম (নিষ্পাপ) সত্তার কথায়, বর্ণনাকারীর (الراوي) ব্যাখ্যায় নয়। আর বর্ণনাকারীর (الراوي) ব্যাখ্যা তখনই গ্রহণযোগ্য হয় যখন তা অপেক্ষা শক্তিশালী কোনো দলিল তার বিরোধী না হয়। অথচ এই হাদিসের বিপরীতে নারীদের কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ হওয়ার অনেক হাদিস রয়েছে।" সমাপ্ত।

(সতর্কবার্তা): ইবনুল কাইয়িম (রহ.)-এর কথা—এই হাদিসটি বিস্তাম ইবনে মুসলিমের বর্ণনা এবং এটি যদি সহিহ হয়—তা থেকে কেউ হয়তো এমনটি বুঝতে পারেন যে, এই বিস্তামের কারণে হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি ধারণা করা হয়; বরং বিস্তাম ইবনে মুসলিম একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি। যেমন হাফেজ (ইবনে হাজার) 'তাকরিব' গ্রন্থে বলেছেন: "বিস্তাম ইবনে মুসলিম ইবনে নুমাইর আল-আওজি, মুহমালা (আইন) বর্ণে ফাতহা এবং ওয়াও বর্ণে সুকুন যোগে, তিনি বসরার অধিবাসী এবং সপ্তম স্তরের একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী।" সমাপ্ত। ইমাম আহমদ বলেছেন: "তিনি হাদিস বর্ণনায় গ্রহণযোগ্য (صالح الحديث), তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)"। এবং ইবনে মাঈন ও আবু জুরআ বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة)"। আল্লাহই ভালো জানেন।

আর হাকিম যা বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মাদ ﷺ-এর কন্যা ফাতিমা (রা.) প্রতি জুমুয়াবার তার চাচা হামজা (রা.)-এর কবর জিয়ারত করতেন—এই হাদিসটি; এটি একটি দুর্বল (ضعيف) ও অগ্রহণযোগ্য (منكر) হাদিস, যেমনটি ইমাম জাহাবি তার 'তালখিস' এবং হাদিসটির দুর্বলতা বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الْحَافِظ أَبُو بكر الْحَازِمِي من سُلَيْمَان بن دَاوُد وَقَالَ الْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه الْكُبْرَى بعد سِيَاقه لهَذَا الحَدِيث: "إِن حَدِيث فَاطِمَة رضي الله عنها فِي زيارتها قبر عَمها حَمْزَة مُنْقَطع" اهـ.

وَقَالَ الْعَلامَة مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل الصَّنْعَانِيّ فِي سبل السَّلَام بشرح بُلُوغ المرام- مَا نَصه: "وَمَا أخرجه الْحَاكِم من حَدِيث عَليّ بن الْحُسَيْن أَن فَاطِمَة رضي الله عنها كَانَت تزور قبر عَمها حَمْزَة كل جُمُعَة فَتُصَلِّي وتبكي عِنْده. قلت: وَهُوَ حَدِيث مُرْسل فَإِن عَليّ بن الْحُسَيْن لم يدْرك فَاطِمَة بنت مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم، وَعُمُوم مَا أخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان مُرْسلا: "من زار قبر الْوَالِدين أَو أَحدهمَا فِي كل جُمُعَة غفر لَهُ وَكتب باراً" " اهـ.

فَهَذَا الحَدِيث كَمَا رَأَيْت قد رمي بالضعف والنكارة والانقطاع والإرسال فَلَا يكون مثل هَذَا حجَّة فِي الدّين والله أعلم.
হাফেজ আবু বকর আল-হাজিমি সুলাইমান ইবনে দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বায়হাকি তাঁর সুনান আল-কুবরা গ্রন্থে এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: "নিশ্চয়ই ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর তাঁর চাচা হামজা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কবর জিয়ারত সম্পর্কিত হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

এবং আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আস-সানআনি বুলুগ আল-মারাম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ সুবুল আস-সালাম-এ বলেছেন—যার ভাষ্য নিম্নরূপ: "ইমাম হাকেম আলি ইবনুল হুসাইনের সূত্র থেকে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যে, ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) প্রতি জুমুয়াবার তাঁর চাচা হামজা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কবর জিয়ারত করতেন, সেখানে সালাত আদায় করতেন এবং কাঁদতেন। আমি বলব: এটি একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস, কারণ আলি ইবনুল হুসাইন ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাক্ষাৎ পাননি। এছাড়া ইমাম বায়হাকি শুআব আল-ঈমান গ্রন্থে বিচ্ছিন্নভাবে (مرسلا) যা বর্ণনা করেছেন তার সাধারণ অর্থ হলো: 'যে ব্যক্তি প্রতি জুমুয়াবার তার পিতা-মাতা বা তাদের কোনো একজনের কবর জিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করা হবে এবং তাকে সদাচারী হিসেবে লিখে রাখা হবে'।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

সুতরাং এই হাদিসটি, যেমন আপনি দেখলেন, দুর্বলতা (ضعف), আপত্তিকর হওয়া (نكارة), বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) এবং মুরসাল হওয়া (إرسال)-এর দোষে অভিযুক্ত করা হয়েছে; তাই এ ধরণের বর্ণনা দ্বীনের ক্ষেত্রে দলিল (حجة) হতে পারে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৪৫)
9-‌‌ نقل جملَة من كَلَام أَئِمَّة التَّحْقِيق فِي هَذِه الْمَسْأَلَة:

قَالَ أَبُو الْعَبَّاس على بن مُحَمَّد بن عَبَّاس البعلي الْحَنْبَلِيّ فِي ترتيبه اختيارات شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية رحمه الله مَا نَصه: "وَنهي النِّسَاء عَن زِيَارَة الْقُبُور هَل هُوَ نهي تَنْزِيه أَو تَحْرِيم فِيهِ قَولَانِ: وَظَاهر كَلَام أَبى الْعَبَّاس تَرْجِيح التَّحْرِيم لاحتجاجه بلعن النَّبِي صلى الله عليه وسلم زائرات الْقُبُور وتصحيحه إِيَّاه، وَرَوَاهُ الإِمَام أَحْمد وابْن مَاجَه وَالتِّرْمِذِيّ وَصَححهُ وَأَنه لَا يَصح ادِّعَاء النّسخ بل هُوَ بَاقٍ على حكمه، وَالْمَرْأَة لَا يشرع لَهَا الزِّيَارَة الشَّرْعِيَّة وَلَا غَيرهَا اللَّهُمَّ إِلَّا إِذا اجتازت بِقَبْر فِي طريقها فَسلمت عَلَيْهِ ودعت لَهُ فَهَذَا حسن" اهـ.

وَقَالَ صَاحب الْمُهَذّب: "وَلَا يجوز للنِّسَاء زِيَارَة الْقُبُور لما رُوِيَ عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لعن زوارات الْقُبُور".

وَقَالَ السُّيُوطِيّ فِي كِتَابه زهر الربى على الْمُجْتَبى للنسائي عِنْد الحَدِيث الْمُتَكَلّم عَلَيْهِ فِي النَّهْي: "وبقين أَي النِّسَاء تَحت النَّهْي لقلَّة صبرهن وَكَثْرَة جزعهن". قَالَ السندي: "وَهُوَ الْأَقْرَب لتخصيصهن بِالذكر" وَالله أعلم. وَقَالَ ابن حجر الهيثمي الشَّافِعِي فِي كِتَابه الزواجر مَا نَصه: "الْكَبِيرَة الْحَادِيَة وَالثَّانيَِة وَالثَّالِثَة وَالْعشْرُونَ بعد الْمِائَة اتِّخَاذ الْمَسَاجِد أَو السرج على الْقُبُور وزيارة النِّسَاء لَهَا، وتشييعهن الْجَنَائِز" فساق حَدِيث ابْن عَبَّاس وَأبي هُرَيْرَة وَابْن عمر ثمَّ قَالَ: "تَنْبِيه: عد هَذِه الثَّلَاثَة هُوَ صَرِيح الحَدِيث الأول فِي الْأَوَّلين لما فِيهِ من لعن فاعلها وصريح الحَدِيث الثَّانِي فِي الثَّانِيَة وَظَاهر حَدِيث فَاطِمَة فِي الثَّالِثَة بل صَرِيح رِوَايَة النَّسَائِيّ: مَا رأيتن الْجنَّة إِلَى آخِره. وَلم أر من عد شَيْئا من ذَلِك بل كَلَام أَصْحَابنَا فِي الثَّلَاثَة مُصَرح بكراهتها دون حرمتهَا فضلا عَن كَونهَا كَبِيرَة فليحمل كَون هَذِه كَبَائِر على مَا إِذا
9-‌‌ এই মাসআলায় (বিষয়ে) মুহাক্কিক ইমামগণের বক্তব্যের একটি অংশ উদ্ধৃত করা হলো:

আবু আব্বাস আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-বালী আল-হাম্বলী শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর 'ইখতিয়ারাত' গ্রন্থের বিন্যাসগ্রন্থে যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: "নারীদের কবর জিয়ারত করার নিষেধাজ্ঞা কি তানজিহি নিষেধাজ্ঞা (نهي تنزيه) নাকি হারাম (تحريم)—এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। আবু আব্বাসের বক্তব্যের বাহ্যিক (ظاهر) দিক হলো হারাম হওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া; যেহেতু তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবর জিয়ারতকারী নারীদের প্রতি লানত (অভিশাপ) প্রদানের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন এবং বিষয়টিকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন। এটি ইমাম আহমাদ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন। আর এর রহিতকরণের (نسخ) দাবি করা সঠিক নয়, বরং এটি তার পূর্বের বিধানের ওপরই বহাল রয়েছে। নারীর জন্য শরয়ি জিয়ারত কিংবা অন্য কোনো জিয়ারত বিধিবদ্ধ নয়; তবে যদি সে তার চলার পথে কোনো কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে এবং সেখানে সালাম দেয় ও দোয়া করে, তবে তা উত্তম (حسن)।" সমাপ্ত।

মুহাজ্জাব গ্রন্থের লেখক বলেন: "নারীদের জন্য কবর জিয়ারত করা জায়েজ নয়, যেহেতু আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর জিয়ারতকারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন।"

সুয়ুতি তার 'যাহরুর রুবা আলাল মুজতাবা লিন-নাসায়ি' গ্রন্থে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সমালোচিত (المتكلم عليه) হাদিসের বর্ণনায় বলেন: "অর্থাৎ নারীরা তাদের ধৈর্য কম হওয়া এবং অধিক বিলাপ করার কারণে নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্তই থেকে গেছে।" সিন্দি বলেন: "নারীদের সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার কারণে এটিই অধিক নিকটবর্তী মত।" আর আল্লাহ অধিক অবগত। ইবনে হাজার আল-হাইতামি আশ-শাফিয়ি তার 'আয-যাওয়াযির' গ্রন্থে যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: "একশ একুশ, বাইশ এবং তেইশতম কবিরা গুনাহ হলো— কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা বা বাতি জ্বালানো, নারীদের কবর জিয়ারত করা এবং জানাজায় তাদের অংশগ্রহণ করা।" এরপর তিনি ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা ও ইবনে উমরের হাদিস উল্লেখ করেন এবং বলেন: "সতর্কবাণী: এই তিনটিকে [কবিরা গুনাহ] গণ্য করা হয়েছে প্রথম হাদিসের স্পষ্ট (صريح) বক্তব্যের ভিত্তিতে যা প্রথম দুই বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—কেননা তাতে সম্পাদনকারীর প্রতি অভিশাপের কথা রয়েছে; এবং দ্বিতীয় হাদিসের স্পষ্ট (صريح) বক্তব্যের ভিত্তিতে যা দ্বিতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; আর ফাতেমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিসের বাহ্যিক (ظاهر) দিক থেকে যা তৃতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, বরং নাসায়ির বর্ণনার (رواية) স্পষ্ট (صريح) বক্তব্য হলো: 'তোমরা জান্নাত দেখতে পাবে না...' শেষ পর্যন্ত। আমি কাউকে দেখিনি যে এগুলোর কোনোটিকে [কবিরা গুনাহ হিসেবে] গণ্য করেছেন, বরং আমাদের সাথীদের বক্তব্য এই তিনটির ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে মাকরূহ (كراهة) হওয়ার কথা বলে, হারাম (حرمة) হওয়া নয়; কবিরা গুনাহ হওয়া তো দূরের কথা। অতএব এগুলো কবিরা গুনাহ হওয়াকে সেই পরিস্থিতির ওপর প্রয়োগ করা হবে যখন..."
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৪৬)
عظمت مفاسدها كَمَا يفعل كثير من النِّسَاء من الْخُرُوج إِلَى الْمَقَابِر وَخلف الْجَنَائِز بهيئة قبيحة جدا إِمَّا لاقترانها بالنياحة وَغَيرهَا أَو بالزينة عِنْد زِيَارَة الْقُبُور بِحَيْثُ يخْشَى مِنْهَا الْفِتْنَة.." إِلَى آخر كَلَامه رَحمَه الله تَعَالَى.

قلت: وَقد تقدم كَلَام النَّوَوِيّ رحمه الله -وَهُوَ من كبار الشَّافِعِيَّة- مُصَرحًا بِالتَّحْرِيمِ وَأما حمل ابْن حجر الهيثمي التَّحْرِيم على مَا إِذا عظمت الْفِتْنَة فَهَذَا مِمَّا لَا خلاف فِيهِ بَين أهل الْعلم فِيمَا نعلم وَقد صرح بذلك غير وَاحِد، وَأما بِدُونِ اقتران ذَلِك فَتبين لَك مِمَّا تقدم وَمِمَّا يَأْتِي أَن مُقْتَضى نُصُوص الشَّرِيعَة وقواعدها التَّحْرِيم وَمَا أحسن مَا قَالَه الْعَيْنِيّ رَحمَه الله تَعَالَى: "إِن زِيَارَة الْقُبُور مَكْرُوهَة للنِّسَاء بل حرَام فِي هَذَا الزَّمَان ولاسيما نسَاء مصر لِأَن خروجهن على وَجه الْفساد والفتنة وَإِنَّمَا رخص فِي الزِّيَارَة لتذكر أَمر الْآخِرَة وللاعتبار بِمن مضى وللتزهيد فِي الدُّنْيَا" قَالَه صَاحب عون المعبود نقلا عَنهُ.

وَهَذَا قَالَه الْعَيْنِيّ فِي نسَاء مصر الْقرن التَّاسِع فَكيف لَو رأى هُوَ وَأَمْثَاله من الغيورين على الْإِسْلَام نسَاء الْقرن الرَّابِع عشر وَمَا يرتكبنه من التبرج والسفور وفتنة العري والاختلاط لما تردد هُوَ وَأَمْثَاله فِي مَنعهنَّ من الزِّيَارَة قولا وَاحِدًا وَالله أعلم.

وَقَالَ الساعاتي فِي الْفَتْح الرباني: "قَالَ صَاحب الْمدْخل الْمَالِكِي: قد اخْتلف الْعلمَاء فِي زِيَارَة النِّسَاء للقبور على ثَلَاثَة أَقْوَال: أَولا الْمَنْع مُطلقًا. ثَانِيًا الْجَوَاز على مَا يعلم فِي الشَّرْع من السّتْر والتحفظ عكس مَا يفعل الْيَوْم. ثَالِثا: يفرق بَين الشَّابَّة والمنجالة أَي الْعَجُوز-. ثمَّ قَالَ: اعْلَم أَن الْخلاف فِي نسَاء ذَلِك الزَّمَان أما خروجهن فِي هَذَا الزَّمَان فمعاذ الله أَن يَقُول أحد من الْعلمَاء أَو من لَهُ مُرُوءَة فِي الدّين بِجَوَازِهِ".

وَقَالَ الْعَلامَة صديق بن حسان البُخَارِيّ فِي كِتَابه حسن الأسوة: "الرَّاجِح نهي النِّسَاء عَن زِيَارَة الْقُبُور وَإِلَيْهِ ذهب عِصَابَة أهل الحَدِيث كثر الله سوادهم". وَقَالَ صَاحب المرعاة: "قَالَ أَحْمد شَاكر فِي تَعْلِيقه على التِّرْمِذِيّ: النهى ورد خَاصّا بِالنسَاء وَالْإِبَاحَة لَفظهَا عَام وَالْعَام لَا ينْسَخ الْخَاص بل الْخَاص حَاكم عَلَيْهِ ومقيد لَهُ".

وَقد سُئِلَ سماحة مفتي الديار السعودية الشَّيْخ الْعَلامَة مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن عبد اللَّطِيف عَن حكم وقُوف النِّسَاء -عِنْد دخولهن الْمَسْجِد النَّبَوِيّ الشريف- على قبر نَبينَا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فَأجَاب رحمه الله بفتوى قَالَ فِيهَا بعد أَن ذكر أَحَادِيث اللَّعْن: "إِن التَّعْبِير بِرِوَايَة زائرات الْقُبُور يدل على عدم تَخْصِيص النهى بالإكثار من الزِّيَارَة كَمَا توهمه بَعضهم من التَّعْبِير فِي الرِّوَايَات الْأُخْرَى بِلَفْظ "زوّارات الْقُبُور" ثمَّ قَالَ بعد أَن ذكر تَحْقِيقا
"...এর অপকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে যেমনটি অনেক নারী করে থাকেন; তারা অত্যন্ত কদর্য বেশভূষায় কবরস্থানে গমন করেন এবং জানাজার পিছু পিছু চলেন। হয় এর সাথে বিলাপ (نياحة) ও অন্যান্য বিষয় যুক্ত থাকে, অথবা কবর জিয়ারতের সময় এমন সাজসজ্জার সাথে যায় যেখান থেকে ফিতনার (فتنة) আশঙ্কা করা হয়..." আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

আমি বলছি: ইমাম নববী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) —যিনি বড় শাফেয়ি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত— তাঁর বক্তব্য ইতিপূর্বেই অতিবাহিত হয়েছে যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে হারাম হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আর ইবনে হাজার আল-হাইতামি হারাম হওয়াকে ফিতনা (فتنة) বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে যে সংশ্লিষ্ট করেছেন, আমাদের জানামতে এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মাঝে কোনো মতভেদ নেই এবং একাধিক আলেম এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আর এই বিষয়গুলোর সংশ্লিষ্টতা ছাড়া হুকুম কী হবে, তা আপনার কাছে ইতিপূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে এবং সামনে যা আসবে তা থেকে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, শরীয়তের নসসমূহ এবং এর মূলনীতিসমূহের (قواعد) দাবি হলো এটি হারাম হওয়া। আল্লামা আইনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) কতই না চমৎকার বলেছেন: "নারীদের জন্য কবর জিয়ারত করা অপছন্দনীয় (مكروهة), বরং বর্তমান যুগে তা নিষিদ্ধ (حرام); বিশেষ করে মিশরের নারীদের জন্য। কারণ তাদের বের হওয়াটা ফাসাদ ও ফিতনার (فتنة) কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত জিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল পরকাল স্মরণ করার জন্য, অতিবাহিত লোকদের থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য এবং দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি সৃষ্টির জন্য।" আওনুল মাবুদ প্রণেতা তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

আল্লামা আইনি এটি নবম হিজরি শতকের মিশরের নারীদের সম্পর্কে বলেছেন। তিনি এবং তাঁর মতো ইসলামের প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিরা যদি চতুর্দশ হিজরি শতকের নারীদের দেখতেন এবং তারা বেপর্দা হওয়া, সৌন্দর্য প্রদর্শন করা, নগ্নতার ফিতনা (فتنة) এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার যে লিপ্ত হচ্ছে তা দেখতেন, তবে তিনি এবং তাঁর মতো ব্যক্তিরা নারীদের জিয়ারত থেকে নিষেধ করার ব্যাপারে একবাক্যে কোনো দ্বিধা করতেন না। আল্লাহই ভালো জানেন।

আল-ফাতহুর রব্বানি গ্রন্থে আস-সাআতি বলেছেন: "আল-মাদখালুল মালিকি গ্রন্থের লেখক বলেছেন: নারীদের কবর জিয়ারতের ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: প্রথমত, সাধারণভাবে নিষেধ। দ্বিতীয়ত, শরীয়তসম্মত পর্দা ও সতর্কতা বজায় রেখে অনুমতি, যা বর্তমান যুগের কর্মকাণ্ডের বিপরীত। তৃতীয়ত, যুবতী এবং বৃদ্ধার মাঝে পার্থক্য করা। অতপর তিনি বলেন: জেনে রাখুন যে, এই মতভেদ ছিল তৎকালীন যুগের নারীদের ব্যাপারে। আর বর্তমান যুগে তাদের বের হওয়ার ব্যাপারে কোনো আলেম বা দ্বীনি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কেউ অনুমতির কথা বলবেন তা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।"

আল্লামা সিদ্দিক বিন হাসান বুখারি তাঁর ‘হুসনুল উসওয়াহ’ গ্রন্থে বলেছেন: "অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো নারীদের কবর জিয়ারত করা থেকে নিষেধ করা। আহলে হাদিস (أهل الحديث) জামাত এই মতেরই অনুসারী, আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন।" মিরআহ প্রণেতা বলেন: "আহমেদ শাকির তিরমিজির টিকায় বলেছেন: নিষেধের বিষয়টি বিশেষভাবে (خاص) নারীদের জন্য বর্ণিত হয়েছে, আর অনুমতির শব্দগুলো সাধারণ (عام)। আর সাধারণ (عام) শব্দ বিশেষ (خاص) বিধানকে রহিত (نسخ) করে না; বরং বিশেষ (خاص) বিধানটি তার ওপর সিদ্ধান্তকারী (حاكم) এবং তাকে সীমাবদ্ধকারী (مقيد) হিসেবে গণ্য হয়।"

সৌদি আরবের মহামান্য মুফতি আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল লতিফকে মসজিদে নববীতে প্রবেশের সময় নারীদের আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের সামনে দাঁড়ানোর বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) অভিশাপ সম্বলিত হাদিসগুলো উল্লেখ করার পর এক ফতোয়ায় উত্তর দিয়েছিলেন: "জিয়ারতকারিনী (زائرات) শব্দটির বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এই নিষেধটি কেবল অধিক জিয়ারত করার সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, যেমনটি কেউ কেউ অন্য বর্ণনায় 'অধিক জিয়ারতকারিনী' (زوّارات) শব্দ দেখে ধারণা করেছেন।" এরপর তিনি গবেষণালব্ধ আলোচনার পর বলেন...
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৪৭)
جلياً فِي الْمَسْأَلَة "وَالْخُلَاصَة: أَنه لَا يجوز للنِّسَاء قصد الْقُبُور بِحَالَة وَلَا يدخلن فِي عُمُوم الْإِذْن بل الْإِذْن خَاص بِالرِّجَالِ وَالله أعلم".

قلت: فَالْقَوْل بِالتَّحْرِيمِ مُطلقًا هُوَ القَوْل الَّذِي ندين الله بِهِ وَلَا نعتقد سواهُ، إِذْ هُوَ الْمُوَافق لأمر رَسُول الله وَنَهْيه وقواعد شَرِيعَته ومصالح أمته فَأَما مُوَافَقَته لأَمره فَإِنَّهُ صلى الله عليه وسلم حكم على الْمَرْأَة الَّتِي تبْكي عِنْد قبر على صبي لَهَا بمنافاة ذَلِك للصبر وَالتَّقوى فَأمرهَا بقوله لَهَا: "اتَّقِ الله واصبري" فَهَذَا مُوَافق لأَمره، وَأما مُوَافَقَته لنَهْيه فَلقَوْله: "لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زائرات الْقُبُور" فَاجْتمع فِي هَذِه الْمَسْأَلَة أبلغ الطّرق لإِثْبَات هَذَا الحكم من أمره وَنَهْيه صلى الله عليه وسلم. وَأما مُوَافَقَته لقواعد شَرِيعَته ومصالح أُمته فَمن وُجُوه عديدة نذْكر مِنْهَا مَا يَلِي:

أَولا: من المستقر الْمَعْلُوم من قَوَاعِد الشَّرِيعَة المطهرة: أَن دَرْء الْمَفَاسِد مغلب على جلب الْمَنَافِع لاسيما عِنْد عَظمَة الْمَفَاسِد كالحالة هَذِه إِذْ لَيْسَ فِي زِيَارَة النِّسَاء للمقابر أَي مصلحَة راجحة كَمَا هِيَ فِي حق الرِّجَال، وَالْخُرُوج فِي حقهن لَا يكون إِلَّا لحَاجَة فَكيف يقدم مَا لَيْسَ بِوَاجِب على الْوَاجِب بل كَيفَ إِذا لم يكن مَشْرُوعا.

ثَانِيًا: إِن النِّسَاء ناقصات عقل وَدين مَعَ ضعف صبرهن وَكَثْرَة جزعهن وَمن جراء هَذَا نهى النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن الْجزع الْمُؤَدِّي إِلَى لطم الخدود وشق الْجُيُوب وزيارتهن مجددة للحزن والبكاء وَالنوح على مَا جرت بِهِ عادتهن الناتجة من نُقْصَان الدّين وَالْعقل وَقلة الصَّبْر وَكَثْرَة الْجزع فَلَو لم تحرم زِيَارَة النِّسَاء للقبور إِلَّا من هَذَا الْبَاب لكفى فَكيف إِذا ترَتّب عَلَيْهَا من المخالفات الْبَاطِلَة مَالا يخفى على كل من شهد مَا يَقع مِنْهُنَّ فِي زَمَاننَا هَذَا من تبرج بزينة واختلاط وَغير ذَلِك مِمَّا أنكرهُ الشَّرْع.

ثَالِثا: إِن حُرْمَة التبرج والاختلاط- مَعْلُوم بِالضَّرُورَةِ من الدّين وَالْعقل السَّلِيم. فخروج الْمَرْأَة من بَيتهَا لغير ضَرُورَة يُؤَدِّي فِي الْغَالِب إِلَى ارْتِكَاب هَذِه الممنوعات شرعا بل والى ترك مَا هُوَ أهم من إحصانها وقرارها فِي بَيتهَا وَالْقِيَام بِحُقُوق زَوجهَا كَمَا قَالَ الله عز وجل {وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الأُولَى} بل يُؤَدِّي إِلَى أعظم مِمَّا تقدم من وُقُوع اللَّعْنَة عَلَيْهَا على لِسَان رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، وَمن شهد مَا يَقع فِي عصرنا هَذَا عِنْد مزارات قُبُور الصَّالِحين وَغَيرهم لاسيما عِنْد قبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم وصاحبيه علم غَايَة الْعلم أَن مَا ذَكرْنَاهُ من الْمَفَاسِد المترتبة على فتح هَذَا الْبَاب أَمر وَاقع لَا يحْتَمل الشَّك والارتياب وَأَن مَنعهنَّ من زِيَارَة الْقُبُور هُوَ مُقْتَضى شَرعه وَحكمه وَمن
বিষয়টি এই মাসআলায় অত্যন্ত স্পষ্ট। "সারকথা হলো: নারীদের জন্য কোনো অবস্থাতেই কবরের দিকে যাওয়া জায়েজ নয় এবং তারা সাধারণ অনুমতির অন্তর্ভুক্ত হবে না; বরং এই অনুমতি কেবল পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট (خاص)। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।"

আমি বলি: সুতরাং সাধারণভাবে নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার বিষয়টিই হলো সেই অভিমত যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর আনুগত্য করি এবং এছাড়া অন্য কিছু বিশ্বাস করি না। কেননা এটিই রাসুলুল্লাহ-এর আদেশ, নিষেধ, শরীয়তের মূলনীতি এবং উম্মতের কল্যাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর আদেশের সাথে সামঞ্জস্যতার বিষয়টি হলো, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক মহিলার ব্যাপারে—যে তার সন্তানের কবরের পাশে কাঁদছিল—ফয়সালা দিয়েছিলেন যে, এটি ধৈর্য ও তাকওয়ার পরিপন্থী। অতঃপর তিনি তাকে এই বলে আদেশ দিলেন: "আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো।" সুতরাং এটি তাঁর আদেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। আর তাঁর নিষেধাড্ডার সাথে সামঞ্জস্যতার বিষয়টি হলো তাঁর এই বাণী: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর জিয়ারতকারী নারীদের ওপর লানত করেছেন।" অতএব, এই মাসআলায় তাঁর আদেশ ও নিষেধ উভয়টির মাধ্যমে এই বিধান সাব্যস্ত করার বলিষ্ঠতম পথগুলো একত্রিত হয়েছে। আর শরীয়তের মূলনীতি ও উম্মতের কল্যাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন দিক থেকে প্রমাণিত, যার মধ্য হতে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করছি:

প্রথমত: পবিত্র শরীয়তের সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুবিদিত মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: 'ক্ষতি প্রতিরোধ করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য', বিশেষ করে যখন ক্ষতির মাত্রা ব্যাপক হয়—যেমনটি এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা নারীদের কবর জিয়ারতের মধ্যে এমন কোনো প্রাধান্যযোগ্য কল্যাণ (مصلحة راجحة) নেই যা পুরুষদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান। আর নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়া কেবল প্রয়োজনেই হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় যা আবশ্যক (واجب) নয় তাকে কীভাবে আবশ্যকের ওপর প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে? বিশেষ করে যখন এটি শরীয়তসম্মত (مشروع)-ই নয়।

দ্বিতীয়ত: নারীরা বুদ্ধি ও দ্বীনদারিতে অপূর্ণতা বিশিষ্ট এবং তাদের ধৈর্য কম ও অস্থিরতা বেশি। এ কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন অস্থিরতা প্রদর্শন করতে নিষেধ করেছেন যা গালে চড় মারা ও জামার কলার ছিঁড়ে ফেলার দিকে ধাবিত করে। আর তাদের জিয়ারত শোক, ক্রন্দন ও বিলাপকে নতুন করে জাগ্রত করে—যা তাদের অভ্যাসগত স্বভাবজাত বিষয় এবং দ্বীন ও বুদ্ধির অপূর্ণতা, ধৈর্যের অভাব ও অধিক অস্থিরতার ফলশ্রুতি। যদি কেবল এই কারণেই নারীদের কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ (تحريم) করা হতো তবে তা-ই যথেষ্ট হতো। তদুপরি যখন এর সাথে এমন সব বাতিল ও শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ জড়িত হয় যা বর্তমানে প্রত্যক্ষকারী কারো কাছেই অস্পষ্ট নয়—যেমন সাজসজ্জা প্রদর্শন (تبرج) ও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা (اختلاط) সহ শরীয়ত কর্তৃক অপছন্দনীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ।

তৃতীয়ত: সাজসজ্জা প্রদর্শন (تبرج) এবং অবাধ মেলামেশার (اختلاط) অবৈধতা দ্বীন ও সুস্থ বিবেকের নিরিখে স্বতঃসিদ্ধভাবে বিদিত (معلوم بالضرورة)। সুতরাং কোনো প্রয়োজন ছাড়া নারীর ঘর থেকে বের হওয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব শরীয়ত নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়ার দিকে নিয়ে যায়। এমনকি এর ফলে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, নিজ গৃহে অবস্থান এবং স্বামীর অধিকার আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ অবহেলিত হয়। যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেছেন: "তোমরা স্বীয় গৃহে অবস্থান কর এবং প্রাচীন জাহেলী যুগের মত নিজেদের প্রদর্শন (تبرج) করো না।" বরং এটি পূর্বোল্লিখিত বিষয়ের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত করে, আর তা হলো রাসুলুল্লাহ-এর যবানে তার ওপর লানত বা অভিশাপ আপতিত হওয়া। আমাদের বর্তমান যুগে নেককার ব্যক্তি ও অন্যদের মাজারগুলোতে যা ঘটছে, বিশেষ করে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর দুই সাথীর কবরের নিকট, তা যে কেউ প্রত্যক্ষ করলে নিশ্চিতভাবে জানতে পারবেন যে, এই দুয়ার খুলে দেওয়ার ফলে যে সকল অনিষ্টের (مفاسد) কথা আমরা উল্লেখ করেছি তা এক বাস্তব সত্য; যাতে কোনো সন্দেহ বা সংশয়ের অবকাশ নেই। আর তাদেরকে কবর জিয়ারত থেকে বিরত রাখাই হলো তাঁর শরীয়ত ও বিধানের দাবি এবং...
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৪৮)
من مسَائِل منعهَا الشَّارِع لَا لذاتها وَلَكِن لما يتَوَصَّل إِلَيْهِ بأسبابها من ذَلِك نَهْيه عَن تجصيص الْقُبُور وتشريفها وَالْبناء عَلَيْهَا وَعَن الصَّلَاة إِلَيْهَا وَعِنْدهَا وَعَن شدّ الرّحال إِلَيْهَا- كل ذَلِك لِئَلَّا يكون ذَرِيعَة إِلَى اتخاذها أوثانا، ً وَهَذَا التَّحْرِيم عَام فِي حق من قصد وَمن لم يقْصد، كل ذَلِك حماية لجناب التَّوْحِيد وسلامة الْفطْرَة، والمحافظة على ذَلِك مَعْرُوفَة بطبيعة العقائد الإسلامية والله الْمُسْتَعَان.

خَاتِمَة فِي أَن هدي السّلف فِي الِاتِّبَاع ومجانبة الابتداع:

لَا يخفى على كل من كَانَ هدفه التَّمَسُّك بآداب شَرِيعَة الْإِسْلَام أَن الْخَيْر كُله فِي اتِّبَاع السّلف وَأَن الشَّرّ فِي ابتداع الخالفين، فَمن ثمَّ لما لم ينْقل عَن الْقُرُون الْمَشْهُود لَهَا بِالْخَيرِ أَن نِسَاءَهُمْ يزرن الْمَقَابِر تَيَقنا يَقِينا لَا يساوره شكّ أَنهم فَهموا الْمَنْع من الشَّارِع من غير قيد، وَمن الْمَعْلُوم أَيْضا لما هم عَلَيْهِ من قُوَّة التَّمَسُّك بِالسنةِ والولوع بهَا وَمن الْوَرع وَحب التسابق إِلَى الْخَيْر وتبليغ مَا جَاءَ عَن الْمُصْطَفى عليه الصلاة والسلام، أَنه لَو كَانَت زِيَارَة النِّسَاء خيرا لسبقونا إِلَيْهَا ولنقل عَنْهُم جَوَازهَا كَمَا نقل عَنْهُم منعهَا على لِسَان رَسُول الله صلى الله عليه وسلم.وَقد قَالَ الأول:

وَالْحق أَبلج لَا تزِيغ سَبيله … وَالْحق يعرفهُ ذَوُو الْأَلْبَاب

فلنفعل كَمَا فعلوا وليسعنا مَا وسعهم من الِاسْتِغْنَاء بِمَا أحل الله عَمَّا حرمه فَمَا أحسن الِاقْتِصَار على الطَّرِيقَة المأثورة عَن سلف هَذِه الْأمة فَإِنَّهُم كَانُوا أعلم بشريعة الله وَأقوى تَعْظِيمًا لأوامره وأوامر رَسُوله من سَائِر الْأُمَم، وَمن ظن أَن فِي قدرته وإمكانه أَن يفوقهم فِي تَعْظِيم أوامره فقد خَابَ ظَنّه وَرجع بخفي حنين فوالله لَو أنْفق أَحَدنَا مثل أحدٍ ذَهَبا لما بلغ مد وَاحِد مِنْهُم وَلَا نصيفه كَمَا ورد عَنهُ ذَلِك عليه الصلاة والسلام وَيذكر أَن الإِمَام مَالِكًا رحمه الله كثيرا مَا ينشد:

وَخير أُمُور الدّين مَا كَانَ سنة … وَشر الْأُمُور المحدثات الْبَدَائِع

فَمَا من بِدعَة تحدث فِي الْإِسْلَام إِلَّا وَيرْفَع فِي مقابلتها سنة من سنَن الْهدى، وحسبك فِي وجوب الِاتِّبَاع والتحذير من الابتداع مَا رَوَاهُ الْمَقْدِسِي فِي المختارة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِن الله حجب التَّوْبَة عَن كل صَاحب بِدعَة حَتَّى يدع بدعته".
শরীয়ত প্রবর্তক এমন কিছু বিষয় নিষিদ্ধ করেছেন যা তার নিজস্ব সত্তাগত কারণে নয়, বরং সেগুলোর মাধ্যমে যে অসীলায় পৌঁছানো যায় তার কারণে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো কবর প্লাস্টার করা, তা উঁচু করা, তার ওপর ইমারত নির্মাণ করা, কবরের দিকে মুখ করে কিংবা কবরের নিকট সালাত আদায় করা এবং কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা—এসবই করা হয়েছে যাতে এগুলোকে মূর্তিপূজার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ না করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যারা এটি করার উদ্দেশ্য পোষণ করে এবং যারা করে না তাদের ক্ষেত্রেও; আর এ সব কিছুই করা হয়েছে তাওহীদের মর্যাদা রক্ষা ও ফিতরাতের বিশুদ্ধতা বজায় রাখার নিমিত্তে। ইসলামী আকীদার প্রকৃতি অনুযায়ী এই রক্ষণাবেক্ষণ একটি সুপরিচিত বিষয়। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

উপসংহার: অনুসরণের ক্ষেত্রে সালাফদের আদর্শ এবং বিদআত (ابتداع) বর্জন প্রসঙ্গে:

যাদের লক্ষ্য ইসলামী শরীয়তের আদবসমূহ আঁকড়ে ধরা, তাদের কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, সকল কল্যাণ সালাফদের অনুসরণের মধ্যে নিহিত এবং সকল অকল্যাণ পরবর্তীদের নবউদ্ভাবনের মধ্যে। সে কারণেই, যখন কল্যাণের সাক্ষ্যপ্রাপ্ত যুগসমূহ থেকে এটি নিশ্চিতভাবে বর্ণিত (منقول) হয়নি যে তাদের মহিলারা কবর যিয়ারত করতেন, তখন আমরা সুনিশ্চিতভাবে বুঝতে পেরেছি যে তারা শরীয়ত প্রবর্তকের পক্ষ থেকে কোনো শর্ত ছাড়াই এর নিষেধাজ্ঞা উপলব্ধি করেছিলেন। এটি তাদের সুন্নাহর (سنة) প্রতি দৃঢ় সংহতি, এর প্রতি একাগ্রতা, খোদাভীতি, কল্যাণের প্রতি প্রতিযোগিতার আগ্রহ এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে যা এসেছে তা প্রচার করার পরিচিত বৈশিষ্ট্যের কারণেও সুস্পষ্ট। যদি নারীদের কবর যিয়ারত করা কল্যাণকর হতো, তবে তারা অবশ্যই আমাদের আগে তা করতেন এবং তাদের থেকে এর বৈধতা বর্ণিত (منقول) হতো, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জবানিতে এর নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। পূর্ববর্তী কবি বলেছেন:

সত্য সুপ্রকট, এর পথ বিচ্যুত হয় না … আর জ্ঞানীরাই সত্যকে চিনতে পারে

অতএব, আমরা যেন তা-ই করি যা তারা করেছেন এবং তারা যা বর্জন করে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন আমরাও যেন আল্লাহ যা হালাল করেছেন তাতে তুষ্ট থেকে হারাম বিষয়সমূহ থেকে বিমুখ থাকার মাধ্যমে তাই করি। এই উম্মতের সালাফদের থেকে বর্ণিত (مأثورة) পদ্ধতির ওপর সীমাবদ্ধ থাকা কতই না উত্তম! কেননা তারা আল্লাহর শরীয়ত সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন এবং অন্য সব উম্মতের চেয়ে আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের আদেশকে অধিক সম্মান করতেন। যে ব্যক্তি মনে করে যে তার সামর্থ্য ও সক্ষমতা রয়েছে তাদের চেয়েও বেশি আল্লাহর আদেশকে সম্মান করার, সে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে এবং শূন্য হাতে ফিরে এসেছে। আল্লাহর কসম! আমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ দান করে, তবুও তাদের এক মুদ বা তার অর্ধেক পরিমাণ সওয়াবেও পৌঁছাতে পারবে না, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণিত আছে যে, ইমাম মালিক (রহ.) প্রায়ই এই কবিতাটি আবৃত্তি করতেন:

দ্বীনের শ্রেষ্ঠ বিষয় হলো যা সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী হয় … আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো নবউদ্ভাবিত (محدثات) বিষয় ও বিদআতসমূহ (بدائع)

ইসলামে এমন কোনো বিদআত (بدعة) সৃষ্টি হয় না যার বিপরীতে হিদায়াতের কোনো একটি সুন্নাহ (سنة) বিলুপ্ত হয় না। অনুসরণ করার আবশ্যকতা এবং নবউদ্ভাবন (ابتداع) থেকে সতর্ক থাকার বিষয়ে আল-মাকদিসি আল-মুখতারা গ্রন্থে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা-ই যথেষ্ট, যেখানে নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিদআতকারীর (صاحب بدعة) তওবা কবুল করার ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করেন যতক্ষণ না সে তার বিদআত (بدعة) ত্যাগ করে।"
(খণ্ড: ১) কাশফুস সুতূর ফী নাহয়িন নিসা আন যিয়ারাতিল কুবূর (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وسَاق الشاطبي فِي الِاعْتِصَام من حَدِيث: "الْمَدِينَة حرم مَا بَين عير إِلَى ثَوْر من أحدث فِيهَا حَدثا أَو آوى مُحدثا فَعَلَيهِ لعنة الله وَالْمَلَائِكَة وَالنَّاس أَجْمَعِينَ لَا يقبل الله مِنْهُ يَوْم الْقِيَامَة صرفا وَلَا عدلا" وَهَذَا الحَدِيث فِي سِيَاق الْعُمُوم فَيشْمَل كل حدث أحدث فِيهَا مِمَّا يُنَافِي الشَّرْع، والبدع من أقبح الْحَدث وَهُوَ وَإِن كَانَ مُخْتَصًّا بِالْمَدِينَةِ فغيرها أَيْضا يدْخل فِي الْمَعْنى … ويروى عَن أبي أويس الْخَولَانِيّ أَنه قَالَ: "لِأَن أرى فِي الْمَسْجِد نَارا لَا أَسْتَطِيع إطفاءها أحب إِلَيّ من أَن أرى فِيهِ بِدعَة لَا أَسْتَطِيع تغييرها".

وَقَالَ عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه: "اتبعُوا وَلَا تبتدعوا فقد كفيتم وَعَلَيْكُم بِالْأَمر الْعَتِيق". وَكَانَ السّلف يَقُولُونَ: "احْذَرُوا من النَّاس صنفين: صَاحب فتْنَة فتنهُ هَوَاهُ، وَصَاحب دنيا أَعْجَبته دُنْيَاهُ". وَقَالَ أَبُو عُمَيْر عِيسَى بن مُحَمَّد النّحاس فِي صفة الإِمَام أَحْمد رحمه الله: "عَن الدُّنْيَا مَا كَانَ أصبره وبالماضين مَا كَانَ أشبهه وبالصالحين مَا كَانَ ألحقهُ، أَتَتْهُ الْبدع فنفاها وَالدُّنْيَا فأباها، وَخَصه الله بنصرة دينه وَالْقِيَام بِحِفْظ سنته ورضيه لإِقَامَة حجَّته وَنصر كَلَامه حِين عجز عَنهُ النَّاس".

ويروى عَن الإِمَام مَالك رحمه الله: "لَا يصلح آخر هَذِه الْأمة إِلَّا بِمَا صلح بِهِ أَولهَا فَمَا لم يكن يومئذٍ دينا لَا يكون الْيَوْم دينا".

وَإِلَى هُنَا انْتهى مَا أردنَا جمعه وَكَانَ ذَلِك فِي مَدِينَة الرَّسُول صلى الله عليه وسلم جعلهَا الله آمِنَة مطمئنة وَسَائِر بِلَاد الْمُسلمين وَالْحَمْد لله الَّذِي بتوفيقه تتمّ الصَّالِحَات. وَصلى الله على نَبينَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه وَسلم.
শাতবি 'আল-ইতিসাম' গ্রন্থে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন: "মদিনা হলো আইর থেকে সাওর পর্যন্ত হারাম (পবিত্র এলাকা)। যে ব্যক্তি এখানে কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন করবে অথবা কোনো উদ্ভাবককে আশ্রয় দেবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিশাপ। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।" আর এই হাদিসটি ব্যাপকতা (عموم) বুঝায়, তাই এটি শরয়ি বিধানের পরিপন্থী মদিনায় উদ্ভাবিত সকল নতুন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। আর বিদআত হলো নিকৃষ্টতম নতুন বিষয়। যদিও এটি মদিনার সাথে নির্দিষ্ট, তবুও এর মর্মার্থের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য স্থানও হবে … আবু উওয়াইস আল-খাওলানি থেকে বর্ণিত (يروى) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "মসজিদে এমন আগুন দেখা যা আমি নেভাতে সক্ষম নই, তা আমার কাছে সেখানে এমন বিদআত দেখার চেয়ে অধিক পছন্দনীয় যা আমি পরিবর্তন করতে সক্ষম নই।"

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন: "তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না, কেননা তোমাদের জন্য (দীনের যা দেয়া হয়েছে তা-ই) যথেষ্ট। তোমরা প্রাচীন আদর্শকে আঁকড়ে ধরো।" সালফে সালেহীন বলতেন: "তোমরা দুই প্রকার মানুষ থেকে সতর্ক থাকো: প্রবৃত্তির অনুসারী ফিতনাকারী এবং দুনিয়াদার ব্যক্তি যাকে তার দুনিয়া বিমোহিত করেছে।" আবু উমাইর ঈসা ইবনে মুহাম্মদ আন-নাহহাস ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর গুণাবলি বর্ণনায় বলেছেন: "দুনিয়ার প্রতি তিনি কতই না ধৈর্যশীল ছিলেন! পূর্ববর্তীদের সাথে তাঁর কতই না সাদৃশ্য ছিল! আর নেককারদের সাথে তিনি কতই না সম্পৃক্ত ছিলেন! বিদআত তাঁর নিকট আসলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করতেন এবং দুনিয়াকে তিনি বর্জন করেছিলেন। আল্লাহ তাকে তাঁর দীনকে সাহায্য করার জন্য এবং তাঁর সুন্নাহ (سنة) সংরক্ষণের দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষভাবে মনোনীত করেছিলেন। যখন মানুষ অপারগ ছিল, তখন তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে হুজ্জত (حجة) প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আল্লাহর বাণীকে বিজয়ী করার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।"

ইমাম মালিক (রহ.) থেকে বর্ণিত (يروى) হয়েছে: "এই উম্মতের শেষ অংশ সংশোধিত হবে না সেই পথ ব্যতীত যার মাধ্যমে এর প্রথম অংশ সংশোধিত হয়েছিল। সুতরাং সেদিন যা দীন হিসেবে গণ্য ছিল না, আজ তা দীন হিসেবে গণ্য হবে না।"

আমরা যা সংকলন করতে চেয়েছিলাম তা এখানেই সমাপ্ত হলো। আর এটি সম্পন্ন হয়েছে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শহর মদিনায়। আল্লাহ এটিকে এবং মুসলিমদের অন্যান্য সকল শহরকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখুন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।