(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
نصيحة أهل الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: نصيحة أهل الحديث
المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي الخطيب البغدادي (ت 463هـ)
المحقق: عبد الكريم أحمد الوريكات
الناشر: مكتبة المنار - الزرقاء
الطبعة: الأولى، 1408
عدد الصفحات: 47
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আহলুল হাদিসের প্রতি উপদেশ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: নাসিহাতু আহলিল হাদিস
গ্রন্থকার: আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত বিন আহমদ বিন মাহদি আল-খতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪৬৩ হি.)
সম্পাদক: আবদুল করিম আহমদ আল-ওয়ারিকাত
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানার - যারকা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৮
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢١)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم قَالَ الْخَطِيب أَبُو بكر أَحْمد بن عَليّ بن ثَابت الْحَافِظ رَحمَه الله تَعَالَى
رسمت فِي هَذَا الْكتاب لصَاحب الحَدِيث خَاصَّة وَلغيره عَامَّة مَا أقوله نصيحة مني لَهُ وغيرة عَلَيْهِ وَهُوَ أَن يتَمَيَّز عَمَّن رَضِي لنَفسِهِ بِالْجَهْلِ وَلم يكن فِيهِ معنى يلْحقهُ بِأَهْل الْفضل وَينظر فِيمَا أذهب فِيهِ مُعظم وقته وَقطع بِهِ أَكثر عمره من كتب حَدِيث رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجمعه ويبحث عَن علم مَا أَمر بِهِ من معرفَة حَلَاله وَحَرَامه وخاصه وعامه وفرضه وندبه وإباحته وحظره وناسخه ومنسوخه وَغير ذَلِك من أَنْوَاع علومه قبل فَوت إِدْرَاك ذَلِك فِيهِ
1 - فَقَدْ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقَوَيْهِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السَّرَخْسِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْهَرَوِيُّ قَالَ ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَامِرٍ النَّصِيبِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ صَالِحٍ يَقُولُ قَالَ الشَّافِعِيُّ
تَفَقَّهْ قَبْلَ أَن تَرَأَّسَ فَإِذَا تَرَأَّسْتَ فَلَا سَبِيلَ إِلَى التَّفَقُّهِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে হাফেজ (الحافظ) খতিব আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন:
আমি এই কিতাবে বিশেষভাবে হাদিস অন্বেষণকারীর জন্য এবং সাধারণভাবে অন্যদের জন্য এমন কিছু লিপিবদ্ধ করেছি যা তার প্রতি আমার নসিহত এবং মমত্ববোধ থেকে উৎসারিত। আর তা হলো, সে যেন নিজেকে তাদের থেকে পৃথক করতে পারে যারা নিজেদের জন্য মূর্খতাকে পছন্দ করে নিয়েছে এবং যাদের মধ্যে এমন কোনো গুণ নেই যা তাদের মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সে যেন সেই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করে যার পেছনে সে তার সময়ের অধিকাংশ ব্যয় করেছে এবং জীবনের বড় একটি অংশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস লিখন ও সংগ্রহের পেছনে অতিবাহিত করেছে। আর সে যেন সেই ইলম অন্বেষণ করে যা অর্জনের নির্দেশ তাকে দেওয়া হয়েছে—যেমন হালাল ও হারাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং খাস (خاص), আম (عام), ফরজ (فرض), মুস্তাহাব (ندব্য), বৈধতা (إباحة), নিষিদ্ধতা (حظر), নাসিখ (ناسخ), মানসুখ (منسوخ) ও এর জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যান্য প্রকারভেদ সম্পর্কে অবগত হওয়া, সুযোগ অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই।
1 - আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন রিজকুয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহিম আস-সারখাসি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল মুনজির আল-হারাউই আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবন আমির আন-নাসিবি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আহমদ ইবন সালেহকে বলতে শুনেছি যে, ইমাম শাফেয়ী বলেছেন:
নেতৃত্ব লাভের পূর্বেই গভীর ব্যুৎপত্তি (تفقه) অর্জন করো, কেননা যখন তুমি নেতৃত্বে আসীন হবে, তখন আর গভীর ব্যুৎপত্তি (تفقه) অর্জনের কোনো পথ থাকবে না।
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
2 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْفَتْحِ الْفَارِسِيُّ أَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمد بن عُثْمَان الْوَاعِظ ناموس بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ يَحْيَى قَالَ حَدثنِي عبد اللَّهِ بْنُ أَبِي سَعْدٍ حَدَّثَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ كَانَ يُقَالُ
إِنَّمَا تَقْبَلُ الطِّينَةُ الْخَتْمَ مَا دَامَتْ رَطْبَةً
২ - উবায়দুল্লাহ ইবন আবিল ফাতহ আল-ফারিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর ইবন আহমদ ইবন উসমান আল-ওয়াইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, নামূস ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন ইয়াহইয়া বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবন আবি সা’দ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবু মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী আমাকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, বলা হতো যে—
"নিশ্চয়ই মাটি কেবল ততক্ষণই মোহর গ্রহণ করে, যতক্ষণ তা আর্দ্র থাকে।"
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أَي أَن الْعلم يطْلب فِي طرواة السِّنِّ
3 - قَالَ وَجَاءَ عَنْ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ تَفَقَّهُوا قَبْلَ أَنْ تُسَوَّدُوا
أَخْبَرَنَاهُ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُعَدَّلُ أَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ ثَنَا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ ثَنَا وَكِيعٌ عَنِ ابْنِ عَوْنٍ
وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقٍ أَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ ثَنَا حَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ ثَنَا بكار بن مُحَمَّد ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَوْنٍ
وَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ أَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ
وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْفَرَجِ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَصَّاصُ أَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ خَلَّادٍ الْعَطَّارُ نَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ هُوَ الْخَزَّازُ قَالَا ثَنَا هوذه بن عَوْنٍ
وَأَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي الْحَسَنِ نَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْأَدَمِيُّ القارىء ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ ثَنَا أَزْهَرُ عَنِ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنِ الْأَحْنَفِ وَفِي حَدِيثِ وَكِيعٍ وَبَكَّارٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ تَفَقَّهُوا قَبْلَ أَنْ تُسَوَّدُوا
4 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ أَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بن ينخاب الطَّيِّبِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ الْقُرَشِيُّ ثَنَا أَزْهَرُ ثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنِ الْحَسَنِ عَنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ تَفَقَّهُوا قَبْلَ أَنْ تُسَوَّدُوا
كَذَا قَالَ عَنِ الْحَسَنِ وَالصَّوَابُ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ كَمَا ذَكَرْنَاهُ أَوَّلًا وَاللَّهُ أَعْلَمُ
অর্থাৎ, জ্ঞান অর্জন করা উচিত অল্প বয়সে।
৩ - তিনি বলেন, আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: তোমরা নেতা হিসেবে মনোনীত হওয়ার পূর্বেই দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করো।
আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুয়াদ্দাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সা’দান ইবনে নাসর, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ওয়াকি, তিনি ইবনে আউন থেকে।
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে রিজক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান ইবনে আহমাদ আদ-দাক্কাক, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাম্বল ইবনে ইসহাক, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন বাক্কার ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আউন।
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আবু বকর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ আল-কাত্তান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে গালিব ইবনে হারব।
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফারাজ মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-জাসসাস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে খাল্লাদ আল-আত্তার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে আলী—যিনি আল-খাজ্জাজ হিসেবে পরিচিত—তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাওজাহ ইবনে আউন।
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আবুল হাসান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-আদামি আল-ক্বারি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-কাসিম—যিনি বনু হাশেমের মুক্তদাস, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আজহার, তিনি ইবনে আউন থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে, তিনি আল-আহনাফ থেকে। আর ওয়াকি এবং বাক্কারের বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আহনাফ ইবনে কাইস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: তোমরা নেতা হিসেবে মনোনীত হওয়ার পূর্বেই দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করো।
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আবু বকর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়ানখাব আত-তাইয়িবি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আল-কুরাশি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আজহার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনে আউন, তিনি হাসান থেকে, তিনি আহনাফ ইবনে কাইস থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: তোমরা নেতা হিসেবে মনোনীত হওয়ার পূর্বেই দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করো।
তিনি এভাবে "হাসান থেকে" বর্ণনা করেছেন, তবে সঠিক (الصواب) হলো "ইবনে সিরিন থেকে", যেমনটি আমরা শুরুতে উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ الْبَادَا أَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ فِي حَدِيثِ عُمَرَ تَفَقَّهُوا قَبْلَ أَنْ تُسَوَّدُوا
يَقُولُ تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ مَا دُمْتُمْ صِغَارًا قَبْلَ أَنْ تَصِيرُوا سَادَةً رُؤَسَاءَ
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান আহমাদ বিন আলী বিন আল-হাসান আল-বাদা, আমাদের জানিয়েছেন (أنبأنا) দালজ বিন আহমাদ, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আলী বিন আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, আবু উবাইদ উমর (রা.)-এর হাদিস—"নেতৃত্বের আসনে আসীন হওয়ার (تسودوا) পূর্বে দ্বীনি গভীর প্রজ্ঞা অর্জন (تفقّهوا) করো"—প্রসঙ্গে বলেন:
তিনি বলেন, তোমরা জ্ঞান অর্জন করো যতক্ষণ তোমরা অল্পবয়স্ক আছো, তোমরা নেতৃবৃন্দ (سادة) ও প্রধান (رؤساء) হওয়ার পূর্বেই।
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
مَنْظُور إِلَيْكُمْ فَإِنْ لَمْ تَعَلَّمُوا قَبْلَ ذَلِكَ اسْتَحْيَيْتُمْ أَنْ تَعَلَّمُوا بَعْدَ الْكِبَرِ فَبَقِيتُمْ جُهَّالًا تَأْخُذُونَ مِنَ الْأَصَاغِرِ فَيُزْرِي ذَلِكَ بِكُمْ وَهَذَا شَبِيهٌ بِحَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ لَنْ يَزَالَ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا أَخَذُوا الْعِلْمَ عَنْ أَكَابِرِهِمْ فَإِذَا أَتَاهُمْ مِنْ أَصَاغِرِهِمْ فَقَدْ هَلَكُوا
قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ وَفِي الْأَصَاغِرِ تَفْسِيرٌ آخَرُ بَلَغَنِي عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ كَانَ يَذْهَبُ بِالْأَصَاغِرِ إِلَى أَهْلِ الْبِدَعِ وَلَا يَذْهَبُ إِلَى السِّنِّ
তোমাদের প্রতি সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে; সুতরাং তোমরা যদি এর পূর্বে জ্ঞান অর্জন না করো, তবে বার্ধক্যে পৌঁছানোর পর শিখতে লজ্জাবোধ করবে। পরিণামে তোমরা অজ্ঞই থেকে যাবে এবং কনিষ্ঠদের (الأصاغر) নিকট হতে জ্ঞান গ্রহণ করবে, যা তোমাদের মর্যাদাহানি ঘটাবে। আর এটি আবদুল্লাহর হাদিসের সদৃশ: 'মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে, যতক্ষণ তারা তাদের জ্যেষ্ঠদের (أكابرهم) নিকট হতে জ্ঞান গ্রহণ করবে। অতঃপর যখন তাদের নিকট তাদের কনিষ্ঠদের (أصاغرهم) পক্ষ হতে জ্ঞান আসবে, তখন তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।'
আবু উবাইদ বলেন, 'কনিষ্ঠদের' (الأصاغر) বর্ণনায় অন্য একটি ব্যাখ্যাও রয়েছে। ইবনুল মুবারক থেকে আমার নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি 'কনিষ্ঠ' (الأصاغر) বলতে বিদআতিদের (أهل البدع) বুঝতেন, বয়সের দিক থেকে ছোটদের বুঝতেন না।
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
6 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بن عبد الله أَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْجُمَحِيُّ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمَّارٍ الْمَوْصِلِيُّ ثَنَا عَفِيفُ بْنُ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الْجُمَحِيِّ رضي الله عنه قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ قَالَ إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِهَا أَنْ يُلْتَمَسَ الْعِلْمُ عِنْدَ الْأَصَاغِرِ
6 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) উমর বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-জুমাহি; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا) আলী বিন আব্দুল আজিজ; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا) মুহাম্মদ বিন আম্মার আল-মাওসিলি; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا) আফিফ বিন সালিম, তিনি ইবনে লাহিয়াহ থেকে (عن), তিনি বকর বিন সাওয়াদাহ থেকে (عن), তিনি আবু উমাইয়াহ আল-জুমাহি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে (عن) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিয়ামতের আলামতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের আলামতসমূহের অন্যতম হলো—অযোগ্য ও কনিষ্ঠদের (الأصاغر) নিকট ইলম বা জ্ঞান অন্বেষণ করা।"
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
7 - وَقَالَ عَلِيٌّ نَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ نَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَا يزَال النَّاس بِخَير ماأخذوا الْعِلْمَ عَنْ أَكَابِرِهِمْ وَعَنْ أُمَنَائِهِمْ فَإِذَا أَخَذُوا مِنْ صِغَارِهِمْ وَشِرَارِهِمْ هَلَكُوا
৭ - আলী বলেন, মুসলিম ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে ওয়াহাব থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ তারা তাদের বড়দের (أكابر) এবং তাদের বিশ্বস্ত (أُمَنَاء) ব্যক্তিদের নিকট হতে ইলম গ্রহণ করবে। কিন্তু যখন তারা তাদের ছোটদের (صغار) এবং তাদের মধ্যকার নিকৃষ্টদের (شرار) নিকট হতে ইলম গ্রহণ করবে, তখন তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ نَا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْخَزَّازُ أَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّكَّرِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمِ بن قُتَيْبَة الدينَوَرِي قَالَ
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে আল-আব্বাস আল-খাজ্জায, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সুক্কারী, আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বাহ আদ-দিনাওয়ারী থেকে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
سُئِلت عَنْ قَوْلِهِ لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا أَخَذُوا الْعِلْمَ عَنْ أَكَابِرِهِمْ يُرِيدُ لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا كَانَ عُلَمَاؤُهُمُ الْمَشَايِخَ وَلَمْ يَكُنْ عُلَمَاؤُهُمُ الْأَحْدَاثَ لِأَنَّ الشَّيْخَ قَدْ زَالَتْ عَنْهُ مُتْعَةُ الشَّبَابِ وَحِدَّتُهُ وَعَجَلَتُهُ وَسَفَهُهُ وَاسْتَصْحَبَ التَّجْرِبَةَ وَالْخِبْرَةَ فَلَا يَدْخُلُ عَلَيْهِ فِي عِلْمِهِ الشُّبْهَةُ وَلَا يَغْلِبُ عَلَيْهِ الْهَوَى وَلَا يَمِيلُ بِهِ الطَّمَعُ وَلَا يَسْتَزِلُّهُ الشَّيْطَانُ اسْتِزْلَالَ الْحَدَثِ وَمَعَ السِّنِّ الْوَقَارُ وَالْجَلَالَةُ وَالْهَيْبَةُ وَالْحَدَثُ قَد تَدْخُلُ عَلَيْهِ هَذَا الْأُمُورُ الَّتِي أُمِنَتْ عَلَى الشَّيْخِ فَإِذَا دَخَلَتْ عَلَيْهِ وَأَفْتَى هَلَكَ وَأَهْلَكَ
তাঁর এই উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, “মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ তারা তাদের বিজ্ঞজনদের (أكابر) নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করবে।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ ততক্ষণ কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ তাদের আলেমগণ হবেন প্রবীণ (المشايخ) এবং তাদের আলেমগণ নবীন (الأحداث) হবেন না। কেননা প্রবীণ (الشيخ) ব্যক্তির থেকে যৌবনের চপলতা, তীব্রতা, তাড়াহুড়ো ও নির্বুদ্ধিতা দূরীভূত হয় এবং তিনি অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতা লাভ করেন। ফলে তাঁর ইলমের মধ্যে কোনো সংশয় (الشبهة) প্রবেশ করতে পারে না, প্রবৃত্তি (الهوى) তাঁর ওপর জয়ী হতে পারে না, লোভ তাঁকে সত্যচ্যুত করতে পারে না এবং শয়তান তাঁকে সেভাবে পদস্খলিত করতে পারে না যেভাবে সে একজন নবীনকে (الحدث) পদস্খলিত করে। আর বার্ধক্যের সাথে গাম্ভীর্য, মর্যাদা ও প্রভাবের সৃষ্টি হয়। কিন্তু নবীনের (الحدث) মধ্যে এমন সব বিষয় প্রবেশ করতে পারে যা থেকে প্রবীণ (الشيخ) ব্যক্তি নিরাপদ থাকেন। সুতরাং যখন সে (নবীন) এই বিষয়গুলোর দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং ফতোয়া প্রদান করে, তখন সে নিজেও ধ্বংস হয় এবং অন্যদেরকেও ধ্বংস করে।
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣١)
قَالَ الْخَطِيبُ وَلَا يُقْتَنَعُ بِأَنْ يكون روايا حسب ومحدثنا فَقَطْ
9 - فَقَدْ أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُعَدَّلُ نَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْأَنْصَارِيُّ وَمَوْلِدُهُ بِأَصْبَهَانَ نَا أَبُو الصَّلْت الْهَرَوِيّ نَا عَلِيُّ بْنُ مُوسَى الرِّضَا عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ آبَائِهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ كُونُوا دُرَاةً وَلَا تَكُونُوا رُوَاةً حَدِيثٌ تَعْرِفُونَ فِقْهَهُ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ حَدِيثٍ تَرْوُونَهُ
আল-খতিব বলেন যে, কেবল বর্ণনাকারী (راويا) হওয়া এবং শুধুমাত্র মুহাদ্দিস হওয়াতেই সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়।
৯ - হাফিজ (الحافظ) আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুআদ্দাল (المعدল) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে আলী আল-আনসারী—যার জন্ম ইসফাহানে—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুস সালত আল-হারাউই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুসা আল-রিদা তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অনুধাবনকারী (دراة) হও এবং কেবল বর্ণনাকারী (رواة) হয়ো না; একটি হাদিস যার ফিকহ (فقه) তোমরা জানো, তা তোমাদের বর্ণনা করা হাজার হাদিসের চেয়ে উত্তম।"
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ الْقَطِيعِيُّ أَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيز البردعي نَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ قَالَ فِي كِتَابِي عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ وَذُكِرَ مَنْ يَحْمِلُ الْعِلْمَ جُزَافًا فَقَالَ هَذَا مِثْلُ حَاطِبِ لَيْلٍ يَقْطَعُ حِزْمَةَ حَطَبٍ فَيَحْمِلُهَا وَلَعَلَّ فِيهَا أَفْعَى فَتَلْدَغُهُ وَهُوَ لَا يَدْرِي قَالَ الرَّبِيعُ يَعْنِي الَّذِينَ لَا يَسْأَلُونَ عَنِ الْحُجَّةِ مِنْ أَيْنَ
আহমদ বিন আবু জাফর আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) যে, আলী বিন আব্দুল আজিজ আল-বারদায়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), আব্দুর রহমান বিন আবি হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا); তিনি বলেন, আমার কিতাবে রাবি ইবনে সুলাইমান হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি—সেখানে এমন ব্যক্তির প্রসঙ্গ আলোচনা করা হলো যে বাছবিচারহীনভাবে (جزافا) জ্ঞান বহন করে—তখন তিনি বললেন: "এ হলো সেই রাত্রিকালীন কাঠুরিয়ার (حاطب ليل) মতো, যে কাঠের একটি আঁটি সংগ্রহ করে তা বহন করে নিয়ে যায়, অথচ সম্ভবত তার মধ্যে বিষধর সর্প লুকিয়ে থাকে যা তাকে দংশন করে কিন্তু সে তা টেরও পায় না।" রাবি বলেন: "অর্থাৎ যারা দলীল বা প্রমাণের (الحجة) উৎস সম্পর্কে কোনো জিজ্ঞাসা বা অনুসন্ধান করে না।"
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْعَتِيقِيُّ أَنَا أَبُو مُسْلِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْكَاتِبُ الْمُعَبِّرُ نَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ دُرَيْدٍ قَالَ
سُئِلَ بَعْضُهُمْ مَتَى يَكُونُ الْأَدَبُ ضَارًّا قَالَ إِذَا نَقَصَتِ الْقَرِيحَةُ وَكَثُرَتِ الرِّوَايَةُ
12 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْعَلَاءِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْوَاسِطِيُّ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ التَّمِيمِيُّ الْكُوفِيُّ قَالَ قَالَ لَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আতিকি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু মুসলিম মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী আল-কাতিব আল-মুয়াব্বির; তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন দুরাইদ; তিনি বলেছেন—
তাঁদের একজনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "কখন আদব (শিষ্টাচার বা জ্ঞানার্জন) ক্ষতিকারক হয়?" তিনি উত্তর দিলেন: "যখন স্বভাবজাত মেধা হ্রাস পায় এবং বর্ণনার (رواية) আধিক্য ঘটে।"
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) কাজী আবু আল-আলা মুহাম্মদ বিন আলী আল-ওয়াসিতি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন জাফর আত-তামিমি আল-কুফি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বলেছেন (قال لنا) আবু আল-আব্বাস বিন...
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
عُقْدَةَ يَوْمًا وَقَدْ سَأَلُهُ رَجُلٌ عَنْ حَدِيثٍ فَقَالَ
أَقِلُّوا مِنْ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ فَإِنَّهَا لَا تَصْلُحُ إِلَّا لِمَنْ عَلِمَ تَأْوِيلَهَا فَقَدْ رَوَى يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ كَثِيرٌ مِنْ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ ضَلَالَةٌ لَقَدْ خَرَجَتْ مِنِّي أَحَادِيثُ لَوَدِدْتُ أَنِّي ضُرِبْتُ بِكُلِّ حَدِيثٍ مِنْهَا سَوْطَيْنِ وَأَنِّي لَمْ أُحَدِّثْ بِهِ
একদা জনৈক ব্যক্তি উকদাহ্-কে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন,
“তোমরা এই হাদিসগুলোর বর্ণনা কমিয়ে দাও; কেননা যারা এগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা (تأويل) জানে, তারা ব্যতীত অন্যদের জন্য এগুলো উপযুক্ত নয়।” ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান ইবনুল ওয়াহাব থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি— “এই হাদিসগুলোর অনেকগুলোই বিভ্রান্তিকর (ضلالة)। আমার পক্ষ থেকে এমন কিছু হাদিস প্রকাশিত হয়েছে যে, আমি আজ আকাঙ্ক্ষা করি যদি প্রতিটি হাদিসের বিনিময়ে আমাকে দুটি করে বেত্রাঘাত করা হতো এবং আমি যদি সেগুলো বর্ণনা না করতাম!”
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
وَلَعَلَّهُ يَطُولُ عُمْرُهُ فَتَنْزِلُ بِهِ نَازِلَةٌ فِي دِينِهِ يَحْتَاجُ أَنْ يَسْأَلَ عَنْهَا فَقِيهَ وَقْتِهِ وَعَسَى أَنْ يَكُونَ الْفَقِيهُ حَدِيثَ السِّنِّ فيستحي أَوْ يَأْنَفُ مِنْ مَسْأَلَتِهِ وَيُضَيِّعُ أَمْرَ اللَّهِ فِي تَرْكِهِ تَعَرُّفَ حُكْمِ نَازِلَتِهِ
13 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بن مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجُمَحِيِّ نَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ نَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَوْسٍ الْعَبْسِيِّ الْكَاتِبِ عَنْ بِلَالِ بْنِ يَحْيَى أَنَّ عُمَرَ قَالَ قَدْ عَلِمْتُ مَتَى صَلَاحُ النَّاسِ وَمَتَى فَسَادُهُمْ إِذَا جَاءَ الْفِقْهُ مِنْ قِبَلِ الصَّغِيرِ اسْتَعْصَى عَلَيْهِ الْكَبِيرُ وَإِذَا جَاءَ الْفِقْهُ مِنْ قبل الْكَبِير تَابعه الصَّغِير فاهتديا
فَإِن أَدْرَكَهُ التَّوْفِيقُ مِنَ اللَّهِ عز وجل وَسَأَلَ الْفَقِيهَ لَمْ يَأْمَنْ أَنْ
সম্ভবত সে দীর্ঘজীবী হবে এবং তার দ্বীনের ব্যাপারে এমন কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে যার সমাধানের জন্য তাকে সমকালীন ফকিহ (فقيه)-এর শরণাপন্ন হতে হবে। হতে পারে সেই ফকিহ (فقيه) অল্পবয়স্ক, ফলে সে তাকে প্রশ্ন করতে লজ্জাবোধ করবে অথবা সংকোচবোধ করবে এবং সেই উদ্ভূত সমস্যার বিধান না জানার মাধ্যমে সে আল্লাহর নির্দেশ পালনকে নষ্ট করবে।
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-জুমাহি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) আলী ইবনে আব্দুল আজিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) আবু নুআইম আল-ফজল ইবনে দুকাইন, তিনি সাদ ইবনে আউস আল-আবসি আল-কাতিব থেকে, তিনি বিলাল ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রা.) বলেছেন: "কখন মানুষের সংশোধন হয় এবং কখন তাদের বিপর্যয় ঘটে তা আমি জেনেছি। যখন ফিকহ (فقه) অল্পবয়স্কদের নিকট থেকে আসে, তখন বড়রা তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় বা তাদের জন্য তা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আর যখন ফিকহ (فقه) বড়দের পক্ষ থেকে আসে, তখন অল্পবয়স্করা তাদের অনুসরণ করে, ফলে তারা উভয়েই সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়।"
অতঃপর যদি সে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক (توفيق) প্রাপ্ত হয় এবং ফকিহ (فقيه)-কে জিজ্ঞাসা করে, তবুও সে এটি থেকে নিরাপদ নয় যে...
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
يَكُونَ بِحَضْرَتِهِ مَنْ يَدْرِي بِهِ وَيَلُومُهُ عَلَى عَجْزِهِ فِي مُقْتَبَلِ عمره إِذْ فَرَّطَ فِي التَّعْلِيمِ فَيَنْقَلِبُ حِينَئِذٍ وَاجِمًا وَعَلَى مَا سَلَفَ مِنْ تَفْرِيطِهِ نَادِمًا
14 - حَدَّثَنِي أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْأُشْنَانِيُّ نَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ النَّهَاوَنْدِيُّ نَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَلَّادٍ نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَعْدَانَ نَا أَحْمَدُ بْنُ حَرْبٍ الْمَوْصِلِيُّ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عُبَيْدٍ يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ وَافِرُ اللِّحْيَةِ إِلَى الْأَعْمَش فَسَأَلَهُ عَنْ مَسْأَلَةٍ مِنْ مَسَائِلِ الصِّبْيَانِ يَحْفَظُهَا الصِّبْيَانُ فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا الْأَعْمَشُ فَقَالَ
انْظُرُوا الى لحيته تحْتَمل حفظ أَرْبَعَةَ آلَافِ حَدِيثٍ وَمَسْأَلَتُهُ مَسْأَلَةُ الصِّبْيَانِ
তার সান্নিধ্যে যেন এমন কেউ উপস্থিত থাকে যে তাকে চেনে এবং জীবনের প্রারম্ভে শিক্ষা গ্রহণে অবহেলার কারণে সৃষ্ট তার অক্ষমতার জন্য তাকে তিরস্কার করে; ফলে সে তখন বিষণ্ণ হয়ে পড়বে এবং অতীতে তার করা অবহেলার জন্য অনুতপ্ত হবে।
১৪ - আবু তাহির মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী আল-উশনানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), আহমদ বিন ইসহাক আল-নাহাওয়ান্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا), আল-হাসান বিন আব্দুর রহমান বিন খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا), আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মা'দান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا), আহমদ বিন হারব আল-মাওসিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا), তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন উবাইদকে বলতে শুনেছি: জনৈক ঘন দাড়িওয়ালা ব্যক্তি আল-আ'মাশের নিকট আসলেন এবং তাকে শিশুদের একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যা সাধারণত শিশুরাই মুখস্থ রাখে। তখন আল-আ'মাশ আমাদের দিকে ফিরে বললেন:
তোমরা তার দাড়ির দিকে তাকাও, যা চার হাজার হাদিস মুখস্থ (حفظ) রাখার সক্ষমতা রাখে, অথচ তার জিজ্ঞাসা হলো শিশুদের মাসআলা।
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
وَلْيَعْلَمْ أَنَّ الْإِكْثَارَ مِنْ كُتُبِ الْحَدِيثِ وَرِوَايَتِهِ لَا يَصِيرُ بِهَا الرَّجُلُ فَقِيهًا إِنَّمَا يَتَفَقَّهُ بِاسْتِنْبَاطِ مَعَانِيه وإنعام التفكر فِيهِ
15 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْأُشْنَانِيُّ نَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ النَّهَاوَنْدِيُّ نَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُهَيْلٍ الْفَقِيهُ نَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْأَصْبَهَانِيُّ بِمَكَّةَ نَا مُصْعَبٌ الزُّبَيْرِيُّ قَالَ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ قَالَ لِابْنَيْ أُخْتِهِ أَبِي بَكْرٍ وَإِسْمَاعِيلَ ابْنَيْ أَبِي أُوَيْسٍ أَرَاكُمَا تُحِبَّانِ هَذَا الشَّأْنَ وَتَطْلُبَانِهِ قَالَا نَعَمْ قَالَ إِنْ أَحْبَبْتُمَا أَنْ تَنْتَفِعَا بِهِ وَيَنْفَعَ اللَّهُ بِكُمَا فَأَقِلَّا مِنْهُ وَتَفَقَّهَا
16 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْقَطَّانُ أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَغَوِيُّ نَا أَحْمَدُ بْنُ السَّرِيِّ نَا سَهْلُ بْنُ زَنْجَلَةَ نَا سُفْيَانُ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنِ الْأَعْمَشِ قَالَ لَمَّا سَمِعْتُ الْحَدِيثَ قُلْتُ لَوْ جَلَسْتُ إِلَى سَارِيَةٍ أُفْتِي النَّاسَ قَالَ فَجَلَسْتُ إِلَى سَارِيَةٍ فَكَانَ أَوَّلُ مَا سَأَلُونِي عَنْهُ لَمْ أَدْرِ مَا هُوَ
এটি জেনে রাখা উচিত যে, হাদিসের কিতাবসমূহের আধিক্য এবং এর বর্ণনা (رواية) দ্বারা কোনো ব্যক্তি ফকিহ (আইনজ্ঞ) হয়ে যায় না; বরং এর অর্থসমূহ উদঘাটন (استنباط) এবং এতে গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমেই ফিকহ অর্জিত হয়।
15 - মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-উশনানি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني), আহমদ বিন ইসহাক আন-নাহাওয়ান্দি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), আল-হাসান বিন আবদুর রহমান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সুহাইল আল-ফকিহ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني), মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আবু আবদুল্লাহ আল-আসবাহানি মক্কায় আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), মুসআব আজ-জুবাইরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমি মালিক বিন আনাসকে বলতে শুনেছি (سمعت), তিনি তাঁর দুই ভাগ্নে আবু বকর এবং ইসমাইল—যিনি আবু উওয়াইসের পুত্র—তাদের বললেন, "আমি দেখছি তোমরা দুজনেই এই বিষয়টি (ইলমে হাদিস) পছন্দ করছো এবং তা অন্বেষণ (طلب) করছো।" তারা বলল, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "যদি তোমরা নিজেরা এর দ্বারা উপকৃত হতে চাও এবং আল্লাহ তোমাদের মাধ্যমে অন্যদের উপকৃত করুন তা চাও, তবে এর (বর্ণনার) পরিমাণ কমিয়ে দাও এবং ফিকহ (গভীর জ্ঞান) অর্জন করো।"
16 - মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবদুল্লাহ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-বাগাওয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আহমদ বিন আস-সাররি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), সাহল বিন জানজালা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), সুফিয়ান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), ইসমাইল বিন উমাইয়াহ থেকে (عن), আল-আমাশ থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন আমি হাদিস শুনলাম, আমি (মনে মনে) বললাম, আমি যদি কোনো স্তম্ভের পাশে বসে মানুষকে ফতোয়া দিতাম! তিনি বলেন, এরপর আমি একটি স্তম্ভের পাশে বসলাম, কিন্তু তারা আমাকে প্রথম যা জিজ্ঞাসা করল, আমি তা জানতাম না।"
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
17 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الدَّقَّاقُ نَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ النَّهَاوَنْدِيُّ قَالَ نَا ابْنُ خَلاد أَبُو عُمُرَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُهَيْلٍ قَالَ حَدَّثَنِي رَجُلٌ ذَكَرَهُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالَ ابْنُ خَلَّادٍ وَأُنْسِيتُ أَنَا اسْمَهُ وَأَحْسبهُ يُوسُف بن الصَّاد قَالَ
وَقَفَتِ امْرَأَةٌ عَلَى مَجْلِسٍ فِيهِ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَأَبُو خَيْثَمَةَ وَخَلَفُ بْنُ سَالِمٍ فِي جَمَاعَةٍ يَتَذَاكَرُونَ الْحَدِيثَ فَسَمِعَتْهُمْ يَقُولُونَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ رَوَاهُ فُلَانٌ وَمَا حَدَّثَ بِهِ غَيْرُ فُلَانٍ فَسَأَلَتْهُمْ عَنِ الْحَائِضِ تُغَسِّلُ الْمَوْتَى وَكَانَتْ غَاسِلَةً فَلَمْ يُجِبْهَا أَحَدٌ مِنْهُمْ وَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَنْظُرُ إِلَى بَعْضٍ فَأَقْبَلَ أَبُو ثَوْرٍ فَقَالُوا لَهَا عَلَيْكِ بِالْمُقْبِلِ فَالْتَفَتَتْ إِلَيْهِ وَقَدْ دَنَا مِنْهَا فَسَأَلَتْهُ فَقَالَ تُغَسِّلُ الْمَيِّتَ لِحَدِيثِ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهَا أَمَا إِنَّ حَيْضَتَكِ لَيْسَتْ فِي يَدِكِ وَلِقَوْلِهَا كُنْتُ أَفْرُقُ رَأْسَ
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আলী আদ-দাক্কাক, তিনি আহমাদ বিন ইসহাক আন-নাহাওয়ান্দি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে খাল্লাদ আবু উমর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সুহাইল, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني) ইলমের অধিকারী (أهل العلم) এমন একজন ব্যক্তি যাকে তিনি উল্লেখ করেছিলেন। ইবনে খাল্লাদ বলেন: আমি তাঁর নাম বিস্মৃত হয়েছি, তবে আমি তাঁকে ইউসুফ বিন আস-সাদ বলে ধারণা করি। তিনি বলেন—
একজন নারী এমন এক মজলিসের পাশে এসে দাঁড়ালেন যেখানে ইয়াহইয়া বিন মাইন, আবু খাইসামা, খালাফ বিন সালিমসহ একদল লোক উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা হাদিস নিয়ে মুজাকারা (আলোচনা) করছিলেন। তিনি তাঁদের বলতে শুনলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অমুক এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) এবং অমুক ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা (حدث) করেননি। তখন তিনি তাঁদের নিকট ঋতুবতী নারীর মৃতদেহ গোসল করানোর বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন—তিনি নিজে মৃতদেহ গোসল করানোর কাজ করতেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেউই তাঁকে উত্তর প্রদান করলেন না এবং তাঁরা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগলেন। এমতাবস্থায় আবু সাওর আগমন করলেন। তখন তাঁরা সেই নারীকে বললেন: “যিনি আসছেন তুমি তাঁর শরণাপন্ন হও।” তিনি তাঁর দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং তিনি যখন নিকটবর্তী হলেন তখন তাঁকে প্রশ্নটি করলেন। তিনি বললেন: “ঋতুবতী নারী মৃতদেহ গোসল করাতে পারবেন।” এর সপক্ষে তিনি কাসেমের সূত্রে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: “নিশ্চয়ই তোমার ঋতুস্রাব তোমার হাতে নেই।” এবং আয়েশা (রা.)-এর এই উক্তির কারণে যে, “আমি (আল্লাহর রাসুলের) মাথার চুল বিন্যস্ত করে দিতাম (বা আঁচড়ে দিতাম)...”
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمَاءِ وَأَنَا حَائِضٌ قَالَ أَبُو ثَوْرٍ فَإِذَا فَرَقَتْ رَأْسَ الْحَيِّ فَالْمَيِّتُ أَوْلَى بِهِ فَقَالُوا نَعَمْ رَوَاهُ فُلَانٌ وَحَدَّثَنَاهُ فُلَانٌ وَيَعْرِفُونَهُ مِنْ طُرُقِ كَذَا وَخَاضُوا فِي الطُّرُقِ فَقَالَتِ الْمَرْأَةُ فَأَيْنَ كُنْتُمْ إِلَى الْآنَ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পানি চাইলেন এমতাবস্থায় যে আমি ঋতুবতী (حائض) ছিলাম। আবু সাওর বললেন, যদি তা জীবিত ব্যক্তির মাথার যত্ন নেয়, তবে মৃত ব্যক্তি তার অধিক হকদার। তারা বললেন, হ্যাঁ, অমুক এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) এবং অমুক আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন (حدثناه)। তারা এটি বিভিন্ন সূত্র (طرق) থেকে জানেন এবং তারা সেই সূত্রসমূহ (طرق) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলেন। তখন মহিলাটি বললেন, তবে তোমরা এ যাবৎ কোথায় ছিলে?
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
قَالَ وَإِنَّمَا أَسْرَعَتْ أَلْسِنَةُ الْمُخَالِفِينَ إِلَى الطَّعْنِ عَلَى الْمُحَدِّثِينَ لَجَهْلِهِمْ أُصُولَ الْفِقْهِ وَأَدِلَّتَهُ فِي ضِمْنِ السُّنَنِ مَعَ عَدَمِ مَعْرِفَتِهِمْ بِمَوَاضِعِهَا فَإِذا عرف صَاحِبُ الْحَدِيثِ بِالتَّفَقُّهِ خَرِسَتْ عَنْهُ الْأَلْسُنُ وَعَظُمَ مَحَلُّهُ فِي الصُّدُورِ وَالْأَعْيُنِ وَخَشِيَ مَنْ كَانَ عَلَيْهِ يَطْعَنُ
18 - أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحِنَّائِيُّ نَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ الْخَلَدِيُّ نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَابِرٍ الطَّرَسُوسِيُّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَرْجِيِّ الْعَسْكَرِيُّ قَالَ سَمِعْتُ مُسْلِمًا الْجَرْمِيَّ قَالَ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ
لَقِيَنِي أَبُو حَنِيفَة فَقَالَ لِي لَوْ تَرَكْتَ كِتَابَةَ الْحَدِيثِ وَتَفَقَّهْتَ أَلَيْسَ كَانَ خَيْرًا قُلْتُ أَفَلَيْسَ الْحَدِيثُ يَجْمَعُ الْفِقْهَ كُلَّهُ قَالَ مَا تَقُولُ فِي امْرَأَة ادَّعَت الْحمل وَأنكر الزَّوْجُ فَقُلْتُ لَهُ حَدَّثَنِي عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَاعَنَ بِالْحَمْلِ فَتَرَكَنِي
তিনি বলেন: বিরোধীদের রসনা কেবল একারণেই হাদিস বিশারদদের (المحدثين) প্রতি দোষারোপ (الطَّعْن) করতে দ্রুত ধাবিত হয়েছে যে, তারা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) এবং এর প্রমাণাদি সম্পর্কে অজ্ঞ এবং সেগুলোর প্রয়োগস্থল সম্পর্কেও তারা অবগত নয়। অতঃপর যখন কোনো হাদিসের বাহক গভীর ফিকহ বা প্রজ্ঞা অর্জনে (التفقه) পরিচিতি লাভ করেন, তখন তার ব্যাপারে বিরুদ্ধবাদীদের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যায়, মানুষের অন্তরে ও চোখে তার মর্যাদা সুমহান হয় এবং যে ব্যক্তি তার দোষারোপ (يطعن) করত সে তাকে ভয় করতে শুরু করে।
18 - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হিন্নাই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নুসায়ের আল-খালাদি আমাদের বর্ণনা করেছেন (نا), আবদুল্লাহ ইবনে জাবির আত-তারসূসী আমাদের বর্ণনা করেছেন (نا), মুহাম্মদ ইবনে আল-আরজি আল-আসকারি আমাদের বর্ণনা করেছেন (نا), তিনি বলেন: আমি মুসলিম আল-জারমিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি:
আবু হানিফা আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং আমাকে বললেন: "যদি আপনি হাদিস লেখা ছেড়ে দিয়ে গভীর ফিকহ অর্জন (تفقه) করতেন, তবে কি তা উত্তম হতো না?" আমি বললাম: "হাদিস কি সমগ্র ফিকহকে (الفقه) শামিল করে না?" তিনি বললেন: "আপনি এমন এক নারী সম্পর্কে কী বলবেন যে গর্ভাবস্থার দাবি করেছে অথচ স্বামী তা অস্বীকার করছে?" তখন আমি তাকে বললাম: আব্বাদ ইবনে মনসুর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন লিআন (لاعن) করিয়েছেন। তখন তিনি আমাকে ছেড়ে চলে গেলেন।
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤١)
فَكَانَ بَعْدَ ذَلِكَ إِذَا رَآنِي فِي طَرِيقٍ أَخَذَ فِي طَرِيقٍ آخَرَ
19 - أَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْخَلَّالُ نَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْخَزَّازُ نَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ نَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ قَالَ سَمِعْتُ وَكِيعًا غير مرّة يَقُولُ يَا فِتْيَانُ تَفَهَّمُوا فِقْهَ الْحَدِيثِ فَإِنَّكُمْ إِنْ تَفَهَّمْتُمْ فِقْهَ الْحَدِيثِ لَمْ يَقْهَرْكُمْ أَهْلُ الرَّأْيِ
20 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْعَبَّاسِ النِّعَالِيُّ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ الْخُتَّلِيُّ نَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْأَبَّارُ نَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ لِأَصْحَابِ الْحَدِيثِ
لَوْ أَنَّكُمْ تَفَقَّهْتُمُ الْحَدِيثَ وَتَعَلَّمْتُمُوهُ مَا غَلَبَكُمْ أَصْحَابُ الرَّأْيِ مَا قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ فِي شَيْءٍ يُحْتَاجُ إِلَيْهِ إِلَّا وَنَحْنُ نَرْوِي فِيهِ بَابًا
এর ফলে এরপর থেকে তিনি যখনই আমাকে কোনো পথে দেখতেন, তখন অন্য কোনো পথ ধরতেন।
19 - আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-খাল্লাল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস আল-খাজ্জাজ আমাদের বর্ণনা করেছেন (نَا), আবু বকর বিন আবি দাউদ আমাদের বর্ণনা করেছেন (نَا), আলি বিন খাশরাম আমাদের বর্ণনা করেছেন (نَا); তিনি বলেন: আমি অকি’কে একাধিকবার বলতে শুনেছি, "হে যুবকেরা! তোমরা হাদিসের ব্যুৎপত্তি (فقه الحديث) অর্জন করো। কারণ তোমরা যদি হাদিসের ব্যুৎপত্তি (فقه الحديث) অনুধাবন করো, তবে রায়পন্থীরা (أهل الرأي) তোমাদের ওপর জয়ী হতে পারবে না।"
20 - আল-হাসান বিন আল-হুসাইন বিন আল-আব্বাস আন-নি'আলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন সালম আল-খুত্তালি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنا), আহমদ বিন আলি আল-আব্বার আমাদের বর্ণনা করেছেন (نَا), আলি বিন খাশরাম আল-মারওয়াযি আমাদের বর্ণনা করেছেন (نَا); তিনি বলেন: আমি অকি’কে হাদিস বিশারদদের (أصحاب الحديث) উদ্দেশে বলতে শুনেছি:
"তোমরা যদি হাদিসের ব্যুৎপত্তি অর্জন (تفقهتم) করতে এবং তা শিখতে, তবে রায়পন্থীরা (أصحاب الرأي) তোমাদের ওপর জয়ী হতে পারতো না। ইমাম আবু হানিফা প্রয়োজনীয় যে বিষয়েই যা বলেছেন, আমরা সে বিষয়ে একটি করে পরিচ্ছেদ বর্ণনা করি (نروي)।"
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
قَالَ رحمه الله
وَلَا بُد لِلْمُتَفَقِّهِ مِنْ أُسْتَاذٍ يَدْرُسُ عَلَيْهِ وَيَرْجِعُ فِي تَفْسِيرِ مَا أَشْكَلَ إِلَيْهِ ويتعرف مِنْهُ طرق الِاجْتِهَادِ وَمَا يُفَرِّقُ بِهِ بَيْنَ الصِّحَّةِ وَالْفَسَادِ
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন
একজন ফিকহ শিক্ষার্থীর (المتفقه) জন্য এমন একজন উস্তাদ (أستاذ) থাকা অপরিহার্য যার নিকট সে পাঠগ্রহণ করবে এবং যা কিছু তার নিকট অস্পষ্ট হবে তার ব্যাখ্যার জন্য তাঁর শরণাপন্ন হবে। আর তাঁর নিকট থেকেই সে ইজতিহাদের (الاجتهاد) পদ্ধতিসমূহ এবং যার দ্বারা সে বিশুদ্ধতা (الصحة) ও ভ্রান্তি (الفسাদ)-এর মাঝে পার্থক্য করতে পারবে, তা অবগত হবে।
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
وَقَدْ أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بن الْقسم الْمَحَامِلِيُّ قَالَ نَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الْمَرْوَرُوذِيُّ نَا الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ صَدَقَةَ نَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي خَيْثَمَةَ أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْخٍ قَالَ أَخْبرنِي بعض الْكُوفِيّين قَالَ قِيلَ لِأَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله فِي الْمَسْجِدِ حَلْقَةٌ يَنْظُرُونَ فِي الْفِقْهِ فَقَالَ لَهُمْ رَأْسٌ قَالُوا لَا قَالَ لَا يَفْقَهُ هَؤُلَاءِ أَبَدًا
22 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ ابي طَالب أَنا عَلِيُّ بْنُ عَمْرٍو الْحَرِيرِيُّ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ كَاسٍ النَّخَعِيَّ حَدَّثَهُمْ قَالَ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ الزُّهْرِيُّ نَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ كُنْتُ أَمُرُّ عَلَى زُفَرَ وَهُوَ مُحْتَبٍ بِثَوْبٍ فَيَقُولُ يَا أَحْوَلُ تَعَالَ حَتَّى أُغَرْبِلَ لَكَ أَحَادِيثَكَ فَأُرِيهِ مَا قَدْ سَمِعْتُ فَيَقُولُ هَذَا يُؤْخَذُ بِهِ وَهَذَا لَا يُؤْخَذُ بِهِ وَهَذَا هَاهُنَا نَاسِخٌ وَهَذَا مَنْسُوخٌ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবুল ফাতহ আব্দুল কারীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল কাসিম আল-মাহামিলি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) উমর ইবনে আহমদ ইবনে উসমান আল-মারওয়ারুজি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আল-হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে সাদাকাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আহমদ ইবনে আবি খাইসামাহ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) সুলাইমান ইবনে আবি শাইখ, তিনি বলেন, আমাকে কুফার জনৈক অধিবাসী সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তিনি বলেন: ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-কে বলা হলো যে, মসজিদে একটি জ্ঞানচক্র রয়েছে যেখানে তারা ফিকহ নিয়ে পর্যালোচনা করছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, "তাদের কি কোনো প্রধান (শিক্ষক) আছে?" তারা বলল, "না।" তিনি বললেন, "এরা কখনোই ফিকহ অনুধাবন করতে পারবে না।"
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আল-হাসান ইবনে আবি তালিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আলী ইবনে আমর আল-হারিরি যে, আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাস আন-নাখায়ি তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক আজ-জুহরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু নুআইম, তিনি বলেন: আমি ইমাম যুফারের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতাম যখন তিনি চাদর জড়িয়ে বসে থাকতেন। তখন তিনি বলতেন, "হে ট্যারা চোখওয়ালা! এদিকে এসো, যাতে আমি তোমার জন্য তোমার হাদিসগুলো যাচাই-বাছাই (أغربل) করে দিতে পারি।" এরপর আমি তাঁকে যা শ্রবণ করেছি তা দেখাতাম। তখন তিনি বলতেন, "এটি গ্রহণ করা হবে এবং এটি গ্রহণ করা হবে না। আর এটি হলো রহিতকারী (ناسخ) এবং এটি হলো রহিত (منسوخ)।"
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
23 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الصُّورِيُّ إِمْلَاءً أَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ الْمِصْرِيُّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَرْكَانَ الْعَامِرِيُّ نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ نَا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ نَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى الْأَعْمَشِ فَسَأَلَهُ عَنْ مَسَأَلَةٍ وَأَبُو حَنِيفَةَ جَالِسٌ فَقَالَ الْأَعْمَشُ يَا نُعْمَانُ قُلْ فِيهَا فَأَجَابَهُ فَقَالَ الْأَعْمَشُ مِنْ أَيْنَ قُلْتَ هَذَا فَقَالَ مِنْ حَدِيثِكَ الَّذِي حَدَّثْتَنَاهُ قَالَ نَعَمْ نَحْنُ صَيَادِلَةٌ وَأَنْتُمْ أَطِبَّاءُ
২৩ - মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সুরি আমার নিকট শ্রুতিলিখনের (إملاء) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে উমর আল-মিসরি আমাদেরকে অবহিত করেছেন (أخبرنا), মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ওরকান আল-আমেরি আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইব্রাহিম ইবনে আবি দাউদ আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আলী ইবনে মাবাদ আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), উবায়দুল্লাহ ইবনে আমর আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আল-আ'মাশ-এর নিকট এসে তাঁকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, এমতাবস্থায় আবু হানিফা সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন আল-আ'মাশ বললেন, হে নুমান! এ বিষয়ে তোমার বক্তব্য পেশ করো। অতঃপর তিনি এর উত্তর প্রদান করলেন। তখন আল-আ'মাশ জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এটি কোথা থেকে বললে? তিনি বললেন, আপনার সেই হাদিস থেকে যা আপনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি (আল-আ'মাশ) বললেন, হ্যাঁ; আমরা হলাম কেবল ওষুধ বিক্রেতা (صيادلة) আর তোমরা হলে চিকিৎসক (أطباء)।
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
24 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الصَّيْمَرِيُّ أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّاهِدُ نَا مكرم ابْن أَحْمَدَ نَا أَحْمَدُ بْنُ عَطِيَّةَ
وَأَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَوْهَرِيُّ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْخَزَّازُ نَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ النَّيْسَابُورِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا إِبْرَاهِيمَ الْمُزَنِيَّ قَالَ أَنَا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ نَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ
كُنَّا عِنْدَ الْأَعْمَشِ وَهُوَ يَسْأَلُ أَبَا حَنِيفَةَ عَنْ مَسَائِلَ وَيُجِيبُهُ أَبُو حَنِيفَةَ فَيَقُولُ لَهُ الْأَعْمَشُ مِنْ أَيْنَ لَكَ هَذَا فَيَقُولُ أَنْتَ حَدَّثْتَنَا عَنْ إِبْرَاهِيمَ بِكَذَا وَحَدَّثْتَنَا عَنِ الشَّعْبِيِّ بِكَذَا قَالَ فَكَانَ الْأَعْمَشُ عِنْدَ ذَلِكَ يَقُولُ
يَا مَعْشَرَ الْفُقَهَاءِ أَنْتُمُ الْأَطِبَّاءُ وَنَحْنُ الصَّيَادِلَةُ وَاللَّفْظُ لِحَدِيثِ الصَّيْمَرِيِّ
24 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) বিচারক আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী আস-সাইমারী, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আশ-শাহিদ, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (نا) মাকরাম ইবনে আহমদ, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (نا) আহমদ বিন আতিয়্যাহ।
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আল-হাসান বিন আলী আল-জাওহারী, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস আল-খাযযায, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (نا) আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আন-নাইসাবুরী, তিনি বলেন আমি শুনেছি (سمعت) আবু ইবরাহিম আল-মুযানীকে বলতে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আলী বিন মাবাদ, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (نا) উবায়দুল্লাহ বিন আমর। তিনি বলেন:
আমরা আল-আ'মাশ-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি আবু হানিফাকে বিভিন্ন মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলেন এবং আবু হানিফা সেগুলোর উত্তর দিচ্ছিলেন। তখন আল-আ'মাশ তাকে বললেন, "আপনি এই কথা কোথা থেকে পেলেন?" তিনি (আবু হানিফা) বললেন, "আপনিই তো ইবরাহিম থেকে আমাদের নিকট এরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং আশ-শা'বী থেকে আমাদের নিকট এরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন আল-আ'মাশ বলতেন:
"হে ফকিহগণ (الفقهاء)! আপনারা হলেন চিকিৎসক এবং আমরা হলাম ঔষধ প্রস্তুতকারক।" আর এই শব্দবিন্যাসটি আস-সাইমারী বর্ণিত হাদিস থেকে গৃহীত।
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُسْلِمٍ جَعْفَرُ بْنُ بَابِيٍّ الْفَقِيهُ الْجِيلِيُّ انا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُقْرِي بِأَصْبَهَانَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِد بن يزِيد البردعي قَالَ سَمِعْتُ عَطِيَّةَ بْنَ بَقِيَّةَ يَقُولُ قَالَ لِي أَبِي كُنْتُ عِنْدَ شُعْبَةَ بْنِ الْحَجَّاجِ إِذْ قَالَ لِي يَا أَبَا مُحَمَّدٍ إِذَا جَاءَتْكُمْ مَسْأَلَةٌ مُعْضِلَةٌ مَنْ تَسْأَلُونَ عَنْهَا قَالَ قُلْتُ فِي نَفْسِي هَذَا رَجُلٌ قَدْ أَعْجَبَتْهُ نَفْسُهُ قَالَ قُلْتُ يَا أَبَا بسطَام توجه إِلَيْك وَإِلَى أَصْحَابك حَتَّى تفوتونا
২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসলিম জাফর ইবন বাবি আল-ফকিহ আল-জিলি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম ইবনুল মুকরি ইসফাহানে, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন খালিদ ইবন ইয়াজিদ আল-বারদাঈ, তিনি বলেন, আমি আতিয়্যাহ ইবন বাকিয়্যাহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন: আমি শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি আমাকে বললেন, "হে আবু মুহাম্মদ! যখন তোমাদের নিকট কোনো জটিল (معضلة) মাসআলা উপস্থিত হয়, তখন তোমরা সে সম্পর্কে কাকে জিজ্ঞাসা করো?" তিনি (পিতা) বলেন, আমি মনে মনে বললাম, "এই ব্যক্তি তো আত্মমুগ্ধতায় বিভোর।" তিনি (পিতা) বলেন, অতঃপর আমি বললাম, "হে আবু বিসতাম! যতক্ষণ না আপনারা আমাদের ছেড়ে চলে যান, ততক্ষণ লোকেরা আপনার ও আপনার সঙ্গীদের অভিমুখেই ধাবিত হয়।"
(খণ্ড: ১)
নাসীহাতু আহলিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
قَالَ فَمَا كَانَ إِلَّا هُنَيْهَةً إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَبَا بِسْطَامٍ رَجُلٌ ضَرَبَ رَجُلًا عَلَى أُمِّ رَأْسِهِ فَادَّعَى الْمَضْرُوبُ أَنَّهُ انْقَطَعَ شَمُّهُ قَالَ فَجَعَلَ شُعْبَةُ يَتَشَاغَلُ عَنْهُ يَمِينًا وَشِمَالًا فَأَوْمَأْتُ إِلَى الرَّجُلِ أَنْ أَلِحَّ عَلَيْهِ فَالْتَفَتَ إِلَيَّ وَقَالَ يَا أَبَا يحمد مَا أَشَدَّ الْبَغْيَ عَلَى أَهْلِهِ لَا وَاللَّهِ مَا عِنْدِي فِيهِ شَيْء وَلَكِن أفته أَنْت قَالَ قُلْتُ يَسْأَلُكَ وَأُفْتِيهِ أَنَا قَالَ فَإِنِّي قَدْ سَأَلْتُكَ قَالَ قُلْتُ سَمِعْتُ الْأَوْزَاعِيَّ وَالزُّبَيْدِيَّ يَقُولَانِ يُدَقُّ الْخَرْدَل دقا بَالغا ثمَّ يشم فَإِنْ عَطَسَ كَذَبَ وَإِنْ لَمْ يَعْطِسْ صَدَقَ
قَالَ جِئْتَ بِهَا يَا فَقِيهُ وَاللَّهِ لَا يَعْطِسُ رجل انْقَطع شمه أبدا
[تم الكتاب]
তিনি বললেন: অল্প কিছুক্ষণই অতিবাহিত হয়েছিল, এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, "হে আবু বিস্তাম! এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির মাথার তালুতে আঘাত করেছে। অতঃপর আহত ব্যক্তি দাবি করছে যে তার ঘ্রাণশক্তি বিলুপ্ত হয়েছে।" তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: তখন শু'বাহ তাঁর দিক থেকে ডানে ও বামে মুখ ফিরিয়ে ব্যস্ততা দেখাতে লাগলেন। আমি লোকটিকে ইশারা করলাম তাঁর নিকট জোরাজুরি করতে। অতঃপর তিনি আমার দিকে ফিরে বললেন, "হে আবু ইয়াহমাদ! আপনজনদের ওপর সীমালঙ্ঘন কতই না কঠিন! আল্লাহর শপথ, এ বিষয়ে আমার নিকট কিছু নেই; বরং আপনিই তাকে ফতোয়া দিন।" তিনি বললেন: আমি বললাম, "সে আপনাকে জিজ্ঞাসা করছে আর ফতোয়া দেব আমি?" তিনি বললেন, "আমি তো আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি।" তিনি বললেন: আমি বললাম, "আমি আওযাঈ ও জুবাইদীকে বলতে শুনেছি, তাঁরা বলতেন: সরিষাকে খুব মিহি করে পেষণ করতে হবে, অতঃপর তা শুকতে দিতে হবে; যদি সে হাঁচি দেয় তবে সে মিথ্যা (كذب) বলেছে, আর যদি সে হাঁচি না দেয় তবে সে সত্য (صدق) বলেছে।"
তিনি বললেন: "হে ফকিহ (فقيه)! আপনি যথাযথ সমাধানই নিয়ে এসেছেন। আল্লাহর শপথ, যার ঘ্রাণশক্তি চলে গেছে সে কখনোই হাঁচি দেবে না।"
[গ্রন্থ সমাপ্ত]