(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: -)
توضيح المشتبه القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: توضيح المشتبه في ضبط أسماء الرواة وأنسابهم وألقابهم وكناهم
المؤلف: محمد بن عبد الله (أبي بكر) بن محمد ابن أحمد بن مجاهد القيسي الدمشقي الشافعي، شمس الدين، الشهير بابن ناصر الدين (ت 842هـ)
المحقق: محمد نعيم العرقسوسي
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الأولى، 1993م
عدد الأجزاء: 10
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাওদীহুল মুশতাবিহ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: বর্ণনাকারীদের নাম, বংশপরিচয়, উপাধি ও উপনামের নির্ভুল লিখনপদ্ধতি নির্ধারণে তাওদীহুল মুশতাবিহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ (আবু বকর) বিন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ বিন মুজাহিদ আল-কাইসি আদ-দিমাশকী আশ-শাফিঈ, শামসুদ্দিন, যিনি ইবনে নাসিরুদ্দিন নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৮৪২ হি.)
সম্পাদক: মুহাম্মদ নাঈম আল-আরকাসুসি
প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১০
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمد لله الَّذِي شرح لِلْمُتقين بتوضيح المشتبه صدورا، وَجعل لسالكي سنَن السّنَن المحمدية نورا، فتبصر بتحقيقه كل مِنْهُم وانتبه، وتوصل بتدقيقه إِلَى بَيَان مَا أشكل واشتبه، حَتَّى صَار الْمُطلق مُقَيّدا، والمعطل بالتحلية مشيدا، وَبَين الْمُبْهم، وأعرب المعجم، واتسع للطَّالِب المجال، وحرست حوزة السّنة بضبط الرِّجَال، فَللَّه الْحَمد على نعمه، وَله الشُّكْر على طوله وَكَرمه، وَأفضل الصَّلَاة وأزكى السَّلَام على رَسُوله مُحَمَّد سيد الْأَنَام، وعَلى آله الأطيبين وَأَصْحَابه الْكِرَام.
أما بعد:
فَإِن كتاب " المشتبه فِي الرِّجَال، أسمائهم وأنسابهم " الَّذِي أَلفه فِي سنة ثَلَاث وَعشْرين وَسبع مئة الإِمَام الْحَافِظ الْكَبِير، الثِّقَة الْحجَّة، شيخ الْمُحدثين، عُمْدَة المؤرخين، أَبُو عبد الله الذَّهَبِيّ رحمه الله، كتاب مُشْتَمل على فَوَائِد، محتو على نفائس فرائد، لَيْسَ لَهُ فِي مَجْمُوعه نَظِير، لَكِن اختصاره أدّى إِلَى التَّقْصِير، وَقد صرح بالمبالغة فِي اختصاره مُؤَلفه، وأحال فِيهِ على ضبط الْقَلَم من خطّ من يتقنه ويعرفه، فَقَالَ فِيمَا أخبرنَا وَلَده الشَّيْخ الْمسند الْكَبِير، الْمُحدث أَبُو هُرَيْرَة عبد الرَّحْمَن بن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সংশয়পূর্ণ বিষয়াবলির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার মাধ্যমে মুত্তাকীদের অন্তরসমূহকে উন্মোচিত করেছেন এবং মুহাম্মাদী সুন্নাহর পথ অনুসারীদের জন্য একে আলোকবর্তিকা স্বরূপ করেছেন। ফলে তাদের প্রত্যেকেই এর অনুসন্ধানের মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেছে ও সচেতন হয়েছে এবং এর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা জটিল ও সংশয়পূর্ণ বিষয়াবলির বর্ণনায় উপনীত হয়েছে; এমনকি অনির্দিষ্ট বিষয় নির্দিষ্ট হয়েছে এবং অলঙ্করণের মাধ্যমে পরিত্যক্ত বিষয় সুদৃঢ় হয়েছে। অস্পষ্ট বিষয় স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, দুর্বোধ্য বিষয় প্রাঞ্জল হয়েছে এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য বিচরণক্ষেত্র প্রশস্ত হয়েছে। বর্ণনাকারীদের যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে সুন্নাহর পরিমণ্ডলকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আল্লাহরই প্রশংসা তাঁর নেয়ামতসমূহের জন্য এবং তাঁরই কৃতজ্ঞতা তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতার জন্য। সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই 'আল-মুশতাবিহু ফির রিজাল: আসমাউহুম ওয়া আনসাবুহুম' (বর্ণনাকারীদের মধ্যে সংশয়পূর্ণ নাম ও বংশপরম্পরা) নামক গ্রন্থটি, যা সাতশ তেইশ হিজরীতে সংকলন করেছেন মহান ইমাম, হাফিয, বিশ্বস্ত প্রমাণপুরুষ, মুহাদ্দিসগণের শাইখ, ঐতিহাসিকদের অবলম্বন আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ), এটি অনেক উপকারে সমৃদ্ধ এবং দুর্লভ অমূল্য বিষয়াবলীতে পরিপূর্ণ একটি কিতাব। এর সামগ্রিক সংকলনে এর কোনো নজির নেই। তবে এর অতি সংক্ষিপ্তকরণ কিছুটা অপূর্ণতার সৃষ্টি করেছে। স্বয়ং লেখক একে অতি সংক্ষেপ করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং এতে তিনি এমন ব্যক্তির হাতের লেখার সূক্ষ্ম লিপির ওপর নির্ভর করেছেন যে এ বিষয়ে দক্ষ ও পারদর্শী। তিনি তাতে বলেছেন—যা আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর সন্তান মহান শাইখ, মুসনিদ, মুহাদ্দিস আবু হুরাইরা আব্দুর রহমান ইবনে...
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١١٦)
الْحَافِظ الْكَبِير أبي عبد الله مُحَمَّد بن أَحْمد بن عُثْمَان ابْن الذَّهَبِيّ إجَازَة - إِن لم يكن سَمَاعا - قَالَ: أخبرنَا أبي أَبُو عبد الله كَذَلِك، قَالَ:
الْحَمد لله الَّذِي لم يتَّخذ ولدا، وَلم يشركهُ فِي الْملك أحد أبدا، وَلم يكن لَهُ ولي من الذل على اسْتِمْرَار المدى، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ إِلَهًا صمدا، وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله أرْسلهُ بِالْهدى، وَجعل دينه ظَاهرا مؤيدا، ومناره عَالِيا مشيدا، صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله صَلَاة لَا تحصى عددا.
هَذَا كتاب مبارك، جم الْفَائِدَة فِي معرفَة مَا يشْتَبه ويتصحف من الْأَسْمَاء والأنساب، والكنى والألقاب، مِمَّا اتّفق وضعا، وَاخْتلف نطقا، وَيَأْتِي غالبه فِي الْأَسَانِيد والمرويات، اخترته، وَقربت لَفظه، وبالغت فِي اختصاره، بعد أَن كنت علقت فِي ذَلِك كَلَام الْحَافِظ عبد الْغَنِيّ بن سعيد الْأَزْدِيّ فِي المشتبه والمختلف، وَكَلَام الْأَمِير الْحَافِظ أبي نصر بن مَاكُولَا، وَكَلَام الْحَافِظ أبي بكر بن نقطة، وَكَلَام شَيخنَا أبي الْعَلَاء الفرضي، وَغَيرهم، وأضفت إِلَى ذَلِك مَا وَقع لي أَو تنبهت لَهُ.
فَاعْلَم - أرشدك الله - أَن الْعُمْدَة فِي مختصري هَذَا على ضبط الْقَلَم إِلَّا فِيمَا يصعب وَيشكل، فيقيد وَيشكل، وَبِاللَّهِ أتأيد، وَعَلِيهِ أتوكل.
فأتقن يَا أخي نسختك، وَاعْتمد على الشكل والنقط وَلَا بُد، وَإِلَّا لم تصنع شَيْئا. انْتهى.
মহান হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান ইবনে যাহাবি ইজাজতের ভিত্তিতে - সরাসরি শ্রবণ না হলেও - বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা আবু আব্দুল্লাহ ঠিক একইভাবে, তিনি বলেছেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর রাজত্বে কখনো তাঁর কোনো শরিক নেই এবং হীনম্মন্যতার কারণে অনন্তকাল ধরে তাঁর কোনো অভিভাবকের প্রয়োজন হয়নি। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি অমুখাপেক্ষী ইলাহ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, যাকে তিনি হিদায়াতসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী ও সমর্থিত করেছেন এবং এর মিনারকে সুউচ্চ ও সুদৃঢ় করেছেন। তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর অজস্র রহমত বর্ষিত হোক যা গণনা করা সম্ভব নয়।
এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা নাম, বংশপরিচয়, উপনাম ও উপাধিগুলোর মধ্যে যেগুলোতে সন্দেহ বা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেগুলো চেনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। এসব নামের লিখনপদ্ধতি একই রকম হলেও উচ্চারণে ভিন্নতা রয়েছে এবং এগুলোর অধিকাংশই সনদ ও বর্ণিত হাদিসসমূহে পাওয়া যায়। আমি এটি নির্বাচন করেছি, এর ভাষা সহজবোধ্য করেছি এবং অত্যন্ত সংক্ষেপ করেছি; এর আগে আমি এ বিষয়ে হাফিজ আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আজদির 'আল-মুশতাবিহ ওয়াল মুখতালিফ', আমির হাফিজ আবু নাসর ইবনে মাকুলা, হাফিজ আবু বকর ইবনে নুকতাহ, আমাদের শাইখ আবু আল-আলা আল-ফারদি এবং অন্যদের বক্তব্যসমূহ টীকা আকারে লিখেছিলাম। তদুপরি, আমি এতে সেই বিষয়গুলোও যোগ করেছি যা আমার সামনে এসেছে অথবা যেগুলোর ব্যাপারে আমি সচেতন হয়েছি।
সুতরাং জেনে রাখুন - আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন - আমার এই সংক্ষিপ্তসারটিতে মূল নির্ভরতা কলমের নির্ভুলতার ওপর, তবে যেখানে কঠিন ও অস্পষ্ট মনে হবে, সেখানে হরকত ও নুকতা দিয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। আল্লাহর কাছেই আমি সাহায্য চাই এবং তাঁর ওপরই আমি ভরসা করি।
অতএব হে ভাই, আপনি আপনার পাণ্ডুলিপিটি নির্ভুল করুন এবং অবশ্যই হরকত ও নুকতার ওপর নির্ভর করুন, নতুবা আপনি কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١١٧)
قلت: ضبط الْقَلَم لَا يُؤمن التحريف عَلَيْهِ، بل تتطرق أَوْهَام الظانين إِلَيْهِ، لَا سِيمَا عِنْد من علمه من الصُّحُف بالمطالعة، من غير تلق من الْمَشَايِخ وَلَا سُؤال وَلَا مُرَاجعَة.
وَهَذَا الْكتاب أَرَادَ مُصَنفه بِهِ زَوَال الْإِشْكَال، وَبَيَان متشابه أَسمَاء الرِّجَال، لَكِن الِاخْتِصَار - وَالله أعلم - قَادَهُ إِلَى كثر من الإهمال، فَترك التَّقْيِيد بالحروف واحتكم، وَجعل اعْتِمَاد طَالبه على ضبط الْقَلَم، فأشكل بذلك مَا أَرَادَ بَيَانه، وخفي بِسَبَبِهِ مَا قصد إعلانه.
فأوضحت - وَللَّه الْحَمد - مَا أهمله، وبينت مَا أجمله، وَفتحت مَا أقفله، وأفصحت عَمَّا أغفله، وَرفعت فِي بعض الْأَنْسَاب، ونبهت على الصَّوَاب مِمَّا وَقع خطأ فِي الْكتاب، غير أَنِّي لم أَحول تَرْجَمَة من تبويبه، وَإِن كَانَ نقلهَا إِلَى محلهَا أفيد فِي ترتيبه، غيرَة على تَغْيِير التصنيف، وفرقا من تَفْرِيق التَّأْلِيف، وفصلت ب " قلت " الزِّيَادَة، وب " قَالَ " كَلَام المُصَنّف وَمرَاده، فَصَارَ الْكتاب - وَللَّه الْحَمد والْمنَّة - كَافِيا فِي بَابه، مسعفا بغرض طلابه، وَالله الْكَرِيم أسأَل من آلائه الباهرة، ونعمائه الغامرة، أَن ينفع بِهِ دنيا وآخرة، فَهُوَ خير المسؤولين، وَأكْرم المعطين، وَبِه لَا إِلَه سواهُ نستعين.
قَالَ المُصَنّف رحمه الله: أَحْمد: الجادة.
قلت: ابْتَدَأَ المُصَنّف رحمه الله بِأَحْمَد تبركا باسم النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَحْمد، وتقديما لَهُ على غَيره، وَسمي بِهَذَا الِاسْم خلق، وَلِهَذَا قَالَ المُصَنّف: أَحْمد الجادة، وَكَثِيرًا مَا يعبر عَن الْأَكْثَر وَنَحْوه بالجادة، وَهِي لُغَة: مُعظم الطَّرِيق.
আমি বলছি: কলমের মাধ্যমে স্বরচিহ্ন বা হরকত প্রদান বিকৃতি থেকে নিরাপদ নয়, বরং এতে ধারণা পোষণকারীদের কল্পনা প্রবেশ করে; বিশেষ করে যাদের জ্ঞান এসেছে কেবল পাণ্ডুলিপি পাঠের মাধ্যমে, শায়খদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ, কোনো প্রশ্ন বা পর্যালোচনা ছাড়াই।
আর এই কিতাবটি—এর রচয়িতা এর মাধ্যমে অস্পষ্টতা দূর করা এবং বর্ণনাকারীদের সমজাতীয় নামসমূহের বর্ণনা করার ইচ্ছা করেছিলেন। কিন্তু সংক্ষিপ্তকরণ—আল্লাহই ভালো জানেন—তাঁকে অনেক ক্ষেত্রে অবহেলার দিকে নিয়ে গেছে। ফলে তিনি বর্ণমালার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করে বর্ণনা করা বর্জন করেছেন এবং বিষয়টিকে কলমের লিখন-শৈলীর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, যার ফলে শিক্ষার্থীর নির্ভরতা কেবল কলমের হরকত বা চিহ্নের ওপর নিবদ্ধ হয়েছে। এর ফলে তিনি যা স্পষ্ট করতে চেয়েছিলেন তা অস্পষ্ট হয়ে গেছে এবং যা প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন তা প্রচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
অতঃপর আমি—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—তিনি যা ছেড়ে দিয়েছিলেন তা স্পষ্ট করেছি, যা সংক্ষেপে বলেছিলেন তা ব্যাখ্যা করেছি, যা রুদ্ধ ছিল তা উন্মুক্ত করেছি এবং যা তিনি উপেক্ষা করেছিলেন তা প্রাঞ্জলভাবে বর্ণনা করেছি। কিছু বংশপরম্পরা আমি আরও বিস্তারিত করেছি এবং কিতাবটিতে যে ভুলগুলো হয়েছিল তার সঠিক রূপটি সম্পর্কে সতর্ক করেছি। তবে আমি কোনো জীবনীকে তার মূল অধ্যায় থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও স্থানান্তর করিনি, যদিও তা বিন্যাসের ক্ষেত্রে অধিকতর উপকারী হতো; কারণ মূল রচনার রূপ পরিবর্তন না করার বিষয়ে আমি অত্যন্ত যত্নবান ছিলাম এবং সংকলনটি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। আমি অতিরিক্ত কথাগুলোকে "আমি বলছি" এবং মূল লেখকের কথা ও উদ্দেশ্যকে "তিনি বলেছেন" দিয়ে পৃথক করেছি। ফলে কিতাবটি—সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহর—তার বিষয়ের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত এবং জ্ঞানান্বেষীদের উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক হয়েছে। মহান আল্লাহর নিকট তাঁর চমৎকার নেয়ামতসমূহ এবং উপচে পড়া অনুগ্রহের অসীলায় প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন এর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করেন; কারণ তিনি সর্বোত্তম যাচিত সত্তা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা, আর আমরা তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই।
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আহমাদ: সুপরিচিত বা সাধারণ ধারা।
আমি বলছি: লেখক (রহিমাহুল্লাহ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নাম "আহমাদ" দিয়ে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে এবং তাঁকে অন্য সবার চেয়ে অগ্রগণ্য রাখার জন্য "আহমাদ" দিয়ে শুরু করেছেন। অসংখ্য সৃষ্টির নামকরণ এই নামে করা হয়েছে, আর একারণেই লেখক বলেছেন: "আহমাদ হলো আল-জাদদাহ"। প্রায়শই সংখ্যাধিক্য বা সমজাতীয় বুঝাতে "জাদদাহ" শব্দটি ব্যবহার করা হয়, যার আভিধানিক অর্থ হলো: রাস্তার প্রধান বা মূল অংশ।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
قَالَ: وأجمد بِالْجِيم: أجمد بن عجيان، شهد فتح مصر، وعجيان بِوَزْن عُثْمَان، وَقيل: بِوَزْن عليان.
قلت: أجمد هَذَا همداني مَعْدُود فِي الصَّحَابَة، ذكره ابْن يُونُس فِي " تَارِيخه "، فَقَالَ: وَفد على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، وَشهد فتح مصر، وخطته بجيزة الْفسْطَاط، وَهُوَ رجل مَعْرُوف من أهل مصر، وَمَا عرفت لَهُ رِوَايَة. انْتهى. وَالْمَشْهُور فِي اسْم أَبِيه التَّشْدِيد، وَضَبطه أَبُو الْحسن مُحَمَّد بن الْعَبَّاس بن أَحْمد بن مُحَمَّد بن الْفُرَات الْبَغْدَادِيّ وزان سُفْيَان.
وَقَالَ: وأحمر: غير ملبس.
قلت: يَعْنِي بالراء فِي آخِره مهملا، وَمِمَّنْ سمي كَذَلِك أَحْمَر الْهَمدَانِي، صَحَابِيّ، شهد فتح مصر، اسْم أَبِيه: قطن
قَالَ: الآبري.
قلت: بِفَتْح الْهمزَة الممدودة، تَلِيهَا مُوَحدَة مَضْمُومَة، ثمَّ رَاء مَكْسُورَة مُخَفّفَة.
قَالَ: أَبُو الْحسن مُحَمَّد بن الْحُسَيْن الآبري السجْزِي الْحَافِظ وآبر: من قرى سجستان، صنف " مَنَاقِب الشَّافِعِي "، وَسمع من ابْن خُزَيْمَة، وطبقته. وَعنهُ: عَليّ بن بشرى اللَّيْثِيّ السجسْتانِي.
قلت: هُوَ ابْن الْحُسَيْن بن إِبْرَاهِيم بن عَاصِم بن عبد الله، توفّي فِي
তিনি বলেন: এবং 'জিম' সহযোগে আজমাদ: আজমাদ ইবন উজইয়ান, তিনি মিসর বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন। আর 'উজইয়ান' শব্দটি 'উসমান' এর ওজনে, আবার কেউ বলেছেন: এটি 'ইলইয়ান' এর ওজনে।
আমি বলছি: এই আজমাদ হলেন হামদানী গোত্রের, তিনি সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য। ইবন ইউনুস তাঁর "তারিখ" গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন এবং মিসর বিজয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ফুস্তাতের গিজা নামক স্থানে তাঁর বসবাসের জায়গা ছিল। তিনি মিসরীয়দের মধ্যে একজন পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন, তবে তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা আমার জানা নেই। সমাপ্ত। আর তাঁর পিতার নামের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ হলো 'তাশদীদ' (দ্বিত্ব উচ্চারণ) সহকারে পড়া। আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফুরাত আল-বাগদাদী একে 'সুফইয়ান' এর ওজনে সাব্যস্ত করেছেন।
এবং তিনি বলেন: আর আহমার: কোনো অস্পষ্টতা ছাড়াই।
আমি বলছি: অর্থাৎ শেষে নুক্তাবিহীন 'রা' সহযোগে। যাদের নাম এভাবে রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আহমার আল-হামদানী, তিনি একজন সাহাবী, মিসর বিজয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর পিতার নাম: কুতান।
তিনি বলেন: আল-আবুরী।
আমি বলছি: প্রলম্বিত হামযাহ-এর ওপর ফাতহা, এরপর পেশযুক্ত একটি 'বা', অতঃপর হালকা বা তাশদীদবিহীন কাসরা যুক্ত 'রা' সহযোগে।
তিনি বলেন: আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-আবুরী আস-সিজযী আল-হাফিয। আর 'আবুর' হলো সিজিস্তানের গ্রামসমূহের একটি। তিনি "মানাকিবুশ শাফিঈ" রচনা করেছেন। তিনি ইবন খুযাইমাহ এবং তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন। আর তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন: আলী ইবন বুশরা আল-লাইসী আস-সিজিস্তানী।
আমি বলছি: তিনি হলেন হুসাইন ইবন ইবরাহীম ইবন আসিম ইবন আবদুল্লাহর পুত্র, তিনি মৃত্যুবরণ করেন...
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١١٩)
شهر رَجَب سنة ثَلَاث وَسِتِّينَ وَثَلَاث مئة فِي عشر الثَّمَانِينَ. وَله رحْلَة إِلَى الشَّام والجزيرة وخراسان.
قَالَ: والإبري: بِالْكَسْرِ.
قلت: بِكَسْر الْهمزَة، وَفتح الْمُوَحدَة.
قَالَ: فَخر النِّسَاء شهدة، وأبوها.
قلت: هِيَ شهدة بنت أبي نصر أَحْمد بن الْفرج الإبري الكاتبة، مُسندَة الْعَصْر، حدثت عَن طراد الزَّيْنَبِي، وجعفر السراج، وَأبي الْخطاب بن البطر، وَخلق. توفيت فِي الْمحرم سنة أَربع وَسبعين وَخمْس مئة، وَقد جَاوَزت التسعين.
قَالَ: والبهاء أَبُو الْخَيْر إلْيَاس بن غَازِي الإبري، سمع بقرَاءَته بالموصل من ابْن طبرزد.
قلت: وهم المُصَنّف رحمه الله فِي نِسْبَة أبي الْخَيْر هَذَا، وَكَأَنَّهُ - وَالله أعلم - قلد فِيهِ شَيْخه أَبَا الْعَلَاء الفرضي، فَإِنِّي وجدته بِخَطِّهِ قد ذكره فِي مُصَنفه " مشتبه النِّسْبَة " فِي تَرْجَمَة الإبري - بِكَسْر أَوله وَفتح الْمُوَحدَة - وَالصَّوَاب أَن أَبَا الْخَيْر هَذَا يُقَال لَهُ: الأنري - بِضَم الْهمزَة ثمَّ نون مَفْتُوحَة - نِسْبَة إِلَى جد لَهُ يُقَال لَهُ: أنر، كَمَا ذكره غير
তিনশত তেষট্টি হিজরি সনের রজব মাসে আশি বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। আর শাম, জাযিরা এবং খুরাসানে তাঁর ইলমি সফর রয়েছে।
তিনি বলেছেন: আর 'আল-ইবরি': কাসরা (ই-কার) যোগে।
আমি বলছি: হামযাহ বর্ণে কাসরা এবং মুওয়াহহাদাহ (বা) বর্ণে ফাতহা (আ-কার) যোগে।
তিনি বলেছেন: ফাখরুন নিসা শুহদাহ এবং তাঁর পিতা।
আমি বলছি: তিনি হলেন শুহদাহ বিনতে আবু নাসর আহমাদ বিন আল-ফারাজ আল-ইবরি আল-কাতিবাহ, সমকালের মুসনিদাহ। তিনি তিরাদ আয-যাইনাবি, জাফর আস-সাররাজ, আবু আল-খাত্তাব বিন আল-বাতর এবং এক বিশাল জামায়াতের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি পাঁচশত চুয়াত্তর হিজরি সনের মহররম মাসে ইন্তেকাল করেন, আর তিনি নব্বই বছর বয়স পার করেছিলেন।
তিনি বলেছেন: এবং আল-বাহা আবু আল-খাইর ইলিয়াস বিন গাজী আল-ইবরি, তিনি মসুলে ইবনে তাবারযাদ-এর নিকট পাঠের মাধ্যমে শ্রবণ করেছেন।
আমি বলছি: এই আবু আল-খাইরের নিসবত বর্ণনায় গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) ভ্রান্ত হয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন, সম্ভবত তিনি এ ক্ষেত্রে তাঁর শায়খ আবু আল-আলা আল-ফারযীর অনুসরণ করেছেন। কেননা আমি তাঁর স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপিতে পেয়েছি যে, তিনি তাঁর গ্রন্থ 'মুশতাবিহুন নিসবাহ'-তে 'আল-ইবরি'—শুরুতে কাসরা ও মুওয়াহহাদাহ-তে ফাতহা যোগে—এর জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন। অথচ সঠিক হলো এই যে, এই আবু আল-খাইরকে 'আল-উনরি' বলা হয়—হামযাহ-তে যাম্মাহ ও এরপর নুন-এ ফাতহা যোগে—এটি তাঁর এক দাদার নামের দিকে নিসবত যাকে 'উনার' বলা হতো, যেমনটি অন্যরাও উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٠)
وَاحِد، وَمِنْهُم الْحَافِظ أَبُو بكر بن نقطة فِي " إكماله "، وَأَنه سمع من ابْن طبرزد، وَحَمْزَة ابْن القبيطي، وَغَيرهمَا. توفّي بالموصل، وَبهَا دفن بمقبرة الْمعَافى بن عمرَان فِي شهر ربيع الأول سنة أَربع وست مئة. وَيعرف بِابْن الشاش.
قَالَ: وَعمر بن مَنْصُور الإبري، سمع الْبَغَوِيّ وَابْن صاعد.
قلت: هُوَ ابْن مَنْصُور بن مُحَمَّد بن بريد أَبُو الْقَاسِم، وكما ذكره المُصَنّف ذكر الْأَمِير أَبُو نصر بِكَسْر أَوله، وَفتح ثَانِيه، حاكيا لَهُ عَن عبد الْغَنِيّ بن سعيد، وَوَافَقَهُ عَلَيْهِ الْجَمَاعَة بعده، وَذكره أَبُو الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن بن مندة فِي " تَارِيخه " الَّذِي سَمَّاهُ " الْمُسْتَخْرج " بِالْمدِّ مَفْتُوح الأول، مضموم الثَّانِي، مُقَيّدا بالخط فِيمَا وجدته بِخَط خالويه أبي جَعْفَر مُحَمَّد بن أَحْمد الْبَقَّال، وَذكر ابْن مندة أَنه توفّي سنة ثَمَانِينَ
একজন, এবং তাদের মধ্যে হাফেজ আবু বকর বিন নুকতাহ তাঁর "ইকমাল" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনে তাবারজাদ, হামজাহ ইবনুল কুবাইতি ও অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি মোসেলে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই রবিউল আউয়াল মাসে ৬০৪ হিজরি সনে মুয়াফা বিন ইমরান কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি ইবনে শাশ নামে পরিচিত ছিলেন।
তিনি বলেন: এবং উমর বিন মনসুর আল-ইবরি; তিনি বাগাভি ও ইবনে সা’দ থেকে শ্রবণ করেছেন।
আমি বলছি: তিনি হলেন আবুল কাসিম বিন মনসুর বিন মুহাম্মদ বিন বারীদ। গ্রন্থকার যেভাবে উল্লেখ করেছেন, আমির আবু নাসরও প্রথম অক্ষরে কাসরা এবং দ্বিতীয় অক্ষরে ফাতহা দিয়ে একইভাবে উল্লেখ করেছেন, যা তিনি আব্দুল গনি বিন সাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তী বিদ্বানগণ তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। আবু কাসিম আব্দুর রহমান বিন মানদাহ তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে, যার নাম তিনি রেখেছেন "আল-মুস্তাখরাজ", সেখানে প্রথম অক্ষরে ফাতহা এবং দ্বিতীয় অক্ষরে দাম্মাহ দিয়ে দীর্ঘস্বরসহ এটি উল্লেখ করেছেন। এটি খালওয়াইহ আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-বাক্কালের হস্তলিপিতে আমি যা পেয়েছি সে অনুযায়ী লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। ইবনে মানদাহ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আশি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٢١)
وَثَلَاث مئة، وَقد ذكره المُصَنّف فِي حرف الْيَاء آخر الْحُرُوف، فَقَالَ: " وَعَمْرو بن مَنْصُور " فَوَهم، إِنَّمَا هُوَ " عمر " بِضَم أَوله، وَفتح ثَانِيه، وَالله أعلم.
قَالَ: وَالْحسن بن مُحَمَّد بن بنْدَار الْأَصْبَهَانِيّ الْمعبر، عرف بالإبري، عَن مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن بن سهل الغزال، وَعنهُ الْخَطِيب.
قلت: نسبه المُصَنّف إِلَى جده، فَهُوَ ابْن مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد السَّلَام بن بنْدَار أَبُو عَليّ، وَقد ذكرته فِي حرف الْمِيم.
قَالَ: والكمال مُحَمَّد بن أبي الْفضل بن عبد الْخَالِق بن الإبري، مدرس المستنصرية، على مَذْهَب أبي حنيفَة، سمع من الْمعِين عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد بن عَليّ بن يعِيش، وَعنهُ: عَليّ بن عبد الْعَزِيز الإربلي. مَاتَ سنة سبع وَسِتِّينَ وست مئة، وَله ثَلَاث وَثَمَانُونَ.
قلت: وَأَبُو إِسْحَاق يُوسُف بن أبي كَامِل مُحَمَّد بن القَاضِي أبي الْفضل مُحَمَّد بن عمر بن يُوسُف الأرموي الأَصْل الْبَغْدَادِيّ الأقفالي الإبري، سمع من جده أبي الْفضل وَآخَرين، وَحدث، توفّي فِي شهر ربيع الآخر سنة اثْنَتَيْ عشرَة وست مئة بِبَغْدَاد، وَدفن بِبَاب أبرز عِنْد جده.
قَالَ: والأثري.
এবং তিনশত, আর গ্রন্থকার তাকে বর্ণমালার শেষ বর্ণ 'ইয়া'-তে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমর ইবনে মানসুর", যা একটি ভুল; বরং এটি হলো প্রথম বর্ণে পেশ এবং দ্বিতীয় বর্ণে জবরসহ "উমর", আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তিনি বলেন: এবং আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বান্দার আল-আসফাহানি আল-মুয়াব্বির, যিনি আল-ইবরী নামে পরিচিত। তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে সাহল আল-গাজ্জাল থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে আল-খতিব বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: গ্রন্থকার তাকে তার দাদার দিকে সম্বন্ধ করেছেন। তিনি হলেন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে বান্দার আবু আলী, আর আমি তাকে 'মীম' বর্ণে উল্লেখ করেছি।
তিনি বলেন: এবং আল-কামাল মুহাম্মদ ইবনে আবিল ফাদল ইবনে আব্দুল খালিক ইবনুল ইবরী, মুসতানসিরিয়া মাদরাসার শিক্ষক, আবু হানিফার মাযহাব অনুসারী। তিনি মুঈন আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইয়াঈশ থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তার থেকে আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আল-ইরিবলী বর্ণনা করেছেন। তিনি ছয়শত সাতষট্টি হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং তার বয়স হয়েছিল তিরাশি বছর।
আমি বলছি: এবং আবু ইসহাক ইউসুফ ইবনে আবি কামিল মুহাম্মদ ইবনে আল-কাদি আবিল ফাদল মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে ইউসুফ, যার বংশমূল আরমিয়াতে কিন্তু তিনি বাগদাদি, আল-আকফালি আল-ইবরী। তিনি তার দাদা আবিল ফাদল ও অন্যদের থেকে শ্রবণ করেছেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ছয়শত বারো হিজরি সনের রবিউল আখের মাসে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন এবং বাব-ই আবরাজে তার দাদার পাশে সমাহিত হন।
তিনি বলেন: এবং আল-আসারি।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٢)
قلت: بفتحتي الْهمزَة والثاء الْمُثَلَّثَة.
قَالَ: نِسْبَة إِلَى الْأَثر: الْحُسَيْن بن عبد الْملك الْخلال الْأَصْبَهَانِيّ، وَيعرف أَيْضا بالبارع، روى الْكثير، وَهُوَ ثِقَة مَشْهُور، مَاتَ سنة اثْنَتَيْنِ وَثَلَاثِينَ وَخمْس مئة.
قلت: بأصبهان، وَله تسع وَثَمَانُونَ سنة، وَهُوَ ابْن عبد الْملك بن الْحُسَيْن بن مُحَمَّد السّني، حدث عَنهُ خلق، مِنْهُم أَبُو مُوسَى الْمَدِينِيّ، وَأَبُو الْقَاسِم بن عَسَاكِر، وَأَبُو سعد بن السَّمْعَانِيّ، وَغَيرهم من الْأَئِمَّة.
قَالَ: وَأمين الدّين عبد الْكَرِيم بن مَنْصُور الْموصِلِي الأثري سمع من عبد المحسن بن الطوسي، وَعبد السَّلَام الداهري، وَهَذِه الطَّبَقَة بِدِمَشْق، والجزيرة، وَالْعراق، روى عَنهُ الدمياطي، مَاتَ سنة إِحْدَى وَخمسين وست مئة.
قلت: بِبَغْدَاد، وَهُوَ ابْن مَنْصُور بن يزِيد أبي بكر بن عَليّ، أَبُو مُحَمَّد الياوشناوي، من أهل ياوشنا: من قرى الْموصل.
وَأَبُو بكر سعيد بن عبد الله بن عَليّ الأثري الطوسي، توفّي سنة تسعين وَأَرْبع مئة بنيسابور.
وَالشَّيْخ صَالح كامروا بن أبي بكر بن عَليّ بن مُحَمَّد بن سعيد بن جَعْفَر بن مَنْصُور الْأنْصَارِيّ النجاري الأنسي، يعرف بالأثري، لِأَنَّهُ كَانَ يذكر أَن مَعَه أثرا من أثر سيدنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، وَأَنه من
আমি বলছি: হামযাহ এবং তিন নুক্তাওয়ালা ছা-এর (অর্থাৎ 'আছারি') উভয়ের ফাতাহ (যবর) যোগে।
তিনি বলেছেন: এটি ‘আছার’-এর দিকে সম্বন্ধিত: আল-হুসাইন বিন আব্দুল মালিক আল-খলাল আল-আসবাহানী, তিনি ‘আল-বারি’ নামেও পরিচিত। তিনি প্রচুর বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একজন সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, তিনি পাঁচশত বত্রিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
আমি বলছি: আসবাহানে (তিনি ইন্তেকাল করেন), এবং তখন তাঁর বয়স হয়েছিল উননব্বই বছর। তিনি হলেন আব্দুল মালিক বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আস-সুন্নির পুত্র। তাঁর থেকে বহু সংখ্যক মানুষ বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আবু মুসা আল-মাদিনী, আবুল কাসিম বিন আসাকির, আবু সাদ বিন আস-সামআনী এবং অন্যান্য ইমামগণ।
তিনি বলেছেন: এবং আমীনুদ্দীন আব্দুল কারীম বিন মানসুর আল-মাওসিলি আল-আছারি, তিনি আব্দুল মুহসিন বিন আত-তুসি এবং আব্দুল সালাম আদ-দাহিহিরি থেকে শ্রবণ করেছেন; এই স্তরের বর্ণনাকারীগণ দামেস্ক, জাযিরা এবং ইরাকে ছিলেন। তাঁর থেকে আদ-দুমইয়াতি বর্ণনা করেছেন, তিনি ছয়শত একান্ন হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
আমি বলছি: বাগদাদে (তিনি ইন্তেকাল করেন), এবং তিনি হলেন মানসুর বিন ইয়াযিদ আবু বকর বিন আলীর পুত্র, আবু মুহাম্মাদ আল-ইয়াউশনাবী, তিনি ইয়াউশনার অধিবাসী ছিলেন যা মসুলের একটি গ্রাম।
এবং আবু বকর সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী আল-আছারি আত-তুসি, তিনি চারশত নব্বই হিজরি সনে নিশাপুরে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং শায়খ সালিহ কামরওয়া বিন আবি বকর বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বিন জাফর বিন মানসুর আল-আনসারী আন-নাজ্জারী আল-উনসী। তিনি ‘আল-আছারি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, কারণ তিনি উল্লেখ করতেন যে, তাঁর নিকট আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি স্মৃতিচিহ্ন বিদ্যমান ছিল, এবং তিনি...
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٣)
ذُرِّيَّة أنس بن مَالك رضي الله عنه، حدث بِالْإِجَازَةِ الْعَامَّة عَن الْحَافِظ أبي مُوسَى الْمَدِينِيّ وَغَيره، لِأَن مولده فِيمَا ذكر سنة سِتّ وَعشْرين وَخمْس مئة، وَتُوفِّي فِي شعْبَان سنة ثَلَاثِينَ وست مئة بِالْقَاهِرَةِ.
وَأَبُو مُحَمَّد عبد المحسن بن أبي الْعَلَاء مُرْتَفع بن حسن بن عبد الله الْخَثْعَمِي الْمصْرِيّ الشَّافِعِي السراج الأثري. سمع من أبي الْفضل مُحَمَّد بن يُوسُف الغزنوي، وَتفرد بِالسَّمَاعِ فِيمَا قيل عَن أبي الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد السبيي. توفّي سنة سِتّ وَخمسين وست مئة.
قَالَ: أبان: بَين.
আনাস বিন মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বংশধর; তিনি হাফিজ আবু মুসা আল-মাদিনী ও অন্যান্যদের থেকে সাধারণ ইজাজতের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করেছেন, কারণ তাঁর জন্ম ছিল পাঁচশত ছাব্বিশ হিজরি সনে, এবং তিনি ছয়শত ত্রিশ হিজরির শাবান মাসে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।
এবং আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুহসিন বিন আবুল আলা মুরতাফি বিন হাসান বিন আব্দুল্লাহ আল-খাশআমি আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি আস-সিরাজ আল-আসারি। তিনি আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-গজনবি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, এবং বলা হয় যে তিনি আবুল কাসিম আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আস-সাবিয়ি থেকে শ্রবণের ক্ষেত্রে একক ছিলেন। তিনি ছয়শত ছাপ্পান্ন হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
তিনি বলেন: 'আবান' শব্দের অর্থ হলো—স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٤)
قلت: هُوَ بِفَتْح الْهمزَة وَالْمُوَحَّدَة، وَبعد الْألف نون.
قَالَ: وأيان بياء آخر الْحُرُوف مُشَدّدَة: أَبُو بكر أَحْمد بن مُحَمَّد بن أبي الْقَاسِم بن أَيَّانَ الدشتي، حَدثنَا عَن أبي الْقَاسِم بن رَوَاحَة.
قلت: وَعَمه الشَّيْخ أَبُو مُحَمَّد مَحْمُود بن الْقَاسِم بن بدران بن أَيَّانَ الدشتي لَهُ " جُزْء " فِي الْأَمر بإخفاء الذّكر، وَله كتاب فِي النَّهْي عَن الرقص وَالسَّمَاع، حدث فِيهِ عَن الضياء مُحَمَّد بن عبد الْوَاحِد الْمَقْدِسِي.
قَالَ: وأثان بِضَم ومثلثة: أثان بن نعيم، أدْرك عليا رضي الله عنه.
قلت: هُوَ بِالتَّخْفِيفِ، وَهُوَ ابْن نعيم بن نهشل. شهد عليا رضي الله عنه رجم، روى عَنهُ رزام بن سعيد، يعد فِي الْكُوفِيّين، قَالَه البُخَارِيّ فِي " تَارِيخه الْكَبِير ".
আমি বলছি: এটি হামযাহ ও মুওয়াহহাদাহ-এর (বা) ফাতহাহসহ, এবং আলিফ-এর পর নূন রয়েছে।
তিনি (মূল গ্রন্থকার) বললেন: এবং 'আইয়ান' শেষ বর্ণ ইয়া-এর তাশদীদসহ: আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে আইয়ান আদ-দাশতী, তিনি আমাদের নিকট আবুল কাসিম ইবনে রাওয়াহা থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: আর তাঁর চাচা শায়খ আবু মুহাম্মদ মাহমুদ ইবনে কাসিম ইবনে বদরান ইবনে আইয়ান আদ-দাশতী; যিকির গোপন করার নির্দেশ প্রসঙ্গে তাঁর একটি 'জুয' (পুস্তিকা) রয়েছে এবং নৃত্য ও সামা (গান শোনা) নিষিদ্ধকরণ বিষয়ে তাঁর একটি কিতাব রয়েছে, যাতে তিনি যিয়া মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বললেন: এবং 'আছান' পেশ (যাম্মাহ) এবং মুছাল্লাছাহ (ছা) যোগে: আছান ইবনে নুআইম, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন।
আমি বলছি: এটি তাখফীফ (তাশদীদহীন) সহকারে, এবং তিনি হলেন নুআইম ইবনে নাহশালের পুত্র। তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে রজম করতে প্রত্যক্ষ করেছেন, তাঁর থেকে রিযাম ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি কূফাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য, ইমাম বুখারী তাঁর 'তারীখুল কাবীর'-এ এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٥)
قَالَ: الأبذي.
قلت: بِضَم الْهمزَة، بعْدهَا مُوَحدَة مُشَدّدَة مَفْتُوحَة، ثمَّ ذال، ذكرهَا بالإعجام أَبُو حَامِد مُحَمَّد بن عَليّ ابْن الصَّابُونِي فِي " مذيله " على " إِكْمَال " ابْن نقطة، وأطلقها ابْن نقطة وَالْمُصَنّف.
قَالَ: جمَاعَة من أبذة: بليدَة بالأندلس.
قلت: من كورة جيان، وَهِي دَار اليعمريين من أَهلهَا.
وَأَبُو إِبْرَاهِيم إِسْمَاعِيل بن مُحَمَّد بن يُوسُف بن عبد الله الْأنْصَارِيّ الأبذي - بِضَم الْهمزَة، وَفتح الْمُوَحدَة مُشَدّدَة، وَكسر الذَّال الْمُعْجَمَة - قَيده أَبُو حَامِد ابْن الصَّابُونِي، وَقَالَ: شيخ فَاضل صَالح، سمع بِدِمَشْق من ابْن طبرزد، وبمكة جمَاعَة، وَأقَام
তিনি বললেন: আল-আবাযি।
আমি বললাম: এটি হামযাহ্-তে পেশ (যম্মাহ), এরপর তাশদীদযুক্ত ও যবরযুক্ত (ফাতহাহ) ‘বা’, তারপর ‘যাল’ সহযোগে; আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন আলী ইবনে আস-সাবুনী ইবনে নুকতাহ-র ‘ইকমাল’ গ্রন্থের পরিশিষ্টে (যাইল) একে নুকতাহযুক্ত ‘যাল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে ইবনে নুকতাহ ও গ্রন্থকার একে সাধারণভাবেই (হরকতহীন) রেখেছেন।
তিনি বললেন: একদল ব্যক্তি ‘আবাযাহ’ নামক স্থান থেকে এসেছেন; যা আন্দালুসের একটি ছোট শহর।
আমি বললাম: এটি জায়ান প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত, এবং এটি সেখানকার অধিবাসী ইয়া‘মুরি গোত্রের আবাসস্থল।
আর আবু ইব্রাহিম ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ আল-আনসারী আল-আবাযি—হামযাহ্-তে পেশ, তাশদীদযুক্ত ‘বা’-তে যবর এবং নুকতাহযুক্ত ‘যাল’-এ যের (কাসরাহ) সহকারে—আবু হামিদ ইবনে আস-সাবুনী একে এভাবেই লিপিবদ্ধ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি একজন বিদগ্ধ ও সৎ শায়খ, তিনি দামেশকে ইবনে তাবারযাদ থেকে এবং মক্কায় একদল উলামা থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং সেখানে অবস্থান করেছিলেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٦)
بالقدس مُدَّة، وَأقَام بالصخرة، وَله شعر. توفّي فِي الْمحرم سنة سِتّ وَخمسين وست مئة بِالْبَيْتِ الْمُقَدّس. انْتهى.
وَمن هَذِه الْبَلدة: عَليّ بن أَحْمد بن سعد الله بن مَالك الْيَعْمرِي الأبذي، أَبُو الْحسن، حدث عَن أبي مَرْوَان بن سراج، ولي قَضَاء بَلَده، وَكَانَ كَاتبا شَاعِرًا مجيدا، روى عَنهُ عبد الله بن أبي الْخِصَال، توفّي سنة تسع وَخمْس مئة، وَدفن بداخل قَصَبَة أبذة، عَاشَ نَحوا من ثَمَان وَسبعين سنة.
قَالَ: وأندة، بنُون سَاكِنة.
قلت: والهمزة قبلهَا مَضْمُومَة، وَبعد النُّون دَال مُهْملَة مَفْتُوحَة، ثمَّ هَاء.
قَالَ: مَدِينَة بالأندلس، مِنْهَا: الْحَافِظ الْفَقِيه أَبُو الْوَلِيد يُوسُف بن عبد الْعَزِيز ابْن الدّباغ الأندي، سمع أَبَا عَليّ الصَّدَفِي، مَاتَ سنة سِتّ وَأَرْبَعين وَخمْس مئة.
قلت: وَأَبُو عمر يُوسُف بن عبد الله بن خيرون الْقُضَاعِي الأندي، سمع من ابْن عبد الْبر، وَغَيره.
وَأَبُو الْحجَّاج يُوسُف بن عَليّ بن مُحَمَّد بن عبد الله بن عَليّ بن
জেরুজালেমে কিছুকাল অবস্থান করেছিলেন এবং সাখরার নিকট অবস্থান করেছিলেন। তাঁর রচিত কবিতা রয়েছে। তিনি ৬৫৬ হিজরির মুহাররম মাসে বাইতুল মুকাদ্দাসে মৃত্যুবরণ করেন। সমাপ্ত।
এবং এই শহর থেকে রয়েছেন: আলী বিন আহমদ বিন সাদুল্লাহ বিন মালিক আল-ইয়ামুরি আল-আবজি, আবু আল-হাসান। তিনি আবু মারওয়ান বিন সিরাজ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিজ শহরের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন সুদক্ষ লেখক ও কবি ছিলেন। আবদুল্লাহ বিন আবিল খিসাল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৫০৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং আবজার কেল্লার অভ্যন্তরে সমাহিত হন। তিনি প্রায় ৭৮ বছর জীবিত ছিলেন।
তিনি বলেন: আর 'আনদাহ', সুকুনযুক্ত 'নুন' সহকারে।
আমি বলছি: এর শুরুতে হামযাটি পেশযুক্ত, এবং 'নুন'-এর পরে জবরযুক্ত 'দাল', অতঃপর 'হা'।
তিনি বলেন: এটি আন্দালুসের একটি শহর। সেখান থেকে রয়েছেন: হাফিজ ও ফকিহ আবু আল-ওয়ালিদ ইউসুফ বিন আবদুল আজিজ ইবনুত দাব্বাগ আল-আনদি। তিনি আবু আলী আস-সাফি থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি ৫৪৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
আমি বলছি: এবং আবু উমর ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন খাইরুন আল-কুদায়ী আল-আনদি; তিনি ইবনে আবদুল বার ও অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন।
এবং আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আলী বিন
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٧)
مُحَمَّد الْقُضَاعِي الأندي [ابْن الْقفال] ، حدث عَن أبي الْغَنَائِم مُحَمَّد بن عَليّ بن مَيْمُون النَّرْسِي، وَغَيره، وَعنهُ: أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن عبد الرَّحْمَن بن يحيى بن إِسْمَاعِيل، ابْن أبي الْيَابِس العثماني فِي " فَوَائده "، مَاتَ سنة اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعين وَخمْس مئة.
وَآخَرُونَ، مِنْهُم أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن أبي بكر بن عبد الرَّحْمَن بن أَحْمد بن أبي بكر الْقُضَاعِي الأندي، نزيل بلنسية، أَخذ الْقُرْآن عَن أبي جَعْفَر بن الْحصار، وَسمع من غَيره، توفّي ببلنسية فِي شهر ربيع الأول سنة تسع عشرَة وست مئة. ذكره وَلَده الْحَافِظ أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن الْأَبَّار فِي كِتَابه " التكملة لكتاب الصِّلَة ".
قَالَ: الْأَبْزَارِيِّ عدَّة، مِنْهُم:
مُحَمَّد بن يحيى بن زِيَاد، شيخ للطبراني.
قلت: روى عَن عبد الْأَعْلَى بن حَمَّاد النَّرْسِي.
وأبزار، بِفَتْح الْهمزَة، وَسُكُون الْمُوَحدَة، وَآخره رَاء: قَرْيَة على فرسخين من نيسابور.
মুহাম্মদ আল-কুদায়ী আল-আন্দি [ইবনুল কাফফাল], তিনি আবুল গানায়িম মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মাইমুন আন-নারসি ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তার থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাঈল ইবনে আবিল ইয়াবিস আল-উসমানি তার "ফাওয়াইদ" গ্রন্থে। তিনি পাঁচশত বিয়াল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং আরও অনেকে, যাদের মধ্যে রয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে আবু বকর আল-কুদায়ী আল-আন্দি, যিনি বালানসিয়ার (ভালেন্সিয়া) অধিবাসী ছিলেন। তিনি আবু জাফর বিন আল-হিসার-এর নিকট কুরআন শিক্ষা করেন এবং অন্যদের নিকট থেকেও শ্রবণ করেন। তিনি ছয়শত উনিশ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে বালানসিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। তার পুত্র হাফিজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল আব্বার তার "আত-তাকমিলা লি-কিতাবিস সিলাহ" গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন: আল-আবজারি নিসবতধারী বেশ কয়েকজন রয়েছেন, তাদের মধ্যে:
মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জিয়াদ, যিনি তাবারানির একজন উস্তাদ।
আমি বলছি: তিনি আবদুল আ’লা ইবনে হাম্মাদ আন-নারসি থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর আবজার—হামজার উপর ফাতহা, বা-এর উপর সুকুন এবং শেষে রা—এটি নিশাপুর থেকে দুই ফারসাখ দূরত্বে অবস্থিত একটি গ্রাম।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٨)
وَمِنْهَا أَيْضا حَامِد بن مُوسَى الْأَبْزَارِيِّ، عَن إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه، وَعنهُ: مُحَمَّد بن صَالح بن هَانِئ.
وَأَبُو جَعْفَر مُحَمَّد بن سُلَيْمَان بن مُحَمَّد بن مُوسَى بن مَنْصُور الْأَبْزَارِيِّ الْمُذكر، كرامي الْمَذْهَب، سمع السّري بن خُزَيْمَة، وَمُحَمّد بن أَشْرَس، روى عَنهُ الْحَاكِم أَبُو عبد الله وَلم يرضه.
وَأَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن أَحْمد الْعجلِيّ ابْن أُخْت الأشل الْأَبْزَارِيِّ، سمع من يحيى بن أبي طَالب، وَأبي قلَابَة، والسمري وطبقتهم. وَذكر أَبُو الْحسن مُحَمَّد بن أَحْمد بن حَمَّاد بن سُفْيَان الْحَافِظ فِي " تَارِيخه " أَنه وضع أَحَادِيث بِخَط طري لَا أصل لَهَا، ورماه بِالْوَضْعِ أَيْضا ابْن الْجَوْزِيّ. توفّي سنة إِحْدَى وَثَلَاثِينَ وَثَلَاث مئة.
والأبزاري أَيْضا: نِسْبَة إِلَى بيع الأبزار، عرف بهَا مُحَمَّد بن زيد بن عَليّ بن جَعْفَر بن مُحَمَّد بن مَرْوَان بن رَاشد، أَبُو عبد الله الْبَغْدَادِيّ الْأَبْزَارِيِّ، سمع عبد الله بن نَاجِية، وَغَيره. ثِقَة، نبيل، فِيمَا قَالَه البرقاني حِين سَأَلَهُ أَبُو بكر الْخَطِيب عَنهُ.
وَمِنْهَا أَيْضا أَبُو هَاشم مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن عبد الله بن دَاوُد بن مُحَمَّد بن عَليّ بن يحيى بن زيد بن يحيى بن أَحْمد بن دَاوُد بن صَالح بن مُحَمَّد بن عبد الله بن سُلَيْمَان بن مُحَمَّد بن عبد الْمطلب بن ربيعَة بن الْحَارِث بن عبد الْمطلب بن هَاشم الْقرشِي الْكُوفِي الْوَاعِظ، ابْن أبي المناقب، ابْن أبي الْفَضَائِل، ابْن الْأَبْزَارِيِّ. جده عَليّ بن يحيى كَانَ أبزاريا، فنسبوا إِلَيْهِ. سمع أَبُو هَاشم من
এবং তাদের মধ্যে হামেদ ইবনে মুসা আল-আবজারিও রয়েছেন, যিনি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালেহ ইবনে হানি।
এবং আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে মনসুর আল-আবজারি আল-মুজাক্কির, তিনি কাররামি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি আস-সিররি ইবনে খুজাইমা এবং মুহাম্মদ ইবনে আশরাস থেকে হাদিস শুনেছেন। তার থেকে আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন কিন্তু তিনি তাকে পছন্দ করেননি।
এবং আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আহমদ আল-ইজলি, যিনি আল-আশাল আল-আবজারির ভাগ্নে। তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবু তালিব, আবু কিলাবা, আস-সামারি এবং তাদের সমসাময়িকদের থেকে শুনেছেন। হাফেজ আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্মাদ ইবনে সুফিয়ান তার 'তারিখ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি টাটকা হস্তাক্ষরে এমন সব হাদিস জাল করেছেন যার কোনো ভিত্তি নেই। ইবনুল জাওজিও তাকে হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি তিনশ একত্রিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
আর আল-আবজারি উপাধিটি মসলা বিক্রির সাথেও সম্পর্কিত, যার মাধ্যমে আবু আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদি আল-আবজারি মুহাম্মদ ইবনে জাইদ ইবনে আলি ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান ইবনে রাশিদ পরিচিত হয়েছেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে নাজিয়া ও অন্যদের থেকে শুনেছেন। আবু বকর আল-খতিব যখন তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন আল-বারকানি তাকে নির্ভরযোগ্য ও মহানুভব হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
এবং তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আবু হাশেম মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাইদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আহমদ ইবনে দাউদ ইবনে সালেহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবিআ ইবনে আল-হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশেম আল-কুরাশি আল-কুফি আল-ওয়ায়েজ, যিনি ইবনে আবিল মানাকিব, ইবনে আবিল ফাজায়েল ও ইবনুল আবজারি নামে পরিচিত। তার দাদা আলি ইবনে ইয়াহইয়া মসলা বিক্রেতা ছিলেন, তাই তাদের তার দিকেই সম্বন্ধিত করা হয়েছে। আবু হাশেম শুনেছেন...
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٩)
عَليّ بن عُثْمَان ابْن الوجوهي، وَغَيره. وَأَجَازَ لَهُ عبد الصَّمد بن ابي الْجَيْش، وَغَيره. توفّي سنة ثَلَاث وَسِتِّينَ وست مئة.
وَأَبُو مُحَمَّد بعد الْعَزِيز بن إِبْرَاهِيم بن عبد الله الْأَبْزَارِيِّ التمار، سمع من الأرتاحي، وطبقته، وَحصل كتبا حَسَنَة، وَكَانَ يُؤثر السماع على طلب معاشه، ويبالغ فِي ذَلِك. سمع [مِنْهُ] الزكي أَبُو مُحَمَّد عبد الْعَظِيم الْمُنْذِرِيّ. توفّي سنة سِتّ وَثَلَاثِينَ وست مئة.
وَأَبُو الْحسن عَليّ بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد، ابْن الْأَبْزَارِيِّ، الْأنْصَارِيّ الْمصْرِيّ، أجَاز لبَعض مَشَايِخنَا.
قَالَ: والأتراري: بِالضَّمِّ ومثناة.
قلت: الْمُثَنَّاة فَوق سَاكِنة، تَلِيهَا رَاء، ثمَّ ألف، ثمَّ رَاء أَيْضا.
قَالَ: فَقِيه كَانَ بِمصْر بعد السَّبع مئة، من أترار: مَدِينَة كَبِيرَة بِالتّرْكِ على شط سيحون.
قلت: أترار الْمَذْكُورَة هِيَ فاراب الَّتِي هِيَ مَدِينَة عظمية من مَدَائِن التّرْك. والأتراري الَّذِي كَانَ بِمصْر بعد السَّبع مئة هُوَ قوام الدّين أَمِير كَاتب ابْن عمر ابْن العميد غَازِي الفارابي الأتراري، الْأَتْقَانِيّ، أَبُو حنيفَة: مولده - فِيمَا ذكره - بأتقان الَّتِي هِيَ قَصَبَة من قصبات أترار، فِي شَوَّال سنة خمس وَثَمَانِينَ وست مئة. كَانَ أحد الرؤساء فِي مَذْهَب
আলী ইবনে উসমান ইবনুল ওয়াজুহি এবং অন্যান্যরা। তাঁকে আবদুস সামাদ ইবনে আবিল জয়িশ এবং আরও অনেকে ইজাযাহ প্রদান করেছেন। তিনি ৬৬৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
এবং আবু মুহাম্মাদ আবদুল আযীয ইবনে ইবরাহীম ইবনে আবদুল্লাহ আল-আবজারি আত-তাম্মার; তিনি আল-আরতাহী এবং তাঁর সমসাময়িকদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এবং উত্তম গ্রন্থাদি সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি জীবিকা অন্বেষণের পরিবর্তে হাদীস শ্রবণ (ইলম অর্জন) করাকে প্রাধান্য দিতেন এবং এ বিষয়ে অত্যধিক প্রচেষ্টা ব্যয় করতেন। তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন যাকি আবু মুহাম্মাদ আবদুল আযীম আল-মুনযিরি। তিনি ৬৩৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
এবং আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ, ইবনুল আবজারি আল-আনসারী আল-মিসরী; তিনি আমাদের কতিপয় শায়খকে ইজাযাহ দিয়েছেন।
তিনি বলেন: আর ‘আল-আতরারি’: (শুরুতে) দম্মাহ এবং এরপর মুসান্নাহ (ওপরের দুই নুকতাওয়ালা বর্ণ) সহযোগে।
আমি বলছি: ওপরের দুই নুকতাওয়ালা বর্ণটি সাকিন, এরপর একটি ‘রা’, এরপর একটি ‘আলিফ’ এবং পুনরায় একটি ‘রা’।
তিনি বলেন: তিনি সাতশ হিজরির পর মিসরের একজন ফকীহ ছিলেন, তিনি ‘আতরার’ এলাকার অধিবাসী: এটি তুর্কিস্তানের সাইহুন নদীর তীরে অবস্থিত একটি বড় শহর।
আমি বলছি: উল্লিখিত ‘আতরার’ শহরটি মূলত ফারাব, যা তুর্কিস্তানের শহরগুলোর মধ্যে একটি বিশাল শহর। আর সেই আতরারি যিনি সাতশ হিজরির পর মিসরে ছিলেন, তিনি হলেন কিওয়ামুদ্দীন আমীর কাতিব ইবনে উমর ইবনুল আমীদ গাজী আল-ফারাবি আল-আতরারি আল-আতকানি, আবু হানীফা। তাঁর নিজের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ৬৮৫ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে আতরার এলাকার একটি উপশহর আতকানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাযহাবের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٠)
أبي حنيفَة، وقاضيا بِبَغْدَاد، ثمَّ عزل، وَوصل إِلَى دمشق، ثمَّ اتَّصل بِبَعْض أُمَرَاء مصر، فاشتهر، وَعظم ذكره، ثمَّ توفّي فِي شَوَّال سنة ثَمَان وَخمسين وَسبع مئة.
الأبرادي: والأبرادي، بِفَتْح الْهمزَة، وَسُكُون الْمُوَحدَة، ثمَّ رَاء تَلِيهَا ألف بعْدهَا دَال مُهْملَة: أَبُو البركات أَحْمد بن عَليّ بن عبد الله بن الأبرادي الْبَغْدَادِيّ. حدث عَنهُ أَبُو الْقَاسِم ابْن عَسَاكِر فِي " مُعْجَمه ".
وَأَبُو الْقَاسِم أَحْمد بن مُحَمَّد بن أبي البركات، ابْن الأبرادي التَّاجِر، سمع من أبي الْوَقْت وَغَيره، توفّي فِي دمشق سنة اثْنَتَيْ عشرَة وست مئة، وَله شعر.
وَأَبوهُ: أَبُو الْحسن تفقه على أبي الْوَفَاء بن عقيل الْحَنْبَلِيّ، توفّي سنة أَربع وَخمسين وَخمْس مئة.
والأنداري: بِفَتْح الْهمزَة، ثمَّ نون سَاكِنة، ثمَّ دَال مُهْملَة، وَبعد الْألف رَاء: عبد الله بن مُحَمَّد الْمصْرِيّ الأنداري، ذكره ابْن الْجَوْزِيّ فِي كِتَابه " الْمُحْتَسب فِي مشتبه النّسَب ".
قَالَ: الْأَيْلِي.
قلت: بِضَم الْهمزَة وَالْمُوَحَّدَة مَعًا، وَتَشْديد اللَّام الْمَكْسُورَة.
قَالَ: خلق من أبلة الْبَصْرَة، مِنْهُم: شَيبَان بن فروخ، شيخ مُسلم.
قلت: وروى عَنهُ أَبُو دَاوُد، وروى أَبُو دَاوُد أَيْضا وَالنَّسَائِيّ عَن رجل
...আবু হানিফা [এর মাযহাবের অনুসারী], এবং বাগদাদের একজন বিচারক ছিলেন, অতঃপর তাঁকে পদচ্যুত করা হয় এবং তিনি দামেস্কে আগমন করেন। এরপর তিনি মিসরের কিছু আমিরের সাথে যোগাযোগ করেন, ফলে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং তাঁর খ্যাতি বৃদ্ধি পায়। অতঃপর তিনি সাতশ আটান্ন হিজরি সনের শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
আল-আবরাদি: আল-আবরাদি শব্দটি হামজাতে ফাতহা (যবর), মুওয়াহহাদাতে (বা) সুকুন, এরপর রা এবং তার সাথে আলিফ ও শেষে দাল মুহমালা (বিন্দুহীন দাল) যোগে গঠিত। তিনি হলেন আবু বারাকাত আহমাদ বিন আলি বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আবরাদি আল-বাগদাদি। আবু আল-কাসিম ইবনে আসাকির তাঁর "মু'জাম" গ্রন্থে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
এবং আবু আল-কাসিম আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু আল-বারাকাত ইবনুল আবরাদি ব্যবসায়ী; তিনি আবুল ওয়াক্ত ও অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি ছয়শ বারো হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর রচিত কবিতা রয়েছে।
এবং তাঁর পিতা: আবু আল-হাসান; তিনি আবু আল-ওয়াফা বিন আকিল আল-হানবালির নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন। তিনি পাঁচশ চুয়ান্ন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
আল-আন্দারি: হামজাতে ফাতহা (যবর), এরপর নুন সাকিন, এরপর দাল মুহমালা (বিন্দুহীন দাল) এবং আলিফের পর রা যোগে গঠিত। তিনি হলেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মিসরি আল-আন্দারি। ইবনুল জাওজি তাঁর "আল-মুহতাসিব ফি মুশতাবিহ আন-নাসাব" কিতাবে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন: আল-আইলি।
আমি বলছি: এটি হামজা ও মুওয়াহহাদাহ (বা) উভয়টিতে যম্মাহ (পেশ) এবং কাসরাযুক্ত (যের) লামে তাশদিদ যোগে [আল-উবুল্লি] হবে।
তিনি বলেন: বসরার উবুল্লাহ অঞ্চলের বহু লোক [এ নিসবতের অন্তর্ভুক্ত], তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শাইবান বিন ফাররুখ, যিনি ইমাম মুসলিমের উস্তাদ।
আমি বলছি: আবু দাউদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং আবু দাউদ ও নাসায়ি জনৈক ব্যক্তি থেকেও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٣١)
عَنهُ. توفّي سنة سِتّ - وَقيل سنة خمس - وَثَلَاثِينَ ومئتين، وَقد قَارب المئة.
قَالَ: والأيلي: من أَيْلَة.
قلت: هِيَ بِفَتْح الْهمزَة، وَسُكُون الْمُثَنَّاة تَحت، وَفتح اللَّام مُخَفّفَة، تَلِيهَا هَاء.
قَالَ: عقيل بن خَالِد وأقاربه.
وَيُونُس بن يزِيد وأقاربه، وَآخَرُونَ.
وأيلة على بَحر القلزم
قلت: هِيَ مَدِينَة على سَاحل الْبَحْر الْمُتَّصِل بالقلزم مِمَّا يَلِي الشَّام، وَقيل: هِيَ آخر الْحجاز من تِلْكَ النَّاحِيَة.
قَالَ: وَمِنْهَا الحكم بن عبد الله بن سعد.
قلت: سمع من أنس بن مَالك رضي الله عنه، يكنى أَبَا عبد الله، يُقَال: هُوَ مولى الْحَارِث بن الحكم بن أبي الْعَاصِ، مُنكر الحَدِيث، روى عَنهُ الْمُغيرَة بن الْحسن، قَالَه ابْن يُونُس فِي تَارِيخه ". وَقَالَ البُخَارِيّ فِي كتاب " الضُّعَفَاء ": الحكم بن عبد الله بن سعد مولى الْحَارِث بن الحكم بن أبي الْعَاصِ ابْن أُميَّة بن عبد شمس الْقرشِي الْأَيْلِي، تَرَكُوهُ، وَكَانَ ابْن الْمُبَارك يُضعفهُ. قَالَه البُخَارِيّ.
তাঁর থেকে বর্ণিত। তিনি দুইশত ছত্রিশ—মতান্তরে দুইশত পঁয়ত্রিশ—হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি শতায়ুর কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন।
তিনি বলেন: ‘আইলি’ হলো আইলা সম্পর্কিত।
আমি বলি: এটি হামজাহ-তে ফাতহ (যবর), নিচের দুই বিন্দুবিশিষ্ট ইয়া-তে সুকুন এবং ল্যাম-এ হালকা ফাতহ যোগে গঠিত, যার শেষে একটি ‘হা’ রয়েছে।
তিনি বলেন: উকাইল ইবনে খালিদ ও তাঁর আত্মীয়-স্বজন।
এবং ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ ও তাঁর আত্মীয়-স্বজন এবং অন্যান্যরা।
আর আইলা লোহিত সাগরের (কুলজুম সাগর) উপকূলে অবস্থিত।
আমি বলি: এটি কুলজুম সাগরের সাথে সংযুক্ত উপকূলীয় একটি শহর যা শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের দিকে অবস্থিত। বলা হয় যে, এটি সেই দিক থেকে হিজাজের শেষ প্রান্ত।
তিনি বলেন: এবং এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হলেন হাকাম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাদ।
আমি বলি: তিনি আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে শ্রবণ করেছেন; তাঁর কুনিয়াত বা ডাকনাম ছিল আবু আবদুল্লাহ। বলা হয় যে, তিনি হারিস ইবনে হাকাম ইবনে আবুল আস-এর মুক্তদাস ছিলেন। তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে ‘মুনকার’ (প্রত্যাখ্যাত)। মুগিরা ইবনে হাসান তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—ইবনে ইউনুস তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। এবং ইমাম বুখারি তাঁর ‘আদ-দুয়াফা’ গ্রন্থে বলেছেন: হাকাম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাদ, যিনি হারিস ইবনে হাকাম ইবনে আবুল আস ইবনে উমাইয়াহ ইবনে আবদে শামস আল-কুরাইশি আল-আইলি-র মুক্তদাস; মুহাদ্দিসগণ তাঁকে বর্জন করেছেন এবং ইবনে মুবারক তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত করতেন। ইমাম বুখারি এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٢)
قَالَ: وحسين بن رستم أَمِير أَيْلَة، عَن ابْن الْمُنْكَدر، وَعنهُ مَالك.
قلت: كَانَ أَمِير أَيْلَة لعمر بن عبد الْعَزِيز، وَكَانَ من الصَّالِحين، حدث سعيد بن عفير، عَن خَالِد بن نزار [الْأَيْلِي] ، عَن الْقَاسِم بن مبرور [الْأَيْلِي] ، قَالَ: كَانَ حُسَيْن بن رستم يقلب الدَّرَاهِم، ثمَّ يَقُول: الله يعلم أَنِّي أبغضك! اللَّهُمَّ من استزادك من الدُّنْيَا فَإِنِّي لَا أستزيدك مِنْهَا، وَقد عجزت عَن شكر مَا أَنْعَمت بِهِ عَليّ مِنْهَا. رَوَاهُ ابْن يُونُس فِي " تَارِيخه ".
قَالَ: وَطَلْحَة بن عبد الْملك الْأَيْلِي، عَن الْقَاسِم، وَعنهُ مَالك.
وَابْن أَخِيه الْقَاسِم بن مبرور الْأَيْلِي، عَن هِشَام بن حسان، وَعنهُ خَالِد بن نزار الْأَيْلِي. وخَالِد هَذَا يروي عَن إِبْرَاهِيم بن طهْمَان " نُسْخَة "، وَعنهُ ابْنه طَاهِر.
ورجاء بن جميل الْأَيْلِي، عَن الْقَاسِم وَالزهْرِيّ، وَعنهُ ضَمرَة.
وعنبسة بن خَالِد الْأَيْلِي.
قلت: هُوَ ابْن أخي يُونُس بن يزِيد، روى عَن عَمه.
قَالَ: وَإِسْحَاق بن إِسْمَاعِيل بن عبد الْأَعْلَى الْأَيْلِي، عَن ابْن عُيَيْنَة، مَاتَ بأيلة سنة ثَمَان وَخمسين ومئتين.
قلت: روى عَنهُ النَّسَائِيّ، وَابْن ماجة.
তিনি বলেছেন: আর হুসাইন ইবনে রুস্তম হলেন আয়লার আমির, তিনি ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে মালিক বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: তিনি উমর ইবনে আবদুল আজিজের শাসনামলে আয়লার আমির ছিলেন এবং তিনি নেককারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সাঈদ ইবনে উফাইর বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে নিযার [আল-আয়লি] থেকে, তিনি কাসিম ইবনে মাবরুর [আল-আয়লি] থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: হুসাইন ইবনে রুস্তম দিরহামগুলো উল্টেপাল্টে দেখতেন, তারপর বলতেন: আল্লাহ জানেন যে আমি তোমাকে ঘৃণা করি! হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আপনার কাছে দুনিয়ার প্রাচুর্য কামনা করে (সে করুক), আমি আপনার কাছে এর অতিরিক্ত কিছু চাই না; অথচ আপনি আমাকে দুনিয়ার যা কিছু দান করেছেন তার শুকরিয়া আদায় করতেই আমি অক্ষম। ইবনে ইউনুস তাঁর "তারিখ" গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেছেন: আর তালহা ইবনে আব্দুল মালিক আল-আয়লি কাসিম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে মালিক বর্ণনা করেছেন।
আর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র কাসিম ইবনে মাবরুর আল-আয়লি হিশাম ইবনে হাসসান থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে খালিদ ইবনে নিযার আল-আয়লি বর্ণনা করেছেন। আর এই খালিদ ইব্রাহিম ইবনে তাহমান থেকে একটি "নুসখাহ" (সংকলন) বর্ণনা করেন এবং তাঁর থেকে তাঁর পুত্র তাহির বর্ণনা করেছেন।
আর রাজা ইবনে জামিল আল-আয়লি কাসিম ও যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে দামরা বর্ণনা করেছেন।
আর আনবাসা ইবনে খালিদ আল-আয়লি।
আমি বলছি: তিনি ইউনুস ইবনে ইয়াজিদের ভ্রাতুষ্পুত্র, তিনি তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেছেন: আর ইসহাক ইবনে ইসমাইল ইবনে আব্দুল আলা আল-আয়লি ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি ২৫৮ হিজরি সনে আয়লায় মৃত্যুবরণ করেন।
আমি বলছি: তাঁর থেকে নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٣)
قَالَ: وَهَارُون بن سعيد الْأَيْلِي عَن ابْن وهب، مَاتَ سنة ثَلَاث وَخمسين ومئتين.
قلت: روى عَنهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة.
قَالَ: وَمُحَمّد بن عَزِيز الْأَيْلِي، عَن سَلامَة بن روح الْأَيْلِي. مَاتَ سنة سبع وَسِتِّينَ ومئتين.
قلت: هُوَ ابْن عَزِيز - بِضَم الْعين الْمُهْملَة وزايين - ابْن عبد الله بن زِيَاد بن خَالِد بن عقيل بن خَالِد الْأَيْلِي.
قَالَ: وَأَيوب بن أبي حجر الْأَيْلِي، عَن بكر بن صَدَقَة.
قلت: هُوَ أَيُّوب بن سُلَيْمَان بن عبد الْوَاحِد بن أبي حجر. ذكره ابْن يُونُس فِي " تَارِيخه "، وَقَالَ: يروي عَن بكر بن صَدَقَة، روى عَنهُ دَاوُد بن أَيُّوب. انْتهى.
وَدَاوُد: هُوَ ابْن أَيُّوب الْمَذْكُور كنيته أَبُو سُلَيْمَان مثل كنية أَبِيه، وروى دَاوُد أَيْضا عَن إِبْرَاهِيم بن الْمُنْذر.
قَالَ: وَمُحَمّد بن سَلام الْأَيْلِي، ابْن عَم مُحَمَّد بن عَزِيز، عَن سَلامَة أَيْضا، وَعنهُ أَبُو زرْعَة.
قلت: الرَّازِيّ، وَسَلام بِالتَّشْدِيدِ.
قَالَ: وأخو هَارُون بن سعيد مُحَمَّد، مَاتَ سنة ثَمَان وَخمسين ومئتين.
وَأَبُو صَخْر يزِيد بن أبي سميَّة الْأَيْلِي، عَن ابْن عمر، وَعنهُ هِشَام بن سعد، وَجَمَاعَة.
তিনি বললেন: এবং হারুন বিন সাঈদ আল-আইলি, ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ২৫৩ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।
আমি বলছি: ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তিনি বললেন: এবং মুহাম্মদ বিন আজিজ আল-আইলি, সালামা বিন রুহ আল-আইলি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৬৭ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।
আমি বলছি: তিনি হলেন ইবনে উযাইয - 'আইন' বর্ণে পেশ এবং দুটি 'যা' যোগে - ইবনে আব্দুল্লাহ বিন যিয়াদ বিন খালিদ বিন আকিল বিন খালিদ আল-আইলি।
তিনি বললেন: এবং আইয়ুব বিন আবু হাজার আল-আইলি, বকর বিন সাদাকা থেকে বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: তিনি হলেন আইয়ুব বিন সুলাইমান বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আবু হাজার। ইবনে ইউনুস তাঁর "তারিখ" গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি বকর বিন সাদাকা থেকে বর্ণনা করেন, আর তাঁর থেকে দাউদ বিন আইয়ুব বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।
আর দাউদ: তিনি হলেন উল্লেখিত ইবনে আইয়ুব, তাঁর উপনাম আবু সুলাইমান, যা তাঁর পিতার উপনামের মতোই। দাউদ ইব্রাহিম বিন আল-মুনযির থেকেও বর্ণনা করেছেন।
তিনি বললেন: এবং মুহাম্মদ বিন সালাম আল-আইলি, তিনি মুহাম্মদ বিন আজিজের চাচাতো ভাই, তিনিও সালামা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে আবু যুরআ বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: তিনি হলেন আবু যুরআ আর-রাযী, আর 'সালাম' নামটি তাশদীদ যোগে।
তিনি বললেন: হারুন বিন সাঈদের ভাই মুহাম্মদ, তিনি ২৫৮ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং আবু সাখর ইয়াযীদ বিন আবু সুমাইয়া আল-আইলি, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তাঁর থেকে হিশাম বিন সাদ এবং একদল রাবী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٤)
وسعدان بن سَالم الْأَيْلِي، شيخ لِابْنِ الْمُبَارك.
قلت: كنيته أَبُو الصَّباح، روى عَن الْمَذْكُور قبله يزِيد بن أبي سميَّة.
قَالَ: وَعمر بن سعد الْأَيْلِي، عَن عمرَان بن أبي الطُّفَيْل، وَعنهُ عمر بن زبان الْأَيْلِي، شيخ الْحسن الْحلْوانِي.
وَعبد الْجَبَّار بن عمر الْأَيْلِي، عَن عَطاء الْخُرَاسَانِي، وَعنهُ الْمُقْرِئ.
قلت وروى عَنهُ أَيْضا سعيد بن أبي مَرْيَم، وَعبد الله بن وهب، وكناه: أَبَا عمر.
قَالَ: وَيحيى بن صَالح الْأَيْلِي، عَن إسماعل بن أُميَّة، وَعنهُ يحبى بن بكير.
قلت: والأيليون فيهم كَثْرَة، وَمِنْهُم:
إِبْرَاهِيم بن عون الْأَيْلِي، عَن عُثْمَان بن الْمُهلب الْأَيْلِي، وَعنهُ عبد الحكم بن عبد الله بن عبد الحكم.
ورزيق بن حَكِيم الْأَيْلِي، مولى بني فَزَارَة، عَن سعيد بن الْمسيب، وَغَيره. وَعنهُ ابْنه حَكِيم، وَمَالك بن أنس، وَغَيرهمَا، وَكَانَ أحد الْعباد.
وأيلة كَالَّتِي قبلهَا من رضوى، وَهُوَ جبل يَنْبع مَا بَين مَكَّة وَالْمَدينَة، ذكرهَا ياقوت فِي كِتَابه " الْمُشْتَرك " عَن ابْن حبيب.
এবং সা'দান ইবনে সালিম আল-আইলী, তিনি ইবনুল মুবারকের উস্তাদ।
আমি বলছি: তার উপনাম আবুস সাবাহ, তিনি তার পূর্বে উল্লেখিত ইয়াযিদ ইবনে আবি সুমাইয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন: এবং উমর ইবনে সা'দ আল-আইলী, তিনি ইমরান ইবনে আবিত তুফাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তার থেকে উমর ইবনে যাব্বান আল-আইলী বর্ণনা করেছেন, যিনি আল-হাসান আল-হুলওয়ানী-এর উস্তাদ।
এবং আব্দুল জাব্বার ইবনে উমর আল-আইলী, তিনি আতা আল-খুরাসানী থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তার থেকে আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: তার থেকে সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাবও বর্ণনা করেছেন, আর তিনি তাকে ‘আবু উমর’ উপনামে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন: এবং ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ আল-আইলী, তিনি ইসমাঈল ইবনে উমাইয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তার থেকে ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: আইলী ব্যক্তিবর্গের সংখ্যা অনেক, তাদের মধ্যে রয়েছেন:
ইবরাহীম ইবনে আউন আল-আইলী, তিনি উসমান ইবনুল মুহাল্লাব আল-আইলী থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তার থেকে আব্দুল হাকাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম বর্ণনা করেছেন।
এবং রুযাইক ইবনে হাকিম আল-আইলী, তিনি বনু ফাযারার মুক্ত দাস, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে তার পুত্র হাকিম, মালিক ইবনে আনাস এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন; তিনি অন্যতম একজন আবিদ ছিলেন।
আর আয়লাহ্ হলো পূর্ববর্তীটির ন্যায় রাদ্বওয়ার অন্তর্ভুক্ত, এটি ইয়ানবু-এর একটি পাহাড় যা মক্কা ও মদীনার মধ্যস্থলে অবস্থিত। ইয়াকুত তার ‘আল-মুশতারাক’ গ্রন্থে ইবনে হাবীবের সূত্রে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٥)
قَالَ: والإيلي: بِالْكَسْرِ.
قلت: وَالْبَاقِي كَالَّذي قبله.
قَالَ: نِسْبَة إِلَى إيلة: من قرى باخرز بنيسابور.
وإيلة: اسْم لثَلَاثَة أَمَاكِن.
قلت: كَذَا وَجدتهَا فِي نُسْخَة المُصَنّف الَّتِي بِخَطِّهِ مُقَيّدَة بِكَسْر الْهمزَة، وَسُكُون الْمُثَنَّاة تَحت بنقطتين، وَفتح اللَّام، وَهَذَا تَصْحِيف، وَالَّذِي يغلب على ظَنِّي أَنَّهَا كَانَت على الصَّوَاب بِخَط المُصَنّف، فأفسدها بَعضهم، كَمَا ذكر جهلا مِنْهُ، وَأثر الْإِفْسَاد عَلَيْهَا ظَاهر، وَالصَّوَاب: فتح الْهمزَة، تَلِيهَا مُثَلّثَة سَاكِنة، على لفظ وَاحِدَة الأثل من الشّجر، وَكَذَا قيد الثَّلَاثَة ياقوت فِي " الْمُشْتَرك ":
فأحدها: أثلة: مَوضِع قريب من طيبَة.
وَالثَّانِي: مَوضِع فِي بِلَاد هُذَيْل.
وَالثَّلَاث: الأثلة: قَرْيَة من قرى بَغْدَاد بالجانب الشَّرْقِي على فَرسَخ مِنْهَا.
واستدرك الْحسن بن مُحَمَّد الْبكْرِيّ على ياقوت رَابِعَة، وَهُوَ: الأثلة: قَرْيَة بصعيد مصر من أَعمال الأشمونين.
وَلم يذكر ياقوت فِي " المعجم " سوى الأول وَالثَّالِث، وَقَالَ عَن الثَّالِث: قَرْيَة بالجانب الغربي من بَغْدَاد على فَرسَخ وَاحِد. كَذَا وجدته فِي أصل مُعْتَمد " بالمعجم ".
তিনি বলেছেন: এবং আল-আইলী: কাসরা যোগে।
আমি বলছি: এবং অবশিষ্ট অংশ তার পূর্ববর্তী শব্দের মতো।
তিনি বলেছেন: এটি আইলার দিকে নিসবত বা সম্পর্কযুক্ত: যা নিশাপুরের বাখারযের গ্রামগুলোর একটি।
এবং আইলা: তিনটি স্থানের নাম।
আমি বলছি: লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপিতে আমি একে হামযাহ’র নিচে কাসরা, নিচের দুই নুকতাওয়ালা ইয়া-তে সুকুন এবং লাম-এ ফাতহা যোগে লিপিবদ্ধ পেয়েছি; কিন্তু এটি একটি লিখনপ্রমাদ। আমার প্রবল ধারণা এই যে, এটি লেখকের পাণ্ডুলিপিতে সঠিকভাবেই ছিল, কিন্তু কেউ অজ্ঞতাবশত এটিকে বিকৃত করেছে এবং বিকৃতির চিহ্নটিও স্পষ্ট। সঠিক রূপটি হলো: হামযাহ’র ওপর ফাতহা এবং পরবর্তী বর্ণ 'সা' সুকুনযুক্ত, যা 'আছল' নামক বৃক্ষের একবচন শব্দের অনুরূপ। ইয়াকুত 'আল-মুশতারিক' গ্রন্থে এই তিনটি স্থানকে একইভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন:
তার একটি হলো: আছলাহ: তাইবার নিকটবর্তী একটি স্থান।
দ্বিতীয়টি হলো: হুযাইল গোত্রের ভূখণ্ডের একটি স্থান।
এবং তৃতীয়টি হলো: আল-আছলাহ: বাগদাদের গ্রামগুলোর মধ্যে একটি, যা পূর্ব পার্শ্বে এক ফরসাখ দূরত্বে অবস্থিত।
আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-বাকরি ইয়াকুতের ওপর চতুর্থ একটি স্থান সংযোজন করেছেন, তা হলো: আল-আছলাহ: যা মিসরের ঊর্ধ্বাঞ্চলের আশমুনাইন প্রদেশের একটি গ্রাম।
ইয়াকুত 'আল-মুজাম' গ্রন্থে প্রথম এবং তৃতীয়টি ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করেননি এবং তৃতীয়টি সম্পর্কে তিনি বলেছেন: এটি বাগদাদের পশ্চিম পার্শ্বে এক ফরসাখ দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম। 'মুজাম' এর একটি নির্ভরযোগ্য মূল কপিতে আমি এটি এভাবেই পেয়েছি।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٦)
قَالَ: والآبلي.
قلت: بِفَتْح الْهمزَة الممدودة، وَكسر الْمُوَحدَة.
قَالَ: نِسْبَة إِلَى آبل السُّوق.
قلت: هِيَ قَرْيَة بوادي بردى من أَعمال دمشق.
قَالَ: مِنْهَا إِمَام جَامع دمشق أَبُو طَاهِر الْحُسَيْن بن عَامر الْمُقْرِئ، روى عَن أبي عَليّ بن جَابر الْفَرَائِضِي، وَعنهُ الكتاني.
قلت: نسبه المُصَنّف إِلَى جده الْأَعْلَى، وَفِيه إِيهَام، فَهُوَ الْحُسَيْن بن مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن عَامر بن أَحْمد بن خراشة. توفّي سنة ثَمَان وَعشْرين وَأَرْبع مئة. وَشَيْخه أَبُو عَليّ اسْمه الْحُسَيْن بن إِبْرَاهِيم بن جَابر.
وآبل: كَالَّتِي قبلهَا، ثَلَاثَة أَمَاكِن أَيْضا:
أَحدهَا: آبل الزَّيْت: من مشارف الشَّام بالأردن.
وَالثَّانِي: آبل الْقَمْح: قَرْيَة من نواحي بانياس من أَعمال دمشق.
وَالثَّالِث: آبل: قَرْيَة قبلي حمص، بَينهمَا نَحْو فَرسَخ.
والأبلي: فتح الْهمزَة وَالْمُوَحَّدَة مَعًا: نِسْبَة إِلَى الْجد، عرف بهَا
তিনি বলেন: এবং আল-আবেলী।
আমি বলছি: এটি দীর্ঘায়িত হামযার যবর এবং মুওয়াহহাদা (বা) এর যের যোগে গঠিত।
তিনি বলেন: এটি আবেলুস সূক-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত।
আমি বলছি: এটি দামেস্কের প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ওয়াদি বারাদার একটি গ্রাম।
তিনি বলেন: সেই জনপদের অধিবাসী হলেন দামেস্কের জামে মসজিদের ইমাম আবু তাহির আল-হুসাইন বিন আমির আল-মুকরি; তিনি আবু আলী বিন জাবির আল-ফারাইযি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে আল-কাত্তানি বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: লেখক তাঁকে তাঁর ঊর্ধ্বতন পিতামহের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, আর এতে এক প্রকার অস্পষ্টতা রয়েছে; মূলত তিনি হলেন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন আমির বিন আহমাদ বিন খারাশাহ। তিনি চারশত আঠাশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আর তাঁর উস্তাদ আবু আলীর নাম হলো আল-হুসাইন বিন ইবরাহিম বিন জাবির।
আর আবেল: পূর্বোক্ত শব্দটির ন্যায় এটিও তিনটি স্থানের নাম:
প্রথমটি: আবেলুয যাইত: এটি জর্ডানের অন্তর্ভুক্ত শামের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর অন্যতম।
দ্বিতীয়টি: আবেলুল কামহ: দামেস্কের প্রশাসনিক অঞ্চলের বানিয়াস এলাকার একটি গ্রাম।
তৃতীয়টি: আবেল: এটি হিমস শহরের দক্ষিণ দিকের একটি গ্রাম, যার মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় এক ফারসাখ।
আর আল-আবাল্লি: হামযা এবং মুওয়াহহাদা (বা) উভয় বর্ণে যবর যোগে: এটি পিতামহের প্রতি একটি সম্বন্ধ, যার মাধ্যমে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٧)
الْفرج بن أبلة الأبلي، روى عَن أبي الْحُسَيْن الشالوسي الطَّبَرِيّ، وَعنهُ الْحَافِظ أَبُو طَاهِر السلَفِي، وَقَالَ: وَكَانَ شَيخا صَالحا، وَلَا أَقف على نسبه الْآن، قَالَه فِي " مُعْجم السّفر ".
وَأما الإبلي: بِكَسْر الْهمزَة، وَفتح الْمُوَحدَة، نِسْبَة إِلَى الْإِبِل؛ مَا عَلمته، وَإِنَّمَا فتحُوا الْمُوَحدَة فِي النّسَب استثقالا لتوالي الكسرات يُقَال: رجل إبلي - بِفَتْح الْمُوَحدَة - أَي صَاحب إبل.
وأبلي: بِضَم أَوله، وَسُكُون الْمُوَحدَة، وَكسر اللَّام، مشددا وزان فعلي: مَوضِع يُقَال لَهُ: رجلة أبلي، ذكره أَبُو عبيد الْبكْرِيّ فِي " مُعْجَمه " الْمُخْتَص بالبلدان، وَهُوَ غير أبلي وزان حُبْلَى، هَذَا مَوضِع بَين مَكَّة وَالْمَدينَة بِأَرْض بني سليم، لَهُ ذكر فِي الْبعُوث.
والأيكي: بِفَتْح الْهمزَة، وَسُكُون الْمُثَنَّاة تَحت، ثمَّ كَاف مَكْسُورَة: مُحَمَّد بن أبي بكر بن مُحَمَّد الْفَارِسِي الأيكي الصُّوفِي الْفَقِيه الشَّافِعِي، توفّي بالمزة سنة سبع وَتِسْعين وست مئة، وَله سَبْعُونَ سنة. شرح مُقَدّمَة " مُخْتَصر " ابْن الْحَاجِب، وَأَخذه عَنهُ قِرَاءَة وبحثا
আল-ফারাজ ইবনে আবলাহ আল-উবুল্লি, তিনি আবু আল-হুসাইন আশ-শালুসি আত-তাবারির নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে হাফেজ আবু তাহের আস-সিলাফি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "তিনি একজন নেককার শায়খ ছিলেন, বর্তমানে তাঁর বংশপরিচয় সম্পর্কে আমার জানা নেই।" এটি তিনি "মুজামুস সাফার" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
আর আল-ইবালি: এটি হামযাহ-এর নিচে কাসরা এবং দ্বিতীয় বর্ণের (বা) ওপর ফাতহা যোগে গঠিত, যা 'ইবিল' (উট)-এর সাথে সম্পর্কিত। আমি এটি সম্পর্কে অবগত নই, তবে তারা নিসবত (সম্পর্ক) করার সময় দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহা প্রদান করেছেন যাতে উপর্যুপরি কাসরার কারণে উচ্চারণ কঠিন না হয়। বলা হয়: 'রাজুলুন ইবালি' (বা-এর ওপর ফাতহা দিয়ে), যার অর্থ উটের মালিক।
আর উবুল্লি: প্রথম অক্ষরে দম্মাহ (পেশ), দ্বিতীয় অক্ষরে সুকুন এবং লাম-এর নিচে কাসরা (জের) ও তাশদীদ সহকারে 'ফু'আল্লি' এর ওজনে। এটি একটি স্থানের নাম যাকে 'রিজলাতু উবুল্লি' বলা হয়। আবু উবাইদ আল-বাকরি দেশ ও শহর সংক্রান্ত তাঁর 'মুজাম' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। এটি 'আবলা' থেকে ভিন্ন যা 'হুবলা' এর ওজনে হয়; এটি মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী বনু সুলাইম গোত্রের ভূমিতে অবস্থিত একটি স্থান, যার উল্লেখ বিভিন্ন যুদ্ধের বর্ণনায় এসেছে।
আর আল-আইকি: হামযাহ-এর ওপর ফাতহা, নিচে দু-নুক্তাওয়ালা ইয়া-এর ওপর সুকুন এবং এরপর কাফ-এর নিচে কাসরা যোগে। তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসি আল-আইকি আস-সুফি আল-ফকিহ আশ-শাফিয়ি। তিনি ছয়শ সাতানব্বই হিজরি সনে সত্তর বছর বয়সে আল-মিযযাহ নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন। তিনি ইবনুল হাজিব রচিত 'মুখতাসার'-এর ভূমিকার ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং ছাত্ররা তাঁর নিকট পাঠ ও গবেষণার মাধ্যমে তা গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٨)
أَبُو الْحسن عَليّ بن أَيُّوب الْمَقْدِسِي، كَانَ ماهرا فِي المعقولات، وَحكي عَنهُ لما مَاتَ، مِنْهَا أَنه لما عمل سَماع بالخانقاة الصلاحية بِالْقَاهِرَةِ وَهُوَ إِذْ ذَاك شيخها، فَحَضَرَ السماع جمَاعَة، فيهم شَاب أَمْرَد، فعانقه الْعَفِيف التلمساني بِحَضْرَة الأيكي وَالْجمع، وَقَبله، وَقَالَ لَهُ: أَنْت
… وذك الِاسْم الشريف، سُبْحَانَ الله عَمَّا يشركُونَ، فَأنْكر على الأيكي عدم إِنْكَاره لذَلِك، فَقَامُوا عَلَيْهِ، وعزل من المشيخة، وَنزل إِلَى دمشق، فَهَلَك بالمزة كَمَا تقدم.
قَالَ: أَبَة.
قلت: بِفَتْح أَوله، وَالْمُوَحَّدَة الْمُشَدّدَة، تَلِيهَا هَاء.
قَالَ: إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن فيرة الْأَصْبَهَانِيّ الطيان، يعرف بِابْن أَبَة.
قلت: هَذَا غير مَعْرُوف، وَإِنَّمَا أَبَة لقب إِبْرَاهِيم الْمَذْكُور، هَكَذَا جزم بِهِ أَبُو بكر الشِّيرَازِيّ فِي " الألقاب "، وَابْن مَاكُولَا فِي " الْإِكْمَال "، وَابْن نقطة فِي " الذيل "، وَقَالَ شيرويه فِي كِتَابه " طَبَقَات الهمذانيين ": إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن الْحسن الطيان الْأَصْبَهَانِيّ، يعرف بأبة، وبابن فيرة، روى عَن أبي مَسْعُود أَحْمد بن الْفُرَات، وهناد بن السّري، وَمُحَمّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ، وَإِسْمَاعِيل بن عبد الله سمويه، وَذكر شيرويه جمَاعَة
আবুল হাসান আলী বিন আইয়ুব আল-মাকদিসি। তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক শাস্ত্রে (মা’কুলাত) অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে তাঁর মৃত্যুর পর বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন কায়রোর খানকাহ-ই সালাহিয়্যাহ-তে ‘সামা’ (মজলিস) অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন—তখন তিনি সেখানকার প্রধান শাইখ ছিলেন—তখন সেখানে একদল লোক উপস্থিত হয়। তাদের মধ্যে একজন দাড়িহীন কিশোর ছিল। তখন আল-আফিফ আত-তিলিমসানি আল-আইকি এবং উপস্থিত সকলের সামনে তাকে আলিঙ্গন করেন ও চুম্বন করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে বলেন: “তুমিই হলে
…” এবং তিনি সেই বরকতময় নাম উচ্চারণ করেন। তারা যে শিরক করে তা থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কতই না পবিত্র! অতঃপর আল-আইকি এই কাজের প্রতিবাদ না করায় তিনি (মাকদিসি) তার তীব্র সমালোচনা করেন। এর ফলে লোকজন তাঁর বিরুদ্ধে চলে যায় এবং তাঁকে প্রধান শাইখের পদ থেকে অপসারিত করা হয়। এরপর তিনি দামেস্কে চলে যান এবং পূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে, আল-মাজ্জাহ নামক স্থানে তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি (মূল লেখক) বলেন: আব্বাহ।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: শব্দের শুরুতে ফাতহা (জবর) এবং পরবর্তী বর্ণ ‘বা’-এর ওপর তাশদীদ, যার পর একটি ‘হা’ রয়েছে।
তিনি বলেন: ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন ফায়রাহ আল-আসবাহানি আত-তায়্যান, তিনি ইবনে আব্বাহ নামে পরিচিত।
আমি বলছি: এটি (ইবনে আব্বাহ হিসেবে) পরিচিত নয়, বরং ‘আব্বাহ’ হলো উক্ত ইবরাহিমের উপাধি (লাকাব)। এ বিষয়টিই আবু বকর আশ-শিরাজি তাঁর ‘আল-আলকাব’ গ্রন্থে, ইবনে মাকুলা তাঁর ‘আল-ইকমাল’ গ্রন্থে এবং ইবনে নুকতাহ ‘আয-যাইল’ গ্রন্থে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন। শিরওয়াইহ তাঁর ‘তাবাকাতুল হামাদানিইয়িন’ গ্রন্থে বলেছেন: ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আত-তায়্যান আল-আসবাহানি, তিনি আব্বাহ এবং ইবনে ফায়রাহ নামে পরিচিত। তিনি আবু মাসউদ আহমদ বিন আল-ফুরাত, হান্নাদ বিন আস-সারী, মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি এবং ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ সামুওয়াইহ থেকে বর্ণনা করেছেন। শিরওয়াইহ আরও একদল লোকের নাম উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٩)
أَيْضا مِمَّن روى عَنهُ أَبَة هَذَا. وَلم يذكرهُ المُصَنّف فِي حرف الْفَاء بلقبه.
وخطلغ: أَبَة بن قمربة التركي الوَاسِطِيّ، شيخ الْحسن بن مُحَمَّد الْبكْرِيّ.
قَالَ: و [أنة] بنُون: عَمْرو بن سعيد بن أنة الجمّال، روى عَن يَعْقُوب الْحَضْرَمِيّ حرفه.
قلت: وَمثله أنة المخنث الَّذِي كَانَ على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ذكره المُصَنّف فِي " التَّجْرِيد "، يرْوى أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم سَمعه يصف امْرَأَة، فَقَالَ: " يَا أنة، اخْرُج من الْمَدِينَة إِلَى حَمْرَاء الْأسد، فَلْيَكُن بهَا مَنْزِلك، وَلَا تدخلن الْمَدِينَة إِلَّا أَن يكون عيدا تشهده ".
وأتة: بِضَم أَوله، وَفتح الْمُثَنَّاة فَوق مُشَدّدَة: أتة بن سعد بن مُحَمَّد بن بَحر بن ضبع بن أتة بن يحمد. لجده بَحر وفادة، شهد فتح مصر، ذكره ابْن يُونُس فِي " تَارِيخه "، وَمن ولد بَحر أَبُو بكر بن مُحَمَّد بن بَحر السمين، ولي مراكب دمياط سنة إِحْدَى ومئة فِي خلَافَة
আরও তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের থেকে এই আবাহ বর্ণনা করেছেন। লেখক তাকে ‘ফা’ বর্ণের অধীনে তার উপাধিতে উল্লেখ করেননি।
এবং খাতলাগ: আবাহ ইবনে কুমরাবাহ আত-তুর্কি আল-ওয়াসিতি, তিনি আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকরির উস্তাদ।
তিনি বলেন: এবং [আনাহ] ‘নুন’ বর্ণের সাথে: আমর ইবনে সাঈদ ইবনে আনাহ আল-জাম্মাল, তিনি ইয়াকুব আল-হাদরামির নিকট থেকে তাঁর কিরাত বর্ণনা করেছেন।
আমি বলি: এবং তাঁর মতোই হলেন আনাহ হিজড়া, যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ছিলেন। লেখক তাকে ‘আত-তাজরিদ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এক মহিলার বর্ণনা দিতে শুনেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: “হে আনাহ, মদিনা থেকে হামরাউল আসাদে চলে যাও, সেখানেই তোমার আবাসস্থল হোক এবং তুমি মদিনায় প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না তা কোনো ঈদ হয় যাতে তুমি উপস্থিত হতে পারো।”
এবং আত্তাহ: প্রথম বর্ণে পেশসহ এবং ওপরের দুই নুকতাযুক্ত বর্ণে তাশদীদ ও যবরসহ: আত্তাহ ইবনে সা'দ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাহর ইবনে দাব' ইবনে আত্তাহ ইবনে ইয়াহমাদ। তাঁর দাদা বাহরের প্রতিনিধি হিসেবে আগমনের মর্যাদা রয়েছে, তিনি মিশর বিজয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ইবনে ইউনুস তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করেছেন। আর বাহরের বংশধরদের মধ্যে রয়েছেন আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাহর আস-সামিন, তিনি একশত এক হিজরি সনে খিলাফতের অধীনে দামিয়েতের নৌযানসমূহের দায়িত্বে ছিলেন।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمد لله الَّذِي شرح لِلْمُتقين بتوضيح المشتبه صدورا، وَجعل لسالكي سنَن السّنَن المحمدية نورا، فتبصر بتحقيقه كل مِنْهُم وانتبه، وتوصل بتدقيقه إِلَى بَيَان مَا أشكل واشتبه، حَتَّى صَار الْمُطلق مُقَيّدا، والمعطل بالتحلية مشيدا، وَبَين الْمُبْهم، وأعرب المعجم، واتسع للطَّالِب المجال، وحرست حوزة السّنة بضبط الرِّجَال، فَللَّه الْحَمد على نعمه، وَله الشُّكْر على طوله وَكَرمه، وَأفضل الصَّلَاة وأزكى السَّلَام على رَسُوله مُحَمَّد سيد الْأَنَام، وعَلى آله الأطيبين وَأَصْحَابه الْكِرَام.
أما بعد:
فَإِن كتاب " المشتبه فِي الرِّجَال، أسمائهم وأنسابهم " الَّذِي أَلفه فِي سنة ثَلَاث وَعشْرين وَسبع مئة الإِمَام الْحَافِظ الْكَبِير، الثِّقَة الْحجَّة، شيخ الْمُحدثين، عُمْدَة المؤرخين، أَبُو عبد الله الذَّهَبِيّ رحمه الله، كتاب مُشْتَمل على فَوَائِد، محتو على نفائس فرائد، لَيْسَ لَهُ فِي مَجْمُوعه نَظِير، لَكِن اختصاره أدّى إِلَى التَّقْصِير، وَقد صرح بالمبالغة فِي اختصاره مُؤَلفه، وأحال فِيهِ على ضبط الْقَلَم من خطّ من يتقنه ويعرفه، فَقَالَ فِيمَا أخبرنَا وَلَده الشَّيْخ الْمسند الْكَبِير، الْمُحدث أَبُو هُرَيْرَة عبد الرَّحْمَن بن
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সংশয়যুক্ত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করার মাধ্যমে মুত্তাকীদের অন্তরসমূহকে উন্মোচিত করেছেন এবং মুহাম্মাদী সুন্নাহর পথযাত্রীদের জন্য একে আলো স্বরূপ করেছেন। ফলে তাদের প্রত্যেকেই এর সূক্ষ্ম গবেষণার দ্বারা দৃষ্টিমান ও জাগ্রত হয়েছে এবং এর গভীর বিশ্লেষণের মাধ্যমে জটিল ও অস্পষ্ট বিষয়গুলোর বর্ণনায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি এর ফলে অবারিত বিষয়গুলো সুসংহত হয়েছে, আর অলংকারহীন বিষয়গুলো সুশোভিত হয়ে সুদৃঢ় হয়েছে; অস্পষ্ট বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে, দুর্বোধ্য বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে এবং জ্ঞানান্বেষীদের জন্য ক্ষেত্র প্রশস্ত হয়েছে। আর বর্ণনাকারীদের যথাযথ বিন্যাসের মাধ্যমে সুন্নাহর সীমানা সংরক্ষিত হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর নিআমতের জন্য তাঁরই প্রশংসা এবং তাঁর বদান্যতা ও অনুগ্রহের জন্য তাঁরই কৃতজ্ঞতা। আর সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর।
অত:পর:
নিশ্চয়ই 'আল-মুশতাবিহ ফির-রিজাল, আসমা-ইহিম ওয়া আনসাবিহিম' (বর্ণনাকারীদের নাম ও বংশপরিচয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ অস্পষ্টতা) নামক গ্রন্থটি—যা সাতশ তেইশ হিজরীতে রচনা করেছেন মহান ইমাম, হাফিয, নির্ভরযোগ্য দলিল, মুহাদ্দিসগণের শাইখ, ঐতিহাসিকদের স্তম্ভ আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)—এমন একটি কিতাব যা বহুবিধ উপকারিতা ও অনন্য রত্নভাণ্ডারে সমৃদ্ধ। সংকলন হিসেবে এর কোনো নজির নেই, তবে এর সংক্ষিপ্ততা কিছু অপূর্ণতার সৃষ্টি করেছে। এর লেখক নিজেই এর অত্যধিক সংক্ষিপ্তকরণের কথা স্পষ্ট করেছেন এবং এতে যারা এই শাস্ত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ তাদের লেখনীর সূক্ষ্মতা ও নির্ভুলতার ওপর নির্ভর করেছেন। তাঁর সন্তান মহান শাইখ, মুসনিদ, মুহাদ্দিস আবু হুরায়রা আবদুর রহমান বিন... আমাদের যা জানিয়েছেন তাতে তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١١٦)
الْحَافِظ الْكَبِير أبي عبد الله مُحَمَّد بن أَحْمد بن عُثْمَان ابْن الذَّهَبِيّ إجَازَة - إِن لم يكن سَمَاعا - قَالَ: أخبرنَا أبي أَبُو عبد الله كَذَلِك، قَالَ:
الْحَمد لله الَّذِي لم يتَّخذ ولدا، وَلم يشركهُ فِي الْملك أحد أبدا، وَلم يكن لَهُ ولي من الذل على اسْتِمْرَار المدى، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ إِلَهًا صمدا، وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله أرْسلهُ بِالْهدى، وَجعل دينه ظَاهرا مؤيدا، ومناره عَالِيا مشيدا، صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله صَلَاة لَا تحصى عددا.
هَذَا كتاب مبارك، جم الْفَائِدَة فِي معرفَة مَا يشْتَبه ويتصحف من الْأَسْمَاء والأنساب، والكنى والألقاب، مِمَّا اتّفق وضعا، وَاخْتلف نطقا، وَيَأْتِي غالبه فِي الْأَسَانِيد والمرويات، اخترته، وَقربت لَفظه، وبالغت فِي اختصاره، بعد أَن كنت علقت فِي ذَلِك كَلَام الْحَافِظ عبد الْغَنِيّ بن سعيد الْأَزْدِيّ فِي المشتبه والمختلف، وَكَلَام الْأَمِير الْحَافِظ أبي نصر بن مَاكُولَا، وَكَلَام الْحَافِظ أبي بكر بن نقطة، وَكَلَام شَيخنَا أبي الْعَلَاء الفرضي، وَغَيرهم، وأضفت إِلَى ذَلِك مَا وَقع لي أَو تنبهت لَهُ.
فَاعْلَم - أرشدك الله - أَن الْعُمْدَة فِي مختصري هَذَا على ضبط الْقَلَم إِلَّا فِيمَا يصعب وَيشكل، فيقيد وَيشكل، وَبِاللَّهِ أتأيد، وَعَلِيهِ أتوكل.
فأتقن يَا أخي نسختك، وَاعْتمد على الشكل والنقط وَلَا بُد، وَإِلَّا لم تصنع شَيْئا. انْتهى.
মহান হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে উসমান ইবনুত জাহাবি ইজাজাতান—যদি সরাসরি শ্রবণ করা না হয়ে থাকে—বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা আবু আব্দুল্লাহ অনুরূপভাবে, তিনি বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, এবং তাঁর রাজত্বে কখনো কেউ তাঁর শরীক ছিল না, আর হীনতার কারণে তাঁর কোনো অভিভাবকের প্রয়োজন হয়নি কালপরম্পরায়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তিনি অমুখাপেক্ষী উপাস্য। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাকে তিনি হেদায়েতসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী ও সমর্থিত করেছেন এবং এর মিনারকে করেছেন সুউচ্চ ও সুদৃঢ়। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর অগণিত সালাত বর্ষিত হোক।
এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা নাম, বংশপরিচয়, উপনাম ও উপাধিসমূহের মধ্যে যে বিষয়গুলো অস্পষ্ট বা বিভ্রান্তিকর হয়ে থাকে (যা লেখায় এক কিন্তু উচ্চারণে ভিন্ন) তা জানার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। এর অধিকাংশই সনদ ও বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহে পাওয়া যায়। আমি এটি নির্বাচন করেছি, এর শব্দাবলি সহজবোধ্য করেছি এবং এটিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করেছি; এর আগে আমি এ বিষয়ে হাফিজ আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আজদির 'আল-মুশতাবিহ ওয়াল মুখতালিফ', আমির হাফিজ আবু নাসর ইবনে মাকুলা, হাফিজ আবু বকর ইবনে নুকতাহ, আমাদের শায়খ আবু আল-আলা আল-ফারদি এবং অন্যদের বক্তব্যসমূহ টিকা হিসেবে সংকলন করেছিলাম। অতঃপর এর সাথে আমি তা যুক্ত করেছি যা আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে বা আমি সেদিকে লক্ষ্য করেছি।
সুতরাং জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন—যে আমার এই সংক্ষেপিত গ্রন্থে মূল ভিত্তি হলো লেখনীর শুদ্ধতা রক্ষা করা, তবে যেখানে বিষয়টি কঠিন ও অস্পষ্ট হয়ে যায়, সেখানে হরকত বা নুকতা দিয়ে তা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আর আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করছি।
অতএব হে ভাই, আপনার অনুলিপিটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করুন এবং অবশ্যই হরকত ও নুকতার ওপর নির্ভর করুন, নতুবা আপনি কিছুই করতে পারবেন না। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١١٧)
قلت: ضبط الْقَلَم لَا يُؤمن التحريف عَلَيْهِ، بل تتطرق أَوْهَام الظانين إِلَيْهِ، لَا سِيمَا عِنْد من علمه من الصُّحُف بالمطالعة، من غير تلق من الْمَشَايِخ وَلَا سُؤال وَلَا مُرَاجعَة.
وَهَذَا الْكتاب أَرَادَ مُصَنفه بِهِ زَوَال الْإِشْكَال، وَبَيَان متشابه أَسمَاء الرِّجَال، لَكِن الِاخْتِصَار - وَالله أعلم - قَادَهُ إِلَى كثر من الإهمال، فَترك التَّقْيِيد بالحروف واحتكم، وَجعل اعْتِمَاد طَالبه على ضبط الْقَلَم، فأشكل بذلك مَا أَرَادَ بَيَانه، وخفي بِسَبَبِهِ مَا قصد إعلانه.
فأوضحت - وَللَّه الْحَمد - مَا أهمله، وبينت مَا أجمله، وَفتحت مَا أقفله، وأفصحت عَمَّا أغفله، وَرفعت فِي بعض الْأَنْسَاب، ونبهت على الصَّوَاب مِمَّا وَقع خطأ فِي الْكتاب، غير أَنِّي لم أَحول تَرْجَمَة من تبويبه، وَإِن كَانَ نقلهَا إِلَى محلهَا أفيد فِي ترتيبه، غيرَة على تَغْيِير التصنيف، وفرقا من تَفْرِيق التَّأْلِيف، وفصلت ب " قلت " الزِّيَادَة، وب " قَالَ " كَلَام المُصَنّف وَمرَاده، فَصَارَ الْكتاب - وَللَّه الْحَمد والْمنَّة - كَافِيا فِي بَابه، مسعفا بغرض طلابه، وَالله الْكَرِيم أسأَل من آلائه الباهرة، ونعمائه الغامرة، أَن ينفع بِهِ دنيا وآخرة، فَهُوَ خير المسؤولين، وَأكْرم المعطين، وَبِه لَا إِلَه سواهُ نستعين.
قَالَ المُصَنّف رحمه الله: أَحْمد: الجادة.
قلت: ابْتَدَأَ المُصَنّف رحمه الله بِأَحْمَد تبركا باسم النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَحْمد، وتقديما لَهُ على غَيره، وَسمي بِهَذَا الِاسْم خلق، وَلِهَذَا قَالَ المُصَنّف: أَحْمد الجادة، وَكَثِيرًا مَا يعبر عَن الْأَكْثَر وَنَحْوه بالجادة، وَهِي لُغَة: مُعظم الطَّرِيق.
আমি বলি: কলমের লেখনী বা নুকতা বিকৃতি থেকে নিরাপদ নয়, বরং এতে পাঠকদের বিভ্রম ঘটার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে তাদের ক্ষেত্রে যারা কোনো উস্তাদ বা শায়খের কাছ থেকে সরাসরি পাঠ গ্রহণ না করে এবং কোনো প্রশ্ন বা পর্যালোচনা ছাড়াই কেবল কিতাব পাঠের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে।
এই কিতাবটির মাধ্যমে এর সংকলক অস্পষ্টতা দূর করা এবং বর্ণনাকারীদের সদৃশ নামসমূহ স্পষ্ট করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু—আল্লাহ ভালো জানেন—সংক্ষিপ্ত করার প্রবণতা তাকে অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষার দিকে ধাবিত করেছে। তিনি বর্ণের বর্ণনার মাধ্যমে নাম সুনির্দিষ্ট করা ছেড়ে দিয়েছেন এবং এর পরিবর্তে কেবল লেখনীর বিন্যাসের ওপর নির্ভর করেছেন। ফলে যা তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছিলেন তা আরও জটিল হয়ে পড়েছে এবং যা তিনি প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন তা এর কারণে অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
তাই আমি—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—যা তিনি উপেক্ষা করেছিলেন তা স্পষ্ট করেছি, যা তিনি সংক্ষেপে লিখেছিলেন তা বিস্তারিত করেছি, যা তিনি অস্পষ্ট রেখেছিলেন তা উন্মোচন করেছি এবং যা তিনি ভুলবশত ছেড়ে দিয়েছিলেন তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছি। আমি কিছু বংশপরম্পরা বা নাসাব উন্নত করেছি এবং মূল কিতাবে ঘটে যাওয়া ভুলগুলোর সঠিক রূপ সম্পর্কে সতর্ক করেছি। তবে আমি মূল লেখকের অধ্যায় বিন্যাস থেকে কোনো জীবনী অন্য কোথাও সরিয়ে নিইনি, যদিও বিন্যাসের বিচারে তা পরিবর্তন করা অধিক উপকারী হতো। এটি করা হয়েছে মূল রচনাটি পরিবর্তনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এবং সংকলনটি যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে না যায় সে আশঙ্কায়। আমি "আমি বলছি" শব্দের মাধ্যমে আমার সংযোজন এবং "তিনি বলেছেন" শব্দের মাধ্যমে মূল লেখকের বক্তব্য ও উদ্দেশ্যকে পৃথক করেছি। ফলে আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে কিতাবটি এই বিষয়ে পর্যাপ্ত এবং জ্ঞানপিপাসুদের উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর উজ্জ্বল নিআমতসমূহ এবং অবারিত করুণার উসিলায় প্রার্থনা করছি যেন তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে এর দ্বারা উপকার দান করেন। তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং দানকারীদের মধ্যে সবচেয়ে উদার। তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই এবং আমরা কেবল তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: আহমদ: এটিই প্রচলিত পথ (আল-জাদ্দাহ)।
আমি বলছি: লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম 'আহমদ'-এর মাধ্যমে বরকত অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং একে অন্য সব নামের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার জন্য 'আহমদ' নাম দিয়ে শুরু করেছেন। অসংখ্য মানুষের নামকরণ এই নামে করা হয়েছে, এজন্যই লেখক বলেছেন: "আহমদ হলো আল-জাদ্দাহ (অত্যধিক প্রচলিত)"। অধিকাংশ বা এ জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রায়শই 'জাদ্দাহ' শব্দটি ব্যবহার করা হয়, যার আভিধানিক অর্থ হলো: প্রধান পথ বা প্রশস্ত রাস্তা।
(খণ্ড: ١)
তাওদীহুল মুশতাবিহ
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
قَالَ: وأجمد بِالْجِيم: أجمد بن عجيان، شهد فتح مصر، وعجيان بِوَزْن عُثْمَان، وَقيل: بِوَزْن عليان.
قلت: أجمد هَذَا همداني مَعْدُود فِي الصَّحَابَة، ذكره ابْن يُونُس فِي " تَارِيخه "، فَقَالَ: وَفد على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، وَشهد فتح مصر، وخطته بجيزة الْفسْطَاط، وَهُوَ رجل مَعْرُوف من أهل مصر، وَمَا عرفت لَهُ رِوَايَة. انْتهى. وَالْمَشْهُور فِي اسْم أَبِيه التَّشْدِيد، وَضَبطه أَبُو الْحسن مُحَمَّد بن الْعَبَّاس بن أَحْمد بن مُحَمَّد بن الْفُرَات الْبَغْدَادِيّ وزان سُفْيَان.
وَقَالَ: وأحمر: غير ملبس.
قلت: يَعْنِي بالراء فِي آخِره مهملا، وَمِمَّنْ سمي كَذَلِك أَحْمَر الْهَمدَانِي، صَحَابِيّ، شهد فتح مصر، اسْم أَبِيه: قطن
قَالَ: الآبري.
قلت: بِفَتْح الْهمزَة الممدودة، تَلِيهَا مُوَحدَة مَضْمُومَة، ثمَّ رَاء مَكْسُورَة مُخَفّفَة.
قَالَ: أَبُو الْحسن مُحَمَّد بن الْحُسَيْن الآبري السجْزِي الْحَافِظ وآبر: من قرى سجستان، صنف " مَنَاقِب الشَّافِعِي "، وَسمع من ابْن خُزَيْمَة، وطبقته. وَعنهُ: عَليّ بن بشرى اللَّيْثِيّ السجسْتانِي.
قلت: هُوَ ابْن الْحُسَيْن بن إِبْرَاهِيم بن عَاصِم بن عبد الله، توفّي فِي
তিনি বলেন: ‘আজমাদ’ (জীম সহযোগে): আজমাদ ইবন উজইয়ান, তিনি মিশর বিজয়ে অংশ নিয়েছিলেন। আর ‘উজইয়ান’ শব্দটি ‘উসমান’-এর ওজনে, আবার কেউ কেউ বলেছেন ‘ইলইয়ান’-এর ওজনে।
আমি বলছি: এই আজমাদ হলেন একজন হামদানী, তিনি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হন। ইবন ইউনুস তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে তাঁকে উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রতিনিধি দলে এসেছিলেন এবং মিশর বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন। ফুসতাতের গিজা অঞ্চলে তাঁর বসবাসের স্থান ছিল। তিনি মিশরের অধিবাসীদের মধ্যে একজন পরিচিত ব্যক্তি, তবে তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা আছে বলে আমার জানা নেই। সমাপ্ত। তাঁর পিতার নামের ক্ষেত্রে তাশদীদ হওয়াই প্রসিদ্ধ। আবু হাসান মুহাম্মাদ ইবন আল-আব্বাস ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-ফুরাত আল-বাগদাদী একে ‘সুফইয়ান’-এর ওজনে নির্ধারণ করেছেন।
তিনি বলেন: ‘আহমার’: অস্পষ্টতা নেই।
আমি বলছি: অর্থাৎ এর শেষে নুকতাহীন ‘রা’ রয়েছে। যাঁদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছে তাঁদের অন্যতম হলেন আহমার আল-হামদানী। তিনি একজন সাহাবী এবং মিশর বিজয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর পিতার নাম ছিল কাতান।
তিনি বলেন: আল-আবরী।
আমি বলছি: দীর্ঘ স্বরযুক্ত ফাতহা বিশিষ্ট হামজা, এরপর পেশ বিশিষ্ট বা, অতঃপর তাসদীদবিহীন কাসরা বিশিষ্ট রা।
তিনি বলেন: আবু হাসান মুহাম্মাদ ইবন আল-হুসাইন আল-আবরী আস-সিজজী আল-হাফিজ। আর ‘আবর’ হলো সিজিস্তানের একটি গ্রাম। তিনি ‘মানাকিবুশ শাফিঈ’ রচনা করেছেন এবং ইবন খুজাইমাহ ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকে বর্ণনা শুনেছেন। তাঁর থেকে আলি ইবন বুশরা আল-লাইসী আস-সিজিস্তানী বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: তিনি হলেন ইবন আল-হুসাইন ইবন ইবরাহীম ইবন আসিম ইবন আব্দুল্লাহ। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন...