(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: -)
الكشف الحثيث   (البرهان الحلبي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الكشف الحثيث عمن رمي بوضع الحديث

المؤلف: برهان الدين الحلبي أبو الوفا إبراهيم بن محمد بن خليل الطرابلسي الشافعي سبط ابن العجمي (ت 841 هـ)

المحقق: صبحي السامرائي [ت 1434 هـ]

الناشر: عالم الكتب , مكتبة النهضة العربية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1407 - 1987

عدد الصفحات: 291

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কাশফ আল-হাথীস   (আল-বুরহান আল-হালাবী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: হাদীস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে যথাযথ অনুসন্ধান

লেখক: বুরহান উদ্দিন আল-হালাবী আবু আল-ওয়াফা ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খলীল আত-তরাবুলুসী আশ-শাফেয়ী সিবত ইবনুল আজমী (মৃত্যু ৮৪১ হিজরী)

সম্পাদক: সুবহী আস-সামাররাঈ [মৃত্যু ১৪৩৪ হিজরী]

প্রকাশক: আলম আল-কুতুব, মাকতাবাতুন নাহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৭ - ১৯৮৭

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯১

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٢٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

(مُقَدّمَة الْمُؤلف)

 

الْحَمد لله الَّذِي جعل الْكَذِب سوى مَا رخص فِيهِ فِي ملتنا محرما فِي جَمِيع الْملَل، وَلَا سِيمَا إِذا كَانَ على الله عز وجل، أَو على أحد من الْأَنْبِيَاء أَو الرُّسُل وصير حفظ اللِّسَان مَطْلُوبا فِي كل دين يعْتَقد خُصُوصا ديننَا الَّذِي لَيْسَ فِيهِ شَيْء ينْتَقد، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله الصَّادِق وعده رسله الَّذِي لَا يخيب من حفظ لِسَانه وأمله، وَأشْهد أَن سيدنَا مُحَمَّد الصَّادِق المصدوق الَّذِي بلغ مَا أنزل الله إِلَيْهِ، وَلم يحطه وَلَا بعض ثفروق. صلى الله عليه وسلم، وَزَاد فضلا وشرفا لَدَيْهِ، وعَلى أَصْحَابه الْأُمَم الصَّادِقين اللهجة، الَّذين بلغُوا مَا قَالَ لَهُم نَبِيّهم أَو فعله أَو أقره وَكَانُوا على من بعدهمْ الْحجَّة. أما بعد: فقد رُوِيَ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ: (يطبع الْمُؤمن على كل خصْلَة إِلَّا الْخِيَانَة وَالْكذب) . رَوَاهُ ابْن أبي شيبَة فِي المُصَنّف من حَدِيث أبي أُمَامَة. وَرَوَاهُ ابْن عدي أَبُو أَحْمد الْحَافِظ فِي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

(লেখকের ভূমিকা)

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের শরীয়তে যতটুকু অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা ব্যতীত মিথ্যাকে সকল ধর্মে হারাম করেছেন; বিশেষ করে তা যদি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা অথবা কোনো নবী বা রাসূলের ওপর আরোপ করা হয়। এবং তিনি জিহ্বা হেফাজত করাকে প্রতিটি অনুসৃত ধর্মে কাম্য করেছেন, বিশেষ করে আমাদের এই দ্বীনে—যাতে সমালোচনা করার মতো কিছুই নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি তাঁর রাসূলদের প্রতি কৃত ওয়াদায় সত্যবাদী, যিনি তাঁর জিহ্বা হেফাজতকারী এবং তাঁর নিকট আশাকারীকে নিরাশ করেন না। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যবাদী ও সত্যবাদী হিসেবে স্বীকৃত, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পরিপূর্ণ পৌঁছে দিয়েছেন এবং এর সামান্যতম অংশও গোপন বা হ্রাস করেননি। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক এবং তাঁর নিকট তাঁর মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পাক। এবং তাঁর সেই সত্যবাদী বাকপটু সাহাবীবৃন্দের ওপরও রহমত বর্ষিত হোক, যারা তাদের নবীর বাণী, কাজ অথবা তাঁর অনুমোদিত বিষয়সমূহ পৌঁছে দিয়েছেন এবং যারা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দলিল স্বরূপ ছিলেন। অতঃপর: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (মুমিনের স্বভাবের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা ও মিথ্যা ব্যতীত সকল বৈশিষ্ট্যই থাকতে পারে)। এটি ইবনে আবি শাইবা তাঁর 'মুসান্নাফ'-এ আবু উমামা-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং এটি হাফেজ আবু আহমদ ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٢٤)
مُقَدّمَة الْكَامِل من حَدِيث سعد بن أبي وَقاص أحد الْعشْرَة رضي الله عنهم، وَابْن عمر، وَأبي أُمَامَة أَيْضا. ورويناه فِي كتاب الصمت لِابْنِ أبي الدُّنْيَا من حَدِيث سعد مَرْفُوعا وموقوفا، وَالْمَوْقُوف أشبه بِالصَّوَابِ قَالَه الدَّارَقُطْنِيّ. وَرَوَاهُ الإِمَام الذَّهَبِيّ فِي الْكَبَائِر فِي الْكَبِيرَة التَّاسِعَة وَسكت عَلَيْهِ، وَكَذَا فِي الْكَبِيرَة السَّادِسَة عشرَة، وَفِي الْكَبِيرَة الرَّابِعَة وَالْعِشْرين. قَالَ: رُوِيَ بِإِسْنَادَيْنِ ضعيفين.

وَقد جمعت فِي هَذَا الْكتاب من وَقعت عَلَيْهِ أَنه رمي بِوَضْع الحَدِيث على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وغالبهم انتخبته من كتاب ميزَان الِاعْتِدَال فِي نقد الرِّجَال لِلْحَافِظِ الجهبذ مؤرخ الْإِسْلَام شمس الدّين أبي عبد الله مُحَمَّد بن أَحْمد بن عُثْمَان بن الذَّهَبِيّ شيخ جمَاعَة من شُيُوخنَا رحمهم الله من أماكنهم فِيهِ وَمن تراجم غَيرهم، وزدت عَلَيْهِ تراجم من مَوْضُوعَات الْحَافِظ أبي الْفرج بن الْجَوْزِيّ، وَمن تَلْخِيص الْمُسْتَدْرك للْحَاكِم أبي عبد الله بن البيع تَلْخِيص الذَّهَبِيّ أَيْضا وَمن غَيرهَا. وَلم أذكر فِيهِ من قيل فِيهِ أَنه مُتَّهم، وَذَلِكَ لِأَنَّهُ يحْتَمل أَن يُرَاد بِهِ ذَلِك أَنه مُتَّهم بِالْكَذِبِ، وَهُوَ ظَاهر عبارَة أهل هَذَا الْفَنّ، وَإِنَّمَا أذكر فِيهِ من صرح فِي تَرْجَمته بِالْوَضْعِ، أَو ظن حَافظ من الْحفاظ أَنه وضع،
আল-কামিলের ভূমিকা, যা আশারায়ে মুবাশশারাহর অন্যতম সদস্য সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (আল্লাহ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট হোন), ইবনে উমর এবং আবু উমামাহ থেকেও বর্ণিত। আমরা এটি ইবন আবিদ দুনিয়ার 'কিতাবুস সামত'-এ সাদের হাদিস থেকে মারফু এবং মাওকুফ উভয় সূত্রে বর্ণনা করেছি; তবে মাওকুফ হওয়াটিই সঠিক হওয়ার অধিক নিকটবর্তী, যা ইমাম দারাকুতনি বলেছেন। ইমাম জাহাবি এটি তাঁর 'আল-কাবায়ের' গ্রন্থের নবম কবিরা গুনাহের আলোচনায় বর্ণনা করেছেন এবং এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন; অনুরূপভাবে ষোড়শ এবং চব্বিশতম কবিরা গুনাহের আলোচনায়ও এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি দুটি দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে।

আমি এই গ্রন্থে তাদের সংকলিত করেছি যাদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর হাদিস জাল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের অধিকাংশকেই আমি হাফিজ, বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ এবং ইসলামের ইতিহাসবিদ শামসুদ্দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আজ-জাহাবির (যিনি আমাদের একদল উস্তাদেরও উস্তাদ ছিলেন, আল্লাহ তাঁদের উপর রহম করুন) 'মিযানুল ইতিদাল ফি নাকদির রিজাল' গ্রন্থের সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ থেকে এবং অন্যান্যদের জীবনী থেকে নির্বাচন করেছি। তদুপরি আমি এতে হাফিজ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযির 'মাওদুআত', হাকিম আবু আবদুল্লাহ বিন আল-বাইয়্যি-এর 'আল-মুস্তাদরাক'-এর হাফিজ জাহাবি কৃত সংক্ষিপ্তসার (তালখিস) এবং অন্যান্য উৎস হতে অতিরিক্ত জীবনী যুক্ত করেছি। আমি এতে এমন কাউকে উল্লেখ করিনি যাদের সম্পর্কে কেবল 'অভিযুক্ত' বলা হয়েছে; কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে যে তিনি মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত, যা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের পরিভাষার প্রকাশ্য অর্থ। আমি কেবল তাদেরই এখানে উল্লেখ করেছি যাদের জীবনীতে স্পষ্টভাবে জালকারী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে অথবা কোনো হাফিজ (হাদিস বিশারদ) প্রবল ধারণা পোষণ করেছেন যে তিনি হাদিস জাল করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٢٥)
مَعَ أَن غَالب من قيل فِيهِ أَنه مُتَّهم بِغَيْر قيد رَأَيْته فِي كَلَام بعض الْأَئِمَّة وَقد صرح فِيهِ بِالْوَضْعِ، فَإِذا رَأَيْته كَذَلِك قد صرح عَنهُ بِالْوَضْعِ ذكرته، وَرُبمَا أذكر من قوى فِي فهمي من كَلَام بَعضهم أَنه وضع فأذكره، وَلَا أذكر فِيهِ من اقْتصر فِيهِ على أَنه دجال أَو كَذَّاب وَلَا يكذب، وَلَا مُتَّهم بِالْكَذِبِ. وَإِنَّمَا أذكر مِنْهُم من قد وَصفته لَك قبل ذَلِك قَرِيبا. وَقد رتبته على حُرُوف المعجم فِي الِاسْم وَاسم الْأَب ليسهل تنَاوله، وَمن كَانَت لَهُ رِوَايَة مِنْهُم فِي شَيْء من الْكتب السِّتَّة رقمت على اسْمه رقمه الْمَشْهُور عِنْد أهل الحَدِيث، وَإِذا كَانَ تشبه بِغَيْرِهِ أذكرهُ فِي أول من تشبه بِالْوَاحِدِ مِنْهُم (تَمْيِيز) ، وَتركت كثيرا مِمَّن يشبه بِالْوَاحِدِ مِنْهُم خوف الإطالة. ثمَّ ليعلم أَنِّي أذكر تراجمهم مختصرة جدا، وَمَا أذكر فِي التَّرْجَمَة إِلَّا مَوضِع الْحَاجة غَالِبا، وَإِلَّا فَلَو ذكرت كل مَا قيل فِي الْوَاحِد مِنْهُم لجاء مجلدا ضخما.

ثمَّ ليعلم أَن الْكَذِب على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَبِيرَة من الْكَبَائِر الْعِظَام، وَالْمَشْهُور أَن فَاعله لَا يكفر، إِلَّا أَن يسْتَحل ذَلِك، خلافًا لأبي مُحَمَّد الْجُوَيْنِيّ وَالِد إِمَام الْحَرَمَيْنِ، كِلَاهُمَا من الْأَئِمَّة الشَّافِعِيَّة حَيْثُ قَالَ: يكفر ويراق دَمه. وَقد ضعف ذَلِك وَلَده الإِمَام، وَجعله من هفوات وَالِده. وَقد رَأَيْت بعض الْفُضَلَاء مِمَّا انتقاه من كتاب الْمُقدمَات للْإِمَام الْحَافِظ عماد الدّين إِسْمَاعِيل بن كثير البصروي الدِّمَشْقِي، وَقد عاصرت الْمشَار إِلَيْهِ لكني لم أره وَهُوَ شيخ بعض شيوخي قَالَ: تَابعه على ذَلِك أَبُو الْفضل الْهَمدَانِي شيخ ابْن عقيل من الْحَنَابِلَة وَقد قَالَ الإِمَام الذَّهَبِيّ الَّذِي تقدّمت الْإِشَارَة إِلَيْهِ فِي كتاب الْكَبَائِر لَهُ وَقد أجَازه إِلَيّ بعض من قَرَأَهُ عَلَيْهِ مَا لَفظه: قد ذهبت طَائِفَة من الْعلمَاء إِلَى أَن
যদিও যাদের সম্পর্কে কোনো শর্ত ছাড়াই 'অভিযুক্ত' বলা হয়েছে, তাদের অধিকাংশকেই আমি কিছু ইমামের বক্তব্যে দেখেছি যে তাঁরা তাকে স্পষ্টভাবে হাদিস জালকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং যখন আমি দেখেছি যে তাকে স্পষ্টভাবে হাদিস জালকারী বলা হয়েছে, তখন আমি তা উল্লেখ করেছি। কখনো কখনো যাদের সম্পর্কে কিছু ইমামের বক্তব্য থেকে আমার বোধগম্য হয়েছে যে তারা হাদিস জাল করেছে, আমি তাদেরও উল্লেখ করেছি। কিন্তু আমি তাদের উল্লেখ করি না যাদের সম্পর্কে কেবল 'দাজ্জাল' বা 'মিথ্যুক' বলা হয়েছে কিন্তু তারা (নবীজির নামে) মিথ্যা বলে না, অথবা মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত নয়। বরং আমি কেবল তাদেরই উল্লেখ করেছি যাদের বিবরণ ইতিপূর্বে আমি আপনার কাছে দিয়েছি। আর আমি একে নাম এবং পিতার নামের ভিত্তিতে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি যাতে এটি ব্যবহার করা সহজ হয়। তাদের মধ্যে যাদের বর্ণনা কুতুবে সিত্তাহর কোনো কিতাবে রয়েছে, তাদের নামের ওপর মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রসিদ্ধ সংকেত দিয়ে চিহ্নিত করেছি। যদি কারো নামের সাথে অন্যের নামের সাদৃশ্য থাকে, তবে আমি তাকে তাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছি যাতে পার্থক্য করা যায়, আর আমি দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ নামের অনেককেই বাদ দিয়েছি। এরপর জেনে রাখা উচিত যে, আমি তাদের জীবনী অত্যন্ত সংক্ষেপে উল্লেখ করছি। জীবনীর ক্ষেত্রে আমি সাধারণত কেবল প্রয়োজনীয় অংশটুকুই উল্লেখ করি। নতুবা, যদি আমি তাদের প্রত্যেকের সম্পর্কে যা যা বলা হয়েছে তা উল্লেখ করতাম, তবে তা এক বিশাল খণ্ডে পরিণত হতো।

এরপর জেনে রাখা দরকার যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করা বড় গুনাহগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় গুনাহ। প্রসিদ্ধ মত হলো, এই কাজ সম্পাদনকারী কাফের হবে না, যতক্ষণ না সে বিষয়টিকে হালাল মনে করে। তবে ইমামুল হারামাইনের পিতা আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন—তাঁরা উভয়েই শাফেয়ি মাজহাবের ইমাম। তিনি বলেছেন: সে কাফের হয়ে যাবে এবং তার রক্ত প্রবাহিত করা বৈধ হবে। তাঁর পুত্র ইমাম (জুওয়াইনি) এই মতটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন এবং এটিকে তাঁর পিতার একটি বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য করেছেন। আমি দেখেছি যে জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি ইমাম হাফেজ ইমাদউদ্দীন ইসমাইল ইবনে কাসীর আল-বসরাভী আদ-দিমাশকী-এর 'কিতাবুল মুকাদ্দামাত' থেকে চয়নকৃত কিছু অংশে দেখেছেন—আমি উল্লেখিত ইমামের সমসাময়িক ছিলাম কিন্তু তাঁকে দেখিনি, তবে তিনি আমার কিছু উস্তাদের উস্তাদ ছিলেন—যেখানে তিনি বলেছেন: হাম্বলি মাজহাবের ইবনে আকিলের উস্তাদ আবুল ফজল আল-হামদানি এই বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেছেন। ইতিপূর্বে উল্লেখিত ইমাম জাহাবি তাঁর রচিত 'কিতাবুল কাবায়ির' গ্রন্থে বলেছেন—আর যারা এটি তাঁর কাছে পাঠ করেছেন তাদের কেউ কেউ এটি আমার কাছে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন—তাঁর বক্তব্য হলো: একদল আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে...
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٢٦)
الْكَذِب على النَّبِي صلى الله عليه وسلم كفر ينْقل عَن الْملَّة، وَلَا ريب أَن تعمد الْكَذِب على الله وَرَسُوله فِي تَحْلِيل حرَام أَو تَحْرِيم حَلَال كفر مَحْض انْتهى. ثمَّ ليعلم أَن من كذب فِي حَدِيث وَاحِد عمدا فسق وَردت رواياته كلهَا وَإِن تَابَ. وَبِه قَالَ الإِمَام أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل والْحميدِي عبد الله بن الزبير تلميذ الإِمَام الشَّافِعِي ورفيقه فِي الرحلة وَهُوَ من رُوَاة القَوْل الْجَدِيد، وَأَبُو بكر الصَّيْرَفِي فِيمَا يظْهر من عِبَارَته، وَإِن أطلق الْكَذِب. وأقرهم على ذَلِك الإِمَام الْحَافِظ الْفَقِيه تَقِيّ الدّين أَبُو عَمْرو ابْن الصّلاح الشَّافِعِي. وَقد تعقبه الإِمَام الْحَافِظ الرباني محيي الدّين النَّوَوِيّ فِي شرح مُسلم لَهُ فَقَالَ: إِن الْمُخْتَار الْقطع بِصِحَّة تَوْبَته من ذَلِك، وَقبُول رِوَايَته بعد صِحَة التَّوْبَة بشروطها قَالَ: وَقد أَجمعُوا على قبُول رِوَايَة من كَانَ كَافِرًا ثمَّ أسلم، وَلَا فرق بَين الرِّوَايَة وَالشَّهَادَة انْتهى.

وَمَا قَالَه الإِمَام أَحْمد وَمن ذكر مَعَه هُوَ نَظِير مَا قَالَه مَالك فِي شَاهد الزُّور إِنَّه إِذا تَابَ لَا تقبل شَهَادَته. وَنَظِير مَا قَالَه الشَّافِعِي وَأَبُو حنيفَة فِيمَن ردَّتْ شَهَادَته بِالْفِسْقِ أَو الْعَدَاوَة ثمَّ تَابَ وَحسنت حَاله لَا تقبل مِنْهُ إِعَادَتهَا لما يلْحقهُ من التُّهْمَة فِي تَصْدِيق نَفسه. وَمَا قَالَه أَبُو حنيفَة من أَن قَاذف الْمُحصن إِذا تَابَ لَا تقبل شَهَادَته وَغير ذَلِك من الْفُرُوع. وَقد تَوَاتر قَوْله صلى الله عليه وسلم: (وَمن كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار) . وَهُوَ أحد الْأَحَادِيث المتواترة. وَقد ادعِي فِي عدَّة أَحَادِيث بِأَنَّهَا متواترة، وَقد جمعت فِيهَا بضعَة عشر حَدِيثا وَيزِيد على ذَلِك.

قَالَ الْبَزَّار فِي الحَدِيث الْمشَار إِلَيْهِ: رَوَاهُ مَرْفُوعا نَحوا من أَرْبَعِينَ صحابيا.

وَقَالَ ابْن الصّلاح: إِنَّه بلغ حد التَّوَاتُر، رَوَاهُ الجم الْكثير من الصَّحَابَة، قيل إِنَّهُم يبلغون ثَمَانِينَ نفسا. وَلم يزل فِي اشتهار وَكَثْرَة طرق فِي هَذِه الْأَزْمَان. وَحكى أَبُو بكر الصَّيْرَفِي فِي شرح الرسَالَة أَنه رَوَاهُ أَكثر من سِتِّينَ صحابيا، وَقد جمع أَبُو الْقَاسِم
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যাচার করা এমন কুফর যা মিল্লাত থেকে বিচ্যুত করে দেয়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো হারামকে হালাল করার জন্য কিংবা কোনো হালালকে হারাম করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যাচার করা সুস্পষ্ট কুফর। সমাপ্ত। অতঃপর জেনে রাখা উচিত যে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি হাদিসেও মিথ্যা বলবে, সে ফাসেক হয়ে যাবে এবং তার সমস্ত বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হবে, এমনকি সে তাওবা করলেও। ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল এবং ইমাম শাফিঈর ছাত্র ও সফরসঙ্গী আল-হুমায়দী আবদুল্লাহ বিন আল-জুবায়র—যিনি শাফিঈ মাযহাবের নতুন মতের (কাউলে জাদিদ) অন্যতম বর্ণনাকারী—এই মত পোষণ করেছেন। এছাড়া আবু বকর আস-সায়রাফীর বক্তব্যের প্রকাশ্য মর্ম থেকেও তাই প্রতীয়মান হয়, যদিও তিনি সাধারণভাবে মিথ্যাচারের কথা উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ও ফকিহ ইমাম তাকিউদ্দীন আবু আমর ইবনুস সালাহ আশ-শাফিঈ তাঁদের এই মতের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তবে রব্বানি হাফেজ ইমাম মুহিউদ্দীন আন-নববী তাঁর ‘শরহে মুসলিম’-এ এর পর্যালোচনা করে বলেছেন: বিশুদ্ধ মত হলো, শর্তানুসারে তাওবা সহীহ হওয়ার পর তার তাওবা কবুল হওয়া এবং তার বর্ণনা গ্রহণ করার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া। তিনি বলেন: উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কোনো কাফের ইসলাম গ্রহণের পর তার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে। আর হাদিস বর্ণনা ও সাক্ষ্য প্রদানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সমাপ্ত।

ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যদের এই বক্তব্যটি ইমাম মালিকের মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার ব্যাপারে দেওয়া বক্তব্যের অনুরূপ, যেখানে বলা হয়েছে যে সে তাওবা করলেও তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া এটি ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আবু হানিফার সেই বক্তব্যের অনুরূপ, যা তাঁরা সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলেছেন যার সাক্ষ্য ফাসেকী বা শত্রুতার কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, অতঃপর সে তাওবা করেছে এবং তার অবস্থা সংশোধন হয়েছে—তার ক্ষেত্রেও পুনরায় সাক্ষ্য প্রদান গ্রহণযোগ্য হবে না, কারণ নিজেকে সত্যবাদী প্রমাণের ক্ষেত্রে তার ওপর অভিযোগের অবকাশ থেকে যায়। ইমাম আবু হানিফা যে বলেছেন, সতী নারীকে অপবাদদানকারী তাওবা করলেও তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না—এটিও ওই পর্যায়ের মাসআলা। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীটি মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসন বানিয়ে নেয়।” এটি অন্যতম মুতাওয়াতির হাদিস। অনেক হাদিসের ব্যাপারে মুতাওয়াতির হওয়ার দাবি করা হয়েছে; আমি এই বিষয়ে দশটিরও অধিক হাদিস একত্র করেছি।

আল-বাযযার উল্লেখিত হাদিসটির ব্যাপারে বলেছেন: প্রায় চল্লিশ জন সাহাবী এটি মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইবনুস সালাহ বলেছেন: এটি মুতাওয়াতির স্তরে পৌঁছেছে। সাহাবীদের একটি বিশাল দল এটি বর্ণনা করেছেন; বলা হয়ে থাকে তাঁদের সংখ্যা আশি জনে পৌঁছেছে। বর্তমান সময় পর্যন্ত এই হাদিসের প্রসিদ্ধি এবং এর সূত্রের আধিক্য অব্যাহত রয়েছে। আবু বকর আস-সায়রাফী ‘শরহুর রিসালাহ’-তে উল্লেখ করেছেন যে, এটি ষাটেরও বেশি সাহাবী বর্ণনা করেছেন। আর আবুল কাসিম...
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٢٧)
الطَّبَرَانِيّ وَمن الْمُتَأَخِّرين أَبُو الْحجَّاج يُوسُف بن خَلِيل الدِّمَشْقِي الْحَافِظ طرقه فِي جُزْء ضخم بلغ رُوَاته فَوق سبعين صحابيا.

وَقَالَ شَيخنَا الْحفاظ أَبُو الْفضل الْعِرَاقِيّ فِيمَا قرأته عَلَيْهِ (مائَة واثنين) . وَذكر فِي جملَة رُوَاته الْعشْرَة الْمَشْهُود لَهُم بِالْجنَّةِ إِلَّا عبد الرَّحْمَن بن عَوْف.

قَالَ بعض مشايخي فِيمَا قرأته عَلَيْهِ وَبلغ بهم الطَّبَرَانِيّ وَابْن مَنْدَه فِي مستخرجه وَابْن خَلِيل نَحْو الْمِائَة انْتهى.

وَحكى الشَّيْخ محيي الدّين فِي مُقَدّمَة شرح مُسلم أَنه رَوَاهُ مِائَتَان من الصَّحَابَة. قَالَ شَيخنَا الْعِرَاقِيّ: وَأَنا أستبعد وُقُوع ذَلِك. انْتهى.

وَعَن أبي الْخطاب ابْن دحْيَة عمر بن الْحسن فِي كَلَامه فِي رَجَب بعد أَن قَالَ رُوِيَ من نَحْو تسعين صحابيا. وَقد أخرج من نَحْو أَرْبَعمِائَة طَرِيق.
তাবারানি এবং পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে হাফেজ আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিল আদ-দিমাশকি একটি বিশাল খণ্ডে এর সূত্রসমূহ সংগ্রহ করেছেন, যেখানে এর বর্ণনাকারীদের সংখ্যা সত্তর জনেরও বেশি সাহাবীর নিকট পৌঁছেছে।

আমাদের উস্তাদ হাফেজ আবুল ফজল আল-ইরাকি, যাঁর নিকট আমি পাঠ করেছি, তিনি বলেন: (একশ দুই)। তিনি এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর মধ্যে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ব্যতীত সকলের নাম উল্লেখ করেছেন।

আমার জনৈক উস্তাদ—যাঁর নিকট আমি পাঠ করেছি—তিনি বলেন: তাবারানি, ইবনে মান্দাহ তাঁর ‘মুস্তাখরাজ’ গ্রন্থে এবং ইবনে খলিল এদের সংখ্যা প্রায় একশর কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছেন। সমাপ্ত।

শেখ মুহিউদ্দিন ‘শারহে মুসলিম’-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, দুইশ জন সাহাবী এটি বর্ণনা করেছেন। আমাদের উস্তাদ আল-ইরাকি বলেন: আমি বিষয়টি ঘটা সুদূরপরাহত বলে মনে করি। সমাপ্ত।

আবুল খাত্তাব ইবনে দিহ্ইয়া উমর ইবনুল হাসান রজব মাসের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে—তিনি ইতিপূর্বে যেমনটি বলেছেন—এটি প্রায় নব্বই জন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। এবং এটি প্রায় চারশটি সূত্রে সংকলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وَقد ذكر شَيخنَا الْعِرَاقِيّ الصَّحَابَة الَّذين رَوَوْهُ على حُرُوف المعجم فِي كتاب النكت على ابْن الصّلاح مِمَّا قرأته عَلَيْهِ ثمَّ قَالَ: فَهَؤُلَاءِ خَمْسَة وَسَبْعُونَ. ثمَّ قَالَ: يَصح من حَدِيث نَحْو عشْرين. اتّفق الشَّيْخَانِ على حَدِيث أَرْبَعَة مِنْهُم، وَانْفَرَدَ (خَ) بِثَلَاثَة، و (م) بِوَاحِد، وَإِنَّمَا يَصح من حَدِيث خَمْسَة من الْعشْرَة، وَالْبَاقِي أسانيدها ضَعِيفَة. وَلَا يُمكن التَّوَاتُر فِي شَيْء من طرق هَذَا الحَدِيث، لِأَنَّهُ يتَعَذَّر وجود ذَلِك فِي الطَّرفَيْنِ وَالْوسط، بل بعض طرقه الصَّحِيحَة إِنَّمَا هِيَ إِفْرَاد من بعض رواتها، وَقد زَاد بَعضهم فِي عدد هَذَا الحَدِيث حَتَّى جَاوز الْمِائَة. وَلكنه لَيْسَ هَذَا الْمَتْن، وَإِنَّمَا هِيَ أَحَادِيث فِي مُطلق الْكَذِب عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم كَحَدِيث: (من حدث عني بِحَدِيث يرى أَنه كذب فَهُوَ أحد الْكَاذِبين) . وَنَحْو ذَلِك فحذفتها لذَلِك، وَلم أعدهَا فِي طرق الحَدِيث ثمَّ قَالَ: وَلَعَلَّ هَذَا مَحْمُول على الْأَحَادِيث الْوَارِدَة فِي مُطلق الْكَذِب، لَا هَذَا الْمَتْن بِعَيْنِه. انْتهى.

ثمَّ ليعلم أَن الوضاعين أَصْنَاف وَقد قسمهم أَبُو الْفرج ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات سَبْعَة أَقسَام انْتهى. وَذَلِكَ بِحَسب الْأَمر الْحَامِل لَهُم على الْوَضع:

فَضرب يَفْعَلُونَهُ انتصارا لمذهبهم كالخطابية، والرافضة. وَقوم من السالمية.

وَضرب يَتَقَرَّبُون بِهِ إِلَى بعض الْخُلَفَاء والأمراء بِوَضْع مَا يُوَافق فعلهم كغياث بن إِبْرَاهِيم الَّتِي تَأتي تَرْجَمته، حَيْثُ وضع للمهدي الْخَلِيفَة: لَا سبق إِلَّا فِي نصل أَو خف. فَزَاد فِيهِ أَو جنَاح، وَكَانَ الْمهْدي إِذْ ذَاك يلْعَب بالحمام فَتَركهَا بعد ذَلِك، وَأمر بذبحها وَقَالَ: أَنا حَملته على ذَلِك.
আমাদের শায়খ আল-ইরাকি 'আন-নুকাতি আলা ইবনুস সালাহ' গ্রন্থে সেইসব সাহাবীদের নাম বর্ণনানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করেছেন যারা এটি বর্ণনা করেছেন—যা আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি—অতঃপর তিনি বলেছেন: তারা পঁচাত্তর জন। এরপর তিনি বলেছেন: এর মধ্যে প্রায় বিশ জনের হাদিস সহিহ। শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাদের মধ্যে চারজনের হাদিসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন, বুখারি এককভাবে তিনজনের এবং মুসলিম এককভাবে একজনের হাদিস বর্ণনা করেছেন। আশারা মুবাশশারার মধ্যে কেবল পাঁচজনের হাদিস সহিহ, আর বাকিদের সনদগুলো দুর্বল। এই হাদিসের কোনো সূত্রেই মুতাওয়াতির হওয়া সম্ভব নয়, কারণ এর শুরু, মধ্য ও শেষ ভাগে তা পাওয়া দুঃসাধ্য। বরং এর কিছু সহিহ সূত্র কেবল কিছু বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা। কেউ কেউ এই হাদিসের বর্ণনাকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন এমনকি তা একশ ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু সেগুলো মূলত এই মতন (মূল পাঠ) নয়, বরং সেগুলো আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সাধারণভাবে মিথ্যা আরোপ করার ব্যাপারে বর্ণিত হাদিস। যেমন: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যা সে মিথ্যা বলে মনে করে, তবে সে মিথ্যাবাদীদের একজন।" এবং এই জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা। একারণেই আমি সেগুলো বাদ দিয়েছি এবং এই হাদিসের সূত্রের অন্তর্ভুক্ত করিনি। এরপর তিনি বলেছেন: সম্ভবত এটি সাধারণভাবে মিথ্যার ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, নির্দিষ্টভাবে এই মতনের জন্য নয়। (সমাপ্ত)।

অতঃপর জেনে রাখা উচিত যে, হাদিস জালকারীরা বিভিন্ন শ্রেণির। আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওজি 'আল-মাওজুআত' গ্রন্থে তাদের সাতটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। (সমাপ্ত)। আর এটি তাদের হাদিস জাল করতে প্ররোচিত করার কারণের ভিত্তিতে করা হয়েছে:

এক প্রকার লোক যারা নিজেদের মতাদর্শের সমর্থনে এটি করে থাকে, যেমন খাত্তাবিয়াহ, রাফেজি এবং সালমিয়্যাহ সম্প্রদায়ের একদল লোক।

আরেক প্রকার লোক যারা খলিফা ও আমিরদের কর্মকাণ্ডের অনুকূলে হাদিস জাল করার মাধ্যমে তাদের নৈকট্য লাভ করতে চায়। যেমন গিয়াস ইবনে ইব্রাহিম, যার জীবনী সামনে আসবে। সে খলিফা মাহদির সন্তুষ্টির জন্য জাল করেছিল: "তীর নিক্ষেপ অথবা উট-ঘোড়া দৌড় ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে পুরস্কার বা বাজি ধরা বৈধ নয়।" সে এতে "অথবা ডানা" শব্দটি যোগ করে দিয়েছিল, কারণ খলিফা মাহদি তখন কবুতর নিয়ে খেলা করছিলেন। এরপর মাহদি কবুতর নিয়ে খেলা ছেড়ে দেন এবং সেগুলো জবাই করার নির্দেশ দিয়ে বলেন: "আমিই তাকে এই (মিথ্যাচারের) দিকে প্ররোচিত করেছি।"
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَضرب كَانُوا يتكسبون بذلك ويرتزقون بِهِ فِي قصصهم كَأبي سعد الْمَدَائِنِي الَّتِي تَأتي تَرْجَمته فِي الكنى إِن شَاءَ الله تَعَالَى.

وَضرب امتحنوا بأولادهم أَو دراقين لَهُم، فوضعوا لَهُم أَحَادِيث، ودسوها عَلَيْهِم فَحَدثُوا بهَا من غير أَن يشعروا كَعبد الله بن مُحَمَّد بن ربيعَة القدامي بِضَم الْقَاف نِسْبَة إِلَى جده الْأَعْلَى قدامَة المصِّيصِي الَّذِي تَأتي تَرْجَمته إِن شَاءَ الله تَعَالَى. وَهَذَا الضَّرْب لَا إِثْم عَلَيْهِم فِي ذَلِك إِذا لم يعلمُوا وَلَكنهُمْ لَيْسُوا بِحجَّة، وَإِن كَانُوا عُدُولًا، لأَنهم قبلوا التَّلْقِين.

وَضرب يلجؤون إِلَى إِقَامَة دَلِيل على مَا أفتوا بآرائهم فيضعون.

قَالَ شَيخنَا الْعِرَاقِيّ كَمَا نقل عَن أبي الْخطاب ابْن دحْيَة إِن ثَبت عَنهُ انْتهى. وَقد حَدثنِي مشايخي الْحفاظ الثَّلَاثَة أَبُو حَفْص البُلْقِينِيّ، وَابْن الملقن، والعراقي بِالْقَاهِرَةِ بِأَن أَبَا الْخطاب بن دحْيَة الْمَذْكُور قيل وضع حَدِيثا فِي قصر صَلَاة الْمغرب، وَلم يجْزم أحد مِنْهُم عَنهُ بذلك. هَذَا لم أذكرهُ فيهم لِأَنَّهُ لم يجْزم أحد مِنْهُم فِيهِ بذلك. وَقد تكلم فِيهِ عَنهُ بِسَبَب آخر، وَلم أر أحدا جزم عَنهُ بذلك، وَلَا ذكر ذَلِك فِي تَرْجَمته. وَكَانَ يَنْبَغِي لشَيْخِنَا الْعِرَاقِيّ أَن يمثل بِغَيْر ابْن دحْيَة لكَونه مَا ثَبت عَنهُ ذَلِك، وَقد قَالُوا مثل ذَلِك فِي تَرْجَمَة عبد الْعَزِيز بن الْحَارِث التَّمِيمِي الْحَنْبَلِيّ من رُؤَسَاء الْحَنَابِلَة وأكابر البغاددة كَمَا أذكرهُ فِي تَرْجَمته إِن شَاءَ الله تَعَالَى.

وَضرب يقلبون سَنَد الحَدِيث ليستغرب، فيرغب فِي سَمَاعه مِنْهُم، وَهَذَا الضَّرْب لم أذكر مِنْهُم إِلَّا الْقَلِيل، وَإِن كَانَ وضع السَّنَد كوضع الْمَتْن، إِلَّا أَنه أخف مِنْهُ، فَإِنِّي لَا أذكر مِنْهُم غَالِبا أحد إِلَّا أَن يُصَرح فِيهِ بِالْوَضْعِ، والقالبون جمَاعَة.

وَضرب يتدينون بذلك لترغيب النَّاس فِي أَفعَال الْخَيْر بزعمهم، وهم منسوبون إِلَى الزّهْد، وهم أعظم النَّاس ضَرَرا، لأَنهم يحتسبون بذلك ويرونه قربَة، وَالنَّاس يثقون بهم ويركنون إِلَيْهِم لما نسبوا إِلَيْهِم من الزّهْد وَالصَّلَاح فينقلونها عَنْهُم.
এক প্রকার লোক ছিল যারা তাদের কিচ্ছা-কাহিনীর মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করত এবং রুজি তালাশ করত, যেমন আবু সাদ আল-মাদায়িনি। ইনশাআল্লাহ তাআলা 'কুনিয়া' (উপনাম) অংশে তার জীবনী আসবে।

আর এক প্রকার লোক রয়েছে যারা তাদের সন্তান বা তাদের জন্য কাজ করা লোকদের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছেন। তারা তাদের জন্য জাল হাদিস তৈরি করত এবং তাদের পাণ্ডুলিপিতে গোপনে ঢুকিয়ে দিত, ফলে তারা না বুঝেই সেগুলো বর্ণনা করতেন। যেমন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রাবিয়া আল-কুদ্দামি (ক্বাফ অক্ষরে পেশ দিয়ে), যার নাম তার ঊর্ধ্বতন দাদা কুদামা আল-মিসসিসির দিকে সম্পর্কিত, ইনশাআল্লাহ তাআলা যার জীবনী সামনে আসবে। এই প্রকারের লোকদের ওপর কোনো পাপ হবে না যদি তারা বিষয়টি না জেনে থাকেন, তবে তারা দলীল হিসেবে গ্রহণীয় হবেন না; যদিও তারা ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন, কারণ তারা অন্যের শিখিয়ে দেওয়া কথা (তালকিন) গ্রহণ করেছিলেন।

আর এক প্রকার লোক যারা তাদের নিজ মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া ফতোয়ার সপক্ষে দলিল স্থাপনের জন্য জাল হাদিস তৈরি করত।

আমাদের শাইখ আল-ইরাকি বলেছেন, যেমনটি আবুল খাত্তাব ইবনে দাহইয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে—যদি তা তার থেকে প্রমাণিত হয়। কায়রোতে আমার তিনজন হাফেজ উস্তাদ—আবু হাফস আল-বুলকিনি, ইবনুল মুলাক্কিন এবং আল-ইরাকি আমাকে বলেছেন যে, উক্ত আবুল খাত্তাব ইবনে দাহইয়া সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি মাগরিবের নামাজ কসর করা নিয়ে একটি হাদিস জাল করেছিলেন, তবে তাদের কেউ এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত ছিলেন না। আমি জালিয়াতদের তালিকায় তাকে উল্লেখ করিনি কারণ তাদের কেউই এ ব্যাপারে নিশ্চিত নন। তার সম্পর্কে অন্য কারণে সমালোচনা করা হয়েছে, কিন্তু আমি কাউকে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে দেখিনি এবং তার জীবনীতেও এর উল্লেখ পাইনি। আমাদের শাইখ আল-ইরাকির উচিত ছিল ইবনে দাহইয়া ব্যতীত অন্য কাউকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা, যেহেতু তার থেকে বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। হানবালিদের অন্যতম প্রধান এবং বাগদাদের বিশিষ্ট ব্যক্তি আব্দুল আজিজ ইবনে হারিস আত-তামিমি আল-হানবালির জীবনীতেও তারা অনুরূপ কথা বলেছেন, যা আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা তার জীবনীতে উল্লেখ করব।

আর এক প্রকার লোক যারা হাদিসের সনদ বা সূত্রকে ওলটপালট করে দেয় যাতে তা বিরল মনে হয় এবং লোকেরা তাদের থেকে তা শোনার জন্য আগ্রহী হয়। এই শ্রেণির খুব অল্প সংখ্যক লোককেই আমি উল্লেখ করেছি। যদিও সনদের জালিয়াতি মূল বক্তব্যের (মতন) জালিয়াতির মতোই, তবুও এটি তার চেয়ে কিছুটা লঘু। সাধারণত জালিয়াতি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত না হলে আমি তাদের কাউকে উল্লেখ করি না, অথচ সনদ পরিবর্তনকারী অনেক দল রয়েছে।

আর এক প্রকার লোক যারা তাদের ধারণা মতে মানুষকে সৎকাজে উৎসাহিত করার জন্য জালিয়াতিকে দ্বীন পালনের অংশ মনে করে। তারা দুনিয়াবিমুখতার (জুহদ) সাথে সম্পর্কিত। তারা মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর, কারণ তারা একে নেক কাজ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম মনে করে। আর মানুষ তাদের দুনিয়াবিমুখতা ও নেককারির কারণে তাদের ওপর আস্থা ও নির্ভরতা রাখে, ফলে তারা তাদের নিকট থেকে এই বর্ণনাগুলো গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَقد ذهب إِلَى جَوَاز الْوَضع قوم من الكرامية بِفَتْح الْكَاف وَتَشْديد الرَّاء على الصَّحِيح، نسبوا إِلَى ابْن كرام فِيمَا لَا يتَعَلَّق بِهِ حكم من الثَّوَاب وَالْعِقَاب ترغيبا للنَّاس فِي الطَّاعَة، وزجرا لَهُم عَن الْمعْصِيَة، وَحمل بَعضهم الحَدِيث الْمَذْكُور: (من كذب عَليّ)

الحَدِيث. على أَنه يَقُول إِنَّه سَاحر أَو مَجْنُون، وتشبث بَعضهم بِرِوَايَة من كذب عَليّ مُتَعَمدا ليضل بِهِ بِهَذِهِ الزِّيَادَة، لِأَنَّهُ كذب لَهُ، لَا عَلَيْهِ. وَهَذَا عجب فَهَذِهِ الزِّيَادَة بَاطِلَة بِاتِّفَاق الْحفاظ، وعَلى تَقْدِير صِحَّتهَا فَهِيَ للتكثير لقَوْله تَعَالَى: {فَمن أظلم مِمَّن افترى على الله كذبا ليضل النَّاس بِغَيْر علم} . أَو إِن اللَّام لَيست للتَّعْلِيل، بل للصيرورة وَالْعَاقبَة. وَالْمعْنَى على هَذَا يصير كَونه سَببا إِلَى الإضلال وَالْكذب بِمَا لم يخبر بِهِ كذب عَلَيْهِ. وَقد روى الْعقيلِيّ بِضَم الْقَاف بِإِسْنَادِهِ إِلَى مُحَمَّد بن سعيد وَكَأَنَّهُ المصلوب الْآتِي تَرْجَمته إِن شَاءَ الله تَعَالَى أَنه قَالَ: لَا بَأْس إِذا كَانَ كَلَام حسن أَن تضع لَهُ إِسْنَادًا.

وَقَالَ أَبُو الْعَبَّاس الْقُرْطُبِيّ فِي الْمُفْهم شرح مُخْتَصر مُسلم كِلَاهُمَا لَهُ: استجاز بعض فُقَهَاء الْعرَاق نِسْبَة الحكم الَّذِي دلّ عَلَيْهِ الْقيَاس إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نِسْبَة قولية وحكاية نقلية فَيَقُول فِي ذَلِك قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَذَا وَكَذَا انْتهى.

ثمَّ ليعلم أَيْضا أَن ابْن الصّلاح قَالَ: وَإِنَّمَا يعرف كَون الحَدِيث مَوْضُوعا بِإِقْرَار وَاضعه، أَو مَا يتنزل منزلَة إِقْرَاره انْتهى.

وَالَّذِي يتنزل منزلَة إِقْرَاره كَانَ يحدث بِحَدِيث عَن شيخ ثمَّ يسْأَل عَن مولد نَفسه فيذكر تَارِيخا يعلم وَفَاة ذَلِك الشَّيْخ قبله وَلَا يُوجد ذَلِك الحَدِيث إِلَّا عِنْده، فَهَذَا لم يعْتَرف بِوَضْعِهِ وَلَكِن اعترافه بِوَقْت مولده يتنزل منزلَة إِقْرَاره بِالْوَضْعِ، لِأَن ذَلِك الحَدِيث لَا يعرف إِلَّا عِنْد ذَلِك الشَّيْخ وَلَا يعرف إِلَّا بِرِوَايَة هَذَا الحَدِيث الَّذِي حدث بِهِ.
একদল কাররামিয়া—সঠিক মতে কাফ বর্ণে ফাতহাহ এবং রা বর্ণে তাশদিদ সহকারে উচ্চারিত, যারা ইবনে কাররামের অনুসারী—সওয়াব বা গুনাহর বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে আনুগত্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং পাপাচার থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে হাদিস জাল করা বৈধ বলে মনে করেছেন। তাদের কেউ কেউ উল্লিখিত হাদিস: (যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল)

এই হাদিসটিকে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন যে বলে যে তিনি (নবী) একজন জাদুকর বা উন্মাদ। আবার কেউ কেউ 'যে ব্যক্তি আমার ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আরোপ করল যাতে এর মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে'—এই অতিরিক্ত অংশ সংবলিত বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে যুক্তি দিয়েছেন; কারণ তাদের মতে এটি তাঁর পক্ষে মিথ্যা বলা, তাঁর বিরুদ্ধে নয়। এটি একটি বিস্ময়কর দাবি; কারণ মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্যে এই অতিরিক্ত অংশটি বাতিল। আর যদি এটি সহিহ হিসেবে ধরেও নেওয়া হয়, তবে তা কেবল আধিক্য বুঝানোর জন্য এসেছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালিম আর কে আছে, যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রটনা করে যাতে না জেনে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে?}। অথবা এখানে 'লাম' বর্ণটি কারণ দর্শানোর জন্য নয়, বরং পরিণাম বা ফলাফল বুঝানোর জন্য। এই অর্থে এর মর্ম দাঁড়ায় যে, যা তিনি বলেননি তা প্রচার করা বিভ্রান্তির কারণ হওয়া এবং তা তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ হিসেবে গণ্য হওয়া। আল-উকায়লি—ক্বাফ বর্ণে পেশ সহকারে—মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ থেকে তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন, এবং সম্ভব হলে তিনি সেই 'মাসলুব' (শূলে চড়ানো ব্যক্তি) যার জীবনী সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ, তিনি বলেছেন: যদি কোনো কথা সুন্দর হয়, তবে তার জন্য একটি সনদ তৈরি করে দেওয়াতে কোনো সমস্যা নেই।

আবু আব্বাস আল-কুরতুবি তাঁর 'আল-মুফহিম শারহু মুখতাসার মুসলিম' গ্রন্থে বলেছেন: ইরাকের কিছু ফকিহ কিয়াস বা যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত কোনো হুকুমকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে মৌখিকভাবে এবং বর্ণনামূলকভাবে নিসবত করা বা সম্বন্ধযুক্ত করা বৈধ মনে করেছেন। ফলে তারা এই বিষয়ে বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এমন বলেছেন। সমাপ্ত।

এরপর আরও জেনে রাখা উচিত যে, ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: কোনো হাদিস 'মাওদু' বা জাল হওয়ার বিষয়টি কেবল জালকারীর স্বীকারোক্তি অথবা যা স্বীকারোক্তির স্থলাভিষিক্ত তার মাধ্যমে জানা যায়। সমাপ্ত।

আর যা স্বীকারোক্তির স্থলাভিষিক্ত তা হলো, কেউ একজন শায়েখ থেকে হাদিস বর্ণনা করল, অতঃপর তাকে তার নিজের জন্ম তারিখ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে এমন এক তারিখ উল্লেখ করল যা থেকে জানা যায় যে, সেই শায়েখ তার জন্মের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন এবং সেই হাদিসটিও কেবল তার কাছেই পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে সে হাদিসটি জাল করার কথা স্বীকার না করলেও তার জন্মের সময়কাল স্বীকার করাটা জাল করার স্বীকারোক্তির স্থলাভিষিক্ত বলে গণ্য হয়। কারণ সেই হাদিসটি কেবল সেই শায়েখের মাধ্যমেই পরিচিত এবং কেবল তার বর্ণিত এই হাদিসের মাধ্যমেই তা জানা যায়।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٣١)
قَالَ ابْن الصّلاح: وَقد يفهمون الْوَضع من قرينَة حَال الرَّاوِي أَو الْمَرْوِيّ. فقد وضعت أَحَادِيث طَوِيلَة يشْهد بوضعها ركاكة ألفاظها ومعانيها.

وَعَن الرّبيع بن خثيم قَالَ: إِن للْحَدِيث ضوءا كضوء النَّهَار تعرفه، وظلمة كظلمة اللَّيْل تنكره.

وَقَالَ ابْن الْجَوْزِيّ أَبُو الْفرج: وَاعْلَم أَن الحَدِيث الْمُنكر يقشعر لَهُ جلد الطَّالِب للْعلم، وينفر مِنْهُ قلبه.

وَقد اسْتشْكل الإِمَام الْحَافِظ تَقِيّ الدّين الْقشيرِي الشهير بِابْن دَقِيق الْعِيد، الِاعْتِمَاد على إِقْرَار الْوَاضِع بِالْوَضْعِ، فَقَالَ: هَذَا كَاف فِي رده، وَلَيْسَ بقاطع فِي كَونه مَوْضُوعا لجَوَاز أَن يكذب فِي هَذَا الْإِقْرَار بِعَيْنِه، وَالله أعلم انْتهى.

وَلَا يسأم من طول هَذِه الْمُقدمَة فَإِنَّهَا كالمدخل إِلَى هَذَا الْمُؤلف وَالله أسأَل أَن ينفع بِهِ قارئه وكاتبه والناظر فِيهِ إِنَّه قريب مُجيب.
ইবনে সালাহ বলেন: তারা কখনো বর্ণনাকারী বা বর্ণিত বিষয়ের পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে জালিয়াতি বুঝতে পারেন। এমন অনেক দীর্ঘ হাদিস তৈরি করা হয়েছে যেগুলোর জাল হওয়ার প্রমাণ দেয় সেগুলোর শব্দ ও অর্থের দুর্বলতা।

রাবী ইবনে খুসাইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই হাদিসের দিনের আলোর মতো উজ্জ্বলতা রয়েছে যা দিয়ে তা চেনা যায়, আর রাতের অন্ধকারের মতো অন্ধকার রয়েছে যার কারণে তা প্রত্যাখ্যান করা যায়।

আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বলেন: জেনে রেখো, মুনকার হাদিস শুনে ইলম অন্বেষণকারীর চামড়া শিউরে ওঠে এবং তার অন্তর তা থেকে বিতৃষ্ণ হয়।

ইমাম হাফেজ তকিউদ্দীন আল-কুশাইরী, যিনি ইবনে দাকীক আল-ঈদ নামে সুপরিচিত, জালকারীর জাল করার স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর করার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য যথেষ্ট, তবে এটি হাদিসটি নিশ্চিতভাবে জাল হওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত নয়; কারণ এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে ব্যক্তিটি তার এই স্বীকারোক্তির মধ্যেই মিথ্যা বলছে। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন। সমাপ্ত।

এই ভূমিকা দীর্ঘ হওয়ার কারণে যেন ক্লান্তি না আসে, কেননা এটি এই গ্রন্থের প্রবেশদ্বার সদৃশ। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর পাঠক, লেখক এবং এর প্রতি দৃষ্টিপাতকারীকে এর মাধ্যমে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে, ডাক শ্রবণকারী।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ١)
الْكَشْف الحثيث
ত্বরিত অনুসন্ধান
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌(بَاب الْهمزَة)

 

1 - أَبَا بن جَعْفَر بن أَبَا أَبُو جَعْفَر النجيرمي أَبُو سعيد شيخ بَصرِي تَالِف مُتَأَخّر قَالَ الْأَمِير أَبُو نصر بن مَاكُولَا مشدد الْبَاء الْمُعْجَمَة بِوَاحِدَة مَقْصُورَة قَالَ وَقد ذكره الْخَطِيب أَبُو بكر فِي بَاب أَبَا بِالتَّخْفِيفِ وَوهم فِي ذَلِك وَإِنَّمَا هُوَ أَبَا بِالتَّشْدِيدِ واجمع على ذَلِك البصريون هَذَا آخر كَلَامه قَالَ بن حبَان فرأيته قد وضع على أبي حنيفَة أَكثر من ثَلَاث مائَة حَدِيث مَا حدث بهَا أَبُو حنيفَة فَقلت ياشيخ اتَّقِ الله ولاتكذب فَقَالَ لي لست مني فِي حل فَقُمْت وَتركته

2 - أبان بن المحبر شيخ مَتْرُوك وَقَالَ بن أبي حَاتِم سَأَلت أبي عَنهُ فَقَالَ ضَعِيف وَقد ذكره بن الْجَوْزِيّ فِي بَاب صَلَاة الْأَسير فِي سَنَد حَدِيث ثمَّ قَالَ وَهَذَا بَاطِل وَلَا تجوز الرِّوَايَة عَن أبان إِلَّا على سَبِيل الِاعْتِبَار يروي عَن جمَاعَة من الثِّقَات مَا لَيْسَ من حَدِيثهمْ حَتَّى لَا يشك المتبحر فِي هَذِه الصِّنَاعَة أَنه كَانَ يعملها وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ مَتْرُوك انْتهى ثمَّ ذكره فِي بَاب مُهُور الْحور الْعين فِي سَنَد حَدِيث ثمَّ قَالَ فالمتهم بِهِ أبان ثمَّ ذكر كَلَام بن حبَان وَكَلَام الدَّارَقُطْنِيّ فِيهِ
(হামযা অধ্যায়)

 

১ - আবা ইবন জাফর ইবন আবা আবু জাফর আন-নুজাইরমি আবু সাঈদ, বসরার একজন শাইখ, পরিত্যক্ত এবং পরবর্তী যুগের। আমির আবু নাসর ইবন মাকূলা বলেছেন, 'বা' বর্ণের উপর তাশদীদ এবং নুকতাযুক্ত, যা সংক্ষেপে উচ্চারিত হয়। তিনি বলেছেন, খতীব আবু বকর তাকে হালকা উচ্চারণে (তাখফীফ) 'আবা' অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন এবং এতে তিনি ভুল করেছেন, মূলত এটি তাশদীদযুক্ত 'আব্বা' হবে এবং বসরার অধিবাসীগণ এর ওপর একমত। এখানেই তার কথার সমাপ্তি। ইবন হিব্বান বলেন, আমি তাকে ইমাম আবু হানিফার নামে তিনশ’রও বেশি হাদীস জাল করতে দেখেছি, যা আবু হানিফা বর্ণনা করেননি। আমি বললাম, হে শাইখ! আল্লাহকে ভয় করুন এবং মিথ্যা বলবেন না। তিনি আমাকে বললেন, 'আমি তোমাকে ক্ষমা করব না'। তখন আমি উঠে তাকে ছেড়ে চলে এলাম।

২ - আবান ইবন আল-মুহাব্বার, একজন পরিত্যক্ত (মাতরুক) শাইখ। ইবন আবি হাতিম বলেছেন, আমি আমার পিতাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, সে দুর্বল। ইবনুল জাওযী তাকে বন্দীর নামায অধ্যায়ে একটি হাদীসের সনদে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন, এটি বাতিল। আবান থেকে হাদীস বর্ণনা করা কেবল তুলনামূলক পর্যালোচনার (ইতিবার) জন্যই জায়েয। সে একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে এমন সব হাদীস বর্ণনা করে যা তাদের হাদীস নয়; এমনকি এই শাস্ত্রে দক্ষ ব্যক্তি সন্দেহ করবেন না যে, সে এগুলো নিজেই তৈরি করত। দারাকুতনী বলেছেন, সে পরিত্যক্ত (মাতরুক)। সমাপ্ত। অতঃপর তিনি তাকে জান্নাতের হুরদের মহর সম্পর্কিত অধ্যায়ে একটি হাদীসের সনদে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি হলো আবান। এরপর তিনি তার সম্পর্কে ইবন হিব্বান ও দারাকুতনীর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٣٤)
3 - إِبْرَاهِيم بن أَحْمد الْحَرَّانِي الضَّرِير وَهُوَ إِبْرَاهِيم بن أبي حميد قَالَ أَبُو عرُوبَة كَانَ يضع الحَدِيث

4 - إِبْرَاهِيم بن أَحْمد الْعجلِيّ عَن يحيى بن أبي طَالب وَغَيره كَانَ مِمَّن يضع الحَدِيث ذكره بن الْجَوْزِيّ

5 - إِبْرَاهِيم بن جريج الرهاوي عَن زيد بن أبي أنيسَة عَن الزُّهْرِيّ عَن أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة مَرْفُوعا الْمعدة حَوْض الْبدن وَالْعُرُوق إِلَيْهَا وَارِدَة الحَدِيث رَوَاهُ عَنهُ يحيى الْبَابلُتِّي قَالَ الذَّهَبِيّ هَذَا مُنكر وَإِبْرَاهِيم لَيْسَ بعمدة انْتهى وَقد ذكر بن الْجَوْزِيّ هَذَا الحَدِيث فِي فِي مَوْضُوعَاته ثمَّ قَالَ لَيْسَ هَذَا من كَلَامه عليه السلام وَالْمُتَّهَم بِرَفْعِهِ إِبْرَاهِيم بن جريج قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ تفرد بِهِ وَلم يسْندهُ غَيره وَقد اضْطربَ فِيهِ وَكَانَ طَبِيبا فَجعل لَهُ إِسْنَادًا وَلَا يعرف من كَلَامه عليه السلام إِنَّمَا هُوَ من كَلَام بن أبجر وَقَالَ الْعقيلِيّ بَاطِل لَا أصل لَهُ إِنَّمَا يروي عَن بن أبجر وَقَالَ الْأَزْدِيّ إِبْرَاهِيم مَتْرُوك لَا يحْتَج بِهِ انْتهى فَقَوله جعل لَهُ إِسْنَادًا قد تقدم أَن وضع السَّنَد كوضع الْمَتْن وَالله أعلم وَابْن أبجر الَّذِي تقدم الظَّاهِر أَنه عبد الْملك بن سعيد بن أبجر وَالله أعلم

6 - إِبْرَاهِيم بن أبي حَيَّة بِالْمُثَنَّاةِ تَحت الْمُشَدّدَة كالدابة الخبيثة وَاسم أبي حَيَّة اليسع بن أَشْعَث أَبُو إِسْمَاعِيل الْمَكِّيّ ذكر الذَّهَبِيّ كَلَام النَّاس فِيهِ وَمن جملَته قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ مَتْرُوك الحَدِيث وَذكر لَهُ أَحَادِيث مَنَاكِير مِنْهَا أَن الله آخر حد المماليك وَأهل الذِّمَّة إِلَى يَوْم الْقِيَامَة انْتهى وَهَذَا الحَدِيث ذكره بن الْجَوْزِيّ فِي مَوْضُوعَاته وَقَالَ قَالَ أَحْمد مُنكر وَابْن أبي حَيَّة فِي عداد من يضع الحَدِيث وَلم يروه عَن هِشَام غَيره انْتهى
3 - ইবরাহীম বিন আহমাদ আল-হাররানী আদ-দারীর, তিনি ইবরাহীম বিন আবি হামিদ। আবু আরুবাহ বলেছেন, তিনি হাদিস জাল করতেন।

4 - ইবরাহীম বিন আহমাদ আল-ইজলী, ইয়াহইয়া বিন আবি তালিব ও অন্যদের থেকে (বর্ণনা করেছেন)। তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা হাদিস জাল করতেন; ইবনুল জাওযী এটি উল্লেখ করেছেন।

5 - ইবরাহীম বিন জুরাইজ আর-রুহাওয়ী, যায়েদ বিন আবি আনিসাহ থেকে, তিনি জুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে (বর্ণনা করেছেন): "পাকস্থলী হলো শরীরের জলাধার এবং শিরা-উপশিরাগুলো সেখানে আগমনকারী।" হাদিসটি তার থেকে ইয়াহইয়া আল-বাবলুত্তি বর্ণনা করেছেন। যাহাবী বলেছেন, এটি মুনকার (অস্বীকৃত) এবং ইবরাহীম নির্ভরযোগ্য নন। সমাপ্ত। ইবনুল জাওযী এই হাদিসটি তাঁর 'মাউদুয়াত' (জাল হাদিসসমূহ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন, এটি আলাইহিস সালাম (রাসূলুল্লাহ)-এর কথা নয় এবং এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে ইবরাহীম বিন জুরাইজ অভিযুক্ত। দারা কুতনী বলেছেন, তিনি এটি বর্ণনায় একক হয়ে পড়েছেন এবং অন্য কেউ এটি মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেননি। তিনি এ বিষয়ে দ্বিধান্বিত ছিলেন এবং তিনি একজন চিকিৎসক ছিলেন, তাই তিনি এটির জন্য একটি সনদ তৈরি করে নিয়েছিলেন। এটি আলাইহিস সালাম-এর কথা হিসেবে পরিচিত নয়, বরং এটি ইবনে আবজারের কথা। উকায়লী বলেছেন, এটি বাতিল, এর কোনো ভিত্তি নেই; এটি কেবল ইবনে আবজার থেকেই বর্ণিত। আযদি বলেছেন, ইবরাহীম মাতরুক (পরিত্যক্ত), তাঁর বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না। সমাপ্ত। সুতরাং তাঁর উক্তি "তিনি এর জন্য সনদ তৈরি করেছেন" থেকে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, সনদ জাল করা মতন জাল করার মতোই। আর আল্লাহই ভালো জানেন। উল্লেখিত ইবনে আবজার সম্ভবত আব্দুল মালিক বিন সাঈদ বিন আবজার। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

6 - ইবরাহীম বিন আবি হাইয়াহ; 'হাইয়াহ' শব্দটি দুই নুকতা বিশিষ্ট 'ইয়া' এর তাসদীদ যোগে, যা ক্ষতিকর প্রাণীর ন্যায়। আবু হাইয়াহ-এর নাম ইয়াসা বিন আশআস আবু ইসমাঈল আল-মাক্কী। যাহাবী তাঁর সম্পর্কে লোকদের মন্তব্য উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে দারা কুতনী বলেছেন: তিনি হাদিসে মাতরুক (পরিত্যক্ত)। তিনি তাঁর কিছু মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস উল্লেখ করেছেন, যার একটি হলো: "নিশ্চয় আল্লাহ ক্রীতদাস এবং জিম্মিদের শেষ সীমা কিয়ামত পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন।" সমাপ্ত। এই হাদিসটি ইবনুল জাওযী তাঁর 'মাউদুয়াত' কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ইমাম আহমাদ বলেছেন এটি মুনকার। ইবনে আবি হাইয়াহ তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা হাদিস জাল করতেন এবং হিশাম থেকে তিনি ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٣٥)
7 - إِبْرَاهِيم بن إِدْرِيس عَن إِبْرَاهِيم بن الْعَلَاء قَالَ الذَّهَبِيّ مُتَّهم بِالْوَضْعِ فَلَعَلَّهُ الَّذِي بعده يَعْنِي الأسواري أَو آخر غَيره انْتهى كَذَا رايته بخطي وَلم أره فِي الْمِيزَان وَالله أعلم

8 - إِبْرَاهِيم بن زَكَرِيَّا أَبُو إِسْحَاق الْعجلِيّ الْبَصْرِيّ الْمعلم تكلم عَنهُ بِكَلَام بشع وَقد ذكر لَهُ بن الْجَوْزِيّ حَدِيثا فِي مَوْضُوعَاته فِي إِعْطَائِهِ عليه السلام لمعاوية سفرجلا ثمَّ قَالَ قَالَ أَبُو حَاتِم بن حبَان وَهَذَا شَيْء مَوْضُوع لَا أصل لَهُ من حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا رَوَاهُ بن عمر ولاابن دِينَار حدث عَنهُ وَإِبْرَاهِيم بن زَكَرِيَّا يَأْتِي عَن الثِّقَات بِمَا لَا يشبه حَدِيث الاثبات أَن لم يكن بالمتعد لَهَا فَهُوَ المدلس عَن الْكَذَّابين وَقَالَ بن عدي حدث عَن الثِّقَات بِالْبَوَاطِيل أَيْن وجد انْتهى وَقد ذكره الذَّهَبِيّ فِي مِيزَانه وَيُشبه أَن يكون مَا ذكره من تَتِمَّة كَلَام بن عدي وَمن بلاياه فَذكر حَدِيثا فِي إِعْطَائِهِ عليه السلام لمعاوية ثَلَاث سفرجلات وَقَالَ القي بِهن فِي الْجنَّة وَهُوَ الحَدِيث الْمَذْكُور قبله

9 - إِبْرَاهِيم بن سُلَيْمَان قَالَ الذَّهَبِيّ فِي مِيزَانه أرَاهُ وضع هَذَا القَوْل حَدثنَا خَلاد بن يحيى عَن قيس بن الرّبيع عَن أبي حُصَيْن عَن يحيى بن وثاب عَن بن عمر رضي الله عنهما قَالَ كَانَ على الْحسن وَالْحُسَيْن تعويذتان فيهمَا من زغب جنَاح جِبْرَائِيل عليه السلام رَوَاهُ بن الْأَعرَابِي فِي مُعْجَمه عَن هَذَا انْتهى لَفظه
7 - ইবরাহীম বিন ইদরীস, ইবরাহীম বিন আল-আলা থেকে বর্ণনা করেছেন। আয-যাহাবী বলেছেন: তিনি জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত। সম্ভবত তিনি তাঁর পরবর্তী ব্যক্তি, অর্থাৎ আল-আসোয়ারী বা অন্য কেউ। সমাপ্ত। আমি আমার হাতের লেখায় এভাবেই দেখেছি, এবং আল-মিজানে এটি দেখিনি। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

8 - ইবরাহীম বিন যাকারিয়া আবু ইসহাক আল-আজলী আল-বাসরী, আল-মুআল্লিম। তাঁর সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করা হয়েছে। ইবনুল জাওযী তাঁর 'মাওদুআত' (জাল হাদীসসমূহ) গ্রন্থে তাঁর একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন, যেখানে রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) মুয়াবিয়াকে একটি সফরজল দান করার কথা বলা হয়েছে। এরপর তিনি বলেন: আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেছেন, এটি একটি বানোয়াট বিষয় যার রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর হাদীসে কোনো ভিত্তি নেই। ইবনে উমর বা ইবনে দীনার কেউ তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেননি। ইবরাহীম বিন যাকারিয়া নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন সব কথা বলেন যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি যদি এটি ইচ্ছাকৃতভাবে না করে থাকেন, তবে তিনি মিথ্যাবাদীদের থেকে প্রতারণামূলক বর্ণনা (তাদলীস) করেন। ইবনে আদী বলেছেন: তিনি যেখানেই পেয়েছেন নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতি দিয়ে বাতিল বিষয় বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত। আয-যাহাবী তাঁর 'মিযান' গ্রন্থে তাঁকে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা ইবনে আদীর কথার পরিশিষ্ট বলে মনে হয়। তাঁর আপত্তিকর বর্ণনাসমূহের মধ্যে একটি হলো রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) মুয়াবিয়াকে তিনটি সফরজল দিয়ে বললেন: "জান্নাতে এগুলো নিয়ে আমার সাথে দেখা করো।" এটি পূর্বেই উল্লিখিত হাদীস।

9 - ইবরাহীম বিন সুলাইমান। আয-যাহাবী তাঁর 'মিযান' গ্রন্থে বলেছেন: আমি মনে করি তিনি এই কথাটি জাল করেছেন: খাল্লাদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কায়েস বিন আর-রাবী থেকে, তিনি আবু হুসাইন থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ওয়াসসাব থেকে, তিনি ইবনে উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেন: হাসান ও হুসাইনের নিকট দুটি কবজ ছিল যাতে জিবরাঈল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর ডানার লোম ছিল। ইবনুল আরাবী তাঁর 'মুজাম' গ্রন্থে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٣٦)
10 - إِبْرَاهِيم بن صبيح الطلحي عَن بن جريج لَيْسَ بِثِقَة أَتَى بِخَبَر بَاطِل فَهُوَ أفته فِي كتاب السَّابِق واللاحق

11 - إِبْرَاهِيم بن الْجَواب بِفَتْح الْجِيم وَتَشْديد الْوَاو وَيُقَال إِبْرَاهِيم الحوات وَهُوَ السماك قَالَ الذَّهَبِيّ مُتَّهم بِالْوَضْعِ قَالَ السَّاجِي كَذَّاب قَالَ الْوَاقِدِيّ سمعته يَقُول لِابْنِ أبي ذِئْب رُبمَا وضعت أَحَادِيث

12 - إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن همام عَن عَمه عبد الرَّزَّاق قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ كَذَّاب قَالَ الذَّهَبِيّ فَمن مصائبه فَذكر ثَلَاثَة أَحَادِيث ثمَّ قَالَ فَهَذِهِ الْأَشْيَاء من وضع هَذَا الْمُدبر انْتهى وَقد ذكر بن الْجَوْزِيّ لَهُ حَدِيثا فِي مَوْضُوعَاته فِي الْوَصِيَّة لعَلي ثمَّ قَالَ قَالَ بن حبَان إِبْرَاهِيم بن عبد الله يسرق الحَدِيث ويسويه ثمَّ ذكر بن الْجَوْزِيّ فِي دُعَاء الْمَظْلُوم عَن الدَّارَقُطْنِيّ أَنه كَذَّاب يضع الحَدِيث

13 - إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن خَالِد المصِّيصِي أحد المتروكين ذكر لَهُ الذَّهَبِيّ أَحَادِيث أنْكرت عَلَيْهِ وَذكر فِي آخر تَرْجَمته فَقَالَ هَذَا رجل كَذَّاب قَالَ الْحَاكِم أَحَادِيثه مَوْضُوعَة وَقد ذكر لَهُ بن الْجَوْزِيّ حَدِيثا فِي إِثْم شَارِب الْخمر وَهُوَ أحد الْأَحَادِيث الَّتِي ذكرهَا الذَّهَبِيّ فِي تَرْجَمته ثمَّ قَالَ بن الْجَوْزِيّ وروى نَحوه إِبْرَاهِيم بن عبد الله المصِّيصِي وَكَانَ المصِّيصِي يسرق الحَدِيث ويسويه انْتهى فَقَوله ويسويه مُقْتَضَاهُ أَنه يضع وَالله أعلم
১০ - ইব্রাহিম বিন সুবাইহ আত-তালহি, ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য নন। তিনি একটি বাতিল সংবাদ নিয়ে এসেছেন, তাই তিনি 'আস-সাবিক ওয়াল-লাহিক' কিতাবে এর ত্রুটি বা আপদ হিসেবে গণ্য।

১১ - ইব্রাহিম বিন আল-জওয়াব ('জিম' অক্ষরে ফাতহা এবং 'ওয়াও' অক্ষরে তাশদিদ সহকারে), তাকে ইব্রাহিম আল-হাওয়াত-ও বলা হয়, আর তিনি ছিলেন মাছ বিক্রেতা। ইমাম আয-যাহাবী বলেছেন: তিনি হাদিস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত। আস-সাজি বলেছেন: চরম মিথ্যাবাদী। আল-ওয়াকিদি বলেছেন: আমি তাকে ইবনে আবি যিবকে বলতে শুনেছি, "কখনও কখনও আমি হাদিস জাল করতাম।"

১২ - ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন হাম্মাম, তার চাচা আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আদ-দারাকুতনী বলেছেন: চরম মিথ্যাবাদী। ইমাম আয-যাহাবী বলেছেন: তার বিপর্যয়গুলোর মধ্যে রয়েছে— অতঃপর তিনি তিনটি হাদিস উল্লেখ করে বললেন: এই বিষয়গুলো এই দুর্ভাগা ব্যক্তির জাল করা। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইবনে আল-জাওযী তার 'মাওদুআত' (জাল হাদিসসমূহ) গ্রন্থে আলীর প্রতি অসিয়ত সংক্রান্ত একটি হাদিস তার সূত্রে উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি বলেন: ইবনে হিব্বান বলেছেন, ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ হাদিস চুরি করতেন এবং তা সাজাতেন। এরপর ইবনে আল-জাওযী মজলুমের দোয়ার আলোচনায় আদ-দারাকুতনী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একজন মিথ্যাবাদী এবং হাদিস জাল করেন।

১৩ - ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন খালিদ আল-মাসসিসি, বর্জনীয় (মাতরুক) বর্ণনাকারীদের একজন। ইমাম আয-যাহাবী তার এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তার জীবনীর শেষে তিনি বলেছেন: এই লোকটি একজন চরম মিথ্যাবাদী। আল-হাকিম বলেছেন: তার বর্ণিত হাদিসসমূহ জাল। ইবনে আল-জাওযী শরাব পানকারীর গুনাহ সম্পর্কে তার একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং এটি আয-যাহাবী তার জীবনীতে উল্লেখ করা হাদিসগুলোর একটি। অতঃপর ইবনে আল-জাওযী বলেছেন: ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মাসসিসি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং আল-মাসসিসি হাদিস চুরি করতেন ও তা সাজাতেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। সুতরাং তার 'সাজানো' কথাটির অর্থ হলো তিনি জাল করতেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٣٧)
14 - إِبْرَاهِيم بن عقيل بن حُبَيْش وَيعرف بِابْن الْبكْرِيّ حدث عَنهُ أَبُو بكر الْخَطِيب قَالَ هبة الله بن الْأَكْفَانِيِّ كَانَ يركب الْإِسْنَاد انْتهى وَقد تقدم أَنه نوع من الْوَضع

15 - إِبْرَاهِيم بن عَمْرو بن بكر السكْسكِي قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ مَتْرُوك وَقَالَ بن حبَان يروي عَن أَبِيه الْأَشْيَاء الموضوعه وَأَبوهُ أَيْضا لَا شَيْء ثمَّ قَالَ روى عَن أَبِيه عَن عبد الْعَزِيز بن رواد عَن نَافِع عَن بن عمر مَرْفُوعا النَّاس على ثَلَاث منَازِل فَمن طلب مَا عِنْد الله عز وجل كَانَت السَّمَاء ظلاله وَالْأَرْض فرَاشه والْحَدِيث بِطُولِهِ وَقد ذكره بن الْجَوْزِيّ فِي مَوْضُوعَاته فِي بَاب انقسام الزاهدين بِطُولِهِ ثمَّ قَالَ هَذَا شَيْء تفرد بِهِ إِبْرَاهِيم يَعْنِي بن عَمْرو هَذَا وَهُوَ مِمَّا عملت يَدَاهُ فلست أَدْرِي هُوَ الْجَانِي على أَبِيه أَو أَبوهُ خصّه بِهَذِهِ الموضوعات وَهَذَا لَيْسَ من كَلَام رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا بن عمر وَلَا نَافِع وَإِنَّمَا هُوَ يَعْنِي من كَلَام الْحسن

16 - إِبْرَاهِيم بن عِيسَى الْقَنْطَرِي عَن أَحْمد بن أبي الْحوَاري قَالَ الْخَطِيب مَجْهُول قَالَ الذَّهَبِيّ وَخَبره بَاطِل فَذكره غمسني جِبْرِيل عِنْد سِدْرَة الْمُنْتَهى وَقَالَ أَنْت من الله أدنى من ألقاب إِلَى الْقوس وَذكر الحَدِيث قَالَ الذَّهَبِيّ فافته الْقَنْطَرِي قَالَ الْخَطِيب رِجَاله موثوقون الا الْقَنْطَرِي انْتهى فَهَذَا يحْتَمل أَن يكون هُوَ وَضعه أَو وضع لَهُ أَو وَضعه وَاضع وألصقه بِهَذَا الْمَجْهُول وَالله أعلم
১৪ - ইবরাহীম বিন আকীল বিন হুবাইশ, যিনি ইবনুল বাকরি নামে পরিচিত। আবু বকর আল-খাতিব তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। হিবাতুল্লাহ বিন আল-আকফানি বলেছেন: তিনি সনদ সাজাতেন (জালিয়াতি করতেন)। কথা শেষ। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি এক প্রকার হাদীস জালকরণ।

১৫ - ইবরাহীম বিন আমর বিন বকর আস-সাকসাকি। আদ-দারাকুতনি বলেছেন: তিনি পরিত্যক্ত। ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি তাঁর পিতার সূত্রে জাল বিষয়াবলী বর্ণনা করেন, আর তাঁর পিতাও অকেজো (নির্ভরযোগ্য নন)। এরপর তিনি বলেছেন: তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আব্দুল আযীয বিন রাওয়াদ থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন— "মানুষ তিন স্তরের; যে ব্যক্তি আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিতের নিকট যা রয়েছে তা অনুসন্ধান করে, আকাশ হয় তার ছায়া এবং জমিন হয় তার বিছানা..." পূর্ণ হাদীসটি। ইবনে আল-জাওযী তাঁর জাল হাদীস বিষয়ক গ্রন্থে 'যাহিদদের প্রকারভেদ' অধ্যায়ে পূর্ণ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: এটি এমন একটি বিষয় যাতে ইবরাহীম অর্থাৎ এই ইবনে আমর একক হয়ে গেছেন, আর এটি তাঁর নিজের হাত যা তৈরি করেছে। আমি জানি না তিনি তাঁর পিতার ওপর এই অপরাধটি করেছেন নাকি তাঁর পিতা তাঁকে এই জাল হাদীসগুলো দিয়ে নির্দিষ্ট করেছেন। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ইবনে উমর কিংবা নাফে—কারোরই কথা নয়; বরং এটি হাসান বসরীর কথা।

১৬ - ইবরাহীম বিন ঈসা আল-কান্তারি, আহমাদ বিন আবু আল-হাওয়ারি থেকে বর্ণিত। আল-খাতিব বলেছেন: তিনি অপরিচিত। আয-যাহাবি বলেছেন: তাঁর বর্ণিত সংবাদটি বাতিল, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন— "সিদরাতুল মুনতাহায় জিবরীল আমাকে ডুব দিলেন এবং বললেন: আপনি আল্লাহর নিকট ধনুকের দুই প্রান্তের দূরত্বের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী।" তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। আয-যাহাবি বলেছেন: আল-কান্তারি এটি জাল করেছেন। আল-খাতিব বলেছেন: আল-কান্তারি ব্যতীত এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। কথা শেষ। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি তিনি নিজেই জাল করেছেন, অথবা তাঁর জন্য জাল করা হয়েছে, কিংবা কোনো জালকারী এটি জাল করে এই অপরিচিত ব্যক্তির সাথে জুড়ে দিয়েছে। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٣٨)
17 - إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن الْحسن الْأَصْبَهَانِيّ الطيان حدث عَن حُسَيْن بن الْقَاسِم الزَّاهِد الْأَصْبَهَانِيّ حدث بهمدان فأنكروا عَلَيْهِ واتهموه وَأخرج انْتهى لفظ الذَّهَبِيّ فَهَذَا يحْتَمل إِنَّهُم اتَّهَمُوهُ بِالْكَذِبِ وَيحْتَمل بِالْوَضْعِ وَمَعَ الِاحْتِمَال لَا يذكر مَعَ هَؤُلَاءِ ثمَّ هَؤُلَاءِ الْجَمَاعَة الَّذين أَنْكَرُوا عَلَيْهِ واتهموه وَأَن كَانُوا محدثين وَهُوَ الظَّاهِر فَهَذَا إِنْكَار صَحِيح وَأَن كَانُوا غير محدثين فَيَنْبَغِي أَن ينظر فِي انكارهم وَالله أعلم

18 - إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن يُوسُف سرج أَبُو إِسْحَاق الْفرْيَابِيّ الْمَقْدِسِي وَلَيْسَ هُوَ بِابْن صَاحب الثَّوْريّ قَالَ أَبُو حَاتِم صَدُوق وَقَالَ الْأَزْدِيّ وجده سَاقِط قَالَ الذَّهَبِيّ وَلَا يلْتَفت إِلَى قَول الْأَزْدِيّ فَإِن فِي لِسَانه فِي الْجرْح رهقا انْتهى وَقد صحّح الذَّهَبِيّ فِي أول اسْمه فِي الْمِيزَان فَالْعَمَل إِذن على توثيقه كَمَا شَرطه وَقد ذكره أَبُو الْفرج بن الْجَوْزِيّ فِي حَدِيث الهريسة من طَرِيق أبي هُرَيْرَة وَقَالَ نرى أَن إِبْرَاهِيم الْفرْيَابِيّ قد سَرقه وَركب لَهُ إِسْنَادًا ثمَّ ذكر كَلَام الْأَزْدِيّ انْتهى وَقد تقدم أَن وضع السَّنَد كوضع الْمَتْن الا أَنه أخف

19 - إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الْخَواص قَالَ الإِمَام الذَّهَبِيّ فِي تَرْجَمَة إِسْمَاعِيل بن أَحْمد الآخري بِالْخَاءِ الْمُعْجَمَة وَمد الْهمزَة أَتَّهِمهُ بن الْجَوْزِيّ وَإِنَّمَا الْمُتَّهم شَيْخه الْخَواص وَهَذَا يحْتَمل أَن يكون مُتَّهمًا بِالْوَضْعِ قَالَ الذَّهَبِيّ فِي تَرْجَمَة الْخَواص أحد الواضعين قَالَ بن طَاهِر أَحَادِيثه مَوْضُوعَة وَهَذَا يروي أحد الِاحْتِمَالَيْنِ رَأَيْت أَنا كَلَام بن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات فِي سُورَة أَقرَأ وَهُوَ صَرِيح فِي أَنه وَضاع أَعنِي الآخري فَإِنَّهُ قَالَ مَوْضُوع بِلَا شكّ وَأَنا اتهمَ بِهِ إِسْمَاعِيل الآخري
১৭ - ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-আসবাহানি আল-তাইয়ান; তিনি হুসাইন ইবনে কাসিম আল-জাহিদ আল-আসবাহানি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি হামদানে হাদিস বর্ণনা করলে তারা তার প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন, তাকে অভিযুক্ত করেন এবং তাকে বের করে দেন—এটি আয-যাহাবীর বক্তব্য। এতে সম্ভাবনা রয়েছে যে তারা তাকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন, আবার জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। আর যেখানে সম্ভাবনা বিদ্যমান, সেখানে তাকে এদের সাথে উল্লেখ করা উচিত নয়। এরপর, যারা তাকে অস্বীকার করেছেন এবং অভিযুক্ত করেছেন, তারা যদি মুহাদ্দিস হয়ে থাকেন—যা স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়—তবে এই অস্বীকৃতি সঠিক। আর যদি তারা মুহাদ্দিস না হন, তবে তাদের এই অস্বীকৃতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আল্লাহু আলাম (আল্লাহই ভালো জানেন)।

১৮ - ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ সুরাজ আবু ইসহাক আল-ফিরইয়াবি আল-মাকদিসি; তিনি আস-সাওরীর সঙ্গীর পুত্র নন। আবু হাতিম বলেছেন, তিনি 'সাদুক' (সত্যবাদী)। আল-আযদি বলেছেন, তার দাদা বর্জিত। আয-যাহাবী বলেছেন, আল-আযদি'র কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না, কারণ সমালোচনা বা জারহ করার ক্ষেত্রে তার ভাষায় কঠোরতা রয়েছে। আয-যাহাবী আল-মিজান গ্রন্থে তার নামের শুরুতে তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, সুতরাং তার শর্তানুসারে তাকে নির্ভরযোগ্য গণ্য করাই সিদ্ধান্ত। আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি আবু হুরায়রার সূত্রে বর্ণিত 'হারিসাহ' সংক্রান্ত হাদিসের বর্ণনায় তাকে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, "আমরা মনে করি ইব্রাহিম আল-ফিরইয়াবি এটি চুরি করেছেন এবং এর জন্য একটি সনদ তৈরি করেছেন"; এরপর তিনি আল-আযদির বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সনদ জাল করা মূল পাঠ (মতন) জাল করার মতোই, তবে এটি কিছুটা লঘু।

১৯ - ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-খাওওয়াস; ইমাম আয-যাহাবী ইসমাইল ইবনে আহমদ আল-আখিরি-এর (বর্ণিত 'খা' বর্ণটি নুকতাহযুক্ত এবং হামযাহ মদ্দযুক্ত) জীবনীতে বলেছেন, ইবনুল জাওজি তাকে অভিযুক্ত করেছেন, অথচ প্রকৃতপক্ষে অভিযুক্ত তার শিক্ষক আল-খাওওয়াস। এতে সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি হাদিস জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত। আয-যাহাবী আল-খাওওয়াসের জীবনীতে তাকে অন্যতম জালিয়াত বলেছেন। ইবনে তাহির বলেছেন, তার হাদিসগুলো বানোয়াট। এটি দুটি সম্ভাবনার একটিকে নির্দেশ করে। আমি ইবনুল জাওজির 'আল-মাওদুয়াত' গ্রন্থে সূরা 'ইকরা'র আলোচনায় তার বক্তব্য দেখেছি, যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে যে তিনি একজন জালিয়াত—অর্থাৎ আল-আখিরি। কারণ তিনি বলেছেন, এটি নিঃসন্দেহে বানোয়াট এবং আমি এর জন্য ইসমাইল আল-আখিরিকে অভিযুক্ত করি।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٣٩)
20 - إِبْرَاهِيم بن الْفضل الْأَصْبَهَانِيّ الْحَافِظ أَبُو نصر الْبَار قَالَ بن السَّمْعَانِيّ رَحل وطوف ولحقه الإدبار فَكَانَ يقف فِي سوق أَصْبَهَان ويروي من حفظه بِإِسْنَادِهِ وَسمعت أَنه كَانَ يضع الحَدِيث فِي الْحَال

21 - إِبْرَاهِيم بن عَليّ بن إِبْرَاهِيم أَبُو الْفَتْح الْبَغْدَادِيّ عَن مُوسَى بن نصر وَجَرِير وَعنهُ أَحْمد بن الْقَاسِم بن مَيْمُون الْعلوِي قَالَ الذَّهَبِيّ فِي إِبْرَاهِيم بن سيبخت روى عَن الْبَغَوِيّ وَطَالَ عمره قَالَ الْخَطِيب سيء الْحَال فِي الرِّوَايَة وَقَالَ مرّة سَاقِط الرِّوَايَة أَحسب شَيْخه مُوسَى بن نصر شَيخا اختلقه إِلَى آخر كَلَامه وَفِي مَوْضُوعَات بن الْجَوْزِيّ فِي بَاب إِبَاحَة الْغناء ذكر فِيهِ حَدِيثا هُوَ فِي السَّنَد ثمَّ ذكر كَلَام الْخَطِيب مَعَ قَوْله وشيخا اختلقه وَاصل الحَدِيث بَاطِل وَالله أعلم فَهَذَا وضع فِي السَّنَد بالحسبان

22 - إِبْرَاهِيم بن عبد الْوَاحِد الْبكْرِيّ قَالَ الذَّهَبِيّ لَا أَدْرِي من ذَا أَتَى بحكاية مُنكرَة أَخَاف الا تكون من وَضعه فَذكرهَا وَهِي صَلَاة أَحْمد بن حَنْبَل ويحي بن معِين بِمَسْجِد الرصافة فَقَامَ قاص فَقَالَ حَدثنَا أَحْمد بن حَنْبَل ويحي بن معِين إِلَى أَن قَالَ فَجعل أَحْمد ينظر إِلَى يحيى ويحي ينظر إِلَيْهِ فَقَالَ أَنْت حدثته فَقَالَ لَا وَالله إِلَى أَن قَالَ فِيهِ كَيفَ عَن سَبْعَة عشر أَحْمد بن حَنْبَل
২০ - ইব্রাহীম বিন আল-ফাদল আল-আসবাহানী আল-হাফিয আবু নাসর আল-বার। ইবনে সামআনী বলেন: তিনি ভ্রমণ ও দেশাটন করেছেন, কিন্তু শেষ জীবনে তিনি দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি আসবাহানের বাজারে দাঁড়িয়ে নিজ স্মৃতি থেকে সনদসহ হাদীস বর্ণনা করতেন। আমি শুনেছি যে, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাদীস জাল করতেন।

২১ - ইব্রাহীম বিন আলী বিন ইব্রাহীম আবু আল-ফাতহ আল-বাগদাদী। তিনি মুসা বিন নাসর ও জারীর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আহমদ বিন আল-কাসিম বিন মাইমুন আল-আলাওয়ী বর্ণনা করেছেন। যাহাবী 'ইব্রাহীম বিন সীবখত' সম্পর্কে বলেছেন: তিনি বাগাওয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং দীর্ঘায়ু লাভ করেছেন। আল-খাতীব বলেন: বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, এবং একবার বলেছেন: বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি বর্জনীয় (সাকিত)। আমার মনে হয় তাঁর শাইখ মুসা বিন নাসর এমন একজন ব্যক্তি যাকে তিনি নিজে উদ্ভাবন করেছেন... তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত। ইবনুল জাওযীর 'মাওদুআত' (জাল হাদীসসমূহ) গ্রন্থে গান বৈধ হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে তিনি একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন যার সনদে এই ব্যক্তি রয়েছেন। এরপর তিনি আল-খাতীবের মন্তব্য এবং 'একজন শাইখকে উদ্ভাবন করেছেন' কথাটি উল্লেখ করেছেন। হাদীসটির মূল ভিত্তিই বাতিল, আর আল্লাহই ভালো জানেন। এটি অনুমানের ভিত্তিতে সনদে হাদীস জাল করার অন্তর্ভুক্ত।

২২ - ইব্রাহীম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বকরী। যাহাবী বলেন: আমি জানি না এ ব্যক্তি কে। সে একটি আপত্তিকর গল্প নিয়ে এসেছে, আমার ভয় হয় এটি তারই জাল করা কি না। তিনি সেটি উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো রুসাফা মসজিদে আহমদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈনের সালাত আদায়ের কাহিনী। এক গল্পকার দাঁড়িয়ে বলল, "আমাদের নিকট আহমদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন হাদীস বর্ণনা করেছেন..." শেষ পর্যন্ত যেখানে বলা হয়েছে: তখন আহমদ ইয়াহইয়ার দিকে তাকাতে লাগলেন আর ইয়াহইয়া আহমদের দিকে তাকাতে লাগলেন। আহমদ বললেন, "তুমি কি তাকে এটি বর্ণনা করেছ?" তিনি বললেন, "না, আল্লাহর কসম।" শেষ পর্যন্ত সেখানে আছে: সতেরোজন আহমদ বিন হাম্বলের ব্যাপারে কী হবে?
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٤٠)
23 - إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن أبي يحيى وَاسم أبي يحيى سمْعَان ذكر لَهُ الذَّهَبِيّ تَرْجَمَة فِي مِيزَانه وَلم يذكر فِيهَا أَنه وضع وَقد ذكره أَبُو الْفرج بن الْجَوْزِيّ فِي مُقَدّمَة الموضوعات أَنه كَانَ يضع الحَدِيث جَوَابا لسائله وَذكر لَهُ حَدِيثا وَضعه وَنقل عَن النَّسَائِيّ أَنه وَضاع

24 - إِبْرَاهِيم بن هدبة كَذَّاب وَقَالَ بن الْجَوْزِيّ فِي تبشير السَّمَاوَات وَالْأَرْض الصَّائِم بِالْجنَّةِ فَذكر حَدِيثا ثمَّ قَالَ الْمُتَّهم بِهِ إِبْرَاهِيم بن هدبة قَالَ بن حبَان دجال يضع على أنس

25 - إِبْرَاهِيم بن منقوش هُوَ إِبْرَاهِيم بن يُوسُف بن منقوش الزبيدِيّ عَن أَصْحَاب مَيْمُون بن مهْرَان قَالَ الْأَزْدِيّ كَانَ يضع الحَدِيث انْتهى

26 - إِبْرَاهِيم بن مهْدي الأبلي قَالَ الْأَزْدِيّ كَانَ يضع الحَدِيث
২৩ - ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আবি ইয়াহইয়া; আর আবি ইয়াহইয়ার নাম হলো সামআন। আয-যাহাবি তাঁর 'মিযান' গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেখানে তিনি যে হাদিস জাল করতেন সে কথা উল্লেখ করেননি। তবে আবুল ফারাজ বিন আল-জাওযি তাঁর 'মাওদুআত' গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি প্রশ্নকারীর উত্তরের প্রয়োজনে হাদিস জাল করতেন। তিনি তাঁর জাল করা একটি হাদিসও উল্লেখ করেছেন এবং আন-নাসাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একজন হাদিস জালকারী ছিলেন।

২৪ - ইব্রাহিম বিন হুদবাহ একজন মিথ্যাবাদী। ইবনুল জাওযি 'আকাশ ও পৃথিবী কর্তৃক রোযাদারকে জান্নাতের সুসংবাদ দান' সংক্রান্ত একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেছেন: এই হাদিসের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন ইব্রাহিম বিন হুদবাহ। ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি একজন দাজ্জাল (চরম মিথ্যাবাদী), তিনি আনাস-এর নামে হাদিস জাল করতেন।

২৫ - ইব্রাহিম বিন মানকুশ; তিনি হলেন ইব্রাহিম বিন ইউসুফ বিন মানকুশ আয-যাবিদি। তিনি মাইমুন বিন মাহরানের সাথীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-আযদি বলেছেন: তিনি হাদিস জাল করতেন। সমাপ্ত।

২৬ - ইব্রাহিম বিন মাহদি আল-উবল্লি। আল-আযদি বলেছেন: তিনি হাদিস জাল করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٤١)
27 - إِبْرَاهِيم بن مهْدي المصِّيصِي د عَن حَمَّاد بن زيد قَالَ الْعقيلِيّ حدث بمناكير وَقَالَ بن معِين جَاءَ بمناكير انْتهى وَقد وَثَّقَهُ أَبُو حَاتِم

28 - أبرد بن أَشْرَس قَالَ بن خُزَيْمَة كَذَّاب وَضاع

29 - أبين بن سُفْيَان الْمَقْدِسِي عَن التَّابِعين ضَعِيف قَالَ الذَّهَبِيّ كَأَنَّهُ غير أبان بن سُفْيَان ذَاك تَأَخّر أَو هما وَاحِد وَالله أعلم وَقد سقناه فِي أبان بن سُفْيَان وَقد ذكر كَلَام النَّاس فِيهِ فأنظره وَقد قَالَ بن مَاكُولَا فِي اكماله بعد ضَبطه يروي عَن غَالب بن عبيد الله وَعبد الله بن عمر وَأبي حَازِم روى عَنهُ كثير بن مرّة الفلسطيني صَاحب مَنَاكِير عَزِيز الحَدِيث انْتهى وَقد ذكره بن الْجَوْزِيّ فِي حَدِيث اتِّحَاد السودَان فِي كتاب الْجِهَاد وَقَالَ عقب الحَدِيث لَا يَصح وَالْمُتَّهَم بِهِ أبين ثمَّ ذكر كَلَام النَّاس فِيهِ

30 - أجلح بن عبد الله أَبُو حجية الْكِنْدِيّ الْكُوفِي 4 يُقَال اسْمه يحيى وَثَّقَهُ بن معِين وَأحمد بن عبد الله الْعجلِيّ وَقَالَ أَبُو حَاتِم لَيْسَ بِالْقَوِيّ وَقَالَ س ضَعِيف وَقَالَ بن عدي شيعي صَدُوق وَفِيه غير هَذَا الْكَلَام من جرح وتعديل وَقَالَ بن الْجَوْزِيّ فِي مَوْضُوعَاته فِي فضل عَليّ رضي الله عنه فِي حَدِيث وَضعه أجلح
27 - ইব্রাহিম বিন মাহদি আল-মাসসিসি। তিনি হাম্মাদ বিন যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-উকাইলি বলেছেন, তিনি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনু মাইন বলেছেন, তিনি মুনকার হাদিস নিয়ে এসেছেন। সমাপ্ত। আবু হাতিম তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

28 - আবরাদ বিন আশরাস। ইবনু খুজাইমাহ বলেছেন, তিনি চরম মিথ্যাবাদী ও হাদিস জালকারী।

29 - আবইয়ান বিন সুফিয়ান আল-মাকদিসি। তিনি তাবেয়ীগণ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি দুর্বল। আয-যাহাবি বলেছেন, মনে হচ্ছে তিনি আবান বিন সুফিয়ান থেকে ভিন্ন; সেই ব্যক্তি পরবর্তী সময়ের অথবা তারা দুজন একই ব্যক্তি, আল্লাহ-ই ভালো জানেন। আমরা আবান বিন সুফিয়ান-এর জীবনীতে তাকে উল্লেখ করেছি এবং তার সম্পর্কে মানুষের মন্তব্য সেখানে বর্ণনা করেছি, সুতরাং সেটি দেখুন। ইবনু মাকুলা তার 'ইকমাল' গ্রন্থে তার নামের উচ্চারণ নির্দিষ্ট করার পর বলেছেন, তিনি গালিব বিন উবাইদুল্লাহ, আব্দুল্লাহ বিন উমর এবং আবু হাজিম থেকে বর্ণনা করেন। তার থেকে কাসির বিন মুররাহ আল-ফিলিস্তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি মুনকার বর্ণনাকারী এবং হাদিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিরল। সমাপ্ত। ইবনু আল-জাওজি তাকে কিতাবুল জিহাদে সুদানীদের একত্র হওয়া সংক্রান্ত হাদিসে উল্লেখ করেছেন এবং হাদিসটির শেষে বলেছেন, এটি সহিহ নয় এবং এর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি হলো আবইয়ান। এরপর তিনি তার সম্পর্কে মানুষের সমালোচনা উল্লেখ করেছেন।

30 - আযলাহ বিন আব্দুল্লাহ আবু হুজিয়্যাহ আল-কিন্দি আল-কুফি। বলা হয় তার নাম ইয়াহইয়া। ইবনু মাইন এবং আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইজলি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু হাতিম বলেছেন, তিনি শক্তিশালী নন। নাসাঈ বলেছেন, তিনি দুর্বল। ইবনু আদি বলেছেন, তিনি শিয়া এবং সত্যবাদী। তার সম্পর্কে জারাহ ও তাদিল (সমালোচনা ও প্রশংসা) বিষয়ক আরও কথা রয়েছে। ইবনু আল-জাওজি তার 'মাওদুআত' গ্রন্থে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ফজিলত সংক্রান্ত একটি হাদিসের প্রেক্ষিতে বলেছেন, আযলাহ এটি জাল করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٤٢)
31 - أَحْمد بن جَعْفَر بن عبد الله شيخ لأبي نعيم الْحَافِظ ذكر بن طَاهِر أَنه مَشْهُور بِالْوَضْعِ

32 - أَحْمد بن جَعْفَر بن عبد الله بن يُونُس بن عبيد عَن ابائه وَعنهُ الْحسن بن عَليّ بن عَمْرو الْحَافِظ وَقَالَ مَشْهُور بِالْوَضْعِ لَيْسَ بِشَيْء

33 - أَحْمد بن حجاج بن الصَّلْت عَن سَعْدَوَيْه وَجَاء بِإِسْنَاد الصِّحَاح مَرْفُوعا يخْتم هَذَا الْأَمر بِغُلَام من ولدك يَا عَم يُصَلِّي بِعِيسَى بن مَرْيَم رَوَاهُ عَنهُ مُحَمَّد بن مخلد الْعَطَّار وَهُوَ افته وَالْعجب أَن الْخَطِيب ذكره فِي تَارِيخه وَلم يُضعفهُ وَكَأَنَّهُ سكت عَنهُ لانتهاك حَاله مَاتَ سنة 262 هـ انْتهى لفظ الذَّهَبِيّ

34 - أَحْمد بن الْحسن بن أبان المضري بالضاد الْمُعْجَمَة الأبلي قَالَ بن حبَان كَذَّاب يضع الحَدِيث على الثِّقَات

35 - أَحْمد بن الْحسن أَبُو حَنش أَتَّهِمهُ الْخَطِيب بِوَضْع الحَدِيث هَذَا عَن يحيى عَن عبد الرَّزَّاق عَن معمر عَن الزُّهْرِيّ عَن عُرْوَة عَن عَائِشَة رضي الله عنها مَرْفُوعا من حفظ الْقُرْآن شفع فِي عشرَة من أهل بَيته قد وَجَبت لَهُم النَّار قَالَ الْخَطِيب الْحمل فِيهِ عَلَيْهِ
৩১ - আহমাদ বিন জাফর বিন আব্দুল্লাহ; তিনি আবু নুয়াইম আল-হাফিজের একজন উস্তাদ। ইবন তাহির উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাদিস জাল করার জন্য প্রসিদ্ধ।

৩২ - আহমাদ বিন জাফর বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউনুস বিন উবাইদ; তিনি তার পিতৃপুরুষদের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে আল-হাসান বিন আলী বিন আমর আল-হাফিজ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: তিনি হাদিস জাল করার জন্য প্রসিদ্ধ, তিনি নির্ভরযোগ্য কিছু নন।

৩৩ - আহমাদ বিন হাজ্জাজ বিন আল-সালত; সাদাওয়াইহ থেকে এবং তিনি সহিহ হাদিসের সনদে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "হে চাচা, আপনার বংশধরদের এক বালকের মাধ্যমে এই বিষয়টির সমাপ্তি ঘটবে, যে ঈসা বিন মারিয়ামের ইমামতিতে সালাত আদায় করবে।" মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ আল-আত্তার তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনিই এর আপদ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, আল-খতিব তার ইতিহাসে তাকে উল্লেখ করেছেন কিন্তু তাকে দুর্বল বলেননি; মনে হয় তার অবস্থার চরম শোচনীয়তার কারণেই তিনি নীরব থেকেছেন। তিনি ২৬২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আয-যাহাবীর বক্তব্য সমাপ্ত।

৩৪ - আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আবান আল-মুদারি (বিন্দুযুক্ত 'দ' বর্ণ যোগে), আল-উবুল্লি। ইবন হিব্বান বলেছেন: চরম মিথ্যুক, সে নির্ভরযোগ্য রাবীদের নামে হাদিস জাল করে।

৩৫ - আহমাদ বিন আল-হাসান আবু হানাশ। আল-খতিব তাকে এই হাদিসটি জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন: ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন হিফজ করবে, সে তার পরিবারের এমন দশজন সদস্যের জন্য সুপারিশ করবে যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গিয়েছিল।" আল-খতিব বলেন: এর দায়ভার তারই ওপর বর্তায়।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٤٣)
36 - أَحْمد بن الْحسن بن سهل أَبُو الْفَتْح الْحِمصِي كَانَ يتهم بِوَضْع الحَدِيث قَالَه الضياء مُحَمَّد بن عبد الْوَاحِد الْمَقْدِسِي

37 - أَحْمد بن الْحسن بن الْقَاسِم بن سَمُرَة الْكُوفِي روى بِمصْر عَن وَكِيع وَكَانَ يعرف برَسُول نَفسه مَتْرُوك كَذَّاب ذكر بن الْجَوْزِيّ فِي مَوْضُوعَاته حَدِيثا فِي فَضَائِل أبي بكر وَالثَّلَاثَة بعده رضي الله عنهم ثمَّ قَالَ عَن الدَّارَقُطْنِيّ أَنه مَتْرُوك قَالَ بن الْجَوْزِيّ وَقَالَ بن حبَان يضع الحَدِيث على الثِّقَات

38 - أَحْمد بن الْحُسَيْن القَاضِي أَبُو الْعَبَّاس النهاوندي هُوَ الْمُتَّهم بِوَضْع حِكَايَة القَاضِي واللص

39 - أَحْمد بن حَفْص السَّعْدِيّ شيخ بن عدي صَاحب مَنَاكِير قَالَ حَمْزَة السَّهْمِي لم يعْتَمد الْكَذِب وَكَذَا قَالَ بن عدي لَهُ عَن بن معِين وَعلي بن الْجَعْد وَهُوَ جرجاني انْتهى مَا قَالَه الذَّهَبِيّ وَقد ذكر هَذَا الرجل فِي تَرْجَمَة سعيد بن عقبَة فَذكر مِنْهَا عَن بن عدي عَن هَذَا الرجل حَدِيثا عَن بن عَبَّاس مَرْفُوعا أَنا مَدِينَة الْعلم ثمَّ قَالَ الذَّهَبِيّ قلت اختلقه السَّعْدِيّ يَعْنِي هَذَا

40 - أَحْمد بن حمدون أَبُو حَامِد الْأَعْمَش الْحَافِظ النَّيْسَابُورِي قَالَ الْحَاكِم كَانَ أَبُو عَليّ الْحَافِظ يَقُول حَدِيث أَحْمد بن حمدون أَن حلت الرِّوَايَة عَنهُ وَأنكر عَلَيْهِ أَحَادِيث قَالَ الْحَاكِم أَحَادِيثه كلهَا مُسْتَقِيمَة وَهُوَ مظلوم انْتهى لفظ الذَّهَبِيّ قَالَ شَيخنَا الْعِرَاقِيّ فِي شرح الألفية وَفِي النكت كِلَاهُمَا لَهُ وَقد قرأتهما عَلَيْهِ وَقد حكى حِكَايَة عَن البُخَارِيّ ثمَّ قَالَ فِيهَا وَأَنا اتهمَ فِيهَا أَحْمد بن حمدون القَاضِي راويها انْتهى وَرَأَيْت بِخَط الْحَافِظ شهَاب الدّين بن حجر مالفظه يَقُول بن حجر بعد بدئه بحكاية أَنه وَقع فِي عُلُوم الحَدِيث للْحَاكِم وَقد سَاقهَا فِي التَّارِيخ وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْمدْخل وَابْن عَسَاكِر فِي تَرْجَمَة أَحْمد بن حمدون الْمَذْكُور لَا أعرف فِي الدُّنْيَا بِهَذَا الْإِسْنَاد الا هَذَا الحَدِيث وَهُوَ كَلَام مُسْتَقِيم لَا اشكال فِيهِ وَأحمد بن حمدون أحد الْحفاظ الْكِبَار ثِقَة ثَبت انْتهى لَفظه فَهَذَا يَنْفِي عَنهُ مَا أَتَّهِمهُ بِهِ شَيخنَا الْعِرَاقِيّ وَالله أعلم
৩৬ - আহমদ বিন হাসান বিন সাহল আবুল ফাতহ আল-হিমসি। তাঁকে হাদিস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হতো; এ কথা দিয়া মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি বলেছেন।

৩৭ - আহমদ বিন হাসান বিন আল-কাসিম বিন সামুরা আল-কুফি। তিনি মিশরে ওয়াকি’র সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি 'রাসুলু নাফসিহি' (নিজের প্রেরিত) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি পরিত্যক্ত ও চরম মিথ্যাবাদী। ইবনুল জাওজি তাঁর 'মাওদুআত' (জাল হাদিসসমূহ) গ্রন্থে আবু বকর এবং তাঁর পরবর্তী তিন খলিফার (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ফযিলত সম্পর্কে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন; অতঃপর তিনি দারাকুতনি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, সে পরিত্যক্ত। ইবনুল জাওজি বলেন, ইবনে হিব্বান বলেছেন যে, সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নামে হাদিস জাল করত।

৩৮ - আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-কাদি আবুল আব্বাস আন-নাহাওয়ান্দি। তিনি 'কাজি ও চোর' নামক কাহিনীটি জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত।

৩৯ - আহমদ বিন হাফস আস-সাদি। তিনি ইবনে আদির উস্তাদ এবং আপত্তিকর (মুনকার) বর্ণনার অধিকারী। হামজা আস-সাহমি বলেছেন: তিনি মিথ্যার আশ্রয় নিতেন না। ইবনে আদিও তাঁর সম্পর্কে একই কথা বলেছেন। তিনি ইবনে মাঈন ও আলী বিন আল-জাদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি জুরজানের অধিবাসী ছিলেন—যাহাবি যা বলেছেন তা এখানেই সমাপ্ত। এই ব্যক্তি সম্পর্কে সাঈদ বিন উকবার জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে; সেখানে ইবনে আদি এই ব্যক্তির সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে একটি মারফু হাদিস বর্ণনা করেছেন: "আমি জ্ঞানের শহর"। এরপর যাহাবি বলেন: আমি বলছি, আস-সাদি অর্থাৎ এই ব্যক্তিটি এটি উদ্ভাবন (জাল) করেছে।

৪০ - আহমদ বিন হামদুন আবু হামিদ আল-আমাশ আল-হাফিজ আন-নাইসাবুরি। আল-হাকিম বলেন: আবু আলী আল-হাফিজ বলতেন, আহমদ বিন হামদুনের হাদিস বর্ণনার অনুমতি আছে কি না (সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে) এবং তিনি তাঁর বেশ কিছু হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আল-হাকিম বলেন: তাঁর সকল হাদিস সঠিক এবং তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়েছে—যাহাবির বক্তব্য এখানেই শেষ। আমাদের উস্তাদ আল-ইরাকি তাঁর 'শারহুল আলফিয়্যাহ' এবং 'আন-নুকাতি' গ্রন্থে—আমি এই উভয় গ্রন্থই তাঁর নিকট পাঠ করেছি—ইমাম বুখারি থেকে একটি কাহিনী বর্ণনা করেছেন এবং এরপর সেখানে বলেছেন: আমি এর বর্ণনাকারী কাজি আহমদ বিন হামদুনকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত করছি—উক্তি সমাপ্ত। আমি হাফিজ শিহাবুদ্দিন ইবনে হাজারের হস্তাক্ষরে দেখেছি যে, ইবনে হাজার একটি কাহিনীর অবতারণা করার পর বলেছেন যে, এটি আল-হাকিমের 'উলুমুল হাদিস' গ্রন্থে এসেছে; তিনি এটি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থেও এনেছেন, তেমনি বায়হাকি 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির উক্ত আহমদ বিন হামদুনের জীবনীতে এটি এনেছেন। (ইবনে হাজার বলেন:) আমি পৃথিবীতে এই সনদে এই হাদিসটি ছাড়া আর কিছু জানি না, এবং এটি একটি সঠিক বক্তব্য যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। আহমদ বিন হামদুন বড় হাফিজদের একজন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়—তাঁর উক্তি সমাপ্ত। সুতরাং এটি আমাদের উস্তাদ আল-ইরাকি তাঁকে যে বিষয়ে অভিযুক্ত করেছেন তা নাকচ করে দেয়। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٤٤)
41 - أَحْمد بن دَاوُد روى حَدِيث فِي رد الشَّمْس لعَلي رضي الله عنه من حَدِيث أَسمَاء بنت عُمَيْس قَالَ بن الْجَوْزِيّ أَحْمد بن دَاوُد لَيْسَ بِشَيْء قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ مَتْرُوك الحَدِيث كَذَّاب وَقَالَ بن حبَان كَانَ يضع الحَدِيث ثمَّ ذكر بن الْجَوْزِيّ هَذَا الرجل فِي بَاب رزق الْمُؤمن من حَيْثُ لَا يحْتَسب ثمَّ قَالَ قَالَ أَبُو حَاتِم هَذَا مَوْضُوع وَأحمد بن دَاوُد يضع الحَدِيث
41 - আহমদ ইবনে দাউদ। তিনি আসমা বিনতে উমাইসের হাদীস থেকে আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জন্য সূর্য ফিরিয়ে আনার হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওযী বলেছেন, আহমদ ইবনে দাউদ নির্ভরযোগ্য কেউ নন। আদ-দারাকুতনী বলেছেন, তিনি পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী এবং চরম মিথ্যাবাদী। ইবনে হিব্বান বলেছেন, তিনি হাদীস জাল করতেন। অতঃপর ইবনুল জাওযী এই ব্যক্তিকে ‘মুমিনের এমন উৎস হতে রিযিক লাভ যা সে কল্পনাও করতে পারে না’ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, আবু হাতিম বলেছেন, এটি বানোয়াট এবং আহমদ ইবনে দাউদ হাদীস জাল করেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٤٥)
42 - أَحْمد بن دَاوُد بن أُخْت عبد الرَّزَّاق قَالَ الذَّهَبِيّ عَن عبد الرَّزَّاق وَغَيره قَالَ بن معِين لَيْسَ بِثِقَة وَقَالَ أَحْمد من أكذب النَّاس وَقَالَ بن عدي عَامَّة أَحَادِيثه مَنَاكِير وَحَدِيثه قَلِيل انْتهى وَفِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل كذبه أَحْمد وَابْن معِين وَقد ذكره بن الْجَوْزِيّ فِي مَوْضُوعَاته فِي بَاب النَّهْي أَن يُسمى الطَّرِيق السِّكَّة فَقَالَ وَأحمد بن دَاوُد الْمُتَّهم بِهِ وَهُوَ بن أُخْت عبد الرَّزَّاق ثمَّ ذكر عَن أَحْمد أَنه من أكذب النَّاس انْتهى

43 - أَحْمد بن رَاشد الْهِلَالِي وَهُوَ الدباس أورد الذَّهَبِيّ فِي تَرْجَمته حَدِيثا وَفِيه إِذا كَانَت سنة خمس وَثَلَاثِينَ وَمِائَة فَهِيَ لَك ولولدك مِنْهُم السفاح رَوَاهُ أَبُو بكر بن أبي دَاوُد وَجَمَاعَة عَن أَحْمد بن رَاشد قَالَ الذَّهَبِيّ اختلقه بِجَهْل

44 - أَحْمد بن سعيد بن فرقد الجدي عَن أبي حمة وَعنهُ الطَّبَرَانِيّ فَذكر حَدِيث الطير بِإِسْنَاد الصَّحِيحَيْنِ فَهُوَ مُتَّهم بِوَضْعِهِ قَالَ الذَّهَبِيّ
42 - আহমদ বিন দাউদ, যিনি আব্দুর রাজ্জাকের ভাগ্নে। আয-যাহাবী আব্দুর রাজ্জাক ও অন্যান্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে মাঈন বলেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। আহমদ বলেছেন, তিনি মানুষের মধ্যে অন্যতম বড় মিথ্যাবাদী। ইবনে আদি বলেছেন, তার অধিকাংশ হাদিসই মুনকার এবং তার বর্ণিত হাদিস সংখ্যায় অল্প। সমাপ্ত। আল-জারহ ওয়াত তা'দীল গ্রন্থে আহমদ ও ইবনে মাঈন তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। ইবনে আল-জাওযী তার 'মাওদুআত' (জাল হাদিসসমূহ) গ্রন্থের 'পথকে সিক্কাহ নাম দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা' অনুচ্ছেদে তাকে উল্লেখ করে বলেছেন: আহমদ বিন দাউদ এই হাদিসটি জাল করার দায়ে অভিযুক্ত এবং তিনি আব্দুর রাজ্জাকের ভাগ্নে। এরপর তিনি ইমাম আহমদ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মানুষের মধ্যে বড় মিথ্যাবাদী। সমাপ্ত।

43 - আহমদ বিন রাশিদ আল-হিলালী, যিনি আদ-দাব্বাস নামে পরিচিত। আয-যাহাবী তার জীবনীতে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যেখানে বলা হয়েছে: "যখন একশ পঁয়ত্রিশ সাল আসবে, তখন তা তোমার ও তোমার সন্তানদের জন্য হবে, তাদের মধ্যে আস-সাফফাহ থাকবে।" এটি আবু বকর বিন আবি দাউদ ও একদল রাবী আহমদ বিন রাশিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আয-যাহাবী বলেছেন: সে অজ্ঞতাবশত এটি জাল করেছে।

44 - আহমদ বিন সাঈদ বিন ফারকাদ আল-জাদী, আবু হুম্মা থেকে এবং তার থেকে আত-তাবারানি বর্ণনা করেছেন। তিনি সহীহাইন-এর সনদে পাখির হাদিস (হাদিসুত তায়র) উল্লেখ করেছেন, তাই তিনি এটি জাল করার দায়ে অভিযুক্ত। আয-যাহাবী বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٤٦)
45 - أَحْمد بن سعيد الْحِمصِي عَن عبيد الله بن الْقَاسِم بِخَبَر مَوْضُوع قَالَ الذَّهَبِيّ الآفة هُوَ أَو شَيْخه انْتهى

46 - أَحْمد بن عَامر ذكر الذَّهَبِيّ فِي تَرْجَمَة وَلَده عبد الله بن أَحْمد بن عَامر عَن أَبِيه عَن عَليّ الرِّضَا عَن ابائه بِتِلْكَ النُّسْخَة الْمَوْضُوعَة الْبَاطِلَة مَا تنفك عَن وَضعه أَو وضع ابْنه وَذكر بن الْجَوْزِيّ فِي حَدِيث عَن أَبِيه عَن عَليّ بن مُوسَى عَن ابائه فِي ذكر ملك أَوْلَاد الْعَبَّاس ولبسهم السوَاد قَالَ بن الْجَوْزِيّ هُوَ مَحل التُّهْمَة وَذكره أَيْضا فِي فضل الْعَبَّاس فَقَالَ الْمُتَّهم بِهِ عبد الله بن أَحْمد بن عَامر أَو أَبوهُ

47 - أَحْمد بن عبد الله بن خَالِد الجويباري وَيُقَال الجوباري وجوبار من عمل هراة ويغرف بستوق قَالَ بن عدي كَانَ يضع الحَدِيث لِابْنِ كرام على مَا يُريدهُ وَكَانَ بن كرام يُخرجهَا فِي كتبه قَالَ الذَّهَبِيّ قلت الجويباري مِمَّن يضْرب الْمثل بكذبه وَمن طاماته فَذكر أثرا وحديثا مَرْفُوعا وَقد ذكر بن الْجَوْزِيّ حَدِيثا فِي الْإِيمَان لَا يزِيد وَلَا ينقص ثمَّ قَالَ فَهَذَا من مَوْضُوعَات الجويباري ثمَّ ذكر كَلَام بن عدي ثمَّ نقل عَن بن حبَان أَنه يضع
45 - আহমাদ বিন সাঈদ আল-হিমসি, উবাইদুল্লাহ বিন আল-কাসিমের সূত্রে একটি জাল সংবাদ বর্ণনা করেছেন। আয-যাহাবি বলেছেন: সমস্যাটি হয় তিনি নিজে অথবা তার শিক্ষক। সমাপ্ত।

46 - আহমাদ বিন আমির। আয-যাহাবি তার পুত্র আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আমিরের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন, যিনি তার পিতার সূত্রে, আলী আর-রিযার সূত্রে এবং তার পূর্বপুরুষদের সূত্রে ঐ জাল ও বাতিল পাণ্ডুলিপিটি বর্ণনা করেছেন যা তার অথবা তার পুত্রের জাল করা থেকে মুক্ত নয়। ইবনুল জাওযি তার পিতার সূত্রে, আলী বিন মুসার সূত্রে এবং তার পূর্বপুরুষদের সূত্রে বনী আব্বাসের রাজত্ব এবং তাদের কালো পোশাক পরিধান বিষয়ক একটি হাদিসের বর্ণনায় তাকে উল্লেখ করেছেন। ইবনুল জাওযি বলেছেন: "তিনিই হলেন সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দু।" তিনি আল-আব্বাসের ফজিলত সংক্রান্ত একটি বর্ণনায় তাকে পুনরায় উল্লেখ করে বলেছেন: "অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আমির অথবা তার পিতা।"

47 - আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন খালিদ আল-জুওয়াইবারি; তাকে আল-জুবারিও বলা হয়, আর জুব্বার হলো হেরাতের একটি এলাকা, এবং তিনি বাস্তুক নামে পরিচিত ছিলেন। ইবনে আদি বলেছেন: "তিনি ইবনে কাররামের জন্য তার ইচ্ছানুযায়ী হাদিস জাল করতেন এবং ইবনে কাররাম সেগুলো তার কিতাবসমূহে সংকলন করতেন।" আয-যাহাবি বলেন: "আমি বলি, আল-জুওয়াইবারি এমন ব্যক্তি যার মিথ্যা প্রবাদের মতো বর্ণনা করা হয়। তার জঘন্য কাজসমূহের মধ্যে..." এরপর তিনি একটি আসার এবং মারফু হাদিস উল্লেখ করেন। ইবনুল জাওযি ঈমান বাড়েও না কমেও না—এই বিষয়ে একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেছেন: "এটি আল-জুওয়াইবারির জাল করা হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।" এরপর তিনি ইবনে আদির বক্তব্য উল্লেখ করেন এবং ইবনে হিব্বান থেকে বর্ণনা করেন যে সে হাদিস জাল করত।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٤٧)
48 - أَحْمد بن الْعَبَّاس بن حمويه أَبُو بكر الْخلال مُتَّهم روى أَبُو بكر بن شَاذان عَنهُ عَن الزَّعْفَرَانِي عَن أبي مُعَاوِيَة عَن الْأَعْمَش عَن أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة مَرْفُوعا قَالَ مَلْعُون من سبّ أَبَاهُ فَذكر حَدِيثا طَويلا قَالَ الْخَطِيب مَا فِي الْإِسْنَاد من يحمل عَلَيْهِ سواهُ انْتهى وَهَذَا مِنْهُ كالتصريح فِي أَنه وضع وَالله أعلم

49 - أَحْمد بن عبد الله البرقي ذكره الذَّهَبِيّ فِي تَلْخِيص الْمُسْتَدْرك للْحَاكِم فِي أول دَلَائِل النُّبُوَّة فِي اجْتِمَاع النَّبِي صلى الله عليه وسلم بالياس قَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد قَالَ الذَّهَبِيّ بل مَوْضُوع قبح الله من وَضعه وماكنت أَحسب وَلَا أجوز أَن الْجَهْل يبلغ بالحاكم أَن يصحح هَذَا ثمَّ ذكر إِسْنَاده وَفِيه حدث أَحْمد بن عبد الله البرقي ثَنَا يزِيد البلوي قَالَ فَأَما هَذَا يَعْنِي افتراه وَأما بن سيار يَعْنِي بن سيار عَبْدَانِ

50 - أَحْمد بن عبد الله بن حَكِيم أَبُو عبد الرَّحْمَن الفرياناني الْمروزِي قَالَ أَبُو نعيم الْحَافِظ مَشْهُور بِالْوَضْعِ

51 - أَحْمد بن عبد الله بن مُحَمَّد الزَّيْنَبِي قَالَ الإِمَام الذَّهَبِيّ فِي تَرْجَمَة صديق بن سعيد أَنه يجهل حَاله إِلَى أَن قَالَ فَمَا أَدْرِي من وَضعه يَعْنِي الحَدِيث الْمَذْكُور فِي تَرْجَمَة صديق يَعْنِي يحْتَمل أَن يكون من وضع أَحْمد هَذَا وَيحْتَمل أَن يكون من وضع صديق
৪৮ - আহমাদ ইবনে আল-আব্বাস ইবনে হামুইয়া আবু বকর আল-খাল্লাল; তিনি অভিযুক্ত। আবু বকর ইবনে শাজান তাঁর সূত্রে আয-জাফরানী থেকে, তিনি আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ‘অভিশপ্ত সে, যে তার পিতাকে গালি দেয়...’ এরপর তিনি একটি দীর্ঘ হাদীস উল্লেখ করেছেন। আল-খাতীব বলেছেন: ‘সনদে তিনি ছাড়া এমন কেউ নেই যার ওপর এই হাদীসটির দায় চাপানো যায়।’ সমাপ্ত। আর এটি তাঁর পক্ষ থেকে হাদীসটি জাল হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট ঘোষণার মতোই। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

৪৯ - আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-বারকী। ইমাম যাহাবী হাকেমের ‘আল-মুস্তাদরাক’-এর সারসংক্ষেপে (তালখিস), ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ অধ্যায়ের শুরুতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও ইলিয়াস (আলাইহিস সালাম)-এর সাক্ষাতের বর্ণনায় তাঁকে উল্লেখ করেছেন। হাকেম বলেছেন: ‘সনদটি সহীহ।’ যাহাবী বলেছেন: ‘বরং এটি বানোয়াট (মাওযু), আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন যে এটি তৈরি করেছে। আমি কখনো ধারণা করিনি এবং একে সম্ভবপরও মনে করি না যে, অজ্ঞতা হাকেমকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবে যে তিনি এটিকে সহীহ বলবেন।’ অতঃপর তিনি এর সনদ উল্লেখ করেছেন, যাতে রয়েছে: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-বারকী, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াযীদ আল-বালাউয়ি। তিনি (যাহাবী) বলেন: ‘হয় এই ব্যক্তি (আহমাদ) এটি উদ্ভাবন করেছে, নতুবা ইবনে সাইয়্যার—অর্থাৎ আবদান ইবনে সাইয়্যার।’

৫০ - আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাকীম আবু আবদুর রহমান আল-ফারইয়ানানী আল-মারওয়াযী। হাফেজ আবু নুআইম বলেন: তিনি হাদীস জাল করার জন্য সুপরিচিত।

৫১ - আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আয-যাইনাবী। ইমাম যাহাবী ‘সিদ্দিক ইবনে সাঈদ’-এর জীবনীতে বলেছেন যে, তাঁর অবস্থা অজ্ঞাত। এরপর তিনি বলেন: ‘আমি জানি না কে এটি জাল করেছে।’ অর্থাৎ সিদ্দিক-এর জীবনীতে উল্লিখিত হাদীসটি। এর অর্থ হলো, সম্ভাবনা আছে যে এটি এই আহমাদ জাল করেছেন অথবা সম্ভাবনা আছে যে এটি সিদ্দিক জাল করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٤٨)
52 - أَحْمد بن عبد الله بن يزِيد الهشيمي الْمُؤَدب أَبُو جَعْفَر قَالَ بن عدي كَانَ بسامرا يضع الحَدِيث

53 - أَحْمد بن عبد الله بن يزِيد بن الْقَاسِم الطبركي قَالَ الذَّهَبِيّ أَحْسبهُ الَّذِي وضع هَذَا فَذكر حَدِيثا عَن بن عمر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْحيَاء من الْإِيمَان وَالْإِيمَان فِي الْجنَّة وَالْبذَاء من الْجفَاء والجفاء فِي النَّار

54 - أَحْمد بن عبد الله الأبلي لَا يعرف وَالْخَبَر بَاطِل كَأَنَّهُ عمله قَالَه الذَّهَبِيّ

55 - أَحْمد بن عبد الله بن فلَان الْأنْصَارِيّ أَتَّهِمهُ الدَّارَقُطْنِيّ بِالْوَضْعِ

56 - أَحْمد بن عبد الله بن الْحُسَيْن الضَّرِير عَن مُحَمَّد بن عبد الْملك الدقيقي بِخَبَر بَاطِل سَاق الذَّهَبِيّ سندا إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ أَتَانِي جِبْرِيل ذَات يَوْم وَعَلِيهِ قبَاء أسود وعمامة سَوْدَاء فَذكره قَالَ الْخَطِيب حَدِيث بَاطِل وَرِجَال إِسْنَاده كلهم ثِقَات غير الضَّرِير وَالْحمل فِيهِ عَلَيْهِ انْتهى وَقَالَ الْخَطِيب هَذَا بَاطِل انْتهى

57 - أَحْمد بن عبد الله بن مِسْمَار عَن أبي الرّبيع الزهْرَانِي بِخَبَر بَاطِل فِي فضل مُعَاوِيَة وَأخر كذب عَن الرّبيع بن سُلَيْمَان فَهُوَ الافة وهاه بن النجار قَالَ الذَّهَبِيّ

58 - أَحْمد بن عبد الله بن مُحَمَّد أَبُو الْحسن الْبكْرِيّ قَالَ الذَّهَبِيّ الْكذَّاب الدَّجَّال وَاضع الْقَصَص الَّتِي لم تكن قطّ فَمَا اجهله وَأَقل حياءه وماروى حرفا من الْعلم بِسَنَد
৫২ - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আল-হাশিমী আল-মুআদ্দিব আবু জাফর। ইবনে আদি বলেন: তিনি সামাররায় থাকতেন এবং হাদিস জাল করতেন।

৫৩ - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদ বিন আল-কাসিম আত-তাবারকি। আয-যাহাবী বলেন: আমার ধারণা যে, তিনিই এটি জাল করেছেন। এরপর তিনি ইবনে উমর থেকে একটি হাদিস উল্লেখ করেন যেখানে বলা হয়েছে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "লজ্জা ঈমানের অংশ এবং ঈমান জান্নাতে; আর অশ্লীলতা রূঢ়তার অংশ এবং রূঢ়তা জাহান্নামে।"

৫৪ - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উবুল্লি। তিনি অপরিচিত এবং বর্ণনাটি বাতিল, মনে হয় এটি তার নিজেরই তৈরি করা; আয-যাহাবী এমনটি বলেছেন।

৫৫ - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন অমুক আল-আনসারী। আদ-দারা কুতনী তাকে হাদিস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।

৫৬ - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আদ-দরীর। তিনি মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আদ-দাকীকী থেকে একটি বাতিল বর্ণনা প্রদান করেছেন। আয-যাহাবী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত একটি সনদ উল্লেখ করেছেন যেখানে বলা হয়েছে: "একদিন জিবরাঈল আমার কাছে আসলেন, তখন তার গায়ে ছিল একটি কালো কাবা (এক প্রকার পোশাক) এবং মাথায় একটি কালো পাগড়ি..." আল-খতিব বলেন: এটি একটি বাতিল হাদিস, আর এর সনদের বর্ণনাকারীদের মধ্যে আদ-দরীর ব্যতীত সবাই নির্ভরযোগ্য, সুতরাং এর দায়ভার তার ওপরই বর্তায়। সমাপ্ত। আল-খতিব বলেন: এটি বাতিল। সমাপ্ত।

৫৭ - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মিসমার। তিনি আবুুর রবি আয-যাহরানী থেকে মুয়াবিয়ার ফজিলত সম্পর্কে একটি বাতিল বর্ণনা দিয়েছেন এবং রবি বিন সুলাইমান থেকে আরেকটি মিথ্যা বর্ণনা দিয়েছেন। সুতরাং তিনিই হলেন অনিষ্টের মূল (আফাহ)। ইবনুন নাজ্জার তাকে দুর্বল বলেছেন; এটি আয-যাহাবী উল্লেখ করেছেন।

৫৮ - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আবুল হাসান আল-বাকরী। আয-যাহাবী বলেন: সে একজন মিথ্যাবাদী, দাজ্জাল, এমন সব গল্পের রচয়িতা যার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। সে কতই না অজ্ঞ এবং তার লজ্জা কতই না কম! সে ইলমের একটি অক্ষরও সনদের সাথে বর্ণনা করেনি।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٤٩)
59 - أَحْمد بن عبد الله النهرواني روى حَدِيثا فِي الْجنَّة نهر زَيْت أَتَّهِمهُ بن مَاكُولَا وَغَيره بِهِ انْتهى فَقَوله أَتَّهِمهُ بن مَاكُولَا وَغَيره شرعا كَالصَّرِيحِ بِأَنَّهُ وَضعه وَالله أعلم

60 - أَحْمد بن عبد الله الشَّيْبَانِيّ عَن عبد الله بن الزبير عَن مَالك عَن نَافِع عَن بن عمر مَرْفُوعا لَا تخللوا بالقصب الحَدِيث قَالَ الذَّهَبِيّ هَذَا مَوْضُوع لَعَلَّ الافة الشَّيْبَانِيّ انْتهى ذكر ذَلِك فِي تَرْجَمَة عبد الله بن الزبير هَذَا

61 - أَحْمد بن عبد الرَّحْمَن بن الْجَارُود الرقي عَن الرّبيع الْمرَادِي والكبار لقِيه أَبُو نعيم الْحَافِظ فِي حُدُود السِّتين وَسمع مِنْهُ قَالَ الْخَطِيب كَانَ كذابا وَمن بلاياه فَذكر حَدِيث جمال الْمَرْء فصاحة لِسَانه فَهَذَا الْكَلَام كَاد أَن يكون صَرِيحًا فِي أَنه وَضعه وَقد ذكره بن الْجَوْزِيّ فِي بَاب التفرد لطاعة الله فِي سَنَد حَدِيث لأنس مَرْفُوعا يَقُول الله بن آدم أَنا بدك اللَّازِم فاعمل لبدك كل النَّاس لَك مِنْهُم بُد وَلَيْسَ لَك مني بُد ثمَّ قَالَ الْخَطِيب مَوْضُوع الْمَتْن مركب على الْإِسْنَاد وكل رِجَاله مَشْهُورُونَ معروفون بِالصّدقِ الا بن الْجَارُود فَإِنَّهُ كَذَّاب وَلم يَكْتُبهُ الا من حَدِيثه انْتهى فَهَذَا يَقْتَضِي أَن يكون من وَضعه

62 - أَحْمد بن عبد الْعَزِيز أَبُو حَاتِم الْوراق شيخ مُتَأَخّر قَالَ بن طَاهِر وضع حَدِيثا قَالَ الْحَاكِم حَدثنَا مطين فَذكر حَدِيثا بَاطِلا بِإِسْنَاد الصِّحَاح

63 - أَحْمد بن عبيد الله أَبُو الْعِزّ بن كادش مَشْهُور من شُيُوخ بن عَسَاكِر أقرّ بِوَضْع حَدِيث وَتَابَ واناب انْتهى وَهَذَا لَا يَنْبَغِي أَن يذكر مَعَ هَؤُلَاءِ لِأَنَّهُ تَابَ الا أَنه وضع
59 - আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাহরওয়ানী। তিনি জান্নাতে তেলের একটি নহর সম্পর্কিত একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাকুলা এবং অন্যরা তাকে এর জন্য অভিযুক্ত করেছেন। উদ্ধৃতি শেষ। সুতরাং তাঁর কথা "ইবনে মাকুলা এবং অন্যরা তাকে অভিযুক্ত করেছেন" শরয়ীভাবে স্পষ্ট যে তিনি এটি জাল করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

60 - আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শায়বানী, আব্দুল্লাহ ইবনে আজ-জুবায়ের থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা নলখাগড়া দিয়ে খিলাল করো না।" হাদিস। আয-যাহাবী বলেছেন, এটি জাল, সম্ভবত ত্রুটিটি শায়বানী থেকেই। উদ্ধৃতি শেষ। এই আব্দুল্লাহ ইবনে আজ-জুবায়েরের জীবনীতে তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।

61 - আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনুল জারুদ আর-রাক্কী। তিনি রাবী ইবনুল মুরাদী এবং বড় বড় আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ আবু নুআইম তাঁর সাথে ষাট হিজরির দিকে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর থেকে শুনেছেন। আল-খতিব বলেছেন, তিনি চরম মিথ্যুক ছিলেন। তাঁর বর্ণিত আপদগুলোর মধ্যে তিনি 'মানুষের সৌন্দর্য হলো তার জিহ্বার সাবলীলতা' হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। এই বক্তব্যটি প্রায় স্পষ্ট যে তিনি এটি জাল করেছেন। ইবনুল জাওযী আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হওয়ার অধ্যায়ে আনাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে একটি হাদিসের সনদে এটি উল্লেখ করেছেন, যাতে বলা হয়েছে: "আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! আমি তোমার অনিবার্য অবলম্বন, সুতরাং তোমার অবলম্বনের জন্য কাজ করো। সব মানুষ থেকে তোমার নিষ্কৃতি আছে, কিন্তু আমা হতে তোমার কোনো নিষ্কৃতি নেই।" অতঃপর আল-খতিব বলেন, মূলপাঠটি বানোয়াট, যা একটি সনদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর সকল বর্ণনাকারী প্রসিদ্ধ এবং সত্যবাদিতার জন্য পরিচিত, ইবনুল জারুদ ছাড়া। কারণ সে চরম মিথ্যুক এবং তাঁর হাদিস ব্যতীত এটি লেখা হয়নি। উদ্ধৃতি শেষ। এটি দাবি করে যে এটি তাঁরই জাল করা।

62 - আহমাদ ইবনে আব্দুল আজিজ আবু হাতিম আল-ওয়াররাক। তিনি পরবর্তী যুগের একজন শায়খ। ইবনে তাহির বলেছেন, তিনি একটি হাদিস জাল করেছেন। আল-হাকিম বলেছেন, মুতাইয়্যিন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি সহিহ সনদে একটি বাতিল হাদিস উল্লেখ করেছেন।

63 - আহমাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আবু আল-ইযয ইবনে কাদিশ। তিনি ইবনে আসাকিরের উস্তাদদের মধ্যে প্রসিদ্ধ। তিনি একটি হাদিস জাল করার কথা স্বীকার করেছেন এবং তওবা ও প্রত্যাবর্তন করেছেন। উদ্ধৃতি শেষ। তাঁর নাম এদের সাথে উল্লেখ করা উচিত নয় কারণ তিনি তওবা করেছেন, তবে তিনি জাল করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٥٠)
64 - أَحْمد بن عُثْمَان النهرواني أَبُو الْحسن ذكر الذَّهَبِيّ فِي تَرْجَمته حَدِيثا بِسَنَدِهِ إِلَيْهِ ثمَّ إِلَى أنس رضي الله عنه مَرْفُوعا لكل شَيْء زَكَاة وَزَكَاة الدَّار بَيت الضِّيَافَة قَالَ النقاش فِي الموضوعات لَهُ وَضعه أَحْمد أَو شَيْخه انْتهى وَشَيْخه هُوَ عبد الله بن عبد القدوس أَبُو صَالح الْكَرْخِي انْتهى

65 - أَحْمد بن عصمَة النَّيْسَابُورِي مُتَّهم هَالك قَالَ الذَّهَبِيّ روى خَبرا مَوْضُوعا هُوَ افته ثمَّ ذكر الذَّهَبِيّ الحَدِيث بِسَنَدِهِ إِلَيْهِ ثمَّ إِلَى بن عمر رضي الله عنهما مَرْفُوعا لما ولد أَبُو بكر رضي الله عنه فِي ظلّ الْكَعْبَة اطلع الله على جنَّة عدن فَقَالَ وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا أدْخلك الا من أحب هَذَا الْمَوْلُود انْتهى فَقَوله هُوَ افته فِيهِ هُوَ كالتصريح بِأَنَّهُ وَضعه

66 - أَحْمد بن عَليّ بن سلمَان أَبُو بكر الْمروزِي ضعفه الدَّارَقُطْنِيّ وَقَالَ يضع الحَدِيث

67 - أَحْمد بن عَليّ بن صَدَقَة عَن أَبِيه عَن عَليّ بن مُوسَى الرِّضَا وَتلك النُّسْخَة مكذوبة أَتَّهِمهُ الدَّارَقُطْنِيّ بِوَضْع الحَدِيث

68 - أَحْمد بن عَليّ بن حسنويه الْمُقْرِئ النَّيْسَابُورِي أَبُو حَامِد شيخ أبي عبد الله الْحَاكِم قَالَ الْخَطِيب لم يكن بِثِقَة قَالَ الْحَاكِم حدث عَن جمَاعَة أشهد بِاللَّه أَنه لم يسمع مِنْهُم وَلَا أعلم لَهُ حَدِيثا وَضعه وَلَا إِسْنَادًا رَكبه انْتهى وَقَالَ بن الْجَوْزِيّ فِي مَوْضُوعَاته فِي فضل أبي بكر بعد كَلَام الْخَطِيب ويروي أَن أَبَا حَامِد رفع إِلَيْهِ حَدِيث عَليّ بن عَبدة فَرَكبهُ على هَذَا الْإِسْنَاد انْتهى وَقد تقدم أَن هَذَا وضع أَيْضا وَقد تقدم فِي الديباجة إِنِّي لَا أستوعب هَؤُلَاءِ لِأَن أَمرهم أخف مِمَّن وضع متْنا
64 - আহমদ বিন উসমান আন-নাহরাওয়ানি আবুল হাসান। আয-যাহাবি তার জীবনীতে একটি হাদিস তার সনদে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন: "প্রত্যেক জিনিসের যাকাত আছে, আর ঘরের যাকাত হলো মেহমানখানা।" আল-নাককাশ 'আল-মাওদুআত' (জাল হাদিসসমূহ) গ্রন্থে বলেছেন যে, আহমদ অথবা তার উস্তাদ এটি জাল করেছেন। তার উস্তাদ হলেন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল কুদ্দুস আবু সালেহ আল-কারখি। সমাপ্ত।

65 - আহমদ বিন ইসমাহ আন-নিশাপুরি। সে অভিযুক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত। আয-যাহাবি বলেছেন, সে একটি জাল সংবাদ বর্ণনা করেছে এবং সে-ই এটার মূল আপদ। এরপর আয-যাহাবি হাদিসটি তার সনদে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন: "যখন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কাবার ছায়ায় জন্মগ্রহণ করলেন, তখন আল্লাহ আদন জান্নাতের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং বললেন, 'আমার ইজ্জত ও প্রতাপের কসম, আমি তোমার মধ্যে তাকেই প্রবেশ করাব যে এই নবজাতককে ভালোবাসবে'।" সমাপ্ত। আয-যাহাবির উক্তি "সে-ই এটার মূল আপদ" এর দ্বারা এটিই স্পষ্টভাবে বুঝানো হয়েছে যে, সে-ই এটি জাল করেছে।

66 - আহমদ বিন আলী বিন সালমান আবু বকর আল-মারওয়াযি। আদ-দারাকুতনি তাকে দুর্বল বলেছেন এবং বলেছেন যে সে হাদিস জাল করত।

67 - আহমদ বিন আলী বিন সাদাকা, তার পিতা থেকে, তিনি আলী বিন মুসা আর-রিদা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর সেই পাণ্ডুলিপিটি মিথ্যা। আদ-দারাকুতনি তাকে হাদিস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।

68 - আহমদ বিন আলী বিন হাসনুওয়াইহ আল-মুকরি আন-নিশাপুরি আবু হামিদ। তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের উস্তাদ। আল-খাতিব বলেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন না। আল-হাকিম বলেছেন, তিনি এমন একদল ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যাদের থেকে তিনি শোনেননি বলে আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি। তবে আমি তার কোনো জাল করা হাদিস বা তার সাজানো কোনো সনদ সম্পর্কে জানি না। সমাপ্ত। ইবনুল জাওযি তার 'আল-মাওদুআত' গ্রন্থে আবু বকরের মর্যাদা প্রসঙ্গে আল-খাতিবের বক্তব্যের পর বলেছেন, বর্ণিত আছে যে আবু হামিদের নিকট আলী বিন আবদাহ-এর হাদিসটি আনা হলে তিনি সেটিকে এই সনদে সাজিয়ে বসিয়েছিলেন। সমাপ্ত। ইতিপূর্বেও উল্লেখ করা হয়েছে যে এটিও একটি জালিয়াতি। আর আমি ভূমিকায় উল্লেখ করেছি যে, আমি এদের সবাইকে বিস্তারিতভাবে আনছি না কারণ তাদের বিষয়টি ওই ব্যক্তির চেয়ে হালকা যে কোনো হাদিসের মূল পাঠ (মাতান) জাল করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাশফুল হাসীস (পৃষ্ঠা: ٥١)
69 - أَحْمد بن عَليّ النصيبي شيخ كَانَ بعد الثَّلَاث مائَة قَالَ الذَّهَبِيّ وضع حَدِيثا ركيكا فافتضح بِهِ

70 - أَحْمد بن عَليّ النصيبي أَبُو الْحُسَيْن قَاضِي دمشق كَانَ فِي أثْنَاء المئة الْخَامِسَة رمي بِالْكَذِبِ ذكرته تمييزا

71 - أَحْمد بن عَليّ بن الافطح عَن يحيى بن زَهْدَم بطامات قَالَ بن عدي لَا أَدْرِي الْبلَاء مِنْهُ أَو من شَيْخه انْتهى وَقد ذكره بن حبَان فِي ثقاته فَقَالَ يروي عَن يحيى بن زَهْدَم عَن أَبِيه عَن الْعرس بن عميرَة نُسْخَة مَقْلُوبَة البلية فِيهَا من يحيى بن زَهْدَم وَأما هُوَ فِي نَفسه إِذا حدث عَن الثِّقَات فصدوقا حَدثنَا عَنهُ الْحُسَيْن بن إِسْحَاق الْخلال الْأَصْبَهَانِيّ الْكَرْخِي بنسخة انْتهى لَفظه

72 - أَحْمد بن عمرَان بن سَلمَة عَن الثَّوْريّ لَا يدْرِي من ذَا إِلَّا أَنه روى مُحَمَّد بن عَليّ العتيبي عَنهُ عَن الثَّوْريّ عَن مَنْصُور عَن إِبْرَاهِيم عَن عَلْقَمَة عَن عبد الله رَفعه قَالَ قسمت الْحِكْمَة فَجعل فِي عَليّ تِسْعَة أَجزَاء وَفِي النَّاس جُزْء وَاحِد فَهَذَا كذب ذكره الذَّهَبِيّ فِي تَرْجَمَة هَذَا الرجل فَالظَّاهِر من حَال الذَّهَبِيّ أَنه أَتَّهِمهُ وَالله أعلم
69 - আহমাদ বিন আলী আন-নাসিবি; তিনি একজন শাইখ ছিলেন যিনি তিনশ হিজরির পরে বিদ্যমান ছিলেন। আয-যাহাবি বলেন: তিনি একটি অত্যন্ত দুর্বল হাদিস জাল করেছিলেন, যার কারণে তিনি লোকসমক্ষে লাঞ্ছিত হন।

70 - আহমাদ বিন আলী আন-নাসিবি, আবুল হুসাইন, দামেস্কের বিচারক (কাজি); তিনি পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। আমি তাকে (অন্যদের থেকে) আলাদা করার জন্য এখানে উল্লেখ করেছি।

71 - আহমাদ বিন আলী বিন আল-আফতাহ; তিনি ইয়াহিয়া বিন যাহদামের সূত্রে ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি বলেন: আমি জানি না এই আপদটি তার পক্ষ থেকে নাকি তার উস্তাদের পক্ষ থেকে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আর ইবনে হিব্বান তাকে তার নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের তালিকায় (আস-সিকাত) উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ইয়াহিয়া বিন যাহদাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উরস বিন আমিরাহ থেকে একটি ভ্রান্ত ও উলটপালট পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেন; এর মূল সমস্যাটি মূলত ইয়াহিয়া বিন যাহদামের মাঝে। তবে তিনি নিজে যখন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেন তখন তিনি সত্যবাদী। আল-হুসাইন বিন ইসহাক আল-খাল্লাল আল-আসবাহানি আল-কারখি তার থেকে একটি পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেছেন। (তার বক্তব্যের সমাপ্তি)।

72 - আহমাদ বিন ইমরান বিন সালামাহ; তিনি সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি কে তা জানা যায় না, তবে মুহাম্মদ বিন আলী আল-উতাইবি তার সূত্রে সাওরি থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলক্বামাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে মারফু সূত্রে (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী হিসেবে) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "প্রজ্ঞাকে দশ ভাগে ভাগ করা হয়েছে; অতঃপর আলীর মধ্যে তার নয়টি অংশ রাখা হয়েছে এবং মানুষের জন্য রাখা হয়েছে এক অংশ।" এটি একটি মিথ্যা কথা। আয-যাহাবি এই ব্যক্তির জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন। আয-যাহাবির অবস্থা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি তাকে (মিথ্যাচারের জন্য) অভিযুক্ত করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।