(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: -)
صحيح السيرة النبوية - الألباني   (ناصر الدين الألباني)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: صحيح السيرة النبوية [من «البداية والنهاية» لابن كثير]

لَخّصه مُقتصِرا على ما صح وعَلّق عليه: محمد ناصر الدين الألباني (ت 1420 هـ)

الناشر: المكتبة الإسلامية، عمان - الأردن

الطبعة: الأولى، 1421 هـ

عدد الصفحات: 234

تنبيهات:

1 - اعتمد الشيخ الألباني في اختصاره على كتاب «السيرة النبوية» الذي استله د. مصطفى عبد الواحد من «البداية والنهاية» لابن كثير وحققه وطبعه في 4 مجلدات

2 - وصل الشيخ الألباني في اختصاره إلى 2/ 94 من طبعة عبد الواحد المذكورة؛ وتوفي قبل تمامه

3 - هذه النسخة الإلكترونية بها حواشي الشيخ الألباني وتعليقاتِه؛ بخلاف كثير من النسخ الإلكترونية المنتشرة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সহীহ আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ - আলবানী   (নাসিরুদ্দীন আলবানী)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: সহীহ আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ [ইবনে কাসীরের «আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া» থেকে]

শুধুমাত্র সহীহ বর্ণনাগুলোর ওপর ভিত্তি করে এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং এতে টীকা প্রদান করেছেন: মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ، আম্মান - জর্ডান

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৪

দ্রষ্টব্যসমূহ:

১ - শাইখ আলবানী তাঁর এই সংক্ষেপায়নের ক্ষেত্রে «আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ» বইটির ওপর নির্ভর করেছেন যা ড. মুস্তফা আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে কাসীরের «আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া» থেকে চয়ন করেছেন এবং ৪ খণ্ডে তাহকীক ও প্রকাশ করেছেন

২ - শাইখ আলবানী তাঁর সংক্ষেপায়নে উল্লিখিত আব্দুল ওয়াহিদের সংস্করণের ২/ ৯৪ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন; এবং এটি সম্পন্ন করার পূর্বেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন

৩ - এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে শাইখ আলবানীর পাদটীকা এবং মন্তব্যসমূহ রয়েছে; যা প্রচলিত অনেক ইলেকট্রনিক সংস্করণের চেয়ে ভিন্ন

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ১)
صحيح السيرة النبوية

ما صح من "سيرة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وذكرُ أيامِهِ وغزواته وسراياه والوفود إليه"

للحافظ ابن كثير

 

بقلم

محمد ناصر الدين الألباني

(رحمه اللَّه تعالى)

 

المكتبة الإسلامية

عمان - الأردن
সহীহ সীরাতুন নবী

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এবং তাঁর দিনসমূহ, যুদ্ধসমূহ, অভিযানসমূহ ও তাঁর নিকট আগত প্রতিনিধি দলসমূহের বর্ণনা" হতে যা বিশুদ্ধ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে

হাফেজ ইবনে কাসীরের

 

লেখনীতে

মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী

(আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)

 

আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ

আম্মান - জর্ডান
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مُقدِّمَةُ النَّاشر

إن الحمدَ للَّهِ، نحمدُهُ ونستعينُهُ ونستغفرُهُ، ونعوذُ باللَّه مِنْ شُرورِ أنفسِنا، ومِنْ سيئاتِ أعمالِنا، مَنْ يهدِهِ اللَّهُ فلا مُضِلَّ له، ومَنْ يُضلِلْ فلا هاديَ لَهُ، وأَشهدُ أن لا إلهَ إلا اللَّهُ وحدَهُ لا شريكَ له، وأشهدُ أنَّ محمدًا عبدهُ ورسولُهُ.

أمّا بعدُ؛ فإن موضوعَ سِيَرِ الأنبياءِ والصالحينَ شيءٌ مُحَبَّبٌ إلى النفوسِ، قريبٌ من القلوبِ؛ لِمَا فيها مِنْ مواعظَ وحِكَمٍ وعِبَرٍ يستفيدُ منها الصالحونَ والعقلاءُ، ويَسْتَمِدُّونَ منها قوة تُعِينُهم، ونِبْراسًا يُنِيرُ لهم، وزادًا يَتَزَوَّدونَ بهِ في طريقِهِم إلى اللَّه تبارك وتعالى؛ قال اللَّهُ عز وجل: {لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ} [يوسف: 111].

وأَحَبُّ السِّيَرِ إلى القلوبِ وأعظمُها سِيرةُ رسولِ اللَّهِ محمدٍ صلى الله عليه وسلم، فهو أعظمُ خَلْقِ اللَّهِ وأَحَبُّهم إليه؛ بل هو سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ أجمعين.

ولأجلِ هذا؛ فقد حازتِ السيرةُ النبويةُ على اهتمامِ كثيرٍ مِنَ العلماءِ؛ فَكَتَبُوا فيها، ولكنَّ كُتُبَهُمْ هذهِ امتلأتْ بالغَثِّ والسَّمِينِ مِنَ الضعيفِ والصحيحِ، ولم تَحْظَ بالقَدْرِ الكافي مِن العنايةِ بها.

حَتَى قَيَّضَ اللَّهُ العليُّ القَدِيرُ لها عَلَمًا مِنَ الأَعْلامِ، وفارسًا لا يُشَقُّ له غُبَارٌ في علوم السنة؛ وهو فَضيلةُ شيخِنا الوالدِ والمُرَبِّي الزاهِدِ محمد ناصر الدين الألباني رحمه اللَّه تعالى، فَشَمَّرَ عن ساقِ الجِدِّ والاجتهادِ في تمييز صحيح السيرة النبوية
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

প্রকাশকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর; নিশ্চয়ই নবীগণ এবং নেককার ব্যক্তিদের জীবনীর বিষয়টি আত্মার কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং হৃদয়ের অতি নিকটবর্তী; কেননা এতে রয়েছে এমন সব উপদেশ, প্রজ্ঞা এবং শিক্ষা যা থেকে নেককার ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ উপকৃত হন। তারা এ থেকে এমন শক্তি অর্জন করেন যা তাদের সাহায্য করে, এমন এক আলোকবর্তিকা লাভ করেন যা তাদের পথ দেখায় এবং মহান আল্লাহর পথে চলার পাথেয় সংগ্রহ করেন। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে} [ইউসুফ: ১১১]।

আর হৃদয়ের কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনী হলো আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনী। তিনি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয়; বরং তিনি সমস্ত আদম সন্তানের নেতা।

আর এ কারণেই সীরাতে নববী অনেক আলেমদের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে; ফলে তারা এ বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। কিন্তু তাদের এই বইগুলো দুর্বল ও সহীহ বর্ণনার সংমিশ্রণে পূর্ণ ছিল এবং এগুলো যতটুকু যত্ন পাওয়ার দাবি রাখে তা পায়নি।

অবশেষে মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ এর জন্য এমন একজন বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে নির্ধারণ করেন, যিনি সুন্নাহর জ্ঞানে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী বীর; তিনি হলেন আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ, পিতা এবং জাহিদ মুরব্বি মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)। তিনি সীরাতে নববীর সহীহ বর্ণনাগুলোকে পৃথক করার ক্ষেত্রে পূর্ণ প্রচেষ্টা ও সাধনায় কোমর বেঁধে আত্মনিয়োগ করেন।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ৪)
من ضعيفها، وكان السببُ في ذلكَ؛ أنَّ اللَّهَ قَدَّرَ عليهِ أنْ يُسافرَ إلى (الشارقةِ) بدولةِ الإماراتِ، فَوَقَعَ بين يَديهِ كتابُ "خاتمُ النبيين صلى الله عليه وسلم" للشيخ (محمد أبو زهرة)، ورأى ما فيه من الطامّاتِ، فعزمَ على خِدمةِ سِيرَةِ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، وشَرَحَ اللَّهُ صدرَهُ لتمييزِ الصحيحِ من الضعيفِ مِنْ كتابِ "السيرةُ النبويةُ" للحافظِ ابنِ كَثير رَحِمَهُ اللَّهُ تعالى، وبدأَ تَحقيقَهُ لهذا الكتابِ في (الشارقة)، وسَمَّى مَشْرُوعَهُ هذا: "صَحيحُ السِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ؛ مَا صَحَّ مِنْ "سِيرَةُ رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم وَذِكْرُ أَيَّامِهِ وَغَزَوَاتِهِ وَسَرَايَاهُ وَالوُفُودِ إِلَيْهِ" لِلْحَافِظِ ابْنِ كَثِير". واستدركَ فيهِ على ابنِ كثيرٍ العديدَ مِنَ الاستدراكاتِ المهمةِ، ولكنَّ اللَّهَ تَوَفَّى الشيخَ قبلَ أنْ يُكْمِلَ مشروعهُ، وتَوَقَّفَ عملُهُ فيهِ عندَ (فصل الإسراء والمعراج)، رَحِمَ اللَّهُ الشيِخَ الألبانيَّ رحمةً واسعةً، وجَزَاهُ عن الإسلامِ والمسلمينَ خيرَ الجزاء، وحَشَرَهُ في زُمْرَةِ الأنبياءِ والصِّدِّيقين والشهداءِ والصالحين، وحَسُنَ أولئكَ رَفيقًا.

ولقدْ رأتِ المكتبةُ الإسلاميةُ في (عَمَّانَ) أنْ تنشرَ هذا المُصَنَّفَ على هذه الصورةِ؛ لتقدمَ للعالمِ الإسلاميِّ علمَ الشيخ؛ لئلا يكونَ حبيسَ الخزائن، وليستفيدَ منه العلماءُ وطلبةُ العلمِ، ويُؤْجَرَ عليهِ الشيخُ رحمه الله في قبرِه؛ مستعينةً على إخراجِهِ -في أحسنِ صورةٍ ممكنةٍ - ببعضِ طلبةِ العلمِ، فجزاهُمُ اللَّهُ خيرًا.

وصَلَّى اللَّهُ وسلَّمَ على نَبِينا محمدٍ، وعلى آلِهِ وصحبِهِ والتابعين لهم بإحسانٍ إلى يومِ الدينِ، والحمدُ للَّه رب العالمين.

عَمَّان - الشام

الجمعة 15 صفر 1421 هـ

الناشر
তার দুর্বল অংশসমূহ থেকে, আর এর কারণ ছিল এই যে; আল্লাহ তাঁর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের (শারজাহ)-তে সফরের ফয়সালা করেছিলেন। ফলে তাঁর নিকট শেখ (মুহাম্মদ আবু জাহরা)-এর "খাতামুন নাবিয়্যিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" গ্রন্থটি আসে এবং তিনি এতে বিদ্যমান বড় ধরনের বিভ্রান্তিগুলো দেখতে পান। এরপর তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের খিদমত করার সংকল্প করেন। হাফেজ ইবনে কাসির (রহমতুল্লাহি তাআলা)-এর "আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ" গ্রন্থ থেকে সহিহ ও জয়িফ (দুর্বল) বর্ণনাগুলো পৃথক করার জন্য আল্লাহ তাঁর বক্ষ উন্মোচন করে দেন। তিনি (শারজাহ)-তে এই কিতাবটির তাহকিক বা সম্পাদনা শুরু করেন এবং তাঁর এই প্রকল্পের নাম দেন: "সহিহ আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ; হাফেজ ইবনে কাসিরের 'সীরাতু রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া যিকরু আইয়্যামিহি ওয়া গাজাওয়াতিহি ওয়া সারাইয়াহু ওয়াল উফুদি ইলাইহি' থেকে যা সহিহ প্রমাণিত হয়েছে"। তিনি এতে ইবনে কাসিরের ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী ও টিকা যুক্ত করেছেন। কিন্তু শেখ তাঁর প্রকল্প সম্পন্ন করার পূর্বেই আল্লাহ তাঁর মৃত্যু ঘটিয়েছেন। এই গ্রন্থে তাঁর কাজ (ইসরা ও মিরাজ পরিচ্ছেদ) পর্যন্ত এসে থেমে যায়। আল্লাহ শেখ আলবানীকে প্রশস্ত রহমত দান করুন, ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁকে নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও নেককার বান্দাদের দলভুক্ত করে সমবেত করুন; আর সঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না চমৎকার!

আর (আম্মান)-এর আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ এই গ্রন্থটিকে বর্তমান অবয়বে প্রকাশ করা সমীচীন মনে করেছে; যাতে শেখের ইলম বা জ্ঞান মুসলিম বিশ্বের নিকট উপস্থাপন করা যায় এবং তা যেন আলমারিতে বন্দি হয়ে না থাকে। আর যাতে ওলামায়ে কেরাম ও তালিবে ইলমগণ এ থেকে উপকৃত হতে পারেন এবং শেখ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর কবরে এর সওয়াব লাভ করেন। গ্রন্থটিকে সম্ভবপর সর্বোত্তম রূপে প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা কিছু তালিবে ইলমের সাহায্য গ্রহণ করেছে, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

আম্মান - শাম

শুক্রবার ১৫ সফর ১৪২১ হিজরি

প্রকাশক
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة "صحيح السيرة النبوية"

إن الحمد للَّه، نحمده ونستعينه ونستغفره.

ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا.

من يهده اللَّه فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له.

وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102]، {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1]، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 و 71].

أما بعد؛ فإن أصدق الحديث كتاب اللَّه، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌"সহীহ সীরাত আন-নববীয়া" এর ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।

আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)} [আল-ইমরান: ১০২], {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। (১)} [আন-নিসা: ১], {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল। (৭১)} [আল-আহজাব: ৭০ ও ৭১]।

অতঃপর; নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ৬)
أما بعد؛ فقد كتب اللَّه لي -لأسباب شرحتها في مقدمة "كشف الأستار لإبطال أدلة القائلين بفناء النار"- أن أسافر من بيروت إلى الشارقة صحبة أحد إخواننا فيها، وأنزلني جزاه اللَّه خيرًا في منزله، فوجدت في مكتبته كتابًا للشيخ محمد أبو زهرة بعنوان: "خاتم النبيين صلى الله عليه وسلم" في مجلدين، فقلبت فيه بعض الأوراق، وتصفحت فيه كثيرًا من الصفحات، فرأيته قد. . .(1)

--------------------------------------------

(1) [لم يكمل شيخنا الألباني -رحمة اللَّه عليه- مقدمته هذه لـ "صحيح السيرة النبوية"]. الناشر.

অতঃপর; আল্লাহ আমার জন্য অবধারিত করেছিলেন—যে কারণগুলো আমি 'কাশফুল আসতার লি ইবতালি আদিল্লাতিল কায়িলিনা বি ফানায়িন নার' (জাহান্নাম নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার প্রবক্তাদের দলিলসমূহ খণ্ডনের পর্দা উন্মোচন) গ্রন্থের ভূমিকায় ব্যাখ্যা করেছি—আমি যেন বৈরুত থেকে শারজাহ পর্যন্ত আমাদের সেখানকার এক ভাইয়ের সঙ্গে সফর করি। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন, তিনি আমাকে তাঁর বাড়িতে আতিথ্য দিলেন। সেখানে তাঁর পাঠাগারে আমি শাইখ মুহাম্মদ আবু জাহরা রচিত দুই খণ্ডের 'খাতামুন নাবিয়্যিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' শিরোনামের একটি গ্রন্থ পেলাম। আমি সেটির কিছু পাতা উল্টালাম এবং অনেকগুলো পৃষ্ঠা পড়ে দেখলাম, তখন আমি দেখলাম যে তিনি...(১)

--------------------------------------------

(১) [আমাদের শাইখ আলবানী —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— 'সহীহ আস-সীরাহ আন-নাবাউইয়্যাহ'-এর জন্য তাঁর এই ভূমিকাটি সম্পন্ন করেননি]। প্রকাশক।

(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌منهجي في الكتاب

1 - حذفت الطرق والشواهد التي يسوقها لتقوية الحديث، واعتمدت على الرواية التي هي أكمل معنى إذا ثبتت.

2 - حذفت السند الذي يسوقه كاملًا أو ناقصًا، واكتفيت منه بذكر اسم الصحابي فقط؛ إلا لفائدة أو ضرورة.

3 - حذفت ما لا سند له أو كان مرسلًا أو معضلًا؛ إلا ما صرح بأنه مجمع عليه أو نحوه.

4 - قد ألخص أحيانًا كلامه ليتناسب مع الاختصار الذي يقتضيه اقتصارنا على ما صح مما ذكره.

5 - قد أستبدل بسياقه سياق المصدر الذي عزاه إليه؛ لأنه في كثير من الأحيان يسوقه بمعناه أو قريبًا منه؛ الأمر الذي حمل محققه على أن يقول (ص 226)(1):

6 - استدركت بعض ما فاته تحت عنوان: [المستدرك](2).

--------------------------------------------

(1) [لم ينقل شيخنا الألباني رحمه اللَّه تعالى قول محقق "السيرة النبوية" لابن كثير، وهو مصطفى عبد الواحد؛ قال (1/ 226): "العجيب أن ابن كثير رحمه الله يعدل عن لفظ ابن إسحاق، ويخلطه بما يفسد المعنى، ولو أنه أثبته بنصه لكفى وأغنى. . . ولو ذهبنا نتتبع مفارقات المؤلف في نقله عن ابن إسحاق؛ لطال بنا الأمر، ويكفي أن نعلم أن ابن كثير يلخص المعنى بعبارته، ويزيد، ويحذف، ولا يلتزم النص؛ إلا قليلًا"]. الناشر.

(2) [في نهاية كل مستدرك وضعنا عبارة: [انتهى المستدرك]؛ لئلا يختلط كلام شيخنا الألباني بكلام ابن كثير رحمهما اللَّه تعالى]. الناشر.

এই কিতাবে আমার পদ্ধতি

১ - হাদিস শক্তিশালী করার জন্য তিনি যে সকল সূত্র ও সহায়ক বর্ণনা পেশ করেছেন, আমি তা বাদ দিয়েছি এবং বর্ণনাটি যদি প্রমাণিত হয় তবে অর্থগতভাবে যেটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ সেই বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছি।

২ - তিনি পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক যে সনদ উল্লেখ করেছেন আমি তা বাদ দিয়েছি এবং কোনো বিশেষ উপকারিতা বা প্রয়োজন ছাড়া কেবল সাহাবীর নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।

৩ - যার কোনো সনদ নেই অথবা যা মুরসাল বা মু’দাল, তা আমি বাদ দিয়েছি; তবে যেগুলোর ব্যাপারে তিনি ঐকমত্য (ইজমা) বা এই জাতীয় কিছু হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন সেগুলো ব্যতীত।

৪ - কখনও কখনও আমি তাঁর বক্তব্যকে সংক্ষেপ করেছি যাতে তাঁর বর্ণিত বিষয়গুলোর মধ্য থেকে কেবল সহিহ বর্ণনাগুলো গ্রহণ করার যে সংক্ষিপ্তকরণ নীতি আমরা অবলম্বন করেছি তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

৫ - অনেক সময় আমি তাঁর ইবারত বা পাঠের পরিবর্তে সেই মূল উৎসের পাঠটি উল্লেখ করেছি যেটির দিকে তিনি সম্বন্ধ করেছেন; কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি তা অর্থগতভাবে বা কাছাকাছি শব্দে বর্ণনা করেন; যে বিষয়টি এর মুহাক্কিককে (পৃ. ২২৬)(১) নিম্নোক্ত কথাটি বলতে উদ্বুদ্ধ করেছে:

৬ - তিনি যা বাদ দিয়েছেন তার কিছু অংশ আমি এই শিরোনামের অধীনে সংযোজন করেছি: [আল-মুস্তাদরাক (সংযোজনী)](২)।

--------------------------------------------

(১) [আমাদের শায়খ আলবানী রহিমানুল্লাহ ইবনে কাসীরের "আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ" এর মুহাক্কিক মুস্তফা আব্দুল ওয়াহিদের উক্তিটি উদ্ধৃত করেননি; তিনি (১/ ২২৬) বলেছেন: "আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইবনে কাসীর রহিমানুল্লাহ ইবনে ইসহাকের মূল শব্দ থেকে সরে আসেন এবং সেটিকে এমনভাবে মিশ্রিত করেন যা অর্থের ব্যাঘাত ঘটায়, অথচ তিনি যদি মূল পাঠটি অবিকল রাখতেন তবে তাই যথেষ্ট ও কার্যকর হতো... আমরা যদি ইবনে ইসহাক থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে লেখকের এই বৈসাদৃশ্যগুলো অনুসন্ধান করতে যাই তবে তা দীর্ঘ হয়ে যাবে; কেবল এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, ইবনে কাসীর নিজের ভাষায় বিষয়বস্তু সংক্ষেপ করেন এবং তাতে সংযোজন ও বিয়োজন করেন, আর খুব অল্প ক্ষেত্রেই তিনি মূল পাঠের প্রতি অনুগত থাকেন"]। প্রকাশক।

(২) [প্রতিটি সংযোজনীর শেষে আমরা এই বাক্যটি যুক্ত করে দিয়েছি: [সংযোজনী সমাপ্ত]; যাতে আমাদের শায়খ আলবানী এবং ইবনে কাসীর রহিমানুল্লাহর বক্তব্য পরস্পরের সাথে মিশে না যায়]। প্রকাশক।

(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌باب ذكر نسبه الشريف وطيب أصله المنيف

قال اللَّه تعالى: {اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} [الأنعام: 124].

ولما سأل هِرَقْلُ مَلِكُ الروم أبا سفيان تلك الأسئلة عن صفاته عليه الصلاة والسلام قال: كيف نسبه فيكم؟ قال: هو فينا ذو نسب. قال: كذلك الرسل تبعث في أنساب قومها. يعني: في أكرمها أحسابًا، وأكثرها قبيلة، صلوات اللَّه عليهم أجمعين.

فهو سيد ولد آدم وفخرهم في الدنيا والآخرة.

أبو القاسم، وأبو إبراهيم، محمد، وأحمد، والماحي الذي يُمْحَى به الكفر، والعاقب الذي ما بعده نبي، والحاشر الذي يحشر الناس على قدميه(1)، والمقفِّي، ونبي الرحمة، ونبي التوبة، ونبي الملحمة، وخاتم النبيين، وعبد اللَّه(2).

قال البيهقي: وزاد بعض العلماء فقال: سماه اللَّه في القرآن رسولًا، نبيًّا، أميًّا، شاهدًا، مبشرًا، نذيرًا، وداعيًا إلى اللَّه بإذنه، وسراجًا منيرًا، ورؤوفًا رحيمًا، ومذكرًا، وجعله رحمة ونعمة وهاديًا.

وهو ابن عبد اللَّه بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب

--------------------------------------------

(1) أي: على أثره.

(2) قلت: الاسمان الأخيران وأحمد ثلاثتها في القرآن الكريم، وسائرها في عدة أحاديث مخرجة؛ بعضها في "تخريج الطحاوية" (ص 292)، و"الأحاديث الصحيحة" (1571 و 1628)، و"الروض النضير" (401 و 1017).
তাঁর সম্মানিত বংশপরিচয় এবং তাঁর সুউচ্চ মূলের পবিত্রতা বর্ণনার অধ্যায়

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ অধিক অবগত যে কোথায় তিনি তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন।" [আল-আনআম: ১২৪]।

রোমসম্রাট হিরাক্লিয়াস যখন আবু সুফিয়ানকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলি সম্পর্কে সেই প্রশ্নগুলো করেছিলেন, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "তোমাদের মাঝে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন?" তিনি বললেন: "আমাদের মাঝে তিনি অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত বংশের।" তখন হিরাক্লিয়াস বললেন: "রাসূলগণ এভাবেই তাঁদের কওমের উচ্চবংশে প্রেরিত হয়ে থাকেন।" অর্থাৎ: বংশগৌরবে সর্বোত্তম এবং সর্বাধিক গোত্রীয় শক্তিসম্পন্ন শাখায়। তাঁদের সকলের উপর আল্লাহর সালাত (রহমত) বর্ষিত হোক।

তিনি হলেন আদম সন্তানদের নেতা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁদের গর্ব।

আবুল কাসিম, আবু ইবরাহিম, মুহাম্মাদ, আহমাদ, আল-মাহি (যাঁর মাধ্যমে কুফর মিটিয়ে দেওয়া হয়), আল-আকিব (যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই), আল-হাশির (যাঁর পায়ের উপর মানুষকে সমবেত করা হবে)(১), আল-মুকাফফি, দয়ার নবী, তাওবার নবী, মহাসংগ্রামের নবী, শেষ নবী এবং আল্লাহর বান্দা(২)।

ইমাম বায়হাকি বলেন: কোনো কোনো আলেম আরও কিছু নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁরা বলেন: আল্লাহ কুরআনে তাঁর নাম রেখেছেন রাসূল, নবী, উম্মি, সাক্ষী, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী, উজ্জ্বল প্রদীপ, অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু এবং উপদেশদাতা। আর আল্লাহ তাঁকে রহমত, নিয়ামত ও পথপ্রদর্শক বানিয়েছেন।

তিনি হলেন আব্দুল্লাহর পুত্র, তিনি আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র, তিনি হাশিমের পুত্র, তিনি আব্দু মানাফের পুত্র, তিনি কুসাইয়ের পুত্র, তিনি কিলাবের পুত্র।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে।

(২) আমি বলছি: শেষোক্ত নাম দুটি এবং আহমাদ—এই তিনটি নাম পবিত্র কুরআনে এসেছে। আর বাকিগুলো বিভিন্ন বর্ণিত হাদিসে এসেছে; যার কিছু রয়েছে "তাখরিজুত তাহাবিয়্যাহ" (পৃ. ২৯২), "আল-আহাদিসুস সাহিহা" (১৫৭১ ও ১৬২৮) এবং "আর-রাওদুন নাদির" (৪০১ ও ১০১৭) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ১০)
ابن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان، وهو من ولد إسماعيل لا محالة؛ على اختلاف كم أب بينهما.

وهذا النسب بهذه الصفة لا خلاف فيه بين العلماء(1)، فجميع قبائل عرب الحجاز ينتمون إلى هذا النسب، ولهذا قال ابن عباس وغيره في قوله تعالى: {قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى} [الشورى: 23]: لم يكن بطن من بطون قريش إلا ولرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم نسب يتصل بهم(2).

وقد روي من طرق مرسلًا وموصولًا: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

"خرجت من نكاح ولم أخرج من سفاح؛ من لدن آدم بلى أن ولدني أبي وأمي، ولم يصبني من سفاح الجاهلية شيء"(3). وهذا رواه ابن عدي عن علي ابن أبي طالب، وسند المرسل جيد.

--------------------------------------------

(1) قلت: ولهذا أوردته في هذا "الصحيح" التزامًا للمنهج الذي وضعته له -كما أوضحته في المقدمة- وقد استدل له الشيخ (أبو زهرة) في كتابه (1/ 87) برواية ابن عباس رضي الله عنهما قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا انتهى إلى عدنان أمسك، ثم يقول: "كذب النسابون، قال اللَّه تعالى: {وَقُرُونًا بَيْنَ ذَلِكَ كَثِيرًا} [الفرقان: 38] ".

وخفي عليه أنه حديث موضوع؛ فيه كذاب اعترف هو نفسه بذلك؛ كما هو مبين في "الأحاديث الضعيفة والموضوعة" (111).

(2) رواه البخاري في "التفسير/ الشورى".

(3) قلت: وقد تكلمت على طرقها في "إرواء الغليل" (1972)، وبمجموعها يرتقي الحديث إلى مرتبة الحسن، ولذلك أوردته في "صحيح الجامع الصغير" (3218 - 3220).
মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুওয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুযাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনানের পুত্র, আর তিনি নিঃসন্দেহে ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর; যদিও তাদের মধ্যবর্তী পিতৃপুরুষের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

এই বৈশিষ্ট্যের বংশতালিকার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই(১), হিজাযের সমস্ত আরব গোত্র এই বংশের সাথে সম্পৃক্ত। একারণেই ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যগণ মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে বলেছেন: {বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না, তবে আত্মীয়তার ভালোবাসা চাই} [আশ-শুরা: ২৩]: কুরাইশদের এমন কোনো শাখা ছিল না যার সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশগত সম্পর্ক ছিল না(২)।

মুরসাল ও মাউসুল উভয় মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আমি বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছি এবং ব্যভিচার থেকে আসিনি; আদম থেকে শুরু করে আমার পিতা-মাতা আমাকে জন্ম দেওয়া পর্যন্ত জাহিলিয়াতের কোনো ব্যভিচার আমাকে স্পর্শ করেনি"(৩)। এটি ইবনে আদি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন এবং মুরসাল সনদের মান উত্তম।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: একারণেই আমি একে এই "সহীহ" গ্রন্থে সংকলন করেছি সেই মানদণ্ড বজায় রেখে যা আমি এর জন্য নির্ধারণ করেছি—যেমনটি আমি ভূমিকায় স্পষ্ট করেছি। শায়খ (আবু জাহরা) তাঁর কিতাবে (১/ ৮৭) এর স্বপক্ষে ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর একটি বর্ণনা পেশ করেছেন যাতে তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আদনান পর্যন্ত পৌঁছাতেন তখন থেমে যেতেন, অতঃপর বলতেন: "বংশবিশারদগণ মিথ্যা বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং এর মধ্যবর্তী সময়ে বহু প্রজন্ম ছিল} [আল-ফুরকান: ৩৮]"।

তবে তাঁর কাছে এটি অস্পষ্ট ছিল যে এটি একটি জাল হাদিস; এতে এমন একজন মিথ্যাবাদী রয়েছে যে নিজেই তা স্বীকার করেছে; যেমনটি "আল-আহাদিস আদ-দয়িফাহ ওয়াল-মাওদুয়াহ" (১১১) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(২) বুখারী এটি "তাফসীর/ আশ-শুরা" অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

(৩) আমি বলছি: আমি এর বর্ণনাসূত্রগুলো নিয়ে "ইরওয়াউল গালীল" (১৯৭২)-এ আলোচনা করেছি, এবং এর সমষ্টিগত রূপের মাধ্যমে হাদিসটি 'হাসান' স্তরে উন্নীত হয়। একারণেই আমি একে "সহীহুল জামি' আস-সাগীর" (৩২১৮ - ৩২২০)-এ উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ১১)
وثبت في "صحيح البخاري" عن أبي هريرة قال: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم:

"بعثت من خير قرون بني آدم؛ قرنًا فقرنًا؛ حتى بعثت من القرن الذي كنت فيه"(1).

وفي "صحيح مسلم" من حديث واثلة بن الأسقع أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قال:

"إن اللَّه اصطفى من ولد إبراهيم إسماعيل، واصطفى من بني إسماعيل بني كنانة، واصطفى من بني كنانة قريشًا، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم"(2).

وروى الإمام أحمد عن المطلب بن أبي وداعة قال: قال العباس:

بلغه صلى الله عليه وسلم بعض ما يقول الناس؛ قال: فصعد المنبر، فقال: "من أنا؟ ". قالوا: أنت رسول اللَّه. قال:

"أنا محمد بن عبد اللَّه بن عبد المطلب، إن اللَّه خلق الخلق فجعلني في خير خلقه، وجعلهم فرقتي فجعلني في خير فرقة، وخلق القبائل فجعلني في خير قبيلة، وجعلهم بيوتًا فجعلني في خيرهم بيتًا، فأنا خيركم بيتًا وخيركم نفسًا"(3). صلوات اللَّه وسلامه عليه دائمًا أبدًا إلى يوم الدين.

--------------------------------------------

(1) وهو مخرج في "الأحاديث الصحيحة" (809).

(2) وهو مخرج في المصدر السابق برقم (302)، والجملة الأولى ليست عند مسلم؛ وإنما هي عند الترمذي وغيره بسند ضعيف، فراجعه. فعزوه بليه لا يخفى ما فيه؛ وإن قلده (أبو زهرة) في كتابه (1/ 81).

(3) انظره في "تخريج المشكاة" (5757)، و"صحيح الجامع" (1485).
এবং "সহীহ বুখারী"-তে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"আমি বনী আদমের সর্বোত্তম যুগসমূহ থেকে প্রেরিত হয়েছি; একের পর এক যুগ অতিক্রম করে; অবশেষে আমি সেই যুগে প্রেরিত হয়েছি যে যুগে আমি বিদ্যমান আছি"(১)।

এবং "সহীহ মুসলিম"-এ ওয়াসিলা বিন আল-আসকা’র বর্ণিত হাদীসে আছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ ইবরাহীমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাঈলকে মনোনীত করেছেন, আর বনী ইসমাঈল থেকে বনী কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, আর বনী কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, আর কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন"(২)।

ইমাম আহমাদ মুত্তালিব বিন আবি ওয়াদা'আ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট মানুষের কিছু কথা পৌঁছাল; বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং বললেন: "আমি কে?"। তারা বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন:

"আমি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি তাদেরকে দুটি দলে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম দলে রেখেছেন। তিনি গোত্রসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম গোত্রে রেখেছেন। তিনি তাদেরকে বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম পরিবারে রেখেছেন। সুতরাং আমি বংশীয় মর্যাদায় তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং ব্যক্তিগত সত্তায়ও শ্রেষ্ঠ"(৩)। আল্লাহর সালাত ও সালাম সর্বদা তাঁর উপর বর্ষিত হোক, চিরকাল বিচার দিবস পর্যন্ত।

--------------------------------------------

(১) এটি "আল-আহাদীস আস-সহীহা" (৮০৯) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

(২) এটি পূর্বোক্ত উৎসে ৩০২ নম্বরে বর্ণিত হয়েছে। তবে প্রথম বাক্যটি মুসলিমের গ্রন্থে নেই; বরং সেটি তিরমিযী ও অন্যান্যদের কিতাবে দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে, সুতরাং বিষয়টি দেখে নিন। তাই এটি তাঁর (মুসলিমের) দিকে সম্পৃক্ত করার ত্রুটি অস্পষ্ট নয়; যদিও (আবু যাহরাহ) তাঁর কিতাবে (১/৮১) এ ক্ষেত্রে তাঁরই অনুকরণ করেছেন।

(৩) এটি দেখুন "তাখরীজুল মিশকাত" (৫৭৫৭) এবং "সহীহুল জামি" (১৪৮৫) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ১২)
وثبت في "الصحيح" أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قال:

"أنا سيد ولد آدم يوم القيامة، ولا فخر"(1).

--------------------------------------------

(1) الحديث صحيح بلا ريب؛ لكن عزوه لـ "الصحيح" بهذا التمام فيه نظر، والمراد به هنا "صحيح مسلم"، فإنه عنده (7/ 59) من حديث أبي هريرة مرفوعًا بدون زيادة: "ولا فخر"، وكذلك هو عند الشيخين عنه بلفظ: "أنا سيد الناس يوم القيامة. . . " الحديث بطوله في الشفاعة. وهو مخرج في "ظلال الجنة في تخريج السنة" (811)، وأما بالزيادة فقد رواه ابن حبان وغيره عن عبد اللَّه بن سلام وغيره، وهو مخرج في "الصحيحة" (1571).
"সহীহ" গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আমি কিয়ামতের দিন আদম-সন্তানদের নেতা হব, আর এতে কোনো অহংকার নেই।"(১).

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি নিঃসন্দেহে সহীহ; তবে এই পূর্ণাঙ্গ পাঠসহ একে "সহীহ" গ্রন্থের দিকে সম্বন্ধ করা পর্যালোচনার দাবি রাখে। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো "সহীহ মুসলিম", কেননা তাঁর নিকট (৭/৫৯) আবু হুরায়রা থেকে মারফূ সূত্রে "ওয়া লা ফাখর" (আর এতে কোনো অহংকার নেই) বৃদ্ধিটুকু ছাড়াই এটি বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) তাঁর থেকে এটি "কিয়ামতের দিন আমি মানুষের নেতা হব..." শব্দে শাফাআত সংক্রান্ত দীর্ঘ হাদিসে বর্ণনা করেছেন। এটি "জিলালুল জান্নাহ ফী তাখরীজিস সুন্নাহ" (৮১১)-এ বর্ণিত হয়েছে। আর অতিরিক্ত অংশসহ এটি ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি "আস-সহীহাহ" (১৫৭১)-এ উদ্ধৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌باب مولد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم-

ولد صلوات اللَّه عليه وسلامه يوم الاثنين؛ لما رواه مسلم في "صحيحه" عن أبي قتادة أن أعرابيًا قال: يا رسول اللَّه! ما تقول في صوم يوم الاثنين فقال: "ذاك يوم ولدت فيه، وأنزل علي فيه"(1).

وكان مولده عليه الصلاة والسلام عام الفيل.

وقد رواه البيهقي عن ابن عباس(2). وهو المجمع عليه؛ كما قال خليفة بن خياط، توفي أبوه عبد اللَّه وهو حَمْل في بطن أمه على المشهور.

وفي الحديث الآتي (ص 16): ". . . ورؤيا أمي الذي رأت حين حملت بي كأنه خرج منها نور أضاءت له قصور الشام"(3).

--------------------------------------------

(1) قلت: وأما تاريخ يوم الولادة؛ فقد ذكر فيه وفي شهره أقوال ذكرها ابن كثير في الأصل، وكلها معلقة -بدون أسانيد- يمكن النظر فيها ووزنها بميزان علم مصطلح الحديث؛ إلا قول من قال: إنه في الثامن من ربيع الأول. فإنه رواه مالك وغيره بالسند الصحيح عن محمد بن جبير ابن مطعم، وهو تابعي جليل، ولعله لذلك صحح هذا القول أصحاب التاريخ واعتمدوه، وقطع به الحافظ الكبير محمد بن موسى الخوارزمي، ورجحه أبو الخطاب بن دحية، والجمهور على أنه في الثاني عشر منه. واللَّه أعلم.

(2) قلت: ورواه الحاكم (2/ 603) عنه، وقال: "صحيح على شرط الشيخين". وهو كما قال، وبيَّض له الذهبي، ويشهد له حديث قيس بن مخرمة قال: ولدت أنا ورسول اللَّه صلى الله عليه وسلم عام الفيل، فنحن لدان. أخرجه ابن إسحاق في "السيرة" (1/ 167)، وعنه الحاكم وصححه على شرط مسلم، ووافقه الذهبي! وإنما هو حسن فقط.

(3) أخرجه ابن إسحاق (1/ 175)، وعنه الحاكم (2/ 600)، وقال: "صحيح الإسناد". ووافقه الذهبي.

قلت: وهو كما قالا، وله شواهد خرجت بعضها في "سلسلة الأحاديث الصحيحة" (1546)، وصححه ابن حبان (2093).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের পরিচ্ছেদ-

আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, তিনি সোমবার দিন জন্মগ্রহণ করেছেন; যেহেতু মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে আবু কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক বেদুইন বলল: হে আল্লাহর রাসূল! সোমবারের রোজা সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: "এটি সেই দিন যে দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যে দিনে আমার ওপর (ওহী) নাযিল করা হয়েছে"(১)।

তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) জন্ম ছিল হস্তী বর্ষে।

বায়হাকী ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন(২)। এটি ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়; যেমনটি খলিফা ইবনে খাইয়্যাত বলেছেন। প্রসিদ্ধ মতানুসারে তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন যখন তিনি তাঁর মায়ের গর্ভে ছিলেন।

পরবর্তী হাদিসে (পৃষ্ঠা ১৬) আছে: ". . . এবং আমার মায়ের দেখা সেই স্বপ্ন যা তিনি আমাকে গর্ভধারণের সময় দেখেছিলেন, যেন তাঁর থেকে একটি নূর বের হলো যা দ্বারা সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গেল"(৩)।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: জন্মের তারিখ এবং মাসের ব্যাপারে ইবনে কাসীর মূল গ্রন্থে কিছু অভিমত উল্লেখ করেছেন, যার সবগুলোই সনদবিহীন—যা হাদিস পরিভাষার মানদণ্ডে বিচার ও বিবেচনা করা সম্ভব; তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্য ব্যতীত যিনি বলেছেন যে: তা রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ। কেননা ইমাম মালিক ও অন্যান্যরা একে সহীহ সনদে মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি একজন জলিলুল কদর তাবেয়ী। সম্ভবত এ কারণেই ইতিহাসবিদগণ এই মতটিকে সহীহ বলেছেন এবং এর ওপর নির্ভর করেছেন। আর প্রখ্যাত হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি এটিকে নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করেছেন এবং আবু আল-খাত্তাব ইবনে দিহইয়া একে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে জমহুর (অধিকাংশ আলেম) এর মতে তা রবিউল আউয়ালের বারো তারিখ। আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) আমি বলছি: হাকেম (২/ ৬০৩) তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এটি শায়খাইন-এর শর্তানুযায়ী সহীহ"। এটি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন এবং যাহাবী এর ওপর সমর্থনসূচক নীরবতা পালন করেছেন। কায়েস ইবনে মাখরামাহ-এর হাদিস এর সাক্ষ্য দেয়, তিনি বলেন: আমি এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তী বর্ষে জন্মগ্রহণ করেছি, তাই আমরা সমবয়সী। ইবনে ইসহাক "সীরাত" (১/ ১৬৭) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে হাকেম এটি বর্ণনা করে মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন! কিন্তু এটি মূলত কেবল হাসান পর্যায়ের হাদিস।

(৩) ইবনে ইসহাক (১/ ১৭৫) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে হাকেম (২/ ৬০০) বর্ণনা করে বলেছেন: "এর সনদ সহীহ"। আর যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।

আমি বলছি: এটি তেমনই যেমনটি তাঁরা বলেছেন। এর আরও কিছু সমর্থক বর্ণনা রয়েছে যার কয়েকটি আমি "সিলসিলাতুল আহাদিসিস সাহিহা" (১৫৪৬)-তে উল্লেখ করেছি এবং ইবনে হিব্বান (২০৯৩) একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌فصل فيما وقع من الآيات ليلة مولده عليه الصلاة والسلام

وروى محمد بن إسحاق عن حسان بن ثابت قال:

واللَّه؛ إني لغلام يَفَعَة(1)؛ ابن سبع سنين أو ثمان، أعقل كل ما سمعت، إذ سمعت يهوديًا يصرخ بأعلى صوته على أطمة بـ (يثرب): يا معشر يهود! حتى إذا اجتمعوا إليه قالوا له: ويلك مالك؟! قال: طلع الليلة نجم أحمد الذي ولد به(2).

وروى أبو نعيم ومحمد بن حيان عن أسامة بن زيد قال: قال زيد بن عمرو ابن نفيل:

قال لي حبر من أحبار الشام: قد خرج في بلدك نبي، أو هو خارج، قد خرج نجمه، فارجع فصدقه واتبعه(3).

 

‌‌ذكر ارتجاس الإيوان وسقوط الشرفات وخمود النيران ورؤيا الموبذان وغير ذلك من الدلالات

(ليس فيه شيء)

--------------------------------------------

(1) [أي: إذا شبَّ ولم يَبْلُغْ] الناشر.

(2) قلت: وإسناده حسن، وهو في "السيرة" (1/ 168) بهذا السياق؛ خلافًا لسياقه في الأصل، فليعلم.

(3) قلت: وسنده حسن أيضًا.
পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মের রাতে সংঘটিত নিদর্শনসমূহ প্রসঙ্গে

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক হাসান ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর শপথ; আমি তখন এক কিশোর বালক ছিলাম(১); আমার বয়স ছিল সাত কি আট বছর, যা শুনতাম তার সবই বুঝতে পারতাম। তখন আমি এক ইয়াহুদীকে শুনলাম সে ইয়াসরিবের এক দুর্গের উপর দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলছে: হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তারা যখন তার কাছে সমবেত হলো, তারা তাকে বলল: তোমার ধ্বংস হোক, তোমার কী হয়েছে?! সে বলল: আজ রাতে আহমাদ-এর সেই নক্ষত্র উদিত হয়েছে যা দ্বারা তাঁর জন্ম হয়েছে(২)।

আবু নুআয়ম এবং মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান উসামা ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল বলেছেন:

শামের আলেমদের মধ্য হতে একজন আলেম আমাকে বলেছেন: তোমার দেশে একজন নবী আবির্ভূত হয়েছেন অথবা তিনি আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন, তাঁর নক্ষত্র উদিত হয়েছে, সুতরাং তুমি ফিরে যাও, তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করো এবং তাঁর অনুসরণ করো(৩)।

 

আইওয়ানের (রাজপ্রাসাদের) কেঁপে ওঠা, বারান্দাগুলো ধসে পড়া, অগ্নি নির্বাপিত হওয়া, মোবাযানের স্বপ্ন এবং অন্যান্য নিদর্শনের বর্ণনা

(এতে কিছু নেই)

--------------------------------------------

(১) [অর্থাৎ: যখন সে বড় হতে শুরু করেছে কিন্তু বালেগ হয়নি] প্রকাশক।

(২) আমি বলছি: এর সনদ হাসান, এবং এটি "আস-সিরাহ" (১/১৬৮) গ্রন্থে এই বিন্যাসে রয়েছে; মূলের বিন্যাসের বিপরীতে, বিষয়টি জেনে রাখা উচিত।

(৩) আমি বলছি: এর সনদও হাসান।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ذكر حواضنه ومراضعه عليه الصلاة والسلام

أخرج البخاري ومسلم عن أم حبيبة بنت أبي سفيان [أنها] قالت: يا رسول اللَّه! انْكِحْ أختي بنت أبي سفيان (ولمسلم: عزة بنت أبي سفيان)، فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: "أَوَ تُحِبِّين ذلك؟ ". قلت: نعم، لست لك بمُخْلِيَة(1)، وأَحَبُّ مَنْ شارَكَني في خيرٍ أختي. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "فإن ذلك لا يحل لي". قالت: فإنّا نُحدَّث أنك تريد أن تنكح بنت أبي سلمة (وفي رواية: دُرَّة بنت أبي سلمة). قال: "بنت أم سلمة؟! ". قلت: نعم. قال:

"إنها لو لم تكن ربيبتي في حَجْري(2) ما حلت لي، إنها لابْنَةُ أخي من الرضاعة، أرضعتني وأبا سلمة ثُويبة، فلا تعرضنَّ عليَّ بناتكن ولا أخواتكن".

زاد البخاري: قال عروة: وثويبة مولاة. لأبي لهب أعتقها، فأرضعت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم(3).

--------------------------------------------

(1) اسم فاعل من الإخلاء؛ أي: لست بمنفردة بك، ولا خالية من ضرة.

(2) [بالفتح: التربية والحضانة والرعاية]. الناشر.

(3) قلت: وتمامه في الأصل:

"فلما مات أبو لهب أريه بعض أهله بشر خيبة. فقال له: ماذا لقيت؟ فقال أبو لهب: لم ألق بعدكم خيرًا؛ غير أني سُقيت في هذه بعتاقتي ثويبة. وأشار إلى النقرة التي بين الإبهام والتي تليها من الأصابع".

هكذا ذكره ابن كثير من تمام زيادة البخاري، ولكن ليس عنده قوله: "وأشار إلى النقرة. . . "، إلخ، وإنما هي في رواية الإسماعيلي؛ كما ذكره الحافظ ابن حجر.

وإنما حذفت هذه الزيادة؛ لأنها ليست على شرطنا، فإنها أولًا: مرسلة من قبل عروة. =
তাঁর (সা.) ধাত্রী ও দুগ্ধদানকারিণীদের বর্ণনা

ইমাম বুখারী ও মুসলিম উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবীবা বিনতে আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, [তিনি] বলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার বোন বিনতে আবু সুফিয়ানকে (মুসলিমের বর্ণনায়: ইজ্জাহ বিনতে আবু সুফিয়ান) বিয়ে করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি কি সত্যিই তা পছন্দ করো?" আমি বললাম: হ্যাঁ, আমি তো আপনার একমাত্র স্ত্রী নই, আর আমার বোন আমার সাথে এই কল্যাণে শরিক হোক এটাই আমার কাছে অধিক প্রিয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই এটি আমার জন্য হালাল নয়।" তিনি বললেন: আমাদের কাছে আলোচনা করা হয় যে, আপনি আবু সালামার কন্যাকে (এক বর্ণনায়: দুররাহ বিনতে আবু সালামা) বিয়ে করতে চাচ্ছেন। তিনি বললেন: "উম্মে সালামার কন্যাকে?!" আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন:

"সে যদি আমার আশ্রয়ে লালিত-পালিত পালিতা কন্যা না-ও হতো, তবুও সে আমার জন্য হালাল হতো না। কেননা সে আমার দুধ-ভাইয়ের কন্যা। আমাকে এবং আবু সালামাকে সুওয়াইবা দুধ পান করিয়েছে। সুতরাং তোমরা তোমাদের কন্যা বা বোনদের বিয়ের প্রস্তাব আমার কাছে পেশ করো না।"

বুখারী আরও বর্ণনা করেছেন: উরওয়াহ বলেন: আর সুওয়াইবা ছিলেন আবু লাহাবের দাসী, যাকে সে মুক্ত করে দিয়েছিল। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুধ পান করান।

--------------------------------------------

(১) 'ইখলা' শব্দ থেকে নির্গত ইসমে ফায়েল; অর্থাৎ: আমি আপনার কাছে একাকী নই এবং সতীনের অস্তিত্ব থেকে মুক্ত নই।

(২) [ফাতহা যোগে: লালন-পালন, তত্ত্বাবধান ও যত্ন]। প্রকাশক।

(৩) আমি (গ্রন্থকার) বলছি: মূল কিতাবে এর পূর্ণ অংশটি হলো:

"যখন আবু লাহাব মারা গেল, তার পরিবারের কাউকে স্বপ্নে তাকে খুব খারাপ অবস্থায় দেখানো হলো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনার কী দশা হয়েছে? আবু লাহাব উত্তর দিল: তোমাদের ছেড়ে আসার পর আমি কোনো কল্যাণের দেখা পাইনি; তবে সুওয়াইবাকে মুক্তি দেওয়ার কারণে এই আঙুলের সাহায্যে আমাকে পানি পান করানো হয়। এবং তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার পাশের আঙুলের মাঝখানের গর্তের দিকে ইশারা করলেন।"

হাফেজ ইবনে কাসীর একে বুখারীর অতিরিক্ত অংশের পূর্ণ বিবরণ হিসেবে এভাবেই উল্লেখ করেছেন, তবে তাঁর কাছে "তিনি গর্তের দিকে ইশারা করলেন..." ইত্যাদি কথাটি নেই। বরং এটি ইসমাঈলীর বর্ণনায় রয়েছে; যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন।

আমি এই বাড়তি অংশটুকু বাদ দিয়েছি কারণ এটি আমাদের শর্ত অনুযায়ী নয়; কেননা প্রথমত: এটি উরওয়াহ থেকে বর্ণিত একটি মুরসাল বর্ণনা। =
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وروى ابن إسحاق عن نفر من أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قالوا له: يا رسول اللَّه! أخبرنا عن نفسك. قال:

"نعم؛ أنا دعوة أبي إبراهيم، وبشرى عيسى، ورأت أمي حين حملت بي أنه خرج منها نور أضاء لها قصور الشام.

واسترضعتُ في بني سعد بن بكر، فبينا أنا مع أخ لي خلف بيوتنا نرعى بَهمًا لنا؛ إذ أتاني رجلان -عليهما ثياب بيض- بطست من ذهب مملوء ثلجًا، ثم أخذاني فشقّا بطني، واستخرجا قلبي فشقّاه، فاستخرجا منه علقة سوداء فطرحاها، ثم غسلا قلبي وبطني بذلك الثلج حتى أنقياه، ثم قال أحدهما لصاحبه: زِنْهُ بعشرة من أمته. فوزنني بهم فوزنتهم، ثم قال: زِنْهُ بمئة من أمته. فوزنني بهم فوزنتهم، ثم قال: زِنْهُ بألف من أمته. فوزنني بهم فوزنتهم، فقال:

--------------------------------------------

= وثانيًا: أنه لو فرض ثبوت وصله إلى الرائي فهو مجهول، فلا حجة في خبره. وثالثًا: أنها رؤيا منام، فلا قيمة لها؛ لا سيما في مثل ذاك الكافر أبي لهب الذي أنزل اللَّه في ذمه: {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ … }. ولذلك قال الحافظ:

"وفي الحديث دلالة على أن الكافر قد ينفعه العمل الصالح في الآخرة؛ لكنه مخالف لظاهر القرآن؛ قال تعالى: {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا (23)} [الفرقان: 23]. وأجيب بأن الخبر مرسل، أرسله عروة، ولم يذكر من حدثه به. وعلى تقدير أن يكون موصولًا؛ فالذي في الخبر رؤيا منام، فلا حجة فيه، ولعل الذي رآها لم يكن إذ ذاك أسلم بعد، فلا يحتج به. وثانيًا: على تقدير القبول؛ فيحتمل أن يكون ما يتعلق بالنبي صلى الله عليه وسلم مخصوصًا من ذلك بدليل قصة أبي طالب -كما تقدم- أنه خفف عنه، فنقل من الغمرات إلى الضحضاح".

وأما ما ذكره الشيخ (أبو زهرة) (1/ 121)؛ أن ثويبة كانت أول من أعلم أبا لهب بولادة ابن أخيه محمد، فأعتقها لهذه البشرى الكريمة؛ فمما لا أصل له في الرواية، وإنما علقه المؤلف تعليقًا بدون سند!
ইবনে ইসহাক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন। তিনি বললেন:

"হ্যাঁ; আমি আমার পিতা ইব্রাহিমের দোয়া, ঈসার সুসংবাদ এবং আমার মা যখন আমাকে গর্ভধারণ করেছিলেন তখন তিনি দেখেছিলেন যে তাঁর থেকে একটি নূর নির্গত হয়েছে যা তাঁর জন্য সিরিয়ার প্রাসাদগুলোকে আলোকিত করে দিয়েছিল।

আমি বনু সাদ বিন বকর গোত্রে দুধ পান করেছি। একদিন আমি ও আমার এক দুধ ভাই আমাদের ঘরের পেছনে আমাদের কিছু মেষপাল চরাচ্ছিলাম; তখন হঠাৎ করে সাদা পোশাক পরিহিত দুইজন লোক বরফ ভর্তি একটি সোনার তশতরী নিয়ে আমার কাছে এলেন। এরপর তাঁরা আমাকে ধরলেন এবং আমার পেট চিরে ফেললেন। তাঁরা আমার হৃদয় বের করে সেটাকেও চিরলেন এবং সেখান থেকে একটি কালো জমাট রক্ত বের করে ফেলে দিলেন। তারপর তাঁরা আমার হৃদয় ও পেট সেই বরফ দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করলেন। এরপর তাদের একজন তার সাথীকে বললেন: তাঁকে তাঁর উম্মতের দশজনের সাথে ওজন করো। তিনি আমাকে তাদের সাথে ওজন করলেন এবং আমি তাঁদের চেয়ে ভারী হলাম। তারপর তিনি বললেন: তাঁকে তাঁর উম্মতের একশ জনের সাথে ওজন করো। তিনি আমাকে তাদের সাথে ওজন করলেন এবং আমি তাঁদের চেয়ে ভারী হলাম। এরপর তিনি বললেন: তাঁকে তাঁর উম্মতের এক হাজার জনের সাথে ওজন করো। তিনি আমাকে তাদের সাথে ওজন করলেন এবং আমি তাঁদের চেয়ে ভারী হলাম। তখন তিনি বললেন:

--------------------------------------------

= দ্বিতীয়ত: যদি ধরেও নেওয়া হয় যে দ্রষ্টা পর্যন্ত এর সূত্র নিরবচ্ছিন্ন, তবুও তিনি অজ্ঞাত, সুতরাং তাঁর সংবাদে কোনো দলিল নেই। তৃতীয়ত: এটি ছিল একটি স্বপ্ন, তাই এর কোনো মূল্য নেই; বিশেষ করে আবু লাহাবের মতো একজন কাফেরের ক্ষেত্রে, যার নিন্দায় আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন: {আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক … }। এই কারণেই হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন:

"এবং হাদিসে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, কাফের ব্যক্তি আখেরাতে নেক আমলের দ্বারা উপকৃত হতে পারে; কিন্তু এটি কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং আমি তাদের কৃতকর্মের দিকে অগ্রসর হব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেব (২৩)} [আল-ফুরকান: ২৩]। এর জবাবে বলা হয়েছে যে, বর্ণনাটি মুরসাল (সূত্রবিচ্ছিন্ন), উরওয়াহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং কার থেকে শুনেছেন তা উল্লেখ করেননি। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এটি মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন সূত্র), তবুও বর্ণনায় যা আছে তা একটি স্বপ্ন, তাই এতে কোনো দলিল নেই। আর সম্ভবত যিনি এটি দেখেছিলেন তিনি তখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি, ফলে তাঁর মাধ্যমে দলিল পেশ করা যায় না। দ্বিতীয়ত: যদি এটি কবুল করা হয়, তবে সম্ভাবনা আছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংশ্লিষ্ট বিষয়টি আবু তালিবের ঘটনার ন্যায় একটি বিশেষ বিষয়—যেমনটি আগে গত হয়েছে—যে তাঁর শাস্তি হালকা করা হয়েছিল এবং তাঁকে যন্ত্রণার গভীরতা থেকে গোড়ালি পর্যন্ত অগভীর পানিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল।"

আর শায়খ (আবু জাহরা) (১/ ১২১) যা উল্লেখ করেছেন যে, সুওয়াইবা প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি আবু লাহাবকে তাঁর ভাতিজা মুহাম্মাদের জন্মের খবর দিয়েছিলেন এবং তিনি এই শুভ সংবাদের কারণে তাঁকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন; এই কথার বর্ণনার কোনো ভিত্তি নেই। বরং লেখক কোনো সনদ ছাড়াই এটি উল্লেখ করেছেন!
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৭)
دعه عنك، فواللَّه لو وزنته بأمته لوزنها".

وإسناده جيد قوي(1).

وقد روى أحمد وأبو نعيم في "الدلائل" عن عتبة بن عبد: أن رجلًا سأل النبي صلى الله عليه وسلم فقال: كيف كان أول شأنك يا رسول اللَّه؟ قال:

"كانت حاضنتي من بني سعد بن بكر، فانطلقت أنا وابن لها في بهم لنا، ولم نأخذ معنا زادًا، فقلت: يا أخي! اذهب فأتنا بزاد من عند أمنا. فانطلق أخي ومكثت عند البهم، فأقبل طائران أبيضان كأنهما نسران، فقال أحدهما لصاحبه: أهو هو؟ فقال: نعم. فأقبلا يبتدراني، فأخذاني فبطحاني للقفا، فشقّا بطني، ثم استخرجا قلبي فشقّاه، فأخرجا منه علقتين سوداوين، فقال أحدهما لصاحبه: ائتني بماء وثلج. فغسلا به جوفي، ثم قال: ائتني بماء برد، فغسلا به قلبي، ثم قال: ائتني بالسكينة. فذرها في قلبي، ثم قال أحدهما لصاحبه: خِطه. فخاطه، وختم على قلبي بخاتم النبوة، فقال أحدهما لصاحبه: اجعله في كفة، واجعل ألفًا من أمته في كفة. فإذا أنا أنظر إلى الألف فوق؛ أشفق أن يخر عليَّ بعضهم، فقال: لو أن أمته وزنت به لمال بهم. ثم انطلقا فتركاني، وفَرَقْتُ فَرَقًا شديدًا، ثم انطلقت إلى أمي فأخبرتها بالذي لقيت، فأشفقت أن يكون قد لبس بي، فقالت: أعيذك باللَّه. فرحلت بعيرًا لها، وحملتني على الرحل، وركبت خلفي، حتى بلغنا إلى أمي، فقالت: أديت أمانتي وذمتي. وحدثتها بالذي لقيتُ، فلم يَرُعها، وقالت: إني رأيت

--------------------------------------------

(1) قلت: وهو كما قال، وقد مضى الطرف الأول منه (ص 13) مع تخريجه، وسيأتي (ص 53).
"তাকে ছেড়ে দাও, আল্লাহর কসম! যদি তুমি তাকে তার উম্মতের সাথে ওজন করো, তবে সে-ই ভারী হবে।"

আর এর সনদ উত্তম ও শক্তিশালী(১)।

আহমদ এবং আবু নুআইম 'আদ-দালাইল' গ্রন্থে উতবা বিন আবদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নবুওয়াতের শুরুর বিষয়টি কেমন ছিল? তিনি বললেন:

"আমার ধাত্রীমা ছিলেন বনু সাদ বিন বকর গোত্রের। আমি এবং তাঁর এক ছেলে আমাদের কিছু পশুর সাথে বের হলাম, কিন্তু আমরা আমাদের সাথে কোনো পাথেয় নিইনি। আমি বললাম: হে আমার ভাই! যাও, আমাদের মায়ের কাছ থেকে আমাদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে এসো। তখন আমার ভাই চলে গেল এবং আমি পশুগুলোর কাছে অবস্থান করলাম। এমতাবস্থায় দুটি সাদা পাখি এল, যেন তারা দুটি ঈগল। তাদের একজন তার সাথীকে বলল: এ কি তিনিই? সে বলল: হ্যাঁ। তখন তারা দ্রুত আমার দিকে এগিয়ে এল এবং আমাকে ধরে চিৎ করে শুইয়ে দিল। তারা আমার পেট বিদীর্ণ করল, তারপর আমার হৃৎপিণ্ড বের করে তা বিদীর্ণ করল এবং সেখান থেকে দুটি কালো জমাট রক্তপিণ্ড বের করে আনল। তাদের একজন তার সাথীকে বলল: আমার কাছে পানি ও বরফ নিয়ে এসো। এরপর তারা তা দিয়ে আমার অভ্যন্তরভাগ ধৌত করল। তারপর সে বলল: আমার কাছে শীতল পানি নিয়ে এসো। তারা তা দিয়ে আমার হৃৎপিণ্ড ধৌত করল। তারপর সে বলল: আমার কাছে প্রশান্তি নিয়ে এসো। এরপর সে তা আমার হৃৎপিণ্ডে ছড়িয়ে দিল। এরপর তাদের একজন তার সাথীকে বলল: এটি সেলাই করে দাও। সে তা সেলাই করে দিল এবং আমার হৃৎপিণ্ডে নবুওয়াতের মোহর অঙ্কিত করে দিল। তখন তাদের একজন অন্যজনকে বলল: তাকে এক পাল্লায় রাখো এবং তার উম্মতের মধ্য থেকে এক হাজার জনকে অন্য পাল্লায় রাখো। তখন আমি দেখতে পেলাম যে ওই এক হাজার জন আমার উপরে রয়েছে; আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে পাছে তাদের কেউ আমার ওপর পড়ে যায়। তখন সে বলল: যদি তাঁর পুরো উম্মতকেও তাঁর সাথে ওজন করা হয়, তবে তিনি তাদের সকলের চেয়ে ভারী হবেন। তারপর তারা চলে গেল এবং আমাকে রেখে গেল। আমি অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়লাম। এরপর আমি আমার (ধাত্রী) মায়ের কাছে ফিরে গিয়ে তাঁকে যা ঘটেছিল তা জানালাম। তিনি ভয় পেলেন যে আমার কোনো ক্ষতি হয়ে গেল কি না, তাই তিনি বললেন: আমি তোমাকে আল্লাহর আশ্রয়ে সমর্পণ করছি। অতঃপর তিনি তাঁর একটি উট প্রস্তুত করলেন এবং আমাকে সওয়ারির ওপর বসালেন, আর নিজে আমার পেছনে বসলেন। অবশেষে আমরা আমার (জন্মদাত্রী) মায়ের কাছে পৌঁছলাম। তিনি (ধাত্রীমা) বললেন: আমি আমার আমানত ও দায়িত্ব পালন করেছি। আমি আমার মায়ের কাছে যা ঘটেছিল তা বর্ণনা করলাম, কিন্তু তিনি তাতে আতঙ্কিত হলেন না এবং বললেন: নিশ্চয়ই আমি দেখেছি...

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন। এর প্রথম অংশটি তার তথ্যসূত্র বিশ্লেষণসহ পূর্বে (পৃষ্ঠা ১৩) অতিক্রান্ত হয়েছে এবং সামনেও (পৃষ্ঠা ৫৩) আসবে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৮)
خرج مني نور أضاءت منه قصور الشام"(1).

وثبت في "صحيح مسلم" عن أنس بن مالك:

أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أتاه جبريل عليه السلام وهو يلعب مع الغلمان، فأخذه فصرعه، فشق عن قلبه، فاستخرج القلب، واستخرج معه علقة سوداء، فقال: هذا حظ الشيطان. ثم غسله في طست من ذهب بماء زمزم، ثم لأَمَهُ، ثم أعاده في مكانه، وجاء الغلمان يسعون إلى أمه -يعني: ظئره- فقالوا: إن محمدًا قد قتل. فاستقبلوه وهو منتقع اللون. قال أنس: وقد كنت أرى ذلك المخيط في صدره(2).

--------------------------------------------

(1) قلت: ورجاله ثقات؛ غير أن بقية بن الوليد مدلس، وقد عنعنه؛ لكنه قد صرح بالتحديث في رواية الحاكم (2/ 616 - 617)، وقال: "صحيح على شرط مسلم"! يوافقه الذهبي! وإنما هو صحيح فقط؛ فإن من رواته بَحِير بن سعد، ولم يرو له مسلم، وانظر "الصحيحة" (373).

(2) مسلم (1/ 101 - 102).

قلت: وهذا الحديث مع صحته وصحة شواهده -التي قبلها وغيرها مما أشرت إليه في "تخريج فقه السيرة" (ص 64) - فقد شكك في ثبوتها الشيخ (أبو زهرة)؛ مع أنه ذكر حديث مسلم هذا ثم قال (1/ 127):

"ونحن نرى أن الأخبار بالنسبة للشق لا تخلو من اضطراب، وعلى فرض أنها صحيحة لا نقول: إنها غير مقبولة (!) بل إنا نقبلها إن صحت، ولكن الاضطراب في خبرها يجعلنا غير رادين ولا مصدقين"!

أقول: بمثل هذه الفلسفة المتناقضة يرد هذا الشيخ هذه الأحاديث الصحيحه، ويتلاعب بالألفاظ ليضل به الناس عما يوسوس اليه الخناس، فإن أقل الناس علمًا وعقلًا يعلم أنه إن =
"আমার থেকে এমন একটি নূর (জ্যোতি) নির্গত হয়েছিল যার দ্বারা সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল"(১)।

এবং "সহীহ মুসলিম"-এ আনাস ইবনে মালিক থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বালকদের সাথে খেলা করছিলেন, তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর নিকট আসলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে ধরলেন এবং মাটিতে শুইয়ে দিলেন, এরপর তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করে হৃদপিণ্ডটি বের করে আনলেন। অতঃপর তিনি তা থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করলেন এবং বললেন: "এটি তোমার ভেতর শয়তানের অংশ"। তারপর তিনি একটি স্বর্ণের তশতরিতে জমজমের পানি দিয়ে সেটি ধৌত করলেন, এরপর তা পুনরায় জোড়া লাগিয়ে দিলেন এবং পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করলেন। এদিকে বালকরা দৌড়ে তাঁর মায়ের—অর্থাৎ তাঁর ধাত্রী মায়ের—কাছে গেল এবং বলল: "মুহাম্মদকে হত্যা করা হয়েছে"। তখন তারা তাঁর দিকে এগিয়ে এল এবং দেখল যে তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে আছে। আনাস বলেন: "আমি তাঁর বক্ষে সেই সেলাইয়ের চিহ্ন দেখতে পেতাম"(২)।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য; তবে বাকিয়াহ ইবনে আল-ওয়ালিদ একজন 'মুদাল্লিস' (বর্ণনাসূত্র গোপনকারী), এবং তিনি এখানে 'আন' (থেকে) শব্দ দ্বারা বর্ণনা করেছেন; কিন্তু তিনি হাকেম-এর বর্ণনায় (২/ ৬১৬ - ৬১৭) স্পষ্টভাবে শোনার কথা (তাহদীস) উল্লেখ করেছেন এবং তিনি (হাকেম) বলেছেন: "এটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ"! যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন! তবে এটি কেবল সহীহ; কারণ এর বর্ণনাকারীদের একজন হলেন বাহীর ইবনে সাদ, যাঁর থেকে মুসলিম বর্ণনা করেননি, আর দেখুন "আস-সহীহাহ" (৩৭৩)।

(২) মুসলিম (১/ ১০১ - ১০২)।

আমি বলছি: এই হাদিসটি সহীহ হওয়া এবং এর অন্যান্য সমর্থক বর্ণনাগুলোর বিশুদ্ধতা সত্ত্বেও—যা আমি ইতিপূর্বে এবং "তাখরীজু ফিকহিস সিরাহ" (পৃ. ৬৪)-তে উল্লেখ করেছি—শায়খ (আবু জাহরাহ) এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন; অথচ তিনি মুসলিমের এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন (১/ ১২৭):

"আমাদের দৃষ্টিতে বক্ষ বিদীর্ণ করা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো অসঙ্গতি (ইজতিরাব) থেকে মুক্ত নয়। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে সেগুলো সহীহ, তবে আমরা বলব না যে এগুলো অগ্রহণযোগ্য (!), বরং সহীহ হলে আমরা তা গ্রহণ করব। কিন্তু এর বর্ণনার মধ্যকার অসঙ্গতি আমাদের না প্রত্যাখানকারী করে, আর না সত্যায়নকারী করে"!

আমি বলব: এই ধরণের স্ববিরোধী দর্শনের মাধ্যমেই এই শায়খ এই সহীহ হাদিসগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং শব্দের মারপ্যাঁচ খেলেন যাতে এর মাধ্যমে মানুষকে 'খন্নাস'-এর কুমন্ত্রণা দ্বারা বিভ্রান্ত করা যায়। কারণ সামান্যতম জ্ঞান ও বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিও জানে যে, যদি =
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي "الصحيحين" عن أنس، وعن مالك بن صعصعة عن النبي صلى الله عليه وسلم في حديث الإسراء -كما سيأتي- قصة شرح الصدر ليلتئذٍ، وأنه غسل بماء زمزم.

ولا منافاة لاحتمال وقوع ذلك مرتين: مرة وهو صغير؛ ومرة ليلة الإسراء ليتأهب للوفود إلى الملأ الأعلى، ولمناجاة الرب عز وجل، والمثول بين يديه سبحانه وتعالى.

والمقصود أن بركته عليه الصلاة والسلام حلت على حليمة السعدية وأهلها وهو صغير، ثم عادت على هوازن -بكمالهم- فَوَاضِلُهُ حين أسرهم بعد وقعتهم، وذلك بعد فتح مكة بشهر، فَمَتُّوا(1) إليه برضاعه فأعتقهم، تحنن عليهم، وأحسن إليهم؛ كما سيأتي مفصلًا في موضعه إن شاء اللَّه تعالى.

قال محمد بن إسحاق في وقعة (هوازن): عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال:

كنا مع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بـ (حُنين)، فلما أصاب من أموالهم وسباياهم؛ أدركه

--------------------------------------------

= صح الاضطراب الذي ادعاه فيها لزم منه أنها غير مقبولة؛ لأن الحديث المضطرب عند العلماء ليس مقبولًا، وإذا كان الأمر كذلك لزم ردها، فكيف يقول: إن الاضطراب يجعلنا نقف غير رادين ولا مصدقين؟! ألا ترى أنك إن قدمت بلى رجل مالًا فلم يأخذ؛ فسواء قلت عنه: لم يقبله، أو: رده. فالمعنى واحد لا يخفى على أحد، فكيف يمكن أن يخفى على (الإمام محمد أبو زهرة)؛ كما جاء في طرة كتابه؟!

والحقيقة أن أحاديث شق الصدر الشريف صحيحة، لا يشك فيها إلا ضعفاء الإيمان، أو من لا إيمان عندهم من الدهريين وغيرهم، وأن الاضطراب المزعوم فيها لا حقيقة له إلا مجرد الدعوى؛ لتسليك ردها على القراء من حضرة (الإمام)!

(1) [أي: توسلوا]. الناشر.
এবং "সহীহাইন"-এ আনাস এবং মালিক বিন সা'সাআ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসরার হাদিসে—যেমনটি সামনে আসবে—সে রাতের বক্ষ বিদারণের ঘটনা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করা হয়েছিল।

এই ঘটনাটি দুইবার ঘটার সম্ভাবনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই: একবার যখন তিনি শিশু ছিলেন; এবং আর একবার ইসরার রাতে, যাতে তিনি ঊর্ধ্বজগতের উচ্চতর পরিষদের নিকট গমনের জন্য, মহান রবের সাথে নিভৃত আলাপের জন্য এবং তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) হাতের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন।

আর মূল উদ্দেশ্য হলো, তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বরকত তাঁর শৈশবে হালিমা সাদিয়া এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হয়েছিল। অতঃপর হوازن গোত্রের ওপর—তাদের সকলের ওপর—তাঁর অনুগ্রহসমূহ ফিরে এসেছিল যখন যুদ্ধের পর তাদের বন্দি করা হয়েছিল; আর তা ছিল মক্কা বিজয়ের এক মাস পরের ঘটনা। তখন তারা তাঁর কাছে দুগ্ধপানের সম্পর্কের দোহাই দিল(১), ফলে তিনি তাদের মুক্ত করে দিলেন। তিনি তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করলেন এবং তাদের সাথে সদাচরণ করলেন; যেমনটি ইনশাআল্লাহ তাআলা যথাস্থানে বিস্তারিতভাবে আসবে।

মুহাম্মদ বিন ইসহাক (হوازن) যুদ্ধের বর্ণনায় বলেন: আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে (হুনাইন)-এ ছিলাম। অতঃপর যখন তিনি তাদের সম্পদ ও যুদ্ধবন্দিদের প্রাপ্ত হলেন; তখন তাঁর নিকট পৌঁছেছিলেন

--------------------------------------------

= তিনি যে অসংগতির (ইজতিরাব) দাবি করেছেন তা যদি সঠিক হয়, তবে এর অনিবার্য ফলাফল হলো যে এটি গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ আলেমগণের নিকট অসংগতিপূর্ণ হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়। আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক। তাহলে তিনি কীভাবে বলতে পারেন যে, অসংগতি আমাদেরকে এমন অবস্থায় রাখে যেখানে আমরা প্রত্যাখ্যানও করি না আবার সত্যায়নও করি না?! আপনি কি দেখেন না যে, যদি আপনি কোনো ব্যক্তিকে সম্পদ প্রদান করেন এবং সে তা গ্রহণ না করে; তবে আপনি তার সম্পর্কে ‘সে এটি গ্রহণ করেনি’ বলেন অথবা ‘সে এটি প্রত্যাখ্যান করেছে’ বলেন—উভয় ক্ষেত্রেই অর্থ এক এবং তা কারো কাছেই অস্পষ্ট নয়। তাহলে এটি কীভাবে (ইমাম মুহাম্মদ আবু জাহরা)-এর নিকট অস্পষ্ট থাকতে পারে; যেমনটি তাঁর কিতাবের টীকায় এসেছে?!

প্রকৃতপক্ষে বক্ষ বিদারণের হাদিসগুলো সহীহ, এতে কেবল ঈমানি দুর্বলতা আছে এমন ব্যক্তিরা অথবা দাহরিয়া (বস্তুবাদী) ও অন্যদের মতো যাদের মোটেও ঈমান নেই তারা ছাড়া কেউ সন্দেহ পোষণ করে না। আর এতে যে অসংগতির দাবি করা হয়েছে, তা কেবল একটি ভিত্তিহীন দাবি মাত্র; যাতে (ইমাম) সাহেবের পক্ষ থেকে পাঠকদের কাছে এটি প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায়!

(১) [অর্থাৎ: অসীলা হিসেবে পেশ করল বা দোহাই দিল]। প্রকাশক।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ২০)
وفد هوازن بالجعرانة وقد أسلموا، فقالوا: يا رسول اللَّه! إنا أهل(1) وعشيرة، وقد أصابنا من البلاء ما لم يخف عليك، فامنن علينا مَنَّ اللَّه عليك. وقام خطيبهم زهير بن صرد فقال: يا رسول اللَّه! إن ما في الحظائر من السبايا خالاتك وحواضنك اللاتي كنَّ يكفلنك، فلو أنا ملحنا ابن أبي شمر، أو النعمان بن المنذر، ثم أصابنا منهما مثل الذي أصابنا منك؛ رجونا عائدتهما وعطفهما، وأنت خير المكفولين. ثم أنشد:

امنن علينا رسول اللَّه في كرم … فإنك المرء نرجوه وندخر

امنن على بيضة قد عاقها قدر … ممزق شملها في دهرها غِيَر

أبقت لنا الدهر هَتَافًا على حَزَن … على قلوبهم الغماء والغمر

إن لم تداركها نعماء تنشرها … يا أرجح الناس حلمًا حين يختبر

امنن على نسوة قد كنت ترضعها … إذْ فوك يملؤه من محضها درر

امنن على نسوة قد كنت ترضعها … وإذ يزينك ما تأتي وما تذر

لا تجعلنا كمن شالت نعامته … واستبق منا فإنا معشر زهر

إنا لنشكر للنعمى وإن كفرت … وعندنا بعد هذا اليوم مدخر(2)

--------------------------------------------

(1) في "السيرة": "أصل"، ولعله الصواب، فإنه كذلك عند الطبراني.

(2) "سيرة ابن هشام" (4/ 131)، ولم يذكر الشعر، وصرح عنده ابن إسحاق بالتحديث، فالسند حسن، وقد رواه الطبراني عن ابن إسحاق وفيه الشعر، ويشهد له ما بعده، وهما مخرجان في "الصحيحة" (3252).
জিরানায় হাওয়াজিন গোত্রের প্রতিনিধি দল আসল এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করল। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার আপনজন(১) ও বংশের লোক। আমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে তা আপনার কাছে গোপন নয়। সুতরাং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন, আল্লাহ আপনার প্রতি অনুগ্রহ করুন। তাদের বক্তা জুহাইর বিন সুরাদ দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এই বন্দিশালায় যে বন্দিনীরা রয়েছে তারা আপনার ফুফু ও লালন-পালনকারিনী যারা আপনার দেখাশোনা করতেন। আমরা যদি ইবনে আবি শিমর অথবা নুমান বিন মুনজিরকে দুগ্ধদান করতাম, অতঃপর তাদের পক্ষ থেকে আমাদের ওপর এমন বিপদ আসত যা আপনার পক্ষ থেকে এসেছে, তবে আমরা তাদের অনুগ্রহ ও সহমর্মিতার আশা করতাম; অথচ লালিত-পালিতদের মধ্যে আপনিই সর্বোত্তম। এরপর তিনি কবিতা আবৃত্তি করলেন:

হে আল্লাহর রাসূল, উদারতার সাথে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন... কারণ আপনিই সেই ব্যক্তি যার কাছে আমরা আশা রাখি এবং যাকে বিপদের জন্য সঞ্চয় মনে করি।

এমন এক অসহায় জনগোষ্ঠীর প্রতি অনুগ্রহ করুন যাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে... যাদের ঐক্য কালের বিবর্তনে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

কাল আমাদের জন্য কেবল দুঃখের আর্তনাদ অবশিষ্ট রেখেছে... তাদের হৃদয়ে ছেয়ে আছে বিষাদ ও আচ্ছন্নতা।

যদি আপনার বিচ্ছুরিত নিয়ামত তাদের রক্ষা না করে— হে পরীক্ষার সময়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধৈর্যশীল ও বিচক্ষণ।

সেই নারীদের প্রতি অনুগ্রহ করুন যাদের স্তন আপনি পান করেছেন... যখন আপনার মুখ তাদের খাঁটি দুগ্ধের মুক্তায় পরিপূর্ণ থাকত।

সেই নারীদের প্রতি অনুগ্রহ করুন যাদের স্তন আপনি পান করেছেন... যখন আপনার প্রতিটি কাজ ও বর্জন আপনাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করত।

আমাদের তাদের মতো করবেন না যাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে... বরং আমাদের অবশিষ্ট রাখুন, কেননা আমরা এক উজ্জ্বল সম্প্রদায়।

আমরা অবশ্যই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করি যদিও তা অস্বীকার করা হয়... আর আজকের দিনের পরেও আমাদের কাছে কৃতজ্ঞতা সঞ্চিত আছে।(২)

--------------------------------------------

(১) 'সিরাত' গ্রন্থে 'আসল' (মূল) রয়েছে, সম্ভবত এটিই সঠিক; কারণ তাবারানির বর্ণনায় এভাবেই আছে।

(২) 'সীরাতে ইবনে হিশাম' (৪/১৩১); সেখানে কবিতাটি উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে ইবনে ইসহাক সরাসরি শ্রবণের কথা ব্যক্ত করেছেন, তাই সনদটি হাসান। তাবারানি এটি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে কবিতাটি রয়েছে। পরবর্তী অংশ এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং উভয়টি 'সিলসিলাতুস সহিহাহ' (৩২৫২) গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ২১)
وقد رويت هذه القصة عن أبي صرد زهير بن جرول -وكان رئيس قومه- قال:

لما أسرَنا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يوم حنين؛ فبينا هو يميز بين الرجال والنساء، وَثَبْتُ حتى قعدت بين يديه، وأسمعته شعرًا أُذكِّرُهُ حين شب ونشأ في (هوازن) حين أرضعوه:

امنن علينا رسول اللَّه في دعة … فإنك المرء نرجوه وننتظر

امنن على بيضة قد عاقها قدر … ممزق شملها في دهرها غِيَر

أبقت لنا الحرب هَتَّافًا على حزن … على قلوبهم الغمّاء والغمر

إن لم تداركها نعماء تنشرها … يا أرجح الناس حلمًا حين يختبر

امنن على نسوة قد كنت تَرضعها … إذْ فوك تملؤه من محضها الدرر

إذْ أنت طفلٌ صغير كنت ترضعها … وإذ يزينك ما تأتي وما تذر

لا تجعلنا كمن شالت نعامته … واستبق منا فإنا معشر زُهُرُ

إنا لنشكر للنعمى وإن كفرت … وعندنا بعد هذا اليوم مدخر

فألبس العفو من قد كنت ترضعه … من أمهاتك إن العفوَ مشتهر

إنا نؤمل عفوًا منك تلبسه … هذي البرية إذ تعفو وتنتصر

فاغفر عفا اللَّه عما أنت راهبه … يوم القيامة إذ يهدى لك الظفر
এই কাহিনীটি আবু সারাদ যুহাইর ইবনে জারওয়াল থেকে বর্ণিত হয়েছে -যিনি তাঁর গোত্রের প্রধান ছিলেন- তিনি বলেন:

যখন হুনায়নের দিন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বন্দি করলেন; তখন তিনি পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা করছিলেন। এমতাবস্থায় আমি লাফিয়ে উঠে তাঁর সামনে গিয়ে বসলাম এবং তাঁকে কিছু কবিতা শোনালাম, যেখানে তাঁকে তাঁর শৈশব ও হাওয়াজিন গোত্রে বেড়ে ওঠার কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম, যখন তারা তাঁকে দুধপান করিয়েছিলেন:

হে আল্লাহর রাসুল! সহমর্মিতার সাথে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন … কেননা আপনিই সেই ব্যক্তি যাঁর কাছে আমরা আশা করি এবং যাঁর প্রতীক্ষা করি

সেই গোত্রের প্রতি অনুগ্রহ করুন যাদের ভাগ্য প্রতিকূলতায় ফেলেছে … যাদের একতা কালের আবর্তে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে

যুদ্ধ আমাদের মাঝে এমন বিলাপকারীদের অবশিষ্ট রেখেছে যারা শোকাভিভূত … যাদের হৃদয়ে আচ্ছন্ন হয়ে আছে দুঃখ ও অবসাদ

যদি আপনার পক্ষ থেকে কোনো নিআমত একে উদ্ধার না করে তবে তা ধ্বংস হয়ে যাবে … হে পরীক্ষার সময়ে মানুষের মাঝে সবচেয়ে সহিষ্ণু ও ধৈর্যশীল ব্যক্তি

সেইসব নারীদের প্রতি অনুগ্রহ করুন যাদের আপনি স্তন্যপান করেছেন … যখন আপনার মুখ তাদের খাঁটি দুগ্ধের শুভ্রতায় ভরে থাকত

যখন আপনি ছোট শিশু ছিলেন এবং তাদের দুধ পান করতেন … আর যখন আপনার প্রতিটি আচরণ ও বর্জন আপনাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করত

আমাদের এমন করবেন না যাদের সব কিছু নিঃশেষ হয়ে গেছে … বরং আমাদের মধ্য থেকে কিছু অবশিষ্টাংশ রক্ষা করুন, নিশ্চয়ই আমরা এক উজ্জ্বল ও সম্মানিত জাতি

নিশ্চয়ই আমরা নিআমতের শুকরিয়া আদায় করি যদিও তা অস্বীকার করা হয় … আর আজকের দিনের পর আমাদের নিকট পাওনা সঞ্চিত থাকবে

সুতরাং আপনার সেই মায়েদের পক্ষ থেকে মার্জনা প্রদর্শন করুন যাদের আপনি স্তন্যপান করেছেন … কেননা আপনার সেই মায়েদের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রদর্শন করাই বিধেয়

নিশ্চয়ই আমরা আপনার পক্ষ থেকে এমন ক্ষমার প্রত্যাশা করি যা আপনি এই সৃষ্টির ওপর ঢেলে দেবেন … যখন আপনি ক্ষমা করেন এবং বিজয় লাভ করেন

সুতরাং ক্ষমা করুন, আল্লাহ আপনাকে তা থেকে ক্ষমা করবেন যা আপনি ভয় করেন … কিয়ামতের দিনে যখন আপনার প্রতি বিজয় অর্পণ করা হবে
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ২২)
قال: فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم:

"أمَّا ما كان لي ولبني عبد المطلب فهو للَّه ولكم".

فقالت الأنصار: وما كان لنا فهو للَّه ولرسوله صلى الله عليه وسلم(1).

وسيأتي أنه عليه الصلاة والسلام أطلق لهم الذرية، وكانت ستة آلاف ما بين صبي وامرأة، وأعطاهم أنعامًا وأناسي كثيرًا.

فهذا كله من بركته العاجلة في الدنيا، فكيف ببركته على من اتبعه في الدار الآخرة؟!

--------------------------------------------

(1) أخرجه الطبراني في "معاجمه الثلاثة" بإسناد فيه جهالة، وقد حسنه الحافظ، ورواه الضياء المقدسي في "المختارة"، وهو قوي بما قبله، ولذلك خرجته في "الصحيحة"؛ كما ذكرت آنفًا.
তিনি বললেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

"আমার এবং বনু আবদুল মুত্তালিবের যা কিছু পাওনা ছিল, তা আল্লাহর এবং তোমাদের জন্য।"

আনসারগণ বললেন: আর আমাদের যা কিছু আছে তাও আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য(১)।

সামনে এর বিবরণ আসবে যে, তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম) তাদের জন্য বন্দীদের মুক্ত করে দিয়েছিলেন, যাদের সংখ্যা নারী ও শিশু মিলিয়ে ছিল ছয় হাজার। এছাড়া তিনি তাদেরকে প্রচুর গবাদি পশু ও মানুষ (দাস-দাসী) দান করেছিলেন।

এই সবই দুনিয়াতে তাঁর তাৎক্ষণিক বরকতের অন্তর্ভুক্ত, তাহলে পরকালে যারা তাঁর অনুসরণ করবে তাদের জন্য তাঁর বরকত কেমন হবে?!

--------------------------------------------

(১) তাবারানি তাঁর তিনটি 'মু'জাম'-এ এমন এক সনদে এটি বর্ণনা করেছেন যাতে অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছে। হাফেজ (ইবনে হাজার) একে 'হাসান' বলেছেন এবং জিয়া আল-মাকদিসি 'আল-মুখতারা' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে এটি শক্তিশালী, এজন্যই আমি এটি 'আস-সহিহাহ' গ্রন্থে সংকলন করেছি; যেমনটি আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌فصل

روى الإمام أحمد عن بريدة قال:

خرجنا مع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، حتى إذا كنا بـ (وَدّان) قال:

"مكانكم حتى آتيكم". فانطلق، ثم جاءنا وهو ثقيل، فقال:

"إني أتيت قبر أم محمد، فسألت ربي الشفاعة -يعني: لها- فمنعنيها(1)، وإني كنت نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها".

ورواه البيهقي من طريق أخرى عنه بلفظ.

انتهى النبي صلى الله عليه وسلم إلى رسم قبرٍ فجلس، وجلس الناس حوله، فجعل يحرك رأسه كالمخاطب، ثم بكى، فاستقبله عمر، فقال: ما يبكيك يا رسول اللَّه؟ قال:

"هذا قبر آمنة بنت وهب، استأذنت ربي في أن أزور قبرها فأذن لي، واستأذنته في الاستغفار لها فأبى عليَّ، وأدركتني رقتها فبكيت"(2).

قال: فما رأيت ساعة أكثر باكيًا من تلك الساعة.

ورواه البيهقي من طريق أخرى نحوه.

وهو والحاكم من حديث عبد اللَّه بن مسعود.

--------------------------------------------

(1) قلت: وفي رواية لأحمد وابن أبي شيبة: "فدمعت عيناي رحمة لها من النار". انظر: "أحكام الجنائز" (188).

(2) قلت: وهو حديث صحيح بمجموع طريقيه، وله أسانيد أخرى أحدها صحيح، وصححه ابن حبان والحاكم والذهبي، وهو مخرج في "أحكام الجنائز" (ص 188).
‌পরিচ্ছেদ

ইমাম আহমাদ বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বের হলাম, এমনকি যখন আমরা 'ওয়াদ্দান' নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন তিনি বললেন:

"তোমরা তোমাদের নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো যতক্ষণ না আমি তোমাদের নিকট ফিরে আসি।" অতঃপর তিনি চলে গেলেন, তারপর আমাদের নিকট ফিরে আসলেন এমতাবস্থায় যে তিনি ভারাক্রান্ত ছিলেন। এরপর তিনি বললেন:

"আমি মুহাম্মাদের মায়ের কবরের নিকট গিয়েছিলাম এবং আমার রবের নিকট সুপারিশের—অর্থাৎ তাঁর জন্য—অনুমতি প্রার্থনা করেছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে তা করতে নিষেধ করেছেন(১)। আর আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, সুতরাং এখন থেকে তোমরা তা যিয়ারত করো।"

বায়হাকি অন্য একটি সূত্রে তাঁর থেকে নিম্নোক্ত শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি কবরের চিহ্নের নিকট পৌঁছে বসে পড়লেন এবং মানুষজন তাঁর চারপাশে বসে পড়ল। তিনি তাঁর মাথা নাড়াতে শুরু করলেন যেন তিনি কারো সাথে কথা বলছেন, অতঃপর তিনি কেঁদে দিলেন। উমর (রা.) তাঁর সম্মুখে অগ্রসর হয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন:

"এটি আমিনা বিনতে ওয়াহবের কবর। আমি আমার রবের নিকট তাঁর কবর যিয়ারত করার অনুমতি চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন; আর আমি তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তা দিতে অস্বীকার করেছেন। এমতাবস্থায় তাঁর প্রতি করুণা আমাকে আচ্ছন্ন করল, ফলে আমি কেঁদে ফেললাম"(২)।

বর্ণনাকারী বলেন: আমি সেই সময়ের চেয়ে অধিক ক্রন্দনকারী আর কখনও দেখিনি।

বায়হাকি অন্য সূত্রে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এটি তিনি এবং হাকেম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: আহমাদ ও ইবনে আবি শায়বার এক বর্ণনায় রয়েছে: "জাহান্নামের আগুন থেকে তাঁর প্রতি দয়াবশত আমার দুই চোখ দিয়ে অশ্রু বিগলিত হলো।" দেখুন: "আহকামুল জানাইয" (১৮৮)।

(২) আমি বলছি: হাদীসটি এর উভয় সূত্রের সমষ্টিতে সহীহ, এবং এর আরও অন্যান্য সনদ রয়েছে যার একটি সহীহ। ইবনে হিব্বান, হাকেম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন। এটি "আহকামুল জানাইয" (পৃষ্ঠা ১৮৮)-এ সংকলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وروى مسلم عن أبي هريرة قال:

زار النبي صلى الله عليه وسلم قبر أمه، فبكى وأبكى من حوله، ثم قال:

"استأذنت ربي في زيارة قبر أمي فأذن لي، واستأذنته في الاستغفار لها فلم يأذن لي، فزوروا القبور تذكركم الموت"(1).

وروى مسلم أيضًا عن أنس:

أن رجلًا قال: يا رسول اللَّه! أين أبي؟ قال: "في النار". فلما قفَّى دعاه، فقال:

"إن أبي وأباك في النار"(2).

--------------------------------------------

(1) ورواه أحمد وغيره، وهو مخرج في المصدر السابق.

(2) مسلم (1/ 132 - 133)، وله شواهد؛ منها حديث سعد بن أبي وقاص الآتي بعده.

واعلم أن هذا الحديث مع صحة إسناده، وكثرة شواهده، وتلقي العلماء النقاد بالقبول له؛ فإن الشيخ (أبو زهرة) قد رده بجرأة وجهالة متناهية؛ فقال (1/ 132):

"إنه خبر غريب في معناه، كما هو غريب في سنده؛ لأن اللَّه تعالى يقول: {وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا} [الإسراء: 15] وقد كان أبو محمد عليه الصلاة والسلام وأمه على فترة من الرسل؛ فكيف يعذبون؟!!. . . وفي الحق إني ضرست في سمعي وفهمي عندما تصورت أن عبد اللَّه وآمنة يتصور أن يدخلا النار"!

فأقول: يا سبحان اللَّه! هل هذا موقف من يؤمن برسول اللَّه أولًا، ثم بالعلماء الصادقين المخلصين ثانيًا؛ الذين رووا لنا أحاديثه صلى الله عليه وسلم وحفظوها لنا، وميزوا ما صح مما لم يصح منها، واتفقوا على أن هذا الحديث من الصحيح الثابت عنه صلى الله عليه وسلم؟! أليس موقف (أبو زهرة) هذا هو سبيل أهل الأهواء -كالمعتزلة وغيرهم- الذين قالوا بالتحسين والتقبيح العقليين؛ مما رده عليهم أهل =
ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করলেন, ফলে তিনি কাঁদলেন এবং তাঁর চারপাশের লোকদেরও কাঁদালেন, অতঃপর বললেন:

"আমি আমার রবের কাছে আমার মায়ের কবর যিয়ারত করার অনুমতি চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন। আর আমি তাঁর কাছে তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। সুতরাং তোমরা কবর যিয়ারত করো, কারণ তা তোমাদের মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেবে"(১)।

ইমাম মুসলিম আনাস (রা.) থেকেও বর্ণনা করেছেন:

এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কোথায়? তিনি বললেন: "জাহান্নামে"। যখন সে চলে যেতে লাগল, তখন তিনি তাকে ডাকলেন এবং বললেন:

"নিশ্চয়ই আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে"(২)।

--------------------------------------------

(১) এটি আহমাদ এবং অন্যান্যরাও বর্ণনা করেছেন, আর এটি পূর্বোক্ত উৎসে উদ্ধৃত হয়েছে।

(২) মুসলিম (১/ ১৩২ - ১৩৩), আর এর অনেক সমর্থনকারী বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে; যার মধ্যে এরপর আসা সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর হাদিসটি অন্যতম।

জেনে রাখুন যে, এই হাদিসটি এর সনদের বিশুদ্ধতা, এর অধিক সংখ্যক সমর্থনকারী বর্ণনা থাকা এবং বিশেষজ্ঞ সমালোচক আলেমদের এটি গ্রহণ করে নেওয়ার পরেও; শেখ (আবু জাহরা) অত্যন্ত ধৃষ্টতা ও অজ্ঞতার সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন; তিনি বলেছেন (১/ ১৩২):

"এটি এর অর্থের দিক থেকে যেমন অদ্ভুত, তেমনি এর সনদের দিক থেকেও অদ্ভুত; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি কোনো রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত শাস্তি প্রদান করি না} [আল-ইসরা: ১৫] আর আবু মুহাম্মাদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ও তাঁর মাতা তো দুই রাসূলের মধ্যবর্তী বিরতি বা অন্ধকার যুগে (ফাতরাহ) ছিলেন; তবে কীভাবে তাঁদের শাস্তি হবে?!! . . . এবং সত্য কথা বলতে, আমি যখন চিন্তা করি যে আবদুল্লাহ এবং আমিনা জাহান্নামে প্রবেশ করবেন—একথা কল্পনা করতেও আমার শ্রবণ ও বোধশক্তি হোঁচট খায়!"

তখন আমি বলি: সুবহানাল্লাহ! এটি কি এমন কোনো ব্যক্তির অবস্থান হতে পারে যে প্রথমত আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং দ্বিতীয়ত সেই সত্যবাদী ও একনিষ্ঠ আলেমদের প্রতি ঈমান রাখে; যারা আমাদের কাছে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন, আমাদের জন্য সেগুলো সংরক্ষণ করেছেন এবং যা সহিহ আর যা সহিহ নয় তা পৃথক করেছেন, আর তাঁরা একমত হয়েছেন যে এই হাদিসটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে প্রমাণিত সহিহ হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত?! (আবু জাহরা)-র এই অবস্থান কি সেই সব প্রবৃত্তিপূজারীদের—যেমন মুতাজিলা ও অন্যান্যদের—পথ নয়, যারা যুক্তি দিয়ে ভালো-মন্দ (তাহসিন ও তাকবিহ আকলি) নির্ধারণ করার কথা বলেছিল; যা তাদের বিরুদ্ধে আহলে =
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد روى البيهقي عن عامر بن سعد عن أبيه قال:

--------------------------------------------

= السنة؟! والشيخ يزعم أنه منهم؛ فما باله خالفهم، وسلك سبيل المعتزلة في تحكيم العقل، وردهم للأحاديث الصحيحة لمجرد مخالفتها لأهوائهم؛ إما أصلًا؛ وإما تأويلًا إذا لم يستطيعوا رده من أصله؟! وهذا عين ما فعله الشيخ؛ فإنه رد هذا الحديث لظنه أنه حديث غريب فرد -كما رأيت- وتأول أحاديث الزيارة بقوله:

"ولعل نهي النبي صلى الله عليه وسلم عن الاستغفار [لأمه]؛ لأن الاستغفار لا موضع له، إذ أنه لم يكن خطاب بالتكليف من نبي مبعوث"!

ونحن نقول له -كما تعلمنا من بعض السلف-: اجعل (لعل) عند ذاك الكوكب! فإن أحاديث الزيارة تدل دلالة قاطعة على أن بكاءَه صلى الله عليه وسلم إنما كان شفقة عليها من النار، وهذا صريح في بعض طرق حديث بريدة؛ كما سبق ذكره مني في التعليق عليه قريبًا. ولذلك علق الإمام النووي على حديث أبي هريرة منها بقوله في "شرح مسلم":

"فيه جواز زيارة المشركين في الحياة، وقبورهم بعد الوفاة؛ لأنه إذا جازت زيارتهم بعد الوفاة ففي الحياة أولى. وفيه النهي عن الاستغفار للكفار".

وقال في شرح حديث أنس هذا:

"فيه أن من مات على الكفر فهو في النار، ولا تنفعه قرابة المقربين. وفيه أن من مات على الفترة على ما كانت عليه العرب من عبادة الأوثان فهو من أهل النار، وليس هذا مؤاخذة قبل بلوغ الدعوة، فإن هؤلاء كانت قد بلغتهم دعوة ابراهيم وغيره من الأنبياء صلوات اللَّه تعالى وسلامه عليهم".

قلت: وفي كلام الإمام النووي رد صريح على زعم (أبو زهرة) أن أهل الفترة الذين كانوا قبل بعثة النبي صلى الله عليه وسلم لا يعذبون! ومع أن قوله هذا مجرد دعوى؛ لأنه لا يلزم من صحة القاعدة -وهي هنا أن من لم تبلغه الدعوة لا يعذب- أن الشخص الفلاني أو الأمة الفلانية لم تبلغهم الدعوة، بل هذا لا بد له من دليل كما هو ظاهر، وهذا مما لم يعرج عليه (أبو زهرة) مطلقًا، وحينئذٍ يتبين للقارئ الكريم كم قد تجنى على العلم حين رد حديث أنس، وتأول أحاديث الزيارة بما يفسد دلالتها بمجرد هذه الدعوى الباطلة؟! =
ইমাম বায়হাকী আমের ইবনে সাদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

= সুন্নাহ?! আর শাইখ দাবি করেন যে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত; তাহলে তাঁর কী হলো যে তিনি তাদের বিরোধিতা করলেন এবং আকল বা যুক্তির প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে মুতাজিলাদের পথ অবলম্বন করলেন? তারা সহীহ হাদীসসমূহকে কেবল তাদের প্রবৃত্তির পরিপন্থী হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যান করত; হয় সরাসরি, অন্যথায় অপব্যাখ্যা করার মাধ্যমে যদি তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে সক্ষম না হতো! আর শাইখ ঠিক একি কাজ করেছেন; কারণ তিনি এই হাদীসটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এই ধারণায় যে এটি একটি বিরল ও একক হাদীস—যেমনটি আপনি দেখেছেন—এবং তিনি যিয়ারত সম্পর্কিত হাদীসগুলোর অপব্যাখ্যা করে বলেছেন:

"আর সম্ভবত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে [তাঁর মায়ের জন্য] ক্ষমা প্রার্থনা করতে নিষেধ করার কারণ হলো, সেখানে ক্ষমা প্রার্থনার কোনো অবকাশ ছিল না; যেহেতু তখন কোনো প্রেরিত নবীর পক্ষ থেকে শরয়ী দায়বদ্ধতার বিধান ছিল না!"

আর আমরা তাঁকে বলি—যেমনটি আমরা সালাফদের কারো কারো থেকে শিখেছি—: আপনার এই "সম্ভবত" শব্দটিকে ঐ নক্ষত্রের কাছে রেখে দিন! কারণ যিয়ারত সংক্রান্ত হাদীসগুলো অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ক্রন্দন ছিল কেবল জাহান্নামের আগুন থেকে তাঁর প্রতি করুণাবশত। বুরাইদাহর হাদীসের কোনো কোনো সূত্রে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে; যেমনটি আমি ইতিপূর্বে এর ওপর করা মন্তব্যে অচিরেই উল্লেখ করেছি। এই কারণেই ইমাম নববী 'শারহে মুসলিম'-এ যিয়ারত সংক্রান্ত আবু হুরাইরাহ (রা.) বর্ণিত হাদীসের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন:

"এতে জীবদ্দশায় মুশরিকদের সাথে দেখা করা এবং মৃত্যুর পর তাদের কবর যিয়ারত করার বৈধতা রয়েছে; কারণ মৃত্যুর পর যদি তাদের যিয়ারত করা জায়েজ হয়, তবে জীবদ্দশায় তা আরও বেশি সঙ্গত। আর এতে কাফেরদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।"

এবং তিনি আনাসের বর্ণিত এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন:

"এতে প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তি কুফরির ওপর মৃত্যুবরণ করবে সে জাহান্নামী হবে, এবং নিকটাত্মীয়দের নৈকট্য তার কোনো উপকারে আসবে না। এতে আরও প্রমাণিত হয় যে, যারা আরবের মূর্তিপূজার ন্যায় অন্ধকারাচ্ছন্ন অন্তবর্তীকালীন যুগে মৃত্যুবরণ করেছে, তারা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত। এটি দাওয়াত পৌঁছানোর আগে পাকড়াও করা নয়; কারণ তাদের নিকট ইবরাহীম এবং অন্যান্য নবীদের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) দাওয়াত পৌঁছেছিল।"

আমি বলছি: ইমাম নববীর এই বক্তব্যের মাঝে (আবু যাহরা)-র সেই দাবির সুস্পষ্ট খণ্ডন রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত লাভের পূর্ববর্তী অন্তবর্তীকালীন সময়ের মানুষেরা শাস্তিপ্রাপ্ত হবে না! যদিও তাঁর এই কথাটি কেবলই একটি দাবি; কারণ এই মূলনীতিটি সঠিক হওয়ার দ্বারা—যা হলো যার কাছে দাওয়াত পৌঁছায়নি সে শাস্তি পাবে না—এটি আবশ্যক হয় না যে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো জাতির কাছে দাওয়াত পৌঁছেনি। বরং এর জন্য প্রমাণের প্রয়োজন, যেমনটি স্পষ্ট। আর এটি এমন একটি বিষয় যা (আবু যাহরা) মোটেও ভ্রুক্ষেপ করেননি। এমতাবস্থায় সম্মানিত পাঠকের নিকট স্পষ্ট হবে যে, তিনি জ্ঞানের ওপর কতটা জুলুম করেছেন যখন তিনি আনাস (রা.)-এর হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং যিয়ারতের হাদীসগুলোর এমন অপব্যাখ্যা করেছেন যা কেবল এই অসার দাবির ভিত্তিতে সেগুলোর অর্থকে বিকৃত করে দেয়?! =
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৬)
جاء أعرابي إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إن أبي كان يصل وكان وكان، فأين هو؟

--------------------------------------------

وإن مما يؤكد لك بطلانها مخالفتها لأحاديث كثيرة جدًّا يدل مجموعها على أن الصواب على خلافها، وأرى أنه لا بد هنا من أن أذكر بعضها:

1 - قوله صلى الله عليه وسلم: "رأيت عمرو بن عامر الخزاعي يجر قصبه في النار؛ كان أول من سيب السوائب". رواه الشيخان.

وفي رواية: "كان أول من غير دين إسماعيل".

2 - سألوه صلى الله عليه وسلم عن عبد اللَّه بن جدعان؛ فقالوا: كان يقري الضيف، ويعتق، ويتصدق؛ فهل ينفعه ذلك يوم القيامة؟ فقال:

"لا؛ إنه لم يقل يومًا: رب! اغفر لي خطيئتي يوم الدين".

رواه مسلم.

3 - أنه صلى الله عليه وسلم مر بنخل فسمع صوتًا (يعني: من قبر)، فقال: "ما هذا؟ ". قالوا: قبر رجل دفن في الجاهلية. فقال صلى الله عليه وسلم:

"لولا أن لا تدافنوا؛ لدعوت اللَّه عز وجل أن يسمعكم من عذاب القبر ما أسمعني".

رواه أحمد من طرق عن أنس، وعن جابر، وله شاهد من حديث زيد بن ثابت عند مسلم وأحمد، وهو مخرج في "الصحيحة" (158 و 159).

4 - حديث رؤيته صلى الله عليه وسلم في صلاة الكسوف صاحب المحجن يجر قصبه في النار؛ لأنه كان يسرق الحاج بمحجنه.

رواه مسلم وغيره، وهو مخرج في "الإرواء" (656).

وفي الباب أحاديث أخرى خرجها الهيثمي في "مجمع الزوائد" (1/ 116 - 119)؛ فليراجعها من شاء، وهي بمجموعها تدل دلالة قاطعة على أن المشركين في الجاهلية من أهل النار، فهم ليسوا من أهل الفترة، فسقط استدلال (أبو زهرة) بالآية جملة وتفصيلًا.

وأما قوله في حديث أنس المتقدم أعلاه:

". . كما هو غريب في سنده"! =
জনৈক গ্রাম্য আরব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: আমার পিতা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতেন এবং আরও অনেক ভালো কাজ করতেন, এখন তিনি কোথায়?

--------------------------------------------

এর অসারতা যে বিষয়টি নিশ্চিত করে তা হলো অনেকগুলো হাদিসের সাথে এর বৈপরীত্য, যা সামগ্রিকভাবে প্রমাণ করে যে সত্য এর বিপরীত। আমি মনে করি এখানে তার কিছু উল্লেখ করা আবশ্যক:

১ - তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "আমি আমর ইবনে আমির আল-খুজায়ীকে জাহান্নামে তার নাড়িভুঁড়ি টেনে হেঁচড়াতে দেখেছি; সে-ই সর্বপ্রথম 'সাওয়াইব' (দেবদেবীর নামে পশু ছেড়ে দেওয়া) প্রথার প্রচলন করেছিল।" এটি শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন।

অন্য এক বর্ণনায় আছে: "সে-ই সর্বপ্রথম ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর দ্বীন পরিবর্তন করেছিল।"

২ - তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আব্দুল্লাহ ইবনে জুদআন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন; তাঁরা বললেন: তিনি মেহমানদারি করতেন, দাস মুক্ত করতেন এবং দান-সদকা করতেন; কিয়ামতের দিন কি এগুলো তাঁর কোনো উপকারে আসবে? তিনি বললেন:

"না; কারণ তিনি একদিনের জন্যও বলেননি: হে আমার প্রতিপালক! বিচার দিবসে আমার ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিন।"

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

৩ - তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি খেজুর বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি একটি শব্দ (অর্থাৎ কবর থেকে) শুনতে পেলেন। তিনি বললেন: "এটি কী?" তাঁরা বললেন: জাহেলিয়াত যুগে দাফন করা এক ব্যক্তির কবর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

"যদি তোমরা দাফন করা ছেড়ে না দিতে (আতঙ্কে), তবে আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতাম যেন তিনি তোমাদের কবরের সেই আজাব শোনান যা আমি শুনছি।"

এটি আহমদ আনাস এবং জাবের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মুসলিম ও আহমদে যায়েদ ইবনে সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এর সমর্থক হাদিস (শাহিদ) রয়েছে এবং এটি 'আস-সহিহাহ' (১৫৮ ও ১৫৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে।

৪ - সূর্যগ্রহণের সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক লাঠিওয়ালা ব্যক্তিকে (সাহিবে মিহজান) জাহান্নামে নিজের নাড়িভুঁড়ি টেনে হেঁচড়াতে দেখার হাদিস; কারণ সে তার বাঁকানো লাঠি দিয়ে হাজিদের মালামাল চুরি করত।

এটি মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এটি 'আল-ইরওয়া' (৬৫৬) গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে।

এ বিষয়ে আরও অনেক হাদিস রয়েছে যা হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (১/ ১১৬ - ১১৯) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; যে কেউ চাইলে তা দেখে নিতে পারেন। এই হাদিসগুলো সামগ্রিকভাবে অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, জাহেলিয়াতের মুশরিকরা জাহান্নামী, তারা 'আহলে ফাতরাত' (দুই নবীর অন্তর্বর্তীকালীন লোক যারা দাওয়াত পায়নি) নয়। ফলে উক্ত আয়াত দ্বারা (আবু জাহরা)-এর দলিল পেশ করা সামগ্রিকভাবে ও বিস্তারিতভাবে বাতিল হয়ে গেল।

আর উপরে উল্লেখিত আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস সম্পর্কে তাঁর উক্তি:

". . যেমনটি এর সনদের ক্ষেত্রেও গরিব!" =
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৭)
قال: "في النار".

قال: فكأن الأعرابي وجد من ذلك، فقال: يا رسول اللَّه! أين أبوك؟ قال: "حيثما مررت بقبر كافر فبشره بالنار".

قال: فأسلم الأعرابي بعد ذلك فقال: لقد كلفني رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم تعبًا؛ ما مررت بقبر كافر إلا بشرته بالنار(1).

والمقصود أن عبد المطلب مات على ما كان عليه من دين الجاهلية؛ خلافًا لفرقة الشيعة فيه، وفي ابنه أبي طالب؛ على ما سيأتي في (وفاة أبي طالب)(2).

--------------------------------------------

= فأقول: وهذه دعوى باطلة كسابقتها، فالحديث صحيح لا غرابة فيه، وحسبك دليلًا أنه أخرج في "الصحيح"، وان أراد بذلك أنه غريب بمعنى أنه تفرد به واحد؛ فذلك مما لا يضره؛ لأن كل رواته ثقات أثبات؛ على أن له شواهد تزيده قوة على قوة كما تقدم. وأنا حين أقول هذا أعلم أن السيوطي تورط أيضًا وغلبه الهوى؛ فأعل الحديث بتفرد حماد بن سلمة به -بلى درجة أنه لم يورده في "الجامع الصغير" ولا في "ذيله عليه"- وهو من أئمة المسلمين وحفاظهم، وكنت أود أن أطيل النفس أيضًا في الرد عليه، ولكن طال الكلام، فحسبنا منه ما تقدم، واللَّه ولي التوفيق.

(1) قلت: وأخرجه الطبراني والضياء المقدسي في "المختارة"، وسنده صحيح؛ كما بينته في "الصحيحة" (18)، وقد استفدت من رواية البيهقي هذه متابعة ثالثة من أبي نعيم الفضل بن دكين كانت فاتتني، فلتنقل إلى هناك.

(2) ساق المؤلف قبيل هذا حديث خروج فاطمة رضي الله عنها للتعزية، وقوله لها: "لعلك بلغت معهم الكدى؟! لو بلغتيها معهم ما رأيت الجنة حتى يراها جد أبيك".

ولما لم يكن على شرطنا أعرضت عن ذكره ة لا سيما وفي متنه نكارة ظاهرة، وقد تكلم عليه المؤلف بما يكفي من حيث ضعف إسناده.

وروى ابن إسحاق هنا (1/ 178): حدثني العباس بن عبد اللَّه بن معبد عن بعض أهله: أن عبد المطلب توفي ورسول اللَّه ابن ثماني سنين.
তিনি বললেন: "জাহান্নামে।"

তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: এতে মরুবাসী বেদুইন যেন কিছুটা ব্যথিত হলেন, অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পিতা কোথায়? তিনি বললেন: "তুমি যখনই কোনো কাফিরের কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তাকে জাহান্নামের সুসংবাদ দিও।"

তিনি বলেন: এরপর সেই বেদুইন ইসলাম কবুল করলেন এবং বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এক কঠিন দায়িত্ব দিয়েছেন; আমি যখনই কোনো কাফিরের কবরের পাশ দিয়ে গিয়েছি, তাকে জাহান্নামের সুসংবাদ দিয়েছি(১)।

আর উদ্দেশ্য হলো এই যে, আবদুল মুত্তালিব জাহিলিয়াতের ধর্মের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন; শিয়া ফেরকার মতামতের বিপরীতে তার ব্যাপারে এবং তার পুত্র আবু তালিবের ব্যাপারেও এমনটিই প্রযোজ্য; যা সামনে (আবু তালিবের মৃত্যু) পরিচ্ছেদে আসবে(২)।

--------------------------------------------

= আমি বলছি: এটি আগেরটির মতোই একটি বাতিল দাবি। কেননা হাদীসটি সহীহ, এতে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। আপনার জন্য প্রমাণ হিসেবে এটাই যথেষ্ট যে এটি 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি তিনি 'গারীব' বলতে এটা বুঝিয়ে থাকেন যে এটি একক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে হাদীসের কোনো ক্ষতি নেই; কারণ এর সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়। তদুপরি এর এমন কিছু সমর্থক বর্ণনা রয়েছে যা এর শক্তিকে আরও বৃদ্ধি করে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আমি যখন এ কথা বলছি, তখন আমি জানি যে সুয়ূতীও এতে জড়িয়ে পড়েছেন এবং প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়েছেন; ফলে তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহর একক বর্ণনার কারণে হাদীসটিকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন—এমনকি তিনি এটিকে তার 'আল-জামি আস-সাগীর' কিংবা এর পরিশিষ্টেও উল্লেখ করেননি—অথচ তিনি মুসলিমদের ইমাম ও হাফিজদের অন্যতম ছিলেন। আমি তাকে খণ্ডন করার জন্য দীর্ঘ আলোচনা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কথা দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে, তাই পূর্বে যা বলা হয়েছে তাই যথেষ্ট। আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।

(১) আমি বলছি: এটি তাবারানী এবং যিয়া আল-মাকদিসী 'আল-মুখতারা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ; যেমনটি আমি 'আস-সহীহাহ' (১৮) গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি। বায়হাকীর এই বর্ণনা থেকে আমি আবু নুয়াইম ফাদল ইবনে দুকাইনের পক্ষ থেকে একটি তৃতীয় সমর্থক বর্ণনা লাভ করেছি যা আমার নজর এড়িয়ে গিয়েছিল; সুতরাং তা সেখানে স্থানান্তর করা উচিত।

(২) লেখক এর ঠিক আগে ফাতিমা (রা.)-এর শোক প্রকাশের জন্য বের হওয়ার হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং তাকে লক্ষ্য করে তাঁর (রাসূলের) উক্তি: "সম্ভবত তুমি তাদের সাথে কুদা (কবরস্থান) পর্যন্ত গিয়েছিলে?! যদি তুমি তাদের সাথে সেখানে পৌঁছাতে, তবে জান্নাত দেখতে পেতে না যতক্ষণ না তোমার পিতার দাদা তা দেখতেন।"

যেহেতু এটি আমাদের শর্তানুযায়ী নয়, তাই আমি এর উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি, বিশেষ করে এর মূল পাঠে স্পষ্ট আপত্তিকর বিষয় রয়েছে। লেখক এর সনদের দুর্বলতার দিক থেকে যথেষ্ট আলোচনা করেছেন।

ইবনে ইসহাক এখানে বর্ণনা করেছেন (১/১৭৮): আব্বাস ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাবাদ তাঁর পরিবারের জনৈক সদস্য থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন যখন আল্লাহর রাসূলের বয়স ছিল আট বছর।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد قال البيهقي بعد روايته هذه الأحاديث في كتابه "دلائل النبوة":

"وكيف لا يكون أبواه وجده عليه الصلاة والسلام بهذه الصفة في الآخرة وقد كانوا يعبدون الوثن، حتى ماتوا ولم يدينوا بدين عيسى ابن مريم عليه السلام، وكفرهم لا يقدح في نسبه عليه الصلاة والسلام(1)؛ لأن أنكحة الكفار صحيحة، ألا تراهم يسلمون مع زوجاتهم؛ فلا يلزمهم تجديد العقد ولا مفارقتهن، إذ كان مثله يجوز في الإسلام. وباللَّه التوفيق".

قلت: وإخباره صلى الله عليه وسلم عن أبويه وجده عبد المطلب بأنهم من أهل النار؛ لا ينافي الحديث الوارد من طرق متعددة أن أهل الفترة والأطفال والمجانين والصم يمتحنون في العرصات يوم القيامة؛ كما بسطناه سندًا ومتنًا في "تفسيرنا" عند قوله تعالى: {وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا} [الإسراء: 15]. فيكون منهم من يجيب، ومنهم من لا يجيب، فيكون هؤلاء من جملة من لا يجيب، فلا منافاة(2)، وللَّه الحمد والمنة.

--------------------------------------------

(1) قلت: كما لا يقدح فيه أنه ينتهي بلى إبراهيم عليه الصلاة والسلام، وقد كان أبوه مشركًا بنص القرآن: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ آزَرَ أَتَتَّخِذُ أَصْنَامًا آلِهَةً إِنِّي أَرَاكَ وَقَوْمَكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (74)} [الأنعام: 74]، ولذلك تبرأ منه، كما قال تعالى: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ (113) وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَنْ مَوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهٌ حَلِيمٌ (114)} [التوبة: 113 و 114].

(2) قلت: وهذا جمع جيد جدًّا؛ لأنه وإن كان من الممكن افتراض أن بعض من كان في الجاهلية قد بلغته الدعية، وأقيمت عليه الحجة -على ما جرينا عليه في تعليقنا السابق، وعليه يدل كلام البيهقي الذي نقله المؤلف- فإن من الممكن أيضًا أن نفترض أن بعضهم لم تبلغه الدعوة، وحينئذٍ فأمامه الامتحان في عرصات القيامة، فمن نجح فقد نجا، وإلا فقد هلك، وعلى هذا النوع من الهالكين تحمل الأحاديث التي صرحت بعذاب بعض من مات في الجاهلية كما تقدم، واللَّه أعلم.
ইমাম বায়হাকী তাঁর 'দালাইলুন নবুওয়াত' গ্রন্থে এই হাদীসগুলো বর্ণনা করার পর বলেছেন:

"তাঁর (রাসূলুল্লাহর) ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর পিতা-মাতা এবং দাদা পরকালে কেন এই অবস্থায় থাকবেন না, অথচ তাঁরা মূর্তিপূজা করতেন? এমনকি তাঁরা ঈসা ইবনে মারয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর দ্বীন গ্রহণ না করেই মৃত্যুবরণ করেছেন। আর তাঁদের কুফর তাঁর (রাসূলুল্লাহর) বংশমর্যাদায় কোনো আঘাত হানে না(১); কারণ কাফেরদের বিবাহসমূহ শুদ্ধ। আপনি কি দেখেন না যে, তাঁরা তাঁদের স্ত্রীদেরসহ ইসলাম গ্রহণ করেন; এমতাবস্থায় তাদের জন্য নতুন করে বিবাহের চুক্তি করা বা স্ত্রীদের থেকে পৃথক হওয়া আবশ্যক হয় না, যেহেতু এই ধরনের বিবাহ ইসলামেও বৈধ। আর আল্লাহর নিকটই তাওফীক বা সামর্থ্য কাম্য।"

আমি বলছি: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে তাঁর পিতা-মাতা এবং দাদা আবদুল মুত্তালিব সম্পর্কে তাঁরা জাহান্নামী হওয়ার যে সংবাদ এসেছে, তা বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত সেই হাদীসের পরিপন্থী নয় যে, ফাতরাত যুগের মানুষ (যাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছায়নি), শিশু, পাগল এবং বধিরদের কিয়ামতের ময়দানে পরীক্ষা করা হবে; যেমনটি আমরা মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি দেই না যতক্ষণ না কোনো রাসূল প্রেরণ করি} [আল-ইসরা: ১৫]-এর ব্যাখ্যায় আমাদের 'তাফসীর'-এ সনদ ও মূল পাঠসহ বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ উত্তর দিবে (সফল হবে), আবার কেউ উত্তর দিবে না। এমতাবস্থায় তারা সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা উত্তর দিবে না। সুতরাং এখানে কোনো বিরোধ নেই(২), আর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই জন্য।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: যেমন এটি তাঁর বংশমর্যাদায় কোনো কলঙ্ক লেপন করে না যে, তাঁর বংশধারা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে, অথচ পবিত্র কুরআনের অকাট্য বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর পিতা মুশরিক ছিলেন: {স্মরণ করো, যখন ইবরাহীম তাঁর পিতা আযরকে বলেছিলেন, 'তুমি কি মূর্তিকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করছ? আমি তোমাকে ও তোমার জাতিকে স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি'} [আল-আন'আম: ৭৪]। এ কারণেই তিনি তাঁর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হোক না কেন, তাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে তারা জাহান্নামী (১১৩)। আর ইবরাহীমের তাঁর পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা তো ছিল কেবল একটি ওয়াদার কারণে যা তিনি তাকে দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে সে আল্লাহর শত্রু, তখন তিনি তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিলেন অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের অধিকারী ও পরম ধৈর্যশীল (১১৪)} [আত-তাওবাহ: ১১৩ ও ১১৪]।

(২) আমি বলছি: এটি অত্যন্ত উত্তম একটি সমন্বয়; কারণ জাহেলিয়াত যুগের কারো কারো কাছে দাওয়াত পৌঁছেছিল এবং তাদের ওপর দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—যেমনটি আমরা আমাদের পূর্ববর্তী টিকায় উল্লেখ করেছি এবং লেখক কর্তৃক উদ্ধৃত বায়হাকীর বক্তব্যও এটি নির্দেশ করে—তেমনি এটিও ধরে নেওয়া সম্ভব যে, তাদের কারো কারো কাছে দাওয়াত পৌঁছায়নি। এমতাবস্থায় কিয়ামতের ময়দানে তাদের সামনে পরীক্ষা রয়েছে। সুতরাং যে সফল হবে সে মুক্তি পাবে, অন্যথায় সে ধ্বংস হবে। আর যারা ধ্বংস হবে তাদের এই প্রকারের ওপরেই ঐসব হাদীস প্রযোজ্য হবে যাতে জাহেলিয়াত যুগে মৃত্যুবরণকারী কারো কারো আযাবের কথা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যেমন পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌خروجه عليه الصلاة والسلام مع عمه أبي طالب إلى الشام وقصته مع بَحيرى الراهب

روى الحافظ أبو بكر الخرائطي من طريق يونس بن أبي إسحاق(1) عن أبي بكر بن أبي موسى عن أبيه قال:

خرج أبو طالب إلى الشام ومعه رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم في أشياخ من قريش، فلما أشرفوا على الراهب -يعني: بَحيرى- هبطوا فحلوا رحالهم، فخرج إليهم الراهب، وكانوا قبل ذلك يمرون به فلا يخرج ولا يلتفت إليهم. قال:

فنزل وهم يحلون رحالهم، فجعل يتخللهم حتى جاء فأخذ بيد النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: هذا سيد العالمين (وفي رواية البيهقي زيادة: هذا رسول رب العالمين؛ يبعثه اللَّه(2) رحمة للعالمين).

فقال له أشياخ من قريش: وما علمك؟ فقال: إنكم حين أشرفتم من العقبة لم يبق شجر ولا حجر إلا خر ساجدًا، ولا يسجدون إلا لنبي، وإني أعرفه بخاتم النبوة أسفل من غضروف كتفه.

ثم رجع فصنع لهم طعامًا، فلما أتاهم به -وكان هو في رعية الإبل- فقال:

--------------------------------------------

(1) الأصل: "يونس عن ابن إسحاق"، وعلى هامشه: "الأصل: أبي، وهو تحريف". وأقول: كل ذلك خطأ، والصواب ما أثبتنا، ولا علاقة لابن إسحاق بهذا الإسناد، فإنه ذكر القصة في "السيرة" بسياق آخر، وبدون إسناد! ويونس بن أبي إسحاق هذا -هو السبيعي- ثقة من رجال مسلم.

(2) الأصل: "بعثه"، والتصويب من "مستدرك الحاكم" (2/ 615) وغيره.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে সিরিয়ার পথে যাত্রা এবং বাহিরা রাহিবের সাথে তাঁর ঘটনা

হাফেজ আবু বকর আল-খারাইতি, ইউনুস ইবনে আবি ইসহাকের সূত্রে(১) আবু বকর ইবনে আবি মুসা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আবু তালিব কুরাইশদের কিছু মুরুব্বীর সাথে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং তাঁর সাথে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন। যখন তাঁরা রাহিবের—অর্থাৎ: বাহিরা—কাছাকাছি পৌঁছালেন, তখন তাঁরা নিচে নামলেন এবং তাঁদের বাহনগুলো বাঁধনমুক্ত করলেন। তখন রাহিব তাঁদের কাছে বের হয়ে আসলেন, অথচ এর আগে তাঁরা যখনই তাঁর পাশ দিয়ে যেতেন, তিনি বের হতেন না এবং তাঁদের দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপও করতেন না। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন:

তিনি নেমে আসলেন যখন তাঁরা তাঁদের বাহনগুলোর বাঁধন খুলছিলেন। তিনি তাঁদের মাঝে প্রবেশ করতে লাগলেন এবং শেষ পর্যন্ত এসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাত ধরলেন। এরপর তিনি বললেন: “ইনি বিশ্বজগতের নেতা।” (এবং বায়হাকীর বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে: “ইনি বিশ্বজগতের রবের রাসূল; আল্লাহ তাঁকে(২) বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করবেন।”)

তখন কুরাইশদের মুরুব্বীরা তাঁকে বললেন: “আপনার জ্ঞান বা অবগতির ভিত্তি কী?” তিনি বললেন: “আপনারা যখন এই গিরিপথ দিয়ে আসছিলেন, তখন এমন কোনো গাছ বা পাথর বাকি ছিল না যা সিজদায় লুটিয়ে পড়েনি। আর তারা নবী ব্যতীত কাউকে সিজদা করে না। আর আমি তাঁকে তাঁর কাঁধের হাড়ের নিচের অংশে অবস্থিত নবুওয়তের মোহর দেখে চিনতে পেরেছি।”

তারপর তিনি ফিরে গিয়ে তাঁদের জন্য খাবার তৈরি করলেন। যখন তিনি তাঁদের কাছে খাবার নিয়ে আসলেন—তখন তিনি (নবী) উট চরাচ্ছিলেন—তখন তিনি (রাহিব) বললেন:

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে রয়েছে: "ইউনুস, ইবনে ইসহাক থেকে", এবং এর পার্শ্বটীকায় রয়েছে: "মূলত: আবি, যা একটি বিকৃতি"। আমি বলছি: এর সবই ভুল, বরং সঠিক সেটিই যা আমরা সাব্যস্ত করেছি। এই সনদের সাথে ইবনে ইসহাকের কোনো সম্পর্ক নেই, কারণ তিনি তাঁর 'সিরাত' গ্রন্থে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবং সনদ ছাড়াই এই ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। আর এই ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক—যিনি আস-সাবি'ঈ—তিনি ইমাম মুসলিমের নির্ভরযোগ্য রাবীদের (রিজাল) অন্তর্ভুক্ত।

(২) মূল পাঠে রয়েছে: "প্রেরণ করেছেন", আর সঠিক পাঠটি 'মুস্তাদরাক আল-হাকিম' (২/৬১৫) এবং অন্যান্য উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩০)
أرسلوا إليه. فأقبل وغمامة تظله، فلما دنا من القوم قال: انظروا إليه عليه غمامة! فلما دنا من القوم وجدهم قد سبقوه إلى فيء الشجرة، فلما جلس مال فيء الشجرة عليه، قال: انظروا إلى فيء الشجرة مال عليه.

قال: فبينما هو قائم عليهم وهو ينشدهم ألا يذهبوا به إلى الروم، فإن الروم إن رأوه عرفوه بالصفة فقتلوه، فالتفت، فإذا هو بسبعة نفر من الروم قد أقبلوا، قال: فاستقبلهم، فقال: ما جاء بكم؟ قالوا: جئنا أن هذا النبي خارج في هذا الشهر، فلم يبق طريق إلا بعث إليه ناس، وإنا أخبرنا خبره إلى طريقك هذه. قال: فهل خَلْفكم أحد هو خير منكم؟ قالوا: لا؛ إنما أخبرنا خبره إلى طريقك هذه. قال: أفرأيتم أمرًا أراد اللَّه أن يقضيه؛ هل يستطيع أحد من الناس رده؟ فقالوا: لا. قال: فبايعوه وأقاموا معه عنده، قال:

فقال الراهب: أنشدكم اللَّه أيكم وليه؟ قالوا: أبو طالب.

فلم يزل يناشده حتى رده، وبعث معه أبو بكر بلالًا، وزوده الراهب من الكعك والزيت.

وهكذا رواه الترمذي والحاكم والبيهقي وابن عساكر وغير واحد من الحفاظ، وقال الترمذي:

"حسن غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه".

قلت: فيه من الغرائب أنه من مرسلات الصحابة؛ فإن أبا موسى الأشعري إنما قدم في سنة خيبر سنة سبع من الهجرة، فهو مرسل، فإن هذه القصة كانت
তারা তাঁর কাছে লোক পাঠাল। তিনি আসলেন এবং একটি মেঘ তাঁকে ছায়া দিচ্ছিল। যখন তিনি লোকগুলোর নিকটবর্তী হলেন, তিনি বললেন: "তাঁর দিকে তাকাও, তাঁর উপর মেঘ রয়েছে!" যখন তিনি লোকগুলোর কাছে পৌঁছালেন, তিনি দেখলেন যে তারা আগেই গাছের ছায়ায় পৌঁছে গিয়েছে। যখন তিনি বসলেন, তখন গাছের ছায়া তাঁর দিকে হেলে পড়ল। তিনি বললেন: "গাছের ছায়ার দিকে তাকাও, যা তাঁর দিকে হেলে পড়েছে।"

তিনি বললেন: এমতাবস্থায় তিনি তাদের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাদের অনুনয় করছিলেন যেন তারা তাঁকে রোমের দিকে নিয়ে না যায়, কারণ রোমীয়রা যদি তাঁকে দেখে তবে তাঁর গুণাবলী দেখে চিনে ফেলবে এবং তাঁকে হত্যা করবে। এরপর তিনি লক্ষ্য করলেন যে রোমের সাতজন ব্যক্তির একটি দল এগিয়ে আসছে। তিনি তাদের সামনে এগিয়ে গেলেন এবং বললেন: "তোমাদের আসার কারণ কী?" তারা বলল: "আমরা এই খবর পেয়ে এসেছি যে এই মাসেই এই নবীর আবির্ভাব হবে, তাই এমন কোনো পথ বাকি নেই যেখানে একদল লোক পাঠানো হয়নি। আর আমাদের এই পথের সংবাদ দেওয়া হয়েছে।" তিনি বললেন: "তোমাদের পেছনে কি তোমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কেউ আছে?" তারা বলল: "না, কেবল আমাদেরই এই পথের সংবাদ দেওয়া হয়েছে।" তিনি বললেন: "তোমরা কি মনে করো আল্লাহ যদি কোনো বিষয় ফয়সালা করার ইচ্ছা করেন, তবে মানুষের মধ্যে কেউ কি তা প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখে?" তারা বলল: "না।" এরপর তারা তাঁর আনুগত্যের শপথ করল এবং তাঁর সাথে সেখানে অবস্থান করল। তিনি বললেন:

অতঃপর রাহিব বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তোমাদের মধ্যে কে তাঁর অভিভাবক?" তারা বলল: "আবু তালিব।"

তিনি অনবরত তাঁকে অনুনয় করতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি তাঁকে ফেরত পাঠালেন। আর আবু বকর তাঁর সাথে বিলালকে পাঠালেন এবং রাহিব তাঁকে শুকনা রুটি ও জয়তুনের তেল পাথেয় হিসেবে দিলেন।

এভাবেই তিরমিযী, হাকেম, বায়হাকী, ইবনে আসাকির এবং একাধিক হাফেজ এটি বর্ণনা করেছেন। আর তিরমিযী বলেছেন:

"এটি হাসান গারীব হাদিস, যা কেবল এই সূত্রেই আমরা অবগত হয়েছি।"

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এতে বিস্ময়কর বিষয় এই যে, এটি সাহাবীদের 'মুরসাল' বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত; কেননা আবু মুসা আল-াশআরী হিজরি সপ্তম বর্ষে খায়বরের বছর আগমন করেছিলেন। সুতরাং এটি মুরসাল, কারণ এই ঘটনাটি ঘটেছিল...
(খণ্ড: ১) সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩১)
ولرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم من العمر فيما ذكره بعضهم ثنتا عشرة سنة، ولعل أبا موسى تلقاه من النبي صلى الله عليه وسلم فيكون أبلغ، أو من بعض كبار الصحابة رضي الله عنهم، أو كان هذا مشهورًا مذكورًا أخذه من طريق الاستفاضة(1).

 

‌‌[المستدرك]

عن عائشة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

"ما زالت قريش كاعَّةً(2) حتى توفي أبو طالب"

أخرجه الحاكم (2/ 622) وقال: "صحيح على شرط الشيخين".

قلت: فيه عقبة المُجَدَّر، ولم يخرج له الشيخان، وهو صدوق، فالإسناد جيد. وسيذكره المؤلف رحمه الله بلفظ آخر من رواية ابن إسحاق في (وفاة أبي طالب) مع روايات أخرى تناسب هذا الفصل. [انتهى المستدرك].

--------------------------------------------

(1) قلت: ولمثل هذه الاحتمالات تقرير في مصطلح علم الحديث: أن مراسيل الصحابة حجة، وإعلال الحديث بأن فيه ذكر أبي بكر وبلال؛ وكان عمر أبي بكر إذ ذاك تسع سنين أو عشر؛ إنما هي دعوى مبنية على أن عمره صلى الله عليه وسلم. يومئذٍ ثنتا عشرة سنة، وهذا غير محفوظ؛ فإنه إنما ذكره مقيدًا بهذا الواقدي كما قال المؤلف، والواقدي متروك متهم، فمن الممكن أن تكون القصة وقعت بعد ذلك بسنين، فلا يجوز إعلالها بمثل قول الواقدي المنكر. وقد بسطت القول في تصحيح الحديث والجواب عما أُعِلَّ به في "الرد على الدكتور البوطي" (ص 62 - 72)، وذكرت سبعة من الحفاظ سبقوني إلى تصحيحه، فراجعه.

(2) [أي: جبناء]. الناشر.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স তখন কারো কারো মতে বারো বছর ছিল। সম্ভবত আবু মুসা এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকেই গ্রহণ করেছেন, যা বর্ণনাটিকে আরও জোরালো করে; অথবা কোনো কোনো প্রবীণ সাহাবীর (রা.) নিকট থেকে; অথবা এটি এমন একটি প্রসিদ্ধ ও আলোচিত বিষয় ছিল যা তিনি ব্যাপক প্রচারের (ইস্তিফাদা) মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন(১).

 

‌‌[আল-মুসতাদরাক]

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আবু তালিবের মৃত্যু পর্যন্ত কুরাইশরা (আক্রমণ করতে) ভীত ও সংকুচিত ছিল।"

হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন (২/৬২২) এবং বলেছেন: "এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।"

আমি বলছি: এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে উকবাহ আল-মুজাদ্দার রয়েছেন, যার থেকে বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেননি, তবে তিনি সত্যবাদী (সাদুক); তাই সনদটি উত্তম (জায়্যিদ)। গ্রন্থকার রহমাতুল্লাহি আলাইহি একে ইবনে ইসহাকের বর্ণনা থেকে ভিন্ন শব্দে 'আবু তালিবের মৃত্যু' পরিচ্ছেদে অন্যান্য বর্ণনার সাথে উল্লেখ করবেন যা এই অধ্যায়ের উপযোগী। [আল-মুসতাদরাক সমাপ্ত]।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: এ জাতীয় সম্ভাবনাগুলোর জন্য হাদিস বিজ্ঞানের পরিভাষায় (উসূলুল হাদিস) একটি স্বীকৃত নীতি রয়েছে যে, সাহাবীদের মুরসাল বর্ণনা দলিল হিসেবে গণ্য। আর এই হাদিসটিকে এই বলে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা যে, এতে আবু বকর ও বেলালের নাম রয়েছে; অথচ তখন আবু বকরের বয়স ছিল মাত্র নয় বা দশ বছর—মূলত এই দাবিটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স তখন বারো বছর ছিল এমন একটি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে যা সংরক্ষিত (সহীহ) নয়। কারণ লেখক যেমনটি বলেছেন, এটি নির্দিষ্টভাবে ওয়াকিদি উল্লেখ করেছেন। আর ওয়াকিদি একজন পরিত্যক্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তি। সুতরাং এটা সম্ভব যে, ঘটনাটি এর কয়েক বছর পরে ঘটেছিল। তাই ওয়াকিদির মতো পরিত্যক্ত ও আপত্তিকর ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে এই হাদিসটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলা বৈধ নয়। আমি হাদিসটি সহীহ সাব্যস্ত করার ব্যাপারে এবং এর ওপর আরোপিত আপত্তিগুলোর উত্তরের বিষয়ে 'আর-রাদ্দু আলা ডক্টর আল-বুতি' (পৃষ্ঠা ৬২-৭২) গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং সেখানে আমার পূর্বে সাতজন হাদিস বিশারদের (হাফিজ) কথা উল্লেখ করেছি যারা একে সহীহ বলেছেন; সুতরাং সেখানে দেখে নিন।

(২) [অর্থাৎ: ভীরু]। প্রকাশক।