(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
فتح المغيث بشرح ألفية الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: فتح المغيث بشرح الفية الحديث للعراقي
المؤلف: شمس الدين أبو الخير محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن أبي بكر بن عثمان بن محمد السخاوي (ت 902هـ)
المحقق: علي حسين علي
الناشر: مكتبة السنة - مصر
الطبعة: الأولى، 1424هـ / 2003م
عدد الأجزاء:4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফাতহুল মুগীস বি-শারহি আলফিয়্যাতিল হাদীস (হাদীস শাস্ত্রের আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ) বিভাগ: উলূমুল হাদীস (হাদীস শাস্ত্র)
গ্রন্থ: আল-ইরাকী রচিত আলফিয়্যাতিল হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল মুগীস'
গ্রন্থকার: শামসুদ্দীন আবুল খায়ের মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আবী বকর বিন উসমান বিন মুহাম্মাদ আস-সাখাবী (মৃত্যু ৯০২ হিজরী)
গবেষক ও সম্পাদক: আলী হুসাইন আলী
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সুন্নাহ - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরী / ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٥)
[مُقَدِّمَةُ الْمُؤَلِّفِ]بسم الله الرحمن الرحيم
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا وَفَهْمًا، وَاخْتِمْ لِي وَلِلْمُسْلِمِينَ بِخَيْرٍ.
قَالَ سَيِّدُنَا وَشَيْخُنَا، الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَامِلُ الْعَلَّامَةُ، الْبَحْرُ الْحَبْرُ الْفَهَّامَةُ، الْمُحَقِّقُ الْمُدَقِّقُ، نَاصِرُ السُّنَّةِ حَافِظُ عَصْرِهِ، وَوَحِيدُ دَهْرِهِ، شَمْسُ الدِّينِ سُلْطَانُ الْحُفَّاظِ وَالْمُحَدِّثِينَ، أَبُو الْخَيْرِ مُحَمَّدٌ السَّخَاوِيُّ الشَّافِعِيُّ: [خُطْبَةُ الْمُؤَلِّفِ] الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ الْعِلْمَ بِفُنُونِ الْخَبَرِ مَعَ الْعَمَلِ الْمُعْتَبَرِ بِهَا إِلَيْهِ أَتَمَّ وَسِيلَةً، وَوَصَلَ مَنْ أَسْنَدَ فِي بَابِهِ وَانْقَطَعَ إِلَيْهِ فَأَدْرَجَهُ فِي سِلْسِلَةِ الْمُقَرَّبِينَ لَدَيْهِ، وَأَوْضَحَ لَهُ الْمُشْكِلَ الْغَرِيبَ وَتَعْلِيلَهُ.
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْوَاحِدُ الْأَحَدُ الْفَرْدُ الصَّمَدُ، أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ وَعَلَّمَهُ تَأْوِيلَهُ.
وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدٌ الْمُرْسَلُ بِالْآيَاتِ الْبَاهِرَةِ، وَالْمُعْجِزَاتِ الْمُتَوَاتِرَةِ، وَالْمَخْصُوصُ بِكُلِّ شَرَفٍ وَفَضِيلَةٍ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَأَنْصَارِهِ وَحِزْبِهِ، الَّذِينَ صَارَ الدِّينُ بِهِمْ عَزِيزًا، بَعْدَ فُشُوِّ كُلِّ شَاذٍّ وَمُنْكَرٍ وَرَذِيلَةٍ، وَرَضِيَ اللَّهُ عَنْ أَتْبَاعِهِمُ الْمُعَوَّلِ عَلَى إِجْمَاعِهِمْ مِمَّنِ اقْتَفَى أَثَرَهُ وَسَلَكَ سَبِيلَهُ، صَلَاةً وَسَلَامًا دَائِمَيْنِ غَيْرَ مُضْطَرِبَيْنِ يَنَالُ بِهِمَا الْعَبْدُ فِي الدَّارَيْنِ تَأْمِيلَهُ.
[مُقَدِّمَةُ الْمُؤَلِّفِ] وَبَعْدُ: فَهَذَا تَنْقِيحٌ لَطِيفٌ، وَتَلْقِيحٌ لِلْفَهْمِ الْمُنِيفِ، شَرَحْتُ فِيهِ أَلْفِيَّةَ الْحَدِيثِ، وَأَوْضَحْتُ بِهِ مَا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ مِنَ الْقَدِيمِ وَالْحَدِيثِ، فَفَتَحَ مِنْ كُنُوزِهَا الْمُحَصَّنَةِ الْأَقْفَالِ كُلَّ مُرْتَجٍ، وَطَرَحَ عَنْ رُمُوزِهَا الْإِشْكَالَ بِأَبْيَنِ الْحُجَجِ، سَابِكًا لَهَا فِيهِ ; بِحَيْثُ لَا تَتَخَلَّصُ مِنْهُ إِلَّا بِالتَّمْيِيزِ ; لِأَنَّهُ أَبْلَغُ فِي إِظْهَارِهِ الْمَعْنَى.
تَارِكًا لِمَنْ لَا يَرَى حُسْنَ ذَلِكَ فِي خُصُوصِ النَّظْمِ وَالتَّرْجِيزِ ; لِكَوْنِهِ إِنْ لَمْ يَكُنْ مُتَعَنِّتًا لَمْ يَذُقِ الَّذِي هُوَ أَهْنَى، مُرَاعِيًا فِيهِ الِاعْتِنَاءَ بِالنَّاظِمِ رَجَاءَ بَرَكَتِهِ، سَاعِيًا فِي إِفَادَةِ مَا لَا غِنًى عَنْهُ لِأَئِمَّةِ الشَّأْنِ وَطَلَبَتِهِ، غَيْرَ طَوِيلٍ مُمِلٍّ، وَلَا قَصِيرٍ مُخِلٍّ، اسْتِغْنَاءً عَنْ
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান ও বোধশক্তি বৃদ্ধি করে দিন এবং আমার ও সকল মুসলিমের শেষ পরিণাম কল্যাণময় করুন।
আমাদের নেতা ও শাইখ, ইলম অনুযায়ী আমলকারী ইমাম, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, ইলমের সুবিশাল সমুদ্র, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক, সুন্নাহর সাহায্যকারী, স্বীয় যুগের হাফেজ (হাদিস বিশারদ) ও অনন্য ব্যক্তিত্ব, শামসুদ্দিন, হাফেজ ও মুহাদ্দিসগণের সুলতান, আবু আল-খায়ের মুহাম্মদ আস-সাখাভী আশ-শাফেঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: [লেখকের ভাষণ] সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় ব্যুৎপত্তি লাভ ও সেই অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য আমলকে তাঁর নৈকট্য লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম বানিয়েছেন; এবং যিনি তাঁরই প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর দ্বীনের সেবায় আত্মনিয়োগকারীকে সান্নিধ্য দান করেছেন এবং তাঁকে তাঁর নিকটজনদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন; আর তাঁর জন্য জটিল ও অপরিচিত বিষয়সমূহ এবং সেগুলোর গূঢ় রহস্য (তালিলাহু) স্পষ্ট করেছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি অদ্বিতীয়, একক, নিরপেক্ষ ও অমুখাপেক্ষী; তিনি তাঁর বান্দার ওপর সর্বোত্তম বাণী অবতীর্ণ করেছেন এবং তাকে এর ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন।
আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুস্পষ্ট নিদর্শন ও মুতাওয়াতির (অকাট্য ও নিরবচ্ছিন্ন) মোজেজাসহ প্রেরিত হয়েছেন এবং তিনি সর্বপ্রকার সম্মান ও মর্যাদায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, আনসার ও তাঁর অনুসারী দলের ওপর, যাদের মাধ্যমে দ্বীন শক্তিশালী হয়েছে—সব ধরনের বিচ্যুতি (শায), অগ্রহণযোগ্য (মুনকার) ও নিকৃষ্ট বিষয়ের বিস্তারের পর। আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁদের অনুসারীদের প্রতি, যাঁদের ঐকমত্যের (ইজমা) ওপর নির্ভর করা হয় এবং যাঁরা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন ও তাঁর পথে চলেছেন। এমন রহমত ও শান্তি যা নিরবচ্ছিন্ন ও চিরস্থায়ী, যার মাধ্যমে একজন বান্দা উভয় জাহানে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।
[লেখকের ভূমিকা] অতঃপর: এটি একটি সূক্ষ্ম পরিমার্জন এবং উচ্চতর বোধশক্তির উন্মেষক, যাতে আমি 'আলফিয়াতুল হাদিস' (হাদিস শাস্ত্রের হাজার পঙক্তির কাব্য)-এর ব্যাখ্যা করেছি। এতে আমি প্রাচীন ও নতুন যে বিষয়সমূহ গ্রন্থটি ধারণ করেছে তা স্পষ্ট করেছি। ফলে এটি এর সুরক্ষিত রত্নভাণ্ডারের রুদ্ধ কপাটসমূহ উন্মোচন করেছে এবং এর রহস্যময় অস্পষ্টতাগুলোকে অত্যন্ত স্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে দূর করেছে। আমি মূল পাঠকে ব্যাখ্যার সাথে এমনভাবে গেঁথে দিয়েছি যে, বিশেষ বিশ্লেষণ ছাড়া তা আলাদা করা সম্ভব নয়; কারণ অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে এটিই অধিকতর কার্যকর।
যারা পদ্য ও কাব্যের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির সৌন্দর্য অনুধাবন করতে পারে না তাদের বিষয়টি আমি পরিহার করেছি; কেননা সে যদি একগুঁয়ে না হয় তবে অবশ্যই এর স্বাদ গ্রহণ করতে পারত যা অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক। এতে আমি মূল কাব্যকারের (নাজিম) প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছি তাঁর বরকত লাভের আশায়। এই শাস্ত্রের ইমামগণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলো প্রদানের চেষ্টা করেছি। এটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও বিরক্তিকরও নয়, আবার অতি সংক্ষিপ্ত ও অসম্পূর্ণও নয়, যা অন্য কিছুর প্রয়োজনীয়তা থেকে...
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٦)
تَطْوِيلِهِ بِتَصْنِيفِي الْمَبْسُوطِ الْمُقَرَّرِ الْمَضْبُوطِ، الَّذِي جَعَلْتُهُ كَالنُّكَتِ عَلَيْهَا وَعَلَى شَرْحِهَا لِلْمُؤَلِّفِ.
وَعِلْمًا بِنَقْصِ هِمَمِ أَمَاثِلِ الْوَقْتِ فَضْلًا عَنِ الْمُتَعَرِّفِ، إِجَابَةً لِمَنْ سَأَلَنِي فِيهِ مِنَ الْأَئِمَّةِ ذَوِي الْوَجَاهَةِ وَالتَّوْجِيهِ، مِمَّنْ خَاضَ مَعِي فِي الشَّرْحِ وَأَصْلِهِ، وَارْتَاضَ فِكْرُهُ بِمَا يَرْتَقِي بِهِ عَنْ أَقْرَانِهِ وَأَهْلِهِ.
نَفَعَنِي اللَّهُ وَإِيَّاهُ وَالْمُسْلِمِينَ بِذَلِكَ، وَيَسَّرَ لَنَا إِلَى كُلِّ خَيْرٍ أَقْرَبَ الْمَسَالِكِ بِمَنِّهِ وَكَرَمِهِ.
قَالَ رحمه الله:
1 - يَقُولُ رَاجِي رَبِّهِ الْمُقْتَدِرِ
… عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ الْحُسَيْنِ الْأَثَرِي
2 - مِنْ بَعْدِ حَمْدِ اللَّهِ ذِي الْآلَاءِ
… عَلَى امْتِنَانٍ جَلَّ عَنْ إِحْصَاءِ
3 - ثُمَّ صَلَاةٍ وَسَلَامٍ دَائِمِ
… عَلَى نَبِيِّ الْخَيْرِ ذِي الْمَرَاحِمِ
4 - فَهَذِهِ الْمَقَاصِدُ الْمُهِمَّهْ
… تُوَضِّحُ مِنْ عِلْمِ الْحَدِيثِ رَسْمَهْ
5 - نَظَمْتُهَا تَبْصِرَةً لِلْمُبْتَدِي
… تَذْكِرَةً لِلْمُنْتَهِي وَالْمُسْنَدِ
6 - لَخَّصْتُ فِيهَا ابْنَ الصَّلَاحِ أَجْمَعَهْ
… وَزِدْتُهَا عِلْمًا تَرَاهُ مَوْضِعَهْ
7 - فَحَيْثُ جَاءَ الْفِعْلُ وَالضَّمِيرُ
… لِوَاحِدٍ وَمَنْ لَهُ مَسْتُورُ
8 - كَـ " قَالَ " أَوْ أَطْلَقْتُ لَفْظَ " الشَّيْخِ " مَا
… أُرِيدُ إِلَّا ابْنَ الصَّلَاحِ مُبْهَمَا
9 - وَإِنْ يَكُنْ لِاثْنَيْنِ نَحْوَ " الْتَزَمَا " فَمُسْلِمٌ
… مَعَ الْبُخَارِيِّ هُمَا
10 - وَاللَّهَ أَرْجُو فِي أُمُورِي كُلِّهَا
… مُعْتَصِمًا فِي صَعْبِهَا وَسَهْلِهَا.
(يَقُولُ) مِنَ الْقَوْلِ، وَهُوَ لَفْظٌ دَالٌّ عَلَى مَعْنًى مُفِيدٍ كَمَا هُنَا، أَوْ غَيْرِ مُفِيدٍ، (رَاجِي) اسْمُ فَاعِلٍ مِنَ " الرَّجَاءِ " ضِدُّ الْخَوْفِ ; وَهُوَ تَوَقُّعُ مُمْكِنٍ يَقْتَضِي حُصُولَ مَا فِيهِ مَسَرَّةٌ، (رَبِّهِ) أَيْ: مَالِكِهِ الْإِلَهِ الَّذِي لَا تُطْلَقُ الرُّبُوبِيَّةُ عَلَى سِوَاهُ.
(الْمُقْتَدِرِ) عَلَى مَا أَرَادَ، وَهُوَ مِنْ صِفَاتِ الْجَلَالِ وَالْعَظَمَةِ، وَلِذَا كَانَ أَبْلَغَ فِي قُوَّةِ الرَّجَاءِ ; إِذْ
আমার বিস্তারিত, সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুশৃঙ্খল রচনার মাধ্যমে একে দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে—যাকে আমি মূল গ্রন্থ এবং গ্রন্থকারের করা এর ব্যাখ্যার ওপর টীকা স্বরূপ নির্ধারণ করেছি—
এ সময়ের অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের এবং জ্ঞানান্বেষীদের সংকল্পের স্বল্পতা সম্পর্কে অবগত হয়ে, সেইসব মর্যাদা ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ইমামদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি এটি সংক্ষেপ করেছি, যারা আমার সাথে এই মূল গ্রন্থ ও তার ব্যাখ্যা অধ্যয়ন করেছেন এবং যাদের চিন্তাশক্তি এমনভাবে প্রশিক্ষিত হয়েছে যা তাদেরকে সমসাময়িক ও সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করে।
আল্লাহ আমাকে, তাকে এবং সকল মুসলিমকে এর মাধ্যমে উপকৃত করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় আমাদের জন্য সকল কল্যাণের পথ সহজতর করে দিন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন:
১ - তাঁর সর্বশক্তিমান প্রতিপালকের আশাপ্রার্থী আব্দুল রহীম ইবনে আল-হুসাইন আল-আসারি বলছেন...
২ - অসংখ্য নিয়ামতের অধিকারী আল্লাহর প্রশংসা করার পর, এমন সব অনুগ্রহের জন্য যা গণনা করা অসম্ভব...
৩ - অতঃপর চিরন্তন দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক কল্যাণের নবী, পরম দয়ালুর ওপর...
৪ - এই হলো সেই গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যসমূহ, যা হাদিস বিজ্ঞানের রূপরেখাকে সুস্পষ্ট করে...
৫ - আমি এটি কাব্যাকারে রচনা করেছি নতুনদের অন্তর্দৃষ্টি প্রদানের জন্য এবং উচ্চতর শিক্ষার্থী ও হাদিস বর্ণনাকারীদের জন্য স্মারক হিসেবে...
৬ - এতে আমি ইবন আল-সালাহর সম্পূর্ণ কিতাবকে সংক্ষেপ করেছি এবং এমন কিছু জ্ঞান যোগ করেছি যা যথাস্থানে দেখতে পাবেন...
৭ - যখনই কোনো ক্রিয়া বা সর্বনাম একবচনের জন্য ব্যবহৃত হবে এবং যার দিকে তা নির্দেশিত তার নাম উহ্য থাকবে...
৮ - যেমন "তিনি বলেছেন" কিংবা আমি যখন সরাসরি "শায়খ" শব্দ ব্যবহার করব, তখন এর মাধ্যমে অনির্দিষ্টভাবে ইবন আল-সালাহ ব্যতীত অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করা হয়নি...
৯ - আর যদি তা দ্বিবচনের ক্ষেত্রে হয়, যেমন "তারা উভয়ে আবশ্যিক করেছেন", তবে তারা হলেন ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম...
১০ - আমি আমার সকল বিষয়ে আল্লাহর ওপর আশা রাখি এবং কঠিন ও সহজ সব অবস্থায় তাঁরই আশ্রয় প্রার্থনা করি।
(يَقُولُ - তিনি বলছেন) শব্দটি বলা (কাউল) থেকে উদ্ভূত; এটি এমন শব্দ যা কোনো অর্থবহ বিষয় নির্দেশ করে—যেমন এখানে ব্যবহৃত হয়েছে—কিংবা অর্থহীনও হতে পারে। (رَاجِي - আশাপ্রার্থী) এটি "আশা" (রাজা) থেকে গঠিত কর্তৃবাচক বিশেষ্য (ইসমুল ফায়েল), যা ভীতির বিপরীত; আর তা হলো এমন কোনো সম্ভাব্য বিষয়ের প্রতীক্ষা করা যা আনন্দের সঞ্চার করে। (رَبِّهِ - তাঁর প্রতিপালক) অর্থাৎ তাঁর মালিক ও ইলাহ, যাঁর সত্তা ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ 'রুবুবিয়াহ' (প্রতিপালকত্ব) শব্দটি প্রয়োগ করা হয় না।
(الْمُقْتَدِرِ - সর্বশক্তিমান) যিনি নিজের ইচ্ছানুযায়ী সব কিছু করতে সক্ষম। এটি মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের গুণাবলির অন্যতম; আর এ কারণেই এটি আশার দৃঢ়তাকে বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর; কেননা...
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وُجُودُهُ مِنِ اسْتِحْضَارِ صِفَاتِ الْجَلَالِ أَدَلُّ عَلَى وُجُودِهِ مَعَ اسْتِحْضَارِ صِفَاتِ الْجَمَالِ لَا سِيَّمَا، وَبِذَلِكَ يَكُونُ مِنْ بَابِ قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ} [الْإِسْرَاءِ: 57] .
[تَرْجَمَةُ صَاحِبِ الْأَلْفِيَّةِ]
(عَبْدُ الرَّحِيمِ) بَيَانُ الرَّاجِي، فَاعِلُ (يَقُولُ) ، أَوْ بَدَلٌ مِنْهُ، (ابْنُ الْحُسَيْنِ) ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، الزَّيْنُ أَبُو الْفَضْلِ (الْأَثَرِيُّ) بِفَتْحِ الْهَمْزَةِ وَالْمُثَلَّثَةِ، نِسْبَةً إِلَى (الْأَثَرِ) ، وَهُوَ لُغَةً: الْبَقِيَّةُ.
وَاصْطِلَاحًا: الْأَحَادِيثُ مَرْفُوعَةً كَانَتْ أَوْ مَوْقُوفَةً، عَلَى الْمُعْتَمَدِ، وَمِنْهُ: " شَرْحُ مَعَانِي الْآثَارِ " ; لِاشْتِمَالِهِ عَلَيْهِمَا، وَإِنْ قَصَرَهُ بَعْضُ الْفُقَهَاءِ عَلَى الْمَوْقُوفِ، كَمَا سَيَأْتِي فِي بَابِهِ، وَانْتَسَبَ كَذَلِكَ جَمَاعَةٌ، وَحَسُنَ الِانْتِسَابُ إِلَيْهِ مِمَّنْ يُصَنِّفُ فِي فُنُونِهِ.
وَيُعْرَفُ أَيْضًا بِـ " الْعِرَاقِيِّ " لِكَوْنِ جَدِّهِ كَانَ يَكْتُبُهَا بِخَطِّهِ، انْتِسَابًا لِعِرَاقِ الْعَرَبِ، وَهُوَ الْقُطْرُ الْأَعَمُّ كَمَا قَالَهُ ابْنُهُ.
كَانَ إِمَامًا، عَلَّامَةً، مُقْرِئًا، فَقِيهًا، شَافِعِيَّ الْمَذْهَبِ، أُصُولِيًّا، مُنْقَطِعَ الْقَرِينِ فِي فُنُونِ الْحَدِيثِ وَصِنَاعَتِهِ، ارْتَحَلَ فِيهِ إِلَى الْبِلَادِ النَّائِيَةِ، وَشَهِدَ لَهُ بِالتَّفَرُّدِ فِيهِ أَئِمَّةُ عَصْرِهِ، وَعَوَّلُوا عَلَيْهِ فِيهِ، وَسَارَتْ تَصَانِيفُهُ فِيهِ وَفِي غَيْرِهِ، وَدَرَّسَ، وَأَفْتَى، وَحَدَّثَ، وَأَمْلَى، وَوَلِيَ قَضَاءَ الْمَدِينَةِ الشَّرِيفَةِ نَحْوَ ثَلَاثِ سِنِينَ.
وَانْتَفَعَ بِهِ الْأَجِلَّاءُ، مَعَ الزُّهْدِ وَالْوَرَعِ، وَالتَّحَرِّي فِي الطَّهَارَةِ وَغَيْرِهَا، وَسَلَامَةِ الْفِطْرَةِ، وَالْمُحَافَظَةِ عَلَى أَنْوَاعِ الْعِبَادَةِ، وَالتَّقَنُّعِ بِالْيَسِيرِ، وَسُلُوكِ التَّوَاضُعِ وَالْكَرَمِ وَالْوَقَارِ، مَعَ الْأُبَّهَةِ وَالْمَحَاسِنِ الْجَمَّةِ.
وَقَدْ أَفْرَدَ ابْنُهُ تَرْجَمَتَهُ بِالتَّأْلِيفِ، فَلَا نُطِيلُ فِيهَا، وَهُوَ
আল্লাহর প্রতাপ ও মহিমার গুণাবলী (সিফাতে জালাল) স্মরণে রাখার মাধ্যমে তাঁর অস্তিত্বের উপলব্ধি, তাঁর পরম সৌন্দর্যের গুণাবলী (সিফাতে জামাল) স্মরণে রাখার মাধ্যমে তাঁর অস্তিত্বের উপলব্ধির চেয়ে অধিকতর জোরালো প্রমাণ বহন করে; বিশেষ করে এভাবে তা মহান আল্লাহর বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়: "তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আযাবকে ভয় করে।" [আল-ইসরা: ৫৭]।
[আলফিয়্যাহ রচয়িতার জীবনী]
(আব্দুর রহীম) এটি 'আশা পোষণকারী' শব্দের ব্যাখ্যা, যা ‘বলছেন’ (ইয়াকুলু) ক্রিয়ার কর্তা (ফায়িল), অথবা তা থেকে বদল (পরিপূরক শব্দ)। (ইবনুল হুসাইন) ইবনে আব্দুর রহমান, যাঁর উপাধি যয়ন এবং উপনাম আবুল ফজল। (আল-আছারী) হামযা ও ছা বর্ণের উপরে ফাতহা বা যবরসহ, যা 'আছার' (আল-আছার) শব্দের সাথে সম্পর্কিত; শাব্দিক অর্থে এর অর্থ হলো: অবশিষ্টাংশ।
আর পারিভাষিক অর্থে: নির্ভরযোগ্য মতানুসারে হাদীসসমূহ—তা মারফু (রাসূলুল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত) হোক কিংবা মাওকুফ (সাহাবীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত) হোক। এ কারণেই ‘শারহু মাআনীল আছার’ নামকরণ করা হয়েছে; কারণ এটি উভয় প্রকার হাদীসকে অন্তর্ভুক্ত করে। যদিও কোনো কোনো ফকীহ এটিকে কেবল মাওকুফ বর্ণনার ক্ষেত্রে সীমিত রেখেছেন, যেমনটি সামনে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে আলোচিত হবে। উলামাদের একটি দল এভাবেই নিজেদের নামকে এই শব্দের সাথে সম্বন্ধ করেছেন এবং যারা এই শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় গ্রন্থ রচনা করেন, তাদের জন্য এই নিসবত বা সম্বন্ধ গ্রহণ করা প্রশংসনীয়।
তিনি ‘আল-ইরাকী’ নামেও পরিচিত, কারণ তাঁর দাদা নিজের হস্তাক্ষরে ইরাকে আরবের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে এটি লিখতেন; আর এটি হচ্ছে একটি ব্যাপক অঞ্চল, যেমনটি তাঁর পুত্র উল্লেখ করেছেন।
তিনি ছিলেন একজন ইমাম, শীর্ষস্থানীয় আলিম, মুকরি (কুরআন পাঠ বিশেষজ্ঞ), ফকীহ, শাফেয়ী মাযহাবের অনুকারী, উসূলবিদ এবং হাদীস শাস্ত্র ও এর কারিগরি বিষয়ে অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। এই বিদ্যার অন্বেষণে তিনি দূর-দূরান্তের জনপদে সফর করেছেন এবং তাঁর সমসাময়িক ইমামগণ এই শাস্ত্রে তাঁর অনন্যতার সাক্ষ্য দিয়েছেন ও তাঁর ওপর নির্ভর করেছেন। এই শাস্ত্র ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ সর্বত্র প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। তিনি অধ্যাপনা করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন, হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং শ্রুতিলিখনের আসর পরিচালনা করেছেন। এছাড়া তিনি প্রায় তিন বছর পবিত্র মদীনার বিচারপতির (কাজী) দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর নিকট থেকে প্রথিতযশা পণ্ডিতগণ উপকৃত হয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন অতিশয় দুনিয়াবিমুখ ও পরহেজগার। পবিত্রতা অর্জনসহ অন্যান্য বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সতর্ক ছিলেন। তিনি ছিলেন সুস্থ স্বভাবের অধিকারী এবং বিভিন্ন প্রকার ইবাদত পালনে অত্যন্ত যত্নশীল। অল্পে তুষ্টি, বিনয়, উদারতা এবং গাম্ভীর্যের পাশাপাশি তাঁর মধ্যে গরিমা ও বহুবিধ সদ্গুণের সমাবেশ ঘটেছিল।
তাঁর পুত্র তাঁর জীবনী সম্পর্কে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাই আমরা এখানে আর দীর্ঘ আলোচনা করছি না। আর তিনি হলেন...
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٨)
فِي مَجْمُوعِهِ كَلِمَةُ إِجْمَاعٍ، وَقَدْ أُخِذَتْ عَنْ خَلْقٍ مِنْ أَصْحَابِهِ.
وَأَمَّا أَلْفِيَّتُهُ وَشَرْحُهَا فَتَلَقَّيْتُهُمَا مَعَ جُلِّ أَصْلِهِمَا دِرَايَةً عَنْ شَيْخِنَا إِمَامِ الْأَئِمَّةِ وَأَجَلِّ جَمَاعَتِهِ، وَالْأَلْفِيَّةُ فَقَطْ عَنْ جَمَاعَةٍ.
مَاتَ فِي شَعْبَانَ سَنَةَ سِتٍّ وَثَمَانِمِائَةٍ (806 هـ) عَنْ أَزْيَدَ مِنْ إِحْدَى وَثَمَانِينَ سَنَةً، رحمه الله وَإِيَّانَا.
[الْحَمْدُ وَالْبَسْمَلَةُ] وَهُوَ وَإِنْ قَدَّمَ مَا أَسْلَفَهُ وَضْعًا فَذَاكَ.
(مِنْ بَعْدِ) ذِكْرِ (حَمْدِ اللَّهِ) لَفْظًا ; عَمَلًا بِحَدِيثِ: «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِحَمْدِ اللَّهِ فَهُوَ أَقْطَعُ» وَ (مِنْ) بِالْكَسْرِ حَرْفٌ خَافِضٌ يَأْتِي لِابْتِدَاءِ الْغَايَةِ كَمَا هُنَا، وَلِغَيْرِهِ، وَ " بَعْدِ " بِالْجَرِّ نَقِيضُ (قَبْلُ) ، وَ (الْحَمْدُ) هُوَ الثَّنَاءُ عَلَى الْمَحْمُودِ بِأَفْعَالِهِ الْجَمِيلَةِ، وَأَوْصَافِهِ الْحَسَنَةِ الْجَلِيلَةِ.
وَ (اللَّهُ) عَلَمٌ عَلَى الْمَعْبُودِ بِحَقٍّ، وَهُوَ الْبَارِئُ سُبْحَانَهُ، الْمَحْمُودُ حَقِيقَةً عَلَى كُلِّ حَالٍ، وَهُوَ خَاصٌّ بِهِ لَا يُشْرِكُهُ فِيهِ غَيْرُهُ، وَلَا يُدْعَى بِهِ أَحَدٌ سِوَاهُ، قَبَضَ اللَّهُ الْأَلْسِنَةَ عَنْ ذَلِكَ.
عَلَى أَنَّهُ قَدْ يُقَالُ: إِنَّ سَبْقَ التَّعْرِيفِ بِالْقَائِلِ غَيْرُ مُخِلٍّ بِالِابْتِدَاءِ، وَلَوْ لَمْ يُلْفَظْ بِهِ ; فَفِي حَدِيثٍ قَالَ الْحَاكِمُ " إِنَّهُ غَرِيبٌ حَسَنٌ " ; أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَتَبَ إِلَى مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنه: «مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ إِلَى مُعَاذٍ، سَلَامٌ عَلَيْكَ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكَ اللَّهَ» . . . " إِلَى آخِرِهِ، وَكَذَا فِي غَيْرِهِ مِنَ الْأَحَادِيثِ.
لَكِنْ مَعَ الِابْتِدَاءِ قَبْلَ اسْمِهِ بِالْبَسْمَلَةِ كَمَا
এটি সামগ্রিকভাবে একটি ঐকমত্যের (ইজমা) বক্তব্য, যা তাঁর বহুসংখ্যক সঙ্গীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
আর তাঁর আলফিয়্যাহ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ক্ষেত্রে, আমি সেই দুটির মূল পাঠের অধিকাংশ আমাদের শায়খ, ইমামদের ইমাম এবং তাঁর জামাতের মধ্যে সবচেয়ে মহান ব্যক্তির কাছ থেকে বিজ্ঞতার সাথে (দিরায়াতান) গ্রহণ করেছি; তবে আলফিয়্যাহ একা একটি দলের কাছ থেকে গ্রহণ করেছি।
তিনি ৮০৬ হিজরি সনের শাবান মাসে একাশি বছরেরও বেশি বয়সে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং আমাদের প্রতি রহম করুন।
[হামদ ও বাসমালাহ] তিনি যদিও পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তাকে বিন্যাসগতভাবে আগে এনেছেন, তবে সেটিও গ্রহণীয়।
(আল্লাহর প্রশংসার) স্মরণের (পর) মৌখিকভাবে; এই হাদিসটির ওপর আমল স্বরূপ: "যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)।" এবং (মিন) শব্দটি কাসরাহ (জের) বিশিষ্ট একটি হরফে জার (অব্যয়), যা এখানে সীমানার শুরুর (ইবতিদাউল গায়াহ) জন্য ব্যবহৃত হয়েছে এবং অন্য অর্থেও আসে। আর 'বাদি' (পর) শব্দটি (কাবলু) বা 'পূর্বের' বিপরীতার্থক। আর (হামদ) হলো প্রশংসিত সত্তার সুন্দর কার্যাবলি এবং তাঁর অতি উত্তম ও মহান গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর গুণগান করা।
আর (আল্লাহ) হলো সত্য মাবুদের (উপাস্যের) জন্য নির্ধারিত নাম, এবং তিনি পবিত্র স্রষ্টা, যিনি প্রকৃতপক্ষে সকল অবস্থায় প্রশংসিত। এই নামটি তাঁর জন্যই বিশেষায়িত, এতে অন্য কেউ তাঁর অংশীদার নয় এবং তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে এই নামে ডাকা হয় না; আল্লাহ মানুষের জিহ্বাকে তা থেকে নিবৃত রেখেছেন।
তবে বলা হয়ে থাকে যে: বক্তার পরিচয় আগে প্রদান করা সূচনার (ইবতিদা) ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না, যদিও তা মুখে উচ্চারণ করা না হয়। একটি হাদিসে, যেটিকে হাকেম "গরিব হাসান" বলেছেন, বর্ণিত হয়েছে যে—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট লিখেছিলেন: "আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে মুয়াজের প্রতি, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আপনার নিকট আল্লাহর প্রশংসা করছি..." শেষ পর্যন্ত। একইভাবে অন্যান্য হাদিসেও এটি বর্ণিত হয়েছে।
তবে নিজের নামের পূর্বে বাসমালাহ (বিসমিল্লাহ) দ্বারা শুরু করার সাথে সাথে, যেমনটি...
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وَقَعَ لِلْمُؤَلِّفِ، وَفَعَلَهُ أَيْضًا أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ، رضي الله عنهما، وَعَزَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ لِمُكَاتَبَةِ الْمُسْلِمِينَ، بَلْ يُقَالُ أَيْضًا: هَذَا الْحَدِيثُ رُوِيَ أَيْضًا بِـ " بِسْمِ اللَّهِ " بَدَلَ " بِحَمْدِ اللَّهِ " فَكَأَنَّهُ أُرِيدَ بِالْحَمْدَلَةِ وَالْبَسْمَلَةِ مَا هُوَ أَعَمُّ مِنْهُمَا ; وَهُوَ ذِكْرُ اللَّهِ وَالثَّنَاءُ عَلَيْهِ عَلَى الْجُمْلَةِ بِصِيغَةِ الْحَمْدِ أَوْ غَيْرِهَا.
وَيُؤَيِّدُهُ رِوَايَةٌ ثَالِثَةٌ لَفْظُهَا: " بِذِكْرِ اللَّهِ " ; وَحِينَئِذٍ فَالْحَمْدُ وَالذِّكْرُ وَالْبَسْمَلَةُ سَوَاءٌ، فَمَنِ ابْتَدَأَ بِوَاحِدٍ مِنْهَا، حَصَلَ الْمَقْصُودُ مِنَ الثَّنَاءِ عَلَى اللَّهِ.
(ذِي الْآلَاءِ) أَيْ: صَاحِبِ النِّعَمِ وَالْجُودِ وَالْكَرَمِ، وَفِي وَاحِدِ (الْآلَاءِ) سَبْعُ لُغَاتٍ: " إِلًى " بِكَسْرِ الْهَمْزَةِ، وَبِفَتْحِهَا مَعَ التَّنْوِينِ وَعَدَمِهِ، وَمُثَلَّثِ الْهَمْزَةِ مَعَ سُكُونِ اللَّامِ وَالتَّنْوِينِ (عَلَى امْتِنَانٍ) مِنَ اللَّهِ بِهِ مِنَ الْعَطَاءِ الْكَثِيرِ الَّذِي مِنْهُ التَّوَغُّلُ فِي عُلُومِ الْحَدِيثِ النَّبَوِيِّ، عَلَى قَائِلِهِ أَفْضَلُ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ.
وَاخْتِصَاصُ النَّاظِمِ بِكَوْنِهِ - وَلِلَّهِ الْحَمْدُ - فِيهِ إِمَامًا مُقْتَدًى بِهِ، وَالْمَنَّانُ: الَّذِي يَبْدَأُ بِالنَّوَالِ قَبْلَ السُّؤَالِ (جَلَّ) أَيْ: عَظُمَ عَطَاؤُهُ.
(عَنْ إِحْصَاءِ) بِعَدَدٍ ; قَالَ تَعَالَى: {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا} [إِبْرَاهِيمَ: 34] (ثُمَّ صَلَاةٍ وَسَلَامٍ) بِالْجَرِّ عَطْفًا عَلَى (حَمْدٍ) (دَائِمٍ) كُلٍّ مِنْهُمَا، أَوْ تَلَفُّظِي بِهِمَا، أَوْ لِاقْتِرَانِهِمَا غَالِبًا صَارَا كَالْوَاحِدِ، وَفِي عَطْفِهِ بِـ (ثُمَّ) الْمُقْتَضِيَةِ لِلتَّرْتِيبِ مَعَ الْمُهْلَةِ إِشْعَارٌ بِأَنَّهُ أَثْنَى عَلَى اللَّهِ سُبْحَانَهُ زِيَادَةً عَلَى مَا ذَكَرَ بَيْنَهُمَا.
[وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ] وَ (الصَّلَاةُ) مِنَ اللَّهِ عَلَى نَبِيِّهِ ثَنَاؤُهُ عَلَيْهِ وَتَعْظِيمُهُ لَهُ، وَمِنَ الْمَلَائِكَةِ وَغَيْرِهِمْ: طَلَبُ الزِّيَادَةِ لَهُ [بِتَكْثِيرِ أَتْبَاعِهِ أَوِ الْعُلَمَاءِ، وَنَحْوِهِمْ مَثَلًا]
এটি গ্রন্থকারের ক্ষেত্রে যেমন ঘটেছে, তেমনি আবু বকর সিদ্দীক ও যায়দ ইবন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও অনুরূপ করেছেন। হাম্মাদ ইবন সালামাহ একে মুসলিমদের পত্রালাপের রীতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অধিকন্তু এও বলা হয় যে, এই হাদিসটি ‘বিহামদিল্লাহ’ (আল্লাহর প্রশংসার সাথে)-এর পরিবর্তে ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে) শব্দেও বর্ণিত হয়েছে। ফলে প্রতীয়মান হয় যে, ‘হামদালাহ’ (আলহামদুলিল্লাহ বলা) ও ‘বাসমালাহ’ (বিসমিল্লাহ বলা) দ্বারা এই দুটির চেয়েও ব্যাপকতর কোনো বিষয় উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে; আর তা হলো সাধারণভাবে আল্লাহর জিকির এবং তাঁর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করা, তা প্রশংসার সুনির্দিষ্ট শব্দে হোক বা অন্য কোনো মাধ্যমে।
একে একটি তৃতীয় বর্ণনাও সমর্থন করে, যার শব্দ হলো: ‘আল্লাহর জিকিরের সাথে’; আর এমতাবস্থায় প্রশংসা (হামদ), জিকির এবং বাসমালাহ একই পর্যায়ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি এর যেকোনো একটির মাধ্যমে শুরু করবে, আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতির মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হবে।
(নিয়ামতসমূহের অধিকারী): অর্থাৎ নিয়ামত, বদান্যতা ও করুণার মালিক। ‘আল-আলা’ (নিয়ামতসমূহ) শব্দের একবচনে সাতটি আভিধানিক রূপ রয়েছে: ‘ইলউন’ (হামজায় কাসরাহ যোগে), এবং ফাতহাহ যোগে তানভীনসহ ও তানভীন ছাড়া, এবং লামের সুকুন ও তানভীনসহ হামজার তিন হরকতের (যবর, যের, পেশ) বিন্যাসে। (অনুগ্রহস্বরূপ): যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিপুল দান হিসেবে প্রাপ্ত, যার অন্তর্ভুক্ত হলো নববী হাদিসের ইলমে ব্যুৎপত্তি লাভ করা; যাঁর (নবীর) প্রতি বর্ষিত হোক সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম।
আর এতে (হাদিস শাস্ত্রে) কাব্যকারের বৈশিষ্ট্য হলো—সকল প্রশংসা আল্লাহর—তিনি এতে একজন অনুসরণীয় ইমাম। ‘আল-মান্নান’ অর্থ: সেই সত্তা যিনি চাওয়ার পূর্বেই দান করেন। (জাল্লা) অর্থাৎ: তাঁর দান সুমহান।
(গণনার উর্ধ্বে): সংখ্যার মাধ্যমে; আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামত গণনা করো, তবে তা শেষ করতে পারবে না” [ইবরাহীম: ৩৪]। (অতঃপর দরুদ ও সালাম): যর (জের) যোগে, যা ‘হামদ’ (প্রশংসা)-এর ওপর আত্বফ (সংযুক্ত) হয়েছে। (নিরন্তর): যা এই দুটির প্রত্যেকের বিশেষণ, অথবা এই দুটি উচ্চারণের বিশেষণ, কিংবা সচরাচর এই দুটি একসাথে আসার কারণে এগুলো একটির মতো হয়ে গেছে। আর ‘সুম্মা’ (অতঃপর) অব্যয় দ্বারা সংযুক্ত করার মাধ্যমে—যা বিলম্বসহ ক্রমিকতা বোঝায়—এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি এই দুইয়ের মাঝে যা উল্লেখ করেছেন তার অতিরিক্ত আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করেছেন।
[দরুদ ও সালাম] আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীর প্রতি ‘সালাত’ (দরুদ) অর্থ হলো তাঁর প্রশংসা করা এবং তাঁকে সম্মানিত করা। আর ফেরেশতা ও অন্যদের পক্ষ থেকে এর অর্থ হলো তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধির প্রার্থনা করা [উদাহরণস্বরূপ তাঁর অনুসারী বা আলেমদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার কামনার মাধ্যমে]।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
لِلْعِلْمِ بِتَنَاهِيهِ فِي كُلِّ شَرَفٍ، وَلَمْ يُفْرِدْهَا عَنِ (السَّلَامِ) لِتَصْرِيحِ النَّوَوِيِّ رحمه الله بِكَرَاهَةِ إِفْرَادِ أَحَدِهِمَا عَنِ الْآخَرِ، وَإِنْ خَصَّهَا شَيْخِي بِمَنْ جَعَلَهَا دَيْدَنًا ; لِوُقُوعِ الْإِفْرَادِ فِي كَلَامِ إِمَامِنَا الشَّافِعِيِّ، وَمُسْلِمٍ، وَالشَّيْخِ أَبِي إِسْحَاقَ، وَغَيْرِهِمْ مِنْ أَئِمَّةِ الْهُدَى، وَمِنْهُمُ النَّوَوِيُّ نَفْسُهُ فِي خُطْبَةِ (تَقْرِيبِهِ) كَمَا فِي كَثِيرٍ مِنْ نُسَخِهِ.
وَكَذَا أَتَى بِهَا مَعَ الْحَمْدِ عَمَلًا بِقَوْلِهِ فِي بَعْضِ طُرُقِ الْحَدِيثِ الْمَاضِي: «بِحَمْدِ اللَّهِ وَالصَّلَاةِ عَلَيْهِ فَهُوَ أَبْتَرُ» مَمْحُوقٌ مِنْ كُلِّ بَرَكَةٍ، وَإِنْ كَانَ سَنَدُهُ ضَعِيفًا ; لِأَنَّهُ فِي الْفَضَائِلِ، مَعَ مَا فِي إِثْبَاتِهَا فِي الْكِتَابِ مِنَ الْفَضْلِ، كَمَا سَيَأْتِي فِي مَحَلِّهِ (عَلَى نَبِيِّ الْخَيْرِ) الْجَامِعِ لِكُلِّ مَحْمُودٍ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ (ذِي) أَيْ: صَاحِبِ (الْمَرَاحِمِ) نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم.
[مَعْنَى النَّبِيِّ] وَحَقِيقَةُ " النَّبِيِّ " وَالْأَكْثَرُ فِي التَّلَفُّظِ بِهِ عَدَمُ الْهَمْزِ: إِنْسَانٌ أُوحِيَ إِلَيْهِ بِشَرْعٍ وَإِنْ لَمْ يُؤْمَرْ بِتَبْلِيغِهِ، فَإِنْ أُمِرَ بِالتَّبْلِيغِ فَرَسُولٌ أَيْضًا، وَلِذَا كَانَ الْوَصْفُ بِهَا أَشْمَلَ، فَالْعُدُولُ عَنْهَا إِمَّا لِلتَّأَسِّي بِالْخَبَرِ الْآتِي فِي الْجَمْعِ بَيْنَ وَصْفَيِ النُّبُوَّةِ وَالرَّحْمَةِ، أَوْ لِمُنَاسَبَةِ عُلُومِ الْخَبَرِ ; لِأَنَّ أَحَدَ مَا قِيلَ فِي اشْتِقَاقِهِ أَنَّهُ مِنَ النَّبَأِ وَهُوَ الْخَبَرُ، أَوْ لِأَنَّهُ فِي مَقَامِ التَّعْرِيفِ الَّذِي يَحْصُلُ الِاكْتِفَاءُ فِيهِ بِأَيِّ صِفَةٍ أَدَّتِ الْمُرَادَ،
প্রতিটি মর্যাদার চূড়ান্ত শিখরে তাঁর অবস্থান সর্বজনবিদিত হওয়ার কারণে [তিনি এমনটি করেছেন]। তিনি (সালাত)-কে (সালাম) থেকে পৃথক করেননি, কারণ ইমাম নববী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই দুটির একটিকে অপরটি থেকে এককভাবে উল্লেখ করাকে মাকরুহ বা অপছন্দনীয় বলে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। যদিও আমার শাইখ একে কেবল তাদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করেছেন যারা একে অভ্যাসে পরিণত করে নেয়; কেননা আমাদের ইমাম শাফেয়ী, মুসলিম, শাইখ আবু ইসহাক এবং অন্যান্য হিদায়াতের ইমামগণের বক্তব্যে পৃথকভাবে উল্লেখ করার বিষয়টি পাওয়া যায়। এমনকি খোদ ইমাম নববী তাঁর রচিত (তাকরীব) গ্রন্থের ভূমিকায় এর বহু পাণ্ডুলিপিতে অনুরূপ করেছেন।
একইভাবে তিনি প্রশংসার সাথে এটি নিয়ে এসেছেন, যা পূর্বে বর্ণিত হাদিসের কোনো কোনো সূত্রের বর্ণনার ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে: "আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর ওপর সালাত ব্যতীত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ লেজকাটা (আবতার)" অর্থাৎ যা সকল বরকত থেকে বঞ্চিত; যদিও এর সনদ দুর্বল, তবুও তা আমলের ফজিলত সংক্রান্ত বর্ণনায় গ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি গ্রন্থে এটি লিপিবদ্ধ করার যে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে তা যথাস্থানে আলোচিত হবে। (কল্যাণের নবীর ওপর) যিনি দুনিয়া ও আখিরাতের সকল প্রশংসিত গুণের আধার, (যিনি) অর্থাৎ (দয়া ও করুণার অধিকারী) আমাদের নবী মুহাম্মাদ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)।
[নবীর অর্থ] এবং ‘নবী’ শব্দের প্রকৃত স্বরূপ হলো—যার উচ্চারণে সাধারণত হামযাহ (হামযাহ) বর্জন করা হয়—এমন একজন মানুষ যাঁর প্রতি শরিয়তের বিধান ওহী (প্রত্যাদেশ) করা হয়েছে, যদিও তাঁকে তা প্রচার করার আদেশ দেওয়া হয়নি। আর যদি তাঁকে প্রচারের আদেশ দেওয়া হয়, তবে তিনি রাসূল (রাসূল) হিসেবেও গণ্য হন। এই কারণে ‘নবী’ বিশেষণটি অধিক ব্যাপক। তবে রাসূল শব্দ থেকে বিমুখ হয়ে নবী শব্দ গ্রহণের কারণ হয় তো পরবর্তী বর্ণনায় নবুওয়াত ও রহমত এই দুটি গুণের সমন্বয় করার অনুসরণে, অথবা সংবাদ বিষয়ক বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য; কেননা এর বুৎপত্তি সম্পর্কে একটি মত হলো এটি ‘নাবা’ (নাবা) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো খবর বা সংবাদ। অথবা এটি সংজ্ঞায়নের এমন একটি স্থান যেখানে উদ্দেশ্য হাসিল হয় এমন যেকোনো গুণবাচক শব্দ ব্যবহার করাই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢١)
لَا فِي مَقَامِ الْوَصْفِ، عَلَى أَنَّ الْعِزَّ بْنَ عَبْدِ السَّلَامِ جَنَحَ لِتَفْضِيلِ النُّبُوَّةِ عَلَى الرِّسَالَةِ، وَذَهَبَ غَيْرُهُ إِلَى خِلَافِهِ، كَمَا سَأُوَضِّحُهُ فِي إِبْدَالِ الرَّسُولِ بِالنَّبِيِّ.
وَ " الْمَرَاحِمُ " جَمْعُ مَرْحَمَةٍ مَصْدَرٌ مِيمِيٌّ مَفْعَلَةٌ مِنَ الرَّحْمَةِ، فَفِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَنَا نَبِيُّ التَّوْبَةِ، وَنَبِيُّ الْمَرْحَمَةِ» وَفِي نُسْخَةٍ مِنْهُ وَهِيَ الَّتِي اعْتَمَدَهَا الدِّمْيَاطِيُّ: «وَنَبِيُّ الْمَلْحَمَةِ» بِاللَّامِ بَدَلَ الرَّاءِ، وَفِي أُخْرَى: «وَنَبِيُّ الرَّحْمَةِ» ، وَفِي حَدِيثٍ آخَرَ: «إِنَّ اللَّهَ بَعَثَنِي مَلْحَمَةً وَمَرْحَمَةً» وَفِي آخَرَ: «أَنَا نَبِيُّ الْمَلَاحِمِ، وَنَبِيُّ الرَّحْمَةِ» .
قَالَ النَّوَوِيُّ: فِيمَا عَدَا الْمَلْحَمَةِ مَعْنَاهَا وَاحِدٌ مُتَقَارِبٌ، وَمَقْصُودُهَا أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم جَاءَ بِالتَّوْبَةِ وَبِالتَّرَاحُمِ.
قُلْتُ: وَأَمَّا الْمَلْحَمَةُ فَهِيَ الْمَعْرَكَةُ، فَكَأَنَّهُ الْمَبْعُوثُ بِالْقِتَالِ وَالْجِهَادِ، وَقَدْ وَصَفَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ بِقَوْلِهِ: {أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ} [الْفَتْحِ: 29] ، {وَتَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَةِ} [الْبَلَدِ: 17] أَيْ: يَرْحَمُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا، وَهِيَ فِي حَقِّنَا بِالْمَعْنَى اللُّغَوِيِّ: رِقَّةٌ فِي الْقَلْبِ وَتَعَطُّفٌ، وَمِنَ الرَّحِيمِ: إِرَادَةُ الْخَيْرِ بِعَبِيدِهِ، وَمِنَ الْمَلَائِكَةِ: طَلَبُهَا مِنْهُ لَنَا.
এটি বর্ণনার প্রেক্ষাপটে নয়; যদিও ইজ্জুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম (রহ.) নবুওয়াতকে রিসালাতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার দিকে ঝুঁকেছেন, তবে অন্যরা এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন। যেমনটি আমি 'রাসূল' শব্দকে 'নবী' শব্দ দ্বারা স্থলাভিষিক্ত করার আলোচনায় স্পষ্ট করব।
"আল-মারাহিম" (মহাসম্মিলিত করুণা) শব্দটি "মারহামাহ" এর বহুবচন, যা "রাহমাহ" (দয়া) ধাতু থেকে নির্গত মিম-যুক্ত মাসদার। সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তওবার নবী এবং দয়ার (মারহামাহ) নবী।" এর একটি পাণ্ডুলিপিতে—যা আদ-দিময়াতি গ্রহণ করেছেন—বর্ণিত হয়েছে: "এবং যুদ্ধের (মালহামাহ) নবী"; এখানে 'রা' অক্ষরের পরিবর্তে 'লাম' রয়েছে। অন্য বর্ণনায় এসেছে: "এবং করুণার নবী।" অন্য এক হাদীসে আছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে যুদ্ধ ও দয়া হিসেবে পাঠিয়েছেন।" অন্য বর্ণনায় আছে: "আমি মহাসমরসমূহের নবী এবং করুণার নবী।"
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: 'মালহামাহ' (যুদ্ধ) ব্যতীত বাকি শব্দগুলোর অর্থ এক ও কাছাকাছি। এর উদ্দেশ্য হলো, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তওবা এবং পারস্পরিক দয়ার বিধান নিয়ে এসেছেন।
আমি বলছি: আর 'মালহামাহ' হলো রণক্ষেত্র। অর্থাৎ তাকে যেন যুদ্ধ ও জিহাদের বিধান দিয়ে পাঠানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে দয়াশীল" [আল-ফাতহ: ২৯]। এবং "তারা একে অপরকে দয়ার উপদেশ দেয়" [আল-বালাদ: ১৭]। অর্থাৎ তারা একে অপরের প্রতি দয়া করে। আমাদের ক্ষেত্রে আভিধানিক অর্থে এটি হলো—হৃদয়ের কোমলতা ও মমতা। আর আল্লাহর গুণ হিসেবে 'রাহীম' (পরম দয়ালু)-এর অর্থ হলো—বান্দাদের জন্য কল্যাণের ইচ্ছা পোষণ করা। আর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে এর অর্থ হলো—আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দয়া প্রার্থনা করা।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ثُمَّ إِنَّهُ لِقُوَّةِ الْأَسْبَابِ عِنْدَ الْمَرْءِ فِيمَا يُوَجِّهُ إِلَيْهِ عَزْمَهُ، وَيَجْمَعُ عَلَيْهِ رَأْيَهُ، يَصِيرُ فِي حُكْمِ الْمَوْجُودِ الْحَاضِرِ ; بِحَيْثُ يُنْزِلُهُ مَنْزِلَتَهُ، وَيُعَامِلُهُ بِالْإِشَارَةِ إِلَيْهِ مُعَامَلَتَهُ، وَلِذَا قَالَ مَعَ التَّخَلُّصِ فِي التَّعْبِيرِ أَوَّلًا بِـ " يَقُولُ " عَنِ اعْتِذَارٍ.
(فَهَذِهِ) ; وَالْفَاءُ إِمَّا الْفَصِيحَةُ، فَالْمَقُولُ مَا بَعْدَهَا، أَوْ جَوَابُ شَرْطٍ مَحْذُوفٍ تَقْدِيرُهُ: إِنْ كُنْتَ أَيُّهَا الطَّالِبُ تُرِيدُ الْبَحْثَ عَنْ عُلُومِ الْخَبَرِ، فَهَذِهِ (الْمَقَاصِدُ) جَمْعُ مَقْصِدٍ، وَهُوَ مَا يَؤُمُّهُ الْإِنْسَانُ مِنْ أَمْرٍ وَيَطْلُبُهُ (الْمُهِمَّهْ) مِنَ الشَّيْءِ الْمُهِمِّ، وَهُوَ الْأَمْرُ الشَّدِيدُ الَّذِي يُقْصَدُ بِعَزْمٍ، (تُوضِحُ) بِضَمِّ أَوَّلِهِ مِنْ (أَوْضَحَ) أَيْ: تُظْهِرُ وَتُبِينُ (مِنْ عِلْمِ الْحَدِيثِ) الَّذِي هُوَ مَعْرِفَةُ الْقَوَاعِدِ الْمُعَرِّفَةِ بِحَالِ الرَّاوِي وَالْمَرْوِيِّ، (رَسْمُهْ) أَيْ: أَثَرُهُ الَّذِي تُبْنَى عَلَيْهِ أُصُولُهُ.
وَفِي التَّعْبِيرِ بِهِ إِشَارَةٌ إِلَى دُرُوسِ كَثِيرٍ مِنْ هَذَا الْعِلْمِ الَّذِي بَادَ حُمَّالُهُ، وَحَادَ عَنِ السَّنَنِ الْمُعْتَبَرِ عُمَّالُهُ، وَأَنَّهُ لَمْ يَبْقَ مِنْهُ إِلَّا آثَارُهُ، بَعْدَ أَنْ كَانَتْ دِيَارُ أَوْطَانِهِ بِأَهْلِهِ آهِلَةً، وَخُيُولُ فُرْسَانِهِ فِي مَيْدَانِهِ صَاهِلَةً:
وَقَدْ كُنَّا نَعُدُّهُمُ قَلِيلًا فَقَدْ صَارُوا أَقَلَّ مِنَ الْقَلِيلِ.
وَ (الْحَدِيثُ) لُغَةً: ضِدُّ الْقَدِيمِ، وَاصْطِلَاحًا: مَا أُضِيفَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَوْلًا لَهُ أَوْ فِعْلًا أَوْ تَقْرِيرًا أَوْ صِفَةً، حَتَّى الْحَرَكَاتُ وَالسَّكَنَاتُ فِي الْيَقَظَةِ وَالْمَنَامِ، فَهُوَ أَعَمُّ مِنَ السُّنَّةِ [الْآتِيَةِ قَرِيبًا] ، وَكَثِيرًا مَا يَقَعُ فِي كَلَامِ أَهْلِ الْحَدِيثِ، وَمِنْهُمُ النَّاظِمُ، مَا يَدُلُّ لِتَرَادُفِهِمَا.
(نَظَمْتُهَا) أَيِ: الْمَقَاصِدَ ; حَيْثُ سَلَكْتُ فِي جَمْعِهَا الْمَشْيَ عَلَى بَحْرٍ مِنَ الْبُحُورِ الْمَعْرُوفَةِ عِنْدَ أَهْلِ الشِّعْرِ، وَإِنْ كَانَ النَّظْمُ فِي الْأَصْلِ أَعَمَّ مِنْ ذَلِكَ ; إِذْ هُوَ جَمْعُ الْأَشْيَاءِ عَلَى هَيْئَةٍ مُتَنَاسِقَةٍ.
(تَبْصِرَةً لِلْمُبْتَدِي) بِتَرْكِ هَمْزِهِ، يَتَبَصَّرُ بِهَا مَا لَمْ يَكُنْ بِهِ عَالِمًا، وَ (تَذْكِرَةً لِلْمُنْتَهِي) وَهُوَ الَّذِي حَصَّلَ مِنَ الشَّيْءِ أَكْثَرَهُ وَأَشْهَرَهُ،
অনন্তর, মানুষের সংকল্প যখন কোনো বিষয়ের প্রতি দৃঢ়ভাবে নিবদ্ধ হয় এবং তার মতামত সে বিষয়ে সুসংহত হয়, তখন তা বিদ্যমান ও উপস্থিত বিষয়ের পর্যায়ভুক্ত হয়ে যায়; এমনভাবে যে, সে বিষয়টিকে তার উপযুক্ত স্থানে আসীন করে এবং তার প্রতি ইঙ্গিত করার মাধ্যমে এমন আচরণ করে যেন তা দৃশ্যমান। একারণেই তিনি প্রথমে ওজর পেশ করার ক্ষেত্রে ‘তিনি বলেন’ (يقول) শব্দটি ব্যবহার করে সুনিপুণভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন।
(এগুলো); এখানে ‘ফা’ (ف) বর্ণটি হয় ‘ফাসিহা’, যার ফলে পরবর্তী অংশটিই বক্তব্যের বিষয়। অথবা এটি একটি উহ্য শর্তের উত্তর, যার মূল রূপ হলো: হে জ্ঞানপিপাসু! তুমি যদি হাদীসের জ্ঞান সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে চাও, তবে এই (উদ্দেশ্যসমূহ); যা ‘মাকসাদ’ (مقصد) এর বহুবচন, আর তা হলো মানুষের লক্ষ্য ও অন্বেষিত বিষয়। (গুরুত্বপূর্ণ); যা ‘মুহিম’ (مهم) শব্দ থেকে আগত, যার অর্থ এমন এক গুরুতর বিষয় যা দৃঢ় সংকল্পের সাথে লক্ষ্য করা হয়। (স্পষ্ট করে); শব্দটির প্রথম বর্ণে পেশ যোগে ‘আওদাহা’ (أوضح) থেকে গৃহীত, অর্থাৎ: তা উন্মোচিত ও বিশদভাবে বর্ণনা করে। (হাদীস শাস্ত্র থেকে); যা হলো রাবী বা বর্ণনাকারী এবং মারভী বা বর্ণিত বিষয়ের অবস্থা পরিজ্ঞাত হওয়ার মূলনীতিসমূহ। (তার রূপরেখা); অর্থাৎ এর প্রভাব বা চিহ্ন যার ওপর ভিত্তি করে এর মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠিত।
এই শব্দের ব্যবহারের মধ্যে এই ইলমের বহুলাংশ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, যার বাহকগণ চিরবিদায় নিয়েছেন এবং এর চর্চাকারীরাও স্বীকৃত পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। এখন এর চিহ্নসমূহ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, অথচ একদা এর কেন্দ্রসমূহ জ্ঞানপিপাসুদের দ্বারা জনাকীর্ণ ছিল এবং এর ময়দানে অশ্বারোহীদের ঘোড়াগুলো দাপিয়ে বেড়াত:
আমরা তাদের সংখ্যায় অল্পই মনে করতাম, অথচ এখন তারা সেই অল্পের চেয়েও অল্প হয়ে গেছে।
আভিধানিক অর্থে ‘হাদীস’ (الحديث) হলো পুরাতন বা প্রাচীনের বিপরীত। আর পারিভাষিক অর্থে: যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম, মৌন সম্মতি অথবা গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে; এমনকি জাগ্রত বা নিদ্রাবস্থায় তাঁর নড়াচড়া ও স্থিরতাও এর শামিল। সুতরাং এটি শীঘ্রই বর্ণিতব্য ‘সুন্নাহ’ (السنة) শব্দ অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় অনেক সময় এর ব্যতিক্রম দেখা যায়—গ্রন্থকারও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত—যেখানে এই দুটি শব্দ সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(আমি এগুলোকে ছন্দোবদ্ধ করেছি); অর্থাৎ উক্ত বিষয়সমূহকে। এর সংকলনে আমি ছন্দ-বিশারদদের নিকট সুপরিচিত কাব্যিক ছন্দের কোনো একটির পথ অবলম্বন করেছি। যদিও প্রকৃত অর্থে ছন্দোবদ্ধ করা এর চেয়েও ব্যাপক অর্থ বহন করে; কেননা তা হলো সুসামঞ্জস্যপূর্ণ অবয়বে বিভিন্ন বস্তুর সমষ্টি।
(শিক্ষানবিসের জন্য চক্ষুস্বরূপ); যার মাধ্যমে সে এমন সব বিষয় হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে যা সে আগে জানত না। এবং (প্রাজ্ঞ ব্যক্তির জন্য স্মারক); আর প্রাজ্ঞ বা বিদগ্ধ ব্যক্তি হলো সে, যে কোনো বিষয়ের অধিকাংশ ও প্রসিদ্ধ অংশগুলো আয়ত্ত করেছে।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَصَلَحَ مَعَ ذَلِكَ لِإِفَادَتِهِ وَتَعْلِيمِهِ، وَالْإِرْشَادِ إِلَيْهِ وَتَفْهِيمِهِ، يَتَذَكَّرُ بِهَا مَا كَانَ عَنْهُ ذَاهِلًا، (وَ) كَذَا لِلرَّاوِي (الْمُسْنِدِ) الَّذِي اعْتَنَى بِالْإِسْنَادِ فَقَطْ، فَهُوَ يَتَذَكَّرُ بِهَا كَيْفِيَّةَ التَّحَمُّلِ وَالْأَدَاءِ وَمُتَعَلِّقَاتِهِ، كَمَا يَتَذَكَّرُ بِهَا الْمُنْتَهِي مَجْمُوعَ الْفَنِّ، فَبَيْنَ الْمُسْنِدِ وَالْمُنْتَهِي عُمُومٌ وَخُصُوصٌ مِنْ وَجْهٍ، وَأُشِيرَ بِـ (التَّبْصِرَةِ وَالتَّذْكِرَةِ) إِلَى لَقَبِ هَذِهِ الْمَنْظُومَةِ، وَهُمَا بِالنَّصْبِ مَفْعُولٌ لَهُ تُرِكَ فِيهِ الْعَاطِفُ، وَلَمْ أَتَكَلَّفْ تَخْلِيصَ مَا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ مِنْ بُطُونِ الْكُتُبِ وَالدَّفَاتِرِ.
وَلَكِنْ (لَخَّصْتُ فِيهَا ابْنَ الصَّلَاحِ) أَيْ: مَقَاصِدَ كِتَابِهِ الشَّهِيرِ عَلَى حَدِّ قَوْلِهِ: {وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ} [يُوسُفَ: 82] حَيْثُ اخْتَصَرْتُ مِنْ أَلْفَاظِهِ، وَأَثْبَتُّ مَقْصُودَهُ (أَجْمَعَهْ) ، وَلَا يُنَافِي التَّأْكِيدَ حَذْفُ كَثِيرٍ مِنْ أَمْثِلَتِهِ وَتَعَالِيلِهِ وَغَيْرِ ذَلِكَ ; إِذْ هُوَ تَأْكِيدٌ لِلْمَقْصُودِ الْمُقَدَّرِ ; كَأَنَّهُ قَالَ: لَخَّصْتُ الْمَقْصُودَ أَجْمَعَهُ.
وَالتَّأْكِيدُ بِـ " أَجْمَعَ " غَيْرُ مَسْبُوقٍ بِـ " كُلٍّ " وَاقِعٌ فِي الْقُرْآنِ وَغَيْرِهِ، وَمِنْهُ: إِذًا ظَلَلْتُ الدَّهْرَ أَبْكِي أَجْمَعَا.
وَيُجْمَعُ بَيْنَهُمَا لِلتَّقْوِيَةِ كَـ {فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ} [الحجر: 30] . [الْحِجْرِ: 30]
[تَرْجَمَةُ ابْنِ الصَّلَاحِ] وَ (الصَّلَاحُ) تَخْفِيفٌ مِنْ لَقَبِ وَالِدِهِ، فَإِنَّهُ هُوَ الْعَلَّامَةُ الْفَقِيهُ، حَافِظُ الْوَقْتِ، مُفْتِي الْفِرَقِ، شَيْخُ الْإِسْلَامِ، تَقِيُّ الدِّينِ أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ ابْنُ الْإِمَامِ الْبَارِعِ صَلَاحِ الدِّينِ أَبِي الْقَاسِمِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ الشَّهْرُزُورِيُّ الْمَوْصِلِيُّ ثُمَّ الدِّمَشْقِيُّ الشَّافِعِيُّ.
كَانَ إِمَامًا بَارِعًا حُجَّةً، مُتَبَحِّرًا فِي الْعُلُومِ الدِّينِيَّةِ، بَصِيرًا بِالْمَذْهَبِ وَوُجُوهِهِ، خَبِيرًا بِأُصُولِهِ، عَارِفًا بِالْمَذَاهِبِ، جَيِّدَ الْمَادَّةِ مِنَ اللُّغَةِ
এবং এর সাথে এটি বিষয়গুলো জানানো, পাঠদান, এর দিকে পথপ্রদর্শন এবং তা সহজবোধ্য করার উপযোগী হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী যা থেকে গাফেল ছিল তা স্মরণ করতে পারবে। (এবং) একইভাবে তা সেই বর্ণনা সংগ্রহকারী বর্ণনাকারীর (মুসনিদ) জন্য প্রযোজ্য যিনি কেবল সনদের প্রতিই মনোযোগী ছিলেন। ফলে তিনি এর মাধ্যমে হাদীস গ্রহণ ও বর্ণনার পদ্ধতি এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্মরণ করতে পারবেন; ঠিক যেভাবে একজন বিশেষজ্ঞ পণ্ডিত (মুনতাহী) এই শাস্ত্রের সামগ্রিক বিষয়গুলো এর মাধ্যমে স্মরণ করতে পারেন। মুসনিদ ও মুনতাহীর মধ্যে একদিক থেকে সাধারণ ও বিশেষের (عُمُومٌ وَخُصُوصٌ) সম্পর্ক বিদ্যমান। আর 'আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ' (التَّبْصِرَةِ وَالتَّذْكِرَةِ) শব্দদ্বয় দ্বারা এই কাব্যগ্রন্থের নামকরণের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। এই শব্দ দুটি নসব অবস্থায় 'উদ্দেশ্যবাচক কর্ম' (মফউল লাহু) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যেখানে সংযোজক অব্যয় উহ্য রাখা হয়েছে। আর আমি বিভিন্ন কিতাব ও পাণ্ডুলিপিতে যা বিদ্যমান ছিল তা হুবহু উদ্ধৃত করার কঠোর পরিশ্রমসাধ্য দায়িত্ব গ্রহণ করিনি।
কিন্তু আমি এতে ইবনুস সালাহ-র সংক্ষেপায়ন করেছি (لَخَّصْتُ فِيهَا ابْنَ الصَّلَاحِ) অর্থাৎ: তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাবের মূল উদ্দেশ্যসমূহ এখানে নিয়ে এসেছি; যা মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: "আর জনপদকে জিজ্ঞাসা করো" (ইউসুফ: ৮২)। যেখানে আমি তাঁর শব্দাবলিকে সংক্ষেপ করেছি এবং তাঁর কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যকে পূর্ণাঙ্গভাবে (أَجْمَعَهْ) সাব্যস্ত করেছি। অনেক উদাহরণ, কারণ এবং অন্যান্য বিষয় বাদ দেওয়া এই নিশ্চয়তা প্রদানের (তাকীদ) পরিপন্থী নয়; কেননা এটি উহ্য থাকা মূল উদ্দেশ্যের জন্যই নিশ্চয়তাস্বরূপ। মনে হচ্ছে যেন লেখক বলেছেন: আমি মূল উদ্দেশ্যসমূহ সম্পূর্ণরূপে সংক্ষেপ করেছি।
আর 'কুল্লুন' (كُلٍّ) শব্দ ছাড়াই 'আজমাউ' (أَجْمَعَ) শব্দের মাধ্যমে নিশ্চয়তা প্রদান পবিত্র কুরআন এবং অন্যত্রও বিদ্যমান। এরই উদাহরণ হলো এক কবির উক্তি: "তখন আমি সারাজীবন সম্পূর্ণকালব্যাপী কাঁদতে থাকব।"
আবার অর্থের দৃঢ়তা বৃদ্ধির জন্য উভয় শব্দকে একত্রেও ব্যবহার করা হয়, যেমন: "অতঃপর ফেরেশতারা সকলেই একত্রে সিজদাবনত হলো" (হিজর: ৩০)। [হিজর: ৩০]
[ইবনুস সালাহ-র জীবনী] আর 'আস-সালাহ' (الصَّلَاحُ) হলো তাঁর পিতার উপাধির সংক্ষেপিত রূপ। তিনি হলেন আল্লামা, ফকিহ, সমকালের শ্রেষ্ঠ হাফেজ, বিভিন্ন দলের মুফতি, শাইখুল ইসলাম তাকীউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবনুল ইমাম আল-বারি (সুদক্ষ) সালাহুদ্দীন আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন উসমান আশ-শাহরাযুরী আল-মাওসিলী, অতঃপর আদ-দিমাশকী আশ-শাফিঈ।
তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ইমাম ও প্রমাণস্বরূপ ব্যক্তিত্ব, ধর্মীয় ইলমসমূহে গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী, মাযহাব ও এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন, মাযহাবের মূলনীতিসমূহে অভিজ্ঞ, বিভিন্ন মাযহাব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত এবং আরবী ভাষার শব্দভাণ্ডারে অত্যন্ত দক্ষ।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَالْعَرَبِيَّةِ، حَافِظًا لِلْحَدِيثِ مُتْقِنًا فِيهِ، حَسَنَ الضَّبْطِ كَبِيرَ الْقَدْرِ، وَافِرَ الْحُرْمَةِ، عَدِيمَ النَّظَرِ فِي زَمَانِهِ، مَعَ الدِّينِ وَالْعِبَادَةِ، وَالنُّسُكِ وَالصِّيَانَةِ، وَالْوَرَعِ وَالتَّقْوَى.
انْتَفَعَ بِهِ خَلْقٌ، وَعَوَّلُوا عَلَى تَصَانِيفِهِ، خُصُوصًا كِتَابُهُ الْمُشَارُ إِلَيْهِ، فَهُوَ كَمَا قَالَ شَيْخُنَا وَقَدْ سَمِعْتُهُ عَلَيْهِ بَحْثًا إِلَّا يَسِيرًا مِنْ أَوَّلِهِ كَمَا تَقَدَّمَ مَا نَصُّهُ:
لَا يُحْصَى كَمْ نَاظِمٍ لَهُ وَمُخْتَصِرٍ، وَمُسْتَدْرِكٍ عَلَيْهِ وَمُقْتَصِرٍ، وَمُعَارِضٍ لَهُ وَمُنْتَصِرٍ، مَاتَ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْآخِرِ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَأَرْبَعِينَ وَسِتِّمِائَةٍ (643 هـ) عَنْ سِتٍّ وَسِتِّينَ سَنَةً، رحمه الله.
وَمَعَ اسْتِيفَائِي فِيهَا لِمَقَاصِدِ كِتَابِهِ (زِدْتُهَا عِلْمًا) مِنْ إِصْلَاحٍ لِخَلَلٍ وَقَعَ فِي كَلَامِهِ، أَوْ زِيَادَةٍ فِي عَدِّ أَقْسَامِ تِلْكَ الْمَسْأَلَةِ، أَوْ فَائِدَةٍ مُسْتَقِلَّةٍ.
(تَرَاهُ) أَيِ: الْمَزِيدَ (مَوْضِعَهُ) بِمُلَاحَظَةِ أَصْلِهَا ; لِأَنَّهُ وَإِنْ مَيَّزَ أَوَّلَ كَثِيرٍ مِنْهُ بِـ " قُلْتُ "، أَوْ تَمَيَّزَ بِنَفْسِهِ عِنْدَ الْعَارِفِ ; لِكَوْنِهِ حِكَايَةً عَنْ مُتَأَخِّرٍ عَنِ ابْنِ الصَّلَاحِ بِالصَّرِيحِ، أَوْ بِالْإِشَارَةِ، أَوْ تَعَقُّبًا لِكَلَامِهِ بِرَدٍّ أَوْ إِيضَاحٍ، فَآخِرُهُ قَدْ لَا يَتَمَيَّزُ، وَأَيْضًا فَقَدْ فَاتَهُ أَشْيَاءُ كَثِيرَةٌ لَمْ يُمَيِّزْهَا بِـ " قُلْتُ "، وَلَا تَمَيَّزَتْ بِمَا أُشِيرَ إِلَيْهِ، كَمَا سَأُوَضِّحُ ذَلِكَ فِي مَحَالِّهِ.
وَكَذَا أَشَرْتُ مِنْ أَجْلِ التَّلْخِيصِ لِعَزْوِ مَا يَكُونُ مِنَ اخْتِيَارَاتِ ابْنِ الصَّلَاحِ وَتَحْقِيقَاتِهِ إِلَيْهِ.
(فَحَيْثُ) الْفَاءُ هِيَ الْفَصِيحَةُ، أَوْ تَفْرِيعِيَّةٌ عَلَى " لَخَّصْتُ " (جَاءَ الْفِعْلُ وَالضَّمِيرُ) عَلَى الْبَدَلِ (لِوَاحِدٍ) لَا لِاثْنَيْنِ (وَمَنْ) أَيْ: وَالَّذِي كُلٌّ مِنَ الْفِعْلِ وَالضَّمِيرِ (لَهُ مَسْتُورُ) أَيْ: غَيْرُ مَعْلُومٍ، تَشْبِيهًا لَهُ بِالْمُغَطَّى ; بِأَنْ لَمْ يُذْكَرْ فَاعِلُ الْفِعْلِ مَعَهُ، وَلَا تَقَدَّمَ كُلًّا مِنَ الْفِعْلِ أَوِ الضَّمِيرِ الْمُوَحَّدَيْنِ اسْمٌ يَعُودُ عَلَيْهِ كَـ " قَالَ " فِي أَمْثِلَةِ الْفِعْلِ.
مِنْ مِثْلِ قَوْلِهِ فِي الْحَسَنِ: (وَقَالَ بَانَ لِي بِإِمْعَانِي النَّظَرَ) وَ " لَهُ " فِي الضَّمِيرِ مِنْ مِثْلِ قَوْلِهِ فِي حُكْمِ الصَّحِيحَيْنِ: " كَذَا لَهُ " (أَوْ أَطْلَقْتُ لَفْظَ الشَّيْخِ)
এবং আরবি ভাষাবিদ্যায় পারদর্শী, হাদিসের হাফেজ, এতে সুনিপুণ, উত্তম ধারণক্ষমতার (হেফজ) অধিকারী, সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, অত্যন্ত সম্মানিত এবং নিজ যুগে অনন্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন ধর্মনিষ্ঠা, ইবাদত, আধ্যাত্মিক সাধনা, আত্মরক্ষা (পাপ থেকে), পরহেজগারি ও তাকওয়ায় বিভূষিত।
বহু সৃষ্টি তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে এবং তারা তাঁর রচনাবলির ওপর নির্ভর করেছে, বিশেষ করে তাঁর উল্লিখিত কিতাবটি। এটি তেমনই, যেমনটি আমাদের শাইখ বলেছেন—আমি তাঁর কাছে এর শুরু থেকে সামান্য অংশ বাদে বাকিটা পর্যালোচনামূলকভাবে পাঠ করেছি, যা পূর্বে উদ্ধৃত হয়েছে—তাঁর বক্তব্য নিম্নরূপ:
কতজন যে একে পদ্যে রূপান্তর করেছেন, সংক্ষেপ করেছেন, এর পরিপূরক লিখেছেন, এর সারসংক্ষেপ করেছেন এবং এর বিরোধিতা বা সমর্থন করেছেন তা গণনা করা সম্ভব নয়। তিনি ৬৬ বছর বয়সে ৬৪৩ হিজরি সালের রবিউস সানি মাসে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
এই গ্রন্থে আমি তাঁর কিতাবের উদ্দেশ্যসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করার পাশাপাশি আমি (তাতে জ্ঞান বৃদ্ধি করেছি) তাঁর বক্তব্যে কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা সংশোধনের মাধ্যমে, অথবা কোনো মাসআলার প্রকারভেদ বৃদ্ধির মাধ্যমে, অথবা কোনো স্বতন্ত্র তাত্ত্বিক উপকারিতা যোগ করার মাধ্যমে।
(তুমি তা দেখতে পাবে) অর্থাৎ সেই বর্ধিত অংশসমূহ (তার নিজ স্থানেই) এর মূলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। কারণ, যদিও আমি অধিকাংশের শুরুতে "আমি বলছি" (কুলতু) শব্দ দ্বারা সেগুলোকে পৃথক করেছি, অথবা কোনো বিশেষজ্ঞ তা এমনিতেই পৃথক করতে পারবেন; কারণ তা ইবনে আস-সালাহ-এর পরবর্তী কোনো ব্যক্তির থেকে স্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতে কোনো উদ্ধৃতি, অথবা তাঁর বক্তব্যের ওপর কোনো খণ্ডন বা ব্যাখ্যা। তবে সেই বর্ধিত অংশের শেষ সীমা অনেক সময় স্বতন্ত্রভাবে চেনা যায় না। তদুপরি, এমন অনেক বিষয়ও রয়ে গেছে যা লেখক "আমি বলছি" শব্দ দ্বারা পৃথক করেননি এবং যেগুলো পূর্বে নির্দেশিত উপায়েও স্বতন্ত্র করা যায় না, যেমনটি আমি যথাস্থানে স্পষ্ট করব।
তেমনিভাবে সংক্ষেপ করার লক্ষ্যে আমি ইবনে আস-সালাহ-এর পছন্দসমূহ ও তাঁর গবেষণালব্ধ বিশ্লেষণগুলোকে তাঁর দিকেই সম্বন্ধিত করার প্রতি ইঙ্গিত করেছি।
(অতঃপর যেখানে) এখানে 'ফা' অক্ষরটি হলো সাবলীল বাক্যসূচক (আল-ফাসিহা) অথবা এটি 'আমি সংক্ষেপ করেছি' বাক্যের শাখা হিসেবে এসেছে। (ক্রিয়া এবং সর্বনাম এসেছে) স্থলাভিষিক্ত হিসেবে (একবচনের জন্য), দ্বিবচনের জন্য নয়। (এবং যার) অর্থাৎ ক্রিয়া ও সর্বনাম যার জন্য প্রযুক্ত হয়েছে তা (তার নিকট আবৃত) অর্থাৎ অজ্ঞাত, যাকে আবৃত বস্তুর সাথে তুলনা করা হয়েছে। এর স্বরূপ হলো, সেই ক্রিয়ার সাথে কর্তার উল্লেখ করা হয়নি এবং এই একবচন ক্রিয়া বা সর্বনামের পূর্বে এমন কোনো বিশেষ্যও উল্লেখ করা হয়নি যার দিকে এগুলো ফিরতে পারে, যেমন ক্রিয়ার উদাহরণে 'তিনি বলেছেন' (কালা)।
যেমন হাসান হাদিস সম্পর্কে তাঁর উক্তি: (এবং তিনি বলেছেন, আমার গভীর পর্যবেক্ষণে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে); আর সর্বনামের উদাহরণে 'তার জন্য' (লাহু) শব্দটি, যেমন সহিহাইন-এর বিধান সম্পর্কে তাঁর উক্তি: "তার জন্য এমনই" (অথবা আমি 'শাইখ' শব্দটি সাধারণভাবে প্রয়োগ করেছি)।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
كَقَوْلِهِ: " فَالشَّيْخُ فِيمَا بَعْدُ قَدْ حَقَّقَهُ " (مَا أُرِيدُ) بِكُلٍّ مِنَ الْفَاعِلِ، وَصَاحِبِ الضَّمِيرِ وَالشَّيْخِ، (إِلَّا ابْنَ الصَّلَاحِ مُبْهَمَا) بِفَتْحِ الْهَاءِ حَالٌ مِنَ الْمَفْعُولِ، وَهُوَ ابْنُ الصَّلَاحِ، وَبِكَسْرِهَا حَالٌ مِنْ فَاعِلٍ، (أُرِيدُ) وَهُوَ النَّاظِمُ (وَإِنْ يَكُنْ) أَيِ: الْمَذْكُورُ مِنَ الْفِعْلِ أَوِ الضَّمِيرِ (لِاثْنَيْنِ) فَفِي الْفِعْلِ (نَحْوُ) قَوْلِكِ: (الْتَزَمَا) ، وَقَوْلِهِ: (وَاقْطَعْ بِصِحَّةٍ لِمَا قَدْ أُسْنِدَا) وَفِي الضَّمِيرِ نَحْوُ (وَأَرْفَعُ الصَّحِيحِ مَرْوِيُّهُمَا) (فَمُسْلِمٌ مَعَ الْبُخَارِيِّ هُمَا) وَقَدَّمَ الْأَوَّلَ لِلضَّرُورَةِ لَا سِيَّمَا وَإِضَافَتُهُ لِلثَّانِي بِالْمَعِيَّةِ مُشْعِرَةٌ بِالتَّبَعِيَّةِ وَالْمَرْجُوحِيَّةِ.
وَرُبَّمَا يُعَكِّرُ عَلَى هَذَا الِاصْطِلَاحِ مَا تَكُونُ أَلِفُهُ لِلْإِطْلَاقِ كَقَوْلِهِ: (وَقِيلَ مَا لَمْ يَتَّصِلْ وَقَالَا) .
وَكَقَوْلِهِ فِي اخْتِلَافِ أَلْفَاظِ الشُّيُوخِ: (وَمَا بِبَعْضٍ ذَا وَذَا وَقَالَا) وَإِنْ كَانَ مُتَمَيِّزًا بِرَسْمِ الْكِتَابَةِ، وَأَمَّا مَا لَهُ مَرْجِعٌ كَقَوْلِهِ: (وُرُودُ مَا قَالَا فَلَا يُرَدُّ) (وَاللَّهَ) بِالنَّصْبِ مَعْمُولُ (أَرْجُو) وَقُدِّمَ لِلِاخْتِصَاصِ نَحْوُ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ [الْفَاتِحَةِ: 5] .
(فِي أُمُورِي كُلِّهَا مُعْتَصَمًا) بِفَتْحِ الصَّادِ، تَمْيِيزٌ لِلنِّسْبَةِ أَيْ: أَرْجُوهُ مِنْ جِهَةِ الِاعْتِصَامِ بِمَعْنَى الْحِفْظِ وَالْوِقَايَةِ، وَبِكَسْرِهَا أَيْ: مُمْتَنِعًا عَلَى أَنَّهُ حَالٌ مِنَ الْفَاعِلِ وَهُوَ النَّاظِمُ، أَيْ: أُؤَمِّلُ اللَّهَ فِي حَالَةِ كَوْنِي مُعْتَصِمًا.
(فِي صَعْبِهَا) أَيْ: أُمُورِي (وَ) فِي (سَهْلِهَا) ، وَالصَّعْبُ وَكَذَا الْحَزَنُ ضِدُّ السَّهْلِ ; فَبِأَيِّ لَفْظٍ جِيءَ بِهِ مِنْهُمَا تَحْصُلُ الْمُطَابَقَةُ الْمَحْضَةُ مِنْ أَنْوَاعِ الْبَدِيعِ، وَلَكِنَّ الْإِتْيَانَ بِالْحَزَنِ أَبْلَغُ لِمَا فِيهِ مِنَ التَّأَسِّي بِهِ صلى الله عليه وسلم ; حَيْثُ قَالَ: «وَأَنْتَ إِنْ شِئْتَ جَعَلْتَ الْحَزَنَ سَهْلًا» وَحَيْثُ أَمَرَ بِتَغْيِيرِ " حَزَنٍ " بِـ " سَهْلٍ " وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ.
যেমন তাঁর উক্তি: "অতঃপর শাইখ পরবর্তীতে তা নিশ্চিত করেছেন।" (আমি যা উদ্দেশ্য করছি) এখানে কর্তা, সর্বনামের অধিকারী এবং শাইখ—এই প্রত্যেকের দ্বারা (ইবনে আস-সালাহ ব্যতীত অন্য কেউ নয়, অস্পষ্টভাবে বা মুবেহামান)। 'হা' বর্ণে ফাতহা (যবর) সহকারে এটি কর্মের অবস্থা (হাল), আর কর্ম হলো ইবনে আস-সালাহ। আর কাসরা (যের) সহকারে এটি কর্তার অবস্থা (হাল), (আমি ইচ্ছা করি) আর তিনি হলেন গ্রন্থকার। (এবং যদি তা হয়) অর্থাৎ: ক্রিয়া বা সর্বনাম থেকে যা উল্লেখ করা হয়েছে (দ্বিবচনের জন্য)। ক্রিয়ার ক্ষেত্রে (যেমন) আপনার উক্তি: (তারা উভয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে), এবং তাঁর উক্তি: (এবং আপনি সেই বিষয়ের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে নিশ্চিত হোন যা সনদযুক্ত করা হয়েছে)। আর সর্বনামের ক্ষেত্রে যেমন (সহিহ হাদিসের মধ্যে সর্বোচ্চ হলো যা তারা উভয়ে বর্ণনা করেছেন) (সুতরাং মুসলিম ও বুখারি হলেন সেই দুইজন)। তিনি কবিতার ছন্দের প্রয়োজনে প্রথমজনকে আগে উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে দ্বিতীয়জনের সাথে তাকে 'মাঈয়্যাত' (সাথে থাকা) অর্থে সম্বন্ধ করা অনুগামী হওয়া এবং অগ্রাধিকার না পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
কখনো কখনো এই পরিভাষার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে সেই আলিফ যা কেবল অন্ত্যমিল বা ছন্দের (ইতলাক) জন্য আসে। যেমন তাঁর উক্তি: (এবং বলা হয়েছে যা অবিচ্ছিন্ন নয় এবং তারা উভয়ে বলেছে)।
এবং শাইখদের শব্দের পার্থক্যের বিষয়ে তাঁর উক্তির ন্যায়: (এবং যা কিছুর দ্বারা এটি ও সেটি, এবং তারা উভয়ে বলেছেন), যদিও এটি লিখনশৈলী দ্বারা পৃথক করা যায়। তবে যার প্রেক্ষাপট বা পূর্বসূত্র রয়েছে, যেমন তাঁর উক্তি: (তারা যা বলেছেন তার আগমন, সুতরাং তা প্রত্যাখ্যান করা হবে না)। (এবং আল্লাহকে) নসব (যবর) অবস্থায় এটি (আমি আশা করি) ক্রিয়ার কর্ম, এবং একে নির্দিষ্টকরণের (ইখতিসাস) জন্য আগে আনা হয়েছে; যেমন— "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই" [আল-ফাতিহা: ৫]।
(আমার সকল বিষয়ে আশ্রয়স্থল হিসেবে) 'সদ' বর্ণে ফাতহা (যবর) সহকারে এটি সম্পর্কের বিশেষত্ব (তাময়িজুন নিসবাহ) প্রকাশ করে; অর্থাৎ: আমি সুরক্ষা ও হেফাজত লাভের অর্থে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আর কাসরা (যের) সহকারে এর অর্থ হলো 'আশ্রয় গ্রহণকারী', যা কর্তার অবস্থা (হাল) হিসেবে গণ্য, আর কর্তা হলেন স্বয়ং কবি; অর্থাৎ: আমি আল্লাহর কাছে এই আশা রাখি এমতাবস্থায় যে আমি তাঁর নিকট আশ্রয় গ্রহণকারী।
(সেগুলোর কঠিনাবস্থায়) অর্থাৎ: আমার বিষয়সমূহের (এবং) (সেগুলোর সহজ অবস্থায়)। কঠিন এবং অনরূপভাবে বিষাদময়—সহজের বিপরীত; তাই এই দুই শব্দের যেটিই ব্যবহার করা হোক না কেন, অলংকার শাস্ত্রের (ইলমুল বদি') প্রকারভেদের মধ্য থেকে খাঁটি বৈপরীত্যমূলক সামঞ্জস্য (মুতাবাকাত) অর্জিত হবে। তবে 'হাযন' (বিষাদময়) শব্দটি নিয়ে আসা অধিকতর প্রাঞ্জল ও অর্থবহ, কারণ এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ নিহিত রয়েছে; যেহেতু তিনি বলেছেন: "আর আপনি যদি চান তবে বিষাদময় বা কঠিন বিষয়কেও সহজ করে দেন।" এবং তিনি 'হাযন' (কঠিন) শব্দটিকে 'সাহল' (সহজ) দ্বারা পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
[أَقْسَامُ الْحَدِيثِ]
[الحديث الصَّحِيحُ]الصَّحِيحُ.
11 - وَأَهْلُ هَذَا الشَّأْنِ قَسَّمُوا السُّنَنْ
… إِلَى صَحِيحٍ وَضَعِيفٍ وَحَسَنْ
12 - فَالْأَوَّلُ الْمُتَّصِلُ الْإِسْنَادِ
… بِنَقْلِ عَدْلٍ ضَابِطِ الْفُؤَادِ
13 - عَنْ مِثْلِهِ مِنْ غَيْرِ مَا شُذُوذِ
… وَعِلَّةٍ قَادِحَةٍ فَتُوذِي
14 - وَبِالصَّحِيحِ وَالضَّعِيفِ قَصَدُوا
… فِي ظَاهِرٍ لَا الْقَطْعَ وَالْمُعْتَمَدُ
15 - إِمْسَاكُنَا عَنْ حُكْمِنَا عَلَى سَنَدْ
… بِأَنَّهُ أَصَحُّ مُطْلَقًا وَقَدْ
16 - خَاضَ بِهِ قَوْمٌ فَقِيلَ مَالِكُ
… عَنْ نَافِعٍ بِمَا رَوَاهُ النَّاسِكُ
17 - مَوْلَاهُ وَاخْتَرْ حَيْثُ عَنْهُ يُسْنِدُ
… الشَّافِعِيُّ قُلْتُ وَعَنْهُ أَحْمَدُ
18 - وَجَزَمَ ابْنُ حَنْبَلٍ بِالزُّهْرِي
… عَنْ سَالِمٍ أَيْ عَنْ أَبِيهِ الْبَرِّ
19 - وَقِيلَ زَيْنُ الْعَابِدِينَ عَنْ أَبِهْ
… عَنْ جَدِّهِ وَابْنُ شِهَابٍ عَنْهُ بِهْ
20 - أَوْ فَابْنُ سِيرِينَ عَنِ السَّلْمَانِي
… عَنْهُ أَوِ الْأَعْمَشُ عَنْ ذِي الشَّانِ
21 - النَّخَعِيُّ عَنِ ابْنِ قَيْسٍ عَلْقَمَهْ
… عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَلُمْ مَنْ عَمَّمَهْ.
(أَقْسَامُ الْحَدِيثِ) جَمْعُ قِسْمٍ، وَهُوَ وَالنَّوْعُ، وَالصِّنْفُ، وَالضَّرْبُ، مَعَانِيهَا مُتَقَارِبَةٌ، وَرُبَّمَا تُسْتَعْمَلُ بِمَعْنًى وَاحِدٍ.
(وَأَهْلُ هَذَا الشَّأْنِ) أَيِ: الْحَدِيثِ (قَسَّمُوا) - بِالتَّشْدِيدِ - السُّنَنَ الْمُضَافَةَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَوْلًا لَهُ أَوْ فِعْلًا أَوْ تَقْرِيرًا وَكَذَا وَصْفًا وَأَيَّامًا.
(إِلَى صَحِيحٍ وَضَعِيفٍ وَحَسَنٍ) وَذَلِكَ بِالنَّظَرِ لِمَا اسْتَقَرَّ اتِّفَاقُهُمْ بَعْدَ الِاخْتِلَافِ عَلَيْهِ، وَإِلَّا فَمِنْهُمْ - كَمَا سَيَأْتِي فِي الْحَسَنِ مِمَّا حَكَاهُ ابْنُ الصَّلَاحِ فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ مِنْ عُلُومِهِ - مَنْ يُدْرِجُ الْحَسَنَ فِي الصَّحِيحِ ; لِاشْتِرَاكِهِمَا فِي الِاحْتِجَاجِ.
بَلْ نَقَلَ ابْنُ تَيْمِيَةَ إِجْمَاعَهُمْ إِلَّا التِّرْمِذِيَّ خَاصَّةً - عَلَيْهِ أَوْ بِالنَّظَرِ ;
[হাদিসের প্রকারভেদ]
[সহীহ হাদিস]সহীহ।
১১ - এবং এই শাস্ত্রের (হাদিস শাস্ত্রের) পণ্ডিতগণ সুন্নাহসমূহকে বিভক্ত করেছেন
… সহীহ, যঈফ এবং হাসান এই তিন প্রকারে।
১২ - এর মধ্যে প্রথমটি (সহীহ) হলো নিরবচ্ছিন্ন সনদবিশিষ্ট
… যা বর্ণনা করেছেন এমন একজন ন্যায়নিষ্ঠ (আদল) বর্ণনাকারী, যিনি প্রখর স্মৃতিশক্তির (দাবিত) অধিকারী।
১৩ - তিনি তাঁরই মতো বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন, যা কোনো প্রকার অসংগতি (শাজ)
… এবং ক্ষতিকর দোষ (ইল্লাত) থেকে মুক্ত যা হাদিসের গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
১৪ - আর সহীহ এবং যঈফ দ্বারা তাঁরা উদ্দেশ্য নিয়েছেন
… বাহ্যিক অবস্থাকে, চূড়ান্ত ধ্রুব সত্যকে নয়; আর নির্ভরযোগ্য মত হলো—
১৫ - কোনো নির্দিষ্ট সনদের ব্যাপারে আমাদের এই হুকুম দেওয়া থেকে বিরত থাকা
… যে এটিই নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক সহীহ (আসাহ্হুল আসানিদ)। তবে—
১৬ - একদল বিশেষজ্ঞ এতে লিপ্ত হয়েছেন (তথা শ্রেষ্ঠ সনদ নির্ধারণের চেষ্টা করেছেন)। ফলে বলা হয়েছে: ইমাম মালিক
… নাফে’ থেকে, যা সেই ইবাদতগুজার ব্যক্তিত্ব (ইবনে উমর) বর্ণনা করেছেন।
১৭ - তিনি (নাফে’) তাঁর (ইবনে উমরের) মুক্তদাস। আর তুমি সেটিই গ্রহণ করো যেখানে তাঁর (মালিকের) থেকে সনদ বর্ণনা করেন
… ইমাম শাফেয়ী; আমি বলি, আর তাঁর (শাফেয়ীর) থেকে ইমাম আহমাদ।
১৮ - আর ইবনে হাম্বল নিশ্চিতভাবে বলেছেন: যুহরী
… সালিম থেকে, অর্থাৎ তাঁর পুণ্যবান পিতা (ইবনে উমর) থেকে।
১৯ - আবার বলা হয়েছে: যায়নুল আবিদীন তাঁর পিতা থেকে
… তাঁর দাদা থেকে; এবং ইবনে শিহাব তাঁর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
২০ - অথবা: ইবনে সীরীন আস-সালমানী থেকে
… তাঁর (আলী রা.) সূত্রে। অথবা আমাশ সেই মহান সত্তা—
২১ - নাখায়ী থেকে, যিনি কায়সের পুত্র আলকামা থেকে
… ইবনে মাসউদ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। আর যে একে সর্বজনীন রূপ দেয় তাকে তিরস্কার করো।
(হাদিসের প্রকারভেদ) এটি 'কিসম' শব্দের বহুবচন। এটি এবং 'নাও' (نوع), 'সিনফ' (صنف) ও 'দারব' (ضرب)—এই শব্দগুলোর অর্থ কাছাকাছি এবং কখনো কখনো এগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(এবং এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ) অর্থাৎ: হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ; (বিভক্ত করেছেন) - দ্বিত্ব উচ্চারণে - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত সুন্নাহসমূহকে, চাই তা তাঁর কথা হোক, কাজ হোক বা মৌনসম্মতি হোক, এবং একইভাবে তাঁর গুণাবলি ও ঘটনাবলি।
(সহীহ, যঈফ এবং হাসান হিসেবে) আর এটি সেই বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে যা মতভেদের পর তাঁদের ঐকমত্যে স্থির হয়েছে। অন্যথায় তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ রয়েছেন—যেমনটি হাসানের আলোচনায় আসবে যা ইবনুস সালাহ তাঁর 'উলূম' গ্রন্থের অন্যত্র বর্ণনা করেছেন—যিনি হাসানকে সহীহের অন্তর্ভুক্ত করেন; কারণ দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্যতার ক্ষেত্রে উভয়েই অংশীদার।
বরং ইবনে তাইমিয়্যাহ একমাত্র ইমাম তিরমিযী ব্যতীত সকলের ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন—এর ওপর অথবা পর্যালোচনার ভিত্তিতে;
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
لِأَنَّهُ لَمْ يَقَعْ فِي مَجْمُوعِ كَلَامِهِمُ التَّقْسِيمُ لِأَكْثَرَ مِنَ الثَّلَاثَةِ وَإِنِ اخْتَلَفُوا فِي بَعْضِهَا كَمَا رَكِبَ الْقَوْمُ دَوَابَّهُمْ.
وَخُصَّتِ الثَّلَاثَةُ بِالتَّقْسِيمِ لِشُمُولِهَا لِمَا عَدَاهَا مِمَّا سَيَذْكُرُ مِنْ مَبَاحِثِ الْمَتْنِ دُونَ مُخْتَلِفِهِ وَغَرِيبِهِ وَنَاسِخِهِ، بَلْ وَلِأَكْثَرِ مَبَاحِثِ السَّنَدِ ; كَالتَّدْلِيسِ وَالِاخْتِلَاطِ وَالْعَنْعَنَةِ، وَالْمَزِيدِ فِي مُتَّصِلِ الْأَسَانِيدِ، وَمَنْ تُقْبَلُ رِوَايَتُهُ أَوْ تُرَدُّ، وَالثِّقَاتِ وَالضُّعَفَاءِ، وَالصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ، وَطُرُقِ التَّحَمُّلِ وَالْأَدَاءِ وَالْمُبْهَمَاتِ.
وَالْحَاصِلُ شُمُولُهَا لِكُلِّ مَا يَتَوَقَّفُ عَلَيْهِ الْقَبُولُ وَالرَّدُّ مِنْهَا، وَلِخُرُوجِ مَا يَخْرُجُ مِنَ الْأَنْوَاعِ عَنْهَا أَشَارَ ابْنُ الصَّلَاحِ بِقَوْلِهِ فِي آخِرِ الضَّعِيفِ: (وَالْمَلْحُوظُ فِيمَا نُورِدُهُ مِنَ الْأَنْوَاعِ، أَيْ: بَعْدَهُ، عُمُومُ أَنْوَاعِ عُلُومِ الْحَدِيثِ، لَا خُصُوصُ أَنْوَاعِ التَّقْسِيمِ الَّذِي فَرَغْنَا الْآنَ مِنْ تَقْسِيمِهِ) .
وَأَدْرَجَ الضَّعِيفَ فِي السُّنَنِ تَغْلِيبًا، وَإِلَّا فَهُوَ لَا يُسَمَّى سُنَّةً، وَكَذَا قُدِّمَ عَلَى الْحَسَنِ لِلضَّرُورَةِ، أَوْ لِمُرَاعَاةِ الْمُقَابَلَةِ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّحِيحِ، أَوْ لِمُلَاحَظَةِ صَنِيعِ الْأَكْثَرِينَ، لَا سِيَّمَا وَالْحَسَنُ رُتْبَةٌ مُتَوَسِّطَةٌ بَيْنَهُمَا، فَأَعْلَاهَا مَا أُطْلِقَ عَلَيْهِ اسْمُ الْحَسَنِ لِذَاتِهِ، وَأَدْنَاهَا مَا أُطْلِقَ عَلَيْهِ بِاعْتِبَارِ الْانْجِبَارِ.
وَالْأَوَّلُ صَحِيحٌ عِنْدَ قَوْمٍ، حَسَنٌ عِنْدَ قَوْمٍ، وَالثَّانِي حَسَنٌ عِنْدَ قَوْمٍ، ضَعِيفٌ عِنْدَ قَوْمٍ، وَهُمْ مَنْ لَا يُثْبِتُ الْوَاسِطَةَ، أَوْ بِالنَّظَرِ إِلَى الْإِنْفِرَادِ، وَالْأَوَّلُ أَظْهَرُ لِتَأْخِيرِهِ الضَّعِيفَ حِينَ تَفْصِيلِهَا. وَلَا يَخْدِشُ فِيهِ تَيَسُّرُ تَأْخِيرِهِ فِي نَظْمِ بَعْضِ الْآخِذِينَ عَنِ النَّاظِمِ، حَيْثُ قَالَ: عِلْمُ الْحَدِيثِ رَاجِعُ الصُّنُوفِ إِلَى صَحِيحٍ حَسَنٍ ضَعِيفِ
[الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ] (فَالْأَوَّلُ) أَيِ: الصَّحِيحُ، وَقُدِّمَ لِاسْتِحْقَاقِهِ التَّقْدِيمَ رُتْبَةً وَوَضْعًا، وَتَرْكُ تَعْرِيفِهِ لُغَةً بِأَنَّهُ ضِدُّ الْمَكْسُورِ وَالسَّقِيمِ، وَهُوَ حَقِيقَةٌ فِي الْأَجْسَامِ، بِخِلَافِهِ فِي الْحَدِيثِ وَالْعِبَادَةِ وَالْمُعَامَلَةِ وَسَائِرِ الْمَعَانِي فَمَجَازٌ، أَوْ مِنْ بَابِ الِاسْتِعَارَةِ
কারণ তাঁদের সামগ্রিক আলোচনার মধ্যে তিনটির অতিরিক্ত কোনো বিভাগ পরিলক্ষিত হয়নি, যদিও তাঁরা এর কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যেমনটি সাধারণ মানুষ তাদের সওয়ারিতে আরোহণ করে থাকে (অর্থাৎ একটি প্রচলিত রীতিনীতি অনুসরণ করা)।
আর এই তিনটিকেই বিভাজনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, কারণ এগুলোর মধ্যে মতন (মূল পাঠ) সংক্রান্ত অন্যান্য সকল আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে, তবে এর মুখতালিফ (পরস্পরবিরোধী), গারীব (বিরল) এবং নাসিখ (রহিতকারী) বিষয়গুলো ব্যতীত। বরং সনদের (সূত্র) অধিকাংশ বিষয়ই এর অন্তর্ভুক্ত; যেমন তাদলীস, ইখতিলাত (স্মৃতিভ্রম), ‘আন’আনাহ (সূত্র বর্ণনা পদ্ধতি), মুত্তাসিল সনদে অতিরিক্ত বর্ণনাকারী (আল-মাযীদ ফী মুত্তাসিলিল আসানীদ), যাদের বর্ণনা গ্রহণ বা বর্জন করা হয়, নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল বর্ণনাকারীগণ, সাহাবী ও তাবিঈগণ, হাদিস গ্রহণ ও প্রদানের পদ্ধতিসমূহ এবং মুবহামাত (অস্পষ্ট বিষয়)।
সারকথা হলো, হাদিস গ্রহণ ও বর্জনের বিষয়টি যে বিষয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল তার সবই এর অন্তর্ভুক্ত। আর যে সকল প্রকারভেদ এর বাইরে রয়ে গেছে, সেদিকে ইঙ্গিত করে ইবনুস সালাহ যয়ীফ (দুর্বল) হাদিসের আলোচনার শেষে বলেছেন: (আমরা যে সকল প্রকার বর্ণনা করছি—অর্থাৎ এর পরে—তাতে হাদিস শাস্ত্রের সাধারণ প্রকারগুলোই উদ্দেশ্য, কেবল সেই নির্দিষ্ট বিভাজনগুলো নয় যা আমরা এইমাত্র সমাপ্ত করেছি)।
আর যয়ীফকে প্রাধান্য দেওয়ার (তাগলীব) ভিত্তিতে সুনানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, অন্যথায় একে প্রকৃত অর্থে সুন্নাহ বলা হয় না। তেমনিভাবে, প্রয়োজনে অথবা সহীহের সাথে এর বৈপরীত্য বজায় রাখার খাতিরে কিংবা অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের কর্মপন্থা অনুসরণ করে একে হাসানের আগে আনা হয়েছে। বিশেষ করে হাসান হলো এই দুটির মধ্যবর্তী একটি স্তর; যার উচ্চতর স্তর হলো ‘হাসান লি-যাতিহি’ (স্বকীয়ভাবে হাসান) এবং নিম্নতর স্তর হলো ‘ইনজিবার’ (ত্রুটি পূরণ) বিবেচনায় যা হাসান হিসেবে গণ্য হয়।
প্রথমোক্তটি (হাসান লি-যাতিহি) একদলের মতে সহীহ এবং অন্য দলের মতে হাসান। আর দ্বিতীয়টি (হাসান লি-গাইরিহি) একদলের কাছে হাসান এবং অন্য দলের কাছে যয়ীফ; এরা মূলত তারাই যারা মধ্যবর্তী স্তর স্বীকার করেন না অথবা একক বর্ণনার অবস্থার দিকে লক্ষ্য করে এমনটি বলেন। আর প্রথম মতটিই অধিকতর স্পষ্ট, কারণ রচয়িতা বিস্তারিত বর্ণনার সময় যয়ীফকে পরে উল্লেখ করেছেন। এটি কোনো ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে না যে, মূল রচয়িতার (নাযিম) পরবর্তী কারো কারো কবিতায় একে পরে আনা সহজ হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে: হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদগুলো সহীহ, হাসান ও যয়ীফের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
[সহীহ হাদিস] (প্রথম প্রকার) অর্থাৎ: সহীহ। মর্যাদা ও বিন্যাসের দিক থেকে অগ্রগণ্য হওয়ার যোগ্য বিধায় একে প্রথমে আনা হয়েছে। এর শাব্দিক সংজ্ঞায়—এটি মাকসুর (ভগ্ন) এবং সাকীম (অসুস্থ)-এর বিপরীত—তা উল্লেখ করা বর্জন করা হয়েছে। ‘সহীহ’ শব্দটি মূলত দেহের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে (হাকীকত) ব্যবহৃত হয়; পক্ষান্তরে হাদিস, ইবাদত, লেনদেন এবং অন্যান্য অর্থের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রূপক (মাজায) অথবা এটি ইসতিআরাহ (উপমা)-এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
بِالتَّبَعِيَّةِ ; لِكَوْنِهِ خُرُوجًا عَنِ الْغَرَضِ.
(الْمُتَّصِلُ الْإِسْنَادِ) أَيِ: السَّالِمُ إِسْنَادُهُ - الَّذِي هُوَ كَمَا قَالَ شَيْخُنَا فِي شَرْحِ النُّخْبَةِ: الطَّرِيقُ الْمُوَصِّلَةُ إِلَى الْمَتْنِ، مَعَ قَوْلِهِ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ مِنْهُ: إِنَّهُ حِكَايَةُ طَرِيقِ الْمَتْنِ وَهُوَ أَشْبَهُ، فَذَاكَ تَعْرِيفُ السَّنَدِ، وَالْأَمْرُ سَهْلٌ - عَنْ سَقْطٍ ; بِحَيْثُ يَكُونُ كُلٌّ مِنْ رُوَاتِهِ سَمِعَ ذَلِكَ الْمَرْوِيَّ مِنْ شَيْخِهِ.
[شُرُوطِ الحديث الصَّحِيحِ][تَفْصِيلُ شُرُوطِ الصَّحِيحِ] وَهَذَا هُوَ الشَّرْطُ الْأَوَّلُ، وَبِهِ خَرَجَ الْمُنْقَطِعُ، وَالْمُرْسَلُ بِقِسْمَيْهِ، وَالْمُعْضَلُ الْآتِي تَعْرِيفُهَا فِي مَحَالِّهَا، وَالْمُعَلَّقُ الصَّادِرُ مِمَّنْ لَمْ يَشْتَرِطِ الصِّحَّةَ كَالْبُخَارِيِّ ; لِأَنَّ تَعَالِيقَهُ الْمَجْزُومَةَ الْمُسْتَجْمِعَةَ لِلشُّرُوطِ فِيمَنْ بَعْدَ الْمُعَلَّقِ عَنْهُ لَهَا حُكْمُ الْاتِّصَالِ، وَإِنْ لَمْ نَقِفْ عَلَيْهَا مِنْ طَرِيقِ الْمُعَلَّقِ عَنْهُ فَهُوَ لِقُصُورِنَا وَتَقْصِيرِنَا.
وَاتِّصَالُهُ (بِنَقْلِ عَدْلٍ) وَهُوَ مَنْ لَهُ مَلَكَةٌ تَحْمِلُهُ عَلَى مُلَازَمَةِ التَّقْوَى وَالْمُرُوءَةِ، عَلَى مَا سَيَأْتِي مَعَ الْبَسْطِ فِي مَحَلِّهِ، وَهَذَا هُوَ ثَانِي الشُّرُوطِ، وَبِهِ خَرَجَ مَنْ فِي سَنَدِهِ مَنْ عُرِفَ ضَعْفُهُ أَوْ جُهِلَتْ عَيْنُهُ أَوْ حَالُهُ، حَسْبَمَا يَجِيءُ فِي بَيَانِهَا (ضَابِطِ) أَيْ: حَازِمٍ، (الْفُؤَادِ) بِضَمِّ الْفَاءِ ثُمَّ وَاوٍ مَهْمُوزَةٍ ثُمَّ مُهْمَلَةٍ أَيِ: الْقَلْبِ، فَلَا يَكُونُ مُغَفَّلًا غَيْرَ يَقِظٍ وَلَا مُتْقِنٍ، لِئَلَّا يَرْوِيَ مِنْ كِتَابِهِ الَّذِي تَطَرَّقَ إِلَيْهِ الْخَلَلُ، وَهُوَ لَا يَشْعُرُ، أَوْ مِنْ حِفْظِهِ الْمُخْتَلِّ فَيُخْطِئَ ; إِذِ الضَّبْطُ ضَبْطَانِ: ضَبْطُ صَدْرٍ، وَضَبْطُ كِتَابٍ.
فَالْأَوَّلُ: هُوَ الَّذِي يُثْبِتُ مَا سَمِعَهُ ; بِحَيْثُ يَتَمَكَّنُ مِنَ اسْتِحْضَارِهِ مَتَى شَاءَ.
وَالثَّانِي: هُوَ صَوْنُهُ لَهُ عَنْ تَطَرُّقِ الْخَلَلِ إِلَيْهِ مِنْ حِينِ سَمِعَ فِيهِ إِلَى أَنْ يُؤَدِّيَ، وَإِنْ مَنَعَ بَعْضُهُمُ الرِّوَايَةَ مِنَ الْكِتَابِ.
আনুষঙ্গিকভাবে; কারণ এটি মূল উদ্দেশ্য বহির্ভূত।
(মুত্তাসিল আল-ইসনাদ বা অবিচ্ছিন্ন সনদ বিশিষ্ট) অর্থাৎ: যার সনদ ত্রুটিমুক্ত— যা আমাদের শায়খ শারহুন নুখবায় যেমনটি বলেছেন: ‘মূল পাঠ (মাতন) পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ’। এর সাথে অন্য এক স্থানে তিনি বলেছেন: ‘এটি হলো মূল পাঠের পথের বর্ণনা’। আর এটিই অধিকতর সদৃশ। কারণ সেটি হলো সনদের সংজ্ঞা, আর বিষয়টি সহজ— (এই অবিচ্ছিন্নতা) কোনো বিচ্যুতি হতে মুক্ত থাকা; এমনভাবে যে তার প্রত্যেক বর্ণনাকারী সেই বর্ণিত বিষয়টি নিজ শায়খ থেকে শ্রবণ করেছেন।
[সহিহ হাদিসের শর্তাবলি][সহিহ হাদিসের শর্তাবলির বিস্তারিত বিবরণ] এটিই হলো প্রথম শর্ত। এর দ্বারা মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন), উভয় প্রকার মুরসাল এবং মু'দাল বাদ পড়ে গেল যেগুলোর সংজ্ঞা যথাস্থানে আসবে। এছাড়া এমন ব্যক্তির মু'আল্লাক হাদিসও বাদ পড়বে যিনি সহিহ হওয়ার শর্তারোপ করেননি, যেমন বুখারি (যদি অন্য কেউ হতেন); কারণ বুখারির সুনিশ্চিতভাবে বর্ণিত মু'আল্লাক হাদিসসমূহ, যেগুলোতে মু'আল্লাক আনহু-এর পরবর্তী রাবিদের মধ্যে শর্তাবলি পূর্ণ থাকে, সেগুলো মুত্তাসিল বা অবিচ্ছিন্ন হিসেবে গণ্য হয়। যদিও আমরা মু'আল্লাক আনহু-এর সূত্রের মাধ্যমে সেগুলো সম্পর্কে অবগত হতে পারি না, তবে তা আমাদেরই অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে।
আর এর অবিচ্ছিন্নতা হতে হবে (একজন আদিল বা ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির বর্ণনার মাধ্যমে)। তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যার মধ্যে এমন এক স্থায়ী গুণ (মালাকাহ) রয়েছে যা তাকে সর্বদা তাকওয়া এবং মনুষ্যত্ব (মুরুআত) বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে, যেমনটি যথাস্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এটি হলো দ্বিতীয় শর্ত। এর মাধ্যমে সেই সব হাদিস বাদ পড়বে যার সনদে এমন কেউ আছে যার দুর্বলতা জানা গেছে অথবা যার ব্যক্তি-পরিচয় কিংবা অবস্থা অজ্ঞাত, যা শীঘ্রই বর্ণনায় আসবে। (দবিত বা প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন), অর্থাৎ: দৃঢ়চেতা, (অন্তরের দিক থেকে)। আরবিতে ফুয়াদ শব্দটি ফা-বর্ণে পেশ, এরপর হামযা যুক্ত ওয়াও এবং এরপর দাল সহযোগে গঠিত, যার অর্থ হলো— অন্তর। সুতরাং তিনি এমন অসতর্ক ব্যক্তি হবেন না যিনি জাগ্রত বা প্রখর ধীশক্তিসম্পন্ন নন, পাছে তিনি তার এমন কিতাব থেকে বর্ণনা না করে বসেন যাতে তার অগোচরেই কোনো বিভ্রাট দেখা দিয়েছে, অথবা তার বিকৃত হয়ে যাওয়া স্মৃতি থেকে বর্ণনা করে ভুল করে বসেন। কারণ দবিত বা প্রখরতা দুই প্রকার: স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (দাবতুস সদর) এবং লিখিত পাণ্ডুলিপির প্রখরতা (দাবতুল কিতাব)।
প্রথম প্রকার হলো: তিনি যা শুনেছেন তা এমনভাবে সংরক্ষণ করা, যাতে তিনি যখন ইচ্ছা তা উপস্থিত বা স্মরণ করতে সক্ষম হন।
আর দ্বিতীয় প্রকার হলো: তিনি যা শুনেছেন সেই সময় থেকে নিয়ে তা অপরের কাছে বর্ণনা করা পর্যন্ত সেই পাণ্ডুলিপিকে কোনো প্রকার বিভ্রাট বা পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত রাখা, যদিও কোনো কোনো আলেম কিতাব দেখে বর্ণনা করাকে নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَهَذَا - أَعْنِي الضَّبْطَ - هُوَ ثَالِثُ الشُّرُوطِ عَلَى مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ الْجُمْهُورُ ; حَيْثُ فَرَّقُوا بَيْنَ الصَّدُوقِ وَالثِّقَةِ وَالضَّابِطِ، وَجَعَلُوا لِكُلِّ صِفَةٍ مِنْهَا مَرْتَبَةً دُونَ الَّتِي بَعْدَهَا، وَعَلَيْهِ مَشَى الْمُصَنِّفُ، وَقَالَ: إِنَّهُ احْتَرَزَ بِهِ عَمَّا فِي سَنَدِهِ رَاوٍ مُغَفَّلٌ، كَثِيرُ الْخَطَأِ فِي رِوَايَتِهِ، وَإِنْ عُرِفَ بِالصِّدْقِ وَالْعَدَالَةِ.
وَيَتَأَيَّدُ بِتَفْصِيلِ شُرُوطِ الْعَدَالَةِ عَنْ شُرُوطِ الضَّبْطِ فِي مَعْرِفَةِ مَنْ تُقْبَلُ رِوَايَتُهُ، وَلِذَلِكَ تَعَقَّبَ الْمُصَنِّفُ الْخَطَّابِيَّ فِي اقْتِصَارِهِ عَلَى الْعَدَالَةِ، وَانْتَصَرَ شَيْخُنَا لِلْخَطَّابِيِّ ; حَيْثُ كَادَ أَنْ يَجْعَلَ الضَّبْطَ مِنْ أَوْصَافِهَا، لَكِنْ قَالَ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ: إِنَّ تَفْسِيرَ الثِّقَةِ بِمَنْ فِيهِ وَصْفٌ زَائِدٌ عَلَى الْعَدَالَةِ وَهُوَ الضَّبْطُ إِنَّمَا هُوَ اصْطِلَاحٌ لِبَعْضِهِمْ.
وَعَلَى كُلِّ حَالٍ فَاشْتِرَاطُهُ فِي الصَّحِيحِ لَا بُدَّ مِنْهُ، وَالْمُرَادُ التَّامُّ كَمَا فُهِمَ مِنَ الْإِطْلَاقِ الْمَحْمُولِ عَلَى الْكَامِلِ، وَحِينَئِذٍ فَلَا يَدْخُلُ الْحَسَنُ لِذَاتِهِ الْمُشْتَرَطُ فِيهِ مُسَمَّى الضَّبْطِ خَاصَّةً هُنَا، لَكِنْ يَخْرُجُ إِذَا اعْتَضَدَ وَصَارَ صَحِيحًا لِغَيْرِهِ. وَكَأَنَّهُ اكْتَفَى بِذِكْرِهِ بَعْدُ، وَإِنْ تَضَمَّنَ كَوْنَ الْحَدِّ غَيْرَ جَامِعٍ.
ثُمَّ إِنَّهُ لَا بُدَّ أَنْ يَكُونَ نَاقِلًا لَهُ (عَنْ مِثْلِهِ) يَعْنِي: وَهَكَذَا إِلَى مُنْتَهَاهُ ; سَوَاءٌ انْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَوْ إِلَى الصَّحَابِيِّ، أَوْ إِلَى مَنْ دُونَهُ حَتَّى يَشْمَلَ الْمَوْقُوفَ وَنَحْوَهُ.
আর এটি—অর্থাৎ নির্ভুলতা (দাবত)—জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতানুযায়ী (শর্তাবলির মাঝে) তৃতীয় শর্ত; যেহেতু তাঁরা ‘সদুক’ (সত্যবাদী), ‘সিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য) এবং ‘দাবিত’ (নির্ভুল ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং এগুলোর প্রত্যেকটি গুণের জন্য এমন একটি স্তর নির্ধারণ করেছেন যা তার পরবর্তী স্তরের নিচে। গ্রন্থকার এই পথেই চলেছেন এবং বলেছেন যে, এর মাধ্যমে তিনি সনদে বিদ্যমান এমন অসতর্ক বর্ণনাকারীকে বর্জন করেছেন যে তার বর্ণনায় অনেক ভুল করে, যদিও সে সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতার (আদালাত) জন্য পরিচিত।
কার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য তা জানার ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতার শর্তাবলিকে নির্ভুলতার শর্তাবলি থেকে পৃথক করার মাধ্যমেও এটি সমর্থিত হয়। এ কারণেই গ্রন্থকার ইমাম খাত্তাবিকে সমালোচনা করেছেন, যেহেতু তিনি কেবল ন্যায়পরায়ণতার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তবে আমাদের শায়খ ইমাম খাত্তাবির পক্ষ অবলম্বন করেছেন; কেননা তিনি প্রায় নির্ভুলতাকে ন্যায়পরায়ণতারই একটি গুণ হিসেবে গণ্য করেছেন। কিন্তু তিনি অন্য স্থানে বলেছেন যে, ‘সিকাহ’ বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীকে এমন ব্যক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যার মধ্যে ন্যায়পরায়ণতার অতিরিক্ত একটি গুণ অর্থাৎ নির্ভুলতা (দাবত) বিদ্যমান—এটি কেবল কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের পরিভাষা।
যা-ই হোক, সহিহ হাদিসের ক্ষেত্রে এটি (নির্ভুলতা) শর্ত হওয়া অপরিহার্য। আর এখানে ‘পূর্ণাঙ্গ নির্ভুলতা’ উদ্দেশ্য, যেমনটি সাধারণ ব্যবহারের মাধ্যমে বোঝা যায় যা পূর্ণতার অর্থই বহন করে। এমতাবস্থায় এখানে ‘হাসান লি-জাতিহি’ (স্বকীয়ভাবে উত্তম) হাদিস অন্তর্ভুক্ত হবে না যাতে কেবল নির্ভুলতার সাধারণ নামটুকুই শর্ত হিসেবে থাকে। তবে এটি যখন অন্য বর্ণনার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়ে ‘সহিহ লি-গাইরিহি’ (অন্যের কারণে সহিহ) হয়ে যায়, তখন তা (হাসান পর্যায় থেকে) উত্তরণ ঘটে। মনে হচ্ছে তিনি পরে এটি উল্লেখ করাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন, যদিও এর ফলে সংজ্ঞাটি অ-সংক্ষিপ্ত (অর্থাৎ সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত না করা) হওয়ার বিষয়টি থেকে যায়।
অতঃপর বর্ণনাকারীকে অবশ্যই তা বর্ণনা করতে হবে (তার মতো ব্যক্তির থেকে), অর্থাৎ: এভাবেই সনদের শেষ পর্যন্ত; চাই তা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে শেষ হোক, কিংবা সাহাবি পর্যন্ত, অথবা তার পরবর্তী কারো পর্যন্ত, যাতে এটি ‘মাওকুফ’ (সাহাবির বক্তব্যে স্থগিত) এবং এজাতীয় বর্ণনাকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَلَكِنْ قَدْ يُدَّعَى أَنَّ الْإِتْيَانَ بِـ " عَنْ مِثْلِهِ " تَصْرِيحٌ بِمَا هُوَ مُجَرَّدُ تَوْضِيحٍ، وَأَنَّهُ قَدْ فُهِمَ مِمَّا قَبْلَهُ، وَلِذَلِكَ حَذَفَهُ شَيْخُنَا فِي نُخْبَتِهِ لِشِدَّةِ اخْتِصَارِهَا (مِنْ غَيْرِ مَا) أَيْ: مِنْ غَيْرِ (شُذُوذٍ) وَغَيْرِ (عِلَّةٍ قَادِحَةٍ) ، وَهَذَانِ: الرَّابِعُ وَالْخَامِسُ مِنَ الشُّرُوطِ، وَسَيَأْتِي تَعْرِيفُهُمَا، وَهُمَا سَلْبِيَّانِ بِمَعْنَى اشْتِرَاطِ نَفْيِهِمَا، وَلَا يَخْدِشُ فِي ذَلِكَ عَدَمُ ذِكْرِ الْخَطَّابِيِّ لَهُمَا ; إِذْ لَمْ يُخَالِفْ أَحَدٌ فِيهِ.
بَلْ هُوَ أَيْضًا مُقْتَضَى تَوْجِيهِ ابْنِ دَقِيقِ الْعِيدِ، قَوْلُهُ: (وَفِيهِمَا نَظَرٌ عَلَى مُقْتَضَى نَظَرِ الْفُقَهَاءِ ; حَيْثُ قَالَ: فَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ الْعِلَلِ الَّتِي يُعَلِّلُ بِهَا الْمُحَدِّثُونَ لَا تَجْرِي عَلَى أُصُولِ الْفُقَهَاءِ) .
إِذْ ظَاهِرُهُ أَنَّ الْخِلَافَ إِنَّمَا هُوَ فِيمَا يُسَمَّى عِلَّةً، فَالْكَثِيرُ مِنْهُ يَخْتَلِفُونَ فِيهِ، وَالْبَعْضُ الْمُحْتَمِلُ لِأَنْ يَكُونَ الْأَكْثَرَ أَوْ غَيْرَهُ يُوَافِقُ الْفَقِيهَ الْمُحَدِّثَ عَلَى التَّعْلِيلِ بِهِ، وَلِذَلِكَ احْتَرَزَ بِقَوْلِهِ: (كَثِيرًا) .
وَمِنَ الْمَسَائِلِ الْمُخْتَلَفِ فِيهَا مِمَّا إِذَا أَثْبَتَ الرَّاوِي عَنْ شَيْخِهِ شَيْئًا فَنَفَاهُ مَنْ هُوَ أَحْفَظُ أَوْ أَكْثَرُ عَدَدًا، أَوْ أَكْثَرُ مُلَازَمَةً مِنْهُ، فَإِنَّ الْفَقِيهَ وَالْأُصُولِيَّ يَقُولَانِ: الْمُثْبِتُ مُقَدَّمٌ عَلَى النَّافِي فَيُقْبَلُ.
وَالْمُحَدِّثُونَ يُسَمُّونَهُ شَاذًّا ; لِأَنَّهُمْ فَسَّرُوا الشُّذُوذَ الْمُشْتَرَطَ نَفْيُهُ هُنَا بِمُخَالَفَةِ الرَّاوِي فِي رِوَايَتِهِ مَنْ هُوَ أَرْجَحُ مِنْهُ، عِنْدَ تَعَسُّرِ الْجَمْعِ بَيْنَ الرِّوَايَتَيْنِ، وَوَافَقَهُمُ الشَّافِعِيُّ عَلَى التَّفْسِيرِ الْمَذْكُورِ، بَلْ صَرَّحَ بِأَنَّ الْعَدَدَ الْكَثِيرَ أَوْلَى بِالْحِفْظِ مِنَ الْوَاحِدِ، أَيْ: لِأَنَّ تَطَرُّقَ السَّهْوِ إِلَيْهِ أَقْرَبُ مِنْ تَطَرُّقِهِ إِلَى الْعَدَدِ الْكَثِيرِ، وَحِينَئِذٍ فَرَدُّ قَوْلِ الْجَمَاعَةِ بِقَوْلِ الْوَاحِدِ بَعِيدٌ.
وَمِنْهَا الْحَدِيثُ الَّذِي يَرْوِيهِ الْعَدْلُ الضَّابِطُ عَنْ تَابِعِيٍّ مَثَلًا عَنْ صَحَابِيٍّ، وَيَرْوِيهِ آخَرُ مِثْلُهُ ; سَوَاءٌ عَنْ ذَلِكَ التَّابِعِيِّ بِعَيْنِهِ، لَكِنْ عَنْ صَحَابِيٍّ آخَرَ، فَإِنَّ الْفُقَهَاءَ أَوْ أَكْثَرَ
তবে দাবি করা যেতে পারে যে, "তার অনুরূপ রাবী থেকে" (আন মিসলিহি) বাক্যটি ব্যবহার করা নিছক একটি স্পষ্টীকরণ মাত্র, যা ইতিপূর্বেই অনুধাবন করা হয়েছে। একারণেই আমাদের শায়খ তাঁর 'নুখবাহ' গ্রন্থে অতি সংক্ষিপ্ত করার প্রয়োজনে এটি বাদ দিয়েছেন। (বিনা কোনো...) অর্থাৎ: (শুজুজ বা অস্বাভাবিকতা) এবং (ইল্লাতে কাদিহাহ বা ক্ষতিকর ত্রুটি) ব্যতীত। এই দুটি হলো শর্তাবলির চতুর্থ ও পঞ্চম শর্ত এবং সামনে এগুলোর সংজ্ঞা প্রদান করা হবে। এ দুটি নেতিবাচক শর্ত, অর্থাৎ এই দুটির অনুপস্থিতি এখানে শর্ত হিসেবে গণ্য। ইমাম খাত্তাবী এ দুটি উল্লেখ না করায় কোনো ক্ষতি হবে না; কারণ এ বিষয়ে কেউ ভিন্নমত পোষণ করেননি।
বরং এটি ইবনে দাকীক আল-ঈদ-এর ব্যাখ্যারও দাবি রাখে। তিনি বলেছেন: (ফকিহগণের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এ দুটির ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ মুহাদ্দিসগণ যেসব ত্রুটিকে ত্রুটি বা ইল্লত হিসেবে গণ্য করেন, তার অনেকগুলোই ফকিহগণের উসুল বা মূলনীতি অনুযায়ী কার্যকর হয় না।)
কারণ এর বাহ্যিক দিক হলো, বিরোধ মূলত তাকে নিয়েই যাকে 'ইল্লত' (ত্রুটি) বলা হয়। এর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা ভিন্নমত পোষণ করেন, আর কিছু ক্ষেত্রে—যা সংখ্যায় অধিক বা অন্য কিছু হতে পারে—ফকিহগণ মুহাদ্দিসগণের সাথে উক্ত ইল্লতের ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। একারণেই তিনি (অধিকাংশ ক্ষেত্রে) শব্দটি ব্যবহার করে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন।
মতভেদপূর্ণ মাসআলাগুলোর মধ্যে একটি হলো—যখন কোনো রাবী তার শায়খ থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করেন, কিন্তু তার চেয়ে অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন কিংবা সংখ্যায় অধিক অথবা শায়খের সাথে বেশি দীর্ঘ সময় অবস্থানকারী ব্যক্তি সেটি অস্বীকার করেন। এমতাবস্থায় ফকিহ ও উসুলবিদগণ বলেন: প্রমাণকারীর (মুসবিত) বর্ণনা অস্বীকারকারীর (নাফি) বর্ণনার চেয়ে অগ্রগণ্য হবে, সুতরাং তা গৃহীত হবে।
পক্ষান্তরে মুহাদ্দিসগণ একে 'শাজ' (অস্বাভাবিক) বলে অভিহিত করেন; কারণ তাঁরা এখানে 'শুজুজ'—যার অনুপস্থিতি শর্ত করা হয়েছে—তাকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, দুই বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় করা দুঃসাধ্য হলে রাবী কর্তৃক তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিরোধিতা করা। ইমাম শাফিঈ এই সংজ্ঞার ব্যাপারে তাঁদের সাথে একমত পোষণ করেছেন, বরং তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, একজনের চেয়ে অধিক সংখ্যক ব্যক্তির স্মৃতিশক্তি বা হেফজ অধিক নির্ভরযোগ্য। অর্থাৎ, একজনের ভুল করার সম্ভাবনা একদলের ভুল করার সম্ভাবনার চেয়ে বেশি। সুতরাং এমতাবস্থায় একজন ব্যক্তির বর্ণনার ভিত্তিতে একদলের বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করা যুক্তিযুক্ত নয়।
এর মধ্যে আরেকটি উদাহরণ হলো সেই হাদিস যা একজন ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভুল বর্ণনাকারী (আদল জাবিত) কোনো তাবেঈ থেকে—উদাহরণস্বরূপ—কোনো সাহাবীর সূত্রে বর্ণনা করেন, আবার তাঁর মতোই অন্য একজন রাবী এটি বর্ণনা করেন; হয়তো ঠিক সেই তাবেঈ থেকেই, কিন্তু ভিন্ন কোনো সাহাবীর সূত্রে। এক্ষেত্রে ফকিহগণ অথবা তাঁদের অধিকাংশ...
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الْمُحَدِّثِينَ يُجَوِّزُونَ أَنْ يَكُونَ التَّابِعِيُّ سَمِعَهُ مِنْهُمَا مَعًا، إِنْ لَمْ يَمْنَعْ مِنْهُ مَانِعٌ، وَقَامَتْ قَرِينَةٌ لَهُ، كَمَا سَيَأْتِي فِي ثَانِي قِسْمَيِ الْمَقْلُوبِ، وَفِي الصَّحِيحَيْنِ الْكَثِيرُ مِنْ هَذَا.
وَبَعْضُ الْمُحَدِّثِينَ يُعِلُّونَ بِهَذَا، مُتَمَسِّكِينَ بِأَنَّ الِاضْطِرَابَ دَلِيلٌ عَلَى عَدَمِ الضَّبْطِ فِي الْجُمْلَةِ، وَالْكُلُّ مُتَّفِقُونَ عَلَى التَّعْلِيلِ بِمَا إِذَا كَانَ أَحَدُ الْمُتَرَدَّدِ فِيهِمَا ضَعِيفًا، بَلْ تَوَسَّعَ بَعْضُهُمْ فَرَدَّ بِمُجَرَّدِ الْعِلَّةِ وَلَوْ لَمْ تَكُنْ قَادِحَةً.
وَأَمَّا مَنْ لَمْ يَتَوَقَّفْ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ وَالْفُقَهَاءِ فِي تَسْمِيَةِ مَا يَجْمَعُ الشُّرُوطَ الثَّلَاثَةَ صَحِيحًا، ثُمَّ إِنْ ظَهَرَ شُذُوذٌ أَوْ عِلَّةٌ رَدَّهُ فَشَاذٌّ، وَهُوَ اسْتِرْوَاحٌ حَيْثُ يُحْكَمُ عَلَى الْحَدِيثِ بِالصِّحَّةِ قَبْلَ الْإِمْعَانِ فِي الْفَحْصِ، عَنْ تَتَبُّعِ طُرُقِهِ الَّتِي يُعْلَمُ بِهَا الشُّذُوذُ وَالْعِلَّةُ نَفْيًا وَإِثْبَاتًا، فَضْلًا عَنْ أَحَادِيثِ الْبَابِ كُلِّهِ الَّتِي رُبَّمَا احْتِيجَ إِلَيْهَا فِي ذَلِكَ.
وَرُبَّمَا تَطَرَّقَ إِلَى التَّصْحِيحِ مُتَمَسِّكًا بِذَلِكَ مَنْ لَا يُحْسِنُ، فَالَأَحْسَنُ سَدُّ هَذَا الْبَابِ، وَإِنْ أَشْعَرَ تَعْلِيلُ ابْنِ الصَّلَاحِ ظُهُورَ الْحُكْمِ بِصِحَّةِ الْمَتْنِ مِنْ إِطْلَاقِ الْإِمَامِ الْمُعْتَمَدِ صِحَّةَ الْإِسْنَادِ بِجَوَازِ الْحُكْمِ قَبْلَ التَّفْتِيشِ، حَيْثُ قَالَ: (لِأَنَّ عَدَمَ الْعِلَّةِ وَالْقَادِحِ هُوَ الْأَصْلُ الظَّاهِرُ) ، فَتَصْرِيحُهُ بِالِاشْتِرَاطِ يَدْفَعُهُ، مَعَ أَنَّ قَصْرَ الْحُكْمِ عَلَى الْإِسْنَادِ وَإِنْ كَانَ أَخَفَّ لَا يَسْلَمُ مِنَ انْتِقَادٍ.
وَكَذَا لَا يَنْبَغِي الْحُكْمُ بِالِانْقِطَاعِ، وَلَا بِجَهَالَةِ الرَّاوِي الْمُبْهَمِ بِمُجَرَّدِ الْوُقُوفِ عَلَى طَرِيقٍ كَذَلِكَ [بَلْ لَا بُدَّ مِنَ الْإِمْعَانِ فِي التَّفْتِيشِ ; لِئَلَّا يَكُونَ مُتَّصِلًا وَمُعَيَّنًا فِي طَرِيقٍ آخَرَ] ، فَيُعَطَّلَ بِحُكْمِهِ الِاسْتِدْلَالُ بِهِ، كَمَا سَيَجِيءُ فِي الْمُرْسَلِ وَالْمُنْقَطِعِ وَالْمُعْضَلِ.
عَلَى أَنَّ شَيْخَنَا مَالَ إِلَى النِّزَاعِ فِي تَرْكِ تَسْمِيَةِ الشَّاذِّ صَحِيحًا، وَقَالَ: غَايَةُ مَا
মুহাদ্দিসগণ একে বৈধ মনে করেন যে, একজন তাবিঈ তাদের উভয় হতে একত্রে এটি শুনেছেন, যদি তাতে কোনো বাধা না থাকে এবং এর স্বপক্ষে কোনো আলামত বিদ্যমান থাকে; যেমনটি 'মাকলুব' (বিপরীত পাঠ) এর দ্বিতীয় প্রকারে সামনে আসবে। আর সহীহাইনের (বুখারী ও মুসলিম) মধ্যে এর প্রচুর উদাহরণ রয়েছে।
কিছু মুহাদ্দিস এর দ্বারা হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (মা'লুল) গণ্য করেন। তারা এই যুক্তি পেশ করেন যে, 'ইজতিরাব' (অসংলগ্নতা) সাধারণভাবে স্মৃতির পরিপক্বতা (দাবত) না থাকার প্রমাণ। আর যখন সংশয়াচ্ছন্ন দুইজন বর্ণনাকারীর একজন দুর্বল হন, তখন হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত গণ্য করার ব্যাপারে সকলে একমত। বরং কেউ কেউ তো আরো প্রশস্ততা অবলম্বন করেছেন এবং কেবল ত্রুটির (ইল্লাত) কারণেই হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন, যদিও তা বড় কোনো দোষ (কাদিহাহ) না হয়।
পক্ষান্তরে যে সকল মুহাদ্দিস ও ফকিহ তিনটি শর্ত (সনদের অবিচ্ছিন্নতা, ন্যায়পরায়ণতা ও হেফজ) পূর্ণ হলেই কোনো হাদিসকে 'সহীহ' নামকরণ করতে দ্বিধা করেন না, এরপর যদি কোনো অসঙ্গতি (শুযূয) বা ত্রুটি (ইল্লাত) প্রকাশ পায় তবে তাকে প্রত্যাখ্যান করে 'শায' (অসঙ্গতিপূর্ণ) আখ্যা দেন—এটি মূলত এক প্রকার শিথিলতা। কেননা এখানে হাদিসের সকল সূত্রের সন্ধানে গভীরভাবে মনোনিবেশ করার আগেই তার সহীহ হওয়ার হুকুম দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে শুযূয ও ইল্লাত থাকা বা না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অন্যান্য হাদিসসমূহের ব্যাপারেও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন যা এই প্রক্রিয়ায় দরকার হতে পারে।
কখনো কখনো যাদের দক্ষতা নেই তারা একে আঁকড়ে ধরে হাদিসকে সহীহ করার কাজে লিপ্ত হতে পারেন, তাই এই পথটি বন্ধ করে দেওয়াই উত্তম। যদিও ইবনুস সালাহ-এর যুক্তি—যেখানে কোনো নির্ভরযোগ্য ইমামের পক্ষ থেকে সনদের বিশুদ্ধতার (সহীহুল ইসনাদ) ঘোষণার মাধ্যমে মতন বা মূল পাঠের বিশুদ্ধতা সাব্যস্ত হওয়া বা অনুসন্ধানের পূর্বেই হুকুম দেওয়া বৈধ হওয়ার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়, কারণ তিনি বলেছেন: (যেহেতু ত্রুটি ও দোষ না থাকাই মূল বাহ্যিক বিষয়)—তবে শর্তারোপের ব্যাপারে তার স্পষ্ট বক্তব্য একে নাকচ করে দেয়। তদুপরি, হুকুমকে কেবল সনদের উপর সীমাবদ্ধ রাখা যদিও অপেক্ষাকৃত সহজ বিষয়, তবুও এটি সমালোচনা থেকে মুক্ত নয়।
তদ্রূপ, কোনো একটি সূত্র দেখে কেবল তার ভিত্তিতেই হাদিসকে বিচ্ছিন্ন (ইনকিতা) কিংবা অস্পষ্ট বর্ণনাকারীকে অজ্ঞাত (জাহালাত) বলে হুকুম দেওয়া উচিত নয়। [বরং গভীর অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে; যাতে এমন না হয় যে অন্য কোনো সূত্রে সেটি অবিচ্ছিন্ন বা বর্ণনাকারী নির্ধারিত রয়েছে], ফলে তার হুকুমের কারণে এর দ্বারা দলিল পেশ করা নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে, যেমনটি মুরসাল, মুনকাতি ও মু'দাল হাদিসের আলোচনায় সামনে আসবে।
তাছাড়া, আমাদের শায়খ 'শায' (অসঙ্গতিপূর্ণ) হাদিসকে 'সহীহ' না ডাকার বিষয়ে বিতর্কের দিকে ঝুঁকেছেন এবং বলেছেন: এর সর্বোচ্চ পর্যায় হলো যা...
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
فِيهِ رُجْحَانُ رِوَايَةٍ عَلَى أُخْرَى، وَالْمَرْجُوحِيَّةُ لَا تُنَافِي الصِّحَّةَ، وَأَكْثَرُ مَا فِيهِ أَنْ يَكُونَ هُنَاكَ صَحِيحٌ وَأَصَحُّ، فَيُعْمَلُ بِالرَّاجِحِ وَلَا يُعْمَلُ بِالْمَرْجُوحِ ; لَأَجْلِ مُعَارَضَتِهِ لَهُ، لَا لِكَوْنِهِ لَمْ تَصِحَّ طَرِيقُهُ.
وَلَا يَلْزَمُ مِنْ ذَلِكَ الْحُكْمُ عَلَيْهِ بِالضَّعْفِ، وَإِنَّمَا غَايَتُهُ أَنْ يُتَوَقَّفَ عَنِ الْعَمَلِ بِهِ، وَيَتَأَيَّدُ بِمَنْ يَقُولُ: (صَحِيحٌ شَاذٌّ) كَمَا سَيَأْتِي فِي الْمُعَلِّ. وَهَذَا كَمَا فِي النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ سَوَاءٌ، قَالَ: وَمَنْ تَأَمَّلَ الصَّحِيحَيْنِ، وَجَدَ فِيهِمَا أَمْثِلَةً مِنْ ذَلِكَ. انْتَهَى.
[وَيُمْكِنُ تَوْجِيهُ تَنْظِيرِ ابْنِ دَقِيقِ الْعِيدِ الَّذِي لَمْ يُفْصِحْ بِهِ بِهَذَا] .
وَهُوَ أَيْضًا شَبِيهٌ بِالِاخْتِلَافِ فِي الْعَامِّ قَبْلَ وُجُودِ الْمُخَصِّصِ، وَفِي الْأَمْرِ قَبْلَ وُجُودِ الصَّارِفِ لَهُ عَنِ الْوُجُوبِ.
وَبِالْجُمْلَةِ فَالشُّذُوذُ سَبَبٌ لِلتَّرْكِ إِمَّا صِحَّةً أَوْ عَمَلًا، بِخِلَافِ الْعِلَّةِ الْقَادِحَةِ ; كَالْإِرْسَالِ الْخَفِيِّ (فَتُوذِي) بِوُجُودِهَا الصِّحَّةَ الظَّاهِرَةَ، وَيَمْتَنِعُ مَعَهَا الْحُكْمُ وَالْعَمَلُ مَعًا (وَ) إِذَا تَمَّ هَذَا فَ (بِالصَّحِيحِ) فِي قَوْلِ أَهْلِ هَذَا الشَّأْنِ: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ.
(وَبِالضَّعِيفِ) فِي قَوْلِهِمْ: هَذَا حَدِيثٌ ضَعِيفٌ (قَصَدُوا) الصِّحَّةَ وَالضَّعْفَ (فِي ظَاهِرٍ) لِلْحُكْمِ، بِمَعْنَى أَنَّهُ اتَّصَلَ سَنَدُهُ مَعَ سَائِرِ الْأَوْصَافِ الْمَذْكُورَةِ، أَوْ فَقَدَ شَرْطًا مِنْ شُرُوطِ الْقَبُولِ لِجَوَازِ الْخَطَأِ وَالنِّسْيَانِ عَلَى الثِّقَةِ، وَالضَّبْطِ وَالْإِتْقَانِ وَكَذَا الصِّدْقُ عَلَى غَيْرِهِ، كَمَا ذَهَبَ إِلَيْهِ جُمْهُورُ الْعُلَمَاءِ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ وَالْفُقَهَاءِ وَالْأُصُولِيِّينَ، وَمِنْهُمُ الشَّافِعِيُّ، مَعَ التَّعَبُّدِ بِالْعَمَلِ بِهِ، مَتَى ظَنَنَّاهُ صِدْقًا،
এতে এক বর্ণনার ওপর অন্য বর্ণনার প্রাধান্য সাব্যস্ত হয়। আর অপ্রাধান্য (মারজুহিয়্যাত) বিশুদ্ধতার পরিপন্থী নয়। বড়জোর বিষয়টি এমন হতে পারে যে, এখানে একটি 'সহিহ' (বিশুদ্ধ) এবং অন্যটি 'আসাহ' (অধিকতর বিশুদ্ধ) বিদ্যমান। এমতাবস্থায় অগ্রগণ্য (রাজিহ) বর্ণনার ওপর আমল করা হয় এবং অপ্রধান (মারজুহ) বর্ণনার ওপর আমল করা হয় না; আর এটি কেবল তার বিরোধিতার কারণে, এমন নয় যে তার সূত্র বিশুদ্ধ নয়।
এর ফলে হাদিসটিকে 'যয়ীফ' (দুর্বল) বলে হুকুম লাগানো আবশ্যক হয় না। বরং এর সর্বোচ্চ ফলাফল হলো এর ওপর আমল করা থেকে বিরত থাকা। এটি তাদের বক্তব্য দ্বারা সমর্থিত হয় যারা বলেন: এটি 'সহিহ শায' (বিশুদ্ধ তবে ব্যতিক্রমী), যেমনটি 'মুআল্লাল' (ত্রুটিযুক্ত হাদিস) অধ্যায়ে সামনে আসবে। এটি হুবহু 'নাসিখ' (রহিতকারী) ও 'মানসুখ' (রহিত) বিষয়ের মতো। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি 'সহিহাইন' (বুখারি ও মুসলিম) গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, সে সেখানে এর অনেক উদাহরণ পাবে। (সমাপ্ত)।
[এবং ইবনে দাকীকুল ঈদ যে উপমাটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি, সেটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।]
আর এটি 'আম' (সাধারণ) বিধানের ক্ষেত্রে বিশিষ্টকারী দলিল (মুখাছছিছ) পাওয়ার আগের মতভেদ, এবং কোনো আদেশের ক্ষেত্রে তাকে 'ওয়াজিব' (আবশ্যকতা) থেকে সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো নির্দেশক (সারিফ) পাওয়ার আগের মতভেদের সদৃশ।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, 'শুযূয' (ব্যতিক্রম হওয়া) হলো কোনো বর্ণনা বর্জন করার কারণ—তা বিশুদ্ধতার বিচারে হোক বা আমলের ক্ষেত্রে। এটি সেই ক্ষতিকর ত্রুটির (ইল্লাতে কাদিহা) মতো নয়; যেমন 'ইরসালে খফি' (প্রচ্ছন্ন বিচ্ছিন্নতা), যা বিদ্যমান থাকলে বাহ্যিক বিশুদ্ধতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর ফলে হুকুম প্রদান ও আমল করা—উভয়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের বক্তব্যে 'সহিহ' (বিশুদ্ধ) শব্দ দ্বারা—অর্থাৎ যখন তারা বলেন: এটি একটি সহিহ হাদিস—
এবং তাদের বক্তব্যে 'যয়ীফ' (দুর্বল) শব্দ দ্বারা—অর্থাৎ যখন তারা বলেন: এটি একটি দুর্বল হাদিস—তারা হুকুমের 'বাহ্যিক' বিচারে বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা উদ্দেশ্য নেন। এর অর্থ হলো, উল্লিখিত অন্যান্য গুণাবলির সাথে এর সনদটি অবিচ্ছিন্ন, অথবা এটি গ্রহণের শর্তাবলির মধ্য থেকে কোনো একটি শর্ত হারিয়েছে। কেননা একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রেও ভুল বা বিস্মৃতি ঘটা সম্ভব, তেমনিভাবে মুখস্থশক্তি ও নির্ভুলতা এবং অন্যদের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতার বিষয়টিকেও এভাবেই দেখা হয়। এটিই অধিকাংশ মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং উসুলবিদগণের অভিমত, যাদের মধ্যে ইমাম শাফেয়িও রয়েছেন। আর যখন আমরা কোনো বর্ণনাকে সত্য বলে প্রবল ধারণা করি, তখন ইবাদত হিসেবে তার ওপর আমল করা আবশ্যক হয়।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وَتَجَنُّبِهِ فِي ضِدِّهِ.
(لَا) أَنَّهُمْ قَصَدُوا (الْقَطْعَ) بِصِحَّتِهِ أَوْ ضَعْفِهِ ; إِذِ الْقَطْعُ إِنَّمَا يُسْتَفَادُ مِنَ التَّوَاتُرِ، أَوِ الْقَرَائِنِ الْمُحْتَفِّ بِهَا الْخَبَرُ، وَلَوْ كَانَ آحَادًا كَمَا سَيَأْتِي تَحْقِيقُهُ عِنْدَ حُكْمِ الصَّحِيحَيْنِ.
وَأَمَّا مَنْ ذَهَبَ كَحُسَيْنٍ الْكَرَابِيسِيِّ وَغَيْرِهِ إِلَى أَنَّ خَبَرَ الْوَاحِدِ يُوجِبُ الْعِلْمَ الظَّاهِرَ وَالْعَمَلَ جَمِيعًا - فَهُوَ مَحْمُولٌ عَلَى إِرَادَةِ غَلَبَةِ الظَّنِّ أَوِ التَّوَسُّعِ، لَا سِيَّمَا مَنْ قَدَّمَ مِنْهُمُ الضَّعِيفَ عَلَى الْقِيَاسِ كَأَحْمَدَ، وَإِلَّا فَالْعِلْمُ عِنْدَ الْمُحَقِّقِينَ لَا يَتَفَاوَتُ.
فَالْجَارُّ فِي الصَّحِيحِ يَتَعَلَّقُ بِـ " قَصَدُوا "، وَ " فِي ظَاهِرٍ " بِمَحْذُوفٍ، وَ " لَا الْقَطْعَ " مَعْطُوفٌ عَلَى مَحَلِّ " فِي ظَاهِرٍ " أَوْ عَلَى الْمَحْذُوفِ، وَالتَّقْدِيرُ: قَصَدُوا الصِّحَّةَ ظَاهِرًا لَا قَطْعًا. وَالْحَاصِلُ أَنَّ الصِّحَّةَ وَالضَّعْفَ مَرْجِعُهُمَا إِلَى وُجُودِ الشَّرَائِطِ وَعَدَمِهَا بِالنِّسْبَةِ إِلَيَّ غَلَبَةِ الظَّنِّ، لَا بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْوَاقِعِ فِي الْخَارِجِ.
[أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ][أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ] وَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا يَلْزَمُ مِنَ الْحُكْمِ بِالصِّحَّةِ فِي سَنَدٍ خَاصٍّ الْحُكْمُ بِالْأَصَحِّيَّةِ لِفَرْدٍ مُطْلَقًا، بَلْ (الْمُعْتَمَدُ إِمْسَاكُنَا) أَيْ: كَفُّنَا (عَنْ حُكْمِنَا عَلَى سَنَدٍ) مُعَيَّنٍ (بِأَنَّهُ أَصَحُّ) الْأَسَانِيدِ (مُطْلَقًا) كَمَا صَرَّحَ بِهِ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ.
وَقَالَ النَّوَوِيُّ: إِنَّهُ الْمُخْتَارُ ; لِأَنَّ تَفَاوُتَ مَرَاتِبِ الصَّحِيحِ مُتَرَتِّبٌ عَلَى تَمَكُّنِ الْإِسْنَادِ مِنْ شُرُوطِ الصِّحَّةِ، وَيَعِزُّ وُجُودُ أَعْلَى دَرَجَاتِ الْقَبُولِ مِنَ الضَّبْطِ وَالْعَدَالَةِ وَنَحْوِهِمَا فِي كُلِّ فَرْدٍ فَرْدٍ مِنْ رُوَاةِ الْإِسْنَادِ، مِنْ تَرْجَمَةٍ وَاحِدَةٍ بِالنِّسْبَةِ لِجَمِيعِ الرُّوَاةِ الْمَوْجُودِينَ فِي عَصْرِهِ ; إِذْ لَا يُعْلَمُ أَوْ يُظَنُّ أَنَّ هَذَا الرَّاوِيَ حَازَ أَعْلَى
এবং এর বিপরীতটি (অর্থাৎ দুর্বলতা) পরিহার করা।
(না) তারা হাদীসের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা সম্পর্কে (নিশ্চিত জ্ঞান) প্রদানের সংকল্প করেননি; কারণ নিশ্চিত জ্ঞান কেবল মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত) সংবাদ থেকে অথবা সংবাদের সাথে যুক্ত পারিপার্শ্বিক আলামত থেকে অর্জিত হয়, যদিও তা একক বর্ণনা (আহাদ) হয়, যেমনটি সহীহায়ন-এর বিধান আলোচনার সময় বিস্তারিতভাবে আসবে।
পক্ষান্তরে হুসাইন আল-কারাবিসি ও অন্যান্যদের অভিমত যে, একক বর্ণনা (খবরে ওয়াহিদ) প্রকাশ্য জ্ঞান এবং আমল—উভয়টিই আবশ্যক করে, তবে এটি প্রবল ধারণা (গালাবাতুয যান্ন) অথবা অর্থগত সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যেই ব্যক্ত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। বিশেষ করে ইমাম আহমদের মতো যারা কিয়াসের (যৌক্তিক তুলনা) ওপর দুর্বল (যঈফ) হাদীসকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। নতুবা গবেষক আলেমদের মতে নিশ্চিত জ্ঞান (ইলম) তার মাত্রায় কোনো তারতম্য গ্রহণ করে না।
সুতরাং 'সহীহ' (বিশুদ্ধ) শব্দের সাথে যুক্ত সম্বন্ধসূচক অব্যয়টি 'তারা সংকল্প করেছেন' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর 'প্রকাশ্যভাবে' শব্দটি একটি উহ্য পদের সাথে সম্পৃক্ত। 'নিশ্চিত জ্ঞান নয়' কথাটি 'প্রকাশ্যভাবে' কথাটির অবস্থানের ওপর অথবা সেই উহ্য পদের ওপর ভিত্তি করে সংযুক্ত হয়েছে। এর মূল অর্থ হলো: তারা বাহ্যিকভাবে বিশুদ্ধ হওয়ার সংকল্প করেছেন, নিশ্চিতভাবে নয়। সারকথা হলো, বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা মূলত প্রবল ধারণার নিরিখে শর্তাবলির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ওপর আবর্তিত হয়, বাহ্যিক বাস্তবতার (অর্থাৎ আল্লাহর নিকট প্রকৃত স্বরূপের) নিরিখে নয়।
[সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদসমূহ][সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদসমূহ] জেনে রাখুন যে, কোনো বিশেষ একটি সনদের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতার (সহীহ) হুকুম দিলেই সেটি নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হওয়ার হুকুম দেওয়া আবশ্যক করে না। বরং (নির্ভরযোগ্য হলো আমাদের বিরত থাকা) অর্থাৎ আমাদের নিবৃত্ত রাখা (কোনো নির্দিষ্ট সনদের ওপর আমাদের বিধান দেওয়া থেকে) (যে এটিই নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ) সনদ, যেমনটি হাদীস শাস্ত্রের একাধিক ইমাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম নববী বলেন: এটিই মনোনীত মত; কারণ বিশুদ্ধতার স্তরের তারতম্য নির্ভর করে সনদের মাঝে বিশুদ্ধতার শর্তাবলির সুদৃঢ় অবস্থানের ওপর। আর সনদের প্রত্যেক রাবীর মাঝে হিফয বা স্মরণশক্তির দৃঢ়তা (যাবত) এবং ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) ইত্যাদির মতো গ্রহণযোগ্যতার সর্বোচ্চ স্তর খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত দুর্লভ, যা তার সমসাময়িক সকল রাবীর তুলনায় এককভাবে প্রযোজ্য হবে; কারণ এটি নিশ্চিতভাবে জানা বা ধারণা করা সম্ভব নয় যে এই রাবীই সর্বোচ্চ স্তরের গুণাবলি অর্জন করেছেন...
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
الصِّفَاتِ حَتَّى يُوَازَى بَيْنَهُ وَبَيْنَ كُلِّ فَرْدٍ مِنْ جَمِيعِ مَنْ عَاصَرَهُ.
(وَقَدْ خَاضَ) إِذِ اقْتَحَمَ الْغَمَرَاتِ (بِهِ) أَيْ: بِالْحُكْمِ بِالْأَصَحِّيَّةِ الْمُطْلَقَةِ (قَوْمٌ) فَتَكَلَّمُوا فِي ذَلِكَ، وَاضْطَرَبَتْ أَقْوَالُهُمْ فِيهِ لِاخْتِلَافِ اجْتِهَادِهِمْ (فَقِيلَ) كَمَا ذَهَبَ إِلَيْهِ إِمَامُ الصَّنْعَةِ الْبُخَارِيُّ: أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ مَا رَوَاهُ (مَالِكٌ) نَجْمُ السُّنَنِ الْقَائِلُ فِيهِ ابْنُ مَهْدِيٍّ: لَا أُقَدِّمُ عَلَيْهِ فِي صِحَّةِ الْحَدِيثِ أَحَدًا.
وَالشَّافِعِيُّ: إِذَا جَاءَ الْحَدِيثُ عَنْهُ فَاشْدُدْ يَدَكَ بِهِ، كَانَ حُجَّةَ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ بَعْدَ التَّابِعِينَ (عَنْ) شَيْخِهِ (نَافِعٍ) الْقَائِلِ فِي حَقِّهِ أَحْمَدُ عَنْ سُفْيَانَ: أَيُّ حَدِيثٍ أَوْثَقُ مِنْ حَدِيثِهِ؟ !
(بِمَا) أَيْ: بِالَّذِي (رَوَاهُ) لَهُ (النَّاسِكُ) أَيِ: الْعَابِدُ (مَوْلَاهُ) أَيْ: مَوْلَى نَافِعٍ، وَهُوَ سَيِّدُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنهما وَالْمَوْلَى يُطْلَقُ عَلَى كُلٍّ مِنَ الْمُعْتِقِ وَالْمُعْتَقِ، وَكَانَ جَدِيرًا بِالْوَصْفِ بِالنُّسُكِ ; لِأَنَّهُ كَانَ مِنَ التَّمَسُّكِ بِالْآثَارِ النَّبَوِيَّةِ بِالسَّبِيلِ الْمَتِينِ.
وَقَالَ فِيهِ صلى الله عليه وسلم: «نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللَّهِ، لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ» ، فَكَانَ بَعْدُ لَا يَنَامُ مِنَ اللَّيْلِ إِلَّا قَلِيلًا، وَقَالَ جَابِرٌ رضي الله عنه: (مَا مِنَّا أَحَدٌ أَدْرَكَ الدُّنْيَا إِلَّا مَالَتْ بِهِ وَمَالَ بِهَا، إِلَّا هُوَ) .
(وَاخْتَرْ) إِذَا جَنَحْتَ لِهَذَا أَوْ زِدْتَ رَاوِيًا بَعْدَ مَالِكٍ (حَيْثُ عَنْهُ يُسْنِدُ) إِمَامُنَا (الشَّافِعِيُّ) [بِالسُّكُونِ أَيِ: اخْتَرْ هَذَا فَـ (حَيْثُ) وَمَا بَعْدَهُ فِي مَوْضِعِ الْمَفْعُولِ] ، فَقَدَ رُوِّينَا عَنْ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ قَالَ: (كُنْتُ سَمِعْتُ (الْمُوَطَّأَ) مِنْ بِضْعَةَ عَشَرَ رَجُلًا مِنْ
বৈশিষ্ট্যসমূহের ক্ষেত্রে, যাতে তার এবং তার সমসাময়িক প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে সমতা বিধান করা যায়।
(আর নিমগ্ন হয়েছেন) অর্থাৎ যখন তিনি এর গভীরে প্রবেশ করেছেন (এতে) অর্থাৎ: নিরঙ্কুশ বিশুদ্ধতম হওয়ার বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে (একদল লোক) ফলে তারা এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাদের ইজতিহাদ (গবেষণা)-এর পার্থক্যের কারণে এ বিষয়ে তাদের মতামতের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। (অতএব বলা হয়েছে) যেমনটি এই শাস্ত্রের ইমাম বুখারী গ্রহণ করেছেন: বিশুদ্ধতম সনদ হলো যা বর্ণনা করেছেন (মালিক), যিনি সুন্নাহর নক্ষত্রস্বরূপ; যার সম্পর্কে ইবনে মাহদী বলেছেন: হাদীসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে আমি তাঁর ওপর কাউকে প্রাধান্য দিই না।
আর শাফিঈ বলেছেন: যখন তাঁর (ইমাম মালিকের) নিকট থেকে কোনো হাদীস আসে, তখন তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো; তিনি ছিলেন তাবিঈদের পরবর্তী সময়ে আল্লাহর সৃষ্টির ওপর তাঁর প্রমাণ। (বর্ণনা করেছেন) তাঁর শায়খ (নাফি) থেকে, যাঁর সম্পর্কে সুফিয়ান থেকে বর্ণিত বর্ণনায় আহমাদ বলেছেন: তাঁর হাদীসের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য আর কোনো হাদীস হতে পারে কি?!
(যা দ্বারা) অর্থাৎ: যার মাধ্যমে (বর্ণনা করেছেন) তাঁর জন্য (নিবেদিতপ্রাণ ইবাদতকারী) অর্থাৎ: ইবাদতগুজার ব্যক্তি, (তাঁর মনিব) অর্থাৎ: নাফির মনিব, আর তিনি হলেন তাঁর সরদার আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন)। আর 'মাওলা' (মনিব/ভৃত্য) শব্দটি মুক্তিদাতা এবং মুক্তপ্রাপ্ত—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তিনি ইবাদতগুজার গুণের জন্য উপযুক্ত ছিলেন; কারণ তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নববী আদর্শসমূহ (আসার) অনুসরণের পথে চলতেন।
আর তাঁর সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আবদুল্লাহ কতই না উত্তম ব্যক্তি, যদি সে রাতে সালাত আদায় করত।" এরপর থেকে তিনি রাতের খুব অল্প অংশই ঘুমাতেন। জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: (আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে দুনিয়া পেয়েছে অথচ দুনিয়া তাকে প্রলুব্ধ করেনি এবং সেও দুনিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েনি, একমাত্র তিনি ছাড়া)।
(এবং আপনি পছন্দ করুন) যদি আপনি এর প্রতি আগ্রহী হন অথবা ইমাম মালিকের পরে একজন বর্ণনাকারী বৃদ্ধি করেন (যেখানে তাঁর থেকে সনদ পেশ করেন) আমাদের ইমাম (শাফিঈ) [সুদুন বা স্থিরতাসহ অর্থাৎ: আপনি একে নির্বাচন করুন, এমতাবস্থায় 'যেখানে' এবং তার পরবর্তী অংশটি কর্মের স্থানে রয়েছে]। আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (আমি দশের অধিক ব্যক্তির নিকট থেকে 'মুয়াত্তা' শ্রবণ করেছি যারা...
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
حُفَّاظِ أَصْحَابِ مَالِكٍ، فَأَعَدْتُهُ عَلَى الشَّافِعِيِّ ; لِأَنِّي وَجَدْتُهُ أَقْوَمَهُمْ بِهِ) . انْتَهَى
بَلْ هُوَ أَجَلُّ مِنْ جَمِيعِ مَنْ أَخَذَهُ عَنْ مَالِكٍ، رَحِمَهُمَا اللَّهُ.
قَالَ الْأُسْتَاذُ أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الْقَاهِرِ بْنُ طَاهِرٍ التَّمِيمِيُّ: (إِنَّهُ - أَيْ: هَذَا الْإِسْنَادُ - أَجَلُّ الْأَسَانِيدِ لِإِجْمَاعِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ) ، أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي الرُّوَاةِ عَنْ مَالِكٍ أَجَلُّ مِنَ الشَّافِعِيِّ (قُلْتُ وَ) اخْتَرْ كَمَا قَالَهُ الصَّلَاحُ الْعَلَائِيُّ شَيْخُ الْمُصَنِّفِ، إِنْ زِدْتَ بَعْدَ الشَّافِعِيِّ أَحَدًا حَيْثُ (عَنْهُ) يُسْنِدُ (أَحْمَدُ) وَهُوَ حَقِيقٌ بِالْإِلْحَاقِ.
فَقَدْ قَالَ الشَّافِعِيُّ: إِنَّهُ خَرَجَ مِنْ بَغْدَادَ وَمَا خَلَّفَ بِهَا أَفْقَهَ وَلَا أَزْهَدَ وَلَا أَوْرَعَ وَلَا أَعْلَمَ مِنْهُ. وَلِاجْتِمَاعِ الْأَئِمَّةِ الثَّلَاثَةِ فِي هَذِهِ التَّرْجَمَةِ قِيلَ لَهَا: " سِلْسِلَةُ الذَّهَبِ ".
فَإِنْ قِيلَ: فَلِمَ أَكْثَرَ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ مِنَ الرِّوَايَةِ عَنِ ابْنِ مَهْدِيٍّ، وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ حَيْثُ أَوْرَدَ حَدِيثَ مَالِكٍ؟ وَلِمَ لَمْ يُخَرِّجِ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ وَغَيْرُهُمَا مِنْ أَصْحَابِ الْأُصُولِ مَا أَوْرَدُوهُ مِنْ حَدِيثِ مَالِكٍ مِنْ جِهَةِ الشَّافِعِيِّ عَنْهُ؟
أَمْكَنَ أَنْ يُقَالَ عَنْ أَحْمَدَ بِخُصُوصِهِ: لَعَلَّ جَمْعَهُ الْمُسْنَدَ كَانَ قَبْلَ سَمَاعِهِ مِنَ الشَّافِعِيِّ، وَأَمَّا مَنْ عَدَاهُ فَلِطَلَبِ الْعُلُوِّ، وَقَدْ أَوْرَدْتُ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ مِنَ النُّكَتِ أَشْيَاءَ مُهِمَّةً.
مِنْهَا إِيرَادُ الْحَدِيثِ الَّذِي أَوْرَدَهُ الشَّارِحُ بِهَذِهِ التَّرْجَمَةِ بِإِسْنَادٍ كُنْتُ فِيهِ كَأَنِّي أَخَذْتُهُ عَنْهُ، فَأَحْبَبْتُ إِيرَادَهُ هُنَا تَبَرُّكًا.
ইমাম মালিকের অনুসারী হাফেজগণের মধ্যে আমি এটি শাফিঈর নিকট পুনরায় পেশ করেছি; কারণ আমি তাকে তাদের মধ্যে এ বিষয়ে সবচেয়ে সুসংহত (সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য) পেয়েছি। সমাপ্ত।
বরং তিনি ইমাম মালিকের নিকট থেকে যারা হাদিস গ্রহণ করেছেন, তাদের সকলের চেয়েই অধিক মহান, আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।
উস্তাদ আবু মনসুর আব্দুল কাহির ইবনে তাহির আত-তামিমি বলেছেন: (নিশ্চয়ই এটি—অর্থাৎ এই সনদটি—হাদিস বিশারদগণের ঐকমত্যে শ্রেষ্ঠতম সনদ), কেননা ইমাম মালিকের বর্ণনাকারীদের মধ্যে শাফিঈর চেয়ে মহান কেউ ছিলেন না। (আমি বলি এবং) গ্রন্থকারের উস্তাদ সালাহ আল-আলায়ি যেমনটি বলেছেন তা বেছে নিন; যদি আপনি শাফিঈর পরে কাউকে যুক্ত করেন তবে তিনি হবেন (ইমাম) আহমাদ, যিনি (শাফিঈর) নিকট থেকে সনদ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এই সূত্রের সাথে যুক্ত হওয়ার যোগ্য।
কেননা শাফিঈ বলেছেন: তিনি বাগদাদ থেকে বের হওয়ার সময় সেখানে তার (আহমাদের) চেয়ে বড় ফকিহ, অধিক জাহিদ (দুনিয়াবিমুখ), অধিক মুত্তাকি কিংবা অধিক বড় আলেম আর কাউকে রেখে আসেননি। আর এই বর্ণনাসূত্রে এই তিন ইমামের একত্রিত হওয়ার কারণে একে "স্বর্ণসূত্র" (সিলসিলাতুয যাহাব) বলা হয়।
যদি প্রশ্ন করা হয়: ইমাম আহমাদ কেন তার মুসনাদ গ্রন্থে ইমাম মালিকের হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনে মাহদি এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে অধিক বর্ণনা করেছেন? এবং বুখারি, মুসলিম ও অন্যান্য মূল কিতাব প্রণেতাগণ কেন ইমাম মালিকের হাদিসগুলো শাফিঈর সূত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করেননি?
বিশেষভাবে আহমাদের ব্যাপারে বলা যেতে পারে যে: সম্ভবত তার মুসনাদ সংকলন ছিল শাফিঈর নিকট থেকে শোনার আগে। আর অন্যান্যদের ক্ষেত্রে তা ছিল উচ্চতর সনদ (উলুউ) সন্ধানের জন্য। আমি এখানে ‘নুকাত’ (সূক্ষ্ম বিষয়াবলি) থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছি।
তার মধ্যে একটি হলো এমন হাদিস বর্ণনা করা যা ব্যাখ্যাকার এই বর্ণনাসূত্রের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন এমন এক সনদে যাতে আমি যেন সরাসরি তার থেকেই তা গ্রহণ করেছি, তাই বরকতের উদ্দেশ্যে আমি এখানে তা উল্লেখ করতে পছন্দ করেছি।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
أَخْبَرَنِي بِهِ أَبُو زَيْدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ الْمَقْدِسِيُّ الْحَنْبَلِيُّ فِي كِتَابِهِ، وَالْعِزُّ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ الْحَنَفِيُّ سَمَاعًا.
قَالَ الْأَوَّلُ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْفِدَاءِ بْنِ الْخِيَارِ إِذْنًا، أَنَا أَبُو الْغَنَائِمِ الْمُسْلِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُسْلِمِ بْنِ مَكِّيٍّ الْقَيْسِيُّ الدِّمَشْقِيُّ.
وَقَالَ الثَّانِي: أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْجُوخِيِّ فِي كِتَابِهِ، أَخْبَرَتْنَا أُمُّ أَحْمَدَ زَيْنَبُ بِنْتُ مَكِّيِّ بْنِ عَلِيِّ بْنِ كَامِلٍ الْحَرَّانِيَّةُ قَالَا: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ حَنْبَلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّصَافِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحُصَيْنِ الشَّيْبَانِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ التَّمِيمِيُّ الْوَاعِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْقَطِيعِيُّ، أَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ ابْنُ الْإِمَامِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ الشَّيْبَانِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ، وَنَهَى عَنِ النَّجْشِ، وَنَهَى عَنْ حَبَلِ الْحَبَلَةِ، وَنَهَى عَنِ الْمُزَابَنَةِ، وَالْمُزَابَنَةُ بَيْعُ التَّمْرِ بِالتَّمْرِ كَيْلًا، وَبَيْعُ الْكَرْمِ بِالزَّبِيبِ كَيْلًا» .
وَهُوَ مِمَّا اتَّفَقَا عَلَيْهِ مِنْ حَدِيثِ مَالِكٍ إِلَّا الْجُمْلَةَ الثَّالِثَةَ، فَهِيَ مِنْ أَفْرَادِ الْبُخَارِيِّ، فَوَقَعَ لَنَا بَدَلًا لَهُمَا مُسَاوِيًا.
(وَجَزَمَ) الْإِمَامُ أَحْمَدُ (بْنُ
আবু যাইদ আবদুর রহমান ইবন উমর আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি তাঁর কিতাবে আমাকে এটি সংবাদ দিয়েছেন, এবং আল-ইয আবু মুহাম্মদ আবদুর রহিম ইবন মুহাম্মদ আল-মিসরি আল-হানাফি সরাসরি শ্রবণের (সামা’আন) মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন।
প্রথমজন বলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আবিল ফিদা ইবন আল-খিয়ার অনুমতিক্রমে (ইযনান) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আল-গানায়েম আল-মুসলিম ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-মুসলিম ইবন মাক্কি আল-কায়সি আদ-দিমাশকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
দ্বিতীয়জন বলেন: আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-জুখি তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উম্মে আহমদ যায়নাব বিনতে মাক্কি ইবন আলি ইবন কামিল আল-হাররানিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা উভয়ই বলেন: আবু আলি হাম্বল ইবন আবদুল্লাহ আর-রাসাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবন আল-হুসাইন আশ-শায়বানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলি আল-হাসান ইবন আলি আত-তামিমি আল-ওয়ায়িয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ ইবন জাফর আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবন ইমাম আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হাম্বল আশ-শায়বানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন ইদরিস আশ-শাফিঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাফে’ থেকে, তিনি ইবন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন অপর ভাইয়ের কেনাবেচার ওপর কেনাবেচা না করে; আর তিনি দালালি করে দাম বাড়ানো (নাজশ) থেকে নিষেধ করেছেন, পশুর গর্ভস্থ ভ্রূণের ভ্রূণ বিক্রয় (হাবালুল হাবালা) থেকে নিষেধ করেছেন এবং মুযাবানা থেকে নিষেধ করেছেন। আর মুযাবানা হলো পরিমাপের ভিত্তিতে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে কাঁচা খেজুর বিক্রয় করা এবং পরিমাপের ভিত্তিতে কিসমিসের বিনিময়ে আঙ্গুর বিক্রয় করা»।
এটি ইমাম মালিকের বর্ণিত সেই সব হাদিসের অন্তর্ভুক্ত যা তাঁরা উভয়ে (ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম) ঐকমত্য পোষণ করেছেন, কেবল তৃতীয় বাক্যটি ব্যতীত; কারণ সেটি বুখারির একক বর্ণনা (আফরাদ)। ফলে এটি আমাদের নিকট তাঁদের উভয়ের সমান স্তরের একটি বিকল্প (বাদালান মুসায়িয়ান) হিসেবে পৌঁছেছে।
(এবং দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন) ইমাম আহমদ (ইবন...
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
حَنْبَلٍ) نِسْبَةً لِجَدِّهِ، فَاسْمُ أَبِيهِ مُحَمَّدٌ، حِينَ تَذَاكَرَ فِي ذَلِكَ مَعَ جَمَاعَةٍ بِأَجْوَدِيَّةِ رِوَايَةِ الْإِمَامِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شِهَابٍ الْقُرَشِيِّ (الزُّهْرِيِّ) الْمَدَنِيِّ الْقَائِلِ فِيهِ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ: مَا رَأَيْتُ عَالِمًا أَجْمَعَ مِنْهُ، وَلَا أَكْثَرَ عِلْمًا.
لَوْ سَمِعْتَهُ يُحَدِّثُ فِي التَّرْغِيبِ لَقُلْتَ: لَا يُحْسِنُ إِلَّا هَذَا، أَوِ الْأَنْسَابِ فَكَذَلِكَ، أَوْ عَنِ الْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ فَحَدِيثُهُ جَامِعٌ.
(عَنْ سَالِمٍ) هُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ الَّذِي قَالَ فِيهِ ابْنُ الْمُسَيَّبِ: إِنَّهُ كَانَ أَشْبَهَ وَلَدِ أَبِيهِ بِهِ، وَمَالِكٌ: إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي زَمَنِهِ أَشْبَهُ بِمَنْ مَضَى مِنَ الصَّالِحِينَ فِي الزُّهْدِ وَالْفَضْلِ وَالْعَيْشِ مِنْهُ (أَيْ) مِمَّا رَوَاهُ سَالِمٌ (عَنْ أَبِيهِ) عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ (الْبَرِّ) بِفَتْحِ الْمُوَحَّدَةِ ; لِأَنَّهُ كَانَ دَأْبُهُ الْعَمَلَ الصَّالِحَ.
وَوَافَقَ أَحْمَدَ عَلَى مَذْهَبِهِ فِي ذَلِكَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ رَاهَوَيْهِ، لَكِنْ مُعَبِّرًا بِالْأَصَحِّيَّةِ، وَلَا فَرْقَ بَيْنَ اللَّفْظَيْنِ اصْطِلَاحًا، وَلِذَا قَرَنَ شَيْخُنَا تَبَعًا لِلشَّارِحِ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ فِي حِكَايَةِ الْأَصَحِّيَّةِ، نَعَمِ الْوَصْفُ بِجَيِّدٍ عِنْدَ الْجِهْبِذِ أَنْزَلُ رُتْبَةً مِنَ الْوَصْفِ بِصَحِيحٍ.
(وَقِيلَ) كَمَا ذَهَبَ إِلَيْهِ عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، إِنْ صَحَّ عَنْهُ، وَالنَّسَائِيُّ لَكِنَّهُ أَدْرَجَهُ مَعَ غَيْرِهِ: أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ مَا رَوَاهُ (زَيْنُ الْعَابِدِينَ) وَاسْمُهُ: عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ الَّذِي قَالَ فِيهِ مَالِكٌ: بَلَغَنِي أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ أَلْفَ رَكْعَةٍ حَتَّى
হাম্বল) তাঁর দাদার নামানুসারে এই নিসবত বা পারিবারিক পরিচিতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁর পিতার নাম ছিল মুহাম্মদ। যখন তিনি একটি দলের সাথে ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শিহাব আল-কুরাইশি (আজ-জুহরি) আল-মাদানীর বর্ণনার শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন, যাঁর সম্পর্কে লাইস ইবনে সাদ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: আমি তাঁর চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ এবং তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানের অধিকারী আর কোনো আলিম দেখিনি।
যদি আপনি তাঁকে নেক আমলের প্রতি উৎসাহ প্রদান (তারগিব) বিষয়ে আলোচনা করতে শুনতেন, তবে আপনি মনে করতেন যে, তিনি কেবল এই বিষয়েই পারদর্শী। অথবা যদি তিনি বংশপরম্পরা (আনসাব) সম্পর্কে বলতেন, তবে সেখানেও অনুরূপ ধারণা হতো। আর যদি কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে বলতেন, তবে তাঁর আলোচনা হতো অত্যন্ত ব্যাপক ও সর্ববেষ্টিত।
(সালিম থেকে বর্ণিত) তিনি হলেন সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, যাঁর সম্পর্কে ইবনুল মুসাইয়্যিব বলেছেন: তিনি সন্তানদের মধ্যে তাঁর পিতার স্বভাব-চরিত্রের সবচেয়ে বেশি সদৃশ ছিলেন। আর ইমাম মালিক বলেছেন: তাঁর সময়ে দুনিয়াবিমুখতা (জুহদ), শ্রেষ্ঠত্ব এবং জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে পূর্বসূরি নেককার বান্দাদের সাথে তাঁর চেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আর কেউ ছিল না। (অর্থাৎ) সালিম যা বর্ণনা করেছেন (তাঁর পিতা থেকে), যিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (আল-বার্র); 'বা' বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে এটি গঠিত, কারণ পুণ্যকর্ম করাই ছিল তাঁর চিরস্থায়ী অভ্যাস।
এই মতের ক্ষেত্রে আহমাদ বিন হাম্বলের সাথে একমত পোষণ করেছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি, যিনি ইবনে রাহাওয়াইহ নামে পরিচিত। তবে তিনি 'সর্বাধিক বিশুদ্ধতা' (আসাহিইয়্যাহ) পরিভাষা ব্যবহার করেছেন। পারিভাষিক দিক থেকে এই দুটি শব্দের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এই কারণেই আমাদের শায়খ, ব্যাখ্যাকারীর অনুকরণে, সর্বাধিক বিশুদ্ধতার বর্ণনার ক্ষেত্রে এই দুই ইমামকে একত্রে উল্লেখ করেছেন। তবে সত্য এই যে, একজন সূক্ষ্মদর্শী বিশেষজ্ঞের (জিহবিজ) নিকট কোনো বর্ণনাকে 'উত্তম' (জায়্যিদ) হিসেবে অভিহিত করা 'বিশুদ্ধ' (সহিহ) হিসেবে অভিহিত করার চেয়ে মর্যাদাগত দিক থেকে কিছুটা নিম্নস্তরের।
(এবং বলা হয়েছে) যেমনটি আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম এবং আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ (যদি তাঁর থেকে এটি সহিহভাবে প্রমাণিত হয়) এবং আন-নাসায়ী অভিমত ব্যক্ত করেছেন—তবে তিনি এটিকে অন্য বর্ণনার সাথে অন্তর্ভুক্ত করেছেন—সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ হলো সেটি, যা (যাইনুল আবেদিন) বর্ণনা করেছেন। তাঁর নাম হলো আলি ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলি ইবনে আবি তালিব। তাঁর সম্পর্কে ইমাম মালিক বলেছেন: আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, তিনি প্রতিদিন এবং প্রতি রাতে এক হাজার রাকাত সালাত আদায় করতেন, যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
مَاتَ. (عَنْ أَبِهْ) بِحَذْفِ الْمُثَنَّاةِ التَّحْتَانِيَّةِ عَلَى لُغَةِ النَّقْصِ ; كَقَوْلِهِ:
بِأَبِهِ اقْتَدَى عَدِيٌّ فِي الْكَرَمْ.
وَهُوَ السَّيِّدُ الْحُسَيْنُ الشَّهِيدُ سِبْطُ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وَرَيْحَانَتُهُ مِنَ الدُّنْيَا (عَنْ) عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ (جَدِّهِ) أَيْ: جَدِّ زَيْنِ الْعَابِدِينَ (وَ) ذَلِكَ مِمَّا رَوَاهُ (ابْنُ شِهَابٍ) الزُّهْرِيُّ (عَنْهُ) أَيْ: عَنْ زَيْنِ الْعَابِدِينَ (بِهِ) أَيْ: بِالسَّنَدِ الْمَذْكُورِ، فَهَذِهِ أَقْوَالٌ ثَلَاثَةٌ.
وَلَأَجْلِ تَنْوِيعِ الْخِلَافِ فِي ذَلِكَ يُقَالُ: أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ إِمَّا مَا تَقَدَّمَ، (أَوْ فَـ) مَا رَوَاهُ (ابْنُ سِيرِينَ) أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدٌ الْأَنْصَارِيُّ الْبَصْرِيُّ التَّابِعِيُّ الشَّهِيرُ بِكَثْرَةِ الْحِفْظِ وَالْعِلْمِ وَالْإِتْقَانِ وَتَعْبِيرِ الرُّؤْيَا، وَالَّذِي قَالَ فِيهِ مُؤَرَّقٌ: مَا رَأَيْتُ أَفْقَهَ فِي وَرَعِهِ، وَلَا أَوْرَعَ فِي فِقْهِهِ مِنْهُ.
(عَنْ) أَبِي عَمْرٍو عَبِيدَةَ - بِفَتْحِ الْعَيْنِ - (السَّلْمَانِيِّ) - بِسُكُونِ اللَّامِ عَلَى الصَّحِيحِ، حَيٌّ مِنْ مُرَادٍ - الْكُوفِيِّ التَّابِعِيِّ الَّذِي كَادَ أَنْ يَكُونَ صَحَابِيًّا، فَإِنَّهُ أَسْلَمَ قَبْلَ الْوَفَاةِ النَّبَوِيَّةِ، وَكَانَ فَقِيهًا يُوَازِي شُرَيْحًا فِي الْفَضَائِلِ، بَلْ كَانَ شُرَيْحٌ يُرَاسِلُهُ فِيمَا يُشْكِلُ عَلَيْهِ.
قَالَ ابْنُ مَعِينٍ: (إِنَّهُ ثِقَةٌ لَا يُسْأَلُ عَنْ مِثْلِهِ) .
(عَنْهُ) يَعْنِي عَنْ عَلِيٍّ صَاحِبِ التَّرْجَمَةِ الَّتِي قَبْلَهَا. وَهُوَ قَوْلُ عَمْرِو بْنِ عَلِيٍّ الْفَلَّاسِ، وَكَذَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ بِزِيَادَةِ أَيُّوبَ السِّخْتِيَانِيِّ ; حَيْثُ قَالَا: أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ: أَيُّوبُ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ إِلَى آخِرِهِ.
وَجَاءَ مَرَّةً أُخْرَى عَنْ أَوَّلِهِمَا بِإِبْدَالِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْنٍ مِنَ السِّخْتِيَانِيِّ، وَبأَجْوَدَ مِنْ
ইন্তেকাল করেছেন। (তাঁর পিতা হতে) এখানে 'নাকস' (অপূর্ণতা) এর ব্যাকরণিক রীতি অনুযায়ী শেষে অবস্থিত 'ইয়া' বর্ণটি বিলোপ করা হয়েছে; যেমনটি কবি বলেছেন:
"আদী তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে দানশীলতার ক্ষেত্রে।"
আর তিনি হলেন সাইয়্যিদ হুসাইন শহীদ, যিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দৌহিত্র এবং ইহজগতে তাঁর সুগন্ধি ফুল। (থেকে) আলী ইবনে আবি তালিব (তাঁর দাদা), অর্থাৎ যায়নুল আবেদিনের দাদা। (এবং) তা হলো সেইসব বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত যা ইবনে শিহাব (যুহরি) (তাঁর থেকে), অর্থাৎ যায়নুল আবেদিন থেকে (এর মাধ্যমে) অর্থাৎ উল্লিখিত সনদে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এগুলো হলো তিনটি অভিমত।
আর এ সংক্রান্ত মতভেদের বৈচিত্র্য তুলে ধরার জন্য বলা হয়: সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদসমূহ হলো হয় পূর্বে উল্লিখিতটি, (অথবা) যা বর্ণনা করেছেন (ইবনে সিরিন) আবু বকর মুহাম্মদ আল-আনসারি আল-বাসরি; তিনি এমন এক তাবিঈ যিনি প্রখর স্মৃতিশক্তি, ইলম, নিখুঁত কর্মসম্পাদন এবং স্বপ্ন ব্যাখ্যার জন্য সুপ্রসিদ্ধ। তাঁর সম্পর্কে মুয়াররিক বলেছেন: "আমি তাঁর পরহেজগারির মাঝে তাঁর চেয়ে বড় ফকিহ (আইনজ্ঞ) এবং তাঁর ফিকহের মাঝে তাঁর চেয়ে বড় পরহেজগার আর কাউকে দেখিনি।"
(থেকে) আবু আমর আবিদাহ —'আঈন' অক্ষরে জবর সহ— (আস-সালমানি) —বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী 'লাম' অক্ষরে জযম সহ, তিনি মুরাদ গোত্রের একটি শাখা বংশের লোক— তিনি কুফাবাসী তাবিঈ ছিলেন এবং প্রায় সাহাবী হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছিলেন; কেননা তিনি নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি এমন একজন ফকিহ ছিলেন যিনি শ্রেষ্ঠত্বের গুণাবলীতে কাজি শুরাইহ-এর সমতুল্য ছিলেন, এমনকি জটিল মাসআলার সমাধানে শুরাইহ তাঁর নিকট পত্র লিখে পরামর্শ চাইতেন।
ইবনে মাঈন বলেছেন: (নিশ্চয়ই তিনি নির্ভরযোগ্য, তাঁর মতো ব্যক্তির সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই)।
(তাঁর থেকে) অর্থাৎ আলী থেকে, যাঁর জীবনী পূর্বেই আলোচিত হয়েছে। এটি আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাসের উক্তি। অনুরূপভাবে আলী ইবনে আল-মাদিনি ও সুলায়মান ইবনে হারব আইয়ুব আস-সাখতিয়ানিকে যুক্ত করে এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ হলো আইয়ুব, ইবনে সিরিন থেকে— শেষ পর্যন্ত।
আবার প্রথমোক্ত রাবীর সূত্রে আইয়ুব আস-সাখতিয়ানির পরিবর্তে আব্দুল্লাহ ইবনে আউনকে স্থলাভিষিক্ত করে বর্ণনাটি এসেছে, এবং এটি পূর্বের চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী হিসেবে...
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
أَصَحَّ، وَهُمَا كَمَا تَقَدَّمَ سَوَاءٌ، وَمِمَّنْ ذَهَبَ إِلَى أَصَحِّيَّةِ أَيُّوبَ مَعَ بَاقِي التَّرْجَمَةِ النَّسَائِيُّ، لَكِنْ مَعَ إِدْرَاجِ غَيْرِهِ.
(أَوْ) مَا رَوَاهُ أَبُو مُحَمَّدٍ سُلَيْمَانُ بْنُ مِهْرَانَ الْكُوفِيُّ (الْأَعْمَشُ) الْإِمَامُ الْحَافِظُ الثِّقَةُ الَّذِي كَانَ شُعْبَةُ يُسَمِّيهِ لِصِدْقِهِ (الْمُصْحَفَ) (عَنِ) الْفَقِيهِ الْمُتَوَفَّى الصَّالِحِ.
(ذِي الشَّأْنِ) أَبِي عِمْرَانَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ قَيْسٍ (النَّخَعِيِّ) بِفَتْحِ النُّونِ وَالْمُعْجَمَةِ، نِسْبَةً لِلنَّخَعِ، قَبِيلَةٌ مِنْ مَذْحِجٍ، الْكُوفِيِّ
(عَنْ) رَاهِبِ أَهْلِ الْكُوفَةِ عِبَادَةً وَعِلْمًا وَفَضْلًا وَفِقْهًا. (ابْنِ قَيْسٍ عَلْقَمَةَ) أَيْ: عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ قَيْسٍ (عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ) أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ مَعِينٍ، وَكَذَا قَالَهُ غَيْرُهُ، لَكِنْ بِإِبْدَالِ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ مِنَ الْأَعْمَشِ.
فَقَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ: (حَدَّثَ سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ بِهَذِهِ التَّرْجَمَةِ، فَقَالَ: هَذَا الْمُشْرِفُ عَلَى الْكَرَاسِيِّ) ، بَلْ سُئِلَ ابْنُ مَعِينٍ أَيُّهُمَا أَحَبُّ إِلَيْكَ فِي إِبْرَاهِيمَ: الْأَعْمَشُ أَوْ مَنْصُورٌ؟ ، فَقَالَ: (مَنْصُورٌ) .
وَوَافَقَهُ غَيْرُهُ عَلَى ذَلِكَ، فَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ - وَقَدْ سُئِلَ عَنْهُمَا -: الْأَعْمَشُ حَافِظٌ يُخَلِّطُ وَيُدَلِّسُ، وَمَنْصُورٌ أَتْقَنُ لَا يُخَلِّطُ وَلَا يُدَلِّسُ، لَكِنْ قَالَ وَكِيعٌ: (إِنَّ الْأَعْمَشَ أَحْفَظُ لِإِسْنَادِ إِبْرَاهِيمَ مِنْ مَنْصُورٍ) .
وَفِي الْمَسْأَلَةِ أَقْوَالٌ أُخَرُ أَوْرَدْتُ مِنْهَا فِي النُّكَتِ مِمَّا لَمْ يُذْكَرْ هُنَا مَا يُزَاحِمُ عِشْرِينَ قَوْلًا، وَالِاعْتِنَاءُ بِتَتَبُّعِهَا يُفِيدُ أَحَدَ أَمْرَيْنِ: إِمَّا تَرْجِيحُ مَا عُورِضَ مِنْهَا بِذَلِكَ عَلَى غَيْرِهِ، أَوْ تَمَكُّنُ النَّاظِرِ الْمُتْقِنِ فِيهَا مِنْ تَرْجِيحِ بَعْضِهَا عَلَى بَعْضٍ بِالنَّظَرِ لِتَرْجِيحِ الْقَائِلِينَ إِنْ تَهَيَّأَ.
অধিক বিশুদ্ধ (আসাহ), আর এ দুটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হওয়ার মতোই সমান। বাকি সনদসহ আইয়ূব (আস-সাখতিয়ানি)-এর সূত্রকে যারা সর্বাধিক বিশুদ্ধ মনে করেছেন তাদের অন্যতম হলেন ইমাম আন-নাসায়ী, তবে তিনি এর সঙ্গে অন্যকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(অথবা) ইমাম, হাফেজ এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী আবু মুহাম্মদ সুলায়মান ইবনে মিহরান আল-কুফি (আল-আ’মাশ) যা বর্ণনা করেছেন, যাঁর সততার কারণে শু’বাহ তাঁকে ‘পবিত্র গ্রন্থ’ (আল-মুসহাফ) বলে অভিহিত করতেন; (তিনি বর্ণনা করেছেন) সেই ফকিহ, পরলোকগত ও নেককার ব্যক্তি থেকে...
(সুউচ্চ মর্যাদাবান) আবু ইমরান ইব্রাহিম ইবনে ইয়াজিদ ইবনে কায়স (আন-নাখায়ি)—নুন এবং নুকতাযুক্ত (মুজামাহ) ‘খ’ বর্ণে ফাতহাযুক্ত, যা নাখায়ি বংশের প্রতি নিসবত বা সম্পর্কিত, এটি মাদহিজ গোত্রের একটি শাখা—যিনি কুফার অধিবাসী।
(তিনি বর্ণনা করেছেন) ইবাদত, ইলম, শ্রেষ্ঠত্ব ও ফিকহের দিক থেকে কুফাবাসীদের অনন্য ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি— (ইবনে কায়স আলকামা) থেকে, অর্থাৎ আলকামা ইবনে কায়স থেকে; তিনি (ইবনে মাসউদ), অর্থাৎ আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। এটিই ইবনে মাঈনের অভিমত এবং অন্যরাও অনুরূপ বলেছেন, তবে তাঁরা আল-আ’মাশের স্থলে মানসুর ইবনুল মু’তামিরের নাম উল্লেখ করেছেন।
আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন: (সুফিয়ান এই সনদে মানসুরের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ইনিই সেই ব্যক্তি যিনি জ্ঞানগর্ভ আলোচনার উচ্চাসনে উর্ধ্বে আরোহণ ছিলেন)। বরং ইবনে মাঈনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ইব্রাহিমের সূত্রের বর্ণনাকারীদের মধ্যে আপনার নিকট কে অধিক পছন্দনীয়: আল-আ’মাশ নাকি মানসুর? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: (মানসুর)।
অন্যরাও এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে একমত হয়েছেন। আবু হাতিমকে যখন তাঁদের উভয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বলেন: আল-আ’মাশ একজন হাফেজ হলেও তিনি সংমিশ্রণ (তখলীত) করেন এবং ‘তাদলিস’ (সনদের ত্রুটি গোপন) করেন; কিন্তু মানসুর অধিক নিখুঁত (আতকান), তিনি সংমিশ্রণ করেন না এবং ‘তাদলিস’ও করেন না। তবে ওয়াকি’ বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল-আ’মাশ ইব্রাহিমের সূত্রের বর্ণনার ক্ষেত্রে মানসুরের তুলনায় অধিক মুখস্থ শক্তির অধিকারী)।
এ বিষয়ে আরও অনেক অভিমত রয়েছে। আমি ‘আন-নুকাত’ গ্রন্থে এমন সব অভিমত উল্লেখ করেছি যা এখানে বর্ণিত হয়নি, যার সংখ্যা প্রায় বিশটি মতের কাছাকাছি। এই অভিমতগুলো অনুসন্ধানের প্রতি যত্নশীল হওয়া দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির ক্ষেত্রে ফলদায়ক হয়: হয় এর মাধ্যমে এর দ্বারা কোনো বিরোধী মতের বিপরীতে অন্য একটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হয়, অথবা দক্ষ গবেষকের জন্য যদি সুযোগ থাকে তবে প্রবক্তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বিবেচনায় নিয়ে একটি অভিমতকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
[كِتَابٌ عَنْ أَصَحِّ الْأَسَانِيدِ] وَقَدْ أَفْرَدَ النَّاظِمُ فِي الْأَحْكَامِ كِتَابًا لَطِيفًا جَمَعَهُ مِنْ تَرَاجِمِ سِتَّةَ عَشَرَ قِيلَ فِيهَا: إِنَّهَا أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ، إِمَّا مُطْلَقًا أَوْ مُقَيَّدًا، وَهِيَ مَا عَدَا الثَّالِثَةِ مِمَّا ذُكِرَ هُنَا، وَمَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ، وَمَعْمَرٌ عَنْ هَمَّامٍ، وَالزُّهْرِيُّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَيَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، كُلٌّ مِنَ الْأَرْبَعَةِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ مِمَّا رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْهُ، كُلٌّ مِنْهُمَا عَنِ الْقَاسِمِ، وَالزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ، كُلٌّ مِنْهُمَا عَنْ عَائِشَةَ، وَمَالِكٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ.
وَالْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ، وَابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ جَابِرٍ، وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، وَالزُّهْرِيُّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عُمَرَ، وَحِينَئِذٍ فَهُوَ مِنْ أَصَحِّ الصَّحِيحِ.
(وَ) عَلَى كُلِّ حَالٍ (لُمْ) كَمَا زَادَهُ الْمُصَنِّفُ، بِضَمِّ اللَّامِ أَيِ: اعْذِلْ وَاعْتِبْ (مَنْ عَمَّمَهْ) أَيِ: الَّذِي عَمَّمَ الْحُكْمَ بِالْأَصَحِّيَّةِ لِسَنَدٍ مُعَيَّنٍ ; لِأَنَّهُ حَصْرٌ فِي بَابٍ وَاسِعٍ جِدًّا شَدِيدِ الِانْتِشَارِ، وَالْحَاكِمُ فِيهِ عَلَى خَطَرٍ مِنَ الْخَطَأِ وَالِانْتِقَاضِ.
كَمَا قِيلَ بِمِثْلِهِ فِي قَوْلِهِمْ: لَيْسَ فِي الرُّوَاةِ مَنِ اسْمُهُ كَذَا سِوَى فُلَانٍ، بَلْ إِنْ كَانَ وَلَا بُدَّ فَتُقَيَّدُ كُلُّ تَرْجَمَةٍ بِصَحَابِيِّهَا، أَوْ بِالْبَلَدِ الَّتِي مِنْهَا أَصْحَابُ تِلْكَ التَّرْجَمَةِ، فَهُوَ أَقَلُّ انْتِشَارًا أَوْ أَقْرَبُ إِلَى حَصْرٍ، كَمَا قِيلَ فِي أَفْضَلِ التَّابِعِينَ، وَأَصَحِّ الْكُتُبِ، وَأَحَادِيثِ الْبَابِ، فَيَقُولُونَ: أَصَحُّ أَحَادِيثِ بَابِ كَذَا أَوْ مَسْأَلَةِ كَذَا حَدِيثُ كَذَا.
وَاعْلَمْ أَنَّهُمْ كَمَا تَكَلَّمُوا فِي أَصَحِ أَسَانِيدِ فُلَانٍ، مَشَوْا فِي أَوْهَى أَسَانِيدِ فُلَانٍ أَيْضًا، وَفَائِدَتُهُ تَرْجِيحُ بَعْضِ الْأَسَانِيدِ عَلَى بَعْضٍ، وَتَمْيِيزُ مَا يَصْلُحُ لِلِاعْتِبَارِ
[সবচেয়ে বিশুদ্ধ সূত্রসমূহ (আসাহহুল আসানিদ) সম্পর্কিত একটি গ্রন্থ] আর নাযিম (মূল কাব্য রচয়িতা) বিধানসমূহের বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ও চমৎকার গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা তিনি ষোলোটি সূত্র পরম্পরার (তরাজিম) সমন্বয়ে বিন্যস্ত করেছেন। এগুলোর ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, এগুলো হলো সবচেয়ে বিশুদ্ধ সূত্র (আসাহহুল আসানিদ), চাই তা নিরঙ্কুশভাবে (মুতলাক) হোক কিংবা শর্তসাপেক্ষে (মুকাইইয়াদ)। এগুলো এখানে উল্লিখিত তৃতীয় সূত্রটি ব্যতীত বাকিগুলো; এবং মালিক আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে; মা’মার হাম্মাম থেকে; যুহরী সা’ঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে; ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর আবু সালামাহ থেকে—এই চারজনের প্রত্যেকেই আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ইয়াহইয়া ইবনে সা’ঈদ থেকে বর্ণিত আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম ও উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে—তাঁদের প্রত্যেকেই আল-কাসিম থেকে; এবং যুহরী উরওয়াহ থেকে—তাঁদের প্রত্যেকেই আয়িশা থেকে; এবং মালিক যুহরী থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে; ইবনে উয়াইনা আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি জাবির থেকে; লাইস ইবনে সা’দ ইয়াযিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল খাইর থেকে, তিনি উকবা ইবনে আমির থেকে; এবং যুহরী সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা (ইবনে উমর) থেকে, তিনি তাঁর দাদা উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। এমতাবস্থায় এটি সবচেয়ে বিশুদ্ধের (আসাহহুস সহীহ) অন্তর্ভুক্ত।
(আর) সর্বাবস্থায় (তিরস্কার করো) যেমনটি গ্রন্থকার বৃদ্ধি করেছেন—এখানে 'লাম' বর্ণে পেশ যোগে অর্থ হলো: নিন্দা ও ভর্ৎসনা করো—(তাকে, যে একে সাধারণীকরণ করেছে)। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট সূত্রের (সনদ) জন্য নিরঙ্কুশভাবে 'সবচেয়ে বিশুদ্ধ' (আসাহহিয়্যাহ) হওয়ার বিধানকে সাধারণ রূপ দিয়েছে; কারণ এটি অত্যন্ত প্রশস্ত ও অতি বিস্তৃত একটি বিষয়কে সীমাবদ্ধ করার নামান্তর, আর এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত প্রদানকারী ভুল করা ও সিদ্ধান্ত খণ্ডন হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
যেমনটি রাবীদের (বর্ণনাকারী) ক্ষেত্রে তাঁদের এই উক্তির ন্যায় বলা হয়েছে: "অমুক ব্যক্তি ছাড়া এই নামের আর কোনো বর্ণনাকারী নেই।" বরং যদি বলতেই হয়, তবে প্রতিটি সূত্র পরম্পরাকে (তরজামা) তার সংশ্লিষ্ট সাহাবীর সাথে অথবা সেই সূত্রের বর্ণনাকারীরা যে অঞ্চলের, সেই অঞ্চলের সাথে সীমাবদ্ধ করা উচিত। কারণ তা কম বিস্তৃত এবং সীমাবদ্ধ করার অধিক নিকটবর্তী। যেমনটি 'শ্রেষ্ঠ তাবেয়ী', 'সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ' এবং 'অধ্যায়ভিত্তিক হাদীস' সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে। ফলে তাঁরা বলে থাকেন: "অমুক অধ্যায়ের বা অমুক মাসআলার সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদীস হলো অমুক হাদীসটি।"
জেনে রাখুন যে, তাঁরা (মুহাদ্দিসগণ) যেমন কোনো বর্ণনাকারীর 'সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ' নিয়ে আলোচনা করেছেন, তেমনি তাঁরা কোনো বর্ণনাকারীর 'সবচেয়ে দুর্বল সনদ' (আওহা আসানিদ) নিয়েও আলোকপাত করেছেন। এর উপকারিতা হলো এক সনদকে অন্য সনদের ওপর অগ্রাধিকার (তারজীহ) দেওয়া এবং পর্যালোচনার (ইতিবার) যোগ্য হাদীসকে চিহ্নিত করা।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤١)
مِمَّا لَا يَصْلُحُ، وَلَكِنَّ هَذَا الْمُخْتَصَرَ يَضِيقُ عَنْ بَسْطِ ذَلِكَ وَتَتِمَّاتِهِ، فَلْيُرَاجَعْ أَصْلُهُ بَعْدَ تَحْرِيرِهِ، إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
[أَصَحُّ كُتُبِ الْحَدِيثِ]22 - أَوَّلُ مَنْ صَنَّفَ فِي الصَّحِيحِ
… مُحَمَّدٌ وَخُصَّ بِالتَّرْجِيحِ
23 - وَمُسْلِمٌ بَعْدُ، وَبَعْضُ الْغَرْبِ مَعْ
… أَبِي عَلِيٍّ فَضَّلُوا ذَا لَوْ نَفَعْ
24 - وَلَمْ يَعُمَّاهُ وَلَكِنْ قَلَّ مَا
… عِنْدَ ابْنِ الْأَخْرَمِ مِنْهُ قَدْ فَاتَهُمَا
25 - وَرُدَّ لَكِنْ قَالَ يَحْيَى الْبَرُّ
… لَمْ يَفُتِ الْخَمْسَةَ إِلَّا النَّزْرُ
26 - وَفِيهِ مَا فِيهِ لِقَوْلِ الْجُعْفِي
… أَحْفَظُ مِنْهُ عُشْرَ أَلْفِ أَلْفِ
27 - وَعَلَّهُ أَرَادَ بِالتَّكْرَارِ
… لَهَا وَمَوْقُوفٍ وَفِي الْبُخَارِي
28 - أَرْبَعَةُ الْآلَافِ وَالْمُكَرَّرُ
… فَوْقَ ثَلَاثَةٍ أُلُوفًا ذَكَرُوا
[أَوَّلُ مَنْ صَنَّفَ فِي الصَّحِيحِ] وَمُنَاسَبَتُهُ لِمَا قَبْلَهُ ظَاهِرَةٌ، (أَوَّلُ مَنْ صَنَّفَ فِي الصَّحِيحِ) السَّابِقِ تَعْرِيفُهُ كِتَابًا مُخْتَصًّا بِهِ، الْإِمَامُ (مُحَمَّدٌ) هُوَ: ابْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبُخَارِيُّ، كَمَا صَرَّحَ بِهِ أَبُو عَلِيِّ بْنُ السَّكَنِ، وَمَسْلَمَةُ بْنُ قَاسِمٍ، وَغَيْرُهُمَا.
وَمُوَطَّأُ مَالِكٍ - وَإِنْ كَانَ سَابِقًا - فَمُصَنِّفُهُ لَمْ يَتَقَيَّدْ بِمَا اجْتَمَعَ فِيهِ الشُّرُوطُ السَّابِقَةُ لِإِدْخَالِهِ فِيهِ الْمُرْسَلَ وَالْمُنْقَطِعَ وَنَحْوَهُمَا عَلَى سَبِيلِ الِاحْتِجَاجِ، بِخِلَافِ مَا يَقَعُ فِي الْبُخَارِيِّ مِنْ ذَلِكَ.
وَقَوْلُ الشَّافِعِيِّ رحمه الله: (مَا عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ كِتَابٌ فِي الْعِلْمِ بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ أَصَحُّ مِنْ كِتَابِ مَالِكٍ) - كَانَ قَبْلَ وُجُودِهِ.
যা অনুপযুক্ত, তবে এই সংক্ষিপ্তসারটি তার বিস্তারিত বর্ণনা এবং আনুষঙ্গিক পরিশিষ্টগুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংকীর্ণ; তাই আল্লাহ তাআলা চাইলে, এটি চূড়ান্ত পরিমার্জনের পর এর মূল কিতাবটি দেখে নেওয়া উচিত।
[সহীহ হাদিসের বিশুদ্ধতম কিতাবসমূহ]২২ - সর্বপ্রথম যিনি সহীহ (বিষয়ে) সংকলন করেছেন
… তিনি মুহাম্মদ (ইমাম বুখারী) এবং তাকেই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় বিশেষায়িত করা হয়েছে।
২৩ - আর এরপর মুসলিম; তবে আবু আলীর সাথে পশ্চিমের (মাগরিবের) কেউ কেউ একে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, যদিও তা ফলপ্রসূ নয়।
২৪ - তাঁরা উভয়েই (সব সহীহ হাদিসকে) পরিবেষ্টন করেননি, তবে ইবনুল আখরামের মতে যা তাঁদের হাতছাড়া হয়েছে তার পরিমাণ খুবই কম।
২৫ - আর তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে; তবে পুণ্যবান ইয়াহইয়া বলেছেন
… পাঁচটি মূল কিতাবের বাইরে খুব নগণ্য সংখ্যক (সহীহ হাদিস) বাদ পড়েছে।
২৬ - আর এতেও আপত্তির অবকাশ আছে; কেননা আল-জুফী (ইমাম বুখারী) বলেছেন
… আমি দশ লক্ষের এক দশমাংশ (এক লক্ষ সহীহ হাদিস) মুখস্থ রাখি।
২৭ - সম্ভবত তিনি পুনরাবৃত্তি এবং মাওকুফ বর্ণনাসমূহ মিলিয়েই
… এই সংখ্যাটি বুঝিয়েছেন; আর বুখারীতে রয়েছে...
২৮ - চার হাজার (হাদিস); আর পুনরাবৃত্তিসহ
… তাঁরা সাত হাজারের অধিক সংখ্যার কথা উল্লেখ করেছেন।
[সর্বপ্রথম যিনি সহীহ বিষয়ে কিতাব সংকলন করেছেন] এবং এর পূর্ববর্তী আলোচনার সাথে এর সামঞ্জস্যতা সুস্পষ্ট। (সর্বপ্রথম যিনি সহীহ বিষয়ে সংকলন করেছেন) যার সংজ্ঞা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, শুধুমাত্র সহীহ হাদিসের জন্য নির্দিষ্ট কিতাব হিসেবে; তিনি হলেন ইমাম (মুহাম্মদ): অর্থাৎ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আল-বুখারী। যেমনটি আবু আলী ইবনে আস-সাকান, মাসলামাহ ইবনে কাসিম এবং অন্যরা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
আর ইমাম মালিকের মুয়াত্তা—যদিও তা কালানুক্রমিকভাবে বুখারীর পূর্বে রচিত—কিন্তু এর সংকলক এতে কেবল সেই হাদিসগুলোই অন্তর্ভুক্ত করার শর্তারোপ করেননি যাতে পূর্বোল্লিখিত (সহীহর) শর্তসমূহ পূর্ণ হয়েছে। কারণ তিনি এতে মুরসাল (যাতে সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে), মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন সনদ) এবং এই জাতীয় বর্ণনাগুলোকে দলিল হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যা বুখারীর ক্ষেত্রে ঘটা এজাতীয় বিষয়ের সম্পূর্ণ বিপরীত।
আর ইমাম শাফেয়ি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি: (আল্লাহর কিতাবের পর জমিনের বুকে জ্ঞানের ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের কিতাবের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ আর কোনো কিতাব নেই)—এটি ইমাম বুখারীর কিতাব অস্তিত্ব লাভের আগের বক্তব্য।
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
[صَحِيحُ الْبُخَارِيِّ أَفْضَلُ أَوْ صَحِيحُ مُسْلِمٍ] (وَ) لِتَقَدُّمِ الْبُخَارِيِّ فِي الْفَنِّ وَمَزِيدِ اسْتِقْصَائِهِ (خُصَّ) مَا أَسْنَدَهُ فِي صَحِيحِهِ، دُونَ التَّعَالِيقِ وَالتَّرَاجِمِ وَأَقْوَالِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ (بِالتَّرْجِيحِ) عَلَى سَائِرِ الصِّحَاحِ (وَمُسْلِمٌ بَعْدُ) بِضَمِّ الدَّالِ، أَيْ: بَعْدَ الْبُخَارِيِّ وَضْعًا وَرُتْبَةً، وَحَذَفَ الْمُضَافَ إِلَيْهِ وَنَوَى مَعْنَاهُ لِلْعِلْمِ بِهِ.
هَذَا مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ الْجُمْهُورُ مِنْ أَهْلِ الْإِتْقَانِ وَالْحِذْقِ وَالْخَوْضِ عَلَى الْأَسْرَارِ، (وَبَعْضُ) أَهْلِ (الْغَرْبِ) حَسْبَمَا حَكَاهُ الْقَاضِي عِيَاضٌ عَمَّنْ لَمْ يُسَمِّهِ مِنْ شُيُوخِ أَبِي مَرْوَانَ الطُّبْنِيِّ بِضَمِّ الْمُهْمَلَةِ، ثُمَّ مُوَحَّدَةٍ سَاكِنَةٍ عَلَى الْمَشْهُورِ، بَعْدَهَا نُونٌ، مَدِينَةٌ بِـ " الْغَرْبِ " مِنْ عَمَلِ " إِفْرِيقِيَّةَ ".
مِمَّا وُجِدَ التَّصْرِيحُ بِهِ عَنْ أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ حَزْمٍ مِنْهُمْ (مَعَ) الْحَافِظِ (أَبِي عَلِيٍّ) الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ النَّيْسَابُورِيِّ أَحَدِ شُيُوخِ صَاحِبِ (الْمُسْتَدْرَكِ) أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْحَاكِمِ فِيمَا نَقَلَهُ عَنْهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مَنْدَهْ الْحَافِظُ (فَضَّلُوا ذَا) أَيْ: (صَحِيحَ مُسْلِمٍ) ، وَلَكِنْ (لَوْ نَفَعَ) هَذَا الْقَوْلُ لَقُبِلَ مِنْ قَائِلِهِ، لَكِنَّهُ لَمْ يَنْفَعْ ; لِضَعْفِهِ وَمُخَالَفَةِ الْجُمْهُورِ، بَلْ وَعَدَمِ صَرَاحَةِ مَقَالِهِمْ فِي الْمُرَادِ.
أَمَّا الْمَغَارِبَةُ فَإِنَّ ابْنَ حَزْمٍ عَلَّلَ ذَلِكَ كَمَا نَقَلَهُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْقَاسِمُ التُّجِيبِيُّ عَنْهُ، بِأَنَّهُ لَيْسَ فِيهِ بَعْدَ الْخُطْبَةِ إِلَّا الْحَدِيثُ السَّرْدُ، وَهُوَ غَيْرُ رَاجِعٍ إِلَى الْأَصَحِّيَّةِ، وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ تَفْضِيلُ مَنْ لَمْ يُسَمَّ أَيْضًا لِذَلِكَ، وَقَرِيبٌ مِنْهُ قَوْلُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَاسِمٍ: لَمْ يَضَعْ أَحَدٌ مِثْلَهُ.
[সহীহ আল-বুখারী শ্রেষ্ঠ নাকি সহীহ মুসলিম?] (এবং) হাদিস শাস্ত্রে ইমাম বুখারীর অগ্রগামিতা এবং তাঁর অধিকতর সূক্ষ্ম ও গভীর অনুসন্ধানের কারণে, তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে তিনি যে সমস্ত নিরবচ্ছিন্ন সনদযুক্ত হাদিস (মুসনাদ) বর্ণনা করেছেন—ঝুলন্ত সনদ (তালিক), অধ্যায়ের শিরোনাম (তরাজিম) এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণের উক্তি ব্যতীত—সেগুলোকে অন্যান্য সহীহ গ্রন্থগুলোর ওপর (প্রাধান্য প্রদানের জন্য) নির্দিষ্ট করা হয়েছে। (এবং মুসলিম এর পরে)—এখানে 'দাল' বর্ণটি পেশ-যুক্ত—অর্থাৎ সংকলন ও মর্যাদার দিক থেকে তিনি ইমাম বুখারীর পরে অবস্থান করেন। এখানে পরবর্তী শব্দটি (মুদাফ ইলাইহি) উহ্য রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সুপরিচিত হওয়ায় কেবল এর অর্থটিই উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে।
নিপুণতা, বিচক্ষণতা এবং এই শাস্ত্রের গূঢ় রহস্য অন্বেষণকারী জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিশেষজ্ঞগণ এই মতটিই পোষণ করেছেন। (এবং পাশ্চাত্যের অর্থাৎ মাগরিবের কিছু) আলিম—কাজী ইয়াজ যেমনটি আবু মারওয়ান আত-তুবনী (তুবনী শব্দটি ত্ব-তে পেশ এবং বা-তে সাকিন সহযোগে প্রসিদ্ধ; এটি মাগরিবের 'ইফ্রিকিয়া' অঞ্চলের একটি শহর)—তাঁর এমন কিছু উস্তাদের বরাতে বর্ণনা করেছেন যাদের নাম তিনি উল্লেখ করেননি।
তাদের মধ্য থেকে যাদের বক্তব্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে হাফেজ (আবু আলী) হুসাইন ইবনে আলী ইবনে ইয়াজিদ আন-নায়সাবুরীর সাথে আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমও রয়েছেন। উক্ত আবু আলী ছিলেন (আল-মুস্তাদরাক) গ্রন্থকার আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিমের জনৈক উস্তাদ, যেমনটি হাফেজ আবু আবদুল্লাহ ইবনে মানদাহ তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। (তাঁরা এটাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন) অর্থাৎ: (সহীহ মুসলিমকে)। কিন্তু (যদি এটি ফলপ্রসূ হতো) তবে এর প্রবক্তার নিকট হতে এই মতটি গ্রহণ করা হতো, কিন্তু এটি ফলপ্রসূ হয়নি; কারণ এটি দুর্বল এবং জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের বিরোধী, বরং তাদের বক্তব্যের উদ্দেশ্যও সুস্পষ্ট নয়।
আর মাগরিববাসীদের ব্যাপারে কথা হলো, আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম আত-তুজীবী ইবনে হাজমের যে বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেছেন তাতে তিনি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, সহীহ মুসলিমে ভূমিকার পর কেবল হাদিসের নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা (সারদ) বিদ্যমান। আর এই বিষয়টি 'সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধতা' (আসাহিইয়াহ) অর্জনের কোনো মানদণ্ড নয়। আর যাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের কারণও সম্ভবত এটাই ছিল। মাসলামাহ ইবনে কাসিমের উক্তিটিও এর কাছাকাছি, তিনি বলেছিলেন: "এর মতো (গ্রন্থ) আর কেউ সংকলন করতে পারেনি।"
(খণ্ড: ١)
ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
[تَرَدُّدُ ابْنِ الصَّلَاحِ فِي التَّفْضِيلِ] وَلِكَوْنِ ابْنِ الصَّلَاحِ لَمْ يَقِفْ عَلَى كَلَامِ ابْنِ حَزْمٍ، تَرَدَّدَ فِي جِهَةِ التَّفْضِيلِ.
وَقَالَ مَا مَعْنَاهُ: إِنْ كَانَ الْمُرَادُ أَنَّ كِتَابَ مُسْلِمٍ يَتَرَجَّحُ بِأَنَّهُ لَمْ يُمَازِجْهُ غَيْرُ الصَّحِيحِ، يَعْنِي بِخِلَافِ الْبُخَارِيِّ، فَإِنَّهُ أَوْدَعَ تَرَاجِمَ أَبْوَابِهِ كَثِيرًا مِنْ مَوْقُوفَاتِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَغَيْرِ ذَلِكَ، فَهَذَا لَا بَأْسَ بِهِ، لَكِنْ لَا يَلْزَمُ مِنْهُ الْمُدَّعَى، أَوْ أَنَّ الْأَرْجَحِيَّةَ مِنْ حَيْثِيَّةِ الصِّحَّةِ فَمَرْدُودٌ عَلَى قَائِلِهِ.
وَأَمَّا الْمَنْقُولُ عَنْ أَبِي عَلِيٍّ فَلَفْظُهُ كَمَا رُوِّينَاهُ مِنْ طَرِيقِ ابْنِ مَنْدَهْ الْمَذْكُورِ عَنْهُ: (مَا تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ كِتَابٌ أَصَحُّ مِنْ كِتَابِ مُسْلِمٍ) . وَهُوَ كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ شَيْخُنَا مُحْتَمِلٌ لِلْمُدَّعَى، أَوْ لِنَفْيِ الْأَصَحِّيَّةِ خَاصَّةً دُونَ الْمُسَاوَاةِ.
فَقَدْ قَالَ ابْنُ الْقَطَّاعِ فِي شَرْحُ دِيوَانِ الْمُتَنَبِّي: ذَهَبَ مَنْ لَا يَعْرِفُ مَعَانِيَ الْكَلَامِ إِلَى أَنَّ مِثْلَ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أَقَلَّتِ الْغَبْرَاءُ، وَلَا أَظَلَّتِ الْخَضْرَاءُ أَصْدَقَ لَهْجَةً مِنْ أَبِي ذَرٍّ» مُقْتَضَاهُ أَنْ يَكُونَ أَبُو ذَرٍّ أَصْدَقَ الْعَالَمِ أَجْمَعَ.
قَالَ: وَلَيْسَ الْمَعْنَى كَذَلِكَ، وَإِنَّمَا نَفَى أَنْ يَكُونَ أَحَدٌ أَعْلَى رُتْبَةً فِي الصِّدْقِ مِنْهُ، وَلَمْ يَنْفِ أَنْ يَكُونَ فِي النَّاسِ مِثْلُهُ فِي الصِّدْقِ، وَلَوْ أَرَادَ مَا ذَهَبُوا إِلَيْهِ، لَقَالَ: أَبُو ذَرٍّ أَصْدَقُ مِنْ كُلِّ مَنْ أَقَلَّتْ.
وَالْحَاصِلُ أَنَّ قَوْلَ الْقَائِلِ: فُلَانٌ أَعْلَمُ أَهْلِ الْبَلَدِ بِفَنِّ كَذَا، لَيْسَ كَقَوْلِهِ: مَا فِي الْبَلَدِ أَعْلَمُ مِنْ فُلَانٍ بِفَنِّ كَذَا ; لِأَنَّهُ فِي الْأَوَّلِ أَثْبَتَ لَهُ الَأَعْلَمِيَّةَ، وَفِي الثَّانِي نَفَى أَنْ يَكُونَ فِي الْبَلَدِ أَحَدٌ أَعْلَمَ مِنْهُ، فَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ
[শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণে ইবনুল সালাহ-এর দ্বিধা] ইবনুল সালাহ (ইবনে আস-সালাহ) যেহেতু ইবনে হাজমের বক্তব্যের ব্যাপারে অবগত ছিলেন না, তাই তিনি শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণের বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন।
তিনি যা বলেছেন তার মর্ম হলো: যদি উদ্দেশ্য এই হয় যে, ইমাম মুসলিমের কিতাবটি এজন্য প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য যে এতে সহিহ ব্যতীত অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটানো হয়নি—অর্থাৎ ইমাম বুখারির বিপরীত, কারণ তিনি তাঁর অধ্যায়গুলোর শিরোনামে (তারাজিমুল আবওয়াব) সাহাবী ও তাবেঈদের অনেক মাওকুফ (স্থগিত) বর্ণনা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন—তবে এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এর দ্বারা মূল দাবি (অর্থাৎ বুখারির চেয়ে মুসলিমের শ্রেষ্ঠত্ব) প্রমাণিত হয় না। আর যদি বিশুদ্ধতার (সিহহাত) দিক থেকে মুসলিমের কিতাবকে অগ্রগণ্য বলা হয়, তবে তা প্রবক্তার দিকেই প্রত্যাখ্যাত হবে।
আর আবু আলী (আন-নিশাপুরী) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তার শব্দগুলো আমরা ইবনে মানদাহর সূত্রে যেভাবে বর্ণনা করেছি তা হলো: ‘আকাশের নিচে ইমাম মুসলিমের কিতাবের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ আর কোনো কিতাব নেই।’ আমাদের শায়খ যেমনটি ইঙ্গিত করেছেন, এ বক্তব্যটি মূল দাবির স্বপক্ষে হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, অথবা এর দ্বারা কেবল অন্য কোনো কিতাবের অধিক বিশুদ্ধ হওয়াকে অস্বীকার করা হয়েছে, সমপর্যায়ের হওয়াকে নয়।
ইবনুল কাত্তাহ ‘দিওয়ানে মুতানাব্বি’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: যারা শব্দের গূঢ় রহস্য সম্পর্কে অবগত নয়, তারা মনে করে যে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী—‘ধরণী যার বোঝা বহন করেনি এবং আকাশ যার উপরে ছায়া দান করেনি অর্থাৎ আবু যর অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী আর কেউ নেই’—এর অর্থ হলো আবু যর সমগ্র বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় সত্যবাদী।
তিনি বলেন: বিষয়টি তেমন নয়। বরং এর দ্বারা কেবল সত্যবাদিতার ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে উচ্চ মর্যাদার কেউ থাকাকে অস্বীকার করা হয়েছে, কিন্তু মানুষের মধ্যে তাঁর সমপর্যায়ের সত্যবাদী থাকাকে অস্বীকার করা হয়নি। তিনি যদি তা-ই বোঝাতে চাইতেন যা তারা মনে করেছে, তবে তিনি বলতেন: ‘আবু যর পৃথিবী যাঁদের বহন করেছে তাঁদের সকলের চেয়ে অধিক সত্যবাদী।’
সারসংক্ষেপ হলো, কারো এই উক্তি—‘অমুক ব্যক্তি এই শাস্ত্রে শহরের সবচেয়ে বড় আলেম’—আর ‘শহরে এই শাস্ত্রে অমুকের চেয়ে বড় কোনো আলেম নেই’—এই দুটি কথা এক নয়। কারণ প্রথম উক্তিতে তাঁকে সবার চেয়ে বড় আলেম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে, আর দ্বিতীয় উক্তিতে কেবল তাঁর চেয়ে বড় কেউ থাকাকে অস্বীকার করা হয়েছে। সুতরাং এমনটি হওয়া সম্ভব যে...