(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: -)
المدخل إلى كتاب الإكليل   (أبو عبد الله الحاكم)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: المدخل إلى كتاب الإكليل

المؤلف: أبو عبد الله الحاكم محمد بن عبد الله بن محمد بن حمدويه بن نُعيم بن الحكم الضبي الطهماني النيسابوري المعروف بابن البيع (ت 405هـ)

المحقق: د. فؤاد عبد المنعم أحمد

الناشر: دار الدعوة - الاسكندرية

عدد الصفحات: 72

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলিল   (আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


কিতাব: আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলিল

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হামদুওয়াহ বিন নুআইম বিন আল-হাকাম আদ-দাব্বি আত-তাহমানি আন-নাইসাবুরি, যিনি ইবনুল বায়্যি' নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪০৫ হিজরি)

সম্পাদক: ড. ফুয়াদ আব্দুল মুনইম আহমাদ

প্রকাশক: দারুদ দাওয়াহ - আলেকজান্দ্রিয়া

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

قَالَ الشيخ الامام العالم أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عبد الله الحافظ الحمد الله الذى علمنى ما لم أعلم وكان فضله على كثيرا وصلى الله على خير الطاهرين محمد سيدنا وعلى آله وسلم تسليما قَالَ الْحَاكِمُ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ هِمَّةَ الأمِيرِ الأَجَلِّ الْمُظَفَّرِ عِمَادِ الدولة صاحب الجيش دام اللَّهُ سُلْطَانَهُ دَعَتْهُ إِلَى مَعْرِفَةِ أَحْوَالِ الشَّرِيعَةِ عِنْدَ ابْتِدَائِهَا وَمَرَاتِبِ الصَّحَابَةِ إِلَى انْتِهَائِهَا بِالأسَانِيدِ الَّتِي هِيَ الْمِرْقَاةُ إِلَى الْوُصُولِ إِلَيْهَا

أَخبرنِي أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدُوسٍ الْعَنْزِيُّ قَالَ حدثنا عثمان بن سعيد الدرامى حدثنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهِبٍ الرَّمْلِيُّ حدثنَا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ عَنْ أَبِي شَوْذَبٍ عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ قَوْلِهِ تَعَالَى أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ علم قَالَ إِسْنَادُ الْحَدِيثِ

حدثنِي أَبُو الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَافِظِ قَالَ حدثنَا أبو عبد الهه بْنُ أَبِي عَوْفٍ حدثنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ التِّرْمِذِيُّ حدثنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الهزلى قَالَ قَالَ لِيَ الزُّهْرِيُّ يَا هُذَلِيُّ أَيُعْجِبُكَ الْحَدِيثُ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَمَا أنَّهُ يُعْجِبُ ذُكُورَ الرِّجَالِ وَيَكْرَهُهُ مُؤَنَّثُوهُمْ

سَمِعْتُ الزُّبَيْرَ بْنَ عَبْدِ الْوَاحِدِ الأسَدَ أبَازِيَّ يَقُولُ حدثنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْعَطَّارُ حدثنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي سَلَمَةَ حدثنَا أَبِي قَالَ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ يَقُولُ فِي قوله سبحانه وتعالى وانه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শাইখ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফেজ (الحافظ) বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এমন কিছু শিখিয়েছেন যা আমি জানতাম না এবং আমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ছিল অঢেল। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক পবিত্রতমদের শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। আল-হাকিম বলেন: অতঃপর, মহিমান্বিত ও বিজয়ী আমির, ইমাদুদ দাওলা, সেনাপ্রধান—আল্লাহ তাঁর রাজত্ব দীর্ঘস্থায়ী করুন—এর উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁকে শরিয়তের সূচনালগ্ন থেকে এর অবস্থা এবং সাহাবীগণের (الصحابة) শেষ পর্যন্ত তাঁদের স্তরসমূহ জানার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে। আর তা সেই সব সনদসমূহের (الأسانيد) মাধ্যমে যা সেখানে পৌঁছানোর সোপানস্বরূপ।

আমাকে আবু আল-হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুস আল-আনজি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারেমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। ইয়াজিদ ইবনে মাওহাব আর-রামলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। দামরাহ ইবনে রাবিয়াহ আবু শাওজাব থেকে, তিনি মাতার আল-ওয়াররাক থেকে মহান আল্লাহর বাণী—"অথবা জ্ঞানের কোনো অবশিষ্টাংশ"—এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, এর অর্থ হলো হাদিসের সনদ (إسناد)।

হাফেজ-তনয় (الحافظ) আবু আল-হুসাইন আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আউফ আমাদের বর্ণনা করেছেন। আহমদ ইবনে হাসান আত-তিরমিজি আমাদের বর্ণনা করেছেন। আমর ইবনে আসিম আবু বকর আল-হুজালি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যুহরি আমাকে বলেছিলেন, "হে হুজালি! হাদিস কি তোমাকে আনন্দিত করে?" আমি বললাম, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "জেনে রেখো, এটি পৌরুষদীপ্ত ব্যক্তিদেরই আনন্দ দেয়, আর যারা নারীসুলভ স্বভাবের তারা একে অপছন্দ করে।"

আমি জুবায়ের ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-আসাদ আবাজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আল-আত্তার আমাকে বর্ণনা করেছেন। সাঈদ ইবনে আমর ইবনে আবি সালামা আমাদের বর্ণনা করেছেন। আমার পিতা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে মহান আল্লাহর বাণী—"এবং নিশ্চয়ই তা..." সম্পর্কে বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২৮)
لذكر لك ولقومك وسوف تسئلون قَالَ قَوْلُ الرَّجُلِ حدثنِي أَبِي عَنْ جَدِّي

سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ مُحَمَّدَ بْنَ يَعْقُوبَ يَقُولُ سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ سُلَيْمَانَ يَقُولُ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ مَثَلُ الَّذِي يَطْلُبُ الْعِلْمَ بِلا حُجَّةٍ مَثَلُ حَاطِبِ ليل يحمل حطب فِيهَا أَفْعَى تَلْدَغُهُ وَهُوَ لا يَدْرِي

قَالَ نُمَيْرٌ أَبُي الْعَبَّاسِ عَنِ الرَّبِيعِ مَثَلُ الَّذِي يَطْلُبُ الْحَدِيثَ بِلا إِسْنَادٍ

حدثنِي أَبُو الْقَاسِمِ الْحَسَنُ بْنُ إِسْحَاقَ الزَّعِيمُ بِمَرْوَ حدثنِي أَحْمَدُ بْنُ الْخِضْرِ الْخُزَاعِيُّ حدثنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بِشْرٍ حدثنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو حدثنَا بَقِيَّةُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ به خَالِدٍ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ قَالَ أَكْثِرُوا مِنَ الأحَادِيثِ فَإِنَّهَا السِّلاحُ

أَخبرنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكَعْبِيُّ قَالَ حدثنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ قُتَيْبَةَ حدثنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حدثنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ هُرَيْمِ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ سُوَادَةَ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ وَهُوَ محمد ابن عَلِيٍّ الْبَاقِرُ قَالَ مِنْ فِقْهِ الرَّجُلِ بَصَرُهُ بِالْحَدِيثِ أَوْ فِطْنَتُهُ لِلْحَدِيثِ

حدثنِي نَصْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَدْلُ حدثنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُوَلِّدِ حدثنِي أَحْمَدُ بْنُ مَرْوَانَ الْمَالِكِيُّ حدثنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سالم حدثنى الحميوى قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ يَقُولُ مَا مِنْ أَحَدٍ يَطْلُبُ الحديث الا وفى وجهه
"(এটি) আপনার জন্য ও আপনার সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই একটি মর্যাদা এবং অচিরেই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।" তিনি বলেন, (এর উদাহরণ হলো) কোনো ব্যক্তির এই উক্তি যে, "আমার পিতা আমার নিকট আমার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।"

আমি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাবি ইবনে সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি প্রমাণ (حجة) ব্যতীত ইলম অন্বেষণ করে, তার উদাহরণ সেই কাঠুরের মতো যে রাতে কাঠ সংগ্রহ করে; সে কাঠের এমন বোঝা বহন করে যার মধ্যে বিষধর সাপ রয়েছে যা তাকে দংশন করে অথচ সে তা বুঝতে পারে না।"

নুমায়র আবুল আব্বাস থেকে এবং তিনি রাবি থেকে বর্ণনা করেন: "যে ব্যক্তি সনদ (إسناد) ব্যতীত হাদিস অন্বেষণ করে, (তার উদাহরণও তদ্রূপ)।"

মার্ভে আবুল কাসিম আল-হাসান বিন ইসহাক আল-জাইম আমাকে বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন আল-খিজর আল-খুজায়ি আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন বিশর আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আমর আমাদের বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ আবদুর রহমান ইবনে খালিদ থেকে এবং তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তোমরা অধিক পরিমাণে হাদিস সংগ্রহ করো, কেননা তা হলো অস্ত্র।"

আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-কাবি আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, ইসমাইল বিন কুতায়বাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন আবি শায়বাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন মনসুর হুরাইম বিন সুফিয়ান থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে, তিনি সুওয়াদাহ বিন আবিল জা'দ থেকে এবং তিনি আবু জাফর—যিনি মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-বাকির—তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির প্রজ্ঞার পরিচায়ক হলো হাদিসের প্রতি তার গভীর অন্তর্দৃষ্টি বা হাদিসের ব্যাপারে তার বিচক্ষণতা।"

নাসর বিন মুহাম্মদ ন্যায়পরায়ণ (العدل) আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম বিন আল-মুওয়াল্লিদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন মারওয়ান আল-মালিকি আমাকে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন সালিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, আল-হুমাইউয়ি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহকে বলতে শুনেছি: "এমন কেউ নেই যে হাদিস অন্বেষণ করে, অথচ তার চেহারায়... ব্যতীত।"
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ২৯)
نَضْرَةٌ لِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نضر الله امرءا سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ

أَخبرنِي محمد بن يعقوب المقرىء حدثنِي أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْفَقِيهُ حدثنِي الْحُسَيْنُ بْنُ الْفَرَجِ حدثنِي عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ حَسَّانٍ قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ يَقُولُ الَإسْنَادُ سِلَاحُ الْمُؤْمِنِ فَإِذَا لَمْ يَكُنْ مَعَهُ سِلَاحٌ فَبِأَيِّ شَيْءٍ يُقَاتِلُ

سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ مُحَمَّدَ بْنَ يَعْقُوبَ يَقُولُ سَمِعْتُ الْعَبَّاسَ بْنَ مُحَمَّدٍ الدُّورِيَّ سَمِعْتُ قُرَادًا أَبَا نُوحٍ يَقُولُ سَمِعْتُ شُعْبَةَ يَقُولُ كُلُّ عِلْمٍ ليس فيه حدثنا أو خبرنا فَهُوَ خَلٌّ وَبَقْلٌ

سَمِعْتُ أَبَا زَكَرِيَّا الْعَنْبَرِيَّ حدثنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ قَالَ كَانَ أَبِي يَحْكِي عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِذَا رَوَيْنَا الثَّوَابَ وَالْعِقَابَ وَفَضَائِلَ الْأَعْمَالِ تَسَاهَلْنَا فِي الْأَسَانِيدِ وَسَمَحْنَا فِي الرِّجَالِ وَإِذَا رَوَيْنَا فِي الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ وَالْأَحْكَامِ تَشَدَّدْنَا فِي الْأَسَانِيدِ وَانْتَقَدْنَا الرِّجَالَ

سَمِعْتُ أَبَا الْوَلِيدِ حَسَّانَ بْنَ مُحَمَّدٍ الْفَقِيهَ يَقُولُ سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ سُفْيَانَ يَقُولُ سَمِعْتُ صَالِحَ بْنَ حاتم بن ورد ان
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর এক ঝলক: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে এবং তা পৌঁছে দিয়েছে।"

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-মুকরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-ফকিহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনুল ফারাজ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবদুস সামাদ ইবনে হাসসান আমাকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমি সুফিয়ান আস-সাওরিকে বলতে শুনেছি: "সনদ (الإسناد) হলো মুমিনের অস্ত্র। যদি তার কাছে অস্ত্র না থাকে, তবে সে কী দিয়ে লড়াই করবে?"

আমি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দুরিকে বলতে শুনেছি, আমি কুরাদ আবু নূহকে বলতে শুনেছি, আমি শু'বাকে বলতে শুনেছি: "এমন প্রত্যেক জ্ঞান যাতে 'আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا)' অথবা 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (خبرنا)' নেই, তা কেবল সিরকা ও শাকসবজি (অর্থাৎ অসার)।"

আমি আবু জাকারিয়া আল-আনবারিকে বলতে শুনেছি, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-হানজালি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আবদুর রহমান ইবনে মাহদি সম্পর্কে বর্ণনা করতেন যে, তিনি বলতেন: "যখন আমরা সওয়াব, আজাব এবং ফজিলতপূর্ণ আমল সম্পর্কে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদসমূহ (الأسانيد) এর ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করি এবং বর্ণনাকারী (الرجال) দের ব্যাপারে নমনীয় হই। কিন্তু যখন আমরা হালাল-হারাম এবং বিধিবিধান সম্পর্কে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদসমূহ (الأسانيد) এর ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করি এবং বর্ণনাকারী (الرجال) দের সমালোচনা ও যাচাই-বাছাই করি।"

আমি আবুল ওয়ালিদ হাসসান ইবনে মুহাম্মদ আল-ফকিহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি হাসান ইবনে সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি, আমি সলিহ ইবনে হাতিম ইবনে ওয়ারদানকে বলতে শুনেছি...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩০)
يَقُولُ سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ زُرَيْعٍ يَقُولُ لِكُلِّ دِينٍ فُرْسَانٌ وَفُرْسَانُ هَذَا الدِّينِ أَصْحَابُ الْأَسَانِيدِ

قَالَ الْحَاكِمُ وَلَمَّا اسْتَكْفَانِيَ الْأَمِيرُ أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ لِجَمْعِ الْكِتَابِ الَّذِي يَجْمَعُ بَيَانَ مَا اسْتَدْعَاهُ وَجَمَعْتُ مِنْهُ بِعَوْنِ اللَّهِ ثُمَّ بِدَوْلَتِهِ الْعَالِيَةِ مَا انْتَهَى إِلَيْهِ عِلْمِي وَسَمَّيْتُهُ كِتَابَ الْإِكْلِيلِ وَكَانَ الطَّرِيقُ إِلَيْهِ رِوَايَةَ مَا نُقِلَ إِلَيْنَا فِي كُلِّ فَصْلٍ مِنْ فُصُولِهِ بِأَسَانِيدِهَا اقْتِدَاءًا بِمَنْ تَقَدَّمَنَا مِنْ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ مِنْ إِخْرَاجِ الْغَثِّ وَالسَّمِينِ فِي مُصَنَّفَاتِهِمْ وَهَذِهِ الْمَسَانِيدُ الَّتِي صُنِّفَتْ فِي الْإِسْلَامِ عَلَى رِوَايَاتِ الصَّحَابَةِ مُشْتَمِلَةٌ عَلَى رِوَايَةِ الْمُعَدَّلِينَ مِنَ الرُّوَاةِ وَغَيْرِهِمْ مِنَ الْمَجْرُوحِينَ كَمُسْنَدِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى الْعَبْسِيِّ وَأَبِي دَاوُدَ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ الطَّيَالِسِيِّ وَهُمَا أَوَّلُ مَنْ صَنَّفَ الْمُسْنَدَ عَلَى تَرَاجِمِ الرِّجَالِ فِي الْإِسْلَامِ وَبَعْدَهُمَا أَحْمَدُ بْنُ حنبل واسحق بن ابراهيم الحنظلى وأبى خَيْثَمَةَ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَادِسِيُّ ثُمَّ كثرت المسانيد لمخرجة عَلَى تَرَاجِمِ الرِّجَالِ كُلِّهَا غَيْرَ مُمَيِّزَةٍ بَيْنَ الصَّحِيحِ وَالسَّقِيمِ

وَأَوَّلُ مَنْ صَنَّفَ الصَّحِيحَ أَبُو عَبْدِ الله محمد بن اسماعيل لجعفى البخارى ثم أبو الحسن مُسْلِمٌ الْحَجَّاجُ الْقُشَيْرِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ وَإِنَّمَا صَنَّفَاهُ عَلَى الْأَبْوَابِ لَا عَلَى التَّرَاجِمِ وَالْفَرْقُ بَيْنَ الْأَبْوَابِ وَالتَّرَاجِمِ أَنَّ التَّرَاجِمَ شَرْطُهَا أَنْ يَقُولَ الْمُصَنِّفُ ذِكْرُ مَا رُوِيَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يُتَرْجِمُ عَلَى هَذَا الْمُسْنَدِ فَيَقُولُ ذِكْرُ مَا رَوَى قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه فَيَلْزَمُهُ أَنْ يُخَرِّجَ كُلَّ مَا رُوِي عَنْ قَيْسٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ صَحِيحًا كَانَ أَوْ سَقِيمًا فَأَمَّا مُصَنِّفُ الْأَبْوَابِ
তিনি বলেন, আমি ইয়াজিদ ইবনে জুরাইকে বলতে শুনেছি: প্রত্যেক ধর্মের জন্য বীর অশ্বারোহী রয়েছে, আর এই ধর্মের অশ্বারোহী হলেন সনদসমূহ (الأسانيد) এর অধিকারীগণ।

আল-হাকিম বলেন, যখন আমির আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আমাকে এমন একটি কিতাব সংকলনের দায়িত্ব প্রদান করলেন যা তাঁর দাবিকৃত বিষয়গুলোর বর্ণনাকে একত্রিত করবে, তখন আমি আল্লাহর সাহায্যে এবং তাঁর উচ্চতর পৃষ্ঠপোষকতায় আমার জ্ঞানলব্ধ বিষয়গুলো থেকে তা সংকলন করি এবং এর নাম দিই কিতাবুল ইকলিল। আমাদের পূর্বে অতিবাহিত হাদিসের ইমামগণের অনুসরণ করে এর প্রতিটি পরিচ্ছেদে আমাদের নিকট বর্ণিত বিষয়গুলোকে তাদের সনদসমূহ (بأسانيدها) সহ উল্লেখ করাই ছিল এর অনুসৃত পদ্ধতি; যেখানে তারা তাদের সংকলনগুলোতে অন্তঃসারশূন্য (الغث) ও মূল্যবান (السّمين) উভয় প্রকার বর্ণনা বের করে এনেছেন। আর ইসলামে সাহাবীগণের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে যে সকল মুসনাদ সংকলিত হয়েছে, তাতে নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়নিষ্ঠ (المعدلين) বর্ণনাকারী ও অন্যান্য ত্রুটিযুক্ত বা সমালোচিত (المجروحين) বর্ণনাকারীদের হাদিসও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন: উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা আল-আবসি এবং আবু দাউদ সুলায়মান ইবনে দাউদ আল-তায়ালিসির মুসনাদ। ইসলামে বর্ণনাকারীদের জীবনী (تراجم الرجال) অনুযায়ী মুসনাদ সংকলনকারীদের মধ্যে তাঁরাই প্রথম। তাঁদের পর আহমদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি, আবু খাইসামা জুহাইর ইবনে হারব এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারীরী (সংকলন করেছেন)। এরপর বর্ণনাকারীদের জীবনী অনুসারে সংকলিত মুসনাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যেগুলোর সবকটিতে সহিহ (الصحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (السقيم) বর্ণনার মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি।

আর সর্বপ্রথম সহিহ সংকলন করেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-জুফী আল-বুখারি, অতঃপর আবু আল-হাসান মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নাইসাবুরি। তাঁরা কিতাব দুটি বিষয়ভিত্তিক অনুচ্ছেদ (الأبواب) অনুযায়ী সংকলন করেছেন, বর্ণনাকারীদের জীবনী (التراجم) অনুযায়ী নয়। বিষয়ভিত্তিক অনুচ্ছেদ ও বর্ণনাকারীদের জীবনীর মধ্যকার পার্থক্য হলো, বর্ণনাকারীদের জীবনীর ক্ষেত্রে সংকলকের শর্ত থাকে এমন যে, তিনি বলবেন: 'আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে নবী (সা.) এর সূত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তার আলোচনা'; এরপর তিনি এই মুসনাদের ওপর শিরোনাম দিয়ে বলবেন: 'কায়েস ইবনে আবি হাযেম আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার আলোচনা'। তখন তাঁর জন্য কায়েস কর্তৃক আবু বকর থেকে বর্ণিত সকল বর্ণনা বের করা আবশ্যক হয়ে যায়, তা সহিহ (صحيحا) হোক বা ত্রুটিযুক্ত (سقيما) হোক। তবে বিষয়ভিত্তিক অনুচ্ছেদের সংকলক...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩১)
فَإِنَّهُ يَقُولُ ذِكْرُ مَا صَحَّ وَثَبَتَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَبْوَابِ الطَّهَارَةِ أَوِ الصَّلَاةِ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الْعِبَادَاتِ

وَلَعَلَّ قَائِلًا يَقُولُ وَمَا الْغَرَضُ فِي تَخْرِيجِ مالا يَصِحُّ سَنَدُهُ وَلَا يُعَدَّلُ رُوَاتُهُ وَالْجَوَابُ عَنْ ذَلِكَ مِنْ أَوْجُهٍ

مِنْهَا أَنَّ الْجَرْحَ وَالتَّعْدِيلَ مُخْتَلَفٌ فيهما وربما عدل امام وجرج غَيْرُهُ وَكَذَلِكَ الْإِرْسَالُ مُخْتَلَفٌ فِيهِ فَمِنَ الْأَئِمَّةِ مَنْ رَأَى الْحُجَّةَ بِهَا وَمِنْهُمْ مَنْ أَبْطَلَهَا وَالْأَصْلُ فِيهِ الِاقْتِدَاءُ بِالْأَئِمَّةِ الْمَاضِينَ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ

كَانُوا يُحدثونَ عَنِ الثِّقَاتِ وَغَيْرِهِمْ فَإِذَا سُئِلُوا عَنْهُمْ بَيَّنُوا أَحْوَالَهُمْ وَهَذَا مَالِكُ بن أنس أَهْلِ الْحِجَازِ بِلَا مُدَافَعَةٍ رَوَى عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ أَبِي أُمَيَّةَ الْبَصْرِيِّ وَغَيْرِهِ مِمَّنْ تَكَلَّمُوا فِيهِمْ ثُمَّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ وَهُوَ الْإِمَامُ لِأَهْلِ الْحِجَازِ بَعْدَ مَالِكٍ رَوَى عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أبى يحى الْأَسْلَمِيِّ وَأَبِي دَاوُدَ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرٍو النَّخَعِيِّ وَغَيْرِهِمَا مِنَ الْمَجْرُوحِينَ

وَهَذَا أَبُو حَنِيفَةَ إِمَامُ أَهْلِ الْكُوفَةِ رَوَى عَنْ جَابِرِ بْنِ يَزِيدَ الْجُعْفِيِّ وَأَبِي الْعَطُوفِ الْجَرَّاحِ بْنِ الْمِنْهَالِ الْجَزَرِيِّ وَغَيْرِهِمَا مِنَ الجروحين ثُمَّ بَعْدَهُ أَبُو يُوسُفَ يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْقَاضِي وَأَبُو عَبْدِ الله محمد بن الحسن الشيبنى حدثا جَمِيعًا عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُحَرَّرِ وَغَيْرِهِمَا مِنَ الْمَجْرُوحِينَ وَكَذَلِكَ مِنْ بَعْدِهِمَا أَئِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ قَرْنًا بَعْدَ قَرْنٍ وَعَصْرًا بَعْدَ عَصْرٍ إِلَى عَصْرِنَا هَذَا لَمْ يَخْلُ حَدِيثُ إِمَامٍ مِنْ أَئِمَّةِ الْفَرِيقَيْنِ عَنْ مَطْعُونٍ فِيهِ مِنَ الْمُحدثينَ وَلِلْأَئِمَّةِ رضي الله عنهم فِي ذَلِكَ غَرَضٌ ظَاهِرٌ وَهُوَ أَنْ يَعْرِفُوا الْحَدِيثَ مِنْ أَيْنَ مَخْرَجُهُ وَالْمُنْفَرِدُ به عدل أو مجروح
নিশ্চয়ই তিনি বলেন: পবিত্রতা, সালাত কিংবা অন্যান্য ইবাদত সম্পর্কিত অধ্যায়গুলোতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সহিহ (صح) এবং প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে তার বর্ণনা।

সম্ভবত কোনো প্রশ্নকারী বলতে পারেন: যে হাদিসের সূত্র (سند) সহিহ (يصح) নয় এবং যার বর্ণনাকারীদের (رواة) নির্ভরযোগ্য (يعدل) বলা হয়নি, তা উদ্ধৃত করার (تخريج) উদ্দেশ্য কী? এর উত্তর বিভিন্ন দিক থেকে দেওয়া যেতে পারে।

তন্মধ্যে একটি হলো—সমালোচনা (الجرح) ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (التعديل) ক্ষেত্রে মতভেদ বিদ্যমান। অনেক সময় একজন ইমাম হয়তো কাউকে নির্ভরযোগ্য (عدل) বলেছেন, আবার অন্যজন তাকে সমালোচিত (جرح) করেছেন। একইভাবে হাদিস বিচ্ছিন্ন হওয়ার (الإرسال) বিষয়েও মতভেদ রয়েছে; আইম্মাদের মধ্যে কেউ একে দলিল (الحجة) হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আবার কেউ একে অগ্রহণযোগ্য গণ্য করেছেন। আর এক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো পূর্ববর্তী আইম্মাদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) অনুসরণ করা।

তাঁরা নির্ভরযোগ্য (الثقات) ও অন্যদের থেকেও হাদিস বর্ণনা করতেন। অতঃপর যখন তাঁদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তাঁরা তাঁদের অবস্থা স্পষ্ট করে দিতেন। এই যেমন হিজাজবাসীদের অবিসংবাদিত ইমাম মালিক ইবনে আনাস; তিনি আব্দুল কারীম আবু উমাইয়্যা আল-বাসরি এবং এমন অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন যাঁদের সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণ সমালোচনা (تكلموا فيهم) করেছেন। এরপর হিজাজবাসীদের ইমাম মালিকের উত্তরসূরি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ; তিনি ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি ইয়াহইয়া আল-আসলামি এবং আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আমর আন-নাখায়ি ও অন্যান্য সমালোচিত (المجروحين) ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর ইনি কুফাবাসীদের ইমাম আবু হানিফা; তিনি জাবির ইবনে ইয়াযিদ আল-জু’ফি এবং আবু আল-আতুফ আল-জাররাহ ইবনে আল-মিনহাল আল-জাযারি ও অন্যান্য সমালোচিত (المجروحين) ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তাঁর পরবর্তী আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম আল-কাদি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান আশ-শায়বানি; তাঁরা উভয়ই আল-হাসান ইবনে উমারা এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুহাররার ও অন্যান্য সমালোচিত (المجروحين) ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে তাঁদের পরবর্তী মুসলিম আইম্মাগণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম এবং যুগের পর যুগ ধরে আমাদের এই সময় পর্যন্ত এটি করে আসছেন। উভয় পক্ষের আইম্মাদের কোনো হাদিসই এমন বর্ণনাকারী থেকে খালি নয় যাঁদের ব্যাপারে কোনো আপত্তি (مطعون فيه) রয়েছে। আর এক্ষেত্রে আইম্মাদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) একটি সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে; আর তা হলো হাদিসের উৎস সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং এর একক বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (عدل) নাকি সমালোচিত (مجروح) তা নিরূপণ করা।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩২)
سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ مُحَمَّدَ بْنَ يَعْقُوبَ يَقُولُ سَمِعْتُ الْعَبَّاسَ بْنَ مُحَمَّدٍ الدُّورِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ يَحْيَى بن معين يَقُولُ لَوْ لَمْ نَكْتُبِ الْحَدِيثَ مِنْ ثَلَاثِينَ وَجْهًا مَا عَقَلْنَاهُ

أَخبرنِي أَبُو عِمْرَانَ مُوسَى بْنُ سَعِيدٍ الْحَنْظَلِيُّ الْحَافِظُ بِهَمَذَانَ قَالَ حدثنِي أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي بِالدِّينَوَرِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الَأَثْرَمَ يَقُولُ رَأَى أَحْمَدُ بْنُ حَنْبلٍ يَحْيَي بْنَ مَعِينٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ بِصَنْعَاءَ فِي زَاوِيَةٍ وَهُوَ يَكْتُبُ صَحِيفَةَ مَعْمَرٍ عَنْ أَبَانٍ عَنْ أَنَسٍ فَإِذَا اطَّلَعَ عَلَيْهِ إِنْسَانٌ كَتَمَهُ فَقَالَ لَهُ أَحْمَدُ تَكْتُبُ صَحِيفَةَ مَعْمَرٍ عَنْ أَبَانٍ عَنْ أَنَسٍ وَتَعْلَمُ أَنَّهَا مَوْضُوعَةٌ فَلَوْ قَالَ لَكَ قَائِلٌ أَنْتَ تَتَكَلَّمُ فِي أَبَانٍ ثُمَّ تَكْتُبُ حَدِيثَهُ عَلَى الْوَجْهِ فَقَالَ رَحِمَكَ اللَّهُ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَكْتُبُ هَذِهِ الصَّحِيفَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَلَى الْوَجْهِ فَأَحْفَظُهَا كُلَّهَا وَأَعْلَمُ انها موضوعة حتى لا يجىء بَعْدَهُ إِنْسَانٌ فَيَجْعَلُ بَدَلَ أَبَانٍ ثَابِتًا وَيَرْوِيهَا عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ فَأَقُولُ لَهُ كَذِبْتَ إِنَّمَا هِيَ عَنْ أَبَانٍ لَا عَنْ ثَابِتٍ

أَخبرنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بِبَغْدَادَ حدثنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْأَبَّارُ قَالَ قَالَ يَحْيَي بْنُ مَعِينٍ كَتَبْنَا عَنِ الكذابيين وَسَجَرْنَا بِهِ التَّنُّورَ وَأَخْرَجْنَا بِهِ خبرا نضجا

قال لحاكم رحمه الله وَأَهْلُ الْحِجَازِ وَالْعِرَاقِ وَالشَّامِ يَشْهَدُونَ لِأَهْلِ خُرَاسَانَ بِالتَّقَدُّمِ فِي مَعْرِفَةِ الصَّحِيحِ لِسَبْقِ الْإِمَامَيْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْبُخَارِيِّ وَأَبِي الْحُسَيْنِ النَّيْسَابُورِيِّ إِلَيْهِ وَتَفَرُّدِهِمَا بِهَذَا النَّوْعِ مِنَ الْعِلْمِ جَزَاهُمَا اللَّهُ عَنِ الْإِسْلَامِ خَيْرًا

وَقَدْ صَنَّفْتُ أَنَا عَلَى كِتَابِ كُلٍّ مِنْهُمَا كِتَابًا وَعَرَّفْتُ شَرْطَ كُلٍّ مِنْهُمَا الصَّحِيحَ وَالسَّقِيمَ مِمَّا اتَّفَقْنَا عَلَيْهِ وَاخْتَلَفْنَا فِيهِ وَأَنَا مُبَيِّنٌ مِنْ ذَلِكَ مَا فِيهِ الْبُلْغَةُ إِنْ شاء الله تعالى
আমি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আব্বাস ইবন মুহাম্মদ আদ-দুরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবন মাঈনকে বলতে শুনেছি: "আমরা যদি কোনো হাদিস ত্রিশটি দিক (সূত্র) থেকে না লিখতাম, তবে আমরা তা অনুধাবন করতে পারতাম না।"

হামাদানের হাফিজ আবু ইমরান মুসা ইবন সাঈদ আল-হানজালি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: দিনাওয়ারের বিচারক আহমদ ইবন ইসহাক আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আল-আছরামকে বলতে শুনেছি যে, আহমদ ইবন হাম্বল সানায় এক কোণে ইয়াহইয়া ইবন মাঈনকে (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন) মা'মার থেকে আবান, তাঁর থেকে আনাস (রা.)-এর সহিফাহ লিখতে দেখলেন। যখনই কোনো মানুষ তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল, তিনি তা লুকিয়ে ফেলছিলেন। আহমদ তাঁকে বললেন: "আপনি মা'মার থেকে আবান, তাঁর থেকে আনাস (রা.)-এর সহিফাহ লিখছেন অথচ আপনি জানেন যে এটি বানোয়াট (موضوعة)? যদি কেউ আপনাকে প্রশ্ন করে: 'আপনি আবানের সমালোচনা করেন, আবার তাঁর বর্ণিত হাদিস পূর্ণাঙ্গভাবে লিখছেন?'" তিনি বললেন: "হে আবু আব্দুল্লাহ! আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন। আমি আব্দুর রাজ্জাক থেকে মা'মার সূত্রে এই সহিফাহটি পূর্ণাঙ্গরূপে লিখছি এবং এটি সম্পূর্ণ মুখস্থ করছি এই জেনে যে এটি বানোয়াট (موضوعة); যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি এসে আবানের পরিবর্তে ছাবিতের নাম বসিয়ে মা'মার থেকে ছাবিত, তাঁর থেকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করতে না পারে। তখন আমি তাকে বলতে পারব: 'তুমি মিথ্যা বলেছ, এটি মূলত আবান থেকে বর্ণিত, ছাবিত থেকে নয়'।"

বাগদাদে দালাজ ইবন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আহমদ ইবন আলী আল-আব্বার আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবন মাঈন বলেছেন: "আমরা মিথ্যাবাদীদের (كذابين) থেকে হাদিস লিখেছি এবং তা দিয়ে চুলা জ্বালিয়েছি এবং তার মাধ্যমে আমরা সুপক্ব সংবাদ বের করে এনেছি।"

আল-হাকিম (রহ.) বলেন: হিজাজ, ইরাক ও শামের অধিবাসীগণ খোরাসানবাসীদের জন্য সহিহ (صحيح) হাদিসের জ্ঞানে শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য প্রদান করেন। কারণ এই জ্ঞানে দুই ইমাম—আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি এবং আবু আল-হুসাইন আন-নাইসাবুরি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং এই বিশেষ বিদ্যায় তাঁরা অনন্য ছিলেন। আল্লাহ তাআলা ইসলামের পক্ষ থেকে তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আর আমি তাঁদের উভয়ের কিতাবের ওপর ভিত্তি করে কিতাব রচনা করেছি এবং তাঁদের প্রত্যেকের সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) বর্ণনার শর্তাবলি শনাক্ত করেছি, যে বিষয়গুলোতে আমরা একমত হয়েছি এবং যেগুলোতে দ্বিমত পোষণ করেছি। ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত আলোচনা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌ذِكْرُ مَعْرِفَةِ أَنْوَاعِ الصَّحِيحِ

قَالَ لحاكم رحمه الله وَالصَّحِيحُ مِنَ الْحَدِيثِ مُنْقَسِمٌ عَلَى عَشَرَةِ أَقْسَامٍ خَمْسَةٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهَا وَخَمْسَةٌ مِنْهَا مُخْتَلَفٌ فِيهَا

فَالْقِسْمُ الْأَوَّلُ مِنَ الْمُتَّفَقِ عليها اخْتِيَارُ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ وَهُوَ الدَّرَجَةُ الْأُولَى مِنَ الصَّحِيحِ وَمِثَالُهُ الْحَدِيثُ الَّذِي يَرْوِيهِ الصَّحَابِيُّ الْمَشْهُورُ بِالرِّوَايَةِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَهُ رَاوِيَانِ ثِقَتَانِ ثُمَّ يَرْوِيهِ عَنْهُ التَّابِعِيُّ الْمَشْهُورُ بِالرِّوَايَةِ عَنِ الصَّحَابَةِ وَلَهُ رَاوِيَانِ ثِقَتَانِ ثُمَّ يَرْوِيهِ عَنْهُ مِنَ أَتْبَاعِ التَّابِعِينَ الْحَافِظُ الْمُتْقِنُ الْمَشْهُورُ وَلَهُ رُوَاةٌ ثِقَاتٌ مِنَ الطَّبَقَةِ الرَّابِعَةِ ثُمَّ يَكُونُ شَيْخُ الْبُخَارِيِّ أَوْ مُسْلِمٍ حَافِظًا مُتْقِنًا مَشْهُورًا بِالْعَدَالَةِ فِي رِوَايَتِهِ فَهَذِهِ الدَّرَجَةُ الْأُولَى مِنَ الصَّحِيحِ

وَالْأَحَادِيثُ الْمَرْوِيَّةُ بِهَذِهِ الشَّرِيطَةِ لَا يَبْلُغُ عَدَدُهَا عَشْرَةُ آلَافِ حَدِيثٍ وَقَدْ كَانَ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ أَرَادَ أَنْ يُخَرِّجَ الصَّحِيحَ عَلَى ثَلَاثَةِ أَقْسَامٍ
সহিহ (صحيح) হাদিসের প্রকারভেদ জানার বর্ণনা

হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদিসের মধ্যে সহিহ (صحيح) পর্যায়টি দশটি ভাগে বিভক্ত; এর মধ্যে পাঁচটি সর্বসম্মত এবং পাঁচটি মতভেদপূর্ণ।

সর্বসম্মত প্রকারগুলোর মধ্যে প্রথম প্রকারটি হলো ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের চয়নকৃত হাদিস, আর এটি সহিহ (صحيহ) হাদিসের প্রথম স্তর। এর উদাহরণ হলো সেই হাদিস যা এমন একজন সাহাবি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি বর্ণনার জন্য প্রসিদ্ধ এবং তাঁর থেকে দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقتان) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তাঁর থেকে এমন একজন তাবেয়ি বর্ণনা করেছেন যিনি সাহাবিদের থেকে বর্ণনার জন্য প্রসিদ্ধ এবং তাঁর থেকেও দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقتান) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। এরপর তাঁর থেকে তবে-তাবেয়িদের মধ্য থেকে এমন একজন হাফিজ (حافظ) ও সুদৃঢ় (متقن) হিসেবে প্রসিদ্ধ ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যাঁর থেকে চতুর্থ স্তরের একদল নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। অতঃপর ইমাম বুখারি অথবা ইমাম মুসলিমের উস্তাদ একজন হাফিজ (حافظ) ও সুদৃঢ় (متقن) হবেন যিনি তাঁর বর্ণনার ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) জন্য প্রসিদ্ধ। এটিই সহিহ (صحيح) হাদিসের প্রথম স্তর।

এই শর্তানুসারে বর্ণিত হাদিসগুলোর সংখ্যা দশ হাজারে পৌঁছায় না। আর মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ সহিহ (صحيح) হাদিসকে তিনটি ভাগে বের (يخرج) করতে চেয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
فِي الرُّوَاةِ وَلَمَّا فَرَغَ مِنَ هذا الْقِسْمِ الْأَوَّلِ أَدْرَكَتْهُ الْمَنِيَّةُ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَهُوَ فِي حَدِّ الْكُهُولَةِ وَكَيْفَ يَجُوزُ أَنْ يُقَالَ إِنَّ حَدِيثَهُ صلى الله عليه وسلم لَا يَبْلُغُ عَشْرَةَ آلَافِ حَدِيثٍ وَقَدْ رَوَى عَنْهُ مِنْ أَصْحَابِهِ أَرْبَعَةِ آلَافِ رَجُلٍ وَامْرَأَةٍ صَحِبَوهُ نَيِّفًا وَعِشْرِينَ سَنَةً بِمَكَّةَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ ثُمَّ بِالْمَدِينَةِ بَعْدَ الْهِجْرَةِ حَفِظُوا عَنْهُ أَقْوَالَهُ وَأَفْعَالَهُ وَنَوْمَهُ وَيَقَظَتَهُ وَحَرَكَاتِهِ وَسُكُونَهُ وَقِيَامَهُ وَقُعُودَهُ وَاجْتِهَادَهُ وَعِبَادَتَهُ وَسِيَرَهُ وَمَغَازِيَهُ وَسَرَايَاهُ وَمِزَاحَهُ وَزَجْرَهُ وَخُطَبَهُ وَأَكْلَهُ وَشُرْبَهُ وَمَشْيَهُ وَسُكُوتَهُ وَمُلَاعَبَتَهُ أَهْلِهِ وَتَأْدِيبَهُ فَرَسِهِ وَكُتُبَهُ إِلَى الْمُسْلِمِينَ وَالْمُشْرِكِينَ وَعُهُودَهُ وَمَواثِيقَهُ وَأَلْحَاظَهُ وَأَنْفَاسَهُ وَصِفَاتِهِ وَهَذَا سِوَى مَا حَفِظُوا عنه من أحكام الشرعية وَمَا سَأَلُوهُ عَنِ الْعِبَادَاتِ وَالْحَلَالِ وَالْحَرَامِ وَتَحَاكَمُوا فِيهِ إِلَيْهِ

وَقَدْ نُقِلَ إِلَيْنَا أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسِيرُ الْعُنُقَ فاذا وجد فجوة نعى وأه مَشَى عَنْ زَمِيلٍ لَهُ وَأَنَّهُ مَازَجَ صَبِيًّا فَقَالَ صلى الله عليه وسلم يَا أَبَا عُمَيْرٍ ما فعل النغيز ومازح عجوزا فقال ان الجنة
বর্ণনাকারীদের (الرواة) প্রসঙ্গে; যখন তিনি এই প্রথম অংশটি সম্পন্ন করলেন, তখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), আর তিনি তখন প্রৌঢ়ত্বের সীমায় ছিলেন। এটি বলা কীভাবে বৈধ হতে পারে যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদিস দশ হাজার হাদিসের সংখ্যায়ও পৌঁছায় না? অথচ তাঁর থেকে তাঁর সাহাবিদের (أصحابه) মধ্য হতে চার হাজার নারী ও পুরুষ বর্ণনা করেছেন (روى), যারা হিজরতের পূর্বে মক্কায় এবং হিজরতের পরে মদিনায় বিশ বছরেরও বেশি সময় তাঁর সাহচর্য লাভ করেছিলেন। তাঁরা তাঁর নিকট থেকে মুখস্থ করেছেন তাঁর বাণী, কার্যাবলি, নিদ্রা, জাগরণ, নড়াচড়া, স্থিতি, দণ্ডায়মান হওয়া, উপবেশন, ইজতিহাদ (اجتهاد), ইবাদত, তাঁর জীবনচরিত, যুদ্ধাভিযান, ছোট যুদ্ধদলসমূহ, হাস্যরস, সতর্কবার্তা, খুতবা, আহার, পানীয়, চলন, নীরবতা, পরিবার-পরিজনের সাথে হাস্য-কৌতুক, ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দান, মুসলিম ও মুশরিকদের প্রতি প্রেরিত পত্রাবলি, তাঁর প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকারসমূহ, দৃষ্টিপাত, নিশ্বাস এবং গুণাবলি। আর এটি সেসব শরয়ি বিধান (أحكام الشرعية) ব্যতিরেকে যা তাঁরা তাঁর নিকট থেকে মুখস্থ করেছেন এবং ইবাদত, হালাল ও হারাম সম্পর্কে যা তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং যেসব বিষয়ে তাঁরা তাঁর নিকট বিচারপ্রার্থী হতেন।

আমাদের নিকট বর্ণিত (نقل) হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাঝারি গতিতে চলতেন, অতঃপর যখন কোনো প্রশস্ত স্থান পেতেন তখন দ্রুত চলতেন। তিনি তাঁর এক সফরসঙ্গীর সাথে হেঁটেছিলেন এবং তিনি এক বালকের সাথে রসিকতা করে বলেছিলেন: "হে আবু উমাইর, নুগাইর (পাখিটি) কী করল?" এবং এক বৃদ্ধার সাথে রসিকতা করে বলেছিলেন যে, নিশ্চয়ই জান্নাতে...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩৫)
لا تدخلها عجوزا وَأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كان يغظ اذا نام وأه صلى الله عليه وسلم كَانَ يَرْفَعُ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ رضي الله عنه بِرِجْلَتَيْهِ فَيَقُولُ لَهُ فزقه ترق عين بقه وأه صلى الله عليه وسلم شَرِبَ وَهُوَ قَائِمٌ وَأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم بل قَائِمًا مِنْ جُرْحٍ كَانَ بِمَأْبَضَيْهِ فِي أَخْبَارٍ كَثِيرَةٍ مِنْ هَذَا النَّوْعِ يَطُولُ شَرْحُهُ

وَهَؤُلَاءِ الصَّحَابَةُ الرَّاوُونَ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم سِوَى مَنْ صَحِبُوهُ وَمَاتُوا قَبْلَهُ وَقُتِلُوا بَيْنَ الصُّفُوفِ أَوْ تَبَدَّدُوا وَلَمْ تَظْهَرْ لَهُمْ رِوَايَةٌ وَلَا حَدِيثٌ وَأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم وَقَفَ عَامَ الْفَتْحِ بِمَكَّةَ وَبَيْنَ يَدَيْهِ خَمْسَةَ عَشَرَ أَلْفَ عَنَانٍ وَقَدْ كَانَ الْوَاحِدُ مِنَ الْحُفَّاظِ يَحْفَظُ خَمْسَمِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ

سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ سَعِيدٍ الرَّازِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدَ بْنَ مُسْلِمِ بْنِ وَارِهٍ كُنْتُ عِنْدَ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بَنْيَسابُورَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ صَحَّ مِنَ الْحَدِيثِ سَبْعُمِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ وَكَسْرٍ وَهَذَا الْفَتَى يَعْنِي أَبَا زُرْعَةَ الرَّازِيَّ قَدْ حَفِظَ سِتَّمِائَةِ أَلْفٍ

سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ جَعْفَرٍ الْمُزَكِّي يَقُولُ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ بْنَ خُزَيْمَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ خَشْرَمٍ يَقُولُ كَانَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ رَاهَوَيْهِ يُمْلِي سَبْعِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ حِفْظًا

سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنِ أَبِي دَارِمٍ الْحَافِظَ بالكوفة يقول سمعت أبا
জান্নাতে কোনো বৃদ্ধা প্রবেশ করবেন না; এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ঘুমাতেন তখন নিঃশ্বাসের শব্দ করতেন। তিনি হাসান ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নিজের দুই পায়ের ওপর তুলতেন এবং তাকে বলতেন, "উপরে ওঠো, হে ক্ষুদ্র পতঙ্গের চোখের মতো চোখওয়ালা।" তিনি দাঁড়িয়ে পান করতেন এবং তাঁর হাঁটুর পেছনের একটি ক্ষতের কারণে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছিলেন—এ জাতীয় অসংখ্য সংবাদ (أخبار) বর্ণিত রয়েছে যার ব্যাখ্যা দীর্ঘ হবে।

এঁরা হলেন সেই সকল সাহাবী যারা তাঁর থেকে বর্ণনা (رواية) করেছেন, তাঁদের ব্যতীত যারা তাঁর সাহচর্য পেয়েছিলেন এবং তাঁর পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন কিংবা যুদ্ধের সারিতে শহীদ হয়েছেন অথবা তাঁরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁদের কোনো বর্ণনা (رواية) বা হাদিস প্রকাশ পায়নি। মক্কা বিজয়ের বছর তিনি যখন মক্কায় অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর সামনে পনেরো হাজার অশ্বারোহী ছিল। অথচ তৎকালীন হাফেজদের (الحفاظ) মধ্যে একেকজন পাঁচ লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন।

আমি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ আর-রাজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারাহকে বলতে শুনেছি: আমি নিশাপুরে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিমের নিকট ছিলাম, তখন ইরাকের একজন লোক বলল, আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি যে, সাত লক্ষাধিক হাদিস সহিহ (صح) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। আর এই যুবক—অর্থাৎ আবু জুরআহ আর-রাজি—ছয় লক্ষ হাদিস মুখস্থ করেছেন।

আমি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-মুযাক্কিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাকে বলতে শুনেছি: আমি আলী ইবনে খাশরামকে বলতে শুনেছি যে, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম রাহওয়াই মুখস্থ থেকে সত্তর হাজার হাদিস ইমলা বা শ্রুতিলিপি করাতেন।

আমি কুফার হাফেজ (الحافظ) আবু বকর ইবনে আবি দারিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩৬)
الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْحَافِظَ يَقُولُ أَحْفَظُ لِأَهْلِ البيت ثلاثمائة أَلْفِ حَدِيثٍ

سَمِعْتُ أَبَا عَلِيٍّ الْحَافِظَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ ظَهَرَ لِأَبِي كريب بالكوفة ثلاثمائة أَلْفِ حَدِيثٍ

سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ أَبِي دَارِمٍ يَقُولُ كَتَبْتُ بأصابعى عن أبى جعفر الخضرمى مُطَيِّنٍ مِائَةَ أَلْفِ حَدِيثٍ

سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنَ مُحَمَّدِ بن يحيى يقول سمعت محمد بن الْمُسَيَّبِ الْأَرْغِيَانِيَّ يَقُولُ كُنْتُ أَمْشِي بِمِصْرَ وَفِي كُمِّي مِائَةُ جُزْءٍ فِي كُلِّ جُزْءٍ أَلْفُ حَدِيثٍ

قَالَ الْحَاكِمُ رحمه الله وَقَدْ كَانَ فِي عَصْرِنَا جَمَاعَةٌ بَلَغَ الْمُسْنَدُ الْمُصَنَّفُ لَهُ عَلَى تَرَاجِمِ الرِّجَالِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ أَلْفُ جُزْءٍ مِنْهُمْ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَمْزَةَ الْأَصْفَهَانِيُّ وَأَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمَاسَرْجِيُّ

الْقِسْمُ الثَّانِي من الصحيح المتفق عليها الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ بِنَقْلِ الْعَدْلِ عَنِ الْعَدْلِ رَوَاهُ الثِّقَاتُ الْحُفَّاظُ إِلَى الصَّحَابِيِّ وَلَيْسَ لِهَذَا الصَّحَابِيِّ إِلَّا رَاوٍ وَاحِدٍ وَمِثَالُ ذَلِكَ حَدِيثُ عُرْوَةَ بْنِ مُضَرِّسٍ الطَّائِيِّ أَنَّهُ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِالْمُزْدَلِفَةِ فُقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَيْتُ من جبلى طيىء أتعبت
আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ হাফেজ (الحافظ) বলতেন, "আমি আহলে বাইতের তিন লক্ষ হাদিস মুখস্থ রেখেছি।"

আমি আবু আলী হাফেজকে (الحافظ) বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবুল আব্বাস বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি যে, কুফায় আবু কুরাইবের নিকট থেকে তিন লক্ষ হাদিস প্রকাশিত হয়েছে।

আমি আবু বকর বিন আবু দারিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, "আমি আবু জাফর আল-খাদরামি মুতায়্যিনের নিকট থেকে নিজ হাতে এক লক্ষ হাদিস লিখেছি।"

আমি আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়্যিব আল-আরগিয়ানিকে বলতে শুনেছি যে, "আমি মিশরে হাঁটছিলাম আর আমার আস্তিনে একশটি খণ্ড (جزء) ছিল, যার প্রতিটি খণ্ডে এক হাজার করে হাদিস ছিল।"

আল-হাকিম (রহঃ) বলেন, আমাদের যুগে এমন একদল লোক ছিলেন যাঁদের প্রত্যেকের জন্য বর্ণনাকারীদের জীবনী (تراجم الرجال) ভিত্তিক সংকলিত মুসনাদ এক হাজার খণ্ড (جزء) পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তাঁদের মধ্যে আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন হামজাহ আল-আস্পাহানি এবং আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মাসারজি অন্যতম।

সর্বসম্মত সহিহ (صحيح) হাদিসের দ্বিতীয় প্রকার হলো: এমন সহিহ (صحيح) হাদিস যা একজন ন্যায়পরায়ণ (العدل) বর্ণনাকারী অপর একজন ন্যায়পরায়ণ (العدل) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন, যা নির্ভরযোগ্য (الثقات) হাফেজগণ (الحفاظ) সাহাবি (صحابي) পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন, অথচ উক্ত সাহাবির (صحابي) মাত্র একজন বর্ণনাকারী (راو) রয়েছেন। এর উদাহরণ হলো উরওয়াহ বিন মুদাররিস আত-তায়ীর হাদিস, যেখানে তিনি বলেন, "আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি মুজদালিফায় ছিলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি তায়্য-এর দুই পাহাড় থেকে এসেছি, আমি পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি..."
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩৭)
نَفْسِي وَأَكْلَلْتُ مَطِيَّتِي وَاللَّهِ مَا تَرَكْتُ مِنْ جَبَلٍ إِلَّا وَقَدْ وَقَفْتُ عَلَيْهِ فَهَلْ لِي مِنْ حَجٍّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم منصلى مَعَنَا هَذِهِ الصَّلَاةَ وَقَدْ أَتَى عَرَفَةَ قَبْلَ ذَلِكَ بِيَوْمٍ أَوْ لَيْلَةٍ فَقَدْ تَمَّ حَجُّهُ وَقَضَى تَفَثَهُ

قَالَ الْحَاكِمُ وَهَذَا حَدِيثٌ من أصول الشريعة مقبول متد اول بَيْنَ فُقَهَاءِ الْفَرِيقَيْنِ وَرُوَاتُهُ كُلُّهُمْ ثِقَاتٌ وَلَمْ يُخْرِجْهُ الْبُخَارِيُّ وَلَا مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحَيْنِ إِذْ لَيْسَ لَهُ رَاوٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ مُضَرَّسٍ غَيْرُ الشَّعَبِيِّ

وَشَوَاهِدُ هَذَا كَثِيرَةٌ فِي الصَّحَابَةِ كُعُمَيْرِ بْنِ قَتَادَةَ اللَّيْثِيِّ لَيْسَ لَهُ رَاوٍ غَيْرُ ابْنِهِ عُبَيْدٍ وَأَبِي لَيْلَى الْأَنْصَارِيِّ لَيْسَ لَهُ رَاوٍ غَيْرُ أَبِيهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَقَيْسِ بْنِ أبى أَبِي غَرْزَةَ الْغِفَارِيِّ عَلَى كَثْرَةِ رِوَايَتِهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ لَهُ رَاوٍ غَيْرُ أَبِي وَائِلٍ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ وَأَبُو وَائِلٍ مِنْ أَجِلَّةِ التَّابِعِينَ بِالْكُوفَةِ أَدْرَكَ عُمَرَ وَعُثْمَانَ وَعَلِيًّا رضي الله عنهم فَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ الصَّحَابَةِ وَأَسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ وَقُطْبَةَ بْنِ مَالِكٍ عَلَى اشْتِهَارِهِمَا فِي الصَّحَابَةِ وَلَيْسَ لَهُمَا رَاوٍ غَيْرُ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ وَهُوَ مِنْ كِبَارِ التَّابِعِينَ ومرادس بن مالك الاسلمى والمستورد ابن شَدَّادٍ الْفِهْرِيِّ وَدُكَيْنِ بْنِ سَعِيدٍ الْمُزَنِيِّ كُلِّهِمْ مِنَ الصَّحَابَةِ وَلَيْسَ لهم راو غير قيس
...নিজেকে এবং আমার সওয়ারিকেও ক্লান্ত করে ফেলেছি। আল্লাহর কসম, আমি এমন কোনো পাহাড় ছাড়িনি যার ওপর আমি অবস্থান করিনি; সুতরাং আমার কি হজ হবে? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যে ব্যক্তি আমাদের সাথে এই নামাজ আদায় করল এবং এর আগে দিনে বা রাতে আরাফায় অবস্থান করল, তার হজ পূর্ণ হলো এবং সে তার আবশ্যিক কার্যাদি সম্পন্ন করল।"

ইমাম আল-হাকিম বলেন, এই হাদিসটি শরীয়তের অন্যতম মূল ভিত্তি, যা উভয় পক্ষের ফকিহদের নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও প্রচলিত। এর বর্ণনাকারীদের সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقات)। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম তাদের সহিহাইনে এটি বর্ণনা করেননি, কারণ শাবী ছাড়া উরওয়াহ ইবনে মুদাররিস থেকে অন্য কোনো বর্ণনাকারী নেই।

সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে এর বহু সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে; যেমন: উমাইর ইবনে কাতাদাহ আল-লাইসি, যার ছেলে উবায়েদ ছাড়া আর কোনো বর্ণনাকারী নেই; এবং আবু লায়লা আল-আনসারী, যার পিতা আবদুর রহমান ছাড়া আর কোনো বর্ণনাকারী নেই; এবং কায়েস ইবনে আবি গারজাহ আল-গিফারী, যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করা সত্ত্বেও আবু ওয়াইল শাকিক ইবনে সালামাহ ছাড়া তাঁর অন্য কোনো বর্ণনাকারী নেই। আর আবু ওয়াইল কুফার প্রখ্যাত তাবেয়ী (تابعين) ছিলেন, তিনি উমর, উসমান, আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদের পরবর্তী সাহাবায়ে কেরামের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। এছাড়াও উসামাহ ইবনে শারিক এবং কুতবাহ ইবনে মালিক, সাহাবীদের মধ্যে তাঁদের প্রসিদ্ধি থাকা সত্ত্বেও জিয়াদ ইবনে ইলাকাহ ছাড়া তাঁদের আর কোনো বর্ণনাকারী নেই, আর তিনি জ্যেষ্ঠ তাবেয়ী (تابعين) ছিলেন। মুরাদিস ইবনে মালিক আল-আসলামী, আল-মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ আল-ফিহরি এবং দুকাইন ইবনে সাঈদ আল-মুযানী—তাঁরা সকলেই সাহাবী ছিলেন অথচ কায়েস ছাড়া তাঁদের অন্য কোনো বর্ণনাকারী নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩৮)
بن أبى حازم ونو من كبار التابعين أدرك أبابكر وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ وَعَلِيًّا رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ وَوُلِدَ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

والشواهد لماذكرناه كَثِيرَةٌ وَلَمْ يُخَرِّجِ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ هَذَا النَّوْعَ مِنَ الْحَدِيثِ فِي الصَّحِيحِ وَالْأَحَادِيثُ مُتَدَاوَلَةٌ بَيْنَ الْفَرِيقَيْنِ مُحْتَجٌّ بِهَذِهِ الْأَسَانِيدِ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا

القسم الثالث الصحيح المتفق عليها أَخْبَارُ جَمَاعَةٍ مِنَ التَّابِعِينَ عَنِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعُونَ ثِقَاتٌ إِلَّا أَنَّهُ لَيْسَ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ إِلَّا الرَّاوِي الْوَاحِدُ مِثْلُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْين وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ فَرُّوخٍ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْبَدٍ وَزِيَادِ بْنِ الْحَرْثِ وَغَيْرِهِمْ لَيْسَ لَهُمْ رَاوٍ غَيْرُ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ وَهُوَ إِمَامُ أَهْلِ مَكَّةَ وَكَذَلِكَ الزُّهْرِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ تَفَرَّدَ بِالرِّوَايَةِ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ التَّابِعِينَ مِنْهُمْ عَمْرِو بْنِ أَبَانِ بْنِ عُثْمَانَ وَمُحَمَّدِ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ وَعُقْبَةَ بْنِ سُوَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ وَسِنَانِ بْنِ أَبِي سِنَانٍ الدُّؤَلِيِّ وغيرهم وقدتفرد يَحْيَي بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ التَّابِعِينَ بِالرِّوَايَةِ مِنْهُمْ يُوسُفَ بْنِ مَسْعُودٍ الزُّرَقِيِّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ الْأَنْصَارِيِّ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمُغِيرَةِ وَغَيْرِهِمْ وَلَيْسَ فِي الصَّحِيحِ مِنْ هَذِهِ الرِّوَايَاتِ شَيْءٌ وَكُلُّهَا صَحِيحَةٌ بِنَقْلِ الْعَدْلِ عَنِ الْعَدْلِ مُتَدَاوَلَةٌ بَيْنَ الْفَرِيقَيْنِ محتج بها
ইবনে আবি হাজেম, তিনি উচ্চপদস্থ তাবেয়ীগণের (تابعين) অন্তর্ভুক্ত। তিনি আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে জন্মগ্রহণ করেছেন।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সমর্থনে অনেক প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য (شواهد) রয়েছে। ইমাম বুখারী ও মুসলিম এই প্রকারের হাদিস তাদের সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেননি। তবে এই হাদিসগুলো উভয় দলের আলেমদের নিকট প্রচলিত এবং আমাদের বর্ণিত এই সনদগুলোর (أسانيد) মাধ্যমে এগুলো দলিল হিসেবে গৃহীত।

তৃতীয় প্রকার হলো সর্বসম্মত সহীহ (صحيح); যা সাহাবীগণের সূত্রে তাবেয়ীগণের (تابعين) একটি জামাতের বর্ণনা। আর সেই তাবেয়ীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে তাঁদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে মাত্র একজন করেই বর্ণনাকারী (راو) রয়েছেন। যেমন: মুহাম্মদ ইবনে হুনাইন, আবদুর রহমান ইবনে ফাররুখ, আবদুর রহমান ইবনে মাবাদ, যিয়াদ ইবনে হারিস এবং অন্যান্যরা। আমর ইবনে দীনার ব্যতীত তাঁদের আর কোনো বর্ণনাকারী নেই, আর তিনি (আমর) মক্কাবাসীদের ইমাম। অনুরূপভাবে যুহরী মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম একদল তাবেয়ীর (تابعين) নিকট থেকে বর্ণনায় একক (تفرد) হয়েছিলেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আমর ইবনে আবান ইবনে উসমান, মুহাম্মদ ইবনে উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের, উকবা ইবনে সুওয়াইদ আল-আনসারী, সিনান ইবনে আবি সিনান আদ-দুয়ালী এবং আরও অনেকে। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারীও একদল তাবেয়ীর (تابعين) থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে একক (تفرد) ছিলেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইউসুফ ইবনে মাসউদ আজ-জুরাকী, আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস আল-আনসারী, আবদুর রহমান ইবনে মুগীরা এবং অন্যান্যরা। সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে এই বর্ণনাগুলোর কিছুই নেই, অথচ ন্যায়পরায়ণ (عدل) রাবীর মাধ্যমে ন্যায়পরায়ণ (عدل) রাবীর বর্ণনা হিসেবে এগুলো সবই বিশুদ্ধ (صحيحة)। এগুলো উভয় দলের নিকট প্রচলিত এবং দলিল হিসেবে গৃহীত।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৩৯)
الْقِسْمُ الرَّابِعُ مِنَ الصَّحِيحِ الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ هَذِهِ الْأَحَادِيثُ الْأَفْرَادُ الْغَرَائِبُ الَّتِي يَرْوِيهَا الثِّقَاتُ الْعُدُولُ تَفَرَّدَ به ثِقَةٌ مِنَ الثِّقَاتِ وَلَيْسَ لَهَا طُرُقٌ مُخَرَّجَةٌ فِي الْكُتُبِ مِثْلُ حَدِيثِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا انْتَصَفَ شَعْبَانُ فَلَا تَصُومُوا حَتَّى يَجِيءَ رَمَضَانُ

وَقَدْ خَرَّجَ مُسْلِمٌ أَحَادِيثَ الْعَلَاءِ أَكْثَرَهَا فِي الصَّحِيحِ وَتَرَكَ هَذَا وَأَشْبَاهَهُ مِمَّا تَفَرَّدَ بِهِ الْعَلَاءُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَكَذَلِكَ حَدِيثُ أَيْمَنَ بْنِ نَابِلٍ الْمَكِّيِّ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي التَّشَهُّدِ بِسْمِ اللَّهِ وَبِاللَّهِ

قَالَ الْحَاكِمُ رحمه الله وَأَيْمَنُ بْنُ نَابِلٍ ثِقَةٌ مُخَرَّجٌ حَدِيثُهُ فِي الصحيح البخارى ولم يخرج هذه الْحَدِيثَ إِذْ لَيْسَ لَهُ مُتَابِعٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ مِنْ وَجْهٍ الصحيح

وَحَدِيثُ أَبِي أُسَامَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عائشة رضى الله عنها أها قَالَتْ طُبَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى كَانَ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهُ يَفْعَلُ الشَّيْءَ وَلَا يَفْعَلُهُ

قَالَ الْحَاكِمُ هَذَا الْحَدِيثُ مُخَرَّجٌ فِي الصَّحِيحِ وَهُوَ شاذ بمرة وكذلك حديث أبى زكير يحى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ وَهُوَ ثِقَةٌ مُخَرَّجٌ حَدِيثُهُ فِي كِتَابِ مُسْلِمٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أنها
সর্বসম্মত সহীহ (صحيح) পর্যায়ের চতুর্থ প্রকার হলো সেই একক (أفراد) ও বিরল (غرائب) হাদিসসমূহ যা নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও ন্যায়পরায়ণ (عدول) বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে কোনো একজন তা এককভাবে বর্ণনা (تفرّد) করেছেন এবং হাদিসের গ্রন্থসমূহে এর অন্য কোনো উদ্ধৃত সূত্র (طرق) নেই। উদাহরণস্বরূপ: আলা ইবন আবদুর রহমানের হাদিস, যা তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যখন শাবান মাস অর্ধেক হয়ে যায়, তখন রমজান না আসা পর্যন্ত তোমরা রোজা রেখো না।"

ইমাম মুসলিম আলা-এর অধিকাংশ হাদিস সহীহ মুসলিমে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এই হাদিসটি এবং এর সদৃশ অন্যান্য বর্ণনা বর্জন করেছেন যা আলা এককভাবে (تفرّد) তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে আয়মান ইবন নাবিল আল-মাক্কী-এর হাদিস, যা তিনি আবু যুবাইর থেকে এবং তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাশাহহুদে 'বিসমিল্লাহি ওয়া বিল্লাহ' বলতেন।

আল-হাকিম (রহ.) বলেন: আয়মান ইবন নাবিল একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী, তার বর্ণিত হাদিস সহীহ বুখারীতে গৃহীত হয়েছে। তবে তিনি এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি, যেহেতু সহীহ (صحيح) পন্থায় আবু যুবাইর থেকে এর কোনো সমর্থক বর্ণনাকারী (متابع) নেই।

এবং আবু উসামার হাদিস যা হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর যাদুর প্রভাব হয়েছিল, যার ফলে তার কাছে মনে হতো যে তিনি কোনো কাজ করেছেন অথচ তিনি তা করেননি।"

আল-হাকিম বলেন: এই হাদিসটি সহীহ গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে, তবে এটি অত্যন্ত শায (شاذ)। অনুরূপভাবে আবু যুকাইর ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ ইবন কাইস-এর হাদিস—যিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী এবং যার হাদিস সহীহ মুসলিমে উদ্ধৃত হয়েছে—যা তিনি হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৪০)
قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كُلُوا الْبَلَحَ بالتمر قان الشَّيْطَانَ إِذَا رَآهُ قَالَ عَاشَ ابْنُ آدَمَ حَتَّى أَكَلَ الْجَدِيدَ بِالْخَلِقِ

قَالَ الْحَاكِمُ وَشَوَاهِدُ هَذَا الْقِسْمِ كَثِيرَةٌ كُلُّهَا صَحِيحَةُ الْإِسْنَادِ غير مخرجة فى الكتابيين يُسْتَدَلُّ بِالْقَلِيلِ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ عَلَى الْكَثِيرِ الَّذِي تَرَكْنَاهُ

الْقِسْمُ الْخَامِسُ مِنَ الصَّحِيحِ الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ أَحَادِيثُ جَمَاعَةٍ مِنَ الْأَئِمَّةِ عَنْ آبَائِهِمْ عن أجدادهم ولم يتواتر الرِّوَايَةُ عَنْ آبَائِهِمْ وَأَجْدَادِهِمْ إِلَّا عَنْهُمْ كَصَحِيفَةِ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ وَجَدِّ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جده أياس بْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ الْمُزَنِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ وَجَدِّ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ مُعَاوِيَةُ بْنُ حَيْدَةَ الْقُشَيْرِيُّ وَجَدُّ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ السَّهْمِيُّ وَجَدُّ إِيَاسِ ابن مُعَاوِيَةَ وقُرَّةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ

قَالَ الْحَاكِمُ رحمه الله جماعتهم صحابيون وأحفادهم ثقات والاحاديث على كثرتها مجتج بها فى كتب العلماء
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা শুকনো খেজুরের সাথে কাঁচা খেজুর ভক্ষণ করো; কেননা শয়তান যখন তা দেখে তখন সে বলে, আদম সন্তান জীবিত রয়েছে যে সে পুরাতন (শুকনো) এর সাথে নতুন (কাঁচা) খেয়েছে।

আল-হাকিম বলেন, এই প্রকারের সমর্থনমূলক বর্ণনা (شواهد) অনেক রয়েছে, যেগুলোর প্রতিটিই সহিহ (صحيحة) সনদ (الإسناد) বিশিষ্ট, যা দুই কিতাবে (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণিত হয়নি। আমরা যে অল্প কিছু উল্লেখ করেছি, তার মাধ্যমে আমরা যা বর্জন করেছি সেই আধিক্যের ওপর দলিল পেশ করা যায়।

সর্বসম্মত (المتفق عليه) সহিহ (صحيح) হাদিসের পঞ্চম প্রকার হলো একদল ইমামদের হাদিস যারা তাদের পিতা ও পিতামহ হতে বর্ণনা করেছেন, এবং তাদের পিতা ও পিতামহ হতে তাদের ব্যতীত অন্য কারো বর্ণনা মুতাওয়াতির (تواتر) হিসেবে আসেনি। যেমন: আমর ইবনে শুআইবের সহিফা যা তিনি তার পিতা হতে ও তিনি তার পিতামহ হতে বর্ণনা করেছেন; এবং বাহজ ইবনে হাকিম তার পিতা হতে ও তিনি তার পিতামহ হতে বর্ণনা করেছেন; এবং ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ আল-মুযানী তার পিতা হতে ও তিনি তার পিতামহ হতে বর্ণনা করেছেন। আর বাহজ ইবনে হাকিমের পিতামহ হলেন মুয়াবিয়া ইবনে হাইদাহ আল-কুশাইরি, আমর ইবনে শুআইবের পিতামহ হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস আস-সাহমি এবং ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়ার পিতামহ হলেন কুররাহ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুযানী।

আল-হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাদের এই দলটি সাহাবি (صحابيون) এবং তাদের বংশধরগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। এই হাদিসগুলো অধিক পরিমাণে থাকা সত্ত্বেও আলেমগণের কিতাবসমূহে দলিলযোগ্য (مجتج) হিসেবে গৃহীত।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَقَالَ أَيْضًا فَهَذِهِ الْأَقْسَامُ الْخَمْسَةُ مُخَرَّجَةٌ فِي كُتُبِ الْأَئِمَّةِ مُحْتَجٌّ بِهَا وَإِنْ لَمْ يُخَرَّجْ فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْهَا حَدِيثٌ لِمَا بَيَّنَّاهُ فى كل قسم منها
তিনি আরও বলেছেন: "সুতরাং এই পাঁচটি প্রকার (أقسام) ইমামগণের গ্রন্থসমূহে সংকলিত (مخرجة) এবং এগুলো দলিলযোগ্য (محتج بها), যদিও সহিহায়নে এগুলোর কোনো হাদিস সংকলিত (يخرج) হয়নি; যেহেতু আমরা এর প্রতিটি প্রকারের ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।"
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَأَمَّا الْأَقْسَامُ الْخَمْسَةُ الْمَخْتَلَفُ فِي صِحَّتِهَا فَالْقِسْمُ الْأَوَّلُ مِنْهَا الْمَرَاسِيلُ

وَهُوَ قَوْلُ الْإِمَامِ التَّابِعِيِّ أَوْ تَابِعِ التَّابِعِيِّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَهُ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرْنٌ أَوْ قَرْنَانِ وَلَا يَذْكُرُ سَمَاعَهُ فِيهِ مِنَ الَّذِي سَمِعَهُ فَهَذِهِ أَحَادِيثُ صَحِيحَةٌ عِنْدَ جَمَاعَةِ أَئِمَّةِ أَهْلِ الْكُوفَةِ كَإِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ النَّخَعِيِّ وَحَمَّادِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ وَأَبِي حَنِيفَةَ النُّعْمَانِ بْنِ ثَابِتٍ وَأَبِي يُوسُفَ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْقَاضِي وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الشَّيْبَانِيِّ فَمَنْ بَعْدَهَمُ مِنْ أَئِمَّتِهِمْ مُحْتَجٌّ بِهَا عِنْدَ جَمَاعَتِهِمْ وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ إِنَّهُ أَصَحُّ مِنَ المتصل المسند قان التَّابِعِيَّ إِذَا رَوَى الْحَدِيثَ عَنِ الَّذِي سَمِعَهُ أَحَالَ الرِّوَايَةَ عَلَيْهِ وَإِذَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ لَا يَقُولُهُ إِلَّا بَعْدَ اجْتِهَادٍ فِي مَعْرِفَةِ صِحَّتِهِ

وَالْمَرَاسِيلُ كُلُّهَا وَاهِيَةٌ عِنْدَ جَمَاعَةِ أَهْلِ الْحَدِيثِ مِنْ فُقَهَاءِ الْحِجَازِ غَيْرُ مُحْتَجٌّ بِهَا وَهُوَ قَوْلُ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ وَمُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ الْأَصْبَحِيِّ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو الْأَوْزَاعِيِّ وَمُحَمَّدِ بْنِ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ فَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنْ فُقَهَاءِ الْمَدِينَةِ وَحُجَّتُهُمْ فِيهِ كِتَابُ اللَّهِ عز وجل وَسُنَّةُ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ قَوْلُهُ سبحانه وتعالى فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فى الدين ولينذروا
আর যে পাঁচটি প্রকারের বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে মতভেদ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রথম প্রকার হলো মুরসাল হাদিসসমূহ (المراسيل)।

আর তা হলো কোনো ইমাম তাবিঈ (التابعي) বা তাবিউত তাবিঈর (تابعي التابعي) এই উক্তি যে, 'রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন', অথচ তাঁর এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মাঝে এক বা দুই প্রজন্মের ব্যবধান রয়েছে এবং যাঁর থেকে তিনি হাদিসটি শুনেছেন তাঁর কথা তিনি উল্লেখ করেননি। সুতরাং এগুলো কুফার একদল ইমামের নিকট সহিহ (صحيحة) হাদিস; যেমন— ইব্রাহিম বিন ইয়াজিদ আন-নাখয়ী, হাম্মাদ বিন আবি সুলায়মান, আবু হানিফা নুমান বিন সাবিত, আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম আল-কাজি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আশ-শাইবানী। তাঁদের পরবর্তী এই ইমামগণও তাঁদের সম্মিলিত মতে এগুলোকে দলিলযোগ্য (محتج) হিসেবে গণ্য করেন। তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ আছেন যাঁরা বলেছেন যে, এটি মুত্তাসিল (المتصل) ও মুসনাদ (المسند) হাদিসের চেয়েও অধিক বিশুদ্ধ (أصح)। কেননা তাবিঈ (التابعي) যখন যাঁর থেকে শুনেছেন তাঁর সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেন, তখন তিনি বর্ণনার দায়ভার তাঁর ওপর সোপর্দ করেন; কিন্তু যখন তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন', তখন তিনি তা হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাইয়ে ইজতিহাদ করার পরেই কেবল বলেন।

পক্ষান্তরে হিজাজের ফকিহগণের মধ্য থেকে আহলে হাদিস জামাআতের নিকট সকল মুরসাল হাদিস (المراسيل) দুর্বল (واهية) এবং তা দলিলযোগ্য নয় (غير محتج بها)। এটি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, মুহাম্মদ বিন মুসলিম আজ-জুহরি, মালিক বিন আনাস আল-আসবাহি, আব্দুর রহমান বিন আমর আল-আওজায়ী, মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিঈ এবং আহমদ বিন হাম্বল—এমনকি তাঁদের পরবর্তী মদিনার ফকিহদেরও অভিমত। এ বিষয়ে তাঁদের দলিল হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সা.) সুন্নাহ। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে..."
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৪৪)
قومهم اذا رجعوا اليهم فَقَرَنَ تبارك وتعالى الرِّوَايَةَ بِالسَّمَاعِ مِنْ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ أَدَائِهِ إِلَى مَنْ وَرَاءهُ وَهَكَذَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي خُطَبٍ ذَوَاتِ عَدَدٍ نَضَّرَ اللَّهُ امراء سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا حَتَّى يُؤَدِّيهَا إِلَى مَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا

حدثنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ يَحْيَي الْأَزَامِيُّ بِبَغْدَادَ قَالَ حدثنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ حدثنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَخِيهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَسْمَعُونَ وَيُسْمَعُ مِنَ الَّذِينَ يَسْمَعُونَ مِنْكُمْ وَيُسْمَعُ مِنَ الَّذِينَ يَسْمَعُونَ مِنَ الَّذِينَ يَسْمَعُونَ مِنْكُمْ ثُمَّ يَأْتِي مِنْ بعد ذلك قوما سِمَانٌ يُحِبُّونَ السَّمْنَ وَيَشْهَدُونَ قَبْلَ أَنْ يُسْئلُوا

حدثنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ حدثنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ حدثنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخبرنِي مَسْلَمَةُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ حِزَامِ بْنِ حَكِيمٍ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حدثوا عنى كما سمعتم
তাদের সম্প্রদায়কে যখন তারা তাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বর্ণনাকে (الرواية) তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শ্রবণের (السماع) সাথে এবং পরবর্তীতে তা অন্যের নিকট পৌঁছে দেওয়ার (الأداء) সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। এভাবেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বহুসংখ্যক ভাষণে বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে এবং তা স্মরণ রেখেছে যতক্ষণ না সে তা এমন ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয় (يؤديها) যে তা শোনেনি।"

বাগদাদে আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে উসমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-আজামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মাদ ইবনে ইমরান ইবনে আবি লায়লা তাঁর ভাই আবদুর রহমানের সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি সাবিত ইবনে কায়েস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা শ্রবণ করছ, এবং তোমাদের নিকট থেকে যারা শ্রবণ করছে তাদের থেকেও শ্রবণ করা হবে, এবং যারা তোমাদের নিকট থেকে শ্রবণকারীদের থেকে শ্রবণ করছে তাদের থেকেও শ্রবণ করা হবে। এরপর এমন এক জনসমষ্টি আসবে যারা স্থূলকায় হবে, তারা স্থূলতা পছন্দ করবে এবং জিজ্ঞাসিত হওয়ার আগেই সাক্ষ্য প্রদান করবে।"

আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল হাকাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মাসলামা ইবনে আলী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) যায়েদ ইবনে ওয়াকিদ থেকে, তিনি হিজাম ইবনে হাকিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো যেভাবে তোমরা শ্রবণ করেছ।"
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৪৫)
حدثنَا عَلِيُّ بْنُ شَاذَانَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ سَعِيدِ بْنِ صَخْرٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ الطَّالْقَانِيَّ يَقُولُ سَأَلْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ قُلْتُ الْحَدِيثُ الَّذِي يُقَالُ مَنْ صلى على أبويى فَقَالَ مَنْ رَوَاهُ قُلْتُ شِهَابُ بْنُ خِرَاشٍ فَقَالَ ثِقَةٌ قُلْتُ عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ فَقَالَ ثِقَةٌ عَمَّنْ فَقُلْتُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ بَيْنَ الْحَجَّاجِ بنِ دِينَارٍ وَبَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَفَازَةٌ تَنْقَطِعُ فِيهَا أَعْنَاقُ الْإِبِلِ

الْقِسْمُ الثَّانِي مِنَ الصَّحِيحِ الْمُخْتَلَفِ فِي صِحَّتِهِ رِوَايَاتُ الْمُدَلِّسِينَ إِذَا لَمْ يَذْكُرُوا أَسْمَاعَهُمْ فِي الرِّوَايَةِ فَإِنَّهَا صَحِيحَةٌ عِنْدَ جَمَاعَةَ مَنْ ذَكَرْنَاهُمْ مِنْ أَئِمَّةِ أَهْلِ الْكُوفَةِ غَيْرُ صَحِيحَةٍ عِنْدَ جَمَاعَةِ مَنْ قَدَّمْنَا ذِكْرَهُمْ مِنْ أَئِمَّةِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَمَعْنَى التَّدْلِيسِ أَنْ يَقُولَ قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَهُوَ إِمَامٌ مِنْ أَئِمَّةِ أَهْلِ مَكَّةَ قَالَ الزُّهْرِيُّ حدثنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ أَوْ يَقُولَ قَالَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ سَمِعْتُ جَابِرًا

وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ مَشْهُورٌ سَمَاعُهُ مِنْهُمَا جَمِيعًا إِلَّا إِنَّهُ لَمْ يَذْكُرِ السَّمَاعَ فِي هَذِهِ الرِّوَايَةِ وَقَدْ عُرِفَ بِأَنَّهُ يُدَلِّسُ فِيمَا يَفُوتُهُ سَمَاعُهُ كَمَا حدثنَاهُ أَبُو الطَّيِّبِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَرَابِيسِيُّ قَالَ حدثنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ المروزى قال حدثنا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ قَالَ كُنَّا عِنْدَ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ فِي مَجْلِسِهِ فَقَالَ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَقِيلَ لَهُ حدثكُمُ الزُّهْرِيُّ فَسَكَتَ ثُمَّ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَقِيلَ لَهُ سَمِعْتُهُ مِنَ الزُّهْرِيِّ فَقَالَ لَا لَمْ أسمعه من
আলী বিন শাযান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আহমদ বিন সাঈদ বিন সাখরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু ইসহাক আত-তালকানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে জিজ্ঞাসা করেছি, আমি বললাম: সেই হাদিসটি সম্পর্কে কী বলবেন যাতে বলা হয়েছে "যে ব্যক্তি তার পিতামাতার জন্য দোয়া করে..."? তিনি বললেন: "এটি কে বর্ণনা করেছেন?" আমি বললাম: "শিহাব বিন খিরাশ।" তিনি বললেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة)।" আমি বললাম: "হাজ্জাজ বিন দীনারের সূত্রে।" তিনি বললেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة)। কার থেকে?" আমি বললাম: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।" তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই হাজ্জাজ বিন দীনার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝখানে এমন এক বিশাল প্রান্তর রয়েছে যাতে উটের গর্দান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।"

সহিহ (صحيح) হাদিসের দ্বিতীয় প্রকার হলো সেই সকল বর্ণনা যেগুলোর বিশুদ্ধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; যেমন তাদলীসকারী বা ত্রুটি গোপনকারীদের (مدلسين) বর্ণনা, যখন তারা বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি উল্লেখ করেন না। আমাদের উল্লিখিত কুফার একদল ইমামের নিকট এই বর্ণনাগুলো সহিহ (صحيحة), তবে আমরা যাদের কথা আগে উল্লেখ করেছি মদিনার সেই সকল ইমামদের নিকট এগুলো সহিহ নয় (غير صحيحة)। তাদলীসের (تدليس) অর্থ হলো, যেমন সুফিয়ান বিন উয়াইনা—যিনি মক্কার ইমামগণের মধ্যে অন্যতম একজন ইমাম—তিনি বলবেন: "জুহরী বলেছেন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন," অথবা বলবেন: "আমর বিন দীনার বলেছেন: আমি জাবিরকে বলতে শুনেছি।"

আর সুফিয়ান বিন উয়াইনার ক্ষেত্রে তাঁদের উভয়ের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করা সুপ্রসিদ্ধ, কিন্তু তিনি এই নির্দিষ্ট বর্ণনায় সরাসরি শ্রবণের কথা উল্লেখ করেননি। তিনি যা সরাসরি শুনতে পাননি সে বিষয়ে তাদলীস (يدلس) করার জন্য পরিচিত ছিলেন। যেমনটি আমাদের নিকট আবু আত-তৈয়্যব মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কারাবিসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন খাশরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা সুফিয়ান বিন উয়াইনার মজলিসে ছিলাম, তখন তিনি বললেন: "জুহরী বলেছেন।" তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "জুহরী কি আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন?" তিনি চুপ থাকলেন। এরপর তিনি আবারও বললেন: "জুহরী বলেছেন।" তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "আপনি কি এটি জুহরীর নিকট থেকে শুনেছেন?" তিনি বললেন: "না, আমি তা তাঁর নিকট থেকে শুনিনি।"
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৪৬)
الزُّهْرِيِّ وَلَا مِمَّنْ سَمِعَهُ عَنِ الزُّهْرِيِّ حدثنِي عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ معمر بن الزُّهْرِيِّ وَكَذَلِكَ قَتَادَةُ بْنُ دُعَامَةَ إِمَامُ أَهْلِ الْبَصْيرَةِ إِذَا قَالَ قَالَ أَنَسٌ أَوْ قَالَ الْحَسَنُ وَهُوَ مَشْهُورٌ بِالتَّدْلِيسِ عَنْهُمَا

أَخبرنِي أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ الْعَنْزِيُّ قَالَ حدثنَا عُثْمَانُ بْنُ بن سعيد الدرامى قَالَ حدثنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ قَالَ حدثنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ ابن مَهْدِيٍّ قَالَ سَمِعْتُ شُعْبَةَ يَقُولُ كُنْتُ أَنْظُرُ إِلَى فَمِ قَتَادَةَ فَإِذَا قَالَ حدثنَا كَتَبْتُ وَإِذَا لَمْ يَقُلْ لَمْ أَكْتُبْهُ

فَأَمَّا أهل الكوفة فمنهم م دَلَّسَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ يُدَلِّسْ وَقَدْ دَلَّسَ أَكْثَرُهُمْ وَالْمُدَلِّسُونَ عَنْهُمْ حَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ وَغَيْرُهُمَا فَأَمَّا الطَّبَقَةُ الثَّانِيَةُ فَمِثْلُ أَبِي أُسَامَةَ حَمَّادِ بْنِ أُسَامَةَ وَأَبِي مُعَاوِيَةَ محمد بن حازم الضَّرِيرِ وَغَيْرِهِمَا فَإِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَمْ يُدَلِّسُوا

سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ دَاوُدَ بْنِ سُلَيْمَانَ الزَّاهِدَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ سَلَمَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ أَبِي السَّقَرِ يَقُولُ كُنَّا عِنْدَ أبى أسامة فقال يحى بْنُ سَعِيدٍ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ أَذَكَرَ الْخبر فَقَالَ أَتَرَوْنِي أُدَلِّسُ أكم واله لَأَنْ أَعَضُّ عَنْ مَجْلِسِي هَذَا أجب إِلَيَّ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ حدثنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدِ بْنِ قَيْسٍ الْأَنْصَارِيُّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ المسيب بن حُزْنٍ الْقُرَشِيِّ

قَالَ الْحَاكِمُ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَأَخْبَارُ الْمُدَلِّسِينَ كَثِيرَةٌ وَضَبَطَ الْأَئِمَّةُ عَنْهُمْ مَا لَمْ يُدَلِّسُوا وَالتَّمْيِيزُ بَيْنَ مَا دَلَّسُوا وَمَا لَمْ يُدَلِّسُوا ظَاهِرٌ فِي الاحبار
জহরি থেকে প্রাপ্ত নয়, কিংবা যারা জহরি থেকে শ্রবণ করেছেন তাদের থেকেও নয়। আবদুর রাজ্জাক আমার কাছে মা'মার-এর মাধ্যমে জহরি সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ক্বাতাদাহ ইবনে দু'আমাহ—যিনি বসরার অধিবাসীদের ইমাম—যখন তিনি বলেন: 'আনাস বলেছেন' বা 'হাসান বলেছেন', অথচ তিনি তাদের উভয়ের থেকে অপ্রকাশিত ত্রুটিযুক্ত বর্ণনা (التدليس) করার জন্য প্রসিদ্ধ।

আবুল হাসান আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আনজি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আদ-দাওরাকি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শু'বাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি ক্বাতাদাহর মুখের দিকে লক্ষ্য করতাম; যখন তিনি বলতেন 'আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا)', তখন আমি তা লিখে নিতাম। আর যখন তিনি তা বলতেন না, তখন আমি তা লিখতাম না।

আর কুফাবাসীদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা অপ্রকাশিত ত্রুটিযুক্ত বর্ণনা (دلس) করেছেন, আবার কেউ কেউ করেননি। তবে তাদের অধিকাংশেই অপ্রকাশিত ত্রুটিযুক্ত বর্ণনা (دلس) করেছেন। তাদের মধ্যে যারা অপ্রকাশিত ত্রুটিযুক্ত বর্ণনাকারী (المدلسون), তারা হলেন হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান, ইসমাইল ইবনে আবু খালিদ এবং আরও অনেকে। আর দ্বিতীয় স্তরের (الطبقة) ক্ষেত্রে আবু উসামা হাম্মাদ ইবনে উসামা এবং আবু মুয়াবিয়া মুহাম্মাদ ইবনে হাযিম আদ-দারির ও অন্যান্যদের কথা বলা যায়, যাদের অধিকাংশ অপ্রকাশিত ত্রুটিযুক্ত বর্ণনা (دلسوا) করেননি।

আমি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ ইবনে সুলাইমান আজ-জাহিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবনে সালামাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু উবাইদাহ ইবনে আবুস সাক্বারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা আবু উসামার নিকট ছিলাম। তখন তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের উদ্ধৃতি দিলে এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল: 'তিনি কি বর্ণনাটি (الخبر) উল্লেখ করেছেন?' তখন তিনি বললেন: 'তোমরা কি মনে করো আমি তোমাদের কাছে অপ্রকাশিত ত্রুটিযুক্ত বর্ণনা (أدلس) করব? আল্লাহর কসম! আমার এই মজলিস থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া আমার কাছে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে কায়স আল-আনসারী থেকে বর্ণিত সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব ইবনে হুযন আল-কুরাশি সূত্রে প্রাপ্ত এক লক্ষ হাদিস থাকার চেয়েও অধিক প্রিয়।'

ইমাম হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: অপ্রকাশিত ত্রুটিযুক্ত বর্ণনাকারীদের (المدلسين) সংবাদসমূহ অনেক। আইম্মায়ে কেরাম তাদের সেই সব বর্ণনা নিরূপণ করেছেন যেগুলোতে তারা অপ্রকাশিত ত্রুটিযুক্ত বর্ণনা (يدلسوا) করেননি। তারা যা অপ্রকাশিত ত্রুটিযুক্ত বর্ণনা (دلسوا) করেছেন এবং যা করেননি, তার পার্থক্য বর্ণনাগুলোর (الأخبار) মধ্যে সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৪৭)
الْقِسْمُ الثَّالِثُ مِنَ الصَّحِيحِ الْمُخْتَلَفِ فِيهِ خبر يَرْوِيهِ ثِقَةٌ مِنَ الثِّقَاتِ عَنْ إِمَامٍ مِنْ أَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ فَيُسْنِدُهُ ثُمَّ يَرْوِيهِ عَنْهُ جَمَاعَةٌ مِنَ الثِّقَاتِ فَيُرْسِلُونَهُ وَمِثَالُهُ حَدِيثُ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يَجِبْ فَلَا صَلَاةَ لَهُ إِلَّا مِنْ عُذْرٍ

قَالَ الْحَاكِمُ رحمه الله هكذا رواه عدى بن ثابت عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ وَهُوَ ثِقَةٌ وَقَدْ وَقَفَهُ سَائِرُ أَصْحَابِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْهُ

وَهَذَا الْقِسْمُ مِمَّا يَكْثُرُ وَيُسْتَدَلُّ بِهَذَا الْمِثَالِ عَلَى جُمْلَةٍ مِنَ الْأَخْبَارِ الْمَرْوِيَّةِ هَكَذَا فَهَذِهِ الْأَخْبَارُ صَحِيحَةٌ عَلَى مَذْهَبِ الْفُقَهَاءِ فَإِنَّ الْقَوْلَ عِنْدَهُمْ فِيهَا قَوْلُ مَنْ زَادَ فِي الْإِسْنَادِ أَوِ الْمَتْنِ إِذَا كَانَ ثِقَةً

فَأَمَّا أَئِمَّةُ الْحَدِيثِ فَإِنَّ الْقَوْلَ فِيهَا عِنْدَهُمْ قَوْلُ الْجُمْهُورِ الَّذِي أَرْسَلُوهُ لِمَا يُخْشَى مِنَ الْوَهْمِ عَلَى هَذَا الْوَاحِدِ لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم الشَّيْطَانُ مَعَ الْوَاحِدِ وَهُوَ مِنَ الاثنين أبعد

মতভেদপূর্ণ সহিহ (صحيح) হাদিসের তৃতীয় প্রকারটি হলো এমন কোনো খবর, যা নির্ভরযোগ্যদের (ثقات) অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি মুসলিম ইমামগণের মধ্য থেকে কোনো এক ইমামের সূত্রে বর্ণনা করার সময় সেটিকে সূত্রযুক্ত (مسند) করেন, কিন্তু পরবর্তীতে একদল নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি তার থেকে সেটি বর্ণনা করার সময় বিচ্ছিন্নভাবে (مرسل) বর্ণনা করেন। এর উদাহরণ হলো সাঈদ ইবনে জুবায়েরের হাদিস, যা ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আজান শুনল অথচ (সালাতে) উপস্থিত হলো না, ওজর ব্যতীত তার সালাত কবুল হবে না।"

ইমাম আল-হাকিম (রহ.) বলেন, আদি ইবনে সাবিত এভাবেই সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি। অথচ সাঈদ ইবনে জুবায়েরের অন্যান্য সকল সঙ্গীগণ এটি তার সূত্রে মওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই প্রকারটি অত্যন্ত সচরাচর ঘটে থাকে এবং এই উদাহরণের মাধ্যমে এ ধরনের বর্ণিত হাদিসসমূহের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে দলিল পেশ করা হয়। ফকিহগণের মাযহাব অনুযায়ী এই হাদিসগুলো সহিহ (صحيح); কেননা তাদের নিকট এই জাতীয় বর্ণনার ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য, যিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়া সত্ত্বেও ইসনাদ বা মতনের মধ্যে অতিরিক্ত (زيادة) কিছু বর্ণনা করেছেন।

পক্ষান্তরে হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণের নিকট এক্ষেত্রে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ রাবিদের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য যারা হাদিসটিকে বিচ্ছিন্নভাবে (مرسل) বর্ণনা করেছেন। কারণ এখানে একক বর্ণনাকারীর ভ্রম (وهم) হওয়ার আশঙ্কা থাকে; যেহেতু নবী (সা.) বলেছেন: "শয়তান একজনের সাথে থাকে এবং সে দুজনের থেকে অধিক দূরে থাকে।"

(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৪৮)
الْقِسْمُ الرَّابِعُ مِنَ الصَّحِيحِ الْمُخْتَلَفِ فِيهِ رِوَايَاتُ مُحدث صَحِيحِ السَّمَاعِ صَحِيحِ الْكِتَابِ مَعْرُوفٍ بِالسَّمَاعِ ظَاهِرِ الْعَدَالَةِ غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَعْرِفُ مَا يُحدث بِهِ وَلَا يَحْفَظُهُ كَأَكْثَرِ مُحدثي زَمَانِنَا هَذَا فَإِنَّ هَذَا الْقِسْمَ مُحْتَجٌّ بِهِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْحَدِيثِ فَأَمَّا أَبُو حَنِيفَةَ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ فَلَا يَرَيَانِ الْحُجَّةَ بِهِ

وَأَمَّا الرِّوَايَةُ فِيهِ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ فَحدثنَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ شُعَيْبٌ الْعَدْلُ قَالَ حدثنَا أَسَدُ بْنُ نُوحٍ قَالَ حدثنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ بِشْرِ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ أَبِي يُوسُفَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ قَالَ لَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يَرْوِيَ الْحَدِيثَ إِلَّا إِذَا سَمِعَهُ مِنْ فَمِ الْمُحدث فَيَحْفَظُهُ ثُمَّ يُحدث بِهِ

وَأَمَّا الرِّوَايَةُ فِيهِ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ فَحدثنَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَيُّوبَ الطُّوسِيُّ قَالَ حدثنَا أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ قَالَ حدثنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ قَالَ حدثنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى قَالَ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ يَقُولُ لَا يُؤْخَذُ الْعِلْمُ مِمَّنْ لَا يَعْرِفُ مَا يُحدث بِهِ

قَالَ مَالِكٌ وَلَقَدْ أَدْرَكْتُ بِهَذِهِ الْمَدِينَةِ أَقْوَامًا لَهُمْ فَضْلٌ وَصَلَاحٌ مَا أَخَذْتُ عَنْ وَاحِدٍ مِنْهُمْ حَرْفًا قِيلَ وَلِمَ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لِأَنَّهُمْ كَانُوا لَا يَعْرِفُونَ ما يحدثون به
সহীহ (صحيح) হাদিসের চতুর্থ প্রকার, যা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে, তা হলো সেই হাদিস বর্ণনাকারীর (محدث) বর্ণনা যার শ্রবণ (سماع) সঠিক (صحيح) এবং পাণ্ডুলিপি (كتاب) সঠিক (صحيহ), যিনি শ্রবণের জন্য সুপরিচিত এবং যার ন্যায়নিষ্ঠতা প্রকাশ্য (ظاهر العدالة); তবে তিনি যা বর্ণনা করেন তা বোঝেন না এবং তা মুখস্থও রাখেন না, যেমনটি আমাদের বর্তমান সময়ের অধিকাংশ হাদিস বর্ণনাকারীদের (محدث) ক্ষেত্রে দেখা যায়। অধিকাংশ হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) নিকট এই প্রকারটি দলিল হিসেবে গ্রহণীয় (محتج به)। তবে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহিমাহুমাল্লাহ) একে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য করেন না।

এ বিষয়ে মালিক ইবনে আনাস থেকে বর্ণিত বর্ণনার ক্ষেত্রে আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন শুআইব আল-আদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আসাদ ইবনে নুহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সালামা বিশর ইবনুল ওয়ালিদ থেকে, তিনি আবু ইউসুফ থেকে, আর তিনি আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির জন্য হাদিস বর্ণনা করা বৈধ নয় যতক্ষণ না সে তা হাদিস বর্ণনাকারীর (محدث) মুখ থেকে সরাসরি শ্রবণ (سماع) করে এবং তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ বা মুখস্থ করে, অতঃপর তা বর্ণনা করে।"

আর মালিক ইবনে আনাস থেকে এ সংক্রান্ত অন্য বর্ণনাটি হলো: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনুল হাসান ইবনে আইয়ুব আত-তুসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু হাতিম আল-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইব্রাহিম ইবনুল মুনজির আল-হিজামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মা'ন ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি: "যার নিকট সে যা বর্ণনা করছে তার সম্যক জ্ঞান নেই, তার থেকে ইলম গ্রহণ করা যাবে না।"

ইমাম মালিক (রহ.) বলেন: "আমি এই শহরে (মদিনায়) এমন অনেক ব্যক্তিবর্গকে পেয়েছি যারা ফযিলত ও নেককার গুণের (صلاح) অধিকারী ছিলেন, কিন্তু আমি তাদের কারও থেকে একটি অক্ষরও গ্রহণ করিনি।" তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: "হে আবু আব্দুল্লাহ, কেন?" তিনি বললেন: "কেননা তারা যা বর্ণনা করছিলেন সে সম্পর্কে তাদের কোনো সম্যক জ্ঞান ছিল না।"
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৪৯)
القسم الخامس مِنَ الصَّحِيحِ الْمُخْتَلَفِ فِيهِ رِوَايَاتُ الْمُبْتَدِعَةَ وَأَصْحَابُ الْأَهْوَاءِ فَإِنَّ رِوَايَاتِهِمْ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْحَدِيثِ مَقْبُولَةٌ إِذَا كَانُوا فِيهَا صَادِقِينَ فَقَدْ حدث مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ فِي الْجَامِعِ الصَّحِيحِ عَنْ عَبَّادِ بْنِ يَعْقُوبَ الرَّوَاجِنِيِّ

وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ يَقُولُ حدثنَا الصَّدُوقُ فِي رِوَايَتِهِ الْمُتَّهَمُ فِي دِينِهِ عَبَّادُ بْنُ يَعْقُوبَ وَقَدِ احْتَجَّ الْبُخَارِيُّ أَيْضًا فِي الصَّحِيحِ بِمُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ الِالْهَانِيِّ وَحَرِيزِ بْنِ عُثْمَانَ الرحبى وهما مما اشْتُهِرَ عَنْهُمَا النَّصْبُ وَاتَّفَقَ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ عَلَى الِاحْتِجَاجِ بِأَبِي مُعَاوِيَةَ مُحَمَّدِ بْنِ خَازِمٍ وَعُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى وَقَدِ اشْتُهِرَ عَنْهُمَا الْغُلُوُّ

قَالَ الْحَاكِمُ رحمه الله وَإِنَّمَا جَعَلْتُ هَؤُلَاءِ مِثَالًا لِآخَرِينَ فَأَمَّا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ فَإِنَّهُ يقول لايؤخذ حَدِيثُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ صَاحِبِ هَوًى يَدْعُو النَّاسَ إِلَى هَوَاهُ وَلَا مِنْ كَذَّابٍ يَكْذِبُ فِي حَدِيثِ النَّاسِ وَإِنْ كُنْتَ لَا تَتَّهِمُهُ أَنْ يَكْذِبَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

قَالَ لحاكم رحمه الله فَقَدْ ذَكَرْنَا وُجُوهَ صِحَّةِ الْأَحَادِيثِ عَلَى عَشَرَةِ أَقْسَامٍ عَلَى اخْتِلَافٍ بَيْنَ أَهْلِهِ فِيهِ لِئَلَّا يَتَوَهَّمَ مُتَوَهِّمٌ أَنَّهُ لَيْسَ يصح من
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সহীহ (الصحيح) হাদিসসমূহের মধ্যে যে সকল বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত হলো বিদআতপন্থী (المبتدعة) এবং প্রবৃত্তি পূজারীদের (أصحاب الأهواء) বর্ণনা। অধিকাংশ হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) নিকট তাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (مقبولة) যদি তারা তাতে সত্যবাদী (صادقين) হয়ে থাকেন। মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বুখারি আল-জামি আল-সহীহ গ্রন্থে আব্বাদ ইবনে ইয়াকুব আল-রওয়াজিনি থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমা বলতেন, 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবনে ইয়াকুব, যিনি তাঁর বর্ণনায় সত্যবাদী (الصدوق) কিন্তু তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে অভিযুক্ত (المتهم)'। বুখারি সহীহ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ আল-আলহানি এবং হারিজ ইবনে উসমান আল-রাহবি থেকেও দলিল গ্রহণ (احتج) করেছেন, অথচ এই দুজন নাসিবী মতবাদ (النصب) পোষণের জন্য পরিচিত ছিলেন। বুখারি এবং মুসলিম আবু মুয়াবিয়া মুহাম্মদ ইবনে খাজিম এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা থেকে দলিল গ্রহণের (الاحتجاج) ব্যাপারে একমত হয়েছেন, যদিও তাদের উভয়ের ব্যাপারে চরমপন্থা (الغلو) অবলম্বনের বিষয়টি প্রসিদ্ধ ছিল।

ইমাম হাকেম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমি অন্যদের জন্য উদাহরণস্বরূপ এদের কথা উল্লেখ করেছি। তবে ইমাম মালিক ইবনে আনাস বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস এমন কোনো প্রবৃত্তি পূজারী (صاحب هوى) থেকে গ্রহণ করা যাবে না যে মানুষকে নিজের খেয়ালখুশির দিকে আহ্বান করে, আর এমন কোনো চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) থেকেও নয় যে মানুষের সাথে সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যা বলে, যদিও তুমি তাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যারোপের জন্য অভিযুক্ত (تتهمه) না করো।'

ইমাম হাকেম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমরা হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) দিকগুলোকে এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের মধ্যকার মতভেদসহ দশটি ভাগে উল্লেখ করেছি, যাতে কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তি এমন ধারণা না করে যে, এর মধ্যে সহীহ (يصح) হওয়ার মতো কিছু নেই।'
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৫০)
الْحَدِيثِ إِلَّا مَا أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ فَإِذَا نَظَرْنَا وَتَأَمَّلْنَا فَوَجَدْنَا الْبُخَارِيَّ قَدْ جَمَعَ كِتَابًا فِي التَّارِيخِ عَلَى أَسَامِي مَنْ رُوِيَ عَنْهُمُ الْحَدِيثُ مِنْ زَمَانِ الصَّحَابَةِ إِلَى سَنَةِ خَمْسِينَ وَمِائَتَيْنِ فَبَلَغَ عَدَدُهُمْ قَرِيبًا مِنْ أَرْبَعِينَ أَلْفَ رَجُلٍ وَامْرَأَةٍ جَمَعْتُ أَنَا أَسَامِيهِمْ وما اختلفا فيه فاحتج بأحداهما وَلَمْ يَحْتَجُّ بِهِ آخَرُ فَلَمْ يَبْلُغُوا أَلْفَيْ رَجُلٍ وَامْرَأَةٍ ثُمَّ جَمَعْتُ مَنْ ظَهَرَ جَرْحُهُ مِنْ جُمْلَةِ الْأَرْبَعِينَ أَلْفًا فَبَلَغُوا مِائَتَيْنِ وستة وَعِشْرِينَ رَجُلًا

فَلْيَعْلَمْ طَالِبُ هَذَا الْعِلْمِ أَنَّ أَكْثَرَ الرُّوَاةِ لِلْأَخْبَارِ ثِقَاتٌ وَأَنَّ الدَّرَجَةَ الْأُولَى مِنْهُمْ مُحْتَجٌّ بِهِمْ فِي الْكِتَابَيْنِ الصَّحِيحَيْنِ لِلْوُجُوهِ الَّتِي قَدَّمْنَا ذِكْرَهَا لَا لِجَرْحٍ فِيهِمْ

وَأَنَا ذَاكِرٌ بِمَشِيئَةِ اللَّهِ تَعَالَى ذِكْرَهُ وَحَسُنَ تَوْفِيقِهِ سَبَبَ الْجَرْحِ وَمَا يُوهَمُ أَنَّهُ جَرْحٌ وَلَيْسَ بِجَرْحٍ لِيُوقَفَ عَلَى حَقِيقَةِ الْحَالِ فِيهِ وَاللَّهُ الْمُعِينُ على ذكر بمنه
হাদিস, তবে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম যা বর্ণনা করেছেন তা ব্যতীত। আমরা যদি লক্ষ্য করি এবং গভীরভাবে চিন্তা করি, তবে দেখতে পাই যে, ইমাম বুখারি সাহাবিদের (الصحابة) যুগ থেকে দুইশত পঞ্চাশ হিজরি সাল পর্যন্ত যাদের থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তাদের নামের ওপর ইতিহাসের একটি কিতাব সংকলন করেছেন। তাদের সংখ্যা প্রায় চল্লিশ হাজার পুরুষ ও নারী। আমি তাদের নামসমূহ এবং ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম যে সকল রাবির ব্যাপারে মতভেদ করেছেন—অর্থাৎ একজন যাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتج) করেছেন এবং অন্যজন যাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেননি—তাদের একত্রিত করেছি, যাদের সংখ্যা দুই হাজার পর্যন্তও পৌঁছেনি। অতঃপর আমি এই চল্লিশ হাজারের মধ্য থেকে যাদের সমালোচনা (جرح) প্রকাশ পেয়েছে তাদের সংকলন করেছি, যাদের সংখ্যা মাত্র দুইশত ছাব্বিশ জন।

এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জানা উচিত যে, সংবাদের অধিকাংশ বর্ণনাকারী (الرواة) হলেন নির্ভরযোগ্য (ثقات)। আর তাদের মধ্যে প্রথম স্তরের বর্ণনাকারীরা দুটি সহিহ কিতাবে সেই সকল কারণে দলিল হিসেবে গৃহীত (محتج بهم) যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, তাদের মধ্যে কোনো সমালোচনা (جرح) থাকার কারণে নয়।

আমি মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এবং তাঁর উত্তম তাওফিকে সমালোচনার (الجرح) কারণ এবং যা সমালোচনা (جرح) বলে ভ্রম হয় অথচ তা প্রকৃতপক্ষে সমালোচনা (جرح) নয়, তা উল্লেখ করব যাতে বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। আল্লাহ তাআলাই তাঁর অনুগ্রহে সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌ذِكْرُ أَنْوَاعِ الْجَرْحِ وَالْمَجْرُوحُونَ عَلَى عَشَرَةِ طَبَقَاتٍ

قَالَ الْحَاكِمُ رحمه الله أَوَّلُ أَنْوَاعِ الْجَرْحِ وَضْعُ الْحَدِيثِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ صَحَّتِ الرِّوَايَةُ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ مَنْ كَذِبَ على متعمدا فليتبؤ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ

حدثنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ حدثنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مزيد البيرونى قال حدثنى أَبِي قَالَ حدثنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ حدثنَا حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي كَبْشَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً وَحدثوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ وَحدثوا عَنِّي وَلَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ فَمَنْ كذب متعمدا فليتبؤ امقعده من النار

قال لحاكم رحمه الله فمن ارتكب هذه الكبيرة فَمِنْهُمْ قَوْمٌ مِنَ الزَّنَادِقَةِ مِثْلُ الْمُغِيرَةِ بْنِ سَعِيدٍ الْكُوفِيِّ وَأَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ الْكُوفِيِّ وَمُحَمَّدِ بْنِ سعيد الشامى المصلوب فى الزنادقة تَشَبَّهُوا بِالْعُلَمَاءِ فَوَضَعُوا الْأَحَادِيثَ وَحدثوا بِهَا لِيُوقِعُوا فِي قُلُوبِهُمُ الشَّكَّ

فَمِمَّا رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الْمَصْلُوبُ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ أن رسول الله
জারহ বা সমালোচনার (الجرح) প্রকারসমূহ এবং বিতর্কিত বর্ণনাকারীদের (المجروحون) দশটি স্তর সংক্রান্ত আলোচনা

ইমাম হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, জারহ বা সমালোচনার (الجرح) প্রথম প্রকার হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে হাদিস জাল করা (وضع الحديث)। অথচ তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বর্ণনাটি (الرواية) বিশুদ্ধ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।"

আমাদের নিকট আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আল-আব্বাস ইবনে আল-ওয়ালিদ ইবনে মাজিদ আল-বায়রুনী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আওযায়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ আবু কাবশাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও যদিও তা একটি আয়াত হয়, এবং বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো তাতে কোনো দোষ নেই। আর আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো কিন্তু আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করো না। কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।"

ইমাম হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যারা এই কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে একদল হলো জিন্দিক বা ধর্মদ্রোহী (الزنادقة); যেমন: মুগীরা ইবনে সাঈদ আল-কুফী, আবু আব্দুর রহীম আল-কুফী এবং মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-শামী—যাকে ধর্মদ্রোহিতার (الزنادقة) কারণে শূলে চড়ানো হয়েছিল। তারা আলেমদের বেশ ধারণ করত এবং মানুষের অন্তরে সন্দেহ তৈরি করার উদ্দেশ্যে হাদিস জাল করত (وضع الحديث) ও তা বর্ণনা করত।

শূলে চড়ানো মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ, হুমাইদ থেকে এবং তিনি আনাস থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৫২)
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لَا نَبِيَ بَعْدِي إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ فَوَضَعَ هَذَا الِاسْتِثْنَاءَ لِمَا كَانَ يدعوا اليه من الالحاد والزنادقة وَالدَّعْوَةِ إِلَى الْمُتَنَبِّي

أَخبرنِي أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْحَافِظُ قَالَ حدثنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الله بن عبد السلم قَالَ حدثنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّهَاوِيُّ قَالَ حدثنَا أَبُو نُعَيْمٍ قال حدثنا حماد بْنَ سَعِيدٍ وَأَبَا عَبْدِ الرَّحِيمِ فَإِنَّهُمَا كَذَّابَانِ

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَيْرُوتِيُّ سَمِعْتُ جَعْفَرَ بْنَ أَبَانٍ الْحَافِظَ يَقُولُ سَمِعْتُ بن نُمَيْرٍ يَقُولُ مُغِيرَةُ بْنُ سَعِيدٍ هَذَا كَانَ شَاعِرًا مُشَعْبِذًا وَكَانَ أَبُو عَبْدِ الرَّحِيمِ زِنْدِيقًا قَتَلَهُمَا اللَّهُ خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقَسْرِيُّ وَأَحْرَقَهُمَا بِالنَّارِ

وَسَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ السُّبَاهِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الْمُوَجِّهِ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَانَ ذَكَرَ عَبْدَ اللَّهِ هَذَا عِنْدَ ذِكْرِ الزَّنَادِقَةِ وَمَا يصغون مِنَ الْأَحَادِيثِ

قَالَ الْحَاكِمُ رحمه الله وَمِنْهُمْ قَوْمٌ وَضَعُوا الْحَدِيثَ لِهَوًى يَدْعُونَ الناس اليه

أخبرنا أبو الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ قَالَ حدثنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْمُثَنَّى قَالَ حدثنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ قَالَ حدثنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَجَرٍ عَنْ طاووس عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّا كُنَّا نُحدث عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমিই শেষ নবী, আমার পরে কোনো নবী নেই, তবে আল্লাহ যদি চান।" সে (বর্ণনাকারী) এই ব্যতিক্রমী অংশটি কেবল নাস্তিকতা ও ধর্মদ্রোহীতার (زندقة) দিকে আহ্বান করার জন্য এবং নবুয়তের মিথ্যা দাবিদারের (المتنبي) অনুকূলে দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংযোজন করেছিল।

হাফিজ (الحافظ) আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদ আল-সালাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে সুলাইমান আল-রাহাউয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সাঈদ এবং আবু আবদুর রহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; অথচ তারা উভয়ই চরম মিথ্যুক (كذابان)।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাইরুতি বলেন, আমি হাফিজ (الحافظ) জাফর ইবনে আবানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি ইবনে নুমাইরকে বলতে শুনেছি: এই মুগীরাহ ইবনে সাঈদ ছিল একজন কবি ও জাদুকর এবং আবু আবদুর রহিম ছিল একজন ধর্মদ্রোহী (زنديق)। খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-কাসরি তাদের উভয়কে হত্যা করেন এবং আগুনে পুড়িয়ে মারেন।

আমি আবু আল-আব্বাস আল-সুবাহিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি আবু আল-মুওয়াজ্জিহকে বলতে শুনেছি, আমি আবদানকে এই আবদুল্লাহর কথা উল্লেখ করতে শুনেছি যখন তিনি ধর্মদ্রোহীদের (الزنادقة) এবং তারা হাদিসের নামে যেসব মিথ্যা রচনা করে সে সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন।

আল-হাকিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তাদের মধ্যে এমন একদল লোক ছিল যারা তাদের প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে হাদিস জাল (وضعوا) করত, যার দিকে তারা মানুষকে আহ্বান করত।

হাফিজ (الحافظ) আবু আল-হুসাইন ইবনে আলী আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে আলী আল-মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হারুন ইবনে মারুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে হাজার থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করতাম।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৫৩)
إِذَا لَمْ يُكْذَبْ عَلَيْهِ فَلَمَّا رَكِبَ النَّاسُ الصَّعْبَ وَالذَّلُولَ تَرَكْنَا الحديث عنه ومن هذ الطَّبَقَةِ جَمَاعَةٌ مِنْهُمْ مَنْ أَقَرَّ عَلَى نَفْسِهِ بِذَلِكَ سَمِعْتُ أَبَا الْوَلِيدِ حَسَّانَ بْنَ مُحَمَّدٍ الْفَقِيهَ يَقُولُ حدثنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ حدثنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَلَبِيُّ قَالَ حدثنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ قَالَ سَمِعْتُ شَيْخًا مِنَ الْخَوَارِجِ تَابَ وَرَجَعَ وَهُوَ يَقُولُ إِنَّ هَذِهِ الْأَحَادِيثَ دِينٌ فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ فَإِنَّا كُنَّا إِذَا هَوَيْنَا أَمْرًا صَيَّرْنَاهُ حَدِيثًا

سَمِعْتُ عَبْدَ الْعَزِيزِ بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ الْأُمَوِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ إِسْمَاعِيلَ بْنَ مُحَمَّدٍ النَّحْوِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ الْمَحَامِلِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الْعَيْنَاءِ يَقُولُ أَنَا وَالْجَاحِظُ وَضَعْنَا حَدِيثَ فَدْكٍ وَأَدْخَلْنَاهُ عَلَى الشُّيُوخِ بِبَغْدَادَ فقبلوه الا ابْنَ شَيْبَةَ الْعَلَوِيَّ فَإِنَّهُ قَالَ لَا يُشْبِهُ آخِرُ الْحَدِيثِ أَوَّلَهُ فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهُ قَالَ إِسْمَاعِيلُ وَكَانَ أَبُو الْعَيْنَاءِ يُحدث بِهَذَا الحديث بَعْدَ مَا تَابَ

أَخبرنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ الْجُرْجَانِيُّ قَالَ حدثنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ حدثنَا عَمَّارُ بْنُ رَجَاءٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَرْبٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى شَيْخٍ وَهُوَ يَبْكِي فَقُلْتُ مَا يُبْكِيكَ قَالَ وَضَعْتُ أَرْبَعَمِائَةِ حَدِيثٍ وَأَدْخَلْتُهَا فى بارنامج النَّاسِ فَلَا أَدْرِي كَيْفَ أَصْنَعُ وَمِنْهُمْ جَمَاعَةٌ وَضَعُوا الْحَدِيثَ حِسْبَةً كَمَا زَعَمُوا يَدْعُونَ النَّاسَ إِلَى فضائل الاعلامال مثل أبى عصمة نوع بْنِ أَبِي مَرْيَمَ الْمَرْوَزِيِّ وَمُحَمَّدِ بْنِ عُكَاشَةَ الْكَرْمَانِيِّ وَأَحْمَدَ بْنِ عبد الله الجوبارى
যখন তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করা হতো না (তখন আমরা হাদিস গ্রহণ করতাম)। কিন্তু মানুষ যখন বাছবিচারহীনভাবে চলতে শুরু করল, তখন আমরা তাদের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করা বর্জন করলাম। এই স্তরের (طبقة) মধ্যে এমন একদল লোক রয়েছেন যারা নিজেরাই নিজেদের ব্যাপারে এর (হাদিস জাল করার) স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমি আবুল ওয়ালিদ হাসান বিন মুহাম্মাদ আল-ফকিহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, হাসান বিন সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু নুআইম আল-হালাবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন লাহিয়াহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি খাওয়ারিজদের এক শায়খকে বলতে শুনেছি যিনি তওবা করে ফিরে এসেছিলেন, তিনি বলছিলেন: "নিশ্চয়ই এই হাদিসসমূহ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তোমরা কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ, তা ভেবে দেখো। কারণ আমরা যখন কোনো বিষয়ের প্রতি আসক্ত হতাম, তখন সেটাকে হাদিস বানিয়ে ফেলতাম।"

আমি আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল মালিক আল-উমায়উয়িকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ আন-নাহউয়িকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আল-মাহামিলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবুল আইনাকে বলতে শুনেছি: "আমি এবং আল-জাহিজ ফাদাক সংক্রান্ত হাদিসটি জাল (وضع) করেছিলাম এবং বাগদাদের শায়খদের নিকট তা উপস্থাপন করেছিলাম। ইবনে শায়বাহ আল-আলাউয়ি ব্যতীত সকলেই তা গ্রহণ করেছিলেন। কেননা তিনি বলেছিলেন, 'এই হাদিসের শেষাংশ প্রথমাংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়', ফলে তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।" ইসমাইল বলেন, আবুল আইনা তওবা করার পর এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন।

ইসমাইল বিন আহমাদ আল-জোরজানি আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, আবু নুআইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আম্মার বিন রাজা সুলায়মান বিন হারব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি জনৈক শায়খের নিকট প্রবেশ করলাম, এমতাবস্থায় তিনি কাঁদছিলেন। আমি বললাম, আপনাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, 'আমি চারশত হাদিস জাল (وضع) করেছি এবং তা মানুষের বর্ণনাসমষ্টির অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছি, এখন আমি জানি না কী করব।'" এবং তাদের মধ্যে এমন একদল লোকও ছিল যারা সওয়াব অর্জনের (حسبة) জন্য হাদিস জাল (وضع) করত—যেমনটি তারা দাবি করত। তারা মানুষকে আমলের ফজিলতের (فضائل الأعمال) দিকে আহ্বান করত; যেমন আবু আসমাহ নূহ বিন আবি মারইয়াম আল-মারওয়াযি, মুহাম্মাদ বিন উকাশাহ আল-কিরমানি এবং আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-জুবারি।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৫৪)
وَمُحَمَّدِ بْنِ الْقَاسِمِ الطَّايَكَانِيِّ وَمَأْمُونِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيِّ وَغَيْرِهِمْ

سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ حمد بْنِ بَالَوَيْهِ قَالَ حدثنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ قَالَ حدثنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَي بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ مَا رَأَيْتُ الْكَذِبَ فِي أَحَدٍ أَكْثَرَ مِنْهُ فِيمَنْ يَنْسِبُ إِلَى خبر

وَأَخبرنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ السِّجْزِيُّ بِبَغْدَادَ قَالَ حدثنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْأَبَّارُ قَالَ حدثنَا الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ قَالَ حدثنَا الْأَشْجَعِيُّ قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ يَقُولُ إِنْ هَمَّ الرَّجُلِ أَنْ يَكْذِبَ فِي الْحَدِيثِ وَهُوَ فِي جَوْفِ بَيْتٍ أَظْهَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ

أَخبرنَا الزُّبَيْرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْحَافِظُ بِإِسْدَابَادَ قَالَ حدثنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ قَالَ حدثنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ قَالَ حدثنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ قَالَ حدثنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ قَالَ حدثنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ قَالَ ابْنُ سِيرِينَ إِنَّ الرَّجُلَ لِيُحدثنِي بِالْحَدِيثِ فما أَتَّهِمُهُ وَلَكِنْ أَتَّهِمُ مَنْ حدثهُ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُحدثنِي بِالْحَدِيثِ فَمَا انهم مَنْ حدثهُ وَلَكِنْ أَتَّهِمُهُ هُوَ

سَمِعْتُ أَبَا عَلِيٍّ الْحَافِظَ يَقُولُ سمعت محمد بن يونس المقرى يَقُولُ سَمِعْتُ جَعْفَرَ بْنَ أَحْمَدَ بننصر يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا عَمَّارٍ الْمَرْوَزِيَّ يَقُولُ قِيلَ لِأَبِي عِصْمَةَ مِنْ أَيْنَ لَكَ عِنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه فِي فَضَائِلِ الْقُرْآنِ سُورَةٍ سُورَةٍ وَلَيْسَ عِنْدَ أَصْحَابِ عِكْرِمَةَ هَذَا فَقَالَ إِنِّي قَدْ رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ أَعْرَضُوا عَنِ الْقُرْآنِ وَاشْتَغَلُوا بِفِقْهِ أَبِي حَنِيفَةَ وَمَغَازِي مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ فَوَضَعْتُ هَذَا الْحَدِيثَ حسبة
এবং মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আত-তায়কানী, মামুন বিন আব্দুল্লাহ আল-হারাউই ও অন্যান্যরা।

আমি আবু বকর মুহাম্মদ বিন হামদ বিন বালোয়াইহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে উবাইদুল্লাহ বিন উমর আল-কাওয়ারীরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি যে, যারা সংবাদের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে তাদের মধ্যে মিথ্যা (الكَذِبَ) বলার দিক থেকে আমি তার চেয়ে অধিক আর কাউকে দেখিনি।

বাগদাদে দা'লাজ বিন আহমাদ আস-সিজজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমাদ বিন আলী আল-আববার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-ওয়ালীদ বিন শুজা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-আশজা'ঈ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি যে, যদি কোনো ব্যক্তি ঘরের অভ্যন্তরে অবস্থান করেও হাদিসে মিথ্যা (يَكْذِبَ) বলার সংকল্প করে, তবে আল্লাহ তা প্রকাশ করে দেবেন।

ইসবাদাদে হাফিজ আয-যুবায়ের বিন আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন হাসান বিন কুতাইবা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন আল-মুতাওয়াক্কিল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে আবি আস-সারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া বিন সুলাইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ বিন উমর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে সীরীন বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যখন আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করে, তখন অনেক সময় আমি তাকে অভিযুক্ত (أَتَّهِمُهُ) করি না, বরং যে তাকে হাদিসটি শুনিয়েছে তাকে অভিযুক্ত (أَتَّهِمُ) করি। আবার কখনো কোনো ব্যক্তি আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করলে আমি তার বর্ণনাকারীকে অভিযুক্ত করি না, বরং তাকেই অভিযুক্ত (أَتَّهِمُهُ) করি।

আমি আবু আলী আল-হাফিজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন ইউনুস আল-মুকরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি জাফর বিন আহমাদ বিন নাসরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু আম্মার আল-মারওয়াযীকে বলতে শুনেছি যে, আবু ইসমাহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—ইকরিমার সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে কুরআনের প্রতিটি সূরার ফজিলত সম্পর্কে এই হাদিসগুলো আপনি কোথায় পেলেন, অথচ ইকরিমার অন্য কোনো ছাত্রের কাছে তো এগুলো নেই? তিনি উত্তরে বললেন, আমি দেখলাম মানুষ কুরআন থেকে বিমুখ হয়ে আবু হানিফার ফিকহ এবং মুহাম্মদ বিন ইসহাকের মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে; তাই আমি সওয়াবের আশায় এই হাদিসগুলো জাল (فَوَضَعْتُ) করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَمِنْهُمْ جَمَاعَةٌ وَضَعُوا الْحَدِيثَ لِلْمُلُوكِ فِي الْوَقْتِ مِمَّا تَقَرَّبُوا بِهِ اليهم

حدثنا أبو أحمد مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ قَالَ سَمِعْتُ دَاوُدَ بْنَ رُشَيْدٍ يَقُولُ دَخَلَ غِيَاثُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَلَى الْمَهْدِيِّ وَكَانَ يُعْجِبُهُ الْحَمَامَ الطَّيَّارَةَ الَّتِي تَجِيءُ مِنَ الْبُعْدِ فَرَوَى حَدِيثًا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا سَبْقَ إِلَّا فِي خُفٍّ أَوْ حَافِرٍ أونصل أَوْ جَنَاحٍ قَالَ فَأَمَرَ لَهُ بِعَشْرَةِ آلَافِ دِرْهَمٍ فَلَمَّا قَامَ وَخَرَجَ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ قَفَاكَ قَفَا كَذَّابٍ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاللَّهِ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَنَاحٌ وَلَكِنَّ هَذَا أَرَادَ أَنْ يَتَقَرَّبَ إِلَيْنَا يَا غُلَامُ اذْبَحِ الْحَمَامَ قَالَ فَذَبَحَ الْحَمَامَ فِي الْحَالِ

وَسَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بن زوميح يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّغُولِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنِ أَبِي خُزَيْمَةَ يَقُولُ دَخَلَ غِيَاثُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَلَى الْمَهْدِيِّ فَذَكَرَ الْحِكَايَةَ وَزَادَ فِيهِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَا ذَنْبُ الْحَمَامِ قَالَ مِنْ أَجْلِهِنَّ كَذِبَ هَذَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

حدثنِي أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بن وكيع د اود بن سليمان
তাদের মধ্যে এমন একদল লোক ছিল যারা তৎকালীন শাসকদের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে হাদিস জাল (وضعوا) করত।

বনী হাশেমের মুক্ত দাস আবু আহমদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি দাউদ ইবনে রুশাইদকে বলতে শুনেছেন যে, গিয়াস ইবনে ইব্রাহিম খলিফা মাহদীর দরবারে প্রবেশ করলেন। মাহদী উড়ন্ত কবুতর পছন্দ করতেন যা দূর থেকে উড়ে আসত। তখন সে (গিয়াস) একটি হাদিস বর্ণনা করল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "উটের খুর, ঘোড়ার খুর, তীরের ফলা অথবা পাখির পাখা ব্যতীত অন্য কোনো কিছুতে প্রতিযোগিতামূলক পুরস্কার নেই।" রাবী বলেন, খলিফা তাকে দশ হাজার দিরহাম দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। যখন সে উঠে চলে গেল, তখন খলিফা বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তোমার ঘাড় একজন চরম মিথ্যাবাদীর (كذاب) ঘাড়, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যা বলছে। আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'পাখা' শব্দটির কথা বলেননি, বরং এই ব্যক্তি আমাদের নৈকট্য লাভ করতে চেয়েছিল। হে বালক, কবুতরগুলো জবাই করো।" রাবী বলেন, সে তৎক্ষণাৎ কবুতরগুলো জবাই করে ফেলল।

আমি আবু সাঈদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জুমাইহকে বলতে শুনেছি, তিনি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দাগুলিকে বলতে শুনেছেন, তিনি আবু বকর ইবনে আবি খুজাইমাকে বলতে শুনেছেন যে, গিয়াস ইবনে ইব্রাহিম খলিফা মাহদীর দরবারে প্রবেশ করেন... অতঃপর তিনি ঘটনাটি উল্লেখ করেন এবং তাতে আরও যোগ করেন যে, (খলিফাকে জিজ্ঞাসা করা হলো) "হে আমিরুল মুমিনিন, কবুতরগুলোর অপরাধ কী?" তিনি বললেন: "এগুলোর কারণেই এই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যাচার (كذب) করেছে।"

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ওয়াকি' এবং দাউদ ইবনে সুলাইমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলীল (পৃষ্ঠা: ৫৬)
الْقَطَّانُ قَالَ حدثنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّمَرْقَنْدِيُّ قَالَ حدثنَا هَارُونُ بْنُ أَبِي عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ الَمَهْدِيُّ الْأَثْرِيُّ مَا يَقُولُ هَذَا يَعْنِي مُقَاتِلًا قَالَ إِنْ شِئْتَ وَضَعْتُ لَكَ أَحَادِيثَ فِي الْقِيَاسِ قَالَ قُلْتُ لَا حَاجَةَ لِي فِيهَا

قَالَ الْحَاكِمُ رحمه الله وَمِنْ هَذِهِ الطَّبَقَةِ مَيْسَرَةُ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ وَزِيَادُ بْنُ مَيْمُونٍ وَأَبُو الْبَخْتَرِيِّ وَهْبُ بْنُ وَهْبٍ القاضى وأبو د اود سليمان بن عمرو النَّخَعِيُّ وَإِسْحَاقُ بْنُ نَجِيحٍ الْمَلْطِيُّ وَالْحُسَيْنُ بْنُ عُلْوَانَ وَغَيْرُهُمْ مِمَّنْ يَطُولُ ذِكْرُهُمْ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ وَمِنْهُمْ جَمَاعَةٌ وَضَعُوا الْحَدِيثَ فِي الْوَقْتِ لِحَاجَتِهِمْ إِلَيْهِ

حدثنِي أَبُو بكر أحمد بْنُ الْمُؤَمَّلِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عِيسَى قَالَ حدثنَا الْفَضْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّعْرَانِيُّ قَالَ حدثنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجُنَيْدِ قَالَ حدثنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْحَاقَ الضَّبِّيُّ الْكُوفِيُّ قَالَ حدثنَا سَيْفُ بْنُ عُمَرَ التَّمِيمِيُّ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ سَعْدِ بْنِ طَرِيفٍ فَجَاءَ ابْنُهُ مِنَ الْكُتَّابِ فَقَالَ مَالَكَ قَالَ ضَرَبَنِي الْمُعَلِّمُ فَقَالَ لَأُخْزِيَنَّهُمُ الْيَوْمَ

حدثنِي عِكْرِمَةُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم معَلِّمُو صِبْيَانِكُمْ شِرَارُكُمْ أَقَلُّهُمْ رَحْمَةً لِلْيَتِيمِ وَأَغْلَظُهُمْ عَلَى الْمِسْكِينِ

وَقِيلَ لِمَأْمُونِ بْنِ أَحْمَدَ الْهَرَوِيِّ أَلَا تَرَى إِلَى الشَّافِعِيِّ وَإِلَى مَنْ نَبَغَ لَهُ بِخُرَاسَانَ فَقَالَ حدثنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ حدثنَا عبيد اللَّهِ بْنُ مَعْدَانَ الْأَزْدِيُّ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَكُونُ فِي أُمَّتِي رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ أَضَرُّ أَحَدُّ عَلَى أُمَّتِي مِنْ إِبْلِيسَ وَيَكُونُ فى أمتى رجل
আল-কাত্তান বলেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আস-সামারকন্দি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হারুন ইবনে আবি উবাইদিল্লাহ তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-মাহদি আল-আসারি বলেছেন: এই ব্যক্তি—অর্থাৎ মুকাতিল—কী বলে? তিনি (মুকাতিল) বললেন: আপনি চাইলে আমি আপনার জন্য কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) সম্পর্কে কিছু হাদিস জাল (وضع) করে দিতে পারি। তিনি (আল-মাহদি) বললেন: এতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই।

ইমাম আল-হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এবং এই স্তর (طبقة)-এর অন্তর্ভুক্ত হলেন মায়সারা ইবনে আবদ রাব্বিহি, জিয়াদ ইবনে মায়মুন, বিচারক আবু আল-বাখতারি ওয়াহাব ইবনে ওয়াহাব, আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আমর আন-নাখায়ি, ইসহাক ইবনে নাজিহ আল-মালাতি, আল-হুসাইন ইবনে উলওয়ান এবং আরও অনেকে, যাদের নাম এখানে উল্লেখ করা দীর্ঘায়িত হবে। তাদের মধ্যে এমন একদল ছিল যারা প্রয়োজনের তাগিদে তৎক্ষণাৎ হাদিস জাল (وضع) করত।

আমার নিকট আবু বকর আহমদ ইবনুল মুআম্মাল ইবনুল হাসান ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আল-ফাদল ইবনে মুহাম্মদ আশ-শারানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল জুনাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট উবাইদ ইবনে ইসহাক আদ-দাব্বি আল-কুফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সাইফ ইবনে উমর আত-তামিমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি সাদ ইবনে তারিফ-এর নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় তার পুত্র মক্তব থেকে ফিরে এল। তিনি (সাদ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হয়েছে? সে বলল, শিক্ষক আমাকে মেরেছেন। তখন তিনি (সাদ) বললেন, আজ আমি অবশ্যই তাদের লাঞ্ছিত করব।

তিনি ইকরিমাহ-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের শিশুদের শিক্ষকরা তোমাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম; তারা এতিমদের প্রতি সবচেয়ে কম দয়াময় এবং মিসকিনদের প্রতি সবচেয়ে কঠোর।

মামুন ইবনে আহমদ আল-হারওয়িকে বলা হলো, আপনি কি শাফেয়ি এবং খোরাসানে তার অনুসারীদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখছেন না? তখন তিনি বললেন, আমাদের নিকট আহমদ ইবনে উবাইদিল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট উবাইদিল্লাহ ইবনে মা’দান আল-আজদি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস নামে এক ব্যক্তির আবির্ভাব হবে, যে আমার উম্মতের জন্য ইবলিসের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হবে। আর আমার উম্মতের মধ্যে এক ব্যক্তি হবে...