(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: -)
اختلاف الأئمة العلماء لابن هبيرة   (ابن هبيرة)

القسم: الفقه العام


الكتاب: اختلاف الأئمة العلماء

المؤلف: يحيى بن (هُبَيْرَة بن) محمد بن هبيرة الذهلي الشيبانيّ، أبو المظفر، عون الدين (ت 560 هـ)

المحقق: السيد يوسف أحمد

الناشر: دار الكتب العلمية - لبنان / بيروت

الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م

عدد الأجزاء: 2

تنبيه: "الاتفاق" الذي يحكيه ابنُ هبيرة في هذا الكتاب: ليس هو "الإجماع" المعروف، وإنما هو اتفاق الأئمة الأربعة فقط؛ كما اصطلح عليه المؤلف بهذا الكتاب وصرح به في مقدمته (انظر 1/ 25 - 26 من هذه الطبعة).

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে হুবায়রা রচিত ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা   (ইবনে হুবায়রা)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা

লেখক: ইয়াহইয়া ইবনে (হুবায়রা ইবনে) মুহাম্মদ ইবনে হুবায়রা আদ-দুহলী আশ-শায়বানী, আবু মুজাফফর, আউন উদ্দিন (মৃত্যু ৫৬০ হিজরি)

তাহকীক: আস-সৈয়দ ইউসুফ আহমদ

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - লেবানন / বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

সতর্কবার্তা: "আল-ইত্তিফাক (ঐক্যমত)" যা ইবনে হুবায়রা এই গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: তা পরিচিত "ইজমা" নয়, বরং তা কেবল চার ইমামের ঐক্যমত মাত্র; যেমনটি লেখক এই গ্রন্থে পরিভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং তার ভূমিকায় স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন (দেখুন ১/ ২৫ - ২৬ এই সংস্করণ থেকে)।

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

وَبِه نستعين

الْحَمد لله الَّذِي رفع الْعلمَاء إِلَى أشرف المناصب وأعلا أسمائهم، وَفتح عَلَيْهِم بِمَعْرِِفَة الخلاق عَن الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وتحرير كل مَذْهَب فضلا مِنْهُ وحلما، وَنشر فِي الْخَافِقين أعلامهم، وأجرى بِالْأَحْكَامِ أقلامهم برقم (الطروس) رقما، فنعمان النِّعْمَة مَا خصهم علما وفهما، وَفضل مالكهم بموطأ الحَدِيث المرسم فِيهِ الْأَحْكَام رسما، وشافعي سائلهم، ودبر لَهُم من الْعلم نَصِيبا وقسما، وأحمدهم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আলেমগণকে অত্যন্ত সম্মানিত অবস্থানে উন্নীত করেছেন এবং তাঁদের নামসমূহকে সুউচ্চ করেছেন; এবং তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও সহনশীলতায় চার ইমামের মাধ্যমে বিবিধ জ্ঞান এবং প্রতিটি মাযহাবের যথাযথ বিন্যাস ও সংকলনের পথ উন্মোচন করেছেন। তিনি দিগন্তজুড়ে তাঁদের সুখ্যাতির নিশান উড্ডীন করেছেন এবং কাগজের পৃষ্ঠায় বিধানসমূহের লিখনীতে তাঁদের কলমকে সচল করেছেন। সুতরাং নুমান (ইমাম আবু হানিফা) হলেন সেই নিয়ামত যা তাঁদের ইলম ও প্রজ্ঞার বিশেষত্ব দান করেছে; এবং তিনি তাঁদের মালিককে (ইমাম মালিক) হাদীসের মুওয়াত্তা প্রদানের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন যাতে বিধানসমূহ সুস্পষ্টভাবে বিধৃত হয়েছে; এবং শাফেয়ী (ইমাম শাফেয়ী) তাঁদের জিজ্ঞাসুদের জন্য সমাধানকারী, এবং তিনি তাঁদের জন্য ইলমের একটি অংশ ও ভাগ সুবিন্যস্ত করেছেন; এবং তাঁদের আহমদ (ইমাম আহমদ)...
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ১৮)
لسيدهم مُسِنَّة إِلَيْهِ فَلَا يَخْشونَ لَدَيْهِ هما.

أَحْمَده حمدا لأنال بِهِ من الْإِخْلَاص حظا وقسما، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا اللَّهِ وَحده لَا شريك لَهُ، شَهَادَة أمحو بهَا ذَنبا وإثما، وَأشْهد أَن سيدنَا وَنَبِينَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الَّذِي أذهب بِشَرِيعَتِهِ عَن الْقُلُوب هما، ومنحهم بهَا نعما جما. وَبعد.

فَإِن علم الْفِقْه هُوَ أفضل عُلُوم الدّين، وَأَعْلَى منزلَة أهل الْمعرفَة وَالْيَقِين لما جَاءَ فِيهِ عَن سيد الْمُرْسلين: " من يرد اللَّهِ بِهِ خيرا يفقهه فِي الدّين ".

أما قَوْله: " من يرد بِهِ خيرا " فَإِن هَذَا شَرط وَجَوَابه يفقهه، وهما مجزومان، وَقد أنجزم الفعلان بذلك وَكَانَ الأَصْل من يرد، وَكَذَلِكَ كَانَ يفقهه مَرْفُوعا، فانجزما بِجَوَاب الشَّرْط، فَحصل بذلك أَن الْمَعْنى: " من يرد اللَّهِ بِهِ خيرا يفقهه "، وَاقْتضى هَذَا أَن من لم يفقهه فِي الدّين لم يكن مِمَّن يرد اللَّهِ بِهِ خيرا، وَلم يقل: من يرد اللَّهِ بِهِ الْخَيْر، بِالْألف وَاللَّام، فَكَانَ يكون الْخَيْر الْمَعْهُود الْمُعَرّف بِالْألف وَاللَّام، فَدلَّ على أَن هَذَا التنكير للخير هَاهُنَا أوقع لِأَن من لم يفقهه فِي الدّين فَإِنَّهُ لَا يرد بِهِ خيرا، فَأَما يفقهه فَهَذِهِ الْهَاء مبدلة من الْهمزَة لِأَن أصل فقه الرجل: فقئ فالهاء
তাদের প্রভুর প্রতি আনুগত্যশীল, তাই তারা তাঁর নিকট কোনো উদ্বেগের আশঙ্কা করে না।

আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এমন প্রশংসা যার দ্বারা আমি ইখলাসের অংশ ও নসিব লাভ করতে পারি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক সাক্ষ্য যার দ্বারা আমি পাপ ও অপরাধ মিটিয়ে ফেলি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও আমাদের নবী মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যিনি তাঁর শরীয়তের মাধ্যমে অন্তরসমূহ থেকে দুশ্চিন্তা দূর করেছেন এবং এর দ্বারা তাদেরকে প্রচুর নেয়ামত দান করেছেন। অতঃপর...

নিশ্চয়ই ফিকহ শাস্ত্র হলো দ্বীনি ইলমসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং প্রজ্ঞা ও সুনিশ্চিত বিশ্বাসী মহলে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ। কারণ এ সম্পর্কে রাসূলদের সরদারের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।"

তাঁর বাণী "আল্লাহ যার কল্যাণ চান" এর ক্ষেত্রে এটি একটি শর্ত এবং এর উত্তর হলো "তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন"। এই উভয় পদই জজম-যুক্ত। এই কারণে উভয় ক্রিয়াপদ জজম প্রাপ্ত হয়েছে, যেখানে মূলে প্রথম ক্রিয়াপদটি এবং দ্বিতীয় ক্রিয়াপদটি পেশ-যুক্ত ছিল। অতঃপর শর্তের উত্তরের কারণে উভয়ই জজম প্রাপ্ত হয়েছে। এর ফলে সারকথা এই দাঁড়াল যে: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন"। এটি একথাই প্রমাণ করে যে, যাকে আল্লাহ দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেননি, তিনি তার জন্য কোনো কল্যাণই চাননি। এখানে 'আল-খায়র' (সুনির্দিষ্ট কল্যাণ) আলিফ ও লাম যোগে বলা হয়নি, যা বললে এটি একটি পরিচিত সুনির্দিষ্ট কল্যাণ বোঝাত। বরং এখানে 'খায়র' শব্দটিকে অনির্দিষ্ট রাখা অধিক অর্থবহ হয়েছে। কারণ যাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করা হয়নি, তার জন্য কোনো ধরনের কল্যাণই চাওয়া হয়নি। আর 'ইউফাক্কিহুহু' শব্দের এই 'হা' বর্ণটি হামজা থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে, কারণ মানুষের গভীর জ্ঞানের মূল শব্দ হলো 'ফাকুইয়া', তাই এই 'হা' বর্ণটি...
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ১৯)
مبدلة من الْهمزَة، وَمعنى فقه الرجل: غاص على اسْتِخْرَاج معنى القَوْل من قَوْلهم: فقأت عينه إِذا نخستها فَجعلت بَاطِنهَا ظَاهرهَا، فَمَعْنَى الْفِقْه على هَذَا التَّأْوِيل هُوَ اسْتِخْرَاج الغوامض والإطلاع على أسرار الْكَلَام، وَفِي هَذَا الحَدِيث من الْفِقْه أَن اللَّهِ سبحانه وتعالى قَالَ: {إِن الدّين عِنْد اللَّهِ الْإِسْلَام} ، وَيكون المُرَاد بِالدّينِ هَا هُنَا الْإِسْلَام بِدَلِيل قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ من يرد اللَّهِ بِهِ خيرا يفقهه فِي الدّين "، بِالْألف وَاللَّام.

ثمَّ أَنه صلى الله عليه وسلم جَاءَ بِالْهدى والنور، وَمن ذَلِك مَا شرع اللَّهِ على لِسَانه من التَّحْلِيل وَالتَّحْرِيم والوصايا وَالْأَدب وسير الْأَوَّلين والأخرين، وَمَا قصّ من أحسن الْقَصَص، فَأَيْنَ كَانَ
صلى الله عليه وسلم َ - من الْجَانِب الغربي إِذا قضى اللَّهِ إِلَى مُوسَى الْأَمر، قَالَ اللَّهِ عز وجل: {وَمَا كنت بِجَانِب الغربي إِذْ قضينا إِلَى مُوسَى الْأَمر} وَلما انقلبت العصى حَيَّة وَولى مُوسَى هَارِبا، وَقَوله: {وَمَا كنت لديهم إِذْ يلقون أقلامهم أَيهمْ يكفل مَرْيَم} ، وَكَانَت الْأَخْبَار الْمَاضِيَة غيب لَا يعلمهَا إِلَّا اللَّهِ عز وجل ثمَّ من كَانَ فِيهَا فَأخْبر هُوَ عليه السلام بهَا، وَشهِدت الْعلمَاء مِنْهُم بذلك كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَشهد شَاهد من بني إِسْرَائِيل على مثله} .

أَي أَنه لم يخْتَلف خَبره صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ عَن خبر التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل، فَكَانَ هَذَا أمرا وَاضحا جليا من إِعْلَام اللَّهِ لَهُ بِمَا كَانَ من ذَلِك الْغَيْب، وَكَذَلِكَ مَا كَانَ غيبا من أهل وقته مِمَّا علم بِهِ كَقَوْلِه عز وجل: {وَإِذ أسر النَّبِي إِلَى بعض أَزوَاجه حَدِيثا فَلَمَّا نبأت بِهِ وأظهره اللَّهِ عَلَيْهِ عرف بعضه وَأعْرض عَن بعض فَلَمَّا نبأها بِهِ قَالَت من أَنْبَأَك هَذَا قَالَ نَبَّأَنِي الْعَلِيم الْخَبِير} ، فأحاط بِالْغَيْبِ من الْوُجُوه الثَّلَاثَة، الْمَاضِي كَقَوْلِه: {إِذْ قضينا إِلَى مُوسَى الْأَمر} وَغَيره.
হামযা থেকে পরিবর্তিত এবং 'ব্যক্তিটি বিজ্ঞ হয়েছে' (ফাক্বিহা আর-রাজুলু)-এর অর্থ হলো: সে বাণীর অর্থ উদ্ধারের জন্য এর গভীরে প্রবেশ করেছে। এটি তাদের এই কথা থেকে উৎসারিত: 'আমি তার চোখ উপড়ে ফেলেছি' (ফাকাআতু আইনাহু) যখন তুমি তা খোঁচাও, ফলে এর ভেতরটা বাইরে বের করে আনো। সুতরাং এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী ফিকহ-এর অর্থ হলো অস্পষ্ট বিষয়গুলো উদ্ধার করা এবং বাণীর রহস্যসমূহ অবগত হওয়া। আর এই হাদিসের ফিকহী তাৎপর্য হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: 'নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম'। আর এখানে দ্বীন দ্বারা ইসলামই উদ্দেশ্য, যার দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "‌‌ আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন", এখানে আলিফ ও লাম সহযোগে শব্দটি এসেছে।

অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিদায়াত ও নূর নিয়ে এসেছেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ যা তাঁর যবানে শরীয়ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন—হালাল-হারাম, অসিয়ত, আদব-কায়দা এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের ইতিহাস, এবং যা কিছু তিনি উত্তম কাহিনীসমূহ থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথায় ছিলেন
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম — পশ্চিম প্রান্ত থেকে যখন আল্লাহ মূসার প্রতি আদেশ সম্পন্ন করেছিলেন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: 'তুমি পশ্চিম প্রান্তে ছিলে না যখন আমি মূসার প্রতি আদেশটি সম্পন্ন করেছিলাম'। আর যখন লাঠিটি সাপে রূপান্তরিত হলো এবং মূসা পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করলেন। এবং তাঁর বাণী: 'তুমি তাদের নিকট উপস্থিত ছিলে না যখন তারা তাদের কলমগুলো নিক্ষেপ করছিল যে, তাদের মধ্যে কে মারিয়ামের দায়িত্ব গ্রহণ করবে'। অতীত সংবাদসমূহ ছিল অদৃশ্যের বিষয় যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ব্যতীত কেউ জানত না, অতঃপর যারা তাতে উপস্থিত ছিল (তারা জানত), কিন্তু নবী আলাইহিস সালাম সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। তাদের মধ্য হতে আলিমগণ এর সাক্ষ্য দিয়েছেন যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: 'এবং বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী অনুরূপ বিষয়ের ওপর সাক্ষ্য দিয়েছে'।

অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদ ভিন্নতর ছিল না — তাওরাত ও ইঞ্জিলের সংবাদ থেকে। সুতরাং এটি একটি স্পষ্ট ও উজ্জ্বল বিষয় ছিল যে আল্লাহ তাকে ঐ অদৃশ্যের সংবাদসমূহ জানিয়েছিলেন। অনুরূপভাবে তাঁর সমসাময়িক লোকদের মধ্যকার যা কিছু অদৃশ্য ছিল তাও তিনি অবগত হয়েছিলেন, যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: 'এবং যখন নবী তাঁর এক স্ত্রীর কাছে একটি কথা গোপনে বললেন, অতঃপর যখন সে স্ত্রী তা অন্যকে জানিয়ে দিল এবং আল্লাহ নবীর কাছে তা প্রকাশ করে দিলেন, তখন নবী তার কিছু ব্যক্ত করলেন এবং কিছু এড়িয়ে গেলেন' অতঃপর নবী যখন তাকে (স্ত্রীকে) তা জানালেন, তখন সে বলল, আপনাকে এটি কে জানাল? নবী বললেন, আমাকে সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবহিত সত্তা জানিয়েছেন। সুতরাং তিনি তিন দিক থেকে অদৃশ্যের জ্ঞান পরিবেষ্টন করেছিলেন—অতীত, যেমন আল্লাহর বাণী: 'যখন আমি মূসার প্রতি আদেশটি সম্পন্ন করেছিলাম' এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ২০)
والمستقبل كَقَوْلِه: {سيغلبون} ، والحاضر كَقَوْلِه: {نَبَّأَنِي الْعَلِيم الْخَبِير} ، فأحاط بِالْغَيْبِ من جَمِيع جهاته، وَمن آيَاته ترْجم المنجوم لبعثه، قَالَ اللَّهِ عز وجل: {وَأَنا لمسنا السَّمَاء فَوَجَدْنَاهَا ملئت حرسا شَدِيدا وشهبا} .

وَلَيْسَ لقَائِل أَن يَقُول: هَذِه كَانَت معهودة لِأَن اللَّهِ تَعَالَى أكذبه بقوله: {وَأَنا كُنَّا نقعد مِنْهَا مقاعد للسمع فَمن يستمع الأن يجد لَهُ شهابا رصدا} .

وَلَو كَانَ ذَلِك معهودا كَمَا قَالَ الْمُشْركُونَ، فَمَا هَذَا الَّذِي تجدّد علينا هَكَذَا كُنَّا، فَأمره صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ وَاضح.

وَلَو استقصينا دَلَائِل نبوته
صلى الله عليه وسلم َ - لطال الْكَلَام، فَإِذا ثَبت بِالدَّلِيلِ أَنه رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ وَجب امْتِثَال أمره وَاجْتنَاب نَهْيه. فَهَذَا الأَصْل الَّذِي هُوَ: " لَا إِلَه إِلَّا اللَّهِ " أُوحِي إقَام الصَّلَاة وإيتاء الزَّكَاة
এবং ভবিষ্যৎ, যেমন তাঁর বাণী: {তারা শীঘ্রই পরাজিত হবে}, এবং বর্তমান, যেমন তাঁর বাণী: {আমাকে মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ সত্তা অবহিত করেছেন}। সুতরাং তিনি গায়েব বা অদৃশ্যের সকল দিককে পরিবেষ্টন করে আছেন। আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর প্রেরণের প্রাক্কালে উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপের মাধ্যমে শয়তানদের বিতাড়ন করা, আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বলেন: {আর আমরা আকাশ স্পর্শ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা সেটিকে কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিণ্ড দ্বারা পূর্ণ পেলাম}।

কারও পক্ষে এ কথা বলার সুযোগ নেই যে: এগুলো আগে থেকেই পরিচিত বা স্বাভাবিক ছিল, কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীর মাধ্যমে একে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছেন: {আর আমরা (আগে) সংবাদ শোনার জন্য আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বসতাম, কিন্তু এখন কেউ শুনতে চাইলে সে তার জন্য ওত পেতে থাকা এক জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড দেখতে পায়}।

আর যদি বিষয়টি তেমনই পরিচিত হতো যেমনটা মুশরিকরা বলেছিল, তবে (তারা বলতে পারত না যে) 'আমাদের উপর এই নতুন কী আপতিত হলো? আমরা তো এভাবেই চলছিলাম'। সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিষয়টি -‌‌ সুস্পষ্ট।

আর যদি আমরা তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণাদি সবিস্তারে অন্বেষণ করি
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - তবে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে। সুতরাং যখন প্রমাণের ভিত্তিতে এটি সাব্যস্ত হলো যে তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -‌‌ তখন তাঁর আদেশ পালন করা এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ল। সুতরাং এই মূলনীতিটিই হলো: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই", যার সাথে সালাত কায়েম করা এবং জাকাত প্রদানের ওহি নাযিল হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ২১)
وَصَوْم رَمَضَان وَحج الْبَيْت.

وَإِنَّمَا ذكر رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ بِنَاء الْإِسْلَام على خمس لِأَنَّهَا سمات الْإِسْلَام على كل مُسلم، وَهِي فرض عين لَا فرض كِفَايَة.

وَنحن نذْكر من فقه هَذَا الحَدِيث مَا نرجو أَن يَشْمَل الْوَاجِبَات اللَّازِمَة دون التفرعات الَّذِي علمهَا
.

 

فصل

 

‌‌ونبدأ قبل ذكرهَا بِذكر أَشْيَاء من أصُول الْفِقْه على طَرِيقه الْمُتَقَدِّمين، فَنَقُول: حد الْعلم معرفَة الْمَعْلُوم على مَا هُوَ عَلَيْهِ بِهِ، وَعلم الله قديم وَعلم المخلوقين يَنْقَسِم إِلَى ضَرُورِيّ ومكتسب، وَالدَّلِيل هُوَ المرشد.

وينقسم الْفِقْه على وَاجِب ومندوب إِلَيْهِ، ومباح ومحظور
ومكروه، فَالْوَاجِب: مَا ينَال تَاركه الْوَعيد، وَالْمَنْدُوب إِلَيْهِ: مَا فعله فضل وَلَا إِثْم من تَركه، والمباح: مَا أطلق للْعَبد إِلَّا أَن نِيَّته فِيهِ يُثَاب عَلَيْهَا، والمحظور وَالْمحرم وَالْمَكْرُوه: مَا تَركه فضل وَفعله بخس.

ويستدل بأوامر اللَّهِ سبحانه وتعالى وأومر رَسُوله صلى الله عليه وسلم َ -، وَفعله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ وَإِقْرَاره الْفَاعِل وَفِي الْكَلَام حَقِيقَة، وَفِيه الْمجَاز، والأسماء تُؤْخَذ شرعا ولغة وَقِيَاسًا، وللأمر صِيغَة تَقْتَضِي الْوُجُوب فَإِذا ورد الْأَمر بأَشْيَاء مَعَ التَّخْيِير، كَانَ الْوَاجِب وَاحِدًا غير
এবং রমজানের রোজা ও বায়তুল্লাহর হজ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের ওপর হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, কারণ এগুলো প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ইসলামের নিদর্শন এবং এগুলো ফরজে আইন, ফরজে কিফায়া নয়।

আমরা এই হাদিসের ফিকহ থেকে এমন বিষয়গুলো উল্লেখ করার আশা রাখি যা আবশ্যকীয় ওয়াজিবসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করবে, কিন্তু এর ঐসব শাখা-প্রশাখা নয় যা আলেমগণ জানেন।

 

পরিচ্ছেদ

 

‌‌সেগুলো উল্লেখ করার পূর্বে আমরা প্রাচীন পণ্ডিতদের পদ্ধতি অনুযায়ী উসূলে ফিকহের কিছু বিষয় উল্লেখ করে শুরু করছি। আমরা বলি: ইলমের সংজ্ঞা হলো কোনো জ্ঞাত বিষয়কে তা বাস্তবে যেমন আছে তেমনভাবে জানা। আল্লাহর জ্ঞান চিরন্তন, আর সৃষ্টিজীবের জ্ঞান দুই ভাগে বিভক্ত: আবশ্যিক ও অর্জিত। আর দলিল হলো পথপ্রদর্শক।

ফিকহ ওয়াজিব, মানদুব (পছন্দনীয়), মুবাহ, মাহজুর (নিষিদ্ধ) ও মাকরূহ—এই ভাগে বিভক্ত। ওয়াজিব হলো তা-ই, যার বর্জনকারী শাস্তির হুমকির সম্মুখীন হয়। মানদুব হলো তা-ই, যা করা ফজিলতপূর্ণ কিন্তু বর্জন করলে কোনো গুনাহ নেই। মুবাহ হলো তা-ই, যা বান্দার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, তবে এতে নিয়ত থাকলে তার জন্য সওয়াব পাওয়া যায়। আর মাহজুর, হারাম ও মাকরূহ হলো তা-ই, যা বর্জন করা ফজিলতপূর্ণ এবং যা করা ক্ষতির কারণ।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নির্দেশাবলি, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশাবলি, তাঁর কার্যাবলি ‌‌এবং কোনো আমলকারীর প্রতি তাঁর মৌনসম্মতি দ্বারা দলিল গ্রহণ করা হয়। শব্দের মধ্যে হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) আছে এবং এতে মাজায (রূপক অর্থ) আছে। নামসমূহ শরীয়ত, ভাষা ও কিয়াসের ভিত্তিতে গৃহীত হয়। নির্দেশের এমন রূপ রয়েছে যা ওয়াজিব হওয়াকে অপরিহার্য করে। সুতরাং যখন পছন্দের সুযোগ দিয়ে একাধিক বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করা হয়, তখন ওয়াজিব হয় একটি যা নির্দিষ্ট নয়
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ২২)
معنى، فَإِذا أَدَّاهُ الْمَأْمُور بِهِ أَجزَأَهُ، وَالْفَرْض هُوَ الْوَاجِب عِنْد الشَّافِعِي، وَعند أَحْمد وَأبي حنيفَة الْوَاجِب لَازم، وَالْفَرْض ألزم، والنهى ضد الْأَمر، والتعميم فِي أقل الْجمع اثْنَان فَصَاعِدا، فَإِذا عرف بِالْألف وَاللَّام فَهُوَ تَعْمِيم نَحْو: الْمُسلمين، وَكَذَلِكَ إِن كَانَ بِصِيغَة الْوَاحِد كَانَ للْجِنْس نَحْو قَوْله تَعَالَى: {إِن الْإِنْسَان لفي خسر} ، وَلَا يعم شَيْء من أَفعَال النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ إِلَّا بِدَلِيل التَّخْصِيص يَعْنِي الْبَعْض دون الْكل. والنطق إِذا ورد على سَبَب تعلق بِهِ كَيفَ وَقع، ويخصص النُّطْق بِالِاسْتِثْنَاءِ وَالشّرط وَالتَّقْيِيد، وَمَفْهُوم الْخطاب يكون من فحواه ولحنه، وَلَا دَلِيل خطابه. والمجمل من القَوْل الْمُبْهم والمبين التَّعْيِين ولنسخ الرّفْع وَلَيْسَ بالبراء، وَلَا يجوز النّسخ إِلَّا على مَا يتَنَاوَل تَكْلِيف الْخلق دون صِفَات الْخَالِق وتوحيده، وَيجوز نسخ الْقُرْآن بِالْقُرْآنِ، وَالسّنة بِالسنةِ فِيمَا تماثل طَرِيقه وَالْفِعْل بِالْفِعْلِ، وَلَا ينْسَخ الْقُرْآن وَلَا السّنة بِالْإِجْمَاع وَلَا بِالْقِيَاسِ، وَإِذا قَالَ الصَّحَابِيّ: هَذِه الْآيَة مَنْسُوخَة وَلم يذكر مَا نسخهَا، لم يثبت نسخهَا.
অর্থ এই যে, যখন আদিষ্ট ব্যক্তি যা দ্বারা আদিষ্ট হয়েছে তা সম্পাদন করে, তখন তা তার জন্য যথেষ্ট হয়। ইমাম শাফিঈর নিকট ফরজ ও ওয়াজিব একই বিষয়। ইমাম আহমাদ ও ইমাম আবু হানিফার নিকট ওয়াজিব হলো আবশ্যক এবং ফরজ হলো অধিকতর আবশ্যক। নিষেধ হলো আদেশের বিপরীত। বহুবচনের সর্বনিম্ন পর্যায় হলো দুই বা ততোধিক থেকে ব্যাপকতা শুরু হয়। সুতরাং যখন তা আলিফ ও লাম দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়, তখন তা ব্যাপকতা বা সাধারণ অর্থ দান করে, যেমন: 'আল-মুসলিমুন' (মুসলিমগণ)। তদ্রূপ যদি শব্দ একবচনও হয় তবে তা সমগ্র জাতির অর্থ দেয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে}। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো কর্মই সাধারণ বা ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে না—কেবল সুনির্দিষ্টকরণের দলীল ব্যতীত, যার অর্থ হলো তা সকলের জন্য নয় বরং আংশিক বা বিশেষ কারও জন্য। বক্তব্য যদি কোনো বিশেষ কারণের প্রেক্ষিতে বর্ণিত হয় তবে তা যেভাবে ঘটেছে তার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে। বক্তব্য বা নুতককে ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম), শর্ত এবং তাকয়ীদ (সীমাবদ্ধকরণ) দ্বারা সুনির্দিষ্ট করা হয়। খিতাব বা ভাষণের মাফহুম (মর্মার্থ) এর মূল নিহিত অর্থ এবং এর সুর থেকে গৃহীত হয়, দলীলুল খিতাব থেকে নয়। অস্পষ্ট বক্তব্য হলো মুজমাল এবং সুনির্দিষ্ট হওয়া হলো মুবায়্যান। নাসখ বা রহিতকরণ হলো কোনো বিধান তুলে নেওয়া, এটি দায়মুক্তি নয়। আর মাখলুকের বা সৃষ্টির উপর অর্পিত শারঈ বিধান ব্যতীত স্রষ্টার গুণাবলি এবং তাঁর তাওহীদের ক্ষেত্রে নাসখ বা রহিতকরণ জায়েয নয়। কুরআনের মাধ্যমে কুরআন রহিত করা এবং সুন্নাহর মাধ্যমে সুন্নাহ রহিত করা জায়েয যদি তাদের সূত্র বা পদ্ধতি অভিন্ন হয়, আর কর্মের মাধ্যমে কর্ম রহিত করাও জায়েয। ইজমা কিংবা কিয়াসের মাধ্যমে কুরআন কিংবা সুন্নাহ রহিত করা যায় না। যদি কোনো সাহাবী বলেন যে, "এই আয়াতটি রহিত", অথচ তিনি তা রহিতকারী বিষয়টি উল্লেখ না করেন, তবে তার নাসখ বা রহিত হওয়া সাব্যস্ত হবে না।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَشرع الْإِسْلَام مغنى عَن غَيره، وَفعل رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ شرع، وَكَذَلِكَ إِقْرَاره.

وللخبر صِيغَة وَمِنْه التَّوَاتُر والآحاد، وَمِنْه الْمُتَّصِل والمرسل. والمتصل مَا اتَّصل إِسْنَاده بالعنعنة، وأفضله أَن يَقُول الرَّاوِي: سَمِعت أَو حَدثنِي، فَإِن قَالَ أَخْبرنِي أَو أنبأني نقص عَن تِلْكَ الرُّتْبَة، لجَوَاز أَن يكون الْإِخْبَار إجَازَة فَأَما الْمُرْسل:
فَمَا يرويهِ التَّابِعِيّ عَن رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -.

وَإِذا روى الصَّبِي الْمُمَيز قبل خَبره.

وَمن شَرط قبُول رِوَايَة الرَّاوِي أَن يكون عدلا، غير مُبْتَدع.

وَالصَّحَابَة كلهم عدُول، وَالَّذين اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَان.

وَيلْزم الْجَارِح للراوي تعْيين مَا جرحه بِهِ، وَتقدم بَينه الْجرْح على التَّعْدِيل.

وَرِوَايَة حَدِيث رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ بِالْمَعْنَى غير جَائِزَة إِلَّا عِنْد بعض الْعلمَاء، للْعَالم دون غَيره. وَإِذا روى الرَّاوِي الحَدِيث ثمَّ نَسيَه لم يسْقط الحَدِيث.
ইসলামের শরীয়ত অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী করে (পর্যাপ্ত), এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম হলো শরীয়ত, আর অনুরূপভাবে তাঁর মৌন সম্মতিও।

হাদীসের বর্ণনার নির্দিষ্ট রূপ রয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো মুতাওয়াতির ও আহাদ, এবং এর মধ্যে রয়েছে মুত্তাসিল ও মুরসাল। মুত্তাসিল হলো সেই হাদীস যার সনদ 'আন'আনা' পদ্ধতিতে পরস্পর যুক্ত থাকে, আর এর মধ্যে সর্বোত্তম স্তর হলো বর্ণনাকারী কর্তৃক 'আমি শুনেছি' অথবা 'তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন' বলা; আর যদি তিনি বলেন 'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' বা 'তিনি আমাকে অবহিত করেছেন', তবে তা ওই স্তরের নিচে গণ্য হবে, কারণ এ ধরণের সংবাদ প্রদান 'ইজাযত' (অনুমতি প্রদান) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। আর মুরসাল হলো:
যা তাবেয়ী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন।

যখন কোনো বুদ্ধিমান শিশু বর্ণনা করে, তখন তার বর্ণিত সংবাদ গ্রহণ করা হবে।

বর্ণনাকারীর বর্ণনা কবুল করার অন্যতম শর্ত হলো তাকে ন্যায়পরায়ণ হতে হবে এবং বিদআতী হওয়া চলবে না।

সাহাবীগণ সকলেই ন্যায়পরায়ণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁরাও।

বর্ণনাকারীর দোষারোপকারীর জন্য অপরিহার্য হলো কিসের ভিত্তিতে তাকে দোষারোপ করা হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করা, এবং বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে 'জারহ' (ত্রুটি বর্ণনা) 'তা'দীল' (প্রশংসা)-এর ওপর প্রাধান্য পাবে।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস মর্মের ভিত্তিতে বর্ণনা করা বৈধ নয়, তবে কিছু সংখ্যক আলেমের মতে কেবল বিজ্ঞ আলিমের জন্য তা বৈধ, অন্য কারো জন্য নয়। আর যখন বর্ণনাকারী কোনো হাদীস বর্ণনা করার পর তা ভুলে যান, তখন হাদীসটি পরিত্যক্ত হয় না।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَلَا يفك الْأَمر الثَّابِت بِكِتَاب أَو سنة ثَابِتَة إو إِجْمَاع الْمُسلمين بِخَبَر الْوَاحِد، ويرجح الْخَبَر على الْمخبر بِفضل رَاوِيه وموافقة مَتنه لِلْقُرْآنِ، وَإِجْمَاع الْمُسلمين من الْمُجْتَهدين حجَّة فِي الشَّرْع.

وَقَول الصَّحَابَة مُتَقَدم على الْقيَاس وَالْقِيَاس مُتَقَدم على حمل الْفَرْع على أصل فِي بعض أَحْكَامه بِمَعْنى يجمع بَينهمَا ويحتج بِهِ من جَمِيع الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة، وَقد سَمَّاهُ الْفُقَهَاء قِيَاس عِلّة وَقِيَاس دلَالَة وَقِيَاس شبه.

ويشتمل الْقيَاس على أَرْبَعَة أَشْيَاء: على الأَصْل وَالْعلَّة وَالْفرع وَالْحكم، وَالِاسْتِحْسَان عِنْد أبي حنيفَة أصل. والتقليد قبُول قَول النَّبِي من غير دَلِيل وَذَلِكَ ( … ) الْمعَانِي وَلَا يجوز فِي أصُول الدّين وَلَا فِيمَا نقل نقلا عَاما لفرض الصَّلَاة.

والعالم لَا يسوغ لَهُ التَّقْلِيد، وَقد حكى عَن أَحْمد أَنه يسوغ لَهُ ذَلِك، وَالْمَعْرُوف من مذْهبه أَنه لَا يسيغ لمجتهد أَن يُقَلّد.

وَمن عرف طرق الْأَحْكَام من الْكتاب وَالسّنة وموارد الْكَلَام ومصادره ومجازه وَحَقِيقَته وعامه وخاصة وناسخة ومنسوخة ومطلقه ومقيده ومفصله ومجمله وَدَلِيله، وَعرف من أصُول الْعَرَبيَّة مَا يُوضح لَهُ الْمعَانِي وَإِجْمَاع السّلف وخلافهم، وَعرف
কুরআন, সাব্যস্ত সুন্নাহ অথবা মুসলিমদের ইজমা (ঐক্যমত) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয়কে 'খবরে ওয়াহিদ' (একক বর্ণনা) দ্বারা বাতিল করা যাবে না। বর্ণনাকারীর মর্যাদা এবং সংবাদের মূল পাঠ (মতন) কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার ভিত্তিতে এক সংবাদকে অন্য সংবাদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়। আর মুজতাহিদ মুসলিমদের ইজমা শরীয়তের একটি দলিল।

সাহাবীর কথা কিয়াসের (অনুমাননির্ভর তুলনা) ওপর অগ্রগণ্য। আর কিয়াস হচ্ছে কোনো একটি শাখাগত মাসয়ালাকে মূল মাসয়ালার সাথে তার কিছু বিধানের ক্ষেত্রে মেলানোর ওপর অগ্রগণ্য; এর অর্থ হলো উভয়কে একত্রিত করা এবং সমস্ত শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা। ফকিহগণ একে কিয়াসে ইল্লত (কারণভিত্তিক কিয়াস), কিয়াসে দালালাত (নির্দেশনাভিত্তিক কিয়াস) এবং কিয়াসে শাবাহ (সাদৃশ্যভিত্তিক কিয়াস) নামে অভিহিত করেছেন।

কিয়াস চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: আসল (মূল), ইল্লত (কারণ), ফার' (শাখা) এবং হুকুম (বিধান)। ইমাম আবু হানিফার নিকট 'ইস্তিহসান' একটি মূলনীতি। তাকলীদ হলো দলিল ব্যতীত নবীর কথা গ্রহণ করা এবং তা হলো ( … ) অর্থসমূহ; এটি দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলি (উসূলে দ্বীন) এবং সালাত ফরয হওয়ার মতো সর্বজনবিদিত ও ব্যাপকভাবে বর্ণিত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে বৈধ নয়।

আলিমের জন্য তাকলীদ করা বৈধ নয়। ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তার জন্য এটি বৈধ; তবে তার মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো মুজতাহিদের জন্য তাকলীদ করা বৈধ নয়।

আর যে ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতিসমূহ, শব্দের উৎস ও প্রয়োগস্থল, রূপক (মাজায) ও প্রকৃত (হাকীকত) অর্থ, সাধারণ (আম) ও বিশেষ (খাস), রহিতকারী (নাসিখ) ও রহিত (মানসূখ), শর্তহীন (মুতলাক) ও শর্তযুক্ত (মুকাইয়্যাদ), বিস্তারিত (মুফাসসাল) ও সংক্ষিপ্ত (মুজমাল) এবং এর প্রমাণাদি সম্পর্কে অবগত হন; এবং আরবি ভাষার এমন মূলনীতিসমূহ জানেন যা তার নিকট অর্থগুলোকে স্পষ্ট করে তোলে, আর সালাফগণের ঐক্যমত ও মতপার্থক্য সম্পর্কে জানেন এবং জানেন...
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ২৫)
الْقيَاس، وَمَا يجوز تَعْلِيله من الْأُصُول مِمَّا لَا يجوز، وَمَا يُعلل بِهِ وَمَا لَا.

وترتيب الْأَدِلَّة وَتَقْدِيم أولاها، ووجوه التَّرْجِيح ثِقَة مَأْمُونا قد عرف بِالِاحْتِيَاطِ للدّين، أفتى من استفتاه مفصحا عدل، ويختار المستفتين لدينِهِ من الْمُفْتِينَ، وَيقدم فتيا المحتاط لدينِهِ.

وَالْحق فِي أصُول الدّين فِي جِهَة وَاحِدَة، فَأَما الْفُرُوع فَإِنَّهَا كَذَلِك، إِلَّا أَن الْحَرج مَوْضُوع عَن الْمُجْتَهد المستخلص بل لَهُ أجر وَاحِد فِي الْخَطَأ، وَله فِي الْإِصَابَة أَجْرَانِ. وَالْقَوْلَان من الْفَقِيه فِي الْمَسْأَلَة الْوَاحِدَة إِشْعَار مِنْهُ لدين مَنعه أَن يحتم حَتَّى يعلم، فَيكون لمن بعده الِاجْتِهَاد فِيهَا، فَأَما إِذا تقدم تَارِيخ أحد الْقَوْلَيْنِ فَالْعَمَل على الْأَخير. فَهَذِهِ أصُول الْفِقْه على طَرِيقه الِاخْتِصَار نشِير إِلَى مَا تفرع مِنْهَا.

وَلما انْتهى تدوين الْفِقْه إِلَى الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة، وكل مِنْهُم عدل رَضِي اللَّهِ
কিয়াস এবং মূলনীতির মধ্যে যা কারণ দর্শানো বৈধ এবং যা বৈধ নয়, আর যা দ্বারা কারণ দর্শানো যায় এবং যা দ্বারা যায় না।

দলীলসমূহের বিন্যাস ও সবচেয়ে অগ্রগণ্যটিকে প্রাধান্য দান এবং তারজীহ (প্রাধান্য প্রদানের) পদ্ধতিসমূহ। একজন বিশ্বস্ত ও নিরাপদ ব্যক্তি, যিনি দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতার জন্য পরিচিত, তিনি প্রশ্নকারীর জিজ্ঞাসার উত্তর স্পষ্টভাবে ও ন্যায়সংগতভাবে প্রদান করেন। আর ফাতাওয়া প্রার্থী তার দ্বীনের প্রয়োজনে মুফতিদের মধ্য থেকে নির্বাচন করবে এবং যে ব্যক্তি নিজের দ্বীনের ব্যাপারে অধিক সতর্ক তার ফাতাওয়াকৈ অগ্রগণ্য মনে করবে।

দ্বীনের মৌলিক বিষয়ের ক্ষেত্রে সত্য কেবল এক দিকেই থাকে। শাখা-প্রশাখার (ফুরু) মাসআলার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ, তবে পার্থক্য এই যে, একনিষ্ঠ মুজতাহিদের ওপর থেকে দায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে; বরং তিনি ভুলের জন্য একটি সওয়াব এবং সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য দুটি সওয়াব লাভ করেন। একই বিষয়ে একজন ফকীহর পক্ষ থেকে বর্ণিত দুটি মত হলো তার দ্বীনদারির একটি ইঙ্গিত যা তাকে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত রায় দেওয়া থেকে বিরত রাখে, যাতে তার পরবর্তী ব্যক্তিবর্গের জন্য তাতে ইজতিহাদের অবকাশ থাকে। তবে যদি দুটি মতের একটির সময়কাল আগে জানা যায়, তবে পরবর্তী মতটির ওপর আমল করতে হবে। এগুলোই হলো সংক্ষেপে উসূলে ফিকহ, এর থেকে যা কিছু উৎসারিত হয়েছে আমরা সেদিকে ইঙ্গিত করব।

যখন ফিকহ সংকলনের ধারা চার ইমাম পর্যন্ত পৌঁছালো, এবং তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট...
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ২৬)
عَنْهُم، ورضى عدالتهم الْأَئِمَّة، وَأخذُوا عَنْهُم لأخذهم عَن الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَالْعُلَمَاء وأستقر ذَلِك، وَإِن كلا مِنْهُم مقتدى بِهِ، وَلكُل وَاحِد مِنْهُم لَهُ من الْأمة أَتبَاع من شَاءَ مِنْهُم فِيمَا ذكره وهم: أَبُو حنيفَة، وَمَالك، وَالشَّافِعِيّ، وَأحمد رضي الله عنهم.

رَأَيْت أَن أجعَل مَا أذكرهُ من إِجْمَاع مُشِيرا بِهِ إِلَى إِجْمَاع هَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَة، وَمَا أذكرهُ من خلاف مُشِيرا بِهِ إِلَى الْخلاف بَينهم، فَمن ذَلِك.
তাঁদের নিকট হতে; এবং ইমামগণ তাঁদের ন্যায়পরায়ণতাকে অনুমোদন করেছেন এবং তাঁরা তাঁদের নিকট হতে (ইলম) গ্রহণ করেছেন, যেহেতু তাঁরা সাহাবী, তাবিঈ ও আলেমগণের নিকট হতে গ্রহণ করেছিলেন এবং এ বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকেই এমন ইমাম যাঁকে অনুসরণ করা হয়, এবং উম্মাহর মধ্য হতে আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেছেন তাঁর উল্লিখিত বিষয়ে তাঁদের প্রত্যেকেরই অনুসারী রয়েছে; আর তাঁরা হলেন: আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদ, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আমি স্থির করেছি যে, আমি ইজমা বা ঐকমত্য সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করব তা দ্বারা এই চার ইমামের ঐকমত্যকেই ইঙ্গিত করব, এবং মতভেদ সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করব তা দ্বারা তাঁদের মধ্যকার মতভেদকেই ইঙ্গিত করব। সুতরাং সেই বিষয়গুলোর মধ্য হতে:
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌كتاب الطَّهَارَة

 

أَجمعُوا على أَن الصَّلَاة لَا تصح إِلَّا بِطَهَارَة إِذا وجد السَّبِيل إِلَيْهَا لقَوْله تَعَالَى: {يأيها الَّذين آمنُوا إِذا قُمْتُم إِلَى الصَّلَاة فَاغْسِلُوا وُجُوهكُم وَأَيْدِيكُمْ إِلَى الْمرَافِق وأمسحوا برءوسكم وأرجلكم إِلَى الْكَعْبَيْنِ وَإِن كُنْتُم جنبا فأطهروا وَأَن كُنْتُم مرضى أَو على سفر أَو جَاءَ أحد مِنْكُم من الْغَائِط أَو لامستم النِّسَاء فَلم تَجدوا مَاء فَتَيَمَّمُوا صَعِيدا طيبا فأمسحوا بوجوهكم وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ مَا يُرِيد اللَّهِ ليجعل عَلَيْكُم من حرج وَلَكِن يُرِيد ليطهركم وليتم نعْمَته عَلَيْكُم لَعَلَّكُمْ تشكرون} … ... … الْآيَة. قَالَ أهل اللُّغَة: الطّهُور هُوَ الْعَامِل للطَّهَارَة فِي غَيره، كَمَا يُقَال: قتول، قَالَ ثَعْلَب: الطّهُور الطَّاهِر فِي نَفسه المطهر لغيره، وَهَذَا مِمَّا لَا يُخَالف فِيهِ إِلَّا بعض أَصْحَاب أبي حنيفَة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌পবিত্রতা অধ্যায়

 

সকলে একমত হয়েছেন যে, পবিত্রতা অর্জনের সুযোগ থাকা অবস্থায় পবিত্রতা ব্যতিরেকে সালাত শুদ্ধ হবে না। আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও এবং তোমাদের মাথা মাসাহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত (ধুয়ে নাও)। আর যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাকো তবে পবিত্রতা অর্জন করো। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের কেউ মলত্যাগ করে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ করো এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো; সুতরাং তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসাহ করো। আল্লাহ তোমাদের উপর কোনো সংকীর্ণতা তৈরি করতে চান না; বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করতে চান, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} … ... … আয়াতের শেষ পর্যন্ত। ভাষাবিদগণ বলেছেন: 'তুহুর' হলো যা অন্যকে পবিত্র করার কাজ করে, যেমনটি বলা হয়: 'কাতুল'। ছা'লাব বলেছেন: 'তুহুর' হলো যা স্বয়ং পবিত্র এবং অন্যকেও পবিত্রকারী। আর এটি এমন একটি বিষয় যাতে ইমাম আবু হানিফার কিছু অনুসারী ছাড়া আর কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ২৮)
رَضِي اللَّهِ عَنهُ فَقَالُوا: الطّهُور هُوَ الطَّاهِر على سَبِيل الْمُبَالغَة.

وَأَجْمعُوا على أَن الطَّهَارَة تجب بِالْمَاءِ على كل من لَزِمته الصَّلَاة مَعَ وجوده، فَإِذا عدم فيبدله لقَوْله تَعَالَى: {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تقربُوا الصَّلَاة وَأَنْتُم سكارى حَتَّى تعلمُوا مَا تَقولُونَ وَلَا جنبا إِلَّا عابري سَبِيل حَتَّى تغتسلوا وَإِن كُنْتُم مرضى أَو على سفر أَو جَاءَ أحد مِنْكُم من الْغَائِط أَو لامستم النِّسَاء فَلم تَجدوا مَاء فَتَيَمَّمُوا صَعِيدا طيبا فامسحوا بوجوهكم وَأَيْدِيكُمْ إِن اللَّهِ كَانَ عفوا غَفُورًا} ، وَلقَوْله تَعَالَى: {إِذْ يغشيكم النعاس آمِنَة مِنْهُ وَينزل عَلَيْكُم من السَّمَاء مَاء ليطهركم بِهِ، وَيذْهب عَنْكُم رجز الشَّيْطَان وليربط على قُلُوبكُمْ وَيثبت بِهِ الْأَقْدَام} .

قَالَ أهل اللُّغَة وَالطَّهَارَة: التَّنَزُّه عَن الأدناس والأقذار، وَأَجْمعُوا على أَنه إِذا تغير المَاء عَن أصل خلقته بطاهر فغلب على أَجْزَائِهِ مِمَّا يسْتَغْنى المَاء عَنهُ غَالِبا لم يجز الْوضُوء بِهِ إِلَّا أَبَا حنيفَة فَإِنَّهُ جوز الْوضُوء بِالْمَاءِ الْمُتَغَيّر بالزعفران وَنَحْوه.

وَأَجْمعُوا على أَنه إِذا تغير المَاء بالنجاسات فَهُوَ نجس قل المَاء أَو كثر.

ثمَّ اخْتلفُوا فِي المَاء إِذا كَانَ دون الْقلَّتَيْنِ، والقلتان خَمْسمِائَة رَطْل بالعراقي، وخالطته النَّجَاسَة، فَقَالَ أَبُو حنيفَة وَالشَّافِعِيّ وَأحمد فِي إِحْدَى روايتيه: هُوَ نجس.
আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন। তাঁরা বলেছেন: 'তুহুর' শব্দটি আধিক্য বা অতিরঞ্জন অর্থে পবিত্রকারী বোঝায়।

তাঁরা এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যার ওপর সালাত আবশ্যক তার জন্য পানি থাকা অবস্থায় পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব। অতঃপর যদি পানি না পাওয়া যায়, তবে সেটির বিকল্প গ্রহণ করবে; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলছ তা বুঝতে পারো এবং অপবিত্র অবস্থায়ও নয়—মুসাফির হওয়া ব্যতীত—যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও বা সফরে থাকো অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে কিংবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করো, অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো; সুতরাং তোমাদের মুখমণ্ডল ও তোমাদের হাত মাসেহ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত মার্জনাকারী ও পরম ক্ষমাশীল}। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তিনি তাঁর পক্ষ থেকে স্বস্তির জন্য তোমাদের তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করেছিলেন এবং আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেছিলেন যেন তা দিয়ে তোমাদের পবিত্র করেন, তোমাদের থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করেন, তোমাদের অন্তরসমূহকে সুদৃঢ় করেন এবং এর মাধ্যমে তোমাদের পা-সমূহকে অবিচল রাখেন}।

ভাষাবিদগণ বলেছেন, পবিত্রতা (তাহারাত) হলো মলিনতা ও অপবিত্রতা থেকে মুক্ত থাকা। তাঁরা এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যদি পানির মূল প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কোনো পবিত্র বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং তা পানির উপাদানের ওপর প্রবল হয়ে যায়—যা থেকে সাধারণত পানি মুক্ত থাকে—তবে তা দিয়ে অজু করা জায়েজ নয়। তবে ইমাম আবু হানিফা ব্যতীত; কারণ তিনি জাফরান এবং এই জাতীয় বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত পানি দিয়ে অজু করা বৈধ বলেছেন।

তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, পানি যদি নাপাকি দ্বারা পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে পানি অল্প হোক বা বেশি, তা নাপাক বলে গণ্য হবে।

এরপর তাঁরা সেই পানির ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যার পরিমাণ দুই কুল্লা-র কম এবং তাতে নাপাকি মিশেছে; দুই কুল্লা হলো ইরাকি মাপে পাঁচশ রতল। এমতাবস্থায় ইমাম আবু হানিফা, শাফিঈ এবং ইমাম আহমাদ তাঁর এক বর্ণনা অনুযায়ী বলেছেন: তা নাপাক।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَقَالَ مَالك وَأحمد فِي الرِّوَايَة الْأُخْرَى: إِنَّه مَا لم يتَغَيَّر فَهُوَ طَاهِر.

وَأَجْمعُوا على أَنه لَا يجوز التوضئ بالنبيذ على الْإِطْلَاق إِلَّا أَبَا حنيفَة، فَإِن الرِّوَايَة اخْتلفت عَنهُ فَروِيَ عَنهُ: أَنه لَا يجوز ذَلِك كالجماعة، وَهِي اخْتِيَار أبي يُوسُف.

وَرُوِيَ عَنهُ: أَنه يجوز الْوضُوء بنبيذ التَّمْر الْمَطْبُوخ فِي السّفر عِنْد عدم المَاء.

وَرُوِيَ عَنهُ: أَنه يجوز الْوضُوء بِهِ، ويضيف إِلَيْهِ التَّيَمُّم وَهُوَ اخْتِيَار مُحَمَّد بن الْحسن

وأختلفوا فِي جَوَاز إِزَالَة النَّجَاسَة بِغَيْر المَاء من الْمَائِعَات فَقَالَ أَبُو حنيفَة: يجوز بِكُل مَائِع طَاهِر مزيل للعين. وَقَالَ ملك وَالشَّافِعِيّ وَأحمد: لَا يجوز إِلَّا بِالْمَاءِ. وَعَن أَحْمد رِوَايَة أُخْرَى كمذهب أبي حنيفَة.
ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমদ অপর এক বর্ণনায় বলেছেন যে, এটি যতক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তিত না হয় ততক্ষণ তা পবিত্র।

এবং তারা সকলে এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, সাধারণভাবে নবীজ দ্বারা অজু করা বৈধ নয়, তবে ইমাম আবু হানিফা এর ব্যতিক্রম। কেননা তার থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতে ভিন্নতা রয়েছে; তার থেকে একটি বর্ণনা এই যে, অন্যান্য ইমামদের মতো এটি বৈধ নয়, এবং এটিই ইমাম আবু ইউসুফের মনোনীত মত।

তার থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে: সফর অবস্থায় পানির অনুপস্থিতিতে রান্না করা খেজুরের নবীজ দ্বারা অজু করা বৈধ।

তার থেকে এও বর্ণিত হয়েছে যে: এটি দিয়ে অজু করা বৈধ হবে এবং এর সাথে তায়াম্মুমও যুক্ত করতে হবে; আর এটি ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের মনোনীত মত।

এবং পানি ব্যতীত অন্যান্য তরল পদার্থের মাধ্যমে নাজাসাত (অপবিত্রতা) দূর করার বৈধতা নিয়ে তারা মতভেদ করেছেন; ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: অপবিত্রতার মূল উপাদান অপসারিত করে এমন প্রতিটি পবিত্র তরল পদার্থ দিয়েই তা বৈধ। আর ইমাম মালিক, শাফিঈ এবং আহমদ বলেছেন: পানি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে তা বৈধ নয়। ইমাম আহমদের পক্ষ থেকে ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের অনুরূপ আরেকটি বর্ণনাও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَاتَّفَقُوا على أَن الْحَدث لَا يرفعهُ على الْإِطْلَاق إِلَّا المَاء.

 

‌‌بَاب النَّجَاسَات

 

اتَّفقُوا على أَن الْخمر إِذا انقلبت خلا من غير معالجة الْآدَمِيّ طهرت.

ثمَّ اخْتلفُوا فِي معالجة الْآدَمِيّ لتخليلها وَهل تطهر إِذا خللها؟ فَقَالَ أَبُو حنيفَة: يجوز تخليلها وتطهر.

وَقَالَ الشَّافِعِي وَأحمد: لَا يجوز تخليلها وَلَا تطهر بالتخليل، وَعَن مَالك رِوَايَتَانِ كالمذهبين.

وَاخْتلفُوا فِي جُلُود الْميتَة هَل تطهر بالدباغ؟ ، فَقَالَ أَبُو حنيفَة وَالشَّافِعِيّ: تطهر، وَاسْتثنى أَبُو حنيفَة جلد الْخِنْزِير فَقَالَ: لَا يطهر، وَعند أبي يُوسُف إِذا ذبح الْخِنْزِير يطهر جلده بالدباغة، كَذَا فِي الْخُلَاصَة، هَذَا نَقله عَن شرح الْمجمع لِابْنِ قرشته.

وَاسْتثنى الشَّافِعِي جلد الْكَلْب وَالْخِنْزِير وَمَا تولد مِنْهُمَا أَو من أَحدهمَا، فَقَالَ: لَا يطهر.
তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, সাধারণভাবে পানি ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা নাপাকি (হাদাস) দূর হয় না।

 

‌‌নাপাকি (অপবিত্রতা) সংক্রান্ত অধ্যায়

 

তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মদ যদি মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজে নিজে সিরকায় পরিণত হয়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে।

অতঃপর তারা মানুষের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সিরকা তৈরির বিষয়ে এবং এর মাধ্যমে তা পবিত্র হবে কি না সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন: সিরকা তৈরি করা জায়েজ এবং এতে তা পবিত্র হবে।

ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেছেন: সিরকা তৈরি করা জায়েজ নয় এবং এই প্রক্রিয়ায় তা পবিত্র হবে না। আর ইমাম মালিক (রহ.) থেকে উক্ত দুই মাযহাবের অনুরূপ দুটি বর্ণনা পাওয়া যায়।

মৃত পশুর চামড়া পাকা (ডাবাগাত) করার মাধ্যমে পবিত্র হয় কি না, সে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেঈ (রহ.) বলেছেন: তা পবিত্র হবে। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) শূকরের চামড়াকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন: তা পবিত্র হবে না। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, যদি শূকর জবেহ করা হয় তবে পাকা করার মাধ্যমে তার চামড়া পবিত্র হবে। ‘আল-খুলাসা’ গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে; এটি ইবনে কারাশতাহ প্রণীত ‘শারহুল মাজমা’ থেকে উদ্ধৃত।

ইমাম শাফেঈ (রহ.) কুকুর, শূকর এবং এদের কোনো একটি থেকে জন্ম নেওয়া প্রাণীর চামড়াকে ব্যতিক্রম গণ্য করেছেন এবং বলেছেন: তা পবিত্র হবে না।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَعَن مَالك رِوَايَتَانِ أَحدهمَا: لَا يطهر على الْإِطْلَاق، وَالْأُخْرَى: يطهر ظَاهره دون بَاطِنه.

وَعَن أَحْمد رِوَايَتَانِ، أَحدهمَا: كالأولى عَن مَالك وَهِي الْمَشْهُورَة عَن مَالك، وَالْأُخْرَى: يطهر بالدباغ مَا كَانَ ظَاهرا قبل الْمَوْت وَنَصّ نطقه أَنه سُئِلَ عَن ذَلِك فَقَالَ: أَرْجُو.

وَاتَّفَقُوا على أَنه لَا يطهر بالذكاة مَا لَا يُؤْكَل لَحْمه إِلَّا أَبَا حنيفَة فَإِنَّهُ قَالَ: يطهر.

وَأَجْمعُوا على أَن صوف الْميتَة وشعرها طَاهِر إِلَّا فِي إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَن أَحْمد فَإِنَّهُ نجس دلّ عَلَيْهَا كَلَامه وَأحد الْقَوْلَيْنِ عَن الشَّافِعِي أَنه نجس وَهُوَ أظهرهمَا. وَاتَّفَقُوا على أَن صوف الْكَلْب وَشعر الْخِنْزِير نجس حَيا وَمَيتًا، إِلَّا أَبَا حنيفَة فَإِنَّهُ قَالَ: ذَلِك طَاهِر، وَوَافَقَهُ مَالك فِي طَهَارَة صوف الْكَلْب حَيا وَمَيتًا.

ثمَّ اخْتلفُوا فِي جَوَاز الِانْتِفَاع بِهِ من الخرز وَنَحْوه، فَرخص فِيهِ أَبُو حنيفَة وَمَالك مَعَ النداوة الَّتِي فِي أَسْفَله وَمنع مِنْهُ الشَّافِعِي وَكَرِهَهُ أَحْمد وَقَالَ: يخرز بالليف أحب إِلَيّ.

وَاخْتلفُوا فِي عِظَام الْفِيل وَالْميتَة، فَقَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ وَأحمد: هِيَ
ইমাম মালিক থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে; যার একটি হলো: এটি নিঃশর্তভাবে পবিত্র হয় না। অন্যটি হলো: এর বাহ্যিক অংশ পবিত্র হয়, কিন্তু অভ্যন্তরীণ অংশ পবিত্র হয় না।

ইমাম আহমাদ থেকেও দুটি বর্ণনা রয়েছে; একটি হলো: ইমাম মালিকের প্রথম বর্ণনার অনুরূপ এবং এটিই ইমাম মালিকের প্রসিদ্ধ মত। অন্যটি হলো: চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তা পবিত্র হয় যা মৃত্যুর পূর্বে দৃশ্যমান ছিল। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য হলো, তাঁকে যখন এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তখন তিনি বলেছিলেন: "আমি আশা করি (এটি পবিত্র হবে)।"

ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, অখাদ্য পশুর গোশত জবেহ করার মাধ্যমে পবিত্র হয় না; তবে ইমাম আবু হানিফা ভিন্নমত পোষণ করেছেন, কেননা তিনি বলেছেন: এটি পবিত্র হয়।

তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মৃত পশুর পশম ও চুল পবিত্র। তবে ইমাম আহমাদের দুটি বর্ণনার একটিতে একে নাপাক বলা হয়েছে যা তাঁর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়। ইমাম শাফেয়ীর দুটি মতের একটিতেও একে নাপাক বলা হয়েছে এবং এটিই তাঁর অধিকতর স্পষ্ট মত। তাঁরা একমত হয়েছেন যে, কুকুরের পশম ও শূকরের চুল জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় নাপাক; তবে ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: তা পবিত্র। ইমাম মালিক কুকুরের পশম জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় পবিত্র হওয়ার বিষয়ে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

অতঃপর তাঁরা সেলাই ও অনুরূপ কাজে এর ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিক এর গোড়ায় আর্দ্রতা থাকা সত্ত্বেও ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম শাফেয়ী তা নিষেধ করেছেন এবং ইমাম আহমাদ একে অপছন্দ করেছেন এবং বলেছেন: "তন্তুর আঁশ দিয়ে সেলাই করা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।"

তাঁরা হাতির হাড় এবং মৃত পশুর হাড়ের বিষয়ে মতভেদ করেছেন। ইমাম মালিক, শাফেয়ী ও আহমাদ বলেছেন: তা...
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৩২)
نَجِسَة، وَقَالَ أَبُو حنيفَة: هِيَ طَاهِرَة، وَعَن مَالك من رِوَايَة ابْن وهب عَنهُ نَحوه.

 

‌‌بَاب الْأَوَانِي

 

اتَّفقُوا على أَن اسْتِعْمَال أواني الذَّهَب وَالْفِضَّة من الْمَأْكُول والمشروب وَالطّيب وَغَيره مَنْهِيّ عَنهُ.

ثمَّ اخْتلفُوا فِي النَّهْي هَل هُوَ نهي تَحْرِيم أَو تَنْزِيه؟ .

فَقَالَ أَبُو حنيفَة وَمَالك وَأحمد: أَنه نهي تَحْرِيم.

وَعَن الشَّافِعِي قَولَانِ، أَحدهمَا: أَنه نهي تَنْزِيه، وَالْآخر أَنه نهى تَحْرِيم، وَهُوَ الَّذِي نَصه الشِّيرَازِيّ فِي التَّنْبِيه. وَاتَّفَقُوا على أَن هَذَا التَّحْرِيم فِي حق الرِّجَال وَالنِّسَاء. وَأَجْمعُوا على أَنه إِن خَالف مُكَلّف فَتَوَضَّأ مِنْهَا أَثم وَصحت طَهَارَته إِلَّا فِي إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَن أَحْمد أَنه لَا تصح طَهَارَة من تطهر مِنْهَا، واختارها عبد الْعَزِيز، وَالْأُخْرَى يكره وَيجزئهُ وَهُوَ اخْتِيَار الْخرقِيّ.

وَأَجْمعُوا على أَن اتخاذها حرَام إِلَّا أَن بعض الشَّافِعِيَّة قَالَ: لَا يحرم إِلَّا
অপবিত্র; এবং আবু হানিফা বলেছেন: তা পবিত্র; আর মালিক থেকে ইবনে ওয়াহাবের বর্ণনায় অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌পাত্রের অধ্যায়

 

তাঁরা একমত হয়েছেন যে, খাদ্য, পানীয়, সুগন্ধি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সোনা ও রূপার পাত্র ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

অতঃপর তাঁরা এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে মতবিরোধ করেছেন যে, এটি কি তাহরিমি (হারাম) নাকি তানজিহি (অপছন্দনীয়) নিষেধ?

আবু হানিফা, মালিক ও আহমাদ বলেছেন: এটি তাহরিমি নিষেধ।

আর শাফিয়ী থেকে দুটি মত রয়েছে, যার একটি হলো: এটি তানজিহি নিষেধ, আর অন্যটি হলো: এটি তাহরিমি নিষেধ, এবং এটিই শিরাজি 'আত-তানবিহ' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা একমত হয়েছেন যে, এই হারাম হওয়ার বিধান পুরুষ ও নারীদের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কোনো মুকাল্লাফ ব্যক্তি যদি বিধানের বিরোধিতা করে তা থেকে অজু করে, তবে সে গুনাহগার হবে কিন্তু তার পবিত্রতা অর্জন সহিহ হবে; তবে আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটির ব্যতিক্রম যে, তা থেকে পবিত্রতা অর্জনকারীর পবিত্রতা সহিহ হবে না এবং আব্দুল আজিজ এটিই গ্রহণ করেছেন; আর অন্য বর্ণনাটি হলো, এটি মাকরুহ হবে কিন্তু যথেষ্ট হবে, এটি আল-খিরাকির পছন্দ।

তাঁরা একমত হয়েছেন যে, তা (সোনা-রূপার পাত্র) রাখা হারাম, তবে শাফিয়ী মাযহাবের কেউ কেউ বলেছেন: এটি হারাম হবে না যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
اسْتِعْمَالهَا فَقَط وَهُوَ وَجه لَهُم.

وَحكى ابْن أبي مُوسَى ذَلِك عَن الشَّافِعِي، ثمَّ قَالَ: وَعَن أَحْمد مثله.

وَاتَّفَقُوا على آثَار سُؤْر مَا يُؤْكَل لَحْمه من الْبَهَائِم طَاهِرَة. ثمَّ اخْتلفُوا فِي سُؤْر مَا لَا يُؤْكَل لَحْمه من سِبَاع الْبَهَائِم كالأسد والنمر وَنَحْوهمَا، فَقَالَ أَبُو حنيفَة وَأحمد فِي إِحْدَى روايتيه: هِيَ نجسه.

وَقَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ وَأحمد فِي الرِّوَايَة الْأُخْرَى: هِيَ طَاهِرَة، وَاسْتثنى مَالك مَا يَأْكُل النَّجَاسَة مِنْهَا، فَحكم بِنَجَاسَة سؤره.

وَاخْتلفُوا فِي الْكَلْب وَالْخِنْزِير، فَقَالَ أَبُو حنيفَة وَالشَّافِعِيّ وَأحمد: هما نجسان، وَكَذَلِكَ سؤرهما، وَقَالَ مَالك فِي الْكَلْب طَاهِر، وسؤره كَذَلِك رِوَايَة وَاحِدَة.

وَالْخِنْزِير نجس وَفِي طَهَارَة سؤره عِنْده رِوَايَتَانِ وعَلى ذَلِك فسؤر الْكَلْب وَالْخِنْزِير فِي الرِّوَايَة الَّتِي يَقُول بِطَهَارَة سؤرهما مكروهان، وَيغسل الْإِنَاء من ولوغ الْكَلْب سبعا تعبدا إِلَّا لنجاسته، ويراق المَاء اسْتِحْبَابا، وَلَا يراق مَا ولغَ فِيهِ من
শুধুমাত্র তার ব্যবহার, এবং এটি তাদের জন্য একটি অভিমত।

ইবনে আবি মুসা ইমাম শাফেঈ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি বলেন: ইমাম আহমদ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যেসব চতুষ্পদ প্রাণীর গোশত খাওয়া বৈধ, তাদের উচ্ছিষ্ট পবিত্র। অতঃপর তাঁরা হিংস্র চতুষ্পদ প্রাণী—যেমন সিংহ, চিতা এবং এই জাতীয়—যাদের গোশত খাওয়া হয় না, তাদের উচ্ছিষ্ট নিয়ে মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম আহমদের এক বর্ণনা অনুযায়ী তা নাপাক।

ইমাম মালিক, শাফেঈ এবং ইমাম আহমদের অন্য বর্ণনা অনুযায়ী তা পবিত্র। তবে ইমাম মালিক তাদের মধ্য থেকে যারা নাপাকি ভক্ষণ করে তাদেরকে ব্যতিক্রম ধরেছেন এবং তাদের উচ্ছিষ্টকে নাপাক হওয়ার হুকুম দিয়েছেন।

তাঁরা কুকুর এবং শূকর নিয়ে মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা, শাফেঈ এবং আহমদ বলেছেন: তারা উভয়ই নাপাক এবং অনুরূপভাবে তাদের উচ্ছিষ্টও নাপাক। ইমাম মালিক কুকুরের ক্ষেত্রে বলেছেন যে তা পবিত্র এবং তার উচ্ছিষ্টও পবিত্র—এটি একটি বর্ণনা।

আর শূকর নাপাক, তবে তার উচ্ছিষ্টের পবিত্রতার ব্যাপারে তাঁর নিকট দুটি বর্ণনা রয়েছে। সেই মতে, কুকুর ও শূকরের উচ্ছিষ্ট—যে বর্ণনায় তাদের উচ্ছিষ্টকে পবিত্র বলা হয়েছে—তা মাকরুহ। কুকুরের মুখ দেওয়ার কারণে পাত্রটি ইবাদত হিসেবে সাতবার ধৌত করতে হবে, তার নাপাকির কারণে নয়। পানি ফেলে দেওয়া মুস্তাহাব, আর যাতে মুখ দিয়েছে তা থেকে...
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
سَائِر الْمَائِعَات وَفِي غسل الْإِنَاء من ولوغ الْخِنْزِير عَنهُ رِوَايَتَانِ أَحدهمَا هُوَ كَالْكَلْبِ وَالثَّانِي لَا يغسل.

وَاتَّفَقُوا على أَن سُؤْر الْبَغْل وَالْحمار طَاهِر إِلَّا أَبَا حنيفَة فَإِنَّهُ شكّ فِي كَونه مطهرا، وروى ابْن جرير عَن مَالك كَرَاهِيَة سؤرهما.

وَاخْتلف عَن أَحْمد فروى عَنهُ الشَّك فيهمَا كَأبي حنيفَة.

وَفَائِدَته: أَنه إِذا لم يجد مَاء غَيره تَوَضَّأ بِهِ وأضاف إِلَيْهِ التَّيَمُّم، وَإِن وجد مَاء غَيره لم يتَوَضَّأ بِهِ.

وَرُوِيَ عَنهُ أَن سؤرهما نجس وَهُوَ الَّذِي نَصره أَصْحَابه.

وَاخْتلفُوا فِي آثَار جوارح الطير، فَقَالَ أَبُو حنيفَة وَالشَّافِعِيّ وَأحمد فِي إِحْدَى روايتيه هِيَ طَاهِرَة إِلَّا أَن أَبَا حنيفَة يكرهها مَعَ ثُبُوت طَهَارَتهَا عِنْده، وَقَالَ أَحْمد فِي الرِّوَايَة الْأُخْرَى: هِيَ نَجِسَة، وَقَالَ مَالك: أَن كَانَت تَأْكُل النَّجَاسَة وتفترسها فَهِيَ نَجِسَة، وَإِن كَانَت لَا تأكلها وَلَا تفترسها فَهِيَ طَاهِرَة.

وَاتَّفَقُوا على طَهَارَة سُؤْر الْهِرَّة وَمَا دونهَا من الْخلقَة إِلَّا أَبَا حنيفَة فَإِنَّهُ يكرههُ.
অন্যান্য তরল পদার্থ সম্পর্কে এবং শূকরের মুখ দেওয়া পাত্র ধৌত করার বিষয়ে তাঁর থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে: একটি হলো এটি কুকুরের মতোই, আর দ্বিতীয়টি হলো এটি ধৌত করার প্রয়োজন নেই।

ইমাম আবু হানিফা ব্যতীত অন্যান্য ফকিহগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, খচ্চর ও গাধার উচ্ছিষ্ট পবিত্র। তবে ইমাম আবু হানিফা এটি পবিত্রকারী হওয়ার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইবনে জারির ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এই দুই প্রাণীর উচ্ছিষ্ট অপছন্দনীয়।

ইমাম আহমাদ থেকেও এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত বর্ণিত হয়েছে; তাঁর থেকে একটি বর্ণনা হলো ইমাম আবু হানিফার মতো তিনিও এ দুটির ব্যাপারে সংশয় পোষণ করতেন।

এর ফায়দা হলো: যদি সে অন্য কোনো পানি না পায়, তবে তা দিয়ে অজু করবে এবং এর সাথে তায়াম্মুম যুক্ত করবে। আর যদি অন্য পানি পাওয়া যায়, তবে তা দিয়ে অজু করবে না।

তাঁর থেকে অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে যে, এ দুটির উচ্ছিষ্ট নাপাক; আর এটিই তাঁর অনুসারীরা সমর্থন করেছেন।

শিকারি পাখিদের উচ্ছিষ্টের ব্যাপারে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ি এবং ইমাম আহমাদের এক বর্ণনা মতে তা পবিত্র; তবে ইমাম আবু হানিফার নিকট তা পবিত্র হওয়া সত্ত্বেও তিনি তা অপছন্দ করতেন। ইমাম আহমাদের অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, তা নাপাক। ইমাম মালিক বলেছেন: যদি পাখিটি নাপাকি ভক্ষণ করে এবং শিকার করে তবে তা নাপাক, আর যদি নাপাকি না খায় এবং শিকার না করে তবে তা পবিত্র।

ইমাম আবু হানিফা ব্যতীত সকল ফকিহ বিড়াল এবং শারীরিক গঠনে এর চেয়ে ছোট প্রাণীদের উচ্ছিষ্ট পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন; তবে ইমাম আবু হানিফা একে অপছন্দনীয় মনে করতেন।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَاتَّفَقُوا على أَنه إِذا مَاتَ فِي المَاء الْيَسِير مَا لَيست لَهُ نفس سَائِلَة كالذباب وَنَحْوه فَإِنَّهُ لَا يُنجسهُ إِلَّا فِي أحد قولي الشَّافِعِي فَإِنَّهُ يُنجسهُ، وَالْقَوْل الآخر أَنه لَا يُنجسهُ وَهُوَ الْأَظْهر.

وَاخْتلفُوا فِي اشْتِرَاط الْعدَد فِي إِزَالَة النَّجَاسَة.

فَقَالَ أَبُو حنيفَة وَمَالك: لَا يشْتَرط الْعدَد فِي شَيْء من ذَلِك وَلَا يجب إِلَّا أَن مَالِكًا اسْتحبَّ غسل الْإِنَاء من ولوغ الْكَلْب سبعا كَمَا ذكرنَا.

وَقَالَ الشَّافِعِي: لَا يجب الْعدَد فِي شَيْء من ذَلِك إِلَّا من الْكَلْب وَالْخِنْزِير وَمَا تولد مِنْهُمَا من أَحدهمَا، وَكَذَلِكَ إِن كَانَ الولوغ على الأَرْض.

وَحكى ابْن الْقَاص عَن الشَّافِعِي قولا فِي الْقَدِيم أَنه يغسل من ولوغ الْخِنْزِير مرّة وَاحِدَة، وَالصَّحِيح من مذْهبه حكمه حكم الْكَلْب نَص عَلَيْهِ فِي الْأُم.

وَاخْتلفت الرِّوَايَة عَن أَحْمد فِي هَذِه الْمَسْأَلَة وَهِي أَن النَّجَاسَة تكون فِي
তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যদি অল্প পানির মধ্যে এমন কোনো প্রাণী মারা যায় যার প্রবহমান রক্ত নেই, যেমন মাছি বা তদ্রূপ কিছু, তবে তা পানিকে অপবিত্র করে না। তবে ইমাম শাফিঈর দুটি মতের একটিতে এটি পানিকে অপবিত্র করে। তাঁর অন্য মতটি হলো, এটি পানিকে অপবিত্র করে না এবং এটাই অধিকতর স্পষ্ট (আযহার) মত।

তাঁরা নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যার শর্তারোপের বিষয়ে মতভেদ করেছেন।

ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিক বলেন: এর কোনো কিছুতেই সংখ্যার শর্ত নেই এবং তা ওয়াজিবও নয়; তবে ইমাম মালিক কুকুরের চাটা থেকে পাত্রকে সাতবার ধৌত করাকে মুস্তাহাব মনে করেন, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।

ইমাম শাফিঈ বলেন: কুকুর, শূকর এবং এ দুটির কোনো একটি থেকে জন্মানো প্রাণী ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর ক্ষেত্রে সংখ্যার বাধ্যবাধকতা নেই; অনুরূপভাবে যদি এই চাটা মাটির ওপর হয় (তবে সেখানেও একই বিধান)।

ইবনুল কাস ইমাম শাফিঈ থেকে তাঁর প্রাচীন (কাদীম) মত হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, শূকরের চাটার ক্ষেত্রে একবার ধৌত করতে হবে। তবে তাঁর মাযহাবের সঠিক (সহীহ) মত হলো, এর বিধান কুকুরের বিধানের মতোই; তিনি তাঁর 'আল-উম্ম' কিতাবে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

এই মাসআলার ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত রেওয়ায়াতসমূহে ভিন্নতা রয়েছে; আর তা হলো নাপাকি যদি হয়...
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
مَحل غير الأَرْض إِذْ لَا تخْتَلف الرِّوَايَة عَنهُ أَن الْعدَد لَا يشْتَرط فِيمَا إِذا كَانَت النَّجَاسَة على الأَرْض، فَالْمَشْهُور عَنهُ فيهمَا أَنه يجب الْعدَد فِي غسل سَائِر النَّجَاسَات سبعا سَوَاء كَانَت من السَّبِيلَيْنِ أَو من غَيرهمَا، وَعنهُ رِوَايَة ثَانِيَة أَنه يجب غسل سَائِر النَّجَاسَات ثَلَاثًا سَوَاء كَانَت من السَّبِيلَيْنِ أَو غَيرهمَا. وَعنهُ رِوَايَة ثَالِثَة: إِن كَانَت فِي السَّبِيلَيْنِ فسبعا، وَإِن كَانَت فِي السَّبِيلَيْنِ أَو فِي غير الْبدن وَجب الْعدَد. وَكَانَ الْوَاجِب سبعا، وَإِن كَانَت فِي الْبدن، فقد رُوِيَ عَنهُ أَنه قَالَ: إِذا أصَاب جسده فَهُوَ أسهل، والخلال يُخطئ راويها، وَالْخَامِسَة: إِسْقَاط الْعدَد فِيمَا عدا الْكَلْب وَالْخِنْزِير.

وَاخْتلفُوا فِي رَوْث مَا يُؤْكَل لَحْمه وبوله، فَقَالَ مَالك وَأحمد: من الْمَشْهُور عَنهُ أَنه ظَاهر، وَقَالَ أَبُو حنيفَة: ذرق الْحمام والعصافير طَاهِر، وَالْبَاقِي نجس، وَقَالَ الشَّافِعِي: هُوَ نجس على الْإِطْلَاق.

وَاتَّفَقُوا على أَن رَوْث مَا لَا يُؤْكَل لَحْمه نجس إِلَّا أَبَا حنيفَة فَإِنَّهُ يرى أَن ذرق سِبَاع الطير كالبازي والصقر، والباشق وَنَحْوه طَاهِر.
ভূমি ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে (নাজাসাত লাগলে); যেহেতু তাঁর থেকে বর্ণিত বর্ণনাসমূহে কোনো ভিন্নতা নেই যে, নাজাসাত যদি ভূমিতে থাকে তবে সংখ্যার শর্ত প্রযোজ্য নয়। সুতরাং তাঁর থেকে এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ মত হলো, অন্যান্য সকল নাজাসাত ধোয়ার ক্ষেত্রে সাত বার ধোয়া ওয়াজিব, তা মলমূত্রের রাস্তা দিয়ে নির্গত হোক বা অন্য কিছু হোক। তাঁর থেকে দ্বিতীয় একটি বর্ণনা হলো, সকল নাজাসাত তিন বার ধোয়া ওয়াজিব, তা মলমূত্রের রাস্তা দিয়ে নির্গত হোক বা অন্য কিছু হোক। তাঁর থেকে তৃতীয় একটি বর্ণনা হলো: যদি তা মলমূত্রের রাস্তা থেকে (নির্গত) হয় তবে সাত বার। আর যদি তা মলমূত্রের রাস্তা থেকে হয় অথবা শরীর ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে হয়, তবে সংখ্যার শর্ত পূরণ করা ওয়াজিব হবে এবং সেই ওয়াজিব সংখ্যা হলো সাত বার। আর যদি তা শরীরে লাগে, তবে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যখন তা শরীরে লাগে তখন বিষয়টি শিথিলযোগ্য।" তবে আল-খল্লাল এর বর্ণনাকারীকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন। পঞ্চম মতটি হলো: কুকুর ও শুকর ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে সংখ্যার শর্ত রহিত করা।

আর ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর বিষ্ঠা ও প্রস্রাব নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমাদের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তা পবিত্র। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: কবুতর ও চড়ুই পাখির বিষ্ঠা পবিত্র এবং অবশিষ্টগুলো অপবিত্র। ইমাম শাফেঈ বলেছেন: তা ঢালাওভাবে অপবিত্র।

আর তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, অখাদ্য প্রাণীর বিষ্ঠা অপবিত্র, তবে ইমাম আবু হানিফা ব্যতীত। কেননা তিনি মনে করেন যে, শিকারি পাখিদের বিষ্ঠা—যেমন বাজপাখি, শিকরা ও ঈগল সদৃশ পাখির বিষ্ঠা—পবিত্র।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَاخْتلفُوا فِي المَاء الْمُسْتَعْمل من رفع الْحَدث، فَقَالَ أَبُو حنيفَة فِي إِحْدَى الرِّوَايَات عَنهُ: هُوَ نجس نَجَاسَة صَرِيحَة، إِلَّا أَنه يَقُول على هَذِه الرِّوَايَة، أما مَا يترشرش مِنْهُ على الثَّوْب أَو مَا يعلق بالمنديل عِنْد التنشيف من بلله طَاهِر، وَإِنَّمَا يحكم نَجَاسَته عِنْد استقراره مُنْفَصِلا إِلَى الأَرْض أَو الْإِنَاء.

وَعنهُ رِوَايَة ثَانِيَة: أَنه نجس نَجَاسَة مُخَفّفَة مثل بَوْل مَا يُؤْكَل فَلَا يمْنَع جَوَاز الصَّلَاة مَا لَا يبلغ ربع الثَّوْب.

وَعنهُ رِوَايَة ثَالِثَة: أَنه طَاهِر غير مطهر، وَقَالَ مَالك وَأحمد وَالشَّافِعِيّ: هُوَ طَاهِر، وَزَاد مَالك فَقَالَ: مطهر وَعَن أَحْمد نَحوه.

وَأَجْمعُوا على جَوَاز وضوء الرجل بِفضل الْمَرْأَة إِن خلت بِالْمَاءِ إِلَّا فِي إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَن أَحْمد فَإِنَّهُ منع من ذَلِك وَاحْتج لَهُ بِحَدِيث لم يرو فِي هَذَا
হাদাস (অপবিত্রতা) দূর করার কাজে ব্যবহৃত পানির ব্যাপারে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা অনুযায়ী এটি স্পষ্টভাবে নাপাক; তবে এই বর্ণনা মতে তিনি বলেন যে, কাপড় বা মোছার সময় গামছায় পানির যে ছিটা বা সিক্ততা লেগে থাকে তা পবিত্র। আর এটি অপবিত্র হওয়ার হুকুম কেবল তখনই কার্যকর হবে যখন তা শরীর থেকে পৃথক হয়ে জমিন বা পাত্রে স্থির হবে।

তাঁর থেকে বর্ণিত দ্বিতীয় মতটি হলো: এটি লঘু নাপাক (নাজাসাতে মুখাফফাফাহ), যেমন ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর প্রস্রাব। সুতরাং কাপড়ের চারভাগের এক ভাগ পরিমাণ না হওয়া পর্যন্ত তা সালাত আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।

তাঁর থেকে বর্ণিত তৃতীয় মতটি হলো: এটি নিজে পবিত্র কিন্তু অন্যকে পবিত্রকারী নয়। ইমাম মালিক, আহমদ ও শাফেয়ী বলেন: এটি পবিত্র। ইমাম মালিক আরও বলেন: এটি অন্যকে পবিত্রকারীও। ইমাম আহমদ থেকেও অনুরূপ একটি বর্ণনা পাওয়া যায়।

সকলে এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, নারী একাকী নির্জনে পানি ব্যবহার করার পর তার অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষের অযু করা বৈধ। তবে ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটিতে একে নিষেধ করা হয়েছে এবং এর সপক্ষে তিনি এমন একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা এই প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْكتاب، وَعنهُ رِوَايَة أُخْرَى أَنه قَالَ: أكرهه.

وَأَجْمعُوا على أَن الْجنب وَالْحَائِض والمشرك إِذا غمس كل وَاحِد مِنْهُم يَده فِي إِنَاء فِيهِ مَاء قَلِيل، فَإِن المَاء بَاقٍ على طَهَارَته.

وَاخْتلفُوا فِي الْبِئْر تخرج مِنْهَا فَأْرَة وَقد كَانَ تَوَضَّأ مِنْهَا متوضئ، فَقَالَ أَبُو حنيفَة: إِن كَانَت متفسخة أعَاد ثَلَاثَة أَيَّام، فَإِن لم تكن متفسخة أعَاد صَلَاة يَوْم وَلَيْلَة، وَقَالَ الشَّافِعِي وَأحمد: إِن كَانَ المَاء يَسِيرا أعَاد من الصَّلَوَات مَا يغلب على ظَنّه أَنه تَوَضَّأ مِنْهَا بعد وُقُوعهَا وَإِن كَانَ كثيرا وَلم يتَغَيَّر لم يعد.

وَإِن تغير أعَاد من وَقت التَّغَيُّر، وَمذهب مَالك أَنه إِن كَانَ المَاء معينا وَلم
...কিতাবটি; তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমি একে অপছন্দ করি।

এবং তাঁরা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, জুনুব (অপবিত্র ব্যক্তি), ঋতুবতী নারী এবং মুশরিক—তাদের প্রত্যেকে যদি এমন কোনো পাত্রে হাত ডুবিয়ে দেয় যাতে অল্প পানি রয়েছে, তবে সেই পানি তার পবিত্রতার ওপর বহাল থাকবে।

আর তাঁরা সেই কূপ সম্পর্কে মতভেদ করেছেন যেখান থেকে একটি ইঁদুর বের করা হয়েছে, অথচ ইতিপূর্বে কোনো ব্যক্তি সেখান থেকে অজু করেছিল। এমতাবস্থায় ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন: যদি ইঁদুরটি পচে গিয়ে থাকে, তবে তিন দিনের সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে। আর যদি পচে না গিয়ে থাকে, তবে এক দিন ও এক রাতের সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে। ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেছেন: যদি পানি অল্প হয়, তবে সেই সালাতগুলো পুনরায় আদায় করতে হবে যেগুলোর ব্যাপারে প্রবল ধারণা হয় যে সেগুলো ইঁদুরটি পড়ার পর করা অজু দ্বারা আদায় করা হয়েছে। আর যদি পানি বেশি হয় এবং তার গুণাগুণ পরিবর্তিত না হয়, তবে পুনরায় আদায় করতে হবে না।

আর যদি পানির গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে পরিবর্তনের সময় থেকে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে। ইমাম মালিকের মাযহাব হলো, যদি পানি প্রবাহমান হয় এবং
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৩৯)
يتَغَيَّر أَو ضَاقَ فَهُوَ طَاهِر وَلَا إِعَادَة على الْمُصَلِّي مِنْهُ، وَإِن كَانَ غير معِين كالمواجن وأشباهها فَلهُ فِيهِ رِوَايَتَانِ إِحْدَاهمَا: رَاعى فِيهَا التَّغَيُّر كالمعين، وَالْأُخْرَى لم يراع فِيهَا التَّغَيُّر. وَأطلق ابْن الْقَاسِم من أَصْحَابه القَوْل بِالنَّجَاسَةِ.

وَقَالَ أَصْحَاب مَالك كَعبد الْوَهَّاب وَغَيره: أَن هَذَا من ابْن الْقَاسِم على سَبِيل التَّوَسُّع فِي الْعِبَادَة، بِدَلِيل أَن الصَّلَاة إِنَّمَا تُعَاد عِنْده فِي الْوَقْت، وَلَو كَانَ نجسا نَجَاسَة خَفِيفَة لأعاد فِي الْوَقْت وَبعده.

 

‌‌بَاب السِّوَاك

 

اتَّفقُوا على اسْتِحْبَاب السِّوَاك عِنْد أَوْقَات الصَّلَوَات وَعند تغير الْفَم.

وَاخْتلفُوا فِي الصَّائِم هَل يكره لَهُ السِّوَاك بعد الزَّوَال؟ فَقَالَ أَبُو حنيفَة: لَا وَلم يَخْتَلِفُوا فِي أَنه يسْتَحبّ لَهُ قبل الزَّوَال.
পরিবর্তিত হয় অথবা পরিমাণ কম হয় তবে তা পবিত্র এবং তার কারণে মুসল্লির ওপর সালাত পুনরায় আদায় করা আবশ্যক নয়। আর যদি তা নির্দিষ্ট প্রবহমান উৎস না হয়ে হাউজ বা এই জাতীয় জলাধার হয়, তবে সে ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে। তার মধ্যে একটিতে তিনি প্রবহমান উৎসের মতোই পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করেছেন, আর অন্যটিতে তিনি পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করেননি। আর তাঁর অনুসারীদের মধ্যে ইবনুল কাসিম সাধারণভাবে নাপাক হওয়ার মত প্রদান করেছেন।

আর ইমাম মালিকের অনুসারীগণ যেমন আব্দুল ওয়াহহাব এবং অন্যরা বলেছেন: ইবনুল কাসিমের এই বক্তব্যটি ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রশস্ততার (সতর্কতার) দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এর প্রমাণ হলো, তাঁর নিকট সালাত কেবল ওয়াক্তের মধ্যেই পুনরায় আদায় করতে হয়। আর যদি তা অপবিত্র হতো—এমনকি সামান্য অপবিত্রতাও—তবে তিনি ওয়াক্তের মধ্যে এবং ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পরেও পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দিতেন।

 

‌‌মিসওয়াক পরিচ্ছেদ

 

সালাতের সময় এবং মুখের গন্ধ পরিবর্তন হওয়ার সময় মিসওয়াক করা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

আর রোজা পালনকারীর জন্য সূর্য ঢলে যাওয়ার পর মিসওয়াক করা মাকরূহ কি না—এ বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা বলেন: না (মাকরূহ নয়)। আর সূর্য ঢলে যাওয়ার আগে তা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা কোনো মতভেদ করেননি।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌بَاب الْوضُوء

 

أَجمعُوا على وجوب النِّيَّة فِي طَهَارَة الْحَدث، وَالْغسْل من الْجَنَابَة، لقَوْل النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ "

إِلَّا أَبَا حنيفَة فَإِنَّهُ قَالَ: لَا تجب النِّيَّة فيهمَا ويصحان مَعَ عدمهَا، وَمحل النِّيَّة الْقلب وكيفيتها أَن يَنْوِي رفع الْحَدث واستباحة الصَّلَاة، وَصفَة الْكَمَال أَن ينْطق بهَا بِمَا نَوَاه فِي قلبه ليَكُون من نطق وَقيام.

قيل: إِلَّا مَالِكًا، فَإِنَّهُ
كره النُّطْق بِاللِّسَانِ فِيمَا فَرْضه النِّيَّة. وَاتَّفَقُوا على أَنه لَو أقتصر بِالنِّيَّةِ بِقَلْبِه أَجزَأَهُ. بِخِلَاف مَا لَو نطق بِلِسَانِهِ دون أَن يَنْوِي بِقَلْبِه.

وَأَجْمعُوا على أَنه إِذا نوى عِنْد الْمَضْمَضَة واستدام النِّيَّة وأستصحب حكمهَا إِلَى غسل أول جُزْء من الْوَجْه صحت طَهَارَته.
অজু অধ্যায়

 

হাদাস (অশুচিতা) থেকে পবিত্রতা অর্জন এবং জানাবাত থেকে গোসলের ক্ষেত্রে নিয়ত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: "‌‌নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট।"

তবে ইমাম আবু হানিফা ব্যতীত; কারণ তিনি বলেছেন: এই উভয় ক্ষেত্রে নিয়ত ওয়াজিব নয় এবং নিয়ত ছাড়াই তা সহিহ হবে। আর নিয়তের স্থান হলো অন্তর এবং এর পদ্ধতি হলো হাদাস দূর করার এবং সালাত বৈধ হওয়ার নিয়ত করা। আর পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো, অন্তরে যা নিয়ত করা হয়েছে তা মুখে উচ্চারণ করা, যাতে জিহ্বার উচ্চারণ এবং অন্তরের সংকল্প উভয়ই সমন্বিত হয়।

বলা হয়েছে: ইমাম মালিক ব্যতীত; কেননা তিনি
যে কার্যে নিয়ত করা ফরজ, সেখানে মুখে উচ্চারণ করাকে অপছন্দ করেছেন। তাঁরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, যদি কেউ কেবল অন্তরের নিয়তের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। পক্ষান্তরে যদি সে অন্তরে নিয়ত না করে কেবল মুখে উচ্চারণ করে, তবে তা যথেষ্ট হবে না।

তাঁরা এ বিষয়েও ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, যদি কেউ কুলি করার সময় নিয়ত করে এবং চেহারার প্রথম অংশ ধোয়া পর্যন্ত সেই নিয়তকে স্মরণ ও অব্যাহত রাখে, তবে তার পবিত্রতা অর্জন সহিহ হবে।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৪১)
ثمَّ اخْتلفُوا فِيمَن بَدَأَ بِالنِّيَّةِ عِنْد غسل أول جُزْء من الْوَجْه هَل يُجزئهُ؟ فَقَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ: يُجزئهُ. وَقَالَ أَحْمد: لَا تصح طَهَارَته.

وَاتَّفَقُوا على أَن التَّرْتِيب والموالاة فِي الطَّهَارَة مشروعان. ثمَّ اخْتلفُوا فِي وجوبهما فَقَالَ أَبُو حنيفَة: لَا يجبان.

وَقَالَ مَالك: الْمُوَالَاة وَاجِبَة دون التَّرْتِيب، وَقَالَ الشَّافِعِي: التَّرْتِيب وَاجِب قولا وَاحِدًا، وَعنهُ فِي الْمُوَالَاة قَولَانِ قديمهما أَنَّهَا وَاجِبَة، وجديدهما أَنَّهَا لَيست بواجبة.

وَقَالَ أَحْمد فِي الْمَشْهُور عَنهُ: هما واجبتان، وَعنهُ رِوَايَة أُخْرَى فِي الْمُوَالَاة أَنَّهَا لَا تجب.

وَاتَّفَقُوا على اسْتِحْبَاب غسل الْيَدَيْنِ عِنْد الْقيام من نوم اللَّيْل ثَلَاثًا.

ثمَّ اخْتلفُوا فِي وُجُوبه فَقَالُوا: أَنه غير وَاجِب أَلا أَحْمد فِي إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَنهُ فَإِنَّهُ أوجبه.

 

‌‌فصل فِي الِاجْتِهَاد

 

اخْتلفُوا فِي التَّحَرِّي فِي الْأَوَانِي إِذا اشْتبهَ عَلَيْهِ طَاهِر مِنْهَا بِنَجس، فَقَالَ أَبُو
এরপর তাঁরা ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে মতভেদ করেছেন, যে মুখমণ্ডলের প্রথম অংশ ধোয়ার সময় নিয়ত শুরু করে, এটি কি তার জন্য যথেষ্ট হবে? ইমাম মালিক ও শাফিঈ বলেছেন: এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে। আর ইমাম আহমদ বলেছেন: তার পবিত্রতা সঠিক হবে না।

তাঁরা একমত হয়েছেন যে, পবিত্রতা অর্জনে ধারাবাহিকতা (তরতিব) এবং বিরতিহীনতা (মুওয়ালাত) শরিয়তসম্মত। এরপর তাঁরা এগুলোর আবশ্যকতা সম্পর্কে মতভেদ করেছেন; ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: এ দুটি ওয়াজিব নয়।

ইমাম মালিক বলেছেন: বিরতিহীনতা ওয়াজিব, ধারাবাহিকতা নয়। ইমাম শাফিঈ বলেছেন: ধারাবাহিকতা সুনিশ্চিতভাবে (একক বক্তব্য অনুযায়ী) ওয়াজিব। আর বিরতিহীনতা সম্পর্কে তাঁর থেকে দুটি মত বর্ণিত হয়েছে; তাঁর পুরাতন মতানুসারে তা ওয়াজিব এবং নতুন মতানুসারে তা ওয়াজিব নয়।

ইমাম আহমদ তাঁর প্রসিদ্ধ মতানুসারে বলেছেন: এ দুটিই ওয়াজিব। আর তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী বিরতিহীনতা ওয়াজিব নয়।

তাঁরা রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর দুই হাত তিনবার ধোয়া মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

অতঃপর তাঁরা এর আবশ্যকতা নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁরা বলেছেন: এটি ওয়াজিব নয়। তবে ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা অনুযায়ী তিনি একে ওয়াজিব বলেছেন।

 

‌‌ইজতিহাদ (গবেষণা ও অনুসন্ধান) বিষয়ক পরিচ্ছেদ

 

যখন পবিত্র পাত্রের সাথে অপবিত্র পাত্র মিশে যাওয়ার ফলে সংশয় সৃষ্টি হয়, তখন সেই পাত্রগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধানের (তাহারি) ক্ষেত্রে তাঁরা মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৪২)
حنيفَة: إِن كَانَ الْأَكْثَر هُوَ الطَّاهِر تحرى، وَإِن تَسَاويا أَو كَانَ الطَّاهِر هُوَ الْأَقَل فَلَا يتحَرَّى. وَقَالَ الشَّافِعِي: يتحَرَّى على الْإِطْلَاق إِذا اشْتبهَ عَلَيْهِ مَاء طَاهِر بِمَاء نجس، وَلَو اشْتبهَ عَلَيْهِ مَاء وَبَوْل فَلَا يتحَرَّى.

وَاخْتلف أَصْحَاب مَالك، قوم مِنْهُم كمذهب الشَّافِعِي وَقَالَ قوم مِنْهُم: لَا يتحَرَّى بل يتَوَضَّأ من كل إِنَاء وَيُصلي بِعَدَد الْأَوَانِي، وَقَالَ أَحْمد: لَا يتحَرَّى بل يتَيَمَّم.

وَرَوَاهُ الْخرقِيّ عَنهُ بعد أَن قَالَ: يريقهما.

وَعنهُ رِوَايَة أُخْرَى رَوَاهَا أَبُو بكر أَن لَهُ التَّيَمُّم من غير إِرَاقَة وَاتَّفَقُوا على وجوب غسل الْوَجْه كُله، وَغسل الْيَدَيْنِ مَعَ الْمرْفقين وَغسل الرجلَيْن مَعَ الْكَعْبَيْنِ وَمسح الرَّأْس. ثمَّ اخْتلفُوا فِي مِقْدَار مَا يَجْزِي من مسح الرَّأْس.

فَقَالَ أَبُو حنيفَة فِي رِوَايَة عَنهُ: يَجْزِي قدر الرّبع.

وَفِي رِوَايَة عَنهُ: يَجْزِي مِقْدَار الناصية.

وَفِي رِوَايَة ثَالِثَة: قدر ثَلَاث أَصَابِع من أَصَابِع الْيَد.

وَقَالَ مَالك وَأحمد فِي أظهر الرِّوَايَات عَنْهُمَا: يجب استيعابه وَلَا يَجْزِي سواهُ.
আবু হানিফা বলেন: যদি অধিকাংশ পবিত্র হয় তবে অনুসন্ধান করবে, আর যদি উভয়টি সমান হয় অথবা পবিত্রটি কম হয় তবে অনুসন্ধান করবে না। শাফেয়ী বলেন: যখন তার কাছে পবিত্র পানি ও অপবিত্র পানির মাঝে সন্দেহ তৈরি হয় তখন সে সাধারণভাবে অনুসন্ধান করবে, আর যদি পানি ও প্রস্রাবের মাঝে সন্দেহ হয় তবে অনুসন্ধান করবে না।

মালেকের অনুসারীরা মতভেদ করেছেন; তাদের মধ্যে একদল শাফেয়ীর মাযহাবের অনুরূপ মত দিয়েছেন, আর অন্য একদল বলেছেন: অনুসন্ধান করবে না বরং প্রতিটি পাত্র থেকে ওযু করবে এবং পাত্রের সংখ্যা অনুযায়ী সালাত আদায় করবে। আহমদ বলেন: অনুসন্ধান করবে না বরং তায়াম্মুম করবে।

আর খিরাকি তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এই কথা বলার পর যে: তিনি উভয়টি ঢেলে দেবেন।

আর তার থেকে আবু বকর বর্ণিত অন্য একটি রেওয়ায়েত রয়েছে যে, পানি না ঢেলে তার জন্য তায়াম্মুম করার অনুমতি রয়েছে। আর তারা সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ধৌত করা, কনুইসহ দুই হাত ধৌত করা, টাখনুসহ দুই পা ধৌত করা এবং মাথা মাসহ করার ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। অতঃপর তারা মাথা মাসহ করার কতটুকু অংশ যথেষ্ট হবে সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন।

আবু হানিফা তার থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েতে বলেছেন: এক চতুর্থাংশ পরিমাণ যথেষ্ট।

তার থেকে বর্ণিত অন্য একটি রেওয়ায়েতে আছে: কপালের ওপরের চুলের (নাসিয়া) পরিমাণ যথেষ্ট।

তৃতীয় এক রেওয়ায়েতে আছে: হাতের তিন আঙ্গুল পরিমাণ।

আর মালেক এবং আহমদ তাদের থেকে বর্ণিত অধিক প্রসিদ্ধ রেওয়ায়েতে বলেছেন: পুরো মাথা মাসহ করা ওয়াজিব এবং এটি ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَقَالَ الشَّافِعِي: يجب أَن يمسح مِنْهُ أقل مَا يَقع عَلَيْهِ اسْم الْمسْح.

وَاخْتلفُوا فِي تكْرَار الْمسْح لَهُ، فَقَالَ أَبُو حنيفَة وَأحمد فِي الْمَشْهُور عَنْهُمَا: لَا يسْتَحبّ، رِوَايَة وَاحِدَة.

وَقَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ: يسْتَحبّ.

وَأَجْمعُوا على أَن الْمسْح على الْعِمَامَة غير مَجْزِي إِلَّا أَحْمد فَإِنَّهُ أجَاز ذَلِك بِشَرْط أَن يكون من الْعِمَامَة شَيْء تَحت الحنك رِوَايَة وَاحِدَة، وَهل يشْتَرط أَن يكون قد لبسهَا على طَهَارَة، فَعَنْهُ رِوَايَتَانِ، وَأَن كَانَت مُدَوَّرَة لَا ذؤابة لَهَا لم يجز الْمسْح عَلَيْهَا، وَعَن أَصْحَابه فِي ذَوَات الذؤابة وَجْهَان.

وَاخْتلفت الرِّوَايَة عَنهُ فِي مسح الْمَرْأَة على قناعها المستدير تَحت حلقها؟ فَروِيَ عَنهُ جَوَاز الْمسْح كعمامة الرجل ذَات الحنك، وَالرِّوَايَة الْأُخْرَى الْمَنْع كوقاية الْمَرْأَة.

وَاخْتلفُوا فِي المضمضمة وَالِاسْتِنْشَاق، فَقَالَ أَبُو حنيفَة: هما واجبتان فِي
ইমাম শাফেঈ বলেছেন: মাথার যতটুকু অংশে মাসাহ শব্দটির প্রয়োগ হয়, অন্তত ততটুকু পরিমাণ মাসাহ করা ওয়াজিব।

আর মাথা মাসাহ করার পুনরাবৃত্তির ব্যাপারে তাঁরা মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম আহমাদ তাঁদের থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী বলেছেন: এটি মুস্তাহাব নয়, এটিই তাঁদের একমাত্র বর্ণনা।

আর ইমাম মালিক এবং ইমাম শাফেঈ বলেছেন: এটি মুস্তাহাব।

তাঁরা এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, পাগড়ির ওপর মাসাহ করা যথেষ্ট নয়; তবে ইমাম আহমাদ এটি বৈধ বলেছেন এই শর্তে যে, পাগড়ির কিছু অংশ চিবুকের নিচ দিয়ে পেঁচানো থাকতে হবে, এটি তাঁর একমাত্র বর্ণনা। আর এটি পরিধান করার সময় পবিত্র (অজুযুক্ত) থাকা কি শর্ত? তাঁর থেকে এই বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। আর পাগড়িটি যদি কেবল গোলাকার হয় এবং এর কোনো ঝুলন্ত অংশ না থাকে, তবে তার ওপর মাসাহ করা জায়েজ নয়। আর ঝুলন্ত অংশ বিশিষ্ট পাগড়ির ক্ষেত্রে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে দুটি মত রয়েছে।

আর তাঁর থেকে নারীর চিবুকের নিচে পেঁচানো ওড়নার ওপর মাসাহ করার ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। তাঁর থেকে একটি বর্ণনা হলো—চিবুকের নিচে পেঁচানো পুরুষের পাগড়ির মতো এর ওপর মাসাহ করা জায়েজ। আর অন্য বর্ণনাটি হলো—নারীর সাধারণ মস্তকাবরণের মতো এটি নিষিদ্ধ।

তাঁরা কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার বিধানের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: এই উভয়টি ওয়াজিব...
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৪৪)
الطَّهَارَة الْكُبْرَى مسنونان فِي الصُّغْرَى.

وَقَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ: هما مسنونان فيهمَا جَمِيعًا.

وَقَالَ أَحْمد: هما واجبتان فيهمَا.

والمضمضمة هِيَ تَطْهِير دَاخل الْفَم، وَصفَة ذَلِك أَن يُوصل المَاء إِلَى فِيهِ ثمَّ يخضخضه ويمجه، وَالِاسْتِنْشَاق يظْهر دَاخل الْأنف وَصفته أَن يجذب المَاء بِنَفسِهِ وينثره وتستحب الْمُبَالغَة فِيهِ إِلَّا أَن يكون صَائِما.

وَأَجْمعُوا على أَن مسح بَاطِن الْأُذُنَيْنِ وظاهرهما سنة من سنَن الْوضُوء، إِلَّا أَحْمد فَإِنَّهُ رأى مسحهما وَاجِبا فِيمَا نقل عَن حَرْب عَنهُ، وَقد سُئِلَ عَن ذَلِك فَقَالَ: يُعِيد الصَّلَاة إِذا تَركه.

وَاخْتلفُوا هَل يمسحان بِمَاء الرَّأْس أَو يَأْخُذ لَهما مَاء جَدِيدا، فَقَالَ أَبُو حنيفَة وَأحمد: هما من الرَّأْس فيمسحهما بمائه، وَقَالَ الْمَيْمُونِيّ من أَصْحَاب أَحْمد: رَأَيْت أَحْمد يمسحهما مَعَ الرَّأْس، وَعَن أَحْمد رِوَايَة أُخْرَى أَنه يسْتَحبّ أَخذ مَاء جَدِيد.

وَاخْتلفُوا فِي تكْرَار مسح الْأُذُنَيْنِ، فَقَالَ أَبُو حنيفَة وَمَالك وَأحمد فِي إِحْدَى
বড় পবিত্রতার ক্ষেত্রে, (তেমনি) ছোট পবিত্রতার ক্ষেত্রেও এ দুটি সুন্নাত।

এবং ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিঈ বলেন: এ দুটি উভয় ক্ষেত্রে (ওযু ও গোসল) সুন্নাত।

এবং ইমাম আহমাদ বলেন: এ দুটি উভয় ক্ষেত্রে ওয়াজিব।

আর কুলি করা (মাদমাদাহ) হলো মুখের অভ্যন্তর পবিত্র করা; এর নিয়ম হলো মুখে পানি পৌঁছানো, অতঃপর তা নাড়াচাড়া করা এবং মুখ থেকে নিক্ষেপ করা। আর নাকে পানি দেওয়া (ইসতিনশাক) নাকের অভ্যন্তর পরিষ্কার করে; এর নিয়ম হলো নিঃশ্বাসের মাধ্যমে পানি টেনে নেওয়া এবং তা ঝেড়ে ফেলা। এতে অতিরঞ্জন বা গভীরভাবে পানি পৌঁছানো মুস্তাহাব, তবে রোজা অবস্থায় নয়।

এবং তাঁরা (ফকীহগণ) ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কানের ভেতর এবং বাহির মাসাহ করা ওযুর সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তবে ইমাম আহমাদ ব্যতীত; কেননা হারব কর্তৃক তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সে অনুযায়ী তিনি কান মাসাহ করাকে ওয়াজিব মনে করতেন। এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: যদি কেউ তা ছেড়ে দেয় তবে সে সালাত পুনরায় আদায় করবে।

আর তাঁরা মতভেদ করেছেন যে, কান কি মাথার পানি দিয়ে মাসাহ করা হবে নাকি সে দুটির জন্য নতুন পানি নেওয়া হবে। এমতাবস্থায় ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমাদ বলেন: কান মাথারই অংশ, তাই তিনি মাথার পানি দিয়েই তা মাসাহ করবেন। ইমাম আহমাদের অনুসারীদের মধ্যে আল-মাইমুনি বলেন: আমি ইমাম আহমাদকে মাথার সাথে কান মাসাহ করতে দেখেছি। ইমাম আহমাদ থেকে অপর একটি বর্ণনা রয়েছে যে, নতুন পানি গ্রহণ করা মুস্তাহাব।

এবং তাঁরা কানের মাসাহ বারবার করার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন; ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমাদের একটি বর্ণনা অনুযায়ী...
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা লিইবনি হুবাইরা (পৃষ্ঠা: ৪৫)
روايتيه، السّنة فيهمَا مرّة وَاحِدَة.

وَقَالَ الشَّافِعِي: تكْرَار ذَلِك ثَلَاثًا سنة.

وَعَن أَحْمد مثله فِي الرِّوَايَة الَّتِي حسن فِيهَا تكْرَار الْمسْح.

وَاخْتلفُوا فِي مسح الْعُنُق فَقَالَ: أَبُو حنيفَة: هُوَ من سنَن الْوضُوء، وَقَالَ مَالك: لَيْسَ ذَلِك سنة، وَقَالَ بعض أَصْحَاب الشَّافِعِي وَأحمد فِي إِحْدَى روايتيه: أَنه سنة لِأَن ابْنه عبد اللَّهِ قَالَ: رَأَيْت أبي كَانَ إِذا مسح رَأسه وَأُذُنَيْهِ فِي الْوضُوء مسح ذَلِك.

وَاتَّفَقُوا على أَن تَخْلِيل اللِّحْيَة إِذا كَانَت كثة وتخليل الْأَصَابِع سنة من سنَن الْوضُوء.
তাঁর উভয় বর্ণনা অনুযায়ী, সেগুলোতে একবার মাসেহ করাই সুন্নাত।

ইমাম শাফেঈ বলেছেন: তা তিনবার পুনরাবৃত্তি করা সুন্নাত।

ইমাম আহমাদ থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে সেই বর্ণনায় যেখানে তিনি মাসেহ পুনরাবৃত্তি করাকে উত্তম বলেছেন।

তারা ঘাড় মাসেহ করার বিষয়ে মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: এটি ওযুর সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম মালিক বলেছেন: এটি সুন্নাত নয়। শাফেঈর কতিপয় অনুসারী এবং ইমাম আহমাদ তাঁর এক বর্ণনা অনুযায়ী বলেছেন: এটি সুন্নাত; কারণ তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ বলেছেন: আমি আমার পিতাকে দেখেছি যখন তিনি ওযুতে তাঁর মাথা ও কান মাসেহ করতেন, তখন তিনি তা মাসেহ করতেন।

তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, দাড়ি যদি ঘন হয় তবে তাতে খিলাল করা এবং আঙুলসমূহে খিলাল করা ওযুর সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।