(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإفصاح عن أحاديث النكاح   (ابن حجر الهيتمي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الإفصاح عن أحاديث النكاح

المؤلف: أحمد بن محمد بن علي بن حجر الهيتمي السعدي الأنصاري، شهاب الدين شيخ الإسلام، أبو العباس (ت 974هـ)

المحقق: محمد شكور أمرير المياديني

الناشر: دار عمار - عمان - الأردن

الطبعة: الأولى، 1406

عدد الصفحات: 185

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইফসাহ আন আহাদিসিন নিকাহ   (ইবনে হাজার আল-হাইতামি)

বিভাগ: ফিকহি মাসয়ালাসমূহ


গ্রন্থ: আল-ইফসাহ আন আহাদিসিন নিকাহ

লেখক: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন হাজার আল-হাইতামি আস-সাআদি আল-আনসারি, শিহাবুদ্দিন শাইখুল ইসলাম, আবুল আব্বাস (ওফাত ৯৭৪ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মাদ শাকূর আমরীর আল-মায়াদিনী

প্রকাশক: দার আম্মার - আম্মান - জর্ডান

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৫

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعين

مُقَدّمَة الْمُؤلف

الْحَمد لله الَّذِي جعل النِّكَاح سَببا للفخر يَوْم الْقِيَامَة، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، شَهَادَة أكون بهَا من أهل الْكَرَامَة، وَأشْهد أَن سيدنَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله سيدا ولي الزعامة والإمامة صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله، وَأَصْحَابه، وأزواجه، وَذريته، مَا أدام عَليّ خَاصَّة أفضاله وإنعامه. آمين.

أما بعد:

فقد جرت عَادَة أهل مَكَّة المشرفة، لازالت شموس الْفَضَائِل مشرقة فِي شعابها، وَلَا بَرحت الأكابر الأفاضل عَن العكوف برحابها تذكر آيَات، وَأَحَادِيث تتَعَلَّق بِفضل النِّكَاح، فَوَائده وَأَحْكَامه فِي الْخطْبَة المندوبة قَبيلَة، وَرُبمَا وَقع لبَعْضهِم أَنه أَتَى فِي ذَلِك بِأَحَادِيث مَوْضُوعَة، وكلمات مخترعة مصنوعة، وَمن تجنب مِنْهُم ذَلِك قصارى أمره أَنه يتحفظ أَحَادِيث فِي الْكتب عرية عَن الْأَسَانِيد، غير مستوفية لما تستحقه من كَمَال الإتقان، وَحسن الْإِيرَاد، فقصدت جمع أَرْبَعِينَ حَدِيثا فِي ذَلِك مُبينًا عقب كل مِنْهَا من خرجه من أَئِمَّة هَذَا الشَّأْن، وفرسان ذَلِك الميدان، سميته: " الإفصاح عَن أَحَادِيث النِّكَاح " وَالله أسأَل أَن يَجعله خَالِصا لوجهه الْكَرِيم وسببا للفوز بجنات النَّعيم. آمين.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

লেখকের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিবাহকে কিয়ামতের দিন গর্বের কারণ বানিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য যার মাধ্যমে আমি সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি নেতৃত্ব ও ইমামতের মহান অধিপতি। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, পত্নীগণ ও বংশধরদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন, যতক্ষণ তিনি আমার ওপর তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ ও নেয়ামত অব্যাহত রাখবেন। আমিন।

অতঃপর:

সম্মানিত মক্কাবাসীদের—আল্লাহ এর উপত্যকাসমূহে ফযীলতের সূর্য সর্বদা প্রজ্জ্বলিত রাখুন এবং শ্রেষ্ঠ বুজুর্গ ব্যক্তিরা যেন এর আঙিনায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন—একটি রীতি প্রচলিত রয়েছে যে, তারা বিবাহের প্রাক্কালে পঠিত মুস্তাহাব (مندوب) খুতবায় বিবাহের ফযীলত, উপকারিতা ও বিধানাবলি সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিসসমূহ উল্লেখ করে থাকেন। কখনও কখনও তাদের কারও ক্ষেত্রে এমন ঘটে যে, তারা এ প্রসঙ্গে কিছু বানোয়াট (موضوع) হাদিস এবং মনগড়া ও কৃত্রিম বাক্য উল্লেখ করে বসেন। আর তাদের মধ্যে যারা এসব থেকে বেঁচে চলেন, তাদের দৌড় বড়জোর কিতাবসমূহে বর্ণিত সনদ (أسانيد) বিহীন হাদিসসমূহ মুখস্থ রাখা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে, যা যথাযথ নিপুণতা ও উত্তম বর্ণনার মানদণ্ড পূরণ করে না। তাই আমি এই বিষয়ে চল্লিশটি হাদিস সংকলনের সংকল্প করেছি, যেখানে প্রতিটি হাদিসের শেষে এই শাস্ত্রের ইমাম ও এই ময়দানের পারদর্শী পণ্ডিতদের মধ্য থেকে কারা এটি উদ্ধৃত (تخريج) করেছেন তা স্পষ্ট করব। আমি এই সংকলনের নাম দিয়েছি: "আল-ইফসাহ আন আহাদিসিন নিকাহ"। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত লাভের মাধ্যম বানান। আমিন।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১)
كتاب الافصاح عَن أَحَادِيث النِّكَاح
বিবাহের হাদিসসমূহ সম্পর্কিত ‘আল-ইফসাহ’ গ্রন্থ
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الحَدِيث الاول

 

عَن عَليّ وَابْن مَسْعُود رضي الله عنهما ان النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا معشر الشَّبَاب من اسْتَطَاعَ مِنْكُم الْبَاءَة فليتزوج فَإِنَّهُ أَغضّ لِلْبَصَرِ وَأحْصن لِلْفَرجِ وَمن لم يسْتَطع فَعَلَيهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وَجَاء

والباءة مُؤَن النِّكَاح بِأَن يتوق اليه ويجد مهر الْمثل وَكِسْوَة فصل وَنَفَقَة يَوْم وَلَيْلَة وَقيل الْجِمَاع وينافيه قَوْله وَمن لم يسْتَطع إِلَى آخِره اذ الْعَاجِز عَن الْجِمَاع لَا يحْتَاج لصوم

والشباب كِنَايَة عَن التائقين للجماع وَلَو شُيُوخًا نَظِير الترخيص فِي الْقبْلَة مَعَ الصَّوْم للشَّيْخ دون الشَّبَاب أَي لمن تحرّك شَهْوَته وَلَو شَيخا دون من لم تحركها وَلَو شَابًّا فكنى عَن الاول بالشباب وَعَن الثَّانِي بالشيخ نظرا للمظنة فيهمَا وَضمير انه للزَّوْج الْمَفْهُوم من يتَزَوَّج ووجاء أَي قَاطع للشهوة وَالْقطع فِي الصَّوْم نظرا لدوامه لَا لابتدائه فَإِنَّهُ يثير الْحَرَارَة ويهيجها
‌প্রথম হাদিস

 

আলী ও ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে যুবকদল! তোমাদের মধ্যে যার বিবাহের সামর্থ্য রয়েছে সে যেন বিবাহ করে, কেননা তা দৃষ্টিকে অধিক অবনতকারী এবং লজ্জাস্থানকে অধিক হেফাজতকারী। আর যে সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে; কারণ তা তার কামভাব নিবৃত্তকারী।"

'আল-বাআহ' হলো বিবাহের ব্যয়ভার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ; যেমন বিবাহের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকা এবং সমপর্যায়ের মহর, ঋতুভিত্তিক পোশাক ও একদিন-এক রাতের ভরণপোষণের সংস্থান থাকা। কারো কারো মতে এটি 'সহবাস' অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে পরবর্তী বাক্য "আর যে সামর্থ্য রাখে না..." ইত্যাদি অংশটি এই মতের পরিপন্থী, কেননা সহবাসে অক্ষম ব্যক্তির রোজা রাখার প্রয়োজন হয় না।

এখানে 'যুবক' শব্দটি মূলত সহবাসে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যদিও তারা বৃদ্ধ হন। এটি রোজা অবস্থায় বৃদ্ধের জন্য চুম্বনের অনুমতির সদৃশ, যা যুবকের জন্য প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ, এটি তার জন্য যার কামভাব জাগ্রত হয়, যদিও সে বৃদ্ধ হয়; আর তার জন্য নয় যার কামভাব জাগ্রত হয় না, যদিও সে যুবক হয়। অতএব উভয়ের ক্ষেত্রে কামভাবের প্রবল আশঙ্কার প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রথমোক্ত ব্যক্তিকে 'যুবক' এবং শেষোক্ত ব্যক্তিকে 'বৃদ্ধ' শব্দ দ্বারা রূপকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। 'ইন্নাহু' সর্বনামটি বিবাহকে নির্দেশ করছে যা 'সে যেন বিবাহ করে' বাক্য থেকে অনুমিত। আর 'বিজা' অর্থ হলো যা কামভাব নিবৃত্ত করে। রোজার ক্ষেত্রে এই নিবৃত্তি দীর্ঘস্থায়িত্বের বিচারে কার্যকর হয়, শুরুর বিচারে নয়; কারণ শুরুতে এটি শারীরিক উত্তাপ ও কামভাবকে উদ্দীপিত ও উত্তেজিত করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
والامر بالتزوج للنَّدْب اذ لَا يجب عندنَا مُطلقًا الا بِالنذرِ فِي الْحَالة الَّتِي ينْدب فِيهَا وبالصوم لاجل قطع الشَّهْوَة أَي كسرهَا يدل على عدم قطعهَا بالكافور وَنَحْوه فقطعها بذلك قيل حرَام وَقيل مَكْرُوه وَالصَّوَاب ان قطعهَا من اصلها حرَام كالخصاء وَلَا من أَصْلهَا مَكْرُوه وَعَلِيهِ يحمل الْقَوْلَانِ وروى الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط والضياء أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ عَلَيْكُم بالبائة أَي النِّكَاح عِنْدهمَا فَمن لم يسْتَطع فَعَلَيهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ وَجَاء لَهُ

বিবাহের নির্দেশটি সুপারিশকৃত (ندب) হওয়ার জন্য; কেননা আমাদের নিকট এটি সাধারণভাবে ওয়াজিব নয়, তবে যে অবস্থায় এটি সুপারিশকৃত (ندب) হয়, সেই অবস্থায় মানত করার মাধ্যমে তা ওয়াজিব হতে পারে। আর কামভাব নিবারণ বা দমনের জন্য রোজা রাখার নির্দেশটি ইঙ্গিত দেয় যে, কর্পূর বা এই জাতীয় বস্তুর মাধ্যমে তা নিবারণ করা যাবে না। সুতরাং তদ্দ্বারা কামভাব দমন করা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তা হারাম (حرام) এবং অন্য মতে তা মাকরূহ (مكروه)। সঠিক মত হলো, কামশক্তিকে সমূলে বিনষ্ট করা হারাম (حرام)—যেমন খোজা করা—আর যদি সমূলে না হয় তবে তা মাকরূহ (مكروه); আর উল্লিখিত মতদ্বয়কে এই ব্যাখ্যার ওপরই প্রয়োগ করা হয়। তাবারানি আল-আউসাত গ্রন্থে এবং দিয়া বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা বিবাহ করো"—তাদের উভয়ের নিকট এখানে 'আল-বায়াহ' অর্থ হলো বিবাহ—"অতঃপর যে সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে; কারণ এটি তার কামভাব দমনের উপায়।"

(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الحَدِيث الثَّانِي

عَن أنس بن مَالك أَن نَفرا من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ بَعضهم لَا أَتزوّج النِّسَاء وَقَالَ بَعضهم لَا آكل اللَّحْم وَقَالَ بَعضهم لَا أَنَام على فرَاش فَبلغ ذَلِك النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَخَطب بِحَمْد الله فاثنى عَلَيْهِ وَقَالَ مَا بَال أَقوام يَقُولُونَ كَذَا وَكَذَا لكني أَنَام وأصلي وَأَصُوم وَأفْطر وأتزوج النِّسَاء فَمن رغب عَن سنتي فَلَيْسَ مني

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأخرج أَيْضا عَن عبد الله بن عَمْرو رضي الله عنهما أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ أتصوم النَّهَار وَتقوم اللَّيْل قَالَ نعم فَقَالَ لَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لكني أَصوم وَأفْطر وأصلي وأنام وأمس النِّسَاء فَمن رغب عَن سنتي فَلَيْسَ مني

وَأخرج أَحْمد وَأَبُو دَاوُد عَن عَائِشَة رضي الله عنها أَن عُثْمَان بن مَظْعُون أَرَادَ التبتل فَقَالَ لَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أترغب عَن سنتي قَالَ لَا وَالله لَكِن سنتك أُرِيد فَقَالَ إِنِّي أَنَام وأصلي وَأَصُوم وَأفْطر وأنكح النِّسَاء فَاتق الله يَا عُثْمَان فَأن لأهْلك عَلَيْك حَقًا فَصم وَأفْطر وصل ونم

قَالَ عِكْرِمَة وَغَيره سَبَب نزُول قَوْله تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تحرموا طَيّبَات مَا أحل الله لكم وَلَا تَعْتَدوا إِن الله لَا يحب الْمُعْتَدِينَ} أَن عُثْمَان هَذَا
‌দ্বিতীয় হাদিস

আনাস বিন মালিক (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সা.)-এর সাহাবীদের এক দল—তাদের কেউ বললেন, ‘আমি বিয়ে করব না’, কেউ বললেন, ‘আমি গোশত আহার করব না’, আবার কেউ বললেন, ‘আমি বিছানায় শয়ন করব না।’ এই সংবাদ নবী (সা.)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করে খুতবা প্রদান করলেন এবং বললেন: “লোকদের কী হয়েছে যে তারা এমন কথা বলে? অথচ আমি তো নিদ্রা যাই এবং সালাত আদায় করি, রোজা রাখি এবং ইফতার করি, আর বিয়েও করি। সুতরাং যে আমার সুন্নাহর প্রতি অনীহা প্রকাশ করবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।”

এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (رواه)। আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে আরও সংকলন করা হয়েছে (أخرج) যে, নবী (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: “তুমি কি দিনে রোজা রাখো এবং রাতে ইবাদতে দণ্ডায়মান থাকো?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” তখন নবী (সা.) তাকে বললেন: “কিন্তু আমি তো রোজা রাখি ও ইফতার করি, সালাত আদায় করি ও নিদ্রা যাই এবং স্ত্রীদের সান্নিধ্য লাভ করি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহর প্রতি বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।”

আহমদ ও আবু দাউদ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, উসমান বিন মাজউন (রা.) সংসারবিরাগের (التبتل) ইচ্ছা করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন: “তুমি কি আমার সুন্নাহর প্রতি অনীহা প্রকাশ করছ?” তিনি বললেন, “না, আল্লাহর কসম! বরং আপনার সুন্নাহই আমার অন্বেষা।” তখন তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই আমি নিদ্রা যাই ও সালাত আদায় করি, রোজা রাখি ও ইফতার করি এবং নারীদের বিয়ে করি। সুতরাং হে উসমান! আল্লাহকে ভয় করো, কেননা তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে। তাই রোজা রাখো ও ইফতার করো এবং সালাত আদায় করো ও নিদ্রা যাও।”

ইকরিমা ও অন্যান্যরা বলেন যে, মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হওয়ার কারণ (سبب نزول): {হে মুমিনগণ, আল্লাহ তোমাদের জন্য যেসব পবিত্র বস্তু হালাল করেছেন, সেগুলোকে তোমরা হারাম করো না এবং সীমা লঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না}—হলো এই উসমান (রা.)-এর ঘটনাটি।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وعليا وَجَمَاعَة آخَرين رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم تبتلوا فجلسوا فِي بُيُوتهم واعتزلوا النِّسَاء وحرموا طَيّبَات الْمطعم والملبس وهموا بالأختصاء فَنزلت هَذِه الْآيَة ناهية عَن ذَلِك ومعنا لَيْسَ مني لَيْسَ من أهل طريقتي المقتدين بِي هَذَا إِذا كَانَ معنى الرَّغْبَة الْإِعْرَاض عَن الْعَمَل بِالسنةِ فَحسب أما إِذا إنضم إِلَى ذَلِك الْإِعْرَاض احتقار السّنة قإنه يكون الْمَعْنى حِينَئِذٍ أَنه لَيْسَ من أهل ملتي وَهِي الْإِسْلَام لِأَن ذَلِك حِينَئِذٍ كفر نَظِير ماصرح بهم أَئِمَّتنَا فِي أَنه لَو قيل لأنسان قصّ أضافرك فَقَالَ لَا أَفعلهُ رَغْبَة عَن السّنة أَي مَعَ إحتقارها كفر

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ عَن حَفْصَة أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يدع أحدكُم طلب الْوَلَد فَإِن الرجل إِذْ مَاتَ وَلَيْسَ لَهُ ولد انْقَطع أُسَمِّهِ

وَالتِّرْمِذِيّ الْحَكِيم عَن أبي الدَّرْدَاء رضي الله عنه أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ لن يُؤَخر الله نفسا إِذا جَاءَ أجلهَا وَإِنَّمَا زِيَادَة الْعُمر ذُرِّيَّة صَالِحَة يرزقها العَبْد يدعونَ لَهُ من بعد مَوته يلْحقهُ دعاؤهم وَأَبُو الشَّيْخ عَن بن عَبَّاس رضي الله عنهما أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ يَا بن عَبَّاس بَيت لَا صبيان فِيهِ لَا بركَة فِيهِ وَبَيت لَا خل فِيهِ فقار أَهله وَبَيت لَا تمر فِيهِ جِيَاع أَهله والديلمي من طرقين عَن بن عمر رضي الله عنهما أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ يجمع الله أَطْفَال أمة مُحَمَّد فِي حِيَاض تَحت الْعَرْش فَيطلع عَلَيْهِم اطلاعة فَيَقُول مَالِي لم أَرَاكُم رافعي رؤوسكم فَيَقُولُونَ يَا رَبنَا الْآبَاء والأمهات فِي عَطش وَنحن فِي
এবং আলী ও একদল সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম) সংসারত্যাগী হয়েছিলেন; ফলে তাঁরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করতে লাগলেন, নারীদের সংশ্রব বর্জন করলেন, উত্তম পানাহার ও পোশাক-পরিচ্ছদ নিজেদের জন্য নিষিদ্ধ করে নিলেন এবং খোদাবন্দী বা খোজা হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন। তখন তাঁদের এ কাজ থেকে নিষেধ করে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। আর "সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়" এর অর্থ হলো, সে আমার তরীকা বা পন্থার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়; এটি তখন প্রযোজ্য যখন সুন্নাহ (سنة) থেকে বিমুখ হওয়ার অর্থ কেবল আমল বর্জন করা হয়। কিন্তু যদি এই বিমুখতার সাথে সুন্নাহর (سنة) প্রতি তুচ্ছজ্ঞান বা অবজ্ঞা যুক্ত হয়, তবে এর অর্থ দাঁড়াবে যে, সে আমার মিল্লাত বা আদর্শের অন্তর্ভুক্ত নয়, আর তা হলো ইসলাম; কেননা তখন এটি কুফর (كفر) হিসেবে গণ্য হবে। এটি আমাদের ইমামগণের সেই বক্তব্যের অনুরূপ যেখানে তাঁরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তিকে বলা হয় 'তোমার নখ কাটো' আর সে সুন্নাহর (سنة) প্রতি অবজ্ঞাবশত তা করতে অস্বীকার করে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে।

তাবারানি হাফসাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন সন্তান লাভের প্রচেষ্টা ত্যাগ না করে; কেননা মানুষ যখন মারা যায় এবং তার কোনো সন্তান না থাকে, তখন তার নাম মুছে যায় বা বংশধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তিরমিজি আল-হাকিম আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যখন কোনো প্রাণের নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে বিলম্বিত করেন না। আর হায়াত বা আয়ু বৃদ্ধি পাওয়া মানে হলো নেক সন্তান, যা আল্লাহ বান্দাকে দান করেন; যারা তার মৃত্যুর পর তার জন্য দোয়া করে এবং তাদের দোয়া তার কাছে পৌঁছায়। এবং আবুশ শাইখ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বলেছেন: হে ইবনে আব্বাস, যে ঘরে কোনো শিশু নেই সেখানে কোনো বরকত নেই; যে ঘরে সিরকা নেই তার বাসিন্দারা দরিদ্র; আর যে ঘরে খেজুর নেই তার বাসিন্দারা ক্ষুধার্ত। আর দাইলামি দুটি সূত্রে (من طرقين) ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মাদীর শিশুদের আরশের নিচে হাউজসমূহে সমবেত করবেন। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেবেন এবং বলবেন: কী হলো, আমি তোমাদের মাথা উঁচু করতে দেখছি না কেন? তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের পিতা-মাতারা তৃষ্ণার্ত, আর আমরা এখানে...
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
هَذِه الْحِيَاض فيوحى إِلَيْهِم أَن اغرفوا فِي هَذِه الْآنِية من هَذَا المَاء ثمَّ تخللوا الصُّفُوف فأسقوا الْآبَاء والأمهات وَجَاء عَن الأشعت بن قيس قَالَ قلت يَا رَسُول الله ولد لي مَوْلُود وودت أَن يكون لي مَكَانَهُ سبع الْيَوْم فَقَالَ صلى الله عليه وسلم لَا تقل ذَلِك فَإِن فيهم قُرَّة أعين واجرا إِذا قبضوا وَلَئِن قلت ذَلِك فَإِن فيهم لمجبنة ومبخلة وَلَا يُعَارض هَذِه الْأَحَادِيث المرغبة فِي النِّكَاح والطلبة لَهُ الحَدِيث خَيركُمْ فِي رَأس الْمِائَتَيْنِ الْخَفِيف الحاذ من لَا أهل لَهُ وَلَا مَال لِأَنَّهُ ضَعِيف جدا

والحاذ بِالتَّخْفِيفِ وبالمهلة ثمَّ بِالْمُعْجَمَةِ الْحَال وعَلى تَقْدِير صِحَّته فَهُوَ مَحْمُول على أَيَّام الْفِتَن وَفِي مَعْنَاهُ أَحَادِيث كَثِيرَة كلهَا واهية كَحَدِيث سَيَأْتِي على النَّاس زمَان تحل فِيهِ الْعزبَة وَحَدِيث خير نِسَائِكُم بعد سِتِّينَ وَمِائَة العواقر وَخير أَوْلَادكُم بعد أَربع وَخمسين الْبَنَات

وروى التِّرْمِذِيّ حَدِيث إِن أغبط أوليائي عِنْدِي الْمُؤمن خَفِيف الحاذ وَضَعفه لَكِن صَححهُ الْحَاكِم من طَرِيق الشامين ومحمله مَا مر كَخَبَر
এই হাউজগুলো (জলাধার); অতঃপর তাদের প্রতি প্রত্যাদেশ করা হবে যেন তারা এই পাত্রগুলোতে এই পানি থেকে পূর্ণ করে, এরপর সারিবদ্ধ লোকদের মাঝ দিয়ে গিয়ে পিতা-মাতাদের পান করায়। আশ'আস ইবনে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে এবং আমি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম যে তার বদলে আজ যদি আমার কাছে সাতটি (উট বা সম্পদ) থাকত! তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "এমনটি বলো না; কারণ তাদের মধ্যে চোখের শীতলতা রয়েছে এবং যখন তাদের মৃত্যু হয় তখন প্রতিদান রয়েছে। আর যদিও তুমি এমনটি বলেছ, তবুও তাদের কারণে ভীরুতা ও কৃপণতা সৃষ্টি হয়।" আর বিবাহের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী ও তা অন্বেষণকারী হাদিসগুলোর সাথে ওই হাদিসটির কোনো বৈপরীত্য নেই যাতে বলা হয়েছে: "দুইশত হিজরি সনের শুরুতে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে হালকা পিঠের (পারিবারিক দায়িত্বমুক্ত), যার কোনো পরিবার বা সম্পদ নেই"; কারণ এটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا)।

এবং 'হায' শব্দটি তাশদীদ বিহীন এবং নুকতাহীন 'হা' ও নুকতাযুক্ত 'যাল' বর্ণযোগে 'অবস্থা' অর্থ প্রকাশ করে। আর এর বিশুদ্ধতা (صحة) ধরে নিলেও এটি ফিতনার দিনগুলোর ওপর প্রয়োগ করা হবে। এই অর্থে আরও অনেক হাদিস রয়েছে যার সবগুলোই অত্যন্ত দুর্বল (واهية); যেমন এই হাদিসটি: "মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন অবিবাহিত থাকাই সমীচীন হবে", এবং এই হাদিস: "একশ ষাট হিজরির পর তোমাদের নারীদের মধ্যে উত্তম হলো বন্ধ্যা নারীরা এবং একশ চুয়ান্ন হিজরির পর তোমাদের সন্তানদের মধ্যে উত্তম হলো কন্যারা।"

ইমাম তিরমিজি এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যে: "নিশ্চয়ই আমার নিকট আমার বন্ধুদের মধ্যে সর্বাধিক ঈর্ষণীয় হলো সেই মুমিন ব্যক্তি যে হালকা পিঠের (পারিবারিক দায়িত্বমুক্ত)"; তিনি একে দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন, কিন্তু হাকিম শামবাসীদের সূত্রে একে সহিহ (صححه) বলেছেন। আর এর মর্মার্থ তাই যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الْخَطِيب وَغَيره إِذا أحب الله العَبْد اقتناه لنَفسِهِ وَلم يشْغلهُ بِزَوْجَة وَلَا ولد وَيدل لهَذَا الْحمل خبر الديلمي يَأْتِي على النَّاس زمَان لِأَن يرى أحكم جرو كلب خير لَهُ من أَن يرى ولدا من صلبه وَأخرجه الطَّبَرَانِيّ عَن بن عَبَّاس وَأَبُو نعيم وَعَن حُذَيْفَة بِلَفْظ لِأَن يُربي أحدم جرو كلب بعد أَربع وَخمسين وَمِائَة خيرله من أَن يُربي ولدا لصلبه لَكِن فِي خبر من قَالَ فِيهِ الذَّهَبِيّ ذكر حَدِيثا مَوْضُوعا وَلَعَلَّه يُشِير إِلَى هَذَا وَأوردهُ بن الْجَوْزِيّ فِي الموضعات من وَجه آخر وَقَالَ الْمُتَّهم بِهِ الحكم بن مُصعب وَأخرج الْقُضَاعِي والديلمي بِسَنَدَيْنِ ضعيفين قلَّة الْعِيَال أحد اليسارين

وروى أَبُو يعلى من حسنت صلَاته وَكثر عِيَاله وَقل مَاله وَلم يغتب الْمُسلمين كَانَ معي فِي الْجنَّة كهاتين وروى بن مَاجَه ان الله يحب الْفَقِير الْمُتَعَفِّف أَبَا الْعِيَال وهما ضعيفان نعم روى الشَّيْخَانِ إِذا أنْفق الرجل على أَهله نَفَقَة وَهُوَ

আল-খতিব ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে নিজের জন্য বেছে নেন এবং তাকে স্ত্রী ও সন্তান দ্বারা ব্যতিব্যস্ত করেন না।" এই ব্যাখ্যার সপক্ষে আদ-দাইলামির একটি বর্ণনা (خبر) প্রমাণ হিসেবে কাজ করে: "মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন তোমাদের কারো একটি কুকুরের ছানা দেখা তার নিজের ঔরসজাত সন্তান দেখার চেয়ে উত্তম হবে।" আত-তাবারানি ইবনে আব্বাস থেকে এবং আবু নুআইম হুযাইফা থেকে এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন: "একশ চুয়ান্ন হিজরির পর তোমাদের কারো একটি কুকুরের ছানা লালন-পালন করা তার নিজের ঔরসজাত সন্তান লালন-পালনের চেয়ে উত্তম হবে।" কিন্তু এই বর্ণনার (خبر) সূত্রে এমন এক ব্যক্তি রয়েছেন যার সম্পর্কে আয-যাহাবি বলেছেন যে, তিনি একটি জাল (موضوع) হাদিস উল্লেখ করেছেন; সম্ভবত তিনি এই হাদিসটির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। ইবনুল জাওজি 'আল-মাওদুআত' গ্রন্থে এটি অন্য সূত্রে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে অভিযুক্ত (المتهم) ব্যক্তি হলেন হাকাম বিন মুসআব। আল-কুদায়ি ও আদ-দাইলামি দুটি দুর্বল (ضعيف) সনদে বর্ণনা করেছেন: "পরিবার-পরিজন কম হওয়া দুই প্রকার সচ্ছলতার একটি।"

আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন: "যার সালাত সুন্দর হয়, সন্তান-সন্ততি অধিক হয়, সম্পদ কম থাকে এবং সে মুসলিমদের গিবত করে না, সে জান্নাতে আমার সাথে এই দুই আঙ্গুলের মতো (পাশাপাশি) থাকবে।" ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন লজ্জাশীল দরিদ্র ব্যক্তিকে ভালোবাসেন যে অধিক সন্তান-সন্ততির অধিকারী।" আর এই উভয় বর্ণনাটিই দুর্বল (ضعيف)। হ্যাঁ, শাইখাইন বর্ণনা করেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি সওয়াবের আশায় তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে এবং সে..."

(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
يحتسبها كَانَت لَهُ صَدَقَة وَمهما أنفقت فَهُوَ لَك صَدَقَة حَتَّى اللُّقْمَة ترفعها فِي فِي أمرأتك ويوسف الْخفاف فِي مشيخته مَا أَخَاف على أمتِي فتْنَة أخوف عَلَيْهَا من النِّسَاء وَالطَّبَرَانِيّ مَا تركت بعدِي فتْنَة أضرّ على الرِّجَال من النِّسَاء والنقاش وَابْن النجار مَا خلفت بعدِي فتْنَة أضرّ على الرِّجَال من النِّسَاء وَمُسلم مَا رَأَيْت ناقصات عقل وَدين أغلب لِذَوي الْأَلْبَاب مِنْكُن وَأَبُو نعيم مَا رَأَيْت من ناقصات عقل وَدين أسبي للب ذَوي الْأَلْبَاب

(সওয়াবের প্রত্যাশায়) কোনো ব্যক্তি যা ব্যয় করে, তা তার জন্য সদকাহ হিসেবে গণ্য হয়। আর তুমি যা কিছুই ব্যয় করো না কেন, তা তোমার জন্য সদকাহ, এমনকি সেই লোকমাটি পর্যন্ত যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও। ইউসুফ আল-খাফফাফ তার মাশইয়াখাহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আমি আমার উম্মতের ওপর নারীদের চেয়ে অধিক আশঙ্কাজনক কোনো ফিতনা ভয় করি না। তাবারানি বর্ণনা করেছেন: আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা রেখে যাইনি। নাক্কাশ ও ইবনে আল-নাজ্জার বর্ণনা করেছেন: আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা রেখে যাইনি। মুসলিম বর্ণনা করেছেন: বুদ্ধিমানদের ওপর জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের ন্যায় বুদ্ধি ও দ্বীনের ক্ষেত্রে অপূর্ণ আর কাউকে আমি দেখিনি। আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন: বুদ্ধি ও দ্বীনের ক্ষেত্রে অপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও প্রজ্ঞাবানদের বিবেক হরণ করতে তোমাদের চেয়ে অধিক পারদর্শী কাউকে আমি দেখিনি।

(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
والدرقطني لَا يزَال الرِّجَال بِخَير مالم يطيعوا النِّسَاء وَالطَّبَرَانِيّ أما ان الْأَوْلَاد مَبْخَلَة مَحْزَنَة زَاد الْبَيْهَقِيّ مَجْبَنَة وَالطَّبَرَانِيّ فِي رِوَايَة أُخْرَى ممهلة
দারাকুতনি বর্ণনা করেছেন: পুরুষেরা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে, যতক্ষণ তারা নারীদের আনুগত্য করবে না। তাবারানি বর্ণনা করেছেন: জেনে রেখো, নিশ্চয়ই সন্তান হলো কৃপণতা ও দুঃখের কারণ। বায়হাকি এতে ‘ভীরুতা’ শব্দটি সংযোজন করেছেন এবং তাবারানি অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) ‘দীর্ঘসূত্রিতা’ শব্দটিও উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الحَدِيث الثَّالِث

 

عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ ان النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ تنْكح الْمَرْأَة لأَرْبَع لمالها ولحسبها ولجمالها ولدينها فاظفر بِذَات الدّين تربت يداك

وَفِي رِوَايَة عِنْد مُسَدّد رجالها ثِقَات

فَعَلَيْك بِذَات الدّين والخلق

وَفِي أُخْرَى عَن أبي يعلي وَاحْمَدْ باسناد صَحِيح وَالْبَزَّار وَابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان فِي صَحِيحهمَا وَعبد بن حميد وَالدَّارَقُطْنِيّ وَالْحَاكِم تنْكح الْمَرْأَة على احدى خِصَال ثَلَاث تنْكح الْمَرْأَة على مَالهَا وَتنْكح الْمَرْأَة على دينهَا وخلقها فَخذ بِذَات الدّين والخلق تربت يَمِينك
তৃতীয় হাদিস

 

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নারীকে চারটি বিষয়ের জন্য বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার দ্বীনদারিতা। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকেই অর্জন করো, (তা না করলে) তোমার হাত ধূলিময় হোক।"

মুসাদ্দাদ-এর একটি বর্ণনা (رواية)-তে রয়েছে, যার বর্ণনাকারীগণ (رجال) নির্ভরযোগ্য (ثقات):

"সুতরাং তুমি দ্বীনদারিতা ও সচ্চরিত্রের অধিকারিণীকেই গ্রহণ করো।"

আবু ইয়ালা এবং আহমদ থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনায়—একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد)-সহ, এবং আল-বাজজার, ইবনে খুজাইমা ও ইবনে হিব্বান তাঁদের নিজ নিজ সহিহ গ্রন্থে, আবদ ইবনে হুমাইদ, আদ-দারা কুতনি এবং আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন: "নারীকে তিনটি গুণের যেকোনো একটির ভিত্তিতে বিয়ে করা হয়; নারীকে তার সম্পদের কারণে বিয়ে করা হয়, অথবা তার দ্বীন ও চরিত্রের কারণে বিয়ে করা হয়; সুতরাং তুমি দ্বীন ও চরিত্রের অধিকারিণীকেই গ্রহণ করো, তোমার ডান হাত বরকতময় হোক।"
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَمعنى كَونهَا تنْكح لهَذِهِ الاربعة ان الْغَالِب قصد نِكَاحهَا لجميعها أَو مجموعها من غير نظر إِلَى ان قصد المَال غير مَحْمُود بِخِلَاف الثَّلَاثَة الْبَاقِيَة فَإِنَّهُ مَطْلُوب لانه يسن لمريد التَّزَوُّج ان يتَزَوَّج دينة حَسَنَة جميلَة لَكِن لَا ذَات جمال بارع لانها تزهو عَلَيْهِ ويغلب من الفجرة التطلع لَهَا فَرُبمَا ادى بهَا ذَلِك إِلَى الْفَاحِشَة وَيَنْبَغِي ان يحمل على هَذَا حَدِيث ابْن مَاجَه لَا تنْكِحُوا النِّسَاء لحسنهن وَفِي رِوَايَة لَهُ لَا تكح الْمَرْأَة لجمالها فَلَعَلَّ جمَالهَا يرديها

ثمَّ رَأَيْت حَدِيثا آخر يُؤَيّد ذَلِك وَهُوَ

لَا تزوجوا النِّسَاء لحسنهن فَعَسَى حسنهنَّ ان يرديهن وَلَا تزوجوهن لاموالهن فَعَسَى اموالهن ان يطغيهن وَلَكِن تزوجوهن على الدّين وَلأمة جرباء سَوْدَاء ذَات دين أفضل رَوَاهُ ابْن مَاجَه ايضا وَالطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ وَفِي رِوَايَة

لَا تنْكِحُوا الْمَرْأَة لحسنها فَعَسَى حسنها ان يرديها وَلَا تكحوا الْمَرْأَة لمالها فَعَسَى مَالهَا ان يطغيها وانكحوها لدينها فلأمة سَوْدَاء جرباء ذَات دين افضل من امْرَأَة حسناء لَا دين لَهَا

لَا يخْتَار حسن وَجه الْمَرْأَة على حسن دينهَا وَخير من تزوج امْرَأَة لمالها احرمه الله مَالهَا وجمالها قَالَ بعض الْحفاظ لم اقف عَلَيْهِ وَلَكِن عِنْد ابي نعيم فِي الْحِلْية من حَدِيث عبد السَّلَام بن عبد القدوس عَن ابراهيم عَن انس رَفعه

من تزوج امْرَأَة لعزها لم يزده الله الا ذلا وَمن تزَوجهَا لمالها لم يزده الله الا فقرا وَمن تزَوجهَا لحسنها لم يزده الله الا دناءة وَمن تزَوجهَا الا ليغض بَصَره ويحصن فرجه أَو تصل رَحمَه الا بَارك الله لَهُ فِيهَا وَبَارك لَهَا فِيهِ وَأخرجه ابْن
এই চারটি বৈশিষ্ট্যের কারণে নারী বিবাহ করার অর্থ হলো, সাধারণত তাদের সবকটি বা এগুলোর সমষ্টির উদ্দেশ্যেই বিবাহ করা হয়; এই বিষয়টি বিবেচনা না করে যে, সম্পদের উদ্দেশ্য প্রশংসনীয় নয়—বাকি তিনটির বিপরীতে। কারণ তা কাঙ্ক্ষিত, যেহেতু বিবাহে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য এটি সুন্নত যে, সে একজন দ্বীনদার, সচ্চরিত্রা ও সুন্দরী নারীকে বিবাহ করবে। তবে এমন প্রখর রূপসী নয় যে সে তার স্বামীর ওপর অহংকার করে এবং পাপাচারীদের দৃষ্টি তার প্রতি আকৃষ্ট হয়, যা তাকে কখনো অশ্লীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। ইবনে মাজাহ বর্ণিত এই হাদিসটিকে এই অর্থেই গ্রহণ করা উচিত: "তোমরা নারীদের তাদের সৌন্দর্যের কারণে বিবাহ করো না।" তাঁর অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "নারীকে তার সৌন্দর্যের জন্য বিবাহ করো না, কারণ সম্ভবত তার সৌন্দর্য তাকে ধ্বংস করে দেবে।"

অতঃপর আমি এর সমর্থক অন্য একটি হাদিস দেখতে পেলাম, তা হলো:

"তোমরা নারীদের তাদের সৌন্দর্যের কারণে বিবাহ করো না, কারণ সম্ভবত তাদের সৌন্দর্য তাদের ধ্বংস করবে। আর তাদের সম্পদের জন্য বিবাহ করো না, কারণ সম্ভবত তাদের সম্পদ তাদের উদ্ধত করে তুলবে। বরং তোমরা তাদের দ্বীনদারির ভিত্তিতে বিবাহ করো। অবশ্যই একজন দ্বীনদার কৃষ্ণাঙ্গ ও রোগাক্রান্ত দাসীও (দ্বীনহীন রূপসীর চেয়ে) উত্তম।" এটি ইবনে মাজাহ-ও বর্ণনা করেছেন (رواه) এবং তাবারানি ও বায়হাকি-ও। অন্য এক বর্ণনায় (رواية) আছে:

"তোমরা নারীকে তার সৌন্দর্যের জন্য বিবাহ করো না, কেননা সম্ভবত তার সৌন্দর্য তাকে ধ্বংস করবে। আর তাকে তার সম্পদের জন্য বিবাহ করো না, কেননা সম্ভবত তার সম্পদ তাকে উদ্ধত করবে। বরং তাকে তার দ্বীনদারির কারণে বিবাহ করো। কেননা দ্বীনদার কৃষ্ণাঙ্গ রোগাক্রান্ত দাসীও দ্বীনহীন সুন্দরী নারীর চেয়ে উত্তম।"

নারীর দ্বীনদারির ওপর তার চেহারার সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। যে ব্যক্তি কোনো নারীকে কেবল তার সম্পদের লোভে বিবাহ করে, আল্লাহ তাকে তার সম্পদ ও সৌন্দর্য উভয়টি থেকেই বঞ্চিত করেন। জনৈক হাফেজ (الحفاظ) বলেছেন: আমি এটি সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি (لم أقف عليه)। তবে আবু নুআইমের হিলইয়া গ্রন্থে আবদুস সালাম বিন আব্দুল কুদ্দুস-এর হাদিসে ইব্রাহিম থেকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে মারফু (رفعه) হিসেবে বর্ণিত আছে:

"যে ব্যক্তি কোনো নারীকে তার আভিজাত্যের লোভে বিবাহ করে, আল্লাহ তার লাঞ্ছনাই বৃদ্ধি করেন। যে তাকে তার সম্পদের লোভে বিবাহ করে, আল্লাহ তার দারিদ্র্যই বৃদ্ধি করেন। যে তাকে কেবল সৌন্দর্যের লোভে বিবাহ করে, আল্লাহ তার হীনতাই বৃদ্ধি করেন। আর যে ব্যক্তি কেবল স্বীয় দৃষ্টি অবনত রাখার জন্য, চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করার জন্য অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে, আল্লাহ তার জন্য সেই নারীতে বরকত দান করেন এবং সেই নারীর জন্য এই ব্যক্তিতে বরকত দান করেন।" এটি ইবনে... সংকলন করেছেন (أخرجه)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
النجار وَالطَّبَرَانِيّ فِي الاوسط عَن انس ايضا بِلَفْظ من تزوج امْرَأَة لعزها لم يزده الله عز وجل الا ذلا وَمن تزَوجهَا لمالها لم يزده الله تَعَالَى الا فقرا وَمن تزَوجهَا لحسنها لم يزده الله الا دناءة وَمن تزوج امْرَأَة ليغض بَصَره ويحصن فرجه وَتصل رَحمَه كَانَ ذَلِك منَّة وبورك لَهُ فِيهَا وَبَارك الله لَهَا فِيهِ وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي الضُّعَفَاء

وَأفَاد الحَدِيث الاول ان افضل هَذِه الثَّلَاثَة الدّين وَهُوَ ظَاهر وَمعنى تربت يداك أَي وصلتا إِلَى التُّرَاب من شدَّة الْفقر ان لم تظفر بِذَات الدّين

هَذَا أصل موضعهَا ثمَّ غلب اسْتِعْمَالهَا فِي الْحَث على الْمَطْلُوب أما أتربت فَمَعْنَاه اسْتَغْنَيْت وَقيل تربت بِمَعْنى استغنت أَي استغنت يداك ان ظَفرت بهَا

وَالتُّرَاب قد يتجوز بِهِ عَن المَال فِي قَوْلهم ممال فلَان عدد التُّرَاب كَذَا قيل وَلَا شَاهد وَلَا تجوز فِي قَوْلهم الْمَذْكُور فَتَأمل

قيل وَفِي لُغَة القبط ثربت بِالْمُثَلثَةِ أَي امتلأتا شحما من الثرات وَهُوَ الشَّحْم الْمُحِيط بالكرش

وَقيل تربت يداك يَعْنِي استوتا قُوَّة وبطشا قَالَ تَعَالَى {أَتْرَابًا} مستويات السن وَالْقد

وَقيل اليدان نعمتا الدُّنْيَا والاخرة أَي ان ظَفرت بِذَات الدّين ظَفرت بِهَاتَيْنِ النعمتين
আন-নাজ্জার এবং আল-তাবারানি আল-আউসাত গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো নারীকে তার প্রতাপের জন্য বিবাহ করবে, আল্লাহ তাআলা তার লাঞ্ছনা ব্যতীত আর কিছু বৃদ্ধি করবেন না। যে ব্যক্তি তাকে তার সম্পদের জন্য বিবাহ করবে, আল্লাহ তাআলা তার দারিদ্র্য ব্যতীত আর কিছুই বৃদ্ধি করবেন না। আর যে ব্যক্তি তাকে তার রূপ-লাবণ্যের জন্য বিবাহ করবে, আল্লাহ তার হীনতা ব্যতীত আর কিছু বৃদ্ধি করবেন না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিবাহ করবে তার দৃষ্টি অবনত রাখতে, তার চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করতে এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখতে, তা (আল্লাহর পক্ষ থেকে) এক বিশেষ অনুগ্রহ হবে এবং তার জন্য সেই স্ত্রীর মাঝে বরকত দান করা হবে এবং সেই স্ত্রীর জন্যও স্বামীর মাঝে বরকত দান করা হবে।" ইবনে হিব্বান এটি আদ-দুয়াফা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

প্রথম হাদিসটি এই অর্থ প্রদান করে যে, উল্লিখিত তিনটি গুণের মধ্যে দ্বীনদারিই সর্বোত্তম এবং এটি সুস্পষ্ট। আর ‘তারিবাত ইয়াদাকা’ (তোমার হাত ধূলিধূসরিত হোক) এর অর্থ হলো: যদি তুমি দ্বীনদার নারীকে লাভ করতে না পারো, তবে চরম দারিদ্র্যের কারণে তোমার হাত মাটিতে মিশে যাবে।

এটিই এই বাক্যাংশের মূল প্রেক্ষাপট, তবে পরবর্তীতে কাঙ্ক্ষিত বস্তুর প্রতি উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার প্রবল হয়। আর ‘আতরাবতা’ শব্দের অর্থ হলো ‘তুমি অভাবমুক্ত হয়েছ’। আবার বলা হয়েছে যে, ‘তারিবাত’ অর্থ হলো অভাবমুক্ত হওয়া; অর্থাৎ তুমি যদি তাকে (দ্বীনদার নারীকে) লাভ করো, তবে তোমার হাত অভাবমুক্ত হবে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে রূপক অর্থে 'মাটি' দ্বারা 'সম্পদ' বোঝানো হয়, যেমন তাদের প্রবাদ: "অমুকের ধন-সম্পদ মাটির (ধূলিকণার) ন্যায় অসংখ্য।" এমনটি বলা হয়েছে, তবে উল্লিখিত প্রবাদে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ বা রূপক ব্যবহারের ভিত্তি নেই; সুতরাং বিষয়টি তলিয়ে দেখো।

বলা হয়ে থাকে যে, কিবতি ভাষায় এটি ‘সারিবাত’ (তিন নুকতাযুক্ত ‘সা’ বর্ণযোগে), যার অর্থ হলো—চর্বি দ্বারা পূর্ণ হওয়া। এটি ‘সারাত’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো ভুঁড়ি বেষ্টনকারী চর্বি।

আবার বলা হয়েছে, ‘তারিবাত ইয়াদাকা’ অর্থ হলো তোমার উভয় হাত শক্তি ও শক্তিমত্তায় সমান হয়েছে। মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন: "সমবয়স্কা"—অর্থাৎ বয়স এবং শারীরিক গঠনে সমান।

আরও বলা হয়েছে যে, ‘উভয় হাত’ দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতের নেয়ামতসমূহ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ যদি তুমি দ্বীনদার নারীকে লাভ করো, তবে তুমি এই উভয় নেয়ামতই লাভ করলে।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَالْحَاصِل انها اما للحث والتعريض أَو للدُّعَاء عَلَيْهِ بالفقر وَعَلِيهِ الزُّهْرِيّ قَالَ لِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم لم يقل لَهُ ذَلِك الا لكَونه رأى ان الْفقر خير لَهُ من الْغنى

وَقيل انها للدُّعَاء لَهُ بِكَثْرَة المَال أَي اظفر بِذَات الدّين وَلَا تلْتَفت إِلَى المَال اكثر الله مَالك وَرجحه بَعضهم

وروى الشِّيرَازِيّ فِي الألقاب عَن عَليّ وَابْن عَبَّاس رضي الله عنهم أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذا تزوج الْمَرْأَة لدينها وجمالها كَانَ فِيهَا سدادا من عوز

وروى أَبُو نعيم فِي الْحِلْية عَن جَابر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ النّظر إِلَى الْمَرْأَة الْحَسْنَاء والخضرة يزيدان فِي الْبَصَر
সারসংক্ষেপ হলো, এটি হয় উৎসাহিতকরণ ও ইঙ্গিত প্রদানের জন্য, অথবা তার প্রতি দারিদ্র্যের বদদোয়া স্বরূপ। ইমাম যুহরী এই মত পোষণ করেছেন; তিনি বলেন, কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে কেবল একারণেই কথাটি বলেছিলেন যে, তিনি দেখেছিলেন তার জন্য সচ্ছলতার চেয়ে দারিদ্র্যই অধিকতর উত্তম।

আবার বলা হয়েছে যে, এটি তার জন্য সম্পদের প্রাচুর্যের দোয়াস্বরূপ; অর্থাৎ তুমি দ্বীনদার নারীকে গ্রহণ করো এবং সম্পদের দিকে ভ্রুক্ষেপ করো না, আল্লাহ তোমার সম্পদ বাড়িয়ে দিন। কেউ কেউ এই মতটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

শিরাজী ‘আল-আলকাব’ গ্রন্থে আলী এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: যখন কেউ কোনো নারীকে তার দ্বীনদারি ও সৌন্দর্যের জন্য বিবাহ করে, তখন তা তার অভাব মোচনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।

আবু নুয়াইম ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: সুন্দরী নারী ও সবুজ শ্যামলিমার দিকে দৃষ্টিপাত করা দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الحَدِيث الرَّابِع

 

عَن أنس بن مَالك رضي الله عنه قَالَ

كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَأْمر بِالْبَاءَةِ وَينْهى عَن التبتل نهيا شَدِيدا وَيَقُول تزوجوا الْوَدُود الْوَلُود اني مُكَاثِر بكم الانبياء يَوْم الْقِيَامَة = الاوسط وَالْبَيْهَقِيّ وَآخَرُونَ =

وَله شَاهد عِنْد أبي دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن حبَان ايضا من حَدِيث معقل بن يسَار مَرْفُوعا

تزوجوا الْوَدُود الْوَلُود فَإِنِّي مُكَاثِر بكم الامم

وَلابْن مَاجَه عَن أبي هُرَيْرَة يرفعهُ انكحوا فَإِنِّي مُكَاثِر بكم

وَمعنى يَأْمر بِالْبَاءَةِ أَي بِالنِّكَاحِ لأجل الْقُدْرَة عَلَيْهِ وعَلى مؤنه كَمَا مر

والتبتل الاختصاء الْحسي وَهُوَ حرَام اجماعا والمعنوي بِأَكْل مَا يقطع الشَّهْوَة وَقد مر انه تَارَة حرَام وَتارَة مَكْرُوه

والولود كَثِيرَة الاولاد وَيعرف ذَلِك فِي الْبكر بأقاربها

وَمعنى مُكَاثِر بكم الانبياء أَي اممهم

من تبتل فَلَيْسَ منا
চতুর্থ হাদিস

 

আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিবাহের সামর্থ্য (الباءة) থাকলে বিবাহের নির্দেশ দিতেন এবং সংসারবিরাগ বা বৈরাগ্য (التبتل) অবলম্বন করা থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। তিনি বলতেন: "তোমরা এমন নারীকে বিবাহ করো যে অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনী। কেননা কিয়ামতের দিন আমি নবীদের সামনে তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করব।" — আল-আওসাত, আল-বায়হাকী এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু দাউদ, আন-নাসায়ী এবং ইবনে হিব্বানের কাছে মা’কিল বিন ইয়াসার থেকে বর্ণিত একটি মারফু (مرفوعا) হাদিসে এর একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে:

"তোমরা অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনী নারীকে বিবাহ করো। কারণ আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতদের সামনে গর্ব করব।"

ইবনে মাজাহ-তে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসে মারফু হিসেবে (يرفعهُ) রয়েছে: "তোমরা বিবাহ করো, কারণ আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করব।"

"বিবাহের সামর্থ্য (الباءة) থাকলে আদেশ প্রদান" এর অর্থ হলো—বিবাহের সক্ষমতা এবং এর ব্যয়ভার বহনের সামর্থ্য থাকার কারণে বিবাহের নির্দেশ দেওয়া, যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে।

আর ‘আত-তাবাত্তুল’ (التبتل) বলতে দৈহিক সক্ষমতা বিনষ্ট করাকে বোঝায়, যা সর্বসম্মত (إجماعا) ভাবে হারাম। আর অর্থগতভাবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন কিছু ভক্ষণ করা যা কামশক্তি কামিয়ে দেয়; এ সম্পর্কে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, এটি কখনো হারাম আবার কখনো মাকরূহ (مكروه) হয়ে থাকে।

‘আল-ওয়ালুদ’ (الولود) বলতে অধিক সন্তান প্রসবকারিনী নারীকে বোঝায়; কুমারী নারীর ক্ষেত্রে তার নিকটাত্মীয়দের অবস্থা দেখে এটি জানা যায়।

"নবীদের সামনে তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করব" এর অর্থ হলো—তাদের উম্মতদের সামনে।

যে ব্যক্তি বৈরাগ্য (تبتل) অবলম্বন করল, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وروى أَحْمد والشيخان وَالنَّسَائِيّ عَن سعد وَأحمد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه عَن سَمُرَة أَنه صلى الله عليه وسلم نهى عَن التبتل

وَأخرج أَبُو الشَّيْخ عَن ابْن عمر رضي الله عنهما والرامهرمزي فِي الْأَمْثَال عَن جَابر وَفِي سَنَده ضعيفان النِّسَاء ثَلَاثَة أَصْنَاف صنف كالوعاء تحمل وتضع وصنف كالعرة وَهِي الجرب وصنف ودود ولود سَلمَة تعين زَوجهَا على إيمَانه وَهِي خير لَهُ من الْكَنْز وَجَاء عَن عَليّ رضي الله عنه وكرم الله وَجهه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ يعرف الْمُؤمن بركته عِنْد ربه بِأَن يرى ولدا لَهُ كَافِيا قبل الْمَوْت
ইমাম আহমাদ, শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং নাসায়ি সা'দ (রা.) থেকে; এবং আহমাদ, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ সামুরাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবি (সা.) সংসারবিরাগ (التبتل) অবলম্বন করতে নিষেধ করেছেন।

আবুশ শায়খ ইবনে উমর (রা.) থেকে এবং রামাহুরমুজি ‘আল-আমসাল’ গ্রন্থে জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন—তবে এর সনদে (سند) দুইজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী রয়েছেন—নারীগণ তিন শ্রেণির: এক শ্রেণি পাত্রের ন্যায় যারা গর্ভধারণ করে ও সন্তান প্রসব করে; এক শ্রেণি চর্মরোগের ন্যায় এবং অন্য শ্রেণি হলো মমতাময়ী ও অধিক সন্তানপ্রসবকারিনী, যে তার স্বামীকে ইমানের পথে সহযোগিতা করে; সে তার জন্য ধনভাণ্ডারের চেয়েও উত্তম। আর আলি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবি (সা.) বলেছেন: মুমিন বান্দা তার রবের নিকট নিজের বরকত বা কল্যাণ সম্পর্কে জানতে পারে মৃত্যুর আগে তার সন্তানকে স্বাবলম্বী বা যোগ্য হিসেবে দেখার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الحَدِيث الْخَامِس

 

عَن ابْن عَمْرو رضي الله عنهما ان النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ

الدُّنْيَا كلهَا مَتَاع وَخير متاعها الْمَرْأَة الصَّالِحَة = الْمُسْتَدْرك عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما انه صلى الله عليه وسلم قَالَ =

من رزقه الله امْرَأَة صَالِحَة فقد اعانه على شطر دينه فليتق الله فِي الشّطْر الثَّانِي

وروى ابْن مَاجَه وَالطَّبَرَانِيّ عَن أبي امامة انه صلى الله عليه وسلم قَالَ

مَا اسْتَفَادَ الْمُؤمن بعد تقوى الله عز وجل خيرا لَهُ من زَوْجَة صَالِحَة ان أمرهَا اطاعته وان نظر اليها سرته وان اقْسمْ عَلَيْهَا ابرته وان غَابَ عَنْهَا نَصَحته فِي نَفسهَا وَمَاله وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ مُقْتَصرا عل جزئيه الاولين قَالَ غَيره وَسَنَده ضَعِيف لَكِن لَهُ شَوَاهِد تدل على انه لَهُ اصلا

وَفِي رِوَايَة مُرْسلَة

خير فَائِدَة افادها الْمُسلم بعد اسلامه امْرَأَة جميلَة يسر اذا نظر اليها وَتُطِيعهُ اذا أمرهَا وَتَحفظه فِي غيبته فِي مَالهَا ونفسها
পঞ্চম হাদিস

 

ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

সমগ্র পৃথিবীই হলো পার্থিব সামগ্রী আর দুনিয়ার সর্বোত্তম সামগ্রী হলো নেককার নারী। = আল-মুস্তাদরাক-এ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন =

আল্লাহ যাকে একজন নেককার স্ত্রী দান করেছেন, তাকে তার দ্বীনের অর্ধেক বিষয়ে সাহায্য করেছেন; সুতরাং অবশিষ্ট অর্ধেকের ক্ষেত্রে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।

ইবনে মাজাহ ও তাবারানি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

মহান আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের পর একজন মুমিনের জন্য নেককার স্ত্রীর চেয়ে উত্তম আর কোনো কল্যাণ নেই; স্বামী তাকে নির্দেশ দিলে সে তা পালন করে, তার দিকে তাকালে সে তাকে আনন্দিত করে, তাকে নিয়ে কসম করলে সে তা পূর্ণ করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে সে নিজের সতীত্ব ও তার সম্পদের বিষয়ে বিশ্বস্ত থাকে। তাবারানি হাদিসটি কেবল এর প্রথম দুই অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে বর্ণনা করেছেন। অন্য ইমামগণ বলেছেন, এর সূত্র (سند) দুর্বল (ضعيف), কিন্তু এর বহু সাক্ষী বর্ণনা (شواهد) রয়েছে যা নির্দেশ করে যে এর একটি ভিত্তি (أصل) রয়েছে।

এবং একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনায় এসেছে:

ইসলাম গ্রহণের পর একজন মুসলিমের জন্য সর্বোত্তম প্রাপ্তি হলো একজন রূপবতী স্ত্রী, যার দিকে তাকালে সে আনন্দিত হয়, তাকে নির্দেশ দিলে সে আনুগত্য করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ ও নিজের সতীত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَفِي رِوَايَة صَحِيحَة

خير نِسَائِكُم الَّتِي اذا نظر اليها زَوجهَا سرته واذا امرها اطاعته واذا غَابَ عَنْهَا حفظته فِي نَفسهَا وَمَاله

وَفِي اخرى صَحِيحه ايضا

وَلَا تخَالفه فِي نَفسهَا وَلَا مَالهَا

وَفِي اخرى صَحِيحَة

فِي نَفسهَا وَمَاله
একটি সহিহ (صحيحة) বর্ণনায় এসেছে:

তোমাদের নারীদের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ, যার দিকে তার স্বামী তাকালে সে তাকে আনন্দিত করে, তাকে আদেশ করলে সে তার আনুগত্য করে এবং স্বামী অনুপস্থিত থাকলে সে নিজের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদের হিফাজত করে।

অন্য একটি সহিহ (صحيحة) বর্ণনায় আরও রয়েছে:

এবং সে নিজের ব্যাপারে ও নিজের সম্পদের ক্ষেত্রে স্বামীর অবাধ্যতা করে না।

অন্য একটি সহিহ (صحيحة) বর্ণনায় রয়েছে:

নিজের ব্যাপারে এবং স্বামীর সম্পদের ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الحَدِيث السَّادِس

 

عَن جَابر بن عبد الله رضي الله عنهما

ان النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ حِين أخبرهُ انه تزوج ثَيِّبًا فَهَلا بكرا تلاعبها وتلاعبك وتضاحكها وتضاحكك

وَفِي رِوَايَة مُسلم

فَأَيْنَ انت من العذارء ولعابها

وَفِي اخرى

فَهَلا تزوجت بكرا تضاحكك وتضاحكها وتلاعبك وتلاعبها

ولعابها بِكَسْر اللَّام فِي مُسلم لَا غير وَوَقع فِي بعض نسخ البُخَارِيّ بضَمهَا وَحمل الْجُمْهُور تلاعبها على اللّعب الْمَعْرُوف لرِوَايَة

تضاحكها وتضاحكك وروى الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير عَن كَعْب بن عجْرَة رضي الله عنه

فَهَلا بكرا تعضها وتعضك

وَقَالَ بَعضهم قيل ان يكون من اللعاب وَهُوَ الرِّيق
ষষ্ঠ হাদিস

 

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে,

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বলেছিলেন যখন তিনি সংবাদ দিলেন যে তিনি একজন পূর্বে বিবাহিতা (ثيب) নারীকে বিয়ে করেছেন: "তুমি কেন একজন কুমারী (بكر) বিয়ে করলে না? তবে তুমি তার সাথে ক্রীড়া করতে এবং সে তোমার সাথে ক্রীড়া করত, এবং তুমি তাকে হাসাতে এবং সে তোমাকে হাসাত।"

এবং মুসলিম-এর একটি বর্ণনা (رواية)-তে রয়েছে:

"কুমারী (عذراء) এবং তাদের লালা (বা ক্রীড়া-কৌতুক) থেকে তুমি কেন দূরে থাকলে?"

এবং অন্য একটিতে রয়েছে:

"কেন তুমি একজন কুমারী (بكر) বিয়ে করলে না, যে তোমাকে হাসাত এবং তুমি তাকে হাসাতে, এবং সে তোমার সাথে ক্রীড়া করত এবং তুমি তার সাথে ক্রীড়া করতে?"

মুসলিম-এ 'লুআবহা' শব্দটি কেবল 'লাম' বর্ণে কাসরা যোগে বর্ণিত হয়েছে। বুখারি-এর কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে এটি যম্মাহ যোগে পাওয়া যায়। জমহুর (جمهور) আলেমগণ 'তুলাইবুহা' শব্দটিকে সাধারণ খেলাধুলা অর্থেই গ্রহণ করেছেন, যেহেতু একটি বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে:

"তুমি তাকে হাসাবে এবং সে তোমাকে হাসাবে।" তাবারানি তার আল-কাবির গ্রন্থে কাব বিন উজরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন:

"কেন একজন কুমারী (بكر) নয়, যাকে তুমি কামড় দিতে এবং সে তোমাকে কামড় দিত?"

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, এটি 'লুআব' (لعاب) থেকে হতে পারে, যার অর্থ হলো লালা (ريق)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
قَالَ

عَلَيْكُم بالابكار فَإِنَّهُنَّ اعذب افواها وانتق ارحاما أَو أَكثر اولادا وأسخن اقبالا وأرضى باليسير من الْعَمَل

عَلَيْكُم بالابكار فَإِنَّهُنَّ أعذب أفواها وأنتق ارحاما وأرضى باليسير

وروى الشِّيرَازِيّ فِي الالقاب عَن بشر بن عَاصِم عَن أَبِيه عَن جده انه صلى الله عليه وسلم قَالَ

عَلَيْكُم بشواب النِّسَاء فَإِنَّهُنَّ أطيب افواها وأنتق بطونا وأسخن اقبالا

وروى الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير عَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه انه صلى الله عليه وسلم قَالَ

تزوجوا الابكار فَإِنَّهُنَّ أعذب افواها وأنتق أرحاما وأرضى باليسير

وَفِي رِوَايَة مُرْسلَة

عَلَيْكُم بابكار النِّسَاء فَإِنَّهُنَّ أطيب افواها وأسخن جُلُودًا

وَفِي اخرى مُرْسلَة ايضا

عَلَيْكُم بالجواري الشواب فانكحوهن فَإِنَّهُنَّ افْتَحْ ارحاما وأعز أَخْلَاقًا وَأطيب أفواها ان ذَرَارِي الْمُؤمنِينَ وازواجهم فِي عصافير خضر فِي شجر الْجنَّة يكفلهم ابوهم ابراهيم

وَأخرج احْمَد انه صلى الله عليه وسلم قَالَ لجَابِر

مَالك وللعذارى ولعابهن
তিনি বললেন

“তোমাদের জন্য কুমারী নারীদের গ্রহণ করা আবশ্যক; কেননা তাদের মুখ অধিক মিষ্ট, তাদের গর্ভাশয় অধিক উর্বর (অথবা অধিক সন্তানপ্রসূ), তাদের লজ্জাস্থান অধিক উষ্ণ এবং তারা স্বল্প আমলেই অধিক সন্তুষ্ট হয়।”

“তোমরা কুমারী নারীদের গ্রহণ করো; কেননা তাদের মুখ অধিক মিষ্ট, তাদের গর্ভাশয় অধিক উর্বর এবং তারা অল্পে অধিক সন্তুষ্ট।”

আর শিরাজি আল-আলকাব গ্রন্থে বিশর ইবনে আসিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

“তোমরা যুবতী নারীদের গ্রহণ করো; কেননা তাদের মুখ অধিক সুগন্ধিযুক্ত, তাদের গর্ভ অধিক সন্তানপ্রসূ এবং তাদের লজ্জাস্থান অধিক উষ্ণ।”

আর তাবারানি আল-কাবির গ্রন্থে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

“তোমরা কুমারী নারীদের বিবাহ করো; কেননা তাদের মুখ অধিক মিষ্ট, তাদের গর্ভাশয় অধিক উর্বর এবং তারা অল্পে অধিক সন্তুষ্ট।”

এবং একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনায় রয়েছে:

“তোমরা কুমারী নারীদের গ্রহণ করো; কেননা তাদের মুখ অধিক সুগন্ধিযুক্ত এবং তাদের ত্বক অধিক উষ্ণ।”

অন্য আরেকটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনায়ও রয়েছে:

“তোমরা যুবতী কিশোরীদের গ্রহণ করো এবং তাদের বিবাহ করো; কেননা তাদের গর্ভাশয় অধিক উন্মুক্ত (উর্বর), তাদের স্বভাব অধিক মহৎ এবং তাদের মুখ অধিক সুগন্ধিযুক্ত। নিশ্চয়ই মুমিনদের সন্তান-সন্ততি এবং তাদের স্ত্রীগণ জান্নাতের বৃক্ষরাজিতে সবুজ পাখির ন্যায় অবস্থান করবে; তাদের পিতা ইব্রাহিম তাদের দেখাশোনা করবেন।”

আর আহমদ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাবিরকে বলেছিলেন:

“তুমি কেন কুমারী মেয়েদের এবং তাদের সাথে ক্রীড়া-কৌতুক বেছে নিলে না?”
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَأخرج سعيد بن مَنْصُور ان عمر أُتِي بِامْرَأَة شَابة زوجوها شَيخا كَبِير فَقتلته فَقَالَ ايها النَّاس اتَّقوا الله ولينكح الرجل لمته من النِّسَاء ولتنكح الْمَرْأَة لمتها من الرِّجَال يَعْنِي شبهها
সাঈদ ইবনে মনসুর বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, উমর (রা.)-এর নিকট জনৈক যুবতী নারীকে আনা হলো যাকে (তার স্বজনরা) এক বৃদ্ধ লোকের সাথে বিবাহ দিয়েছিল, অতঃপর সে তাকে হত্যা করে। তখন উমর (রা.) বললেন, "হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। পুরুষ যেন নারীদের মধ্য থেকে তার সমপর্যায়ের (لمة) কাউকে বিবাহ করে এবং নারীও যেন পুরুষদের মধ্য থেকে তার সমপর্যায়ের (لمة) কাউকে বিবাহ করে।" অর্থাৎ তার সদৃশ (شبه)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الحَدِيث السَّابِع

 

عَن مُعَاوِيَة بن حيدة رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم انه قَالَ

سَوْدَاء ولود خير من حسناء لَا تَلد اني مُكَاثِر بكم الامم حَتَّى بِالسقطِ محبنطئا على بَاب الْجنَّة يُقَال ادخل الْجنَّة فَيَقُول يَا رب وأبواي فَيُقَال لَهُ ادخل الْجنَّة أَنْت وأبواك

نعم جَاءَ بِسَنَد جيد

يُقَال لَهُم ادخُلُوا الْجنَّة يَقُولُونَ حَتَّى يدْخل آبَاؤُنَا فَقَالَ ادخُلُوا الْجنَّة انتم وآباؤكم

والسوآء القبيحة المنظر

والسقط بِتَثْلِيث السِّين وَالْكَسْر اكثر الَّذِي يسْقط من بطن امهِ قبل تَمَامه لَكِن المُرَاد هُنَا من نفخت فِيهِ الرّوح اذ هُوَ الَّذِي يبْعَث

والمحنبطئ بِالْهَمْز وَتَركه الممتلئ غيظا لفراق ابويه أَو المتغضب المستبطئ لشَيْء أَو الْمُمْتَنع امْتنَاع طلبة لَا امْتنَاع اباء

امْرَأَة ولود احب إِلَى الله من امْرَأَة حسناء لَا تَلد اني مُكَاثِر بكم الْأُمَم يَوْم الْقِيَامَة
সপ্তম হাদিস

 

মুয়াবিয়া ইবনে হাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

অধিক সন্তান দানে সক্ষম কৃষ্ণাঙ্গ নারী সুন্দরী বন্ধ্যা নারীর চেয়ে উত্তম। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করব, এমনকি সেই অপূর্ণজাত মৃত সন্তানকে (سقط) নিয়েও যে জান্নাতের দরজায় ক্রোধান্বিত হয়ে অবস্থান করবে। তাকে বলা হবে, জান্নাতে প্রবেশ করো; সে বলবে, হে রব, আমার বাবা-মাও কি (প্রবেশ করবে)? তখন তাকে বলা হবে, তুমি এবং তোমার বাবা-মা উভয়ই জান্নাতে প্রবেশ করো।

হ্যাঁ, এটি একটি উত্তম (جيد) সনদ (سند) সহকারে বর্ণিত হয়েছে।

তাদেরকে বলা হবে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো। তারা বলবে, যতক্ষণ না আমাদের পিতৃপুরুষগণ প্রবেশ করে। তখন বলা হবে, তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষগণ জান্নাতে প্রবেশ করো।

'আস-সাওদা' (السوآء) অর্থ হলো কুৎসিত দর্শন নারী।

'আস-সিকত' (السقط) শব্দটি 'সীন' বর্ণে তিনটি হরকতের মাধ্যমেই পড়া যায়, তবে কাসরা (যের) দিয়ে পড়া অধিক প্রচলিত। এটি সাধারণত মায়ের গর্ভ থেকে পূর্ণতা পাওয়ার আগেই যা পড়ে যায় তাকে বোঝায়। তবে এখানে উদ্দেশ্য হলো যার মধ্যে রুহ বা আত্মা (روح) ফুঁকে দেওয়া হয়েছে, কারণ তাকেই পুনরুত্থিত করা হবে।

'আল-মুহনানবি' (المحنبطئ) হামজা যোগে অথবা হামজা ছাড়া; এর অর্থ হলো বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে অত্যন্ত মর্মাহত ও রাগান্বিত ব্যক্তি, অথবা এমন রাগান্বিত ব্যক্তি যে কোনো কিছু প্রাপ্তিতে বিলম্ব অনুভব করছে, অথবা এমনভাবে নিবৃত্ত থাকা যা আবদার স্বরূপ, অবাধ্যতা স্বরূপ নয়।

অধিক সন্তান দানে সক্ষম নারী আল্লাহর নিকট সুন্দরী বন্ধ্যা নারীর চেয়ে অধিক প্রিয়। কিয়ামতের দিন নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতদের ওপর গর্ব করব।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
تزوجوا الْوَلُود الْوَدُود واسناده صَحِيح

دعوا الْحَسْنَاء العاقر وَتَزَوَّجُوا السَّوْدَاء الْوَلُود فَإِنِّي مُكَاثِر بكم الْأُمَم يَوْم الْقِيَامَة

ذَروا الْحَسْنَاء الْعَقِيم وَعَلَيْكُم بِالسَّوْدَاءِ الْوَلُود

الا اخبركم بنسائكم من اهل الْجنَّة السَّوْدَاء الْوَلُود

انكحوا امهات الولاد فَإِنِّي أباهي بهم الامم يَوْم الْقِيَامَة

وَسَيَأْتِي حَدِيث

لَا تتزوجوا عجوزا وَلَا عاقرا

جَاءَ رجل إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُول الله اني أَحْبَبْت امْرَأَة ذَات حسب ومنصب الا انها لَا تَلد أفأتزوجها فَنَهَاهُ ثمَّ أَتَاهُ الثَّانِيَة فَنَهَاهُ ثمَّ أَتَاهُ الثَّالِثَة فَنَهَاهُ فَقَالَ
তোমরা অধিক সন্তানপ্রসূ ও অধিক সোহাগিনী নারীকে বিবাহ করো এবং এর সনদ (إسناد) সঠিক (صحيح)।

তোমরা রূপবতী বন্ধ্যা নারীকে বর্জন করো এবং কৃষ্ণবর্ণের অধিক সন্তানপ্রসূ নারীকে বিবাহ করো; কারণ আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের আধিক্য দিয়ে অন্যান্য উম্মতের ওপর গর্ব করব।

তোমরা রূপবতী বন্ধ্যাকে ত্যাগ করো এবং কৃষ্ণবর্ণের অধিক সন্তানপ্রসূ নারীকে গ্রহণ করো।

আমি কি তোমাদের জান্নাতি নারীদের সংবাদ দেব না? তারা হলো কৃষ্ণবর্ণের অধিক সন্তানপ্রসূ নারী।

তোমরা অধিক সন্তানপ্রসূ মায়েদের বিবাহ করো, কেননা আমি কিয়ামতের দিন তাদের দ্বারা অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করব।

আর শীঘ্রই একটি হাদিস আসবে—

তোমরা বৃদ্ধা এবং বন্ধ্যা নারীকে বিবাহ করো না।

জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি একজন উচ্চ বংশীয় ও উচ্চ পদমর্যাদা সম্পন্ন নারীকে ভালোবেসেছি, তবে তিনি সন্তান প্রসব করেন না। আমি কি তাকে বিবাহ করব? তিনি তাকে নিষেধ করলেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার এলেন এবং তিনি তাকে নিষেধ করলেন। অতঃপর তিনি তৃতীয়বার এলেন এবং তিনি তাকে নিষেধ করে বললেন—
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
تزوجوا الْوَلُود الْوَدُود فَإِنِّي مُكَاثِر بكم الامم وَهُوَ عِنْد ابْن حبَان وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الاسناد وَلم يخرجَاهُ بِهَذَا السِّيَاق

وَصَحَّ عَن سلمَان بن يسَار مُرْسلا

خير نِسَائِكُم الْوَلُود الْوَدُود

وَأخرج النوقاني عَن عمر مَوْقُوفا عَلَيْهِ

لحصير فِي نَاحيَة الْبَيْت خير من امْرَأَة لَا تَلد

وَجَاء عَنهُ بِسَنَد جيد انه تزوج امْرَأَة فأصابها شَمْطَاء فَطلقهَا وَقَالَ حَصِير فِي بَيت خير من أمْرَأَة لَا تَلد مَا أقربكن شَهْوَة وَلَكِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول

تزوجوا الْوَلُود الْوَدُود فَإِنِّي مُكَاثِر بكم الامم يَوْم الْقِيَامَة
“তোমরা অধিক সন্তানদানকারিণী ও স্নেহময়ী নারীকে বিবাহ করো; কেননা আমি তোমাদের সংখ্যার আধিক্য দিয়ে অন্যান্য উম্মতদের ওপর গর্ব করব।” এটি ইবনে হিব্বান ও হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (হাকিম) একে সহিহ (صحيح الاسناد) সনদবিশিষ্ট বলেছেন; তবে তাঁরা এই শব্দবিন্যাসে এটি বর্ণনা করেননি।

সালমান ইবনে ইয়াসার থেকে মুরসাল (مرسلا) সূত্রে এটি বিশুদ্ধ (صح) সাব্যস্ত হয়েছে:

“তোমাদের নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো অধিক সন্তানদানকারিণী ও স্নেহময়ী নারী।”

নুউকানি উমর (রা.) থেকে এটি মাওকুফ (موقوفا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন:

“ঘরের এক কোণে পড়ে থাকা একটি সাধারণ চাটাই নিঃসন্তান নারীর চেয়ে উত্তম।”

তাঁর থেকে জাইয়্যিদ (جيد) সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একজন নারীকে বিবাহ করেছিলেন, অতঃপর তাকে বার্ধক্যগ্রস্ত (পাকা চুলের অধিকারী) পেয়ে তালাক দেন এবং বলেন: “ঘরের একটি চাটাই নিঃসন্তান নারীর চেয়ে উত্তম। তোমাদের কামনা-বাসনা কতই না প্রবল! কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:”

“তোমরা অধিক সন্তানদানকারিণী ও স্নেহময়ী নারীকে বিবাহ করো; কেননা কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যার আধিক্য দিয়ে অন্যান্য উম্মতদের ওপর গর্ব করব।”
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌الحَدِيث الثَّامِن

 

عَن ابي امامة رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ

تزوجوا فَإِنِّي مُكَاثِر بكم الامم وَلَا تَكُونُوا كرهبانية النَّصَارَى

وروى ابْن مَاجَه عَن أبي هُرَيْرَة يرفعهُ

انكحوا فَإِنِّي مُكَاثِر بكم الامم

وَعَن سعيد بن جُبَير قَالَ قَالَ لي ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما وَذَلِكَ قبل ان يخرج وَجْهي أتزوجت يَا ابْن جُبَير قلت لَا وَمَا أُرِيد ذَلِك يومي هَذَا قَالَ فَقَالَ اما انه سيخرج مَا كَانَ فِي صلبك من كَانَ مستودعا

وَعنهُ قَالَ قَالَ لي ابْن عَبَّاس أتزوجت قلت لَا قَالَ فَتزَوج فَإِن خير الامة اكثرهم نَسْلًا رَوَاهُ احْمَد بن منيع مُرْسلا عَن عَليّ بن عَاصِم وَهُوَ ضَعِيف
অষ্টম হাদিস

 

আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

তোমরা বিবাহ করো, কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতদের সামনে গর্ব করব এবং তোমরা খ্রিষ্টানদের বৈরাগ্যবাদ অবলম্বন করো না।

ইবনে মাজাহ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তা মারফু (يرفعهُ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন:

তোমরা বিবাহ করো, কারণ আমি তোমাদের মাধ্যমে উম্মতদের মাঝে সংখ্যাধিক্য কামনা করি।

সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেন—আর তা ছিল আমার মুখে দাড়ি গজানোর পূর্বের ঘটনা—"হে ইবনে জুবায়ের, তুমি কি বিবাহ করেছ?" আমি বললাম, "না, আর আজ আমার এমন কোনো ইচ্ছা নেই।" তিনি বললেন, "জেনে রেখো, তোমার পৃষ্ঠদেশে আমানত হিসেবে যা রাখা হয়েছে, তা অবশ্যই নির্গত হবে।"

তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস আমাকে বললেন, "তুমি কি বিবাহ করেছ?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন, "তবে বিবাহ করো, কারণ এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি তিনিই যার বংশধর তথা সন্তানাদি বেশি।" এটি আহমদ বিন মানি' আলী বিন আসিম থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি দুর্বল (ضعيف)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وروى البُخَارِيّ عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما انه قَالَ

خير هَذِه الامة اكثرها نسَاء يَعْنِي النَّبِي صلى الله عليه وسلم

رُوِيَ ان سُهَيْل بن الحنظلية الاوسي كَانَ لَا يُولد لَهُ فَكَانَ يَقُول لِأَن يكون لي سقط فِي الاسلام احب الي مِمَّا طلعت عَلَيْهِ الشَّمْس وروى الطَّبَرَانِيّ عَن ابي الدَّرْدَاء

ان الله لَا يُؤَخر نفسا اذا جَاءَ اجلها وانما زِيَادَة الْعُمر ذُرِّيَّة صَالِحَة يرزقها العَبْد فَيدعونَ لَهُ بعد مَوته فيلحقه دعاؤهم فِي قَبره فَذَلِك زِيَادَة الْعُمر
ইমাম বুখারি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, তিনি বলেছেন

এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন তিনি, যাঁর স্ত্রীগণের সংখ্যা অধিক—অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

বর্ণিত (روي) আছে যে, সুহাইল ইবনুল হানযালিয়্যাহ আল-আওসির কোনো সন্তান হতো না। তিনি বলতেন: "ইসলামের যুগে আমার একটি মৃতজাত সন্তান (سقط) থাকাও আমার নিকট সূর্যের আলো পড়ে এমন সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়।" এবং তাবারানি আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন

নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো প্রাণের নির্ধারিত সময় উপস্থিত হলে তাকে বিলম্বিত করেন না। মূলত আয়ু বৃদ্ধি হলো নেক সন্তান-সন্ততি যা বান্দাকে দান করা হয়, অতঃপর তারা তার মৃত্যুর পর তার জন্য দোয়া করে এবং তাদের সেই দোয়া তার কবরে গিয়ে পৌঁছে। আর এটিই হলো আয়ু বৃদ্ধি।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌الحَدِيث التَّاسِع

 

عَن أنس رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم انه قَالَ

حبب الي النِّسَاء وَالطّيب وَجعلت قُرَّة عَيْني فِي الصَّلَاة = سنَنه وَالطَّبَرَانِيّ فِي الاوسط وَالْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه بِدُونِ لَفْظَة جعلت قَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم واخرجه ابْن عدي فِي كَامِله =

وَفِي رِوَايَة للنسائي

حبب الي النِّسَاء وَالطّيب وَجعل قُرَّة عَيْني فِي الصَّلَاة وَمن هَذَا الْوَجْه اخرجه احْمَد وابو يعلي فِي مسنديهما وابو عوَانَة فِي مستخرجه الصَّحِيح وَالطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ وأخرون

اصبر عَن الطَّعَام وَالشرَاب وَلَا اصبر عَنْهُمَا

وَزِيَادَة ثَلَاث وان وَقعت فِي الاحياء والكشاف مَرْدُودَة نقلا ومعى اذ لَا وجود لَهَا فِي شَيْء من كتب الحَدِيث كَمَا قَالَه المحدثون وَلِأَن الصَّلَاة لَيست من الدُّنْيَا وتوجيه الامام ابْن فورك تِلْكَ الزِّيَادَة تكلّف غير مُحْتَاج اليه اذ لَا وجود
‌নবম হাদিস

 

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন:

“আমার নিকট নারী ও সুগন্ধিকে প্রিয় করা হয়েছে এবং নামাজের মধ্যে আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে।” এটি সুনান, আল-আওসাত গ্রন্থে তাবারানি এবং আল-হাকিম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে 'জা'আলতু' শব্দ ব্যতিরেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি ইমাম মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح) এবং ইবনে আদি তার আল-কামিল গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

নাসায়ির এক বর্ণনায় রয়েছে:

“আমার নিকট নারী ও সুগন্ধিকে প্রিয় করা হয়েছে এবং নামাজের মধ্যে চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে।” এই সূত্রেই আহমদ ও আবু ইয়ালা তাদের মুসনাদদ্বয়ে, আবু আওয়ানা তার মুস্তাখরাজ গ্রন্থে, তাবারানি, বায়হাকি এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

“আমি খাদ্য ও পানীয় ছাড়া ধৈর্য ধারণ করতে পারি, কিন্তু এ দুটি ছাড়া পারি না।”

আর "তিনটি" শব্দের অতিরিক্ত (زيادة) অংশটি যদিও ইহয়া এবং আল-কাশশাফ গ্রন্থে উল্লেখ হয়েছে, তবে তা সূত্র (نقلا) এবং অর্থ (معنى) উভয় দিক থেকেই প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردودة); কারণ হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) যেমনটি বলেছেন যে, হাদিসের কোনো গ্রন্থে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। তাছাড়া নামাজ পার্থিব জগতের কোনো বিষয় নয়। আর ইমাম ইবনে ফুরাক উক্ত অতিরিক্ত অংশের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা একটি অনাবশ্যক কষ্টকল্পনা মাত্র, যেহেতু এর কোনো অস্তিত্ব নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
لَهَا كَمَا تقرر ووجهها فِي الْكَشَّاف بِالْقِيَاسِ على قَوْله تَعَالَى {آيَات بَيِّنَات} وَلَيْسَ فِي مَحَله كَمَا يعلم للمتأمل واي جَامع عِنْد النّظر للمعنى المُرَاد بَين مَا هُنَا والاية

وروى الديلمي عَن أنس مَرْفُوعا

الجائع يشْبع الظمآن يرْوى الا انا لَا اشبع من حب الصَّلَاة وَالنِّسَاء
যেমনটি সুনির্ধারিত হয়েছে এবং 'আল-কাশশাফ' গ্রন্থে মহান আল্লাহর বাণী {সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী} (آيات بينات)-এর ওপর অনুমান বা কিয়াসের (القياس) মাধ্যমে এর দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে; তবে একজন মনোযোগী চিন্তাশীল ব্যক্তির নিকট এটি স্পষ্ট যে, তা এখানে যথোপযুক্ত নয়। আর উদ্দীষ্ট অর্থের প্রতি লক্ষ্য করলে এখানে যা বর্ণিত হয়েছে এবং উক্ত আয়াতের মাঝে কী-ই বা যোগসূত্র রয়েছে?

আর দায়লামি আনাস (রা.) থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন:

"ক্ষুধার্ত ব্যক্তি পরিতৃপ্ত হয়, তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি তৃষ্ণা নিবারণ করে; তবে আমি নামাজ ও নারীদের প্রতি ভালোবাসা থেকে কখনো তৃপ্ত হই না।"
(খণ্ড: ১) আল-ইফসাহ আন আহাদীসিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌الحَدِيث الْعَاشِر

 

عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما ان النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ

التمسوا الرزق فِي النِّكَاح
দশম হাদিস

 

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—

তোমরা বিবাহের মধ্যে রিজিক অনুসন্ধান করো।