(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: -)
الفوائد في اختصار المقاصد القسم: أصول الفقه
الكتاب: الفوائد في اختصار المقاصد
المؤلف: أبو محمد عز الدين عبد العزيز بن عبد السلام بن أبي القاسم بن الحسن السلمي الدمشقي، الملقب بسلطان العلماء (ت 660هـ)
المحقق: إياد خالد الطباع
الناشر: دار الفكر المعاصر , دار الفكر - دمشق
الطبعة: الأولى، 1416
عدد الصفحات: 156
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফাওয়াইদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)
বই: আল-ফাওয়াইদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
লেখক: আবু মুহাম্মদ ইজ্জুদ্দিন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুস সালাম বিন আবুল কাসেম বিন হাসান আল-সুলামি আদ-দিমাশকি, সুলতানুল উলামা উপাধিতে ভূষিত (মৃত্যু ৬৬০ হিজরি)
গবেষক: ইয়াদ খালিদ আল-তাব্বা
প্রকাশনী: দারুল ফিকর আল-মুআসির, দারুল ফিকর - দামেস্ক
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৬
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم رب يسر بِخَير
أَخْبرنِي الشَّيْخ الإِمَام الْفَاضِل عُثْمَان بن بلبان المعالمي فِي شهر رَمَضَان سنة عشرَة قَالَ أَخْبرنِي الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة قَاضِي الْقُضَاة مفتي الْمُسلمين أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن بهْرَام الشَّافِعِي أثابه الله الْجنَّة بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ يَوْم الْأَحَد السَّادِس وَالْعِشْرين من شهر ربيع الأول سنة خمس وَسبع مئة بحلب المحروسة قلت لَهُ أخْبرك الشَّيْخ الْعَلامَة شيخ الْإِسْلَام مفتي الْفرق أَبُو مُحَمَّد عبد الْعَزِيز بن عبد السَّلَام بن أبي الْقَاسِم الشَّافِعِي بِقِرَاءَتِك عَلَيْهِ قَالَ نعم قلت لَهُ قلت (الْحَمد لله ذِي الْجُود وَالْإِحْسَان وَالْفضل والإمتنان وَصلى الله على نبيه الْمَبْعُوث بِالْأَمر وَالْعدْل وَالْإِحْسَان وبالنهي عَن الْفساد والطغيان فَلم يتْرك صلى الله عليه وسلم شَيْئا يقرب من الْجنان وَيبعد من النيرَان إِلَّا أَمر بِهِ وَلم يدع شَيْئا يقرب من النيرَان ويباعد من الْجنان إِلَّا نهى عَنهُ)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে প্রতিপালক, কল্যাণের সাথে সহজ করে দিন।
আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) মহিমান্বিত শায়খ ও ইমাম উসমান ইবনে বিলবান আল-মাআলিমী, দশ সনের রমজান মাসে। তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) শায়খ, ইমাম, আল্লামা, প্রধান বিচারপতি (قاضي القضاة) ও মুসলিমদের মুফতি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাহরাম আশ-শাফিঈ—আল্লাহ তাঁকে জান্নাত দান করুন—৭০৫ হিজরি সনের ২৬শে রবিউল আউয়াল রবিবার সুরক্ষিত শহর হালাবে তাঁর নিকট আমার পাঠ করার (بقرائتي عليه) মাধ্যমে। আমি তাঁকে বললাম, শায়খ, আল্লামা, শায়খুল ইসলাম ও বিভিন্ন মাযহাবের মুফতি আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আবিল কাসিম আশ-শাফিঈ কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرك) তাঁর নিকট আপনার পাঠ করার (بقراءتك عليه) মাধ্যমে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি তাঁকে বললাম, আপনি বলেছেন: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি দানশীলতা, দয়া, অনুগ্রহ ও ইহসানের অধিকারী। আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর সেই নবীর ওপর যাঁকে আদেশ, ন্যায়বিচার ও সদাচারের নির্দেশ দিয়ে এবং বিপর্যয় ও অবাধ্যতা থেকে নিষেধ করে প্রেরণ করা হয়েছে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন কোনো বিষয় বাকি রাখেননি যা জান্নাতের নিকটবর্তী করে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয় কিন্তু সেটার নির্দেশ দিয়েছেন; আর এমন কোনো বিষয় ছেড়ে দেননি যা জাহান্নামের নিকটবর্তী করে এবং জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় কিন্তু তা থেকে নিষেধ করেছেন।)
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فصل فِي بَيَان الْمصَالح والمفاسد أما بعد فَإِن الله تَعَالَى أرسل الرُّسُل وَأنزل الْكتب لإِقَامَة مصَالح الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَدفع مفاسدهما
والمصلحة لَذَّة أَو سَببهَا أَو فرحة أَو سَببهَا
والمفسدة ألم أَو سَببه أَو غم أَو سَببه
وَلم يفرق الشَّرْع بَين دقها وجلها وقليلهما وكثيرهما كحبة خَرْدَل وشق تَمْرَة وزنة برة ومثقال ذرة {فَمن يعْمل مِثْقَال ذرة خيرا يره وَمن يعْمل مِثْقَال ذرة شرا يره} الزلزلة 99 / 8 - 7
উপকারিতা (مصالح) ও অপকারিতা (مفاسد) বর্ণনার পরিচ্ছেদ অতঃপর, মহান আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণসমূহ (مصالح) প্রতিষ্ঠা এবং এই উভয় জগতের অপকারিতা (مفاسد) প্রতিরোধের নিমিত্তে রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন।
কল্যাণ (مصلحة) হলো তৃপ্তি অথবা তার কারণ, কিংবা আনন্দ অথবা তার কারণ।
অকল্যাণ (مفسدة) হলো যাতনা অথবা তার কারণ, কিংবা বিষাদ অথবা তার কারণ।
শরিয়ত এগুলোর সূক্ষ্ম ও স্থূল এবং সামান্য ও বেশির মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি; যেমন—একটি সরিষার দানা, একটি খেজুরের ফালি, একটি গমের দানা কিংবা একটি অণু পরিমাণ। {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে} আয-যিলযাল ৯৯ / ৭ - ৮
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فصل فِي بَيَان الْإِحْسَان الْمَأْمُور بِهِ كتب الله سُبْحَانَهُ الْإِحْسَان على كل شَيْء وَأخْبر أَنه يَأْمر بِهِ على الدَّوَام والاستمرار بقوله {إِن الله يَأْمر بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَان} النَّحْل 16 / 90 وَرغب فِيهِ بقوله {إِن الله يحب الْمُحْسِنِينَ} الْبَقَرَة 2 / 195 وَإِن أمرا يكون سَببا لحب الله سُبْحَانَهُ لجدير بِأَن يحرص عَلَيْهِ ويتنافس فِيهِ ويبادر إِلَيْهِ وَلَا يتَقَيَّد ذَلِك الْإِحْسَان بالإنسان بل يجْرِي فِي حق الْمَلَائِكَة عليهم السلام فَإِنَّهُم يتأذون مِمَّا يتَأَذَّى مِنْهُ النَّاس بل يجْرِي فِي حق الْحَيَوَان الْمُحْتَرَم بل فِي غير الْمُحْتَرَم لقَوْله صلى الله عليه وسلم إِن الله كتب الْإِحْسَان على كل شَيْء فَإِذا قتلتم فَأحْسنُوا القتلة وَإِذا ذبحتم فَأحْسنُوا الذّبْح وليحد أحدكُم شفرته وليرح ذَبِيحَته وَقد جعل لمن قتل الوزغ فِي الضَّرْبَة الأولي مئة حَسَنَة وَفِي الثَّانِيَة سبعين لِأَن قَتله بضربة وَاحِدَة أَهْون عَلَيْهِ من قَتله بضربتين
আদিষ্ট ইহসান (الإحسان) বর্ণনার পরিচ্ছেদ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রতিটি বিষয়ের ওপর ইহসান (الإحسان) বিধিবদ্ধ করেছেন এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সর্বদা ও নিরবচ্ছিন্নভাবে এর নির্দেশ প্রদান করেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও ইহসানের নির্দেশ দেন} (আন-নাহল ১৬/৯০)। তিনি এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহসিনদের (সদাচারীদের) ভালোবাসেন} (আল-বাকারাহ ২/১৯৫)। আর যে বিষয়টি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ভালোবাসা লাভের কারণ হয়, তা এর প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী হওয়া, এতে প্রতিযোগিতা করা এবং এর দিকে ধাবিত হওয়ার যোগ্য। আর এই ইহসান (الإحسان) কেবল মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ফেরেশতাগণের (আলাইহিমুস সালাম) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; কারণ মানুষ যে বিষয়ে কষ্ট পায়, তাঁরাও তাতে কষ্ট পান। বরং এটি সম্মানযোগ্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, এমনকি অসম্মানযোগ্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও; কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের ওপর ইহসান (الإحسان) বিধিবদ্ধ করেছেন। সুতরাং তোমরা যখন হত্যা করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা করো; আর যখন জবেহ করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে জবেহ করো। তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার জবেহকৃত পশুকে আরাম দেয়।" আর যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই টিকটিকি হত্যা করে, তার জন্য একশত নেকি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় আঘাতে সত্তর নেকি; কারণ এক আঘাতেই সেটিকে হত্যা করা দুই আঘাতের চেয়ে তার জন্য অধিকতর সহজ ও আরামদায়ক।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَالْإِحْسَان منحصر فِي جلب الْمصَالح ودرء الْمَفَاسِد وَهُوَ غَايَة الْوَرع أَعْلَاهَا إِحْسَان الْعِبَادَات وَهُوَ أَن تعبد الله عز وجل كَأَنَّك ترَاهُ فَإِن لم تكن ترَاهُ فَقدر أَنه يراك وأفضلهما أَن تعبد الله عز وجل مُقَدرا أَنَّك ترَاهُ فَإنَّك إِذا قدرت فِي عبادتك ترى المعبود فَإنَّك تعظمه غَايَة التَّعْظِيم وتجله أعظم الإجلال وَاعْتبر ذَلِك لَهَا صُورَة الأكابر والملوك فَإِن من نظر إِلَى ملك بِنَظَر إِلَيْهِ فَإِنَّهُ يعظمه أبلغ التَّعْظِيم ويهابه أتم المهابة ويتقرب إِلَيْهِ بغاية مَا يقدر عَلَيْهِ وَهَذَا مَحْكُوم بالعادات فَإِن عزفت عَن تَقْدِير رؤيتك إِيَّاه فقد ترى أَنه يراك وَينظر إِلَيْك فَإنَّك تَسْتَحي مِنْهُ وَتَأْتِي بِعِبَادَتِهِ على أتم الْوُجُوه
النَّوْع الثَّانِي الْإِحْسَان إِلَى الْخَلَائق وَذَلِكَ إِمَّا بجلب الْمَنَافِع أَو بِدفع المضار أَو بهما وَلَا فرق بَين قَلِيله وَكَثِيره وجليله وحقيره فَإِن {فَمن يعْمل مِثْقَال ذرة خيرا يره} الزلزلة 99 / 7 {وَإِن كَانَ مِثْقَال حَبَّة من خَرْدَل أَتَيْنَا بهَا وَكفى بِنَا حاسبين} الْأَنْبِيَاء 21 / 47 وَفِي الحَدِيث كل مَعْرُوف صَدَقَة وَلَو أَن تلقى أَخَاك وَأَنت منبسط إِلَيْهِ وَجهك وَفِي الحَدِيث لَا تحقرن جَارة لجارتها وَلَا فرسن شَاة وَفِي الحَدِيث
ইহসান কল্যাণ আনয়ন এবং অকল্যাণ প্রতিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এটিই হলো পরহেজগারির চূড়ান্ত পর্যায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো ইবাদতের ইহসান; আর তা হলো তুমি মহান আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে মনে করবে যে তিনি তোমাকে দেখছেন। এই দুই অবস্থার মধ্যে শ্রেষ্ঠতর হলো এই উপলব্ধির সাথে ইবাদত করা যে তুমি তাঁকে দেখছ। কারণ ইবাদতের সময় যখন তুমি উপাস্যকে দেখছ বলে কল্পনা করবে, তখন তুমি তাঁকে চূড়ান্তরূপে সম্মান করবে এবং সর্বোচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত করবে। বড় ব্যক্তিত্ব ও রাজাবাদশাহদের অবস্থার সাথে বিষয়টি তুলনা করে দেখ; কেউ যখন এমন কোনো রাজার দিকে তাকায় যে রাজাও তার দিকে তাকিয়ে আছেন, তখন সে তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সম্মান করে, গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করে এবং নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে তার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে। এটি স্বভাবজাত অভ্যাসের মাধ্যমে প্রমাণিত। আর তুমি যদি তাঁকে দেখার উপলব্ধি থেকে বিমুখ হও, তবে অন্তত এই বিশ্বাস রাখবে যে তিনি তোমাকে দেখছেন এবং তোমার দিকে তাকিয়ে আছেন; ফলে তুমি তাঁর প্রতি লজ্জাবোধ করবে এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ইবাদত সম্পন্ন করবে।
দ্বিতীয় প্রকার হলো সৃষ্টির প্রতি ইহসান প্রদর্শন করা। তা উপকার সাধনের মাধ্যমে হতে পারে অথবা ক্ষতি দূর করার মাধ্যমে, কিংবা উভয় পদ্ধতির মাধ্যমেই হতে পারে। আর এর পরিমাণ সামান্য হোক বা অধিক, মহৎ হোক বা নগণ্য—তাতে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখবে} (সূরা যিলযাল ৯৯:৭)। {আর কর্মটি যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, তবুও আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আমিই যথেষ্ট} (সূরা আম্বিয়া ২১:৪৭)। আর হাদিসে এসেছে, 'প্রত্যেকটি ভালো কাজই দান, এমনকি তোমার ভাইয়ের সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাৎ করাও।' আর হাদিসে বর্ণিত আছে, 'কোনো প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীর উপহারকে তুচ্ছজ্ঞান না করে, এমনকি তা যদি ছাগলের পায়ের ক্ষুরও হয়।' আর হাদিসে রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
تصدقوا وَلَو بشق تَمْرَة فَإِن لم تَجدوا فبكلمة طيبَة وعَلى الْجُمْلَة فالإحسان مَكْتُوب على كل شَيْء وكل مَعْرُوف صَدَقَة كالكلمة الطّيبَة وطلاقة الْوَجْه وتبسمه وانبساطه وهداية الطَّرِيق
তোমরা দান করো, এমনকি একটি খেজুরের অর্ধাংশ দ্বারা হলেও। অতঃপর যদি তোমরা তা না পাও, তবে উত্তম বাক্যের মাধ্যমে। আর সামগ্রিকভাবে, প্রতিটি বিষয়ের ওপরই সদাচার বিধিবদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রতিটি সৎকাজই সদকা স্বরূপ; যেমন উত্তম বাক্য, প্রফুল্ল চিত্তে সাক্ষাৎ করা, মুচকি হাসি ও প্রসন্নতা এবং পথ প্রদর্শন করা।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
النَّوْع الثَّالِث إِحْسَان الْمَرْء إِلَى نَفسه بجلب مَا أَمر الله بجلبه من الْمصَالح الْوَاجِبَة والمندوبة ودرء مَا أَمر الله بدرئه عَنْهَا من الْمَفَاسِد الْمُحرمَة والمكروهة وَلَا فرق بَين قَلِيله وَكَثِيره وجليله وحقيره {فَمن يعْمل مِثْقَال ذرة خيرا يره وَمن يعْمل مِثْقَال ذرة شرا يره} الزلزلة 99 / 8 - 7 و {من يعْمل سوءا يجز بِهِ} النِّسَاء 4 / 123 {وَإِن كَانَ مِثْقَال حَبَّة من خَرْدَل أَتَيْنَا بهَا} الْأَنْبِيَاء 21 / 47
فصل فِي بَيَان الْإِسَاءَة الْمنْهِي عَنْهَا الْإِسَاءَة منحصرة فِي جلب الْمَفَاسِد ودرء الْمصَالح وَهِي مُتَعَلقَة بالعبادات وبنفس الْمُكَلف وَغَيره من الأناس والحيوانات والمحترمات وعَلى الْجُمْلَة فَلَا يرجع بِشَيْء من جلب الْمصَالح ودرء الْمَفَاسِد وأسبابهما إِلَى الديَّان لاستغنائه بِهِ عَن الأكوان وَإِنَّمَا يعود نفعهما وضرهما على الانسان وَمن أحسن فلنفسه سعى وَمن أَسَاءَ فعلى نَفسه جنى
তৃতীয় প্রকার: ব্যক্তির নিজের প্রতি ইহসান বা কল্যাণ করা; আল্লাহ তাআলা যে সকল আবশ্যিক (واجبة) এবং মুস্তাহাব (مندوبة) কল্যাণসমূহ অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন তা অর্জন করার মাধ্যমে এবং যে সকল নিষিদ্ধ (محرمة) ও অপছন্দনীয় (مكروهة) অনিষ্ট থেকে নিজেকে রক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন তা প্রতিহত করার মাধ্যমে। এর অল্প ও অধিক কিংবা বড় ও তুচ্ছের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে তা সে দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলে তাও সে দেখতে পাবে} (সূরা যিলযাল ৯৯: ৭-৮); এবং {যে কেউ মন্দ কাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে} (সূরা নিসা ৪: ১২৩); {আর যদি তা সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব} (সূরা আম্বিয়া ২১: ৪৭)।
নিষিদ্ধ পাপাচার বা মন্দ কাজের বর্ণনায় একটি পরিচ্ছেদ মন্দ কাজ বা পাপাচার কেবল অপকার বয়ে আনা এবং কল্যাণকে প্রতিহত করার মাঝেই সীমাবদ্ধ। এটি ইবাদতসমূহ, শরয়ী দায়বদ্ধ (مكلف) ব্যক্তির নিজের সত্তা এবং অন্যান্য মানুষ, পশুপাখি ও সম্মানযোগ্য বিষয়াদির সাথে সংশ্লিষ্ট। সারকথা হলো, কল্যাণ অর্জন ও অনিষ্ট বর্জন কিংবা এগুলোর কোনো কারণই মহান বিচারকের (আল্লাহর) প্রতি প্রত্যাবর্তন করে না; কেননা তিনি সৃষ্টিজগত থেকে অমুখাপেক্ষী। বরং এগুলোর উপকার ও অপকার কেবল মানুষের দিকেই ফিরে আসে। যে ব্যক্তি উত্তম কাজ করে সে নিজের জন্যই চেষ্টা করে, আর যে মন্দ কাজ করে সে নিজের সত্তার ওপরই অপরাধ করে।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وإحسان الْمَرْء إِلَى نَفسه أَو إِلَى غَيره إِمَّا بجلب مصلحَة دنيوية أَو أخروية أَو بهما وَإِمَّا بدرء مفْسدَة دنيوية أَو أخروية أَو بهما
وإساءته إِلَى نَفسه وَإِلَى غَيره إِمَّا بجلب مفْسدَة دنيوية أَو أخروية أَو بهما أَو بدرء مصلحَة دنيوية أَو أخروية أَو بهما وَلكُل من أحسن إِلَى نَفسه كَانَ أجره مَقْصُورا عَلَيْهِ وكل من أحسن إِلَى غَيره كَانَ محسنا إِلَى نَفسه وَإِلَى غَيره وكل من أَسَاءَ إِلَى نَفسه كَانَ وزره مَقْصُورا عَلَيْهِ وكل من أَسَاءَ إِلَى غَيره فقد بَدَأَ بالإساءة إِلَى نَفسه وَإِذا اتَّحد نوع الْإِسَاءَة وَالْإِحْسَان كَانَ عامهما أفضل من خاصهما وَلَيْسَ من يصلح بَين جمَاعَة كمن أصلح بَين اثْنَيْنِ وَلَيْسَ من أفسد بَين جمَاعَة كمن أفسد بَين اثْنَيْنِ وليسن من تصدق على جمَاعَة أَو علم جمَاعَة أَو ستر جمَاعَة أَو أنقذ جمَاعَة من الْهَلَاك كمن اقْتصر على وَاحِد أَو اثْنَيْنِ
فَائِدَة فِي الْحَث على تَحْصِيل الْمصَالح ودرء الْمَفَاسِد وَقد حث الرب سُبْحَانَهُ على تَحْصِيل مصَالح الْآخِرَة بمدحها ومدح فاعليها وَبِمَا رتب عَلَيْهَا من ثَوَاب الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وكرامتهما وزجر سُبْحَانَهُ عَن ارْتِكَاب الْمَفَاسِد بذمها وذم فاعليها وَبِمَا رتبه عَلَيْهَا من عِقَاب الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وإهانتهما
আর মানুষের নিজের প্রতি বা অন্যের প্রতি কল্যাণ সাধন (إحسان) করা হয় হয় কোনো পার্থিব বা পরকালীন অথবা উভয় জগতের কল্যাণ (مصلحة) আনয়নের মাধ্যমে, অথবা কোনো পার্থিব বা পরকালীন অথবা উভয় জগতের অকল্যাণ (مفسدة) দূর করার মাধ্যমে।
আর নিজের প্রতি বা অন্যের প্রতি তার মন্দ আচরণ (إساءة) করা হয় হয় কোনো পার্থিব বা পরকালীন অথবা উভয় জগতের অকল্যাণ (مفسدة) আনয়নের মাধ্যমে, অথবা কোনো পার্থিব বা পরকালীন অথবা উভয় জগতের কল্যাণ (مصلحة) বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে। যে ব্যক্তি নিজের প্রতি কল্যাণ সাধন (إحسان) করে, তার প্রতিদান (أجر) কেবল তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আর যে ব্যক্তি অন্যের প্রতি কল্যাণ সাধন (إحسان) করে, সে মূলত নিজের এবং অন্যের প্রতি কল্যাণ সাধনকারী হিসেবে গণ্য হয়। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নিজের প্রতি মন্দ আচরণ (إساءة) করে, তার পাপ (وزر) কেবল তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আর যে ব্যক্তি অন্যের প্রতি মন্দ আচরণ (إساءة) করে, সে মূলত নিজের প্রতি মন্দ আচরণের মাধ্যমেই তা শুরু করে। যখন অকল্যাণ ও কল্যাণের ধরণ অভিন্ন হয়, তখন এগুলোর মধ্যে যা সাধারণ (عام) তা বিশেষের (خاص) চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি কোনো জনসমষ্টির মধ্যে মীমাংসা (إصلاح) করে দেয়, সে ঐ ব্যক্তির মতো নয় যে কেবল দুই ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসা করে। আবার যে ব্যক্তি কোনো জনসমষ্টির মধ্যে বিপর্যয় (إفسাদ) সৃষ্টি করে, সে ঐ ব্যক্তির মতো নয় যে কেবল দুই ব্যক্তির মধ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। তদ্রূপ যে ব্যক্তি কোনো জনসমষ্টিকে দান (صدقة) করে, অথবা কোনো জনসমষ্টিকে শিক্ষা দান করে, কিংবা কোনো জনসমষ্টির দোষ গোপন করে অথবা কোনো জনসমষ্টিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে, সে ঐ ব্যক্তির সমতুল্য নয় যে কেবল এক বা দুই জনের জন্য তা সীমাবদ্ধ রাখে।
কল্যাণসমূহ (مصالح) অর্জন এবং অকল্যাণসমূহ (مفاسد) দূরীকরণে উৎসাহিত করার বিষয়ে একটি হিতোপদেশ (فائدة) আর মহান রব সুবহানাহু ওয়া তাআলা পরকালীন কল্যাণসমূহ (مصالح) অর্জনের প্রতি সেগুলোর প্রশংসা করে এবং সেগুলোর সম্পাদনকারীদের প্রশংসা করে উৎসাহিত করেছেন; সেইসাথে এগুলোর বিনিময়ে দুনিয়া ও আখিরাতে যে সওয়াব (ثواب) ও সম্মান নির্ধারিত রেখেছেন তার মাধ্যমেও উদ্বুদ্ধ করেছেন। তদ্রূপ তিনি অকল্যাণমূলক কাজে (مفাসد) লিপ্ত হওয়া থেকে সেগুলোর নিন্দা করে এবং সেগুলোর সম্পাদনকারীদের নিন্দা জ্ঞাপনের মাধ্যমে সতর্ক করেছেন; এছাড়া এগুলোর কারণে দুনিয়া ও আখিরাতে যে শাস্তি (عقاب) ও লাঞ্ছনা নির্ধারিত রেখেছেন তার মাধ্যমেও বারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
ويعبر عَن الْمصَالح والمفاسد بالمحبوب وَالْمَكْرُوه والحسنات والسيئات وَالْعرْف والنكر وَالْخَيْر وَالشَّر والنفع والضر وَالْحسن والقبح
وَالْأَدب أَن لَا يعبر عَن مشاق الْعِبَادَات ومكارهها بِشَيْء من أَلْفَاظ الْمَفَاسِد وَأَن لَا يعبر عَن لذات الْمعاصِي وأفراحها بِشَيْء من أَلْفَاظ الْمصَالح وَإِن كَانَت الْجنَّة قد حفت بالمكاره وحفت النَّار بالشهوات
وجلب الْمصَالح ودرء الْمَفَاسِد أَقسَام
أَحدهَا ضَرُورِيّ
وَالثَّانِي حاجي
وَالثَّالِث تكميلي
فالضروري الأخروي فِي الطَّاعَات هُوَ فعل الْوَاجِبَات وَترك الْمُحرمَات والحاجي هُوَ السّنَن المؤكدات والشعائر الظاهرات والتكميلي مَا عدا الشعائر من المندوبات والضروريات الدُّنْيَوِيَّة كالمآكل والمشارب والملابس والمناكح
কল্যাণ (المصالح) এবং অকল্যাণকে (المفاسد) প্রিয় (المحبوب) ও অপছন্দনীয় (المكروه), পুণ্য (الحسنات) ও পাপ (السيئات), সুপরিচিত (العرف) ও অপছন্দনীয় (النكر), মঙ্গল (الخير) ও অমঙ্গল (الشر), উপকার (النفع) ও অপকার (الضر), এবং সৌন্দর্য (الحسن) ও কদর্যতা (القبح) দ্বারা ব্যক্ত করা হয়।
আর আদব বা শিষ্টাচার হলো ইবাদতের কষ্ট ও ক্লেশসমূহকে অকল্যাণ (المفاسد) বাচক কোনো শব্দ দ্বারা প্রকাশ না করা এবং গুনাহের স্বাদ ও আনন্দসমূহকে কল্যাণ (المصالح) বাচক কোনো শব্দ দ্বারা প্রকাশ না করা; যদিও জান্নাতকে কষ্টদায়ক বিষয়াদি (المكاره) দিয়ে এবং জাহান্নামকে প্রবৃত্তি (الشهوات) দিয়ে বেষ্টন করা হয়েছে।
কল্যাণ আহরণ (جلب المصالح) এবং অকল্যাণ নিরসন (درء المفاسد) কয়েকটি ভাগে বিভক্ত:
প্রথমত: অত্যাবশ্যকীয় (ضروري)
দ্বিতীয়ত: প্রয়োজনীয় (حاجي)
তৃতীয়ত: পরিপূরক (تكميلي)
আনুগত্যের ক্ষেত্রে পরকালীন অত্যাবশ্যকীয় (الضروري) বিষয় হলো ওয়াজিব (الواجبات) কার্যাদি সম্পাদন করা এবং হারাম (المحرمات) বর্জন করা। প্রয়োজনীয় (الحاجي) বিষয় হলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা (السنن المؤكدات) এবং প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহ (الشعائر الظاهرات)। আর পরিপূরক (التكميلي) বিষয় হলো নিদর্শনসমূহ ব্যতীত অন্যান্য পছন্দনীয় (المندوبات) আমল। আর পার্থিব অত্যাবশ্যকীয় (الضروريات) বিষয়সমূহ হলো আহার্য, পানীয়, পোশাক এবং বিবাহ।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
والتكميلي مِنْهَا كَأَكْل الطَّيِّبَات وَشرب اللذيذات وسكنى المساكن العاليات والغرف الرفيعات والقاعات الواسعات
والحاجي مِنْهَا مَا توَسط بَين الضرورات والتكميلات
فصل فِي تفَاوت رتب الْمصَالح والمفاسد ثمَّ تَنْقَسِم الْمصَالح إِلَى الْحسن وَالْأَحْسَن والفاضل وَالْأَفْضَل كَمَا تَنْقَسِم الْمَفَاسِد إِلَى الْقَبِيح والأقبح والرذيل والأرذل وَلكُل وَاحِد مِنْهَا رتب عاليات ودانيات ومتوسطات متساويات وَغير متساويات
وَلَا نِسْبَة لمصَالح الدُّنْيَا إِلَى مصَالح الْآخِرَة لِأَنَّهَا خير مِنْهَا وَأبقى وَلَا نِسْبَة لمفاسد الدُّنْيَا إِلَى مفاسد الْآخِرَة لِأَنَّهَا شَرّ مِنْهَا وَأبقى
ومصالح الْإِيجَاب أفضل من مصَالح النّدب ومصالح النّدب أفضل من مصَالح الْإِبَاحَة كَمَا أَن مفاسد التَّحْرِيم أرذل من مفاسد الْكَرَاهَة
এর মধ্যে পরিপূরক (تكميلي) হলো যেমন—উত্তম আহার্য গ্রহণ করা, সুস্বাদু পানীয় পান করা এবং সুউচ্চ আবাসন, উন্নত কক্ষ ও প্রশস্ত হলরুমে বসবাস করা।
আর এর মধ্যে প্রয়োজনীয় (حاجي) হলো তা-ই, যা অপরিহার্য (ضرورات) এবং পরিপূরক (تكميلات) স্তরদ্বয়ের মধ্যবর্তী পর্যায়ে অবস্থান করে।
পরিচ্ছেদ: কল্যাণ (مصالح) ও অকল্যাণের (مفاسد) স্তরের তারতম্য প্রসঙ্গে অতঃপর কল্যাণসমূহ (مصالح) সুন্দর (حسن) ও অধিক সুন্দর (أحسن) এবং উত্তম (فاضل) ও সর্বোত্তম (أفضل)—এই ভাগে বিভক্ত হয়। তেমনিভাবে অকল্যাণসমূহ (مفاسد) মন্দ (قبيح) ও অধিক মন্দ (أقبح) এবং নিকৃষ্ট (رذيل) ও অতি নিকৃষ্ট (أرذل)—এই ভাগে বিভক্ত হয়। এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য উচ্চ, নিম্ন ও মধ্যম স্তর রয়েছে, যা কখনো সমান এবং কখনো অসমান হয়ে থাকে।
পরকালের কল্যাণের তুলনায় দুনিয়াবি কল্যাণের কোনো তুলনাই হয় না; কারণ তা (পরকালের কল্যাণ) অধিক উত্তম ও চিরস্থায়ী। আর পরকালের অকল্যাণের তুলনায় দুনিয়াবি অকল্যাণেরও কোনো তুলনা নেই; কারণ তা (পরকালের অকল্যাণ) অধিক মন্দ ও দীর্ঘস্থায়ী।
আর আবশ্যিকতার (إيجاب) কল্যাণসমূহ মুস্তাহাব (ندب)-এর কল্যাণসমূহের চেয়ে উত্তম এবং মুস্তাহাব-এর কল্যাণসমূহ বৈধতার (إباحة) কল্যাণসমূহের চেয়ে উত্তম। তেমনিভাবে হারামের (تحريم) অকল্যাণসমূহ মাকরুহ (كراهة)-এর অকল্যাণসমূহের চেয়েও অধিক নিকৃষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
فصل فِي بَيَان مصَالح الدَّاريْنِ ومفاسدهما مصَالح الْآخِرَة ثَوَاب الْجنان ورضا الديَّان وَالنَّظَر إِلَيْهِ والأنس بجواره والتلذذ بِقُرْبِهِ وخطابه وتسليمه وتكليمه
ومفاسدها عَذَاب النيرَان وَسخط الديَّان والحجب عَن الرَّحْمَن وتوبيخه ولعنه وطرده وإبعاده وخسؤه وإهانته
وَلَا تقع أَسبَاب مصَالح الْآخِرَة ومفاسدها إِلَّا فِي الدُّنْيَا إِلَّا الشَّفَاعَة
وَلَا قطع بِحُصُول مصَالح الْآخِرَة ومفاسدهما إِلَّا عِنْد الْمَوْت فَإِن الرجل يعْمل بِعَمَل أهل الْجنَّة حَتَّى لَا يبْقى بَينه وَبَينهَا إِلَّا بَاعَ أَو ذِرَاع فَيعْمل بِعَمَل أهل النَّار فَيدْخل النَّار وَإِن الرجل ليعْمَل بِعَمَل أهل النَّار حَتَّى لَا يبقي بَينه وَبَينهَا إِلَّا بَاعَ أَو ذِرَاع فَيعْمل بِعَمَل أهل الْجنَّة فَيدْخل الْجنَّة
উভয় জগতের কল্যাণ ও অকল্যাণ বর্ণনার পরিচ্ছেদ পরকালের কল্যাণসমূহ হলো জান্নাতের সওয়াব, মহান প্রতিফলদাতার সন্তুষ্টি, তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত, তাঁর সান্নিধ্যের সাহচর্য এবং তাঁর নৈকট্য, সম্বোধন, সালাম ও কথোপকথনের স্বাদ আস্বাদন করা।
আর পরকালের অকল্যাণসমূহ হলো জাহান্নামের আজাব, মহান প্রতিফলদাতার অসন্তুষ্টি, পরম করুণাময় থেকে পর্দার অন্তরালে থাকা এবং তাঁর তিরস্কার, অভিশাপ, বিতাড়ন, দূরীকরণ, লাঞ্ছনা ও অপমান।
সুপারিশ ব্যতীত পরকালের কল্যাণ ও অকল্যাণের কারণসমূহ কেবল দুনিয়াতেই সংঘটিত হয়।
মৃত্যুর সময় ব্যতীত পরকালের কল্যাণ ও অকল্যাণ অর্জনের বিষয়টি সুনিশ্চিত হয় না। কেননা, কোনো ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জান্নাতের মাঝে কেবল এক বাহু বা এক হাত দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে, এমতাবস্থায় সে জাহান্নামবাসীদের আমল করে এবং পরিণামে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার কোনো ব্যক্তি জাহান্নামবাসীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে কেবল এক বাহু বা এক হাত দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে, এমতাবস্থায় সে জান্নাতবাসীদের আমল করে এবং শেষ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَأما مصَالح الدُّنْيَا ومفاسدها فتنقسم إِلَى مَقْطُوع ومظنون وموهوم أَمْثِلَة ذَلِك الْجُوع والشبع والري والعطش والعري والاكتساء والسلامة والعطب والعافية والأسقام والأوجاع والعز والذل والأفراح وَالْأَحْزَان وَالْخَوْف والأمن والفقر والغنى ولذات المآكل والمشارب والمناكح والملابس والمساكن والمراكب وَالرِّبْح والخسران وَسَائِر المصائب والنوائب
وَلَا يعرف مصَالح الْآخِرَة ومفاسدها إِلَّا بِالشَّرْعِ وَيعرف مصَالح الدُّنْيَا ومفاسدها بالتجارب والعادات
فصل فِيمَا يبْنى عَلَيْهِ الْمصَالح والمفاسد من الْمصَالح والمفاسد مَا يبْنى على الْعرْفَان
وَمِنْهَا مَا يبْنى على الِاعْتِقَاد فِي حق الْعَوام
দুনিয়াবী কল্যাণ ও অকল্যাণসমূহ নিশ্চিত (مقطوع), প্রবল ধারণা-প্রসূত (مظنون) এবং কাল্পনিক (موهুম) — এই তিন ভাগে বিভক্ত। এর উদাহরণ হলো ক্ষুধা ও তৃপ্তি, পিপাসা নিবারণ ও তৃষ্ণা, উলঙ্গতা ও বস্ত্র পরিধান, নিরাপত্তা ও ধ্বংস, সুস্বাস্থ্য ও ব্যাধি, ব্যথা-বেদনা, সম্মান ও লাঞ্ছনা, আনন্দ ও বিষাদ, ভয় ও অভয়, দারিদ্র্য ও সচ্ছলতা, এবং পানাহার, বিবাহ, পোশাক, বাসস্থান ও যানবাহনের স্বাদ-আহ্লাদ, লাভ ও লোকসান এবং যাবতীয় বিপদ-আপদ ও মুসিবত।
আখিরাতের কল্যাণ ও অকল্যাণসমূহ কেবল শরিয়তের মাধ্যমেই জানা সম্ভব, তবে দুনিয়াবী কল্যাণ ও অকল্যাণসমূহ অভিজ্ঞতা ও অভ্যাসের মাধ্যমে জানা যায়।
পরিচ্ছেদ: যেসব বিষয়ের ওপর কল্যাণ ও অকল্যাণ গড়ে ওঠে
কল্যাণ ও অকল্যাণের কিছু বিষয় পরিচয়ের (عرفان) ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
আবার কিছু বিষয় সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের (اعتقاد) ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وأكثرها يبْنى على الظَّن والحسبان لإعواز الْيَقِين والعرفان
وأقلها مَبْنِيّ على الشكوك والأوهاوم كَمَا فِي إِلْحَاق النّسَب فِي بعض الأحيان
ومعظم الْوَرع مَبْنِيّ على الأوهام
فَمن الْمصَالح مَا لَا يتَعَلَّق بِهِ مفْسدَة وَلَا يجده إِلَّا وَاجِبا أَو مَنْدُوبًا أَو مُبَاحا
وَمن الْمَفَاسِد مَا لَا يتَعَلَّق بِهِ مصلحَة وَلَا يجده إِلَّا مَكْرُوها أَو حَرَامًا
আর এর অধিকাংশ বিষয়ই প্রবল ধারণা ও অনুমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত, কারণ সেখানে নিশ্চিত বিশ্বাসের (اليقين) ও গভীর উপলব্ধির অভাব রয়েছে।
আর এর অতি সামান্য অংশ সন্দেহ ও সংশয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যেমনটি কোনো কোনো সময় বংশপরিচয় সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।
আর পরহেজগারির (الورع) অধিকাংশ বিষয়ই অমূলক সংশয়ের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে।
সুতরাং জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলোর (المصالح) মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার সাথে কোনো অনিষ্ট জড়িত নেই এবং তা কেবল আবশ্যক (واجب), পছন্দনীয় (مندوب) অথবা বৈধ (مباح) হিসেবেই পরিলক্ষিত হয়।
আর ক্ষতিকর বিষয়গুলোর (المفاسد) মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার সাথে কোনো কল্যাণ জড়িত নেই এবং তা কেবল অপছন্দনীয় (مكروه) অথবা নিষিদ্ধ (حرام) হিসেবেই সাব্যস্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وكل كسب خلا عَن الْمصلحَة والمفسدة وَلم يكن فِي نَفسه مصلحَة وَلَا مفْسدَة فَحكمه حكم الْأَفْعَال قبل وُرُود الشَّرْع
وللمصالح تعلق بالقلوب والحواس والأعضاء والأبدان وَالْأَمْوَال والأماكن والأزمان والذمم والأعيان أَو بالذمم والأعيان
فصل فِي الْوَسَائِل للْمصَالح والمفاسد أَسبَاب ووسائل وللوسائل أَحْكَام الْمَقَاصِد من النّدب والإيجاب وَالتَّحْرِيم وَالْكَرَاهَة وَالْإِبَاحَة
وَرب وَسِيلَة أفضل من مقصودها كالمعارف وَالْأَحْوَال وَبَعض الطَّاعَات فَإِنَّهَا أفضل من ثَوَابهَا
والإعانة على الْمُبَاح أفضل من الْمُبَاح لِأَن الْإِعَانَة عَلَيْهِ مُوجبَة لثواب الْآخِرَة وَهُوَ خير وَأبقى من مَنَافِع الْمُبَاح
প্রত্যেক উপার্জন যা কল্যাণ (مصلحة) ও অকল্যাণ (مفسدة) থেকে মুক্ত এবং যার স্বীয় সত্তায় কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ নেই, তার বিধান হলো শরিয়ত (الشرع) আসার পূর্ববর্তী কর্মসমূহের বিধানের অনুরূপ।
কল্যাণসমূহের (مصالح) সম্পর্ক রয়েছে অন্তর, ইন্দ্রিয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, দেহ, সম্পদ, স্থান, কাল, জিম্মা (الذمم) ও চাক্ষুষ বস্তুসমূহের (الأعيان) সাথে, অথবা জিম্মা ও চাক্ষুষ বস্তুসমূহের সাথে।
মাধ্যম (الوسائل) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ কল্যাণ ও অকল্যাণের কিছু কারণ ও মাধ্যম (وسائل) রয়েছে। আর মাধ্যমের (وسائل) বিধান হলো উদ্দেশ্যের (المقاصد) বিধানের অনুরূপ; যথা: মুস্তাহাব (الندب), ওয়াজিব (الإيجاب), হারাম (التحريم), মাকরূহ (الكراهة) ও বৈধতা (الإباحة)।
অনেক সময় মাধ্যম (وسيلة) তার উদ্দেশ্যের চেয়েও উত্তম হয়ে থাকে, যেমন মা’রিফাত (المعارف), আধ্যাত্মিক অবস্থা (الأحوال) এবং আনুগত্যের (الطاعات) কিছু কাজ; কেননা এগুলো তাদের প্রতিদানের (الثواب) চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
কোনো মুবাহ (المباح) কাজে সহযোগিতা করা স্বয়ং সেই মুবাহ (المباح) কাজের চেয়েও উত্তম। কারণ সেই কাজে সহযোগিতা করা আখিরাতের সওয়াব (الثواب) লাভের কারণ হয়ে থাকে, যা মুবাহ কাজের পার্থিব উপকারের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
ويتفاوت الثَّوَاب وَالْعِقَاب والزواجر العاجلة والآجلة بتفاوت الْمصَالح والمفاسد فِي الْغَالِب
وَاعْلَم أَن فضل الْوَسَائِل مترتب على فضل الْمَقَاصِد وَالْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَسِيلَة إِلَى تَحْصِيل ذَلِك الْمَعْرُوف وَالنَّهْي عَن الْمُنكر وَسِيلَة إِلَى دفع مفْسدَة ذَلِك الْمُنكر فَالْأَمْر بِالْإِيمَان أفضل من كل أَمر وَالنَّهْي عَن الْكفْر أفضل من كل نهي وَالنَّهْي عَن الْكَبَائِر أفضل من النَّهْي عَن الصَّغَائِر وَالنَّهْي عَن كل كَبِيرَة أفضل من النَّهْي عَمَّا دونهَا وَكَذَلِكَ الْأَمر بِمَا تَركه كَبِيرَة أفضل من الْأَمر بِمَا تَركه صَغِيرَة ثمَّ تترتب فَضَائِل الْأَمر وَالنَّهْي على رتب الْمصَالح والمفاسد وتترتب رتب الشَّهَادَات على رتب الْمَشْهُود بِهِ من جلب الْمصَالح ودرء الْمَفَاسِد وَكَذَلِكَ الْفَتَاوَى وَكَذَلِكَ يَتَرَتَّب رتب المعونات والمساعدات على الْبر وَالتَّقوى على رتب مصالحهما كَمَا يَتَرَتَّب المعاونة على الْإِثْم والعدوان على ترتيبهما فِي الْمَفَاسِد
وَبِالْجُمْلَةِ فالولايات كلهَا وَالْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر وَتحمل الشَّهَادَات وأداؤها وسماعها وَالْحكم بهَا كل ذَلِك وَسِيلَة إِلَى جلب مصْلحَته المبنية عَلَيْهِ أَو دَرْء الْمفْسدَة الناشئة عَنهُ وَكَذَلِكَ التَّصَرُّفَات الشَّرْعِيَّة وَسَائِل إِلَى تَحْصِيل مفاسدهما سَوَاء كَانَت مُعَاوضَة أَو غير مُعَاوضَة وَكَذَلِكَ إِلَى جَمِيع الطَّاعَات والعبادات وَإِلَى الْمعاصِي والمخالفات وإثم وَسَائِل الْمَفَاسِد دون إِثْم
সাধারণত সওয়াব, আজাব এবং ইহকাল ও পরকালের সতর্কবার্তাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে কল্যাণ ও অকল্যাণের তারতম্য অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
জেনে রাখুন যে, মাধ্যমসমূহের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জব্য লক্ষ্যের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর বিন্যস্ত। সৎ কাজের আদেশ দেওয়া সেই সৎ কাজ অর্জনের একটি মাধ্যম এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ (منكر) করা সেই মন্দের অপকারিতা প্রতিরোধের মাধ্যম। সুতরাং ঈমানের আদেশ দেওয়া সকল আদেশের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং কুফর থেকে নিষেধ করা সকল নিষেধের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তদ্রূপ বড় গুনাহ থেকে নিষেধ করা ছোট গুনাহ থেকে নিষেধ করার চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিটি বড় গুনাহ থেকে বারণ করা তার নিম্নের গুনাহ থেকে বারণ করার চেয়ে উত্তম। একইভাবে যে কাজ বর্জন করা কবিরা গুনাহ, সেই কাজের আদেশ দেওয়া যে কাজ বর্জন করা সগিরা গুনাহ তার আদেশের চেয়ে উত্তম। অতঃপর সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধের (منكر) ফযিলতসমূহ কল্যাণ ও অকল্যাণের স্তরের ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত হয়। সাক্ষ্য প্রদানের মর্যাদাগুলোও কল্যাণ অর্জন ও অকল্যাণ প্রতিরোধের বিচারে সাক্ষ্য প্রদানকৃত বিষয়ের গুরুত্ব অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ফতোয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। তদ্রূপ নেকি ও তাকওয়ার কাজে পারস্পরিক সহযোগিতার স্তর তাদের কল্যাণের স্তরের ওপর বিন্যস্ত হয়, যেমনটি গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি তাদের অকল্যাণের স্তরের ওপর বিন্যস্ত হয়ে থাকে।
মোটকথা, সকল প্রকার শাসনক্ষমতা, সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ (منكر), সাক্ষ্য গ্রহণ, প্রদান ও শ্রবণ এবং তদানুযায়ী ফয়সালা প্রদান—এসবই মূলত সংশ্লিষ্ট কল্যাণ অর্জন অথবা অকল্যাণ দূর করার মাধ্যম। একইভাবে শরিয়তসম্মত লেনদেনগুলোও তাদের অকল্যাণ অর্জনের মাধ্যম, তা বিনিময়মূলক হোক বা না হোক। তদ্রূপ সকল আনুগত্য ও ইবাদত এবং পাপাচার ও অবাধ্যতার ক্ষেত্রেও একই মূলনীতি প্রযোজ্য। আর অকল্যাণের মাধ্যমগুলোর গুনাহ মূল অকল্যাণের গুনাহ অপেক্ষা কম।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الْمَفَاسِد كَمَا أَن أجر وَسَائِل الْمصَالح دون أجر الْمصَالح وَقد يتَوَصَّل بالْقَوْل الْوَاحِد وَالْعَمَل الْوَاحِد إِلَى ألف مصلحَة وَألف مفْسدَة
فصل فِي اجْتِمَاع الْمصَالح إِذا اجْتمعت مصَالح أخروية فَإِن أمكن تَحْصِيلهَا حصلناها وَإِن تعذر تَحْصِيلهَا قإن تَسَاوَت تخيرنا بَينهَا وَقد يقرع فِيمَا نقدم مِنْهَا وَإِن تفاوتت قدمنَا الْأَصْلَح فالأصلح وَلَا نبالي بِفَوَات الصَّالح وَلَا يخرج بتقويته عَن كَونه صَالحا
وَإِن اجْتمعت مصَالح الْمُبَاح اقتصرنا فِي حق أَنْفُسنَا على الكفاف وَلَا ننافس فِي تَحْصِيل الْأَصْلَح
وَتقدم الْأَصْلَح فالأصلح فِي حق كل من لنا عَلَيْهِ ولَايَة عَامَّة أَو خَاصَّة
ক্ষতিকর বিষয়সমূহ (المفاسد), যেমনটি জনকল্যাণের (المصالح) মাধ্যমসমূহের সওয়াব খোদ জনকল্যাণের (المصالح) সওয়াবের চেয়ে কম। কখনও একটি কথা বা একটি কাজের মাধ্যমে হাজারো জনকল্যাণ (مصلحة) এবং হাজারো অনিষ্ট (مفسدة) অর্জিত হতে পারে।
পরিচ্ছেদ: জনকল্যাণসমূহের (المصالح) একত্রীকরণ প্রসঙ্গে যখন একাধিক পরকালীন কল্যাণ (مصالح) একত্র হয়, তখন যদি সেগুলো অর্জন করা সম্ভব হয়, তবে আমরা তা অর্জন করব। আর যদি সেগুলো অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং সেগুলো গুরুত্বের দিক থেকে সমান হয়, তবে আমরা সেগুলোর মধ্যে যে কোনোটি বেছে নেওয়ার এখতিয়ার রাখব; আবার কোনটি আগে করা হবে সে বিষয়ে লটারিও করা যেতে পারে। আর যদি সেগুলোর মধ্যে তারতম্য থাকে, তবে আমরা ক্রমান্বয়ে অধিকতর কল্যাণকর (الأصلح) বিষয়কে অগ্রাধিকার দেব। এক্ষেত্রে কোনো কল্যাণকর (الصالح) বিষয় হাতছাড়া হয়ে গেলেও আমরা ভ্রুক্ষেপ করব না। তবে অধিকতর কল্যাণকরকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে কোনো একটি বিষয় তার 'কল্যাণকর' (صالح) বৈশিষ্ট্য থেকে খারিজ হয়ে যায় না।
আর যদি একাধিক বৈধ (المباح) কল্যাণ একত্র হয়, তবে আমরা আমাদের নিজেদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম টুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থাকব এবং অধিকতর কল্যাণ (الأصلح) অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হব না।
আর যার ওপর আমাদের সাধারণ (عامة) বা বিশেষ (خاصة) কর্তৃত্ব (ولاية) রয়েছে, তার অধিকারের ক্ষেত্রে আমরা ক্রমান্বয়ে অধিকতর কল্যাণকর (الأصلح) বিষয়কে অগ্রাধিকার দেব।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
إِن أمكن فَلَا نفرط فِي حق الْمولى عَلَيْهِ فِي شقّ تَمْرَة وَلَا فِي زنة برة وَلَا مِثْقَال ذرة وَيكون أجر السَّعْي فِي ذَلِك
فصل فِي اجْتِمَاع الْمَفَاسِد إِذا اجْتمعت الْمَفَاسِد فَإِن أمكن درؤها درأناها وَإِن تعذر درؤها فَإِن تَسَاوَت رتبها تخيرنا وَقد يقرع وَإِن تفاوتت درأنا الأفسد فالأفسد وَلَا يخرج الْفَاسِد بارتكابه عَن كَونه مفْسدَة كَمَا فِي قطع الْيَد المتآكلة وَقلع السن الوجعة وَقتل الصَّائِل على دِرْهَم وَقطع السَّارِق فِي ربع دِينَار
যদি সম্ভব হয়, তবে আমরা অভিভাবকত্বাধীন ব্যক্তির (المولى عليه) অধিকারের ক্ষেত্রে একটি খেজুরের ফালি, একটি গমের দানার ওজন কিংবা অণু পরিমাণ বিষয়েও কোনো ত্রুটি করব না এবং এই প্রচেষ্টার সওয়াবও এতেই গণ্য হবে।
ক্ষতিকর বিষয়াবলির (المفاسد) একত্রীকরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ যখন অনেকগুলো অনিষ্ট (المفاسد) একত্রিত হয়, তখন যদি সেগুলো নিরসন (درؤها) করা সম্ভব হয়, তবে আমরা তা নিরসন করব। আর যদি নিরসন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে যদি সেগুলোর স্তর সমান হয়, তবে আমরা যেকোনোটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার রাখব এবং ক্ষেত্রবিশেষে লটারিও করা যেতে পারে। আর যদি সেগুলোর স্তরে তফাত থাকে, তবে আমরা অধিকতর অনিষ্টকর (الأفسد) বিষয়টি ক্রমান্বয়ে নিরসন করব। আর কোনো ক্ষতিকর বিষয় সম্পাদনের মাধ্যমে তা অনিষ্টের (مفسدة) পর্যায় থেকে বের হয়ে যায় না; যেমন—পচনশীল হাত কেটে ফেলা, যন্ত্রণাদায়ক দাঁত উপড়ে ফেলা, এক দিরহামের জন্য আক্রমণকারীকে (الصائل) হত্যা করা এবং এক চতুর্থাংশ দীনার চুরির দায়ে চোরের হাত কেটে ফেলা।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
فصل فِي اجْتِمَاع الْمصَالح والمفاسد إِذا اجْتمعت مصَالح ومفاسد فَإِن أمكن دفع الْمَفَاسِد وَتَحْصِيل الْمصَالح فعلنَا ذَلِك وَإِن تعذر الْجمع فَإِن رجحت الْمصَالح حصلناها وَلَا نبالي بارتكاب الْمَفَاسِد وَإِن رجحت الْمَفَاسِد دفعناها وَلَا نبالي بقوات الْمصَالح
وَقد تنشأ الْمصلحَة عَن الْمفْسدَة والمفسدة عَن الْمصلحَة
وَقد تنشأ الْمفْسدَة عَن الْمفْسدَة والمصلحة عَن الْمصلحَة
وَقد تقترن الْمصلحَة بالمفسدة وَلَا تنشأ إِحْدَاهمَا عَن الْأُخْرَى
وَإِذا ظَهرت الْمصلحَة أَو الْمفْسدَة بني على كل وَاحِدَة مِنْهُمَا حكمهَا وَإِن جهلنا اسْتدلَّ عَلَيْهِمَا بِمَا يرشد إِلَيْهِمَا
وَإِذا توهمنا الْمصلحَة الْمُجَرَّدَة عَن الْمفْسدَة الْخَالِصَة أَو الراجحة احتطنا لتحصيلها
কল্যাণ (مصالح) এবং অকল্যাণের (مفاسد) সমাবেশ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ যখন কল্যাণ (مصالح) এবং অকল্যাণ (مفাসد) একত্রিত হয়, তখন যদি অকল্যাণ (مفাসد) প্রতিহত করা এবং কল্যাণ (مصالح) অর্জন করা সম্ভব হয়, তবে আমরা তা-ই করব। আর যদি উভয়টির সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে যদি কল্যাণ (مصالح) প্রবল (رجحت) হয়, তবে আমরা তা অর্জন করব এবং অকল্যাণ (مفাসد) সংঘটিত হওয়ার পরোয়া করব না। পক্ষান্তরে যদি অকল্যাণ (مفاسد) প্রবল (رجحت) হয়, তবে আমরা তা প্রতিহত করব এবং কল্যাণ (مصالح) হাতছাড়া হওয়ার পরোয়া করব না।
কখনও অকল্যাণ (مفسدة) থেকে কল্যাণের (مصلحة) উদ্ভব হতে পারে এবং কল্যাণ (مصلحة) থেকে অকল্যাণের (مفسدة) উদ্ভব হতে পারে।
আবার অকল্যাণ (مفسدة) থেকে অকল্যাণের (مفسدة) এবং কল্যাণ (مصلحة) থেকে কল্যাণের (مصلحة) উদ্ভব হতে পারে।
কখনও কল্যাণ (مصلحة) ও অকল্যাণ (مفسدة) পরস্পর সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকতে পারে, অথচ একটি থেকে অন্যটির উদ্ভব হয় না।
যখন কল্যাণ (مصلحة) অথবা অকল্যাণ (مفسدة) প্রকাশ্য হয়ে পড়ে, তখন সেগুলোর প্রতিটির ওপর ভিত্তি করেই সংশ্লিষ্ট বিধান (حكم) নির্ধারিত হয়। আর যদি তা আমাদের অজ্ঞাত থাকে, তবে এমন বিষয়ের মাধ্যমে দলিল (استدل) গ্রহণ করা হবে যা সেদিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
যখন আমরা অকল্যাণমুক্ত বিশুদ্ধ কল্যাণের (المصلحة المجردة) অথবা প্রবল (الراجحة) কল্যাণের ধারণা করি, তখন তা অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা সতর্কতা (احتطنا) অবলম্বন করি।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَإِن توهمنا الْمفْسدَة الْمُجَرَّدَة عَن الْمصلحَة الْخَالِصَة أَو الراجحة احتطنا لدفعها
وَلَا فرق بَين مصَالح الدُّنْيَا وَالْآخِرَة فِي ذَاك
وَأَسْبَاب مصَالح الْآخِرَة الْعرْفَان وَالطَّاعَة وَالْإِيمَان
وَأَسْبَاب مفاسدها الْكفْر والفسوق والعصيان
যদি আমরা বিশুদ্ধ কল্যাণ (مصلحة خالصة) কিংবা প্রবল কল্যাণ (مصلحة راجحة) হতে বিমুক্ত নিছক অনিষ্ট (مفسدة مجردة) আশঙ্কা করি, তবে তা প্রতিহত করতে আমরা সতর্কতা অবলম্বন করি।
এক্ষেত্রে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণসমূহের (مصالح) মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই।
আখেরাতের কল্যাণসমূহের (مصالح) উপকরণসমূহ হলো মারিফাত (পরিচয়), আনুগত্য এবং ঈমান।
আর আখেরাতের অনিষ্টসমূহের (مفاسد) উপকরণসমূহ হলো কুফর, পাপাচার এবং অবাধ্যতা।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَالِاحْتِيَاط للأسباب والوسائل كالاحتياط للمسببات والمقاصد
ومصالح الدُّنْيَا لذات الْمُبَاحَات ونفعها
وَلَا ننافس لأنفسنا إِلَّا فِي مصَالح الْآخِرَة
وننافس فِي مصَالح الدَّاريْنِ لكل من لنا عَلَيْهِ ولَايَة
فصل فِي انقسام الْمصَالح إِلَى دُنْيَوِيّ وأخروي ومركب مِنْهُمَا الْإِحْسَان إِلَى النَّاس إِمَّا بجلب مصلحَة أَو دَرْء مفْسدَة أَو بهما وَكَذَلِكَ إحسانك إِلَى نَفسك
والإساءة إِلَى النَّاس إِمَّا بجلب مفْسدَة أَو دفع مصلحَة
কারণসমূহ ও উপায়-উপকরণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও ফলাফলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের ন্যায়।
আর জাগতিক কল্যাণসমূহ বৈধ (مباح) বিষয়াবলির সত্তা এবং সেগুলোর উপযোগিতার সাথে সংশ্লিষ্ট।
আমরা নিজেদের জন্য কেবল পরকালীন কল্যাণের ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা করি।
আর যাদের ওপর আমাদের অভিভাবকত্ব রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য আমরা উভয় জগতের কল্যাণের বিষয়ে প্রতিযোগিতা করি।
পরিচ্ছেদ: কল্যাণসমূহের পার্থিব, পারলৌকিক এবং এই উভয়টির সমন্বয়ে গঠিত প্রকারে বিভাজন প্রসঙ্গে মানুষের প্রতি ইহসান বা সদাচরণ হয় হয় কোনো কল্যাণ আনয়নের মাধ্যমে, অথবা কোনো অকল্যাণ দূরীকরণের মাধ্যমে, কিংবা উভয়টির মাধ্যমে; আর নিজের প্রতি তোমার ইহসানও তদ্রূপ।
আর মানুষের প্রতি অপকার বা মন্দ আচরণ হয় হয় কোনো অকল্যাণ সাধনের মাধ্যমে অথবা কোনো কল্যাণকে প্রতিহত করার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
أَبُو بهما وَكَذَلِكَ إساءتك إِلَى نَفسك
وَلَا فرق فِي ذَلِك بَين الرُّعَاة والرعايا
وَكَذَلِكَ نهى عَن الولايات من لَا يقوم بإتمامها من جلب الْمصَالح وَدفع الْمَفَاسِد وَإِنَّمَا نهي عَن الولايات فِي حق الضعفة مَعَ مَا فِيهَا من الْإِحْسَان بجلب الْمصَالح ودرء الْمَفَاسِد لما تشْتَمل عَلَيْهِ من مفاسد الْإِعْجَاب وَالْكبر والتحامل على الْأَعْدَاء والبغضاء وَالنَّظَر للأولياء والأصدقاء والأقرباء
فصل فِي تبيان حَقِيقَة الْمصَالح والمفاسد كل مصلحَة أوجبهَا الله عز وجل فَتَركهَا مفْسدَة مُحرمَة
وكل مفْسدَة حرمهَا الله تَعَالَى فَتَركهَا مصلحَة وَاجِبَة
وَفِي كل مفْسدَة كرهها الله فَتَركهَا مفْسدَة غير مُحرمَة
وكل مصلحَة ندب الله سُبْحَانَهُ إِلَيْهَا فَتَركهَا قد يكون مفْسدَة مَكْرُوهَة وَقد لَا يكون مَكْرُوهَة
তঁদের উভয়ের সাথে (আচরণ) এবং একইভাবে নিজের প্রতি তোমার অন্যায় আচরণ।
এ ক্ষেত্রে শাসক (رعاة) এবং প্রজাদের (رعايا) মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি কল্যাণ (مصالح) আনয়ন এবং অকল্যাণ (مفاسد) প্রতিরোধের মাধ্যমে প্রশাসনিক দায়িত্ব (ولايات) যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম নয়, তার জন্য তা গ্রহণ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মূলত দুর্বল (ضعفة) ব্যক্তিদের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব (ولايات) গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে—যদিও এর মধ্যে কল্যাণ (مصالح) আনয়ন ও অকল্যাণ (مفাসد) প্রতিরোধের মাধ্যমে পরোপকারের সুযোগ থাকে—কারণ এতে আত্মমুগ্ধতা, অহংকার, শত্রুদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ, ঘৃণা এবং বন্ধু ও নিকটাত্মীয়দের প্রতি পক্ষপাতিত্বের মতো বহু অকল্যাণ (مفাসد) নিহিত থাকে।
পরিচ্ছেদ: কল্যাণ (مصالح) ও অকল্যাণের (مفাসد) প্রকৃত স্বরূপ বিশ্লেষণ আল্লাহ عز وجল যে সকল কল্যাণকে (مصلحة) আবশ্যিক করেছেন, তা বর্জন করা একটি নিষিদ্ধ (محرمة) অকল্যাণ (مفسدة)।
এবং আল্লাহ তাআলা যে সকল অকল্যাণকে (مفسدة) নিষিদ্ধ (محرمة) করেছেন, তা বর্জন করা একটি আবশ্যিক (واجبة) কল্যাণ (مصلحة)।
আর আল্লাহ যে সকল অকল্যাণকে (مفسدة) অপছন্দ করেছেন, তা বর্জন করা একটি অ-নিষিদ্ধ (غير محرمة) অকল্যাণ (مفسدة)।
এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যে সকল কল্যাণের (مصلحة) প্রতি উৎসাহিত করেছেন, তা বর্জন করা কখনো অপছন্দনীয় (مكروهة) অকল্যাণ (مفسدة) হতে পারে, আবার কখনো তা অপছন্দনীয় (مكروهة) নাও হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
وكل مصلحَة خَالِصَة عَن الْمَفَاسِد فَهِيَ وَاجِبَة أَو مَنْدُوبَة أَو مَا دونه
وكل مفْسدَة خَالِصَة من الْمصَالح فَهِيَ مُحرمَة أَو مَكْرُوهَة
وكل مصلحتين متساويتين يُمكن الْجمع بَينهمَا جمع بَينهمَا
وكل مصلحتين متساويتين يتَعَذَّر الْجمع بَينهمَا فَإِنَّهُ يتَخَيَّر بَينهمَا
وكل مفسدتين متساويتين يُمكن درؤهما فَإِنَّهُ يتَخَيَّر بَينهمَا
وكل مصلحتين إِحْدَاهمَا راجحة على الْأُخْرَى لَا يُمكن الْجمع بَينهمَا تعين أرجحهما
وكل مفسدتين أَحدهمَا أقبح من الْأُخْرَى لَا يُمكن درؤهما تعين دفع أقبحهما
وكل مصلحَة رجحت على مفْسدَة التزمت الْمصلحَة مَعَ ارْتِكَاب الْمفْسدَة
وكل مفْسدَة رجحت على مصلحَة دفعت الْمفْسدَة بتفويت الْمصلحَة
وكل مَا غم وآلم فَهِيَ مفْسدَة
وكل مَا كَانَ وَسِيلَة إِلَى غم أَو إِلَى ألم دُنْيَوِيّ أَو أخروى فَهُوَ مفْسدَة لكَونه سَببا للمفسدة سَوَاء كَانَ فِي عينه مصلحَة أَو مفْسدَة
وكل الدَّوَاء فَرح فَهُوَ مصلحَة
وكل مَا كَانَ وَسِيلَة إِلَى فَرح أَو لَذَّة عاجلة أَو آجلة فَهُوَ مصلحَة
وكل مَا كَانَ وَسِيلَة إِلَى فَرح أَو لَذَّة عاجلة أَو آجلة فَهُوَ مصلحَة وَإِن اقترنت بِهِ مفْسدَة
সব জনকল্যাণ (مصلحة) যা অপকারসমূহ (المفاسد) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, তা পালন করা আবশ্যক (واجبة) অথবা পছন্দনীয় (مندوبة) কিংবা তার নিম্নস্তরের অন্তর্ভুক্ত।
সব অপকার (مفسدة) যা জনকল্যাণ (المصالح) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, তা নিষিদ্ধ (محرمة) অথবা অপছন্দনীয় (مكروهة)।
যখন সমান স্তরের দুটি জনকল্যাণ (مصلحتين) অর্জনের সুযোগ থাকে এবং উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে উভয়ের মধ্যেই সমন্বয় করা হবে।
যখন সমান স্তরের দুটি জনকল্যাণ (مصلحتين) অর্জনের ক্ষেত্রে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়, তখন সে দুটির মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার থাকবে।
যখন সমান স্তরের দুটি অপকার (مفسدتين) প্রতিহত করা সম্ভব হয়, তখন সে দুটির মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার থাকবে।
যখন দুটি জনকল্যাণের (مصلحتين) মধ্যে একটি অপরটির চেয়ে অগ্রগণ্য হয় এবং উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব না হয়, তখন অধিকতর অগ্রগণ্যটি (أرجحهما) গ্রহণ করা নির্ধারিত হয়ে যায়।
যখন দুটি অপকারের (مفسدتين) মধ্যে একটি অপরটির চেয়ে অধিক মন্দ হয় এবং উভয়টি প্রতিহত করা সম্ভব না হয়, তখন অধিকতর মন্দটি প্রতিহত করা নির্ধারিত হয়ে যায়।
যখন কোনো জনকল্যাণ (مصلحة) কোনো অপকারের (مفسدة) ওপর প্রাধান্য পায়, তখন অপকারটি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও জনকল্যাণটিই পালন করা হবে।
যখন কোনো অপকার (مفسدة) জনকল্যাণের (مصلحة) ওপর প্রাধান্য পায়, তখন জনকল্যাণটি বিসর্জন দেওয়ার মাধ্যমে অপকারটি প্রতিহত করা হবে।
যা কিছু দুঃখিত ও ব্যথিত করে, তা-ই অপকার (مفسدة)।
যা কিছু দুনিয়া বা আখিরাতের দুঃখ কিংবা বেদনার মাধ্যম হয়, তা অপকার (مفسدة); কারণ তা ক্ষতির কারণ, চাই তা মূলগতভাবে জনকল্যাণ (مصلحة) হোক বা অপকার (مفسدة)।
প্রত্যেক ঔষধ বা নিরাময় যা আনন্দ দেয়, তা জনকল্যাণ (مصلحة)।
যা কিছু তাৎক্ষণিক বা বিলম্বিত আনন্দ কিংবা তৃপ্তির মাধ্যম হয়, তা জনকল্যাণ (مصلحة)।
যা কিছু তাৎক্ষণিক বা বিলম্বিত আনন্দ কিংবা তৃপ্তির মাধ্যম হয়, তা জনকল্যাণ (مصلحة); যদিও তার সাথে কোনো অপকার (مفسدة) যুক্ত থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
وكل مَا أوجبه الله من حُقُوقه أَو حُقُوق عباده فَتَركه مفْسدَة مُحرمَة إِلَّا أَن يقْتَرن بِتَرْكِهِ مصلحَة تَقْتَضِي جَوَاز تَركه أَو إِيجَابه أَو النّدب إِلَى تَركه
وكل مَا حرمه الله سُبْحَانَهُ مِمَّا يتَعَلَّق بِهِ أَو بعباده فَفعله مفْسدَة إِلَّا أَن تقترن بِهِ مصلحَة تَقْتَضِي جَوَاز فعله أَو إِيجَابه أَو النّدب إِلَيْهِ
وَإِذا اجْتمعت مصَالح بَعْضهَا أفضل من بعض قدم الْأَفْضَل فَالْأَفْضَل وَقد يُخَيّر بالقرع بَينهمَا كالتخيير بَين الظّهْر وَالْجُمُعَة فِي حق المعذورين وكالتخيير بَين الِانْفِرَاد وَالْجَمَاعَات فِي حق الْمَعْدُودين وكالتخيير بَين خِصَال الْكَفَّارَات بَين الْفَاضِل وَالْأَفْضَل والصالح والأصلح فِي حق الْمَعْذُور وَغَيره
فَالْحَمْد لله الَّذِي دَعَانَا إِلَى مَا فِيهِ صلاحنا فِي أولانا وأخرانا ونهانا عَمَّا فِيهِ فسادنا فِي دُنْيَانَا وأخرانا وأمرنا بِكُل حسن وَاجِب أَو مَنْدُوب ونهانا عَن كل قَبِيح محرم أَو مَكْرُوه وأمرنا أَن نَدْعُوهُ بِمثل ذَلِك عطفا علينا وإحسانا إِلَيْنَا والسعيد من أطاعه واتقاه والشقي من خَالفه وَعَصَاهُ سبقت الأقدار بذلك وجفت بِهِ الأقلام
وَمن رَحمته سُبْحَانَهُ أَن طلب منا الْقيام بجلب مصَالح الدُّنْيَا وَالْآخِرَة ومصالحهما الأفراح وَاللَّذَّات
وَمن رَحمته سُبْحَانَهُ أَن طلب منا الْقيام بدرء مفاسد الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَمن مفاسدها الغموم والآلام وَلكنه أمرنَا بالتنافس فِي الْمصَالح الأخروية وَنهى عَن التنافس فِي الْمصَالح الدُّنْيَوِيَّة الَّتِي تتَعَلَّق بِأَنْفُسِنَا وندبنا إِلَى
আল্লাহ তাঁর নিজের হক বা তাঁর বান্দাদের হকের মধ্যে যা কিছু আবশ্যিক (واجب) করেছেন, তা বর্জন করা একটি নিষিদ্ধ (محرمة) অনিষ্ট (مفسدة); তবে যদি তা বর্জনের সাথে এমন কোনো কল্যাণ (مصلحة) যুক্ত হয় যা তা বর্জন করার বৈধতা (جواز), কিংবা তা আবশ্যিক (إيجاب) করা অথবা তা বর্জনের প্রতি উৎসাহিত বা মুস্তাহাব (ندب) করার দাবি রাখে।
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নিজের সাথে বা তাঁর বান্দাদের সাথে সংশ্লিষ্ট যা কিছু হারাম (حرمه) করেছেন, তা সম্পাদন করা একটি অনিষ্ট (مفسدة); তবে যদি এর সাথে এমন কোনো কল্যাণ (مصلحة) যুক্ত হয় যা তা সম্পাদন করার বৈধতা (جواز), কিংবা তা আবশ্যিক (إيجاب) করা অথবা তার প্রতি উৎসাহিত বা মুস্তাহাব (ندب) করার দাবি রাখে।
যখন একাধিক কল্যাণ (مصالح) একত্রিত হয় যার একটি অন্যটির চেয়ে উত্তম, তখন ক্রমানুসারে অধিকতর উত্তমটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। কখনও কখনও লটারির মাধ্যমে দুটির মধ্যে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হয়, যেমন ওজরগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জোহর ও জুমার মধ্যে নির্বাচনের সুযোগ, অথবা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একাকী বা জামাতের সাথে সালাত আদায়ের নির্বাচনের সুযোগ, অথবা ওজরগ্রস্ত ও অন্যদের ক্ষেত্রে কাফফারার বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে উত্তম ও অধিকতর উত্তম এবং কল্যাণকর ও অধিকতর কল্যাণকরের মধ্যে নির্বাচনের সুযোগ।
সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইহকাল ও পরকালে যাতে আমাদের কল্যাণ (صلاح) রয়েছে তার দিকে আহ্বান করেছেন এবং ইহকাল ও পরকালে যা আমাদের জন্য অনিষ্টকর (فساد) তা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের প্রতিটি সুন্দর আবশ্যিক (واجب) বা মুস্তাহাব (مندوب) কাজের আদেশ দিয়েছেন এবং প্রতিটি মন্দ নিষিদ্ধ (محرم) বা মাকরূহ (مكروه) কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের প্রতি মমতা ও অনুগ্রহবশত তাঁর কাছে প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান যে তাঁর আনুগত্য করেছে ও তাঁকে ভয় করেছে, আর সেই ব্যক্তিই হতভাগা যে তাঁর বিরোধিতা ও অবাধ্যতা করেছে। তাকদির আগেই এটি নির্ধারণ করেছে এবং কলমসমূহ শুকিয়ে গেছে।
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার রহমতের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, তিনি আমাদের নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণসমূহ (مصالح) অর্জনের চেষ্টা করার দাবি করেছেন, আর এই উভয় জগতের কল্যাণ হলো আনন্দ ও তৃপ্তি।
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার রহমতের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, তিনি আমাদের নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের অনিষ্টসমূহ (مفاسد) প্রতিহত করার চেষ্টা করার দাবি করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে দুঃখ ও বেদনা। তবে তিনি আমাদের পরকালীন কল্যাণসমূহ (مصالح) লাভের প্রতিযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমাদের নিজেদের সাথে সংশ্লিষ্ট দুনিয়াবী কল্যাণসমূহ (مصالح) লাভের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে নিষেধ করেছেন এবং আমাদের উৎসাহিত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
الاقتصاد والاقتصار على الكفاف مِنْهَا وَأذن لنا فِي كل مصلحَة مُبَاحَة رفقا بِنَا وإحسانا إِلَيْنَا
فَائِدَة فِي بَيَان أَن الشَّرِيعَة جَاءَت لجلب الْمصَالح ودرء الْمَفَاسِد من مارس الشَّرِيعَة وَفهم مَقَاصِد الْكتاب وَالسّنة علم أَن جَمِيع مَا أَمر بِهِ لجلب مصلحَة أَو مصَالح أَو لدرء مفْسدَة أَو مفاسد أَو للأمرين وَأَن جَمِيع مَا نهي عَنهُ إِنَّمَا نهي عَنهُ لدفع مفْسدَة أَو مفاسد أَو جلب مصلحَة أَو مصَالح أَو للأمرين
والشريعة طافحة بذلك وَقد خفا بعض الْمصَالح وَبَعض الْمَفَاسِد على كثير من النَّاس فليبحثوا عَن ذَلِك بِطرقِهِ الموصلة إِلَيْهِ
وَكَذَلِكَ قد يخفى تَرْجِيح بعض الْمصَالح على بعض وترجيح بعض الْمَفَاسِد على بعض
وَقد يخفى مُسَاوَاة بعض الْمصَالح لبَعض ومساواة بعض الْمَفَاسِد لبَعض
وَكَذَلِكَ يخفى التَّفَاوُت بَين الْمَفَاسِد والمصالح فَيجب الْبَحْث عَن ذَلِك بِطرقِهِ الموصلة إِلَيْهِ والدالة عَلَيْهِ وَمن أصَاب ذَلِك فقد فَازَ بِقَصْدِهِ وَبِمَا ظفر بِهِ وَمن أَخطَأ أثيب على قَصده وعفي عَن خطئه رَحْمَة من الله سُبْحَانَهُ ورفقا بعباده
পরিমিতিবোধ এবং তা থেকে কেবল জীবনধারণের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার ওপর তুষ্ট থাকা; আর তিনি আমাদের প্রতি কোমলতা ও অনুগ্রহস্বরূপ প্রতিটি বৈধ কল্যাণের অনুমতি দিয়েছেন।
একটি বিশেষ অনুচ্ছেদ: এই বর্ণনায় যে, শরিয়ত কল্যাণ লাভ এবং অকল্যাণ দূর করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে যিনি শরিয়ত নিয়ে নিবিড় চর্চা করেছেন এবং কিতাব ও সুন্নাহর উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবন করেছেন, তিনি জানেন যে, আল্লাহ তাআলা যা কিছু নির্দেশ দিয়েছেন তা কোনো কল্যাণ বা বহুবিধ কল্যাণ হাসিলের জন্য, অথবা কোনো অকল্যাণ বা বহুবিধ অকল্যাণ দূর করার জন্য, কিংবা উভয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। একইভাবে, তিনি যা কিছু নিষেধ করেছেন তা কেবল কোনো অকল্যাণ বা বহুবিধ অকল্যাণ প্রতিহত করার জন্য, অথবা কোনো কল্যাণ বা বহুবিধ কল্যাণ হাসিলের জন্য, কিংবা উভয় উদ্দেশ্য সাধনের জন্য।
শরিয়ত এসকল বিষয়ে পরিপূর্ণ। তবে কিছু কল্যাণ ও কিছু অকল্যাণ অনেক মানুষের কাছে অস্পষ্ট থাকতে পারে; এমতাবস্থায় তাদের উচিত যথাযথ পন্থায় তা অনুসন্ধান করা যা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।
একইভাবে, এক কল্যাণের ওপর অন্য কল্যাণের প্রাধান্য (ترجيح) কিংবা এক অকল্যাণের ওপর অন্য অকল্যাণের প্রাধান্য (ترجيح) প্রদানের বিষয়টিও অস্পষ্ট হতে পারে।
আর কখনো কখনো কিছু কল্যাণের পারস্পরিক সমতা কিংবা কিছু অকল্যাণের পারস্পরিক সমতার বিষয়টিও অস্পষ্ট থাকতে পারে।
অনুরূপভাবে, অকল্যাণ ও কল্যাণের মধ্যবর্তী তারতম্যও অস্পষ্ট থাকতে পারে; ফলে যথাযথ পথ ও নির্দেশক প্রমাণের মাধ্যমে তা অনুসন্ধান করা আবশ্যক। যে ব্যক্তি এক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন, তিনি তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হন এবং যা লাভ করেন তার মাধ্যমে কামিয়াব হন। আর যিনি ভুল করেন, তিনি তার সদিচ্ছার জন্য সওয়াব লাভ করবেন এবং তার ভুল ক্ষমা করা হবে; যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি কোমলতাস্বরূপ।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
فصل فِي الناجز والمتوقع من الْمصَالح والمفاسد الْمصَالح والمفاسد ضَرْبَان أَحدهمَا ناجز وَالثَّانِي متوقع
فَقتل المؤذيات عِنْد صيالها مفْسدَة للصائل فآخره مصلحَة للمصول عَلَيْهِ ناجزة وَلَو لم يصل لَكَانَ قَتلهَا مفْسدَة ناجزة لَهَا درءا لمفسدة متوقعة مِنْهَا والتداوي من الْأَمْرَاض دفع لمفسدة ناجزة أَو تَحْصِيل لمصْلحَة ناجزة وَشرب الْأَدْوِيَة الْمرة تَحْصِيل لمصْلحَة ناجزة أَو دَرْء لمفسدة ناجزة وقتال الْكفَّار والبغاة والممتنعين من أَدَاء الْحُقُوق دَرْء لمفسدة ناجزة وَالْأَمر بِالْمَعْرُوفِ تَارَة يكون لمصْلحَة كالأمر بالواجبات على الْفَوْر وَتارَة يكون لمصْلحَة متوقعة أَكثر من الناجزة والإمامة الْعُظْمَى وَسِيلَة إِلَى جلب الْمصَالح الناجزة والمتوقعة وَإِلَى دفع الْمَفَاسِد الناجزة والمتوقعة وَكَذَلِكَ الْقَضَاء وَالشَّهَادَة وإعانة الْأَئِمَّة والحكام على مَا يتولونه من ذَلِك ومصالح الْأَئِمَّة مِنْهَا أخروية ومصالح الْمُتَوَلِي عَلَيْهِم تَنْقَسِم إِلَى دنيوية وأخروية وَكَذَلِكَ الولايات فِي الْأُمُور الْخَاصَّة كقلع عين النَّاظر إِلَى الْحرم فِي الْبيُوت دفعا لمفسدة النّظر إِلَى الْحرم بمفسدة قلع الْعين
والعقوبات الشَّرْعِيَّة كلهَا مفْسدَة ناجزة فِي حق العاقب لِأَنَّهَا عَامَّة لَهُ موطئة مصلحَة لزجره وزجر أَمْثَاله فِي الِاسْتِقْبَال وَالْغَالِب تفَاوت الْعُقُوبَات بتفاوت الْمَفَاسِد
উপস্থিত (ناجز) এবং প্রত্যাশিত (متوقع) কল্যাণ (مصالح) ও অকল্যাণ (مفاسد) বিষয়ক পরিচ্ছেদ কল্যাণ (مصالح) ও অকল্যাণ (مفاسد) দুই প্রকার; এর একটি হলো উপস্থিত (ناجز) এবং দ্বিতীয়টি হলো প্রত্যাশিত (متوقع)।
আক্রমণকারী ক্ষতিকারক প্রাণীকে আক্রমণের সময় হত্যা করা আক্রমণকারীর জন্য একটি অকল্যাণ (مفسدة), কিন্তু পরিণামে তা আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য একটি উপস্থিত কল্যাণ (مصلحة ناجزة)। আর যদি সে আক্রমণ না-ও করত, তবে তাকে হত্যা করা হতো তার পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত অকল্যাণ (مفسدة متوقعة) প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে একটি উপস্থিত অকল্যাণ (مفسدة ناجزة)। রোগব্যাধির চিকিৎসা করা হলো একটি উপস্থিত অকল্যাণ (مفسدة ناجزة) প্রতিহত করা অথবা একটি উপস্থিত কল্যাণ (مصلحة ناجزة) অর্জন করা। তিক্ত ঔষধ সেবন করা একটি উপস্থিত কল্যাণ (مصلحة ناجزة) অর্জন অথবা উপস্থিত অকল্যাণ (مفسدة ناجزة) প্রতিহত করা। কাফির, বিদ্রোহী এবং পাওনা আদায়ে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হলো উপস্থিত অকল্যাণ (مفسدة ناجزة) প্রতিহত করা। সৎকাজের আদেশ (আমর বিল মা'রুফ) কখনো উপস্থিত কল্যাণের (مصلحة) জন্য হয়ে থাকে, যেমন অবিলম্বে পালনীয় ওয়াজিবসমূহের আদেশ প্রদান; আবার কখনো এটি উপস্থিত কল্যাণের চেয়ে প্রত্যাশিত কল্যাণের (مصلحة متوقعة) জন্য অধিক হয়ে থাকে। 'ইমামাতে কুবরা' (সর্বোচ্চ নেতৃত্ব) হলো উপস্থিত ও প্রত্যাশিত কল্যাণসমূহ (مصالح) আনয়ন এবং উপস্থিত ও প্রত্যাশিত অকল্যাণসমূহ (مفاسد) দূর করার একটি মাধ্যম। অনুরুপভাবে বিচারকার্য, সাক্ষ্যপ্রদান এবং এসব দায়িত্ব পালনে ইমাম ও শাসকদের সহায়তা করাও একই পর্যায়ের। ইমামদের কল্যাণের (مصالح) মধ্যে কিছু রয়েছে পরকালীন, আর প্রজাসাধারণের কল্যাণসমূহ (مصالح) পার্থিব ও পরকালীন—এই দুই ভাগে বিভক্ত। ঠিক তেমনি বিশেষ বিষয়ের কর্তৃত্বসমূহ, যেমন ঘরের গোপনীয়তার দিকে দৃষ্টিপাতকারীর চোখ উপড়ে ফেলা; এটি হলো দৃষ্টিপাতের অকল্যাণকে (مفسدة) চোখ উপড়ে ফেলার অকল্যাণের (مفسدة) মাধ্যমে প্রতিহত করা।
সমস্ত শরয়ী শাস্তি (عقوبات) দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য একটি উপস্থিত অকল্যাণ (مفسدة ناجزة); কেননা এটি তাকে ব্যথিত করে, যা ভবিষ্যতে তাকে এবং তার মতো অন্যদের নিবৃত করার মাধ্যমে কল্যাণের (مصلحة) পথ প্রশস্ত করে। আর সাধারণত অকল্যাণের (مفاسد) তারতম্য অনুযায়ী শাস্তিরও তারতম্য হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
والنفقات مصلحَة للمنفق عَلَيْهِ عاجلة وللمنفق آجلة وَالْإِعْتَاق مصلحَة ناجزة للْمُعْتق آجلة لِلْعِتْقِ ويتوقع مِنْهُ مصلحَة الولايات بِالْإِرْثِ وَملك جَارِيَة الابْن بإحبال الْأَب مفْسدَة فِي حق الابْن مصلحَة للْأَب لَا أعرف شَاهدا لَهَا بِالِاعْتِبَارِ
وأبواب الْمَعْرُوف ضروب الْإِحْسَان كلهَا دقها وجلها مصَالح دنيوية أَو أخروية فِي حق المبذول لَهُ أخروية فِي حق باذلها يخْتَلف آخرهَا باخْتلَاف فَضلهَا وشرفها فأدناها مِثْقَال ذرة من الْخَيْر
والمنهيات كلهَا دقها وجلها من مِثْقَال ذرة فَمَا فَوْقهَا مفاسد فِي حق مرتكبيها إِمَّا عاجلة أَو آجلة ووزرها متفاوت بتفاوت قبحها وَأَدْنَاهَا مِثْقَال ذرة
والإساءة إِلَى النَّاس دقها وجلها مفاسد فِي حق الْمسَاء إِلَيْهِ فِي العاجل مكفرة لذنوبه فِي الآجل مُوجبَة للأخذ من ثَوَاب حَسَنَات الْمُسِيء وَهَاتَانِ مصلحتان عظيمتان فَإِن رَضِي الْمُصَاب بذلك أَو جبر عَلَيْهِ حصل على أجر الصابرين والراضين وَلذَلِك فَرح الأكابر بالبلاء كَمَا يفرحون بالرخاء
وَالنّذر مصلحَة للناذر فِي الآجل يتَفَاوَت أجرهَا بتفاوت شرفها فَإِن كَانَ الْمَنْذُور مُخْتَصًّا بالناذر كالأذكار وَالْحج وَالْعمْرَة وَالطّواف وَالِاعْتِكَاف كَانَ مصلحَة آجلة فَإِن تعدى نَفعه إِلَى غَيره فقد يكون فِي دين المبذول لَهُ وَقد
ব্যয়সমূহ ব্যয়-গ্রহীতার জন্য নগদ কল্যাণ (مصلحة) এবং ব্যয়কারীর জন্য পরকালীন কল্যাণ। দাস মুক্তি হলো মুক্ত দাসের জন্য তাৎক্ষণিক কল্যাণ (مصلحة) এবং মুক্তকারীর জন্য পরকালীন কল্যাণ; আর এর মাধ্যমে উত্তরাধিকার সূত্রে অভিভাবকত্ব (ولايات) লাভের কল্যাণ প্রত্যাশা করা হয়। পিতার মাধ্যমে গর্ভধারণের ফলে পুত্রের দাসীর মালিকানা লাভ করা পুত্রের ক্ষেত্রে অকল্যাণ (مفسدة) এবং পিতার জন্য কল্যাণ (مصلحة); আমি এর সপক্ষে বিবেচনা (اعتبار) করার মতো কোনো সাক্ষী (شاهد) জানি না।
নেক কাজের সকল দ্বার এবং ইহসানের সকল প্রকার—তার ক্ষুদ্র হোক বা বৃহৎ—তা যার উদ্দেশ্যে করা হয় তার জন্য ইহকালীন বা পরকালীন কল্যাণ (مصالح) এবং প্রদানকারীর জন্য পরকালীন কল্যাণ। এগুলোর শেষ ফলাফল তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। এর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো অণু পরিমাণ কল্যাণ।
নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ—তার ক্ষুদ্র হোক বা বৃহৎ, অণু পরিমাণ থেকে তার উর্ধ্বে—তা সম্পাদনকারীর জন্য অকল্যাণ (مفاسد), চাই তা নগদ হোক বা পরকালীন। আর এগুলোর পাপের বোঝা এর জঘন্যতার তারতম্য অনুযায়ী ভিন্ন হয় এবং এর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো অণু পরিমাণ।
মানুষের প্রতি করা মন্দ আচরণ—ক্ষুদ্র হোক বা বৃহৎ—তা ভুক্তভোগীর জন্য ইহকালে অকল্যাণ (مفاسد), কিন্তু পরকালে তা তার পাপের কাফফারা স্বরূপ এবং মন্দ আচরণকারীর পুণ্য থেকে কর্তনকারী। আর এই দুটি মহান কল্যাণ (مصلحتان) স্বরূপ। যদি বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি এতে সন্তুষ্ট থাকে বা সবর করতে বাধ্য হয়, তবে সে ধৈর্যশীল ও সন্তুষ্টদের প্রতিদান লাভ করবে। এই কারণেই মহৎ ব্যক্তিবর্গ বিপদে তেমন আনন্দিত হতেন যেমনটি তারা সুখের সময় আনন্দিত হতেন।
মানত হলো মানতকারীর জন্য পরকালীন কল্যাণ (مصلحة), যার প্রতিদান এর মর্যাদার তারতম্য অনুযায়ী ভিন্ন হয়। যদি মানতকৃত বিষয়টি মানতকারীর সাথে নির্দিষ্ট (مختصا) হয়—যেমন জিকির, হজ, ওমরাহ, তাওয়াফ এবং ইতিকাফ—তবে তা পরকালীন কল্যাণ। আর যদি এর উপকারিতা অন্য পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে তা গ্রহীতার দ্বীনের ক্ষেত্রে হতে পারে এবং...
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
يكون فِي دُنْيَاهُ وَقد يكون فيهمَا وَإِن كَانَ فِي أخراه كَانَ مصلحتهما أخرويتين ويتفاوت أجر ذَلِك بتفاوت مَا يجلبه من مصلحَة أَو يدرؤه من مفْسدَة
وَالْكَفَّارَات إِحْسَان جَائِز لما فَاتَ من الْمصَالح بارتكاب مهماتها فكفارات الْحَج بالأسباب الْجَائِزَة إِذْ الْوَاجِبَة جَائِزَة لما فَاتَ من تَكْمِيل الْحَج ومصلحتها آجلة للمكفرات إِن كَانَت بِالْقيامِ وَإِن كَانَت بِالْمَالِ فَهِيَ آجلة لباذلها عاجلة لمن تبذل لَهُ وَكَفَّارَة الْيَمين الْوَاجِب مِنْهَا أَو الْمُبَاح أَو الْمَنْدُوب جَائِزَة لإخلاف الْحلف وَهِي مفْسدَة مقتضية للتَّحْرِيم لَكِن الشَّرْع أَبَاحَهَا لمسيس الْحَاجة إِلَى الإخلاف بمجبر ذَلِك الإخلاف بِالْكَفَّارَةِ وَإِن كَانَ فِي الْكَفَّارَة أجر فالجبر أغلب وَلذَلِك يجب مَعَ انْتِفَاء المأثم كَمَا تجب الزكوات وأبدال الْعِبَادَات
وَالْحجر مفْسدَة فِي حق الْبَالِغ الْعَاقِل لكنه جَائِز فِي حق العَبْد وَالْمَرِيض والمفلس تَقْدِيمًا لمصْلحَة السَّيِّد وَالْوَرَثَة وغرماء الْمُفلس على مصلحَة الْمَحْجُور عَلَيْهِ وَهُوَ فِي حق السَّفِيه لمصلحته
وَحجر الصَّبِي وَالْمَجْنُون مصلحَة لَا يقْتَرن بهَا مفْسدَة وَسُقُوط الْقَضَاء عَن الْأُصُول وفروع الْفُرُوع مصلحَة لَهُم مفْسدَة فِي حق الْفُرُوع
وَقتل الْمُسلم بالكافر وَالْحر بِالْعَبدِ مفاسد يأنف مِنْهَا الْعَاقِل بِخِلَاف قتل الرجل بِالنسَاء وَالصُّلْح مَعَ الْكفَّار فِيهِ مصلحَة حفظ حُقُوق الْمُسلمين وحقن دِمَائِهِمْ وَفِيه مفْسدَة الْكفْر فَيجوز فِي أَرْبَعَة أشهر وَلَا يجوز فِي أَكثر من
এটি তার পার্থিব জীবনে হতে পারে, আবার ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতেও হতে পারে। আর যদি তা পরকালে হয়, তবে উভয় কল্যাণই পরকালীন হবে। এর সওয়াব বা প্রতিদান সেই উপকারের পরিমাণ অনুযায়ী ভিন্ন হবে যা এটি বয়ে আনে, অথবা সেই মন্দ বা ক্ষতির পরিমাণ অনুযায়ী যা এটি প্রতিহত করে।
কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) হলো গুরুত্বপূর্ণ কার্যাদি সম্পাদনের ফলে হাতছাড়া হয়ে যাওয়া কল্যাণসমূহের বিপরীতে একটি বৈধ সদাচরণ (ইহসান)। সুতরাং হজের কাফফারা বৈধ কারণসমূহের ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়; যেহেতু হজ পূর্ণতা না পাওয়ার কারণে যে কল্যাণ বিঘ্নিত হয়েছে, তা পূরণে আবশ্যক কাফফারাগুলো বৈধ করা হয়েছে। যদি এই কাফফারা শারীরিক ইবাদতের মাধ্যমে হয়, তবে তার কল্যাণসমূহ আদায়কারীর জন্য পরকালীন হবে। আর যদি তা আর্থিক হয়, তবে তা দাতার জন্য পরকালীন এবং যাকে প্রদান করা হয় তার জন্য তাৎক্ষণিক ইহকালীন কল্যাণ বয়ে আনবে। শপথ ভঙ্গের কাফফারা—তা ওয়াজিব হোক বা মুবাহ কিংবা মানদুব—শপথ ভঙ্গের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বৈধ করা হয়েছে। আর শপথ ভঙ্গ করা একটি মন্দ বিষয় যা নিষিদ্ধ হওয়ার দাবি রাখে, কিন্তু শরিয়ত কাফফারার মাধ্যমে সেই ভঙ্গের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার খাতিরে একে বৈধ করেছে। যদিও কাফফারার মধ্যে সওয়াব রয়েছে, তবুও এখানে ক্ষতিপূরণের দিকটিই প্রবল। এই কারণেই কোনো পাপ না থাকলেও এটি আবশ্যক হয়, যেমনটি জাকাত এবং ইবাদতের স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্প প্রদান করা আবশ্যক হয়।
প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান ব্যক্তির ওপর আইনি সীমাবদ্ধতা (হজর) আরোপ করা একটি মন্দ বা ক্ষতিকর বিষয়, কিন্তু দাস, অসুস্থ এবং দেউলিয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি বৈধ। এক্ষেত্রে মনিব, উত্তরাধিকারী এবং পাওনাদারদের কল্যাণকে যার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে তার স্বার্থের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়। আর নির্বোধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি তার নিজস্ব কল্যাণের জন্যই করা হয়।
শিশু ও পাগলের ওপর আইনি সীমাবদ্ধতা আরোপ করা এমন একটি কল্যাণ যার সাথে কোনো অনিষ্টতা যুক্ত নেই। মূল উৎস (পিতা-মাতা) এবং বংশধরদের অনুকূলে বিচারিক দণ্ড মওকুফ হওয়া তাদের জন্য কল্যাণকর হলেও তা শাখা বা উত্তরাধিকারীদের হকের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।
কাফিরের বিনিময়ে মুসলিমকে হত্যা করা এবং দাসের বিনিময়ে স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা এমন সব অনিষ্টকর বিষয় যা বিবেকবান ব্যক্তি ঘৃণা করেন; তবে নারীর বিনিময়ে পুরুষকে হত্যার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। কাফিরদের সাথে সন্ধি স্থাপনের মধ্যে মুসলমানদের অধিকার রক্ষা এবং রক্তপাত বন্ধ করার কল্যাণ নিহিত রয়েছে, যদিও এর মধ্যে কুফরের অনিষ্টতা বিদ্যমান। সুতরাং চার মাস পর্যন্ত সন্ধি করা বৈধ, তবে এর অধিক সময় পর্যন্ত...
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
سنة لِكَثْرَة الْمفْسدَة وَفِيمَا بَينهمَا خلاف لتردده بَينهمَا وَيجوز عِنْد ضَرُورَة الْمُسلمين وخوفهم عشر سِنِين لفرط مصلحَة وَعظم الْمفْسدَة فِي تَركه وعقوبات الشَّرْع كلهَا مفاسد للمعاقب لأجل إيلامها لَكِن رجحت مصَالح الزّجر فِي حَقه وَحقّ غَيره فأحلت وَهِي مصَالح لَهَا من جِهَة أَنَّهَا روادع وكفارات وَكَذَا قتال الْكفَّار والبغاة والممتنعين من أَدَاء الْحُقُوق بِالْقِتَالِ درءا لمفسدة
وَالْحوالَة مصلحَة للْمُحِيل بِبَرَاءَة ذمَّته فَإِن كَانَ الْمحَال عَلَيْهِ أحسن قَضَاء كَانَ ذَلِك مصلحَة للمحتال وَإِن كَانَ سيء الْقَضَاء فَإِن ذَلِك مفْسدَة جَائِزَة التَّحَمُّل
وَالْوَقْف مصلحَة أخروية فَإِن شَرط النّظر لنَفسِهِ أثبت على الْوَقْف وعَلى النّظر وَإِن وصّى بِهِ إِلَى أقوم بِهِ وَأفضل وَقفه يتَفَاوَت أجر مصارفه وَقد تكون مصَالح مصارفه دنيوية وأخروية وَالْوَقْف الْمُتَّصِل أفضل من الْمُنْقَطع عِنْد من صحّح الْمُنْقَطع
وَفِي الْوَصَايَا مصلحتان أَحدهمَا للْمُوصي فِي الآجل وَهِي مُخْتَلفَة باخْتلَاف رتب الْمُوصى بِهِ البائنة للْمُوصى لَهُ وَهِي ضَرْبَان أَحدهمَا مَا لم يُوقف على شَرط فمصلحته إِلَّا أَن يصرفهُ الْمُوصى لَهُ فِي شَيْء من القربات فَتكون مصْلحَته آجلة الضَّرْب الثَّانِي مَا تعلق اسْتِحْقَاقه على قربَة كَالْوَصِيَّةِ للحجاج والغزاة وَالْفُقَهَاء والقراء فَيكون مصلحَة الْمُوصى لَهُ عاجلة وآجلة
অনিষ্টের (مفسدة) আধিক্যের কারণে এক বছর মেয়াদী চুক্তি করা হয়, আর এর মধ্যবর্তী সময়ের মেয়াদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; কারণ বিষয়টি এই দুইয়ের মধ্যে দোদুল্যমান। তবে মুসলমানদের বিশেষ প্রয়োজন ও আশঙ্কার মুহূর্তে দশ বছর মেয়াদী চুক্তি করা বৈধ, যদি তাতে প্রচুর কল্যাণ (مصلحة) নিহিত থাকে এবং চুক্তি ত্যাগ করার মধ্যে বড় ধরনের অনিষ্টের (مفسدة) সম্ভাবনা থাকে। শরিয়তের সকল দণ্ডবিধি (عقوبات) দণ্ডিত ব্যক্তির জন্য যন্ত্রণাদায়ক হওয়ার কারণে মূলত অনিষ্টকর (مفاسد), কিন্তু তার নিজের এবং অন্যদের ক্ষেত্রে নিবৃত্তকরণের (زجر) কল্যাণগুলো (مصالح) প্রাধান্য পাওয়ার কারণে তা বৈধ করা হয়েছে। আর এ দণ্ডগুলো এক দিক থেকে কল্যাণকর (مصالح), কারণ এগুলো অপরাধের প্রতিবন্ধক (روادع) এবং পাপের কাফফারা (كفارات)। অনুরূপভাবে অনিষ্ট (مفسدة) প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে কাফির, বিদ্রোহী (بغاة) এবং যারা যুদ্ধের মাধ্যমে পাওনা অধিকার আদায়ে বাধা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
হাওয়ালা বা ঋণ স্থানান্তর হলো দায়মুক্তির কারণে ঋণদাতার জন্য একটি কল্যাণ (مصلحة)। যদি যার ওপর ঋণ স্থানান্তর করা হয়েছে সে পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে উত্তম হয়, তবে তা ঋণগ্রহীতার জন্য কল্যাণ (مصلحة) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সে পরিশোধের ক্ষেত্রে মন্দ হয়, তবে তা একটি অনিষ্ট (مفسدة), যা মেনে নেওয়া জায়েজ।
ওয়াকফ (وقف) হলো একটি পরকালীন কল্যাণ (مصلحة)। যদি ওয়াকফকারী নিজের জন্য তত্ত্বাবধানের (نظر) শর্তারোপ করে, তবে ওয়াকফ ও তত্ত্বাবধানের (نظر) ওপর তা কার্যকর হবে। আর যদি সে এই দায়িত্ব পালনের জন্য অধিক যোগ্য ও উত্তম ব্যক্তির নিকট অসিয়ত করে, তবে ব্যয়ের খাত অনুযায়ী সেই ওয়াকফের সওয়াবের পার্থক্য হবে। ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যয়ের খাতের কল্যাণগুলো (مصالح) পার্থিব বা পরকালীন উভয়ই হতে পারে। যারা বিচ্ছিন্ন (منقطع) ওয়াকফকে সহিহ (صحيح) মনে করেন, তাদের নিকট নিরবচ্ছিন্ন (متصل) ওয়াকফ বিচ্ছিন্ন (منقطع) ওয়াকফের চেয়ে উত্তম।
অসিয়তের (وصايا) ক্ষেত্রে দুটি কল্যাণ (مصلحتان) রয়েছে: একটি হলো অসিয়তকারীর জন্য পরকালীন কল্যাণ, যা অসিয়তকৃত বস্তুর মর্যাদার ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। অসিয়তগ্রহীতার জন্য এটি দুই প্রকার: প্রথমত, যা কোনো শর্তের ওপর স্থগিত নয়; এর কল্যাণ হলো পার্থিব, যদি না অসিয়তগ্রহীতা তা কোনো নেক কাজে (قربات) ব্যয় করে, তবে সে ক্ষেত্রে এর কল্যাণ পরকালীন হবে। দ্বিতীয় প্রকার হলো, যার প্রাপ্যতা কোনো নেক কাজের (قربة) সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন হাজি, গাজি, ফকিহ (فقهاء) এবং কারিদের (قراء) জন্য অসিয়ত করা; এক্ষেত্রে অসিয়তগ্রহীতার জন্য ইহকালীন ও পরকালীন উভয় কল্যাণ (مصلحة) বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
وَالدُّعَاء مصلحَة يَتَرَتَّب عَلَيْهَا مصلحَة الْإِجَابَة وَهُوَ متوقع والإجابة بجلب مصَالح أَو بدرء مفاسد أَو بهما
وإفشاء السَّلَام مصلحَة يَتَرَتَّب عَلَيْهَا مصَالح الْمحبَّة
وإطابة الْكَلَام مصلحَة يَتَرَتَّب عَلَيْهَا مصَالح تأليف الْقُلُوب
وعيادة المرضى مصلحَة يَتَرَتَّب عَلَيْهَا جبر الْمَرِيض وإثابة الْعَائِد وَالْعَمَل والتكفير
وَالْحمل والدفن مصَالح يَتَرَتَّب عَلَيْهَا إكرام الْمَيِّت وجبر قُلُوب أَهله وإثابة فَاعل ذَلِك
وَالصَّلَاة على الْمَيِّت مصلحَة آجلة للْمُصَلِّي والمصلى عَلَيْهِ أما للْمُصَلِّي فبالثواب وَأما للْمُصَلِّي عَلَيْهِ فبجلب مصَالح الْآخِرَة ودرء مفاسدها لقَوْله عليه الصلاة والسلام اللَّهُمَّ عافه واعف عَنهُ وَأكْرم نزله ووسع مدخله فَفِي قَوْله عافه وَأكْرم نزله ووسع مدخله جلب لمصَالح الْآخِرَة والتعزية مصلحتها للمعزي أجر الْآخِرَة لِأَن من عزى مصابا فَلهُ مثل أجره وَلأَهل الْمَيِّت بالتسلية بِحسن الصَّبْر أَو الرِّضَا بِالْقضَاءِ
দোয়া একটি কল্যাণ (مصلحة), যার ওপর কবুল হওয়ার (الإجابة) কল্যাণ আবর্তিত হয় এবং তা প্রত্যাশিত; আর কবুল হওয়া বলতে কল্যাণ (مصالح) অর্জন অথবা অকল্যাণ (مفাসد) দূরীকরণ অথবা উভয়টিকেই বোঝায়।
সালাম প্রচার করা একটি কল্যাণ (مصلحة), যার ওপর পারস্পরিক ভালোবাসার কল্যাণসমূহ (مصالح) আবর্তিত হয়।
নম্রভাবে কথা বলা একটি কল্যাণ (مصلحة), যার ওপর অন্তরসমূহ জয় করার কল্যাণসমূহ (مصالح) আবর্তিত হয়।
অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া (عيادة المرضى) একটি কল্যাণ (مصلحة), যার ওপর অসুস্থ ব্যক্তিকে সান্ত্বনা প্রদান, সাক্ষাৎকারীর প্রতিদান প্রাপ্তি, নেক আমল এবং গুনাহ মোচনের বিষয়সমূহ আবর্তিত হয়।
মৃতদেহ বহন ও দাফন করা এমন কল্যাণ (مصالح), যার ওপর মৃত ব্যক্তির সম্মান প্রদর্শন, তার পরিবারের শোকাতুর হৃদয়ে সান্ত্বনা প্রদান এবং এই কাজ সম্পাদনকারীর প্রতিদান প্রাপ্তি আবর্তিত হয়।
মৃত ব্যক্তির জানাজার সালাত (الصلاة على الميت) আদায় করা মুসল্লি এবং যার জানাজা পড়া হচ্ছে উভয়ের জন্য একটি পরকালীন কল্যাণ (مصلحة)। মুসল্লির জন্য রয়েছে সাওয়াব, আর যার জানাজা পড়া হচ্ছে তার জন্য রয়েছে পরকালীন কল্যাণসমূহ (مصالح) অর্জন ও অকল্যাণসমূহ (مفاسد) দূরীকরণ; কেননা রাসুলুল্লাহ (عليه الصلاة والسلام) এর বাণী হলো: "হে আল্লাহ! আপনি তাকে মুক্তি দিন, তাকে ক্ষমা করুন, তার মেহমানদারিকে সম্মানজনক করুন এবং তার কবরের প্রবেশপথকে প্রশস্ত করুন।" সুতরাং তাঁর বাণী "তাকে মুক্তি দিন, তার মেহমানদারিকে সম্মানজনক করুন এবং তার প্রবেশপথকে প্রশস্ত করুন" এর মধ্যে পরকালীন কল্যাণসমূহ (مصالح) অর্জনের বিষয় নিহিত। আর সমবেদনা জ্ঞাপনের (التعزية) কল্যাণ হলো সমবেদনা প্রকাশকারীর জন্য পরকালীন প্রতিদান, কারণ যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সমবেদনা জানায়, তার জন্য রয়েছে সেই ব্যক্তির সমান প্রতিদান। আর মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য এর কল্যাণ হলো উত্তম ধৈর্য (الصبر) ধারণ অথবা আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টির (الرضا بالقضاء) মাধ্যমে সান্ত্বনা লাভ করা।
(খণ্ড: ১)
আল ফাওয়ায়িদ ফি ইখতিসারিল মাকাসিদ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
وَالصَّبْر على الْبلَاء وَمَا يُرْجَى من إِجَابَة الدُّعَاء وإطعام أهل الْمَيِّت وبذل الْأَمْوَال كلهَا وَالْمَنَافِع بأسرها إِذا أُرِيد بهَا وَجه الله تَعَالَى فِيهَا مصلحتان إِحْدَاهمَا للباذل أخروية فَإِن كَانَ يرتاح إِلَى الْعَطاء فطوبى لَهُ وَإِن كَانَ مِمَّن يشح بِنَفسِهِ فَجَاهد نَفسه حَتَّى بذلها فَلهُ أَجْرَانِ إِحْدَاهمَا على جِهَاد نَفسه وَالثَّانِي على بذلها الْمصلحَة الماسة للمبذولة وَهِي مصلحَة عاجلة وَلذَلِك كَانَت الْيَد الْعليا خيرا من الْيَد السُّفْلى لِأَن مصلحتها أخروية دائمة ومصلحة الْيَد السُّفْلى دنيوية مُنْقَطِعَة
وَفِي الصُّلْح فَائِدَة أخروية للمسامح ودنيوية للمسامح وللمتوسط بَينهمَا أجر الْمُسَبّب إِلَى المصلحتين
وَمن توكل تَبَرعا كَانَت مصْلحَته أخروية ومصلحة الْمُوكل دنيوية وَإِن توكل بِجعْل كَانَت المصلحتان دنيويتين إِلَّا أَن سامح بِبَعْضِهَا وَمن توكل فِي طَاعَة كَالْحَجِّ وَالْعمْرَة فَإِن تبرع كَانَت الْمصلحَة أخروية ومصلحة الْوَكِيل دنيوية وَإِن شَرط عوض الْمثل وسامح فِي الْعِوَض كَانَت مصْلحَته دنيوية وأخروية
وَالْعَارِية مصلحَة أخروية للْمُعِير إِذا قصد بذلك وَجه الله سُبْحَانَهُ دنيوية للْمُسْتَعِير وَقد تكون أخروية من الطَّرفَيْنِ كاستعارة سلَاح الْجِهَاد وجننه وجمله واستعارة الْمَصَاحِف وَكتب الْعلم والْحَدِيث
বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করা এবং দোয়ার কবুলিয়াত লাভের আশা রাখা, মৃত ব্যক্তির পরিজনদের আহার করানো এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যাবতীয় সম্পদ ও উপযোগিতা উৎসর্গ করার মধ্যে দুটি কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এর একটি হলো উৎসর্গকারীর জন্য পরকালীন কল্যাণ; যদি সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দানে আনন্দবোধ করে, তবে তার জন্য সুসংবাদ। আর যদি সে এমন হয় যে (দান করতে) কুন্ঠাবোধ করে, কিন্তু নিজ নফসের বিরুদ্ধে মুজাহাদা করে তা উৎসর্গ করে, তবে তার জন্য দুটি প্রতিদান রয়েছে: একটি নফসের সাথে জিহাদ করার জন্য এবং দ্বিতীয়টি তা উৎসর্গ করার জন্য। আর যাকে দান করা হয়েছে, তার জন্য এতে রয়েছে জরুরি ও তাৎক্ষণিক দুনিয়াবী কল্যাণ। এই কারণেই দাতার হাত গ্রহীতার হাত অপেক্ষা উত্তম; কারণ দাতার কল্যাণ পরকালীন ও স্থায়ী, আর গ্রহীতার কল্যাণ দুনিয়াবী ও ক্ষণস্থায়ী।
আপস-মীমাংসার ক্ষেত্রে ক্ষমাশীল ব্যক্তির জন্য পরকালীন এবং যাকে ক্ষমা করা হয়েছে তার জন্য দুনিয়াবী ফায়দা রয়েছে। আর মধ্যস্থতাকারীর জন্য রয়েছে উভয় কল্যাণ হাসিলের মাধ্যম হওয়ার সওয়াব।
যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করে, তার কল্যাণ পরকালীন এবং মক্কেলের কল্যাণ দুনিয়াবী। আর যদি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করা হয়, তবে উভয় কল্যাণই দুনিয়াবী হবে; অবশ্য যদি সে পারিশ্রমিকের কিছু অংশ ছাড় দেয় (তবে ভিন্ন কথা)। যে ব্যক্তি হজ ও ওমরার মতো আনুগত্যমূলক কাজে প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করে—যদি তা স্বেচ্ছায় হয় তবে কল্যাণ পরকালীন এবং প্রতিনিধির কল্যাণ দুনিয়াবী হবে। আর যদি সে সমমানের বিনিময় নির্ধারণ করে এবং বিনিময়ের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়, তবে তার কল্যাণ দুনিয়াবী ও পরকালীন উভয়ই হতে পারে।
ধার দেওয়া দাতার জন্য পরকালীন কল্যাণ যদি সে এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, আর গ্রহীতার জন্য তা দুনিয়াবী কল্যাণ। আবার কখনো কখনো তা উভয় পক্ষের জন্যই পরকালীন কল্যাণ হতে পারে; যেমন জিহাদের অস্ত্র, বর্ম ও উট ধার দেওয়া এবং পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপি, ইলমি কিতাব ও হাদিস শাস্ত্রের কিতাব ধার দেওয়া।