(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: -)
صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم - الألباني القسم: الفقه العام
الكتاب: صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم من التكبير إلى التسليم كأنك تراها
المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع - الرياض
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাতের পদ্ধতি - আলবানী বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: তাকবীর থেকে তাসলীম পর্যন্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাতের বৈশিষ্ট্য: যেন আপনি তা দেখছেন
লেখক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হি.)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মা'আরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - রিয়াদ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১)
صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم من التكبير إلى التسليم كأنك تراها
تأليف محمد ناصر الدين الألباني
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের পদ্ধতি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তকবির থেকে তাসলিম পর্যন্ত যেন আপনি তা দেখছেন
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী এর রচনা
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
مقدمة الكتاب الأولى
الحمد لله الذي فرض الصلاة على عباده وأمرهم بإقامتها وحسن أدائها وعلق النجاح والفلاح بالخشوع فيها وجعلها فرقانا بين الإيمان والكفر وناهية عن الفحشاء والمنكر
والصلاة والسلام على نبينا محمد المخاطب بقوله تعالى: وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم [النحل: 44] فقام صلى الله عليه وسلم بهذه الوظيفة حق القيام وكانت الصلاة من أعظم ما بينه للناس قولا وفعلا حتى إنه صلى مرة على المنبر يقوم عليه ويركع ثم قال لهم:
(إنما صنعت هذا لتأتموا بي ولتعلموا صلاتي) (البخاري ومسلم) وأوجب علينا الاقتداء به فيها فقال:
(صلوا كما رأيتموني أصلي) (البخاري ومسلم) وبشر من صلاها كصلاته أن له عند الله عهدا أن يدخله الجنة فقال:
(صحيح صحيح أبي داود)
(خمس صلوات افترضهن الله عز وجل من أحسن وضوءهن وصلاهن لوقتهن وأتم ركوعهن وسجودهن وخشوعهن كان له على الله عهد أن يغفر له ومن لم يفعل فليس له على الله عهد إن شاء غفر له وإن شاء عذبه)
গ্রন্থের প্রথম ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের ওপর সালাত ফরজ করেছেন এবং তাদের তা কায়েম করার ও উত্তমরূপে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সালাতে একাগ্রতার সাথে সফলতা ও কামিয়াবিকে সম্পৃক্ত করেছেন এবং একে ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী ও অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরতকারী বানিয়েছেন।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যাঁকে সম্বোধন করে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাজিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা নাজিল করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন।" [আন-নাহল: ৪৪]। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। সালাত ছিল তাঁর বর্ণিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম মহান, যা তিনি কথা ও কাজের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। এমনকি তিনি একবার মিম্বরের ওপর সালাত আদায় করেছেন, সেখানে তিনি দাঁড়িয়েছেন ও রুকু করেছেন এবং এরপর মানুষের উদ্দেশ্যে বলেছেন:
"(আমি মূলত এটি এ জন্যই করেছি যাতে তোমরা আমার অনুসরণ করো এবং আমার সালাত শিখে নাও।)" (বুখারী ও মুসলিম)। আর তিনি এতে আমাদের ওপর তাঁর অনুসরণ করা আবশ্যক করেছেন এবং বলেছেন:
"(তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছো।)" (বুখারী ও মুসলিম)। আর যে ব্যক্তি তাঁর মতো করে সালাত আদায় করবে তাকে তিনি এই সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর কাছে তার জন্য এই প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তিনি বলেছেন:
(সহীহ (صحيح) সহীহ আবু দাউদ)
"(পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন; যে ব্যক্তি এগুলোর জন্য উত্তমরূপে ওজু করবে এবং সময়মতো সালাত আদায় করবে, আর এগুলোর রুকু, সেজদা ও একাগ্রতা পূর্ণ করবে, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এই প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি তা করবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই; তিনি ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন এবং ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন।)"
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وعلى آله وصحبه الأتقياء البررة الذين نقلوا إلينا عبادته صلى الله عليه وسلم وصلاته وأقواله وأفعاله وجعلوها - وحدها - لهم مذهبا وقدوة وعلى من حذا حذوهم وسلك سبيلهم إلى يوم الدين
وبعد فإني لما انتهيت من قراءة (كتاب الصلاة) من " الترغيب والترهيب " للحافظ المنذري رحمه الله وتدريسه على بعض إخواننا السلفيين - وذلك منذ أربع سنين - تبين لنا جميعا ما للصلاة من المنزلة والمكانة في الإسلام وما لمن أقامها وأحسن أداءها من الأجر والفضل والإكرام وأن ذلك يختلف - زيادة ونقصا - بنسبة قربها أو بعدها من صلاة النبي صلى الله عليه وسلم كما أشار إلى ذلك بقوله
(صحيح أبي داود) :
(إن العبد ليصلي الصلاة ما يكتب له منها إلا عشرها تسعها ثمنها سبعها سدسها خمسها ربعها ثلثها نصفها) ولذلك فإني نبهت الإخوان إلى أنه لا يمكننا أداؤها حتى الأداء - أو قريبا منه - إلا إذا علمنا صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم مفصلة وما فيها من: واجبات وآداب وهيئات وأدعية وأذكار ثم حرصنا على تطبيق ذلك عمليا فحينئذ نرجو أن تكون صلاتنا تنهانا عن الفحشاء والمنكر وأن يكتب لنا ما ورد فيها من الثواب والأجر
এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও পুণ্যবান সৎকর্মশীল সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবাদত, সালাত, কথা ও কাজ এবং তাঁরা কেবল সেগুলোকে নিজেদের জন্য মাযহাব ও আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন; আর তাঁদের ওপরও যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন এবং তাঁদের পথ অবলম্বন করবেন।
অতঃপর, আমি যখন হাফেজ মুনযিরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলিত 'আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব' থেকে 'কিতাবুস সালাত' অংশটি পাঠ এবং আমাদের কিছু সালাফি ভাইদের কাছে তা পাঠদান সম্পন্ন করেছি—যা চার বছর আগের কথা—তখন আমাদের সবার কাছে ইসলামে সালাতের সুউচ্চ মর্যাদা ও অবস্থান এবং যারা তা যথাযথভাবে কায়েম করে ও উত্তমরূপে আদায় করে তাদের জন্য নির্ধারিত প্রতিদান, শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। আর সেই প্রতিদান ও মর্যাদার হ্রাস-বৃদ্ধি যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাতের সাথে সাদৃশ্য বা দূরত্বের অনুপাতে হয়ে থাকে, তিনি তাঁর বাণীর মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন:
(সহিহ আবি দাউদ) :
(নিশ্চয়ই বান্দা সালাত আদায় করে অথচ তার জন্য সেই সালাতের সওয়াব হিসেবে কেবল তার দশমাংশ, নবমাংশ, অষ্টমাংশ, সপ্তমাংশ, ষষ্ঠাংশ, পঞ্চমাংশ, চতুর্থাংশ, তৃতীয়াংশ অথবা অর্ধাংশই লেখা হয়)। এই কারণে আমি ভাইদেরকে সতর্ক করেছি যে, আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাতের বিস্তারিত পদ্ধতি এবং এর মধ্যকার আবশ্যিক বিষয় (واجبات), শিষ্টাচার (آداب), আনুষঙ্গিক রূপ বা ভঙ্গি (هيئات), দোয়া ও জিকিরসমূহ সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত না হচ্ছি, ততক্ষণ আমাদের পক্ষে সেই সালাতকে যথাযথভাবে—অথবা তার কাছাকাছি পর্যায়ে—আদায় করা সম্ভব নয়। অতঃপর আমরা যদি সেগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হই, তবেই আমরা আশা করতে পারি যে, আমাদের সালাত আমাদের অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে এবং আমাদের জন্য সেই সওয়াব ও প্রতিদান লিপিবদ্ধ করা হবে যা এ বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
ولما كان معرفة ذلك على التفصيل يتعذر على أكثر الناس - حتى على كثير من العلماء - لتقيدهم بمذهب معين وقد علم كل مشتغل بخدمة السنة المطهرة جمعا وتفقها أن في كل مذهب من المذاهب سننا لا توجد في المذاهب الأخرى وفيها جميعها ما لا يصح نسبته إلى النبي صلى الله عليه وسلم من الأقوال والأفعال وأكثر ما يوجد ذلك في كتب المتأخرين وكثيرا ما نراهم يجزمون
যেহেতু এই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে জানা অধিকাংশ মানুষের পক্ষে—এমনকি অনেক আলেমদের জন্যও—দুষ্কর হয়ে পড়েছে নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকার কারণে। অথচ পবিত্র সুন্নাহর সংকলন ও তা অনুধাবনের কাজে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তিই জানেন যে, প্রতিটি মাযহাবের মাঝেই এমন কিছু সুন্নাহ রয়েছে যা অন্য মাযহাবে পাওয়া যায় না। আবার এগুলোর সবকটির মধ্যেই এমন কিছু কথা ও কাজ রয়েছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করা সঠিক নয় (لا يصح)। এ ধরণের বিষয়গুলো পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرين) কিতাবসমূহে বেশি পাওয়া যায় এবং প্রায়শই আমরা দেখি যে তাঁরা এগুলোকে অকাট্যভাবে বর্ণনা করেন (يجزمون)।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
بعزو ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم ولذلك وضع علماء الحديث - جزاهم الله خيرا - على بعض ما اشتهر منها كتب التخريجات التي تبين حال كل حديث مما ورد فيها من صحة أو ضعف أو وضع ككتاب
" العناية بمعرفة أحاديث الهداية "
و" الطرق والوسائل في تخريج أحاديث خلاصة الدلائل " كلاهما للشيخ عبد القادر بن محمد القرشي الحنفي و " نصب الراية لأحاديث الهداية " للحافظ الزيلعي ومختصره " الدراية " للحافظ ابن حجر العسقلاني و " التلخيص الحبير في تخريج أحاديث الرافعي الكبير " له أيضا وغيرها مما يطول الكلام بإيرادها
أقول: لما كان معرفة ذلك على التفصيل يتعذر على أكثر الناس ألفت لهم هذا الكتاب ليتعلموا كيفية صلاة النبي صلى الله عليه وسلم فيهتدوا بهديه فيها راجيا من المولى سبحانه وتعالى ما وعدنا به على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم: (من دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه لا ينقص ذلك من أجورهم شيئا. .)
الحديث. رواه مسلم وغيره وهو مخرج في (الأحاديث الصحيحة)
(863)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সেই সম্বন্ধ করার কারণে এবং সেই উদ্দেশ্যেই হাদিস বিশারদগণ—আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন—প্রচলিত কিতাবগুলোর মধ্য থেকে যে বিষয়গুলো প্রসিদ্ধি লাভ করেছে সেগুলোর ওপর উৎস অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাইয়ের (تخريج) এমন কিছু কিতাব রচনা করেছেন, যা সেখানে বর্ণিত প্রতিটি হাদিসের অবস্থা বর্ণনা করে; সেটি কি বিশুদ্ধ (صحيح), না কি দুর্বল (ضعيف) অথবা জাল (موضوع)। যেমন—
"আল-ইনায়া বি-মা'রিফাতি আহাদিসিল হিদায়া"
এবং "আত-তুরুকু ওয়াল ওয়াসাইল ফি তাখরিজি আহাদিসি খুলাসাতিল দালাইল"—এই উভয় কিতাবই শেখ আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ আল-কুরাশি আল-হানাফির। এছাড়া হাফেজ যাইলায়ির "নাসবুর রায়াহ লি-আহাদিসিল হিদায়াহ", হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানির এর সংক্ষিপ্তসার "আদ-দিরায়াহ" এবং তাঁরই রচিত "আত-তালখিসুল হাবির ফি তাখরিজি আহাদিসির রাফেয়িল কাবির" সহ এমন আরও অনেক কিতাব রয়েছে যার বর্ণনা দীর্ঘ।
আমি বলছি: যেহেতু এ বিষয়টির বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করা অধিকাংশ মানুষের জন্য দুঃসাধ্য, তাই আমি তাদের জন্য এই কিতাবটি সংকলন করেছি যাতে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাজের পদ্ধতি শিখতে পারে এবং এর মাধ্যমে তাঁর সুন্নাহ অনুযায়ী পরিচালিত হতে পারে। আমি মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট সেই সওয়াবের আশা রাখছি যার ওয়াদা তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্র মুখে আমাদের দিয়েছেন: (যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য ওই সকল লোকের সমান সওয়াব থাকবে যারা তার অনুসরণ করবে, এতে তাদের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না...)
হাদিসের অবশিষ্টাংশ। এটি ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এটি আস-সিলসিলাতুল আহাদিসিস সাহিহা গ্রন্থে সংকলিত (مخرج) হয়েছে।
(৮৬৩)
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
سبب تأليف الكتاب
ولما كنت لم أقف على كتاب جامع في هذا الموضوع فقد رأيت من الواجب علي أن أضع لأخواني المسلمين - ممن همهم الاقتداء في عبادتهم بهدي نبيهم صلى الله عليه وسلم كتابا مستوعبا ما أمكن لجميع ما يتعلق بصفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم من التكبير إلى التسليم بحيث يسهل على من وقف عليه - من المحبين للنبي صلى الله عليه وسلم حبا صادقا - القيام بتحقيق أمره في الحديث المتقدم: (صلوا كما رأيتموني أصلي) . ولهذا فإني شمرت عن ساعد الجد وتتبعت الأحاديث المتعلقة بما إليه قصدت من مختلف كتب الحديث فكان من ذلك هذا الكتاب الذي بين يديك وقد اشترطت على نفسي أن لا أورد فيه من الأحاديث النبوية إلا ما ثبت سنده حسبما تقتضيه قواعد الحديث الشريف وأصوله وضربت صفحا عن كل ما تفرد به مجهول أو ضعيف سواء كان في الهيئات أو الأذكار أو الفضائل وغيرها لأنني أعتقد أن فيما ثبت من الحديث غنية عن الضعيف منه لأنه لا يفيد - بلا خلاف - إلا الظن والظن المرجو وهو كما قال تعالى: لا يغني من الحق شيئا. وقال صلى الله عليه وسلم:
(إياكم والظن فإن الظن أكذب الحديث) (البخاري ومسلم) فلم يتعبدنا الله تعالى بالعمل به بل نهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم عنه فقال:
গ্রন্থ রচনার কারণ
যেহেতু আমি এই বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ পাইনি, তাই আমি আমার মুসলিম ভাইদের জন্য—যাদের মূল লক্ষ্য হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনার অনুসরণ করা—এমন একটি ব্যাপক গ্রন্থ রচনা করা আমার কর্তব্য বলে মনে করেছি যা তাকবির থেকে তাসলিম পর্যন্ত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাজের পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে। যেন যারা এটি পাঠ করবে—অর্থাৎ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একনিষ্ঠ প্রেমিকগণ—তাদের জন্য পূর্বোক্ত হাদিসে বর্ণিত তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করা সহজ হয়: (তোমরা সেভাবেই নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ)। একারণেই আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সচেষ্ট হয়েছি এবং হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে আমার উদ্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলো অনুসন্ধান করেছি। এরই ফসল হলো আপনার হাতে থাকা এই গ্রন্থটি। আমি নিজের ওপর এই শর্তারোপ করেছি যে, হাদিস শরিফের নিয়মাবলী এবং এর মূলনীতি (أصول) অনুযায়ী যে সব হাদিসের সনদ সাব্যস্ত (ثبت سنده) হয়েছে, সেগুলো ছাড়া অন্য কোনো হাদিস আমি এতে উল্লেখ করব না। আমি এমন সব বর্ণনা বর্জন করেছি যা কেবল কোনো অজ্ঞাত (مجهول) বা দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন; চাই তা নামাজের পদ্ধতি, জিকির কিংবা ফজিলত বা অন্য কোনো বিষয়ে হোক না কেন। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে, হাদিসের যা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে তা দুর্বল (ضعيف) হাদিসের তুলনায় যথেষ্ট; কেননা কোনো দ্বিমত ছাড়াই এটি কেবল ধারণা (ظن) প্রদান করে। আর ধারণা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই ধারণা সত্যের বিপরীতে কোনো কাজে আসে না।" এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ ধারণা হলো সবচাইতে বড় মিথ্যা কথা) (বুখারি ও মুসলিম)। আল্লাহ তাআলা আমাদের এর ওপর আমল করার বিধান দেননি, বরং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তা থেকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
(اتقوا الحديث عني إلا ما علمتم) (صحيح الترمذي) فإذا نهى عن رواية الضعيف فبالأحرى أن ينهى عن العمل به
هذا وقد كنت وضعت الكتاب على شطرين: أعلى وأدنى أما الأول فهو كالمتن أوردت فيه متون الأحاديث أو الجمل اللازمة منها ووضعتها في أماكنها اللائقة بها مؤلفا بين بعضها بحيث يبدو الكتاب منسجما من أوله إلى آخره وحرصت على المحافظة على نص الحديث ولفظه الذي ورد في كتب السنة وقد يكون له ألفاظ فأوثر منها لفظا لفائدة التأليف أو غيره وقد أضم إليه غيره من الألفاظ فإنه على ذلك بقولي: (وفي لفظ: كذا وكذا) أو (وفي رواية كذا وكذا) ولم أعزوها إلى رواتها من الصحابة إلا نادرا ولا بينت من رواها من أئمة الحديث تسهيلا للمطالعة والمراجعة
وأما الشطر الآخر فهو كالشرح لما قبله خرجت فيه الأحاديث الواردة في الشطر الأعلى مستقصيا ألفاظه وطرقه مع الكلام على أسانيدها وشواهدها تعديلا وتحريجا وتصحيحا وتضعيفا حسبما تقتضيه علوم الحديث
(তোমরা আমার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করার ব্যাপারে সতর্ক থাকো, যা তোমরা জানো তা ছাড়া) (সহিহ তিরমিজি) সুতরাং তিনি যখন দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনা করতে নিষেধ করেছেন, তখন তার ওপর আমল করা থেকে নিষেধ করা আরও বেশি সমীচীন।
আমি এই গ্রন্থটিকে দুটি অংশে বিন্যস্ত করেছি: একটি ঊর্ধ্বাংশ এবং অন্যটি নিম্নংশ। প্রথম অংশটি মূল পাঠের (متن) মতো, যেখানে আমি হাদিসের মূল পাঠ (متن) অথবা তার প্রয়োজনীয় বাক্যগুলো উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোকে তাদের উপযুক্ত স্থানে এমনভাবে স্থাপন করেছি যাতে গ্রন্থটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুসংগত মনে হয়। আমি সুন্নাহর গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হাদিসের মূল পাঠ ও শব্দাবলি বজায় রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছি। কখনো হাদিসের একাধিক পাঠ থাকে, সেক্ষেত্রে গ্রন্থ রচনার প্রয়োজনে বা অন্য কোনো কারণে আমি একটি পাঠকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। আবার কখনো তার সাথে অন্য শব্দও যুক্ত করেছি এবং সেক্ষেত্রে আমি এভাবে নির্দেশ করেছি: (অমুক শব্দে এমন এসেছে) অথবা (অমুক বর্ণনায় (رواية) এমন এসেছে)। পাঠ ও পর্যালোচনার সুবিধার্থে আমি খুব কম ক্ষেত্রেই সাহাবি বর্ণনাকারীদের (راوي) নাম উল্লেখ করেছি এবং হাদিসের ইমামদের মধ্যে কারা এটি বর্ণনা করেছেন তাও স্পষ্ট করিনি।
আর দ্বিতীয় অংশটি পূর্ববর্তী অংশের ব্যাখ্যার মতো। এখানে আমি ঊর্ধ্বাংশে উল্লিখিত হাদিসগুলোর উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি এবং হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) দাবি অনুযায়ী এর শব্দ ও সূত্রসমূহ (طرق) সবিস্তারে উল্লেখ করার পাশাপাশি সেগুলোর সনদ (إسناد), সমার্থবোধক বর্ণনা (شواهد), বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (تعديل) ও ত্রুটি বর্ণনা (تجريح), এবং হাদিসের শুদ্ধতা (تصحيح) ও দুর্বলতা (تضعيف) নিয়ে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
الشريف وقواعده وكثيرا ما يوجد في بعض الطرق من الألفاظ والزيادات ما لا يوجد في الطرق الأخرى فأضيفها إلى الحديث الواردة في القسم الأعلى إذا أمكن انسجامها مع أصله وأشرت إلى ذلك بجعلها بين قوسين مستطيلين هكذا [] دون أن أنص على من تفرد بها من المخرجين لأصله هذا إذا كان مصدر الحديث ومخرجه عن صحابي واحد وإلا جعلته نوعا آخر مستقلا بنفسه كما تراه في أدعية الاستفتاح وغيره وهذا شيء عزيز نفيس لا تكاد تجده هكذا في كتاب والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات
ثم أذكر فيه مذاهب العلماء حول الحديث الذي خرجناه ودليل كل منهم مع مناقشتها وبيان ما لها وما عليها ثم نستخلص من ذلك الحق الذي أوردناه في القسم الأعلى وقد أورد فيه بعض المسائل التي ليس عليها نص في السنة إنما هي من المجتهد فيها ولا تدخل في موضوع كتابنا هذا
ولما كان طبع الكتاب بشطريه مما لم يتيسر لنا القيام به - لأسباب قاهرة - فقد رأينا أن نطبع الشطر الأول منه مستقلا عن الآخر إن شاء الله تعالى وسميته:
" صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم من التكبير إلى التسليم كأنك تراها "
أسأل الله تعالى أن يجعله خالصا لوجهه الكريم وأن ينفع به إخواني المؤمنين إنه سميع مجيب
শরীফ এবং এর মূলনীতিসমূহ। অনেক ক্ষেত্রেই কোনো কোনো সূত্রে (طرق) এমন কিছু শব্দ (ألفاظ) এবং অতিরিক্ত অংশ (زيادات) পাওয়া যায় যা অন্য সূত্রে পাওয়া যায় না। আমি সেগুলোকে উপরের অংশে বর্ণিত হাদিসের সাথে যুক্ত করেছি যদি তা মূল পাঠের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আমি সেগুলোকে এভাবে তৃতীয় বন্ধনী [] চিহ্নের মাধ্যমে নির্দেশ করেছি, যদিও মূল হাদিস বর্ণনাকারীদের (مخرجين) মধ্যে কে এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করিনি। এটি আমি তখনই করেছি যখন হাদিসের উৎস এবং বর্ণনাকারী একজন সাহাবী (صحাবী) হন। অন্যথায় আমি সেটিকে একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য করেছি, যেমনটি আপনি ইস্তিফতাহ-এর দুআ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন। এটি একটি অত্যন্ত দুর্লভ ও মূল্যবান বিষয় যা আপনি কোনো কিতাবে এভাবে সচরাচর পাবেন না। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।
এরপর আমি যে হাদিসটি তাখরিজ (تخريج) করেছি সে বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মাযহাব (مذاهب) এবং তাদের প্রত্যেকের দলিল নিয়ে আলোচনা করব। পাশাপাশি সেগুলোর পর্যালোচনা এবং সেগুলোর সবল ও দুর্বল দিকগুলো স্পষ্ট করব। এরপর সেখান থেকে আমরা সেই সত্যটি নির্যাস হিসেবে গ্রহণ করব যা আমরা উপরের অংশে উল্লেখ করেছি। আমি এতে এমন কিছু মাসআলাও উল্লেখ করেছি যেগুলোর ব্যাপারে সুন্নাহর (سنة) কোনো স্পষ্ট নস (نص) নেই, বরং সেগুলো ইজতিহাদ (اجتهاد) নির্ভর এবং আমাদের এই কিতাবের মূল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।
যেহেতু অনিবার্য কারণে কিতাবটির উভয় অংশ একসাথে প্রকাশ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি, তাই আমরা ইনশাআল্লাহ এর প্রথম অংশটি স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আমি এর নামকরণ করেছি:
"সিফাতু সালাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনাত তাকবিরি ইলাত তাসলিম কাআন্নাকা তারাহা"
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর মহান সত্তার জন্য একনিষ্ঠ হিসেবে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে আমার মুমিন ভাইদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দোয়া কবুলকারী।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
منهج الكتاب
ولما كان موضوع الكتاب إنما هو بيان هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الصلاة كان من البدهي أن لا أتقيد فيه بمذهب معين للسبب الذي مر ذكره وإنما أورد فيه ما ثبت عنه صلى الله عليه وسلم كما هو مذهب المحدثين قديما وحديثا وقد أحسن من قال:
গ্রন্থের কর্মপদ্ধতি
যেহেতু এই গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু হলো সালাত বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ বর্ণনা করা, তাই ইতিপূর্বে বর্ণিত কারণের প্রেক্ষিতে এটিই স্বতঃসিদ্ধ যে, আমি এতে কোনো নির্দিষ্ট মাজহাবে সীমাবদ্ধ থাকব না। বরং আমি এতে কেবল তা-ই উপস্থাপন করব যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, যেমনটি প্রাচীন ও আধুনিক যুগের হাদিসবিশারদগণের (المحدثين) অনুসৃত পথ। আর যিনি এ কথা বলেছেন, তিনি কতই না চমৎকার বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
أهل الحديث هم أهل النبي وإن لم يصحبوا أنفسه أنفاسه صحبوا
ولذلك فإن الكتاب سيكون إن شاء الله تعالى جامعا لشتات ما تفرق في بطون كتب الحديث والفقه - على اختلاف المذاهب مما له علاقة بموضوعه - بينما لا يجمع ما فيه من الحق أي كتاب أو مذهب وسيكون العامل به إن شاء الله ممن قد هداه الله لما اختلفوا فيه من الحق بإذنه والله يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم
ثم إني حين وضعت هذا المنهج لنفسي - وهو التمسك بالسنة الصحيحة - وجريت عليه في هذا الكتاب وغيره - مما سوف ينتشر بين الناس إن شاء الله - كنت على علم أنه سوف لا يرضي ذلك كل الطوائف والمذاهب بل سوف يوجه بعضهم أو كثير منهم ألسنة الطعن وأقلام اللوم إلي ولا بأس من ذلك علي فإني أعلم أيضا أن إرضاء الناس غاية لا تدرك وأن: (من أرضى الناس بسخط الله وكله الله إلى الناس) (صحيح الصحيحة 2311) كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
ولله در من قال:
আহলে হাদিসগণ (أهل الحديث) হলেন নবীর পরিজন, যদিও তাঁরা সশরীরে তাঁর সান্নিধ্য পাননি, তবে তাঁরা তাঁর প্রতিটি বাণীর (নিঃশ্বাসের) সান্নিধ্য লাভ করেছেন।
আর সেই কারণেই, ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই কিতাবটি হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থরাজির অভ্যন্তরে ছড়িয়ে থাকা বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর—মাযহাবগুলোর ভিন্নতা সত্ত্বেও যা এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট—একটি সমন্বিত সংকলন হবে; যা এমন সত্যকে ধারণ করবে যা অন্য কোনো একক কিতাব বা মাযহাবে পাওয়া যায় না। আর এর ওপর আমলকারী ইনশাআল্লাহ সেই ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত হবেন, যাঁদের আল্লাহ তাঁর নির্দেশে সেই সত্যের পথে পরিচালিত করেছেন যে বিষয়ে মানুষ মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছিল। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথের (صراط مستقيم) দিকে হিদায়াত দান করেন।
অতঃপর আমি যখন নিজের জন্য এই মানহাজ (منهج) বা কর্মপন্থা নির্ধারণ করলাম—আর তা হলো বিশুদ্ধ (صحيحة) সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা—এবং এই কিতাব ও আমার অন্যান্য রচনায় তা অনুসরণ করলাম—যা ইনশাআল্লাহ অচিরেই মানুষের মাঝে প্রচার লাভ করবে—তখন আমি জানতাম যে, এটি সকল দল ও মাযহাবকে সন্তুষ্ট করবে না; বরং তাদের অনেকে বা অনেকেই আমার দিকে সমালোচনার বাণ ও নিন্দার কলম তাক করবে। এতে আমার কোনো উদ্বেগ নেই, কারণ আমি এও জানি যে মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন এমন এক লক্ষ্য যা কখনো ছোঁয়া যায় না। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ তাকে মানুষের ওপরই ন্যস্ত করে দেন" (সহিহ আস-সহিহা ২৩১১)।
আর কতই না চমৎকার বলেছেন সেই ব্যক্তি যিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
ولست بناج من مقالة طاعن ولو كنت في غار على جبل وعر
ومن ذا الذي ينجو من الناس سالما ولو غاب عنهم بين خافيتي نسر
فحسبي أنني معتقد أن ذلك هو الطريق الأقوم الذي أمر الله تعالى به المؤمنين وبينه نبينا محمد سيد المرسلين وهو الذي سلكه السلف الصالح من الصحابة والتابعين ومن بعدهم وفيهم الأئمة الأربعة - الذين ينتمي اليوم إلى مذاهبهم جمهور المسلمين - وكلهم متفق على وجوب التمسك بالسنة والرجوع إليها وترك كل قول يخالفها مهما كان القائل عظيما فإن شأنه صلى الله عليه وسلم أعظم وسبيله أقوم ولذلك فإني اقتديت بهداهم واقتفيت آثارهم وتبعت أوامرهم بالتمسك بالحديث وإن خالف أقوالهم ولقد كان لهذه الأوامر أكبر الأثر في نهجي هذا النهج المستقيم وإعراضي عن التقليد الأعمى فجزاهم الله تعالى عني خيرا
আপনি কোনো সমালোচকের বাক্য থেকে রক্ষা পাবেন না, এমনকি যদি আপনি কোনো দুর্গম পাহাড়ের গুহায় অবস্থান করেন।
আর কে আছে যে মানুষের হাত থেকে নিরাপদে নিষ্কৃতি পায়? এমনকি সে যদি ঈগলের পাখনার আড়ালে তাদের দৃষ্টির অগোচরে থাকে।
আমার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, আমি বিশ্বাস করি এটিই সেই সরলতম পথ যার নির্দেশ মহান আল্লাহ মুমিনদের দিয়েছেন এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ—যিনি রাসুলগণের সরদার—তা বর্ণনা করেছেন। আর এই পথই অবলম্বন করেছেন সাহাবী (صحابة), তাবিঈন (تابعين) এবং তাঁদের পরবর্তী পুণ্যবান পূর্বসূরিগণ (سلف صالح), যাঁদের মধ্যে চার ইমামও অন্তর্ভুক্ত—যাঁদের মাযহাবের (مذاهب) সাথে আজ অধিকাংশ মুসলিম সম্পৃক্ত। তাঁরা সকলেই সুন্নাহ (سنة) আঁকড়ে ধরা, তার দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং এর পরিপন্থী প্রতিটি কথা বর্জন করার আবশ্যিকতার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, চাই সেই বক্তা যত বড়ই হোন না কেন। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শান অধিক মহান এবং তাঁর পথই অধিকতর সঠিক। এ কারণেই আমি তাঁদের হিদায়াতের অনুসরণ করেছি, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি এবং হাদিস আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে তাঁদের নির্দেশসমূহ পালন করেছি, যদিও তা তাঁদের মতের বিরোধী হয়। আমার এই সঠিক পথ অবলম্বন এবং অন্ধ অনুকরণ (التقليد الأعمى) বর্জনের ক্ষেত্রে এই নির্দেশাবলির সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। মহান আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
أقوال الأئمة في اتباع السنة وترك أقوالهم المخالفة لها
ومن المفيد أن نسوق هنا ما وقفنا عليه منها أو بعضها لعل فيها عظة وذكرى لمن يقلدهم - بل يقلد من دونهم بدرجات تقليدا أعمى - ويتمسك بمذاهبهم وأقوالهم كما لو كانت نزلت من السماء والله عز وجل يقول:
সুন্নাহর অনুসরণ এবং এর পরিপন্থী তাঁদের উক্তি বর্জন সম্পর্কে ইমামগণের উক্তি
এখানে আমরা তাঁদের সেই সকল উক্তির মধ্য থেকে যা সংগ্রহ করতে পেরেছি অথবা তার কিছু অংশ উল্লেখ করা ফলপ্রসূ মনে করছি; সম্ভবত এতে সেই ব্যক্তিদের জন্য উপদেশ ও শিক্ষা রয়েছে যারা তাঁদের অনুকরণ করে—বরং যারা তাঁদের চেয়ে অনেক নিম্নস্তরের ব্যক্তিদের অন্ধভাবে অনুকরণ করে—এবং তাঁদের মাজহাব ও উক্তিগুলোকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যেন সেগুলো আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, অথচ মহান আল্লাহ বলেন:
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
اتبعوا ما أنزل إليكم من ربكم ولا تتبعوا من دونه أولياء قليلا ما تذكرون
1 - أبو حنيفة رحمه الله
فأولهم الإمام أبو حنيفة النعمان بن ثابت رحمه الله وقد روي عنه أصحابه أقوالا شتى وعبارات متنوعة كلها تؤدي إلى شيء واحد وهو وجوب الأخذ بالحديث وترك تقليد آراء الأئمة المخالفة لها:
1 - (إذا صح الحديث فهو مذهبي) . (ابن عابدين في " الحاشية " 1 / 63)
2 - (لا يحل لأحد أن يأخذ بقولنا ما لم يعلم من أين أخذناه) . (ابن عابدين في " حاشيته على البحر الرائق " 6 / 293)
তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না; তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।
১ - আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)
তাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হলেন ইমাম আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত (রহিমাহুল্লাহ)। তাঁর থেকে তাঁর সহচরগণ নানাবিধ বক্তব্য ও বিবিধ উক্তি বর্ণনা করেছেন, যার সবই একটি মূল বিষয়ের দিকে পরিচালিত করে; আর তা হলো—হাদিস গ্রহণ করার আবশ্যকতা (وجوب) এবং এর পরিপন্থী ইমামদের মতামতের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) বর্জন করা:
১ - "হাদিস যখন সহিহ (صحيح) হয়, তখন সেটিই আমার মাজহাব।" (ইবনে আবিদিন, "আল-হাশিয়া", ১/৬৩)
২ - "আমরা কোথা থেকে (দলিল) গ্রহণ করেছি তা না জানা পর্যন্ত আমাদের কোনো কথা গ্রহণ করা কারো জন্য বৈধ নয়।" (ইবনে আবিদিন, "হাশিয়া আলাল বাহরুর রায়েক", ৬/২৯৩)
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وفي رواية: (حرام على من لم يعرف دليلي أن يفتي بكلامي)
زاد في رواية: (فإننا بشر نقول القول اليوم ونرجع عنه غدا)
وفي أخرى: (ويحك يا يعقوب (هو أبو يوسف) لا تكتب كل ما تسمع مني فإني قد أرى الرأي اليوم وأتركه غدا وأرى الرأي غدا وأتركه بعد غد)
এবং অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: (আমার দলিল অবগত না হয়ে আমার উক্তির ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদান করা কারো জন্য বৈধ নয়)
একটি বর্ণনায় (رواية) অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে: (নিশ্চয়ই আমরা মানুষ; আজ আমরা কোনো কথা বলি এবং আগামীকাল তা থেকে প্রত্যাবর্তন করি)
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: (হে ইয়াকুব (তিনি হলেন আবু ইউসুফ)! তোমার জন্য আক্ষেপ, আমার থেকে যা শোনো তার সবকিছুই লিপিবদ্ধ করো না; কারণ আমি আজ কোনো একটি মত (رأي) পোষণ করি এবং আগামীকাল তা বর্জন করি, আবার আগামীকাল একটি মত (رأي) গ্রহণ করি এবং তার পরের দিন তা ত্যাগ করি)
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
3 - (إذا قلت قولا يخالف كتاب الله تعالى وخبر الرسول صلى الله عليه وسلم فاتركوا قولي) . (الفلاني في الإيقاظ ص 50)
2 - مالك بن أنس رحمه الله وأما الإمام مالك بن أنس رحمه الله فقال:
1 - (إنما أنا بشر أخطئ وأصيب فانظروا في رأيي فكل ما وافق الكتاب والسنة فخذوه وكل ما لم يوافق الكتاب والسنة فاتركوه) . (ابن عبد البر في الجامع 2 / 32)
3 - (যখন আমি এমন কোনো কথা বলি যা আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত খবরের (خبر) পরিপন্থী হয়, তবে তোমরা আমার কথা বর্জন করো।) (আল-ফুলানি: আল-ইকাজ, পৃষ্ঠা ৫০)
2 - মালিক ইবন আনাস (রহিমাহুল্লাহ)। আর ইমাম মালিক ইবন আনাস (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
1 - (আমি তো কেবল একজন মানুষ, আমি ভুল করি এবং সঠিকও বলি। সুতরাং তোমরা আমার মতামতের (رأي) বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করো; এর যা কিছু কিতাব ও সুন্নাহর (سنة) অনুকূল হয় তা গ্রহণ করো, আর যা কিছু কিতাব ও সুন্নাহর (سنة) অনুকূল না হয় তা বর্জন করো।) (ইবন আবদিল বার্র: আল-জামি ২/৩২)
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
2 - (ليس أحد بعد النبي صلى الله عليه وسلم إلا ويؤخذ من قوله ويترك إلا النبي صلى الله عليه وسلم . (ابن عبد البر في الجامع 2 / 91)
3 - قال ابن وهب: سمعت مالكا سئل عن تخليل أصابع الرجلين في الوضوء فقال: ليس ذلك على الناس. قال: فتركته حتى خف الناس فقلت له: عندنا في ذلك سنة فقال: وما هي قلت: حدثنا الليث بن سعد وابن لهيعة وعمرو بن الحارث عن يزيد بن عمرو المعافري عن أبي عبد الرحمن الحنبلي عن المستورد بن شداد القرشي قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يدلك بخنصره ما بين أصابع رجليه. فقال: إن هذا الحديث حسن وما سمعت به قط إلا الساعة ثم سمعته بعد ذلك يسأل فيأمر بتخليل الأصابع. (مقدمة الجرح والتعديل لابن أبي حاتم ص 31 - 32)
3 - الشافعي رحمه الله
وأما الإمام الشافعي رحمه الله فالنقول عنه في ذلك أكثر وأطيب
2 - (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর এমন কেউ নেই যার কথা গ্রহণ করা এবং বর্জন করা যায় না, একমাত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত। (ইবনে আবদিল বার ‘আল-জামি’ গ্রন্থে ২/৯১)
3 - ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমি মালিককে ওযুতে পায়ের আঙ্গুল খিলাল করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি, তখন তিনি বললেন: মানুষের ওপর এটি আবশ্যক নয়। তিনি (ইবনে ওয়াহাব) বলেন: আমি তখন চুপ থাকলাম যতক্ষণ না মানুষ চলে গেল, এরপর আমি তাকে বললাম: আমাদের কাছে এই বিষয়ে একটি সুন্নাহ রয়েছে। তিনি বললেন: সেটি কী? আমি বললাম: লাইস ইবনে সাদ, ইবনে লাহিয়াহ এবং আমর ইবনুল হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আমর আল-মাআফিরি থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হানবালি থেকে, তিনি মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ আল-কুরাশি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কনিষ্ঠা আঙ্গুল দিয়ে পায়ের আঙ্গুলের মধ্যভাগ ঘষতে দেখেছি। তখন তিনি (মালিক) বললেন: নিশ্চয়ই এই হাদিসটি হাসান (حسن), আর আমি এই মুহূর্তের আগে এটি কখনো শুনিনি। এরপর আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি এবং তিনি আঙ্গুল খিলাল করার নির্দেশ দিতেন। (ইবনে আবি হাতিম প্রণীত মুকাদ্দিমা আল-জারহ ওয়াত তাদিল, পৃষ্ঠা ৩১ - ৩২)
3 - শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ
আর ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহর কথা বলতে গেলে, এই বিষয়ে তাঁর থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতিসমূহ আরও অধিক এবং চমৎকার।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وأتباعه أكثر عملا بها وأسعد فمنها:
1 - (ما من أحد إلا وتذهب عليه سنة لرسول الله صلى الله عليه وسلم وتعزب عنه فمهما قلت من قول أو أصلت من أصل فيه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لخلاف ما قلت فالقول ما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو قولي) . (تاريخ دمشق لابن عساكر 15 / 1 / 3)
2 - (أجمع المسلمون على أن من استبان له سنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يحل له أن يدعها لقول أحد) . (الفلاني ص 68)
3 - (إذا وجدتم في كتابي خلاف سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقولوا بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ودعوا ما قلت) . (وفي رواية (فاتبعوها ولا تلتفتوا إلى قول أحد) . (النووي في المجموع 1 / 63)
4 - (إذا صح الحديث فهو مذهبي) . (النووي 1 / 63)
এবং তাঁর অনুসারীরা সেগুলোর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে অধিক সচেষ্ট ও সৌভাগ্যবান। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
1 - (এমন কেউ নেই যার নিকট থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো সুন্নাহ ছুটে যায় না বা তাঁর অগোচরে থাকে না। সুতরাং আমি যে কথাই বলি না কেন অথবা যে মূলনীতি (أصل) আমি স্থির করি না কেন, তাতে যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার বক্তব্যের বিপরীতে কিছু বর্ণিত থাকে, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন সেটিই চূড়ান্ত কথা এবং সেটিই আমার বক্তব্য)। (তারিখ দামেশক, ইবনে আসাকির ১৫ / ১ / ৩)
2 - (মুসলিমগণ এই মর্মে ঐক্যমত পোষণ করেছেন (أجمع) যে, যার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো সুন্নাহ সুস্পষ্ট হয়েছে, তাঁর জন্য অন্য কারো বক্তব্যের খাতিরে তা বর্জন করা বৈধ নয়)। (আল-ফুলানি, পৃষ্ঠা ৬৮)
3 - (যদি তোমরা আমার কিতাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর পরিপন্থী কিছু পাও, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী কথা বলো এবং আমি যা বলেছি তা বর্জন করো)। (অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "তবে তোমরা সেটিই অনুসরণ করো এবং অন্য কারো বক্তব্যের দিকে ভ্রুক্ষেপ করো না")। (আন-নববী, আল-মাজমু ১ / ৬৩)
4 - (যখন হাদিসটি সহিহ (صح) হবে, সেটিই আমার মাযহাব)। (আন-নববী ১ / ৬৩)
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
5 - (أنتم أعلم بالحديث والرجال مني فإذا كان الحديث الصحيح فأعلموني به أي شيء يكون: كوفيا أو بصريا أو شاميا حتى أذهب إليه إذا كان صحيحا) . (الخطيب في الاحتجاج بالشافعي 8 / 1)
6 - (كل مسألة صح فيها الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم عند أهل النقل
5 - (আপনারা হাদিস এবং বর্ণনাকারীদের (الرجال) বিষয়ে আমার চেয়ে অধিক অবগত; সুতরাং যখন কোনো হাদিস সহিহ (الصحيح) হবে, তখন আমাকে তা জানাবেন—তা কুফী, বসরী কিংবা শামী যা-ই হোক না কেন—যাতে হাদিসটি সহিহ (صحيحا) হলে আমি সেটির দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারি)। (আল-খাতিব, আল-ইহতিজাজু বিশ-শাফিঈ, ৮ / ১)
6 - (প্রত্যেকটি মাসআলা, যে বিষয়ে হাদিস বিশারদদের (أهل النقل) নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত সংবাদটি (الخبر) সহিহ (صح) প্রমাণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
بخلاف ما قلت فأنا راجع عنها في حياتي وبعد موتي) . (أبو نعيم في الحلية 9 / 107)
7 - (إذا رأيتموني أقول قولا وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم خلافه فاعلموا أن عقلي قد ذهب) . (ابن عساكر بسند صحيح 15 / 10 / 1)
8 - (كل ما قلت فكان عن النبي صلى الله عليه وسلم خلاف قولي مما يصح فحديث النبي أولى فلا تقلدوني) . (ابن عساكر بسند صحيح 15 / 9 / 2)
9 - (كل حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم فهو قولي وإن لم تسمعوه مني) . (ابن أبي حاتم 93 - 94)
4 - أحمد بن حنبل رحمه الله
وأما الإمام أحمد فهو أكثر الأئمة جمعا للسنة وتمسكا بها حتى (كان يكره وضع الكتب التي تشتمل على التفريع والرأي) ولذلك قال:
(আমার উক্তির বিপরীতে হয়, তবে আমি আমার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর তা থেকে ফিরে এলাম।) (আবু নুআইম 'হিলইয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থে, ৯/১০৭)
৭ - (যদি তোমরা আমাকে কোনো কথা বলতে দেখ অথচ নবী (সা.) থেকে তার বিপরীতে সহিহ (صحيح) বর্ণনা প্রমাণিত হয়, তবে জেনে রেখো যে আমার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে।) (ইবনে আসাকির, সহিহ (صحيح) সনদে (سند), ১৫/১০/১)
৮ - (আমি যা কিছু বলেছি, তার বিপরীতে যদি নবী (সা.) থেকে সহিহ (صحيح) কোনো বর্ণনা থাকে, তবে নবীর হাদিসই অধিকতর যোগ্য; সুতরাং তোমরা আমার তাকলিদ করো না।) (ইবনে আসাকির, সহিহ (صحيح) সনদে (سند), ১৫/৯/২)
৯ - (নবী (সা.) থেকে বর্ণিত প্রতিটি হাদিসই আমার উক্তি, যদিও তোমরা তা আমার থেকে না শুনে থাকো।) (ইবনে আবি হাতিম, ৯৩-৯৪)
৪ - আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)
আর ইমাম আহমাদ হলেন আইম্মায়ে কেরামের মধ্যে সুন্নাহর সর্বাধিক সংগ্রাহক এবং এর ওপর সবচেয়ে সুদৃঢ়। এমনকি তিনি মাসআলার শাখা-প্রশাখা ও রায় (رأي) সম্বলিত কিতাব রচনা করা অপছন্দ করতেন; একারণেই তিনি বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
1 - (لا تقلدني ولا تقلد مالكا ولا الشافعي ولا الأوزاعي ولا الثوري وخذ من حيث أخذوا) . (ابن القيم في إعلام الموقعين 2 / 302)
وفي رواية: (لا تقلد دينك أحدا من هؤلاء ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه فخذ به ثم التابعين بعد الرجل فيه مخير)
وقال مرة: (الاتباع أن يتبع الرجل ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم وعن أصحابه ثم هو من بعد التابعين مخير) . (أبو داود في مسائل الإمام أحمد ص 276 - 277)
2 - (رأي الأوزاعي ورأي مالك ورأي أبي حنيفة كله رأي وهو عندي سواء وإنما الحجة في الآثار) . (ابن عبد البر في الجامع 2 / 149)
3 - (من رد حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو على شفا هلكة) . (ابن الجوزي في المناقب (ص 182)
تلك هي أقوال الأئمة رضي الله تعالى عنهم في الأمر بالتمسك بالحديث والنهي عن تقليدهم دون بصيرة وهي من الوضوح والبيان بحيث لا تقبل جدلا ولا تأويلا وعليه فإن من تمسك بكل ما ثبت في السنة ولو خالف بعض أقوال الأئمة لا يكون مباينا لمذهبهم ولا خارجا عن طريقتهم بل هو متبع لهم جميعا ومتمسك بالعروة الوثقى التي لا انفصام لها وليس كذلك من ترك السنة الثابتة لمجرد مخالتفها لقولهم بل هو بذلك عاص لهم ومخالف لأقوالهم المتقدمة والله تعالى يقول: فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجا مما قضيت ويسلموا تسليما
1 - (তুমি আমার অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করো না এবং মালিক, শাফেয়ী, আওযায়ী কিংবা সাওরী—কারো অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করো না। বরং তাঁরা যেখান থেকে গ্রহণ করেছেন, তুমিও সেখান থেকেই গ্রহণ করো।) (ইবনুল কাইয়্যিম, ইলামুল মুওয়াক্কিয়ীন ২ / ৩০২)
অন্য এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: (তোমার দ্বীনের ব্যাপারে এদের কারো অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করো না। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের থেকে যা এসেছে তা গ্রহণ করো। এরপর তাবেয়ীদের ক্ষেত্রে ব্যক্তির ইখতিয়ার রয়েছে।)
তিনি আরও বলেন: (আনুগত্য বা অনুসরণ (الاتباع) হলো মানুষ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের থেকে যা এসেছে তা অনুসরণ করবে। এরপর তাবেয়ীদের পরবর্তী স্তরে সে ইখতিয়ার রাখে।) (আবু দাউদ, মাসাইলুল ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা ২৭৬ - ২৭৭)
2 - (আওযায়ীর অভিমত (رأي), মালিকের অভিমত (رأي) এবং আবু হানিফার অভিমত (رأي)—সবই ব্যক্তিগত অভিমত (رأي)। এগুলো আমার কাছে সমান। মূলত অকাট্য প্রমাণ (الحجة) নিহিত রয়েছে আসার বা বর্ণিত বর্ণনার (الآثار) মধ্যে।) (ইবনে আব্দুল বারর, আল-জামে ২ / ১৪৯)
3 - (যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস প্রত্যাখ্যান করে, সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।) (ইবনুল জাওযী, আল-মানাকিব, পৃষ্ঠা ১৮২)
এগুলো হলো হাদিস আঁকড়ে ধরার নির্দেশ এবং সঠিক অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) ব্যতীত তাঁদের অন্ধ অনুসরণের (تقليد) নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে ইমামগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) উক্তি। এই উক্তিগুলো এতই স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল যে, এতে কোনো বিতর্ক বা অপব্যাখ্যার (تأويل) অবকাশ নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত (ثابت) প্রতিটি বিষয়কে আঁকড়ে ধরবে—যদিও তা ইমামদের কোনো কোনো উক্তির পরিপন্থী হয়—সে ব্যক্তি তাঁদের মাযহাব থেকে বিচ্যুত হবে না এবং তাঁদের পথ থেকেও বহিষ্কৃত হবে না। বরং সে তাঁদের সকলেরই অনুসারী এবং এমন এক সুদৃঢ় হাতল আঁকড়ে ধরল যা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়। তবে সেই ব্যক্তি এমন নয় যে প্রমাণিত (ثابت) সুন্নাহকে কেবল ইমামদের উক্তির পরিপন্থী হওয়ার কারণে বর্জন করে। বরং সে ব্যক্তি এর মাধ্যমে তাঁদের অবাধ্য এবং তাঁদের উল্লিখিত উক্তিগুলোর বিরোধী হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতএব তোমার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের ক্ষেত্রে তোমাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
وقال: فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم
قال الحافظ ابن رجب رحمه الله تعالى:
(فالواجب على كل من بلغه أمر الرسول صلى الله عليه وسلم وعرفه أن يبينه للأمة وينصح لهم ويأمرهم باتباع أمره وإن خالف ذلك رأي عظيم من الأمة فإن أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أحق أن يعظم ويقتدى به من رأى أي معظم قد خالف أمره في بعض الأشياء خطأ ومن هنا رد الصحابة ومن بعدهم على كل مخالف سنة صحيحة وربما أغلظوا في الرد لا بغضا له بل هو محبوب عندهم معظم في نفوسهم لكن رسول الله أحب إليهم وأمره فوق أمر كل مخلوق فإذا تعارض أمر الرسول وأمر غيره فأمر الرسول أولى أن يقدم ويتبع
এবং তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় (فتنة) নেমে আসতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হতে পারে।"
হাফিজ ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন:
সুতরাং যার কাছেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ পৌঁছেছে এবং সে তা অবগত হয়েছে, তার ওপর আবশ্যক (واجب) হলো তা উম্মাহর কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা, তাদের কল্যাণকামনা করা এবং তাদেরকে তাঁর নির্দেশ অনুসরণের আদেশ দেওয়া; যদিও তা উম্মাহর কোনো মহান ব্যক্তির মতামতের পরিপন্থী হয়। কেননা কোনো সম্মানিত ব্যক্তির মতামত—যা কোনো বিষয়ে ভুলবশত তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করেছে—তার তুলনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশই অধিকতর সম্মান ও অনুসরণের যোগ্য। আর এ কারণেই সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী উলামায়ে কেরাম এমন প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতিবাদ করেছেন যিনি কোনো সহিহ (صحيحة) সুন্নাহ (سنة)-র বিরোধিতা করেছেন। এমনকি অনেক সময় তাঁরা এই প্রতিবাদে কঠোরতাও অবলম্বন করেছেন, তবে তা সেই ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষবশত নয়; বরং তিনি তাঁদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং তাঁদের অন্তরে অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের কাছে সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশ যে কোনো সৃষ্টির নির্দেশের ঊর্ধ্বে। সুতরাং যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের সাথে অন্য কারো আদেশের বিরোধ দেখা দেয়, তখন রাসূলের আদেশকেই অগ্রাধিকার প্রদান ও অনুসরণ করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
ولا يمنع من ذلك تعظيم من خالف أمره وإن كان مغفورا له بل ذلك المخالف المغفور له لا يكره أن يخالف أمره إذا ظهر أمر الرسول صلى الله عليه وسلم بخلافه
قلت: كيف يكرهون ذلك وقد أمروا به أتباعهم كما مر وأوجبوا عليهم أن يتركوا أقوالهم المخالفة للسنة بل إن الشافعي رحمه الله أمر أصحابه أن ينسبوا السنة الصحيحة إليه ولو لم يأخذ بها أو أخذ بخلافها ولذلك لما جمع المحقق ابن دقيق العيد رحمه الله المسائل التي خالف مذهب كل واحد من الأئمة الأربعة الحديث فيها انفرادا واجتماعا في مجلد ضخم قال في أوله:
(إن نسبة هذه المسائل إلى الأئمة المجتهدين حرام وإنه يجب على الفقهاء المقلدين لهم معرفتها لئلا يعزوها إليهم فيكذبوا عليهم)
ترك الأتباع بعض أقوال أئمتهم اتباعا للسنة
আর যে ব্যক্তি তাঁর (রাসূলের) নির্দেশের বিরোধিতা করেছেন তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করা সেই নির্দেশের অনুসরণে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না, যদিও তিনি ক্ষমাযোগ্য হন। বরং সেই ক্ষমাযোগ্য বিরোধিতাকারী ব্যক্তি তাঁর নির্দেশের বিরোধিতা করাকে অপছন্দ করবেন না যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ তাঁর বক্তব্যের বিপরীতে প্রকাশিত হয়।
আমি বলছি: তাঁরা কীভাবে তা অপছন্দ করবেন যখন তাঁরা তাঁদের অনুসারীদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—এবং তাঁদের (ইমামদের) সুন্নাহ পরিপন্থী বক্তব্যগুলো বর্জন করা অনুসারীদের ওপর আবশ্যক (أوجبوا) করেছেন? বরং ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর সাথীদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাঁরা সহিহ (الصحيحة) সুন্নাহকে তাঁর দিকেই নিসবত করেন, যদিও তিনি তা গ্রহণ না করে থাকেন অথবা তাঁর বিপরীতে আমল করে থাকেন। আর এ কারণেই যখন গবেষক ইবনে দাকীক আল-ঈদ রাহিমাহুল্লাহ একটি বিশাল খণ্ডে এমন সব মাসআলা সংকলন করেছেন যেগুলোতে চার ইমামের প্রত্যেকের মাযহাব এককভাবে বা সম্মিলিতভাবে হাদিসের পরিপন্থী হয়েছে, তখন তিনি এর শুরুতে বলেন:
(নিশ্চয়ই এই মাসআলাগুলোকে মুজতাহিদ (المجتهدين) ইমামদের দিকে নিসবত করা হারাম (حرام) এবং তাঁদের অনুসারী মুকাল্লিদ (المقلدين) ফকিহদের জন্য এগুলো জেনে রাখা আবশ্যক (يجب), যাতে তাঁরা এগুলো ইমামদের দিকে নিসবত না করেন এবং ফলশ্রুতিতে তাঁদের ওপর মিথ্যাচার না করেন।)
সুন্নাহ অনুসরণের খাতিরে অনুসারীদের পক্ষ থেকে তাঁদের ইমামদের কিছু বক্তব্য বর্জন করা।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
ولذلك كله كان أتباع الأئمة ثلة من الأولين. وقليل من الآخرين لا يأخذون بأقوال أئمتهم كلها بل قد تركوا كثيرا منها لما ظهر لهم مخالفتها للسنة حتى أن الإمامين: محمد بن الحسن وأبا يوسف رحمهما الله قد خالفا شيخهما أبا حنيفة (في نحو ثلث المذهب) وكتب الفروع
এই সবকিছুর কারণেই ইমামগণের অনুসারীদের একটি বিশাল দল ছিলেন পূর্ববর্তীদের অন্তর্ভুক্ত এবং অল্প কিছু সংখ্যক ছিলেন পরবর্তীদের মধ্য থেকে, যারা তাঁদের ইমামদের সকল বক্তব্য গ্রহণ করতেন না; বরং যখনই কোনো অভিমত সুন্নাহর (السنة) পরিপন্থী হিসেবে তাঁদের নিকট প্রতিভাত হতো, তখন তাঁরা তার অনেকগুলোই বর্জন করতেন। এমনকি দুই ইমাম—মুহাম্মদ ইবনুল হাসান এবং আবু ইউসুফ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন)—তাঁদের উস্তাদ ইমাম আবু হানিফার সাথে (মাযহাবের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাসআলায়) ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং ফুরু বা শাখা মাসআলার গ্রন্থসমূহ (তার প্রমাণ)।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
كفيلة ببيان ذلك ونحو هذا يقال في الإمام المزني وغيره من أتباع الشافعي وغيره ولو ذهبنا نضرب على ذلك الأمثلة لطال بنا الكلام ولخرجنا به عما قصدنا إليه في هذا البحث من الإيجاز فلنقتصر على مثالين اثنين:
1 - قال الإمام محمد في " موطئه " (ص 158) : (قال محمد: أما أبو حنيفة رحمه الله فكان لا يرى في الاستسقاء صلاة وأما في قولنا فإن الإمام يصلي بالناس ركعتين ثم يدعو ويحول رداءه) إلخ
2 - وهذا عصام بن يوسف البلخي من أصحاب الإمام محمد ومن الملازمين للإمام أبي يوسف (كان يفتي بخلاف قول الإمام أبي حنيفة كثيرا لأنه لم يعلم الدليل وكان يظهر له دليل غيره فيفتي به " ولذلك (كان يرفع يديه عند الركوع والرفع منه) كما هو في السنة المتواترة عنه صلى الله عليه وسلم فلم يمنعه
এগুলো তা স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট এবং ইমাম মুযানী ও ইমাম শাফেয়ীর অন্যান্য অনুসারী এবং অন্যদের ব্যাপারেও অনুরূপ কথা বলা হয়। আমরা যদি এই বিষয়ে উদাহরণ উপস্থাপন করতে শুরু করি তবে আলোচনা দীর্ঘায়িত হবে এবং এই গবেষণায় আমাদের যে সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্য রয়েছে তা থেকে আমরা বিচ্যুত হয়ে পড়ব। তাই আমরা কেবল দুটি উদাহরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব:
১ - ইমাম মুহাম্মদ তাঁর মুয়াত্তায় (পৃ. ১৫৮) বলেছেন: (মুহাম্মদ বলেন: ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তো ইসতিসকার ক্ষেত্রে কোনো সালাত দেখতেন না, কিন্তু আমাদের মত অনুযায়ী ইমাম মানুষের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন, এরপর দোয়া করবেন এবং তাঁর চাদর উল্টে নেবেন) ইত্যাদি।
২ - আর ইনি হলেন ইসাম ইবনে ইউসুফ আল-বালখি, ইমাম মুহাম্মদের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং ইমাম আবু ইউসুফের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। তিনি অনেক ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফার মতের বিপরীতে ফতোয়া দিতেন, কারণ তাঁর নিকট (সংশ্লিষ্ট) দলিলটি জানা ছিল না এবং যখন তাঁর নিকট অন্যের দলিল স্পষ্ট হতো তখন তিনি সেই অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন। আর একারণেই (তিনি রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় হাত উত্তোলন করতেন) যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অবিচ্ছিন্ন (متواترة) সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত, ফলে তাঁকে বাধা দেয়নি
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
من العمل بها أن أئمته الثلاثة قالوا بخلافها وذلك ما يجب أن يكون عليه كل مسلم بشهادة الأئمة الأربعة وغيرهم كما تقدم
وخلاصة القول إنني أرجو أن لا يبادر أحد من المقلدين إلى الطعن في مشرب هذا الكتاب وترك الاستفادة مما فيه من السنن النبوية بدعوى مخالفتها للمذهب بل أرجو أن يتذكر ما أسلفناه من أقوال الأئمة في وجوب العمل بالسنة وترك أقوالهم المخالفة لها وليعلم أن الطعن في هذا المشرب إنما هو طعن في الإمام الذي يقلده أيا كان من الأئمة فإنما أخذنا هذا المنهج منهم كما سبق بيانه فمن أعرض عن الاهتداء بهم في هذا السبيل فهو على خطر عظيم لأنه يستلزم الإعراض عن السنة وقد أمرنا عند الاختلاف بالرجوع إليها والاعتماد عليها كما قال تعالى: فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجا مما قضيت ويسلموا تسليما [النساء: 65]
أسأل الله تعالى أن يجعلنا ممن قال فيهم: إنما كان قول المؤمنين إذا دعوا إلى الله ورسوله ليحكم بينهم أن يقولوا سمعنا وأطعنا وأولئك هم المفلحون. ومن يطع الله ورسوله ويخش الله ويتقه فأولئك هم الفائزون
دمشق 13 جمادى الآخرة سنة 1370 هـ
এর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন যে, তাঁর (মাযহাবের) তিনজন ইমামই এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন। আর চার ইমাম ও অন্যদের সাক্ষ্য অনুযায়ী প্রত্যেক মুসলিমের জন্য যা হওয়া আবশ্যক, তা-ই ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
সারকথা হলো, আমি আশা করি কোনো মুকাল্লিদ এই কিতাবের ধারার সমালোচনা করতে এবং মাযহাবের পরিপন্থী হওয়ার অজুহাতে এতে বিদ্যমান নববী সুন্নাহসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া ত্যাগ করতে তড়িঘড়ি করবেন না। বরং আমি আশা করি, তিনি সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা এবং এর পরিপন্থী ইমামদের বক্তব্য ত্যাগ করার বিষয়ে আমরা ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করেছি তা স্মরণ করবেন। তাকে জেনে রাখা উচিত যে, এই ধারার সমালোচনা করা মানে মূলত সেই ইমামের ওপরই সমালোচনা করা যাঁকে তিনি অনুসরণ করেন, তিনি যে ইমামই হোন না কেন। কেননা ইতিপূর্বে যেমনটি স্পষ্ট করা হয়েছে, আমরা মূলত তাঁদের থেকেই এই মানহাজ বা পদ্ধতি গ্রহণ করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি এই পথে তাঁদের নির্দেশনা অনুসরণ করা থেকে বিমুখ হবে, সে এক মহা বিপদের ওপর রয়েছে; কারণ এটি সুন্নাহ থেকে বিমুখ হওয়াকে অনিবার্য করে তোলে। অথচ মতভেদের সময় আমাদের সুন্নাহর দিকেই ফিরে যেতে এবং এর ওপরই নির্ভর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তবে না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেন সে বিষয়ে তাদের অন্তরে কোনো প্রকার সঙ্কীর্ণতা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।" [আন-নিসা: ৬৫]
আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাঁদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "মুমিনদের উক্তি তো কেবল এটাই—যখন তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে আহ্বান করা হয় যাতে তিনি তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করেন—তখন তারা বলে: ‘আমরা শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম। আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকে, তারাই মূলত কৃতকার্য।"
দামেস্ক, ১৩ জমাদিউল আখিরা, ১৩৭০ হিজরি
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
شبهات وجوابها
সংশয়সমূহ ও সেগুলোর উত্তর
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
ذلك ما كنت كتبته منذ عشر سنوات في مقدمة هذا الكتاب وقد ظهر لنا في هذه البرهة أن له تأثير طيب في صفوف الشباب المؤمن لإرشادهم إلى وجوب العودة في دينهم وعبادتهم إلى المنبع الصافي من الإسلام: الكتاب والسنة فقد ازداد فيهم - والحمد لله - العاملون بالسنة والمتعبدون بها حتى صاروا معروفين بذلك غير أني لمست من بعضهم توقفا عن الاندفاع إلى العمل بها لا شكا في وجوب ذلك بعد ما سقنا من الآيات والأخبار عن الأئمة في الأمر بالرجوع إليها ولكن لشبهات يسمعونها من بعض المشايخ المقلدين لذا رأيت أن أتعرض لذكرها والرد عليها لعل ذلك البعض يندفع بعد ذلك إلى العمل بالسنة مع العاملين بها فيكون من الفرقة الناجية بإذن الله تعالى
1 - قال بعضهم: لا شك أن الرجوع إلى هدي نبينا صلى الله عليه وسلم في شؤون ديننا أمر واجب لا سيما فيما كان منها عبادة محضة لا مجال للرأي والاجتهاد فيها لأنها توقيفية كالصلاة مثلا ولكننا لا نكاد نسمع أحدا من المشايخ المقلدين يأمر بذلك بل نجدهم يقرون الاختلاف ويزعمون أنها توسعة على الأمة ويحتجون على ذلك بحديث - طالما كرروه في مثل هذه المناسبة رادين به على أنصار السنة -: (اختلاف أمتي رحمة) فيبدو لنا أن هذا الحديث يخالف المنهج الذي تدعو إليه وألفت كتابك هذا وغيره عليه فما قولك في هذا الحديث
দশ বছর আগে এই বইটির ভূমিকায় আমি যা লিখেছিলাম তা-ই এটি। এই সময়ের মধ্যে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, মুমিন তরুণদের মাঝে এর এক উত্তম প্রভাব পড়েছে, যা তাদেরকে তাদের দ্বীন ও ইবাদতের ক্ষেত্রে ইসলামের বিশুদ্ধ উৎস: কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়ার আবশ্যকতা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, তাদের মধ্যে সুন্নাহ অনুযায়ী আমলকারী এবং সুন্নাহর মাধ্যমে ইবাদত পালনকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনকি তারা এর মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করেছে। তবে আমি তাদের কারো কারো মধ্যে সুন্নাহর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে অগ্রসর হতে কিছুটা স্থবিরতা লক্ষ্য করেছি। এটি সুন্নাহর দিকে ফিরে আসার নির্দেশ সম্বলিত যে সকল আয়াত এবং ইমামদের থেকে বর্ণিত সংবাদসমূহ আমরা উপস্থাপন করেছি, সেগুলোর আবশ্যকতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহের কারণে নয়; বরং কিছু অন্ধ অনুসারী (مقلدين) শায়েখদের থেকে শোনা কিছু সংশয়ের কারণে। তাই আমি সেসব সংশয় উল্লেখ করা এবং সেগুলোর উত্তর প্রদান করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি, যাতে সম্ভবত সেই ব্যক্তিরা এরপর সুন্নাহর ওপর আমলকারীদের সাথে আমল করতে উৎসাহিত হয় এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছায় মুক্তিপ্রাপ্ত দলের (الفرقة الناجية) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
১ - তাদের কেউ কেউ বলেছেন: আমাদের দ্বীনি বিষয়ে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশিত পথের দিকে ফিরে যাওয়া নিঃসন্দেহে একটি আবশ্যকীয় বিষয়, বিশেষ করে ঐ সকল ক্ষেত্রে যা নিছক ইবাদত, যেখানে নিজস্ব মত এবং গবেষণা (اجتهاد)-এর কোনো অবকাশ নেই; কারণ সেগুলো ওহীর ওপর নির্ভরশীল (توقيفية), যেমন উদাহরণস্বরূপ সালাত। কিন্তু আমরা অন্ধ অনুসারী (مقلدين) শায়েখদের কাউকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিতে শুনি না, বরং আমরা দেখি যে তারা মতভেদকে (اختلاف) বহাল রাখেন এবং দাবি করেন যে এটি উম্মতের জন্য প্রশস্ততা। তারা এ বিষয়ে এমন একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন—যা তারা সুন্নাহর অনুসারীদের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরণের পরিস্থিতিতে বারবার উচ্চারণ করেন—: (আমার উম্মতের মতভেদ রহমত)। তাই আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এই হাদিসটি আপনার দাওয়াতকৃত পদ্ধতির পরিপন্থী, যার ওপর ভিত্তি করে আপনি এই বই এবং অন্যান্য বই রচনা করেছেন। সুতরাং এই হাদিসটি সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
والجواب من وجهين:
الأول: أن الحديث لا يصح بل هو باطل لا أصل له قال العلامة السبكي:
(لم أقف له على سند صحيح ولا ضعيف ولا موضوع)
قلت: وإنما روي بلفظ:
(. . . اختلاف أصحابي لكم رحمة)
و (أصحابي كالنجوم فبأيهم اقتديتم اهتديتم)
وكلاهما لا يصح: الأول واه جدا والآخر موضوع وقد حققت القول في ذلك كله في (سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة) (رقم 58 و59 و61)
الثاني: أن الحديث مع ضعفه مخالف للقرآن الكريم فإن الآيات الواردة فيه - في النهي عن الاختلاف في الدين والأمر بالاتفاق فيه - أشهر من أن تذكر ولكن لا بأس من أن نسوق بعضها على سبيل المثال قال تعالى: ولا تنازعوا فتفشلوا وتذهب ريحكم [الأنفال 46] . وقال: ولا تكونوا من المشركين من الذين فرقوا دينهم وكانوا شيعا كل حزب بما لديهم فرحون [الروم 31 - 32] . وقال: ولا يزالون مختلفين. إلا من رحم ربك [هود 118 - 119] فإذا كان من رحم ربك لا يختلفون وإنما يختلف أهل الباطل فكيف يعقل أن يكون الاختلاف رحمة
উত্তরটি দুটি দিক থেকে:
প্রথমত: এই হাদিসটি সহিহ (صحيح) নয়, বরং এটি বাতিল (باطل) এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। আল্লামা সুবকী বলেন:
(আমি এর কোনো সহিহ (صحيح), দুর্বল (ضعيف) এমনকি জাল (موضوع) সনদ খুঁজে পাইনি)
আমি বলছি: এটি মূলত এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে:
(. . . আমার সাহাবিদের মতভেদ তোমাদের জন্য রহমত)
এবং (আমার সাহাবিগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাদের মধ্য থেকে যারই অনুসরণ করবে, সঠিক পথ পাবে)
আর উভয়ের কোনটিই সহিহ (صحيح) নয়: প্রথমটি অত্যন্ত দুর্বল (واه جدا) এবং অপরটি জাল (موضوع)। আমি এ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা 'সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দায়িফাহ ওয়াল মাওদুআহ' (নম্বর ৫৮, ৫৯ এবং ৬১) গ্রন্থে করেছি।
দ্বিতীয়ত: হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) হওয়ার পাশাপাশি এটি পবিত্র কুরআনেরও পরিপন্থী। কেননা দ্বীনের মধ্যে মতভেদ নিষিদ্ধ হওয়া এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আদেশ সম্বলিত আয়াতসমূহ এতোটাই প্রসিদ্ধ যে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না, তবুও উদাহরণস্বরূপ আমরা কিছু আয়াত পেশ করতে পারি। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে।" [আল-আনফাল ৪৬]। এবং তিনি বলেন: "তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না—যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে; প্রত্যেক দলই নিজেদের কাছে যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।" [আর-রুম ৩১-৩২]। এবং তিনি বলেন: "তারা সর্বদা মতভেদ করতেই থাকবে, তবে তারা ছাড়া যাদের প্রতি তোমার রব দয়া করেছেন।" [হুদ ১১৮-১১৯]। সুতরাং যাদের প্রতি তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন তারা যদি মতভেদ না করেন এবং কেবল বাতিলপন্থীরাই (أهل الباطل) মতভেদ করে থাকে, তবে মতভেদ রহমত হওয়া কীভাবে সম্ভব?
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৬০)
فثبت أن هذا الحديث لا يصح لا سندا ولا متنا (1) وحينئذ يتبين بوضوح أنه لا يجوز اتخاذه شبهة للتوقف عن العمل بالكتاب والسنة الذي أمر به الأئمة
2 - وقال آخرون: إذا كان الاختلاف في الدين منهيا عنه فماذا تقولون في اختلاف الصحابة والأئمة من بعدهم وهل ثمة فرق بين اختلافهم واختلاف غيرهم من المتأخرين
فالجواب: نعم هناك فرق كبير بين الاختلافين ويظهر ذلك في شيئين:
الأول: سببه
والآخر: أثره
فأما اختلاف الصحابة فإنما كان عن ضرورة واختلاف طبيعي منهم في الفهم لا اختيارا منهم للخلاف يضاف إلى ذلك أمور أخرى كانت في زمنهم استلزمت اختلافهم ثم زالت من بعدهم (2) ومثل هذا الاختلاف لا يمكن الخلاص منه كليا ولا يلحق أهله الذم الوارد في الآيات السابقة وما في معناها لعدم تحقق شرط المؤاخذة وهو القصد أو الإصرار عليه
وأما الاختلاف القائم بين المقلدة فلا عذر لهم فيه غالبا فإن بعضهم قد تتبين له الحجة من الكتاب والسنة وأنها تؤيد المذهب الآخر الذي لا يتمذهب به عادة فيدعها لا لشيء إلا لأنها خلاف مذهبه فكأن المذهب
সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, এই হাদিসটি সনদ (سند) ও মতন (متن) কোনো দিক থেকেই সহিহ (صحيح) নয়। (১) আর এমতাবস্থায় এটি স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, এটিকে এমন কোনো সংশয় হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়, যার কারণে কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা থেকে বিরত থাকা হয়, যে আমল করার নির্দেশ ইমামগণ দিয়েছেন।
২ - অন্যান্যরা বলেছেন: যদি দ্বীনের মধ্যে মতভেদ করা নিষিদ্ধ হয়ে থাকে, তবে সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের পরবর্তী ইমামগণের মধ্যকার মতভেদের ব্যাপারে আপনারা কী বলবেন? আর তাঁদের মধ্যকার মতভেদ এবং পরবর্তী প্রজন্মের অন্যান্যদের মতভেদের মাঝে কি কোনো পার্থক্য আছে?
উত্তর হলো: হ্যাঁ, সেখানে এই দুই ধরনের মতভেদের মাঝে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে এবং যা দুইটি বিষয়ের মাধ্যমে ফুটে ওঠে:
প্রথমত: এর কারণ।
দ্বিতীয়ত: এর প্রভাব।
সাহাবায়ে কেরামের মতভেদের বিষয়টি ছিল মূলত অপরিহার্য প্রয়োজনে এবং তাঁদের বুঝ-জ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি স্বভাবজাত পার্থক্যের কারণে; তাঁরা স্বেচ্ছায় মতভেদ বেছে নেননি। এর সাথে আরও কিছু বিষয় যুক্ত ছিল যা তাঁদের সময়ে বিদ্যমান ছিল এবং যা তাঁদের মতভেদকে অনিবার্য করে তুলেছিল, যা পরবর্তীতে দূরীভূত হয়ে গেছে (২)। এ জাতীয় মতভেদ থেকে পুরোপুরি নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব নয় এবং পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে বর্ণিত নিন্দা ও সমার্থক দলীলগুলোর হুকুম এ সকল ব্যক্তির ওপর প্রযোজ্য হবে না; কেননা পাকড়াও করার শর্ত এখানে অনুপস্থিত, আর তা হলো—ইচ্ছাকৃতভাবে করা অথবা এর ওপর অনড় থাকা।
আর মুকাল্লিদ (مقلد) বা অনুসারীদের মাঝে বিদ্যমান মতভেদের ব্যাপারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো ওজর থাকে না। কারণ তাঁদের অনেকের কাছেই কিতাব ও সুন্নাহর দলিল সুস্পষ্ট হয়ে যায় এবং দেখা যায় যে তা অন্য একটি মাযহাবকে সমর্থন করছে যা তিনি সাধারণত অনুসরণ করেন না, তবুও তিনি তা বর্জন করেন কেবল এই কারণে যে, তা তাঁর মাযহাবের পরিপন্থী; যেন মাযহাবই...