(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
تاريخ خليفة بن خياط القسم: التاريخ
الكتاب: تاريخ خليفة بن خياط
المؤلف: أبو عمرو خليفة بن خياط بن خليفة الشيباني العصفري البصري (ت 240هـ)
المحقق: د. أكرم ضياء العمري
الناشر: دار القلم , مؤسسة الرسالة - دمشق , بيروت
الطبعة: الثانية، 1397
عدد الصفحات: 480
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তারিকু খলিফা বিন খাইয়াত বিভাগ: ইতিহাস
গ্রন্থ: তারিকু খলিফা বিন খাইয়াত
লেখক: আবু আমর খলিফা বিন খাইয়াত বিন খলিফা আশ-শায়বানি আল-আসফারি আল-বাসরি (মৃ. ২৪০ হি.)
মুহাক্কিক: ড. আকরাম জিয়া আল-উমারি
প্রকাশক: দারুল কালাম, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - দামেস্ক, বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৩৯৭
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
وَصلى الله على مُحَمَّد وَآله وَسلم
قَالَ خَليفَة بن خياط هَذَا كتاب التَّارِيخ وبالتاريخ عرف النَّاس أَمر حجهم وصومهم وانقضاء عدد نِسَائِهِم وَمحل دُيُونهم يَقُول الله تبارك وتعالى لِنَبِيِّهِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيت النَّاس وَالْحج قَالَ خَليفَة حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَ نَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ للنَّاس وَالْحج قَالَ سَأَلُوا لِمَ جُعِلتْ هَذِهِ الأَهِلَّةُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ مَا تَسْمَعُونَ هِيَ مَوَاقِيتُ للنَّاس وَالْحج فَجَعَلَهَا اللَّهُ لِصَوْمِ الْمُسْلِمِينَ وَإِفْطَارِهِمْ وَحَجِّهِمْ وَمَنَاسِكِهِمْ وَعَدَدِ نِسَائِهِمْ وَمَحَالِّ دُيُونِهِمْ فِي أَشْيَاءٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُصْلِحُ خَلْقَهُ قَالَ وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ آيَتَيْنِ فَمَحَوْنَا آيَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنَا آيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِتَبْتَغُوا فَضْلا مِنْ رَبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا عدد السنين والحساب وَقَالَ فِي آيَةٍ أُخْرَى هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نورا وَقدره منَازِل
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
আল্লাহ মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
খলিফা ইবনে খইয়াত বলেন, এটি ইতিহাসের কিতাব। ইতিহাসের মাধ্যমেই মানুষ তাদের হজ, রোজা, নারীদের ইদ্দতকাল (عدّة) অতিবাহিত হওয়া এবং ঋণের মেয়াদ ও পরিশোধের সময় সম্পর্কে জানতে পারে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে বলেন: "তারা আপনার নিকট নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা মানুষ ও হজের জন্য সময়ের পরিমাপক।" খলিফা বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইয়াজিদ বিন জুরাই, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) সাঈদ, তিনি কাতাদা থেকে (عن) বর্ণনা করেন: "তারা আপনার নিকট নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা মানুষ ও হজের জন্য সময়ের পরিমাপক।" তিনি বলেন, তারা প্রশ্ন করেছিল কেন এই নতুন চাঁদসমূহ সৃষ্টি করা হয়েছে? তখন আল্লাহ যা তোমরা শুনলে তা অবতীর্ণ করেন: "তা মানুষ ও হজের জন্য সময়ের পরিমাপক।" আল্লাহ এগুলোকে মুসলিমদের রোজা, ইফতার, হজ, হজের নিয়মাবলি (مناسك), নারীদের ইদ্দতকাল (عدّة) এবং ঋণের মেয়াদসহ বিভিন্ন বিষয়ের জন্য নির্ধারণ করেছেন। আর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কল্যাণে যা উপযুক্ত তা সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনি আরও বলেন: "আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি; অতঃপর আমি রাতের নিদর্শনকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে আলোকোজ্জ্বল করেছি যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পারো এবং বছরের সংখ্যা ও হিসাব গণনা করতে পারো।" তিনি অন্য আয়াতে বলেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি সূর্যকে তেজস্কর এবং চাঁদকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার জন্য মনজিলসমূহ (منازل) নির্ধারণ করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫০)
لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذَلِكَ إِلا بِالْحَقِّ يفصل الْآيَات لقوم يعلمُونَ
وَحدثنَا خَليفَة قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْكَعْبِيُّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عِمْرَانَ قَالَ لَمْ يَزَلْ لِلنَّاسِ تَارِيخٌ كَانُوا يُؤَرِّخُونَ فِي الدَّهْرِ الأَوَّلِ مِنْ هُبُوطِ آدَمَ مِنَ الْجَنَّةِ فَلَمْ يَزَلْ ذَلِكَ حَتَّى بَعَثَ اللَّهُ نُوحًا فَأَرَّخُوا مِنْ دُعَاءِ نُوحٍ قَوْمَهُ ثُمَّ أَرَّخُوا مِنَ الطُّوفَانِ فَلَمْ يَزَلْ كَذَلِكَ حَتَّى حُرِّقَ إِبْرَاهِيمُ فَأَرَّخُوا مِنْ تَحْرِيقِ إِبْرَاهِيمَ وَأَرَّخَتْ بَنُو إِسْمَاعِيلَ من بُنيان الْكَعْبَة
قَالَ خَليفَة وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ مَعْمَرِ بْنِ الْمُثَنَّى قَالَ لَمْ يَزَلْ لِفَارِسٍ تَارِيخٌ يَعْرِفُونَ أُمُورَهُمْ بِهِ وَتَارِيخُ حِسَابِهِمْ إِلَى هَذَا الْيَوْمِ مُذْ مُلْكِ يزدْ جرد ابْن شَهْرَيَارَ وَذَلِكَ فِي سَنَةِ سِتَّ عَشْرَةَ مِنْ هِجْرَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ تَارِيخُ النَّاسِ الْيَوْمَ قَالَ وَلِبَنِي إِسْرَائِيلَ تَأْرِيخٌ آخَرُ بِسِنِيِّ ذِي القرنين قَالَ خَليفَة فَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْكَعْبِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عِمْرَانَ قَالَ كَانَتْ بَنُو إِسْمَاعِيلَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ يُؤَرِّخُونَ مِنْ بُنْيَانِ الْكَعْبَةِ فَلَمْ يَزَلْ كَذَلِكَ حَتَّى مَاتَ كَعْبُ بْنُ لُؤَيٍّ فَأَرَّخُوا مِنْ مَوْتِهِ فَلَمْ يَزَلْ كَذَلِكَ حَتَّى كَانَ عَامُ الْفِيلِ فَأَرَّخُوا مِنْ عَامِ الْفِيلِ ثُمَّ أَرَّخَ الْمُسْلِمُونَ بَعْدُ مِنْ مُهَاجَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ كَانَ لِلْعَرَبِ أَيْضًا تَأْرِيخٌ
...যাতে তোমরা বছরসমূহের সংখ্যা ও হিসাব জানতে পারো। আল্লাহ এগুলো কেবল সত্যের সাথেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন।
এবং খলীফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-কাব্বী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি আবদুল আজিজ ইবনে ইমরান থেকে (عن) বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: মানুষের জন্য সর্বদা ইতিহাস (গণনার পদ্ধতি) বিদ্যমান ছিল। তারা প্রাচীনকালে জান্নাত থেকে আদমের অবতরণের সময় থেকে তারিখ গণনা করত। আল্লাহ নূহকে প্রেরণ করা পর্যন্ত এটি অব্যাহত ছিল। অতঃপর তারা নূহ কর্তৃক তাঁর কওমকে আহ্বানের সময় থেকে তারিখ গণনা শুরু করে। এরপর তারা মহাপ্লাবন থেকে তারিখ গণনা করে এবং ইব্রাহিমকে অগ্নিদগ্ধ করার সময় পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকে। তখন তারা ইব্রাহিমের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা থেকে তারিখ গণনা শুরু করে এবং ইসমাইলের বংশধরেরা কাবা নির্মাণের সময় থেকে তারিখ গণনা শুরু করে।
খলীফা বলেন: এবং মুহাম্মদ ইবনে মুআবিয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি আবু উবাইদাহ মামার ইবনুল মুসান্না থেকে (عن) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: পারস্যবাসীদের সর্বদা নিজস্ব ইতিহাস ছিল যার মাধ্যমে তারা তাদের বিষয়াদি অবগত হতো। তাদের তারিখ গণনার হিসাব আজ অবধি শাহরিয়ারের পুত্র ইয়াজদগিরদের রাজত্বকাল থেকে চলে আসছে। আর তা ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের ষোড়শ বর্ষে এবং এটিই বর্তমানে মানুষের প্রচলিত ইতিহাস। তিনি বলেন: বনী ইসরাঈলীদের যুল-কারনাইনের সময়কাল থেকে ভিন্ন একটি ইতিহাস ছিল। খলীফা বলেন: অতঃপর ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-কাব্বী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আবদুল আজিজ ইবনে ইমরান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: ইব্রাহিমের পুত্র ইসমাইলের বংশধরেরা কাবা নির্মাণের সময় থেকে তারিখ গণনা করত। কাব ইবনে লুয়াই-এর মৃত্যু পর্যন্ত এভাবেই চলে আসছিল। এরপর তারা তার মৃত্যুর সময় থেকে তারিখ গণনা শুরু করে। হাতি বাহিনীর বছর (আমুল ফীল) পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকে এবং এরপর তারা হাতি বাহিনীর বছর থেকে তারিখ গণনা শুরু করে। অতঃপর মুসলমানগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের সময় থেকে তারিখ গণনা শুরু করে। ইতিপূর্বে আরবদেরও নিজস্ব ইতিহাস ছিল।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫১)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِدْرِيسَ قَالا نَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ قَالَ أَخْطَأَ النَّاسُ الْعَدَدَ مَا عَدُّوا مِنْ مَبْعَثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلا مِنْ وَفَاتِهِ وَمَا عَدُّوا إِلا مِنْ مقدمه الْمَدِينَة
قَالَ وَأَخْبَرَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى قَالَ نَاقِرَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ قَالَ عَامِلٌ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَمَا تُؤَرِّخُونَ فَأَرَادُوا أَنْ يُؤَرِّخُوا فَقَالُوا مِنْ مَبْعَثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ مِنْ وَفَاتِهِ ثُمَّ أَجْمَعُوا أَنْ يَجْعَلُوهُ مِنْ هِجْرَتِهِ فَأَرَادُوا أَنْ يَبْتَدُوا بِشَهْرِ رَمَضَانَ ثُمَّ رَأَوْا أَنْ يَجْعَلُوهُ فِي الْمُحَرَّمِ حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ نَا جَعْفَرُ بْنُ بَرْقَانَ عَنْ مَيْمَونِ بْنِ مَهْرَانَ قَالَ ائْتَمَرَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ يَكْتُبُونَ التَّأْرِيخَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ نَكْتُبُهُ مِنْ مَوْلِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ بَعْضُهُمْ مُنْذُ أُوحِيَ إِلَيْهِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ مِنْ هِجْرَتِهِ الَّتِي هَجَرَ فِيهَا دَارَ الشِّرْكِ إِلَى دَارِ الإِيمَانِ فَأَجْمَعَ رَأْيُهُمْ أَنْ يَكْتُبُوهُ مِنْ هِجْرَتِهِ
نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ نَا حِبَّانُ عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ عَامِرٍ قَالَ كَتَبَ أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ إِلَى عُمَرَ أَنَّهُ تَأْتِينَا كُتُبُ مَا نَدْرِي مَا تَأْرِيخُهَا فَاسْتَشَارَ عُمَرُ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ بَعْضُهُمْ مِنَ الْمَبْعَثِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ مِنْ وَفَاتِهِ فَقَالَ عُمَرُ أَرِّخُوا مِنْ هِجْرَتِهِ فَإِنَّ مُهَاجَرَهُ فرق بَين الْحق وَالْبَاطِل
حَدثنَا خَليفَة قَالَ نَا إِسْحَاقُ بْنُ إِدْرِيسَ قَالَ نَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ نَا عُثْمَانُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ جَمَعَ عُمَرُ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارَ فَقَالَ مِنْ أَيْنَ أَكْتُبُ التَّارِيخَ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ مُذْ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَرْضِ الشِّرْكِ فَهُوَ يَوْمُ هَاجَرَ فَكَتَبَ ذَلِكَ عمر بن الْخطاب
আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কানাব এবং ইসহাক ইবন ইদরিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তাঁরা উভয়ে বলেন: আবদুল আজিজ ইবন আবি হাজিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) তাঁর পিতা থেকে, তিনি সাহল ইবন সাদ আস-সাঈদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: লোকগণ গণনার ক্ষেত্রে ভুল করেছিল; তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তপ্রাপ্তির সময় থেকে গণনা করেনি এবং তাঁর ওফাতের সময় থেকেও নয়; বরং তারা কেবল তাঁর মদিনায় আগমনের সময় থেকেই পঞ্জিকা গণনা শুরু করেছিল।
তিনি বলেন: এবং আবদুল আলা ইবন আবদুল আলা আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: নাকিরাহ ইবন খালিদ মুহাম্মাদ ইবন সিরিন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাবের জনৈক আমিল (গভর্নর) তাঁকে বললেন, "আপনারা কি তারিখ নির্ধারণ করবেন না?" তখন তাঁরা তারিখ নির্ধারণের ইচ্ছা করলেন। তাঁরা বললেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তপ্রাপ্তির সময় থেকে অথবা তাঁর ওফাত থেকে তারিখ শুরু করা হোক।" অতঃপর তাঁরা তাঁর হিজরত থেকে তারিখ নির্ধারণের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করলেন। এরপর তাঁরা রমজান মাস থেকে বছর শুরু করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরে মুহাররম মাস থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
কাসীর ইবন হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: জাফর ইবন বারকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) মাইমুন ইবন মাহরান থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ কীভাবে তারিখ লিখবেন সে বিষয়ে পরামর্শ করলেন। তাঁদের কেউ কেউ বললেন, "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম থেকে এটি লিখব।" আবার কেউ বললেন, "তাঁর প্রতি ওহি নাজিল হওয়ার সময় থেকে।" আর কেউ বললেন, "তাঁর হিজরত থেকে, যার মাধ্যমে তিনি শিরকের ভূখণ্ড থেকে ঈমানের ভূখণ্ডের দিকে হিজরত করেছিলেন।" অতঃপর তাঁর হিজরত থেকেই তারিখ লেখার ব্যাপারে তাঁদের সবার মতৈক্য হলো।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا), তিনি বলেন: হিব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (না) মুজালিদ থেকে, তিনি আমির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু মুসা আল-াশআরি উমর (রা.)-এর নিকট লিখে পাঠালেন যে, "আমাদের কাছে অনেক পত্র আসে যেগুলোর তারিখ আমাদের জানা থাকে না।" তখন উমর (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। কেউ কেউ নবুয়তপ্রাপ্তির সময় থেকে এবং কেউ কেউ তাঁর ওফাত থেকে তারিখ গণনার প্রস্তাব দিলেন। তখন উমর (রা.) বললেন, "তোমরা তাঁর হিজরত থেকে তারিখ গণনা করো, কারণ তাঁর হিজরত সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছে।"
খলিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইসহাক ইবন ইদরিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا), তিনি বলেন: আবদুল আজিজ ইবন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (না), তিনি বলেন: উসমান ইবন উবায়দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (না) সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি বলেন: উমর (রা.) মুহাজির ও আনসারদের একত্রিত করলেন এবং বললেন, "আমি কোথা থেকে তারিখ গণনা শুরু করব?" তখন আলী (রা.) তাঁকে বললেন, "যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিরকের ভূমি ত্যাগ করেছেন, অর্থাৎ হিজরতের দিন থেকে।" অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব সে অনুযায়ী তারিখ নির্ধারণ করলেন।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫২)
مَوْلِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ووفاتهحَدثنَا خَليفَة قَالَ نَا بَكْرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ نَا ابْنُ إِسْحَاقَ وَوَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْن إِسْحَق قَالَ حَدَّثَنِي الْمُطَّلِبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ بْنِ الْمُطَّلِبِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ قَالَ وُلِدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا عَامَ الْفِيلِ
قَالَ وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ نَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنِ عِمْرَانَ قَالَ حَدثنِي الزبير ابْن مُوسَى عَنْ أَبِي الْحُوَيْرِثِ قَالَ شَهِدْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ قَالَ لِقُبَاثِ بْنِ أَشْيَمَ أَنْتَ أَكْبَرُ أَمْ رَسُولُ اللَّهِ قَالَ هُوَ أَكْبَرُ مِنِّي وَأَنَا أَسَنُّ مِنْهُ قَالَ مَتَى وُلِدْتَ قَالَ وَقَفَتْ بِي أُمِّي عَلَى رَوَثِ الْفِيلِ مُحِيلا أَعْقِلُهُ وَوُلِدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَام الْفِيل
قَالَ وَحَدَّثَنِي عَبْدُ السَّلامِ بْنُ مُطَهَّرٍ قَالَ نَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ نَا بِسْطَامُ بْنُ مُسْلِمٍ الْعَوْذِيُّ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كُرَيْزٍ قَالَ حَدَّثَنِي مَوْلًى لِهُذَيْلٍ قَالَ مَرَرْتُ بِمَوْلايَ أَقُودُهُ وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ جَالِسٌ فِي أَصْحَابِهِ فَقَالُوا لَهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَذَا أَكْبَرُ الْعَرَبِ فَقَالَ عُثْمَانُ إِنْ أَخْبَرَنِي ابْنَ كَمْ كَانَ يَوْمُ الْفِيلِ أَخْبَرْتُهُ ابْنَ كَمْ هُوَ
قَالَ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ رُوِيَ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ قَالَ وُلِدَ بَعْدَ الْفِيل بِثَلَاثِينَ عَاما
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম ও মৃত্যুখলিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: বকর ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইবনে ইসহাক এবং ওয়াহাব ইবনে জারীর তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস ইবনে মাখরামা ইবনে মুত্তালিব তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা কাইস ইবনে মাখরামা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আমি হস্তী বর্ষে জন্মগ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আব্দুল আজিজ ইবনে ইমরান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: যুবাইর ইবনে মুসা আবুল হুয়াইরিস থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানকে প্রত্যক্ষ করেছি, তিনি কুবাস ইবনে আশয়ামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "আপনি বড় না রাসুলুল্লাহ বড়?" তিনি উত্তর দিলেন, "তিনি আমার চেয়ে বড় (মর্যাদায়), আর আমি বয়সে তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কখন জন্মগ্রহণ করেছেন?" তিনি বললেন, "আমার মা আমাকে হাতির বিষ্ঠার নিকট দাঁড় করিয়েছিলেন যা তখন বছরের ব্যবধানে শুকিয়ে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল, যা আমি অনুধাবন করতে পারছিলাম। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তী বর্ষে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।"
তিনি বলেন: আব্দুস সালাম ইবনে মুতাহহার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: জাফর ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: বিস্তাম ইবনে মুসলিম আল-আওজি তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে কুরাইজ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: হুজায়ল গোত্রের একজন মুক্তদাস (مولى) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমি আমার মুনিবকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় উসমান ইবনে আফফান তাঁর সঙ্গীদের মাঝে বসা ছিলেন। তারা তাঁকে বললেন, "হে আমিরুল মুমিনিন, ইনি আরবদের মাঝে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ।" তখন উসমান বললেন, "তিনি যদি আমাকে বলতে পারেন যে হস্তী দিবসে তাঁর বয়স কত ছিল, তবে আমিও বলে দিতে পারব বর্তমানে তাঁর বয়স কত।"
আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন: মুসা ইবনে উকবা থেকে বর্ণিত হয়েছে (روي), তিনি বলেন: তিনি হস্তী বর্ষের ত্রিশ বছর পর জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
قَالَ وَقَالَ أَبُو زَكَرِيَّا الْعَجْلانِيُّ بَعْدَ الْفِيلِ بِأَرْبَعِينَ عَامًا وَالْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عَام الْفِيل
قَالَ ونا بَكْرٌ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ رَأَيْتُ قَائِدَ الْفِيلِ وسائسه أعميين يستطعمان
نَا وَهْبٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ وَبَكْرٌ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ قَالَ وُلِدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفِيلِ قَالَ وَبَيْنَ الْفِيلِ وَبَيْنَ الْفِجَارِ عِشْرُونَ سَنَةً وَبَيْنَ الْفِجَارِ وَبَيْنَ بُنْيَانِ الْكَعْبَةِ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً وَبَيْنَ بُنْيَانِ الْكَعْبَةِ وَبَيْنَ مَبْعَثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَمْسُ سِنِينَ فَبُعِثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَمْسُ سِنِينَ فَبُعِثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ ابْن أَرْبَعِينَ سنة
قَالَ ونا شُعَيْبُ بْنُ حَيَّانَ عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَبِي عَمْرٍو عَن الْكَلْبِيّ عَن ابيه صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وُلِدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الاثْنَيْنِ قَبْلَ الْفِيلِ بِخَمْسَ عشرَة سنة
قَالَ ونا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَ نَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بُعِثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعِينَ فَأَقَامَ بِمَكَّةَ خَمْسًا مُخْتَفِيًا وَعشرا مُعْلنا وبالمدينة عشرا
قَالَ ونا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ أَنَّ عَائِشَةَ وَابْنَ عَبَّاسٍ أخبراه أَن رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرًا يُوحَى إِلَيْهِ وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرًا
তিনি বলেন এবং আবু জাকারিয়া আল-আজলানি বলেছেন, [রাসূলুল্লাহ সা. এর জন্ম] হস্তিবাহিনীর ঘটনার চল্লিশ বছর পর, তবে সর্বসম্মত (المجمع عليه) মত হলো হস্তিবাহিনীর বছর।
তিনি বলেন: বকর ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর আমার কাছে বর্ণনা (حدثني) করেছেন আমরাহ থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি হস্তিবাহিনীর চালক ও তার তত্ত্বাবধায়ককে অন্ধ অবস্থায় মানুষের কাছে খাবার ভিক্ষা করতে দেখেছি।"
ওয়াহাব তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে এবং বকর ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কায়স ইবনে মাখরামাহ থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) হস্তিবাহিনীর বছরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বলেন: হস্তিবাহিনীর ঘটনা এবং ফিজার যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময় ছিল বিশ বছর, ফিজার যুদ্ধ এবং কাবা নির্মাণের মধ্যবর্তী সময় ছিল পনের বছর, এবং কাবা নির্মাণ ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির মধ্যবর্তী সময় ছিল পাঁচ বছর। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন নবুয়ত প্রাপ্ত হন তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর।
তিনি বলেন: শুয়াইব ইবনে হাইয়ান আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আবি আমর থেকে, তিনি কালবি থেকে, তিনি তাঁর পিতা সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা (حدثنا) করেছেন: নবী (সা.) হস্তিবাহিনীর ঘটনার পনের বছর আগে সোমবার জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে জুরাই আমাদের কাছে বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে উবাইদ বনু হাশিমের মুক্তদাস আম্মার ইবনে আবি আম্মার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) চল্লিশ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন। অতঃপর তিনি মক্কায় পাঁচ বছর গোপনে এবং দশ বছর প্রকাশ্যে অবস্থান করেন, আর মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন।
তিনি বলেন: আবু দাউদ আমাদের কাছে বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন: হারব ইবনে শাদ্দাদ ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আয়িশা (রা.) ও ইবনে আব্বাস (রা.) তাকে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেছিলেন যখন তাঁর কাছে ওহি আসত এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
نَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَ نَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ أُنْزِلَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِي سِنِينَ بِمَكَّةَ وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرًا نَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ أَشْعَثَ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ بُعِثَ وَهُوَ ابْنُ خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَأَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرًا وَبِالْمَدِينَةِ ثَمَانِيًا وَتُوُفِّيَ وَهُوَ ابْنُ ثَلاثٍ وَسِتِّينَ نَا يَزِيدُ عَنْ سَعِيدٍ قَالَ وَقَالَ قَتَادَةُ أَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرًا وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرًا وَحَدَّثَنِي أَبُو عُبَيْدَةَ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي حُمْرَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَقَامَ بِمَكَّةَ ثَلاثَ عَشْرَةَ وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرًا نَا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَكَّائِيُّ قَالَ نَا حَجَّاجٌ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ نَا عَبْدُ الْوَهَّابِ عَنْ هِشَامٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَقَامَ بِمَكَّةَ ثَلاثَ عَشْرَةَ وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرًا قَالَ هِشَامٌ قَالَ الْحَسَنُ أَقَامَ بِمَكَّةَ عشرا وبالمدينة عشرا سنة إِحْدَى من التَّارِيخ وُصُول النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَدِينَة حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ نَا ابْنُ إِسْحَاقَ وَوَهْبٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاق قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوِيمِ بْنِ سَاعِدَةَ قَالَ حَدَّثَنِي رِجَالٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالُوا لَمَّا سَمِعْنَا بِمَخْرَجِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَكَّةَ تَوَكَّفْنَا قُدُومَهُ فَكُنَّا نَخْرُجُ إِذَا صلينَا
ইয়াজিদ ইবনে জুরাই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান [বসরি] থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মক্কায় আট বছর এবং মদিনায় দশ বছর (অহি) অবতীর্ণ হয়েছে। আবু আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আশআস থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন প্রেরিত হন তখন তাঁর বয়স ছিল পঁয়তাল্লিশ বছর। অতঃপর তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় আট বছর অবস্থান করেন এবং তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সাঈদ থেকে, তিনি বলেন যে কাতাদাহ বলেছেন: তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন।
এবং আবু উবাইদাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আবু হামরাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি মক্কায় তেরো বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন। জিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাক্কাই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন।
আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হিশাম থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি মক্কায় তেরো বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন। হিশাম বলেন, হাসান বলেছেন: তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন। ইতিহাসের (التاريخ) প্রথম বছর হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মদিনায় আগমনের বছর।
বকর ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইবনে ইসহাক এবং ওয়াহাব তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে যুবায়ের আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে উয়াইম ইবনে সায়িদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের (صحابة) মধ্য থেকে কয়েকজন ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তাঁরা বলেছেন: যখন আমরা মক্কা থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বের হওয়ার সংবাদ শুনলাম, তখন আমরা তাঁর আগমনের প্রতীক্ষায় থাকতাম। তাই আমরা যখন সালাত আদায় করতাম, তখন (তাঁর খোঁজে) বের হতাম...
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
الصُّبْحَ إِلَى ظَاهِرِ حَرَّتِنَا نَنْتَظِرُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَاللَّهِ مَا نَبْرَحُ حَتَّى تَغْلِبَنَا الشَّمْسُ فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الَّذِي قَدِمَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَلَسْنَا حَتَّى إِذَا لَمْ يَبْقَ ظِلٌّ دَخَلْنَا بُيُوتَنَا وَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ أَوَّلُ مَنْ رَآهُ رَجُلٌ مِنْ يَهُودٍ فَصَرَخَ بِأَعْلَى صَوْتِهِ يَا بَنِي قَيْلَةَ هَذَا جَدُّكُمْ قَدْ جَاءَ فَخَرَجْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي ظِلِّ نَخْلَةٍ وَمَعَهُ أَبُو بكر فِي مِثْلِ سِنِّهِ وَأَكْثَرُنَا مَنْ لَمْ يَكُنْ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ قَامَ أَبُو بكر فأظله فَعرفنَا رَسُول الله صلى قيل ذَلِك فَرَكبهُ النَّاس فَلم ن قَبْلَ ذَلِكَ فَرَكِبَهُ النَّاسُ فَلَمْ نَعْرِفْهُ مِنْ أَبِي بَكْرٍ حَتَّى إِذَا زَالَ الظِّلُّ عَنْ رَسُولِ الله اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ يَوْمَ الاثْنَيْنِ حِينَ اشْتَدَّ الضُّحَاءُ لِاثْنَتَيْ عَشْرَةَ لَيْلَةً خَلَتْ مِنْ شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ فَنَزَلَ بِقِبَاءٍ عَلَى كُلْثُومِ بْنِ هِدْمٍ أَخِي بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ وَيُقَالُ بَلْ نَزَلَ عَلَى سَعْدِ بْنِ خَيْثَمَةَ وَأَقَامَ فِي بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ يَوْمَ الاثْنَيْنِ وَالثُّلاثَاءِ وَالأَرْبَعَاءِ وَالْخَمِيسِ وَأَسَّسَ مَسْجِدَهُمْ وَخَرَجَ مِنْ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ فَأَدْرَكَتْهُ الْجُمُعَةُ فِي بَنِي سَالِمِ بْنِ عَوْفٍ وَصَلَّى الْجُمُعَةَ فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي بِبَطْنِ الْوَادِي
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ ثُمَّ نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبِي أَيُّوبَ خَالِدِ بْنِ زَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ وَأَمَرَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبِنَاءِ مَسْجِدِهِ فِي تِلْكَ السّنة
ভোরবেলা থেকে আমাদের হাররার (পাথুরে ভূমি) বহির্ভাগে আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অপেক্ষায় থাকতাম। আল্লাহর কসম, সূর্যের তাপ আমাদের ওপর প্রবল না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেখান থেকে সরতাম না। যে দিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগমন করলেন, সে দিনও আমরা বসে থাকলাম এবং যখন ছায়া অবশিষ্ট থাকল না, তখন আমরা নিজ নিজ ঘরে প্রবেশ করলাম। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগমন করলেন। তাঁকে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি দেখেছিল সে ছিল ইহুদি সম্প্রদায়ের এক লোক। সে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করে বলল, ‘হে বনু কায়লা! এই যে তোমাদের কাঙ্ক্ষিত সৌভাগ্য (বা নেতা) চলে এসেছেন!’ তখন আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পানে বেরিয়ে এলাম। তিনি তখন একটি খেজুর গাছের ছায়ায় অবস্থান করছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে আবু বকর ছিলেন, যাঁর বয়স তাঁর কাছাকাছিই ছিল। আমাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই এর আগে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেনি। মানুষ তাঁর নিকট ভিড় করতে লাগল। রোদ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর থেকে সরে যাওয়া পর্যন্ত আমরা তাঁকে আবু বকর থেকে আলাদা করে চিনতে পারছিলাম না; এরপর আবু বকর (রা.) উঠে দাঁড়িয়ে নিজের চাদর দিয়ে তাঁকে ছায়া প্রদান করলেন, তখন আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে চিনতে পারলাম।
ইবনে ইসহাক বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রবিউল আউয়াল মাসের বারো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিন চাশতের প্রখর রোদের সময় মদিনায় আগমন করেন।
ইবনে ইসহাক বলেন: তিনি কুবাতে বনু আমর ইবনে আউফের গোত্রভুক্ত কুলসুম ইবনে হিদমের ঘরে অবস্থান করেন। আবার বলা হয় যে, বরং তিনি সাদ ইবনে খাইসামার ঘরে অবস্থান করেছিলেন। তিনি বনু আমর ইবনে আউফের নিকট সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার অবস্থান করেন এবং তাদের মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর তিনি বনু আমর ইবনে আউফের নিকট থেকে প্রস্থান করেন এবং বনু সালিম ইবনে আউফের জনপদে জুমার সময় হয়। তিনি উপত্যকার মধ্যস্থলে অবস্থিত মসজিদে জুমার সালাত আদায় করেন।
ইবনে ইসহাক বলেন: এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু আইয়ুব খালিদ ইবনে জাইদ আল-আনসারীর ঘরে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উক্ত বছরেই তাঁর মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
فَأَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِ أَبِي أَيُّوبَ حَتَّى بَنَى مَسْجِدَهُ وَمَسَاكِنَهُ ثُمَّ انْتَقَلَ صلى الله عليه وسلم قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَفِي هَذِهِ السَّنَةِ وَهِيَ سَنَةُ إِحْدَى هَلَكَ أَبُو أُمَامَةَ أَسْعَدُ بْنُ زُرَارَة أَخَذته الذبْحَة فِي تِلْكَ الأَشْهُرِ وَالْمَسْجِدُ يُبْنَى قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ فِي تِلْكَ السَّنَةِ أَسْلَمَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلامٍ وَفِيهَا رَأَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ الأَذَانَ وَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِلالا أَنْ يُنَادِيَ بِالأَذَانِ فِيمَا حَدَّثَنَا بَكْرٌ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بن الْحَارِث عَن أَبِيه
سنة اثْنَتَيْنِغَزْوَة الْأَبْوَاء
فِيهَا عزوة الأَبْوَاءِ وَهِيَ أَوَّلُ غَزْوَةٍ غَزَاهَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَا بَكْرٌ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ وَوَهْبٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ قَالَ إِنَّ أَوَّلَ غَزْوَةٍ غَزَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنَ الْمَدِينَةِ لِاثْنَتَيْ عَشْرَةَ لَيْلَةً خَلَتْ مِنْ صَفَرٍ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ حَتَّى بَلَغَ وَدَّانَ يُرِيدُ قُرَيْشًا وَبَنِي ضَمْرَةَ فَوَادَعَهُ مَخْشِيُّ بْنُ عَمْرٍو الضمرِي وَهِي غَزْوَة الْأَبْوَاء
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু আইয়ুবের ঘরে অবস্থান করেন যতক্ষণ না তিনি তাঁর মসজিদ ও আবাসস্থল নির্মাণ সমাপ্ত করেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে স্থানান্তরিত হন। ইবনে ইসহাক বলেন, এই বছরেই—যা ছিল প্রথম হিজরি বছর—আবু উমামাহ আসআদ বিন যুরারাহ মৃত্যুবরণ করেন। সেই মাসগুলোতে যখন মসজিদ নির্মাণাধীন ছিল, তখন তিনি কণ্ঠনালীর রোগে আক্রান্ত হন। ইবনে ইসহাক আরও বলেন, উক্ত বছরেই আবদুল্লাহ বিন সালাম ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আবদুল্লাহ বিন যায়িদ আজান সম্পর্কিত স্বপ্ন দেখেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিলালকে আজান দেওয়ার নির্দেশ দেন। এটি আমাদের নিকট বকর বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনে ইসহাক থেকে; তিনি বলেন, মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন আল-হারিস তাঁর পিতা থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)।
দ্বিতীয় হিজরি সনআবওয়া-র যুদ্ধ (গাজওয়া)
এতে আবওয়া-র যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং এটিই ছিল প্রথম যুদ্ধ যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সশরীরে পরিচালনা করেন। আমাদের নিকট বকর বর্ণনা করেছেন (نا) ইবনে ইসহাক থেকে এবং ওয়াহব তাঁর পিতার সূত্রে ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বপ্রথম যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, তার জন্য তিনি দ্বিতীয় হিজরির সফর মাসের বারো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মদিনা থেকে বের হন এবং ওয়াদান পর্যন্ত পৌঁছেন। তিনি কুরাইশ ও বনু দামরাহ-র সম্মুখীন হতে চেয়েছিলেন। অতঃপর মাখশি বিন আমর আদ-দামরি তাঁর সাথে সন্ধি করেন। এটিই হলো আবওয়া-র যুদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ أَشْيَاخِهِ قَالَ خَرَجَ يَوْمَ الاثْنَيْنِ فِي صَفَرٍ وَرَجَعَ مُسْتَهِلٌّ شَهْرَ رَبِيعِ الأَوَّلِ وَهِيَ عَلَى أَرْبَعِ مَرَاحِلِ مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ
غَزْوَة بواط قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَفِيهَا غَزَا بُوَاطٍ مِنْ نَاحِيَةِ رَضْوَى فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الآخَرِ يَعْتَرِضُ عِيرَ قُرَيْشٍ فَلَمْ يَلْقَ كَيْدًا وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ خَرَجَ يَوْمَ الثُّلاثَاءِ لِثَلاثٍ خَلَوْنَ مِنْ شَهْرِ رَبِيعٍ الآخَرِ وَرَجَعَ لِعَشْرٍ وَهِيَ عَلَى ثَلاثِ مَرَاحِلٍ مِنَ الْمَدِينَةِ من طَرِيق الشَّامغَزْوَة الْعَشِيرَة قَالَ ابْنُ إِسْحَاقِ ثُمَّ غَزَا غَزْوَةَ الْعَشِيرَةِ فِي جُمَادَى الأُولَى فَلَمْ يَلْقَ كَيْدًا فَوَادَعَ بَنِي مُدْلِجٍ قَالَ عَلِيٌّ خَرَجَ لِمُسْتَهَلِّ جُمَادَى الأُولَى وَرَجَعَ لِخَمْسٍ بَقِينَ مِنْهُ
غَزْوَة سفوان قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ ثُمَّ خَرَجَ فِي طَلَبِ كُرْزِ بْنِ جَابِرٍ وَكَانَ أَغَارَ عَلَى سَرْحِ الْمَدِينَةِ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طَلَبِهِ حَتَّى بَلَغَ سَفَوَانَ مِنْ نَاحِيَةِ بَدْرٍ فِي جُمَادَى الآخِرَةِ وَرَجَعَ فِي رَجَبٍ وَلَمْ يَلْقَ كَيْدًا وَهِيَ غَزْوَة بدر الأولىغَزْوَة نَاحيَة جُهَيْنَة قَالَ عَلِيٌّ ثُمَّ غَزَا نَاحِيَةَ جُهَيْنَةَ يَوْمَ الثُّلاثَاءِ لِلنِّصْفِ مِنْ شعْبَان فَلم يلق كيدا
غَزْوَة بدر الْكُبْرَى قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَبَلَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ أَقْبَلَ مِنَ الشَّامِ فِي عِيرٍ لِقُرَيْشٍ فَخَرَجَ فِي طلبه
এবং আলি ইবনে মুহাম্মদ তাঁর শিক্ষকগণের (أشياخه) নিকট থেকে (عن) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফর মাসের সোমবার বের হয়েছিলেন এবং রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে ফিরে এসেছিলেন। এটি মদিনা থেকে মক্কার পথে চার মানজিল দূরে অবস্থিত।
বুওয়াত যুদ্ধ: ইবনে ইসহাক বলেন, রবিউস সানি মাসে তিনি কুরাইশদের একটি কাফেলার গতিরোধ করার জন্য ‘রাদওয়া’ অঞ্চলের বুওয়াত অভিমুখে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেন। তবে কোনো যুদ্ধের সম্মুখীন হতে হয়নি। আলি ইবনে মুহাম্মদ বলেন, তিনি রবিউস সানি মাসের তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মঙ্গলবার দিন বের হন এবং দশ তারিখে ফিরে আসেন। এটি মদিনা থেকে সিরিয়ার পথে তিন মানজিল দূরে অবস্থিত।আল-উশাইরাহ যুদ্ধ: ইবনে ইসহাক বলেন, এরপর তিনি জুমাদাল উলা মাসে আল-উশাইরাহ যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেন, কিন্তু কোনো সংঘাত ঘটেনি। সেখানে তিনি বনী মুদলিয গোত্রের সাথে সন্ধি করেন। আলি বলেন, তিনি জুমাদাল উলা মাসের শুরুতে বের হন এবং মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে ফিরে আসেন।
সাফাওয়ান যুদ্ধ: ইবনে ইসহাক বলেন, এরপর তিনি কুরজ ইবনে জাবিরের সন্ধানে বের হন, যে মদিনার চারণভূমির পশুর পালের ওপর হামলা চালিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সন্ধানে বের হয়ে জুমাদাল আখিরা মাসে বদর অঞ্চলের সাফাওয়ান পর্যন্ত পৌঁছান। এরপর তিনি রজব মাসে ফিরে আসেন এবং কোনো সংঘাত ঘটেনি। এটিই ছিল প্রথম বদর যুদ্ধ।জুহাইনা অঞ্চলের যুদ্ধ: আলি বলেন, এরপর তিনি শাবান মাসের মাঝামাঝি মঙ্গলবার দিন জুহাইনা অঞ্চলের উদ্দেশ্যে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেন, কিন্তু কোনো সংঘাত ঘটেনি।
মহা বদর যুদ্ধ: ইবনে ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, আবু সুফিয়ান কুরাইশদের একটি কাফেলা নিয়ে সিরিয়া থেকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে তিনি সেটির সন্ধানে বের হন।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ خَرَجَ فِي طَلَبِهِ يَوْمَ الأَرْبَعَاءِ لِثَلاثٍ خَلَوْنَ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ وَهِيَ غَزْوَةُ بَدْرٍ
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَحَدَّثَنِي أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ قَالَ كَانَتْ وَقْعَةُ بَدْرٍ الْجُمُعَةَ لِسَبْعَ عَشْرَةَ لَيْلَةً خَلَتْ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ نَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ مِثْلَ ذَلِكَ وَحَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ حُجَيْرٍ عَنْ عَلْقَمَةَ وَالأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ الْتَمِسُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ فِي تِسْعَ عَشْرَةَ أَوْ إِحْدَى وَعشْرين
قَالَ ونا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ قَالَ نَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ مَوْهِبٍ قَالَ سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ طَلْحَةَ قَالَ سُئِلَ أَبُو أَيُّوبَ عَنْ يَوْمِ بَدْرِ فَقَالَ إِنَّهُ لِسَبْعَ عَشْرَةَ أَوْ تِسْعَ عَشْرَةَ خَلَتْ أَوْ لِثَلاثَ عَشْرَةَ أَوْ إِحْدَى عَشَرَةْ بَقِيَتْ حَدثنِي خَليفَة قَالَ نَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ قَالَ نَا هُشَيْمٌ قَالَ نَا حُصَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ قَالَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ يَوْمَ تِسْعَ عَشْرَةَ خلت من شهر رَمَضَان
غَزْوَة الكدرقَالَ ابْن إِسْحَاق وَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ بَدْرٍ فِي آخِرِ شَهْرِ رَمَضَانَ وَيُقَالُ فِي أول شَوَّال فَأَقَامَ بِالْمَدِينَةِ ليَالِي ثُمَّ خَرَجَ بِنَفْسِهِ فَغَزَا بَنِي سليم فَبلغ مَاء يُقَالُ لَهُ الْكُدْرُ فَأَقَامَ ثَلاثَ لَيَالٍ ثُمَّ رَجَعَ وَلَمْ يَلْقَ كَيْدًا قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ اسْتَخْلَفَ فِيهَا مُحَمَّدَ بْنَ مَسْلَمَةَ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ خَرَجَ لِغُرَّةِ شَهْرِ شَوَّالٍ وَرَجَعَ لِعَشْرٍ خَلَوْنَ مِنْ شَوَّال
ইবনে ইসহাক বলেন, তিনি রমজান মাসের তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বুধবার এর সন্ধানে বের হন এবং এটিই ছিল বদরের যুদ্ধ।
ইবনে ইসহাক বলেন, আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আলী আমার কাছে বর্ণনা (حدثني) করেছেন, তিনি বলেন: বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল রমজান মাসের সতেরো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর জুমাবার দিনে। ইয়াজিদ ইবনে জুরাই আমাদের কাছে বর্ণনা (نا) করেছেন সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এবং আবু দাউদ আমাদের কাছে বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন, শু’বা আমাদের কাছে বর্ণনা (نا) করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি হুজাইর থেকে, তিনি আলকামা ও আসওয়াদ থেকে, তারা আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তোমরা লাইলাতুল কদর তালাশ করো যেদিন দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল, অর্থাৎ উনবিংশতি বা একবিংশতি রাতে।
তিনি বলেন, আবু নুআইম আল-ফজল ইবনে দুকাইন আমাদের কাছে বর্ণনা (نا) করেছেন, তিনি বলেন, আমর ইবনে উসমান ইবনে মাওহিব আমাদের কাছে বর্ণনা (نا) করেছেন, তিনি বলেন, আমি মুসা ইবনে তালহাকে বলতে শুনেছি যে, আবু আইয়ুবকে বদরের দিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি সতেরো বা উনিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর অথবা তেরো বা এগারো দিন অবশিষ্ট থাকতে সংঘটিত হয়েছিল। খলিফা আমার কাছে বর্ণনা (حدثني) করেছেন, তিনি বলেন, সুলাইমান ইবনে দাউদ আমাদের কাছে বর্ণনা (نا) করেছেন, তিনি বলেন, হুশাইম আমাদের কাছে বর্ণনা (না) করেছেন, তিনি বলেন, হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান আমাদের কাছে বর্ণনা (না) করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ থেকে, তিনি বলেন: রমজান মাসের উনিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল।
আল-কুদরের যুদ্ধইবনে ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজান মাসের শেষে বদর থেকে ফিরে আসেন, মতান্তরে শাওয়াল মাসের শুরুতে। এরপর তিনি মদিনায় কয়েক রাত অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি নিজেই বের হন এবং বনু সুলাইমের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি আল-কুদর নামক একটি জলাশয়ে পৌঁছান এবং সেখানে তিন রাত অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি ফিরে আসেন এবং কোনো প্রতিকূলতার সম্মুখীন হননি। ইবনে ইসহাক বলেন, তিনি এতে মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাকে স্থলাভিষিক্ত করেন। ইবনে ইসহাক বলেন, তিনি শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে বের হন এবং শাওয়াল মাসের দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ফিরে আসেন।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
غَزْوَة السَّوِيقِ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ خَرَجَ فِي ذِي الْحِجَّةِ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ فَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ وَيَزِيدُ بْنُ رُومَانَ أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ حِينَ رَجَعَ إِلَى مَكَّةَ وَرَجَعَ فَلُّ قُرَيْشٍ نَذَرَ أَلَّا يَمَسَّ رَأْسَهُ مَاءٌ مِنْ جَنَابَةٍ حَتَّى يَغْزُوَ مُحَمَّدًا فَخَرَجَ فِي مِائَتَيْ رَاكِبٍ مِنْ قُرَيْش وَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طَلَبِهِ حَتَّى بَلَغَ قَرْقَرَةِ الْكُدْرِ ثُمَّ انْصَرَفَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَرْجُو أَنْ تَكُونَ لَنَا غَزْوَةٌ قَالَ نَعَمْ قَالَ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ خَرَجَ يَوْمَ الأَحَدِ لِسَبْعٍ خَلَوْنَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ وَرَجَعَ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ لثمان بَقينَ مِنْهُ
تَسْمِيَةُ مَنِ اسْتُشْهِدَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ببدر
من بني الْمطلب مِنْ قُرَيْشٍ ثُمَّ مِنْ بَنِي الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيٍّ عُبَيْدَةُ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ الْمُطَّلِبِ قَتَلَهُ عُتْبَةُ بْنُ رَبِيعَةَ قطع رجله فَمَاتَ بالصفراءمن بيني زهرَة
وَمِنْ بَنِي زُهْرَةَ عُمَيْرُ بْنُ أبي وَقاص قَتَلَهُ عَمْرُو بْنُ عَبْدِ وُدٍّ وَذُو الشَّمَالَيْنِ بْنُ عَبْدِ عَمْرِو بْنِ نَضْلَةَ حَلِيفٌ لَهُمْ مِنْ خُزَاعَة قَتله أُسَامَة الْجُشَمِي
সউয়িক যুদ্ধ (غزوة)। ইবনে ইসহাক বলেন, তিনি জিলহজ মাসে (অভিযানে) বের হয়েছিলেন। ইবনে ইসহাক বলেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আল-জুবায়ের এবং ইয়াজিদ ইবনে রুমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) যে, আবু সুফিয়ান যখন মক্কায় ফিরে এলেন এবং কুরাইশদের পরাজিত বাহিনী ফিরে এল, তখন সে মানত করেছিল যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ (غزوة) না করা পর্যন্ত জানাবাত (جنابة) থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য তার মাথায় পানি স্পর্শ করবে না। ফলে সে কুরাইশদের দুইশ আরোহী নিয়ে বের হলো এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সন্ধানে বের হলেন যতক্ষণ না তিনি কারকারাতুল কুদুরে পৌঁছালেন, অতঃপর তিনি ফিরে এলেন। তারা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আশা করেন যে এটি আমাদের জন্য একটি যুদ্ধ (غزوة) হিসেবে গণ্য হবে?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, তিনি জিলহজ মাসের সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রোববার বের হয়েছিলেন এবং এর আট দিন অবশিষ্ট থাকতে সোমবার ফিরে এসেছিলেন।
বদর যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যারা শহীদ (شهيد) হয়েছিলেন তাদের নামসমূহ
কুরাইশদের বনু মুত্তালিব শাখা থেকে, অতঃপর বনু মুত্তালিব ইবনে আবদ মানাফ ইবনে কুসাই-এর বংশোদ্ভূত উবাইদাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে আল-মুত্তালিব; তাকে উতবাহ ইবনে রাবিয়াহ হত্যা করেছিল। সে তার পা কেটে ফেলেছিল, ফলে তিনি আস-সাফরা নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন।বনু জুহরাহ থেকে
এবং বনু জুহরাহ থেকে উমাইর ইবনে আবি ওয়াক্কাস; তাকে আমর ইবনে আবদ উদ হত্যা করেছিল। এবং যুন-শিমালাইন ইবনে আবদ আমর ইবনে নাদলাহ, যিনি খুজাআহ গোত্র থেকে তাদের মিত্র (حليف) ছিলেন; তাকে উসামাহ আল-জুশামি হত্যা করেছিল।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬০)
من بني عدي وَمِنْ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ عَاقِلُ بْنُ الْبُكَيْرِ حَلِيفٌ لَهُمْ مِنْ بَنِي لَيْثٍ قَتَلَهُ مَالِكُ بْنُ زُهَيْرٍ وَمِهْجَعٌ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَتَاهُ سَهْمٌ فَقَتَلَهُمن بني الْحَارِث وَمن بَنِي الْحَارِث بْن فِهْرٍ صَفْوَانُ بْنُ بَيْضَاءَ قَتَلَهُ طعيمة بن عدي
استشهاد أبي أنسة قَالَ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ دَاوُدَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ اسْتُشْهِدَ يَوْمَ بَدْرٍ أَبُو أَنَسَةَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلموَمِنَ الأَنْصَارِ مِنْ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ سَعْدُ بْنُ خُثَيْمَةَ قَتَلَهُ طُعَيْمَةُ بْنُ عَدِيٍّ وَيُقَالُ عَمْرُو بْنُ عَبْدِ وُدٍّ وَمُبَشِّرُ بْنُ عَبْدِ الْمُنْذِرِ زُبَيْرٍ قَتَلَهُ أَبُو ثَوْرٍ وَيَقُولُونَ زنبر
من بني الْخَزْرَج وَمِنْ بَنِي الْخَزْرَجِ يَزِيدُ بْنُ الْحَارِثِ الَّذِي يُقَالُ لَهُ ابْنُ فُسْحَمٍ قَتَلَهُ نَوْفَلُ بْنُ مُعَاوِيَةَمن بني سَلمَة وَمِنْ بَنِي سَلِمَةَ عُمَيْرُ بْنُ الْحُمَامِ قَتَلَهُ خَالِدُ بْن الأَعْلَمِ
من بني حبيب وَمِنْ بَنِي حَبِيبِ بْنِ عَبْدِ حَارِثَةَ رَافِعُ بْنُ الْمُعَلَّى قَتَلَهُ عِكْرِمَة بن أبي جهل
বনু আদি শাখা থেকে: বনু আদি ইবনে কাবের অন্তর্ভুক্ত আকিল ইবনুল বুকাইর, যিনি বনু লাইস গোত্র থেকে তাদের মিত্র (حليف) ছিলেন; তাকে মালিক ইবনে জুহাইর হত্যা করেন। এবং উমর ইবনুল খাত্তাবের আযাদকৃত দাস (مولى) মিহজা; একটি তীর এসে তাকে বিদ্ধ করে এবং তিনি নিহত হন।বনু আল-হারিস শাখা থেকে: বনু আল-হারিস ইবনে ফিহর গোত্রের সাফওয়ান ইবনে বায়দা; তাকে তুআইমা ইবনে আদি হত্যা করেন।
আবু আনাসাহ-র শাহাদাত: আলী ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন আবদুল আজিজ ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি দাউদ ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত দাস (مولى) আবু আনাসাহ বদরের যুদ্ধে শাহাদাতবরণ করেন।এবং আনসারদের মধ্য থেকে বনু আমর ইবনে আউফ গোত্রের সাদ ইবনে খুসাইমা; তাকে তুআইমা ইবনে আদি হত্যা করেন, মতান্তরে আমর ইবনে আবদ উদ। এবং মুবাশশির ইবনে আবদিল মুনজির জুবায়ের; তাকে আবু সাওর হত্যা করেন, এবং তারা তাকে জিনবার বলেন।
বনু খাজরাজ শাখা থেকে: বনু খাজরাজ গোত্রের ইয়াজিদ ইবনুল হারিস, যাকে ইবনে ফুসহাম বলা হতো; তাকে নাওফাল ইবনে মুআবিয়া হত্যা করেন।বনু সালিমা শাখা থেকে: বনু সালিমা গোত্রের উমাইর ইবনুল হুমাম; তাকে খালিদ ইবনুল আলাম হত্যা করেন।
বনু হাবিব শাখা থেকে: বনু হাবিব ইবনে আবদ হারিসা গোত্রের রাফি ইবনুল মুআল্লা; তাকে ইকরিমা ইবনে আবি জাহল হত্যা করেন।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬১)
من بني عدي وَمِنْ بَنِي عَدِيِّ بْنِ النَّجَّارِ حَارِثَةُ بْنُ سُرَاقَةَ بْنِ الْحَارِثِ قَتَلَهُ حِبَّانُ بْنُ الْعَرَقَةِ بِسَهْمٍ وَهُوَ يشرب من الْحَوْضمن بني مَالك وَمِنْ بَنِي مَالِكِ بْنِ النَّجَّارِ عَوْفٌ وَمُعَوِّذٌ ابْنَا عَفْرَاءَ عَفْرَاءُ أمهَا هما ابْنا الْحَارِث بن سَوَادٍ قَتَلَ مُعَوِّذًا أَبُو مُسَافِعٍ وجرح معَاذًا بن مَاعِصٍ أَحَدُ بَنِي زُرَيْقٍ فَمَاتَ من جراحته بِالْمَدِينَةِ
سَرِيَّة عُبَيْدَة إِلَى سيف الْبَحْر حَدثنَا خَليفَة قَالَ نَا بَكْرٌ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ وَوَهْبٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ قَالَ أَوَّلُ سَرِيَّةٍ بُعِثَ فِيهَا عُبَيْدَةُ بْنُ الْحَارِثِ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ فِي ثَمَانِينَ رَاكِبًا وَيُقَالُ سِتِّينَ مِنَ المهجرين لَيْسَ فِيهِمْ مِنَ الأَنْصَارِ أَحَدٌ فَبَلَغَ سَيْفَ الْبَحْرِ حَتَّى بَلَغَ أَحْيَا مَاء بِالْحِجَازِ بِأَسْفَلِ ثَنِيَّةِ الْمرة فلقي بهَا جمعا مِنْ قُرَيْشٍ وَلَمْ يَكُ بَيْنَهُمْ قِتَالٌ غَيْرَ أَنَّ سَعْدَ بْنَ مَالِكٍ رَمَى يَوْمَئِذٍ بِسَهْمٍ فَكَانَ أَوَّلَ سَهْمٍ رُمِيَ بِهِ فِي الإِسْلامِ وَانْصَرَفَ بَعْضُهُمْ عَنْ بَعْضٍ
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَهَرَبَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ يَوْمَئِذٍ إِلَى الْمُسْلِمِينَ الْمِقْدَادُ بْنُ عَمْرٍو حَلِيفُ بَنِي زُهْرَةَ وَعُتْبَةُ بْنُ غَزْوَانَ حَلِيفُ بَنِي نَوْفَلِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ وَكَانَا مُسلمين خرجا ليتوصلا بِالْمُسْلِمين وَكَانَا عَلَى الْمُشْرِكِينَ عِكْرِمَةُ بْنُ أَبِي جهل
বনী আদি থেকে এবং বনী আদি ইবনুন নাজ্জার থেকে হারিসাহ ইবনে সুরাকাহ ইবনুল হারিস; তাকে হিব্বান ইবনুল আরকাহ একটি তীরের আঘাতে হত্যা করেন যখন তিনি হাউজ থেকে পানি পান করছিলেন।বনী মালিক থেকে এবং বনী মালিক ইবনুন নাজ্জার থেকে আফরার দুই পুত্র আওফ ও মুআউউিজ; আফরা তাদের মাতার নাম, তারা উভয়ে হারিস ইবনে সাওয়াদের পুত্র। আবু মুসাফে' মুআউউিজকে হত্যা করেন এবং বনী জুরাইকের মুআয ইবনে মায়্যিস আহত হন, ফলে তিনি মদিনায় সেই জখমের কারণে মৃত্যুবরণ করেন।
সাইফুল বাহরের দিকে উবায়দাহর সারিইয়্যাহ (سرية); খলিফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, বকর ইবনে ইসহাক থেকে এবং ওয়াহাব তার পিতার সূত্রে ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا), তিনি বলেন: উবায়দাহ ইবনুল হারিসের নেতৃত্বে প্রেরিত প্রথম সারিইয়্যাহ (سرية) ছিল রবিউল আউয়াল মাসে। এতে আশিজন অথবা বলা হয় ষাটজন মুহাজির আরোহী ছিলেন, তাদের মধ্যে কোনো আনসার ছিলেন না। তিনি সাইফুল বাহর অভিমুখে যাত্রা করে হিজাজের একটি জলাশয়ের নিকট পৌঁছান, যা অবস্থিত ছিল নিম্নাঞ্চলে সানিয়্যাতুল মাররা নামক স্থানের। সেখানে কুরাইশদের একটি দলের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়, তবে তাদের মধ্যে কোনো যুদ্ধ হয়নি। তবে সাদ ইবনে মালিক সেদিন একটি তীর নিক্ষেপ করেছিলেন, যা ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নিক্ষিপ্ত তীর। এরপর তারা একে অপরের থেকে ফিরে যান।
ইবনে ইসহাক বলেন, সেদিন মুশরিকদের পক্ষ থেকে পালিয়ে মুসলিমদের সাথে এসে যোগ দেন বনী জুহরার মিত্র মিকদাদ ইবনে আমর এবং বনী নওফেল ইবনে আবদে মানাফের মিত্র উতবাহ ইবনে গাজওয়ান। তারা উভয়েই মুসলিম ছিলেন এবং মুসলিমদের সাথে মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্যেই বের হয়েছিলেন। আর মুশরিকদের নেতৃত্বে ছিলেন ইকরিমা ইবনে আবি জাহেল।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬২)
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ رَايَةُ عُبَيْدَةَ أَوَّلُ رَايَةٍ عَقَدَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الإِسْلامِ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَبَعْضُ الْعُلَمَاءِ يَزْعُمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيَّعَهُ حِينَ قَفَلَ مِنْ غَزْوَةِ الأَبْوَاءِ قبل أَن يصل إِلَى الْمَدِينَة
سَرِيَّة حَمْزَةَ إِلَى سَيْفِ الْبَحْرِ قَالَ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ أَوَّلُ سَرِيَّةٍ بعثها رَسُول صلى الله عليه وسلم حَمْزَة بن عبد الْمطلب فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ مِنْ سَنَةِ اثْنَتَيْنِ إِلَى سَيْفِ الْبَحْرِ من نَاحيَة بالعيص من أَرض جُهَيْنَةقَالَ
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فِي ثَلاثِينَ رَاكِبًا مِنَ الْمُهَاجِرِينَ إِلَى سَيْفِ الْبَحْرِ فَلَقِيَ أَبَا جَهْلٍ فِي ثَلاثِ مِائَةِ رَاكِبٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَحَجَزَ بَيْنَهُمْ مَجْدِيَّ بْنَ عَمْرٍو الْجُهَنِيَّ وَكَانَ مُوَادِعًا لِلْفَرِيقَيْنِ وَانْصَرَفُوا وَلَمْ يَكُ بَيْنَهُمْ قِتَالٌ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَبَعْضُ النَّاسِ يَزْعُمُونَ أَنَّ رَايَةَ حَمْزَةَ أَوَّلُ رَايَةٍ عَقَدَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْمُنَخَّلِ قَالَ حَدَّثَنِي رَجُلٌ عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَالِ عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ أَوَّلُ لِوَاءٍ عَقَدَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لعبد الله بْنِ جَحْشٍ حَلِيفِ بَنِي أُمَيَّةَ
سَرِيَّةُ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ ثُمَّ سَرِيَّةُ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ فِي ثَمَانِيَةِ رَهْطٍ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ فَخَرَجَ حَتَّى أَتَى الْخَرَّارَ مِنْ أَرْضِ الْحِجَازِ فَلَمْ يَلْقَ كَيْدًا قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَبعث
ইবনে ইসহাক বলেন, উবায়দাহর পতাকা (راية) ছিল প্রথম পতাকা যা রাসূলুল্লাহ (সা.) ইসলামে বেঁধেছিলেন। ইবনে ইসহাক আরও বলেন, কিছু আলিম মনে করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় পৌঁছানোর পূর্বে আবওয়া যুদ্ধ (غزوة) থেকে ফেরার সময় তাঁকে বিদায় জানিয়েছিলেন।
সমুদ্র উপকূলে হামজাহর অভিযান (سرية): আলী বিন মুহাম্মদ বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রেরিত প্রথম অভিযান (سرية) ছিল দ্বিতীয় হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে জুহাইনা অঞ্চলের আল-ঈস সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলে হামজাহ বিন আব্দুল মুত্তালিবের নেতৃত্বে।তিনি বলেন
ইবনে ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ত্রিশ জন মুহাজির আরোহীসহ হামজাহ বিন আব্দুল মুত্তালিবকে সমুদ্র উপকূলে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কুরাইশদের তিনশ আরোহীর সাথে থাকা আবু জাহেলের মুখোমুখি হন। তখন মাকদি বিন আমর আল-জুহানি তাদের মাঝে মধ্যস্থতা করেন, যিনি উভয় পক্ষের সাথেই সন্ধিবদ্ধ ছিলেন; ফলে তারা যুদ্ধ ছাড়াই ফিরে যান। ইবনে ইসহাক বলেন, কিছু লোক মনে করেন যে, হামজাহর পতাকাই (راية) ছিল প্রথম পতাকা যা রাসূলুল্লাহ (সা.) বেঁধেছিলেন।
আমর বিন আল-মুনাহখাল আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বনু উমাইয়ার মিত্র আব্দুল্লাহ বিন জাহশের জন্য প্রথম পতাকা (لواء) বেঁধেছিলেন।
সা'দ বিন মালিকের অভিযান (سرية): ইবনে ইসহাক বলেন, অতঃপর আট জন মুহাজিরের একটি দলের সাথে সা'দ বিন মালিকের অভিযান (سرية) পরিচালিত হয়। তিনি হিজাজ অঞ্চলের আল-খাররার পর্যন্ত পৌঁছান, কিন্তু কোনো যুদ্ধের সম্মুখীন হননি। ইবনে ইসহাক বলেন, এবং তিনি প্রেরণ করেন
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
فِي مَغْزَاهُ مِنْ بَدْرٍ الأُولَى فِي رَجَب عبد الله بْنَ جَحْشِ بْنِ رِئَابٍ فِي ثَمَانِيَةٍ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ إِلَى نَخْلَةٍ فَمَرَّتْ بِهِ عِيرٌ لِقُرَيْشٍ فِيهَا عَمْرُو بْنُ الْحَضْرَمِيِّ وَأَسَرَ عُثْمَانَ ابْن عبد الله بْنِ الْمُغِيرَةِ وَالْحَكَمَ بْنَ كَيْسَانَ مَوْلَى هِشَامِ بْنِ الْمُغِيرَةِ وَذَلِكَ فِي آخِرِ رَجَبٍ فَأَقَامَ الْحَكَمُ عَندَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى قُتِلَ بِبِئْرِ مَعُونَة وفدي عُثْمَان بن عبد الله بن الْمُغيرَة وَقَالَ عبد الله بْنُ جَحْشٍ إِنَّ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا غَنِمْتُمُ الْخُمُسَ وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يَفْرِضَ اللَّهُ الْخُمُسَ فَعَزَلَ لِرَسُولِ الله خمس العير وَقسم سائرا بَيْنَ أَصْحَابِهِ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَالْحَدِيثُ فِي هَذَا عَنِ الزُّهْرِيِّ وَيزِيد ين رُومَانَ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ
بعث عبد الله بْنِ غَالِبٍ اللَّيْثِيِّ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَبْدَ اللَّهِ بْنَ غَالِبٍ اللَّيْثِيَّ فِي شَوَّالٍقَالَ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ بَعَثَهُ لِعَشْرٍ خَلَوْنَ مِنْ شَوَّالٍ وَرَجَعَ لست عشرَة خلت مِنْهُ
تجسس خبر عير أبي سُفْيَانقَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ وَسَعِيدَ بْنَ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ يَتَجَسَّسَانِ خَبَرَ الْعِيرِ وَبَعَثَ بَسْبَسَ بْنَ عَمْرٍو وَعَدِيَّ بْنَ أَبِي الزَّغْبَاءِ لِيَعْلَمَا خَبَرَ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ حَرْبٍ
صَرْفُ الْقِبْلَةِ إِلَى الْكَعْبَةِ وَفِي هَذِهِ السَّنَةِ وَهِيَ سَنَةُ اثْنَتَيْنِ صُرِفَتِ الْقِبْلَةُ يَقُولُ اللَّهُ لِنَبِيِّهِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم
রজব মাসে প্রথম বদর (বদরুল উলা) অভিযান থেকে ফিরে আসার পর, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ ইবনে রিয়াবকে আটজন মুহাজিরের সাথে নাখলাহ অভিমুখে প্রেরণ করেন। এমতাবস্থায় তাদের সম্মুখ দিয়ে কুরাইশদের একটি বাণিজ্যিক কাফেলা অতিক্রম করছিল যাতে আমর ইবনুল হাদরামি ছিল। তারা উসমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল মুগিরা এবং হিশাম ইবনুল মুগিরার মুক্তদাস হাকাম ইবনে কায়সানকে বন্দী করেন। এটি ছিল রজব মাসের শেষ দিকের ঘটনা। অতঃপর হাকাম রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট অবস্থান করেন এবং অবশেষে বি’রে মাউনায় শহীদ হন। আর উসমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল মুগিরাকে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত করা হয়। আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ বললেন, "তোমরা যে গনিমত লাভ করেছ তা থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্য এক-পঞ্চমাংশ বরাদ্দ থাকবে।" এটি আল্লাহ তাআলা কর্তৃক এক-পঞ্চমাংশ ফরয করার পূর্বের ঘটনা। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্য কাফেলার মালের এক-পঞ্চমাংশ পৃথক করে রাখলেন এবং অবশিষ্ট অংশ তাঁর সঙ্গীদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। ইবনে ইসহাক বলেন, এ বিষয়ক হাদিসটি যুহরি এবং ইয়াজিদ ইবনে রুমান হতে উরওয়া ইবনুল জুবায়েরের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনে গালিব আল-লায়সির অভিযান: ইবনে ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ শাওয়াল মাসে আবদুল্লাহ ইবনে গালিব আল-লায়সিকে প্রেরণ করেন।আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, তিনি তাঁকে শাওয়ালের দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর প্রেরণ করেন এবং তিনি ষোলো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ফিরে আসেন।
আবু সুফিয়ানের কাফেলার সংবাদ অনুসন্ধানইবনে ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ এবং সাঈদ ইবনে জায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েলকে কাফেলার সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করেন। এছাড়াও তিনি বাসবাস ইবনে আমর এবং আদি ইবনে আবি আল-যাগবাকে আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের সংবাদ জানার জন্য পাঠান।
কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তন: আর এই বছর অর্থাৎ দ্বিতীয় হিজরি সনে কিবলা পরিবর্তিত হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ ﷺ-কে বলেন:
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجهك شطر الْمَسْجِد الْحَرَام
قَالَ ونا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نَا الْمَسْعُودِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ بَعْدَ قُدُومِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا فَأَنْزَلَ اللَّهُ قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً ترضاها وَحَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ صلى الله عليه وسلم إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا بَعْدَ قُدُومِهِ الْمَدِينَةَ نَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ مثله قَالَ وَسَمِعْتُ عَبْدَ الْوَهَّابِ بْنَ عَبْدِ الْمَجِيدِ يَقُولُ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمسيب يَقُول صلى الله عليه وسلم نَحْوَ بَيت الْمُقَدّس سنة عشر شهرا وحول قبْلَة بَدْرٍ بِشَهْرَيْنِ نَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ قَالَ نَا عُثْمَانُ بْنُ سَعْدٍ الْكَاتِبُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ صَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَن بَيْتِ الْمَقْدِسِ بَعْدَ تِسْعَةِ أَشْهُرٍ أَوْ عَشَرَةِ بَيْنَا هُوَ يُصَلِّي الظّهْر بِالْمَدِينَةِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ انْصَرَفَ بِوَجْهِهِ إِلَى الْكَعْبَةِ فَقَالَ السُّفَهَاءُ مَا وَلاهُمْ عَنْ قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا نَا أَبُو الْوَلِيدِ عَنْ زَائِدَةَ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ بَعْدَ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا حَدَّثَنَا بَكْرٌ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ وَوَهْبٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ قَالَ صُرِفَتِ الْقِبْلَةُ فِي رَجَبٍ بَعْدَ سَبْعَةَ عَشَرَ شهرا بعد قدومه
আমি অবশ্যই আপনার আকাশের দিকে বারবার মুখ ফিরানো লক্ষ্য করছি। অতএব আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। সুতরাং আপনি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরান।
তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু দাউদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আল-মাসউদী, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় আগমনের পর ষোলো মাস পর্যন্ত বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: "আমি অবশ্যই আপনার আকাশের দিকে বারবার মুখ ফিরানো লক্ষ্য করছি। অতএব আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন।" এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু দাউদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) শু'বাহ, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় আগমনের পর ষোলো মাস পর্যন্ত বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইয়াজিদ ইবনে জুরাই', তিনি সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল মাজীদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনে আল-মুসায়্যিবকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ষোলো মাস বায়তুল মাকদিসের দিকে সালাত আদায় করেছেন এবং বদর যুদ্ধের দুই মাস পূর্বে কিবলা পরিবর্তিত হয়। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যাহহাক ইবনে মাখলাদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) উসমান ইবনে সাদ আল-কাতিব, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) নয় মাস বা দশ মাস পর বায়তুল মাকদিস থেকে কিবলা পরিবর্তন করেন। তিনি যখন মদিনায় জোহরের সালাত আদায় করছিলেন, বায়তুল মাকদিসের দিকে দুই রাকাত আদায়ের পর তিনি কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তখন নির্বোধরা বলল, "তাদের কিবলা থেকে কিসে তাদের ফিরিয়ে দিল যার ওপর তারা ছিল?" আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবুল ওয়ালিদ, তিনি যায়িদাহ থেকে, তিনি সিমাক থেকে, তিনি ইকরামা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে ষোলো মাস হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) বকর, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে এবং ওয়াহাব তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হিজরতের সতের মাস পর রজব মাসে কিবলা পরিবর্তিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ أَشْعَثَ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ صلى الله عليه وسلم سَنَتَيْنِ نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثُمَّ أُمِرَ بِالْقِبْلَةِ وَفِيهَا ابْتَنَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَائِشَةَ أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ قَالَ نَا سُفْيَانُ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَوَّالٍ وَابْتَنَى بِي فِي شَوَّالٍ وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي زَكَرِيَّا الْعَجْلانِيِّ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عبد الله قَالَ ابتي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَائِشَةَ بَعْدَ رُجُوعِهِ مِنْ بَدْرٍ وَفِي هَذِهِ السَّنَةِ وُلِدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ وَهُوَ اول مولولد مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَفِيهَا وُلِدَ النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرِ بْنِ سَعْدٍ وَفِيهَا مَاتَتْ رُقَيَّةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ مَاتَتْ رُقَيَّةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ جَاءَ خَبَرُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ يَوْمَ بَدْرٍ وَفِيهَا تَزَوَّجَ عَلِيٌّ بِفَاطِمَةَ وَفِيهَا أُنْزِلَتْ فَرِيضَةُ شَهْرِ رَمَضَانَ وفيهَا مَاتَ عُثْمَان ابْن مَظْعُون سنة ثَلَاث عزوة ذِي أَمْرٍ ثُمَّ غَزْوَةُ بَحْرَانَ
حَدَّثَنَا بَكْرٌ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ وَوَهْبٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ قَالَ رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عزوة السَّوِيقِ فَأَقَامَ بِالْمَدِينَةِ بَقِيَّةَ ذِي الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمَ أَوْ قَرِيبًا مِنْهُ ثُمَّ غَزَا نَجْدًا يُرِيدُ غَطَفَانَ وَهِيَ غَزْوَةُ ذِي أَمْرٍ حَتَّى دَخَلَ صَفَرٌ ثُمَّ رَجَعَ وَلَمْ يَلْقَ كَيْدًا ثُمَّ غَزَا فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ يُرِيدُ قُرَيْشًا وَبَنِي سُلَيْمٍ حَتَّى بَلَغَ بَحْرَانَ
ইবনে আবি আদি আশআছ থেকে এবং তিনি হাসান থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: [রাসূলুল্লাহ] সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই বছর বায়তুল মাকদিসের অভিমুখে [সালাত আদায় করেন], অতঃপর তাকে কিবলার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই বছরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়িশার সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। ওকি‘ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইসমাইল ইবনে উমাইয়্যাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়িশা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাওয়াল মাসে আমাকে বিবাহ করেন এবং শাওয়াল মাসেই আমার সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। আলি ইবনে মুহাম্মদ আবু জাকারিয়া আল-আজলানি থেকে, তিনি আবু জুবায়ের থেকে এবং তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: বদর যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়িশার সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। এই বছরেই আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ছিলেন মুহাজিরদের মধ্যে প্রথম নবজাতক। এই বছরই নুমান ইবনে বশির ইবনে সাদ জন্মগ্রহণ করেন এবং এই বছরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা রুকাইয়াহ ইন্তেকাল করেন। ইবনে ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদ এবং বদরের দিন আল্লাহ তাঁকে যে বিজয় দান করেছিলেন সেই খবর পৌঁছানোর সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা রুকাইয়াহ ইন্তেকাল করেন। এই বছরেই আলি ফাতিমাকে বিবাহ করেন এবং এই বছরেই রমজান মাসের বিধান ফরজ (فريضة) হিসেবে অবতীর্ণ হয়। এই বছরেই উসমান ইবনে মাজউন ইন্তেকাল করেন। তৃতীয় হিজরি সনে যি আমর অভিযান এবং অতঃপর বাহরান অভিযান সংঘটিত হয়।
বকর ইবনে ইসহাক থেকে এবং ওয়াহাব তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাউইক অভিযান থেকে ফিরে জিলহজ মাসের অবশিষ্টাংশ এবং মহররম মাস বা এর কাছাকাছি সময় মদীনায় অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি নজদে গাতাফান গোত্রকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করেন; এটিই যি আমর অভিযান। সফর মাস শুরু হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন এবং অতঃপর ফিরে আসেন; সেখানে তিনি কোনো শত্রুতার সম্মুখীন হননি। এরপর তিনি রবিউল আউয়াল মাসে কুরাইশ ও বনু সুলাইম গোত্রকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করেন এবং বাহরান পর্যন্ত পৌঁছান।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
مَعْدَنٍ بِالْحِجَازِ مِنْ نَاحِيَةِ الْفُرُعِ فَأَقَامَ حَتَّى مَضَى جُمَادَى الأُولَى وَرجع وَلم يلق كيدا
حصل بَنِي قَيْنُقَاعَ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَكَانَ فِيمَا بَيْنَ ذَلِكَ مِنْ غَزَوَاتِهِ أَمْرُ بَنِي قَيْنُقَاعَ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ فَحَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ أَنَّ بَنِي قَيْنُقَاعَ كَانُوا أَوَّلَ يَهُودٍ نَقَضُوا مَا بَينهم وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا بَيْنَ بَدْرٍ وَأُحُدٍ فَحَاصَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى نَزَلُوا عَلَى حُكْمِهِ فَوَهَبَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيِّ بْنِ سَلُولٍ
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي أَبِي إِسْحَاقَ بْنُ يَسَارٍ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ لَمَّا حَارَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَنِي قَيْنُقَاعَ تَشَبَّثَ بِأَمْرِهِمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ أُبَيِّ بْنِ سَلُولٍ وَلَهُمْ حَدِيثٌ يَطُولُ ذِكْرُهُ
وَفِي هَذِهِ السَّنَةِ تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَيْنَبَ بِنْتَ خُزَيْمَةَ مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ وَهِيَ أُمُّ الْمَسَاكِينِ فِي رَمَضَانَ فَعَاشَتْ عَنْدَهُ شَهْرَيْنِ أَوْ ثَلاثَةً وَفِيهَا تَزَوَّجَ حَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ فِي شَعْبَانَ
وَفِيهَا تَزَوَّجَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ أَمَّ كُلْثُومِ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِيهَا وُلِدَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالب
হিজাজের ফুরু’ পার্শ্ববর্তী একটি খনি এলাকায়; তিনি সেখানে জুমাদাল উলা মাস অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করলেন এবং ফিরে আসলেন; তিনি কোনো যুদ্ধের সম্মুখীন হননি।
বনু কাইনুকার ঘটনা। ইবনে ইসহাক বলেন, এই সময়ের মধ্যে তাঁর পরিচালিত যুদ্ধগুলোর অন্যতম ছিল বনু কাইনুকার বিষয়। ইবনে ইসহাক বলেন, আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, বদর ও উহুদের মধ্যবর্তী সময়ে বনু কাইনুকা ছিল ইহুদিদের মধ্যে প্রথম যারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গ করেছিল। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের অবরোধ করলেন যতক্ষণ না তারা তাঁর ফয়সালা মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করল। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুলের জিম্মায় ছেড়ে দিলেন।
ইবনে ইসহাক বলেন, আমার পিতা ইসহাক ইবনে ইয়াসার উবাদাহ ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে উবাদাহ ইবনে সামিত থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনু কাইনুকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন, তখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুল তাদের পক্ষ নিয়ে নাছোড়বান্দা হলেন। আর তাদের বিষয়ে দীর্ঘ একটি হাদিস রয়েছে।
আর এই বছরেই রমজান মাসে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনু আমির ইবনে সা’সা’ গোত্রের জয়নব বিনতে খুজাইমাকে বিবাহ করেন; তিনি ‘উম্মুল মাসাকিন’ (মিসকিনদের মাতা) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি তাঁর নিকট মাত্র দুই বা তিন মাস জীবিত ছিলেন। আর এই বছরেই শাবান মাসে তিনি উমরের কন্যা হাফসাকে বিবাহ করেন।
এই বছরেই উসমান ইবনে আফফান আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে বিবাহ করেন এবং এই বছরেই আলী ইবনে আবি তালিবের পুত্র হাসান জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
غَزْوَة أُحُدٍحَدَّثَنَا بَكْرٌ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ وَوَهْبٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَيَزِيدُ ابْن رُومَانَ وَغَيْرُهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَشِيَّةَ الْجُمُعَةِ لِأَرْبَعَ عَشْرَةَ لَيْلَةٍ خَلَتْ مِنْ شَوَّالٍ وَكَانَتِ الْوَقْعَةُ يَوْمَ السَّبْتِ لِلنِّصْفِ مِنْ شَوَّالٍ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَيْفٍ عَنْ سَلامِ بْنِ أَبِي مُطِيعٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ كَانَتْ رَايَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ مِرْطًا مُرَحَّلا أَسْوَدَ مِنْ مَرَاحِلٍ كَانَ لِعَائِشَةَ وَرَايَةُ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهَا الْعُقَابُ وَعَلَى مَيْمَنَتِهِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَعَلَى الْمَيْسَرَةِ الْمُنْذِرُ بْنُ عَمْرٍو السَّاعِدِيُّ وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ عَلَى الرِّجَالِ وَيُقَالُ الْمِقْدَادُ وَحَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَى الْقَلْبِ وَعَلَى الرُّمَاةِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جُبَيْرٍ الأَنْصَارِيُّ وَمَعَهُ سَعْدُ بْنُ مَالِكٍ وَاللِّوَاءُ مَعَ مُصْعَبِ بْنِ عُمَيْرٍ أَخِي بَنِي عَبْدِ الدَّارِ بْنِ قُصَيٍّ فَقُتِلَ فَأَعْطَاهُ نَبِيُّ اللَّهِ عَلِيًّا وَيُقَالُ كَانَتْ لَهُ ثَلاثَةُ أَلْوِيَةٍ لِوَاءُ الْمُهَاجِرِينَ إِلَى مُصْعَبِ بْنِ عُمَيْرٍ وَلِوَاءٌ إِلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَالْمُنْذِرِ بْنِ عَمْرٍو جَمِيعًا مَعَ الأَنْصَارِ وَلِوَاءُ قُرَيْشٍ مَعَ طَلْحَةَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى فَقَتَلَهُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَأَخَذَ اللِّوَاءَ أَبُو سَعْدِ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى فَقَتَلَهُ سَعْدُ بْنُ مَالِكٍ فَأَخَذَهُ عُثْمَانُ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ فَقَتَلَهُ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَأَخَذَهُ مُسَافِعُ بْنُ طَلْحَةَ فَقَتَلَهُ عَاصِمُ بْنُ ثَابِتِ بْنِ أَبِي الأَقْلَحِ فَأَخَذَهُ الْجُلاسُ بْنُ طَلْحَةَ فَقَتَلَهُ عَاصِمُ بن ثَابت ايضا
ওহুদ যুদ্ধবকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি ইবনে ইসহাক থেকে (عن); এবং ওয়াহব তাঁর পিতা থেকে (عن), তিনি ইবনে ইসহাক থেকে (عن), তিনি যুহরী থেকে (عن) ও ইয়াজিদ ইবনে রুমান এবং অন্য আরও অনেকের থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাওয়াল মাসের চৌদ্দ রাত অতিবাহিত হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় (যুদ্ধের উদ্দেশ্যে) বের হন এবং শাওয়ালের মাঝামাঝি সময়ে শনিবার এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি সাইফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি সালাম ইবনে আবি মুতী’ থেকে (عن), তিনি কাতাদা থেকে (عن), তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে (عن) বর্ণনা করেন যে, ওহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঝাণ্ডা ছিল আয়েশার (রাযি.) একটি কারুকার্যখচিত কালো পশমী চাদর, আর আনসারদের পতাকাকে বলা হতো 'আল-উকাব'। তাঁর দক্ষিণ পার্শ্বে ছিলেন আলী ইবনে আবি তালিব এবং বাম পার্শ্বে ছিলেন মুনজির ইবনে আমর আস-সাঈদী। পদাতিক বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন যুবাইর ইবনুল আওয়াম, মতান্তরে মিকদাদ। বাহিনীর মূল কেন্দ্রে (কালব) ছিলেন হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব এবং তীরন্দাজদের নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের আল-আনসারী, তাঁর সাথে ছিলেন সাদ ইবনে মালিক। প্রধান পতাকা (লিওয়া) ছিল বনু আবদুদ দার ইবনে কুসাই গোত্রের মুসআব ইবনে উমায়েরের হাতে; তিনি শহীদ হলে আল্লাহর নবী তা আলীকে প্রদান করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর তিনটি পতাকা ছিল: মুহাজিরদের পতাকা মুসআব ইবনে উমায়েরের নিকট, একটি পতাকা আলী ইবনে আবি তালিব ও মুনজির ইবনে আমরের নিকট আনসারদের সাথে সম্মিলিতভাবে এবং কুরাইশদের পতাকা ছিল তালহা ইবনে আবি তালহা ইবনে আব্দুল উযযা-র নিকট; আলী ইবনে আবি তালিব তাকে হত্যা করেন। এরপর পতাকা তুলে নেয় আবু সা’দ ইবনে আবি তালহা ইবনে আব্দুল উযযা; সাদ ইবনে মালিক তাকে হত্যা করেন। অতঃপর উসমান ইবনে আবি তালহা তা ধরলে হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব তাকে হত্যা করেন। এরপর মুসাফি ইবনে তালহা তা গ্রহণ করলে আসিম ইবনে সাবিত ইবনে আবিল আকলাহ তাকে হত্যা করেন। সবশেষে জুলাইস ইবনে তালহা পতাকাটি তুলে নিলে আসিম ইবনে সাবিত তাকেও হত্যা করেন।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
وَكِلابُ بْنُ طَلْحَةَ وَالْحَارِثُ بْنُ طَلْحَةَ قَتَلَهُمَا قُزْمَانُ حَلِيفُ بَنِي ظَفَرٍ وَأَرْطَاةُ بْنُ عَبْدِ شُرَحْبِيلِ بْنِ هَاشِمِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ عَبْدِ الدَّارِ قَتَلَهُ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ وَأَبُو يَزِيدَ بْنِ عُمَيْرِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ عَبْدِ الدَّارِ قَتَلَهُ قُزْمَانُ وَصُؤَابٌ عَبْدٌ لَهُمْ حَبَشِيٌّ قَتَلَهُ قُزْمَانُ
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ فَبَقِيَ اللِّوَاءُ مَا يَأْخُذُهُ أَحَدٌ وَكَانَتِ الْهَزِيمَةُ عَلَى قُرَيْشٍ فَحَدَّثَنَا بَكْرٌ عَنِ ابْنُ إِسْحَاقَ وَوَهْبٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاق قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ عَنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ هِنْدًا وصوحباتها مُشَمِّرَاتٍ هَوَارِبَ مَا دُونَ أَخْذِهِنَّ قَلِيلٌ وَلا كَثِيرٌ حَتَّى رَأَيْتُ خَدَمًا بِسَاقِيهَا إِذْ مَالَتِ الرُّمَاةُ إِلَى الْعَسْكَرِ حِينَ كَشَفْنَا الْقَوْمَ عَنْهُ يُرِيدُونَ النَّهْبَ وَخَلَّوْا ظُهُورَنَا لِلْخَيْلِ وَأَتَيْنَا مِنْ أَدْبَارِنَا وَصَرَخَ صَارِخٌ أَلا إِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ قُتِلَ فَانْكَفَأْنَا وَانْكَفَأَ عَلَيْنَا الْقَوْمُ بَعْدَ أَنْ أَصَبْنَا أَصْحَابِ اللِّوَاءِ حَتَّى مَا يَدْنُو مِنْهُ أَحَدٌ مِنَ الْقَوْمِ
تَسْمِيَةُ مَنِ اسْتُشْهِدَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍمِنْ بني هَاشم مِنْ بَنِي هَاشِمِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيٍّ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَتَلَهُ وَحْشِيٌّ غُلامُ جُبَير بن مطعم
من بني أُميَّة وَمِنْ بَنِي أُمَيَّةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ جَحْشِ بن رِئَاب حليل لَهُمْ مِنْ بَنِي أَسَدِ بْنِ خُزَيْمَة
কিলাব ইবনে তালহা এবং আল-হারিস ইবনে তালহা, তাদের উভয়কে বনু জাফরের মিত্র (حليف) কুজমান হত্যা করেছে। আর আরতাহ ইবনে আবদ শুরাহবিল ইবনে হাশিম ইবনে আবদ মানাফ ইবনে আবদ আদ-দারকে মুসআব ইবনে উমাইর হত্যা করেছে। আবু ইয়াজিদ ইবনে উমাইর ইবনে আবদ মানাফ ইবনে আবদ আদ-দারকে কুজমান হত্যা করেছে। আর সুয়াব, যিনি তাদের একজন হাবশি গোলাম ছিলেন, তাকেও কুজমান হত্যা করেছে।
ইবনে ইসহাক বলেন, এরপর পতাকাটি (পড়ে) রইল, কেউ তা গ্রহণ করছিল না এবং কুরাইশদের পরাজয় শুরু হয়েছিল। বকর আমাদের নিকট ইবনে ইসহাক থেকে এবং ওয়াহব তাঁর পিতা থেকে তিনি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন (حدثنا)। তিনি (ইবনে ইসহাক) বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আজ-জুবাইর তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আজ-জুবাইর থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনে আজ-জুবাইর) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি হিন্দ এবং তাঁর সঙ্গিনীদের কাপড় গুটিয়ে পালিয়ে যেতে দেখেছি, তাদের পাকড়াও করার পথে কোনো বাধাই ছিল না। এমনকি আমি তাদের পায়ের গোড়ালি দেখতে পাচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় তীরন্দাজরা যখন আমরা শত্রুপক্ষকে হটিয়ে দেওয়ার পর গনিমতের মালামাল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সেনাছাউনির দিকে ঝুঁকে পড়ল এবং আমাদের পেছন দিকটি অশ্বারোহী বাহিনীর জন্য উন্মুক্ত করে দিল, তখন আমাদের পেছন দিক থেকে আক্রমণ করা হলো। জনৈক ঘোষক চিৎকার করে বলল, 'সাবধান! মুহাম্মদ নিহত হয়েছেন।' তখন আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লাম এবং শত্রুপক্ষ আমাদের ওপর চড়াও হলো। অথচ আমরা পতাকাবাহীদের এমনভাবে পর্যুদস্ত করেছিলাম যে তখন তাদের কাছে কেউ ভিড়তে পারছিল না।
উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যারা শাহাদাত (استشهد) বরণ করেছেন তাদের নামবনু হাশিম থেকে: বনু হাশিম ইবনে আবদ মানাফ ইবনে কুসাই গোত্রের হামজাহ ইবনে আবদ আল-মুত্তালিব, যাকে জুবাইর ইবনে মুতইমের গোলাম ওয়াহশি হত্যা করেছে।
বনু উমাইয়া থেকে: এবং বনু উমাইয়া ইবনে আবদ শামস থেকে আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ ইবনে রিয়াব, যিনি বনু আসাদ ইবনে খুজাইমা গোত্র থেকে তাদের মিত্র (حليف) ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
من بني عبد الدَّار وَمِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرِ بْنِ هَاشِمٍ قَتَلَهُ ابْن قمئة اللَّيْثِيّمن بني مَخْزُوم وَمن بني مَخْزُوم شَمَّاسُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ الشَّرِيدِ من الْأَنْصَار وَمِنَ الأَنْصَارِ ثُمَّ مِنْ بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ عَمْرُو بْنُ مُعَاذِ بن النُّعْمَان والْحَارث ابْن أَنَسِ بْنِ رَافِعٍ وَعُمَارَةُ بْنُ زِيَادِ بْنِ السَّكَنِ وَسَلَمَةُ بْنُ ثَابِتِ بْنِ وَقْشٍ وَعَمْرُو بْنُ ثَابت بن وقش قَالَ إِسْحَاقَ وَقَدْ زَعَمَ لي عَاصِمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ أَنَّ أَبَاهُمَا ثَابِتًا قُتِلَ يَوْمَئِذٍ وَرِفَاعَةُ بْنُ وَقْشٍ وَحُسَيْلُ بْنُ جَابِرٍ وَهُوَ الْيَمَانُ أَبُو حُذَيْفَةَ أَصَابَهُ الْمُسْلِمُونَ فِي الْمَعْرَكَةِ وَلا يَدْرُونَ فَتَصَدَّقَ حُذَيْفَةُ بِدِيَتِهِ عَلَى مَنْ أَصَابَهُ وَصَيْفِيُّ بْنُ قَيْظِيٍّ وَحُبَابُ بْنُ قَيْظِيٍّ وَعَبَّادُ بْنُ سَهْلٍ وَالْحَارِثُ بْنُ أَوْسِ بْنِ مُعَاذٍ اثْنَا عشر رجلا
من بني ظفر وَمِنْ بَنِي ظَفَرٍ يَزِيدُ بْنُ حَاطِبِ بْنِ أُمَيَّةَ بْنِ رَافِعٍ رجلمن راتج وَمِنْ أَهْلِ رَاتِجٍ إِيَاسُ بْنُ أَوْسِ بْنِ عَتِيكِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى بْنِ زَعُورَاءَ ابْن جُشْمِ بْنِ عَبْدِ الأَشْهَلِ وَعُبَيْدُ بْنُ التَّيِّهَانِ وَحَبِيبُ بْنُ زَيْدِ بن تَمِيم ثَلَاثَة نفر
বনী আবদুদ্দার থেকে; এবং বনী আবদুদ্দার থেকে ছিলেন মুসআব ইবন উমাইর ইবন হাশিম, যাকে ইবন কামিআহ আল-লাইসি হত্যা করেছিল।বনী মাখজুম থেকে; এবং বনী মাখজুম থেকে ছিলেন শাম্মাস ইবন উসমান ইবন আশ-শারীদ। আনসারদের মধ্য থেকে; এবং আনসারদের মধ্য থেকে, অতঃপর বনী আবদিল আশহাল থেকে ছিলেন আমর ইবন মুআজ ইবন আন-নুমান, হারিস ইবন আনাস ইবন রাফি, উমারা ইবন জিয়াদ ইবন আস-সাকান, সালামা ইবন সাবিত ইবন ওয়াকশ এবং আমর ইবন সাবিত ইবন ওয়াকশ। ইসহাক বলেন, আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদাহ আমার নিকট দাবি করেছেন (زَعَمَ) যে, তাদের পিতা সাবিতও সেদিন নিহত হয়েছিলেন। আরও ছিলেন রিফায়াহ ইবন ওয়াকশ এবং হুসাইল ইবন জাবির—যিনি আল-ইয়ামান, আবু হুজাইফার পিতা; মুসলিমগণ তাকে যুদ্ধের ময়দানে (অসাবধানতাবশত) আঘাত করেন এবং তারা জানতেন না (যে তিনি কে)। ফলে হুজাইফা তার রক্তপণ সেই আঘাতকারীদের উদ্দেশ্যে সদকা করে দেন। আরও ছিলেন সাইফি ইবন কাইজি, হুবাব ইবন কাইজি, আব্বাদ ইবন সাহল এবং হারিস ইবন আওস ইবন মুআজ—মোট বারোজন ব্যক্তি।
বনী জাফার থেকে; এবং বনী জাফার থেকে ছিলেন ইয়াজিদ ইবন হাতিব ইবন উমাইয়া ইবন রাফি—একজন ব্যক্তি।রাতিজ থেকে; এবং রাতিজবাসীদের মধ্য থেকে ইয়াস ইবন আওস ইবন আতিক ইবন আমর ইবন আবদিল আলা ইবন জাওরা ইবন জুশম ইবন আবদিল আশহাল, উবায়েদ ইবনুত তাইয়িহান এবং হাবিব ইবন যাইদ ইবন তামিম—তিনজন ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৭০)
من بني ضَيْعَة وَمِنْ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ ثُمَّ مِنْ ضُبَيْعَةَ بْنِ زَيْدٍ أَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ قَيْسِ بْنِ زَيْدٍ وَحَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي عَامِرِ بْنِ صَيْفِيٍّ وَهُوَ غَسِيلُ الْمَلائِكَةِ قَتَلَهُ شَدَّادُ بْنُ الْأسود ابْن شعوب رجلَانِ
من بني عبيد وَمِنْ بَنِي عُبَيْدِ بْنِ زَيْدٍ أنيس بن قَتَادَة رجلمن بني ثَعْلَبَة وَمِنْ بَنِي ثَعْلَبَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ أَبُو حَيَّةَ وَهُوَ أَخُو سَعْدِ بْنِ خَيْثَمَةَ لِأُمِّهِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ النُّعْمَان أَمِير الرُّمَاة رجلَانِ
من بني السّلم وَمن بني السّلم ابْن امْرِئِ الْقَيْسِ بْنِ مَالِكِ بْنِ الأَوْسِ خَيْثَمَةُ أَبُو سَعْدِ بْنُ خَيْثَمَة رجلمن بني العجلان وَمن حلفائهم من بَنِي الْعَجْلانِ عَبْد اللَّهِ بْن سَلمَة رجل
من بني مُعَاوِيَة وَمن بَنِي مُعَاوِيَة بْن مَالك سُبَيع بْن حَاطِب بْن الْحَارِث بن قيس بن هيشةمن بني النجار وَمن بَنِي النجار ثمَّ من بَنِي سَواد بْن مَالك عَمْرو بْن قيس وَابْنه قيس بْن عَمْرو وثابت بْن عَمْرو بْن زيد وعامر بْن مَخْلَد أَرْبَعَة نفر
বনু দাইআহ থেকে এবং বনু আমর ইবনে আউফ গোত্রভুক্ত, অতঃপর বনু দুবাইআহ ইবনে যাইদ থেকে: আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস ইবনে কাইস ইবনে যাইদ এবং হানজালা ইবনে আবি আমির ইবনে সাইফি—যিনি ফেরেশতাগণ কর্তৃক গোসলকৃত; তাঁকে শাদ্দাদ ইবনুল আসওয়াদ ইবনে শুউব হত্যা করেছিলেন। (তাঁরা) দুইজন ব্যক্তি।
বনু উবাইদ থেকে এবং বনু উবাইদ ইবনে যাইদ গোত্রভুক্ত: উনাইস ইবনে কাতাদাহ। (তিনি) একজন ব্যক্তি।বনু সা'লাবাহ থেকে এবং বনু সা'লাবাহ ইবনে আমর ইবনে আউফ গোত্রভুক্ত: আবু হাইয়্যাহ—যিনি সা'দ ইবনে খাইসামাহ-এর বৈমাত্রেয় ভাই, এবং তীরন্দাজ বাহিনীর সেনাপতি আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর ইবনুন নুমান। (তাঁরা) দুইজন ব্যক্তি।
বনু আস-সিলম থেকে এবং বনু আস-সিলম ইবনে ইমরাউল কাইস ইবনে মালিক ইবনুল আউস গোত্রভুক্ত: খাইসামাহ—যিনি আবু সা'দ ইবনে খাইসামাহ-এর পিতা। (তিনি) একজন ব্যক্তি।বনু আল-আজলান থেকে এবং তাঁদের মিত্রদের মধ্য থেকে যারা বনু আল-আজলান গোত্রভুক্ত: আবদুল্লাহ ইবনে সালামাহ। (তিনি) একজন ব্যক্তি।
বনু মুয়াবিয়া থেকে এবং বনু মুয়াবিয়া ইবনে মালিক গোত্রভুক্ত: সুবাই ইবনে হাতিব ইবনুল হারিস ইবনে কাইস ইবনে হাইশাহ।বনু আন-নাজ্জার থেকে এবং বনু আন-নাজ্জার গোত্রভুক্ত অতঃপর বনু সাওয়াদ ইবনে মালিক থেকে: আমর ইবনে কাইস এবং তাঁর পুত্র কাইস ইবনে আমর, সাবিত ইবনে আমর ইবনে যাইদ এবং আমির ইবনে মাখলাদ। (তাঁরা) চারজন ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৭১)
من بني عَمْرو بن مبذول وَمن بَنِي عَمْرو بْن مبذول أَبُو هُبَيْرَة بْن الْحَارِث بْن عَلْقَمَة بْن عَمْرو بْن ثَقْف بْن مَالك بْن مبذول وَعَمْرو بْن مطرف بْن عَلْقَمَة بْن عَمْرو رجلَانِمن بني عَمْرو بن مَالك وَمن بَنِي عَمْرو بْن مَالك أَوْس بْن ثَابت بْن الْمُنْذر رجل
من بَين عدي وَمِنْ بَنِي عَدِيِّ بْنِ النَّجَّارِ أنس بْن النَّضر بْن ضَمْضَم بْن زيد بْن حرَام رجلمن بني مَازِن وَمن بَنِي مَازِن بْن النجار قيس بْن مَخْلَد وكيسان عَبْدٌ لَهُم رجلَانِ
من بني دِينَار وَمن بَنِي دِينَار بْن النجار سليم بن الْحَارِثمن بني الْحَارِث وَمن بَنِي الْحَارِث بْن الْخَزْرَج خَارِجَة بْن زيد أَبِي زُهَيْر وَسعد بْن الرّبيع ابْن عَمْرو بْن أَبِي زُهَيْر دفنا فِي قبر وَاحِد وَأَوْس بْن الأرقم بْن زيد بْن قيس ثَلَاثَة نفر
من بني الأبجر وَمن بَنِي الأبجر وهم بَنو خُدرة مالكُ بْن سِنَان بْن عبيد بْن ثَعْلَبَة بْن عَبْد بْن الأبجر وَهُوَ أَبُو أَبِي سعيد الْخُدْرِيّ وَسعد بْن سُوَيد بْن قيس وَعتبَة بْن ربيع بن رَافع ثَلَاثَة نفر
বনু আমর ইবনে মাবযুল থেকে: আর বনু আমর ইবনে মাবযুল থেকে (ছিলেন) আবু হুবাইরা ইবনুল হারিস ইবনে আলকামা ইবনে আমর ইবনে সাকফ ইবনে মালিক ইবনে মাবযুল এবং আমর ইবনে মুতাররিফ ইবনে আলকামা ইবনে আমর—এই দুইজন ব্যক্তি।বনু আমর ইবনে মালিক থেকে: আর বনু আমর ইবনে মালিক থেকে (ছিলেন) আওস ইবনে সাবিত ইবনুল মুনযির—এক ব্যক্তি।
বনু আদী থেকে: আর বনু আদী ইবনুন নাজ্জার থেকে (ছিলেন) আনাস ইবনুন নাদর ইবনে দামদাম ইবনে যায়েদ ইবনে হারাম—এক ব্যক্তি।বনু মাযিন থেকে: আর বনু মাযিন ইবনুন নাজ্জার থেকে (ছিলেন) কায়েস ইবনে মাখলাদ এবং কায়সান—যিনি তাদের একজন দাস ছিলেন—এই দুইজন ব্যক্তি।
বনু দীনার থেকে: আর বনু দীনার ইবনুন নাজ্জার থেকে (ছিলেন) সুলাইম ইবনুল হারিস।বনু আল-হারিস থেকে: আর বনু আল-হারিস ইবনুল খাযরাজ থেকে (ছিলেন) খারিজাহ ইবনে যায়েদ আবু জুহাইর এবং সাদ ইবনুর রাবী' ইবনে আমর ইবনে আবু জুহাইর—যাদের উভয়কে একই কবরে দাফন করা হয়েছিল—এবং আওস ইবনুল আরকাম ইবনে যায়েদ ইবনে কায়েস—এই তিনজন ব্যক্তি।
বনু আল-আবজার থেকে: আর বনু আল-আবজার থেকে—যাঁরা বনু খুদরাও বটে—(ছিলেন) মালিক ইবনে সিনান ইবনে উবায়েদ ইবনে সা’লাবা ইবনে আবদ ইবনে আল-আবজার, আর তিনি হলেন আবু সাঈদ আল-খুদরীর পিতা; এবং সাদ ইবনে সুয়াইদ ইবনে কায়েস এবং উতবা ইবনে রাবী' ইবনে রাফে'—এই তিনজন ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৭২)
من بني سَاعِدَة وَمن بَنِي سَاعِدَة بْن كَعْب بْن الْخَزْرَج ثَعْلَبَة بْن سعد بْن مَالك وثَقْف بْن فَرْوة بْن الْبَدِيِّ رجلَانِ وَيَقُولُونَ البركمن بني طريف وَمن بَنِي طريف رَهْط سعد بْن عبَادَة عَبْد اللَّهِ بْن عَمْرو بْن وهب بْن ثَعْلَبَة وضمرة حَلِيف لَهُم من جُهَيْنَة رجلَانِ
من بني عَوْف وَمن بَنِي عَوْف بْن الْخَزْرَج ثمَّ من بَنِي سَالم ثمَّ من بَنِي مَالك بْن العَجْلانِ بْن زيد ابْن غنم بْن سَالم نَوْفَل بْن عَبْد اللَّهِ وعباس بْن عُبادة بْن نَضْلَة بْن مَالك بْن العَجْلان ونُعمان بن مَالك بن ثَعْلَبَة والمجذر بن ذيلا حَلِيف لَهُم من بَلِيٍّ قَتله الْحَارِث بْن سُوَيْد ابْن الصَّامِت ثمَّ لحق بِمَكَّة كَافِرًا وعَبَّاد بْن الحسحاس دفن مَعَ نعْمَان بن مَالك والمجذر بن ذيلا فِي قبر وَاحِد خَمْسَة نفر
من بني سَاعِدَة وَمن بَنِي سَاعِدَة بْن كَعْب بْن الْخَزْرَج ثَعْلَبَة بْن سعد بن مَالك
من بني الحبلى من الحُبلى رِفَاعَة بْن عُمَر رجل
বনু সা’ইদাহ থেকে; এবং বনু সা’ইদাহ ইবনে কা’ব ইবনে খাযরাজ থেকে হলেন সা’লাবাহ ইবনে সা’দ ইবনে মালিক এবং সাকফ ইবনে ফারওয়াহ ইবনুল বাদি; তারা দুইজন ব্যক্তি এবং তারা (লোকেরা) তাদের ‘আল-বারাক’ বলে থাকে।বনু তরীফ থেকে; বনু তরীফ হলো সা’দ ইবনে উবাদাহ-র গোত্র; (সেখান থেকে) আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে ওয়াহাব ইবনে সা’লাবাহ এবং জুহাইনা গোত্র থেকে তাদের মিত্র জুমরাহ; তারা দুইজন ব্যক্তি।
বনু আউফ থেকে; এবং বনু আউফ ইবনে খাযরাজ থেকে, অতঃপর বনু সালিম থেকে, অতঃপর বনু মালিক ইবনুল আজলান ইবনে জায়েদ ইবনে গানাম ইবনে সালিম থেকে হলেন নাওফাল ইবনে আবদুল্লাহ, আব্বাস ইবনে উবাদাহ ইবনে নাদলাহ ইবনে মালিক ইবনুল আজলান, নুমান ইবনে মালিক ইবনে সা’লাবাহ এবং আল-মুজায্যার ইবনে জাইলা, যিনি বালি গোত্র থেকে তাদের মিত্র ছিলেন। তাকে হারিস ইবনে সুওয়াইদ ইবনুল সামিত হত্যা করেছিলেন, অতঃপর সে পৌঁছেছিল মক্কায় কাফির হিসেবে। আর আব্বাদ ইবনুল হাসহাস; তাকে নুমান ইবনে মালিক এবং আল-মুজায্যার ইবনে জাইলার সাথে একই কবরে দাফন করা হয়েছিল; তারা মোট পাঁচজন ব্যক্তি।
বনু সা’ইদাহ থেকে; এবং বনু সা’ইদাহ ইবনে কা’ব ইবনে খাযরাজ থেকে হলেন সা’লাবাহ ইবনে সা’দ ইবনে মালিক।
বনু হুবলা থেকে; বনু হুবলা থেকে হলেন রিফায়াহ ইবনে উমর; তিনি একজন ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
من بني سَلمَة وَمن بَنِي سَلِمَةَ ثمَّ من بَنِي حرَام عَبْد اللَّهِ بْن عَمْرو بْن حرَام وَهُوَ أَبُو جَابر قَتله أُسَامَة الْأَعْوَر بْن عبيد وَيُقَال ابْن زيد أَخُو بَنِي الْحَارِث بْن عَبْد وَعَمْرو بْن الجموح دفنا فِي قبر وَاحِد وخَلَّادُ بْن عَمْرو بْن الجموح وَأَبُو أيمنَ مولى عَمْرو بْن الجموح اربعة نفرمن بني سَواد وَمن بَنِي سَوَاد بْن غنم سُلَيْم بْن عَمْرو بْن حَدِيدَةَ ومولاة عَنترة وَسَهل بْن قيس بْن أَبِي كَعْب بْن الْقَيْن ثَلَاثَة نفر
من بني زُرَيْق وَمن بَنِي زُريق بْن عَامر ذَكْوَان بْن عَبْد قيس رجل وَعبيد بن الْمُعَلَّى ابْن لوذان فَجَمِيع من اسْتشْهد من الْمُسلمين مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار خَمْسَة وَسِتُّونَ رجلا حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ اسْتُشْهِدَ يَوْمَئِذٍ سَبْعُونَ رَجُلا
خُرُوج الرَّسُول صلى الله عليه وسلم إِلَى حَمْرَاء الْأسد
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ فَلَمَّا كَانَ الْغَد من أُحُدٍ وَذَلِكَ يَوْم الْأَحَد لِسِتَّ عشرَة خَلَتْ من شَوَّال أذن مُؤذن رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طلب الْعَدو وأذَّن مؤذنه لَا يخرج معَنا إِلَّا أحد حضر يَوْمنَا بالْأَمْس فَكَلمهُ جَابر بْن عَبْد اللَّهِ بْن عَمْرو بْن حرَام فَقَالَ إِن أَبِي كَانَ خَلَفَنِي عَلَى أخواتي فَأذن لَهُ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخرج مَعَه
বনু সালামা (بني سلمة) গোত্র হতে, অতঃপর বনু হারাম (بني حرام) উপগোত্র হতে: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম—যিনি আবু জাবির নামে পরিচিত; তাকে উসামা আল-আওয়ার ইবনে উবাইদ (মতান্তরে ইবনে জায়েদ, বনু হারিস ইবনে আবদ-এর ভাই) হত্যা করেছে। এবং আমর ইবনুল জামুহ—তাঁদের উভয়কে একই কবরে দাফন করা হয়েছে। এবং খাল্লাদ ইবনে আমর ইবনুল জামুহ এবং আবু আয়মান—যিনি আমর ইবনুল জামুহর মুক্তদাস (مولى)—এই মোট চার জন।বনু সাওয়াদ (بني سواد) গোত্র হতে, বিশেষত বনু সাওয়াদ ইবনে গানাম হতে: সুলাইম ইবনে আমর ইবনে হাদিদাহ, আনতারার মুক্তদাস (مولى) এবং সাহল ইবনে কায়স ইবনে আবি কাব ইবনুল কায়ন—এই মোট তিন জন।
বনু যুরাইক (بني زريق) গোত্র হতে, বিশেষত বনু যুরাইক ইবনে আমির হতে: যাকওয়ান ইবনে আবদ কায়স নামক এক ব্যক্তি এবং উবাইদ ইবনুল মুআল্লা ইবনে লাওযান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে যারা শহীদ (شهيد) হয়েছিলেন, তাদের সর্বমোট সংখ্যা পঁয়ষট্টি জন। ইয়াযীদ ইবনে যুরাই' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে এবং তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: সেদিন সত্তর জন শহীদ হয়েছিলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হামরা আল-আসাদ অভিমুখে যাত্রা।
ইবনে ইসহাক বলেন: উহুদ যুদ্ধের পরের দিন, যা ছিল শাওয়াল মাসের ১৬ তারিখ রবিবার; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষক শত্রুর পশ্চাদ্ধাবনের জন্য ঘোষণা দিলেন। তাঁর ঘোষক এই মর্মে ঘোষণা করলেন যে, আমাদের সাথে কেবল তারাই বের হবে যারা গতকাল আমাদের সাথে (উহুদ যুদ্ধে) উপস্থিত ছিল। তখন জাবির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম তাঁর সাথে কথা বললেন এবং আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা আমাকে আমার বোনদের দেখাশোনার জন্য পেছনে রেখে গিয়েছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তিনি তাঁর সাথে বের হলেন।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
قَالَ فَخرج رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى انْتهى إِلَى حَمْرَاء الْأسد وَهِي من الْمَدِينَة عَلَى ثَمَانِيَة أَمْيَال فَأَقَامَ بهَا الِاثْنَيْنِ وَالثُّلَاثَاء وَالْأَرْبِعَاء ثمَّ رَجَعَ إِلَى الْمَدِينَة قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ فَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ قَالَ مَرَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعْبَدٌ الْخُزَاعِيُّ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ مُشْرِكٌ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ وَاللَّهِ لَقَدْ عز علينا مَا أَصَابَك ثُمَّ خَرَجَ مَعْبَدٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِحَمْرَاءِ الأَسَدِ حَتَّى لَقِيَ أَبَا سُفْيَانَ وَمَنْ مَعَهُ بِالرَّوْحَاءِ وَقَدْ أَجْمَعُوا أَنْ يَرْجِعُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالُوا أَصَبْنَا حَدَّ أَصْحَابِهِ وَقَادَتَهُمْ وَأَشْرَافَهُمْ فَلَمَّا رَأَى أَبُو سُفْيَانَ مَعْبَدًا قَالَ مَا وَرَاءَكَ يَا مَعْبَدُ قَالَ مُحَمَّدٌ قَدْ خَرَجَ فِي جَمْعٍ لَمْ أَرَ مِثْلَهُ قَطُّ يَتَحَرَّقُونَ عَلَيْكُمْ تَحَرُّقًا قَدِ اجْتَمَعَ مَعَهُ مَنْ كَانَ تَخَلَّفَ عَنْهُ فِي يَوْمِكُمْ فَانْصَرَفَ أَبُو سُفْيَانَ وَمن مَعَه
يَوْم الرجيع وفيهَا أَمر الرَّجِيعِحَدَّثَنَا بَكْرٌ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ وَوَهْبٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ قَالَ حَدَّثَنِي عَاصِمُ ابْن عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ قَالَ قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ أُحُدٍ رَهْطٌ مِنْ عَضَلٍ وَالْقَارَةِ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فِينَا إِسْلامًا فَابْعَثْ مَعَنَا نَفَرًا مِنْ أَصْحَابِكَ يُفَقِّهُونَا فِي الدِّينِ وَيُقْرِئُونَا الْقُرْآنَ وَيُعَلِّمُونَا شَرَائِعَ الإِسْلامِ فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُمْ نَفَرًا سِتَّةً مِنْ أَصْحَابِهِ مِنْهُم مرْثَد بن أبي مورثد الْغَنَوِيُّ حَلِيفُ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ الْمطلب وخَالِد بن ال اللَّيْثِيُّ حَلِيفُ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْب وَعَاصِم بن ثَابت ابْن أَبِي الأَقْلَحِ أَخُو بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ وَخُبَيْبُ بْنُ عَدِيٍّ أَخُو بني جحجبا بن
তিনি বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হলেন এবং হামরাউল আসাদ পর্যন্ত পৌঁছালেন, যা মদিনা থেকে আট মাইল দূরে অবস্থিত। সেখানে তিনি সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার অবস্থান করলেন, তারপর মদিনায় ফিরে এলেন। ইবনে ইসহাক বলেন, আবদুল্লাহ বিন আবু বকর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثني) যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাশ দিয়ে মা'বাদ আল-খুজাঈ অতিক্রম করছিলেন, আর তিনি সেদিন মুশরিক (مشرك) ছিলেন। তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ, আল্লাহর কসম, আপনার ওপর যে বিপদ এসেছে তা আমাদের অত্যন্ত ব্যথিত করেছে। অতঃপর মা'বাদ চলে গেলেন আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হামরাউল আসাদে অবস্থান করছিলেন। মা'বাদ রাউহা নামক স্থানে আবু সুফিয়ান ও তাঁর সঙ্গীদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তাঁরা তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পুনরায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং বলছিলেন, আমরা তাঁর সঙ্গীদের প্রধান শক্তি, তাঁদের নেতৃবৃন্দ ও অভিজাতদের আঘাত করেছি। যখন আবু সুফিয়ান মা'বাদকে দেখলেন, তিনি বললেন, হে মা'বাদ, তোমার খবর কী? তিনি বললেন, মুহাম্মদ এক বিশাল বাহিনী নিয়ে বের হয়েছেন যার মতো আমি কখনও দেখিনি; তাঁরা তোমাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত ক্ষিপ্ত ও ক্রোধান্বিত। সেদিন যারা তাঁর থেকে পেছনে রয়ে গিয়েছিল, তাঁরাও আজ তাঁর সাথে সমবেত হয়েছে। তখন আবু সুফিয়ান ও তাঁর সঙ্গীরা ফিরে গেল।
রাজিউ এর দিন এবং তাতে রাজিউ এর ঘটনাবকর ইবনে ইসহাক থেকে এবং ওয়াহাব তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যে, তিনি বলেন, আসিম বিন উমর বিন কাতাদাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثني) যে, ওহুদ যুদ্ধের পর আদল ও আল-কারাহ গোত্রের একদল লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের মাঝে ইসলামের প্রসার ঘটেছে। সুতরাং আপনার সাহাবীদের মধ্য থেকে একটি দলকে আমাদের সাথে পাঠান যারা আমাদের দ্বীন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান দান করবেন, আমাদের কুরআন পাঠ করে শোনাবেন এবং ইসলামের বিধি-বিধান শিক্ষা দেবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের সাথে তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে ছয়জনের একটি দল প্রেরণ করলেন; তাঁদের মধ্যে ছিলেন হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিবের মিত্র (حليف) মারসাদ বিন আবু মারসাদ আল-গানাবী, বনী আদি বিন কাবের মিত্র (حليف) খালিদ বিন আল-লায়সী, বনী আমর বিন আউফের ভাই আসিম বিন সাবিত ইবনে আবিল আকলাহ এবং বনী জাহজাবা ইবনে [এর] ভাই খুবাইব বিন আদি...
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
كُلْفَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ وَزَيْدُ بْنُ الدَّثِنَةِ أَخُو بَنِي بَيَاضَةَ بْنِ عَامِرٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَارِقٍ حَلِيفٌ لِبَنِي ظَفَرٍ وَأمر رَسُول الله عَلَى الْقَوْمِ مَرْثَدَ بْنَ أَبِي مَرْثَدٍ فَخَرَجُوا مَعَ الْقَوْمِ حَتَّى إِذَا كَانُوا عَلَى الرَّجِيعِ مَاءٌ لهذيل فَأَما بِنَاحِيَةِ الْحِجَازِ مِنْ صَدْرِ الْهَدْأَةِ غدرا بِهِ واسترخوا عَلَيْهِم هذيلا مَرْثَدٌ وَخَالِدُ بْنُ الْبُكَيْرِ وَعَاصِمُ بْنُ ثَابِتٍ فَقَاتَلُوا فَقُتِلُوا وَأَمَّا خُبَيْبٌ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَارِقٍ وَزَيْدُ بْنُ الدَّثِنَةِ فَأَعْطُوا بِأَيْدِيهِمْ فَأُسِرُوا ثُمَّ خَرَجُوا بِهِمْ إِلَى مَكَّةَ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِالظَّهْرَانِ انْتَزَعَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَارِقٍ يَدَهُ مِنَ الْقِرَانِ وَأَخَذَ سَيْفَهُ فَرَمَوْهُ بِالْحِجَارَةِ حَتَّى قَتَلُوهُ فَقَبْرُهُ بِالظَّهْرَانِ وَقَدِمُوا بِخُبَيْبٍ وَزَيْدِ بْنِ الدَّثِنَةِ مَكَّةَ فَبَاعُوهُمَا فَابْتَاعَ خُبَيْبًا حُجَيْرُ بْنُ أَبِي إِهَابٍ التَّمِيمِيُّ حَلِيفُ بَنِي نَوْفَلٍ وَأَمَّا زَيْدٌ فَابْتَاعَهُ صَفْوَانُ بْنُ أُمَيَّةَ فَقُتِلَ رحمه الله وَأما خبيب فجاؤوا بِهِ إِلَى التَّنْعِيمِ لِيَصْلُبُوهُ فَقَالَ إِنْ رَأَيْتُمْ أَنْ تَدَعُونِي أَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ فَافْعَلُوا فَقَالُوا دُونَكَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ أَتَمَّهُمَا وَأَحْسَنَهُمَا وَكَانَ خُبَيْبٌ أَوَّلَ مَنِ اسْتَنَّ الرَّكْعَتَيْنِ عَنْدَ الْقَتْلِ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ قَالَ نَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَوَّلُ مَنِ اسْتَنَّ الرَّكْعَتَيْنِ عِنْد الْقَتْل خبيب قَالَ خَليفَة فَحَدَّثَنَا بَكْرٌ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ وَوَهْبٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ وَاللَّهِ مَا أَنَا قَتَلْتُ خُبَيْبًا لَأَنَا كُنْتُ أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ وَلَكِنَّ أَبَا هُبَيْرَةَ أَخَا بَنِي عَبْدِ الدَّارِ أَخَذَ الْحَرْبَةَ فَجَعَلَهَا فِي يَدِي ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِي وَبِهَا الْحَرْبَةٌ ثُمَّ طَعَنَهُ بِهَا حَتَّى قَتله
কুলফা বিন আমর বিন আওফ, বনী বায়াদাহ বিন আমিরের ভাই যায়দ বিন আদ-দাছিনা এবং বনী জাফরের মিত্র (حليف) আবদুল্লাহ বিন তারিক। রাসূলুল্লাহ উক্ত দলের ওপর মারছাদ বিন আবি মারছাদকে আমির নিযুক্ত করলেন। তাঁরা সেই দলের সাথে বের হলেন এবং হিজাজের পাশ্ববর্তী আল-হাদআহ নামক প্রান্তরের শুরুতে হুদাইল গোত্রের রাজী নামক জলাশয়ের নিকট পৌঁছালে, হুদাইল গোত্র তাঁদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং তাঁদের ওপর আক্রমণ চালাল। মারছাদ, খালিদ বিন আল-বুকাইর এবং আসিম বিন সাবিত যুদ্ধ করলেন এবং তাঁরা শাহাদাত বরণ করলেন। আর খুবাইব, আবদুল্লাহ বিন তারিক এবং যায়দ বিন আদ-দাছিনা আত্মসমর্পণ করলে তাঁদের বন্দী করা হলো। অতঃপর তাঁরা তাঁদের নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। যখন তাঁরা জাহরান নামক স্থানে পৌঁছাল, তখন আবদুল্লাহ বিন তারিক তাঁর হাত বন্ধন থেকে মুক্ত করে নিলেন এবং নিজের তলোয়ার গ্রহণ করলেন। তখন তারা তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করল এবং তাঁকে হত্যা করল; জাহরানেই তাঁর কবর অবস্থিত। তাঁরা খুবাইব ও যায়দ বিন আদ-দাছিনাকে নিয়ে মক্কায় পৌঁছাল এবং তাঁদের বিক্রয় করে দিল। বনী নওফলের মিত্র (حليف) হুজাইর বিন আবি ইহাব আত-তামিমী খুবাইবকে ক্রয় করল। আর যায়দকে ক্রয় করল সাফওয়ান বিন উমাইয়াহ এবং তাঁকে হত্যা করা হলো—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। খুবাইবকে তারা তানঈম নামক স্থানে নিয়ে এল যাতে তাঁকে শূলে চড়াতে পারে। তখন তিনি বললেন: "যদি তোমরা আমাকে দুই রাকাত নামাজ পড়ার সুযোগ দেওয়া সমীচীন মনে করো, তবে তা করো।" তারা বলল: "তোমার যা ইচ্ছা।" তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। মৃত্যুর পূর্বে দুই রাকাত নামাজের এই রীতি (سنة) খুবাইবই সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন। আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আবদুল্লাহ বিন দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) মা’মার, তিনি জুহরী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: মৃত্যুর পূর্বে দুই রাকাত নামাজের রীতি (سنة) প্রথম প্রবর্তন করেন খুবাইব। খলিফা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) বকর, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে; এবং ওয়াহাব তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-জুবাইর, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উকবা বিন আল-হারিছ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: "আল্লাহর কসম, আমি খুবাইবকে হত্যা করিনি, কারণ তখন আমি সেই কাজের জন্য অতি অল্পবয়স্ক ছিলাম। কিন্তু বনী আবদুদ দার গোত্রের ভাই আবু হুবাইরা একটি বর্শা গ্রহণ করে তা আমার হাতে ধরিয়ে দিল। অতঃপর সে বর্শাসহ আমার হাত ধরে তাঁকে বিদ্ধ করল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে হত্যা করল।"
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
قَالَ وَأَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ قَالَ أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى خُبَيْبٍ فَصَعَدْتُ خَشَبَتَهُ لَيْلًا فَقَطَعْتُ الشَّرَكَ وَأَلْقَيْتُهُ فَسَمِعْتُ وَجْبَتَهُ خَلْفِي فَالْتَفَتُّ فَلَمْ أر شَيْئا سنة أَربع حَدِيث بِئْر مَعُونَة فِيهَا بِئْر مَعُونَة قَالَ حَدَّثَنَا بَكْرٌ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ وَوَهْبٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاق قَالَ حَدثنِي ابي إِسْحَق بْنُ يَسَارٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْر ابْن مُحَمَّد بْن عَمْرو بن حزم قَالُوا قَدِمَ أَبُو بَرَاءٍ عَامِرُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جَعْفَرٍ مُلاعِبُ الأَسِنَّةِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَرَضَ عَلَيْهِ الإِسْلامَ فَلَمْ يُسْلِمْ وَلَمْ يَبْعُدْ مِنَ الإِسْلامِ وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ لَوْ بَعَثْتَ رِجَالا مِنْ أَصْحَابِكَ إِلَى نَجْدٍ يَدْعُونَهُمْ إِلَى أَمْرِكَ قَالَ فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَذَلِكَ فِي صَفَرٍ عَلَى رَأْسِ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ مِنْ أُحُدٍ الْمُنْذر بن عمر وأخا بَنِي سَاعِدَةَ فِي أَرْبَعِينَ رَجُلا مِنْ أَصْحَابِهِ مِنْ خِيَارِ الْمُسْلِمِينَ مِنْهُمْ الْحَارِثُ بْنُ الصُّمَّةِ وَحَرَامُ بْنُ مِلْحَانَ أَخُو بَنِي عَدِيِّ بْنِ النَّجَّارِ وَعُرْوَةُ بْنُ أَسْمَاءَ بْنِ الصَّلْتِ السُّلَمِيُّ وَنَافِعُ بْنُ بُدَيْلِ بْنِ وَرْقَاءَ الْخُزَاعِيُّ وَعَامِرُ بْنُ فُهَيْرَةَ مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فِي رِجَالٍ مِنْ خِيَارِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى نَزَلُوا بِبِئْرِ مَعُونَةَ وَهِيَ بَيْنَ أَرْضِ بَنِي عَامِرٍ وَحَرَّةَ بَنِي سُلَيْمٍ فَلَمَّا نَزَلُوهَا بَعَثُوا بِكِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ أَحَدِهِمْ إِلَى عَامِرِ بْنِ الطُّفَيْلِ فَلَمْ يَنْظُرْ فِي كِتَابِهِ حَتَّى قَتَلَهُ ثُمَّ اسْتَصْرَخَ عَلَيْهِمْ بَنِي عَامِرِ فَأَبَوْا أَنْ يُجِيبُوهُ وَقَالُوا لَنْ نَخْفِرَ أَبَا بَرَاءٍ فَاسْتَصْرَخَ عَلَيْهِمْ
তিনি বলেন, জাফর ইবনে আউন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনে ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) জুহরি থেকে (عن), তিনি জাফর ইবনে আমর ইবনে উমাইয়া থেকে (عن), তিনি তার পিতা থেকে (عن) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে খুবাইবের নিকট পাঠালেন। আমি রাতে তার শূলকাষ্ঠে আরোহণ করলাম এবং বাঁধন কেটে তাকে নিচে ফেললাম। তখন আমি আমার পেছনে তার পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পেলাম। আমি ফিরে তাকালাম কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না। চতুর্থ হিজরি সন, বিরে মাউনার হাদিস, এতে বিরে মাউনার বিবরণ রয়েছে। তিনি বলেন, বকর আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনে ইসহাক থেকে (عن) এবং ওয়াহাব তার পিতা থেকে (عن), তিনি ইবনে ইসহাক থেকে (عن)। তিনি (ইবনে ইসহাক) বলেন, আমার পিতা ইসহাক ইবনে ইয়াসার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) মুগিরা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে হিশাম এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে (عن)। তারা বলেন: আবু বারা আমির ইবনে মালিক ইবনে জাফর 'মুলাইবুল আসিন্না' (বর্শা চালনায় পারদর্শী) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার কাছে ইসলাম পেশ করলেন, কিন্তু তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি, আবার ইসলাম থেকে বিমুখও হননি। তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি যদি আপনার সাহাবিদের মধ্য থেকে কিছু লোককে নজদবাসীদের নিকট পাঠাতেন যারা তাদের আপনার দ্বীনের প্রতি আহ্বান করত (তবে ভালো হতো)। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের প্রেরণ করলেন। ইবনে ইসহাক বলেন, এটি ছিল সফর মাসে, উহুদ যুদ্ধের চার মাস পর। তিনি বনু সায়েদা গোত্রের ভ্রাতা মুনজির ইবনে আমরকে তার সাহাবিদের মধ্য থেকে চল্লিশজন শ্রেষ্ঠ মুসলিমের একটি দলে প্রেরণ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন হারিস ইবনে সুম্মাহ, বনু আদি ইবনে নাজ্জার গোত্রের হারাম ইবনে মিলহান, উরওয়া ইবনে আসমা ইবনে সালত আস-সুলামি, নাফি ইবনে বুদাইল ইবনে ওয়ারকা আল-খুজায়ি এবং আবু বকর সিদ্দিকের মুক্তদাস আমির ইবনে ফুহাইরা সহ শ্রেষ্ঠ মুসলিমদের একদল লোক। তারা বিরে মাউনা নামক স্থানে পৌঁছালেন, যা বনু আমির গোত্রের ভূমি এবং বনু সুলাইম গোত্রের হাররাহ্-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। যখন তারা সেখানে অবতরণ করলেন, তখন তাদের মধ্য থেকে একজনকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পত্রসহ আমির ইবনে তুফায়েলের কাছে পাঠালেন। সে পত্রটির দিকে দৃষ্টিপাত না করেই তাকে হত্যা করল। এরপর সে বনু আমির গোত্রের কাছে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্যের আবেদন করল, কিন্তু তারা তাকে সাড়া দিতে অস্বীকার করল। তারা বলল, আমরা আবু বারার দেওয়া নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করব না। এরপর সে তাদের বিরুদ্ধে (অন্যদের কাছে) সাহায্যের আবেদন করল।
(খণ্ড: ১)
তারীখু খলীফা ইবনে খাইয়াত
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
قبائل سليم عصية ورعل وَذَكْوَانَ فَأَجَابُوهُ فَقَاتَلُوهُمْ فَقَتَلُوا مِنْ آخِرِهِمْ إِلا كَعْبَ بْنَ زَيْدٍ تُرِكَ وَبِهِ رَمَقٌ فَعَاشَ حَتَّى قتل يَوْم الخَنْدَق قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ فَحَدَّثَنِي هِشَامٌ فِي جُمَادَى الأُولَى قَالَ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ خَرَجَ فِي غُرَّةِ جُمَادَى فَنَذَرُوا بِهِ فَلَحِقُوا بِالْجِبَالِ فَمَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى عُسْفَانَ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وأغار عُيَيْنَة بْن حصن بْن حُذَيْفَة بْن بدر عَلَى سَرْحِ الْمَدِينَةِ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طلبه وَهِي غَزْوَة ذِي قرد
سراياه فِي سنة خمس بعث عَبْد اللَّهِ بْن أنيس إِلَى خَالِد بْن سُفْيَان من بَنِي لحيان فَقتله وَبعث عَمْرو بْن أُميَّة وَسَلَمَة بْن أَشْيَم لقتل أَبِي سُفْيَان بْن حَرْب وَبعث عَبْد اللَّهِ بْن رَوَاحَة فَقتل يُسير بْن رِزام وَبعث زيد بْن حَارِثَة إِلَى وَادي الْقرى إِلَى فَزَارَة فَقتل عَامَّة أَصْحَابه ثمَّ غَزْوَة زيد الثَّانِيَة إِلَى أمِ قرْفة فَقَتلهَا ثمَّ بعث عُمَر بْن الْخطاب إِلَى القارة فَاعْتَصمُوا بالجبال وَبعث بِلَال بْن مَالك الْمُزنِيّ إِلَى بَنِي مَالك بْن كنَانَة فنذروا بِهِ فَلم يصب من
সুলাইম গোত্রের আসিয়্যা, রি'ল এবং জাকওয়ান সম্প্রদায় তাকে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিল, এরপর তারা তাদের সাথে যুদ্ধ করে এবং তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত সবাইকে হত্যা করে, কেবল কাব ইবনে যাইদ ব্যতীত; তাকে মুূর্ষু অবস্থায় (رمق) ফেলে রাখা হয়েছিল। তিনি খন্দকের যুদ্ধের দিন শহীদ হওয়া পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। ইবনে ইসহাক বলেন, হিশাম জুমাদাল উলা মাসে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثني)। আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, তিনি জুমাদাল উলা মাসের শুরুতে অভিযানে বের হলেন। তারা তাঁর আগমনের সংবাদ পেয়ে সতর্ক হয়ে গিয়েছিল, ফলে তারা পাহাড়ে পালিয়ে গেল। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উসফান পর্যন্ত অগ্রসর হলেন। ইবনে ইসহাক বলেন, উয়াইনা ইবনে হিসন ইবনে হুজাইফা ইবনে বদর মদিনার চারণভূমির পশুদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালাল। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সন্ধানে বের হলেন এবং এটিই ছিল 'জি কারাদ'-এর যুদ্ধ (غزوة)।
পঞ্চম হিজরি সনে তাঁর প্রেরিত অভিযানসমূহ (سرية): তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইসকে বনু লিহয়ানের খালিদ ইবনে সুফিয়ানের নিকট পাঠালেন এবং তিনি তাকে হত্যা করলেন। তিনি আমর ইবনে উমাইয়া এবং সালামাহ ইবনে আশইয়ামকে আবু সুফিয়ান ইবনে হারবকে হত্যার উদ্দেশ্যে পাঠালেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাকে পাঠালেন এবং তিনি ইউসাইর ইবনে রিজামকে হত্যা করলেন। তিনি যাইদ ইবনে হারিসাহকে ওয়াদিউল কুরা অভিমুখে ফাজারা গোত্রের দিকে পাঠালেন, যেখানে তিনি তাদের অধিকাংশ সঙ্গীকে হত্যা করলেন। অতঃপর যাইদ-এর দ্বিতীয় যুদ্ধ (غزوة) উম্মে কিরফার দিকে পরিচালিত হয় এবং তিনি তাকে হত্যা করেন। এরপর তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবকে আল-কারাহ গোত্রের দিকে প্রেরণ করেন, ফলে তারা পাহাড়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। এবং তিনি বিলাল ইবনে মালিক আল-মুজানিকে বনু মালিক ইবনে কিনানার নিকট প্রেরণ করেন; কিন্তু তারা তাঁর আগমন সম্পর্কে সতর্ক হয়ে যায়, ফলে তিনি তাদের কাউকে পাকড়াও করতে পারেননি।