(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: -)
شرح شذور الذهب لابن هشام   (ابن هشام النحوي)

القسم: النحو والصرف

الكتاب: شرح شذور الذهب في معرفة كلام العرب

المؤلف: عبد الله بن يوسف بن أحمد بن عبد الله ابن يوسف، أبو محمد، جمال الدين، ابن هشام (ت 761هـ)

المحقق: عبد الغني الدقر

الناشر: الشركة المتحدة للتوزيع - سوريا

سنة النشر:

عدد الصفحات: 602

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে হিশাম বিরচিত শারহু শুযুর আয-যাহাব   (ব্যাকরণবিদ ইবনে হিশাম)

বিভাগ: নাহু ও সরফ

গ্রন্থ: শারহু শুযুর আয-যাহাব ফি মা'রিফাতি কালামিল আরব

লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, আবু মুহাম্মদ, জামালুদ্দীন, ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৭৬১ হি.)

সম্পাদক: আবদুল গনি আদ-দাকর

প্রকাশক: আশ-শারিকাতুল মুত্তাহিদা লিত-তাউযি' - সিরিয়া

প্রকাশকাল:

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

‌‌مُقَدّمَة الْمُؤلف

 

قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْعَلامَة الْعَامِل الْجَامِع لأشتات الْفَضَائِل وحيد دهره وفريد عصره صدر الْمُحَقِّقين وبركة الْمُسلمين جمال الدّين أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن الشَّيْخ جمال الدّين يُوسُف بن أَحْمد بن عبد الله بن هِشَام الْأنْصَارِيّ تغمده الله برحمته وَأَسْكَنَهُ فسيح جنته

أول مَا أَقُول اني أَحْمد الله الْعلي الأكرم الَّذِي علم بالقلم علم الْإِنْسَان مَا لم يعلم ثمَّ أتبع ذَلِك بِالصَّلَاةِ وَالتَّسْلِيم على الْمُرْسل رَحْمَة للْعَالمين وإماما لِلْمُتقين وقدوة للعاملين مُحَمَّد النَّبِي الْأُمِّي وَالرَّسُول الْعَرَبِيّ وعَلى آله الهادين وَصَحبه الرافعين لقواعد الدّين

وَبعد فَهَذَا كتاب شرحت بِهِ مختصري الْمُسَمّى بشذور الذَّهَب فِي معرفَة كَلَام الْعَرَب تممت بِهِ شواهده وجمعت بِهِ شوارده ومكنت من اقتناص أوابده رائده قصدت فِيهِ إِلَى إِيضَاح الْعبارَة لَا إِلَى إخفاء الْإِشَارَة وعمدت فِيهِ إِلَى لف المباني والأقسام لَا إِلَى نشر الْقَوَاعِد وَالْأَحْكَام والتزمت فِيهِ أنني كلما مَرَرْت بِبَيْت من شَوَاهِد الأَصْل ذكرت إعرابه وَكلما أتيت على لفظ مستغرب أردفته بِمَا يزِيل استغرابه وَكلما أنهيت مَسْأَلَة ختمتها بِآيَة تتَعَلَّق بهَا من آي التَّنْزِيل وأتبعتها بِمَا تحْتَاج إِلَيْهِ من إِعْرَاب وَتَفْسِير وَتَأْويل وقصدي بذلك تدريب الطَّالِب وتعريفه السلوك إِلَى أَمْثَال هَذِه المطالب

وَالله تَعَالَى أسأَل أَن يَنْفَعنِي وَإِيَّاكُم بذلك إِنَّه قريب مُجيب وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه عَلَيْهِ توكلت وَإِلَيْهِ أنيب
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

গ্রন্থকারের ভূমিকা

 

শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, মহাজ্ঞানী, কর্মবীর, বহুবিধ গুণের অধিকারী, নিজ সময়ের অদ্বিতীয় ও যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব, গবেষকগণের শিরোমণি এবং মুসলিমদের জন্য বরকত স্বরূপ জামালুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন শায়খ জামালুদ্দীন ইউসুফ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন হিশাম আল-আনসারী —আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আচ্ছাদিত করুন এবং তাঁর প্রশস্ত জান্নাতে দাখিল করুন— বলেন:

আমার প্রথম কথা হলো, আমি সেই সুউচ্চ ও অতিশয় মর্যাদাবান আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে এমন কিছু শিখিয়েছেন যা সে জানত না। অতঃপর আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি জগতসমূহের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরিত, মুত্তাকীদের ইমাম এবং আমলকারীদের আদর্শ, উম্মী নবী ও আরব্য রাসূল মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পথপ্রদর্শক পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যারা দ্বীনের ভিত্তিসমূহকে সমুন্নত করেছেন।

অতঃপর, এটি এমন একটি কিতাব যার মাধ্যমে আমি ‘শুজুরুজ জাহাব ফি মারিফাতি কালামিল আরব’ নামক আমার সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। এর মাধ্যমে আমি এর উদ্ধৃতিসমূহকে পূর্ণাঙ্গ করেছি, এর বিক্ষিপ্ত বিষয়সমূহ একত্রিত করেছি এবং এর দুর্লভ ও জটিল বিষয়গুলো আয়ত্ত করা সহজ করে দিয়েছি। এতে আমার উদ্দেশ্য ছিল বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করা, ইঙ্গিতকে অস্পষ্ট রাখা নয়। আমি এতে বিষয়বস্তুর কাঠামো ও শ্রেণীবিভাগসমূহকে সুসংহত করার চেষ্টা করেছি, কেবল নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধানসমূহকে ছড়িয়ে দেওয়া নয়। আমি এতে এই নিয়ম মেনেছি যে, যখনই আমি মূল গ্রন্থের কোনো কাব্যিক উদ্ধৃতির চরণে পৌঁছাব, তখনই তার ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ উল্লেখ করব; আর যখনই কোনো অপরিচিত শব্দের সম্মুখীন হব, তখনই তার সাথে এমন কিছু যুক্ত করব যা তার অস্পষ্টতা দূর করে দেয়। আর যখনই কোনো মাসআলা শেষ করব, তখনই অবতীর্ণ হওয়া মহাগ্রন্থের সংশ্লিষ্ট কোনো আয়াত দিয়ে তা সমাপ্ত করব এবং এর সাথে প্রয়োজনীয় ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ, তাফসীর ও ব্যাখ্যা যুক্ত করব। এ কাজের মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং এই জাতীয় জ্ঞান অন্বেষণের পদ্ধতির সাথে তাকে পরিচিত করানো।

আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা আমাকে ও আপনাদেরকে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে ও প্রার্থনা কবুলকারী। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহরই সাহায্যে; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الْكَلِمَة وأقسامها

 

‌‌تَعْرِيف الْكَلِمَة

 

قلت الْكَلِمَة قَول مُفْرد

وَأَقُول للكلمة مَعْنيانِ اصطلاحي وَهُوَ مَا ذكرت

وَالْمرَاد بالْقَوْل اللَّفْظ الدَّال على معنى كَرجل وَفرس بِخِلَاف الْخط مثلا فَإِنَّهُ وَإِن دلّ على معنى لكنه لَيْسَ بِلَفْظ وَبِخِلَاف المهمل نَحْو ديز مقلوب زيد فَإِنَّهُ وَإِن كَانَ لفظا لكنه لَا يدل على معنى فَلَا يُسمى شَيْء من ذَلِك وَنَحْوه قولا
কালিমা এবং এর প্রকারভেদ

 

কালিমার সংজ্ঞা

 

আমি বলেছি, কালিমা হলো একক কথা।

আমি বলছি, কালিমার দুটি অর্থ রয়েছে; একটি পারিভাষিক, যা আমি উল্লেখ করেছি।

'কথা' বা 'কাউল' বলতে এমন উচ্চারিত শব্দকে বোঝায় যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থের নির্দেশক, যেমন: 'পুরুষ' এবং 'ঘোড়া'। এটি 'লিখন'-এর বিপরীত, কারণ লিখন যদিও কোনো অর্থের প্রতি নির্দেশ করে, কিন্তু তা উচ্চারিত শব্দ নয়। আর এটি 'অর্থহীন শব্দ'-এরও বিপরীত, যেমন 'দাইয' (যা 'যাইদ' শব্দের বিপরীত), কারণ এটি শব্দ হওয়া সত্ত্বেও কোনো অর্থ প্রকাশ করে না। ফলে এ জাতীয় কোনো কিছু এবং এর অনুরূপ কোনো কিছুকেই 'কথা' বলা হয় না।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَالْمرَاد بالمفرد مَا لَا يدل جزؤه على جُزْء مَعْنَاهُ كَمَا مثلنَا من قَوْلنَا رجل وَفرس أَلا ترى أَجزَاء كل مِنْهُمَا وَهِي حُرُوفه الثَّلَاثَة إِذا انْفَرد شَيْء مِنْهَا لَا يدل على شَيْء مِمَّا دلّت عَلَيْهِ جملَته بِخِلَاف قَوْلنَا غُلَام زيد فَإِنَّهُ مركب لِأَن كلا من جزءيه وهما غُلَام وَزيد دَال على جُزْء الْمَعْنى الَّذِي دلّت عَلَيْهِ جملَة غُلَام زيد

وَالْمعْنَى الثَّانِي لغَوِيّ وَهُوَ الْجمل المفيدة قَالَ الله تَعَالَى {كلا إِنَّهَا كلمة هُوَ قَائِلهَا}
আর মুফরাদ (একক শব্দ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন শব্দ যার অংশ তার অর্থের কোনো অংশের ওপর নির্দেশ করে না; যেমনটি আমরা আমাদের উক্তি ‘রজুল’ (পুরুষ) এবং ‘ফারাস’ (ঘোড়া) শব্দ দুটির মাধ্যমে উদাহরণ দিয়েছি। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, এগুলোর প্রত্যেকটির অংশসমূহ—অর্থাৎ এর তিনটি করে অক্ষর—সেগুলোর কোনোটি যখন পৃথক হয়ে যায়, তখন তা পূর্ণ শব্দটি যে অর্থের ওপর নির্দেশ করছিল তার কোনো অংশের ওপর নির্দেশ করে না। পক্ষান্তরে আমাদের উক্তি ‘গুলামু যাইদ’ (যাইদের গোলাম) এর বিষয়টি এর বিপরীত; কেননা এটি মুরাক্কাব (যৌগিক), যেহেতু এর উভয় অংশ—অর্থাৎ ‘গুলাম’ এবং ‘যাইদ’—সেই অর্থের একটি অংশের ওপর নির্দেশ প্রদানকারী যা পূর্ণ ‘গুলামু যাইদ’ শব্দসমষ্টি দ্বারা বুঝানো হয়েছে।

আর দ্বিতীয় অর্থটি হলো আভিধানিক, আর তা হলো অর্থবোধক বাক্যসমূহ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {কখনো নয়, এটি একটি বাক্য মাত্র যা সে বলছে।}
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
رب ارْجِعُونِ لعَلي أعمل صَالحا فِيمَا تركت

ثمَّ قلت وَهِي اسْم وَفعل وحرف

وَأَقُول الْكَلِمَة جنس تَحْتَهُ هَذِه الْأَنْوَاع الثَّلَاثَة لَا غير أجمع على ذَلِك من يعْتد بقوله
হে আমার প্রতিপালক, আমাকে পুনরায় ফেরত পাঠান; যেন আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে নেক আমল করতে পারি।

অতঃপর আমি বলেছি: আর তা হলো বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়।

আর আমি বলছি: শব্দ (কালিমা) হলো এমন একটি সাধারণ শ্রেণী যার অন্তর্ভুক্ত কেবল এই তিনটি প্রকারই রয়েছে। যাঁদের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য, তাঁরা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَلكُل من هَذِه الثَّلَاثَة معنى فِي الِاصْطِلَاح وَمعنى فِي اللُّغَة فالاسم فِي الِاصْطِلَاح مَا دلّ على معنى فِي نَفسه غير مقترن بِأحد الْأَزْمِنَة الثَّلَاثَة وَفِي اللُّغَة سمة الشَّيْء أَي علامته وَهُوَ بِهَذَا الِاعْتِبَار يَشْمَل الْكَلِمَات الثَّلَاث فَإِن كلا مِنْهَا عَلامَة على مَعْنَاهُ

وَالْفِعْل فِي الِاصْطِلَاح مَا دلّ على معنى فِي نَفسه مقترن بِأحد الْأَزْمِنَة الثَّلَاثَة وَفِي اللُّغَة نفس الْحَدث الَّذِي يحدثه الْفَاعِل من قيام أَو قعُود أَو نَحْوهمَا

والحرف فِي الِاصْطِلَاح مَا دلّ على معنى فِي غَيره وَفِي اللُّغَة طرف الشَّيْء كحرف الْجَبَل وَفِي التَّنْزِيل وَمن النَّاس من يعبد الله على حرف الْآيَة أَي على طرف وجانب من الدّين أَي
এই তিনটির প্রত্যেকটির একটি পারিভাষিক অর্থ এবং একটি আভিধানিক অর্থ রয়েছে। পরিভাষায় ইসিম বা বিশেষ্য হলো এমন শব্দ যা নিজের মধ্যে একটি অর্থ নির্দেশ করে এবং তিনটি কালের কোনো একটির সাথে যুক্ত হয় না। আর আভিধানিক অর্থে এটি কোনো বস্তুর নিদর্শন বা চিহ্ন। এই বিবেচনায় এটি শব্দত্রয়ের প্রতিটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ তাদের প্রত্যেকটিই নিজ নিজ অর্থের জন্য এক একটি চিহ্ন স্বরূপ।

পরিভাষায় ফেয়েল বা ক্রিয়া হলো এমন শব্দ যা নিজের মধ্যে একটি অর্থ নির্দেশ করে এবং তিনটি কালের কোনো একটির সাথে যুক্ত হয়। আর আভিধানিক অর্থে এটি হলো স্বয়ং সেই কাজ যা কর্তা সম্পাদন করে, যেমন দাঁড়ানো, বসা বা এই জাতীয় কিছু।

পরিভাষায় হরফ বা অব্যয় হলো যা অন্যের মাধ্যমে নিজের অর্থ প্রকাশ করে। আর আভিধানিক অর্থে এটি হলো কোনো বস্তুর প্রান্ত বা কিনারা, যেমন পাহাড়ের কিনারা। পবিত্র কুরআনে এসেছে: "মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহর ইবাদত করে এক কিনারায় দাঁড়িয়ে" (আয়াতাংশ); অর্থাৎ দ্বীনের এক প্রান্তে বা এক পার্শ্বে থেকে।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
لَا يدْخل فِيهِ على ثبات وَتمكن فَهُوَ إِن أَصَابَهُ خير من صِحَة وَكَثْرَة مَال وَنَحْوهمَا اطْمَأَن بِهِ وَإِن أَصَابَته فتْنَة أَي شَرّ من مرض أَو فقر أَو نَحْوهمَا انْقَلب على وَجهه عَنهُ

ثمَّ قلت فالاسم مَا يقبل أل أَو النداء أَو الْإِسْنَاد إِلَيْهِ
সে এতে দৃঢ়তা ও স্থায়িত্বের সাথে প্রবেশ করে না। ফলে যদি তার কাছে কোনো কল্যাণ পৌঁছে—যেমন সুস্থতা, প্রচুর সম্পদ বা অনুরূপ কিছু—তবে সে তাতে আশ্বস্ত হয়। আর যদি তার কাছে কোনো পরীক্ষা অর্থাৎ রোগ, দারিদ্র্য বা অনুরূপ কোনো অমঙ্গল পৌঁছে, তবে সে তার চেহারা ফিরিয়ে তা থেকে বিমুখ হয়ে যায়।

অতঃপর আমি বললাম, বিশেষ্য (ইসিম) হলো তা-ই যা ‘আল’, ‘নিদা’ (আহ্বান) অথবা যার প্রতি ‘ইসনাদ’ (অন্বয়) হওয়াকে গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ২০)
وَأَقُول ذكرت للاسم ثَلَاث عَلَامَات يتَمَيَّز بهَا عَن قسميه إِحْدَاهَا أل وَذَلِكَ كَالرّجلِ وَالْكتاب وَالدَّار وَقَول أبي الطّيب

(الْخَيل وَاللَّيْل والبيداء تعرفنِي … وَالسيف وَالرمْح والقرطاس والقلم)
আমি বলছি, আমি বিশেষ্যের জন্য তিনটি আলামত বা চিহ্ন উল্লেখ করেছি যার দ্বারা এটি তার অন্য দুটি প্রকার হতে পৃথক হয়। তার একটি হলো ‘আল’, আর তা যেমন: ব্যক্তিটি, বইটি ও ঘরটি; এবং আবু তাইয়্যিবের উক্তি:

(ঘোড়া, রাত এবং মরুপ্রান্তর আমাকে চেনে … এবং তলোয়ার, বল্লম, কাগজ ও কলম)
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ২১)
فَهَذِهِ الْكَلِمَات السَّبع أَسمَاء لدُخُول أل عَلَيْهَا
সুতরাং এই সাতটি শব্দ হলো বিশেষ্য, যেহেতু এগুলোর ওপর ‘আল’ যুক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ২২)
الثَّانِيَة النداء نَحْو {يَا أَيهَا النَّبِي} {يَا نوح اهبط} {يَا لوط إِنَّا رسل رَبك} {يَا هود مَا جئتنا بِبَيِّنَة} {يَا صَالح ائتنا} {يَا شُعَيْب أصلاتك تأمرك} فَكل من هَذِه الْأَلْفَاظ الَّتِي دخلت عَلَيْهَا يَا اسْم وَهَكَذَا كل منادى
দ্বিতীয়টি হলো নিদা (সম্বোধন), যেমন: {হে নবী}, {হে নূহ, আপনি অবতরণ করুন}, {হে লূত, নিশ্চয়ই আমরা আপনার রবের প্রেরিত রাসূলগণ}, {হে হূদ, আপনি আমাদের নিকট কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসেননি}, {হে সালেহ, আপনি আমাদের নিকট তা নিয়ে আসুন}, {হে শুআইব, আপনার সালাত কি আপনাকে নির্দেশ দেয়?}। সুতরাং এই শব্দগুলোর প্রত্যেকটি যার শুরুতে ‘ইয়া’ প্রবেশ করেছে তা বিশেষ্য, এবং একইভাবে প্রত্যেকটি সম্বোধিত শব্দও বিশেষ্য।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
الثَّالِثَة الْإِسْنَاد إِلَيْهِ وَهُوَ أَن يسند إِلَيْهِ مَا تتمّ بِهِ الْفَائِدَة سَوَاء كَانَ الْمسند فعلا أَو اسْما أَو جملَة فالفعل ك قَامَ زيد ف قَامَ فعل مُسْند وَزيد اسْم مُسْند إِلَيْهِ وَالِاسْم نَحْو زيد أَخُوك فالأخ مُسْند وَزيد اسْم مُسْند إِلَيْهِ وَالْجُمْلَة نَحْو أَنا قُمْت فَقَامَ فعل مُسْند إِلَى التَّاء وَقَامَ وَالتَّاء جملَة مُسندَة إِلَى أَنا

وَهَذِه الْعَلامَة هِيَ أَنْفَع عَلَامَات الِاسْم وَبهَا تعرف اسمية مَا
তৃতীয় চিহ্নটি হলো তার প্রতি ইসনাদ করা (কোনো কিছু সম্বন্ধ করা), আর তা হলো তার প্রতি এমন বিষয় সম্বন্ধ করা যার দ্বারা পূর্ণ অর্থ অর্জিত হয়; চাই সেই মুসনাদটি (বিধেয়টি) কোনো ক্রিয়া হোক বা বিশেষ্য হোক কিংবা কোনো বাক্য হোক। ক্রিয়া হওয়ার উদাহরণ যেমন: ‘যায়দ দাঁড়িয়েছে’; এখানে ‘ক্বামা’ (দাঁড়িয়েছে) হলো মুসনাদ ক্রিয়া এবং ‘যায়দ’ হলো মুসনাদ ইলাইহি বিশেষ্য। বিশেষ্য হওয়ার উদাহরণ যেমন: ‘যায়দ তোমার ভাই’; এখানে ‘ভাই’ হলো মুসনাদ এবং ‘যায়দ’ হলো মুসনাদ ইলাইহি বিশেষ্য। বাক্য হওয়ার উদাহরণ যেমন: ‘আমি দাঁড়িয়েছি’; এখানে ‘ক্বামা’ ক্রিয়াটি ‘তা’ সর্বনামের দিকে সম্বন্ধিত হয়েছে এবং ‘ক্বামা’ ও ‘তা’ মিলে গঠিত বাক্যটি ‘আনা’ (আমি) শব্দের প্রতি সম্বন্ধিত হয়েছে।

আর এই চিহ্নটি বিশেষ্যের চিহ্নসমূহের মধ্যে সবচেয়ে উপকারী এবং এর মাধ্যমেই কোনো শব্দের বিশেষ্য হওয়ার বিষয়টি চেনা যায়।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
فِي قَوْله تَعَالَى {قل مَا عِنْد الله خير من اللَّهْو وَمن التِّجَارَة} {مَا عنْدكُمْ ينْفد وَمَا عِنْد الله بَاقٍ} أَلا ترى أَنَّهَا قد أسْند إِلَيْهَا الأخيرية فِي الْآيَة الأولى والنفاد فِي الْآيَة الثَّانِيَة والبقاء فِي الْآيَة الثَّالِثَة فَلهَذَا حكم بِأَنَّهَا فِيهِنَّ اسْم مَوْصُول بِمَعْنى الَّذِي وَكَذَلِكَ مَا فِي قَوْله تَعَالَى {إِنَّمَا صَنَعُوا كيد سَاحر} هِيَ مَوْصُولَة بِمَعْنى الَّذِي وصنعوا صلَة والعائد مَحْذُوف أَي إِن الَّذِي صنعوه وَكيد خبر وَيجوز أَن تقدرها مَوْصُولا حرفيا فَتكون هِيَ وصلتها فِي تَأْوِيل الْمصدر وَلَا تحْتَاج حِينَئِذٍ إِلَى تَقْدِير عَائِد وَلَيْسَ لَك أَن تقدرها حرفا كافا مثله فِي قَوْله تَعَالَى {إِنَّمَا الله إِلَه وَاحِد} لِأَن ذَلِك يُوجب نصب كيد على أَنه مفعول صَنَعُوا

ثمَّ قلت وَالْفِعْل إِمَّا مَاض وَهُوَ مَا يقبل تَاء التَّأْنِيث الساكنة كقامت وَقَعَدت وَمِنْه نعم وَبئسَ وَعَسَى وَلَيْسَ أَو أَمر وَهُوَ مَا دلّ على الطّلب مَعَ قبُول يَاء المخاطبة كقومي وَمِنْه هَات وتعال أَو
মহান আল্লাহর বাণী {বলুন, আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তা খেল-তামাশা ও ব্যবসা-বাণিজ্য অপেক্ষা উত্তম} এবং {তোমাদের কাছে যা আছে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা স্থায়ী হবে}-এ আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, প্রথম আয়াতে এর প্রতি 'উত্তম' হওয়ার গুণারোপ করা হয়েছে, দ্বিতীয় আয়াতে 'নিঃশেষ' হওয়ার এবং তৃতীয় আয়াতে (পরবর্তী অংশে) 'স্থায়ী' হওয়ার গুণারোপ করা হয়েছে? এই কারণে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যে, এই আয়াতগুলোতে 'মা' শব্দটি 'আল্লাজি' অর্থে ইসম মাওসুল (সংযোজক সর্বনাম)। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী {তারা যা করেছে তা তো জাদুকরের কৌশল মাত্র}-এর মধ্যে 'মা' শব্দটি 'আল্লাজি' অর্থে মাওসুলাহ এবং 'সানাউ' হলো সিলাহ, আর এখানে 'আইদ' (প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম) উহ্য রয়েছে; অর্থাৎ 'নিশ্চয়ই তারা যা তৈরি করেছে তা...' এবং 'কায়দু' শব্দটি খবর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একে 'মাওসুলে হারফি' হিসেবে গণ্য করাও বৈধ, সেক্ষেত্রে এটি এবং এর সিলাহ মিলে 'মাসদার'-এর ব্যাখ্যা প্রদান করবে এবং তখন কোনো 'আইদ' উহ্য ধরার প্রয়োজন হবে না। তবে আপনি একে 'হারফে কাফ্ফা' (কার্যরোধক অব্যয়) হিসেবে গণ্য করতে পারবেন না, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: {আল্লাহ তো কেবল একমাত্র ইলাহ}; কারণ এটি 'কায়দু' শব্দটিকে 'সানাউ' ক্রিয়ার কর্মপদ (মাফউল) হিসেবে 'মানসুব' বা জবরযুক্ত হওয়া সাব্যস্ত করবে।

এরপর আমি বলেছি: আর ক্রিয়া হয় 'মাযী' (অতীতকালীন), যা সাকিনযুক্ত স্ত্রীবাচক 'তা' গ্রহণ করে, যেমন: 'কামাত' (সে দাঁড়িয়েছে) এবং 'কাআদাত' (সে বসেছে)। 'নি’মা', 'বি’সা', 'আসা' এবং 'লাইসা' শব্দগুলোও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। অথবা ক্রিয়াটি 'আমর' (আদেশসূচক) হবে, যা সম্বোধনবাচক 'ইয়া' গ্রহণ করার পাশাপাশি কোনো কিছুর তলব বা প্রার্থনা করা বোঝায়, যেমন: 'কুমি' (তুমি দাঁড়াও)। 'হাতি' (তুমি নিয়ে এসো) এবং 'তাআলা' (তুমি এসো) শব্দগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত অথবা...
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
مضارع وَهُوَ مَا يقبل لم ك لم يقم وافتتاحه بِحرف من نأيت مضموم إِن كَانَ الْمَاضِي رباعيا كأدحرج وَأجِيب ومفتوح فِي غَيره كأضرب وأستخرج

وَأَقُول أَنْوَاع الْفِعْل ثَلَاثَة مَاض وَأمر ومضارع وَلكُل مِنْهَا عَلامَة تدل عَلَيْهِ

فعلامة الْمَاضِي تَاء التَّأْنِيث الساكنة كقامت وَقَعَدت وَمِنْه قَول الشَّاعِر

(ألمت فحيت ثمَّ قَامَت فودعت … فَلَمَّا تولت كَادَت النَّفس تزهق)
মুদারে (বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়া) হলো তা যা ‘লাম’ গ্রহণ করে, যেমন ‘লাম ইয়াকুম’। এর প্রারম্ভে ‘নাআইতু’ বর্ণগুলোর মধ্য হতে কোনো একটি বর্ণ থাকে। যদি এর মাজি (অতীতকাল) চার অক্ষরবিশিষ্ট হয় তবে সেই প্রারম্ভিক বর্ণটি পেশযুক্ত হয়, যেমন ‘উদাহরিজু’ এবং ‘উজিবু’। আর অন্য সব ক্ষেত্রে তা জবরযুক্ত হয়, যেমন ‘আদরিবু’ এবং ‘আস্তাকরিজু’।

আমি বলছি, ক্রিয়ার প্রকারভেদ তিনটি: মাজি (অতীতকাল), আমর (আদেশসূচক) ও মুদারে (বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল)। এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য নির্দিষ্ট আলামত বা চিহ্ন রয়েছে যা তার পরিচয় প্রদান করে।

মাজি বা অতীতকালসূচক ক্রিয়ার আলামত হলো সুকুনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’, যেমন ‘কামাত’ এবং ‘কায়াদাত’। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো কবির উক্তি:

(সে আগমন করল ও অভিবাদন জানাল, অতঃপর দাঁড়াল ও বিদায় নিল … যখন সে প্রস্থান করল, তখন প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার উপক্রম হলো)
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَبِذَلِك اسْتدلَّ على أَن عَسى وَلَيْسَ ليسَا حرفين كَمَا قَالَ ابْن السراج وثعلب فِي عَسى وكما قَالَ الْفَارِسِي فِي لَيْسَ وعَلى أَن نعم لَيست اسْما كَمَا يَقُول الْفراء وَمن وَافقه بل هِيَ أَفعَال مَاضِيَة لاتصال التَّاء الْمَذْكُورَة بهَا وَذَلِكَ كَقَوْلِك لَيست هِنْد
এবং এর দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে, 'আসা' এবং 'লাইসা' কোনো হরফ বা অব্যয় নয়, যেমনটি 'আসা'-এর ব্যাপারে ইবনুল সাররাজ ও সা’লাব এবং 'লাইসা'-এর ব্যাপারে আল-ফারিসি বলেছেন। আর এটিও প্রমাণিত হয়েছে যে, 'নি’মা' কোনো ইসম বা বিশেষ্য নয়, যেমনটি আল-ফাররা এবং তাঁর অনুসারীরা বলেন। বরং এগুলো অতীতকালীন ক্রিয়া, যেহেতু এগুলোর সাথে উল্লিখিত 'তা' যুক্ত হয়। আর এটি তোমার এই কথার ন্যায়— 'লাইসাত হিন্দ'।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
ظالمة فعست أَن تفلح وَقَوله عليه الصلاة والسلام من تَوَضَّأ يَوْم الْجُمُعَة فبها ونعمت وَقَول الشَّاعِر

(نعمت جَزَاء الْمُتَّقِينَ الجنه … دَار الْأَمَانِي والمنى والمنه)

واحترزت بالساكنة عَن المتحركة فَإِنَّهَا خَاصَّة بالأسماء كقائمة وَقَاعِدَة

وعلامة الْأَمر مَجْمُوع شَيْئَيْنِ لَا بُد مِنْهُمَا أَحدهمَا أَن يدل على الطّلب وَالثَّانِي أَن يقبل يَاء المخاطبة كَقَوْلِه تَعَالَى {فكلي واشربي وقري عينا} وَمِنْه هَات بِكَسْر التَّاء وتعال بِفَتْح اللَّام
অত্যাচারী (জনপদ), অতএব সম্ভবত সে সফল হবে। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "যে ব্যক্তি জুমার দিন অজু করল, তবে তা উত্তম ও কল্যাণকর।" এবং কবির উক্তি:

(মুত্তাকীদের প্রতিদান হিসেবে জান্নাত কতই না চমৎকার … যা আকাঙ্ক্ষা, কামনা ও অনুগ্রহের আবাস।)

আমি সুকুনযুক্ত (স্থির) তা-এর মাধ্যমে হরকতযুক্ত (চলাচলকারী) তা থেকে পৃথক করেছি; কারণ হরকতযুক্ত তা বিশেষ্য পদের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন: 'দণ্ডায়মান' এবং 'উপবিষ্ট'।

এবং আমরের (আদেশসূচক ক্রিয়া) আলামত হলো দুটি বিষয়ের সমষ্টি যা থাকা অপরিহার্য; প্রথমটি হলো তা নির্দেশের অর্থ প্রদান করবে এবং দ্বিতীয়টি হলো তা ইয়া-এ-মুখাতাব (স্ত্রীলিঙ্গবোধক ইয়া) গ্রহণ করবে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তুমি আহার করো, পান করো এবং চোখ জুড়াও}। এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'হাতি' (নিয়ে এসো) 'তা' বর্ণে কাসরা (জের) সহকারে এবং 'তাআলা' (এসো) 'লাম' বর্ণে ফাতহা (জবর) সহকারে।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
خلافًا للزمخشري فِي زَعمه أَنَّهُمَا من أَسمَاء الْأَفْعَال وَلنَا أَنَّهُمَا يدلان على الطّلب ويقبلان الْيَاء تَقول هَاتِي بِكَسْر التَّاء وتعالي بِفَتْح اللَّام قَالَ الشَّاعِر

(إِذا قلت هَاتِي نوليني تمايلت … عَليّ هضيم الكشح ريا المخلخل)
জামাখশারীর এই দাবির বিপরীতে যে শব্দ দুটি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য, আমাদের পক্ষ থেকে দলিল হলো যে এ দুটি শব্দ অনুরোধ নির্দেশ করে এবং ‘ইয়া’ গ্রহণ করে। আপনি ‘তা’ বর্ণে কাসরা যোগে বলবেন ‘হাতি’ এবং ‘লাম’ বর্ণে ফাতহা যোগে বলবেন ‘তাআলি’। জনৈক কবি বলেছেন—

(যখন আমি বললাম "নিয়ে এসো, আমাকে দান করো", তখন ক্ষীণ কটি ও অলঙ্কারশোভিত পুষ্ট নূপুর-অঙ্গের সেই নারী আমার দিকে হেলে পড়ল …)
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
والعامة تَقول تعالي بِكَسْر اللَّام وَعَلِيهِ قَول بعض الْمُحدثين

(تعالي أقاسمك الهموم تعالي … )
এবং সাধারণ মানুষ 'লাম' বর্ণে কাসরা যোগে 'তাআলি' বলে থাকে এবং এর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী যুগের কিছু কবির উক্তি রয়েছে

(এসো, আমি তোমার দুঃখসমূহ ভাগ করে নেই, এসো … )
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَالصَّوَاب الْفَتْح كَمَا يُقَال اخشي واسعي

فَلَو لم تدل الْكَلِمَة على الطّلب وَقبلت يَاء المخاطبة نَحْو تقومين وتقعدين أَو دلّت على الطّلب وَلم تقبل يَاء المخاطبة نَحْو نزال يَا هِنْد بِمَعْنى انزلي فَلَيْسَتْ بِفعل أَمر

وعلامة الْمُضَارع أَن يقبل دُخُول لم كَقَوْلِك لم يقم وَلم يقْعد

وَلَا بُد من كَونه مفتتحا بِحرف من أحرف نأيت نَحْو نقوم وأقوم وَيقوم زيد وَتقوم يَا زيد وَيجب فتح هَذِه الأحرف إِن كَانَ الْمَاضِي غير رباعي سَوَاء نقص عَنْهَا كَمَا مثلنَا أَو زَاد عَلَيْهَا نَحْو ينْطَلق ويستخرج وَضمّهَا إِن كَانَ رباعيا سَوَاء كَانَ كُله أصولا نَحْو دحرج يدحرج أَو وَاحِد من أحرفه زَائِدا نَحْو أجَاب يُجيب وَذَلِكَ لِأَن أجَاب وَزنه أفعل وَكَذَا كل كلمة وجدت أحرفها أَرْبَعَة لَا غير وَأول تِلْكَ الْأَرْبَعَة همزَة فاحكم بِأَنَّهَا زَائِدَة نَحْو
এবং সঠিক হলো ফাতহ্ (যবর) হওয়া, যেমন বলা হয় আখ্শাই এবং আস্'আই।

সুতরাং শব্দটি যদি অনুরোধ বা আদেশের (ত্বলব) অর্থ প্রকাশ না করে এবং 'ইয়া-উল মুখাত্বাবাহ' (স্ত্রীলিঙ্গ সম্বোধনের ইয়া) গ্রহণ করে, যেমন: তাক্বুমীনা এবং তাক্ব'উদীনা; অথবা যদি আদেশের অর্থ প্রকাশ করে কিন্তু 'ইয়া-উল মুখাত্বাবাহ' গ্রহণ না করে, যেমন: হে হিন্দ! 'নাযালি' অর্থাৎ 'ইনযিলী' (নিচে নামো) অর্থে, তবে তা ফে'লে আমর (আদেশসূচক ক্রিয়া) নয়।

আর মুদারে'-এর চিহ্ন হলো এটি 'লাম' (لم) এর প্রবেশ গ্রহণ করে, যেমন আপনার কথা: 'লাম ইয়াক্বুম' এবং 'লাম ইয়াক্ব'উদ'।

আর এটি অবশ্যই 'নাআইতু' (نأيت) এর অন্তর্ভুক্ত কোনো একটি হরফ দ্বারা শুরু হতে হবে। যেমন: নাক্বুমু, আক্বুমু, ইয়াক্বুমু যায়দুন এবং তাক্বুমু ইয়া যায়দু। আর যদি মাযী (অতীতকালীন ক্রিয়া) রুবায়ী (চার অক্ষরবিশিষ্ট) না হয়, তবে এই হরফগুলোতে ফাতহ্ প্রদান করা ওয়াজিব। চাই তা চার অক্ষরের কম হোক যেমন আমরা উদাহরণ দিয়েছি, অথবা চার অক্ষরের বেশি হোক যেমন: ইয়ানত্বালিক্বু এবং ইয়াসতাখরিজু। আর যদি মাযী রুবায়ী হয় তবে সেগুলোতে যম্মাহ (পেশ) প্রদান করা ওয়াজিব। চাই তার সবগুলো বর্ণই মূল বর্ণ (আসল) হোক যেমন: দাহরাজা-ইউদাহরিজু, অথবা তার কোনো একটি বর্ণ অতিরিক্ত হোক যেমন: আজা-বা-ইউজীবু। আর এটি এজন্য যে, 'আজা-বা' এর ওজন হলো 'আফ'আলা'। একইভাবে এমন প্রতিটি শব্দ যার বর্ণ সংখ্যা কেবল চারটিই পাওয়া যায় এবং সেই চারটির প্রথমটি হামযাহ হয়, তবে সেটিকে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত দিন, যেমন:
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
أَحْمد وإصبع وإثمد وَمن أَمْثِلَة الْمُضَارع قَوْله تبارك وتعالى {لم يلد وَلم يُولد وَلم يكن لَهُ كفوا أحد}

ثمَّ قلت والحرف مَا عدا ذَلِك كهل وَفِي وَلم

وَأَقُول يعرف الْحَرْف بِأَن لَا يقبل شَيْئا من العلامات الْمَذْكُورَة للاسم وَالْفِعْل وَهُوَ على ثَلَاثَة أَنْوَاع مَا يدْخل على الْأَسْمَاء وَالْأَفْعَال كهل مِثَال دُخُولهَا على الِاسْم
আহমদ, আঙুল ও সুরমা এবং মুজারি‘ (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া)-এর উদাহরণের অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।}

অতঃপর আমি বলেছি: এবং হরফ (অব্যয়) হলো তা যা এগুলো (ইসম ও ফি‘ল) ব্যতীত অন্য কিছু, যেমন: ‘হাল’, ‘ফী’ এবং ‘লাম’।

আর আমি বলছি: হরফ চেনা যায় এই বৈশিষ্ট্যের দ্বারা যে, এটি ইসম এবং ফি‘ল-এর জন্য উল্লিখিত কোনো আলামত বা চিহ্নই গ্রহণ করে না। হরফ তিন প্রকার: (প্রথমত) যা ইসম এবং ফি‘ল উভয়ের ওপরই যুক্ত হতে পারে, যেমন ‘হাল’। ইসমের ওপর এর যুক্ত হওয়ার উদাহরণ হলো:
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
قَوْله تَعَالَى {فَهَل أَنْتُم شاكرون} وَمِثَال دُخُولهَا على الْفِعْل قَوْله تَعَالَى {وَهل أَتَاك نبأ الْخصم}

وَمَا يخْتَص بالأسماء ك فِي فِي قَوْله تَعَالَى {وَفِي السَّمَاء رزقكم وَمَا توعدون}

وَمَا يخص بالأفعال كلم فِي قَوْله تَعَالَى {لم يلد وَلم يُولد}

ثمَّ اعْلَم أَن الْمَنْفِيّ بهَا تَارَة يكون انتفاؤه مُنْقَطِعًا وَتارَة يكون مُتَّصِلا بِالْحَال وَتارَة يكون مستمرا أبدا فَالْأول نَحْو قَوْله تَعَالَى {لم يكن شَيْئا مَذْكُورا} أَي ثمَّ كَانَ بعد ذَلِك وَالثَّانِي نَحْو {وَلم أكن بدعائك رب شقيا} وَالثَّالِث نَحْو {لم يلد وَلم يُولد وَلم يكن لَهُ كفوا أحد}
মহান আল্লাহর বাণী {সুতরাং তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে?} এবং ক্রিয়ার ওপর এর প্রবেশের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী {তোমার কাছে কি বিবাদীদের সংবাদ পৌঁছেছে?}

আর যা বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট, যেমন মহান আল্লাহর বাণী {এবং আসমানে রয়েছে তোমাদের রিযিক ও যা তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে}-এর মধ্যে থাকা ‘ফী’।

এবং যা ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট, যেমন মহান আল্লাহর বাণী {তিনি জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি}-এর মধ্যে থাকা ‘লাম’।

অতঃপর জেনে রাখুন যে, এর (লাম-এর) মাধ্যমে যা অস্বীকার করা হয়, কখনও তার সেই নেতিবাচকতা বিচ্ছিন্ন হয়, কখনও তা বর্তমান সময়ের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং কখনও তা সর্বদা অব্যাহত থাকে। প্রথমটির উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী {সে উল্লেখযোগ্য কোনো কিছু ছিল না}, অর্থাৎ এরপর সে অস্তিত্বশীল হয়েছিল। দ্বিতীয়টির উদাহরণ {হে আমার প্রতিপালক, আপনাকে ডেকে আমি কখনও বঞ্চিত হইনি} এবং তৃতীয়টির উদাহরণ {তিনি জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি, এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই}।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَهنا تَنْبِيه وَهُوَ أَن الْقَاعِدَة أَن الْوَاو إِذا وَقعت بَين يَاء مَفْتُوحَة وكسرة حذفت كَقَوْلِك فِي وعد يعد وَفِي وزن يزن وَبِهَذَا تعلم لأي شَيْء حذفت فِي يلد وَثبتت فِي يُولد

ثمَّ قلت وَالْكَلَام قَول مُفِيد مَقْصُود

وَأَقُول للْكَلَام مَعْنيانِ اصطلاحي ولغوي فَأَما مَعْنَاهُ فِي الِاصْطِلَاح فَهُوَ القَوْل الْمُفِيد وَقد مضى تَفْسِير القَوْل وَمَا الْمُفِيد فَهُوَ الدَّال على معنى يحسن السُّكُوت عَلَيْهِ نَحْو زيد قَائِم وَقَامَ أَخُوك بِخِلَاف نَحْو زيد وَنَحْو غُلَام زيد وَنَحْو الَّذِي قَامَ أَبوهُ فَلَا يُسمى شَيْء من هَذَا مُفِيدا لِأَنَّهُ لَا يحسن السُّكُوت عَلَيْهِ فَلَا يُسمى كلَاما

وَأما مَعْنَاهُ فِي اللُّغَة فَإِنَّهُ يُطلق على ثَلَاثَة أُمُور أَحدهَا الْحَدث الَّذِي هُوَ التكليم تَقول أعجبني كلامك زيدا أَي تكليمك إِيَّاه وَإِذا اسْتعْمل بِهَذَا الْمَعْنى عمل عمل الْأَفْعَال كَمَا فِي هَذَا الْمِثَال وَكَقَوْلِه
এখানে একটি সতর্কতা রয়েছে, আর তা হলো নিয়ম অনুযায়ী ‘ওয়াও’ যখন জবরযুক্ত ‘ইয়া’ এবং ‘কাসরা’ (জের)-এর মাঝে পতিত হয়, তখন তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন আপনার বলা ‘ওয়াআদা’ থেকে ‘ইয়াঈদু’ এবং ‘ওয়াজানা’ থেকে ‘ইয়াজিনু’ শব্দের ক্ষেত্রে। এর মাধ্যমেই আপনি জানতে পারবেন যে, কেন ‘ইয়ালিদু’ শব্দে এটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং ‘ইউলাদু’ শব্দে বহাল রয়েছে।

অতঃপর আমি বলেছি: কালাম (বাক্য) হলো অর্থবহ ও উদ্দেশ্যমূলক কথা।

আমি বলছি: কালাম-এর দুটি অর্থ রয়েছে—পারিভাষিক ও শাব্দিক। পারিভাষিক অর্থে এটি হলো অর্থবহ কথা। ‘কথা’ (কাওল)-এর ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর ‘অর্থবহ’ বলতে এমন বিষয়কে বোঝায় যা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থের ওপর নির্দেশ করে যার ওপর নীরব থাকা সমীচীন হয়। যেমন: ‘জায়েদ দণ্ডায়মান’ এবং ‘তোমার ভাই দাঁড়িয়েছে’। এটি ‘জায়েদ’, ‘জায়েদের গোলাম’ কিংবা ‘যার পিতা দাঁড়িয়েছে’—এই জাতীয় শব্দের বিপরীত; কারণ এগুলোর কোনোটিকেই ‘অর্থবহ’ বলা হয় না, যেহেতু এগুলোর ওপর কথা শেষ করে নীরব থাকা সমীচীন নয়। তাই এগুলোকে ‘কালাম’ বলা যাবে না।

আর শাব্দিক অর্থে এটি তিনটি বিষয়ের ওপর ব্যবহৃত হয়: এর মধ্যে প্রথমটি হলো সেই কাজ বা উৎস যা হলো ‘কথা বলা’ (তাকলীম)। আপনি বলবেন: ‘জায়েদের সাথে তোমার কথা বলা আমাকে মুগ্ধ করেছে’, অর্থাৎ তার সাথে তোমার আলাপ করা। যখন এটি এই অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তা ক্রিয়ার (ফেল) ন্যায় আমল করে, যেমনটি এই উদাহরণে এবং তাঁর উক্তিতে দেখা যায়:
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
(قَالُوا كلامك هندا وَهِي مصغية … يشفيك قلت صَحِيح ذَاك لَو كَانَا)
(তারা বলল, হিন্দের সাথে তোমার কথোপকথন এমতাবস্থায় যে সে মনোযোগী … তোমাকে আরোগ্য দান করবে; আমি বললাম, তা সত্য, যদি তা সম্ভব হতো)
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أَي تكليمك هندا

وَالثَّانِي مَا فِي النَّفس مِمَّا يعبر عَنهُ بِاللَّفْظِ الْمُفِيد وَذَلِكَ كَأَن يقوم بِنَفْسِك معنى قَامَ زيد أَو قعد عَمْرو وَنَحْو ذَلِك فيسمى ذَلِك الَّذِي تخيلته كلَاما قَالَ الأخطل

‌‌9 - (لَا يعجبنك من خطيب خطْبَة … حَتَّى يكون مَعَ الْكَلَام أصيلا)

(إِن الْكَلَام لفي الْفُؤَاد وَإِنَّمَا … جعل اللِّسَان على الْفُؤَاد دَلِيلا)
অর্থাৎ হিন্দা-এর সাথে আপনার কথা বলা

আর দ্বিতীয়টি হলো অন্তরের বিষয় যা অর্থবোধক শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আর তা হলো যেমন আপনার মনে ‘জায়েদ দাঁড়িয়েছে’ অথবা ‘আমর বসেছে’ এবং এই জাতীয় অর্থ উদিত হওয়া। ফলে আপনি যা কল্পনা করেছেন তাকে ‘কালাম’ (কথা) বলা হয়। আখতাল বলেছেন:

‌‌৯ - (কোনো বক্তার বক্তৃতা যেন আপনাকে মুগ্ধ না করে … যতক্ষণ না সে কথার সাথে সুদৃঢ় ভিত্তিমান হয়)

(নিশ্চয়ই কথা তো হৃদয়ের অভ্যন্তরে বিদ্যমান, আর জিহ্বাকে তো কেবল হৃদয়ের বহিঃপ্রকাশক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে)
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَالثَّالِث مَا تحصل بِهِ الْفَائِدَة سَوَاء كَانَ لفظا أَو خطا أَو اشارة أَو مَا نطق بِهِ لِسَان الْحَال وَالدَّلِيل على ذَلِك فِي الْخط قَول الْعَرَب الْقَلَم أحد اللسانين وتسميتهم مَا بَين دفتي الْمُصحف كَلَام الله وَالدَّلِيل عَلَيْهِ فِي الْإِشَارَة قَوْله تَعَالَى {آيتك أَلا تكلم النَّاس ثَلَاثَة أَيَّام إِلَّا رمزا} فاستثنى الرَّمْز من الْكَلَام وَالْأَصْل فِي الِاسْتِثْنَاء الِاتِّصَال وَأما قَوْله

(أشارت بِطرف الْعين خيفة أَهلهَا … اشارة محزون وَلم تَتَكَلَّم)

(فأيقنت أَن الطّرف قد قَالَ مرْحَبًا … وَأهلا وسهلا بالحبيب المتيم)
তৃতীয় প্রকার হলো তা-ই যার দ্বারা উদ্দেশ্য বা ফায়দা অর্জিত হয়, চাই তা উচ্চারণ, লিখন, ইঙ্গিত কিংবা অবস্থার জবান দ্বারা ব্যক্ত হোক। লিখনের ক্ষেত্রে এর প্রমাণ হলো আরবদের প্রবাদ: ‘কলম হলো দুই জিহ্বার একটি’, এবং মুসহাফের দুই মলাটের মধ্যবর্তী বিষয়বস্তুকে তাদের ‘আল্লাহর কালাম’ হিসেবে অভিহিত করা। আর ইঙ্গিতের ক্ষেত্রে এর প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি তিন দিন মানুষের সাথে ইশারা ছাড়া কথা বলবে না}। এখানে তিনি কথা বলা থেকে ইশারাকে ব্যতিক্রম করেছেন, আর ইস্তিসনা বা ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো সংযোগ (অর্থাৎ যা বাদ দেওয়া হচ্ছে তা মূল বিষয়েরই অন্তর্ভুক্ত)। আর কবির এই উক্তি—

(সে তার পরিবারের ভয়ে চোখের কোণ দিয়ে ইঙ্গিত করল … এক ব্যথিত হৃদয়ের ইঙ্গিত, অথচ সে কোনো কথা বলেনি)

(তখন আমি নিশ্চিত হলাম যে, সেই চোখের চাহনিই যেন বলেছে 'স্বাগতম' … এবং প্রাণপ্রিয় প্রেমাসক্তের জন্য জানিয়েছে উষ্ণ অভ্যর্থনা)
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
فَإِنَّمَا نفى الْكَلَام اللَّفْظِيّ لَا مُطلق الْكَلَام وَلَو أَرَادَ بقوله وَلم تَتَكَلَّم نفي غير الْكَلَام اللَّفْظِيّ لانتقض بقوله فأيقنت
নিশ্চয়ই তিনি কেবল শাব্দিক কথাকেই অস্বীকার করেছেন, সাধারণ বা নিরঙ্কুশ কথাকে নয়। আর তিনি যদি তাঁর উক্তি "এবং আপনি কথা বলেননি" দ্বারা শাব্দিক কথা ব্যতীত অন্য কিছু অস্বীকার করার ইচ্ছা করতেন, তবে তা তাঁর উক্তি "ফলে আমি নিশ্চিত হলাম" দ্বারা খণ্ডিত হয়ে যেত।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৩৮)
أَن الطّرف قد قَالَ مرْحَبًا لِأَنَّهُ أثبت للطرف قولا بعد أَن نفى الْكَلَام وَالْمرَاد نفي الْكَلَام اللَّفْظِيّ وَإِثْبَات الْكَلَام اللّغَوِيّ

وَالدَّلِيل عَلَيْهِ فِيمَا نطق بِهِ لِسَان الْحَال قَول نصيب

(فعاجوا فَأَثْنوا بِالَّذِي أَنْت أَهله … وَلَو سكتوا أثنت عَلَيْك الحقائب)
নিশ্চয়ই দৃষ্টি ‘স্বাগতম’ বলেছে; কারণ এখানে বাচনিক কথাবার্তাকে অস্বীকার করার পর দৃষ্টির জন্য কথা বলা সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর এর উদ্দেশ্য হলো শাব্দিক বাক্যালাপকে অস্বীকার করা এবং ভাষাগত বা ভাবগত বার্তাকে সাব্যস্ত করা।

বিদ্যমান পরিস্থিতি বা অবস্থার জবান যা ব্যক্ত করে, সে বিষয়ে নুসায়িবের উক্তিটিই প্রমাণ:

(তারা যাত্রাবিরতি করল এবং আপনার প্রাপ্য প্রশংসা করল … আর তারা যদি নীরবও থাকত, তবে আপনার দান-সামগ্রীতে পূর্ণ থলেগুলোই আপনার প্রশংসা করত।)
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَقَالَ الله تَعَالَى {قَالَتَا أَتَيْنَا طائعين} فَزعم قوم من الْعلمَاء أَنَّهُمَا تكلمتا حَقِيقَة وَقَالَ آخَرُونَ إنَّهُمَا لما انقادتا لأمر الله عز وجل نزل ذَلِك منزلَة القَوْل

ثمَّ قلت وَهُوَ خبر وَطلب وإنشاء
এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন {তারা উভয় বলল, ‘আমরা অনুগত হয়ে আসলাম’}। অতঃপর একদল আলেম দাবি করেছেন যে তারা উভয় প্রকৃতপক্ষে কথা বলেছিল, আর অন্যরা বলেছেন যে যখন তারা মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অনুগত হয়েছিল, তখন সেই বিষয়টি কথা বলার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল।

অতঃপর আমি বললাম, আর তা হলো সংবাদ, তলব এবং ইনশা।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৪০)
وَأَقُول هَذَا التَّقْسِيم تبْعَث فِيهِ بَعضهم وَالتَّحْقِيق خِلَافه وَأَن الْكَلَام يَنْقَسِم إِلَى خبر وإنشاء فَقَط وَأَن الطّلب من أَقسَام الْإِنْشَاء وَأَن مَدْلُول قُم حَاصِل عِنْد التَّلَفُّظ بِهِ لَا يتَأَخَّر عَنهُ وانما يتَأَخَّر عَنهُ الِامْتِثَال وَهُوَ خَارج عَن مَدْلُول اللَّفْظ وَلما اخْتصَّ هَذَا النَّوْع بِأَن إِيجَاد لَفظه إِيجَاد لمعناه سمي انشاء قَالَ الله تَعَالَى {إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إنْشَاء} أَي أوجدناهن إيجادا
আমি বলি, এই বিভাজনের অনুসরণ কেউ কেউ করেছেন, কিন্তু সূক্ষ্ম যাচাইয়ের মাধ্যমে এর বিপরীতটিই প্রমাণিত। আর তা হলো বাক্য কেবল সংবাদ (খবর) এবং সৃজন (ইনশা) এই দুই ভাগে বিভক্ত এবং আকাঙ্ক্ষা (তলব) সৃজন বা ইনশারই একটি প্রকার। আর 'দাঁড়াও' শব্দের অর্থ এটি উচ্চারণের মুহূর্তেই অর্জিত হয়, তা উচ্চারণ থেকে বিলম্বিত হয় না; বরং কেবল নির্দেশ পালন করাই বিলম্বিত হয়, যা শব্দের মূল অর্থের বহির্ভূত। যেহেতু এই প্রকারের বিশেষত্ব হলো এর শব্দকে অস্তিত্বে আনাই এর অর্থকে অস্তিত্বে আনা, তাই একে 'ইনশা' (সৃজন) নামকরণ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, {নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি} অর্থাৎ আমি তাদেরকে অস্তিত্ব দান করেছি।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌الْإِعْرَاب

 

ثمَّ قلت بَاب الْإِعْرَاب أثر ظَاهر أَو مُقَدّر يجلبه الْعَامِل فِي آخر الِاسْم المتمكن وَالْفِعْل الْمُضَارع
ই'রাব

 

অতঃপর আমি বলেছি: ই'রাব পরিচ্ছেদ; এটি হলো এমন এক প্রকাশ্য বা উহ্য প্রভাব, যা আমিল ইসম মুতামাক্কিন এবং ফেলে মুদারে-এর শেষে আনয়ন করে।
(খণ্ড: ১) শারহু শুযুরিজ যাহাবি লি-ইবনি হিশাম (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَأَقُول للإعراب مَعْنيانِ لغَوِيّ وصناعي

فَمَعْنَاه اللّغَوِيّ الْإِبَانَة يُقَال أعرب الرجل عَمَّا فِي نَفسه إِذا أبان عَنهُ وَفِي الحَدِيث الْبكر تستأمر وإذنها صماتها والأيم
আমি বলছি, ‘ইরাব’-এর দুটি অর্থ রয়েছে: আভিধানিক ও পারিভাষিক।

এর আভিধানিক অর্থ হলো ব্যক্ত করা বা প্রকাশ করা। বলা হয়ে থাকে, ‘ব্যক্তিটি তার মনের কথা ব্যক্ত করেছে’, যখন সে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। আর হাদিসে এসেছে: ‘কুমারী কন্যার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করা হবে এবং তার নীরবতাই তার সম্মতি, আর স্বামীহীনা নারী...’