(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
علل التثنية   (ابن جني)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: علل التثنية

المؤلف: أبو الفتح عثمان بن جني الموصلي (ت 392هـ)

المحقق: الدكتور صبيح التميمي

الناشر: مكتبة الثقافة الدينية - مصر

سنة النشر:

عدد الصفحات: 93

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দ্বিবচনের কারণসমূহ   (ইবনে জিন্নি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


গ্রন্থ: ইলাল আত-তাথনিয়া (দ্বিবচনের কারণসমূহ)

লেখক: আবু আল-ফাতহ উসমান বিন জিন্নি আল-মাওসিলি (মৃত্যু ৩৯২ হিজরি)

সম্পাদক: ডক্টর সাবিহ আত-তামিমি

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দিনিয়্যাহ - মিশর

প্রকাশকাল:

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

قَالَ الشَّيْخ الْعَالم الأوحد أَبُو الْفَتْح عُثْمَان بن جني رَحْمَة الله عَلَيْهِ

‌‌ألف التَّثْنِيَة

 

أعلم أَن الْألف زيدت فِي الِاسْم الْمثنى علما للتثنية وَذَلِكَ قَوْلك رجلَانِ وفرسان وزيدان
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

অনন্য বিজ্ঞ শায়খ আবুল ফাতহ উসমান ইবনে জিননি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন:

দ্বিবচনের আলিফ (ألف التثنية)

 

জেনে রাখুন যে, দ্বিবচনবোধক বিশেষ্যে (الاسم المثنى) দ্বিবচনের চিহ্ন (علما للتثنية) হিসেবে আলিফ অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে। যেমন আপনার উক্তি: দুজন ব্যক্তি (رجلان), দুটি ঘোড়া (فرسان) এবং দুজন জায়েদ (زيدان)।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
آراء النُّحَاة فِي ألف التَّثْنِيَة

 

وَاخْتلف النَّاس من الْفَرِيقَيْنِ فِي هَذِه الْألف مَا هِيَ من الْكَلِمَة

فَقَالَ سِيبَوَيْهٍ هِيَ حرف الْإِعْرَاب وَلَيْسَ فِيهَا نِيَّة الْإِعْرَاب وَأَن الْيَاء فِي النصب والجر فِي قَوْلك

مَرَرْت بالزيدين وَرَأَيْت الزيدين حرف إِعْرَاب أَيْضا وَلَا تَقْدِير إِعْرَاب فِيهِ
দ্বিবচনের আলিফ (ألف التثنية) সংক্রান্ত ব্যাকরণবিদদের অভিমত

 

উভয় দলের (বসরা ও কুফা) আলেমগণ এই আলিফ সম্পর্কে এবং শব্দের মধ্যে এর প্রকৃত অবস্থা কী—সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন।

সিবাওয়াইহ বলেছেন, এটি হলো ই'রাবের বর্ণ (حرف الإعراب) এবং এতে ই'রাবের কোনো সুপ্ত রূপ গ্রহণের অবকাশ নেই। আর আপনার নিম্নোক্ত বক্তব্যের ক্ষেত্রে—

“আমি দুই জায়দের পাশ দিয়ে গেলাম” এবং “আমি দুই জায়দকে দেখলাম”—এখানে নসব (النصب) ও জর (الجر)-এর অবস্থায় বিদ্যমান ‘ইয়া’ বর্ণটিও ই'রাবের বর্ণ (حرف الإعراب) এবং এতেও ই'রাবের কোনো উহ্য রূপ বা প্রাক্কলন নেই।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَهُوَ قَول أبي إِسْحَاق وَابْن كيسَان وَأبي بكر وَأبي عَليّ

وَقَالَ أَبُو الْحسن إِن حرف التَّثْنِيَة لَيْسَ بِحرف إِعْرَاب
আর এটি আবু ইসহাক, ইবনে কায়সান, আবু বকর এবং আবু আলীর অভিমত।

এবং আবুল হাসান বলেছেন যে, দ্বিবচনের অক্ষরটি ই’রাবের অক্ষর নয়।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫০)
وَلَا هُوَ بإعراب وَلكنه دَلِيل الْإِعْرَاب فَإِذا رَأَيْت الْألف علمت أَن الِاسْم مَرْفُوع وَإِذا رَأَيْت الْيَاء علمت أَن الِاسْم مجرور أَو مَنْصُوب

وَإِلَيْهِ ذهب أَبُو الْعَبَّاس

وَقَالَ أَبُو عمر الْجرْمِي الْألف حرف الْإِعْرَاب كَمَا قَالَ سِيبَوَيْهٍ إِلَّا أَنه كَانَ يزْعم أَن انقلابها هُوَ إِعْرَاب

وَقَالَ الْفراء وَأَبُو إِسْحَاق الزيَادي وقطرب الْألف هِيَ إِعْرَاب وَكَذَلِكَ الْيَاء
এটি স্বয়ং কোনো ইরাব (إعراب) নয়, বরং এটি ইরাবের (إعراب) পরিচায়ক। সুতরাং যখন আপনি আলিফ দেখবেন, তখন জানবেন যে ইসমটি মারফু (مَرْفُوع) অবস্থায় আছে এবং যখন ইয়া দেখবেন, তখন জানবেন যে ইসমটি মাজরুর (مجرور) অথবা মানসুব (مَنْصُوب) অবস্থায় আছে।

আবু আল-আব্বাস এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।

আবু উমর আল-জারমি বলেছেন যে, আলিফ হলো ইরাবের বর্ণ (حرف الإعراب) যেমনটি সিবাওয়াইহ বলেছেন; তবে তিনি মনে করতেন যে এর রূপান্তরই হলো ইরাব (إعراب)।

আল-ফাররা, আবু ইসহাক আল-জিয়াদি এবং কুতরুব বলেছেন যে, আলিফ-ই হলো ইরাব (إعراب) এবং অনুরূপভাবে ইয়া-ও।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌الرَّأْي الرَّاجِح وَدَلِيله

 

وَأقوى هَذِه الْأَقْوَال قَول سِيبَوَيْهٍ

وَالدَّلِيل على صِحَة قَول سِيبَوَيْهٍ أَن الْألف حرف إِعْرَاب دون أَن يكون الْأَمر فِيهَا على مَا ذهب إِلَيْهِ غَيره أَن الَّذِي أوجب للْوَاحِد المتمكن حرف الْإِعْرَاب فِي نَحْو رجل وَفرس هُوَ مَوْجُود فِي التَّثْنِيَة فِي نَحْو قَوْلك رجلَانِ وفرسان وَهُوَ التَّمَكُّن

فَكَمَا أَن الْوَاحِد المتمكن المعرب يحْتَاج إِلَى حرف إِعْرَاب فَكَذَلِك الِاسْم الْمثنى إِذا كَانَ معربا مُتَمَكنًا احْتَاجَ إِلَى حرف إِعْرَاب

وَقَوْلنَا رجلَانِ وَنَحْوه مُعرب مُتَمَكن مُحْتَاج إِلَى مَا احْتَاجَ إِلَيْهِ الْوَاحِد المتمكن من حرف الْإِعْرَاب إِذن
প্রধান অভিমত এবং এর দলীল

 

আর এই সকল বক্তব্যের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো সিবওয়াইহ-এর বক্তব্য।

সিবওয়াইহ-এর বক্তব্যের বিশুদ্ধতা (صحة)-র প্রমাণ হলো যে, 'আলিফ' হলো ই'রাবের বর্ণ (حرف إعراب), বিষয়টি অন্যদের অভিমত অনুযায়ী নয়। কেননা, একবচন ও রূপান্তরযোগ্য (تمكن) শব্দের ক্ষেত্রে (যেমন: 'রুজুলুন' ও 'ফারাসুন') যা ই'রাবের বর্ণকে (حرف إعراب) আবশ্যক করে, তা দ্বিবচনের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান (যেমন আপনার উক্তি: 'রুজুলানি' ও 'ফারাসানি'), আর তা হলো রূপান্তরযোগ্যতা (تمكن)।

সুতরাং, যেভাবে একবচন ও রূপান্তরযোগ্য (تمكن) পরিবর্তনশীল (معرب) বিশেষ্যের জন্য ই'রাবের বর্ণের (حرف إعراب) প্রয়োজন হয়, ঠিক তেমনি দ্বিবচন বিশিষ্ট বিশেষ্য যখন পরিবর্তনশীল (معرب) ও রূপান্তরযোগ্য (تمكن) হয়, তখন সেটিও ই'রাবের বর্ণের (حرف إعراب) মুখাপেক্ষী হয়।

অতএব, আমাদের উক্তি 'রুজুলানি' এবং এর অনুরুপ শব্দগুলো হলো পরিবর্তনশীল (معرب) ও রূপান্তরযোগ্য (تمكن), যা একবচন ও রূপান্তরযোগ্য (تمكن) শব্দের ন্যায় ই'রাবের বর্ণের (حرف إعراب) মুখাপেক্ষী।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫২)
وَلَا يَخْلُو حرف الْإِعْرَاب فِي قَوْلنَا الزيدان وَالرجلَانِ من أَن يكون مَا قبل الْألف أَو الْألف أَو مَا بعد الْألف وَهُوَ النُّون

فَالَّذِي يفْسد أَن تكون الدَّال من الزيدان هِيَ حرف الْإِعْرَاب أَنَّهَا قد كَانَت فِي الْوَاحِد حرف الْإِعْرَاب فِي نَحْو

هَذَا زيد وَرَأَيْت زيدا ومررت بزيد

وَقد انْتَقَلت عَن الْوَاحِد الَّذِي هُوَ الأَصْل إِلَى التَّثْنِيَة الَّتِي هِيَ الْفَرْع كَمَا انْتَقَلت عَن الْمُذكر الَّذِي هُوَ الأَصْل فِي قَوْلنَا هُوَ قَائِم إِلَى الْمُؤَنَّث الَّذِي هُوَ الْفَرْع فِي قَوْلك هِيَ قَائِمَة

فَكَمَا أَن الْمِيم فِي قَائِمَة لَيست حرف الْإِعْرَاب وأنما علم التَّأْنِيث فِي قَائِمَة هُوَ حرف الْإِعْرَاب فَكَذَلِك يَنْبَغِي أَن يكون علم التَّثْنِيَة فِي نَحْو قَوْلك الزيدان والعمران هُوَ حرف الْإِعْرَاب وَعلم التَّثْنِيَة هُوَ الْألف فَيَنْبَغِي أَن تكون هِيَ حرف الْإِعْرَاب كَمَا كَانَت الْهَاء فِي قَائِمَة حرف الْإِعْرَاب
আমাদের বলা 'আয-যাইদানি' এবং 'আর-রাজুলানি' শব্দদ্বয়ে বিভক্তির বর্ণ (حرف الإعراب) আলিফ-এর পূর্ববর্তী বর্ণ, অথবা স্বয়ং আলিফ, অথবা আলিফ-এর পরবর্তী বর্ণ তথা নুন হওয়া থেকে খালি নয়।

সুতরাং 'আয-যাইদানি' শব্দের 'দাল' বর্ণটি বিভক্তির বর্ণ (حرف الإعراب) হওয়ার বিষয়টিকে যা অসার করে তা হলো, এটি একবচনের (الواحد) ক্ষেত্রে বিভক্তির বর্ণ (حرف الإعراب) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল; যেমন:

'এই হয় যাইদ', 'আমি যাইদকে দেখেছি' এবং 'আমি যাইদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি'।

আর এটি একবচন (الواحد) থেকে যা মূল (الأصل), দ্বিবচনে (التثنية) স্থানান্তরিত হয়েছে যা একটি শাখা (الفرع); ঠিক যেমনটি পুংলিঙ্গ (المذكر) থেকে যা মূল (الأصل) আমাদের বলা 'সে দণ্ডায়মান'-এর ক্ষেত্রে, স্ত্রীলিঙ্গ (المؤنث) এর দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে যা শাখা (الفرع) আপনার বলা 'সে (স্ত্রী) দণ্ডায়মান' এর ক্ষেত্রে।

সুতরাং 'কায়িমাতুন' শব্দে 'মীম' বর্ণটি যেমন বিভক্তির বর্ণ (حرف الإعراب) নয়, বরং 'কায়িমাতুন' শব্দে স্ত্রীলিঙ্গত্বের চিহ্নটিই (علم التأنيث) হলো বিভক্তির বর্ণ (حرف الإعراب); অনুরূপভাবে আপনার বলা 'আয-যাইদানি' ও 'আল-আমরানি' এর ন্যায় শব্দগুলোতে দ্বিবচনের চিহ্নটিই (علم التثنية) বিভক্তির বর্ণ (حرف الإعراب) হওয়া উচিত। আর দ্বিবচনের চিহ্ন হলো আলিফ, তাই এটিই বিভক্তির বর্ণ (حرف الإعراب) হওয়া সমীচীন, যেমনটি 'কায়িমাতুন' শব্দে 'হা' বর্ণটি বিভক্তির বর্ণ (حرف الإعراب) ছিল।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
على أَن أحدا لم يقل إِن مَا قبل ألف التَّثْنِيَة حرف الْإِعْرَاب وَإِنَّمَا قُلْنَا الَّذِي قُلْنَا احْتِيَاطًا لِئَلَّا تَدْعُو الضَّرُورَة إنْسَانا إِلَى الْتِزَام ذَلِك فَيكون جَوَابه بِمَا يفْسد بِهِ مذْهبه حَاضرا

وَأَيْضًا فَلَو كَانَ حرف الْإِعْرَاب فِي الزيدان هُوَ الدَّال كَمَا كَانَ فِي الْوَاحِد لوَجَبَ أَن يكون إعرابه فِي التَّثْنِيَة كإعرابه فِي الْوَاحِد كَمَا أَن حرف الْإِعْرَاب فِي نَحْو فرس لما كَانَ هُوَ السِّين وَكَانَ فِي أَفْرَاس أَيْضا هُوَ السِّين كَانَ إِعْرَاب أَفْرَاس كإعراب فرس وَهَذَا غير خَفِي

وَلَا يجوز أَن تكون النُّون حرف الْإِعْرَاب لِأَنَّهَا حرف صَحِيح يحْتَمل الْحَرَكَة فَلَو كَانَت حرف إِعْرَاب لوَجَبَ أَن تَقول

قَامَ الزيدان وَرَأَيْت الزيدان ومررت بالزيدان فتعرب النُّون وتقر الْألف على حَالهَا

كَمَا تَقول

هَؤُلَاءِ غلْمَان وَرَأَيْت غلمانا ومررت بغلمان

وَأَيْضًا

فَإِن النُّون قد تحذف فِي الْإِضَافَة وَلَو كَانَت حرف إِعْرَاب لثبتت فِي الْإِضَافَة
যদিও কেউ বলেননি যে দ্বিবচনের আলিফের (ألف التثنية) পূর্বের বর্ণটি হলো বিভক্তির বর্ণ (حرف الإعراب); বরং আমরা যা বলেছি তা সতর্কতা স্বরূপ (احتياطا) বলেছি, যাতে কোনো ব্যক্তি প্রয়োজনে এটি মেনে নিতে বাধ্য হলে তার কাছে এমন উত্তর প্রস্তুত থাকে যা তার মতবাদকে (مذهب) বাতিল করে দেয়।

এছাড়াও, যদি ‘আয-যাইদান’ শব্দে বিভক্তির বর্ণ (حرف الإعراب) ‘দাল’ (الدال) হতো—যেমনটি একবচনের (الواحد) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে—তবে দ্বিবচনের (التثنية) ক্ষেত্রেও এর বিভক্তি (إعراب) একবচনের বিভক্তির মতোই হওয়া আবশ্যক ছিল। যেমন ‘ফারাস’ শব্দের ক্ষেত্রে বিভক্তির বর্ণ যেহেতু ‘সীন’ (السين) এবং ‘আফরাস’ শব্দের ক্ষেত্রেও তা ‘সীন’, তাই ‘আফরাস’-এর বিভক্তি (إعراب) ‘ফারাস’-এর বিভক্তির মতোই হয়েছে; আর এই বিষয়টি অস্পষ্ট নয়।

এবং ‘নুন’ (النون) বর্ণটি বিভক্তির বর্ণ (حرف الإعراب) হওয়া বৈধ নয়; কারণ এটি একটি সহীহ বর্ণ (حرف صحيح) যা হরকত (الحركة) গ্রহণ করার যোগ্যতা রাখে। সুতরাং এটি যদি বিভক্তির বর্ণ (حرف إعراب) হতো, তবে নিম্নোক্তভাবে বলা আবশ্যক হতো:

‘ক্বামা আয-যাইদানু’, ‘রাআইতু আয-যাইদানা’ এবং ‘মারারতু বিয-যাইদানি’। এমতাবস্থায় ‘নুন’ বর্ণটিতে বিভক্তি (إعراب) প্রদান করা হতো এবং আলিফ তার নিজ অবস্থায় বহাল থাকত।

যেমন আপনি বলে থাকেন:

‘হা-উলাই গিলমানুন’, ‘রাআইতু গিলমানান’ এবং ‘মারারতু বি-গিলমানিন’।

এছাড়াও:

নিশ্চয়ই ইযাফাত (الإضافة) বা সম্বন্ধের সময় ‘নুন’ বিলুপ্ত হয়ে যায়। যদি এটি বিভক্তির বর্ণ (حرف إعراب) হতো, তবে ইযাফাতের সময়ও তা অবশিষ্ট থাকত।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
كَمَا تَقول

هَؤُلَاءِ غلمانك وَرَأَيْت غلمانك ومررت بغلمانك

فقد صَحَّ أَن الْألف حرف الْإِعْرَاب

‌‌الاعتراضات الَّتِي ترد على القَوْل بِأَن الْألف حرف إِعْرَاب

 

1 - فَإِن قَالَ قَائِل

فَإِذا كَانَت الْألف حرف الْإِعْرَاب فَمَا بالهم قلبوها فِي الْجَرّ وَالنّصب

وهلا دلك قَلبهَا على أَنَّهَا لَيست ك دَال زيد إِذْ الدَّال ثَابِتَة على كل حَال

فَالْجَوَاب عَن ذَلِك من وَجْهَيْن

أَحدهمَا أَن انقلاب الْألف فِي الْجَرّ وَالنّصب لَا يمْنَع من كَونهَا حرف إِعْرَاب لأَنا قد وجدنَا فِيمَا هُوَ حرف إِعْرَاب بِلَا خلاف بَين أَصْحَابنَا هَذَا الانقلاب وَذَلِكَ ألف كلا وكلتا من قَوْلهم
যেমন আপনি বলেন

এরা আপনার ভৃত্যগণ, আমি আপনার ভৃত্যদের দেখেছি এবং আমি আপনার ভৃত্যদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি

সুতরাং এটি সঠিক (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়েছে যে, আলিফ হলো ই’রাব বা বিভক্তির বর্ণ

‌‌আলিফ ই’রাবের বর্ণ হওয়ার মতের ওপর উত্থাপিত আপত্তিগুলো

 

১ - যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন

যদি আলিফ ই’রাবের বর্ণ হয়, তবে কেন তারা একে যার (جر) ও নসব (نصب) এর অবস্থায় পরিবর্তিত করে দেয়?

আর এই পরিবর্তন কি একথারই প্রমাণ দেয় না যে, এটি যায়েদ শব্দের ‘দাল’ বর্ণের মতো নয়? কারণ ‘দাল’ সব অবস্থাতেই অপরিবর্তিত থাকে

এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়

প্রথমত, যার (جر) ও নসব (نصب) এর অবস্থায় আলিফের পরিবর্তিত হওয়া তাকে ই’রাবের বর্ণ হওয়া হতে বাধা দেয় না। কারণ আমরা এমন কিছু ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন দেখতে পাই যা আমাদের (সাথীদের) মাঝে কোনো মতভেদ (خلاف) ছাড়াই ই’রাবের বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত; যেমন তাদের উক্তি ‘কিলা’ ও ‘কিলতা’ এর আলিফ।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
قَامَ الرّجلَانِ كِلَاهُمَا والبنتان كلتاهما

ومررت بهما كليهمَا وكلتيهما وضربتهما كليهمَا وكلتيهما

فَكَمَا أَن الْألف فِي كلا وكلتا حرف إِعْرَاب وَقد قلبت كَمَا رَأَيْت فَكَذَلِك أَيْضا ألف التَّثْنِيَة هِيَ حرف إِعْرَاب وَإِن قلبت فِي الْجَرّ وَالنّصب

وَمثل ذَلِك من حُرُوف الْإِعْرَاب الَّتِي قلبت قَوْلهم أَبوك وأخوك وحموك وفوك وهنوك وَذُو مَال

فَكَمَا أَن هَذِه كلهَا حُرُوف إِعْرَاب وَقد ترَاهَا منقلبة فَكَذَلِك لَا يستنكر فِي حرف التَّثْنِيَة أَن يقلب وَإِن كَانَ حرف إِعْرَاب

قَالَ أَبُو عَليّ وَلَو لم تكن الْوَاو فِي ذُو وفو حرف إِعْرَاب لبقي الِاسْم الْوَاحِد على حرف وَاحِد وَهُوَ الذَّال

أما الْوَجْه الآخر

فَإِن فِي ذَلِك ضربا من الْحِكْمَة وَالْبَيَان وَذَلِكَ أَنهم أَرَادوا بِالْقَلْبِ
দুই ব্যক্তি এবং দুই কন্যা উভয়ই দণ্ডায়মান হলো।

আমি তাদের (উভয় লিঙ্গের) উভয়ের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং তাদের উভয়কে প্রহার করলাম।

সুতরাং, যেমন 'কিলা' এবং 'কিলতা' শব্দদ্বয়ে 'আলিফ' হলো ইরাবের বর্ণ এবং তা আপনি যেমন দেখলেন পরিবর্তিত হয়েছে; তদ্রূপ দ্বিবচনের আলিফও হলো ইরাবের বর্ণ, যদিও তা জর ও নসব অবস্থায় পরিবর্তিত হয়।

ইরাবের বর্ণসমূহের মধ্যে যা পরিবর্তিত হয় তার অনুরূপ উদাহরণ হলো তাদের উক্তি: আবুকা, আখুকা, হামুকা, ফুকা, হানুকা এবং জু মাল।

যেহেতু এই সবগুলোই ইরাবের বর্ণ এবং আপনি এগুলোকে পরিবর্তিত হতে দেখছেন, তাই দ্বিবচনের বর্ণটি পরিবর্তিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়, যদিও সেটি ইরাবের বর্ণ হয়ে থাকে।

আবু আলী বলেন: যদি 'জু' এবং 'ফু' শব্দদ্বয়ের 'ওয়াও' ইরাবের বর্ণ না হতো, তবে একবচনের বিশেষ্যটি কেবল একটি বর্ণের ওপর অবশিষ্ট থাকতো, আর তা হলো 'জাল'।

পক্ষান্তরে দ্বিতীয় দিকটি হলো:

নিশ্চয় এতে এক প্রকার প্রজ্ঞা ও সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে; আর তা হলো তারা এই পরিবর্তনের মাধ্যমে চেয়েছেন—
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
أَن يعلمُوا أَن الِاسْم بَاقٍ على إعرابه وَأَنه مُتَمَكن غير مَبْنِيّ فَجعلُوا الْقلب دَلِيلا على تمكن الِاسْم وَأَنه لَيْسَ بمبني بِمَنْزِلَة مَتى وَإِذا وَأَنا مِمَّا هُوَ مَبْنِيّ فِي آخِره ألف

2 - فَإِن قيل

فَإِذا كَانَت الْألف فِي التَّثْنِيَة حرف إِعْرَاب فَهَلا بقيت فِي الْأَحْوَال الثَّلَاث ألفا على صُورَة وَاحِدَة

كَمَا كَانَ ألف حُبْلَى وسكرى حرف إِعْرَاب وَهِي فِي الْأَحْوَال الثَّلَاث بَاقِيَة على صُورَة وَاحِدَة فِي قَوْلك

هَذِه حُبْلَى وَرَأَيْت حُبْلَى ومررت بحبلى

فَالْجَوَاب

أَن بَينهمَا فرقا وَذَلِكَ أَن الْأَسْمَاء الْمَقْصُورَة الَّتِي حُرُوف إعرابها ألفات وَإِن كَانَت فِي حَالَة الرّفْع وَالنّصب والجر على صُورَة وَاحِدَة فَإِنَّهَا قد يلْحقهَا من التوابع بعْدهَا مَا يُنَبه على موَاضعهَا من الْإِعْرَاب

وَأَنت لَو ذهبت تصف الِاثْنَيْنِ لوَجَبَ أَن تكون الصّفة بِلَفْظ التَّثْنِيَة
যাতে তারা জানতে পারে যে ইসমটি তার বিভক্তির (إعراب) ওপর বহাল থাকে এবং এটি পরিবর্তনশীল (متمكن), অপরিবর্তনশীল (مبني) নয়। ফলে তারা শব্দরূপের পরিবর্তনকে ইসমের পরিবর্তনশীল হওয়ার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এটি 'মাতা', 'ইযা' ও 'আনা'-এর মতো অপরিবর্তনশীল (مبني) নয়, যার শেষে আলিফ থাকে।

2 - যদি প্রশ্ন করা হয়:

যদি দ্বিবচনের (التثنية) ক্ষেত্রে আলিফ বিভক্তির চিহ্ন (إعراب) হয়ে থাকে, তবে কেন তা তিন অবস্থাতেই একই রূপে আলিফ হিসেবে বহাল থাকল না?

যেমন 'হাবলা' ও 'সাকরা' শব্দের আলিফ বিভক্তির চিহ্ন হিসেবে গণ্য এবং তা তিন অবস্থাতেই একই রূপে বহাল থাকে; যেমন আপনার বলা:

ইনি গর্ভবতী (হাবলা), আমি গর্ভবতীকে দেখেছি এবং আমি গর্ভবতীর পাশ দিয়ে গেলাম।

উত্তর হলো:

উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আর তা হলো, মাকসুর ইসমসমূহ (الأسماء المقصورة) যার বিভক্তির চিহ্ন হলো আলিফ, যদিও তা রফ (الرفع), নাসব (النصب) ও জারের (الجر) অবস্থায় একই রূপে থাকে, তবুও অনেক সময় তার পরবর্তী অনুগামী পদের (التوابع) মাধ্যমে তার বিভক্তির (إعراب) স্থান সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।

আর আপনি যদি দুইজনের (الاثنين) বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে যান, তবে বিশেষণটি দ্বিবচন (التثنية) শব্দে হওয়া আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
أَلا تراك لَو تركت التَّثْنِيَة بِالْألف على كل حَال لوَجَبَ أَن تَقول فِي الصّفة

رَأَيْت الرّجلَانِ الظريفان ومررت بالرجلان الظريفان فَتكون لفظ الصّفة كَلَفْظِ الْمَوْصُوف بِالْألف على كل حَال فَلَا تَجِد هُنَاكَ من الْبَيَان مَا تَجدهُ إِذا قلت

رَأَيْت عَصا معوجة أَو طَوِيلَة وَنَحْو ذَلِك مِمَّا يبين فِيهِ الْإِعْرَاب

فَمَا كَانَ كَذَلِك عدلوا إِلَى أَن قلبوا لفظ الْجَرّ وَالنّصب إِلَى الْيَاء ليَكُون ذَلِك أدل على تمكن الِاسْم واستحقاقه الْإِعْرَاب

‌‌ثبات الْألف فِي الْمثنى

 

على أَن من الْعَرَب من لَا يخَاف اللّبْس وَيجْرِي الْبَاب على قِيَاسه فيدع الْألف ثَابِتَة فِي الْأَحْوَال الثَّلَاث فَيَقُول قَامَ
আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, আপনি যদি সব অবস্থায় দ্বিবচনকে (تثنية) আলিফ (ألف) যোগে অপরিবর্তিত রাখতেন, তবে বিশেষণের (صفة) ক্ষেত্রে আপনাকে বলা আবশ্যক হতো:

'রআইতুর রাজুলানি আজ-জারিফানি' এবং 'মারারতু বির-রাজুলানি আজ-জারিফানি'। এমতাবস্থায় বিশেষণের (صفة) শব্দরূপটি সব অবস্থায় আলিফ (ألف) যুক্ত বর্ণিত বিশেষ্যের (موصوف) শব্দের মতোই হতো; ফলে সেখানে আপনি এমন কোনো স্পষ্ট বর্ণনা খুঁজে পেতেন না যা আপনি তখন পান যখন আপনি বলেন:

'রআইতু আসান মুওয়াজ্জাতান' (আমি একটি বাঁকা লাঠি দেখেছি) অথবা দীর্ঘ লাঠি এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ যাতে কারক-চিহ্ন (إعراب) স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়।

সুতরাং যা এরূপ ছিল, সেক্ষেত্রে তারা মাজরুর (جر) ও মানসুব (نصب) অবস্থার শব্দরূপকে 'ইয়া' (ياء)-তে পরিবর্তন করার নীতি গ্রহণ করেছেন, যাতে তা বিশেষ্যের (اسم) দৃঢ়তা এবং কারক-চিহ্ন (إعراب) পাওয়ার যোগ্যতার অধিকতর প্রমাণ হয়।

‌‌দ্বিবচনে (مثنى) আলিফের (ألف) স্থিরতা

 

তবে আরবদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা অর্থের অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তির আশঙ্কা করেন না এবং এই বিষয়টিকে তার কিয়াসের (قياس) নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করেন। ফলে তারা তিন অবস্থাতেই আলিফকে (ألف) স্থির রাখেন এবং বলেন: 'কামা...' (দাঁড়িয়েছে...)।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
الزيدان وَضربت الزيدان ومررت بالزيدان وهم بَنو الْحَارِث بن كَعْب وبطن من ربيعَة

 

‌‌لَا تَقْدِير إِعْرَاب فِي ألف التَّثْنِيَة

 

فَاعْلَم أَن سِيبَوَيْهٍ يرى أَن الْألف فِي التَّثْنِيَة كَمَا أَنه لَيْسَ فِي لَفظهَا إِعْرَاب فَكَذَلِك لَا تَقْدِير إِعْرَاب فِيهَا كَمَا يقدر فِي الْأَسْمَاء الْمَقْصُورَة المعربة نِيَّة الْإِعْرَاب
দুই জায়দ, আমি দুই জায়দকে প্রহার করেছি এবং আমি দুই জায়দের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি; তারা হলো বনু আল-হারিস ইবনে কাব এবং রবিআর একটি শাখা।

 

‌‌দ্বিবচনের আলিফের ক্ষেত্রে ইরাব প্রাক্কলন না হওয়া

 

জেনে রাখুন যে, সিবওয়াইহ-এর মতে দ্বিবচনের আলিফে যেমন শাব্দিক কোনো ইরাব নেই, তেমনি এতে কোনো ইরাব প্রাক্কলনও নেই; যেমনটি রূপান্তরশীল ইসম মাকসুর সমূহের ক্ষেত্রে ইরাবের সংকল্প বা প্রাক্কলন করা হয়।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
وَيدل على أَن ذَلِك مذْهبه قَوْله وَدخلت النُّون كَأَنَّهَا عوض عَمَّا منع الِاسْم من الْحَرَكَة والتنوين

فَلَو كَانَت فِي الْألف عِنْده نِيَّة حَرَكَة لما عوض مِنْهَا النُّون كَمَا لَا تعوض فِي قَوْلك هَذِه حُبْلَى وَرَأَيْت حُبْلَى ومررت بحبلى النُّون

قَالَ أَبُو عَليّ وَيدل على صِحَة مَا قَالَه سِيبَوَيْهٍ من أَنه لَيْسَ فِي حرف الْإِعْرَاب من التَّثْنِيَة تَقْدِير حَرَكَة فِي الْمَعْنى كَمَا أَن ذَلِك لَيْسَ مَوْجُودا فِيهَا فِي اللَّفْظ صِحَة الْيَاء فِي الْجَرّ وَالنّصب فِي نَحْو

مَرَرْت برجلَيْن وَضربت رجلَيْنِ
আর তাঁর এই উক্তিটি নির্দেশ করে যে এটিই তাঁর অনুসৃত অভিমত। তিনি বলেন: "আর এখানে 'নুন' যুক্ত হয়েছে যেন এটি বিশেষ্যটিকে হরকত ও তানউইন গ্রহণে যা বাধা প্রদান করেছিল তার স্থলাভিষিক্ত হয়।"

যদি তাঁর নিকট 'আলিফ'-এর মধ্যে হরকতের কোনো সম্ভাবনা থাকত, তবে তার বদলে 'নুন' স্থলাভিষিক্ত হতো না; যেমনটি আপনার উক্তি "হাযিহি হুবলা", "রাআইতু হুবলা" এবং "মারারতু বি-হুবলা"-তে 'নুন' যুক্ত হয় না।

আবু আলী বলেন: সিবাওয়াইহ যা বলেছেন তার সঠিকতা (صحة) একথাই প্রমাণ করে যে, দ্বিবচনের বিভক্তি প্রদানকারী বর্ণের ক্ষেত্রে অর্থের দিক দিয়ে কোনো হরকতের প্রাক্কলন নেই, ঠিক যেমনটি শব্দের উচ্চারণেও তা বিদ্যমান নেই; আর তা হলো 'জার' ও 'নসব'-এর অবস্থায় 'ইয়া'-এর সঠিকতা (صحة), যেমন:

মারারতু বি-রাজুলাইনি এবং দারাবতু রাজুলাইনি।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬০)
فَلَو كَانَ فِي الْيَاء مِنْهَا تَقْدِير حَرَكَة لوَجَبَ أَن تقلب ألفا كرحى وفتى

أَلا ترى أَن الْيَاء إِذا انْفَتح مَا قبلهَا وَكَانَت فِي تَقْدِير حَرَكَة وَجب أَن تقلب ألفا

وَهَذَا اسْتِدْلَال من أبي عَليّ أَتَى على قِيَاس وَهُوَ فِي نِهَايَة الْحسن وَصِحَّة الْمَذْهَب وسداد الطَّرِيقَة

‌‌اعْتِرَاض على كَون النُّون عوضا

 

فَإِن قلت

النُّون عِنْد سِيبَوَيْهٍ عوض مِمَّا منع الِاسْم من الْحَرَكَة والتنوين فَمَا بالهم قَالُوا فِي الْجَرّ وَالنّصب
যদি এর ইয়া (ياء) বর্ণটিতে কোনো হরকতের (حركة) অনুমান থাকত, তবে ‘রাহা’ ও ‘ফাতা’ শব্দের ন্যায় তা আবশ্যিকভাবে আলিফে (ألف) রূপান্তরিত হতো।

আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, ইয়া (ياء) বর্ণের পূর্ববর্তী বর্ণে যখন জবর হয় এবং সেটি হরকতের (حركة) অনুমানে থাকে, তখন তা আলিফে (ألف) রূপান্তরিত হওয়া আবশ্যক (واجب)?

এটি আবু আলীর পক্ষ থেকে উপস্থাপিত একটি দলিল (استدلال), যা কিয়াসের (قياس) ওপর ভিত্তি করে এসেছে; আর এটি অত্যন্ত হাসান (حسن) এবং মাযহাবগতভাবে সহিহ (صحيحة) ও সঠিক পদ্ধতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

‌‌নুন (نون) বিনিময় (عوض) হওয়ার ব্যাপারে আপত্তি (اعتراض)

 

যদি আপনি বলেন—

সিবওয়াই-এর নিকট নুন (نون) হলো এমন বিষয়ের বিনিময় (عوض), যা ইসমকে (اسم) হরকত (حركة) ও তানউইন (تنوين) গ্রহণ করা থেকে বিরত রেখেছে; তবে জার (جر) ও নসব (نصب) এর ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানের হেতু কী?
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬১)
مَرَرْت بالزيدين وَرَأَيْت الزيدين

فقلبوا الْألف يَاء وَذَلِكَ علم الْجَرّ وَالنّصب ثمَّ عوضوا من الْحَرَكَة نونا

وَكَيف يعوض من الْحَرَكَة نون وهم قد جعلُوا قلب الْألف يَاء قَائِما مقَام علم التَّثْنِيَة فِي الْجَرّ وَالنّصب

وَهل يجوز أَن يعوض من شَيْء شَيْء وَقد أقيم مقَام المعوض مِنْهُ مَا يدل على ذَلِك ويغني عَنهُ وَهُوَ الْقلب

فَالْجَوَاب

إِن أَبَا عَليّ ذكر أَنه إِنَّمَا جَازَ ذَلِك من الانقلاب معنى لَا لفظ إِعْرَاب فَلَمَّا لم يُوجد فِي الْحَقِيقَة فِي اللَّفْظ إِعْرَاب جَازَ أَن يعوض مِنْهُ النُّون وَصَارَ الانقلاب دَلِيلا على التَّمَكُّن وَاسْتِحْقَاق الْإِعْرَاب
আমি দুই জাইদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং দুই জাইদকে দেখলাম

তারা আলিফকে (الألف) ইয়াতে (ياء) রূপান্তর করেছে এবং সেটি জর (الجر) ও নসব (النصب) এর চিহ্ন; অতঃপর তারা হরকতের (الحركة) পরিবর্তে নুন (نونا) বিনিময় হিসেবে যুক্ত করেছে।

আর হরকতের পরিবর্তে কীভাবে নুন (نون) বিনিময় হতে পারে, অথচ তারা আলিফকে ইয়াতে রূপান্তর করার বিষয়টিকে জর ও নসবের অবস্থায় দ্বিবচনের (التثنية) চিহ্নের স্থলাভিষিক্ত করেছে?

আর এক জিনিসের পরিবর্তে কি অন্য কোনো বস্তু প্রতিস্থাপন করা বৈধ, যখন মূল বস্তুর পরিবর্তে এমন কিছু নির্ধারণ করা হয়েছে যা তার প্রতি নির্দেশ করে এবং তার অভাব পূরণ করে? আর সেটি হলো এই রূপান্তর (القلب)।

এর উত্তর হলো:

আবু আলী উল্লেখ করেছেন যে, এটি কেবল রূপান্তরের (الانقلاب) অর্থের দিক থেকে বৈধ হয়েছে, শাব্দিক এরাবের (إعراب) দিক থেকে নয়। ফলে শব্দে যখন প্রকৃতপক্ষে কোনো শাব্দিক এরাব পাওয়া গেল না, তখন তার পরিবর্তে নুন (النُّون) বিনিময় করা বৈধ হলো এবং এই রূপান্তরটি সক্ষমতা (التَّمَكُّن) এবং এরাব (الإعراب) প্রাপ্তির যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত হলো।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬২)
قَالَ أَبُو الْفَتْح وَهَذَا أَيْضا من لطيف مَا حصلته عَنهُ فافهمه

‌‌ألف التَّأْنِيث فِي حُبْلَى

 

وَنَظِير ألف التَّثْنِيَة فِي أَنَّهَا حرف إِعْرَاب وعلامة التَّثْنِيَة ألف التَّأْنِيث فِي نَحْو حُبْلَى وسكرى

أَلا ترى أَنَّهَا حرف إِعْرَاب وَهِي علم التَّأْنِيث

إِلَّا أَنَّهُمَا تختلفان فِي أَن حرف التَّثْنِيَة لَا نِيَّة حَرَكَة فِيهِ وَألف حُبْلَى فِيهِ نِيَّة حَرَكَة

‌‌دَلِيل آخر على كَون الْألف فِي التَّثْنِيَة حرف إِعْرَاب

 

قَالَ أَبُو عَليّ وَيدل على أَن الْألف حرف إِعْرَاب صِحَة الْوَاو فِي مذروان
আবু আল-ফাতহ বলেন, এটিও তাঁর নিকট থেকে আমার সংগৃহীত একটি সূক্ষ্ম বিষয়, সুতরাং এটি অনুধাবন করো।

‌‌'হুবলা' শব্দে স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশক আলিফ

 

দ্বিবচনের আলিফ যেমন ই’রাবের বর্ণ এবং দ্বিবচনের চিহ্ন, তার অনুরূপ হলো 'হুবলা' ও 'সুকরা' সদৃশ শব্দে ব্যবহৃত স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশক আলিফ।

আপনি কি দেখছেন না যে এটি একটি ই’রাবের বর্ণ এবং এটি স্ত্রীলিঙ্গের পরিচায়ক?

তবে পার্থক্য হলো যে, দ্বিবচনের বর্ণের ক্ষেত্রে স্বরচিহ্নের (হারাকাত) কোনো অবকাশ থাকে না, কিন্তু 'হুবলা'-র আলিফ-এর ক্ষেত্রে স্বরচিহ্নের সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকে।

‌‌দ্বিবচনের ক্ষেত্রে আলিফ ই’রাবের বর্ণ হওয়ার স্বপক্ষে অন্য একটি দলিল

 

আবু আলী বলেন, আলিফ যে ই’রাবের বর্ণ, তার প্রমাণ হলো 'মাদরাওয়ান' শব্দে 'ওয়াও' বর্ণটি অক্ষুণ্ণ থাকা।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
قَالَ أَلا ترى أَنه لَو كَانَت الْألف إعرابا وَدَلِيل إِعْرَاب وَلَيْسَت مصوغة فِي جملَة بِنَاء الْكَلِمَة مُتَّصِلَة بهَا اتِّصَال حرف الْإِعْرَاب بِمَا قبله لوَجَبَ أَن تقلب الْوَاو يَاء فَيُقَال مذريان لِأَنَّهَا كَانَت تكون على هَذَا القَوْل ك لَام مغزى ومدعى

فصحة الْوَاو فِي مذروان دلَالَة على أَن الْألف من جملَة الْكَلِمَة وَأَنَّهَا لَيست فِي تَقْدِير الِانْفِصَال الَّذِي يكون فِي الْإِعْرَاب

قَالَ فجرت الْألف فِي مذروان مجْرى الْألف فِي عنوان وَإِن اخْتلفت النونان وَهَذَا حسن فِي مَعْنَاهُ

‌‌الرَّد على قَول أبي الْحسن الْأَخْفَش

 

فَأَما قَول أبي الْحسن أَن الْألف لَيست حرف إِعْرَاب وَلَا هِيَ إِعْرَاب وَلكنهَا دَلِيل الْإِعْرَاب فَإِذا رَأَيْت الْألف علمت أَن الِاسْم
তিনি বললেন, আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যদি অলিফ (ألف) ইরাব (إعراب) এবং ইরাবের নিদর্শন (دليل إعراب) হতো এবং শব্দের মূল কাঠামোর অংশ হিসেবে পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে ইরাবের বর্ণের (حرف الإعراب) ন্যায় যুক্ত না হতো, তবে ওয়াও (واو) বর্ণটিকে ইয়া (ياء) বর্ণে রূপান্তর করা আবশ্যক হতো এবং 'মুযরিয়ান' (مذريان) বলা হতো; কারণ এই মতানুসারে এটি মাগযা (مغزى) ও মুদআ (مدعى) এর শেষ বর্ণের (لام) সমতুল্য হতো।

সুতরাং মুযরাওয়ান (مذروان) শব্দে ওয়াও (واو) বর্ণের সঠিক থাকা বা অক্ষুণ্ণ থাকা এই প্রমাণ বহন করে যে, অলিফ (ألف) শব্দেরই অংশ এবং এটি ইরাবের (إعراب) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পৃথক সত্তার পর্যায়ভুক্ত নয়।

তিনি বললেন, ফলে মুযরাওয়ান (مذروان) শব্দের অলিফ (ألف) বর্ণটি উনওয়ান (عنوان) শব্দের অলিফ (ألف) এর ন্যায় গণ্য হয়েছে, যদিও উভয় ক্ষেত্রে নুন (نون) বর্ণদ্বয় ভিন্ন প্রকৃতির। আর এটি অর্থের দিক থেকে চমৎকার।

‌‌আবুল হাসান আল-আখফাশ-এর বক্তব্যের খণ্ডন (الرد)

 

আর আবুল হাসানের এই বক্তব্যের ব্যাপারে যে, অলিফ (ألف) ইরাব প্রদানের বর্ণ (حرف إعراب) নয় এবং তা স্বয়ং ইরাব (إعراب) নয়, বরং এটি ইরাবের নিদর্শন (دليل الإعراب); সুতরাং যখন আপনি অলিফ (ألف) দেখবেন, তখন জানবেন যে বিশেষ্যটি (الاسم)
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
مَرْفُوع وَإِذا رَأَيْت الْيَاء علمت أَن الِاسْم مجرور أَو مَنْصُوب

قَالَ وَلَو كَانَت حُرُوف إِعْرَاب لما علمت بهَا رفعا من نصب وَلَا جر كَمَا أَنَّك إِذا سَمِعت دَال زيد لم تدل على رفع وَلَا نصب وَلَا جر

وَهَذَا الَّذِي ذكره غير لَازم وَذَلِكَ أَنا قد رَأينَا حُرُوف إِعْرَاب بِلَا خلاف تفيدنا الرّفْع وَالنّصب والجر وَهِي أَبوك وأخواته

وَأما قَوْله لَيست بإعراب فَصَحِيح وَذَلِكَ بَين فِي فَسَاد قَول الْفراء والزيادي

وَأما قَوْله لَو كَانَت الْألف حرف إِعْرَاب لوَجَبَ أَن يكون فِيهَا إِعْرَاب هُوَ غَيرهَا كَمَا كَانَ ذَلِك فِي دَال زيد فيفسده مَا ذَكرْنَاهُ من الْحجَّاج فِي هَذَا عِنْد شرح مَذْهَب سِيبَوَيْهٍ أَولا
মারফূ (مرفوع) এবং যখন আপনি 'ইয়া' দেখবেন, তখন জানতে পারবেন যে ইসিমটি মাজরুর (مجرور) অথবা মানসূব (منصوب)।

তিনি বলেন, আর যদি এগুলো ই’রাবের বর্ণ হতো, তবে আপনি এগুলোর মাধ্যমে রফ’ (رفع), নসব (نصب) কিংবা জর (جر) সম্পর্কে জানতে পারতেন না; ঠিক যেমন আপনি যখন 'জাইদ'-এর 'দাল' বর্ণটি শোনেন, তখন তা রফ’, নসব কিংবা জরের ওপর কোনো নির্দেশনা প্রদান করে না।

আর তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা অপরিহার্য নয়। কারণ আমরা সর্বসম্মতভাবে এমন কিছু ই’রাবের বর্ণ দেখতে পাই যা আমাদের রফ’ (رفع), নসব (نصب) এবং জর (جر) সম্পর্কে অবগত করে; আর সেগুলো হলো 'আবুকা' এবং এর সমগোত্রীয় শব্দসমূহ।

আর তাঁর এই বক্তব্য যে, 'এগুলো ই’রাব নয়'—তা সঠিক (صحيح); এবং আল-ফাররা ও আল-জিয়াদি-র মতামতের অসারতা প্রমাণের ক্ষেত্রে এটি সুস্পষ্ট।

আর তাঁর এই কথা—যদি আলিফ ই’রাবের বর্ণ হতো, তবে তাতে ই’রাব থাকা আবশ্যক হতো যা সেটি ছাড়া অন্য কিছু, যেমনটি 'জাইদ'-এর 'দাল' বর্ণের ক্ষেত্রে হয়েছিল—তবে আমরা শুরুতে সিবওয়াইহ-র মাজহাবের ব্যাখ্যার সময় যে সকল প্রমাণাদি উল্লেখ করেছি, তা একে অসার প্রতিপন্ন করে।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
قَالَ أَبُو عَليّ وَلَا تمْتَنع الْألف على قِيَاس قَول سِيبَوَيْهٍ أَنَّهَا حرف إِعْرَاب أَن تدل على الرّفْع كَمَا دلّت عَلَيْهِ عِنْد أبي الْحسن لوجودنا حُرُوف إِعْرَاب تقوم مقَام الْإِعْرَاب فِي نَحْو

هَذَا أَبوك وَرَأَيْت أَبَاك ومررت بأبيك وأخواته وَكِلَاهُمَا وكليهما

وَلَكِن وَجه الِاخْتِلَاف بَينهمَا أَن سِيبَوَيْهٍ قد زعم أَنَّهَا حرف إِعْرَاب وَلَا تدل على الْإِعْرَاب
আবু আলী বলেন, সিবওয়াইহ-এর মতের কিয়াস (قياس) অনুযায়ী আলিফ একটি বিভক্তিজ্ঞাপক বর্ণ (حرف إعراب) হিসেবে রফ (رفع) অবস্থা নির্দেশ করতে কোনো বাধা নেই, যেমনটি আবুল হাসানের নিকট তা নির্দেশিত হয়েছে; কারণ আমরা এমন কিছু বিভক্তিজ্ঞাপক বর্ণ (حرف إعراب) পাই যা বিভক্তির (إعراب) স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন—

হাযা আবুকা, রাআইতু আবাকা, মারারতু বি-আবিকা এবং এর সমগোত্রীয় শব্দসমূহ, এবং কিলাহুমা ও কিলাইহিমা

তবে তাঁদের উভয়ের মধ্যকার পার্থক্যের দিকটি হলো— সিবওয়াইহ দাবি করেছেন যে এটি একটি বিভক্তিজ্ঞাপক বর্ণ (حرف إعراب), কিন্তু তা সরাসরি বিভক্তি (إعراب) নির্দেশ করে না।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
‌‌الرَّد على قَول أبي عمر الْجرْمِي

 

وَأما قَول الْجرْمِي أَنَّهَا فِي الرّفْع حرف إِعْرَاب كَمَا قَالَ سِيبَوَيْهٍ ثمَّ كَانَ يزْعم أَن انقلابها هُوَ الْإِعْرَاب

فضعيف مَدْفُوع أَيْضا وَإِن كَانَ أدنى الْأَقْوَال إِلَى الصَّوَاب الَّذِي هُوَ رَأْي سِيبَوَيْهٍ رحمه الله

وَوجه فَسَاده أَنه جعل الْإِعْرَاب فِي الْجَرّ وَالنّصب معنى لَا لفظا وَفِي الرّفْع لفظا لَا معنى فَخَالف بَين جِهَات الْإِعْرَاب فِي اسْم وَاحِد
আবু উমর আল-জারমির বক্তব্যের খণ্ডন

 

আর আল-জারমির বক্তব্য যে, এটি রফ (رفع) অবস্থায় ব্যাকরণিক বিভক্তির (إعراب) একটি বর্ণ যেমনটি সিবওয়াইহ বলেছিলেন; অতঃপর তিনি দাবি করতেন যে, সেটির রূপান্তরই হলো ব্যাকরণিক বিভক্তি (إعراب)।

এটি দুর্বল (ضعيف) এবং বর্জনীয় (مدفوع) বটে, যদিও এটি সঠিক মতের নিকটতম—যা সিবওয়াইহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর অভিমত।

এর অসারতার দিকটি হলো এই যে, তিনি জার (جر) ও নাসব (نصب) এর ক্ষেত্রে ব্যাকরণিক বিভক্তিকে (إعراب) অর্থগত সাব্যস্ত করেছেন, শব্দগত নয়; অথচ রফ (رفع) এর ক্ষেত্রে একে শব্দগত সাব্যস্ত করেছেন, অর্থগত নয়। ফলে তিনি একটি বিশেষ্যের (اسم) মধ্যেই ব্যাকরণিক বিভক্তির (إعراب) বিভিন্ন পদ্ধতির মাঝে বৈসাদৃশ্য তৈরি করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
أَلا ترى أَن الْقلب معنى لَا لفظ وَإِنَّمَا اللَّفْظ نفس المقلوب والمقلوب إِلَيْهِ وَلَيْسَ كَذَلِك قَول سِيبَوَيْهٍ إِنَّه قَالَ إِن النُّون عوض لما منع الِاسْم من الْحَرَكَة والتنوين لِأَن النُّون على كل حَال لفظ لَا معنى وَأَن قلب الْألف يَاء فِي النصب والجر هُوَ الْإِعْرَاب عِنْد الْجرْمِي فَمَا الَّذِي يَنْبَغِي أَن يعْتَقد فِي النُّون حَال النصب والجر

وَهل عِنْده عوض من الْحَرَكَة والتنوين جَمِيعًا

أَو عوض من التَّنْوِين وَحده إِذا كَانَ الْقلب قد نَاب على مذْهبه عَن اعْتِقَاد النُّون عوضا عَن الْحَرَكَة

فَالْجَوَاب
আপনি কি দেখেন না যে, রূপান্তর (القلب) একটি বিষয় (معنى), কোনো শব্দ (لفظ) নয়? বস্তুত শব্দ (لفظ) হলো স্বয়ং রূপান্তরিত (المقلوب) এবং যার দিকে রূপান্তরিত (المقلوب إليه) হয়েছে তা-ই। সিবওয়াইহ-এর উক্তিটি এমন নয়, যেখানে তিনি বলেছেন যে, 'নুন' হলো সেই জিনিসের বিনিময় (عوض) যা বিশেষ্যকে হরকত ও তানউইন (تنوين) থেকে বিরত রেখেছে; কারণ 'নুন' সর্বাবস্থায় একটি শব্দ (لفظ), কোনো বিষয় (معنى) নয়। আর আল-জারমির নিকট নসব (نصب) ও জার (جر) অবস্থায় আলিফকে ইয়া-তে রূপান্তর (القلب) করাই হলো ই’রাব (إعراب)। এমতাবস্থায় নসব (نصب) ও জার (جر) অবস্থায় 'নুন' সম্পর্কে কী বিশ্বাস পোষণ করা উচিত?

এবং তার নিকট কি এটি হরকত ও তানউইন (تنوين) উভয়েরই বিনিময় (عوض)?

নাকি এটি কেবল তানউইন (تنوين)-এর বিনিময় (عوض), যখন তার মাজহাব অনুযায়ী রূপান্তর (القلب) বিষয়টি 'নুন'-কে হরকতের বিনিময় (عوض) হিসেবে গণ্য করার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে?

উত্তর হলো:
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬৮)
إِن أَبَا عَليّ سوغ أَن تكون النُّون عوضا عَن الْحَرَكَة والتنوين جَمِيعًا وَإِن كَانَ يَقُول إِن الانقلاب هُوَ الْإِعْرَاب وَذَلِكَ أَنه لم يظْهر إِلَى اللَّفْظ حَرَكَة وَإِنَّمَا هُنَاكَ قلب فَحسن الْعِوَض من الْحَرَكَة وَإِن قَامَ الْقلب مقَامهَا فِي الْإِعْرَاب

وَهَذَا الَّذِي رَآهُ أَبُو عَليّ حسن جدا

فَلَو أَن قَائِلا يَقُول

قِيَاس قَول أبي عمر أَن تكون النُّون فِي تَثْنِيَة الْمَنْصُوب وَالْمَجْرُور عِنْده عوضا من التَّنْوِين وَحده لِأَن الانقلاب قد قَامَ مقَام الْحَرَكَة لم أر بِهِ بَأْسا
নিশ্চয়ই আবু আলী বৈধ সাব্যস্ত করেছেন যে, 'নুন' বর্ণটি হরকত (حركة) এবং তানউইন (تنوين) উভয়েরই স্থলাভিষিক্ত হতে পারে; যদিও তিনি বলতেন যে, রূপান্তর (انقلاب) প্রক্রিয়াই হলো মূলত ইরাব (إعراب)। এর কারণ হলো, উচ্চারণে কোনো হরকত (حركة) প্রকাশ পায় না, বরং সেখানে কেবল একটি রূপান্তর (قلب) ঘটে; তাই হরকতের (حركة) পরিবর্তে এর স্থলাভিষিক্ত হওয়া যুক্তিযুক্ত হয়েছে, যদিও শব্দরূপ পরিবর্তনের (إعراب) ক্ষেত্রে রূপান্তরটিই হরকতের স্থলাভিষিক্ত হয়।

আবু আলী যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তা অত্যন্ত চমৎকার (حسن)।

যদি কোনো প্রবক্তা বলেন যে, আবু উমরের মতের কিয়াস (قياس) অনুযায়ী মানসুব (منصوب) ও মাজরুর (مجرور) এর দ্বিবচন রূপে 'নুন' কেবল তানউইনের (تنوين) স্থলাভিষিক্ত হয়, যেহেতু রূপান্তরটি ইতোমধ্যেই হরকতের (حركة) স্থান দখল করেছে—তবে আমি এতে কোনো দোষ দেখি না।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌الرَّد على قَول الْفراء وَأبي إِسْحَاق الزيَادي

 

وَأما قَول الْفراء وَأبي إِسْحَاق الزيَادي أَن الْألف هِيَ إِعْرَاب

فَهُوَ أبعد الْأَقْوَال من الصَّوَاب

قَالَ أَبُو عَليّ يلْزم من قَالَ إِن الْألف هِيَ الْإِعْرَاب أَن يكون الِاسْم مَتى حذفت مِنْهُ الْألف من معنى التَّثْنِيَة دَالا على مَا كَانَ يدل عَلَيْهِ وَالْألف فِيهِ لِأَنَّك لم تعرض لصيغته وَإِنَّمَا حذفت إعرابه

وَيدل على أَن معنى الِاسْم قبل حذف إعرابه وَبعده وَاحِد أَن زيدا وَنَحْوه مَتى حذفت إعرابه فَمَعْنَاه الَّذِي كَانَ يدل عَلَيْهِ معربا بَاقٍ فِيهِ بعد سلب إعرابه

ويفسده أَيْضا شَيْء آخر

وَهُوَ أَن الْألف لَو كَانَت إعرابا لوَجَبَ أَن تقلب الْوَاو فِي مذروان
আল-ফাররা এবং আবু ইসহাক আল-জিয়াদির মতের খণ্ডন

 

আর আল-ফাররা এবং আবু ইসহাক আল-জিয়াদির বক্তব্য যে, আলিফ হলো বিভক্তি (إعراب) —

তা সঠিক অবস্থান থেকে দূরবর্তী একটি মত।

আবু আলী বলেন, যারা বলেন যে আলিফ হলো বিভক্তি (إعراب), তাদের মতানুসারে এটি আবশ্যক হয়ে যায় যে, যখন কোনো বিশেষ্য (اسم) থেকে দ্বিবচন (تثنية) অর্থবোধক আলিফটি বিলুপ্ত করা হবে, তখনও সেটি সেই অর্থের ওপরই নির্দেশনা প্রদান করবে যা সে আলিফ থাকা অবস্থায় করত। কারণ আপনি শব্দটির রূপ বা সিগাহ (صيغة)-তে কোনো পরিবর্তন করেননি, বরং কেবল তার বিভক্তি (إعراب) বিলুপ্ত করেছেন।

বিভক্তি (إعراب) বিলুপ্ত করার পূর্বে ও পরে বিশেষ্যের অর্থ যে অভিন্ন থাকে তার প্রমাণ হলো— 'যাইদ' এবং অনুরূপ শব্দ থেকে যখন আপনি বিভক্তি (إعراب) বিলুপ্ত করেন, তখন বিভক্তিযুক্ত অবস্থায় সেটি যে অর্থের ওপর নির্দেশনা প্রদান করত, বিভক্তি কেড়ে নেওয়ার পরেও সেই অর্থটি তাতে অবশিষ্ট থাকে।

আরেকটি বিষয়ও এই মতটিকে অসার প্রতিপন্ন করে,

তা হলো, আলিফ যদি বিভক্তি (إعراب) হতো, তবে 'মাযরাওয়ান' শব্দটিতে 'ওয়াও' বর্ণটিকে পরিবর্তন করা আবশ্যক (واجب) হয়ে যেত।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭০)
يَاء لِأَنَّهَا رَابِعَة قد وَقعت طرفا وَالْألف بعْدهَا إِعْرَاب كالضمة من زيد وَبكر

 

‌‌وَاو الْجمع الَّذِي على حد التَّثْنِيَة

 

وَجَمِيع مَا ذَكرْنَاهُ من الْخلاف فِي الْألف وَاقع فِي وَاو الْجمع نَحْو الزيدون والعمرون

‌‌لم يثنى بِالْألف وَيجمع بِالْوَاو

 

فَإِن قَالَ قَائِل فَمَا بالهم ثنوا بِالْألف وجمعوا بِالْوَاو وهلا عكسوا الْأَمر

فَالْجَوَاب
ইয়া, কারণ এটি চতুর্থ (رابعة) যা প্রান্তীয় (طرفا) হিসেবে এসেছে এবং এর পরবর্তী আলিফটি হলো ইরাব (إعراب), যেমন যায়দ ও বকরের পেশ (ضمة)।

 

‌‌দ্বিবচনের (تثنية) আদলে গঠিত বহুবচনের ওয়াও (واو الجمع)

 

আলিফ সম্পর্কে আমরা যে মতপার্থক্যের (خلاف) কথা উল্লেখ করেছি, তার সবই বহুবচনের ওয়াও (واو الجمع)-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেমন: আয-যাইদুন এবং আল-আমরুন।

‌‌কেন আলিফ দ্বারা দ্বিবচন (تثنية) এবং ওয়াও দ্বারা বহুবচন (جمع) করা হয়

 

যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন যে, তাদের কী হলো যে তারা আলিফ দ্বারা দ্বিবচন (تثنية) করল এবং ওয়াও দ্বারা বহুবচন (جمع) করল, অথচ তারা কেন এর বিপরীতটি করল না?

এর উত্তর হলো:
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭১)
إِن التَّثْنِيَة أَكثر من الْجمع بِالْوَاو أَلا ترى أَن جَمِيع مَا يجوز فِيهِ التَّثْنِيَة من الْأَسْمَاء فتثنيته صَحِيحَة لِأَن لفظ وَاحِدهَا مَوْجُود وَإِنَّمَا زيد عَلَيْهِ حرف التَّثْنِيَة

وَلَيْسَ كل مَا يجوز جمعه يجمع بِالْوَاو

أَلا ترى أَن عَامَّة الْمُؤَنَّث وَمَا لَا يعقل لَا يجمع بِالْوَاو وَإِنَّمَا يجمع بِغَيْر وَاو إِمَّا بِالْألف وَالتَّاء وَإِمَّا مكسرا

على أَن مَا يجمع بِالْوَاو قد يجوز تكسيره نَحْو

زيود فِي زيد

وَفِي قيس أقياس وقيوس

فالتثنية إِذن أصح من الْجمع لِأَنَّهَا لَا تخطىء لفظ الْوَاحِد أبدا فَلَمَّا شاعت فِيمَن عقل وَفِيمَا لَا يعقل وَفِي الْمُذكر والمؤنث وَكَانَ الْجمع الصَّحِيح إِنَّمَا هُوَ لضرب وَاحِد من الْأَسْمَاء كَانَت التَّثْنِيَة أوسع من الْجمع فَجعلُوا الْألف الْخَفِيفَة فِي التَّثْنِيَة الْكَثِيرَة وَجعلُوا الْوَاو الثَّقِيلَة فِي الْجمع الْقَلِيل ليقل فِي كَلَامهم مَا يستثقلون
নিশ্চয়ই 'ওয়াও' যোগে গঠিত বহুবচন (جمع) অপেক্ষা দ্বিবচন (تثنية) এর ব্যবহার অধিক। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যেসব বিশেষ্য পদের দ্বিবচন (تثنية) করা সম্ভব, সেগুলোর দ্বিবচন গঠন পদ্ধতি সহিহ (صحيح); কারণ এতে একবচনের শব্দরূপটি অটুট থাকে এবং কেবল দ্বিবচনের অতিরিক্ত বর্ণটি তার সাথে যুক্ত করা হয়।

আর বহুবচন (جمع) করা সম্ভব এমন প্রতিটি শব্দকে 'ওয়াও' যোগে বহুবচন (جمع) করা যায় না।

আপনি কি দেখেন না যে, সাধারণ স্ত্রীবাচক (مؤنث) শব্দ এবং অচেতন বা বিবেকহীন সত্তার ক্ষেত্রে 'ওয়াও' যোগে বহুবচন (جمع) করা হয় না? বরং এগুলো 'ওয়াও' ব্যতীত হয় 'আলিফ' ও 'তা' যোগে অথবা ভগ্ন বহুবচন হিসেবে গঠিত হয়।

তদুপরি, যেসব শব্দের বহুবচন (جمع) 'ওয়াও' যোগে হয়, সেগুলোর ভগ্ন বহুবচন হওয়াও সম্ভব; যেমন—

'যায়েদ' শব্দের ক্ষেত্রে 'যুয়ূদ'।

এবং 'কায়েস' শব্দের ক্ষেত্রে 'আকিয়াস' ও 'কুয়ূস'।

অতএব, বহুবচন (جمع) অপেক্ষা দ্বিবচন (تثنية) অধিক সহিহ (صحيح); কারণ এটি কখনোই একবচনের মূল রূপ থেকে বিচ্যুত হয় না। যেহেতু এটি বুদ্ধিমান ও বিবেকহীন এবং পুরুষবাচক (مذكر) ও স্ত্রীবাচক (مؤنث) উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে প্রচলিত, আর সহিহ (صحيح) বহুবচন কেবল এক বিশেষ ধরনের বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট, তাই দ্বিবচন (تثنية) বহুবচন অপেক্ষা অধিক বিস্তৃত। ফলে তারা অধিক ব্যবহৃত দ্বিবচনের (تثنية) জন্য হালকা 'আলিফ' এবং স্বল্প ব্যবহৃত বহুবচনের (جمع) জন্য ভারী 'ওয়াও' নির্ধারণ করেছে, যাতে তাদের ভাষায় শ্রুতিকটু বা ভারী শব্দের আধিক্য হ্রাস পায়।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭২)
وَيكثر مَا يستخفون فاعرف ذَلِك

قَالَ أَبُو عَليّ وَلما كَانَ الْجمع أقوى من التَّثْنِيَة لِأَنَّهُ يَقع على أعداد مُخْتَلفَة وَكَانَ ذَلِك أَعم تَصرفا من التَّثْنِيَة الَّتِي تقع لضرب وَاحِد من الْعدَد لَا تجاوزه وَهُوَ اثْنَان جعلُوا الْوَاو الَّتِي هِيَ أقوى من الْألف فِي الْجمع الَّذِي هُوَ أقوى من التَّثْنِيَة

‌‌تَثْنِيَة الْمُبْهم

 

وَأما تَثْنِيَة الْمُبْهم فَإِن الْمُؤَنَّث مِنْهُ يثنى على لُغَة أَقوام من الْعَرَب فَيُقَال تان
তারা প্রায়শই বিষয়গুলোকে সংক্ষিপ্ত করে থাকে, তাই এটি জেনে রাখুন।

আবু আলী বলেন, যেহেতু বহুবচন (الجمع) দ্বিবচন (التثنية) অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী, কারণ এটি বিভিন্ন সংখ্যার ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয় এবং ব্যবহারের দিক থেকে এটি দ্বিবচন (التثنية) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক, যা কেবল একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং দুইয়ের অধিক হয় না; তাই তারা 'ওয়াও' বর্ণটিকে—যা 'আলিফ' থেকে শক্তিশালী—বহুবচনের (الجمع) জন্য নির্ধারণ করেছেন, যা দ্বিবচন (التثنية) অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী।

‌‌অস্পষ্ট বা নামহীন পদের দ্বিবচনকরণ (تثنية المبهم)

 

আর অস্পষ্ট বা নামহীন পদের দ্বিবচনকরণের (تثنية المبهم) ক্ষেত্রে, আরবদের কিছু সম্প্রদায়ের ভাষা অনুযায়ী এর স্ত্রীলিঙ্গ রূপকে দ্বিবচন করা হয়, তখন 'তান' (تان) বলা হয়।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭৩)
وَالْعلَّة فِي ذَلِك أَنهم لَو قَالُوا ذان ألبس الْمُؤَنَّث بالمذكر فِي لُغَة الَّذين يَقُولُونَ ذِي فاستعملوا لُغَة الَّذين يَقُولُونَ بِزَوَال اللّبْس

وَأما الْمُذكر نَحْو ذَا وَالَّذِي فتثنيتهما ذان واللذان

فَإِن قَالَ قَائِل أخبرنَا عَن الْألف فِي ذان وَنَحْوه أَهِي الْألف الَّتِي فِي ذَا أم ألف التَّثْنِيَة

فَالْجَوَاب

أَنَّهَا ألف التَّثْنِيَة وَقد سَقَطت الْألف الأولى

وَالدَّلِيل على ذَلِك أَنَّهَا تنْقَلب يَاء فِي الْجَرّ وَالنّصب ك ألف التَّثْنِيَة فَعلمنَا أَنَّهَا ألف التَّثْنِيَة وَأَن ألف ذَا هِيَ الساقطة

وَمن الْكُوفِيّين من يزْعم أَن الْألف فِي ذان هِيَ الْألف الَّتِي كَانَت فِي الْوَاحِد ويفسده مَا ذَكرْنَاهُ من انقلابها يَاء فِي الْجَرّ وَالنّصب
এর কারণ হলো, তারা যদি 'দান' (ذان) বলতেন, তবে যারা 'দি' (ذِي) বলেন তাদের ভাষায় স্ত্রীলিঙ্গ ও পুংলিঙ্গের মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি হতো। তাই তারা এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন যা এই অস্পষ্টতা নিরসন করে।

আর পুংলিঙ্গ যেমন 'যা' (ذَا) ও 'আল্লাজি' (الَّذِي) এর দ্বিবচন (تثنية) হলো 'দান' (ذان) এবং 'আল্লাদান' (اللذان)।

যদি কেউ প্রশ্ন করেন যে, 'দান' (ذان) ও এই জাতীয় শব্দের 'আলিফ' সম্পর্কে আমাদের অবহিত করুন; এটি কি 'যা' (ذَا) শব্দের মূল 'আলিফ' নাকি এটি দ্বিবচনের (تثنية) 'আলিফ'?

এর উত্তর হলো:

এটি দ্বিবচনের (تثنية) 'আলিফ' এবং প্রথম 'আলিফ'টি বিলুপ্ত হয়েছে।

এর প্রমাণ হলো, এটি দ্বিবচনের (تثنية) আলিফের ন্যায় জর (جر) ও নসব (نصب) অবস্থায় 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়। সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে এটি দ্বিবচনের (تثنية) আলিফ এবং 'যা' (ذَا) শব্দের আলিফটিই বিলুপ্ত হয়েছে।

কুফাবাসীদের (الكوفيين) মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেন যে, 'দান' (ذان) শব্দের আলিফটি মূলত একবচন (واحد) অবস্থায় বিদ্যমান আলিফ। তবে জর (جر) ও নসব (نصب) অবস্থায় এর 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হওয়া সংক্রান্ত আমাদের বর্ণিত বিষয়টি তাদের এই দাবিকে খণ্ডন করে।
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
قَالَ أَبُو الْفَتْح اعْلَم أَن أَسمَاء الْإِشَارَة نَحْو هَذَا وَهَذِه والأسماء الموصولة نَحْو الَّذِي وَالَّتِي لَا تصح تَثْنِيَة شَيْء مِنْهَا من قبل أَن التَّثْنِيَة لَا تلْحق إِلَّا النكرَة وَذَلِكَ أَن الْمعرفَة لَا تصح تثنيتها من قبل أَن حد الْمعرفَة هُوَ مَا خص الْوَاحِد من جنسه وَلم يشع فِي أمته فَإِذا شُورِكَ فِي اسْمه فقد خرج من أَن يكون علما مَعْرُوفا وَصَارَ مُشْتَركا شَائِعا فَإِذا كَانَ الْأَمر كَذَلِك فَلَا تصح التَّثْنِيَة إِذن إِلَّا فِي النكرات دون المعارف

وَإِذا صَحَّ مَا ذَكرْنَاهُ فمعلوم أَنَّك لم تثن زيدا وَنَحْوه حَتَّى سلبته تَعْرِيفه وأشعته فِي أمته فَجَعَلته من جمَاعَة كل وَاحِد مِنْهُم زيد ف جرى لذَلِك مجْرى فرس وَرجل فِي أَن كل وَاحِد مِنْهُمَا شَائِع لَا يخص شَيْئا بِعَيْنِه

ويدلك على أَن الِاسْم لَا يثنى إِلَّا بعد أَن يخلع عَنهُ مَا كَانَ فِيهِ من التَّعْرِيف جَوَاز دُخُول اللَّام عَلَيْهِ بعد التَّثْنِيَة الَّتِي لَا تلْحق إِلَّا النكرَة

وَذَلِكَ أَن الْمعرفَة فِي قَوْلك الزيدان والعمران فَلَو كَانَ
আবুল ফাতহ বলেন, অবগত হোন যে নির্দেশক বিশেষ্য (أسماء الإشارة) যেমন হাজা ও হাজিহি এবং সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (الأسماء الموصولة) যেমন আল্লাজি ও আল্লাতি—এগুলোর কোনোটিরই দ্বিবচন (تثنية) করা ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ নয়। এর কারণ হলো দ্বিবচন (تثنية) কেবল অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দের সাথেই যুক্ত হতে পারে। আর তা একারণে যে, নির্দিষ্ট (معرفة) শব্দের দ্বিবচন (تثنية) হওয়া শুদ্ধ নয়; কেননা নির্দিষ্ট (معرفة) শব্দের সংজ্ঞা হলো যা তার স্বগোত্রীয়দের মধ্য থেকে কেবল একজনকে বিশেষায়িত করে এবং তার শ্রেণির অন্যদের মধ্যে ব্যপ্ত হয় না। সুতরাং যখন তার নামের মধ্যে অন্য কেউ অংশীদার হয়, তখন তা সংজ্ঞাবাচক নাম (علم) হওয়ার বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত হয় এবং সাধারণ ও অংশীদারিত্বমূলক শব্দে পরিণত হয়। বিষয়টি যখন এরূপ, তখন দ্বিবচন (تثنية) কেবল অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দসমূহের ক্ষেত্রেই শুদ্ধ হবে, নির্দিষ্ট (معرفة) শব্দের ক্ষেত্রে নয়।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে এটি সুপরিচিত যে আপনি জায়দ বা এই জাতীয় নামের দ্বিবচন (تثنية) ততক্ষণ করতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি তার থেকে নির্দিষ্টতা (تعريف) ছিনিয়ে নিচ্ছেন এবং তাকে তার শ্রেণির মাঝে ব্যপ্ত করে দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় তাকে আপনি এমন এক দলের অন্তর্ভুক্ত করছেন যাদের প্রত্যেকের নামই জায়দ। ফলে শব্দটি ঘোড়া বা ব্যক্তি শব্দের অনুরূপ হয়ে যায়, যার প্রতিটিই সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং নির্দিষ্ট কোনো কিছুকে নির্দেশ করে না।

আর নামবাচক বিশেষ্য থেকে তাতে বিদ্যমান নির্দিষ্টতা (تعريف) দূর না করা পর্যন্ত যে তার দ্বিবচন (تثنية) করা যায় না, তার প্রমাণ হলো দ্বিবচনের পর শব্দটিতে আলিফ-লাম যুক্ত করার বৈধতা; অথচ এই আলিফ-লাম কেবল অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দেই যুক্ত হয়।

আর তা একারণে যে, আপনার বক্তব্য আয-জাইদান এবং আল-ওমরান-এর ক্ষেত্রে যে নির্দিষ্টতা (معرفة) রয়েছে, তা যদি—
(খণ্ড: ১) ইলালুত তাছনিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
التَّعْرِيف الَّذِي كَانَا يدلان عَلَيْهِ ويفيد أَنه مفردين بَاقِيا فيهمَا لما جَازَ دُخُول اللَّام عَلَيْهِمَا بعد التَّثْنِيَة كَمَا لَا يجوز دُخُولهَا عَلَيْهِمَا قبل التَّثْنِيَة فِي وُجُوه الِاسْتِعْمَال وغالب الْأَمر

فَإِذا صَحَّ ذَلِك أَنه لَا يثنى إِلَّا مَا يجوز تنكيره فَمَا لَا يجوز تنكيره هُوَ أَن لَا تصح تثنيته أَجْدَر

وَأَسْمَاء الْإِشَارَة والأسماء الموصولة لَا يجوز أَن تنكر وَلَا يجوز أَن يثنى شَيْء مِنْهَا

أَلا ترى أَنَّهَا بعد التَّثْنِيَة على حد مَا كَانَت عَلَيْهِ قبل التَّثْنِيَة وَذَلِكَ نَحْو قَوْلك هَذَانِ الزيدان قَائِمين فَنصبت قَائِمين بِمَعْنى الْفِعْل الَّذِي دلّت عَلَيْهِ الْإِشَارَة والتثنية كَمَا كنت تَقول فِي الْوَاحِد هَذَا زيد قَائِما فتجد الْحَال وَاحِدَة قبل التَّثْنِيَة وَبعدهَا

وَكَذَلِكَ قَوْلك ضربت اللَّذين قاما إِنَّمَا يتعرفان بالصلة كَمَا يتعرف بهَا الْوَاحِد فِي قَوْلك ضربت الَّذِي قَامَ

وَالْأَمر فِي هَذِه الْأَشْيَاء بعد التَّثْنِيَة هُوَ الْأَمر فِيهَا قبل التَّثْنِيَة

وَكَذَلِكَ ياهنان وياهنون

وَهَذِه الْأَسْمَاء لَا تنكر أبدا لِأَنَّهَا للكنايات وَجَارِيَة مجْرى
নির্দিষ্টতা (التعريف) যা তারা নির্দেশ করত এবং যা এই অর্থ প্রদান করত যে তা একবচন হিসেবে উভয় শব্দের মধ্যে অবশিষ্ট রয়েছে, সেক্ষেত্রে ব্যবহারের বিভিন্ন পদ্ধতিতে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে দ্বিবচন (التثنية) করার পূর্বে যেমনটি তাদের ওপর 'লাম' যুক্ত হওয়া বৈধ নয়, দ্বিবচন (التثنية) করার পরেও তাদের ওপর তা যুক্ত হওয়া বৈধ হতো না।

সুতরাং যখন এটি সাব্যস্ত হলো যে, অনির্দিষ্টকরণ (تنكير) করা বৈধ এমন শব্দ ব্যতীত অন্য কিছুর দ্বিবচন (التثنية) করা যায় না, তখন যে শব্দকে অনির্দিষ্টকরণ (تنكير) করা বৈধ নয়, তার দ্বিবচন (التثنية) সহিহ না হওয়াটাই অধিক যুক্তিযুক্ত।

আর ইশারা সূচক বিশেষ্য (أسماء الإشارة) এবং সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যসমূহ (الأسماء الموصولة) অনির্দিষ্টকরণ (تنكير) করা বৈধ নয় এবং এগুলোর কোনোটিরই দ্বিবচন (التثنية) করা জায়েজ নয়।

আপনি কি দেখছেন না যে, এগুলো দ্বিবচন (التثنية) হওয়ার পরও ঠিক সেই অবস্থায় থাকে যে অবস্থায় দ্বিবচন (التثنية) হওয়ার পূর্বে ছিল? যেমন আপনার উক্তি: "হাযানিয যায়দানি কায়িমাইনি", এখানে আপনি "কায়িমাইনি" শব্দটিকে সেই ক্রিয়ার অর্থে নসব (نصب) দিয়েছেন যা ইশারা এবং দ্বিবচন (التثنية) দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে, যেমনটি আপনি একবচন (واحد) এর ক্ষেত্রে বলতেন: "হাযা যায়দুন কায়িমান", ফলে আপনি দ্বিবচন (التثنية) করার পূর্বে এবং পরে অবস্থা (حال) একই পাচ্ছেন।

একইভাবে আপনার উক্তি: "দারাবতুল্লাযাইনি ক্বামা", এগুলো কেবল সম্বন্ধবাক্যের (صلة) মাধ্যমেই নির্দিষ্ট হয়, যেমনটি একবচন (واحد) এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হয় আপনার এই উক্তিতে: "দারাবতুল্লাযি ক্বামা"।

আর এই বিষয়গুলোতে দ্বিবচন (التثنية) হওয়ার পরের অবস্থা ঠিক তেমনই যা দ্বিবচন (التثنية) হওয়ার পূর্বের ছিল।

অনুরূপভাবে: "ইয়া হানানি" এবং "ইয়া হানূনা"।

আর এই বিশেষ্যগুলো কখনোই অনির্দিষ্টকরণ (تنكير) হয় না, কারণ এগুলো কিনায়া (كناية) এর জন্য এবং এর ধারা বজায় থাকে...