(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: -)
تحرير السلوك في تدبير الملوك القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: تحرير السلوك في تدبير الملوك
المؤلف: أبو الفضل محمد بن عبد الوهاب بن عبد اللطيف الأعرج (ت 925هـ)
عدد الصفحات: 61
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাহরিরুস সুলুক ফি তদবিরিল মুলুক বিভাগ: আস-সিয়াসা আশ-শরইয়াহ (শরয়ি রাজনীতি) ও বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: তাহরিরুস সুলুক ফি তদবিরিল মুলুক
লেখক: আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব বিন আব্দুল লতিফ আল-আ’রাজ (মৃ. ৯২৫ হিজরি)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله الَّذِي فضل مُلُوك الْأمة المحمدية وسلاطين الْملَّة الاحمدية على كثير من عباده تَفْضِيلًا وجعلهم للأنام من حوادث الْأَيَّام فِي أَفَاق بِلَاده ظلا ظليلا وأوضح لَهُم إِلَى اكْتِسَاب الْفَضَائِل وَاجْتنَاب الرذائل 2 / ب بعناية الأزلية سَبِيلا وَأقَام على سعادتهم فِي مناهج معجلتهم من يمن حركاتهم وسكناتهم دَلِيلا وعداهم للنَّظَر فِي مصَالح الرعايا باستعلام وقائع القضايا فَهِيَ تتلى عَلَيْهِم بكرَة وَأَصِيلا
نحمده على نعم لم تعزب عَنَّا طوالعها ونشكره على 3 / أَمن لم تنصب لدينا مشارعها حم من استنفد من الْقيام بشكره عدَّة أَيَّامه إِلَّا قَلِيلا
وَأشْهد أَن لَا اله إِلَّا الله مَالك الْملك الحكم الْعدْل الْغَنِيّ عَن الشَّرِيك والوزير وَالْكَفِيل والظهير والمعين والمشير القيوم الَّذِي لَو رامت الْعُقُول الْإِحَاطَة بكنة تَدْبيره 3 ب لرجع طرفها حسيرا وخذها كليلا
وَأشْهد أَن سيدنَا مُحَمَّد عَبده وَرَسُوله الَّذِي سبغت بِهِ نعْمَة الْهِدَايَة اكمل سبوغ وَجعل لَهَا سُلْطَانا نَصِيرًا أَقْْضِي إِلَى دَرك غَايَة الظفر وَنِهَايَة الْبلُوغ وأيده بِالْكتاب الْعَزِيز الَّذِي ضمنه من نبأ الْأَوَّلين والآخرين مَا جعله بإعجازه كَفِيلا 4 / أشهادة تفيض على الْأَسْرَار نورها وتستفيض على الأنظار بظهورها وتلقى الشَّيْطَان مِنْهَا قولا ثقيلا وَنُصَلِّي ونسلم على الْمَبْعُوث بِالْآيَاتِ الباهرة وَالْأَحْكَام الزاهرة الَّتِي أبرأت بأنوار حَقّهَا الساطعة من أنصاب الْقُلُوب عليلا سيدنَا مُحَمَّد الْمَبْعُوث 4 / ب بِالصِّفَاتِ الطاهرة والمعجزات
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুহাম্মদী উম্মতের রাজন্যবর্গ এবং আহমদী মিল্লাতের সুলতানদেরকে তাঁর বহু বান্দার ওপর বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাদেরকে তাঁর রাজ্যের দিগন্তজুড়ে মহাকালের বিবর্তন থেকে সৃষ্ট ঘটনাবলিতে সৃষ্টির জন্য সুশীতল ছায়া স্বরূপ করেছেন। তিনি তাঁর অনাদি অনুগ্রহে তাঁদের জন্য গুণাবলি অর্জন এবং মন্দ বিষয়সমূহ বর্জনের ২ / ب পথ সুগম করে দিয়েছেন। আর তাঁদের ইহলৌকিক কল্যাণ লাভের পথে তাঁদের প্রতিটি গতি ও স্থিতির বরকতের মাধ্যমে একটি পথপ্রদর্শক (دليل) স্থাপন করেছেন। তিনি তাঁদেরকে প্রজাসাধারণের স্বার্থ পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে ঘটনাবলির প্রকৃত অবস্থা অবগত হওয়ার তাওফিক দিয়েছেন, যা তাঁদের সামনে সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করা হয়।
আমরা তাঁর প্রশংসা করি এমন সব নিয়ামতের জন্য যার উদয় হওয়া আমাদের নিকট থেকে অস্পষ্ট নয়, এবং আমরা ৩ / أ তাঁর শোকর আদায় করি এমন নিরাপত্তার জন্য যার ঝর্ণাধারা আমাদের নিকট রুদ্ধ হয়নি। এটি সেই ব্যক্তির প্রশংসা, যে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে যৎসামান্য সময় ব্যতীত জীবনের অবশিষ্ট সময় অতিবাহিত করেছে।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি সার্বভৌম ক্ষমতার অধিপতি, চূড়ান্ত ফয়সালাকারী, পরম ন্যায়পরায়ণ (العدل), যিনি অংশীদার, উজির, জামিনদার, সাহায্যকারী ও পরামর্শদাতার মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত। তিনি এমন এক চিরস্থায়ী সত্তা ৩ ب যাঁর ব্যবস্থাপনার প্রকৃত রহস্য অনুধাবন করতে চাইলে মানুষের বুদ্ধি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে ফিরে আসবে।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল, যাঁর মাধ্যমে হিদায়াতের নেয়ামত পরিপূর্ণতা লাভ করেছে এবং আল্লাহ তাঁর জন্য এক সাহায্যকারী প্রমাণ নির্ধারণ করেছেন যা চূড়ান্ত বিজয় ও চরম লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। তিনি তাঁকে সেই সম্মানিত কিতাব দিয়ে শক্তিশালী করেছেন, যাতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের সংবাদ এমনভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে যা তাঁর অলৌকিকত্বের প্রমাণ ৪ / أ স্বরূপ। এটি এমন এক সাক্ষ্য যা গোপন রহস্যের ওপর নূর বর্ষণ করে, তার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে দৃষ্টিকে আলোকিত করে এবং শয়তান এর থেকে এক কঠোর বাণীর সম্মুখীন হয়।
আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করি সেই মহান সত্তার প্রতি, যিনি সুস্পষ্ট নিদর্শন ও উজ্জ্বল বিধানাবলি নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, যা সত্যের প্রদীপ্ত আলো দিয়ে রুগ্ন হৃদয়ের ব্যাধি নিরাময় করেছে। আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), যিনি ৪ / ب পবিত্র গুণাবলি ও অলৌকিক নিদর্শনসমূহসহ প্রেরিত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الظَّاهِرَة الَّتِي شنت ببراهينها للقاطعة من اضْطِرَاب النُّفُوس غليلا وعَلى مبايعة ومتابعية الَّذين أعلاهم الله أَعلَى الْمَرَاتِب بأعظم الْوَسَائِل وأولاهم أولى المناقب بأكرم الشَّمَائِل صَلَاة وَسلَامًا لسنة 5 أدوامها المفترض تَحْويل وَرَضي الله عَن وُلَاة أُمُور الْمُوَحِّدين وحماة حوزة الدّين أَئِمَّة الْإِسْلَام الَّذين صدقُوا مَا هادوا الله عَلَيْهِ وَمَا بدلُوا تبديلا رضوانا يُحِلهُمْ بِهِ منَازِل آنسة من حظائر قدسه فِي جنَّات عدن خير مُسْتَقر وَأحسن 5 ب مقيلا أما بعد
فقد وضح لِذَوي الدِّرَايَة والعرفان وَثَبت عِنْد أولي الرِّوَايَة بِالدَّلِيلِ والبرهان أَن السلطنة منزلَة عالية مَعْدُودَة من الرتب الْعِظَام المضبوط بهَا مصَالح الْخَواص والعوام وَأَن لعلو فخرها وعلو قدرهَا امتن الله (6 أ) بهَا على كليمة مُوسَى عليه السلام حِين استضعف نَفسه عَن أَدَاء رِسَالَة ربه وَخَافَ أَن لَا ينْهض مُنْفَردا بثقل أعباء مَا أمره الله بِهِ فَسَأَلَ الْحق جلّ وعَلى أَعَادَهُ بإسعافه فِي ذَلِك بأَخيه هَارُون فَقَالَ وَأخي هَارُون هُوَ أفْصح مني لِسَانا فَأرْسلهُ (6 ب معي ردْءًا يصدقني أَنِّي أَخَاف أَن يكذبُون) فَأَجَابَهُ الله إِلَى سُؤَاله وأجناه من شَجَرَة سؤله ثَمَرَة نواله ومنحه سلطنه يقصر عَن تأميل إِدْرَاكهَا الطالبون وَلَا يقدر على منالها بجد واجتهاد الراغبون فَقَالَ تَعَالَى سنشد عضدك بأخيك ونجعل لَكمَا سُلْطَانا (7 أَفلا يصلونَ إلَيْكُمَا بِآيَاتِنَا أَنْتُمَا وَمن اتبعكما الغالبون) وَأَن الأحرى بِمن ارْتَضَاهُ الله لَهَا من خليقته وناط أزمة أمورها نقصا وإبراما بقضية أَن يَأْخُذ نَفسه برعاية أحوالها ويرضوها فِي أفعالها وأقوالها وَيعلم يَقِينا أَنه مَتى قدر على سياسته (7 ب) نَفسه كَانَ على سياسة غَيره أقدر وَإِذا أهمل أَمر نَفسه كَانَ بإهمال غَيره أَجْدَر كَمَا قيل
(أتطمع أَن يطيعك قلب سعدي
… وتزعم أَن قَلْبك قد عصاكا)
وَقد تزين نفس الْإِنْسَان لَهُ حسن الظَّن بهَا فيعتقد أَنه متصف بمحاسن الْأَخْلَاق (8 أ) فَيعرض عَن مراعاتها وينقاد بزمام الرضى عَنْهَا إِلَى متابعتها فِي شهواتها فَيبقى وَهُوَ لَا يعلم فِي أسر هَوَاهُ مرتهنا معدودا مِمَّن زين لَهُ سوء عمله فَرَآهُ حسنا فيقوى نَفسه عَلَيْهِ حَتَّى تغلب عقله ويلعب بِهِ هَوَاهُ حَتَّى يستنفد فِي شهواته قَوْله وَفعله ويكشفه (8 ب) صوارف غفلاته عَن تَأمل إصْلَاح شَأْنه فتنسيه فروعه وَأَصله فَلَا يشْعر إِلَّا وَقد أشرف بِهِ الصلف على التّلف فأغسد أمره كُله فَمَتَى استظهر على هَذِه الْحَالة من مبدأ أمره وَاعْتبر مواقع تزين النَّفس الْمَارَّة بالسوء ببصيرة فكره وَحصر أَسبَاب التزيين (9 أ) فَقَطعه بشبا صبره وزجر قلبه عَن إتباع هَوَاهُ بموجبات زَجره وقهر نَفسه فانقادت طوع عقله فِي سره وجهره كَانَ خليقا أَن تنْقَلب خلائقه الذاتية حميدة وطرائقه المأتية سعيدة ونظراته فِي تصريف الحركات والسكنات سعيدة (9 ب) فَلَا جرم تكون دولته دائمة ومدته مديدة وَلَا يدْرك هَذَا الِاسْتِظْهَار بِعَين الْيَقِين إِلَّا إِذا أحَاط علما بِأَسْبَاب التزيين فقطعها بِحَدّ عزمه الْمُبين وَدفعهَا بِحَدّ ذِي الْقُوَّة المتين وانه يتَعَيَّن على من رزقه الله نعْمَة السلطنة وحلاه بعقدها وَأَتَاهُ أزمة حل (10 أ) الْأُمُور وعقدها وَجعله نَائِبا فِي حماية بِلَاده ورعاية عباده واليه مَال مرجعها ومردها أَن يصرف عناية اهتمامه المتقنة إِلَى النّظر فِي عشرَة أُمُور وَهِي قَرَار قَوَاعِد الْملك وقطب السلطنة الأول حفظ بَيْضَة الْإِسْلَام (10 ب) وَالْقِيَام بحمايته فِي جَمِيع أقطار بِلَاده ونواحي مَمْلَكَته لِئَلَّا يقوى عَلَيْهِ بشوكة كَافِر وَلَا تصل إِلَيْهِ يَد
সেই প্রকাশ্য সত্য, যা তার অকাট্য দলীলাদি দ্বারা অস্থির নফসসমূহের পিপাসা নিবারণ করেছে। এবং সেই মহান সত্তার অনুসারী ও অনুগামীদের ওপর (সালাম), যাদের আল্লাহ তাআলা সুমহান মর্যাদায় আসীন করেছেন এবং সর্বোত্তম স্বভাব-চরিত্রের বিনিময়ে মহত্তম গুণাবলির অধিকারী করেছেন। এমন দরুদ ও সালাম, যার ধারা অব্যাহত রাখা ৫ অপরিহার্য। আর আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হোন একত্ববাদী শাসকদের ওপর, যারা দ্বীনের সীমানার অতন্দ্র প্রহরী এবং ইসলামের ইমামগণ (أئمة), যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদায় সত্যবাদী ছিলেন এবং কোনো পরিবর্তন করেননি—এমন সন্তুষ্টি, যার মাধ্যমে তিনি তাদের পবিত্র বেষ্টনীতে জান্নাতে আদনের আনন্দময় আবাসে স্থান দেবেন, যা শ্রেষ্ঠ অবস্থান এবং ৫ খ উত্তম বিশ্রামস্থল। আম্মা বা'দ।
অতঃপর সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধি (دراية) ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট এটি সুস্পষ্ট হয়েছে এবং বর্ণনা (رواية) শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের নিকট দলীল ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, সুলতানাত (রাজত্ব) হলো একটি উচ্চ মর্যাদা এবং মহান পদমর্যাদাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার মাধ্যমে বিশিষ্ট ও সাধারণ সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণ সুসংহত হয়। এর মর্যাদার উচ্চতা ও গুরুত্বের কারণে আল্লাহ তাআলা (৬ ক) তাঁর কালিম মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন, যখন তিনি রবের রিসালাত পালনে নিজেকে দুর্বল মনে করেছিলেন এবং একাকী এই বিশাল দায়িত্বের ভার বহনে অক্ষম হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। তখন তিনি মহান আল্লাহর নিকট এই কাজে তাঁর ভাই হারুনকে সাহায্যকারী হিসেবে চেয়ে আরজ করেছিলেন: "আমার ভাই হারুন, সে আমার চেয়ে বেশি সাবলীলভাষী; অতএব তাকে (৬ খ) আমার সাথে সাহায্যকারী হিসেবে পাঠান, যেন সে আমাকে সমর্থন করে; আমি আশঙ্কা করি যে তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।" আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রার্থনা কবুল করলেন এবং তাঁর যাঞ্চার বৃক্ষ থেকে প্রাপ্তির ফল দান করলেন। তাঁকে এমন এক কর্তৃত্ব (سلطان) দান করলেন, যা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা অন্বেষণকারীদের সাধ্যের অতীত এবং কোনো আগ্রহী ব্যক্তি চেষ্টা-সাধনা করে তা লাভ করতে সক্ষম নয়। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি তোমার ভাইয়ের মাধ্যমে তোমার বাহু শক্তিশালী করব এবং তোমাদের উভয়কে এমন কর্তৃত্ব (سلطان) দান করব যে, (৭ ক) তারা তোমাদের কাছে পৌঁছাতে পারবে না। আমাদের নিদর্শনাবলীর (آيات) সাহায্যে তোমরা এবং যারা তোমাদের অনুসরণ করবে, তারাই বিজয়ী হবে।" আর যাকে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে এই দায়িত্বের জন্য মনোনীত করেছেন এবং যার হাতে রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীর হ্রাস-বৃদ্ধির চাবিকাঠি অর্পণ করেছেন, তার জন্য উচিত হলো নিজের নফসের অবস্থা পর্যবেক্ষণে সচেষ্ট হওয়া এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে নফসকে পরিশুদ্ধ করা। সে যেন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, যখন সে নিজের নফসকে পরিচালনা (৭ খ) করতে সক্ষম হবে, তখন সে অন্যের পরিচালনার ক্ষেত্রে অধিকতর সক্ষম হবে। আর যদি সে নিজ নফসের ব্যাপারে অবহেলা করে, তবে অন্যের ব্যাপারে অবহেলা করাই তার জন্য অধিকতর স্বাভাবিক। যেমন বলা হয়েছে—
(তুমি কি আশা করো যে সায়দীর হৃদয় তোমার অনুগত হবে
… অথচ তুমি দাবি করছ যে তোমার নিজের হৃদয়ই তোমার অবাধ্য হয়েছে?)
কখনো মানুষের নফস তার সামনে নিজেকে সুশোভিত করে তুলে ধরে, ফলে সে নিজেকে সচ্চরিত্রের (৮ ক) অধিকারী মনে করে। এতে সে নিজের সংশোধনের প্রতি বিমুখ হয় এবং নফসের প্রতি তুষ্টির বশবর্তী হয়ে কুপ্রবৃত্তির (هوى) অনুসরণ করে। ফলে সে নিজের অজান্তেই প্রবৃত্তির (هوى) কাছে বন্দি হয়ে পড়ে এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যাদের মন্দ কাজগুলো সুশোভিত করা হয়েছে এবং সে সেগুলোকে উত্তম মনে করছে। এভাবে নফস তার ওপর প্রবল হয়ে ওঠে এবং তার বুদ্ধি পরাজিত হয়। তার প্রবৃত্তি (هوى) তাকে নিয়ে খেলা করে এবং তার কথা ও কাজকে লালসার পথে নিঃশেষ করে দেয়। তার অসতর্কতা তাকে (৮ খ) নিজের অবস্থা সংশোধনের চিন্তা থেকে বিমুখ করে দেয়, ফলে সে তার মূল ও শাখা সবকিছুই বিস্মৃত হয়। পরিশেষে সে টেরও পায় না যে কখন দম্ভ তাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে এবং তার সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে। অতঃপর যদি সে তার সূচনালগ্ন থেকেই এই অবস্থার ওপর সজাগ থাকে এবং নফস আম্মারা বা মন্দপ্রবণ নফসের প্ররোচনাকে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বিবেচনা করে, আর প্ররোচনার কারণসমূহকে (৯ ক) সবরের তরবারি দিয়ে ছিন্ন করে দেয়, এবং প্রবৃত্তির (هوى) অনুসরণ থেকে তার অন্তরকে কঠোরভাবে নিবৃত্ত করে এবং নফসকে দমন করে—যেন তা গোপনে ও প্রকাশ্যে বুদ্ধির অনুগত হয়—তবে অবশ্যই তার সহজাত স্বভাবগুলো প্রশংসনীয় গুণে এবং তার কর্মপন্থাগুলো সৌভাগ্যে রূপান্তরিত হওয়া সমীচীন। আর তার নড়াচড়া ও স্থির থাকার প্রতিটি ক্ষেত্রে তার দৃষ্টিভঙ্গি হবে কল্যাণময় (৯ খ)। নিঃসন্দেহে তার রাষ্ট্র হবে দীর্ঘস্থায়ী এবং তার শাসনকাল হবে সুদীর্ঘ। আর এই সতর্কতা ও দৃঢ় বিশ্বাস ততক্ষণ লাভ করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সে নফসের প্ররোচনার কারণসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করে এবং স্বীয় সুস্পষ্ট সংকল্প ও মহান আল্লাহর শক্তি দ্বারা সেগুলোকে প্রতিহত না করে। আর আল্লাহ যাকে সুলতানাতের নেয়ামত দান করেছেন, তার ওপর এটি আবশ্যক যে—যাঁর হাতে শাসনক্ষমতা (১০ ক) অর্পণ করা হয়েছে এবং যাকে দেশ ও দশের নিরাপত্তার দায়িত্বশীল ও প্রতিনিধি বানানো হয়েছে—তিনি যেন অত্যন্ত নিপুণতার সাথে দশটি বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করেন। আর সেগুলো হলো রাজত্বের ভিত্তিসমূহ এবং সুলতানাতের প্রধান স্তম্ভ। প্রথমত: ইসলামের মূল শক্তি (بيضة الإسلام) রক্ষা করা (১০ খ) এবং তার রাজ্যের সকল প্রান্তে ও জনপদে এর সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকা, যাতে কোনো কাফেরের শক্তিবলে ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং কোনো (আক্রমণকারীর) হাত যেন সেখানে পৌঁছাতে না পারে।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فَاجر وَذَلِكَ بِإِقَامَة الْأُمَرَاء والأجناد وإعداد الأهبة والاستعداد وَتَحْصِيل مهمات الْإِمْدَاد لإرهاب الْأَعْدَاء (11 أ) والأضداد
وَالثَّانِي تفقد المعاقل والحصون والثغور بِاعْتِبَار أَحْوَال ولاتها وَاخْتِيَار رجال حماتها والمبادرة إِلَى إصْلَاح عمائرها وذخائرها ومهماتها
وَالثَّالِث إِقَامَة السياسات لدفع العتاة والمفسدين وردع الطغاة (11 ب) والمعتدين فَإِن بهَا يسترعى الرعايا لتَحْصِيل المعايش والأقوات ويعم نفع البرايا بالأسفار الَّتِي لَا تحصل إِلَّا بأمن الطرقات
وَالرَّابِع إِقَامَة حُدُود الله الْمَانِعَة من ارْتِكَاب الْمَحَارِم الوازعة من اقتراف الجرائم الرادعة عَن اكْتِسَاب الْمَظَالِم فقد جعلهَا (12 أ) الله لحفظ النُّفُوس وحراسة الْأَمْوَال وَأمر بإقامتها فَلَا يحل إِسْقَاطهَا بشفاعة وَلَا سُؤال
وَالْخَامِس دوَام تمسكة بِحَبل الشَّرِيعَة الغراء والتزامها واعتماده فِي أَمر وَنَهْيه على نَقصهَا وإبرامها وَاعْتِبَار أُمُور القائمين بِأَحْكَام (12 ب) أَحْكَامهَا واعتناؤه بِإِقَامَة صلحاء قضاتها وحكامها فبنصبه فيأصل الْقُضَاة قطع النزاع وصيانة الْأَمْوَال والحقوق عَن الْإِتْلَاف والضياع وَحفظ ذَلِك من أَن تمد إِلَيْهِ أَيدي الاقتطاع من ذَوي الْبَغي وأولي الأطماع (13 أ) وَإِقَامَة الْعُقُود الْمُحْتَاج إِلَيْهَا على مَالهَا من الأوضاع
وَالسَّادِس الْقيام بإقطاع الْأُمَرَاء والأجناد وأرزاق الْحُقُوق اللَّازِمَة من الْعباد وترتيبهم على مِقْدَار مَنَازِلهمْ وأحوالهم وتفضيلهم بِمَا يُوجِبهُ تفاضل الِاحْتِيَاج إِلَيْهِم فِي أَعْمَالهم
(13 ب) وَالسَّابِع الاهتمام بجهاب الْأَمْوَال لاجتلاب أَنْوَاعهَا ومواطن الغلال الَّتِي بهَا تَقْوِيَة الْبِلَاد بِاعْتِبَار مزارع ضياعها وان لَا تُؤْخَذ إِلَّا بِالْحَقِّ وَالْعدْل فَهُوَ أكبر حارس لَهَا من ضياعها
পাপাচারী; আর তা (সম্পন্ন হয়) আমির ও সৈন্যবাহিনী নিয়োগের মাধ্যমে, সমরাস্ত্র ও যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে এবং শত্রু ও প্রতিপক্ষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে (১১ ক)।
দ্বিতীয়ত, দুর্গসমূহ, কেল্লাসমূহ এবং সীমান্ত এলাকাগুলোর খোঁজখবর নেওয়া; সেখানকার শাসনকর্তাদের অবস্থা বিবেচনা করা, তাদের রক্ষীবাহিনীর জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন করা এবং সেগুলোর স্থাপত্য সংস্কার, রসদ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
তৃতীয়ত, বিদ্রোহী ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করতে এবং অবাধ্য (১১ খ) ও সীমালঙ্ঘনকারীদের দমনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর করা। কেননা এর মাধ্যমেই প্রজাসাধারণের জীবিকা ও খাদ্যের সংস্থান নিশ্চিত হয় এবং সফরের মাধ্যমে সৃষ্টির কল্যাণ সাধিত হয়, যা পথঘাটের নিরাপত্তা ছাড়া সম্ভব নয়।
চতুর্থত, আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধি (حدود) কায়েম করা, যা নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে বিরত রাখে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধক হয় এবং জুলুম-অত্যাচার থেকে নিবৃত্ত করে। মহান আল্লাহ এগুলো (১২ ক) নির্ধারণ করেছেন মানুষের জানমাল সংরক্ষণের জন্য এবং তা কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন। সুতরাং কোনো সুপারিশ বা আবেদনের মাধ্যমে তা রহিত করা বৈধ নয়।
পঞ্চমত, সমুজ্জ্বল শরীয়তের রজ্জুকে সর্বদা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ও তা অনুসরণ করা এবং আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে এর অকাট্য বিধানসমূহের ওপর নির্ভর করা। শরীয়তের বিধানসমূহ (১২ খ) বাস্তবায়নকারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের বিচারক ও শাসক হিসেবে নিয়োগের প্রতি যত্নবান হওয়া। কেননা বিচারক নিয়োগের মাধ্যমেই বিবাদ নিরসন হয় এবং সম্পদ ও অধিকারসমূহ ধ্বংস ও বিলুপ্তি থেকে রক্ষা পায়। এভাবেই সীমালঙ্ঘনকারী ও লোভীদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে জানমাল নিরাপদ থাকে (১৩ ক) এবং প্রয়োজনীয় চুক্তিগুলো শরীয়তসম্মত নিয়ম অনুযায়ী সম্পাদিত হয়।
ষষ্ঠত, আমির ও সৈন্যদের জায়গির প্রদান এবং জনসাধারণের প্রাপ্য অধিকার ও ভাতা প্রদান নিশ্চিত করা; তাদের পদমর্যাদা ও অবস্থা অনুযায়ী বিন্যস্ত করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব বিবেচনায় অগ্রাধিকার প্রদান করা।
(১৩ খ) সপ্তমত, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা যাতে বিভিন্ন প্রকার সম্পদ সংগৃহীত হয় এবং শস্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়, যা দেশের শক্তি বৃদ্ধি করে। সেই লক্ষ্যে কৃষিজমি ও ভূসম্পত্তির সঠিক তদারকি করা এবং লক্ষ্য রাখা যেন তা কেবল সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়; কেননা ন্যায়বিচারই হলো সম্পদ বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَالثَّامِن اسْتِخْدَام الكفاة والأمناء والأتقياء وَاسْتِعْمَال (14 أ) النصحاء الصلحاء الأقوياء لتَكون الْأَحْوَال يكفايتهم ملحوظة مضبوطة وبأمانتهم ونصحهم مَحْفُوظَة محوطة
وَالتَّاسِع الانتصاب لأمور الْعَامَّة بِأَن يجلس لَهَا وقتا من الْأَوْقَات لكشف الْمَظَالِم ولإقامة فَرِيضَة الْعدْل لإِزَالَة الْمَظَالِم
والعاشر (14 ب) التطلع إِلَى مجددات الْأَحْوَال وحوادث الْمُرُور وَاسْتِعْمَال الفكرة فِيمَا يَتَجَدَّد مِنْهَا مَخَافَة طرئان مكررة ومحذور بِأَن يَجْعَل لَهُ عيُونا يعتمدهم بصددها وثقاة يعدهم لرصدها فَإِن حوادث الأقدار وتقلبات الأدوار (15 أ) قد تجْعَل الْمُوَافق مُخَالفا والموالي مجانبا والأمين خائنا والناصح غاشا والساكن متحركا والمقرب مباينا فَإِذا تطلع إِلَى معرفَة مجددات الْأَسْبَاب ظهر لَهُ الْخَطَأ من الصَّوَاب وَعلم المحق من الْمُبْطل المرتاب فبادر إِلَى إصْلَاح الْخلَل وَإِزَالَة الِاضْطِرَاب (15 ب) فَهَذِهِ الْأُمُور الْعشْرَة أصُول شوامخ ينشأ مِنْهَا شعب متفرعة وقواعد ورواسخ يَنْبَنِي عَلَيْهَا أَحْكَام فَإِذا لحظها السُّلْطَان بِعَين يقظتة وَأدْخل أَحْكَام أَحْكَامهَا فِي بَاب مَعْرفَته أَقَامَ بِمَا وَجب عَلَيْهِ من حراسة الْملَّة وسياسة (16 أ) رَعيته
هَذَا وأنى لما رَأَيْت بإعانة وُلَاة الْأَمر الْأَئِمَّة على مَا تَحملُوهُ من أعباء مصَالح الْأمة المهمة بتعريفهم مناهج إرشادهم وإسعافهم بمباهج إسعادهم من لَوَازِم طاعتهم الَّتِي لَا بُد لكل مُسلم مِنْهَا وَتَمام نصرتهم (16 ب) الَّتِي لَا غنى لمستمسك بدين الله عَنْهَا
অষ্টম হলো যোগ্য, বিশ্বস্ত এবং মুত্তাকিদের নিয়োগ প্রদান এবং (১৪ أ) হিতাকাঙ্ক্ষী, সৎ ও শক্তিশালী ব্যক্তিদের নিয়োজিত করা; যাতে তাদের যোগ্যতার মাধ্যমে কার্যাবলি সুসংহত ও সুনিয়ন্ত্রিত থাকে এবং তাদের বিশ্বস্ততা ও হিতাকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে তা সুরক্ষিত ও পরিবেষ্টিত থাকে।
নবম হলো সাধারণ জনগণের বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করা, যার পদ্ধতি হলো তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে বসা, যাতে জুলুম উন্মোচিত হয় এবং নিপীড়ন দূর করার লক্ষ্যে ন্যায়বিচারের ফরজ দায়িত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়।
দশম হলো (১৪ ب) সমসাময়িক পরিস্থিতির পরিবর্তন ও ঘটনাবলির প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং নতুন যা কিছু ঘটে সে সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা, যাতে কোনো পুনরাবৃত্ত চক্রান্ত বা বিপদের আশঙ্কা রোধ করা যায়। এর উপায় হলো—এমন কিছু গুপ্তচর নিয়োগ করা যাদের ওপর তিনি এ বিষয়ে নির্ভর করবেন এবং কিছু নির্ভরযোগ্য (ثقاة) লোক প্রস্তুত রাখা যারা পর্যবেক্ষণ করবেন। কেননা তাকদিরের পরিবর্তন এবং যুগের আবর্তন (১৫ أ) অনেক সময় অনুগতকে বিরোধী, বন্ধুকে বিমুখ, বিশ্বস্তকে প্রতারক, হিতাকাঙ্ক্ষীকে প্রবঞ্চক, শান্তকে অস্থির এবং নিকটস্থকে দূরবর্তী করে দেয়। সুতরাং যখন তিনি কারণসমূহের নতুনত্ব সম্পর্কে অবগত হবেন, তখন তার কাছে ভুলের বিপরীতে সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং সন্দেহভাজন বাতিলপন্থীদের থেকে সত্যপন্থীকে পৃথকভাবে চিনতে পারবেন। ফলে তিনি ত্রুটি সংশোধন ও অস্থিরতা দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। (১৫ ب) এই দশটি বিষয় হলো সুউচ্চ মূলনীতি, যা থেকে বহু শাখা-প্রশাখা নির্গত হয় এবং এগুলো এমন সুদৃঢ় ভিত্তি যার ওপর বিভিন্ন বিধিবিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। সুলতান যদি জাগ্রত দৃষ্টিতে এগুলো লক্ষ্য করেন এবং এর বিধিবিধানসমূহকে তার প্রজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করেন, তবে তিনি মিল্লাতের সুরক্ষা এবং (১৬ أ) প্রজাপালনের ক্ষেত্রে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন।
তদুপরি, আমি যখন দেখলাম যে—উম্মাহর গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণের যে গুরুভার রাষ্ট্রপ্রধান ও ইমামগণ বহন করছেন, তাদের হিদায়াতের পথ বাতলে দেওয়ার মাধ্যমে এবং তাদের সৌভাগ্যের উপকরণসমূহ দ্বারা সহায়তা করার মাধ্যমে তাদের সাহায্য করা তাদের আনুগত্যেরই অপরিহার্য অংশ, যা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করার (১৬ ب) নামান্তর, যা আল্লাহর দ্বীনকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী কোনো ব্যক্তির পক্ষেই বর্জন করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والغيت المصنفات الْمُعْتَبرَة فِي أَحْكَام رياسة أَئِمَّة الْإِسْلَام المرعية والمؤلفات المشتهرة فِي أَحْكَام سياسة الْخَاص والعوام من الرّعية أما بسط مُمل العزمات عَن تصفحة عليلة أَو وجيزة مخل الرغبات (17 أ) فِي تلمحة قَليلَة حدانى غَرَض أختلع فِي سرى وأمل عتلج فِي صحرى على أَن أصرف همتي الفاترة وأبعث قريحتي القاصرة إِلَى تأليف مُخْتَصر فِي قَوَاعِد تَعْرِيف رياسة الإِمَام ومعاقدها وعوائد تصريف سياسة الآنام ومراشدها (17 ب) جَامع لزبد هَذِه الْأَسْبَاب قَاطع بِمَا يشْتَمل عَلَيْهِ من الْفَوَائِد وزوائد الْمَقَاصِد شبه الارتياب وَاقع بإفادة التَّحْقِيق وإجادة التدقيق موقع الْغَرَض من هَذَا الْبَاب
فاستخرت الله الَّذِي مَا خَابَ من استخارة وَلَا بُد من آب إِلَيْهِ (18 ب) واستجارة والفت هَذَا الْكتاب البديع واللباب الرفيع من شرائف المعارف المسطورة فِي نفائس كتب هَذَا الْفَنّ الْمَشْهُور وَجَعَلته فِي هَذَا الشان عدَّة لكل حام حَامِل لأعباء الْأُمُور وعمدة لكل كَاف بمصالح الْجُمْهُور (18 ب) وسميته إِذا رسمته بتحرير السلوك فِي تَدْبِير الْمُلُوك ورتبته بعد أَن هذبته على مُقَدّمَة مهمة وواسطة وخاتمة متمة
أما الْمُقدمَة فتشمل على مَا يتخلى عَنهُ ولى الْأَمر من غرر النقائص الفاضحة وَمَا يتحلى بِهِ من غرر الخصائص الْوَاضِحَة (19 أ) وَأما الْوَاسِطَة فتشتمل على مَا يعتده ولي الْأَمر عِنْد النّظر فِي الْمَظَالِم من الْأَحْكَام السُّلْطَانِيَّة وَمَا يعتمده حِين الحكم من السياسات الدِّينِيَّة
وَأما الخاتمة فتشتمل على التِّبْيَان لما يحكمه ولي الْأَمر من الْأَعْمَال عِنْد النّظر فِي الجرائم بواضح الْبَيَان
(19 ب) وَأَنا رَاغِب لكل خَاطب وصاله وطلاب نواله أَعْيَان السادات وسادات الْأَعْيَان الحائزين فِي حلبات الْبَيَان قصبات الرِّهَان إِذا جليت
ইসলামি ইমামগণের নেতৃত্বের বিধানাবলি সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য (المعتبرة) গ্রন্থসমূহ এবং প্রজাসাধারণের রাজনীতি পরিচালনার বিধান সংবলিত প্রসিদ্ধ (المشتهرة) রচনাসমূহ হয় অত্যন্ত দীর্ঘ যা সংকল্পকে ক্লান্ত করে দেয়, অথবা অতি সংক্ষিপ্ত (১৭ ক) যা কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণে অপূর্ণ। এমতাবস্থায় আমার মনে এক লক্ষ্য জাগ্রত হলো এবং এক নিগূঢ় আশা অন্তরে উদিত হলো যে, আমি আমার ক্ষীণ উদ্যম এবং সীমিত মেধা ব্যয় করে ইমামের নেতৃত্বের নীতিমালা ও নিয়মাবলী এবং জনগণের শাসন পরিচালনার রীতি ও দিকনির্দেশনা (১৭ খ) সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ সংকলন করব; যা এই বিষয়ের মূল নির্যাস ধারণ করবে এবং এর অন্তর্ভুক্ত ফায়দা ও লক্ষ্যসমূহ সংশয় নিরসন করবে। গ্রন্থটি সঠিক বিশ্লেষণ ও সূক্ষ্ম গবেষণার মাধ্যমে এই বিষয়ের মূল লক্ষ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ হবে।
অতঃপর আমি আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করলাম, যিনি তাঁর নিকট সাহায্যপ্রার্থীকে নিরাশ করেন না এবং যাঁর নিকট প্রত্যাবর্তন (১৮ খ) ও আশ্রয় গ্রহণ করা অপরিহার্য। আমি এই প্রসিদ্ধ শাস্ত্রের মূল্যবান কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ উন্নত জ্ঞানরাশি থেকে এই অনুপম ও সারগর্ভ কিতাবটি সংকলন করেছি। রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুভার বহনকারী প্রত্যেক অভিভাবকের জন্য একে আমি পাথেয় এবং জনস্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের জন্য একে অবলম্বন হিসেবে প্রস্তুত করেছি (১৮ খ)। গ্রন্থটি সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত করার পর আমি এর নাম রেখেছি "তাহরিরুস সুলুক ফি তদবিরিল মুলুক" এবং একে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, একটি মূল অংশ ও একটি পরিপূরক সমাপ্তি অংশে বিন্যস্ত করেছি।
ভূমিকাটি সেসব জঘন্য ত্রুটি-বিচ্যুতির বর্ণনার ওপর مشتمل যা থেকে শাসকের বিরত থাকা আবশ্যক এবং সেসব উজ্জ্বল গুণাবলির বর্ণনার ওপর مشتمل যা দ্বারা তাঁর সজ্জিত হওয়া উচিত (১৯ ক)। মূল অংশটি সেসব রাষ্ট্রীয় বিধানের ওপর مشتمل যা জুলুম প্রতিরোধে বিচারকার্য পরিচালনার সময় শাসকের জন্য সহায়ক এবং সেসব ধর্মীয় রাজনীতির ওপর مشتمل যা বিচারের সময় তাঁর অবলম্বন করা কর্তব্য।
আর সমাপ্তি অংশটি অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে শাসকের পালনীয় কার্যাবলির সুস্পষ্ট বিবরণের ওপর مشتمل।
(১৯ খ) আমি এই গ্রন্থটি এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পেশ করছি যারা এর সান্নিধ্য ও কল্যাণ লাভে আগ্রহী, যারা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ ও অভিজাতগণের নেতা এবং যারা বাগ্মিতার ময়দানে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপার অধিকারী।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عَلَيْهِ عرائس جماله ونفائس كَمَاله أَن لَا يفوق لهدف الِاخْتِيَار سهم الِاخْتِيَار (20 أ) وَأَن يحذق إِلَيْهِ بصر الانتقاد فَأَي جواد لَا يكبو وَأي مهند لَا ينبو وَمَعَ هَذَا فان لِسَان التَّقْصِير عَن الْقيام بالعذر قصير وَالْمُصَنّف وَأَن نظم دُرَر الْفَوَائِد فِي منظوم الْفَوَائِد ونثر غرر (20 ب) الفرائد فِي منثور الْفَوَائِد واستعان فِي ترصيف مَا صنف وتنقيح مَا ألف من نقاد الْعبارَة وفرسانها بحسبان البراعة وسحبانها معرض لحاسد أَو طَاعن بقال وَقيل أل أَن يحْتَاج لَهُ عاذر ومقيل وَإِنِّي لأرجو أَن يفخم أمره من النَّاس (21 أ) حر شَأْنه الصفح والستر وَإِلَى ذِي الْغَنِيّ الْمُطلق أمد كف الْفقر الْمُحَقق أَن يَجْعَلنِي فِيهِ من المخلصين وبأذيال كرمه الْعَام أعلق يَد الْفَاقَة والإعدام أَن يَجعله ذخيرة لي يَوْم الدّين وبباب عَفوه الْعَزِيز أَقف وَقْفَة الْمُعْتَرف بِالْعَجزِ (21 ب) وَالتَّقْصِير سَائِلًا ستر عيوبي جمعا وَإِلَيْهِ سُبْحَانَهُ أضرع أَن لَا يَجْعَلنِي من الَّذين ضل سَعْيهمْ فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وهم يحسبون أَنهم يحسنون صنعا وَمن فيضه الجم أسأله المعونة على خزن الْأَمر وسهله وَفِيمَا خص وَعم أتوكل عَلَيْهِ (22 أ) واعتصم بحبله فَهُوَ الْجواد الْكَرِيم الْبر الرَّحِيم وَهَذَا حِين شروعنا فِي بَيَان الْمَقْصُود من الْكَلَام على مَقَاصِد الْكتاب بِفضل مانح الْجُود فَنَقُول وَبِاللَّهِ الْإِعَانَة على الْإِبَانَة
الْكَلَام على الْمُقدمَة الْحُرِّيَّة بالتقدمة أعلم أَن أولى مَا تطلعت إِلَيْهِ أفكار (22 ب) الْمُلُوك الَّتِي هِيَ مُلُوك الأفكار ورغبت فِيهِ نُفُوسهم الشَّرِيفَة الَّتِي خصها الله بمشكاة الْأَنْوَار وأسجل لَهَا حَاكم السَّعَادَة بشرف الهمة وصفاء الفكرة حَتَّى يكَاد زيتها يضيء وَلَو لم تمسسه نَار التخلي عَن الرذائل والتحلي بالفضائل
(22 أ) وَأَن الرذائل أُمَّهَات إِذْ أبعدتها النَّفس عَنْهَا وأزالتها مِنْهَا استعدت للإنصاف بشرف الْخَلَاء بِلَا خلاف
তাঁর ওপর তাঁর সৌন্দর্যের সুষমা ও পূর্ণতার উৎকর্ষ বর্ষিত হোক; যাতে নির্বাচনের লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের তীরকে অতিক্রম না করে (২০ ক) এবং তাঁর প্রতি যেন সূক্ষ্ম সমালোচনার দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। কেননা কোন তেজস্বী অশ্ব হোঁচট খায় না এবং কোন তীক্ষ্ণ তরবারি ভোঁতা হয় না? এতৎসত্ত্বেও ত্রুটি স্বীকারের ভাষা ও ওজর পেশ করার সামর্থ্য খুবই সংক্ষিপ্ত। গ্রন্থকার যদিও তাঁর 'মনজুমুল ফাওয়ায়েদ' গ্রন্থে উপকারের মুক্তাসমূহ গেঁথেছেন এবং (২০ খ) 'মানসুরুল ফাওয়ায়েদ' গ্রন্থে শ্রেষ্ঠ বিষয়াদি ছড়িয়ে দিয়েছেন, আর তিনি যা কিছু সংকলন ও পরিমার্জন করেছেন তাতে প্রাজ্ঞ ও পারদর্শী বাক্য-সমালোচকদের (نقاد) সাহায্য নিয়েছেন, তবুও তিনি হিংসুক বা নিন্দুকের সমালোচনার সম্মুখীন হতে পারেন। এমতাবস্থায় একজন ক্ষমাশীল ও ওজর কবুলকারীর প্রয়োজন হবে। আমি আশা করি যে মানুষের মাঝে (২১ ক) মহানুভব ব্যক্তিরা তাঁর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবেন, যাঁদের বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমা ও দোষ গোপন করা। আমি সেই পরম অমুখাপেক্ষী সত্তার দরবারে আমার সুনিশ্চিত মুখাপেক্ষিতার হাত প্রসারিত করছি, যেন তিনি আমাকে এতে একনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তাঁর ব্যাপক করুণার প্রতি আমি আমার নিঃস্বতা ও রিক্ততার হাত নিবদ্ধ করছি, যেন তিনি একে কিয়ামতের দিনের জন্য আমার পাথেয় হিসেবে কবুল করেন। তাঁর সুমহান ক্ষমার দ্বারে আমি আমার অক্ষমতা (২১ খ) ও ত্রুটি স্বীকার করে দাঁড়িয়েছি এবং আমার সকল দোষ ঢেকে রাখার প্রার্থনা করছি। মহান আল্লাহর নিকট আমি বিনীত রোনাজারি করছি যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত না করেন যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে ব্যর্থ হয়েছে অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎ কাজ করছে। আমি তাঁর অফুরন্ত রহমত থেকে এই বিষয়ের কঠিন ও সহজ সকল অবস্থায় সাহায্য প্রার্থনা করছি। বিশেষ ও সাধারণ সকল বিষয়ে আমি তাঁরই ওপর ভরসা করছি (২২ ক) এবং তাঁর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরছি। তিনিই পরম দাতা, মহানুভব, পুণ্যবান ও দয়ালু। মহান দাতার অনুগ্রহে কিতাবের উদ্দিষ্ট বিষয়সমূহ আলোচনার সূচনা করার এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা বলছি—আর সুস্পষ্ট বর্ণনার জন্য আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
অগ্রগণ্য হওয়ার যোগ্য ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা জেনে রাখুন, রাজন্যবর্গের চিন্তা (২২ খ) - যা মূলত চিন্তারই রাজা - সর্বাগ্রে যে বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে এবং তাঁদের মহৎ প্রাণ যা কামনা করেছে—যাঁদের আল্লাহ তাআলা নূরের প্রদীপ দ্বারা বিশেষায়িত করেছেন এবং যাঁদের জন্য সৌভাগ্যের বিধাতা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও চিন্তার স্বচ্ছতা অবধারিত করেছেন, এমনকি তাদের তৈল যেন প্রজ্জ্বলিত হওয়ার উপক্রম হয় যদিও আগুন তাকে স্পর্শ না করে—তা হলো মন্দ স্বভাবসমূহ বর্জন করা এবং শ্রেষ্ঠ গুণাবলীতে ভূষিত হওয়া।
(২২ ক) আর নিশ্চয়ই এই মন্দ স্বভাবগুলো হলো সেই মূল ব্যাধি; যখন আত্মা নিজেকে তা থেকে দূরে সরিয়ে নেয় এবং তা বিদূরিত করে, তখন সে কোনো সংশয় ছাড়াই শ্রেষ্ঠত্বের পবিত্রতার মাধ্যমে ন্যায়পরায়ণতার জন্য প্রস্তুত হয়।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فأولها: الكبروثانيها: العجبوثالثها: الغرورورابعها: الشُّح وخامسها: الْكَذِب
فَأَما الْكبر فَهُوَ جالب (23 ب) لسخط الله المليك القهار قَالَ الله تَعَالَى {كَذَلِك يطبع الله على كل قلب متكبر جَبَّار}
وروينا عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِيمَا يرويهِ عَن اله جلت عَظمته أَن تَعَالَى يَقُول الْكِبْرِيَاء رِدَائي وَالْعَظَمَة ازارى فَمن ناز عني فِي شَيْء مِنْهَا قصمته
(24 أ) وقلما اتّصف ملك بِصفة الْكبر إِلَّا اختلت أَحْوَال مَمْلَكَته واضطربت قَوَاعِد دولته وعميت عَلَيْهِ أَبنَاء مَصَالِحه وَقل موَالِيه وَظَهَرت مقَالَته بسهام أعاديه
وَأما الْعجب فَهُوَ من المهلكات قَالَ الله تَعَالَى ترهيبا لِعِبَادِهِ المتدبرين (24 ب) {وَيَوْم حنين إِذْ أَعجبتكُم كثرتكم فَلم تغن عَنْكُم شَيْئا وَضَاقَتْ عَلَيْكُم الأَرْض بِمَا رَحبَتْ ثمَّ وليتم مُدبرين} وروينا عَن رَسُول صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ ثَلَاث مهلكات شح مُطَاع وَهوى مُتبع وَإِعْجَاب الْمَرْء بِنَفسِهِ
وَمن الحكم الصَّادِر عَن حكماء الْعلمَاء (25 أ) الَّذين شرفهم الله بِنزل قدسه من استهواء الْعجب حَتَّى نظر فِي عطفيه واختال فِي برديه وَلم ير لغيره فضلا عَلَيْهِ فقد اكْتسب التّلف مِمَّا فَوق فِي سِهَام المقت إِلَيْهِ واحتقب مَا يورثه ندامة وحسرة يَوْم يعَض الظَّالِم على يَدَيْهِ
তন্মধ্যে প্রথমটি হলো অহংকার (الكبر), দ্বিতীয়টি হলো আত্মম্ভরিতা (العجب), তৃতীয়টি হলো ধোঁকা (الغرور), চতুর্থটি হলো কৃপণতা (الشُّح) এবং পঞ্চমটি হলো মিথ্যা (الْكَذِب)।
অতঃপর অহংকার (الكبر) প্রসঙ্গে বলা যায় যে, এটি (২৩ খ) অধিপতি পরাক্রমশালী আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক উদ্ধত স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর মেরে দেন।”
আর আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছি (روينا), যা তিনি তাঁর সুমহান মহিমান্বিত রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেন: “অহংকার (الكبرياء) আমার চাদর এবং মহিমা (العظمة) আমার পরিধেয় বস্ত্র; সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলোর কোনোটি নিয়ে আমার সাথে বিবাদ করবে, আমি তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেব।”
(২৪ ক) খুব কমই এমন হয়েছে যে কোনো শাসক অহংকার (الكبر) গুণে গুণান্বিত হয়েছে অথচ তার রাজ্যের অবস্থা বিপর্যস্ত হয়নি, তার রাষ্ট্রের ভিত্তি টালমাটাল হয়নি, তার জনকল্যাণের পথসমূহ তার কাছে অস্পষ্ট হয়নি, তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা কমে যায়নি এবং শত্রুদের তীরের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে তার হীনম্মন্যতা প্রকাশ পায়নি।
আর আত্মম্ভরিতা (العجب) হলো বিনাশকারী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর চিন্তাশীল বান্দাদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যে (২৪ খ) ইরশাদ করেছেন: “এবং হুনাইনের যুদ্ধের দিন, যখন তোমাদের সংখ্যার আধিক্য তোমাদের আত্মহারা (أَعجبتكم) করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোনো উপকারে আসেনি এবং প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী তোমাদের কাছে সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল, অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।” আর আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছি (روينا) যে, তিনি বলেছেন: “তিনটি বিষয় ধ্বংসাত্মক—অনুসৃত কৃপণতা (شح), অনুসরিত প্রবৃত্তি এবং নিজের প্রতি মানুষের মুগ্ধতা বা আত্মম্ভরিতা (إعجاب)।”
পুণ্যময় মর্যাদায় সিক্ত প্রাজ্ঞ আলেমদের (২৫ ক) পক্ষ থেকে বর্ণিত প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত হলো: যে ব্যক্তি আত্মম্ভরিতার (العجب) মোহে বশীভূত হয়ে নিজের অবয়বের দিকে গর্বের সাথে তাকায় এবং নিজের পোশাকে দম্ভভরে চলে, আর নিজের ওপর অন্যের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব দেখে না, তবে সে তার প্রতি নিক্ষিপ্ত ঘৃণার তীরের আঘাতে নিজের বিনাশই অর্জন করল এবং এমন বোঝা বহন করল যা তাকে অনুশোচনা ও আক্ষেপ এনে দেবে সেই দিন, যেদিন জালিম নিজের হাত কামড়াবে।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَأما (25 ب) الْغرُور فَهُوَ مضل بِصَاحِبِهِ إِلَى العطب سائق لَهُ ورطات هَلَاك ذَات شعب وَهُوَ أَن يرى الْمَغْرُور الْأَحْوَال فِي مباديها منتظمة فِي سلك السداد والأمور فِي أوائلها جَارِيَة على وفْق المُرَاد والأوقات سَاكِنة عَن هبوب عوارض الْبَغي (26 أ) وَالْفساد والاختلافات الشاغلة قد نزلت بساحات الْأَعْدَاء والاضداد فيظن أَن هَذِه الْحَالة وَاجِبَة الإطراد دائمة الِاسْتِمْرَار بِلَا انْقِطَاع وَلَا نَفاذ فيغتر بذلك فيهمل التأهب ويغفل عَن الاستعداد فتفاجئه حوادث الْخَال وتباغته نَوَازِل (26 ب) الزلل فتسد عَنهُ أَبْوَاب الصّلاح وتفتح عَلَيْهِ أَبْوَاب الْفساد وَأعظم موارد الْغرُور النِّفَاق المادحين ومدح الْمُنَافِقين وتملق المقربين وتقرب المتملقين الَّذين اتَّخذُوا الْكَذِب والنفاق وَسِيلَة وَجعلُوا الْمَكْر وَالْخداع أحبولة وحيلة (27 أ) فَمَتَى وجدوا لنفاقهم نفَاقًا وسوقا ولكذبهم قبولا وَتَصْدِيقًا نصبوه سلما إِلَى مرامهم وَأَقَامُوا المغتر بهم غَرضا لسهامهم واتخذوه عرضة لاستهزائهم بِهِ واستقسامهم وَقد عد الْعلمَاء وأساطين الْحُكَمَاء هَذَا النَّوْع من الاغترار من أقوى (27 ب) الْأَسْبَاب وحثوا أكَابِر الْمُلُوك على التيقظ لَهُ عِنْد الإسهاب فِيهِ والإطناب ونبهوا على الِاحْتِرَاز مِنْهُ والتجنب عِنْد أَرْبَاب الْأَلْبَاب فَأن أقل مَا فِيهِ رواج الاستسخار والاستهزاء ونفاق الْكَذِب بِلَا ارتياب وَلِهَذَا الْمَعْنى أَمر (28 أ) الرَّسُول صلى الله عليه وسلم بإهانة مباشريه بقوله أحثوا فِي وُجُوه المادحين التُّرَاب
وَأما الشُّح فَهُوَ من الْأَسْبَاب الَّتِي أخبر الرَّسُول صلى الله عليه وسلم بِكَوْنِهَا مهلكة للورى وَيَكْفِي فِي ذمَّة الْفَلاح مقرون بالسلامة مِنْهُ والتوقي
আর (২৫ খ) আত্মপ্রবঞ্চনা (الغرور) হলো তার অধিকারীকে ধ্বংসের দিকে বিভ্রান্তকারী এবং তাকে বিনাশের বহুমুখী সংকটের দিকে চালিতকারী। আর তা হলো এই যে, বিভ্রান্ত ব্যক্তি পরিস্থিতির প্রারম্ভে বিষয়াদিকে সঠিক পথে সুশৃঙ্খল এবং কার্যাবলিকে শুরুর দিকে লক্ষ্য অনুযায়ী চলমান দেখতে পায়। সে সময়কালকে অন্যায় (২৬ ক) ও ফাসাদের ঝঞ্ঝাবিক্ষোভ থেকে মুক্ত মনে করে এবং যাবতীয় বিভ্রান্তিকর মতভেদ শত্রু ও বিরোধীদের আঙিনায় আপতিত হয়েছে বলে ধারণা করে। ফলে সে মনে করে যে, এই অবস্থাটি সর্বদা অপরিবর্তিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে স্থায়ী হবে এবং এর কোনো সমাপ্তি বা বিলুপ্তি নেই। এই ধারণায় সে প্রবঞ্চনায় পতিত হয়, ফলে সে প্রস্তুতি গ্রহণে অবহেলা করে এবং সতর্কতা অবলম্বনে উদাসীন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় অবস্থার আকস্মিক পরিবর্তন তাকে চমকে দেয় এবং পদস্খলনের (২৬ খ) বিপদসমূহ তাকে অতর্কিতে আক্রমণ করে। ফলে তার জন্য সংশোধনের পথসমূহ রুদ্ধ হয়ে যায় এবং অনিষ্টের দ্বারসমূহ উন্মোচিত হয়। প্রবঞ্চনার সবচেয়ে বড় উৎস হলো প্রশংসাকারীদের কপটতা, মুনাফিকদের প্রশংসা এবং ঘনিষ্ঠদের চাটুকারিতা ও চাটুকারদের নৈকট্য লাভের প্রচেষ্টা; যারা মিথ্যা ও নিফাককে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং চক্রান্ত ও প্রতারণাকে ফাঁদ ও কৌশল (২৭ ক) হিসেবে গ্রহণ করেছে। যখনই তারা তাদের কপটতার বাজার এবং মিথ্যার গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থন খুঁজে পায়, তখনই তারা একে তাদের হীন উদ্দেশ্য হাসিলের সোপান হিসেবে ব্যবহার করে। তারা বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে তাদের তীরের লক্ষ্যে পরিণত করে এবং তাকে তাদের উপহাস ও অপকৌশলের পাত্রে পরিণত করে। ওলামায়ে কেরাম এবং প্রাজ্ঞ দার্শনিকবর্গ এই ধরণের প্রবঞ্চনাকে অন্যতম শক্তিশালী (২৭ খ) কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তাঁরা মহান রাজন্যবর্গকে এই বিষয়ে অতিশয়োক্তি ও দীর্ঘ প্রশংসার সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও তাঁরা এ থেকে বেঁচে থাকা ও সতর্ক থাকার বিষয়ে সজাগ করেছেন। কেননা এর সর্বনিম্ন ক্ষতি হলো উপহাস ও বিদ্রূপের প্রসার এবং নিঃসন্দেহে মিথ্যার বিস্তৃতি। এই কারণেই (২৮ ক) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশংসাকারীদের অপমান করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: "তোমরা প্রশংসাকারীদের মুখে ধূলি নিক্ষেপ করো।"
আর কার্পণ্য (الشح) হলো এমন এক স্বভাব যা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তা সৃষ্টির জন্য ধ্বংসাত্মক। এর নিন্দার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সাফল্যকে এর থেকে সুরক্ষা ও বেঁচে থাকার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بِلَا (28 ب) مراء قَالَ الله تَعَالَى فِي كِتَابه الْمكنون {وَمن يُوقَ شح نَفسه فَأُولَئِك هم المفلحون}
وَمن الحكم الْبَالِغَة الشحيح مطرود مقامات الْكِرَام مَعْدُود من سيئات الْأَيَّام مَقْصُود بسهام الْمَلَامَة بَين النام لَا يسود أبدا وَلَا يبلغ مقصدا
(29 أ) وَأما الْكَذِب فَيَكْفِي فِي ذمَّة أَنه يجانب الْإِيمَان ويسلب خصيصة الْإِنْسَان فان النُّطْق هُوَ الْفَارِق بَينه وَبَين سَائِر الْحَيَوَان وآلته الْمعبر بهَا عَمَّا فِي الضمائر المتوصل بهَا عِنْد التخاطب إِلَى إِظْهَار مَا فِي السرائر هِيَ اللِّسَان فَإِذا اسْتَعْملهُ صَاحبه (29 ب) فِي الْكَذِب فَغير الْأَشْيَاء عَن حقائقها وأبرز الْبَاطِل فِي صُورَة الْحق وَأخْبر بالأمور على خلاف مَا هِيَ عَلَيْهَا وكسا الْمحَال لِبَاس الصدْق فقد سقط الوثوق بِهِ من الْقُلُوب عِنْد الْأَخْبَار وَلم يبْق لما يصدر عَنهُ أثر وَلَا اعْتِبَار
وَمن الحكم الْبَالِغَة (30 أ) الْكَذِب يسلب صَاحبه صفة الصّلاح ويلبسه جِلْبَاب الافتضاح وَيجْعَل در نَعته لَغوا منثورا وَلَو نظمه الْجَوْهَرِي فِي سمط الصِّحَاح
فَهَذِهِ الرذائل الْخَمْسَة يتَعَيَّن على السُّلْطَان أَن يصون نَفسه وَشرف همته وَعز سُلْطَانه وَحسن سمعته (30 ب) عَن شَيْء مِنْهَا لِأَنَّهَا النقائض الوضيعة المحطة لِذَوي الأقدار الرفيعة وَمِنْهَا يتَطَرَّق تَزْيِين الفضائح وتحسين القبائح فَإِنَّهُ قل مَا كَانَت فِيهِ إِلَّا اختلت أَحْوَال مَمْلَكَته بِلَا نزاع واضطربت قَوَاعِد دولته ونفرت عَنهُ قُلُوب (31 أ) الإتباع وعميت عَلَيْهِ
কোনো বিতর্ক ছাড়াই (২৮ খ), মহান আল্লাহ তাঁর সুরক্ষিত কিতাবে বলেছেন: {আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম।}
সুগভীর প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: কৃপণ ব্যক্তি উচ্চমর্যাদাবানদের স্থান থেকে বিতাড়িত, কালের অশুভ বিষয়াবলির মধ্যে পরিগণিত এবং সৃষ্টির মাঝে নিন্দার তীরের লক্ষ্যবস্তু; সে কখনো নেতৃত্ব পায় না এবং কোনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না।
(২৯ ক) আর মিথ্যার নিন্দায় এতটুকুই যথেষ্ট যে, তা ঈমানকে পরিহার করে এবং মানুষের বিশেষত্ব ছিনিয়ে নেয়। কেননা বাকশক্তিই হলো মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে পার্থক্যকারী। আর জিহ্বা হলো এমন এক যন্ত্র যা দ্বারা মনের কথা ব্যক্ত করা হয় এবং কথোপকথনের সময় গোপন রহস্যসমূহ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এর অধিকারী যদি একে (২৯ খ) মিথ্যার কাজে ব্যবহার করে, তবে সে বিষয়বস্তুকে তার প্রকৃত সত্য থেকে বিচ্যুত করে ফেলে, মিথ্যাকে সত্যের রূপে উপস্থাপন করে, বিষয়সমূহকে বাস্তবতার বিপরীতে বর্ণনা করে এবং অসম্ভবকে সত্যের ভূষণে সাজায়। এমতাবস্থায় সংবাদ বর্ণনার ক্ষেত্রে মানুষের অন্তর থেকে তার ওপর নির্ভরযোগ্যতা (وثوق) অপসৃত হয় এবং তার থেকে যা প্রকাশ পায় তার কোনো প্রভাব বা গ্রহণযোগ্যতা (اعتبار) অবশিষ্ট থাকে না।
সুগভীর প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীসমূহের মধ্যে রয়েছে: (৩০ ক) মিথ্যা তার অধিকারীকে সততার (صلاح) গুণ থেকে বঞ্চিত করে এবং অপদস্থতার চাদর পরিয়ে দেয়; এটি তার প্রশংসার মুক্তাগুলোকে লক্ষ্যহীন ধূলিকণায় পরিণত করে, যদিও জাওহারি তা সিহাহ গ্রন্থের মালার মতো গেঁথে থাকেন।
সুতরাং এই পাঁচটি হীন চরিত্র থেকে সুলতানের জন্য আবশ্যক হলো নিজের সত্তা, সুউচ্চ সংকল্প, রাজকীয় মর্যাদা এবং উত্তম সুখ্যাতিকে (৩০ খ) রক্ষা করা। কারণ এগুলো হলো এমন নিকৃষ্ট ত্রুটি যা উচ্চ মর্যাদাবানদের সম্মানহানি ঘটায়। এগুলো থেকেই নির্লজ্জতাকে সুশোভিত করার এবং মন্দকে সুন্দর করে দেখানোর পথ প্রশস্ত হয়। খুব কমই এমন হয়েছে যে, কারও মধ্যে এই স্বভাবগুলো ছিল অথচ কোনো বিতর্ক ছাড়াই তার রাজ্যের অবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়নি, তার রাষ্ট্রের ভিত্তি প্রকম্পিত হয়নি এবং অনুসারীদের অন্তর (৩১ ক) তার থেকে বিমুখ হয়নি ও তার ওপর বিষয়াদি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়নি...
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أنباء الْمصَالح وَظَهَرت مقاتله لسهام عدوه الْكَاشِح ومالت عَنهُ خواطر ناصريه واتسع لألسن الطاعنين مجَال الْمقَال فِيهِ وَسقط وقعه من نفوس رعاياه وَجُنُوده وَزَالَ الوثوق بوعده وَالْخَوْف من وعيده
(31 ب) فَوَاجِب على السُّلْطَان إِذا تخلى عَن هَذِه النقائض أَن يتحلى من الخصائص الحسان بِمَا يزْدَاد بِهِ مهابة ووقار ويكسبه عَظمَة وفخار وَيعْلي لَهُ فِي الْعَالم شَأْنًا ومنارا وَيبقى لَهُ على الْأَبَد ذكرا وفخارا
وَهَا أَنا أنبه على شَيْء مِنْهَا تَنْبِيها أعْتَمد (32 أ) فِيهِ اقْتِصَار واختصار فَعَلَيهِ أَن لَا يُسَارع إِلَى إتباع الشَّهَوَات وَأَن يتثبت عِنْد اعْتِرَاض الشُّبُهَات وَأَن يجانب سرعَة الحركات وخفة الإشارات ويديم أَطْرَاف طرفه وملازمة صمته إِلَّا عِنْد الْحَاجة فِي أَكثر الْأَوْقَات (32 ب) فَإِن أنفاس الْملك ملحوظة وَأَلْفَاظه منقولة على ممر السَّاعَات وَكَلَام الْإِنْسَان ترجمان عقله وبرهان فَضله وَمن كثر كلمة كبر ندمه
ويختار عِنْد الْكَلَام أعذب الْأَلْفَاظ وأحسنها وأعدلها وأجزلها وأبينها ويجهر صَوته (33 أ) فِي كَلَامه ليَكُون أبين لسامعيه وأوقع فِي الْقُلُوب وَيجْعَل وعيده بالتأديب على مِقْدَار الذُّنُوب جمعا بَين مصلحَة الْعقُوبَة والانزجار ومصلحة اجْتِنَاب الْإِثْم بمجاوزة الْحَد والمقدار
ويجتهد فِي منع نَفسه من الْغَضَب فَإِنَّهُ أشر قاهر (33 ب) وأضر معاندو مجاهر وَهُوَ إِذا غلب أعظم الْأَشْيَاء فَسَادًا لنظام المرام وأبلغ الْأُمُور تَأْثِيرا فِي انْتِقَاض قَوَاعِد تَدْبِير الإبرام فَإِن قدر الله عَلَيْهِ بِشَيْء مِنْهُ فليحذر جزما من أَن يُبَاشر
স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির সংবাদসমূহ এবং তার প্রতি বিদ্বেষী শত্রুর তীরের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তার দুর্বল দিকগুলো প্রকাশ পেয়ে গেল। তার সাহায্যকারীদের মন তার থেকে বিমুখ হলো এবং সমালোচনাকারীদের জিহ্বায় তাকে নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র প্রশস্ত হলো। তার প্রজাবৃন্দ ও সেনাবাহিনীর অন্তর থেকে তার প্রভাব বিলুপ্ত হলো এবং তার প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভরযোগ্যতা (وثوق) ও তার হুমকির ভয় অপসারিত হলো।
(৩১ খ) সুতরাং সুলতানের জন্য অপরিহার্য হলো, যখন তিনি এই দোষত্রুটিগুলো থেকে মুক্ত হবেন, তখন যেন তিনি এমন সব উত্তম বৈশিষ্ট্যে অলঙ্কৃত হন যার মাধ্যমে তার গাম্ভীর্য ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং যা তাকে মহত্ত্ব ও গৌরব দান করে; যা বিশ্বে তার শান ও মর্যাদাকে সমুন্নত করে এবং চিরকালের জন্য তার সুখ্যাতি ও শ্রেষ্ঠত্বকে অক্ষয় রাখে।
আর আমি এখানে সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করছি, যেখানে আমি (৩২ ক) সংক্ষিপ্তকরণ ও সারসংক্ষেপের ওপর নির্ভর করছি। সুতরাং তার উচিত হবে না প্রবৃত্তির অনুসরণে দ্রুত ধাবিত হওয়া, এবং সংশয়যুক্ত বিষয় (شبهات) সামনে এলে যেন তিনি দৃঢ়তা বা যাচাই (تثبت) অবলম্বন করেন। তিনি যেন অস্থিরতা ও হালকা ইশারা-ইঙ্গিত পরিহার করেন এবং অধিকাংশ সময় প্রয়োজন ব্যতীত সর্বদা দৃষ্টি অবনত রাখা ও নীরবতা পালনে সচেষ্ট থাকেন। (৩২ খ) কেননা শাসকের প্রতিটি নিঃশ্বাস পর্যবেক্ষিত হয় এবং তার প্রতিটি শব্দ সময়ের আবর্তনে স্থানান্তরিত হতে থাকে। মানুষের কথা হলো তার বিবেকের দোভাষী এবং তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। আর যার কথা অধিক হয়, তার অনুশোচনাও বৃদ্ধি পায়।
তিনি কথা বলার সময় সবচেয়ে সুমিষ্ট, সুন্দর, ন্যায়সঙ্গত, প্রাঞ্জল ও সুস্পষ্ট শব্দ চয়ন করবেন এবং তার বক্তব্যে কণ্ঠস্বর উচ্চ (৩৩ ক) করবেন যাতে তা শ্রোতাদের নিকট অধিকতর স্পষ্ট হয় এবং অন্তরে গভীরভাবে রেখাপাত করে। তিনি তার শাসনের শাসনমূলক ধমককে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী নির্ধারণ করবেন, যাতে শাস্তির মাধ্যমে সংশোধন ও নিবৃত্ত করার কল্যাণ এবং সীমা ও মাত্রা লঙ্ঘনের মাধ্যমে অর্জিত পাপ থেকে বেঁচে থাকার কল্যাণ—উভয়ের সমন্বয় ঘটে।
তিনি নিজেকে ক্রোধ থেকে নিবৃত্ত রাখতে সচেষ্ট হবেন, কেননা তা হলো নিকৃষ্টতম দমনকারী (৩৩ খ) এবং অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রকাশ্য শত্রু। ক্রোধ যখন জয়ী হয়, তখন তা লক্ষ্য অর্জনের শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে এবং সুদৃঢ় ব্যবস্থাপনার মূলনীতিগুলো ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে। যদি আল্লাহ তার ওপর এর কিছু নির্ধারিত করেন, তবে তিনি যেন তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করেন।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فِي تِلْكَ الْحَالة فعلا أَو ينفذ حكما وكما يجب الِاحْتِرَاز (34 أ) من الْغَضَب وَكَذَلِكَ يتَعَيَّن الاحتراس من اللجاج لِأَنَّهُ حَلِيف الطِّبّ وَهُوَ مِمَّا يُثمر الزلل فِي العاجل ويسفر عَن الندامة فِي الْأَجَل ويدفعه الْحق خير من التَّمَادِي فِي الْبَاطِل وَلَا يسْتَعْمل فِي النَّاس حَالَة وَاحِدَة بل يعتمده (34 ب) فِي كل قَضِيَّة مَا يَلِيق بصاحبها من لين وَشدَّة وإقبال وإعراض وَبشر وانقباض وَوصل وَقطع وَإجَابَة وَمنع وإحسان وإساءة وَزِيَادَة ونقصان وَتجَاوز وانتقام وإقدام وإحجام وعفو وعقاب وَظُهُور واحتجاب فَإِن اسْتِعْمَال (35 أ) كل حَالَة فِي محلهَا مَعَ مستحقها أكمل تدبيرا وَأجْمع لبلوغ الأرب ووضعها فِي غير محلهَا أفْضى إِلَى توقع الضَّرَر ومفتاح لباب الْغَضَب وطباع الْعَامِل غير متوازنة وأخلاقهم على التَّحْقِيق متباينة فَمنهمْ من يصلحه الإقبال عَلَيْهِ (35 ب) وَالْإِحْسَان إِلَيْهِ وَمِنْهُم من يعدله الْإِعْرَاض عَنهُ والانتقام مِنْهُ وليعلم أَن من أَعم الْأَشْيَاء نفعا وَأَعْظَمهَا فِي الْمصَالح وَقعا كتمان سره وإخفاء أمره وَأَن لَا يطلع أحدا على مَا عزم على فعله قبل إِتْمَامه وَلَا يتحدث بِمَا يُرِيد من الْمُهِمَّات (36 أ) قبل إبرامه فَإِن ذَلِك من أقوى أَسبَاب الظفر بالمطالب وأنكا فِي قُلُوب الْأَعْدَاء وأعون على نجح الْمَقَاصِد والمأرب لَكِن الْأَسْرَار والأمور مَا يَسْتَغْنِي فِيهِ إطلاع نَاصح حَكِيم ومشاورة صديق حميم يرى نصحه لإمامه من طَاعَته لرَبه (36 ب) ويعده عِنْد الله من أعظم أَسبَاب قربه فيستعين بِرَأْيهِ فِي الْمُهِمَّات وَينْتَفع بفكرة عِنْد الملمات وَمَتى حدث أَمر من الْأُمُور الْعَظِيمَة أَو وَقع خطب من الخطوب الجسيمة يكثر الاستشارة فِيهِ فِيمَن يرَاهُ لذَلِك أَهلا وَيسمع رَأْي كل وَاحِد مِنْهُم على انْفِرَاده (37 أ) وَينظر فِيمَا سَمعه فرعا واصلا
সেই অবস্থায় কোনো কাজ সম্পাদন করতে বা কোনো বিচার কার্যকর করতে। রাগ বা ক্রোধ থেকে যেভাবে সতর্ক থাকা জরুরি (৩৪ অ), ঠিক তেমনিভাবে হঠকারিতা থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক; কারণ তা নির্বুদ্ধিতারই সহচর। এটি বর্তমানে পদস্খলন (زلল) ঘটায় এবং পরিণামে অনুশোচনা বয়ে আনে। আর সত্যের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা বাতিলের (باطل) ওপর অটল থাকার চেয়ে উত্তম। তিনি মানুষের সাথে সর্বাবস্থায় একই আচরণ করবেন না, বরং প্রত্যেকটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপযোগী আচরণ অবলম্বন করবেন (৩৪ ব)—তা কোমলতা বা কঠোরতা, মনোযোগ বা উপেক্ষা, প্রফুল্লতা বা বিমর্ষতা, সংযোগ বা বিচ্ছেদ, সম্মতি বা অসম্মতি, সদ্ব্যবহার বা অসদাচরণ, বৃদ্ধি বা হ্রাস, মার্জনা বা প্রতিশোধ, অগ্রসর হওয়া বা পশ্চাৎপদ হওয়া, ক্ষমা বা শাস্তি এবং প্রকাশ বা অপ্রকাশ যা-ই হোক না কেন। কেননা প্রতিটি অবস্থাকে তার উপযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যথাযথ স্থানে প্রয়োগ করা (৩৫ অ) হলো পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা (تدبير) এবং উদ্দেশ্য হাসিলের সর্বোত্তম পথ। আর তা যথাস্থানে প্রয়োগ না করা ক্ষতির আশঙ্কাই বৃদ্ধি করে এবং ক্রোধের দ্বার উন্মোচিত করে। আমলকারীদের মেজাজ ভারসাম্যপূর্ণ নয় এবং তাদের স্বভাব নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন ভিন্ন। কারো জন্য উপযুক্ত হলো তার প্রতি মনোনিবেশ করা (৩৫ ব) ও সদাচরণ করা, আবার কারো জন্য সংশোধনমূলক হলো তার থেকে বিমুখ থাকা এবং তাকে দণ্ড প্রদান করা। জেনে রাখা উচিত যে, সবচেয়ে বেশি উপকারী এবং জনকল্যাণের (مصالح) ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর বিষয় হলো—নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করা ও কাজ গোপন রাখা। কোনো কাজ সম্পন্ন করার আগে কাউকে সে সম্পর্কে অবহিত না করা এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (৩৬ অ) চূড়ান্ত করার পূর্বে তা নিয়ে আলোচনা না করা। কেননা এটি উদ্দেশ্য হাসিলের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম, শত্রুদের মনে ত্রাস সঞ্চারকারী এবং লক্ষ্য ও প্রয়োজন সফল করতে অধিক সহায়ক। তবে এমন কিছু রহস্য ও বিষয় রয়েছে যেখানে একজন বিজ্ঞ উপদেশদাতার (ناصح) পরামর্শ গ্রহণ এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে পরামর্শ (مشاورة) করা আবশ্যক। সেই বন্ধু তার ইমামের প্রতি নসিহত (نصيحة) করাকে তার রবের আনুগত্যের (طاعة) অংশ মনে করবেন (৩৬ ব) এবং আল্লাহর কাছে একে নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম গণ্য করবেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তার মতামতের সাহায্য নেওয়া যাবে এবং কঠিন বিপদে তার চিন্তাভাবনা দ্বারা উপকৃত হওয়া যাবে। যখন কোনো বড় ধরনের বিষয় বা গুরুতর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তখন সেই বিষয়ে এমন ব্যক্তিদের অধিক হারে পরামর্শ (استشارة) করা উচিত যাদের তিনি এর যোগ্য মনে করেন। তাদের প্রত্যেকের মতামত পৃথকভাবে (৩৭ অ) শ্রবণ করবেন এবং যা শুনলেন তা শাখা (فرع) ও মূলনীতি (أصل) উভয় দিক থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَيعْمل بِمُقْتَضى مَا هُوَ الْأَقْرَب إِلَى نيل الْمَطْلُوب والأصوب فِي دفع المرهوب وَيعْمل الْفِكر فِيمَا يرد عَلَيْهِ وَلَا يهمل الِاحْتِرَاز والحذر فِي عواقب الْأُمُور وَمَا يؤول إِلَيْهِ
ويجتهد أَن لَا يفتح بَابا يعييه سَده (37 ب) وَلَا يَرْمِي سَهْما يعجزه رده فقد قيل
(وَإِيَّاك وَالْأَمر الَّذِي قد توسعت
… موارده ضَاقَتْ عَلَيْك المصادر)
(فَمَا حسن أَن يعْذر الْمَرْء نَفسه
… وَلَيْسَ لَهُ من سَائِر النَّاس عاذر)
وَلَا يَجْعَل أوقاته مصروفة إِلَى نوع وَاحِد من مصادره والموارد (38 أ) فَإِن ذَلِك إِن كَانَ جدا واجتهادا فِي تَدْبِير مصَالح مَا هُوَ متوليه ضجرت النُّفُوس مِنْهُ وسئمت الفكرة فِيهِ وَرُبمَا أدّى إِلَى خلل وسَاق إِلَى زلل بل عَلَيْهِ أَن يحصر ساعاته وَيقسم أوقاته فَيصْرف مِنْهَا قسطا إِلَى النّظر فِي مصَالح ولَايَته ورعيته (38 ب) وقسطا إِلَى اختلافه بِنَفسِهِ لراحته وقسطا يَخُصُّهُ بتضرعه إِلَى الله تَعَالَى وقيامه بشكر نعمه وَأَدَاء عِبَادَته وكما أَنه يقسم أوقاته ويخص كلا مِنْهَا بِحَالَة لَا يَلِيق أَن يُوقع فيع غَيرهَا من مهماته كوقت ركُوبه على جاري عَادَته وَوقت نظرة (39 أ) فِي مصَالح ولَايَته وَوقت جُلُوسه لكشف قضايا رَعيته وَوقت دُخُول جُنُوده عَلَيْهِ لأَدَاء وظيفته خدمته وَوقت استحضار من يحضر من الرُّسُل لأَدَاء رسَالَته وَوقت اختلائه بِنَفسِهِ طلبا للراحة فِي خلوته وَوقت (39 ب) سكونه ومنامه وقيلولته وَوقت
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে যা অধিক নিকটবর্তী এবং আশঙ্কাজনক বিষয়সমূহ প্রতিরোধে যা অধিকতর সঠিক, সে অনুযায়ী আমল করা উচিত। তার নিকট যা উপস্থিত হয় সে বিষয়ে চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করা উচিত এবং কার্যাবলীর পরিণতি ও ফলাফল সম্পর্কে সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করতে অবহেলা করা যাবে না।
তিনি সচেষ্ট হবেন যেন এমন কোনো দ্বার উন্মুক্ত না করেন যা রুদ্ধ করা তার জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে (৩৭-খ) এবং এমন কোনো শর নিক্ষেপ না করেন যা প্রত্যাহারে তিনি অক্ষম হন। যেমনটি বলা হয়েছে:
(সাবধান থেকো এমন বিষয় থেকে যার প্রবেশের পথসমূহ প্রশস্ত হলেও
… প্রস্থানের পথসমূহ তোমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায়।)
(কোনো ব্যক্তির নিজেকে নির্দোষ সাব্যস্ত করা শোভনীয় নয়
… যখন অন্যান্য মানুষের নিকট তার জন্য কোনো অজুহাত অবশিষ্ট থাকে না।)
তিনি তার সমস্ত সময়কে কেবল এক প্রকারের কাজের উৎসে ব্যয় করবেন না (৩৮-ক)। কেননা সেটি যদি তার দায়িত্বাধীন বিষয়াবলীর ব্যবস্থাপনায় কঠোর পরিশ্রম ও নিরন্তর প্রচেষ্টাও হয়, তবুও মন তাতে ক্লান্ত হয়ে পড়বে এবং চিন্তা বিষাদগ্রস্ত হবে। আর এটি হয়তো কোনো ত্রুটির দিকে নিয়ে যাবে এবং বিচ্যুতির কারণ হবে। বরং তার উচিত তার সময়সমূহকে সীমিত করা এবং মুহূর্তগুলোকে বণ্টন করা। এর একটি অংশ তিনি তার শাসনাধীন এলাকা ও প্রজাসাধারণের কল্যাণ সাধনে ব্যয় করবেন (৩৮-খ), একটি অংশ নিজের বিশ্রামের জন্য নিভৃতে কাটাবেন এবং একটি অংশ আল্লাহ তাআলার নিকট বিনীত প্রার্থনা, তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় ও ইবাদত পালনের জন্য সুনির্দিষ্ট করবেন। আর যেভাবে তিনি তার সময়সমূহকে বণ্টন করবেন এবং প্রতিটি সময়ের জন্য এমন একটি অবস্থা সুনির্দিষ্ট করবেন যেখানে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করা সমীচীন নয়; যেমন—তার প্রাত্যহিক অভ্যাসমতো সওয়ারিতে আরোহণের সময়, তার শাসনাধীন এলাকার কল্যাণমূলক বিষয়সমূহ তদারকির সময় (৩৯-ক), প্রজাসাধারণের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বসার সময়, তার নিকট সৈন্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হওয়ার সময়, কোনো বার্তা পৌঁছানোর জন্য আগত দূতদের উপস্থিত করার সময়, বিশ্রামের প্রত্যাশায় নির্জনে কাটানোর সময় এবং তার প্রশান্তি, নিদ্রা ও দ্বিপ্রহরের বিশ্রামের (৩৯-খ) সময় এবং...
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
استبيانه بِمن يحضرهُ لمحادثته وَوقت قِيَامه بفريضة الله تَعَالَى وطاعته وَلكُل حَالَة من هَذِه الْحَالَات وَوقت من هَذِه الْأَوْقَات أَو أَن جعل علما عَلَيْهَا لَا يتعدها وزمانا مَنْسُوبا إِلَيْهِ (40 أ) لَا يَلِيق بِهِ سواهَا فَكَذَلِك عَلَيْهِ أَن يَسْتَعِين فِي الْأَعْمَال بكفاة الْعمَّال فِي الْمُهِمَّات الثقال باجلاد الرِّجَال فيفوض كل كل عمل إِلَى من قَدمته قدم راسخة فِي مَعْرفَته وأيدته يَد باسطة فِي درايته وتجربته وَلَا يُفَوض (40 ب) عمل عَالم إِلَى جَاهِل وَلَا عمل بنية إِلَى خامل وَلَا عمل متيقظ إِلَى غافل وَلَا عمل ذِي جبلة إِلَى عاطل فَإِن غفل عَن ذَلِك فقد بَاعَ حَقًا بباطل واعتاض عَن قسى بباقل وسلط على دولته لِسَان كل قَائِل
وَمن الحكم الباهرة من اسْتَعَانَ فِي عمله بِغَيْر (41 أ) كفؤ أضاعه وَمن فوض أمره إِلَى عَاجز عَنهُ فقد أفسد أوضاعه
وليحذر كل الحذر من أَن يُولى أحد الْخلق أمرا دينيا أَو دنيويا بشفاعة أَو رِعَايَة لحُرْمَة أَو لقَضَاء الْحق إِذا لم يكن أَهلا للولاية وَلَا ناهضا تحصل بتقليده الْكِفَايَة (41 ب) فَإِن أحب مكافاة من هَذِه صفته كافأة بِالْمَالِ والصلات وَقطع طعمه عَمَّا لَا يصلح لَهُ من الولايات ليَكُون قَاضِيا لحقه بِمَالِه لَا بمملكته قَائِما بِمَا لَا بُد مِنْهُ من حُقُوق ولَايَته
وَهَذَا الْمَعْنى هُوَ الَّذِي أعتمده كسْرَى أنو شرْوَان لأحكام قَوَاعِد ملكه (42 أ) وتأييده وإتمام مَقَاصِد تَدْبيره وتأكيده حَتَّى أَنه على مَا يُقَال وضع على بناية خَشَبَة من سَاج مَكْتُوب عَلَيْهَا بِالذَّهَب الْأَعْمَال بالكفاة والحقوق على بيُوت الْأَمْوَال
তার সাথে আলাপের জন্য যারা উপস্থিত থাকে তাদের মাধ্যমে তার স্বচ্ছতা এবং মহান আল্লাহর ফরয কাজ ও আনুগত্য পালনের সময় সম্পর্কে জ্ঞান। এই প্রতিটি অবস্থা ও সময়ের জন্য তিনি এমন কিছু চিহ্ন নির্ধারণ করেছেন যা অতিক্রম করা যায় না এবং যা কেবল সেই বিষয়ের জন্যই উপযুক্ত এবং তার সাথে সম্পর্কিত সময় (৪০ ক)। তেমনিভাবে তার উচিত বিভিন্ন কাজে দক্ষ কর্মীদের এবং গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন বিষয়গুলোতে শক্তিশালী ব্যক্তিদের সহায়তা গ্রহণ করা। অতঃপর প্রতিটি কাজ এমন ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত করা যার সে বিষয়ে গভীর ও সুদৃঢ় (راسخة) জ্ঞান রয়েছে এবং যার অনুধাবন (دراية) ও অভিজ্ঞতায় শক্ত সামর্থ্য রয়েছে। আর কোনো জ্ঞানীর কাজ কোনো মূর্খের হাতে অর্পণ (৪০ খ) না করা, কোনো মেধাবীর কাজ কোনো অখ্যাত ব্যক্তির ওপর না চাপানো, কোনো সজাগ ব্যক্তির কাজ কোনো অসতর্ক (غافل) ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত না করা এবং কোনো কর্মতৎপর ব্যক্তির কাজ কোনো অকর্মণ্যের ওপর অর্পণ না করা। যদি তিনি এ ব্যাপারে উদাসীন হন, তবে তিনি সত্যকে মিথ্যার বিনিময়ে বিক্রয় করলেন এবং কুস-এর পরিবর্তে বাকিলকে গ্রহণ করলেন এবং নিজের রাষ্ট্রের ওপর প্রতিটি সমালোচকের রসনাকে সুযোগ করে দিলেন।
চমৎকার প্রজ্ঞাপূর্ণ বাক্যগুলোর মধ্যে একটি হলো: যে ব্যক্তি তার কাজে কোনো অযোগ্য (غير كفؤ) (৪১ ক) ব্যক্তির সহায়তা গ্রহণ করে, সে তা নষ্ট করে ফেলে; আর যে ব্যক্তি তার কাজ কোনো অক্ষম ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত করে, সে তার নিয়মশৃঙ্খলকে ধ্বংস করে ফেলে।
তাকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যেন সুপারিশের কারণে, কিংবা কোনো মর্যাদার খাতিরে, অথবা কোনো হক আদায়ের উদ্দেশ্যে কাউকে কোনো দ্বীনি বা দুনিয়াবি দায়িত্ব প্রদান না করা হয়, যদি সে ব্যক্তি সেই পদের যোগ্য (أهل) না হয় কিংবা যার নিয়োগের মাধ্যমে পর্যাপ্ত কর্মদক্ষতা (৪১ খ) অর্জন করা সম্ভব না হয়। যদি তিনি এমন গুণের অধিকারী কাউকে প্রতিদান দিতে চান, তবে তাকে অর্থ ও উপঢৌকন দিয়ে পুরস্কৃত করবেন এবং তার জন্য অনুপযুক্ত পদগুলোর ব্যাপারে তার লালসা ছিন্ন করবেন; যাতে তিনি তার ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে সেই ব্যক্তির হক আদায় করেন, নিজের রাষ্ট্র দিয়ে নয়, এবং তার নেতৃত্বের আবশ্যিক হকসমূহ যথাযথভাবে পালন করেন।
আর এই মূলনীতিটিই কিসরা আনুশিরওয়ান তার রাজত্বের ভিত্তি মজবুত করার জন্য (৪২ ক), একে শক্তিশালী করার জন্য এবং তার শাসন ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যসমূহ পূর্ণ করার জন্য অবলম্বন করেছিলেন। এমনকি প্রচলিত আছে যে, তিনি তার প্রাসাদের ওপর সেগুন কাঠের একটি ফলক স্থাপন করেছিলেন যেখানে স্বর্ণাক্ষরে লেখা ছিল: "কাজসমূহ দক্ষদের (كفاة) জন্য, আর অধিকারসমূহ রাষ্ট্রীয় কোষাগারের (بيوت الأموال) জিম্মায়।"
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَمن الحكم الزاهرة أَي ملك جده هزله وحقق قَوْله فعله (42 ب) وقهر رَأْيه هَوَاهُ فِي تَدْبيره وَعبر ظَاهره عَمَّا فِي ضَمِيره وَلم يخدعه رِضَاهُ عَن حَقه وفوض كل عمل إِلَى مُسْتَحقّه وَاسْتعْمل بالكفاءة لَا بشفاعة المتعرضين وَلم يَأْخُذ بالسعاية قبل الْكَشْف وَلَا استهواه تَحض المعترضين فَهُوَ خليق (43 أ) بِاسْتِحْقَاق الملكة وارتداء جِلْبَاب جدير بهَا وَلم يكن أواصره وعناصره من أَرْبَابهَا
وَإِلَى هَذَا الْحَال انْتهى بِنَا الْكَلَام على مُقَدّمَة الْكتاب فلنشرع فِي الْكمّ على الْوَاسِطَة بعون الْملك العلام فَنَقُول وَالله للعفو مسؤول
أعلم أَن الله (43 ب) جل جلاله وتقدس كَمَاله شرع الزواجر والعقوبات ردعا للعباد عَن الْفساد وَوضع الروادع والسياسات حفظا لنظام المعاش والمعاد فَوَجَبَ على من قَلّدهُ الْقيام برعاية خلقه وألزمه النّظر فِي مظالم الْعباد الْإِحَاطَة بالسياسة (44 أ) الدِّينِيَّة تحريا للنجاة من عَذَاب يَوْم التناد وَلَا تكون سياسته غاشمة خَارِجَة عَن قَوَاعِد دين الْإِسْلَام وَأَحْكَامه آثمة بَاطِلَة فِي شَرِيعَة النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَيكون من الغشمة الْجَاهِلين الَّذين سيجزون بغشهم جحيما وَمن الجهلة الظَّالِمين (44 ب) الَّذين سيصلون بظلمهم سعيرا ويسقون حميما بل من الْمُنْذرين فِي كتاب الله الْمكنون بقوله عز اسْمه {وَمن لم يحكم بِمَا أنزل الله فَأُولَئِك هم الْكَافِرُونَ} فمعرفة مَا لَا يجوز لَهُ وَمَا يجوز تهدية إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم وتنجيه من عَذَاب أَلِيم وتعلمه أَن (45 أ) النَّاظر فِي الْمَظَالِم أوسع من الْقُضَاة فِي محَال النّظر مجالا وأعم مِنْهُم فِي الفحص عَن الْمَظَالِم والجرائم أعمالا وَأكْثر مِنْهُم فِي الْكَشْف عَن الْحق أسبابا
উজ্জ্বল প্রজ্ঞাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: সেই অধিপতি যে তাঁর প্রচেষ্টার মাধ্যমে আলস্যকে জয় করেছেন এবং তাঁর কর্মের মাধ্যমে কথাকে (৪২ খ) সত্য প্রমাণ করেছেন; পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর বিচারবুদ্ধি কুপ্রবৃত্তিকে দমন করেছে এবং তাঁর বাহ্যিক আচরণ অন্তরের অবস্থাকে প্রকাশ করেছে। স্বীয় অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে সন্তুষ্টি যেন তাঁকে বিভ্রান্ত না করে এবং তিনি প্রতিটি কাজ তার যোগ্য ব্যক্তির ওপর অর্পণ করেছেন। তিনি সুপারিশকারীদের তোষামোদ নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন এবং তদন্তের পূর্বে অপবাদের ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বিরোধীদের প্ররোচনা তাঁকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি; সুতরাং তিনি (৪৩ ক) রাজত্ব পরিচালনার পূর্ণ যোগ্য এবং এর মর্যাদাপূর্ণ পোশাক পরিধানের উপযোগী, যদিও তাঁর বংশীয় উৎসসমূহ এর প্রকৃত অধিকারী ছিল না।
এই পর্যন্তই আমাদের কিতাবের ভূমিকা সংক্রান্ত আলোচনা সমাপ্ত হলো। এখন আমরা সর্বজ্ঞাত অধিপতির সাহায্যে মূল বিষয়ের আলোচনায় প্রবেশ করছি। আমরা বলছি এবং আল্লাহর নিকটই ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
জেনে রাখুন যে, মহান আল্লাহ (৪৩ খ)—যাঁর মহিমা মহান এবং পূর্ণতা পবিত্র—বান্দাদেরকে বিপর্যয় থেকে বিরত রাখতে বিভিন্ন দণ্ডবিধি ও নিষেধাজ্ঞা প্রবর্তন করেছেন এবং ইহলৌকিক ও পারলৌকিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য শাসনতান্ত্রিক নীতিমালা নির্ধারণ করেছেন। ফলে যাঁকে সৃষ্টির তদারকির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তাঁর ওপর প্রজাদের রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং কিয়ামত দিবসের আজাব থেকে মুক্তির অন্বেষায় ধর্মীয় শাসননীতির (৪৪ ক) আলোকে প্রজাদের অভিযোগসমূহ পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। তাঁর শাসনপদ্ধতি যেন নিষ্ঠুর এবং ইসলাম ধর্মের নিয়ম ও বিধানের বহির্ভূত না হয়, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শরিয়তে পাপপূর্ণ ও বাতিল বলে গণ্য। নতুবা সে ঐসব মূর্খ জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা তাদের প্রতারণার বিনিময়ে জাহান্নাম লাভ করবে এবং ঐসব অজ্ঞ অত্যাচারীদের (৪৪ খ) অন্তর্ভুক্ত হবে যারা তাদের জুলুমের কারণে প্রজ্বলিত আগুনের দহন সহ্য করবে এবং ফুটন্ত পানি পান করবে। বরং তারা আল্লাহর সুরক্ষিত কিতাবে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সতর্ককৃতদের অন্তর্ভুক্ত: "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির।" সুতরাং তাঁর জন্য কোনটি অবৈধ এবং কোনটি বৈধ তা জানা তাঁকে সরল পথের দিশা দেবে এবং যন্ত্রণাদায়ক আজাব থেকে মুক্তি দেবে। আর তিনি জানতে পারবেন যে (৪৫ ক), অভিযোগ বা অবিচারসমূহের পর্যালোচক সাধারণ বিচারকদের তুলনায় বিচারিক ক্ষেত্রে অধিক ব্যাপক এখতিয়ারের অধিকারী, অপরাধ তদন্ত ও জুলুম নিরসনে তাঁদের চেয়েও অধিক বিস্তৃত এবং সত্য উদ্ঘাটনের মাধ্যম হিসেবে তাঁদের চেয়ে অধিকতর প্রভাবশালী।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وافتتح مِنْهُم على الْأَنَام للنجح أبوابا إِذْ لَهُ النّظر فِيمَا تنظر فِيهِ الْقُضَاة وَمَا لَا تنظر فِيهِ من (45 ب) الحكومات
وَله النّظر قبل التظلم إِلَيْهِ فِي الجرائم والظلمات وَله إرهاب الْمَفْهُوم بالظلم والجريمة قبل الثُّبُوت بِالْإِقْرَارِ أَو الْبَيِّنَة القويمة وَله الْحمل على الِاعْتِرَاف بِالْحَقِّ وَالْحَبْس فِي الْمَظَالِم وَله الضَّرْب للاعتراف عِنْد ظُهُور الأمارات فِي الجرائم (46 أ) وَله تَأْدِيب الْمُدعى عَلَيْهِ إِذا ثَبت الْحق بِالْبَيِّنَةِ بعد الأنكار وَله حمل الْمُجْرمين على التَّوْبَة للإجبار وَلَيْسَ للقضاة هَذِه السياسات وَلَا هم قبل الرّفْع إِلَيْهِم النّظر فِي الْمَظَالِم والخصومات وَإِنَّمَا لَهُم النّظر فِيهَا بعد رَفعهَا إِلَيْهِم وَلَا (46 ب) طَرِيق لكشفها لَهُم سوى عَمَلهم أَو الْإِقْرَار أَو الْبَيِّنَة العادلة لديهم 0
وَبِالْجُمْلَةِ فالناظر فِي الْمَظَالِم يمتاز عَن الْقُضَاة بِوُجُوه كَثِيرَة إِذا تقرر هَذَا فَاعْلَم أشرق الله قَلْبك بأنوار الْيَقِين ونظمك فِي سلك عباده الْمُتَيَقن
أَنه يشْتَرط فِي النَّاظر فِي الْمَظَالِم (47 أ)
أَن يكون جليل الْقدر نَافِذ الْأَمر عَظِيم الهيبة ظَاهر الْعِفَّة قَلِيل الطمع كثير الْوَرع لَا تَأْخُذهُ فِي الله لومة لائم وَلَا تدنس دينه وَلَا عرضه الرِّشْوَة بالقائم إِذْ يحْتَاج إِلَى سطوة الْوُلَاة وَتثبت الْقُضَاة فَيَنْبَغِي أَن يكون جَامِعَة بَين صِفَتي الْفَرِيقَيْنِ (47 ب) وَيكون لجلالة قدره نافذه المر من الْجِهَتَيْنِ وَيكون سهل الْحجاب نزه الْأَصْحَاب وان يستكمل مجْلِس نظره بِخَمْسَة أَصْنَاف لَا يَسْتَغْنِي عَنْهُم وَلَا يَنْتَظِم أمره إِلَّا بهم
এবং তিনি তাদের মধ্য থেকে সৃষ্টির কল্যাণে সফলতার দ্বারসমূহ উন্মোচন করেছেন; যেহেতু বিচারকগণ যে সকল বিচারিক বিষয়ে (45 ب) নজর দেন এবং যেগুলোতে নজর দেন না, উভয় ক্ষেত্রেই তার দৃষ্টিদানের এখতিয়ার রয়েছে।
অভিযোগ উত্থাপনের পূর্বেই অপরাধ ও জুলুমের বিষয়ে তার অনুসন্ধান করার অধিকার রয়েছে। অপরাধ বা জুলুমের বিষয়টি স্বীকারোক্তি অথবা শক্তিশালী প্রমাণ (البينة القويمة) দ্বারা সাব্যস্ত হওয়ার পূর্বেই তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শন করতে পারেন। সত্য স্বীকারে বাধ্য করা এবং জুলুমের অভিযোগে কারারুদ্ধ করার এখতিয়ার তার রয়েছে। অপরাধের ক্ষেত্রে আলামত বা চিহ্নসমূহ প্রকাশ পেলে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য প্রহার করার অধিকারও তার আছে। (46 أ) বিবাদী যদি সত্য অস্বীকার করার পর প্রমাণের মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হয়, তবে তাকে শাস্তি দেওয়ার এবং অপরাধীদের তাওবা করতে বাধ্য করার এখতিয়ারও তার রয়েছে। বিচারকদের (কাজী) এই প্রশাসনিক ও বিচারিক নীতি (السياسات) প্রয়োগের ক্ষমতা নেই। তাদের নিকট অভিযোগ উত্থাপনের পূর্বে তারা জুলুম বা বিবাদ বিষয়ে নজর দিতে পারেন না। বরং তাদের নিকট অভিযোগ পেশ করার পরই তারা কেবল সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে পারেন। (46 ب) তাদের নিজস্ব কর্মপদ্ধতি, কিংবা স্বীকারোক্তি অথবা তাদের নিকট উপস্থাপিত ন্যায়নিষ্ঠ (العادلة) সাক্ষ্য-প্রমাণ ব্যতীত কোনো বিষয় উদঘাটনের অন্য কোনো পথ তাদের নেই।
সারকথা, অভিযোগ প্রতিকারকারী (الناظر في المظالم) অনেক দিক থেকে বিচারকদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার অন্তরকে নিশ্চিত বিশ্বাসের আলোতে উদ্ভাসিত করুন এবং আপনাকে তাঁর সুনিশ্চিত বিশ্বাসী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
নিশ্চয়ই অভিযোগ প্রতিকারকারীর (الناظر في المظالم) জন্য শর্ত হলো (47 أ):
তিনি হবেন সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, যার আদেশ কার্যকর হয়, অত্যন্ত প্রভাব ও গাম্ভীর্যের অধিকারী, প্রকাশ্য পবিত্রতা ও নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী, স্বল্প লোভী এবং অধিক পরহেজগার (الورع)। আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দা তাকে বিচ্যুত করবে না এবং কোনো ঘুষ বা উৎকোচ তার দ্বীন ও সম্মানকে কলঙ্কিত করতে পারবে না। যেহেতু তার শাসকদের কঠোরতা এবং বিচারকদের সতর্কতা ও ধীরস্থিরতার প্রয়োজন হয়, তাই তার জন্য সমীচীন হলো উভয় শ্রেণির গুণাবলি নিজের মধ্যে ধারণ করা। (47 ب) আর তার সুউচ্চ মর্যাদার কারণে উভয় দিক থেকেই যেন তার নির্দেশ কার্যকর হয়। তার নিকট পৌঁছানোর পথ যেন সহজ হয়, তার সঙ্গী-সাথিগণ যেন চারিত্রিক শুদ্ধতার অধিকারী হন। আর তার মজলিস যেন পাঁচ শ্রেণির লোকের উপস্থিতিতে পূর্ণতা পায়, যাদের ব্যতীত তিনি অমুখাপেক্ষী হতে পারেন না এবং যাদের ছাড়া তার কার্যাবলি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয় না।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الصِّنْف الأول الحماة والأعوان والكماة والشجعان لجذب القوى (48 أ) وتقويم الجريء
الصِّنْف الثَّانِي الْقُضَاة لاستعلام مَا يثبت عِنْدهم من حُقُوق الْأَنَام ولمعرفة مَا مجْرى فِي مجَالِسهمْ من الوقائع بَين الأخصام
والصنف الثَّالِث الْفُقَهَاء ليرْجع إِلَيْهِم فِيمَا أشكل وَيسْأل مِنْهُم عَمَّا أبهم وأعضل
والصنف الرَّابِع (48 ب) الْكتاب ليكتبوا مَا جرى بَين الْخُصُوم فِي مجْلِس الْمُخَاصمَة وَمَا توجه لَهُم أَو عَلَيْهِم من الْحُقُوق اللَّازِمَة
والصنف الْخَامِس الشُّهُود ليشهدهم على مَا أوجبه من حق وَاجِب أَو أَمْضَاهُ من حكم لازب
فَإِذا اسْتكْمل مجْلِس الْمَظَالِم بِمَا ذَكرْنَاهُ من هَذَا (49 أ) الْأَصْنَاف الْخَمْسَة شرع حِينَئِذٍ فِي نظره
والمواضع الَّتِي ينظر فِيهَا ويحكمها عشرَة
الأول مِنْهَا النّظر فِي تعدِي الْوُلَاة على الرّعية وَأَخذهم بالعنف والعدول عَن سيرة الْعدْل المرعية فَيكون لمسيرهم متصفحا ولأحكام متعرفا ولأمورهم مستطلعا (49 ب) وَعَن أَحْوَالهم مستكشفا ليقويهم أَن أنصفوا ويكفهم أَن عسفوا ويستبدل بهم إِذا هم بِالْعَدْلِ لم يتصفوا
প্রথম শ্রেণি হলো রক্ষক, সাহায্যকারী, বর্মধারী যোদ্ধা এবং বীরবৃন্দ, যারা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে (৪৮ ক) অবাধ্যদের দমন এবং ধৃষ্টতা প্রদর্শনকারীদের সংশোধন করবেন।
দ্বিতীয় শ্রেণি হলো বিচারকগণ, যাতে সাধারণ মানুষের যে সকল অধিকার তাঁদের নিকট প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে সে সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায় এবং বিবাদীদের মধ্যে তাঁদের বিচারিক মজলিসে কী কী ঘটনা ঘটে তা জানা যায়।
তৃতীয় শ্রেণি হলো ফকিহগণ, যাতে জটিল (مشكل) বিষয়সমূহে তাঁদের শরণাপন্ন হওয়া যায় এবং অস্পষ্ট (مبهم) ও দুরূহ বিষয়াদি সম্পর্কে তাঁদের নিকট জিজ্ঞাসা করা যায়।
চতুর্থ শ্রেণি (৪৮ খ) হলো লেখকগণ, যাতে বিবাদীদের মধ্যে বিচারিক মজলিসে যা কিছু ঘটেছে এবং তাঁদের স্বপক্ষে বা বিপক্ষে যে সকল আবশ্যকীয় (واجب) অধিকার সাব্যস্ত হয়েছে তা তাঁরা লিপিবদ্ধ করতে পারেন।
পঞ্চম শ্রেণি হলো সাক্ষীগণ, যাতে তিনি যে আবশ্যকীয় (واجب) অধিকার সাব্যস্ত করেছেন কিংবা যে চূড়ান্ত ফয়সালা (حكم) কার্যকর করেছেন, সে বিষয়ে তাঁদের সাক্ষী হিসেবে রাখতে পারেন।
যখন এই (৪৯ ক) পাঁচটি শ্রেণির উপস্থিতির মাধ্যমে মজলিসে মাজালিম পূর্ণতা লাভ করে, তখন এর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
যে সকল বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও ফয়সালা (حكم) প্রদান করা হয় তা দশটি।
তার মধ্যে প্রথমটি হলো প্রজাদের ওপর শাসকদের সীমালঙ্ঘন, তাঁদের কঠোরতা অবলম্বন এবং অনুসৃত ন্যায়বিচারের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা। সুতরাং তিনি তাঁদের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করবেন, তাঁদের ফয়সালাসমূহ (أحكام) সম্পর্কে অবগত হবেন, তাঁদের বিষয়াদি অনুসন্ধান করবেন (৪৯ খ) এবং তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন; যাতে তাঁরা ন্যায়বিচার করলে তাঁদের শক্তিশালী করতে পারেন, আর জুলুম করলে তাঁদের নিবৃত্ত করতে পারেন এবং যদি তাঁরা ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন না করেন তবে তাঁদের স্থলে অন্যকে স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৪০)
حكى أَن عمر بن عبد الْعَزِيز رضي الله عنه خطب فِي النَّاس فِي أول خِلَافَته خطْبَة أعرب بهَا عَن قِيَامه فِي الله ومعداته فَقَالَ (50 أ) أَيهَا النَّاس أوصيكم بتقوى الله فَإِنَّهُ لَا يقبل غَيرهَا وَلَا يرحم إِلَّا أَهلهَا وَقد كَانَ قوم من الْوُلَاة منعُوا الْحق حَتَّى اشْترى مِنْهُم شِرَاء وبذلوا الْبَاطِل حَتَّى افتدى مِنْهُم فدَاء وَالله لَوْلَا سنة الْحق أميتت فأحييتها وَسنة من الْبَاطِل أَحييت فأمتها مَا باليت (50 ب) أَن أعيش فواقا وَاحِدًا فالسعيد مِنْكُم من يحوي رشدا أصلحوا أخرتكم يصلح لكم دنياكم أَن إمرء سوء لَيْسَ بَينه وَبَين آدم إِلَّا ميت لمغرق فِي الْمَوْتَى وَعَن قريب بكأس الْمنية يُؤْتى كل أَمر مصبح أَهله وَالْمَوْت أدنى من شِرَاك نَعله
الثَّانِي النّظر (51 أ) فِي جور الْعمَّال فِيمَا يحبونه من الْأَمْوَال فَيرجع فِيهِ إِلَى القوانين لعادلة فِي داوين الْأَئِمَّة فَيحمل النَّاس عَلَيْهَا وَيَأْخُذ الْعمَّال بهَا ويقودهم إِلَيْهَا وَينظر فِيمَا استزادوه فَإِن رَفَعُوهُ إِلَى بَيت المَال أَمر برده على أَصْحَابه وَإِن أَخَذُوهُ لأَنْفُسِهِمْ استرجعه مِنْهُم لأربابه (51 ب)
حكى عَن الْمهْدي رحمه الله أَنه جلس يَوْمًا للنَّظَر فِي مظالم الْعباد فَرفعت إِلَيْهِ إِلَيْهِ قصَص فِي الكسور فَسَأَلَ عَن ذَلِك تحريا للرشاد فَقَالَ لَهُ سُلَيْمَان بن وهب كَانَ عمر بن لخطاب رضي الله عنه قسط الْخراج على أهل السوَاد وعَلى مَا فتح من نواحي الْمشرق وَالْمغْرب وريا (52 أ) وعينا بِالِاجْتِهَادِ وَكَانَت الدَّرَاهِم وَالدَّنَانِير مَضْرُوبَة على وزن كسْرَى وَقَيْصَر فِي غَالب الأَرْض وَكَانَ أهل الْبِلَاد يؤدون فِيمَا فِي أَيْديهم من المَال عددا وَلَا ينظرُونَ فِي فضل بعض الأوزان على بعض ثمَّ فسد النَّاس فصاروا يؤدون من الْخراج (52 ب) المَال الدَّرَاهِم الطبرية وَهِي أَرْبَعَة دوانيق ويمسكون الدِّرْهَم الواقي الَّذِي وَزنه مِثْقَال فَلَمَّا ولى زِيَاد الْعرَاق طَالب بأَدَاء الواقي وألزمهم الكسور وجار فِي ذَلِك فِي زمن بني أُميَّة
বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনে আবদুল আজিজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁর খিলাফতের প্রারম্ভে জনগণের উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ প্রদান করেন। এই ভাষণের মাধ্যমে তিনি আল্লাহর পথে তাঁর অবিচল নিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচারের সংকল্প ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন (৫০ ক), “হে লোকসকল! আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি; কেননা তিনি তাকওয়া ব্যতীত অন্য কিছু কবুল করেন না এবং তাকওয়াবানদের ব্যতীত অন্য কারো প্রতি দয়া করেন না। তোমাদের পূর্ববর্তী কিছু শাসক সত্যকে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন, যার ফলে তা বিনিময় দিয়ে অর্জন করতে হতো এবং তারা মিথ্যার বিস্তার ঘটিয়েছিলেন, ফলে মুক্তিপণ দিয়ে তা থেকে নিষ্কৃতি পেতে হতো। আল্লাহর কসম! যদি সত্যের কোনো বিলুপ্ত সুন্নাত (سنة) আমি পুনর্জীবিত না করতাম এবং মিথ্যার কোনো প্রতিষ্ঠিত প্রথাকে মিটিয়ে না দিতাম, তবে আমি (৫০ খ) মুহূর্তকালও বেঁচে থাকার পরোয়া করতাম না। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান, যে সঠিক পথের দিশা লাভ করেছে। তোমরা তোমাদের পরকালকে সংশোধন করো, আল্লাহ তোমাদের দুনিয়া সংশোধন করে দেবেন। যে ব্যক্তির মাঝে এবং আদমের মাঝে কেবল মৃতরাই অবশিষ্ট রয়েছে, সে তো মৃতদের মাঝেই নিমজ্জিত। অতি শীঘ্রই তাকে মৃত্যুর পেয়ালা পান করতে হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি তার পরিজনদের মাঝে সকাল অতিবাহিত করে, অথচ মৃত্যু তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটবর্তী।”
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো (৫১ ক), কর্মকর্তাদের অনৈতিকভাবে সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে তাদের কৃত জুলুম বা অবিচার পর্যবেক্ষণ করা। এ ক্ষেত্রে ইমামগণের দপ্তরে সংরক্ষিত ন্যায়সংগত নিয়মাবলির শরণাপন্ন হতে হবে; জনগণকে সেই নিয়ম পালনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং কর্মকর্তাদের তা অনুসরণে বাধ্য করতে হবে ও সেই পথে পরিচালিত করতে হবে। তারা অতিরিক্ত যা কিছু গ্রহণ করেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। যদি তারা তা বাইতুল মালে জমা দিয়ে থাকে, তবে তা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে হবে। আর যদি তারা তা নিজেদের জন্য রেখে দিয়ে থাকে, তবে তা তাদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের নিকট পৌঁছে দিতে হবে (৫১ খ)।
মাহদী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদিন জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য বসলেন। তাঁর নিকট মুদ্রার ভগ্নাংশ বা ঘাটতি সংক্রান্ত কিছু বিষয় উত্থাপিত হলো। তিনি সঠিক সমাধানের লক্ষ্যে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করলেন। তখন সুলায়মান ইবনে ওয়াহাব তাঁকে বললেন, উমর ইবনে খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ইরাকের উর্বর ভূমি এবং পূর্ব ও পশ্চিমের বিজিত অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর তাদের সামর্থ্য এবং (৫২ ক) ইজতিহাদ (اجتهاد) অনুযায়ী খারাজ নির্ধারণ করেছিলেন। তখন পৃথিবীর অধিকাংশ স্থানে দিরহাম ও দিনার কিসরা ও কায়সারের ওজনে প্রচলিত ছিল। বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীরা তাদের কাছে থাকা সম্পদ সংখ্যা অনুযায়ী পরিশোধ করত এবং তারা ওজনের তারতম্যের দিকে ভ্রূক্ষেপ করত না। পরবর্তীতে মানুষের মাঝে পচন ধরল এবং তারা খারাজ হিসেবে (৫২ খ) তাবারী দিরহাম প্রদান করতে শুরু করল, যার ওজন ছিল চার দানিক। অন্যদিকে তারা পূর্ণ ওজনের দিরহাম, যার ওজন ছিল এক মিসকাল, তা নিজেদের কাছে রেখে দিত। যখন যিয়াদ ইরাকের শাসনভার গ্রহণ করলেন, তখন তিনি পূর্ণ ওজনের দিরহাম প্রদানের দাবি জানালেন এবং তাদের ওপর ঘাটতি বা ভগ্নাংশ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করলেন। বনু উমাইয়াদের যুগে এ বিষয়ে অবিচার করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الْعمَّال إِلَى أَن ولى الْملك بني مَرْوَان فَنظر بَين الوزنين فِي نقص كَلَامهمَا وكماله (53 أ) وَقدر الدِّرْهَم على نصف وَخمْس من المثقال وَترك المثقال على حَاله ثمَّ أَن الْحجَّاج أعَاد الْمُطَالبَة بالكسور حَتَّى أسقطها عمر بن عبد الْعَزِيز رضي الله عنه وأعادها من بعده إِلَى زمن الْمَنْصُور إِلَى أَن حزب السوَاد بذلك الظُّلم فَأَرَادَ الْمَنْصُور عمَارَة الْبِلَاد (53 ب) فأزال الْخراج عَن الْحِنْطَة وَالشعِير وَرقا وصيره ومقاسمه وهما أَكثر السوَاد وَبَقِي الْيَسِير من الْحُبُوب والنحل على رسم الْخراج الْمُعْتَاد وهوذا يلْزمهُم الْآن الْمُؤمن فَتَأمل الْمهْدي رحمه الله مقاله سُلَيْمَان وتدبر وَقَالَ معَاذ الله أَن ألزم النَّاس ظلما تقدم الْعَمَل بِهِ (54 أ) أَو تَأَخّر أسقطوه عَن النَّاس فالعدل أقوم
فَقَالَ الْحسن بن مخلد أَن أَمِير الْمُؤمنِينَ هَذَا ذهب من أَمْوَال السُّلْطَان اثْنَا عشر ألف ألف دِرْهَم
فَقَالَ الْمهْدي رحمه الله مقَالَة عدل فِي الْمقَال على أَن أقيم حَقًا وأزيل ظلما وَأَن أجحف بَيت المَال
(54 ب) الثَّالِث النّظر فِي كتاب الدَّوَاوِين والإحاطة بأحوالهم لأَنهم أُمَنَاء الْمُسلمين على ثُبُوت أَمْوَالهم فِيمَا يستوفونه مِنْهُم ويوفرونه لَهُم من الْحُقُوق فِي الْحَال وَالْمَال فيتصفح مَا وكل إِلَيْهِم تَدْبيره من الْأَعْمَال فَإِن وجدهم نقدوا الْحق فِي دخل (55 أ) أَو خرج إِلَى زِيَادَة أَو نُقْصَان فِي تَفْصِيل أَو أجمال أَعَادَهُ إِلَى قوانينه العادلة وَاسْتعْمل السياسة مَعَهم فِي الْمُقَابلَة على تجاوزه ودعا للعمال
حكى أَن الْمَنْصُور رحمه الله بلغه جمَاعَة من كتاب ديوانه زوروا فِيهِ وغيروا فَأمر بإحضارهم إِلَيْهِ (55 ب) وَتقدم بتأديبهم فَقَالَ شَاب مِنْهُم وَهُوَ يضْرب بَين يَدَيْهِ
(أَطَالَ الله عمرك فِي صَلَاح
… وعزيا أَمِير الْمُؤمنِينَ)
রাজকর্মকর্তাগণ তাদের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন যতক্ষণ না বনু মারওয়ান শাসনক্ষমতা লাভ করেন। অতঃপর তিনি উভয় ওজনের হ্রাস-বৃদ্ধি ও পূর্ণতা (৫৩ ক) পর্যালোচনা করেন এবং দিরহামের ওজন এক মিসকালের অর্ধেক ও এক-পঞ্চমাংশ নির্ধারণ করেন এবং মিসকালকে তার নিজ অবস্থায় অপরিবর্তিত রাখেন। অতঃপর হাজ্জাজ পুনরায় অতিরিক্ত ভগ্নাংশ আদায়ের দাবি তোলেন, যতক্ষণ না উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রা.) তা রহিত করেন। তাঁর পরবর্তী শাসকরা আল-মনসুরের সময় পর্যন্ত পুনরায় তা প্রবর্তন করেন, যার ফলে ইরাকের উর্বর ভূমি (السواد) অঞ্চলটি জুলুমের ভারে জর্জরিত হয়। অতঃপর আল-মনসুর জনপদ আবাদ করার ইচ্ছা করেন (৫৩ খ) এবং গম ও যবের ওপর থেকে রৌপ্যমুদ্রার মাধ্যমে নির্ধারিত ভূমিকর (خراج) বিলুপ্ত করেন এবং একে ফসল-বন্টন (مقاسمة) পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করেন; আর এ দুটিই ছিল উক্ত অঞ্চলের প্রধান উৎপন্ন ফসল। অবশিষ্ট সামান্য কিছু শস্য ও খেজুরের ওপর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভূমিকর বহাল থাকে এবং বর্তমানেও তাদের ওপর এই দায়ভার অর্পিত রয়েছে। অতঃপর আল-মাহদী (রহ.) সুলাইমানের বক্তব্যটি গভীরভাবে অনুধাবন ও চিন্তা করলেন এবং বললেন, "আল্লাহর কাছে পানাহ চাই যে, আমি মানুষের ওপর এমন কোনো জুলুম চাপিয়ে দেব যা অতীতে প্রচলিত ছিল (৫৪ ক) কিংবা পরবর্তীতে এসেছে।" অতঃপর তারা মানুষের ওপর থেকে তা রহিত করলেন, কারণ ন্যায়বিচারই হলো অধিক সুদৃঢ়।
অতঃপর হাসান ইবনে মুখাল্লাদ বললেন, "হে আমিরুল মুমিনিন, এর ফলে সুলতানের কোষাগার থেকে এক কোটি বিশ লক্ষ দিরহাম কমে যাবে।"
উত্তরে আল-মাহদী (রহ.) অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত (عدل) কথা বললেন, "আমি একটি হক প্রতিষ্ঠা করব এবং একটি জুলুম দূর করব, যদিও তাতে বাইতুল মালের ক্ষতি হয়।"
(৫৪ খ) তৃতীয়ত: সরকারি দপ্তরের (ديوان) লেখকগণের (كتاب) কাজের তদারকি করা এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা; কারণ তারা মুসলমানদের সম্পদ সংরক্ষণ ও তাদের প্রাপ্য অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে মুসলমানদের আমানতদার (أمناء)। সুতরাং তাদের ওপর ন্যস্ত প্রশাসনিক কার্যাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যদি দেখা যায় যে, তারা আয় (৫৫ ক) বা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সত্যের মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত হয়েছে, কিংবা বিস্তারিত বা সংক্ষিপ্ত হিসাবে কোনো কম-বেশি করেছে, তবে তিনি সেটিকে পুনরায় ন্যায়সঙ্গত আইনের অধীনে ফিরিয়ে আনবেন এবং তাদের সীমালঙ্ঘনের জন্য প্রশাসনিক শাসন ব্যবস্থা প্রয়োগ করবেন এবং কর্মকর্তাদের কল্যাণের জন্য আহ্বান করবেন।
বর্ণিত আছে যে, আল-মনসুরের (রহ.) নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, তাঁর দিওয়ানের একদল লেখক নথিপত্রে জালিয়াতি ও পরিবর্তন করেছে। তিনি তাদের উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন (৫৫ খ) এবং তাদের শাস্তির আদেশ দিলেন। তখন তাদের মধ্য থেকে এক যুবক প্রহৃত অবস্থায় তাঁর সামনে বলতে লাগল:
(আল্লাহ আপনার হায়াত দীর্ঘ করুন
… এর সংশোধনের জন্য এবং আমিরুল মুমিনিনকে সম্মানিত করুন)
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৪২)
(بعفوك أستجير فَإِن تجازى
… فَإنَّك عصمَة للْعَالمين)
(وَنحن الكاتبون وَقد أسانا
… فهبنا (56 أ) للكرام الكاتبينا)
فَأمر بتخليتهم وَأطلق الْفَتى وَرَضي عَلَيْهِ وَوَصله بأنعامه وَأحسن غليه لِأَنَّهُ ظَهرت فِيهِ الْإِنَابَة ولاحت لَهُ مِنْهُ النجابة
وَهَذِه الْأَقْسَام الثَّلَاثَة لَا يحْتَاج النَّاظر فِي الْمَظَالِم فِي تصفحها إِلَى متظلم (56 ب) من ظَالِم
الرَّابِع النّظر فِي تظلم المسترزقة من بَيت المَال من الأجناد وَالْعُلَمَاء والقضاة وَغَيرهم من نقص أَرْزَاقهم وتأخيرها عَنْهُم أَو أجحاف النظار بهم فَيرجع إِلَى ديوانه فِي فرض الْعَطاء الْعَادِل فيجريهم عَلَيْهِ من غير إهمال
(57 أ) وَينظر فِيمَا نقصوه أَو منعُوهُ فَإِن أَخذه وُلَاة أُمُورهم استرجعه لَهُم
وَإِن لم يأخذوه قضاهم إِيَّاه من بَيت المَال فِي الْحَال
كتب بعض وُلَاة الأجناد إِلَى الْمَأْمُون رحمه الله إِن الْجند قد شغبوا ونبهوا وَسَاءَتْ أَخْلَاقهم
فَكتب إِلَيْهِ الْمَأْمُون لَو (57 ب) عدلت لم يشغبوا وَلَو قويت لم ينبهوا وعزله عَنْهُم وَزَاد أَرْزَاقهم
(আপনার ক্ষমার নিকট আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি, কারণ আপনি যদি প্রতিফল প্রদান করেন
… তবে নিশ্চয়ই আপনি বিশ্বজগতের রক্ষাকর্তা)
(আর আমরা হচ্ছি আমলনামা লেখক, অথচ আমরা মন্দ কাজ করেছি
… অতএব আমাদের (৫৬ ক) সেই সম্মানিত লেখকগণের উসিলায় ক্ষমা করে দিন)
অতঃপর তিনি তাদের মুক্তির আদেশ দিলেন এবং যুবকটিকে ছেড়ে দিলেন। তিনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন এবং তাকে দান-অনুদানে সিক্ত করে তার সাথে সদ্ব্যবহার করলেন। কারণ তার মাঝে আল্লাহভিমুখী হওয়ার প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছিল এবং তার থেকে শ্রেষ্ঠত্বের লক্ষণসমূহ পরিলক্ষিত হয়েছিল।
আর এই তিনটি বিভাগ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অবিচার প্রতিকার বিষয়ক বিচারকের কোনো অত্যাচারিত (৫৬ খ) ব্যক্তির অভিযোগের প্রয়োজন হয় না।
চতুর্থটি হলো বায়তুল মাল থেকে বরাদ্দপ্রাপ্ত সৈন্যবাহিনী, আলিমগণ, বিচারকগণ এবং অন্যদের ভাতার ঘাটতি, বিলম্ব কিংবা তত্ত্বাবধায়কগণের পক্ষ থেকে কৃত জুলুম সংক্রান্ত অভিযোগসমূহ খতিয়ে দেখা। এক্ষেত্রে তিনি ন্যায়সঙ্গত ভাতা নির্ধারণের রেজিস্টারের শরণাপন্ন হবেন এবং কোনো প্রকার অবহেলা ছাড়াই তা তাদের অনুকূলে কার্যকর করবেন।
(৫৭ ক) এবং তাদের পাওনা থেকে যা কিছু কমানো হয়েছে বা আটকে রাখা হয়েছে তা তিনি তদারকি করবেন; যদি তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তা আত্মসাৎ করে থাকে, তবে তিনি তাদের জন্য তা উদ্ধার করবেন।
আর যদি তারা (কর্মকর্তারা) তা গ্রহণ না করে থাকে, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বায়তুল মাল থেকে তা পরিশোধ করে দেবেন।
সৈন্যবাহিনীর জনৈক প্রশাসক আল-মামুন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট লিখে পাঠালেন যে, সৈন্যরা বিদ্রোহ করেছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং তাদের আচরণের অবনতি ঘটেছে।
তখন আল-মামুন তাকে লিখে পাঠালেন, "তুমি যদি (৫৭ খ) ন্যায়বিচার করতে তবে তারা বিদ্রোহ করত না, আর তুমি যদি শক্তিশালী হতে তবে তারা বিশৃঙ্খলা করত না।" অতঃপর তিনি তাকে পদচ্যুত করলেন এবং সৈন্যদের ভাতা বৃদ্ধি করে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الْخَامِس النّظر فِي رد الغصوب
وَهِي ضَرْبَان
غصوب سلطانية قد تغلب عَلَيْهَا وُلَاة الْجور والعدوان كالأملاك المقبوضة من أَرْبَابهَا لرغبة فِيهَا وتعاد على أَصْحَابهَا فالناظر فِي (58 أ) الْمَظَالِم أَن علم بهَا قبل التظلم إِلَيْهِ أَمر بردهَا
وَأَن لم يعلم بهَا فَهُوَ مَوْقُوف على تظلم أَهلهَا
وَيجوز أَن يرجع عِنْد تظلمهم إِلَى ديوَان السُّلْطَانِيَّة فَإِن وجد فِيهِ ذكر قبضهَا على ملاكها عمل بِهِ وَأمر بردهَا إِلَيْهِ وَلم يحْتَج فِيهِ إِلَى بَينه تشهد بِهِ وَكَانَ (58 ب) مَا وجد فِي الدِّيوَان كَافِيا يعْتَمد عَلَيْهِ
حكى عَن عمر بن عبد الْعَزِيز رضي الله عنه أَنه ظهر يَوْمًا إِلَى الصَّلَاة بعد الزَّوَال فصادفه رجل ورد من الْيَمين متظلما فَقَالَ
(تَدْعُو حيران مَظْلُوما ببابكم
… فقد أَتَاك يُعِيد الدَّار مَظْلُوما)
(59 أ) فَقَالَ وَمَا ظلامتك فَقَالَ غصبني الْوَلِيد بن عبد الْملك ضيعتي بيد الْعدوان
পঞ্চম বিষয়: জবরদখলকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ।
এটি দুই প্রকার:
সুলতানি বা রাষ্ট্রীয় জবরদখল, যা অন্যায় ও আগ্রাসী শাসকদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। যেমন—মালিকদের নিকট হতে কোনো সম্পত্তির প্রতি মোহের কারণে তা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া। এগুলো প্রকৃত মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া আবশ্যক। সুতরাং মাজালিম (৫৮ ক) (অন্যায়-অবিচার দমনকারী) বিভাগের বিচারক যদি অভিযোগ উত্থাপনের পূর্বেই সে সম্পর্কে অবগত হন, তবে তা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করবেন।
আর যদি তিনি এ বিষয়ে অবগত না হন, তবে বিষয়টি প্রকৃত হকদারদের অভিযোগ পেশ করার ওপর স্থগিত থাকবে।
তাদের অভিযোগের সময় রাষ্ট্রীয় নথিপত্র বা দপ্তরের সাহায্য নেওয়া বৈধ। যদি সেখানে প্রকৃত মালিকদের নিকট থেকে তা দখলের কোনো বিবরণ পাওয়া যায়, তবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণের প্রয়োজন হবে না। নথিপত্রে (৫৮ খ) যা সংরক্ষিত পাওয়া যাবে, তা-ই নির্ভরযোগ্য (يعتمد عليه) প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট হবে।
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, একদিন তিনি জোহরের নামাজের পর বাইরে এলেন। তখন ইয়ামেন থেকে আসা এক অভিযোগকারীর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। সে বলল—
(আপনার দ্বারে এক বিভ্রান্ত মজলুম ব্যক্তি সাহায্যের জন্য ডাকছে
... এক মজলুম আপনার নিকট এসেছে তার গৃহ পুনরুদ্ধারের আশায়।)
(৫৯ ক) তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার ওপর কী জুলুম হয়েছে?" সে বলল, "ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক অন্যায়ভাবে আমার ভূসম্পত্তি দখল করে নিয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
فَقَالَ يَا مُزَاحم أَتَانِي بدفتر الصواني فَوجدَ فِيهِ أضفى عبد الله الْوَلِيد بن عبد الْملك ضيغة فلَان
قَالَ لكَاتبه أخرجهَا من الدفتر وَأحسن صلته
(59 ب) وَكتب بردهَا إِلَيْهِ وَأطلق لَهُ ضعف نَفَقَته
وَالضَّرْب الثَّانِي
غصوب تغلب عَلَيْهَا ذَوُو الْأَيْدِي القوية وتصرفوا فِيهَا تصرف الْملاك بالجوار وَالْغَلَبَة والقهرية
ورد هَذَا مَوْقُوف على تظلم أربابه مِمَّن غصبه بالجور والفجور وَلَا (60 أ) ينتزع من أَيدي غصابة إِلَّا بِأحد أَرْبَعَة أُمُور
أما باعتراف الغاضب لَهُ بِإِقْرَارِهِ
وَأما بِعلم النَّاظر فِي الْمَظَالِم ومعرفته بأخباره فَيجوز لَهُ أَن يحجم بِعِلْمِهِ واستبصاره
وَأما بَيِّنَة تشهد الغاضب بغضبه وَتشهد للمغضوب مِنْهُ بِملكه دون (60 ب) النَّاس
وَأما بتظاهر الْأَخْبَار الَّتِي ينتفى عَنْهَا التواطؤ وَلَا يختلج فِيهَا الشكوك والالتباس لِأَنَّهُ لما جَازَ للشُّهُود أَن يشْهدُوا فِي الْأَمْلَاك بتظاهر الْأَخْبَار كَانَ حكم النَّاظر فِي الْمَظَالِم بذلك أَحَق واخرى عِنْد أولي الْأَنْصَار
السَّادِس النّظر فِي (61 أ) مشارفة الْأَوْقَاف فَإِن كَانَت عَامَّة يبتدأ بتصفحها ليجربها على سَبِيلهَا ويمضيها على شُرُوط واقفها إِذْ عرفهَا
অতঃপর তিনি বললেন, "হে মুজাহিম! আমার কাছে দেওয়ানি রেজিস্টার নিয়ে এসো।" এরপর তিনি সেখানে দেখতে পেলেন যে, আব্দুল্লাহ আল-ওয়ালিদ ইবন আব্দুল মালিক অমুকের জমি আত্মসাৎ করেছেন।
তিনি তার লেখককে বললেন, "একে রেজিস্টার থেকে বাদ দাও এবং তার সাথে সদ্ব্যবহার করো।"
(৫৯ খ) এবং তিনি তা তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ লিখে দিলেন এবং তার জন্য ব্যয়ের দ্বিগুণ পরিমাণ বরাদ্দ করলেন।
আর দ্বিতীয় প্রকার:
জবরদখলকৃত সম্পদ, যা ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের হস্তগত হয়েছে এবং তারা প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মানবিকতা উপেক্ষা করে আধিপত্য ও জবরদস্তির মাধ্যমে তাতে মালিকানাসুলভ আচরণ করছে।
এই সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া মালিকের পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে জুলুম ও পাপাচারের অভিযোগ করার ওপর নির্ভরশীল যে তা জবরদখল করেছে। আর (৬০ ক) চারটির মধ্যে কোনো একটি বিষয় ছাড়া দখলদারদের হাত থেকে তা উদ্ধার করা সম্ভব নয়।
প্রথমত, দখলকারীর নিজস্ব স্বীকৃতির মাধ্যমে।
দ্বিতীয়ত, মাযালিম (অবিচার নিরসন) বিভাগের পরিদর্শকের জ্ঞান এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ সম্পর্কে তার অবগতির মাধ্যমে। ফলে তার অর্জিত জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টির ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ।
তৃতীয়ত, এমন প্রমাণের (بينة) মাধ্যমে যা দখলকারীর জবরদখলের বিষয়ে সাক্ষ্য দেবে এবং অন্য (৬০ খ) ব্যক্তিদের পরিবর্তে যার সম্পদ জবরদখল করা হয়েছে তার মালিকানার সপক্ষে সাক্ষ্য দেবে।
চতুর্থত, এমন ধারাবাহিক সংবাদসমূহের (تظاهر الأخبار) মাধ্যমে যা কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র বা যোগসাজশ থেকে মুক্ত এবং যাতে কোনো সন্দেহ বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় না। কারণ, সাক্ষীদের জন্য যখন ধারাবাহিক সংবাদসমূহের (تظاهر الأخبار) ভিত্তিতে মালিকানার বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া বৈধ, তখন ইনসাফকামী বিচারকদের নিকট মাযালিম পরিদর্শকের জন্য সেই অনুযায়ী ফয়সালা করা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত ও অগ্রাধিকারযোগ্য।
ষষ্ঠ কাজ হলো (৬১ ক) ওয়াকফসমূহের তদারকি করা। যদি তা সাধারণের কল্যাণে হয়, তবে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজ শুরু করতে হবে যাতে সেগুলো তাদের সঠিক লক্ষ্যে পরিচালিত করা যায় এবং ওয়াকফকারীর শর্তাবলী জানা থাকলে সেই অনুযায়ী সেগুলো কার্যকর করা যায়।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
أما دواوين الْحُكَّام والمنتدبين لحراسة الْأَحْكَام
وَأما من دواوين السلطنة على مَا جرى فِيهَا الْمُعَامَلَة المقررة أَو ثَبت لَهَا من ذكر (61 ب) وَتَسْمِيَة مُعْتَبرَة
وَأما من كتب فِيهَا قديمَة يَقع فِي النَّفس صِحَّتهَا وَيَقْضِي الْعَمَل باعتبارها عِنْد رؤيتها
وَإِن كَانَت خَاصَّة فَيتَوَقَّف نظره فِيهَا على تظلم أَهلهَا عِنْد التَّنَازُع فِيهَا لكَونهَا وَقفا على خصوم متعينين للخصام
وَيعْمل عِنْد التشاجر (62 أ) فِيهَا على مَا يثبت بِهِ الْحُقُوق عِنْد الْقُضَاة الْأَعْلَام وَلَا يجوز أَن يرجع فِيهَا إِلَى ديوَان السلطنة كَمَا يفعل فِي الْوَقْف الْعَام وَلَا إِلَى مَا ثَبت من ذكر فِي الْكتب إِذا لم يشْهد بهَا شُهُود معدلون عِنْد الْحُكَّام
السَّابِع النّظر فِي تَنْفِيذ مَا توقف من أَحْكَام (62 ب) الْقُضَاة لضعفهم عَن انفاذه عجزهم عَن الْمَحْكُوم عَلَيْهِ لعلو قدره وَعظم خطره وَقُوَّة يَده وتفرده وامتناعه
وَيكون النَّاظر فِي الْمَظَالِم أقوى وأنفذ أمرا فَينفذ الحكم بسطوته بل على من توجه إِلَيْهِ بانتزاع حق الْغَيْر من يَده أَو بإلزامه (63 أ) بِالْخرُوجِ مِمَّا فِي ذمَّته
الثَّامِن النّظر فِيمَا عجز عَنهُ الناظرون فِي الْحِسْبَة من الْمصَالح الْعَامَّة وَالْمَنَافِع الشاملة والحسابات التَّامَّة كالمجاهرة بمنكر ضعف الْمُحْتَسب عَن دَفعه والتعدي فِي الطَّرِيق من مُتَعَدٍّ عجز مَنعه والتسطي فِي حق من لم
বিচারক এবং বিধানাবলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত ব্যক্তিদের নথিপত্র (দেওয়ান) প্রসঙ্গে।
আর সুলতানি প্রশাসনের নথিপত্র থেকে, যেখানে নির্ধারিত লেনদেন পরিচালিত হয়েছে অথবা যার জন্য গ্রহণযোগ্য (معتبرة) উল্লেখ ও নামকরণ (৬১ খ) সাব্যস্ত হয়েছে।
আর সেই সকল প্রাচীন কিতাবসমূহ থেকে, যার বিশুদ্ধতা (صحة) মনে দৃঢ় প্রত্যয় সৃষ্টি করে এবং যা দর্শনে সে অনুযায়ী আমল করাকে অপরিহার্য করে তোলে।
আর যদি তা নির্দিষ্ট (ব্যক্তিগত) বিষয় হয়, তবে তা পর্যালোচনার বিষয়টি বিবাদের সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষের অভিযোগের ওপর নির্ভর করবে; কারণ সেটি নির্দিষ্ট বিবাদমান পক্ষসমূহের জন্য ওয়াকফকৃত।
এবং বিবাদের সময় (৬২ ক) তা ওই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আমল করা হবে যার মাধ্যমে প্রখ্যাত বিচারকদের নিকট অধিকারসমূহ সাব্যস্ত হয়। সাধারণ ওয়াকফের মতো সুলতানি প্রশাসনের নথিপত্রের দিকে ফিরে যাওয়া এতে জায়েজ হবে না, এবং কিতাবে উল্লিখিত তথ্যের দিকেও ফিরে যাওয়া যাবে না যদি তা বিচারকদের নিকট ন্যায়পরায়ণ (معدلون) সাক্ষীদের দ্বারা প্রমাণিত না হয়।
সপ্তম কাজ হলো, বিচারকদের সেই সকল স্থগিত হয়ে থাকা রায়সমূহ (৬২ খ) কার্যকর করার বিষয়ে নজর দেওয়া, যা তারা কার্যকর করতে দুর্বল (ضعف) হওয়ার কারণে অথবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির উচ্চমর্যাদা, প্রভাবের ব্যাপকতা, ক্ষমতা, একাধিপত্য ও অবাধ্যতার কারণে তাকে সাজা দিতে অপারগ হওয়ার দরুন স্থগিত ছিল।
আর মাজালিম (অবিচার দমন) বিষয়ক পর্যালোচনাকারী হবেন অধিক শক্তিশালী ও আদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে অধিক প্রভাবশালী; ফলে তিনি তার প্রতাপের মাধ্যমে রায় কার্যকর করবেন, বরং যার ওপর রায় দেওয়া হয়েছে তার নিকট থেকে অন্যের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে কিংবা তার জিম্মায় (৬৩ ক) থাকা ঋণ পরিশোধে তাকে বাধ্য করার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করবেন।
অষ্টম কাজ হলো, জনস্বার্থ, ব্যাপক কল্যাণ এবং পূর্ণাঙ্গ হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত ওই সকল বিষয়ে নজর দেওয়া যা হিসবাহ (জনশৃঙ্খলা রক্ষা) কর্মকর্তাদের ক্ষমতার বাইরে; যেমন প্রকাশ্যে কোনো অপ্রসিদ্ধ/মন্দ (منكر) কাজ করা যা প্রতিরোধে মুহতাসিব দুর্বল (ضعف) হন, কিংবা পথচারীদের ওপর কোনো সীমালঙ্ঘনকারীর সীমালঙ্ঘন যাকে বাধা দিতে তিনি অক্ষম হন, অথবা এমন কারো অধিকারে হস্তক্ষেপ যার সামর্থ্য নেই...
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
(63 ب) يقدر على ردعه فيأخذهم بِحَق الله تَعَالَى فِي جَمِيعهَا من غير إهمال وَيَأْمُر بحملهم على واجباته
التَّاسِع النّظر فِي مُرَاعَاة الْعِبَادَات الظَّاهِرَة كالجمع والأعياد وَالْحج وَالْجهَاد من تَقْصِير فِيهَا أَو إخلال بشروطها الْوَاجِبَة (64 أ) على الْعباد فحقوق الله تَعَالَى أولى أَن تستوفى وفروضه أَحَق أَن تُؤَدّى كَمَا أَرَادَ
الْعَاشِر النّظر بَين المتشاجرين وَالْحكم بَين المتنازعين وَلَا يحرج عَن مُوجب الْحق وَمُقْتَضَاهُ وَلَا يسوغ لَهُ أَن يحكم بَينهم بِمَا لَا يحكم بِهِ الْحُكَّام والقضاة لَكِن للنَّاظِر (64 ب) فِي الْمَظَالِم حسب مَا يقْتَرن بِالدَّعْوَى مِمَّا يقويها أَو يضعفها وبحسب تجردها عَن أُمُور سياسة لَيْسَ للْقَاضِي أَن يُبَاشِرهَا ويصرفها
والأمور المقوية للدعوى الْمُقْتَضِيَة لإرهاب الْمُدعى عَلَيْهِ سِتَّة أُمُور
أَحدهَا أَن يكون مَعَ الْمُدَّعِي كتاب فِيهِ (65 أ) شُهُود عدُول حُضُور يشْهدُونَ بِصِحَّة دَعْوَاهُ فَالَّذِي يخْتَص بِهِ نظر النَّاظر فِي الْمَظَالِم شَيْئَانِ
أَحدهمَا أَن يَبْتَدِئ باستدعاء الشُّهُود للشَّهَادَة ليسأل مِنْهُم عَمَّا عِنْدهم تنَازع الْخُصُوم من الْحق المستبان وَعَادَة الْقُضَاة تَكْلِيف الدعي بإحضار (65 ب) بَينته وَلَا يسمعوا لَهَا إِلَّا بعد مَسْأَلته
وَثَانِيهمَا إِنْكَار على الجاحد بِحَسب حَالَة فِي الوجاعة والديانة وَعدمهَا عِنْد الاستنصار وبحسب شَوَاهِد أَحْوَاله عَن أَمَارَات بطلَان الْإِنْكَار وَعدمهَا عِنْد الاستنصار فَإِذا أحضر الشُّهُود (66 أ) فَإِن كَانَ كلا من المتنازعين جليل الْقدر عَظِيم الشَّأْن من أَبنَاء جنسه بَاشر النَّاظر فِي الْمَظَالِم فِي ذَلِك على مَا تقضيه السياسة
(৬৩ খ) তিনি তাদের নিবৃত্ত করতে সক্ষম হন, ফলে তিনি কোনো অবহেলা ছাড়াই সেগুলোর সবক্ষেত্রে মহান আল্লাহর হকের খাতিরে তাদের পাকড়াও করেন এবং তাদের ওপর অর্পিত ওয়াজিবসমূহ পালনের নির্দেশ দেন।
নবম: বাহ্যিক ইবাদতসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখা, যেমন—জুমা, ঈদ, হজ এবং জিহাদ; যাতে এগুলোতে কোনো শিথিলতা বা বান্দাদের ওপর অর্পিত আবশ্যিক শর্তাবলির (شروطها الواجبة) (৬৪ ক) লঙ্ঘন না ঘটে। কেননা মহান আল্লাহর হকসমূহ পূর্ণ করা অধিক অগ্রগণ্য এবং তাঁর নির্ধারিত ফরযসমূহ তিনি যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে আদায় করা অধিক যুক্তিযুক্ত।
দশম: বিবাদমান ব্যক্তিদের মধ্যে মীমাংসা করা এবং বিবাদীদের মধ্যে ফয়সালা করা। তিনি সত্যের দাবি ও হকের পরিপন্থী কাজ করবেন না। সাধারণ শাসক ও বিচারপতিগণ যেভাবে ফয়সালা করেন না, সেভাবে তাদের মধ্যে ফয়সালা করা তার জন্য বৈধ নয়। তবে মজালিম (অবিচার দমন) বিভাগের বিচারকের (৬৪ খ) জন্য অধিকার রয়েছে দাবির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা—যা সেই দাবিকে শক্তিশালী করে কিংবা দুর্বল (يضعفها) করে এবং প্রশাসনিক এমন সব বিষয়ের নিরিখে যা বিচারকের সরাসরি পরিচালনা বা নিষ্পত্তি করার এখতিয়ারে নেই।
দাবিকে শক্তিশালীকারী এবং বিবাদী পক্ষকে সত্য প্রকাশে বাধ্য করার মতো বিষয়সমূহ ছয়টি।
প্রথমত: বাদীর নিকট এমন কোনো লিখিত দলিল থাকা যাতে (৬৫ ক) ন্যায়পরায়ণ (عدول) সাক্ষীগণের উপস্থিতি রয়েছে যারা তার দাবির সঠিকতা বা বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এক্ষেত্রে মজালিম বিভাগের বিচারকের বিশেষ করণীয় বিষয় দুটি।
প্রথমটি হলো: সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রদানের জন্য তলব করার মাধ্যমে শুরু করা, যাতে বিবাদীদের মধ্যকার সুস্পষ্ট সত্য সম্পর্কে তাদের নিকট কী তথ্য আছে তা জিজ্ঞাসা করা যায়। অথচ সাধারণ বিচারকদের নিয়ম হলো বাদীকে তার প্রমাণ (৬৫ খ) উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া এবং বাদীর আবেদনের আগে তারা তা শোনেন না।
দ্বিতীয়টি হলো: অস্বীকারকারীর মর্যাদা, দ্বীনদারি (ديانة) বা এর অভাবের ওপর ভিত্তি করে তাকে তিরস্কার করা এবং অস্বীকারের অসারতার নিদর্শনসমূহের প্রেক্ষাপটে তার অবস্থার সাক্ষ্যসমূহ (شواهد) বিবেচনা করা। যখন সাক্ষীগণ উপস্থিত হন (৬৬ ক), তখন বিবাদমান উভয় পক্ষ যদি তাদের সমগোত্রীয়দের মধ্যে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও প্রভাবশালী হন, তবে মজালিম বিভাগের বিচারক প্রশাসনিক নীতিমালার দাবি অনুযায়ী বিষয়টি পরিচালনা করবেন।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
بِنَفسِهِ وَإِلَّا يرد النّظر قاضيه بِمحضر مِنْهُ إِن كَانَ متوسطين أَو على بعد مِنْهُ إِن كَانَ خاملين
حكى أَن الْمَأْمُون (66 ب) كَانَ يجلس للمظالم يَوْم الْحَد فَنَهَضَ ذَات يَوْم من مجْلِس نظره وَالشَّمْس قد زَالَت فَتَلَقَّتْهُ امْرَأَة فِي ثِيَاب رثَّة وَقَالَت
(يَا خير منتصف يهدي لَهُ الرشد
… وَيَا إِمَامًا بِهِ قد أشرق الْبَلَد)
(تَشْكُو إِلَيْهِ حِينَئِذٍ الْملك أرملة
… عدا عَلَيْهَا فَمَا تقوى بِهِ أَسد)
(فابتز مِنْهَا ضيَاعًا بعد منعتها
… لما تفرق عَنْهَا الْأَهْل وَالْولد)
فَأَطْرَقَ الْمَأْمُون مُنْكرا فِي مقالتها ثمَّ رفع رَأسه وَقَالَ مجيبا لَهَا
(من دون مَا قلت يمِيل الصَّبْر وَالْجَلد
… وأقرح الْقلب هَذَا الْحزن والكمد)
(هَذَا أَو أَن صَلَاة الظّهْر فانصرفي
… واحضري الْخصم فِي الْيَوْم الَّذِي أعد)
(الْمجْلس السبت أَن يقْضِي الْجُلُوس لنا
… أنصفكي مِنْهُ أَو فالمجلس الْأَحَد)
فَانْصَرَفت وَحَضَرت يَوْم الْأَحَد أول النَّاس فوقفت فِي مجْلِس المتظلمين فَقَالَ لَهَا الْمَأْمُون من خصمك فَقَالَت (68 أ) الْقَائِم على رَأسك الْعَبَّاس بن أَمِير الْمُؤمنِينَ فَقَالَ الْمَأْمُون لقاضيه يحيى بن أكتم أَجْلِسهَا مَعَه وَانْظُر بَينهمَا فأجلست مَعَه والمأمون ينظر إِلَيْهَا فَجعل كَلَامهَا يَعْلُو فزجرها بعض
তিনি নিজে (বিচার করবেন), অন্যথায় তাঁর বিচারক তাঁর উপস্থিতিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন যদি তারা মধ্যম স্তরের হন, অথবা তাঁর থেকে কিছুটা দূরে (পর্যালোচনা করবেন) যদি তারা অখ্যাত (خاملين) হন।
বর্ণিত আছে যে, আল-মামুন (৬৬ খ) রবিবারে মাজালিম (অবিচার প্রতিকার) আদালতের বিচারকার্যে বসতেন। একদিন তিনি তাঁর বিচারসভা থেকে যখন উঠলেন তখন সূর্য ঢলে পড়েছে। এমতাবস্থায় জীর্ণ পোশাক পরিহিত এক নারী তাঁর সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললেন:
(হে শ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক যাঁর প্রতি সুপথ প্রদর্শিত হয়েছে
… হে ইমাম, যাঁর দ্বারা দেশ আলোকিত হয়েছে।)
(এক বিধবা নারী তখন বাদশাহর কাছে অভিযোগ করছে
… যে তার ওপর অবিচার করেছে এবং কোনো সিংহও তার মোকাবিলা করার শক্তি রাখে না।)
(সে তার সুরক্ষার পর তার ভূসম্পত্তি ছিনিয়ে নিয়েছে
… যখন তার পরিবার ও সন্তানরা তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।)
আল-মামুন তার কথায় বিস্ময় ও অসম্মতি প্রকাশ করে মাথা নিচু করে রইলেন, অতঃপর মাথা তুলে তাকে উত্তর দিয়ে বললেন:
(তুমি যা বললে তাতে ধৈর্য ও সহনশীলতা বিচলিত হয়
… এবং এই দুঃখ ও বেদনা হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়।)
(এখন যোহরের নামাযের সময় হয়েছে, তাই তুমি ফিরে যাও
… এবং নির্ধারিত দিনে বিবাদীকে নিয়ে উপস্থিত হও।)
(যদি শনিবার আমাদের বসার মজলিস নির্ধারিত হয়
… তবে আমি তোমার ইনসাফ করব, অন্যথায় রবিবারের মজলিসে।)
অতঃপর সেই নারী ফিরে গেলেন এবং রবিবারে সবার আগে উপস্থিত হয়ে অভিযোগকারীদের মজলিসে দাঁড়ালেন। আল-মামুন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার বিবাদী কে?” সে উত্তর দিল (৬৮ ক), “আপনার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এই ব্যক্তি, আমীরুল মুমিনীনের পুত্র আব্বাস।” তখন আল-মামুন তাঁর বিচারক ইয়াহইয়া ইবনে আকতামকে বললেন, “তাকে তাঁর (আব্বাসের) সাথে বসাও এবং তাদের উভয়ের মধ্যে বিচার করো।” তখন সেই নারীকে তাঁর সাথে বসানো হলো এবং আল-মামুন তাদের দিকে লক্ষ্য রাখছিলেন। এক পর্যায়ে সেই নারীর কণ্ঠস্বর চড়া হতে লাগল, তখন উপস্থিত কেউ তাকে ধমক দিল।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
الْحجاب فَقَالَ الْمَأْمُون دعها فَإِن الْحق أنطقها وَالْبَاطِل أخرسه وَأمر (68 أ) برد ضياعها إِلَيْهَا فَفعل الْمَأْمُون فِي النّظر بَينهمَا مَا تقضيه السياسة حَيْثُ كَانَ بِمحضر مِنْهُ وَلم يُبَاشر بِنَفسِهِ لِأَن الْخصم امْرَأَة يجل الْمَأْمُون عَن محاورتها وَابْنه من جلالة الْقدر بمَكَان لَا يقدر غَيره على إِلْزَامه الْحق وإحراجه عَنهُ فَرد النّظر (69 أ) بِمحضر مِنْهُ إِلَى من كَفاهُ محاورة الْمَرْأَة فِي استيضاح الدَّعْوَى وَالْحجّة وباشر بِنَفسِهِ تَنْفِيذ الحكم وإلزام ابْنه الْحق وسلوك المحجة
الثَّانِي مقويات الدَّعْوَى أَن يقْتَرن بهَا كتاب يدل على صِحَّتهَا فِيهِ شُهُود معدولون غائبون عَن المخاضعة (69 أ) فَالَّذِي يخْتَص بالناظر فِي الْمَظَالِم هُنَا أَرْبَعَة أَشْيَاء يعتمدها حِين المحاكمة
أَحدهمَا إرهاب الْمُدَّعِي عَلَيْهِ فَرُبمَا تجْعَل بِقُوَّة الهيبة من إِقْرَاره مَا يغنى عَن سَماع الْبَيِّنَة عِنْد إِنْكَاره
وَثَانِيهمَا التَّقَدُّم بإحضار الشُّهُود إِذا عرف مكانهم وَلم يدْخل الضَّرَر (70 أ) الشاق عَلَيْهِم عِنْد إحضارهم
وثالثهما الْأَمر بملازمة الْمُدَّعِي عَلَيْهِ ثَلَاثَة أَيَّام ويجتهد رَأْيه فِي الزِّيَادَة عَلَيْهَا بِحَسب الْحَال من قُوَّة الأمارة وَدَلَائِل الصِّحَّة والإلزام
وَرَابِعهَا أَن ينظر فِي الدَّعْوَى بتصوره الْجَمِيل فَإِن كَانَت مَالا فِي الذِّمَّة كلفه (70 ب) إِقَامَة الْكَفِيل وَإِن كَانَت عينا قَائِمَة كالعقار حجر عَلَيْهِ فِيهِ وَلَا يرفع حكم يَده عَنْهَا بل يرد استغلالها إِلَى أَمِين يحفظه على مستحقيه مِنْهَا
فَإِن تطاولت مُدَّة إِحْضَار الشُّهُود وَوَقع الْيَأْس من إحضارهم اعْتمد النَّاظر
...পর্দা। তখন আল-মামুন বললেন, তাকে ছেড়ে দাও; কেননা সত্য তাকে বাকপটু করেছে এবং মিথ্যা তাকে নিরুত্তর করে দিয়েছে। তিনি (৬৮ ক) তার ভূসম্পত্তি তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। আল-মামুন তাদের বিরোধ নিষ্পত্তিতে রাজনীতির চাহিদা অনুযায়ী এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যেখানে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু সরাসরি কথোপকথনে লিপ্ত হননি। কারণ প্রতিপক্ষ ছিল একজন নারী যার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া আল-মামুনের সুউচ্চ মর্যাদার পরিপন্থী ছিল। আর তার পুত্রও এমন উচ্চ মর্যাদাবান অবস্থানে ছিলেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তাকে সত্য পালনে বাধ্য করতে বা তাকে কোণঠাসা করতে সক্ষম ছিল না। তাই তিনি (৬৯ ক) তার উপস্থিতিতেই এমন একজনকে সেই মহিলার সাথে মামলার বিষয় ও প্রমাণের স্পষ্টীকরণের জন্য কথা বলার দায়িত্ব দিলেন যিনি তাতে পারদর্শী ছিলেন। আর তিনি নিজে রায় কার্যকর করা, তার পুত্রকে সত্য মেনে নিতে বাধ্য করা এবং ন্যায়ের পথ অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করলেন।
দ্বিতীয়ত: দাবির শক্তিবর্ধক বিষয়াদি; তা হলো দাবির সাথে এমন কোনো লিখিত দলিল থাকা যা এর সঠিকতা (صحة) প্রমাণ করে এবং তাতে এমন ন্যায়পরায়ণ (معدولون) সাক্ষী (شهود) রয়েছেন যারা বিচারিক মজলিস (৬৯ ক) থেকে অনুপস্থিত। এক্ষেত্রে অভিযোগ নিরসনকারী বিচার চলাকালীন চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবেন—
প্রথমটি হলো: বিবাদীকে ভীতি প্রদর্শন করা; কেননা অনেক সময় ব্যক্তিত্বের প্রভাব ও গাম্ভীর্যের কারণে তার স্বীকারোক্তি (إقرار) থেকেই এমন কিছু প্রকাশ পায় যা তার অস্বীকারের মুখে সাক্ষ্য-প্রমাণ (بينة) শোনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়।
দ্বিতীয়টি হলো: সাক্ষীদের (شهود) উপস্থিত করার উদ্যোগ নেওয়া, যদি তাদের অবস্থান জানা থাকে এবং তাদের উপস্থিত করায় (৭০ ক) তাদের ওপর কোনো কষ্টসাধ্য ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকে।
তৃতীয়টি হলো: বিবাদীকে তিন দিন পর্যন্ত নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া এবং অবস্থার প্রেক্ষাপটে লক্ষণসমূহের প্রবলতা, সঠিকতার (صحة) নিদর্শন ও বাধ্যবাধকতার নিরিখে নিজের ইজতিহাদ বা বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা।
চতুর্থটি হলো: বিচক্ষণতার সাথে মামলার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা। যদি তা জিম্মায় থাকা কোনো আর্থিক দায় হয়, তবে তাকে (৭০ খ) জামিনদার (كفيل) উপস্থাপনের নির্দেশ দেবেন। আর যদি তা স্থাবর কোনো সম্পদ হয় যেমন ভূমি, তবে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা (حجر) আরোপ করবেন। এক্ষেত্রে তার দখলদারিত্ব পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে না, বরং এর থেকে অর্জিত লভ্যাংশ একজন আমানতদারের কাছে রাখা হবে যিনি এর প্রকৃত হকদারদের জন্য তা সংরক্ষণ করবেন।
যদি সাক্ষীদের উপস্থিত করার মেয়াদ দীর্ঘায়িত হয় এবং তাদের উপস্থিত করার বিষয়ে নিরাশা তৈরি হয়, তবে বিচারক নির্ভর করবেন—
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
فِي الْمَظَالِم هُنَالك سُؤال الْمُدَّعِي (71 أ) عَلَيْهِ عَن سَبَب دُخُوله فِي يَده وَإِن لم ير أَبُو حُذَيْفَة وَالشَّافِعِيّ ذَلِك
إِذْ للنَّاظِر فِي الْمَظَالِم اسْتِعْمَال الْجَائِز وَلَا يلْزمه الِاقْتِصَار على الْوَاجِب كَمَا يلْزم ذَلِك الْقُضَاة فَإِن أجَاب بِمَا يقطع الْمُنَازعَة أَمْضَاهُ وَإِلَّا فضل بَينهمَا بِمُوجب الشَّرْع وَمُقْتَضَاهُ (72 أ)
الثَّالِث من مقويات الدَّعْوَى أَن يكون فِي الْكتاب المقترن بهَا شُهُود حُضُور لكِنهمْ غير معدلين فَالَّذِي يخْتَص بِهِ النَّاظر فِي الْمَظَالِم يتَقَدَّم فِيهَا بإحضار الشُّهُود فَإِن كَانُوا من ذَوي الهيئات وَأهل الصيانة (73 أ) فالثقة بِشَهَادَتِهِم أقوى وَإِن كَانُوا بعد الْكَشْف عَن أَحْوَالهم أراذل فَلَا يعول عَلَيْهِم بل يقوى إرهاب الْخصم بهم حِين الدَّعْوَى وَإِن كَانُوا أوساطا فَيجوز لَهُ أَن يستظهر بتحليفهم أَن رَاه قبل الشَّهَادَة أَو بعْدهَا ثمَّ هُوَ فِي سَماع شَهَادَة الصِّنْفَيْنِ (73 ب) الآخرين فِي ثَلَاثَة أُمُور
إِمَّا أَن يسْمعهَا بِنَفسِهِ فَيحكم بهَا وَأما أَن يرد إِلَى القَاضِي سماعهَا ليؤديها القَاضِي إِلَيْهِ وَيكون الحكم فِيهَا مَوْقُوفا عَلَيْهِ لِأَن القَاضِي لَا يحكم إِلَّا بِشَهَادَة من يثبت عَدَالَته لَدَيْهِ
وَأما أَن ترد سماعهَا إِلَى الشُّهُود المعدلين فَإِن رد إِلَيْهِم نقل شَهَادَة (74 أ) أُولَئِكَ إِلَيْهِ لم يلْزم استكشاف أَحْوَالهم وتطلبها وَإِن رد إِلَيْهِم الشَّهَادَة عِنْده بِمَا يَصح من شَهَادَتهم لَزِمَهُم الْكَشْف عَمَّا يَقْتَضِي قبُول شَهَادَتهم ليشهدوا بهَا بعد الْعلم بِصِحَّتِهَا ليَكُون تَنْفِيذ الحكم بحسبها
الرَّابِع من مقويات الدَّعْوَى (74 ب) أَن يكون فِي الْكتاب المقترن بهَا شُهُود معدلون غير أَحيَاء
অন্যায়-অবিচার প্রতিকার বিষয়ক (মাজালিম) আদালতে বিবাদীপক্ষের (৭১ ক) নিকট সম্পদটি তার হস্তগত হওয়ার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, যদিও আবু হুযায়ফা ও শাফেয়ী একে আবশ্যক মনে করেননি।
যেহেতু মাজালিম আদালতের বিচারকের জন্য বৈধ পন্থাগুলো প্রয়োগ করার সুযোগ রয়েছে এবং সাধারণ বিচারকদের মতো তাকে কেবল ওয়াজিবের (আবশ্যকীয়) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয় না। অতঃপর বিবাদী যদি এমন কোনো উত্তর প্রদান করে যা বিবাদ নিরসন করে, তবে বিচারক তা কার্যকর করবেন; অন্যথায় তিনি শরিয়াহর বিধান ও দাবি অনুযায়ী তাদের মধ্যে মীমাংসা করবেন (৭২ ক)।
দাবির সপক্ষে শক্তিশালী করার তৃতীয় মাধ্যম হলো দাবিনামার সাথে সংযুক্ত দলিলে উপস্থিত সাক্ষীদের নাম থাকা, তবে তারা এখনো ন্যায়নিষ্ঠ (معدلين) হিসেবে প্রমাণিত নন। এক্ষেত্রে মাজালিম আদালতের বিচারক যে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী তা হলো তিনি সাক্ষীদের উপস্থিত করার নির্দেশ দেবেন। যদি তারা মর্যাদাবান ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি হন (৭৩ ক), তবে তাদের সাক্ষ্যের প্রতি নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) জোরালো হয়। আর যদি তাদের অবস্থা অনুসন্ধানের পর প্রমাণিত হয় যে তারা হীন চরিত্রের, তবে তাদের ওপর নির্ভর করা যাবে না; বরং মামলার সময় তাদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা যেতে পারে। আর যদি তারা মধ্যম মানের হন, তবে বিচারক সাক্ষ্যদানের আগে বা পরে তাদের শপথ করানোর মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেন। অতঃপর পরবর্তী দুই শ্রেণির সাক্ষ্য গ্রহণের (৭৩ খ) ক্ষেত্রে তিনি তিনটি পদ্ধতির সম্মুখীন হন।
হয় তিনি নিজেই সাক্ষ্য শ্রবণ করবেন এবং সে অনুযায়ী রায় দেবেন; অথবা তিনি সাধারণ বিচারকের নিকট সাক্ষ্য গ্রহণের ভার অর্পণ করবেন যেন বিচারক তা তার কাছে পেশ করেন এবং সেক্ষেত্রে রায় প্রদানের বিষয়টি তাঁর ওপর স্থগিত থাকবে। কারণ সাধারণ বিচারক কেবল এমন ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই রায় প্রদান করেন যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) তাঁর নিকট সাব্যস্ত হয়।
অথবা তিনি সাক্ষ্য শ্রবণের ভার ন্যায়নিষ্ঠ (معدلين) সাক্ষীদের ওপর ন্যস্ত করবেন। যদি তাদের নিকট পূর্বোক্তদের সাক্ষ্য বর্ণনা (৭৪ ক) করার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে তাদের অবস্থা অনুসন্ধান বা তলব করার প্রয়োজন নেই। আর যদি তাদের সামনে এমনভাবে সাক্ষ্য প্রদান করতে বলা হয় যা সাক্ষ্য হিসেবে সঠিক সাব্যস্ত হয়, তবে তাদের জন্য সাক্ষ্য গ্রহণের গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলী অনুসন্ধান করা আবশ্যক, যেন তারা এর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হওয়ার পর সাক্ষ্য প্রদান করতে পারেন এবং সে অনুযায়ী রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়।
দাবির সপক্ষে শক্তিশালী করার চতুর্থ (৭৪ খ) মাধ্যম হলো দাবিনামার সাথে সংযুক্ত দলিলে এমন কিছু ন্যায়নিষ্ঠ (معدلون) সাক্ষীর নাম থাকা যারা বর্তমানে জীবিত নেই।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৫০)
فَالَّذِي يخْتَص بِنَظَر النَّاظر فِي الْمَظَالِم هَا هُنَا ثَلَاثَة أَشْيَاء
أَحدهَا إرهاب الْمُدَّعِي عَلَيْهِ بِمَا يضطره إِلَى الصدْق وَالِاعْتِرَاف بِالْحَقِّ
وَثَانِيها سُؤَاله عَن سَبَب دُخُوله يَده لجَوَاز أَن يُجيب بِمَا (75 أ) يَتَّضِح بِهِ الْحق وَيعرف بِهِ المحق
وَثَالِثهَا سُؤَاله من جيران الْمُتَنَازع فِيهِ والمتنازعين عَن الْمُتَنَازع فِيهِ ليتوصل بهم إِلَى الْكَشْف عَن الْحَال ووضوح الْحق وَمَعْرِفَة المحق والصدق فَإِن لم يصل إِلَى الْحق بِوَاحِد من هَذِه الثَّلَاثَة ردهَا إِلَى وساطة عَظِيم الْقدر مُطَاع (75 ب) عَالم بالمصالح لَهُ بهما بِمَعْرِِفَة وَبِمَا يتنازعون فِيهِ خبْرَة ليضطرهما بطول الْمدَّة وَكَثْرَة التَّرَدُّد الصَّادِق والتصالح
وَالْخَامِس من مقويات الدَّعْوَى أَن يكون مَعَ الْمُدَّعِي خطّ الْمُدَّعِي عَلَيْهِ بِمَا تضمنته الدَّعْوَى فَنظر الْمَظَالِم فِيهِ يَقْتَضِي سُؤال الْمُدَّعِي عَلَيْهِ (76 أ) عَن الْخط الَّذِي أحضرهُ الْمُدَّعِي عِنْد الشكوى بِأَن يُقَال هَذَا حظك فَإِن اعْترف بِهِ يسْأَل بعد اعترافه عَن صِحَة مَا تضمنه فَإِن اعْترف بِصِحَّتِهِ صَار مقرا والزم حكم إِقْرَاره وَإِن لم يعْتَرف بِصِحَّتِهِ فَمن وَلَاء النّظر فِي الْمَظَالِم من حكم عَلَيْهِ إِذا اعْترف (76 ب) بِأَنَّهُ خطه وان يعْتَرف بِصِحَّتِهِ واعتباره وَجعل ذَلِك من شَوَاهِد الْحُقُوق اعْتِبَارا للْعُرْف وَالَّذِي عَلَيْهِ محققوهم وَمَا يرَاهُ جَمِيع الْفُقَهَاء الْإِعْلَام أَنه لَا يجوز للنَّاظِر مِنْهُم أَن يحكم بِمُجَرَّد الْخط حَتَّى يعْتَرف بِصِحَّة مَا فِيهِ إِذْ نظر الْمَظَالِم لَا يُبِيح مَا حصره الشَّرْع (77 أ) من الْأَحْكَام وللنظر فِي الْمَظَالِم فِي هَذِه الصُّورَة أَن يرجع إِلَى مَا ذكر فِي خطه فَإِن قَالَ كتبته ليقرضني وَمَا أَعْطَانِي الْقدر الَّذِي إستقرضه أَو ليدفع إِلَى ثمن مَا بِعْت لَهُ وَلم يدْفع لي ثمن الَّذِي بِعته فَهَذَا بِمَا يفعل النَّاس أَحْيَانًا وَنظر الْمَظَالِم أَن يسْتَعْمل (77 ب) النَّاظر فِي الْمَظَالِم فِيهِ من زواجر الإرهاب والردع يشْهد بِهِ الْحَال وتقوى بِهِ الأمارة ثمَّ يردهُ إِلَى الوساطة فَإِن أفضت إِلَى الصُّلْح ثمَّ الْمَقْصُود وَإِلَّا بت القَاضِي الحكم بَينهمَا على مُقْتَضى الشَّرْع
অবিচার নিরসনকারী (নাযির ফিল মাজালিম) বিচারকের পর্যালোচনার সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয় এখানে তিনটি।
প্রথমটি হলো, বিবাদীকে এমনভাবে ভীতি প্রদর্শন করা যা তাকে সত্যবাদিতা (الصدق) এবং সত্য স্বীকার করতে বাধ্য করে।
দ্বিতীয়টি হলো, কোনো বস্তু তার হস্তগত হওয়ার কারণ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা; যাতে এমন উত্তর (৭৫ ক) আসার সম্ভাবনা থাকে যার মাধ্যমে সত্য স্পষ্ট হয় এবং কে সত্যের ওপর রয়েছে তা চেনা যায়।
তৃতীয়টি হলো, বিবাদমান বিষয়টির প্রতিবেশী এবং বিবাদমান পক্ষদ্বয়কে উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা, যাতে তাদের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা উন্মোচন করা যায় এবং সত্যের স্পষ্টতা ও সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি ও সত্যবাদিতা (الصدق) সম্পর্কে জানা যায়। যদি এই তিনটির কোনোটির মাধ্যমেও সত্যে পৌঁছানো না যায়, তবে তিনি বিষয়টি এমন একজন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, মান্যবর (৭৫ খ) এবং জনকল্যাণ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তির নিকট মধ্যস্থতার জন্য প্রেরণ করবেন, যিনি উভয় পক্ষ এবং বিবাদমান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এর উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া এবং বারবার যাতায়াতের মাধ্যমে সত্য স্বীকার বা আপস-নিষ্পত্তিতে উপনীত হওয়া।
মামলার দাবির সপক্ষে পঞ্চম শক্তিশালী প্রমাণ হলো, বাদীর নিকট বিবাদীর হস্তাক্ষরে দাবিকৃত বিষয়ের লিখিত দলিল থাকা। এক্ষেত্রে মাযালিম আদালতের কাজ হলো, বিবাদীকে (৭৬ ক) সেই হাতের লেখার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা যা বাদী অভিযোগের সময় উপস্থিত করেছে। তাকে বলা হবে, "এটি কি তোমার হাতের লেখা?" যদি সে তা স্বীকার করে, তবে স্বীকারোক্তির পর তাকে এর বিষয়বস্তুর সঠিকতা (صحة) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। যদি সে বিষয়বস্তুর সঠিকতা (صحة) স্বীকার করে নেয়, তবে সে স্বীকৃতিকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং তার স্বীকারোক্তির বিধান তার ওপর কার্যকর করা হবে। আর যদি সে এর সঠিকতা (صحة) স্বীকার না করে, তবে মাযালিম আদালতের অনেক বিচারক বিবাদী তার হাতের লেখা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার (৭৬ খ) করলেই তার বিরুদ্ধে রায় প্রদান করেন এবং সেটিকে সঠিকতা (صحة) ও গ্রহণযোগ্যতা (اعتبار) প্রদান করেন। প্রথা বা উরফ-এর প্রতি লক্ষ রেখে তারা একে পাওনা সাব্যস্ত করার প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেন। তবে এ বিষয়ের গবেষক এবং সমস্ত প্রথিতযশা ফকিহগণের অভিমত হলো যে, বিচারকের জন্য কেবল হাতের লেখার ওপর ভিত্তি করে রায় প্রদান করা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না বিবাদী এর বিষয়বস্তুর সঠিকতা (صحة) স্বীকার করে। কেননা, মাযালিম বিচারব্যবস্থা শরয়ি বিধানের নির্ধারিত (৭৭ ক) গণ্ডিকে লঙ্ঘন করে না। এই অবস্থায় মাযালিম আদালতের বিচারক তার লেখার বিষয়বস্তুর দিকে ফিরে তাকাবেন। বিবাদী যদি বলে, "আমি এটি লিখেছিলাম যেন সে আমাকে ঋণ দেয়, কিন্তু আমি যে পরিমাণ ঋণের আবেদন করেছিলাম তা সে আমাকে দেয়নি", অথবা "আমি যা বিক্রি করেছি তার মূল্য পরিশোধের জন্য এটি লিখেছিলাম, কিন্তু সে আমাকে বিক্রয়লব্ধ মূল্য প্রদান করেনি"—এগুলো এমন বিষয় যা মানুষের মধ্যে মাঝেমধ্যে ঘটে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে মাযালিম আদালতের বিচারক (৭৭ খ) ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সতর্ক করার পদ্ধতি অবলম্বন করবেন যা পারিপার্শ্বিক অবস্থা দ্বারা সমর্থিত হয় এবং যার মাধ্যমে প্রমাণের লক্ষণ শক্তিশালী হয়। এরপর তিনি বিষয়টি মধ্যস্থতার জন্য পাঠাবেন। যদি মধ্যস্থতা আপস-নিষ্পত্তির দিকে নিয়ে যায় তবেই উদ্দেশ্য সফল হলো, অন্যথায় বিচারক শরয়ি বিধানের দাবি অনুযায়ী তাদের মধ্যে চূড়ান্ত ফয়সালা প্রদান করবেন।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৫১)
وَإِن أنكر الْمُدَّعِي عَلَيْهِ الْخط فَمن ولاه النّظر (78 أ) فِي الْمَظَالِم من يختبر الْخط بخطوطه الَّتِي كتبهَا ويكلفه من كَثْرَة الْكِتَابَة مَا يمنعهُ من التصنع فِيمَا وَيجمع بَين الخطين فان لم يتغايرا وتشابها حكم بِهِ عَلَيْهِ عملا بقول من يَجْعَل الِاعْتِرَاف بالخط مُوجبا للْحكم عَلَيْهِ وَالَّذِي عَلَيْهِ الْمُحَقِّقُونَ مِنْهُم أَن يفعل (78 ب) ذَلِك لَا يكون للْحكم بل لتوجه الإرهاب إِلَيْهِ وَتَكون الشُّبْهَة مَعَ إِنْكَاره لِلْخَطِّ أَضْعَف مِنْهَا مَعَ اعْتِرَاف بِهِ وترتفع إِن كَانَ الْخط متباين الأوضاع ويرهب الْمُدَّعِي عِنْد تبَاين الْخط ثمَّ يرد وَالْمُدَّعِي عَلَيْهِ إِلَى الوساطة فَإِن أفضت (79 أ) إِلَى الصُّلْح ثمَّ الْمَقْصُود ولأبت القَاضِي الحكم بَينهمَا بِمَا يَقْتَضِيهِ الشَّرْع وَقطع النزاع
وَالسَّادِس من مقويات الدَّعْوَى إِظْهَار الْحساب بِمَا تضمنته الدَّعْوَى وَهَذَا يكون فِي الْمُعَامَلَات بِلَا ارتياب فَإِن كَانَ الْحساب الْمُدَّعِي فالشبهة فِيهِ أَضْعَف (79 ب) وَنظر الْمَظَالِم فِيهِ أَن يرْعَى نظم الْحساب وَإِن كَانَ مختلا يحْتَمل فِيهِ الإدخال فَذَلِك لضعف الدَّعْوَى أشبه مِنْهُ بقوتها عِنْد الِاعْتِبَار وَإِن كَانَ نظمه صَحِيحا منسقا فالثقة بِهِ أقوى فَيَقْتَضِي من الإرهاب بِحَسب شواهده ثمَّ يردان إِلَى الوساطة (80 أ) ثمَّ يَلِي الحكم الثَّابِت بِمُقْتَضى الشَّرِيعَة الشَّرِيفَة الْمِقْدَار
وَإِن كَانَ الْحساب للْمُدَّعِي عَلَيْهِ كَانَت الدَّعْوَى بِهِ أقوى ثمَّ ذَلِك الْحساب إِن كَانَ مَنْسُوبا إِلَى خطّ الْمُدَّعِي عَلَيْهِ فالناظر الْمَظَالِم فِيهِ أَن يسْأَل من الْمُدَّعِي عَلَيْهِ أهوَ خطك ليحيط علما بِمَا بيدَيْهِ (80 ب) فَإِن اعْترف بِهِ يَقُول لَهُ أتعلم مَا فِيهِ فَإِن أقرّ بمعرفته يَقُول لَهُ أتعلم مَا فِيهِ فَإِن أقرّ يَقُول لَهُ أتعلم صِحَّته فَإِن أقرّ بِصِحَّتِهِ صَار بِهَذِهِ الثَّلَاثَة مقرا بمضمون الْحساب فَيُؤْخَذ بِمَا فِيهِ
وَإِن لم يعْتَرف بِصِحَّتِهِ فَمن حكم بالخط من وُلَاة النّظر فِي الْمَظَالِم يحكم عَلَيْهِ (81 أ) بِمُوجب حسابه وَإِن لم يعْتَرف بِصِحَّتِهِ فَالَّذِي عَلَيْهِ الْمُحَقِّقُونَ مِنْهُم وَهُوَ قَول الْفُقَهَاء أَنه لَا يحكم عَلَيْهِ بِالْحِسَابِ الَّذِي اعْترف بِصِحَّة مَا فِيهِ لَكِن يقتضى من فضل الإرهاب بِهِ أَكثر مِمَّا اقْتَضَاهُ الْخط الْمُرْسل من زواجر رهبته
যদি বিবাদী হস্তাক্ষর অস্বীকার করে, তবে অন্যায়-অবিচার নিরসন আদালতের (المظالم) বিচারক তার লিখিত অন্যান্য লিপির মাধ্যমে এই হস্তাক্ষর পরীক্ষা করবেন এবং তাকে দিয়ে অধিক পরিমাণে লেখাবেন যাতে সে কৃত্রিমতা অবলম্বন করতে না পারে। এরপর উভয় লিপির মধ্যে তুলনা করবেন। যদি হস্তাক্ষর দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য না থাকে এবং সদৃশ হয়, তবে বিবাদীর বিরুদ্ধে ফয়সালা প্রদান করবেন; এটি ঐ সকল ফকিহদের মতানুসারে যারা হস্তাক্ষরের স্বীকৃতিকে দণ্ডাজ্ঞার কারণ হিসেবে গণ্য করেন। তবে গবেষকগণের (المحققون) মতে, এটি দণ্ডাজ্ঞার জন্য হবে না, বরং তাকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য হবে। হস্তাক্ষর অস্বীকার করার ক্ষেত্রে সন্দেহের মাত্রা স্বীকৃতির তুলনায় অধিক দুর্বল (ضعيف) হবে। আর যদি হস্তাক্ষর ভিন্নতর হয়, তবে সন্দেহ দূরীভূত হবে এবং হস্তাক্ষর ভিন্ন হওয়ার কারণে দাবিদারকে ভীতি প্রদর্শন করা হবে। এরপর বিবাদী ও দাবিদারকে মধ্যস্থতার দিকে ফিরিয়ে আনা হবে। যদি তা আপসের দিকে ধাবিত হয় তবে উদ্দেশ্য সফল হলো, অন্যথায় বিচারক শরিয়ত ও বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি অনুযায়ী ফয়সালা প্রদান করবেন।
দাবি জোরালো করার ষষ্ঠ মাধ্যম হলো দাবির বিষয়বস্তু সম্বলিত হিসাব উপস্থাপন করা। লেনদেনের ক্ষেত্রে এটি কোনো সংশয় ছাড়াই কার্যকর হয়। যদি হিসাবটি দাবিদারের হয়, তবে সেখানে সন্দেহের অবকাশ খুবই দুর্বল (ضعيف)। অন্যায়-অবিচার নিরসন আদালতের (المظالم) কাজ হলো হিসাবের বিন্যাস পর্যবেক্ষণ করা; যদি তা অগোছালো হয় এবং তাতে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা থাকে, তবে তা পর্যালোচনার সময় দাবিকে শক্তিশালী করার চেয়ে দুর্বল (ضعيف) করার ক্ষেত্রেই অধিক উপযুক্ত হবে। আর যদি তার বিন্যাস সঠিক ও সুশৃঙ্খল হয়, তবে এর নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) অধিক শক্তিশালী হবে, যা বিদ্যমান সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভীতি প্রদর্শনের দাবি রাখে। অতঃপর উভয় পক্ষকে মধ্যস্থতার দিকে ফিরিয়ে আনা হবে এবং পরে পবিত্র শরিয়তের বিধান অনুযায়ী অকাট্য ফয়সালা কার্যকর করা হবে।
যদি হিসাবটি বিবাদীর হয়, তবে তার মাধ্যমে উত্থাপিত দাবি অধিক শক্তিশালী হবে। সেই হিসাবটি যদি বিবাদীর হস্তাক্ষরের সাথে সম্পর্কিত হয়, তবে অন্যায়-অবিচার নিরসন আদালতের (المظالم) বিচারক বিবাদীকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, এটি কি তোমার হস্তাক্ষর? যাতে বিবাদীর কাছে যা আছে সে সম্পর্কে তিনি সম্যক জ্ঞান লাভ করতে পারেন। যদি সে তা স্বীকার করে, তবে তাকে বলা হবে, "তুমি কি এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত?" যদি সে তা স্বীকার করে, তবে তাকে বলা হবে, "তুমি কি এর সঠিকতা সম্পর্কে জানো?" সে যদি এর সঠিকতা স্বীকার করে, তবে এই তিনটি স্বীকৃতির মাধ্যমে সে হিসাবের বিষয়বস্তুর স্বীকৃতিকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং তাতে যা আছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যদি সে এর সঠিকতা স্বীকার না করে, তবে অন্যায়-অবিচার নিরসন আদালতের (المظالم) ঐ সকল বিচারক যারা হস্তাক্ষরের ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদান করেন, তারা এই হিসাবের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে দণ্ডাজ্ঞা দেবেন। আর যদি সে এর সঠিকতা স্বীকার না করে, তবে গবেষকগণের (المحققون) মতে এবং ফকিহগণের অভিমত হলো যে, সেই হিসাবের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ফয়সালা দেওয়া হবে না যার সঠিকতা সে স্বীকার করেনি। তবে এর মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শনের মাত্রা বিচ্ছিন্ন (مرسل) হস্তাক্ষরের ভীতি প্রদর্শনের চেয়ে অনেক বেশি জোরালো হবে।
(খণ্ড: ১)
তাহরীরুস সুলূকি ফী তাদবীরিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ৫২)
ثمَّ يرادن إِلَى الوساطة (81 ب) ثمَّ إِلَى بت الْقُضَاة الْإِعْلَام وَإِن كَانَ ذَلِك الْخط مَنْسُوبا إِلَى كَاتب سُئِلَ الْمُدَّعِي عَلَيْهِ فَإِن اعْترف بِهِ أخذيه وَتوجه الْإِلْزَام وَإِن أنكرهُ أرهب فَإِن اعْترف بِهِ وبصحته مَا فِيهِ صَار شَهَادَة على الْمُدَّعِي عَلَيْهِ فَيحكم عَلَيْهِ بِشَهَادَة (82 أ) كَاتبه أَن كَانَ عدلا مرضيا وَيَقْضِي بِالشَّاهِدِ وَالْيَمِين مذهبا إِن كَانَ شافعيا وسياسة إِن كَانَ حَنِيفا وَيشْهد بِمَا تقضيه شَوَاهِد الْخَال فَإِن لَهَا فِي الْمَظَالِم تَأْثِيرا عَن اخْتِلَاف الْأَحْكَام وَلكُل حَال مِنْهَا فِي الإرهاب حد لَا يجوز أَن يُجَاوز (82 ب) عَنهُ تمييزا بَين الْأَحْوَال بِمَا يَقْتَضِيهِ شُرُوطهَا فِي حالتي النَّقْص والإبرام
وَأما الْأُمُور المضعفة للدعوى الْمُقْتَضِيَة لإرهاب الْمُدعى فَهِيَ أَيْضا سِتَّة أُمُور
الأول مِنْهَا: أَن يكون مَعَ الْمُدَّعِي عَلَيْهِ كتاب فِيهِ شُهُود معدلون حُضُور (83 أ) يشْهدُونَ بِمَا يُوجب بطلَان الدَّعْوَى بِأَن يشْهدُوا عَلَيْهِ بأحقيته للْمُدَّعى عَلَيْهِ مَا ادّعى بِهِ أَو يشْهدُونَ على إِقْرَار الْمُدَّعِي بِأَنَّهُ لَا حق لَهُ فِيمَا ادَّعَاهُ أَو على إِقْرَار أَبِيه الَّذِي ذكر انْتِقَال الْملك عَنهُ إِلَيْهِ على أَنه لَا حق لَهُ فِيمَا ادَّعَاهُ أَو يشْهدُوا (83 ب) للْمُدَّعِي عَلَيْهِ بِأَنَّهُ مَالك جَائِز لما ادَّعَاهُ عَلَيْهِ فَتبْطل بِهَذِهِ الشَّهَادَة دَعْوَاهُ وَيَقْتَضِي نظر الْمَظَالِم تأديبه بِحَسب حَاله فان ذكر أَن الشَّهَادَة عَلَيْهِ بالابتياع كَانَت على سَبِيل الرَّهْن والالجاء فَهَذَا مَا يَفْعَله النَّاس أَحْيَانًا فَينْظر فِي كتاب الابتياع (84 أ) عَن ذكر فِيهِ أَنه غير رهن وَلَا الجاء ضعفت شُبْهَة هَذِه الدَّعْوَى بِلَا إمتراء وَإِن لم يذكر فِيهِ قويت شُبْهَة هَذِه الدَّعْوَى وَكَانَ الإرهاب فِي الْجِهَتَيْنِ يمقتضى شَوَاهِد الْحَالين فَيرجع إِلَى الْكَشْف بالمجاورين والخلطاء فَإِن بَان مَا يُوجب الْعُدُول هن ظَاهر (84 ب) الْكتاب عمل عَلَيْهِ وَإِن لم يبين كَانَ أمضاء الحكم بِمَا يشْهد بِهِ شُهُود الابتياع أَحَق وَأولى عِنْد الْعلمَاء فَإِن سَأَلَ الْمُدعى عَلَيْهِ أحلاف الْمُدعى بِأَن الابتياع الْمُدعى بِهِ كَانَ حَقًا عَلَيْهِ وَلم يكن على سَبِيل الرَّهْن والجاء فقد اخْتلف فِي جَوَاز أحلافه الْأَئِمَّة (85 أ) الْفُقَهَاء فَمنهمْ من أجَاز ذَلِك لاحْتِمَال مَا ادَّعَاهُ وإمكانه وَامْتنع آخَرُونَ من أَصْحَاب الإِمَام الشَّافِعِي رضي الله عنه عَن أخلاقه لِأَن إِقْرَاره الْمُتَقَدّم يُخَالف دَعْوَاهُ الْمُتَأَخِّرَة وَلَو إِلَى
অতঃপর বিষয়টি মধ্যস্থতার (৮১ খ) দিকে ফেরানো হবে, এরপর প্রখ্যাত বিচারপতিদের নিকট চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পেশ করা হবে। যদি সেই লিপিটি কোনো লেখকের বলে পরিচিত হয়, তবে বিবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদি সে তা স্বীকার করে নেয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে এবং দায়বদ্ধতা সাব্যস্ত হবে। আর যদি সে তা অস্বীকার করে, তবে তাকে ভীতি প্রদর্শন করা হবে। অতঃপর যদি সে লিপিটি এবং এর বিষয়বস্তুর সঠিকতা স্বীকার করে নেয়, তবে তা বিবাদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় তার লেখকের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে ফয়সালা প্রদান করা হবে, যদি সেই লেখক ন্যায়পরায়ণ ও গ্রহণযোগ্য (عدلا مرضيا) হন। আর শাফেয়ি মাজহাব অনুযায়ী একজন সাক্ষী ও শপথের ভিত্তিতে ফয়সালা দেওয়া হবে এবং হানাফি মাজহাব অনুযায়ী প্রশাসনিক নীতি হিসেবে ফয়সালা হবে। পারিপার্শ্বিক প্রমাণের দাবি অনুযায়ী সাক্ষ্য প্রদান করা হবে; কেননা বিধানের ভিন্নতার ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রতিকার (মাজালিম) আদালতে এর বিশেষ প্রভাব রয়েছে। ভীতি প্রদর্শনের প্রতিটি অবস্থার একটি সীমা রয়েছে যা অতিক্রম করা বৈধ নয়; যাতে অসম্পূর্ণতা ও চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে শর্তাবলির চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন অবস্থার মধ্যে পার্থক্য বজায় থাকে (৮২ খ)।
আর দাবিকে দুর্বলকারী (المضعفة) এবং দাবিকারীকে ভীতি প্রদর্শনের দাবি রাখে এমন বিষয়গুলোও ছয়টি।
তন্মধ্যে প্রথমটি হলো: বিবাদীর নিকট এমন একটি দলিল থাকা যাতে ন্যায়নিষ্ঠ (معدلون) সাক্ষীগণ উপস্থিত (৮৩ ক) থেকে এমন সাক্ষ্য প্রদান করেন যা দাবির অসারতা প্রমাণ করে। যেমন তারা বিবাদীর অনুকূলে দাবিকৃত বিষয়ের মালিকানার সাক্ষ্য দেবেন, অথবা তারা দাবিকারীর এমন স্বীকারোক্তির ওপর সাক্ষ্য দেবেন যে, সে যা দাবি করছে তাতে তার কোনো অধিকার নেই। অথবা তারা তার পিতার স্বীকারোক্তির ওপর সাক্ষ্য দেবেন—যাঁর থেকে মালিকানা স্থানান্তরের কথা সে উল্লেখ করেছে—যে, তার দাবিকৃত বিষয়ে কোনো অধিকার নেই। অথবা তারা বিবাদীর পক্ষে (৮৩ খ) সাক্ষ্য দেবেন যে, সে দাবিকৃত বিষয়ের বৈধ মালিক। ফলে এই সাক্ষ্যের মাধ্যমে তার দাবি বাতিল হয়ে যাবে এবং অভিযোগ প্রতিকার (মাজালিম) আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী তার অবস্থা বিবেচনা করে তাকে শিষ্টাচারমূলক শাস্তি প্রদান করা আবশ্যক হবে। যদি সে উল্লেখ করে যে, ক্রয়-বিক্রয়ের এই সাক্ষ্যটি বন্ধক বা বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে ছিল—যা মানুষ মাঝেমধ্যে করে থাকে—তবে ক্রয় দলিলে (৮৪ ক) লক্ষ্য করা হবে যে, সেখানে কি এটি বন্ধক বা বাধ্যবাধকতা নয় বলে উল্লেখ আছে কি না। যদি উল্লেখ থাকে, তবে কোনো সংশয় ছাড়াই এই দাবির সন্দেহ দুর্বল হয়ে পড়বে (ضعفت)। আর যদি উল্লেখ না থাকে, তবে এই দাবির সন্দেহ শক্তিশালী হবে। উভয় ক্ষেত্রেই পারিপার্শ্বিক প্রমাণের চাহিদা অনুযায়ী ভীতি প্রদর্শন করা হবে। অতঃপর প্রতিবেশী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে অনুসন্ধান করা হবে। যদি দলিলের বাহ্যিক (৮৪ খ) পাঠের বিপরীতে কোনো কিছু স্পষ্ট হয়, তবে সে অনুযায়ী আমল করা হবে। আর যদি কিছু স্পষ্ট না হয়, তবে ক্রয়-বিক্রয়ের সাক্ষীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী রায় কার্যকর করাই আলেমদের নিকট অধিক সঠিক ও উত্তম। যদি বিবাদী দাবিকারীকে এই মর্মে শপথ করাতে চায় যে, ক্রয়-বিক্রয়টি যথাযথ ছিল এবং তা বন্ধক বা বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে ছিল না, তবে তাকে শপথ করানোর বৈধতা নিয়ে ফকিহ ইমামগণ (৮৫ ক) মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টির সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে শপথ করানোর অনুমতি দিয়েছেন। আর ইমাম শাফেয়ি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে শপথ করানো থেকে বিরত থেকেছেন; কারণ তার পূর্ববর্তী স্বীকারোক্তি পরবর্তী দাবির পরিপন্থী।