(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: -)
تحقيق النصوص ونشرها   (عبد السلام هارون)

القسم: فهارس الكتب والأدلة


الكتاب: تحقيق النصوص ونشرها

المؤلف: عبد السلام محمد هارون (ت 1408هـ)

الناشر: مؤسسة الحلبي وشركاه للنشر والتوزيع

الطبعة: الثانية 1385هـ = 1965م

عدد الصفحات: 94

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও প্রকাশনা   (আবদুস সালাম হারুন)

বিভাগ: গ্রন্থ-তালিকা ও নির্দেশিকা


গ্রন্থ: পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও প্রকাশনা

লেখক: আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুন (মৃত্যু ১৪০৮ হিজরি)

প্রকাশক: আল-হালাবি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড পার্টনার্স ফর পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: দ্বিতীয় ১৩৮৫ হিজরি = ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمات

‌‌إهداء:

…

إهداء:

إلى ذكرى هؤلاء العلماء المحققين

أحمد تيمور باشا

أحمد زكي باشا

محمد محمود الشنقيطي

كانوا سدنة هذه الثقافة العربية الخالدة

وعاشوا حياتهم في سبيل صونها ورعايتها
ভূমিকা

উৎসর্গ:

…

উৎসর্গ:

এই সকল গবেষক আলেমদের স্মৃতির স্মরণে

আহমাদ তাইমুর পাশা

আহমাদ জাকি পাশা

মুহাম্মদ মাহমুদ আশ-শিনকীতি

তাঁরা ছিলেন এই শাশ্বত আরবি সংস্কৃতির অতন্দ্র প্রহরী

এবং তাঁরা এর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে নিজেদের জীবন অতিবাহিত করেছেন
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة الطبعة الأولى:

هذا التراث الضخم الذي آل إلينا من أسلافنا صانعي الثقافة الإسلامية الغربية، جدير بأن نقف أمامه وقفة الإكبار والإجلال، ثم نسمو برءوسنا في اعتزاز وشعور صادق بالفخر والغبطة والكبرياء.

إن هذه الصيحات التي يرددها دعاة الاستعمار الثقافي يبغون بها أن ننبذ هذا التراث ونطرحه وراءنا ظهريا، صيحة في واد. وكم لهم من محاولات يائسة يدورون بها ذات اليمين وذات الشمال، كي يهدموا هذا الصرح. ولكن تلك المحاولات لم تجد لها صدى إلا عند من أمكنهم أن يصفوا على أنفسهم ظل الاستعباد الثقافي، من ضعاف القلوب، وأرقاء التفكير.

حاولوا أن يقضوا على الكتابة العربية ليقطعوا ما بين حاضر العرب وماضيهم وألحوا في ذلك إلحاحًا متواصلًا فباءوا من بعد ذلك بالفشل. وجهدوا أن يحاربوا اللغة الفصيحة فنادوا أن ندع أهم خصيصة من خصائص العربية فنلغي إعراب الكلمات؛ لأن ذلك عبء ناءت به -فيما يزعمون- بعد القرون قرون! حاولوا ذلك فعادوا في خزي تعلوهم الخيبة!

أرادونا على أن نتخلص من مقاييس اللغة ومعاييرها فنقولها فوضى بلا نظام، فلم يستطيعوا أن يقسرونا على ذلك. وهم فيما بين ذلك يحاولون أن يضعوا من ثقتنا في هذا التراث الضخم، فلا يزالون يوجهون إليها المطاعن والمثالب، ويهونون من شأنه تهوينا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:

আমাদের পূর্বপুরুষগণ—যারা পশ্চিমা ইসলামী সংস্কৃতির রূপকার ছিলেন—তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত এই বিশাল ঐতিহ্য এমন এক সম্পদ যার সামনে বিনম্র শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে দাঁড়ানো আমাদের একান্ত কর্তব্য। অতঃপর অত্যন্ত গর্ব, অকৃত্রিম আত্মমর্যাদা এবং গভীর আনন্দের সাথে আমাদের মাথা উঁচু রাখা উচিত।

সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের প্রবক্তারা এই ঐতিহ্যকে বর্জন করতে এবং একে অবজ্ঞার সাথে পেছনে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য যে চিৎকার করে যাচ্ছে, তা আসলে অরণ্যে রোদন মাত্র। তারা এই সুউচ্চ অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য ডানে ও বামে কতই না নিষ্ফল প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু সেই সব প্রচেষ্টার কোনো প্রতিধ্বনি শোনা যায়নি, কেবল সেই সব দুর্বল হৃদয়ের অধিকারী ও সংকীর্ণমনা ব্যক্তিদের মাঝে ছাড়া, যারা নিজেদের ওপর সাংস্কৃতিক দাসত্বের ছায়া টেনে নিয়েছে।

তারা আরবের বর্তমানের সাথে অতীতের সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে আরবি লিখনপদ্ধতি বিলুপ্ত করার চেষ্টা করেছিল এবং এ ব্যাপারে ক্রমাগত জিদ ধরেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। তারা প্রমিত ও বিশুদ্ধ ভাষার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল এবং আরবির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ শব্দপ্রকরণ বা ইরাব বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছিল; কারণ তাদের দাবি অনুযায়ী এটি এমন এক বোঝা যা শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়ার পর এখন অত্যন্ত দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে! তারা এমনটি করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চরম হতাশা ও লাঞ্ছনা নিয়ে ফিরে এসেছে!

তারা চেয়েছিল আমরা যেন ভাষার মাপকাঠি ও মানদণ্ডগুলো বর্জন করি এবং একে বিশৃঙ্খল ও নিয়মহীনভাবে প্রকাশ করি, কিন্তু তারা আমাদের ওপর তা চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়নি। এরই মধ্যে তারা এই বিশাল ঐতিহ্যের ওপর আমাদের আস্থা কমিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা অনবরত এর প্রতি নানা দোষারোপ ও অপবাদ ছুড়ে দিচ্ছে এবং এর গুরুত্বকে অত্যন্ত তুচ্ছজ্ঞান করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ৬)
إن كل فكرة علمية جديرة بالاحترام، ولكن الفكرة المغرضة التي يبعثها الشر أو المنفعة الذاتية الصرفة، فكرة لا تستحق الاحترام، بل يحب مناهضتها والقيام في وجهها. أرادوا كثيرًا فسمعنا وقرأنا كثيرًا، ولكن ثقافتنا الإسلامية العربية ليست من الهون بحيث تحني الرأس لأمثال هذا الضعف المتخاذل. فالشكر الصادق لهؤلاء القوم الذين أيقظوا فينا ذلك الشعور بالعزة، ووجهونا أن نفتح عيوننا على تلك الكنوز التي تكشف لنا ولا تزال تتكشف.

وما أجدرنا -نحن القومة على الثقافة العربية- أن ننهض بعبء نشر ذلك التراث وتجليته، ليكون ذلك وفاء لعلمائنا، ووفاء لأنفسنا وأبنائنا.

وقد ناديت في مقدمة إحدى منشوراتي1 أن تلتزم كلياتنا الجامعية ذات الطابع الثقافي الإسلامي تكليف طلبة الدراسات العالية أن يقوم كل منهم بتحقيق مخطوط يمت بصلة إلى موضوع الرسالة التي يتقدم بها فقلت: "وإنه لما يثلج الصدر أن تتجه جامعاتنا المصرية اتجاها جديدا إزاء طلابها المتقدمين للاجازات العلمية الفائقة، إذ توجههم إلى أن يقدموا مع رسالاتهم العلمية تحقيقا لمخطوط يمت بصلة إلى موضوع الرسالة. وعسى أن يأتي اليوم الذي يكون فيه هذا الأمر ضريبة علمية لا بد من أدائها".

وإني لمؤمن أن سيأتي ذلك اليوم، فننعم بكثير من المتع الثقافية التي حالت بيننا وبينها هذه الحرب العلمية الظالمة.

وقد اختمرت عندي فكرة كتابة هذا البحث منذ خمس سنوات، وذلك حين ظفر كتابان من كتبي التي حققها بالجائزة الأولى للنشر والتحقيق العلمي سنة 1949-1950، فكنت من ذلك الحين أعاود الكتابة بين الفينة

--------------------------------------------

1 نوادر المخطوطات ص3 من المجلد الأول طبع لجنة التأليف سنة 1951. وإني لأشعر الآن بالغبطة إذ وجدت لتلك الدعوة صدى عميقا في أرجاء الجامعات بين أساتذتها وطلابها.
প্রতিটি তাত্ত্বিক ধারণা সম্মানের যোগ্য, কিন্তু মন্দ প্রবৃত্তি বা নিছক ব্যক্তিস্বার্থ থেকে উৎসারিত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধারণা সম্মানের যোগ্য নয়; বরং তার বিরোধিতা করা এবং তার সামনে রুখে দাঁড়ানো আবশ্যক। তারা অনেক কিছুই চেয়েছে, আমরাও অনেক কিছু শুনেছি ও পড়েছি, কিন্তু আমাদের ইসলামি আরবি সংস্কৃতি এত দুর্বল নয় যে, এ জাতীয় হীন হীনম্মন্যতার সামনে মাথা নত করবে। সুতরাং সেই সব লোকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, যারা আমাদের মধ্যে এই মর্যাদাবোধকে জাগ্রত করেছেন এবং আমাদের সেই সমস্ত রত্নভাণ্ডারের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন, যা আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত উন্মোচিত হচ্ছে।

আরবি সংস্কৃতির ধারক ও রক্ষক হিসেবে আমাদের জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত যে, আমরা সেই ঐতিহ্য প্রচার ও তা সুস্পষ্ট করার দায়িত্ব গ্রহণ করব, যাতে আমাদের পূর্বসূরি আলেমদের প্রতি এবং আমাদের নিজেদের ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি যথার্থ দায়বদ্ধতা পালিত হয়।

আমি আমার একটি প্রকাশনার ভূমিকায়১ আহ্বান জানিয়েছিলাম যে, আমাদের ইসলামি সাংস্কৃতিক ভাবধারার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুষদগুলো যেন উচ্চতর গবেষণার ছাত্রদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক করে যে, তারা প্রত্যেকে তাদের গবেষণাপত্রের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা করবে। আমি বলেছিলাম: "এটি অত্যন্ত চিত্তসুখকর যে, আমাদের মিশরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চতর ডিগ্রির আবেদনকারী ছাত্রদের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করছে; তারা ছাত্রদেরকে তাদের গবেষণাপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে। আশা করা যায় এমন দিন আসবে যখন এই বিষয়টি একটি অপরিহার্য জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্তব্য হিসেবে গণ্য হবে।"

আমি বিশ্বাস করি যে সেই দিন অবশ্যই আসবে, তখন আমরা সেইসব সাংস্কৃতিক নেয়ামতগুলো উপভোগ করতে পারব, যা থেকে এই অন্যায্য জ্ঞানতাত্ত্বিক যুদ্ধ আমাদের বঞ্চিত করে রেখেছিল।

এই গবেষণাটি লেখার চিন্তা আমার মধ্যে পাঁচ বছর আগে দানা বেঁধেছিল, যখন আমার সম্পাদিত বইগুলোর মধ্যে দুটি বই ১৯৪৯-১৯৫০ সালে বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ও সম্পাদনা বিভাগে প্রথম পুরস্কার লাভ করে। তখন থেকেই আমি মাঝে মাঝে পুনরায় লিখতে শুরু করি...

--------------------------------------------

১ নাওয়াদিরুল মাখতুতাত, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩, তালিফ কমিটি কর্তৃক ১৯৫১ সালে মুদ্রিত। আমি এখন অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছি যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে সেই আহ্বানের এক গভীর প্রতিধ্বনি খুঁজে পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ৭)
والأخرى، إلى أن كان صيف هذا العام، إذ اقترح الزميل الجليل الأستاذ أحمد الشايب أن أقوم بإلقاء عدة محاضرات في هذا الفن على طلبة "الماجستير" بكلية دار العلوم، فكانت هذه أول مرة في جامعاتنا المصرية الحديثة يعالج فيها هذا الضرب من تلك الدراسة الفنية، وكان للأستاذ الشايب بذلك فضل كبير في أن ترى كتابتي النور.

وعلمت أنه قد ألقيت من قبل في كلية الآداب بجامعتنا القديمة محاضرات تدور حول هذا الفن، ألقاها المستشرق الفاضل برجستراسر "BERGSTRAESSER" فحاولت جاهدًا أن أطلع على شيء منها فلم أوفق.

وأما بعد، فهذه ثمرة كفاح طويل، وجهاد صادق، وتجارب طال عليها المدى، ساعفتها عين ظلمة ناظرة إلى ما يصنع صاحبها وما يصنع الناس، فكان له من ذلك ذخر أمكنة أن يفتشه ويبحث في جنباته، ليرى وجه الحق فيما يرى، وأن يؤلف من ذلك كتابًا يعتز به ويغتبط اغتباطًا، إذ هو "أول كتاب عربي" يظهر في عالم الطبعة معالِجًا هذا الفن العزيز: فن تحقيق النصوص ونشرها.

إني إذ أقدم هذا البحث الجديد، أعلم علم اليقين أنه جهد متواضع، وأن شأنه كل كتابة جديدة قد يخطئها التوفيق في بعض الأمر، ويعوزها الكمال فإنه لم يخلق للبشر! ولكني مع ذلك مؤمن أني قد بذلت فيه جهدا معبرا عن أسرة التحقيق التي أرجوا أن يكثر عددها، كما كثر في ميدان العلم نفعها:

ومن الله العون، وبه التوفيق.

مصر الجديدة في غرة المحرم سنة 1374

30 من أغسطس سنة 1954
এবং অন্যটি, এই বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত, যখন শ্রদ্ধেয় সহকর্মী অধ্যাপক আহমদ আল-শায়িব প্রস্তাব করলেন যে আমি দারুল উলুম কলেজের ‘মাস্টার্স’ শিক্ষার্থীদের সামনে এই শিল্পের ওপর বেশ কিছু বক্তৃতা প্রদান করি। আমাদের আধুনিক মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই প্রথমবার এ ধরনের শৈল্পিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করা হলো। আর অধ্যাপক শায়িবের এতে বড় ধরনের অবদান রয়েছে যে আমার এই লেখা আলোর মুখ দেখল।

আমি জানতে পেরেছি যে, এর আগে আমাদের প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে এই শিল্পকে কেন্দ্র করে কিছু বক্তৃতা দেওয়া হয়েছিল, যা দিয়েছিলেন গুণী প্রাচ্যবিদ বার্গস্ট্রাসার (BERGSTRAESSER)। আমি খুব চেষ্টা করেছি সেগুলোর কিছু অংশ দেখার জন্য, কিন্তু সফল হতে পারিনি।

অতঃপর, এটি দীর্ঘ সংগ্রাম, ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং সুদীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতার ফসল; যাকে এমন এক গভীর পর্যবেক্ষণমূলক দৃষ্টি সহায়তা করেছে যা তার লেখক কী করছেন এবং মানুষ কী করছে তার প্রতি নিবদ্ধ ছিল। এর ফলে তার নিকট এমন এক ভাণ্ডার জমা হয়েছে যা সে অনুসন্ধান করতে এবং তার বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করতে সক্ষম হয়েছে, যাতে সে সত্যের স্বরূপ দেখতে পায়। আর তা থেকে এমন একটি গ্রন্থ রচনা করতে পেরেছে যা নিয়ে সে গর্ববোধ করে এবং অত্যন্ত আনন্দিত হয়; কারণ এটিই মুদ্রণ জগতে প্রকাশিত ‘প্রথম আরবি বই’ যা এই মূল্যবান শিল্প নিয়ে আলোচনা করেছে: পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও তা প্রকাশের শিল্প।

আমি যখন এই নতুন গবেষণাটি পেশ করছি, তখন আমি সুনিশ্চিতভাবে জানি যে এটি একটি বিনম্র প্রচেষ্টা। আর প্রতিটি নতুন লেখার মতো এটিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সফলতার সংকটে পড়তে পারে এবং এতে পূর্ণতার অভাব থাকতে পারে, কারণ পূর্ণতা তো মানুষের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি! তবে তা সত্ত্বেও আমি বিশ্বাস করি যে, আমি এতে এমন এক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি যা সেই পাণ্ডুলিপি সম্পাদক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে যাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশা রাখি, যেমনটি জ্ঞানচর্চার ময়দানে তাদের উপকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর মাধ্যমেই সাফল্য অর্জিত হয়।

নতুন মিশর, মহররম মাসের শুরুতে, ১৩৭৪ হিজরি

৩০ আগস্ট, ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية:

هذه هي الطبعة الثانية من "تحقيق النصوص ونشرها" أقدمها مغتبطًا بها وبما كان لسابقتها من صدى متواضع في أرضنا العربية بله بلاد المستشرقين الذين كتبوا إلى مهنئين، وإن كان بعض إخواننا الدمشقيين ممن كنا نتوسم فيه النجابة -زعم بضعف نفسه، وبما يشعر به أمثاله من ذلة علمية، أني لم أطلع على ما كتب المستشرقون، فوضع بذلك على هامتي إكليلا أعتز به، إذ أمكنني بعون الله وحده أن أضع علما متكاملا لم أسبق إليه، دون أن أتطفل على مائدة كثيرا ما وضع فيها للعرب صحافة مسمومة، وموائد أسلافنا العرب حافلة بالجهود الوثيقة، والأمانة العلمية المرموقة.

فمن تجارب هؤلاء العرب الأمناء في هذا المجال الأمين، ومن تجاربي الخاصة التي حاولت فيها ترسم خطاهم الطاهرة، زهاء أربعين عاما، ومما رأيت وسمعت في انتباه ويقظة، أمكنني في هذا المجال الذي حافظ على القرآن الكريم وهو ما هو، وأحاديث الرسول وهي ما هي، أن أتخلص من إسار سادة هؤلاء الضعفاء، الذين لا يضعون قدما على قدم حتى تصدر إليهم إشارة بإصبع من زعماء هذا الاستعمار الثقافي.

إن المستشرقين إخواننا وشركاؤنا، ولكن ليس من الحكمة ولا الكرامة في شيء أن تكون خطانا متأثرة بخطاهم في كل أمر من أمورنا الثقافية، وأن نستعير عقولهم في صغار الأذلاء، وقد منحنا الله القدرة وحسن الفهم والدرس لما كتب بلغننا وبوحي نفوسنا العربية.

وإن أعجب فإنه ليشتد عجبي ممن يتغنى بفضل سادته هؤلاء، وينكر فضل أخيه العربي، ثم يزعم لنفسه كتابا يستخلص مادته وألفاظه وتنسيقه من كتابي هذا!

عفا الله عنهن وألهمنا وإياه الهداية والتوفيق.

مصر الجديدة 19 من المحرم سنة 1380

20 من مايو سنة 1695

عبد السلام محمد هارون
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা:

এটি ‘তাহকীকুন নুসুস ওয়া নাশরুহা’ (মূল পাঠ্য সম্পাদনা ও প্রকাশনা) গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ। এর পূর্ববর্তী সংস্করণ আমাদের আরব ভূখণ্ডে এবং এমনকি প্রাচ্যবিদদের দেশেও—যারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে পত্র লিখেছেন—যে পরিমিত সাড়া পেয়েছে, তাতে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে আমি এটি পেশ করছি। যদিও আমাদের দামেস্কের কিছু ভাই, যাদের মাঝে আমি মেধা ও বিচক্ষণতা প্রত্যাশা করেছিলাম, তারা নিজদের হীনম্মন্যতা এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের মধ্যে বিরাজমান ইলমী দীনতার কারণে দাবি করেছেন যে, আমি প্রাচ্যবিদদের লেখালেখি সম্পর্কে অবগত নই। এর মাধ্যমে তারা প্রকৃতপক্ষে আমার মস্তকে এমন এক মর্যাদার মুকুট পরিয়ে দিয়েছেন যা নিয়ে আমি গর্ব করি। কারণ, আমি কেবলমাত্র আল্লাহর সাহায্যে এমন এক পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি যেখানে ইতিপূর্বে কেউ অগ্রসর হয়নি; এবং এটি করতে গিয়ে আমাকে সেই সব পাতের উচ্ছিষ্টভোগী হতে হয়নি যেখানে প্রায়শই আরবদের জন্য বিষাক্ত রচনাশৈলী পরিবেশন করা হয়েছে। অথচ আমাদের পূর্বসূরি আরবদের জ্ঞানভাণ্ডার অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রচেষ্টা এবং উচ্চমানের ইলমী আমানতদারিতে পরিপূর্ণ।

এই আমানতপূর্ণ ক্ষেত্রে সেই বিশ্বস্ত আরবদের অভিজ্ঞতা এবং আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা—যার মাধ্যমে আমি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে তাঁদের পবিত্র পদাঙ্ক অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি—এবং আমি যা অত্যন্ত সতর্কতা ও সচেতনতার সাথে দেখেছি ও শুনেছি, তার সাহায্যেই এই শাস্ত্রের ময়দানে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। এই শাস্ত্রই আল-কুরআনুল কারীম এবং রাসূলের হাদীসসমূহকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেছে। এর মাধ্যমেই আমি সেই সব দুর্বল চিত্তের মানুষের প্রভুদের দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে পেরেছি, যারা এই সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের নেতাদের আঙুলের ইশারা না পাওয়া পর্যন্ত এক পা-ও বাড়ায় না।

নিশ্চয়ই প্রাচ্যবিদরা আমাদের ভাই ও সহযোগী, কিন্তু এটি কোনোভাবেই প্রজ্ঞা বা মর্যাদার বিষয় নয় যে, আমাদের প্রতিটি সাংস্কৃতিক বিষয়ে আমাদের পদক্ষেপ তাঁদের পদাঙ্ক দ্বারা প্রভাবিত হবে এবং আমরা হীন ও লাঞ্ছিতদের মতো তাঁদের বুদ্ধি ধার করব। অথচ আল্লাহ আমাদের নিজস্ব ভাষায় এবং আমাদের আরবীয় সত্তার অনুপ্রেরণায় লিখিত বিষয়গুলো অনুধাবন ও অধ্যয়ন করার সক্ষমতা এবং উত্তম প্রজ্ঞা দান করেছেন।

আমার বিস্ময় তাদের প্রতি আরও বেড়ে যায়, যারা তাদের সেই প্রভুদের শ্রেষ্ঠত্বের গুণগান গায় অথচ নিজের আরব ভাইয়ের অবদানকে অস্বীকার করে; এরপর সে আবার এমন একটি বই নিজের নামে দাবি করে যার মূল উপাদান, শব্দাবলী এবং বিন্যাস আমার এই বই থেকেই গ্রহণ করা হয়েছে!

আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের ও তাদের হিদায়াত ও তাওফীক দান করুন।

মিসর আল-জাদিদাহ, ১৯ মহররম ১৩৮০ হিজরি

২০ মে ১৬৯৫ খ্রিস্টাব্দ

আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুন
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المتن:

‌‌كيف وصلت إلينا الثقافة العربية؟

…

كيف وصلت إلينا الثقافة العربية:

كانت الرواية الشفوية أول محاولة لنشر العلم، والرواية هي الطريقة البدائية للعلم عند جميع الشعوب، ولكن الرواية العربية اقتربت منذ اللحظة الأولى بالحرص البالغ، والدقة الكاملة والأمانة. كان هذا أساسها على الأقل؛ لأن الدين يدعو إلى ذلك؛ ولأن كثيرًا من نصوص الكتاب، وكثيرًا من النصوص السنة كان شاهدًا من شواهد التشريع، وآية من آيات الفتوى، فالتزم القوم الأمانة والحرص فيها حين يروون كلام الله وكلام الرسول، بل حين يروون أشعار الجاهليين والإسلاميين وأيامهم ووقائعهم إلى حد ما.

وكانت الكتابة شيئًا جديدًا، فالعرب كانوا قومًا أميين لم تنتشر الكتابة بينهم إلا بدعوة الإسلام وبصنع الإسلام، ففي أعقاب غزوة بدر كان من طرق مفاداة أسرى المشركين أن يعلم الأسير عشرة من المسلمين الكتابة، فكان "زيد بن ثابت" كاتب رسول الله أحد هؤلاء الذين علمهم الأسرى، تعلمها في جماعة من الأنصار الذين لم يكن فيهم من يحسن الكتابة، كما ذكر المقريزي1. وكان "أبي بن كعب" أول أنصار كتب للرسول، و"عبد الله بن سعد بن أبي سرح" أو من كتب له من قريش، وكان عدة من كتب لرسول الله زهاء أربعين كاتبا تكفل ابن سيد الناس2 بذكر أسماؤهم، وفي صدرهم الخلفاء الأربعة الراشدون.

--------------------------------------------

1 إمتاع الأسماع 1: 101.

2 عيون الأثر: 315-316.
মূলপাঠ:

আরবি সংস্কৃতি আমাদের কাছে কীভাবে পৌঁছেছে?

...

আরবি সংস্কৃতি আমাদের কাছে যেভাবে পৌঁছেছে:

মৌখিক বর্ণনা বা রিওয়ায়াত ছিল জ্ঞান প্রসারের প্রথম প্রচেষ্টা। সকল জাতির মধ্যেই জ্ঞান চর্চার আদি পদ্ধতি হলো মৌখিক বর্ণনা। তবে আরবি বর্ণনার ধারা প্রথম মুহূর্ত থেকেই অত্যন্ত সতর্কতা, পূর্ণ সূক্ষ্মতা ও আমানতদারিতার সাথে অগ্রসর হয়েছে। অন্তত এটিই ছিল এর ভিত্তি; কারণ দ্বীন এ দিকেই আহ্বান করে। তদুপরি কিতাবুল্লাহর বহু বক্তব্য এবং সুন্নাহর বহু বর্ণনা ছিল শরয়ী বিধানের প্রমাণ এবং ফতোয়া প্রদানের নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এই জাতি আল্লাহর কালাম এবং রাসূলের বাণী বর্ণনার ক্ষেত্রে চরম আমানতদারিতা ও সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এমনকি জাহেলী ও ইসলামি যুগের কবিতা এবং তাদের ইতিহাস ও ঘটনাবলী বর্ণনার ক্ষেত্রেও তারা একটি সীমা পর্যন্ত এটি মেনে চলেছে।

আর লিখন পদ্ধতি ছিল একটি নতুন বিষয়। আরবরা ছিল নিরক্ষর জাতি; ইসলামের দাওয়াত ও অবদানের মাধ্যমেই তাদের মাঝে লিখন পদ্ধতির প্রসার ঘটে। বদরের যুদ্ধের পর মুশরিক বন্দিদের মুক্তির একটি শর্ত ছিল এই যে, একজন বন্দি দশজন মুসলিমকে লিখতে শেখাবে। রাসূলুল্লাহর লেখক যায়েদ বিন সাবিত ছিলেন তাদেরই একজন যাদের বন্দিরা শিখিয়েছিলেন। তিনি একদল আনসারের সাথে এটি শিখেছিলেন যাদের মাঝে কেউ লিখতে জানতেন না, যেমনটি মাকরিজি উল্লেখ করেছেন১। আনসারদের মধ্যে উবাই বিন কাব সর্বপ্রথম রাসূলের জন্য লিখেছিলেন। আর কুরাইশদের মধ্যে সর্বপ্রথম লিখেছিলেন আবদুল্লাহ বিন সাদ বিন আবি সারহ। রাসূলুল্লাহর জন্য যারা লিখেছিলেন তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় চল্লিশজন লেখক, যাদের নাম উল্লেখ করার দায়িত্ব নিয়েছেন ইবন সাইয়্যিদুন নাস২। তাদের অগ্রভাগে ছিলেন চারজন খুলাফায়ে রাশিদীন।

--------------------------------------------

১. ইমতাউল আসমা ১: ১০১।

২. উয়ুনুল আসার: ৩১৫-৩১৬।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌أول نص مكتوب:

كان هؤلاء الكتاب يكتبون وحي القرآن، ولحق رسول الله بالرفيق الأعلى
প্রথম লিখিত পাঠ:

এই লেখকগণ কুরআনের ওহী লিপিবদ্ধ করতেন এবং আল্লাহর রাসূল সর্বোচ্চ মহান সান্নিধ্যে গমন করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ১০)
وقد كتبوا القرآن كله، لم يكتبوا من الحديث إلا قليلًا، استجابة لما ورد في حديث أبي سعيد الخدري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا تكتبوا عني شيئًا سوى القرآن، فمن كتب عني شيئًا سوى القرآن فليمحه". رواه مسلم في صحيحه.

والحكمة في هذا ظاهرة، وهي الخشية من أن يختلط الوحي بحديث الرسول في أثناء نزول الكتاب، فصدر هذا الأمر محافظة على هذا الغرض الكريم، وكان بلا ريب موقتا بنزول القرآن. على أن المحققين من المحدثين يرون أن هذا الحديث قد نسخ بأحاديث أخرى تبيح الكتابة1:

منها ما رواه البخاري ومسلم أن أبا شاه اليمني2 التمس من رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يكتب له شيئا سمعه من خطبته عام الفتح فقال: "اكتبوا لأبي شاه".

وروى أبو داود والحاكم وغيرها عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال: قلت يا رسول الله، إني أسمع منك الشيء فأكتبه؟ قال: نعم قال: في الغضب والرضا؟ قال: "نعم، فإني لا أقول فيهما إلا حقا".

وروى البخاري عن أبي هريرة قال: ليس أحد من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر حديثا مني، إلا ما كان من عبد الله بن عمرو؛ فإنه كان يكتب ولا أكتب.

وروى الترمذي ظن أبي هريرة قال: كان رجل الأنصار يجلس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فسمع منه الحديث فيعجبه ولا يحفظه فشكا

--------------------------------------------

1 الباعث الحثيث 147-149.

ويقال إنه كلبي، ويقال إنه فارسي وهاؤه أصلية ومعناه الملك. الإصابة 601 من باب الكنى.
তারা সম্পূর্ণ কুরআন লিপিবদ্ধ করেছিলেন, কিন্তু হাদীস সামান্যই লিখেছিলেন। এটি আবু সাঈদ খুদরী (রাযিআল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার পক্ষ থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখো না। যে ব্যক্তি কুরআন ব্যতীত আমার পক্ষ থেকে কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে।" ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

এর পেছনের হিকমত বা যৌক্তিকতা সুস্পষ্ট; আর তা হলো কিতাব (কুরআন) নাযিলের সময় ওহীর সাথে রাসূলের হাদীস মিশে যাওয়ার আশঙ্কা। তাই এই মহান উদ্দেশ্য রক্ষার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছিল এবং নিঃসন্দেহে এটি কুরআন নাযিল হওয়ার সময়কালের সাথে সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে হাদীস বিশারদ গবেষকগণ মনে করেন যে, এই হাদীসটি অন্যান্য হাদীস দ্বারা রহিত হয়ে গেছে যা হাদীস লেখার অনুমতি প্রদান করে ১:

তার মধ্যে একটি হলো যা বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, ইয়ামানী আবু শাহ ২ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে মক্কা বিজয়ের বছরের খুতবায় শোনা কিছু কথা লিখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন: "তোমরা আবু শাহের জন্য লিখে দাও।"

আবু দাউদ, হাকেম ও অন্যান্যরা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার কাছ থেকে যা শুনি তা কি লিখে রাখব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: রাগান্বিত এবং সন্তুষ্ট উভয় অবস্থায়? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, কারণ আমি উভয় অবস্থায় সত্য ছাড়া আর কিছু বলি না।"

বুখারী আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের মধ্যে আমার চেয়ে বেশি হাদীস বর্ণনাকারী আর কেউ নেই; কারণ তিনি লিখে রাখতেন এবং আমি লিখতাম না।

তিরমিযী আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যে: জনৈক আনসারী ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মজলিসে বসতেন এবং তাঁর থেকে হাদীস শুনতেন যা তাঁকে মুগ্ধ করত কিন্তু তিনি তা মুখস্থ রাখতে পারতেন না, ফলে তিনি অভিযোগ করলেন...

--------------------------------------------

১ আল-বা'ইস আল-হাছীছ ১৪৭-১৪৯।

২ বলা হয় যে তিনি কালবী গোত্রের, আবার বলা হয় যে তিনি পারস্যের। তাঁর নামের শেষের ‘হা’ বর্ণটি মূল অক্ষরের অন্তর্ভুক্ত এবং এর অর্থ হলো বাদশাহ। আল-ইসাবাহ ৬০১, কুনিয়া অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ১১)
ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "استعن بيمينك". وأومأ بيده إلى الخط.

ولما ولي الخلافة أبو بكر وكان ما كان من قتل القراء باليمامة عمد أبو بكر إلى جمع القرآن من صدور الرجال، ومن العسب والرقاع واللحاف والأكناف والأضلاع، فحفظ القرآن بذلك، وكان عمر بعده أول من جمع القرآن في مصحف. وتعدت مصاحف المسلمين حتى جمعهم عثمان على مصحف واحد، بعث إلى كل أفق بصورة منه.

لذلك نستطيع أن نقول: إن القرآن الكريم أول نص إسلامي مكتوب وصل إلينا.
সেটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করা হলো, তখন তিনি বললেন: "তোমার ডান হাতের সাহায্য নাও।" এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে লিখনের প্রতি ইশারা করলেন।

যখন আবু বকর খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এবং ইয়ামামার যুদ্ধে ক্বারীগণের শাহাদাতের ঘটনা ঘটল, তখন আবু বকর মানুষের অন্তর থেকে এবং খেজুরের ডাল, চামড়ার টুকরো, পাতলা পাথর, পশুর কাঁধের হাড় ও পাঁজরের হাড় থেকে কুরআন সংকলনের উদ্যোগ নিলেন। এর মাধ্যমে কুরআন সংরক্ষিত হলো। তাঁর পরে উমর ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি একটি মুসহাফে কুরআন সংকলন করেছিলেন। অতঃপর মুসলিমদের মুসহাফের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, পরিশেষে উসমান তাঁদেরকে একটি একক মুসহাফের ওপর একত্রিত করলেন এবং এর একটি করে অনুলিপি প্রতিটি দিগন্তে প্রেরণ করলেন।

এ কারণে আমরা বলতে পারি: নিশ্চয়ই কুরআনুল কারীম হলো আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রথম লিখিত ইসলামি পাঠ্য।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أوائل التصنيف:

ثم استفاض الإسلام واتسعت رقعته اتساعًا ظاهرًا في زمان الدولة الأموية، وأدى ذلك إلى اختلاط العرب بالأعاجم، ففسد اللسان، وكان طبيعيًّا أن يؤلف النحو وتوضع فيه أوائل الكتب، ويظل الحديث منأى عن الكتابة، إنما تعيه صدور الرواة وتكتبه قلة قليلة منهم في خوف وإشفاق، وتثور الفتن وتتفرع المذاهب وتكثر الفتاوى الدينية، فكان لا بد للناس من كتب في الدين يرجعون إليها لتكون لهم إماما، خشية أن يكون عمادهم أقوال مختلف العلماء ومذاهبهم التي قد توجهها الأهواء ونوازع السياسية والعصبية. فيدونون الحديث.

ويذكرون أن الخليفة عمر بن عبد العزيز ظل يستخير الله أربعين يوما في تدوين الحديث، وخار له الله، فأذن لأبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم في تدوين الحديث، فدون ما كان يحفظه في كتاب بعث به إلى الأمصار. وكان أبو بكر قاضيا وواليا على المدينة سنة 120.
সংকলনের সূচনা:

অতঃপর উমাইয়া শাসনামলে ইসলামের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটে এবং এর সীমানা স্পষ্টভাবে বিস্তৃত হয়। এর ফলে অনারবদের সাথে আরবদের সংমিশ্রণ ঘটে এবং ভাষাগত বিকৃতি দেখা দেয়। তখন ব্যাকরণশাস্ত্র (নাহু) সংকলন এবং এর প্রাথমিক গ্রন্থসমূহ রচিত হওয়া ছিল এক স্বাভাবিক বিষয়। তবে হাদীস তখনও লিখনী থেকে দূরে ছিল; বরং তা বর্ণনাকারীদের অন্তরে সংরক্ষিত ছিল এবং তাদের মধ্য থেকে অতি অল্প সংখ্যক লোক অত্যন্ত সতর্কতা ও ভয়ের সাথে তা লিপিবদ্ধ করতেন। এরপর নানামুখী ফিতনা প্রকাশ পায়, বিভিন্ন মাজহাবের উদ্ভব ঘটে এবং ধর্মীয় ফতোয়ার ছড়াছড়ি হতে থাকে। ফলে মানুষের জন্য দ্বীনি কিতাবাদি থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে যেগুলোকে তারা পথপ্রদর্শক হিসেবে অনুসরণ করতে পারে। এই আশঙ্কায় এটি করা হয় যে, তাদের ভিত্তি যেন কেবল বিভিন্ন আলেমদের বক্তব্য ও মাজহাবের ওপর হয়ে না দাঁড়ায়, যা প্রবৃত্তি এবং রাজনৈতিক ও গোত্রীয় সংকীর্ণতা দ্বারা পরিচালিত হতে পারে। অতঃপর তারা হাদীস সংকলন শুরু করেন।

বর্ণিত আছে যে, খলীফা উমর বিন আব্দুল আযীয হাদীস সংকলনের বিষয়ে চল্লিশ দিন পর্যন্ত আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর জন্য কল্যাণের ফয়সালা করেন। তখন তিনি আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন হাযমকে হাদীস সংকলনের অনুমতি প্রদান করেন। ফলে তিনি যা মুখস্থ করেছিলেন তা একটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন এবং তা বিভিন্ন জনপদে পাঠিয়ে দেন। আবু বকর ১২০ হিজরী সনে মদীনার বিচারক ও গভর্নর ছিলেন।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ১২)
ولم تزل جمهرة التابعين متورعة عن التدوين والتصنيف في الحديث، حتى تقلص ظل الدولة.

وكانت تظهر جهود أخرى في التأليف المبكر، تتمثل فيما ترجم لخالد بن يزيد بن معاوية من علوم اليونان، وما ألف هو من كتب في الطب والكيمياء، وما ألفه عبيد بن شرية لمعاوية من أخبار اليمن وأشعارها وأنسابها. وقد طبع هذا الكتاب في حيدر أباد سنة 1347 من رواية يظهر أنها لابن هشام. وما ألفه وهب بن منبه المتوفي سنة 110 من كتاب التيجان في ملوك حمير.

وقد طبع هذا الكتاب من رواية ابن هشام سنة 1347 من سابقه.

كما أدت إلينا الأخبار أن زياد بن أبيه وضع لابنه كتابا في مثالب العرب، وأن يونس بن سليمان وضع كتابا في الأغاني ونسبتها إلى المغنين، وأن ماسرجوية الطبيب، ترجم كتاب أهرب بن أعين من السريانية إلى العربية.

ويذكر ابن النديم1 أن كتابا كان موصوفا بحسن الخط، واسمه خالد ابن أبي الهياج، وكان سعد قد نصبه لكتابة المصاحف، كان يكتب الشعر والأخبار للوليد بن عبد الملك.

ثم تنهض الدولة العباسية وينهض معها التدوين، ويتحرر المحدثون من هذا الترمت، وتوضع مسانيد الحديث وكتبه في كل صقع: يؤلف سفيان بن عيينة ومالك بن أنس في المدينة، وعبد الله بن وهب بمصر، ومعمر وعبد الرزاق باليمن، وسفيان الثوري ومحمد بن فضيل بن غزوان بالكوفة، وحماد بن سلمة وروح بن عبادة بالبصرة، وهشيم بواسط، وعبد الله بن المبارك بخراسان، وتظهر الكتب في شتى الفنون الدينية مختفظة بالطابع الذي غلب على المحدثين، وهو إسناد الرواية إلى مؤلف الكتاب، وتسرى بين المؤلفين قواعد يلتزمونها في السماع والرواية، والقراءة على الشيخ والإجادة، والمكاتبة

--------------------------------------------

1 الفهرست 9.
তাবেঈগণের অধিকাংশ হাদিস সংকলন ও গ্রন্থ রচনার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতেন, যে পর্যন্ত না রাষ্ট্রের ছায়া সংকুচিত হলো।

প্রারম্ভিক গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে অন্যান্য কিছু প্রচেষ্টাও প্রকাশ পাচ্ছিল, যার উদাহরণ হলো গ্রিক বিজ্ঞান থেকে খালিদ বিন ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার জন্য যা অনুবাদ করা হয়েছিল এবং তিনি চিকিৎসা ও রসায়ন বিষয়ে যেসব গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এছাড়া উবাইদ বিন শারিয়া মুয়াবিয়ার জন্য ইয়ামানের ইতিহাস, কাব্য ও বংশপরম্পরা নিয়ে যে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এই বইটি ১৩৪৭ হিজরি সনে হায়দ্রাবাদে মুদ্রিত হয়েছিল, যা ইবনে হিশামের বর্ণনা বলে প্রতীয়মান হয়। সেই সাথে ওহাব বিন মুনাব্বিহ (মৃত্যু ১১০ হি.) রচিত হিমইয়ারের রাজাদের নিয়ে 'কিতাবুত তিজান' গ্রন্থটি।

এই গ্রন্থটিও পূর্বের মতো ১৩৪৭ হিজরি সনে ইবনে হিশামের বর্ণনা থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, জিয়াদ বিন আবিহি তার ছেলের জন্য আরবের দোষ-ত্রুটি নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, ইউনুস বিন সুলাইমান গান এবং গায়কদের সাথে তার সম্বন্ধ নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন এবং চিকিৎসক মাসারজাওয়াই সিরিয়াক ভাষা থেকে অহরব বিন আয়ুন-এর বইটি আরবিতে অনুবাদ করেছিলেন।

ইবনে নাদিম ১ উল্লেখ করেন যে, একজন লিপিকার সুন্দর হস্তাক্ষরের জন্য সুপরিচিত ছিলেন, যার নাম ছিল খালিদ ইবনে আবিল হাইয়াজ। সা’দ তাকে কুরআনুল কারিম লেখার জন্য নিযুক্ত করেছিলেন; তিনি ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের জন্য কবিতা এবং ইতিহাসও লিখে দিতেন।

অতঃপর আব্বাসীয় রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে এবং এর সাথে গ্রন্থ সংকলনেরও প্রসার ঘটে। মুহাদ্দিসগণ এই সতর্কতা থেকে মুক্ত হন এবং প্রতিটি অঞ্চলে হাদিসের মাসানিদ ও গ্রন্থসমূহ সংকলিত হতে থাকে। মদিনায় সুফিয়ান বিন উয়াইনা ও মালিক বিন আনাস, মিশরে আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহব, ইয়ামানে মা’মার ও আব্দুর রাজ্জাক, কুফায় সুফিয়ান সাওরি ও মুহাম্মদ বিন ফুদাইল বিন গাজওয়ান, বসরায় হাম্মাদ বিন সালামাহ ও রাওহ বিন উবাদাহ, ওয়াসিতে হুশাইম এবং খোরাসানে আব্দুল্লাহ বিন মুবারক গ্রন্থ রচনা করেন। দ্বীনি বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় এমন সব গ্রন্থ আত্মপ্রকাশ করে যা মুহাদ্দিসদের সেই প্রচলিত বৈশিষ্ট্য রক্ষা করত—অর্থাৎ গ্রন্থের লেখকের নিকট বর্ণনার সনদ নিরবচ্ছিন্ন রাখা। আর লেখকদের মধ্যে কিছু নিয়ম প্রচলিত হয় যা তারা শ্রবণ, বর্ণনা, শায়খের নিকট পাঠ, ইজাজাত এবং পত্রবিনিময়ের ক্ষেত্রে মেনে চলতেন।

--------------------------------------------

১ আল-ফিহরিস্ত ৯।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
والوجادة1. تسري هذه القواعد التي تكفك كتب مصطلح الحديث فيما بعد بتفصيلها وبيان شرائطها.

كان هذا كله مقرونًا بالحرص على الضبط والتصحيح، يقول ابن خلدون2 "732-808":

"وكانت هذه الرسوم بالمشرق والأندلس معبدة الطرق واضحة المسالك. ولهذا نجد الدواوين المنتسخة لذلك العهد في أقطارهم على غاية من الإتقان والإحكام والصحة، ومنها لهذا العهد بأيدي الناس في العالم أصول عتيقة تشهد ببلوغ الغاية لهم في ذلك، وأهل الآفاق يتناقلونها إلى الآن ويشدون عليها يد الضنانة. ولقد ذهبت هذه الرسوم لهذا العهد جملة بالمغرب وأهله لانقطاع صناعة الخط والضبط والرواية، بانتقاص عمرانه وبداوة أهله، وصارت الأمهات والدواوين تنسخ بالخطوط اليدوية، وتنسخها طلبة البربر صحائف مستعجمة برداءة الخط، وكثرة الفساد والتصحيف".

ثم يقول: "ويبلغنا لهذا العهد أن صناعة الرواية قائمة بالمشرق، وتصحيح الدواوين لمن يروم ذلك سهل على مبتغيه، لنفاق أسواق العلوم والصنائع كما نذكره بعد. إلا أن الخط الذي بقي من الإجادة في الانتساخ هنالك إنما هو للنجم وفي خطوطهم وأما النسخ بمصر ففسد كما فسد بالمغرب وأشد".

وهذا التسجيل يوضح ما كانت عليه الكتب إلى القرن الثامن الهجري، من الإسناد والضبط والتصحيح.

--------------------------------------------

1 الوجادة: أن يجد حديثا أو كتابا بخط شخص بإسناده، فله أن يرويه على سبيل الحكاية فيقول: وجدت بخط فلان، ويسنده. ولا تعد الوجادة رواية معتمدة، وإنما هي حكاية عما وجده في الكتاب. والعمل بها منعه طائفة كبيرة من الفقهاء والمحدثين، ونقل عن الشافعي وأصحابه جواز العمل بها. قال ابن الصلاح: وقطع بعض المحققين من أصحابه بوجوب العمل بها عند حصول الثقة به. قال ابن الصلاح: وهذا هو الذي لا يتجه غيره في الأعصار المتأخرة، لتعذر شرط الرواية في هذا الزمان. يعني فلم يبق إلا مجرد وجادات. انظر الباعث الحثيث ص 142.

2 المقدمة ص368.
এবং উইজাদাহ১। এই নিয়মগুলি যা মুসতালাহুল হাদিসের কিতাবসমূহ পরবর্তীতে বিস্তারিত বর্ণনা এবং এর শর্তাবলি স্পষ্ট করার মাধ্যমে আপনাকে যথেষ্ট সহায়তা করবে।

এই সব কিছুই নির্ভুলতা ও সংশোধনের প্রতি গভীর আগ্রহের সাথে যুক্ত ছিল। ইবনে খালদুন২ (৭৩২-৮০৮ হি.) বলেন:

"প্রাচ্য এবং আন্দালুসে এই রীতিগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত এবং পথগুলো স্পষ্ট ছিল। এই কারণে আমরা সেই যুগে তাদের অঞ্চলগুলোতে অনুলিপি করা পাণ্ডুলিপিগুলোকে অত্যন্ত নিপুণতা, সুদৃঢ়তা ও নির্ভুলতায় পরিপূর্ণ পাই। এর মধ্য হতে বর্তমান যুগেও মানুষের হাতে এমন কিছু প্রাচীন মূল কপি রয়েছে যা এই বিষয়ে তাদের চরম উৎকর্ষের সাক্ষ্য দেয়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখনও সেগুলো পরস্পর থেকে গ্রহণ করছে এবং সেগুলো হাতছাড়া না করার জন্য অত্যন্ত সযত্নে আঁকড়ে ধরছে। অথচ মাগরেব (পশ্চিম উত্তর আফ্রিকা) এবং তার অধিবাসীদের মাঝে বর্তমানে এই রীতিগুলো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কারণ সেখানে লিপি শিল্প, নির্ভুলতা ও বর্ণনার ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর কারণ হলো সেখানকার সভ্যতা হ্রাস পাওয়া এবং অধিবাসীদের যাযাবর জীবনধারা। ফলে মূল গ্রন্থ ও সংকলনগুলো সাধারণ হস্তলিপিতে অনুলিপি করা হতে থাকে এবং বার্বার ছাত্ররা সেগুলো অস্পষ্ট ও খারাপ হস্তাক্ষরে এবং প্রচুর ভুল ও বিকৃতি সহকারে অনুলিপি করতে শুরু করে।"

এরপর তিনি বলেন: "বর্তমান সময়ে আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, প্রাচ্যে বর্ণনার এই ধারা এখনও প্রতিষ্ঠিত আছে এবং যারা গ্রন্থগুলো সংশোধন করতে চায় তাদের জন্য তা সহজসাধ্য। কারণ সেখানে ইলম ও শিল্পের বাজার এখনও সরগরম, যা আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব। তবে সেখানে অনুলিপি করার ক্ষেত্রে যে চমৎকার লিখনশৈলী বাকি আছে তা মূলত বিশিষ্ট লিপিকারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর মিসরে অনুলিপি করার মান মাগরেবের মতোই নষ্ট হয়ে গেছে, বরং তার চেয়েও বেশি।"

এই বিবরণটি অষ্টম হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত কিতাবসমূহের সনদ, নির্ভুলতা ও সংশোধনের যে অবস্থা ছিল তা স্পষ্ট করে দেয়।

--------------------------------------------

১ উইজাদাহ: এর অর্থ হলো কারো হস্তাক্ষরে কোনো হাদিস বা কিতাব তার সনদসহ খুঁজে পাওয়া। এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি তা বর্ণনার ভঙ্গিতে এভাবে বর্ণনা করতে পারে: 'আমি অমুকের হস্তাক্ষরে পেয়েছি', অতঃপর সেটির সনদ উল্লেখ করবে। উইজাদাহ কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনা হিসেবে গণ্য হয় না, বরং এটি কিতাবে যা পাওয়া গেছে তার একটি বর্ণনা মাত্র। ফকিহ ও মুহাদ্দিসদের একটি বড় দল এর ওপর আমল করাকে নিষেধ করেছেন। তবে ইমাম শাফিঈ ও তাঁর অনুসারীদের থেকে এর ওপর আমল করা বৈধ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। ইবনে সালাহ বলেন: তাঁর (শাফিঈর) অনুসারীদের মধ্য হতে কোনো কোনো গবেষক আলেম নির্ভরযোগ্যতা অর্জিত হলে এর ওপর আমল করা আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে অটল মত দিয়েছেন। ইবনে সালাহ আরও বলেন: পরবর্তী যুগে এটি ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই, কারণ বর্তমান সময়ে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনার শর্ত পূরণ করা অসম্ভব। অর্থাৎ এখন কেবল উইজাদাহ-ই অবশিষ্ট আছে। দেখুন: আল-বায়েস আল-হাছীছ, পৃ. ১৪২।

২ আল-মুকাদ্দিমাহ, পৃ. ৩৬৮।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الورق والوراقون:

يذكر ابن النديم1 أن العرب كانت تكتب في أكتاف الإبل اللخاف وهي الحجارة البيض العريضة الرقاق، وفي العسب عسب النخل، وأنهم بعد ذلك كتبوا في الجلود المدبوغة. ويذكر أن الدباغة في أول الأمر كانت بالنورة وهي شديدة الجفاف، ثم كانت الدباغة الكوفية تدبغ بالتمر وفيها لين، ثم كتبوا في الورق الخراساني، وكان يعمل من الكتابن وحدث صنعه في أيام بني أميه وقيل في الدولة العباسية، وقيل إن صناعا من الصين عملوه بخراسان على مثال الورق الصيني الذي كان يصنع من الحشيشن ويذكر من أنواعه: السليماني، والطلحى، والنوحي، والفرعوني، والجعفري، والطاهري.

ويقول ابن خلدون: "وكانت السجلات أولا لانتساخ العلوم وكتب الرسائل السلطانية والإقطاعات والصكوك، في الرقوق المهيأة بالصناعة من الجلد، لكثرة الرفة وقلة التآليف صدر الملة، كما نذكره، وقلة الرسائل السلطانية والصكوك مع ذلك، فاقتصروا على الكتاب في الرق تشريفا للمكتوبات، ميلا بها إلى الصحة والاتقان. ثم طما بحر التأليف والتدوين وكثر ترسيل السلطان وصكوكه، وضاق الرق عن ذلك، فأشار الفضل بن يحيى بصناعة الكاغد وصنعته وكتب فيه رسائل السلطان وصكوكه، واتخذه الناس من بعده صحفا لمكتوباتهم السلطانية والعلمية وبلغت الإجادة صناعة ما شاءت".

ويسجل الجهشياري2 أن الورق كان مستعملًا بكثرة في أيام أبي جعفر المنصور، وأنه كان يجتلب من مصر، إذ لم تكن صناعة الورق قد أقيمت بغداد.

--------------------------------------------

1 الفهرست 21.

2 الوزراء والكتاب 138.
কাগজ ও কাগজ প্রস্তুতকারীগণ:

ইবনে নাদিম ১ উল্লেখ করেছেন যে, আরবরা উটের কাঁধের হাড়, ‘লিখাফ’ অর্থাৎ প্রশস্ত ও পাতলা সাদা পাথর এবং ‘আসিব’ অর্থাৎ খেজুরের ডাল বা পাতায় লিখত। এরপর তারা প্রক্রিয়াজাত চামড়ায় লিখতে শুরু করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার কাজে চুন ব্যবহার করা হতো যা অত্যন্ত শুষ্ক ছিল। পরবর্তীতে কুফি পদ্ধতিতে খেজুর দিয়ে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হতো, যাতে এক প্রকার কোমলতা ছিল। এরপর তারা খুরাসানি কাগজে লিখতে শুরু করে, যা তিসি বা শণ দিয়ে তৈরি করা হতো। এই কাগজ তৈরির কাজ উমাইয়াদের যুগে অথবা কারো মতে আব্বাসীয় যুগে শুরু হয়। বলা হয় যে, চীনের কারিগররা খুরাসানে চীনা কাগজের অনুকরণে এটি তৈরি করেছিলেন, যা ঘাস বা তন্তু থেকে প্রস্তুত করা হতো। তিনি এর কয়েকটি প্রকারভেদ উল্লেখ করেছেন: সুলাইমানি, তালহি, নুহি, ফিরআউনি, জাফারি এবং তাহিরি।

ইবনে খালদুন বলেন: "শুরুতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিলিপি তৈরি এবং সুলতানি চিঠিপত্র, জায়গিরের দলিল ও চুক্তিপত্র লেখার জন্য চামড়া থেকে কারিগরিভাবে তৈরি চর্মপট (রাক্ক) ব্যবহৃত হতো। এর কারণ ছিল ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে রচনার সংখ্যা এবং সুলতানি চিঠিপত্র ও দলিলাদির স্বল্পতা, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। তাই তারা লেখার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং স্থায়িত্ব ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চর্মপটে লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অতঃপর যখন গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের প্রসার ঘটল এবং সুলতানি চিঠিপত্র ও দলিলাদির আধিক্য দেখা দিল, তখন চর্মপট বা পার্চমেন্টের ব্যবহার অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ল। এমতাবস্থায় ফজল ইবনে ইয়াহইয়া কাগজ (কাগাদ) তৈরির পরামর্শ দেন এবং তা প্রস্তুত করেন। এরপর সুলতানি চিঠিপত্র ও দলিলাদি এতে লেখা হতে থাকে। পরবর্তীকালে মানুষ তাদের রাষ্ট্রীয় ও বৈজ্ঞানিক পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের জন্য একেই মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে এবং এই শিল্প অভাবনীয় উৎকর্ষ লাভ করে।"

আল-জাহশিয়ারি ২ উল্লেখ করেছেন যে, আবু জাফর আল-মনসুরের যুগে কাগজের ব্যবহার অত্যন্ত ব্যাপক ছিল এবং তা মিশর থেকে আমদানি করা হতো; কারণ সে সময় বাগদাদে কাগজ তৈরির শিল্প প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

--------------------------------------------

১ আল-ফিহরিস্ত ২১।

২ আল-উযারা ওয়াল কুততাব ১৩৮।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال: ووقف أبو جعفر على كثرة القراطيس في خزائنه، فدعا بصالح صاحب المصلى فقال له: إني أمرت بإخراج حاصل القراطيس في خزائننا فوجدته شيئًا كثيرًا جدًّا، فتول بيعه وإن تعط بكل طومار إلا دانقًا -الدانق سدس الدرهم فإن تحصيل ثمنه أصلح منه.

قال صالح: وكان الطومار في ذلك الوقت بدرهم. فانصرفت من خضرته على هذا، فلما كان في الغد دعاني فدخلت عليه فقال لي: فكرت في كتبنا وأنها قد جرت في القراطيس، وليس يؤمن حادث بمصر فتقطع القراطيس عنا بسببه، فنحتاج إلى أن نكتب فيما لم نعوده عمالنا، فدع القراطيس استظهارا على حالها.

ويعين ابن النديم فترة من الزمن في أيام الدولة العباسية كانت الناس فيها ببغداد لا يكتمون إلا في الطروس -والطرس في اللغة: الصحيفة تمحى ثم تكتب- وهذه الفترة هي سنون تلت نهب الناس للدواوين في أيام محمد بن زبيدة، وكانت الدواوين في جلود فكانت تمحى ثم يكتب فيها.

والظاهر أن العرب كانوا يكتبون في كل من الجلود والأوراق في عهد الدولة الأموية، وصدر صالح من عهد الدولة العباسية، وأن الورق لم يستعمل بكثرة ظاهرة إلا منذ أشار الفضل بن يحيى البرمكي بصناعة الكاغد.

ومن النصوص النادرة ما وجدنه في ترجمة الشافعي، في سير النبلاء للذهبي، أنه كان يكتب في الألواح والعظام.

ويذكر القلقشندي1 تعليلا للكتابة في الجلود، وهو قوله: "أجمع رأي الصحابة على كتابة القرآن في الرق لطول بقائه، أو لأنه الموجود عندهم حينئذ،

--------------------------------------------

1 صبح الأعشى 2: 486.
তিনি বললেন: আবু জাফর তাঁর কোষাগারে প্রচুর পরিমাণে কাগজের স্তূপ দেখতে পেলেন। এরপর তিনি মুসাল্লার দায়িত্বশীল সালিহকে ডেকে বললেন: ‘আমি আমাদের কোষাগারে থাকা কাগজপত্রের পরিমাণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিলাম এবং দেখলাম যে তা পরিমাণে অত্যন্ত বেশি। সুতরাং তুমি এগুলো বিক্রির দায়িত্ব নাও। প্রতিটি রোলের বিনিময়ে যদি তোমাকে এক দানিকও—দানিক হলো দিরহামের ছয় ভাগের এক ভাগ—দেওয়া হয়, তবে এর মূল্য সংগ্রহ করা এটি জমিয়ে রাখার চেয়ে উত্তম।’

সালিহ বলেন: সেই সময়ে একেকটি রোলের দাম ছিল এক দিরহাম। আমি তাঁর নিকট থেকে এই নির্দেশ নিয়ে বিদায় নিলাম। পরদিন তিনি পুনরায় আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করলে তিনি আমাকে বললেন: ‘আমি আমাদের নথিপত্র নিয়ে চিন্তা করলাম যে সেগুলো এই কাগজেই লেখা হয়। এদিকে মিশরে কোনো গোলযোগ ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যার ফলে আমাদের কাছে কাগজের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন আমাদের এমন কিছুতে লিখতে হবে যাতে আমাদের কর্মচারীরা অভ্যস্ত নয়। সুতরাং এই কাগজগুলো নিরাপত্তার খাতিরে যে অবস্থায় আছে সেভাবেই রেখে দাও।’

ইবনে নাদিম আব্বাসীয় আমলের এমন একটি সময়কাল নির্দিষ্ট করেছেন যখন বাগদাদের মানুষ কেবল ‘তরস’ ছাড়া অন্য কিছুতে লিখত না। আর অভিধানে ‘তরস’ বলতে এমন পৃষ্ঠাকে বোঝায় যা মুছে পুনরায় লেখা হয়। এই সময়কালটি ছিল মুহাম্মদ ইবনে জুবায়দার সময়ে দাপ্তরিক নথিপত্র লুণ্ঠনের পরবর্তী বছরগুলোতে। সেই নথিপত্রগুলো ছিল চামড়ার তৈরি, ফলে সেগুলো মুছে পুনরায় তাতে লেখা হতো।

প্রকাশ্যত প্রতীয়মান হয় যে, উমাইয়া খিলাফতের আমলে এবং আব্বাসীয় খিলাফতের প্রাথমিক যুগে আরবরা চামড়া ও কাগজ—উভয় মাধ্যমেই লিখত। তবে ফজল ইবনে ইয়াহইয়া আল-বারমাকি ‘কাগজ’ তৈরির পরামর্শ দেওয়ার আগ পর্যন্ত কাগজের ব্যবহার ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হয়নি।

একটি দুর্লভ বর্ণনা ইমাম শাফিঈর জীবনীতে পাওয়া যায়—যা আয-যাহাবির ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে—তা হলো, তিনি তক্তি ও হাড্ডিতে লিখতেন।

আল-কালকাশান্দি (১) চামড়ায় লেখার একটি কারণ দর্শিয়ে বলেন: “সাহাবায়ে কিরামের ঐকমত্য ছিল কুরআনের পাণ্ডুলিপি পাতলা চামড়ায় লিপিবদ্ধ করার ওপর; দীর্ঘকাল স্থায়িত্বের কারণে অথবা সেই সময়ে এটিই তাঁদের নিকট সহজলভ্য ছিল।”

--------------------------------------------

১. সুব্হুল আশা ২: ৪৮৬।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
وبقي الناس على ذلك إلى أن ولي الرشيد الخلافة وقد كثر الورق، وفشا بين الناس، فأمر ألا يكتب الناس إلا في الكاغد؛ لأن الجلود ونحوها تقبل المحو والإعادة، فتقبل التزوير، بخلاف الورق فإنه متى محي فيه فسد، وإن كشط ظهر كشطه. وانتشرت الكتابة في الورق إلى سائر الأقطار، وتعاطاها من قرب ومن بعد".

مع ذلك ظل عِلْيةَ القوم يستعملون الجلود ويأنفون من الكتابة في الورق. وقد سجل الجاحظ في رسالة الجد والهزل1 التي ساقها إلى محمد بن عبد الملك بن الزيات، نقد محمد له في استعماله الورق وإهماله الجلود، ورده عليه فقال: "وما عليك أن تكون كتبي كلها من الورق الصيني ومن الكاغد الخرساني؟ قل لي: لم زينت النسخ في الجلود، ولم حثثتني على الأدم وأنت تعلم أن اجلود جافية الحجم، ثقيلة الوزن، إن أصابها الماء بطلت، وإن كان يوم لنق استرخت ولو لم يكن فيها إلا أنها تبغض إلى أربابها نزول الغيث، وتكره إلى مالكيها الحيا لكان في ذلك ما كفى ومنع منها. وقد علمت أن الوراق لا يخط في تلك الأيام سطرا، ولا يقطع فيها جلدا … وهي أنتن ريحا وأكثر ثمنا وأحمل للغش، يغش الكوفي بالواسطي، والواسطي بالبصري … ولو أراد صاحب علم أن يحمل منها قدر ما يكفيه في سفره لما كفاه حمل بعير، ولو أراد مثل ذلك من القطني لكفاه ما يحمل مع زاده.

وقلت لي: عليك بها فإنها أحمل للحك والتغيير، وأبقى على تعاور العارية وعلى تقليب الأيدي، ولرديدها ثمنن ولطرسها مرجوع … وليس لدفاتر القطني أثمان في السوق وإن كان فيها كل حديث طريف، ولطف مليح، وعلم نفيس. وقلت: وعلى الجلود يعتمد في حساب الدواوين وفي الصكاك والعهود،

--------------------------------------------

1 رسالة الجاحظ 1: 252-253 تحقيق عبد السلام هارون.
মানুষ এই অবস্থার উপরেই ছিল যতক্ষণ না রশিদ খিলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন; তখন কাগজের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং মানুষের মাঝে তা ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে তিনি নির্দেশ দিলেন যে, মানুষ যেন কেবল কাগজে (কাগাদ) ব্যতীত অন্য কিছুতে না লেখে; কারণ চামড়া এবং এই জাতীয় বস্তু মোছা এবং পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী ছিল, যা জালিয়াতির সুযোগ তৈরি করত। অন্যদিকে কাগজের বিষয়টি ভিন্ন; এতে যখনই কিছু মোছা হয় তখনই তা নষ্ট হয়ে যায়, আর যদি চেঁছে ফেলা হয় তবে সেই ঘর্ষণের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অতঃপর কাগজের লিখন পদ্ধতি সমস্ত দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ল এবং নিকট ও দূরের সবাই এটি ব্যবহার করতে শুরু করল।

এতৎসত্ত্বেও সমাজের উচ্চবিত্তরা চামড়া ব্যবহার অব্যাহত রেখেছিল এবং কাগজে লিখতে তারা ঘৃণা বোধ করত। আল-জাহিজ তাঁর 'রিসালাতুল জিদ্দি ওয়াল হাযল' (১)-এ যা তিনি মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন আল-যাইয়্যাতের নিকট লিখেছিলেন, মুহাম্মদ কর্তৃক তাঁর কাগজের ব্যবহার ও চামড়া বর্জনের সমালোচনা এবং এর বিপরীতে তাঁর উত্তর লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমার সকল বই চীনা কাগজে বা খুরাসানি কাগজে হলে তোমার তাতে কী আসে যায়? আমাকে বলো: কেন তুমি চামড়ার প্রতিলিপিগুলোকে সুশোভিত করেছ এবং কেন আমাকে চামড়া ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করছ? অথচ তুমি জানো যে, চামড়া আকারে স্থূল, ওজনে ভারী; যদি এতে পানি লাগে তবে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং যদি স্যাঁতসেঁতে দিন হয় তবে তা ঢিলেঢালা হয়ে যায়। যদি এতে অন্য কোনো দোষ নাও থাকত, কেবল এর কারণে এর মালিকদের নিকট বৃষ্টিপাত অপছন্দনীয় হয়ে ওঠা এবং তারা বৃষ্টিকে ঘৃণা করা—এটুকুই একে বর্জনের জন্য যথেষ্ট ছিল। তুমি তো জানো যে, এই দিনগুলোতে লেখক এক লাইনও লিখতে পারে না এবং এক টুকরো চামড়াও কাটতে পারে না … এটি দুর্গন্ধযুক্ত, অধিক মূল্যবান এবং এতে প্রতারণার সুযোগ বেশি থাকে; যেমন কুফী চামড়াকে ওয়াসিতী হিসেবে এবং ওয়াসিতী চামড়াকে বসরী হিসেবে চালিয়ে দিয়ে প্রতারণা করা হয় … যদি কোনো বিদ্বান ব্যক্তি সফরে তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ চামড়ার বই বহন করতে চায়, তবে একটি উটের বোঝাও তার জন্য যথেষ্ট হবে না; অথচ তুলার কাগজ (কুতনি) হলে তার পাথেয় বা সফরের রসদের সাথেই তা বহন করা সম্ভব হতো।

আর তুমি আমাকে বলেছ: তুমি চামড়া আঁকড়ে ধরো, কারণ এটি ঘর্ষণ ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অধিক সহনশীল, আর এটি ধার দেওয়া বা হাতবদলের ক্ষেত্রে অধিক টেকসই; এর পুরনো পাণ্ডুলিপিরও বিনিময় মূল্য আছে এবং এর ঘষে পরিষ্কার করা পাতারও চাহিদা রয়েছে … অথচ বাজারের খাতায় তুলার কাগজের কোনো মূল্য নেই, যদিও তাতে প্রতিটি চমৎকার নতুন বিবরণ, সূক্ষ্ম মাধুর্য এবং মূল্যবান জ্ঞান বিদ্যমান থাকে। তুমি আরও বলেছ: দাপ্তরিক হিসাব-নিকাশ, দলিলপত্র এবং চুক্তিপত্রের ক্ষেত্রে চামড়ার ওপরই নির্ভর করা হয়,

--------------------------------------------

১. রিসালাতুল জাহিজ ১: ২৫২-২৫৩, সম্পাদনা: আব্দুস সালাম হারুন।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
وفي الشروط وصور العقارات، وفيها تكون نموذجات للنقوش، ومنها تكون خرائط البرد، وهن أصلح للجرب، ولعفاص الجرة، وسداد القارورة. وزعمت أن الأرضة إلى الكاغد أسرع، وأنكرت أن تكون الفأرة إلى الجلود أسرع، بل زعمت أنها الكاغد أسرع وله أفسد، فكنت سبب المضرة في اتخاذ الجلود والاستبدال والكاغد، وكنت سبب البلية في تحويل الدفاتر الخفاف في المحمل إلى المصاحف التي تثقل الأيدي، وتحطم الصدور، ونقوش الظهور، وتعمى الأبصار".

ويقول الجاحظ في الحيوان1: "وقيل لابن داحة وأخرج كتاب أبي الشمقمق، وإذا هو في جلود كوفية ودفتين طائفيتين بخط عجيب، فقيل له: لقد أضيع من تجود بشعر أبي الشمقمق! فقال: لا حرم والله، وإن العلم ليعطيكم على حساب ما تعطونه، ولو استطعت أن أودعه سويداء قلبي أو أجعله محفوظا على ناظري لفعلت! ".

فهذا كله آية على أن الجلودكانت مستعملة في العراق وما جاوره في كتابة دواوين العلم، إلى القرن الثالث الهجري، ودليل على أن الورق لم يحل محلها بصفة قاطعة.

ويروون أن الشافعي كان كثيرًا ما يكتب الرسائل على العظام لقلة الورق2. أما في مصر فإن ورق البردي كان هو المادة الشائعة في الكتابة إلى أن حلت الجلود ثم الأوراق محلها.

الوراقون:

فرغنا من الحديث في الورق، ثم نفرغ للكلام على الوراقين.

--------------------------------------------

1 الحيوان 1: 61.

2 المطالع النصرية ص18.
এবং শর্তাবলি ও স্থাবর সম্পত্তির দলিলাদিতে, যেখানে নকশার নমুনা থাকে এবং যেখান থেকে শীতলকারী পটি (বা মানচিত্র) তৈরি হয়, আর সেগুলো খোস-পাঁচড়া, কলসীর মুখ এবং বোতলের ছিপির জন্য অধিকতর উপযোগী। আপনি দাবি করেছেন যে, কাগজের প্রতি উইপোকা অধিক দ্রুত আকৃষ্ট হয় এবং আপনি এটি অস্বীকার করেছেন যে চামড়ার প্রতি ইঁদুর বেশি দ্রুত ধাবিত হয়; বরং আপনি মনে করেছেন যে ইঁদুর কাগজের প্রতিই অধিক ক্ষিপ্র এবং এর জন্য অধিক ক্ষতিকর। ফলে আপনি চামড়া গ্রহণ ও তা বর্জন করে কাগজের ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হয়েছেন। আর আপনি বাহনের হাওদায় বহনযোগ্য হালকা খাতাগুলোকে এমন ভারী গ্রন্থে রূপান্তরিত করার বিপত্তির কারণ হয়েছেন যা হাতকে ক্লান্ত করে, বুককে পিষ্ট করে, পিঠকে কুঁজো করে দেয় এবং দৃষ্টিশক্তিকে ক্ষীণ করে ফেলে।

আল-জাহিয ‘আল-হায়াওয়ান’-এ বলেন১: “ইবনে দাহাকে বলা হলো, এমতাবস্থায় তিনি আবুল শামাকমাক-এর কিতাব বের করলেন; দেখা গেল তা কুফী চামড়ায় এবং তায়েফী দুই মলাটের মাঝে চমৎকার হস্তাক্ষরে লিখিত। তাকে বলা হলো: আপনি আবুল শামাকমাক-এর কবিতার মানোন্নয়ন করে একে নষ্ট করেছেন! তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, কক্ষনো নয়! জ্ঞান তোমাদের ততোটুকুই প্রদান করে যতটুকু তোমরা তাকে প্রদান করো। আমি যদি একে আমার হৃদপিণ্ডের অন্তঃস্থলে ধারণ করতে পারতাম অথবা আমার চোখের মনিতে সংরক্ষিত করে রাখতে পারতাম, তবে অবশ্যই আমি তা-ই করতাম!”

এসবই এই কথার নিদর্শন যে, হিজরি তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত ইরাক ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ইলমি সংকলনসমূহ লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে চামড়ার ব্যবহার প্রচলিত ছিল এবং এটি এই বিষয়েরও দলিল যে, কাগজ তখনও চূড়ান্তভাবে চামড়ার স্থলাভিষিক্ত হয়নি।

বর্ণিত আছে যে, ইমাম শাফিঈ কাগজের স্বল্পতার কারণে প্রায়শই হাড়ের ওপর পত্র ও বার্তা লিখতেন২। পক্ষান্তরে মিশরে প্যাপাইরাস কাগজই ছিল লেখার প্রচলিত মাধ্যম, যতক্ষণ না চামড়া এবং পরবর্তীতে কাগজ তার স্থান দখল করে নেয়।

পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকারকগণ (আল-ওয়াররাকুন):

আমরা কাগজের আলোচনা সমাপ্ত করেছি, অতঃপর আমরা পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকারকদের বিষয়ে আলোচনার অবতারণা করব।

--------------------------------------------

১ আল-হায়াওয়ান ১: ৬১।

২ আল-মাতালিউন নাসরিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৮।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد عقد ابن خلدون لهم فضلا في مقدمته1 بسط فيه صناعتهم فقال: كانت العناية قديما بالدواوين العلمية والسجلات في نسخها وتجليدها وتصحيحها بالرواية والضبط، وكان سبب ذلك ما وقع من ضخامة الدولة وتوابع الحضارة، وقد ذهب العهد بذهاب الدولة وتقلص العمران، بعد أن كان منه في الملة الإسلامية بخر زاخر بالعراق والأندلس، إذ هو كله من توابع العمران واتساع نطاق الدولة، ونفاق أسواق ذلك لديهما، فكثر التآليف العليمة والدواوين، وحرص الناس على تناقلها في الآفاق والأمصار، فانتسخت وجلدت، وجاءت صناعة الوراقين المعانين للانتساخ والتصحيح والتجليد وسائر الأمور الكتبية والدواوين، واختصت بالأمصار العظيمة العمران".

ويفهم من هذا أن الوراقة جاءت تابعة لقوة الدولة واتساع الحضارة، وأن الوراقين كان لهم مكان في الأمصار العظيمة والبلدان الكبيرة، فهم بمثابة المطابع الحديثة التي تحتل أمصار بلادنا الآن. وكانت مهمتهم موزعة بين الانتساخ، والتصحيح، والتجليد، والتذهيب، وكل ما يمت إلى صناعة الكتب بصلة".

وكانت لهم أسواق في بعض الأمصار، كانت بمثابة المعاهد العلمية وجاءت في فهرست ابن النديم2 عن ابن دريد قال: "رأيت رجلا في الوراقين بالبصرة يقرأ كتاب المنطق لابن السكيت".

وكانت صناعة هؤلاء الوراقين رائجة رواجا. فالجاحظ3 يذكر أن يحيى بن خالد البرمكي لم يكن في خزانة كتبه كتاب إلا وله "ثلاث نسخ".

--------------------------------------------

1 المقدمة 367-368.

2 الفهرست ص82.

3 الحيوان 1: 60.
ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমায়১ তাদের বিষয়ে একটি অনুচ্ছেদ উৎসর্গ করেছেন যেখানে তিনি তাদের পেশা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "প্রাচীনকালে জ্ঞানতাত্ত্বিক সংকলন ও দলিলাদির অনুলিপি তৈরি, বাঁধাই এবং বর্ণনা ও নির্ভুলতার মাধ্যমে সংশোধনের বিষয়ে বিশেষ যত্ন নেওয়া হতো। এর কারণ ছিল রাষ্ট্রের বিশালতা ও সভ্যতার অনুষঙ্গসমূহ। রাষ্ট্র ও নগর সভ্যতার পতনের সাথে সাথে সেই যুগও অতিবাহিত হয়েছে, যদিও ইসলামি মিল্লাতের অধীনে ইরাক ও আন্দালুসে এর এক বিশাল সমুদ্র বিদ্যমান ছিল। কারণ এ সবই ছিল নগর সভ্যতা ও রাষ্ট্রের পরিধি বিস্তৃতির ফল এবং সেখানে এগুলোর বাজারের ব্যাপক চাহিদা ছিল। ফলে জ্ঞানতাত্ত্বিক রচনা ও সংকলন বৃদ্ধি পায় এবং মানুষ দিগ্বিদিক ও বিভিন্ন জনপদে সেগুলো আদান-প্রদান করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এরপর সেগুলো অনুলিপি ও বাঁধাই করা শুরু হয় এবং ওয়াররাকদের পেশার উদ্ভব ঘটে, যারা অনুলিপি করা, সংশোধন করা, বাঁধাই করা এবং বই ও সংকলন সংক্রান্ত অন্যান্য কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এটি মূলত বৃহৎ নগর সভ্যতা সমৃদ্ধ শহরগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল।"

এর থেকে বোঝা যায় যে, ওয়াররাকা বা গ্রন্থ নির্মাণ শিল্প ছিল রাষ্ট্রের শক্তি ও সভ্যতার বিস্তারের অনুগামী। বড় বড় শহর ও জনপদে ওয়াররাকদের একটি বিশেষ স্থান ছিল। তারা বর্তমান যুগের আধুনিক ছাপাখানাগুলোর স্থলাভিষিক্ত ছিল, যা বর্তমানে আমাদের দেশের শহরগুলোতে বিদ্যমান। তাদের কাজ অনুলিপি করা, সংশোধন করা, বাঁধাই করা, স্বর্ণখচিত করা এবং বই তৈরির শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কাজের মধ্যে বিন্যস্ত ছিল।

কিছু শহরে তাদের নিজস্ব বাজার ছিল, যা জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠানের সমতুল্য ছিল। ইবনুন নাদিমের ফিহরিস্ত২ গ্রন্থে ইবনে দুরাইদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি বসরার ওয়াররাকদের বাজারে এক ব্যক্তিকে ইবনুস সিক্কীতের যুক্তিবিদ্যার কিতাব পড়তে দেখেছি।"

এই ওয়াররাকদের পেশা অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। আল-জাহিয৩ উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াহইয়া বিন খালিদ আল-বারমাকীর কুতুবখানায় এমন কোনো বই ছিল না যার "তিনটি করে অনুলিপি" ছিল না।

--------------------------------------------

১ মুকাদ্দিমা ৩৬৭-৩৬৮।

২ আল-ফিহরিস্ত পৃ. ৮২।

৩ আল-হায়াওয়ান ১: ৬০।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
ويذكر المقريزي أنه كان في خزانة العزيز بالله 30 نسخة من كتاب العين و100 نسخة من الجمهرة. وأنه كان في خزانة كتب الفاطميين 1200 نسخة من تاريخ الطبري1.

وكان العلماء يستعينون بالوراقين في التآليف.

قال أبو بريدة الوضاحي2: أمر أمير المؤمنين المأمون الفراء أن يؤلف ما يجمع به أصول النحو، وما سمع من العرب، فأمر أن تفرد له حجرة من حجر الدار، ووكل بها جواري وخدما للقيام بما يحتاج إليه، حتى لا يتعلق قلبه ولا تتشوف نفسه إلى شيء، حتى إنهم كانوا يؤذنونه بأوقات الصلاة، وصبر له الوراقين يكتبون، حتى صنف كتاب الحدود.

وكانت ثقة القوم بالوراقين نازلة، لأنهم لم يكونوا في الغالب من العلماء أو من أهل الرواية، بل هم أهل صناعة وتكسب. وقد عرف الطعن فيهم قديما. قال ثعلب3 في الكلام على كتاب العين: "وقد حشا الكتاب أيضا قوم علماء، إلا أنه لم يؤخذ منهم رواية، ت وإنما وجد بنقل الوراقين، فاختل الكتاب لهذه الجهة".

ومن أوائل هؤلاء الوراقين خالد بن أبي الهياج الذي سلف ذكره في فصل أوائل التصنيف، كان موصوفا بحسن الخط، قال ابن النديم: "وهو الذي كتب الكتاب الذي قبله مسجد النبي صلى الله عليه وسلم بالذهب من: "الشَّمْسِ وَضُحَاهَا" إلى آخر القرآن. فيقال إن عمر بن عبد العزيز قال: "أريد أن تكتب لي مصحفا على هذا المثال". فكتب له مصحفا تنوق فيه، فأقبل

--------------------------------------------

1 المزهر 1: 87.

2 معجم الأدباء 20: 12.

3 المقريزي 2: 253-255.
আল-মাকরিজি উল্লেখ করেন যে, আজিজ বিল্লাহর কিতাবখানায় 'কিতাবুল আইন'-এর ৩০টি পাণ্ডুলিপি এবং 'আল-জামহারা'-র ১০০টি পাণ্ডুলিপি ছিল। আর ফাতেমীয়দের গ্রন্থাগারে 'তারিখুত তাবারি'-র ১২০০টি পাণ্ডুলিপি ছিল১।

আলেমগণ গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে লিপিকারদের সাহায্য নিতেন।

আবু বুরাইদাহ আল-ওয়াদাহি২ বলেন: আমিরুল মুমিনীন আল-মামুন আল-ফাররাকে নির্দেশ দিলেন এমন একটি গ্রন্থ রচনা করতে যা নাহুর (ব্যাকরণ) মূলনীতি এবং আরবদের থেকে যা শোনা গেছে তা সংকলন করবে। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলেন যেন তার জন্য প্রাসাদের একটি কক্ষ পৃথক করা হয় এবং তার যাবতীয় প্রয়োজন মেটানোর জন্য দাসী ও খাদেম নিযুক্ত করেন, যাতে তার মন অন্য কোনো দিকে ধাবিত না হয়। এমনকি তারা তাকে নামাজের সময় সম্পর্কে অবহিত করত। তিনি তার জন্য লিপিকারদের নিয়োজিত করেন যারা লিখে রাখতেন, এভাবে তিনি 'কিতাবুল হুদুদ' রচনা করেন।

লিপিকারদের ওপর আলেমদের আস্থা ছিল কম, কারণ তারা সাধারণত আলেম বা বর্ণনাকারী ছিলেন না; বরং তারা ছিলেন পেশাজীবী ও উপার্জনকারী। প্রাচীনকাল থেকেই তাদের সমালোচনা করা হয়েছে। ছা’লাব৩ 'কিতাবুল আইন' সম্পর্কে বলেন: "একদল আলেমও এই গ্রন্থে অনেক কিছু সংযোজন করেছেন, তবে তাদের থেকে কোনো বর্ণনা গৃহীত হয়নি; বরং এটি লিপিকারদের অনুলিপির মাধ্যমেই পাওয়া গেছে, ফলে এই কারণে গ্রন্থটিতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে।"

এই লিপিকারদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খালিদ বিন আবি আল-হাইয়াজ, যার কথা ইতিপূর্বে কিতাব রচনার সূচনালগ্ন সংক্রান্ত অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে। তিনি সুন্দর হস্তাক্ষরের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। ইবনুন নাদিম বলেন: "তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদের কিবলার দিকে স্বর্ণাক্ষরে 'আশ-শামস ওয়াদ দুহাহা' থেকে কুরআনের শেষ পর্যন্ত লিখেছিলেন। বর্ণিত আছে যে, উমর বিন আব্দুল আজিজ বলেছিলেন: 'আমি চাই তুমি আমার জন্য এই আদলে একটি মুসহাফ লিখে দাও।' অতঃপর তিনি তার জন্য অত্যন্ত সুনিপুণভাবে একটি মুসহাফ লিখে দেন, যা তিনি গ্রহণ করেন।"

--------------------------------------------

১ আল-মুযহির ১: ৮৭।

২ মু'জামুল উদাবা ২০: ১২।

৩ আল-মাকরিজি ২: ২৫৩-২৫৫।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ২০)
عمر يقلبه ويستحسنه واستكثر ثمنه فرده عليه.

ومنهم مالك بن دينار السامي، مولى بن سامة بن لؤي، أبو يحيى البصري الزاهد؛ كان أبوه من سبى سجستان؛ وكان يكتب المصاحف بأجرة ويتقوت بذلك.

وممن كان يتقوت بالنسخ من العلماء أبو علي محمد بن الحسن بن الهيثم المهندس البصري، نزيل مصر، المتوفى نحو سنة 430. ذكر القفطي1 أنه كان ينسخ في مدة سنة ثلاثة كتب في ضمن أشغاله، وهي إقليدس، والمتوسطات والمجسطي، ويتكلم في مدة السنة؛ فإذا شرع في نسخها جاءه من يعطيه فيها مائة وخمسين دينارًا مصرية، فجعلها مؤونة لنفسه.

ومن العلماء الوراقين أبو موسى الحامض2، أبو عبد الله الكرماني3.

ومن طريف ما يروى عن أحد النحاة، وهو يحيى بن محمد الأرزني، ما ذكره ياقوت4 في شأنه إذ يقول: "إمام في العربية مليح الخط سريع الكتابة، كان يخرج في وقت العصر إلى سوق الكتب ببغداد فلا يقوم من مجلسه حتى يتب الفصيح لثعلب، وبيعه بنصف دينار، ويشتري نبيدا ولحما وفاكهة، ولا يبيت حتى ينفق ما معه منه".

ويروى ابن النديم5 في ترجمته ليحيى بن عدي المنطقي النصراني أن يحيى

--------------------------------------------

1 إخبار العلماء 155.

2 الفهرست 117.

3 الفهرست 118.

4 إرشاد الأريب 20: 34-35. وانظر البغية 416.

5 الفهرست: 269.
উমর এটি উল্টেপাল্টে দেখছিলেন এবং পছন্দ করছিলেন, কিন্তু এর দাম অনেক বেশি মনে হওয়ায় তিনি তা তাকে ফিরিয়ে দিলেন।

তাদের মধ্যে ছিলেন মালিক ইবন দিনার আস-সামি, যিনি সামাহ ইবন লুয়াই-এর আযাদকৃত দাস, আবু ইয়াহইয়া আল-বাসরি আয-যাহিদ; তাঁর পিতা ছিলেন সিজিস্তানের যুদ্ধবন্দীদের একজন; তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মুসহাফ (কুরআন) লিখতেন এবং এর মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করতেন।

আলেমদের মধ্যে যারা অনুলিপি তৈরির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন তাদের মধ্যে ছিলেন প্রকৌশলী আবু আলি মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনুল হাইসাম আল-বাসরি, মিশরের অধিবাসী, যিনি প্রায় ৪৩০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আল-কিফতি ১ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার মাঝেও এক বছরের মধ্যে তিনটি বই অনুলিপি করতেন, সেগুলো হলো: ইউক্লিড, আল-মুতাওয়াসসিতাত এবং আল-মাজাসতি, এবং সারা বছর ধরে (এ কাজে) ব্যাপৃত থাকতেন; যখনই তিনি এগুলো অনুলিপি করতে শুরু করতেন, তখনই কেউ এসে তাঁকে এর বিনিময়ে একশ পঞ্চাশ মিশরীয় দিনার প্রদান করত, যা তিনি নিজের ভরণপোষণের জন্য রাখতেন।

আলেম ও অনুলিপিকারদের (ওয়াররাক) মধ্যে আরও ছিলেন আবু মুসা আল-হামিদ ২ এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-কিরমানি ৩।

জনৈক ব্যাকরণবিদের ব্যাপারে বর্ণিত চমৎকার ঘটনাবলির মধ্যে একটি ইয়াকুত ৪ তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, আর তিনি হলেন ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ আল-আরজানি। তিনি বলেন: "তিনি ছিলেন আরবি ভাষার একজন ইমাম, যার হাতের লেখা ছিল সুন্দর এবং দ্রুত লেখক; তিনি আসরের সময় বাগদাদের বইয়ের বাজারে যেতেন এবং যতক্ষণ না সা'লাবের 'আল-ফাসিহ' গ্রন্থটি লিখে শেষ করতেন ততক্ষণ নিজের মজলিস থেকে উঠতেন না। এরপর সেটি আধা দিনারে বিক্রি করতেন এবং তা দিয়ে পানীয়, মাংস ও ফল কিনতেন; আর সাথে থাকা সব অর্থ ব্যয় না করা পর্যন্ত তিনি রাত পার করতেন না।"

ইবনুন নাদিম ৫ যুক্তিবিদ খ্রিস্টান ইয়াহইয়া ইবন আদির জীবনীতে বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহইয়া...

--------------------------------------------

১ ইখবারুল উলামা ১৫৫।

২ আল-ফিহরিস্ত ১১৭।

৩ আল-ফিহরিস্ত ১১৮।

৪ ইরশাদুল আরিব ২০: ৩৪-৩৫। এবং দেখুন আল-বুগইয়াহ ৪১৬।

৫ আল-ফিহরিস্ত: ২৬৯।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ২১)
كان ينسخ كتب التفسير والكلام، مع أنه كان من النصارى اليعقوبية. وهذا أمر عجب. ويذكر أنه لقيه وعاتبه على كثرة نسخه، فقال له: من أي شيء تعجب في هذا الوقت من صبري. قد نسخت بخطي نسختين من التفسير للطبري، وحملتها إلى ملوك الأطراف؛ وقد كتبت من كتب المتكلمين ما لا يحصى، ولعهدي بنفسي وأنا أكتب في اليوم والليلة مائة ورقة وأقل.

وهذا النص وسابقه يبين لنا قوة المرانة التي كانت لهؤلاء الوراقين في سرعة الخط.

وممن عرف بسرعة الخط هشام بن يوسف الراوي القاضي، قال عن نفسه: قدم سفيان الثوري اليمن فقالوا: اطلبوا كاتبا سريع الخط. فارتادوني فكنت أكتب1.

ومنهم أبو علي الحسن بن شهاب العكبري. قال

السمعاني2:

كان حسن الخط يكتب بالورقة، وكان سريع القلم صحيح النقل وكان يقول: كتبت في الوراقة خمسة وعشرين ألف درهم راضية.

وقد عثرت في تاريخ بغداد للخطيب3 في ترجمة الفراء علىنص يلقي ضوءا على الأجور التي كان الوراقون يتقاضونها في عهد الدولة العباسية. وذلك عند الكلام على كتاب "المعاني للفراء": أنه لما فرغ من كتاب المعاني "خزنه الوراقون عن الناس ليكسبوا به، وقالوا: لا تخرجه إلا لمن أراد أن ننسخه له على خمس أوراق بدرهم. فشكا الناس إلى الفراء، فدعا الوراقين فقال لهم في

--------------------------------------------

1 تهذيب التهذيب 11: 57.

2 في الأنساب 396.

3 تاريخ بغداد 14: 150. ونقله عنه ابن خلكان في ترجمته. وذكر الخبر أيضا ياقوت في معجم الأدباء 20: 12-13.
তিনি তাফসির ও কালাম শাস্ত্রের কিতাবসমূহ অনুলিপি করতেন, যদিও তিনি ইয়াকুবী খ্রিষ্টানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এটি একটি বিস্ময়কর বিষয়। উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্ণনাকারী তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং অধিক পরিমাণে অনুলিপি করার কারণে তাঁকে অনুযোগ করেছিলেন। তখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "এই সময়ে আমার ধৈর্যের কোন বিষয়টি আপনাকে অবাক করছে? আমি নিজ হাতে তাবারির তাফসিরের দুটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছি এবং সেগুলো দূর-দূরান্তের রাজাদের কাছে পাঠিয়েছি। আমি মুতাকাল্লিমদের (ধর্মতত্ত্ববিদ) কিতাবসমূহ থেকে এত বিপুল পরিমাণ লিখেছি যা গণনা করা অসম্ভব। আমার নিজের কথা মনে আছে, আমি এক দিনে ও রাতে একশ পৃষ্ঠা বা তার চেয়ে কিছুটা কম লিখতাম।"

এই পাঠ্যটি এবং এর পূর্ববর্তী অংশ আমাদের নিকট সেই সব পাণ্ডুলিপিকারদের (ওয়াররাক) হস্তলিখনের ক্ষিপ্রতার ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

যাঁরা দ্রুত হস্তলিখনের জন্য সুপরিচিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে হিশাম ইবনে ইউসুফ আল-রাবি আল-কাদি অন্যতম। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: সুফিয়ান আস-সাওরি ইয়ামেনে আসলেন, তখন লোকজন বলল: "একজন দ্রুতগতিতে লিখতে সক্ষম এমন লেখক খুঁজুন।" ফলে তারা আমাকে খুঁজে বের করল এবং আমি লিখতাম১।

তাদের মধ্যে আবু আলি আল-হাসান ইবনে শিহাব আল-উকবারীও ছিলেন। সামআনী২ বলেছেন:

তিনি সুন্দর হস্তাক্ষরের অধিকারী ছিলেন এবং পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখতেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্র গতির কলম এবং নির্ভুল অনুলিপির অধিকারী ছিলেন। তিনি বলতেন: "আমি পাণ্ডুলিপি লিখে পঁচিশ হাজার দিরহাম সন্তোষজনকভাবে উপার্জন করেছি।"

আমি আল-খতিবের 'তারিখে বাগদাদ'৩ গ্রন্থে আল-ফাররার জীবনীতে একটি বর্ণনা পেয়েছি যা আব্বাসীয় খিলাফতের যুগে পাণ্ডুলিপিকাররা যে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন তার ওপর আলোকপাত করে। এটি আল-ফাররার 'আল-মাআনি' কিতাবটির আলোচনার সময় এসেছে: যখন তিনি 'আল-মাআনি' কিতাবটি লিখে শেষ করলেন, "তখন পাণ্ডুলিপিকাররা তা মানুষের কাছ থেকে সরিয়ে রাখল যাতে তারা এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারে। তারা বলল: আমরা এটি বের করব না যতক্ষণ না কেউ আমাদের দিয়ে প্রতি এক দিরহামে পাঁচ পৃষ্ঠা হারে এটি অনুলিপি করাতে চায়। তখন মানুষ আল-ফাররার কাছে অভিযোগ করল। ফলে তিনি পাণ্ডুলিপিকারদের ডেকে পাঠালেন এবং তাঁদের বললেন..."

--------------------------------------------

১. তাহজিবুত তাহজিব ১১: ৫৭।

২. আল-আনসাব ৩৯৬-তে।

৩. তারিখে বাগদাদ ১৪: ১৫০। ইবনে খাল্লিকান তাঁর জীবনীতে এটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন। ইয়াকুত 'মুজামুল উদাবা' ২০: ১২-১৩ গ্রন্থেও এই সংবাদটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ২২)
ذلك، فقالوا: إنما صحبناك لننتفع بك، وكل ما صنفته فليس بالناس إليه من حاجة ما بهم إلى هذا الكتاب، فدعنا نعيش به. فقال: فقار بوهم تنفعوا وينتفعوا فأبوا عليه، فقال: سأريكم، وقال للناس: إني ممل كتاب معان أتم شرحا وأبسط قولا من الذي أمليت. فجلس يملي فأملى الحمد في مائة ورقة، فجاء الوراقون إليه وقالوا: نحن نبلغ الناس ما يحبون. ننسخوا كل عشر أوراق بدرهم.

وهذا الأجر ينبئ في جلاء واضح عن كثرة الوراقين بالقدر الذي يهبط به لأجر إلى هذا المستوى.

وعثرت كذلك على نص نادر لابن النديم في الفهرست1، يذكر فيه مقدار الورقة التي يعنيها في كتابه، وهي الورقة السليمانية، قال:

"فإذا قلنا: إن شعر فلان عشر ورقات فإنا إنما عنينا بالورقة أن تكون سليمانية، ومقدار ما فيها عشرون سطرًا، أعطني في صفحة الورقة".

وليس معنى هذا أن مقدار الورقة في المخطوطات القديمة تعني هذا القدر فإن مقادير الأوراق تتفاوت بلا ريب بين المخطوطة والأخرى. وإنما ذكرت هذا تسجيلا لما يعني ابن النديم في كتابه.

ومما يعنينا تسجيله أيضا ما ذكر في تقدير "المجلد" قديما. جاء في ترجمة يحيى بن المبارك اليزيدي عند ابن خلكان2 عن أبي حمدون الطيب قال: شهدت ابن أبي العتاهية وقد كتب عن أبي محمد اليزيدي قريبا من ألف مجلد، عن أبي عمرو بن العلاء خاصة، فيكون ذلك عشرة آلاف ورفة؛ لأن تقدير المجلد عشر ورقات.

--------------------------------------------

1 الفهرست 227.

2 الوفيات 2: 230.
এর প্রেক্ষিতে তারা বলল: "আমরা আপনার সঙ্গী হয়েছি কেবল আপনার থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য। আপনি যা কিছু রচনা করেছেন, মানুষের কাছে এই কিতাবটির যে পরিমাণ প্রয়োজন রয়েছে, অন্য কোনোটির সে পরিমাণ প্রয়োজন নেই। সুতরাং আমাদের এটি নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে দিন।" তিনি বললেন: "তাহলে তোমরা তাদের (মানুষদের) নিকটবর্তী হও, যেন তোমরা উপকৃত হও এবং তারাও উপকৃত হয়।" কিন্তু তারা তা অস্বীকার করল। তখন তিনি বললেন: "আমি তোমাদের দেখাচ্ছি।" এরপর তিনি লোকদের বললেন: "আমি অর্থের একটি কিতাব শ্রুতিলিখন করাব, যা আমি পূর্বে যা লিখিয়েছি তার চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা সংবলিত এবং সহজবোধ্য হবে।" অতঃপর তিনি বসলেন এবং শ্রুতিলিখন শুরু করলেন। তিনি কেবল 'আল-হামদু' (সূরা ফাতিহা) একশ পৃষ্ঠায় লিখালেন। এরপর নকলনবিশগণ তাঁর কাছে এসে বলল: "লোকেরা যা পছন্দ করে আমরা তাদের কাছে তা পৌঁছে দেব।" তারা প্রতি দশ পৃষ্ঠা এক দিরহামের বিনিময়ে নকল করতে লাগল।

আর এই পারিশ্রমিক স্পষ্টভাবেই বিপুল সংখ্যক নকলনবিশের উপস্থিতির কথা জানান দেয়, যার ফলে পারিশ্রমিক এই নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।

একইভাবে আমি ইবনুন নাদিমের 'আল-ফিহরিস্ত' গ্রন্থে একটি বিরল বর্ণনা পেয়েছি, যেখানে তিনি তাঁর কিতাবে ব্যবহৃত কাগজের পরিমাপ উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো সুলাইমানি কাগজ। তিনি বলেছেন:

"যখন আমরা বলি যে, অমুকের কবিতা দশ পাতা, তখন আমরা সেই পাতা বলতে সুলাইমানি কাগজই বুঝিয়েছি, যার প্রতি পৃষ্ঠায় বিশটি করে লাইন থাকে।"

এর অর্থ এই নয় যে, প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে কাগজের পরিমাণ কেবল এইটুকুই হতো, কেননা পাণ্ডুলিপিভেদে কাগজের আকার ও পরিমাণ নিঃসন্দেহে ভিন্ন ভিন্ন হয়। আমি কেবল ইবনুন নাদিম তাঁর কিতাবে যা বুঝাতে চেয়েছেন তা নথিভুক্ত করার জন্য এটি উল্লেখ করেছি।

আমাদের আরও একটি বিষয় নথিভুক্ত করা প্রয়োজন, তা হলো প্রাচীনকালে 'মুজাল্লাদ' বা খণ্ডের পরিমাপের ক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে। ইবনু খাল্লিকানের কিতাবে ইয়াহইয়া ইবনুল মুবারাক আল-ইয়াযিদির জীবনীতে আবু হামদুন আত-তইয়িব থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি ইবনু আবিল আতাহিয়াহকে দেখেছি, তিনি আবু মুহাম্মাদ আল-ইয়াযিদির নিকট থেকে প্রায় এক হাজার খণ্ড লিখে নিয়েছেন, যা বিশেষভাবে আবু আমর ইবনুল আলার বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত। তার মানে এটি দশ হাজার পৃষ্ঠা হবে; কারণ একটি খণ্ডের পরিমাপ ছিল দশ পৃষ্ঠা।"

--------------------------------------------

১. আল-ফিহরিস্ত ২২৭।

২. আল-ওয়াফায়াত ২: ২৩০।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
فكأن المجلد أطلق قديما على ما يسمى بالكراسة، التي هي إلى وقتنا هذا تقدر بعشر ورقات.

أما تقدير المجلد حديثًا فليس له معيار معين.

وكان بعض الوراقين يتجازون مهمتهم الأصيلة إلى صناعة التأليف. قال ابن النديم1:

"كانت الأسمار والخرافات مرغوبا فيها مشتهاة في أيام خلفاء بن العباس وسيما في أيام المقتدر، فصنف الوراقون وكذبوا، فكان ممن يفتعل ذلك رجل يعرف بابن دلان، واسمه أحمد بن محمد بن دلان، وآخر يعرف بابن العطار، وجماعة".

وكما كان هناك وراقون قد نصبوا أنفسهم لهذه الصناعة في السوق، كن هناك وراقون خاصون. فمنهم دماذ أبو غسان2 كان يروى عن أبي عبيدة، وكان يورق كتبه، وأخذ عنه الأنساب والأخبار والمآثر.

وكان لأبي عثمان الجاحظ أكثر من وراق؛ فمنهم أبو يحيى زكريا بن يحيى ذكره القالي في الأمالي3، وياقوت في معجم الأدباء نقلا عن ابن النديم4. ومنهم أبو القاسم عبد الوهاب بن عيسى، ذكره الخطيب لي تاريخ بغداد5 والزبيدي في تاج العروس، وكانت وفاته سنة 319 فيما ذكره الخطيب.

وكان لأبي العباس محمد بن يزيد المبرد وراقون6 منهم ابن الزجاجي واسمه

--------------------------------------------

1 الفهرست 428.

2 الفهرست 81.

3 الأمالي 1: 148

4 معجم الأدباء 13: 106

5 تاريخ بغداد 5695.

6 تاج العروس 10: 108.
প্রাচীনকালে সম্ভবত 'মুজাল্লাদ' শব্দটি বর্তমানে যাকে 'কুরাসাহ' (পুস্তিকা) বলা হয় তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো, যা বর্তমান সময় পর্যন্ত দশ পাতার সমপরিমাণ বলে গণ্য হয়।

তবে বর্তমান সময়ে 'মুজাল্লাদ' (খণ্ড) নির্ধারণের কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই।

কিছু কিছু ওয়াররাক (অনুলিপিকারক) তাদের মূল দায়িত্ব অতিক্রম করে গ্রন্থ রচনার কাজেও জড়িয়ে পড়তেন। ইবনুন নাদিম ১ বলেছেন:

"আব্বাসীয় খলিফাদের যুগে, বিশেষ করে আল-মুকতাদিরের সময়ে কিচ্ছা-কাহিনী ও রূপকথা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আকাঙ্ক্ষিত ছিল। ফলে ওয়াররাকগণ (এসব কাহিনী) সংকলন করতেন এবং মিথ্যা রচনা করতেন। যারা এ ধরনের জালিয়াতি করতেন তাদের মধ্যে ইবনে দালান নামে পরিচিত এক ব্যক্তি ছিলেন, যার নাম আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন দালান, আর অপর একজন ইবনুল আত্তার নামে পরিচিত ছিলেন এবং আরও একদল ব্যক্তি।"

বাজারে যেমন এই পেশার জন্য নিয়োজিত কিছু ওয়াররাক ছিল, তেমনি কিছু ব্যক্তিগত ওয়াররাকও ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন দামায আবু গাসসান ২, যিনি আবু উবায়দাহ থেকে বর্ণনা করতেন এবং তার কিতাবসমূহ অনুলিপি করতেন। তিনি তার কাছ থেকে বংশলতিকা, সংবাদ ও কীর্তিগাথা গ্রহণ করেছিলেন।

আবু উসমান আল-জাহিজের একাধিক ওয়াররাক ছিলেন; তাদের মধ্যে একজন ছিলেন আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া, যার কথা আল-কালি 'আল-আমালি' ৩-তে উল্লেখ করেছেন এবং ইয়াকুত 'মুজামুল উদাবা'-তে ইবনুন নাদিমের ৪ উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে আরও ছিলেন আবুল কাসেম আবদুল ওয়াহাব বিন ঈসা, যার কথা আল-খাতিব 'তারিখে বাগদাদ' ৫-এ এবং আয-যাবিদি 'তাজুল আরুস'-এ উল্লেখ করেছেন। আল-খাতিবের বর্ণনা অনুযায়ী তার মৃত্যু হয়েছিল ৩১৯ হিজরি সনে।

আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আল-মুবররাদেরও কতিপয় ওয়াররাক ৬ ছিলেন, যাদের মধ্যে ইবনুয যাজ্জাজি ছিলেন অন্যতম, যার নাম হলো—

--------------------------------------------

১ আল-ফিহরিস্ত ৪২৮।

২ আল-ফিহরিস্ত ৮১।

৩ আল-আমালি ১: ১৪৮।

৪ মুজামুল উদাবা ১৩: ১০৬।

৫ তারিখে বাগদাদ ৫৬৯৫।

৬ তাজুল আরুস ১০: ১০৮।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
إسماعيل بن محمد، والساسي واسمه إبراهيم بن محمد.

ومن هؤلاء الوراقين علان الشعوبي1 كان ينسج في بيت الحكمة للرشيد والمأمون والبرامكة.

ومنهم أحمد بن أحمد، ابن أخي الشافعي، كان يورق لابن عبدوس الجهشياري2.

ومنهم أبو الحسن علي بن عبد الله بن أبي هاشم لمعري، لزم أبا العلاء ونسخ له كتبه بأسرها، بدون أجر3.

أما القاضي أبو المطرفن قاضي الجماعة بقرطبة، فكان له ستة وراقين ينسخون له دائما، وكان قد رتب لهم على وظيفة معلومة4.

ولم يخل هذا الميدان من عنصر المرأة، إذ نجد من أسمائهن "ثناء" الكاتبة جارية ابن فيوما، ذكرها ابن النديم فيمن كتبوا الخطوط الأصيلة الموزونة5.

--------------------------------------------

1 ابن النديم 153.

2 معجم الأدباء 2: 137.

3 تعريف القدماء 32، 38، 101، 201.

4 الصلة بن بشكوال 1: 304-306.

5 الفهرست ص11.
ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মাদ, এবং সাসি যার নাম ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ।

এই লিপিকরদের মধ্যে ছিলেন আললান আশ-শুউবি, যিনি রশিদ, আল-মামুন এবং বারমাকিদের জন্য বায়তুল হিকমাহ-তে অনুলিপি তৈরি করতেন।

তাদের মধ্যে ছিলেন আহমাদ ইবনে আহমাদ, ইমাম শাফেয়ির ভ্রাতুষ্পুত্র; তিনি ইবনে আব্দুস আল-জাহশিয়ারির জন্য লিপিকরের কাজ করতেন।

তাদের মধ্যে আরও ছিলেন আবুল হাসান আলি ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি হাশেম আল-মাআরি, তিনি আবুল আলার সান্নিধ্যে থাকতেন এবং কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই তার সমস্ত কিতাব অনুলিপি করে দিয়েছিলেন।

আর কর্ডোবার প্রধান বিচারক কাজী আবুল মুতাররিফ, তার ছয়জন স্থায়ী লিপিকর ছিল যারা নিয়মিত তার জন্য অনুলিপি করত, এবং তিনি তাদের জন্য নির্দিষ্ট ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন।

এই ক্ষেত্রটি নারীদের অংশগ্রহণ থেকেও শূন্য ছিল না, কেননা আমরা তাদের নামের মধ্যে ইবনে ফিউমার দাসী ‘সানা’ নামক লেখিকার নাম পাই; ইবনে নাদিম তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা মূল ও সুশৃঙ্খল লিপি বা ক্যালিগ্রাফি লিখেছিলেন।

--------------------------------------------

১ ইবনে নাদিম ১৫৩।

২ মুজামুল উদাবা ২: ১৩৭।

৩ তারিফুল কুদামা ৩২, ৩৮, ১০১, ২০১।

৪ আস-সিলাহ লি-ইবনে বাশকুওয়াল ১: ৩০৪-৩০৬।

৫ আল-ফিহরিস্ত পৃষ্ঠা ১১।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الخطوط:

كان الغالب على خط أهل القرون الثلاثة الأولى هو الخط الكوفي، وقد بدأ مزج الخط الكوفي بالخط الحديث في أواخر خلافة بني أمية وصدر الدولة العباسية. يقول القلقشندي:

"ذكر صاحب إعانة النشي أن أول ما نقل الخط العربي من الكوفي إلى ابتداء هذه الأقلام المستعملة الآن، في أواخر دولة بني أمية وأوائل خلافة بني العباس.

قلت: على أن الكثير من كتاب زماننا يزعمون أن الوزير أبا علي بن مقلة1 هو أول من ابتدع ذلك، وهو غلط، فإنا نجد من الكتب بخط الأولين فيما قبل المائتين ما ليس على صورة الكوفي، بل يتغير عنه إلى نحو هذه الأوضاع المستقرة وإن كان هو إلى الكوفي أميل، لقربه من نقله عنه".

هذا ما كان في الجانب الشرقي من الدولة الإسلامية. وكان في الجانب الغربي من الدولة خط قديم يسمى "الإفريقي"، وأوضاعه كما يقول ابن خلدون2 قريبة من أوضاع الخط المشرقي.

ولما تغلب الأمويون على الأندلس ظهر لهم هناك خط خاص هو المعروف بالخط الأندلسي، ويظهر فيه بعض الميل إلى الاقتباس من الحروف الإفرنجية. وعندما تقلص ظل العرب والأفارقة من الأندلس وتلاشي ملكهم بها فانتشروا في عدوة المغرب وإفريقية منذ ظهور الدولة اللمتونية غلب خطهم الأندلسي على الخط الإفريقي القديم وعفى عليه، إلا بقايا منه ظلت ببلاد الجريد التي لم يخالط أهلها كتاب الأندلس.

--------------------------------------------

1 وهو الوزير أبو علي محمد بن علي بن الحسن، من وزراء الدولة العباسية، ولد سنة 272 وتوفي سنة 328.

2 المقدمة 306.
লিপি শিল্পসমূহ:

প্রথম তিন শতাব্দীর অধিবাসীদের লিপির ক্ষেত্রে কুফি লিপিরই প্রাধান্য ছিল। উমাইয়া খিলাফতের শেষভাগ এবং আব্বাসীয় রাষ্ট্রের সূচনাপর্বে কুফি লিপি ও আধুনিক লিপির সংমিশ্রণ শুরু হয়। কালকাশান্দি বলেন:

"'আয়ানাতুন নাশি' এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, উমাইয়া শাসনের শেষভাগ এবং আব্বাসীয় খিলাফতের প্রারম্ভে আরবি লিপিকে সর্বপ্রথম কুফি থেকে বর্তমানে ব্যবহৃত লিপি বা কলমসমূহের সূচনালগ্নে রূপান্তরিত করা হয়।

আমি বলি: যদিও আমাদের সময়ের অনেক লেখক মনে করেন যে উজির আবু আলি বিন মুকলা ১ এটি সর্বপ্রথম উদ্ভাবন করেছেন, তবে তা ভুল। কেননা আমরা দুইশত হিজরির পূর্বের আদি লেখকদের হাতের লেখায় এমন কিছু পাণ্ডুলিপি পাই যা কুফি আদলের নয়, বরং তা থেকে বিবর্তিত হয়ে বর্তমানের স্থিতিশীল রূপের দিকে ধাবিত হয়েছে। যদিও তা কুফি থেকে রূপান্তরের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে কুফি লিপির দিকেই বেশি ঝুঁকে ছিল।"

ইসলামী রাষ্ট্রের পূর্ব দিকের অবস্থা ছিল এমন। আর রাষ্ট্রের পশ্চিম অংশে 'আফ্রিকি' নামক একটি প্রাচীন লিপি ছিল, ইবনে খালদুন ২ এর বক্তব্য অনুযায়ী যার গঠনশৈলী ছিল প্রাচ্যীয় (মাশরিকি) লিপির কাছাকাছি।

যখন উমাইয়ারা আন্দালুসে আধিপত্য বিস্তার করল, তখন সেখানে তাদের একটি বিশেষ লিপি প্রকাশ পেল যা 'আন্দালুসি লিপি' নামে পরিচিত। এতে ইউরোপীয় অক্ষর থেকে কিছু গ্রহণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। যখন আন্দালুস থেকে আরব ও আফ্রিকানদের প্রভাব সংকুচিত হয়ে এল এবং সেখানে তাদের রাজত্ব বিলীন হয়ে গেল, তখন তারা মাগরিব ও আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ল। লামতুনি রাষ্ট্রের আবির্ভাবকাল থেকে তাদের আন্দালুসি লিপি প্রাচীন আফ্রিকি লিপির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং তাকে বিলুপ্ত করে দেয়; তবে জারিদ অঞ্চলে এর কিছু অবশিষ্টাংশ টিকে ছিল, যেখানে আন্দালুসি লেখকদের সংমিশ্রণ ঘটেনি।

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন উজির আবু আলি মুহাম্মদ বিন আলি বিন হাসান, আব্বাসীয় রাষ্ট্রের উজিরদের অন্যতম। তিনি ২৭২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

২ আল-মুকাদ্দিমাহ, ৩০৬।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد اكتسب الخط الأندلسي بالمغرب حياة جديدة وجمالا جديدًا، لكنه لم يلبث أن اضمحل، وصار كما يقول ابن خلدون1: "مائلًا إلى الرداءة، بعيدًا عن الجودة".

وليس يعني هذا القول أن الخط الأندلسي انقرض وصار إلى الزوال، ولكنه يعني أنه لم يعد الخط الغالب، وإنما كان يصطنعه قليل من الناس.

ويتضح من كلام ابن خلدون في مقدمته أن ما سماه المتأخرون "الخط المغربي" إنما هو الحالة التي صار إليها الخط الأندلسي الجميل.

وابن خلدون المتوفي سنة 808 لم يعرف هذه التسمية -أعني الخط المغربي- التي تدل على الخط الحديث الساذج المشتق من الأندلسي.

والخط الأندلسي يمتاز عن الخط المغربي بما يشيع فيه من الاستدارات وتداخل الكلمات وإطالة أواخر الحروف، والعناية يتنسيق الكتابة وتحسينها.

ويشتركان في طريقة النقط، فالفاء لا توضع فوقها النقطة كما يضعها المشارقة وإنما تجعل في أسفل الحرف، والقاف لا توضع فوقها نقطتان، بل توضع فوقها نقطة واحدة.

والترتيب الهجائي للحروف الأندلسية والمغربية يخالف طريقة المشارقة؛ ومن هنا اختلف ترتيب بعض معاجمهم وكتب رجالهم عن ترتيب المشارقة؛ يظهر ذلك لمن نظر في معجم ما استعجم للبكري نشرة وستنفلد، ومشارق الأنوار للقاضي عياض.

وهذا ترتيب حروفهم: "أب ت ث ج ح خ د ذ ر ز ط ظ ك ل م ن ص ض ع غ ف ق س ش هـ ولا ي".

--------------------------------------------

1 المقدمة 367.
মাগরিবে আন্দালুসি লিপি এক নতুন জীবন ও নতুন সৌন্দর্য লাভ করেছিল, কিন্তু অচিরেই তা ম্লান হতে শুরু করে এবং ইবনে খালদুন যেমনটি বলেছেন১: "তা নিম্নমানের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং উৎকৃষ্টতা থেকে দূরে সরে যায়।"

এই বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে, আন্দালুসি লিপি বিলুপ্ত হয়ে গেছে বা বিনাশ প্রাপ্ত হয়েছে; বরং এর অর্থ হলো এটি আর প্রধান লিপি হিসেবে অবশিষ্ট ছিল না এবং কেবল অল্প কিছু মানুষই এটি ব্যবহার করত।

ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমার আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, পরবর্তীকালের লোকেরা যাকে "মাগরিবি লিপি" হিসেবে নামকরণ করেছেন, তা মূলত সুন্দর আন্দালুসি লিপিরই পরিবর্তিত রূপ।

ইবনে খালদুন (মৃত্যু ৮০৮ হিজরি) এই নামকরণ—অর্থাৎ মাগরিবি লিপি—সম্পর্কে জানতেন না, যা আন্দালুসি লিপি থেকে উদ্ভূত আধুনিক সাধারণ লিপিকে নির্দেশ করে।

আন্দালুসি লিপি মাগরিবি লিপি থেকে স্বতন্ত্র হওয়ার কারণ হলো এতে বৃত্তাকার ঢঙের আধিক্য, শব্দের পরস্পর প্রবেশ এবং অক্ষরের শেষ প্রান্ত দীর্ঘ করা এবং লিখনশৈলীর বিন্যাস ও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রতি বিশেষ যত্ন।

নুকতা প্রদানের পদ্ধতিতে উভয় লিপিই অভিন্ন; প্রাচ্যের (মাশরিক) অধিবাসীদের মতো তারা 'ফা' অক্ষরের উপরে নুকতা দেয় না, বরং অক্ষরের নিচে দেয়। আর 'কাফ' অক্ষরের উপরে দুটি নুকতা না দিয়ে একটি মাত্র নুকতা দেয়।

আন্দালুসি ও মাগরিবি বর্ণমালার ক্রমবিন্যাস প্রাচ্যের পদ্ধতির বিপরীত; এ কারণেই তাদের কিছু অভিধান ও জীবনীগ্রন্থের ক্রমবিন্যাস প্রাচ্যের গ্রন্থাবলি থেকে ভিন্ন। এটি তাদের নিকট স্পষ্ট হবে যারা আল-বাকরির 'মুজাম মা ইস্তাজাম' (উস্টেনফেল্ড সংস্করণ) এবং কাজি ইয়াজের 'মাশারিকুল আনওয়ার' পর্যবেক্ষণ করেছেন।

তাদের বর্ণমালার ক্রম হলো: "আলিফ, বা, তা, ছা, জিম, হা, খা, দাল, যাল, রা, যা, ত্বা, যোয়া, কাফ, লাম, মিম, নুন, সাদ, দাদ, আইন, গাইন, ফা, কাফ, সিন, শিন, হা, ওয়াও-লাম-আলিফ এবং ইয়া।"

--------------------------------------------

১. আল-মুকাদ্দিমা ৩৬৭।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌أصول النصوص:

1- أعلى النصوص هي المخطوطات التي وصلت إلينا حاملة عنوان الكتاب واسم مؤلفه، وجميع مادة الكتاب على آخر صورة رسمها المؤلف وكتبها بنفسه، أو يكون قد أشار بكتابتها، أو أملاها، أو أجازها؛ ويكون في النسخة مع ذلك ما يفيد اطلاعها عليها أو إقراره لها.

ومن ذلك ما صنعه أبو عمر الزاهد غلام ثعلب، الذي ألف كتابه ست مرات1 يزيد في كل منها شيئا عند قراءتها عليه، وأملى على الناس في العرضة الأخيرة ما نسخته: "قال أبو عمر محمد بن عبد الواحد: هذه العرضة هي التي تفرد بها أبو إسحاق الطبري آخر عرضة، أسمعها بعده، فمن روى عني في هذه النسخة هذه العرضة حرفا واحدا ليس من قولي فهو كذاب علي، وهي من الساعة إلى الساعة من قراءة أبي إسحاق على سائر الناس، وأنا أسمعها حرفا حرفا".

وأمثال هذه النسخ تسمى نسخة الأم.

وهنا أمر قد يوقع المحقق في خطأ جسيم، وهو أن بعض الغافلين من الناسخين قد ينقل عبارة المؤلف في آخر كتابه، وهي في المعتاد نحو "وكتب فلان" أي المؤلف؛ ثم لا يعقب الناسخ على ذلك بما يشعر بنقله عن نسخة الأصل، فيظن القارئ أنها هي نسخة المؤلف. وهذه مشكلة تحتاج إلى فطنة المحقق وخبرته بالخط والتاريخ والورق2.

2- وتلى نسخة الأم النسخة المأخوذة منها، ثم فرعها ثم فرع فرعها

--------------------------------------------

1 ابن النديم 113-114.

2 انظر مثيل ذلك فيما سيأتي ص36.
মূলপাঠের উৎসসমূহ:

১- সর্বোচ্চ স্তরের মূলপাঠ হলো সেই পাণ্ডুলিপিগুলো যা গ্রন্থের শিরোনাম ও লেখকের নাম বহন করে আমাদের নিকট পৌঁছেছে এবং গ্রন্থের যাবতীয় বিষয়বস্তু লেখকের স্বহস্তে লিখিত বা অঙ্কিত সর্বশেষ রূপ অনুযায়ী বিদ্যমান রয়েছে; অথবা তিনি তা লিখতে নির্দেশ দিয়েছেন, কিংবা শ্রুতিলিপি দিয়েছেন অথবা পাঠের অনুমতি প্রদান করেছেন। সেই সঙ্গে পাণ্ডুলিপিতে এমন কিছু বিদ্যমান থাকে যা লেখকের পর্যবেক্ষণ বা স্বীকৃতির প্রমাণ দেয়।

এর একটি উদাহরণ হলো আবু উমর আল-জাহিদ 'গুলাম সা'লাব'-এর কাজ, যিনি তাঁর গ্রন্থটি ছয়বার রচনা করেছেন এবং প্রতিবার তাঁর সামনে পাঠ করার সময় তিনি তাতে কিছু না কিছু সংযোজন করেছেন। সর্বশেষ উপস্থাপনার সময় তিনি লোকদের নিকট শ্রুতিলিপি দিয়েছিলেন যার অনুলিপি হলো: "আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ বলেছেন: এই উপস্থাপনাটি কেবল আবু ইসহাক আল-তাবারি লাভ করেছেন যা আমার শোনা সর্বশেষ উপস্থাপনা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই পাণ্ডুলিপিতে আমার পক্ষ থেকে এমন একটি অক্ষরও বর্ণনা করবে যা আমার কথা নয়, সে আমার নামে মিথ্যাচারকারী। এটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অন্যান্য লোকেদের সামনে আবু ইসহাকের পাঠ, আর আমি তা প্রতিটি অক্ষর মনোযোগ দিয়ে শুনছি।"

এই ধরণের পাণ্ডুলিপিগুলোকে 'মূল কপি' বলা হয়।

এখানে এমন একটি বিষয় রয়েছে যা গবেষককে মারাত্মক ভুলে পতিত করতে পারে; আর তা হলো—কিছু অসতর্ক অনুলিপিকারক গ্রন্থের শেষে লেখকের বক্তব্যটি হুবহু নকল করে দেন, যা সাধারণত "অমুক (অর্থাৎ লেখক) লিখেছেন" এমন হয়ে থাকে। এরপর অনুলিপিকারক এমন কোনো টীকা যোগ করেন না যা থেকে বোঝা যায় তিনি মূল কপি থেকে এটি নকল করছেন; ফলে পাঠক মনে করেন যে এটি লেখকেরই স্বহস্তের পাণ্ডুলিপি। এটি এমন একটি সমস্যা যার সমাধানে গবেষকের বিচক্ষণতা এবং হস্তলিপি, ইতিহাস ও কাগজ সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।

২- মূল কপির পরে আসে তা থেকে সংগৃহীত অনুলিপি, এরপর তার শাখা এবং এরপর সেই শাখার শাখা।

--------------------------------------------

১ ইবনে নাদিম ১১৩-১১৪।

২ এর অনুরূপ বিষয় সামনে ৩৬ পৃষ্ঠায় দেখুন।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهكذا. والملحوظ أن ذكر سلسة الأخذ في الكتب الأدبية قليل، على حين تظفر الكتب الدينية واللغوية بنصيب وافر من ذكر هذه السلاسل.

وقد تخلو المخطوطات من بعض هذه الحدود، فيكون ذلك مدعاة للتحقيق وموجبًا للبحث الأمين، حتى يؤدي النص تأدية مقاربة.

وهذا الضرب الثاني من المخطوطات يعد أصولا ثانوية إن وجد معهما الأصل الأول؛ وأما إذا عدم الأصل الأول فإن أوثق المخطوطات يرتقي إلى مرتبته، ثم يليه ما هو أقل منه وثوقا.

3- وهناك نوع من الأصول هو كالأبناء الأدعياء، وهي الأصول القديمة المنقولة في أثناء أصول أخرى؛ فقد جرى بعض المؤلفين على أن يضمنوا كتبهم -إن عفوا وإن عمدًا- كتابا أخرى أو جمهورًا عظيمًا منها.

ومن هؤلاء ابن أبي الحديد في شرحه لنهج البلاغة، فقد ضمن ذلك الشرح كتبا كثيرة، أذكر منها وقعة صفين التي أمكنني أن أستخرجها نسخة كاملة لا ينقصها إلا نحو عشرين صفحة من نحو 350 صفحة بعد أن قضيت في ذلك قرابة الشهر، وقد بينت ذلك الأرقام في مقدمتي لوقعة صفين التي نشرتها "سنة: 1365"1.

ومنها جمهور كبير من كتاب المغازي للواقدي، انتبسه في أثناء كتابه، وهو في الجزء الثالث من ص318-407 أي نحو مائة صفحة كبيرة تبلغ ثلاثمائة صفحة صغيرة.

ولعل أظهر مثال للأصول المضمنة ما أورده البغدادي صاحب خزانة الأدب، فقد أودعها كثيرا من صغار الكتب النادرة، منها كتاب فرحة الأديب لأبي محمد الأسود الأعرابي، وكتاب اللصوص لأبي سعيد السكري؛ كما تضمن قدرا صالحا من كتب النحو وكتب شرح الشواهد النحوية.

--------------------------------------------

1 وكذا في نشرتي الثانية لها سنة 1382.
এবং এভাবেই। লক্ষণীয় যে, সাহিত্যিক গ্রন্থগুলোতে গ্রহণের পরম্পরা উল্লেখ করার হার খুবই কম, যেখানে ধর্মীয় ও ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থগুলো এই পরম্পরা বর্ণনার ক্ষেত্রে এক বিশাল অংশের অধিকারী।

পাণ্ডুলিপিগুলো কখনও কখনও এই সকল সীমানা বা চিহ্ন থেকে শূন্য থাকে, যা পর্যালোচনার কারণ এবং নিষ্ঠাপূর্ণ গবেষণাকে অনিবার্য করে তোলে, যাতে মূল পাঠটি তার সম্ভাব্য নিকটতম রূপে উপস্থাপিত হয়।

পাণ্ডুলিপির এই দ্বিতীয় প্রকারটি মাধ্যমিক মূল উৎস হিসেবে গণ্য হয় যদি সেগুলোর সাথে প্রথম বা প্রধান মূল উৎসটি বিদ্যমান থাকে। আর যদি প্রথম মূল উৎসটি না থাকে, তবে পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য তা সেই প্রথম স্তরের মর্যাদায় উন্নীত হয় এবং তারপরে নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে তার পরবর্তীগুলোর অবস্থান হয়।

৩- আবার এক ধরণের মূল উৎস রয়েছে যা অনেকটা পালিত সন্তানের মতো; এগুলো হলো সেই প্রাচীন মূল উৎস যা অন্য কোনো মূল উৎসের অভ্যন্তরে উদ্ধৃত বা বর্ণিত হয়েছে। অনেক লেখকের রীতি ছিল যে তারা তাদের গ্রন্থে—অসাবধানতাবশত হোক বা ইচ্ছাকৃতভাবে—অন্য কোনো সম্পূর্ণ গ্রন্থ বা তার এক বিশাল অংশ অন্তর্ভুক্ত করে নিতেন।

এদের মধ্যে একজন হলেন ইবন আবিল হাদিদ, যিনি তার 'নাহজুল বালাগাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থে' অনেকগুলো কিতাব অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমি এগুলোর মধ্য থেকে 'সিফফীনের যুদ্ধ' (ওয়াক'আতে সিফফীন) গ্রন্থের কথা উল্লেখ করতে পারি, যা প্রায় এক মাস পরিশ্রম করার পর প্রায় ৩৫০ পৃষ্ঠার মধ্যে মাত্র ২০ পৃষ্ঠা বাদে একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি হিসেবে উদ্ধার করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল। আমি ১৩৬৫ সনে প্রকাশিত আমার 'সিফফীনের যুদ্ধ' গ্রন্থের ভূমিকায় সেই সংখ্যাগুলো স্পষ্ট করেছি।১

এগুলোর মধ্যে ওয়াকিদির 'মাগাযী' (যুদ্ধাভিযান) গ্রন্থের এক বিশাল অংশ রয়েছে যা তিনি তার গ্রন্থের অভ্যন্তরে গেঁথে দিয়েছেন; এটি তৃতীয় খণ্ডের ৩১৮ থেকে ৪০৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত, অর্থাৎ প্রায় ১০০টি বড় পৃষ্ঠা যা প্রায় ৩০০টি ছোট পৃষ্ঠার সমান।

সম্ভবত অন্তর্ভুক্ত মূল উৎসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রকট উদাহরণ হলো যা 'খিজানাতুল আদাব'-এর রচয়িতা আল-বাগদাদী উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানে অনেক দুর্লভ ও ছোট ছোট গ্রন্থ গচ্ছিত রেখেছেন, যার মধ্যে আবু মুহাম্মদ আল-আসওয়াদ আল-আরাবির 'ফারহাতুল আদীব' এবং আবু সাঈদ আস-সুক্কারির 'কিতাবুল লুসুস' অন্যতম। এছাড়াও এটি ব্যাকরণ শাস্ত্রের অনেক কিতাব এবং ব্যাকরণিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর একটি বড় অংশকে ধারণ করে আছে।

--------------------------------------------

১ এবং একইভাবে ১৩৮২ সনে আমার প্রকাশিত দ্বিতীয় সংস্করণেও।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
وهذا النوع من الأصول لا يخرج كتابا محققًا، وإنما يستعان به في تحقيق النص.

وقد تهدى بعض الأدباء1 إلى نصوص من كتاب العثمانية للجاحظ ونشرها مع الرد عليها لأبي جعفر الإسكافي، نقل ذلك كله من شرح نهج البلاغة لابن أبي الحديد. وكنت أحسب أن النصوص تمثل على الأقل نموذجا من الأصل، ولكن عندما وقعت إلى نسخة العثمانية المخطوطة تيقنت أن ما فعله ابن أبي الحديد لا يعدو أن يكون إيجازا مخلا لنص الجاحظ بلغ أن أوجزت صفحتان منه في نحو ستة أسطر "أسطر مثلا الفقرة السادسة من كلام الجاحظ في العثمانية ص6 من رسائل الجاحظ للسندوبي وقارنها بما في نشرتي للعثمانية 27: 4-31: 5".

وكذلك كان يفعل الأقدمون، ينقلون النصوص أحيانا وتكون لهم الحرية التامة في التصرف فيها وترجمتها بلغتهم أيضا إلا إذا حققوا النقل ونصوا على أن هذا هو لفظ المنقول، فيقولون مثلا: "انتهى بنصه"، فتكون مسئوليتهم في ذلك خطيرة، إذ حملوا أنفسهم أمانة النقل.

فنشر أمثال هذه النصوص ودعوى أنها محققة، بعد خطأ جسيما في فن التحقيق وفي ضمير التاريخ.

4- والنسخ المطبوعة التي فقدت أصولها أو تعذر الوصول إليها يهدرها كثير من المحققين، على حين يعدها بعضهم أصولا ثانوية في التحقيق، وحجتهم في ذلك ما يؤدي بالمطبعة هو عين ما يؤدي بالقلم، ولا يعدو الطبع أن يكون انتساخا بصورة حديثة. وإني لأذهب إلى هذا الرأي مع تحفظ شديد، وهو أن يتحقق الاطمئنان إلى ناشر المطبوعة والثقة بنا، فما نشره أمثال المصححين القدماء كالعلامة نصر الهوريني، والشيخ قطة العدوى، وكذا أعلام المستشرقين الثقات

--------------------------------------------

1 هو الأستاذ حسن السندوبي في "رسائل الجاحظ" ص1-66.
এই ধরণের মূল উৎসগুলো কোনো সম্পাদিত গ্রন্থ বের করে না, বরং এগুলো পাঠ্য সম্পাদনার ক্ষেত্রে সহায়তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কিছু সাহিত্যিক ১ জাহিজের 'আল-উসমানিয়্যাহ' গ্রন্থের কিছু পাঠ্য খুঁজে পান এবং আবু জাফর আল-ইসকাফির পক্ষ থেকে সেটির খণ্ডনসহ তা প্রকাশ করেন, যার পুরোটাই ইবনে আবিল হাদিদের 'শারহু নাহজিল বালাগা' থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। আমি মনে করতাম যে, এই পাঠ্যগুলো অন্তত মূল গ্রন্থের একটি নমুনা উপস্থাপন করে, কিন্তু যখন 'আল-উসমানিয়্যাহ' গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিটি আমার হস্তগত হলো, তখন আমি নিশ্চিত হলাম যে, ইবনে আবিল হাদিদ যা করেছেন তা জাহিজের মূল পাঠ্যের একটি ত্রুটিপূর্ণ সংক্ষিপ্তকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। অবস্থা এমন যে, মূলের দুই পৃষ্ঠাকে প্রায় ছয় লাইনে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে (উদাহরণস্বরূপ: সানদুবির 'রাসায়িলুল জাহিজ'-এর ৬ পৃষ্ঠায় জাহিজের বক্তব্যের ষষ্ঠ অনুচ্ছেদটি দেখুন এবং আমার সম্পাদিত 'আল-উসমানিয়্যাহ' এর ২৭: ৪ থেকে ৩১: ৫ এর সাথে তুলনা করুন)।

পূর্ববর্তীগণও এমনটিই করতেন; তারা মাঝেমধ্যে পাঠ্য উদ্ধৃত করতেন এবং তাতে পরিবর্তন আনার বা নিজেদের ভাষায় অনুবাদ করার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা নিতেন। তবে যদি তারা উদ্ধৃতিটি যাচাই করতেন এবং স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতেন যে এটিই মূল শব্দ, যেমন তারা বলতেন: "মূল পাঠ্য অনুযায়ী সমাপ্ত", তখন বিষয়টি তাদের জন্য গুরুতর দায়বদ্ধতা হয়ে দাঁড়াত, কারণ তারা তখন উদ্ধৃতির বিশ্বস্ততা রক্ষার আমানত গ্রহণ করতেন।

এই জাতীয় পাঠ্যসমূহ প্রকাশ করা এবং সেগুলোকে 'সম্পাদিত' বলে দাবি করা সম্পাদনা শিল্পে এবং ইতিহাসের বিচারে এক গুরুতর ভুল।

৪- যেসব মুদ্রিত সংস্করণগুলোর মূল পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেছে বা যেগুলোতে পৌঁছানো অসম্ভব, অনেক গবেষক সেগুলোকে বর্জন করেন, যেখানে কেউ কেউ সেগুলোকে সম্পাদনার কাজে গৌণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করেন। তাদের যুক্তি হলো, কলম যা সম্পাদন করে মুদ্রণযন্ত্রও ঠিক তাই করে; মুদ্রণ হলো আধুনিক পদ্ধতিতে প্রতিলিপি তৈরি করা মাত্র। আমি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই মতটি গ্রহণ করি, আর তা হলো যদি মুদ্রণকারী ও আমাদের আস্থার জায়গাটি নিশ্চিত হওয়া যায়। যেমন প্রাচীন সংশোধনকারী আল্লামা নাসর আল-হুরিনি ও শায়খ ক্বুত্বাহ আল-আদউয়ি এবং নির্ভরযোগ্য প্রাচ্যবিদ পণ্ডিতগণ যা প্রকাশ করেছেন...

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন অধ্যাপক হাসান আল-সানদুবি, 'রাসায়িলুল জাহিজ' পৃষ্ঠা ১-৬৬।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুন নুসূসি ওয়া নাশরুহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
أمثال وستنفلد1 الألماني "fedrinand wuustenfeld" 1808-1899 وجاير الألماني "rudolf ceyer" 1861-1929 وبيفان الهولندي "bevan" 1859-1934 ولايل الإنجليزي "chrles lyall" 1845-1920 جدير بأن يكون أصولا "ثانوية"، كما تعد رواياتهم لأصولهم -إن لم نتمكن من الظفر بتلك الأصول -رواية ينتفع بها في مقابلة النصوص، لأنهم منزلون بمنزلة الرواة الثقات، ورواياتهم منزلة منزلة ما يسمية المحدثون بالوجادة.

وأما الطبعات التي تخرج للتجارة ولا يقول عليها محقق أمين فهي نسخ مهدرة بلا ريب، ومن الإخلال بأمانة العلم والأداء أن يعتمد عليها في التحقيق.

5- وأما المصورات من النسخ فهي بمنزلة أصلها ما كانت الصورة واضحة تامة تؤدي أصلها كل الأداء، فمصورة النسخة الأولى هي نسخة أولى، ومصورة الثانوية ثانوية أيضا. وهكذا.

6- وهنا تعرض مشكلة المسودات والمبيضات، وهو إصلاح قديم جدا. ويراد بالمسودة والنسخة الأولى للمؤلف قبل أن يهذبها ويخرجها سوية. أما المبيضة فهي التي سويت وارتضاها المؤلف كتابا يخرج للناس في أحسن تقويم.

ومن اليسير أن يعرف المحقق مسودة المؤلف بما يشيع فيها من اضطراب الكتابة، واختلاط الأسطر ن وترك البياض، والإلحاق بحواشي الكتاب، وأثر المحو والتغيير.. إلى أمثال ذلك.

ومسودة المؤلف إن ورد نص تاريخي على أنه لم يخرج غيرها كانت هي الأصل الأول مثال ذلك ما ذكره ابن النديم2 من أن ابن دريد صنع كتاب أدب الكاتب على مثال كتاب ابن قتيبة، ولم يجرده من المسودة.

--------------------------------------------

1 ألف وحقق نحو مائتي كتاب بين صغير وكبير. ومعجم المطبوعات لسركيس انظر النهر 1917-1918.

2 الفهرست 92.
জার্মান ফার্দিনান্দ ভুস্টেনফেল্ড (১৮০৮-১৮৯৯), জার্মান রুডলফ গায়ার (১৮৬১-১৯২৯), ডাচ বেভান (১৮৫৯-১৯৩৪) এবং ইংরেজ চার্লস লায়াল (১৮৪৫-১৯২০)-এর মতো ব্যক্তিবর্গের কাজগুলো "পার্শ্ব-উৎস" হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য। তাদের মূল পাণ্ডুলিপির বর্ণনাগুলো—যদি আমরা সেই মূল পাণ্ডুলিপিগুলো লাভে সক্ষম না হই—এমন বর্ণনা হিসেবে বিবেচিত হবে যা পাঠ্য পর্যালোচনার ক্ষেত্রে উপকারী। কারণ তারা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত এবং তাদের বর্ণনাগুলো মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় "উিজাদাহ" (পূর্বসূরীর হস্তলিপি পাওয়া)-এর স্থলাভিষিক্ত।

আর যেসব সংস্করণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয় এবং কোনো বিশ্বস্ত গবেষক (মুহাক্কিক) কর্তৃক সম্পাদিত নয়, সেগুলো নিঃসন্দেহে পরিত্যাজ্য পাণ্ডুলিপি। গবেষণার ক্ষেত্রে এগুলোর ওপর নির্ভর করা ইলমি আমানত এবং সম্পাদনার নৈতিকতার পরিপন্থী।

৫- আর পাণ্ডুলিপির অনুলিপি বা ফটোকপিগুলো তাদের মূল পাণ্ডুলিপির মর্যাদায় গণ্য হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই অনুলিপিটি স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ হয় এবং মূল পাণ্ডুলিপিকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করে। অতএব, প্রথম পাণ্ডুলিপির অনুলিপি প্রথম পাণ্ডুলিপি হিসেবে এবং পার্শ্ব-উৎস পাণ্ডুলিপির অনুলিপি পার্শ্ব-উৎস হিসেবেই গণ্য হবে। এভাবে অন্যান্যগুলোও।

৬- এখানে খসড়া (মুসাওয়াদাহ) এবং পরিমার্জিত পাণ্ডুলিপির (মুবাইয়াদাহ) বিষয়টি সামনে আসে, যা একটি অত্যন্ত প্রাচীন পরিভাষা। 'মুসাওয়াদাহ' বা খসড়া বলতে লেখকের সেই প্রথম পাণ্ডুলিপিকে বোঝানো হয় যা তিনি পরিমার্জন ও সুবিন্যস্ত করার পূর্বে প্রস্তুত করেন। আর 'মুবাইয়াদাহ' হলো সেই পাণ্ডুলিপি যা সুবিন্যস্ত করা হয়েছে এবং লেখক এটিকে মানুষের জন্য সর্বোত্তম রূপে উপস্থাপনের উপযোগী কিতাব হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

একজন গবেষকের (মুহাক্কিক) পক্ষে লেখকের খসড়া পাণ্ডুলিপি চেনা সহজ; কারণ এতে সাধারণত অগোছালো লেখা, পঙক্তিগুলোর বিশৃঙ্খলা, ফাঁকা স্থান রাখা, বইয়ের পার্শ্বটীকায় সংযুক্তি এবং ঘষামাজা ও পরিবর্তনের চিহ্ন ইত্যাদি পরিলক্ষিত হয়।

লেখকের খসড়া পাণ্ডুলিপিটিই মূল উৎস হিসেবে গণ্য হবে যদি ঐতিহাসিক কোনো বর্ণনায় এটি প্রমাণিত হয় যে, তিনি এটি ছাড়া অন্য কোনো কপি বের করেননি। উদাহরণস্বরূপ ইবনুন নাদিম উল্লেখ করেছেন যে, ইবনু দুরেয়দ 'আদাবুল কাতিব' গ্রন্থটি ইবনু কুতাইবার গ্রন্থের অনুকরণে রচনা করেছিলেন, কিন্তু তিনি এটিকে খসড়া অবস্থা থেকে চূড়ান্ত পরিমার্জিত রূপ দিতে পারেননি।

--------------------------------------------

১ তিনি ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দুইশত কিতাব রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। সারকিসের মু'জামুল মাতবুয়াত এবং আন-নাহর ১৯১৭-১৯১৮ দেখুন।

২ আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা ৯২।