(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
علم المقاصد الشرعية   (نور الدين الخادمي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: علم المقاصد الشرعية

المؤلف: نور الدين بن مختار الخادمي

الناشر: مكتبة العبيكان

الطبعة: الأولى 1421هـ- 2001م.

عدد الصفحات: 207

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ   (নুরুদ্দিন আল-খাদিমি)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)


গ্রন্থ: ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ

লেখক: নুরুদ্দিন বিন মুখতার আল-খাদিমি

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ওবাইকান

সংস্করণ: প্রথম ১৪২১ হিজরি- ২০০১ খ্রিস্টাব্দ.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৭

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

والصلاة والسلام على أشرف المرسلين.

الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، ولا عدوان إلا على الضالين

ال‌‌مقدمة:

أما بعد:

فإن المقاصد الشرعية الإسلامية قد تزايد في العصر الحالي الاهتمام بها والالتفات إليها، وعلى مستوى البحث والتأليف والتحقيق والتدوين، وعلى مستوى التدريس والتعليم والتوعية والتثقيف.

وقد كان سبب ذلك بالأساس الحاجة الماسة، والضرورة المُلحَّة لعلم المقاصد على صعيد عملية الاجتهاد والاستنباط والإفتاء والقضاء، وعلى صعيد فهم التكليف وتعقله واستيعابه وتطبيقه، وعلى صعيد تحمل خطاب التكاليف وأداء رسالة الاستخلاف، وإقامة واجب الإصلاح والتوجيه والإرشاد في الأرض.

ومعلوم أن المقاصد الشرعية سلاح ذو حدين، يمكن استخدامها في الخير والمعروف، ويمكن توظيفها لجلب الشر والمنكر والفسادن، ولذلك وجب على العلماء والمتعلمين الإحاطة بهذا العلمن ومعرفة محتويته ومضامينه، وامتلاك أدواته وآلياته وضوابطه، بغية تطبيقه بوجه حس، وبكيفية مرضية، تجلب للناس مصالحهم الحقيقية والشرعية، وتدرأ عنهم الفساد والهلاك، وتني عن الاجتهاد والاستنباط التعسف في التفسير، والتطويع في التأويل، والإساءة في القصود والنوايا، كما تُبعد -بنفس الحرص والاهتمام- التفسير الظاهري، والتعامل الحرفي مع النصوص
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠতম রাসূলের ওপর।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য, এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের ব্যতীত আর কারো প্রতি শত্রুতা নেই।

ভূমিকা:

অতঃপর:

বর্তমান যুগে ইসলামী শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (মাকাসিদ আশ-শরীয়াহ)-এর প্রতি গুরুত্ব ও মনোযোগ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে; তা গবেষণা, গ্রন্থনা, সম্পাদনা (تحقيق) ও সংকলনের স্তরে হোক, কিংবা শিক্ষাদান, পাঠদান, সচেতনতা বৃদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার স্তরে হোক।

মূলত এর প্রধান কারণ হলো ইজতিহাদ (اجتهاد), মাসআলা আহরণ (استنباط), ফতোয়া প্রদান ও বিচারিক কার্যক্রমে মাকাসিদ বিজ্ঞানের প্রতি তীব্র প্রয়োজনীয়তা এবং জরুরি আবশ্যকতা। এছাড়া শরীয়তের বিধি-বিধান বা তাকলীফ (تكليف) অনুধাবন, উপলব্ধি ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে, এবং শরীয়তের বিধান পালনের দায়িত্ব বহন, খিলাফতের (استخلاف) দায়িত্ব পালন এবং পৃথিবীতে সংশোধন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পথপ্রদর্শনের আবশ্যিক কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম।

এটি সুবিদিত যে, শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ একটি দু-ধারী তলোয়ার; একে যেমন কল্যাণ ও সৎ কাজে ব্যবহার করা সম্ভব, তেমনি অকল্যাণ, মন্দ ও ফিতনা-ফাসাদ ছড়ানোর উদ্দেশ্যেও অপব্যবহার করা সম্ভব। তাই আলেম ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই শাস্ত্র সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা, এর বিষয়বস্তু ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবন করা এবং এর উপকরণ, কৌশল ও মূলনীতিসমূহ (ضوابط) আয়ত্ত করা অপরিহার্য; যাতে এটি যথাযথভাবে ও সন্তোষজনক পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়, যা মানুষের জন্য তাদের প্রকৃত ও শরীয়তসম্মত কল্যাণ বয়ে আনবে এবং তাদের থেকে অনিষ্ট ও ধ্বংসকে প্রতিহত করবে। এটি ইজতিহাদ (اجتهاد) ও মাসআলা আহরণ (استنباط)-এর ক্ষেত্রে ব্যাখ্যায় জবরদস্তি, অপব্যাখ্যা এবং অসৎ উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় থেকে রক্ষা করবে। একইসাথে এটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নصوص (نصوص) বা মূল পাঠের কেবল বাহ্যিক ব্যাখ্যা ও আক্ষরিক প্রয়োগ থেকেও দূরে রাখবে।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
والأدلة الذي لا ينظر إلا إلى المباني والظواهر والصور، دون أن يُعم تلفكر في البواطن ومعاني والمرامي والمقاصد.

فالنظر المقاصدي الأصيل يقوم على الموازنة بين الظاهر النص ومقصوده، بين مبناه ومعناه، وفق ميزان الشرع، ومعيار الاجتهاد الصحيح وضوابطه.

وهذا النظر المقاصدي هو في حقيقته يتمثل في مبدأ الوسطية الإسلامية التي تقررت بأدلة كثيرة على أنها خصيصة قطعية وسمة مؤكدة من سمات شريعة الله الغراء.

ونظرًا إلى مكانة المقاصد الشرعية في العصر الحالي بالخصوص، وفي معالجة كثير من نوازله وحوادثه، تعاقب الباحثون وطلاب العلم على تناول موضوعها بالدرس والبحث والتأليف، سواء على مستوى البحوث والمؤلفات الخاصة، أو على مستو بحوث الدراسات العليا ولترقيت والجوائز، وبحوث المجامع والهيئات الفقهية الشرعية والمراكز البحثية والدراسية.

ولم أكن لأشُذّ عن هذا الاتجاه العام في العصر الحالي -فالإنسان ابن عصره، ويتأثر بأحواله وأوضاعه؛ فقد أُغريت كي أسهم بشيء يسير وقليل في هذا الاهتمام والعناية بالمقاصد الشرعية؛ فقد جعلت رسالتي للدكتوراه مخصصة لتناول المقاصد الشرعية عند المالكية1، كما ألفت كتابًا بعنوان "الاجتهاد المقاصدي: حجيته، ضوابطه، مجالاته"2، ركزت فيه

--------------------------------------------

1 نوقشت هذه الرسالة بجامعة الزيتونة العامرة سنة 1997من وقد نال صاحبها أفضل تقدير معتمد في الجامعة.

2 صدر هذا الكتاب في جزأين ضمن سلسلة كتاب "الأمة" القطرية بتاريخ جمادى الأول ورجب 1419، تحت رقم: 66-67.
এমন দলিলাদি যা কেবল শব্দের কাঠামো (مباني), বাহ্যিক দিক (ظواهر) এবং রূপের প্রতি দৃষ্টিপাত করে, কিন্তু এর অন্তর্নিহিত রহস্য, অর্থ, লক্ষ্য (مرامي) ও উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد) গভীরে চিন্তা-ভাবনা করে না।

মূলত উদ্দেশ্যমূলক (مقاصدي) দৃষ্টিভঙ্গি শরয়ী মাপকাঠি এবং সঠিক ইজতিহাদের (اجتهاد) মানদণ্ড ও নীতিমালা (ضوابط) অনুযায়ী পাঠের (نص) বাহ্যিক রূপ ও তার উদ্দেশ্যের মধ্যে, এবং তার শব্দবিন্যাস ও অর্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

এই উদ্দেশ্যমূলক (مقاصدي) দৃষ্টিভঙ্গি মূলত ইসলামি মধ্যপন্থা (وسطية) নীতির প্রতিফলন, যা বহু দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে যে, এটি আল্লাহর সমুজ্জ্বল শরীয়তের একটি সুনিশ্চিত (قطعية) বৈশিষ্ট্য এবং সুদৃঢ় নিদর্শন।

বিশেষ করে বর্তমান যুগে শরয়ী উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد شرعية) গুরুত্ব এবং এর মাধ্যমে সমকালীন অনেক নতুন উদ্ভূত সমস্যার (نوازل) ও ঘটনার সমাধানের প্রেক্ষাপটে, গবেষক এবং ইলম অন্বেষণকারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে এই বিষয়টি নিয়ে অধ্যয়ন, গবেষণা ও গ্রন্থ রচনার কাজ করে যাচ্ছেন; তা হোক বিশেষায়িত গবেষণা ও গ্রন্থ স্তরে, কিংবা উচ্চতর গবেষণা, পদোন্নতি ও পুরস্কারের স্তরে, অথবা ফিকহ একাডেমি (مجامع), শরয়ী সংস্থা এবং গবেষণা ও শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর গবেষণার ক্ষেত্রে।

বর্তমান সময়ের এই সাধারণ ধারার বাইরে আমি ছিলাম না—কেননা মানুষ তার সময়েরই সন্তান এবং সে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই শরয়ী উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد شرعية) প্রতি এই গুরুত্বারোপ ও যত্নের ক্ষেত্রে সামান্য অবদান রাখতে আমিও অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমি আমার পিএইচডি থিসিসটি মালিকি মাযহাবের দৃষ্টিতে শরয়ী উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد شرعية) আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি, পাশাপাশি "আল-ইজতিহাদ আল-মাকাসিদি: হুজজিয়্যাতুহু, দাওয়া বিতুহু, মাজালাতুহু" শিরোনামে একটি বই রচনা করেছি, যাতে আমি আলোকপাত করেছি...

--------------------------------------------

১. এই থিসিসটি ১৯৯৭ সালে ঐতিহ্যবাহী জামিয়া যায়তুনায় পর্যালোচিত হয় এবং এর লেখক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত সর্বোচ্চ মান লাভ করেন।

২. এই বইটি কাতারভিত্তিক "কিতাবুল উম্মাহ" সিরিজের অধীনে জামাদিউল আউয়াল এবং রজব ১৪১৯ হিজরিতে ৬৬-৬৭ নম্বরে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
على النواحي التطبيقية والتميلية والتحليلية والتدليلية للمقاصد، والحكم على كثير من نوازل العصر ومشكلاته في ضوء المقاصد الشرعية التابعة للأدلة والنصوص، وليس المستقلة عنها أو المنفلتة منها. كما أسهمت ببعض المقالات القصيرة في بعض الدوريات والمجالات.

وقد رأيت من اللازم والضروري -شرعيًا وأدبيًا وأكاديميًا- تأليف هذا الكتاب لسببين رئيسين مباشرين:

1-الاستجابة لحاجة القرّاء في معرفة علم المقاصد وإدراك عموماته، والإلمام ببعض جزئياته ومتعلقاته كي يحققوا بهذا العلم الفهم الصحيح والتطبيق السليم للإسلام، وللتكاليف، وللاستخلاف في الأرض، وكي يتمكنوا من الرَّدّ على المزاعم الشُّبه والغايات؛ حيث يقولون: إن العبرة بالمقاصد والمعاني، ويقولون: الغايات تبرير وغير ذلك.

2- الاستجابة لحاجة الطلاب جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض، ولا سيما طلاب كلية الدعوة والإعلام بالخصوص1، الذين يدرسون منهج مقاصد الشرعية في المستوى الثالث والرابع؛ فقد رأيت تدوين ما كنت ألقيه عليهم في أثناء المحاضرات، بغية تيسير المنهج لهم، ويسر مراجعته، وسهولة العودة إليه أثناء المذاكرة والاختبارات.

ولا سيما والمنهج عميق ودقيق، وهو يحتاج إلى بذل جهدي التدريس

--------------------------------------------

1وكذلك طلاب المعهد العالي للقضاء، الذين يدرسون حاليًا منهج المقاصد الشرعية، وكذلك طلاب الدكتوراه بقسم أصول الفقه، وبقسم الثقافة الإسلامية بكلية الشريعة، والذين سيدرسون لاحقًا هذا المنهج.
মাকাসিদের প্রয়োগিক, উদাহরণভিত্তিক, বিশ্লেষণাত্মক এবং প্রমাণভিত্তিক দিকগুলোর ওপর এবং দলিলসমূহ (الأدلة) ও মূল পাঠসমূহের (النصوص) অনুগামী—তা থেকে স্বতন্ত্র বা বিযুক্ত নয় এমন—শরয়ী উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد) এর আলোকে বর্তমান সময়ের বহু উদ্ভূত সমস্যাসমূহ (النوازل) ও সংকটের ওপর বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে [বইটি আলোকপাত করে]। এছাড়া আমি কিছু সাময়িকী ও ম্যাগাজিনে কিছু সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধের মাধ্যমেও অবদান রেখেছি।

শরয়ী, নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে এই বইটি রচনা করা আমি আবশ্যক ও জরুরি মনে করেছি প্রধান দুটি সরাসরি কারণে:

1-উদ্দেশ্যতত্ত্ব (ইলমুল মাকাসিদ) সম্পর্কে জানা এবং এর সাধারণ বিষয়সমূহ (العمومات) অনুধাবন করার ক্ষেত্রে পাঠকদের চাহিদার সাড়া দেওয়া, এবং এর কিছু খুঁটিনাটি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া; যাতে তারা এই শাস্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম, শরীয়তের বিধানসমূহ (التكاليف) এবং পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব (الاستخلاف) সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারে এবং যাতে তারা বিভ্রান্তিকর দাবি, সংশয়সমূহ (الشبه) ও হীন লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দিতে সক্ষম হয়; যেখানে তারা বলে থাকে: মূল বিবেচ্য বিষয় হলো উদ্দেশ্য ও মর্মার্থ (المعاني), এবং তারা বলে থাকে: লক্ষ্যই উপায়কে ন্যায়সঙ্গত করে তোলে ইত্যাদি।

2-রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাহিদার প্রতি সাড়া দেওয়া, বিশেষ করে দাওয়াহ ও মিডিয়া অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য১, যারা তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরে শরীয়তের মাকাসিদ পাঠ্যক্রমটি অধ্যয়ন করছে; ফলে আমি লেকচার চলাকালীন তাদের উদ্দেশ্যে যা উপস্থাপন করতাম তা লিপিবদ্ধ করা সমীচীন মনে করেছি, যেন তাদের জন্য পাঠ্যক্রমটি সহজ হয় এবং পড়াশোনা ও পরীক্ষার সময় সহজে তা পর্যালোচনা ও তাতে প্রত্যাবর্তন করা যায়।

বিশেষত এই পাঠ্যক্রমটি অত্যন্ত গভীর ও সূক্ষ্ম, এবং এটি পাঠদানের প্রচেষ্টাকে নিয়োজিত করার দাবি রাখে।

--------------------------------------------

1 এবং একইভাবে উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা, যারা বর্তমানে শরীয়তের মাকাসিদ পাঠ্যক্রমটি অধ্যয়ন করছে। সেইসাথে ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিভাগ এবং শরীয়াহ অনুষদের ইসলামী সংস্কৃতি বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থীরা, যারা পরবর্তীতে এই পাঠ্যক্রমটি অধ্যয়ন করবে।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
والتأليف حتى تتحقق الغاية المرجوة منه.

وقد كنت أواخر كل فصل دراسي يبادرني الطلاب بأسئلة كثيرة تتعلق بالمنهج والبرامج، وبإعداد مذكرة تحوي المادة العلمية كلها؛ ولا سيما بالنسبة للطلاب المنتسبين والراسبين وغيرهم ممن يحتاجون إلى مدونة أو مذكرة مكتوبة يعودون إليها خارج قاعات التدريس بالجامعة.

فلذلك كله، وللأسباب الأولى، قمت بتأليف هذا الكتاب الذي آمل أن يكون موفقًا ومفيدًا، وأن يُتجاوز فيه عن الأخطاء والهفوات التي هي من سمات البشر، ومن مستلزمات العجلة التسرع والحرص على الاستفادة والإفادة.

ولا أدع أنني قد أتيت على كل أو أغلب مسائل المقاصد؛ فذلك أكبر من أن تستودعه مثل هذه المذكرة؛ ولكنني أتيت على ما ظننته قريبًا من المراد والمقصود. ونسأل الله تعالى الصواب والرشاد. إنه ولي ذلك والقادر عليه. وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

كتبه الفقير إلى عفو ربه: نور الدين مختار الخادمي

عضو هيئة التدريس بكلية الشريعة بالرياض (قسم الفقه)

صبيحة يوم الجمعة الثامن من شهر صفر 1421هج -الموافق

ليوم 12مايو 2000م.
এবং রচনা (تأليف), যাতে এর থেকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়।

বিগত দিনগুলোতে প্রতিটি সেমিস্টারের শেষলগ্নে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি সম্পর্কিত এবং সম্পূর্ণ জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ একটি নোট বা স্মারকপত্র প্রস্তুতির বিষয়ে আমার নিকট নানাবিধ প্রশ্ন উত্থাপন করত; বিশেষত সেই সকল অনিয়মিত ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থী এবং অন্যদের ক্ষেত্রে যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের বাইরে অধ্যয়নের জন্য একটি লিখিত পাণ্ডুলিপি বা নোটের প্রয়োজন হতো।

এই সকল কারণে এবং প্রাথমিক হেতুসমূহের প্রেক্ষিতে আমি এই গ্রন্থটি রচনা করেছি, যা আমি আশা করি সঠিক ও ফলপ্রসূ হবে। এতে যদি কোনো ভুলভ্রান্তি বা বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়, তবে তা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল; কেননা এগুলো মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি এবং ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টা ও জ্ঞান দান ও গ্রহণের প্রবল আকাঙ্ক্ষার অনিবার্য অনুষঙ্গ।

আমি এমন দাবি করছি না যে, আমি মাকাসিদ (المقاصد) এর সকল অথবা অধিকাংশ মাসআলা (مسائل) বা বিষয়াবলি এখানে বেষ্টন করেছি; কারণ বিষয়টি এই ধরনের ক্ষুদ্র স্মারকপত্রের পরিসরে ধারণ করার চেয়ে অনেক ব্যাপক। তবে আমি সেই বিষয়গুলোই এনেছি যা আমার বিবেচনায় উদ্দিষ্ট লক্ষ্যের নিকটবর্তী। আমরা মহান আল্লাহর নিকট সঠিকতা (الصواب) ও হিদায়াত প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আমাদের সর্বশেষ আহ্বান হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী: নূরুদ্দীন মুখতার আল-খাদেমী কর্তৃক লিখিত।

রিয়াদের শরীয়াহ অনুষদের শিক্ষক (ফিকহ বিভাগ)

৮ই সফর ১৪২১ হিজরি, রোজ শুক্রবার সকাল - মোতাবেক

১২ই মে ২০০০ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الجزء الأول

‌‌المبحث الأول: تعريف مقاصد الشريعة الإسلامية

…

المبحث الأول: تعريف مقاصد الشريعة الإسلامية

التعريف اللغوي لمقاصد الشريعة الإسلامية:

مقاصد الشريعة هي اسم ولقب لعلم وفن من فنون الشريعة الإسلامية، وهذا الاسم يتركب من لفظين: لفظ مقاصد، لفظ الشريعة.

ولتعريف هذا الاسم المركبَّ، أو هذا اللقب العلمي الشري يجب تعريف كل من لفظيه اللذين ركب منهما، وهما: لفظ مقاصد، لفظ الشريعة.

تعريف المقاصد لغة:

المقاصد: جمع مقصد، والمقصد: مصدر ميمي مشتق من الفعل قصد؛ فيقال: قصد يقصد قصدًا، وعليه فإن المقصد له معان لغوية كثيرة منها:

1- الاعتماد والتوجه واستقامة الطريق. قال تعالى: {وَعَلَى اللَّهِ قَصْدُ السَّبِيلِ وَمِنْهَا جَائِرٌ} 1.

2- التوسط وعدم الإفراط والتفريط قال تعالى: {اقْصِدْ فِي مَشْيِك} 2.

وقال الرسول صلى الله عليه وسلم: "القصْدَ القصْدَ تَبْلُغُوا" 3.

--------------------------------------------

1 سورة النحل آية 9.

2 سورة لقمان آية 19.

3 أخرجه البخاري في كتاب الرقائق، باب: القصد والمداومة على العمل.
প্রথম খণ্ড

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামী শরিয়তের মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ)-এর সংজ্ঞা

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামী শরিয়তের মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ)-এর সংজ্ঞা

ইসলামী শরিয়তের মাকাসিদের আভিধানিক সংজ্ঞা:

মাকাসিদুশ শরিয়াহ হলো ইসলামী শরিয়তের জ্ঞান ও শাস্ত্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি বিশেষ শাস্ত্রের নাম ও শিরোনাম। এই নামটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত: মাকাসিদ শব্দ এবং শরিয়াহ শব্দ।

এই যৌগিক নাম বা শরয়ি শাস্ত্রীয় উপাধিটিকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য এর গাঠনিক শব্দদ্বয়ের প্রত্যেকটিকে সংজ্ঞায়িত করা আবশ্যক; আর সেগুলো হলো: মাকাসিদ শব্দ এবং শরিয়াহ শব্দ।

আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে মাকাসিদের সংজ্ঞা:

মাকাসিদ শব্দটি মাকসাদ শব্দের বহুবচন। আর মাকসাদ শব্দটি ‘কাসাদা’ ক্রিয়া হতে উদ্ভূত একটি মিম-যুক্ত মূল বিশেষ্য (مصدر ميمي); বলা হয়ে থাকে: কাসাদা-ইয়াকসিদু-কাসদান। এর ভিত্তিতে মাকসাদ শব্দের অনেকগুলো আভিধানিক অর্থ রয়েছে, তন্মধ্যে:

১- নির্ভর করা, অভিমুখিতা এবং পথের সরলতা। মহান আল্লাহ বলেন: “আর সরল পথ প্রদর্শন করা আল্লাহরই জিম্মায়, কিন্তু পথগুলোর মধ্যে বক্র পথও আছে।” ১।

২- মধ্যপন্থা এবং বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি না করা। মহান আল্লাহ বলেন: “তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো।” ২।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন করো, মধ্যপন্থা অবলম্বন করো; তবেই তোমরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।” ৩।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নাহল, আয়াত ৯।

২. সূরা লুকমান, আয়াত ১৯।

৩. ইমাম বুখারি এটি কিতাবুর রিকাক, পরিচ্ছেদ: আমলের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
تعريف الشريعة لغة:

الشريعة تُطلقَ في اللغة على مورد الماء ومنبعه ومصدره، كما تُطلق على الدين والملة والطريقة والمنهاج والسنة،

والشريعة والشرع والشرِّعْة بمعنى واحد.

ووجه إطلاق الشريعة على منبع الماء ومصدره أن الماء مصدر حياة الإنسان والحيوان والنبات، وأن الدين الإسلامي مصدر حياة النفوس وصلاحها وتقدمها وسلامتها في الدنيا والآخرة؛ فالشريعة الإسلامية مصدر كل الخير والرخاء والسعادة في العاجل والآجل، في المعاش والمعاد، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُم} 1.

تعريف لفظ الإسلامية:

لفظ الإسلامية مشتق من كلمة الإسلام، والإسلام لغة: الانقياد والاستسلام لله سبحانه تعالى بتوحيده وعبادته والامتثال إلى أوامره واجتناب نواهيه.

وإطلاق الإسلامية على المقاصد دليلٌ على أن هذه المقاصد مستندة إلى الإسلام، منبثقة منه ومتفرعة عنه، وليست مستقلة عنه أو مخالفة له.

التعريف الاصطلاحي لمقاصد الشريعة الإسلامية:

لم يوجد عند العلماء الأوائل تعريف واضح أو محدد أو دقيق لمقاصد

--------------------------------------------

1 سورة الآنفال آية رقم 24.
শরীয়তের (الشريعة) ভাষাগত সংজ্ঞা:

শরীয়ত (الشريعة) শব্দটি ভাষাগতভাবে পানির ঘাট, এর উৎস এবং প্রবাহস্থলের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তেমনি এটি দ্বীন (الدين), আদর্শ (الملة), পথ (الطريقة), কর্মপন্থা (المنهاج) এবং সুন্নাহ (السنة) অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

শরীয়ত (الشريعة), শার' (الشرع) এবং শির'আহ (الشرعة) মূলত একই অর্থবোধক।

পানির উৎস ও উৎপত্তিস্থলের ওপর শরীয়ত (الشريعة) শব্দের প্রয়োগের যৌক্তিকতা হলো এই যে, পানি যেমন মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবনের উৎস, তেমনি ইসলামি দ্বীন (الدين) হলো আত্মার জীবন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষের সংশোধন, অগ্রগতি ও নিরাপত্তার উৎস। সুতরাং ইসলামি শরীয়ত (الشريعة الإسلامية) হলো ইহকাল ও পরকালে, পার্থিব জীবন ও পরকালীন প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে যাবতীয় কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের আধার। মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যখন তোমাদের এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদের জীবন দান করে, তখন তোমরা তাতে সাড়া দাও।" ১।

'ইসলামিয়া' (الإسلامية) শব্দের সংজ্ঞা:

'ইসলামিয়া' (الإسلامية) শব্দটি 'ইসলাম' (الإسلام) শব্দ থেকে উদ্ভূত। অভিধান অনুযায়ী ইসলাম (الإسلام) হলো: আল্লাহর একত্ববাদ (توحيد) ও ইবাদতের (عبادة) মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য (الانقياد) ও আত্মসমর্পণ (الاستسلام) করা এবং তাঁর আদেশসমূহ পালন ও নিষেধসমূহ বর্জন করা।

উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد) সাথে 'ইসলামিয়া' (الإسلامية) শব্দের সম্পৃক্ততা এই বিষয়ের প্রমাণ যে, এই উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد) ইসলামের ওপর নির্ভরশীল, তা থেকেই উৎসারিত এবং এরই শাখা-প্রশাখা; এগুলো ইসলাম থেকে স্বতন্ত্র বা এর পরিপন্থী কোনো বিষয় নয়।

ইসলামি শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد الشريعة الإسلامية) পারিভাষিক সংজ্ঞা:

প্রাচীন আলেমগণের নিকট উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد) কোনো সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট বা নিখুঁত সংজ্ঞা পাওয়া যায় না।

--------------------------------------------

১. সুরা আল-আনফাল, আয়াত নং ২৪।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الشريعة؛ وإنما وجدت كلمات وجُمَل لها تعلق ببعض أنواعها وأقسامها، وببعض تعبيرتها ومرادفاتها، وبأمثلتها وتطبيقاتها، وبحجيتها وحقيتها.

فقد ذكروا الكليات المقاصدية الخمس "حفظ الدين والنفس والعقل والنسل أو النسب والمال" وذكروا المصالح الضرورية والحاجية والتحسينية، وذكروا بعض الحِكَم والأسرار والعلل المتصلة بأحكامها وأدلتها.

وذكروا أدلة من المنقول والمعقول الدالة على حقية المقاصد وحيجتها، ووجوب مراعاتها والاعتماد عليها بشروط معينه وضوابط مقررة، وبدون الخروج عن الشرع أو معارضة أدلته ومصادمة تعاليمه وقواعده وأصوله.

كما أنهم عبرا عن المقاصد بتعبيرات كثيرة دلت في مجملها بالتصريح والتلميح والتنصيص والإيماء على الْتفات هؤلاء الأعلام إلى مراعاة المقاصد واستحضارها في عملية فهم النصوص والأحكام والاجتهاد فيها والترجيح بينها.

ومن تلك التعبيرات والاشتقاقات:

المصلحة والحكمة العلة والمنفعة والمفسدة والأغراض والغايات والأهداف والمرامي والأسرار والمعاني والمراد والضرر والأذى وغير ذلك مما هو مبثوث في مصادره ومظانه.

تعريف العلماء المعاصرين للمقاصد:

حظيت مقاصد الشريعة في العصر الحديث بعناية خاصة من قبل العلماء والباحثين؛ وذلك لأهميتها ودورها في عملية الاجتهاد الفقهي، وفي معالجة قضايا الحياة المعاصرة في ضوء الأدلة والنصوص والقواعد الشرعية،
শরিয়ত; বরং এমন কিছু শব্দ ও বাক্য পাওয়া যায় যেগুলোর সাথে এর কিছু প্রকার ও বিভাগ, কিছু অভিব্যক্তি ও প্রতিশব্দ, উদাহরণ ও প্রয়োগ এবং এর প্রামাণিকতা ও যথার্থতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

তাঁরা মাকাসিদের পাঁচটি মৌলিক নীতি "দ্বীন, জীবন, আকল, বংশ বা নসব এবং সম্পদের সুরক্ষা" উল্লেখ করেছেন। তাঁরা প্রয়োজনীয় (ضرورية), জীবনঘনিষ্ঠ (حاجية) এবং শোভাবর্ধক (تحسينية) কল্যাণসমূহ উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তাঁরা বিধান ও দলিলসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু হিকমত, রহস্য এবং কার্যকারণ (علة) উল্লেখ করেছেন।

তাঁরা মাকাসিদের যথার্থতা ও প্রামাণিকতার সপক্ষে বর্ণিত ও যৌক্তিক দলিলসমূহ উল্লেখ করেছেন। নির্দিষ্ট শর্ত ও নির্ধারিত মূলনীতির অধীনে এগুলো বিবেচনা করা এবং এর ওপর নির্ভর করা যে আবশ্যক, তাও তাঁরা উল্লেখ করেছেন; যা শরিয়তের গণ্ডি বহির্ভূত নয় অথবা এর দলিলসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এবং এর শিক্ষা, নীতিমালা ও উসুলের সাথে সংঘাতপূর্ণ নয়।

তদ্রূপ তাঁরা মাকাসিদকে এমন অনেক অভিব্যক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন যা সামগ্রিকভাবে স্পষ্ট বর্ণনা, ইশারা, সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে এই মহান ইমামদের মাকাসিদ বিবেচনার প্রতি মনোযোগের এবং নস ও আহকাম অনুধাবনের ক্ষেত্রে এবং ইজতিহাদ ও সেগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদানের প্রক্রিয়ায় মাকাসিদকে উপস্থিত রাখার ইঙ্গিত দেয়।

সেই অভিব্যক্তি ও শব্দমূলগুলোর মধ্যে রয়েছে:

কল্যাণ, হিকমত, কার্যকারণ (علة), উপকারিতা, অপকার, উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, গন্তব্য, লক্ষ্যস্থল, রহস্য, অন্তর্নিহিত অর্থ, অভিপ্রায়, ক্ষতি ও কষ্ট এবং এ জাতীয় অন্যান্য পরিভাষা, যা এর মূল উৎস ও সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

মাকাসিদ সম্পর্কে সমকালীন আলেমদের সংজ্ঞা:

আধুনিক যুগে মাকাসিদুশ শরিয়াহ আলেম ও গবেষকদের নিকট বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। এর কারণ হলো ফিকহি ইজতিহাদ প্রক্রিয়ায় এর গুরুত্ব ও ভূমিকা এবং দলিল, নস ও শরয়ি নীতিমালাসমূহের আলোকে সমকালীন জীবনের নানাবিধ সমস্যার সমাধান করা।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وكان من ضروب هذا الاعتناء تدوين المقاصد وتأليفها واعتبارها علمًا شرعيًا وفنًا أصوليًا له ما لسائر العلوم والفنون من تعريفات ومصطلحات وتقسيمات وغير ذلك.

وقد وردت عدة تعريفات لهذا العلم نوردها فيما يلي:

1- عرفَّها الشيخ محمد الطاهر بن عاشور بأنها: المباني والحِكَم الملحوظة للشارع في جميع أحوال التشريع أو معظمها؛ بحيث لا تختص ملاحظتها بالكون في نوع خاص من أحكام الشريعة، فيدخل في هذا أوصاف الشريعة وغاياتها العامة والمعاني التي لا يخلو التشريع عن ملاحظتها … ويدخل في هذا معان من الحكم ليست ملحوظة في سائر أنواع الأحكام؛ ولكنها ملحوظة في أنواع كثيرة منها1.

2- عرفها الفاسي بقوله: المراد بمقاصد الشريعة الإسلامية: الغاية منها والأسرار التي وضعها الشارع عند كل حكم من أحكمها2.

3- عرفها الريسوني بقوله: إن مقاصد الشريعة هي الغايات التي وضعت الشريعة لأجل تحقيقها لمصلحة العباد3.

4- عرفها الدكتور محمد بن سعد بن أحمد بن سعود اليوبي: المقاصد هي المعاني والحكم ونحوها التي راعاها الشارع في التشريع عموما وخصوصًا من أجل تحقيق مصالح العباد4.

--------------------------------------------

1 مقاصد الشريعة لاب عاشور ص51.

2 مقاصد الشريعة الإسلامية ومكارمها ص3.

3 نظرية المقاصد عند الشاطبي: د. أحمد الرسيوني ص7.

4 مقاصد الشريعة الإسلامية وعلاقتها بالأدلة الشرعية، ص37.
এই বিশেষ যত্নের অন্যতম রূপ ছিল মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) লিপিবদ্ধ করা ও সংকলন করা এবং একে একটি স্বতন্ত্র শরয়ি (شرعي) ইলম ও উসুলি (أصولي) শাস্ত্র হিসেবে গণ্য করা, যার রয়েছে অন্যান্য সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের ন্যায় নিজস্ব সংজ্ঞা, পরিভাষা (مصطلحات), শ্রেণিবিভাগ এবং অন্যান্য বিষয়াদি।

এই শাস্ত্রের বেশ কিছু সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে যা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১- শায়খ মুহাম্মদ আত-তাহির ইবনে আশুর এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন এভাবে যে: এগুলো হলো শরিয়ত প্রণেতার লক্ষ্যভুক্ত এমন সব মূলনীতি ও হিকমত যা আইন প্রণয়নের সকল অথবা অধিকাংশ অবস্থায় বিবেচনায় রাখা হয়; যাতে করে তা কেবল শরিয়তের কোনো বিশেষ প্রকার বিধানের সাথে নির্দিষ্ট না থাকে। এর অন্তর্ভুক্ত হয় শরিয়তের বৈশিষ্ট্যসমূহ, এর সাধারণ লক্ষ্যসমূহ এবং এমন সব গূঢ় অর্থ যা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে শরিয়ত প্রণেতা সর্বদা বিবেচনায় রাখেন... এবং এর মধ্যে হিকমতের এমন সব অর্থও অন্তর্ভুক্ত হয় যা সকল প্রকার বিধানের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা না হলেও অনেক প্রকার বিধানেই তা লক্ষ্য করা হয়েছে।

২- আল-ফাসি এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: ইসলামি শরিয়তের মাকাসিদ বলতে উদ্দেশ্য হলো: শরিয়তের লক্ষ্য এবং সেই সব রহস্য (أسرار) যা শরিয়ত প্রণেতা প্রতিটি বিধানের সাথে যুক্ত করেছেন।

৩- আর-রাইসুনি এর সংজ্ঞায় বলেছেন: নিশ্চয়ই শরিয়তের মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহ হলো সেই সব লক্ষ্য যা বান্দার কল্যাণ (مصلحة) সাধনের উদ্দেশ্যে শরিয়তে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।

৪- ড. মুহাম্মদ বিন সাদ বিন আহমদ বিন সাউদ আল-ইউবি এর সংজ্ঞা দিয়েছেন: মাকাসিদ হলো এমন সব অর্থ, হিকমত বা প্রজ্ঞা এবং তদ্রূপ বিষয় যা শরিয়ত প্রণেতা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে এবং বিশেষভাবে বান্দার কল্যাণসমূহ (مصالح) নিশ্চিত করার জন্য লক্ষ্য রেখেছেন।

--------------------------------------------

১. মাকাসিদুশ শরিয়াহ লি ইবনে আশুর, পৃ. ৫১।

২. মাকাসিদুশ শরিয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়া মাকারিমুহা, পৃ. ৩।

৩. নজরিয়াতুল মাকাসিদ ইনদাশ শাতিবি: ড. আহমদ আর-রাইসুনি, পৃ. ৭।

৪. মাকাসিদুশ শরিয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়া আলাকাতুহা বিল আদিল্লাহ আশ-শরইয়্যাহ, পৃ. ৩৭।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
5- عرفها فتحي الدريني: وهي القسم التي تكمن وراء الصيغ والنصوص، ويستخدمها التشريع كليات وجزئيات1.

6- عرفها د. مصطفى بن كرامة الله مخدوم بقوله: المقاصد وهي المصالح التي قصدها الشارع بتشريع الأحكام 2.

7- التعريف المختار لنور الدين الخادمي: المقاصد هي المعاني الملحوظة في الأحكام الشرعية، والمترتبة عليها؛ سواء أكانت تلك المعاني حكما جزئية أم مصالح كلية أم سمت إجمالية، وهي تتجمع ضمن هدف واحد، هو تقرير عبودية الله ومصلحة الإنسان في الدارين3.

الخلاصة:

إن المقاصد الشرعية هي جملة ما أراده الشارع الحكيم من مصالح تترتب على الأحكام الشرعية، كمصلحة الصوم والتي هي بلوغ التقوى، ومصلحة الجهاد التي هي در العدوان والذب عن الأمة، ومصلحة الزواج والتي هي غض البصر وتحصين الفرج وإنجاء الذرية وإعمار الكون.

وهذه المصالح كثيرة ومتنوعة، وهي تجمع في مصلحة كبرى وغاية كلية: هي تحقيق عبادة الله، وإصلاح المخلوقين وإسعاده في الدنيا والآخرة، قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوت} 4.

--------------------------------------------

1 انظر مقاصد المكلفين عند الأصوليين، ج1 / 35.

2 قواعد الوسائل في الشريعة الإسلامية، ص34.

3 الاجتهاد المقاصدي حجيته، ضواطه، مجالاته د. نور الدين الخادمي، 1/ 52-53.

4 سورة النحل آية 36.
৫- ফাতহি আদ-দুরাইনী এটিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: এটি সেই বিভাগ যা শব্দকাঠামো ও পাঠ্যসমূহের অন্তরালে নিহিত থাকে এবং আইনপ্রণয়নে এগুলোকে সামগ্রিক ও আংশিকভাবে ব্যবহার করা হয়১।

৬- ড. মুস্তাফা বিন কারামাতুল্লাহ মাখদুম এর সংজ্ঞায়: মাকাসিদ হলো সেই সকল কল্যাণ যা শরীয়ত প্রণেতা বিধিবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেছেন ২।

৭- নুর উদ্দিন আল-খাদিমীর নির্বাচিত সংজ্ঞা: মাকাসিদ হলো শরীয়তের বিধানসমূহের মধ্যে লক্ষ্যণীয় অর্থসমূহ, যা উক্ত বিধানসমূহের ওপর ভিত্তি করে অর্জিত হয়; সেই অর্থসমূহ আংশিক বিধান হোক বা সামগ্রিক কল্যাণ কিংবা সাধারণ বৈশিষ্ট্য হোক না কেন। এগুলো একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই পুঞ্জীভূত হয়, আর তা হলো আল্লাহর দাসত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং ইহকাল ও পরকালে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা ৩।

সারসংক্ষেপ:

শরীয়তের উদ্দেশ্য (মাকাসিদ) হলো শরীয়ত প্রণেতা প্রজ্ঞাবান আল্লাহ কর্তৃক উদ্দিষ্ট সেই সকল কল্যাণ যা শরীয়তের বিধিবিধানের ওপর নির্ভরশীল, যেমন—রোযার কল্যাণ হলো তাকওয়া অর্জন, জিহাদের কল্যাণ হলো শত্রুতা দমন ও উম্মাহর প্রতিরক্ষা এবং বিবাহের কল্যাণ হলো দৃষ্টির সংযত রাখা, চরিত্রের হেফাজত, বংশধারা রক্ষা এবং বিশ্ব আবাদ করা।

এই কল্যাণসমূহ বহু ও বৈচিত্র্যময় এবং এগুলো একটি মহান কল্যাণ ও সামগ্রিক লক্ষ্যের অধীনে একত্রিত হয়: আর তা হলো আল্লাহর ইবাদত বাস্তবায়ন করা এবং সৃষ্টিজগতকে সংশোধন ও ইহকাল-পরকালে তাদের সৌভাগ্য নিশ্চিত করা। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" ৪।

--------------------------------------------

১. দেখুন: মাকাসিদ আল-মুকাল্লাফিন ইনদাল উসুলিয়্যিন, ১ম খণ্ড / ৩৫।

২. কাওয়াইদ আল-ওয়াসায়িল ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৪।

৩. আল-ইজতিহাদ আল-মাকাসিদি হুজজিয়্যাতুহু, দাওয়াবিতুহু, মাজালাতুহু, ড. নুর উদ্দিন আল-খাদিমী, ১/ ৫২-৫৩।

৪. সূরা আন-নাহল, আয়াত ৩৬।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المبحث الثاني: صلة المقاصد ببعض المصطلحات الأصولية

‌‌المطلب الأول: صلة المقاصد بالعلة

…

المبحث الثاني: صلة المقاصد ببعض المصطلحات الأصولية

للمقاصد صلة ببعض المصطلحات الأصولية كمصطلح العلة والحكمة والمصلحة وسد الذارئع.

المطلب الأول: صلة المقاصد بالعلة

العلة لغةً: المرض.

أما العلة اصطلاحًا:

فتطلق على الوصف الظاهر المنضبط الذي يحصل من ترتيب الحكم عليه مصلحة؛

ومثاله: الإسكار، فهو وصف ظاهر منضبط ترتب عليه حكم التحريم لمصلحة حفظ العقل والمال، وهذا معنى قولنا: يحصل من ترتيب الحكم عليه مصلحة حفظ المال والعقل.

ومثاله كذلك: السفر؛ فهو وصف ظاهر منضبط، ومعنى كونه ظاهرًا ليس خفيًا، ومعنى كونه منضبطًا: لا يتغير بتغير الأشخاص ولا الأحوال ولا الظروف.

والحكم المترتب على السفر هو قصر الصلاة، والإفطار في الصوم، والمسح على الخفين. والمصلحة من كل ذلك هي رفع الحرج عن المكلف والتخفيف عنه.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উসুল শাস্ত্রীয় কিছু পরিভাষার সাথে মাকাসিদ-এর সম্পর্ক

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: কারণ (العلة)-এর সাথে মাকাসিদ-এর সম্পর্ক

…

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উসুল শাস্ত্রীয় কিছু পরিভাষার সাথে মাকাসিদ-এর সম্পর্ক

মাকাসিদ-এর সাথে উসুল শাস্ত্রীয় কিছু পরিভাষার সম্পর্ক রয়েছে; যেমন: কারণ (العلة), রহস্য (الحكمة), জনকল্যাণ (المصلحة) এবং অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা (سد الذرائع)।

প্রথম অনুচ্ছেদ: কারণ (العلة)-এর সাথে মাকাসিদ-এর সম্পর্ক

শাব্দিক অর্থে কারণ (العلة) হলো: রোগ বা ব্যাধি।

আর পারিভাষিক অর্থে কারণ (العلة) হলো:

এমন এক সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, যার ওপর কোনো বিধানের ভিত্তি স্থাপনের ফলে জনকল্যাণ (المصلحة) অর্জিত হয়;

এর উদাহরণ হলো: মাদকতা; এটি একটি সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, যার ওপর ভিত্তি করে বুদ্ধি ও সম্পদ সংরক্ষণের জনকল্যাণে (المصلحة) হারামের বিধান আরোপিত হয়েছে। আর আমাদের এই কথার অর্থ হলো: এই বিধানটি প্রদানের মাধ্যমে সম্পদ ও বুদ্ধি সংরক্ষণের জনকল্যাণ (المصلحة) অর্জিত হয়।

অনুরূপ আরেকটি উদাহরণ হলো: সফর (ভ্রমণ); এটি একটি সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য। এটি সুস্পষ্ট হওয়ার অর্থ হলো—এটি অস্পষ্ট নয়; আর সুনির্দিষ্ট হওয়ার অর্থ হলো—ব্যক্তি, অবস্থা বা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে এটি পরিবর্তিত হয় না।

সফরের ওপর ভিত্তি করে যে সকল বিধান কার্যকর হয় তা হলো নামাজ সংক্ষেপ (কসর) করা, রোজা ভঙ্গ করা এবং চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ করা। আর এই সবকিছুর মূল লক্ষ্য বা জনকল্যাণ (المصلحة) হলো দায়বদ্ধ ব্যক্তির (المكلف) কষ্ট দূর করা এবং তার জন্য বিধান সহজ করা।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الخلاصة:

إن العلة هي الوصف المُّعرِّف للحكم والمؤدي إليه، كالإسكار؛ فإنه يؤدي إلى التحريم لمصلحة حفظ العقل والمال، والسفر يؤدي إلى القصر والإفطار والمسح لمصلحة رفع المشقة والحرج، والسرقة تؤدي إلى قطع اليد لمصلحة حفظ المال، والزنى يؤدي إلى الجلد أو الرجم لمصلحة حفظ الأنساب والأعراض، والقتل العَمْد يؤدي إلى القصاص لمصلحة حفظ النفس.

ومن الأمثلة المعاصرة على ذلك: الغياب عن المحاضرات؛

الغياب عن المحاضرات سبب لوقوع الحرمان من الاختبار. ويعتبر تأديب الطلاب وحثهم على حضور المحاضرات والاستفادة منها هو مقصد ذلك الحكم، أي أن المصلحة تتمثل في ذلك؛ إذ لو لم يحرم الطالب المتغيِّب من الامتحان لََتَخلَّف الطلاب، ولتأخروا عن الحضور، ولَفَاتَهم تحصيل العلم المفيد.

وبناءً على ما ذكر تكون العلة هي سبب الحكم وسبيله الذي يؤدي إليه، وتكون المقاصد هي المصالح المترتبة على الحكم المبني على العلة.
সারসংক্ষেপ:

নিশ্চয়ই কার্যকর কারণ (العلة) হলো বিধানের (الحكم) পরিচয়জ্ঞাপক বৈশিষ্ট্য এবং যা সেই বিধান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, যেমন মাদকতা (الإسكار); কেননা এটি আকল (বিবেক) ও সম্পদ হিফাজতের জনকল্যাণে (المصلحة) নিষিদ্ধকরণের (التحريم) দিকে নিয়ে যায়। আর সফর (ভ্রমণ) কষ্ট ও সংকীর্ণতা দূর করার জনকল্যাণে (المصلحة) কসর বা নামাজ সংক্ষেপকরণ (القصر), ইফতার বা রোজা ভঙ্গ (الإفطار) এবং মাসেহ (المسح)-এর দিকে নিয়ে যায়। এবং চুরি সম্পদ হিফাজতের জনকল্যাণে (المصلحة) হাত কাটার দিকে নিয়ে যায়, ব্যভিচার বংশধারা ও ইজ্জত হিফাজতের জনকল্যাণে (المصلحة) বেত্রাঘাত (الجلد) অথবা পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (الرجم)-এর দিকে নিয়ে যায়, আর ইচ্ছাকৃত হত্যা জীবন রক্ষার জনকল্যাণে (المصلحة) কিসাস (القصاص)-এর দিকে নিয়ে যায়।

এর একটি সমসাময়িক উদাহরণ হলো: লেকচারে অনুপস্থিত থাকা;

লেকচারে অনুপস্থিতি হলো পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ। শিক্ষার্থীদের শিষ্টাচার শেখানো এবং তাদের লেকচারে উপস্থিত হতে ও তা থেকে উপকৃত হতে উৎসাহিত করা হলো উক্ত বিধানের (الحكم) উদ্দেশ্য (المقصد), অর্থাৎ জনকল্যাণ (المصلحة) এর মাঝেই নিহিত; কারণ যদি অনুপস্থিত শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা না হতো, তবে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ত, তারা উপস্থিত হতে বিলম্ব করত এবং তারা উপকারী জ্ঞান অর্জন করা থেকে বঞ্চিত হতো।

সুতরাং যা উল্লেখ করা হয়েছে তার ভিত্তিতে, কার্যকর কারণ (العلة) হলো বিধানের (الحكم) কারণ ও পথ যা তার দিকে নিয়ে যায় এবং উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد) হলো সেই জনকল্যাণসমূহ (المصالح) যা কার্যকর কারণের (العلة) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত বিধানের (الحكم) ফলস্বরূপ অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المطلب الثاني: صلة المقاصد بالحكمة

الحكمة: هي ما يترتب على التشريع من جلب مصلحة وتكميلها، أو دف مفسدة وتقليلها1.

وتطلق الحكمة أحيانًا على المقصد الجزئي كحكمة تجنب الأذى باعتزال الحائض، وحكمة منع بيع المعدوم وهي نفي الجهالة وإبعاد الغرر والضرر عن المشتري، وحكمة النظر إلى وجه المخطوبة وهي حصول الألفة وإدامة العِشْرة وتحقيق الارتياح لضمان النجاح وإدراك الفلاح.

كما تطلق الحكمة للدلالة على المقصد الكلي أو المصلحة الإجمالية كمصلحة حفظ النفس، وتحقيق التيسير ورفع الحرج، وتقرير عبادة الله والامثتال إليه.

فنقول بأن الحكمة من إرسال الرسل وإنزال الشرائع هي: عبادة الله واجتناب الطاغوت، ونعني بتلك الحكمة جملة المصالح العامة والمقاصد الكلية.

وبناءً على ما ذكر فإن الحكمة والمقاصد يترادفان ويتماثلان في الإطلاق والتعبير في أغلب الأحيان.

--------------------------------------------

1 انظر مباحث العلة في القياس ص105.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হিকমাহ-র সাথে মাকাসিদের সম্পর্ক

প্রজ্ঞা (الحكمة): এটি হলো বিধান প্রণয়ন (التشريع) এর ফলে কোনো কল্যাণ (مصلحة) অর্জন ও তার পূর্ণতা দান, অথবা কোনো অকল্যাণ (مفسدة) দূরীকরণ ও তা হ্রাস করার ফলাফল।

কখনও কখনও আংশিক উদ্দেশ্য (المقصد الجزئي) বোঝাতেও প্রজ্ঞা (الحكمة) শব্দটি ব্যবহৃত হয়; যেমন—ঋতুবতী নারী থেকে পৃথক থাকার মাধ্যমে কষ্টদায়ক বিষয় বর্জনের প্রজ্ঞা (الحكمة), কিংবা অস্তিত্বহীন বস্তু বিক্রয় নিষিদ্ধ করার প্রজ্ঞা (الحكمة)—যা মূলত অজ্ঞতা (الجهالة) নিরসন এবং ক্রেতার নিকট থেকে অনিশ্চয়তা (الغرر) ও ক্ষতি (الضرر) দূর করা। এছাড়া বাগদত্তা নারীর চেহারার দিকে তাকানোর প্রজ্ঞা (الحكمة) হলো—পারস্পরিক হৃদ্যতা তৈরি, দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী করা এবং সফলতা ও কল্যাণ অর্জনের লক্ষ্যে মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করা।

আবার সামগ্রিক উদ্দেশ্য (المقصد الكلي) বা সামগ্রিক কল্যাণ (المصلحة الإجمالية) নির্দেশ করতেও প্রজ্ঞা (الحكمة) শব্দটির প্রয়োগ ঘটে; যেমন—জীবন রক্ষার কল্যাণ, সহজীকরণ নিশ্চিত করা ও সংকীর্ণতা দূরীকরণ (رفع الحرج), এবং আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর আনুগত্যের বিষয়টি সাব্যস্ত করা।

অতএব আমরা বলতে পারি যে, রাসূলদের প্রেরণ এবং শরিয়ত অবতীর্ণ করার প্রজ্ঞা (الحكمة) হলো: আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাগুত বর্জন করা। আর এই প্রজ্ঞা (الحكمة) বলতে আমরা সাধারণ জনকল্যাণ ও সামগ্রিক উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد الكلية)-কে বুঝিয়ে থাকি।

উল্লিখিত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রয়োগ ও ব্যবহারের দিক থেকে প্রজ্ঞা (الحكمة) এবং উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد) সমার্থক ও সাদৃশ্যপূর্ণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

--------------------------------------------

১. দেখুন: মাবাহিসুল ইল্লাহ ফিল কিয়াস, পৃষ্ঠা ১০৫।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المطلب الثالث: صلة المقاصد بالمصلحة

المصلحة كالمنفعة وزنًا ومعنى، وهي ضد المفسدة والمضرة، ويُعبَّر عنها بالخير والشر، بالنفع والضرر، بالحسنات والسيئات.

يقول عز الدين بن عبد السلام: المصالح هي اللذات وأسباها، والمفاسد: الآلام وأسبابها أو الأضرار وأسبابها؛ فتكون المصلحة متمثلة في جلب المنفعة وما يوصل إليها، وتكون المفسدة متمثلة في درء الآلام والأضرار وما يوصل إليها1.

--------------------------------------------

1 انظر قواعد الأحكام في مصالح الأنام، للعز بن عبد السلام 1/ 10، وانظر المقاصد العامة، يوسف حامد، ص133.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাকাসিদ (مقاصد)-এর সাথে মাসলাহাহ (مصلحة)-এর সম্পর্ক

মাসলাহাহ (مصلحة) শব্দটির আভিধানিক গঠন ও অর্থ উপকারের (منفعة) অনুরূপ। এটি মাফাসাদাহ (مفسدة) ও অপকারিতার বিপরীত। একে কল্যাণ (خير) ও অকল্যাণ (شر), উপকার ও ক্ষতি এবং পুণ্য ও পাপের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়।

ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম বলেন: মাসালিহ (مصالح) হলো প্রশান্তি ও তার উপকরণসমূহ, আর মাফাসিদ (مفাসد) হলো কষ্ট ও তার উপকরণসমূহ অথবা ক্ষতি ও তার কারণসমূহ। সুতরাং মাসলাহাহ (مصلحة) হলো উপকার অর্জন করা এবং যা তার নিকট পৌঁছে দেয়; আর মাফাসাদাহ (مفسدة) হলো কষ্ট ও ক্ষতি প্রতিরোধ (درء) করা এবং যা তার দিকে ধাবিত করে।১

--------------------------------------------

১. দেখুন: কাওয়াইদুল আহকাম ফি মাসালিহিল আনাম, ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম ১/১০; এবং দেখুন: আল-মাকাসিদুল আম্মাহ, ইউসুফ হামিদ, পৃ. ১৩৩।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
أنواع المصلحة:

تتنوع المصلحة تنوعات كثيرة باعتبارات وحيثيات كثيرة، والذي يهمنا في هذا العرض الموجز الاقتصار على التركيز على نوعيها باعتبار موافقتها للشرع ومخالفتها له؛ إذ تقسم بهذا الاعتبار إلى المصالح الشرعية والمصالح غير الشرعية.

1- المصالح الشرعية:

وهي المصالح التي تستند إلى الشرع وتنبثق منه وتتفرع عنه، ولا تعارض نصًا ولا دليلًا ولا إجماعًا.

ومثالها:

مصلحة حفظ الدين بإقامة شعائره وفرائضه وإحياء معالمه وتعاليمه، وكذلك مصلحة حفظ العرض بمنع الزنا والخلوة والنظر بشهوة ومعاقبة الزناة والشاذَّين.

ومن خاصيات المصلحة الشرعية أنها غير محدودة بالدنيا أو المتاع المادي واللذة الجسدية كما هو الحالفي المجتمعات المادية والإباحية والدهرية والعبثية؛ بل إن تلك المصلحة تشمل الدنيا والآخرة وتشمل الجسد والروح والفرد والمجتمع.

2- المصالح غير الشرعية:

وهي المصالح التي لا تستند إلى الشرع ولا تنبثق منه؛ وإنما تُحدَّد في ضوء نزوات النفس وأهواء العقل وميول الغرائز، فليس لها ضابط ولا
জনস্বার্থের (مصلحة) প্রকারভেদ:

বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও বিবেচনার ভিত্তিতে জনস্বার্থের (مصلحة) অনেক প্রকারভেদ রয়েছে। আমাদের এই সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনায় শরিয়তের (شرع) সাথে সঙ্গতি ও বৈসাদৃশ্যের নিরিখে এর দুটি প্রকারের ওপর আলোকপাত করাই মূল প্রতিপাদ্য; কেননা এই বিচারে জনস্বার্থকে শরয়ি জনস্বার্থ (المصالح الشرعية) এবং অ-শরয়ি জনস্বার্থ (المصالح غير الشرعية)-এ বিভক্ত করা হয়।

1- শরয়ি জনস্বার্থ (المصالح الشرعية):

এগুলো হলো সেই সকল জনস্বার্থ (مصلحة) যা শরিয়তের (شرع) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, শরিয়ত থেকেই উৎসারিত এবং এর শাখা হিসেবে পরিগণিত; এবং যা কোনো অকাট্য পাঠ (نص), দলিল (دليل) কিংবা ঐক্যমতের (إجماع) সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

উদাহরণস্বরূপ:

দ্বীনের (دين) বিধি-বিধান ও ফরজসমূহ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এবং এর নিদর্শন ও শিক্ষাগুলোকে পুনর্জীবিত করার মাধ্যমে দ্বীন (دين) সংরক্ষণের স্বার্থ। একইভাবে ব্যভিচার, নির্জনবাস এবং কামুক দৃষ্টির পথ রুদ্ধ করে এবং ব্যভিচারী ও পাপাচারীদের শাস্তিদানের মাধ্যমে চারিত্রিক পবিত্রতা ও বংশমর্যাদা রক্ষার স্বার্থ।

শরয়ি জনস্বার্থের (المصالح الشرعية) অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কেবল দুনিয়া বা পার্থিব ভোগ-বিলাস ও দৈহিক আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—যেমনটি বস্তুবাদী, অবাধ যৌনাচারী, কালবাদী এবং উদ্দেশ্যহীন সমাজব্যবস্থায় দেখা যায়; বরং এই কল্যাণ দুনিয়া ও আখিরাত উভয়কে এবং দেহ ও আত্মা এবং ব্যক্তি ও সমাজ উভয়কে পরিবেষ্টন করে।

2- অ-শরয়ি জনস্বার্থ (المصالح غير الشرعية):

এগুলো হলো সেই সকল স্বার্থ যা শরিয়তের (شرع) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয় এবং তা থেকে উৎসারিতও নয়; বরং তা কেবল নফসের প্রবৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক খেয়ালখুশি এবং জৈবিক তাড়নার আলোকে নির্ধারিত হয়। এর কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই এবং...
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
رابط، وليس لها حدود ولا قيود، كما أنها تنصبُّ في الاقتصادر على منافع الدنيا وإمتاع الجسد بمختلف اللذائذ والمنافع وإشباع الذات، ولو على حساب الآخرين؛ فهي إذًا مصلحة ذاتية وجسدية دنيوية وظرفية لا تمتد إلى عالم الآخرة والجزاء.

صلة المقاصد بالمصلحة:

يتبين مما ذكرنا أن المصالح الشرعية هي مقاصد الشارع ومراده، أي أن الشارع قد قصد تلك المصالح وأراد تحصيلها بالنسبة للمكلف من خلال القيام بالأحكام الشرعية؛ فالقيام بالفرائض والتعاليم الدينية يؤدي إلى تحقيق مصالح عبادة الله وجلب مرضاته والفوز بجناته وإراحة وطمأنة نفس المكلف.

وهذه المصالح التي قصدها الشارع تعود على المكلف وتؤول إليه، وليس تؤول إلى الله؛ لأننا إذا قلنا بذلك وقعنا في وصف الخالق بالسعي إلى الأغراض التي هي من صفات النقص والسعي إلى الكمال؛ فهو سبحانه المتصف بجميع صفت الكمال. وعليه فإن المقاصد هي نفسها المصالح الشرعية.

أما المصالح غير الشرعية فالمقاصد تَأبَاهَا وتعارضها والأدلة الشرعية تمنعها وتبعدها وتدفعها.
এটি একটি বন্ধন, যার কোনো সীমা বা বিধিনিষেধ নেই। একইভাবে এটি কেবল পার্থিব কল্যাণ এবং নানাবিধ স্বাদ ও সুবিধার মাধ্যমে দৈহিক ভোগবিলাস ও আত্মতৃপ্তির ওপর নিবদ্ধ থাকে, যদিও তা অন্যের স্বার্থের বিনিময়ে হয়। সুতরাং এটি একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক, শারীরিক, পার্থিব এবং সাময়িক স্বার্থ (مصلحة), যা আখেরাত এবং প্রতিদানের জগত পর্যন্ত বিস্তৃত নয়।

মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) এবং মাসলাহা (জনকল্যাণ)-এর মধ্যকার সম্পর্ক:

আমাদের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, শরয়ী জনকল্যাণসমূহ (المصالح الشرعية) হলো শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য (مقاصد الشارع) ও তাঁর অভিপ্রায়। অর্থাৎ শরীয়ত প্রণেতা শরয়ী বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) পালনের মাধ্যমে মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির (المكلف) ক্ষেত্রে সেই কল্যাণগুলো অর্জন করার লক্ষ্য স্থির করেছেন। সুতরাং, ফরজ ইবাদত এবং ধর্মীয় নির্দেশনাবলী পালন করা আল্লাহর ইবাদতের কল্যাণসমূহ (مصالح) অর্জন, তাঁর সন্তুষ্টি লাভ, জান্নাত প্রাপ্তি এবং মুকাল্লাফের (المكلف) আত্মার প্রশান্তি ও স্থিরতা নিশ্চিত করে।

আর শরীয়ত প্রণেতা যেসব কল্যাণের (المصالح) উদ্দেশ্য করেছেন, সেগুলো মুকাল্লাফের (المكلف) কল্যাণেই এবং তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, তা আল্লাহর দিকে ধাবিত হয় না। কারণ আমরা যদি তা বলি, তবে আমরা স্রষ্টাকে এমন সব উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টায় লিপ্ত হওয়ার বিশেষণে বিশেষিত করব যা মূলত অপূর্ণতার গুণাবলী (صفات النقص) এবং পূর্ণতা অর্জনের প্রচেষ্টামাত্র; অথচ তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সকল পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত। অতএব, মাকাসিদ বা শরীয়তের লক্ষ্যসমূহ (المقاصد) মূলত শরয়ী জনকল্যাণই (المصالح الشرعية)।

পক্ষান্তরে, অ-শরয়ী স্বার্থসমূহকে শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد) প্রত্যাখ্যান ও বিরোধিতা করে এবং শরয়ী দলীলসমূহ (الأدلة الشرعية) সেগুলোকে নিষিদ্ধ করে, বর্জন করে এবং প্রতিহত করে।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المطلب الرابع: صلة المقاصد بسد الذرائع

تعريف الذرائع: هي جمع ذريعة، والذريعة هي الوسيلة إلى الشيء.

معنى سد الذريعة:

منع ما يجوز حتى لا يتوصل به إلى ما لا يجوز، وقد قال جمهور العلماء: إنها أصل شرعي يعمل به ويعول عليه في معرفة الأحكام واستنباطها.

أمثلتها:

1- الخلوة بالأجنبية ذريعة إلى الزنا، لذلك حرمت.

2- بيع السلاح زمن الحرب وسيلة إلى زيادة الفتنة والقتل والتخريب، لذلك منع.

3- البيع وقت الجمعة وسيلة لترك الجمعة، لذلك نهي عنه لقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسَعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ} 1.

4- النظر بشهوة وسيلة إلى الزنا ودواعيه، قال الرسول صلى الله عليه وسلم: "النظرة سهم من سهام الشيطان".

5- كثرة السهر ذريعة للتأخر عن المحاضرات وتفويت التحصيل العلمي وحصول التوتر والاضطراب والقيادة الفوضوية وغير ذلك مما يسبب الكثير من المفاسد والاضطرابات النفسية والجسدية والاجتماعية.

علاقة المقاصد بالذرائع:

يمكن أن نبرز هذه العلاقة فيما يلي:

أ- سد الذارئع في نفسه مقصد من مقاصد الشريعة أكدته وذكرته نصوص

--------------------------------------------

1 سورة الجمعة: آية 9.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মাকাসিদের সাথে ‘সুদুদ যারা’ই’ বা মাধ্যম নিরোধের সম্পর্ক

‘যারা’ই’ (الذرائع)-এর সংজ্ঞা: এটি ‘যারিআহ’ (ذريعة)-এর বহুবচন; আর যারিআহ হলো কোনো বিষয়ের মাধ্যম বা উপায় (الوسيلة)।

‘সুদুদ যারিআহ’ (سد الذريعة)-এর অর্থ:

কোনো বৈধ বিষয়কে নিষিদ্ধ করা যেন তা কোনো অবৈধ বিষয়ের মাধ্যম (الوسيلة) না হয়ে দাঁড়ায়। জমহুর বা অধিকাংশ আলেম বলেছেন: এটি একটি শরয়ি মূলনীতি (أصل شرعي), যা কার্যকর করা হয় এবং শরয়ি বিধানাবলি (الأحكام) অনুধাবন ও তা উদঘাটন বা ইস্তিম্বাত (استنباط) করার ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করা হয়।

এর উদাহরণসমূহ:

১- বেগানা নারীর সাথে নির্জনবাস (الخلوة) ব্যভিচারের মাধ্যম (ذريعة), তাই একে হারাম করা হয়েছে।

২- যুদ্ধকালীন অস্ত্র বিক্রয় ফিতনা, হত্যা ও ধ্বংসলীলা বৃদ্ধির অসিলা বা মাধ্যম (وسيلة), তাই একে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

৩- জুমার নামাজের সময় ক্রয়-বিক্রয় জুমার নামাজ পরিত্যাগের মাধ্যম (وسيلة), তাই এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ করো। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে} ১।

৪- কামভাব নিয়ে তাকানো ব্যভিচার ও তার প্ররোচনার অসিলা বা মাধ্যম (وسيلة)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "দৃষ্টি হলো শয়তানের তীরসমূহের মধ্য হতে একটি তীর।"

৫- অধিক রাত জাগা ক্লাসে উপস্থিত হতে বিলম্ব হওয়া, জ্ঞানার্জনে ব্যাঘাত ঘটা, মানসিক দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা তৈরি এবং বিশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চালানোসহ এমন অনেক সমস্যার মাধ্যম (ذريعة) যা অনেক মনস্তাত্ত্বিক, শারীরিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মাকাসিদের সাথে যারা’ই-এর সম্পর্ক:

আমরা এই সম্পর্ককে নিম্নোক্তভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারি:

ক- ‘সুদুদ যারা’ই’ বা অসিলা নিরোধ বিষয়টি নিজেই শরিয়তের মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد الشريعة) অন্তর্ভুক্ত একটি উদ্দেশ্য (مقصد), যা বিভিন্ন শরয়ি পাঠ বা নাস (نصوص) দ্বারা সমর্থিত ও উল্লেখিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-জুমুআ: আয়াত ৯।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
شرعية كثيرة منها قوله تعالى: {وَلا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُون … } 1 الآية، وقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انْظُرْنَا وَاسْمَعُوا وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ} 2.

فكلمة راعانا عند اليهود سبة وشتيمة؛ لذلك نهاهم الله سبحانه وتعالى عن قولهم هذا عند مخاطبة الرسول صلى الله عليه وسلم؛ لمنع ذريعة النيل من الرسول صلى الله عليه وسلم.

ب- سد الذرائع: هي سد الوسائل المفضية إلى تعطيل المقاصد وتضييعها.

والوسائل نوعان:

1- الوسائل التي يجب سدها وهي ما عبرنا عنه بسد الذارئع.

2- الوسائل التي يجب فتحها وهي المعبر عنها بفتح الذرائع، أي فتح الطرق والسبل التي تؤدي إلى تحقيق المصالح والمنافع.

أمثلتها:

1- إعلان الأذان طريق إلى الإعلام بدخول وقت الصلاة، والحث على القيام بها.

2- نشر العلم طريق إلى تعليم الناس أحكام دينهم، ومعرفة ما يسعدهم في الدنيا والآخرة.

3- تيسير الزواج وتقليل المهور طريق إلى التعفف والتحصين، والابتعاد عن الشذوذ والانحراف.

4- تخفيف السرعة ملازمة اليمين والبعد عن التهور والحذر سبيل السلامة والوقاية من الحوادث والمهالك؛ لذلك قال العلماء: "ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب".

--------------------------------------------

1 سورة الأنعام. آية 108.

2 سورة البقرة. آية 104.
অনেক শরয়ি দলিল রয়েছে যার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা গালি দিও না তাদেরকে যাদেরকে তারা আহ্বান করে … } ১ আয়াত, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা 'রায়িনা' বলো না, বরং 'উনযুরনা' বলো এবং শ্রবণ করো, আর কাফিরদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি} ২।

ইহুদিদের নিকট 'রায়িনা' শব্দটি ছিল গালি ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য; তাই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করার সময় মুমিনদের এই কথাটি বলতে নিষেধ করেছেন; যাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননার মাধ্যম (ذريعة) রুদ্ধ করা যায়।

খ- ক্ষতিকর মাধ্যমের পথ রুদ্ধ করা (سد الذرائع): এটি হলো এমন সব উপায়-উপকরণকে রুদ্ধ করা যা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহকে ব্যাহত ও বিনষ্ট করার দিকে ধাবিত করে।

উপায়-উপকরণসমূহ (الوسائل) দুই প্রকার:

১- ঐ সকল উপায় যা রুদ্ধ করা ওয়াজিব এবং এটিই হলো যা আমরা 'ক্ষতিকর মাধ্যমের পথ রুদ্ধ করা' (سد الذرائع) দ্বারা ব্যক্ত করেছি।

২- ঐ সকল উপায় যা উন্মুক্ত করা ওয়াজিব এবং একে 'উপকারী মাধ্যমের পথ উন্মুক্ত করা' (فتح الذرائع) বলা হয়, অর্থাৎ এমন সব পথ ও পন্থা উন্মুক্ত করা যা জনকল্যাণ ও উপকারিতা অর্জনের দিকে ধাবিত করে।

এর উদাহরণসমূহ:

১- আজান প্রচার করা নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়া সম্পর্কে অবগত করার এবং নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করার একটি পথ।

২- জ্ঞান প্রচার করা মানুষকে তাদের দ্বীনি বিধানাবলি শিক্ষা দেওয়ার এবং দুনিয়া ও আখেরাতে যা তাদের সৌভাগ্য বয়ে আনে তা জানার একটি পথ।

৩- বিবাহ সহজ করা এবং মোহরানা কমানো হলো পবিত্রতা অর্জন ও সুরক্ষার এবং চারিত্রিক স্খলন ও বিপথগামিতা থেকে দূরে থাকার একটি পথ।

৪- গতি কমানো, রাস্তার ডান পাশ অনুসরণ করা, বেপরোয়া ভাব পরিহার করা এবং সতর্কতা অবলম্বন করা হলো নিরাপত্তা লাভ এবং দুর্ঘটনা ও ধ্বংস থেকে বাঁচার পথ; এই কারণেই আলেমগণ বলেছেন: "যা ব্যতীত ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, সেটিও ওয়াজিব।"

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১০৮।

২ সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১০৪।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث الثالث: موضوع مقاصد الشريعة

موضوع أي علم يتناول مادته وماهيته وحقيقته ومحتواه، أي جملة الموضوعات والمسائل التي يتضمنها ويتعلق بها.

فموضوع العقيدة هو التوحيد والتصديق بالمُسَلَّمات والغيبات الإيمانية التي وردت في الكتاب والسنة.

وموضوع الفقه هو بيان أحكم الحلال والحرم، والواجب والمستحب والمكروه، وكذلك أدلتها التفصيلية من الآيات والأحاديث والسنن وتفاسير وأقوال العلماء والترجيح بينها.

وموضوع علم الأصول هو القواعد الإجمالية والمبادئ الكلية والمصادر التشريعية العامة التي يتوصل بها إلى استنباط الأحكام واستخراجها؛ لذلك سمي علم أصول الفقه بعلم الاستنباط والاستخراج.

وموضوع علم الهندسة والوراثية هو بيان ودراسة الخصائص الوارثية وتعديلها والتحكم فيها لأغراض صحية واقتصادية وبيئية.

وبصرف النظر عن شرعيتها وعدمها ومعلوم أن من الهندسة الوراثية ما هو مباح وجائز، وما هو حرام ومحظور، بحسب قاعدة المصالح والمفاسد الشرعية.

فموضوع مقاصد الشريعة: هو بيان وعرض حِكَم الأحكام، وأسرار التشريع، وغايات الدين، ومقاصد الشارع، ومقصود المكلف ونيته، وغير ذلك مما يندرج ضن ما أصبح يعرف حاليًا بمقاصد الشريعة التي أصبحت عِلمًا شرعيًا، وفنًا من فنون الشريعة الإسلامية، وضربًا من ضروبها،
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাকাসিদুশ শারিয়াহর (শরিয়তের উদ্দেশ্যসমূহ) আলোচ্য বিষয়

যেকোনো শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় তার সারবস্তু, সারবত্তা, হাকিকত ও বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে; অর্থাৎ সেই শাস্ত্র যেসব বিষয় ও মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করে এবং যার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে তার সমষ্টিকে বোঝায়।

সুতরাং আকিদাহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো তাওহিদ এবং কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত অকাট্য বিষয়াদি ও অদৃশ্যের ঈমানি বিষয়গুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।

আর ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো হালাল ও হারামের বিধানসমূহ বর্ণনা করা; যেমন: ওয়াজিব (واجب), মুস্তাহাব (مستحب) ও মাকরূহ (مكروه); সেইসাথে আয়াত, হাদিস ও সুন্নাহ থেকে আহরিত বিস্তারিত প্রমাণাদি (أدلة تفصيلية), তাফসির, ওলামাদের মতামত এবং এগুলোর মধ্যে প্রাধান্য নিরূপণ করা।

এবং উসুল শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো সংক্ষিপ্ত মূলনীতিসমূহ (قواعد إجمالية), সামগ্রিক নীতিমালা (مبادئ كلية) এবং শরয়ি বিধান প্রণয়নের সাধারণ উৎসসমূহ (مصادر تشريعية عامة), যার মাধ্যমে আহকাম বা বিধান উদ্ভাবন ও বের করা সম্ভব হয়। একারণেই উসুলুল ফিকহকে উদ্ভাবন ও নির্গমন সংক্রান্ত শাস্ত্র (علم الاستنباط والاستخراج) বলা হয়।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা বংশগতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় হলো বংশগতিমূলক বৈশিষ্ট্যাবলীর বর্ণনা ও গবেষণা এবং স্বাস্থ্যগত, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উদ্দেশ্যে সেগুলোর পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করা।

এর শরয়ি বৈধতা থাকুক বা না থাকুক—আর এটি সবারই জানা যে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা বৈধ (مباح) ও জায়েজ (جائز), আবার এমন কিছু রয়েছে যা হারাম (حرام) ও নিষিদ্ধ (محظور), যা শরয়ি কল্যাণ (مصالح) ও অকল্যাণ (مفاسد) সংক্রান্ত মূলনীতির ওপর নির্ভরশীল।

সুতরাং মাকাসিদুশ শারিয়াহর আলোচ্য বিষয় হলো: বিধানসমূহের প্রজ্ঞা (حكم), শরিয়ত প্রণয়নের রহস্য (أسرار التشريع), দ্বীনের লক্ষ্যসমূহ (غايات), বিধানদাতার উদ্দেশ্য (مقاصد الشارع), মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তির উদ্দেশ্য ও নিয়ত (مقصود المكلف ونيته) এবং বর্তমান সময়ে মাকাসিদুশ শারিয়াহর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পরিচিত অন্যান্য বিষয়সমূহ বর্ণনা ও উপস্থাপন করা। এটি বর্তমানে একটি স্বতন্ত্র শরয়ি জ্ঞান (علم شرعي) এবং ইসলামি শরিয়তের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وشرطًا من شروط فهمها وتعقلها وتطبيقها والاجتهاد في ضوئها؛ بل إن المقاصد يتزايد الاهتمام بها يوميًا، بعد يوم بحثًا وتأليفًا؛ تحقيقًا وتعليقًا، تنظيرًا وتدوينًا؛ الأمر الذي أدى بكثير من الباحثين والدراسين إلى الدعوة إلى تأسيس نظرية متكامة في علم المقاصد يرتكز موضوعه على بحث المصالح الشرعية من حيث تعريفها وأمثلتها وحجيتها وحقيقتها، ومن العقل، وغير ذلك مما يتعلق به موضوع هذا الفن الجديد.

مثال ذلك:

البيع مشروع لمصلحة الانتفاع بالعوضين وهذه المصلحة ضرورية؛ لأن الحياة تقوم عليها؛ لذلك حُرم الاحتكار؛ لأن الاحتكار يعطل أقوات الناس وأطعمتهم، ثم إن هذه المصلحة عامة تتعلق بكل إنسان، أما الاحتكار فهو مصلحة حاصلة تنفع المحتكر فقط على حساب الناس؛ فيكون الاحتكار ممنوعًا لكونه مصلحة خاصة، ويكون البيع مباحًا وتوفير البضاعة واجبًا؛ لكونه مصلحة عامةن والقاعدة تقول "بأن المصلحة العامة مقدمة على المصلحة الخاصة".

ومصلحة البيع مصلحة حقيقية؛ لأن نفعه عائد على جميع الناس بتراض وعدل، بخلاف الربا الذي وإنْ كانت فيه مصلحة؛ فهي مصلحة فردية تعود على المُرَابي فقط على حساب أغلبية المستضعفين والمغلوبين، ثم إن مصلحة الربا في نظر الشارع مصلحة وهمية خيالية مغلوبة، ومرجوحة باطلة مردودة؛ وذلك لِمَا تؤول إليه من الغُبْن وبخس الناس أشياءهم، وأكل أموالهم، وتعميق الفوارق بينهم، وخدش الوحدة والمودة
...এবং এটি অনুধাবন, উপলব্ধি, প্রয়োগ এবং এর আলোকে ইজতিহাদ করার একটি শর্ত; বরং মাকাসিদের প্রতি গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে—গবেষণা ও গ্রন্থনা, তাহকীক (تحقيق), টীকা লিখন (تعليق), তাত্ত্বিক রূপ দান (تنظير) এবং সংকলনের (تدوين) মাধ্যমে। এই বিষয়টি বহু গবেষক ও শিক্ষার্থীকে ইলমুল মাকাসিদ-এ একটি পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যার মূল বিষয়বস্তু শারঈ মাসলাহাত (المصالح الشرعية) তথা শারয়ি জনকল্যাণ নিয়ে আলোচনা করা—এর সংজ্ঞা, উদাহরণ, দলীলযোগ্যতা (حجية), বাস্তবতা, যৌক্তিকতা এবং এই নতুন শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের নিরিখে।

এর উদাহরণ:

ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করা হয়েছে বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় পক্ষের উপকৃত হওয়ার কল্যাণে (মাসলাহাত) এবং এই কল্যাণটি অপরিহার্য (ضرورية); কারণ এর ওপরই জীবন পরিচালিত হয়। এই কারণেই মজুদদারি হারাম করা হয়েছে; কারণ মজুদদারি মানুষের আহার ও খাদ্যের সংস্থানকে বাধাগ্রস্ত করে। অধিকন্তু, এই কল্যাণটি সাধারণ (عامة) যা প্রতিটি মানুষের সাথে সংশ্লিষ্ট। পক্ষান্তরে, মজুদদারি হলো এমন এক প্রকার স্বার্থ যা কেবল সাধারণ মানুষের বিনিময়ে কেবল মজুদদারের উপকার করে; তাই ব্যক্তিগত স্বার্থ (مصلحة خاصة) হওয়ার কারণে মজুদদারি নিষিদ্ধ এবং সাধারণ স্বার্থ বা জনকল্যাণ (مصلحة عامة) হওয়ার কারণে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ এবং পণ্য সরবরাহ করা ওয়াজিব। আর মূলনীতি হলো: "সাধারণ স্বার্থ ব্যক্তিগত স্বার্থের ওপর অগ্রগণ্য।"

ক্রয়-বিক্রয়ের কল্যাণটি একটি প্রকৃত (حقيقية) কল্যাণ; কারণ এর উপকারিতা পারস্পরিক সন্তুষ্টি ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সকল মানুষের নিকট প্রত্যাবর্তন করে। সুদের বিষয়টি এর বিপরীত, যদিও এতে এক প্রকার স্বার্থ বা সুবিধা দৃশ্যমান হতে পারে, তবে তা নিছক ব্যক্তিগত স্বার্থ যা কেবল অসহায় ও নিপীড়িত অধিকাংশ মানুষের বিনিময়ে সুদখোরের নিকট প্রত্যাবর্তন করে। এছাড়া, শরীয়ত প্রণেতার দৃষ্টিতে সুদের স্বার্থটি হলো অলীক (وهمية), কাল্পনিক, পরাজিত (مغلوبة), অগ্রহণযোগ্য (مرجوحة), বাতিল (باطلة) এবং প্রত্যাখ্যাত (مردودة); এর কারণ হলো, এটি প্রতারণা, মানুষের প্রাপ্য বস্তুর অবমূল্যায়ন, মানুষের সম্পদ গ্রাস করা, তাদের মধ্যে বৈষম্য গভীর করা এবং ঐক্য ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করার দিকে ধাবিত করে।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
والتضامن بينهم؛ لذلك وصف الله الربا وصفًا شنيعًا، وأعلن الحرب على أهله، قال تعالى: {يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ} 1، وقال تعالى: {فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِه} 2 فنَظَر المجتهد في هذه المصالح وفي كونها حقيقية وخيالية أو عامة وخاصة، وفي علاقتها بأدتها الشرعية في إفضائها إلى مراد الشارع ومقصوده، كل ذلك يعد من صميم موضوع هذا العلم الشرعي المفيد.

--------------------------------------------

1 سورة البقرة. آية 276.

2 سورة البقرة. آية 279.

এবং তাদের মধ্যে সংহতি; সেই কারণে আল্লাহ তাআলা সুদকে অত্যন্ত জঘন্যভাবে বিশেষায়িত করেছেন এবং সুদখোরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং সদকাকে বর্ধিত করেন} ১, এবং আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও} ২। সুতরাং এই জনকল্যাণসমূহ এবং সেগুলো প্রকৃত নাকি কাল্পনিক, অথবা সাধারণ নাকি বিশেষ—তা নিয়ে গবেষক আলেমের (مجتهد) যে পর্যবেক্ষণ, এবং শরয়ি দলিলের সঙ্গে এগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা বিধানদাতার (شارع) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত করার বিষয়টি, এই সব কিছুই এই অত্যন্ত উপকারী শরয়ি ইলমের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারাহ। আয়াত ২৭৬।

২ সূরা আল-বাকারাহ। আয়াত ২৭৯।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌المبحث الرابع: بيان صلة مقاصد الشريعة بالأدلة

‌‌تعريف الأدلة الشرعية:

هي مصادر التشريع الإسلامي وأصول وقواعد الأحكام الشرعية والفقهية.

نوعا الأدلة:

1- الأدلة المتفق عليها وهي الكتاب والسنة والإجماع والقياس.

2- الأدلة المختلف فيها: وهي المصلحة المرسلة والاستحسان والاستصحاب وسد الذرائع وقول الصحابي وشرع من قبلنا والعرف …
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দলীলসমূহের সাথে শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد الشريعة) সম্পর্ক বর্ণনা

শরয়ী দলীলসমূহের (الأدلة الشرعية) সংজ্ঞা:

এগুলো হলো ইসলামী আইন প্রণয়নের উৎস এবং শরয়ী ও ফিকহী বিধানের মূলনীতি ও নিয়মাবলি।

দলীলের প্রকারদ্বয়:

১- সর্বসম্মত দলীলসমূহ (الأدلة المتفق عليها): আর সেগুলো হলো কিতাব, সুন্নাহ, ঐক্যমত (الإجماع) এবং কিয়াস (القياس)।

২- মতভেদপূর্ণ দলীলসমূহ (الأدلة المختلف فيها): আর সেগুলো হলো অবারিত জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة), ইসতিহসান (الاستحسان), পূর্বাবস্থা বহাল রাখা (الاستصحاب), অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করা (سد الذرائع), সাহাবীর বক্তব্য (قول الصحابي), আমাদের পূর্ববর্তীদের শরীয়ত (شرع من قبلنا) এবং লোকরীতি (العرف) …
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌صلة المقاصد بالقرآن الكريم:

القرآن الكريم أول مصدر من مصادر التشريع، وهو أصل الأصول، وقدس الأقداس، وأساس الأحكام والمقاصد والحكم والأسرار الشرعية، ويتمثل ذلك من خلال ما يلي:

1- ذكر القرآن لأنواع كثيرة من المقاصد منها:

أ- العبودية: قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْأِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} 1.

ب- التبشير والإنذار بإرسال الرسل وإنزال الكتب: قال تعالى {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ} 2.

--------------------------------------------

1 سورة الذاريات: آية 56.

2 سورة النساء، آية 165.
পবিত্র কুরআনের সাথে মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد) সম্পর্ক:

পবিত্র কুরআন হলো শরিয়ত প্রণয়নের (التشريع) প্রথম উৎস, এটি সকল মূলনীতির মূল (أصل الأصول), পবিত্রতম সত্তা এবং শরয়ী বিধানসমূহ (الأحكام), উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد), প্রজ্ঞা (الحكم) ও রহস্যসমূহের মূল ভিত্তি। এটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে:

১- কুরআনে অনেক ধরণের উদ্দেশ্য (المقاصد) উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

ক- বন্দেগি বা দাসত্ব (العبودية): আল্লাহ তায়ালা বলেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" ১।

খ- রাসুল প্রেরণ এবং কিতাব অবতীর্ণ করার মাধ্যমে সুসংবাদ দান (التبشير) ও সতর্কীকরণ (الإنذار): আল্লাহ তায়ালা বলেন: "রাসুলগণ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন।" ২।

--------------------------------------------

১ সূরা আয-যারিয়াত: আয়াত ৫৬।

২ সূরা আন-নিসা: আয়াত ১৬৫।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
ج- التيسير والتخفيف عن الناس: قال تعالى: {يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنْكُمْ وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا} 1.

د- رفع الحرج وإزالة الضرر: قال تعالى: {مَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} 2.

هـ- الإصلاح والإرشاد، والنهي عن الفساد والغي والمنكر: قال تعالى: {إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْأِصْلاحَ مَا اسْتَطَعْتُ} 3.

و الوحدة والاتفاق والقوة: قال تعالى: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلا تَفَرَّقُوا} 4، قال تعالى: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ} 5.

وهناك أنواع كثيرة من المقاصد الشرعية التي ذكرها القرآن الكريم في مواضع مختلفة بالتصريح والإيماء تارة، والإجمال والتفصيل تارة أخرى.

2- ذكر القرآن الكريم أمثلة جزئية للحِكم والعلل والفوائد المنوطة بأحكامها، ونورد بعضًا من ذلك فيما يلي:

أ- قال تعالى: {وَأَقِمِ الصَّلاةَ لِذِكْرِي} 6. فقد شرعت الصلاة لذكر الله وتذكر أحوال الآخرة.

--------------------------------------------

1 سورة النساء، آية 28.

2 سورة الحج، آية 78.

3 سورة هود: آية 88

4 سورة آل عمران، آية 103.

5 سورة الأنفال، آية 60.

6 سورة طه، آية 14.
গ- মানুষের জন্য সহজীকরণ ও ভার লাঘব করা: আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান এবং মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে।} ১।

ঘ- সংকীর্ণতা দূর করা এবং ক্ষয়ক্ষতি দূরীভূত করা: আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা চাপিয়ে দেননি।} ২।

ঙ- সংশোধন ও পথনির্দেশ এবং ফাসাদ, পথভ্রষ্টতা ও মন্দ (المنكر) কাজ থেকে নিষেধ করা: আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আমার সাধ্যমতো সংশোধনই করতে চাই।} ৩।

চ- ঐক্য, সংহতি ও শক্তি: আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে ঐক্যবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।} ৪, আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও যুদ্ধের ঘোড়া প্রস্তুত করো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে ভীত করবে।} ৫।

শরীয়তের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের এমন অনেক প্রকার রয়েছে যা আল-কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন স্থানে কখনো স্পষ্টভাবে ও ইঙ্গিতে, আবার কখনো সংক্ষেপে ও বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

২- আল-কুরআনুল কারীম তার বিধানগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট হিকমত (প্রজ্ঞা), কারণ (علة) ও উপকারের কিছু আংশিক উদাহরণ উল্লেখ করেছে, আমরা নিচে এর কিছু বর্ণনা করছি:

ক- আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো।} ৬। মূলত সালাত প্রবর্তন করা হয়েছে আল্লাহর যিকির এবং পরকালের অবস্থা স্মরণের জন্য।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা, আয়াত ২৮।

২ সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ৭৮।

৩ সূরা হুদ, আয়াত ৮৮।

৪ সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩।

৫ সূরা আল-আনফাল, আয়াত ৬০।

৬ সূরা ত্ব-হা, আয়াত ১৪।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ب- قال تعالى: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا} 1، فقد شرعت الزكاة لطهارة المال وتزكية النفس.

ج- قال تعالى: {لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ} 2؛ فقد شرع الحج لمنافع دينية واجتماعية وتربوية كثيرة.

د- قال تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 3، فقد شرع الصوم، لوقاية النفس من الأنانية والإفراط في حب الدنيا.

هـ- قال تعالى: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ} 4. فقد شرع القصاص لحفظ حياة النفوس وسلامتها.

و قال تعالى: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لا تَكُونَ فِتْنَةٌ} 5. فقد شرع القتال لقمع الفتنة وتحقيق الأمن.

ز- قال تعالى: {إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ، إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ} 6. فقد منع الخمر والميسر لكونها يؤديان إلى العداوة والبغضاء والخصومات والتنازع.

--------------------------------------------

1 سورة التوبة، آية 103.

2 سورة الحج، آية 28.

3 سورة البقرة، آية 183.

4- سورة البقرة، آية 179.

5 سورة البقرة، آية 193.

6 سورة المائدة، آية 90.
খ- মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের সম্পদ থেকে সাদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন} ১; সুতরাং সম্পদের পবিত্রতা এবং আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য জাকাত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।

গ- মহান আল্লাহ বলেন: {যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে} ২; মূলত অসংখ্য ধর্মীয়, সামাজিক এবং শিক্ষামূলক উপকারের জন্য হজ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।

ঘ- মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} ৩; মূলত স্বার্থপরতা এবং দুনিয়ার প্রতি অতিমাত্রায় মোহ থেকে আত্মাকে রক্ষা করার জন্য রোজা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।

ঙ- মহান আল্লাহ বলেন: {আর কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন নিহিত রয়েছে} ৪। মূলত মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য কিসাস বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।

চ- মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফেতনা দূরীভূত হয়} ৫। মূলত ফেতনা দমন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুদ্ধ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।

ছ- মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্যনির্ধারক তীর অপবিত্র, এগুলো শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা এসব বর্জন করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায়} ৬। মূলত মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে কারণ এ দুটি শত্রুতা, বিদ্বেষ, কলহ এবং বিবাদের জন্ম দেয়।

--------------------------------------------

১ সূরা আত-তাওবা, আয়াত ১০৩।

২ সূরা আল-হজ, আয়াত ২৮।

৩ সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৩।

৪- সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৭৯।

৫ সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৯৩।

৬ সূরা আল-মায়েদা, আয়াত ৯০।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌صلة المقاصد بالسنة:

السنة: هي المصدر التشريعي الثاني لبيان المقاصد والغايات الشرعية؛ وذلك من خلال تأكيدها وتقريرها للمقاصد التي ذكرها القرآن وأشار إليها، ومن خلال ما استقلت ببيانه وانفردت به عن القرآن اكريم إزاء ذكر بعض الحِكَم والأسرار لبعض الأحكام التي لم يرد ذكرها في القرآن الكريم أو التي ذكرت في القرآن دون بيان مقاصدها وأسرارها، ومن أمثلة ذلك:

1- قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج فإنه أغَضُّ للبصر وأحصن للفرج" 1.

2- قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "إنما جعل الاستئذان من أجل البصر" 2.

3- قول الرسول صلى الله عليه وسلم "إنكمْ إن فعلتم ذلك قطعتهم أرحامكم" 3.

فالحث النبوي على الاستئذان قبل الدخول إلى البيوت معلَّل بفظ البصر؛ لئلا يقع على عوارت وكرامة وستر من بالداخل.

والحث النبوي على منع الجمع بين المرأة وعمتها أو خالتها معلَّل بحفظ الأنساب وسلامتها ودوام صلتها واستمرارها.

كما أن السنة نصت تنصيصًا مصرحًا به على تقرير بعض المقاصد الشرعية المعتبرة الأصلية والقطية، من ذلك قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "لا ضرر وضرار" 4. وقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "إن هذا الدين يُسر" 5.

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري في كتاب النكاح، باب: قوله النبي صلى الله عليه وسلم: "من استطاع منكم … " وسلم في كتاب النكاح، باب: استحباب النكاح لمن تاقت نفسه إليه …

2 أخرجه البخاري في كتاب الاسئذان، باب: الاستئذان من أجل البصر، وسلم في كتاب الآداب، باب تحريم النظر في بيت غيره.

3 أخرجه الطبراني في "الكبير" 11 / 11931، ابن حبان في "صحيحه" 9 / 4119.

4 أخرجه ابن ماجه في كتاب الأحكام، باب: من بنى في حقه ما يضرّ بجاره، ومالك في "الموطأ" كتاب الأقضية، باب: القضاء في المرفق.

5 جزء من حديث أخرجه النسائي في كتاب الإيمان وشرائعه، باب الدين يسر.
‌সুন্নাহর সাথে মাকাসিদের (উদ্দেশ্যসমূহের) সম্পর্ক:

সুন্নাহ হলো শরীয়তের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় আইনগত উৎস; আর তা কুরআনে বর্ণিত ও নির্দেশিত উদ্দেশ্যসমূহের সুনিশ্চিতকরণ ও সত্যায়নের মাধ্যমে এবং কুরআনে উল্লেখ নেই এমন কিছু বিধানের হিকমত ও রহস্য বর্ণনার ক্ষেত্রে সুন্নাহর স্বতন্ত্র অবস্থানের মাধ্যমে ঘটে থাকে। অথবা কুরআনে যে বিষয়গুলো সেগুলোর উদ্দেশ্য ও রহস্য বর্ণনা ছাড়াই উল্লেখ করা হয়েছে, সুন্নাহ সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করে। এর উদাহরণসমূহ হলো:

১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যার বিবাহের সামর্থ্য আছে সে যেন বিবাহ করে, কেননা তা দৃষ্টিকে অধিকতর নিম্নগামী রাখে এবং লজ্জাস্থানের অধিক হেফাযতকারী।" ১

২- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "মূলত দৃষ্টির কারণেই অনুমতি গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।" ২

৩- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তোমরা যদি এটি করো, তবে তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে।" ৩

ঘরে প্রবেশের পূর্বে অনুমতি গ্রহণের ক্ষেত্রে নববী অনুপ্রেরণা মূলত দৃষ্টির হেফাযতের কারণযুক্ত (معلل); যাতে ঘরের অভ্যন্তরে অবস্থানকারীদের গোপনীয়তা, মর্যাদা ও আবরুর ওপর দৃষ্টি না পড়ে।

আর কোনো নারী এবং তার ফুফু বা খালাকে একত্রে বিবাহে বাধা প্রদানের নববী নির্দেশনার কারণ হলো বংশপরম্পরার সুরক্ষা ও বিশুদ্ধতা এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্নতা রক্ষা করা।

তেমনিভাবে সুন্নাহ শরীয়তের কিছু স্বীকৃত মৌলিক ও অকাট্য (قطعي) উদ্দেশ্য সাব্যস্ত করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট পাঠ্যগত নির্দেশ প্রদান করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না।" ৪। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "নিশ্চয়ই এই দ্বীন সহজ।" ৫।

--------------------------------------------

১ বুখারি এটি বিবাহ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে..." এবং মুসলিম বিবাহ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: যার বিবাহের আকাঙ্ক্ষা আছে তার জন্য বিবাহ মুস্তাহাব হওয়ার বর্ণনা...

২ বুখারি এটি অনুমতি গ্রহণ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: দৃষ্টির কারণে অনুমতি গ্রহণ; এবং মুসলিম আদব অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: অন্যের ঘরে দৃষ্টিপাত করার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত।

৩ তাবারানি এটি "আল-কাবীর" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ১১ / ১১৯৩১, ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে ৯ / ৪১১৯।

৪ ইবনে মাজাহ এটি আহকাম অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তার নিজের অধিকারভুক্ত স্থানে এমন কিছু নির্মাণ করে যা তার প্রতিবেশীর ক্ষতি করে, এবং মালিক মুয়াত্তা গ্রন্থে ফয়সালা অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: ব্যবহারিক সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত ফয়সালা।

৫ নাসায়ি এটি ঈমান ও তার বিধিবিধান অধ্যায়ে বর্ণিত একটি হাদিসের অংশবিশেষ, পরিচ্ছেদ: দ্বীন সহজ।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌صلة المقاصد بالإجماع:

الإجماع: هو اتفاق المجتهدين في عصر من العصور على حُكم قضية من القضايا بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم. وهو المصدر الثالث بعد الكتاب والسنة، ويعد الإجماع مصدرًا لثبوت كثير من المقاصد الشرعية؛ وذلك من خلال:

1- الاتفاق على بعض العلل والحِكَم الجزئية على نحو: علة الصِّغَر الموجب للولاية في الأموال، والولاية في التزويج، أي أن الصغير يتولى وليه التصرف في أمواله وفي تزويجه، وحكمة ذلك جلب مصلحته ودرء مفسدة سوء تصرفه.

ومثال ذلك:

اتفاق المجتهدين على أن الغضب المؤدي إلى تشويش الذهن واضطراب النفس، وعدم التثبت في أدلة المختصمين؛ فإن ذلك الغضب يمنع قضاء القاضي؛ لأجل مصلة المتقاضين ونفي الظلم عنهم.

2- الاتفاق على المقاصد والحِكَم والغايات الشرعية الثابتة في القرآن والسنة.
সর্বসম্মত ঐকমত্যের (إجماع) সাথে শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد) সম্পর্ক:

সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর কোনো এক যুগের মুজتাহিদগণের (مجتهدين) কোনো একটি বিষয়ের বিধানের ওপর একমত হওয়া। এটি কুরআন ও সুন্নাহর পর তৃতীয় উৎস এবং অনেক শরীয়তের উদ্দেশ্য (مقاصد شرعية) সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) একটি উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়; আর তা নিম্নোক্ত পন্থায় হয়ে থাকে:

১- কতিপয় আংশিক কারণ (علل) ও প্রজ্ঞার (حكم) বিষয়ে একমত হওয়া; যেমন: সম্পদ ও বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবকত্ব (ولاية) আবশ্যক হওয়ার কারণ (علة) হিসেবে 'শৈশব' বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়াকে গণ্য করা। অর্থাৎ, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সম্পদ পরিচালনা ও বিবাহের বিষয়টি তার অভিভাবক দেখাশোনা করবেন। এর অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা (حكمة) হলো তার কল্যাণ (مصلحة) নিশ্চিত করা এবং তার ভুল পরিচালনার অকল্যাণ (مفسدة) রোধ করা।

এর উদাহরণ:

মুজতাহিদগণের (مجتهدين) এই মর্মে একমত হওয়া যে, যে ক্রোধ বা রাগ মানুষের চিন্তা-চেতনাকে বিভ্রান্ত করে এবং মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে, যার ফলে বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের প্রমাণাদি যথাযথভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না; সেই ক্রোধ বিচারকের বিচারকার্য পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করে। এটি বিচারপ্রার্থীদের কল্যাণ (مصلحة) নিশ্চিত করতে এবং তাদের থেকে জুলুম দূর করার জন্য করা হয়েছে।

২- কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত শরীয়তের উদ্দেশ্য (مقاصد), প্রজ্ঞা (حكم) ও লক্ষ্যসমূহের (غايات) ওপর একমত হওয়া।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌صلة المقاصد بالقياس:

القياس: هو إلحاق نازلة حُكم عليها، بنازلة لها حُكمها؛ لاشتراكهما في علة الحُكم.

ومثال ذلك: تحريم نبيذ الشعير قياسًا على الخمر؛ لاشتراكهما في علة الإسكار، ويكون البيان كالآتي:

المثال الأول:

الأصل: الخمر.

الفرع: نبيذ الشعير.

العلة: الإسكار.

الحكم: التحريم.

المقصد: حفظ العقل والمال.

المثال الثاني:

الأصل: لحم الخنزير.

الفرع: شحم الخنزير.

العلة: القذارة والنجاسة.

الحكم: التحريم.

المقصد: الامتثال إلى الله، وتجنب الخبائث، وصيانة النفس وحفظها من تناول النجاسة ولحوق الأضرار.

المثال الثالث:

الأصل: البكر الصغيرة.
‌মাকাসিদ ও কিয়াসের (قياس) মধ্যকার সম্পর্ক:

কিয়াস (قياس): এটি হলো কোনো একটি নবাগত বিষয়কে এমন একটি বিষয়ের সাথে সংযুক্ত করা যার বিধান পূর্বনির্ধারিত; বিধানের কারণের (علة) ক্ষেত্রে উভয়ের অংশীদারিত্বের কারণে।

এর উদাহরণ হলো: মদের সাথে তুলনা বা কিয়াস (قياس) করে যবের তৈরি পানীয়ের (নাবীজ) নিষিদ্ধকরণ (التحريم); উভয়ের মধ্যে মাতাল করার গুণের (الإسكار) অংশীদারিত্বের কারণে। এর বর্ণনা নিম্নরূপ:

প্রথম উদাহরণ:

মূল ভিত্তি (الأصل): মদ।

শাখা (الفرع): যবের তৈরি পানীয় (নাবীজ)।

কারণ (العلة): মাতাল করা (الإسكار)।

বিধান (الحكم): নিষিদ্ধকরণ (التحريم)।

উদ্দেশ্য (المقصد): বিবেক ও সম্পদ সংরক্ষণ।

দ্বিতীয় উদাহরণ:

মূল ভিত্তি (الأصل): শুকরের মাংস।

শাখা (الفرع): শুকরের চর্বি।

কারণ (العلة): অপবিত্রতা (القذارة) ও নাপাকি (النجاسة)।

বিধান (الحكم): নিষিদ্ধকরণ (التحريم)।

উদ্দেশ্য (المقصد): আল্লাহর আনুগত্য (الامتثال) করা, অপবিত্র বিষয়াদি (الخبائث) বর্জন করা এবং নাপাকি ভক্ষণ ও ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া থেকে নফসের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ করা।

তৃতীয় উদাহরণ:

মূল ভিত্তি (الأصل): কুমারী নাবালিকা।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الفرع: الثيب الصغيرة.

العلة: الصغر.

الحكم: وجوب الولاية في التزويج.

المقصد: حفظ كرامة المرأة وصيانة مصلحتها؛ كي لا تضع نفسها في سوء الاختيار.

المثال الرابع:

الأصل: القضاء في أثناء الغضب.

الفرع: القضاء في أثناء الجوع الشديد.

العلة: تشويش الذهن.

الحكم: المنع.

المقصد: حفظ حقوق المتخاصمين، وتحقيق العد بينهم بالانتباه والتثبت في أدلتهم واحتجاجاتهم.

المثال الخامس:

الأصل: الذهب والفضة.

الفرع: الأوراق المالية والنقود المعدنية.

العلة: الثَمَنِيَّةُ: أي أنهما تقوم بهما الممتلكات، وتضمن بهما المتلفات.

الحكم: تحريم التفاضل بينهما عند التبادل، واشتراط التسليم الفوري لكليهما.

المقصدك حفظ المال، ومنع أخذه بغير وجه حق، والمحافظة على القيمة الثَمِنَيَّةُ للذهب والفضة في حكمها.
শাখা (الفرع): অপ্রাপ্তবয়স্ক বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা (الثيب الصغيرة)।

কার্যকর কারণ (العلة): অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (الصغر)।

বিধান (الحكم): বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবকত্বের আবশ্যকতা।

উদ্দেশ্য (المقصد): নারীর মর্যাদা রক্ষা এবং তার কল্যাণ নিশ্চিত করা; যাতে সে ভুল নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।

চতুর্থ উদাহরণ:

মূল ভিত্তি (الأصل): রাগান্বিত অবস্থায় বিচারকার্য পরিচালনা করা।

শাখা (الفرع): প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত অবস্থায় বিচারকার্য পরিচালনা করা।

কার্যকর কারণ (العلة): মানসিক অস্থিরতা বা মনোযোগের বিক্ষিপ্ততা (تشويش الذهن)।

বিধান (الحكم): নিষেধাজ্ঞা (المنع)।

উদ্দেশ্য (المقصد): বিবাদমান পক্ষসমূহের অধিকার রক্ষা করা এবং তাদের প্রমাণাদি ও যুক্তিগুলো মনোযোগ সহকারে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

পঞ্চম উদাহরণ:

মূল ভিত্তি (الأصل): সোনা ও রুপা।

শাখা (الفرع): কাগুজে মুদ্রা এবং ধাতব মুদ্রা।

কার্যকর কারণ (العلة): অর্থমূল্য হওয়া (الثَمَنِيَّةُ): অর্থাৎ এগুলোর মাধ্যমে সম্পদের মূল্যায়ন করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মালের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়।

বিধান (الحكم): বিনিময়ের সময় কম-বেশি করা হারাম হওয়া (تحريم التفاضل) এবং উভয় ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক হস্তান্তরের (التسليم الفوري) শর্তারোপ।

উদ্দেশ্য (المقصد): সম্পদ রক্ষা করা, অন্যায়ভাবে তা গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা এবং সোনা ও রুপার অর্থমূল্য হওয়ার বৈশিষ্ট্যের বিধান (الحكم) বজায় রাখা।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাকাসিদ আশ-শারইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌صلة المقاصد بالأدلة المختلف فيها:

1- علاقة الأدلة بالمصلحة المرسلة:

المصلحة المرسلة: هي المصلحة المسكوت عنها التي لم يشهد الشارع باعتبارها ولا بإلغائها، وهي حجة عند جمهور العلماء والأصوليين إذا تلائمت مع الأدلة والمقاصد الشرعية.

أمثلتها:

1- جمع القرآن الكريم في عهد أبي بكر رضي الله عنه؛ لمصلحة حفظه من الضياع والاندثار بعد تفرق القُرَّاء وموتهم؛ فهذه المصلحة ليس لها دليل شرعي ينص عليها باعتبارها وإقرارها، أو إلغائها وإبعادها، وكل ما في الأمر أن هناك أدلة وقواعد شرعية وإجمالية، تدعو إلى حفظ الدين وحفظ كتابه تعالى.

2- الاستعانة بالمضخمات الصوتية وبوسائل التكنولوجيا المعاصرة في الأذان والصلوات والجمعات وخطب العيدين وعرفات ومناسك الحج والعمرة والتراويح؛ فهذه الوسائل المعاصرة مفضية إلى تحقيق مصالح كثيرة منها إذاعة القرآن الكريم والآذان وإسماع جميع الناس وحسن إفادتهم بالعلم النافع وغير ذلك، ومع أن مكبرات ومضخمات الصوت لم ينص عليها القرآن ولا في السنة، ولم توجد في عهد السلف والا في عصر الخلف؛ وإنما وجدت ما يؤيدها في دين الله من حيث كونها خادمة لمشروعية ما بثته وأذاعته.

3- تسجيل العقود وتوثيقها في الدوائر الحكومية والقضائية والإدارية معلَّل
ভিন্নমতপূর্ণ দলিলের সাথে মাকাসিদের (উদ্দেশ্যসমূহের) সম্পর্ক:

১- জনস্বার্থ (المصلحة المرسلة)-এর সাথে দলিলের সম্পর্ক:

জনস্বার্থ (المصلحة المرسلة): এটি হলো এমন জনস্বার্থ যা সম্পর্কে শরিয়ত নীরব রয়েছে, যার গ্রহণযোগ্যতা বা বর্জনের ব্যাপারে শরিয়ত প্রণেতা (শা’রে) কর্তৃক কোনো সাক্ষ্য বা প্রমাণ প্রদান করা হয়নি। এটি অধিকাংশ আলেম ও উসুলবিদগণের (الأصوليين) নিকট দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য, যদি তা শরয়ি দলিল ও শরিয়তের উদ্দেশ্যের (المقاصد الشرعية) সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।

এর উদাহরণসমূহ:

১- আবু বকর (রা.)-এর যুগে পবিত্র কুরআন সংকলন করা; ক্বারীগণের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া এবং তাদের ইন্তেকালের পর কুরআন হারিয়ে যাওয়া ও বিলুপ্ত হওয়া থেকে সংরক্ষণের স্বার্থে। এই জনস্বার্থের সপক্ষে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট শরয়ি দলিল নেই যা সরাসরি এর স্বীকৃতি ও অনুমোদনের কথা উল্লেখ করে, অথবা এর বাতিল ও বর্জনের নির্দেশ দেয়। মূলত বিষয়টি হলো, এখানে এমন কিছু সাধারণ শরয়ি দলিল ও মূলনীতি রয়েছে, যা দ্বীন রক্ষা এবং মহান আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।

২- আজান, নামাজ, জুমা, দুই ঈদের খুতবা, আরাফাতের ময়দান, হজ ও উমরার কার্যাবলি এবং তারাবিতে লাউডস্পিকার ও সমসাময়িক প্রযুক্তির সাহায্য গ্রহণ করা। এই আধুনিক মাধ্যমগুলো অনেক জনস্বার্থ অর্জনে সহায়ক, যার মধ্যে রয়েছে পবিত্র কুরআন ও আজান প্রচার করা, সকল মানুষকে তা শোনানো এবং উপকারী জ্ঞানের মাধ্যমে তাদের সুন্দরভাবে উপকৃত করা ইত্যাদি। যদিও লাউডস্পিকার বা শব্দবর্ধক যন্ত্রের কথা কুরআন বা সুন্নাহতে নেই এবং এটি সলফ বা খলফগণের যুগেও বিদ্যমান ছিল না; তবে আল্লাহর দ্বীনে এমন বিষয় পাওয়া যায় যা একে সমর্থন করে, কারণ এটি যা প্রচার ও প্রকাশ করছে তার শরয়ি বিধান বাস্তবায়নে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

৩- সরকারি, বিচার বিভাগীয় ও প্রশাসনিক দপ্তরে চুক্তি নিবন্ধন ও দলিলায়ন করা, যা কারণ দর্শানো হয়েছে...