(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: -)
الاهتمام بالسنة النبوية بلغة الهوسا   (محمد الثاني بن عمر موسى)

القسم: فهارس الكتب والأدلة


الكتاب: الاهتمام بالسنة النبوية بلغة الهوسا

المؤلف: محمد الثاني بن عمر موسى

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 64

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাউসা ভাষায় সুন্নাহর প্রতি গুরুত্বারোপ   (মুহাম্মদ আস-সানি বিন উমর মুসা)

বিভাগ: বইয়ের সূচিপত্র ও নির্দেশিকা


বই: হাউসা ভাষায় সুন্নাহর প্রতি গুরুত্বারোপ

লেখক: মুহাম্মদ আস-সানি বিন উমর মুসা

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة

…

مدخل

(1)

بيانٌ موجَز لدخول الإسلام بلادَ الهوسا وأثرُه فيهم

ذهب أكثر الباحثين إلى أنّ الإسلامَ دخل بلاد الهوسا في الفترة بين القرن الحادي عشر والرّابع عشر الميلاديين، وذلك لأنّ ملك كَانِم برنو (1) : هَمّي جَلْمي (1085- 1097م) اعتنق الإسلامَ فأسلمت على يده مملكتُه كلّها، وصار الإسلام فيها بعد ذلك منتشراً في سلاطينهم وعامّتهم، بل ليس في هذه البلاد عامّة معتنون بقراءة القرآن وتجويدِه وحِفْظه وكتابَتِه أكثر منهم (2) . وقد أسلم أمير كانو: عَلِي ياجي (1349-1385م) وانتشر الإسلام في عهده. وَفرّق الأستاذ الدكتور شيخو أحمد غلادنثي ما بَين دخول الإسلام إلى الدولة وانتشارِه عن طريقها، - فيكون الأمر كما ذكر المؤرِّخون -، وبين دخول الإسلام إلى أفراد الشّعب وانتشاره بينهم بالطّرق السِّلْمِيّة عن طريق التّجارة وغيرها، وحينئذ فدخول الإسلام إلى المنطقة أقدمُ بكثير مما ذكر المؤرِّخون (3) ، ومما استُشْهد به على ذلك قولُ المؤرِّخ الشيخ محمّد بللو: ((إنّ الإسلام في هذه البلاد إنّما ورد به التّجار والمسافِرون فأخذه مَن أَخَذه عَنْهم)) (4) .

بيد أنّ غَالِب من اعتنق الإسلام في أوّل الأمر لم يدركوا جَيّدا الحقائقَ

--------------------------------------------

(1) تقع الآن في نيجيريا.

(2) ((إنفاق الميسور)) لمحمد بللو (ص9) .

(3) انظر: ((حركة اللغة العربية وآدابها في نيجيريا)) للدكتور شيخو غلادنثي (27- 30) .

(4) ((إنفاق الميسور)) لمحمد بللو (ص10) ، وانظر: ((حركة اللغة العربية)) (ص33) .
ভূমিকা

…

উপক্রমণিকা

(১)

হাউসা ভূখণ্ডে ইসলামের প্রবেশ এবং তাদের ওপর এর প্রভাবের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

অধিকাংশ গবেষক এই মত পোষণ করেছেন যে, একাদশ থেকে চতুর্দশ খ্রিস্টীয় শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে হাউসা ভূখণ্ডে ইসলাম প্রবেশ করেছে। এর কারণ হলো কানিম বরনোর (১) রাজা হাম্মি জালমি (১০৮৫-১০৯৭ খ্রি.) ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর মাধ্যমেই তাঁর সমগ্র রাজ্য ইসলাম গ্রহণ করে। এরপর সেখানে তাদের সুলতান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বস্তুত এই ভূখণ্ডে কুরআন তিলাওয়াত, তাজবিদ, হিফজ এবং তা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাদের চেয়ে বেশি অনুরাগী সাধারণ মানুষ আর নেই (২)। কানুর আমির আলি ইয়াজি (১৩৪৯-১৩৮৫ খ্রি.) ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর শাসনামলে ইসলামের প্রসার ঘটে। প্রফেসর ড. শেখু আহমদ গালাদানসি রাষ্ট্রে ইসলামের প্রবেশ ও রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে তার প্রসারের—যা ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন—এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইসলামের প্রবেশ ও বিস্তৃতির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। সেই হিসেবে এই অঞ্চলে ইসলামের প্রবেশ ঐতিহাসিকদের বর্ণিত সময়ের তুলনায় অনেক প্রাচীন (৩)। এ বিষয়ে ঐতিহাসিক শেখ মুহাম্মদ বেললোর এই উক্তিটি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়: "নিশ্চয়ই এই ভূখণ্ডে বণিক ও মুসাফিরদের মাধ্যমে ইসলাম এসেছে, অতঃপর যারা তা গ্রহণ করার ছিল, তারা তাদের কাছ থেকেই তা গ্রহণ করেছে" (৪)।

তবে প্রাথমিক পর্যায়ে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের অধিকাংশরাই ইসলামের প্রকৃত সত্যসমূহ সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেননি

--------------------------------------------

(১) বর্তমানে এটি নাইজেরিয়ায় অবস্থিত।

(২) মুহাম্মদ বেললো রচিত "ইনফাকুল মাইসুর" (পৃষ্ঠা ৯)।

(৩) দেখুন: ড. শেখু গালাদানসি রচিত "নাইজেরিয়ায় আরবি ভাষা ও সাহিত্যের আন্দোলন" (২৭-৩০)।

(৪) মুহাম্মদ বেললো রচিত "ইনফাকুল মাইসুর" (পৃষ্ঠা ১০), আরও দেখুন: "আরবি ভাষা ও সাহিত্যের আন্দোলন" (পৃষ্ঠা ৩৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ২)
الإسلاميّة، فاستمرّوا على ما يُشبِه جاهليَّتَهم، مع تَأْدِيتِهم بعضَ شعائر الإسلام كالصّلاة والصّوم، ولكن ذلك لم يمنعهم من التّعلق بغير الله، والذّبح للجنّ والأشجار، وإتيان الكَهنة والسَّحرة، والتّطيّر، وإدمانِ الخمر، وتبرّج النّساء، وغير ذلك، ومما زاد الطِّينَ بِلّةً أنّ أكثر السّلاطين الذين ادّعوا الإسلام لَم يؤمنوا به حقّ الإيمان، وإنما أرادوا استغلالَه لمصالحهم؛ لَمّا رأوا إقبالَ النّاس على ذلك الدين الجديد. وكان العلماء أيضاً في أول العهد قلّة، ولم يكن لدى التّجار الذين هم سببُ انتشار الإسلام الكَفَاءةُ العِلمِيَّة الّتي تُؤَهِّلُهم لشرح المعاني الدّقيقة والقواعد الأساسية للإسلام، ويُضاف إلى ذلك كثرةُ ترحال التّجار وعدم استقرارهم في محل واحد؛ مما جعل إمكانية التّعليم الجاد المستمرّ أمراً عسيراً، لكن الأمر تحسّن مع مرور الوقت، لما بدأ العلماء يَفدون إلى هذه البلاد من المغرب العربي ومصر، ولعلّ من أشهر من وفد إليها من العُلماء الإمام السّيوطي رحمه الله (ت911هـ) ، والشّيخ محمد بن عبد الكريم المغيلي التلمساني (ت919هـ) . فانكبّ جمعٌ من النّاس على طلب العلم، ونشأ العديدُ من المدارس والمراكز العِلمِيَّة.

ثم إنّ الأمر قبل ظهور دولة الشّيخ عثمان بن فودي (خلافة صكتو) قد أخذ في التّردي والانحطاط، حَتّى كادت آثارُ الإسلام تُمْحى؛ إذْ أكبّ كثيرٌ من النّاس على عبادة الأحجار والأشجار والأنهار يَرجُونها لجلب الخير

ودفع الشَّرّ، وانتشرت البدَعُ، وفَشَتِ المنكراتُ والتّقاليد الجاهليّة بصورةٍ مُزْرِيَةٍ جداًّ.

فشاء الله أن تهبّ رياحُ خيرٍ على المنطقة في أوائل القرن الحادي عشر الهجري، إذ ظَهر نخبةٌ من العلماء، منهم: الشّيخ محمد سمبو بن عبد الله، وكان
ইসলামী যুগে প্রবেশ করার পর তারা তাদের জাহেলি অবস্থার অনুরূপ রীতিনীতির ওপরই অবিচল থাকে। যদিও তারা সালাত ও সওমের মতো ইসলামের কিছু বিধান পালন করত, কিন্তু তা তাদের আল্লাহ ছাড়া অন্যের প্রতি আসক্ত হওয়া, জিন ও বৃক্ষের উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করা, গণক ও জাদুকরদের নিকট গমন করা, কুলক্ষণ গ্রহণ করা, মদ্যপানে আসক্ত হওয়া, নারীদের বেপর্দা চলাফেরা করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য কাজ থেকে বিরত রাখতে পারেনি। বিষয়টিকে আরও সংগিন করে তুলেছিল এই যে, অধিকাংশ সুলতান যারা ইসলামের দাবিদার ছিল, তারা এর ওপর প্রকৃত ঈমান আনেনি; বরং তারা যখন দেখল মানুষ এই নতুন দ্বীনের প্রতি ধাবিত হচ্ছে, তখন তারা একে তাদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। প্রাথমিক যুগে আলেমদের সংখ্যাও ছিল অত্যন্ত কম। আর যে সকল ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ইসলামের প্রচার ঘটেছিল, ইসলামের সূক্ষ্ম অর্থ ও মৌলিক নীতিমালা ব্যাখ্যা করার মতো প্রয়োজনীয় ইলমি যোগ্যতা তাদের ছিল না। এর সাথে যোগ হয়েছিল ব্যবসায়ীদের অধিক ভ্রমণ এবং এক স্থানে স্থায়ীভাবে অবস্থান না করার বিষয়টি; যার ফলে গুরুত্বের সাথে ধারাবাহিক শিক্ষা প্রদান করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে, যখন মাগরেব এবং মিশর থেকে আলেমরা এই দেশগুলোতে আসতে শুরু করেন। আগত আলেমদের মধ্যে সম্ভবত সবচাইতে প্রসিদ্ধ ছিলেন ইমাম সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) এবং শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কারীম আল-মাগীলি আত-তিলিমসানি (মৃত্যু: ৯১৯ হিজরি)। অতঃপর একদল মানুষ জ্ঞান অন্বেষণে ঝুঁকে পড়ে এবং অনেক মাদ্রাসা ও শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে ওঠে।

অতঃপর শাইখ উসমান বিন ফুদি-র রাষ্ট্র (সোকোতো খিলাফত) প্রতিষ্ঠার পূর্বে পরিস্থিতির চরম অবনতি ও অধঃপতন শুরু হয়, এমনকি ইসলামের চিহ্নসমূহ প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল; কেননা অধিকাংশ মানুষ কল্যাণ অর্জনের আশায় পাথর, বৃক্ষ ও নদীর পূজায় মত্ত হয়ে পড়েছিল

এবং অকল্যাণ দূর করার নিমিত্তে বিদআত ছড়িয়ে পড়েছিল। পাপাচার ও জাহেলি রীতিনীতি অত্যন্ত জঘন্যভাবে বিস্তার লাভ করেছিল।

অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় হিজরি একাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এই অঞ্চলে কল্যাণের বাতাস প্রবাহিত হয়। সে সময় একদল বরেণ্য আলেম আবির্ভূত হন, যাদের মধ্যে ছিলেন: শাইখ মুহাম্মাদ সাম্বু বিন আব্দুল্লাহ, আর তিনি ছিলেন
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ৩)
عالماً تقياً، رَحل إلى الحرمَيْن وأقام فيهما بِضع عشرة حِجَّة، ومنهم الشّيخ محمّد بن الرّاجي، أخذ (صحيح البخاري) وكتبَ السُّنَّة عن علماء الحجاز، وله إجازة إلى البخاري من شَيخه أبي الحسن السِّندي عن محمّد بن حياة السِّندي. ومنهم: الشّيخ جبريل بن عمر، الذي كان عالماً ربّانياً، شديدَ التّمسك بالسُّنَّة، وصار الأمر بالمعروف والنّهي عن المنكر دَيْدَنَه، ولم يَكن يَخافُ في ذلك لومَةَ لائمٍ، فقام بمحاربة البِدع والعادات الجاهليّة، فأخذ ذلك عنه تلميذُه الشّيخ عثمان بن محمّد بن صالح بن فودي الّذي سَاءَه ما آلت إليه أحوالُ البلاد من قلّةِ العلْمِ وانتشار البِدَع والخرافَات وظُلْمِ الأمراء وغير ذلك، فأخذ يَقتفي أثرَ شيخه (جبريل بن عمر) فَجال المدُنَ والقُرى يدعو النّاس ويعلمّهم دينَهم، فدعا إلى إحياء السُّنَّة وطرح مَا يخالفها، وقد وقف رحمه الله أمام سَلاطين الهوسا وَأنكر عليهم انحرافَهم عن الدِّين وظُلْمَهم الرَّعِيَّةَ وحملَهم إيّاهم على أحكامٍ جاهليَّةٍ وتقاليدَ موروثَةٍ، فقابلوا دعوتَه بالرَّفض والاضطهاد له - وأمّا عامة الشّعب فقد التفوا حول الشّيخ منذ البداية، وَقَبِلوا دَعْوَتَه وأخذوها بقوّة - وكان أشدّ الأمراء عداوةً لدعوة الشّيخ سلطان غُوبر الذي يُدعى (يُنفَى) ، فدارت مناوشاتٌ وحروبٌ انتهت إلى النّصر المبين لجماعة الشّيخ. وأخذت إماراتُ الهوسا تَسقط شيئاً فشيئاً، إلى أن أقام الشّيخ عثمان عام: 1812م دولةً إسلاميّة قويّةً هي الوحيدة على نمطها في القارة الإفريقيّة، فدخلت في طاعتها كلّ إماراتِ الهوسا وبعضُ مملكة برنو وإقليمِ أَدَمَاوَا.

وقد أخذتْ هذه الدّولة على عَاتقها تطبيقَ الشّريعة، ونشر الإسلام وثقافته واللّغة العربيّة في المنطقة بصورةٍ مُتميِّزة، بل إنّها صَيّرت العربية لغة
একজন পরহেজগার আলেম ছিলেন, তিনি হারামাইন শরিফাইনে সফর করেছিলেন এবং সেখানে দশ বছরের কিছু বেশি সময় অবস্থান করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন শেখ মুহাম্মদ বিন আল-রাজি, যিনি হিজাজের আলেমদের নিকট থেকে সহিহ বুখারি এবং সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ পাঠ করেছিলেন। তাঁর উস্তাদ আবুল হাসান আস-সিন্দি, যিনি মুহাম্মদ বিন হায়াত আস-সিন্দি থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁর মাধ্যমে ইমাম বুখারি পর্যন্ত তাঁর একটি ইজাজত রয়েছে। আর তাঁদের মধ্যে অপর একজন হলেন: শেখ জিবরিল বিন উমর, যিনি ছিলেন একজন রব্বানি আলেম এবং সুন্নাহর অত্যন্ত একনিষ্ঠ অনুসারী। সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ করা তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল এবং এ বিষয়ে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পেতেন না। ফলে তিনি বিদআত ও জাহেলি রীতিনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেন। তাঁর থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করেন তাঁর ছাত্র শেখ উসমান বিন মুহাম্মদ বিন সালেহ বিন ফুদি, যিনি দেশের ইলমের স্বল্পতা, বিদআত ও কুসংস্কারের প্রসার, শাসকদের জুলুম এবং অন্যান্য প্রতিকূল পরিস্থিতি দেখে ব্যথিত হয়েছিলেন। তাই তিনি তাঁর উস্তাদ (জিবরিল বিন উমর)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে শুরু করেন এবং শহর ও গ্রামগুলোতে ঘুরে ঘুরে মানুষকে দাওয়াত দিতে ও তাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে লাগলেন। তিনি সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করার এবং এর বিপরীত বিষয়গুলোকে বর্জন করার আহ্বান জানান। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি হাউসা সুলতানদের সামনে দাঁড়ালেন এবং দ্বীন থেকে তাদের বিচ্যুতি, প্রজাদের ওপর তাদের জুলুম এবং জাহেলি হুকুম ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত প্রথাগুলো তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ করেন। তারা তাঁর দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান ও তাঁর ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে মোকাবিলা করে। তবে সাধারণ মানুষ শুরু থেকেই শেখের চারপাশে সমবেত হয়েছিল এবং তাঁর দাওয়াত কবুল করে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিল। শেখের দাওয়াতের প্রতি সবচেয়ে কঠোর শত্রুতা পোষণকারী শাসক ছিল গোবির-এর সুলতান, যাকে 'ইউনফা' বলা হতো। ফলে বিভিন্ন ছোটখাটো লড়াই ও যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা শেখের দলের সুস্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। এরপর হাউসা আমিরাতগুলো একে একে পতন হতে থাকে, যতক্ষণ না ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে শেখ উসমান একটি শক্তিশালী ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন, যা আফ্রিকা মহাদেশে তার নিজস্ব ধরনে ছিল অনন্য। ফলে সমস্ত হাউসা আমিরাত, বোর্নু রাজ্যের কিছু অংশ এবং আদামাওয়া অঞ্চল তাঁর আনুগত্যের অধীনে চলে আসে।

এই রাষ্ট্র শরিয়ত বাস্তবায়ন এবং এই অঞ্চলে ইসলাম, এর সংস্কৃতি ও আরবি ভাষার প্রসারের দায়িত্ব অত্যন্ত সার্থকভাবে নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিল। এমনকি এটি আরবিকে একটি ভাষায় পরিণত করেছিল...
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ৪)
البلاد الرّسميّة، وقامت بتشجيع العُلماء على الدّعوة والتّدريس والوعظ، فانتشر لذلك الإسلام بين جميع رَعَايَاها حتى لم يبق منهم على الوثنيّة إلاّ قلّة، واستمرّت على المنهج الإسلامي - وإن وجدت بعضُ الانحرافات عن المنهج الأمثل لدى بعض أُمرائها، ولكن قواعد الدّولة ظلّت على أساس الشّريعة الإسلاميّة - إلى أن سيطر الإنجليز عليها عام 1903م.

ومن الجدير بالذّكر أنّ قبائل الهوسا يتمركزون بِصِفَةٍ أساسيّة في الإقليم الشّمالي للبلاد، وكذلك في الْبُلدان المجاوِرة مثل: النّيجر والكامرون، وشمالي التُوجو وبنين وغَاَنا، ويبلغ نِسبتُها من عدد السّكان – بما فيها قبائل الفولاّني - حوالي: 33 ? يمثِّل المسلمون منهم أكثرَ من 97 ?، ونسبةُ التدين فيهم عالية بسبب الحركة التجديديّة للشيخ عثمان بن فودي، ومع ذلك فلا يَزال الجهلُ بالدّين وبعضُ العادات والتّقاليد الخاطئة مشوِّهَاتٍ ضخمة لروح التّدين لديهم. وقد امتزج الهوساويون بقبائل الفولاّني، ونتيجةً لشدة التّمازج الحاصل بين هاتين المجموعتين فإنّ أكثر من 70 ? من الفولانيين الّذين يعيشون في المدن لا يعرفون لغتهم الأصليّة، ويستخدمون في تخاطبهم لغة الهوسا بَدلاً عنها، فأصبحوا يؤلفون مجموعةً عرقيةً واحدة يُطلق عليها اسم: (هوسا-فولاني) .
রাষ্ট্রীয় পর্যায়, আর এটি আলেমদের দাওয়াত, শিক্ষাদান এবং ওয়াজ-নসিহতে উৎসাহিত করত। ফলে এর সকল প্রজাদের মধ্যে ইসলাম বিস্তৃত হয়, এমনকি তাদের মধ্যে মূর্তিপূজারী সামান্য কিছু লোক ব্যতীত আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। এটি ইসলামি মানহাজের ওপর অটল ছিল—যদিও এর কোনো কোনো আমিরের মাঝে আদর্শ মানহাজ থেকে কিছু বিচ্যুতি বিদ্যমান ছিল, তবে রাষ্ট্রের ভিত্তি ইসলামি শরিয়তের ওপরই প্রতিষ্ঠিত ছিল—১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজরা এর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা পর্যন্ত।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, হাউসা গোত্রগুলো প্রধানত দেশের উত্তরাঞ্চলে এবং প্রতিবেশী দেশসমূহ যেমন: নাইজার, ক্যামেরুন, উত্তর টোগো, বেনিন ও ঘানায় কেন্দ্রীভূত। ফুলানি গোত্রসহ মোট জনসংখ্যার মধ্যে তাদের অনুপাত প্রায় ৩৩%; যাদের মধ্যে মুসলিমদের হার ৯৭%-এরও বেশি। শেখ উসমান বিন ফুদির সংস্কারবাদী আন্দোলনের কারণে তাদের মাঝে ধর্মপ্রাণতার হার অত্যন্ত উচ্চ। তা সত্ত্বেও, দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং কিছু ভুল প্রথা ও ঐতিহ্য এখনও তাদের ধর্মীয় চেতনার ক্ষেত্রে বড় ধরণের বিকৃতি হিসেবে রয়ে গেছে। হাউসা জনগোষ্ঠী ফুলানি গোত্রগুলোর সাথে মিশে গেছে এবং এই দুই গোষ্ঠীর মাঝে প্রবল সংমিশ্রণের ফলে শহরে বসবাসকারী ৭০%-এরও বেশি ফুলানি তাদের নিজস্ব ভাষা জানে না; তারা পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এর পরিবর্তে হাউসা ভাষা ব্যবহার করে। ফলে তারা একটি একক জাতিগত গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে যাদেরকে 'হাউসা-ফুলানি' নামে অভিহিত করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ৫)
(2)

لَمْحَةٌ عن مَكَانة السُّنَّة النَّبويَّة في التّشريع الإسلاميّ

للسّنة النَّبويَّة مكانةٌ عظيمةٌ ومنزلة عاليةٌ رفيعةٌ في التّشريع الإسلامي، فهي المبيِّنةُ للقرآن الكرِيم، والمفسِّرةُ لمجمَلِه، والمخصِّصَة لعامِّه، والمقيّدة لمطلَقِه، والشّارحةُ لمبهَمِه، ولذلك أوجب الله تعالى على المسلمين النّزولَ عندحكمِه صلى الله عليه وسلم في كلّ خلافٍ فقال تعالى {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُواْفِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا} : [النساء: 65] .

وجعل طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم طاعة لله، فقال عز من قائل: {مَّنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ وَمَن تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَعَلَيْهِمْ حَفِيظًا} [النساء: 80] . وحذّر من مَغَبّة مُخالَفة أمره صلى الله عليه وسلم فقال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] .

والآيات في وجوب اتباع سنّته صلى الله عليه وسلم والنّهي عن مخالفته صلى الله عليه وسلم كثيرةٌ جدًّا.

وقد أكد رَسول الله صلى الله عليه وسلم هذا المعنى في أحاديثَ كثيرةٍ تكفي في الدّلالة على أنّ السُّنَّة تَوْءَمُ الكِتاب، وقرينةُ التنزيل؛ منها ما رواه الإمام أحمد (1) وأبو داود (2) - واللفظ له- بسندٍ صحيحٍ عن المقدام بن مَعدي كرب أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((ألا إنّي أوتيتُ الكتابَ ومثلَه مَعه)) . وهذه المثليّة شاملةٌ

--------------------------------------------

(1) ((مسند الإمام أحمد)) (4/130) .

(2) ((سنن أبي داود)) (4/200/رقم4604) .
(২)

ইসলামী শরিয়তে সুন্নাহর অবস্থানের ওপর একটি আলোকপাত

ইসলামী শরিয়তে সুন্নাহর সুমহান মর্যাদা এবং অতি উচ্চ ও সম্মানিত অবস্থান রয়েছে। কারণ এটিই পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানকারী, এর সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিশদ বর্ণনাকারী, এর সাধারণ বিধানগুলোকে সুনির্দিষ্টকারী, এর শর্তহীন বিধানগুলোকে শর্তযুক্তকারী এবং এর অস্পষ্ট বিষয়গুলোর সুস্পষ্টকারী। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের জন্য প্রতিটি মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিদ্ধান্তের নিকট আত্মসমর্পণ করা ওয়াজিব করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা প্রদান করেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব না করে এবং পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে তা মেনে নেয়।} : [সূরা আন-নিসা: ৬৫]।

এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যকে আল্লাহর আনুগত্য হিসেবে গণ্য করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যারা মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি।} [সূরা আন-নিসা: ৮০]। এবং তিনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করার ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {কাজেই যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপদ বা ফিতনা আসতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হতে পারে।} [সূরা আন-নূর: ৬৩]।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা এবং তাঁর বিরুদ্ধাচরণের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আয়াতসমূহ অত্যন্ত ব্যাপক।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক হাদিসে এই অর্থের ওপর জোর দিয়েছেন, যা একথার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট যে, সুন্নাহ হলো কিতাবের (কুরআনের) অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ওহীর সমতুল্য। তার মধ্যে একটি হলো যা ইমাম আহমাদ (১) এবং আবু দাউদ (২) —হাদিসের শব্দগুলো তাঁর— মিকদাম ইবনে মা’দী কারিব থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু প্রদান করা হয়েছে।)) আর এই সদৃশতা অত্যন্ত ব্যাপক...

--------------------------------------------

(১) মুসনাদে ইমাম আহমাদ (৪/১৩০)।

(২) সুনানে আবু দাউদ (৪/২০০/হাদিস নং ৪৬০৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ৬)
لمعنى الوَحْي، ومَعْنى الاستقلاليَّة في التّشريع، فهو وحيٌ كالتنزيل، وشريعةٌ يتحتَّم على المسلم الإيمانُ بها، والتَّسليمُ لقضائها دون شعورٍ بأدنى حرجٍ من ذلك أو ضيقٍ، وأنّ على المسلم الأخذَ بها ومَن ادَّعَى الاستغناءَ بالقرآن عَنها فقد خاَلف الصِّراط المستقيم الّذي دلّت عليه آياتُ التنزيل وبَيَّنَه النّبي صلى الله عليه وسلم أوضحَ بيانٍ، وسار عليه الصّحابة وأئمّة الهدى من بعدهم رضي الله عنهم أجمعين.
ওহীর তাৎপর্য এবং শরীয়ত প্রণয়নে এর স্বাতন্ত্র্যের কারণে এটি অবতীর্ণ কিতাবের মতোই ওহী এবং এমন এক শরীয়ত যার প্রতি ঈমান আনা এবং এর ফয়সালার সামনে সামান্যতম সংকীর্ণতা বা দ্বিধা বোধ না করে আত্মসমর্পণ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। আর মুসলিমের কর্তব্য হলো একে গ্রহণ করা; যে ব্যক্তি কুরআনকে যথেষ্ট মনে করে এটি বর্জনের দাবি করবে, সে মূলত সেই সরল পথ থেকে বিচ্যুত হলো যে পথের নির্দেশ কুরআনের আয়াতসমূহ দিয়েছে এবং নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তা বর্ণনা করেছেন, আর সাহাবীগণ ও তাঁদের পরবর্তী হিদায়েতের ইমামগণ (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন) সেই পথেই চলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفصل الأول: الاهتمام بتدريس السنة بلغة الهوسا

‌‌تدريس السنة بلغة الهوسا في الحلقات العلمية والدروس العامة

‌‌مدخل

…

الفصل الأوّل: الاهتمام بتدريس السُّنَّة بلغَةِ الْهوسا

تدريس السُّنَّة بلغة الهوسا في الحلقات العِلمِيَّة والدّروس العامّة

إنّ اهتمامَ المسلمين بالسُّنَّة قديماً وحديثاً راجعٌ إلى درايتهم بمكانتها في التّشريع الإسلاميّ، وعلمهم بمنزلتها من الوحي الإلهيّ، ومن صُوَر اهتمام المسلمين من قبائل الهوسا بالسُّنَّة النَّبويَّة اهتمامُهم بِنَقْلها وتدريسها للأفراد والعامّة، عبر قناةِ لغة الهوسا، ففي حَلقات العلم لَديهم تجد أنّ مِن بين الكتب التي يدرِّسها الشّيخ تلاميذَه كُتُباً في السُّنَّة النَّبويَّة، مستخدِماً في تدريسها لغةَ الهوسا، يَشرح لهم معاني الأحاديث المقروءة عليه؛ بالاختصار تارةً، وبالبسط تارةً أخرى حسب ما للشّيخ من إلمامٍ بموضوع تلك الأحاديث، وعلى قدر ما يملك من المادّة العِلمِيَّة وما يَستظهر من سائر فُنون العلم والمعرفة، وهو في غالب الأحيان إنّما يؤدّي ما تلّقاه هو أيضًا من شيخه الّذي تلقى عنه العلم، فتجد حتى مفرداتِ التّرجمة تَكاد تكون واحدةً لا تتبدّل، وَصِيغ الجمَل لا تتغيّر؛ إذ ترجمة تلك الكتب عندهم أمر يُتلقّى شفهياًّ، ولَيست عن اجتهادِ مجتَهدٍ، وقد يعتذر الشّيخ بعدم تدريس كتابٍ مّا؛ لأنه لم يتلقَّه من شيخه في أثناء طلبه للعلم. وهذا قد ساعد على توحّد الترجمات الشفهيّة للأحاديث النَّبويَّة في المجتمعات الهوساويّة على نحو كبيرٍ من جهة، ومن جهة أخرى ساعد هذا التّقليد على ذيوع أخطاء مُعيّنة في ترجمة بعض الأحاديث، مثال ذلك حديث ((إذا مات الإنسان انقطع عَمَلُه إلا من ثلاثٍ: صدقة جارية....)) الحديث. فقد كانت من عادة بعض العلماء سابقاً أن يترجموا عبارةَ (صدقة
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: হাউসা ভাষায় সুন্নাহ শিক্ষাদানে গুরুত্বারোপ

‌ইলমি হালকা ও সাধারণ পাঠদানসমূহে হাউসা ভাষায় সুন্নাহ শিক্ষাদান

‌ভূমিকা

...

প্রথম পরিচ্ছেদ: হাউসা ভাষায় সুন্নাহ শিক্ষাদানে গুরুত্বারোপ

ইলমি হালকা ও সাধারণ পাঠদানসমূহে হাউসা ভাষায় সুন্নাহ শিক্ষাদান

প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সুন্নাহর প্রতি মুসলিমদের গুরুত্বারোপের মূল কারণ হলো ইসলামি শরিয়তে এর উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে তাদের সম্যক জ্ঞান এবং ঐশী ওহির মধ্যে এর অবস্থান সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি। হাউসা গোত্রভুক্ত মুসলিমদের নিকট সুন্নাহর প্রতি গুরুত্বারোপের একটি রূপ হলো হাউসা ভাষার মাধ্যমে সাধারণ ও বিশেষ ব্যক্তিবর্গের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া ও শিক্ষা দেওয়ার প্রতি তাদের বিশেষ মনোযোগ। তাদের ইলমি হালকাগুলোতে দেখা যায় যে, শাইখ তার ছাত্রদেরকে যেসব কিতাব পড়ান, তার মধ্যে সুন্নাহ ভিত্তিক কিতাবও রয়েছে, যেখানে তিনি শিক্ষাদানের মাধ্যম হিসেবে হাউসা ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি তাঁর সামনে পঠিত হাদিসগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করেন; কখনও সংক্ষেপে, আবার কখনও বিস্তারিতভাবে—যা নির্ভর করে সেই হাদিসগুলোর বিষয়ের উপর শাইখের দখল এবং তাঁর অর্জিত ইলমি পাণ্ডিত্য ও অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাঁর পারদর্শিতার ওপর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি তাই উপস্থাপন করেন যা তিনি নিজে তাঁর শাইখের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন, যাঁর কাছ থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন। ফলে দেখা যায় যে, এমনকি অনুবাদের শব্দাবলিও প্রায় অভিন্ন থাকে যা পরিবর্তিত হয় না এবং বাক্যের গঠনও বদলায় না; কেননা তাদের কাছে এই কিতাবগুলোর অনুবাদ একটি মৌখিক বিষয় যা পরম্পরাগতভাবে প্রাপ্ত, এটি কোনো মুজতাহিদের নিজস্ব ইজতিহাদ নয়। অনেক সময় শাইখ কোনো নির্দিষ্ট কিতাব না পড়ানোর জন্য অপারগতা প্রকাশ করেন এই কারণে যে, তিনি তাঁর ছাত্রজীবনে তা তাঁর শাইখের কাছ থেকে গ্রহণ করেননি। এটি একদিকে যেমন হাউসা সমাজে নববী হাদিসের মৌখিক অনুবাদের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে অভিন্নতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে, অন্যদিকে এই ঐতিহ্য কিছু হাদিসের অনুবাদে নির্দিষ্ট কিছু ভুল ছড়িয়ে পড়তেও ভূমিকা রেখেছে। এর উদাহরণ হলো সেই হাদিস: ((মানুষ যখন মারা যায় তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি বিষয় ছাড়া: সাদাকায়ে জারিয়া....)) হাদিসটি। ইতিপূর্বে কোনো কোনো আলেমের অভ্যাস ছিল যে, তারা ‘সাদাকা’ (صدقة) শব্দটিকে অনুবাদ করতেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ৮)
جارية) إلى لغة الهوسا بما معناه: (صدقة فَتَاةٍ) أي أنّه بإمكان الأب أو ولي البنت أن يُنكح ابنتَه أو مَوليَّته إلى من يراه كفئاً لها دون أن يتقاضى منه مهراً، بل يتصدّق بإنكاحها إيّاه، وهذا ذَهَابٌ منهم إلى أنّ المراد بالجارية في الحديث (الْفَتاة) وأنّ الجملةَ إضافيةٌ؛ فيقرؤونها (صَدَقَةُ جَارِيَةٍ) بدلا من أن تكون كلمةُ (جارية) نعتاً لكلمة (صدقة) وهي مؤنّث وصف (الجاري) من فعل (جَرى يجري) أي (صَدَقَةٌ مستمرَّة غير منقطعة) كَحَفْر الآبار وبناءِ الأوقاف وغيرها.

وهذا من الأمور الّتي قام الشّيخ أبو بكر محمود جومي رحمه الله بتصحيح مفاهيم المسلمين فيها، وبين لهم المراد من هذا الحديث، وأخبرهم بما ينبغي فعله لمن أراد أن يُحسن إلى شخصٍ بتزويج موليته إيّاه لما رأى فيه من صفات محمودةٍ، وآثار حَسنة تجعل مصاهرتَه أمراً مرغوباً فيه للنّفس، بأن يقوم الأب أو الولي بالتّبرع بمهر موليّته إلى من يريده زوجاً لها، ويقوم الأخير بدفع المهر إلى البنت، فتتمّ بذلك أركان النكاح المطلوبة شرعاً لصحته. وبذلك استطاع الشّيخ القضاءَ على هذه الظاهرة (1) .

وثمة كتب حديثيّة يتمّ الاعتناء بها غالباً في الحلقات العِلمِيَّة والدّروس العامّة.

--------------------------------------------

(1) انظر: ((البحث عن أعمال الشيخ أبي بكر محمود جومي)) (ص58-59) .
(জারিয়া)-কে হাউসা ভাষায় এমন অর্থে অনুবাদ করা হয়েছে যার অর্থ দাঁড়ায়: (মেয়ের সদকাহ)। অর্থাৎ বাবা বা মেয়ের অভিভাবক তার মেয়েকে বা তার অধীনস্থ নারীকে এমন কারো সাথে বিয়ে দিতে পারেন যাকে তিনি উপযুক্ত মনে করেন, আর তার কাছ থেকে কোনো মোহর গ্রহণ করেন না। বরং তিনি তাকে বিয়ে দেওয়াকেই সদকাহ মনে করেন। এটি তাদের এই ধারণার কারণে যে, হাদিসে 'জারিয়া' শব্দ দ্বারা 'যুবতী মেয়ে' উদ্দেশ্য এবং বাক্যটি সম্বন্ধবাচক; ফলে তারা একে 'সাদাকাতু জারিয়াহ' (মেয়ের সদকাহ) হিসেবে পাঠ করে, অথচ 'জারিয়া' শব্দটি 'সাদাকাহ' শব্দের বিশেষণ। এটি 'জারি' (প্রবাহিত) শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ যা 'জারা-ইয়াজরি' (প্রবাহিত হওয়া) ক্রিয়া থেকে আগত। অর্থাৎ (এমন সদকাহ যা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকে), যেমন কূপ খনন করা, ওয়াকফ নির্মাণ করা ইত্যাদি।

এটি এমন একটি বিষয় যাতে শেখ আবু বকর মাহমুদ জুমি (রাহিমাহুল্লাহ) মুসলমানদের ধারণা সংশোধন করেছেন এবং তাদের কাছে এই হাদিসের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন। তিনি তাদের জানিয়েছেন যে, কেউ যদি তার অধীনস্থ নারীকে কারো সাথে বিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সেই ব্যক্তির প্রতি ইহসান করতে চায়—যেহেতু তিনি তার মধ্যে প্রশংসনীয় গুণাবলী ও উত্তম বৈশিষ্ট্য দেখেছেন যা তার সাথে আত্মীয়তা করাকে আকাঙ্ক্ষিত করে তোলে—তবে তার কী করা উচিত। এক্ষেত্রে পিতা বা অভিভাবক সেই মোহরের অর্থ ওই ব্যক্তিকে দান করবেন যাকে তিনি স্বামী হিসেবে চাচ্ছেন, এরপর ওই ব্যক্তি সেই মোহরটি মেয়েকে প্রদান করবেন। এর মাধ্যমে শরীয়ত মোতাবেক বিবাহের জন্য প্রয়োজনীয় রুকনসমূহ সম্পন্ন হবে। এভাবেই শেখ এই প্রথাটি (১) নির্মূল করতে সক্ষম হন।

সেখানে আরও কিছু হাদিসের কিতাব রয়েছে যা সাধারণত ইলমি হালকাসমূহ এবং সাধারণ পাঠদানগুলোতে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ((আল-বাহাসু আন আমালিশ শাইখ আবি বকর মাহমুদ জুমি)) (পৃ. ৫৮-৫৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌أولا: الحلقة العلمية

…

أوّلا: الحلقات العِلمِيَّة

ففي الحلقات العِلمِيَّة، هناك صنفان من الكتب:

الصّنف الأوّل: ما كان معروفاً بين علماء بلاد الهوسا:

ومن نماذج هذا الصّنف:
প্রথমত: ইলমী হালকা

…

প্রথমত: ইলমী হালকাসমূহ

ইলমী হালকাগুলোতে দুই শ্রেণির কিতাব রয়েছে:

প্রথম শ্রেণি: যা হাউসা ভূখণ্ডের আলেমদের নিকট পরিচিত ছিল:

এবং এই শ্রেণির কিছু নমুনা হলো:
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ৯)
1- الكتب الستة:

وهي (صحيح البخاري وصحيح مسلم، وسنن أبي داود، وسنن التّرمذي، وسنن النّسائي، وسنن ابن ماجه) وهي الكتب الّتي اشتملت على أغلب الأحاديث الّتي عليها مدار أحكام الشّريعة الإسلاميّة. وقد اعتنى بها غير واحد من علماء الهوسا، تعلّما وتعليما، فمن هؤلاء: الشّيخ (مَالَمْ) سابو زَاغي رحمه الله، وكان يقال: إنّه كان يحفظ هذه الكتب عن ظهر قلبٍ ويصحّح قراءةَ تلاميذه من حفظه، وكان يدرسها في حلقاته العلميّة بلغة الهوسا، وقد خلفه ابنه في حلقته. والشّيخ مَالَمْ غَدُو دَمَاسُو رحمه الله، وكان يسكن حيّ مَرْمَرَا بمدينة كانو. والشّيخ مَالَمْ حُسَيْن كَبَرا رحمه الله، ويقال أيضا: إنه ممن يحفظها. واشتهر بتدريسها بلغة الهوسا. والشّيخ أحمد مَطَاتي، والشّيخ مَا لَمْ مصطفى مجتبى رحمه الله وكان قد سَكَن ولاية كانو ثُمّ انتقل إلى ولاية كادونا في عهد أمير كانو عَبّاس، من عام 1922م إلى عام 1927م. وكان يُمدح بأنّه (الجامع بين الحديث والقراءة، والإمارة والجاه) . ومنهم: الشّيخ مَالَمْ مِجِنْ يَوا رحمه الله وحلقته في حي (بَقِنْ رُوَا) بمدينة كانو، والشّيخ مَالَمْ عَلِيّ محمّد كماسي رحمه الله (ت1986م) ، والشّيخ مَالَمْ نُوح وله حلقة علميّة في حي (سَانِي مَيْ نَغِّي) كانو - وقد اشتهر بتدريس (الصّحيحين) وغيرهما، وما زالت حلقته إلى اليوم.

2- كتاب الموطأ، للإمام مالك:

ولأهميته عند علماء المالكية، اهتم به علماء بلاد الهوسا لكونهم على المذهب نفسه، فكان من الكتب الحديثيّة الّتي اعتنوا بتدريسها لتلاميذهم ونَقلها إليهم بلغة الهوسا، وممن اشتهر بتدريس (الموطأ) في حلقته العلميّة:
১- আল-কুতুব আস-সিত্তা (ছয়টি কিতাব):

সেগুলো হলো (সহীহ আল-বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজি, সুনানে নাসাঈ এবং সুনানে ইবনে মাজাহ)। এগুলো এমন সব কিতাব যা অধিকাংশ হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার ওপর ইসলামী শরীয়াহর বিধানসমূহ আবর্তিত হয়। হাউসা অঞ্চলের একাধিক আলেম এগুলো শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদানের মাধ্যমে এগুলোর প্রতি যত্নবান হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: শায়খ (মালাম) সাবু যাগি (রাহিমাহুল্লাহ); তাঁর সম্পর্কে বলা হতো যে, তিনি এই কিতাবগুলো মুখস্থ রাখতেন এবং তাঁর ছাত্রদের পাঠদান করার সময় নিজের স্মৃতি থেকেই তা সংশোধন করে দিতেন। তিনি তাঁর ইলমি হালকাসমূহে হাউসা ভাষায় এগুলো পাঠ দান করতেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র তাঁর হালকার স্থলাভিষিক্ত হন। শায়খ মালাম গাদু দামাসু (রাহিমাহুল্লাহ), তিনি কানো শহরের মারমারা মহল্লায় বসবাস করতেন। শায়খ মালাম হুসাইন কাবারা (রাহিমাহুল্লাহ), তাঁর সম্পর্কেও বলা হয় যে, তিনি এই কিতাবগুলো মুখস্থকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং হাউসা ভাষায় এগুলো পাঠদানের জন্য তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। শায়খ আহমদ মাতাতি এবং শায়খ মালাম মুস্তফা মুজতবা (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি কানো রাজ্যে বসবাস করতেন, অতঃপর কানোর আমির আব্বাসের শাসনামলে ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কাদুনা রাজ্যে চলে যান। তাঁর প্রশংসা করে বলা হতো যে, তিনি (হাদিস ও কিরাত এবং আমিরশাহি ও উচ্চমর্যাদার সমন্বয়কারী) ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন: শায়খ মালাম মিজিন ইয়াওয়া (রাহিমাহুল্লাহ), কানো শহরের (বাকিন রুওয়া) মহল্লায় তাঁর ইলমি হালকা ছিল। শায়খ মালাম আলী মুহাম্মদ কামাসি (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু ১৯৮৬ খ্রি.) এবং শায়খ মালাম নুহ, কানোর (সানি মাই নাগগে) মহল্লায় তাঁর একটি ইলমি হালকা রয়েছে—তিনি 'সহীহাইনি' (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যান্য কিতাব পাঠদানের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন; তাঁর সেই হালকা আজও বিদ্যমান রয়েছে।

২- ইমাম মালিকের কিতাব আল-মুয়াত্তা:

মালিকি আলেমদের নিকট এর গুরুত্বের কারণে হাউসা অঞ্চলের আলেমগণও এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, যেহেতু তাঁরা একই মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। ফলে এটি ছিল সেই হাদিসগ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর পাঠদান এবং হাউসা ভাষায় ছাত্রদের নিকট হস্তান্তরের ব্যাপারে তাঁরা অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। যারা তাঁদের ইলমি হালকায় (আল-মুয়াত্তা) পাঠদানের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ১০)
الشّيخ مَالَمْ يَحيى الضّرير رحمه الله، وقد عاش في حي (يَن تَمْبَرِي) بمدينة كانو، وتوفِّي قبل ثلاثين عاما تقريباً، وكان له إجازةٌ بهذا الكتاب، ومنهم: مَالَمْ الشّيخ نوح في حي (سَاني مَيْ نَغِّي) بمدينة كانو، ولا زال حياّ إلى وقت كتابة هذه العجالة، والشّيخ طاهر عثمان بوشي، أحد أقطاب الصوفيّة، وكان يدرّس كتاب (الموطأ) ويُبَثّ في إذاعة كادونا الفيدرالية، وكان هدفُه من تدريس هذا الكتاب معارضةَ دروس الشّيخ الدّاعية المصلِح: أبي بكر محمود جومي رحمه الله كدرسه في (صحيح البخاري) كما سيأتي الحديث عنه.

3- كتاب (الأربعون حديثاً النّووية) :

وهي مجموعَةُ أربعين حديثاً من تأليف الإمام يحيى بن شرف الدّين النّووي (ت676هـ) في جزءٍ صغيرٍ، بحذفِ أسانيدها والاكتفاء بصحابِيّ الحديث، والإحالةِ على مخرِّجِيها من أصحاب الكُتب الحديثيّة المسندَة كصاحبي الصَّحيحَيْن، وأصحاب السّنن الأربعة. وهي أحاديث أصول تدور عليها غالب الأحكام والمسائل الشرعِيّة.

وقد درج العلماءُ في بلاد الهوسا على عَدِّ هذا الكتاب أوَّلَ كتابٍ يدرسه التِّلميذ على شيخه في الحديث، ويَفْقه معانيَه بلغة الهوسا، لأهميَّته تلك، وكثيرٌ من العلماء لا يَسمح للتلميذ أن يَتلقّى دروساً في الحديث قبل أن يَفْقه في بعض كتب الفُروع الفقهيَّة مثل كتاب الأخضري في الفقه المالكي، وكتاب العزية في الفقه المالكي أيضا؛ إذْ يعتقدون أنّ الأحاديث النَّبويَّة لا يمكن لأحد فَهْمُها ما لَم يَقْوَ عَضُدُه في بعض العلوم الشَّرعيّة وبخاصّةٍ ما يتعلَّق بالفقه المالكيّ.
শায়খ মালাম ইয়াহইয়া আদ-দারীর রহিমাহুল্লাহ, তিনি কানো শহরের (ইয়ান তাম্বারি) মহল্লায় বসবাস করতেন এবং প্রায় ত্রিশ বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন। এই কিতাবটির ওপর তাঁর ইজাজাহ ছিল। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন: কানো শহরের (সানি মাই নাগ্গি) মহল্লার মালাম শায়খ নুহ, এই সংক্ষিপ্ত রিসালাহটি রচনার সময় পর্যন্ত তিনি জীবিত ছিলেন। এবং শায়খ তাহির উসমান বাউচি, যিনি সুফিবাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি 'আল-মুওয়াত্তা' কিতাবটি পড়াতেন এবং তা ফেডারেল রেডিও কাদুনা-তে সম্প্রচার করা হতো। এই কিতাবটি পড়ানোর পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল দাঈ ও সংস্কারক শায়খ আবু বকর মাহমুদ গুমি রহিমাহুল্লাহ-এর দরসের বিরোধিতা করা, যেমনটি তাঁর 'সহীহ আল-বুখারী'-র দরসের ক্ষেত্রে ছিল, যার আলোচনা সামনে আসবে।

৩- কিতাব (আল-আরবাউন হাদিস আন-নববিয়্যাহ) :

এটি ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ উদ্দিন আন-নববী (মৃত ৬৭৬ হি.) সংকলিত চল্লিশটি হাদিসের একটি সংকলন যা একটি ক্ষুদ্র খণ্ডে রচিত। এতে হাদিসের সনদগুলো বিলুপ্ত করে কেবল হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীর নাম উল্লেখের ওপর নির্ভর করা হয়েছে এবং মুসনাদ হাদিস গ্রন্থসমূহের রচয়িতাদের (যেমন দুই সহীহ ও চার সুনান গ্রন্থকার) সংকলনের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে। এগুলো এমন মৌলিক হাদিস যার ওপর অধিকাংশ শরয়ি বিধান ও মাসআলা আবর্তিত হয়।

হাউসা ভূখণ্ডের উলামায়ে কেরাম এই কিতাবটিকে হাদিসের ক্ষেত্রে একজন ছাত্রের তার শায়খের নিকট পঠিত প্রথম কিতাব হিসেবে গণ্য করার রীতি অনুসরণ করে আসছেন। এর গুরুত্বের কারণে তাঁরা হাউসা ভাষায় এর অর্থ হৃদয়ঙ্গম করে থাকেন। অনেক আলেমই একজন ছাত্রকে ততক্ষণ পর্যন্ত হাদিসের সবক গ্রহণ করার অনুমতি দেন না, যতক্ষণ না সে ফিকহের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক কিছু কিতাব যেমন মালিকি ফিকহের 'আল-আখদারি' এবং 'আল-ইজ্জিয়্যাহ' অনুধাবন করে। কারণ তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, শরয়ি জ্ঞান বিশেষ করে মালিকি ফিকহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুদৃঢ় ভিত্তি অর্জন না করা পর্যন্ত নববী হাদিসসমূহ অনুধাবন করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ১১)
ويدرس التِّلميذ هذا الكتابَ بقراءته على شيخه حديثاً منه في كلّ مجلس، والشّيخ يترجمه له جُمْلةً بعد أخرى، ويقفُ الشّيخ وقفاتٍ فيما يراه بحاجةٍ إلى الشّرح والتّوضيح. وفي الغالب لا يتجاوز التِّلميذُ حديثاً واحدا في كل جلسة، بل قد يقطِّعُ بعضَ الأحاديث الطِّوَال، ويَتلقَّاها في عِدَّة مجالس؛ كحديث جبريل في السُّؤال عن الإيمان والإسلام والإحسان ونحوه. ويستمرّ التّلميذُ في تلقِّي ترجمةِ هذا الكتاب إلى لغة الهوسا عند شيخه حتى النِّهاية.

4- كتاب (لباب الحديث) ، للسّيوطي:

من الكتب الحديثيَّة الّتي تُدرس في الحلقات العلميَّة أيضاً كتابُ (لباب الحديث) للسيّوطي، وهو عبارةٌ عن مجموعةِ أحاديثَ ضعيفةٍ وموضوعةٍ جمعها الحافظ أبو بكر السّيوطي رحمه الله بحجّة أنّ الضَّعيفَ يُعمل به في الفضائل والتّرغيب والتّرهيب، لكنّه في هذا الكتاب لم يَسْتوفِ الشّروطَ الّتي وَضعها من يَرى هذا الرّأي من العلماء، فَحَشر فيه أحاديثَ كثيرةً أغلبُها ضعيفٌ جداًّ وموضوعٌ، وهي بلا شكّ خارجةٌ عن محلِّ الجواز عند من يَقول بِه من العُلماء.

ومن عجيب المفارقَات أنّ التّلميذ لا يَنحدر إلى هذا الكِتاب حَتىّ ينتهي من كتاب (الأربعين النّووية) الّذي جمع أصولَ الإسلام، وأهمَّ جُمَلِه، والحالُ أنّه من الأولى أن يَرتَقي التّلميذ ويَعلو إلى كتابٍِ أرفعَ من هذا من حيث الأصالةُ والصِّحةُ، والتَّوسّعُ، لكنّه بدلاً من ذلك يَتردَّى إلى كتابٍ يحوي كثيراً من الأباطيل والأكاذيب. وعُذْر العلماء في ذلك الحين عَدمُ تمكّنهم من المعارف الحديثيّة، وقلَّةُ بضاعتهم في تمييز الصّحيح من السّقيم، والثّابت من الموضوع.
ছাত্রটি এই কিতাবটি তার শায়খের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে অধ্যায়ন করে, যেখানে প্রতিটি মজলিসে একটি করে হাদিস পড়া হয়। শায়খ তার জন্য প্রতিটি বাক্য একের পর এক অনুবাদ করে দেন এবং যেখানে তিনি ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন মনে করেন সেখানে বিরতি দেন। সাধারণত ছাত্রটি প্রতি মজলিসে একটির বেশি হাদিস অতিক্রম করে না, বরং কোনো কোনো দীর্ঘ হাদিসকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করে একাধিক মজলিসে গ্রহণ করে; যেমন ঈমান, ইসলাম ও ইহসান সম্পর্কে জিবরীলের প্রশ্নের হাদিস এবং এর সমজাতীয় হাদিসগুলো। ছাত্রটি তার শায়খের নিকট হাউসা ভাষায় এই কিতাবের অনুবাদ গ্রহণ করা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত রাখে।

৪- সুয়ূতী রচিত (লুবাবুল হাদিস) কিতাব:

ইলমী হালকাগুলোতে অধ্যায়িত হাদিসের কিতাবগুলোর মধ্যে সুয়ূতী রচিত ‘লুবাবুল হাদিস’ কিতাবটিও অন্তর্ভুক্ত। এটি মূলত কিছু দুর্বল ও জাল হাদিসের সমষ্টি যা হাফেজ আবু বকর সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) এই যুক্তিতে সংকলন করেছেন যে, ফজিলত এবং তারগিব ও তারহিবের (উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শন) ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করা যায়। কিন্তু তিনি এই কিতাবে সেই সব শর্তাবলি পূর্ণ করেননি যা এই মতের প্রবক্তা আলেমগণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ফলে তিনি এতে এমন অনেক হাদিস ভিড় করেছেন যার অধিকাংশ অত্যন্ত দুর্বল ও জাল। আর এগুলো নিঃসন্দেহে সেই সব আলেমদের নিকটও অনুমোদিত সীমার বহির্ভূত যারা এই মত (দুর্বল হাদিস গ্রহণ) পোষণ করেন।

একটি আশ্চর্যের বিষয় হলো, ছাত্রটি (আরবাঈন আন-নববী) কিতাবটি শেষ করার আগে এই (লুবাবুল হাদিস) কিতাবের দিকে অবনমিত হয় না, অথচ আরবাঈন কিতাবটি ইসলামের মূলনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলিকে ধারণ করেছে। যেখানে কাম্য ছিল ছাত্রটি মৌলিকত্ব, বিশুদ্ধতা ও ব্যাপকতার বিচারে আরও উন্নত কোনো কিতাবের দিকে ধাবিত হবে, সেখানে সে এর পরিবর্তে এমন একটি কিতাবের দিকে নিচে নেমে যায় যাতে অনেক বাতিল ও মিথ্যা কথা রয়েছে। তৎকালীন আলেমদের পক্ষ থেকে এর অজুহাত ছিল হাদিস বিষয়ক জ্ঞানে তাদের পর্যাপ্ত পারদর্শিতা না থাকা এবং বিশুদ্ধ ও অসুস্থ এবং প্রমাণিত ও জাল হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞানের স্বল্পতা।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ১২)
5- كتاب (مختار الأحاديث النَّبويَّة) للهاشمي:

كما يَندرج أيضا في قائمة الكُتب التي تُتدارس في الحلقات العِلمِيَّة كتابُ (مختارالأحاديث النَّبويَّة) وهو كتابٌ جَمَعه الأستاذُ السّيد أحمد الهاشمي وَهُو عبارة عن قِصار الأحاديث اختارها من كتاب (الجامع الصغير) للسيوطي وحَذَف حَتّى صحابِيّ الحديث في الغالب، ورتّبها على حروف المعجم، وفيه من الأحاديث الضعيفةٍ والموضوعةٍ شيءٌ كثير، وجامعُها في علمِ الحديث جِدُّ فَقير. وهذا الكتاب أيضاً مِمّا يُترجم لطلاب العلم في الحلقات العِلمِيَّة إلى لغة الهوسا.

الصّنف الثّاني: الْكُتب الّتي رافقت الصّحوةَ الإسلاميّة

ولما بدأ علمُ الحديث يَنتشر في المجتمع الهوساوي في الآونة الأخيرة عن طريق الطّلاب الّذين دَرَسوا في البلاد العربيّة، وفي طليعتها المملكةُ العربيّة السّعوديّة، ونَهلوا من علم السُّنَّة النّبويّة ما لم يكن لأسلافهم من قَبلُ بَدأت بعضُ الكتب الحديثية المهمّة تُدَرّس في الحلقات العِلمِيَّة، من ذلك:

1- كتاب بلوغ المرام من أدلّة الأحكام:

وهو كتابٌ وَضَعه الحافظُ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني (ت852هـ) مشتملاً على أحاديثِ الأحكام، مُبيِّناً مؤلفُه الصّحيح والسّقيم، مرَتِّباً إيّاه على أبواب الفقه، شاملاً لغالب أدلّة المذاهب الفقهّية الأربعة وغيرها.

وبِداية إدخال تدريس هذا الكتاب في الحلقات العلمية تَعود إلى أوائل الثمانينيات على أيدي الجماعات المنتسبة إلى أهل السُّنَّة والجماعة، ثُمّ عمّ ذلك جميعَ التّيارات في البلاد؛ الصوفيّة وغيرهم.
৫- হাশেমী রচিত ‘মুখতারুল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ’ (নির্বাচিত নববী হাদিসসমূহ) গ্রন্থ:

ইলমি মজলিসগুলোতে পঠিত গ্রন্থগুলোর তালিকার মধ্যে ‘মুখতারুল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ’ গ্রন্থটিও অন্তর্ভুক্ত। এটি উস্তাদ সাইয়্যেদ আহমাদ আল-হাশেমী কর্তৃক সংকলিত একটি গ্রন্থ। এটি মূলত সংক্ষিপ্ত হাদিসসমূহের সমষ্টি যা তিনি সুয়ূতী রচিত ‘আল-জামেউস সাগির’ গ্রন্থ থেকে নির্বাচন করেছেন। তিনি এতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীর নামও বাদ দিয়েছেন এবং একে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন। এতে দুর্বল ও বানোয়াট হাদিসের অনেক আধিক্য রয়েছে এবং এর সংকলক হাদিস শাস্ত্রে অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন। এই গ্রন্থটিও ইলমি মজলিসগুলোতে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য হাউসা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

দ্বিতীয় প্রকার: ইসলামি জাগরণের সহগামী গ্রন্থসমূহ

সাম্প্রতিক সময়ে হাউসা সমাজে হাদিস শাস্ত্রের প্রসার শুরু হলে, বিশেষ করে আরব দেশগুলোতে এবং এর অগ্রভাগে সৌদি আরবে অধ্যয়নরত ছাত্রদের মাধ্যমে, যারা সুন্নাহর জ্ঞান থেকে এমনভাবে সিক্ত হয়েছেন যা তাদের পূর্বসূরিদের মধ্যে ছিল না; তখন থেকেই ইলমি মজলিসগুলোতে হাদিস শাস্ত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ পড়ানো শুরু হয়। তার মধ্যে রয়েছে:

১- ‘বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম’ গ্রন্থ:

এটি হাফেজ আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) রচিত একটি গ্রন্থ, যা আহকাম বা বিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর লেখক এতে সহিহ ও জয়িফ (সবল ও দুর্বল) বর্ণনাগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং একে ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। এটি চারটি ফিকহি মাজহাব এবং অন্যান্য মতামতের অধিকাংশ দলিলকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

ইলমি মজলিসগুলোতে এই গ্রন্থটির পাঠদান শুরু হওয়ার ইতিহাস আশির দশকের শুরুর দিকে ফিরে যায়, যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অনুসারী দলগুলোর মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি দেশের সকল ধারার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে; যেমন সুফি ও অন্যান্যরা।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ১৩)
والجدير بالذّكر أنّ هذا الكتاب يعد من الكتب الّتي نَقلت إلى المجتمع الهوساوي وإلى لغة الهوسا ذاتِها مصطلحاتٍ علميّةً جديدةً لم يَكن النّاس قد أَلِفُوا سَماعها من قبل، وذلك: أنّ الحافظ ابنَ حجر العسقلاني رحمه الله كان يَحكم على الأحاديثِ الّتي يَسوقها في هذا الكتاب ولا سيّما الّتي لم تَكن في الصّحيحين بما يُناسب حالها صحَّةً وضعفاً، وكان يَستخدم مصطلحاتِ أصولِ الحديث في بيانه ذلك، من قبيل مصطلح (المرسل) و (المنكر) و (الشّاذ) و (المعلول) و (الحَسَن) و (الصّحيح) وهَلُمَّ جراًّ، وهي كُلُّها مصطلحات تنتمي إلى علم (أصول الحديث) أو ما بات يُعرف بـ (مصطلح الحديث) وهو علمٌ رَغم كونِ بعض علماء بلادِ الهوسا (1) قد كَتبوا فيه، إلا أن مبادئه الأساسيّة ظلّت مجهولةً في الأوساط العلميّة في تلك البلاد، ولمَ يُولِ العلماءُ عنايتهم بتعلّمه أو تعليمه، فصارت بذلك تلك المصطلحات غائبةً عن ذلك المجتمع تماماً، لا يَعرفها كثير من المنتمين للعلم ناهيك عن عَوام النّاس. فلمّا بدأت الحلقاتُ العِلمِيَّة بتدريس هذا الكتاب وَنَقْلِ مُحتوياته إلى لغة الهوسا هنا صَادف كثيرٌ من العلماء وطلاّب العلم إشكال شرح تلك المصطلحات العِلمِيَّة الّتي لم يكونوا على دِرَاية كافية بها، فتخبّط كثيرٌ منهم في ترجمتها كما تَخَبّطوا في بيان المقصود منها ونَقْلِها إلى فُهُوم المتعلِّمين. وكان هذا بدايةَ اكتشافِ كثير منهم أهميَّةَ علم أصول الحديثِ أو مصطلح الحديث، فَطفق النّاس يَبحثون

--------------------------------------------

(1) كالشيخ: عبد الله بن فودي (ت1245هـ) ، وله فيه منظومة باسم (مصباح الراوي في علم الحديث) حققها الشّيخ محمد غالي موسى في أطروحة الماجستير في جامعة صوكوتو، وحققها أيضا: الأخ الشّيخ محمّد المنصور إبراهيم مع تعليقات موضحة مقاصد الكتاب، ويعدها للنشر إن شاء الله تعالى.
এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই গ্রন্থটি সেই সব কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা হাউসা সমাজ এবং স্বয়ং হাউসা ভাষায় এমন কিছু নতুন বৈজ্ঞানিক পরিভাষা স্থানান্তর করেছে যা ইতিপূর্বে মানুষ শুনতে অভ্যস্ত ছিল না। আর তা এ কারণে যে: হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রাহিমাহুল্লাহ) এই গ্রন্থে যে সকল হাদিস উল্লেখ করেছেন—বিশেষ করে যেগুলি সহীহায়েন (বুখারী ও মুসলিম)-এ নেই—সেগুলোর অবস্থা অনুযায়ী সহীহ বা যঈফ হওয়ার হুকুম বর্ণনা করতেন। এবং তিনি তা বর্ণনায় উসুলুল হাদিসের পরিভাষাগুলো ব্যবহার করতেন, যেমন: (মুরসাল), (মুনকার), (শায), (মা'লুল), (হাসান), (সহীহ) ইত্যাদি পরিভাষা। এগুলো সবই সেই সকল পরিভাষা যা 'উসুলুল হাদিস' বা বর্তমানে যা 'মুসতালাহুল হাদিস' নামে পরিচিত সেই শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। এটি এমন এক বিদ্যা যার বিষয়ে হাউসা ভূখণ্ডের কিছু আলেম (১) ইতিপূর্বে কিছু কিতাব লিখলেও, সেই অঞ্চলের ইলমী পরিমণ্ডলে এর মৌলিক মূলনীতিগুলো অজ্ঞাত ছিল। এবং আলেমগণ এটি শেখা বা শেখানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেননি। ফলে সেই সমাজে এই পরিভাষাগুলো সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত ছিল; সাধারণ মানুষের কথা তো ছেড়েই দিন, ইলমের সাথে সম্পৃক্ত অনেক ব্যক্তিও এগুলো জানতেন না। অতঃপর যখন বিভিন্ন ইলমী মজলিসে এই কিতাবটি পাঠদান শুরু হলো এবং এর বিষয়বস্তু হাউসা ভাষায় অনুবাদ করা শুরু হলো, তখন অনেক আলেম ও শিক্ষার্থী এই বৈজ্ঞানিক পরিভাষাগুলো ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হলেন, যে বিষয়ে তাদের পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। ফলে তাদের মধ্যে অনেকেই এগুলোর অনুবাদে বিভ্রান্তিতে পড়লেন, যেভাবে তারা এগুলোর উদ্দেশ্য বর্ণনা এবং শিক্ষার্থীদের বোধগম্য করে তোলার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। আর এটিই ছিল তাদের অনেকের নিকট উসুলুল হাদিস বা মুসতালাহুল হাদিসের গুরুত্ব আবিষ্কৃত হওয়ার সূচনা। ফলে মানুষ অনুসন্ধান করতে শুরু করল...

--------------------------------------------

(১) যেমন শেখ: আবদুল্লাহ বিন ফুদী (মৃত্যু ১২৪৫ হিজরী), হাদিস শাস্ত্রে তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে যার নাম (মিসবাহুর রাবী ফি ইলমিল হাদিস)। সোকোটো বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স থিসিসে শেখ মুহাম্মদ গালি মুসা এটি সম্পাদনা করেছেন এবং শেখ মুহাম্মদ আল-মনসুর ইব্রাহিমও কিতাবটির উদ্দেশ্য স্পষ্টকারী ব্যাখ্যামূলক টীকা সহ এটি সম্পাদনা করেছেন, যা ইনশাআল্লাহ তায়ালা প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ১৪)
عن معرفتِه ودراستِه لكي يتمكَّنوا من حلِّ رُموز كتابٍ مثل (بلوغ المرام من أدلّة الأحكام) .

كانت الحلقات العِلمِيَّة بِشتَّى صُوَرِها تتناول هذا الكتاب بالدِّراسة ونقلِ مادّته إلى لغة الهوسا، وَكان بعضُ العلماء يَسلُكون الطّريقة التّقليديّة في نقل المعارف وتدريس العلوم، وهي الّتي يتلقى فيها التلميذ مادَّة الكتاب مُترجمةً إلى لغة الهوسا من شيخه؛ يَقرأ عليه جملةً ثُمّ يسمع منه ترجمتَها، ثم يقرأ جملةً أخرى وينتظر ترجمتَها، وربما شَرح له بعضَ مدلولاتها … وهكذا. وذلك لأنّ العادةَ في الحلقات العِلمِيَّة آنذاك أن يختصّ كلّ تلميذٍ بموادِّه الّتي يدرسها على شيخه، ولا يجتمع التّلاميذ بعضُهم ببعض في سماع موادَّ مشتَركة في آنٍ واحدٍ.

ثُمّ فِيما بَعدُ صار بعض العلماء يجعل هذا الكتابَ مادَّةً من ضمن المواد المشتركة حيثُ تكون الحلقة تضمّ موادَّ علميَّةً منتظمَةً يأخذها الطّلاب جميعاً في آنٍ واحدٍ، فيأتي كلُّ واحدٍ منهم مثلاً بكتاب (بلوغ المرام) في اليوم المخصَّص له فيقرأ أحدهم بعضَ أحاديث الكتاب حديثاً حديثاً مع الإصغاء إلى الشّيخ يترجمه لهم إلى لغة الهوسا، والكُلُّ آخذٌ بنسختِهِ يُتَابِع قراءةَ التّلميذ القارئِ وترجمةَ الشّيخ لكلّ جملةٍ تُقرأُ عَليه.

بينما نجدُ بعضَهم جعلَ الكتاب مادَّةً لدرسٍ عَامّ يحضره طلاب العلم وغيرهم من عامّة النّاس، مخصِّصاً له يوماً في مسجده يقرؤه على النّاس مترجماً لِجُمَلِه جملةً جملةً وشارحاً لمعانيه. وهذه طريقةٌ في التعليم مبتكرَة لم تكن مَعروفةً سلفاً في مجتمع الهوسا، وإنما جاءتْ مع الصَّحوة الدِّينيّة والنّهضة العِلمِيَّة المعاصرة الّتي بَدأت بالشّيخ (أبو بكر محمود جومي) رحمه الله، وإنما كانت المجالس العامّة سابقاً مجالسَ للوعظ والنّصائح في الجملة.
...যাতে তারা (বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম)-এর মতো কোনো গ্রন্থের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়, সে সম্পর্কে জ্ঞানার্জন ও অধ্যয়ন থেকে।

বিভিন্ন রূপের ইলমি হালকাহগুলো (শিক্ষার আসর) এই গ্রন্থটি অধ্যয়ন এবং এর বিষয়বস্তু হাউসা ভাষায় স্থানান্তরের কাজ করত। কিছু আলেম জ্ঞান স্থানান্তর এবং বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগত পদ্ধতি অনুসরণ করতেন; যেখানে ছাত্র তার শাইখের কাছ থেকে হাউসা ভাষায় অনূদিত গ্রন্থের বিষয়বস্তু গ্রহণ করত। সে তার কাছে একটি বাক্য পাঠ করত, তারপর তার কাছ থেকে এর অনুবাদ শুনত, এরপর আরেকটি বাক্য পাঠ করত এবং এর অনুবাদের জন্য অপেক্ষা করত; সম্ভবত তিনি তার কাছে এর কিছু অর্থ ব্যাখ্যা করতেন ... এভাবেই চলত। এর কারণ ছিল তৎকালে ইলমি হালকাহগুলোর রীতি এমন ছিল যে, প্রত্যেক ছাত্র তার শাইখের কাছে পঠিত বিষয়গুলোতে স্বতন্ত্র থাকত এবং ছাত্ররা একই সময়ে কোনো সাধারণ বিষয় শ্রবণের জন্য একে অপরের সাথে একত্রিত হতো না।

পরবর্তীতে কিছু আলেম এই গ্রন্থটিকে সাধারণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করেন, যেখানে হালকাহটিতে নিয়মিত ইলমি বিষয়াবলি থাকত যা সকল ছাত্র একই সাথে গ্রহণ করত। উদাহরণস্বরূপ, তাদের প্রত্যেকে নির্ধারিত দিনে (বুলুগুল মারাম) গ্রন্থটি নিয়ে আসত এবং তাদের মধ্যে একজন গ্রন্থের কিছু হাদিস একে একে পাঠ করত, আর তারা শাইখের দিকে মনোযোগ দিত যিনি তাদের জন্য এটি হাউসা ভাষায় অনুবাদ করতেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কপি হাতে নিয়ে পাঠকারী ছাত্রের পাঠ এবং তার সামনে উপস্থাপিত প্রতিটি বাক্যের ওপর শাইখের অনুবাদ অনুসরণ করত।

অন্যদিকে আমরা দেখি যে, কেউ কেউ এই গ্রন্থটিকে একটি সাধারণ পাঠের বিষয়ে পরিণত করেছেন যেখানে ইলম অন্বেষী ছাত্র এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকে; তিনি তার মসজিদে এর জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করতেন এবং মানুষের সামনে প্রতিটি বাক্য একে একে অনুবাদ করে এবং এর অর্থ ব্যাখ্যা করে পাঠ করতেন। এটি শিক্ষাদানের একটি উদ্ভাবনী পদ্ধতি যা ইতিপূর্বে হাউসা সমাজে পরিচিত ছিল না, বরং এটি সেই ধর্মীয় জাগরণ ও সমকালীন ইলমি নবজাগরণের সাথে এসেছে যা শাইখ (আবু বকর মাহমুদ জুমি) রহ.-এর মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। এর আগে সাধারণ মজলিসগুলো মূলত নসিহত ও ওয়ায-মাহফিলের মজলিস ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ১৫)
2- كتاب (رياض الصالحين) للإمام النّووي:

وهو كتاب صنفّه الإمام يحيى بن شرف الدّين النّووي رحمه الله (ت676هـ) وقد ضَمَّن هذا الكتاب كثيراً من الأحاديث النَّبويَّة غالِبُها صحاحٌ وحسانٌ، ويَدور موضوعها على التّربية الإسلاميّة وبَيان مكارم الأخلاق الّتي يجب على المسلِم التّحلي بها والتّحذير من مساوئ الأخلاق الّتي يجب عليه اجتنابُها، وتعليم الآداب الشّرعيّة الّتي جاء بها الإسلام.

وهذا الكِتَاب أيضاً من الكُتب الّتي دخلت الحلقات العِلمِيَّة في بلاد الهوسا في وقت متأخِّر، وعُرف هذا الكتاب على نطاقٍ واسعٍ في ظلّ الدّعوة السلفيّة الّتي رَبطت المسلمين بالسُّنَّة النَّبويَّة فأصبحوا يبحثون عن كُتُب تعتني بها لنقلها إلى لغة المجتمع.

وطريقةُ تدريس هذا الكتاب غير مختلفةٍ عن الطّريقة التي سلكها العلماء والدعاة في تدريس كتاب (بلوغ المرام) . والإمام النووي وإن كان أشهرَ عند علماء بلاد الهوسا من الحافظ ابن حجر، بسبب كتابه (الأربعون النووية) إلاّ أن اكتشاف أهميّة كتابه هذا وعنايتهم بتدريسه ونقله إلى لغة الهوسا جاءت متأخِّرَةً عن عنايتهم بكتاب (بلوغ المرام) ، ولعلّ السّبب في ذلك عائدٌ إلى اختلاف مادّة الكتابين، فَبينما كان كتابُ (رياض الصّالحين) اعتنى فيه مؤلِّفه بجمع مادّةِ التَّربية الإسلاميّة من صحاح السّنن وحسانها كانَ الكتاب الأوّل وهو (بلوغ المرام) اعتنى فيه جامعُه بمادَّةِ أدلَّة المسائل الفقهيّة، وكان علم الفقه، وبخاصة الفقه المالكي في مجتمع الهوسا يمثلّ قمَّة العلوم الّتي اعتنى بها العلماء وأتقنوها، ولما كانت الدّعوة السلفيّة قد جاءت بنبذ التّعصب المذهبي والدعوة إلى فقه الدّليل والاتّباع، كان من الطّبعي أن تكون عنايتُهم بهذا
২- ইমাম নববীর (রিয়াযুস সালিহীন) গ্রন্থ:

এটি এমন একটি গ্রন্থ যা ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ উদ্দিন আন-নববী (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু ৬৭৬ হিজরি) সংকলন করেছেন। তিনি এই গ্রন্থে অনেক নববী হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন যার অধিকাংশই সহিহ ও হাসান। এর বিষয়বস্তু ইসলামি সংস্কার (তারবিয়াত) এবং সেই সকল মহৎ চরিত্রের বর্ণনার ওপর আবর্তিত যা একজন মুসলিমের ধারণ করা উচিত, এবং সেই সকল মন্দ স্বভাবের ব্যাপারে সতর্ক করা যা থেকে তাকে বেঁচে থাকতে হবে, সেই সাথে ইসলাম যে শরয়ি আদব-কায়দা নিয়ে এসেছে তার শিক্ষার ওপর এটি গুরুত্বারোপ করে।

এই গ্রন্থটিও সেই সকল গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত যা হাউসা ভূখণ্ডের ইলমি মজলিসগুলোতে বিলম্বিত সময়ে প্রবেশ করেছে। এই গ্রন্থটি সালাফি দাওয়াতের ছায়ায় ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে যা মুসলমানদেরকে নববী সুন্নাহর সাথে সম্পৃক্ত করেছে, ফলে তারা এমন সব গ্রন্থের অনুসন্ধান শুরু করেন যা সুন্নাহর প্রতি যত্নশীল যেন তা সমাজের ভাষায় রূপান্তর করা যায়।

এই গ্রন্থটি পাঠদানের পদ্ধতি উলামা ও দায়ীদের (বুলুগুল মারাম) গ্রন্থ পাঠদানের ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতি থেকে ভিন্ন নয়। ইমাম নববী যদিও তাঁর (আরবাউন আন-নববীয়া) গ্রন্থের কারণে হাউসা ভূখণ্ডের আলেমদের কাছে হাফেজ ইবনে হাজারের চেয়ে অধিক পরিচিত ছিলেন, তবুও তাঁর এই গ্রন্থের গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং এটি পাঠদান ও হাউসা ভাষায় অনুবাদের প্রতি তাঁদের যত্ন (বুলুগুল মারাম) গ্রন্থের প্রতি যত্নের তুলনায় পরবর্তীতে এসেছে। সম্ভবত এর কারণ হলো উভয় গ্রন্থের বিষয়বস্তুর ভিন্নতা। যেখানে (রিয়াযুস সালিহীন) গ্রন্থে এর লেখক সহিহ ও হাসান সুন্নাহ থেকে ইসলামি সংস্কারের (তারবিয়াত) বিষয়াদি সংকলনের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, সেখানে প্রথম গ্রন্থ অর্থাৎ (বুলুগুল মারাম)-এ এর সংকলক ফিকহি মাসায়েলের দলিলের বিষয়বস্তুর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। আর হাউসা সমাজে ইলমে ফিকহ, বিশেষ করে মালেকি ফিকহ ছিল সেই সকল ইলমের শীর্ষস্থানে যার প্রতি আলেমগণ গুরুত্ব দিতেন এবং তাতে পারদর্শী ছিলেন। আর যেহেতু সালাফি দাওয়াত মাজহাবি গোঁড়ামি বর্জন এবং দলিলের ফিকহ ও অনুসরণের (ইত্তিবা) দাওয়াত নিয়ে এসেছিল, তাই এটি স্বাভাবিক ছিল যে তাদের বিশেষ যত্ন এর প্রতি থাকবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ১৬)
الكتاب عنايةً منقطعةَ النّظير؛ إذْ يحمل في طَيّاته أدلَّة حديثية جديدةً بالنّسبة لما أَلِفُوا سماعَه من ذي قبل؛ إذْ دِراستهم للفقه كانت محصورةً جداًّ في بعض كتب المتأخرين من المالكيّة ولا سيما كتاب (مختصر خليل) ، فوجد علماء الدعوة السلفيّة في كتاب (بلوغ المرام) ما لم يجدوه في غيره من الكتب التي وصلت إليهم في هذا المجال.
বইটি অভূতপূর্ব মনোযোগ লাভ করেছে; কারণ এটি নিজের মাঝে এমন সব নতুন হাদিসভিত্তিক দলিল বহন করে, যা তারা ইতিপূর্বে শুনতে অভ্যস্ত ছিল না। যেহেতু ফিকহ শাস্ত্রে তাদের অধ্যয়ন মালিকি মাযহাবের পরবর্তীকালীন আলেমদের কতিপয় কিতাবের মধ্যে অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল, বিশেষ করে ‘মুখতাসার খলিল’ কিতাবটি; তাই সালাফি দাওয়াতের আলেমগণ ‘বুলুগুল মারাম’ কিতাবটিতে এমন সব বিষয় খুঁজে পেয়েছেন যা তারা এই ক্ষেত্রে তাদের নিকট পৌঁছানো অন্য কোনো কিতাবে পাননি।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ثانيا: الدّروس العامّة

هناك كتبٌ تناولها علماءُ الهوسا بالتّرجمة في دروسهم العِلمِيَّة الّتي يعقدونها بغرض توعيةِ النّاس وتبصيرهم بدينهم؛ كلّ حسب توجهاته العقديّة وميولاته المنهجيّة، من ذلك:

1- كتاب (صحيح البخاري) :

وهو كتابٌ شهيرٌ غنِيٌّ عن التَّعريف، من تأليف أمير المؤمنين في الحديث، الإمامِ محمّد بن إسماعيل البخاريّ، ويأتي في الصّحة بعد القرآن الكريم إجماعاً، فلذلك اعتنت به الأمّة أَيّما اعتناءٍ، وكان لِعلماء الهوسا دورٌ كبيرٌ في نشر كنوز الكتاب ونقل معارفه في لغة الهوسا إلى الجماهير النّاطقة بهذه اللّغة، وأوّل مَن يُذكر دورُه في هذا المضمار:

الشّيخ أبو بكر محمود جومي رحمه الله (ت1412هـ) ، رائدُ الدّعوة السَّلفيّة في بلاد الهوسا وما جاورها، فقد كان لدروسه في ترجمة (صحيح البخاريّ) إلى لغة الهوسا - وكانت تُبثُّ في أكبر إذاعة في شمال نيجيريا، وهي إذاعةُ كادونا الفيدراليّة - أكبرُ أثرٍ في إحياء السُّنَّة المحمديّة، ومحاربة بِدع الصوفيّة التي عمّت ربوع بلاد الهوسا قبل بزوغ دعوة هذا الشّيخ. وقد بدأ الشّيخ أبو بكر جومي رحمه الله بإلقاء الدّروس العِلمِيَّة
দ্বিতীয়: সাধারণ পাঠসমূহ

এমন কিছু গ্রন্থ রয়েছে যা হাউসা আলেমগণ তাদের ইলমি পাঠদানগুলোতে অনুবাদের মাধ্যমে আলোচনা করেছেন, যা তারা মানুষকে সচেতন করার এবং তাদের দ্বীন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান প্রদানের উদ্দেশ্যে পরিচালনা করেন; প্রত্যেকেই নিজ নিজ আকিদাগত অবস্থান এবং মানহাজি প্রবণতা অনুযায়ী তা করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে:

১- কিতাব (সহিহ আল-বুখারি):

এটি একটি সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ যা নতুন করে পরিচয়ের অবকাশ রাখে না, এটি হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি কর্তৃক সংকলিত। সর্বসম্মতিক্রমে পবিত্র কুরআনের পর বিশুদ্ধতার দিক থেকে এটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব, তাই উম্মাহ এর প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে। হাউসা আলেমদের এই কিতাবের জ্ঞানভাণ্ডার প্রচার করতে এবং এর জ্ঞানরাশি হাউসা ভাষায় এই ভাষাভাষী জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে এক বিশাল ভূমিকা ছিল। এই ময়দানে যার ভূমিকার কথা সর্বপ্রথম উল্লেখ করতে হয়, তিনি হলেন:

শায়খ আবু বকর মাহমুদ গুমি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১৪১২ হিজরি), হাউসা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সালাফি দাওয়াতের অগ্রদূত। হাউসা ভাষায় (সহিহ আল-বুখারি) অনুবাদের ক্ষেত্রে তার পাঠদানসমূহ—যা উত্তর নাইজেরিয়ার বৃহত্তম বেতার কেন্দ্র ‘ফেডারেল রেডিও কাদুনায়’ সম্প্রচারিত হতো—মুহাম্মাদি সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং এই শায়খের দাওয়াতের আবির্ভাবের পূর্বে হাউসা অঞ্চলের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া সুফি বিদআতসমূহের মোকাবিলা করতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। শায়খ আবু বকর গুমি রহিমাহুল্লাহ ইলমি পাঠদান শুরু করেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ১৭)
في جامع (السّلطان بللو) الّذي في ولاية كادونا عام 1381هـ الموافق 1961م في عهد أحمد بللو أوّل رئيس وزراء شمال نيجيريا رحمه الله تعالى، وكانت الدّروس تُقام في عهده في أيّام شهر رمضان المبارك. ولكن عام 1971م زاد الشّيخ من دروسه بهذا الجامع دروساً في مساء يومي الجمعة والأحد، ثمّ تحولت فيما بعد إلى يَومي السّبت والأحد مساءً، ومن ضمن هذه الدّروس درسُه في (صحيح البخاري) في لغة الهوسا الّذي يُقام في يوم السبت كلّ أسبوع من السّاعة 4،30 إلى السّاعة 6،00 مساءً (1) ، ويبث بعد ذلك في إذاعة كادونا.

وكان لهذا الدّرس أَثَرٌ كبير في معالجة قضايا دينيّة كثيرة، فقد كان الشّيخ رحمه الله يَسعى جاهداً في محاولة تقريب نصوص هذا الكتاب إلى أفهام العامّة، مع ربطها بِواقعهم الدِّيني واستنباط أحكامٍ شرعيَّةٍ وآدابٍ مرعيَّةٍ من خلال أحاديثه، والتّحذير مما يقع فيه كثير من المسلمين، ومنهم علماؤهم من مخالفة هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقد جَذَبَتْ هذه الدّروس شريحةً عريضةً من المجتمع، واستطاع الشَّيخ بفضل الله أن يَخترق الحواجز الّتي وضعها علماءُ الصّوفية لإقصاءِ أتباعهم عن سَماع الحق ودعوة السُّنَّة؛ إذ أصبح هذا الدّرس يدخل بيوتهم من خلال تلك الإذاعة الشّهيرة الواسِعَةِ الانتشارِ، فكان ذلك بفضل الله تعالى عاملاً كبيراً في نجاح دعوة الشّيخ رحمه الله وتحقيق انتصارات كبيرةِ في حَربه ضدّ بدع الصوفيّة والتّقاليد المخالفةِ لشرع الله تعالى. وما زالت هذه الدّروس تُبثّ في تلك الإذاعة رَغْم رَحِيل الشَّيخ عن

--------------------------------------------

(1) انظر: ((البحث عن أعمال الشيخ أبو بكر محمود جومي)) (ص39، 40) .
১৩৮১ হিজরি মোতাবেক ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর নাইজেরিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী আহমদ বেলো (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর শাসনামলে কাদুনা প্রদেশের 'সুলতান বেলো' জামে মসজিদে [এসব দারস অনুষ্ঠিত হতো]। তাঁর সময়ে এই দারসগুলো বরকতময় রমজান মাসে অনুষ্ঠিত হতো। তবে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে শায়খ এই মসজিদে শুক্রবার এবং রবিবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত দারস শুরু করেন। পরবর্তীতে তা শনিবার এবং রবিবার সন্ধ্যায় পরিবর্তিত হয়। এই দারসগুলোর মধ্যে ছিল হাউসা ভাষায় 'সহিহ বুখারি'-র দারস, যা প্রতি সপ্তাহে শনিবার বিকেল ৪:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতো (১) এবং পরবর্তীতে তা কাদুনা রেডিওতে সম্প্রচারিত হতো।

এই দারসের অনেক দ্বীনি সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব ছিল। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবের পাঠ্যগুলোকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। সেই সাথে সেগুলোকে তাদের ধর্মীয় বাস্তবতার সাথে সম্পৃক্ত করতেন এবং হাদিসগুলোর মাধ্যমে শরয়ী বিধান ও পালনীয় শিষ্টাচারসমূহ উদ্ভাবন করতেন। পাশাপাশি অনেক মুসলিম—এমনকি তাদের আলেমদের মাঝেও—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়াতের পরিপন্থী যে বিষয়গুলো বিদ্যমান ছিল, সে সম্পর্কে সতর্ক করতেন। এই দারসগুলো সমাজের এক বিশাল অংশকে আকৃষ্ট করেছিল। আল্লাহর অনুগ্রহে শায়খ সেই সব বাধাগুলো অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যা সুফি আলেমরা তাদের অনুসারীদের সত্য শোনা এবং সুন্নাহর দাওয়াত থেকে দূরে রাখার জন্য তৈরি করেছিল। কারণ, এই দারসগুলো সেই জনপ্রিয় এবং ব্যাপক প্রচারধারী রেডিওর মাধ্যমে তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যেতে শুরু করেছিল। ফলে এটি ছিল আল্লাহর অনুগ্রহে শায়খের (রাহিমাহুল্লাহ) দাওয়াতের সাফল্যে এবং সুফি বিদআত ও আল্লাহর শরিয়ত বিরোধী প্রথাগুলোর বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রামে এক বিশাল বিজয়ের কারণ। শায়খের বিদায়ের পরেও এই দারসগুলো সেই রেডিওতে এখনও সম্প্রচারিত হচ্ছে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: 'আল-বাহসু আন আমালিশ শায়খ আবু বকর মাহমুদ গুমি' (পৃষ্ঠা ৩৯, ৪০)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ১৮)
هذه الحياة بأكثر من إحدى عشرة سنة، وهذا مصداقٌ لقوله تعالى: {فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاء وَأَمَّا مَايَنفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الأَرْضِ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللهُ الأَمْثَالَ} [الرعد: 17] ، وقد صدَق أحدُ زعماء الصّوفيّة وأكبرُ مُنَاوِئِي دعوةِ الشَّيخ حيثُ قال: ((ذهب الشَّيخُ إلى ربِّه، لكنَّ شَبَحَه ما زال يُطاردنا)) في الإشارة إلى دروسه التي استمرّ بثُّها في إذاعة كادونا الفيدراليّة.

وقد استطاع الشّيخ رحمه الله أن يُنهيَ ترجمته لهذا الكتاب من خلال هذا الدّرس، نسأل الله أن يوفِّق من المسلمين من يَتَبَنّى جمعَ هذه الدُّروس ونسخَها وتحريرَها ثُمّ إخراجَها لجماهير المسلمين الذين يتحدّثون هذه اللّغة (الهوسا) لعلّ الله ينفع بها الإسلام والمسلمين.

وطريقة الشّيخ في عرض مادّة هذا الكتاب ما يلي:

أ- كان الشّيخ رحمه الله يَفتتح دَرْسَهُ في هذا الكتاب دائماً بعبارة حُفِظتْ عنه وهي: ((دراسةُ الحديثِ والْعملُ به هو السّبيل الوحيد لتوفير الأمن والاستقرار بين الأمّة، فقد وعد الله هذه الأمةَ بأن لا يُهلكَها ما دام رسول الله صلى الله عليه وسلم يَعيش بين ظهرانيهم، وما داموا يستغفرون الله تعالى فقال تعالى: {وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} [الأنفال: 33] وَبعد وَفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون التّمسك بحديثه هو السّبيل إلى ذلك)) .

ب- ثُمّ يبدأ بقراءته في الكتاب من حيثُ وقف به الدَّرس، ويَقرأ الإسنادَ ولا يلوي على شيءٍ من مبهماته، ولا يَقف لاستجلاء غَوامِضه، أو حلّ معضلاتِه.
এ জীবন এগারো বছরেরও বেশি সময় ধরে, আর এটি মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: "অতঃপর যা ফেনা তা তো নিঃসার হয়ে চলে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিনে টিকে থাকে। এভাবেই আল্লাহ উপমাসমূহ বর্ণনা করেন।" [আর-রাদ: ১৭]। সুফিদের অন্যতম এক নেতা এবং শায়খের দাওয়াতের অন্যতম প্রধান বিরোধী ব্যক্তি সত্যই বলেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন: "শায়খ তাঁর রবের কাছে চলে গিয়েছেন, কিন্তু তাঁর ছায়া এখনও আমাদের তাড়া করে ফিরছে," এটি শায়খের সেই সকল দরসের প্রতি ইঙ্গিত ছিল যা কাদুনা ফেডারেল রেডিওতে প্রচার হওয়া অব্যাহত ছিল।

আর শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) এই দরসের মাধ্যমেই এই কিতাবটির অনুবাদ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলিমদের মধ্য থেকে এমন কাউকে তাওফিক দেন যারা এই দরসগুলো সংগ্রহ, অনুলিপি তৈরি, সম্পাদনা এবং এরপর সেই সকল মুসলিম জনসাধারণের জন্য প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন যারা এই (হাউসা) ভাষায় কথা বলেন, যাতে আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের কল্যাণ করেন।

এই কিতাবের বিষয়বস্তু উপস্থাপনায় শায়খের পদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:

ক- শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) সর্বদাই এই কিতাবের দরস এমন একটি বাক্যের মাধ্যমে শুরু করতেন যা তাঁর পক্ষ থেকে সংরক্ষিত হয়েছে, আর তা হলো: "হাদিস চর্চা করা এবং সে অনুযায়ী আমল করাই হলো উম্মাহর মধ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একমাত্র পথ। কেননা আল্লাহ এই উম্মতকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের মাঝে থাকবেন এবং যতক্ষণ তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে ততক্ষণ তিনি তাদের ধ্বংস করবেন না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: 'আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় তিনি তাদের শাস্তি দেবেন, এবং আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না যখন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।' [আল-আনফাল: ৩৩]। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর পর তাঁর হাদিসকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরাই হলো সেই পথ।"

খ- এরপর তিনি কিতাবটির যেখান থেকে দরস শেষ হয়েছিল সেখান থেকে পাঠ শুরু করতেন। তিনি সনদ পাঠ করতেন এবং এর অস্পষ্ট বিষয়গুলোর দিকে ভ্রূক্ষেপ করতেন না, কিংবা এর নিগূঢ় বিষয়াবলি উন্মোচনে বা জটিল সমস্যার সমাধানে থেমে যেতেন না।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ১৯)
ج- يَقرأ متن الحديث، مترجِماً لَه إلى لغة الهوسا جملةً جملةً، ولا يَقف لشرحه إلا بعد نهايتِه إن كان الحديثُ قصيرا، وإن كان طويلا يقفُ لبيان ما يتطلّب الموقفُ شرحَه، بل أحيانا تتداخله أسئلةُ الحاضرين، إذْ قد يمرّ موقف يحتاج فيه بعضُ السامعين إلى استفسارٍ واستيضاح، ولطول المتن لا يمكن الانتظارُ حتى ينتهي الحديثُ، فيسأل السّائل ويجيب الشّيخ عن سؤاله، وهكذا حتى ينتهي الحديثُ، ثم ينتقل إلى حديثٍ يليه.

د- قد يتعرّض الشّيخ إلى بعض المسائل الفقهيّة الواردة في الحديث مُبيِّناً فيها ما ذهب إليه المذهب المالكي في المسألة، وقد يكون المذهبُ موافقاً وقد يكون مخالفاً لظاهر الحديث، وفي مُعظم الأوقات لا يقف الشّيخ لشرح وجهة نظر المالكية في مخالفتهم لظاهر النصّ وإنما يستمرّ كأنّه يَعرض الموقفَ فقط دون تعليقٍ، وأحياناً يحصل له ترجيح مقتضى الحديث على المذهب، وإن كان ذلك نادراً منه رحمه الله.

هـ- يَربط معاني الأحاديث بواقع المجتمع الهوساويّ ويبيّن ما يقع فيه النّاس من مخالفةٍ لتلك الأحاديث، وما يحدُث في الطّرق الصوفيّة من مناقضةٍ لها، وفي الغالب لا يتعدَّى الطُّرقَ الصُّوفيةَ الموجودة في بلاد الهوسا، وبخاصَّةٍ (الطريقة التيجانيّة، والطّريقة القادريّة) لأنّ أغلب من ينتسب للصوفيّة في مجتمعه إنما ينتسب إلى إحدى هاتين الطّريقتين، فكان تركيزُ الشيخ عليهما أكثر من غيرهما.

و كان الشّيخ يمتاز برحابة الصَّدر وسعتِه، فما كان يردّ سائلاً مهما كان السّائل جافاًّ معه، بل كان يُصغي إليه إصغاءً مهما كانت قوّة لهجة
গ- তিনি হাদীসের মূল পাঠ পাঠ করতেন এবং বাক্য অনুসারে তা হাউসা ভাষায় অনুবাদ করতেন। হাদীসটি যদি ছোট হতো, তবে তিনি তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাখ্যার জন্য থামতেন না। কিন্তু হাদীস দীর্ঘ হলে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী বিরতি নিতেন। এমনকি কখনও কখনও উপস্থিতদের প্রশ্নের কারণেও বিরতি নিতে হতো; কারণ এমন কিছু বিষয় চলে আসত যেখানে কিছু শ্রোতার জিজ্ঞাসা বা স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন হতো। দীর্ঘ পাঠের কারণে হাদীস শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না, তাই প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতেন এবং শেখ তার উত্তর দিতেন। এভাবেই হাদীসটি শেষ হতো, তারপর তিনি পরবর্তী হাদীসে চলে যেতেন।

ঘ- শেখ কখনও কখনও হাদীসে বর্ণিত কিছু ফিকহী মাসআলা নিয়ে আলোচনা করতেন এবং এক্ষেত্রে মালিকি মাযহাবের অবস্থান ব্যাখ্যা করতেন। সেই মাসআলায় মাযহাব হাদীসের প্রকাশ্য অর্থের অনুকূলে হতে পারে, আবার কখনও প্রতিকূলেও হতে পারে। অধিকাংশ সময় শেখ টেক্সটের প্রকাশ্য অর্থের বিপরীতে মালিকি মাযহাবের দৃষ্টিভঙ্গির কারণ বর্ণনার জন্য থামতেন না, বরং কোনো মন্তব্য ছাড়াই কেবল অবস্থানটি উপস্থাপন করে যেতেন। কখনও কখনও তিনি মাযহাবের চেয়ে হাদীসের দাবিকে প্রাধান্য দিতেন, যদিও তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) ক্ষেত্রে এটি বিরল ছিল।

ঙ- তিনি হাদীসের অর্থসমূহকে হাউসা সমাজের বাস্তবতার সাথে সম্পৃক্ত করতেন এবং সেসব হাদীসের বিপরীতে মানুষের লিপ্ত থাকা বিভিন্ন লঙ্ঘন বা ভুলভ্রান্তি বর্ণনা করতেন। সেই সাথে সূফী তরীকাগুলোতে হাদীস বিরোধী যা কিছু ঘটত তাও স্পষ্ট করতেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি হাউসা ভূখণ্ডে বিদ্যমান তরীকাগুলোর গণ্ডি অতিক্রম করতেন না, বিশেষ করে (তিজানিয়া তরীকা ও কাদেরিয়া তরীকা); কারণ তাঁর সমাজের অধিকাংশ মানুষ যারা সূফীবাদের সাথে সম্পৃক্ত, তারা এই দুই তরীকার কোনো একটির সাথে যুক্ত। ফলে অন্যগুলোর তুলনায় এই দুটির ওপর শেখের গুরুত্বারোপ বেশি ছিল।

চ- শেখ অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও উদারমনা ছিলেন। প্রশ্নকারী তাঁর সাথে যতই রুক্ষ আচরণ করুক না কেন, তিনি তাকে ফিরিয়ে দিতেন না। বরং প্রশ্নকারীর সুর বা প্রকাশভঙ্গি যতই কড়া হোক না কেন, তিনি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ২০)
المعارَضة، ثُمّ يجيب الشّيخ عن أسئلته دون أدنى تأنيف أو تأفّف (1) .

ولقوَّة تأثير الشّيخ رحمه الله في سَامعي درسه هذا وغيره مِن دروسه أصبح بعض النّاشئين بَعده يقلِّدونه فيها أيَّما تقليدٍ، ولم يكتفوا بأخذ منهجه في التّدريس فحسب، بل زَادوا على ذلك تقليدَه في صَوته ونَبْرته ولهجته. وممن كان بهذه الحال: الشّيخ مختار غَبْطُو أحدُ طلاب العلم في ولاية تَرابَا شرقِ شمال نيجيريا، وكانت له دروسٌ مشهودة على صُورة دروس الشّيخ أبي بكر محمود جومي، منها درسُه في (صحيح البخاري) ، يَعقده في بيته كلَّ مساء يومي السّبت والأحد كما كان يفعل الشّيخ، ويبثّ في إذاعة الولاية كما يُبثّ درسُ الشّيخ، ويقلِّده في نبرة صوته ولهجته وطريقة إلقائه للدرس وتفاعله مع الحاضرين.

الشّيخ الدّكتور: أحمد محمد إبراهيم - حفظه الله -:

وهو أيضاً ممن لهم دورٌ بارز في تدريس هذا الكتاب ونقله إلى لغة الهوسا عبر دروسه العِلمِيَّة؛ فقد أحيا د. أحمد - بحقٍّ - ما توقف بموت الشّيخ أبي بكر محمود جومي من دروسه في هذا الكتاب؛ إذْ لم يكن بعد الشّيخ من استمر في إلقاء دروس في هذا السّفر العظيم قبل الدكتور أحمد - فيما أعلم - وهو أحدُ قدامى خريجي الجامعة الإسلامية كليّة الحديث الشّريف، والتحق بجامعة بايرو كانُو مبتعثاً من قِبَل دار الإفتاء بالمملكة العربية السعودية؛ حيث واصل دراستَه في تلك الجامعة حَتّى حصل على (الدّكتوراه) في الدّراسات

(1) ولزميلنا وأخينا الفاضل: الشيخ محمد المنصور إبراهيم دراسة علميّة حول جُهود الشّيخ أبي بكر محمود جومي في الحديث النبويّ، نال بها درجةَ الماجستير في جامعة صكتو.
বিরোধিতা, তারপর শায়খ কোনো প্রকার ধমক বা বিরক্তি ছাড়াই তার প্রশ্নের উত্তর দিতেন (১)।

শায়খের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই পাঠ এবং তাঁর অন্যান্য পাঠের শ্রোতাদের ওপর তাঁর প্রভাবের প্রবলতার কারণে, তাঁর পরবর্তী কিছু তরুণ তাঁকে প্রবলভাবে অনুকরণ করতে শুরু করে। তারা কেবল তাঁর পাঠদানের পদ্ধতি গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং এর পাশাপাশি তাঁর কণ্ঠস্বর, স্বরভঙ্গি ও বাচনভঙ্গিও অনুকরণ করতে থাকে। যাদের এই অবস্থা ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার তরাবা প্রদেশের অন্যতম ইলম অন্বেষী শায়খ মুখতার গাবতু। শায়খ আবু বকর মাহমুদ জুমির পাঠের আদলে তাঁরও কিছু সুপরিচিত পাঠ ছিল। তার মধ্যে অন্যতম হলো 'সহীহ বুখারী'র পাঠ, যা তিনি শায়খের মতোই প্রতি শনিবার ও রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে আয়োজন করতেন। শায়খের পাঠের মতো এটিও প্রাদেশিক রেডিওতে প্রচারিত হতো এবং তিনি শায়খের কণ্ঠস্বর, বাচনভঙ্গি, পাঠ প্রদানের পদ্ধতি ও উপস্থিতদের সাথে মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে তাঁকে অনুকরণ করতেন।

শায়খ ডক্টর আহমদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম - আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন -:

তিনিও এই কিতাবটি পাঠদানে এবং তাঁর ইলমি পাঠের মাধ্যমে হাউসা ভাষায় তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। প্রকৃতপক্ষে ডক্টর আহমদ এই কিতাবের সেই সব পাঠ পুনরায় জীবিত করেছেন যা শায়খ আবু বকর মাহমুদ জুমির মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারণ, আমার জানামতে ডক্টর আহমদের পূর্বে শায়খের পর এমন কেউ ছিলেন না যিনি এই মহান গ্রন্থের পাঠ প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। তিনি মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস অনুষদের প্রাচীন স্নাতকদের একজন। তিনি সৌদি আরবের দারুল ইফতা কর্তৃক প্রেরিত হয়ে বাইরো কানো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। সেখানে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত গবেষণায় ডক্টরেট (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেন।

(১) আমাদের সহকর্মী এবং সম্মানিত ভাই শায়খ মুহাম্মদ মানসুর ইব্রাহিমের একটি ইলমি গবেষণা রয়েছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ক্ষেত্রে শায়খ আবু বকর মাহমুদ জুমির প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে রচিত। তিনি এই গবেষণার মাধ্যমে সোকোতো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ২১)
الإسلامية، وتَمّ تعيينه عضواً في هيئة التّدريس بها بقسم اللّغة العربِيّة والدِّراسات الإسلاميّة. وكان له درسٌ في كتاب (صحيح البخاري) في جامع جامعة بايرو في يومي السّبت والأحد مساءً، وهو درسٌ مشهودٌ يأتيه النّاس من كلِّ فجٍّ وصوبٍ، من داخل ولاية كانو ومن خارجها. وقد استطاع د. أحمد من خلال دَرْسِه هذا وما أُوتي من أسلوبٍ فصيحٍ، وصوتٍ جَهوريٍّ أن يَبُثّ الوعْيَ بالسُّنَّة النَّبويَّة في صُفوف شريحةٍ كبيرةٍ من المتحدثين بلغة الهوسا في مجتمع نيجيريا، وكان درسُه يُبثّ في إذاعة كانو ويُنقل عبر شَاشَةِ تلفزيون (NTA) كانو، مما أقلق مضاجع الصوفيّة، وسَعَوا لوقف هذا المدّ السّني السّلفيّ، ووضع حدٍّ لتأثيره في الشّباب، فأوجدوا دروسًا مضادَّة، وبرامج إذاعيّة وتلفزيونيّة؛ لتقوم حائلا بين النّاس وبين سماع صوت السُّنَّة النَّبويَّة المرتفع من رحاب مسجد الجامع لجامعة بايرو ومن خلال أحاديث (صحيح البخاري) لكنّه دون جدوى، بل أصبح الأمر كما قال أبو تمام قديماً:

وإذا أراد الله نَشْرَ فضيلةٍ … طُوِيَتْ أَتَاحَ لَهَا لِسَانَ حَسُودِ

لَولا اشْتِعَالُ النَّار فِيمَا جَاوَرَتْ … مَا كَان يُعْرفُ طِيبُ عَرْفِ الْعُودِ

واستمرّ الشّيخ في إلقاء دروسه في هذا الكتاب حتى أتى على آخره، ثم انتقل منه إلى كتاب يلي (صحيح البخاريّ) في الصّحة وهو:

2 - صحيح مسلم:

من تأليف الإمام المحدث مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، واستمرّ الشيخ في هذا الكتاب حتى نهايتِه، ثُمّ انتقل إلى كتابٍ آخر، وهو:

3- سنن الترمذي:

وهو من تأليف الإمام أبي عيسى محمّد بن عيسى بن سَوْرَة التّرمذي
ইসলামিক এবং তাকে সেখানকার আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বায়েরো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রতি শনি ও রবিবার সন্ধ্যায় 'সহীহ আল-বুখারী' গ্রন্থের ওপর তাঁর একটি পাঠদান (দরস) ছিল; এটি ছিল এক জনাকীর্ণ দরস যেখানে কানো রাজ্য এবং এর বাইরে থেকে দূর-দূরান্তের মানুষ সমবেত হতো। ড. আহমদ তাঁর এই দরস এবং আল্লাহ প্রদত্ত প্রাঞ্জল শৈলী ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে নাইজেরিয়ার সমাজের হাউসা ভাষাভাষী একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর মাঝে নববী সুন্নাহর চেতনা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন। তাঁর দরস কানো রেডিওতে সম্প্রচারিত হতো এবং কানো (NTA) টেলিভিশনের পর্দায় প্রচারিত হতো, যা সুফিদের বিচলিত করে তোলে। তারা এই সুন্নী-সালাফী জাগরণকে রুখে দিতে এবং যুবকদের ওপর এর প্রভাবের পরিসমাপ্তি ঘটাতে সচেষ্ট হয়। ফলে তারা পাল্টা দরস এবং রেডিও-টেলিভিশন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে, যাতে তা মানুষের মাঝে এবং বায়েরো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রাঙ্গণ থেকে 'সহীহ আল-বুখারী'র হাদিসের মাধ্যমে উত্থিত নববী সুন্নাহর উচ্চকিত আওয়াজ শোনার মাঝে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। কিন্তু তাদের সে প্রচেষ্টা কোনো কাজে আসেনি, বরং বিষয়টি প্রাচীন কবি আবু তাম্মামের সেই উক্তির মতোই দাঁড়িয়েছে:

আল্লাহ যখন কোনো সুপ্ত গুণের বিকাশ ঘটাতে চান ... তখন তিনি তার জন্য একজন হিংসুক রসনা নিয়োজিত করেন।

আশেপাশে যদি আগুনের দহন ছড়িয়ে না পড়ত ... তবে আগরকাঠের সুগন্ধি সম্পর্কে কেউ জানতে পারত না।

শাইখ এই গ্রন্থের দরস প্রদান অব্যাহত রাখেন যতক্ষণ না তা সমাপ্ত হয়। অতঃপর তিনি 'সহীহ আল-বুখারী'র পর বিশুদ্ধতার বিচারে পরবর্তী গ্রন্থের দিকে অগ্রসর হন, যা হলো:

২ - সহীহ মুসলিম:

এটি ইমাম মুহাদ্দিস মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরীর সংকলন। শাইখ এই কিতাবটি শেষ হওয়া পর্যন্ত পাঠদান অব্যাহত রাখেন। এরপর তিনি অন্য একটি কিতাবের দিকে যান, যা হলো:

৩- সুনান আত-তিরমিযী:

এটি ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ আত-তিরমিযীর সংকলন।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ২২)
(ت273هـ) وهو كتابٌ حَديثيّ كبير الشّأن جَمع فيه مؤلِّفه الأحاديث المرويّة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في أبواب الأحكام الفقهيّة، مبيِّنا فيها درجة كلِّ حديث من حيث الصِّحةُ والضَّعفُ، حاكياً لمذاهب أهل العلم في تلك الأحاديث. وقد اعتنت الأمّة بهذا الكتاب شرحاً وتوضيحاً، ولذلك ثلّث به الشّيخ د. أحمد بمبا بعد (صحيح مسلم) ، ولعل د. أحمد هو أوّل من قام بتدريس هذا الكتاب في الدروس العامّة التي يشهدها جميعُ فئات المجتمع، وإن كان الكتاب قد يكون من بين الكتب العِلمِيَّة التي تدرس في الحلقات العِلمِيَّة الخاصة في دروس بعض العلماء، إلا أنّه لم يُسبق أنْ وُجد من قام بتدريسه بهذه الصفّة غيره.

ولم يَكن يختلف أسلوب الشّيخ د. أحمد في تدريسه لتلك الكتب عن الأسلوب الذي كان قد سَلكه قبلَه الشّيخ أبو بكر محمود جومي رحمه الله، وإنما زاد عليه الدّكتور أحمد إسهابَه في تناول القضايا ذاتِ العلاقة بالحديث المدروس، وأحياناً استطرادَه في الحديث عن بعض الشّؤون الاجتماعية، وكانت سمةُ الوعظ والإرشاد تعلو كلَّ هذا، ويَغلب أسلوبُ الخطابة في كثير من الأمور، ذلك أنَّ معظم الحاضرين للدَّرْس من عوام النّاس الّذين لا يصلح لهم غير هذا الأسلوب، فلذلك يشهد الدّرس إقبالاً مُهِمًّا جداًّ.

الشيّخ محمد ناصر كبرا:

ويجدر أنْ يذكر بهذا الصّدد أحد مشايخ الصّوفية وهو الشّيخ محمّد ناصر كبرا (ت1413هـ) الّذي كان ينعت نَفْسَه بأنّه زعيمٌ للطّريقة القادريّة في غرب إفريقيا، وأميرٌ لجيش الشّيخ عثمان بن فودي! وقد أسهم هذا الشّيخ الصّوفي في نشر الحديث النّبوي بلغة الهوسا لكن بطريقته الخاصّة؛ حيث آثر
(মৃত্যু ২৭৩ হিজরি) এটি একটি সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন হাদিস গ্রন্থ যেখানে এর সংকলক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ ফিকহী বিধানের অধ্যায়সমূহে একত্রিত করেছেন। তিনি এতে প্রতিটি হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার পর্যায় বর্ণনা করেছেন এবং সেসব হাদিসের ক্ষেত্রে আহলে ইলমদের মাযহাবসমূহ উল্লেখ করেছেন। উম্মাহ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই গ্রন্থটির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এজন্যই শায়খ ড. আহমদ বাম্বা (সহিহ মুসলিম)-এর পর একে তৃতীয় ক্রমভুক্ত করেছেন। সম্ভবত ড. আহমদই প্রথম ব্যক্তি যিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষের উপস্থিতিতে সাধারণ পাঠদান মজলিসে এই গ্রন্থটি পাঠদান শুরু করেছেন। যদিও গ্রন্থটি সেই সকল ইলমী কিতাবের অন্তর্ভুক্ত ছিল যা নির্দিষ্ট কিছু আলেমদের বিশেষ ইলমী হালকাসমূহে পাঠদান করা হতো, তবে তাঁর পূর্বে এই পদ্ধতিতে এটি পাঠদানকারী অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি।

এই কিতাবসমূহ পাঠদানের ক্ষেত্রে শায়খ ড. আহমদের পদ্ধতি শায়খ আবু বকর মাহমুদ জুমি (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইতিপূর্বে অনুসৃত পদ্ধতির চেয়ে ভিন্ন ছিল না। তবে ড. আহমদ পঠিত হাদিস সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ বিস্তারিত পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রয়াস চালাতেন এবং কখনও কখনও সামাজিক কিছু বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ করতেন। এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে নসিহত ও নির্দেশনার বৈশিষ্ট্য বজায় থাকত এবং অনেক ক্ষেত্রে বাগ্মিতার ঢং প্রবল হতো। এর কারণ হলো পাঠদান মজলিসে উপস্থিত অধিকাংশ মানুষই ছিলেন সাধারণ জনতা যাদের জন্য এই পদ্ধতি ছাড়া অন্য কিছু উপযোগী ছিল না। এই কারণেই পাঠদান মজলিসটি ব্যাপক উপস্থিতিতে মুখরিত হতো।

শায়খ মুহাম্মদ নাসির কাবারা:

এই প্রসঙ্গে জনৈক সুফি শায়খ তথা শায়খ মুহাম্মদ নাসির কাবারার (মৃত্যু ১৪১৩ হিজরি) নাম উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়, যিনি নিজেকে পশ্চিম আফ্রিকায় কাদেরিয়া তরিকার নেতা এবং শায়খ উসমান বিন ফুদির বাহিনীর আমির হিসেবে অভিহিত করতেন! এই সুফি শায়খ হাউসা ভাষায় হাদিসে নববী প্রসারে অবদান রেখেছেন, তবে তা ছিল তাঁর নিজস্ব পদ্ধতিতে; যেখানে তিনি প্রাধান্য দিতেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ২৩)
أن يقرأ على النّاس في كتاب (الشّفا بتعريف حقوق المصطفى) للقاضي عياض (ت544هـ) . وقد أحبّ الشّيخ أن يكون نشرُه للحديث من خلال هذا الكتاب الّذي ملأه مصنِّفُه رحمه الله بالأحاديث الضّعيفة والمنكرة، والقصص الباطلة الموضوعة، وبحقٍّ قال الحافظ الذهبي في هذا الكتاب: ((تواليفه نفيسَة، وأجلُّها وأشرَفُها ((كتاب الشِّفا)) لولا ما قد حشاه بالأحاديث المفتَعَلَة، عَمَلُ إِمَامٍ لا نَقْدَ لَه في فنّ الحديث ولا ذَوْق، والله يُثيبه على حُسن قصده، وينفع بـ ((شفائه)) ، وقد فعل. وكذا فيه من التّأويلات البعيدة ألوانٌ، وَنَبِيّنا صلوات الله عليه وسلامه غَنِيّ بمدحةِ التنزيل عن الأحاديث، وبما تَواتر من الأخبار عن الآحَاد، وبالآحاد النّظيفة الأسانيد عن الواهيات، فلماذا يا قوم نَتَشبَّع بالموضوعات، فَيتطرّق إلينا مقالُ ذوي الغلّ والحسد، ولكن من لا يَعلم معذورٌ. فعليك يا أخي بكتاب ((دلائل النّبوة)) للبيهقي؛ فإنّه شفاء لما في الصّدور وهدى ونور)) (1) .

ولم يأت اختيارُ الشّيخ محمّد ناصر كبرا نشرَ هذا الكتاب ونقلَ مادَّته إلى لغة عوام النّاس عن فراغ؛ بل كان ذلك؛ لأن بَقاء الصّوفية في أيّ زمان وفي أيّ مكانٍ مرهونٌ ببقاء مثل هذه الأحاديث المنكرة. وكانت قراءتُه في شهر رمضان في هذا الكتاب، وكان يَنقله إلى سامعيه بلغة الهوسا الّتي يمتلك من مفرداتها وغرائبها رصيداً كبيراً يعزّ وجودُ مثله في أقرانه، إلاّ أنّه لم يُوفَّقْ بطلاقة لسانٍ، وبلاغةِ منطقٍ وبيانٍ، فكان نصف ترجمته لأحاديث ذلك الكتاب مفهوماً ونصفُه غيرَ مفهوم، مما أفقدها الحيويّة والجماهيريّة إلا عند

--------------------------------------------

(1) ((سير أعلام النبلاء)) (20/216) .
মানুষের সামনে কাজী আইয়াজের (মৃ. ৫৪৪ হি.) ‘আশ-শিফা বিতারিফি হুকুকিল মুস্তফা’ নামক কিতাবটি পাঠ করা হতো। শাইখ পছন্দ করেছিলেন যে, তাঁর হাদিস প্রচার যেন এই কিতাবের মাধ্যমেই হয়, যা এর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) দুর্বল ও মুনকার হাদিস এবং বাতিল ও বানোয়াট কাহিনী দ্বারা পরিপূর্ণ করেছেন। আর হাফেজ আয-যাহাবী এই কিতাব সম্পর্কে যথার্থই বলেছেন: "তাঁর রচনাবলি অত্যন্ত মূল্যবান, যার মধ্যে সবচেয়ে মহান ও মহিমান্বিত হলো ‘কিতাবুশ শিফা’; যদি না তিনি একে জাল বা বানোয়াট হাদিস দ্বারা পূর্ণ করতেন। এটি এমন একজন ইমামের কাজ, যার হাদিস শাস্ত্রে কোনো সমালোচনা-জ্ঞান বা সূক্ষ্ম রুচিবোধ ছিল না। আল্লাহ তাঁকে তাঁর সৎ উদ্দেশ্যের জন্য প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর ‘শিফা’ দ্বারা মানুষকে উপকৃত করুন—এবং আল্লাহ তা করেছেনও। একইভাবে এতে বিভিন্ন ধরনের দূরবর্তী ব্যাখ্যার সমাহার রয়েছে। অথচ আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাধারণ হাদিসের মুখাপেক্ষী না হয়ে বরং আল-কুরআনের প্রশংসার মাধ্যমেই মর্যাদাবান; একইভাবে তিনি একক বর্ণনা (আহাদ) অপেক্ষা মুতাওয়াতির সংবাদের মাধ্যমে এবং ভিত্তিহীন বর্ণনার পরিবর্তে সহিহ সনদের একক বর্ণনার মাধ্যমে অমুখাপেক্ষী। সুতরাং হে জাতি, কেন আমরা বানোয়াট বিষয়াদিতে মগ্ন থাকব, যার ফলে বিদ্বেষী ও হিংসুকদের সমালোচনার পথ উন্মুক্ত হবে? তবে যারা জানে না, তারা ওজরের যোগ্য। হে আমার ভাই, আপনার জন্য বায়হাকীর ‘দালায়েলুন নুবুওয়াহ’ কিতাবটি আবশ্যক; কেননা এটি অন্তরের ব্যাধির উপশম, হিদায়াত এবং নূর।" (১)।

শাইখ মুহাম্মদ নাসির কাবারা এই কিতাবটি প্রচার করা এবং এর বিষয়বস্তু সাধারণ মানুষের ভাষায় অনুবাদ করার সিদ্ধান্তটি কোনো কারণ ছাড়া গ্রহণ করেননি; বরং এটি এজন্য ছিল যে, যেকোনো সময় ও স্থানে সুফিবাদ টিকে থাকা এই ধরনের মুনকার হাদিসসমূহ টিকে থাকার ওপর নির্ভরশীল। রমজান মাসে তিনি এই কিতাবটি পাঠ করতেন এবং তা শ্রোতাদের কাছে হাউসা ভাষায় অনুবাদ করে শোনাতেন, যে ভাষার শব্দভাণ্ডার ও বৈচিত্র্যের ওপর তাঁর এমন বিশাল দখল ছিল যা তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে পাওয়া দুষ্কর। তবে তিনি সাবলীল ভাষা ও বাগ্মিতার ক্ষেত্রে সফল হতে পারেননি, ফলে উক্ত কিতাবের হাদিসগুলোর তাঁর করা অনুবাদের অর্ধেকটা ছিল বোধগম্য এবং বাকি অর্ধেক ছিল অবোধ্য; যার কারণে তা প্রাণবন্ততা ও জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল, কেবল... ছাড়া।

--------------------------------------------

(১) ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (২০/২১৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ২৪)
أتباعه الّذين يرون أنّ التّعلق به قربةٌ إلى الله وثَني الرُّكب أمامه عبادة يثابون عليها يوم القيامة....

الشّيخ جعفر محمود آدم:

لَه دورٌ بارزٌ في نشر السُّنَّة النَّبويَّة ونقلها إلى لغة الهوسا من خلال دروسه العامّة والخاصّة فهو أحد خريجي الجامعة الإسلامية في المدينة، وكانت له دروس في كتابي (عُمدة الأحكام) للحافظ عبد الغني المقدسي، و (بلوغ المرام من أدلة الأحكام) . ألقى مادّة الكتابين في ولايتي (بوثي) و (برنو) الشماليّتين. ودروسه العِلمِيَّة من أكبر الدّروس شهوداً وحضوراً، وقد تَميّزت بنكاتٍ علميّة، وفوائدَ بديعةٍ، ومواعظَ بليغة، جَعلت طلابَ العلم يحرصون عليها أيّما حِرص، وتَعَلَّقَ بها جماهير العامّة من أجل إفصاحه في طَرحها، وجودَةِ أسلوبِه في عَرْضِها، وتَمَكُّنِه من نَاصية لغة الهوسا ومفرداتِها. وقد أفاد منه جمٌّ كبير، ودروسُه منتشرةٌ ومذاعة.

الشّيخ عبد الوهاب عبد الله:

وهو أحدُ العلماء البارزين في شمال نيجيريا، وأحدُ خريجي الجامعة الإسلامية في كلية الحديث، أسهم بدروسه العِلمِيَّة في نقل السُّنَّة النَّبويَّة إلى لغة الهوسا ونشرها بين العامّة والخاصة؛ فقد كانت له دروس في (صحيح البخاري) و (بلوغ المرام) مع شرحه (سبل السلام) للصنعاني، كما أنّ له درسًا في (سنن التّرمذي) ، وتلك الدروس وإن كانت لغة التعليم هي الهوسا إلاّ أنها خاصّة بطلاّب العلم النّابهين. ثم إنّ له درساً عاماًّ لجماهير النّاس في (سنن أبي داود) يُلقيه يوم الاثنين،. وقد تميزت دروسه بالمباحث الفقهيّة غالباً ودراسات حديثيّة متعلقة بالتّصحيح والتّضعيف، ولصلته بكلية الحديث بالجامعة الإسلامية أثر كبير في اتجاهه هذا. والله أعلم.
তাঁর সেই অনুসারীরা যারা মনে করেন যে, তাঁর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় এবং তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে বসা একটি ইবাদত, যার জন্য কিয়ামতের দিন তারা পুরস্কৃত হবে...

শাইখ জাফর মাহমুদ আদম:

সুন্নাহর প্রচার-প্রসার এবং তাঁর সাধারণ ও বিশেষ দরসের মাধ্যমে তা হাউসা ভাষায় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে তাঁর এক বিশিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তিনি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নাতক। হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসি-র 'উমদাতুল আহকাম' এবং 'বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম' কিতাবদ্বয়ের ওপর তাঁর দরস ছিল। তিনি উত্তরাঞ্চলীয় বাউচি ও বোরনো রাজ্যে এই কিতাব দুটির বিষয়বস্তু পাঠদান করতেন। উপস্থিতির দিক থেকে তাঁর ইলমি দরসগুলো ছিল অন্যতম বৃহৎ মজলিস। এই দরসগুলো সূক্ষ্ম ইলমি পয়েন্ট, চমৎকার তাত্ত্বিক উপকারিতা এবং প্রাঞ্জল নসিহতের কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল, যা তালিবে ইলমদের এই দরসগুলোর প্রতি বিশেষভাবে আগ্রহী করে তুলেছিল। তাঁর প্রাঞ্জল উপস্থাপনা, বর্ণনাশৈলীর উৎকর্ষ এবং হাউসা ভাষার শব্দভাণ্ডারের ওপর পূর্ণ দখলের কারণে সাধারণ মানুষ তাঁর দরসের প্রতি ভীষণভাবে আকৃষ্ট হয়েছিল। এক বিশাল জনসমষ্টি তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছে এবং তাঁর দরসগুলো সর্বত্র প্রচারিত ও সম্প্রচারিত হয়েছে।

শাইখ আব্দুল ওয়াহাব আব্দুল্লাহ:

তিনি উত্তর নাইজেরিয়ার অন্যতম বিশিষ্ট আলেম এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস অনুষদ থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী। তিনি তাঁর ইলমি দরসের মাধ্যমে সুন্নাহকে হাউসা ভাষায় রূপান্তর করতে এবং সাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মাঝে তা ছড়িয়ে দিতে অবদান রেখেছেন। তাঁর দরস ছিল 'সহিহ আল-বুখারি' ও সানআনির ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'সুবুলুস সালাম' সহ 'বুলুগুল মারাম'-এর ওপর। পাশাপাশি 'সুনানে তিরমিজি'-র ওপরও তাঁর দরস ছিল। যদিও পাঠদানের ভাষা ছিল হাউসা, তবুও সেই দরসগুলো মূলত মেধাবী তালিবে ইলমদের জন্য বিশেষায়িত ছিল। অতঃপর প্রতি সোমবার সাধারণ জনসাধারণের জন্য 'সুনানে আবু দাউদ'-এর ওপর তাঁর একটি সাধারণ দরস ছিল। তাঁর দরসগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফিকহী আলোচনা এবং হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা সংক্রান্ত গবেষণায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস অনুষদের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা তাঁর এই জ্ঞানতাত্ত্বিক ঝোঁকের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছিল। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفصل الثّاني: الاهتمام بترجمة كتب السُّنَّة إلى لغة الهوسا

(1)

‌‌دور المؤسّسات التّعليميّة في الاهتمام بترجمة كتب السُّنَّة النَّبويَّة بلغة الهوسا

لم ينحصر الاهتمام بالسُّنَّة النَّبويَّة بلغة الهوسا في التّرجمات الشّفهيّة في الحلقات والدروس العِلمِيَّة الّتي تحدَّثنا عنها سابقاً، بل اهتموا كذلك بكتابة ترجماتٍ لبعض كتب السُّنَّة في لغة الهوسا. وكان للمؤسسات التعليمية دور بارز في هذا المجال، وَيُمَثِّل أُنموذجاً لهذا قسمُ اللّغة العربية والدّراسات الإسلاميّة في جامعة بايرو في ولاية كانو ـ نيجيريا، فقد قام بمشروع ترجمة كتب السُّنَّة، وبخاصّة الكتب السّتة: (الصحيحان) ، و (السنن الأربعة) بالإضافة إلى (سنن الدّارمي) و (مسند الإمام أحمد) ، وغيرها.

وقد بدأ تنفيذ خطّة هذا المشروع تحت إشراف: د. عبد العلي عبد الحميد وهو أستاذٌ في القسم المذكور منسِّقاً للمشروع، وكان ذلك في يُونيو عام 1983م، وقد رأى القائمون على المشروع أن يتم توزيع أحاديث الكتب المختارة للترجمة على طلاب اللّيسانس ليترجموها بحثاً تكميليّاً للحصول على شهادة اللّيسانس، فقام الطالب: قاسم عمر مدابو رحمه الله بترجمة أول مائة حديثٍ من كتاب ((صحيح البخاري)) في عام 1983م، واستمرّ العملُ في ترجمة الكتاب على أيدي الطلاب الدّارسين بهذا القسم إلى أن اكتمل في
দ্বিতীয় অধ্যায়: হাউসা ভাষায় সুন্নাহর কিতাবসমূহ অনুবাদের প্রতি গুরুত্বারোপ

(১)

হাউসা ভাষায় নববী সুন্নাহর কিতাবসমূহ অনুবাদের গুরুত্বারোপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা

হাউসা ভাষায় নববী সুন্নাহর প্রতি গুরুত্বারোপ কেবল সেই সকল মৌখিক অনুবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না যা ইলমি হালকা ও দরসসমূহে প্রদান করা হতো এবং যে সম্পর্কে আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি; বরং তারা হাউসা ভাষায় সুন্নাহর কিছু কিতাবের লিখিত অনুবাদের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন। এই ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের একটি উজ্জ্বল ভূমিকা ছিল এবং এর একটি উদাহরণ হলো নাইজেরিয়ার কানো প্রদেশের বায়রো ইউনিভার্সিটির আরবি ভাষা ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ। তারা সুন্নাহর কিতাবসমূহ, বিশেষ করে কুতুবে সিত্তা বা ছয়টি কিতাব: (সহীহাইন), ও (সুনানে আরবাআ) এবং এর পাশাপাশি (সুনানে দারিমি) ও (মুসনাদে ইমাম আহমাদ) সহ অন্যান্য কিতাব অনুবাদের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল।

এই প্রকল্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল উক্ত বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আলী আব্দুল হামিদের তত্ত্বাবধানে, যিনি প্রকল্পের সমন্বয়ক ছিলেন; এবং এটি ১৯৮৩ সালের জুন মাসে শুরু হয়েছিল। প্রকল্পের দায়িত্বশীলরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, অনুবাদের জন্য নির্বাচিত কিতাবসমূহের হাদিসগুলো স্নাতক (লিসান্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বন্টন করা হবে, যেন তারা স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের জন্য একটি সম্পূরক গবেষণা হিসেবে সেগুলো অনুবাদ করতে পারে। অতঃপর শিক্ষার্থী কাসেম উমর মাদাবু (রাহিমাহুল্লাহ) ১৯৮৩ সালে ‘সহীহ বুখারী’ কিতাবের প্রথম একশত হাদিস অনুবাদ করেন এবং এই বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কিতাবটির অনুবাদের কাজ অব্যাহত থাকে যতক্ষণ না তা সম্পন্ন হয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ২৬)
عام 1988م.

ثم تلاه العملُ في ترجمة ((صحيح مسلم)) ، وكانت بدايته عام 1988م، وانتهى إلى عام 1993م تقريباً. وهكذا تلا ذلك ترجمة (السنن الأربعة) على التّرتيب التّالي: ترجمة (سنن الترمذي) ، ثم (سنن أبي داود) ، ثم (سنن النسائي) ، ثم (سنن ابن ماجه) . وسوف تشمل المرحلة القادمة للمشروع: (سنن الدّارمي) ، و (مسند الإمام أحمد) .

وكان أول منسِّق لتنفيذ المشروع - كما تقدم - د. عبد العلي عبد الحميد، ثم بعده د. أحمد محمد إبراهيم، وبعده: الشّيخ أبو بكر جبريل.

كما قام القسم أيضاً بترجمة كتاب ((الشّفا بتعريف حقوق المصطفى)) للقاضي عياض في مرحلة الماجستير: أسندت الترجمة إلى طالبين؛ هما: قاسم عمر مدابو رحمه الله وإبراهيم أبو بكر توفا، فحازا بها مرتبة الماجستير.

* وكانت الخطّة الّتي تَمّت ترجمةُ الكتب الستّة المذكورة على منوالها هي على النّحو التّالي:

- يُعطَى كلّ طالبٍ مائة حديث من الكتاب تقريباً.

- يقوم بترجمتها بوضع النّص العربِيّ في الجانب الأيمن من الصّفحة، والتّرجمة في الجانب الأيسر. وهذا في عمل الطّلاب الأوائل، ثُمّ أصبحوا بعد ذلك يَضَعُون النَّصَّ فوق الصّفحة، والتَّرجمة أسفلها.

* والمنهج المتبع في الغالب على النّحو التّالي:

- ترجمة الأحاديث المختارة إلى لغة الهوسا.

- نَقلُ ما في كتاب (المعجم المفهرس لألفاظ الحديث النبوي) تحتَ كلّ حديث.
১৯৮৮ সাল।

এরপর 'সহীহ মুসলিম'-এর অনুবাদের কাজ শুরু হয়, যার সূচনা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে এবং প্রায় ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তা চলে। এভাবে পর্যায়ক্রমে 'সুনানে আরবাআ' (চারটি সুনান গ্রন্থ) অনুবাদের কাজ সম্পন্ন হয়: প্রথমে 'সুনানে তিরমিযী', এরপর 'সুনানে আবু দাউদ', এরপর 'সুনানে নাসাঈ' এবং সবশেষে 'সুনানে ইবনে মাজাহ'। প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে 'সুনানে দারেমী' এবং 'মুসনাদে ইমাম আহমদ' অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রথম সমন্বয়ক ছিলেন ড. আব্দুল আলী আব্দুল হামিদ, এরপর ড. আহমদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম এবং তার পরে শেখ আবু বকর জিবরীল।

এছাড়াও এই বিভাগ থেকে মাস্টার্স পর্যায়ে কাজী ইয়াজ-এর 'আশ-শিফা বি তারিফি হুকুকিল মুস্তাফা' গ্রন্থটি অনুবাদ করা হয়েছে। এই অনুবাদের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল দুজন ছাত্রের ওপর, তারা হলেন: কাসেম উমর মাদাবো (আল্লাহ তাকে রহম করুন) এবং ইব্রাহিম আবু বকর তোফা; এর মাধ্যমেই তারা মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

* উল্লিখিত ছয়টি গ্রন্থ যে পরিকল্পনার আলোকে অনুবাদ করা হয়েছে, তা নিম্নরূপ:

- প্রত্যেক ছাত্রকে কিতাব থেকে প্রায় ১০০টি করে হাদিস দেওয়া হতো।

- তারা পৃষ্ঠার ডান পাশে আরবি পাঠ্য এবং বাম পাশে অনুবাদ রেখে এর অনুবাদ সম্পন্ন করতেন। এটি প্রাথমিক ছাত্রদের কাজের পদ্ধতি ছিল, পরবর্তীতে তারা পৃষ্ঠার উপরের অংশে আরবি পাঠ্য এবং নিচে অনুবাদ স্থাপন করতে শুরু করেন।

* অনুসরণকৃত পদ্ধতিটি সাধারণত নিম্নরূপ ছিল:

- নির্বাচিত হাদিসসমূহকে হাউসা ভাষায় অনুবাদ করা।

- প্রত্যেক হাদিসের নিচে 'আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস লি আলফাজ আল-হাদিস আন-নাবাবি' গ্রন্থ থেকে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো উদ্ধৃত করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সুন্নাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতিল হাউসা (পৃষ্ঠা: ২৭)
- لا يَلزم الطالبَ التّعليقُ على تلك الأحاديث، وإنما ذلك موكولٌ إلى مشيئته، إن شاء علّق حيث شاء أن يعلِّق، أو يترك ذلك، وهذا الغالب.

وهذا المشروع رَغم أنّه أخذَ حَيِّزاً من الزَّمن غير قصير، ورغم الجهود المبذولة فيه من قبل القَائمين عليه والطلاب الدّارسين على السّواء، إلا أنّ ما صاحبه من الخلل كَانَ كبيراً، ولم يكن العملُ بمستوى ضخامة المشروع وأهميّته، ومبدأُ الخلل كامنٌ في إسناد مثل هذا العمل إلى طلاب مرحلة اللّيسانس، وهي مرحلة أوليّة لتكوين الشّخصية العِلمِيَّة، ولم تكن بذلك النّضج الّذي يؤهلها للقيام بمثل هذا المشروع الضّخم ذي الأهميّة القصوى كهذه، ولو تَمّ ذلك لطلاب مرحلة الماجستير والدّكتوراه لكان الأمر أنسب وأليق بمكانة تلك الكتب ومنزلتها في التّشريع الإسلامي.

كما أنّ المنهج الذي وضعه المخططّون للمشروع كان منهجاً مُجْحِفاً جداًّ؛ إذ اقتصر على مجرَّد ترجمة النّصوص دون التّعليق عليها، مع أنّ هناك مواضعَ كثيرةً لا يظهر منها المراد جلياًّ من خلال مجرّد نقل ألفاظ تلك النّصوص إلى ما يقابلها في لغة الهدف (المترجَم إليها) ، وهذا أمرٌ معلوم بالضّرورة؛ إذ هي نصوصٌ في أصلها تحتاج في كثير من الأحيان إلى الشّرح والتّوضيح لبيان مقصود الشّارع منها، وما كُتُبُ شروحِ الحديث إلاّ آيةُ صدق هذا الكلام، فكيف بها وهي منقولةٌ إلى لغةٍ أخرى لا توازي لغةَ العرب في قُوَّة البيان وإحكام النَّظم وسعة المفردات؟.

وكذلك (عمليّةُ التّخريج) أو بعبارة أدقّ: (عمليّةُ العزو) التي قام بها أولئك الطلاب غير علميّة ولا دقيقة؛ إذ اعتمدت على نقل ما كتبه أصحاب (المعجم المفهرس لألفاظ الحديث النبوي) عند كلّ حديثٍ، وهذا معلومٌ خطؤُه
ছাত্রের জন্য এই হাদিসগুলোর ওপর টীকা প্রদান করা বাধ্যতামূলক নয়; বরং এটি তার ইচ্ছার ওপর অর্পিত। সে চাইলে যেখানে ইচ্ছা টীকা দিতে পারে, অথবা তা বর্জন করতে পারে; আর এটিই সচরাচর ঘটে থাকে।

এই প্রকল্পটি যদিও দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছে এবং এর পরিচালক ও শিক্ষার্থী—উভয় পক্ষের যথেষ্ট প্রচেষ্টা এতে ব্যয় হয়েছে, তা সত্ত্বেও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ত্রুটির পরিমাণ ছিল বিশাল। কাজটি প্রকল্পের বিশালতা ও গুরুত্বের মান অনুযায়ী হয়নি। ত্রুটির মূল কারণ নিহিত ছিল এই ধরনের কাজের দায়িত্ব লিস্যান্স (স্নাতক) পর্যায়ের ছাত্রদের ওপর অর্পণ করার মধ্যে, যা বৈজ্ঞানিক ব্যক্তিত্ব গঠনের প্রাথমিক একটি পর্যায় মাত্র। এই পর্যায়ের ছাত্রদের মধ্যে এমন বিশাল এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সম্পন্ন করার মতো সেই পরিপক্কতা ছিল না। যদি এই কাজটি মাস্টার্স বা পিএইচডি পর্যায়ের ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত হতো, তবে তা ইসলামী শরীআতে এই গ্রন্থগুলোর মর্যাদা ও অবস্থানের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ ও উপযুক্ত হতো।

একইভাবে, প্রকল্পটির পরিকল্পনাকারীদের নির্ধারিত পদ্ধতিটিও ছিল অত্যন্ত অপূর্ণাঙ্গ; কারণ এটি টীকা প্রদান ছাড়াই শুধুমাত্র মূল পাঠের অনুবাদের ওপর সীমাবদ্ধ ছিল। অথচ এমন অনেক স্থান রয়েছে যেখানে পাঠের শব্দগুলোকে শুধুমাত্র লক্ষ্য ভাষায় (যে ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে) রূপান্তরের মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে না। এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়; কারণ এই পাঠগুলো স্বকীয়ভাবে অনেক সময় শারঈ উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মুখাপেক্ষী হয়। হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোই এই কথার সত্যতার অকাট্য প্রমাণ। তাহলে সেই পাঠগুলোর অবস্থা কেমন হবে যা অন্য এমন কোনো ভাষায় স্থানান্তরিত হচ্ছে যা বর্ণনাভঙ্গি, সুনিপুণ বিন্যাস এবং শব্দভাণ্ডারের বিশালতায় আরবি ভাষার সমকক্ষ নয়?

পাশাপাশি, (তাখরীজ প্রক্রিয়া) বা আরও সূক্ষ্মভাবে বলতে গেলে: (উৎস নির্দেশনার প্রক্রিয়া) যা সেই ছাত্ররা সম্পাদন করেছে, তা তাত্ত্বিকভাবে সঠিক বা নির্ভুল ছিল না; কারণ এটি প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে (আল-মু'জামুল মুফাহরাস লি-আলফাজিল হাদিসিন নববী) এর রচয়িতাদের লিখিত তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিল, যার ত্রুটিপূর্ণ হওয়া সবারই জানা।