(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإهتمام بالسيرة النبوية باللغة الروسية   (إلمير بن روفائيل كولييف)

القسم: فهارس الكتب والأدلة


الكتاب: الإهتمام بالسيرة النبوية باللغة الروسية

المؤلف: إلمير بن روفائيل كولييف

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 44

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রুশ ভাষায় সীরাতুন্নবী (সা.)-এর প্রতি গুরুত্বারোপ   (এলমির বিন রুফায়েল কুলিয়েভ)

বিভাগ: গ্রন্থতালিকা ও নির্দেশিকা


গ্রন্থ: রুশ ভাষায় সীরাতুন্নবী (সা.)-এর প্রতি গুরুত্বারোপ

লেখক: এলমির বিন রুফায়েল কুলিয়েভ

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহাদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة:

في أهمية دراسة السيرة النبوية لفهم حقيقة الإسلام

الحمد لله رب العالمين القائل في كتابه {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 107] والصلاة والسلام على نبينا محمد القائل: "إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق". (1)

ربما لا تجد إنسانا لا يهتم من قريب أو بعيد بشخصية الرسول صلى الله عليه وسلم. فأتباعه ومحبوه يؤمنون بأنه رسول الله وخاتم النبيين وخير البشر، فضَّله الله بخُلُقه وصفاته الحميدة، وأن سنته هي الطريق الوحيد إلى رحمة الله والنجاة من النار. أما أعداؤه ومخالفوه فيرونه سياسيا عبقريا حيث استطاع في مدة قصيرة أن يؤسس حضارة عظيمة مازالت تذهل عقول ذوي الألباب، وتحافظ على خصائصها الأصلية، وتؤثر بشكل واضح في بقية الحضارات والأديان.

إن الرسول صلى الله عليه وسلم كان مثلا حيا لمكارم الأخلاق، ومعلما حكيما، ومربيا حليما، وكان أسوة حسنة لكل رشيد وتقي، وكان لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى؛ وعليه فإن طاعته هي طاعة لله تعالى كما قال سبحانه وتعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ} [النساء: 80] .

بلَّغ الرسول صلى الله عليه وسلم رسالة ربه وبينها وترك أمته على المحجة البيضاء، ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك، وعلَّم أصحابه كيفية تطبيق الأحكام

--------------------------------------------

(1) البخاري في الأدب المفرد / برقم 273، أحمد في المسند (2/381) والحاكم في المستدرك (2/613) وصححه على شرط مسلم ووافقه الذهبي وانظر الصحيحة (1/112) برقم (45) وصححه والسنن الكبرى للبيهقي (10/191) .
ভূমিকা:

ইসলামের প্রকৃত রূপ অনুধাবনের জন্য সীরাতুন্নবীর (রাসূলের জীবনী) অধ্যয়নের গুরুত্ব প্রসঙ্গে

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর কিতাবে বলেছেন: {আর আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি} [আল-আম্বিয়া: ১০৭]। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি বলেছেন: "আমি কেবল সচ্চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।" (১)

সম্ভবত এমন কোনো মানুষ পাওয়া যাবে না যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্বের প্রতি আগ্রহী নয়। তাঁর অনুসারী ও প্রেমাস্পদগণ বিশ্বাস করেন যে তিনি আল্লাহর রাসূল, শেষ নবী এবং মানবজাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান; আল্লাহ তাঁকে তাঁর চরিত্র ও প্রশংসনীয় গুণাবলির মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাঁর সুন্নাহই হলো আল্লাহর রহমত লাভ ও জাহান্নাম থেকে নাজাত পাওয়ার একমাত্র পথ। অন্যদিকে তাঁর শত্রু ও বিরোধীরা তাঁকে একজন প্রতিভাবান রাজনীতিক হিসেবে দেখে, যেহেতু তিনি অল্প সময়ের মধ্যে এমন এক মহান সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন যা এখনও জ্ঞানীদের বুদ্ধিকে বিমুগ্ধ করে, তার মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ অক্ষুণ্ণ রাখে এবং অন্যান্য সভ্যতা ও ধর্মের ওপর সুস্পষ্ট প্রভাব বিস্তার করে।

নিশ্চয়ই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন সচ্চরিত্রের এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত, একজন প্রজ্ঞাবান শিক্ষক এবং একজন ধৈর্যশীল পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন প্রত্যেক সুপথগামী ও মুত্তাকীর জন্য উত্তম আদর্শ। তিনি নিজের প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলতেন না, তা ছিল কেবল প্রত্যাদেশ (অহি) যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হতো। অতএব, তাঁর আনুগত্য করাই হলো আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করা, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০]।

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর উম্মতকে এক উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাত দিনের মতো পরিষ্কার; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। তিনি তাঁর সাহাবীদের শিখিয়েছেন কীভাবে বিধানসমূহ প্রয়োগ করতে হয়।

--------------------------------------------

(১) বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ২৭৩; আহমাদ, আল-মুসনাদ (২/৩৮১); হাকেম, আল-মুস্তাদরাক (২/৬১৩) এবং তিনি একে মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন; দেখুন: আস-সাহীহাহ (১/১১২), হাদীস নং ৪৫, এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন; বায়হাকী, আস-সুনানুল কুবরা (১০/১৯১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
القرآنية، ووضح لهم أسرارها ودقائقها، كما علمهم المنهج الحكيم في طرائق التصرف في أعوص القضايا. قال تعالى: {كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولاً مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ} [البقرة: 151] .

واهتم علماء المسلمين بدراسة السيرة النبوية والسنة لأنها وحي من عند الله ومصدر ثان للتشريع الإسلامي، كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه لا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه ألا لايحل لكم لحم الحمار الأهلي ولا كل ذي ناب من السبع ولا لقطة معاهد إلا أن يستغني عنها صاحبها، ومن نزل بقوم فعليهم أن يقروه، فإن لم يقروه فله أن يعقبهم بمثل قراه". رواه أحمد وأبو داود. (1)

وقد ألَّف المتقدمون والمتأخرون من العلماء كتبا كثيرة في السيرة النبوية، معتمدين على الأحاديث والآثار الصحيحة حتى يتسنى للمسلمين الفهم الصحيح لكتاب الله الذي على أساسه يمكنهم حل المشاكل التي تواجههم في كل زمان ومكان.

ومن المناسب في هذا الصدد أن أشير إلى بعض الفوائد من دراسة السيرة النبوية من خلال أقوال الرسول صلى الله عليه وسلم وأفعاله:

أولاً: إن المتأمل في السيرة النبوية يدرك أولا حقيقة الدين الإسلامي المتمثل في عبادة الله وحده لا شريك له والتمسك بسنة رسوله صلى الله عليه وسلم تحقيقا

--------------------------------------------

(1) مسند أحمد (4/130) ، سنن أبي داود (4604) ، وصححه الألباني في صحيح الجامع الصغير (2643) .
কুরআনিক (বিষয়সমূহ) এবং তাদের কাছে এর রহস্য ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ স্পষ্ট করেছেন, যেমন তিনি তাদের সবচেয়ে জটিল বিষয়সমূহ পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাজ্ঞ পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "যেভাবে আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যে তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে, তোমাদের পবিত্র করে এবং তোমাদের কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেয় এবং তোমাদের তা শিক্ষা দেয় যা তোমরা জানতে না।" [আল-বাকারা: ১৫১]।

মুসলিম উলামাগণ সীরাতে নববী ও সুন্নাহর অধ্যয়নে গুরুত্ব দিয়েছেন, কারণ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী এবং ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস। যেমন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন কোনো তৃপ্ত ব্যক্তি তার সোফায় হেলান দিয়ে বলবে, 'তোমরা কেবল এই কুরআনকে আঁকড়ে ধরো। এতে যা হালাল পাবে তাই হালাল মনে করবে এবং যা হারাম পাবে তাকেই হারাম গণ্য করবে।' সাবধান! তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধার গোশত হালাল নয়, শিকারি দাঁত বিশিষ্ট হিংস্র পশুর গোশত হালাল নয় এবং চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের কুড়িয়ে পাওয়া হারানো বস্তুও হালাল নয়, যদি না তার মালিক তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়। আর কেউ যদি কোনো সম্প্রদায়ের নিকট মেহমান হিসেবে অবতরণ করে, তবে তাদের ওপর তার মেহমানদারী করা কর্তব্য। যদি তারা মেহমানদারী না করে, তবে তার অধিকার আছে সেই পরিমাণ আতিথেয়তা আদায় করে নেওয়ার।" এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। (১)

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী উলামাগণ সীরাতে নববী বিষয়ে অনেক কিতাব রচনা করেছেন। তাঁরা এতে সহীহ হাদীস ও আছারের ওপর নির্ভর করেছেন, যাতে মুসলিমদের পক্ষে আল্লাহর কিতাবের সঠিক বুঝ অর্জন করা সম্ভব হয়, যার ভিত্তিতে তারা সকল যুগে ও স্থানে তাদের সম্মুখীন হওয়া সমস্যাবলীর সমাধান করতে পারে।

এই প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা ও কাজের মাধ্যমে সীরাতে নববী অধ্যয়নের কিছু উপকারিতার কথা উল্লেখ করা সমীচীন হবে:

প্রথমত: যে ব্যক্তি সীরাতে নববী নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে, সে প্রথমেই ইসলাম ধর্মের সেই হাকীকত বা প্রকৃত রূপ উপলব্ধি করতে পারবে, যা কেবল এক আল্লাহর ইবাদত (যার কোনো শরীক নেই) এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।

--------------------------------------------

(১) মুসনাদে আহমাদ (৪/১৩০), সুনানে আবু দাউদ (৪৬০৪), আলবানী একে সহীহুল জামি' আস-সাগীরে (২৬৪৩) সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
لمعنى الشهادتين.

ثانياً: يشعر بأهمية تزكية نفسه بالعقيدة الصحيحة والعمل الصالح وتهذيبها بتقوى الله والصلاح والزهد متأسيا بالرسول صلى الله عليه وسلم.

ثالثاً: يعي ضرورة الدعوة إلى الصراط المستقيم ويتعلم كيف يدعو إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة، ويجادل بالتي هي أحسن، ويأمر بالمعروف وينهى عن المنكر، ويميز بين ما ينفعه وما يضره، ويصبر ويثابر من أجل بلوغ الهدف، ويبدأ دائما بالأهم فالأهم، ويتحلى بالتأني ولا يتهور، ولا يقنط من رحمة الله.

رابعاً: يتيقن بصدق الرسول صلى الله عليه وسلم فيما ينقل عن ربه الذي لا يأتيه الباطل لا من بين يديه ولا من خلفه. قال الشيخ السعدي في تفسيره: " فمن عرف النبي صلى الله عليه وسلم معرفة تامة، وعرف سيرته وهديه قبل البعثة، ونشوءه على أكمل الخصال، ثم من بعد ذلك، قد ازدادت مكارمه وأخلاقه العظيمة الباهرة للناظرين، فمن عرفها، وسبر أحواله، عرف أنها لا تكون إلا أخلاق الأنبياء الكاملين، لأنه تعالى جعل الأوصاف أكبر دليل على معرفة أصحابها وصدقهم وكذبهم " (1) اهـ

خامساً: تجعله يحب الرسول صلى الله عليه وسلم لصفاته الحميدة وأخلاقه العظيمة وأفعاله الحكيمة؛ فإن حبه من أعظم القربات إلى الله. عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا يؤمن أحدكم حتى أكون

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن للسعدي (ص 46) .
শাহাদাতদ্বয়ের অর্থের জন্য।

দ্বিতীয়ত: সে সহীহ আকিদা এবং নেক আমলের মাধ্যমে নিজ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার গুরুত্ব অনুভব করে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করে আল্লাহর তাকওয়া, নেক আমল ও দুনিয়াবিমুখতার মাধ্যমে চরিত্রকে সংশোধন করে।

তৃতীয়ত: সে সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে দাওয়াত দেওয়ার আবশ্যকতা উপলব্ধি করে এবং শেখে কীভাবে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে হয়, এবং সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক করতে হয়, এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করতে হয়; এছাড়াও যা তাকে উপকার করে আর যা অপকার করে তার মাঝে পার্থক্য করতে শেখে, এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য ধৈর্য ও অবিচলতা প্রদর্শন করে, সর্বদা অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে কাজ শুরু করে, ধীরস্থিরতা অবলম্বন করে এবং তাড়াহুড়ো বা হঠকারিতা করে না, এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।

চতুর্থত: সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার সত্যতার ব্যাপারে সুনিশ্চিত হয়, যার কাছে সম্মুখ বা পশ্চাৎ—কোনো দিক থেকেই বাতিল আসতে পারে না। শায়খ আস-সাদী তাঁর তাফসীরে বলেন: "যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পূর্ণাঙ্গভাবে চিনেছে, এবং নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে তাঁর জীবনী ও আদর্শ এবং সর্বোত্তম গুণাবলীর ওপর তাঁর বেড়ে ওঠার বিষয় সম্পর্কে জেনেছে, আর তার পরবর্তীতে দর্শকের দৃষ্টিকে বিমোহিত করার মতো তাঁর মহান চরিত্র ও মহানুভবতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে; সুতরাং যে ব্যক্তি তা জানবে এবং তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে, সে নিশ্চিতভাবে জানবে যে, এগুলো কেবল পূর্ণাঙ্গ নবীদেরই চরিত্র হতে পারে। কারণ আল্লাহ তাআলা গুণাবলীকে কোনো ব্যক্তির পরিচয় এবং তাদের সত্যবাদিতা ও মিথ্যাবাদিতার বড় প্রমাণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।" (১) সমাপ্ত।

পঞ্চমত: এটি তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসনীয় গুণাবলী, সুমহান চরিত্র এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ কর্মের কারণে তাঁকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করে; কেননা তাঁকে ভালোবাসা আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি

--------------------------------------------

(১) আস-সাদী প্রণীত তাইসীরুল কারীমিল রহমান (পৃষ্ঠা ৪৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
أحب إليه من ولده ووالده والناس أجمعين". رواه البخاري ومسلم. (1) وروى البخاري عن عبد الله بن هشام قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم وهو آخذ بيد عمر بن الخطاب فقال له عمر: يا رسول الله لأنت أحب إلي من كل شيء إلا من نفسي، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا والذي نفسي بيده، حتى أكون أحب إليك من نفسك. فقال له عمر: فإنه الآن والله لأنت أحب إلي من نفسي. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: الآن يا عمر". (2)

سادساً: تجعله يحب أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم الذين صدقوا الله ما عاهدوا الله عليه فما بدلوا وما غيروا، وبذلوا النفس والنفيس في سبيل تبليغ دعوة الحق إنقاذا للبشرية من الكفر والضلال، وكانوا أشداء على الكفار رحماء بينهم، فإن حبهم من دلائل صدق الإيمان. وقد جاء في حديث أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "آية الإيمان حب الأنصار وآية النفاق بغض الأنصار". (3)

سابعاً: تعينه على الثبات في الدين وتجعله يعيش مع الرعيل الأول تلك الصعوبات والمحن التي لقوها، بهذا يتعلم الصبر في الشدائد، كما ثبَّت الله قلب رسوله صلى الله عليه وسلم بقصص الأنبياء السابقين حيث قال الله تعالى: {وَكُلّاً نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ} [هود: 120] . وقال الشيخ السعدي في

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري 15، صحيح مسلم (44) .

(2) صحيح البخاري (6257) .

(3) صحيح البخاري (17) .
"...তার নিকট তার সন্তান, তার পিতা এবং সকল মানুষের চেয়েও অধিক প্রিয় হওয়া পর্যন্ত।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। (১) এবং বুখারী আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম এবং তিনি উমর ইবনে খাত্তাবের হাত ধরে ছিলেন। তখন উমর তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমার কাছে আমার নিজের প্রাণ ছাড়া অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "না, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় হই।" তখন উমর তাঁকে বললেন: আল্লাহর শপথ, এখন আপনি আমার কাছে আমার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এখনই হয়েছে, হে উমর।" (২)

ষষ্ঠত: এটি তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ভালোবাসতে শেখায়, যারা আল্লাহর সাথে করা অঙ্গীকারকে সত্যে পরিণত করেছেন, তারা কোনো পরিবর্তন বা রদবদল করেননি এবং মানবজাতিকে কুফর ও ভ্রষ্টতা থেকে উদ্ধারের লক্ষ্যে সত্যের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার পথে জীবন ও মূল্যবান সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছেন। তারা কাফেরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে দয়ালু ছিলেন; কেননা তাঁদের ভালোবাসা ঈমানের সত্যতার অন্যতম প্রমাণ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আনসারদের ভালোবাসা ঈমানের নিদর্শন এবং আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ নিফাকের নিদর্শন।" (৩)

সপ্তমত: এটি তাকে দ্বীনের ওপর অটল থাকতে সাহায্য করে এবং তাকে প্রথম প্রজন্মের সেই সব কাঠিন্য ও পরীক্ষার অভিজ্ঞতার মাঝে নিয়ে যায় যা তারা ভোগ করেছিলেন। এর মাধ্যমে সে বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে শেখে, যেমন আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী নবীদের কাহিনীর মাধ্যমে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরকে দৃঢ় করেছিলেন; আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর রাসূলদের সংবাদ থেকে আমি আপনার কাছে এমন সবকিছু বর্ণনা করছি যার মাধ্যমে আমি আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করি} [হুদ: ১২০]। শেখ সাদী বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী ১৫, সহীহ মুসলিম (৪৪)।

(২) সহীহ বুখারী (৬২৫৭)।

(৩) সহীহ বুখারী (১৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
تفسير هذه الآية: "أي قلبَك ليطمئن، ويثبت، وتصبر، كما صبر أولو العزم من الرسل؛ فإن النفوس تأنس بالاقتداء، وتنشط على الأعمال، وتزيد المنافسة لغيرها، ويتأيد الحق بذكر شواهده، وكثرة من قام به" (1) .

ثامناً: يتأسى بالرسول صلى الله عليه وسلم تحقيقا لقول الله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً} [الأحزاب، 21] .

تاسعاً: يتخلق بأخلاق الرسول صلى الله عليه وسلم التي مصدرها القرآن الكريم كما جاء في حديث زوجته أم المؤمنين الصديقة بنت الصديق عائشة رضي الله عنها أنها قالت: كان خلقه القرآن، أما تقرأ قول الله عز وجل {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4] . رواه أحمد والطبراني في الأوسط. (2)

عاشراً: تسهل عليه فهم بعض دقائق الشريعة في العبادات والمعاملات كما تُعَدُّ عاملاً مساعداً لفهم القرآن الكريم بمعرفة أسباب النزول والظروف الواقعية التي كانت تحيط بالنبي صلى الله عليه وسلم.

وخلاصة القول أن دراسة السيرة النبوية لها أهمية كبيرة في فهم الإسلام للمسلمين ولغيرهم. وقد أثبت علماء المسلمين أن سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم نقلت إلينا بدقة وبأسانيد صحيحة، مما يلزم المسلمين أن يعتمدوا عليها في أمورهم الدينية والدنيوية.

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن للسعدي (ص 348)

(2) مسند أحمد (6/91) ، والمعجم الأوسط (1/30) .
এই আয়াতের তাফসির: "অর্থাৎ আপনার অন্তর যেন প্রশান্ত হয়, অবিচল থাকে এবং আপনি ধৈর্য ধারণ করেন, যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ রাসুলগণ; কেননা নফস (মানুষের সত্তা) অনুসরণের মাধ্যমে প্রশান্তি পায়, নেক আমলের প্রতি উদ্দীপ্ত হয়, অন্যের সাথে নেক কাজে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং সত্য তার প্রমাণসমূহ ও সত্য প্রতিষ্ঠাকারীদের আধিক্যের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়।" (১) ।

অষ্টমত: আল্লাহ তাআলার এই বাণীর বাস্তবায়নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করা: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে} [আল-আহযাব, ২১] ।

নবমত: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উন্নত চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া, যার উৎস হলো কুরআনুল কারিম; যেমনটি তাঁর সহধর্মিণী উম্মুল মুমিনিন সিদ্দিকা বিনতে সিদ্দিক আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন, তোমরা কি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার এই বাণী পাঠ করো না {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত} [আল-কালাম: ৪] । এটি আহমাদ এবং তাবারানি আল-আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। (২)

দশমত: এর মাধ্যমে ইবাদত ও লেনদেনের ক্ষেত্রে শরিয়তের কতিপয় সূক্ষ্ম বিষয় উপলব্ধি করা সহজ হয়। পাশাপাশি এটি শানে নুযুল (কুরআন নাজিলের প্রেক্ষাপট) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পারিপার্শ্বিক বাস্তব পরিস্থিতি জানার মাধ্যমে কুরআনুল কারিম বোঝার ক্ষেত্রে একটি সহায়ক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

সারকথা এই যে, মুসলিম ও অমুসলিম সবার জন্যই ইসলামকে বোঝার ক্ষেত্রে সিরাতে নববীর অধ্যয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিম উলামাগণ প্রমাণ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিরাত আমাদের কাছে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এবং বিশুদ্ধ সনদের মাধ্যমে পৌঁছেছে, যা মুসলমানদের জন্য তাদের দ্বীনি ও দুনিয়াবি বিষয়ে এর ওপর নির্ভর করা আবশ্যক করে দেয়।

--------------------------------------------

(১) সা'দির তায়সিরুল কারিমির রাহমান (পৃ. ৩৪৮)

(২) মুসনাদে আহমাদ (৬/৯১), এবং আল-মু'জামুল আওসাত (১/৩০)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وعلى غرار علماء المسلمين فالسيرة النبوية يدرسها المستشرقون كذلك، حيث إنهم يقومون بالتحليل الدقيق لأخبار أصحاب السير من عدة وجوه، ولكن إقبالهم يختلف اختلافا تاما عن إقبال المسلمين. إن بحوثهم المتحاملة عادة متوجهة لإنشاء فكر وتصور مشوه عن الإسلام ورسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لذلك كان – ولا يزال - علماء المسلمين ينتقدون ويردُّون على هذا التوجه في الثقافة الغربية المسمى بالاستشراق.

في قاموس اللغة الإنجليزية الصادر من جامعة أوكسفورد أن اصطلاح الاستشراق ظهر في عام 1870م لأول مرة. (1) ولكن الدراسات عن الإسلام وجدت قبل هذا التاريخ. حيث بذل المستشرقون جهودا عظيمة في فهم سر نجاح رسول الله صلى الله عليه وسلم وخصائص الدين الإسلامي، وأسباب تأثيره البالغ في عقول الناس. في هذا المجال ينقسم المستشرقون إلى قسمين: منهم الغلاة الذين لا يستعملون طرقا علمية في كتاباتهم، فيحرفون حقيقة الدين الإسلامي وشخصية الرسول صلى الله عليه وسلم ومنهم مَنْ ظاهرُه الاعتدال، فيركزون على الشبه والتأويلات البعيدة في شرح الأحكام الشرعية والأخبار التاريخية بما يؤيد مذاهبهم، وأكثرهم مثل جوليان بولديك (Julian Baldick) ، تجدهم يعرضون شخصية الرسول صلى الله عليه وسلم كأنها مبهمة. (2) وفي كلا القسمين أهل الكتاب، والملحدون الذين لا يؤمنون بوجود الخالق، وعلى هذا الأساس يختلفون في وجهات نظرهم في مسائل متباينة، ولكن جُلَّهم تجمعهم عدة نظريات متحاملة تمنعهم من الفهم الصحيح للدين الإسلامي:

--------------------------------------------

(1) كتاب محمد وسيرته المختصرة لمرتين فورورد (ص 147) .

(2) المصدر نفسه.
মুসলিম আলেমদের মতো প্রাচ্যবিদরাও সীরাত নিয়ে গবেষণা করেন, যেখানে তারা সীরাত রচয়িতাদের বর্ণিত তথ্যের বিভিন্ন দিক থেকে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করেন; তবে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাধারণত তাদের পক্ষপাতদুষ্ট গবেষণাগুলো ইসলাম এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে একটি বিকৃত ধারণা ও চিন্তা তৈরি করার দিকে নিবদ্ধ থাকে; তাই মুসলিম আলেমরা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির 'প্রাচ্যতত্ত্ব' বা ওরিয়েন্টালিজম নামক এই ধারার সমালোচনা ও প্রতিবাদ করে আসছেন এবং এখনও করছেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত ইংরেজি অভিধান অনুযায়ী, 'ওরিয়েন্টালিজম' বা প্রাচ্যতত্ত্ব শব্দটি ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবারের মতো আত্মপ্রকাশ করে। (১) তবে ইসলাম সম্পর্কিত অধ্যয়ন এই সময়ের আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। যেখানে প্রাচ্যবিদরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাফল্যের রহস্য, ইসলাম ধর্মের বৈশিষ্ট্য এবং মানুষের মনের ওপর এর সুগভীর প্রভাবের কারণগুলো বোঝার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদরা দুই ভাগে বিভক্ত: তাদের মধ্যে একদল হলো চরমপন্থী, যারা তাদের লেখায় কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে না; ফলে তারা ইসলাম ধর্মের বাস্তবতা এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্বকে বিকৃত করে। আর তাদের অন্য দলটি হলো বাহ্যিকভাবে মধ্যপন্থী; তারা শরীয়তের বিধান এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলির ব্যাখ্যায় সংশয় ও দূরবর্তী ব্যাখ্যার ওপর গুরুত্বারোপ করে যাতে তা তাদের নিজস্ব মতবাদকে সমর্থন করে। তাদের অধিকাংশেরই অবস্থা জুলিয়ান বালডিক (Julian Baldick)-এর মতো, আপনি দেখবেন যে তারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্বকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন তা অস্পষ্ট। (২) উভয় দলেই আহলে কিতাব এবং নাস্তিকরা রয়েছে যারা স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। এই ভিত্তির ওপর ভিত্তি করে তারা বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে; তবে তাদের অধিকাংশেরই এমন কিছু পক্ষপাতদুষ্ট তত্ত্ব রয়েছে যা তাদের ইসলাম ধর্মকে সঠিকভাবে বুঝতে বাধা দেয়:

--------------------------------------------

(১) মার্টিন ফরওয়ার্ড রচিত ‘মুহাম্মদ এবং তাঁর সংক্ষিপ্ত সীরাত’ গ্রন্থ (পৃ. ১৪৭)।

(২) একই উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
- منها أنهم يرون الحضارة الغربية مثلا أعلى للمنطق والعدل والتطور والإنسانية، ويرون الإسلام مثلا للجهل والأمية والظلم والتخلف؛ مما يجعل الإنسان يبتعد عن عقائد المسلمين ومنهج حياتهم.

- ومنها أنهم يحسبون الأفكار المجردة لعلماء الغرب عن الإسلام أكثر عدالة من شهادات المسلمين أنفسهم عن دينهم ومجتمعهم في مختلف مراحل تطوره.

- ومنها أنهم يزعمون أن المسلم لا يمكنه أن يُقَوِّم دينه بغير انحياز على عكس ما يقوم به باحث مستقل.

- ومنها أنهم يشعرون بخطر عظيم من الدين الإسلامي والمسلمين؛ لذا يرون أن من واجبهم تعليم المسلمين منهج حياة حضاري، وتخليصهم من القيود الدينية، والتأثير المباشر في مجريات الأمور في العالم الإسلامي.

وكل هذه النظريات طَبَّقها المستشرقون الروس والسوفيات في مؤلفاتهم، وقد أسسوا مدرسة للاستشراق لا يستهان بها. واليوم تملك هذه المدرسة تقاليد عريقة، وتقوم بدور مهم في تكوين أفكار قراء اللغة الروسية عن الإسلام. وسوف نقوم، بعون الله تعالى، في هذا البحث بإلقاء الضوء على بعض هذه المؤلفات.
- এর মধ্যে একটি হলো এই যে, তারা পশ্চিমা সভ্যতাকে যুক্তি, ন্যায়বিচার, প্রগতি ও মানবতার সর্বোচ্চ আদর্শ হিসেবে দেখে, অন্যদিকে ইসলামকে মনে করে অজ্ঞতা, নিরক্ষরতা, অবিচার ও পশ্চাৎপদতার উদাহরণ; যা মানুষকে মুসলিমদের আকিদা ও তাদের জীবনপদ্ধতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

- আরেকটি হলো এই যে, তারা ইসলাম সম্পর্কে পশ্চিমা পণ্ডিতদের বিমূর্ত ধারণাসমূহকে মুসলিমদের নিজেদের ধর্ম ও সমাজের বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে প্রদত্ত সাক্ষ্যের চেয়ে অধিকতর ন্যায়নিষ্ঠ বলে মনে করে।

- এর মধ্যে আরও রয়েছে তাদের এই দাবি যে, একজন মুসলিমের পক্ষে পক্ষপাতহীনভাবে তার নিজ ধর্মকে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়, যা একজন নিরপেক্ষ গবেষক করতে পারেন।

- অন্যতম কারণ হলো তারা ইসলাম ধর্ম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে এক মহাবিপদ অনুভব করে; তাই তারা মনে করে যে মুসলিমদের একটি সভ্য জীবনধারা শিক্ষা দেওয়া, ধর্মীয় শৃঙ্খল থেকে তাদের মুক্ত করা এবং মুসলিম বিশ্বের ঘটনপ্রবাহে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করা তাদের দায়িত্ব।

এই সকল তত্ত্বই রুশ ও সোভিয়েত প্রাচ্যবিদগণ তাদের রচনাবলিতে প্রয়োগ করেছেন এবং তারা প্রাচ্যতত্ত্বের এমন এক ধারা প্রতিষ্ঠা করেছেন যা অবহেলার যোগ্য নয়। আজ এই ধারার রয়েছে এক সুদীর্ঘ ঐতিহ্য এবং এটি রুশ ভাষাভাষী পাঠকদের মনে ইসলাম সম্পর্কে ধারণা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমরা আল্লাহ তাআলার সাহায্যে এই গবেষণায় এই জাতীয় কিছু রচনার ওপর আলোকপাত করব।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الاهتمام بالسيرة النبوية باللغة الروسية

إعداد الدكتور: إلمير بن رفائيل كولييف

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مؤلفات المستشرقين الروس في السيرة النبوية:

ليست مدرسة الاستشراق الروسية غنية بالمؤلفات المخصصة للسيرة النبوية وهذا يعود لأسباب تاريخية، ففي عهد روسيا القيصرية اهتم المستشرقون بدراسة القرآن الكريم وتأسيس منهج موجه لنقد الكتاب المقدس عند المسلمين. وقد عرقلت الرقابة القيصرية عقوداً طويلة من الزمن نشر الكتب والترجمات الإسلامية التي تخالف سياسة الامبراطورية الروسية ومن جملتها الكتب التي تتحدث عن شخصية النبي صلى الله عليه وسلم وكان ذلك قبيل زوالها. وهذا إنما يدل على تحيز هذه المدرسة منذ تأسيسها.

يعد كتاب "محمد، حياته وتعليمه الديني" من أول الكتب الروسية في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وكاتبه هو المفكر النصراني سولوفيوف (1853-1900م) ، الذي حكم عليه رجال الدين النصارى في زمانه بالردة بسبب انتقاده قواعد الدين النصراني، ومحاولة الإصلاح بين الفرق النصرانية، بحسب اعترافه الشخصي، وكان المصدر الأساسي لكتابه هو ترجمات معاني القرآن الكريم باللغة الروسية واللغات الأوروبية الأخرى، آخذا بنصيحة المستشرق المشهور روزين، اعتمد سولوفيوف على ترجمات كل من:

(Rodwell، El-Kor'an، nd edition، London) روديول.

وروكيرت (Ruckert Der Kor'an، Herausgegben von August Muller Muller) .
রুশ ভাষায় সীরাতুন নবীর প্রতি গুরুত্বারোপ

প্রস্তুতকারক ডক্টর: ইলমির বিন রাফায়েল কুলিয়েভ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

‌‌সীরাতুন নবীর বিষয়ে রুশ প্রাচ্যবিদদের রচনাসমূহ:

রুশ প্রাচ্যতত্ত্বের ধারা সীরাতুন নবীর জন্য নিবেদিত রচনাবলীতে খুব একটা সমৃদ্ধ নয় এবং এর পেছনে ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। জারের শাসনামলে রুশ প্রাচ্যবিদরা পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন এবং মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের সমালোচনার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন। রুশ সাম্রাজ্যের সেন্সরশিপ কয়েক দশক ধরে এমন সব ইসলামী বই ও অনুবাদ প্রকাশে বাধা প্রদান করেছিল যা সাম্রাজ্যবাদী নীতির পরিপন্থী ছিল, যার মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিত্ব নিয়ে রচিত বইগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এই অবস্থা সাম্রাজ্যের পতনের পূর্ব পর্যন্ত বজায় ছিল। এটি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এই ধারার পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার প্রমাণ দেয়।

"মুহাম্মদ, তাঁর জীবন এবং তাঁর ধর্মীয় শিক্ষা" বইটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বিষয়ে রচিত প্রথম দিকের রুশ বইগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর লেখক হলেন খ্রিষ্টান চিন্তাবিদ সোলোভিভ (১৮৫৩-১৯০০ খ্রি.), যাকে তৎকালীন খ্রিষ্টান ধর্মগুরুরা খ্রিষ্টধর্মের মূলনীতির সমালোচনা এবং তাঁর নিজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী খ্রিষ্টান দলগুলোর মধ্যে সংস্কারের প্রচেষ্টার কারণে ধর্মত্যাগী হিসেবে গণ্য করেছিলেন। তাঁর বইয়ের মূল উৎস ছিল রুশ এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষায় পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদসমূহ। বিখ্যাত প্রাচ্যবিদ রোজেনের পরামর্শ অনুযায়ী সোলোভিভ নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের অনুবাদের ওপর নির্ভর করেছিলেন:

(রডওয়েল, আল-কুরআন, এনডি সংস্করণ, লন্ডন) রডওয়েল।

এবং রুকার্ট (রুকার্ট, আল-কুরআন, অগাস্ট মুলার কর্তৃক সম্পাদিত)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وبما أن المؤلف لا يعرف اللغة العربية لم يكن قادراً على الاطلاع على مصادر المؤرخين المسلمين، لذا اكتفى بدراسة كتب المستشرقين الأوروبيين مثل: نيكولا كوزانوس (Nikolaus Cusanus، De cribratione alchoran) ، وكوسه دي برسيفال (Caussin de Perceval، Histoire des Arabes) ، وسبرينجر (Sprenger، Das Leben und die Lehre des Mohammed] ، وويلهوزن (Wellhausen، Skizzen und Vorarbeiten) ، وأوجوست مولير (August Muller، Der Islam im Morgen und Abendland) ، وهوبرت جريمي (Hubert Grimme، Mohammed) ، وروبيرتسن سميث (Robertson Smith، The Religion of Semites) .

ويتضمن كتابه هذا بحثا كاملا في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وفيه عرض لأهم العقائد الإسلامية، فإنه يعد رأي نصراني معتدل نسبيا عن الإسلام ونبي الله صلى الله عليه وسلم، وقد حاول سولوفيوف ألَاّ ينحاز عند تقويمه لأحداث التاريخ الإسلامي وقضاياه العقدية، ولكن ارتباطه بالدين النصراني ترك آثارا واضحة في كتابه. ومع ذلك يختلف هذا البحث عمّا كتبه المستشرقون الروس بعده في كون مؤلفه يثق بروايات المسلمين عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، ولا شك أنه لم يكن لديه أدنى تصور عن صحة الأسانيد وضعفها؛ ولذا كان يعتمد على جميع الروايات التي وقف عليها.

ويختلف موقف سولوفيوف عن مواقف كثير من المستشرقين الغربيين في أواخر القرن التاسع عشر الذين ازدروا الحضارة الإسلامية والعرب عامة. حيث إنه يردُّ بقوة على افتراء بعض المستشرقين أن اليهود هم الذين أشاعوا أن للعرب علاقة بقصة إسماعيل المذكورة في كتابهم المقدس، وأن هذا في
যেহেতু লেখক আরবি ভাষা জানতেন না, তাই তিনি মুসলিম ঐতিহাসিকদের উৎসসমূহ পর্যালোচনা করতে সক্ষম ছিলেন না। ফলে তিনি ইউরোপীয় প্রাচ্যবিদদের বইসমূহ অধ্যয়নের ওপরই সন্তুষ্ট ছিলেন, যেমন: নিকোলাস কুসানুস (Nikolaus Cusanus, De cribratione alchoran), কৌসিন ডি পারসেভাল (Caussin de Perceval, Histoire des Arabes), স্প্রেঙ্গার (Sprenger, Das Leben und die Lehre des Mohammed), ওয়েলহাউসেন (Wellhausen, Skizzen und Vorarbeiten), আগস্ট মুলার (August Muller, Der Islam im Morgen und Abendland), হুবার্ট গ্রিমে (Hubert Grimme, Mohammed) এবং রবার্টসন স্মিথ (Robertson Smith, The Religion of Semites)।

তাঁর এই বইটিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা এবং ইসলামের প্রধান আকীদাসমূহের উপস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি ইসলাম এবং আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে একজন মধ্যপন্থী খ্রিস্টানের অভিমত হিসেবে গণ্য হয়। সলোভিওভ ইসলামি ইতিহাসের ঘটনাবলি এবং এর আকিদাগত বিষয়সমূহ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পক্ষপাতহীন থাকার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু খ্রিস্টধর্মের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁর বইয়ে সুস্পষ্ট ছাপ রেখে গেছে। তা সত্ত্বেও, এই গবেষণাটি তাঁর পরবর্তী রাশিয়ান প্রাচ্যবিদদের রচনার চেয়ে ভিন্ন, কারণ এর লেখক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন সম্পর্কে মুসলিমদের বর্ণনার ওপর আস্থা রেখেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্ণনাসূত্রের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে তাঁর বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না; তাই তিনি তাঁর সামনে আসা সকল বর্ণনার ওপরই নির্ভর করেছেন।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের বহু পশ্চিমা প্রাচ্যবিদের অবস্থানের তুলনায় সলোভিওভের অবস্থান ছিল ভিন্ন, যারা ইসলামি সভ্যতা এবং সাধারণভাবে আরবদের অবজ্ঞা করতেন। তিনি কিছু প্রাচ্যবিদের এই অপবাদের বিরুদ্ধে জোরালো জবাব দেন যে, ইহুদিরাই মূলত এই কথা প্রচার করেছিল যে তাদের পবিত্র গ্রন্থে বর্ণিত ইসমাইল আলাইহিস সালাম-এর কাহিনীর সাথে আরবদের যোগসূত্র রয়েছে, এবং এটি...
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الأصل غير صحيح، وأن مكة في الأصل قرية اليهود. وهذه الفرضية الأخيرة معروفة في الاستشراق بنظرية دوزي.

كما انتقد المؤلف بعض المؤرخين مثل أوجوست مولير الذي شكك في صحة نسب رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنكر أن يكون قصي وهو من أجداد النبي صلى الله عليه وسلم شخصية تاريخية حيث يقول: إن هؤلاء الباحثين يثبتون معنا أن عبد المطلب شخصية تاريخية، ومن المعلوم أن بين عبد المطلب وقصي الذي يعدونه شخصية خرافية جيلين فقط، وليس ثمة قاعدة تبين الدرجة التي يتحول فيها الجد الحقيقي إلى جد خرافي، ومما يمكن اعتباره قاعدة عامة أن جد الأب التابع لشخصية تاريخية لا يُعَدُّ شخصية خرافية محضة. اهـ

ويشير المؤلف إلى كثير من محاسن الإسلام ويدافع عن الأسس الأخلاقية في القرآن الكريم ويرد على مؤرخي زمانه المعتدين. ولكنه يؤكد أن بين الإسلام التقليدي عند الشعوب المسلمة في روسيا وبين الإسلام في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم فرقاً كبيراً حيث قال: "ومما لا يستغنى عن ذكره، أن التعاليم الدينية عند محمد المحفوظة في القرآن والمذكورة في هذا الكتاب، تختلف عن الإسلام المتأخر المعروف عندنا بدين محمد كما تختلف مواعظ وشرائع بوذا عن عقائد البوذية الشمالية أو اللاموية". اهـ

ولكن موقف سولوفيوف من شخصية الرسول صلى الله عليه وسلم غير ثابت ومتناقض، حيث اعترف أن محمدا صلى الله عليه وسلم نبي من بني إسماعيل المذكور في الكتاب المقدس هذا من جهة؛ وينتقد بعض أفعاله وأوامره ويزعم أنه لم يستطع حلَّ بعض الإشكالات الدينية وأن تعاليم الإسلام غير كاملة وأنها عصارة فكر محمد صلى الله عليه وسلم من جهة أخرى.
মূল বিষয়টি সঠিক নয় এবং মক্কা মূলত ইহুদিদের গ্রাম ছিল। এই শেষোক্ত ধারণাটি প্রাচ্যবিদ্যায় ডজি-র তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত।

একইভাবে লেখক অগাস্ট মুলারের মতো কিছু ঐতিহাসিকের সমালোচনা করেছেন, যিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশপরম্পরার বিশুদ্ধতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পূর্বপুরুষদের অন্যতম কুসাই-এর ঐতিহাসিক অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিলেন। লেখক বলেন: এই গবেষকরা আমাদের সাথে একমত যে আবদুল মুত্তালিব একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, অথচ এটি সবার জানা যে আবদুল মুত্তালিব এবং কুসাই (যাকে তারা কাল্পনিক চরিত্র মনে করেন) এর মাঝে মাত্র দুই প্রজন্মের ব্যবধান। এমন কোনো নিয়ম নেই যা নির্ধারণ করে দেয় যে কোন পর্যায়ে গিয়ে একজন প্রকৃত পূর্বপুরুষ কাল্পনিক চরিত্রে পরিণত হন। একটি সাধারণ নিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে যে, কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের প্রপিতামহকে নিছক কাল্পনিক চরিত্র হিসেবে গণ্য করা যায় না। সমাপ্ত।

লেখক ইসলামের অনেক সৌন্দর্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং পবিত্র কুরআনের নৈতিক ভিত্তিসমূহ রক্ষা করেছেন এবং তাঁর সমসাময়িক আক্রমণাত্মক ঐতিহাসিকদের জবাব দিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রাশিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রচলিত ইসলাম এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগের ইসলামের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন: "যা উল্লেখ করা অপরিহার্য তা হলো, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যে ধর্মীয় শিক্ষা কুরআনে সংরক্ষিত আছে এবং এই বইয়ে উল্লিখিত হয়েছে, তা আমাদের কাছে মুহাম্মদের ধর্ম হিসেবে পরিচিত পরবর্তী যুগের ইসলাম থেকে ভিন্ন; ঠিক যেমন বুদ্ধের উপদেশ ও বিধানসমূহ উত্তরীয় বৌদ্ধধর্ম বা লামা মতবাদ থেকে ভিন্ন।" সমাপ্ত।

তবে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সলোভিওভ-এর অবস্থান অসংলগ্ন ও স্ববিরোধী। একদিকে তিনি স্বীকার করেছেন যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্র বাইবেলে বর্ণিত বনী ইসমাইলের মধ্য থেকে আসা একজন নবী; অন্যদিকে তিনি তাঁর কিছু কাজ ও নির্দেশের সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন যে তিনি কিছু ধর্মীয় সমস্যার সমাধান করতে পারেননি, ইসলামের শিক্ষাগুলো অপূর্ণাঙ্গ এবং সেগুলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিজস্ব চিন্তাধারার নির্যাস।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
أثبت سولوفيوف صدق النبي صلى الله عليه وسلم وأنه كان متيقنا برسالته ولم يكن كذابا، ويذكر أن تلقيه للوحي يتوافق مع التجارب النفسية وله أمثلة في التاريخ. ومع ذلك يحدد من صلاحيات النبي صلى الله عليه وسلم ويقول: إنه لم يَدَّع قط أن له مقاصد عالية تتطلب معجزات وكمال أخلاق، بل أكَّد أكثر من مرة أنه لم يُكلَّف بهذا. اهـ

اهتم المؤلف بوصف الوضع الديني قبل البعثة فحاول وصف حياة مشركي العرب وعباداتهم وتقاليدهم حيث يقول: مثل هذه العبادة لا تقيم أي علاقة بين العبد والإله، ولا تلبي الاحتياجات الدينية ولا تخدم الوحدة العقدية والاجتماعية. اهـ

وإلى جانب ذلك أشار إلى بقاء حنيفية إبراهيم عليه السلام عند العرب حيث يقول: "ذكر دين التوحيد المتعلق بأسماء إبراهيم وإسماعيل لم ينقرض من بلاد العرب". اهـ

واعترف أن عرب الحجاز لم يكن لديهم صلة مع الكنيسة الأرثوذكسية ومع ذلك يؤكد أنهم كانوا يتعاملون مع الفرق النصرانية الأخرى التي هي في نظره مبتدعة؛ لأنهم حرّفوا أصل الدين النصراني الذي هو الاتحاد الكامل بين العبد والإله. وفي نظره فإن محمدا صلى الله عليه وسلم تألفت عقيدته من مزيج من حنيفية إبراهيم عليه السلام وعقائد تلك الفرق النصرانية المبتدعة؛ لذا يعد دينه غير كامل. ولكنه لم يجد دليلا يقدمه على أن الرسول صلى الله عليه وسلم تعلَّم من النصارى، ويعترف بهذا قائلا: القرب بين الإسلام والبدع النصرانية مما لا شك فيه، ولكن الصلة التاريخية بينهما لا يمكننا إثباتها مع أنها مزعومة منذ زمان، كما جاء في نظرية نيكولا كوزانوس الذي عاش في القرن الخامس عشر الميلادي
সলোভিভ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যবাদিতা এবং তিনি যে তাঁর রিসালাতের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন ও মিথ্যাবাদী ছিলেন না, তা প্রমাণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর ওহী প্রাপ্তি মনস্তাত্ত্বিক অভিজ্ঞতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ইতিহাসে এর উদাহরণ রয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এখতিয়ারকে সীমাবদ্ধ করেন এবং বলেন: তিনি কখনও দাবি করেননি যে তাঁর এমন কোনো উচ্চতর উদ্দেশ্য রয়েছে যার জন্য মুজিযা ও চরিত্রের পূর্ণতা প্রয়োজন, বরং তিনি একাধিকবার জোর দিয়ে বলেছেন যে তাঁকে এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সমাপ্ত।

লেখক নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বের ধর্মীয় পরিস্থিতির বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, তাই তিনি আরবের মুশরিকদের জীবনধারা, তাদের ইবাদত এবং ঐতিহ্যের বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন: এই ধরনের ইবাদত বান্দা ও উপাস্যের মধ্যে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করে না, ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণ করে না এবং বিশ্বাসগত ও সামাজিক ঐক্য স্থাপনে কোনো ভূমিকা রাখে না। সমাপ্ত।

এর পাশাপাশি তিনি আরবদের মাঝে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের হানিফি আদর্শের টিকে থাকার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন: "ইব্রাহিম ও ইসমাইল আলাইহিমাস সালামের নামের সাথে সংশ্লিষ্ট তাওহীদি ধর্মের আলোচনা আরব ভূখণ্ড থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।" সমাপ্ত।

তিনি স্বীকার করেছেন যে হিজাজের আরবদের সাথে অর্থোডক্স চার্চের কোনো সম্পর্ক ছিল না, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তারা অন্যান্য খ্রিস্টান দলগুলোর সাথে লেনদেন করত, যারা তাঁর মতে বিদআতী; কারণ তারা খ্রিস্টধর্মের মূল নীতিকে বিকৃত করেছে, যা ছিল বান্দা ও উপাস্যের মধ্যে পূর্ণ মিলন। তাঁর দৃষ্টিতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আকিদা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের হানিফি আদর্শ এবং ওই সকল বিদআতী খ্রিস্টান দলগুলোর আকিদার সংমিশ্রণে গঠিত; তাই তিনি তাঁর ধর্মকে অপূর্ণাঙ্গ মনে করেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খ্রিস্টানদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এমন কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি। তিনি এটি স্বীকার করে বলেন: ইসলাম এবং খ্রিস্টীয় বিদআতগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য থাকার বিষয়টি নিঃসন্দেহে সত্য, কিন্তু তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক আমরা প্রমাণ করতে পারি না, যদিও দীর্ঘকাল ধরে এমনটি দাবি করা হচ্ছে, যেমনটি পঞ্চদশ শতাব্দীতে বসবাসকারী নিকোলা কুজানুসের তত্ত্বে এসেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وزعم أن محمدا صلى الله عليه وسلم تنصر على يد الراهب سيرجي بمكة، ثم ضلله اليهود. اهـ

وفي آخر الحديث يستنتج المؤلف أن محمداً صلى الله عليه وسلم قبل البعثة بسنوات كان يتأمل وينقح ويستوعب تلك العقائد المؤثرة المأخوذة من اليهود والنصارى والحنيفية.

حاول سولوفيوف في بداية حديثه عن الوحي والدعوة أن يدرس حقيقة الإسلام والعقيدة الإسلامية، وركَّز على أن الرسول صلى الله عليه وسلم وصف الإسلام بأنه دين كل الرسل ونفى عن نفسه أن يكون مؤسس هذا الدين، وفي هذا الصدد أشار إلى مكانة نبي الله إبراهيم عليه السلام في القرآن الكريم حيث قال: إن محمداً ادعى أن الإسلام دين إبراهيم، وكان يأمل بهذا أن يجعل دعوته مقنعة وملزمة لأتباع موسى والمسيح الصادقين. وكان يريد أن يوحِّد بين أديان التوحيد ويُرْجِعها إلى أصلها. اهـ

وزعم المؤلف أن محمدا صلى الله عليه وسلم لم يُلزم أهل الكتاب بالدخول في الإسلام، لكن عليهم التمسك بكتبهم وفي هذا يقول: إذا فرضنا أن محمدا لم يبدل أفكاره فلماذا طالب اليهود والنصارى بقبول القرآن شرطاً للنجاة، وأوجب عليهم فقط تطبيق أحكام شرائعهم. اهـ

هكذا يعرض سولوفيوف موقف الإسلام من الأديان التي يحسبها أديان التوحيد.

ثم يقول: إن القرآن كتاب للعرب، ولا ينسخ التوراة والإنجيل لمن أنزل إليهم، ولكن ينسخهما للعرب. فالأحكام الدينية تبقى ثابتة للأمم التي أنزلت إليها ويحاسبون على أساسها في الدنيا والآخرة. اهـ
এবং তিনি দাবি করেন যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় পাদ্রি সিরজি-র হাতে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, অতঃপর ইহুদিরা তাকে পথভ্রষ্ট করেছিল। ইতি।

আলোচনার শেষে লেখক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, নবুয়ত প্রাপ্তির বহু বছর পূর্ব থেকেই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহুদি, খ্রিস্টান ও হানিফিদের থেকে গৃহীত সেই প্রভাবশালী আকিদা বা বিশ্বাসসমূহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতেন, সেগুলো সংশোধন করতেন এবং আত্মস্থ করতেন।

সলোভিওভ ওহি এবং দাওয়াত সম্পর্কে তার আলোচনার শুরুতে ইসলামের হাকিকত এবং ইসলামি আকিদা অধ্যয়ন করার চেষ্টা করেছেন। তিনি এই বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন যে, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইসলামকে সকল রাসুলের ধর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং নিজে এই ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কুরআনে আল্লাহর নবী ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর মর্যাদার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন: মুহাম্মদ দাবি করেছিলেন যে ইসলাম হলো ইব্রাহিমের ধর্ম, এবং এর মাধ্যমে তিনি আশা করেছিলেন যে তার দাওয়াতকে মুসা ও মসিহ (আলাইহিস সালাম)-এর সত্যনিষ্ঠ অনুসারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ও বাধ্যতামূলক করবেন। তিনি তাওহিদি ধর্মগুলোর মধ্যে ঐক্য স্থাপন করতে এবং সেগুলোকে তাদের মূল উৎসে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। ইতি।

লেখক আরও দাবি করেন যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহলে কিতাবদের ইসলামে প্রবেশ করতে বাধ্য করেননি, বরং তাদের উচিত ছিল নিজ নিজ কিতাব আঁকড়ে ধরা। এই বিষয়ে তিনি বলেন: আমরা যদি ধরে নিই যে মুহাম্মদ তার চিন্তা-ভাবনা পরিবর্তন করেননি, তবে কেন তিনি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছে নাজাতের শর্ত হিসেবে কুরআন কবুল করার দাবি জানিয়েছিলেন এবং তাদের ওপর কেবল তাদের নিজ নিজ শরীয়তের বিধানসমূহ প্রয়োগ করা আবশ্যক করেছিলেন। ইতি।

এভাবেই সলোভিওভ সেইসব ধর্মের প্রতি ইসলামের অবস্থান তুলে ধরেন, যেগুলোকে তিনি তাওহিদি ধর্ম হিসেবে গণ্য করেন।

অতঃপর তিনি বলেন: কুরআন আরবদের জন্য একটি কিতাব, এটি যাদের প্রতি তাওরাত ও ইঞ্জিল নাজিল হয়েছে তাদের জন্য সেগুলোকে রহিত করে না, বরং কেবল আরবদের জন্য সেগুলো রহিত করে। সুতরাং ধর্মীয় বিধানসমূহ সেই জাতিগুলোর জন্য অপরিবর্তিত থাকে যাদের প্রতি সেগুলো নাজিল করা হয়েছে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সেই ভিত্তিতেই বিচার করা হবে। ইতি।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد استدل بقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحاً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة: 62] ، وقوله: {وَلْيَحْكُمْ أَهْلُ الْأِنْجِيلِ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} [المائدة: 47] ، وقوله: {وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِي كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيداً عَلَيْهِمْ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيداً عَلَى هَؤُلاءِ} [النحل: 89] .

ويشرح هذا بقوله: حسب وجهة نظر محمد الرئيسة فإن المصير الأخير للإنسان لا يحدده الدين فقط، بل الأخلاق الدينية لها دور مهم، وهذا المصير لا تقرره القوة العليا جورا، ولا التمسك بدين معين، ولكن وفق الموقف الداخلي للإنسان من الخير والشر والقبول الفعلي للقوانين الإلهية. اهـ

ويستدل لهذا بقوله سبحانه وتعالى: {لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ} [الحج: 37] ،وقوله: {لَيْسُوا سَوَاءً مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أُمَّةٌ قَائِمَةٌ يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَهُمْ يَسْجُدُونَ، يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَأُولَئِكَ مِنَ الصَّالِحِينَ، وَمَا يَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ يُكْفَرُوهُ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالْمُتَّقِينَ} [آل عمران: 113-115] وغيرها من الآيات القرآنية.

كان سولوفيوف – وهو النصراني المقتنع بدينه - يقارن بين الإسلام والنصرانية، وفي هذا يركز على مسألة القضاء والقدر في القرآن الكريم،
মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয়েছে: “নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে, নাসারা ও সাবেয়িনদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, তাদের জন্য তাদের রবের নিকট পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।” [আল-বাকারা: ৬২], এবং তাঁর বাণী: “ইনজিলের অনুসারীরা যেন তাতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে ফয়সালা করে। আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা ফয়সালা করে না, তারাই ফাসেক।” [আল-মায়িদা: ৪৭], এবং তাঁর বাণী: “সেদিন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্য থেকে তাদের বিপক্ষে তাদেরই একজনকে সাক্ষী হিসেবে দাঁড় করাব এবং আপনাকে এদের ওপর সাক্ষী হিসেবে আনয়ন করব।” [আন-নাহল: ৮৯]।

তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন: মুহাম্মাদের মূল দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি কেবল ধর্ম দ্বারা নির্ধারিত হয় না, বরং ধর্মীয় নৈতিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই পরিণতি কোনো উচ্চতর শক্তি কর্তৃক অন্যায়ভাবে নির্ধারিত হয় না, কিংবা কেবল নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের অনুসরণের ওপরও নয়; বরং তা নির্ধারিত হয় ভালো-মন্দের প্রতি মানুষের অভ্যন্তরীণ অবস্থান এবং ঐশী আইনের বাস্তব স্বীকৃতির ওপর ভিত্তি করে। (সমাপ্ত)

এবং এর স্বপক্ষে তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: “আল্লাহর কাছে এগুলোর গোশত এবং রক্ত পৌঁছায় না, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” [আল-হজ্জ: ৩৭], এবং তাঁর বাণী: “তারা সবাই সমান নয়। আহলে কিতাবদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তারা রাতের বেলা আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং সিজদাহ করে। তারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করে এবং ভালো কাজে ত্বরান্বিত করে। তারা নেককারদের অন্তর্ভুক্ত। তারা যে কোনো ভালো কাজ করবে তা অস্বীকার করা হবে না। আর আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।” [আলে ইমরান: ১১৩-১১৫] এবং কুরআনের আরও অন্যান্য আয়াত।

সলোভিওভ — যিনি ছিলেন তাঁর নিজ ধর্মের প্রতি আস্থাশীল একজন খ্রিস্টান — ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে তুলনা করছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি পবিত্র কুরআনে বর্ণিত কাজা ও কদরের বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
اعتقادا منه بالعدل الإلهي فهو لا يرى أن الشر والكفر من الله، ويعد هذا من ميزات النصرانية على الإسلام. ويرى أن هذه العقائد غير لائقة بالله ويقول: "إن عناد المشركين ألجأ محمدا إلى أن جعل أعداءه وأمثالهم من الأمم السابقة التي لم تؤمن برسلها، أنهم لم يكفروا بجهلهم، ولكن كفرهم كان بسوء قضاء من الله، لأنهم أقوام كتب عليهم الهلاك". اهـ

ثم يدافع الكاتب عن محمد صلى الله عليه وسلم ويقول: هذا الاعتقاد ذكر أكثر من مرة في القرآن وكان له مكان سامٍ في علم الشريعة المتأخر كما هومعروف. ولكن المؤرخين أخطؤوا، مثل أوجوست مولير، الذين نسبوا إلى محمد هذا الاعتقاد الكفري السخيف. لأنه لم يقصد أن الله كتب على بعض الناس أن يكونوا محسنين وناجين من العذاب وآخرين أن يكونوا مسيئين معذبين. وإنما نجد هذه الأفكار في بعض عبارات القرآن بسبب عدم استطاعة محمد التعبير الدقيق والمفصل عن العقائد المجردة. اهـ

وهكذا توصَّل الكاتب دفاعا عن محمد صلى الله عليه وسلم أن القرآن الكريم من تأليف الرسول صلى الله عليه وسلم وأنه لم يتمكن من التعبير عن أفكاره. ويعلل ذلك بأنه صلى الله عليه وسلم لم يكن فيلسوفا ولذا لا يطالب بفهم هذه المسائل العويصة.

وفي معرض مقارنة المؤلف بين الإسلام والنصرانية، أشار إلى أن الإسلام لا يفرق بين الإيمان والعمل فيقول: لا نجد في القرآن جواز الإيمان من غير عمل يصاحبه، ولم يفرق محمد بين الإيمان والعمل، ولكن يؤكد أن للإيمان درجات وللعمل درجات كذلك. اهـ

ويقارن بين الرهبانية عند النصارى والزهد في الإسلام فيقول: الزهد في الإسلام ليس من باب القضاء على الشهوة ولكن من باب الاعتدال لحفظ تزكية النفس والحرية. اهـ
আল্লাহর আদল বা ন্যায়বিচারের প্রতি তাঁর বিশ্বাসের কারণে তিনি মনে করেন না যে মন্দ ও কুফর আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে এবং তিনি একে ইসলামের ওপর খ্রিষ্টধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব বলে গণ্য করেন। তিনি মনে করেন যে, এই আকিদাগুলো আল্লাহর শানে শোভনীয় নয় এবং তিনি বলেন: "মুশরিকদের হঠকারিতা মুহাম্মদকে বাধ্য করেছিল যে তিনি তাঁর শত্রু ও তাদের মতো পূর্ববর্তী জাতিগুলো যারা তাদের রাসূলদের প্রতি ঈমান আনেনি, তাদের সম্পর্কে এই ধারণা পোষণ করেন যে তারা অজ্ঞতার কারণে কুফরি করেনি, বরং তাদের কুফর ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা মন্দ ফয়সালার কারণে, কারণ তারা এমন জাতি ছিল যাদের ওপর ধ্বংস লিখে দেওয়া হয়েছিল।" (সমাপ্ত)।

অতঃপর লেখক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষাবলম্বন করে বলেন: এই বিশ্বাসটি কুরআনে একাধিকবার উল্লেখিত হয়েছে এবং পরবর্তীকালের শরয়ি জ্ঞানে এর একটি উচ্চতর স্থান ছিল যেমনটি সুবিদিত। কিন্তু অগাস্ট মুলারের মতো ঐতিহাসিকগণ ভুল করেছেন, যারা মুহাম্মদের দিকে এই হাস্যকর কুফরি বিশ্বাসটি আরোপ করেছেন। কারণ তিনি এমনটি বুঝাতে চাননি যে, আল্লাহ কিছু মানুষের জন্য পুণ্যবান হওয়া ও শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া এবং অন্যদের জন্য পাপী হওয়া ও শাস্তি পাওয়া লিখে দিয়েছেন। বরং আমরা কুরআনের কিছু উক্তিতে এই ধারণাগুলো পাই কারণ মুহাম্মদ বিমূর্ত আকিদাগুলো সম্পর্কে সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম ছিলেন না। (সমাপ্ত)।

এভাবে লেখক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষাবলম্বন করতে গিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কুরআন মাজীদ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিজের রচনা এবং তিনি তাঁর চিন্তাগুলো প্রকাশ করতে সক্ষম হননি। তিনি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো দার্শনিক ছিলেন না, তাই এই ধরনের জটিল বিষয়গুলো বোঝার দাবি তাঁর কাছে রাখা যায় না।

ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনার প্রেক্ষাপটে লেখক ইঙ্গিত করেছেন যে, ইসলাম ঈমান ও আমলের মধ্যে পার্থক্য করে না। তিনি বলেন: আমরা কুরআনে আমলবিহীন ঈমানের বৈধতা খুঁজে পাই না এবং মুহাম্মদ ঈমান ও আমলের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে ঈমানের যেমন স্তরভেদ রয়েছে, আমলেরও তেমনি স্তরভেদ রয়েছে। (সমাপ্ত)।

তিনি খ্রিষ্টানদের বৈরাগ্যবাদ এবং ইসলামের যুহদ বা কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্যে তুলনা করে বলেন: ইসলামের যুহদ প্রবৃত্তি বিলুপ্ত করার কোনো বিষয় নয়, বরং তা নফসের পরিশুদ্ধি ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য পরিমিতিবোধের একটি মাধ্যম। (সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
كما يرى اختلافاً آخر بين الإسلام والنصرانية في وصف الآخرة والجنة والنار، فيشير إلى أن النصارى ينتقدون المسلمين؛ لأنهم يرغبون في الأجر والثواب، ويرهبون النكال والعقاب في الآخرة، وهو ما يسمى بمذهب المنفعة، وعلى أنهم يصورون الثواب والعقاب في الآخرة بشكل حسي، وهو ما يسمى بالمذهب الحسي.

ومرة أخرى يدافع المؤلف عن الرسول صلى الله عليه وسلم ويزعم أن هذه الانتقادات ليست في تعاليمه وفي هذا يقول: إن الوصف الحسي للجنة وسيلة بيان على قدر عقول قومه لا غير، ولايقصد التعبير عن الحقيقة. اهـ

لم يكتف المؤلف بالمقارنة بين الإسلام والنصرانية في مجال العقائد والأحكام، بل تعدى ذلك إلى أتباعهما حيث ذكر التشابه بين علاقة أبي بكر الصديق بالرسول صلى الله عليه وسلم وعلاقة ميلانختون بلوتر في قوله: إن موقف أبي بكر من محمد يمكن مقارنته بموقف ميلانختون من لوتر. وكان أبو بكر رجلا حليما، لطيفا، هادئا، متساهلاً في الأمور الدنيوية وحازما في الأمور المهمة يعني بها الدينية. اهـ

كما نجد في كتابه اهتماما كبيرا بمكانة عيسى بن مريم عليه السلام في الإسلام، حيث يذكر سولوفيوف أن المسلمين يعدون عيسى عليه السلام من أعظم الرسل ويعتقدون أنه رفع إلى السماء ولم يقتل، فيقول: إن هذه التصورات عن المسيح عند محمد تتضمن فكرتين متناقضتين مأخوذتين من فرقتي النصارى التين لا صلة بينهما. اهـ

وتأسيا منه بالمستشرقين قبله، ركز المؤلف على قصة الغرانيق المشهورة ويقول: إن الرسول بعد هجرة المسلمين إلى الحبشة، في لحظة الانهيار النفسي قرر أن يتنازل ويجمع بين التوحيد الحق ووثنية وطنه كأنه قال في نفسه: إن
ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে আখিরাত, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনায় তিনি আরও একটি পার্থক্য লক্ষ্য করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, খ্রিস্টানরা মুসলমানদের সমালোচনা করে; কারণ তারা আখিরাতে সওয়াব ও প্রতিদানের আকাঙ্ক্ষা করে এবং শাস্তি ও যন্ত্রণাকে ভয় পায়—যাকে উপযোগবাদ বলা হয়। এছাড়া তারা আখিরাতের প্রতিদান ও শাস্তিকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবে চিত্রিত করে, যাকে ইন্দ্রিয়বাদ বলা হয়।

লেখক পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ সমর্থন করেন এবং দাবি করেন যে, এই সমালোচনাগুলো তাঁর শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন: জান্নাতের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বর্ণনাটি কেবল তাঁর কওমের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা অনুযায়ী একটি ব্যাখ্যামূলক মাধ্যম ছাড়া আর কিছু নয় এবং এর মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা উদ্দেশ্য নয়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

লেখক কেবল আক্বীদা ও আহকামের ক্ষেত্রে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের তুলনামূলক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি তাদের অনুসারীদের পর্যন্ত তা বিস্তৃত করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আবু বকর সিদ্দীকের সম্পর্কের এবং লুথারের সাথে মেলানথনের সম্পর্কের মধ্যে সাদৃশ্য উল্লেখ করে বলেন: মুহাম্মদের প্রতি আবু বকরের অবস্থানকে লুথারের প্রতি মেলানথনের অবস্থানের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। আবু বকর ছিলেন একজন সহনশীল, দয়ালু, শান্ত ও দুনিয়াবী বিষয়ে নমনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ দ্বীনি বিষয়ে দৃঢ়চেতা ব্যক্তি। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

একইভাবে আমরা তাঁর বইয়ে ইসলামে ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালামের মর্যাদার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করি। সেখানে সলোভিভ উল্লেখ করেন যে, মুসলমানরা ঈসা আলাইহিস সালামকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাসূল হিসেবে গণ্য করে এবং বিশ্বাস করে যে তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে হত্যা করা হয়নি। তিনি বলেন: মুহাম্মদের কাছে মসীহ সম্পর্কে এই ধারণাগুলোতে দুটি পরস্পরবিরোধী চিন্তা রয়েছে যা খ্রিস্টানদের এমন দুটি দল থেকে নেওয়া হয়েছে যাদের মধ্যে কোনো পারস্পরিক সম্পর্ক নেই। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

পূর্ববর্তী প্রাচ্যবিদদের অনুকরণে লেখক বিখ্যাত 'গারানিক'-এর কাহিনীর ওপর আলোকপাত করেন এবং বলেন: আবিসিনিয়ায় মুসলমানদের হিজরতের পর, মানসিক বিপর্যয়ের এক মুহূর্তে রাসূল আপস করার এবং সত্য তাওহীদের সাথে তাঁর স্বদেশের মূর্তিপূজার সমন্বয় ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেন; যেন তিনি মনে মনে বললেন: নিশ্চয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
أهل الكتاب يؤمنون بأن هناك مخلوقات مقدسة سوى الله تسمى الملائكة، والنصارى يعدون نبيهم ابن الله، ويعظِّمون أمه، حتى عبدوها، كما يعظمون أرواح الأموات الكثيرة. ولم لا نعترف بآلهة مشركي العرب ونعدها واسطة بين الله والعباد أو ملائكة الله أو شفعاء عنده؟ اهـ

وبهذا يشير المؤلف إلى أن الرسول صلى الله عليه وسلم سمى الآلهة غرانيق العلا، واعترف بصحة شفاعتهم، وبعد ذلك بأسابيع تبرأ من هذا القول وقال إنه من وسواس الشيطان. ويقول المؤلف شارحاً هذه القصة: "إن الملك جبريل أو ضمير محمد نفسه جعله يتخلى عن هذه الصفقة". اهـ

ونجد أن سولوفيوف لا يتعجب من أن الرجل الذي يسميه نبيا يقع في مثل هذا الخطأ، ثم يتخلى عن قوله؛ لأنه من البداية يعد رسالة محمد صلى الله عليه وسلم ناقصة غير كاملة.

إنه يشكك حتى في إخبار النبي صلى الله عليه وسلم عن مجيء جبريل عليه السلام إليه، وهذا يظهر جليا من قوله المتقدم وغيره. يقول عند سرده قصة الإسراء والمعراج: إن النبي أخرج من البيت ورفع بقوة مجهولة كان يظنها جبريل. اهـ وليست هذه الفرية الوحيدة في وصفه للإسراء والمعراج. ورغم إسهابه المفصل في ذكر القصة إلا أننا نجده يسكت عن بعض الأمور الهامة ويحرف بعضها الآخر، فيزعم أن النبي صلى الله عليه وسلم أسري به أثناء منامه بروحه فقط، ولا يذكر أنه صلى إماما بالأنبياء في بيت المقدس، كما يدَّعي أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى ربه بدون حجاب.

ويتجنى ملخصا لرسالة الرسول صلى الله عليه وسلم معلنا أنه يستحق الذم لعشقه للنساء بعد تقدمه في السن وارتكب بعض الاغتيالات السياسية طلباً للثأر.
আহলে কিতাবগণ বিশ্বাস করে যে আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য পবিত্র সৃষ্টি রয়েছে যাদের ফেরেশতা বলা হয়, এবং খ্রিস্টানরা তাদের নবীকে আল্লাহর পুত্র গণ্য করে এবং তারা তাঁর মাতাকে সম্মান করে, এমনকি তারা তাঁর ইবাদতও করেছে, যেমন তারা মৃত ব্যক্তিদের অসংখ্য আত্মাকে সম্মান করে। তবে আমরা কেন আরবের মুশরিকদের উপাস্যদের স্বীকার করব না এবং সেগুলোকে আল্লাহ ও বান্দাদের মধ্যে মাধ্যম অথবা আল্লাহর ফেরেশতা কিংবা তাঁর নিকট সুপারিশকারী হিসেবে গণ্য করব না? (সমাপ্ত)

এর মাধ্যমে লেখক ইঙ্গিত করছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপাস্যগুলোকে উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন সারস (গারানিকুল উলা) বলে অভিহিত করেছেন এবং তাদের সুপারিশের সত্যতা স্বীকার করেছেন, আর এর কয়েক সপ্তাহ পর তিনি এই বক্তব্য থেকে দায়মুক্ত হন এবং বলেন যে এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে ছিল। লেখক এই ঘটনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন: "নিশ্চয়ই ফেরেশতা জিবরাঈল অথবা মুহাম্মাদের নিজের বিবেকই তাকে এই লেনদেন থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছে।" (সমাপ্ত)

আমরা দেখতে পাই যে সলোভিভ এতে বিস্মিত হন না যে, যাকে তিনি নবী বলে ডাকছেন তিনি এমন ভুলের শিকার হন এবং পরবর্তীতে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করেন; কারণ তিনি শুরু থেকেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতকে ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ বলে মনে করেন।

তিনি জিবরাঈল আলাইহিস সালামের আগমনের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদ দেওয়ার বিষয়েও সন্দেহ পোষণ করেন এবং এটি তাঁর পূর্ববর্তী বক্তব্য ও অন্যান্য বক্তব্য থেকে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ইসরা ও মিরাজের ঘটনা বর্ণনা করার সময় তিনি বলেন: নবীকে ঘর থেকে বের করা হয়েছিল এবং এক অজানা শক্তির মাধ্যমে উপরে তোলা হয়েছিল যাকে তিনি জিবরাঈল বলে মনে করেছিলেন। (সমাপ্ত) ইসরা ও মিরাজের বর্ণনায় এটিই একমাত্র মিথ্যা অপবাদ নয়। এই গল্পের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাই যে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীরব থাকেন এবং অন্য কিছু বিষয় বিকৃত করেন। তিনি দাবি করেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘুমের ঘোরে শুধুমাত্র তাঁর আত্মার মাধ্যমে ইসরা করানো হয়েছিল, এবং তিনি এটি উল্লেখ করেন না যে নবী বায়তুল মাকদিসে নবীদের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো পর্দা ছাড়াই তাঁর রবকে দেখেছেন।

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের সারসংক্ষেপ করতে গিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তোলেন এবং ঘোষণা করেন যে, তিনি বৃদ্ধ বয়সে নারীপ্রীতির কারণে নিন্দার যোগ্য এবং প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কিছু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ولكن هاتين التهمتين يوردهما المؤلف مع التحفظ، فيقول: الاتهام الأساسي للقرآن هو شرعية تعدد الزوجات، ولكن هذا بقيود، لأن القرآن شرع هذا الحق للرجال، ولم يجعله مقدسا مطلقا كما كان في الجاهلية، بل قيَّده بأربع زوجات. اهـ

هذا فيما يخص الاتهام الأول أما بالنسبة للاتهام الثاني فيقارن بين النبي صلى الله عليه وسلم والإمبراطور قسطنطين والملك كارل العظيم، فيقول: إن قسطنطين العظيم قتل زوجته وابنه البريء، وأما كارل العظيم فعذب أربعة آلاف وخمسمائة أسرى سكسيين، وهذه الشرور أعظم من شرور محمد. مع العلم أن كارل العظيم كان من شعب تنصَّر منذ ثلاثمائة عام، ونشأ على هذا الدين، وأن قسطنطين العظيم تنصَّر بنفسه، وتربى في مجتمع أكثر ثقافة من مجتمع محمد، فينتج من مقارنتنا بين أولئك العظماء من رجال الدين والسياسة من شرق العالم النصراني وغربه أن محمداً كان أولى منهم. فإذا قدَّس اليونان قسطنطين واللتينيون كارل فلماذا لا يعظم المسلمون ذِكْر نبيهم؟ اهـ

ثم يقول: إن أهم قصور في عقيدة محمد ودينه هو عدم كمال الإنسان الذي هو كمال الوحدة بين الله والإنسان وذلك لأن الإسلام لا يأمر المؤمن بتكميل نفسه الدائم وإنما يأمره بالاستسلام المطلق. اهـ

ثم يقول: إذا افتقدنا مثال الكمال الذي يسعى إليه الإنسان فليس لسعيه مهمة أو غاية، مما يؤدي إلى عدم التطور وبهذا السبب أصبح التطور غريبا عن الشعوب المسلمة عقيدة وفعلا. وثقافة المسلمين هي ثقافة محلية تزول بدون تقدم. إن العالم الإسلامي لم ينشأ عبقريا مطلقا وإنه لم يأت من يقود البشرية إلى الكمال. اهـ
কিন্তু লেখক এই দুটি অভিযোগ সতর্কতার সাথে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: কুরআনের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো বহুবিবাহের বৈধতা। তবে এটি শর্তসাপেক্ষ, কারণ কুরআন পুরুষদের জন্য এই অধিকার বিধিবদ্ধ করেছে ঠিকই, কিন্তু একে জাহেলিয়াত যুগের মতো নিরঙ্কুশ বা পবিত্র ঘোষণা করেনি, বরং চারজন স্ত্রী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। সমাপ্ত।

এটি প্রথম অভিযোগ সংক্রান্ত। আর দ্বিতীয় অভিযোগের ক্ষেত্রে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সম্রাট কনস্ট্যান্টাইন এবং রাজা শার্লমেনের (কার্ল দ্য গ্রেট) মধ্যে তুলনা করে বলেন: মহান কনস্ট্যান্টাইন তার স্ত্রী এবং নিরপরাধ পুত্রকে হত্যা করেছিলেন। অন্যদিকে রাজা শার্লমেন সাড়ে চার হাজার স্যাক্সন যুদ্ধবন্দীকে নির্যাতন করেছিলেন; আর এই মন্দ কাজগুলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলির (লেখকের ভাষায়) চেয়েও অধিক মন্দ। অথচ উল্লেখ্য যে, রাজা শার্লমেন এমন এক জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তিনশ বছর আগেই খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল এবং তিনি এই ধর্মের মধ্যেই বেড়ে উঠেছিলেন। আর সম্রাট কনস্ট্যান্টাইন নিজেও খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমাজের চেয়েও অধিকতর সংস্কৃতিবান এক সমাজে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। ফলে খ্রিস্টান বিশ্বের প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সেই সব মহান ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাঝে আমাদের এই তুলনা থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার ছিলেন। অতএব গ্রীকরা যদি কনস্ট্যান্টাইনকে এবং ল্যাটিনরা যদি শার্লমেনকে পবিত্র জ্ঞান করে, তবে মুসলমানরা কেন তাদের নবীর মহিমা কীর্তন করবে না? সমাপ্ত।

অতঃপর তিনি বলেন: মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আকিদা ও ধর্মের সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো মানুষের পূর্ণতার অভাব, যা আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে ঐক্যের পূর্ণতা স্বরূপ। আর এর কারণ হলো, ইসলাম মুমিনকে সর্বদা আত্মিক পূর্ণতা সাধনের নির্দেশ দেয় না, বরং তাকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আদেশ দেয়। সমাপ্ত।

অতঃপর তিনি বলেন: মানুষ যে পূর্ণতার আদর্শের অন্বেষণ করে, তা যদি হারিয়ে যায় তবে তার প্রচেষ্টার কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা গন্তব্য থাকে না, যা শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের স্থবিরতায় রূপ নেয়। আর এই কারণেই বিশ্বাস ও কর্ম উভয় দিক থেকে মুসলিম জাতিগুলোর কাছে উন্নয়ন বা বিবর্তন একটি অপরিচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মুসলিমদের সংস্কৃতি হলো একটি আঞ্চলিক সংস্কৃতি, যা অগ্রগতি ছাড়া বিলুপ্ত হয়ে যায়। মুসলিম বিশ্ব কোনো নিরঙ্কুশ প্রতিভা তৈরি করেনি এবং এমন কেউ আসেনি যে মানবতাকে পূর্ণতার দিকে পরিচালিত করতে পারে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ومما تقدم يتضح موقف هذا الكاتب من الرسول صلى الله عليه وسلم، وهو موقف بعيد عن الصواب والإنصاف.

ومن الملائم أن نذكر هنا أن أفكار سولوفيوف لها أتباع بين علماء الروس حتى الآن ومن الغريب أن بعضهم ينتسبون إلى الإسلام ومنهم المترجمة الروسية لمعاني القرآن الكريم بوروخوفا التي تابعت سولوفيوف في قوله إن أهل الكتاب غير ملزمين بقبول الإسلام، وإن في تطبيق شرائعهم كفاية لدخول الجنة، وإن نعيم الجنة للروح فقط بدون البدن. هذه العقائد الباطلة وغيرها نجدها في ترجمتها لمعاني القرآن الكريم وتفسيرها وهي لا تزال تدعو إليها. (1)

ثم إن سولوفيوف اهتم بتحليل الأخبار التاريخية مما جعل عمله يثير انتباه الباحثين. ولكن حكمه في كثير من المواضع غير مُنصف، وعرضه للروايات غير كامل ممَّا يحول بين القراء وتدبر أفعال النبي صلى الله عليه وسلم وأوامره ونواهيه، وكثيرا ما يعتمد على روايات ضعيفة. ولا يسعنا المقام أن نسرد كل ما وجدنا في كتابه من الأخبار الكاذبة ونكتفي بذكر بعضها.

يزعم سولوفيوف أن المسجد النبوي بالمدينة هو أول مسجد بني في الإسلام، ولا يذكر بناء مسجد قباء. كما يدعي أن المسلمين أجبروا ريحانة زوجة النبي صلى الله عليه وسلم على الإسلام فمكنوه من الزواج بها. ويخطئ في قوله بأن ماريا أم إبراهيم ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم كانت من أزواجه ويقول أكثر من مرة إن حج البيت صرف العبادة للكعبة، وكل ذلك يدل على أن معارفه عن أصول الدين الإسلامي كانت مشوَّهة.

--------------------------------------------

(1) انظر بحث المؤلف في موضوع «الأخطاء العقدية في ترجمات معاني القرآن الكريم إلى اللغة الروسية» طبع بمجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة سنة 1423 هـ.
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি এই লেখকের অবস্থান স্পষ্ট হয়, যা সঠিকতা এবং ইনসাফ থেকে অনেক দূরে।

এখানে এটি উল্লেখ করা সমীচীন যে, সলোভিওফের চিন্তাধারার অনুসারী রুশ পণ্ডিতদের মধ্যে এখনও বিদ্যমান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের কেউ কেউ নিজেদের ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পবিত্র কুরআনের অর্থ অনুবাদের রুশ অনুবাদক বোরোখোভা, যিনি সলোভিওফকে অনুসরণ করে এই মত পোষণ করেছেন যে, আহলে কিতাবদের জন্য ইসলাম গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয় এবং তাদের নিজস্ব শরীয়ত পালন করাই জান্নাতে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট। এছাড়া তিনি মনে করেন যে, জান্নাতের নেয়ামত কেবল আত্মার জন্য, শরীরের জন্য নয়। এই ভ্রান্ত আকিদাগুলো এবং আরও অন্যান্য বিষয় আমরা তার পবিত্র কুরআনের অর্থ অনুবাদ ও তাফসিরে দেখতে পাই এবং তিনি এখনও সেগুলোর দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন। (১)

তাছাড়া সলোভিওফ ঐতিহাসিক সংবাদ বিশ্লেষণে গুরুত্বারোপ করেছেন, যা তার কাজকে গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম করেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তার বিচার-বিবেচনা ইনসাফপূর্ণ নয় এবং তার বর্ণনা উপস্থাপনা অসম্পূর্ণ, যা পাঠকদের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলি এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধগুলো গভীরভাবে চিন্তা করার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অধিকন্তু তিনি প্রায়শই দুর্বল বর্ণনার ওপর নির্ভর করেন। তার বইতে আমরা যে সকল মিথ্যা সংবাদ পেয়েছি তার সবগুলি বর্ণনা করার সুযোগ এখানে নেই, তাই আমরা কেবল কয়েকটির উল্লেখ করছি।

সলোভিওফ দাবি করেন যে, মদিনায় অবস্থিত মসজিদে নববী হলো ইসলামে নির্মিত প্রথম মসজিদ, অথচ তিনি মসজিদে কুবা নির্মাণের কথা উল্লেখ করেননি। তিনি আরও দাবি করেন যে, মুসলমানরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী রায়হানাকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করেছিলেন যাতে তারা তাঁকে বিয়ে করার সুযোগ পায়। তিনি এই কথা বলে ভুল করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পুত্র ইব্রাহিমের মা মারিয়া তাঁর স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন যে, বাইতুল্লাহর হজ ইবাদতকে কাবার দিকে ধাবিত করে। এই সব কিছুই প্রমাণ করে যে, ইসলাম ধর্মের মূলনীতি সম্পর্কে তার জ্ঞান ছিল বিকৃত।

--------------------------------------------

(১) রুশ ভাষায় 'পবিত্র কুরআনের অর্থের অনুবাদসমূহে আকিদাগত ভুলভ্রান্তি' বিষয়ে লেখকের গবেষণা প্রবন্ধটি দেখুন, যা ১৪২৩ হিজরিতে মদিনা মুনাওয়ারায় কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن خصائص هذا الكتاب بحوث المؤلف في اشتقاق الكلمات العربية والمصطلحات الشرعية فيشير إلى أن اسم هاجر أم إسماعيل عليه السلام وكلمة هجرة مشتقان من فعل واحد قائلا: بالهجرة من مكة بلد إبراهيم، أعاد محمد خروج إسماعيل من بيت أبيه. اهـ

كما يقول عن أبوي رسول الله صلى الله عليه وسلم إن أسماءهما يدلان على أهم خصاله: العبودية لله والأمانة.

وخلاصة القول أن كتاب سولوفيوف كان خطوة هامة في تاريخ مدرسة الاستشراق الروسية ورسم خطة عامة لتقدمها في القرن العشرين.

واعتنى المستشرقون في روسيا بدراسة السيرة النبوية في العشرينيات من القرن الماضي بعد استيلاء الشيوعيين على الحكم، ونشأ جيل من الباحثين الذين ألفوا الرسائل العلمية في بعض المسائل المتعلقة بالسيرة النبوية منهم بارتولد وكاشتالوفا وفينّيكوف، ولا نجد من بين مؤلفاتهم كتابا عن حياة النبي صلى الله عليه وسلم بصورة كاملة.

وفي العقود الخمسة التالية تأثرت مدرسة الاستشراق بالشيوعية فاستخدم الباحثون الأساليب المخالفة للعلم، وجعلوا محمدا شخصية غير تاريخية وادعوا أن القرآن ألف في عهد ازدهار الخلافة ونسب إلى محمد صلى الله عليه وسلم. مثل هذه العقائد والخرافات وضعت في أساس مؤلفات بيلاييف وكليموفيتش وتولستوف. وأصداء هذه الأقوال نجدها حتى في بعض الرسائل المؤلفة في الستينيات والسبعينيات.

ولكن في بداية الستينيات بعد نشر ترجمة معاني القرآن الكريم للأكاديمي كراتشكوفسكي تغيَّر موقف المستشرقين الروس من شخصية النبي صلى الله عليه وسلم وأخذوا
এই গ্রন্থের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আরবি শব্দের ব্যুৎপত্তি এবং শরয়ি পরিভাষাসমূহের বিষয়ে লেখকের গবেষণা। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, ইসমাইল আলাইহিস সালাম-এর মাতা হাজেরার নাম এবং 'হিজরত' শব্দটি একই ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত। তিনি বলেন: ইব্রাহিমের দেশ মক্কা থেকে হিজরতের মাধ্যমে মুহাম্মদ তাঁর পিতার ঘর থেকে ইসমাইলের প্রস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন। উদ্ধৃতি শেষ।

একইভাবে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পিতা-মাতা সম্পর্কে বলেন যে, তাঁদের নামসমূহ তাঁর প্রধান গুণাবলীর প্রতি ইঙ্গিত করে: আল্লাহর দাসত্ব এবং আমানতদারি।

সারকথা হলো, সোলোভিয়েভের গ্রন্থটি রুশ প্রাচ্যতত্ত্বের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল এবং বিংশ শতাব্দীতে এর অগ্রগতির জন্য একটি সাধারণ রূপরেখা প্রণয়ন করেছিল।

গত শতাব্দীর বিশের দশকে কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় আসার পর রাশিয়ার প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ সীরাত অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন। তখন গবেষকদের এমন একটি প্রজন্ম তৈরি হয় যারা সীরাত সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা করেন, যাদের মধ্যে বার্তোল্ড, কাশতালোভা এবং ভিনিকভ অন্যতম। তবে তাঁদের রচনার মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনীর ওপর কোনো গ্রন্থ আমরা পাই না।

পরবর্তী পাঁচ দশকে প্রাচ্যতত্ত্বধারা কমিউনিজম দ্বারা প্রভাবিত হয়, ফলে গবেষকগণ বিজ্ঞান-বিরোধী পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তাঁরা মুহাম্মদকে একটি অনৈতিহাসিক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং দাবি করেন যে, কুরআন খিলাফতের সমৃদ্ধির যুগে সংকলিত হয়েছে এবং তা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি আরোপ করা হয়েছে। এই ধরণের বিশ্বাস ও কুসংস্কারগুলো বেলায়েভ, ক্লিমোভিচ এবং তলস্তোভের রচনাবলির ভিত্তি হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল। এই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি এমনকি ষাট ও সত্তরের দশকে রচিত কিছু প্রবন্ধেও খুঁজে পাওয়া যায়।

তবে ষাটের দশকের শুরুতে একাডেমিশিয়ান ক্রাচকোভস্কি কর্তৃক পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদ প্রকাশের পর, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে রুশ প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে এবং তাঁরা...
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
يدرسون المراجع الإسلامية بدقة، وألَّفوا البحوث والرسائل في السيرة النبوية. ومع ذلك بذلت معظم جهودهم لدراسة معاني القرآن الكريم ومؤلفات علماء المسلمين عن تاريخ الشعوب المسلمة التي تعيش في الاتحاد السوفياتي.

ومن أول الكتب الشاملة للمستشرقين السوفيات عن حياة النبي صلى الله عليه وسلم كتاب "العرب والإسلام والخلافة العربية في العصور الوسطى" للمستشرق بيلاييف، ولكن الدراسة الكاملة المطولة للسيرة النبوية نجدها في كتاب ((تاريخ الخلافة)) للمؤرخ بولشاكوف. وفي المجلد الأول من هذا الكتاب يتحدث المؤلف بالتفصيل عن تاريخ العرب قبل الإسلام والسيرة النبوية.

وهذا الكتاب سهل الفهم لعامة القراء؛ لأن كل ما يتعلق بالمتخصصين من دراسة الروايات وذكر المسائل الخلافية وسرد الأدلة وشرح المصطلحات وارد في الحواشي آخر المجلد، ولا يُمِل من يريد أن يتعرف على السيرة النبوية بشكل عام.

ويبين صاحب المقدمة موقف بولشاكوف من موضوع كتابه قائلا: إن موقفنا ليس موقفَ ملتزم بدين معين يتسامح مع الإسلام، ويضعه بجانب دينه، وإنما موقفنا موقف الباحث البعيد عن العقائد الدينية وهو الموقف العادل الوحيد، ويجب علينا أن ندرك بهذه الطريقة الانفعالات النفسية لرجل اعتقد أن الإله يخاطب البشرية بلسانه، كما يجب علينا أن نعقل هذه المواعظ التي لا نؤمن بكونها من الله، ونوضح بغير تحيّز كيف تنشأ مثل هذه العقائد، وكيف تفتح قلوب الشعوب وتصبح قوة نافذة في التاريخ. اهـ
তাঁরা অত্যন্ত সূক্ষ্মতার সাথে ইসলামি উৎসসমূহ অধ্যয়ন করেন এবং সিরাতে নববীর ওপর বিভিন্ন গবেষণা ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তা সত্ত্বেও, তাঁদের অধিকাংশ প্রচেষ্টা ব্যয় হয়েছে পবিত্র কুরআনের অর্থ এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে বসবাসরত মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস নিয়ে মুসলিম পণ্ডিতদের রচিত গ্রন্থসমূহ অধ্যয়নে।

নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনচরিত নিয়ে সোভিয়েত প্রাচ্যবিদদের রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থগুলোর মধ্যে প্রাচ্যবিদ বেলিয়ায়েভের "মধ্যযুগে আরব, ইসলাম ও আরব খিলাফত" অন্যতম। তবে সিরাতে নববীর পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘ গবেষণা পাওয়া যায় ইতিহাসবিদ বলশাকভের "খিলাফতের ইতিহাস" গ্রন্থে। এই গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে লেখক ইসলামপূর্ব আরবদের ইতিহাস এবং সিরাতে নববী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

এই গ্রন্থটি সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য; কারণ বর্ণনাসমূহ পর্যালোচনা, মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়াবলির উল্লেখ, দলীল উপস্থাপন এবং পারিভাষিক শব্দাবলির ব্যাখ্যার মতো বিশেষজ্ঞদের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খণ্ডের শেষে পাদটীকায় স্থান পেয়েছে। ফলে এটি তাঁদের জন্য বিরক্তিকর হয় না যারা সাধারণভাবে সিরাতে নববীর সাথে পরিচিত হতে চান।

মুখবন্ধের লেখক তাঁর গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়ের ওপর বলশাকভের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন: "আমাদের অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীর অবস্থান নয়, যে ইসলামের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করে এবং একে নিজের ধর্মের পাশাপাশি স্থান দেয়। বরং আমাদের অবস্থান হলো ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে মুক্ত একজন গবেষকের অবস্থান, যা একমাত্র ন্যায়সঙ্গত দৃষ্টিভঙ্গি। আমাদের এভাবে সেই ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক আবেগগুলো অনুধাবন করতে হবে যিনি বিশ্বাস করতেন যে ইলাহ তাঁর রসনার মাধ্যমেই মানবজাতির সাথে কথা বলছেন। একইভাবে আমাদের এই উপদেশবাণীগুলোকে অনুধাবন করতে হবে যা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বলে আমরা বিশ্বাস করি না। এবং কোনো পক্ষপাত ছাড়াই আমাদের স্পষ্ট করতে হবে যে, কীভাবে এই ধরনের বিশ্বাসসমূহের উৎপত্তি ঘটে এবং কীভাবে তা জাতিসমূহের হৃদয় জয় করে ইতিহাসে এক প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
إن بولشاكوف لا يكتفي بذكر أهم الأحداث من حياة الرسول صلى الله عليه وسلم ويدرس حالة العرب الاجتماعية والاقتصادية قبل البعثة وبعدها حتى يتفهم أسباب ظهور الإسلام والخلاف بين المشركين والمسلمين.

حرصا على تقويم الأحداث التاريخية ومحاولة لفهم الترتيب الزمني يهتم المؤلف بدراسة التواريخ، كما يعتني بالأرقام ليأخذ فكرة عن العلاقات بين الأفراد والقبائل وسير المعارك وغيرها من الأحداث مثلا يقول في غزوة بدر: إن أسماء القتلى توضح لنا سير الغزوة.

أولا: أكثر من نصف قتلى المكيين من بني عبد شمس وبني مخزوم، ونصف الأسرى منهم كذلك، وهذا يدل على أنهم قاتلوا بجد وأن بقية المشركين كانوا غير نشيطين.

ثانيا: نصف قتلى المكيين لَقُوا مصرعهم على أيدي المهاجرين مع أنهم ربع جيش المسلمين فقط.

ثالثا: لم يقتل أحد من المكيين أو المهاجرين بيد خصم من قبيلته لأنهم حاولوا ألا يقاتلوا أقرباءهم. (1) اهـ

ولو صح ما ادعاه المؤلف لكان من الملاحظات المفيدة ولكن ادعاءَه يعارض الروايات الصحيحة، وقد قال سعيد بن عبد العزيز وغيره في قوله تعالى {لا تَجِدُ قَوْماً يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ} [المجادلة: 22] : أنزلت هذه الآية إلى آخرها في أبي عبيدة عامر بن عبد الله بن الجراح حين قتل أباه يوم بدر. (2)

--------------------------------------------

(1) كتاب تاريخ الخلافة لبولشاكوف (1/101) .

(2) تفسير القرآن العظيم لابن كثير (4/420) .
বোলশাকভ কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হন না, বরং তিনি নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বের ও পরের আরবদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে গবেষণা করেন, যাতে তিনি ইসলামের উত্থান এবং মুশরিক ও মুসলিমদের মধ্যে বিরোধের কারণগুলো অনুধাবন করতে পারেন।

ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর মূল্যায়ন এবং কালানুক্রম বোঝার প্রচেষ্টায় লেখক তারিখসমূহ নিয়ে অধ্যয়ন করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তেমনিভাবে তিনি সংখ্যাতাত্ত্বিক বিষয়ের প্রতিও যত্নশীল হয়েছেন যাতে ব্যক্তি ও গোত্রগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক, যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এবং অন্যান্য ঘটনাবলী সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, বদর যুদ্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন: নিহতদের নামসমূহ আমাদের কাছে যুদ্ধের গতিধারা স্পষ্ট করে তোলে।

প্রথমত: মক্কাবাসীদের নিহতদের অর্ধেকের বেশি বনু আবদে শামস ও বনু মাখযুম গোত্রের ছিল, আর বন্দীদের অর্ধেকও ছিল তাদের মধ্য থেকে। এটি প্রমাণ করে যে, তারা গুরুত্বের সাথে যুদ্ধ করেছিল এবং অবশিষ্ট মুশরিকরা ছিল নিষ্ক্রিয়।

দ্বিতীয়ত: মক্কাবাসীদের নিহতদের অর্ধেক মুহাজিরদের হাতে মারা গেছে, যদিও তারা মুসলিম বাহিনীর মাত্র এক-চতুর্থাংশ ছিল।

তৃতীয়ত: মক্কাবাসী বা মুহাজিরদের মধ্য থেকে কেউই নিজের গোত্রের কোনো প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হয়নি, কারণ তারা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে যুদ্ধ না করার চেষ্টা করেছিল। (১) সমাপ্ত।

লেখক যা দাবি করেছেন তা যদি সঠিক হতো তবে তা একটি দরকারী পর্যবেক্ষণ হতো, কিন্তু তার এই দাবি বিশুদ্ধ বর্ণনাসমূহের পরিপন্থী। সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয এবং অন্যান্যগণ মহান আল্লাহর বাণী—"আপনি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবেন না যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে..." [আল-মুজাদালাহ: ২২]—এর ব্যাপারে বলেছেন: এই আয়াতটি এর শেষ পর্যন্ত আবু উবাইদাহ আমের ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল জাররাহ-এর শানে নাযিল হয়েছে, যখন তিনি বদরের দিন তার পিতাকে হত্যা করেছিলেন। (২)

--------------------------------------------

(১) বোলশাকভ রচিত 'তারিখুল খিলাফাহ' গ্রন্থ (১/১০১)।

(২) ইবনে কাসীর রচিত 'তাফসীরুল কুরআনিল আযীম' (৪/৪২০)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ومن المعلوم أن الصديق همّ يومئذ بقتل ابنه عبد الرحمن، ومصعب بن عمير قتلَ أخاه عبيد بن عمير، وعمر قتلَ قريبا له يومئذ أيضا ولكن المؤلف لم يُلْق بالا لهذه الروايات.

ومع ذلك فإن بولشاكوف كثيرا ما كان يعتمد على كتب السيرة وروايات الثقات، ولكن عمله تأثر بعقيدته المنحرفة، فنجد بعض استنتاجاته غير مقبولة عند عامة المسلمين، وتخالف أقوال أئمتهم. وسبب ذلك يعود أحيانا إلى عدم معرفته بأصول الدين الإسلامي، ويمكن الاستدلال على ذلك بعدد من أقواله منها: عدّه تعظيم المسلمين للكعبة عبادة لها. (1)

ويشكك المؤلف في صحة كثير من الأحداث من حياة الرسول صلى الله عليه وسلم المذكورة في كتب السيرة الموثوقة.

وعند إيراده قصة شرح صدر محمد صلى الله عليه وسلم في صغره يقول: إن حدوث هذه القصة مشكوك فيه والظاهر أنها ألِّفت بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم بعدة سنوات. (2) اهـ

وعند ذكره لقصة أكل الأرضة لصحيفة المقاطعة العامة يذكر بولشاكوف أن الكتابة الباقية كانت (بسم الله الرحمن الرحيم) معتمدا على ما ورد في سيرة ابن هشام وطبقات ابن سعد. ثم ينكر هذه القصة مبينا وجهة نظره أن عبارة (بسم الله الرحمن الرحيم) ما كانت معروفة حينئذ، مستدلا بقصة رفض سهيل بن عمرو أن تكتب هذه العبارة في أول معاهدة صلح الحديبية. (3)

--------------------------------------------

(1) كتاب تاريخ الخلافة لبولشاكوف (1/74 و 83) .

(2) المصدر نفسه (1/65) .

(3) المصدر نفسه (1/81) .
এটা সুবিদিত যে, সেদিন সিদ্দিক (আবু বকর) তার পুত্র আব্দুর রহমানকে হত্যা করার সংকল্প করেছিলেন, মুসআব বিন উমায়ের তার ভাই উবায়েদ বিন উমায়েরকে হত্যা করেছিলেন এবং উমরও সেদিন তার এক নিকটাত্মীয়কে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু লেখক এই বর্ণনাগুলোর প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপ করেননি।

তা সত্ত্বেও, বলশাকভ প্রায়শই সীরাত গ্রন্থ এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার ওপর নির্ভর করতেন, তবে তার কাজ তার ভ্রান্ত আকিদা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। ফলে আমরা দেখি যে তার কিছু সিদ্ধান্ত সাধারণ মুসলিমদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তাদের ইমামদের বক্তব্যের পরিপন্থী। এর কারণ অনেক সময় ইসলাম ধর্মের মূলনীতি সম্পর্কে তার অজ্ঞতার মধ্যে নিহিত। তার বেশ কিছু বক্তব্য থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়, যার মধ্যে একটি হলো: মুসলিমদের পক্ষ থেকে কাবার প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে তিনি কাবার ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছেন। (১)

লেখক নির্ভরযোগ্য সীরাত গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের অনেক ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন।

শৈশবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনা বর্ণনা করার সময় তিনি বলেন: এই ঘটনাটি ঘটার বিষয়টি সন্দেহজনক এবং প্রতীয়মান হয় যে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের কয়েক বছর পর উদ্ভাবন করা হয়েছে। (২) সমাপ্ত।

সাধারণ বয়কট বা অবরোধের দলিলটি উইপোকা কর্তৃক খেয়ে ফেলার ঘটনাটি উল্লেখ করার সময় বলশাকভ উল্লেখ করেন যে, ইবনে হিশামের সীরাত এবং ইবনে সা'দের তাবাকাত-এ বর্ণিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অবশিষ্ট লেখাটি ছিল (বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম)। এরপর তিনি এই ঘটনাটি অস্বীকার করেন এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে বলেন যে, (বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম) বাক্যটি তখন পরিচিত ছিল না। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি হুদায়বিয়ার সন্ধি চুক্তির শুরুতে সুহায়েল বিন আমর কর্তৃক এই বাক্যটি লিখতে অস্বীকার করার ঘটনাটি পেশ করেন। (৩)

--------------------------------------------

(১) বলশাকভের তারিখুল খিলাফাহ গ্রন্থ (১/৭৪ ও ৮৩)।

(২) একই উৎস (১/৬৫)।

(৩) একই উৎস (১/৮১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
والتحريف نفسه نجده عند كلامه على بيعتي العقبة حيث يشكك في صحة صياغة الأخبار الواردة في كتب السيرة ويميل إلى أقوال ميلاميدي (Melamede) ووات (Watt) قائلا: إن الروايات عن بيعتي العقبة نشأت عن ذكريات مضطربة عن عدة لقاءات محمد صلى الله عليه وسلم بالقبائل، مما جعلهم يقسمون اللقاء الوحيد بأهل يثرب في العقبة في أواخر ذي الحجة الموافق 14 يوليو سنة 622م. (1) اهـ

وهو يرجح هذا الرأي لثلاثة أسباب حيث يقول: "مما يجعلنا نشك في هذه الروايات أن عدد النقباء في بيعة العقبة الثانية هو نفسه عدد الوافدين في بيعة العقبة الأولى، وأن بيعة النساء الواردة في القرآن يرجع تاريخها إلى وقت متأخر، وأن خطاب العباس عمّ محمد المذكور في كثير من المراجع يظهر غير منطقي في ضوء الظروف الراهنة آنذاك". (2) اهـ

وأكثر من مرة نجد المؤلف يبحث عن العلاقة بين مواعظ الرسول صلى الله عليه وسلم وآثار النصارى، ولا يلقى أي اهتمام لاعتقاد المسلمين أن القرآن الكريم أنزل مصدقا للكتب السابقة مهيمنا عليها، فيقول: إن وصف الجنة كعرس أبدي جزاءً للزاهدين في الدنيا بشكل واضح مأخوذ من الكتب الرهبانية النصرانية. (3) اهـ

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه (1/87) .

(2) المصدر السابق نفسه.

(3) المصدر نفسه (1/77) .
আকাবায় অনুষ্ঠিত দুই বাইয়াত (শপথ) সম্পর্কে তাঁর আলোচনায় আমরা একই ধরণের বিকৃতি দেখতে পাই, যেখানে তিনি সিরাত গ্রন্থে বর্ণিত সংবাদের গঠনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন এবং মেলামেড (Melamede) ও ওয়াট (Watt)-এর মতামতের দিকে ঝুঁকেছেন। তিনি বলেছেন: আকাবার দুই বাইয়াত সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো গোত্রগুলোর সাথে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিভিন্ন সাক্ষাতের বিশৃঙ্খল স্মৃতি থেকে উদ্ভূত হয়েছে; যা তাদের বাধ্য করেছে ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই জুলাই মোতাবেক যিলহজ্জ মাসের শেষভাগে আকাবায় ইয়াসরিববাসীদের সাথে অনুষ্ঠিত একমাত্র সাক্ষাৎটিকে বিভক্ত করতে। (১) সমাপ্ত।

তিনি তিনটি কারণে এই অভিমতটিকে প্রধান্য দেন, যেখানে তিনি বলেন: "এই বর্ণনাগুলোর প্রতি আমাদের সন্দেহ হওয়ার কারণগুলো হলো—দ্বিতীয় আকাবার বাইয়াতে নকীবদের (প্রতিনিধি) সংখ্যা প্রথম আকাবার বাইয়াতে আগত ব্যক্তিদের সংখ্যার সমান; কুরআনে বর্ণিত নারীদের বাইয়াতের তারিখ পরবর্তী সময়ের সাথে সম্পর্কিত; এবং অনেক উৎস গ্রন্থে বর্ণিত মুহাম্মাদের চাচা আব্বাসের ভাষণ তখনকার বিদ্যমান পরিস্থিতির আলোকে অযৌক্তিক মনে হয়।" (২) সমাপ্ত।

আমরা একাধিকবার লক্ষ্য করি যে, লেখক রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপদেশাবলি এবং খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজছেন। এক্ষেত্রে তিনি মুসলমানদের এই বিশ্বাসের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করেন না যে, পবিত্র কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর সংরক্ষক হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন: দুনিয়ার প্রতি বিরাগভাজনদের পুরস্কার হিসেবে জান্নাতকে শাশ্বত বিবাহ উৎসব হিসেবে বর্ণনা করা স্পষ্টভাবে খ্রিষ্টীয় সন্ন্যাসব্রতের কিতাবগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে। (৩) সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (১/৮৭)।

(২) ঠিক পূর্ববর্তী একই উৎস।

(৩) একই উৎস (১/৭৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
كما يقول: بهذا يتبين لنا أن محمدا كان على معرفة واسعة بقصص الكتاب المقدس وإنْ نقلها بشكل آخر، وهذا ما جعل بعض الباحثين يظنون أنها غير مأخوذة من الكتاب المقدس نفسه بل هي من الرصيد الأسطوري السامي. (1) اهـ

ويظهر انتقاد المؤلف لكثير من الأحداث التاريخية من تقويمه لأفعال النبي صلى الله عليه وسلم وأقوال أصحاب السير، ملخصا لأهمية هجرة النبي صلى الله عليه وسلم والأحداث التي صاحبتها يقول بولشاكوف: من المميز أن مؤرخي العصور الوسطى، الذين يحبون أن تزين كتبهم بكثير من الخطابات البليغة للشخصيات التاريخية صحيحة كانت أوموضوعة، لم يذكروا أي خطبة لمحمد في قباء. كما لم يحظ هذا الحدث العظيم في حياة الأمة بأي ذكر في القرآن. وهذا يبين لنا أن محمدا كان يتعرف على مصادر القوى، ويخاف من الأقوال المتهورة التي قد تفسد كل شيء. (2) اهـ

ينظر المؤلف بسخرية إلى أن وقوف ناقة الرسول صلى الله عليه وسلم عند بني النجار عند قدومه إلى المدينة كان من توفيق الله لها، مستدلا بأن أخوال النبي صلى الله عليه وسلم كانوا من هذه القبيلة، يقول بولشاكوف: ولا شك أن هذا الاختيار لم يكن عفويا؛ لأن محمدا كان يشعر باطمئنان عند أخواله أكثر من أي مكان آخر، وإشارته إلى أنه كان من توفيق الله للناقة خلصت محمداً من الشبه واللوم، (ثم يقول زاعماً) : إنه فضَّل أقرباءه على غيرهم. (3) اهـ

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه (1/78) .

(2) المصدر نفسه (1/90 – 91) .

(3) المصدر نفسه (1/91) .
যেমন তিনি বলেন: এর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, মুহাম্মাদ বাইবেলের কাহিনীগুলো সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান রাখতেন, যদিও তিনি তা ভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণনা করেছেন। আর এটিই কিছু গবেষককে এই ধারণা করতে পরিচালিত করেছে যে, সেগুলো সরাসরি বাইবেল থেকে নেওয়া হয়নি, বরং সেগুলো সেমিটিক পৌরাণিক ভাণ্ডার থেকে সংগৃহীত। (১) সমাপ্ত।

লেখকের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সমালোচনা ফুটে ওঠে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলী এবং সীরাত রচয়িতাদের বক্তব্যের মূল্যায়নের মাধ্যমে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিজরতের গুরুত্ব এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলীর সারসংক্ষেপ করতে গিয়ে বোলশাকভ বলেন: এটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ যে, মধ্যযুগের ইতিহাসবিদগণ—যারা তাদের গ্রন্থগুলোকে ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের অনেক বাগ্মিতাপূর্ণ ভাষণের মাধ্যমে সজ্জিত করতে পছন্দ করেন, তা সঠিক হোক বা বানোয়াট—তারা কুবাতে মুহাম্মাদের কোনো ভাষণের কথা উল্লেখ করেননি। যেমন উম্মাহর জীবনের এই মহান ঘটনাটি কুরআনেও কোনো উল্লেখ পায়নি। এটি আমাদের দেখায় যে, মুহাম্মাদ শক্তির উৎসগুলো চিহ্নিত করছিলেন এবং তিনি এমন হঠকারী উক্তিকে ভয় পেতেন যা সবকিছু নষ্ট করে দিতে পারে। (২) সমাপ্ত।

লেখক উপহাসের সাথে দেখেন যে, মদিনায় আগমনের সময় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উটনীর বনু নাজ্জারের নিকট অবস্থান করা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফীকস্বরূপ ছিল। এর স্বপক্ষে তিনি যুক্তি দেখান যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মামারা ছিলেন এই গোত্রের। বোলশাকভ বলেন: নিঃসন্দেহে এই নির্বাচনটি স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না; কারণ মুহাম্মাদ অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে তাঁর মামার বাড়িতে বেশি স্বস্তি অনুভব করতেন। আর উটনীর ক্ষেত্রে এটি আল্লাহর তাওফীক ছিল বলে তাঁর ইঙ্গিত প্রদান করাটি মুহাম্মাদকে সন্দেহ ও তিরস্কার থেকে মুক্তি দিয়েছিল। (অতঃপর তিনি দাবি করে বলেন): তিনি অন্যদের তুলনায় নিজের আত্মীয়দের প্রাধান্য দিয়েছেন। (৩) সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (১/৭৮)।

(২) একই উৎস (১/৯০ – ৯১)।

(৩) একই উৎস (১/৯১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ويصف المؤلف أمر الرسول صلى الله عليه وسلم بإرسال جيش أسامة إلى الشمال بالغرابة والسفاهة، فيقول: كيف نفسر هذا الأمر الغريب، المتمثل في إرسال أفضل المجاهدين إلى جهة ليس فيها أي خطر وترك بدون حماية من كان مستهدفا؟ هل هذا من الجهل التام بالأوضاع وعلى كل حال أمره بترك المدينة من غير حماية مدة شهر كان غير مناسب. ولعل أمره بالزحف إلى الشمال كان حماسيا محضا لأنه شعر بتدهور حالته الصحية، وهذا ما كان غير واضح لأصحابه، فقرر قبل فوات الأوان أن ينتقم من قتلة حِبِّه زيد، وإن كان هذا التصرف غير لائق بشخصية سياسية كبيرة، من الناحية الإنسانية. (1) اهـ

لقد استخدم بولشاكوف كل الفرص لإتهام المؤرخين المسلمين بالتحيز، ودافع أكثر من مرة عن المنافقين، وعلى رأسهم عبد الله بن أبي بن سلول. فنجده عند ذكر إخراج بني قينقاع من المدينة يثني على هذا المنافق، حيث يذكر أنه ناشد الرسول صلى الله عليه وسلم بعدم قتلهم ثم حاول إقناعه بعدم إخراجهم. (2) وأثناء كلامه عن غزوة أحد ويعد تولي عبد الله مع ثلاثمائة جندي، رأيا صائبا نظرا لقصده عدم ترك المدينة بدون دفاع. (3) اهـ

ولا يستطيع بولشاكوف إخفاء كراهيته لنجاح المسلمين ووحدتهم ويحاول دائما أن يقنع القارئ بأنه كانت هناك خلافات كثيرة بينهم. وأحيانا يفترض في سبيل ذلك فرضيات غير معقولة، مثلا عند ذكره لرجوع المهاجرين من الحبشة إلى المدينة يقول: من المحتمل أن بين جعفر ومحمد

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه (1/185) .

(2) المصدر نفسه (1/108) .

(3) المصدر نفسه (1/114) .
লেখক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক উত্তর অভিমুখে উসামার বাহিনী প্রেরণের আদেশকে অদ্ভুত ও নির্বুদ্ধিতা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সর্বোত্তম মুজাহিদদের এমন এক দিকে প্রেরণ করা যেখানে কোনো বিপদ নেই এবং যাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তাকে সুরক্ষা ছাড়াই রেখে আসা—এই অদ্ভুত আদেশকে আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করব? এটি কি পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা? যাই হোক না কেন, এক মাস যাবত মদীনাকে সুরক্ষা বিহীন অবস্থায় রেখে যাওয়ার আদেশটি ছিল অনুপযুক্ত। সম্ভবত উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার আদেশটি ছিল নিছক আবেগপ্রসূত, কারণ তিনি তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি অনুভব করেছিলেন, যা তাঁর সাহাবীদের কাছে স্পষ্ট ছিল না। তাই তিনি সময় শেষ হওয়ার আগেই তাঁর প্রিয় জায়েদের হত্যাকারীদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যদিও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই আচরণটি একজন মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জন্য অশোভন ছিল। (১) সমাপ্ত।

বলশাকভ মুসলিম ঐতিহাসিকদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত করার প্রতিটি সুযোগ ব্যবহার করেছেন এবং মুনাফিকদের পক্ষে একাধিকবার ওকালতি করেছেন, যাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল। বনু কায়নুকাকে মদীনা থেকে বহিষ্কারের কথা উল্লেখ করার সময় আমরা তাকে এই মুনাফিকের প্রশংসা করতে দেখি; সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের হত্যা না করার জন্য অনুরোধ করেছিল এবং পরে তাদের বহিষ্কার না করার জন্য তাঁকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল। (২) ওহুদ যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনার সময় তিনি আবদুল্লাহর তিনশ সৈন্য নিয়ে ফিরে আসাকে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে গণ্য করেন, কারণ তার উদ্দেশ্য ছিল মদীনাকে প্রতিরক্ষা বিহীন অবস্থায় ছেড়ে না যাওয়া। (৩) সমাপ্ত।

বলশাকভ মুসলিমদের সাফল্য ও ঐক্যের প্রতি তাঁর ঘৃণা গোপন করতে পারেন না এবং সর্বদা পাঠককে এটা বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তাদের মধ্যে অনেক মতভেদ ছিল। এই উদ্দেশ্যে তিনি মাঝে মাঝে অযৌক্তিক ধারণা পোষণ করেন; যেমন হাবশা থেকে মুহাজিরদের মদীনায় ফেরার কথা উল্লেখ করার সময় তিনি বলেন: সম্ভবত জাফর এবং মুহাম্মাদের মধ্যে

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (১/১৮৫) ।

(২) একই উৎস (১/১০৮) ।

(৩) একই উৎস (১/১১৪) ।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
خلافات غير مذكورة في المراجع الإسلامية. وإلا فكيف نفسر أن بعض المهاجرين وجدوا فرصة للقدوم إلى المدينة بعد غزوة بدر مباشرة، وقريبه جعفر انتظر أربع سنين بعد ذلك. (1) اهـ

تحليلا لمراحل تكوين العبادات الإسلامية يستنتج المؤلف أنها تألفت من خلال النقاش المباشر وغير المباشر مع اليهود فيشير إلى اتخاذ المسلمين بيت المقدس قبلة، وصيامهم يوم عاشوراء، وجواز أكل طعام أهل الكتاب. ولكن استنتاجاته بعيدة عن الصواب، وفي بعضها قلة أدب مع الرسول صلى الله عليه وسلم. ونذكر على سبيل المثال قوله: كان محمد في بداية دعوته مقتنعا أن حنيفيته هي عقيدة التوراة نفسها، وربما مناظرته مع اليهود ذكرت حتى في السور المكية، والأرجح أن هذا نتيجة التحرير المتأخر. ومن أول لقاء مع اليهود تبين أنهم قبلوه قاضيا عاما ولكن رفضوا إرشاداته الدينية، وكانت تصورات محمد المضطربة عن قصص أهل الكتاب موضع سخرية عند اليهود الذين تعلموها منذ نعومة أظفارهم (2) . اهـ

وأيُّ ذكر للملائكة والجن والمعجزات يحسبها بولشاكوف من عناصر الأسطورة الإسلامية المخترعة من طرف المؤرخين لتزيين الأحداث الحقيقية، وفي بعض الأحيان يربط هذا بأسباب أخرى. مثلا يستغرب من مناصرة آلاف من الملائكة للمسلمين في غزوة بدر، فيقول: إن هزيمة أقوى الخصمين أدهشت الطرفين كليهما، ولشرحها ظهرت أسطورة عن مساعدة ألف مَلَك

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه (1/150) .

(2) المصدر نفسه (1/104-105) .
ইসলামি উৎসগুলোতে উল্লিখিত নেই এমন মতভেদ। অন্যথায় আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করব যে কিছু মুহাজির বদর যুদ্ধের পরপরই মদিনায় আসার সুযোগ পেয়েছিলেন, অথচ তার আত্মীয় জাফর এরপর আরও চার বছর অপেক্ষা করেছিলেন। (১) সমাপ্ত।

ইসলামি ইবাদতসমূহ গঠনের পর্যায়গুলো বিশ্লেষণ করে লেখক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ইহুদিদের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে এগুলো গঠিত হয়েছে। তাই তিনি মুসলমানদের বাইতুল মাকদিসকে কিবলা হিসেবে গ্রহণ করা, আশুরার দিনে রোজা রাখা এবং আহলে কিতাবের খাবার খাওয়া বৈধ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। কিন্তু তার সিদ্ধান্তগুলো সঠিকতা থেকে অনেক দূরে এবং এর কিছু অংশে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি শিষ্টাচার বহির্ভূত কথা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ আমরা তার এই উক্তিটি উল্লেখ করতে পারি: মুহাম্মদ তার দাওয়াতের শুরুতে এই বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন যে তার হানিফিয়াত বা একত্ববাদ তাওরাতের আকিদার মতোই এবং সম্ভবত ইহুদিদের সাথে তার বিতর্ক এমনকি মক্কি সূরাগুলোতেও উল্লেখ করা হয়েছে, আর অধিকতর সঠিক কথা হলো এটি পরবর্তী সম্পাদনার ফলাফল। ইহুদিদের সাথে প্রথম সাক্ষাতেই এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে তারা তাকে একজন সাধারণ বিচারক হিসেবে গ্রহণ করলেও তার ধর্মীয় নির্দেশনাসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল। আর আহলে কিতাবদের কিসসা বা ঘটনাবলি সম্পর্কে মুহাম্মদের বিভ্রান্তিকর ধারণাগুলো সেই ইহুদিদের কাছে উপহাসের বিষয় ছিল, যারা শৈশব থেকেই তা শিখে আসছিল। (২) সমাপ্ত।

আর ফেরেশতা, জিন এবং মুজিজা বা অলৌকিক ঘটনার যেকোনো উল্লেখকে বলশাকভ ইতিহাসবিদদের দ্বারা উদ্ভাবিত ইসলামি রূপকথার উপাদান হিসেবে গণ্য করেন, যা প্রকৃত ঘটনাগুলোকে অলংকৃত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং কখনো কখনো তিনি একে অন্য কারণের সাথে যুক্ত করেন। উদাহরণস্বরূপ, বদর যুদ্ধে হাজার হাজার ফেরেশতার মাধ্যমে মুসলমানদের সাহায্য প্রাপ্তিতে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বলেন: দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে শক্তিশালী পক্ষের পরাজয় উভয় পক্ষকেই বিস্মিত করেছিল এবং এটি ব্যাখ্যা করার জন্য এক হাজার ফেরেশতার সাহায্যের রূপকথা আবির্ভূত হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (১/১৫০)।

(২) একই উৎস (১/১০৪-১০৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
للمسلمين إجابة لدعوة محمد، وهذا الشرح كان يناسب تماما الطرف المهزوم حفاظا على ماء وجوههم؛ لأن الوقوع في الأسر من طرف عدو ضعيف شيء، ومن طرف ملائكة في هيئة إنسان شيء آخر. (1) اهـ

وينفي المؤلف تلك العوامل التي أثرت بشكل أساس في سير أحداث غزوة الخندق، مثل إرسال الله الريح والجنود من السماء، كما لا يعد من عوامل الانتصار الأساسية الخطة الجديدة التي لم يعهدها العرب واختارها المسلمون بمشورة سلمان الفارسي. ويرى تفوق المسلمين في المجال العقدي فيقول: إن طبيعة البدو الفردية، التي تلزم الفرد بالواجبات نحو عدد محدود من الناس، واجهت خدمة غير مشروطة للعقيدة التي تجعل الفرد يتخلى ليس فقط عن مصالحه الشخصية ولكن عن الأسس الأدبية التي تألفت عبر القرون كذلك. إن الطرف الواحد يشن غارة على عدوه بجرأة ولكن يتوقف عند المقاومة التي تهدده بخسائر بالغة، ويدبر أموره باحتراس من الثأر. وأما الطرف الآخر كل شيء لديه مسخر للهدف الأعظم، الذي لا يمكن مقارنته بأي أهواء شخصية ولا تصورات الجاهلية للخير والشر. (2) اهـ

وحتى هذه التعليلات المادية يعدها المؤلف أحياناً غير كافية لشرح انتصارات المسلمين. ولاسيما عندما يتحدث عن الغنائم الكثيرة التي أصابها الصحابة في غزوة بني النضير "خمسين درعا، وخمسين بيضة، وثلاثمائة

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه (1/101) .

(2) المصدر نفسه (1/135) .
মুসলমানদের জন্য মুহাম্মাদের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার বিষয়টি ছিল, এবং এই ব্যাখ্যাটি পরাজিত পক্ষের জন্য তাদের মান-সম্মান রক্ষার খাতিরে পুরোপুরি উপযুক্ত ছিল; কারণ কোনো দুর্বল শত্রুর হাতে বন্দী হওয়া এক কথা, আর মানুষের রূপধারী ফেরেশতাদের হাতে বন্দী হওয়া অন্য কথা। (১) সমাপ্ত।

লেখক সেইসব কারণসমূহ অস্বীকার করেছেন যা খন্দকের যুদ্ধের ঘটনাক্রমের ওপর মৌলিকভাবে প্রভাব ফেলেছিল, যেমন আল্লাহর পক্ষ থেকে বায়ু এবং আসমান থেকে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ। একইভাবে, তিনি সেই নতুন পরিকল্পনাকেও বিজয়ের মূল কারণসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেননি যা আরবরা আগে কখনও দেখেনি এবং যা সালমান ফারসির পরামর্শে মুসলমানরা গ্রহণ করেছিল। তিনি আকিদাগত ক্ষেত্রে মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রত্যক্ষ করেন এবং বলেন: যাযাবরদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বভাব, যা একজন ব্যক্তিকে কেবল সীমিত সংখ্যক মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনে বাধ্য করে, তা আকিদার এমন এক নিঃশর্ত সেবার মুখোমুখি হয়েছিল যা ব্যক্তিকে কেবল তার ব্যক্তিগত স্বার্থই নয়, বরং শত শত বছর ধরে গড়ে ওঠা সেসব চারিত্রিক ভিত্তিগুলোও ত্যাগ করতে বাধ্য করে। এক পক্ষ সাহসের সাথে তাদের শত্রুর ওপর আক্রমণ চালায় কিন্তু এমন প্রতিরোধের সম্মুখীন হলে থেমে যায় যা তাদের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন করার হুমকি দেয়, এবং তারা প্রতিশোধের ভয়ে সতর্কতার সাথে নিজেদের কার্যাবলি পরিচালনা করে। পক্ষান্তরে অপর পক্ষের নিকট সবকিছুই সেই মহান উদ্দেশ্যের জন্য নিবেদিত, যার সাথে কোনো ব্যক্তিগত কামনা-বাসনা কিংবা ভালো-মন্দের ব্যাপারে জাহেলি ধারণার কোনো তুলনা হয় না। (২) সমাপ্ত।

এমনকি এই বস্তুগত ব্যাখ্যাগুলোকেও লেখক মাঝে মাঝে মুসলমানদের বিজয় বর্ণনার জন্য অপর্যাপ্ত মনে করেন। বিশেষ করে যখন তিনি বনু নাযিরের যুদ্ধে সাহাবীদের অর্জিত প্রচুর গনিমত সম্পর্কে আলোচনা করেন: "পঞ্চাশটি বর্ম, পঞ্চাশটি শিরস্ত্রাণ এবং তিনশত...

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (১/১০১) ।

(২) একই উৎস (১/১৩৫) ।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأربعين سيفا"، يتعجب فيقول: كيف لم تستطع هذه المجموعة من الرجال المدججين بالأسلحة أن تصمد أمام العدد نفسه من المسلمين (1) .

فالمؤرخ المبهوت لم يجد جوابا عن هذا السؤال. ولكنه لم ينسب كل معجزات النبي صلى الله عليه وسلم إلى الأساطير الخرافية، وأحيانا يحاول أن يجد لها تأويلات معقولة. مثلا يقول تعليقا عن قصة غرز الرسول صلى الله عليه وسلم لسهمه في قاع البئر وانفجار الماء منها: ربما هذا ليس تلفيقا لأن محمدا كان بإمكانه معرفة خصائص هذه البئر، فغرز سهمه في المكان المناسب. (2) اهـ

ومن هذا القبيل تعليقه على إخبار النبي صلى الله عليه وسلم عن أحداث معركة مؤتة واستشهاد زيد بن حارثة وجعفر بن أبي طالب وعبد الله بن رواحة - رضوان الله عليهم أجمعين - بأن رجلا يكنى بأبي عامر رجع من الشام قبل خالد بن الوليد وجيشه فأخبر النبي صلى الله عليه وسلم بما حدث، ويعتمد المؤلف في هذا القول على رواية ابن سعد (3) .

وفي آخر الكتاب يحاول بولشاكوف تحليل حياة النبي صلى الله عليه وسلم بشكل عام ولا يخفى ذهوله من النجاح الباهر للدعوة الإسلامية، فيقول: محمد ترك لأتباعه نظاما دينيا كاملا مرتبطا بشخصيته يحتوي كل ما يحتاج إليه الإنسان من معرفة حقيقة العبد والإله إلى العبادات المنظمة بدقة. (4) اهـ

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه (1/120) .

(2) المصدر نفسه (1/144) .

(3) المصدر نفسه (1/156) .

(4) المصدر نفسه (1/187) .
এবং চল্লিশটি তলোয়ার," তিনি বিস্মিত হয়ে বলেন: কীভাবে অস্ত্রে সজ্জিত এই একদল লোক সমসংখ্যক মুসলমানের সামনে টিকে থাকতে পারল না (১)।

বিস্ময়াভিভূত ঐতিহাসিক এই প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পাননি। তবে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমস্ত মুজিজাকে কাল্পনিক উপকথা হিসেবে আখ্যায়িত করেননি, বরং কখনো কখনো তিনি সেগুলোর যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেন। উদাহরণস্বরূপ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কূয়ার তলদেশে তীর বিদ্ধ করা এবং সেখান থেকে সজোরে পানি প্রবাহিত হওয়ার ঘটনার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন: সম্ভবত এটি কোনো সাজানো গল্প নয়, কারণ মুহাম্মাদের পক্ষে এই কূয়ার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা সম্ভব ছিল, তাই তিনি উপযুক্ত স্থানে তার তীরটি বিদ্ধ করেছিলেন। (২) সমাপ্ত।

অনুরূপভাবে, মুতা যুদ্ধের ঘটনাবলী এবং যায়েদ ইবনে হারিসাহ, জাফর ইবনে আবি তালিব ও আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা—আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর শাহাদাত সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্বেই সংবাদ দেওয়ার বিষয়ে তার মন্তব্য হলো—আবু আমের উপনামধারী এক ব্যক্তি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ও তাঁর সেনাবাহিনীর আগেই সিরিয়া থেকে ফিরে এসেছিলেন এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যা ঘটেছিল তা জানিয়েছিলেন; লেখক তাঁর এই বক্তব্যের ক্ষেত্রে ইবনে সা’দ-এর বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন (৩)।

বইটির শেষে বলশাকভ সাধারণভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেন এবং ইসলামি দাওয়াতের এই অভাবনীয় সাফল্যে তাঁর বিস্ময় ফুটে ওঠে; তিনি বলেন: মুহাম্মাদ তাঁর অনুসারীদের জন্য তাঁর ব্যক্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় ব্যবস্থা রেখে গেছেন, যাতে বান্দা ও ইলাহ-এর প্রকৃত পরিচয় লাভ থেকে শুরু করে সূক্ষ্মভাবে সুশৃঙ্খল ইবাদতসমূহ পর্যন্ত মানুষের প্রয়োজনীয় সবকিছুই বিদ্যমান। (৪) সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (১/১২০)।

(২) একই উৎস (১/১৪৪)।

(৩) একই উৎস (১/১৫৬)।

(৪) একই উৎস (১/১৮৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইহতিমামু বিস সিরাতিন নববিয়্যাতি বিলুগাতির রুসিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ثم يقول: إن محمدا أسس أمة جديدة غير مقيدة بالعرى القبلية، وليس فيها خضوع لقبيلة ما، أو منطقة ما لقبيلة أخرى رغم أن كثيرا من القبائل عدّوا الإسلام خضوعا لقريش، وأفراد هذه الأمة اجتمعوا على أساس شعور داخلي، ولكن هذه الأمة ما كانت حينئذ دولة ذات نظام مالي موجه وهيكل إداري وجيش. إن محمداً لم يترك أي أحكام تختص بقيادة الأمة، فلم يرث المسلمون إلا بعض الأحداث السياسية من سيرته والتجارب السياسية لدى المشركين، فكان عليهم إعادة فهمها على ضوء العقيدة الجديدة (1) اهـ.

وخلاصة القول أن كتاب ((تاريخ الخلافة)) يعد أكثر تفصيلا لما كتب عن سيرة النبي صلى الله عليه وسلم باللغة الروسية. ورغم أن للمؤلف اتجاها إلحاديا وتقويما خاطئا لبعض الأحداث التاريخية، فإن هذا الكتاب يستحق دراسة من قِبل علماء المسلمين لما فيه من تحليلات لها أهميتها عند المستشرقين الذين غزوا عقول عامة المسلمين وبخاصة في الديار التي كانت تحت سيطرتهم، فلبسوا الحق بالباطل، وأضلُّوهم عن الطريق السوي.

والآن ننتقل للحديث عن كتاب ((النبي محمد)) للمستشرقَين السوفياتيين بانوفا وفاختين، فلهذا الكتاب مكانة خاصة بين كتب السيرة النبوية باللغة الروسية لأن أسلوبه يختلف عن أساليب كثير من كتب المستشرقين. فعلى الرغم من أن المؤلفَين اعتمدا على المراجع الموثوقة وذكرا فضائل الرسول صلى الله عليه وسلم وأظهرا حرصهما لبيان الحق إلا أن أساس هذا الكتاب هو الكفر بالله وملائكته وكتبه ورسله. فبانوفا لا تصدق بالأخبار التي تذكر فيها معجزات رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتحاول أحيانا أن تفسرها بالظواهر الطبيعية والحوادث التي لم

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه (1/188) .
অতঃপর তিনি বলেন: মুহাম্মদ একটি নতুন উম্মাহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা গোত্রীয় বন্ধনে আবদ্ধ ছিল না এবং এতে কোনো নির্দিষ্ট গোত্রের প্রতি বা কোনো এক অঞ্চলের অন্য কোনো গোত্রের প্রতি বশ্যতা ছিল না, যদিও অনেক গোত্রই ইসলামকে কুরাইশদের প্রতি আনুগত্য বলে গণ্য করেছিল। এই উম্মাহর সদস্যরা একটি অভ্যন্তরীণ অনুভূতির ভিত্তিতে একত্রিত হয়েছিল, কিন্তু সেই সময় এই উম্মাহ কোনো পরিচালিত আর্থিক ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং সেনাবাহিনী সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ছিল না। মুহাম্মদ উম্মাহর নেতৃত্বের ব্যাপারে বিশেষ কোনো বিধান রেখে যাননি, তাই মুসলমানরা তাঁর সীরাত থেকে কিছু রাজনৈতিক ঘটনা এবং মুশরিকদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ব্যতীত অন্য কিছু উত্তরাধিকারসূত্রে পায়নি। ফলে নতুন আকিদার আলোকে সেগুলো পুনরায় বোঝার দায়িত্ব তাদের উপর বর্তায় (১) সমাপ্ত।

সারকথা হলো, 'তারিখুল খিলাফাহ' (খিলাফতের ইতিহাস) বইটি রুশ ভাষায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত সম্পর্কে যা লেখা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বিস্তারিত বলে বিবেচিত হয়। যদিও লেখকের নাস্তিক্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার ভুল মূল্যায়ন রয়েছে, তবুও মুসলিম আলেমদের পক্ষ থেকে এই বইটি অধ্যয়নের দাবি রাখে। কারণ এতে এমন কিছু বিশ্লেষণ রয়েছে যা প্রাচ্যবিদদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যারা সাধারণ মুসলমানদের মনোজগতে আক্রমণ চালিয়েছে, বিশেষ করে সেই সব অঞ্চলে যা তাদের অধীনে ছিল। ফলে তারা সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে এবং তাদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছে।

এখন আমরা সোভিয়েত প্রাচ্যবিদ পানোভা এবং ভাখতিন রচিত 'নবী মুহাম্মদ' বইটি সম্পর্কে আলোচনা করব। রুশ ভাষায় রচিত সীরাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে এই বইটির একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, কারণ এর রচনাশৈলী অনেক প্রাচ্যবিদের বইয়ের শৈলী থেকে ভিন্ন। যদিও লেখকদ্বয় নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলী উল্লেখ করেছেন এবং সত্য প্রকাশের প্রতি তাদের আগ্রহ দেখিয়েছেন, তবুও এই বইয়ের ভিত্তি হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি কুফরি করা। পানোভা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজিযা বা অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা সম্বলিত সংবাদগুলো বিশ্বাস করেন না এবং মাঝেমধ্যে সেগুলোকে এমন প্রাকৃতিক পরিঘটনা ও পরিস্থিতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন যা...

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (১/১৮৮)।