(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: -)
الرد على الرفاعي والبوطي في كذبهما على أهل السنة ودعوتهما إلى البدع والضلال القسم: الفرق والردود
الكتاب: الرد على الرفاعي والبوطي في كذبهما على أهل السنة ودعوتهما إلى البدع والضلال
المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر
الناشر: دار ابن الأثير، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1421هـ/2000م
عدد الصفحات: 147
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আহলুস সুন্নাহর প্রতি মিথ্যাচার এবং বিদআত ও পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বানের বিষয়ে রিফায়ি ও বুতির খণ্ডন বিভাগ: দল-উপদল ও খণ্ডন
গ্রন্থ: আহলুস সুন্নাহর প্রতি মিথ্যাচার এবং বিদআত ও পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বানের বিষয়ে রিফায়ি ও বুতির খণ্ডন
লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বদর
প্রকাশক: দার ইবনুল আসির، রিয়াদ، সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হিজরি/২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ৩)
الرَّدٌّ على الرفاعي والبوطي في كذبهما على أهل السنة ودعوتهما إلى البدع والضلال
إعداد: عبد المحسن بن حمد العباد البدربسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام الأتَمَّان الأكملان على سيِّد المرسَلين وإمام المتقين، نبيِّنا محمد وعلى آله وأصحابه ومن تَبعهم بإحسان إلى يوم الدِّين، أمَّا بعد:
فقد اطَّلعتُ على أوراقٍ للكاتب الأستاذ يوسف هاشم الرِّفاعي سوَّدها بِما زعمَ أنَّه نصيحةٌ لعلماء نَجد، أَفرَغ فيها ما في جُعبتِه وجُعَبِ الذين تعاونوا معه على الإثمِ والعدوان، من تهجُّمٍ على مَن زعم نُصحَهم وكذبٍ عليهم ودعوةٍ إلى البدعِ والضلال، وكأنَّه لَم يَجد في بلدِه الكويت مَن يَشُدُّ أَزرَه على وِزرِه، فيَمَّم نحوَ الشام ليجِد في الدكتور محمد سعيد رمضان البوطي بُغيتَه المطلوبة وضالَّتَه المنشودة، فيُقدِّمَ لأوراقِه، ويتَّفِقَ معه في الوقيعة
আহলে সুন্নাতের প্রতি মিথ্যাচার এবং বিদআত ও গোমরাহীর দিকে আহ্বানের বিষয়ে রিফায়ি ও বুতির জবাবপ্রস্তুতকারী: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বদরপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর পূর্ণাঙ্গ ও সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার ও মুত্তাকীদের ইমাম আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। অতপর:
আমি লেখক জনাব ইউসুফ হাশেম রিফায়ির কিছু লিখনী প্রত্যক্ষ করেছি, যা তিনি নজদ অঞ্চলের উলামায়ে কেরামের প্রতি তথাকথিত নসীহত (উপদেশ) হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এতে তিনি তার ঝুলি এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে তাকে সহায়তাকারীদের ঝুলিতে যা ছিল—যাদের তিনি নসীহত করার দাবি করেছেন তাদের ওপর আক্রমণ, মিথ্যাচার এবং বিদআত ও গোমরাহীর প্রতি আহ্বান—সব উজাড় করে দিয়েছেন। মনে হচ্ছে তিনি স্বীয় দেশ কুয়েতে এমন কাউকে পাননি যিনি তার এই পাপের বোঝাকে সমর্থন করবেন; তাই তিনি শামের দিকে পাড়ি জমিয়েছেন যাতে ডক্টর মুহাম্মাদ সাঈদ রমাদান আল-বুতির মাঝে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও অভীষ্ট বস্তুর দেখা পান, যিনি তার এই লিখনীর ভূমিকা লিখেছেন এবং অপবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার সাথে একমত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ৪)
بالمتمسِّكين بالكتاب والسُنَّة وما كان عليه سلف الأمَّة.
وقبل مناقشتِه في كثير مِمَّا اشتَملت عليه أوراقُه أُشيرُ إجمالاً إلى أمور هي:
1 جعل الكاتبُ ما زعمه نصيحةً موجَّهاً لعلماء نجد، وهو في الحقيقةِ موجَّهٌ لكلِّ ملتزمٍ بالكتاب والسُنَّة وما كان عليه سلفُ الأمَّة.
2 أَورَدَ الكاتبُ أموراً عابَها على مَن زعم نصحَهم، وهي من الحقِّ الذي لَم يُوفَّق للهدايةِ إليه هداه الله وأصلح حالَه.
3 أورَدَ أموراً هي من البدعِ ومُحدَثات الأمور عاب على مَن زعم نصحَهم عدمَ الأخذِ بها، ودعوتَهم إلى تركِها والابتعادِ عنها.
4 عاب على مَن زعم نصحَهم أموراً لا حقيقةَ لها، وهم بُرآءُ منها.
5 أورَد أموراً لاحَظَها على فردٍ أو أفرادٍ وأسندها إلى مَن زعم نُصحَهم؛ ليُكثِّر بذلك خصومَه يوم القيامة.
যারা কিতাব ও সুন্নাহ এবং উম্মতের পূর্বসূরিগণ (সালাফ) যার ওপর ছিলেন, তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন।
তার লেখায় অন্তর্ভুক্ত অনেক বিষয়ে আলোচনার পূর্বে আমি সংক্ষেপে কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করছি, যা হলো:
১. লেখক তার কথিত উপদেশকে নজদের আলেমদের প্রতি নিবদ্ধ করেছেন, অথচ প্রকৃতপক্ষে তা কিতাব ও সুন্নাহ এবং উম্মতের পূর্বসূরিদের (সালাফ) পথের অনুসারী প্রত্যেকের উদ্দেশ্যেই নিবেদিত।
২. লেখক এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি সেই ব্যক্তিদের নিন্দা করেছেন যাদের তিনি উপদেশ দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন; অথচ সেগুলো সত্যের অন্তর্ভুক্ত, যা অনুসরণের তাওফিক তিনি পাননি। আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করুন এবং তার অবস্থা সংশোধন করুন।
৩. তিনি এমন কিছু বিষয় উপস্থাপন করেছেন যা বিদআত এবং নব-আবিষ্কৃত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; অথচ তিনি যাদের উপদেশ দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন, তাদের সমালোচনা করেছেন এজন্য যে, তারা এগুলো গ্রহণ করেননি এবং এগুলো বর্জন ও তা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
৪. তিনি যাদের উপদেশ দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন, তাদের এমন কিছু বিষয়ে অভিযুক্ত করেছেন যার কোনো ভিত্তি নেই এবং তারা সেসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
৫. তিনি এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা তিনি কোনো ব্যক্তি বা কতিপয় ব্যক্তির মাঝে লক্ষ্য করেছেন, অথচ তা সেই ব্যক্তিদের ওপর আরোপ করেছেন যাদের তিনি উপদেশ দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন; এর মাধ্যমে তিনি যেন কিয়ামতের দিন নিজের প্রতিপক্ষের সংখ্যাই বৃদ্ধি করলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ৫)
6 شمل الكاتبُ بعطفِه وشفقتِه الفِرَقَ المختلفة، بل حتى السّحَرةَ ومُهربيِّ المخدرات، ولَم يبخَل بذلك إلَاّ على مَن زعم نصحَهم، وكأنَّه ليس أمامَه في الميدانِ إلَاّ مَن يتَّبع الكتاب والسُنَّة وما كان عليه سلف هذه الأمة.
7 تعرَّض في أوراقِه للنيل من حُكَّام المملكة وقُضاتِها ومُفتيها وبعضِ الأئمَّة والخُطباء، وكيفية القبول في الجامعات، وتعيين الخرِّيجين والدعاة وغير ذلك، فكان بذلك مُجيداً لِما يُقال له: التدخُّل في الشؤون الداخلية.
وذكّرني صنيعُه هذا كلمةً قالَها الإمامُ يحيى بن معين رحمه الله في أحد الرواة، حيث قال: "يُفسدُ نفسَه، يدخل في كلِّ شيء"!
8 كلُّ ما في أوراق الكاتب يُوافقه عليه الدكتور محمد سعيد رمضان البوطي، كما ذكر ذلك في تقديمِه للأوراق، وكلُّ ردٍّ على الكاتبِ هو ردٌّ على المقدِّم لها.
وهذا أوانُ الشروع في مناقشة الكاتب في بعض ما اشتملت عليه أوراقُه، وما يُذكر دليلٌ على ما لَم يُذكر.
6 লেখক তার সহানুভূতি ও মমত্ববোধের ছায়াতলে বিভিন্ন দল-উপদল, এমনকি জাদুকর ও মাদক কারবারিদেরও শামিল করেছেন; অথচ তিনি এই সহমর্মিতা থেকে কেবল তাদেরই বঞ্চিত করেছেন যাদের তিনি নসিহত করার দাবি করেছেন। দেখে মনে হয়, রণাঙ্গনে তার সামনে কেবল তারাই বর্তমান যারা কিতাব, সুন্নাহ এবং এই উম্মতের সালাফদের আদর্শ অনুসরণ করেন।
7 তিনি তার লেখায় এই রাজ্যের শাসকবর্গ, বিচারকবৃন্দ, মুফতিগণ এবং কিছু ইমাম ও খতিবদের সমালোচনা করেছেন। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া, স্নাতক ও দাঈদের নিয়োগদান এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়েও হস্তক্ষেপ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি তথাকথিত 'অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ' করার ক্ষেত্রে নিপুণতা প্রদর্শন করেছেন।
তার এই কর্মকাণ্ড আমাকে ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) একজন রাবী সম্পর্কে যে কথাটি বলেছিলেন তা স্মরণ করিয়ে দেয়; তিনি বলেছিলেন: "সে নিজেকে কলুষিত করছে, সে সব বিষয়ে নাক গলায়!"
8 লেখকের রচনায় যা কিছু বিধৃত হয়েছে, তার সবকিছুর সাথে ড. মুহাম্মদ সাঈদ রামাদান আল-বুতি একমত পোষণ করেছেন, যেমনটি তিনি ঐ রচনার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। সুতরাং লেখকের প্রতিটি প্রত্যুত্তর আসলে তার ভূমিকা লেখকেরই প্রত্যুত্তর।
লেখকের লেখনীতে স্থান পাওয়া কিছু বিষয়ের পর্যালোচনায় প্রবৃত্ত হওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়; আর যা উল্লেখ করা হলো তা অনুল্লিখিত বিষয়গুলোর প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ৬)
1- قال الكاتب: "كان أسلافُكم حنابلة المذهب يتَّبعون ويُقلِّدون مذهبَ الإمام الشيخ أحمد بن حنبل رضي الله تعالى عنه، ابتداءً من ابن تيمية وابن القيم".
ثم ذكر جماعةً من الحنابلةِ منهم: ابن قدامة المقدسي، وابن هُبيرة، ثمَّ قال: "وختاماً بالشيخ محمد بن عبد الوهاب وأولاده والمفتي محمد بن إبراهيم وابن حميد رحمهم الله تعالى جَميعاً ولكنَّكم الآن تخلَّيتم عن هذا المذهب، وقلتُم (إنَّكم سلفيُّون)
… وأنَّكم تلتزمون بالكتاب والسنة فقط
… ".
ويُجاب عن كلامه من وجوه:
الأول: أنَّه ذكر ابنَ قدامة وابنَ هبيرة بعد ابن تيمية وابن القيم وابن رجب وغيرهم، والواقع أنَّهما متقدِّمان عليهم؛ لأنَّ وفاةَ ابن تيمية سنة (728هـ) ، أما ابن قدامة فكانت وفاتُه سنة (620هـ) ، وقبله ابن هبيرة كانت وفاته سنة (560هـ) ، فلَم يُميِّز الكاتبُ بين مَن هو متقدِّمٌ ومَن هو متأخِّرٌ!
১- লেখক বলেছেন: "আপনাদের পূর্বসূরিরা হাম্বলি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং তাঁরা ইমাম শায়খ আহমদ ইবনে হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)-এর মাযহাব অনুসরণ ও অনুকরণ করতেন, যার সূচনা ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কায়্যিম থেকে।"
অতঃপর তিনি হাম্বলিগণের একটি দলের কথা উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি ও ইবনে হুবাইরা। এরপর তিনি বলেছেন: "এবং পরিশেষে শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব ও তাঁর বংশধরগণ এবং মুফতি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ও ইবনে হুমাইদ (আল্লাহ তা'আলা তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন) পর্যন্ত; কিন্তু বর্তমানে আপনারা এই মাযহাব পরিত্যাগ করেছেন এবং বলছেন যে (আপনারা সালাফি) ... এবং আপনারা কেবল কিতাব ও সুন্নাহর আনুগত্য করেন ...।"
তাঁর এই বক্তব্যের উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়:
প্রথমত: তিনি ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কায়্যিম, ইবনে রজব ও অন্যদের পরে ইবনে কুদামা ও ইবনে হুবাইরার নাম উল্লেখ করেছেন। অথচ বাস্তবতা হলো তাঁরা উভয়েই তাঁদের পূর্ববর্তী ছিলেন; কেননা ইবনে তাইমিয়ার মৃত্যু সাল হলো (৭২৮ হিজরি), আর ইবনে কুদামার মৃত্যু সাল হলো (৬২০ হিজরি), এবং তাঁরও আগে ইবনে হুবাইরা মৃত্যুবরণ করেন (৫৬০ হিজরিতে)। সুতরাং লেখক কে অগ্রবর্তী আর কে পরবর্তী—তার মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারেননি!
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ৭)
الثاني: أنَّ علماءَ نجد الذين وصفهم الكاتبُ بأنَّهم تَخلَّوا عن المذهب الحنبلي لَم يتخلَّوا عنه كما زعم، بل دَرَسوه ودرَّسوه، فالشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله كان يُدرِّس في كلية الشريعة بالرياض الروضَ المربع شرح زاد المستقنع، وأنا مِمَّن دَرَسَ عليه، والشيخ ابن عثيمين يُدرِّس زاد المستقنع، وقد طُبع من شرحه عدةُ مجلدات، وكذلك غيرهما، بل إنَّ الكاتبَ وغيرَه يسمعون في إذاعة القرآن الكريم شرحَ الشيخ صالح الفوزان "زاد المستقنع"، وشرح الشيخ عبد الرحمن الفريان "آداب المشي إلى الصلاة" للشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله.
وعلى هذا فهُم لَم يتخلَّوا عن المذهب الحنبليِّ، ولكنَّهم تَخلَّوا عن التعصُّب له، وإذا وُجد الدليلُ الصحيح على خلاف المذهب صاروا إلى ما دلَّ عليه الدليلُ.
وإذاً فلا فرقَ بين الذين زعم نصحَهم، ووصفهم بأَنَّهم تَخلَّوا عن المذهب الحنبليِّ، وبين مَن وصفهم باتِّباعه كابن تيمية وابن القيم وابن رجب وغيرِهم، فإنَّ الكلَّ درسوا
দ্বিতীয়ত: নজদ অঞ্চলের উলামায়ে কেরাম, যাদের সম্পর্কে লেখক বর্ণনা করেছেন যে তারা হাম্বলি মাযহাব পরিত্যাগ করেছেন, তারা আসলে তা পরিত্যাগ করেননি যেমনটি তিনি দাবি করেছেন; বরং তারা তা অধ্যয়ন করেছেন এবং পাঠদান করেছেন। শেখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) রিয়াদের শারিয়াহ কলেজে 'যাদুল মুস্তাকনি'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আর-রওদুল মুরবি' পড়াতেন এবং আমি তাদেরই একজন যারা তাঁর নিকট অধ্যয়ন করেছেন। শেখ ইবনে উসাইমীন 'যাদুল মুস্তাকনি' পড়াতেন এবং তাঁর সেই ব্যাখ্যার বেশ কয়েক খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে। তেমনিভাবে অন্যান্যরাও। এমনকি লেখক ও অন্যান্যেরা রেডিও কুরআনুল কারীমে শেখ সালেহ আল-ফাওযানের 'যাদুল মুস্তাকনি'-এর ব্যাখ্যা এবং শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত 'আদাবুল মাশি ইলাস সালাহ'-এর ওপর শেখ আব্দুর রহমান আল-ফারইয়ানের ব্যাখ্যা শুনতে পান।
এমতাবস্থায় তারা হাম্বলি মাযহাব পরিত্যাগ করেননি, বরং তারা মাযহাবের প্রতি অন্ধ গোঁড়ামি পরিহার করেছেন। যখন মাযহাবের মতের বিপরীতে কোনো সহীহ দলিল পাওয়া গিয়েছে, তখন তারা দলিলের নির্দেশিত সিদ্ধান্তের দিকেই ধাবিত হয়েছেন।
সুতরাং যাদেরকে তিনি নসিহত করার দাবি করেছেন এবং যারা হাম্বলি মাযহাব পরিত্যাগ করেছেন বলে বিশেষিত করেছেন, তাদের মধ্যে আর যাদেরকে তিনি মাযহাবের অনুসারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন—যেমন ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কায়্যিম, ইবনে রজব ও অন্যান্য—তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কেননা তারা সকলেই অধ্যয়ন করেছেন
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ৮)
المذهب الحنبليَّ واستفادوا من كتب المذهب، وإذا تبيَّن أنَّ الدليلَ على خلافه صاروا إليه.
الثالث: أنَّ هذا المسلكَ الذي عليه علماء الحنابلة الملتزمون بالدليل من الكتاب والسُّنَّة هو الذي عليه أهلُ الإنصافِ من مذاهب الأئمَّة الآخرين، ومن أمثلة كلامهم في ذلك:
قال الحافظ ابن حجر في الفتح (1/306) : "قال أصبغ: المسحُ عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم وعن أكابر أصحابه في الحضَر أثبتُ عندنا وأقوى من أن نتَّبع مالكاً على خلافه".
وقال في الفتح (1/276) : "المالكيَّةُ لا يقولون بالتتريب في الغسل من ولوغ الكلب، قال القرافيُّ منهم: قد صحَّت فيه الأحاديث، فالعجبُ منهم كيف لَم يقولوا بها! ".
وقال في الفتح (3/189) : "قال ابن العربيُّ المالكي: قال المالكيَّةُ: ليس ذلك أي الصلاة على الغائب إلَاّ لِمحمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، قلنا: وما عمل به محمدٌ صلى الله عليه وسلم تعمَلُ به أمَّتُه
হাম্বলি মাযহাব এবং তারা মাযহাবের গ্রন্থসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছেন; তবে যখন এর বিপরীতে দলিল স্পষ্ট হয়েছে, তারা দলিলের দিকেই ধাবিত হয়েছেন।
তৃতীয়ত: কিতাব ও সুন্নাহর দলিলের অনুসারী হাম্বলি আলেমগণ যে কর্মপন্থা অবলম্বন করেছেন, অন্যান্য ইমামদের মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত ন্যায়পরায়ণ আলেমগণও সেই পথেরই অনুসারী ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্যের কিছু উদাহরণ হলো:
হাফেজ ইবনে হাজার ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে (১/৩০৬) বলেছেন: "আসবাহ বলেছেন: মুকিম অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর বিশিষ্ট সাহাবীদের থেকে মাসাহ করার বিষয়টি আমাদের নিকট অধিকতর প্রমাণিত ও শক্তিশালী; এর বিপরীতে ইমাম মালিকের অনুসরণ করার চেয়ে (দলিল গ্রহণ করাই শ্রেয়)।"
তিনি ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে (১/২৭৬) আরও বলেছেন: "মালিকিগণ কুকুরের চাটা পাত্র ধোয়ার ক্ষেত্রে মাটি ব্যবহারের প্রবক্তা নন। তাদের মধ্যকার আল-কারাফি বলেছেন: এ বিষয়ে হাদিসসমূহ বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তাই তাদের প্রতি বিস্ময় জাগে যে, কীভাবে তারা তা গ্রহণ করেননি!"
তিনি ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে (৩/১৮৯) আরও বলেছেন: "ইবনুল আরাবি আল-মালিকি বলেছেন: মালিকিগণ বলেন যে— গায়েবানা জানাজা কেবল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। আমরা বলি: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা আমল করেছেন, তাঁর উম্মতও সেই অনুযায়ী আমল করবে।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ৯)
يعني لأنَّ الأصلَ عدم الخصوصية، قالوا: طُويت له الأرضُ وأُحضرت الجنازةُ بين يديه! قلنا: إنَّ ربَّنا عليه لقادرٌ، وإنَّ نبيَّنا لأهلٌ لذلك، ولكن لا تقولوا إلَاّ ما رويتم، ولا تَخترعوا حديثاً من عند أنفسكم، ولا تُحدِّثوا إلَاّ بالثابِتات ودَعُوا الضعافَ؛ فإنَّها سبيلُ إتلاف إلى ما ليس له تَلاف". وانظر: نيل الأوطار للشوكاني (4/54) .
وقال ابنُ كثير رحمه الله في تعيين الصلاة الوسطى: "وقد ثبتت السُنَّةُ بأنَّها العصرُ، فتعيَّن المصيرُ إليها"، ثمَّ نقل عن الشافعيِّ أنَّه قال: "كلُّ ما قلتُ فكان عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم بخلاف قولي مِمَّا يصِحُّ، فحديثُ النبيِّ صلى الله عليه وسلم أولَى، ولا تُقلِّدوني، وقال أيضاً: إذا صحَّ الحديثُ وقلتُ قولاً، فأنا راجعٌ عن قولي وقائلٌ بذلك"، ثمَّ قال ابنُ كثير: "فهذا من سيادتِه وأمانتِه، وهذا نَفَسُ إخوانِه من الأئمَّة رحمهم الله ورضي الله عنهم أجمعين، آمين، ومن هنا قطع القاضي الماوَردي بأنَّ مذهبَ الشافعيّ رحمه الله أنَّ صلاةَ الوسطى هي صلاةُ العصر وإن كان قد نصَّ في الجديد
অর্থাৎ যেহেতু মূল নীতি হলো কোনো বিশেষত্ব না থাকা, তারা বলেছে: তাঁর জন্য জমিনকে সংকুচিত করা হয়েছিল এবং জানাজা তাঁর সামনে উপস্থিত করা হয়েছিল! আমরা বলি: নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক এর ওপর সক্ষম এবং আমাদের নবী এর জন্য যোগ্য, কিন্তু তোমরা যা বর্ণনা করেছ তা ছাড়া কিছু বলো না, নিজেদের পক্ষ থেকে কোনো হাদিস উদ্ভাবন করো না এবং প্রমাণিত বিষয় ছাড়া বর্ণনা করো না; আর দুর্বল (হাদিসগুলো) বর্জন করো; কারণ তা এমন ধ্বংসের পথ যার কোনো প্রতিকার নেই। দেখুন: শাওকানি রচিত নীলুল আওতার (৪/৫৪)।
এবং ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) মধ্যবর্তী নামাজ (সালাতুল উস্তা) নির্ধারণ প্রসঙ্গে বলেছেন: "সুন্নাহ দ্বারা এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে তা হলো আসর নামাজ, সুতরাং একেই গ্রহণ করা আবশ্যক," অতঃপর তিনি ইমাম শাফেয়ী থেকে উদ্ধৃত করেন যে তিনি বলেছেন: "আমি যা কিছু বলেছি, তার বিপরীতে যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহ কিছু প্রমাণিত হয়, তবে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিসই অধিকতর অগ্রগণ্য, আর তোমরা আমার অন্ধ অনুসরণ (তাকলিদ) করো না।" তিনি আরও বলেছেন: "যদি হাদিস সহিহ সাব্যস্ত হয় এবং আমার কথা তার পরিপন্থী হয়, তবে আমি আমার কথা থেকে ফিরে আসলাম এবং সেই হাদিসটিই আমার বক্তব্য।" এরপর ইবনে কাসীর বলেন: "এটি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও আমানতদারিতার বহিঃপ্রকাশ, এবং এটিই ছিল তাঁর সমপর্যায়ের অন্যান্য ইমামদের (রহিমাহুমুল্লাহ) নীতি; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, আমীন। আর এখান থেকেই কাজী মাওয়ার্দি অকাট্যভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, ইমাম শাফেয়ীর (রহিমাহুল্লাহ) মাযহাব হলো—মধ্যবর্তী নামাজ হচ্ছে আসরের নামাজ, যদিও তিনি তাঁর নতুন (জাদিদ) মতবাদে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ১০)
وغيره أنَّها الصبح لصحَّة الأحاديث أنَّها صلاةُ العصر، وقد وافقه على هذه الطريقةِ جماعةٌ من مُحدِّثي المذهب، ولله الحمد والمِنَّة". تفسير ابن كثير (1/294) عند قوله تعالى: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاةِ الْوُسْطَى}
وقال ابنُ حجر في الفتح (2/222) : "قال ابنُ خزيمة في رفع اليدين عند القيام من الركعتين: هو سنَّةٌ وإن لَم يذكره الشافعي، فالإسنادُ صحيح، وقد قال: قولوا بالسنَّة ودَعُوا قولي".
وقال في الفتح أيضاً (3/95) : "قال ابنُ خزيمة: ويَحرُم على العالم أن يُخالف السنَّة بعد علمِه بها".
وقال في الفتح (2/470) : "روى البيهقي في المعرفة عن الربيع قال: قال الشافعيُّ: قد روي حديث فيه أنَّ النساءَ يُتركن إلى العيدين، فإن كان ثابتاً قلتُ به، قال البيهقي: قد ثبت وأخرجه الشيخان يعني حديث أمِّ عطية فيلزم الشافعيَّة القول به".
...এবং অন্যান্যদের অভিমত হলো এটি ফজর নামায, অথচ হাদীসসমূহের বিশুদ্ধতার ভিত্তিতে এটি আসর নামায হওয়ার বিষয়টিই প্রমাণিত। মাযহাবের একদল মুহাদ্দিস এই পদ্ধতির সাথে একমত পোষণ করেছেন, আর সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র আল্লাহর জন্য।" তাফসীর ইবনে কাসীর (১/২৯৪), মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা নামাযসমূহের এবং বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের প্রতি যত্নবান হও} এর ব্যাখ্যায়।
ইবনে হাজার আল-ফাতহ্ গ্রন্থে (২/২২২) বলেছেন: "ইবনে খুযাইমাহ দুই রাকাত শেষে দাঁড়ানোর সময় হাত তোলা (রাফউল ইয়াদাইন) সম্পর্কে বলেছেন: এটি সুন্নাহ, যদিও ইমাম শাফিঈ এটি উল্লেখ করেননি। কারণ এর সনদ সহীহ। আর তিনি (ইমাম শাফিঈ) বলে গেছেন: তোমরা সুন্নাহ অনুযায়ী কথা বলো এবং আমার ব্যক্তিগত মত বর্জন করো।"
তিনি আল-ফাতহ্ গ্রন্থে আরও (৩/৯৫) বলেছেন: "ইবনে খুযাইমাহ বলেছেন: কোনো বিজ্ঞ আলেমের জন্য সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তার বিরোধিতা করা হারাম।"
তিনি আল-ফাতহ্ গ্রন্থে (২/৪৭০) বলেন: "আল-বাইহাকী 'আল-মা'রিফাহ' গ্রন্থে আর-রাবী' থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ বলেছেন: একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে নারীদের দুই ঈদের নামাযে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে; যদি তা সাব্যস্ত হয় তবে আমি সেই মতেই প্রবক্তা হব। আল-বাইহাকী বলেন: হাদীসটি সাব্যস্ত হয়েছে এবং শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন—অর্থাৎ উম্মে আতিয়্যাহর হাদীসটি—ফলে শাফিঈ মাযহাবের অনুসারীদের জন্য এটি মেনে চলা আবশ্যক।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ১১)
وذكر النووي في شرح صحيح مسلم (4/49) خلافَ العلماء في الوضوء من لحم الإبل، وقال: "قال أحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه في هذا أي الوضوء من لحم الإبل حديثان: حديث جابر وحديث البراء، وهذا المذهبُ أقوى دليلاً وإن كان الجمهور على خلافه".
وقال ابن حجر في شرح حديث ابن عمر: "أمرتُ أن أقاتِل الناس" في قصَّة مناظرة أبي بكر وعمر في قتال مانعي الزكاة، قال: "وفي القصةِ دليلٌ على أنَّ السُّنَّة قد تخفى على بعض أكابر الصحابة ويطَّلع عليها آحادُهم، ولهذا لا يُلتفتُ إلى الآراء ولو قَوِيت مع وجود سُنَّة تخالفُها، ولا يُقال: كيف خَفيَ ذا على فلان؟! ". الفتح (1/76) .
وقال في الفتح (3/544) : "وبذلك أي بإشعار الهدي قال الجمهور من السلف والخلف، وذكر الطحاويُّ في اختلاف العلماء كراهتَه عن أبي حنيفة،
ইমাম নববী শারহু সহীহ মুসলিমে (৪/৪৯) উটের গোশত খাওয়ার পর অযু করার বিষয়ে আলেমদের মতবিরোধ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আহমদ বিন হাম্বল ও ইসহাক বিন রাহওয়াইহি এ বিষয়ে অর্থাৎ উটের গোশত থেকে অযুর ব্যাপারে দুটি হাদীসের কথা বলেছেন: জাবির (রা.)-এর হাদীস এবং বারা (রা.)-এর হাদীস। আর এই মাযহাবটি দলিলের দিক থেকে অধিক শক্তিশালী, যদিও জমহুর ওলামায়ে কেরাম এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন।"
এবং ইবনে হাজার ইবনে উমরের (রা.) হাদীস—"আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে"—এর ব্যাখ্যায় যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা নিয়ে আবু বকর ও উমরের (রা.) বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বলেছেন: "এই ঘটনায় এ কথার দলিল রয়েছে যে, সুন্নাহ কখনো কখনো বড় বড় সাহাবীদের নিকটও অস্পষ্ট থাকতে পারে এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তা অবগত হতে পারেন। এ কারণেই সুন্নাহর উপস্থিতিতে তার বিপরীত কোনো মতামতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না, সেই মতামত যতই শক্তিশালী হোক না কেন। আর এ কথা বলা যাবে না যে: 'অমুক ব্যক্তির নিকট এই বিষয়টি কীভাবে অস্পষ্ট রয়ে গেল?!'।" ফাতহুল বারী (১/৭৬)।
তিনি ফাতহুল বারীতে (৩/৫৪৪) আরও বলেছেন: "সেই বিষয়টি অর্থাৎ কুরবানির পশুর চিহ্ন দেওয়া (ইশআর) সম্পর্কে সালাফ ও খালাফদের জমহুর ওলামায়ে কেরাম মত দিয়েছেন। ইমাম তাহাবী 'ইখতিলাফুল ওলামা'-তে ইমাম আবু হানিফা থেকে একে মাকরূহ মনে করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ১২)
وذهب غيرُه إلى استحبابه للاتِّباع، حتى صاحباه محمد وأبو يوسف، فقالا: هو حسن".
الرابع: أنَّ أهلَ السنَّة المتَّبعين لنصوص الكتاب والسُّنَّة أسعدُ من غيرِهم باتِّباع الأئمَّة الأربعة؛ لأنَّهم المنَفِّذون لوصاياهم، قال ابن القيم في كتاب الروح (ص:395 396) : "فمَن عرضَ أقوال العلماء على النصوص ووَزَنها بها وخالف منها ما خالف النصَّ لَم يُهدِر أقوالَهم ولَم يهضِم جانبَهم، بل اقتدى بهم؛ فإنَّهم كلَّهم أَمروا بذلك، فمتَّبِعُهم حقًّا مَن امتثلَ ما أَوْصَوا به لا مَن خالفهم؛ فخِلافُهم في القول الذي جاء النَّصُّ بخلافه أسهل من مخالفتِهم في القاعدة الكليَّة التي أَمروا ودَعَوا إليها من تقديم النصِّ على أقوالهم، مِن هنا يتبيَّن الفرقُ بين تقليد العالِم في كلِّ ما قال وبين الاستعانة بفهمِه والاستضاءةِ بنور علمِه، فالأول يأخذ قولَه من غير نظرٍ فيه ولا طلبٍ لدليله من الكتاب والسُّنَّة، بل يجعل ذلك كالحبل الذي يُلقيه في عُنقِه ويُقلِّده به، ولذلك سُمِّيَ تقليداً، بخلاف مَن
অন্যান্যগণ অনুসরণের খাতিরে একে মুস্তাহাব গণ্য করেছেন, এমনকি তাঁর দুই সহচর মুহাম্মদ ও আবু ইউসুফও; তাঁরা বলেছেন: "এটি উত্তম।"
চতুর্থত: কিতাব ও সুন্নাহর নস বা অকাট্য ভাষ্যসমূহের অনুসারী আহলে সুন্নাতগণ চার ইমামের অনুসরণের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় অধিক সৌভাগ্যবান; কারণ তাঁরাই তাঁদের অসিয়ত বা নির্দেশনাবলি বাস্তবায়নকারী। ইবনুল কাইয়্যিম 'কিতাবুর রুহ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৩৯৫-৩৯৬) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আলেমদের মতামতকে নসের সামনে উপস্থাপন করে এবং তদনুসারে তা যাচাই করে, অতঃপর নসের পরিপন্থী মতামত বর্জন করে, সে তাঁদের বাণীকে অবজ্ঞা করেনি এবং তাঁদের মর্যাদাহানিও করেনি; বরং সে তাঁদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। কেননা তাঁরা সকলেই এই নির্দেশই প্রদান করেছেন। সুতরাং তাঁদের যথার্থ অনুসারী সেই ব্যক্তি, যে তাঁদের অসিয়ত পালন করে, সে নয় যে তাঁদের বিরুদ্ধাচরণ করে। নস-বিরোধী কোনো বিশেষ বক্তব্যে তাঁদের বিরোধিতা করা সেই সামষ্টিক মূলনীতির বিরোধিতার চেয়ে অনেক সহজ, যার নির্দেশ তাঁরা দিয়েছেন এবং যার প্রতি দাওয়াত দিয়েছেন; আর তা হলো—নিজেদের মতামতের ওপর নসকে প্রাধান্য দেওয়া। এখান থেকেই কোনো আলেমের প্রতিটি কথায় তাঁর অন্ধ অনুকরণ (তাকলিদ) করা এবং তাঁর প্রজ্ঞার সহায়তা নেওয়া ও তাঁর ইলমের আলোয় আলোকিত হওয়ার মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রথম প্রকারের ব্যক্তি কোনো বিচার-বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে এবং কিতাব ও সুন্নাহ থেকে দলিলের অনুসন্ধান ছাড়াই কোনো বক্তব্য গ্রহণ করে; বরং সেটিকে সে একটি রশির ন্যায় গণ্য করে যা সে নিজের গলায় ঝুলিয়ে নেয় এবং নিজেকে তাতে আবদ্ধ করে—এ কারণেই একে 'তাকলিদ' বলা হয়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
استعان بفهمِه، واستضاءَ بنورِ علمِه في الوصول إلى الرَّسول صلواتُ الله وسلامُه عليه، فإنَّه يجعلُهم بمنزلةِ الدليل إلى الدليل الأول، فإذا وصلَ إليه استغنى بدلالته عن الاستدلال بغيره، فمَن استدلَّ بالنَّجم على القبلة فإنَّه إذا شاهدها لَم يبقَ لاستدلالِه بالنجم معنى، قال الشافعيُّ: "أجمع النَّاسُّ على أنَّ مَن استبانت له سنَّةُ رسول الله صلى الله عليه وسلم لَم يكن له أن يَدَعها لقول أحدٍ".
الخامس: أنَّ أهلَ السنَّة الآخذين بوصايا الأئمَّة باتِّباع ما دلَّ عليه الدليل ومنهم مَن زعم الكاتب نصحَهم يوافقون الأئمَّةَ في أصول الدِّين، ويستفيدون من فقههم في الفروع، بخلاف كثيرٍ من المتعصِّبين لهم؛ فإنَّهم يُخالفونهم في العقيدة فيتَّبعون مذهبَ الأشاعرة، ويُقلِّدونهم في الفروع.
রাসুলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) নিকট পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তিনি তাঁদের প্রজ্ঞা ও ইলমের নূর থেকে সাহায্য গ্রহণ করেন এবং তা থেকে আলো গ্রহণ করেন; এটি তাঁদেরকে প্রথম পথপ্রদর্শকের দিকে নির্দেশক হিসেবে গণ্য করার নামান্তর। অতঃপর যখন তিনি তাঁর নিকট পৌঁছে যান, তখন তাঁর দিকনির্দেশনাই অন্য সব দলিলের অনুসরণ থেকে তাঁকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। যে ব্যক্তি কিবলার দিক নির্ণয়ে নক্ষত্র দ্বারা পথ খোঁজে, কিবলা প্রত্যক্ষ করার পর নক্ষত্র দ্বারা দলিল গ্রহণের আর কোনো সার্থকতা অবশিষ্ট থাকে না। ইমাম শাফিঈ বলেন: "আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যার নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সুস্পষ্ট হয়ে গেছে, অন্য কারো মতের খাতিরে তা পরিত্যাগ করা তার জন্য বৈধ নয়।"
পঞ্চম: আহলে সুন্নাত যারা আইম্মাহ কিরামের অসিয়ত অনুযায়ী দলিলের অনুসরণ করে—যাদেরকে লেখক নসিহত করার দাবি করেছেন তারাও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত—তারা দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহে ইমামদের সাথে একমত পোষণ করেন এবং শাখা-প্রশাখামূলক বিষয়ে তাঁদের ফিকহ থেকে উপকৃত হন। এটি সেই সব গোঁড়া অনুসারীদের বিপরীত, যারা আকিদার ক্ষেত্রে তাঁদের বিরোধিতা করে আশআরী মতবাদ অনুসরণ করে, অথচ কেবল শাখা-প্রশাখামূলক মাসয়ালায় তাঁদের অন্ধ অনুকরণ করে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
2 - أنكر الكاتِبُ على مَن زعم نصحَهم عدمَ السماح بإدخال كتاب "دلائل الخيرات" للجزولي إلى البلاد السعودية.
ويُجاب بأنَّ كتاب دلائل الخيرات مشتملٌ على صلواتٍ على النبيِّ صلى الله عليه وسلم محدَثة، وفيها غُلُوٌّ، وما ثبت في الصحيحين وغيرهما من كيفيات للصلاة على النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فيها غُنيةٌ وكفاية عمَّا أحدثه المحدِثون، ولا شكَّ أنَّ ما جاءت به السُنَّة وفَعَلَه الصحابةُ الكرام والتابعون لهم بإحسانٍ هو الطريقُ المستقيمُ والمنهجُ القويم، والفائدةُ للآخِذِ به محقَّقةٌ، والمضرَّةُ عنه منتفيةٌ، وقد قال عليه الصلاة والسلام: "عليكم بسُنَّتي وسنَّةِ الخلفاء الراشدين المهديين مِن بعدي، عضُّوا عليها بالنواجذ، وإيَّاكم ومُحدثات الأمور، فإنَّ كلَّ مُحدَثةٍ بدعةٌ، وكلَّ بدعة ضلالةٌ".
وكتاب دلائل الخيرات اشتمل على أحاديث موضوعة وكيفيات للصلاةِ على النبيِّ صلى الله عليه وسلم فيها غُلُوٌّ ومُجاوَزةٌ للحدِّ ووقوعٌ في المحذور الذي لا يرضاه اللهُ ولا رسولُه صلى الله عليه وسلم، وهو
২ - লেখক তাদের ওপর আপত্তি জানিয়েছেন যারা হিতাকাঙ্ক্ষী হওয়ার দাবি করে জাযুলী রচিত "দালাইলুল খাইরাত" গ্রন্থটি সৌদি আরবে প্রবেশ করতে না দেওয়ার সমালোচনা করেছেন।
এর উত্তরে বলা যায় যে, দালাইলুল খাইরাত গ্রন্থটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এমন সব নবউদ্ভাবিত দুরুদ পাঠের সংকলন যাতে অতিরঞ্জন রয়েছে। অথচ সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠের যে পদ্ধতিসমূহ প্রমাণিত হয়েছে, তা পরবর্তী উদ্ভাবকদের আবিষ্কৃত বিষয়ের তুলনায় যথেষ্ট ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুন্নাহ যা নিয়ে এসেছে এবং সাহাবায়ে কেরাম ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীগণ যা আমল করেছেন, সেটিই হলো সরল পথ এবং সুদৃঢ় পন্থা। এর অনুসরণকারীর জন্য উপকার সুনিশ্চিত এবং কোনো প্রকার ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো, তা মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে কামড়ে ধরো। আর দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা।"
দালাইলুল খাইরাত গ্রন্থটি এমন কিছু জাল হাদিস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠের এমন কিছু পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত যাতে অতিরঞ্জন ও সীমা লঙ্ঘন রয়েছে এবং এমন সব নিষিদ্ধ বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার উপাদান রয়েছে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করেন না; আর তা হলো—
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
طارئٌ لَم يكن من نهج السابقين بإحسان، قال الشيخ محمد الخضِر بن مايابى الشنقيطي في كتابه "مشتهى الخارف الجاني في ردِّ زلقات التجاني الجاني": "فإنَّ الناسَ مولَعةٌ بحبِّ الطارئ، ولذلك تراهم يَرغبون دائماً في الصلوات المرويَّة في دلائل الخيرات ونحوه، وكثيرٌ منها لَم يثبت له سندٌ صحيح، ويَرغبون عن الصلوات الواردةِ عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم في صحيح البخاري".
ومِمَّا ورد في دلائل الخيرات من الكيفيات المنكرة للصلاة على النَّبِيِّ قولُ مؤلِّفه: "اللَّهمَّ صلِّ على محمد وعلى آل محمد حتى لا يبقى من الصلاة شيءٌ، وارحم محمداً وآل محمدٍ حتى لا يبقى من الرحمةِ شيءٌ، وبارِك على محمد وعلى آل محمد حتى لا يبقى من البركة شيءٌ، وسلِّم على محمد وعلى آل محمد حتى لا يبقى من السلام شيءٌ".
فإنَّ قولَه: (حتى لا يبقى من الصلاة والرحمة والبركة والسلام شيء) ، مِن أسوإِ الكلام وأبطلِ الباطلِ؛ لأنَّ هذه
এটি এমন এক নবউদ্ভাবিত বিষয় যা নিষ্ঠার সাথে অনুসরণকারী পূর্বসূরিদের (সালাফ) পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত ছিল না। শায়খ মুহাম্মদ আল-খিদির বিন মায়াবা আল-শিনকিতী তাঁর "মুশতাহি আল-খারিফ আল-জানি ফি রাদ্দি যালকাত আল-তিজানি আল-জানি" গ্রন্থে বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষ নতুনের প্রতি অনুরাগী, আর একারণেই আপনি তাদের সর্বদা দালাইলুল খাইরাত ও অনুরূপ কিতাবে বর্ণিত দরুদগুলোর প্রতি আগ্রহী হতে দেখবেন, যার অধিকাংশেরই কোনো বিশুদ্ধ সূত্র (সনদ) প্রমাণিত নয়। অথচ তারা সহীহ বুখারীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত দরুদগুলো থেকে বিমুখ থাকে।"
দালাইলুল খাইরাত গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের যে সকল আপত্তিকর পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে, তন্মধ্যে গ্রন্থকারের এই উক্তিটি অন্যতম: "হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যতক্ষণ না রহমতের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে, মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর দয়া করুন যতক্ষণ না দয়ার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে, মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত দান করুন যতক্ষণ না বরকতের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে এবং মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর শান্তি বর্ষণ করুন যতক্ষণ না শান্তির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে।"
নিশ্চয়ই তার এই উক্তি: (যতক্ষণ না রহমত, দয়া, বরকত ও শান্তির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে), এটি নিকৃষ্টতম কথা এবং চরম অসারতার অন্তর্ভুক্ত; কারণ এই...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الأفعالَ لا تنتهي، وكيف يقول الجزولي: حتى لا يبقى من الرحمة شيء، والله تعالى يقول: {وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ} ؟!
وقال في (ص:71) : "اللَّهمَّ صلِّ على سيِّدنا محمد بحر أنوارِك، ومعدن أسرارك، ولسان حُجَّتك، وعروس مملكتك، وإمام حضرتك، وطراز ملكك، وخزائن رحمتك
… إنسان عين الوجود، والسبب في كلِّ موجود
… ".
وقال في (ص:64) : "اللَّهمَّ صلِّ على مَن تفتَّقت من نوره الأزهارُ
… اللَّهمَّ صلِّ على من اخضرَّت من بقيَّة وضوئه الأشجار، اللَّهمَّ صلِّ على من فاضت من نورِه جميع الأنوار
… ".
فإنَّ هذه الكيفياتِ فيها تكلُّفٌ وغُلُوٌّ لا يرضاه المصطفى صلى الله عليه وسلم، وهو الذي قال: "لا تُطروني كما أطرت النصارى ابنَ مريم، إنَّما أنا عبدٌ فقولوا عبد الله ورسوله". أخرجه البخاري في صحيحه.
কর্মসমূহ তো শেষ হয় না, আর জাযুলি কীভাবে বলেন: "যাতে রহমত থেকে আর কিছুই অবশিষ্ট না থাকে", অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমার রহমত প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে}?!
এবং তিনি (৭১ নং পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন, যিনি আপনার নূরসমূহের সমুদ্র, আপনার রহস্যের খনি, আপনার প্রমাণের মুখপত্র, আপনার সাম্রাজ্যের অলংকার, আপনার উপস্থিতির ইমাম, আপনার রাজত্বের আদর্শ এবং আপনার করুণার ভাণ্ডার
… অস্তিত্বের মূল সত্তা এবং প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুর কারণ
… "।
এবং তিনি (৬৪ নং পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "হে আল্লাহ! তাঁর ওপর দরুদ বর্ষণ করুন যাঁর নূর থেকে পুষ্পরাজি প্রস্ফুটিত হয়েছে
… হে আল্লাহ! তাঁর ওপর দরুদ বর্ষণ করুন যাঁর ওজুর অবশিষ্ট পানি থেকে বৃক্ষরাজি সজীব হয়েছে, হে আল্লাহ! তাঁর ওপর দরুদ বর্ষণ করুন যাঁর নূর থেকে সমস্ত আলোকচ্ছটা প্রবাহিত হয়েছে
… "।
নিশ্চয়ই এই বর্ণনাভঙ্গিগুলোর মধ্যে এমন কৃত্রিমতা ও অতিরঞ্জন রয়েছে যা মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পছন্দ করেন না, অথচ তিনিই বলেছেন: "তোমরা আমার প্রশংসায় অতিরঞ্জন করো না যেমনটি নাসারারা (খ্রিস্টানরা) ইবনে মারিয়ামের ক্ষেত্রে করেছিল। আমি কেবলই একজন বান্দা, তাই তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।" বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال في (ص:144، 145) : "اللَّهمَّ صلِّ على محمد وعلى آل محمد ما سجعت الحمائم، وحمَت الحوائم، وسرحت البهائم، ونفعت التمائم، وشُدَّت العمائم، ونمت النوائم
… ".
فإنَّ في قوله: "ونفعت التمائم" إشادة بالتمائمِ وحثًّا عليها، وقد حرَّمها صلى الله عليه وسلم فقال: "مَن تعلَّق تَميمة فلا أتَمَّ الله له".
ومِمَّا ورد فيه من الأحاديث الموضوعة قوله في (ص:15) :
"وروي عنه صلى الله عليه وسلم أنَّه قال: "مَن صلَّى عليَّ صلاةً تعظيماً لِحَقِّي خلق الله عز وجل من ذلك القول مَلَكاً له جناح بالمشرق والآخر بالمغرب، ورِجلاه مقرورتان في الأرض السابعة السفلى، وعُنُقُه ملتويةٌ تحت العرش يقول الله عز وجل له: صلِّ على عبدي كما صلَّى على نبيِّي، فهو يُصلِّي عليه إلى يوم القيامة ".
এবং তিনি (পৃষ্ঠা: ১৪৪, ১৪৫) এ বলেছেন: "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যতক্ষণ কবুতরসমূহ কূজন করবে, পিপাসার্ত পাখিরা জলাশয়ের চারধারে উড়বে, গবাদি পশুরা চারণভূমিতে বিচরণ করবে, তাবীজসমূহ ফলদায়ক হবে, পাগড়িগুলো মস্তকে বাঁধা হবে এবং নিদ্রালুরা নিদ্রাচ্ছন্ন থাকবে
… "।
নিশ্চয়ই তাঁর এই উক্তি: "এবং তাবীজসমূহ ফলদায়ক হবে"-এর মধ্যে তাবীজের প্রশংসা ও এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একে হারাম ঘোষণা করেছেন এবং বলেছেন: "যে ব্যক্তি তাবীজ লটকালো, আল্লাহ যেন তার উদ্দেশ্য পূর্ণ না করেন"।
আর এই গ্রন্থে যেসব জাল হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো যা (পৃষ্ঠা: ১৫) এ উল্লিখিত হয়েছে:
"নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: 'যে ব্যক্তি আমার হকের সম্মানার্থে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা সেই বাক্যের বিনিময়ে এমন একজন ফেরেশতা সৃষ্টি করবেন যার একটি ডানা পূর্ব দিগন্তে এবং অপরটি পশ্চিম দিগন্তে থাকবে, তার পা দুটি সপ্তম জমিনের সর্বনিম্ন স্তরে স্থির থাকবে এবং তার ঘাড় আরশের নিচে অবনত থাকবে। তখন মহান আল্লাহ তাকে বলবেন: আমার এই বান্দার ওপর রহমত বর্ষণ করো যেভাবে সে আমার নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেছে। অতঃপর সেই ফেরেশতা কিয়ামত পর্যন্ত তার ওপর রহমত বর্ষণ (দোয়া) করতে থাকবে'।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال في (ص:16) : "وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "ما من عبدٍ صلَّى عليَّ إلَاّ خرجت الصلاةُ مسرعة من فيه، فلا يبقى بَرٌّ ولا بحرٌ ولا شرقٌ ولا غربٌ إلَاّ وتَمرُّ به وتقول: أنا صلاةُ فلان ابن فلان صلَّى على محمدٍ المختار خير خلق الله، فلا يبقى شيءٌ إلَاّ وصلَّى عليه، ويُخلقُ من تلك الصلاة طائرٌ له سبعون ألف جناح، في كلِّ جناحٍ سبعون ألف ريشة، في كلِّ ريشة سبعون ألف وجه، في كلِّ وجهٍ سبعون ألف فمٍ، في كلِّ فمٍ سبعون ألف لسان، يُسبِّح الله تعالى بسبعين ألف لغة، ويكتب الله له ثوابَ ذلك كلَّه".
هذان حديثان من أحاديث دلائل الخيرات يَصدق عليهما قولُ العلَاّمة ابن القيم في كتابه "المنار المنيف": "والأحاديثُ الموضوعة عليها ظُلمة وركاكةٌ ومجازفات باردة تُنادي على وضعها واختلاقها"، ثمَّ ضرب لذلك بعضَ الأمثلة، ثم قال: "فصل: ونحن نُنبِّه على أمورٍ كُليَّة، يُعرفُ بها كون الحديث موضوعاً، فمنها اشتمالُه على أمثال هذه المجازفات التي لا يقول مثلَها رسولُ الله صلى الله عليه وسلم،
এবং তিনি (১৬ পৃষ্ঠায়) বলেন: "নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: 'যখনই কোনো বান্দা আমার প্রতি দরুদ পাঠ করে, সেই দরুদ দ্রুতবেগে তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে। অতঃপর স্থলভাগ, জলভাগ, পূর্ব বা পশ্চিমের এমন কোনো স্থান বাকি থাকে না যেখানে সেটি পৌঁছে এই কথা বলে না যে: আমি অমুকের পুত্র অমুকের পক্ষ থেকে আসা দরুদ, যে আল্লাহর সৃষ্টির সেরা মনোনীত মুহাম্মদ-এর ওপর দরুদ পাঠ করেছে। ফলে প্রতিটি সৃষ্টিই তখন তার ওপর দরুদ পাঠ করে। আর সেই দরুদ থেকে এমন একটি পাখি সৃষ্টি করা হয় যার সত্তর হাজার ডানা রয়েছে; প্রতিটি ডানায় সত্তর হাজার পালক, প্রতিটি পালকে সত্তর হাজার মুখ, প্রতিটি মুখে সত্তর হাজার মুখগহ্বর, প্রতিটি মুখগহ্বরে সত্তর হাজার জিহ্বা এবং প্রতিটি জিহ্বা সত্তর হাজার ভাষায় মহান আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে। আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির আমলনামায় এই সবকিছুর সওয়াব লিখে দেন'।"
এগুলো 'দালাইলুল খাইরাত'-এর এমন দুটি হাদিস যেগুলোর ক্ষেত্রে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'আল-মানার আল-মুনিফ' গ্রন্থে যা বলেছেন তা যথার্থভাবে প্রযোজ্য: "জাল হাদিসগুলোর ওপর এক প্রকার অন্ধকার, ভাষাগত দুর্বলতা এবং এমন অসংলগ্ন অতিরঞ্জন ছেয়ে থাকে যা চিৎকার করে বলে দেয় যে এগুলো জাল ও বানোয়াট।" এরপর তিনি এর কিছু উদাহরণ পেশ করেন এবং বলেন: "পরিচ্ছেদ: আমরা এমন কিছু মৌলিক বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যার দ্বারা কোনো হাদিস জাল হওয়ার বিষয়টি চেনা যায়। তার মধ্যে একটি হলো— হাদিসটি এমন সব অতিরঞ্জন বা অসংলগ্ন কথাবার্তা সমৃদ্ধ হওয়া যা আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর মতো ব্যক্তিত্বের পক্ষে বলা অসম্ভব।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وهي كثيرةٌ جدًّا، كقوله في الحديث المكذوب: من قال لا إله إلَاّ الله خلق الله من تلك الكلمة طائراً له سبعون ألف لسان، لكلِّ لسان سبعون ألف لغة يستغفرون الله له، ومَن فعل كذا وكذا أُعطي في الجنَّة سبعين ألف مدينة، في كلِّ مدينة سبعون ألف قصر، في كلِّ قصرٍ سبعون ألف حوراء، وأمثال هذه المجازفات الباردة التي لا تخلو حال واضعها من أحد أمرين: إمَّا أن يكون في غاية الجهل والحُمق، وإمَّا أن يكون زنديقاً قصد التنقيص برسول الله صلى الله عليه وسلم بإضافة مثل هذه الكلمات إليه".
ومن الواضحِ الجَليِّ أنَّ مثلَ هذه الأحاديث الموضوعة المكذوبة على رسول الله صلى الله عليه وسلم مبايِنَةٌ تَمام المبايَنة لِما أوتيَه صلى الله عليه وسلم من جوامع الكلمِ، كقولِه صلى الله عليه وسلم: "إنَّما الأعمال بالنيَّات، وإنَّما لكلِّ امرئ ما نوى"، وقوله صلى الله عليه وسلم: "دَعْ ما يُريبُك إلى ما لا يُريبُك"، وقوله صلى الله عليه وسلم: "الدِّينُ النصيحةُ، قالوا: لِمَن يا رسول الله؟ قال: لله، ولكتابه، ولرسوله، ولأئمَّة المسلمين وعامَّتهم"، وقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا أمرتكم
এগুলো সংখ্যায় অত্যধিক, যেমন একটি জাল হাদীসে তাঁর উক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, আল্লাহ সেই কালিমা থেকে এমন একটি পাখি সৃষ্টি করবেন যার সত্তর হাজার জিহ্বা থাকবে, প্রতিটি জিহ্বার সত্তর হাজার ভাষা থাকবে যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর যে ব্যক্তি অমুক অমুক কাজ করবে তাকে জান্নাতে সত্তর হাজার শহর দান করা হবে, প্রতিটি শহরে সত্তর হাজার প্রাসাদ থাকবে, প্রতিটি প্রাসাদে সত্তর হাজার হূর থাকবে।" এই জাতীয় নিরর্থক অতিরঞ্জন যা রটনাকারীর অবস্থা দুটি বিষয়ের ঊর্ধ্বে নয়: হয় সে চূড়ান্ত পর্যায়ের অজ্ঞ ও নির্বোধ, নতুবা সে এমন এক যিনদীক (ধর্মদ্রোহী) যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এই জাতীয় বক্তব্য আরোপ করে তাঁর মর্যাদাহানি করার হীন উদ্দেশ্য পোষণ করেছে।
এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে রটানো এই জাতীয় বানোয়াট ও মিথ্যা হাদীসসমূহ তাঁকে প্রদত্ত 'জাওয়ামিউল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণী)-এর সম্পূর্ণ বিপরীত। যেমন তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে।" তাঁর বাণী: "যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে তা বর্জন করে যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে না তার দিকে ধাবিত হও।" তাঁর বাণী: "দীন হলো কল্যাণকামিতা। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: কার জন্য হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুসলিমদের ইমাম ও সাধারণ জনগণের জন্য।" এবং তাঁর বাণী: "আমি যখন তোমাদের কোনো নির্দেশ প্রদান করি..."
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ২০)
بشيءٍ فأتوا منه ما استطعتم، وإذا نهيتُكم عن شيءٍ فاجتنبوه".
وبعد هذا الإيضاح والبيان لبعض ما اشتمل عليه كتاب "دلائل الخيرات" من الأحاديث الموضوعة، والكيفيات المُحدَثة للصلاة على النبيِّ صلى الله عليه وسلم يتبيَّن أنَّ المنعَ من دخوله المملكة منعٌ في مَحلِّه، وأنَّ فيما ثبتت به السُّنَّةُ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من بيان كيفية الصلاة عليه صلى الله عليه وسلم ما يُغنِي عن إحداث المحْدِثين وتكلُّف المتكلِّفين.
3 - قال الكاتب: "ضيَّقتُم ثمَّ أوْصدتُم وأقْفلتُم بابَ النصيحة من المسلمين لأئمَّتهم وحُكَّامهم وأولي الأمر منهم، وأفتيتُم بمعصيةِ مَن يُخالفُ ذلك، وعاديتموه، في الوقت الذي فيه المسلمون وحُكَّامهم بأمَسِّ الحاجة إلى الوعظِ والنصيحةِ بالحُسنى، وصلى الله تعالى على القائل:
...কোনো বিষয়ে (আদেশ করি), তবে তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী তা পালন করো; আর যখন আমি তোমাদের কোনো বিষয়ে নিষেধ করি, তখন তা বর্জন করো।"
"দালাইলুল খাইরাত" কিতাবে বিদ্যমান কিছু জাল হাদিস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরুদ পাঠের নব-উদ্ভাবিত পদ্ধতিসমূহের এই বিশদ ব্যাখ্যা ও বর্ণনার পর এটি স্পষ্ট হয় যে, রাজ্যে এই কিতাবটির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা যথাযথ হয়েছে। বস্তুত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠের পদ্ধতি সম্পর্কে সুন্নাহর মাধ্যমে যা প্রমাণিত হয়েছে, তা-ই বিদআতীদের নব-উদ্ভাবন এবং অহেতুক কষ্টকল্পনাকারীদের বাড়াবাড়ি থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
৩ - লেখক বলেছেন: "আপনারা মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাদের ইমাম, শাসক ও দায়িত্বশীলদের নিকট নসিহত বা সদুপদেশ প্রদানের পথকে সংকুচিত করেছেন, অতঃপর তা রুদ্ধ ও তালাবদ্ধ করে দিয়েছেন। আর যারা এর বিরোধিতা করে, তাদের ব্যাপারে আপনারা অবাধ্যতার ফতোয়া দিয়েছেন এবং তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছেন; এমন এক সময়ে যখন মুসলিম জাতি ও তাদের শাসকরা উত্তম পন্থায় নসিহত ও উপদেশের চরম মুখাপেক্ষী। আর সেই বক্তার প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হোক যিনি বলেছেন:"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ২১)
"الدِّينُ النصيحةُ، قلنا: لِمَن؟ قال: لله، ولكتابه، ولرسوله، ولأئمَّة المسلمين وعامَّتهم".
والجواب: أنَّ النصحَ للولاة وغيرِهم يكون نافعاً إذا كان سرًّا وبالرِّفق واللِّين، قال الله تعالى للنَّبيَّيْن الكريمَيْن موسى وهارون عليهما الصلاة والسلام: {فَقُولا لَهُ قَوْلاً لَيِّناً لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى} ، وعن عائشة رضي الله عنها، عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قال: "إنَّ الرِّفقَ لا يكون في شيءٍ إلَاّ زانه، ولا يُنزعُ من شيء إلَاّ شانَه"، رواه مسلم.
وفي الصحيحين واللفظ للبخاري عن أبي وائلٍ قال: قيل لأسامة هو ابن زيد رضي الله عنهما: لو أتيتَ فلاناً هو عثمان بن عفان رضي الله عنه فكلَّمتَه؟ قال: إنَّكم لَتَرونَ أَنِّي لا أُكلِّمه إلَاّ أُسمِعُكم؟ إنِّي أُكلِّمه في السِّرِّ دون أن أفتَح باباً لا أكون أوَّل مَن فتحه".
قال الحافظ في شرحه: "أي: كلَّمتُه فيما أَشرتُم إليه، لكن على سبيل المصلحة والأدب في السر، بغير أن يكون
"দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা।" আমরা জিজ্ঞেস করলাম: "কার জন্য?" তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের শাসকবর্গের জন্য এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য।"
উত্তর হলো: শাসক ও অন্যদের উপদেশ প্রদান করা তখনই ফলপ্রসূ হয় যখন তা গোপনে এবং নম্রতা ও কোমলতার সাথে করা হয়। মহান আল্লাহ দুই মহিমান্বিত নবী মুসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "অতএব তোমরা তার সাথে কোমল কথা বলো, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে।" আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোমলতা যে বিষয়েই থাকে তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে, আর যে বিষয় থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাকে কলঙ্কিত করে।" এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে—এবং শব্দ বিন্যাস বুখারীর—আবু ওয়ায়েল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উসামা ইবনে যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলা হলো: "আপনি যদি অমুকের—অর্থাৎ উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—নিকট যেতেন এবং তাঁর সাথে কথা বলতেন!" তিনি বললেন: "তোমরা কি মনে করছ যে, আমি তোমাদের না শুনিয়ে তাঁর সাথে কথা বলি না? নিশ্চয়ই আমি তাঁর সাথে গোপনে কথা বলি; এমন কোনো (ফিতনার) দরজা না খুলে যার প্রথম উন্মোচনকারী আমি হতে চাই না।"
হাফেজ (ইবনে হাজার) তাঁর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "অর্থাৎ: তোমরা যা ইঙ্গিত করেছ সে বিষয়ে আমি তাঁর সাথে কথা বলেছি, তবে তা জনকল্যাণ ও শিষ্টাচারের খাতিরে গোপনে করেছি; এমনটি না হয়ে যে..."
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ২২)
في كلامي ما يُثير الفتنةَ أو نحوَها".
وثبت في مسند الإمام أحمد والسُّنة لابن أبي عاصم ومستدرك الحاكم عن عياض بن غنم رضي الله عنه، عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قال: "مَن أراد أن ينصحَ لسلطانٍ بأمرٍ فلا يُبدِ له علانية، ولكن ليأخذ بيدِه فيخلو به، فإن قَبِل منه فذاك، وإلَاّ كان قد أدَّى الذي عليه له".
أمَّا إذا خلا النصحُ من الرِّفقِ ولَم يكن سرًّا، بل كان علانيةً، فإنَّه يضُرُّ ولا ينفع، ومن المعلوم أنَّ أيَّ إنسانٍ إذا كان عنده نقصٌ يُحِب أن يُنصحَ برِفقٍ ولينٍ، وأن يكون ذلك سرًّا، فعليه أن يُعاملَ الناسَ بِمثلِ ما يُحبُّ أن يُعاملوه به.
ففي صحيح مسلم في حديث طويل عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: "فمَن أحبَّ أن يُزحزَح عن النار ويُدخل الجنَّة فلتأتِه منيَّتُه وهو يؤمن بالله واليوم الآخر، وليأتِ إلى الناس الذي يُحبُّ أن يُؤتى إليه".
"...আমার বক্তব্যের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা ফিতনা বা অনুরূপ কিছু উসকে দিতে পারে।"
ইমাম আহমাদের মুসনাদ, ইবনে আবি আসিমের আস-সুন্নাহ এবং হাকিমের মুস্তাদরাকে ইয়াদ ইবনে গানম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো শাসককে কোনো বিষয়ে উপদেশ দিতে চায়, সে যেন তা প্রকাশ্যে না করে; বরং সে যেন তার হাত ধরে তাকে নির্জনে নিয়ে যায়। এরপর তিনি যদি তা কবুল করেন তবে তো ভালো, অন্যথায় সে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করল।"
পক্ষান্তরে উপদেশ যদি নম্রতা বর্জিত হয় এবং তা গোপনে না হয়ে বরং প্রকাশ্যে হয়, তবে তা উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি সাধন করে। এটি সুবিদিত যে, কোনো মানুষের মধ্যে কোনো ত্রুটি থাকলে সে পছন্দ করে যে তাকে যেন নম্রতা ও কোমলতার সাথে গোপনে উপদেশ দেওয়া হয়। তাই মানুষের সাথে ঠিক তেমনই আচরণ করা উচিত যেমনটি সে নিজের জন্য অন্যের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে।
সহীহ মুসলিমের একটি দীর্ঘ হাদিসে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সুতরাং যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে পছন্দ করে, তার মৃত্যু যেন আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস থাকা অবস্থায় আসে এবং সে মানুষের সাথে সেই আচরণই করে যা সে নিজের জন্য পেতে পছন্দ করে।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والنُّصحُ بالطريقة الأولى هو المشروع، وهو الذي يحصلُ به النفعُ والفائدةُ، ولا أحد يمنع هذا، بل لا يُستطاعُ منعُه؛ لأنَّه من الأمور الخفيَّة، فمِن أين للكاتب أنَّ مَن زعم نصحهم أفتوا بمنع ذلك؟! وهل أحدٌ منهم حالَ بين الكاتب وبين النصحِ لولاة الأمر في بلده أو غيرهم؟!
وأمَّا إذا كان النُّصحُ صدرَ من أفرادٍ في نفوسهم شيءٌ على مَن زعموا نصحَه، فكتبوا نصيحةً بذلك، وجمعوا توقيعاتٍ عليها، ثمَّ وصلت إلى إذاعة لندن، وإلى رويبضات الزَّمن في لندن قبل أن تصلَ إلى مَن أُريد نصحُه، فهذا النُّصحُ غيرُ سائغٍ، ولا لومَ على مَن أفتى بكونه غيرَ سائغ.
والعلماءُ الذين زعم الكاتبُ نصحَهم وكذا طلبة العلم في بلادهم ينصحون لولاة الأمور في بلادهم وغير بلادهم، بالطريقة الأُولَى المشروعة، دون الطريقة الثانية، وبهذه المناسبة يجِد صاحبُ هذا الرَّدّ على الكاتب أنَّه لا بأس من الإشارةِ إلى شيء من ذلك، فعندما حصل احتلالُ حُكَّام
প্রথম পদ্ধতিতে নসীহত করাই হলো শরীয়তসম্মত পদ্ধতি, এবং এর মাধ্যমেই কল্যাণ ও উপকার সাধিত হয়। কেউ একে নিষেধ করে না, বরং একে নিষেধ করা সম্ভবও নয়; কারণ এটি একটি গোপনীয় বিষয়। সুতরাং লেখক কোত্থেকে পেলেন যে, তিনি যাদের নসীহত করেছেন বলে দাবি করেন তারা এটি নিষেধ করে ফতোয়া দিয়েছেন?! তাদের কেউ কি লেখক এবং তার দেশের শাসকবর্গ বা অন্যদের নসীহত করার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন?!
পক্ষান্তরে, নসীহত যদি এমন ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আসে যাদের অন্তরে তাদের প্রতি বিদ্বেষ রয়েছে যাদের তারা নসীহত করার দাবি করছে, অতঃপর তারা এ বিষয়ে নসীহতনামা লিখে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে এবং তা যাকে নসীহত করার উদ্দেশ্য তার কাছে পৌঁছানোর আগেই লন্ডন রেডিও এবং লন্ডনের বর্তমানকালের অপদার্থ ব্যক্তিদের (রুওয়ায়বিদাহ) কাছে পৌঁছে যায়, তবে এ ধরণের নসীহত বৈধ নয়। আর যারা এটি অবৈধ হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন তাদের ওপর কোনো ভর্ৎসনা নেই।
লেখক যাদের নসীহত করার দাবি করেছেন সেই আলেমগণ এবং তাদের দেশের ইলম অন্বেষণকারীগণ তাদের দেশের শাসকবর্গ ও অন্যদের দ্বিতীয় পদ্ধতির পরিবর্তে প্রথম শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতেই নসীহত করে থাকেন। এই প্রেক্ষাপটে লেখকের প্রতি এই প্রত্যুত্তরকারী মনে করেন যে, এ সম্পর্কিত কিছু বিষয়ের ইঙ্গিত দেওয়াতে কোনো দোষ নেই। যখন শাসকদের দখলদারিত্বের ঘটনা ঘটল...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
العراق للكويت قبل عشر سنوات، وكانت حكومةُ الكويت في ذلك الوقت في مدينة الطائف، كتبتُ لِسُمُوِّ أمير الكويت كتاباً جاء فيه:
"فإنَّ ما حدث للكويت حكومة وشعباً في ليلة الحادي عشر من شهر المحرَّم هذا العام (1411هـ) من هجوم مباغتٍ قام به طغمة حزب البعث الحاكم في العراق بزعامة المجرم الأثيم صدام حسين، وما ترتَّب على ذلك من هلاك ودمار وانتهاك أعراض وسلب أموال وتشريد للرعاة والرعية، إنَّ ما حدث لا شكَّ أنَّه مصيبةٌ كبرى وكارثةٌ عظمى أزعجت كلَّ مسلمٍ وأحزنت كلَّ عاقل، وأظهرت بوضوح مدى خطر العدوِّ الذي يظهر نفسه في صورة الصديق، والله المسؤول أن ينصر المظلوم ويدحر الظالم، وأن تعود إلى الكويت سلامته وأمنه وأن يعود أهله إليه عوداً حميداً.
ولا يخفى على سُموِّكم وأنتم تقرؤون القرآن أنَّ الله بيَّن في كتابه الأسبابَ الحقيقية لحصول المصائب ووقوع
দশ বছর আগে কুয়েতে ইরাকি আগ্রাসনের সময়, যখন তৎকালীন কুয়েত সরকার তায়েফ শহরে অবস্থান করছিল, তখন আমি কুয়েতের মহামান্য আমিরের নিকট একটি পত্র লিখেছিলাম যাতে বলা হয়েছিল:
"নিশ্চয়ই এই বছর (১৪১১ হিজরী) মহররম মাসের এগারো তারিখের রাতে ইরাকের ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির একদল গোষ্ঠী, যার নেতৃত্বে ছিল পাপিষ্ঠ অপরাধী সাদ্দাম হোসেন, তাদের অতর্কিত আক্রমণের ফলে কুয়েতের সরকার ও জনগণের ওপর যা আপতিত হয়েছে, এবং এর ফলশ্রুতিতে যে প্রাণহানি, ধ্বংসযজ্ঞ, সম্ভ্রমহানি, সম্পদ লুণ্ঠন এবং শাসক ও প্রজাসাধারণের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে; নিঃসন্দেহে তা এক মহা মুসিবত ও চরম বিপর্যয়, যা প্রত্যেক মুসলিমকে বিচলিত করেছে এবং প্রত্যেক বিবেকবান মানুষকে ব্যথিত করেছে। এটি স্পষ্টভাবে সেই শত্রুর বিপদের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলেছে যে নিজেকে বন্ধুর বেশে প্রকাশ করে। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন মজলুমকে সাহায্য করেন এবং জালেমকে পর্যুদস্ত করেন, আর কুয়েত যেন তার নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরে পায় এবং তার অধিবাসীরা যেন সেখানে কল্যাণময় ও সসম্মানে প্রত্যাবর্তন করতে পারে।
আপনার মহামান্য আমিরের নিকট এটি অস্পষ্ট নয়—আর আপনি তো কুরআন পাঠ করেন—যে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে মুসিবতসমূহ আপতিত হওয়ার এবং দুর্যোগ ঘটার প্রকৃত কারণসমূহ বর্ণনা করেছেন"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الكوارث، والأسبابَ الحقيقية لحصول النِّعم وبقائها، والتمكين في الأرض والنصر على الأعداء، فقال: {وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ} ، وقال: {إنَّ اللهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغِيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ} ، وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} ، وقال: {وَلَيَنصُرَنَّ اللهُ مَن يَنصُرُهُ إِنَّ اللهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ الَّذِينَ إِن مَكَّنَّاهُمْ فِي الأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ المُنكَرِ وَللهِ عَاقِبَةُ الأُمُورِ} .
والله تعالى يبتلي بالنِّعم، ويبتلي بالنِّقم كما قال تعالى: {وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالخَيرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ} ، وهذه النَّكبةُ العظيمة التي حلَّت بالكويت هي ابتلاءٌ وامتحانٌ من الله لأهلِه، وفيها عِبرةٌ وعِظةٌ لهم ولغيرِهم؛ ليُفكِّرَ كلُّ عاقل في أسباب سعادة الدنيا والآخرة، فيأخذ بها ويسلك الطرقَ الموصلة إليها، ويحذر كلُّ ناصح لنفسِه سلوكَ كلّ طريق يُؤدِّي بصاحبِه إلى سخط الله وعقوبتِه، ومن المعلوم
দুর্যোগসমূহ, এবং নিয়ামত লাভ ও তা স্থায়ী হওয়ার প্রকৃত কারণসমূহ, এবং জমিনে আধিপত্য ও শত্রুদের ওপর বিজয়ের বিষয়সমূহ (সম্পর্কে) তিনি বলেন: {তোমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়, তা তোমাদেরই হাতের কামাই, আর তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন}, তিনি আরও বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে}, তিনি আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদযুগল স্থির করে দেবেন}, এবং তিনি বলেন: {আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে; নিশ্চয় আল্লাহ মহাশক্তিধর, পরাক্রমশালী। তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে আধিপত্য দান করলে তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং সৎকাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে; আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই ইখতিয়ারে}।
আর আল্লাহ তাআলা নিয়ামত দিয়েও পরীক্ষা করেন এবং বিপদ দিয়েও পরীক্ষা করেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালোর মাধ্যমে পরীক্ষা করি এবং আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে}। কুয়েতের ওপর যে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এর অধিবাসীদের জন্য এক পরীক্ষা ও যাচাই, আর এতে তাদের জন্য ও অন্যদের জন্য শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে; যাতে প্রত্যেক বিবেকবান ব্যক্তি দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের কারণসমূহ নিয়ে চিন্তা করে এবং তা গ্রহণ করে ও সেই পথে চলে যা তাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। আর নিজের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত এমন সব পথ পরিহার করা যা তাকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও শাস্তির দিকে নিয়ে যায়। আর এটি সুবিদিত যে...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أنَّ تلكَ الأسبابَ ترجع إلى امتثال أوامر الله ورسولِه صلى الله عليه وسلم واجتناب ما نهى الله عنه ورسولُه صلى الله عليه وسلم، والالتزام بشرع الله، ولا شكَّ أنَّ المسؤوليَّةَ العُظمى في كلِّ قُطرٍ من أقطارِ المسلمين تقع على وُلاة الأمر فيه الذين يُمكنُهم بإذن الله وتوفيقه تطبيقُ شريعة الله وحكم شعوبهم بكتاب ربِّهم وسُّنَّةِ نبيِّهم محمد صلى الله عليه وسلم، ونبذ القوانين الوضعيَّة الوضيعةِ، والله المسؤول أن يُنهيَ هذه الفتنة التي جاءت من العراق على خير، لكن ماذا بعد انتهاء الأزمة؟
إنَّ الخيرَ لكم وللشعب الكويتي أن يحصُلَ منكم العزم والتصميم على أن يكون شكرُكم لله على رفع البلاء عنكم ودحر المعتدى عليكم أن تُحكِّموا شريعة الله، وأن يكون وضع الكويت فيما بعد انتهاء الأزمة غيرَه قبلها، وذلك بالالتزام بالحقِّ والهدى الذي جاء به المصطفى صلى الله عليه وسلم.
وقبل ثلاثة عشر عاماً في بداية تولِّي سمُوِّكم إمارة دولة الكويت بعثتُ لكم الرسالةَ المرفق صورتها وفيها تذكير سُمُوِّكم بالواجب عليكم في ولايتِكم، وأسأل الله أن يَكشف
নিশ্চয়ই সেই কারণসমূহ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশাবলি পালন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন এবং আল্লাহর শরিয়তের অনুসরণের দিকেই ফিরে যায়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি ভূখণ্ডে সর্বাপেক্ষা বড় দায়িত্ব বর্তায় সেখানকার শাসকবর্গের ওপর, যারা আল্লাহর তওফীক ও সাহায্যে আল্লাহর শরিয়ত বাস্তবায়ন করতে এবং তাদের প্রতিপালকের কিতাব ও নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী নিজ জনগণের ওপর শাসন পরিচালনা করতে সক্ষম; সেই সঙ্গে নিকৃষ্ট মানব রচিত আইনসমূহ বর্জন করতে পারেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, ইরাক থেকে আগত এই ফিতনার যেন কল্যাণকর সমাপ্তি ঘটে। তবে সংকট শেষ হওয়ার পর কী হবে?
আপনাদের জন্য এবং কুয়েতের জনগণের জন্য প্রকৃত কল্যাণ এতেই নিহিত যে, আপনাদের পক্ষ থেকে এমন দৃঢ় সংকল্প ও প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত হবে যে—আপনাদের ওপর থেকে বিপদ অপনোদন এবং আক্রমণকারীকে প্রতিহত করার শুকরিয়া স্বরূপ আপনারা আল্লাহর শরিয়তকে বিচার-ফয়সালায় প্রতিষ্ঠিত করবেন। আর সংকট উত্তর কুয়েতের অবস্থা যেন পূর্বের চেয়ে ভিন্ন হয়, আর তা হবে সেই সত্য ও হিদায়াতের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে যা মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিয়ে এসেছেন।
আজ থেকে তেরো বছর পূর্বে আপনার কুয়েত রাষ্ট্রের আমিরের দায়িত্বভার গ্রহণের সূচনালগ্নে আমি আপনার নিকট একটি পত্র প্রেরণ করেছিলাম, যার অনুলিপি এখানে সংযুক্ত। তাতে আপনার ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আবশ্যিক দায়িত্বসমূহ সম্পর্কে আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে তিনি যেন দূর করে দেন...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الغُمَّة، ويقطع دابرَ الفتنة، وأن يُوفِّقكم لِما تُحمدُ عاقبته في الدنيا والآخرة، والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته".
والرسالة المشار إليها هي بتاريخ 6/2/1398هـ وقد جاء فيها:
"ومِمَّا هو معلومٌ لسُمُوِّكم أنَّ واجبَ مَن يتولَّى أمر المسلمين في قطر من أقطارهم أن يُقيم فيهم شرعَه، ويقفَ بهم عند حدوده وفاءً بمسؤوليَّة ولايتِه أمام ربِّه، واقتداء بما كان عليه سلفُنا الصالح إذا ولي أحدهم أمرَ المسلمين، وأنَّ ذلك هو الطريق الوحيد لعلاج حال المسلمين وسعادتهم في دنياهم وفوزهم في أخراهم، فما أصاب المسلمين مِمَّا أصابهم ومكَّن منهم أعداءهم إلَاّ بسبب إعراضهم عن هدى ربِّهم وتَنَكُّبهم عن صراطه المستقيم، واتِّباعهم السُبل الأخرى التي تفرَّقت بهم عن سبيله، وهم أحوجُ ما يكونون إلى حُكَّام يعودون بهم إلى سبيل ربِّهم، ويَحملونهم على اتِّباع أوامره واجتناب نواهيه، ويحكمونهم بشرعه، فيستعيدون عزَّتَهم ومجدَهم ومكانتَهم
...এই সংকট মোচন করবেন, ফিতনার মূল উপড়ে ফেলবেন এবং আপনাদেরকে এমন বিষয়ের তাওফিক দান করবেন যার পরিণাম ইহকাল ও পরকালে প্রশংসনীয় হবে। আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
উল্লিখিত পত্রটি ৬/২/১৩৯৮ হিজরি তারিখের, যাতে বর্ণিত হয়েছে:
"আপনার মহামহিমের নিকট এটি সুবিদিত যে, মুসলিম ভূখণ্ডের কোনো অঞ্চলের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির কর্তব্য হলো তাদের মধ্যে আল্লাহর বিধান কায়েম করা এবং নিজ রবের সম্মুখে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনের দায়বদ্ধতা থেকে এবং আমাদের নেককার পূর্বসূরিগণ মুসলিমদের নেতৃত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করলে যে আদর্শ অনুসরণ করতেন—তাদেরকে আল্লাহর নির্ধারিত সীমানার ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখা। আর এটিই হলো মুসলিমদের বর্তমান অবস্থার প্রতিকার, দুনিয়াতে তাদের সুখ-সমৃদ্ধি এবং পরকালে তাদের সফলতার একমাত্র পথ। মুসলিমরা আজ যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে এবং শত্রুরা তাদের ওপর যে আধিপত্য লাভ করেছে, তা কেবল তাদের রবের প্রদর্শিত হিদায়াত থেকে বিমুখ হওয়া, তাঁর সরল পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং এমন সব ভিন্ন পথের অনুসরণ করার কারণে যা তাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তারা বর্তমানে এমন শাসকদের প্রতি সর্বাধিক মুখাপেক্ষী যারা তাদেরকে তাদের রবের পথে ফিরিয়ে আনবেন, তাদেরকে তাঁর আদেশসমূহ পালন ও নিষেধসমূহ বর্জনে উদ্বুদ্ধ করবেন এবং তাদের মাঝে তাঁর শরিয়ত অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করবেন; যার ফলে তারা পুনরায় তাদের সম্মান, গৌরব ও মর্যাদা ফিরে পাবে।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بين الأمم، كما وصفهم الله عز وجل: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} ، {كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ المُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللهِ} ، {وَأَنتُمُ الأَعْلَوْنَ إِن كُنتُمْ مُؤْمِنِينَ} .
وإنَّ ما عُرف فيكم يا صاحب السُموِّ من عقل راجح وفِطنةٍ وحكمة، وبصيرة وبُعد نظر ليُقوِّي الرجاء في أن يتحقَّق في عهدكم لشعب الكويت كلُّ ما رَجوه من خير وتقدُّم وازدهار في ظلِّ حياة إسلامية قائمة على العمل بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وتطبيق شريعتِه في دستور الدولة وقوانينها ونظمها وتعليمها وسائر شؤونها.
تولَاّكم الله عز وجل ورعاكم وأمدَّكم بتوفيقه وأعانكم على ما فيه العزَّة لدينه والخير لعباده، إنَّه سميع مجيب، والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته".
وأول رسالة نصح لوَلِيِّ أمرٍ كانت للملِك فيصل رحمه الله، بعثتُها في تاريخ (2/10/1383هـ) ، وكانت إجابته عليها قبل مُضيِّ نصف شهر، بكتاب هذه صورته:
জাতিসমূহের মধ্যে, যেমনটি মহান আল্লাহ তাদের বর্ণনা করেছেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে মনোনীত করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হতে পারেন", "তোমরা হলে সর্বোত্তম জাতি, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো", "আর তোমরাই হবে বিজয়ী যদি তোমরা মুমিন হও।"
হে মহামান্য, আপনার মাঝে যে প্রখর ধীশক্তি, মেধা, প্রজ্ঞা, অন্তর্দৃষ্টি এবং দূরদর্শিতা সুবিদিত, তা এই আশাকে সুদৃঢ় করে যে, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহর অনুসরণে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী জীবনব্যবস্থার ছায়াতলে কুয়েতের জনগণের কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি আপনার শাসনামলেই বাস্তবায়িত হবে। সেইসাথে রাষ্ট্রের সংবিধান, আইন-কানুন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, শিক্ষা ও অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে তাঁর শরীয়তের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটবে।
মহান আল্লাহ আপনার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন, আপনাকে রক্ষা করুন, তাঁর বিশেষ তাওফীক দ্বারা ধন্য করুন এবং তাঁর দ্বীনের মর্যাদা বৃদ্ধি ও বান্দাদের কল্যাণে আপনাকে সহায়তা করুন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, প্রার্থনায় সাড়াদানকারী। আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি আমার প্রথম উপদেশমূলক পত্র ছিল মরহুম বাদশাহ ফয়সালের উদ্দেশ্যে, যা আমি ২/১০/১৩৮৩ হিজরি তারিখে পাঠিয়েছিলাম। পক্ষকাল অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই তিনি এর উত্তর দিয়েছিলেন, যে পত্রের অনুলিপি নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
4 قال الكاتب: "سَمَّيتُم المصحف الشريف الذي أمر بطبعِه خادم الحرمين الشريفين الملك فهد جزاه الله خيراً ب (مصحف المدينة النبوية) بدلاً من أن يُسمَّى (مصحف المدينة المنورة) ، وكأنَّكم لا تُقرُّون أنَّ هذه المدينةَ المباركةَ قد استنارت، بل استنارت الدنيا كلُّها ببعثة ورسالة سيِّدنا محمد عليه الصلاة والسلام
… ".
والجواب: أنَّه قد ورد لفظ (المدينة) في الكتاب والسُّنَّة غير مقيَّد بوصفها ب (النبوية) أو (المنورة) أو غير ذلك.
وإطلاق لفظ المدينة ينصرف إلى مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم، قال ابنُ عقيل في شرح ألفية ابن مالك: "من أقسام الألف واللَاّم أنَّها تكون للغلبة، نحو (المدينة) و (الكتاب) ؛ فإنَّ حقَّهما الصدق على كلِّ مدينة وكلِّ كتاب، لكن غلبت (المدينة) على مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم، و (الكتاب) على كتاب سيبويه رحمه الله تعالى، حتى إنَّهما إذا أُطلقا لَم يتبادر إلى الفهم غيرهما".
4 লেখক বলেছেন: "আপনারা হারামাইন শরিফাইনের খাদেম বাদশাহ ফাহদ (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন)-এর নির্দেশে মুদ্রিত সম্মানিত মুসহাফটিকে 'মদিনা মুনাওয়ারাহ মুসহাফ' হিসেবে অভিহিত না করে 'মদিনা নববীয়্যাহ মুসহাফ' নামকরণ করেছেন; যেন আপনারা এটি স্বীকার করছেন না যে এই বরকতময় শহরটি আলোকিত হয়েছে, অথচ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত ও রিসালাতের মাধ্যমে সমগ্র পৃথিবীই আলোকিত হয়েছে
... "।
এর উত্তর হলো: কুরআন ও সুন্নাহতে 'মদিনা' শব্দটি 'নববীয়্যাহ' বা 'মুনাওয়ারাহ' অথবা অন্য কোনো বিশেষণে সীমাবদ্ধ না রেখেই বর্ণিত হয়েছে।
আর সাধারণভাবে 'মদিনা' শব্দের প্রয়োগ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শহরের প্রতিই ধাবিত হয়। ইবনে আকীল 'শরহে আলফিয়্যাতে ইবনে মালিক'-এ বলেছেন: "আলিফ ও লামের একটি প্রকার হলো তা প্রাধান্য বা প্রসিদ্ধির (গলবা) জন্য আসে, যেমন: 'আল-মদিনা' (শহরটি) ও 'আল-কিতাব' (বইটি); যদিও শাব্দিক বিচারে এই শব্দ দুটি প্রতিটি শহর ও প্রতিটি বইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার উপযুক্ত, তবে 'আল-মদিনা' শব্দটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শহরের ওপর এবং 'আল-কিতাব' শব্দটি সিবওয়াইহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবের ওপর এমনভাবে প্রাধান্য লাভ করেছে যে, শব্দ দুটি যখন কোনো বিশেষণ ছাড়াই সাধারণভাবে বলা হয়, তখন এই দুটি ছাড়া অন্য কিছু মনে উদিত হয় না।"
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ثمَّ إنَّه حصل وصفُ المدينة ب (النبوية) في كلام بعض العلماء المتقدِّمين، كابن كثير في البداية والنهاية والتفسير، وكابن حجر في فتح الباري.
انظر: البداية والنهاية (10/262) ، والتفسير (4/143) ، وفتح الباري لابن حجر (1/569) ، و (5/88) ، و (6/128، 623) ، و (7/198) ، و (11/250، 262) ، و (13/101) .
وفي العصور المتأخرة وُصفت المدينة ب (المنورة) ، ولا شكَّ أنَّ المدينة وسائر أقطار الأرض عمَّها نورُ الهداية ببعثة الرسول صلى الله عليه وسلم، وقد وُصف الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم بأنَّه سراجٌ منير، ووُصف القرآن بأنَّه نورٌ، والمراد بالنورِ المضاف إلى القرآن وإلى الرسول صلى الله عليه وسلم نور الهداية، وأهل السنَّة المتَّبعون للسلف الصالِح يُصدِّقون بذلك، ويَدعون الناسَ إلى هذا النور، وأما غيرُهم من أهل البدع فإنَّهم يصرفونهم عن النور، ويَدعونهم إلى البدع ومُحدثات الأمور.
অতঃপর পূর্ববর্তী কিছু আলেমদের বক্তব্যে মদিনাকে 'নাবাউয়্যাহ' (নবী-সংশ্লিষ্ট) হিসেবে বিশেষিত করার বিষয়টি পাওয়া যায়, যেমন ইবনে কাসির তাঁর 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' ও তাফসির গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার তাঁর 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থে করেছেন।
দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/২৬২), তাফসির (৪/১৪৩), ইবনে হাজারের ফাতহুল বারি (১/৫৬৯), (৫/৮৮), (৬/১২৮, ৬২৩), (৭/১৯৮), (১১/২৫০, ২৬২) এবং (১৩/১০১)।
আর পরবর্তী যুগে মদিনাকে 'মুনাওয়ারা' (আলোকিত) হিসেবে বিশেষিত করা হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরণের মাধ্যমে মদিনা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত হেদায়েতের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে 'সিরাজুম মুনির' (উজ্জ্বল প্রদীপ) এবং কুরআনকে 'নূর' (আলো) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কুরআন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত এই নূর বা আলো দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হেদায়েতের আলো। সালাফে সালেহীনের অনুসারী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এটি বিশ্বাস করেন এবং মানুষকে এই আলোর দিকে আহ্বান করেন। অন্যদিকে বিদআতপন্থীরা মানুষকে সেই আলো থেকে বিচ্যুত করে এবং তাদের বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলির দিকে আহ্বান করে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলার রিফাঈ ওয়াল বূতী ফী কিযবিহিমা আলা আহলিস সুন্নাহ ওয়া দাওয়াতিহিমা ইলাল বিদা ওয়াদ দলাল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ووصفُ المدينة ب (النبوية) في العصور المتقدِّمة اصطلاح، ووصفُها ب (المنوَّرة) في عصور متأخرة اصطلاح، ولا مُشاحة في ذلك، فلا وجه لإنكار الكاتب على مَن زعم نُصحَهم وصفها ب (النبوية) مع أنَّه وصفٌ فيه إضافتُها إلى النبيِّ صلى الله عليه وسلم، وهو أيضاً من عمل المتقدِّمين.
5 قال الكاتب: "تُصرِّون على تسمية الجهة المشرِفة على شؤون الحرمين الشريفين (رئاسة الحرم المكي والمسجد النبوي الشريف) ، ولا تقولون (الحرم النبوي الشريف) ، وكذلك في إعلانات الطرق الدَّالة على ذلك والموجهة إليه، فلماذا لا يكون مسجدُه صلى الله تعالى عليه وسلَّم حَرَماً؟ كيف وقد جعل النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم المدينة كلَّها حرَماً؟ ". ثمَّ ذكر حديثين في تحريم المدينة.
والجواب: أنَّ الجهة المسؤولة عن المسجد الحرام والمسجد النبوي سُمِّيت أول إنشائها باسم (الرئاسة العامة لشؤون الحرمين الشريفين) ثمَّ عُدِّل الاسم إلى (الرئاسة العامة
পূর্ববর্তী যুগে মদিনাকে (আন-নাবাবিয়্যাহ) হিসেবে অভিহিত করা একটি পারিভাষিক রীতি, এবং পরবর্তী যুগে একে (আল-মুনাওয়ারাহ) হিসেবে অভিহিত করাও একটি পারিভাষিক রীতি; আর পরিভাষার বিষয়ে কোনো বিবাদ নেই। সুতরাং, লেখক যাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন, তাদের মদিনাকে (আন-নাবাবিয়্যাহ) হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে আপত্তি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই; অথচ এটি এমন একটি বিশেষণ যার মাধ্যমে শহরটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং এটি পূর্বসূরি আলেমদেরও অনুসৃত পদ্ধতি।
৫. লেখক বলেছেন: "আপনারা দুই পবিত্র হারাম শরিফের বিষয়াবলি তদারককারী কর্তৃপক্ষকে (হারাম মক্কি ও মসজিদে নববি শরিফের প্রেসিডেন্সি) হিসেবে নামকরণের ওপর অনড় থাকেন, এবং (হারাম নববি শরিফ) বলেন না। একইভাবে রাস্তার দিকনির্দেশক ও নির্দেশিকাগুলোতেও তা-ই লেখা হয়। তবে কেন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদ 'হারাম' হবে না? অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো সমগ্র মদিনাকেই 'হারাম' ঘোষণা করেছেন।" অতঃপর তিনি মদিনাকে হারাম ঘোষণার বিষয়ে দুটি হাদিস উল্লেখ করেছেন।
এর উত্তর হলো: মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষটি প্রতিষ্ঠার শুরুতে (দুই পবিত্র হারাম শরিফ বিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সি) নামে অভিহিত ছিল। পরবর্তীতে সেই নাম পরিবর্তন করে (সাধারণ প্রেসিডেন্সি...