(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: -)
الزواج القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الزواج
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
الناشر: مدار الوطن
الطبعة: 1425هـ
عدد الصفحات: 46
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিবাহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: বিবাহ
লেখক: মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন (মৃ. ১৪২১ হি.)
প্রকাশক: মাদার আল-ওয়াতান
সংস্করণ: ১৪২৫ হি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب اليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا اله إلا الله وحده لا شريك له واشهد أن محمدا عبده ورسوله صلي الله على اله وأصحابه وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد: فإنني مسرور بما تيسر لي من المشاركة في الموسم الثقافي للمحاضرات في كليتي الشريعة واللغة العربية بالقصيم1 لما ارجوه من الفائدة التي تحصل لي ولمن سمع محاضراتي أو قرأها إن شاء الله تعالى واسأل الله تعالى أن يجعل عملنا جميعا خالصا لوجهه موافقا لمرضاته.
ولكنني أحب أن أقدم كلمة قبل الدخول في صميم المحاضرة تكون مناسبة – إن شاء الله – وهي أنكم تعرفون
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহের মন্দ পরিণাম থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অত:পর: আল-কাসিমের (১) শরিয়াহ এবং আরবি ভাষা অনুষদদ্বয়ের লেকচার সম্বলিত সাংস্কৃতিক মৌসুমে অংশগ্রহণের যে তাওফিক আমার হয়েছে, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। কেননা এর মাধ্যমে আমি নিজের জন্য এবং যারা আমার লেকচার শুনবেন বা পাঠ করবেন তাদের জন্য কল্যাণ ও উপকারের আশা রাখি, ইনশাআল্লাহ। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলের আমলকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এবং তাঁর সন্তুষ্টির অনুকূলে কবুল করেন।
তবে মূল আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে আমি একটি কথা পেশ করতে চাই যা প্রাসঙ্গিক হবে—ইনশাআল্লাহ—আর তা হলো আপনারা জানেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ৪)
أيها الاخوة.. وأيها المشايخ إن الإسلام في عصرنا هذا محارب من جهات متعددة.
1- من جهة الأفكار، من جهة الأخلاق، من جهة العقائد.
وأنه كلما شنت الغارات وقويت فانه يجب أن يكون لها مضاد يقابلها بل يكون اعلي منها فإذا لم يكن ذلك فان معناه القضاء على الإسلام.
وهذا أمر في أعناق أهل العلم وأهل الدين، يجب عليهم أن يبذلوا الجهد ما استطاعوا بان يمنعوا هذه التيارات التي جاءتنا من كل جانب والتي أصبح الإنسان فيها بل الحليم حيران لا يدري كيف يتصرف؟
ولقد كنا نسمع كثيرا إن أعداء المسلمين يقولون: انه يجب التركيز على – المملكة العربية السعودية – لكونها مهد الإسلام وقبلة المسلمين وقدوتهم، ولهذا تجدهم يشنون الغارات الشرسة والمكايد المحكمة ويكرسون جهودهم لحرب هذه المملكة وإذا لم يقم أهل هذه المملكة من
হে ভ্রাতৃবৃন্দ এবং হে সম্মানিত শায়খগণ! নিশ্চয়ই বর্তমান যুগে ইসলাম বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণের সম্মুখীন।
১- চিন্তাধারার দিক থেকে, নৈতিকতার দিক থেকে এবং আকিদার দিক থেকে।
আর যখনই আক্রমণ শাণিত ও শক্তিশালী হয়, তখন তার বিপরীতে এমন একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য যা তার মোকাবিলা করবে, বরং যা তার চেয়েও শ্রেষ্ঠতর হবে। অন্যথায় এর অর্থ হবে ইসলামের বিনাশ।
আর এটি আলিম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের স্কন্ধে অর্পিত এক সুমহান দায়িত্ব। তাদের ওপর আবশ্যক হলো সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ব্যয় করা যাতে চারপাশ থেকে ধেয়ে আসা এই মতাদর্শিক স্রোতধারাগুলোকে প্রতিহত করা যায়, যেগুলোর তোড়ে সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি ধৈর্যশীল প্রাজ্ঞ ব্যক্তিও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে যে সে কীভাবে পদক্ষেপ নেবে?
আমরা প্রায়ই শুনে থাকি যে, ইসলামের শত্রুরা বলে: 'সউদী আরব সাম্রাজ্যের' ওপরই বিশেষ লক্ষ্য নিবদ্ধ করা উচিত—যেহেতু এটি ইসলামের চারণভূমি, মুসলিমদের কিবলা এবং তাদের অনুকরণীয় আদর্শ। এই কারণেই আপনি দেখবেন তারা হিংস্র আক্রমণ ও নিপুণ ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিয়োজিত করছে। আর যদি এই সাম্রাজ্যের অধিবাসীরা...
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ৫)
علماء ومن مخلصين بإيصاد الباب أما هؤلاء وسوف يجوسون خلال الديار وسوف تجدون أمورا تنكرونها غاية الإنكار.
والذي يجب علينا أمام هذه التيارات أيها الاخوة هو:
1- توحيد الدعوة
2-توحيد الجهد
3-الا نجعل بيننا مكانا لموطئ قدم من الأعداء
ولكني أقول بالحقيقة أننا نعمل على ذلك كل منا كأنما يعمل وحده لا نجد اثنين الا ما شاء الله على هدف واحد أو بعبارة اصح على طريق واحد وإن كان الهدف متحدا.
لذلك أرى أن من واجب علماء هذه المملكة سواء في الرياض أو في الحجاز أو في القصيم أو في غيرها من مناطق المملكة إن يجتمعوا على كلمة واحدة وأن يدرسوا الموضوع بجد لأنه خطير فيما أرى، يدرسوه دراسة
আলেম সমাজ এবং একনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এদের সামনে দ্বার রুদ্ধ করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তারা দেশজুড়ে বিচরণ করবে এবং আপনারা এমন সব বিষয় প্রত্যক্ষ করবেন যা আপনারা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করবেন।
হে ভ্রাতৃবৃন্দ, এই সকল স্রোতের মোকাবিলায় আমাদের ওপর যা আবশ্যক তা হলো:
1- দাওয়াতের ঐক্য
2-প্রচেষ্টার ঐক্য
3-আমাদের মাঝে শত্রুদের পদচারণার বিন্দুমাত্র স্থান না রাখা
কিন্তু আমি বাস্তবতার নিরিখে বলছি যে, আমরা এমনভাবে কাজ করছি যেন আমাদের প্রত্যেকেই পৃথকভাবে কাজ করছে। আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত আমরা এমন দুজনকে খুঁজে পাই না যারা একই লক্ষ্যের ওপর, অথবা আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে একই পথের ওপর অবিচল, যদিও লক্ষ্য অভিন্ন।
তাই আমি মনে করি যে, এই রাজ্যের আলেমদের কর্তব্য—তা রিয়াদ, হিজাজ, কাসিম বা রাজ্যের অন্য যে কোনো অঞ্চলেরই হোক না কেন—তারা যেন একই সিদ্ধান্তে উপনীত হন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করেন; কারণ আমার দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তারা যেন এটি এমনভাবে পর্যালোচনা করেন...
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وافية لا فيما يتصل بوسائل الإعلام ولا فيما يتصل بوسائل الثقافة ومناهج المدارس ومقرراتها ولا فيما يكون بين عامة الناس من الانحراف والانصراف عن أصول دينهم وفروعه.
ونحن نجد كثيرا من طلاب العلم مشغولون بغير ما هم مكلفون به بطلب الدنيا والإقبال عليها والالتفاف حولها وهذا في الحقيقة يضعف دعوتهم إلي الخير، يضعف قبولها أمام العامة أيضا فان لسلوك العالم خطرا بالغا في تأثيره على من حوله فإذا كان العامة لا يجدون من أهل العلم الا التكالب على الدنيا كما يتكالب عليها السوقة من عامة الناس فإنهم لن يثقون أبدا بما عندهم من الإرشادات والعلوم.
كذلك أيها الاخوة بالنسبة لولاة الأمور يجب علينا مناصحتهم لأن النبي صلي الله عليه وسلم قال: "الدين النصيحة" ثلاثة مرات قالوا: لمن يا رسول الله؟ قال: "لله ولكتابه
এটি পর্যাপ্ত নয়—না গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে, না সংস্কৃতির মাধ্যমসমূহ এবং বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ও নির্ধারিত বিষয়াবলির ক্ষেত্রে, আর না সাধারণ মানুষের মাঝে দ্বীনের মূলনীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখা (فروع) থেকে বিচ্যুতি ও বিমুখতার ক্ষেত্রে।
আমরা অনেক ইলম অন্বেষণকারীকে (طلاب العلم) এমন সব কাজে লিপ্ত দেখতে পাই যা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের বহির্ভূত; তারা দুনিয়া অন্বেষণ, এর প্রতি আসক্তি এবং একে কেন্দ্র করেই ব্যস্ত থাকে। প্রকৃতপক্ষে এটি কল্যাণের দিকে তাদের দাওয়াতের প্রভাবকে দুর্বল করে দেয় এবং সাধারণ মানুষের কাছেও এর গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দেয়। কেননা, একজন আলেমের আচরণের প্রভাব তার চারপাশের মানুষের ওপর অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী; সাধারণ মানুষ যদি ইলম অন্বেষণকারীদের মাঝে দুনিয়ার প্রতি সেই একই মোহ ও লিপ্সা দেখতে পায় যা সাধারণ নিম্নস্তরের মানুষের মাঝে বিদ্যমান, তবে তারা তাদের নিকট থাকা জ্ঞান ও নির্দেশনার প্রতি কখনোই আস্থাশীল হবে না।
তেমনিভাবে হে ভ্রাতৃমণ্ডলী, শাসকবর্গের (ولاة الأمور) ক্ষেত্রে আমাদের কর্তব্য হলো তাদের কল্যাণকামিতা বা সদুপদেশ প্রদান করা (مناصحة)। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বলেছেন: “দীন হলো কল্যাণকামিতা (النصيحة)।” তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: “হে আল্লাহর রাসুল, কার জন্য?” তিনি বললেন: “আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কিতাবের জন্য...”
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ولرسوله ولائمة المسلمين وعامتهم" 1.
فالواجب علينا مناصحة ولاة الأمور والا نعتمد على رجل أو رجلين أو ثلاثة أو أربعة، يناصحون ولاة الأمور، فولاة الأمور إذا كثر ناصحوهم وعرفوا الحق من كل جانب وجاءتهم النصيحة من كل وجه فإنهم لا بد أن يلتفتوا إلي ذلك وأن يسلكوا المنهج الذي نسال الله تعالى أن يوفقهم له، وهو منهج النبي صلي الله عليه وسلم ظاهرا وباطنا.
كذلك بالنسبة للعامة نجد أكثر المساجد – مع الأسف – غالب أئمتها جهال ولا يرشدون ولا ينصحون لا يتكلمون وكان الناس قبل وقتنا الحاضر وقبل أن تفتح عليهم الدنيا، يأخذ إمامهم وأن لم يكن من طلبة العلم بعض الكتب المعتمدة، فيقرؤها على المصلين وينتفعون بها، أما اليوم فغالب المساجد لا يقرا فيها شئ ولا يوجه الإمام
--------------------------------------------
১.
...এবং তাঁর রাসূলের প্রতি, মুসলিমদের নেতৃবৃন্দের প্রতি এবং তাদের সাধারণ জনগণের প্রতি।
তাই আমাদের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য হলো শাসকগোষ্ঠীকে (ولاة الأمور) সদুপদেশ প্রদান করা। আমরা যেন কেবল একজন, দুইজন, তিনজন বা চারজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করি যারা শাসকদের উপদেশ দেবেন। কারণ শাসকদের উপদেশদাতার সংখ্যা যখন বৃদ্ধি পায় এবং তারা যখন সব দিক থেকে সত্য জানতে পারেন এবং সব পক্ষ থেকে তাদের কাছে নসিহত পৌঁছায়, তখন তারা অবশ্যই সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করতে বাধ্য হবেন এবং সেই পথ অবলম্বন করবেন যার জন্য আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাদের তাওফিক কামনা করি; আর তা হলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ (منهج)।
একইভাবে সাধারণ মানুষের (عامة) ক্ষেত্রেও, আমরা দেখতে পাই যে অধিকাংশ মসজিদের ইমামগণ—দুর্ভাগ্যবশত—অজ্ঞ (جهال); তারা না কোনো সঠিক দিকনির্দেশনা দেন, না কোনো উপদেশ প্রদান করেন, এমনকি কোনো কথাও বলেন না। অথচ বর্তমান সময়ের আগে এবং পার্থিব জাঁকজমক উন্মুক্ত হওয়ার পূর্বে অবস্থা এমন ছিল যে, মসজিদের ইমাম ইলম অন্বেষণকারী (طلبة العلم) না হলেও কিছু নির্ভরযোগ্য (معتمدة) কিতাব সংগ্রহ করতেন এবং মুসল্লিদের তা পড়ে শোনাতেন, ফলে তারা উপকৃত হতো। কিন্তু আজ অধিকাংশ মসজিদে কিছুই পাঠ করা হয় না এবং ইমাম কোনো দিকনির্দেশনাও প্রদান করেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ৮)
جماعته إلي ما ينفعهم ولهذا تجد عزوف العامة عن المسائل الدينية كثيرا جدا وهذا كله بتقصير من أهل العلم وبتقصير ممن يهمهم هذا الأمر، فعلينا أيها الاخوة إن نجتمع وأن نوحد جهودنا وأن نناصح ولاة أمورنا وأن نبذل الجهد في نصح عامة المسلمين في المساجد والطرقات وغيرها ما استطعنا إلي ذلك سبيلا.
وشئ آخر مهم جدا وهو العزلة بين الشباب والشيوخ هذه العزلة التي أصبح الشباب فيها حيران لا يهتدون سبيلا كل هذا في الحقيقة من تقصير كبار السن وعدم التفات بعضهم إلي الشباب مطلقا حتى إنهم لا يصغون لهم وان قالوا رشدا وهذا من الخطأ فالواجب علينا أن نكون مع هؤلاء الشباب وان ننظر ما هم عليه وأن نلاحظ ما حولهم مما يؤثر عليهم وما السبب الذي أوجب لهم هذا العزوف والانصراف عن الإقبال على دينهم؟ حتى إذا عرفنا الداء أمكننا أن نقوم بإعطاء الدواء.
وأما كوننا إذا سمعنا ما لا ينبغي عن بعضهم أعرضنا عن
তাদের জামাতকে সেই বিষয়ের দিকে ধাবিত করা যা তাদের উপকারে আসে। এই কারণেই ধর্মীয় বিষয়াবলি থেকে জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক বিমুখতা পরিলক্ষিত হয়। এর পুরো দায়ভার আলেম সমাজ এবং যারা এই বিষয়ের গুরুত্ব অনুভব করেন তাদের অবহেলার ওপর বর্তায়। হে ভ্রাতৃবৃন্দ, তাই আমাদের কর্তব্য হলো ঐক্যবদ্ধ হওয়া, আমাদের প্রচেষ্টাগুলোকে সুসংহত করা, আমাদের শাসকগোষ্ঠীকে সদুপদেশ প্রদান করা এবং মসজিদ, রাস্তাঘাট ও অন্যান্য স্থানে সাধারণ মুসলিমদের নসিহত করার ক্ষেত্রে আমাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা।
আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুবসমাজ ও প্রবীণদের মধ্যকার দূরত্ব বা বিচ্ছিন্নতা। এই বিচ্ছিন্নতার ফলে যুবকরা আজ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে এবং সঠিক পথের দিশা পাচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে এ সবই বয়োজ্যেষ্ঠদের গাফিলতি এবং যুবকদের প্রতি তাদের চরম উদাসীনতার ফল; এমনকি যুবকরা সঠিক কথা বললেও তারা তাতে কর্ণপাত করেন না। এটি একটি ভুল পদ্ধতি। আমাদের ওপর আবশ্যক হলো এই যুবকদের সাথে থাকা, তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং তাদের চারপাশের প্রভাবক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা। আর কোন কারণে তারা ধর্মবিমুখ হয়ে পড়ছে এবং দ্বীনের পথে অগ্রসর হতে বিমুখতা প্রদর্শন করছে তা অনুসন্ধান করা; যেন আমরা রোগটি শনাক্ত করতে পারি এবং সেই অনুযায়ী প্রতিষেধক প্রদান করতে পারি।
আর যখন আমরা তাদের কারো পক্ষ থেকে অনুচিত কিছু শুনি তখন আমরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিই...
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الجميع ثم نبذناهم وجعلنا نسبهم في كل مكان ولا نبالي بشأنهم وننظر إليهم بعين الاحتقار فهذا مما يوجب الشر العظيم من بعد الشباب عن الشيوخ وعن أهل العلم والدين حتى تقودهم الشياطين إلي ما تريد.
فعلينا أيها الاخوة أن نراعي هذه المسالة الخطير وان نلقي لها بالا ونحسب لها حسابا.
وعلى المدرسين خصوصا: أن يجتهدوا في تثقيف الطلبة تثقيفا دينيا وأن يرغبوهم فيما جاء به النبي صلي الله عليه وسلم من كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلي الله عليه وسلم وأن يبصروهم بالدين على حقيقته وأن يكشفوا لهم الأحكام الشرعية كشفا واضحا مع بيان أسرار الشريعة وحكمتها لأني أري أن التعليم ولا سيما الجامعي فيه بعض النقص وذلك أن بعض المدرسين يلقي الدرس جافا أي إنهم "لا يبينون للطلبة دليل حكم المسالة ولا حكمته" وواقع المؤمن أن ينقاد إلي أمر الله ورسوله سواء علم الحكمة أم لا. قال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ}
আমরা যদি সকলকে বর্জন করি, এরপর সর্বত্র তাদের তুচ্ছজ্ঞান করি, তাদের বিষয়ে কোনো পরোয়া না করি এবং তাদের প্রতি অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকাই, তবে এটি এমন এক চরম অনিষ্টের পথ প্রশস্ত করবে যা যুব সমাজকে প্রবীণ এবং ইলম ও দ্বীনদার ব্যক্তিদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে, যার ফলে শয়তান তাদের নিজেদের খেয়ালখুশিমতো পথে পরিচালিত করবে।
অতএব হে ভাইয়েরা, আমাদের উচিত এই গুরুতর বিষয়টি লক্ষ্য রাখা, এর প্রতি গভীর মনোযোগ দেওয়া এবং একে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা।
বিশেষ করে শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো: তারা যেন শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় জ্ঞানে শিক্ষিত করার ব্যাপারে আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহ (سنة) থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার প্রতি তাদের আগ্রহী করে তোলেন। তারা যেন শিক্ষার্থীদের দ্বীনের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অবগত করেন এবং শরীয়াহর (شريعة) নিগূঢ় রহস্য ও হিকমত বর্ণনার মাধ্যমে শারয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) স্পষ্টভাবে উন্মোচন করেন। কারণ আমি মনে করি যে, শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কিছু ঘাটতি রয়েছে; আর তা হলো কিছু শিক্ষক অত্যন্ত নিরসভাবে পাঠদান করেন, অর্থাৎ তারা "শিক্ষার্থীদের নিকট মাসআলার (مسألة) বিধানের (حكم) দলিল কিংবা এর হিকমত বর্ণনা করেন না"। অথচ একজন মুমিনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের অনুগত হওয়া, চাই সে তার হিকমত জানুক বা না জানুক। মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার বা ভিন্ন সিদ্ধান্তের অবকাশ থাকে না।"
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ১০)
[الأحزاب- 36] ولكنه إذا عرف الحكمة ازداد اطمئنانا وتطبيقا ورغبة في الشريعة ولهذا أحث إخواني المدرسين على أن يلقوا العلم إلي الطلبة دسما حيا محركا للقلوب مهذبا للنفوس ينشرح به الصدر وتطمئن اليه النفس.
والآن ارجع إلي صميم المحاضرة:
لقد كان موضوع محاضرتي هذه"عقد النكاح وآثاره وما يترتب عليه وغير ذلك من بعض ما يتعلق به".
واخترت هذا الموضوع لأهميته وجهل كثير من الناس بكثير من أحكامه، ولما يتصل به من المشكلات الاجتماعية التي يتمنى كل مخلص وناصح لدينه وأمته أن ييسر حلها، فان المشكلات كلما طرقت وألقيت الأضواء عليها تيسر حلها وإذا تناساها الناس وأغمضوا عيونهم بقيت كما هي أو زادت غموضا وإشكالا.
وقد عقدت لهذا الموضوع عشرة فصول:
الفصل الاول: في معنى النكاح لغة وشرعا.
الفصل الثاني: في حكم النكاح.
[আল-আহজাব: ৩৬] কিন্তু যখন সে হিকমত বা রহস্য জানতে পারে, তখন তার প্রশান্তি, প্রয়োগ এবং শরীয়তের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই আমি আমার শিক্ষক ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাই যেন তারা ছাত্রদের কাছে জ্ঞানকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যা হবে সারগর্ভ, প্রাণবন্ত, হৃদয়স্পর্শী এবং আত্মশুদ্ধি বৃদ্ধিকারী; যার মাধ্যমে বক্ষ প্রসারিত হবে এবং আত্মা প্রশান্তি লাভ করবে।
আর এখন আমি আলোচনার মূল বিষয়ে ফিরে আসছি:
আমার এই আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল: "নিকাহ (বিবাহের চুক্তি), এর প্রভাব, আনুষঙ্গিক ফলাফল এবং এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কিছু বিষয়।"
আমি এই বিষয়টি নির্বাচন করেছি এর গুরুত্বের কারণে এবং অনেক মানুষের মধ্যে এর অনেক বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতা বিদ্যমান থাকায়। এছাড়া এর সাথে এমন সব সামাজিক সমস্যা জড়িত রয়েছে যা সমাধান করা প্রত্যেক দ্বীন ও উম্মাহর কল্যাণকামী ব্যক্তি প্রত্যাশা করে। কেননা সমস্যাগুলো নিয়ে যখনই আলোচনা করা হয় এবং তার ওপর আলোকপাত করা হয়, তখন তার সমাধান সহজ হয়ে যায়। আর যদি মানুষ তা ভুলে থাকে এবং চোখ বন্ধ করে রাখে, তবে তা আগের মতোই থেকে যায় অথবা এর অস্পষ্টতা ও জটিলতা আরও বেড়ে যায়।
আমি এই বিষয়টিকে দশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়: আভিধানিক এবং শরয়ী (شرعاً) অর্থে নিকাহ-এর পরিচয়।
দ্বিতীয় অধ্যায়: নিকাহ-এর বিধান বা হুকুম (حكم) প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الثالث: في شروط النكاح.
الفصل الرابع: في أوصاف المرأة التي ينبغي نكاحها.
الفصل الخامس: في المحرمات في النكاح.
الفصل السادس: في العدد المباح في النكاح.
الفصل السابع: في الحكمة من النكاح.
الفصل الثامن: في الآثار المترتبة على النكاح ومنها:
1- المهر. 2- النفقة. 3- الصلة بين الأصهار. 4- المحرمية. 5-الميراث
الفصل التاسع: في حكم الطلاق وما يراعى فيه.
الفصل العاشر: فيما يترتب على الطلاق.
فنقول مستعينين بالله تعالي، مستهلين منه التوفيق والسداد راجين منه النفع للعباد.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নিকাহের শর্তাবলি প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যে নারীকে বিবাহ করা বাঞ্ছনীয় তার বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নিকাহে নিষিদ্ধ বিষয়াবলি প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: নিকাহে অনুমোদিত সংখ্যা প্রসঙ্গে।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: নিকাহের হিকমত প্রসঙ্গে।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: নিকাহের ফলে উদ্ভূত প্রভাবসমূহ প্রসঙ্গে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো:
১- মোহরানা। ২- ভরণপোষণ। ৩- বৈবাহিক আত্মীয়দের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক। ৪- মাহরাম হওয়া। ৫- উত্তরাধিকার।
নবম পরিচ্ছেদ: তালাকের বিধান এবং এতে যা লক্ষণীয় সে সম্পর্কে।
দশম পরিচ্ছেদ: তালাকের ফলে যা অবধারিত হয় সে সম্পর্কে।
আমরা মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশনা কামনা করে এবং বান্দাদের উপকারের প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা শুরু করছি।
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الأول: في معنى النكاح لغة وشرعاالنكاح في اللغة: يكون بمعنى عقد التزويج ويكون بمعنى وطء الزوجة قال أبو علي القالي: "فرقت العرب فرقا لطيفا يعرف به موضع العقد من الوطء، فإذا قالوا: نكح فلانة أو بنت فلان أرادوا عقد التزويج، وإذا قالوا: نكح امرأته أو زوجته لم يريدوا إلا الجماع والوطء".
ومعنى النكاح في الشرع: "تعاقد بين رجل وامرأة يقصد به استمتاع كل منهما بالآخر وتكوين أسرة صالحة ومجتمع سليم".
ومن هنا نأخذ انه لا يقصد بعقد النكاح مجرد الاستمتاع بل يقصد به مع ذلك معنى آخر هو (تكوين الأسرة الصالحة والمجتمعات السليمة) لكن قد يغلب احد القصدين على الآخر لاعتبارات معينة بحسب أحوال الشخص.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক (لغة) ও শরয়ী (شرع) অর্থে নিকাহ-এর পরিচয়আভিধানিক (لغة) অর্থে নিকাহ: এটি বিবাহের চুক্তি (عقد) এবং স্ত্রীর সাথে সহবাস—এই উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আবু আলী আল-কালী বলেছেন: "আরবরা একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য নিরূপণ করেছেন যার মাধ্যমে চুক্তির (عقد) প্রেক্ষিত এবং সহবাসের প্রেক্ষিত নির্ণয় করা যায়। যখন তারা বলেন: ‘অমুক ব্যক্তি অমুক নারী বা অমুকের কন্যাকে নিকাহ করেছে’, তখন তারা বিবাহের চুক্তি (عقد) উদ্দেশ্য করেন। আর যখন তারা বলেন: ‘সে তার স্ত্রীকে নিকাহ করেছে’, তখন তারা কেবল সহবাস ও যৌন মিলনই উদ্দেশ্য করেন।"
শরীয়তের (شرع) পরিভাষায় নিকাহ-এর অর্থ: "একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে সম্পাদিত এমন এক চুক্তি (عقد), যার মাধ্যমে একে অপরের দ্বারা তৃপ্তি লাভ এবং একটি নেককার পরিবার ও সুস্থ সমাজ গঠন করা উদ্দেশ্য হয়।"
এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, নিকাহ-এর চুক্তির (عقد) মাধ্যমে কেবল তৃপ্তি লাভই উদ্দেশ্য নয়, বরং এর পাশাপাশি অন্য একটি লক্ষ্যও রয়েছে, আর তা হলো (সৎ পরিবার ও সুস্থ সমাজ গঠন)। তবে ব্যক্তির অবস্থাভেদে বিশেষ কিছু বিবেচনার প্রেক্ষিতে অনেক সময় এই দুই উদ্দেশ্যের কোনো একটি অন্যটির ওপর প্রাধান্য পেতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الثاني في حكم النكاح:النكاح باعتبار ذاته مشروع مؤكد في حق كل ذي شهوة قادر عليه. وهو من سنن المرسلين، قال الله تعالى: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلاً مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجاً وَذُرِّيَّةً} [الرعد-38] .
وقد تزوج النبي صلي الله عليه وسلم وقال: "إني أتزوج النساء فمن رغب عن سنتي فليس مني" 1.
ولذلك قال العلماء: إن التزويج مع الشهوة أفضل من نوافل العبادة لما يترتب عليه من المصالح الكثيرة والآثار الحميدة التي سنبين بعضها فيما بعد إن شاء الله.
وقد يكون النكاح واجبا في بعض الأحيان كما إذا كان
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিবাহের বিধান প্রসঙ্গে:বিবাহ স্বীয় সত্তার বিচারে প্রত্যেক কামনাসম্পন্ন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তির ক্ষেত্রে একটি বিধিবদ্ধ (مشروع) ও সুনিশ্চিত (مؤكد) বিষয়। এটি রাসূলগণের সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত, মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আমি আপনার পূর্বে অনেক রাসূল পাঠিয়েছি এবং তাঁদের জন্য স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি নির্ধারণ করেছি} [আর-রাদ: ৩৮]।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করেছেন এবং বলেছেন: "নিশ্চয় আমি নারীদের বিবাহ করি; সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।" ১
আর একারণেই আলেমগণ বলেছেন: কামনাবশত বিবাহ করা নফল (نوافل) ইবাদতের চেয়েও উত্তম, কারণ এর সাথে অনেক কল্যাণ ও প্রশংসনীয় ফলাফল জড়িত, যার কিছু অংশ আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে বর্ণনা করব।
আর কখনও বিবাহ ওয়াজিব (واجب) হয়ে থাকে, যেমন যখন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الرجل قوي الشهوة ويخاف على نفسه من المحرم إن لم يتزوج فهنا يجب عليه أن يتزوج لاعفاف نفسه وكفها عن الحرام ويقول النبي صلي الله عليه وسلم: "يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج فانه أغض للبصر وأحصن للفرج ومن لم يستطع فعليه بالصوم فانه له وجاء" 1
--------------------------------------------
কোনো ব্যক্তির কামভাব যদি প্রবল হয় এবং বিবাহ না করলে তিনি হারামে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন, তবে নিজের পবিত্রতা রক্ষা এবং নিজেকে হারাম থেকে বিরত রাখার জন্য বিবাহ করা তাঁর ওপর আবশ্যক (واجب)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যার বিবাহের সামর্থ্য রয়েছে সে যেন বিবাহ করে, কেননা তা দৃষ্টিকে অধিক অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের অধিক হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে; কেননা তা তার জন্য কামভাব দমনকারী।" ১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الثالث: في شروط النكاحمن حسن التنظيم الإسلامي ودقته في شرع الأحكام إن جعل للعقود شروطا بها وتتحدد فيها صلاحيتها للنفوذ والاستمرار فكل عقد من العقود له شروط لا يتم الا بها وهذا دليل واضح على أحكام الشريعة وإتقانها وأنها جاءت من لدن حكيم خبير يعلم ما يصلح للخلق ويشرع لهم ما يصلح به دينهم ودنياهم حتى لا تكون الأمور فوضى لا حدود لها ومن بين تلك العقود عقد النكاح فعقد النكاح له شروط نذكر منها ما يأتي وهو أهمها:
1- رضا الزوجين: فلا يصح إجبار الرجل على نكاح من لا يريد ولا إجبار المرأة على نكاح من لا تريد.
قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهاً} "النساء:19". وقال النبي صلي الله عليه وسلم: "لا تنكح الأيم حتى تستامر ولا تنكح البكر حتى تستأذن"، قالوا: يا
তৃতীয় অধ্যায়: বিবাহের শর্তাবলি প্রসঙ্গেইসলামী ব্যবস্থার সৌন্দর্য ও বিধান প্রণয়নে এর সূক্ষ্মতা হলো, এটি চুক্তিসমূহের জন্য এমন কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে যার মাধ্যমে সেগুলোর কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নির্ধারিত হয়। সুতরাং প্রতিটি চুক্তিরই এমন কিছু শর্ত রয়েছে যা ব্যতিরেকে তা সম্পন্ন হয় না। এটি শরীয়তের বিধানসমূহের সুদৃঢ়তা ও নিখুঁত হওয়ার এক সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং এটি একজন প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, যিনি সৃষ্টির জন্য যা কল্যাণকর তা জানেন এবং তাদের জন্য এমন বিধানই প্রণয়ন করেন যা দ্বারা তাদের দ্বীন ও দুনিয়া সংশোধিত হয়, যাতে করে বিষয়গুলো সীমাহীন বিশৃঙ্খলার শিকার না হয়। এই চুক্তিসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো বিবাহের চুক্তি। বিবাহের চুক্তির কিছু শর্ত রয়েছে, যার মধ্য থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১- বর-কনের সম্মতি: কোনো পুরুষকে সে যাকে অপছন্দ করে তার সাথে বিবাহে বাধ্য করা বৈধ নয় এবং কোনো নারীকেও সে যাকে অপছন্দ করে তার সাথে বিবাহে বাধ্য করা বৈধ নয়।
মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য এটি বৈধ নয় যে, তোমরা জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হবে} "আন-নিসা: ১৯"। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অকুমারী নারীকে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যতিরেকে বিবাহ দেওয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকেও তার অনুমতি গ্রহণ ব্যতিরেকে বিবাহ দেওয়া যাবে না।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে...
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
رسول الله وكيف إذنها؟ قال: "أن تسكت" 1
فنهى النبي صلي الله عليه وسلم عن تزويج المرأة بدون رضاها سواء أكانت بكرا أم ثيبا الا أن الثيت لا بد من نطقها بالرضا وأما البكر فيكفي في ذلك سكوتها لأنها تستحي من التصريح بالرضا.
وإذا امتنعت عن الزواج فلا يجوز أن يجبرها عليه احد ولو كان أباها، لقول النبي صلي الله عليه وسلم: "والبكر يستأذنها أبوها" 2.
ولا أثم على الأب إذا لم يزوجها في هذه الحال لأنها هي التي امتنعت ولكن عليه أن يحافظ عليها ويصونها.
وإذا خطبها شخصان، وقالت: أريد هذا وقال وليها: تزوجي الآخر، زوجت بمن تريد هي إذا كان كفئا لها أما إذا كان غير كفء فلوليها أن يمنعها من زواجها به ولا إثم
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসুল এবং তার অনুমতি কীভাবে হবে? তিনি বললেন: "তার নীরব থাকা" ১
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীর সম্মতি ব্যতীত তাকে বিবাহ দিতে নিষেধ করেছেন, চাই সে কুমারী (بكر) হোক বা অকুমারী (ثيب)। তবে অকুমারীর (ثيب) ক্ষেত্রে মৌখিক সম্মতির প্রকাশ আবশ্যক, আর কুমারীর (بكر) ক্ষেত্রে তার নীরবতাই যথেষ্ট; কেননা সে সম্মতির কথা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে লজ্জা পায়।
যদি সে বিবাহে অসম্মতি প্রকাশ করে, তবে তাকে বাধ্য করার অধিকার কারো নেই, এমনকি তার পিতারও না। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আর কুমারীর (بكر) কাছে তার পিতা অনুমতি গ্রহণ করবেন" ২।
এমতাবস্থায় পিতা যদি তাকে বিবাহ না দেন, তবে পিতার কোনো গুনাহ হবে না; যেহেতু সে নিজেই অসম্মতি জানিয়েছে। তবে পিতার কর্তব্য হলো তার হেফাজত ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
যদি দুইজন ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং সে বলে: "আমি একে চাই", আর তার অভিভাবক (ولي) বলে: "অন্যজনকে বিবাহ করো", তবে সে যাকে চায় তার সাথেই বিবাহ দিতে হবে যদি সে তার সমপর্যায়ের (كفء) হয়। কিন্তু যদি সে সমপর্যায়ের (كفء) না হয়, তবে অভিভাবকের (ولي) জন্য তাকে ওই বিবাহ থেকে বিরত রাখার অধিকার রয়েছে এবং এতে কোনো গুনাহ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عليه في هذه الحال.
2. الولي فلا يصح النكاح بدون ولي، لقول النبي صلي الله عليه وسلم: "لا نكاح إلا بولي" 1. فلو زوجت المرأة نفسها فنكاحها باطل، سواء باشرت العقد بنفسها أم وكلت فيه.
والولي: هو البالغ العاقل الرشيد من عصباتها، مثل الأب، والجد من قبل الأب، والابن وابن الابن وإن نزل والأخ الشقيق والأخ من الأب والعم الشقيق والعم من الأب وأبنائهم الأقرب فالأقرب.
ولا ولاية للأخوة من الأم ولا لأبنائهم ولا أبي الأم والأخوال لأنهم غير عصبة.
وإذا كان لا بد في النكاح من الولي فانه يجب على الولي اختيار الأكفأ الأمثل إذا تعدد الخطاب فإن خطبها
--------------------------------------------
এই অবস্থায় তার ওপর।
২. অভিভাবক (ولي): অভিভাবক (ولي) ব্যতীত বিবাহ শুদ্ধ (صحيح) হবে না, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অভিভাবক (ولي) ব্যতীত কোনো বিবাহ নেই।" ১. সুতরাং যদি কোনো নারী নিজেই নিজের বিবাহ দেয়, তবে তার বিবাহ বাতিল (باطل); সে নিজে বিবাহের আকদ সম্পন্ন করুক বা এ বিষয়ে কাউকে উকিল নিযুক্ত করুক না কেন।
আর অভিভাবক (ولي) হলেন: তার আসাবাহ (عصبة) বা পিতৃপক্ষীয় পুরুষ আত্মীয়দের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তি যিনি প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম (رشيد); যেমন: পিতা, পিতার দিক থেকে দাদা, পুত্র, পৌত্র এবং তার অধস্তন বংশধর, সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই, সহোদর চাচা, বৈমাত্রেয় চাচা এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে যারা সম্পর্কের দিক থেকে নিকটবর্তী তারা ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার পাবেন।
বৈপিত্রীয় ভাইদের, তাদের সন্তানদের, মাতামহ এবং মাতুলদের কোনো অভিভাবকত্ব (ولاية) নেই; কারণ তারা আসাবাহ (عصبة) অন্তর্ভুক্ত নন।
বিবাহের ক্ষেত্রে যেহেতু অভিভাবক (ولي) থাকা আবশ্যক, তাই একাধিক প্রস্তাবকারী থাকলে অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব হলো সবচেয়ে যোগ্য ও উত্তম ব্যক্তিকে নির্বাচন করা। অতঃপর যদি কেউ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
واحد فقط وهو كفء ورضيت فانه يجب عليه أن يزوجها به وهنا نقف قليلا لنعرف مدى المسئولية الكبيرة التي يتحملها الولي بالنسبة إلي من ولاه الله عليها فهي أمانة عنده يجب عليه رعايتها ووضعها في محلها ولا يحل له احتكارها لأغراضه الشخصية أو تزويجها بغير كفئها من اجل طمع فيما يدفع اليه، فان هذا من الخيانة وقد قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [الأنفال: 27] . وقال تعالى: {إنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُورٍ} [الحج:38] . وقال النبي صلي الله عليه وسلم: "كلكم راع وكلكم مسئول عن رعيته" 1.
وترى بعض الناس تخطب منه ابنته يخطبها كفء ثم يرده ويرد آخر وآخر ومن كان كذلك فان ولايته تسقط ويزوجها غيره من الأولياء الأقرب فالأقرب.
--------------------------------------------
যদি মাত্র একজন প্রস্তাবকারী থাকেন এবং তিনি যোগ্য হন আর মেয়েটিও তাতে সন্তুষ্ট থাকে, তবে অভিভাবকের ওপর আবশ্যক যে তাকে তার সাথে বিবাহ দেবেন। এখানে আমাদের সামান্য থামা প্রয়োজন এটি অনুধাবন করতে যে, আল্লাহ তাআলা যার ওপর অভিভাবকত্বের ভার অর্পণ করেছেন, তার প্রতি অভিভাবক কত বড় দায়িত্ব বহন করেন। মেয়েটি তার নিকট একটি আমানত, যা রক্ষা করা এবং সঠিক স্থানে অর্পণ করা তার ওপর অপরিহার্য। নিজের ব্যক্তিগত হীন স্বার্থে তাকে বিয়ে না দিয়ে আটকে রাখা কিংবা যা তাকে প্রদান করা হবে সেই লোভে কোনো অযোগ্য ব্যক্তির সাথে বিবাহ দেওয়া তার জন্য বৈধ নয়। কারণ এটি খিয়ানতের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খিয়ানত করো না এবং জেনে-শুনে তোমাদের আমানতসমূহেরও খিয়ানত করো না} [আনফাল: ২৭]। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহ কোনো চরম খিয়ানতকারী ও অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না} [হজ: ৩৮]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” ১।
আপনি লক্ষ্য করবেন যে, কিছু মানুষের নিকট তার মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসে, কোনো যোগ্য ব্যক্তি প্রস্তাব দেয় কিন্তু সে তাকে ফিরিয়ে দেয়, পুনরায় অন্য একজনকে এবং এরপর অন্য একজনকে ফিরিয়ে দিতে থাকে। যে ব্যক্তি এমনটি করবে, তার অভিভাবকত্ব বাতিল হয়ে যাবে এবং তার পরিবর্তে ক্রমান্বয়ে অন্যান্য নিকটবর্তী অভিভাবকগণ তাকে বিবাহ দেবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الرابع: في صفة المرأة التي ينبغي نكاحهاالنكاح يراد للاستمتاع وتكوين أسرة صالحة ومجتمع سليم كما قلنا فيما سبق. وعلى هذا فالمراة التي ينبغي نكاحها هي التي يتحقق فيها استكمال هذين الغرضين وهي التي اتصفت بالجمال الحسي والمعنوي.
فالجمال الحسي: كمال الخلقة لان المرأة كلما كانت جميلة المنظر عذبة المنطق قرت العين بالنظر إليها وأصغت الإذن إلي منطقها فينفتح إليها القلب وينشرح إليها الصدر وتسكن إليها النفس ويتحقق فيها قوله تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجاً لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً} [الروم-21] .
والجمال المعنوي: كمال الدين والخلق فكلما كانت المرأة أدين وأكمل خلقا كانت أحب إلي النفس واسلم عاقبة.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিবাহযোগ্য নারীর গুণাবলী সম্পর্কেবিবাহের উদ্দেশ্য হলো আনন্দ লাভ করা এবং একটি নেককার (صالح) পরিবার ও একটি সুস্থ সমাজ গঠন করা, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। এর ভিত্তিতে, যে নারীকে বিবাহ করা সমীচীন, তিনি হলেন সেই নারী যার মধ্যে এই উভয় উদ্দেশ্যের পূর্ণতা লক্ষ্য করা যায় এবং যিনি বাহ্যিক সৌন্দর্য (الجمال الحسي) ও চারিত্রিক সৌন্দর্যে (الجمال المعنوي) ভূষিত।
বাহ্যিক সৌন্দর্য (الجمال الحسي) হলো: শারীরিক অবয়বের পূর্ণতা; কারণ নারী যখনই রূপবতী এবং সুমিষ্টভাষী হন, তখন তাকে দেখার মাধ্যমে চোখ জুড়িয়ে যায় এবং তার কথার প্রতি কান নিবিষ্ট হয়। ফলে তার প্রতি অন্তর উন্মুক্ত হয়, বক্ষ প্রশান্ত হয় এবং আত্মা তার নিকট প্রশান্তি লাভ করে। আর এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহর এই বাণী বাস্তবায়িত হয়: "আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন" [আর-রূম: ২১]।
চারিত্রিক সৌন্দর্য (الجمال المعنوي) হলো: দ্বীনদারিতা ও উন্নত চরিত্রের পূর্ণতা। নারী যত বেশি দ্বীনদার এবং চরিত্রের দিক থেকে যত বেশি পূর্ণাঙ্গ হবেন, তিনি হৃদয়ের নিকট তত বেশি প্রিয় হবেন এবং তার পরিণাম হবে অধিকতর নিরাপদ।
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فالمرأة ذات الدين قائمة بأمر الله حافظة لحقوق زوجها وفراشه وأولاده وماله، معينه له على طاعة الله تعالى، إن ذكرته وأن تثاقل نشطته وأن غضب أرضته.
والمرأة الأدبية تتودد إلي زوجها وتحترمه ولا تتأخر عن شئ يحب أن تتقدم فيه ولا تتقدم في شئ يحب أن تتأخر فيه ولقد سئل النبي صلي الله عليه وسلم أي النساء خير؟ قال: "التي تسره إذا نظر وتطيعه إذا أمر ولا تخالفه في نفسها ولا ماله بما يكره" 1 وقال صلي الله عليه وسلم: "تزوجوا الودود الولود فاني مكاثر بكم الأنبياء، أو قال: الأمم" 2.
فان أمكن تحصيل امرأة يتحقق فيها جمال المنظر وجمال الباطن فهذا هو الكمال والسعادة بتوفيق الله.
--------------------------------------------
দ্বীনদার নারী আল্লাহর বিধান পালনকারী এবং তার স্বামীর অধিকার, শয্যা, সন্তান ও সম্পদের হেফাজতকারী। তিনি আল্লাহর আনুগত্যের কাজে স্বামীর সাহায্যকারী; স্বামী বিস্মৃত হলে সে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, অলসতা করলে তাকে উদ্দীপ্ত করে এবং রাগান্বিত হলে তাকে সন্তুষ্ট করে।
শিষ্টাচারী নারী তার স্বামীর প্রতি মমতা প্রদর্শন করে ও তাকে সম্মান করে। স্বামী যে কাজে তাকে অগ্রণী দেখতে পছন্দ করেন তাতে সে পিছিয়ে থাকে না, আর যে কাজে তাকে পেছনে দেখতে পছন্দ করেন তাতে সে অগ্রবর্তী হয় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন নারী সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "সেই নারী, যাকে দেখলে স্বামী আনন্দিত হয়, নির্দেশ দিলে আনুগত্য করে এবং নিজের ব্যাপারে ও স্বামীর সম্পদের ব্যাপারে এমন কোনো কাজ করে স্বামীর বিরোধিতা করে না যা স্বামী অপছন্দ করেন।" ১ এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "তোমরা এমন নারীকে বিয়ে করো যে প্রেমময়ী ও অধিক সন্তানপ্রসূ, কারণ আমি তোমাদের মাধ্যমে অন্য নবীদের ওপর—অথবা বলেছেন: অন্য উম্মতদের ওপর—সংখ্যাধিক্যের গৌরব করব।" ২
সুতরাং যদি এমন কোনো নারী পাওয়া সম্ভব হয় যার বাহ্যিক সৌন্দর্য ও অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য—উভয়ই বিদ্যমান, তবে আল্লাহর তাওফিকে এটিই পূর্ণতা ও সৌভাগ্যের বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الفصل الخامس: في المحرمات بالنكاحقال النبي صلي الله عليه وسلم: "إن الله فرض فرائض فلا تضيعوها، وحد حدودا فلا تتعدوها" 1.
ومن جملة الحدود الشرعية التي حد الله تعالى حدودها النكاح حلا وحرمة، حيث حرم على الرجل نكاح نساء معينة لقرابة أو رضاعة أو مصاهرة أو غير ذلك.
والمحرمات من النساء على قسمين:
قسم محرمات دائما وقسم محرمات إلي أجل.
1-محرمات دائما
وهن ثلاثة أصناف:
الصنف الأول: المحرمات بالنسب: وهن سبع ذكرهن الله تعالى بقوله في سورة النساء: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিবাহের মাধ্যমে নিষিদ্ধ নারীগণ প্রসঙ্গেনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কিছু আবশ্যিক বিধান (فرائض) অবধারিত করেছেন, সুতরাং তোমরা তা নষ্ট করো না; এবং তিনি কিছু সীমারেখা (حدود) নির্ধারণ করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা তা অতিক্রম করো না।" ১।
আল্লাহ তাআলা যেসব শরয়ি সীমারেখা (حدود) নির্ধারণ করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো বিবাহের বৈধতা ও অবৈধতা; যেখানে তিনি পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নারীকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ (حرام) করেছেন আত্মীয়তা, দুগ্ধপান (رضاعة), বৈবাহিক সূত্র (مصاهرة) অথবা অন্য কোনো কারণে।
আর বিবাহের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ নারীগণ (محرمات) দুই প্রকার:
এক প্রকার হলো স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ (محرمات دائما) এবং অন্য প্রকার হলো সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ (محرمات إلى أجل)।
১-স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ নারীগণ (محرمات دائما)
তারা তিন শ্রেণির:
প্রথম শ্রেণি: বংশীয় সম্পর্কের কারণে নিষিদ্ধ (المحرمات بالنسب): তারা হলেন সাতজন, যাদের কথা আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নিসায় তাঁর বাণীর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন: {তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ (حرام) করা হয়েছে তোমাদের মায়েদের, তোমাদের কন্যাদের ও তোমাদের বোনদের...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ} [النساء: 23]
1- فالأمهات: يدخل فيهم: الأم، والجدات سواء كن من جهة الأب أم من جهة الأم.
2- والبنات: يدخل فيهن: بنات الصلب وبنات الأبناء وبنات البنات وان نزلن.
3- والأخوات: يدخل فيهن الأخوات الشقيقات والأخوات من الأب والأخوات من الأم
4- والعمات: يدخل فيهن: عمات الرجل وعمات أبيه وعمات أجداده وعمات أمه وعمات جداته.
5- والخالات: يدخل فيهن: خالات الرجل وخالات أبيه وخالات أجداده وخالات أمه وخالات جداته.
6- وبنات الأخ: يدخل فيهن بنات الأخ الشقيق وبنات الأخ من الأب وبنات الأخ من الأم وبنات أبنائهم وبنات بناتهم وإن نزلن.
7- وبنات الأخت: يدخل فيهن: بنات الأخت الشقيقة وبنات الأخت من الأب وبنات الأخت من الأم وبنات
...তোমাদের ফুফুগণ, তোমাদের খালাগণ, ভ্রাতুষ্পুত্রীগণ এবং ভাগিনেয়ীগণ} [আন-নিসা: ২৩]
1- মায়েদের ক্ষেত্রে: তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন মা এবং দাদি ও নানিগণ, চাই তাঁরা পিতার দিক থেকে হোক কিংবা মাতার দিক থেকে।
2- কন্যাদের ক্ষেত্রে: তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলো সরাসরি ঔরসজাত কন্যা, পৌত্রী এবং দৌহিত্রী, তারা যত নিচেই হোক না কেন।
3- বোনদের ক্ষেত্রে: তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলো সহোদর বোন, বৈমাত্রেয় বোন এবং বৈপিত্রেয় বোন।
4- ফুফুদের ক্ষেত্রে: তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলো ব্যক্তির নিজের ফুফু, তাঁর পিতার ফুফু, তাঁর দাদাদের ফুফু, তাঁর মায়ের ফুফু এবং তাঁর নানিদের ফুফু।
5- খালাদের ক্ষেত্রে: তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলো ব্যক্তির নিজের খালা, তাঁর পিতার খালা, তাঁর দাদাদের খালা, তাঁর মায়ের খালা এবং তাঁর নানিদের খালা।
6- ভ্রাতুষ্পুত্রীদের ক্ষেত্রে: তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলো সহোদর ভাইয়ের কন্যা, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের কন্যা, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের কন্যা এবং তাঁদের পুত্রদের কন্যা ও কন্যাদের কন্যা, তারা যত নিচেই হোক না কেন।
7- ভাগিনেয়ীদের ক্ষেত্রে: তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলো সহোদর বোনের কন্যা, বৈমাত্রেয় বোনের কন্যা, বৈপিত্রেয় বোনের কন্যা এবং কন্যাদের...
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أبنائهن وبنات بناتهن وإن نزلن.
الصنف الثاني: المحرمات بالرضاع: وهن نظير المحرمات بالنسب.
قال النبي صلي الله عليه وسلم: "يحرم من الرضاع ما يحرم من النسب" 1 ولكن الرضاع المحرم لا بد له من شروط منها:
الشرط الأول: أن يكون خمس رضعات فأكثر فلو رضع الطفل من المرأة أربع رضعات لم تكن أما له. لما روى مسلم عن عائشة رضي الله عنها قالت: "كان فيما انزل من القران عشر رضعات معلومات يحرمن، ثم نسخن بخمس معلومات، فتوفى رسول الله صلي الله عليه وسلم وهي فيما يقرأ من القرآن"2
--------------------------------------------
তাদের পুত্রগণ এবং তাদের কন্যাদের কন্যারা, তারা যতই নিম্নগামী হোক না কেন।
দ্বিতীয় শ্রেণি: দুগ্ধপানের কারণে হারাম হওয়া নারীগণ: তারা বংশগত সম্পর্কের কারণে হারাম হওয়া নারীদের অনুরূপ।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বংশগত কারণে যা কিছু হারাম হয়, দুগ্ধপানের কারণেও তা হারাম হয়।"১ তবে দুগ্ধপানের মাধ্যমে হারাম হওয়ার জন্য কিছু শর্ত থাকা আবশ্যক, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রথম শর্ত: দুগ্ধপান পাঁচবার বা তার বেশি হতে হবে। যদি শিশুটি কোনো মহিলার নিকট থেকে চারবার দুগ্ধপান করে, তবে তিনি তার মা হিসেবে গণ্য হবেন না। যেহেতু মুসলিম আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন (رواه), তিনি বলেন: "কুরআনে যা নাযিল হয়েছিল তার মধ্যে ছিল—দশবার নিশ্চিত দুগ্ধপান হারাম সাব্যস্ত করে, অতঃপর তা পাঁচবার নিশ্চিত দুগ্ধপানের মাধ্যমে রহিত (نسخن) করা হয়েছে। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন এবং এটি তখনও কুরআনের পঠিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।"২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الشرط الثاني: أن يكون الرضاع قبل الفطام أي يشترط أن تكون الرضعات الخمس كلها قبل الفطام فان كانت بعد الفطام أو بعضها قبل الفطام وبعضها بعد الفطام لم تكن المرأة أما له.
وإذا تمت شروط الرضاع صار الطفل ولدا للمرأة وأولادها أخوة له سواء كانوا قبله أو بعده وصار أولاد صاحب اللبن أخوة له أيضا سواء كانوا من المرأة التي أرضعت الطفل أم من غيرها.
وهنا يجب أن نعرف بأن أقارب الطفل المرضع سوى ذريته لا علاقة لهم بالرضاع ولا يؤثر فيهم الرضاع شيئا فيجوز لأخيه من النسب أن يتزوج أمه من الرضاع أو أخته من الرضاع.
أما ذرية الطفل فإنهم يكونون أولادا للمرضعة وصاحب اللبن كما كان أبوهم من الرضاع كذلك.
الصنف الثالث: المحرمات بالصهر:
زوجات الآباء والأجداد وإن علوا سواء من قبل الأب أم من قبل الأم، لقوله تعالى: {وَلا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ
দ্বিতীয় শর্ত: দুধপান (الرضاع) অবশ্যই দুধ ছাড়ানোর (الفطام) পূর্বে হতে হবে। অর্থাৎ শর্ত হলো, পাঁচটি দুধপানের (الرضعات) প্রতিটিই দুধ ছাড়ানোর (الفطام) আগে হতে হবে। যদি তা দুধ ছাড়ানোর (الفطام) পরে হয়, অথবা কিছু অংশ দুধ ছাড়ানোর আগে এবং কিছু অংশ পরে হয়, তবে সেই নারী তার মা হিসেবে গণ্য হবে না।
যদি দুধপানের শর্তসমূহ পূর্ণ হয়, তবে শিশুটি ওই নারীর সন্তান হিসেবে গণ্য হবে এবং ওই নারীর সন্তানরা তার ভাই-বোন হবে, তারা তার আগে জন্মাক বা পরে। একইভাবে দুগ্ধদাতার (صاحب اللبن) সন্তানরাও তার ভাই-বোন হবে, তারা সেই দুগ্ধদানকারী নারীর গর্ভজাত হোক বা অন্য কোনো নারীর।
এখানে আমাদের জানা আবশ্যক যে, দুগ্ধপানকারী শিশুর বংশধর (ذرية) ব্যতীত তার অন্য কোনো আত্মীয়ের সাথে এই দুধপানের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এই দুধপান তাদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। সুতরাং তার বংশীয় (النسب) ভাইয়ের জন্য তার দুগ্ধমাতা বা তার দুগ্ধবোনকে বিবাহ করা বৈধ।
তবে শিশুর বংশধরদের (ذرية) ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, তারা ওই দুগ্ধদানকারী নারী এবং দুগ্ধদাতার (صاحب اللبن) সন্তান হিসেবে গণ্য হবে, যেভাবে তাদের বাবা দুগ্ধপান সূত্রে তাদের সন্তান হয়েছিল।
তৃতীয় শ্রেণি: বৈবাহিক সম্পর্কের (الصهر) কারণে নিষিদ্ধ (المحرمات) নারীগণ:
পিতা ও দাদাদের স্ত্রীগণ, তারা উপরের দিকে যত স্তরেরই হোক না কেন, চাই তারা পিতার পক্ষ থেকে হোক বা মাতার পক্ষ থেকে। আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {আর তোমরা বিবাহ করো না যাদের তোমাদের পিতারা বিবাহ করেছিল...}
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
آبَاؤُكُمْ مِنَ النِّسَاءِ} "النساء: 22" فمتى عقد الرجل على امرأة صارت حراما على أبنائه وأبناء أبنائه وأبناء بناته وإن نزلوا سواء دخل بها أم لم يدخل بها.
1- زوجات الأبناء وان نزلوا،لقوله تعالى: {وَحَلائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلابِكُمْ} [النساء-23] فمتى عقد الرجل على امرأة صارت حراما على أبيه وأجداده وإن علوا سواء من قبل الأب أم من قبل الأم بمجرد العقد عليها وإن لم يدخل بها.
2- أم الزوجة وجدتها وإن علون، لقوله تعالى: {وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ} "النساء: 23" فمتى عقد الرجل على امرأة صارت أمها وجدتها حراما عليه بمجرد العقد وإن لم يدخل بها سواء كن جدتها من قبل الأب أم من قبل الأم.
3- بنات الزوجة، وبنات أبنائها وبنات بناتها وان نزلن وهن الربائب وفروعهن لكن بشرط أن يطأ الزوجة فلو حصل الفراق قبل الوطء لم تحرم الربائب وفروعهن، لقوله تعالى: {وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي
...তোমাদের পিতৃগণ নারীদের মধ্য থেকে যাদের বিবাহ করেছেন} "আন-নিসা: ২২" সুতরাং যখন কোনো পুরুষ কোনো মহিলার সাথে বিবাহের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, তখন সে তার পুত্র, পৌত্র এবং দৌহিত্রদের জন্য—তারা বংশপরম্পরায় যত নিচেই হোক না কেন—হারাম হয়ে যায়; চাই সে তার সাথে সহবাস করুক বা না করুক।
১- পুত্রদের স্ত্রীগণ এবং তাদের পরবর্তী বংশধরদের স্ত্রীগণ। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তোমাদের সেই পুত্রদের স্ত্রীগণ যারা তোমাদের ঔরসজাত} [আন-নিসা: ২৩]। অতএব, যখন কোনো পুরুষ কোনো নারীকে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ করে, তখন সে তার পিতা ও পিতামহ-প্রপিতামহদের জন্য—তারা উর্ধ্বতন যত উপরেই হোক না কেন, চাই তারা পিতৃপক্ষীয় হোক বা মাতৃপক্ষীয়—কেবল বিবাহের চুক্তির মাধ্যমেই হারাম হয়ে যায়, যদিও সে তার সাথে সহবাস না করে থাকে।
২- স্ত্রীর মাতা এবং নানি-দাদিগণ, তারা উর্ধ্বতন যত উপরেই হোক না কেন। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তোমাদের স্ত্রীদের মাতাগণ} "আন-নিসা: ২৩" সুতরাং যখন কোনো পুরুষ কোনো নারীকে বিবাহ করে, তখন কেবল বিবাহের চুক্তির মাধ্যমেই তার শাশুড়ি এবং নানি-দাদিরা তার জন্য হারাম হয়ে যায়, যদিও সে তার সাথে সহবাস না করে থাকে; চাই তারা পিতৃপক্ষীয় দাদি হোক বা মাতৃপক্ষীয় নানি।
৩- স্ত্রীর কন্যারা, এবং তাদের পুত্রদের কন্যারা ও কন্যাদের কন্যারা—তারা বংশপরম্পরায় যত নিচেই হোক না কেন। তারা হলো সৎ-কন্যা এবং তাদের শাখা-প্রশাখা, তবে শর্ত হলো স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে হবে। যদি সহবাসের পূর্বে বিচ্ছেদ ঘটে, তবে উক্ত সৎ-কন্যা এবং তাদের শাখা-প্রশাখা হারাম হবে না। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তোমাদের সেই প্রতিপালিতা কন্যাগণ যারা...
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ} [النساء: 23] فمتى تزوج الرجل امرأة ووطئها صارت بناتها وبنات أبنائها وبنات بناتها وإن نزلن حراما عليه سواء كن من زوج قبله أم من زوج بعده أما إن حصل الفراق بينهما قبل الوطء فان الربائب وفروعهن لا يحرمن عليه.
2- المحرمات إلي أجل
وأما المحرمات إلي أجل فمنهن:
1- أخت الزوجة وعمتها وخالتها حتى يفارق الزوجة فرقة موت أو فرقة حياة وتنقضي عدتها لقوله تعالى: {وَأَنْ تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ} : [النساء- 23] وقول النبي صلي الله عليه وسلم: "لا يجمع بين المرأة وعمتها ولا بين المرأة وخالتها" 1.
--------------------------------------------
{...তোমাদের কোলে লালিত-পালিত তোমাদের স্ত্রীদের কন্যারা, যাদের সাথে তোমরা সহবাস করেছ; তবে যদি তোমরা তাদের সাথে সহবাস না করে থাকো, তবে তোমাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই।} [আন-নিসা: ২৩]। সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি কোনো নারীকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সহবাস করে, তখন তার কন্যারা, তার পুত্রকন্যারা এবং তার কন্যাকন্যারা—এভাবে অধস্তন বংশধর পর্যন্ত—তার জন্য নিষিদ্ধ (حرام) হয়ে যায়; তারা ওই স্ত্রীর পূর্ববর্তী স্বামীর হোক কিংবা পরবর্তী স্বামীর। তবে যদি সহবাসের পূর্বে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে, তবে সেই সৎ কন্যারা (الربائب) এবং তাদের বংশধররা তার জন্য নিষিদ্ধ (حرام) হবে না।
২- সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ (المحرمات إلى أجل) নারীসমূহ
আর সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ (المحرمات إلى أجل) নারীদের মধ্যে রয়েছে:
১- স্ত্রীর বোন, তার ফুফু এবং তার খালা, যতক্ষণ না স্বামী তার স্ত্রীকে মৃত্যু বা বিচ্ছেদের মাধ্যমে পৃথক করে এবং তার ইদ্দত (عدة) অতিক্রান্ত হয়; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং দুই বোনকে একত্রে রাখা (তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে)} [আন-নিসা: ২৩] এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একই সাথে কোনো নারী ও তার ফুফুকে অথবা কোনো নারী ও তার খালাকে বিবাহ করা যাবে না।" ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
[متفق عليه] .
2- متعددة الغير: أي إذا كانت المرأة في عدة لغيره فإنه لا يجوز له نكاحها حتى تنتهي عدتها وكذلك لا يجوز له أن يخطبها إذا كانت في العدة حتى تنتهي عدتها.
3- المحرمة بحج أو عمرة: لا يجوز عقد النكاح عليها حتى تحل من إحرامها. وهناك محرمات أخرى تركنا الكلام فيهن خوفا من التطويل.
وأما الحيض: فلا يوجب تحريم العقد على المرأة فيعقد عليها وان كانت حائضا لكن لا توطأ حتى تطهر وتغتسل.
[সর্বসম্মত (متفق عليه)] .
২- অন্যের ইদ্দত পালনকারী: অর্থাৎ কোনো নারী যদি অন্য কারো জন্য ইদ্দত পালনরত থাকেন, তবে তার ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিবাহ করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে, ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইদ্দত পালনকালীন তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়াও বৈধ নয়।
৩- হজ বা উমরা পালনের জন্য ইহরাম অবস্থায় থাকা নারী: ইহরাম থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে বিবাহের চুক্তি করা বৈধ নয়। এছাড়া আরও কিছু নিষিদ্ধ বিষয় রয়েছে যা দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমরা আলোচনা করা থেকে বিরত থেকেছি।
আর ঋতুস্রাব প্রসঙ্গে: এটি নারীর সাথে বিবাহের চুক্তি করা নিষিদ্ধ করে না। সুতরাং ঋতুবতী হওয়া সত্ত্বেও তার সাথে বিবাহের চুক্তি করা যাবে, তবে পবিত্র হওয়া এবং গোসল করার পূর্বে সহবাস করা যাবে না।
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الفصل السادس: في العدد المباح في النكاحلما كان إطلاق العنان للشخص في تزويج ما شاء من العدد أمرا يؤدي إلي الفوضى والظلم وعدم القدرة على القيام بحقوق الزوجات وكان حصر الرجل على زوجة واحدة قد يفضي إلي الشر وقضاء الشهوة بطريقة أخرى محرمة أباح الشارع للناس التعدد إلي أربعة فقط لأنه العدد الذي يتمكن به الرجل من تحقيق العدل والقيام بحق الزوجة ويسد حاجته إن احتاج إلي أكثر من واحدة.
قال الله تعالى: {فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً} [النساء: 3] .
وفي عهد النبي صلي الله عليه وسلم اسلم غيلان الثقفي وعنده عشرة نساء فأمره النبي صلي الله عليه وسلم أن يختار منهن أربعا ويفارق البواقي، وقال قيس بن الحارث: أسلمت وعندي ثمانية نسوة فأتيت النبي
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: বিবাহে বৈধ সংখ্যা প্রসঙ্গেযেহেতু ব্যক্তিকে তার ইচ্ছানুযায়ী স্ত্রী গ্রহণের অবাধ স্বাধীনতা প্রদান বিশৃঙ্খলা, অবিচার এবং স্ত্রীদের অধিকার আদায়ে অক্ষমতার দিকে ধাবিত করে; আবার পুরুষকে কেবল একজন স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা অনিষ্টের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং অন্য কোনো নিষিদ্ধ উপায়ে কামনাবাসনা চরিতার্থ করার কারণ হতে পারে; তাই শরিয়ত প্রণেতা মানুষের জন্য কেবল চারজন পর্যন্ত বহুবিবাহের অনুমতি দিয়েছেন। কারণ এটি এমন একটি সংখ্যা যার মাধ্যমে একজন পুরুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে এবং স্ত্রীর অধিকার আদায়ে সক্ষম হয় এবং যদি তার একজনের অধিক প্রয়োজন থাকে তবে তা তার প্রয়োজন পূরণ করে।
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তবে নারীদের মধ্যে তোমাদের নিকট যারা পছন্দনীয় তাদের বিবাহ কর—দুই, তিন কিংবা চার; কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে।} [আন-নিসা: ৩]।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে গাইলান আস-সাকাফি ইসলাম গ্রহণ করেন এমতাবস্থায় যে তার দশজন স্ত্রী ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাদের মধ্য থেকে চারজনকে বেছে নেন এবং বাকিদের বর্জন করেন। কায়েস ইবনুল হারিস বলেন: আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করি তখন আমার আটজন স্ত্রী ছিল, অতঃপর আমি নবীর নিকট আসলাম...
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
صلي الله عليه وسلم فذكرت له ذلك فقال: "اختر منهن أربعا" 1.
وتعدد النساء إلى هذا الحد له فوائد منها
1- أنه قد يكون ضروريا في بعض الأحيان مثل: أن تكون الزوجة كبيرة السن أو مريضة لو اقتصر عليها لم يكن له منها عفاف وتكون ذات أولاد منه فان امسكها خاف على نفسه المشقة بترك النكاح أو ربما يخاف الزنا وإن طلقها فرق بينها وبين أولادها فلا تزول هذه المشكلة الا بحل التعدد.
2- إن النكاح سبب للصلة والارتباط بين الناس وقد جعله الله تعالى قسيما للنسب فقال تعالى: {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ مِنَ الْمَاءِ بَشَراً فَجَعَلَهُ نَسَباً وَصِهْراً} [الفرقان-54] فتعدد الزوجات يربط بين اسر كثيرة ويصل بعضهم ببعض وهذا أحد الأسباب التي حملت النبي صلي الله عليه وسلم أن يتزوج بعدد من
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম, তখন তিনি বললেন: "তাদের মধ্য থেকে চারজনকে বেছে নাও।" ১.
আর এই সীমা পর্যন্ত বহুবিবাহের কিছু উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১- কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যেমন: স্ত্রী বৃদ্ধা কিংবা অসুস্থ হওয়া; এমতাবস্থায় যদি স্বামী কেবল তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তার পক্ষে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। অথচ তার গর্ভে স্বামীর সন্তানাদি থাকে। এমতাবস্থায় যদি সে তাকে স্ত্রীরূপে রেখে দেয়, তবে বিবাহ ত্যাগ করার কারণে নিজের ওপর কৃচ্ছ্রতার আশঙ্কা করে অথবা সম্ভবত ব্যভিচারের ভয় পায়। আর যদি তাকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে সেই নারী ও তার সন্তানদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে যায়। সুতরাং বহুবিবাহের বিধান ছাড়া এই সমস্যার নিরসন সম্ভব নয়।
২- নিশ্চয়ই বিবাহ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও যোগসূত্রের একটি মাধ্যম। মহান আল্লাহ একে বংশীয় সম্পর্কের সমান্তরাল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বংশগত ও বৈবাহিক আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন} [আল-ফুরকান-৫৪]। সুতরাং বহুবিবাহ অনেক পরিবারের মাঝে যোগসূত্র স্থাপন করে এবং একে অপরের সাথে সংযুক্ত করে। এটি অন্যতম একটি কারণ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্বুদ্ধ করেছিল একাধিক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
النساء.
3- يترتب عليه صون عدد كبير من النساء والقيام بحاجتهن من النفقة والمسكن وكثرة الأولاد والنسل وهذا أمر مطلوب للشارع.
4- من الرجال من يكون حاد الشهوة لا تكفيه الواحدة وهي تقي نزيه ويخاف الزنا ولكن يريد أن يقضي وطرا في التمتع الحلال فكان من رحمة الله تعالى بالخلق أن أباح لهم التعدد على وجه سليم.
নারীরা।
৩- এর ফলে বিপুল সংখ্যক নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং তাদের ভরণপোষণ ও বাসস্থানের প্রয়োজন পূরণসহ অধিক সন্তান-সন্ততি ও বংশবৃদ্ধির পথ সুগম হয়; আর এটি শরিয়ত প্রণেতার (الشارع) নিকট অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত একটি বিষয়।
৪- পুরুষদের মাঝে এমন ব্যক্তি থাকতে পারেন যিনি তীব্র কামাসক্ত, যার জন্য একজন স্ত্রী যথেষ্ট নয়; অথচ তিনি ধর্মভীরু ও সচ্চরিত্র এবং ব্যভিচারের (الزنا) আশঙ্কা করেন, কিন্তু তিনি হালাল পন্থায় সম্ভোগের মাধ্যমে নিজের প্রয়োজন পূরণ করতে চান। সৃষ্টির প্রতি আল্লাহ তাআলার এটি এক বিশেষ অনুগ্রহ যে, তিনি তাদের জন্য সুশৃঙ্খলভাবে বহুবিবাহ বৈধ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যাওয়াজ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الفصل السابع - في حكمة النكاحقبل أن نبدأ الكلام في خصوص تلك المسالة يجب علينا أن نعلم علما يقينا بان الأحكام الشرعية كلها حكم وكلها في موضعها وليس فيها شئ من العبث والسفه ذلك لأنها من لدن حكيم خبير.
ولكم هل الحكم كلها للخلق؟ إن الآدمي محدود في علمه وتفكيره وعقله فلا يمكن أن يعلم كل شئ ولا أن يلهم معرفة كل شئ قال الله تعالى: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلاً} [الإسراء-85] .
إذن: فالأحكام الشرعية التي شرعها الله لعباده يجب علينا الرضا بها سواء علمنا حكمتها أم لم نعلم لأننا إذا لم نعلم حكمتها فليس معناه أنه لا حكمة فيها في الواقع إنما معناه قصور عقولنا وإفهامنا عن إدراك الحكمة.
أما الحكمة في النكاح فكثيرة منها:
1-حفظ كل من الزوجين وصيانته قال النبي صلي الله عليه وسلم: "يا
সপ্তম অধ্যায় - বিবাহের হিকমত প্রসঙ্গেএই বিশেষ বিষয়ে আলোচনা শুরু করার পূর্বে আমাদের দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে, সকল শরয়ী বিধানই হিকমতপূর্ণ এবং সেগুলো নিজ নিজ স্থানে যথাযথ। এগুলোতে নিরর্থকতা বা মূর্খতার কোনো অবকাশ নেই; কারণ এগুলো মহাপ্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
তবে এই হিকমতগুলো কি সবই সৃষ্টির (জ্ঞানের) জন্য? মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও বুদ্ধি সীমাবদ্ধ; তাই তার পক্ষে সবকিছু জানা বা সবকিছুর রহস্য অবগত হওয়া সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে} [আল-ইসরা: ৮৫]।
সুতরাং, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য যে সকল শরয়ী বিধান প্রবর্তন করেছেন, আমাদের সেগুলো সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করা উচিত; চাই আমরা সেগুলোর হিকমত জানতে পারি বা না পারি। কেননা আমরা যদি কোনো বিষয়ের হিকমত না জানি, তবে এর অর্থ এই নয় যে বাস্তবে তাতে কোনো হিকমত নেই; বরং এর অর্থ হলো সেই হিকমত উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে আমাদের বুদ্ধি ও অনুধাবন শক্তির সীমাবদ্ধতা।
আর বিবাহের হিকমত অনেক, তার মধ্যে রয়েছে:
১-স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেকের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা ও হেফাযত করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে...