(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: -)
الفهرست - ت إبراهيم رمضان القسم: فهارس الكتب والأدلة
الكتاب: الفهرست
المؤلف: ابن النديم [ت 380 هـ]
اعتنى بها وعَلّق عليها: الشيخ إبراهيم رمضان (دار الفتوى - بيروت)
الناشر: دار المعرفة، بيروت - لبنان
الطبعة: الثانية، 1417 هـ - 1997 مـ
عدد الصفحات: 441
تنبيه: لدار المعرفة ببيروت طبعة أخرى مصورة عن (طبعة المكتبة التجارية الكبرى بمصر)، وأما هذه فبحرف جديد وترقيم صفحات مختلف
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফিহরিস্ত - সম্পাদনায় ইব্রাহিম রমাদান বিভাগ: বইয়ের সূচিপত্র ও নির্দেশিকা
গ্রন্থ: আল-ফিহরিস্ত
লেখক: ইবনুন নাদিম [মৃত্যু ৩৮০ হিজরি]
তত্ত্বাবধান ও টীকা প্রদান: শাইখ ইব্রাহিম রমাদান (দারুল ফতোয়া - বৈরুত)
প্রকাশক: দারুল মা'রিফাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪১
সতর্কবার্তা: বৈরুতের দারুল মা'রিফাহ-এর আরেকটি সংস্করণ রয়েছে যা (মিশরের মাকতাবাতুল তিজারিয়াতুল কুবরা সংস্করণের) অনুলিপি, তবে এটি নতুন হরফ এবং ভিন্ন পৃষ্ঠা নম্বর সংবলিত
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين
أما بعد
فإن هذا الكتاب الفهرست، كتاب جامع لكتب جميع الأمم من العرب والعجم، وأخبار مصنفيها وأعمارهم وأماكنهم والى ما هنالك.
وإن الباحث في ترجمة ابن النديم يجد أنه كان رجلاً عاديا، ولكن التاريخ قد منح هذ الرجل ألقاباً ضخمة وخلد له ذكراً مطولاً في بطون الصحائف مع أنه جمع صحائف من أقوال غيره، فمنحه التاريخ هذه الشهرة.
ومع هذ نجد أن كتب التاريخ أغفلت ترجمته تماماً، وإذ ترجم لم بعضهم فلا يذكره إلا عرضاً ولا تفي بالغرض فصاحب كتاب (معجم الأدباء) يقول: محمد بن إسحاق النديم كنيته أبو الفرج، وكنية أبيه أبو يعقوب. مصنف كتاب الفهرس.
لا يستبعد الحموي أن ابن النديم كان وراقاً يبيع الكتب وهاتان الصناعتان الوراقة والكتابة أعانتا ابن النديم على تأليف هذا الكتاب ومكنتاه من سعة الاطلاع على النمط الغريب الذي نعرفه في كتابه الفهرست.
وأما من ناحية كتابه متى ألفه، فقد وردت عبارات رددها ابن النديم فتارة يقول أنه ألفه سنة 377، وتارة يبين أنه لقي الراهب من أهل الصين سنة 377، وتارة يذكر فى ترجمة المرزباني أنه توفي سنة 378، وتارة يبين أن وفاة ابن جني كانت سنة 392 فهذا إنما يدل على أنه لم يؤلفه في سنة واحدة بل أخذ تأليفه منه سنين عديدة والله أعلم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার, তাঁর পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের উপর।
অতঃপর,
নিশ্চয়ই এই আল-ফিহরিস্ত গ্রন্থটি আরব ও অনারব সকল জাতির কিতাবসমূহ এবং সেগুলোর রচয়িতাদের সংবাদ, জীবনকাল, অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্যের এক সংকলিত গ্রন্থ।
ইবনুন নাদীমের জীবনী অনুসন্ধানকারী দেখতে পাবেন যে, তিনি ছিলেন একজন সাধারণ মানুষ; কিন্তু ইতিহাস এই ব্যক্তিকে বিশাল সব উপাধিতে ভূষিত করেছে এবং ইতিহাসের পাতায় তার স্মৃতিকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে, যদিও তিনি অন্যদের বক্তব্যের পাণ্ডুলিপিই সংকলন করেছিলেন। ইতিহাস তাকে এই খ্যাতি দান করেছে।
তা সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাই যে, ইতিহাসের গ্রন্থগুলো তার জীবনী পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে। আর যদি কেউ তার জীবনী উল্লেখ করে থাকেন, তবে তা কেবল প্রাসঙ্গিকভাবে এবং তা উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট নয়। যেমন 'মু'জামুল উদাবা' গ্রন্থের লেখক বলেন: মুহাম্মাদ বিন ইসহাক নাদীম, তার ডাকনাম আবুল ফারাজ এবং তার পিতার ডাকনাম আবু ইয়াকুব; তিনি ফিহরিস্ত গ্রন্থের রচয়িতা।
আল-হামাউয়ী এটি অসম্ভব মনে করেন না যে, ইবনুন নাদীম একজন পাণ্ডুলিপি বিক্রেতা ছিলেন যিনি কিতাব বিক্রি করতেন। আর এই দুটি পেশা—পাণ্ডুলিপি নির্মাণ ও লিখন—ইবনুন নাদীমকে এই কিতাবটি রচনায় সহায়তা করেছে এবং তাকে সেই বিস্ময়কর ও বিস্তৃত জ্ঞান অর্জনে সক্ষম করেছে যা আমরা তার ফিহরিস্ত গ্রন্থে দেখতে পাই।
আর তার কিতাবটি তিনি কখন রচনা করেছেন সে প্রসঙ্গে ইবনুন নাদীমের কিছু বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে। কখনো তিনি বলেন যে, তিনি এটি ৩৭৭ হিজরীতে রচনা করেছেন। আবার কখনো স্পষ্ট করেন যে, তিনি ৩৭৭ হিজরীতে চীন দেশের এক সন্ন্যাসীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। কখনো মারজুবানীর জীবনীতে উল্লেখ করেন যে, তিনি ৩৭৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। আবার কখনো বর্ণনা করেন যে, ইবনু জিন্নি-র মৃত্যু ৩৯২ হিজরীতে হয়েছে। এগুলো একথাই প্রমাণ করে যে, তিনি এটি মাত্র এক বছরে রচনা করেননি, বরং এর রচনায় তার বহু বছর সময় লেগেছে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৬)
أما من ناحية اسمه فأكثر أهل التراجم يذكر أن اسمه محمد بن إسحاق، وبعضهم يقول: محمد بن النديم، وقد اختلفوا في كنيته هل هي أبو الفتح؟ أم أبو الفرج؟ وكذلك لم يتحققوا من سنة مولده.
ولكن كلمة حق تقال: إن الناظر في هذا الكتاب القيم والتي لا تقدر قيمته العلمية وهي إحصاء جميع الكتب العربية المنقولة من الأمم المختلفة والمؤلفة في جميع أنواع العلوم ويصفها ويبين مترجميها أو مؤلفيها، ويذكر طرفاً من تاريخ حياتهم، ويعين تاريخ وفاتهم، فكان الكتاب على هذا النمط أجمع كتاب، لإحصاء ما ألف الناس إلى آخر القرن الرابع الهجري.
ولذلك كان الكتاب حقاً مرجعاً لكل باحث من المسلمين والمستشرقين وغيرهم.
والله تعالى من وراء القصد، نسأله تعالى أن يلهمنا الصواب، وأن يجعل لنا وللمسلمين التوفيق أعظم رفيق
آخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين
دار المعرفة
তাঁর নামের ক্ষেত্রে জীবনীকারদের অধিকাংশ উল্লেখ করেছেন যে তাঁর নাম মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক, আবার কেউ কেউ বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আন-নাদিম। তাঁর উপনামের ব্যাপারেও তাঁরা মতভেদ করেছেন যে তা কি আবুল ফাতহ নাকি আবুল ফারাজ? একইভাবে তাঁরা তাঁর জন্মসাল সম্পর্কেও নিশ্চিত হতে পারেননি।
তবে সত্য কথা বলতে গেলে: এই মূল্যবান গ্রন্থের পাঠক—যার জ্ঞানতাত্ত্বিক মূল্য অপরিসীম এবং যা বিভিন্ন জাতি থেকে ভাষান্তরিত এবং সকল প্রকার বিজ্ঞানে রচিত সমস্ত আরবি বইয়ের এক পরিসংখ্যান—দেখতে পাবেন যে, এটি বইগুলোর বর্ণনা দেয়, তাদের অনুবাদক বা লেখকদের পরিচয় প্রকাশ করে, তাঁদের জীবনীর অংশবিশেষ উল্লেখ করে এবং তাঁদের মৃত্যুসাল নির্ধারণ করে। এই ধারায় বইটি হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত মানুষের রচিত গ্রন্থরাজির পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ সংকলন হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
আর এই কারণেই বইটি মুসলিম, প্রাচ্যবিদ এবং অন্যান্য সকল গবেষকের জন্য যথার্থই একটি আকর গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
আর আল্লাহ তাআলাই একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন এবং আমাদের ও মুসলিমদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক বা সফলতাকে সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গী বানিয়ে দেন।
আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
দারুল মা’রিফাহ
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة المؤلف:بسم الله الرحمن الرحيم.
رب يسر برحمتك النفوس أطال الله بقاءك، تشر أب النتائج دون المقدمات، وترتاح إلى الغرض المقصود دون التطويل في العبارات، فلذالك اقتصرنا على هذه الكلمات في صدر كتابنا هذا، إذا كانت دالة على ما قصدناه في تأليفه إن شاء الله، فنقول وبالله نستعين وإياه نسأل الصلاة على جميع أنبيائه وعباده المخلصين في طاعته ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم
هذا فهرست كتب جميع الأمم، من العرب والعجم، الموجود منها بلغة العرب وقلمها، في أصناف العلوم وأخبار مصنفيها، وطبقات مؤلفيها، وأنسابهم وتاريخ مواليدهم، ومبلغ أعمارهم وأوقات وفاتهم، وأماكن بلدانهم ومناقبهم ومثالبهم، منذ ابتداء كل علم اخترع إلى عصرنا هذا، وهو سنة سبع وسبعين وثلاثمائة للهجرة.
লেখকের ভূমিকা:পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
হে প্রতিপালক, আপনার রহমতের মাধ্যমে আত্মাসমূহের জন্য সহজ করে দিন। আল্লাহ আপনার জীবন দীর্ঘায়িত করুন। মানুষ ভূমিকা ব্যতিরেকেই সরাসরি ফলাফলের প্রতি লালায়িত হয় এবং দীর্ঘ বাক্যালাপ ছাড়াই মূল উদ্দেশ্য অর্জনে স্বস্তি বোধ করে। তাই আমরা আমাদের এই গ্রন্থের প্রারম্ভে এই সংক্ষিপ্ত কথাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলাম, যদি তা ইনশাআল্লাহ এই গ্রন্থ রচনার পেছনে আমাদের যা উদ্দেশ্য, তার পরিচায়ক হয়। অতঃপর আমরা বলি এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি, আর তাঁর সকল নবী এবং তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ বান্দাদের প্রতি রহমত কামনা করি। আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও কোনো শক্তি নেই।
এটি আরব ও অনারব সকল জাতির কিতাবসমূহের একটি তালিকা, যা আরবি ভাষা ও লিপিতে বিদ্যমান রয়েছে। এতে রয়েছে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা এবং সেগুলোর রচয়িতাদের বৃত্তান্ত, লেখকদের স্তরবিন্যাস, তাদের বংশপরিচয়, জন্ম তারিখ, জীবনকাল, মৃত্যুর সময়, তাদের আবাসস্থল এবং তাদের গুণাবলি ও দোষত্রুটির বর্ণনা; প্রতিটি জ্ঞান বা বিজ্ঞান উদ্ভাবনের সূচনা লগ্ন থেকে আমাদের এই সময় পর্যন্ত, যা হলো হিজরি তিনশত ৭৭ সাল।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৯)
اقتصاص ما يحتوي عليه الكتاب وهو عشر مقالات:
المقالة الأولى: وهي ثلاثة فنون:
الفن الأول: في وصف لغات الأمم من العرب والعجم ونعوت أقلامها وأنواع خطوطها وأشكال كتاباتها.
الفن الثاني: في أسماء كتب الشرائع المنزلة على مذاهب المسلمين ومذاهب أهلها.
الفن الثالث: في نعت الكتاب الذي: {لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ}
(1) وأسماء الكتب المصنفة في علومه وأخبار القراء وأسماء رواتهم والشواذ من قرأتهم.
المقالة الثانية: وهي ثلاثة فنون في النحويين واللغويين:
الفن الأول: في ابتداء الو وأخبار النحويين البصريين وفصحاء الأعراب وأسماء كتبهم.
الفن الثاني: في أخبار النحويين واللغويين من الكوفيين وأسماء كتبهم.
الفن الثالث: في ذكر قوم من النحويين خلطوا المذهبين وأسماء كتبهم.
المقالة الثالثة: وهي ثلاثة فنون في الأخبار والآداب والسير والأنساب.
الفن الأول: في أخبار الإخباريين والرواة والنسابين وأصحاب السير والأحداث وأسماء كتبهم.
الفن الثاني: في أخبار الملوك والكتاب والمترسلين وعمال الخراج
(2) وأصحاب الدواوين وأسماء كتبهم.
--------------------------------------------
কিতাবটি যা যা বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করেছে তার বিবরণ, আর তা হলো দশটি প্রবন্ধ:
প্রথম প্রবন্ধ: এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আরব ও আজম (অনারব) জাতিসমূহের ভাষাসমূহ, তাদের কলমসমূহের বৈশিষ্ট্য, লিপির প্রকারভেদ এবং তাদের লিখনশৈলীর রূপ বর্ণনা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিমদের মাযহাব এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের মাযহাব অনুযায়ী অবতীর্ণ শরীয়তগ্রন্থসমূহের নাম প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সেই কিতাবটির গুণগান প্রসঙ্গে যার: ‘সম্মুখ হতে কিংবা তার পশ্চাৎ হতে কোনো বাতিল আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময়, পরম প্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ’
(১) এবং এর ইলম বা জ্ঞানসমূহ নিয়ে রচিত গ্রন্থাবলির নাম, কারীগণের সংবাদ, তাঁদের বর্ণনাকারীদের নাম এবং তাঁদের বিরল কেরাতসমূহ (শায) প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় প্রবন্ধ: এটি ব্যাকরণবিদ এবং ভাষাতত্ত্ববিদদের বিষয়ে তিনটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ব্যাকরণের সূচনা, বসরার ব্যাকরণবিদদের সংবাদ, বিশুদ্ধভাষী মরুবাসীদের বর্ণনা এবং তাঁদের রচিত কিতাবসমূহের নাম প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুফার ব্যাকরণবিদ ও ভাষাতত্ত্ববিদদের সংবাদ এবং তাঁদের কিতাবসমূহের নাম প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উভয় মাযহাবের সমন্বয়কারী ব্যাকরণবিদদের এক জামাত এবং তাঁদের কিতাবসমূহের নাম প্রসঙ্গে।
তৃতীয় প্রবন্ধ: এটি ইতিহাস, আদব (সাহিত্য), সীরাত (জীবনী) ও বংশপরম্পরা বিষয়ে তিনটি পরিচ্ছেদ সংবলিত।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইতিহাসবিদ, বর্ণনাকারী, বংশবিশারদ, জীবনীকার ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলি লেখকদের সংবাদ এবং তাঁদের কিতাবসমূহের নাম প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাজন্যবর্গ, সচিব বা লেখকগণ, পত্রপ্রেরকগণ, খারাজ (ভূমিরাজস্ব) কর্মকর্তা
(২), প্রশাসনিক দপ্তরের কর্মকর্তা এবং তাঁদের কিতাবসমূহের নাম প্রসঙ্গে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১০)
الفن الثالث: في أخبار الندماء والجلساء والمغنيين والصفادمة والصفاعنة والمضحكين وأسماء كتبهم.
المقالة الرابعة: وهي فنان في الشعر والشعراء:
الفن الأول: في طبقات الشعراء الجاهليين والإسلاميين ممن لحق الجاهلية وصناع دواوينهم وأسماء رواتهم.
الفن الثاني: في طبقات شعراء الإسلاميين وشعراء المحدثين إلى عصرنا هذا.
المقالة الخامسة: وهي خمسة فنون في الكلام والمتكلمين.
الفن الأول: في ابتداء أمر الكلام والمتكلمين من المعتزلة والمرجئة وأسماء كتبهم.
الفن الثاني: في أخبار متكلمي الشيعة والإمامية والزيدية وغيرهم من الغلاة والإسماعيلية وأسماء كتبهم.
الفن الثالث: في أخبار متكلمي المجبرة والحشوية وأسماء كتبهم.
الفن الرابع: في أخبار متكلمي الخوارج وأصنافهم وأسماء كتبهم.
الفن الخامس: في أخبار السياح والزهاد والعباد والمتصوفة والمتكلمين على الوساوس والخطرات وأسماء كتبهم.
المقالة السادسة: وهي ثمانية فنون في الفقه والفقهاء والمحدثين.
الفن الأول: في أخبار مالك وأصحابه وأسماء كتبهم.
الفن الثاني: في أخبار أبي حنيفة النعمان وأصحابه وأسماء كتبهم.
الفن الثالث: في أخبار الإمام الشافعي وأصحابه وأسماء كتبهم.
الفن الرابع: في أخبار داود وأصحابه وأسماء كتبهم.
الفن الخامس: في أخبار فقهاء الشيعة وأسماء كتبهم.
الفن السادس: في أخبار فقهاء أصاب الحديث والمحدثين وأسماء كتبهم.
الفن السابع: في أخبار أبي جعفر الطبري وأصحابه وأسماء كتبهم.
الفن الثامن: في أخبار فقهاء الشراة وأسماء كتبهم.
المقالة السابعة: وهي ثلاثة فنون في الفلسفة والعلوم القديمة:
الفن الأول: في أخبار الفلاسفة الطبيعيين والمنطقيين وأسماء كتبهم ونقولها وشروحها والموجود منها وما ذكر ولم يوجد وما وجد ثم عدم.
তৃতীয় শিল্প: সঙ্গী, সহচর, গায়ক, অনুজীবী, বিদূষক ও ভাঁড়দের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
চতুর্থ প্রবন্ধ: এটি কবিতা ও কবিদের সম্পর্কে দুটি শিল্প নিয়ে গঠিত:
প্রথম শিল্প: জাহেলি ও ইসলামি যুগের কবিদের স্তরবিন্যাস সম্পর্কে—যারা জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগ পেয়েছেন, তাদের কাব্যগ্রন্থের সংকলক এবং তাদের বর্ণনাকারীদের নাম প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় শিল্প: ইসলামি যুগের কবি ও বর্তমান সময় পর্যন্ত আধুনিক কবিদের স্তরবিন্যাস প্রসঙ্গে।
পঞ্চম প্রবন্ধ: এটি ইলমে কালাম ও কালাম শাস্ত্রবিদদের সম্পর্কে পাঁচটি শিল্প নিয়ে গঠিত।
প্রথম শিল্প: কালাম শাস্ত্রের সূচনা এবং মুতাজিলা ও মুরজিয়া সম্প্রদায়ের কালাম শাস্ত্রবিদদের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় শিল্প: শিয়া, ইমামিয়া, জায়দিয়া এবং অন্যান্য চরমপন্থী ও ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের কালাম শাস্ত্রবিদদের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
তৃতীয় শিল্প: মুজবিরাহ ও হাশবিয়া সম্প্রদায়ের কালাম শাস্ত্রবিদদের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
চতুর্থ শিল্প: খারেজিদের কালাম শাস্ত্রবিদদের সংবাদ, তাদের প্রকারভেদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
পঞ্চম শিল্প: পর্যটক, দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতকারী, সুফি এবং যারা কুমন্ত্রণা ও অন্তরের কল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন তাদের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ প্রবন্ধ: এটি ফিকহ, ফকিহ ও মুহাদ্দিসদের সম্পর্কে আটটি শিল্প নিয়ে গঠিত।
اول শিল্প: ইমাম মালিক ও তাঁর অনুসারীদের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় শিল্প: আবু হানিফা আল-নুমান ও তাঁর অনুসারীদের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
তৃতীয় শিল্প: ইমাম শাফেয়ী ও তাঁর অনুসারীদের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
চতুর্থ শিল্প: দাউদ ও তাঁর অনুসারীদের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
পঞ্চম শিল্প: শিয়া ফকিহদের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ শিল্প: আসহাবুল হাদিস ফকিহ ও মুহাদ্দিসদের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
সপ্তম শিল্প: আবু জাফর আত-তাবারী ও তাঁর অনুসারীদের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
অষ্টম শিল্প: শুরাহ ফকিহদের সংবাদ এবং তাদের গ্রন্থাবলির নাম প্রসঙ্গে।
সপ্তম প্রবন্ধ: এটি দর্শন ও প্রাচীন বিজ্ঞান সম্পর্কে তিনটি শিল্প নিয়ে গঠিত:
প্রথম শিল্প: প্রাকৃতিক দার্শনিক ও যুক্তিবিদদের সংবাদ, তাদের গ্রন্থাবলির নাম, সেগুলোর অনুবাদ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং তার মধ্যে যা বর্তমানে বিদ্যমান, যা কেবল উল্লিখিত হয়েছে কিন্তু পাওয়া যায়নি এবং যা একসময় পাওয়া গেলেও পরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفن الثاني: في أخبار أصحاب التعاليم والمهندسين والارثماطيقيين والموسيقيين والحساب والمنجمين وصناع الآلات وأصحاب الحيل والحركات.
الفن الثالث: في ابتداء الطب وأخبار المتطببين من القدماء والمحدثين وأسماء كتبهم ونقولها وتفاسيرها.
المقالة الثامنة: وهي ثلاثة فنون في الاسمار والخرافات والعزائم والسحر والشعوذة.
الفن الأول: في أخبار المسامرين والمخرفين والمصورين وأسماء الكتب المصنفة في الأسمار والخرافات.
الفن الثاني: في أخبار المعزمين والمشعبذين والسحرة وأسماء كتبهم.
الفن الثالث: في الكتب المصنفة في معاني شتى لا يعرف مصنفوها ولا مؤلفوها.
المقالة التاسعة: وهي فنان في المذاهب والاعتقادات.
الفن الأول: في وصف مذاهب الحرانية الكلدانيين المعروفين في عصرنا بالصابئة ومذاهب التنوية من المنانية والديصانية والحرمية والمرقيونية والمزدكية وغيرهم وأسماء كتبهم
الفن الثاني في وصف المذاهب الغريبة الطريفة كمذاهب الهند والصين وغيرهم من أجناس الأمم.
المقالة العاشرة: تحتوي على أخبار الكيميائيين والصنعويين من الفلاسفة القدماء والمحدثين وأسماء كتبهم.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিক্ষা ও নির্দেশনার ধারক, স্থপতি, পাটীগণিতবিদ, সংগীতজ্ঞ, গণনাকারী, জ্যোতিষী, যন্ত্র নির্মাতা এবং কলাকৌশল ও যন্ত্রবিজ্ঞানে পারদর্শীদের বৃত্তান্ত প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: চিকিৎসাবিজ্ঞানের সূচনা, প্রাচীন ও আধুনিক চিকিৎসকদের বৃত্তান্ত এবং তাদের গ্রন্থসমূহের নাম, অনুবাদ ও ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে।
অষ্টম প্রবন্ধ: এটি সান্ধ্যকালীন গালগল্প, রূপকথা, মন্ত্র-তন্ত্র, জাদু ও ভোজবাজি বিষয়ক তিনটি পরিচ্ছেদের সমষ্টি।
প্রথম পরিচ্ছেদ: সান্ধ্যকালীন গল্পকার, রূপকথা রচয়িতা ও চিত্রকরদের সংবাদ এবং গল্প ও রূপকথা বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের নাম প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মন্ত্র-তন্ত্রী, ভোজবাজি প্রদর্শনকারী ও জাদুকরদের বৃত্তান্ত এবং তাদের গ্রন্থসমূহের নাম প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিভিন্ন বিষয়ের ওপর রচিত সেই সকল গ্রন্থ প্রসঙ্গে, যেগুলোর সংকলক ও লেখকদের পরিচয় অজ্ঞাত।
নবম প্রবন্ধ: এটি বিভিন্ন ধর্মাদর্শ ও বিশ্বাস বিষয়ক দুটি পরিচ্ছেদের সমষ্টি।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ক্যালডীয় হাররানীদের ধর্মাদর্শ—যারা আমাদের যুগে সাবেয়ী নামে পরিচিত, এবং মানি সম্প্রদায়, দাইসানিয়া, খুররামিয়া, মারকিউনিয়া, মাজদাকিয়া ও অন্যান্য দ্বৈতবাদীদের ধর্মাদর্শের বর্ণনা এবং তাদের গ্রন্থসমূহের নাম প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ভারত, চীন এবং অন্যান্য জাতির বিচিত্র ও চমৎকার সব ধর্মাদর্শের বর্ণনা প্রসঙ্গে।
দশম প্রবন্ধ: প্রাচীন ও আধুনিক দার্শনিকদের মধ্য থেকে যারা কিমিয়াবিদ ও শিল্পকলা বিশারদ ছিলেন তাদের বৃত্তান্ত এবং তাদের গ্রন্থসমূহের নাম সম্বলিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفن الأول من
المقالة الأولى: في وصف لغات الأمم من العرب والعجم ونعوت أقلامها وأنواع خطوطها وأشكال كتاباتها.
الكلام على القلم العربياختلف الناس في أول وضع الخط العربي فقال هشام الكلبي أول من صنع ذلك قوم من العرب العاربة نزلوا في عدنان بن أد وأسماؤهم أبو جاد هواز حطى كلمون صعفص قريسات هذا من خط بن الكوفي بهذا الشكل والإعراب وضعوا الكتاب على أسمائهم ثم وجدوا بعد ذلك حروفا ليست من أسمائهم وهي الثاء والخاء والذال والظاء والشين والغين فسموها الروادف قال وهؤلاء ملوك مدين وكان مهلكهم يوم الظلة في زمن شعيب النبي
(1) عليه السلام وأنشد لأخت كلمون ترثيه:
كلمون هد ركنى
… هلكت وسط المحله
سيد القوم أتاه
… الحتف ثاو وسط ظله
جعلت نارا عليهم
… دراهم كالمضمحلة
قرأت بخط بن أبي سعد على هذه الصورة وبهذا الإعراب أبجاد هواز خاطئ كلمان صاع فض قرست قالوا هم الجبلة الأخيرة وكانوا نزولا في عدنان
--------------------------------------------
প্রথম মাকালাহ-র (প্রবন্ধ) প্রথম শিল্প:
আরব ও আজম জাতিসমূহের ভাষার বর্ণনা এবং তাদের কলমের বৈশিষ্ট্য, লিপির প্রকারভেদ ও লিখনশৈলীর আকার প্রসঙ্গে।
আরবি লিপি বিষয়ক আলোচনাআরবি লিপি প্রথম উদ্ভাবন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। হিশাম আল-কালবি বলেন, এটি সর্বপ্রথম 'আরবে আরিবা'-র এক কওম তৈরি করেছিল যারা আদনান ইবনে আদ-এর বংশধরদের সাথে বসবাস করত। তাদের নাম ছিল: আবু জাদ, হাওয়াজ, হাত্তি, কালামুন, সা'ফাস, কুরাইসাত। এটি ইবনে আল-কুফির লিপি অনুসারে এই রূপ ও হরকতে বর্ণিত। তারা তাদের নামের ওপর ভিত্তি করেই লিখন পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিল। এরপর তারা আরও কিছু অক্ষর খুঁজে পেল যা তাদের নামের মধ্যে ছিল না, সেগুলো হলো: ছা, খা, যাল, যা, শীন এবং গাইন। তারা এগুলোর নাম দিয়েছিল 'রাওয়াতিফ' (পরবর্তী সংযোজন)। তিনি বলেন, তারা ছিল মাদইয়ানের অধিপতি এবং নবী শুআইব আলাইহিস সালামের যুগে মেঘের ছায়ার (যুল্লাত) দিনে তাদের ধ্বংস হয়েছিল। কালামুনের বোন তার শোকে এই শোকগাথা পাঠ করেছিল:
কালামুন আমার স্তম্ভকে চূর্ণ করে দিয়েছে
… সে জনপদের মাঝখানে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
কওমের সর্দার, তার কাছে মৃত্যু এসেছে
… ছায়ার মধ্যে অবস্থানরত অবস্থায়।
তাদের ওপর আগুন ঢেলে দেওয়া হয়েছে
… তাদের দিরহামগুলো তুচ্ছ বস্তুর মতো হয়ে গিয়েছিল।
আমি ইবনে আবি সা'দের হস্তলিপিতে এই রূপে এবং এই হরকতে পড়েছি: আবজাদ, হাওয়াজ, খাতি, কালমান, সা'ফাদ, কারাসাত। তারা বলেছে যে এরা ছিল পরবর্তী প্রজন্ম এবং তারা আদনানে বসবাস করত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ابن أد وأشباهه فلما استعربوا وضعوا الكتاب العربي والله أعلم وقال كعب وأنا أبرأ إلى الله من قوله أن أول من وضع الكتابة العربية والفارسية وغيرها من الكتابات آدم عليه السلام وضع ذلك قبل موته بثلاثمائة سنة في الطين وطبخه فلما أصاب الأرض الطوفان سلم فوجد كل قوم كتاباتهم فكتبوا بها وقال بن عباس أول من كتب بالعربية ثلاثة رجال من بولان وهي قبيلة سكنوا الأنبار
(1) وأنهم اجتمعوا فوضعوا حروفا مقطعة وموصولة وهم مرار بن مرة وأسلم بن سدرة وعامر بن جدرة ويقال مروة وجدلة فأما مرامر فوضع الصور وأما أسلم ففصل ووصل وأما عامر فوضع الإعجام وسئل أهل الحيرة ممن أخذتم العربي فقالوا من أهل الأنبار ويقال إن الله تعإلى أنطق إسماعيل بالعربية المبينة وهو بن أربع وعشرين سنة قال محمد بن إسحاق فأما الذي يقارب الحق وتكاد النفس تقبله فذكر الثقة أن الكلام العربي بلغة حمير وطسم وجديس وأرم وحويل وهؤلاء هم العروب العاربة وأن إسماعيل لما حصل في الحرم ونشأ وكبر تزوج في جرهم آل معاوية بن مضاض الجرهمي فهم أخوال ولده فتعلم كلامهم ولم يزل ولد إسماعيل على مر الزمان يشتقون الكلام بعضه من بعض ويصنعون للأشياء أسماء كثيرة بحسب حدوث الأشياء الموجودات وظهورها فلما اتسع الكلام ظهر الشعر الجيد الفصيح في العدنانية وكثر هذا بعد معد بن عدنان ولكل قبيلة من قبائل العرب لغة تنفرد بها وتؤخذ عنها وقد اشتركوا في الأصل قال وأن الزيادة في اللغة امتنع العرب منها بعد بعث النبي صلى الله عليه وسلم لأجل القرآن ومما يصدق ذلك روى مكحول عن رجاله إن أول من وضع الكتاب العربي نفيس ونضر وتيما ودومة هؤلاء ولد إسماعيل وضعوه مفصلا وفرقة قادور بنت بن هميسع بن قادور قال وإن نفرا من أهل الأنبار من أياد القديمة وضعوا حروف ألف ب ت ث وعنه أخذت العرب.
قرأت في كتاب مكة لعمر بن شبة وبخطه أخبرني قوم من علماء مضر قالوا الذي كتب هذا العربي الجزم رجل من بني مخلد بن النضر بن كنانة فكتبت حينئذ العرب وعن غيره الذي حمل الكتابة إلى قريش بمكة أبو قيس بن عبد مناف بن زهرة وقد قيل حرب بن
--------------------------------------------
ইবনে আদ ও তার সমগোত্রীয়রা, যখন তারা আরবীয়করণ হলেন, তখন তারা আরবি লিপি প্রবর্তন করেন এবং আল্লাহই ভালো জানেন। কাব বলেন—আর আমি তার কথা থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি চাই—যে প্রথম আরবি, ফারসি ও অন্যান্য লিপির প্রবর্তন করেছেন আদম আলাইহিস সালাম। তিনি তাঁর মৃত্যুর তিনশ বছর আগে এগুলো মাটির ফলকে লিপিবদ্ধ করে তা পুড়িয়েছিলেন। অতঃপর যখন পৃথিবীতে প্লাবন হলো, তখন সেগুলো রক্ষা পেল এবং প্রতিটি জাতি তাদের নিজ নিজ লিপি খুঁজে পেল ও তা দিয়ে লিখতে শুরু করল। ইবনে আব্বাস বলেন, প্রথম আরবিতে লিখেছেন বুলান গোত্রের তিনজন ব্যক্তি; এটি আনবারে বসবাসকারী একটি গোত্র ছিল। তারা একত্রে মিলিত হয়ে বিচ্ছিন্ন ও সংযুক্ত বর্ণগুলো প্রবর্তন করেন। তারা হলেন মুরার ইবনে মুররা, আসলাম ইবনে সিদরা এবং আমির ইবনে জাদরা। মতান্তরে মারওয়া ও জাদলা বলা হয়। মুরার বর্ণের আকৃতিসমূহ তৈরি করেন, আসলাম বর্ণগুলোকে পৃথক ও সংযুক্ত করার পদ্ধতি নির্ধারণ করেন এবং আমির নুকতা বা বর্ণচিহ্ন প্রদান করেন। হীরাবাসীদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, তোমরা কার কাছ থেকে আরবি (লিপি) শিখেছ? তারা বলল, আনবারবাসীদের থেকে। বলা হয় যে, মহান আল্লাহ ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-কে চব্বিশ বছর বয়সে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় বাকশক্তি দান করেছিলেন। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, যা সত্যের নিকটবর্তী এবং মন যা গ্রহণ করতে চায় তা হলো—নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, আরবি ভাষা ছিল হিময়ার, তাসম, জাদিস, ইরাম এবং হাওয়াইল গোত্রের ভাষা। আর এরাই হলো খাঁটি আরব। এবং ইসমাঈল যখন হারামে আগমন করলেন এবং সেখানে লালিত-পালিত ও বড় হলেন, তখন তিনি জুরহুম গোত্রের মুয়াবিয়া ইবনে মুদাদ আল-জুরহুমির পরিবারে বিবাহ করেন। তারাই ছিলেন তাঁর সন্তানদের মাতুল বংশ। ফলে তিনি তাদের ভাষা শিখলেন। কালক্রমে ইসমাঈলের বংশধররা এক শব্দ থেকে অন্য শব্দ তৈরি করতে থাকলেন এবং বিদ্যমান বস্তুসমূহের উৎপত্তি ও বিকাশের সাথে সাথে অনেক নতুন নতুন নামকরণ করতে থাকলেন। যখন ভাষার পরিধি বিস্তৃত হলো, তখন আদনানিদের মধ্যে চমৎকার সাবলীল কবিতা প্রকাশ পেল এবং মা'আদ ইবনে আদনানের পরে এর ব্যাপক প্রসার ঘটল। আরব গোত্রগুলোর প্রত্যেকেরই নিজস্ব স্বতন্ত্র উপভাষা ছিল যা তাদের থেকে গ্রহণ করা হতো, যদিও তারা মূল ভাষার ক্ষেত্রে অংশীদার ছিল। তিনি আরও বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পর কুরআনের কারণে আরবরা ভাষায় নতুন কিছু সংযোজন থেকে বিরত থাকে। এর সত্যতা নিশ্চিত করে মাকহুল তার বর্ণনাকারীদের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নাফিস, নাদর, তায়মা ও দুমা—এরাই প্রথম আরবি লিপি প্রবর্তন করেন; এরা সবাই ইসমাঈলের সন্তান। তারা এটি বিস্তারিতভাবে প্রণয়ন করেছিলেন এবং কাদুর বিনতে বিন হামিসা ইবনে কাদুর এর একটি দলও এতে ছিল। তিনি বলেন, প্রাচীন ইয়াদ বংশীয় আনবারবাসীদের একটি দল আলিফ, বা, তা, ছা—এই বর্ণগুলো প্রবর্তন করেন এবং তাদের কাছ থেকেই আরবরা তা গ্রহণ করেছে।
উমর ইবনে শাব্বার 'কিতাবে মক্কা' পাণ্ডুলিপিতে তাঁর নিজ হাতের লেখায় আমি পড়েছি, মুদার বংশীয় একদল আলেম আমাকে জানিয়েছেন যে, এই জাযম পদ্ধতির আরবি লিপি বনু মাখলাদ ইবনে নাদর ইবনে কিনানা গোত্রের এক ব্যক্তি লিখেছিলেন; তখন থেকেই আরবরা লিখতে শুরু করে। অন্য সূত্রে বর্ণিত যে, মক্কায় কুরাইশদের কাছে লিখন পদ্ধতি বহন করে নিয়ে এসেছিলেন আবু কায়স ইবনে আবদে মানাফ ইবনে জাহরা; আবার কেউ বলেন হারব ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أمية وقيل أنه لما هدمت الكعبة قريش وجدوا في ركن من أركانها حجرا مكتوبا فيه السلف بن عبقر يقرأ على ربه السلام من رأس ثلاثة آلف سنة وكان في خزانة المأمون كتاب بخط عبد المطلب بن هاشم في جلد آدم فيه ذكر حق عبد المطلب بن هاشم من أهل مكة على فلان بن فلان الحميري من أهل وزل صنعا عليه ألف درهم فضة كيلا بالحديدة ومتى دعاه بها أجابه شهد الله والملكان قال وكان الخط شبه خط النساء.
ومن كتاب العرب أسيد بن أبي العيص أصيب في حجر بمسجد السور عند قبر المريين وقد حسم السيل عن الأرض فيه أنا أسيد بن أبي العيص ترحم الله على بني عبد مناف.
لم سميت العرب بهذا الاسم من خط بن أبي سعد ذكروا أن إبراهيم عليه السلام نظر إلى ولد إسماعيل مع أخوالهم من جرهم فقال له يا إسماعيل ما هؤلاء فقال نبي وأخوالهم جرهم فقال له إبراهيم باللسان الذي كان يتكلم به وهو السريانية القديمة أعرب له يقول أخلطهم به والله أعلم.
الكلام على القلم الحميريزعم الثقة أنه سمع مشايخ من أهل اليمن يقولون أن حمير كانت تكتب بالمسند على خلاف أشكال ألف وباء وتاء ورأيت أن جزءا من خزانة المأمون ترجمته ما أمر بنسخه أمير المؤمنين عبد الله المأمون أكرمه الله من التراجم وكان في جملته القلم الحميري فأثبت مثاله على ما كان في النسخة.
উমাইয়া এবং বলা হয় যে, কুরাইশরা যখন কাবা পুনর্নির্মাণের জন্য তা ভেঙেছিল, তখন তারা এর একটি কোণে একটি পাথর খুঁজে পেয়েছিল যাতে লেখা ছিল: 'আস-সালাফ বিন আবকার তিন হাজার বছর আগে থেকে তার প্রতিপালকের প্রতি সালাম পেশ করছে'। খলিফা আল-মামুনের কোষাগারে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিমের হাতের লেখায় মানুষের চামড়ার ওপর লিখিত একটি দলিল ছিল, যাতে মক্কার অধিবাসী আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিমের পাওনা হিসেবে সানআ-র ওয়াজল অধিবাসী হিময়ারি অমুকের পুত্র অমুকের কাছে লৌহ-মানদণ্ডে পরিমাপকৃত এক হাজার রৌপ্য দিরহামের কথা উল্লেখ ছিল; যখনই তাকে এর জন্য ডাকা হবে, সে সাড়া দেবে। আল্লাহ এবং দুই ফেরেশতা এর সাক্ষী ছিলেন। তিনি বলেন: আর সেই লেখাটি ছিল অনেকটা নারীদের হাতের লেখার মতো।
আর আরবদের লিপির মধ্যে উসাইদ ইবনে আবিল আইস-এর একটি লিপি পাওয়া গিয়েছিল সুর মসজিদের একটি পাথরে, মারয়িয়্যিনদের কবরের কাছে, যেখানে প্লাবন মাটি সরিয়ে দিয়েছিল। তাতে লেখা ছিল: 'আমি উসাইদ ইবনে আবিল আইস, আল্লাহ আবদে মানাফ বংশের ওপর রহমত বর্ষণ করুন'।
কেন আরবদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে ইবনে আবি সা’দ-এর লেখা থেকে জানা যায় যে, তারা উল্লেখ করেছেন, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ইসমাঈলের সন্তানদের তাদের মাতুল বংশ জুরহুমদের সাথে দেখতে পেলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'হে ইসমাঈল, এরা কারা?' তিনি উত্তর দিলেন, 'আমার সন্তান এবং তাদের মাতুল বংশ জুরহুম'। তখন ইবরাহীম যে ভাষায় কথা বলতেন—যা ছিল প্রাচীন সিরিয়াক ভাষা—তাতে তাকে বললেন: 'আ’রিব লাহুম' যার অর্থ হলো তাদেরকে তাদের সাথে মিশ্রিত করো, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
হিময়ারি লিপি সংক্রান্ত আলোচনাএকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, তিনি ইয়েমেনের শায়খদের বলতে শুনেছেন যে, হিময়ার গোত্র 'মুসনাদ' পদ্ধতিতে লিখত, যা আলিফ, বা, তা-এর চিরাচরিত রূপের বিপরীতে ছিল। আমি খলিফা আল-মামুনের কোষাগারের একটি অংশে দেখেছি যার শিরোনাম ছিল: 'আমীরুল মুমিনীন আবদুল্লাহ আল-মামুন—আল্লাহ তাকে সম্মানিত করুন—যা অনুলিপি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন'। সেই অনুবাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল হিময়ারি লিপিও, তাই আমি এর উদাহরণটি যেভাবে পাণ্ডুলিপিতে ছিল সেভাবেই এখানে সাব্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قال محمد بن إسحاق فأول الخطوط العربية الخط المكي وبعده المدني ثم البصري ثم الكوفي فأما المكي والمدني ففي ألفاته تعويج إلى يمنة اليد وأعلا الأصابع وفي شكله انضجاع يسير وهذا مثاله.

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, আরবি লিপিগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো মক্কি লিপি, এরপর মাদানি, তারপর বসরি এবং এরপর কুফি লিপি। মক্কি ও মাদানি লিপির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, এগুলোর আলিফ বর্ণগুলোর উপরিভাগ হাতের ডান দিকে এবং আঙুলের অগ্রভাগের দিকে কিছুটা বাঁকানো থাকে এবং এর অবয়বে সামান্য হেলানো ভাব রয়েছে; আর এটিই তার উদাহরণ।
الفهرست - ت إبراهيم رمضان(ص: 17)
خطوط المصاحف.المكي المدنيين التئم والمثلث والمدور الكوفي البصري المشق التجاويد السلواطي المصنوع المائل الراصف الأصبهاني السجلي القيراموز ومنه يستخرج العجم وبه يقرون حدب قريبا وهو نوعان الناصري والمدور.
قال محمد بن إسحاق أول من كتب المصاحف في الصدر الأول ويوصف بحسن الخط خالد بن أبي الهياج رأيت مصحفا بخطه وكان سعد نصبه لكتب المصاحف والشعر والأخبار للوليد بن عبد الملك وهو الذي كتب الكتاب الذي في قبلة مسجد النبي صلى الله عليه وسلم بالذهب من {وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا}
(1) إلى آخر القرآن ويقال أن عمر بن عبد العزيز قال أريد أن تكتب لي مصحفا على هذا المثال فكتب له مصحفا تنوق فيه فأقبل عمر يقلبه ويستحسنه واستكثر ثمنه فرده عليه ومالك بن دينار مولى أسامة بن لؤي بن غالب ويكنى أبا يحيى وكانت تكتب المصاحب بأجرة ومات سنة ثلاثين ومائة.
ومن كتاب المصاحفخشنام البصري ومهدي الكوفي وكانا في أيام الرشيد ولم ير مثلهما إلى حيث انتهينا وأن خشنام كانت ألفاته ذراعا شقا بالقلم ومنهم أبو حدى وكان يكتب المصاحف اللطاف في أيام المعتصم من كبار الكوفيين وحذاقهم وبعد هؤلاء من الكوفيين بن أم شيبان والمسحور وأبو حميرة وابن حميرة وأبو الفرج في زماننا فأما الوراقون الذين يكتبون المصاحف بالخط المحقق والمشق وما شاكل ذلك فمنهم بن أبي حسان وابن الحضرمي وابن زيد والفريابي وابن أبي فاطمة وابن مجالد وشراشير المصري وابن سير وابن حسن المليح والحسن بن النعالي وابن حديدة وأبو عقيل وأبو محمد الأصفهاني وأبو بكر أحمد بن نصر وابنه أبو الحسين ورأيتهما جميعا.
--------------------------------------------
মুসহাফের লিপিশৈলীসমূহ।মাক্কি, মাদানি (উভয় প্রকার), মুসাল্লাস, মুদাওওয়ার, কুফি, বাসরি, মাশক, তাজউইদ, সালওয়াতি, মাসনু', মায়িল, রাসিফ, আসবাহানি, সিজিল্লি, কায়রামুজ; এবং তা থেকেই অনারবদের লিপিশৈলী উদ্ভূত হয়েছে যা দ্বারা তারা পাঠ করে, যা 'হাদাব' এর কাছাকাছি এবং এটি দুই প্রকার: নাসিরি এবং মুদাওওয়ার।
মুহাম্মদ বিন ইসহাক বলেন, প্রথম যুগে মুসহাফ লেখকদের মধ্যে প্রথম এবং সুন্দর লিপির জন্য যার বর্ণনা দেওয়া হয় তিনি হলেন খালিদ বিন আবি আল-হাইয়াজ। আমি তাঁর হাতের লেখা একটি মুসহাফ দেখেছি। ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের সময়ে মুসহাফ, কবিতা এবং সংবাদ লিপিবদ্ধ করার জন্য সা'দ তাকে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনিই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদের কিবলার দিকে 'ওয়াশ শামসি ওয়া দুহাহা'
(১) থেকে কুরআনের শেষ পর্যন্ত স্বর্ণাক্ষরে লিখেছিলেন। বলা হয় যে, উমর বিন আব্দুল আজিজ বলেছিলেন, "আমি চাই আপনি আমার জন্য এই নমুনার একটি মুসহাফ লিখে দিন।" অতঃপর তিনি তাঁর জন্য একটি মুসহাফ লিখলেন যাতে অত্যন্ত নিপুণতা অবলম্বন করা হয়েছিল। উমর সেটি উল্টেপাল্টে দেখতে লাগলেন এবং তা পছন্দ করলেন, কিন্তু এর মূল্য অত্যধিক হওয়ায় তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন। আর মালিক বিন দিনার, যিনি উসামা বিন লুওয়াই বিন গালিবের মুক্তদাস এবং যার উপনাম আবু ইয়াহইয়া, তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মুসহাফ লিখতেন এবং তিনি একশ ত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
মুসহাফের লেখকদের মধ্যে আরও ছিলেন:খুশনাম আল-বাসরি এবং মাহদি আল-কুফি; তারা হারুনুর রশিদের যুগে ছিলেন এবং আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত তাদের মতো কাউকে দেখা যায়নি। খুশনামের 'আলিফ' বর্ণগুলো কলমের চেরা অংশে এক হাত পরিমাণ দীর্ঘ হতো। তাদের মধ্যে আবু হিদ্দাও ছিলেন, যিনি আল-মু'তাসিমের যুগে কূফার অন্যতম প্রধান ও দক্ষ লেখকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং সূক্ষ্ম মুসহাফসমূহ লিখতেন। কুফাবাসীদের মধ্যে এদের পরবর্তীকালে ছিলেন ইবনে উম্মে শায়বান, আল-মাশহুর, আবু হুমাইরাহ, ইবনে হুমাইরাহ এবং আমাদের সময়ের আবু আল-ফারাজ। আর ওয়াররাক বা পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকারকদের মধ্যে যারা 'মুহাক্কাক' এবং 'মাশক' ও তদ্রূপ লিপিশৈলীতে মুসহাফ লিখতেন, তাদের মধ্যে ছিলেন ইবনে আবি হাসান, ইবনে আল-হাদরামি, ইবনে যায়েদ, আল-ফারয়াবি, ইবনে আবি ফাতিমা, ইবনে মুজালিদ, মিশরের শারাসির, ইবনে সীর, ইবনে হাসান আল-মালিহ, আল-হাসান বিন আন-না'আলি, ইবনে হাদিদাহ, আবু আকিল, আবু মুহাম্মদ আল-আসবাহানি, আবু বকর আহমদ বিন নাসর এবং তাঁর পুত্র আবু আল-হুসাইন; আমি তাঁদের উভয়কেই দেখেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
نسخة ما نسخ من خط أبي العباس بن ثوابة:أول من كتب في أيام بني أمية قطبة وهو استخرج الأقلام الأربعة واشتق بعضها من بعض وكان قطبة أكتب الناس على الأرض بالعربية ثم كان بعده الضحاك بن عجلان الكاتب في أول خلافة بني العباس فزاد على قطبة فكان بعده أكتب الخلق ثم كان بعده إسحاق بن حماد الكاتب في خلافة المنصور والمهدي فزاد على الضحاك ثم كان لإسحاق بن حماد عدة تلامذة منهم يوسف الكاتب الملقب بلقوة الشاعر وكان أكتب الناس ومنهم إبراهيم بن المحسن زاد على يوسف ومنهم شقير الخادم وكان مملوك مؤدب القاسم بن المنصور ومنهم ثناء الكاتبة جارية بن فيوما ومنهم عبد الجبار الرومي ومنهم الشعراني والأبرش وسليم الخادم الكاتب خادم جعفر بن يحيى وعمرو بن مسعدة وأحمد بن أبي خالد وأحمد الكلبي كاتب المأمون وعبد الله بن شداد وعثمان بن زياد العايل ومحمد بن عبد الله الملقب بالمدني وأبو الفضل صالح بن عبد الملك التميمي الخراساني هؤلاء كتبوا الخطوط الأصلية الموزونة التي لا يقوى عليها أحد.
تسمية الأقلام الموزونة وصفة ما يكتب بكل قلم منها مما لا يقوى عليه أحد فمن ذلك قلم الجليلوهؤلاء الأقلام كلها لا يقوى عليه أحد إلا بالتعليم الشديد وفيه يقول يوسف لقوة قلم الجليل يدق صلب الكاتب يكتب به عن الخلفاء إلى ملوك الأرض في الطوامير
(1) الصحاح يخرج منه قلمان السجلات والديباج قلم السجلات الأوسط يخرج منه قلمان السميع وقلم الأشرية وقلم الديباج يكتب به في الطوامير يخرج به قلم الطومار الكبير الذي يعمل به في الطوامير المستخرج من الديباج ويخرج منه الخرفاج قلم الثلثين الصغير الثقيل المستخرج من الطومار يكتب به عن الخلفاء إلى العمال والأمراء في الآفاق يخرج منه ثلاثة أقلام قلم الزنبور ويستخرج من الثلثين ويكتب به في الإنصاف لا يخرج منه شيء وقلم المفتح يخرج منه وقلم الحرم يكتب به في الإنصاف إلى الملوك مستخرج من الثقيل وقلم المؤامرات المستخرج من الثلثين يكتب به في الإنصاف بين الملوك يخرج من هذين القلمين أربعة أقلام وهم قلم الحرم قلم المؤامرات قلم العهود المستخرج من الحرم يكتب به في ثلثي طومار لا يخرج منه شيء وقلم أمثال النصف يخرج منه قلمان
--------------------------------------------
আবু আব্বাস ইবনে সাওয়াবার পাণ্ডুলিপি থেকে যা অনুলিপি করা হয়েছে:উমাইয়া আমলে সর্বপ্রথম যিনি লিখেছেন তিনি হলেন কুতবাহ। তিনি চারটি কলম (লিপি শৈলী) উদ্ভাবন করেন এবং একটি থেকে অন্যটি উদ্ভূত করেন। আর আরবি লিপি লিখনে কুতবাহ ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ। এরপর আব্বাসীয় খিলাফতের শুরুর দিকে ছিলেন লেখক দাহহাক ইবনে আজলান; তিনি কুতবাহকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর সময়ে সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ লেখক ছিলেন। এরপর মনসুর ও মাহদীর খিলাফতকালে ছিলেন লেখক ইসহাক ইবনে হাম্মাদ, যিনি দাহহাককেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ইসহাক ইবনে হাম্মাদের বেশ কিছু ছাত্র ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন লেখক ইউসুফ, যার উপাধি ছিল লাকওয়াহ আল-শায়ির এবং তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ লেখক। তাদের মধ্যে ইব্রাহিম ইবনুল মুহসিন ইউসুফকেও ছাড়িয়ে যান। তাদের মধ্যে ছিলেন গোলাম শুকাইর, যিনি কাসিম ইবনে মনসুরের শিক্ষক ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন লেখিকা সানা, যিনি ইবনে ফায়ুমার দাসী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আবদুল জাব্বার আল-রুমি, আল-শারানি, আল-আবরাশ, সালিম আল-খাদিম আল-কাতিব (যিনি জাফর ইবনে ইয়াহইয়ার সেবক ছিলেন), আমর ইবনে মাসআদাহ, আহমদ ইবনে আবি খালিদ, আহমদ আল-কালবি (যিনি মামুনের লেখক ছিলেন), আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ, উসমান ইবনে জিয়াদ আল-আইল, মাদানি উপাধিধারী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ এবং আবুল ফজল সালিহ ইবনে আবদুল মালিক আল-তামিমি আল-খুরাসানি। এরা সবাই সেই মৌলিক ও সুপরিমিত লিপি শৈলীতে লিখতেন যার উপর অন্য কারও সামর্থ্য ছিল না।
সুপরিমিত কলমসমূহের নামকরণ এবং প্রতিটি কলমে যা লেখা হয় তার বর্ণনা, যা আয়ত্ত করা অন্য কারও পক্ষে সম্ভব নয়; এর মধ্যে রয়েছে 'জলিল' কলমএই কলমগুলোর সবকটিই কঠোর শিক্ষা ছাড়া আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। এ সম্পর্কে ইউসুফ লাকওয়াহ বলেন, 'জলিল' কলম লেখকের মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে দেয়। এটি দ্বারা খলিফাদের পক্ষ থেকে পৃথিবীর রাজাদের কাছে নিখুঁত সহিফাসমূহে
(১) লেখা হতো। তা থেকে দুটি কলম উদ্ভূত হয়: 'সিজিল্লাত' এবং 'দিবাজ'। মাঝারি 'সিজিল্লাত' কলম থেকে দুটি কলম বের হয়: 'সামি' এবং 'আশরিয়াহ' কলম। 'দিবাজ' কলম দ্বারা সহিফাসমূহে লেখা হয়। তা থেকে 'বড় তুুমার' কলমটি বের হয় যা 'দিবাজ' থেকে উদ্ভূত সহিফাসমূহে ব্যবহৃত হয়। তা থেকে 'খারফাজ' এবং 'আল-সুলুসাইন আল-সগির আল-সাকিল' বের হয় যা তুুমার থেকে উদ্ভূত। এটি দ্বারা খলিফাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের গভর্নর ও আমিরদের কাছে লেখা হতো। তা থেকে তিনটি কলম বের হয়: 'জানবুর' কলম যা 'সুলুসাইন' থেকে উদ্ভূত এবং তা দ্বারা খসড়া বা দাপ্তরিক নথিতে লেখা হতো, যা থেকে অন্য কিছু বের হয় না। আর 'মুফাত্তাহ' কলমটি তা থেকে বের হয়। আর 'হারাম' কলম যা রাজাদের কাছে প্রেরিত দাপ্তরিক পত্রে লেখার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এটি 'সাকিল' থেকে উদ্ভূত। আর 'মুয়ামারাতি' কলম যা 'সুলুসাইন' থেকে উদ্ভূত এবং রাজাদের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার নথিতে লেখার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই দুটি কলম থেকে চারটি কলম বের হয়: 'হারাম' কলম, 'মুয়ামারাতি' কলম, এবং 'উহুদ' কলম যা 'হারাম' থেকে উদ্ভূত এবং তা দ্বারা তুুমারের দুই-তৃতীয়াংশে লেখা হয় যেখান থেকে অন্য কিছু বের হয় না। আর 'নিসফ' সদৃশ কলম যা থেকে দুটি কলম বের হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
خفيف ومفتح وقلم القصص المستخرج من الحرم وقلم المؤامرات يكتب به في النصف لا يخرج منه شيء وقلم الأجوبة المستخرج من الحرم وقلم المؤامرات يكتب به في الاثلاث لا يخرج منه شيء فذلك اثنا عشر قلما منها اثنا عشر قلما يخرج منها قلم الخرفاج الثقيل وهو حفيف الطومار الكبير ومخرجه منه يكتب به في الطوامير ويخرج منه قلم الخرفاج الخفيف ومنها قلم اميعي وهو شبه خط السجلات مخرجة منمن السجلات الأوسط يكتب به في الطوامير وغيرها ومنها قلم يقال له قلم الأشرية مخرجه من خط السجلات الأوسط يكتب به عتق العبيد وأشرية الأرضين والدور وغير ذلك ومنها قلم يقال له المفتح مخرجه من قلم الثقيل النصف الممسك يكتب به في الإنصاف مخرجه منه ويخرج منه ثلاثة أقلام قلم يقال له المدور الكبير مخرجه من خفيف النصف الثقيل ويسميه كتاب هذا الزمان الرياسي يكتب به في الإنصاف يخرج منه قلم يقال له المدور الصغير وهو قلم جامع يكتب به في الدفاتر والحديث والأشعار ومنها قلم يقال له خفيف الثلث الكر يكتب به في الإنصاف مخرجه من خفيف النصف الثقيل يخرج منه قلم يسمى خط الرقاع مخرجه من خفيف الثلث الكبير يكتب به التوقيعات وما أشبه ذلك ومنها قلم يقال له مفتح النصف مخرجه من النصف الثقيل ومنها قلم النرجس يكتب به الاثلاث مخرجه من خفيف النصف فذلك أربعة وعشرون قلما مخرجها كلها من أربعة أقلام قلم الجليل وقلم الطومار الكبير وقلم النصف الثقيل وقلم الثلث الكبير الثقيل ومخرج هذه الأربعة الأقلام من القلم الجليل وهو أبو الأقلام.
ومن غير خط بن ثوابة:لم يزل الناس يكتبون على مثال الخط القديم الذي ذكرناه إلى أول الدولة العباسية فحين ظهر الهاشميون اختصت المصاحف بهذه الخطوط وحدث خط يسمى العراقي وهو المحقق الذي يسمى وراقي ولم يزل يزيد ويحسن حتى انتهى الأمر إلى المأمون فأخذ أصحابه وكتابه بتجويد خطوطهم فتفاخر الناس في ذلك وظهر رجل يعرف بالأحول المحرر من صنائع البرامكة عارف بمعاني الخط وأشكاله فتكلم على رسومه وقوانينه وجعله أنواعا وكان هذا الرجل يحرر الكتب النافذة من السلطان إلى ملوك الأطراف في الطوامير وكان في نهاية الخرقة والوسخ ومع ذلك سمحا لا يليق على شيء فلما رتب الأقلام جعل أولها الأقلام الثقال فمنها قلم الطومار وهو أجلها يكتب به في طومار شآم بسعفة وربما كتب بقلم وكانت تنفذ الكتب إلى الملوك به ومن الأقلام
হালকা ও উন্মুক্ত কলম, এবং হারাম থেকে উদ্ভূত গল্পের কলম, এবং ষড়যন্ত্রের কলম—যা দিয়ে অর্ধাংশে লেখা হয় এবং তা থেকে কিছুই বাইরে যায় না; এবং উত্তরের কলম যা হারাম থেকে উদ্ভূত, এবং ষড়যন্ত্রের কলম যা দিয়ে তৃতীয়াংশে লেখা হয় এবং তা থেকে কিছুই বের হয় না। এভাবে মোট বারোটি কলম। এর মধ্য থেকে আরও বারোটি কলম বের হয়, যার মধ্যে রয়েছে ভারী খারফাজ কলম; এটি বড় তুউমার (স্ক্রোল) লিপির সমতুল্য এবং এটি থেকেই এর উদ্ভব। এটি দিয়ে বড় স্ক্রোলগুলোতে লেখা হয়। এটি থেকে হালকা খারফাজ কলম বের হয়। এর মধ্যে আরও রয়েছে আমিঈ কলম, যা মধ্যম সারির রেজিস্টার লিপির সদৃশ এবং তা থেকেই এর উদ্ভব, যা দিয়ে স্ক্রোল ও অন্যান্য জিনিসে লেখা হয়। এর মধ্যে 'আশরিয়াহ' (ক্রয়-বিক্রয়) নামক একটি কলম রয়েছে যা মধ্যম সারির রেজিস্টার লিপি থেকে উদ্ভূত; এটি দিয়ে দাস মুক্তি এবং জমি ও ঘরবাড়ি কেনাবেচার দলিল লেখা হয়। এর মধ্যে 'মুফাত্তাহ' (উন্মুক্ত) নামক একটি কলম রয়েছে যা ভারী অর্ধাংশ কলম থেকে উদ্ভূত এবং এটি দিয়ে অর্ধাংশগুলোতে লেখা হয়। এটি থেকে তিনটি কলম বের হয়: 'বড় গোলাকার' কলম, যা ভারী অর্ধেকের হালকা অংশ থেকে উদ্ভূত; বর্তমান সময়ের লেখকরা একে 'রিয়াসি' কলম বলে ডাকেন এবং এটি দিয়ে অর্ধাংশগুলোতে লেখা হয়। এটি থেকে 'ছোট গোলাকার' কলম বের হয়, যা একটি সমন্বিত কলম এবং এটি দিয়ে খাতা, হাদিস ও কবিতা লেখা হয়। এর মধ্যে 'হালকা এক-তৃতীয়াংশ' নামক কলম রয়েছে যা অর্ধাংশগুলোতে লেখার কাজে লাগে এবং এটি ভারী অর্ধেকের হালকা অংশ থেকে উদ্ভূত। এটি থেকে 'রিকা' লিপি বের হয়, যা বড় হালকা এক-তৃতীয়াংশ থেকে উদ্ভূত এবং এটি দিয়ে স্বাক্ষর ও অনুরূপ বিষয়গুলো লেখা হয়। এর মধ্যে 'মুফাত্তাহ আল-নিসফ' (অর্ধ-উন্মুক্ত) নামক কলম রয়েছে যা ভারী অর্ধেক থেকে উদ্ভূত। আরও রয়েছে 'নারজিস' কলম যা দিয়ে তৃতীয়াংশগুলোতে লেখা হয় এবং এটি হালকা অর্ধেক থেকে উদ্ভূত। এই মোট চব্বিশটি কলম, যার সবকটিই চারটি মূল কলম থেকে উদ্ভূত: জলীল কলম, বড় তুউমার কলম, ভারী অর্ধেক কলম এবং বড় ভারী এক-তৃতীয়াংশ কলম। আর এই চারটি কলমের উৎস হলো 'জলীল' কলম, যা সকল কলমের আদিপিতা।
ইবনে সাওয়াবাহর হস্তলিপি ব্যতীত অন্য সূত্র থেকে:লোকেরা আমাদের উল্লিখিত সেই প্রাচীন লিপির আদলে লিখে আসছিল আব্বাসীয় শাসনের শুরু পর্যন্ত। যখন হাশেমীয়রা আবির্ভূত হলো, তখন পবিত্র কুরআনসমূহ এই লিপিগুলোর জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গেল এবং 'ইরাকি' নামক একটি লিপির উদ্ভব ঘটল, যা 'মুহাক্কাক' নামে পরিচিত এবং একে 'ওয়ারাকি' বলা হয়। এটি ক্রমাগত বিকশিত ও উন্নত হতে থাকে যতক্ষণ না আল-মামুনের যুগ আসে। তখন তিনি তার সঙ্গী ও লেখকদের হস্তলিপি সুন্দর করার নির্দেশ দেন, ফলে মানুষ এতে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে শুরু করে। তখন 'আল-আহওয়াল আল-মুহাররির' নামে পরিচিত এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে, যিনি ছিলেন বারমাকিদের হাতে গড়ে ওঠা এক কারিগর। তিনি লিপির অর্থ ও ধরণ সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। তিনি লিপির নিয়ম-কানুন ও আইন নিয়ে আলোচনা করেন এবং একে বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত করেন। এই ব্যক্তি সুলতানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রান্তের রাজাদের কাছে পাঠানো পত্রগুলো তুউমারে (বড় স্ক্রোল) লিখে পরিমার্জন করতেন। সেগুলো অত্যন্ত জীর্ণ ও ময়লা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাবলীল ও দক্ষ। যখন তিনি কলমগুলোকে সুবিন্যস্ত করলেন, তখন ভারী কলমগুলোকে প্রথম সারিতে রাখলেন। তার মধ্যে ছিল 'তুউমার' কলম, যা সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ; এটি দিয়ে সিরীয় স্ক্রোলে খেজুরের ডাল দিয়ে লেখা হতো, আবার কখনো কলম দিয়েও লেখা হতো। রাজাদের কাছে পত্রসমূহ এই কলমেই পাঠানো হতো। আর কলমগুলোর মধ্যে-
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২০)
قلم الثلثين قلم السجلات قلم العهود قلم المؤامرات قلم الأمانات قلم الديباج قلم المدمج قلم المرصع قلم النساخ فلما نشأ ذو الرياستين الفضل بن سهل اخترع قلما هو أحسن الأقلام ويعرف بالرياسي ويتفرع إلى عدة أقلام فمن ذلك قلم الرياسي الكبير قلم النصف من الرياسي قلم الثلث قلم صغير النصف قلم خفيف الثلث قلم المحقق قلم المنثور قلم الوشي قلم الرقاع قلم المكاتبات قلم غبار الحلبة قلم النرجس قلم البياض.
أخبار البربري المحرر وولدهاقتضاه هذا الموضع من الكتاب فذكرناه وهو إسحاق بن إبراهيم بن عبد الله بن الصباح بن بشر بن سويد بن الأسود التميمي ثم السعدي وكان إبراهيم أحول وكان إسحاق يعلم المقتدر وأولاده ويكنى بأبي الحسين ولأبي الحسين رسالة في الخط والكتابة سماها تحفة الوامق لم ير في زمانه أحسن خطا منه ولا أعرف بالكتابة وأخوه أبو الحسن نظيره ويسلك طريقته وابنه أبو القاسم إسماعيل بن إسحاق بن إبراهيم وابنه أبو محمد القاسم بن إسماعيل بن إسحاق ومن ولده أيضا أبو العباس عبد الله بن أبي إسحاق وهؤلاء القوم في نهاية حسن الخط والمعرفة بالكتابة وكان قبل إسحاق رجل يعرف بابن معدان وعنه أخد إسحاق ومن غلمان بن معدان أبو إسحاق إبراهيم النمس.
ومن المحررين بنو وجه النعجة وابن منير والزنفلطي والروايدي قال محمد بن إسحاق وممن كتب بالمداد من الوزراء الكتاب أبو أحمد العباس بن الحسن وأبو الحسن علي بن عيسى وأبو علي محمد بن علي بن مقلة ومولده بعد العصر من يوم الخميس لتسع بقين من شوال سنة اثنتين وسبعين ومائتين وتوفي يوم الأحد لعشر خلون من شوال سنة ثمان وعشرين وثلثمائة وممن كتب بالحبر أخوه أبو عبد الله الحسن بن علي ولد مع الفجر من يوم الأربعاء سلخ شهر رمضان سنة ثمان وسبعين ومائتين وتوفي في شهر ربيع الآخر سنة ثمان وثلاثين وثلاثمائة وهذان رجلان لم ير مثلهما في الماضي إلى وقتنا هذا وعلى خط أبيهما مقلة كتبا واسم مقلة علي بن الحسن بن عبد الله ومقلة لقب وقد كتب في زمانهما جماعة وبعدهما من أهلهما وأولادهما فلم يقاربوهما وإنما يبذر الواحد منهم الحرف بعد الحرف والكلمة بعد الكلمة وإنما الكمال كان لأبي علي وأبي عبد الله فممن كتب من أولادهما أبو محمد عبد الله وأبو الحسن بن أبي علي وأبو أحمد سليمان بن أبي الحسن وأبو الحسين بن أبي علي ورأيت مصحفا بخط
তুলুসাইন কলম, সিজিল্লাত কলম, উহুদ কলম, মুয়ামারা কলম, আমানত কলম, দিবাজ কলম, মুদনাজ কলম, মুরসাব্বা কলম এবং নুসাখ (নকলনবিশ) কলম। যখন যুর রিয়াসাতাইন ফজল ইবনে সহল আবির্ভূত হলেন, তিনি এমন একটি কলম উদ্ভাবন করলেন যা কলমগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা 'রিয়াসি' নামে পরিচিত। এটি বেশ কয়েকটি কলমে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বড় রিয়াসি কলম, রিয়াসির অর্ধেক কলম, তুলুস কলম, ছোট অর্ধেক কলম, হালকা তুলুস কলম, মুহাক্কাক কলম, মানসুর কলম, ওয়াশি কলম, রিকা কলম, মুকাতাবাত (পত্রালাপ) কলম, গুবরে হালবা কলম, নারজিস কলম এবং বায়াজ কলম।
লিপিকার আল-বারবারি এবং তাঁর সন্তানদের সংবাদগ্রন্থের এই স্থানটি বিষয়টি দাবি করে বলে আমরা তা উল্লেখ করেছি। তিনি হলেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাব্বাহ ইবনে বিশর ইবনে সুওয়াইদ ইবনে আস-আসওয়াদ আত-তামীমী আস-সা'দী। ইবরাহিম টেরা ছিলেন। ইসহাক খলিফা আল-মুকতাদির এবং তাঁর সন্তানদের শিক্ষা দিতেন এবং তিনি আবু আল-হুসাইন উপনামে পরিচিত ছিলেন। লিপিকলা ও লিখন পদ্ধতি বিষয়ে আবু আল-হুসাইনের একটি রিসালা (প্রবন্ধ) রয়েছে যার নাম 'তুহফাতুল ওয়ামিক'। তাঁর সময়ে তাঁর চেয়ে সুন্দর হস্তাক্ষর আর কারও দেখা যায়নি এবং লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর চেয়ে বেশি পারদর্শীও কেউ ছিলেন না। তাঁর ভাই আবু আল-হাসান তাঁর সমতুল্য ছিলেন এবং তাঁরই পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। এছাড়া তাঁর পুত্র আবু আল-কাসিম ইসমাইল ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম এবং ইসমাইলের পুত্র আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনে ইসমাইল ইবনে ইসহাকও লিপিকার ছিলেন। তাঁর বংশধরদের মধ্যে আবু আল-আব্বাস আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাকও রয়েছেন। এই ব্যক্তিবর্গ হস্তাক্ষরের সৌন্দর্য এবং লিখন কৌশলের জ্ঞানে চরম শিখরে পৌঁছেছিলেন। ইসহাকের পূর্বে ইবনে মাদান নামে এক ব্যক্তি ছিলেন, যাঁর নিকট থেকে ইসহাক শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। ইবনে মাদানের শিষ্যদের মধ্যে আবু ইসহাক ইবরাহিম আন-নিমস অন্যতম।
লিপিবিশারদদের মধ্যে আরও রয়েছেন বনু ওয়াজহুন না’জাহ, ইবনে মুনির, আজ-জানফালতী এবং আর-রাওয়াইদী। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, মন্ত্রী-লেখকদের মধ্যে যাঁরা কালি দিয়ে লিখতেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবু আহমদ আল-আব্বাস ইবনুল হাসান, আবু আল-হাসান আলী ইবনে ঈসা এবং আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুকলা। তাঁর জন্ম ২৭২ হিজরীর শাওয়াল মাসের নয় দিন বাকি থাকতে বৃহস্পতিবার আসরের পর এবং তিনি ৩২৮ হিজরীর শাওয়াল মাসের দশম দিনে রবিবার মৃত্যুবরণ করেন। যাঁরা কালি দিয়ে লিখতেন তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন তাঁর ভাই আবু আবদুল্লাহ আল-হাসান ইবনে আলী; তিনি ২৭৮ হিজরীর রমজান মাসের শেষ দিন বুধবার ভোরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৩৮ হিজরীর রবিউস সানি মাসে মৃত্যুবরণ করেন। এই দুইজন এমন ব্যক্তি ছিলেন যাঁদের সমতুল্য অতীতকাল থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত আর কাউকে দেখা যায়নি। তাঁরা তাঁদের পিতা মুকলার হস্তাক্ষর অনুযায়ী লিখতেন। মুকলার প্রকৃত নাম আলী ইবনুল হাসান ইবনে আবদুল্লাহ এবং 'মুকলা' ছিল তাঁর উপাধি। তাঁদের সময়ে এবং তাঁদের পরে তাঁদের পরিবার ও সন্তানদের মধ্যে অনেকেই লিখেছেন, কিন্তু কেউই তাঁদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি। তাঁদের একেকজন কেবল অক্ষরের পর অক্ষর এবং শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে যেতেন মাত্র, কিন্তু পূর্ণতা কেবল আবু আলী এবং আবু আবদুল্লাহর মধ্যেই বিদ্যমান ছিল। তাঁদের সন্তানদের মধ্যে যাঁরা লিখেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, আবু আল-হাসান ইবনে আবি আলী, আবু আহমদ সুলাইমান ইবনে আবি আল-হাসান এবং আবু আল-হুসাইন ইবনে আবি আলী। আমি একজনের হস্তাক্ষরে একটি মাসহাফ (কুরআনের পাণ্ডুলিপি) দেখেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২১)
جدهم مقلة.
أسماء المذهبين للمصاحف المذكورين:اليقطيني إبراهيم الصغير أبو موسى بن عمار بن السقطي محمد وابن محمد أبو عبد الله الخزيمي وابنه في زماننا.
أسماء المجلدين المذكورين:بن أبي الحريش وكان يجلد في خزانة الحكمة للمأمون شفة المقراض العجيفي أبو عيسى بن شيران دميانة الأعسر بن الحجام إبراهيم ابنه محمد الحسين بن الصفار.
كلام في فضل القلم:قال العتابي الأقلام مطايا الفطن وقال بن أبي داود القلم سفير العقل ورسوله ولسانه الأطول وترجمانه الأفضل وقال طريح بن إسماعيل الثقفي عقول الرجال تحت أسنان أقلامها وقال أرسطاطاليس القلم العلة الفاعلة والمداد العلة الهيولانية والخط العلة الصورية والبلاغة العلة المتممة وقال العتابي ببكاء الأقلام تتبسم الكتب وقال الكندي القلم على وزن نفاع لأن الفاء ثمانون والنون خمسون والألف واحد والعين سبعون فذلك مائتان وواحد والقلم الألف واحد واللام ثلاثون والقاف مائة واللام ثلاثون والميم أربعون فذلك مائتان وواحد وقال عبد الحميد القلم شجرة ثمرها الأرفاظ والفكر بحر لؤلؤه الكمة وفيه ري العقول الظميئة.
كلام في فضائل الخط ومدح الكلام العربي:قال سهل بن هارون صاحب بيت الحكمة ويعرف بابن راهيون الكاتب عدد حروف العربية ثمانية وعشرون حرفا على عدد منازل القمر وغاية ما تبلغ الكلمة منها مع زيادتها سبعة أحرف على عدد النجوم السبعة قال وحروف الزوائد اثنا عشر حرفا على عدد البروج ألاثني عشر قال ومن الحروف ما يدغم مع لام التعريف وهي أربعة عشر حرفا مثل منازل القمر المستترة تحت الأرض وأربعة عشر حرفا ظاهرا لا تدغم مثل بقية المنازل الظاهرة وجعل الإعراب ثلاث حركات الرفع والنصب والخفض لأن الحركات الطبيعية ثلاث حركات حركة من الوسط كحركة النار وحركة إلى الوسط كحركة الأرض وحركة على الوسط كحركة الفلك وهذا اتفاق ظريف وتأول طريف وقال
তাদের দাদা মুকলা।
উল্লেখিত মুসহাফসমূহের সজ্জাকারীদের (মুযাহ্হিবিন) নামসমূহ:আল-ইয়াকতিনী, ইবরাহীম আস-সগির, আবু মুসা বিন আম্মার বিন আস-সাকতি মুহাম্মদ এবং ইবনে মুহাম্মদ আবু আব্দুল্লাহ আল-খুযাইমি ও বর্তমানে তার পুত্র।
উল্লেখিত বই বাঁধাইকারীদের (মুজাল্লিদিন) নামসমূহ:ইবনে আবি আল-হারীশ, যিনি আল-মামুনের 'খিজানাতুল হিকমাহ'-এ বই বাঁধাই করতেন, শিফাতুল মিকরাদ, আল-উজাইফি, আবু ঈসা বিন শিরান, দমিয়ানা আল-আসার, ইবনুল হাজ্জাম ইবরাহীম, তার পুত্র মুহাম্মদ এবং আল-হুসাইন বিন আস-সাফফার।
কলমের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বক্তব্য:আল-আত্তাবী বলেন, কলম হলো বুদ্ধিমত্তার বাহন। ইবনে আবু দাউদ বলেন, কলম হলো বিবেকের রাষ্ট্রদূত, তার প্রেরিত দূত, তার দীর্ঘতম জিহ্বা এবং তার শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তুরাইহ বিন ইসমাইল আল-সাকাফি বলেন, মানুষের বিবেক তাদের কলমের অগ্রভাগের নিচে নিহিত। এরিস্টটল বলেন, কলম হলো কার্যকর কারণ (Efficient Cause), কালি হলো বস্তগত কারণ (Material Cause), লিপি হলো রূপগত কারণ (Formal Cause) এবং অলঙ্কারশাস্ত্র হলো পূর্ণতাদানকারী কারণ (Final Cause)। আল-আত্তাবী বলেন, কলমের ক্রন্দনে বইসমূহ হাস্যোজ্জ্বল হয়। আল-কিন্দি বলেন, কলম শব্দটি 'নফ্ফাউ' (উপকারী) শব্দের সংখ্যামানের সমান, কারণ 'নফ্ফাউ' শব্দের ফা=৮০, নুন=৫০, আলিফ=১ এবং আইন=৭০, যা সব মিলিয়ে দুইশত এক; আর 'আল-কলাম' শব্দের আলিফ=১, লাম=৩০, কাফ=১০০, লাম=৩০ এবং মিম=৪০, যা সব মিলিয়ে দুইশত এক। আব্দুল হামিদ বলেন, কলম হলো একটি বৃক্ষ যার ফল হলো শব্দাবলি, আর চিন্তা হলো একটি সমুদ্র যার মুক্তা হলো প্রজ্ঞা; এবং এতে রয়েছে তৃষ্ণার্ত বিবেকের পরিতৃপ্তি।
লিপির শ্রেষ্ঠত্ব এবং আরবি ভাষার প্রশংসা সম্পর্কে বক্তব্য:বায়তুল হিকমাহ-এর অধিপতি সাহল বিন হারুন—যিনি ইবনে রাহিয়ুন কাতিব নামে পরিচিত—বলেন, আরবি অক্ষরের সংখ্যা আটাশটি, যা চাঁদের মঞ্জিলসমূহের সংখ্যার সমান। একটি শব্দ অতিরিক্ত অক্ষরসহ সর্বোচ্চ সাতটি অক্ষর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা সাতটি নক্ষত্রের সংখ্যার সমান। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত অক্ষরসমূহ বারোটি, যা রাশিচক্রের বারোটি রাশির সংখ্যার সমান। তিনি বলেন, অক্ষরের মধ্যে কিছু অক্ষর 'লামে তারিফ'-এর সাথে সন্ধিভুক্ত হয় এবং সেগুলো চৌদ্দটি, যা ভূগর্ভে লুক্কায়িত চাঁদের মঞ্জিলসমূহের মতো; আর চৌদ্দটি অক্ষর প্রকাশ্য থাকে যা সন্ধিভুক্ত হয় না, সেগুলো অবশিষ্ট প্রকাশ্য মঞ্জিলসমূহের মতো। তিনি স্বরচিহ্ন বা ইরাবকে তিন প্রকার করেছেন—রফা (পেশ), নাসব (যবর) ও খফদ (জের)। কারণ প্রাকৃতিক গতি তিন প্রকার: কেন্দ্র থেকে বিচ্ছুরিত গতি যেমন আগুনের গতি, কেন্দ্রের অভিমুখী গতি যেমন পৃথিবীর গতি এবং কেন্দ্রের চারদিকের আবর্তনশীল গতি যেমন আকাশমণ্ডলীর গতি। এটি একটি চমৎকার মিল এবং সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা। তিনি আরও বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২২)
الكندي لا أعلم كتابة تحتمل من تجليل حروفها وتدقيقها ما يحتمل الكتابة العربية ويمكن فيها من السرعة ما لا يمكن في غيرها من الكتابات وقال أفلاطون الخط عقال العقل وقال إقليدس الخط هندسة روحانية وإن ظهرت بآلة جسمانية وقال أبو دلف الخط رياض العلوم وقال النظام الخط أصيل في الروح وإن ظهر بحواس البدن.
كلام في قبح الخط.يقال رداءة الخط إحدى الزمانتين وقيل رداءة الخط زمانة الأدب وقيل الخط الرديء جدب الأدب.
كلام في فضائل الكتب:قيل لسقراط أما تخاف على عينيك من إدامة النظر في الكتب فقال إذا سلمت البصيرة لم أحفل بسقام البصر مهنود لولا ما عقدته الكتب من تجارب الأولين لا نحل مع النسيان عقود الآخرين وقال بزرجمهر الكتب أصدق الحكم تنشق عن جواهر الشيم وقال آخر هذه العلوم فوارد فاجعلوا الكتب لها نظاما وهذه الأبيات شوارد فاجعلوا الكتب لها زماما.
ولكلثوم بن عمرو العتابي:
لنا ندماء ما نمل حديثهم
… أمينون مأمونون غيبا ومشهدا
يفيدوننا من علمهم علم ما مضى
… ورأيا وتأديبا وأمرا مسددا
بلا علة تخشى ولا خوف ريبة
… ولا نتقى منهم بنانا ولا يدا
فإن قلت هم أحياء لست بكاذب
… وإن قلت هم موتى فلست مفندا
وقال نطاحة واسمه أحمد بن إسماعيل ويكنى أبا علي وسيمر ذكره مستقصى في صفة الكتاب الكتاب هو المسامر الذي لا يبتدئك في حال شغلك ولا يدعوك في وقت نشاطك ولا يحوجك إلى التجمل له والكتاب هو الجليس الذي لا يطريك والصديق الذي لا يغريك والرفيق الذي لا يملك والناصح الذي لا يستزلك.
وأنشدني السري بن أحمد الكندي لنفسه قال كتبت على ظهر جزء أهديته إلى صديق لي وجلدته بجلد أسود.
وأدهم يسفر عن ضده
… كما سفر الليل إذ ودعا
بعثت إليك به أخرسا
… يناجي العيون بما استودعا
আল-কিন্দি বলেন, আমি এমন কোনো লিপি জানি না যা এর অক্ষরের মহিমা ও সূক্ষ্মতার দিক থেকে আরবি লিপির মতো সহনশীল হতে পারে এবং এতে এমন গতির সক্ষমতা রয়েছে যা অন্য কোনো লিপিতে নেই। আর প্লেটো বলেছেন, লিপি হলো বুদ্ধির বন্ধনী। ইউক্লিড বলেছেন, লিপি হলো একটি আধ্যাত্মিক জ্যামিতি, যদিও তা শারীরিক যন্ত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আবু দুলাফ বলেছেন, লিপি হলো জ্ঞানসমূহের উদ্যান। আর আন-নাজ্জাম বলেছেন, লিপি আত্মার গভীরে প্রোথিত, যদিও তা শরীরের পঞ্চেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে।
খারাপ হাতের লেখা প্রসঙ্গে আলোচনা।বলা হয়ে থাকে, নিকৃষ্ট হাতের লেখা হলো দুটি ব্যাধির একটি। আরও বলা হয়, নিকৃষ্ট হাতের লেখা হলো আদব বা শিষ্টাচারের ব্যাধি। আরও বলা হয়েছে, নিকৃষ্ট হাতের লেখা আদবের জন্য দুর্ভিক্ষস্বরূপ।
বইয়ের মর্যাদা প্রসঙ্গে আলোচনা:সক্রেটিসকে বলা হয়েছিল, আপনি কি বইয়ের দিকে নিরন্তর তাকিয়ে থাকার কারণে আপনার চোখের ক্ষতির আশঙ্কা করেন না? তিনি উত্তরে বললেন, যদি অন্তর্দৃষ্টি বা বসিরাত সুস্থ থাকে, তবে আমি বাহ্যিক দৃষ্টির অসুস্থতার পরোয়া করি না। মাহনুদ বলেছেন, বই যদি পূর্ববর্তীদের অভিজ্ঞতাগুলোকে গেঁথে না রাখত, তবে বিস্মৃতির কারণে পরবর্তীদের জ্ঞানগুলোও বিলুপ্ত হয়ে যেত। বুজুর্জিমেহর বলেছেন, বই হলো সত্যতম প্রজ্ঞা যা মহৎ চরিত্রের রত্নরাজি প্রকাশ করে। অন্য একজন বলেছেন, এই জ্ঞানসমূহ হলো আগত প্রস্রবণের মতো, তাই বইকে সেগুলোর সুশৃঙ্খল বিন্যাস বানাও; আর এই কবিতাগুলো হলো পলায়নপর প্রাণীর মতো, তাই বইকে সেগুলোর লাগাম বানাও।
কুলসুম বিন আমর আল-আত্তাবি বলেছেন:
আমাদের এমন কিছু সহচর রয়েছে যাদের আলাপে আমরা ক্লান্ত হই না
… তারা অনুপস্থিতিতে যেমন বিশ্বস্ত, উপস্থিতিতেও তেমনি নিরাপদ।
তারা তাদের জ্ঞান থেকে আমাদের অতীত দিনের শিক্ষা দান করেন
… আর প্রদান করেন সুচিন্তিত মত, শিষ্টাচার এবং সঠিক নির্দেশনা।
কোনো প্রকার ভয়ের কারণ বা সন্দেহের অবকাশ ছাড়াই
… তাদের পক্ষ থেকে কোনো আঙুল বা হাতের (আঘাতের) ভয় আমাদের করতে হয় না।
যদি তুমি বলো তারা জীবিত, তবে তুমি মিথ্যাবাদী নও
… আর যদি বলো তারা মৃত, তবে তোমাকে ভ্রান্ত বলা যাবে না।
নাত্তাহাহ—যার নাম আহমাদ বিন ইসমাইল এবং উপনাম আবু আলী, যার আলোচনা বইয়ের বর্ণনায় বিস্তারিতভাবে সামনে আসবে—তিনি বলেছেন: বই হলো এমন এক নিভৃত আলাপকারী যে তোমার ব্যস্ততার সময় নিজে থেকে কথা শুরু করে না এবং তোমার ফুরফুরে মেজাজের সময় তোমাকে ডেকে বিরক্ত করে না, আর তার সামনে নিজেকে পরিপাটি করে উপস্থাপনের প্রয়োজনও তোমার হয় না। বই হলো এমন এক মজলিশী সাথী যে তোমার তোষামোদ করে না, এমন এক বন্ধু যে তোমাকে প্রলুব্ধ করে না, এমন এক সফরসঙ্গী যে তোমাকে বিরক্ত করে না এবং এমন এক উপদেশদাতা যে তোমাকে সত্যচ্যুত করে না।
আস-সাররি বিন আহমাদ আল-কিন্দি আমাকে তার নিজের রচিত কবিতা পাঠ করে শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আমার এক বন্ধুকে উপহার দেওয়া একটি পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে এটি লিখেছিলাম, যা কালো চামড়া দিয়ে বাঁধানো ছিল:
এক কৃষ্ণবর্ণ বস্তু যা তার বিপরীতকে (সাদা পৃষ্ঠা বা জ্ঞানকে) উন্মোচিত করে
… যেমন রাত্রি বিদায় নেওয়ার সময় ভোরের আলো প্রকাশিত হয়।
আমি তোমার নিকট এই নির্বাক সত্তাকে পাঠিয়েছি
… যা তার মধ্যে গচ্ছিত রাখা রহস্য দিয়ে চোখের সাথে গোপনে কথা বলে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
صموت إذا زر جلبابه
… لبيب فن حله أمتعا
تخبر أنواعه جامعا
… يروح ويغدوا لها مجمعا
تلاقى النفوس سرورا به
… وتلقى الهموم به مصرعا
فلا تعدلن به نزهة
… فقد حاز ما تبتغي اجمعا
وأنشدني أبو بكر الزهري لابن طباطبا في الدفاتر:
لله إخوان أفادوا مفخرا
… فبوصلهم ووفائهم أتكثر
هم ناطقون بغير ألسنة ترى
… هم فاحصون عن السرائر تضمر
إن أبغ من عرب ومن عجم معا
… علما مضى فيه الدفاتر تخبر
حتى كأني شاهد لزمانها
… ولقد مضت من دون ذلك أعصر
خطباء إن أبغ الخطابة يرتقوا
… كفى كفى للدفاتر منبر
كم قد بلوت بها الرجال وإنما
… عقل الفتى بكتاب علم يسبر
كم قد هزمت به جليسا مبرما
… لا يستطيع له الهزيمة عسكر
قال محمد قد استقصيت هذا المعنى وغيره مما يجانسه في مقالة الكتابة وأدواتها من الكتاب الذي ألفته في الأوصاف والتشبيهات.
الكلام على القلم السرياني:قال تيادورس المفسر في تفسيره للسفر الأول من التوراة أن الله تبارك وتعالى خاطب آدم باللسان النبطي وهو أفصح من اللسان السرياني وبه كان يتكلم أهل بابل
(1) فلما بلبل الله الألسنة تفرقت الأمم إلى الأصقاع والمواضع ويبقى لسان أهل بابل على حاله فأما النبطي الذي يتكلم به أهل القرى فهو سرياني مكسور غير مستقيم اللفظ وقال غيره اللسان الذي يستعمل في الكتب والقراءة وهو الفصيح فلسان أهل سوريا وحران والخط السرياني استخرجه العلماء واصطلحوا عليه وكذلك سائر الكتابات وقال آخر أن في أحد الأناجيل أو في غيره من كتب النصارى أن ملكا يقال له سيمورس علم آدم الكتابة السريانية على ما في أيدي النصارى في وقتنا هذا وللسريانيين ثلاثة أقلام وهي المفتوح ويسمى أسطر نجالا وهو أجلها وأحسنها ويقال له الخط الثقيل و ونظيره قلم المصاحف والتحرير المخفف ويسمى اسكوليثا ويقال له الشكل المدور ونظيره قلم
--------------------------------------------
মৌন থাকে যখন তার পোশাকের বোতাম লাগানো থাকে
… আর যখন তা খোলা হয়, তখন সে এক বুদ্ধিমান শিল্পে আনন্দ দান করে।
সে তার সকল প্রকারের তথ্য সমন্বিতভাবে জানায়
… যেন এটি সবার জন্য আসা-যাওয়ার এক মিলনমেলা।
আত্মা এতে প্রশান্তি খুঁজে পায়
… আর দুশ্চিন্তাগুলো এতে পর্যুদস্ত হয়।
একে ছেড়ে অন্য কোনো ভ্রমণে যেয়ো না
… কারণ তুমি যা কিছু অন্বেষণ করো, তা সবই সে ধারণ করে আছে।
আবু বকর আল-জুহরি আমাকে ইবন তাবাতাবার রচিত খাতা (দফতর) বিষয়ক কিছু পঙ্ক্তি শুনিয়েছেন:
আল্লাহর জন্য এমন কিছু ভ্রাতৃপ্রতিম বস্তু রয়েছে যা গৌরব বয়ে আনে
… তাদের সান্নিধ্য ও বিশ্বস্ততায় আমি সমৃদ্ধ হই।
তারা কোনো দৃশ্যমান জিহ্বা ছাড়াই কথা বলে
… তারা মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা গোপন বিষয়গুলো অনুসন্ধান করে।
আমি যদি আরব বা অনারব নির্বিশেষে অতীত জ্ঞান অনুসন্ধান করি
… তবে এই খাতাগুলোই সে সংবাদ প্রদান করে।
এমনকি মনে হয় যেন আমি সেই সময়েরই একজন প্রত্যক্ষদর্শী
… যদিও তার আগে বহু যুগ গত হয়ে গিয়েছে।
যদি আমি বাগ্মিতা খুঁজি, তবে তারা এমন বাগ্মী যারা উচ্চে আরোহণ করে
… খাতা বা পাণ্ডুলিপিগুলোই মিম্বর হিসেবে যথেষ্ট, অতি যথেষ্ট।
এর মাধ্যমে আমি কত মানুষকে পরীক্ষা করেছি, কারণ প্রকৃতপক্ষে
… যুবকের মেধা জ্ঞানের কিতাব দ্বারাই পরিমাপ করা যায়।
এর মাধ্যমে আমি কত বিরক্তিকর সঙ্গীকে পরাজিত করেছি
… যাকে কোনো বিশাল সেনাবাহিনীও পরাজিত করতে সক্ষম ছিল না।
মুহাম্মাদ বললেন: আমি এই অর্থ এবং এর সমজাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলো 'মাকালাতুল কিতাবাহ ওয়া আদাওয়াতিহা' (লিখনশৈলী ও তার উপকরণ) নামক প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, যা আমি বর্ণনা ও উপমাসমূহ বিষয়ক আমার রচিত গ্রন্থ থেকে গ্রহণ করেছি।
সিরীয় লিপির বর্ণনা:মুফাসসির তিয়াদোরাস (থিওডোর) তাওরাতের প্রথম খণ্ডের তাফসীরে বলেছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আদমের সাথে নবতী ভাষায় কথা বলেছিলেন। এটি সিরীয় ভাষার চেয়েও অধিক প্রাঞ্জল এবং বাবেলের অধিবাসীরা এই ভাষায় কথা বলত
(১)। যখন আল্লাহ ভাষাগুলোকে বিভিন্ন করে দিলেন, তখন জাতিসমূহ বিভিন্ন প্রান্তে ও জনপদে ছড়িয়ে পড়ল, তবে বাবেলবাসীদের ভাষা তার পূর্বাবস্থায় থেকে গেল। আর গ্রামবাসী যে নবতী ভাষায় কথা বলে, তা মূলত অশুদ্ধ বা ভাঙা সিরীয় ভাষা। অন্য জন বলেছেন, গ্রন্থ এবং পঠন-পাঠনে ব্যবহৃত ভাষাটিই হলো প্রাঞ্জল ভাষা, যা সিরিয়া ও হাররানের অধিবাসীদের ভাষা। আর সিরীয় লিপিটি বিশেষজ্ঞগণ উদ্ভাবন করেছেন এবং এর ওপর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন, ঠিক যেমন অন্যান্য লিপির ক্ষেত্রে হয়েছে। অন্য একজন বলেছেন যে, কোনো একটি ইঞ্জিলে অথবা খ্রিস্টানদের অন্য কোনো গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, সিমোরাস নামক একজন ফেরেশতা আদমকে সিরীয় লিখনশৈলী শিক্ষা দিয়েছিলেন, যা বর্তমান সময়ে খ্রিস্টানদের নিকট বিদ্যমান রয়েছে। সিরীয়দের তিনটি লিখনশৈলী বা কলম রয়েছে: প্রথমটি হলো 'আল-মাফতুহ', যাকে 'আসতর নাজালা' বলা হয়। এটি তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সুন্দরতম এবং একে 'ভারী লিপি' বলা হয়; এটি মুসহাফের লিপির সদৃশ। দ্বিতীয়টি হলো 'আত-তাহরির আল-মুখাফফাফ', যাকে 'আসকোলিথা' বলা হয় এবং একে 'বৃত্তাকার লিপি' বলা হয়; এটি হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الوراقين والسرطا وبه يكتبون الترسل ونظيره في العربية قلم الرقاع.
الكلام على القلم الفارسي:يقال إن أول من تكلم بالفارسية جيومرت ويسميه الفرس للكل شاه ومعناه ملك الطين وهو عندهم آدم أبو البشر وقيل أول من كتب بالفارسية بيوراسب بن ونداسب المعروف بالضحاك صاحب الاجدهاك وقيل أفريدون بن اثفيان لما قسم الأرض بين ولده سلم وطوجوايراج خص كل واحد منهم بثلث المعمورة وكتب كتابا بينهم قال لي أماد الموبد أن الكتاب عند ملك الصين حمل مع الذخائر الفارسية أيام يزدجرد والله أعلم ويقال أن أول من كتب جم الشيد بن أنجهان وكان ينزل اسان من طساسيج تستر
(1) فزع الفرس أنه لما ملك الأرض ودانت له الجن والإنس وسخر له إبليس أمره أن يخرج ما في الضمير إلى العيان فعلمه الكتابة قرأت بخط أبي عبد الله محمد بن عبدوس الجهشياري في كتاب الوزراء تأليفه قال كانت الكتب والرسائل قبل ملك كشتاسب بن لهراسب قليلة ولم يكن لهم اقتدار على بسط الكلام وإخراج المعاني بفصيح الألفاظ من النفوس فمما حفظ ودون من كلام جم الشيد بن أونجهان إلى ادرباذاني قد أمرتك بسياسة الأقاليم السبعة وأنفذ لذلك وسس ما أمرتك بسياسته ومنها من أفريدون بن كاواثفيان بن أفريدون بن اثفيان إلى
(2) إني قد حبوتك ببر معه دباوند فأقبل ذلك واتخذ سريرا من فضة مموها بالذهب ومنها من كيقاوس بن كيقباذ إلى رستم إني قد أعتقتك من رق العبودية وملكتك على سجستان فلا تقرر لأحد بعبودية وأملك سجستان كما أمرتك فلما ملك بستاسب اتسعت الكتابة وظهر زرادشت بن اسبتمان صاحب شريعة المجوس وأظهر كتابه العجيب بجميع اللغات أخد الناس نفوسهم بتعلم الخط والكتابة فزادوا ومهروا وقال عبد الله بن المقفع لغات الفارسية الفهلوية والدرية والفارسية والخوزية والسريانية فأما الفهلوية فمنسوب إلى فهله اسم يقع على
--------------------------------------------
কাগজ প্রস্তুতকারকগণ এবং সারতা লিপি; আর এর মাধ্যমেই তারা চিঠিপত্র লিখে থাকে এবং আরবিতে এর সমরূপ হলো রিকা কলম।
ফারসি লিপি সংক্রান্ত আলোচনা:বলা হয় যে, ফারসি ভাষায় সর্বপ্রথম কথা বলেছেন গায়ূমারাস। পারস্যবাসীরা তাঁকে 'গিল-শাহ' বলে অভিহিত করে, যার অর্থ হলো 'কাদামাটির রাজা'। তাঁদের নিকট তিনিই হলেন মানবজাতির পিতা আদম। আরও বলা হয় যে, ফারসি ভাষায় সর্বপ্রথম লিখেছেন বিউরাসিব ইবনে ওয়ান্দাসিব, যিনি দাহহাক এবং আজদাহাক-এর অধিপতি নামে পরিচিত। আরও বলা হয় যে, আফরিদূন ইবনে আসফিয়ান যখন তাঁর তিন পুত্র—সালম, তুজ এবং ইরাজ—এর মধ্যে পৃথিবী বণ্টন করেন, তখন তিনি তাঁদের প্রত্যেকের জন্য আবাদি পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ বরাদ্দ করেন এবং তাঁদের মাঝে একটি দলিল লিখে দেন। মুবাদ আমাকে জানিয়েছেন যে, সেই দলিলটি চীনের রাজার নিকট সংরক্ষিত ছিল, যা ইয়াজদাজিরদের যুগে পারস্যের ধনভাণ্ডারের সাথে সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিল। আর আল্লাহই ভালো জানেন। আরও বলা হয় যে, সর্বপ্রথম লিখন কাজ শুরু করেন জামশিদ ইবনে আনজাহান। তিনি তূসতারের অন্তর্গত আসান নামক এলাকায় বাস করতেন। পারস্যবাসীদের দাবি অনুযায়ী, তিনি যখন পৃথিবীর অধিপতি হলেন এবং জ্বিন ও মানুষ তাঁর অনুগত হলো এবং ইবলিস তাঁর বশীভূত হলো, তখন তিনি ইবলিসকে মনের ভাব প্রকাশ্যে আনয়ন করার আদেশ দেন; তখন সে তাঁকে লিখন পদ্ধতি শিক্ষা দেয়। আমি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুস আল-জাহশিয়ারি-র স্বহস্তে লেখা তাঁর রচিত 'কিতাবুল উজারা' (মন্ত্রীদের ইতিহাস)-তে পড়েছি, তিনি বলেছেন: কিশতাসিব ইবনে লুহরাসিব-এর রাজত্বের আগে চিঠিপত্র ও নথিপত্র ছিল খুব সীমিত। মনের ভাব সুস্পষ্ট শব্দে প্রকাশ করার এবং বিস্তৃত আলোচনা করার সামর্থ্য তাঁদের ছিল না। জামশিদ ইবনে আনজাহানের সংরক্ষিত ও লিপিবদ্ধ বাণীর মধ্যে রয়েছে আযুরবাদানের প্রতি তাঁর নির্দেশ: "আমি তোমাকে সপ্ত মহাদেশ শাসনের দায়িত্ব অর্পণ করেছি, সুতরাং সেই উদ্দেশ্যে অগ্রসর হও এবং আমার নির্দেশানুসারে শাসন পরিচালনা করো।" এর মধ্যে আরও রয়েছে আফরিদূন ইবনে আসফিয়ান-এর পক্ষ থেকে: (২) "আমি তোমাকে দামাওয়ান্দ সহ একটি ভূখণ্ড প্রদান করেছি, সুতরাং তা গ্রহণ করো এবং সোনা দিয়ে খচিত একটি রূপার সিংহাসন তৈরি করো।" আরও রয়েছে কায়কাউস ইবনে কায়কোবাদ থেকে রুস্তমের প্রতি প্রেরিত পত্র: "আমি তোমাকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিলাম এবং সিজিস্তানের মালিকানা দান করলাম; সুতরাং এখন থেকে তুমি কারও দাসত্ব স্বীকার করবে না এবং আমার নির্দেশানুসারে সিজিস্তান শাসন করো।" অতঃপর যখন বিশতাসিব রাজা হলেন, তখন লিখন পদ্ধতির ব্যাপক প্রসার ঘটল এবং মজুসি ধর্মের প্রবর্তক জারথুস্ত্র ইবনে আসিবতামান আবির্ভূত হলেন। তিনি তাঁর বিস্ময়কর গ্রন্থটি সকল ভাষায় প্রকাশ করলেন। তখন মানুষ লিখন ও লিপিকলা শিখতে মনোনিবেশ করল এবং এতে দক্ষতা অর্জন করল। আবদুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা বলেন: ফারসি ভাষাগুলো হলো—পাহলভি, দারি, ফারসি, খুজি এবং সুরইয়ানি। পাহলভি নামটি 'পাহলা' অঞ্চলের সাথে সম্পৃক্ত, যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
خمسة بلدان وهي أصفهان والري وهمدان وماه نهاوند وأذربيجان وأما الدرية فلغة مدن المدائن وبها كان يتكلم من بباب الملك وهي منسوبة إلى حاضرة الباب والغالب عليها من لغة أهل خراسات والمشرق لغة أهل بلخ وأما الفارسية فتكلم بها الموابدة والعلماء وأشباههم وهي لغة أهل فارس وأما الخوزية فبها كان يتكلم الملوك والأشراف في الخلوة ومواضع اللعب واللذة ومع الحاشية وأما السريانية فكان يتكلم بها أهل السواد والمكاتبة في نوع من اللغة بالسرياني فارسي وقال بن المقفع للفرس سبعة أنواع من الخطوط منها كتابة الدين ويسمى دين دفتريه يكتبون بها الوستاق.
وكتابة أخرى يقال: لها ويش دبيريه وهي ثلاثمائة وخمسة وستون حرفا يكتبون بها الفراسة والزجر وخرير الماء وطنين الأذان وإشارات العيون والإيماء والغمز وما شاكل ذلك ولم يقع لأحد قلمها ولا في أبناء الفرس من يكتب بها اليوم سألت أماد الموبد عنها فقال نعم هي تجري مجرى الترجمة كما في كتابة العربية تراجم.
وكتابة أخرى ويقال لها الكستج وهي ثمانية وعشرون حرفا يكتب بها العهود والمورية والقطائع وبهذه الكتابة كانت تنقش خواتيم الفرس وطرز ثيابه وفرشهم وسكة دنانيرهم ودراهمهم وهذا مثالها.
وكتابة أخرى يقال لها نيم كستج وهي ثمانية وعشرون حرفا يكتب بها الطب والفلسفة وهذا مثالها:

পাঁচটি দেশ তথা ইসফাহান, রায়, হামাদান, মাহ নাহাওয়ান্দ এবং আজারবাইজান। আর দরি ভাষা হলো মাদায়েন শহরের ভাষা; রাজদরবারে যারা থাকত তারা এ ভাষায় কথা বলত। এটি দরবারের রাজধানীর সাথে সম্পর্কিত। এই ভাষার ওপর খুরাসান এবং প্রাচ্যের অধিবাসীদের ভাষার প্রভাব বেশি, যা মূলত বলখবাসীদের ভাষা। আর ফারসি ভাষায় কথা বলতেন মোবেদান (পারসিক ধর্মযাজক), আলেম এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিরা; এটি পারস্যের অধিবাসীদের ভাষা। আর খুজি ভাষা ছিল রাজা ও অভিজাতদের ভাষা, যা তারা নির্জনে, আমোদ-প্রমোদ ও আনন্দ-উল্লাসের স্থানে এবং তাদের পারিষদবর্গের সাথে আলাপে ব্যবহার করত। আর সুরয়ানি ভাষায় কথা বলত সাওয়াদ অঞ্চলের অধিবাসীরা; তারা এক প্রকার সিরিয়াক-ফারসি মিশ্রিত ভাষায় চিঠিপত্র আদান-প্রদান করত। ইবনে আল-মুকাফফা বলেছেন: পারস্যবাসীদের সাত ধরনের লিপি রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো ধর্মীয় লিপি, যাকে ‘দিন দাফতারিয়াহ’ বলা হয়; এ লিপিতে তারা আভেস্তা লিখে থাকে।
আরেকটি লিপি আছে যাকে ‘বিশ দাবিরিয়াহ’ বলা হয়। এটি তিনশত পঁয়ষট্টিটি বর্ণ নিয়ে গঠিত। এ লিপির মাধ্যমে তারা ফিরাসা (মানুষের অবস্থা অনুধাবন), জাজর (অমঙ্গলসূচক ধ্বনি), পানির কলকল ধ্বনি, কানের গুনগুন শব্দ, চোখের ইশারা, ইঙ্গিত, চোখের পলক এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ লিখে থাকত। বর্তমানে পারস্য সন্তানদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে এ লিপিতে লিখতে পারে এবং কারও কাছে এর লিখনরীতি অবশিষ্ট নেই। আমি মোবেদান আমাদকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: হ্যাঁ, এটি অনুবাদের মতো কাজ করে, যেমন আরবি লিপিতে অনুবাদমূলক লিখনরীতি রয়েছে।
আরেকটি লিপি রয়েছে যাকে ‘কাসতাজ’ বলা হয়। এটি আটাশটি বর্ণ নিয়ে গঠিত। এ লিপির মাধ্যমে চুক্তিপত্রসমূহ, দলিল এবং জায়গির সংক্রান্ত কার্যাদি লেখা হতো। এই লিপিতেই পারস্য সম্রাটদের সিলমোহর, কাপড়ের নকশা, গালিচা এবং দিনার ও দিরহামের মুদ্রা খোদাই করা হতো। এটি তার নমুনা:
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وكتابة أخرى يقال لها الشاه دبيريه وكانت ملوك الأعاجم يتكلمون بها فيما بينهم دون العوام ونع منها سائر أهل المملكة حذرا من أن يضطلع على أسرار الملوك من ليس بملك ولم تقع إلينا.
وكتابة الرسائل على ما جرى به اللسان وليس فيها نقط ويكتب بعضها بلغة السريانية الأولة التي يتكلم بها أهل بابل ويقرأ بالفارسية وعدد حروفها ثلاثة وثلاثون حرفا يقال لها نامه دبيريه وهام دبيريه وهي لسائر أصناف المملكة خلا الملوك فقط وهذا مثالها:
وكتابة أخرى يقال راز سهريه كانت الملوك تكتب بها الأسرار مع من يريدون من سائر الأمم وعدد حروفها وأصواتها أربعون حرفا ولكل واحد من الحروف والأصوات صورة معروفة وليس فيها شيء من اللغة النبطية.
ولهم كتابة أخرى يقال لها
(1) راس سهريه يكتب بها المنطق والفلسفة وهي أربعة وعشرون حرفا وفيها نقط ولم تقع إلينا.
ولهم هجاء يقال له زوارشن يكتبون بها الحروف م موصول ومفصول وهو نحو ألف كلمة ليفصلوا بها بين المتشابهات مثال ذلك أنه من أراد أن يكتب كوشت وهو اللحم
--------------------------------------------
আর একটি লিখনপদ্ধতি রয়েছে যাকে ‘শাহ দাবিরিয়া’ বলা হয়। অনারব রাজন্যবর্গ সাধারণ মানুষের অগোচরে নিজেদের মধ্যে এই পদ্ধতিতে কথা বলতেন এবং লিখতেন। রাজকীয় গোপনীয়তা যেন এমন কারো কাছে প্রকাশিত না হয়ে যায় যে রাজা নয়, সেই সতর্কতাবশত রাজ্যের অন্যান্য সকল অধিবাসীদের জন্য এর ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল। এই লিপিটি আমাদের হস্তগত হয়নি।
চিঠিপত্র আদান-প্রদানের লিপিটি প্রচলিত কথ্য ভাষার অনুসারী ছিল এবং এতে কোনো নুকতা বা বিন্দু ছিল না। এর কিছু অংশ প্রাচীন সুরয়ানি ভাষায় লেখা হতো যা ব্যাবিলনবাসীরা বলত, তবে তা ফারসি ভাষায় পড়া হতো। এর অক্ষর সংখ্যা তেত্রিশটি। একে ‘নামা দাবিরিয়া’ ও ‘হাম দাবিরিয়া’ বলা হয়। রাজা ব্যতীত রাজ্যের অন্যান্য সকল শ্রেণির মানুষের ব্যবহারের জন্য এটি নির্ধারিত ছিল। এর উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
আর একটি লিখনরীতি রয়েছে যাকে ‘রাজ শাহরিয়া’ বলা হয়। রাজন্যবর্গ অন্যান্য জাতির মধ্যে যাদের কাছে গোপন বার্তা পাঠাতে চাইতেন, তাদের জন্য এটি ব্যবহার করতেন। এর বর্ণ ও ধ্বনির সংখ্যা চল্লিশটি। প্রতিটি বর্ণ ও ধ্বনির জন্য একটি সুপরিচিত অবয়ব রয়েছে এবং এতে নবাতী ভাষার কোনো সংমিশ্রণ নেই।
তাদের আরও একটি লিখনপদ্ধতি রয়েছে যাকে ‘রাস শাহরিয়া’ বলা হয়। এর মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনশাস্ত্র লেখা হতো। এর বর্ণ সংখ্যা চব্বিশটি এবং এতে নুকতা বা বিন্দু রয়েছে। এটি আমাদের হাতে পৌঁছেনি।
তাদের একটি বানানরীতি রয়েছে যাকে ‘যাওয়ারিশন’ বলা হয়। এতে তারা বর্ণসমূহকে সংযুক্ত ও পৃথকভাবে লিখত। সদৃশ বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য এতে প্রায় এক হাজার শব্দ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ‘গুশত’ লিখতে চায় যার অর্থ হলো মাংস...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بالعربية كتب بسرا ويقرأه كوشت على هذا المثال:
وإذا أراد أن يكتب تأن وهو الخبز بالعربية كتب لهما ويقرأه نان علي هذا المثال:
وعلى هذا كل شيء أرادوا أن يكتبوه إلا أشياء لا يحتاج إلى قلبها تكتب على اللفظ.
الكلام على القلم العبراني:
قرأت في بعض الكتبلقديمة أن أول من كتب بالعبرانية عابر بن شالخ وضع ذلك بين قومه فكتبوا به وذكر تيادروس أن العبراني مشتق من السرياني وإنما لقب بذلك حيث عبر إبراهيم الفرات يريد الشام هاربا من نمرود بن كوس بن كنعان فأما الكتابة فزعمت اليهود والنصارى لا خلاف بينهما أن الكتابة العبرانية في لوحين من حجارة وأن الله جل اسمه دفع ذلك إليه فلما نزل إلى الشعب من الجبل وجدهم قد عبدوا الوثن اغتاظ عليهم وكان حديدا فكسر اللوحين قال وندم بعد ذلك فأمره الله جل اسمه أن يكتب على لوحين يعلمهما الكتابة الأولة وذكر رجل من أفاضل اليهود أن تيك الكتابة العبرانية غير هذه وإنها صحفت وغيرت وقال بعض أهل العلم من اليهود أن يوسف عليه السلام لما كان وزير العزيز بمصر كان ما يضبطه من أمور المملكة بالحساب والعلامات وهذه صورة الحروف العبرانية:

আরবিতে ‘বুসরা’ লেখা হয় এবং তা এই উদাহরণ অনুযায়ী ‘কুশত’ হিসেবে পাঠ করা হয়:
এবং যদি সে ‘তান’ (যার অর্থ আরবিতে রুটি) লিখতে চায়, তবে তার জন্য ‘লাহুমা’ লেখা হয় এবং এই উদাহরণ অনুযায়ী তা ‘নান’ হিসেবে পাঠ করা হয়:
এবং এভাবেই তারা যা কিছু লিখতে চাইত তার সবকিছুই লেখা হতো; তবে যে বিষয়গুলোর রূপান্তরের প্রয়োজন হতো না, সেগুলো উচ্চারণ অনুযায়ীই লেখা হতো।
হিব্রু লিপি (কলম) সংক্রান্ত আলোচনা:
আমি প্রাচীন কোনো কোনো গ্রন্থে পাঠ করেছি যে, হিব্রু ভাষায় সর্বপ্রথম লিখনকার্য পরিচালনা করেন আবির বিন শালিখ; তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের মাঝে এটি প্রবর্তন করেন এবং তারা এর মাধ্যমে লিখত। তিয়াদরোস উল্লেখ করেছেন যে, হিব্রু লিপি সিরিয়াক লিপি থেকে উদ্ভূত। এর এরূপ নামকরণের কারণ হলো, ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) যখন নমরুদ বিন কূশ বিন কানআনের কবল থেকে পলায়ন করে শামের উদ্দেশ্যে ফোরাত নদী পার হয়েছিলেন, তখন থেকেই একে ‘হিব্রু’ বলা হয়। আর লিখনরীতির বিষয়ে ইহুদি ও নাসারাদের দাবি—যাতে তাদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই—হলো, হিব্রু লিখনশৈলী পাথরের দুটি ফলকে লিপিবদ্ধ ছিল এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তা তাঁর (মুসা আলাইহিস সালাম) নিকট অর্পণ করেছিলেন। অতঃপর তিনি যখন পাহাড় থেকে নিজ সম্প্রদায়ের নিকট অবতরণ করলেন এবং দেখলেন যে তারা মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়েছে, তখন তিনি তাদের প্রতি অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন—তিনি ছিলেন তেজস্বী স্বভাবের—ফলে তিনি ফলক দুটি ভেঙে ফেললেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে পুনরায় দুটি ফলকে লেখার নির্দেশ দিলেন, যাতে তিনি তাদের আদি লিখনরীতি শিক্ষা দিতে পারেন। ইহুদিদের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন যে, সেই হিব্রু লিখনরীতি বর্তমানেরটির চেয়ে ভিন্ন ছিল এবং পরবর্তীতে তা বিকৃত ও পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ইহুদিদের কোনো কোনো আলিম বলেছেন, ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন মিশরে আজিজের উজির ছিলেন, তখন তিনি সালতানাতের বিভিন্ন বিষয় হিসাব এবং সংকেতের মাধ্যমে পরিচালনা করতেন। আর এটি হলো হিব্রু বর্ণমালার প্রতিকৃতি:

(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الكلام على القلم الرومي:قرأت في بعض التواريخ القديمة لم يكن اليونانيون يعرفون الخط في القديم حتى ورد رجلان من مصر يسمي أحدهما قيمس والآخر أغنور ومعهما ستة عشر حرفا فكتب بها اليونانيون ثم استنبط أحدهما أربعة أحرف فكتب بها ثم استنبط آخر يسمى سمونيدس أربعة أخر فصارت أربعا وعشرين وفي هذه الأيام نجم سقراطيس على ما ذكر إسحاق الراهب في تاريخه وسألت رجلا من الروم مراطنا
(1) بلغتهم وكان يذكر أنه قد وصل إلى المرتبة التي تسمى الايطومولوجيا وهو النحو الرومي فقال المتعارف الذي يستعمله الروم في مدينة السلام ثلاثة أقلام منها القلم الأول ويقال له ليطون ونظيره من أقلام العرب قلم الوراقين الذي يكتب به المصاحف وبه يكتبون مصاحفهم ويعرب بيريا ملة الروم أي بالمقدسي.
ولهم قلم يسمى أفوسفيبادون ونظيره من أقلام العرب قلم الثلث الذي يشترك فيه المحقق والمسهل. ولهم قلم يسمى سوريطون وهو قلم الكتاب المخفف ومثله عندنا قلم الترسل الديواني فتدغم فيه الحروف.
ولهم قلم يعرف بالساميا ولا نظير له عندنا فإن الحرف الواحد منه يحيط بالمعاني الكثيرة ويجمع عدة كلمات وقد ذكره جالينوس في فينكس كتبه ومعنى هذه اللفظة ثبت الكتب قال جالينوس كنت في مجلس عام فتكلمت في التشريح كلاما عاما فلما كان بعد أيام لقيني صديق لي فقال أن فلا انا يحفظ عليك مجلسك العام انك تكلمت بكذا وكذا وأعاد على ألفاظي بعينها فقلت من أين لك هذا فقال لي إني لقيت بكاتب ماهر بالساميا فكان يسبقك بالكتابة في كلامك وهذا القلم يتعلمه الملوك وجلة الكتاب ويمنع منه سائر الناس لجلالته جائنا من بعلبك
(2) في سنة ثمان وأربعين رجل متطبب زعم أنه يكتب بالساميا فجربنا عليه ما قال فأصبناه إذا تكلما بعشر كلمات أصغى إليها ثم كتب
--------------------------------------------
রোমান লিপি সংক্রান্ত আলোচনা:আমি কিছু প্রাচীন ইতিহাস গ্রন্থে পড়েছি যে, প্রাচীনকালে গ্রিকরা লিখন পদ্ধতি জানত না। অবশেষে মিশর থেকে দুইজন ব্যক্তি আসেন, যাদের একজনের নাম কাইমাস এবং অন্যজনের নাম আগানুর। তাঁদের সাথে ষোলোটি বর্ণ ছিল, যা দ্বারা গ্রিকরা লিখতে শুরু করে। এরপর তাঁদের একজন আরও চারটি বর্ণ উদ্ভাবন করেন এবং তা দিয়ে লেখেন। পরবর্তীতে সামোনিডিস নামক অন্য একজন আরও চারটি বর্ণ উদ্ভাবন করেন, যার ফলে মোট বর্ণের সংখ্যা চব্বিশটিতে দাঁড়ায়। সন্ন্যাসী ইসহাক তাঁর ইতিহাসে যেমনটি উল্লেখ করেছেন, সেই সময়েই সক্রেটিসের আবির্ভাব ঘটে। আমি রোমান ভাষায় কথা বলতে সক্ষম এক ব্যক্তির কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলাম—যিনি দাবি করতেন যে তিনি 'ইটিমোলজি' অর্থাৎ রোমান ব্যাকরণ শাস্ত্রে উচ্চতর স্তরে পৌঁছেছেন—তিনি বলেছিলেন যে, রোমানরা মদিনাতুস সালামে (বাগদাদে) সাধারণত তিনটি লিপি ব্যবহার করে। প্রথম লিপিটিকে বলা হয় 'লিটন'। এটি আরবি লিপির মধ্যে ওয়াররাকীন লিপির সমতুল্য, যা দ্বারা পবিত্র কুরআন প্রতিলিপি করা হয়। তারা তাদের ধর্মগ্রন্থসমূহ এই লিপি দিয়েই লেখে। একে পবিত্র জেরুজালেমবাসীদের বা বেরিয়া মিল্লাতের লিখন পদ্ধতিও বলা হয়।
তাদের আরেকটি লিপি আছে যাকে 'আফুসফিপাডন' বলা হয়। এটি আরবি লিপির মধ্যে 'সুলুস' লিপির সমতুল্য, যা স্পষ্ট এবং সহজ উভয় পদ্ধতিতেই ব্যবহৃত হয়। তাদের আরেকটি লিপির নাম 'সুরিটন'। এটি মূলত লেখকদের দ্রুত লিপি। আমাদের কাছে যেমন 'দিওয়ানি' বা চিঠিপত্রের লিপি রয়েছে, যাতে বর্ণগুলোকে একটির সাথে অন্যটি মিলিয়ে সংক্ষিপ্ত করে লেখা হয়, এটিও তেমনই।
তাদের আরও একটি লিপি আছে যা 'সামিয়া' নামে পরিচিত। আমাদের কাছে এর কোনো সমতুল্য লিপি নেই। কারণ এর একটি মাত্র বর্ণ অনেক গভীর অর্থ প্রকাশ করতে পারে এবং একাধিক শব্দকে একত্রিত করতে পারে। গ্যালেন তাঁর 'ফিনিক্স' নামক গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, যার অর্থ হলো 'পুস্তক তালিকা'। গ্যালেন বলেন: "আমি একবার একটি সাধারণ সভায় শারীরতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করছিলাম। কয়েক দিন পর আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা হলে তিনি বললেন যে, অমুক ব্যক্তি আপনার সভার বক্তব্যগুলো সংরক্ষিত রেখেছে; আপনি অমুক অমুক কথা বলেছিলেন। তিনি হুবহু আমার শব্দগুলোই পুনরায় বললেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এটি কীভাবে পেলেন? তিনি বললেন, আমি 'সামিয়া' লিপিতে দক্ষ এক লেখকের সাথে দেখা করেছি, যিনি আপনার বক্তব্যের সাথে সাথে দ্রুতগতিতে লিখে ফেলছিলেন।" এই লিপিটি সাধারণত রাজন্যবর্গ এবং উচ্চপদস্থ লেখকরা শেখেন। এর গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য এটি শেখা নিষিদ্ধ। হিজরি ৪৮ সালে বালবাক থেকে এক চিকিৎসক আমাদের কাছে এসেছিলেন যিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি 'সামিয়া' লিপিতে লিখতে পারেন। তিনি যা বলেছিলেন তা আমরা পরীক্ষা করে দেখলাম। আমরা যখন দশটি শব্দ বলতাম, তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং তারপর লিখতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كلمة فاستعدناها فأعادها بألفاظنا قال جعفر بن المكتفي السبب الذي من أجله تكتب الروم من اليسار إلى اليمين أنهم يعتقدون أن سبيل الجالس أن يستقبل المشرق في كل حالاته فإنه إنا وجه إلى المشرق يكون الشمال على يساره فإذا كان كذلك فاليسار تعطى اليمين فسبيل الكاتب أن يبتدى من الشمال إلى الجنوب قال وللروم قوانين في الخط ورسوم منها الحروف المتعاقبة من الأربعة والعشرين الحرف وهي الغما والدلطا والقبا والسغما والطاو والخى ولهم حروف تسمى المصونات وهي الألفا والابي والايطا واليوطا والهو والواو الصغرى والكبرى وهي الطوميغل والحروف المؤنثة أربعة الألفا والواو الصغرى والواو الكبرى والحروف المذكرات الآي الايطا اليوطا الهو والاعراب لا يقع على شيء من الحروف اليونانية إلا على السبعة الأحرف المصوتات ويعرف باللجين والبلجين واللسان اليوناني مستغن عن استعمال ستة أحرف من اللغة العربية وهي الحاء والدال والضاد والعين والهاء ولام ألف.
قلم لنكبرده ولساكسه.هؤلاء أمة بين رومية والافرنجه يقاربهم صاحب الأندلس وعدد حروف كتابتهم اثنان وعشرون حرفا ويسمى الخط أفيسطليق يبتدئون بالكتابة من اليسار إلى اليمين وعلتهم في ذلك غير علة الروم قالوا ليكون الاستمداد عن حركة القلب لا عليه وأما الكتابة عن اليمين إنما هي عن الكبد على القلب.
قلم الصين:الكتابة الصينية تجري مجرى النقش يتعب كاتبها الحاذق الماهر فيها وقيل إنه لا يمكن الخفيف اليد أن يكتب منها في اليوم أكثر من ورقتين أو ثلاثة وبها يكتبون كتب ديانتهم وعلومهم في المراوح وقد رأيت منها عدة وأكثرهم ثنوية سمينه وأنا استقصى أخبارهم فيما بعد وللصين كتابة يقال لها كتابة المجموع وهو أن لكل كلمة تكتب بثلاثة أحرف وأكثر صورة واحدة ولكل كلام يطول شكل من الحروف يأتي على المعاني الكثيرة فإذا أرادوا أن يكتبوا ما يكتب في مائة ورقة كتبوه في صفح واحد بهذا القلم قال محمد بن زكريا الرازي قصدني رجل من الصين فأقام بحضرتي نحو سنة تعلم فيها العربية كلاما وخطا في مدة خمسة أشهر حتى صار فصيحا حاذقا سريع اليد فلما أراد الانصراف إلى بلده قال لي قبل ذلك بشهر إني على الخروج فأحب أن يمل على كتب جالينوس الستة عشر لأكتبها فقلت لقد ضاق عليك الوقت ولا يفي زمان مقامك لنسخ قليل منها فقال الفتى أسألك أن تهب لي نفسك مدة مقامي وتمل علي بأسرع ما يمكنك فإني أسبقك
একটি শব্দ যা আমরা পুনরায় জানতে চেয়েছিলাম, অতঃপর তিনি তা আমাদের শব্দেই পুনরায় ব্যক্ত করলেন। জাফর ইবনে আল-মুকতাফি বলেন, গ্রিকরা বাম থেকে ডানে লিখে থাকে এর কারণ হলো—তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী উপবিষ্ট ব্যক্তির উচিত সর্বাবস্থায় পূর্বমুখী হওয়া; কারণ সে যখন পূর্ব দিকে মুখ করে বসে, তখন উত্তর দিক তার বাম পাশে থাকে। এমতাবস্থায় বাম দিক ডান দিককে প্রদান করে, তাই লেখকের রীতি হলো উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে শুরু করা। তিনি আরও বলেন, গ্রিকদের লিপির কিছু নিয়ম ও রীতি রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো চব্বিশটি বর্ণের অনুক্রমিক বর্ণসমূহ, যথা: গামা, ডেল্টা, কাপ্পা, সিগমা, টাউ এবং কাই। তাদের কিছু বর্ণ রয়েছে যেগুলোকে স্বনকারী বর্ণ বলা হয়, সেগুলো হলো: আলফা, এপসিলন, এটা, আইওটা, ওমিক্রন, ছোট ওয়াও এবং বড় ওয়াও; আর এগুলো হলো ওমেগা। স্ত্রীলিঙ্গীয় বর্ণ চারটি: আলফা, ছোট ওয়াও এবং বড় ওয়াও। পুংলিঙ্গীয় বর্ণসমূহ হলো: এটা, আইওটা এবং ওমিক্রন। গ্রিক বর্ণমালার কোনোটিতেই স্বরচিহ্ন বা বিভক্তি যুক্ত হয় না, কেবল সাতটি স্বনকারী বর্ণ ব্যতীত; যা লুজাইন ও বালজাইন নামে পরিচিত। গ্রিক ভাষায় আরবি ভাষার ছয়টি বর্ণের ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না, সেগুলো হলো: হা, দাল, দাদ, আইন, হা এবং লাম-আলিফ।
লম্বার্ড এবং স্যাক্সনদের লিপি।এরা রোমান ও ফ্রাঙ্কদের মধ্যবর্তী একটি জাতি, আন্দালুসের অধিপতি তাদের নিকটবর্তী। তাদের লেখার বর্ণসংখ্যা বাইশটি। এই লিপিকে 'এপিস্টোলিক' বলা হয়। তারা বাম থেকে ডানে লেখা শুরু করে। এ ক্ষেত্রে তাদের যুক্তি গ্রিকদের থেকে ভিন্ন; তারা বলে যে, শক্তির সঞ্চার যেন হৃদপিণ্ডের গতি থেকে হয়, তার বিপরীতে নয়। আর ডান দিক থেকে লেখা মূলত কলিজা থেকে হৃদপিণ্ডের দিকে পরিচালিত হয়।
চীনের লিপি:চীনা লিখন পদ্ধতি নকশা বা খোদাইয়ের মতো চলে। এতে একজন দক্ষ ও নিপুণ লেখকও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। বলা হয়ে থাকে যে, অত্যন্ত ক্ষিপ্রহস্ত লেখকের পক্ষেও দিনে দুই বা তিন পৃষ্ঠার বেশি লেখা সম্ভব নয়। এই লিপিতেই তারা তাদের ধর্মীয় ও বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থসমূহ পাখার ওপর লিখে থাকে। আমি এ জাতীয় অনেকগুলো দেখেছি। তাদের অধিকাংশ হলো দ্বৈতবাদী; আমি পরবর্তীতে তাদের সংবাদ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব। চীনাদের একটি লিখন পদ্ধতি রয়েছে যাকে সমন্বিত লিপি বলা হয়; আর তা হলো এই যে, প্রতিটি শব্দ যা তিনটি বা ততোধিক বর্ণে লেখা হয়, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট চিত্র থাকে। আবার দীর্ঘ কোনো বক্তব্যের জন্য বর্ণের এমন একটি আকৃতি রয়েছে যা অনেকগুলো অর্থ প্রকাশ করে। ফলে তারা যখন একশ পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু লিখতে চায়, তখন এই লিপির মাধ্যমে তা একটিমাত্র পৃষ্ঠায় লিখে ফেলে। মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল-রাজি বলেন, চীন দেশীয় এক ব্যক্তি আমার নিকট আসেন এবং প্রায় এক বছর আমার সান্নিধ্যে অবস্থান করেন। তিনি মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে আরবি ভাষা ও লিপি আয়ত্ত করেন এবং অত্যন্ত প্রাঞ্জল, দক্ষ ও দ্রুত হস্তলিপিকারে পরিণত হন। যখন তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা করলেন, তার এক মাস আগে আমাকে বললেন, 'আমি চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তাই আমি চাই আপনি গ্যালেনের ষোলোটি গ্রন্থ আমাকে পড়ে শোনাবেন যাতে আমি তা লিখে নিতে পারি।' আমি বললাম, 'আপনার হাতে সময় খুব কম, আপনার অবস্থানের এই সামান্য সময়ে তার অল্প কিছু অংশও অনুলিপি করা সম্ভব নয়।' যুবকটি বলল, 'আমি আপনাকে অনুরোধ করছি যে, আমার অবস্থানের অবশিষ্ট সময়টুকু আমাকে দান করুন এবং আপনার পক্ষে যত দ্রুত সম্ভব আমাকে পড়ে শোনান, কারণ আমি আপনার পাঠের গতির চেয়ে দ্রুত লিখে ফেলব।'
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بالكتابة فتقدمت إلى بعض تلاميذي بالاجتماع معنا على ذلك فكنا نمل عليه بأسرع ما يمكنا فكان يسبقنا فلم نصدقه إلا في وقت المعارضة فإنه عارض بجميع ما كتبه وسألته عن ذلك فقال إن لنا كتابة تعرف بالمجموع وهو الذي رأيتم إذا أردنا أن نكتب الشيء الكثير في المدة اليسيرة كتبناه بهذا الخط ثم إن شئنا نقلناه إلى القلم المتعارف والمبسوط وزعم أن الإنسان الذكي السريع الأخذ والتلقين لا يمكنه أن يتعلم ذلك في أقل من عشرين سنة وللصين مداد يركبونه من أخلاط يشبه الدهن الصيني رأيت منه شيئا على مثال الألواح مختوما عليه صورة الملك تكفي القطعة الزمان الطويل مع مدوامة الكتابة وهذا مثال قلمهم.
الكلام على القلم المناني:الخط المناني مستخرج من الفارسي والسورياني استخرجه ماني كما أن المذهب مركب من المجوسية والنصرانية وحروفه زائدة على حروف العربية وبهذا القلم يكتبون أناجيلهم وكتب شرائعهم وأهل ما وراء النهر وسمرقند
(1) بهذا القلم يكتبون كتب الدين ويسمى ثم قلم الدين وللمرقيونية قلم يختصون به أخبرني الثقة أنه رآه قال ويشبه المناني إلا أنه غيره وهذه أحرف المناني.
--------------------------------------------
লিখনের মাধ্যমে। অতঃপর আমি আমার কয়েকজন ছাত্রকে এই বিষয়ে আমাদের সাথে একত্রিত হওয়ার প্রস্তাব দিলাম। আমরা আমাদের সাধ্যমতো দ্রুত তাকে (পাঠ) লিখিয়ে দিচ্ছিলাম, কিন্তু সে আমাদের ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। আমরা তাকে বিশ্বাস করিনি যতক্ষণ না মোকাবালা (পাণ্ডুলিপি মেলানো) করার সময় হলো। কেননা, সে যা কিছু লিখেছিল তার সবকিছুর সাথেই সে মোকাবালা করল। আমি তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, 'আমাদের একটি লিখন পদ্ধতি রয়েছে যা "মাজমু" নামে পরিচিত। এটিই সেই পদ্ধতি যা আপনারা দেখেছেন। যখন আমরা স্বল্প সময়ে অনেক বেশি কিছু লিখতে চাই, তখন আমরা এই লিপি ব্যবহার করি। তারপর চাইলে আমরা তা প্রচলিত ও বিস্তারিত কলমে (লিপিতে) স্থানান্তর করি।' সে আরও দাবি করল যে, কোনো মেধাবী ও দ্রুত আয়ত্তকারী মানুষের পক্ষেও বিশ বছরের কম সময়ে এটি শেখা সম্ভব নয়। আর চীনের একটি কালি রয়েছে যা তারা বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণে তৈরি করে, যা চীনা তেলের মতো। আমি তক্তার মতো এর কিছু নমুনা দেখেছি যার ওপর বাদশাহর ছবি মোহর করা ছিল। নিরবচ্ছিন্ন লিখনের ক্ষেত্রেও একটি ছোট টুকরো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত যথেষ্ট হয়। আর এটিই হলো তাদের কলমের (লিপি) উদাহরণ।
মানানি কলম (লিপি) বিষয়ক আলোচনা:মানানি লিপি ফারসি ও সুরিয়ানি থেকে উদ্ভূত। মানি এটি উদ্ভাবন করেছে, যেমন তার ধর্মমতটিও মাজুসিয়াত (অগ্নিপূজা) ও নাসরানিয়াতের (খ্রিষ্টধর্ম) সমন্বয়ে গঠিত। এর বর্ণমালা আরবি বর্ণমালার চেয়ে বেশি। এই কলম বা লিপিতেই তারা তাদের ইঞ্জিলসমূহ এবং শরিয়তের কিতাবসমূহ লিখে থাকে। আর মা-ওয়ারাউন নহর ও সমরকন্দের
(১) অধিবাসীরা এই লিপিতে তাদের দ্বীনি কিতাবগুলো লেখে এবং সেখানে একে 'দ্বীনি কলম' বলা হয়। মারকিউনিদেরও একটি স্বতন্ত্র লিপি রয়েছে। একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি তা দেখেছেন। তিনি বলেন, এটি মানানি লিপির সদৃশ হলেও আসলে তা ভিন্ন। আর এগুলো হলো মানানি লিপির বর্ণসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ولهم صورة والحروف تختلف منها أنهم يكتبون.
الكلام على قلم الصغد:قال الثقة دخلت بلد الصغد
(1) وهي بناحية ما وراء النهر ويسمى صغدايران الأعلى ولهم حاضرة الترك وقصبتها تسمى قرنكت قال وأهلها ثنوية ونصارى ويسمون الثنوية بلغتهم أحار كف هذا مثال خطهم.
--------------------------------------------
তাদের একটি চিত্ররূপ রয়েছে এবং বর্ণগুলো ভিন্ন ভিন্ন, যার মাধ্যমে তারা লিখে থাকে।
[চিত্র]
সগদিয়া লিপি সংক্রান্ত আলোচনা:নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি বলেছেন, আমি সগদ দেশে প্রবেশ করেছি, যা মা-ওয়ারাউন নহর অঞ্চলে অবস্থিত এবং একে উচ্চতর সগদ-ইরান বলা হয়। সেখানে তুর্কিদের একটি প্রধান শহর রয়েছে এবং এর কেন্দ্রস্থলকে করনাকাত বলা হয়। তিনি বলেন, সেখানকার অধিবাসীরা দ্বৈতবাদী ও নাসারা। তারা তাদের ভাষায় দ্বৈতবাদীদের 'আহার কাফ' বলে অভিহিত করে। এটি তাদের লিপির একটি উদাহরণ।
[চিত্র] --------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الكلام على السند:هؤلاء القوم مختلفي اللغات مختلفي المذاهب ولهم أقلام عدة قال لي بعض من يحول بلادهم أن لهم نحو مائتي قلم ولذي رأيت صنما صفرا في دار السلطان أنه صورة اليد وهو شخص على كرسي قد عقد بإحدى يديه ثلاثين وعلى الكرسي كتابة هذا مثالها:
وذكر هذا الرجل المقدم ذكره أنهم في الأكثر يكتبون بالتسعة الأحرف على هذا المثال:
وابتداؤه أ ب ج د هـ و ز ح ط فإذا بلغ إلى ط أعاد الحرف الأول ونقطته تحته على هذا المثال:
فيكون ي ك ل م ن س ع ف ص يزاد عشرة عشرة فإذا بلغ إلى صاد يكتب على هذا المثال وينقط تحت كل حرف نقطتين هكذا:

সনদ সম্পর্কিত আলোচনা:এই জাতিগোষ্ঠী বিভিন্ন ভাষা ও বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারী এবং তাদের অনেকগুলো লিপি রয়েছে। তাদের দেশে যাতায়াতকারী এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, তাদের প্রায় দুইশত লিপি রয়েছে। আমি সুলতানের প্রাসাদে পিতলের একটি মূর্তি দেখেছি যা একটি হাতের প্রতিকৃতি; সেটি মূলত একটি সিংহাসনে উপবিষ্ট এক ব্যক্তির অবয়ব, যিনি তাঁর এক হাত দিয়ে ত্রিশের সংখ্যা নির্দেশ করে মুদ্রা তৈরি করে আছেন। সিংহাসনের ওপর একটি লিপি খোদাই করা আছে যার নমুনা নিম্নরূপ:
পূর্বে উল্লিখিত সেই ব্যক্তি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তারা অধিকাংশ সময় নয়টি বর্ণের মাধ্যমে লিখে থাকে, যার নমুনা এরূপ:
الفهرست - ت إبراهيم رمضان(ص: 33)
فيكون ق ر ش ت ث خ ذ ظ فإذا بلغ ظ كتب الحرف الأول من الأصل وهو هذا ونقط تحته ثلاث نقط هكذا فيكون قد أتى على جميع حروف المعجم ويكتب ما شاء.
الكلام على السودان:فأما أجناس السودان مثل النوبة والبجة والزغاوة والمراوة والاستان والبربر وأصناف الزنج سوى السند فإنهم يكتبون بالهندية للمجاورة فلا قلم لهم يعرف ولا كتابة والذي ذكره الجاحظ في كتاب البيان للزنج خطابة وبلاغة على مذهبهم وبلغتهم وقال لي من رأى ذلك وشاهده قال إذا حزبتهم الأمور ولزتهم الشدائد جلس خطيبهم على ما على من الأرض وأطرق وتكلم بما يشبه الدمدمة والهمهمة فيفهم عنه الباقون قال وإنما يظهر لهم في تلك الخطابة الرأي الذي يريدونه فيعملون عليه والله أعلم.
وخبرني بعض من يجول في الأرض أن للبجة قلما وكتابة ولم تصل إلينا وذكره ممن يجري مجراه أن النوبة تكتب بالسريانية والرومية والقبطية من أجل الدين فأما الحبشة فلهم قلم حروفه متصلة كحروف الحميري يبتدئ من الشمال إلى اليمين يفرقون بين كل اسم منها بثلاث نقط ينقطونها كالمثلث بين حروف الاسمين وهذا مثال الحروف وكتابتها من خزانة المأمون غير الخط:
حرف التاء والثاء واحد وحرف الراء والزاي واحد وحرف الحاء والخاء واحد وحرف العين والغين واحد وحرف الطاء والظاء واحد.
ফলে তা ক্ব-রা-শি-ত-থ-খ-য-জ হয়। যখন এটি ‘জ’ (ظ) পর্যন্ত পৌঁছায়, তখন মূলের প্রথম বর্ণটি লেখা হয়—যা হলো এটি—এবং তার নিচে এভাবে তিনটি নুকতা বা বিন্দু দেওয়া হয়। এভাবে বর্ণমালার সকল বর্ণ অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং সে যা ইচ্ছা লিখতে পারে।
সুদানবাসীদের (কৃষ্ণাঙ্গদের) বর্ণনা প্রসঙ্গে আলোচনা:সুদানবাসীদের বিভিন্ন জাতি, যেমন নুবা, বিজা, যাগাওয়া, মুরুওয়া, আল-আস্তান, বারবার এবং সিন্ধ ব্যতীত জাঞ্জদের বিভিন্ন শ্রেণি; তারা নিকটবর্তী হওয়ার কারণে ভারতীয় লিপিতে লেখে। তাদের নিজস্ব পরিচিত কোনো কলম (লিপি) বা লিখনশৈলী নেই। আল-জাহিজ ‘কিতাবুল বায়ান’-এ জাঞ্জদের সম্পর্কে তাদের নিজস্ব রীতি ও ভাষায় যে বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, তার প্রেক্ষিতে যিনি এটি দেখেছেন ও প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি আমাকে বলেছেন যে, যখন তাদের কোনো বিষয়ে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বিপদ-আপদ ঘনিয়ে আসে, তখন তাদের বক্তা জমিনের ওপর বসে পড়ে এবং মাথা নিচু করে এমনভাবে কথা বলে যা গুনগুন বা অস্পষ্ট গুঞ্জনের মতো মনে হয়। ফলে অন্যরা তা বুঝতে পারে। তিনি আরও বলেন, সেই বক্তৃতার মাধ্যমেই তাদের কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত বা অভিমত প্রকাশ পায় এবং তারা সে অনুযায়ী কাজ করে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
দেশভ্রমণকারী কেউ কেউ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, বিজা সম্প্রদায়ের একটি লিপি ও লিখনপদ্ধতি রয়েছে, তবে তা আমাদের কাছে পৌঁছেনি। অনুরূপ অন্যরাও উল্লেখ করেছেন যে, ধর্মীয় কারণে নুবা জাতি সিরিয়াক, রোমান এবং কপ্টিক লিপিতে লিখে থাকে। আবিসিনিয়াবাসীদের (হাবশা) কথা যদি বলা হয়, তবে তাদের একটি লিপি রয়েছে যার বর্ণগুলো হিময়ারি বর্ণমালার মতো পরস্পর সংযুক্ত। এটি বাম দিক থেকে ডান দিকে শুরু হয়। তারা দুটি নামের বর্ণের মাঝখানে ত্রিভুজের মতো তিনটি নুকতা বা বিন্দু দিয়ে প্রতিটি নামকে পৃথক করে। আল-মামুনের কুতুবখানা বা গ্রন্থাগার থেকে সংগৃহীত লিপি ব্যতীত তাদের বর্ণমালা ও লিখনপদ্ধতির উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
الفهرست - ت إبراهيم رمضان(ص: 34)
الكلام على الترك وما جانسهم:فأما الترك والبلغر والبلغار والبرغز والخزر واللان وأجناس الصغار الأعين المفرطي البياض فلا قلم لهم يعرف سوى البلغر والتبت فإنهم يكتبون بالصينية والمنانية والحزر تكتب بالعبرانية والذي تادى إلى من أمر الترك ما حدثني به أبو الحسن محمد بن الحسن بن أشناس قال حدثني حمود حرار التركي المكلي وكان من التوزونية ممن خرج عن بلده على كبر وتنفط أن ملك الترك الأعظم إذا أراد أن يكتب إلى ملك من الأصاغر وزيره وأمر بشق نشابه ونقش الوزير عليها نقوشا يعرفها أفاضل الأتراك تدل على المعاني التي يريدها الملك ويعرفها المرسل إليه وزعم أن النقش اليسير يحتمل المعاني الكثيرة وإنما يفعلون ذلك عند مهادناتهم ومسالماتهم وفي أوقات حروبهم أيضا وذكر أن ذلك النشاب المكتوب عليه يحتفظون به ويفون من أجله والله أعلم.
الروسية:قال لي من أثق بحكايته أن بعض ملوك جبل القبق
(1) أرسله إلى ملك الروسية وزعم أن لهم كتابة على الخشب حفرا وأخرج إلي قطعة خشب بياض عليها نقوش لا أدري أهي كلمات أم حروف مفردات مثال ذلك:
الفرنجة:وكتابتهم تشبه الخط الرومي أحسن استواء منه وربما رأينا ذلك على السيوف الفرنجية وكانت ملكة الفرنجة كتبت إلى المكتفي كتابا في حرير أبيض وأنفذته مع خادم
--------------------------------------------
তুর্কী এবং তাদের সমগোত্রীয়দের সম্পর্কে আলোচনা:তুর্কী, বুলগর, বুলঘার, বারঘাজ, খাযার, আলান এবং ছোট চোখের অত্যন্ত সাদা বর্ণের জাতিগুলোর বুলগর ও তিব্বতীয়রা ব্যতীত অন্য কোনো পরিচিত লিখন পদ্ধতি নেই। তারা (তিব্বতীয়রা) চীনা ও মানানীয় পদ্ধতিতে লিখে থাকে এবং খাযাররা হিব্রু ভাষায় লেখে। তুর্কীদের বিষয়ে আমার কাছে যা পৌঁছেছে তা আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আশনাস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তুর্কী হামুদ হারার আল-মাকলি—যিনি তুযুনীয়দের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং বৃদ্ধ বয়সে স্বীয় দেশ ত্যাগ করে জ্ঞানান্বেষী হয়েছিলেন—তিনি আমাকে বলেছেন যে, তুর্কীদের মহান সম্রাট যখন কোনো ক্ষুদ্র সম্রাটের কাছে চিঠি লিখতে চান, তখন তার উজির একটি তীরের অগ্রভাগ চিরে ফেলার নির্দেশ দেন এবং উজির তার ওপর এমন কিছু চিহ্ন খোদাই করেন যা তুর্কীদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বুঝতে পারে। এই চিহ্নগুলো সম্রাটের কাঙ্ক্ষিত অর্থের ইঙ্গিত বহন করে এবং প্রাপকও তা বুঝতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন যে, সামান্য খোদাইয়ের মধ্যেই অনেক অর্থ নিহিত থাকে। তারা সন্ধি, শান্তি এবং যুদ্ধের সময়েও এমনটা করে থাকে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সেই লিপি খোদাই করা তীরটি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সংরক্ষণ করে এবং এর খাতিরে তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। আল্লাহই ভালো জানেন।
রুশীয়দের বর্ণনা:যার বর্ণনার ওপর আমি আস্থা রাখি এমন এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন যে, জাবাল আল-কাবক-এর জনৈক রাজা তাকে রুশীয়দের রাজার কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তাদের কাঠের ওপর খোদাই করে লেখার পদ্ধতি রয়েছে। তিনি আমার সামনে এক টুকরো সাদা কাঠ বের করলেন যার ওপর কিছু চিহ্ন ছিল। আমি জানি না সেগুলো পূর্ণ শব্দ নাকি পৃথক বর্ণ। উদাহরণস্বরূপ:
ফরাঞ্জা (ফ্রাঙ্ক) জাতি:তাদের লিখন পদ্ধতি রোমীয় লিপির সদৃশ, তবে তা অধিক সুবিন্যস্ত। আমরা ফরাঞ্জাদের তলোয়ারেও তা দেখেছি। ফরাঞ্জাদের রানী আল-মুকতাফীর নিকট সাদা রেশমি কাপড়ে একটি পত্র লিখেছিলেন এবং একজন দাসের মাধ্যমে তা পাঠিয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقع إلى بلدها من جهة المغرب تخطب صداقة المكتفي وتطلب التزويج به وكان اسم الخادم علبا من خدم بن الأغلب.
الأرمن وغيرهم:فأما الأرمن فإنهم يكتبون في الأكثر بالرومية والعربية لقربهم من البلدان وكذلك كتب أناجيلهم بالرومية ولهم قلم يشبه كتابة الرومي وأما الملوك الذين في جبل القبق وفي سفحة وهم اللكز والشروان والزرزق فلا قلم لهم ولغتهم تشترك بالمجاورة ولكل طائفة لغة وعبارتهم مختلفة ونحن نستقصي أخبارهم في موضعه من الكتاب.
الكلام على برى الأقلام:الأمم تختلف في بري أقلامها فبرى العبراني في غاية التحريف وبري السرياني محرف إلى اليسار وربما كان إلى اليمين وربما قلبوا القلم على ظهره وربما شقوا قصبة وبروا ذلك النصف وسموه صلبا وكتبوا به وبرى الرومي محرف إلى اليمين شديد التحريف لأنه يكتب به من اليسار إلى اليمين وبري الفارسي أن يكون سن قلمه مشعثا إما أن يكون شعثه الكاتب بالأرض أو بأسنانه حتى يحسن به الخط وربما كتبوا بأسفل قصبة غير مبرية ويسمون هذه الانبوبة خاما وبها يكتبون إلهماه ديباب وهي كتب الديانة والسياق وغيره والصين يكتبون بالشعر يجعلونه في رؤوس الأنابيب كما يعمل المصورون والعرب تكتب بسائر الأقلام والبرايات والمعمول على التحريف الأيمن والكتاب يقطون القلم غير محرف.
الكلام على أنواع الورق:يقال أول من كتب آدم على الطين ثم كتبت الأمم بعد ذلك برهة من الزمان في النحاس والحجارة للخلود هذا قبل الطوفان وكتبوا في الخشب وورق الشجر للحاجة في الوقت وكتبوا في التوز الذي يعلا به القسي أيضا للخلود وقد استقصينا خبر ذلك في مقالة الفلاسفة ثم دبغت الجلود فكتب الناس فيها وكتب أهل مصر في القرطاس المصري ويعمل من قصب البردى وقيل أول من عمله يوسف النبي عليه السلام والروم تكتب في الحرير الأبيض والرق وغيره وفي الطومار المصري وفي الفلجان وهو جلود الحمير الوحشية وكانت الفرس تكتب في جلود الجواميس والبقر والغنم والعرب تكتب في أكتاف الإبل واللخاف وهي الحجارة الرقاق البيض وفي العسب عسب النخل والصين
মাগরিব অঞ্চল থেকে তার দেশে একজন লোক এসে পৌঁছাল, যে আল-মুক্তাফির সাথে বন্ধুত্ব এবং তার সাথে বিবাহ বন্ধনের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। সেই দাসের নাম ছিল উলবা, যে ইবনুল আগলাবের দাসদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আরমানি (আর্মেনিয়ান) এবং অন্যান্যরা:আরমানিদের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তারা প্রধানত রোমান ও আরবি ভাষায় লিখে থাকে, কারণ তারা এসব অঞ্চলের নিকটবর্তী। একইভাবে তাদের ইঞ্জিলগুলো রোমান ভাষায় লিখিত। তাদের একটি লিপি রয়েছে যা রোমান লিপির সদৃশ। আর কাবক (ককেশাস) পাহাড় ও এর পাদদেশে অবস্থানরত রাজন্যবর্গ—যথা লাকজ, শিরওয়ান এবং যারযাক—তাদের কোনো নিজস্ব লিপি নেই। প্রতিবেশী হওয়ার কারণে তাদের ভাষায় মিল পাওয়া যায়, তবে প্রতিটি গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও প্রকাশভঙ্গি ভিন্ন। আমরা বইটির যথাস্থানে তাদের সংবাদ বিস্তারিত আলোচনা করব।
কলম কাটা বা প্রস্তুত করার বিবরণ:জাতিসমূহ তাদের কলম তৈরির পদ্ধতিতে ভিন্নতা পোষণ করে। হিব্রুদের কলম কাটা হয় অত্যন্ত তির্যকভাবে। সুরয়ানিদের কলম বাম দিকে বাঁকানো থাকে, কখনো তা ডান দিকেও হয়। কখনো তারা কলমটিকে উল্টো করে ধরে। আবার কখনো তারা একটি নলখাগড়া চিরে তার অর্ধেক অংশ চেঁছে নেয় এবং একে 'সালব' নামে অভিহিত করে তা দিয়ে লেখে। রোমানদের কলম ডান দিকে প্রবলভাবে তির্যক করে কাটা হয়, কারণ রোমানরা বাম থেকে ডানে লিখে থাকে। ফারসিদের কলম তৈরির পদ্ধতি হলো কলমের নিব বা অগ্রভাগকে অমসৃণ রাখা; হয় লেখক তা মাটিতে ঘষে অথবা দাঁত দিয়ে অমসৃণ করে নেন যাতে হাতের লেখা সুন্দর হয়। কখনো তারা কলমের অগ্রভাগ না চেঁছেই নলের নিচের অংশ দিয়ে লেখে; তারা এই নলকে 'খাম' বলে ডাকে। এটি দিয়েই তারা 'ইলহামাহ দিবাব' লেখে, যা ধর্মীয় গ্রন্থ, হিসাবনিকাশ এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়। চীনারা পশম বা চুল দিয়ে লেখে, যা তারা নলের মাথায় স্থাপন করে, ঠিক যেভাবে চিত্রকররা ব্রাশ তৈরি করে। আর আরবরা সব ধরনের কলম এবং কাটার পদ্ধতি ব্যবহার করে; তবে ডান দিকে তির্যকভাবে কাটার নিয়মই প্রচলিত, যদিও লেখকরা সরাসরি (তির্যকহীন) কলমের মাথা কাটেন।
কাগজের প্রকারভেদ সংক্রান্ত আলোচনা:বলা হয়ে থাকে যে, সর্বপ্রথম আদম (আলাইহিস সালাম) মাটির ফলকে লিখেছিলেন। এরপর জাতিসমূহ দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়িত্বের জন্য তামা ও পাথরের ওপর লিখত, যা মহাপ্লাবনের আগের ঘটনা। সমসাময়িক প্রয়োজনে তারা কাঠ ও গাছের পাতায় লিখত। স্থায়িত্বের জন্য তারা 'তুজ' নামক গাছের ছালেও লিখত যা দিয়ে ধনুক ঢাকা হয়। আমরা দার্শনিকদের প্রবন্ধে এ সংবাদটি বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। এরপর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা শুরু হলো এবং মানুষ তাতে লিখতে শুরু করল। মিশরের অধিবাসীরা 'মিশরীয় কারতাস' (কাগজ) ব্যবহার করত যা প্যাপিরাস (বর্দি) নামক নলখাগড়া থেকে তৈরি হতো। বলা হয় যে, ইউসুফ নবী (আলাইহিস সালাম) সর্বপ্রথম এটি তৈরি করেছিলেন। রোমানরা সাদা রেশম, পার্চমেন্ট এবং অন্যান্য উপকরণে লিখত। তারা মিশরীয় তুমান (গোলানো কাগজ) এবং 'ফালজান' নামক বন্য গাধার চামড়াতেও লিখত। পারস্যবাসীরা মহিষ, গরু ও ভেড়ার চামড়ায় লিখত। আর আরবরা উটের কাঁধের হাড়, 'লাখাফ' বা পাতলা সাদা পাথর এবং খেজুর গাছের ডাল বা পাতায় (উসব) লিখত। আর চীন...
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
في الورق الصيني ويعمل من الحشيش وهو أكثر ارتفاع البلد والهند في النحاس والحجار وفي الحرير الأبيض فأما الورق الخراساني فيعمل من الكتان ويقال أنه حدث في أيام بني أمية وقيل في الدولة العباسية وقيل إنه قديم العمل وقيل إنه حديث وقيل أن صناعا من الصين عملوه بخراسان على مثال الورق الصيني فأما أنواعه السليماني الطلحي النوحي الفرعوني الجعفري الطاهري أقام الناس ببغداد سنين لا يكتبون إلا في الطروس
(1) لأن الدواوين نهبت في أيام محمد بن زبيدة وكانت في جلود فكانت تمحا ويكتب فيها قال وكانت الكتب في جلود النورة وهي شديدة الجفاف ثم كانت الدباغة الكوفية تدبغ بالتمر وفيها لين.
تم الفن الأول من المقالة الأولى من كتاب الفهرست
في أخبار العلماء والحمد لله وحده.
--------------------------------------------
চীনা কাগজ শণ থেকে তৈরি করা হয় এবং এটিই সেই দেশে এবং ভারতে সর্বাধিক প্রচলিত। ভারতে তামা, পাথর এবং সাদা রেশমের ওপরও লেখা হয়। আর খুরাসানি কাগজ তিসি থেকে তৈরি করা হয়; বলা হয় যে এটি উমাইয়াদের যুগে উদ্ভাবিত হয়েছিল, আবার বলা হয় আব্বাসীয় আমলে। কেউ বলেন এর প্রচলন প্রাচীনকাল থেকে, আবার কেউ বলেন এটি আধুনিক। এও বলা হয় যে, চীনের কিছু কারিগর খুরাসানে চীনা কাগজের আদলে এটি তৈরি করেছিলেন। এর প্রকারভেদগুলো হলো: সুলাইমানি, তালহি, নূহি, ফিরআওনি, জাফরি এবং তাহিরি। বাগদাদের অধিবাসীরা দীর্ঘ বছর যাবত কেবল তুরূস
(১) ছাড়া অন্য কিছুতে লিখতেন না, কারণ মুহাম্মদ ইবনে জুবায়দার আমলে দিওয়ানসমূহ লুণ্ঠিত হয়েছিল। সেগুলো চামড়ার তৈরি ছিল বিধায় পূর্বের লেখা মুছে পুনরায় তাতে লেখা হতো। তিনি বলেন, বইসমূহ চুন দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা চামড়ার ওপর ছিল যা অত্যন্ত শুষ্ক ছিল। অতঃপর কুফী পদ্ধতিতে খেজুর দিয়ে চামড়া পাকা করা শুরু হয় এবং তাতে কোমলতা ছিল।
আলেমদের সংবাদ বিষয়ক কিতাবুল ফিহরিস্ত-এর প্রথম প্রবন্ধের প্রথম পরিচ্ছেদ সমাপ্ত হলো। এবং সকল প্রশংসা কেবল একক আল্লাহর জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الفن الثاني من المقالة الأولى: في أسماء كتب الشرائع المنزلة على مذهب المسلمين ومذاهب أهلهاقال محمد بن إسحاق قرأت في كتاب وقع إلى قديم النسخ يشبه أن يكون من خزانة المأمون ذكر ناقله فيه أسماء الصحف وعددها والكتب المنزلة ومبلغها وأكثر الحشوية والعوام يصدقون به ويعتقدونه فذكرت منه ما تعلق بكتابي هذا وهذه حكاية ما يحتاج إليه منه على لفظ الكتاب قال أحمد بن عبد الله بن سلام مولى أمير المؤمنين هارون أحسبه الرشيد ترجمت هذا الكتاب من كتاب الحنفاء وهم الصابيون الإبراهيمية الذين آمنوا بإبراهيم عليه السلام وحملوا عنه الصحف التي أنزلها الله عليه وهو كتاب فيه طول إلا أني اختصرت منه مالا بد منه ليعرف به سبب ما ذكرت من اختلافهم وتفرقهم وأدخلت فيه ما يحتاج إليه من الحجة في ذلك من القرآن والآثار التي جاءت عن الرسول صلى الله عليه وسلم وعن أصحابه وعن من أسلم من أهل الكتاب منهم عبد الله بن سلام ويامين بن يامين ووهب بن منبه وكعب الأحبار وابن التيهان وبحير الراهب قال أحمد بن عبد الله بن سلام ترجمت صدر هذا الكتاب والصحف والتوراة والإنجيل وكتب الأنبياء والتلامذة من لغة العبرانية واليونانية والصابية وهي لغة أهل كل كتاب إلى لغة العربية حرفا حرفا ولم أبتغ في ذلك تحسين لفظ ولا تزيينه مخافة التحريف ولم أزد على ما وجدته في الكتاب الذي نقلته ولم أنقص إلا أن يكون في بعض ذلك من الكلام ما هو متقدم بلغة أهل ذلك الكتاب فلا يستقيم لفظه في النقل إلى العربية إلا أن يؤخر ومنه ما هو مؤخر لا يستقيم إلا أن يقدم ليستقيم ذلك بالعربية وهو مثل قول من يقول آ مايم تان ترجمته بالعربية ماء هات فأخرت الماء وقدمت هات وكذلك اللغات فيما يستقيم إذا نقل إلى العربية وأعوذ بالله أن أزيد في ذلك أو أنقص منه إلا على هذا الوجه الذي ذكرته وبينته في هذا الكتاب وقال في موضع آخر من الكتاب فجميع الأنبياء مائة ألف نبي وأربعة وعشرون ألف نبي منهم المرسلون بالوحي شفاها ثلاثمائة وخمسة عشر نبيا وجميع ما أنزل الله تعالى من الكتب مائة كتاب وأربعة كتب من ذلك مائة صحيفة أنزلها الله تعالى.
প্রথম প্রবন্ধের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলমানদের মতাদর্শ এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের মতাদর্শ অনুযায়ী নাযিলকৃত শরীয়তের কিতাবসমূহের নাম প্রসঙ্গেমুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, আমি একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপির কিতাবে পড়েছি যা সম্ভবত আল-মামুনের গ্রন্থাগারের ছিল। এর নকলকারী এতে সহীফাসমূহের নাম ও সংখ্যা এবং নাযিলকৃত কিতাবসমূহ ও তাদের পরিমাণের কথা উল্লেখ করেছেন। হাশবিয়া এবং সাধারণ জনগণের অধিকাংশ এটি বিশ্বাস ও ধারণ করেন। আমি তা থেকে আমার এই কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশটুকু উল্লেখ করেছি। কিতাবটির বর্ণনা থেকে যা প্রয়োজন তা হুবহু নিচে উদ্ধৃত করা হলো: আমীরুল মুমিনীন হারুন—আমার ধারণা তিনি রশিদ—এর মুক্তদাস আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম বলেছেন: আমি এই কিতাবটি হুনাফাদের কিতাব থেকে অনুবাদ করেছি। তারা হলেন ইব্রাহিমী সাবী সম্প্রদায় যারা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ওপর ঈমান এনেছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে সেই সহীফাগুলো গ্রহণ করেছিলেন যা আল্লাহ তাঁর ওপর নাযিল করেছিলেন। এটি একটি দীর্ঘ কিতাব, তবে আমি তা থেকে অপরিহার্য অংশটুকু সংক্ষেপ করেছি যেন তাদের মতভেদ ও বিভক্তির কারণ জানা যায়। আমি এতে কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন—যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম, ইয়ামিন ইবনে ইয়ামিন, ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ, কাব আল-আহবার, ইবনে আত-তাইয়িহান এবং বুহাইরা রাহেব—তাদের থেকে বর্ণিত দলিলসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছি। আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম বলেন: আমি এই কিতাবের প্রারম্ভিক অংশ, সহীফাসমূহ, তাওরাত, ইনজীল এবং নবী ও শিষ্যদের কিতাবসমূহ হিব্রু, গ্রিক ও সাবী ভাষা—যা সংশ্লিষ্ট কিতাবধারীদের ভাষা ছিল—থেকে অক্ষরভেদে আরবি ভাষায় অনুবাদ করেছি। আমি এতে শব্দের উৎকর্ষতা বা সৌন্দর্য বৃদ্ধির চেষ্টা করিনি বিকৃতির ভয়ে। আমি যে কিতাব থেকে নকল করেছি তাতে যা পেয়েছি তার অতিরিক্ত কিছু যোগ করিনি এবং কিছু বিয়োগও করিনি। তবে কোনো কোনো বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট ভাষারীতি অনুযায়ী এমন কিছু ছিল যা আগে আসা আবশ্যক ছিল, কিন্তু আরবিতে অনুবাদের ক্ষেত্রে তা পরে না আনলে বাক্য সঠিক হয় না। আবার কিছু পরে ছিল যা আরবিতে ঠিক করার জন্য আগে আনা প্রয়োজন হয়েছে। এটি অনেকটা সেই ব্যক্তির কথার মতো যে বলে 'আ মায়িম তান', যার আরবি অনুবাদ হলো 'মাউন হাত' (পানি দাও)। আমি 'পানি' শব্দটি পরে নিয়েছি এবং 'দাও' শব্দটি আগে এনেছি। আরবিতে অনুবাদের সময় বাক্য ঠিক রাখার ক্ষেত্রে ভাষার রূপান্তর এমনই হয়ে থাকে। আমি যা উল্লেখ ও বর্ণনা করেছি তা ব্যতিরেকে এতে কোনো কিছু বাড়ানো বা কমানো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কিতাবটির অন্য স্থানে তিনি বলেন: মোট নবীর সংখ্যা এক লক্ষ চব্বিশ হাজার। তাঁদের মধ্যে সরাসরি ওহীর মাধ্যমে প্রেরিত রাসূল হলেন তিনশ পনের জন। আল্লাহ তাআলা মোট একশ চারটি কিতাব নাযিল করেছেন, যার মধ্যে একশটি হলো সহীফা যা আল্লাহ তাআলা নাযিল করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিহরিস্ত - তাহকিক ইবরাহিম রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
فيما بين آدم وموسى فأول كتاب منها أنزله جل اسمه صحف آدم عليه السلام وهي إحدى وعشرون صحيفة والكتاب الثاني الذي أنزله الله على شيث عليه السلام وهو تسع وعشرون صحيفة والكتاب الثالث الذي أنزله الله على أخنوخ وهو إدريس عليه السلام وهو ثلاثون صحيفة والكتاب الرابع أنزله جل اسمه على إبراهيم عليه السلام وهو عشر صحائف والكتاب الخامس على موسى وهو عشر صحائف فذلك خمسة كتب مائة صحيفة ثم أنزل تبارك وتعالى التوراة على موسى عليه السلام بعد الصحف بزمان في عشرة ألواح وذكر أحمد بن عبد الله أن الألواح خضر وكتابتها حمرة في مثل شعاع الشمس قال أحمد بن إسحاق اليهود لا تعرف هذه الصفة قال أحمد فلما نزل موسى من الجبل ووجد أصحابه قد عبدوا العجل رمى بها فتكسرت ثم ندم فسأل الله عز وجل أن يردها عليه فأوحى الله جل اسمه أنى أردها في لوحين وفعل الله له ذلك فأحد اللوحين لوح الميثاق والآخر لوح الشهادة ثم أنزل الله عز وجل على داود المزامير وهو الزبور الذي في أيدي اليهود والنصارى وهو مائة وخمسون مزمورا.
الكلام على التوراة التي في يد اليهود وأسماء كتبهم وأخبار علمائهم ومصنفيهم.سألت رجلا من أفاضلهم عن ذلك فقال أنزل الله جل اسمه على موسى التوراة وهي خمسة أخماس وينقسم كل خمس إلى سفرين وينقسم السفر إلى عدة فراسات ومعناها السورة وتنقسم كل فراسة إلى عدة أبسوقات ومعناها الآيات قال ولموسى كتاب يقال له المشنا ومنه يسخرج اليهود علم الفقه والشرائع والأحكام وهو كتاب كبير ولغته كسداني وعبراني ومن كتب الأنبياء بعد ذلك كتاب يهوسع كتاب سفطى كتاب شمويل كتاب سفر أشعيا كتاب سفر أرميا كتاب سفر حزقيل كتاب ملخي وهو سفر داود وأصحابه ويعرف بتفسير ملخي الملوك كتاب الأنبياء وهو اثني عشر سفرا صغارا ولهم كتب يقال لها بطارات مستخرجة من كتب الأنبياء الثمينة ومن كتبهم كتاب عزور كتاب دانيال كتاب أيوب كتاب سير سيرين كتاب أخا كتاب روث كتاب قوهلت كتاب زبور داود كتاب أمثال سليمان كتاب ديوان الأيام فيه سير الملوك وأخبارهم كتاب حشوارش ويسمى المجلة.
ومن أفاضل اليهود وعلمائهم المتمكنين من اللغة العبرانية ويزعم اليهود أنها لم تر مثله الفيومي واسمه سعيد ويقال سعديا وكان قريب العهد وقد أدركه جماعة في
আদম ও মুসার মধ্যবর্তী সময়ে অবতীর্ণ কিতাবসমূহের মধ্যে প্রথম কিতাব যা মহান আল্লাহ নাযিল করেছেন তা হলো আদমের (আলাইহিস সালাম) সহিফাসমূহ, যা সংখ্যায় একুশটি। দ্বিতীয় কিতাব যা আল্লাহ শিসের (আলাইহিস সালাম) ওপর নাযিল করেছেন তা ঊনত্রিশটি সহিফা। তৃতীয় কিতাব যা আল্লাহ আখনুখ অর্থাৎ ইদ্রিসের (আলাইহিস সালাম) ওপর নাযিল করেছেন তা ত্রিশটি সহিফা। চতুর্থ কিতাব যা মহান আল্লাহ ইব্রাহিমের (আলাইহিস সালাম) ওপর নাযিল করেছেন তা দশটি সহিফা। পঞ্চম কিতাবটি মুসার ওপর অবতীর্ণ হয় যা দশটি সহিফা। সুতরাং এই পাঁচটি কিতাব হলো মোট একশত সহিফা। এরপর মহান আল্লাহ এই সহিফাসমূহের দীর্ঘকাল পর মুসার (আলাইহিস সালাম) ওপর দশটি ফলকের মাধ্যমে তাওরাত নাযিল করেন। আহমদ বিন আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, সেই ফলকগুলো ছিল সবুজ বর্ণের এবং তার ওপর লেখাগুলো সূর্যের রশ্মির মতো লাল বর্ণের ছিল। আহমদ বিন ইসহাক বলেন, ইহুদিরা এই বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত নয়। আহমদ বলেন, মুসা যখন পাহাড় থেকে নেমে এলেন এবং দেখলেন যে তার সঙ্গীরা গোবৎস পূজা করছে, তখন তিনি ফলকগুলো নিক্ষেপ করলেন এবং সেগুলো ভেঙে গেল। এরপর তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র কাছে সেগুলো তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করলেন। তখন মহান আল্লাহ ওহি পাঠালেন যে, আমি এগুলোকে দুটি ফলকের মাঝে ফিরিয়ে দেব। আল্লাহ তার জন্য তা-ই করলেন। এর মধ্যে একটি ফলক হলো অঙ্গীকারের ফলক এবং অন্যটি হলো সাক্ষ্যের ফলক। এরপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা দাউদের ওপর মাজামির অর্থাৎ যাবুর নাযিল করেন যা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের হাতে বিদ্যমান রয়েছে এবং এটি একশত পঞ্চাশটি গীতের সমষ্টি।
ইহুদিদের নিকট বিদ্যমান তাওরাত, তাদের কিতাবসমূহের নাম এবং তাদের আলেম ও গ্রন্থকারদের সংবাদ সংক্রান্ত আলোচনা।আমি তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের একজনকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, মহান আল্লাহ মুসার ওপর তাওরাত নাযিল করেছেন যা পাঁচটি অংশে বিভক্ত। প্রতিটি অংশ আবার দুটি খণ্ডে (সিফর) বিভক্ত। একেকটি সিফর কতগুলো 'ফিরাসা'-তে বিভক্ত যার অর্থ হলো সুরা। আবার প্রতিটি ফিরাসা কতগুলো 'আবসুকা'-তে বিভক্ত যার অর্থ হলো আয়াত। তিনি আরও বলেন, মুসার একটি কিতাব রয়েছে যাকে 'মিশনা' বলা হয়। ইহুদিরা এখান থেকেই ফিকহ শাস্ত্র, শরিয়ত ও বিধিবিধান আহরণ করে। এটি একটি বিশাল গ্রন্থ এবং এর ভাষা হলো কাসদানি ও হিব্রু। এরপর নবীদের কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে ইউশা-র কিতাব, সিফতি (বিচারকর্তৃগণ)-র কিতাব, শামুয়েল-এর কিতাব, আশইয়া-র কিতাব, আরমিয়া-র কিতাব, হিজকিল-এর কিতাব, মালখি-এর কিতাব যা দাউদ ও তার সঙ্গীদের কিতাব এবং এটি মালখি রাজাদের তাফসির নামে পরিচিত। নবীদের কিতাবসমূহ বারোটি ছোট খণ্ডে বিভক্ত। তাদের আরও কিছু কিতাব রয়েছে যাকে 'বাত্তারাত' বলা হয় যা নবীদের মূল্যবান কিতাবসমূহ থেকে সংকলিত। তাদের কিতাবসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে উজাইর-এর কিতাব, দানিয়েল-এর কিতাব, আইয়ুব-এর কিতাব, সিয়ার সিরিন (পরম গীত), আখা (বিলাপ), রুথ-এর কিতাব, কুহালত-এর কিতাব, দাউদের যাবুর, সুলাইমানের হিতোপদেশ, দিওয়ানুল আইয়াম (বংশাবলি) যাতে রাজাদের জীবনী ও সংবাদ রয়েছে এবং হাশওয়ারিশ-এর কিতাব যাকে 'মাজাল্লাহ' বলা হয়।
ইহুদিদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং হিব্রু ভাষায় পারদর্শী আলেমদের মধ্যে একজন হলেন ফাইয়ুমি, যার নাম সাঈদ এবং তাকে সাদিয়া-ও বলা হয়। ইহুদিরা মনে করে যে, তার মতো আর কাউকে দেখা যায়নি। তিনি সাম্প্রতিক কালের মানুষ ছিলেন এবং একদল লোক তাকে পেয়েছিলেন...