(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: -)
روضة الممتع في تخريج أحاديث الروض المربع القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: روضة المتمتع في تخريج أحاديث الروض المربع
المؤلف: خالد بن ضيف الله الشلاحي
الناشر: مكتبة الرشد، السعودية - الرياض
الطبعة: الأولي، 1440 هـ - 2019 م
عدد الأجزاء: 5
أهداه للشاملة: أبو يوسف الفلسطيني، وفقه الله
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 رمضان 1443
রওজাতুল মুমতি' ফি তাখরিজি আহাদিসি রওজিল মুরবি' বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
গ্রন্থ: রওজাতুল মুতামাত্তি' ফি তাখরিজি আহাদিসি রওজিল মুরবি'
লেখক: খালিদ বিন দাইফুল্লাহ আশ-শাল্লাহি
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ, সৌদি আরব - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫
শামিলা লাইব্রেরিকে উপহার দিয়েছেন: আবু ইউসুফ আল-ফিলিস্তিনি, আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন
[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২ রমজান ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا مِنْهُ [النساء: 1].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (70) [الأحزاب: 70، 71].
أما بعد:
فإن خير الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة .. (1).
(1) ـد:
فإن كتاب «الروض المربع»، للشيخ الحنبلي منصور بن يونس بن صلاح البهوتي، المتوفى سنة (1051 هـ)، هو شرح زاد المستقنع، للعلامة شرف الدين أبو النجا موسى بن أحمد بن سالم المقدسي الحجاوي، المتوفى يوم
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করেছে।} [আল-আহযাব: ৭০, ৭১]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হচ্ছে আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হচ্ছে (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা... (১)।
(১) অতঃপর:
নিশ্চয়ই হাম্বলি শায়খ মানসুর ইবনে ইউনুস ইবনে সালাহ আল-বুহুতি (মৃত্যু ১০৫১ হিজরি) রচিত «আর-রাওদুল মুরবি» কিতাবটি হলো আল্লামা শরাফ উদ্দিন আবু নাজা মুসা ইবনে আহমদ ইবনে সালিম আল-মাকদিসি আল-হিজ্জাউয়ি-এর রচিত «যাদুল মুস্তাকনি» কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যিনি ইন্তেকাল করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ৬)
الخميس الثاني عشر، من ربيع الأول سنة (690 هـ).
ويعتبر من أهم وأفضل شروح زاد المستقنع، وقد لقي قبولا بين العلماء، وطلبة العلم، وعامة الأمة، وبفضل من الله وتوفيقه، يسر الله لنا تخريج أحاديثه، بكتاب سميته (روضة الممتع في تخريج أحاديث الروض المربع).
وقد حرصت أن يكون التخريج متوسطا، بين الإطالة المملة، والاختصار المخل.
وكان منهجي العام في التخريج على النحو التالي:
1 - عزو الحديث إلى من رواها من الأئمة المصنفين.
2 - جمع طرق الحديث.
3 - دراسة حال الرواة.
4 - الكلام على الإسناد، وما فيه من علل.
5 - جمع أقوال الأئمة، في الحكم على الحديث، خصوصا المتقدمين.
6 - ذكر الشواهد للحديث.
7 - ذكر جملة من الفوائد والتنبيهات المهمة، التي يقتضي الحال التنبيه عليها.
التوضيح:
أقوم أولًا بعزو الحديث إلى مضانه الأصلية، مستفيدًا من تخريجاتي للكتب السابق، والغالب في العزو وفق الطبعات المعتمدة، ثم دراسة الرجال وفق أقوال الأئمة، وقد حرصت على كتاب التقريب، لأنه هو الخلاصة، وحرره الحافظ ابن حجر تحريرًا بالغًا، ثم دراسة الإسناد وفق أقوال الأئمة، وقد حرصت على أحكام الأئمة المتقدمين، ولم نهمل أقوال المتأخرين
বৃহস্পতিবার, ১২ই রবিউল আউয়াল, ৬৯০ হিজরি।
এটি 'যাদুল মুস্তাকনি'-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। এটি আলেম সমাজ, ইলম অন্বেষী ছাত্র এবং সাধারণ উম্মাহর মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকে, আল্লাহ আমাদের জন্য এর হাদিসসমূহের তাখরিজ করা সহজ করে দিয়েছেন, যা আমি 'রওজাতুল মুমতি' ফি তাখরিজি আহাদিসির রওজিল মুরবি' নামক কিতাবে সঙ্কলন করেছি।
আমি এই তাখরিজকে বিরক্তিকর দীর্ঘসূত্রতা এবং অর্থহানিকর সংক্ষিপ্ততার মাঝামাঝি রাখার ব্যাপারে যত্নশীল হয়েছি।
আর তাখরিজের ক্ষেত্রে আমার সাধারণ পদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:
১ - হাদিসকে তার মূল সঙ্কলক ইমামদের কিতাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা।
২ - হাদিসের সকল সূত্র বা সনদগুলো একত্রিত করা।
৩ - রাবি বা বর্ণনাকারীদের অবস্থা নিয়ে গবেষণা করা।
৪ - সনদ এবং এর মধ্যে থাকা 'ইল্লত' (সূক্ষ্ম ত্রুটি) নিয়ে আলোচনা করা।
৫ - হাদিসের মানের বিষয়ে ইমামদের বক্তব্য সংগ্রহ করা, বিশেষ করে মুতাকাদ্দিমীন (পূর্ববর্তী) ইমামদের।
৬ - হাদিসের শাওয়াহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) উল্লেখ করা।
৭ - বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা ও সতর্কবার্তা উল্লেখ করা, যা পরিস্থিতির বিচারে সতর্ক করা প্রয়োজন।
ব্যাখ্যা:
আমি প্রথমে হাদিসকে তার মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করি, যা আমার পূর্ববর্তী বইগুলোর তাখরিজ থেকে সহায়তা নিয়ে করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাওয়ালাগুলো নির্ভরযোগ্য সংস্করণ অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। এরপর ইমামদের বক্তব্য অনুযায়ী রাবিদের অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি 'তাকরীব' (তাকরীবুত তাহযীব) কিতাবের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি, কারণ এটি একটি সারসংক্ষেপ এবং হাফেজ ইবনে হাজার এটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সম্পাদনা করেছেন। এরপর ইমামদের বক্তব্য অনুযায়ী সনদের অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি মুতাকাদ্দিমীন ইমামদের সিদ্ধান্তের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি, তবে মুতাআখখিরীনদের বক্তব্যও অবহেলা করিনি।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ৭)
رحمهم الله، ثم بيان الاختلاف في الإسناد، والعلل، وقد أقدم الكلام على الأسانيد إذا كان اختلاف الطرق هو علة الحديث، ثم نقل أقوال الأئمة في الحكم على الحديث. وقد حاولت تحييد حكمي على الحديث خصوصًا، والاحتفاظ به لخاصة نفسي، لعلمي بضعف حالي وقلة علمي، وقصور بحثي.
ومن باب إسناد الفضل إلى أهله والعلم إلى مسنده، فقد استفدت من مجموعة من الكتب فائدة كبيرة خصوصًا في الآثار مثل كتاب: التكميل لما فات تخريجه من إرواء الغليل، للشيخ: صالح بن عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم آل الشيخ، وكتاب: التحجيل في تخريج ما لم يخرج في إرواء الغليل، للشيخ: عبد العزيز بن مرزوق الطّريفي، وأيضًا استفدت من تخريجات الروض، فقد كانت هناك محاولات لتخريج الروض، وفيها اختصار، وإجمال، وغلب فيها جانب العزو. مثل تخريج الروض لمجموعة من العلماء، منهم شيخنا الشيخ خالد المشيقح، وشاركه مجموعة من مشائخنا الفضلاء. ومن كتاب القول الممتع في تخريج أحاديث الروض المربع للشيخ: سعيد الغامدي.
أما في العزو، فقد استفدت من كتب التخريج وكتب السنة، والمكتبات الشاملة، ومن الجوامع مثل: جامع المسند والمسانيد، وجامع الأصول لابن الأثير، ومن كتاب المسند الجامع لمجموعة من العلماء المعاصرين.
تنبيه:
لما كان الحكم على الحديث من الأمور العظيمة، التي لا تتهيأ إلا للعلماء، الراسخين في العلم، وما أقلهم في هذه الأزمان، ونظرا للفرق
আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন। এরপর ইসনাদ (সূত্র) ও ইলল (সূক্ষ্ম ত্রুটি) সংক্রান্ত মতভেদ বর্ণনা করা হয়েছে। বর্ণনাসূত্রের বিভিন্নতা যখন হাদিসের ত্রুটির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন আমি ইসনাদ বিষয়ক আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এরপর হাদিসের মান নির্ধারণে ইমামগণের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি। আমি বিশেষভাবে হাদিসের ওপর আমার নিজস্ব হুকুম বা মতামত প্রদান থেকে বিরত থাকার এবং তা নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি; কারণ আমি আমার নিজের দুর্বল অবস্থা, স্বল্প জ্ঞান এবং গবেষণার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত।
আর গুণীজনকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান প্রদান এবং জ্ঞানকে তার মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার নীতি অনুযায়ী, আমি বেশ কিছু কিতাব থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি, বিশেষ করে আছার (সাহাবী ও তাবেঈদের বর্ণনা) সংক্রান্ত কিতাবসমূহ। যেমন: শেখ সালেহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল শেখ রচিত 'আত-তাকমিল লিমা ফাতা তাখরিজুহু মিন ইরওয়াইল গালীল' এবং শেখ আব্দুল আজিজ বিন মারজুক আত-তারীফী রচিত 'আত-তাহজীল ফি তাখরিজি মা লাম ইউখরাজ ফি ইরওয়াইল গালীল'। এছাড়া আমি রওদ-এর তাখরিজসমূহ (হাদিসের উৎস অনুসন্ধান) থেকেও উপকৃত হয়েছি। রওদ-এর হাদিসসমূহের উৎস অনুসন্ধানে ইতিপূর্বে কিছু প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যাতে সংক্ষিপ্ততা ও সারসংক্ষেপ বিদ্যমান এবং তাতে উদ্ধৃতি প্রদানের দিকটিই প্রধান ছিল। যেমন একদল ওলামায়ে কেরামের সমন্বয়ে করা রওদ-এর তাখরিজ, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমাদের শায়খ খালিদ আল-মুশাইকিহ এবং তাঁর সাথে অংশগ্রহণকারী আরও অনেক ফযীলতমান শায়খগণ। এছাড়া শায়খ সাঈদ আল-গামদী রচিত 'আল-কাওলুল মুমতি ফি তাখরিজি আহাদিসির রওদিল মুরবি' কিতাবটি থেকেও আমি উপকৃত হয়েছি।
আর উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমি তাখরিজ ও সুন্নাহর কিতাবসমূহ, মাকতাবা শামিলা এবং সংকলনগ্রন্থসমূহ যেমন: 'জামিওল মুসনাদ ওয়াল মাসানিদ', ইবনুল আসিরের 'জামিওল উসুল' এবং সমসাময়িক একদল আলেমের সংকলিত 'আল-মুসনাদুল জামি' কিতাব থেকে উপকৃত হয়েছি।
সতর্কবার্তা:
যেহেতু হাদিসের মান নির্ধারণ করা একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, যা কেবল জ্ঞানে সুগভীর ও পারদর্শী আলেমদের পক্ষেই সম্ভব—যাঁদের সংখ্যা বর্তমান যুগে খুবই নগণ্য—এবং পার্থক্যের বিষয় বিবেচনা করে ওজনের কারণে...
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ৮)
الواسع، والبون الشاسع، بين الباحث المبتدئ كحالنا، والعالم الراسخ، سلكت منهج الهيثمي وغيره من الأئمة، في الحكم على ظاهر الإسناد.
وأقول أحيانا: ظاهر إسناده الصحة، احتياطا.
وحيث إن تصحيح الحديث، يبنى عليه أحكام وفتاوى، فقد اجتهدت أن لا أحكم على حديث بالصحة إلا إذا سبقني إليه إمام عالم معتبر، وكانت القرائن تقتضي التصحيح. وإن اختلف العلماء، اجتهدنا في النظر في ترجيح القرائن. ونحكم على ظاهر الإسناد.
أما الضعف فالأمر فيه ظاهر، والدليل على ضعفه، في الغالب واضح.
أما الآثار، فالأمر فيها واسع، وقد حاولت جاهدًا تطبيق قواعد التصحيح والتضعيف، على الآثار خصوصًا في المسائل المهمة. والغالب على منقولات التفسير المراسيل، يرى ذلك جليًا في مصنف عبد الرزاق، وابن أبي شيبة.
وقد جعلت حلة بحثي، وحسنه، والعمدة فيه، هو نقل أقوال الأئمة المتقدمين، الراسخين في العلم، أو من شهدت لهم الأمة بالعلم والإمامة، وقد يكونوا معاصرين لهذه الأزمان مثل الشيخ ابن باز والألباني رحمهما الله، وأسكنهما الفردوس الأعلى، لأن أقوالهم مباركة، وأحكامهم راسخة.
إقرار ووصية:
قد أذنت بالاستفادة من هذا الكتاب، وجميع كتبي، بالنقل الكامل، والاختصار، والتعقب، وحقوق طباعة كتبي لكل مسلم، فقد أذنت لطباعة كتبي للمكتبات، ودور النشر وللتوزيع الخيري وللأفراد، ولنا في هذا قدوة، فقد أجاز النووي في آخر كتاب الأذكار رواية ونشر كتابه لجميع المسلمين.
আমাদের মতো শিক্ষানবিশ গবেষক এবং সুপ্রতিষ্ঠিত আলেমদের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান ও সুদূরপ্রসারী দূরত্ব রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আমি সনদের বাহ্যিক অবস্থার ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে হাইসামি এবং অন্যান্য ইমামগণের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি।
এবং সতর্কতা স্বরূপ আমি কখনো কখনো বলি: এর সনদের বাহ্যিক দিকটি সহিহ।
যেহেতু হাদিস সহিহ হওয়ার ওপর বিধান ও ফতোয়া নির্ভর করে, তাই আমি কোনো হাদিসকে সহিহ বলার ব্যাপারে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি যতক্ষণ না আমার পূর্বে কোনো নির্ভরযোগ্য ইমাম ও আলেম তা করে থাকেন এবং পারিপার্শ্বিক আলামতসমূহ সহিহ হওয়ার দাবি রাখে। যদি ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ থাকে, তবে আমরা আলামতসমূহের অগ্রাধিকারের বিষয়টি পর্যালোচনায় ইজতিহাদ করেছি। এবং আমরা সনদের বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হুকুম প্রদান করি।
পক্ষান্তরে জঈফ বা দুর্বল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট, এবং এর দুর্বলতার প্রমাণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিষ্কার।
আর আসার-এর (সাহাবী ও তাবিঈগণের বর্ণনা) বিষয়টি ব্যাপক; আমি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলোতে আসার-এর ওপর সহিহ ও জঈফ নির্ধারণের নিয়মাবলি প্রয়োগ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। তাফসির সংক্রান্ত বর্ণনার অধিকাংশ হলো 'মুরাসিল', যা মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক এবং ইবনে আবি শায়বা-তে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
আমি আমার এই গবেষণার ভূষণ, সৌন্দর্য এবং এর মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি ইলমে সুপ্রতিষ্ঠিত পূর্বসূরি ইমামগণের উক্তি উদ্ধৃত করাকে, অথবা যাদের ইলম ও ইমামতের ব্যাপারে উম্মত সাক্ষ্য দিয়েছে। তারা বর্তমান সময়ের সমসাময়িকও হতে পারেন, যেমন শায়খ ইবনে বাজ এবং আলবানী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন এবং তাঁদের জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন), কেননা তাঁদের বাণীসমূহ বরকতময় এবং তাঁদের সিদ্ধান্তসমূহ সুদৃঢ়।
স্বীকৃতি ও অসিয়ত:
আমি এই কিতাব এবং আমার সকল কিতাব থেকে পূর্ণ উদ্ধৃতি, সংক্ষিপ্তকরণ এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার অনুমতি প্রদান করেছি। আমার কিতাবসমূহ মুদ্রণের অধিকার প্রত্যেক মুসলমানের রয়েছে; তাই আমি লাইব্রেরি, প্রকাশনা সংস্থা, দাতব্য বিতরণ এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমার কিতাবসমূহ মুদ্রণের অনুমতি দিয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের জন্য আদর্শ বিদ্যমান রয়েছে, কেননা ইমাম নববী তাঁর 'কিতাবুল আজকার'-এর শেষে সমস্ত মুসলিমের জন্য তাঁর কিতাব বর্ণনা ও প্রচারের অনুমতি দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ৯)
كما أنبه أن هذا الكتاب وجميع كتبي فيها من الملاحظات، ولأخطاء الكثيرة، وقد راجعت هذا الكتاب عدة مرات، وفي كل مرة أجد ما أتعجب منه، ولولا أنه دخلنا المشيب، وخشية إدراك المنية، لما أخرجته ..
لكن ها أنا اليوم أخرجه متوكلًا على الله، وعذري أنني حاولت أن أكون مجرد جامع لكن من يدخل في هذا العلم لا بد أن يخوض في بحوره، خصوصًا أنه كتاب لا يقرأه إلا المتخصص الذي يميز الخطأ من الصواب.
أخيرًا: نسأل الله تعالى أن يجعل هذا العمل خالصا لوجهه،
وأن يبارك فيه، وأن يعفو عن خطأنا وزللنا.
وصلى الله وسلم على نبينا محمدًا،
وعلى آله وصحبه
أجمعين.
আমি আরও সতর্ক করছি যে, এই গ্রন্থ এবং আমার সকল কিতাবে অনেক পর্যবেক্ষণ ও প্রচুর ভুল-ত্রুটি রয়েছে। আমি এই গ্রন্থটি বহুবার পর্যালোচনা করেছি এবং প্রতিবারই এমন কিছু খুঁজে পাই যা আমাকে বিস্মিত করে। যদি বার্ধক্য আমাদের গ্রাস না করত এবং মৃত্যুর আশঙ্কা না থাকত, তবে আমি এটি প্রকাশ করতাম না।
কিন্তু আজ আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে এটি প্রকাশ করছি; আর আমার ওজর এই যে, আমি কেবল একজন সংকলক হওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যে ব্যক্তি এই ইলমের ময়দানে প্রবেশ করে, তাকে অবশ্যই এর গভীর সমুদ্রে অবগাহন করতে হয়। বিশেষত এটি এমন একটি কিতাব যা কেবল সেই বিশেষজ্ঞরাই পাঠ করবেন যারা ভুল ও সঠিকের পার্থক্য করতে সক্ষম।
পরিশেষে: আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলটিকে একান্তই তাঁর চেহারার (সন্তুষ্টির) জন্য কবুল করেন,
এবং এতে বরকত দান করেন, আর আমাদের ভুল ও বিচ্যুতিসমূহ ক্ষমা করেন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক,
এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর
সকলের ওপর।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ১০)
(1) كل أمر ذي بال، لا يبدأ فيه، ببسم الله الرحمن الرحيم، فهو أبتر. وفي رواية: بالحمد لله.
أخرجه الخطيب في أخلاق الراوي والسامع ـ حديث (2342)، والسبكي في طبقات الشافعية (1/ 43)، كلاهما من طريق أحمد بن محمد بن عمران، حدثنا محمد بن صالح البصري بها، حدثنا عبيد بن عبد الواحد بن شريك، حدثنا يعقوب بن كعب الأنطاكي، حدثنا مبشر بن إسماعيل، عن الأوزاعي، عن الزهري، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كل أمر ذي بال، لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن، الرحيم فهو أقطع.قلت: إسناده ضعيف، لأن في إسناده، أحمد بن محمد، المعروف بابن الجندي، قال الخطيب في تاريخ بغداد (5/ 77): كان يضعف في روايته ويطعن في مذهبه. اهـ. وقال ابن الجوزي في الضعفاء والمتروكين (250): أحمد بن محمد بن عمران يظهر أنه ابن موسى أبو الحسن النهشلي ويعرف بابن الجندي. قال الخطيب كان يضعف في رواياته ويطعن في رواياته ويطعن عليه في مذهبه سألت عنه الأزهري فقال ليس بشيء. اهـ.وقال الذهبي المغني عن الضعفاء (437): أحمد بن محمد بن عمران بن الجندي أبو الحسن من آخر أصحاب ابن صاعد ضعيف عندهم شيعي .. اهـ.وذكر العظيم آبادى في عون المعبود (13/ 127)، الحديث، وقال: وهو حديث حسن. اهـ.ونقل الحافظ ابن حجر في لسان الميزان قول الذهبي (852): أحمد بن محمد بن عمران أبو الحسن بن الجندي كان آخر من بقي ببغداد من أصحاب
(১) প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যা 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে) দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)। আর এক বর্ণনায় রয়েছে: 'আলহামদুলিল্লাহ' (আল্লাহর প্রশংসার) মাধ্যমে।
এটি খতীব আল-বাগদাদী 'আখলাকুর রাবী ওয়াস সামে' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—হাদিস নং (২৩৪২), এবং সুবকী 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' গ্রন্থে (১/৪৩); তাঁরা উভয়েই আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইমরানের সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-বাসরি বর্ণনা করেছেন, তিনি উবাইদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন শারীক থেকে, তিনি ইয়াকুব বিন কাব আল-আনতাকি থেকে, তিনি মুবাশির বিন ইসমাইল থেকে, তিনি আওযায়ী থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যা 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে) দ্বারা শুরু করা হয় না, তা ছিন্নমূল বা কল্যাণহীন।আমি বলি: এর সনদটি দুর্বল। কারণ এর সনদে আহমদ বিন মুহাম্মদ রয়েছেন, যিনি ইবনুল জুন্দী নামে পরিচিত। খতীব 'তারিখে বাগদাদ' গ্রন্থে (৫/৭৭) বলেছেন: তাকে তার বর্ণনায় দুর্বল গণ্য করা হতো এবং তার মাযহাবের (আকিদাহর) ব্যাপারে সমালোচনা করা হতো। সমাপ্ত। এবং ইবনুল জাওযী 'আদ-দুয়াফা ওয়াল মাতরুকীন' গ্রন্থে (২৫০) বলেছেন: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইমরান, দৃশ্যত তিনি ইবনে মূসা আবুল হাসান আন-নাহশালী এবং ইবনুল জুন্দী নামে পরিচিত। খতীব বলেছেন যে তাকে তার বর্ণনায় দুর্বল গণ্য করা হতো এবং তার বর্ণনার ওপর আপত্তি তোলা হতো এবং তার মাযহাবের কারণে তাকে অভিযুক্ত করা হতো। আমি আল-আযহারীকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তিনি কিছুই নন। সমাপ্ত।এবং আল-যাহাবী 'আল-মুগনী আনিদ দুয়াফা' গ্রন্থে (৪৩৭) উল্লেখ করেছেন: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইমরান বিন আল-জুন্দী আবুল হাসান, যিনি ইবনু সাঈদের সর্বশেষ পর্যায়ের সাথীদের একজন ছিলেন; তিনি তাদের নিকট দুর্বল এবং শিয়া মতাবলম্বী ছিলেন... সমাপ্ত।আল-আযিমাবাদী 'আওনুল মাবুদ' গ্রন্থে (১৩/১২৭) এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদিস। সমাপ্ত।হাফিজ ইবনে হাজার 'লিসানুল মিজান' গ্রন্থে (৮৫২) আল-যাহাবীর উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইমরান আবুল হাসান বিন আল-জুন্দী বাগদাদে অবশিষ্ট থাকা সর্বশেষ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন যারা ছিলেন সাথী...
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ১১)
ابن صاعد شيعي قال الخطيب كان يضعف في روايته ويطعن عليه في مذهبه قال لي الأزهري ليس بشيء قلت روى عنه خلق يروى عن البغوي انتهى ثم قال: وقال العتيقي كان يرمي بالتشيع وأورد بن الجوزي في الموضوعات في فضل علي حديثا بسند رجاله ثقات إلا الجندي فقال هذا موضوع ولا يتعدي الجندي. أ. هـ.
وقال الألباني في الإرواء (1/ 29): وهذا سند ضعيف جدا، آفته ابن عمران هذا، ويعرف بابن الجندي، ترجمه الخطيب في تاريخه وقال (5/ 77): كان يضعف في روايته، ويطعن عليه في مذهبه (يعني التشيع)، قال الأزهري: ليس بشيء. وقال الحافظ في اللسان: وأورد ابن الجوزي في الموضوعات، في فضل علي، حديثا بسند رجاله ثقات، إلا الجندي، فقال: هذا موضوع ولا يتعدى الجندي.
ومحمد بن صالح بن مهران البصري أبو جعفر بن النطاح الهاشمي أبو التياح بالمثناة والتحتانية الثقيلة صدوق أخباري. كما قال الحافظ ابن حجر في التقريب (5986).
وعبيد بن عبد الواحد بن شريك ذكره ابن حبان في الثقات (14123). وقال ابن حجر في اللسان (255): كان ثقة صدوقا. أ. هـ. وقال الخطيب في تاريخ بغداد 11/ 99: قال أبو مزاحم وكان أحد الثقات ولم أكتب عنه في تغيره شيئا. أ. هـ. ونقل الذهبي في سير أعلام النبلاء 13/ 365 قول الدارقطني: كان صدوقًا. أ. هـ.
وروي مرسلا، عن أبي سلمة، عن النبي صلى الله عليه وسلم.
قال النسائي: والمرسل أولى بالصواب .. اهـ.
ইবনে সায়েদ একজন শিয়া ছিলেন। আল-খাতিব বলেছেন, তার বর্ণনাকে দুর্বল গণ্য করা হতো এবং তার মাজহাবের (আকিদার) কারণে তার সমালোচনা করা হতো। আল-আজহারি আমাকে বলেছেন, সে কিছুই নয়। আমি বলেছি, তার থেকে বহু মানুষ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আল-বাগাউয়ি থেকে বর্ণনা করেন। (সমাপ্ত)। অতঃপর তিনি বলেন: আল-আতিকি বলেছেন, তার ওপর শিয়াত্বের অভিযোগ তোলা হতো। আর ইবনুল জাওজি 'আল-মাওদুআত' গ্রন্থে আলীর ফজিলত সম্পর্কে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যার সনদের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, কেবল আল-জুন্দি ব্যতীত। অতঃপর তিনি বলেন: এটি বানোয়াট এবং এর দায় আল-জুন্দির ওপরই বর্তায়। (সমাপ্ত)।
আল-আলবানি 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থে (১/২৯) বলেছেন: এই সনদটি অত্যন্ত দুর্বল, এর মূল ত্রুটি হলো এই ইবনে ইমরান, যাকে ইবনুল জুন্দি নামে চেনা যায়। আল-খাতিব তার ইতিহাসে তার জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন (৫/৭৭): তার বর্ণনাকে দুর্বল গণ্য করা হতো এবং তার মাজহাবের (অর্থাৎ শিয়াত্বের) কারণে তার সমালোচনা করা হতো। আল-আজহারি বলেছেন: সে কিছুই নয়। হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-লিসান' গ্রন্থে বলেছেন: ইবনুল জাওজি 'আল-মাওদুআত' গ্রন্থে আলীর ফজিলত সম্পর্কে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যার সনদের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, কেবল আল-জুন্দি ব্যতীত। অতঃপর তিনি বলেন: এটি বানোয়াট এবং এর দায় আল-জুন্দির ওপরই বর্তায়।
আর মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মেহরান আল-বসরি আবু জাফর বিন আন-নাত্তাহ আল-হাশিমি আবু আত-তায়্যাহ (দুই নুকতা বিশিষ্ট 'তা' এবং পরবর্তী 'ইয়া' বর্ণে তাশদিদ সহকারে) একজন সত্যবাদী ও ইতিহাসবেত্তা ছিলেন। যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার 'আত-তাকরিব' (৫৯৮৬) গ্রন্থে বলেছেন।
আর উবাইদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন শারিককে ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' (১৪১২৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইবনে হাজার 'আল-লিসান' (২৫৫) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী ছিলেন। (সমাপ্ত)। আল-খাতিব 'তারিখে বাগদাদ' (১১/৯৯) গ্রন্থে বলেছেন: আবু মুজাহিম বলেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের একজন ছিলেন এবং তার স্মৃতিভ্রম হওয়ার পর আমি তার থেকে কিছুই লিখে রাখিনি। (সমাপ্ত)। আয-যাহাবি 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (১৩/৩৬৫) গ্রন্থে আদ-দারাকুতনির উক্তি নকল করেছেন যে: তিনি সত্যবাদী ছিলেন। (সমাপ্ত)।
আর এটি মুরসাল হিসেবে আবু সালামা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
আন-নাসায়ি বলেছেন: আর মুরসাল বর্ণনাটিই অধিক সঠিক... (সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ১২)
الحديث روي عن أبي هريرة مسندا على أربعة ألفاظ: ببسم الله، كما سبق، وبحمد الله، بالحمد، بذكر الله.
أما لفظ: (بحمد الله)، ورواية: (بالحمد فهو أقطع)، فقد رواه أبو داود (4842) قال: حدثنا أبو توبة قال: زعم الوليد، عن الأوزاعي، عن قرة، عن الزهري، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كل كلام، لا يبدأ فيه بالحمد لله، فهو أجذم.
قال أبو داود: رواه يونس وعقيل وشعيب وسعيد بن عبد العزيز، عن الزهرى، عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا. اهـ.
قلت: أبا توبة، الربيع بن نافع أبو توبة الحلبي نزيل طرسوس ثقة حجة عابد كما في التقريب (3245). لكن شيخه الوليد بن مسلم القرشي مولاهم أبو العباس الدمشقي ثقة لكنه كثير التدليس والتسوية خصوصًا عن الأوزاعي. وقوله (زعم) في الإسناد يظهر أن في هذا الإسناد شيء.
ورواه ابن ماجه (1/ 610) - النكاح- باب خطبة النكاح- حديث (1894) من طريق قرة، عن الزهري، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كل أمر ذي بال، لا يبدأ فيه بالحمد أقطع.
قال أبو داود: رواه يونس وعقيل وشعيب وسعيد بن عبد العزيز، عن الزهرى، عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا. اهـ.
وأخرجه النسائي في عمل اليوم والليلة (ص 345) حديث (494)،
وابن حبان في صحيحه كما في الإحسان (1/ 102)، حديث (1، 2)، والدارقطني في سننه (1/ 229) - الصلاة حديث (1)، والبيهقي (3/ 209) - الجمعة- باب ما يستدل به على وجوب التحميد في خطبة الجمعة، من
হাদিসটি আবু হুরায়রা থেকে মুসনাদ হিসেবে চারটি শব্দে বর্ণিত হয়েছে: 'বিসমিল্লাহ' (আল্লাহর নামে শুরু করছি) দিয়ে, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, 'বিহামদিল্লাহ' (আল্লাহর প্রশংসার সাথে), 'বিল হামদ' (আল্লাহর প্রশংসার সাথে), এবং 'বিজিকরিল্লাহ' (আল্লাহর জিকিরের সাথে)।
আর 'বিহামদিল্লাহ' শব্দ এবং 'বিল হামদি ফাহুয়া আক্বতা' (প্রশংসার সাথে, অন্যথায় তা বিচ্ছিন্ন) বর্ণনাটি আবু দাউদ (৪৮৪২) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু তওবা হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়ালিদ দাবি করেছেন আওযায়ী থেকে, তিনি কুররাহ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রতিটি কথা যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)।"
আবু দাউদ বলেন: এটি ইউনুস, আকীল, শুআইব এবং সাঈদ ইবনুল আব্দুল আযীয বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল হিসেবে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আমি বলি: আবু তওবা হলেন আর-রাবী ইবনে নাফে আবু তওবা আল-হালাবী, যিনি তারসুসের অধিবাসী ছিলেন। তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), হুজ্জাত এবং আবিদ, যেমনটি 'আত-তাক্বরীব' (৩২৪৫)-এ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তার উস্তাদ ওয়ালিদ বিন মুসলিম আল-কুরাশী (তাদের আযাদকৃত গোলাম) আবু আব্বাস আদ-দিমাশকী নির্ভরযোগ্য হলেও তিনি প্রচুর পরিমাণে তাদলীস এবং তাসবিয়া করতেন, বিশেষ করে আওযায়ী থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে। আর সনদে 'যাআমা' (দাবি করেছেন) শব্দটি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এই সনদে কোনো সমস্যা বা দুর্বলতা রয়েছে।
আর এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (১/ ৬১০) - বিবাহ অধ্যায় - বিবাহে খুতবা প্রদান পরিচ্ছেদ - হাদিস (১৮৯৪) কুররাহ-এর সূত্রে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা বিচ্ছিন্ন (অপূর্ণ)।"
আবু দাউদ বলেন: এটি ইউনুস, আকীল, শুআইব এবং সাঈদ ইবনুল আব্দুল আযীয বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল হিসেবে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
এবং এটি নাসায়ী তাঁর 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (পৃ. ৩৪৫) গ্রন্থে হাদিস নং (৪৯৪) এ বর্ণনা করেছেন,
এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ-তে যেমনটি 'আল-ইহসান' (১/ ১০২) গ্রন্থে রয়েছে, হাদিস নং (১, ২); এবং দারাকুতনী তাঁর সুনানে (১/ ২২৯) - সালাত অধ্যায়, হাদিস (১); এবং বাইহাকী (৩/ ২০৯) - জুমুআহ অধ্যায় - জুমুআর খুতবায় আল্লাহর প্রশংসা করার আবশ্যকতা সম্পর্কে যা দ্বারা দলীল পেশ করা হয় পরিচ্ছেদে, অমুক সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حديث أبي هريرة.
وعزاه النووي في الأذكار (103)، والحافظ ابن حجر في فتح الباري (8/ 220): لأبي عوانة في مستخرجه، على صحيح مسلم.
قلت: الحديث مداره على قرة بن عبدالرحمن، صدوق له مناكير، قال الذهبي في الميزان (6886): قرة بن عبدالرحمن بن حيوئيل. خرج له مسلم في الشواهد. وقال الجوزجانى: سمعت أحمد يقول: منكر الحديث جدا. وقال يحيى: ضعيف الحديث. وقال أبو حاتم: ليس بقوى .. اهـ. ومنهم من حسن حديثه، ولهذا حسن الحديث ابن الصلاح، والنووي، والعراقي، والحافظ ابن حجر، كما في الفتوحات الربانية على الأذكار النووية لابن علان (3/ 288 و 6/ 63).
وقد تفرد برواية الحديث، قرة بن عبدالرحمن المعافري، عن الزهري، وقرة لا يحتج به إلا في روايته، عن الزهري، لأنه ضعيف من قبل حفظه. وروايته، عن الزهري موثقة، قال الأوزاعي: ما أحد أعلم بالزهري منه. اهـ.
وقد اضطرب في لفظه، قال النووي في شرح مسلم (1/ 40): وفي رواية بحمد الله، وفي رواية بالحمد فهو أقطع، وفي رواية أجذم، وفي رواية لا يبدأ فيه بذكر الله، وفي رواية ببسم الله الرحمن الرحيم، روينا كل هذه، في كتاب الأربعين، للحافظ عبدالقادر الرهاوي، سماعا، من صاحبه الشيخ أبي محمد عبدالرحمن بن سالم الأنباري عنه، وروينا فيه أيضا، من رواية كعب بن مالك الصحابي رضي الله عنه، والمشهور، رواية أبي هريرة، وهذا الحديث، حسن، رواه أبو داود وابن ماجه في سننهما، ورواه النسائي في كتابه عمل اليوم والليلة، روي موصولا ومرسلا ورواية الموصول إسنادها جيد. اهـ.
আবু হুরাইরাহ বর্ণিত হাদীস।
আন-নববী 'আল-আযকার' (১০৩) গ্রন্থে এবং হাফিজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' (৮/ ২২০) গ্রন্থে একে আবু আওয়ানাহ-এর 'মুস্তাখরাজ' (সহীহ মুসলিমের ওপর ভিত্তি করে রচিত) কিতাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।
আমি বলি: হাদীসটি কুররাহ ইবনে আবদির রহমান-এর ওপর আবর্তিত, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তাঁর বর্ণনায় কিছু মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনা রয়েছে। আয-যাহাবী 'আল-মিযান' (৬৮৮৬) গ্রন্থে বলেছেন: কুররাহ ইবনে আবদির রহমান ইবনে হাইয়ুঈল। ইমাম মুসলিম তাঁর বর্ণনা 'শাওয়াহিদ' (সমর্থনমূলক বর্ণনা) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আল-জাওযাজানী বলেছেন: আমি আহমাদকে বলতে শুনেছি যে, তিনি অত্যন্ত মুনকার হাদীস বর্ণনাকারী। ইয়াহইয়া বলেছেন: তিনি দুর্বল হাদীস বর্ণনাকারী। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন... (সমাপ্ত)। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর বর্ণিত হাদীসকে হাসান (উত্তম) বলেছেন। এ কারণেই ইবনুস সালাহ, আন-নববী, আল-ইরাকী এবং হাফিজ ইবনে হাজার হাদীসটিকে হাসান বলেছেন, যেমনটি ইবনে আল্লান রচিত 'আল-ফুতুহাতুর রব্বানিয়্যাহ আলাল আযকারিন নববিয়্যাহ' (৩/ ২৮৮ এবং ৬/ ৬৩) গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুররাহ ইবনে আবদির রহমান আল-মাআফিরী আয-যুহরী থেকে এই হাদীসটি একাকী বর্ণনা করেছেন। কুররাহর বর্ণনা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় কেবল আয-যুহরী থেকে তাঁর বর্ণিত হাদীস ছাড়া, কারণ তাঁর মুখস্থশক্তির দিক দিয়ে তিনি দুর্বল। তবে আয-যুহরী থেকে তাঁর বর্ণনা নির্ভরযোগ্য। আল-আওযাঈ বলেছেন: আয-যুহরী সম্পর্কে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞাত আর কেউ নেই। (সমাপ্ত)।
এর শব্দে ইযতিরাব (অসংগতি) রয়েছে। আন-নববী 'শারহু মুসলিম' (১/ ৪০) গ্রন্থে বলেছেন: এক বর্ণনায় রয়েছে 'আল্লাহর প্রশংসার সাথে', এক বর্ণনায় রয়েছে 'প্রশংসার মাধ্যমে (শুরু না করা হলে) তবে তা কর্তিত', এক বর্ণনায় রয়েছে 'ত্রুটিপূর্ণ', এক বর্ণনায় রয়েছে 'যাতে আল্লাহর যিকির দ্বারা শুরু করা হয় না', এবং এক বর্ণনায় রয়েছে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' দ্বারা। আমরা এই সবগুলো হাফিজ আব্দুল কাদির আর-রুহাবী রচিত 'আল-আরবাঈন' কিতাবে তাঁর ছাত্র শাইখ আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান ইবনে সালিম আল-আনবারী থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছি। আমরা এতে সাহাবী কাব ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনা থেকেও রিওয়ায়াত করেছি। তবে প্রসিদ্ধ হলো আবু হুরাইরাহর বর্ণনা। আর এই হাদীসটি হাসান। আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ তাঁদের সুনান গ্রন্থদ্বয়ে এটি বর্ণনা করেছেন এবং নাসায়ী তাঁর 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি মওসুল (সংযুক্ত) এবং মুরসাল (বিচ্ছিন্ন) উভয়ভাবে বর্ণিত হয়েছে, তবে মওসুল বর্ণনার সনদ জাইয়িদ (উত্তম)। (সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال الحافظ ابن حجر في فتح الباري (8/ 220): في إسناده مقال، وعلى تقدير صحته، فالرواية المشهورة فيه بلفظ: حمد الله، وما عدا ذلك من الألفاظ التي ذكرها النووي، وردت في بعض طرق الحديث، بأسانيد واهية. اهـ.
ولهذا قال الألباني في الإرواء (1/ 31): ومما يدلك على ضعفه، زيادة على ما تقدم، اضطرابه فى متن الحديث، فهو تارة يقول: أقطع، وتارة يقول: أبتر، وتارة: أجذم، وتارة: يذكر الحمد، وتارة يقول: بذكر الله. ولقد أضاع السبكى جهدا كبيرا، فى محاولته التوفيق بين هذه الروايات، وإزالة الاضطراب عنها، فإن الرجل ضعيف كما رأيت، فلا يستحق حديثه مثل هذا الجهد! وكذلك لم يحسن صنعا، حين ادعى أن الأوزاعي تابعه، وأن الحديث يقوى بذلك؛ لأن السند إلى الأوزاعي ضعيف جدا، كما تقدم بيانه فى الحديث الذى قبله، فمثله لا يستشهد به، كما هو مقرر فى مصطلح الحديث. وقد رواه أحد الضعفاء الآخرين، عن الزهري بسند آخر، أخرجه الطبراني من طريق عبدالله بن يزيد، حدثنا صدقة بن عبدالله، عن محمد بن الوليد، عن الزهري، عن عبدالله بن كعب بن مالك، عن أبيه مرفوعا. اهـ.
ورواية الوليد، عن الأوزاعي فيها مبحث.
وروي مرسلا:
فقد أخرجه الطبراني في الكبير (19/ 72) حديث (141) من حديث كعب بن مالك الأنصاري مرفوعا، وأخرجه النسائي في عمل اليوم والليلة حديث (345، 346)، وحديث (495، 496) من حديث الزهري مرسلا.
وأما لفظ: أبتر، أو قال: اقطع. فقد أخرجه أحمد (2/ 359) برقم
হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে (৮/২২০) বলেছেন: "এর সনদে সমালোচনা রয়েছে। আর যদি এর বিশুদ্ধতা ধরেও নেওয়া হয়, তবে এতে প্রসিদ্ধ বর্ণনাটি হলো: 'আল্লাহর প্রশংসা' শব্দে। এছাড়া ইমাম নববী যেসব শব্দ উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হাদীসের কিছু সূত্রে অত্যন্ত দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে।" সমাপ্ত।
এ কারণেই আলবানী 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থে (১/৩১) বলেছেন: "পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ছাড়াও এর দুর্বলতার প্রমাণ হলো হাদীসের মূল পাঠ বা মতনের অস্থিরতা। এতে কখনো 'বিচ্ছিন্ন', কখনো 'অপূর্ণ', কখনো 'কুষ্ঠগ্রস্ত', কখনো 'প্রশংসা' আবার কখনো 'আল্লাহর যিকির' শব্দে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম সুবকী এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে এবং এদের মধ্য থেকে অস্থিরতা দূর করতে অনেক শ্রম ব্যয় করেছেন। অথচ বর্ণনাকারী ব্যক্তি নিজেই দুর্বল যেমনটি আপনি দেখছেন, তাই তার হাদীস এই শ্রমের দাবি রাখে না। তদ্রূপ তিনি সঠিক কাজ করেননি যখন তিনি দাবি করেছেন যে, আওযাঈ তাকে সমর্থন করেছেন এবং হাদীসটি এর দ্বারা শক্তিশালী হয়েছে। কারণ আওযাঈ পর্যন্ত পৌঁছানোর সনদটি অত্যন্ত দুর্বল, যেমনটি পূর্বের হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং উসূলে হাদীসের নিয়ম অনুযায়ী এমন বর্ণনা সাক্ষী হিসেবে গ্রহণীয় নয়। এটি অন্য একজন দুর্বল বর্ণনাকারী যুহরী থেকে অন্য সনদে বর্ণনা করেছেন; তাবারানী এটি আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট সাদাকা ইবনে আবদুল্লাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ওয়ালীদ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে কা'ব ইবনে মালিক থেকে এবং তিনি তার পিতার সূত্রে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।" সমাপ্ত।
আর আওযাঈ থেকে ওয়ালীদের বর্ণনার ক্ষেত্রে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।
এটি মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে:
তাবারানী এটি 'আল-মু'জামুল কাবীর' গ্রন্থে (১৯/৭২, হাদীস নং ১৪১) কা'ব ইবনে মালিক আল-আনসারী থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নাসাঈ এটি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (হাদীস নং ৩৪৫, ৩৪৬ এবং ৪৯৫, ৪৯৬) গ্রন্থে যুহরী থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আর 'অপূর্ণ' অথবা তিনি বলেছেন 'বিচ্ছিন্ন' শব্দের বর্ণনাটি ইমাম আহমাদ (২/৩৫৯) গ্রন্থে এই নম্বরে বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(8697) من طريق يحيى بن آدم، ثنا ابن مبارك، عن الأوزاعي، عن قرة بن عبدالرحمن، عن الزهري، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كل كلام، أو أمر ذي بال، لا يفتح بذكر الله عز وجل، فهو أبتر، أو قال: اقطع.
قلت: إسناده ضعيف، لأن فيه قرة بن عبدالرحمن وهو ضعيف كما سبق.
وأخرجه عبد الرزاق في الجامع (11/ 163) حديث (20208) من حديث معمر، عن رجل من الأنصار بنحوه.
قلت: في إسناده راو لم يسم.
الخلاصة:
المشهور في الحديث الإرسال ورجحه النسائي كما في تحفة الأشراف 13/ 368، وقال الدارقطني كما في العلل 1/ 229، و 8/ 29: والصحيح، عن الزهري المرسل. أهـ.
وتقرر عند العلماء مراسيل الزهري ضعيفة، كما جزم بذلك الشافعي، ويحيى بن سعيد القطان، وابن معين كما في شرح العلل لابن رجب 8/ 29.
* * *
(৮৬৯৭) ইয়াহইয়া ইবনে আদম-এর সূত্রে, ইবনুল মুবারক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আওযায়ী থেকে, তিনি কুররা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক কথা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)," অথবা তিনি বলেছেন: "বিচ্ছিন্ন।"
আমি বলি: এর সনদ যঈফ (দুর্বল), কারণ এতে কুররা ইবনে আবদুর রহমান রয়েছেন এবং তিনি ইতিপূর্বে উল্লেখিত আলোচনার ন্যায় যঈফ।
আবদুর রাজ্জাক একে আল-জামি‘ গ্রন্থে (১১/ ১৬৩), হাদিস নং (২০২০৮) মা‘মার-এর হাদিস থেকে আনসারী এক ব্যক্তি থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আমি বলি: এর সনদে এমন একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
সারসংক্ষেপ:
এই হাদিসের ক্ষেত্রে যা প্রসিদ্ধ তা হলো এটি ‘মুরসাল’, আর ইমাম নাসায়ী একেই প্রাধান্য দিয়েছেন যেমনটি তুহফাতুল আশরাফ-এ (১৩/ ৩৬৮) বর্ণিত হয়েছে। ইমাম দারাকুতনী আল-ইলাল-এ (১/ ২২৯ এবং ৮/ ২৯) বলেছেন: সঠিক হলো এটি যুহরী থেকে বর্ণিত মুরসাল। [সমাপ্ত]
আর আলেমগণের নিকট এটি সাব্যস্ত যে, যুহরীর বর্ণিত মুরসাল হাদিসসমূহ যঈফ, যেমনটি ইমাম শাফেয়ী, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং ইবনে মাইন নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন; যা ইবনে রজব-এর শারহুল ইলাল-এ (৮/ ২৯) বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
(2) وروي: من صلى علي في كتاب الله، لم تزل الملائكة تستغفر له، ما دام اسمي في هذا الكتاب.
رواه الطبراني في الأوسط (1835)، قال: حدثنا أحمد، قال: حدثنا إسحاق بن وهب العلاف، قال: حدثنا بشر بن عبيدالله الدارسي، قال: حدثنا ابن يزيد بن عياض، عن الأعرج، عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من صلى علي في كتاب، لم تزل الملائكة تستغفر له، ما دام اسمي في ذلك الكتاب.قال الطبراني: لا يروى هذا الحديث، عن أبي هريرة، إلا بهذا الإسناد، تفرد به إسحاق. اهـ.ورواه الخطيب، كما في شرف أصحاب الحديث (59) قال: أخبرني أبو طالب مكي بن علي بن عبد الرزاق الحريري، قال: حدثنا إبراهيم بن محمد بن يحيى المزكي، إملاء، قال: حدثنا أبو يوسف يعقوب بن محمود المقرئ، قال: حدثنا محمد بن مهران النيسابوري، قال: حدثنا محمد بن عبدالله بن حميد البصري، بمكة، قال: حدثنا بشر بن عبيد، قال: حدثنا حازم بن بكر أبو علي، قال: حدثنا يزيد بن عياض، عن عبدالرحمن الأعرج، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من صلى علي في كتاب، لم تزل الملائكة تستغفر له، مادام اسمي في ذلك الكتاب. قال بشر بن عبيد: وحدثنا محمد بن عبدالرحمن القرشي، عن عبدالرحمن بن عبد الله، عن عبدالرحمن الأعرج، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثله.قلت: بشر بن عبيد الدارسي متهم، أبعد ابن حبان فذكره في الثقات
(২) এবং বর্ণিত হয়েছে: যে ব্যক্তি কোনো কিতাবে আমার ওপর দরুদ লেখে, ফেরেশতারা অনবরত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে যতক্ষণ না সেই কিতাবে আমার নাম বিদ্যমান থাকে।
তাবারানি এটি আল-আউসাত (১৮৩৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ওয়াহাব আল-আল্লাফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন উবায়দুল্লাহ আদ-দারিসি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে ইয়াজিদ বিন আয়াদ, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো কিতাবে আমার ওপর দরুদ লেখে, ফেরেশতারা অনবরত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে যতক্ষণ না সেই কিতাবে আমার নাম বিদ্যমান থাকে।তাবারানি বলেন: আবু হুরায়রা থেকে এই সনদ ব্যতীত এই হাদিসটি আর বর্ণিত হয়নি, ইসহাক এতে একক হয়ে গেছেন। সমাপ্ত।আর খতিব এটি ‘শারাফু আসহাবিল হাদিস’ (৫৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাকে আবু তালিব মক্কি বিন আলী বিন আবদুর রাজ্জাক আল-হারিরি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-মুজাক্কি শ্রুতিলিপি অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন মাহমুদ আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন মেহরান আন-নাইসাবুরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামিদ আল-বাসরি মক্কায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বিশর বিন উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাজেম বিন বকর আবু আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াজিদ বিন আয়াদ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো কিতাবে আমার ওপর দরুদ লেখে, ফেরেশতারা অনবরত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে যতক্ষণ না সেই কিতাবে আমার নাম বিদ্যমান থাকে। বিশর বিন উবাইদ বলেন: আর আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-কুরাশি বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।আমি বলি: বিশর বিন উবাইদ আদ-দারিসি অভিযুক্ত (রাবি), ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করে বেশ দূরে সরে গিয়েছেন (অর্থাৎ ভুল করেছেন)।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(12645). وقال الذهبي في الميزان (1/ 320): كذبه الأزدي، وقال ابن عدي: منكر الحديث. اهـ.
لهذا قال الهيثمى (1/ 137): فيه بشر بن عبيد الدارسي، كذبه الأزدي وغيره. اهـ.
وأيضا يزيد بن عياض منكر الحديث. ذكره البخاري في التاريخ الكبير 8/ 351 وقال: منكر الحديث. اهـ. وأتهمه الإمام مالك كما في الجرح والتعديل 9/ 283.
وقال الشوكاني في الفوائد المجموعة (42): حديث من صلى علي في كتاب، لم تزل الملائكة تستغفر له، ما دام اسمي في ذلك الكتاب، في إسناده من لا يحتج به، وقد روي من طرق ضعيفة جدا. اهـ.
وأخرجه أبو القاسم الأصبهاني في الترغيب برقم (1697)، والرافعي في التدوين في أخبار قزوين (2/ 29) من طريقين: عن إبراهيم بن إسماعيل الزاهد، المعروف بالخزاز، عن عبد السلام بن محمد المصري، حدثنا سعيد بن عفير، حدثني محمد بن إبراهيم بن أمية القرشي، عن عبدالرحمن بن عبدالله الأعرج، عن أبي هريرة.
ورواه السمعاني في أدب الاستملاء (ص: 78) قال: حدثنا أبو طالب عبدالكريم بن عبد المنعم بن هبة الله الطرسوسي، من لفظه، بجامع حلب، ثنا والدي، ثنا أبو صالح محمد بن المهذب بن علي المعري، من لفظه، ثنا جدي أبو الحسين علي بن المهذب بن أبي حامد المعري، ثنا أبو بكر محمد بن هارون بن مالك الدينوري، حدثنا عبدالرحمن بن محمد بن سنان السعدي، ثنا هانئ بن يحيى، ثنا يزيد بن عياض الليثي، عن سعيد المقبري،
(১২৬৪৫)। আয-যাহাবী আল-মিজান (১/৩২০) গ্রন্থে বলেন: আল-আযদী তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন এবং ইবনে আদি বলেছেন: সে মুনকারুল হাদিস। সমাপ্ত।
এই কারণে আল-হায়সামি (১/১৩৭) বলেন: এর মধ্যে বিশর বিন উবায়েদ আদ-দারিসি রয়েছে, আল-আযদী এবং অন্যান্যরা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। সমাপ্ত।
একইভাবে ইয়াযিদ বিন ইয়াদ মুনকারুল হাদিস। ইমাম বুখারী আত-তারিখুল কবির (৮/৩৫১) গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: সে মুনকারুল হাদিস। সমাপ্ত। ইমাম মালিক তাকে (মিথ্যার) অভিযুক্ত করেছেন যেমনটি আল-জারহু ওয়াত-তাদিল (৯/২৮৩) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
আর আশ-শাওকানি আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআ (৪২) গ্রন্থে বলেন: "যে ব্যক্তি কোনো কিতাবে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করল, যতক্ষণ সেই কিতাবে আমার নাম থাকবে ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে" - এই হাদিসের সনদে এমন ব্যক্তি রয়েছে যার মাধ্যমে দলিল পেশ করা যায় না, এবং এটি অত্যন্ত দুর্বল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সমাপ্ত।
আর আবুল কাসিম আল-আসবাহানি এটি আত-তারগিব গ্রন্থে (১৬৯৭ নম্বর) এবং আর-রাফেয়ি আত-তাদউইন ফি আখবারিল কাযউইন (২/২৯) গ্রন্থে দুই সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ইব্রাহিম বিন ইসমাইল আয-যাহিদ থেকে, যিনি আল-খাযযায নামে পরিচিত, তিনি আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মদ আল-মিসরি থেকে, তিনি বলেন আমাদের নিকট সাঈদ বিন উফায়র বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন উমাইয়া আল-কুরাশি বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-আরাজ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে।
আর আস-সামআনি আদাবুল ইস্তিমলা (পৃষ্ঠা: ৭৮) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু তালিব আব্দুল করিম বিন আব্দুল মুনইম বিন হিবাতুল্লাহ আত-তারসুসি তাঁর নিজের মুখে হালবের জামে মসজিদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু সালিহ মুহাম্মদ বিন আল-মুহাযযাব বিন আলী আল-মাআরি তাঁর নিজের মুখে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আমার দাদা আবুল হুসাইন আলী বিন আল-মুহাযযাব বিন আবি হামিদ আল-মাআরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ বিন হারুন বিন মালিক আদ-দিনাওয়ারি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন সিনান আস-সাদি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হানি বিন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াযিদ বিন ইয়াদ আল-লাইসি বর্ণনা করেছেন সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عن أبي هريرة.
قال ابن الجوزي في الموضوعات (1/ 228): فيه يزيد بن عياض. قال يحيى: ليس بشيء. سئل مالك، عن ابن سمعان، فقال: كذاب، فقيل: فيزيد بن عياض، قال: أكذب، وأكذب. وقال النسائي: متروك الحديث، وفيه إسحاق بن وهب. قال الدارقطني: كذاب متروك، يحدث بالأباطيل. وقال ابن حبان: يضع الحديث. اهـ.
وقال الذهبي في ميزان الاعتدال (2/ 32): وله، عن يزيد بن عياض، عن الأعرج، عن أبي هريرة مرفوعا: من صلى علي في كتاب، لم تزل الملائكة تستغفر له. وهذا موضوع. اهـ.
وروي عن ابن عباس:
أخرجه أبو القاسم الأصبهاني في الترغيب والترهيب برقم (1699): من طريق أحمد بن جعفر الهاشمي، عن سليمان بن الربيع، عن كادح بن رحمة، عن نهشل، عن الضحاك، عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من صلى علي في كتاب، لم تزل الصلاة جارية له، ما دام اسمي في ذلك الكتاب.
قلت: كادح بن رحمة متهم، قال أحمد الأصبهاني في الضعفاء (200): كادح بن رحمة الزاهد روى عن الثوري ومسعر أحاديث موضوعة روى عنه أبو الربيع الزهراني .. اهـ. وقال ابن حبان يروي عن الثقات المقلوبات حتى يسبق إلى القلب أنه المتعمد لها فاستحق الترك وقال أبو الفتح الأزدي: هو كذاب .. اهـ.
وقال ابن كثير في تفسيره (6/ 477): وقد ورد في الحديث من طريق كادح ابن رحمة، عن نهشل، عن الضحاك، عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।
ইবনুল জাওযী 'আল-মাওদুআত' (১/ ২২৮) গ্রন্থে বলেন: এতে ইয়াজিদ ইবনে ইয়াদ রয়েছে। ইয়াহইয়া বলেন: সে কিছুই নয়। ইমাম মালেককে ইবনে সামআন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বললেন: সে চরম মিথ্যাবাদী। তখন বলা হলো: তবে ইয়াজিদ ইবনে ইয়াদ (কেমন)? তিনি বললেন: সে আরও বড় মিথ্যাবাদী, আরও বেশি মিথ্যাবাদী। আন-নাসায়ী বলেন: সে পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী, আর এতে ইসহাক ইবনে ওয়াহাবও রয়েছে। আদ-দারা কুতনী বলেন: সে চরম মিথ্যাবাদী ও পরিত্যক্ত, সে বাতিল কথা বর্ণনা করে। ইবনে হিব্বান বলেন: সে হাদীস জাল করে। [সমাপ্ত]
আয-যাহাবী 'মীযানুল ইতিদাল' (২/ ৩২) গ্রন্থে বলেন: তার সূত্রে ইয়াজিদ ইবনে ইয়াদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত: যে ব্যক্তি কোনো বইয়ে আমার ওপর দরুদ লিখবে, যতক্ষণ সেই বইয়ে আমার নাম থাকবে ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে। আর এটি বানোয়াট। [সমাপ্ত]
এবং ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে:
আবুল কাসিম আল-আসবাহানী 'আত-তারগীব ওয়াত তারহীব' গ্রন্থে (১৬৯৯ নং) এটি বর্ণনা করেছেন: আহমাদ ইবনে জাফর আল-হাশেমী-এর সূত্রে, তিনি সুলাইমান ইবনে রাবী থেকে, তিনি কাদিহ ইবনে রাহমাহ থেকে, তিনি নাহশাল থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো বইয়ে আমার ওপর দরুদ লিখবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই বইয়ে আমার নাম থাকবে ততক্ষণ তার জন্য দরুদের সওয়াব জারি থাকবে।
আমি বলছি: কাদিহ ইবনে রাহমাহ অভিযুক্ত, আহমাদ আল-আসবাহানী 'আদ-দুয়াফা' (২০০) গ্রন্থে বলেন: কাদিহ ইবনে রাহমাহ আল-যাহিদ, তিনি সাওরী ও মিসআর থেকে বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার থেকে আবু রাবী আল-যাহরানী বর্ণনা করেছেন... [সমাপ্ত]। ইবনে হিব্বান বলেন: সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে উল্টোপাল্টা বর্ণনা করে, এমনকি হৃদয়ে এই প্রত্যয় জন্মে যে সে এটি ইচ্ছাকৃতভাবেই করছে, ফলে সে পরিত্যাজ্য হওয়ার যোগ্য। আবুল ফাতহ আল-আযদি বলেন: সে একজন চরম মিথ্যাবাদী... [সমাপ্ত]।
এবং ইবনে কাসীর তার তাফসীর (৬/ ৪৭৭) গ্রন্থে বলেন: হাদীসটি কাদিহ ইবনে রাহমাহ-এর সূত্রে, তিনি নাহশাল থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
من صلى علي في كتاب، لم تزل الصلاة جارية له، ما دام اسمي في ذلك الكتاب. وليس هذا الحديث بصحيح من وجوه كثيرة، وقد روي من حديث أبي هريرة، ولا يصح أيضا، قال الحافظ أبو عبدالله الذهبي شيخنا: أحسبه موضوعا. وقد روي نحوه، عن أبي بكر، وابن عباس. ولا يصح من ذلك شيء، والله أعلم. وقد ذكر الخطيب البغدادي في كتابه: الجامع لآداب الراوي والسامع، قال: رأيت بخط الإمام أحمد بن حنبل، رحمه الله كثيرا ما يكتب اسم النبي صلى الله عليه وسلم، من غير ذكر الصلاة عليه كتابة، قال: وبلغني أنه كان يصلي عليه لفظا. اهـ.
وقال المنذري في الترغيب والترهيب (1/ 62): رواه الطبراني وغيره، وروي من كلام جعفر بن محمد موقوفا عليه، وهو أشبه. اهـ.
وقال الألباني في بيان ضعف حديث أبي هريرة وحديث ابن عباس كما في سلسلة الأحاديث الضعيفة (3316): ضعيف جدا. أخرجه أبو القاسم الأصبهاني في الترغيب (2/ 693/ 1670)، والرافعي في تاريخ قزوين (4/ 107)، بإسناد فيه من لم أعرفه، عن عبد السلام بن محمد المصري، حدثنا سعيد بن عفير، حدثني محمد بن إبراهيم بن أمية القرشي، عن عبدالرحمن بن عبدالله- الأعرج، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
… فذكره.
قلت (القائل الألباني): وهذا إسناد ضعيف جدا؛ فإنه مع الجهالة التي أشرت إليها، فإن عبدالسلام بن محمد الراوي، عن سعيد بن عفير، قال الدارقطني: ضعيف جدا، منكر الحديث.
وقال الخطيب: صاحب مناكير. ومحمد بن إبراهيم بن أمية القرشي؛
যে ব্যক্তি কোনো বইয়ে আমার ওপর দরুদ লিখেছে, তার জন্য দরুদ অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না সেই বইয়ে আমার নাম বিদ্যমান থাকে। এই হাদিসটি বহু দিক থেকেই সহিহ নয়। এটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে, তবে সেটিও সহিহ নয়। আমাদের শায়খ হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আদ-দাহাবি বলেছেন: আমি এটিকে জাল মনে করি। অনুরূপ বর্ণনা আবু বকর এবং ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এর কোনোটিই সহিহ নয়, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আল-খাতিব আল-বাগদাদি তাঁর গ্রন্থ 'আল-জামি লি আদাবির রাওয়ি ওয়াস সামি'-এ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.)-এর হস্তাক্ষরে দেখেছি যে, তিনি প্রায়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম লিখতেন কিন্তু লিখিতভাবে তাঁর ওপর দরুদ উল্লেখ করতেন না। তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি মৌখিকভাবে তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করতেন। সমাপ্ত।
আল-মুনজিরি 'আত-তারগিব ওয়াত তারহিব' (১/৬২) গ্রন্থে বলেছেন: এটি তাবারানি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এটি জাফর বিন মুহাম্মদের উক্তি হিসেবেও মাওকুফভাবে (তাঁর নিজস্ব উক্তি হিসেবে) বর্ণিত হয়েছে, আর সেটিই অধিকতর সঠিক। সমাপ্ত।
আলবানি 'সিলসিলাতুল আহাদিসিদ দয়িফাহ' (৩৩১৬) গ্রন্থে আবু হুরায়রা ও ইবনে আব্বাসের হাদিসের দুর্বলতা বর্ণনায় বলেছেন: এটি অত্যন্ত দুর্বল। আবুল কাসিম আল-আসবাহানি 'আত-তারগিব' (২/৬৯৩/১৬৭০) গ্রন্থে এবং রাফেয়ি 'তারিখে কাজভিন' (৪/১০৭) গ্রন্থে এটি এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যাকে আমি চিনি না। তিনি আবদুস সালাম বিন মুহাম্মদ আল-মিসরি থেকে, তিনি সাইদ বিন উফায়ের থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন উমাইয়াহ আল-কুরাশি থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
... অতপর তিনি তা উল্লেখ করেন।
আমি (আলবানি) বলছি: এই সনদটি অত্যন্ত দুর্বল; কেননা আমি যে অজ্ঞাতপরিচয় বর্ণনাকারীর কথা উল্লেখ করেছি তার পাশাপাশি আবদুস সালাম বিন মুহাম্মদ বর্ণনাকারী সম্পর্কে, যিনি সাইদ বিন উফায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, দারা কুতনি বলেছেন: অত্যন্ত দুর্বল, তিনি আপত্তিকর হাদিস বর্ণনাকারী (মুনকারুল হাদিস)।
আর আল-খাতিব বলেছেন: তিনি আপত্তিকর বর্ণনার অধিকারী। আর মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন উমাইয়াহ আল-কুরাশি;
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ২০)
الظاهر أنه محمد بن إبراهيم القرشي، الذي في الميزان واللسان، عن رجل، وعنه هشام بن عمار؛ قال الذهبي: فذكر خبرا موضوعا، في الدعاء لحفظ القرآن، ساقه العقيلي. ثم ساق له الحديث الآتي برقم (3593)، وذكر الحافظ، عن العقيلي أنه قال فيه: مجهول. قلت: وليس له ذكر في باب (المحمدين) من النسخة المطبوعة. والله سبحانه وتعالى أعلم. وهو في مخطوطة الظاهرية (ص 369)، وليست تحت يدي الآن لأحدد مكانه منها، وإنما نقليه من الحديث المشار إليه آنفا، فقد كنت خرجته وأنا في دمشق. وحديث أبي هريرة هذا، معروف برواية بشر بن عبيد الدارسي؛ وهو مع كونه منكر الحديث، بين الضعف جدا؛ كما قال ابن عدي في الكامل (2/ 447 - 448)، وكذبه الأزدي، كما في الميزان واللسان؛ فقد اختلف عليه في إسناده؛ فقال إسحاق بن وهب العلاف: أخبرنا بشر بن عبيدالله الدارسي، قال: أخبرنا حازم بن بكر، عن يزيد بن عياض، عن الأعرج، عن أبي هريرة به. أخرجه الطبراني في المعجم الأوسط (1/ 99/ 1/ 2023 بترقيمي): حدثنا أحمد (يعني بن محمد الصيدلاني البغدادي) قال: أخبرنا إسحاق .. وقال: لا يروى عن أبي هريرة إلا بهذا الإسناد، تفرد به إسحاق.
قلت (القائل الألباني): وهو ثقة من شيوخ البخاري، وليس من شيوخ الطبراني، خلافا لظن ابن الجوزي في الموضوعات (1/ 228)، وإنما العلة من شيخه الدارسي، وقد عرفت حاله. وحازم بن بكر لم أجد له ترجمة. وشيخه يزيد بن عياض كذبه مالك وغيره، فإعلاله به أولى؛ لأن الدارسي قد توبع كما يأتي. وقد رواه محمد بن عبدالله بن حميد البصري- ولم أجد له ترجمة أيضا
… أنتهى ما نقله وقاله الألباني.
আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-কুরাশি, যার উল্লেখ আল-মিজান এবং আল-লিসান গ্রন্থে রয়েছে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে হিশাম বিন আম্মার বর্ণনা করেছেন; আয-যাহাবি বলেন: তিনি কুরআন মুখস্থ করার দুআ সম্পর্কে একটি জাল খবর উল্লেখ করেছেন, যা আল-উকাইলি উদ্ধৃত করেছেন। এরপর তিনি তাঁর সম্পর্কে ৩৫৯৩ নম্বর পরবর্তী হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং আল-হাফিজ, আল-উকাইলি থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: মাজহুল বা অজ্ঞাত। আমি বলছি: মুদ্রিত কপির 'মুহাম্মদগণ' অধ্যায়ে তাঁর কোনো উল্লেখ নেই। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন। এবং এটি আল-জহিরিয়া পাণ্ডুলিপির (পৃষ্ঠা ৩৬৯) মধ্যে রয়েছে, তবে সেখানে এর সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করার জন্য সেটি এখন আমার হাতে নেই; আমি কেবল পূর্বে উল্লিখিত হাদিসটি থেকেই এটি উদ্ধৃত করেছি, কেননা আমি যখন দামেস্কে ছিলাম তখন হাদিসটি তখরিজ করেছিলাম। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই হাদিসটি বিশর বিন উবাইদ আদ-দারিছির বর্ণনা হিসেবে পরিচিত; তিনি 'মুনকারুল হাদিস' হওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত দুর্বল; যেমনটি ইবনে আদি আল-কামিল (২/ ৪৪৭ - ৪৪৮) গ্রন্থে বলেছেন এবং আল-আযদি তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছেন, যেমনটি আল-মিজান ও আল-লিসান গ্রন্থে রয়েছে; এর সনদে তাঁর ব্যাপারে মতভেদ হয়েছে; ইসহাক বিন ওয়াহাব আল-আল্লাফ বলেছেন: বিশর বিন উবাইদুল্লাহ আদ-দারিছি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাজিম বিন বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইয়াযিদ বিন ইয়াদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তাবারানি এটি আল-মুজামুল আওসাত (১/ ৯৯/ ১/ ২০২৩ আমার নম্বর অনুযায়ী) গ্রন্থে সংকলন করেছেন: আহমদ (অর্থাৎ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাইদালানি আল-বাগদাদি) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন... এবং তিনি বলেছেন: এই সনদ ব্যতীত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি বর্ণিত হয়নি, ইসহাক এটি বর্ণনায় একক।
আমি (আলবানি) বলছি: তিনি বুখারির উস্তাদদের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য রাবি এবং তিনি তাবারানির উস্তাদ নন; ইবনুল জাওযি আল-মাওদুআত (১/ ২২৮) গ্রন্থে যা ধারণা করেছেন তা সঠিক নয়। বরং ত্রুটিটি তাঁর উস্তাদ আদ-দারিছির পক্ষ থেকে, যার অবস্থা আপনি ইতিপূর্বে জেনেছেন। আর হাজিম বিন বকরের কোনো জীবনী আমি খুঁজে পাইনি। তাঁর উস্তাদ ইয়াযিদ বিন ইয়াদকে ইমাম মালিক ও অন্যান্যরা মিথ্যাবাদী বলেছেন, তাই তাঁর কারণে হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত বলা অধিক যুক্তিযুক্ত; কারণ আদ-দারিছির সমর্থনে অন্য বর্ণনা রয়েছে যা সামনে আসছে। এবং এটি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ আল-বসরি বর্ণনা করেছেন—আমি তাঁরও কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি
… আলবানি যা উদ্ধৃত করেছেন ও বলেছেন তা এখানেই সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ২১)
وعزاه الكناني في تنزيه الشريعة (1/ 261) للأصبهاني في ترغيبه، من حديث ابن عباس.
وأورده ابن الجوزي في الموضوعات (1/ 228).
ولا يصلح حديث ابن عباس شاهدا لحديث أبي هريرة، لأن إسناده واه جدا، فيه كادح بن رحمة، ونهشل بن سعيد كذابان، انظر: تنزيه الشريعة المرفوعة (1/ 261).
* * *
আল-কিনানি 'তানজিহুশ শরিয়াহ' (১/২৬১) গ্রন্থে একে ইবন আব্বাসের হাদিস থেকে আসবাহানির 'তারগিব' গ্রন্থের প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন।
ইবনুল জাওজি একে 'আল-মাওদুআত' (১/২২৮) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
ইবন আব্বাসের হাদিসটি আবু হুরায়রার হাদিসের সমর্থক (শাহিদ) হিসেবে উপযোগী নয়, কারণ এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল; এতে কাদিহ বিন রাহমাহ ও নাহশাল বিন সাঈদ নামক দুইজন চরম মিথ্যাবাদী রয়েছেন। দেখুন: 'তানজিহুশ শরিয়াহ আল-মারফুয়াহ' (১/২৬১)।
* * *
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ২২)
(3) وقوله صلى الله عليه وسلم: أنا سيد ولد آدم ولا فخر.
أخرجه مسلم (7/ 58) برقم (6002)، والترمذي برقم (3605)، وأحمد (4/ 107) برقم (17111)، وفي (17112) كلهم من طريق عبدالرحمن بن عمرو الأوزاعي، عن شداد أبي عمار، عن واثلة بن الأسقع، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله اصطفى من ولد إبراهيم، إسماعيل، واصطفى من ولد إسماعيل، بني كنانة، واصطفى من بني كنانة، قريشا، واصطفى من قريش، بني هاشم، واصطفاني، من بني هاشم.وفي رواية: إن الله اصطفى كنانة من ولد إسماعيل، واصطفى قريشا من كنانة، واصطفى من قريش، بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم. وفي رواية: إن الله اصطفى كنانة من ولد إسماعيل، واصطفى قريشا من كنانة، واصطفى بني هاشم من قريش، واصطفاني من بني هاشم، فأنا سيد ولد آدم ولا فخر، وأول من تنشق عنه الأرض، وأول شافع، وأول مشفع.وعند الترمذي بلفظ: (يوم القيامة)، وليس فيه: (ولا فخر).وروى الترمذي برقم (3148، 3615)، وأحمد (3/ 2) برقم (11000)، وابن ماجه (4308)، كلهم من طريق علي بن زيد بن جدعان، عن أبي نضرة، عن أبي سعيد، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أنا سيد ولد آدم يوم القيامة ولا فخر، وبيدى لواء الحمد ولا فخر، وما من نبى يومئذ آدم فمن سواه إلا تحت لوائى، وأنا أول من تنشق عنه الأرض ولا فخر، قال: فيفزع الناس ثلاث فزعات، فيأتون آدم فيقولون: أنت أبونا آدم؛ فاشفع لنا إلى ربك. فيقول: إنى أذنبت ذنبا، أهبطت منه إلى الأرض، ولكن ائتوا نوحا. فيأتون
(৩) এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: আমি আদম সন্তানের নেতা এবং এতে কোনো অহংকার নেই।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৭/ ৫৮) হাদিস নং (৬০০২), তিরমিজি হাদিস নং (৩৬০৫), আহমাদ (৪/ ১০৭) হাদিস নং (১৭১১১) এবং (১৭১১২) এ; তারা সকলেই আব্দুর রহমান ইবনে আমর আল-আওজায়ি-এর সূত্রে, তিনি শাদ্দাদ আবু আম্মার থেকে, তিনি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ ইবরাহিমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাইলকে মনোনীত করেছেন, আর ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে বনু কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, আর বনু কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, আর কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন, এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।অন্য বর্ণনায় রয়েছে: নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন। আরেকটি বর্ণনায় আছে: নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন। সুতরাং আমি আদম সন্তানের নেতা এবং এতে কোনো অহংকার নেই; আমিই প্রথম ব্যক্তি যার থেকে জমিন বিদীর্ণ হবে, এবং আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং প্রথম ব্যক্তি যার সুপারিশ কবুল করা হবে।তিরমিজির বর্ণনায় শব্দগুলো হলো: (কিয়ামতের দিন), এবং তাতে (এতে কোনো অহংকার নেই) কথাটি নেই।তিরমিজি হাদিস নং (৩১৪৮, ৩৬১৫), আহমাদ (৩/ ২) হাদিস নং (১১০০০), এবং ইবনে মাজাহ (৪৩০৮) বর্ণনা করেছেন; তারা সকলেই আলী ইবনে জায়েদ ইবনে জুদআন-এর সূত্রে, তিনি আবু নাদরাম থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা এবং এতে কোনো অহংকার নেই। আমার হাতে থাকবে প্রশংসার পতাকা এবং এতে কোনো অহংকার নেই। আদম থেকে শুরু করে অন্য সকল নবী সেদিন আমার পতাকার নিচেই থাকবেন। আমিই প্রথম ব্যক্তি যার থেকে জমিন বিদীর্ণ হবে এবং এতে কোনো অহংকার নেই। তিনি বলেন: তখন মানুষ তিনবার আতঙ্কিত হবে, অতঃপর তারা আদমের কাছে এসে বলবে: আপনি আমাদের পিতা আদম; আমাদের রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। তিনি বলবেন: আমি একটি পাপ করেছিলাম যার কারণে আমাকে সেখান থেকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল; তোমরা বরং নূহের কাছে যাও। অতঃপর তারা আসবে...
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
نوحا، فيقول: إنى دعوت على أهل الأرض دعوة، فأهلكوا، ولكن اذهبوا إلى إبراهيم. فيأتون إبراهيم فيقول: إنى كذبت ثلاث كذبات، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما منها كذبة إلا ماحل بها، عن دين الله، ولكن ائتوا موسى. فيأتون موسى فيقول: إنى قد قتلت نفسا، ولكن ائتوا عيسى. فيأتون عيسى فيقول: إنى عبدت من دون الله، ولكن ائتوا محمدا، قال: فيأتونني فأنطلق معهم.
قال الترمذي: وقد روى بعضهم هذا الحديث، عن أبي نضرة، عن ابن عباس، الحديث بطوله. اهـ.
قلت: علي بن زيد بن جدعان تكلم فيه، قال العجلي في معرفة الثقات (1298 - على بن زيد بن جدعان بصرى يكتب حديثه وليس بالقوي وكان يتشيع وقال مرة لا بأس به. اهـ. ولكن للحديث طرق أخرى.
قال الألباني: صحيح. اهـ. كما في صحيح الجامع برقم (1468)، وقال في صحيح الترغيب برقم (3543): صحيح لغيره. اهـ. وصححه في صحيح الترمذي برقم (2859)، وصحيح ابن ماجه برقم (4308). وانظر: ضعيف الجامع (1316).
وأخرجه البخاري (4/ 105) - الأنبياء- باب قول الله تعالى: {إِنَّا أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ
… }، (5/ 225) - التفسير- تفسير سورة بني إسرائيل، ومسلم (1/ 184) - الأنبياء- (حديث 327)، والترمذي (4/ 622) - صفة القيامة- باب ما جاء في الشفاعة- (حديث 2434)، وأحمد (2/ 435)، وأبو عوانة (1/ 171، 173)، وابن منده في الإيمان (3/ 828 - 830) - (حديث 88، 881، 882)، والبيهقي في دلائل النبوة (5/ 476 - 477)، والبغوي في شرح السنة (15/ 153) - الفتن- باب شفاعة الرسول الله صلى الله عليه وسلم (حديث 4332)،
নূহের কাছে। তিনি বলবেন: আমি জমিনবাসীদের বিরুদ্ধে একটি বদদোয়া করেছিলাম, ফলে তারা ধ্বংস হয়েছে; তবে তোমরা ইব্রাহিমের কাছে যাও। অতঃপর তারা ইব্রাহিমের কাছে আসবে এবং তিনি বলবেন: আমি তিনটি মিথ্যা কথা বলেছিলাম। তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সেগুলোর প্রতিটিই ছিল আল্লাহর দ্বীনের স্বার্থে। তবে তোমরা মূসার কাছে যাও। অতঃপর তারা মূসার কাছে আসবে এবং তিনি বলবেন: আমি একজন মানুষকে হত্যা করেছি; তবে তোমরা ঈসার কাছে যাও। তারা ঈসার কাছে আসবে এবং তিনি বলবেন: আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমার ইবাদত করা হয়েছিল; তবে তোমরা মুহাম্মাদের কাছে যাও। তিনি (রাসূল) বললেন: অতঃপর তারা আমার কাছে আসবে এবং আমি তাদের সাথে রওনা হব।
তিরমিযী বলেছেন: তাদের কেউ কেউ এই হাদীসটি আবু নাদরাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।
আমি বলছি: আলী বিন যায়েদ বিন জুদআন সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে। আজলী ‘মা‘রিফাতুস সিকাত’ গ্রন্থে বলেছেন (১২৯৮- আলী বিন যায়েদ বিন জুদআন বসরা নিবাসী, তার হাদীস লিখে রাখা হয় তবে তিনি শক্তিশালী নন এবং তিনি শিয়া মতাবলম্বী ছিলেন। তিনি একবার বলেছেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই। সমাপ্ত)। তবে হাদীসটির অন্যান্য সূত্র রয়েছে।
আলবানী বলেছেন: সহীহ। সমাপ্ত। যেমনটি ‘সহীহুল জামি’ গ্রন্থে (১৪৬৮) নম্বরে রয়েছে। তিনি ‘সহীহুত তারগীব’ গ্রন্থে (৩৫৪৩) নম্বরে বলেছেন: সহীহ লি-গাইরিহি। সমাপ্ত। তিনি একে ‘সহীহ তিরমিযী’ (২৮৫৯) এবং ‘সহীহ ইবনে মাজাহ’ (৪৩০৮) গ্রন্থে সহীহ বলেছেন। আরও দেখুন: ‘যয়ীফুল জামি’ (১৩১৬)।
এটি আরও বর্ণনা করেছেন বুখারী (৪/১০৫) - আম্বিয়া অধ্যায় - আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে
… } প্রেরণ করেছি পরিচ্ছেদ; (৫/২২৫) - তাফসীর অধ্যায় - সূরা বনী ইসরাঈলের তাফসীর; মুসলিম (১/১৮৪) - আম্বিয়া অধ্যায় - (হাদীস ৩২৭); তিরমিযী (৪/৬২২) - কিয়ামতের বৈশিষ্ট্য - সুপারিশ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে পরিচ্ছেদ - (হাদীস ২৪৩৪); আহমাদ (২/৪৩৫); আবু আওয়ানা (১/১৭১, ১৭৩); ইবনে মান্দাহ ‘আল-ঈমান’ গ্রন্থে (৩/৮২৮ - ৮৩০) - (হাদীস ৮৮, ৮৮১, ৮৮২); বাইহাকী ‘দালায়িলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে (৫/৪৭৬ - ৪৭৭); এবং বাগাবী ‘শারহুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে (১৫/১৫৩) - ফিতনা অধ্যায় - আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ পরিচ্ছেদ (হাদীস ৪৩৩২)।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بمعناه من حديث أبي هريرة، وهو جزء من حديث طويل.
وأخرجه أحمد (3/ 2)، الترمذي (5/ 308) - تفسير القرآن- (حديث 3148) - من حديث أبي سعيد الخدري.
وأخرجه ابن أبي عاصم في السنة (2/ 369 - 370) - (حديث 793)، وأبو يعلى في مسنده (13/ 481) - (حديث 7493)، وابن حبان كما في الإحسان (8/ 137) - (حديث 6444) - من حديث عبدالله بن سلام.
* * *
আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে সমার্থে এটি বর্ণিত হয়েছে এবং এটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশ।
এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৩/২), আত-তিরমিযী (৫/৩০৮) - তাফসীরুল কুরআন অধ্যায় - (হাদীস ৩১৪৮) - আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে।
এবং এটি বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী আসিম আস-সুন্নাহ গ্রন্থে (২/৩৬৯-৩৭০) - (হাদীস ৭৯৩), আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে (১৩/৪৮১) - (হাদীস ৭৪৯৩), এবং ইবনু হিব্বান যেমনটি আল-ইহসান গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে (৮/১৩৭) - (হাদীস ৬৪৪৪) - আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে।
* * *
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
(4) وقوله صلى الله عليه وسلم: لا يأتي على الناس زمان، إلا والذي بعده شر منه، حتى تلقوا ربكم.
أخرجه البخاري (7068)، والترمذي (2206)، وأحمد (3/ 117) برقم (12186)، كلهم من طريق الزبير بن عدي، قال: شكونا إلى أنس بن مالك ما نلقى من الحجاج، فقال: اصبروا، فإنه لا يأتي عليكم عام، أو يوم، إلا الذي بعده شر منه، حتى تلقوا ربكم، عز وجل، سمعته من نبيكم صلى الله عليه وسلم.* * *
(৪) এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: মানুষের কাছে এমন কোনো সময় আসবে না যার পরবর্তী সময়টি তার চেয়ে মন্দ হবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে।
এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (৭০৬৮), তিরমিজি (২২০৬) এবং আহমাদ (৩/১১৭, হাদিস নং ১২১৮৬)। তাঁরা সকলেই জুবাইর ইবন আদির সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আনাস ইবন মালিকের নিকট হাজ্জাজের পক্ষ থেকে যে কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছিলাম সে সম্পর্কে অভিযোগ করলাম। তখন তিনি বললেন: "তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, কেননা তোমাদের ওপর এমন কোনো বছর বা দিন আসবে না যার পরবর্তী সময়টি তার চেয়ে মন্দ হবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের মহান ও মহিমান্বিত রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে; আমি এটি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছি।"* * *
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
كتاب الطهارة
(5) روي أنه صلى الله عليه وسلم توضأ بماء آجن.
لم أجده بهذا اللفظ، وإنما أخرج البيهقي في سننه (1/ 269)، قال: حدثنا أبو عبدالله الحافظ، أنبأ أبو جعفر محمد بن عبدالله البغدادي، ثنا محمد بن عمرو بن خالد، ثنا أبي، ثنا ابن لهيعة، ثنا أبو الأسود، عن عروة بن الزبير: في قصة، أحد وما أصاب النبي صلى الله عليه وسلم في وجهه، قال: وسعى علي بن أبي طالب إلى المهراس، فأتى بماء في مجنة، فأراد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يشرب منه، فوجد له ريحا؛ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: هذا ماء آجن فمضمض منه، وغسلت فاطمة، عن أبيها الدم.قلت: فيه ابن لهيعة، وهو ضعيف، وعروة بن الزبير، من صغار التابعين، لم يشهد الواقعة؛ فالإسناد منقطع.وأخرجه ابن حبان في صحيحه (6979)، وإسحاق بن راهويه كما في المطالب العالية (4378)، وابن المنذر في الأوسط (1/ 260) من طرق، عن وهب بن جرير، حدثنا أبي، قال: سمعت محمد بن إسحاق، حدثني يحيى بن عباد بن عبدالله بن الزبير، عن عبدالله بن الزبير، عن أبيه قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مصعدين في أحد، فذهب رسول الله صلى الله عليه وسلم على ظهره، لينهض على صخرة فلم يستطع، فبرك طلحة بن عبيدالله تحته، فصعد رسول الله صلى الله عليه وسلم على ظهره، حتى جلس على الصخرة، قال الزبير: فسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: أوجب طلحة، ثم أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم، علي بن أبي
পবিত্রতা অধ্যায়(৫) বর্ণিত আছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া পানি দিয়ে ওজু করেছেন।
আমি এই শব্দে হাদীসটি খুঁজে পাইনি, তবে বায়হাকি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে (১/ ২৬৯) এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আমর বিন খালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়াহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবুল আসওয়াদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে বর্ণিত: উহুদ যুদ্ধের ঘটনায় এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারায় যে আঘাত লেগেছিল সে সম্পর্কে তিনি বলেন: আলী বিন আবি তালিব আল-মিহরাসের (পাহাড়ের গর্তে জমে থাকা পানি) দিকে ছুটে গেলেন এবং একটি ঢালে করে পানি নিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা থেকে পান করতে চাইলেন, কিন্তু তিনি তাতে দুর্গন্ধ পেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এটি স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া পানি," এরপর তিনি তা দিয়ে কুলি করলেন এবং ফাতিমা তাঁর পিতার চেহারা থেকে রক্ত ধুয়ে দিলেন।আমি বলছি: এর সনদে ইবনে লাহিয়াহ রয়েছেন, যিনি দুর্বল। আর উরওয়াহ বিন যুবাইর ছোট স্তরের তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি; সুতরাং এই সনদটি বিচ্ছিন্ন।আর ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে (৬৯৭৯), ইসহাক বিন রাহওয়াইহ 'আল-মাতালিবুল আলিয়া' গ্রন্থে (৪৩৭৮) এবং ইবনে মুনযির 'আল-আওসাত' গ্রন্থে (১/ ২৬০) বিভিন্ন সূত্রে ওয়াহাব বিন জারির থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইসহাককে বলতে শুনেছি, ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ বিন আবদুল্লাহ বিন যুবাইর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ বিন যুবাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে উহুদ পাহাড়ে আরোহন করছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি পাথরের ওপর ওঠার চেষ্টা করলেন কিন্তু পারলেন না। তখন তালহা বিন উবাইদুল্লাহ তাঁর নিচে উবু হয়ে বসলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পিঠের ওপর ভর দিয়ে পাথরের ওপর উঠে বসলেন। যুবাইর বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: তালহা (জান্নাত) ওয়াজিব করে নিয়েছে। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী বিন আবি...
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
طالب رضي الله عنه، فأتى المهراس، وأتاه بماء في درقته، فأراد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يشرب منه، فوجد له ريحا فعافه، فغسل به الدم الذي في وجهه، وهو يقول: اشتد غضب الله على من دمى وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم. هكذا لفظه، وليس فيه لفظ: (آجن). لكن يفهم من معناه، لهذا قال الحافظ ابن حجر في التلخيص الحبير (1/ 135): وفي الباب حديث الزبير، في غسل النبي صلى الله عليه وسلم وجهه، من الدم الذي أصابه بأحد، بماء آجن أي متغير رواه البيهقي وغيره. اهـ.
وقال البيهقي في سننه (1/ 269) عن إسناد حديث الزبير: وهو إسناد موصول. اهـ.
وقال البوصيري في إتحاف الخيرة المهرة (5/ 221) عن حديث الزبير: هذا إسناده صحيح. اهـ.
قلت: فيه وهب بن جرير، ثقة، وأبوه جرير بن حازم، ثقة، لكن له أوهام إذا حدث من حفظه.
أما محمد بن إسحاق، فهو مدلس، لكنه صرح بالتحديث، واختلف في حاله بين أهل العلم؛ فمنهم من مشاه، ومنهم من توقف في الاحتجاج به، خاصة في أحاديث الأحكام، بخلاف المغازي. ويحيى بن عباد بن عبدالله بن الزبير، وثقه ابن معين والنسائي، لكن في سماعه من جده نظر، فجده توفي سنة ثلاث وسبعين، وهو توفي بعد المائة، وهو ابن ست وثلاثين، فيبعد سماعه منه.
* الخلاصة:
الحديث ضعيف؛ لأن فيه ابن لهيعة وهو ضعيف، وفي الإسناد انقطاع.
والحديث الثاني في إسناده محمد بن إسحاق وقد تكلم فيه.
...রাদিয়াল্লাহু আনহু, এরপর তিনি আল-মিহরাসে আসলেন এবং তাঁর ঢালে করে পানি নিয়ে আসলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে পান করতে চাইলেন, কিন্তু তিনি তাতে দুর্গন্ধ পেলেন ফলে তা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করলেন। এরপর তিনি তা দিয়ে তাঁর চেহারায় থাকা রক্ত ধুয়ে ফেললেন এবং বলছিলেন: আল্লাহর ক্রোধ তাঁর ওপর অত্যন্ত কঠোর হয়েছে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা রক্তাক্ত করেছে। শব্দগুলো এভাবেই বর্ণিত, এতে 'আজিন' (পরিবর্তিত পানি) শব্দটি নেই। তবে এর অর্থ থেকে তা বোঝা যায়, এজন্য হাফিজ ইবনে হাজার 'আত-তালখীসুল হাবীর' (১/১৩৫) গ্রন্থে বলেছেন: এই অধ্যায়ে জুবাইরের হাদীসটি রয়েছে, যা উহুদ যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারার রক্ত ধোয়ার ব্যাপারে; যা 'আজিন' পানি অর্থাৎ পরিবর্তিত পানি দ্বারা ছিল। এটি বায়হাকী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।
ইমাম বায়হাকী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে (১/২৬৯) জুবাইরের হাদীসের সনদ সম্পর্কে বলেছেন: এটি একটি সংযুক্ত সনদ। সমাপ্ত।
আল-বূসীরী তাঁর 'ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারা' গ্রন্থে (৫/২২১) জুবাইরের হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: এই সনদটি সহীহ। সমাপ্ত।
আমি বলছি: এতে ওয়াহাব ইবনে জারীর রয়েছেন, যিনি নির্ভরযোগ্য; এবং তাঁর পিতা জারীর ইবনে হাযিমও নির্ভরযোগ্য, তবে তিনি যখন তাঁর স্মৃতি থেকে বর্ণনা করতেন তখন তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি হতো।
আর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের ব্যাপারে কথা হলো, তিনি একজন মুদাল্লিস, তবে তিনি (এই বর্ণনায়) সরাসরি শ্রবণের কথা স্পষ্ট করেছেন। তাঁর অবস্থা সম্পর্কে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে; তাঁদের কেউ তাঁকে গ্রহণ করেছেন, আবার কেউ তাঁর মাধ্যমে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে বিরত থেকেছেন, বিশেষ করে বিধান সংক্রান্ত হাদীসের ক্ষেত্রে, যা মাগাযী বা যুদ্ধ-ইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইরকে ইবনে মাঈন এবং নাসাঈ নির্ভরযোগ্য বলেছেন, কিন্তু তাঁর দাদা থেকে তাঁর শোনার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ; কেননা তাঁর দাদা ৭৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন, আর তিনি ১০০ হিজরীর পর ইন্তেকাল করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল ৩৬ বছর। ফলে তাঁর থেকে সরাসরি শোনাটা সুদূরপরাহত।
* সারসংক্ষেপ:
হাদীসটি দুর্বল; কারণ এতে ইবনে লাহীআ রয়েছেন যিনি দুর্বল, আর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।
আর দ্বিতীয় হাদীসটির সনদে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক রয়েছেন এবং তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(6) قوله: إذا بلغ الماء قلتين لم ينجسه شيء وفي راوية لم يحمل خبث. رواه أحمد وغيره.
رواه أبو داود (64)، وابن ماجه (517)، والترمذي (67)، وأحمد (2/ 27)، والبيهقي (1/ 261)، والطحاوي في شرح معاني الآثار (1/ 15)، والدارمي (1/ 186)، والدارقطني (1/ 21)، كلهم، من طريق محمد بن إسحاق، عن محمد بن جعفر بن الزبير، عن عبيدالله بن عبدالله بن عمر، عن أبيه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، سئل عن الماء، يكون بالفلاة من الأرض، وما ينوبه من الدواب والسباع؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا بلغ الماء قلتين لم ينجسه شيء.ورواه عن ابن إسحاق، كل من، يزيد بن هارون، وعبده بن سليمان، ومحمد بن أبي نعيم، وأحمد بن خالد الوهبي، ويزيد بن زريع، وابن المبارك، وأبومعاوية الضرير، وحماد بن سلمة، وعبد الرحيم بن سليمان الكندي، وسعيد بن زيد، وابن نمير، وإبراهيم بن سعد، وعباد بن عباد المهلبي، وجرير بن عبد الحميد، وزهير بن حرب، وزائدة بن قدامة، وغيرهم، وصرح ابن إسحاق بالتحديث عند الدارقطني.لكن أعل الحديث بأربع علل:الأولى: الاختلاف في إسناده؛ فقد رواه أبو داود (63)، والنسائي (1/ 46)، وعبد بن حميد في المنتخب (817)، وابن حبان (1018)، والحاكم (1/ 225)، والبيهقي (1/ 260 - 261)، كلهم، من طريق أبي أسامة، عن الوليد بن كثير، عن محمد بن جعفر، عن عبدالله المكبر، عن ابن عمر، بمثله، غير أنه قال: لم يحمل الخبث.
(৬) তাঁর কথা: যখন পানি দুই কুল্লা (এক বিশেষ পরিমাপ) পরিমাণ হয়, তখন কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না। অন্য বর্ণনায় এসেছে: এটি অপবিত্রতা বহন করে না। এটি আহমদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
এটি আবু দাউদ (৬৪), ইবনে মাজাহ (৫১৭), তিরমিজি (৬৭), আহমদ (২/২৭), বায়হাকি (১/২৬১), তাহাবি 'শারহু মাআনিল আসার' গ্রন্থে (১/১৫), দারেমি (১/১৮৬) এবং দারাকুতনি (১/২১) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সবাই মুহাম্মদ বিন ইসহাক-এর সূত্রে, তিনি মুহাম্মদ বিন জাফর বিন জুবায়ের থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (পিতা) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—তাঁকে মরুভূমির পানি এবং তাতে বিচরণকারী গবাদি পশু ও হিংস্র প্রাণীর আগমন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।আর ইবনে ইসহাক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন—ইয়াজিদ বিন হারুন, আবদাহ বিন সুলাইমান, মুহাম্মদ বিন আবু নুআইম, আহমদ বিন খালিদ আল-ওয়াহবি, ইয়াজিদ বিন জুরাই, ইবনুল মুবারক, আবু মুয়াবিয়া আদ-দারির, হাম্মাদ বিন সালামাহ, আব্দুর রহিম বিন সুলাইমান আল-কিন্দি, সাঈদ বিন যায়েদ, ইবনে নুমাইর, ইব্রাহিম বিন সাদ, আব্বাদ বিন আব্বাদ আল-মুহাল্লাবি, জারির বিন আব্দুল হামিদ, জুহাইর বিন হারব, যায়িদা বিন কুদামা এবং আরও অনেকে। আর ইবনে ইসহাক দারাকুতনির বর্ণনায় (হাদিসটি সরাসরি শ্রবণের কথা) স্পষ্ট করেছেন।তবে হাদিসটিকে চারটি ত্রুটির কারণে সমালোচিত করা হয়েছে:প্রথমত: এর সনদের ক্ষেত্রে মতভেদ; আবু দাউদ (৬৩), নাসায়ি (১/৪৬), আবদ বিন হুমাইদ 'আল-মুনতাখাব' গ্রন্থে (৮১৭), ইবনে হিব্বান (১০১৮), হাকেম (১/২২৫) এবং বায়হাকি (১/২৬০ - ২৬১) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সবাই আবু উসামার সূত্রে, তিনি ওয়ালিদ বিন কাসির থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জাফর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ আল-মুকাব্বার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে একই মর্মে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন: (পানি) অপবিত্রতা বহন করে না।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد رواه عن أبي أسامة هكذا، جمع منهم، عبد بن حميد، وإسحاق بن راهويه، وأبو بكر وعثمان ابنا أبي شيبة، ومحمد بن عبادة، ويعقوب الدورقي، والحسين بن حريث، وموسى بن عبدالرحمن الكندي، وأبو عبيدة بن أبي السفر، وهناد بن السري، والحسن بن علي بن عفان العامري، وأحمد بن جعفر، وغيرهم.
ورواه النسائي (1/ 175) قال: حدثنا الحسين بن حريث المروزي، قال: حدثنا أبو أسامة، عن الوليد بن كثير، عن محمد بن جعفر بن الزبير، عن عبيدالله بن عبدالله بن عمر، عن أبيه، بمثله مرفوعا، وتابع الحسين بن حريث في قوله: عبيد الله يحيى بن حسان، كما عند الدارمي (1/ 187)، والطحاوي في شرح معاني الآثار (1/ 15).
وأيضا تابعهم، حوثرة بن محمد البصري كما عند ابن خزيمة (1/ 49).
وتابعهم أيضا، محمد بن عبدالله بن المبارك، وموسى بن عبدالرحمن المسروقي، وابن أبي شيبة كما عند ابن حبان (118)، ومشكل الآثار (3/ 266).
ورواه أبو داود (65)، وابن الجارود في المنتقى (46)، وأبوداود الطيالسي (1954)، والطحاوي في شرح معاني الآثار (1/ 16)، كلهم، من طريق حماد، أخبرنا عاصم بن المنذرعبيدالله بن عبدالله بن عمر، قال: حدثني أبي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إذا كان الماء قلتين فإنه لا ينجس.
وخالف حماد بن سلمة؛ حماد بن زيد، فرواه عن عاصم بن المنذر، عن أبي بكر بن عبيدالله بن عبدالله بن عمر، عن أبيه موقوفا، كما قال الدارقطني (1/ 22)، فلما ذكر حديث حماد بن سلمة، قال: خالفه حماد بن زيد، فرواه
অনেক রাবী এটি আবু উসামা থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবদ ইবনে হুমায়দ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, আবু বকর ও উসমান (আবু শায়বার দুই ছেলে), মুহাম্মদ ইবনে উবাদাহ, ইয়াকুব আদ-দাওরাকি, আল-হুসাইন ইবনুল হুরাইস, মুসা ইবনে আবদুর রহমান আল-কিন্দি, আবু উবায়দাহ ইবনে আবিস সাফার, হান্নাদ ইবনুল সাররি, আল-হাসান ইবনে আলি ইবনে আফফান আল-আমিরি, আহমাদ ইবনে জাফর এবং আরও অনেকে।
নাসাঈ (১/১৭৫) এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আল-হুসাইন ইবনুল হুরাইস আল-মারওয়াযি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু উসামা আমাদের কাছে ওয়ালিদ ইবনে কাসির থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনুল যুবায়ের থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে তদ্রূপ মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর আল-হুসাইন ইবনুল হুরাইসকে "উবায়দুল্লাহ" বলার ক্ষেত্রে ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান অনুসরণ করেছেন, যেমনটি দারেমি (১/১৮৭) এবং ত্বহাভি তাঁর ‘শারহু মাআনিল আসার’ (১/১৫)-এ উল্লেখ করেছেন।
এছাড়াও হাওসারা ইবনে মুহাম্মদ আল-বসরি তাঁদের অনুসরণ করেছেন, যেমনটি ইবনে খুযাইমাহ (১/৪৯)-এ রয়েছে।
এছাড়া মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, মুসা ইবনে আবদুর রহমান আল-মাসরুকি এবং ইবনে আবি শায়বা তাঁদের অনুসরণ করেছেন, যেমনটি ইবনে হিব্বান (১১৮) এবং ‘মুশকিলুল আসার’ (৩/২৬৬)-এ রয়েছে।
আবু দাউদ (৬৫), ইবনুল জারুদ ‘আল-মুনতাকা’ (৪৬)-এ, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি (১৯৫৪) এবং ত্বহাভি ‘শারহু মাআনিল আসার’ (১/১৬)-এ এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই হাম্মাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আসিম ইবনুল মুনযির আমাদের জানিয়েছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন পানির পরিমাণ দুই কুল্লা হয়, তখন তা অপবিত্র হয় না।"
আর হাম্মাদ ইবনে সালামাহর বিরোধিতা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যায়িদ; তিনি এটি আসিম ইবনুল মুনযির থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে ‘মাওকুফ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি দারাকুতনি (১/২২) বলেছেন। তিনি যখন হাম্মাদ ইবনে সালামাহর হাদিসটি উল্লেখ করেন, তখন বলেন: হাম্মাদ ইবনে যায়িদ তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
عن عاصم بن المنذر، عن أبي بكر بن عبيدالله بن عبدالله بن عمر، موقوفا غير مرفوع، وكذلك رواه إسماعيل بن علية، عن عاصم بن المنذر، عن رجل لم يسمه، عن ابن عمر موقوفا أيضا. اهـ.
ورجح ابن معين الطريقين، فقال عباس الدوري، كما في تاريخ ابن معين (4/ 240): سمعت يحيى يقول: وسئل عن حماد بن سلمة، حديث عاصم بن المنذر بن الزبير، عن أبي بكر بن عبيدالله بن عبدالله بن عمر هذا خير الإسناد، أو قال يحيى: هذا جيد الإسناد. قيل له: فإن ابن علية لم يرفعه، قال يحيى: وإن لم يحفظه ابن علية؛ فالحديث جيد الإسناد، وهو أحسن من حديث الوليد بن كثير- يعني يحيى- في قصة الماء لا ينجسه شيء. اهـ.
ورواه البيهقي (1/ 261) من طريق شعيب بن أيوب، ثنا أبو أسامة، ثنا الوليد بن كثير، عن محمد بن جعفر بن الزبير، ومحمد بن عباد بن جعفر، عن عبدالله بن عبدالله بن عمر، عن أبيه، بمثله مرفوعا.
قلت: ومجمل ما حصل في إسناده من اضطراب؛ أن الحديث مداره على الوليد بن كثير؛ فرواه مرة، عن محمد بن جعفر بن الزبير، ومرة، عن محمد بن عباد بن جعفر، وابن جعفر اختلف عليه؛ فتارة يروى عنه، عن عبيدالله بن عبدالله بن عمر المصغر، وتارة يروى عنه، عن عبدالله بن عبدالله بن عمر.
ولهذا ضعف بعض العلماء، حديث القلتين؛ فقال ابن عبد البر في التمهيد (1/ 335): أما ما ذهب إليه الشافعي، من حديث القلتين، فمذهب ضعيف من جهة النظر، غير ثابت من جهة الأثر؛ لأنه حديث تكلم فيه جماعة من أهل العلم بالنقل. اهـ.
আসিম বিন আল-মুনযির থেকে বর্ণিত, তিনি আবু বকর বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, এটি মাওকুফ (সাহাবীর উক্তি) হিসেবে বর্ণিত, মারফু (রাসূলের উক্তি) হিসেবে নয়। একইভাবে ইসমাইল বিন উলাইয়্যাহ এটি আসিম বিন আল-মুনযির থেকে, তিনি এক অজ্ঞাত ব্যক্তি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে মাওকুফ হিসেবেই বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।
ইবনে মাঈন উভয় সূত্রকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। আব্বাস আদ-দুরি 'তারিখে ইবনে মাঈন' (৪/ ২৪০) গ্রন্থে বলেছেন: আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি—তাকে হাম্মাদ বিন সালামাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—আসিম বিন আল-মুনযির বিন আল-যুবাইর, আবু বকর বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন, এটিই সর্বোত্তম সনদ। অথবা ইয়াহইয়া বলেছেন: এটি একটি উত্তম সনদ। তাকে বলা হলো: কিন্তু ইবনে উলাইয়্যাহ তো একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি। ইয়াহইয়া বললেন: ইবনে উলাইয়্যাহ এটি (মারফু হিসেবে) সংরক্ষণ না করলেও হাদিসটির সনদ উত্তম; এবং এটি ওয়ালিদ বিন কাসীর বর্ণিত হাদিসের চেয়ে—অর্থাৎ ইয়াহইয়া বুঝিয়েছেন—পানির ঘটনায় 'কোনো কিছু পানিকে অপবিত্র করে না' শীর্ষক হাদিসের চেয়ে উত্তম। সমাপ্ত।
বায়হাকি (১/ ২৬১) শুআইব বিন আইয়ুব-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়ালিদ বিন কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আল-যুবাইর এবং মুহাম্মদ বিন আব্বাদ বিন জাফর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে অনুরূপ মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: এর সনদে যে অস্থিরতা (ইযতিরাব) ঘটেছে তার সারসংক্ষেপ হলো—এই হাদিসটির মূল আবর্তন ওয়ালিদ বিন কাসীরকে কেন্দ্র করে। তিনি এটি কখনো মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আল-যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, আবার কখনো মুহাম্মদ বিন আব্বাদ বিন জাফর থেকে। ইবনে জাফরের বর্ণনায় মতভেদ ঘটেছে; কখনও তার থেকে উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর (নামের ক্ষুদ্রার্থ রূপ) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আবার কখনও তার থেকে আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
এ কারণেই কোনো কোনো আলেম 'কুল্লাতাইন' (দুই মটকা পানি) সংক্রান্ত হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইবনে আব্দুল বার 'আত-তামহিদ' (১/ ৩৩৫) গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম শাফেঈ কুল্লাতাইনের হাদিস থেকে যে মত গ্রহণ করেছেন, তা যুক্তির নিরিখে একটি দুর্বল মত এবং বর্ণনার বিচারে তা প্রমাণিত নয়; কারণ এটি এমন একটি হাদিস যা নিয়ে একদল হাদীস বিশারদ সমালোচনা করেছেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وقال أيضا ابن عبد البر في التمهيد (1/ 329): هو حديث، يرويه محمد بن إسحاق، والوليد بن كثير، عن محمد بن جعفر بن الزبير، وبعض رواة الوليد بن كثير، يقول فيه عنه: عن محمد بن عباد بن جعفر، ولم يختلف، عن الوليد بن كثير، أنه قال فيه: عن عبدالله بن عبدالله بن عمر، عن أبيه، يرفعه، ومحمد بن إسحاق يقول فيه: عن محمد بن جعفر بن الزبير، عن عبيدالله بن عبدالله بن عمر، عن أبيه، وعاصم أيضا؛ فالوليد يجعله، عن عبدالله بن عبدالله، ومحمد بن إسحاق يجعله، عن عبيدالله بن عبدالله، ورواه عاصم بن المنذر، عن عبيدالله بن عبدالله بن عمر، عن أبيه؛ فاختلف فيه عليه أيضا؛ فقال: حماد بن سلمة، عن عاصم بن المنذر، عن عبيدالله بن عبدالله بن عمر، عن أبيه، وقال فيه: حماد بن زيد، عن عاصم بن المنذر، عن أبي بكر ابن عبيدالله، عن عبدالله بن عمر. وقال حماد بن سلمة فيه: إذا كان الماء، قلتين، أو ثلاثا، لم ينجسه شيء، وقال بعضهم: يقول فيه: إذا كان الماء قلتين، لم يحمل الخبث، وهذا اللفظ محتمل للتأويل، ومثل هذا الاضطراب في الإسناد، يوجب التوقف، عن القول بهذا الحديث، إلى أن القلتين غير معروفتين، ومحال أن يتعبد الله عباده بما لا يعرفونه. اهـ.
وقال أبو بكر بن العربي، في عارضة الأحوذي (1/ 84): وحديث القلتين، مداره على مطعون عليه، مضطرب في الرواية. اهـ.
قلت: ويظهر والله أعلم، أن الترجيح فيه ممكن؛ فلعل الصحيح في الإسناد، أن شيخ محمد بن جعفر هو عبيدالله المصغر، لا عبدالله المكبر؛ فقد رواه جمع من الثقات، عن أبي أسامة، عن الوليد بن كثير عنه، كما سبق.
وأيضا توبع الوليد بن كثير، على ذكر عبيدالله فقد تابعه محمد بن
ইবনে আবদিল বার 'আত-তামহিদ' (১/৩২৯) গ্রন্থে আরও বলেছেন: এটি একটি হাদিস যা মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক এবং ওয়ালিদ ইবনে কাসির মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন। ওয়ালিদ ইবনে কাসিরের কিছু বর্ণনাকারী তার সূত্রে বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর থেকে। তবে ওয়ালিদ ইবনে কাসিরের সূত্রে এতে কোনো দ্বিমত নেই যে তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক এটি মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে যুবায়ের থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং আসিম থেকেও বর্ণনা করেছেন। সুতরাং ওয়ালিদ একে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে সাব্যস্ত করেন এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক একে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে সাব্যস্ত করেন। আসিম ইবনুল মুনজিরও এটি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে তাঁর (আসিম) ক্ষেত্রেও মতভেদ দেখা দিয়েছে। হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বলেছেন: আসিম ইবনুল মুনজির থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে। আর হাম্মাদ ইবনে যায়েদ এতে বলেছেন: আসিম ইবনুল মুনজির থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে। হাম্মাদ ইবনে সালামাহ এতে বর্ণনা করেছেন: "যখন পানি দুই কুল্লাহ বা তিন কুল্লাহ হবে, তখন কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করবে না।" আবার কেউ কেউ এতে বলেছেন: "যখন পানি দুই কুল্লাহ হবে, তখন তা নাপাকি বহন করবে না।" এই শব্দগুলো ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে এবং সনদের এই জাতীয় অস্থিতিশীলতা (ইযতিরাব) এই হাদিস অনুযায়ী মত প্রদান করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক করে দেয়; সেই সাথে দুই কুল্লাহর পরিমাণ অজ্ঞাত, আর আল্লাহর পক্ষে তাঁর বান্দাদের এমন কিছু দ্বারা ইবাদত করানো অসম্ভব যা তারা জানে না। সমাপ্ত।
আবু বকর ইবনুল আরাবি 'আরিদাতুল আহওয়াযি' (১/৮৪) গ্রন্থে বলেছেন: দুই কুল্লাহর হাদিসটির মূল ভিত্তি এমন এক ব্যক্তির ওপর যার সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে এবং হাদিসটি বর্ণনার ক্ষেত্রে অস্থিতিশীল। সমাপ্ত।
আমি বলি: আল্লাহই ভালো জানেন, এতে প্রাধান্য নির্ধারণ করা (তারজিহ) সম্ভব। সম্ভবত সনদে সঠিক হলো, মুহাম্মদ ইবনে জাফরের উস্তাদ হলেন উবায়দুল্লাহ (নামের ক্ষুদ্রার্থক রূপ), আবদুল্লাহ নন। কেননা একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী আবু উসামার সূত্রে ওয়ালিদ ইবনে কাসির থেকে তাঁর মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
তাছাড়া উবায়দুল্লাহর নাম উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ওয়ালিদ ইবনে কাসিরের অনুসরণ করা হয়েছে; কারণ মুহাম্মদ ইবনে...
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
إسحاق، ورواه عن محمد بن إسحاق جمع من الثقات كما سبق.
وروي عن محمد بن إسحاق، بأسانيد أخرى ضعيفة، رواه ابن عدي في الكامل، وابن حبان في الثقات، والدارقطني، وقد أعرضت عنها اختصارا، ولشدة ضعفها، فلا يحسن الوقوف عليها.
ويحتمل أن يكون كلاهما محفوظا، لهذا قال البيهقي (1/ 327)، لما روى إسناد شعيب بن أيوب: وكذلك رواه أبو الحسن الدارقطني- رحمه الله عن أبي بكر بن سعدان، عن شعيب، فالحديث محفوظ عنهما جميعا؛ إلا أن غير أبي أسامة، يرويه، عن عبدالله بن عبدالله بن عمر؛ فكان شيخنا أبو عبدالله الحافظ يقول: الحديث محفوظ عنهما جميعا، وكلاهما رواه عن أبيه، وإليه ذهب كثير من أهل الرواية، وكان إسحاق بن إبراهيم الحنظلي- رحمه الله يقول: غلط أبو أسامة في عبدالله بن عبدالله؛ إنما عبيدالله بن عبد الله، واستدل بما رواه عن عيسى بن يونس، عن الوليد بن كثير، عن محمد بن جعفر بن الزبير، عن عبيدالله بن عبدالله بن عمر قال: سئل النبي صلى الله عليه وسلم فذكره، إلا أن عيسى بن يونس أرسله، وروايته في كتاب إسماعيل بن سعد الكسائي، عن إسحاق بن إبراهيم، عن عيسى بن يونس موصولا، ورواه عباد بن صهيب، عن الوليد، وقال، عن عبيدالله بن عبدالله، عن أبيه موصولا، والحديث مسند الأصل .... اهـ.
وقال الحافظ ابن حجر في التلخيص الحبير (1/ 28): قال ابن منده: إسناده على شرط مسلم، ومداره على الوليد بن كثير، فقيل عنه: عن محمد بن جعفر بن الزبير
… ، وتارة يرويه، عن عبيدالله بن عبدالله بن عمر، وتارة يرويه، عن عبدالله بن عبدالله بن عمر، والجواب: أن هذا ليس اضطرابا
ইসহাক, এবং যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এটি মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে আরও কিছু দুর্বল সনদে এটি বর্ণিত হয়েছে, যা ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে, ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে এবং আদ-দারাকুতনী বর্ণনা করেছেন। আমি সংক্ষেপ করার নিমিত্তে এবং অত্যধিক দুর্বলতার কারণে সেগুলো এড়িয়ে গেছি, তাই সেগুলোর ওপর গুরুত্ব প্রদান করা সংগত নয়।
এবং সম্ভাবনা রয়েছে যে উভয় বর্ণনাই সংরক্ষিত (মাহফুজ)। এই কারণেই বাইহাকী (১/৩২৭) শুআইব বিন আইয়ুবের সনদ বর্ণনা করার সময় বলেছেন: অনুরূপভাবে আবুল হাসান আদ-দারাকুতনী (রহিমাহুল্লাহ) আবু বকর বিন সা’দান থেকে, তিনি শুআইব থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং হাদীসটি তাদের উভয়ের পক্ষ থেকেই সংরক্ষিত; তবে আবু উসামা ব্যতীত অন্যরা এটি আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। আমাদের শায়খ আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ বলতেন: হাদীসটি উভয়ের পক্ষ থেকেই সংরক্ষিত এবং তারা উভয়ই তাদের পিতা থেকে তা বর্ণনা করেছেন। হাদীস বর্ণনাকারীদের অনেকেই এই মতের দিকে গিয়েছেন। ইসহাক বিন ইবরাহীম আল-হানজালী (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন: আবু উসামা ‘আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ’ বলার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন; এটি মূলত হবে ‘উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ’। তিনি এর সপক্ষে ঈসা বিন ইউনুস থেকে বর্ণিত রেওয়ায়াতটি দলিল হিসেবে পেশ করেছেন, যা তিনি ওয়ালিদ বিন কাসীর থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জাফর বিন যুবায়ের থেকে এবং তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, অতপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। তবে ঈসা বিন ইউনুস এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইসমাঈল বিন সা’দ আল-কিসায়ীর গ্রন্থে ইসহাক বিন ইবরাহীম থেকে ঈসা বিন ইউনুসের সূত্রে এটি মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আব্বাদ বিন সুহাইব এটি ওয়ালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহর সূত্রে তার পিতা থেকে এটি মুত্তাসিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মূলত হাদীসটি মুসনাদ... সমাপ্ত।
হাফিজ ইবনে হাজার 'আত-তালখীসুল হাবীর' (১/২৮) গ্রন্থে বলেন: ইবনে মানদাহ বলেছেন: এর সনদ ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী এবং এর আবর্তন ওয়ালিদ বিন কাসীরের ওপর। কখনও তার থেকে মুহাম্মদ বিন জাফর বিন যুবায়েরের সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে
… আবার কখনও তিনি তা উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, আবার কখনও আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এর উত্তর হলো: এটি কোনো ইযতিরাব (বর্ণনার বৈচিত্র্যজনিত অস্থিরতা) নয়।
(খণ্ড: ১)
রওদাতুল মুমতি ফী তাখরীজি আহাদীসির রওদিল মুরবি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فادحا؛ فإنه على تقدير أن يكون الجميع محفوظا؛ انتقال من ثقة إلى ثقة، ثم قال الحافظ ابن حجر: وعند التحقيق الصواب:
… ، عن عبيدالله بن عبدالله بن عمر المصغر، ومن رواه على غير هذا الوجه فقد وهم. اهـ.
وتعقبه الشيخ أحمد شاكر- رحمه الله في تعليقه على سنن الترمذي (1/ 99)، فقال: وما قاله الحافظ من التحقيق غير جيد، والذي يظهر من تتبع الروايات، أن الوليد بن كثير، رواه عن محمد بن جعفر بن الزبير، وعن محمد بن عباد بن جعفر، وأنهما كلاهما، روياه، عن عبدالله وعبيد الله ابني عبدالله بن عمر، عن أبيهما .... اهـ.
وقال ابن الملقن في البدر المنير (2/ 95): وقال الدارقطني في سننه وعلله: رواه الوليد بن كثير، عن المحمدين، فصح القولان، عن أبي أسامة، وصح أن الوليد بن كثير، رواه عن هذا مرة، وعن الآخر أخرى، وكذا قال الإمام الرافعي في شرح المسند: الظاهر عند الأكثرين، صحة الروايتين، وقال في التذنيب: الأكثرون صححوا الروايتين، وقالوا: إن عبدالله وعبيد الله روياه، عن أبيهما .... اهـ.
وقال عبد الحق الإشبيلي في الأحكام الوسطى (1/ 154): هذا صحيح؛ لأنه قد صح؛ أن الوليد بن كثير روى هذا الحديث، عن محمد بن جعفر بن الزبير، وعن محمد بن عباد بن جعفر، كلاهما، عن عبدالله بن عبدالله بن عمر .... اهـ.
أما شيخ الوليد بن كثير؛ فيحتمل أنه محمد بن عباد بن جعفر، ويحتمل أن يكون، عن محمد بن جعفر بن الزبير، ويحتمل الوجهين، وبكل وجه قال الأئمة؛ أما الوجه الأول، فهو عند أبي داود (63)، وابن الجارود في المنتقى
গুরুতর; কারণ এটি এই অনুমানের ভিত্তিতে যে সবগুলোই সংরক্ষিত; এটি এক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে অন্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর নিকট স্থানান্তর। অতঃপর হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: অনুসন্ধানে সঠিক বিষয় হলো:
… , উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-মুসাগগার থেকে বর্ণিত; আর যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোনোভাবে বর্ণনা করেছে সে মূলত ভ্রমের শিকার হয়েছে। সমাপ্ত।
আর শায়খ আহমদ শাকের—রাহিমাহুল্লাহ—সুনানে তিরমিযীর (১/৯৯) ওপর তাঁর টিকায় এর সমালোচনা করে বলেছেন: হাফেজ ইবনে হাজার গবেষণালব্ধ যা বলেছেন তা যথাযথ নয়। বর্ণনাসমূহ পর্যালোচনায় যা স্পষ্ট হয় তা হলো, ওয়ালিদ ইবনে কাসির এটি মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে যুবায়ের এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন; আর তারা উভয়েই এটি আব্দুল্লাহ ও উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন—যারা আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের দুই পুত্র—তাঁদের পিতার সূত্রে... সমাপ্ত।
ইবনুল মুলক্কিন আল-বাদরুল মুনীর গ্রন্থে (২/৯৫) বলেন: দারাকুতনী তাঁর সুনান ও ইলাল গ্রন্থে বলেছেন: ওয়ালিদ ইবনে কাসির এটি দুই মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে আবু উসামাহ থেকে উভয় বক্তব্যই সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে। এটিও সহীহ যে, ওয়ালিদ ইবনে কাসির এটি একবার একজনের থেকে এবং অন্যবার অন্যজনের থেকে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ইমাম রাফেয়ী শারহুল মুসনাদে বলেছেন: অধিকাংশের নিকট উভয় বর্ণনা সহীহ হওয়াই স্পষ্ট। তিনি আত-তাযনীবে বলেছেন: অধিকাংশ আলেম উভয় বর্ণনাকে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন যে, আব্দুল্লাহ ও উবাইদুল্লাহ এটি তাঁদের পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন... সমাপ্ত।
আব্দুল হক আল-ইশবিলি আল-আহকামুল উসতা গ্রন্থে (১/১৫৪) বলেন: এটি সহীহ; কারণ এটি প্রমাণিত যে ওয়ালিদ ইবনে কাসির এই হাদিসটি মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে যুবায়ের এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর—উভয় সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন... সমাপ্ত।
আর ওয়ালিদ ইবনে কাসিরের উস্তাদের ব্যাপারে সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর, আবার সম্ভাবনা রয়েছে তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, অথবা উভয় হওয়ারও সম্ভাবনা আছে; ইমামগণ প্রতিটি মতই ব্যক্ত করেছেন। প্রথম মতটি আবু দাউদ (৬৩) এবং ইবনুল জারুদ আল-মুনতাকা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।