(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مجلة الأحكام العدلية (مجموعة من المؤلفين)
القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: مجلة الأحكام العدلية
المؤلف: لجنة مكونة من عدة علماء وفقهاء في الخلافة العثمانية
المحقق: نجيب هواويني
الناشر: نور محمد، كارخانه تجارتِ كتب، آرام باغ، كراتشي
عدد الصفحات: 376
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ (একদল লেখক)
বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ
বই: মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
লেখক: উসমানীয় খিলাফতের একাধিক আলিম ও ফকীহগণের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি
সম্পাদক: নাজীব হাওয়াওয়িনী
প্রকাশক: নূর মুহাম্মদ, কারখানায়ে তিজারাতে কুতুব, আরামবাগ, করাচি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৬
[বইটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[مجلة الأحكام العدلية]ـالمؤلف: لجنة مكونة من عدة علماء وفقهاء في الخلافة العثمانيةالناشر: نور محمد، كارخانه تجارتِ كتب، آرام باغ، كراتشيعدد الأجزاء: 1[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ]লেখক: উসমানীয় খিলাফতের বেশ কয়েকজন আলিম ও ফকীহ সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটিপ্রকাশক: নূর মুহাম্মদ, কারখানায়ে তিজারতে কুতুব, আরাম বাগ, করাচিখণ্ড সংখ্যা: ১[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুসারী]
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
نبذة عن المجلة أنشأت مجلة الأحكام العدلية بعد توقف حرب القرم الأولى بين المسلمين العثمانيين والروس والتي أدت إلى بقاء جالية إسلامية ضخمة تحت سلطة الروس فطلبت السلطنة العثمانية من الكنيسة الأرثوذكسية في موسكو تقنينا واضحا لكيفية معاملة الرعايا المسلمين مما دفع الروس للرد بالمثل فأنشأ السلطان عبد المجيد لجنة من الفقهاء الحنفية مع مساهمين من المذاهب الثلاث الأخرى مراقبين لتقنين القضاء والأحكام الفقهية الإسلامية فصدرت مجلة الأحكام العدلية والتي هي مجموعة من التشريعات مكونة من ستة عشر كتاب أولها كتاب البيوع واخرها كتاب القضاء، صدر آخر أعدادها في فترة الخلافة العثمانية في شعبان سنة 1293 هجرية 1882ميلادية وإلى جانب التقنين الفقهي الإسلامي جرى تقنين لما يخص القضاء الأحوال المدنية في شؤون جميع الأديان والمذاهب في الدولة العثمانية. مراحل تاريخيةامتد إصدار المجلة قرابة ستة عقود وقد تقلب وضعها خلال هذه العقود من دور كبير جدا شبيه بما تؤديه المحكمة العليا حاليا ثم تراجع وضعها مع تعنت فقهاء الحنفية في عدم الخروج عن المذهب مما دفع السلطنة لتوطين قوانين اقتصادية بالدرجة الأساسية أوربية وبعد تراجع أهميتها جرى تأصيل لأحكامها بما يسمى القواعد الفقهية تشبه ما يسمى حاليا الفقه القضائي ماهية التشريع والترتيبهو أول تدوين للفقة الإسلامي في المجال المدني في اطار بنود قانونية، على مدهب الامام ابي حنيفة النعمان. مكونة من ستة عشر كتاب، أولها كتاب البيوع واخرها كتاب القضاء كل كتاب يتناول موضوع ومكون من أبواب وكل باب مكون من فصول. الأثر القانونيهي القاعدة التي بني عليها قانون الأحوال الشخصية وقانون العقوبات في اغلب الدول العربية، وهو ساري المفعول في قطاع غزة كقانون مدني وما تزال المرجع الأساسي لقانون الأحوال الشخصية وتقسيمات المذاهب اليهودية في إسرائيل، يوجد عدة تراجم للغة العربية مع الشرح منها لفهمي الحسيني
মাজাল্লা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ওসমানীয় মুসলিম এবং রুশদের মধ্যে প্রথম ক্রিমিয়ার যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পর মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যাহ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই যুদ্ধের ফলে একটি বিশাল মুসলিম জনপদ রুশদের কর্তৃত্বের অধীনে চলে গিয়েছিল। তখন ওসমানীয় সালতানাত মস্কোর অর্থোডক্স চার্চের কাছে মুসলিম প্রজাদের সাথে আচরণের বিষয়ে একটি স্পষ্ট আইনী নীতিমালা দাবি করে। এর প্রেক্ষিতে রুশ পক্ষ থেকেও অনুরূপ দাবি উত্থাপিত হলে, সুলতান আব্দুল মাজিদ হানাফী ফকীহদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেন। সেখানে অন্য তিনটি মাযহাবের ফকীহগণ পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল বিচার ব্যবস্থা এবং ইসলামী ফিকহী বিধানসমূহকে সংহিতাবদ্ধ করা। এভাবেই মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যাহর উদ্ভব ঘটে। এটি ষোলটি গ্রন্থের সমন্বয়ে গঠিত একটি আইনী সংকলন, যার প্রথমটি হলো ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় এবং শেষটি হলো বিচার ব্যবস্থা অধ্যায়। এর শেষ খণ্ডটি ওসমানীয় খিলাফতের আমলে ১২৯৩ হিজরী মোতাবেক ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়। ইসলামী ফিকহী সংহিতাকরণের পাশাপাশি ওসমানীয় সাম্রাজ্যের সমস্ত ধর্ম ও মাযহাবের অনুসারীদের দেওয়ানী অবস্থা ও বিচার বিভাগীয় বিষয়াবলীও সংহিতাবদ্ধ করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক পর্যায়সমূহমাজাল্লার প্রকাশনা ও কার্যকারিতা প্রায় ছয় দশক ধরে বিস্তৃত ছিল। এই সময়ের মধ্যে এর গুরুত্বের নানা চড়াই-উতরাই ঘটে। এক পর্যায়ে এর ভূমিকা বর্তমানের সুপ্রিম কোর্টের মতো অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিল। পরবর্তীতে হানাফী ফকীহদের নিজ মাযহাবের গণ্ডির বাইরে না যাওয়ার ব্যাপারে অনমনীয় অবস্থানের কারণে এর গুরুত্ব কিছুটা হ্রাস পায়। এটি সালতানাতকে মূলত ইউরোপীয় ধাঁচের অর্থনৈতিক আইনগুলো গ্রহণ করতে বাধ্য করে। এর গুরুত্ব কমে যাওয়ার পর এর বিধানগুলোকে 'কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ' বা ফিকহী মূলনীতি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যা বর্তমানে বিচারিক ফিকহ (জুডিশিয়াল ফিকহ) হিসেবে পরিচিত। আইনের স্বরূপ ও বিন্যাসএটি ইমাম আবু হানিফা আন-নু’মানের মাযহাবের ভিত্তিতে আইনী ধারার কাঠামোতে দেওয়ানী ক্ষেত্রে ইসলামী ফিকহের সর্বপ্রথম সংকলন। এটি ষোলটি গ্রন্থের সমন্বয়ে গঠিত, যার প্রথমটি ক্রয়-বিক্রয় এবং শেষটি বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত। প্রতিটি গ্রন্থ নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর আলোকে বিন্যস্ত এবং প্রতিটি গ্রন্থ একাধিক অধ্যায় ও অনুচ্ছেদে বিভক্ত। আইনী প্রভাবএটি এমন একটি ভিত্তি যার ওপর অধিকাংশ আরব রাষ্ট্রের ব্যক্তিগত আইন (পার্সোনাল ল) এবং দণ্ডবিধি নির্মিত হয়েছে। গাজা উপত্যকায় এটি দেওয়ানী আইন হিসেবে এখনও কার্যকর। এমনকি ইসরায়েলে ইহুদিদের ব্যক্তিগত আইন এবং তাদের মাযহাবগত বিভাজনের ক্ষেত্রে এটি এখনও প্রধান রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফাহমি আল-হুসাইনির ব্যাখ্যাসহ এর বেশ কিছু অনুবাদ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الْمُقَدَّمَةُمُحْتَوِيَةٌ عَلَى مَقَالَتَيْنِ:الْمَقَالَةُ الْأُولَى فِي تَعْرِيفِ عِلْمِ الْفِقْهِ وَتَقْسِيمِهِ(الْمَادَّةُ 1) : الْفِقْهُ: عِلْمٌ بِالْمَسَائِلِ الشَّرْعِيَّةِ الْعَمَلِيَّةِ الْمُكْتَسَبَةِ مِنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ.وَالْمَسَائِلُ الْفِقْهِيَّةُ إمَّا أَنْ تَتَعَلَّقَ بِأَمْرِ الْآخِرَةِ وَهِيَ الْعِبَادَاتُ ، وَإِمَّا أَنْ تَتَعَلَّقَ بِأَمْرِ الدُّنْيَا ، وَهِيَ تَنْقَسِمُ إلَى:مُنَاكَحَاتٍوَمُعَامَلَاتٍوَعُقُوبَاتٍ ،فَإِنَّ الْبَارِيَ تَعَالَى أَرَادَ بَقَاءَ هَذَا الْعَالَمِ إلَى وَقْتٍ قَدَّرَهُ ، وَهُوَ إنَّمَا يَكُونُ بِبَقَاءِ النَّوْعِ الْإِنْسَانِيِّ ، وَذَلِكَ يَتَوَقَّفُ عَلَى ازْدِوَاجِ الذُّكُورِ مَعَ الْإِنَاثِ لِلتَّوَلُّدِ وَالتَّنَاسُلِ.ثُمَّ إنَّ بَقَاءَ نَوْعِ الْإِنْسَانِ إنَّمَا يَكُونُ بِعَدَمِ انْقِطَاعِ الْأَشْخَاصِ.وَالْإِنْسَانُ بِحَسَبِ اعْتِدَالِ مِزَاجِهِ يَحْتَاجُ لِلْبَقَاءِ فِي الْأُمُورِ الصِّنَاعِيَّةِ إلَى الْغِذَاءِ وَاللِّبَاسِ وَالْمَسْكَنِ ، وَذَلِكَ أَيْضًا يَتَوَقَّفُ عَلَى التَّعَاوُنِ وَالتَّشَارُكِ بِبَسْطِ بِسَاطِ الْمَدَنِيَّةِ ، وَالْحَالُ أَنَّ كُلَّ شَخْصٍ يَطْلُبُ مَا يُلَائِمُهُ وَيَغْضَبُ عَلَى مَنْ يُزَاحِمُهُ ، فَلِأَجْلِ بَقَاءِ الْعَدْلِ وَالنِّظَامِ بَيْنَهُمْ مَحْفُوظَيْنِ مِنْ الْخَلَلِ يُحْتَاجُ إلَى قَوَانِينَ مُؤَيَّدَةٍ شَرْعِيَّةٍ فِي أَمْرِ الِازْدِوَاجِ ، وَهِيَ قِسْمُ الْمُنَاكَحَاتِ مِنْ عِلْمِ الْفِقْهِ.وَفِيمَا بِهِ التَّمَدُّنُ مِنْ التَّعَاوُنِ وَالتَّشَارُكِ وَهِيَ قِسْمُ الْمُعَامَلَاتِ مِنْهُ، وَلِاسْتِقْرَارِ أَمْرِ التَّمَدُّنِ عَلَى هَذَا الْمِنْوَالِ لَزِمَ تَرْتِيبُ أَحْكَامِ الْجَزَاءِ ، وَهِيَ قِسْمُ الْعُقُوبَاتِ مِنْ الْفِقْهِ.
ভূমিকাযা দুইটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:প্রথম পরিচ্ছেদ: ফিকহ শাস্ত্রের সংজ্ঞা ও এর শ্রেণিবিভাগ প্রসঙ্গে(ধারা ১): ফিকহ হলো বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ হতে আহরিত ব্যবহারিক শরয়ি বিধানাবলি সম্পর্কিত জ্ঞান।ফিকহ শাস্ত্রীয় বিষয়াবলি হয় আখেরাতের বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হবে, যা হলো ইবাদতসমূহ; অথবা তা দুনিয়াবি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হবে, যা নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত:মুনাকাহাত (বিবাহ ও দাম্পত্য সম্পর্কীয়)মুয়ামালাত (লেনদেন ও সামাজিক কার্যাবলি)এবং উকুবাত (দণ্ডবিধি),কেননা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা এই জগতকে তাঁর নির্ধারিত একটি সময় পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে চেয়েছেন, আর তা কেবল মানবজাতির অস্তিত্ব টিকে থাকার মাধ্যমেই সম্ভব। আর এটি সন্তান জন্মদান ও বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে নর-নারীর যুগলবদ্ধ হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।অতঃপর মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষা কেবল ব্যক্তিবর্গের ধারা নিরবচ্ছিন্ন থাকার মাধ্যমেই সম্ভব হয়।আর মানুষ তার স্বভাবজাত ভারসাম্য অনুযায়ী বেঁচে থাকার জন্য ব্যবহারিক ক্ষেত্রে খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের মুখাপেক্ষী। আর এটিও নাগরিক সভ্যতার বিস্তারের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বাস্তবতা হলো, প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের অনুকূল জিনিসটিই কামনা করে এবং যে ব্যক্তি তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার ওপর ক্রোধান্বিত হয়। সুতরাং তাদের মাঝে ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাকে বিশৃঙ্খলা হতে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে বিবাহ ও যুগলবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে শরয়ি সমর্থিত আইনের প্রয়োজন হয়, আর এটিই হলো ফিকহ শাস্ত্রের মুনাকাহাত (বিবাহ) অংশ।এবং সভ্যতা বিকাশে প্রয়োজনীয় পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও (শরয়ি আইনের প্রয়োজন হয়), যা ফিকহ শাস্ত্রের মুয়ামালাত (লেনদেন) অংশ। আর নাগরিক সভ্যতার এই ধারাকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে দণ্ডবিধির বিধানসমূহ বিন্যস্ত করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যা ফিকহ শাস্ত্রের উকুবাত (দণ্ডবিধি) অংশ।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَهَا هُوَ ذَا قَدْ بُوشِرَ تَأْلِيفُ هَذِهِ الْمَجَلَّةِ مِنْ الْمَسَائِلِ الْكَثِيرَةِ الْوُقُوعِ فِي الْمُعَامَلَاتِ غِبَّ اسْتِخْرَاجِهَا وَجَمْعِهَا مِنْ الْكُتُبِ الْمُعْتَبَرَةِ وَتَقْسِيمِهَا إلَى كُتُبٍ وَتَقْسِيمِ الْكُتُبِ إلَى أَبْوَابٍ وَالْأَبْوَابِ إلَى فُصُولٍ.فَالْمَسَائِلُ الْفَرْعِيَّةُ الَّتِي يُعْمَلُ بِهَا فِي الْمَحَاكِمِ هِيَ الْمَسَائِلُ الَّتِي سَتُذْكَرُ فِي الْأَبْوَابِ وَالْفُصُولِ ; لِأَنَّ الْمُحَقِّقِينَ مِنْ الْفُقَهَاءِ قَدْ أَرْجَعُوا الْمَسَائِلَ الْفِقْهِيَّةَ إلَى قَوَاعِدَ كُلِّيَّةٍ كُلٌّ مِنْهَا ضَابِطٌ وَجَامِعٌ لِمَسَائِلَ كَثِيرَةٍ.وَتِلْكَ الْقَوَاعِدُ مُسَلَّمَةٌ مُعْتَبَرَةٌ فِي الْكُتُبِ الْفِقْهِيَّةِ تُتَّخَذُ أَدِلَّةً لِإِثْبَاتِ الْمَسَائِلِ وَتَفَهُّمِهَا فِي بَادِئِ الْأَمْرِ فَذِكْرُهَا يُوجِبُ الِاسْتِئْنَاسَ بِالْمَسَائِلِ وَيَكُونُ وَسِيلَةً لِتَقَرُّرِهَا فِي الْأَذْهَانِ ، فَلِذَا جُمِعَ تِسْعٌ وَتِسْعُونَ قَاعِدَةً فِقْهِيَّةً. وَحُرِّرَتْ مَقَالَةٌ ثَانِيَةٌ فِي الْمُقَدِّمَةِ عَلَى مَا سَيَأْتِي.ثُمَّ إنَّ بَعْضَ هَذِهِ الْقَوَاعِدِ وَإِنْ كَانَ بِحَيْثُ إذَا انْفَرَدَ يُوجَدُ مِنْ مُشْتَمِلَاتِهِ بَعْضُ الْمُسْتَثْنَيَاتِ لَكِنْ لَا تَخْتَلُّ كُلِّيَّتُهَا وَعُمُومُهَا مِنْ حَيْثُ الْمَجْمُوعُ لِمَا أَنَّ بَعْضَهَا يُخَصِّصُ وَيُقَيِّدُ بَعْضًا.الْمَقَالَةُ الثَّانِيَةُ فِي بَيَانِ الْقَوَاعِدِ الْكُلِّيَّةِ الْفِقْهِيَّةِ(الْمَادَّةُ 2) : الْأُمُورُ بِمَقَاصِدِهَا.يَعْنِي: أَنَّ الْحُكْمَ الَّذِي يَتَرَتَّبُ عَلَى أَمْرٍ يَكُونُ عَلَى مُقْتَضَى مَا هُوَ الْمَقْصُودُ مِنْ ذَلِكَ الْأَمْرِ.(الْمَادَّةُ 3) : الْعِبْرَةُ فِي الْعُقُودِ لِلْمَقَاصِدِ وَالْمَعَانِي لَا لِلْأَلْفَاظِ وَالْمَبَانِي" وَلِذَا يَجْرِي حُكْمُ الرَّهْنِ فِي الْبَيْعِ بِالْوَفَاءِ.(الْمَادَّةُ 4) : الْيَقِينُ لَا يَزُولُ بِالشَّكِّ(الْمَادَّةُ 5) : الْأَصْلُ بَقَاءُ مَا كَانَ عَلَى مَا كَانَ.(الْمَادَّةُ 6) : الْقَدِيمُ يُتْرَكُ عَلَى قِدَمِهِ.
আর এখন লেনদেনের ক্ষেত্রে সচরাচর ঘটে যাওয়া মাসআলাসমূহ নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ থেকে আহরণ ও সংকলন করার পর এই মাজাল্লাহ (সংকলন) রচনার কাজ শুরু হয়েছে। একে বিভিন্ন কিতাবে (মূল বিষয়), কিতাবসমূহকে বিভিন্ন অধ্যায়ে এবং অধ্যায়সমূহকে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিভক্ত করা হয়েছে।আদালতে আমলযোগ্য আনুষঙ্গিক মাসআলাসমূহ (ফুরু'আত) মূলত সেই মাসআলাই যা এই অধ্যায় ও পরিচ্ছেদগুলোতে উল্লেখ করা হবে; কেননা ফকীহদের মধ্যে যারা গবেষক (মুহাক্কিক), তাঁরা ফিকহী মাসআলাসমূহকে কিছু সর্বজনীন মূলনীতির (কাওয়ায়েদে কুল্লিয়্যাহ) দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন, যার প্রতিটিই অনেক মাসআলার নিয়ন্ত্রক ও সারসংক্ষেপ।আর ফিকহী কিতাবসমূহে এই মূলনীতিগুলো সর্বজনস্বীকৃত ও নির্ভরযোগ্য; মাসআলা প্রমাণে এবং প্রাথমিকভাবে তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে এগুলোকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সুতরাং এই মূলনীতিগুলো উল্লেখ করা মাসআলাসমূহের প্রতি অনুরাগের সৃষ্টি করে এবং তা মনে বদ্ধমূল হওয়ার মাধ্যম হয়। এই কারণে নিরানব্বইটি ফিকহী মূলনীতি সংকলিত হয়েছে। আর ভূমিকার দ্বিতীয় নিবন্ধটি নিম্নোক্ত বিষয় অনুসারে লিপিবদ্ধ হয়েছে।এরপর কথা হলো, এই মূলনীতিগুলোর কোনো কোনোটি এমন যে, এককভাবে বিবেচনা করলে সেটির অধীনে কিছু ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়, কিন্তু সামগ্রিকভাবে সেগুলোর সর্বজনীনতা ও ব্যাপকতা ক্ষুণ্ণ হয় না; কারণ এগুলোর একটি অপরটিকে বিশিষ্ট (খাস) করে অথবা শর্তযুক্ত (মুকাইয়্যাদ) করে।দ্বিতীয় নিবন্ধ: সর্বজনীন ফিকহী মূলনীতিসমূহের বর্ণনায়(ধারা ২) : কাজ বা বিষয়াদি তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল।অর্থাৎ: কোনো বিষয়ে যে বিধান কার্যকর হয়, তা সেই বিষয়ের উদ্দেশ্যের চাহিদাহুযায়ী হয়ে থাকে।(ধারা ৩) : চুক্তির ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও অর্থের গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়, শব্দ ও কাঠামোর নয়। এই কারণেই ‘বাই বিল ওয়াফা’র (শর্তযুক্ত বিক্রয়) ক্ষেত্রে বন্ধকের (রহন) বিধান প্রযোজ্য হয়।(ধারা ৪) : নিশ্চিত বিষয় সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না।(ধারা ৫) : মূলনীতি হলো কোনো বিষয় পূর্বে যেভাবে ছিল সেভাবেই বহাল থাকা।(ধারা ৬) : প্রাচীন বিষয়কে তার প্রাচীন অবস্থার ওপরই ছেড়ে দেওয়া হবে।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(الْمَادَّةُ 7) : الضَّرَرُ لَا يَكُونُ قَدِيمًا.(الْمَادَّةُ 8) : الْأَصْلُ بَرَاءَةُ الذِّمَّةِ.فإذَا أَتْلَفَ رَجُلٌ مَالَ آخَرَ وَاخْتَلَفَا فِي مِقْدَارِهِ يَكُونُ الْقَوْلُ لِلْمُتْلِفِ ، وَالْبَيِّنَةُ عَلَى صَاحِبِ الْمَالِ لِإِثْبَاتِ الزِّيَادَةِ.(الْمَادَّةُ 9) : الْأَصْلُ فِي الصِّفَاتِ الْعَارِضَةِ الْعَدَمُ.مَثَلًا: إذَا اخْتَلَفَ شَرِيكَا الْمُضَارَبَةِ فِي حُصُولِ الرِّبْحِ وَعَدَمِهِ فَالْقَوْلُ لِلْمُضَارِبِ ، وَالْبَيِّنَةُ عَلَى رَبِّ الْمَالِ لِإِثْبَاتِ الرِّبْحِ.(الْمَادَّةُ 10) : مَا ثَبَتَ بِزَمَانٍ يُحْكَمُ بِبَقَائِهِ مَا لَمْ يُوجَدْ دَلِيْلٌ عَلَى خِلَافِهِ".فَإِذَا ثَبَتَ مِلْكُ شَيْءٍ لِأَحَدٍ ، يُحْكَمُ بِبَقَاءِ الْمِلْكِ مَا لَمْ يُوْجَدْ مَا يُزِيْلُهُ(الْمَادَّةُ 11) : الْأَصْلُ إضَافَةُ الْحَادِثِ إلَى أَقْرَبِ أَوْقَاتِهِ.يعني أنه إذا وقع الاختلاف في سبب وزَمَنِ حدوث أمر ينسب إلى أقرب الأوقات إلى الحال مالم تثبت نسبته إلى زمن بعيد.(الْمَادَّةُ 12) : الْأَصْلُ فِي الْكَلَامِ الْحَقِيقَةُ(الْمَادَّةُ 13) : لَا عِبْرَةَ لِلدَّلَالَةِ فِي مُقَابَلَةِ التَّصْرِيحِ(الْمَادَّةُ 14) : لَا مَسَاغَ لِلِاجْتِهَادِ فِي مَوْرِدِ النَّصِّ(الْمَادَّةُ 15) : مَا ثَبَتَ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ فَغَيْرُهُ لَا يُقَاسُ عَلَيْهِ.بِعِبَارَةٍ أُخْرَى ، وَهِيَ (النَّصُّ الْوَارِدُ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ يَقْتَصِرُ عَلَى مَوْرِدِهِ ، وَيُقَالُ لِذَلِكَ الشَّيْءِ أَيْ الْوَارِدِ بِهِ نَصٌّ) أَصْلٌ ، أَوْ مَقِيسٌ عَلَيْهِ ، أَوْ مُشَبَّهٌ بِهِ ، وَلِغَيْرِهِ فَرْعٌ ، وَمَقِيسٌ ، وَمُشَبَّهٌ.انظر الفقرة الأخيرة من تقرير جمعية المجلة من قوله: وعند الإمام الأعظم الخ وانظر المواد:17، 380، 388، 392، فترى فيها أنهم قد جوزوا السلم والاستصناع على غير القياس وقد جوزوا الإجارة أيضًا، مع أنها من قبيل بيع المنافع وهي معدومة
(ধারা ৭) : ক্ষতি প্রাচীন হতে পারে না।(ধারা ৮) : মূলনীতি হলো দায়মুক্তি।সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের সম্পদ বিনষ্ট করে এবং তারা উভয়ে তার পরিমাণের বিষয়ে মতপার্থক্য করে, তবে অনিষ্টকারীর বক্তব্যই গৃহীত হবে এবং অতিরিক্ত দাবির সপক্ষে প্রমাণের দায়িত্ব থাকবে সম্পদ মালিকের ওপর।(ধারা ৯) : আগন্তুক গুণাবলির ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো সেগুলোর অনুপস্থিতি।উদাহরণস্বরূপ: যদি মুদারাবা চুক্তির দুই অংশীদার মুনাফা হওয়া বা না হওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে, তবে মুদারিবের (উদ্যোক্তা) কথা গ্রহণযোগ্য হবে এবং মুনাফা প্রমাণের দায়িত্ব থাকবে পুঁজিদাতার ওপর।(ধারা ১০) : কোনো সময়ে যা সাব্যস্ত হয়েছে, তার বিপরীত কোনো প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকার ফয়সালা দেওয়া হবে।সুতরাং যখন কারো জন্য কোনো বস্তুর মালিকানা সাব্যস্ত হয়, তখন তা বিলুপ্ত করার মতো কোনো কারণ না পাওয়া পর্যন্ত মালিকানা বহাল থাকার হুকুম দেওয়া হবে।(ধারা ১১) : নতুন কোনো বিষয়কে তার নিকটতম সময়ের সাথে সম্পর্কিত করাই মূলনীতি।অর্থাৎ, যখন কোনো বিষয়ের কারণ ও সময়ের ক্ষেত্রে মতভেদ দেখা দেয়, তখন তাকে বর্তমানের নিকটতম সময়ের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হবে, যতক্ষণ না তা সুদূরবর্তী সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া প্রমাণিত হয়।(ধারা ১২) : বাক্যের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো তার প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা।(ধারা ১৩) : সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিপরীতে ইঙ্গিতের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।(ধারা ১৪) : নস বা অকাট্য পাঠের উপস্থিতিতে ইজতিহাদের কোনো অবকাশ নেই।(ধারা ১৫) : যা কিয়াসের পরিপন্থী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, তার ওপর অন্য কিছুকে কিয়াস করা যাবে না।অন্য কথায়: (কিয়াসের বিপরীতে আগত নস কেবল তার সুনির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। যে বিষয়ে নস বর্ণিত হয়েছে তাকে ‘আসল’ (মূল), ‘মাকিস আলাইহি’ (যার ওপর ভিত্তি করে তুলনা করা হয়) বা ‘মুসাব্বাহ বিহি’ বলা হয়; আর অন্য বিষয়কে ‘ফর’ (শাখা), ‘মাকিস’ (যাকে তুলনা করা হয়েছে) বা ‘মুসাব্বাহ’ বলা হয়)।মাজাল্লাহ কমিটির রিপোর্টের শেষ অনুচ্ছেদটি দেখুন—ইমামে আজম রহ.-এর উক্তি থেকে শেষ পর্যন্ত। এবং ১৭, ৩৮০, ৩৮৮ ও ৩৯২ নং ধারাগুলো দেখুন; সেখানে আপনি দেখতে পাবেন যে তারা কিয়াসের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও ‘সালাম’ (অগ্রিম ক্রয়) ও ‘ইসতিসনা’ (অর্ডার অনুযায়ী পণ্য তৈরি)-কে বৈধ করেছেন। তারা ‘ইজারা’-কেও (ভাড়া বা শ্রমের বিনিময়) বৈধ করেছেন, যদিও এটি মূলত উপযোগ বা মানফাতের বিক্রয়, যা চুক্তির সময় বিদ্যমান থাকে না।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عند العقد وبيع المعدوم باطل على ما في المادتين:205 و 197(الْمَادَّةُ 16) : الِاجْتِهَادُ لَا يُنْقَضُ بِمِثْلِهٍِ (الْمَادَّةُ 17) : الْمَشَقَّةُ تَجْلِبُ التَّيْسِيرَ.يَعْنِي: أَنَّ الصُّعُوبَةَ تَصِيْرُ سَبَبًا لِلتَسْهِيلِ ويلزم التَّوْسِيعُ في وَقْتِ المضايقة، يتفرّعُ عَلَى هَذَا الْأَصْلِ كَيِيْرٌ من الأحكام الفقهية كالْقَرْضِ ، وَالْحَوَالَةِ ، وَالْحَجْرِ ، وغير ذلك وما جوزه الفقهاء من الرخص والتخفيفات في الأحكام الشرعية مستنبط من هذه القاعدة.(الْمَادَّةُ 18) : الْأَمْرُ إذَا ضَاقَ اتَّسَعَ.يعني أَنَّهُ ظهرت َمَشَقَّةٌ فِي أَمْرٍ يُرَخص فيه ويوسع(الْمَادَّةُ 19) : لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ.(الْمَادَّةُ 20) : الضَّرَرُ يُزَالُ.(الْمَادَّةُ 21) : الضَّرُورَاتُ تُبِيحُ الْمَحْظُورَاتِ.(الْمَادَّةُ 22) : مَا أُبِيحَ لِلضَّرُورَةِ يَتَقَدَّرُ بِقَدْرِهَا.(الضرورات تقدر بقدرها)
চুক্তিকালীন সময়ে এবং অবিদ্যমান বস্তু বিক্রয় করা বাতিল, যা ২০৫ ও ১৯৭ নং ধারায় বর্ণিত হয়েছে।(ধারা ১৬) : ইজতিহাদ তার সমপর্যায়ের অন্য ইজতিহাদ দ্বারা বাতিল হয় না।(ধারা ১৭) : কষ্ট বা কাঠিন্য সহজসাধ্যতাকে টেনে আনে।অর্থাৎ: কাঠিন্য সহজসাধ্যতার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং সংকীর্ণতার সময় প্রশস্ততা আবশ্যক হয়ে পড়ে। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই ফিকহের অনেক বিধান উৎসারিত হয়েছে, যেমন: ঋণ (করজ), ঋণ স্থানান্তর (হাওয়ালা), লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা (হাজর) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়। ফকিহগণ শরিয়তের বিধানসমূহে যেসব শিথিলতা ও সহজসাধ্যতা বৈধ বলে গণ্য করেছেন, তা এই মূলনীতি থেকেই উৎসারিত।(ধারা ১৮) : যখন কোনো বিষয় সংকীর্ণ হয়, তখন তা প্রশস্ত হয়।অর্থাৎ যখন কোনো বিষয়ে কাঠিন্য দেখা দেয়, তখন তাতে শিথিলতা দেওয়া হয় এবং তা প্রশস্ত করা হয়।(ধারা ১৯) : কোনো ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতিও করা যাবে না।(ধারা ২০) : ক্ষতি দূর করা আবশ্যক।(ধারা ২১) : নিরুপায় অবস্থা বা জরুরি প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে বৈধ করে দেয়।(ধারা ২২) : নিরুপায় অবস্থার কারণে যা বৈধ করা হয়েছে, তা কেবল প্রয়োজন অনুযায়ীই সীমিত থাকবে।(জরুরি প্রয়োজন তার সীমা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়)
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
(الْمَادَّةُ 23) : مَا جَازَ لِعُذْرٍ بَطَلَ بِزَوَالِهِ.(الْمَادَّةُ 24) : إذَا زَالَ الْمَانِعُ عَادَ الْمَمْنُوعُ.(الْمَادَّةُ 25) : الضَّرَرُ لَا يُزَالُ بِمِثْلِهِ.(الْمَادَّةُ 26) : يُتَحَمَّلُ الضَّرَرُ الْخَاصُّ لِدَفْعِ ضَرَرٍ عَامٍّ.يتفرع على هذا مَنْعُ الطَّبِيبِ الْجَاهِلِ وَالْمُفْتِي الْمَاجِنِ وَالْمُكَارِي الْمُفْلِسِ مِنْ مُزَاوَلَةِ صِنَاعَتِهِمْ(الْمَادَّةُ 27) : الضَّرَرُ الْأَشَدُّ يُزَالُ بِالضَّرَرِ الْأَخَفِّ.(الْمَادَّةُ 28) : إذَا تَعَارَضَ مَفْسَدَتَانِ رُوعِي أَعْظَمُهُمَا ضَرَرًا بِارْتِكَابِ أَخَفِّهِمَا.(الْمَادَّةُ 29) : يُخْتَارُ أَهْوَنُ الشَّرَّيْنِ.(الْمَادَّةُ 30) : دَرْءُ الْمَفَاسِدِ أَوْلَى مِنْ جَلْبِ الْمَنَافِعِ.(الْمَادَّةُ 31) : الضَّرَرُ يُدْفَعُ بِقَدْرِ الْإِمْكَانِ.(الْمَادَّةُ 32) : الْحَاجَةُ تُنَزَّلُ مَنْزِلَةَ الضَّرُورَةِ عَامَّةً أَوْ خَاصَّةً ، وَمِنْ هَذَا الْقَبِيلِ تَجْوِيزُ الْبَيْعِ بِالْوَفَاءِ ;حيث أنَهُ لَمَّا كَثُرَتْ الدُّيُونُ عَلَى أَهْلِ بُخَارَى مَسَّتْ الْحَاجَةُ إلَى ذَلِكَ وَصَارَ مَرْعِيًّا.(الْمَادَّةُ 33) : الِاضْطِرَارُ لَا يُبْطِلُ حَقَّ الْغَيْرِ.يتفرع على هذه القاعدة أنه لو
(ধারা ২৩) : কোনো ওজরের কারণে যা বৈধ হয়, সেই ওজর দূর হওয়ার সাথে সাথে তা বাতিল হয়ে যায়।(ধারা ২৪) : বাধা দূর হয়ে গেলে নিষিদ্ধ বিষয়টি পুনরায় ফিরে আসে।(ধারা ২৫) : ক্ষতিকে অনুরূপ ক্ষতির মাধ্যমে দূর করা যাবে না।(ধারা ২৬) : সাধারণ ক্ষতি প্রতিহত করার জন্য বিশেষ ক্ষতি সহ্য করা হবে।এর ওপর ভিত্তি করেই মূর্খ চিকিৎসক, নীতিহীন মুফতি এবং দেউলিয়া পরিবহনকারীকে তাদের পেশা পরিচালনা থেকে বিরত রাখা হয়।(ধারা ২৭) : অধিকতর গুরুতর ক্ষতিকে অপেক্ষাকৃত হালকা ক্ষতির মাধ্যমে দূর করা হবে।(ধারা ২৮) : যখন দুটি অনিষ্টের মধ্যে পারস্পরিক সংঘর্ষ বাধে, তখন অপেক্ষাকৃত হালকা অনিষ্টটি করার মাধ্যমে অধিকতর ক্ষতিকর অনিষ্টটি প্রতিহার করা হবে।(ধারা ২৯) : দুটি মন্দের মধ্যে অপেক্ষাকৃত হালকাটি বেছে নেওয়া হবে।(ধারা ৩০) : অনিষ্ট দূর করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য।(ধারা ৩১) : ক্ষতি সাধ্যানুযায়ী প্রতিহত করা হবে।(ধারা ৩২) : প্রয়োজনকে অপরিহার্যতার স্থলাভিষিক্ত করা হয়, তা সাধারণ হোক বা বিশেষ; আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো ‘বায়উল ওয়াফা’ বৈধ হওয়া; যেহেতু বুখারাবাসীদের ওপর যখন ঋণের আধিক্য দেখা দিল, তখন এর বিশেষ প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল এবং তা স্বীকৃত ও প্রচলিত হলো।(ধারা ৩৩) : চরম নিরুপায় অবস্থা অন্যের অধিকারকে বাতিল করে দেয় না।এই মূলনীতি থেকে নির্গত হয় যে, যদি তা...
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
اضطر إنسان من الجوع فأكل طعام الآخر يضمن 416 قيمته 154(الْمَادَّةُ 34) : مَا حَرُمَ أَخْذُهُ حَرُمَ إعْطَاؤُهُ.(الْمَادَّةُ 35) : مَا حَرُمَ فِعْلُهُ حَرُمَ طَلَبُهُ.(الْمَادَّةُ 36) : الْعَادَةُ مُحَكَّمَةٌ.يَعْنِي أَنَّ الْعَادَةَ عَامَّةً كَانَتْ أَوْ خَاصَّةً تُجْعَلُ حَكَمًا لِإِثْبَاتِ حُكْمٍ شَرْعِيٍّ.(الْمَادَّةُ 37) : اسْتِعْمَالُ النَّاسِ حُجَّةٌ يَجِبُ الْعَمَلُ بِهَا.(الْمَادَّةُ 38) : الْمُمْتَنِعُ عَادَةً كَالْمُمْتَنِعِ حَقِيقَةً.(الْمَادَّةُ 39) : لَا يُنْكَرُ تَغَيُّرُ الْأَحْكَامِ بِتَغَيُّرِ الْأَزْمَانِ.انظر المادة:596 وينطبق عليها أيضا ما جاء في معناها في تقرير جمعية المجلة من أن رؤية أحد بيوت الدار كان قديما كافيا عند شرائها وأما اليوم فلا، لأن بناء البيوت في هذا الزمان لم يعد على طرز واحد كما كان قديما.(الْمَادَّةُ 40) : الْحَقِيقَةُ تُتْرَكُ بِدَلَالَةِ الْعَادَةِ.(الْمَادَّةُ 41) : إنَّمَا تُعْتَبَرُ الْعَادَةُ إذَا اطَّرَدَتْ أَوْ غَلَبَتْ.الْمَادَّةُ 42) : الْعِبْرَةُ لِلْغَالِبِ الشَّائِعِ لَا لِلنَّادِرِ.هذه المادة مشتركة في المعنى مع المادة:41
কোনো ব্যক্তি ক্ষুধার কারণে নিরুপায় হয়ে অন্যের খাবার খেলে সে তার বিনিময় প্রদান করতে বাধ্য থাকবে ৪১৬ এর মূল্য ১৫৪।(ধারা ৩৪) : যা গ্রহণ করা হারাম, তা প্রদান করাও হারাম।(ধারা ৩৫) : যা করা হারাম, তা দাবি করাও হারাম।(ধারা ৩৬) : প্রথা বা অভ্যাস বিচারক হিসেবে গণ্য।অর্থাৎ, প্রথা সাধারণ হোক বা বিশেষ, তা কোনো শারঈ বিধান প্রমাণের ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।(ধারা ৩৭) : মানুষের সাধারণ ব্যবহার বা প্রচলন একটি প্রমাণ, যার ওপর আমল করা আবশ্যক।(ধারা ৩৮) : যা অভ্যাসগতভাবে অসম্ভব, তা বাস্তবিকভাবে অসম্ভবের মতোই গণ্য।(ধারা ৩৯) : সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিধানের পরিবর্তন অস্বীকার করা যায় না।৫৯৬ নম্বর ধারাটি দেখুন; এর ওপর 'মাজাল্লাহ' কমিটির প্রতিবেদনে বর্ণিত অর্থটিও প্রযোজ্য হবে যে, কোনো বাড়ির একটি কক্ষ দেখা অতীতে তা ক্রয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা নয়। কারণ বর্তমান যুগে ঘর নির্মাণের পদ্ধতি অতীতের মতো একই ধাঁচের নেই।(ধারা ৪০) : প্রথার নির্দেশনার কারণে শব্দের আক্ষরিক অর্থ পরিত্যাগ করা হয়।(ধারা ৪১) : প্রথা তখনই ধর্তব্য হবে যখন তা নিরবচ্ছিন্ন অথবা প্রবলভাবে প্রচলিত হবে।(ধারা ৪২) : বিচার্য বিষয় হলো যা প্রবল ও সচরাচর বিদ্যমান, বিরল বা দুর্লভ কিছুর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।এই ধারাটি অর্থের দিক থেকে ৪১ নম্বর ধারার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
(الْمَادَّةُ 43) : الْمَعْرُوفُ عُرْفًا كَالْمَشْرُوطِ شَرْطًا(الْمَادَّةُ 44) : الْمَعْرُوفُ بَيْنَ التُّجَّارِ كَالْمَشْرُوطِ بَيْنَهُمْ.(الْمَادَّةُ 45) : التَّعْيِينُ بِالْعُرْفِ كَالتَّعْيِينِ بِالنَّصِّ.(الْمَادَّةُ 46) : إذَا تَعَارَضَ الْمَانِعُ وَالْمُقْتَضِي يُقَدَّمُ الْمَانِعُفلا يبيع الراهن الرهن لآخر ما دام في يد المرتهن(الْمَادَّةُ 47) : التَّابِعُ تَابِعٌ.فَإذاْ بِيعَ حيوان فِي بَطْنِهِ جَنِينٌ دَخَلَ الْجَنِينُ فِي الْبَيْعِ تَبَعًا(الْمَادَّةُ 48) : التَّابِعُ لَا يُفرَدُ بِالْحُكْمِفَالْجَنِينُ الَّذِي فِي بَطْنِ الْحَيَوَانِ لَا يُبَاعُ مُنْفَرِدًا عَنْ أُمِّهِ ،(الْمَادَّةُ 49) : مَنْ مَلَكَ شَيْئًا مَلَكَ مَا هُوَ مِنْ ضَرُورَاتِهِ.فإذَا اشْتَرَى رَجُلٌ دَارًا مَثَلًا مَلَكَ الطَّرِيقَ الْمُوَصِّلَةَ إلَيْهَا ;(الْمَادَّةُ 50) : إذَا سَقَطَ الْأَصْلُ سَقَطَ الْفَرْعُ.(الْمَادَّةُ 51) : السَّاقِطُ لَا يَعُودُ. كما أن المعدوم لا يعود(الْمَادَّةُ 52) : إذَا بَطَلَ شَيْءٌ بَطَلَ مَا فِي ضِمْنِهِ.(الْمَادَّةُ 53) : إذَا بَطَلَ الْأَصْلُ يُصَارُ إلَى الْبَدَلِ.
(ধারা ৪৩) : প্রথাগতভাবে যা পরিচিত, তা শর্ত হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার মতোই।(ধারা ৪৪) : ব্যবসায়ীদের মাঝে যা প্রচলিত, তা তাদের মধ্যে শর্ত হিসেবে গণ্য হওয়ার মতোই।(ধারা ৪৫) : প্রথা বা উরফের মাধ্যমে কোনো বিষয় নির্ধারিত হওয়া নস বা অকাট্য দলিলের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার মতোই।(ধারা ৪৬) : যখন কোনো প্রতিবন্ধক এবং কোনো দাবিদার কারণের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, তখন প্রতিবন্ধককেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।সুতরাং বন্ধকদাতা বন্ধক রাখা বস্তুটি অন্যের কাছে বিক্রি করতে পারবে না যতক্ষণ তা বন্ধকগ্রহীতার কবজায় থাকে।(ধারা ৪৭) : অনুগামী বস্তু মূলের অনুগামী হিসেবেই গণ্য হয়।সুতরাং যখন এমন কোনো পশু বিক্রি করা হয় যার পেটে বাচ্চা রয়েছে, তবে সেই বাচ্চাটিও অনুগামী হিসেবে উক্ত বিক্রয়চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হবে।(ধারা ৪৮) : অনুগামী বস্তুর জন্য স্বতন্ত্র কোনো বিধান দেওয়া হয় না।অতএব পশুর পেটে থাকা বাচ্চা তার মা থেকে পৃথকভাবে বিক্রি করা যাবে না।(ধারা ৪৯) : যে ব্যক্তি কোনো কিছুর মালিক হয়, সে তার আবশ্যকীয় বিষয়গুলোরও মালিক হয়ে যায়।উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি একটি বাড়ি ক্রয় করে, তবে সে ওই বাড়িতে পৌঁছানোর রাস্তারও মালিক হবে।(ধারা ৫০) : যখন মূল রহিত হয়ে যায়, তখন তার শাখাও রহিত হয়ে যায়।(ধারা ৫১) : যা রহিত হয়ে গেছে তা আর ফিরে আসে না; ঠিক যেমন অস্তিত্বহীন বিষয় ফিরে আসে না।(ধারা ৫২) : যখন কোনো বিষয় বাতিল হয়ে যায়, তখন তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোও বাতিল হয়ে যায়।(ধারা ৫৩) : যখন মূলটি বাতিল হয়ে যায়, তখন তার বিকল্পের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
(الْمَادَّةُ 54) : يُغْتَفَرُ فِي التَّوَابِعِ مَا لَا يُغْتَفَرُ فِي غَيْرِهَا.فلو وكل المشتري البائع في قبض المبيع لا يجوز، أما لو أعطى جولقا للبائع ليكيل ويضع فيه الطعام المبيع ففعل كان ذلك قبضا من المشتري.(الْمَادَّةُ 55) : يُغْتَفَرُ فِي الْبَقَاءِ مَا لَا يُغْتَفَرُ فِي الِابْتِدَاءِ.مِثَالُ ذَلِكَ: أن هِبَة الْحِصَّةِ المشَّاعَةِ ، لَا تَصِحُّ ، ولكن إذا وهب رجل عقارا من آخر فاستحق من ذلك العقار حصة شائعة لا تبطل الهبة في حق الباقي مع أنه صار بعد الاستحقاق حصة شائعة.(الْمَادَّةُ 56) : الْبَقَاءُ أَسْهَلُ مِنْ الِابْتِدَاءِ.(الْمَادَّةُ 57) : لَا يَتِمُّ التَّبَرُّعُ إلَّا بِقَبْضٍفإذا وهب أحد شيئا إلى آخر لا تتم الهبة قبل القبض(الْمَادَّةُ 58) : التَّصَرُّفُ عَلَى الرَّغْبَةِ مَنُوطٌ بِالْمَصْلَحَةِ.
(ধারা ৫৪) : অনুগামী বা আনুষঙ্গিক বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন কিছু মার্জনীয় যা অন্য ক্ষেত্রে (মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে) মার্জনীয় নয়।যদি ক্রেতা বিক্রেতাকে বিক্রয়কৃত মাল হস্তগত করার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করে তবে তা বৈধ নয়। কিন্তু যদি ক্রেতা বিক্রেতাকে একটি থলে দেয় যাতে সে বিক্রয়কৃত খাদ্যশস্য মেপে তাতে রাখে এবং বিক্রেতা তা-ই করে, তবে তা ক্রেতার পক্ষ থেকে হস্তগত করা বলে গণ্য হবে।(ধারা ৫৫) : স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে যা মার্জনীয়, সূচনার ক্ষেত্রে তা মার্জনীয় নয়।এর উদাহরণ হলো: অবিভক্ত অংশ দান করা শুদ্ধ নয়। কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে একটি স্থাবর সম্পত্তি দান করে এবং পরবর্তীতে সেই সম্পত্তি থেকে কোনো অবিভক্ত অংশ অন্যের প্রাপ্য সাব্যস্ত হয়, তবে অবশিষ্ট অংশের ক্ষেত্রে দানটি বাতিল হবে না; যদিও প্রাপ্য সাব্যস্ত হওয়ার পর তা একটি অবিভক্ত অংশে পরিণত হয়েছে।(ধারা ৫৬) : বজায় রাখা বা টিকিয়ে রাখা আরম্ভ করার চেয়ে সহজ।(ধারা ৫৭) : হস্তগত করা ব্যতীত দান সম্পন্ন হয় না।যদি কেউ কাউকে কোনো কিছু দান করে, তবে হস্তগত করার আগে সেই দান পূর্ণ হয় না।(ধারা ৫৮) : প্রজাসাধারণের ওপর কর্তৃত্ব পরিচালনা জনকল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(الْمَادَّةُ 59) : الْوِلَايَةُ الْخَاصَّةُ أَقْوَى مِنْ الْوِلَايَةِ الْعَامَّةِ.فولاية المتولي على الوقف أولى من ولاية القاضي عليه.(الْمَادَّةُ 60) إعْمَالُ الْكَلَامِ أَوْلَى مِنْ إهْمَالِهِ.يعني لا يهمل الكلام ما أمكن حمله على معنى (مثاله لو وقف على أولاده وليس له إلا أولاد أولاده حمل عليهم صونا للفظ.(الْمَادَّةُ 61) إذَا تَعَذَّرَتْ الْحَقِيقَةُ يُصَارَ إلَى الْمَجَازِ.(مثاله إذا أقر من لا وارث له لمن ليس من نسبه وأكبر منه سنا بأنه ابنه ووارثه ثم توفي المقر، فبما أنه لا يمكن حمل كلامه هذا على معناه الحقيقي فيصار إلىالمجاز وهو معنى الوصية ويأخذ المقر له جميع التركة.(الْمَادَّةُ 62) إذَا تَعَذَّرَ إعْمَالُ الْكَلَامِ يُهْمَلُيَعْنِي أَنَّهُ إذَا لَمْ يُمْكِنْ حَمْلُ الْكَلَامِ عَلَى مَعْنًى حَقِيقِيٍّ أَوْ مَجَازِيٍّ أُهْمِلَ. ((الْمَادَّةُ 63) ذِكْرُ بَعْضِ مَا لَا يَتَجَزَّأُ كَذِكْرِ كُلِّهِ.(الْمَادَّةُ 64) الْمُطْلَقُ يَجْرِي عَلَى إطْلَاقِهِ إذَا لَمْ يَقُمْ دَلِيلُ التَّقْيِيدِ نَصًّا أَوْ دَلَالَةً(الْمَادَّةُ 65) الْوَصْفُ فِي الْحَاضِرِ لَغْوٌ وَفِي الْغَائِبِ مُعْتَبَرٌ.مَثَلًا: لَوْ أَرَادَ الْبَائِعُ بَيْعَ فَرَسٍ أَشْهَبَ حَاضِرٍ فِي الْمَجْلِسِ وَقَالَ فِي إيجَابِهِ: بِعْت هَذَا الْفَرَسَ الْأَدْهَمَ وَأَشَارَ إلَيْهِ ، وَقَبِلَ الْبَائِعُ صَحَّ الْبَيْعُ وَلَغَا وَصْفَ الْأَدْهَمِ ، أَمَّا لَوْ بَاعَ فَرَسًا غَائِبًا وَذَكَرَ أَنَّهُ أَشْهَبُ وَالْحَالُ أَنَّهُ أَدْهَمُ ، فَلَا يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ.
(ধারা ৫৯) : সাধারণ অভিভাবকত্বের চেয়ে বিশেষ অভিভাবকত্ব অধিক শক্তিশালী।সুতরাং ওয়াকফকৃত সম্পত্তির ওপর মুতাওয়াল্লীর অভিভাবকত্ব কাজীর অভিভাবকত্বের চেয়ে অগ্রগণ্য।(ধারা ৬০) কোনো কথাকে কার্যকর করা তাকে বর্জন করার চেয়ে উত্তম।অর্থাৎ, যতক্ষণ কোনো কথাকে কোনো অর্থের ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব হয়, ততক্ষণ তা বর্জন করা যাবে না (উদাহরণস্বরূপ: যদি কেউ তার সন্তানদের জন্য ওয়াকফ করে এবং তার নিজের কোনো সন্তান না থেকে কেবল নাতি-নাতনি থাকে, তবে শব্দের মর্যাদা রক্ষার খাতিরে তা তাদের ওপর প্রয়োগ করা হবে)।(ধারা ৬১) যখন প্রকৃত অর্থ (হাকীকত) গ্রহণ করা অসম্ভব হয়, তখন রূপক অর্থের (মাজায) দিকে ধাবিত হতে হবে।(উদাহরণস্বরূপ: যদি এমন কোনো ব্যক্তি যার কোনো উত্তরাধিকারী নেই, সে তার বংশের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং বয়সে নিজের চেয়ে বড় কাউকে নিজের সন্তান ও ওয়ারিশ বলে স্বীকারোক্তি দেয় এবং এরপর স্বীকারোক্তিকারী মারা যায়; যেহেতু তার এই কথাকে প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করা অসম্ভব, তাই ধাবিত হতে হবেরূপক অর্থের দিকে যা হলো ওসিয়তের অর্থ এবং এমতাবস্থায় স্বীকারোক্তিকৃত ব্যক্তি সমস্ত পরিত্যক্ত সম্পত্তি লাভ করবে।(ধারা ৬২) যখন কথাকে কার্যকর করা অসম্ভব হয়, তখন তা বর্জন করা হবে।অর্থাৎ, যখন কথাকে প্রকৃত বা রূপক কোনো অর্থেই গ্রহণ করা সম্ভব না হয়, তখন তা বর্জন করা হবে। ((ধারা ৬৩) অবিভাজ্য কোনো কিছুর অংশবিশেষ উল্লেখ করা তার পূর্ণ অংশ উল্লেখ করার সমতুল্য।(ধারা ৬৪) শর্তহীন বিষয়কে (মুতলাক) তার শর্তহীন অবস্থাতেই রাখা হবে, যতক্ষণ না স্পষ্ট পাঠ (নস) বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে তা শর্তযুক্ত করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়।(ধারা ৬৫) উপস্থিত বস্তুর ক্ষেত্রে গুণের বর্ণনা নিরর্থক, কিন্তু অনুপস্থিত বস্তুর ক্ষেত্রে তা নির্ভরযোগ্য।উদাহরণস্বরূপ: যদি বিক্রেতা মজলিসে উপস্থিত একটি ধূসর ঘোড়া বিক্রি করতে চায় এবং বিক্রয় প্রস্তাবের সময় সেটির দিকে ইঙ্গিত করে বলে: "আমি এই কালো ঘোড়াটি বিক্রি করলাম", এবং ক্রেতা তা গ্রহণ করে, তবে বিক্রয় শুদ্ধ হবে এবং "কালো" গুণটি নিরর্থক বলে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে, যদি সে একটি অনুপস্থিত ঘোড়া বিক্রি করে এবং বর্ণনা দেয় যে সেটি ধূসর, অথচ বাস্তবে সেটি কালো ছিল, তবে সেই বিক্রয় সংঘটিত হবে না।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
(الْمَادَّةُ 66) السُّؤَالُ مُعَادٌ فِي الْجَوَابِ(الْمَادَّةُ 67) لَا يُنْسَبُ إلَى سَاكِتٍ قَوْلٌ لَكِنَّ السُّكُوتَ فِي مَعْرِضِ الْحَاجَةِ بَيَانٌ.يَعْنِي: أَنَّهُ لَا يُعَدُّ سَاكِتٌ أَنَّهُ قَالَ كَذَا ، لَكِنَّ السُّكُوتَ فِيمَا يَلْزَمُ التَّكَلُّمَ بِهِ إقْرَارٌ وَبَيَانٌ ،(الْمَادَّةُ 68) دَلِيلُ الشَّيْءِ فِي الْأُمُورِ الْبَاطِنَةِ يَقُومُ مَقَامَهُ.يَعْنِي أَنَّهُ يُحْكَمُ بِالظَّاهِرِ فِيمَا يَتَعَسَّرُ الِاطِّلَاعُ عَلَى حَقِيقَتِهِ.(الْمَادَّةُ 69) : الْكِتَابُ كَالْخِطَابِ.(الْمَادَّةُ 70) : الْإِشَارَاتُ الْمَعْهُودَةُ لِلْأَخْرَسِ كَالْبَيَانِ بِاللِّسَانِ.(الْمَادَّةُ 71) : يُقْبَلُ قَوْلُ الْمُتَرْجِمِ مُطْلَقًا.(الْمَادَّةُ 72) : لَا عِبْرَةَ بِالظَّنِّ الْبَيِّنِ خَطَؤُهُ.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ أَوْفَى كَفِيلُ الدَّيْنِ الَّذِي كَفَلَ بِهِ أَحَدَ النَّاسِ ، ثُمَّ تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّ الْأَصِيلَ كَانَ قَبْلَ ذَلِكَ أَوْفَى الدَّيْنَ الْمَذْكُورَ يَحِقُّ لِلْكَفِيلِ أَنْ يَسْتَرِدَّ الْمَالَ الْمَدْفُوعَ ،(الْمَادَّةُ 73) لَا حُجَّةَ مَعَ الِاحْتِمَالِ النَّاشِئِ عَنْ دَلِيلِ.مِثَالُ ذَلِكَ: لَوْ أَقَرَّ أَحَدٌ لِأَحَدِ وَرَثَتِهِ بِدَيْنٍ ، فَإِنْ كَانَ فِي مَرَضِ مَوْتِهِ لَا يَصِحُّ مَا لَمْ يُصَدِّقْهُ بَاقِي الْوَرَثَةِ ، وَذَلِكَ لِأَنَّ احْتِمَالَ كَوْنِ الْمَرِيضِ قَصَدَ بِهَذَا الْإِقْرَارِ حِرْمَانَ سَائِرِ الْوَرَثَةِ مُسْتَنِدًا إلَى دَلِيلِ كَوْنِهِ فِي الْمَرَضِ ، وَأَمَّا إذَا كَانَ الْإِقْرَارُ فِي حَالِ
(ধারা ৬৬) উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশ্নটি পুনরাবৃত্ত বলে গণ্য হবে।(ধারা ৬৭) নীরব ব্যক্তির প্রতি কোনো বক্তব্য আরোপ করা যাবে না, তবে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে নীরব থাকা একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে গণ্য হবে।অর্থাৎ: কোনো নীরব ব্যক্তি অমুক কথা বলেছে বলে গণ্য করা হবে না; তবে যে ক্ষেত্রে কথা বলা জরুরি, সেখানে নীরবতা অবলম্বন করা স্বীকৃতি ও বর্ণনার স্থলাভিষিক্ত হবে।(ধারা ৬৮) অপ্রকাশ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে সেই বিষয়ের আলামত বা প্রমাণ মূল বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত হবে।অর্থাৎ, যে বিষয়ের প্রকৃত রূপ উদ্ঘাটন করা কষ্টসাধ্য, সে ক্ষেত্রে বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ফয়সালা প্রদান করা হবে।(ধারা ৬৯) : লিখিত দলিল সরাসরি বক্তব্যের সমতুল্য।(ধারা ৭০) : বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির সুপরিচিত ইশারা জিহ্বার বর্ণনার ন্যায় গণ্য হবে।(ধারা ৭১) : অনুবাদকের বক্তব্য নিঃশর্তভাবে গ্রহণযোগ্য।(ধারা ৭২) : যে ধারণার ভুল হওয়া সুস্পষ্ট, তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।এর উদাহরণ: যদি কোনো ঋণের জামিনদার কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দেন, অতঃপর তার কাছে প্রকাশ পায় যে, মূল ঋণগ্রহীতা তার আগেই উক্ত ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছিলেন, তবে জামিনদারের জন্য পরিশোধিত অর্থ ফেরত নেয়ার অধিকার থাকবে।(ধারা ৭৩) কোনো দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে সংশয় বা সম্ভাবনা সৃষ্টি হলে তা দলিল হিসেবে গণ্য হবে না।এর উদাহরণ: যদি কেউ তার কোনো উত্তরাধিকারীর অনুকূলে ঋণের স্বীকৃতি দেন, আর তা যদি তার মৃত্যুশয্যাকালীন অসুস্থ অবস্থায় হয়, তবে অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের সমর্থন ব্যতীত তা বৈধ হবে না। এর কারণ হলো, অসুস্থ ব্যক্তির এই স্বীকৃতির মাধ্যমে অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তার অসুস্থতার অবস্থারূপ দলিল দ্বারা সমর্থিত। আর যদি এই স্বীকৃতি সুস্থ অবস্থায়...
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الصِّحَّةِ جَازَ ، وَاحْتِمَالُ إرَادَةِ حِرْمَانِ سَائِرِ الْوَرَثَةِ حِينَئِذٍ مِنْ حَيْثُ إنَّهُ احْتِمَالٌ مُجَرَّدٌ وَنَوْعٌ مِنْ التَّوَهُّمِ لَا يَمْنَعُ حُجَّةَ الْإِقْرَارِ.(الْمَادَّةُ 74) لَا عِبْرَةَ لِلتَّوَهُّمِ.(الْمَادَّةُ 75) الثَّابِتُ بِالْبُرْهَانِ كَالثَّابِتِ بِالْعِيَانِ(الْمَادَّةُ 76) : الْبَيِّنَةُ لِلْمُدَّعِي وَالْيَمِينُ عَلَى مَنْ أَنْكَرَ.(الْمَادَّةُ 77) : الْبَيِّنَةُ لِإِثْبَاتِ خِلَافِ الظَّاهِرِ وَالْيَمِينُ لِبَقَاءِ الْأَصْلِ.(الْمَادَّةُ 78) الْبَيِّنَةُ حُجَّةٌ مُتَعَدِّيَةٌ وَالْإِقْرَارُ حُجَّةٌ قَاصِرَةٌ(الْمَادَّةُ 79) : الْمَرْءُ مُؤَاخَذٌ بِإِقْرَارِهِ إلَّا إذَا كَانَ إقْرَارُهُ مُكَذَّبًا شَرْعًا(الْمَادَّةُ 80) لَا حُجَّةَ مَعَ التَّنَاقُضِ لَكِنْ لَا يُخْتَلُ مَعَهُ حُكْمُ الْحَاكِمِ.(الْمَادَّةُ 81) : قَدْ يَثْبُتُ الْفَرْعُ مَعَ عَدَمِ ثُبُوتِ الْأَصْلِ.(الْمَادَّةُ 82) الْمُعَلَّقُ بِالشَّرْطِ يَجِبُ ثُبُوتُهُ عِنْدَ ثُبُوتِ الشَّرْطِ
সুস্থতার অবস্থায় তা জায়েজ; আর তখন অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করার ইচ্ছার যে সম্ভাবনা থাকে, তা নিছক একটি সম্ভাবনা এবং এক প্রকারের কল্পনাপ্রসূত ধারণা হওয়ার কারণে তা স্বীকারোক্তির প্রামাণিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে না।(ধারা ৭৪) কল্পনাপ্রসূত ধারণার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।(ধারা ৭৫) অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে যা সাব্যস্ত, তা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষের মাধ্যমে সাব্যস্ত বিষয়ের সমতুল্য।(ধারা ৭৬) : প্রমাণ পেশ করার দায়িত্ব দাবিদারের, আর শপথ করার দায়িত্ব অস্বীকারকারীর।(ধারা ৭৭) : দৃশ্যমান অবস্থার বিপরীত কিছু প্রমাণ করার জন্য প্রমাণের প্রয়োজন, আর মূল অবস্থা বহাল রাখার জন্য শপথের প্রয়োজন।(ধারা ৭৮) প্রমাণ হলো এমন এক দলিল যা অন্যের ওপরও কার্যকর হয়, আর স্বীকারোক্তি হলো এমন দলিল যা কেবল স্বীকারকারীর ওপর সীমাবদ্ধ থাকে।(ধারা ৭৯) : মানুষ তার স্বীকারোক্তির জন্য দায়বদ্ধ থাকে, তবে তার সেই স্বীকারোক্তি যদি শরয়িভাবে মিথ্যা প্রমাণিত হয় তবে ভিন্ন কথা।(ধারা ৮০) পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের উপস্থিতিতে কোনো দলিল গ্রহণযোগ্য হয় না, তবে এর ফলে বিচারকের রায়ে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি হয় না।(ধারা ৮১) : মূল বিষয়টি সাব্যস্ত না হলেও কখনো কখনো তার শাখা সাব্যস্ত হয়ে থাকে।(ধারা ৮২) শর্তের ওপর স্থগিত কোনো বিষয় শর্তটি পূর্ণ হওয়ার সময়ই সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(الْمَادَّةُ 83) يَلْزَمُ مُرَاعَاةُ الشَّرْطِ بِقَدْرِ الْإِمْكَانِ.(الْمَادَّةُ 84) الْمَوَاعِيدُ بِاكْتِسَابِ صُوَرِ التَّعَالِيقِ تَكُونُ لَازِمَةً(الْمَادَّةُ 85) : الْخَرَاجُ بِالضَّمَانِ(الْمَادَّةُ 86) : الْأَجْرُ وَالضَّمَانُ لَا يَجْتَمِعَانِ(الْمَادَّةُ 87) : الْغُرْمُ بِالْغُنْمِ(الْمَادَّةُ 88) : النِّعْمَةُ بِقَدْرِ النِّقْمَةِ وَالنِّقْمَةُ بِقَدْرِ النِّعْمَةِ(الْمَادَّةُ 89) : يُضَافُ الْفِعْلُ إلَى الْفَاعِلِ لَا الْآمِرِ مَا لَمْ يَكُنْ مُجْبَرًا.
(ধারা ৮৩) যথাসম্ভব শর্ত পরিপালন করা আবশ্যক।(ধারা ৮৪) যে সকল প্রতিশ্রুতি শর্তের রূপ পরিগ্রহ করে, তা পালন করা আবশ্যকীয় হয়ে যায়।(ধারা ৮৫) : কোনো বস্তুর লভ্যাংশ বা আয় তার ঝুঁকি বা দায়ভার গ্রহণের বিনিময়ে সাব্যস্ত হয়।(ধারা ৮৬) : ভাড়া এবং ক্ষতিপূরণ একত্রে একত্রিত হয় না।(ধারা ৮৭) : লোকসান বা দণ্ড লাভের হারের ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়।(ধারা ৮৮) : সুযোগ-সুবিধা কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয় এবং কষ্ট বা দায় সুযোগ-সুবিধার পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।(ধারা ৮৯) : যতক্ষণ পর্যন্ত বাধ্য বা জবরদস্তি করা না হবে, ততক্ষণ কাজ সরাসরি সম্পাদনকারীর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হবে, নির্দেশদাতার প্রতি নয়।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(الْمَادَّةُ 90) : إذَا اجْتَمَعَ الْمُبَاشِرُ وَالْمُتَسَبِّبُ أُضِيفَ الْحُكْمُ إلَى الْمُبَاشِرِ(الْمَادَّةُ 91) : الْجَوَازُ الشَّرْعِيُّ يُنَافِي الضَّمَانَ(الْمَادَّةُ 92) : الْمُبَاشِرُ ضَامِنٌ وَإِنْ لَمْ يَتَعَمَّدْ(الْمَادَّةُ 93) : الْمُتَسَبِّبُ لَا يَضْمَنُ إلَّا بِالتَّعَمُّدِ(الْمَادَّةُ 94) : جِنَايَةُ الْعَجْمَاءِ جُبَارٌ(الْمَادَّةُ 95) : الْأَمْرُ بِالتَّصَرُّفِ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ بَاطِلٌ(الْمَادَّةُ 96) : لَا يَجُوزُ لِأَحَدٍ أَنْ يَتَصَرَّفَ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ بِلَا إذْنِهِ(الْمَادَّةُ 97) : لَا يَجُوزُ لِأَحَدٍ أَنْ يَأْخُذَ مَالَ أَحَدٍ بِلَا سَبَبٍ شَرْعِيٍّ
(ধারা ৯০) : যখন সরাসরি সম্পাদনকারী এবং পরোক্ষ কারণদানকারী একত্রিত হয়, তখন বিধানটি সরাসরি সম্পাদনকারীর ওপর বর্তাবে।(ধারা ৯১) : শরয়ি বৈধতা ক্ষতিপূরণের বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী।(ধারা ৯২) : সরাসরি সম্পাদনকারী ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে, যদিও সে ইচ্ছাকৃতভাবে তা না করে।(ধারা ৯৩) : পরোক্ষ কারণদানকারী ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে না, যতক্ষণ না সে ইচ্ছাকৃতভাবে তা করে।(ধারা ৯৪) : অবলা প্রাণীর দ্বারা সংঘটিত অপরাধ বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো দায় নেই।(ধারা ৯৫) : অন্যের মালিকানাধীন সম্পদে হস্তক্ষেপ করার আদেশ প্রদান বাতিল।(ধারা ৯৬) : অনুমতি ব্যতীত কারো জন্য অন্যের মালিকানাধীন সম্পদে হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়।(ধারা ৯৭) : শরয়ি কারণ ব্যতীত কারো পক্ষে অন্য কারো সম্পদ গ্রহণ করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(الْمَادَّةُ 98) : تَبَدُّلُ سَبَبِ الْمِلْكِ قَائِمٌ مَقَامَ تَبَدُّلِ الذَّاتِ.(الْمَادَّةُ 99) : مَنْ اسْتَعْجَلَ الشَّيْءَ قَبْلَ أَوَانِهِ عُوقِبَ بِحِرْمَانِهِ.(الْمَادَّةُ 100) : مَنْ سَعَى فِي نَقْضِ مَا تَمَّ مِنْ جِهَتِهِ فَسَعْيُهُ مَرْدُودٌ عَلَيْهِ.
(ধারা ৯৮) : মালিকানার কারণের পরিবর্তন স্বয়ং সত্তার পরিবর্তনের স্থলাভিষিক্ত।(ধারা ৯৯) : যে ব্যক্তি কোনো বিষয়কে তার উপযুক্ত সময়ের পূর্বে পেতে ত্বরান্বিত করবে, তাকে তা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে দণ্ড প্রদান করা হবে।(ধারা ১০০) : যে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে সম্পন্ন হওয়া কোনো বিষয়কে নাকচ করতে সচেষ্ট হয়, তার সেই প্রচেষ্টা তার ওপরই প্রত্যাখ্যাত হবে।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم"بعد صورة الخط الهمايوني"(ليعمل بموجبه)الكتاب الأول في البيوعوينقسم إلى مقدمة وسبعة أبوابالمُقَدِّمَةٌ: فِي بَيَانِ الِاصْطِلَاحَاتِ الْفِقْهِيَّةِ الْمُتَعَلِّقَةِ بِالْبُيُوعِ(الْمَادَّةُ 101) الْإِيجَابُ أَوَّلُ كَلَامٍ يَصْدُرُ مِنْ أَحَدِ الْعَاقِدَيْنِ لِأَجْلِ إنْشَاءِ التَّصَرُّفِ وَبِهِ يُوجَبُ وَيَثْبُتُ التَّصَرُّفُ.(الْمَادَّةُ 102) الْقَبُولُ ثَانِي كَلَامٍ يَصْدُرُ مِنْ أَحَدِ الْعَاقِدَيْنِ لِأَجْلِ إنْشَاءِ التَّصَرُّفِ وَبِهِ يَتِمُّ الْعَقْدُ.(الْمَادَّةُ 103) الْعَقْدُ الْتِزَامُ الْمُتَعَاقِدَيْنِ وَتَعَهُّدُهُمَا أَمْرًا وَهُوَ عِبَارَةٌ عَنْ ارْتِبَاطِ الْإِيجَابِ بِالْقَبُولِ.(الْمَادَّةُ 104) الِانْعِقَادُ تَعَلُّقُ كُلٍّ مِنْ الْإِيجَابِ وَالْقَبُولِ بِالْآخَرِ عَلَى وَجْهٍ مَشْرُوعٍ يَظْهَرُ أَثَرُهُ فِي مُتَعَلَّقِهِمَا.(الْمَادَّةُ 105) الْبَيْعُ: مُبَادَلَةُ مَالٍ بِمَالِ وَيَكُونُ مُنْعَقِدًا وَغَيْرَ مُنْعَقِدٍ.(الْمَادَّةُ 106) الْبَيْعُ الْمُنْعَقِدُ هُوَ الْبَيْعُ الَّذِي يَنْعَقِدُ عَلَى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।"রাজকীয় ফরমানের প্রতিলিপির পর"(তদানুযায়ী আমল করার জন্য)প্রথম কিতাব: ক্রয়-বিক্রয় প্রসঙ্গেএটি একটি ভূমিকা ও সাতটি অধ্যায়ে বিভক্ত।ভূমিকা: ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত ফিকহী পরিভাষা সমূহের বর্ণনা(ধারা ১০১) ইজাব (প্রস্তাব) হলো লেনদেন সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে চুক্তি সম্পাদনকারী দুই পক্ষের কোনো একজনের পক্ষ থেকে ব্যক্ত হওয়া প্রথম কথা, যার দ্বারা লেনদেনটি আবশ্যক ও সাব্যস্ত হয়।(ধারা ১০২) কবুল (গ্রহণ) হলো লেনদেন সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে চুক্তি সম্পাদনকারী দুই পক্ষের কোনো একজনের পক্ষ থেকে ব্যক্ত হওয়া দ্বিতীয় কথা, যার দ্বারা চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।(ধারা ১০৩) আকদ (চুক্তি) হলো কোনো বিষয়ে চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় পক্ষের পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার; আর এটি হলো ইজাব ও কবুলের মধ্যকার সস্পর্ক স্থাপনের নাম।(ধারা ১০৪) ইনইকাদ (চুক্তি সংগঠিত হওয়া) হলো ইজাব ও কবুল শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে একে অপরের সাথে এমনভাবে সংশ্লিষ্ট হওয়া, যার প্রভাব চুক্তির বিষয়ের ওপর প্রকাশ পায়।(ধারা ১০৫) বাই (ক্রয়-বিক্রয়): মালের বিনিময়ে মালের আদান-প্রদান; এবং এটি সংগঠিত অথবা অসংগঠিত—উভয় প্রকারের হয়ে থাকে।(ধারা ১০৬) সংগঠিত ক্রয়-বিক্রয় হলো সেই বিক্রয় যা সংগঠিত হয়...
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الْوَجْهِ الْمَذْكُورِ وَيَنْقَسِمُ إلَى صَحِيحٍ ، وَفَاسِدٍ ، وَنَافِذٍ ، وَمَوْقُوفٍ.(الْمَادَّةُ 107) الْبَيْعُ غَيْرُ الْمُنْعَقِدِ هُوَ الْبَيْعُ الْبَاطِلُ.(الْمَادَّةُ 108) الْبَيْعُ الصَّحِيحُ هُوَ الْبَيْعُ الْجَائِزُ وَهُوَ الْبَيْعُ الْمَشْرُوعُ أَصْلًا وَوَصْفًا.(الْمَادَّةُ 109) الْبَيْعُ الْفَاسِدُ هُوَ الْمَشْرُوعُ أَصْلًا لَا وَصْفًا يَعْنِي أَنَّهُ يَكُونُ صَحِيحًا بِاعْتِبَارِ ذَاتِهِ فَاسِدًا بِاعْتِبَارِ بَعْضِ أَوْصَافِهِ الْخَارِجَةِ (رَاجِعْ الْبَابَ السَّابِعَ) .(الْمَادَّةُ 110) الْبَيْعُ الْبَاطِلُ مَا لَا يَصِحُّ أَصْلًا يَعْنِي أَنَّهُ لَا يَكُونُ مَشْرُوعًا أَصْلًا.(الْمَادَّةُ 111) الْبَيْعُ الْمَوْقُوفُ بَيْعٌ يَتَعَلَّقُ بِهِ حَقُّ الْغَيْرِ كَبَيْعِ الْفُضُولِيِّ(الْمَادَّةُ 112) الْفُضُولِيُّ: هُوَ مَنْ يَتَصَرَّفُ بِحَقِّ الْغَيْرِ بِدُونِ إذْنٍ شَرْعِيٍّ ،(الْمَادَّةُ 113) الْبَيْعُ النَّافِذُ بَيْعٌ لَا يَتَعَلَّقُ بِهِ حَقُّ الْغَيْرِ وَهُوَ يَنْقَسِمُ إلَى لَازِمٍ وَغَيْرِ لَازِمٍ(الْمَادَّةُ 114) الْبَيْعُ اللَّازِمُ هُوَ الْبَيْعُ النَّافِذُ الْعَارِي عَنْ الْخِيَارَاتِ(الْمَادَّةُ 115) (الْبَيْعُ غَيْرُ اللَّازِمِ هُوَ الْبَيْعُ النَّافِذُ الَّذِي فِيهِ أَحَدُ الْخِيَارَاتِ)(الْمَادَّةُ 116) (الْخِيَارُ كَوْنُ أَحَدِ الْعَاقِدَيْنِ مُخَيَّرًا عَلَى مَا سَيَجِيءُ فِي بَابِهِ) .(الْمَادَّةُ 117) (الْبَيْعُ الْبَاتُّ هُوَ الْبَيْعُ الْقَطْعِيُّ)(الْمَادَّةُ 118) بَيْعُ الْوَفَاءِ هُوَ الْبَيْعُ بِشَرْطِ أَنَّ الْبَائِعَ مَتَى رَدَّ الثَّمَنَ يَرُدُّ الْمُشْتَرِي إلَيْهِ الْمَبِيعَ وَهُوَ فِي حُكْمِ الْبَيْعِ الْجَائِزِ بِالنَّظَرِ إلَى انْتِفَاعِ الْمُشْتَرِي بِهِ وَفِي حُكْمِ الْبَيْعِ الْفَاسِدِ بِالنَّظَرِ إلَى كَوْنِ كُلٍّ مِنْ
উল্লেখিত প্রকারে তা সহিহ, ফাসিদ, নাফিজ এবং মাওকুফে বিভক্ত হয়।(ধারা ১০৭) অসংগঠিত বিক্রয়ই হলো বাতিল বিক্রয়।(ধারা ১০৮) সহিহ বিক্রয় হলো সেই বৈধ বিক্রয় যা মূল এবং গুণ উভয় দিক থেকেই শরিয়তসম্মত।(ধারা ১০৯) ফাসিদ বিক্রয় হলো যা মূলে শরিয়তসম্মত কিন্তু গুণে নয়। অর্থাৎ এটি নিজস্ব সত্তার বিচারে সহিহ হলেও কিছু বাহ্যিক গুণের বিচারে ফাসিদ বা ত্রুটিযুক্ত (সপ্তম অধ্যায় দ্রষ্টব্য)।(ধারা ১১০) বাতিল বিক্রয় হলো যা আদতেই সহিহ নয়, অর্থাৎ যা মূলগতভাবেই শরিয়তসম্মত নয়।(ধারা ১১১) মাওকুফ বিক্রয় হলো এমন বিক্রয় যার সাথে অন্যের অধিকার সম্পৃক্ত থাকে, যেমন ফুজুলির (অনধিকার লেনদেনকারীর) বিক্রয়।(ধারা ১১২) ফুজুলি হলো সেই ব্যক্তি, যে শরিয়তসম্মত অনুমতি ব্যতীত অন্যের অধিকারে লেনদেন বা হস্তক্ষেপ করে।(ধারা ১১৩) নাফিজ বিক্রয় হলো এমন বিক্রয় যার সাথে অন্যের অধিকার সম্পৃক্ত নয় এবং এটি লাজিম ও গায়রে লাজিম—এই দুই ভাগে বিভক্ত।(ধারা ১১৪) লাজিম বিক্রয় হলো সেই নাফিজ বিক্রয় যা সকল প্রকার খিয়ার (পছন্দ করার অধিকার) থেকে মুক্ত।(ধারা ১১৫) গায়রে লাজিম বিক্রয় হলো সেই নাফিজ বিক্রয় যাতে কোনো একটি খিয়ার বা পছন্দ করার অধিকার বিদ্যমান থাকে।(ধারা ১১৬) খিয়ার হলো চুক্তি সম্পাদনকারী দুই পক্ষের কোনো একজনের জন্য ইচ্ছাধিকার থাকা, যেমনটি সামনে তার নিজস্ব অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণিত হবে।(ধারা ১১৭) বাত্ত বিক্রয় হলো অকাট্য বা চূড়ান্ত বিক্রয়।(ধারা ১১৮) বায়উল ওয়াফা হলো এমন শর্তে বিক্রয় করা যে, যখনই বিক্রেতা মূল্য ফেরত দেবে, ক্রেতা বিক্রিত পণ্যটি তাকে ফেরত দেবে। ক্রেতার পণ্যটি ভোগ করার বিচারে এটি বৈধ বিক্রয়ের হুকুমে গণ্য এবং উভয়ের দিক থেকে বিবেচনার নিরিখে এটি ফাসিদ বিক্রয়ের হুকুমে গণ্য...
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الْفَرِيقَيْنِ مُقْتَدِرًا عَلَى الْفَسْخِ وَفِي حُكْمِ الرَّهْنِ بِالنَّظَرِ إلَى أَنَّ الْمُشْتَرِيَ لَا يَقْدِرُ عَلَى بَيْعِهِ إلَى الْغَيْرِ.(الْمَادَّةُ 119) (بَيْعُ الِاسْتِغْلَالِ هُوَ بَيْعُ وَفَاءٍ عَلَى أَنْ يَسْتَأْجِرَهُ الْبَائِعُ)(الْمَادَّةُ 120) (الْبَيْعُ بِاعْتِبَارِ الْمَبِيعِ يَنْقَسِمُ إلَى أَرْبَعَةِ أَقْسَامٍ: الْقِسْمُ الْأَوَّلُ: بَيْعُ الْمَالِ بِالثَّمَنِ وَبِمَا أَنَّ هَذَا الْقِسْمَ أَشْهَرُ الْبُيُوعِ يُسَمَّى بِالْبَيْعِ. الْقِسْمُ الثَّانِي: هُوَ الصَّرْفُ. وَالْقِسْمُ الثَّالِثُ: بَيْعُ الْمُقَايَضَةِ. وَالْقِسْمُ الرَّابِعُ: السَّلَمُ) .(الْمَادَّةُ 121) (الصَّرْفُ بَيْعُ النَّقْدِ بِالنَّقْدِ)(الْمَادَّةُ 122) (بَيْعُ الْمُقَايَضَةِ بَيْعُ الْعَيْنِ بِالْعَيْنِ أَيْ مُبَادَلَةُ مَالٍ بِمَالٍ غَيْرِ النَّقْدَيْنِ)(الْمَادَّةُ 123) (بَيْعُ السَّلَمِ مُؤَجَّلٌ بِمُعَجَّلٍ)(الْمَادَّةُ 124) " الِاسْتِصْنَاعُ عَقْدُ مُقَاوَلَةٍ مَعَ أَهْلِ الصَّنْعَةِ عَلَى أَنْ يَعْمَلُوا شَيْئًا فَالْعَامِلُ صَانِعٌ وَالْمُشْتَرِي مُسْتَصْنِعٌ وَالشَّيْءُ مَصْنُوعٌ ".(الْمَادَّةُ 125) (الْمِلْكُ مَا مَلَكَهُ الْإِنْسَانُ سَوَاءٌ كَانَ أَعْيَانًا أَوْ مَنَافِعَ)(الْمَادَّةُ 126) (الْمَالُ هُوَ مَا يَمِيلُ إلَيْهِ طَبْعُ الْإِنْسَانِ وَيُمْكِنُ ادِّخَارُهُ إلَى وَقْتِ الْحَاجَةِ مَنْقُولًا كَانَ أَوْ غَيْرَ مَنْقُولٍ)(الْمَادَّةُ 127) (الْمَالُ الْمُتَقَوِّمِ يُسْتَعْمَلُ فِي مَعْنَيَيْنِ: الْأَوَّلُ: مَا يُبَاحُ الِانْتِفَاعُ بِهِ. وَالثَّانِي: بِمَعْنَى الْمَالِ الْمُحْرَزِ فَالسَّمَكُ فِي الْبَحْرِ غَيْرُ مُتَقَوِّمٍ وَإِذَا اُصْطِيدَ صَارَ مُتَقَوِّمًا بِالْإِحْرَازِ) .(الْمَادَّةُ 128) الْمَنْقُولُ هُوَ الشَّيْءُ الَّذِي يُمْكِنُ نَقْلُهُ مِنْ مَحِلٍّ إلَى آخَرَ وَيَشْمَلُ النُّقُودَ وَالْعُرُوضَ وَالْحَيَوَانَاتِ وَالْمَكِيلَاتِ وَالْمَوْزُونَاتِ.(الْمَادَّةُ 129) غَيْرُ الْمَنْقُولِ مَا لَا يُمْكِنُ نَقْلُهُ مِنْ مَحِلٍّ إلَى آخَرَ كَالدُّورِ وَالْأَرَاضِيِ مِمَّا يُسَمَّى بِالْعَقَارِ.
উভয় পক্ষ চুক্তিটি বাতিল করতে সক্ষম এবং এটি বন্ধকের বিধানে গণ্য হবে যেহেতু ক্রেতা এটি অন্যের কাছে বিক্রয় করতে সক্ষম নয়।(ধারা ১১৯) (বাইউল ইস্তিগলাল হলো এমন একটি ওয়ফা বিক্রয় যেখানে শর্ত থাকে যে বিক্রেতা বস্তুটি ভাড়া নেবে।)(ধারা ১২০) (বিক্রয়যোগ্য বস্তুর বিবেচনায় বিক্রয় চার প্রকার: প্রথম প্রকার: অর্থের বিনিময়ে মালের বিক্রয়, এবং যেহেতু এই প্রকারটি বিক্রয়ের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, তাই একে সাধারণভাবে ‘বিক্রয়’ (বাই) বলা হয়। দ্বিতীয় প্রকার: সারফ। তৃতীয় প্রকার: মুকায়াযা বিক্রয়। চতুর্থ প্রকার: সালাম।)(ধারা ১২১) (সারফ হলো মুদ্রার বিনিময়ে মুদ্রার বিক্রয়।)(ধারা ১২২) (মুকায়াযা বিক্রয় হলো পণ্যের বিনিময়ে পণ্য বিক্রয়, অর্থাৎ নগদ অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো মালের বিনিময়ে মাল বিনিময় করা।)(ধারা ১২৩) (বাইউস সালাম হলো নগদের বিনিময়ে বাকি পণ্য বিক্রয়।)(ধারা ১২৪) "ইস্তিসনা হলো কারিগরদের সাথে কোনো কিছু তৈরি করার জন্য একটি চুক্তিবদ্ধ হওয়া; এক্ষেত্রে কারিগরকে ‘সানি’ (প্রস্তুতকারক), ক্রেতাকে ‘মুস্তাসনি’ (আদেশকারী) এবং তৈরিকৃত বস্তুকে ‘মাসনু’ (প্রস্তুতকৃত বস্তু) বলা হয়।"(ধারা ১২৫) (মালিকানা হলো সেই জিনিস যা মানুষ অধিকার করে, তা কোনো বস্তু হোক বা কোনো উপযোগ হোক।)(ধারা ১২৬) (মাল হলো এমন বস্তু যার প্রতি মানুষের প্রকৃতি আকৃষ্ট হয় এবং যা প্রয়োজনের সময় পর্যন্ত জমিয়ে রাখা সম্ভব, চাই তা অস্থাবর হোক বা স্থাবর।)(ধারা ১২৭) (মুতাক্বাউয়িম মাল দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: প্রথমত: যা দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ। দ্বিতীয়ত: সংরক্ষিত সম্পদের অর্থে; যেমন সমুদ্রের মাছ মুতাক্বাউয়িম নয়, তবে যখন তা শিকার করা হয়, তখন সংরক্ষণের কারণে তা মুতাক্বাউয়িম হয়ে যায়।)(ধারা ১২৮) অস্থাবর সম্পদ (মনকুল) হলো এমন বস্তু যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব; এর মধ্যে নগদ অর্থ, পণ্যসামগ্রী, প্রাণী এবং পরিমাপযোগ্য ও ওজনযোগ্য দ্রব্যাদি অন্তর্ভুক্ত।(ধারা ১২৯) স্থাবর সম্পদ (গায়রে মনকুল) হলো যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়, যেমন ঘরবাড়ি ও জমি-জমা, যা ‘আকার’ নামে অভিহিত করা হয়।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
(الْمَادَّةُ 130) النُّقُودُ جَمْعُ نَقْدٍ وَهُوَ عِبَارَةٌ عَنْ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ.(الْمَادَّةُ 131) الْعُرُوض جَمْعُ عَرَضٍ بِالتَّحْرِيكِ وَهِيَ مَا عَدَا النُّقُودِ وَالْحَيَوَانَاتِ وَالْمَكِيلَاتِ وَالْمَوْزُونَاتِ كَالْمَتَاعِ وَالْقُمَاشِ(الْمَادَّةُ 132) الْمَقْدُورَاتُ مَا تَتَعَيَّنُ مَقَادِيرُهَا بِالْكَيْلِ أَوْ الْوَزْنِ أَوْ الْعَدَدِ أَوْ الذِّرَاعِ وَهِيَ شَامِلَةٌ لِلْمَكِيلَاتِ وَالْمَوْزُونَاتِ وَالْعَدَدِيَّاتِ ، وَالْمَذْرُوعَاتِ.(الْمَادَّةُ 133) الْكَيْلِيُّ وَالْمَكِيلُ هُوَ مَا يُكَالُ بِهِ(الْمَادَّةُ 134) الْوَزْنِيُّ وَالْمَوْزُونُ هُوَ مَا يُوزَنُ(الْمَادَّةُ 135) الْعَدَدِيُّ وَالْمَعْدُودُ هُوَ مَا يُعَدُّ(الْمَادَّةُ 136) الذَّرِعِي أَوْ الْمَذْرُوعُ هُوَ مَا يُقَاسُ بِالذِّرَاعِ(الْمَادَّةُ 137) الْمَحْدُودُ هُوَ الْعَقَارُ الَّذِي يُمْكِنُ تَعْيِينُ حُدُودِهِ وَأَطْرَافِهِ(الْمَادَّةُ 138) الْمُشَاعُ مَا يَحْتَوِي عَلَى حِصَصٍ شَائِعَةٍ(الْمَادَّةُ 139) الْحِصَّةُ الشَّائِعَةُ هِيَ السَّهْمُ السَّارِي إلَى كُلِّ جُزْءٍ مِنْ أَجْزَاءِ الْمَالِ الْمُشْتَرَكِ.(الْمَادَّةُ 140) الْجِنْسُ: مَا لَا يَكُونُ بَيْنَ أَفْرَادِهِ تَفَاوُتٌ فَاحِشٌ بِالنِّسْبَةِ إلَى الْغَرَضِ مِنْهُ(الْمَادَّةُ 141) الْجُزَافُ وَالْمُجَازَفَةُ: بَيْعُ مَجْمُوعٍ بِلَا تَقْدِيرٍ(الْمَادَّةُ 142) حَقُّ الْمُرُورِ هُوَ حَقُّ الْمَشْيِ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ(الْمَادَّةُ 143) حَقُّ الشُّرْبِ: هُوَ نَصِيبٌ مُعَيَّنٌ مَعْلُومٌ مِنْ النَّهْرِ(الْمَادَّةُ 144) حَقُّ الْمَسِيلِ حَقُّ جَرَيَانِ الْمَاءِ وَالسَّيْلُ والتوكاف مِنْ دَارٍ إلَى الْخَارِجِ.(الْمَادَّةُ 145) الْمِثْلِيُّ: مَا يُوجَدُ مِثْلُهُ فِي السُّوقِ بِدُونِ تَفَاوُتٍ يُعْتَدُّ بِهِ
(ধারা ১৩০) নুকুদ হলো নাকদ-এর বহুবচন; আর তা স্বর্ণ ও রৌপ্যের সমষ্টিকে বোঝায়।(ধারা ১৩১) উরুজ হলো ‘আরাজ’ (হরকতযুক্ত) এর বহুবচন; আর তা মুদ্রা, পশু, পরিমাপযোগ্য এবং ওজনযোগ্য বস্তু ব্যতীত অন্যান্য সামগ্রী যেমন আসবাবপত্র ও কাপড়কে বোঝায়।(ধারা ১৩২) মাকদুরাত হলো সেই সকল বস্তু যেগুলোর পরিমাণ পাত্রে পরিমাপ, ওজন, সংখ্যা অথবা হাত (দৈর্ঘ্য) দ্বারা নির্ধারণ করা হয়। এটি পরিমাপযোগ্য, ওজনযোগ্য, সংখ্যাভিত্তিক এবং দৈর্ঘ্য-পরিমাপযোগ্য বস্তুসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।(ধারা ১৩৩) কাইলি এবং মাকিল হলো সেই বস্তু যা পাত্রের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়।(ধারা ১৩৪) ওয়াজনি এবং মাওজুন হলো সেই বস্তু যা ওজন করা হয়।(ধারা ১৩৫) আদাদি এবং মাদুদ হলো সেই বস্তু যা গণনা করা হয়।(ধারা ১৩৬) জারি বা মাজরু হলো সেই বস্তু যা হাত (দৈর্ঘ্য) দ্বারা পরিমাপ করা হয়।(ধারা ১৩৭) মাহদুদ হলো সেই স্থাবর সম্পত্তি যার সীমানা ও প্রান্তসমূহ নির্ধারণ করা সম্ভব।(ধারা ১৩৮) মুশা হলো সেই বস্তু যা অবিভক্ত অংশসমূহ ধারণ করে।(ধারা ১৩৯) হিসসা শায়িআহ (অবিভক্ত অংশ) হলো সেই অংশ যা যৌথ সম্পদের প্রতিটি অংশের মধ্যে পরিব্যাপ্ত থাকে।(ধারা ১৪০) জিনস (শ্রেণি): যার অন্তর্ভুক্ত এককগুলোর মধ্যে উদ্দেশ্যের বিচারে বড় ধরণের কোনো পার্থক্য বিদ্যমান নেই।(ধারা ১৪১) জুজাফ এবং মুজাজাফা: কোনো সমষ্টি বা স্তূপকে পরিমাণ নির্ধারণ ছাড়াই বিক্রি করা।(ধারা ১৪২) হাক্কুল মুরূর হলো অন্যের মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অধিকার।(ধারা ১৪৩) হাক্কুশ শুরব (পানির অধিকার): এটি হলো নদী থেকে পানির একটি সুনির্দিষ্ট ও জ্ঞাত অংশ।(ধারা ১৪৪) হাক্কুল মাসিল হলো ঘর থেকে বাইরের দিকে পানি এবং বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হওয়ার বা নিষ্কাশনের অধিকার।(ধারা ১৪৫) মিসলি (সমজাতীয় বস্তু): বাজারে যার অনুরূপ বস্তু উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য ছাড়াই পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
(الْمَادَّةُ 146) الْقِيَمِيُّ: مَا لَا يُوجَدُ لَهُ مِثْلٌ فِي السُّوقِ أَوْ يُوجَدُ لَكِنْ مَعَ التَّفَاوُتِ الْمُعْتَدِّ بِهِ فِي الْقِيمَةِ.(الْمَادَّةُ 147) الْعَدَدِيَّاتُ الْمُتَقَارِبَةُ هِيَ الْمَعْدُودَاتُ الَّتِي لَا يَكُونُ بَيْنَ أَفْرَادِهَا وَآحَادِهَا تَفَاوُتٌ فِي الْقِيمَةِ فَجَمِيعُهَا مِنْ الْمِثْلِيَّاتِ(الْمَادَّةُ 148) الْعَدَدِيَّاتُ الْمُتَفَاوِتَةُ هِيَ الْمَعْدُودَاتُ الَّتِي يَكُونُ بَيْنَ أَفْرَادِهَا وَآحَادِهَا تَفَاوُتٌ فِي الْقِيمَةِ فَجَمِيعُهَا قِيَمِيَّاتٌ(الْمَادَّةُ 149) رُكْنُ الْبَيْعِ: يَعْنِي مَاهِيَّتَهُ عِبَارَةٌ عَنْ مُبَادَلَةِ مَالٍ بِمَالٍ وَيُطْلَقُ عَلَى الْإِيجَابِ وَالْقَبُولِ أَيْضًا لِدَلَالَتِهِمَا عَلَى الْمُبَادَلَةِ(الْمَادَّةُ 150) مَحِلُّ الْبَيْعِ هُوَ الْمَبِيعُ(الْمَادَّةُ 151) الْمَبِيعُ: مَا يُبَاعُ وَهُوَ الْعَيْنُ الَّتِي تَتَعَيَّنُ فِي الْبَيْعِ وَهُوَ الْمَقْصُودُ الْأَصْلِيُّ مِنْ الْبَيْعِ ; لِأَنَّ الِانْتِفَاعَ إنَّمَا يَكُونُ بِالْأَعْيَانِ ، وَالْأَثْمَانُ وَسِيلَةٌ لِلْمُبَادَلَةِ(الْمَادَّةُ 152) الثَّمَنُ مَا يَكُونُ بَدَلًا لِلْمَبِيعِ وَيَتَعَلَّقُ بِالذِّمَّةِ(الْمَادَّةُ 153) الثَّمَنُ الْمُسَمَّى هُوَ الثَّمَنُ الَّذِي يُسَمِّيهِ وَيُعَيِّنُهُ الْعَاقِدَانِ وَقْتَ الْبَيْعِ بِالتَّرَاضِي سَوَاءٌ كَانَ مُطَابِقًا لِلْقِيمَةِ الْحَقِيقِيَّةِ أَوْ نَاقِصًا عَنْهَا أَوْ زَائِدًا عَلَيْهَا.(الْمَادَّةُ 154) الْقِيمَةُ هِيَ الثَّمَنُ الْحَقِيقِيُّ لِلشَّيْءِ(الْمَادَّةُ 155) الْمُثَمَّنُ الشَّيْءُ الَّذِي يُبَاعُ بِالثَّمَنِ(الْمَادَّةُ 156) التَّأْجِيلُ: تَعْلِيقُ الدَّيْنِ وَتَأْخِيرُهُ إلَى وَقْتٍ مُعَيَّنٍ.(الْمَادَّةُ 157) التَّقْسِيطُ تَأْجِيلُ أَدَاءِ الدَّيْنِ مُفَرَّقًا إلَى أَوْقَاتٍ مُتَعَدِّدَةٍ مُعَيَّنَةٍ.(الْمَادَّةُ 158) الدَّيْنُ مَا يَثْبُتُ فِي الذِّمَّةِ كَمِقْدَارٍ مِنْ الدَّرَاهِمِ فِي ذِمَّةِ رَجُلٍ
(ধারা ১৪৬) কিয়ামি: যার সদৃশ বস্তু বাজারে পাওয়া যায় না, অথবা পাওয়া গেলেও তার মূল্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।(ধারা ১৪৭) সমজাতীয় গণনযোগ্য বস্তু হলো সেইসব পরিমাপযোগ্য বস্তু যার এককসমূহের মধ্যে মূল্যের কোনো ব্যবধান থাকে না; ফলে এগুলোর সবই 'মিসলি' (সদৃশযোগ্য) পর্যায়ভুক্ত।(ধারা ১৪৮) ভিন্নজাতীয় গণনযোগ্য বস্তু হলো সেইসব পরিমাপযোগ্য বস্তু যার এককসমূহের মধ্যে মূল্যের ব্যবধান বিদ্যমান থাকে; ফলে এগুলোর সবই 'কিয়ামি' (মূল্যভিত্তিক) পর্যায়ভুক্ত।(ধারা ১৪৯) বিক্রয়ের রুকন: অর্থাৎ বিক্রয়ের মূল হাকিকত হলো মালের বিনিময়ে মাল বিনিময় করা। বিনিময়ের ওপর নির্দেশক হওয়ার কারণে ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ)-কেও রুকন বলা হয়ে থাকে।(ধারা ১৫০) বিক্রয়ের ক্ষেত্র বা বিষয়বস্তু হলো 'মাবি' (বিক্রীত মাল)।(ধারা ১৫১) মাবি: যা বিক্রয় করা হয়। এটি হলো সেই সুনির্দিষ্ট বস্তু যা বিক্রয় চুক্তিতে নির্ধারিত হয় এবং এটিই বিক্রয়ের মূল লক্ষ্য; কেননা মূলত বস্তু থেকেই উপকার লাভ করা হয়, আর মূল্য হলো বিনিময়ের একটি মাধ্যম মাত্র।(ধারা ১৫২) সামান (মূল্য): যা বিক্রীত মালের বিনিময় হিসেবে সাব্যস্ত হয় এবং জিম্মায় বা আর্থিক দায়িত্বে বর্তায়।(ধারা ১৫৩) নির্ধারিত মূল্য (সামানে মুসাম্মা): এটি সেই মূল্য যা চুক্তিবদ্ধ পক্ষদ্বয় বিক্রয়কালে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট করে দেয়; চাই তা বস্তুটির প্রকৃত মূল্যের সমান হোক অথবা কম বা বেশি হোক।(ধারা ১৫৪) কিমাত (মূল্যমান): কোনো বস্তুর প্রকৃত মূল্য বা বাজার দরকে কিমাত বলা হয়।(ধারা ১৫৫) মুসাম্মান: যে বস্তুটি মূল্যের বিনিময়ে বিক্রয় করা হয়।(ধারা ১৫৬) তা'জিল (বিলম্বিতকরণ): ঋণ পরিশোধকে স্থগিত করা এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তা পিছিয়ে দেওয়া।(ধারা ১৫৭) তাকসিত (কিস্তিবন্দী): ঋণ পরিশোধকে বিভিন্ন নির্দিষ্ট সময়ে বিভক্ত করে বিলম্বিত করা।(ধারা ১৫৮) দাইন (ঋণ): যা জিম্মায় বা আর্থিক দায়িত্বে সাব্যস্ত হয়; যেমন কোনো ব্যক্তির নিকট পাওনা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَمِقْدَارٍ مِنْهَا لَيْسَ بِحَاضِرٍ وَالْمِقْدَارُ الْمُعَيَّنُ مِنْ الدَّرَاهِمِ أَوْ مِنْ صُبْرَةِ الْحِنْطَةِ الْحَاضِرَتَيْنِ قَبْلَ الْإِفْرَازِ فَكُلُّهَا مِنْ قَبِيلِ الدَّيْنِ.(الْمَادَّةُ 159) الْعَيْنُ: هِيَ الشَّيْءُ الْمُعَيَّنُ الْمُشَخَّصُ كَبَيْتٍ وَحِصَانٍ وَكُرْسِيٍّ وَصُبْرَةِ حِنْطَةٍ وَصُبْرَةِ دَرَاهِمَ حَاضِرَتَيْنِ وَكُلُّهَا مِنْ الْأَعْيَانِ.(الْمَادَّةُ 160) الْبَائِعُ: هُوَ مَنْ يَبِيعُ.(الْمَادَّةُ 161) الْمُشْتَرِي هُوَ مَنْ يَشْتَرِي(الْمَادَّةُ 162) الْمُتَبَايِعَانِ هُمَا الْبَائِعُ وَالْمُشْتَرِي وَيُسَمَّيَانِ عَاقِدَيْنِ أَيْضًا(الْمَادَّةُ 163) الْإِقَالَةُ: رَفْعُ عَقْدِ الْبَيْعِ وَإِزَالَتُهُ.(الْمَادَّةُ 164) التَّغْرِيرُ: تَوْصِيفُ الْمَبِيعِ لِلْمُشْتَرِي بِغَيْرِ صِفَتِهِ الْحَقِيقِيَّةِ.(الْمَادَّةُ 165) الْغَبْنُ الْفَاحِشُ: غَبْنٌ عَلَى قَدْرِ نِصْفِ الْعُشْرِ فِي الْعُرُوضِ وَالْعُشْرِ فِي الْحَيَوَانَاتِ وَالْخُمُسِ فِي الْعَقَارِ أَوْ زِيَادَةٍ.(الْمَادَّةُ 166) الْقَدِيمُ: هُوَ الَّذِي لَا يُوجَدُ مَنْ يَعْرِفُ أَوَّلَهُ.الْبَابُ الْأَوَّلُ: فِي بَيَانِ الْمَسَائِلِ الْمُتَعَلِّقَةِ بِعَقْدِ الْبَيْعِوَفِيهِ أَرْبَعَةُ فُصُولٍ:الْفَصْلُ الْأَوَّلُ: فِيمَا يَتَعَلَّقُ بِرُكْنِ الْبَيْعِ(الْمَادَّةُ 167) : الْبَيْعُ يَنْعَقِدُ بِإِيجَابٍ وَقَبُولٍ.(الْمَادَّةُ 168) الْإِيجَابُ وَالْقَبُولُ فِي الْبَيْعِ عِبَارَةٌ عَنْ كُلِّ
এবং তার সেই পরিমাণ যা উপস্থিত নেই, এবং দিরহামের নির্ধারিত পরিমাণ অথবা গমের স্তূপের সেই অংশ যা পৃথক করার আগে উপস্থিত আছে, এই সবই ঋণের অন্তর্ভুক্ত।(ধারা ১৫৯) নির্দিষ্ট বস্তু: তা হলো সেই নির্দিষ্ট ও চিহ্নিত বস্তু, যেমন বাড়ি, ঘোড়া, চেয়ার, গমের স্তূপ এবং দিরহামের স্তূপ যা উপস্থিত আছে; এ সবই নির্দিষ্ট বস্তুর অন্তর্ভুক্ত।(ধারা ১৬০) বিক্রেতা: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি বিক্রয় করেন।(ধারা ১৬১) ক্রেতা: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ক্রয় করেন।(ধারা ১৬২) দুই পক্ষ: তারা হলেন বিক্রেতা ও ক্রেতা; তাদের উভয়কে চুক্তিকারী পক্ষও বলা হয়।(ধারা ১৬৩) চুক্তি বাতিলকরণ: ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি রদ করা এবং তা বিলুপ্ত করা।(ধারা ১৬৪) প্রতারণা: বিক্রীত পণ্যের বিবরণ ক্রেতার কাছে তার প্রকৃত গুণাবলি ছাড়া ভিন্নভাবে বর্ণনা করা।(ধারা ১৬৫) অত্যধিক ঠকানো: এটি হলো সাধারণ পণ্যের ক্ষেত্রে দশমাংশের অর্ধেক (পাঁচ শতাংশ), পশুর ক্ষেত্রে দশমাংশ এবং স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে পঞ্চমাংশ পরিমাণ বা তার বেশি লোকসান বা প্রতারণা হওয়া।(ধারা ১৬৬) প্রাচীন: তা হলো এমন কিছু যার সূচনাকাল সম্পর্কে জানে এমন কাউকে পাওয়া যায় না।প্রথম অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের বর্ণনায়এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:প্রথম পরিচ্ছেদ: ক্রয়-বিক্রয়ের রুকন সংক্রান্ত(ধারা ১৬৭) : প্রস্তাব ও গ্রহণের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয়।(ধারা ১৬৮) ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রস্তাব ও গ্রহণ হলো এমন প্রতিটি শব্দের অভিব্যক্তি যা
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
لَفْظَيْنِ مُسْتَعْمَلَيْنِ لِإِنْشَاءِ الْبَيْعِ فِي عُرْفِ الْبَلَدِ وَالْقَوْمِ.(الْمَادَّةُ 169) : الْإِيجَابُ وَالْقَبُولُ يَكُونَانِ بِصِيغَةِ الْمَاضِي كَبِعْتُ وَاشْتَرَيْتُ وَأَيُّ لَفْظٍ مِنْ هَذَيْنِ ذُكِرَ أَوَّلًا فَهُوَ إيجَابٌ وَالثَّانِي قَبُولٌ فَلَوْ قَالَ الْبَائِعُ: بِعْت ، ثُمَّ قَالَ الْمُشْتَرِي: اشْتَرَيْت ، أَوْ قَالَ الْمُشْتَرِي أَوَّلًا: اشْتَرَيْت ، ثُمَّ قَالَ الْبَائِعُ: بِعْت ، انْعَقَدَ الْبَيْعُ وَيَكُونُ لَفْظُ " بِعْت " فِي الْأَوَّلِ إيجَابًا وَ " اشْتَرَيْت " قَبُولًا. وَفِي الثَّانِيَةِ بِالْعَكْسِ ،وَيَنْعَقِدُ الْبَيْعُ أَيْضًا بِكُلِّ لَفْظٍ يُنْبِئُ عَنْ إنْشَاءِ التَّمْلِيكِ وَالتَّمَلُّكِ كَقَوْلِ الْبَائِعِ: أَعْطَيْت أَوْ مَلَّكْت وَقَوْلِ الْمُشْتَرِي: أَخَذْت أَوْ تَمَلَّكْت أَوْ رَضِيت أَوْ أَمْثَالُ ذَلِكَ ".(الْمَادَّةُ 170) يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ بِصِيغَةِ الْمُضَارِعِ أَيْضًا إذَا أُرِيدَ بِهَا الْحَالُ كَمَا فِي عُرْفِ بَعْضِ الْبِلَادِ كَأَبِيعُ وَأَشْتَرِي وَإِذَا أُرِيدَ بِهَا الِاسْتِقْبَالُ لَا يَنْعَقِدُ.(الْمَادَّةُ 171) : صِيغَةُ الِاسْتِقْبَالِ الَّتِي هِيَ بِمَعْنَى الْوَعْدِ الْمُجَرَّدِ مِثْلُ سَأَبِيعُ وَأَشْتَرِي لَا يَنْعَقِدُ بِهَا الْبَيْعُ.(الْمَادَّةُ 172) لَا يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ بِصِيغَةِ الْأَمْرِ أَيْضًا كَبِعْ وَاشْتَرِ إلَّا إذَا دَلَّتْ بِطَرِيقِ الِاقْتِضَاءِ عَلَى الْحَالِ فَحِينَئِذٍ يَنْعَقِدُ بِهَا الْبَيْعُ فَلَوْ قَالَ الْمُشْتَرِي: بِعْنِي هَذَا الشَّيْءَ بِكَذَا مِنْ الدَّرَاهِمِ وَقَالَ الْبَائِعُ: بِعْتُك لَا يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ ، أَمَّا لَوْ قَالَ الْبَائِعُ لِلْمُشْتَرِي: خُذْ الْمَالَ بِكَذَا مِنْ الدَّرَاهِمِ وَقَالَ الْمُشْتَرِي: أَخَذْته ، أَوْ قَالَ الْمُشْتَرِي: أَخَذْت هَذَا الشَّيْءَ بِكَذَا قِرْشًا ، وَقَالَ الْبَائِعُ: خُذْهُ ، أَوْ قَالَ: اللَّهُ يُبَارِكُ لَك وَأَمْثَالَهُ انْعَقَدَ الْبَيْعُ فَإِنَّ قَوْلَهُ: خُذْهُ ، وَاَللَّهُ يُبَارِكُ هَهُنَا بِمَعْنَى: هَا أَنَا ذَا بِعْت فَخُذْ(الْمَادَّةُ 173) : كَمَا يَكُونُ الْإِيجَابُ وَالْقَبُولُ بِالْمُشَافَهَةِ يَكُونُ بِالْمُكَاتَبَةِ أَيْضًا(الْمَادَّةُ 174) يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ بِالْإِشَارَةِ الْمَعْرُوفَةِ لِلْأَخْرَسِ.
দেশের প্রচলিত প্রথা ও জাতির পরিভাষায় ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদনের জন্য ব্যবহৃত দুটি শব্দ।(ধারা ১৬৯) : ইজাব (প্রস্তাব) এবং কবুল (গ্রহণ) অতীতকালীন ক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে, যেমন ‘আমি বিক্রি করলাম’ এবং ‘আমি ক্রয় করলাম’। এই শব্দ দুটির মধ্যে যেটি প্রথমে উচ্চারিত হবে সেটিই ইজাব এবং দ্বিতীয়টি কবুল। সুতরাং বিক্রেতা যদি বলে: ‘আমি বিক্রি করলাম’, অতঃপর ক্রেতা বলে: ‘আমি ক্রয় করলাম’, অথবা ক্রেতা যদি প্রথমে বলে: ‘আমি ক্রয় করলাম’, অতঃপর বিক্রেতা বলে: ‘আমি বিক্রি করলাম’, তবে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে যাবে। প্রথম উদাহরণে ‘আমি বিক্রি করলাম’ শব্দটি ইজাব এবং ‘আমি ক্রয় করলাম’ শব্দটি কবুল হিসেবে গণ্য হবে। আর দ্বিতীয় উদাহরণে বিষয়টি এর বিপরীত হবে।তদ্রূপ ক্রয়-বিক্রয় এমন প্রতিটি শব্দের মাধ্যমেও সম্পন্ন হবে যা মালিকানা প্রদান এবং মালিকানা গ্রহণ সম্পাদনের বার্তা দেয়। যেমন বিক্রেতার কথা: ‘আমি দিয়ে দিলাম’ অথবা ‘আমি মালিক বানিয়ে দিলাম’ এবং ক্রেতার কথা: ‘আমি গ্রহণ করলাম’ অথবা ‘আমি মালিক হলাম’ অথবা ‘আমি সম্মত হলাম’ কিংবা এই জাতীয় অন্য কিছু।(ধারা ১৭০) বর্তমানকালীন ক্রিয়ার মাধ্যমেও ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হবে যদি তার দ্বারা বর্তমান সময় উদ্দেশ্য হয়, যেমনটি কোনো কোনো দেশের প্রচলিত প্রথায় দেখা যায়। যেমন: ‘আমি বিক্রি করছি’ এবং ‘আমি ক্রয় করছি’। কিন্তু যদি এর দ্বারা ভবিষ্যৎ সময় উদ্দেশ্য হয়, তবে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হবে না।(ধারা ১৭১) : ভবিষ্যৎকালীন রূপ যা নিছক প্রতিশ্রুতির অর্থ প্রদান করে, যেমন ‘আমি শীঘ্রই বিক্রি করব’ এবং ‘আমি শীঘ্রই ক্রয় করব’, তার দ্বারা ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হবে না।(ধারা ১৭২) অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়ার দ্বারাও ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয় না, যেমন ‘বিক্রি করো’ এবং ‘ক্রয় করো’। তবে যদি তা পরোক্ষভাবে বর্তমান সময়ের অর্থ প্রদান করে, তবে তখন তার মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হবে। সুতরাং যদি ক্রেতা বলে: ‘আমার কাছে এই জিনিসটি এত দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করো’ এবং বিক্রেতা বলে: ‘আমি তোমার কাছে বিক্রি করলাম’, তবে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হবে না। কিন্তু বিক্রেতা যদি ক্রেতাকে বলে: ‘মালটি এত দিরহামের বিনিময়ে গ্রহণ করো’ এবং ক্রেতা বলে: ‘আমি তা গ্রহণ করলাম’, অথবা ক্রেতা যদি বলে: ‘আমি এই জিনিসটি এত কিরাশে গ্রহণ করলাম’ এবং বিক্রেতা বলে: ‘এটি গ্রহণ করো’ অথবা বলে: ‘আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন’ এবং এই জাতীয় শব্দ, তবে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হবে। কেননা এক্ষেত্রে তার কথা ‘এটি গ্রহণ করো’ এবং ‘আল্লাহ বরকত দান করুন’ মূলত ‘আমি এটি বিক্রি করেছি, সুতরাং তুমি গ্রহণ করো’ এই অর্থ বহন করে।(ধারা ১৭৩) : ইজাব ও কবুল যেভাবে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে হয়ে থাকে, তেমনিভাবে তা লিখিতভাবেও হতে পারে।(ধারা ১৭৪) বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির সুপরিচিত ইশারার মাধ্যমেও ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হবে।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
(الْمَادَّةُ 175) بِمَا أَنَّ الْمَقْصِدَ الْأَصْلِيَّ مِنْ الْإِيجَابِ وَالْقَبُولِ هُوَ تَرَاضِي الطَّرَفَيْنِ يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ بِالْمُبَادَلَةِ الْفِعْلِيَّةِ الدَّالَّةِ عَلَى التَّرَاضِي وَيُسَمَّى هَذَا بَيْعَ التَّعَاطِي.مِثَالُ ذَلِكَ: أَنْ يُعْطِيَ الْمُشْتَرِي لِلْخَبَّازِ مِقْدَارًا مِنْ الدَّرَاهِمِ فَيُعْطِيَهُ الْخَبَّازُ مِقْدَارًا مِنْ الْخُبْزِ بِدُونِ تَلَفُّظٍ بِإِيجَابٍ وَقَبُولٍ ، أَوْ أَنْ يُعْطِيَ الْمُشْتَرِي الثَّمَنَ لِلْبَائِعِ وَيَأْخُذَ السِّلْعَةَ وَيَسْكُتَ الْبَائِعُ ، وَكَذَا لَوْ جَاءَ رَجُلٌ إلَى بَائِعِ الْحِنْطَةِ وَدَفَعَ لَهُ خَمْسَةَ دَنَانِيرَ وَقَالَ: بِكَمْ تَبِيعَ الْمُدَّ مِنْ هَذِهِ الْحِنْطَةِ؟ فَقَالَ: بِدِينَارٍ فَسَكَتَ الْمُشْتَرِي ، ثُمَّ طَلَبَ مِنْهُ الْحِنْطَةَ ، فَقَالَ الْبَائِعُ: أُعْطِيك إيَّاهَا غَدًا يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ أَيْضًا وَإِنْ لَمْ يَجْرِ بَيْنَهُمَا الْإِيجَابُ وَالْقَبُولُ وَفِي هَذِهِ الصُّورَةِ لَوْ ارْتَفَعَ سِعْرُ الْحِنْطَةِ فِي الْغَدِ إلَى دِينَارٍ وَنِصْفٍ يُجْبَرُ الْبَائِعُ عَلَى إعْطَاءِ الْحِنْطَةِ بِسِعْرِ الْمُدِّ بِدِينَارٍ وَكَذَا بِالْعَكْسِ لَوْ رَخُصَتْ الْحِنْطَةُ وَتَدَنَّتْ قِيمَتُهَا فَالْمُشْتَرِي مُجْبَرٌ عَلَى قَبُولِهَا بِالثَّمَنِ الْأَوَّلِ ، وَكَذَا لَوْ قَالَ الْمُشْتَرِي لِلْقَصَّابِ: اقْطَعْ لِي بِخَمْسَةِ قُرُوشٍ مِنْ هَذَا الْجَانِبِ مِنْ هَذِهِ الشَّاةِ فَقَطَعَ الْقَصَّابُ اللَّحْمَ وَوَزْنَهُ وَأَعْطَاهُ إيَّاهُ انْعَقَدَ الْبَيْعُ وَلَيْسَ لِلْمُشْتَرِي الِامْتِنَاعُ مِنْ قَبُولِهِ وَأَخْذِهِ(الْمَادَّةُ 176) إذَا تَكَرَّرَ عَقْدُ الْبَيْعِ بِتَبْدِيلِ الثَّمَنِ أَوْ تَزْيِيدِهِ أَوْ تَنْقِيصِهِ يُعْتَبَرُ الْعَقْدُ الثَّانِي فَلَوْ تَبَايَعَ رَجُلَانِ مَالًا مَعْلُومًا بِمِائَةِ قِرْشٍ ثُمَّ بَعْدَ انْعِقَادِ الْبَيْعِ تَبَايَعَا ذَلِكَ الْمَالَ بِدِينَارٍ أَوْ بِمِائَةٍ وَعَشَرَةٍ أَوْ بِتِسْعِينَ قِرْشًا يُعْتَبَرُ الْعَقْدُ الثَّانِي.الْفَصْلُ الثَّانِي: فِي بَيَانِ لُزُومِ مُوَافَقَةِ الْقَبُولِ لِلْإِيجَابِ(الْمَادَّةُ 177) إذَا أَوْجَبَ أَحَدُ الْعَاقِدَيْنِ بَيْعَ شَيْءٍ بِشَيْءٍ يَلْزَمُ لِصِحَّةِ الْعَقْدِ قَبُولُ الْعَاقِدِ الْآخَرِ عَلَى الْوَجْهِ الْمُطَابِقِ لِلْإِيجَابِ وَلَيْسَ لَهُ تَبْعِيضُ الثَّمَنِ أَوْ الْمُثَمَّنِ وَتَفْرِيقُهُمَا فَلَوْ قَالَ الْبَائِعُ لِلْمُشْتَرِي: بِعْتُك هَذَا
(ধারা ১৭৫) যেহেতু ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ)-এর মূল উদ্দেশ্য হলো উভয় পক্ষের পারস্পরিক সন্তুষ্টি, তাই সন্তুষ্টির পরিচায়ক কার্যগত বিনিময়ের মাধ্যমেও ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয় এবং একে ‘বায়উত তাআতি’ (পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়) বলা হয়।এর উদাহরণ হলো: ক্রেতা রুটি বিক্রেতাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দিরহাম প্রদান করল এবং রুটি বিক্রেতা তাকে ইজাব ও কবুলের বাক্য উচ্চারণ ছাড়াই নির্দিষ্ট পরিমাণ রুটি দিল। অথবা ক্রেতা বিক্রেতাকে মূল্য প্রদান করল এবং পণ্যটি নিয়ে নিল, আর বিক্রেতা নীরব রইল। অনুরূপভাবে, যদি কোনো ব্যক্তি গম বিক্রেতার নিকট এসে তাকে পাঁচ দিনার প্রদান করে এবং জিজ্ঞাসা করে: "এই গমের এক মুদ্দ (পরিমাপক বিশেষ) কত মূল্যে বিক্রি করবেন?" বিক্রেতা উত্তর দিল: "এক দিনার।" তখন ক্রেতা নীরব রইল এবং পরে তার নিকট গম দাবি করল। বিক্রেতা বলল: "আমি আপনাকে এটি আগামীকাল দেব।" এক্ষেত্রেও ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে যাবে, যদিও তাদের মধ্যে (মৌখিকভাবে) ইজাব ও কবুল সংঘটিত হয়নি। এই অবস্থায় যদি পরদিন গমের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে দেড় দিনার হয়ে যায়, তবে বিক্রেতা প্রতি মুদ্দ এক দিনার মূল্যে গম দিতে বাধ্য থাকবে। একইভাবে এর উল্টো যদি গমের বাজারদর কমে যায় এবং এর মূল্য হ্রাস পায়, তবে ক্রেতা পূর্বমূল্যে তা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে। তেমনিভাবে, যদি ক্রেতা কসাইকে বলে: "এই ছাগলের এই পাশ থেকে আমাকে পাঁচ কুরুশ মূল্যের গোশত কেটে দিন," অতঃপর কসাই গোশত কেটে ওজন করে তাকে দিয়ে দিল, তবে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে গেল এবং ক্রেতার জন্য তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার অধিকার থাকবে না।(ধারা ১৭৬) যদি মূল্য পরিবর্তন, বৃদ্ধি বা হ্রাসের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির পুনরাবৃত্তি করা হয়, তবে দ্বিতীয় চুক্তিটিই গণ্য হবে। সুতরাং যদি দুই ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট পণ্য একশ কুরুশ মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করে এবং চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর পুনরায় তারা সেই পণ্যটি এক দিনার বা একশ দশ কুরুশ অথবা নব্বই কুরুশ মূল্যে কেনাবেচা করে, তবে দ্বিতীয় চুক্তিটিই কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইজাবের সাথে কবুলের সামঞ্জস্য বিধান প্রসঙ্গে(ধারা ১৭৭) যখন চুক্তিবদ্ধ কোনো পক্ষ কোনো বস্তুর বিনিময়ে কোনো কিছু বিক্রির প্রস্তাব (ইজাব) দেয়, তখন চুক্তিটি সহিহ হওয়ার জন্য অপর পক্ষের গ্রহণ (কবুল) ইজাবের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া আবশ্যক। কবুলকারীর জন্য মূল্য বা বিক্রিত পণ্যের বিভাজন বা তা পৃথক করার কোনো অধিকার থাকবে না। সুতরাং বিক্রেতা যদি ক্রেতাকে বলে: "আমি তোমার নিকট এটি বিক্রি করলাম..."
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الثَّوْبَ بِمِائَةِ قِرْشٍ مَثَلًا فَإِذَا قَبِلَ الْمُشْتَرِي الْبَيْعَ عَلَى الْوَجْهِ الْمَشْرُوحِ أَخَذَ الثَّوْبَ جَمِيعَهُ بِمِائَةِ قِرْشٍ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَقْبَلَ جَمِيعَهُ أَوْ نِصْفَهُ بِخَمْسِينَ قِرْشًا وَكَذَا لَوْ قَالَ لَهُ: بِعْتُك هَذَيْنِ الْفَرَسَيْنِ بِثَلَاثَةِ آلَافِ قِرْشٍ وَقَبِلَ الْمُشْتَرِي ، يَأْخُذُ الْفَرَسَيْنِ بِالثَّلَاثَةِ آلَافٍ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَأْخُذَ أَحَدَهُمَا بِأَلْفٍ وَخَمْسِمِائَةٍ.(الْمَادَّةُ 178) تَكْفِي مُوَافَقَةُ الْقَبُولِ لِلْإِيجَابِ ضِمْنًا فَلَوْ قَالَ الْبَائِعُ لِلْمُشْتَرِي: بِعْتُك هَذَا الْمَالَ بِأَلْفِ قِرْشٍ ، وَقَالَ الْمُشْتَرِي: اشْتَرَيْته مِنْك بِأَلْفٍ وَخَمْسِمِائَةِ قِرْشٍ انْعَقَدَ الْبَيْعُ عَلَى الْأَلْفِ إلَّا أَنَّهُ لَوْ قَبِلَ الْبَائِعُ هَذِهِ الزِّيَادَةَ فِي الْمَجْلِسِ يَلْزَمُ عَلَى الْمُشْتَرِي حِينَئِذٍ أَنْ يُعْطِيَهُ الْخَمْسَمِائَةِ قِرْشٍ الَّتِي زَادَهَا أَيْضًا وَكَذَا لَوْ قَالَ الْمُشْتَرِي لِلْبَائِعِ: اشْتَرَيْت مِنْك هَذَا الْمَالَ بِأَلْفِ قِرْشٍ ، فَقَالَ الْبَائِعُ: بِعْته مِنْك بِثَمَانِمِائَةِ قِرْشٍ يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ وَيَلْزَمُ تَنْزِيلُ الْمِائَتَيْنِ مِنْ الْأَلْفِ.(الْمَادَّةُ 179) إذَا أَوْجَبَ أَحَدُ الْمُتَبَايِعَيْنِ فِي أَشْيَاءَ مُتَعَدِّدَةٍ بِصَفْقَةٍ وَاحِدَةٍ سَوَاءٌ عَيَّنَ لِكُلٍّ مِنْهَا ثَمَنًا عَلَى حِدَةٍ أَمْ لَا فَلِلْآخَرِ أَنْ يَقْبَلَ وَيَأْخُذَ جَمِيعَ الْمَبِيعِ بِكُلِّ الثَّمَنِ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَقْبَلَ وَيَأْخُذَ مَا شَاءَ مِنْهَا بِالثَّمَنِ الَّذِي عُيِّنَ لَهُ بِتَفْرِيقِ الصَّفْقَةِ مَثَلًا لَوْ قَالَ الْبَائِعُ: بِعْت هَذِهِ الْأَثْوَابَ الثَّلَاثَةَ كُلَّ وَاحِدٍ بِمِائَةِ قِرْشٍ وَقَالَ الْمُشْتَرِي: قَبِلْت أَحَدَهُمَا بِمِائَةِ قِرْشٍ أَوْ كِلَيْهِمَا بِمِائَتَيْ قِرْشٍ لَا يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ ".وَذَلِكَ أَنْ يَقُولَ الْمُشْتَرِي: قَدْ اشْتَرَيْت هَذَيْنِ الْحِصَانَيْنِ بِثَلَاثَةِ آلَافِ قِرْشٍ فَهَذَا بِأَلْفٍ وَهَذَا بِأَلْفَيْنِ فَلِلْبَائِعِ أَنْ يَبِيعَهُمَا بِثَلَاثَةِ آلَافِ قِرْشٍ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَبِيعَ أَحَدَهُمَا بِمَا سُمِّيَ لَهُ مِنْ الثَّمَنِ ،(الْمَادَّةُ 180) : لَوْ ذَكَرَ أَحَدُ الْمُتَبَايِعَيْنِ أَشْيَاءَ مُتَعَدِّدَةً وَبَيَّنَ لِكُلِّ وَاحِدٍ ثَمَنًا عَلَى حِدَتِهِ وَجَعَلَ لِكُلٍّ عَلَى الِانْفِرَادِ إيجَابًا وَقَبِلَ الْآخَرُ بَعْضَهَا بِالثَّمَنِ الْمُسَمَّى لَهُ انْعَقَدَ الْبَيْعُ فِيمَا قَبِلَهُ فَقَطْ. مَثَلًا: لَوْ ذَكَرَ الْبَائِعُ أَشْيَاءَ مُتَعَدِّدَةً وَبَيَّنَ لِكُلٍّ مِنْهَا ثَمَنًا مُعَيَّنًا عَلَى حِدَةٍ وَكَرَّرَ لَفْظَ
উদাহরণস্বরূপ, কাপড়টি একশ কিরাশের বিনিময়ে। সুতরাং ক্রেতা যদি বর্ণিত পদ্ধতিতে বিক্রয় গ্রহণ করে, তবে সে পুরো কাপড়টি একশ কিরাশের বিনিময়ে গ্রহণ করবে। তার জন্য এটি করার সুযোগ নেই যে, সে পুরোটি অথবা এর অর্ধেক পঞ্চাশ কিরাশের বিনিময়ে গ্রহণ করবে। অনুরূপভাবে, বিক্রেতা যদি তাকে বলে: "আমি আপনার নিকট এই ঘোড়া দুটি তিন হাজার কিরাশের বিনিময়ে বিক্রয় করলাম" এবং ক্রেতা তা কবুল করে, তবে সে তিন হাজার কিরাশের বিনিময়ে ঘোড়া দুটিই গ্রহণ করবে। তার জন্য এর কোনো একটিকে এক হাজার পাঁচশ কিরাশের বিনিময়ে গ্রহণ করার অধিকার নেই।(ধারা ১৭৮) ইজাব (প্রস্তাব) এর সাথে কবুল (গ্রহণ) এর অন্তর্নিহিত মিল থাকাই যথেষ্ট। সুতরাং বিক্রেতা যদি ক্রেতাকে বলে: "আমি এই মালটি আপনার নিকট এক হাজার কিরাশের বিনিময়ে বিক্রয় করলাম," আর ক্রেতা বলে: "আমি তা আপনার নিকট থেকে এক হাজার পাঁচশ কিরাশের বিনিময়ে ক্রয় করলাম," তবে এক হাজার কিরাশের ওপরই বিক্রয় সম্পন্ন হবে। তবে যদি বিক্রেতা মজলিসেই এই অতিরিক্ত পরিমাণ গ্রহণ করে নেয়, তবে ক্রেতার ওপর সেই অতিরিক্ত পাঁচশ কিরাশ প্রদান করাও তখন আবশ্যক হবে। অনুরূপভাবে, ক্রেতা যদি বিক্রেতাকে বলে: "আমি আপনার নিকট থেকে এই মালটি এক হাজার কিরাশের বিনিময়ে ক্রয় করলাম," আর বিক্রেতা বলে: "আমি তা আপনার নিকট আটশ কিরাশের বিনিময়ে বিক্রয় করলাম," তবে বিক্রয় সম্পন্ন হবে এবং এক হাজার থেকে দুইশ কিরাশ কমানো আবশ্যক হবে।(ধারা ১৭৯) যদি ক্রয়-বিক্রয়কারী কোনো পক্ষ একটি চুক্তিতে একাধিক বস্তুর ইজাব পেশ করে, চাই সেগুলোর প্রত্যেকটির জন্য আলাদাভাবে মূল্য নির্ধারণ করুক বা না করুক, তবে অপর পক্ষের জন্য পুরো বিক্রয়লব্ধ পণ্যটি সম্পূর্ণ মূল্যের বিনিময়ে কবুল ও গ্রহণ করার অধিকার থাকবে। তার জন্য চুক্তির বিভাজন ঘটিয়ে নিজের পছন্দমতো কোনো বস্তু তার জন্য নির্ধারিত মূল্যে কবুল ও গ্রহণ করার অধিকার নেই। উদাহরণস্বরূপ, বিক্রেতা যদি বলে: "আমি এই তিনটি কাপড় বিক্রয় করলাম যার প্রতিটির মূল্য একশ কিরাশ," আর ক্রেতা বলে: "আমি এগুলোর একটি একশ কিরাশে কবুল করলাম" অথবা "উভয়টি দুইশ কিরাশে কবুল করলাম," তবে বিক্রয় সম্পন্ন হবে না।আর তা হলো, ক্রেতা বলবে: "আমি এই ঘোড়া দুটি তিন হাজার কিরাশের বিনিময়ে ক্রয় করলাম, এটি এক হাজারে এবং ওটি দুই হাজারে।" এক্ষেত্রে বিক্রেতার অধিকার রয়েছে ঘোড়া দুটিকে তিন হাজার কিরাশে বিক্রয় করার, কিন্তু তার জন্য নির্ধারিত মূল্যে এর কোনো একটি বিক্রয় করার অধিকার নেই।(ধারা ১৮০): যদি ক্রয়-বিক্রয়কারী কোনো পক্ষ একাধিক বস্তুর উল্লেখ করে এবং প্রত্যেকটির জন্য আলাদা মূল্য বর্ণনা করে এবং প্রত্যেকটির জন্য পৃথক পৃথক ইজাব প্রদান করে, আর অপর পক্ষ তার জন্য নির্ধারিত মূল্যে এর কোনো কোনোটি কবুল করে, তবে সে যা কবুল করেছে কেবল তাতেই বিক্রয় সম্পন্ন হবে। উদাহরণস্বরূপ: বিক্রেতা যদি একাধিক বস্তুর উল্লেখ করে এবং প্রত্যেকটির জন্য আলাদা নির্দিষ্ট মূল্য বর্ণনা করে এবং শব্দটির পুনরাবৃত্তি করে...
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْإِيجَابِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى الِانْفِرَادِ كَأَنْ يَقُولَ: بِعْت هَذَا بِأَلْفٍ وَبِعْت هَذَا بِأَلْفَيْنِ فَالْمُشْتَرِي حِينَئِذٍ لَهُ أَنْ يَقْبَلَ وَيَأْخُذَ أَيَّهُمَا شَاءَ بِالثَّمَنِ الَّذِي عُيِّنَ لَهُ ".الْفَصْلُ الثَّالِثُ: فِي حَقِّ مَجْلِسِ الْبَيْعِ(الْمَادَّةُ 181) مَجْلِسُ الْبَيْعِ هُوَ الِاجْتِمَاعُ الْوَاقِعُ لِعَقْدِ الْبَيْعِ.(الْمَادَّةُ 182) الْمُتَبَايِعَانِ بِالْخِيَارِ بَعْدَ الْإِيجَابِ إلَى آخِرِ الْمَجْلِسِ ، مَثَلًا: لَوْ أَوْجَبَ أَحَدُ الْمُتَبَايِعَيْنِ الْبَيْعَ فِي مَجْلِسِ الْبَيْعِ بِأَنْ قَالَ: بِعْت هَذَا الْمَالَ أَوْ اشْتَرَيْت وَلَمْ يَقُلْ الْآخَرُ عَلَى الْفَوْرِ اشْتَرَيْت أَوْ بِعْت بَلْ قَالَ ذَلِكَ مُتَرَاخِيًا قَبْلَ انْتِهَاءِ الْمَجْلِسِ يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ وَإِنْ طَالَتْ تِلْكَ الْمُدَّةُ.(الْمَادَّةُ183) لو صدر من أحد العاقدين بعد الإيجاب وقبل القبول قول أو فعل يدل على الإعراض بطل الإيجاب، ولا عبرة بالقبول الواقع بعد ذلك.مثلا: لو قال أحد المتبايعين: بعت واشتريت واشتغل الآخر قبل القبول بأمر آخر أو بكلام أجنبي لا تعلق له بعقد البيع بطل الإيجاب ولا عبرة بالقبول الواقع بعده ولو قبل انفضاض المجلس.(الْمَادَّةُ 184) لَوْ رَجَعَ أَحَدُ الْمُتَبَايِعَيْنِ عَنْ الْبَيْعِ بَعْدَ الْإِيجَابِ وَقَبْلَ الْقَبُولِ بَطَلَ الْإِيجَابُ فَلَوْ قَبِلَ الْآخَرُ بَعْدَ ذَلِكَ فِي الْمَجْلِسِ لَا يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ مَثَلًا لَوْ قَالَ الْبَائِعُ: بِعْت هَذَا الْمَتَاعَ بِكَذَا وَقَبْلَ أَنْ يَقُولَ الْمُشْتَرِي قَبِلْت رَجَعَ الْبَائِعُ ثُمَّ قَبِلَ الْمُشْتَرِي بَعْدَ ذَلِكَ لَا يَنْعَقِدُ الْبَيْعُ.(الْمَادَّةُ 185) : تَكْرَارُ الْإِيجَابِ قَبْلَ الْقَبُولِ يُبْطِلُ الْأَوَّلَ
উভয়টির প্রত্যেকটির জন্য পৃথকভাবে প্রস্তাব প্রদান করা, যেমন সে বলল: "আমি এটি এক হাজারে বিক্রি করলাম এবং এটি দুই হাজারে বিক্রি করলাম"; এমতাবস্থায় ক্রেতার অধিকার থাকবে তার যেটি ইচ্ছা সেটি তার জন্য নির্ধারিত মূল্যে গ্রহণ করার এবং নেওয়ার।তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ক্রয়-বিক্রয়ের মজলিস সংক্রান্ত(ধারা ১৮১) ক্রয়-বিক্রয়ের মজলিস হলো ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তির উদ্দেশ্যে একত্রিত হওয়া।(ধারা ১৮২) প্রস্তাব প্রদানের পর থেকে মজলিস শেষ হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই ইখতিয়ার (চুক্তি গ্রহণ বা বর্জনের অধিকার) থাকে। উদাহরণস্বরূপ: যদি ক্রেতা-বিক্রেতার একজন ক্রয়-বিক্রয়ের মজলিসে এই বলে প্রস্তাব দেয়: "আমি এই সম্পদটি বিক্রি করলাম" অথবা "আমি ক্রয় করলাম", আর অপর পক্ষ তৎক্ষণাৎ "আমি ক্রয় করলাম" বা "আমি বিক্রি করলাম" না বলে বরং মজলিস শেষ হওয়ার পূর্বে কিছুটা দেরিতে তা বলে, তবে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে যাবে; যদিও সেই সময় দীর্ঘ হয়।(ধারা ১৮৩) যদি প্রস্তাবের পর এবং গ্রহণের পূর্বে চুক্তি সম্পাদনকারী কোনো এক পক্ষের পক্ষ থেকে এমন কোনো কথা বা কাজ প্রকাশ পায় যা বিমুখতা নির্দেশ করে, তবে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যাবে এবং এরপর সংঘটিত গ্রহণের কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।উদাহরণস্বরূপ: যদি ক্রেতা-বিক্রেতার একজন বলে: "আমি বিক্রি করলাম" বা "আমি ক্রয় করলাম", আর অপর পক্ষ গ্রহণের পূর্বে অন্য কোনো কাজে বা ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো কথায় লিপ্ত হয়, তবে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যাবে এবং এরপর সংঘটিত গ্রহণের কোনো মূল্য থাকবে না, যদিও তা মজলিস শেষ হওয়ার আগেই হয়।(ধারা ১৮৪) যদি ক্রেতা বা বিক্রেতার কেউ প্রস্তাব দেওয়ার পর এবং গ্রহণের পূর্বে বিক্রয় থেকে ফিরে আসে, তবে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় অপর পক্ষ যদি এরপর মজলিসের মধ্যেই গ্রহণ করে, তবে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হবে না। উদাহরণস্বরূপ: যদি বিক্রেতা বলে: "আমি এই পণ্যটি এত দামে বিক্রি করলাম" এবং ক্রেতা "আমি গ্রহণ করলাম" বলার পূর্বেই বিক্রেতা প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়, অতঃপর ক্রেতা গ্রহণ করলেও ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হবে না।(ধারা ১৮৫) গ্রহণের পূর্বে প্রস্তাবের পুনরাবৃত্তি প্রথম প্রস্তাবটিকে বাতিল করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَيُعْتَبَرُ فِيهِ الْإِيجَابُ الثَّانِي فَلَوْ قَالَ الْبَائِعُ لِلْمُشْتَرِي: بِعْتُك هَذَا الشَّيْءَ بِمِائَةِ قِرْشٍ ثُمَّ بَعْدَ هَذَا الْإِيجَابِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ الْمُشْتَرِي قَبِلْت رَجَعَ فَقَالَ بِعْتُك إيَّاهُ بِمِائَةٍ وَعِشْرِينَ قِرْشًا وَقَبِلَ الْمُشْتَرِي يُلْغَى الْإِيجَابُ الْأَوَّلُ وَيَنْعَقِدُ الْبَيْعُ عَلَى مِائَةٍ وَعِشْرِينَ قِرْشًا "الفصل الرابع: في حق البيع بشرط(الْمَادَّةُ 186) : الْبَيْعُ بِشَرْطٍ يَقْتَضِيهِ الْعَقْدُ صَحِيحٌ وَالشَّرْطُ مُعْتَبَرٌ. مَثَلًا لَوْ بَاعَ بِشَرْطِ أَنْ يَحْبِسَ الْمَبِيعَ إلَى أَنْ يَقْبِضَ الثَّمَنَ فَهَذَا الشَّرْطُ لَا يَضُرُّ فِي الْبَيْعِ بَلْ هُوَ بَيَانٌ لِمُقْتَضَى الْعَقْدِ.(الْمَادَّةُ 187) : الْبَيْعُ بِشَرْطٍ يُؤَيِّدُ الْعَقْدَ صَحِيحٌ وَالشَّرْطُ أَيْضًا مُعْتَبَرٌ مَثَلًا لَوْ بَاعَ بِشَرْطِ أَنْ يَرْهَنَ الْمُشْتَرِي عِنْدَ الْبَائِعِ شَيْئًا مَعْلُومًا أَوْ أَنْ يَكْفُلَ لَهُ بِالثَّمَنِ هَذَا الرَّجُلَ صَحَّ الْبَيْعُ وَيَكُونُ الشَّرْطُ مُعْتَبَرًا حَتَّى أَنَّهُ إذَا لَمْ يَفِ الْمُشْتَرِي بِالشَّرْطِ فَلِلْبَائِعِ فَسْخُ الْعَقْدِ ; لِأَنَّ الشَّرْطَ مُؤَيِّدٌ لِلتَّسْلِيمِ الَّذِي هُوَ مُقْتَضَى الْعَقْدِ.(الْمَادَّةُ 188) : الْبَيْعُ بِشَرْطٍ مُتَعَارَفٍ يَعْنِي الْمَرْعِيَّ فِي عُرْفِ الْبَلَدِ صَحِيحٌ وَالشَّرْطُ مُعْتَبَرٌ ، مَثَلًا: لَوْ بَاعَ الْفَرْوَةَ عَلَى أَنْ يَخِيطَ بِهَا الظِّهَارَةَ ، أَوْ الْقُفْلَ عَلَى أَنْ يُسَمِّرَهُ فِي الْبَابِ أَوْ الثَّوْبَ عَلَى أَنْ يُرَقِّعَهُ يَصِحُّ الْبَيْعُ وَيَلْزَمُ عَلَى الْبَائِعِ الْوَفَاءُ بِهَذِهِ الشُّرُوطِ. (الْمَادَّةُ 189) : الْبَيْعُ بِشَرْطٍ لَيْسَ فِيهِ نَفْعٌ لِأَحَدِ الْعَاقِدَيْنِ يَصِحُّ وَالشَّرْطُ لَغْوٌ مَثَلًا بَيْعُ الْحَيَوَانِ عَلَى أَلَّا يَبِيعَهُ الْمُشْتَرِي لِآخَرَ أَوْ عَلَى شَرْطِ أَنْ يُرْسِلَهُ إلَى الْمَرْعَى صَحِيحٌ وَالشَّرْطُ لَغْوٌ.
এক্ষেত্রে দ্বিতীয় ইজাব (প্রস্তাব) গণ্য হবে। সুতরাং বিক্রেতা যদি ক্রেতাকে বলে: "আমি তোমার কাছে এই জিনিসটি একশ কিরাশে বিক্রি করলাম", এরপর এই ইজাবের পর এবং ক্রেতার "কবুল করলাম" বলার আগেই বিক্রেতা পুনরায় বলল: "আমি তোমার কাছে এটি একশ বিশ কিরাশে বিক্রি করলাম" এবং ক্রেতা তা কবুল করল, তবে প্রথম ইজাবটি বাতিল হয়ে যাবে এবং ক্রয়-বিক্রয় একশ বিশ কিরাশে সম্পন্ন হবে। "চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শর্তযুক্ত ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান প্রসঙ্গে(ধারা ১৮৬): চুক্তির দাবি অনুযায়ী কোনো শর্তে ক্রয়-বিক্রয় করা সহীহ এবং শর্তটি গ্রহণযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ, যদি এই শর্তে বিক্রি করা হয় যে, মূল্য গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিক্রীত পণ্য আটকে রাখা হবে, তবে এই শর্ত ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো ক্ষতি করবে না; বরং এটি চুক্তির চাহিদাকেই ব্যক্ত করে।(ধারা ১৮৭): চুক্তির নিশ্চয়তা প্রদানকারী কোনো শর্তে ক্রয়-বিক্রয় সহীহ এবং শর্তটিও গ্রহণযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ, যদি এই শর্তে বিক্রি করা হয় যে, ক্রেতা বিক্রেতার কাছে কোনো নির্দিষ্ট বস্তু বন্ধক রাখবে অথবা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি মূল্যের জামিনদার হবে, তবে ক্রয়-বিক্রয় সহীহ হবে এবং শর্তটিও কার্যকর হবে। এমনকি ক্রেতা যদি শর্ত পূরণ না করে, তবে বিক্রেতার চুক্তি বাতিল করার অধিকার থাকবে; কারণ এই শর্তটি পণ্য হস্তান্তরের নিশ্চয়তা প্রদান করে, যা চুক্তিরই দাবি।(ধারা ১৮৮): প্রচলিত কোনো শর্তে, অর্থাৎ যা জনপদে প্রচলিত প্রথা হিসেবে গণ্য, তা সহ ক্রয়-বিক্রয় করা সহীহ এবং শর্তটি গ্রহণযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ: যদি পশমি পোশাক এই শর্তে বিক্রি করা হয় যে, বিক্রেতা এতে আস্তরণ সেলাই করে দেবে, অথবা তালা এই শর্তে বিক্রি করা হয় যে, বিক্রেতা তা দরজায় লাগিয়ে দেবে, অথবা কাপড় এই শর্তে বিক্রি করা হয় যে, বিক্রেতা তাতে তালি লাগিয়ে দেবে, তবে ক্রয়-বিক্রয় সহীহ হবে এবং বিক্রেতার ওপর এই শর্তগুলো পূরণ করা আবশ্যক হবে। (ধারা ১৮৯): এমন শর্তে ক্রয়-বিক্রয় করা যাতে চুক্তিবদ্ধ কোনো পক্ষেরই কোনো উপকার নেই, তা সহীহ হবে কিন্তু শর্তটি বাতিল গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ: কোনো পশু এই শর্তে বিক্রি করা যে, ক্রেতা এটি অন্য কারও কাছে বিক্রি করবে না, অথবা এই শর্ত প্রদান করা যে সে এটিকে চারণভূমিতে পাঠাবে, তবে ক্রয়-বিক্রয় সহীহ হবে এবং শর্তটি অর্থহীন বলে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الفصل الخامس: في إقالة البيع(الْمَادَّةُ 190) : لِلْعَاقِدَيْنِ أَنْ يَتَقَايَلَا الْبَيْعَ بِرِضَاهُمَا بَعْدَ انْعِقَادِهِ.(الْمَادَّةُ 191) الْإِقَالَةُ كَالْبَيْعِ تَكُونُ بِالْإِيجَابِ وَالْقَبُولِ مَثَلًا لَوْ قَالَ أَحَدُ الْعَاقِدَيْنِ: أَقَلْت الْبَيْعَ أَوْ فَسَخْته وَقَالَ الْآخَرُ: قَبِلْت ، أَوْ قَالَ أَحَدُهُمَا لِلْآخَرِ: أَقِلْنِي الْبَيْعَ فَقَالَ الْآخَرُ: قَدْ فَعَلْت صَحَّتْ الْإِقَالَةُ وَيَنْفَسِخُ الْبَيْعُ.(الْمَادَّةُ 192) : الْإِقَالَةُ بِالتَّعَاطِي الْقَائِمِ مَقَامَ الْإِيجَابِ وَالْقَبُولِ صَحِيحَةٌ(الْمَادَّةُ 193) يَلْزَمُ اتِّحَادُ الْمَجْلِسِ فِي الْإِقَالَةِ كَالْبَيْعِ يَعْنِي أَنَّهُ يَلْزَمُ أَنْ يُوجَدَ الْقَبُولُ فِي مَجْلِسِ الْإِيجَابِ ، وَأَمَّا إذَا قَالَ أَحَدُ الْعَاقِدَيْنِ: أَقَلْت الْبَيْعَ وَقَبْلَ أَنْ يَقْبَلَ الْآخَرُ انْفَضَّ الْمَجْلِسُ أَوْ صَدَرَ مِنْ أَحَدِهِمَا فِعْلٌ أَوْ قَوْلٌ يَدُلُّ عَلَى الْإِعْرَاضِ ثُمَّ قَبِلَ الْآخَرُ لَا يُعْتَبَرُ قَبُولُهُ وَلَا يُفِيدُ شَيْئًا حِينَئِذٍ(الْمَادَّةُ 194) يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ الْمَبِيعُ قَائِمًا وَمَوْجُودًا فِي يَدِ الْمُشْتَرِي وَقْتَ الْإِقَالَةِ فَلَوْ كَانَ الْمَبِيعُ قَدْ تَلِفَ لَا تَصِحُّ الْإِقَالَةُ.(الْمَادَّةُ 195) لَوْ كَانَ بَعْضُ الْمَبِيعِ قَدْ تَلِفَ صَحَّتْ الْإِقَالَةُ فِي الْبَاقِي مَثَلًا لَوْ بَاعَ أَرْضَهُ الَّتِي مَلَكَهَا مَعَ الزَّرْعِ وَبَعْدَ أَنْ حَصَدَ الْمُشْتَرِي الزَّرْعَ تَقَايَلَا الْبَيْعَ صَحَّتْ الْإِقَالَةُ فِي حَقِّ الْأَرْضِ بِقَدْرِ حِصَّتِهَا مِنْ الثَّمَنِ الْمُسَمَّى
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ক্রয়-বিক্রয় রদ (ইকালা) প্রসঙ্গে(ধারা ১৯০): চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয় চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয় রদ করতে পারেন।(ধারা ১৯১): ক্রয়-বিক্রয়ের ন্যায় ইকালাও ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি চুক্তিবদ্ধ পক্ষদ্বয়ের একজন বলে: "আমি বিক্রয়টি রদ করলাম" অথবা "আমি এটি বাতিল করলাম" এবং অপরজন বলে: "আমি গ্রহণ করলাম", অথবা তাদের একজন অপরজনকে বলে: "আমার সাথে বিক্রয়টি রদ করুন" এবং অপরজন বলে: "আমি করলাম", তবে ইকালা শুদ্ধ হবে এবং ক্রয়-বিক্রয় বাতিল হয়ে যাবে।(ধারা ১৯২): আদান-প্রদান (তাআতি)-এর মাধ্যমে ইকালা করা শুদ্ধ, যা ইজাব ও কবুলের স্থলাভিষিক্ত হয়।(ধারা ১৯৩): ক্রয়-বিক্রয়ের ন্যায় ইকালাতেও মজলিস এক হওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ ইজাবের মজলিসেই কবুল পাওয়া যাওয়া জরুরি। কিন্তু যদি চুক্তিবদ্ধ পক্ষদ্বয়ের একজন বলে: "আমি বিক্রয়টি রদ করলাম" এবং অপরজন কবুল করার পূর্বেই মজলিস শেষ হয়ে যায় অথবা তাদের একজনের পক্ষ থেকে এমন কোনো কাজ বা কথা প্রকাশ পায় যা বিমুখতা বা অসম্মতি নির্দেশ করে, অতঃপর অপরজন কবুল করে, তবে সেই কবুল গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এমতাবস্থায় তা কোনো ফলপ্রসূ হবে না।(ধারা ১৯৪): ইকালার সময় বিক্রিত পণ্যটি ক্রেতার নিকট বিদ্যমান থাকা আবশ্যক। সুতরাং যদি বিক্রিত পণ্যটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে ইকালা শুদ্ধ হবে না।(ধারা ১৯৫): যদি বিক্রিত পণ্যের একাংশ ধ্বংস হয়ে যায়, তবে অবশিষ্ট অংশের ক্ষেত্রে ইকালা শুদ্ধ হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ শস্যসহ তার মালিকানাধীন জমি বিক্রয় করে এবং ক্রেতা শস্য কাটার পর উভয়ে বিক্রয়টি রদ করতে সম্মত হয়, তবে নির্ধারিত মূল্যের জমির অংশ অনুপাতে জমির ক্ষেত্রে ইকালা শুদ্ধ হবে।
(খণ্ড: ১)
মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
(الْمَادَّةُ 196) هَلَاكُ الثَّمَنِ أَيْ تَلَفُهُ لَا يَكُونُ مَانِعًا مِنْ صِحَّةِ الْإِقَالَةِ.الْبَابُ الثَّانِي: فِي بَيَانِ الْمَسَائِلِ الْمُتَعَلِّقَةِ بِالْمَبِيعِوَيَنْقَسِمُ إلَى أَرْبَعَةِ فُصُولٍ:الْفَصْلُ الْأَوَّلُ: فِي حَقِّ شُرُوطِ الْمَبِيعِ وَأَوْصَافِهِ(الْمَادَّةُ 197) : يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ الْمَبِيعُ مَوْجُودًا.(الْمَادَّةُ 198) : يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ الْمَبِيعُ مَقْدُورَ التَّسْلِيمِو (الْمَادَّةُ 199) : يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ الْمَبِيعُ مَالًا مُتَقَوِّمًا(الْمَادَّةُ 200) : يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ الْمَبِيعُ مَعْلُومًا عِنْدَ الْمُشْتَرِي(الْمَادَّةُ 201) يَصِيرُ الْمَبِيعُ مَعْلُومًا بِبَيَانِ أَحْوَالِهِ وَصِفَاتِهِ الَّتِي تُمَيِّزُهُ عَنْ غَيْرِهِ مَثَلًا لَوْ بَاعَهُ كَذَا مُدًّا مِنْ الْحِنْطَةِ الْحَمْرَاءِ أَوْ بَاعَهُ أَرْضًا مَعَ بَيَانِ حُدُودِهَا صَارَ الْمَبِيعُ مَعْلُومًا وَصَحَّ الْبَيْعُ. إ (الْمَادَّةُ 202) : إذَا كَانَ الْمَبِيعُ حَاضِرًا فِي مَجْلِسِ الْبَيْعِ تَكْفِي الْإِشَارَةُ إلَى عَيْنِهِ مَثَلًا لَوْ قَالَ الْبَائِعُ لِلْمُشْتَرِي: بِعْتُك هَذَا الْحِصَانَ وَقَالَ الْمُشْتَرِي اشْتَرَيْتُهُ وَهُوَ يَرَاهُ صَحَّ الْبَيْعُ.(الْمَادَّةُ 203) : يَكْفِي كَوْنُ الْمَبِيعِ مَعْلُومًا عِنْدَ الْمُشْتَرِي فَلَا حَاجَةَ إلَى وَصْفِهِ وَتَعْرِيفِهِ بِوَجْهٍ آخَرَ(الْمَادَّةُ 204) الْمَبِيعُ يَتَعَيَّنُ بِتَعْيِينِهِ فِي الْعَقْدِ. مَثَلًا: لَوْ قَالَ الْبَائِعُ: بِعْتُك هَذِهِ السِّلْعَةَ وَأَشَارَ إلَى سِلْعَةٍ مَوْجُودَةٍ فِي الْمَجْلِسِ إشَارَةً حِسِّيَّةً وَقَبِلَ الْمُشْتَرِي
(ধারা ১৯৬) মূল্যের ধ্বংস হওয়া অর্থাৎ নষ্ট হয়ে যাওয়া ইকালা (চুক্তি রদ) শুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হবে না।দ্বিতীয় অধ্যায়: বিক্রিত পণ্য সংক্রান্ত বিষয়াবলির বর্ণনায়এটি চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:প্রথম পরিচ্ছেদ: বিক্রিত পণ্যের শর্তাবলি ও বৈশিষ্ট্যাবলি প্রসঙ্গে(ধারা ১৯৭): বিক্রিত পণ্যটি বিদ্যমান থাকা আবশ্যক।(ধারা ১৯৮): বিক্রিত পণ্যটি হস্তান্তরের যোগ্য হওয়া আবশ্যক।এবং (ধারা ১৯৯): বিক্রিত পণ্যটি মূল্যবান সম্পদ হওয়া আবশ্যক।(ধারা ২০০): বিক্রিত পণ্যটি ক্রেতার নিকট সুনির্দিষ্ট হওয়া আবশ্যক।(ধারা ২০১) বিক্রিত পণ্যটির অবস্থা এবং বৈশিষ্ট্য বর্ণনার মাধ্যমে তা সুনির্দিষ্ট হয়, যা তাকে অন্য বস্তু থেকে পৃথক করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ নির্দিষ্ট পরিমাণ লাল গম বিক্রয় করে অথবা সীমানা বর্ণনাসহ জমি বিক্রয় করে, তবে বিক্রিত পণ্যটি সুনির্দিষ্ট হবে এবং বিক্রয় শুদ্ধ হবে। (ধারা ২০২): যদি বিক্রিত পণ্যটি ক্রয়-বিক্রয়ের মজলিসে উপস্থিত থাকে, তবে সেটির প্রতি ইশারা করাই যথেষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, বিক্রেতা যদি ক্রেতাকে বলে: "আমি তোমার কাছে এই ঘোড়াটি বিক্রয় করলাম" এবং ক্রেতা তা দেখা অবস্থায় বলে: "আমি তা ক্রয় করলাম", তবে বিক্রয় শুদ্ধ হবে।(ধারা ২০৩): বিক্রিত পণ্যটি ক্রেতার নিকট সুনির্দিষ্ট হওয়াই যথেষ্ট, সুতরাং অন্য কোনো উপায়ে সেটির বর্ণনা বা পরিচয় প্রদানের প্রয়োজন নেই।(ধারা ২০৪) চুক্তির সময় নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে বিক্রিত পণ্যটি সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ: বিক্রেতা যদি বলে: "আমি তোমার কাছে এই পণ্যটি বিক্রয় করলাম" এবং মজলিসে উপস্থিত পণ্যের দিকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ইশারা করে আর ক্রেতা তা গ্রহণ করে।