(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: -)
المطلق والمقيد القسم: أصول الفقه
الكتاب: المطلق والمقيد
المؤلف: حمد بن حمدي الصاعدي
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1423هـ/2003م
عدد الصفحات: 580
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুতলাক ওয়াল-মুকাইয়াদ (নিরঙ্কুশ ও সীমাবদ্ধ) বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: আল-মুতলাক ওয়াল-মুকাইয়াদ
লেখক: হামাদ বিন হামদি আল-সাঈদি
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি/২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮০
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة…شكر وتقدير
الحمد لله رب العالمين، الذي بيده كل عون وتوفيق، أحمده وأشكره على نعمه التي لا تعد ولا تحصى. أما بعد:
فكثيرون هم الذين أسهموا في إبراز هذه الرسالة حتى وصلت إلى المرحلة التي يشاهدها القارئ بين يديه.
وأنا - قبل القارئ - مدين لهم بالشكر والتقدير، لما أبدوه من اقتراحات مفيدة. وما بذلوه من مساعدات علمية مشكورة.
وأخص منهم بالذكر أستاذي وشيخي فضيلة الدكتور (محمد عبد الرحمن مندور) المشرف على الرسالة، الذي لم يتوان في تقديم التوجيه السديد، والملاحظة الدقيقة النافعة، مما كان له الفضل - بعد الله تعالى - في إخراج هذه الرسالة إلى حيز الوجود؛ حيث كان يرعاها ويتعهدها بتوجيهاته المفيدة، منذ كانت فكرة حتى نضجت وكملت، كما لا أنسى أن أنوه بالروح العلمية العالية التي لمستها من القائمين على شؤون الدراسات العليا، التي فتحت أمامي مجالات وآفاقاً واسعة سطرت آثارها على هذا البحث شكلاً ومضموناً. فهذه الرسالة بحق ثمرة التجاوب والتعاون العلمي المفيد الذي وجدته من جميع أسرة الجامعة.
وهنا لا بد أن أنوه - أيضاً - بالعون العلمي والمادي الذي تبذله حكومتنا الرشيدة لطلاب العلم، ممثلة في الجامعة الإسلامية التي وفرت وما زالت توفر جميع ما من شأنه نجاح البحث العلمي النافع؛ فمكتباتها بما
ভূমিকা…কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যাঁর হাতে রয়েছে সকল সাহায্য ও তাওফিক। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর অগণিত নেয়ামতের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি। অতঃপর:
অনেকেই এই অভিসন্দর্ভটি প্রকাশের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন, যার ফলে এটি বর্তমানে পাঠকের হাতে থাকা পর্যায়ে পৌঁছেছে।
পাঠকের পূর্বেই আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদের ঋণে আবদ্ধ, কারণ তাঁরা গঠনমূলক পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্রশংসনীয় ইলমি সহযোগিতা করেছেন।
বিশেষভাবে আমি আমার উস্তাদ ও শাইখ শ্রদ্ধেয় ডক্টর (মুহাম্মদ আবদুর রহমান মানদুর)-এর কথা উল্লেখ করতে চাই, যিনি এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তিনি সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সূক্ষ্ম ও উপকারী পর্যবেক্ষণ প্রদানে কোনো কার্পণ্য করেননি। মহান আল্লাহর পর তাঁরই অবদান এই অভিসন্দর্ভটি বাস্তব রূপ লাভ করার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। তিনি একে তাঁর হিতোপদেশ দিয়ে আগলে রেখেছেন, যখন এটি কেবল একটি ভাবনা ছিল, সেখান থেকে শুরু করে এটি পরিপক্ক ও পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত। একইসাথে উচ্চশিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের সেই উচ্চতর ইলমি মানসিকতার কথা উল্লেখ করতে ভুলব না যা আমি উপলব্ধি করেছি। এটি আমার সামনে গবেষণার এমন প্রশস্ত দিগন্ত ও সুযোগ উন্মোচন করেছে যা এই গবেষণার অবয়ব ও বিষয়বস্তুর ওপর প্রভাব ফেলেছে। তাই এই অভিসন্দর্ভটি প্রকৃতপক্ষেই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে পাওয়া ফলপ্রসূ ইলমি সাড়াদান ও সহযোগিতার ফসল।
এখানে আমাদের বিজ্ঞ সরকার জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের জন্য যে ইলমি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে তারও উল্লেখ করা আবশ্যক। এটি মূর্ত হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে, যা একটি ফলপ্রসূ গবেষণার সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় উপকরণ সরবরাহ করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। এর লাইব্রেরিগুলো যা...
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
تحويه من نفائس الكتب ونوادر المخطوطات غير محجوبة، وأبوابها دائماً مفتوحة للطلاب المستفيدين، فالله أسأل أن يجزي الجميع عني خير الجزاء، وأن يهدينا وإياهم إلى ما يحبه ويرضاه، إنه سميع مجيب.
এতে সংরক্ষিত মূল্যবান গ্রন্থরাজি ও দুর্লভ পাণ্ডুলিপিগুলো অবারিত এবং এর দ্বার জ্ঞানান্বেষী শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত। সুতরাং আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং আমাদের ও তাদেরকে সেই বিষয়ের দিকে পরিচালিত করেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও প্রার্থনা কবুলকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمة
وتشتمل على:
1 - كلمة في نشأة علم أصول الفقه وأهميته.
2 - أهمية الموضوع وسبب اختياره.
3 - طريقة كتابة البحث وتخطيطه.
ভূমিকা
এবং এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
১ - উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের উদ্ভব ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।
২ - বিষয়টির গুরুত্ব এবং তা নির্বাচনের কারণ।
৩ - গবেষণা রচনার পদ্ধতি ও এর পরিকল্পনা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
تستمد منه أحكام الفقه الإسلامي، وقد تضمنا من المبادئ والقواعد والتوجيهات العامة ما يهدي إلى سواء السبيل.
وبمجهودات الصحابة - رضوان الله عليهم - وما نقلوه عن الرسول صلى الله عليه وسلم من شرح وتوضيح وتوجيه، ثم بمجهودات أئمة الأجيال التي أعقبت الصحابة رضي الله عنهم جاء البيان التام لمصادر الشريعة الإسلامية، واتضحت المناهج التي يمكن بها استمداد الأحكام التي تحدد مسار الخلق، وترسم لهم الطريق الذي يقودهم إلى بلوغ مصالحهم في الدنيا والآخرة.
فبهذه المجهودات المتواصلة تَكَوَّن عِلْمٌ ذو شأن عظيم، وأهمية بالغة هو: علم أصول الفقه الإسلامي.
وما دمنا بصدد الحديث عن أهمية أصول الفقه، فلعل مما يفيد في
সেখান থেকে ইসলামী ফিকহের বিধানসমূহ আহরণ করা হয়, এবং এই উভয়টি এমন সব মূলনীতি, বিধিবিধান ও সাধারণ দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করেছে যা সঠিক পথের দিশা প্রদান করে।
সাহাবায়ে কেরাম —আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন— তাঁদের প্রচেষ্টা এবং তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও দিকনির্দেশনা হিসেবে যা বর্ণনা করেছেন তার মাধ্যমে, অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম —আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন— তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের ইমামগণের প্রচেষ্টায় ইসলামী শরীয়তের উৎসসমূহের পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা প্রকাশ পেয়েছে। এবং সেইসব কর্মপদ্ধতি সুস্পষ্ট হয়েছে যার দ্বারা সেই সব বিধান আহরণ করা সম্ভব যা মাখলুকাতের চলার পথ নির্ধারণ করে এবং তাদের জন্য এমন পথ অঙ্কন করে যা তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ অর্জনের দিকে পরিচালিত করে।
ফলে এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এক সুমহান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে, আর তা হলো: ইসলামী ফিকহের মূলনীতি শাস্ত্র (ইলমে উসূলে ফিকহ)।
যেহেতু আমরা উসূলে ফিকহের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করছি, সেহেতু সম্ভবত যা উপকারী হবে তা হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
هذا المقام ما أورده الأسنوي1 في كتاب التمهيد حيث يقول:
"وبعد: فإن علم أصول الفقه، علم عَظُمَ نفعه وقدره، وعلا شرفه وفخره؛ إذ هو مثار الأحكام الشرعية، ومنار الفتاوى الفرعية التي بها صلاح المكلفين معاشاً ومعاداً، ثم إنه العمدة في الاجتهاد، وأهم ما يتوقف عليه من المواد2"3.
وقد ظل علم أصول الفقه محط اهتمام المسلمين على مر العصور، وظل في مقدمة العلوم التي يندفع الدارسون لتلقيها وتدريسها.
--------------------------------------------
এটি এমন একটি স্থান যা আসনাভি১ তাঁর 'আত-তামহিদ' কিতাবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেন:
"অতঃপর: নিশ্চয়ই উসূলুল ফিকহ এমন একটি ইলম যার উপকারিতা ও মর্যাদা অপরিসীম, এবং যার সম্মান ও গৌরব সুউচ্চ; কেননা এটি হলো শরয়ি আহকামের উৎস এবং শাখাগত ফতোয়াসম্মূহের আলোকবর্তিকা, যার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে মুকাল্লাফদের (দায়িত্বপ্রাপ্তদের) কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তদুপরি এটি ইজতিহাদের মূল ভিত্তি এবং ইজতিহাদ যেসকল উপকরণের ওপর নির্ভরশীল তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ২"৩।
যুগ যুগ ধরে উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রটি মুসলিমদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে এবং এটি সেই সকল জ্ঞানবিজ্ঞানের অগ্রভাগে রয়েছে যা অর্জন এবং পাঠদানের জন্য শিক্ষার্থীরা ধাবিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
والسبب في ذلك يعود إلى أن علم أصول الفقه يتمتع بخاصية تميزه عن سائر العلوم.
فهو غزير في مادته، يشبع نهم المقبلين عليه، ويخاطب عقولهم، ويحث فيهم جذوة التفكير - بجانب أهميته ومكانته الرفيعة، فإذا أدرك الباحث أبعاد هذا العلم يجده متصلاً بجميع العلوم الشرعية، والعربية بمواده المتنوعة، فلا يتمكن منه دارس إلَاّ وقد حصلت له ملكة استنباط الأحكام الشرعية.
فعلم الأصول على هذا ليس كما يتصوره بعضهم، علماً محصوراً في تعريفات ومناقشات لفظية، جافاً غير آخاذ، بل هو على العكس من ذلك تماماً، يدرك ذلك علماء الأصول الذين عايشوه دراسة وتدريساً، ومما يدل على ذلك أيضاً أن العالم بالفقه والأصول يقدم على غيره في الوظائف المهمة؛ لخطورة وأهمية ما يحمله، فهو الذي يولّى أخطر منصب في الدولة الإسلامية، ألا وهو منصب القضاء؛ فالفقهاء الملمون بالأصول مقدمون على غيرهم في تولي هذا المنصب، ويفضل - من هؤلاء - العارفون بحياة الناس الاجتماعية وعاداتهم المرعية.
ومع هذه المكانة العالية لأصول الفقه، والجهود التي بذلت فيه على مر العصور إلا أن التأليف فيه قد جاء متسماً بصفة العموم والإجمال في بعض النواحي والإحالات على المواضيع التي يشبه بعضها بعضاً.
أضف إلى ذلك أن أسلوب التأليف في القديم يختلفُ عنه في الوقت
এর কারণ হলো, উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র এমন এক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা একে অন্যান্য সকল শাস্ত্র থেকে স্বতন্ত্র করে।
এর বিষয়বস্তু অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যা এই শাস্ত্রের প্রতি আগ্রহীদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করে, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে সম্বোধন করে এবং তাদের মধ্যে চিন্তার স্ফুলিঙ্গ প্রজ্জ্বলিত করে—এর গুরুত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদার পাশাপাশি। যখন কোনো গবেষক এই শাস্ত্রের ব্যাপ্তি উপলব্ধি করেন, তখন তিনি একে এর বহুমুখী বিষয়বস্তুর মাধ্যমে সমস্ত শরয়ী ও আরবি শাস্ত্রের সাথে সংযুক্ত দেখতে পান। ফলে কোনো শিক্ষার্থী এই শাস্ত্রে ততক্ষণ পর্যন্ত পারদর্শী হতে পারে না, যতক্ষণ না তার মধ্যে শরয়ী বিধান আহরণ বা ইস্তিম্বাতের বিশেষ যোগ্যতা অর্জিত হয়।
সুতরাং উসুল শাস্ত্রটি কেউ কেউ যেমনটি ধারণা করেন তেমন নয়—অর্থাৎ কেবল সংজ্ঞা ও শাব্দিক বাহাস-বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো শুষ্ক বা আকর্ষণহীন বিদ্যা নয়। বরং বিষয়টি এর সম্পূর্ণ বিপরীত, যা সেই উসুলবিদগণ উপলব্ধি করেন যারা অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার মাধ্যমে এর সাথে জীবন অতিবাহিত করেছেন। এর আরেকটি প্রমাণ হলো, ফিকহ ও উসুলে পারদর্শী আলেমকে তার বহনকৃত জ্ঞানের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার কারণে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ইসলামি রাষ্ট্রে তাকেই সবচেয়ে সংবেদনশীল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, আর তা হলো বিচারকের (কাযা) পদ। তাই উসুল শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ফকিহগণ এই পদ লাভের ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী থাকেন; আর তাদের মধ্যে তারাই অধিক পছন্দনীয় যারা মানুষের সামাজিক জীবন ও প্রচলিত রীতিনীতি সম্পর্কে সম্যক অবগত।
উসুলুল ফিকহের এই সুউচ্চ মর্যাদা এবং যুগ যুগ ধরে এতে ব্যয়িত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার ধারাটি কিছু ক্ষেত্রে সাধারণীকরণ ও সংক্ষিপ্ততার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে এবং পরস্পর সদৃশ বিষয়গুলোর প্রতি কেবল ইঙ্গিত প্রদানের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, প্রাচীনকালের রচনাশৈলী বর্তমান সময়ের রচনাশৈলী থেকে ভিন্ন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي أضاء الكون بنور الإسلام، وأنزل القرآن على خير الأنام، الكتاب الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، تنزيل الحكيم العلَاّم، الرسالة الخالدة، والخالية من الأخطاء والأوهام، المتصف بالتآلف والوئام.
والصلاة والسلام على خير البرية، ومعلم البشرية سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، أفضل بني آدم خلقاً وسجية، بعث بالحنيفية والأخلاق المرضية، وفسر القرآن بسنته القولية والفعلية، وبيّن الأحكام الشرعية بالكلمات القدسية، وعلى آله وأصحابه الذين آمنوا به واتبعوا هديه المبين، وتمسكوا بدينه واعتصموا بحبله المتين، ودافعوا عن شريعته بكل غال وثمين، وشددوا النكير على النزاع والخلاف بين المؤمنين، ورفعوا راية الإسلام في المشارق والمغارب قاصدين بذلك رضا رب العالمين.
وعلى من اتبع هديه إلى يوم الدين من أمته المجتهدين المخلصين الذين صرفوا أعمارهم في خدمة الشريعة وأحكامها، فوفقوا بين نصوصها، ودفعوا التخالف عنها، وأعملوا راجحها وأولوا مرجوحها؛ فجعلوا لكل مسألة حكمها، ولكل مشكلة حلها، ولكل قضية مسارها، ولكل معارضة جمعها وتوفيقها، فبذلك كونوا ثروة فقهية عظيمة، كانت وما زالت مصدر كل باحث، ومعين كل تشريع.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি ইসলামি আলোকচ্ছটা দ্বারা মহাবিশ্বকে আলোকিত করেছেন এবং সর্বোত্তম সৃষ্টির ওপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। এটি এমন এক কিতাব যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না; যা প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এটি এক চিরন্তন বার্তা, যা ভুল ও ভ্রান্ত ধারণা থেকে মুক্ত এবং সম্প্রীতি ও সংহতির গুণে গুণান্বিত।
এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির সেরা এবং মানবজাতির শিক্ষক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর, যিনি সৃষ্টি ও চরিত্রে আদম সন্তানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তিনি সত্যনিষ্ঠ ধর্ম ও পছন্দনীয় চরিত্রসহ প্রেরিত হয়েছেন, তাঁর কথা ও কাজের সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং পবিত্র বাণীসমূহের মাধ্যমে শরয়ি বিধানাবলি স্পষ্ট করেছেন। আরও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর, যাঁরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছেন এবং তাঁর সুস্পষ্ট হিদায়াতের অনুসরণ করেছেন; তাঁরা তাঁর দ্বীনকে আঁকড়ে ধরেছেন, তাঁর মজবুত রজ্জুকে ধারণ করেছেন এবং সর্বস্ব দিয়ে তাঁর শরিয়তকে রক্ষা করেছেন। তাঁরা মুমিনদের মধ্যে বিবাদ ও মতবিরোধের কঠোর প্রতিবাদ করেছেন এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেছেন।
এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর হিদায়াতের অনুসারী সেইসব একনিষ্ঠ মুজতাহিদগণের ওপর, যাঁরা শরিয়ত ও তার বিধানাবলির সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন; তাঁরা শরয়ি দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় করেছেন, এগুলোর মধ্য থেকে বিরোধ দূর করেছেন, শক্তিশালী দলীলটি প্রয়োগ করেছেন এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলীলটির উপযুক্ত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাঁরা প্রতিটি বিষয়ের বিধান, প্রতিটি সমস্যার সমাধান, প্রতিটি প্রসঙ্গের গতিপথ এবং প্রতিটি বৈপরীত্যের সমন্বয় ও সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমেই তাঁরা এক বিশাল ফিকহি সম্পদ গড়ে তুলেছেন, যা প্রতিটি গবেষকের জন্য উৎস এবং প্রতিটি আইন প্রণয়নের সহায়ক হিসেবে ছিল এবং আজও বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
1 - أهمية أصول الفقه:
قد يكون من نافلة القول الحديث عن مكانة وأهمية أصول الفقه - باعتباره قواعد وضوابط كلية - تبين وتفسر نصوص الأحكام من الكتاب والسنة؛ اللذين إليهما مرد الشريعة الإسلامية في مصادرها الأصلية والتبعية؛ فالكتاب وهو كلى الشريعة وأصل أصولها تناول الأحكام بطريقة يزينها طابع الإجمال والعموم في الغالب.
وتليه السنة التي كانت ترجمانه وتفصيله، وطريقة الوصول إلى هدايته وتفسيره، قال الله - تعالى -: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} 1، فكان بيان ما أجمل من القرآن بطريق السنة، والكل وحي من الله - تعالى - إلى رسوله صلى الله عليه وسلم لقوله - تعالى -: {إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} 2، ولقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ألا وإني أوتيت القرآن ومثله معه
… "3 الحديث؛ فالقرآن الكريم والسنة المطهرة هما الأساس الذي
--------------------------------------------
১ - উসুলুল ফিকহের গুরুত্ব:
উসুলুল ফিকহের মর্যাদা ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়তো বাহুল্য মাত্র—যেহেতু এটি হলো এমন কিছু সামষ্টিক মূলনীতি ও বিধিমালা—যা বিধানের মূল পাঠসমূহকে (নصوص) সুস্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করে, যা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত; যে দুটির দিকেই ইসলামি শরীয়তের মৌলিক ও আনুষঙ্গিক উৎসসমূহ প্রত্যাবর্তন করে। কেননা কুরআন হলো শরীয়তের সামগ্রিক রূপ এবং এর সকল মূলের মূল, যা বিধানসমূহকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত ও সাধারণ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছে।
আর এর পরেই সুন্নাহর অবস্থান, যা ছিল কুরআনের অনুবাদক ও বিশদ ব্যাখ্যাকারী এবং এর হেদায়েত ও ব্যাখ্যায় পৌঁছানোর পথ। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।" ১ সুতরাং কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বর্ণনা সুন্নাহর মাধ্যমেই সাধিত হয়েছে, আর এই সবকিছুই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি প্রত্যাদেশ (ওহী), যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন: "এটি তো কেবল প্রত্যাদেশ (ওহী), যা তাঁর নিকট পাঠানো হয়।" ২ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: "জেনে রেখো, আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে তারই অনুরূপ আরও কিছু দেওয়া হয়েছে…" ৩ হাদিস; সুতরাং পবিত্র কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহই হলো সেই ভিত্তি যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الحاضر، وقلما تجدُ قارئاً لا يجدُ صعوبةً في دراسةِ الأصول، وفهم الأساليب التي كتبت بها.
لهذا كله كان من الواجب على الباحثين في الدراسات الأصولية - وخاصة أصحاب رسائل الماجستير والدكتوراه - أن يهتموا بتلك النواحي التي لم تشبع بحثاً وتنقيباً، فيختاروها مواضيع لرسائلهم، وبهذا العمل يحققون أكثر من هدف لأنهم:
أولاً: قد أكملوا تلك المواضيع التي لم يتناولها القدماء بالتفصيل.
ثانياً: فإن كتابة رسائلهم ستكون متمشية مع أسلوب العصر، وفي ذلك تسهيل وتبسيط لفهم جانب كبير من تراثنا الإسلامي العريق.
বর্তমান সময়; এমন পাঠক খুব কমই পাওয়া যাবে, যারা উসুল (মূলনীতিশাস্ত্র) অধ্যয়নে এবং যে শৈলীতে সেগুলো লেখা হয়েছে তা বুঝতে অসুবিধার সম্মুখীন হন না।
এই সব কারণেই উসুল সংক্রান্ত গবেষণায় নিয়োজিত গবেষকদের জন্য—বিশেষ করে মাস্টার্স ও পিএইচডি অভিসন্দর্ভ রচয়িতাদের জন্য—এটি আবশ্যকীয় ছিল যে, তারা সেই সকল দিকগুলোর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করবেন যেগুলোতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও অনুসন্ধান হয়নি এবং সেগুলোকে তাদের গবেষণার বিষয় হিসেবে নির্বাচন করবেন। এই কাজের মাধ্যমে তারা একের অধিক লক্ষ্য অর্জন করবেন, কারণ তারা:
প্রথমত: তারা সেই সব বিষয়গুলো সম্পন্ন করেছেন যা পূর্ববর্তীগণ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেননি।
দ্বিতীয়ত: তাদের গবেষণাপত্র লিখন আধুনিক যুগের শৈলীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, আর এতে আমাদের সুপ্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ বোঝার ক্ষেত্রে সহজতর ও সরলীকরণ হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
2 - أهمية الموضوع وأسباب اختياره:
إن أهمية الموضوع تنبع من أهمية أصول الفقه نفسه، ومع هذا فإن مواضيع الأصول تتفاوت لمزايا خاصة بها، ولعل موضوعَ معرفة دلالة الألفاظ العربية من ناحية العموم والخصوص - ومنْ ناحية الإطلاق والتقييد من المواضيع الجديرة بالدراسة والبحث؛ لأن معظم أدلة الشرع غالبها العمومات والإطلاقات، فعلى من أراد فَهْم الأحكامِ الشَّرعية المستمَدَّة من نصوص الكتاب والسنة أن يكونَ مدركاً لأحكام الخطاب العام وعلاقته بالخاص، ولأحكام الخطاب المطلق وعلاقته بالمقيَّد، ومقاصد ذلك في اللسان العربي والعرف الشرعي.
وقد اهتم الأصوليون - قديماً وحديثاً - بمباحث العام وتخصيصه، وأحكام كل منهما وعنوا بهما عناية فائقة تظهر بإلقاء نظرة على مؤلفاتهم في هذا الفن، كما أفرده بعضهم بمؤلفات ورسائل خاصة1.
لكن المطلق حيث كان قريب الشبه بالعام اكتفى بعض الأصوليين من الجمهور بذكره عقب العام وأحكام التخصيص، ثم أحالوا من أراد
২ - বিষয়ের গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণসমূহ:
নিশ্চয়ই এই বিষয়ের গুরুত্ব স্বয়ং উসুলুল ফিকহ বা ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতির গুরুত্ব থেকেই উদ্ভূত। তা সত্ত্বেও, উসুলের বিষয়বস্তুসমূহ তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণে মর্যাদায় ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সম্ভবত আরবি শব্দাবলির অর্থবোধকতা (দালালাত) জানার বিষয়টি—সাধারণ (আম) ও বিশেষ (খাস) এবং নিরঙ্কুশ (মুতলাক) ও শর্তযুক্ত (মুকাইয়্যাদ) হওয়ার দিক থেকে—অধ্যয়ন ও গবেষণার জন্য অত্যন্ত যোগ্য একটি বিষয়; কারণ শরীয়তের অধিকাংশ দলীলই মূলত সাধারণ (আম) এবং নিরঙ্কুশ (মুতলাক) প্রকৃতির। সুতরাং, যে ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহর নস (বাণী) থেকে আহরিত শরীয়তের বিধানসমূহ বুঝতে চান, তাকে অবশ্যই সাধারণ সম্বোধন (খিতাব) এবং বিশেষের সাথে এর সম্পর্ক, এবং নিরঙ্কুশ সম্বোধন এবং শর্তযুক্তের সাথে এর সম্পর্ক, এবং আরবি ভাষা ও শরয়ী পরিভাষায় এগুলোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে হবে।
প্রাচীন ও আধুনিক—উভয় যুগের উসুলবিদগণই ‘আম’ (সাধারণ) এবং এর ‘তাখসিস’ (বিশেষায়ন) সংক্রান্ত আলোচনা ও এ দুটির বিধানের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এ দুটির প্রতি অসামান্য যত্ন নিয়েছেন, যা এই শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহের ওপর দৃষ্টিপাত করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমনকি তাঁদের কেউ কেউ এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ ও বিশেষ গবেষণাপত্রও রচনা করেছেন।১
কিন্তু ‘মুতলাক’ (নিরঙ্কুশ) বিষয়টি ‘আম’-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় জুমহুর (অধিকাংশ) উসুলবিদদের কেউ কেউ ‘আম’ এবং ‘তাখসিস’-এর বিধান আলোচনার পরপরই এটি উল্লেখ করে ক্ষান্ত হয়েছেন। অতঃপর যে ব্যক্তি ইচ্ছা পোষণ করে তাকে তাঁরা নির্দেশ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
معرفة أحكام المطلق وتقييده على ما ذكروه في باب التخصيص، مكتفين بقولهم: "إن كلَّ ما يخصص العام يقيد به المطلق، وكل ما لا يجوز أن يخصص به العام لا يجوز أن يقيد به المطلق".
وبالتالي لم تحظ أحكام المطلق بالتفصيل الذي حظيت به أحكام العموم.
وهذا النقص والإجمال جدير أن يكون موضوعاً لرسالة علمية؛ لأن للمطلق ماهيته التي كانت مثار نقاش طويل لدى العلماء من حيث تحديدها، والفرق بينها وبين ماهية النكرة، ثم بينها وبين ماهية العام، وهل المطلق من قبيل العام أو الخاص؟ وإذا كان من أنواع الخاص فما تفسير قول العلماء: العام المطلق والفعل المطلق؟
ثم إن للمطلق دلالتَه التي لم يتفق الأصوليون على تصنيفها، أهي قطعيةٌ أم ظنيةٌ؟ ثم ما صلة المطلق بالمقيد؟ وهل يحمل المطلق على المقيد أولاً؟ وإذا كان المطلق يحمل على المقيد فما معنى ذلك، وما سببه؟ وما شروطه؟ وفي أي الحالات يكون حمل المطلق على المقيد وفي أيها يمتنع الحمل؟ ثم ما حكم حمل المطلق على المقيد إذا ما تعدد القيد؟ وما سبب الخلاف في الحالات التي لم يتفق الأصوليون على حمل المطلق على المقيد فيها، وما علاقة اختلافهم هذا بالقول بمفهوم المخالفة، وبالزيادة على النص، وما أثر هذا الخلاف على الفروع الفقهية؟ وأخيراً ما معني التقييد؟ وما الفرق بينه وبين التخصيص وبينه وبين النسخ؟ ثم بأي شيء يكون
মুতলাক (নিঃশর্ত) এবং এর তাকয়ীদ (শর্তযুক্তকরণ) সংক্রান্ত বিধিবিধানের পরিচয় তারা তাখসিস (বিশেষীকরণ) অধ্যায়ে যেভাবে বর্ণনা করেছেন সেভাবেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তারা কেবল এই কথা বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন যে: "যা কিছু আম-কে (সাধারণ) বিশেষায়িত করে, তা দ্বারাই মুতলাক-কে শর্তযুক্ত করা হয়; আর যা দ্বারা আম-কে বিশেষায়িত করা বৈধ নয়, তা দ্বারা মুতলাক-কেও শর্তযুক্ত করা বৈধ নয়।"
এর ফলে মুতলাক সংক্রান্ত বিধানাবলি সেই বিস্তারিত আলোচনা পায়নি যা আম (সাধারণ) সংক্রান্ত বিধানাবলি লাভ করেছে।
এই অপূর্ণতা এবং সংক্ষিপ্ততা একটি গবেষণা প্রবন্ধের বিষয়বস্তু হওয়ার যোগ্য; কারণ মুতলাক-এর নিজস্ব এমন একটি স্বরূপ রয়েছে যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আলেমদের মাঝে দীর্ঘ বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। যেমন—এর স্বরূপ এবং নাকিরাহ (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য)-এর স্বরূপের মধ্যে পার্থক্য কী, আবার এর এবং আম-এর স্বরূপের মধ্যে পার্থক্য কী? মুতলাক কি আম-এর অন্তর্ভুক্ত নাকি খাস (বিশেষ)-এর? আর যদি এটি খাস-এর প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আলেমদের এই উক্তির ব্যাখ্যা কী: আম মুতলাক (নিঃশর্ত সাধারণ) এবং ফেল মুতলাক (নিঃশর্ত কাজ)?
তদুপরি মুতলাক-এর এমন অর্থগত নির্দেশনা (দালালাত) রয়েছে যার শ্রেণিবিন্যাসের বিষয়ে উসুলবিদগণ একমত হতে পারেননি; তা কি সুনিশ্চিত নাকি ধারণাপ্রসূত? এরপর, মুতলাক-এর সাথে মুকায়্যাদ (শর্তযুক্ত)-এর সম্পর্ক কী? মুতলাক-কে কি সর্বাগ্রে মুকায়্যাদ-এর অর্থে গ্রহণ করা হবে? যদি মুতলাক-কে মুকায়্যাদ-এর অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে তার অর্থ কী, তার কারণই বা কী? আর এর শর্তাবলিই বা কী? কোন কোন অবস্থায় মুতলাক-কে মুকায়্যাদ-এর ওপর প্রয়োগ করা হবে আর কোন অবস্থায় তা করা অসম্ভব? এরপর, যদি শর্ত (কায়েদ) একাধিক হয় তবে মুতলাক-কে মুকায়্যাদ-এর ওপর প্রয়োগ করার বিধান কী? যে সকল ক্ষেত্রে উসুলবিদগণ মুতলাক-কে মুকায়্যাদ-এর ওপর প্রয়োগ করার বিষয়ে একমত হতে পারেননি সেখানে মতভেদের কারণ কী? তাদের এই মতভেদের সাথে মাফহুম আল-মুখালাফাহ (বিপরীত অর্থবোধক ধারণা) এবং নস বা মূল পাঠের ওপর অতিরিক্ত বিধান যুক্ত করার বিষয়ের সম্পর্ক কী? ফিকহ শাস্ত্রের শাখা-প্রশাখায় এই মতভেদের প্রভাব কী? পরিশেষে, তাকয়ীদ-এর অর্থ কী? এর সাথে তাখসিস এবং নাসখ (রহিতকরণ)-এর পার্থক্য কী? এরপর, কিসের মাধ্যমে এটি সম্পন্ন হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تقييد المطلق؟
كل هذه التساؤلات وغيرها كانت سبباً مباشراً؛ لأن يكون موضوع بحثي الذي أتقدم به لنيل درجة الماجستير في قسم أصول الفقه في الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية، هو: (المطلق والمقيد وأثرهما في اختلاف الفقهاء) .
يضاف إلى ذلك سببٌ آخر شدَّني إلى الكتابة في هذا الموضوع وحملني على امتطاء عبابه، ألَا وهو: بيان أن أدلةَ الشرعِ متآلفة لا متنافرة، متوافقة لا متعارضة، ليس بينها خلاف في نفس الأمر في المدلولات، ولا تباين في المفهومات، متى كان الدليلان متفقاً على صحتهما، وأخذ الأحكام عن طريقهما، لقوله - تعالى -: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللهِ لَوَجَدُواْ فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيراً} 1، مفهوم الآية: نفي الاختلاف عن القرآن في نفس الأمر، غير أنه في بادئ النظر قد يجد المرء أن هناك تنافياً بين دليلين منطوقاً أو مفهوماً، وذلك راجع لنقص في علمه، أو خلل في فهمه وإدراكه للأصول والقواعد التي تنظم العلاقة بين أدلة الشريعة الإسلامية.
فمثل هذا يجب أن يبصر ويعلم؛ ولا يكون إلا بمراجعة الكتب والرسائل التي تعالج هذه المواضيع بأسلوب علمي سهل.
--------------------------------------------
মুতলাককে মুকাইয়াদ করা (অনির্দেশিতকে নির্দিষ্ট করা)?
এই সকল প্রশ্ন এবং অন্যান্য বিষয়গুলোই আমার গবেষণার সরাসরি কারণ ছিল, যা আমি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগে উসুলুল ফিকহ শাখায় মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য পেশ করছি। বিষয়টি হলো: (মুতলাক ও মুকাইয়াদ এবং ফকিহগণের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে এগুলোর প্রভাব)।
এর সাথে আরও একটি কারণ যুক্ত হয়েছে যা আমাকে এই বিষয়ে লিখতে আকৃষ্ট করেছে এবং এর গভীরে প্রবেশ করতে অনুপ্রাণিত করেছে, আর তা হলো: এই বিষয়টি স্পষ্ট করা যে শরয়ি দলিলসমূহ সুসমন্বিত, পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়; এগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ, সাংঘর্ষিক নয়। যখন দুটি দলিলের বিশুদ্ধতা এবং তা থেকে বিধান গ্রহণের বিষয়টি সর্বসম্মত হয়, তখন বাস্তব ক্ষেত্রে এগুলোর অর্থের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকে না এবং ধারণার ক্ষেত্রেও কোনো বৈসাদৃশ্য থাকে না। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতপার্থক্য পেত।" ১, আয়াতের মর্মার্থ হলো: প্রকৃতপক্ষে কুরআনের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য না থাকা। তবে প্রাথমিক দৃষ্টিতে কেউ শব্দগত বা মর্মার্থগত দিক থেকে দুটি দলিলের মধ্যে বৈপরীত্য খুঁজে পেতে পারে; যা মূলত তার জ্ঞানের স্বল্পতা অথবা ইসলামি শরিয়াহর দলিলসমূহের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী মূলনীতি ও নিয়মাবলি বুঝতে ও উপলব্ধি করতে তার ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে।
এমন ব্যক্তিকে অবশ্যই সচেতন করতে হবে এবং শিক্ষা দিতে হবে; আর তা সম্ভব কেবল সেই সকল গ্রন্থ ও গবেষণাপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে যা এই বিষয়গুলোকে সহজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলোচনা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
- وأيضاً - فإن الكتابة في تلك المواضيع ستقوم بلا شك بوظيفة تقريب شقة الخلاف بين المذاهب الإسلامية، وإزالة الشكوك التي تساور النفوس الضعيفة، فتقول: إذا كان القرآن واحداً ونبي الإسلام واحداً، فَلِمَ هذا الاختلاف؟ ولماذا لم تتفق كلمة الفقهاء في الفروع، وما هي أسباب تلك الخلافات؟ إلى غير ذلك من التشكيك والأسئلة التي أساسها إما الجهل، أو عدم التَّحري في النقل عن المذاهب، أو عدم الدِّقِّة في الفهم والنظر، لهذا كله استخرت الله تعالى في الكتابة في هذا الموضوع، راجياً منه التوفيق والسداد.
- আরও—এই বিষয়গুলোতে লেখালেখি নিঃসন্দেহে ইসলামি মাযহাবগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্যের ব্যবধান কমিয়ে আনার এবং দুর্বল চিত্তে জাগ্রত হওয়া সংশয়গুলো দূর করার ভূমিকা পালন করবে। তারা বলে: যদি কুরআন এক হয় এবং ইসলামের নবী এক হন, তবে কেন এই মতভেদ? আর কেনই বা শাখা-প্রশাখামূলক বিষয়সমূহে ফকীহগণের সিদ্ধান্ত এক হলো না, এবং এই সব মতপার্থক্যের কারণই বা কী? এছাড়া আরও বিভিন্ন সংশয় ও প্রশ্ন রয়েছে যেগুলোর মূল ভিত্তি হলো হয় অজ্ঞতা, নয়তো মাযহাবগুলোর বর্ণনা উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে সত্যানুসন্ধানের অভাব, অথবা অনুধাবন ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতার অভাব। এসব কারণেই আমি এই বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং তাঁর নিকট তাওফীক ও সঠিকতা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
3 - طريقة البحث وتخطيطه:
البحث، أو الرسالة الجامعية العالية عبارة عن قسمين:
أحدهما: رئيس ويسمى (صلب الموضوع) ، وتبدأ كتابته بأعلى الصفحات ويحتل في الغالب ثلث الصفحة.
والقسم الآخر: تابع للأول ومكمل له، ويسمى (بالهوامش أو التعليقات) ومكانه أسفل صفحات الرسالة، ويفصل بين القسمين خط أفقي.
وطريقة بحثي في القسم الأول: (صلب الرسالة) تتلخص في الآتي:
أولاً: عند التعريف بالمفهوم الاصطلاحي، أو القاعدة الأصولية.
إذا كان المفهوم أو القاعدة منضبطاً وقابلاً للتحديد اللغوي والاصطلاحي، فإني أبدأ أولاً بتعريفه في اللغة، ثم في الاصطلاح، وأشرح التعريف وأبيِّن محترزاته أحياناً.
أما إذا كان الأمر بخلاف ذلك فإنَّ تعريفه يكون بتصويره وتقريبه بالأمثلة التي تبين المراد منه.
ثانياً: عند عرض آراء الفقهاء في القواعد والمسائل الأصولية:
1 - أبدأ بذكر أقوال العلماء في المسألة أو القاعدة، فإذا كانت الآراء حول القاعدة وأدلتها أو المسألة قليلة، فإني أذكر عقب كل رأي دليله ومناقشته، وإذا كان هناك ملاحظات أو إضافات أضفتها ولا
৩ - গবেষণা পদ্ধতি ও এর পরিকল্পনা:
গবেষণা বা উচ্চতর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের থিসিস দুটি অংশে বিভক্ত:
একটি হলো: প্রধান অংশ, যাকে (মূল বিষয়বস্তু) বলা হয়; এর লেখা পৃষ্ঠার উপরিভাগ থেকে শুরু হয় এবং সাধারণত পৃষ্ঠার এক-তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে থাকে।
অন্য অংশটি হলো: প্রথম অংশের অনুগামী ও পরিপূরক, যাকে (পাদটীকা বা ব্যাখ্যা) বলা হয়; এর স্থান হলো থিসিসের পৃষ্ঠাসমূহের নিচে এবং দুই অংশের মাঝে একটি আড়াআড়ি রেখা ব্যবধান তৈরি করে।
প্রথম অংশে (থিসিসের মূল পাঠে) আমার গবেষণা পদ্ধতি নিম্নরূপে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
প্রথমত: পারিভাষিক ধারণা বা উসূলি কায়দা সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে।
যদি ধারণা বা কায়দাটি সুসংহত এবং শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞায়নের উপযোগী হয়, তবে আমি প্রথমে এর শাব্দিক সংজ্ঞা প্রদান করি, এরপর পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদান করি এবং সংজ্ঞাটি ব্যাখ্যা করি ও মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রমসমূহ (যা সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়) স্পষ্ট করি।
আর যদি বিষয়টি এর বিপরীত হয়, তবে এর সংজ্ঞায়ন করা হয় বিষয়টি চিত্রায়িত করার মাধ্যমে এবং উদাহরণের সাহায্যে নিকটবর্তী করার মাধ্যমে, যা এর উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে।
দ্বিতীয়ত: উসূলি কায়দা ও মাসআলাসমূহে ফকীহগণের মতামত উপস্থাপনের ক্ষেত্রে:
১ - আমি মাসআলা বা কায়দা সম্পর্কে আলেমগণের মতামত উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করি। যদি কায়দা ও এর দলীলসমূহ বা মাসআলাটি সম্পর্কে মতামত অল্প হয়, তবে আমি প্রতিটি মতের পরপরই তার দলীল ও পর্যালোচনা উল্লেখ করি। যদি সেখানে কোনো পর্যবেক্ষণ বা সংযোজন থাকে, তবে আমি তা যুক্ত করি এবং না
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
أؤخر ذلك كما يفعل بعضُ الباحثين؛ لأن تأخيرَه يشتِّت الفكرَ، ويحول دون تسلسله.
2 - أما إذا كانت الآراء حول المسألة أو أدلتها كثيرة، فإني أذكر الأقوال مجملة أولاً، ثم أتبع ذلك بأدلة كل مذهب على حدة، وغالباً ما يكون المذهب الراجح هو الأخير إلا ما صرَّحْتُ فيه بوجهة نظري.
3 - إذا كان الدليلُ عليه اعترض، فإني أذكر الاعتراض والرد عليه عقب الدليل مباشرة ولا أؤخر ذلك خشية تشتيت الذهن وعدم ترابط الأفكار.
ثالثاً: أقارن بين الأدلة واستعرض مناقشات كل فريق لأدلة الفريق الآخر، فإذا كانت عندي ملحوظة أو إضافة فإني أذكرها، ثم أرجح ما يطمئن إليه قلبي وأعضد ذلك بوجهات نظري التي استنتجتها من الأدلة والمقاصد العامة للشريعة الإسلامية.
رابعاً: أذكر مثالاً أو أكثر لكل مسألة أو قاعدة تعرضت لبحثها، إذا وجدت من مَثَّلَ لها، وإن لم أجد اجتهد وأمثل من عندي إلا إذا لم أتمكن فأكون معذوراً في عدم التمثيل.
وقد أشرتُ عقب كل قاعدة إلى أثر الخلاف في الفروع، ثم خصصت فصلاً كاملاً لأثر الخلاف بيَّنت فيه أثر الاختلاف في القواعد الأصولية العامة في باب المطلق والمقيد على الفروع الفقهية إيماناً مني أن
আমি এটি বিলম্বিত করি না যেমনটি কোনো কোনো গবেষক করে থাকেন; কারণ বিষয়টিকে বিলম্বিত করা চিন্তাধারাকে বিক্ষিপ্ত করে এবং এর ধারাবাহিকতায় বাধা সৃষ্টি করে।
২ - আর যদি মাসআলা সংক্রান্ত মতামত অথবা এর প্রমাণাদি অধিক হয়, তবে আমি প্রথমে মতগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করি, অতঃপর প্রতিটি মাযহাবের প্রমাণাদি পৃথকভাবে বর্ণনা করি। সাধারণত অগ্রগণ্য মতটিই সবার শেষে থাকে, যদি না আমি স্পষ্টভাবে আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করি।
৩ - যদি কোনো দলিলের ওপর আপত্তি থাকে, তবে আমি দলিলের পরপরই সেই আপত্তি এবং তার উত্তর উল্লেখ করি। চিন্তা বিক্ষিপ্ত হওয়া এবং ধ্যান-ধারণার যোগসূত্র বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় আমি তা বিলম্বিত করি না।
তৃতীয়ত: আমি দলীলসমূহের মধ্যে তুলনা করি এবং এক পক্ষের দলীলের ওপর অন্য পক্ষের পর্যালোচনাগুলো তুলে ধরি। যদি আমার কোনো নিজস্ব পর্যবেক্ষণ বা সংযোজন থাকে, তবে আমি তা উল্লেখ করি। অতঃপর আমার অন্তর যে মতের ওপর আশ্বস্ত হয় আমি সেটিকেই প্রাধান্য দিই এবং প্রমাণাদি ও ইসলামি শরীয়তের সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহ (মাকাসিদ) থেকে লব্ধ আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা তা শক্তিশালী করি।
চতুর্থত: আমি আলোচিত প্রতিটি মাসআলা বা কায়াদার (মূলনীতি) জন্য এক বা একাধিক উদাহরণ উল্লেখ করি, যদি আমি এমন কারো সন্ধান পাই যিনি উদাহরণ পেশ করেছেন। আর যদি না পাই, তবে আমি ইজতিহাদ করে নিজ পক্ষ থেকে উদাহরণ পেশ করি; তবে যদি আমি সক্ষম না হই, সেক্ষেত্রে উদাহরণ পেশ না করার জন্য আমি অপারগতা প্রকাশ করছি।
আমি প্রতিটি কায়াদার পরেই শাখা মাসআলাগুলোর ওপর মতভেদের প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করেছি। অতঃপর মতভেদের প্রভাব নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় নির্ধারণ করেছি, যেখানে আমি 'মুতলাক' (অনির্ধারিত) ও 'মুকাইয়্যাদ' (নির্ধারিত) অধ্যায়ে সাধারণ উসূলি কায়দাহসমূহের মতভেদের প্রভাব ফিকহি শাখা-প্রশাখাগুলোর ওপর কী রূপ হয় তা বর্ণনা করেছি। এটি আমার এই বিশ্বাসের কারণে যে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
المهم في دراسة الأصول هو ربط القاعدة العامة بالفروع التي تفرعت عن الاختلاف في تلك القاعدة العامة.
خامساً: عند عرض المسألة الفرعية التطبيقية:
أرجع إلى كتب الفقه المشهورة واعتمد في كل مذهب على كتبه الخاصة بغية التأكد من صحة ما نسب إلى كل إمام، ولا أنقل مسألة إلا من كتب أصحابها المعتمدة ما وجدت إلى ذلك سبيلاً، وتارة اعتمد على كتب الأحكام المقارنة المشهود لها بالدقة والأمانة، كنيل الأوطار وسبل السلام، وما شاكلها، ثم أبين أن الخلاف فيها ناشئ عن الخلاف في القاعدة الأصولية التي تفرعت عنها، ولا اكتفي بسرد وجهات النظر حول المسألة الفرعية، بل أقوم أحياناً بالترجيح حسب الأدلة التي ذكرتها، وبذلك يمكن أن يستفاد من البحث من الناحية الفقهية بالإضافة إلى الناحية الأصولية.
وأما طريقتي في هوامش الرسالة فهي تتلخص في الآتي:
أولاً: النصوص الشرعية التي يودرها الأصوليون - سواء أكانت قرآناً أم سنة - لا اكتفي بنقلها عنهم، بل أرجع إلى مصادرها الأصلية، فأضبط الآية القرآنية من كتاب الله العزيز، وأتأكد من سلامتها من ناحية النقل، ثم أذكر رقم الآية واسم السورة.
أما إذا كان النص حديثاً فإني أرجع إلى أمات كتب الحديث لأتأكد
উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রের অধ্যয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাধারণ মূলনীতিকে এমন শাখা-প্রশাখাগুলোর সাথে সম্পৃক্ত করা, যা ওই সাধারণ মূলনীতির মতপার্থক্য থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
পঞ্চম: প্রায়োগিক শাখা মাসআলা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে:
আমি ফিকহ শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলির দিকে প্রত্যাবর্তন করি এবং প্রত্যেক মাযহাবের ক্ষেত্রে সেই মাযহাবের নিজস্ব কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করি, যাতে প্রত্যেক ইমামের প্রতি যা সম্বন্ধ করা হয়েছে তার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা যায়। আমি কোনো মাসআলা কেবল তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ থেকেই উদ্ধৃত করি, যতক্ষণ পর্যন্ত তেমনটি করার সুযোগ থাকে। আবার কখনও কখনও আমি সূক্ষ্মতা ও আমানতদারির জন্য স্বীকৃত তুলনামূলক আহকামের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করি, যেমন ‘নাইলুল আওতার’ ও ‘সুবুলুস সালাম’ এবং এই জাতীয় গ্রন্থসমূহ। এরপর আমি স্পষ্ট করি যে, এসকল ক্ষেত্রে মতপার্থক্য মূলত সেই উসুলি মূলনীতির মতভেদ থেকে উৎসারিত হয়েছে যা থেকে এগুলো শাখা হিসেবে বের হয়েছে। আমি কেবল শাখা মাসআলা সম্পর্কে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি না, বরং মাঝেমধ্যে উল্লেখিত দলিলসমূহের ভিত্তিতে প্রাধান্য নিরূপণ (তারজীহ) করি। এর মাধ্যমে এই গবেষণা থেকে উসুলি দিকের পাশাপাশি ফিকহী দিক থেকেও উপকৃত হওয়া সম্ভব হবে।
আর অভিসন্দর্ভের পাদটীকা লিখনের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি নিম্নরূপ:
প্রথমত: উসুলবিদগণ যে সকল শরয়ী নস (দলিল) উল্লেখ করেন—তা কুরআন হোক বা সুন্নাহ—আমি কেবল তাদের থেকে তা উদ্ধৃত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি না, বরং সেগুলোর মূল উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করি। মহান আল্লাহর কিতাব থেকে আমি কুরআনের আয়াতটি বিন্যস্ত করি এবং বর্ণনার দিক থেকে এর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করি, অতঃপর আয়াত নম্বর ও সূরার নাম উল্লেখ করি।
আর যদি নসটি হাদিস হয়, তবে আমি হাদিসের মূল গ্রন্থসমূহের (উম্মাহাত) দিকে প্রত্যাবর্তন করি যাতে নিশ্চিত হতে পারি...
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
من سلامة لفظه، فإن كان مخرجاً في صحيحي البخاري1 ومسلم2 أو أحدهما اكتفيت بذلك ذاكراً الكتاب والباب الذي وجد فيه اعتقاداً مني أن ذلك أسلم؛ لأن ذكر الجزء والصفحة يختلف تبعاً لاختلاف الطبعات، وأما إذا كان الحديث مخرجاً في غير الصحيحين، فإني أذكر من خرجه ودرجته من الصحة، أو الحسن أو الضعف، إذا وجدت من حكم عليه بذلك من الحفَّاظ وأهل الاختصاص، وإلا اكتفيت بتخريجه من كتب الحديث المعتمدة ما وجدت إلى ذلك سبيلاً.
ثانياً: ذكرت في الهامش المراجع التي استقيت منها البحث، مشيراً إلى اسم الكتاب ومؤلفه، والجزء والصفحة، وعدد الطبعات، واسم
--------------------------------------------
তার শব্দের বিশুদ্ধতা থেকে। যদি হাদীসটি সহীহ আল-বুখারী১ ও সহীহ মুসলিম২ অথবা এ দুটির কোনো একটিতে বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে আমি কিতাব ও অধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি। আমি মনে করি যে এটাই অধিকতর নিরাপদ; কারণ বিভিন্ন মুদ্রণের পার্থক্যের কারণে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর ভিন্ন হতে পারে। আর হাদীসটি যদি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থে বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে আমি তার সংকলনকারী এবং হাফেয ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের পক্ষ থেকে হাদীসটির বিশুদ্ধতার মান—সহীহ, হাসান অথবা যঈফ হওয়ার বিষয়ে কোনো হুকুম পাওয়া গেলে তা উল্লেখ করেছি। অন্যথায়, সাধ্য অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য হাদীস গ্রন্থসমূহ থেকে তার উদ্ধৃতি প্রদান করেই ক্ষান্ত হয়েছি।
দ্বিতীয়ত: আমি টীকাতে সেই সব সূত্রের উল্লেখ করেছি যেখান থেকে এই গবেষণাটি সংগ্রহ করেছি। এক্ষেত্রে কিতাবের নাম, লেখকের নাম, খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর, মুদ্রণ সংখ্যা এবং [প্রকাশকের] নাম নির্দেশ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الطابع، وتاريخ الطبع، ومكانه، وهذا يجعلني أذكر كل كتاب وطبعته عند النقل منه، فإذا تكرر ذلك فعذري أنه لا توجد لدي جميع المراجع.
ثالثاً: الأعلام التي ذكرت في صلب الرسالة، ترجمت لها في الهامش ترجمة موجزة، سواء كان المذكور صحابياً أو غيره، ليكون القارئ على بينة منه، ثم أحيل طالب الزيادة على المراجع التي ذكرت الترجمة بالتفصيل.
رابعاً: شرحت المصطلحات والألفاظ الغريبة والأفكار التي وردت في أثناء البحث، وفيها إجمال، أما ما كان له تعلق بالموضوع فقد بينته في صلب الرسالة.
فهذه جهودي المتواضعة في هذا البحث، وأرجو أن تكون قد كُلّلَت بالنجاح والتوفيق.
প্রকাশক, মুদ্রণ তারিখ এবং মুদ্রণ স্থান; এটি আমাকে প্রতিটি কিতাব এবং তার সংস্করণ উল্লেখ করতে বাধ্য করেছে যখন আমি তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি। যদি এর পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে আমার ওজর এই যে, আমার নিকট সকল মূল উৎসগ্রন্থ বিদ্যমান নেই।
তৃতীয়ত: গবেষণাপত্রের মূল পাঠে যে সকল ব্যক্তিবর্গের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, আমি পাদটীকায় তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেছি, তারা সাহাবী হোন বা অন্য কেউ, যাতে পাঠক সে সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। অতঃপর অধিক তথ্যপ্রার্থীর জন্য আমি বিস্তারিত জীবনী সম্বলিত উৎসগ্রন্থগুলোর বরাত দিয়েছি।
চতুর্থত: গবেষণার চলাকালীন আসা পারিভাষিক পরিভাষা, দুর্বোধ্য শব্দ এবং অস্পষ্ট ধারণাগুলো আমি ব্যাখ্যা করেছি। আর যা মূল বিষয়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিল, তা আমি গবেষণাপত্রের মূল অংশেই স্পষ্ট করে দিয়েছি।
এই হলো আমার এই গবেষণায় বিনম্র প্রচেষ্টা, আর আমি আশা করি এটি সফলতা ও তাওফিকের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
4 - تخطيط البحث وطريقة تنظيمه:
خطة البحثِ أو طريقةُ تنظيمِه تعني في عرف الباحثين رسم صورة متكاملة عن الموضوع المراد بحثه، يحدد فيها الباحثُ المعالمَ التي توضحُ الهيكلَ العام للرسالة، ويكون كلُّ عنصر فيها مكمِّلاً لجانب من جوانب البحث، وحلقة اتصال تربط ما بعدها بما قبلها، ومتى كانت الطريقةُ التي صيغت بها الخطة محكمةً ودقيقةً، فإنها تضفي صورة من الجمال والوضوح التام على الموضوع، وقد جرت العادةُ أن تكون النِّسَبُ التي تربط بين عناصر الخطة متدرجة من الأعلى إلى الأدنى.
ولهذا حاولت أن تكون خطةُ بحثي مشتملةً على مقدمة، وتمهيد، وثلاثة أبواب تقفوها خاتمة البحث، وهي في النتائج التي توصلت إليها خلال معايشتي الطويلة لموضوع المطلق والمقيد:
فالمقدمة:
اشتملت على أهمية البحث وأسباب اختياره، ثم طريقة الكتابة فيه وتخطيطه.
وأما التمهيد:
فهو في تقسيم اللفظ المفيد إلى عام وخاص.
وفيه أربعة مباحث:
الأول: في تعريف العام، وألفاظه.
৪ - গবেষণার পরিকল্পনা ও এর বিন্যাস পদ্ধতি:
গবেষণার পরিকল্পনা বা এর বিন্যাস পদ্ধতি বলতে গবেষকদের পরিভাষায় গবেষণার জন্য নির্ধারিত বিষয়ের এমন একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র অঙ্কন করাকে বোঝায়, যেখানে গবেষক সেই বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্ধারণ করেন যা গবেষণাপত্রের সাধারণ কাঠামোকে ফুটিয়ে তোলে। এর প্রতিটি উপাদান গবেষণার কোনো না কোনো দিককে পূর্ণতা দান করে এবং এটি এমন একটি যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে যা পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে পরবর্তী বিষয়কে সংযুক্ত করে। যখন পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করার পদ্ধতি সুসংহত ও নিখুঁত হয়, তখন তা বিষয়বস্তুর ওপর এক ধরনের সৌন্দর্য ও পূর্ণ স্বচ্ছতা দান করে। আর এটাই নিয়ম যে, পরিকল্পনার উপাদানসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক উচ্চতর স্তর থেকে নিম্নতর স্তরের দিকে ক্রমানুসারে বিন্যস্ত হবে।
এই কারণে আমি আমার গবেষণার পরিকল্পনাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা এবং তিনটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে সাজানোর চেষ্টা করেছি, যার শেষে রয়েছে গবেষণার উপসংহার। আর এই উপসংহারটি হলো মুতলাক ও মুকাইয়াদ বিষয়ে আমার দীর্ঘ গবেষণাকালে লব্ধ ফলাফলসমূহের সংকলন:
ভূমিকা:
এতে গবেষণার গুরুত্ব ও তা নির্বাচনের কারণসমূহ, অতঃপর গবেষণার লিখন পদ্ধতি ও এর পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আর উপক্রমণিকা:
এটি অর্থবোধক শব্দকে 'আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ) হিসেবে বিন্যস্ত করা প্রসঙ্গে।
এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: 'আম-এর সংজ্ঞা এবং এর শব্দসমূহ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الثاني: في تعريف الخاص وصيغه.
الثالث: في الفرق بين دلالة العام والخاص.
الرابع: في أنواع الخاص.
وفيه مطلبان:
الأول: في تعريف الأمر، وصيغه المشهورة وحكم الصيغة المجردة.
والثاني: في تعريف النَّهْي وصيغه المشهورة وحكم الصيغة المجردة.
الباب الأول
في التعريف بالمطلق والمقيد
وفيه فصلان:
الأول: في تعريفهما.
الثاني: في دلالتهما.
الفصل الأول: في التعريف بحقيقة المطلق والمقيد.
وفيه: تمهيد في تقسيم اللفظ باعتبار الحال الملابسة له، ومبحثان:
الأول: في تعريف المطلق لغة واصطلاحاً.
الثاني: في تعريف المقيد لغة واصطلاحاً.
الفصل الثاني: في دلالة المطلق والمقيد:
وفيه خمسة مباحث:
الأول: في الفرق بين المطلق والنكرة.
দ্বিতীয়: খাস (বিশেষ)-এর সংজ্ঞা ও এর শব্দাবলি প্রসঙ্গে।
তৃতীয়: আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ)-এর দালালাত (নির্দেশনা)-এর মধ্যকার পার্থক্য প্রসঙ্গে।
চতুর্থ: খাস-এর প্রকারভেদ প্রসঙ্গে।
এতে দুটি দাবি রয়েছে:
প্রথম: আমর (আদেশ)-এর সংজ্ঞা, এর প্রসিদ্ধ শব্দাবলি এবং নিঃশর্ত শব্দের বিধান প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়: নাহি (নিষেধ)-এর সংজ্ঞা, এর প্রসিদ্ধ শব্দাবলি এবং নিঃশর্ত শব্দের বিধান প্রসঙ্গে।
প্রথম অধ্যায়
মুতলাক (নিরঙ্কুশ) ও মুকাইয়াদ (শর্তযুক্ত) এর পরিচিতি প্রসঙ্গে
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম: এই দুইটির সংজ্ঞা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়: এই দুইটির দালালাত (নির্দেশনা) প্রসঙ্গে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুতলাক ও মুকাইয়াদ-এর প্রকৃত রূপের পরিচিতি প্রসঙ্গে।
এতে রয়েছে: সংশ্লিষ্ট অবস্থার প্রেক্ষিতে শব্দের প্রকারভেদ বিষয়ে একটি উপক্রমণিকা এবং দুটি অনুসন্ধান:
প্রথম: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে মুতলাক-এর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে মুকাইয়াদ-এর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুতলাক ও মুকাইয়াদ-এর দালালাত (নির্দেশনা) প্রসঙ্গে:
এতে পাঁচটি অনুসন্ধান রয়েছে:
প্রথম: মুতলাক ও নাকিরাহ (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য)-এর মধ্যকার পার্থক্য প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الثاني: في الفرق بين المطلق والعام.
الثالث: في المعهود الذهني بين الإطلاق والتقييد.
الرابع: في عروض الإطلاق والتقييد للأفعال والأسماء الشخصية.
الخامس: في حكم المطلق والمقيد، إذا لم يردا في موضوع آخر مطلقين أو مقيدين.
الباب الثاني
في حمل المطلق على المقيد
وفيه ثلاثة فصول:
الأول: في حكم حمل المطلَق على المقيَّد.
الثاني: في تحرير محل النزاع وأسباب الخلاف.
الثالث: في أثر الخلاف في حمل المطلق على المقيد.
الفصل الأول: في حمل المطلق على المقيد:
وفيه ثلاثة مباحث:
الأول: في المقصود بحمل المطلق على المقيد وسببه.
الثاني: في شروط الحمل.
الثالث: في أحوال المطلق والمقيد وحكم الحمل في كل حالة.
وفيه ثلاثة مطالب:
الأول: في محل الاتفاق.
দ্বিতীয়: মুতলাক (অনির্ধারিত) ও আম (সাধারণ)-এর মধ্যে পার্থক্য প্রসঙ্গে।
তৃতীয়: ইতলাক (অনির্ধারণ) ও তাকয়ীদ (নির্ধারণ)-এর মাঝে মানসিক পরিচিতি (মানসপটে বিদ্যমান ধারণা) প্রসঙ্গে।
চতুর্থ: ক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ইতলাক (অনির্ধারণ) ও তাকয়ীদ (নির্ধারণ)-এর আপতিত হওয়া প্রসঙ্গে।
পঞ্চম: মুতলাক ও মুকাইয়াদের বিধান প্রসঙ্গে, যখন তারা অন্য কোনো বিষয়ে মুতলাক বা মুকাইয়াদ হিসেবে আসে না।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
মুতলাককে মুকাইয়াদের ওপর প্রয়োগ করা প্রসঙ্গে
এতে তিনটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম: মুতলাককে মুকাইয়াদের ওপর প্রয়োগ করার বিধান প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়: বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু বিশ্লেষণ এবং মতভেদের কারণসমূহ প্রসঙ্গে।
তৃতীয়: মুতলাককে মুকাইয়াদের ওপর প্রয়োগের ক্ষেত্রে মতভেদের প্রভাব প্রসঙ্গে।
প্রথম অধ্যায়: মুতলাককে মুকাইয়াদের ওপর প্রয়োগ করা প্রসঙ্গে:
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম: মুতলাককে মুকাইয়াদের ওপর প্রয়োগ করার উদ্দেশ্য ও তার কারণ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়: প্রয়োগের শর্তাবলি প্রসঙ্গে।
তৃতীয়: মুতলাক ও মুকাইয়াদের বিভিন্ন অবস্থা এবং প্রতিটি অবস্থায় প্রয়োগের বিধান প্রসঙ্গে।
এতে তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম: ঐকমত্যের ক্ষেত্র প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الثاني: في محل الاختلاف.
الثالث: في حكم حمل المطلق على المقيد إذا تعدد القيد.
الفصل الثاني: في تحرير النزاع وأسبابه:
وتحته مبحثان:
الأول: حكم التقييد بالمتأخر.
الثاني: في أسباب الاختلاف.
وفيه مطلبان:
الأول: في الاختلاف في حجية مفهوم المخالفة.
الثاني: في الاختلاف في الزيادة على النص.
الفصل الثالث: في أثر الخلاف في حمل المطلق على المقيد:
وفي ثلاثة مباحث:
الأول: في مسائل الطهارة والصلاة.
الثاني: في مسائل الحدود والكفارات.
الثالث: في مسائل متفرقة.
الباب الثالث
في مقيدات المطلق
وفيه تمهيد وفصلان:
التمهيد: يحتوي على النقاط التالية:
দ্বিতীয়: মতভেদের ক্ষেত্র প্রসঙ্গে।
তৃতীয়: শর্ত একাধিক হলে অনির্দিষ্টকে নির্দিষ্টের ওপর প্রয়োগ করার বিধান প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিরোধের স্বরূপ স্পষ্টীকরণ এবং এর কারণসমূহ প্রসঙ্গে:
এবং এর অধীনে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম: পরবর্তী দলিলের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করার বিধান।
দ্বিতীয়: মতভেদের কারণসমূহ প্রসঙ্গে।
এবং এতে দুটি উপ-আলোচনা রয়েছে:
প্রথম: বিপরীত মর্মের প্রামাণিকতার বিষয়ে মতভেদ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়: মূল পাঠের ওপর অতিরিক্ত সংযোজনের বিষয়ে মতভেদ প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অনির্দিষ্টকে নির্দিষ্টের ওপর প্রয়োগের ক্ষেত্রে মতভেদের প্রভাব প্রসঙ্গে:
এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম: পবিত্রতা ও সালাত সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে।
দ্বিতীয়: হুদুদ ও কাফফারা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে।
তৃতীয়: বিবিধ মাসআলাসমূহে।
তৃতীয় অধ্যায়
অনির্দিষ্টকে নির্দিষ্টকারী বিষয়সমূহ প্রসঙ্গে
এবং এতে একটি ভূমিকা ও দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
ভূমিকা: এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
1 - العلاقة بين مخصصات العام ومقيدات المطلق.
2 - معنى التقييد لغة واصطلاحاً.
3 - المقيد باسم الفاعل ما هو؟
4 - الفرق بين التقييد والتخصيص.
5 - الفرق بين التقييد والنسخ.
الفصل الأول: في تقسيم المقيدات، وحكم المتصل منها:
الفصل الثاني: في المقيدات المنفصلة:
وتحته مبحثان:
الأول: في المتفق عليه.
الثاني: في المختلف فيه.
ثم خاتمة البحث، وفيها النتائج التي توصلت إليه من خلال البحث.
১ - 'আম'-এর মুখাসসিস (নির্দিষ্টকারী) এবং 'মুতলাক'-এর মুকাইয়িদ (শর্তযুক্তকারী)-সমূহের মধ্যকার সম্পর্ক।
২ - 'তাকয়ীদ'-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ।
৩ - ইসমুল ফাঈল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) দ্বারা 'মুকাইয়িদ' বলতে কী বোঝায়?
৪ - তাকয়ীদ এবং তাখসীসের মধ্যে পার্থক্য।
৫ - তাকয়ীদ এবং নাসখের মধ্যে পার্থক্য।
প্রথম অধ্যায়: মুকাইয়িদ-সমূহের প্রকারভেদ এবং এগুলোর মধ্য হতে মুত্তাসিল (সংযুক্ত)-এর বিধান প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন) মুকাইয়িদ-সমূহ প্রসঙ্গে।
এর অধীনে রয়েছে দুটি পরিচ্ছেদ:
প্রথমটি: সর্বসম্মত বিষয়াদি প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়টি: মতভেদপূর্ণ বিষয়াদি প্রসঙ্গে।
এরপর গবেষণার উপসংহার, এতে রয়েছে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
التمهيد
وهو في (تقسيم اللفظ المفيد إلى عام وخاص)
ويشتمل على تقديم وأربعة مباحث:
الأول: في تعريف العام وألفاظه.
الثاني: في تعريف الخاص وصيغه.
الثالث: في الفرق بين دلالة العام والخاص.
الرابع: في أنواع الخاص.
উপক্রমণিকা
এবং এটি (অর্থবোধক শব্দের আম ও খাস-এ বিভাজন) বিষয়ক
এটি একটি ভূমিকা এবং চারটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:
প্রথম: আম-এর সংজ্ঞা ও এর শব্দসমূহ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়: খাস-এর সংজ্ঞা ও এর গঠনরীতি প্রসঙ্গে।
তৃতীয়: আম ও খাস-এর নির্দেশনার মধ্যকার পার্থক্য প্রসঙ্গে।
চতুর্থ: খাস-এর প্রকারভেদ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تمهيد: في تقسيم اللفظ المفيد إلى عام وخاص
ألفاظ اللغة العربية ذات دلالات متنوعة1.
--------------------------------------------
ভূমিকা: অর্থবোধক শব্দের সাধারণ এবং বিশেষে বিভাজন প্রসঙ্গে
আরবি ভাষার শব্দসমূহ বিচিত্র অর্থবোধকতার অধিকারী১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فمنها: ما يدل على فرد واحد، أو أفراد كثيرة محصورة بعدد معين فيسمى خاصاً.
ومنها: ما يدل على أفراد كثيرة لا حصر لها من ذات اللفظ، بل كلها تنضوي تحت هذا اللفظ الواحد إذا أطلق فيسمى عاماً.
والقرآن الكريم الذي هو مصدر الأحكام الشرعية نزل باللغة العربية واستعمل ألفاظها بمختلف أنواعها، قال الله تعالى: {إِنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا} 1، وقال تعالى: {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُّبِينٍ} 2، وكذلك كل ما صدر عن الرسول صلى الله عليه وسلم من قول فهو: عربي مبين؛ لأنه أفصح من نطق بالضاد3.
لهذا كله كان بدهياً أن يعني علماء الأصول - وهم المختصون بوضع المناهج والخطط لفهم كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم واستنباط الأحكام منها -.
أقول: لقد كان بدهياً أن يعنوا بدراسة الألفاظ العربية من هذه الناحية، أي: (ناحية الخصوص والعموم) ويضعوا القواعد والضوابط التي
--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে: যা একজন একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট সংখ্যক একাধিক ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে খাস (বিশেষ) বলা হয়।
আবার এর মধ্যে এমন শব্দ রয়েছে যা শব্দের নিজস্ব কাঠামোর দিক থেকে অগণিত ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, বরং শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হলে এর অধীনে থাকা সকল ব্যক্তি বা বস্তু তাতে অন্তর্ভুক্ত হয়, তাকে আম (সাধারণ) বলা হয়।
পবিত্র কুরআন, যা শরীয়তের বিধানাবলির উৎস, তা আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এতে বিভিন্ন প্রকারের আরবি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি।" ১ এবং তিনি আরও বলেন: "তা (কুরআন) নিয়ে বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল) অবতরণ করেছেন আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" ২ একইভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু উক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, তাও সুস্পষ্ট আরবি; কারণ তিনি ছিলেন 'দ্বদ' (আরবি বর্ণ) উচ্চারণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাঞ্জল ভাষী। ৩
এসব কারণেই এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল যে, উসুলবিদগণ—যারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ বোঝার এবং তা থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ—এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করবেন।
আমি বলছি: এই দিকটি থেকে অর্থাৎ (খাস ও আম হওয়ার দিক থেকে) আরবি শব্দাবলি নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করা এবং এ সংক্রান্ত মূলনীতি ও নিয়মাবলী নির্ধারণ করা তাঁদের জন্য একটি স্বাভাবিক বিষয় ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
تحدد المسار الذي يسلكه كل من أراد معرفة الأحكام الشرعية، من الكتاب والسنة، وقد فعلوا ذلك بكل أمانة، وإخلاص، وبمعايير بلغت الغاية في الدقة، وكان من البداهة أن يقع بينهم بعض الاختلاف، في تلك القواعد والضوابط الكلية، ولا سيما ما يتعلق منها بمباحث العموم المتشعبة التي دارت حولها أقوال علماء الأصول، واختلفت نظرتهم فيها من حيث ماهية العموم1، وقوة دلالة العام، ومدى قابليته للتخصيص2 الذي يحد من استغراقه للأفراد الداخلة تحت عمومه من حيث الظاهر حيث أخذت هذه المباحث قسطاً كبيراً من اهتمامات الأصوليين، والسبب في تشعب
--------------------------------------------
যারা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে শরয়ী বিধানাবলি জানতে চান, তাদের জন্য তারা সেই পথ নির্ধারণ করেছেন যা তারা অত্যন্ত বিশ্বস্ততা ও নিষ্ঠার সাথে এবং সূক্ষ্মতার চরম মানদণ্ড বজায় রেখে সম্পন্ন করেছেন। আর এই সামষ্টিক মূলনীতি ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য হওয়া স্বাভাবিকই ছিল, বিশেষ করে 'আম' (সাধারণতা) সংক্রান্ত সেই শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট আলোচনার ক্ষেত্রে, যা নিয়ে উসূলবিদদের নানাবিধ উক্তি আবর্তিত হয়েছে। 'আম'-এর মাহিয়্যাত (সত্তাগত স্বরূপ)১, 'আম'-এর নির্দেশনার শক্তি এবং 'তাখসিস' (বিশেষায়ন)২ হওয়ার যোগ্যতার সীমানা নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ছিল; যা বাহ্যিকভাবে তার সাধারণতার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গকে শামিল করার বিষয়টিকে সীমিত করে দেয়। এই বিষয়গুলো উসূলবিদদের মনোযোগের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল এবং এই শাখা-প্রশাখা হওয়ার কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
مباحث العموم يعود إلى عدة أسباب نجملها فيها يلي:
السبب الأول: اختلاف نظرة العلماء في ماهية العموم.
1 - فمن العلماء من لا يشترط لتحقق هذه الماهية إلا انتظام اللفظ العام جمعاً من المسميات سواء كان الانتظام لهذه المسميات من طريق اللفظ أو المعنى1.
2 - ومنهم من يشترط لتحقق تلك الماهية استغراق اللفظ الموضوع وضعاً واحداً جميع ما يصلح له دفعة واحدة2، بحيث لا يخرج شيء مما يصدق عليه معنى اللفظ، ولهذا السبب اختلفت تعاريف العام عند الأصوليين.
السبب الثاني: منهج القرآن الكريم في تشريعه للأحكام، حيث أتى على نحو كلِّي وعام في الغالب، مما يستدعي البيان والتفصيل.
السبب الثالث: مدى قابلية اللَّفظ العام للتخصيص الذي يحد من تناوله للأفراد ويقصره على بعضها، وإذا كان اللفظ العام يحتمل التخصيص فهل كل دليل أو قرينة صالح؛ لأن يصرف العام عن ظاهره؟
--------------------------------------------
ব্যাপকতা (উমুম) সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়সমূহ বেশ কিছু কারণের দিকে ফিরে যায়, যা আমরা নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি:
প্রথম কারণ: ব্যাপকতার স্বরূপ সম্পর্কে আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য।
১ - আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ এই স্বরূপ অর্জনের জন্য শুধুমাত্র এই শর্তারোপ করেন যে, সাধারণ শব্দটি যেন নামযুক্ত বস্তুর (মুসাম্মায়াত) একটি সমষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করে, চাই এই অন্তর্ভুক্তি শব্দের মাধ্যমে হোক বা অর্থের মাধ্যমে।১
২ - আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই স্বরূপ অর্জনের জন্য শর্তারোপ করেন যে, শব্দটি একটি একক প্রয়োগে তার যোগ্য সকল ব্যক্তিকে একই সাথে পুরোপুরি পরিব্যাপ্ত করবে২, যাতে শব্দের অর্থের অন্তর্ভুক্ত কোনো কিছুই বাইরে না থাকে। এই কারণেই উসুলবিদদের নিকট 'আম' (সাধারণ শব্দ)-এর সংজ্ঞায় ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
দ্বিতীয় কারণ: বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে কুরআনুল কারীমের পদ্ধতি; যেহেতু এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সামগ্রিক ও ব্যাপক আকারে এসেছে, যা ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বিবরণের দাবি রাখে।
তৃতীয় কারণ: ব্যাপক শব্দ সুনির্দিষ্টকরণের (তাখসিস) কতটা যোগ্যতা রাখে যা তার ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্তিকে সীমাবদ্ধ করে এবং একে কিছু ব্যক্তির মধ্যে সীমিত করে ফেলে। আর যদি ব্যাপক শব্দটি সুনির্দিষ্টকরণের সম্ভাবনা রাখে, তবে কি প্রতিটি দলিল বা লক্ষণ সাধারণ শব্দকে তার বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে দেওয়ার উপযুক্ত?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুতলাকু ওয়াল মুকাইয়্যাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بقطع النظر عن قوة الدليل أو القرينة، أو لا بد من أن يكون الدليل المخصص للعام في قوة العام ثبوتاً ودلالة؟ ولا عبرة للاحتمال الذي لم ينشأ عن دليل مساو للعام في ثبوته ودلالته1.
السبب الرابع: هل قبول العام للتخصيص كقبول الخاص للتأويل2 أو هو أكثر منه؟ ولا ريب أن كثرة قابلية اللفظ للحد من تناوله للأفراد والقاصر له على بعضها تورث شبهة في معناه؛ فلا يقوى على معارضة3، ما هو أقل قابلية لها منه.
تلك هي أهم الأسباب التي حملت الأصوليين على الإفاضة في مباحث العموم، ولا يخفى ما لذلك كله من أثر بالغ في تبين مراد الشارع من العموميات والتنسيق بينها وبين ما يعارضها من أدلة خاصة، وما قد
--------------------------------------------
দলীল বা আলামতের (করিনা) শক্তির বিচার না করেই কি এটা হবে, নাকি সাধারণ অর্থবোধক শব্দকে (আম) নির্দিষ্ট করার দলীলটিকে তার সাব্যস্ত হওয়া এবং অর্থ নির্দেশ করার দিক থেকে সেই সাধারণ শব্দের সমপর্যায়ের শক্তিশালী হতে হবে? আর এমন কোনো সম্ভাবনার গুরুত্ব নেই যা সাব্যস্ত হওয়া ও অর্থ নির্দেশ করার ক্ষেত্রে সাধারণ শব্দের সমপর্যায়ের কোনো দলীল থেকে উদ্ভূত হয়নি১।
চতুর্থ কারণ: সাধারণ শব্দের (আম) নির্দিষ্টকরণ (তাখসিস) গ্রহণ করা কি বিশেষ শব্দের (খাস) ব্যাখ্যা (তাবিল) গ্রহণের মতো২, নাকি এটি তার চেয়েও বেশি? এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো শব্দের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের সীমাবদ্ধ করার বা কয়েকজনের মধ্যে তা সীমিত করে দেওয়ার প্রবণতা বেশি হওয়া তার অর্থের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করে; ফলে এটি এমন কোনো দলীলের বিরোধিতায়৩ শক্তিশালী থাকে না যার মাঝে এই প্রবণতা কম।
এগুলোই হলো সেই প্রধান কারণসমূহ যা উসুলবিদগণকে সাধারণ অর্থবোধক শব্দ (আম) সংক্রান্ত আলোচনায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানে উদ্বুদ্ধ করেছে। সাধারণ বক্তব্যসমূহ থেকে শারী'আত প্রবর্তকের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা এবং সেগুলোর সাথে তার বিরোধপূর্ণ বিশেষ দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে এ সবকিছুর সুদূরপ্রসারী প্রভাব কারোর কাছেই অজানা নয়, এবং যা হতে পারে...
--------------------------------------------