(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: -)
كشف الخفاء ط القدسي القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: كشف الخفاء ومزيل الإلباس عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس
المؤلف: إسماعيل بن محمد العجلوني الجراحي (ت 1162هـ)
الناشر: مكتبة القدسي، لصاحبها حسام الدين القدسي - القاهرة
عام النشر: 1351 هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কাশফুল খাফা, আল-কুদসি সংস্করণ বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
গ্রন্থ: কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাস আম্মাশতাহারা মিনাল আহাদিসি আলা আলসিনাতিন নাস
লেখক: ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আল-আজলুনি আল-জাররাহি (মৃত্যু ১১৬২ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল কুদসি, স্বত্বাধিকারী: হুসামুদ্দিন আল-কুদসি - কায়রো
প্রকাশের বছর: ১৩৫১ হিজরি
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ১)
كشف الخفاء ومزيل الإلباسعما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس
للمفسر المحدث الشيخ
إسماعيل بن محمد العجلوني الجراحي
المتوفى سنة 1162 هـ
عن نسخة كتبت برسم فخر الأشراف السيد سعيد بن الحافظ الشيخ أحمد الحلبي العطار، مع المقابلة بنسخة خزانة آل العطار بدمشق ومعارضة الملتبس منهما بنسخة دار الكتب المصرية وغيرها
কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাসমানুষের মুখে মুখে প্রচলিত প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহ হতে
মুফাসসির ও মুহাদ্দিস শায়খ
ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ আল-আজলুনি আল-জাররাহি
মৃত্যু ১১৬২ হিজরি
ফখরুল আশরাফ সাইয়্যেদ সাঈদ বিন হাফেজ শায়খ আহমাদ আল-হালাবি আল-আত্তারের জন্য অনুলিপি করা পাণ্ডুলিপি হতে গৃহীত, যা দামেস্কের আত্তার পরিবারের গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং অস্পষ্ট অংশগুলো মিসরীয় দারুল কুতুব ও অন্যান্য পাণ্ডুলিপির সাহায্যে যাচাই করে সংশোধন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الثالثة
مصححة الاخطاء
1988 م - 1408 هـ
جميع الحقوق محفوظة
তৃতীয় সংস্করণ
ত্রুটি সংশোধনকৃত
১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ - ১৪০৮ হিজরি
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ৩)
يقول الناشر
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله تعالى خالق الأولين والآخرين والصلاة والسلام على رسوله الأعظم سيدنا محمد المرسل رحمة للعالمين وعلى آله وصحبه ورسل الله أجمعين.
أما بعد فإن أقوال النبي صلى الله عليه وسلم في معانيها هي قانون سعادة للعالمين في شؤونهم كلها، وفي ألفاظها هي الأساس الخالد لصرح المعجم العربي.
لذلك ترى العلماء حافين من حولها يجرحون من يطمع أن ينزل سوءا بساحتها وقد حاول أعداء الإسلام وبعض المخذولين من المنتحلين له أن يدسوا أحاديث سقيمة في عسكر (1) الصحاح فانتدب العلماء الباحثون لردها فألفوا في ذلك مصنفات في العلل والموضوعات - هذا الكتاب من أجمعها فقد ضم بين طرفيه زهاء ثلاثة آلاف ومائتي حديث، ميز طيبها من خبيثها بعرضها على ميزان الجرح والتعديل.
وزاد على ذالك بيان مراتب الأحاديث الدائرة على الألسنة، ودل على ما كان منها من قبيل الحكم المأثورة، وسرد ما يقارب معنى بعضها من السنن، وشرح معاني الآثار يبسط قد لا يوجد بعضه مجموعا في غيره.
ورتبه على الحروف ليكون كمعجم يرجع إليه في ذلك.
واعتمد في تصنيفه على أوثق ما كتب في هذا الباب وهو " المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة للحافظ السخاوي (2) واستدرك عليه مما في مؤلفات الثقات كالحافظ ابن حجر والسيوطي والنجم الغزي في
--------------------------------------------
প্রকাশক বলছেন
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের স্রষ্টা। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মহান রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং আল্লাহর সকল রাসূলগণের ওপর।
অতঃপর, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীসমূহ অর্থের দিক থেকে বিশ্ববাসীর যাবতীয় কর্মক্ষেত্রে সৌভাগ্যের মূলনীতি এবং শব্দগত দিক থেকে তা আরবি অভিধানের সুউচ্চ প্রাসাদের এক শাশ্বত ভিত্তি।
এজন্যই আপনি আলেমদেরকে এর চারপাশে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দেখতে পাবেন, যারা এর পবিত্র আঙিনায় অনিষ্ট করার আকাঙ্ক্ষাকারীদের প্রতিহত করেন। ইসলামের শত্রুরা এবং ইসলাম গ্রহণকারী কিছু পথভ্রষ্ট ব্যক্তি সহিহ হাদিসের বাহিনীর (১) মধ্যে ত্রুটিযুক্ত হাদিস অনুপ্রবেশ করানোর অপচেষ্টা করেছিল। তখন গবেষক আলেমগণ সেগুলো প্রত্যাখ্যান করার জন্য সচেষ্ট হন এবং এই বিষয়ে 'ইলল' (সুক্ষ্ম ত্রুটি) ও 'মাউজুআত' (জাল হাদিস) সংক্রান্ত গ্রন্থাদি রচনা করেন—এই কিতাবটি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সংকলন; এটি তার দুই মলাটের মাঝে প্রায় তিন হাজার দুইশ হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেখানে হাদিসগুলোকে 'জারহ ওয়া তাদীল' (সমালোচনা ও যাচাই-বাছাই)-এর মানদণ্ডে উপস্থাপনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ ও অশুদ্ধকে পৃথক করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি এতে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হাদিসগুলোর স্তর বর্ণনা করা হয়েছে, এবং সেগুলোর মধ্যে যেগুলো প্রবাদতুল্য বাণী, সেগুলোর দিকেও নির্দেশ করা হয়েছে। এছাড়া কিছু হাদিসের সমার্থক সুনান বর্ণনা করা হয়েছে এবং আসার (পূর্ববর্তীদের বাণী)-এর অর্থের এমন বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে যা হয়তো অন্য কোথাও এভাবে একত্রে পাওয়া যাবে না।
আর তিনি একে বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন যাতে এটি এ সংক্রান্ত একটি অভিধানের ন্যায় হয়, যেদিকে প্রত্যাবর্তন করা যায়।
এটি সংকলনের ক্ষেত্রে তিনি এই বিষয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন, যা হলো হাফেজ সাখাভী (২) রচিত "আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ ফি বায়ানি কাথিরিন মিনাল আহাদিসিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ" এবং এতে তিনি হাফেজ ইবনে হাজার, সুয়ূতী ও নাজম আল-গাজ্জী-এর মতো নির্ভরযোগ্য ইমামদের গ্রন্থসমূহ থেকে অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ৪)
كتابه " إتقان ما يحسن من بيان الأخبار الدائرة على الألسن "، ومما كتبه الحافظ ابن الجوزي والصغاني في الموضوعات، وملا علي القاري في كتابه " الأسرار المرفوعة في الأخبار الموضوعة " وهما كبير وصغير، وقد نقل منهما، وغير ذلك من الأمهات.
وينقل بالواسطة من كتب لا يمكن حصرها، من أعظمها كتاب " العلل " للدارقطني الذي يقول الحافظ الذهبي أنه لم يؤلف مثله في الإسلام.
ووضع للكتاب خاتمة أبطل فيها نسبة بعض مصنفات اشتهرت بنسبتها لأناس كذبا، وبين افتئات بعضهم على التاريخ بقولهم إن قبر نوح عليه السلام في البقاع من أراضي الشام، ومدفن أبي بن كعب في دمشق، وإن مقبر الإمام الحسين في القاهرة، وزيف دعوى القائلين بتعيين قبر السيدة نفيسة في القاهرة، ونقض مزاعم القائلين باجتماع الإمامين الشافعي وأحمد بشيبان الراعي وسؤاله عن سجود السهو، إلى غير ذلك مما يتصل بالتاريخ والحديث، وانتهى إلى ذكر ضوابط جامعة في الموضوعات.
فحاجة الباحث والطالب إليه ليست دون اضطرار الواعظ والخطيب لتوقي الموضوعات - التي حشيت في بعض كتب الوعظ - وتعرف درجات الأحاديث التي يذكرون بها.
وأول نسخة عثرت عليها من هذا الكتاب هو الأصل الذي قدمته للمطبعة، وكنت ابتعته من أحد علماء دمشق - وكان به ضنينا - ثم اطلعت على نسخة منه في خزانة آل العطار بدمشق الشام، والثالثة هي نسخة دار الكتب المصرية.
ومع أن الأصل الذي دفعته للمطبعة هو أصح هذه النسخ فقد احتجت - والكتاب في الحديث النبوي - إلى الرجوع إلى نسخة الدار كثيرا، ثم اضطررت إلى طلب نسخة آل العطار فتفضل بإرسالها الأستاذ الجليل الشيخ عبد الحميد العطار جزاه الله خيرا فوصلت إلي بعد أن بلغ الطبع الى (حرف الحاء المهملة في الصفحة 338) فقابلت بهاما بعد ذلك وأشرت هنا إلى التصحيحات والاختلافات الواقعة قبل ذلك: وفي العزم أن نلحق بآخر الكتاب فهرسا لأكثر أحاديثه مرتبة على أبواب كتب السنن، والله سبحانه الموفق.
তাঁর রচিত কিতাব "ইতকান মা ইয়াহসুনু মিন বায়ানিল আখবারিল দাইরাতি আলাল আলসুন", এবং হাফেজ ইবনুল জাওজি ও সাগানি কর্তৃক জাল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ, এবং মোল্লা আলী কারী রচিত "আল-আসরারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মাওজুআ" যা বৃহৎ ও ক্ষুদ্র দুই আকারেই রয়েছে, এবং তিনি এই উভয়টিসহ অন্যান্য মৌলিক উৎস থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।
তিনি অসংখ্য কিতাব থেকে মাধ্যম ব্যবহার করে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো দারা কুতনীর "আল-ইলাল" কিতাবটি, যে সম্পর্কে হাফেজ জাহাবী বলেছেন যে, ইসলামে এর সমতুল্য কোনো কিতাব রচিত হয়নি।
তিনি কিতাবটির জন্য একটি উপসংহার তৈরি করেছেন যাতে তিনি এমন কিছু প্রসিদ্ধ কিতাবের অসারতা প্রমাণ করেছেন যেগুলো মিথ্যাভাবে কিছু মানুষের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি ইতিহাসের ওপর কিছু মানুষের অপবাদের বিষয়ও স্পষ্ট করেছেন, যেমন—নূহ আলাইহিস সালামের কবর সিরিয়ার বিকা অঞ্চলে, উবাই ইবনে কাবের কবর দামেস্কে, এবং ইমাম হুসাইনের কবর কায়রোতে থাকা সংক্রান্ত দাবিগুলো। তিনি কায়রোতে সায়্যিদা নাফিসার কবরের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্ধারণের দাবির অসারতা তুলে ধরেন। এছাড়াও তিনি ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদ কর্তৃক শায়বান আর-রায়ীর সাথে সাক্ষাৎ এবং তাকে ‘সাহু সিজদাহ’ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিষয়ক দাবিগুলো খণ্ডন করেছেন। এর পাশাপাশি ইতিহাস ও হাদিস সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াবলী এবং জাল হাদিস সংক্রান্ত কিছু ব্যাপক মূলনীতি উল্লেখ করার মাধ্যমে তিনি এটি শেষ করেছেন।
গবেষক ও শিক্ষার্থীর জন্য এই কিতাবটির প্রয়োজনীয়তা কোনো অংশে ওয়ায়েজ এবং খতিবদের চেয়ে কম নয়—যাতে তারা সেই সব জাল বর্ণনা থেকে বেঁচে থাকতে পারেন যা কিছু ওয়াযের কিতাবে পূর্ণ হয়ে আছে এবং তারা যেসব হাদিস বর্ণনা করেন সেগুলোর স্তর সম্পর্কে জানতে পারেন।
এই কিতাবটির যে পাণ্ডুলিপি আমি প্রথম পেয়েছিলাম সেটিই মূল পাণ্ডুলিপি হিসেবে প্রেসে জমা দিয়েছি। আমি এটি দামেস্কের একজন আলেম থেকে কিনেছিলাম—যিনি এটি দিতে অত্যন্ত কুণ্ঠিত ছিলেন। এরপর আমি দামেস্কের আল-আত্তার পরিবারের গ্রন্থাগারে এর একটি অনুলিপি দেখি, আর তৃতীয়টি হলো মিশরের জাতীয় গ্রন্থাগারের অনুলিপি।
যদিও প্রেসে দেওয়া মূল কপিটি ছিল এসব অনুলিপির মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ, তবুও কিতাবটি যেহেতু নবীজির হাদিস বিষয়ক, তাই আমাকে মিশরের জাতীয় গ্রন্থাগারের অনুলিপির দিকে বারবার ফিরে যেতে হয়েছে। এরপর আমি আল-আত্তার পরিবারের অনুলিপিটির প্রয়োজন অনুভব করি এবং সম্মানিত শিক্ষক শায়খ আব্দুল হামিদ আল-আত্তার—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন—তা পাঠিয়ে দিয়ে অনুগ্রহ করেন। এটি আমার কাছে তখন পৌঁছায় যখন মুদ্রণ ৩৩৮ পৃষ্ঠার ‘হা’ অক্ষর পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর আমি এটি দিয়ে পরবর্তী অংশগুলো মিলিয়ে দেখি এবং পূর্ববর্তী সংশোধন ও পাঠভেদগুলো এখানে উল্লেখ করে দিয়েছি। আমাদের ইচ্ছা আছে কিতাবের শেষে এর অধিকাংশ হাদিসগুলোকে সুনান গ্রন্থগুলোর অধ্যায় অনুযায়ী সাজিয়ে একটি সূচি যুক্ত করার। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়লাই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ১)
الجزء الاول
كشف الخفاء ومزيل الإلباس عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس
للمفسر المحدث الشيخ
إسماعيل بن محمد العجلونى الجراحى المتوفى سنة 1162 هـ
عن نسخة كتبت برسم فخر الأشراف السيد سعيد بن الحافظ الشيخ أحمد الحلبي العطار، مع معارضة المشكل منها بنسخة دار الكتب المصرية العامرة
প্রথম খণ্ড
মানুষের মুখে প্রচলিত হাদিসসমূহের অস্পষ্টতা উম্মোচন এবং সংশয় নিরসনকারী
মুফাসসির ও মুহাদ্দিস শায়খ
ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ আল-আজলুনি আল-জাররাহি, মৃত্যু ১১৬২ হিজরি
ফখরুল আশরাফ সাইয়্যেদ সাঈদ বিন হাফেজ শায়খ আহমদ আল-হালাবি আল-আত্তারের নামে লিখিত পাণ্ডুলিপি অবলম্বনে, যার পাঠগত জটিলতাসমূহ মিশরের সমৃদ্ধ ‘দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ’-এর মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ২)
حياة المصنفمختصرة من سلك الدرر للمرادي
هو إسماعيل بن محمد بن عبد الهادي بن عبد الغني الشهير بالجراحي (نسبة إلى أبي عبيدة بن الجراح أحد الصحابة العشرة المبشرين بالجنة رضي الله عنهم الشافعي العجلوني المولد، الدمشقي المنشأ والوفاة، الشيخ العالم الهمام الحجة الرحلة العمدة الورع العلامة، كان عالما بارعا صالحا مفيدا محدثا مبجلا قدوة سندا خاشعا، له يد في العلوم لاسيما الحديث والعربية وغير ذلك مما يطول شرحه ولا يسع في هذه الطروس وصفه، له القدم الراسخة (1) في العلوم واليد الطولى في دقائق المنطوق والمفهوم كما قيل:
حدث عن البحر لا عتب ولا حرج
… وما تشاء من الإجلال قل وقل
ولد بعجلون في سنة سبع وثمانين بعد الألف تقريبا، وسماه والده أولا باسم محمد مدة من الزمان لا تزيد على سنة، ثم غير اسمه إلى مصطفى نحو ستة أشهر ثم غير اسمه بإسماعيل واستقر الأمر بهذا الاسم.
ثم لما بلغ سن التمييز شرع في قراءة القرآن العظيم حتى حفظه عن ظهر قلبه في مدة يسيرة، ثم قدم إلى دمشق وعمره نحو ثلاث عشرة سنة تقريبا لطلب العلم وذلك في منتصف شوال سنة ألف ومائة، واشتغل على جماعة أجلاء بالفقه والحديث والتفسير والعربية وغير ذلك إلى أن تميز عن أقرانه بالطلب، ومن أسباب توجهه لطلب العلم أنه أما كان في بلاده وكان صغيرا يقرأ في المكتب رأى في عالم الرؤيا أن رجلا ألبسه جوخة خضراء مركبة على فرو أبيض في غاية الجودة والبياض، وقد غمرته لكونها سابغة على يديه ورجليه.
فأخبر والده بالمنام فحصل له بذلك السرور التام وقال له إن شاء الله يجعل لك يا ولدي من العلم الحظ الوافر ودعا له بذلك.
--------------------------------------------
গ্রন্থকারের জীবনীমুরাদী রচিত 'সিলকুদ দুরার' থেকে সংক্ষেপিত
তিনি হলেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হাদি ইবনে আব্দুল গনি, যিনি আল-জাররাহি নামে প্রসিদ্ধ (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর অন্যতম আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর দিকে সম্বন্ধ করে), শাফেঈ মাজহাবের অনুসারী, আজলুন-এ তার জন্ম এবং দামেস্কে তার বেড়ে ওঠা ও মৃত্যু। তিনি ছিলেন একজন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন শায়খ, প্রাজ্ঞ আলেম, হুজ্জাহ (প্রমাণ), অদ্বিতীয় পর্যটক, নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ, মুত্তাকী এবং বিজ্ঞ আল্লামা। তিনি একজন দক্ষ আলেম, নেককার, কল্যাণকামী, সম্মানিত মুহাদ্দিস, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, নির্ভরযোগ্য সনদ এবং বিনয়ী মানুষ ছিলেন। বিভিন্ন শাস্ত্রে তার বিশেষ হাত ছিল, বিশেষত হাদিস ও আরবি ভাষায় এবং অন্যান্য শাস্ত্রেও, যার বিস্তারিত বর্ণনা দীর্ঘ হবে এবং এই সীমিত পৃষ্ঠায় তার বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়। বিভিন্ন শাস্ত্রে তার সুদৃঢ় পা (১) এবং শব্দের বাহ্যিক ও অন্তর্নিহিত অর্থের সূক্ষ্ম বিষয়ে তার সুদীর্ঘ হাত ছিল, যেমনটি বলা হয়েছে:
সেই সাগরসম ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করো, তাতে কোনো নিন্দা বা সংকীর্ণতা নেই … আর তুমি শ্রদ্ধার সাথে যা ইচ্ছে বলো এবং বলতেই থাকো।
তিনি আনুমানিক ১০৮৭ হিজরি সনে আজলুন-এ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রথমে তাকে 'মুহাম্মদ' নামে নামিত করেন যা এক বছরের বেশি ছিল না, এরপর প্রায় ছয় মাস তার নাম পরিবর্তন করে 'মুস্তফা' রাখা হয়, এরপর তার নাম ইসমাইল রাখা হয় এবং এই নামেই তিনি স্থায়ী হন।
অতঃপর যখন তিনি বিচক্ষণতার বয়সে (তাময়িজ) পৌঁছালেন, তখন মহাগ্রন্থ আল-কুরআন পাঠ শুরু করেন এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই তা মুখস্থ সম্পন্ন করেন। এরপর জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে প্রায় তেরো বছর বয়সে এগারো শত হিজরির শাওয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি দামেস্কে আগমন করেন। তিনি একদল শ্রেষ্ঠ আলেমের নিকট ফিকহ, হাদিস, তাফসির, আরবি সাহিত্য এবং অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন, এমনকি জ্ঞানার্জনে তিনি তার সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান। তার জ্ঞান অন্বেষণের প্রতি মনোযোগী হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এই যে, যখন তিনি ছোট ছিলেন এবং নিজ এলাকায় মকতবে পড়তেন, তখন তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, একজন ব্যক্তি তাকে একটি সবুজ জুব্বা পরিধান করিয়ে দিচ্ছেন যা অত্যন্ত উন্নতমানের ও ধবধবে সাদা পশমের উপর তৈরি। সেটি তাকে পুরোপুরি আবৃত করে ফেলেছিল কারণ তা তার দুই হাত ও দুই পা পর্যন্ত প্রসারিত ছিল।
তিনি তার পিতাকে স্বপ্নের কথা জানালে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং তাকে বলেন, "ইনশাআল্লাহ হে আমার বৎস! আল্লাহ তোমাকে ইলমের এক বিশাল অংশ দান করবেন" এবং তিনি তার জন্য এই দোয়া করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ৩)
قلت ومشايخه كثيرون والكتب التي قرأها لا تعد لكثرتها ما بين كلام وتفسير وحديث وفقه وأصول وقراآت وفرائض وحساب وعربية بأنواعها ومنطق وغير ذلك، وقد ألف ثبتا سماه حلية أهل الفضل والكمال باتصال الأسانيد بكمل الرجال وترجم مشايخه به، فمن مشايخه الشيخ أبو المواهب مفتي الحنابلة بدمشق، والشيخ محمد الكاملي الدمشقي، والشيخ إلياس الكردي نزيل دمشق، والأستاذ الشيخ عبد الغني النابلسي الدمشقي، والشيخ يونس المصري نزيل دمشق، والشيخ عبد الرحمن المجلد الدمشقي، والشيخ عبد الرحيم الكابلي الهندي نزيل دمشق والشيخ أحمد الغزي الدمشقي ومفتيها الشيخ إسماعيل الحائك، والشيخ نور الدين الدسوقي الدمشقي والشيخ عثمان القطان الدمشقي، والشيخ عثمان الشمعة الدمشقي، والشيخ عبد القادر التغلبي الحنبلي، والشيخ عبد الجليل أبو المواهب المذكور، والشيخ عبد الله العجلوني نزيل دمشق، ومن غير الدمشقيين الشيخ محمد الخليلي المقدسي، والشيخ محمد شمس الدين الحنفي الرملي، وأجازه الشيخ عبد الله بن سالم المكي البصري، والشيخ تاج الدين القلعي مفتي مكة، والشيخ محمد الشهير بعقيلة المكي، والشيخ محمد الوليدي، والشيخ محمد الضرير الإسكندراني المكي، والشيخ يونس الدمرداشي المصري ثم المكي، والشيخ أبو طاهر الكوراني المدني، والشيخ أبو الحسن السندي ثم المدني، والشيخ محمد ابن عبد الرسول البرزنجي الحسيني المدني، والشيخ أحمد النجلي المكي، والشيخ سليمان بن أحمد الرومي واعظ أيا صوفية.
وارتحل إلى الروم في سنة تسع عشرة ومائة وألف فلما كان بها أنحل تدريس قبة النسر بالجامع الأموي عن شيخه الشيخ يونس المصري بموته فأخذه صاحب الترجمة وجاء به إلى دمشق، وكان والي دمشق إذ ذاك الوزير يوسف باشا القبطان عارضا به إلى شيخه الشيخ محمد الكاملي وألزم القاضي بعرض على موجب عرضه وأنه يعطي ما صرفه شيخه الشيخ أحمد الغزي مفتي الشافعية بدمشق للقاضي وكان مراد الغزي أولي التدريس فحين وصول العروض إلى دار الخلافة قسطنطينية للدولة
আমি বলি, তাঁর শায়খগণ অসংখ্য এবং তিনি যে সকল গ্রন্থ পাঠ করেছেন তা তাঁর প্রাচুর্যের কারণে গণনা করা সম্ভব নয়, যার মধ্যে ইলমে কালাম, তাফসির, হাদিস, ফিকহ, উসুল, কিরাত, ফারায়িজ (উত্তরাধিকার আইন), গণিত, বিভিন্ন প্রকারের আরবি ভাষা ও সাহিত্য, যুক্তিবিদ্যা এবং আরও অন্যান্য বিষয় রয়েছে। তিনি একটি ‘সাবাত’ (সনদ সংকলন) রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘হিলয়াতু আহলিল ফাদলি ওয়াল কামাল বি-ইত্তিসালিল আসানিদি বি-কামালির রিজাল’ এবং এতে তিনি তাঁর শায়খগণের জীবনী বর্ণনা করেছেন। তাঁর শায়খগণের মধ্যে রয়েছেন দামেস্কের হাম্বলি মুফতি শেখ আবু আল-মাওয়াহিব, শেখ মুহাম্মদ আল-কামিলি আদ-দিমাশকি, দামেস্কে বসবাসকারী শেখ ইলিয়াস আল-কুর্দি, ওস্তাদ শেখ আব্দুল গনি আন-নাবলুসি আদ-দিমাশকি, দামেস্কে বসবাসকারী শেখ ইউনুস আল-মিসরি, শেখ আব্দুর রহমান আল-মুজাল্লিদ আদ-দিমাশকি, দামেস্কে বসবাসকারী শেখ আব্দুর রহিম আল-কাবুলি আল-হিন্দি, শেখ আহমদ আল-গাজ্জি আদ-দিমাশকি এবং দামেস্কের মুফতি শেখ ইসমাইল আল-হাইক, শেখ নূরুদ্দিন আদ-দাসুকি আদ-দিমাশকি, শেখ উসমান আল-কাত্তান আদ-দিমাশকি, শেখ উসমান আশ-শামআ আদ-দিমাশকি, শেখ আব্দুল কাদির আত-তাগলাবি আল-হাম্বলি, উল্লিখিত শেখ আব্দুল জলিল আবু আল-মাওয়াহিব এবং দামেস্কে বসবাসকারী শেখ আব্দুল্লাহ আল-আজলুনি। আর দামেস্কের বাইরের শায়খদের মধ্যে রয়েছেন শেখ মুহাম্মদ আল-খালিলা আল-মাকদিসি, শেখ মুহাম্মদ শামসুদ্দিন আল-হানাফি আর-রামলি এবং তাঁকে ইজাজত প্রদান করেছেন শেখ আব্দুল্লাহ বিন সালেম আল-মাক্কি আল-বাসরি, মক্কার মুফতি শেখ তাজউদ্দিন আল-কালা’ই, শেখ মুহাম্মদ যিনি মক্কায় ‘আক্বিলা’ নামে পরিচিত, শেখ মুহাম্মদ আল-ওয়ালিদি, শেখ মুহাম্মদ আদ-দারির আল-ইস্কান্দারানি আল-মাক্কি, শেখ ইউনুস আদ-দামুরদাশি আল-মিসরি অতঃপর আল-মাক্কি, শেখ আবু তাহির আল-কুরানি আল-মাদানি, শেখ আবু আল-হাসান আস-সিন্ধি অতঃপর আল-মাদানি, শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল রাসুল আল-বারজানজি আল-হুসাইনি আল-মাদানি, শেখ আহমদ আন-নাজলি আল-মাক্কি এবং আয়া সোফিয়ার ওয়ায়েজ শেখ সুলাইমান বিন আহমদ আর-রুমি।
তিনি এক হাজার একশ উনিশ হিজরি সনে রোম (তুরস্ক) সফর করেন। যখন তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন, তখন উমাইয়া জামে মসজিদের ‘কুব্বাতুন নাসর’-এর শিক্ষকতার পদটি তাঁর শায়খ শেখ ইউনুস আল-মিসরির ইন্তেকালের দরুন শূন্য হয়। তখন এই জীবনীকার (আলোচ্য ব্যক্তি) সেটি লাভ করেন এবং তা নিয়ে দামেস্কে আসেন। তৎকালীন দামেস্কের ওয়ালি (গভর্নর) উজির ইউসুফ পাশা আল-কুবতান তাঁর শায়খ শেখ মুহাম্মদ আল-কামিলির অনুকূলে সুপারিশ করেছিলেন এবং কাজিকে বাধ্য করেছিলেন যেন তিনি তাঁর সুপারিশ অনুযায়ী প্রতিবেদন পেশ করেন। আর দামেস্কের শাফেয়ি মুফতি শেখ আহমদ আল-গাজ্জি কাজিকে যা প্রদান করেছিলেন তা যেন তাঁকে দিয়ে দেওয়া হয়; মূলত আল-গাজ্জির উদ্দেশ্য ছিল সেই শিক্ষকতার পদটি লাভ করা। অতঃপর যখন সেই সুপারিশসমূহ রাষ্ট্রের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলে পৌঁছাল...
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ৪)
العلية ما وجهوا التدريس لشيخه الكاملي ووجهوه للمترجم واستقام بهذا التدريس إلى أن مات ومدة إقامته من ابتداء سنة عشرين إلى أن مات إحدى وأربعون سنة وهو على طريقة واحدة مبجلا بين العال والدون ودرس بالجامع الأموي وفي مسجد بني السفرجلاني ولزمه جماعة كثيرون لا يحصون عددا.
وألف المؤلفات الباهرة المفيدة منها كشف الخفا ومزيل الإلباس عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس، ومنها الفوائد الدراري بترجمة الإمام البخاري، ومنها إضاءة البدرين في ترجمة الشيخين، ومنها تحفة أهل الإيمان فيما يتعلق برجب وشعبان ورمضان، ومنها نصيحة الإخوان فيما يتعلق برجب وشعبان ورمضان، ومنها عرف الزرنب (1) بترجمة سيدي مدرك والسيدة زينب، ومنها الفوائد المحررة (2) بشرح مصوغات الابتداء بالنكرة، ومنها الأجوبة المحققة عن الأسئلة المفرقة، ومنها الكواكب المنيرة المجتمعة في تراجم الأئمة المجتهدين الأربعة ولكل واحد منها اسم خاص يعلم من الوقوف عليها، ومنها أربعون حديثا كل حديث من كتاب، ومنها عقد الجوهر الثمين بشرح الحديث المسلسل بالدمشقيين.
وهذه الكتب كاملة وأقلها نحو الكراستين وأكثرها نحو العشرين، ومنها التي لم تكمل وهي كثيرة أيضا منها أسنى الوسائل بشرح الشمائل، ومنها استرشاد المسترشدين لفهم الفتح المبين على شرح الأربعين النووية لابن حجر المكي، ومنها عقد اللآلي بشرح منفرجة الغزالي، ومنها إسعاف الطالبين بتفسير كتاب الله المبين، ومنها فتح المولى الجليل على أنوار التنزيل وأسرار التأويل للبيضاوي، ومنها وهو أجلها شرحه على البخاري المسمى بالفيض الجاري بشرح صحيح البخاري وقد كتب من مسوداته مائتين واثنين وتسعين كراسة وصل فيها إلى قول البخاري باب مرجع النبي صلى الله عليه وسلم من الأحزاب ومخرجه إلى بني قريظة ومحاصرته إياهم من المغازي ولو كمل هذا الشرح لكان من نتائج الدهر.
--------------------------------------------
কর্তৃপক্ষ তার শায়খ আল-কামিলীর পরিবর্তে তাকেই শিক্ষকতার দায়িত্ব প্রদান করেন। তিনি আমৃত্যু এই শিক্ষকতা পেশায় অটল থাকেন। হিজরি ১১২০ সালের শুরু থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার অবস্থানের মেয়াদ ছিল একচল্লিশ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি একই আদর্শে অটল থেকে উচ্চ-নীচ নির্বিশেষে সকলের নিকট সম্মানিত ছিলেন। তিনি উমাইয়া জামে মসজিদে এবং বনু সাফারজালানি মসজিদে দরস প্রদান করতেন। অসংখ্য মানুষ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করেছিল, যাদের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয়।
তিনি অত্যন্ত চমৎকার এবং উপকারী বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে: ‘কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাস আম্মাশতাহারা মিনাল আহাদিসি আলা আলসিনাতিন নাস’ (মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হাদিসসমূহের রহস্য উন্মোচন ও অস্পষ্টতা দূরীকরণ), ‘আল-ফাওয়ায়িদুল দারারি বি-তারজামাতিল ইমামিল বুখারি’ (ইমাম বুখারির জীবনী বর্ণনায় উজ্জ্বল সুবিধাসমূহ), ‘ইদাআতুল বাদরাইন ফি তারজামাতিল শাইখাইন’ (শায়খদ্বয়ের জীবনীতে পূর্ণিমার চাঁদের আলোকচ্ছটা), ‘তুহফাতু আহলিল ইমান ফিমা ইয়াতাআল্লাকু বি-রাজাবা ওয়া শা’বানা ওয়া রামাদান’ (রজব, শাবান ও রমজান মাস সংক্রান্ত ঈমানদারদের জন্য উপহার), ‘নাসিহাতুল ইখওয়ান ফিমা ইয়াতাআল্লাকু বি-রাজাবা ওয়া শা’বানা ওয়া রামাদান’ (রজব, শাবান ও রমজান মাস সংক্রান্ত ভাইদের প্রতি নসিহত), ‘আরফুয যারনাব (১) বি-তারজামতি সিদি মুদরিক ওয়াস সাইয়্যিদা যাইনাব’ (সায়্যিদি মুদরিক ও সায়্যিদা যয়নবের জীবনী বর্ণনায় সুগন্ধিময় বৃক্ষ), ‘আল-ফাওয়ায়িদুল মুহাররারা (২) বিশারহি মাসুগাতিল ইবতিদায়ি বিন নাকেরা’ (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য দ্বারা বাক্য শুরু করার অনুমোদিত কারণসমূহের ব্যাখ্যায় সুসংবদ্ধ ফায়দাহসমূহ), ‘আল-আজিওয়াবাতুল মুহাক্কাকাহ আনিল আসইলাتিল মুফাররাকাহ’ (বিক্ষিপ্ত প্রশ্নসমূহের সুনিশ্চিত উত্তর), ‘আল-কাওয়াকিবুল মুনিরাতুল মুজতামিআতু ফি তারাঝিমিল আইম্মাতিল মুজতাহিদিল আরবাআ’ (চার মুজতাহিদ ইমামের জীবনী সম্বলিত প্রদীপ্ত নক্ষত্রপুঞ্জ), এবং এগুলোর প্রত্যেকটির পৃথক নাম রয়েছে যা সেগুলো পাঠ করলে জানা যায়। এছাড়াও রয়েছে—চল্লিশটি কিতাব থেকে চয়নকৃত চল্লিশটি হাদিস, এবং ‘ইকদুল জাওহারিস সামিন বিশারহিল হাদিসিল মুসালসাল বিদ্-দিমাশকিয়্যিন’ (দামেস্কীয়দের সূত্রে বর্ণিত মুসালসাল হাদিসের ব্যাখ্যায় মহামূল্যবান রত্নহার)।
এই কিতাবগুলো পূর্ণাঙ্গ; যেগুলোর মধ্যে ক্ষুদ্রতমটি প্রায় দুই খাতা এবং বৃহত্তমটি প্রায় বিশ খাতার মতো। এছাড়াও তার অনেক অসম্পূর্ণ কিতাব রয়েছে, সেগুলোও সংখ্যায় অনেক। তার মধ্যে রয়েছে: ‘আসনীল ওয়াসায়িল বিশারহিশ শামায়িল’ (শামায়িলের ব্যাখ্যায় সর্বোত্তম মাধ্যম), ‘ইস্তরশাদুল মুস্তারশিদিন লি-ফাহমিল ফাতহিল মুবিন আলা শারহিল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লি-ইবনি হাজারিল মাক্কি’ (ইবনে হাজার মাক্কি কর্তৃক আরবাঈন নববীর ব্যাখ্যা ‘ফাতহুল মুবিন’ বোঝার জন্য সত্যান্বেষীদের দিশারি), ‘ইকদুল লাআলি বিশারহি মুনফারিজাতিল গাযযালি’ (গাযযালির মুনফারিজাহ-র ব্যাখ্যায় মুক্তোর হার), ‘ইসআফুত তালিবিন বি-তাফসিরি কিতাবিল্লাহিল মুবিন’ (আল্লাহর সুস্পষ্ট কিতাবের তাফসিরে তালিবে ইলমদের সহায়তা), ‘ফাতহুল মাওলাল জালিল আলা আনওয়ারিত তানজিল ওয়া আসরারিত তাউয়িল লিল-বায়দাবি’ (বায়দাবির আনওয়ারুত তানযিল ও আসরারুত তাউয়িলের ব্যাখ্যায় সুমহান প্রভুর বিজয় দান)। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কাজ হলো সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নাম ‘আল-ফায়দুল জারি বিশারহি সহিহিল বুখারি’। তিনি এর পাণ্ডুলিপির দুইশত বিরানব্বইটি খাতা লিখেছিলেন, যাতে তিনি বুখারির ‘মাগাজি’ (যুদ্ধাভিযান) পর্বের ‘আহযাব যুদ্ধ থেকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যাবর্তন, বনু কুরাইজার দিকে যাত্রা এবং তাদের অবরুদ্ধকরণ’ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। যদি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পূর্ণাঙ্গ হতো, তবে এটি সমকালের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনে পরিণত হতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ৫)
وكان صاحب الترجمة حليما سليم الصدر سالما من الغش والمقت، صابرا على الفاقة والفقر، ملازما للعبادات والتهجد، والاشتغال بالدروس العامة والخاصة كافا لسانه عما لا يعنيه مع وجاهة نيرة، ولم يزل مستقيما على حالته الحسنة المرغوبة إلى أن مات.
قرأ عليه الوالد مدة ولازمه وأخذ عنه وأجازه، ولما حج الوالد في سنة سبع وخمسين ومائة وألف كان هو أيضا حاجا في تلك السنة فأقرأ كتاب صحيح البخاري في الروضة المطهرة وأعاد له الدرس الوالد وقد أجاز الوالد نثرا ونظما فالنظم قوله:
أجزت نجل العارف المرادي
… أعني عليا فاز بالمراد
وهو الشريف اللوذعي الكامل
… الأريب والمفضال ذو الأيادي
أجزته بكل ما أخذته
… عن الشيوخ الفضلا الأطواد
أجزته بكل ما صنفته
… كالفيض والكشف مع الإرشاد
أجزته بكل ما في ثبتنا
… الجامع النوعين بالسداد
أجزته إجازة بشرطها
… عند أولي التحديث والنقاد
أجزته في الروضة الفيحاء
… بطيبة المختار طه الهادي
صلى عليه ربنا وسلما
… وآله وصحبه الأمجاد
ما غردت قمرية فأطربت
… وأمطرت سحب وسال واد
وكان ينظم الشعر، وشعره شعر علماء لأنهم لا يشغلون أنفسهم به كما قال ابن بسام: إن شعر العلماء ليس فيه بارقة تسام وجعل الشهاب أن أحسن بعض أشعارهم من قبيل دعوة البخيل أو حملة الجبان وقال الأمين في نفحته: قلت علة ذلك أنهم يشغلون أفكارهم بمعنى يعنى، والشعر وإن سموه ترويح الخاطر لكنه مما لا يثمر فائدة ولا يغني (1) وشتان بين من تعاطاه في الشهر مرة وبين من أنفق في تعاطيه عمره انتهى.
--------------------------------------------
জীবনীতে বর্ণিত এই ব্যক্তি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল, পরিচ্ছন্ন হৃদয়ের অধিকারী এবং প্রতারণা ও ঘৃণা থেকে মুক্ত। তিনি অভাব ও দারিদ্র্যে ধৈর্য ধারণ করতেন; ইবাদত, তাহাজ্জুদ এবং সাধারণ ও বিশেষ পাঠদানে নিরন্তর মগ্ন থাকতেন। উচ্চ মর্যাদা ও উজ্জ্বল সম্মানের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি অনর্থক বিষয় থেকে নিজ জিহ্বাকে সংযত রাখতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তাঁর এই কাঙ্ক্ষিত ও উত্তম আদর্শে অবিচল ছিলেন।
আমার পিতা দীর্ঘকাল তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন, তাঁর সান্নিধ্যে থেকেছেন, তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং তিনি আমার পিতাকে অনুমতি (ইজাজাহ) প্রদান করেছেন। যখন আমার পিতা ১১৫৭ হিজরি সনে হজ পালন করেন, তখন তিনিও সেই বছর হজে ছিলেন। তিনি পবিত্র রওজা মুবারকে সহীহ আল-বুখারীর পাঠ দান করেন এবং আমার পিতা তাঁর নিকট সেই পাঠের পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি আমার পিতাকে গদ্য ও পদ্য উভয় রীতিতে ইজাজাহ প্রদান করেছিলেন; তাঁর কাব্যিক পংক্তিগুলো হলো:
আমি আরিফ আল-মুরাদীয়ের সুযোগ্য পুত্রকে অনুমতি প্রদান করলাম
… অর্থাৎ আলীকে, যিনি তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে সফল হয়েছেন।
তিনি একজন উচ্চবংশীয়, প্রখর মেধাবী ও পূর্ণাঙ্গ গুণের অধিকারী
… অত্যন্ত বিচক্ষণ, শ্রেষ্ঠত্বপূর্ণ এবং দানশীল।
আমি তাঁকে সেই সমস্ত বিষয়ের অনুমতি দিলাম যা আমি গ্রহণ করেছি
… পর্বততুল্য সুমহান ও শ্রেষ্ঠ শাইখগণের নিকট থেকে।
আমি তাঁকে আমার রচিত সকল কিতাবের অনুমতি দিলাম
… যেমন আল-ফায়জ ও আল-কাশফ এবং সেইসাথে আল-ইরশাদ।
আমি তাঁকে আমাদের সনদ-সংকলনে থাকা সবকিছুর অনুমতি দিলাম
… যা সঠিকতার সাথে বর্ণনামূলক ও তাত্ত্বিক উভয় প্রকারকে একত্রিত করেছে।
আমি তাঁকে সেই শর্তানুসারে অনুমতি প্রদান করলাম
… যা হাদিস বিশারদ ও সমালোচকদের নিকট স্বীকৃত।
আমি তাঁকে এই প্রশস্ত ও সুগন্ধিময় উদ্যানে অনুমতি প্রদান করলাম
… যা মনোনীত পথপ্রদর্শক ত্বহা (সা.)-এর পবিত্র নগরী তায়বায় অবস্থিত।
আমাদের প্রতিপালক তাঁর ওপর এবং তাঁর মহান পরিবার
… ও সঙ্গীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
যতক্ষণ ঘুঘু পাখি কূজন করে আনন্দ দেবে
… আর মেঘমালা বৃষ্টি বর্ষাবে ও উপত্যকা প্লাবিত হবে।
তিনি কবিতা রচনা করতেন, তবে তাঁর কবিতা ছিল আলেমদের কবিতা; কেননা তাঁরা নিজেদেরকে এতে মগ্ন রাখতেন না। যেমনটি ইবনে বাসসাম বলেছেন: "আলেমদের কবিতায় অতি উচ্চমার্গের কোনো চমক থাকে না।" আশ-শিহাব মন্তব্য করেছেন যে, তাঁদের শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলোও যেন 'কৃপণের দাওয়াত' কিংবা 'কাপুরুষের আক্রমণের' মতো (তথা জাঁকজমকহীন)। আল-আমিন তাঁর 'নাফহাত' গ্রন্থে বলেছেন: "আমি বলি, এর কারণ হলো তাঁরা তাঁদের চিন্তাশক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থে নিয়োজিত রাখেন। কবিতা যদিও মনের প্রশান্তি হিসেবে অভিহিত, তবুও এটি এমন বিষয় যা কোনো স্থায়ী ফায়দা দেয় না এবং অভাব মোচন করে না (১)। আর যে ব্যক্তি মাসে মাত্র একবার কবিতা চর্চা করে এবং যে ব্যক্তি এর পেছনেই পুরো জীবন অতিবাহিত করে—এ দুজনের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে।" সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقد ترجمه الشيخ سعيد السمان في كتابه وقال في وصفه:
خاتمة أئمة الحديث ومن ألقت إليه مقاليدها بالقديم والحديث اقتدح زناده فيه فأضاء وشاع حتى ملأ الفضاء آخذا بطرفي العلم والعمل متسنما ذروة عن غيره بعيدة الأمل يقطع آناء الليل تضرعا وعبادة ويوسع أطراف النهار قراءة وإفادة لا يشغله عن ترداده النظر في دفاتره مرام ولا عن نشر طيبها نقض ولا إبرام مع ورع ليس للرياء عليه سبيل وغض بصر عما لا يعني من هذا القبيل، وهو وإن كانت عجلون تربة ميلاده فإن الشام تشرفت بطارف فضله وتلاده فقد طلع في جبهتها شامة وأرهف منصل فكرته بها وشامه حتى صار هلاله بدرا ومنازله طرفا وقلبا وصدرا فاستحث عزمه نحو الروم وقصد بها إنجاز ما يروم فأحلته عن السمع والبصر وجنى غصن أمانيه واهتصر وعلى ما به قوام معاشه اقتصر فآب ولم يخب مسعاه وطرف الدهر بمقلة الارتقاء يرعاه فأظلته قبة النسر المنيفة وصار لمن سلفه خليفة وأي خليفة فتغص حلقته بالخاص والعام فيملي على فتح الباري ما يوضح خفايا البخاري بناطقة تسحر العقول بأدائها، وتسخر بالعقود ولآلائها ووجاهة ملء البصيرة والبصر على مثلها الوقار اقتصر، وخلق ما شابه انقباض وسجية لم تنقد بإعراض، ولم يزل نسيج وحده تأليفا وتقريرا وحديثا حسنا تسطيرا وتحريرا حتى شرب الكأس المورود وذوت من روض محاسنه تلك الورود فتنفذ عليه البصر والدمع وعمى البصر والسمع بلل الله بالرحمة ثراه فهو ممن أخذت عنه الإسناد وأمدني بقراءتي عليه بما ينفع إن شاء الله يوم التناد وله شعر موزون يتسلى به الواله المحزون (1) .
انتهى مقاله.
ولصاحب الترجمة أشعار غير التي ذكرناها وبالجملة فهو أحد الشيوخ الذين لهم القدم العالية (2) في العلوم والرسوخ.
وكانت وفاته بدمشق في محرم الحرام افتتاح سنة اثنتين وستين ومائة وألف ودفن بتربة الشيخ أرسلان رضي الله عنه.
--------------------------------------------
শেখ সাঈদ আল-সাম্মান তাঁর কিতাবে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং তাঁর বর্ণনায় বলেছেন:
তিনি হলেন হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের সর্বশেষ শিরোমণি, যাঁর নিকট প্রাচীন ও আধুনিক হাদীস বিজ্ঞানের চাবিকাঠি অর্পণ করা হয়েছে। তিনি এই শাস্ত্রের প্রদীপ প্রজ্বলিত করেছেন, যার আলো বিচ্ছুরিত ও বিস্তৃত হয়ে শূন্যস্থান পূর্ণ করে দিয়েছে। তিনি ইলম ও আমল—উভয় দিকই দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং এমন এক সুউচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিলেন যা অন্যের জন্য ছিল দুরাশা মাত্র। তিনি রাতের প্রহরগুলো রোনাজারি ও ইবাদতে অতিবাহিত করতেন এবং দিনের বেলায় পাঠদান ও জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে সময়কে ফলপ্রসূ করতেন। কিতাবাদি অধ্যয়ন থেকে কোনো লক্ষ্যই তাঁকে বিচ্যুত করতে পারত না এবং এর সুগন্ধি প্রসারে কোনো বাধা বা জটিলতা তাঁকে নিবৃত্ত করত না। তাঁর তাকওয়া ছিল রিয়ামুক্ত এবং তিনি অনর্থক বিষয় থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রাখতেন। যদিও আজলুন ছিল তাঁর জন্মভূমি, কিন্তু দামেশক তাঁর অর্জিত ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছে। শামের ললাটে তিনি তিলক হিসেবে উদিত হয়েছিলেন এবং সেখানেই তিনি তাঁর মেধার তলোয়ারকে শাণিত ও পরীক্ষা করেছিলেন, এমনকি তাঁর অর্ধচন্দ্র পূর্ণিমায় পরিণত হয়েছিল এবং তাঁর অবস্থানগুলো আভিজাত্য ও হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছিল। অতঃপর তিনি রুম অভিমুখে যাত্রার সংকল্প করলেন এবং স্বীয় লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে সেখানে গমন করলেন। সেখানে তিনি সবার দৃষ্টি ও আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হলেন এবং তাঁর আশা-আকাঙ্ক্ষার ফল লাভ করলেন। তিনি কেবল জীবনধারণের ন্যূনতম উপকরণের ওপর তুষ্ট ছিলেন। অতঃপর তিনি ফিরে এলেন এবং তাঁর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়নি, আর মহাকাল তাঁকে উন্নতির দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছিল। এরপর 'কুব্বাতুন নাসর' তাঁকে ছায়া প্রদান করল এবং তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের যোগ্য উত্তরসূরি হলেন—আর তিনি কতই না চমৎকার উত্তরসূরি! তাঁর মজলিস বিশিষ্ট ও সাধারণ ব্যক্তিবর্গে পরিপূর্ণ হয়ে যেত; তিনি 'ফাতহুল বারী'র ওপর এমন পাঠদান করতেন যা বুখারীর সূক্ষ্ম রহস্যসমূহকে স্পষ্ট করে দিত এমন এক বাগ্মিতার মাধ্যমে যা স্বীয় উপস্থাপনায় বুদ্ধিকে বিমোহিত করত এবং চমৎকার বিন্যাস ও শব্দশৈলীতে সবাইকে মুগ্ধ করত। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল প্রজ্ঞা ও গাম্ভীর্যের পূর্ণতায় ভাস্বর। তাঁর স্বভাব ছিল নম্র এবং তাঁর চরিত্র ছিল অমায়িক। গ্রন্থ রচনা, শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত প্রদান এবং চমৎকার হাদিস বর্ণনায় তিনি স্বীয় যুগে অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন। অবশেষে তিনি মৃত্যুর সুধা পান করলেন এবং তাঁর সৌন্দর্যের কানন থেকে সেই পুষ্পগুলো ঝরে পড়ল। এতে দৃষ্টি রুদ্ধ হয়ে গেল এবং নেত্রপল্লব অশ্রুসিক্ত হলো, বরং চোখ ও কান দিশেহারা হয়ে পড়ল। আল্লাহ রহমতের মাধ্যমে তাঁর মাটিকে সিক্ত করুন। তিনি সেই সকল মনীষীদের অন্তর্ভুক্ত যাঁর থেকে আমি সনদ গ্রহণ করেছি এবং তাঁর নিকট পাঠকালে তিনি আমাকে এমন ইলম প্রদান করেছেন যা ইনশাআল্লাহ কিয়ামতের দিন উপকারে আসবে। তাঁর কিছু সুশৃঙ্খল কবিতা রয়েছে যা শোকার্ত ও ব্যথিত হৃদয়কে প্রশান্তি দেয় (১)।
তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো।
যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে, আমাদের উল্লিখিত কবিতা ছাড়াও তাঁর আরও অনেক কবিতা রয়েছে। সারকথা হলো, তিনি হলেন সেই সকল শাইখদের একজন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে যাঁর সুউচ্চ পদচারণা (২) ও গভীরতা রয়েছে।
তিনি দামেশকে ১১৬২ হিজরী সনের মহররম মাসের শুরুতে ইন্তেকাল করেন এবং শেখ আরসালান (রা.)-এর মাকবারায় সমাহিত হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي حفظ السنة المصطفوية بأهل الحديث، والصلاة والسلام على نبينا محمد المرسل بأصدق الكلام والحديث، وعلى آله وأصحابه الذين أعزوا دينه الصحيح بسيرهم في نصرته السير الحثيث، وعلى التابعين لهم بإحسان وسائر المؤمنين في القديم والحديث.
أما بعد فيقول العبد الفقير إلى مولاه الفتاح، إسماعيل العجلوني بن محمد جَرّاح، أن الأحاديث المشتهرة على الألسنة قد كثرت (1) فيها التصانيف، وقلما يخلو تصنيف منها عن فائدة لا توجد في غيره من التآليف، فأردت أن ألخص مما وقفت عليه منها مجموعا تقر به أعين المنصفين، ليكون مرجعا لي ولمن يرغب في تحصيل المهمات من المستفيدين، ولما أخرجه ابن ماجه وابن خزيمة عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إن مما يلحق المؤمن من حسناته بعد موته علما نشره " وهو شامل للتصنيف والتعليم، وهو في التصنيف أظهر، لأنه أطول استمرارا وأكثر (2) ، وأنص إن شاء الله تعالى في هذا المجموع على بيان الحديث من غيره، وتمييز المقبول منه السالم من ضَيْرِه (3) ، إذ من النصيحة في الدين كما قال بن حجر في خطبة كتابه " اللآلئ المنثورة في الأحاديث المشهورة " التنبيه على ما يشتهر بين الناس مما ألفه الطبع، وليس له أصل في الشرع، قال وقد صنف الإمام تاج الدين الفزاري كتاب في فقه العوام، وإنكار أمور اشتهرت بين الأنام لا أصل لها أجاد فيها الانتقاد، وصان الشريعة أن يدخل فيها ما يخل بالاعتقاد، قال وقد
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আহলে হাদিসের মাধ্যমে মুস্তফাওয়ী সুন্নাহকে রক্ষা করেছেন; এবং সালাত ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর, যিনি সত্যতম বাণী ও হাদিস সহকারে প্রেরিত হয়েছেন; এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের উপর, যাঁরা তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহর সঠিক দ্বীনকে শক্তিশালী করেছেন; এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈন ও প্রাচীন ও বর্তমান কালের সকল মুমিনের উপর।
অতঃপর, তাঁর মহান মাওলা আল-ফাত্তাহ-এর মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দা, ইসমাইল আল-আজলুনি বিন মুহাম্মদ জাররাহ বলছেন: লোকমুখে প্রচলিত হাদিসসমূহের বিষয়ে বহু গ্রন্থ (১) রচিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে খুব কম কিতাবই এমন আছে যা অন্য রচনায় পাওয়া যায় না এমন কোনো না কোনো উপকারিতা বর্জিত। তাই আমি যা যা অবগত হয়েছি তা থেকে এমন একটি সারসংক্ষেপ সংকলন করতে চেয়েছি যা ন্যায়পরায়ণদের চক্ষু শীতল করবে, যেন এটি আমার জন্য এবং জ্ঞানান্বেষীদের মধ্যে যারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অর্জন করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য একটি তথ্যসূত্র হতে পারে। কেননা ইবনে মাজাহ এবং ইবনে খুজাইমা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিন মৃত্যুর পর তার নেক আমলসমূহের মধ্য থেকে যা লাভ করে তার একটি হলো এমন জ্ঞান যা সে প্রচার করে গেছে।" এটি কিতাব রচনা এবং পাঠদান উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, তবে কিতাব রচনার ক্ষেত্রে এটি আরও স্পষ্ট, কারণ এর স্থায়িত্ব দীর্ঘতর এবং প্রভাব অধিক (২)। ইনশাআল্লাহ তাআলা আমি এই সংকলনে হাদিস এবং হাদিস নয় এমন বিষয়ের পার্থক্যের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা দেব, এবং এর মধ্য থেকে যা গ্রহণযোগ্য এবং যা ত্রুটি (৩) থেকে মুক্ত তা পৃথক করব। কেননা দ্বীনের নসিহত বা উপদেশের অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষের মাঝে প্রচলিত এমন সব বিষয় সম্পর্কে সতর্ক করা যা সাধারণ মানুষের স্বভাবজাতভাবে তৈরি কিন্তু শরিয়তে যার কোনো ভিত্তি নেই, যেমনটি ইবনে হাজার তাঁর 'আল-লাআলি আল-মানসুরা ফিল আহাদিসিল মাশহুরা' কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, ইমাম তাজউদ্দীন আল-ফাজারি সাধারণ মানুষের ফিকহ এবং লোকমুখে প্রচলিত ভিত্তিহীন বিষয়গুলো প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন, যাতে তিনি চমৎকার সমালোচনা করেছেন এবং শরিয়তকে এমন সব বিষয় প্রবেশ করা থেকে রক্ষা করেছেন যা আকিদায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ৮)
رأيت ما هو أهم من ذلك، وهو تبيين الأحاديث المشتهرة على ألسنة العوام وكثير من الفقهاء الذين لا معرفة لهم بالحديث، وهي إما أن يكون لها أصل يتعذر الوقوف عليه لغرابة موضعه، أو لذكره في غير مِظنته، وربما نفاه بعضهم لعدم اطلاعه عليه، والنافي له كمن نفى أصلا من الدين، وضل عن طريقه المبين، وأما لا أصل له البتة، فالناقل لها يدخل تحت ما رواه البخاري في ثلاثياته من قوله صلى الله عليه وسلم " من نقل عني ما لم أقل فليتبوأ مقعده من النار " انتهى.
ثم نَقل فيها بسنده إلى أبي قتادة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " هلاك أمتي في ثلاث: في القدرية، والعصبية، والرواية من غير تثبت " لكنه منكر، وبسنده أيضا إلى ابن المبارك أنه قيل له في هذه الأحاديث الموضوعة فقال: يعيش لها الجهابذة، وبسنده إلى الإمام أحمد أنه قال: إن للناس في أرباضهم وعلى باب دورهم أحاديث يتحدثون بها عن النبي صلى الله عليه وسلم لم نسمع نحن بشئ منها، ولذلك وجبت العناية بما وصل العلم إليه، ووقع الاطلاع عليه
قال الربيع بن خيثم إن للحديث ضوءا كضوء النهار يعرف، وظلمة كظلمة الليل تنكر وقال ابن الجوزي: الحديث المنكر يقشعر له جلد الطالب، وينفر منه قلبه في الغالب وروى أبو نعيم في الحلية عن أبي هريرة رفعه " إن لله تعالى عند كل بدعة كيد بها الإسلام وليا من أوليائه يذب عن دينه " انتهى.
وإن من أعظم ما صنف في هذا الغرض، وأجمع ما ميز فيه السالم من العلة والمرض الكتاب المسمى بالمقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة المنسوب للإمام الحافظ الشهير أبي الخير شمس الدين محمد بن عبد الرحمن السخاوي لكنه مشتمل على طول بسوق الأسانيد التي ليس لها كبير فائدة إلا للعالم الحاوي ومن ثم لخصته في هذا الكتاب مقتصرا على مخرج الحديث وصحابيه روما للاختصار غير مخل إن شاء الله تعالى بما اشتمل عليه مما يستطاب أو يستحسن عند أئمة الحديث الأخيار، وضاما إليه مما في كتب الأئمة المعتبرين كاللآلئ المنثورة في الأحاديث المشهورة لأمير الحفاظ والمحدثين من المتأخرين الشهاب أحمد بن حجر العسقلاني
আমি এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি, আর তা হলো সাধারণ মানুষ এবং এমন অনেক ফকিহ—যাদের হাদিস শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান নেই—তাদের মুখে প্রচলিত হাদিসগুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করা। এগুলোর কোনো কোনোটির এমন ভিত্তি থাকতে পারে যা তার অবস্থানের দুর্লভতার কারণে অথবা অপ্রাসঙ্গিক স্থানে উল্লেখ করার কারণে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। সম্ভবত কেউ কেউ সে সম্পর্কে অবগত না হওয়ার কারণে তা অস্বীকার করে বসেন, অথচ একে অস্বীকারকারী যেন দ্বীনের কোনো একটি মূল ভিত্তিকেই অস্বীকার করল এবং এর সুস্পষ্ট পথ থেকে বিচ্যুত হলো। আর যেগুলোর বিন্দুমাত্র কোনো ভিত্তি নেই, তার বর্ণনাকারী ইমাম বুখারি তাঁর 'সুলাসিয়াত'-এ বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবেন: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করল যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" সমাপ্ত।
অতঃপর তিনি সেখানে স্বীয় সনদে আবু কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের ধ্বংস তিনটি বিষয়ে: কাদারিয়া মতবাদ, গোত্রপ্রীতি এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া বর্ণনা করা।" তবে হাদিসটি মুনকার। তিনি আরও স্বীয় সনদে ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে যখন এই জাল হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "বিচক্ষণ হাদিস বিশারদগণ এর রহস্য উন্মোচনের জন্য বেঁচে আছেন।" এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "মানুষের মাঝে তাদের মহল্লায় এবং ঘরের দরজায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এমন সব হাদিস প্রচলিত রয়েছে যা সম্পর্কে আমরা কিছুই শুনিনি।" এই কারণেই অর্জিত জ্ঞান এবং যা কিছু দৃষ্টিগোচর হয়েছে তার প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া আবশ্যক হয়েছে।
রাবী বিন খুসাইম বলেন, "নিশ্চয়ই হাদিসের দিনের আলোর মতো উজ্জ্বলতা রয়েছে যা দ্বারা তা চেনা যায়, আর রাতের অন্ধকারের মতো অন্ধকার রয়েছে যা দ্বারা তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।" ইবনুল জাওজি বলেন: "মুনকার হাদিস শুনলে সাধারণত ইলম অন্বেষণকারীর গায়ের চামড়া শিউরে ওঠে এবং তার অন্তর তা থেকে বিতৃষ্ণ হয়ে পড়ে।" আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে কৃত প্রতিটি বিদআতের মোকাবিলায় তাঁর অলীগণের মধ্য থেকে এমন একজন অলী থাকেন যিনি আল্লাহর দ্বীনকে রক্ষা করেন।" সমাপ্ত।
এই উদ্দেশ্যে যা কিছু রচিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং দোষ-ত্রুটিমুক্ত বর্ণনাকে পৃথক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সংকলিত গ্রন্থ হলো 'আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফি বায়ানি কাসিরিন মিনাল আহাদিসিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ', যা প্রখ্যাত ইমাম হাফিজ আবুল খায়ের শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আস-সাখাউয়ির প্রতি নিসবত করা হয়। কিন্তু এটি দীর্ঘ সনদ বর্ণনার কারণে কলেবরে বড় হয়ে গেছে যা কেবল গভীর জ্ঞানের অধিকারী আলেম ছাড়া অন্যদের জন্য খুব একটা উপকারী নয়। এ কারণে আমি এই কিতাবে সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে কেবল হাদিসের উৎস এবং সাহাবীর নাম উল্লেখ করে তা সারসংক্ষেপ করেছি। ইনশাআল্লাহ, এতে হাদিস বিশারদদের নিকট পছন্দনীয় ও উত্তম কোনো বিষয় বাদ পড়েনি। পাশাপাশি আমি এতে নির্ভরযোগ্য ইমামগণের কিতাবসমূহ থেকেও সংযোজন করেছি, যেমন পরবর্তী যুগের হাফিজ ও মুহাদ্দিসগণের আমির শিহাব আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানির রচিত 'আল-লাআলি আল-মানশুরাহ ফিল আহাদিসিল মাশহুরাহ' নামক গ্রন্থটি।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ৯)
بلغنا الله وإياه في الدارين الأماني.
واعلم أني حيث أقول قال في اللآلئ أو ذكر فيها فالمراد به كتاب الحافظ العسقلاني المذكور وحيث أقول قال في الأصل أو في المقاصد فمرادي به المقاصد الحسنة المذكورة وحيث أقول قال في التمييز فمرادي الكتاب المسمى بتمييز الطيب من الخبيث فيما يدور على ألسنة الناس من الحديث للحافظ عبد الرحمن بن الديبع تلميذ الإمام السخاوي، فإنه اختصر المقاصد الحسنة لشيخه المذكور، لكنه أخل بأشياء مما فيه مسطور، وحيث أقول قال في الدرر فالمراد الكتاب المسمى بالدرر المنتثرة في الأحاديث المشتهرة للحافظ جلال الدين السيوطي
وهي نسختان صغرى وكبرى وحيث أقول رواه أبو نعيم فمرادي في الحلية وحيث أقول رواه الشيخان أو اتفقا عليه أو متفق عليه فالمراد أنه في الصحيحين لشيخي الحديث البخاري ومسلم، وإن كان في أحدهما قلت رواه البخاري أو مسلم وحيث أقول رواه أحمد فالمراد الإمام أحمد في مسنده، وحيث أقول رواه البيهقي فالمراد في الشعب وحيث أقول رواه الأربعة فالمراد أبو داود والنسائي والترمذي وابن ماجه في سننهم وحيث أقول رواه الستة فالمراد هؤلاء الأربعة والشيخان في الكتب الستة، وكذا إذا أفردت واحدا منهم فالمراد في كتابه أحد السنن الستة وحيث أقول قاله النجم فالمراد شيخ مشايخنا العلامة محمد نجم الدين الغزي في كتابه المسمى إتقان ما يحسن من الأخبار الدائرة على الألسن وحيث أقول قال القاري فالمراد به الملا علي القاري في كتابه الموضوعات المسماة بالأسرار المرفوعة في الأخبار الموضوعة وهي صغرى وكبرى وقد نقلت منهما، وحيث أقول قاله الصغاني فالمراد به العلامة حسن بن محمد الصغاني مؤلف المشارق.
وما لم يكن كذلك في جميع ما مر فأنص على الكتاب الذي رواه مؤلفه فيه، وربما تعرضت لحديث ليس من المشهورات لمناسبة أو غيرها من المقاصد الصحيحات.
هذا والحكم على الحديث بالوضع أو الصحة أو غيرهما إنما هو بحسب الظاهر للمحدثين باعتبار الإسناد أو غيره، لا باعتبار نفس الأمر والقطع لجواز أن
আল্লাহ আমাদের এবং তাকে উভয় জগতে আমাদের আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিন।
জেনে রাখুন যে, যখনই আমি বলি যে ‘আল-লাআলি’ গ্রন্থে বলা হয়েছে বা তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, তখন তার দ্বারা হাফেজ আল-আসকালানির উল্লিখিত গ্রন্থটিই উদ্দেশ্য। এবং যখনই আমি বলি যে ‘আসলে’ (মূলে) বলা হয়েছে বা ‘মাকাসিদ’-এ বলা হয়েছে, তখন আমার উদ্দেশ্য হলো উল্লিখিত ‘আল-মাকাসিদুল হাসানাহ’ গ্রন্থটি। এবং যখনই আমি বলি ‘আত-তাময়িজ’-এ বলা হয়েছে, তখন আমার উদ্দেশ্য হলো ইমাম সাখাওয়ীর ছাত্র হাফেজ আবদুর রহমান বিন আদ-দাইবা-এর ‘তাময়িজুত তায়্যিব মিনাল খাবিস ফিমা ইয়াদুরু আলা আলসিনাতিন নাস মিনাল হাদিস’ নামক গ্রন্থটি। কেননা তিনি তাঁর উল্লিখিত শিক্ষকের ‘আল-মাকাসিদুল হাসানাহ’ গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন, তবে এতে লিপিবদ্ধ কিছু বিষয় তিনি বাদ দিয়েছেন। আর যখন আমি বলি ‘আদ-দুরার’-এ বলা হয়েছে, তখন তার দ্বারা হাফেজ জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতির ‘আদ-দুরারুল মুনতাসিরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহিরাহ’ নামক গ্রন্থটি উদ্দেশ্য।
এটি ছোট এবং বড়—দুটি সংস্করণে রয়েছে। আর যখনই আমি বলি যে আবু নুয়াইম এটি বর্ণনা করেছেন, তখন আমার উদ্দেশ্য হলো ‘আল-হিলইয়া’ গ্রন্থ। এবং যখন আমি বলি যে ‘শাইখাইন’ (দুই শায়খ) এটি বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁরা এর ওপর একমত হয়েছেন অথবা এটি ‘মুত্তাফাকুন আলাইহি’, তখন এর অর্থ হলো এটি হাদিসের দুই শায়খ বুখারি ও মুসলিমের সহিহাইন (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)-এ রয়েছে। আর যদি তা তাঁদের কোনো একজনের গ্রন্থে থাকে, তবে আমি বলি যে এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন অথবা মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর যখন আমি বলি যে আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন, তখন এর দ্বারা মুসনাদে ইমাম আহমদ উদ্দেশ্য। আর যখন আমি বলি বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন, তখন ‘শুয়াবুল ইমান’ উদ্দেশ্য। আর যখন আমি বলি যে ‘চারজন’ (আরবা’আ) এটি বর্ণনা করেছেন, তখন আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী এবং ইবনে মাজাহ-এর তাঁদের স্ব-স্ব সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করা উদ্দেশ্য। আর যখন আমি বলি যে ‘ছয়জন’ (সিত্তাহ) এটি বর্ণনা করেছেন, তখন এই চারজন এবং দুই শায়খ অর্থাৎ কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি কিতাব) উদ্দেশ্য। অনুরূপভাবে, যদি আমি তাঁদের মধ্যে কাউকে পৃথকভাবে উল্লেখ করি, তবে তার উদ্দেশ্য হবে তাঁর কিতাব তথা ছয়টি সুনান গ্রন্থের একটি। আর যখন আমি বলি যে নাজম এটি বলেছেন, তখন এর দ্বারা আমাদের শায়খদের শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ নাজমুদ্দিন আল-গাজ্জি এবং তাঁর ‘ইতকান মা ইয়াহসুনু মিনাল আখবার আদ-দায়িরাহ আলাল আলসুন’ নামক গ্রন্থটি উদ্দেশ্য। আর যখন আমি বলি যে ক্বারি বলেছেন, তখন তার দ্বারা মোল্লা আলী আল-ক্বারি এবং তাঁর মাওদুআত (জাল হাদিস বিষয়ক) গ্রন্থ উদ্দেশ্য, যার নাম ‘আল-আসরারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মাওদুআ’। এটি ছোট ও বড়—উভয় আকারেই রয়েছে এবং আমি তা থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছি। আর যখন আমি বলি যে সগনি বলেছেন, তখন তার দ্বারা ‘মাশারিকুল আনওয়ার’ এর লেখক আল্লামা হাসান বিন মুহাম্মদ আস-সাগানি উদ্দেশ্য।
আর যা পূর্বোক্ত নিয়মের আওতায় পড়ে না, সেখানে আমি সেই কিতাবের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করি যাতে লেখক তা বর্ণনা করেছেন। কখনো কখনো কোনো প্রাসঙ্গিক কারণে বা অন্য কোনো সঠিক উদ্দেশ্যে আমি এমন কোনো হাদিসও উল্লেখ করি যা মশহুর (প্রসিদ্ধ) হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়।
এটি হলো মূল কথা। আর কোনো হাদিস জাল, সহিহ বা অন্য কোনো স্তরের হওয়ার হুকুম বা ফয়সালা মুহাদ্দিসগণের নিকট কেবল বাহ্যিক দিক তথা সনদ (সূত্র) বা অন্যান্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে; তা খোদ বাস্তব অবস্থা বা ধ্রুব সত্যের ভিত্তিতে নয়। কেননা সম্ভাবনা থাকে যে...
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ১০)
يكون الصحيح مثلا - باعتبار نظر المحدث - موضوعا أو ضعيفا في نفس الأمر، وبالعكس ولو لما في الصحيحين على الصحيح، خلافا لابن الصلاح كما أشار إلى ذلك الحافظ العراقي في ألفيته بقوله:
واقطع بصحة لما قد أسندا
… كذا له، وقيل، ظنا ولدي محققيهم قد عزاه النووي
… وفي الصحيح بعض شئ قد روي (1) نعم (2) المتواتر مطلقا قطعي النسبة لرسول الله صلى الله عليه وسلم اتفاقا، ومع كون الحديث يحتمل ذلك فيعمل بمقتضى ما يثبت عند المحدثين، ويترتب عليه الحكم الشرعي المستفاد منه للمستنبطين، وفي الفتوحات المكية للشيخ الأكبر قدس سره الأنور ما حاصله: فرب حديث يكون صحيحا من طريق رواته يحصل لهذا المكاشف أنه غير صحيح لسؤاله لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فيعلم وضعه ويترك العمل به وإن عمل به أهل النقل لصحة طريقه، ورب حديث ترك العمل به لضعف طريقه من أجل وضاع في رواته يكون صحيحا في نفس الأمر لسماع المكاشف له من الروح حين إلقائه على رسول الله صلى الله عليه وسلم انتهى.
واعلم أن الحافظ جلال الدين السيوطي قال في خطبة جامعه الكبير ما حاصله: كل ما كان في مسند أحمد فهو مقبول فإن الضعيف الذي فيه يقرب من الحسن وكل ما كان في كتاب الضعفاء للعقيلي ولابن عدي في الكامل وللخطيب البغدادي ولابن عساكر في تاريخه وللحكيم الترمذي في نوادر الأصول وللحاكم في تاريخه ولابن النجار في تاريخه وللديلمي في مسند الفردوس فهو ضعيف، فيستغنى عن بيان حاله بالعزو إليها أو إلى أحدها انتهى.
لكنه مقيد بما لم يجبر بتعدد طرقه، وإلا فيصير حسنا لغيره فيعمل به، ولعل ما ذكره أغلبي، وإلا فيبعد كل البعد أنه لا يكون في كتاب منها حديث حسن أو صحيح فتأمل.
وسميت ما جمعته من ذلك " كشف الخفاء ومزيل الإلباس عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس " ورتبته على حروف المعجم كأصله، ليكون أسهل في المراجعة لنقله
--------------------------------------------
উদাহরণস্বরূপ, একজন মুহাদ্দিসের দৃষ্টিতে যা সহীহ, তা প্রকৃত বিচারে (নফসুল আমর) জাল বা যঈফও হতে পারে এবং এর বিপরীতটাও হতে পারে। এমনকি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর হাদিসের ক্ষেত্রেও বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এমনটা হতে পারে, যা ইবনে আস-সালাহ-এর মতের পরিপন্থী। যেমনটি হাফেজ ইরাকী তাঁর 'আলফিয়্যাহ' গ্রন্থে এভাবে ইঙ্গিত করেছেন:
এবং তাদের বর্ণিত বিষয়ের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে নিশ্চয়তা প্রদান করো
… তেমনিভাবে বলা হয়েছে এটি ধারণাভিত্তিক। তাঁদের মুহাক্কিকদের নিকট এটি ইমাম নববী বর্ণনা করেছেন
… এবং সহীহের মধ্যে কিছু বিষয় বর্ণিত হয়েছে [যাতে দুর্বলতা রয়েছে] (১) হ্যাঁ (২) মুতাওয়াতির হাদিসগুলো সর্বসম্মতভাবে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ও অকাট্য। হাদিসের ক্ষেত্রে ওই সম্ভাবনা (বাস্তবে ভিন্ন হওয়ার) থাকা সত্ত্বেও মুহাদ্দিসগণের নিকট যা সাব্যস্ত হয় সে অনুযায়ী আমল করা হয় এবং যারা বিধান আহরণ করেন তাদের জন্য এর থেকে প্রাপ্ত শরয়ি বিধান প্রযোজ্য হয়। শায়খুল আকবর (তাঁর রহস্য পবিত্র হোক)-এর 'আল-ফুতুহাতুল মাক্কিয়্যাহ' গ্রন্থে যা রয়েছে তার সারকথা হলো: অনেক সময় রাবীদের সূত্রের দিক থেকে একটি হাদিস সহীহ হয়, কিন্তু আধ্যাত্মিক উন্মোচনকারী (মুকাশেফ) ব্যক্তির নিকট আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে এটি প্রকাশিত হয় যে হাদিসটি সহীহ নয়। ফলে তিনি এর বানোয়াট হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং এর ওপর আমল বর্জন করেন, যদিও বর্ণনাকারীগণ এর সূত্রের বিশুদ্ধতার কারণে আমল করে থাকেন। আবার অনেক সময় বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ মিথ্যাবাদী হওয়ার কারণে সূত্রের দুর্বলতার দরুন কোনো হাদিসের ওপর আমল বর্জন করা হয়, অথচ তা প্রকৃত বিচারে সহীহ; কারণ আধ্যাত্মিক উন্মোচনকারী ব্যক্তি তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট অবতীর্ণ হওয়ার সময় রূহ (জিবরাঈল)-এর নিকট থেকে সরাসরি শুনেছেন। সমাপ্ত।
জেনে রাখুন যে, হাফেজ জালালুদ্দিন সুয়ূতী তাঁর 'জামেউল কাবীর'-এর ভূমিকায় যা বলেছেন তার সারমর্ম হলো: মুসনাদে আহমাদে যা কিছু রয়েছে তা গ্রহণযোগ্য। কেননা এর মধ্যে যে যঈফ হাদিসগুলো রয়েছে তা হাসানের নিকটবর্তী। আর উকাইলীর 'যুয়াফা', ইবনে আদীর 'আল-কামিল', খতীব বাগদাদী, ইবনে আসাকিরের 'তারিখ', হাকীম তিরমিযীর 'নাওয়াদিরুল উসুল', হাকেমের 'তারিখ', ইবনে নাজ্জারের 'তারিখ' এবং দাইলামীর 'মুসনাদুল ফিরদাউস'-এ যা কিছু রয়েছে তা যঈফ। ফলে এগুলোর কোনো একটির দিকে সম্বন্ধ করাই হাদিসটির অবস্থা বর্ণনার জন্য যথেষ্ট হবে। সমাপ্ত।
তবে এটি ওইসব হাদিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা একাধিক সূত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়নি। অন্যথায় তা 'হাসান লি-গাইরিহি'তে পরিণত হয় এবং তার ওপর আমল করা যায়। সম্ভবত তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; নতুবা ওই কিতাবগুলোর কোনোটিতেই কোনো হাসান বা সহীহ হাদিস থাকবে না—এমনটা হওয়া অনেক দূরের কথা। সুতরাং চিন্তা করুন।
আমি আমার এই সংকলনটির নামকরণ করেছি "কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাস আম্মাশতাহারা মিনাল আহাদিসি আলা আলসিনাতিন নাস" (মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হাদিসসমূহের গোপন রহস্য উন্মোচন ও সংশয় নিরসন)। আমি একে মূল গ্রন্থের ন্যায় বর্ণানুক্রমিক সাজিয়েছি, যাতে বর্ণনাটি খুঁজে দেখা বা রেফারেন্স দেয়া সহজতর হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ১১)
لكن لا أرمز بحروف إلى المخرجين كالنجم، بل أصرح بأسمائهم دفعا للبس والوهم جعله الله خالصا لوجهه الكريم، وسببا للفوز بجنات النعيم، وهذا أوان الشروع في المقصود، بعون الله الملك المعبود
(حرف الهمزة)
1 - (إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها أو امرأة ينكحها فهجرته إلى ما هاجر إليه) رواه الشيخان عن عمر بن الخطاب، وكذا رواه غيرهما من أصحاب الكتب المعتمدة، حتى مالك، لكن في غير الموطأ، وقول ابن دحية إن مالكا رواه في موطأه، وهّمَهُ في ذلك المحدثون، لكن قال الحافظ السيوطي في شرحه الصغير على الموطأ أنه موجود في الموطأ من رواية محمد بن الحسن صاحب أبي حنيفة قال وبذلك يتبين صحةُ قول من عزا روايته إلى الموطأ ووهم من خطأه في ذلك، انتهى فاعرفه.
ورواه البخاري في صحيحه عن عمر في سبعة مواضع بألفاظ مختلفة بيناها وغيرها في الفيض الجاري بشرح صحيح البخاري، منها: إن الأعمال بالنية وإن لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى ما هاجر إليه ومن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها أو امرأة ينكحها فهجرته إلى ما هاجر إليه.
وهذه الرواية ليست في الصحيحين، بل خرجها ابن الجارود في المنتقى من طريق يحيى بن سعيد، وقد رُوِيَ حديث إنما الأعمال بالنيات عن نحو سبعة عشر صحابيا لكنه لم يصح إلا من طريق عمر رضي الله عنه، فهو فرد غريب باعتبار أول سنده مشهور باعتبار آخره، قال الكرماني وغيره قال الحافظ لا تصح روايته عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا من جهة عمر، ولا عن عمر إلا من جهة علقمة، ولا عن علقمة إلا من جهة محمد بن إبراهيم، ولا عن محمد إلا من جهة يحيى بن سعيد وعنه انتشر، إذ رواه عنه أكثر من مائتي مسِند فهو مشهور باعتبار آخره، غريب باعتبار أوله، لكنه مجمع
কিন্তু আমি 'আন-নাজম' গ্রন্থের ন্যায় বর্ণনাকারীদের নাম সংকেতের মাধ্যমে উল্লেখ করব না, বরং সংশয় ও বিভ্রান্তি দূর করার নিমিত্তে স্পষ্টভাবে তাদের নাম উল্লেখ করব। আল্লাহ একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করুন এবং জান্নাতুন নাঈম লাভের অসিলা করুন। আর পরম উপাস্য অধিপতি আল্লাহর সাহায্যে এখন মূল লক্ষ্য শুরু করার সময়।
(হামযাহ বর্ণ)
১ - (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া হাসিল করার জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য, তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।) এটি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন। একইভাবে নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের অন্যান্য সংকলকগণও এটি বর্ণনা করেছেন, এমনকি ইমাম মালিকও, তবে মুয়াত্তা ব্যতীত অন্য গ্রন্থে। আর ইবনু দিহইয়ার বক্তব্য যে, ইমাম মালিক এটি তাঁর মুয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন—মুহাদ্দিসগণ একে তাঁর ভুল হিসেবে গণ্য করেছেন। তবে হাফিজ সুয়ূতী মুয়াত্তার ওপর তাঁর 'শারহুস সগীর'-এ বলেছেন যে, এটি আবু হানিফার সহচর মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের বর্ণনায় মুয়াত্তায় বিদ্যমান রয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে যারা একে মুয়াত্তার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন তাদের বক্তব্যের সঠিকতা স্পষ্ট হয় এবং যারা একে ভুল বলেছেন তাদের ভুল প্রমাণিত হয়। সমাপ্ত। সুতরাং বিষয়টি জেনে নিন।
আর ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে উমর (রা.) থেকে সাতটি স্থানে ভিন্ন ভিন্ন শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন, যা আমরা 'আল-ফয়যুল জারী বি-শারহি সহীহিল বুখারী' এবং অন্যান্য স্থানে বর্ণনা করেছি। তার মধ্যে একটি হলো: আমলসমূহ নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তা-ই রয়েছে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া হাসিল করার জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য, তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।
আর এই বর্ণনাটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ নেই, বরং ইবনুল জারুদ 'আল-মুনতাকা' গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সূত্র থেকে এটি সংকলন করেছেন। আর 'নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' হাদীসটি প্রায় সতেরোজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এটি উমর (রা.)-এর সূত্র ব্যতীত সহীহ নয়। সুতরাং এটি সনদের শুরু বিবেচনায় 'ফারদ গারীব' এবং শেষ বিবেচনায় 'মাশহুর'। কিরমানী ও অন্যান্যরা বলেন, হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে উমর ব্যতীত অন্য কোনো সূত্রে এটি সহীহ নয়, আর উমর থেকে আলকামা ব্যতীত, আর আলকামা থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ব্যতীত, আর মুহাম্মদ থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ব্যতীত এটি সহীহ নয় এবং তাঁর (ইয়াহইয়া) থেকেই এটি বিস্তার লাভ করেছে। কেননা তাঁর থেকে দুই শতাধিক মুসনিদ (বর্ণনাকারী) এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি শেষভাগের বিবেচনায় মাশহুর এবং শুরুভাগের বিবেচনায় গারীব। কিন্তু এটি সর্বসম্মত...
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ১২)
على صحته انتهى وهو أحد الأحاديث الأربعة التي عليها مدار الدين، وقد نظمها طاهر بن مفوز الإشبيلي، وقيل الإمام الشافعي بقوله:
عمدة الدين عندنا كلمات
… أربع من كلام خير البرية
اتق الشبهات وازهد ودع ما
… ليس يعنيك، واعملن بنيه
وقد أشبعنا الكلام عليه في الفيض الجاري فراجعه.
2 - (آتي بابَ الجنةِ يومَ القيامةِ فأستفتحُ فيقول الخازنُ: من أنت؟ فأقول: محمد فيقول بك أمرت أن لا أفتح لأحد قبلك رواه أحمد ومسلم وعبد بن حميد عن أنس رضي الله عنه.
3 - (آخر أربعاء في الشهر يومُ نحسٍ مستمر رواه ابن مردويه في تفسيره عن ابن عباس والخطيب (1) لكن بلفظ من الشهر، وقال السيوطي في الجامع الكبير رواه وكيع في الغرر، وابن مردويه في تفسيره عن ابن عباس، وفيه مسلمة بن الصَلْت متروك، وأورده ابن الجوزي في الموضوعات، ورواه الطيوري من وجه آخر عن ابن عباس موقوفا انتهى.
وقال ابن رجب لا يصح، ورواه الطبراني بسند ضعَّفه بلفظ: يوم الأربعاء يوم نحس مستمر، وهو محمول على الحديث المقيد بآخر أربعاء جمعا بينهما وفي السيرة الحلبية ما حاصله تحمل الأحاديث الواردة بمدح يوم الأربعاء على غير آخر أربعاء في الشهر كالحديث الضعيف خلق الله يوم الأربعاء الأنهار والأشجار، وأما الأحاديث الواردة بذمه فهي محمولة على آخر أربعاء في الشهر كالحديث المرفوع يوم الأربعاء نحس مستمر، وفيه ولد فرعون، وفيه ادعى الإلهية وفيه أهلكه الله تعالى، وكالحديث الآخر يوم الأربعاء لا أخذ ولا عطاء، والحديث الذي روى بسند ضعيف أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم باجتناب الحجامة يوم الأربعاء، فإنه اليوم الذي أصيب فيه أيوب عليه السلام بالبلاء، وما يبدو جذام ولا برص إلا يوم الأربعاء وليلة الأربعاء، وكذا ما جاء في حديث من النهي عن قص الأظفار في يوم الأربعاء
--------------------------------------------
এর বিশুদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে তা সমাপ্ত হয়েছে। এটি সেই চারটি হাদিসের একটি যার ওপর দ্বীন আবর্তিত হয়। তাহির ইবনে মুফাওওয়ায আল-ইশবিলি এটি পদ্য আকারে বর্ণনা করেছেন, আর বলা হয় ইমাম শাফেঈ তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে তা বর্ণনা করেছেন:
আমাদের নিকট দ্বীনের স্তম্ভ হলো কয়েকটি বাণী
… যা সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ মানবের বাণী থেকে সংগৃহীত চারটি হাদিস।
সন্দেহজনক বিষয়গুলো এড়িয়ে চলো, দুনিয়াবিমুখ হও এবং যা তোমার
… প্রয়োজন নেই তা বর্জন করো, আর নিয়তের সাথে আমল করো।
আমরা 'আল-ফায়দুল জারি'-তে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, সুতরাং সেখানে দেখে নিন।
২ - (কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় আসব এবং তা খোলার অনুরোধ করব। তখন দ্বাররক্ষী বলবেন: আপনি কে? আমি বলব: মুহাম্মদ। তখন তিনি বলবেন: আপনার ব্যাপারেই আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে যেন আপনার আগে আমি কারো জন্য জান্নাত না খুলি)। এটি আহমদ, মুসলিম এবং আবদ ইবনে হুমাইদ আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
৩ - (মাসের শেষ বুধবার হলো একটি নিরবচ্ছিন্ন অশুভ দিন)। এটি ইবনে মারদুওয়াইহ তাঁর তাফসিরে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এবং আল-খতিব (১) বর্ণনা করেছেন, তবে 'মাসের মধ্য থেকে' শব্দে। সুয়ূতী 'আল-জামেউল কাবীর'-এ বলেছেন: এটি ওয়াকি 'আল-গুরার'-এ এবং ইবনে মারদুওয়াইহ তাঁর তাফসিরে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে মাসলামাহ ইবনে আস-সলত রয়েছে যে 'মাতরুক' (পরিত্যাজ্য)। ইবনুল জাওযী একে 'আল-মাওদুআত' (জাল হাদিসসমূহ)-এ উল্লেখ করেছেন। আর আত-তুয়ূরী ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে 'মাওকুফ' হিসেবে অন্য সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।
ইবনে রজব বলেছেন, এটি সহিহ নয়। তাবারানি একটি দুর্বল সনদে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: 'বুধবার হলো একটি নিরবচ্ছিন্ন অশুভ দিন'। উভয় বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য একে মাসের শেষ বুধবারের সাথে সম্পৃক্ত হাদিসের ওপর প্রয়োগ করা হয়। 'আস-সিরাহ আল-হালাবিয়্যাহ'-তে এর সারমর্ম হলো—বুধবারের প্রশংসায় বর্ণিত হাদিসগুলোকে মাসের শেষ বুধবার ব্যতীত অন্য বুধবারের ওপর ধরা হবে; যেমন সেই দুর্বল হাদিসটি: 'আল্লাহ বুধবার দিন নদী ও গাছপালা সৃষ্টি করেছেন'। আর বুধবারের নিন্দায় বর্ণিত হাদিসগুলোকে মাসের শেষ বুধবারের ওপর ধরা হবে; যেমন সেই মারফু হাদিসটি: 'বুধবার হলো নিরবচ্ছিন্ন অশুভ দিন, এই দিনেই ফেরাউন জন্মগ্রহণ করেছিল, এই দিনেই সে উপাস্য হওয়ার দাবি করেছিল এবং এই দিনেই আল্লাহ তাআলা তাকে ধ্বংস করেছিলেন'। তেমনি অন্য হাদিসটি: 'বুধবার দিন কোনো লেনদেন নেই'। এবং সেই হাদিসটি যা দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের বুধবার দিন সিঙা লাগানো থেকে বিরত থাকতে আদেশ করেছেন, কারণ এটি সেই দিন যে দিন আইয়ুব (আলাইহিস সালাম) বিপদে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর কুষ্ঠ বা শ্বেতী রোগ বুধবার দিন বা বুধবার রাতেই প্রকাশ পায়। অনুরূপভাবে বুধবার দিন নখ কাটার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে যে হাদিস এসেছে তা-ও একই পর্যায়ের।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وأنه يورث البرص، وما ذكر عن ابن الحاج المالكي أنه قص أظفاره يوم الأربعاء فلحقه برص فرأى النبي صلى الله عليه وسلم في نومه فشكا له فقال ألم تسمع نهي عن ذلك، فقال يا رسول الله لم يصح عندي الحديث عنك، فقال يكفيك أن تسمع ثم مسح بيده الشريفة على بدنه، فزال البرص جميعا، فليتأمل هذا الجمع انتهى.
وذكر المناوي قصة ابن الحاج، وزاد أنه قال فجددت مع الله تعالى توبة أن لا أخالف ما سمعت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أبدا.
تكميل: أخرج أبو يعلى عن ابن عباس، وكذا ابن عدي، وتَمّام في فوائده عن أبي سعيد مرفوعا: يوم السبت يوم مكر وخديعة، ويوم الأحد يوم غرس وبناء، ويوم الإثنين يوم سفر وطلب رزق ويوم الثلاثاء يوم حديد وبأس، ويوم الأربعاء لا أخذ ولا عطاء، ويوم الخميس يوم طلب الحوائج والدخول على السلطان، ويوم الجمعة يوم خطبة ونكاح.
قال السخاوي سنده ضعيف، وذكر برهان الإسلام عن صاحب الهداية أنه ما بدئ شئ يوم الأربعاء إلا وتم، فلذلك كان المشايخ يتحرون ابتداء الجلوس فيه للتدريس لأن العلم نور، فبدئ به يوم خلق النور انتهى.
ويمكن حمله على غير أربعاء آخر الشهر، وذكر السيوطي في الأسفار عن قلم الأظفار أنه اشتهر على الألسنة أبيات لا يدرى قائلها، ولا هي صحيحة في نفسها وهي:
في قص الأظفار يوم السبت آكلة
… تبدو، وفيما يليه يذهب البركه
وعالم فاضل يبدو بتلوهما،
… وإن يكن في الثلاثا فاحذر الهلكه
ويورث السوء في الأخلاق رابعها،
… وفي الخميس الغنى يأتي لمن سلكه
والعلم والرزق زيدا في عروبتها
… عن النبي روينا فاقتفوا نسكه
وقال المناوي نقلا عن السهيلي: نحوستُه على من تشاءم وتطير، بأن كانت عادته التطير وترك الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم في تركه، وهذه صفة من قل توكله، فذلك الذي تضر نحوسته في تصرفه فيه، ثم قال المناوي والحاصل أن توقي يوم الأربعاء على وجه الطِيَرة وظن اعتقاد المنجمين حرام شديد التحريم، إذ الأيام كلها لله تعالى لا تضر ولا تنفع بذاتها
আর তা ধবল রোগ সৃষ্টি করে; এবং ইবনুল হাজ আল-মালিকী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বুধবার দিন নখ কেটেছিলেন, ফলে তিনি ধবল রোগে আক্রান্ত হন। অতঃপর তিনি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন এবং তাঁর কাছে অভিযোগ করলেন। তখন তিনি বললেন: "তুমি কি এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা শোনোনি?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পক্ষ থেকে হাদীসটি আমার নিকট সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি।" তখন তিনি বললেন: "তোমার জন্য শোনাই যথেষ্ট ছিল।" অতঃপর তিনি তাঁর সম্মানিত হাত তার শরীরের ওপর বুলিয়ে দিলেন, ফলে সমস্ত ধবল রোগ সম্পূর্ণ দূর হয়ে গেল। এই সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা উচিত - সমাপ্ত।
আল-মুনাউয়ী ইবনুল হাজের কাহিনী উল্লেখ করেছেন এবং এতে যোগ করেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: অতঃপর আমি আল্লাহর কাছে নতুনভাবে তাওবা করলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনব, তার বিরোধিতা কখনও করব না।
পরিশিষ্ট: আবু ইয়া'লা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং একইভাবে ইবনে আদী ও তাম্মাম তাঁর 'ফাওয়াইদ'-এ আবু সাঈদ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: শনিবার হলো চক্রান্ত ও প্রতারণার দিন, রবিবার হলো রোপণ ও নির্মাণের দিন, সোমবার হলো সফর ও রিযিক অন্বেষণের দিন, মঙ্গলবার হলো লোহা ও শক্তির দিন, বুধবার হলো না নেওয়া ও না দেওয়ার দিন, বৃহস্পতিবার হলো প্রয়োজন পূরণ ও সুলতানের নিকট প্রবেশের দিন, এবং শুক্রবার হলো খুতবা ও বিবাহের দিন।
সাখাভী বলেছেন, এর সনদ দুর্বল। বুরহানুল ইসলাম হিদায়া গ্রন্থের লেখকের সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, বুধবার দিন কোনো কিছু শুরু করা হলে তা অবশ্যই পূর্ণতা পায়। এই কারণে মাশায়েখগণ দরস বা পাঠদানের সূচনার জন্য এই দিনটিকে বেছে নিতেন; কারণ ইলম হলো নূর, আর নূরের সৃষ্টির দিনেই (বুধবার) তা শুরু করা হতো - সমাপ্ত।
এবং একে মাসের শেষ বুধবার ব্যতীত অন্য সময়ের ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব। সুয়ূতী 'আল-আসফার'-এ নখ কাটার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যে, লোকমুখে কিছু পঙক্তি প্রচলিত আছে যার রচয়িতা অজ্ঞাত এবং সেগুলো নিজেও সহীহ নয়। সেগুলো হলো:
শনিবার নখ কাটলে চর্মরোগ প্রকাশ পায়
… এবং তার পরবর্তী দিনে (রবিবার) বরকত চলে যায়।
তাদের পরবর্তী দিনে (সোমবার) একজন শ্রেষ্ঠ আলিমের আবির্ভাব ঘটে,
… আর মঙ্গলবার হলে ধ্বংস থেকে সতর্ক থাকো।
বুধবার দিনটি চরিত্রে মন্দ প্রভাব সৃষ্টি করে,
… আর বৃহস্পতিবার তার জন্য ঐশ্বর্য নিয়ে আসে যে তা অনুসরণ করে।
আর শুক্রবার দিন তাতে জ্ঞান ও রিযিক বৃদ্ধি পায়
… নবী থেকে আমরা বর্ণনা করেছি, তাই তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করো।
আল-মুনাউয়ী সুহাইলীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: এর অশুভ প্রভাব তার ওপরই পড়ে যে কুসংস্কার ও কুলক্ষণ বিশ্বাস করে; যার অভ্যাস হলো কুলক্ষণ মানা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বর্জনের যে আদর্শ দেখিয়েছেন তা অনুসরণ না করা। এটি ঐ ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য যার তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা কম। ফলে এটি তার কাজকর্মে অশুভ প্রভাব ফেলে। অতঃপর আল-মুনাউয়ী বলেন: সারকথা হলো, কুলক্ষণ হিসেবে এবং জ্যোতিষীদের বিশ্বাসের ন্যায় বুধবার দিনকে পরিহার করা হারাম এবং কঠোরভাবে নিষিদ্ধ; কারণ সমস্ত দিনই আল্লাহর জন্য, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ক্ষতি বা উপকার করতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وبدون ذلك لا ضير ولا محذور، ومن تطير حاقت به نحوسته، ومن أيقن بأنه لا يضر ولا ينفع إلا الله لم يؤثر فيه شئ من ذلك، قال تَعَلَّمْ أنه لا طير إلا على متطير وهو الثبور وفي حديث رواه ابن ماجه عن ابن عمر مرفوعا وخرجه الحاكم من طريقين: لا يبدو جذام ولا برص إلا يوم الأربعاء، وكره بعضهم العيادة يوم الأربعاء، وعليه قيل: لم يؤت في الأربعا مريض
… إلا دفنّاه في الخميس ثم قال المناوي وقفت على أبيات بخط الحافظ الدمياطي، وقال أنها تعزى إلى علي بن أبي طالب رضي الله عنه وهي:
لنعم اليومُ يومُ السبت حقا
… لصيد إن أردت بلا امتراء
وفي الأحد البناء لأن فيه
… تبدَّى اللهُ في خلق السماء
وفي الاثنين إن سافرت فيه
… سترجع بالنجاح وبالثراء
وإن ترد الحجامة فالثلاثا
… ففي ساعاته هرق الدماء
وإن شرب امرؤ يوما دواءً
… فنعم اليوم يوم الأربعاء
وفي يوم الخميس قضاء حاج
… فإن الله يأذن بالقضاء
وفي الجمعات تزويج وعرس
… ولذات الرجال مع النساء
وهذا العلم لا يدريه إلا
… نبي أو وصي الأنبياء
وسيأتي زيادة على ذلك في آخر الكتاب في حديث يوم الأربعاء يوم نحس مستمر.
4 - (آخر ما أدرك الناس من كلام النبوة الأولى إذا لم تستح فاصنع ما شئت) رواه ابن عساكر عن ابن مسعود البدري، وكذا رواه عنه أحمد وأبو داود وابن ماجه، وكذا أحمد عن حذيفة، لكن بلفظ أن مما أدرك الناس من كلام النبوة الأولى إذا لم تستح فاصنع ما شئت.
ورواه البخاري عن ابن مسعود البدري أيضا بلفظ هؤلاء لكن بإسقاط لفظ الأولى فاعرفه، وما أحسن ما قيل:
إذا لم تخش عاقبة الليالي
… ولم تستح فاصنع ما تشاء
فلا والله ما في العش خير
… ولا الدنيا إذا ذهب الحياء
এটি ছাড়া কোনো ক্ষতি বা আশঙ্কার কিছু নেই। আর যে ব্যক্তি কুলক্ষণ গ্রহণ করবে, তার অशुभ পরিণতি তাকে গ্রাস করবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ ক্ষতি বা উপকার করতে পারে না, এসবের কোনো কিছুই তাকে প্রভাবিত করবে না। বলা হয়েছে: জেনে রেখো, কুলক্ষণ কেবল তারই ওপর আপতিত হয় যে কুলক্ষণ গ্রহণ করে, আর তা হলো ধ্বংস। ইবনে মাজাহ ইবনে উমর থেকে মারফু হিসেবে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম এটি দুটি সূত্রে বের করেছেন: বুধবার ছাড়া কুষ্ঠ বা ধবল রোগ প্রকাশ পায় না। তাদের কেউ কেউ বুধবার রোগীকে দেখতে যাওয়া অপছন্দ করতেন। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: বুধবার আমাদের কাছে কোনো রোগী আসেনি
… যাকে আমরা বৃহস্পতিবার দাফন করিনি। এরপর আল-মুনাবি বলেন, আমি হাফেজ দিময়াতির হস্তলিপিতে কিছু কবিতা দেখেছি, তিনি বলেছেন যে এগুলো আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তা হলো:
শনিবার দিনটি সত্যিই কতই না চমৎকার
… শিকারের জন্য যদি তুমি কোনো সংশয় ছাড়াই তা চাও
আর রবিবারে হলো নির্মাণ কাজ, কারণ তাতে
… আল্লাহ আসমান সৃষ্টির কাজে আত্মপ্রকাশ করেছেন
আর সোমবারে যদি তুমি সফর করো
… তবে তুমি সফলতা ও প্রাচুর্যের সাথে ফিরে আসবে
আর যদি তুমি রক্তমোক্ষণ করতে চাও তবে মঙ্গলবার
… কারণ এর সময়গুলোতে রক্ত প্রবাহিত করা হয়
আর যদি কোনো ব্যক্তি কোনো একদিন ওষুধ পান করে
… তবে বুধবার দিনটি কতই না চমৎকার
আর বৃহস্পতিবার হলো প্রয়োজন পূরণের দিন
… কেননা আল্লাহ প্রয়োজন পূরণের অনুমতি প্রদান করেন
আর জুমুআর দিনগুলোতে হলো বিয়ে ও বাসর
… এবং নারীদের সাথে পুরুষদের আনন্দ লাভ
আর এই জ্ঞান কেবল তিনিই জানেন
… যিনি একজন নবী অথবা নবীদের উত্তরসূরি
এর অতিরিক্ত বিবরণ কিতাবের শেষে আসবে, বুধবারের হাদিস প্রসঙ্গে যে এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন অশুভ দিন।
৪ - (পূর্ববর্তী নবুওয়াতের কথাগুলোর মধ্যে যা মানুষ সবশেষে পেয়েছে তা হলো: যদি তুমি লজ্জা না করো, তবে যা ইচ্ছা করো) এটি ইবনে আসাকির ইবনে মাসউদ আল-বদরি থেকে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে আহমদ, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তেমনি আহমদ হুজাইফা থেকেও বর্ণনা করেছেন, তবে এই শব্দে যে: মানুষ পূর্ববর্তী নবুওয়াতের কথাগুলোর মধ্যে যা পেয়েছে তা হলো—যদি তুমি লজ্জা না করো, তবে যা ইচ্ছা করো।
আর বুখারি এটি ইবনে মাসউদ আল-বদরি থেকেও তাদের শব্দের ন্যায় বর্ণনা করেছেন, তবে 'পূর্ববর্তী' শব্দটি বাদ দিয়ে, সুতরাং এটি জেনে রেখো। আর কতই না চমৎকার বলা হয়েছে:
যদি তুমি দিনরাত্রির পরিণামকে ভয় না করো
… এবং লজ্জা না পাও, তবে যা ইচ্ছা করো
আল্লাহর কসম, জীবনে কোনো কল্যাণ নেই
… এবং পৃথিবীতেও নয়, যখন লজ্জা চলে যায়
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
5 - (آخر ما تكلم به إبراهيم عليه الصلاة والسلام حين ألقي في النارِ حسبي الله ونعم الوكيل) رواه الخطيب البغدادي بسند ضعيف عن أبي هريرة وقال الخطيب غريب، والمحفوظ عن ابن عباس موقوفا، وسيأتي في حرف الحاء المهملة حسبي الله ونعم الوكيل مع الكلام عليه بأبسط.
6 - (آخر من يدخل الجنةَ رجل يقال له جهينة فيقول أهل الجنة: عند جهينة الخبر اليقين) رواه الخطيب في رواه مالك عن ابن عمر رضي الله عنهما، وفي رواية عن ابن عمر رفعه بلفظ: إن آخر من يدخل الجنة رجل من جهينة يقال له جهينة.
الحديث، ورواه الدارقطني في غريب مالك بزيادة في آخره وهي: سلوه هل بقي من الخلائق أحد يعذب؟ فيقول: لا، وحكى السهيلي أنه جاء أن اسمه هناد.
7 - (آخر الطّب الكيُ.)
قال في الأصل هو من كلام بعض الناس، وليس بحديث والمراد أنه بعد انقطاع طرق الشفاء يعالج بالكي، ولذا حمل العلماء قوله صلى الله عليه وسلم وأنهي أمتي عن الكي على ما إذا وجد طريق غيره مرجو للشفاء، وقال القاري في موضوعاته الكبرى والمشهور كما قال العسقلاني في أمثلة العرب آخر الداء الكي والمعنى آخر الشفاء من الداء الكي.
8 - (أوتيت جوامع الكلم، واختصر لي الكلام اختصارا) رواه العسكري في الأمثال عن جعفر بن محمد عن أبيه مرسلا بهذا اللفظ، لكن في سنده من لم يعرف، ورواه الديلمي بلا سند عن ابن عباس رفعه بلفظ: أعطيت جوامع الكلم واختصر لي الكلام اختصارا، ورواه الشيخان لكن بلفظ بعثت بجوامع الكلم، وفي خبر أحمد أوتيت فواتح الكلم وخواتمه وجوامعه، وروى البيهقي عن عمر بن الخطاب أنه مر برجل يقرأ كتابا من التوراة، فذكر للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: إنما بعثت فاتحا وخاتما، وأعطيت جوامع الكلم وفواتحه، واختصر لي الحديث اختصارا.
ولأبي يعلى عن خالد بن عرفط قال كنت عند عمر فجاء رجل فذكره، وفيه فقال النبي صلى الله عليه وسلم يا أيها الناس أوتيت جوامع الكلم وخواتمه، واختصر لي الكلام اختصارا، وفي رواية
৫ - (ইবরাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়, তখন তাঁর শেষ কথা ছিল: "আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক") এটি খতিব বাগদাদি আবু হুরায়রা থেকে দুর্বল সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং খতিব একে 'গারিব' (অদ্ভুত) বলেছেন। তবে ইবনে আব্বাস থেকে এটি 'মাওকুফ' (সাহাবির উক্তি) হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। 'হা' (ح) বর্ণের অধীনে "হাসবিআল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল" সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।
৬ - (জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী ব্যক্তি হবে জুহাইনা নামক এক ব্যক্তি। তখন জান্নাতবাসীরা বলবে: জুহাইনার কাছেই নিশ্চিত খবর রয়েছে।) এটি খতিব 'রিওয়াতু মালিক' গ্রন্থে ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে উমরের অন্য এক মারফু বর্ণনায় শব্দগুলো হলো: "নিশ্চয়ই জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী ব্যক্তি হবে জুহাইনা গোত্রের একজন লোক, যাকে জুহাইনা বলা হয়।"
হাদিসটি পূর্ণ হলো। আর দারাকুতনি 'গারিবু মালিক' গ্রন্থে এর শেষে বর্ধিত অংশে বর্ণনা করেছেন: "তাকে জিজ্ঞেস করো, মাখলুকাতের মধ্যে কি আর কেউ বাকি আছে যাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? সে বলবে: না।" সুহাইলি বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর নাম 'হান্নাদ' হিসেবেও এসেছে।
৭ - (চিকিৎসার শেষ ধাপ হলো দাগ দেওয়া বা সেঁক দেওয়া।)
মূল গ্রন্থে বলা হয়েছে, এটি কিছু মানুষের কথা, এটি কোনো হাদিস নয়। এর উদ্দেশ্য হলো, আরোগ্যের সব পথ বন্ধ হয়ে গেলে আগুনের সেঁক বা দাগ দেওয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এ কারণেই ওলামায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী—"আমি আমার উম্মতকে দাগ দিতে নিষেধ করছি"—একে সেই প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেছেন যখন আরোগ্যের জন্য অন্য কোনো বিকল্প পথ বিদ্যমান থাকে। মোল্লা আলি কারি তার 'মাওজুয়াতে কুবরা' গ্রন্থে বলেছেন, আসকালানি যেমনটি 'আমসালুল আরব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, প্রসিদ্ধ কথাটি হলো "রোগের শেষ চিকিৎসা হলো দাগ দেওয়া" এবং এর অর্থ হলো রোগ থেকে আরোগ্যের শেষ উপায় হলো দাগ দেওয়া।
৮ - (আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণী প্রদান করা হয়েছে এবং আমার জন্য কথাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে) আসকারি 'আল-আমসাল' গ্রন্থে জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে তাঁর পিতার মাধ্যমে মুরসাল হিসেবে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি পরিচিত নন। দাইলামি কোনো সনদ ছাড়াই ইবনে আব্বাস থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণী দান করা হয়েছে এবং আমার জন্য কথাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।" বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন কিন্তু শব্দগুলো হলো: "আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণীসহ পাঠানো হয়েছে।" আহমদের বর্ণনায় এসেছে: "আমাকে বাণীর সূচনা, সমাপ্তি এবং এর নির্যাস প্রদান করা হয়েছে।" বায়হাকি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে তাওরাতের একটি কিতাব পড়ছিল। তিনি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "আমি তো উন্মোচনকারী এবং সমাপ্তকারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। আমাকে বাণীর নির্যাস এবং এর সূচনা দান করা হয়েছে এবং আমার জন্য কথাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।"
আবু ইয়ালা খালিদ ইবনে উরফুতাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উমরের কাছে ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি এসে এটি উল্লেখ করল। তাতে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে লোকসকল! আমাকে বাণীর নির্যাস ও এর সমাপ্তি দান করা হয়েছে এবং আমার জন্য কথাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।" আর এক বর্ণনায়...
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ابن سيرين عن أبي هريرة أعطيت فواتح الكلم وفي أخرى أعطيت مفاتيح الكلم، وفي أخرى أعطيت جوامع الكلم، وفي حديث أبي موسى أعطيت فواتح الكلم وخواتمه، قلنا يا رسول الله علمنا مما علمك الله فعلمنا التشهد، ورواه أيضا في المختارة عن عمر بن الخطاب بلفظ آخر مع بيان سبب وروده، قال عمر فانطلقت أنا فانتسخت كتابا من أهل الكتاب، ثم جئت به في أديم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما هذا في يدك يا عمر؟ قلت يا رسول الله كتاب نسخته لنزداد به علما إلى علمنا، فغضب رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى احمرت وجنتاه، ثم نودي بالصلاة جامعة، فقالت الأنصار أغضِب نبيكم، السلاح السلاح فجاءوا حتى احدقوا بيمين رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم: يا أيها الناس إني أوتيت جوامع الكلم وخواتيمه واختصر لي الكلام اختصارا، ولقد أتيتكم بها بيضاء نقية، فلا تَتَهَّوكوا، ولا يغَّرنكم المتهِّوكون، قال عمر فقمت، فقلت رضيت بالله ربا وبالإسلام دينا وبك رسولا، ثم نزل رسول الله صلى الله عليه وسلم انتهى.
والمتهوكون جمع متهوك بتشديد الواو مكسورة وبالكاف، قال في القاموس المتهوك المتحير كالهواك كشداد، والساقط في هوة الردى.
9 - (ائتدموا بالزيت، وادهنوا به، فإنه يخرج من شجرة مباركة) رواه الترمذي في العلل، وقال مرسل، وابن ماجه والحاكم وقال على شرطهما، والبيهقي والدارقطني في الأفراد، وأبو يعلى وعبد بن حميد عن ابن عمر ورواه الطبراني في الأوسط عن ابن عباس بلفظ ائتدموا من هذه الشجرة - يعني الزيت - ومن عرض عليه طيب فليصب منه، وقد رمز السيوطي في جامعه لضعفه.
10 - (ائتدموا ولو بالماء) رواه الطبراني في الأوسط وأبو نعيم والخطيب وتمام عن عبد الله بن عمرو بن العاص، قال ابن الجوزي لا يصح، فيه مجهول، وآخر ضعيف، وقال البيهقي (1) فيه عريك بن سنان لم أعرفه وبقية رجاله ثقات.
11 - (آدم فمن دونه تحت لوائي يوم القيامة) رواه أحمد وأبو يعلى عن
--------------------------------------------
ইবনে সিরীন আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, (রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:) আমাকে কথার প্রারম্ভসমূহ প্রদান করা হয়েছে, অন্য বর্ণনায় রয়েছে কথার চাবিকাঠিসমূহ এবং অন্য বর্ণনায় সারগর্ভ সংক্ষিপ্ত বাণী (জাওয়ামিউল কালিম) প্রদান করা হয়েছে। আবু মুসা (রা.)-এর হাদিসে রয়েছে, আমাকে কথার প্রারম্ভ ও সমাপ্তি উভয়ই প্রদান করা হয়েছে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে আমাদের শেখান। তখন তিনি আমাদের তাশাহহুদ শেখালেন। আল-মুখতারা গ্রন্থে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে এটি ভিন্ন শব্দে এর প্রেক্ষাপটসহ বর্ণিত হয়েছে। উমর (রা.) বলেন, আমি গেলাম এবং আহলে কিতাবদের থেকে একটি কিতাব অনুলিপি করলাম, তারপর আমি তা একটি চামড়ার টুকরোয় লিখে নিয়ে এলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে উমর! তোমার হাতে ওটা কী? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এটি একটি কিতাব যা আমি অনুলিপি করেছি যাতে আমাদের বর্তমান জ্ঞানের সাথে আরও জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) রাগান্বিত হলেন এমনকি তাঁর দুই গাল লাল হয়ে গেল। এরপর সালাতের জন্য সম্মিলিত হওয়ার আহ্বান জানানো হলো। আনসাররা বললেন, তোমাদের নবী রাগান্বিত হয়েছেন, অস্ত্র ধরো, অস্ত্র ধরো। তারা এলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চারপাশ ঘিরে ধরলেন। তখন নবী (সা.) বললেন: হে লোকসকল! আমাকে সারগর্ভ সংক্ষিপ্ত বাণী ও এর সমাপ্তি প্রদান করা হয়েছে এবং আমার জন্য কথাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। আমি তোমাদের কাছে তা উজ্জ্বল ও পরিষ্কার অবস্থায় নিয়ে এসেছি। সুতরাং তোমরা বিভ্রান্ত হয়ো না এবং বিভ্রান্তরা যেন তোমাদের প্রলুব্ধ না করে। উমর (রা.) বলেন, আমি দাঁড়ালাম এবং বললাম, আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং আপনাকে রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) অবতরণ করলেন। সমাপ্ত।
আর 'আল-মুতাহাওউইকুন' শব্দটি 'মুতাহাওউইক'-এর বহুবচন, যা 'ওয়াও' বর্ণে তাশদীদ ও কাসরা এবং শেষে 'কাফ' যোগে গঠিত। 'আল-কামুস' গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'আল-মুতাহাওউইক' অর্থ বিভ্রান্ত বা কিংকর্তব্যবিমূঢ়, যেমন 'শাদ্দাদ' এর ওজনে 'হাওওয়াক' শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এর অন্য অর্থ হলো ধ্বংসের গর্তে নিপতিত ব্যক্তি।
৯ - (তোমরা যয়তুনের তেলকে তরকারি হিসেবে ব্যবহার করো এবং তা শরীরে মাখো; কেননা এটি একটি বরকতময় গাছ থেকে নির্গত হয়) এটি তিরমিজি 'আল-ইলাল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি মুরসাল। ইবনে মাজাহ ও হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি তাঁদের শর্তানুযায়ী (সহিহ)। বায়হাকী ও দারা কুতনী 'আল-আফরাদ' গ্রন্থে এবং আবু ইয়ালা ও আবদ বিন হুমাইদ ইবনে উমর (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তাবারানী 'আল-আওসাত' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন— "তোমরা এই গাছ অর্থাৎ যয়তুন থেকে তরকারি গ্রহণ করো।" এবং যার কাছে সুগন্ধি পেশ করা হয় সে যেন তা গ্রহণ করে। সুয়ূতী তাঁর 'জামে' গ্রন্থে এর দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
১০ - (তোমরা তরকারি গ্রহণ করো যদিও তা কেবল পানি দিয়ে হয়) এটি তাবারানী 'আল-আওসাত' গ্রন্থে, আবু নুয়াইম, খতীব এবং তামমাম আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওযী বলেন এটি সহিহ নয়, এতে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি এবং অপর একজন দুর্বল বর্ণনাকারী আছে। বায়হাকী বলেন, এতে আরীক বিন সিনান আছে যাকে আমি চিনি না, তবে এর বাকি বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য।
১১ - (আদম এবং তাঁর পরবর্তী সকলেই কিয়ামতের দিন আমার পতাকার নিচে থাকবে) এটি আহমাদ ও আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ابن عباس مرفوعا من حديث، صدره: أنه لم يكن نبي إلا له دعوة قد تنجزها في الدنيا، وإني قد اختبأت دعوتي شفاعة لأمتي، وأنا سيد ولد آدم يوم القيامة ولا فخر وأنا أول من تنشق عنه الأرض ولا فخر، وبيدي لواء الحمد ولا فخر، آدم فمن دونه يوم القيامة تحت لوائي ولا فخر.
ورواه أحمد والترمذي وابن ماجه عن أبي سعيد الخدري بلفظ: أنا سيد ولد آدم يوم القيامة ولا فخر، وبيدي لواء الحمد ولا فخر، وأنا أول شافع وأول مشفع ولا فخر، وما من نبي يومئذ آدم فمن دونه إلا تحت لوائي، وأنا أول من تنشق عنه الأرض ولا فخر، قال أبو العباس المرسي قدس سره معنى قوله صلى الله عليه وسلم أنا سيد ولد آدم ولا فخر أي ولا أفتخر بالسيادة وإنما فخري بالعبودية قال: لا (1) تدعني إلا بيا عبدها
… فإنه أشرف أسمائي ونقل عن الشيخ الأكبر قدس سره الأنوار أنه روى الحديث بلفظ ولا فخز بالزاي بدل الراء، أي ولا تكبر.
12 - (الآدمي كالنخلة إذا قطع رأسه مات) انظر هل هو حديث أم لا، وذكره في شرح الأزهرية مثالا للكاف الجارة، ولم يتعرض له الحلبي في شرحه وهو من القلب على حد قوله كما طينت بالغدن السياعا
13 - (آفة الكذب النسيان) قال في التمييز أورده جمع من الحفاظ في مصنفاتهم بسند فيه ضعف وانقطاع وقال في الأصل رواه القضاعي والديلمي عن علي مرفوعا بلفظ آفة الحديث الكذب وآفة العلم النسيان، وسنده ضعيف، لكنه صحيح المعنى ورواه الدارمي والعسكري عن الأعمش مرفوعا معضلا أو مرسلا بلفظ آفة العلم النسيان وإضاعته أن تحدِّث به غير أهله ورواه الخلعي في فوائده عن رُؤْبة (2) بن العجاج أنه قال قال لي أن النسابة البكري: للعلم آفة ونكد وهجنة فآفته نسيانه ونكده الكذب
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীসের প্রথমাংশে রয়েছে: নিশ্চয়ই এমন কোনো নবী নেই যার জন্য একটি বিশেষ প্রার্থনা (দুআ) ছিল না যা তিনি দুনিয়াতেই পূরণ করে নিয়েছেন, আর আমি আমার প্রার্থনাকে আমার উম্মতের সুপারিশের জন্য জমা রেখেছি। কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানদের সরদার হব, এতে কোনো অহংকার নেই। আর আমিই প্রথম ব্যক্তি যার থেকে জমিন বিদীর্ণ হবে, এতে কোনো অহংকার নেই। আমার হাতেই থাকবে প্রশংসার পতাকা, এতে কোনো অহংকার নেই। কিয়ামতের দিন আদম এবং তার পরবর্তী সকলে আমার পতাকার নিচে থাকবে, এতে কোনো অহংকার নেই।
আর আহমাদ, তিরমিযী এবং ইবনে মাজাহ আবু সাঈদ খুদরী থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের সরদার হব, এতে কোনো অহংকার নেই। আমার হাতে প্রশংসার পতাকা থাকবে, এতে কোনো অহংকার নেই। আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং প্রথম ব্যক্তি যার সুপারিশ কবুল করা হবে, এতে কোনো অহংকার নেই। সেদিন আদম এবং তার পরবর্তী সকল নবীই আমার পতাকার নিচে থাকবেন। আর আমিই প্রথম ব্যক্তি যার থেকে জমিন বিদীর্ণ হবে, এতে কোনো অহংকার নেই। আবু আল-আব্বাস আল-মুরসী (আল্লাহ তার রহস্য পবিত্র করুন) বলেছেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী "আমি আদম সন্তানদের সরদার, এতে কোনো অহংকার নেই"-এর অর্থ হলো, আমি এই সরদারিত্ব নিয়ে গর্ব করি না, বরং আমার প্রকৃত গর্ব হলো আমার দাসত্ব বা বন্দেগিতে। তিনি (কবি) বলেছেন: তুমি আমাকে 'হে তার দাস' ব্যতীত অন্য কোনো নামে ডেকো না... কারণ এটাই আমার শ্রেষ্ঠ নাম। আর শায়খুল আকবার (আল্লাহ তার নূরসমূহ পবিত্র করুন) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হাদীসটি 'রা' বর্ণের পরিবর্তে 'যা' যোগে 'ওয়া লা ফাখযা' শব্দে বর্ণনা করেছেন, যার অর্থ হলো— কোনো বড়ত্ব বা অহংকার প্রকাশ করো না।
১২ - (মানুষ খেজুর গাছের মতো, যখন তার মাথা কাটা হয় তখন সে মারা যায়) দেখুন এটি হাদীস কি না। এটি শরহে আযহারিয়া-তে 'কাফ' বর্ণটির (উপমা অর্থে) উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হালাবী তার ব্যাখ্যায় এ নিয়ে আলোচনা করেননি। এটি মূলত একটি কাব্যের চরণের মতো ভাষাগত পরিবর্তনের (কলব) উদাহরণ, যেমনটি বলা হয়: "যেভাবে আমি কাদা দিয়ে লেপন করেছি চুনকাম করা দেয়াল"।
১৩ - (মিথ্যার আপদ হলো ভুলে যাওয়া) 'তাময়ীয়' কিতাবে বলা হয়েছে, একদল হাফেযে হাদীস তাদের সংকলনগুলোতে এটি এমন সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে দুর্বলতা ও বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। মূল গ্রন্থে বলা হয়েছে, আল-কুদায়ী এবং আদ-দায়লামী আলী থেকে মারফু সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: হাদীসের আপদ হলো মিথ্যা এবং ইলমের আপদ হলো ভুলে যাওয়া। এর সনদ দুর্বল, তবে এর অর্থ সঠিক। আর আদ-দারেমী ও আল-আসকারী আল-আমাশ থেকে মারফু সূত্রে মুদাল অথবা মুরসাল হিসেবে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: ইলমের আপদ হলো ভুলে যাওয়া এবং এর অপচয় হলো অযোগ্য ব্যক্তির কাছে তা বর্ণনা করা। আল-খালাঈ তার 'ফাওয়াইদ' গ্রন্থে রু’বা ইবনুল আজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, নসাবা আল-বাকরী আমাকে বলেছেন: ইলমের জন্য আপদ, গ্লানি ও দোষ রয়েছে। এর আপদ হলো ভুলে যাওয়া এবং এর গ্লানি হলো মিথ্যা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فيه، وهجنته نشره عند غير أهله، وعزاه النجم بلفظ الترجمة لابن عدي في الكامل وعن القسم بن محمد قال أعاننا الله على الكذابين بالنسيان، وله عن عبد الله بن المختار قال آفة العلم الكذب، وآفته النسيان، والذي في المرفوع آفة الحديث الكذب وآفة العلم النسيان أخرجه ابن عدي والقضاعي والديلمي بسند ضعيف، ورواه البيهقي
عن ابن مسعود موقوفا بلفظ آفة الحديث النسيان، وفي سنده انقطاع، وأقول رواه القضاعي مطولا بلفظ آفة الحديث الكذب، وآفة العلم النسيان، وآفة الحلم السفه، وآفة العبادة الفترة، وآفة الشجاعة البغي، وآفة السماحة المن، وآفة الجمال الخيلاء وآفة الحسب الفخر، وآفة الظرف الصلف، وآفة الجود السرف، وآفة الدين الهوى.
14 - (آفة الدين ثلاثة: فقيه فاجر، وإمام جائر، ومجتهد جاهل) قال في الجامع الكبير رواه الديلمي عن ابن عباس.
15 - (آكل كما يأكل العبد، وأجلس كما يجلس العبد) رواه ابن سعد بسند حسن وأبو يعلى عن عائشة، وفي رواية البيهقي عن يحيى بن أبي كثير مرسلا بزيادة فإنما أنا عبد، ورواه هناد في الزهد كما في ذيل الجامع عن عمرو بن مرة مرسلا بلفظ آكل كما يأكل العبد، فوالذي نفسي بيده لو كانت الدنيا تزن عند الله جناح بعوضة ما سقى منها كافرا كأسا.
16 - (آل القرآن آل الله) رواه الخطيب في رواه مالك عن أنس، قال في الميزان هو خبر باطل، وأقول لكن يشهد له ما أخرجه أبو عبيدة والبزار وابن ماجه عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: إن لله تعالى أهلين من الناس، قيل من هم يا رسول الله؟ قال أهل القرآن، هم أهل الله وخاصته.
17 - (آل محمد كل تقي) قال السيوطي لا أعرفه، وقال في الأصل رواه الديلمي وتمام بأسانيد ضعيفة، فلفظ تمام عن أنس سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم من آل محمد؟ فقال كل تقي من أمة محمد، ولفظ الديلمي آل محمد كل تقي، ثم قرأ (إن أولياؤه إلا المتقون) ولكن شواهده كثيرة، منها ما في الصحيحين من قوله صلى الله عليه وسلم
এতে রয়েছে, এবং এর কুশ্রীতা হলো একে অযোগ্য ব্যক্তির নিকট প্রকাশ করা। আন-নাজম একে ইবনে আদীর 'আল-কামিল' গ্রন্থ থেকে অনুবাদের শব্দে উদ্ধৃত করেছেন। কাসিম ইবন মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধে বিস্মৃতির মাধ্যমে আমাদের সাহায্য করেছেন। তাঁর সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুখতার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইলমের আপদ হলো মিথ্যা, আর এর আপদ হলো বিস্মৃতি। আর যা মারফূ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছানো) সূত্রে বর্ণিত তা হলো: হাদীসের আপদ হলো মিথ্যা এবং ইলমের আপদ হলো বিস্মৃতি। এটি ইবনে আদী, আল-কুদায়ী এবং আদ-দাইলামী দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। আল-বায়হাকী
ইবনে মাসউদ থেকে মাওকূফ সূত্রে (সাহাবীর বক্তব্য হিসেবে) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: হাদীসের আপদ হলো বিস্মৃতি, তবে এর সনদে ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে। আমি বলি, আল-কুদায়ী এটি বিস্তারিতভাবে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: হাদীসের আপদ মিথ্যা, ইলমের আপদ বিস্মৃতি, সহনশীলতার আপদ মূর্খতা, ইবাদতের আপদ শৈথিল্য, বীরত্বের আপদ সীমা লঙ্ঘন, মহানুভবতার আপদ খোটা দেওয়া, সৌন্দর্যের আপদ অহংকার, বংশমর্যাদার আপদ গর্ব করা, চতুরতার আপদ ধৃষ্টতা, দানশীলতার আপদ অপব্যয় এবং দ্বীনের আপদ কুপ্রবৃত্তি।
১৪ - (দ্বীনের আপদ তিনটি: পাপাচারী ফকীহ, জালেম শাসক এবং মূর্খ মুজতাহিদ) 'আল-জামে আল-কাবীর' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, আদ-দাইলামী ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
১৫ - (আমি আহার করি যেভাবে একজন দাস আহার করে এবং আমি বসি যেভাবে একজন দাস বসে) ইবনে সাদ হাসান সনদে এবং আবু ইয়ালা আয়েশা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আল-বায়হাকীর বর্ণনায় ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে মুরসাল সূত্রে অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে: কেননা আমি তো কেবল একজন দাস। হান্নাদ 'আয-যুহদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি জামে-এর পরিশিষ্টে আমর ইবনে মুররা থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এই শব্দে: আমি আহার করি যেভাবে একজন দাস আহার করে। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, দুনিয়া যদি আল্লাহর নিকট একটি মশার ডানার সমান মূল্যবান হতো, তবে তিনি কোনো কাফিরকে তা থেকে এক ঢোক পানিও পান করাতেন না।
১৬ - (কুরআনের পরিবারভুক্তগণ আল্লাহর পরিবারভুক্ত) আল-খাতীব 'রুওয়াতু মালিক' গ্রন্থে আনাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। 'আল-মিযান' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এটি একটি বাতিল সংবাদ। আমি বলি, তবে আবু উবায়দাহ, আল-বাযযার এবং ইবনে মাজাহ আনাস থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে যা বর্ণনা করেছেন তা এর সাক্ষ্য দেয়, তিনি বলেছেন: মানুষের মধ্যে আল্লাহর কিছু পরিবারভুক্ত লোক রয়েছে। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কারা? তিনি বললেন: কুরআনের পরিবারভুক্ত লোকগণ, তারা আল্লাহর পরিবারভুক্ত এবং তাঁর বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত।
১৭ - (মুহাম্মাদের পরিবার হলো প্রত্যেক মুত্তাকী ব্যক্তি) আস-সুয়ূতী বলেছেন: আমি এটি চিনি না। মূলে (আসলে) বলা হয়েছে যে, আদ-দাইলামী এবং তাম্মাম এটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। তাম্মামের শব্দে আনাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো: মুহাম্মাদের পরিবার কারা? তিনি বললেন: মুহাম্মাদের উম্মতের প্রত্যেক মুত্তাকী ব্যক্তি। আদ-দাইলামীর শব্দ হলো: মুহাম্মাদের পরিবার হলো প্রত্যেক মুত্তাকী ব্যক্তি, অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: (মুত্তাকীরা ব্যতীত অন্য কেউ আল্লাহর বন্ধু নয়)। তবে এর অনেক সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে সহীহাইনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إن آل أبي فلان ليسوا لي بأولياء، إنما وليَّي الله وصالحوا المؤمنين، وقال الشيخ محمد
الزرقاني في مختصر المقاصد الحسنة هو حسن لغيره انتهى.
وقال النجم وفي لفظ سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم من آل محمد؟ فقال كل تقي، قال وروي عن علي رضي الله عنه وأنه السائل، وأسانيده ضعيفة، ولكن له شواهد، قال ورأيته في بعض كتب النحو بلفظ آلي كل مؤمن تقي، ويستشهد به على إضافة الآل إلى الضمير انتهى وقد بين السخاوي شواهده في كتابه ارتقاء الغرف، وقد حمل الحليمي الحديث على كل تقي من قرابته خاصة دون عموم المؤمنين، لحديث أنه صلى الله عليه وسلم كان إذا ضحى أتى بكبشين فذبح أحدهما عن أمته من شهد لله بالتوحيد وشهد له بالبلاغ، وذبح الآخر عن محمد وآل محمد انتهى، وأقول ينبغي حمل هذه الأحاديث وما أشبهها على الكاملين من آله، وإلا فلا شك أن من صحت نسبته إليه فهو من آله وإن لم يكن تقيا حيث كان مؤمنا، لأن العقوق لا يقطع النسب، ومحبتهم لكونهم من آله متحتمة على كل مؤمن لشرفهم بالانتساب إليه صلى الله عليه وسلم قال الله تعالى (قل لا أسألكم عليه أجرا إلا المودة في القربى)
… وفي هذا مع زيادة قلت:
لقد حاز آل المصطفى أشرف الفخر
… بنسبتهم للطاهر الطيب الذكر
فحبهم فرض على كل مؤمن
… أشار إليه الله في محكم الذكر
ومن يدعي من غيرهم نسبة له
… فذلك ملعون أتى أقبح الوزر
وقد خص منهم نسل زهراء الأشرف
… بأطراف تيجان من السندس الخضر
ويغنيهم عن لبس ما خصهم به
… وجوه لهم أبهى من الشمس والبدر
ولم يمتنع من غيرهم لبس أخضر
… على رأي من يعزى لأُسْيوط ذي الخبر
وقد صححوا عن غيره حرمة الذي
… رآه مباحا فأعلم الحكم بالسبر
18 - (آمين خاتم رب العالمين على لسان عباده المؤمنين) رواه ابن عدي والطبراني في الدعاء عن أبي هريرة، ورمز في الجامع الصغير لضعفه.
19 - (آمن شعر أمية بن أبي الصلط وكفر قلبه) رواه أبو بكر بن الأنباري
নিশ্চয়ই অমুক বংশের লোকেরা আমার বন্ধু নয়, বরং আমার বন্ধু হলেন আল্লাহ এবং নেককার মুমিনগণ। আর শায়খ মুহাম্মদ
আয-যুরকানি 'মুখতাসারুল মাকাসিদ আল-হাসানাহ' গ্রন্থে বলেছেন, এটি হাসান লি-গাইরিহি। সমাপ্ত।
নাজম বলেছেন, একটি শব্দে এসেছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: মুহাম্মাদের পরিবার (আল) কারা? তিনি বললেন: প্রত্যেক মুত্তাকি। তিনি বলেছেন, এটি আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি ছিলেন প্রশ্নকারী, এর সনদসমূহ দুর্বল, কিন্তু এর শাহেদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, আমি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের কিছু কিতাবে একে 'আমার পরিবার হলো প্রত্যেক মুমিন মুত্তাকি' শব্দে দেখেছি, এবং এটি সর্বনামের সাথে 'আল' শব্দটির সম্বন্ধ (ইদাফাহ) করার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সমাপ্ত। আর সাখাভি তাঁর 'ইরতিকাউল গুরাফ' কিতাবে এর শাহেদসমূহ বর্ণনা করেছেন। হালিমি এই হাদিসটিকে সাধারণ মুমিনদের বাদ দিয়ে বিশেষ করে তাঁর নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে প্রত্যেক মুত্তাকির ওপর প্রয়োগ করেছেন। কেননা হাদিসে এসেছে যে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কুরবানি দিতেন, তখন দুটি দুম্বা নিয়ে আসতেন, তার একটি জবেহ করতেন তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে যারা আল্লাহর তাওহিদ এবং তাঁর রিসালাতের সাক্ষ্য দিত, আর অন্যটি জবেহ করতেন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের পক্ষ থেকে। সমাপ্ত। আমি বলব, এই হাদিসগুলো এবং এর অনুরূপ বর্ণনাগুলোকে তাঁর পরিবারের পরিপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর প্রয়োগ করা উচিত, অন্যথায় এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যার বংশীয় সম্পর্ক তাঁর সাথে সহিহ প্রমাণিত, সে তাঁর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত যদিও সে মুত্তাকি না হয় যতক্ষণ সে মুমিন থাকে। কারণ অবাধ্যতা বংশীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে না, আর তাঁর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে তাঁদের ভালোবাসা প্রত্যেক মুমিনের ওপর আবশ্যক, কেননা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে তাঁরা মর্যাদাবান। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, (বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না নিকটাত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া)
… এর সাথে অতিরিক্ত কিছু মিলিয়ে আমি বলেছি:
মুস্তফার পরিবার সর্বোচ্চ গৌরব অর্জন করেছেন
… সেই পবিত্র ও উত্তম স্মৃতির সত্তার সাথে তাঁদের বংশীয় সম্পর্কের কারণে।
সুতরাং তাঁদের ভালোবাসা প্রত্যেক মুমিনের ওপর ফরজ
… যেদিকে আল্লাহ স্বীয় সুসংহত কিতাবে ইঙ্গিত করেছেন।
আর তাঁদের বাইরে যে কেউ তাঁর সাথে বংশীয় সম্পর্কের দাবি করে
… সে অভিশপ্ত, যে নিকৃষ্টতম পাপ করেছে।
আর তাঁদের মধ্য থেকে মহীয়সী যাহরার বংশধরদের বিশেষিত করা হয়েছে
… সবুজ রেশমের মুকুটের অগ্রভাগ দ্বারা।
আর তাঁদের সেই বিশেষ পোশাক পরিধান করা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়
… তাঁদের চেহারাগুলো যা সূর্য ও চন্দ্রের চেয়েও উজ্জ্বল।
আর অন্যদের জন্য সবুজ পোশাক পরা নিষিদ্ধ নয়
… আসইউতের অধিবাসী সেই অভিজ্ঞ আলিমের মতানুসারে।
আর অন্যরা তাঁর এই অভিমতকে ভুল বলে একে হারাম সাব্যস্ত করেছেন
… যাকে তিনি বৈধ মনে করেছিলেন, সুতরাং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে হুকুমটি জেনে নাও।
১৮ - (আমিন হলো মুমিন বান্দাদের জবানে রাব্বুল আলামিনের মোহর)। এটি ইবনে আদি এবং তাবারানি 'আদ-দুআ' গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, আর 'আল-জামি আস-সাগির' গ্রন্থে এর দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৯ - (উমাইয়া ইবনে আবিস সালতের কবিতা ঈমান এনেছে কিন্তু তার অন্তর কুফরি করেছে)। এটি আবু বকর ইবনুল আম্বারি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ২০)
في كتاب المصاحف، والخطيب وابن عساكر عن ابن عباس، قال المناوي ما حاصله وسند الحديث ضعيف ورواه أيضا عن ابن عباس الفاكهي وابن مندة، وسبب ذكره أن الفارعة بنت أبي الصلط أخت أمية أتت رسول الله صلى الله عليه وسلم فأنشدته من شعر أمية أخيها فذكره وروى مسلم عن عمر بن الشريد قال ردفت النبي صلى الله عليه وسلم، فقال هل معك من شعر أمية؟ قلت نعم، فأنشدته مائة بيت فقال لقد كاد أن يسلم في شعره ومنه: مليك على عرش السماء مهيمن
… لعزته تعنو الوجوه وتسجد والشمس تطلع كل آخر ليلة
… حمراء يصبح لونها يتورد تأتي فما تطلع لنا في رسلها
… إلا معذبة وإلا تجلد وأعترض عليه في قوله إلا معذبة وإلا تجلد، فقال ابن عباس والذي نفسي بيده ما طلعت الشمس قط حتى ينخسها سبعون ألف ملك فيقولون لها اطلعي فتقول لا أطلع على قوم يعبدوني من دون الله تعالى، فيأتيها ملك فتشعل لضياء بني آدم، فيأتيها شيطان يريد أن يصدها عن الطلوع فتطلع بين قرنيه، فيحرقه الله تعالى تحتها انتهى إلى غير ذلك من الشعر العجيب، لكنه مات كافر القلب كما قال نبينا عليه السلام، قالوا وعاش أمية إلى أن أدرك وقعة بدر، ورثى من مات بها من الكفار، ومات كافرا أيام حصار الطائف انتهى، ومن شعره أيضا:
يا رب لا تجعلني كافرا أبدا
… وأجعل سريرة قلبي الدهر إيمانا
ومنه أيضا قوله عند قرب موته:
كل عيش وإن تطاول دهرا
… صائر أمره إلى أن يزولا
ليتني كنت قبل ما قد بدا لي
… في رؤوس الجبال أرعى الوعولا
إن يوم الحساب يوم عظيم
… شاب فيه الوليد يوما ثقيلا
20 - (آية الكرسي ربع القرآن) قال السيوطي في الجامعين رواه أبو الشيخ في الثواب عن أنس، ورمز في الصغير لحسنه.
কিতাবুল মাসাহিফ-এ এবং খতিব ও ইবনে আসাকির ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। মুনাভি এর সারসংক্ষেপ হিসেবে বলেছেন যে, হাদিসটির সনদ দুর্বল। ফাকিহি এবং ইবনে মানদাহ-ও এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি উল্লেখ করার কারণ হলো, উমাইয়া ইবনে আবিস সালতের বোন ফারিকা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসেছিলেন এবং তাঁকে তাঁর ভাই উমাইয়ার কবিতা শুনিয়েছিলেন, তাই তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। মুসলিম উমর ইবনে শারীদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে সওয়ার হয়েছিলাম, তখন তিনি বললেন, তোমার কাছে কি উমাইয়ার কোনো কবিতা আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন আমি তাঁকে একশটি পঙক্তি শোনালাম। তিনি বললেন, সে তো তার কবিতায় প্রায় মুসলিম হয়ে গিয়েছিল। তার কবিতার অংশ হলো: আকাশের আরশের উপর এক রাজাধিরাজ, যিনি সর্বনিয়ন্তা
… তাঁর মহিমার নিকট সকল মুখমণ্ডল অবনত হয় এবং সিজদাবনত হয়। আর সূর্য উদিত হয় প্রতি রাতের শেষে
… রক্তিম বর্ণে, যার রঙ গোলাপী হয়ে প্রকাশ পায়। সে আসে কিন্তু তার স্বাভাবিক গতিতে আমাদের নিকট উদিত হয় না
… বরং দণ্ডিত অথবা কশাঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায়। তার এই উক্তি—'দণ্ডিত অথবা কশাঘাতপ্রাপ্ত অবস্থা'—বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। তখন ইবনে আব্বাস বললেন, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, সূর্য কখনোই উদিত হয় না যতক্ষণ না সত্তর হাজার ফেরেশতা তাকে খোঁচা দেয়। তারা তাকে বলে, উদিত হও। সে বলে, আমি এমন এক জাতির ওপর উদিত হব না যারা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আমার ইবাদত করে। তখন এক ফেরেশতা তার নিকট আসে এবং সে আদম সন্তানের আলোর জন্য প্রজ্বলিত হয়। এরপর তার কাছে এক শয়তান আসে যে তাকে উদিত হতে বাধা দিতে চায়, তখন সে তার দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে উদিত হয়, আর আল্লাহ তাআলা তার নিচে তাকে পুড়িয়ে ফেলেন। এ পর্যন্তই এবং আরও অনেক বিস্ময়কর কবিতা রয়েছে। কিন্তু সে অন্তরে কাফির অবস্থায় মারা গেছে যেমনটি আমাদের নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন। তাঁরা বলেন, উমাইয়া বদর যুদ্ধ পর্যন্ত জীবিত ছিল এবং সেখানে নিহত কাফিরদের জন্য শোকগাঁথা রচনা করেছিল। সে তায়েফ অবরোধের দিনগুলোতে কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। তার আরও কিছু কবিতা হলো:
হে আমার প্রতিপালক, আমাকে কখনোই কাফির করবেন না
… আর আমার অন্তরের গহীনকে চিরকাল ঈমানে পরিপূর্ণ রাখুন।
তার মৃত্যুর নিকটবর্তী সময়ের কবিতাও রয়েছে:
প্রতিটি জীবনই, যদিও তা দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়
… তার বিষয়বস্তু বিলীন হয়ে যাওয়ার দিকেই ধাবিত হয়।
হায়! আমার সামনে যা প্রকাশ পেয়েছে তার আগে যদি আমি থাকতাম
… পাহাড়ের চূড়ায় বনছাগল চরিয়ে বেড়াতাম।
নিশ্চয়ই হিসাবের দিন এক মহা দিবস
… এক ভারী দিন, যা নবজাতক শিশুকে বৃদ্ধ করে দেয়।
২০ - (আয়াতুল কুরসি কুরআনের এক-চতুর্থাংশ) সুয়ূতী 'আল-জামিআইন'-এ বলেছেন, আবুশ শাইখ 'আস-সাওয়াব'-এ আনাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং 'আল-জামি আস-সগির'-এ এর মান হাসান হিসেবে নির্দেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ২১)
21 - (آية من كتاب الله تعالى خير من محمد وآله) قال في الأصل لم أقف عليه كشيخي من قبلي.
قال لكن رأيته يخط بعض طلبته من أصحابنا في هامش تسديد القوس مجردا عن العزو لصحابي، وذلك لا أعتمده من مثله، وزاد فيه لأن القرآن كلام الله غير مخلوق، نعم في جامع الترمذي عن سفيان بن عيينة في تفسير حديث ابن مسعود ما خلق الله سبحانه من سماء ولا أرض أعظم من آية الكرسي، آية الكرسي كلام الله، وكلام الله أعظم خلق الله من السماء والأرض، وفي نسخة أعظم مما فيه السموات والأرض انتهى، وفي فتاوى ابن حجر المكي الحديثية حديث لآية من كتاب الله خير من محمد وآل محمد، قال الحافظ السيوطي لم أقف عليه انتهى، وفي أثر ابن مسعود من قوله إذا قرأ الرجل آية قال لهي خير مما طلعت عليه الشمس وما على الأرض من شئ، وفي لفظ كان إذا علم آية قال خذها فلهي خير من الدنيا وما فيها، وعزاه بعضهم له موهما رفعه بلفظ آية من كتاب الله خير من الدنيا وما فيها، لكن في مسند الفردوس عن علي رفعه: القرآن أفضل من كل شئ دون الله، وفيه أيضا عن أنس مرفوعا لقراءة آية من كتاب الله أفضل مما تحت العرش، وفيه أيضا عصهيب مرفوعا: لقراءة آية من كتاب الله أفضل من كل شئ دون العرش، ولا يخفى ما في أحاديث الفردوس، وفي الإحياء قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من شفيع أعظم عند الله منزلة من القرآن لا نبي ولا ملك ولا غيره، لكنه مرسل كما في تخريج العراقي وقال النجم وأخرجه الطبراني عن ابن مسعود موقوفا بلفظ كل آية من كتاب الله خير مما في السماء والأرض انتهى، والمشهور على الألسنة: حرف من تبت خير من محمد وآل محمد.
22 - (آية المنافق ثلاث: إذا حدث كذب، وإذا وعد أخلف، وإذا ائتمن خان) متفق عليه عن أبي هريرة، وورد بروايات في الصحيحين وغيرهما، منها أربع من كن فيه فهو منافق خالص وإن صام وصلى وزعم أنه مؤمن: من إذا حدث كذب، وإذا وعد أخلف، وإذا ائتمن خان، وإذا خاصم فجر، وفي رواية وإذا عاهد غدر، وقال بعضهم
২১ - (আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ) মূলে বলা হয়েছে: আমার পূর্ববর্তী শায়খের ন্যায় আমিও এর কোনো সন্ধান পাইনি। তিনি বলেন, তবে আমি আমাদের এক ছাত্রের নিকট 'তাসদীদ আল-ক্বাউস'-এর পার্শ্বটীকায় কোনো সাহাবীর প্রতি সম্বন্ধ করা ছাড়াই এটি লিখিত দেখেছি। আর তার মতো কারো থেকে বর্ণিত এমন বিষয়ের ওপর আমি নির্ভর করি না। এতে আরও বর্ধিত রয়েছে যে, কেননা কুরআন আল্লাহর কালাম, যা মাখলুক (সৃষ্ট) নয়। হ্যাঁ, জামে তিরমিযীতে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে ইবনে মাসউদের হাদীসের ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আসমান ও যমীনে আয়াতুল কুরসীর চেয়ে মহান কিছু সৃষ্টি করেননি। আয়াতুল কুরসী আল্লাহর কালাম, আর আল্লাহর কালাম আসমান ও যমীনে আল্লাহর সকল সৃষ্টি অপেক্ষা মহান। অন্য এক সংস্করণে রয়েছে: আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তার চেয়েও মহান। সমাপ্ত। ইবনে হাজার মাক্কীর 'ফাতাওয়া আল-হাদীসিয়্যাহ'-তে "আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ" হাদীসটি সম্পর্কে হাফেজ সুয়ূতী বলেছেন: আমি এর সন্ধান পাইনি। সমাপ্ত। ইবনে মাসউদের আছারে (উক্তিতে) বর্ণিত হয়েছে, যখন কোনো ব্যক্তি একটি আয়াত পাঠ করে তখন তিনি বলতেন: এটি যার ওপর সূর্য উদিত হয় তার চেয়ে এবং যমীনে যা কিছু আছে সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অন্য শব্দে আছে, তিনি যখন কোনো আয়াত শেখাতেন তখন বলতেন: এটি গ্রহণ করো, কেননা এটি দুনিয়া ও এর মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কেউ কেউ এটিকে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং এটিকে মারফূ হাদীস হিসেবে ধারণা দিয়ে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত দুনিয়া ও এর মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ।" তবে মুসনাদুল ফিরদাউসে আলী (রা.) থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুর চেয়ে কুরআন শ্রেষ্ঠ।" তাতে আনাস (রা.) থেকেও মারফূ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত পাঠ করা আরশের নিচে যা কিছু আছে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।" তাতে সুহাইব (রা.) থেকেও মারফূ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত পাঠ করা আরশের নিচের প্রতিটি বস্তু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।" মুসনাদুল ফিরদাউসের হাদীসগুলোর অবস্থা কারও অজানা নয়। 'ইহয়াউ উলূমিদ্দীন'-এ আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহর নিকট কুরআনের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান কোনো সুপারিশকারী নেই; কোনো নবী নন, ফেরেশতা নন এবং অন্য কেউও নন।" তবে ইরাকীর 'তাখরীজ'-এ যেমনটি বলা হয়েছে, এটি একটি মুরসাল হাদীস। নাজমুদ্দীন বলেছেন, তাবারানী এটি ইবনে মাসউদ থেকে মাওকূফ সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহর কিতাবের প্রতিটি আয়াত আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।" সমাপ্ত। আর মানুষের মুখে মুখে যা প্রসিদ্ধ তা হলো: "তাব্বাত (সূরা লাহাব)-এর একটি হরফ মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।"
২২ - (মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে) এটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি। এটি বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে। তন্মধ্যে একটি হলো: "চারটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে বিদ্যমান সে খাঁটি মুনাফিক, যদিও সে রোযা রাখে, নামায পড়ে এবং নিজেকে মুমিন বলে দাবি করে: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে, যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে এবং যখন ঝগড়া করে তখন অশ্লীল গালি দেয়।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "যখন অঙ্গীকার করে তখন বিশ্বাসঘাতকতা করে।" এবং কেউ কেউ বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ২২)
غاية ما قيل في علامات المنافق الواردة سبعة نظمها بقوله: تعد علامات المنافق سبعة
… كما صح عن خير الخلائق في الخبر إذا قال لم يصدق، ويخلف وعده،
… وإن يؤتمن أبدى الخيانة والضرر وعند اصفرار الشمس يغدو مصليا،
… ويبغض من آوى النبي ومن نصر، ويترك إتيان الصلاة لجمعة
… ثلاثا، وإن خاصمت ذاك الشقي فجر انتهى وبقي عليه ثامنة ففي حديث رواه البخاري في تاريخه الكبير والحاكم وابن ماجه عن ابن عباس وقال الحافظ ابن حجر فيه أنه حديث حسن بلفظ آية ما بيننا وبين المنافقين أنهم لا يتضلعون من ماء زمزمَ، وذلك أن رجلا جاء إلى ابن عباس فقال له من أين جئت؟ قال من زمزم، قال فشربت منها كما ينبغي؟ قال وكيف؟ قال إذا شربت منها فاستقبل البيت، واذكر اسم الله، وتنفس ثلاثا، وتضلع منها، فإذا فرغت فاحمد الله، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال آية ما بيننا وبين المنافقين أنهم لا يتضلعون من ماء زمزمَ، وقد نظمت هذه الثامنة بقولي:
وثامنها أن لا تضلع فاعلمن
… لما زمزم قد جاء عن سيد البشر
وأصل أن لا تضلع أن لا تتضلع بمثناتين فوقيتين فحذفت إحداهما تخفيفا وعليه فاللام المشددة مفتوحة، ويحتمل أنه مصدر فاللام مضمومة.
23 - (الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره) رواه مسلم وأبو داود والترمذي والنسائي عن عمر رضي الله عنه.
24 - (الإيمان عقد بالقلب، وإقرار باللسان، وعمل بالأركان) رواه ابن ماجه عن علي بن أبي طالب يرفعه، قال ابن الجوزي موضوع، ورده في الدرر، فقال لم يصب في حكمه عليه بالوضع وفي مسند الفردوس لما دخل على بن موسى الرضى لنيسابور على بغلة شهباء فخرج علماء البلد في طلبه منهم يحيى بن يحيى وإسحاق بن راهويه وأحمد بن حرب ومحمد بن رافع، فتعلقوا بلجام دابته، فقال له إسحاق بحق آبائك الطاهرين، حدثنا بحديث سمعته من آبائك فقال حدثنا العبد الصالح أبي موسى بن جعفر إلى آخر
মুনাফিকের বর্ণিত আলামতসমূহ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার চূড়ান্ত সংখ্যা হলো সাতটি, যা তিনি কবিতার মাধ্যমে এভাবে সাজিয়েছেন: মুনাফিকের আলামত সাতটি হিসেবে গণ্য করা হয়
… যেমনটি সংবাদে সৃষ্টির সেরা সত্তা থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে। যখন সে কথা বলে তখন সত্য বলে না (মিথ্যা বলে), এবং তার ওয়াদা খেলাফ করে,
… আর যদি তার কাছে আমানত রাখা হয় তবে সে খেয়ানত ও ক্ষতি প্রকাশ করে। আর সূর্য যখন হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে (অস্ত যাওয়ার নিকটবর্তী হয়) তখন সে নামাজ পড়তে যায়,
… এবং যে ব্যক্তি নবীকে আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে তাকে সে ঘৃণা করে। আর সে টানা তিন জুমুআর নামাজে আসা ত্যাগ করে
… তিনবার, আর যদি তুমি সেই হতভাগার সাথে বিবাদে লিপ্ত হও তবে সে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে (ফিজর করে)। এখানেই শেষ, তবে তার জন্য অষ্টম একটি আলামত বাকি রয়ে গেছে। ইমাম বুখারী তার 'তারীখে কাবীর'-এ, হাকেম এবং ইবনে মাজাহ ইবনে আব্বাস থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার এই হাদিসটিকে 'হাসান' বলেছেন যার শব্দগুলো হলো: আমাদের এবং মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্যকারী নিদর্শন হলো তারা তৃপ্তিভরে জমজমের পানি পান করে না। বিষয়টি এই যে, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের কাছে আসলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে বলল, জমজম থেকে। তিনি বললেন, তুমি কি সেখান থেকে যেভাবে পান করা উচিত সেভাবে পান করেছ? সে বলল, কীভাবে? তিনি বললেন, যখন তুমি তা পান করবে তখন কাবার দিকে মুখ করবে, আল্লাহর নাম স্মরণ করবে, তিনবার শ্বাস নেবে এবং তা দিয়ে উদর পূর্ণ করবে। যখন পান করা শেষ করবে তখন আল্লাহর প্রশংসা করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমাদের ও মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্যকারী নিদর্শন হলো তারা তৃপ্তিভরে জমজমের পানি পান করে না। আর আমি এই অষ্টম আলামতটি আমার কবিতায় এভাবে বর্ণনা করেছি:
আর এর অষ্টমটি হলো তৃপ্তিভরে পান না করা, জেনে রেখো
… জমজমের পানির ক্ষেত্রে যা মানবজাতির সরদারের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
মূলত 'আন লা তাদাল্লা' (تضلع)-এর মূল রূপ হলো 'আন লা তাতাদাল্লা' (تتضلع), যাতে দুটি 'তা' (ت) রয়েছে। উচ্চারণের সহজতার জন্য একটি 'তা' বিলুপ্ত করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, তাশদীদযুক্ত 'লাম' বর্ণটি জবরযুক্ত হবে। আবার সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), সেক্ষেত্রে 'লাম' বর্ণটি পেশযুক্ত হবে।
২৩ - (ঈমান হলো এই যে, আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি।) এটি মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং নাসাঈ উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
২৪ - (ঈমান হলো অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস, মুখে স্বীকারোক্তি এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা।) এটি ইবনে মাজাহ আলী বিন আবু তালিব থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনে জাওযী একে 'মাওযূ' (বানোয়াট) বলেছেন, কিন্তু 'আদ-দুরার' গ্রন্থে এটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, একে বানোয়াট বলার ক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। 'মুসনাদুল ফিরদাউস'-এ বর্ণিত আছে যে, যখন আলী বিন মুসা আর-রিদা একটি ধূসর বর্ণের খচ্চরে চড়ে নিশাপুরে প্রবেশ করলেন, তখন শহরের আলেমগণ তার সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে এলেন, যাদের মধ্যে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, আহমদ বিন হারব এবং মুহাম্মদ বিন রাফে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা তার সওয়ারির লাগাম ধরে ফেললেন। তখন ইসহাক তাকে বললেন, আপনার পবিত্র পিতৃপুরুষদের উসিলায় আমাদের কাছে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করুন যা আপনি আপনার পিতৃপুরুষদের থেকে শুনেছেন। তখন তিনি বললেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন নেককার বান্দা আমার পিতা মুসা বিন জাফর... শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
سنده عن أهل البيت وذكر هذا الحديث، ومن لطائف إسناده رواية الأبناء عن الآباء في جميعه.
25 - الإيمان يزيد وينقص) رواه أحمد عن معاذ بن جبل، قال القاري نقلا عن الفيروزآبادي أنه قال في كتابه الصراط المستقيم الحديث المشهور أن الإيمان قول وعمل يزيد وينقص، وكذا حديث الإيمان لا يزيد ولا ينقص، كل ذلك غير صحيح انتهى، وأقول لكن معنى الأول صحيح، وجرى عليه المحدثون، حتى قال البخاري كتبت عن ألف شيخ وثمانين ليس فيهم إلا صاحب حديث كلهم يقولون الإيمان قول وعمل يزيد وينقص انتهى، وهو مذهب الأشعري، وأما حديث الإيمان لا يزيد ولا ينقص فقد رواه محمد بن كدام عن سفيان بن عيينة وعن الزهري عن ابن عمر لكنه موضوع، فقد نقل الزركشي عن البخاري أنه سئل عنه، فكتب على ظهر كتاب ابن كدام: من حدث بهذا استوجب الضرب الشديد والحبس المديد انتهى لكن جرى عليه كثيرون كالحنفية، وجعلوا في حديث الإيمان يزيد وينقص: الزيادة إشراقا، والنقصان ضده.
26 - (الإيمان بضع وسبعون شعبة، أفضلها قول لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق، والحياء شعبة من الإيمان) رواه مسلم وأبو داود والنسائي وابن أبي الدنيا عن أبي هريرة.
27 - (الإيمان عريان، فلباسه التقوى، وزينته الحياء، وثمرته العلم) هو موضوع كما قال الصغاني، وعزاه النجم لرواية ابن أبي شيبة وابن أبي الدنيا عن وهب بن منبه من قوله، لكن بإبدال قوله " وثمرته العلم " بقوله " وماله الفقه "، ثم قال ورواه ابن عساكر عن علي رفعه بلفظ يا علي إن الإسلام عريان، لباسه التقوى، ورياشه الهدى، وزينته الحياء، وعماده الورع، وملاكه العمل الصالح، وأساس الإسلام حبي وحب أهل بيتي.
(حرف الهمزة مع الباء الموحدة)
28 - (ابتغوا الخير عند حسان الوجوه) رواه الدارقطني في الأفراد عن أبي هريرة
এর সনদ আহলে বাইত থেকে বর্ণিত এবং তিনি এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন; এর সনদের একটি সূক্ষ্ম দিক হলো এর আগাগোড়া পিতাদের থেকে সন্তানদের বর্ণনা।
২৫ - (ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়) এটি আহমদ মুআয বিন জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-কারি আল-ফিরোজাবাদি থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে, তিনি তাঁর ‘আস-সিরাত আল-মুস্তাকিম’ কিতাবে বলেছেন: এই প্রসিদ্ধ হাদিস যে ‘ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়’ এবং অনুরূপভাবে ‘ঈমান বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাস পায় না’—এই সবকটিই সহিহ নয় (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি বলছি: তবে প্রথম হাদিসটির অর্থ সহিহ এবং মুহাদ্দিসগণ এর ওপরই চলেছেন। এমনকি বুখারি বলেছেন: আমি এক হাজার আশিজন শাইখ থেকে লিখেছি, যাদের সকলেই ছিলেন হাদিস বিশারদ; তারা সকলেই বলতেন: ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায় (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আর এটিই আশআরিদের মাজহাব। আর ‘ঈমান বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাস পায় না’ হাদিসটি মুহাম্মদ বিন কাদ্দাম সুফিয়ান বিন উয়াইনা থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন; তবে এটি বানোয়াট। জারকাশি বুখারি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইবনে কাদ্দামের কিতাবের পিঠে লিখেছিলেন: ‘যে ব্যক্তি এটি বর্ণনা করবে সে কঠোর প্রহার এবং দীর্ঘ কারাবাসের যোগ্য’ (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তবে হানাফিদের মতো অনেকেই এর (ঈমান না বাড়া-কমার) ওপর চলেছেন এবং তারা ‘ঈমান বাড়ে ও কমে’ হাদিসটির ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা করেছেন যে, বৃদ্ধি মানে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং হ্রাস মানে তার বিপরীত।
২৬ - (ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা; আর লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা) এটি মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবন আবিদ দুনিয়া আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।
২৭ - (ঈমান নগ্ন, তার পোশাক হলো তাকওয়া, তার অলংকার হলো লজ্জা এবং তার ফল হলো ইলম) এটি বানোয়াট যেমনটি সাগানি বলেছেন। আল-নাজম এটি ইবন আবি শায়বা ও ইবন আবিদ দুনিয়ার বর্ণনায় ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহর উক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে সেখানে ‘তার ফল হলো ইলম’ শব্দটির স্থলে ‘তার সম্পদ হলো ফিকহ’ শব্দ রয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন, ইবনে আসাকির এটি আলী থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এই শব্দে: ‘হে আলী! নিশ্চয়ই ইসলাম নগ্ন, তার পোশাক হলো তাকওয়া, তার ভূষণ হলো হিদায়াত, তার অলংকার হলো লজ্জা, তার স্তম্ভ হলো আল্লাহভীতি, তার ভিত্তি হলো নেক আমল এবং ইসলামের মূলভিত্তি হলো আমার প্রতি ভালোবাসা এবং আমার আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা।’
(হামজা বর্ণ এবং তার সাথে বা বর্ণ)
২৮ - (তোমরা সুন্দর চেহারার অধিকারী ব্যক্তিদের কাছে কল্যাণ অনুসন্ধান করো) এটি দারাকুতনি ‘আল-আফরাদ’-এ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وسيأتي فيه روايات في اطلبوا الخير عند حسان الوجوه مع ما فيه من النظم.
29 - (الأب أحق بالطاعة، والأم أحق بالبر) قال النجم هو من كلام ابن المبارك كما أخرجه الأصبهاني في الترغيب عن حبان بن موسى، قال سألت عبد الله بن المبارك عن الوالد والوالدة إذا أمرا بشئ، فذكره.
30 - (أبخل الناس من بخل بالسلام) رواه البيهقي في الشعب بسند رجاله رجال الصحيح عن أبي هريرة، والطبراني عنه وعن عبد الله بن معقل.
(31 - ابدأ بمن تعول) رواه الطبراني عن حكيم بن حزام، ورواه الشيخان عن أبي هريرة في حديث وابدأ بمن تعول.
32 - ابدأوا بما بدأ الله به) يعني الصفا، فيقدم وجوبا على المروة في السعي بينهما لأن الله تعالى قدمه بقوله (إن الصفا والمروة من شعائر الله) ولذا يجب الترتيب في الوضوء
عند الشافعي، وليس من الواو لأنها لا تفيد الترتيب عند الجمهور من النحاة، والحديث رواه الدارقطني عن جابر بلفظ أمر الجماعة، وفي بعضها بالإفراد، ورواه مسلم عن جابر بلفظ مضارع المتكلم وحده.
33 - (ابدأ بنفسك فتصدق عليها، فإن فضل شئ فلأهلك، فإن فضل شئ عن أهلك فلذي قرابتك، فإن فضل شئ عن ذي قرابتك فهكذا وهكذا) رواه مسلم والنسائي وآخرون عن جابر قال أعتق رجل من بني عذرة عبدا له عن دبر (1) فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم، فقال ألك مال غيره؟ فقال لا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم من يشتريه مني؟ فاشتراه نعيم بن عبد الله العدوي بثمانمائة درهم، فجاء بها رسول الله صلى الله عليه وسلم، فدفعها إليه، ثم قال أبدأ بنفسك الحديث، ورواه في الدرر بلفظ ابدأ بنفسك ثم بمن يليك، وقال فيها وفي الطبراني من حديث جابر بن سمرة إذا أنعم الله على عبد نعمة فليبدأ بنفسه وأهل بيته انتهى، ورواه مسلم عن جابر بن سمرة بلفظ إذا أعطى الله أحدكم خيرا فليبدأ بنفسه وأهل بيته، ورواه الطبراني عن معاذ كما في الجامع الكبير وفي ذيل الصغير بلفظ ابدأ بأمك وأبيك، وأختك وأخيك، والأدنى
সুন্দর চেহারার মানুষের কাছে কল্যাণ অন্বেষণ করো—এ বিষয়ে শীঘ্রই বর্ণনা এবং সেই সংক্রান্ত কবিতা আসবে।
২৯ - (পিতা আনুগত্যের অধিক হকদার, এবং মাতা সদাচরণের অধিক হকদার) নাজম বলেন, এটি ইবনুল মুবারকের উক্তি, যেমনটি আল-আসবাহানি 'আত-তারগিব' গ্রন্থে হিব্বান ইবনে মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে পিতা-মাতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যখন তারা কোনো বিষয়ে আদেশ করেন, তখন তিনি এটি উল্লেখ করেন।
৩০ - (মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কৃপণ সেই ব্যক্তি, যে সালাম প্রদানে কৃপণতা করে) এটি আল-বাইহাকি 'আশ-শুআব' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এমন এক সনদে যার বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, আবু হুরায়রা থেকে। এছাড়া তাবারানিও এটি তার থেকে এবং আবদুল্লাহ ইবনে মা'কিল থেকে বর্ণনা করেছেন।
(৩১ - তোমার পোষ্যদের থেকে শুরু করো) তাবারানি এটি হাকিম ইবনে হিজাম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) আবু হুরায়রা থেকে একটি হাদিসে এটি বর্ণনা করেছেন যে, "তোমার পোষ্যদের থেকে শুরু করো"।
৩২ - (আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন তোমরাও তা দিয়ে শুরু করো) অর্থাৎ আস-সাফা। সুতরাং সায়ি করার সময় মারওয়ার পূর্বে সাফা থেকে শুরু করা ওয়াজিব, কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীর মাধ্যমে একে অগ্রগণ্য করেছেন: (নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত)। আর এ কারণেই ইমাম শাফিঈর মতে ওজুতে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব। এটি 'ওয়াও' অব্যয়ের কারণে নয়, কারণ অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মতে এটি ধারাবাহিকতা বোঝায় না। হাদিসটি আদ-দারাকুতনি জাবির থেকে বহুবচন শব্দে বর্ণনা করেছেন, কিছু বর্ণনায় একবচন এসেছে, এবং ইমাম মুসলিম জাবির থেকে উত্তম পুরুষ একবচনের বর্তমানকালীন ক্রিয়ার শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।
৩৩ - (নিজে থেকে শুরু করো এবং নিজের জন্য সদকা করো; যদি কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে তোমার পরিবারের জন্য; আর যদি পরিবারের প্রয়োজনের পর কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে তোমার আত্মীয়স্বজনের জন্য; আর যদি আত্মীয়স্বজনের পর কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে এভাবে ও এভাবে ব্যয় করো) মুসলিম, নাসায়ি এবং অন্যান্যরা জাবির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বনু উধরা গোত্রের এক ব্যক্তি তার এক দাসকে তার মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার শর্তে স্বাধীন করে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এই খবর পৌঁছালে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি এই দাস ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ আছে? সে বলল, না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে এই দাসটিকে আমার কাছ থেকে কিনবে? নুআইম ইবনে আবদুল্লাহ আল-আদাবি আটশ দিরহামে তাকে কিনে নিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই অর্থ নিয়ে তাকে বুঝিয়ে দিলেন, তারপর বললেন, "নিজে থেকে শুরু করো..."। 'আদ-দুরার' গ্রন্থে এটি "নিজে থেকে শুরু করো, এরপর তোমার নিকটবর্তীদের থেকে" এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে। এবং তাবারানিতে জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, যখন আল্লাহ কোনো বান্দার উপর কোনো নেয়ামত দান করেন, তখন সে যেন নিজের এবং নিজ পরিবারের মাধ্যমে তা শুরু করে। মুসলিম জাবির ইবনে সামুরা থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: যখন আল্লাহ তোমাদের কাউকে কোনো কল্যাণ দান করেন, তখন সে যেন নিজের এবং নিজ পরিবারের মাধ্যমে তা শুরু করে। তাবারানি মুয়াজ থেকে 'আল-জামেউল কাবির' এবং 'জাইলুস সাগির'-এ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: তোমার মা, বাবা, বোন, ভাই এবং নিকটজনদের থেকে শুরু করো।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল খাফা তবাউল কুদসী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فالأدنى، ولا تنسوا الجيران وذا الحاجة انتهى، وقال في الجامع الكبير أيضا رواه ابن حبان عن جابر بلفظ ابدأ بنفسك فتصدق عليها ثم على أبويك، ثم على قرابتك ثم هكذا ثم هكذا، وقال النجم في ابدأ بنفسك رواه الطيالسي عن ابن عمر وأنه صلى الله عليه وسلم قال له يا عبد الله ابدأ بنفسك فاغْذها وجاهدها الحديث ثم قال ولابن أبي شيبة عن سعيد بن سيار قال جلست إلى ابن عمر، فذكرت رجلا، فترحمت عليه فضرب صدري وقال ابدأ بنفسك.
34 - (أَبْدِ المَوَدّةَ لمن وادّك، فإنها أثبت) رواه ابن أبي الدنيا في كتاب الإخوان والحارث بن أبي أسامة في مسنده والطبراني وأبو الشيخ في الثواب عن حميد الساعدي.
35 - (الأبدال في هذه الأمة ثلاثون مثل إبراهيم خليل الرحمن، كلما مات رجل أبدل الله مكانه رجلا) عزاه في اللآلئ لمسند أحمد عن عبادة بن الصامت مرفوعا، وفي لفظ له عنه الأبدال في هذه الأمة ثلاثون رجلا قلوبهم على قلب إبراهيم خليل الرحمن إلى آخر ما تقدم بلفظه، ثم قال فيها وحكى عبد الله بن أحمد عن أبيه أنه منكر تفرد به الحسن بن ذكوان، قال ابن كثير وهو كما قال، ووثق البخاري الحسن المذكور، وضعفه الأكثرون، حتى قال أحمد أحاديثه أباطيل، ثم قال فيها أيضا ولا يخفى ما فيه من التحامل، فإن رجال الحديث مختلف فيهم، فهو حسن على رأي جماعة من الأئمة، وقال الزركشي أيضا هو حسن، وقال في التمييز تبعا للأصل له طرق عن أنس مرفوعا بألفاظ مختلفة وكلها ضعيفة انتهى.
وأقول لكنه يتقوى بتعدد طرقه الكثيرة منها ما في الحلية عن ابن عمر رفعه خيار أمتي في كل قرن خمسمائة والأبدال أربعون، فلا الخمسمائة ينقصون، ولا الأربعون، كلما مات رجل أبدل الله مكانه آخر، وهم في الأرض كلها، وفي رواية الأبدال بالشام، والنجباء بمصر، وفي رواية الأبدال من الشام، والنجباء من أهل مصر ومنها ما رواه الخلال في كرمات الأولياء عن أنس بلفظ الأبدال أربعون رجلا وأربعون امرأة، كلما مات رجل أبدل الله مكانه رجلا، وإذا ماتت امرأة أبدل الله مكانها امرأة، ومنها كما في شرح المواهب
অতঃপর যারা নিকটবর্তী। আর প্রতিবেশী ও অভাবগ্রস্তদের কথা ভুলে যেয়ো না। (সমাপ্ত)। 'জামেউল কাবীর'-এ আরও বলা হয়েছে যে, ইবনে হিব্বান জাবির (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তুমি নিজের থেকে শুরু করো এবং নিজের জন্য সদকা করো, অতঃপর তোমার পিতা-মাতার জন্য, অতঃপর তোমার নিকটাত্মীয়দের জন্য, অতঃপর এভাবে ওভাবে।" নাজম 'ইবদা বিনাসিক' (নিজের থেকে শুরু করো) প্রসঙ্গে বলেছেন যে, তায়ালিসি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেছিলেন: "হে আব্দুল্লাহ! তুমি নিজের থেকে শুরু করো, তাকে (আত্মাকে) আহার করাও এবং তার সাথে জিহাদ করো..." হাদিসটি শেষ পর্যন্ত। অতঃপর তিনি বলেন, ইবনে আবি শাইবা সাঈদ বিন সাইয়ার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমর (রা.)-এর কাছে বসলাম, অতঃপর একজন লোকের কথা উল্লেখ করলাম এবং তার জন্য রহমতের দোয়া করলাম। তখন তিনি আমার বুকে হাত মেরে বললেন: "নিজের থেকে শুরু করো।"
৩৪ - (যে তোমার সাথে ভালোবাসা রাখে তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করো, কেননা এটি অধিকতর স্থায়ী।) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবিদ দুনিয়া 'কিতাবুল ইখওয়ান'-এ, হারিস ইবনে আবি উসামা তার মুসনাদে, তাবারানি এবং আবুশ শাইখ 'আস-সওয়াব' গ্রন্থে হুমাইদ আস-সাঈদী থেকে।
৩৫ - (এই উম্মতের মধ্যে আবদাল হলেন ত্রিশ জন, যারা রহমানের বন্ধু ইব্রাহিম (আ.)-এর মতো। যখনই কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তার স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন।) 'আল-লাআলি' গ্রন্থে এটি মুসনাদে আহমাদ-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে উবাদাহ বিন সামিত (রা.) থেকে মারফু হিসেবে। তার এক বর্ণনায় রয়েছে: "এই উম্মতের আবদাল হলেন ত্রিশ জন ব্যক্তি, যাদের অন্তর রহমানের বন্ধু ইব্রাহিম (আ.)-এর অন্তরের মতো..." পূর্বোক্ত শব্দের শেষ পর্যন্ত। অতঃপর সেখানে বলা হয়েছে যে, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য); হাসান বিন জাকওয়ান এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে কাসির বলেছেন যে, বিষয়টি তেমনই। বুখারি উক্ত হাসানকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাকে দুর্বল বলেছেন, এমনকি আহমাদ বলেছেন যে তার বর্ণিত হাদিসসমূহ বাতিল। অতঃপর সেখানে আরও বলা হয়েছে যে, এতে যে কঠোরতা করা হয়েছে তা গোপন নয়, কারণ এই হাদিসের বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। ফলে একদল ইমামের মতে এটি হাসান (উত্তম) পর্যায়ের। যারকাশিও বলেছেন এটি হাসান। 'আত-তাময়িজ' গ্রন্থে মূলের অনুসরণে বলা হয়েছে যে, আনাস (রা.) থেকে মারফু হিসেবে এর বিভিন্ন সূত্র রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন শব্দে, যার সবগুলোই দুর্বল। (সমাপ্ত)।
আমি বলছি, তবে এটি এর অসংখ্য সূত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। তার মধ্যে একটি হলো 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে ইবনে উমর (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: "আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা প্রতি শতাব্দীতে পাঁচশত জন এবং আবদাল হলেন চল্লিশ জন। এই পাঁচশত জনও কমবে না এবং চল্লিশ জনও না। যখনই কোনো ব্যক্তি মারা যায়, আল্লাহ তার স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন এবং তারা সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছেন।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "আবদাল শামে এবং নুজাবা মিশরে।" আরেক বর্ণনায় আছে: "আবদাল শাম থেকে এবং নুজাবা মিশরের অধিবাসী থেকে।" এর মধ্যে আরেকটি হলো যা খাল্লাল 'কারামাতুল আউলিয়া' গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আবদাল হলেন চল্লিশ জন পুরুষ এবং চল্লিশ জন নারী। যখনই কোনো পুরুষ মারা যায়, আল্লাহ তার স্থলে অন্য একজন পুরুষ স্থলাভিষিক্ত করেন এবং যখন কোনো নারী মারা যায়, তখন আল্লাহ তার স্থলে অন্য একজন নারী স্থলাভিষিক্ত করেন।" এর মধ্যে আরেকটি হলো যা 'শারহুল মাওয়াহিব'-এ রয়েছে...