(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: -)
قواعد الأحكام في مصالح الأنام   (عز الدين بن عبد السلام)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: قواعد الأحكام في مصالح الأنام

المؤلف: أبو محمد عز الدين عبد العزيز بن عبد السلام بن أبي القاسم بن الحسن السلمي الدمشقي، الملقب بسلطان العلماء (ت 660هـ)

راجعه وعلق عليه: طه عبد الرؤوف سعد

الناشر: مكتبة الكليات الأزهرية - القاهرة

(وصورتها دور عدة مثل: دار الكتب العلمية - بيروت، ودار أم القرى - القاهرة)

طبعة: جديدة مضبوطة منقحة، 1414 هـ - 1991 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মানুষের কল্যাণে বিধানাবলির মূলনীতিসমূহ   (ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ


গ্রন্থ: মানুষের কল্যাণে বিধানাবলির মূলনীতিসমূহ

লেখক: আবু মুহাম্মদ ইজ্জুদ্দীন আব্দুল আজীজ বিন আব্দুস সালাম বিন আবুল কাসিম বিন হাসান আস-সুলামী আদ-দিমাশকী، সুলতানুল উলামা উপাধিতে ভূষিত (মৃত্যু ৬৬০ হিজরি)

পর্যালোচনা ও টীকা প্রদান করেছেন: ত্বহা আব্দুর রউফ সাদ

প্রকাশক: মাকতাবাতুল কুল্লিয়াতিল আজহারিয়্যাহ - কায়রো

(এটি বিভিন্ন প্রকাশনী দ্বারা পুনঃমুদ্রিত হয়েছে যেমন: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত، এবং দারু উম্মিল কুরা - কায়রো)

সংস্করণ: নতুন, নির্ভুল ও পরিমার্জিত، ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مُقَدِّمَة الْكتاب]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ الْإِنْسَ وَالْجِنَّ لِيُكَلِّفَهُمْ أَنْ يُوَحِّدُوهُ وَيَعْبُدُوهُ، وَيُقَدِّسُوهُ وَيُمَجِّدُوهُ وَيَشْكُرُوهُ وَلَا يَكْفُرُوهُ، وَيُطِيعُوهُ وَلَا يَعْصُوهُ، وَأَرْسَلَ إلَيْهِمْ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم لِيُعَزِّرُوهُ وَيُوَقِّرُوهُ وَيُطِيعُوهُ وَيَنْصُرُوهُ؛ فَأَمَرَهُمْ عَلَى لِسَانِهِ بِكُلِّ بِرٍّ وَإِحْسَانٍ، وَزَجَرَهُمْ عَلَى لِسَانِهِ عَنْ كُلِّ إثْمٍ وَطُغْيَانٍ وَكَذَلِكَ أَمَرَهُمْ بِالْمُعَاوَنَةِ عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى، وَنَهَاهُمْ عَنْ الْمُعَاوَنَةِ عَلَى الْإِثْمِ وَالطَّغْوَى. وَحَثَّهُمْ عَلَى الِاقْتِدَاءِ وَالِاتِّبَاعِ، كَمَا زَجَرَهُمْ عَنْ الِاخْتِلَافِ وَالِابْتِدَاعِ.

وَكَذَلِكَ أَمَرَ عِبَادَهُ بِكُلِّ خَيْرٍ؛ وَاجِبٍ أَوْ مَنْدُوبٍ، وَوَعَدَهُمْ بِالثَّوَابِ عَلَى قَلِيلِهِ وَكَثِيرِهِ بِقَوْلِهِ: {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ} [الزلزلة: 7] .

وَنَهَاهُمْ عَنْ كُلِّ شَرٍّ مُحَرَّمٍ أَوْ مَكْرُوهٍ، وَتَوَعَّدَهُمْ بِالْعِقَابِ عَلَى مَحْظُورٍ جَلِيلِهِ وَحَقِيرِهِ بِقَوْلِهِ: {وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ} [الزلزلة: 8] ، وَبِقَوْلِهِ: {وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ} [الأنبياء: 47] .

وَكَذَلِكَ أَمَرَهُمْ بِتَحْصِيلِ مَصَالِحِ إجَابَتِهِ وَطَاعَتِهِ، وَدَرْءِ مَفَاسِدِ مَعْصِيَتِهِ وَمُخَالَفَتِهِ؛ إحْسَانًا إلَيْهِمْ، وَإِنْعَامًا عَلَيْهِمْ؛ لِأَنَّهُ غَنِيٌّ عَنْ طَاعَتِهِمْ وَعِبَادَتِهِمْ. فَعَرَّفَهُمْ مَا فِيهِ رُشْدُهُمْ وَمَصَالِحُهُمْ لِيَفْعَلُوهُ، وَمَا فِيهِ غَيُّهُمْ وَمَفَاسِدُهُمْ لِيَجْتَنِبُوهُ، وَأَخْبَرَهُمْ أَنَّ الشَّيْطَانَ عَدُوٌّ لَهُمْ لِيُعَادُوهُ وَيُخَالِفُوهُ، فَرَتَّبَ مَصَالِحَ الدَّارَيْنِ عَلَى طَاعَتِهِ وَاجْتِنَابِ مَعْصِيَتِهِ، فَأَنْزَلَ الْكُتُبَ بِالْأَمْرِ وَالزَّجْرِ وَالْوَعْدِ الْوَعِيدِ، وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَصْلَحَهُمْ بِدُونِ ذَلِكَ؛ وَلَكِنَّهُ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ وَيْحُكُمْ مَا يُرِيدُ، وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ.
[গ্রন্থের ভূমিকা]

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষ ও জিন সৃষ্টি করেছেন যাতে তাদের দায়িত্ব প্রদান করেন যে তারা তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করবে ও তাঁর ইবাদত করবে, তাঁকে পবিত্র জ্ঞান করবে ও তাঁর মহিমা বর্ণনা করবে এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করবে ও তাঁর প্রতি অকৃতজ্ঞ হবে না, আর তাঁর আনুগত্য করবে ও তাঁর অবাধ্য হবে না। এবং তিনি তাদের নিকট তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন যেন তারা তাঁকে সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে, তাঁর আনুগত্য করে এবং তাঁকে সাহায্য করে; অতঃপর তিনি তাঁর (রাসূলের) জবানে তাদেরকে সকল প্রকার পুণ্য ও ইহসানের আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর জবানেই তাদেরকে সকল প্রকার পাপ ও অবাধ্যতা থেকে বারণ করেছেন। তদ্রূপ তিনি তাদেরকে পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পাপ ও সীমা লঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি তাদেরকে ইক্তিদা (অনুসরণ) ও ইত্তিবা (অনুগমন) করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন, যেমনভাবে তিনি তাদেরকে মতভেদ ও বিদআত করা থেকে বারণ করেছেন।

একইভাবে তিনি তাঁর বান্দাদেরকে প্রতিটি কল্যাণকর কাজের—চাই তা ওয়াজিব হোক বা মানদুব (পছন্দনীয়)—নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তার অল্প ও অধিক পরিমাণের ওপর সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন: {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে} [আয-যিলযাল: ৭]।

আর তিনি তাদেরকে প্রতিটি অকল্যাণকর কাজ থেকে—চাই তা হারাম হোক বা মাকরুহ—নিষেধ করেছেন এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বৃহৎ বা ক্ষুদ্র নিষিদ্ধ কাজের জন্য শাস্তির ধমক দিয়েছেন: {আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে} [আয-যিলযাল: ৮], এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব} [আল-আম্বিয়া: ৪৭]।

একইভাবে তিনি তাদেরকে তাঁর ডাকে সাড়া দেওয়া ও তাঁর আনুগত্য করার মাধ্যমে কল্যাণ হাসিল করার এবং তাঁর অবাধ্যতা ও তাঁর বিরোধিতা করার অপকারিতাগুলো দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন; তাদের প্রতি দয়া ও নেয়ামত স্বরূপ। কেননা তিনি তাদের আনুগত্য ও ইবাদত থেকে অমুখাপেক্ষী। সুতরাং তিনি তাদেরকে তা অবগত করিয়েছেন যাতে তাদের সঠিক পথ ও কল্যাণ রয়েছে—যাতে তারা তা পালন করে, আর যাতে তাদের বিভ্রান্তি ও অমঙ্গল রয়েছে—যাতে তারা তা বর্জন করে। তিনি তাদেরকে খবর দিয়েছেন যে, শয়তান তাদের শত্রু—যাতে তারা তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য করে এবং তার বিরোধিতা করে। অতঃপর তিনি উভয় জাহানের কল্যাণকে তাঁর আনুগত্য ও তাঁর অবাধ্যতা বর্জনের ওপর নির্ভরশীল করেছেন। তিনি আদেশ, নিষেধ, সুসংবাদ ও সতর্কবাণী সংবলিত কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ চাইলে এসব ছাড়াই তাদের সংশোধন করতে পারতেন; কিন্তু তিনি যা চান তা-ই করেন এবং যা ইচ্ছা তা-ই ফয়সালা করেন। আর আপনার প্রতিপালক তাঁর বান্দাদের প্রতি মোটেও জুলুমকারী নন।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌[فَصْلٌ فِي بَيَانِ جَلْبِ مَصَالِحِ الدَّارَيْنِ وَدَرْءِ مَفَاسِدِهِمَا]

عَلَى الظُّنُونِ

الِاعْتِمَادُ فِي جَلْبِ مُعْظَمِ مَصَالِحِ الدَّارَيْنِ وَدَرْءِ مَفَاسِدِهِمَا عَلَى مَا يَظْهَرُ فِي الظُّنُونِ. وَلِلدَّارَيْنِ مَصَالِحُ إذَا فَاتَتْ فَسَدَ أَمْرُهُمَا، وَمَفَاسِدُ إذَا تَحَقَّقَتْ هَلَكَ أَهْلُهُمَا، وَتَحْصِيلُ مُعْظَمِ هَذِهِ الْمَصَالِحِ بِتَعَاطِي أَسْبَابِهَا مَظْنُونٌ غَيْرُ مَقْطُوعٍ بِهِ؛ فَإِنَّ عُمَّالَ الْآخِرَةِ لَا يَقْطَعُونَ بِحُسْنِ الْخَاتِمَةِ وَإِنَّمَا يَعْمَلُونَ بِنَاءً عَلَى حُسْنِ الظُّنُونِ، وَهُمْ مَعَ ذَلِكَ يَخَافُونَ أَلَّا يُقْبَلَ مِنْهُمْ مَا يَعْمَلُونَ، وَقَدْ جَاءَ التَّنْزِيلُ بِذَلِكَ فِي قَوْلِهِ: {وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ} [المؤمنون: 60] ، فَكَذَلِكَ أَهْلُ الدُّنْيَا إنَّمَا يَتَصَرَّفُونَ بِنَاءً عَلَى حُسْنِ الظُّنُونِ، وَإِنَّمَا اُعْتُمِدَ عَلَيْهَا لِأَنَّ الْغَالِبَ صِدْقُهَا عِنْدَ قِيَامِ أَسْبَابِهَا؛ فَإِنَّ التُّجَّارَ يُسَافِرُونَ عَلَى ظَنِّ أَنَّهُمْ يُسْتَعْمَلُونَ بِمَا بِهِ يَرْتَفِقُونَ، وَالْأَكَّارُونَ يَحْرُثُونَ وَيَزْرَعُونَ بِنَاءً عَلَى أَنَّهُمْ مُسْتَغَلُّونَ، وَالْجَمَّالُونَ وَالْبَغَّالُونَ يَتَصَدَّرُونَ لِلْكِرَاءِ لَعَلَّهُمْ يُسْتَأْجَرُونَ، وَالْمُلُوكُ يُجَنِّدُونَ الْأَجْنَادَ وَيُحَصِّنُونَ الْبِلَادَ بِنَاءً عَلَى أَنَّهُمْ بِذَلِكَ يَنْتَصِرُونَ.

وَكَذَلِكَ يَأْخُذُ الْأَجْنَادُ الْحَذَرَ وَالْأَسْلِحَةَ عَلَى ظَنِّ أَنَّهُمْ يَغْلِبُونَ وَيَسْلَمُونَ، وَالشُّفَعَاءُ يَشْفَعُونَ عَلَى ظَنِّ أَنَّهُمْ يُشْفَعُونَ وَالْعُلَمَاءُ يَشْتَغِلُونَ بِالْعُلُومِ عَلَى ظَنِّ أَنَّهُمْ يَنْجَحُونَ وَيَتَمَيَّزُونَ.

وَكَذَلِكَ النَّاظِرُونَ فِي الْأَدِلَّةِ وَالْمُجْتَهِدُونَ فِي تَعَرُّفِ الْأَحْكَامِ، يَعْتَمِدُونَ فِي الْأَكْثَرِ عَلَى ظَنِّ أَنَّهُمْ يَظْفَرُونَ بِمَا يَطْلُبُونَ، وَالْمَرْضَى يَتَدَاوَوْنَ لَعَلَّهُمْ يُشْفَوْنَ وَيَبْرَءُونَ. وَمُعْظَمُ هَذِهِ الظُّنُونِ صَادِقٌ مُوَافِقٌ غَيْرُ مُخَالِفٍ وَلَا كَاذِبٍ، فَلَا يَجُوزُ تَعْطِيلُ هَذِهِ الْمَصَالِحِ الْغَالِبَةِ الْوُقُوعُ خَوْفًا مِنْ نُدُورِ وَكَذِبِ الظُّنُونِ، وَلَا يَفْعَلُ ذَلِكَ إلَّا الْجَاهِلُونَ.
[উভয় জগতের কল্যাণ অর্জন এবং অকল্যাণ দূরীকরণের বর্ণনার পরিচ্ছেদ]

ধারণার উপর ভিত্তি করে

উভয় জগতের অধিকাংশ কল্যাণ অর্জন এবং অকল্যাণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে নির্ভরতা হলো সেইসব বিষয়ের উপর যা প্রবল ধারণায় প্রকাশ পায়। আর উভয় জগতের জন্য এমন কিছু কল্যাণ রয়েছে যা হাতছাড়া হলে উভয় জগতের শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়, এবং এমন কিছু অকল্যাণ রয়েছে যা বাস্তবায়িত হলে তথাকার অধিবাসীরা ধ্বংস হয়ে যায়। এসব কল্যাণ অর্জনের নিমিত্তে উপকরণসমূহের যথাযথ ব্যবহার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধারণাপ্রসূত, এটি নিশ্চিত কোনো বিষয় নয়। কেননা পরকালের পাথেয় সংগ্রহকারীরা শুভ পরিণতির ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারে না, বরং তারা সুধারণার বশবর্তী হয়ে আমল করে। এর পাশাপাশি তারা এ আশঙ্কাও পোষণ করে যে, তাদের আমলগুলো হয়তো কবুল হবে না। এ সম্পর্কে আল-কুরআনের অবতীর্ণ বাণীতে এসেছে: "আর যারা তাদের যা দান করার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে, এ কারণে যে তারা তাদের রবের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে।" [সূরা আল-মুমিনুন: ৬০]। ঠিক তেমনি দুনিয়াদার মানুষও সুধারণার উপর ভিত্তি করে তাদের কাজকর্ম পরিচালনা করে। আর ধারণার উপর এ কারণেই নির্ভর করা হয় যে, কারণসমূহ বিদ্যমান থাকলে সাধারণত তা সত্য বলে প্রমাণিত হয়। কেননা ব্যবসায়ীরা এই ধারণায় সফর করে যে, তারা এমন লাভবান হবে যাতে তাদের উপকার সাধিত হয়। কৃষকরা এই আশায় লাঙল চলায় ও বীজ বপন করে যে, তারা ফসল ঘরে তুলতে পারবে। উষ্ট্রচালক ও খচ্চরচালকরা ভাড়ার আশায় অপেক্ষা করে যে, হয়তো কেউ তাদের ভাড়া করবে। রাজন্যবর্গ এই লক্ষ্যে সৈন্যবাহিনী গঠন করে এবং নগর সুরক্ষিত করে যে, এর মাধ্যমে তারা বিজয় লাভ করবে।

অনুরূপভাবে সৈন্যরা এই ধারণার বশবর্তী হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে এবং অস্ত্র হাতে নেয় যে, তারা জয়ী হবে ও নিরাপদ থাকবে। সুপারিশকারীরা এই আশায় সুপারিশ করে যে, তাদের সুপারিশ কবুল করা হবে। আলেমগণ এই ধারণায় জ্ঞানচর্চায় রত থাকেন যে, তারা সফল হবেন এবং অনন্য উচ্চতা লাভ করবেন।

একইভাবে যারা দলীলসমূহ নিয়ে পর্যালোচনাকারী এবং বিধানসমূহ উদঘাটনে ইজতিহাদকারী, তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ধারণার উপর নির্ভর করেন যে, তারা যা খুঁজছেন তা অর্জন করতে পারবেন। রোগীরা এই আশায় চিকিৎসা গ্রহণ করে যে, হয়তো তারা সুস্থ হবে ও রোগমুক্ত হবে। আর এসব ধারণার অধিকাংশটিই সঠিক ও বাস্তবসম্মত হয়, তা অবাস্তব বা মিথ্যা হয় না। অতএব, কোনো ধারণার কদাচিৎ ভ্রান্ত বা মিথ্যা হওয়ার ভয়ে সচরাচর ঘটে থাকে এমন ব্যাপক কল্যাণসমূহকে স্থগিত করা বৈধ নয়; আর অজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া কেউ এমন কাজ করে না।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[فَصْلٌ فِيمَا اُسْتُثْنِيَ مِنْ تَحْصِيلِ الْمَصَالِحِ وَدَرْءِ الْمَفَاسِدِ]

فِيمَا اُسْتُثْنِيَ مِنْ تَحْصِيلِ الْمَصَالِحِ وَدَرْءِ الْمَفَاسِدِ لِمَا عَارَضَهُ أَوْ رَجَحَ عَلَيْهِ

وَقَدْ أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى بِإِقَامَةِ مَصَالِحَ مُتَجَانِسَةٍ وَأَخْرَجَ بَعْضَهَا عَنْ الْأَمْرِ، إمَّا لِمَشَقَّةِ مُلَابَسَتِهَا وَإِمَّا لِمَفْسَدَةٍ تُعَارِضُهَا، وَزَجَرَ عَنْ مَفَاسِدَ مُتَمَاثِلَةٍ وَأَخْرَجَ بَعْضَهَا عَنْ الزَّجْرِ إمَّا لِمَشَقَّةِ اجْتِنَابِهَا، وَإِمَّا لِمَصْلَحَةٍ تُعَارِضُهَا، وَيُعَبَّرُ عَنْ الْمَصَالِحِ وَالْمَفَاسِدِ بِالْخَيْرِ وَالشَّرِّ، وَالنَّفْعِ وَالضَّرِّ، وَالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ؛ لِأَنَّ الْمَصَالِحَ كُلَّهَا خُيُورٌ نَافِعَاتٌ حَسَنَاتٌ، وَالْمَفَاسِدَ بِأَسْرِهَا شُرُورٌ مُضِرَّاتٌ سَيِّئَاتٌ، وَقَدْ غَلَبَ فِي الْقُرْآنِ اسْتِعْمَالُ الْحَسَنَاتِ فِي الْمَصَالِحِ، وَالسَّيِّئَاتِ فِي الْمَفَاسِدِ.

 

‌‌[فَصْلٌ فِيمَا تُعْرَفُ بِهِ الْمَصَالِحُ وَالْمَفَاسِدُ وَفِي تَفَاوُتِهِمَا]

فِيمَا تُعْرَفُ بِهِ الْمَصَالِحُ وَالْمَفَاسِدُ وَفِي تَفَاوُتِهِمَا

وَمُعْظَمُ مَصَالِحِ الدُّنْيَا وَمَفَاسِدِهَا مَعْرُوفٌ بِالْعَقْلِ وَذَلِكَ مُعْظَمُ الشَّرَائِعِ؛ إذْ لَا يَخْفَى عَلَى عَاقِلٍ قَبْلَ وُرُودِ الشَّرْعِ أَنَّ تَحْصِيلَ الْمَصَالِحِ الْمَحْضَةِ، وَدَرْءَ الْمَفَاسِدِ الْمَحْضَةِ عَنْ نَفْسِ الْإِنْسَانِ وَعَنْ غَيْرِهِ مَحْمُودٌ حَسَنٌ، وَأَنَّ تَقْدِيمَ أَرْجَحِ الْمَصَالِحِ فَأَرْجَحِهَا مَحْمُودٌ حَسَنٌ، وَأَنَّ دَرْءَ أَفْسَدِ الْمَفَاسِدِ فَأَفْسَدِهَا مَحْمُودٌ حَسَنٌ، وَأَنَّ تَقْدِيمَ أَرْجَحِ الْمَصَالِحِ فَأَرْجَحِهَا مَحْمُودٌ حَسَنٌ، وَأَنَّ دَرْءَ أَفْسَدِ الْمَفَاسِدِ فَأَفْسَدِهَا مَحْمُودٌ حَسَنٌ، وَأَنَّ تَقْدِيمَ الْمَصَالِحِ الرَّاجِحَةِ عَلَى الْمَرْجُوحَةِ مَحْمُودٌ حَسَنٌ، وَأَنَّ دَرْءَ الْمَفَاسِدِ الرَّاجِحَةِ عَلَى الْمَصَالِحِ الْمَرْجُوحَةِ مَحْمُودٌ حَسَنٌ.

وَاتَّفَقَ الْحُكَمَاءُ عَلَى ذَلِكَ. وَكَذَلِكَ الشَّرَائِعُ عَلَى تَحْرِيمِ الدِّمَاءِ وَالْأَبْضَاعِ وَالْأَمْوَالِ وَالْأَعْرَاضِ، وَعَلَى تَحْصِيلِ الْأَفْضَلِ فَالْأَفْضَلِ مِنْ الْأَقْوَالِ وَالْأَعْمَالِ. وَإِنْ اُخْتُلِفَ فِي بَعْضِ ذَلِكَ فَالْغَالِبُ أَنَّ ذَلِكَ
[পরিচ্ছেদ: কল্যাণ অর্জন ও অকল্যাণ দূর করার ক্ষেত্রে যা কিছু ব্যতিক্রম]

কল্যাণ অর্জন এবং অকল্যাণ দূর করার ক্ষেত্রে যা কিছু ব্যতিক্রম করা হয়েছে, কারণ তার বিপরীতে কোনো শক্তিশালী বিষয় রয়েছে অথবা যা তার চেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য।

আল্লাহ তাআলা সমজাতীয় কল্যাণগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেগুলোর কিছুকে নির্দেশের বাইরে রেখেছেন, হয় তা সম্পাদন করার কষ্টের কারণে, অথবা তার বিপরীতে কোনো অকল্যাণ থাকার কারণে। তদ্রূপ তিনি সমজাতীয় অকল্যাণগুলো থেকে নিষেধ করেছেন এবং সেগুলোর কিছুকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রেখেছেন, হয় তা পরিহার করার কষ্টের কারণে, অথবা তার বিপরীতে কোনো কল্যাণ থাকার কারণে। কল্যাণ ও অকল্যাণকে কল্যাণ ও অকল্যাণ, উপকার ও ক্ষতি, এবং পুণ্য ও পাপ হিসেবে ব্যক্ত করা হয়। কারণ সকল কল্যাণই হলো হিতকর মঙ্গল ও পুণ্য, আর সকল অকল্যাণই হলো ক্ষতিকর অমঙ্গল ও পাপ। পবিত্র কুরআনে কল্যাণের ক্ষেত্রে 'পুণ্য' এবং অকল্যাণের ক্ষেত্রে 'পাপ' শব্দের ব্যবহার অধিক প্রচলিত।

 

[পরিচ্ছেদ: যার মাধ্যমে কল্যাণ ও অকল্যাণ চেনা যায় এবং তাদের পারস্পরিক তারতম্য প্রসঙ্গে]

যার মাধ্যমে কল্যাণ ও অকল্যাণ চেনা যায় এবং তাদের পারস্পরিক তারতম্য প্রসঙ্গে

দুনিয়ার অধিকাংশ কল্যাণ ও অকল্যাণ বুদ্ধি দ্বারা জানা যায় এবং শরীয়তের বিধানাবলির অধিকাংশও তাই। কারণ শরীয়ত আসার পূর্বেও কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে এটা অস্পষ্ট নয় যে, নিজের এবং অন্যের থেকে নিছক কল্যাণ অর্জন এবং নিছক অকল্যাণ দূর করা প্রশংসনীয় ও উত্তম। এবং অধিকতর অগ্রগণ্য কল্যাণসমূহকে ক্রমান্বয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রশংসনীয় ও উত্তম। এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর অকল্যাণসমূহকে ক্রমান্বয়ে দূর করা প্রশংসনীয় ও উত্তম। এবং অধিকতর অগ্রগণ্য কল্যাণসমূহকে ক্রমান্বয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রশংসনীয় ও উত্তম। এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর অকল্যাণসমূহকে ক্রমান্বয়ে দূর করা প্রশংসনীয় ও উত্তম। এবং তুলনামূলক কম কল্যাণের চেয়ে অধিকতর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রশংসনীয় ও উত্তম। এবং তুলনামূলক কম কল্যাণের বিপরীতে অধিকতর অকল্যাণ দূর করা প্রশংসনীয় ও উত্তম।

বিজ্ঞজনগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন। অনুরূপভাবে শরীয়তসমূহ রক্তপাত, লজ্জাস্থান (অবৈধ যৌনমিলন), সম্পদ এবং সম্মান লুণ্ঠন হারাম করার ব্যাপারে এবং কথা ও কাজের মধ্যে যা অধিকতর উত্তম তা অর্জন করার ব্যাপারে একমত। যদি এ বিষয়ে কোনো ক্ষেত্রে মতপার্থক্য হয়ে থাকে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ৬)
لِأَجْلِ الِاخْتِلَافِ فِي التَّسَاوِي وَالرُّجْحَانِ، فَيَتَحَيَّرُ الْعِبَادُ عِنْدَ التَّسَاوِي وَيَتَوَقَّفُونَ إذَا تَحَيَّرُوا فِي التَّفَاوُتِ وَالتَّسَاوِي.

وَكَذَلِكَ الْأَطِبَّاءُ يَدْفَعُونَ أَعْظَمَ الْمَرَضَيْنِ بِالْتِزَامِ بَقَاءِ أَدْنَاهُمَا، وَيَجْلِبُونَ أَعْلَى السَّلَامَتَيْنِ وَالصِّحَّتَيْنِ وَلَا يُبَالُونَ بِفَوَاتِ أَدْنَاهُمَا، وَيَتَوَقَّفُونَ عِنْدَ الْحِيرَةِ فِي التَّسَاوِي وَالتَّفَاوُتِ؛ فَإِنَّ الطِّبَّ كَالشَّرْعِ وُضِعَ لِجَلْبِ مَصَالِحِ السَّلَامَةِ وَالْعَافِيَةِ، وَلِدَرْءِ مَفَاسِدِ الْمَعَاطِبِ وَالْأَسْقَامِ، وَلِدَرْءِ مَا أَمْكَنَ دَرْؤُهُ مِنْ ذَلِكَ، وَلِجَلْبِ مَا أَمْكَنَ جَلْبُهُ مِنْ ذَلِكَ. فَإِنْ تَعَذَّرَ دَرْءُ الْجَمِيعِ أَوْ جَلْبُ الْجَمِيعِ فَإِنْ تَسَاوَتْ الرُّتَبُ تُخُيِّرَ، وَإِنْ تَفَاوَتَتْ اُسْتُعْمِلَ التَّرْجِيحُ عِنْدَ عِرْفَانِهِ وَالتَّوَقُّفُ عِنْدَ الْجَهْلِ بِهِ. وَاَلَّذِي وَضَعَ الشَّرْعَ هُوَ الَّذِي وَضَعَ الطِّبَّ، فَإِنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مَوْضُوعٌ لِجَلْبِ مَصَالِحَ وَدَرْءِ مَفَاسِدِهِمْ.

وَكَمَا لَا يَحِلُّ الْإِقْدَامُ لِلْمُتَوَقِّفِ فِي الرُّجْحَانِ فِي الْمَصَالِحِ الدِّينِيَّةِ حَتَّى يَظْهَرَ لَهُ الرَّاجِحُ، فَكَذَلِكَ لَا يَحِلُّ لِلطَّبِيبِ الْإِقْدَامُ مَعَ التَّوَقُّفِ فِي الرُّجْحَانِ إلَى أَنْ يَظْهَرَ لَهُ الرَّاجِحُ، وَمَا يَحِيدُ عَنْ ذَلِكَ فِي الْغَالِبِ إلَّا جَاهِلٌ بِالصَّالِحِ وَالْأَصْلَحِ، وَالْفَاسِدِ وَالْأَفْسَدِ، فَإِنَّ الطِّبَاعَ مَجْبُولَةٌ عَلَى ذَلِكَ بِحَيْثُ لَا يَخْرُجُ عَنْهُ إلَّا جَاهِلٌ غَلَبَتْ عَلَيْهِ الشَّقَاوَةُ أَوْ أَحْمَقُ زَادَتْ عَلَيْهِ الْغَبَاوَةُ. فَمَنْ حَرَّمَ ذَبْحَ الْحَيَوَانِ مِنْ الْكَفَرَةِ رَامٍ بِذَلِكَ مَصْلَحَةَ الْحَيَوَانِ فَحَادَ عَنْ الصَّوَابِ؛ لِأَنَّهُ قَدَّمَ مَصْلَحَةَ حَيَوَانٍ خَسِيسٍ عَلَى مَصْلَحَةِ حَيَوَانٍ نَفِيسٍ، وَلَوْ خَلَوْا عَنْ الْجَهْلِ وَالْهَوَى لَقَدَّمُوا الْأَحْسَنَ عَلَى الْأَخَسِّ، وَلَدَفَعُوا الْأَقْبَحَ بِالْتِزَامِ الْقَبِيحِ. {فَمَنْ يَهْدِي مَنْ أَضَلَّ اللَّهُ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ} [الروم: 29] ؟ فَمَنْ وَفَّقَهُ اللَّهُ وَعَصَمَهُ أَطْلَعَهُ عَلَى دَقِّ ذَلِكَ وَجُلِّهِ، وَوَفَّقَهُ لِلْعَمَلِ بِمُقْتَضَى مَا أَطْلَعَهُ عَلَيْهِ فَقَدْ فَازَ وَقَلِيلٌ مَا هُمْ.

قَالَ: وَقَدْ كُنَّا نَعُدُّهُمْ قَلِيلًا فَقَدْ صَارُوا أَقَلَّ مِنْ الْقَلِيلِ، وَكَذَلِكَ الْمُجْتَهِدُونَ فِي الْأَحْكَامِ مَنْ وَفَّقَهُ اللَّهُ وَعَصَمَهُ مِنْ الزَّلَلِ أَطْلَعَهُ اللَّهُ عَلَى الْأَدِلَّةِ الرَّاجِحَةِ، فَأَصَابَ الصَّوَابَ فَأَجْرُهُ عَلَى قَصْدِهِ وَصَوَابِهِ، بِخِلَافِ مَنْ أَخْطَأَ الرُّجْحَانَ
সমতা ও অগ্রাধিকারের মধ্যে পার্থক্যের কারণে, বান্দারা সমতার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হয় এবং যখন তারা তারতম্য ও সমতার বিষয়ে বিভ্রান্ত হয় তখন তারা বিরত থাকে।

অনুরূপভাবে চিকিৎসকগণও দুটি রোগের মধ্যে অধিক গুরুতরটিকে দূর করতে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর রোগটিকে বহাল রাখেন। তারা দুটি নিরাপত্তা ও সুস্থতার মধ্যে উচ্চতরটিকে অর্জনের চেষ্টা করেন এবং নিম্নতরটি হাতছাড়া হওয়া নিয়ে ভ্রূক্ষেপ করেন না। সমতা ও তারতম্যের বিষয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিলে তারা সিদ্ধান্তহীনতায় থমকে যান। কেননা চিকিৎসাশাস্ত্র শরীয়তের মতোই; এটি নিরাপত্তা ও সুস্থতার কল্যাণ অর্জনের জন্য এবং ধ্বংস ও ব্যাধির অপকার প্রতিরোধের জন্য প্রবর্তিত হয়েছে। যতটুকু প্রতিরোধ করা সম্ভব তা প্রতিরোধ করা এবং যতটুকু অর্জন করা সম্ভব তা অর্জন করাই এর লক্ষ্য। যদি সবটুকু অপকার প্রতিরোধ করা বা সবটুকু কল্যাণ অর্জন করা অসম্ভব হয়, তবে যদি মর্যাদা সমান হয় তবে ইখতিয়ার বা পছন্দের সুযোগ থাকে। আর যদি তারতম্য থাকে এবং প্রাধান্য পাওয়ার বিষয়টি জানা থাকে তবে তা প্রয়োগ করতে হয়, আর তা জানা না থাকলে বিরত থাকতে হয়। যিনি শরীয়ত প্রবর্তন করেছেন, তিনিই চিকিৎসাশাস্ত্র প্রবর্তন করেছেন। কেননা এগুলোর প্রতিটিই মানুষের কল্যাণ অর্জন ও অনিষ্ট প্রতিরোধের জন্য প্রণীত হয়েছে।

ধর্মীয় কল্যাণের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপে সিদ্ধান্তহীন ব্যক্তির জন্য যেমন অগ্রসর হওয়া বৈধ নয়, তেমনি চিকিৎসকের জন্যও প্রাধান্য পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া বৈধ নয়। মূলত কল্যাণকর ও অধিক কল্যাণকর এবং ক্ষতিকর ও অধিক ক্ষতিকর সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া সাধারণত কেউ এর ব্যত্যয় ঘটায় না। কারণ মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এভাবেই তৈরি যে, কেবল চরম দুর্ভাগা কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি অথবা অতি মাত্রায় স্থুলবুদ্ধি সম্পন্ন কোনো নির্বোধই তা থেকে বিচ্যুত হতে পারে। কাফিরদের মধ্যে যারা পশু জবাই করা হারাম করেছে, তারা এর মাধ্যমে পশুর কল্যাণ চেয়েছে কিন্তু সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। কারণ সে একজন তুচ্ছ প্রাণীর কল্যাণকে একজন শ্রেষ্ঠ প্রাণীর কল্যাণের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদি তারা অজ্ঞতা ও প্রবৃত্তির তাড়না থেকে মুক্ত থাকত, তবে তারা নিকৃষ্টের চেয়ে উত্তমকেই অগ্রাধিকার দিত এবং মন্দকে গ্রহণের মাধ্যমে অধিকতর মন্দকে প্রতিহত করত। "আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তাকে কে পথ দেখাবে? আর তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই।" [রুম: ২৯] আল্লাহ যাকে তাওফিক দেন এবং রক্ষা করেন, তাকে তিনি এ বিষয়ের সূক্ষ্ম ও স্থূল দিকগুলো অবগত করেন। আর তিনি তাকে যা অবগত করেছেন সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন, তবেই সে সফলকাম হয়। আর এমন লোক সংখ্যায় অতি নগণ্য।

তিনি বলেন: আমরা আগে তাদের সংখ্যায় কম মনে করতাম, এখন তারা নগণ্য থেকেও নগণ্য হয়ে গেছেন। তেমনিভাবে বিধানের ক্ষেত্রে মুজতাহিদগণের মধ্যে আল্লাহ যাকে তাওফিক দান করেন এবং পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন, আল্লাহ তাকে অগ্রগণ্য দলিলসমূহ অবগত করেন। ফলে সে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয় এবং তার সংকল্প ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য প্রতিদান লাভ করে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি প্রাধান্য নির্ণয়ে ভুল করে...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ৭)
فَإِنَّ أَجْرَهُ عَلَى قَصْدِهِ وَاجْتِهَادِهِ، وَيُعْفَى عَنْ خَطَئِهِ وَزَلَلِهِ. وَأَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ الْخَطَأُ فِيمَا يَتَعَلَّقُ بِالْأُصُولِ. وَاعْلَمْ أَنَّ تَقْدِيمَ الْأَصْلَحِ فَالْأَصْلَحِ وَدَرْءَ الْأَفْسَدِ فَالْأَفْسَدِ مَرْكُوزٌ فِي طَبَائِعِ الْعِبَادِ نَظَرًا لَهُمْ مِنْ رَبِّ الْأَرْبَابِ، كَمَا ذَكَرْنَا فِي هَذَا الْكِتَابِ، فَلَوْ خَيَّرْت الصَّبِيَّ الصَّغِيرَ بَيْنَ اللَّذِيذِ وَالْأَلَذِّ لَاخْتَارَ الْأَلَذَّ، وَلَوْ خُيِّرَ بَيْنَ الْحَسَنِ وَالْأَحْسَنِ لَاخْتَارَ الْأَحْسَنَ، وَلَوْ خُيِّرَ بَيْنَ فَلْسٍ وَدِرْهَمٍ لَاخْتَارَ الدِّرْهَمَ، وَلَوْ خُيِّرَ بَيْنَ دِرْهَمٍ وَدِينَارٍ لَاخْتَارَ الدِّينَارَ. لَا يُقَدِّمُ الصَّالِحَ عَلَى الْأَصْلَحِ إلَّا جَاهِلٌ بِفَضْلِ الْأَصْلَحِ، أَوْ شَقِيٌّ مُتَجَاهِلٌ لَا يَنْظُرُ إلَى مَا بَيْنَ الْمَرْتَبَتَيْنِ مِنْ التَّفَاوُتِ. وَاعْلَمْ أَنَّ الْمَصَالِحَ الْخَالِصَةَ عَزِيزَةُ الْوُجُودِ، فَإِنْ الْمَآكِلَ وَالْمَشَارِبَ وَالْمَلَابِسَ وَالْمَنَاكِحَ وَالْمَرَاكِبَ وَالْمَسَاكِنَ لَا تَحْصُلُ إلَّا بِنَصَبٍ مُقْتَرِنٍ بِهَا، أَوْ سَابِقٍ، أَوْ لَاحِقٍ، وَأَنَّ السَّعْيَ فِي تَحْصِيلِ هَذِهِ الْأَشْيَاءِ كُلِّهَا شَاقٌّ عَلَى مُعْظَمِ الْخَلْقِ لَا يُنَالُ إلَّا بِكَدٍّ وَتَعَبٍ، فَإِذَا حَصَلَتْ اقْتَرَنَ بِهَا مِنْ الْآفَاتِ مَا يُنْكِدُهَا وَيُنَغِّصُهَا، فَتَحْصِيلُ هَذِهِ الْأَشْيَاءِ شَاقٌّ. أَمَّا الْمَآكِلُ وَالْمَشَارِبُ فَيَتَأَلَّمُ الْإِنْسَانُ بِشَهْوَتِهَا، ثُمَّ يَتَأَلَّمُ بِالسَّعْيِ فِي تَحْصِيلِهَا. ثُمَّ يَتَأَلَّمُ بِمَا يَصِيرُ إلَيْهِ الطَّعَامُ وَالشَّرَابُ مِنْ النَّجَاسَةِ وَالْأَقْذَارِ وَمُعَالَجَةِ غُسْلِهِ بِيَدِهِ.

وَأَمَّا الْمَلَابِسُ فَمَفَاسِدُهَا مَشَقَّةُ اكْتِسَابِهَا، وَمَا يَقْتَرِنُ بِهَا مِنْ آفَاتِهَا؛ كَالتَّخَرُّقِ وَالتَّفَتُّقِ وَالْبِلَى وَالِاحْتِرَاقِ.

وَأَمَّا الْمَنَاكِحُ فَيَتَأَلَّمُ الْمَرْءُ بِمُؤَنِهَا وَنَفَقَتِهَا وَكُسْوَتِهَا وَجَمِيعِ حُقُوقِهَا.

وَأَمَّا الْمَرَاكِبُ فَمَفَاسِدُهَا مَشَقَّةُ اكْتِسَابِهَا وَالْعَنَاءُ فِي الْقِيَامِ بِعَلَفِهَا وَسَقْيِهَا وَحِفْظِهَا وَسِيَاسَتِهَا، وَمَا عَسَاهُ يَلْحَقُهَا مِنْ الْآفَاتِ، وَكَذَلِكَ الرَّقِيقُ فِيهِ هَذِهِ الْمَفَاسِدُ.

وَأَمَّا الْمَسَاكِنُ فَلَا تَحْصُلُ إلَّا بِكَدٍّ وَنَصَبٍ، وَتَقْتَرِنُ بِهَا آفَاتُهَا مِنْ الِانْهِدَامِ وَالِاحْتِرَاقِ وَالتَّزَلْزُلِ وَالتَّعَيُّبِ وَسُوءِ الْجَارِ، وَالضِّيقِ عَلَى مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ ضِيقَهَا، وَاتِّسَاعِهَا عَلَى مَنْ يَتَأَلَّمُ بِاتِّسَاعِهَا، وَسُوءِ صُقْعِهَا فِي الْوَخَامَةِ وَالدَّمَامَةِ وَالْبُعْدِ مِنْ الْمَاءِ وَمُجَاوَرَةِ الْأَتُّونَاتِ وَالْحَمَّامَاتِ وَالْمَدَابِغِ ذَوَاتِ الرَّوَائِحِ الْمُسْتَخْبَثَاتِ.
কেননা তার পুরস্কার তার উদ্দেশ্য ও প্রচেষ্টার ওপর নির্ভরশীল, আর তার ভুল ও ত্রুটি ক্ষমাযোগ্য। আর এর চেয়েও বড় ভুল হলো যা মূলনীতি বা উসূলের সাথে সংশ্লিষ্ট। জেনে রাখুন যে, অধিকতর কল্যাণকরকে অগ্রাধিকার প্রদান ও অধিকতর অকল্যাণকরকে প্রতিহত করা বান্দাদের স্বভাবে প্রোথিত করে দেওয়া হয়েছে, যা রব্বুল আরবাব (প্রভুদের প্রভু)-এর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহস্বরূপ; যেমনটি আমরা এই কিতাবে উল্লেখ করেছি। আপনি যদি কোনো ছোট শিশুকে সুস্বাদু এবং অধিকতর সুস্বাদু জিনিসের মধ্যে পছন্দ করতে দেন, তবে সে অধিকতর সুস্বাদুটাই বেছে নেবে। যদি তাকে উত্তম ও সর্বোত্তম-এর মাঝে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়, সে সর্বোত্তমটিই গ্রহণ করবে। যদি তাকে একটি ফালস ও দিরহামের মাঝে পছন্দ করতে দেওয়া হয়, সে দিরহামকেই বেছে নেবে। আর যদি তাকে দিরহাম ও দিনারের মাঝে পছন্দ করতে দেওয়া হয়, তবে সে দিনারকেই বেছে নেবে। অধিকতর কল্যাণকরের পরিবর্তে কেবল কল্যাণকরকে সেই ব্যক্তিই অগ্রাধিকার দেয়, যে অধিকতর কল্যাণকরের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ, অথবা এমন কোনো হতভাগ্য যে সত্যকে এড়িয়ে চলে এবং এই দুই স্তরের পার্থক্যের প্রতি কোনো দৃষ্টিপাত করে না। জেনে রাখুন যে, বিশুদ্ধ বা নির্ভেজাল জনকল্যাণ বা মাসলাহাত পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর। কারণ আহার্য, পানীয়, পোশাক, বিবাহ, যানবাহন এবং বাসস্থান—এসবই অর্জিত হয় না শ্রম ও কষ্ট ছাড়া, যা এর সাথে লেগে থাকে অথবা এর পূর্বে বা পরে ঘটে থাকে। আর এই সমস্ত বস্তু অর্জনের প্রচেষ্টা অধিকাংশ সৃষ্টির জন্যই কষ্টসাধ্য, যা কঠোর পরিশ্রম ও ক্লান্তি ছাড়া লাভ করা যায় না। যখন এগুলো অর্জিত হয়, তখন তার সাথে এমন সব আপদ যুক্ত হয় যা তাকে বিষাদময় ও আনন্দহীন করে দেয়। সুতরাং এসব বস্তু অর্জন করা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে মানুষ প্রথমে এর ক্ষুধার তাড়নায় কষ্ট পায়, অতঃপর তা অর্জনের প্রচেষ্টায় কষ্ট ভোগ করে। অতঃপর খাদ্য ও পানীয় যখন নাপাকি ও ময়লায় পরিণত হয় এবং নিজের হাতে তা পরিষ্কার করার প্রয়োজন হয়, তখন সে কষ্ট পায়।

পোশাকের ক্ষেত্রে এর অকল্যাণ হলো তা উপার্জনের কষ্ট এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আপদসমূহ; যেমন—ছিঁড়ে যাওয়া, সেলাই খুলে যাওয়া, পুরনো হয়ে যাওয়া এবং পুড়ে যাওয়া।

বিবাহের ক্ষেত্রে মানুষ এর ব্যয়ভার, ভরণ-পোষণ, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং যাবতীয় আনুষঙ্গিক অধিকার আদায়ে কষ্ট ভোগ করে।

যানবাহনের ক্ষেত্রে এর অকল্যাণ হলো তা উপার্জনের কষ্ট এবং এর খাদ্য-পানীয়ের ব্যবস্থা করা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ক্লান্তি এবং সম্ভাব্য যাবতীয় আপদ। অনুরূপভাবে দাস-দাসীদের ক্ষেত্রেও এই সব অকল্যাণ বিদ্যমান।

বাসস্থানের ক্ষেত্রে তা কঠোর পরিশ্রম ও কষ্ট ছাড়া অর্জিত হয় না। আর এর সাথে যুক্ত থাকে ভবন ধসে পড়া, অগ্নিদাহ, ভূমিকম্প, ত্রুটি-বিচ্যুতি, মন্দ প্রতিবেশী, এবং যারা সংকীর্ণতা সহ্য করতে পারে না তাদের জন্য সংকীর্ণতা এবং যারা প্রশস্ততায় কষ্ট অনুভব করে তাদের জন্য প্রশস্ততার মতো আপদসমূহ। এছাড়াও রয়েছে বসবাসের অঞ্চলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, কদর্যতা, পানির উৎস থেকে দূরত্ব এবং চুল্লি, গণ-গোসলখানা ও ট্যানারি বা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার মতো দুর্গন্ধযুক্ত ও অপবিত্র স্থানের সান্নিধ্য।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ৮)
وَالِاشْتِهَاءُ كُلُّهُ مَفَاسِدُ لِمَا فِيهِ مِنْ الْآلَامِ، فَلَا تَحْصُلُ لَذَّةُ شَهْوَةٍ إلَّا بِتَأَلُّمِ الطَّبْعِ بِتِلْكَ الشَّهْوَةِ، فَإِنْ كَانَتْ مُؤَدِّيَةً إلَى مَفْسَدَةٍ عَاجِلَةٍ أَوْ آجِلَةٍ يَعْقُبُهَا مَا يَنْبَنِي عَلَيْهَا مِنْ الْمَفَاسِدِ الْعِظَامِ، وَرُبَّ شَهْوَةِ سَاعَةٍ أَوْرَثَتْ حُزْنًا طَوِيلًا وَعَذَابًا وَبِيلًا. فَإِنْ قِيلَ إذَا كَانَتْ الشَّهْوَةُ أَلَمًا وَمَرَارَةً فَالْجَنَّةُ إذَنْ دَارُ الْآلَامِ وَالْمَرَارَاتِ لِأَنَّ فِيهَا مَا تَشْتَهِي الْأَنْفُسُ؟ قُلْت أَلَمُ الشَّهْوَةِ مُخْتَصٌّ بِدَارِ الْمِحْنَةِ.

وَأَمَّا دَارُ الْكَرَامَةِ فَإِنَّ اللَّذَّةَ تَحْصُلُ فِيهَا مِنْ غَيْرِ أَلَمٍ يَتَقَدَّمُهَا أَوْ يَقْتَرِنُ بِهَا، لِأَنَّ اللَّذَّةَ وَالْأَلَمَ فِي ذَلِكَ عَرَضَانِ مُتَلَازِمَانِ فِي هَذِهِ الدَّارِ بِحُكْمِ الْعَادَةِ الْمُطَّرِدَةِ، وَتِلْكَ الدَّارُ قَدْ خُرِقَتْ فِيهَا الْعَادَةُ كَمَا خُرِقَتْ فِي الْمُخَاطِ وَالْبُصَاقِ وَالْبَوْلِ وَالْغَائِطِ وَالتَّعَادِي وَالتَّحَاسُدِ وَمَسَاوِئِ الْأَخْلَاقِ.

وَكَذَلِكَ تُخْرَقُ الْعَادَةُ فِي وُجْدَانِ لَذَّتِهَا مِنْ غَيْرِ أَلَمٍ سَابِقٍ أَوْ مُقَارِنٍ؛ فَيَجِدُ أَهْلُهَا لَذَّةَ الشَّرَابِ مِنْ غَيْرِ عَطَشٍ وَلَا ظَمَأٍ، وَلَذَّةَ الطَّعَامِ مِنْ غَيْرِ جُوعٍ وَلَا سَغَبٍ، وَكَذَلِكَ خَرْقُ الْعَادَاتِ فِي الْعُقُوبَاتِ؛ فَإِنَّ أَقَلَّ عُقُوبَاتِ الْآخِرَةِ لَا تَبْقَى مَعَهُ فِي هَذِهِ الدَّارِ حَيَاةٌ.

وَأَمَّا فِي تِلْكَ الدَّارِ فَإِنَّ أَحَدَهُمْ لَتَأْتِيهِ أَسْبَابُ الْمَوْتِ مِنْ كُلِّ مَكَان وَمَا هُوَ بِمَيِّتٍ.

وَأَمَّا مَصَالِحُ الْآخِرَةِ وَمَفَاسِدُهَا فَلَا تُعْرَفُ إلَّا بِالنَّقْلِ، وَمَصَالِحُ الدَّارَيْنِ وَمَفَاسِدُهُمَا فِي رُتَبٍ مُتَفَاوِتَةٍ فَمِنْهَا؛ مَا هُوَ فِي أَعْلَاهَا، وَمِنْهَا مَا هُوَ فِي أَدْنَاهَا، وَمِنْهَا مَا يَتَوَسَّطُ بَيْنَهُمَا، وَهُوَ مُنْقَسِمٌ إلَى مُتَّفَقٍ عَلَيْهِ وَمُخْتَلَفٍ فِيهِ. فَكُلُّ مَأْمُورٍ بِهِ فَفِيهِ مَصْلَحَةُ الدَّارَيْنِ أَوْ إحْدَاهُمَا، وَكُلُّ مَنْهِيٍّ عَنْهُ فَفِيهِ مَفْسَدَةٌ فِيهِمَا أَوْ فِي إحْدَاهُمَا، فَمَا كَانَ مِنْ الِاكْتِسَابِ مُحَصَّلًا لِأَحْسَنِ الْمَصَالِحِ فَهُوَ أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ، وَمَا كَانَ مِنْهَا مُحَصَّلًا لِأَقْبَحِ الْمَفَاسِدِ فَهُوَ أَرْذَلُ الْأَعْمَالِ. فَلَا سَعَادَةَ أَصْلَحَ مِنْ الْعِرْفَانِ وَالْإِيمَانِ وَطَاعَةِ الرَّحْمَنِ، وَلَا شَقَاوَةَ أَقْبَحَ مِنْ الْجَهْلِ بِالدَّيَّانِ وَالْكُفْرِ وَالْفُسُوقِ وَالْعِصْيَانِ. وَيَتَفَاوَتُ ثَوَابُ الْآخِرَةِ بِتَفَاوُتِ الْمَصَالِحِ فِي الْأَغْلَبِ، وَيَتَفَاوَتُ عِقَابُهَا بِتَفَاوُتِ الْمَفَاسِدِ فِي الْأَغْلَبِ، وَمُعْظَمُ مَقَاصِدِ الْقُرْآنِ الْأَمْرُ بِاكْتِسَابِ الْمَصَالِحِ وَأَسْبَابِهَا، وَالزَّجْرُ عَنْ اكْتِسَابِ الْمَفَاسِدِ وَأَسْبَابِهَا، فَلَا نِسْبَةَ بِمَصَالِح الدُّنْيَا وَمَفَاسِدِهَا إلَى مَصَالِحِ الْآخِرَةِ وَمَفَاسِدِهَا، لِأَنَّ مَصَالِحَ الْآخِرَةِ
কামনা-বাসনা সর্বান্তকরণে অনিষ্টকর, কেননা এতে বেদনা নিহিত রয়েছে। প্রবৃত্তির সেই যাতনা দ্বারা স্বভাবজাত কষ্ট অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত কামনা-বাসনার স্বাদ অনুভূত হয় না। সুতরাং তা যদি তাৎক্ষণিক বা বিলম্বিত কোনো অনিষ্টের দিকে ধাবিত করে, তবে তার ফলশ্রুতিতে বড় ধরনের অনিষ্টের উদ্ভব ঘটে। আর হতে পারে এক মুহূর্তের কামনা-বাসনা দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি বয়ে আনে। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, যদি কামনা-বাসনা বেদনা ও তিক্ততাই হয়, তবে জান্নাত কি তবে বেদনা ও তিক্ততার ঘর? কারণ সেখানে তো তাই রয়েছে যা মন কামনা করে। আমি বলব: কামনা-বাসনার বেদনা কেবল পরীক্ষালয়ের (দুনিয়ার) সাথেই নির্দিষ্ট।

আর সম্মান ও মর্যাদার আবাসের (পরকালের) অবস্থা হলো, সেখানে কোনো পূর্ববর্তী বা সমসাময়িক বেদনা ছাড়াই সুখ অর্জিত হয়। কেননা এই দুনিয়ায় সুখ ও বেদনা জাগতিক নিয়মানুযায়ী একে অপরের অবিচ্ছেদ্য ও পরিপূরক। কিন্তু সেই আবাসে এই জাগতিক নিয়ম ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যেভাবে সর্দি, থুতু, প্রস্রাব, মল, শত্রুতা, হিংসা এবং চারিত্রিক মন্দ স্বভাবের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়ম রহিত করা হয়েছে।

একইভাবে, কোনো পূর্ববর্তী বা সমসাময়িক বেদনা ছাড়াই সেখানকার সুখ অনুভবের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফলে জান্নাতবাসীরা পিপাসা ও তৃষ্ণা ছাড়াই পানীয়ের স্বাদ আস্বাদন করবে এবং ক্ষুধা ও অনাহার ছাড়াই খাবারের স্বাদ উপভোগ করবে। একইভাবে শাস্তির ক্ষেত্রেও স্বাভাবিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটবে; কেননা আখেরাতের সর্বনিম্ন শাস্তিও যদি এই দুনিয়ায় প্রদান করা হতো, তবে জীবন অবশিষ্ট থাকত না।

কিন্তু সেই পরকালীন আবাসে তাদের কাছে সব দিক থেকে মৃত্যুর উপকরণ আসবে, তবুও তারা মরবে না।

আর আখেরাতের কল্যাণ ও অকল্যাণসমূহ কেবল ওহীর বর্ণনা (নাখল) দ্বারাই জানা যায়। উভয় জগতের কল্যাণ ও অকল্যাণসমূহের বিভিন্ন স্তর রয়েছে; কোনোটি সর্বোচ্চ স্তরের, কোনোটি সর্বনিম্ন স্তরের, আবার কোনোটি এ দুইয়ের মাঝামাঝি। এগুলো আবার সর্বসম্মত এবং মতপার্থক্যপূর্ণ—এভাবেও বিভক্ত। সুতরাং প্রতিটি আদিষ্ট বিষয়ের মধ্যেই উভয় জগতের অথবা যেকোনো এক জগতের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আর প্রতিটি নিষিদ্ধ বিষয়ের মধ্যেই উভয় জগতের অথবা যেকোনো এক জগতের অকল্যাণ নিহিত রয়েছে। অতএব, যে উপার্জন সর্বোত্তম কল্যাণ বয়ে আনে, তা-ই শ্রেষ্ঠ আমল। আর যে উপার্জন নিকৃষ্টতম অকল্যাণ বয়ে আনে, তা-ই জঘন্যতম আমল। সুতরাং পরম করুণাময়ের (রাহমান) পরিচয় লাভ, ঈমান এবং তাঁর আনুগত্যের চেয়ে উত্তম কোনো সৌভাগ্য নেই। আর বিচার দিবসের মালিকের (দাইয়্যান) প্রতি অজ্ঞতা, কুফর, পাপাচার এবং অবাধ্যতার চেয়ে বড় কোনো দুর্ভাগ্যের বিষয় নেই। আখেরাতের সওয়াব বা প্রতিদান সাধারণত কল্যাণের তারতম্য অনুযায়ী ভিন্ন হয় এবং শাস্তিও সাধারণত অকল্যাণের তারতম্য অনুযায়ী ভিন্ন হয়। কুরআনের অধিকাংশ উদ্দেশ্যের সারকথা হলো—কল্যাণ ও তার উপকরণসমূহ অর্জনের নির্দেশ দেওয়া এবং অকল্যাণ ও তার উপকরণসমূহ থেকে বিরত রাখা। দুনিয়ার কল্যাণ ও অকল্যাণসমূহের সাথে আখেরাতের কল্যাণ ও অকল্যাণসমূহের কোনো তুলনাই হয় না, কারণ আখেরাতের কল্যাণ...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ৯)
خُلُودُ الْجِنَانِ وَرِضَا الرَّحْمَنِ، مَعَ النَّظَرِ إلَى وَجْهِهِ الْكَرِيمِ، فَيَا لَهُ مِنْ نَعِيمٍ مُقِيمٍ، وَمَفَاسِدَهَا خُلُودُ النِّيرَانِ وَسَخَطُ الدَّيَّانِ مَعَ الْحَجْبِ عَنْ النَّظَرِ إلَى وَجْهِهِ الْكَرِيمِ، فَيَا لَهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ، وَالْمَصَالِحُ ثَلَاثَةُ أَنْوَاعٍ: أَحَدُهَا مَصَالِحُ الْمُبَاحَاتِ.

الثَّانِي مَصَالِحُ الْمَنْدُوبَاتِ.

الثَّالِثُ: مَصَالِحُ الْوَاجِبَاتِ.

وَالْمَفَاسِدُ نَوْعَانِ: أَحَدُهُمَا: مَفَاسِدُ الْمَكْرُوهَاتِ.

الثَّانِي: مَفَاسِدُ الْمُحَرَّمَاتِ.

 

‌‌[فَائِدَةٌ قَدَّمَ الْأَوْلِيَاءُ وَالْأَصْفِيَاءُ مَصَالِحَ الْآخِرَةِ عَلَى مَصَالِحِ الدنيا]

(فَائِدَةٌ) قَدَّمَ الْأَوْلِيَاءُ وَالْأَصْفِيَاءُ مَصَالِحَ الْآخِرَةِ عَلَى مَصَالِحِ هَذِهِ الدَّارِ لِمَعْرِفَتِهِمْ بِتَفَاوُتِ الْمَصْلَحَتَيْنِ وَدَرَءُوا مَفَاسِدَ الْآخِرَةِ بِالْتِزَامِ مَفَاسِدِ بَعْضِ هَذِهِ الدَّارِ لِمَعْرِفَتِهِمْ بِتَفَاوُتِ الرُّتْبَتَيْنِ.

وَأَمَّا أَصْفِيَاءُ الْأَصْفِيَاءِ فَإِنَّهُمْ عَرَفُوا أَنَّ لَذَّاتِ الْمَعَارِفِ وَالْأَحْوَالِ أَشْرَفُ اللَّذَّاتِ فَقَدَّمُوهَا عَلَى لَذَّاتِ الدَّارَيْنِ. وَلَوْ عَرَفَ النَّاسُ كُلُّهُمْ مِنْ ذَلِكَ مَا عَرَفُوهُ؛ لَكَانُوا أَمْثَالَهُمْ فَنَصِبُوا لِيَسْتَرِيحُوا وَاغْتَرَبُوا لِيَقْتَرِبُوا. فَمِنْهُمْ مَنْ تَحْضُرُهُ الْمَعَارِفُ بِغَيْرِ تَكَلُّفٍ، فَيَنْشَأُ عَنْهَا الْأَحْوَالُ اللَّائِقَةُ بِهَا بِغَيْرِ تَصَنُّعٍ وَلَا تَخَلُّقٍ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَذْكِرُ الْمَعَارِفَ لِيَنْشَأَ عَنْهَا أَحْوَالُهَا، وَشَتَّانَ مَا بَيْنَ الْفَرِيقَيْنِ. وَقَدْ يَتَكَلَّفُ الْمَحْرُومُ اسْتِحْضَارَ الْمَعَارِفِ فَلَا تَحْضُرُهُ، فَسُبْحَانَ مَنْ عَرَّفَ نَفْسَهُ لِهَؤُلَاءِ مِنْ غَيْرِ تَعَبٍ وَلَا نَصَبٍ وَلَا اسْتِدْلَالٍ وَلَا وَصَبٍ، بَلْ جَادَ عَلَيْهِمْ وَسَقَاهُمْ خَالِصَ وَبْلِهِ وَصَافِيَ فَضْلِهِ فَشَغَلَهُمْ بِهِ عَمَّا سِوَاهُ فَلَا هَمَّ لَهُمْ سِوَاهُ وَلَا مُؤْنِسَ لَهُمْ غَيْرَهُ وَلَا مُعْتَمَدَ لَهُمْ إلَّا عَلَيْهِ، لِعِلْمِهِمْ أَنَّهُ لَا مَلْجَأَ لَهُمْ إلَّا إلَيْهِ؛ فَرَضُوا بِقَضَائِهِ وَصَبَرُوا عَلَى بَلَائِهِ وَشَكَرُوا لِنَعْمَائِهِ، يَتَّسِعُ عَلَيْهِمْ مَا يَضِيقُ عَلَى النَّاسِ وَيَضِيقُ عَلَيْهِمْ مَا يَتَّسِعُ لِلنَّاسِ، أَدَبُهُمْ الْقُرْآنُ مُعَلِّمُهُمْ الرَّحْمَنُ وَجَلِيسُهُمْ الدَّيَّانُ وَسَرَابِيلُهُمْ الْإِذْعَانُ، قَدْ انْقَطَعُوا عَنْ الْإِخْوَانِ وَتَغَرَّبُوا عَنْ الْأَوْطَانِ، بُكَاؤُهُمْ طَوِيلٌ وَفَرَحُهُمْ قَلِيلٌ يَرِدُونَ كُلَّ حِينٍ مَوْرِدًا لَمْ يَتَوَهَّمُوهُ، وَيَنْزِلُونَ مَنْزِلًا لَمْ يَفْهَمُوهُ، وَيُشَاهِدُونَ مَا لَمْ يَعْرِفُوهُ، لَا يَعْرِفُ مَنَازِلَهُمْ عَارِفٌ، وَلَا يَصِفُ أَحْوَالَهُمْ وَاصِفٌ، إلَّا مَنْ نَازَلَهَا وَلَابَسَهَا، قَدْ اتَّصَفُوا بِأَخْلَاقِ الْقُرْآنِ عَلَى حَسْبِ الْإِمْكَانِ، وَتِلْكَ الْأَخْلَاقُ مُوجِبَةٌ لِرِضَا الرَّحْمَنِ وَسُكْنَى الْجِنَانِ فِي الرَّغَدِ وَالْأَمَانِ، مَعَ النَّظَرِ إلَى الدَّيَّانِ.
জান্নাতের স্থায়িত্ব এবং পরম করুণাময়ের সন্তুষ্টি, তাঁর মহান মুখমণ্ডলের দিকে দৃষ্টিপাত করার সাথে। হায়, এটি কতই না চিরস্থায়ী নিয়ামত! আর এর বিপরীতে রয়েছে জাহান্নামের স্থায়িত্ব এবং বিচার দিবসের অধিপতির অসন্তুষ্টি, সাথে তাঁর মহান মুখমণ্ডল দর্শন থেকে বঞ্চিত থাকা। হায়, এটি কতই না যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি! আর কল্যাণসমূহ তিন প্রকার: প্রথমটি হলো বৈধ বিষয়সমূহের কল্যাণ।

দ্বিতীয়টি হলো মুস্তাহাব বিষয়সমূহের কল্যাণ।

তৃতীয়টি হলো ওয়াজিব বিষয়সমূহের কল্যাণ।

আর অকল্যাণ বা ক্ষতিকর বিষয়সমূহ দুই প্রকার: প্রথমটি হলো মাকরূহ বিষয়সমূহের অকল্যাণ।

দ্বিতীয়টি হলো হারাম বিষয়সমূহের অকল্যাণ।

 

‌‌[একটি শিক্ষা: আল্লাহর ওলিগণ ও মনোনীত বান্দাগণ দুনিয়ার কল্যাণের ওপর আখিরাতের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন]

(একটি শিক্ষা) আল্লাহর ওলিগণ ও মনোনীত বান্দাগণ এই পার্থিব জগতের কল্যাণের ওপর আখিরাতের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, কারণ তারা এই উভয় কল্যাণের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তারা এই জগতের কিছু অকল্যাণ বরণ করে নেওয়ার মাধ্যমে আখিরাতের অকল্যাণকে প্রতিহত করেছেন, কারণ তারা উভয় মর্যাদার স্তরের পার্থক্য জানতেন।

আর মনোনীতদের মধ্যে যারা বিশেষ মনোনীত, তারা উপলব্ধি করেছেন যে মারেফাত এবং আধ্যাত্মিক অবস্থার স্বাদই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ স্বাদ; তাই তারা উভয় জগতের স্বাদের ওপর একেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। যদি সমস্ত মানুষ তা জানত যা তারা জেনেছেন, তবে তারাও তাঁদের অনুরূপ হয়ে যেত; ফলে তারা প্রশান্তি লাভের আশায় কঠোর পরিশ্রম করত এবং নৈকট্য লাভের জন্য পরবাসী হতো। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছেন যাদের নিকট কোনো প্রকার কষ্ট ব্যতিরেকেই মারেফাত উপস্থিত হয়, যার ফলে কোনো কৃত্রিমতা বা লৌকিকতা ছাড়াই তাঁদের মধ্যে মানানসই আধ্যাত্মিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছেন যারা আধ্যাত্মিক অবস্থার সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মারেফাতকে স্মরণ করেন; এই উভয় দলের মধ্যে অনেক ব্যবধান রয়েছে। কখনো কখনো বঞ্চিত ব্যক্তি মারেফাতকে উপস্থিত করার জন্য অনেক চেষ্টা করে কিন্তু তা তার নিকট উপস্থিত হয় না। সুতরাং সেই সত্তা কতই না পবিত্র, যিনি কোনো ক্লান্তি, পরিশ্রম, যুক্তি-প্রমাণ বা কষ্ট ছাড়াই এদেরকে নিজের পরিচয় দান করেছেন। বরং তিনি তাঁদের প্রতি করুণা করেছেন এবং তাঁদেরকে তাঁর বিশুদ্ধ অনুগ্রহ ও স্বচ্ছ দান পান করিয়েছেন। ফলে তিনি তাঁদেরকে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত রেখেছেন অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ করে। সুতরাং তাঁদের নিকট তিনি ব্যতীত আর কোনো চিন্তা নেই, তিনি ব্যতীত আর কোনো সঙ্গী নেই এবং তিনি ব্যতীত কারো ওপর তাঁদের কোনো নির্ভরতা নেই; যেহেতু তারা জানেন যে তিনি ব্যতীত তাঁদের আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই। তারা তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকেন, তাঁর বিপদে ধৈর্য ধারণ করেন এবং তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করেন। সাধারণ মানুষের নিকট যা সংকীর্ণ, তা তাঁদের নিকট প্রশস্ত হয়ে যায়, আর সাধারণ মানুষের নিকট যা প্রশস্ত, তা তাঁদের নিকট সংকীর্ণ হয়ে যায়। কুরআন তাঁদের শিষ্টাচার, পরম করুণাময় আল্লাহ তাঁদের শিক্ষক, বিচার দিবসের অধিপতি আল্লাহ তাঁদের সহচর এবং আনুগত্যই তাঁদের পোশাক। তারা পার্থিব ভ্রাতৃত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন এবং স্বদেশ থেকে পরবাসী হয়েছেন। তাঁদের ক্রন্দন দীর্ঘ এবং তাঁদের আনন্দ সামান্য। তারা প্রতি মুহূর্তে এমন এক ঘাটে উপস্থিত হন যা তারা কল্পনাও করেননি, এবং এমন এক স্থানে অবতীর্ণ হন যা তারা বুঝতে পারেননি, এবং এমন কিছু প্রত্যক্ষ করেন যা তারা জানতেন না। কোনো জ্ঞানী ব্যক্তিই তাঁদের মর্যাদার স্তর সম্পর্কে জানে না, এবং কোনো বর্ণনাকারীই তাঁদের অবস্থার বর্ণনা দিতে পারে না—ব্যতীত সেই ব্যক্তি যে তাঁদের সেই স্তরে পৌঁছেছে এবং তাতে সম্পৃক্ত হয়েছে। তারা সাধ্যমতো কুরআনের চরিত্রে চরিত্রবান হয়েছেন। আর এই চরিত্রই পরম করুণাময়ের সন্তুষ্টি এবং পরম স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সাথে জান্নাতে বসবাসের অধিকার দান করে, সাথে বিচার দিবসের অধিপতি আল্লাহর দর্শনের সৌভাগ্য অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌[فَصْلٌ فِيمَا تُعْرَفُ بِهِ مَصَالِحُ الدَّارَيْنِ وَمَفَاسِدُهُمَا]

فِيمَا تُعْرَفُ بِهِ مَصَالِحُ الدَّارَيْنِ وَمَفَاسِدُهُمَا

أَمَّا مَصَالِحُ الدَّارَيْنِ وَأَسْبَابُهَا وَمَفَاسِدُهَا فَلَا تُعْرَفُ إلَّا بِالشَّرْعِ، فَإِنْ خَفِيَ مِنْهَا شَيْءٌ طُلِبَ مِنْ أَدِلَّةِ الشَّرْعِ وَهِيَ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَالْإِجْمَاعُ وَالْقِيَاسُ الْمُعْتَبَرُ وَالِاسْتِدْلَالُ الصَّحِيحُ.

وَأَمَّا مَصَالِحُ الدُّنْيَا وَأَسْبَابُهَا وَمَفَاسِدُهَا فَمَعْرُوفَةٌ بِالضَّرُورَاتِ وَالتَّجَارِبِ وَالْعَادَاتِ وَالظُّنُونِ الْمُعْتَبَرَاتِ، فَإِنْ خَفِيَ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ طُلِبَ مِنْ أَدِلَّتِهِ، وَمَنْ أَرَادَ أَنْ يَعْرِفَ الْمُتَنَاسِبَاتِ وَالْمَصَالِحَ وَالْمَفَاسِدَ رَاجِحَهُمَا وَمَرْجُوحَهُمَا فَلْيَعْرِضْ ذَلِكَ عَلَى عَقْلِهِ بِتَقْدِيرِ أَنَّ الشَّرْعَ لَمْ يَرِدْ بِهِ ثُمَّ يَبْنِي عَلَيْهِ الْأَحْكَامَ فَلَا يَكَادُ حُكْمٌ مِنْهَا يَخْرُجُ عَنْ ذَلِكَ إلَّا مَا تَعَبَّدَ اللَّهَ بِهِ عِبَادَهُ وَلَمْ يَقِفْهُمْ عَلَى مَصْلَحَتِهِ أَوْ مَفْسَدَتِهِ، وَبِذَلِكَ تُعْرَفُ حُسْنُ الْأَعْمَالِ وَقُبْحُهَا، مَعَ أَنَّ اللَّهَ عز وجل لَا يَجِبُ عَلَيْهِ جَلْبُ مَصَالِحِ الْحَسَنِ، وَلَا دَرْءُ مَفَاسِدِ الْقَبِيحِ، كَمَا لَا يَجِبُ عَلَيْهِ خَلْقٌ وَلَا رِزْقٌ وَلَا تَكْلِيفٌ وَلَا إثَابَةٌ وَلَا عُقُوبَةٌ، وَإِنَّمَا يَجْلِبُ مَصَالِحَ الْحَسَنِ وَيَدْرَأُ مَفَاسِدَ الْقَبِيحِ طُولًا مِنْهُ عَلَى عِبَادِهِ وَتَفَضُّلًا، وَلَوْ عُكِسَ الْأَمْرُ لَمْ يَكُنْ قَبِيحًا إذْ لَا حَجْرَ لِأَحَدٍ عَلَيْهِ.

 

‌‌[فَصْلٌ فِي بَيَانِ مَقَاصِدِ هَذَا الْكِتَابِ]

الْغَرَضُ بِوَضْعِ هَذَا الْكِتَابِ بَيَانُ مَصَالِحِ الطَّاعَاتِ وَالْمُعَامَلَاتِ وَسَائِرِ التَّصَرُّفَاتِ لِسَعْيِ الْعِبَادِ فِي تَحْصِيلِهَا، وَبَيَانُ مَقَاصِدِ الْمُخَالَفَاتِ لِيَسْعَى الْعِبَادُ فِي دَرْئِهَا، وَبَيَانُ مَصَالِحِ الْعِبَادَاتِ لِيَكُونَ الْعِبَادُ عَلَى خَبَرٍ مِنْهَا، وَبَيَانُ مَا يُقَدَّمُ مِنْ بَعْضِ الْمَصَالِحِ عَلَى بَعْضٍ، وَمَا يُؤَخَّرُ مِنْ بَعْضِ الْمَفَاسِدِ عَلَى بَعْضٍ، وَمَا يَدْخُلُ تَحْتَ اكْتِسَابِ الْعَبِيدِ دُونَ مَا لَا قُدْرَةَ لَهُمْ عَلَيْهِ وَلَا سَبِيلَ لَهُمْ إلَيْهِ،
[উভয় জগতের কল্যাণ ও অকল্যাণ যা দ্বারা জানা যায় সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদ]

উভয় জগতের কল্যাণ ও অকল্যাণ যা দ্বারা জানা যায় সেই বিষয়ে

পক্ষান্তরে উভয় জগতের কল্যাণ ও তার কারণসমূহ এবং অকল্যাণসমূহ শরিয়ত ব্যতীত জানা যায় না। যদি তার কোনো কিছু অস্পষ্ট থাকে, তবে শরিয়তের দলিলসমূহ থেকে তা অন্বেষণ করতে হবে; আর তা হলো কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা, নির্ভরযোগ্য কিয়াস এবং সঠিক ইস্তিদলাল (দলিল প্রয়োগ)।

আর দুনিয়াবি কল্যাণসমূহ, তার কারণসমূহ এবং অকল্যাণসমূহ প্রয়োজনীয়তা, অভিজ্ঞতা, অভ্যাস এবং নির্ভরযোগ্য ধারণাসমূহের মাধ্যমে পরিজ্ঞাত। যদি এর কোনো কিছু অস্পষ্ট থাকে, তবে তার সংশ্লিষ্ট দলিলসমূহ থেকে তা অন্বেষণ করতে হবে। আর যে ব্যক্তি সামঞ্জস্যতা এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে কোনটি প্রবল এবং কোনটি অপ্রবল তা জানতে চায়, সে যেন শরিয়ত তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়নি ধরে নিয়ে বিষয়টি নিজের বিবেকের সামনে উপস্থাপন করে, অতঃপর তার ওপর ভিত্তি করে বিধানসমূহ গঠন করে। তবে এর কোনো বিধানই তা থেকে বিচ্যুত হবে না, কেবল আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যা নিছক ইবাদত হিসেবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং যার কল্যাণ বা অকল্যাণ সম্পর্কে তাদের অবগত করেননি তা ব্যতীত। এর মাধ্যমেই আমলসমূহের সৌন্দর্য ও কদর্যতা জানা যায়। যদিও মহান আল্লাহর ওপর সুন্দরের কল্যাণ আনয়ন করা বা কদর্যতার অকল্যাণ দূর করা আবশ্যক নয়, যেমনটি তাঁর ওপর সৃষ্টি করা, রিজিক দেওয়া, দায়িত্ব অর্পণ করা, সওয়াব দেওয়া কিংবা শাস্তি দেওয়া আবশ্যক নয়। বরং তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ ও দয়া স্বরূপ সুন্দরের কল্যাণ আনয়ন করেন এবং কদর্যতার অকল্যাণ প্রতিহত করেন। আর যদি বিষয়টি এর বিপরীত হতো তবে তা কদর্য হতো না, কেননা তাঁর ওপর কারও কোনো হুকুম বা বাধ্যবাধকতা নেই।

 

[এই কিতাবের উদ্দেশ্য বর্ণনার পরিচ্ছেদ]

এই কিতাব রচনার উদ্দেশ্য হলো আনুগত্য, লেনদেন এবং যাবতীয় আচরণের কল্যাণসমূহ বর্ণনা করা যাতে বান্দারা তা অর্জনে সচেষ্ট হয়; এবং অবাধ্যতার বিষয়সমূহ বর্ণনা করা যাতে বান্দারা তা দূর করতে সচেষ্ট হয়; এবং ইবাদতসমূহের কল্যাণসমূহ বর্ণনা করা যাতে বান্দারা সে সম্পর্কে অবগত হতে পারে; এবং কোন কল্যাণসমূহকে অন্যগুলোর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং কোন অকল্যাণসমূহকে অন্যগুলোর তুলনায় পিছনে রাখা হবে তা বর্ণনা করা; আর যা বান্দাদের উপার্জনের আয়ত্তাধীন তা বর্ণনা করা, তার বাইরে যা করার ক্ষমতা বা উপায় তাদের নেই তা নয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ১১)
وَالشَّرِيعَةُ كُلُّهَا مَصَالِحُ إمَّا تَدْرَأُ مَفَاسِدَ أَوْ تَجْلِبُ مَصَالِحَ، فَإِذَا سَمِعْت اللَّهَ يَقُولُ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} [البقرة: 104] ؛ فَتَأَمَّلْ وَصِيَّتَهُ بَعْدَ نِدَائِهِ، فَلَا تَجِدُ إلَّا خَيْرًا يَحُثُّك عَلَيْهِ أَوْ شَرًّا يَزْجُرُك عَنْهُ، أَوْ جَمْعًا بَيْنَ الْحَثِّ وَالزَّجْرِ، وَقَدْ أَبَانَ فِي كِتَابِهِ مَا فِي بَعْضِ الْأَحْكَامِ مِنْ الْمَفَاسِدِ حَثًّا عَلَى اجْتِنَابِ الْمَفَاسِدِ وَمَا فِي بَعْضِ الْأَحْكَامِ مِنْ الْمَصَالِحِ حَثًّا عَلَى إتْيَانِ الْمَصَالِحِ. فَصْلٌ فِي تَقْسِيمِ اكْتِسَابِ الْعِبَادِ

اعْلَمْ أَنَّ اكْتِسَابَ الْعِبَادِ ضَرْبَانِ: أَحَدُهُمَا مَا هُوَ سَبَبٌ لِلْمَصَالِحِ وَهُوَ أَنْوَاعٌ:

أَحَدُهَا: مَا هُوَ سَبَبٌ لِمَصَالِحَ دُنْيَوِيَّةٍ.

وَالثَّانِي: مَا هُوَ سَبَبٌ لِمَصَالِحَ أُخْرَوِيَّةٍ.

الثَّالِثُ مَا هُوَ سَبَبٌ لِمَصَالِحَ دُنْيَوِيَّةٍ وَأُخْرَوِيَّةٍ، وَكُلُّ هَذِهِ الِاكْتِسَابَاتِ مَأْمُورٌ بِهَا، وَيَتَأَكَّدُ الْأَمْر بِهَا عَلَى قَدْرِ مَرَاتِبِهَا فِي الْحُسْنِ وَالرَّشَادِ، وَمِنْ هَذِهِ الِاكْتِسَابَاتِ مَا هُوَ خَيْرٌ مِنْ الثَّوَابِ كَالْمَعْرِفَةِ وَالْإِيمَانِ، وَقَدْ يَكُونُ الثَّوَابُ خَيْرًا مِنْ الِاكْتِسَابِ كَالنَّظَرِ إلَى وَجْهِ اللَّهِ الْكَرِيمِ وَرِضَاهُ الَّذِي هُوَ أَعْلَى مِنْ كُلِّ نَعِيمٍ سِوَى النَّظَرِ إلَى وَجْهِهِ الْكَرِيمِ.

الضَّرْبُ الثَّانِي: مِنْ الِاكْتِسَابِ مَا هُوَ سَبَبٌ لِلْمَفَاسِدِ وَهُوَ أَنْوَاعٌ: أَحَدُهُمَا: مَا هُوَ سَبَبٌ لِمَفَاسِدَ دُنْيَوِيَّةٍ، الثَّانِي مَا هُوَ سَبَبٌ لِمَفَاسِدَ أُخْرَوِيَّةٍ، الثَّالِثُ: مَا هُوَ سَبَبٌ لِمَفَاسِدَ دُنْيَوِيَّةٍ وَأُخْرَوِيَّةٍ، وَكُلُّ هَذِهِ الِاكْتِسَابَاتِ مَنْهِيٌّ عَنْهَا، وَيَتَأَكَّدُ النَّهْيُ عَنْهَا عَلَى قَدْرِ مَرَاتِبِهَا فِي الْقُبْحِ وَالْفَسَادِ.

 

‌‌[فَصْلٌ فِي بَيَانِ حَقِيقَةِ الْمَصَالِحِ وَالْمَفَاسِدِ]

الْمَصَالِحُ أَرْبَعَةُ أَنْوَاعٍ: اللَّذَّاتُ وَأَسْبَابُهَا، وَالْأَفْرَاحُ وَأَسْبَابُهَا. وَالْمَفَاسِدُ
সমগ্র শরীয়ত হলো কল্যাণ সম্বলিত, হয় তা অকল্যাণ দূর করে অথবা কল্যাণ বয়ে আনে। সুতরাং যখন আপনি আল্লাহকে বলতে শুনবেন: {হে মুমিনগণ} [আল-বাকারা: ১০৪]; তখন তাঁর আহ্বানের পরবর্তী উপদেশটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন, কারণ সেখানে আপনি কেবল এমন কোনো কল্যাণই পাবেন যার প্রতি তিনি আপনাকে উৎসাহিত করছেন, অথবা এমন কোনো অকল্যাণ পাবেন যা থেকে তিনি আপনাকে বিরত রাখছেন, অথবা উৎসাহ ও সতর্কতার সংমিশ্রণ পাবেন। তিনি তাঁর কিতাবে কিছু বিধানের অকল্যাণগুলো স্পষ্ট করেছেন যাতে অকল্যাণ থেকে বেঁচে থাকতে উৎসাহিত হওয়া যায় এবং কিছু বিধানের কল্যাণগুলো স্পষ্ট করেছেন যাতে কল্যাণ অর্জন করতে উৎসাহিত হওয়া যায়। বান্দার কর্ম-অর্জনের প্রকারভেদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

জেনে রাখুন যে, বান্দার কর্ম-অর্জন দুই প্রকার: প্রথমটি যা কল্যাণের কারণ এবং তা কয়েক প্রকার:

এক: যা দুনিয়াবী কল্যাণের কারণ।

দুই: যা পরকালীন কল্যাণের কারণ।

তিন: যা দুনিয়া ও পরকাল উভয়ের কল্যাণের কারণ। এই সকল কর্ম-অর্জনেরই আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর সৌন্দর্য ও সঠিকত্বের স্তর অনুযায়ী নির্দেশের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। এই অর্জনগুলোর মধ্যে কোনোটি সওয়াব (প্রতিদান) থেকেও শ্রেষ্ঠ হতে পারে, যেমন আল্লাহর পরিচয় লাভ (মারিফাত) ও ঈমান। আবার কখনো সওয়াব অর্জন থেকেও শ্রেষ্ঠ হতে পারে, যেমন আল্লাহর সম্মানিত চেহারার দিকে তাকানো এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভ করা, যা আল্লাহর সম্মানিত চেহারার দিকে তাকানো ব্যতীত অন্য সকল নিআমতের ঊর্ধ্বে।

দ্বিতীয় প্রকার: সেই সকল কর্ম-অর্জন যা অকল্যাণের কারণ এবং তা কয়েক প্রকার: এক: যা দুনিয়াবী অকল্যাণের কারণ। দুই: যা পরকালীন অকল্যাণের কারণ। তিন: যা দুনিয়া ও পরকাল উভয়ের অকল্যাণের কারণ। এই সকল কর্ম-অর্জনই নিষিদ্ধ এবং সেগুলোর কদর্যতা ও অকল্যাণের স্তর অনুযায়ী নিষেধের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।

 

‌‌[কল্যাণ ও অকল্যাণের প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]

কল্যাণ চার প্রকার: স্বাদ-আহ্লাদ ও তার উপকরণসমূহ, এবং আনন্দ ও তার উপকরণসমূহ। আর অকল্যাণগুলো হলো-
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ১২)
أَرْبَعَةُ أَنْوَاعٍ: الْآلَامُ وَأَسْبَابُهَا، وَالْغُمُومُ وَأَسْبَابُهَا، وَهِيَ مُنْقَسِمَةٌ إلَى دُنْيَوِيَّةٍ وَأُخْرَوِيَّةٍ، فَأَمَّا لَذَّاتُ الدُّنْيَا وَأَسْبَابُهَا وَأَفْرَاحُهَا وَآلَامُهَا وَأَسْبَابُهَا، وَغُمُومُهَا وَأَسْبَابُهَا، فَمَعْلُومَةٌ بِالْعَادَاتِ، وَمِنْ أَفْضَلِ لَذَّاتِ الدُّنْيَا لَذَّاتُ الْمَعَارِفِ وَبَعْضِ الْأَحْوَالِ، وَلَذَّاتُ بَعْضِ الْأَفْعَالِ فِي حَقِّ الْأَنْبِيَاءِ وَالْأَبْدَالِ، فَلَيْسَ مَنْ جُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِهِ فِي الصَّلَاةِ كَمَنْ جُعِلَتْ الصَّلَاةُ شَاقَّةً عَلَيْهِ، وَلَيْسَ مَنْ يَرْتَاحُ إلَى إيتَاءِ الزَّكَاةِ كَمَنْ يَبْذُلُهَا وَهُوَ كَارِهٌ لَهَا، وَأَمَّا لَذَّاتُ الْآخِرَةِ وَأَسْبَابُهَا وَأَفْرَاحُهَا وَأَسْبَابُهَا، وَآلَامُهَا وَأَسْبَابُهَا وَغُمُومُهَا وَأَسْبَابُهَا، فَقَدْ دَلَّ عَلَيْهِ الْوَعِيدُ، وَالزَّجْرُ وَالتَّهْدِيدُ.

وَأَمَّا اللَّذَّاتُ فَمِثْلُ قَوْلِهِ: {وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الأَعْيُنُ} [الزخرف: 71] ، وَقَوْلِهِ: {يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ - بَيْضَاءَ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ} [الصافات: 45 - 46] .

وَأَمَّا الْأَفْرَاحُ فَفِي مِثْلِ قَوْله تَعَالَى: {وَلَقَّاهُمْ نَضْرَةً وَسُرُورًا} [الإنسان: 11] ، وَقَوْلِهِ: {فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ} [آل عمران: 170] .

وَفِي مِثْلِ قَوْلِهِ: {يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ} [آل عمران: 171] .

وَأَمَّا الْآلَامُ فَفِي مِثْلِ قَوْلِهِ: {وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [البقرة: 10] ، وَقَوْلِهِ: {وَيَأْتِيهِ الْمَوْتُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ وَمَا هُوَ بِمَيِّتٍ وَمِنْ وَرَائِهِ عَذَابٌ غَلِيظٌ} [إبراهيم: 17] .

وَأَمَّا الْغُمُومُ فَفِي مِثْلِ قَوْلِهِ: {كُلَّمَا أَرَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا مِنْ غَمٍّ أُعِيدُوا فِيهَا} [الحج: 22] .

 

‌‌[فَائِدَةٌ سَعَى النَّاسُ فِي جَانِبِ الْأَفْرَاحِ وَاللَّذَّاتِ وَفِي دَرْءِ الْغُمُومِ الْمُؤْلِمَاتِ]

(فَائِدَةٌ) سَعَى النَّاسُ كُلُّهُمْ فِي جَانِبِ الْأَفْرَاحِ وَاللَّذَّاتِ وَفِي دَرْءِ الْغُمُومِ الْمُؤْلِمَاتِ، فَمِنْهُمْ مَنْ يَطْلُبُ الْأَعْلَى مِنْ ذَلِكَ فَالْأَعْلَى وَقَلِيلٌ مَا هُمْ. وَمِنْهُمْ مَنْ يَقْتَصِرُ عَلَى طَلَبِ الْأَدْنَى، وَمِنْهُمْ السَّاعُونَ فِي الْمُتَوَسِّطَاتِ، وَالْقَدَرُ مِنْ وَرَاءِ سَعْيِ السَّعَادَةِ وَكُلٌّ مُتَسَبِّبٌ فِي مَطْلُوبِهِ. فَمِنْ بَيْنِ ظَافِرٍ وَخَائِبٍ وَمَغْلُوبٍ وَغَالِبٍ وَرَابِحٍ وَخَاسِرٍ وَمُتَمَكِّنٍ وَحَاسِرٍ، كُلُّهُمْ يَتَقَلَّبُونَ وَإِلَى الْقَضَاءِ يَنْقَلِبُونَ، فَمَنْ طَلَبَ لَذَّاتِ الْمَعَارِفِ وَالْأَحْوَالِ فِي الدُّنْيَا وَلَذَّةَ النَّظَرِ وَالْقُرْبِ فِي الْآخِرَةِ فَهُوَ أَفْضَلُ الطَّالِبِينَ، لِأَنَّ مَطْلُوبَهُ أَفْضَلُ مِنْ كُلِّ مَطْلُوبٍ، وَمَنْ طَلَبَ نَعِيمَ الْجِنَانِ وَأَفْرَاحَهَا وَلَذَّاتِهَا فَهُوَ فِي الدَّرَجَةِ الثَّانِيَةِ، وَمَنْ طَلَبَ أَفْرَاحَ هَذِهِ الدَّارِ وَلَذَّاتِهَا فِي الدَّرَجَةِ الثَّالِثَةِ، ثُمَّ يَتَفَاوَتُ هَؤُلَاءِ الطُّلَّابُ فِي رُتَبِ
চারটি প্রকার: কষ্ট ও তার কারণসমূহ, এবং দুশ্চিন্তা ও তার কারণসমূহ। এগুলো পার্থিব ও পরকালীন—এই দুই ভাগে বিভক্ত। পার্থিব জগতের স্বাদ ও তার কারণসমূহ, এর আনন্দসমূহ, এবং এর কষ্ট ও তার কারণসমূহ, এবং এর দুশ্চিন্তা ও তার কারণসমূহ স্বভাবজাত অভ্যাসের মাধ্যমেই পরিচিত। আর পার্থিব জগতের শ্রেষ্ঠতম স্বাদসমূহ হলো মারেফাত বা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের স্বাদ ও কিছু আধ্যাত্মিক অবস্থার স্বাদ। এবং নবী ও আবদালগণের (আল্লাহর বিশেষ ওলি) ক্ষেত্রে কিছু কর্মের স্বাদ। যার জন্য সালাতকে চক্ষুর শীতলতা বানানো হয়েছে, সে ওই ব্যক্তির মতো নয় যার জন্য সালাতকে কষ্টকর বানানো হয়েছে। আর যে ব্যক্তি যাকাত প্রদানে প্রশান্তি অনুভব করে, সে ওই ব্যক্তির মতো নয় যে তা অপছন্দ করা সত্ত্বেও প্রদান করে। আর পরকালের স্বাদ ও তার কারণসমূহ, এর আনন্দ ও তার কারণসমূহ, এবং এর কষ্ট ও তার কারণসমূহ ও এর দুশ্চিন্তা ও তার কারণসমূহ সম্পর্কে পরকালীন শাস্তি ও সতর্কবাণী প্রমাণ বহন করে।

আর স্বাদের বর্ণনায় যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "সেখানে রয়েছে যা কিছু মন কামনা করে এবং যা চোখের জন্য তৃপ্তিদায়ক।" [আয-যুখরুফ: ৭১], এবং তাঁর বাণী: "প্রবহমান ঝরনার সুরাপূর্ণ পাত্র নিয়ে তাদের চারদিকে ঘোরা হবে। তা হবে শুভ্র-উজ্জ্বল, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।" [আস-সাফফাত: ৪৫-৪৬]।

আর আনন্দের বর্ণনায় আল্লাহ তাআলার বাণীর মতো: "এবং তিনি তাদেরকে দান করবেন সজীবতা ও আনন্দ।" [আল-ইনসান: ১১], এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত।" [আলি ইমরান: ১৭০]।

এবং এই বাণীর মতো: "তারা আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের সুসংবাদে আনন্দিত হয়।" [আলি ইমরান: ১৭১]।

আর কষ্টের বর্ণনায় যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।" [আল-বাকারা: ১০], এবং তাঁর বাণী: "এবং প্রত্যেক দিক থেকে তার কাছে মৃত্যু আসবে, কিন্তু সে মরবে না। আর তার পেছনে রয়েছে কঠোর শাস্তি।" [ইবরাহীম: ১৭]।

আর দুশ্চিন্তার বর্ণনায় আল্লাহ তাআলার বাণীর মতো: "যখনই তারা যন্ত্রণায় কাতর হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে সেখানে ফিরিয়ে দেয়া হবে।" [আল-হাজ্জ: ২২]।

 

‌‌[একটি শিক্ষা: মানুষ আনন্দ ও স্বাদ অন্বেষণে এবং যন্ত্রণাদায়ক দুশ্চিন্তা দূর করতে সচেষ্ট হয়]

(শিক্ষা) সকল মানুষই আনন্দ ও স্বাদের অন্বেষণে এবং যন্ত্রণাদায়ক দুশ্চিন্তা প্রতিরোধের চেষ্টায় রত থাকে। তাদের মধ্যে কেউ সর্বোচ্চ স্তরের জিনিসের অন্বেষণ করে এবং এই স্তরের সংখ্যা খুব কম। কেউ সর্বনিম্ন স্তরের অন্বেষণে সীমাবদ্ধ থাকে, আবার কেউ মধ্যম স্তরের জিনিসগুলোর জন্য সচেষ্ট হয়। আর তকদির বা ভাগ্য সকল প্রচেষ্টার পেছনে কার্যকর থাকে এবং প্রত্যেকেই তার অভীষ্ট অর্জনে সচেষ্ট হয়। কেউ সফল হয়, কেউ ব্যর্থ হয়, কেউ পরাজিত হয়, কেউ বিজয়ী হয়, কেউ লাভবান হয়, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কেউ সামর্থ্যবান হয় আবার কেউ ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়। তারা সবাই আল্লাহর ফয়সালার অধীনে পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিচরণ করে এবং শেষ পর্যন্ত তকদিরের দিকেই ফিরে যায়। সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আধ্যাত্মিক মারেফাত ও উচ্চমার্গের আধ্যাত্মিক অবস্থার স্বাদ অন্বেষণ করে এবং পরকালে (আল্লাহর প্রতি) দৃষ্টিপাত করা ও তাঁর নৈকট্যের স্বাদ অন্বেষণ করে, সে-ই সর্বশ্রেষ্ঠ অন্বেষণকারী। কেননা তার অভীষ্ট লক্ষ্য অন্য সব লক্ষ্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর যে ব্যক্তি জান্নাতের নেয়ামতসমূহ, তার আনন্দ ও স্বাদের অন্বেষণ করে, সে দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে। আর যে ব্যক্তি এই পার্থিব জগতের আনন্দ ও স্বাদ অন্বেষণ করে, সে তৃতীয় স্তরে রয়েছে। এরপর এই অন্বেষণকারীরা তাদের স্তরে তফাত করে...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
مَطْلُوبَاتِهِمْ. فَمِنْهُمْ الْأَعْلَوْنَ وَالْمُتَوَسِّطُونَ، فَأَمَّا طُلَّابُ الْآخِرَةِ فَاقْتَصَرُوا مِنْ طَلَبِ لَذَّاتِ الدُّنْيَا وَأَفْرَاحِهَا عَلَى مَا يَدْفَعُ الْحَاجَةَ أَوْ الضَّرُورَةَ وَاشْتَغَلُوا بِمَطَالِبِ الْآخِرَةِ، وَلَنْ يَصِلَ أَحَدٌ مِنْهُمْ إلَّا إلَى مَا قُدِّرَ لَهُ، وَقَدْ غَرَّ بَعْضَهُمْ أَنَّهُمْ أَدْرَكُوا بَعْضَ مَا طَلَبُوا فَظَنُّوا أَنَّهُمْ نَالُوا ذَلِكَ بِحَزْمِهِمْ وَقُوَاهُمْ فَخَابُوا وَنَكَصُوا وَوُكِّلُوا إلَى أَنْفُسِهِمْ فَهَلَكُوا، وَمِنْهُمْ مَنْ وَاظَبَ أَنَّهُ لَا يَنَالُ خَيْرًا إلَّا بِتَوْفِيقِ اللَّهِ وَلَا يَنَالُ ضَيْرًا إلَّا بِإِرَادَةِ اللَّهِ فَهَؤُلَاءِ لَا يَزَالُونَ فِي زِيَادَةٍ، لِأَنَّ الطَّاعَاتِ وَالْمَعَارِفَ وَالْأَحْوَالَ إذَا دَامَتْ أَدَّتْ إلَى أَمْثَالِهَا وَإِلَى أَفْضَلَ مِنْهَا. وَعَلَى الْجُمْلَةِ فَمَنْ أَقْبَلَ عَلَى اللَّهِ أَقْبَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ اللَّهِ أَعْرَضَ اللَّهُ عَنْهُ، وَمَنْ تَقَرَّبَ إلَى اللَّهِ شِبْرًا تَقَرَّبَ مِنْهُ ذِرَاعًا، وَمَنْ تَقَرَّبَ مِنْهُ ذِرَاعًا تَقَرَّبَ مِنْهُ بَاعًا، وَمَنْ مَشَى إلَيْهِ هَرْوَلَ إلَيْهِ وَمَنْ نَسَبَ شَيْئًا إلَى نَفْسِهِ فَقَدْ زَلَّ وَضَلَّ، وَمَنْ نَسَبَ الْأَشْيَاءَ إلَى خَالِقِهَا الْمُنْعِمِ بِهَا كَانَ فِي الزِّيَادَةِ، لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ: {لَئِنْ شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ} [إبراهيم: 7] ، {وَسَنَجْزِي الشَّاكِرِينَ} [آل عمران: 145] .

وَأَفْضَلُ مَا تُقُرِّبَ بِهِ التَّذَلُّلُ لِعِزَّةِ اللَّهِ وَالتَّخَضُّعُ لِعَظَمَتِهِ وَالْإِيحَاشُ لِهَيْبَتِهِ، وَالتَّبَرِّي مِنْ الْحَوْلِ وَالْقُوَّةِ إلَّا بِهِ، وَهَذَا شَأْنُ الْعَارِفِينَ، وَمَا خَرَجَ عَنْهُ فَهُوَ طَرِيقُ الْجَاهِلِينَ أَوْ الْغَافِلِينَ، وَقَدْ تَمَّتْ الْحِكْمَةُ وَفُرِغَ مِنْ الْقِسْمَةِ، وَسَيَنْزِلُ كُلُّ أَحَدٍ فِي دَارِ قَرَارِهِ حُكْمًا وَعَدْلًا وَحَقًّا، قِسْطًا وَفَضْلًا، وَمَا ثَبَتَ فِي الْقِدَمِ لَا يُخْلِفُهُ الْعَدَمُ وَلَا تُغَيِّرُهُ الْهِمَمُ، بَعْدَ أَنْ جَرَى بِهِ الْقَلَمُ وَقَضَاهُ الْعَدْلُ الْحَكَمُ، فَأَيْنَ الْمَهْرَبُ وَإِلَى أَيْنَ الْمَذْهَبُ وَقَدْ عَزَّ الْمَطْلَبُ وَوَقَعَ مَا يُذْهِبُ، فَيَا خَيْبَةً مِنْ طَلَبِ مَا لَمْ تَجُزْ بِهِ الْأَقْدَارُ وَلَمْ تَكْتُبْهُ الْأَقْلَامُ، يَا لَهَا مِنْ مُصِيبَةٍ مَا أَعْظَمَهَا وَخَيْبَةٍ مَا أَفْحَمَهَا. أَيْنَ الْمَهْرَبُ مِنْ اللَّهِ وَأَيْنَ الذَّهَابُ عَنْ اللَّهِ وَأَيْنَ الْفِرَارُ مِنْ قُدْرَةِ اللَّهِ؟ بَيِّنًا يُرَى أَحَدُهُمْ قَرِيبًا دَانِيًا إذْ أَصْبَحَ بَعِيدًا نَائِيًا، لَا يَمْلِكُ لِنَفْسِهِ نَفْعًا وَلَا ضَرًّا وَلَا حِفْظًا وَلَا رَفْعًا
তাদের লক্ষ্যসমূহ। তাদের মধ্যে কেউ উচ্চস্তরের এবং কেউ মধ্যম স্তরের। যারা পরকাল অন্বেষণকারী, তারা পার্থিব স্বাদ ও আনন্দ থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করে যা তাদের অভাব বা প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হয় এবং তারা পরকালীন লক্ষ্যসমূহ অর্জনে নিমগ্ন থাকে। তাদের কেউই তার জন্য যা নির্ধারিত হয়েছে তার বাইরে পৌঁছাতে পারবে না। তাদের কাউকে কাউকে এই বিষয়টি ধোঁকায় ফেলেছে যে, তারা যা চেয়েছিল তার কিছু অংশ অর্জন করতে পেরেছে, ফলে তারা মনে করেছে যে তারা তাদের দৃঢ়তা ও শক্তির মাধ্যমেই তা পেয়েছে; ফলে তারা ব্যর্থ হয়েছে এবং পিছু হটেছে এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে তারা ধ্বংস হয়েছে। আর তাদের মধ্যে কেউ এমন রয়েছে যে এই বিশ্বাসে অটল যে, আল্লাহর তাওফিক ছাড়া কোনো কল্যাণ লাভ করা সম্ভব নয় এবং আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো ক্ষতি পৌঁছানো সম্ভব নয়; এরা সর্বদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধিলাভ করতে থাকে। কেননা আনুগত্য, মা'রিফাত এবং আধ্যাত্মিক অবস্থা যখন স্থায়ী হয়, তখন তা অনুরূপ আরও নেক আমল এবং তার চেয়েও উত্তম অবস্থার দিকে ধাবিত করে। মোদ্দাকথা হলো, যে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তার দিকে অগ্রসর হন; আর যে আল্লাহর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আল্লাহ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। যে আল্লাহর দিকে এক বিঘত নিকটবর্তী হয়, আল্লাহ তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হন। যে তাঁর দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয়, আল্লাহ তার দিকে এক 'বা' (দুই হাতের প্রসারিত দৈর্ঘ্য) নিকটবর্তী হন। যে তাঁর দিকে হেঁটে আসে, আল্লাহ তার দিকে দ্রুতবেগে আসেন। আর যে কোনো কিছুকে নিজের দিকে সম্বন্ধ করে, সে পদস্খলিত হলো এবং পথভ্রষ্ট হলো। আর যে সকল বিষয়কে তার স্রষ্টা ও নেয়ামতদাতার দিকে সম্বন্ধ করে, সে বৃদ্ধিলাভ করে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব} [ইব্রাহিম: ৭], {এবং আমি অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেব} [আল ইমরান: ১৪৫]।

আর আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বোত্তম উপায় হলো আল্লাহর সম্মানের সামনে নিজেকে হীন করা, তাঁর মহত্বের সামনে বিনীত হওয়া, তাঁর গাম্ভীর্যের ভয়ে ভীত থাকা এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া নিজের কোনো উপায় বা শক্তি নেই—এ কথা ঘোষণা করা। এটিই হলো আরিফীনদের বৈশিষ্ট্য। এর বাইরে যা কিছু আছে তা মূর্খ কিংবা গাফেলদের পথ। হিকমত বা প্রজ্ঞা পূর্ণতা পেয়েছে এবং বণ্টন সমাপ্ত হয়েছে। অচিরেই প্রত্যেকে নিজ নিজ চিরস্থায়ী আবাসে ফয়সালা, ন্যায়বিচার, সত্য, ইনসাফ ও অনুগ্রহ হিসেবে উপনীত হবে। অনাদিকালে যা স্থির হয়েছে, অভাব তা পরিবর্তন করতে পারে না এবং মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষাও তা বদলাতে পারে না। কলম যা লিখে ফেলেছে এবং ন্যায়বিচারক আল্লাহ যা ফয়সালা করে দিয়েছেন, তার পর আর পলায়নের জায়গা কোথায় এবং যাওয়ার গন্তব্যই বা কোথায়? যেখানে চাওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং যা ধ্বংস করে দেওয়ার মতো তা ঘটে গিয়েছে। কতই না ব্যর্থতা সেই ব্যক্তির জন্য যে এমন কিছু চাইল যা তাকদিরে নেই এবং কলম যা লেখেনি! এটি কতই না বড় বিপদ এবং কতই না বাকরুদ্ধকর ব্যর্থতা! আল্লাহর থেকে পলায়ন করার জায়গা কোথায়, আল্লাহর থেকে দূরে যাওয়ার গন্তব্য কোথায় এবং আল্লাহর কুদরত থেকে পালানোর সুযোগ কোথায়? কিছুক্ষণ আগেই তাদের কাউকে হয়তো খুব কাছে দেখা যাচ্ছিল, হঠাৎ সে সুদূরে নিক্ষিপ্ত হলো। সে নিজের জন্য কোনো উপকার বা অপকার, কিংবা কোনো সুরক্ষা বা উন্নতির মালিক নয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
بِأَيِّ نَوَاحِي الْأَرْضِ نَرْجُو وِصَالَكُمْ … وَأَنْتُمْ مُلُوكٌ مَا لِمَقْصِدِكُمْ نَحْوُ

وَاَللَّهِ لَنْ تَصِلَ إلَى شَيْءٍ إلَّا بِاَللَّهِ فَكَيْفَ تُوصَلُ بِغَيْرِهِ.

 

‌‌[فَصْلٌ الْمَصَالِحُ ضَرْبَانِ]

(فَصْلٌ) الْمَصَالِحُ ضَرْبَانِ: أَحَدُهُمَا حَقِيقِيٌّ وَهُوَ الْأَفْرَاحُ وَاللَّذَّاتُ، وَالثَّانِي مَجَازِيٌّ وَهُوَ أَسْبَابُهَا، وَرُبَّمَا كَانَتْ أَسْبَابُ الْمَصَالِحِ مَفَاسِدُ فَيُؤْمَرُ بِهَا أَوْ تُبَاحُ لَا لِكَوْنِهَا مَفَاسِدَ بَلْ لِكَوْنِهَا مُؤَدِّيَةً إلَى مَصَالِحَ، وَذَلِكَ كَقَطْعِ الْأَيْدِي الْمُتَآكِلَةِ حِفْظًا لِلْأَرْوَاحِ، وَكَالْمُخَاطَرَةِ بِالْأَرْوَاحِ فِي الْجِهَادِ، وَكَذَلِكَ الْعُقُوبَاتُ الشَّرْعِيَّةُ كُلُّهَا لَيْسَتْ مَطْلُوبَةً لِكَوْنِهَا مَفَاسِدَ بَلْ لِكَوْنِهَا الْمَقْصُودَةَ مِنْ شَرْعِهَا كَقَطْعِ السَّارِقِ وَقَطْعِ الطَّرِيقِ وَقَتْلِ الْجُنَاةِ وَرَجْمِ الزُّنَاةِ وَجَلْدِهِمْ وَتَغْرِيبِهِمْ: وَكَذَلِكَ التَّعْزِيرَاتُ، كُلُّ هَذِهِ مَفَاسِدُ أَوْجَبَهَا الشَّرْعُ لِتَحْصِيلِ مَا رُتِّبَ عَلَيْهَا مِنْ الْمَصَالِحِ الْحَقِيقَةِ، وَتَسْمِيَتُهَا بِالْمَصَالِحِ مِنْ مَجَازِ تَسْمِيَةِ السَّبَبِ بِاسْمِ الْمُسَبَّبِ.

وَكَذَلِكَ الْمَفَاسِدُ ضَرْبَانِ: أَحَدُهُمَا حَقِيقِيٌّ وَهُوَ الْغُمُومُ وَالْآلَامُ، وَالثَّانِي مَجَازِيٌّ وَهُوَ أَسْبَابُهَا، وَرُبَّمَا كَانَتْ أَسْبَابُ الْمَفَاسِدِ مَصَالِحَ فَنَهَى الشَّرْعُ عَنْهَا لَا لِكَوْنِهَا مَصَالِحَ بَلْ لِأَدَائِهَا إلَى الْمَفَاسِدِ وَذَلِكَ كَالسَّعْيِ فِي تَحْصِيلِ اللَّذَّاتِ الْمُحَرَّمَاتِ وَالشُّبُهَاتِ الْمَكْرُوهَاتِ وَالتَّرَفُّهَاتِ بِتَرْكِ مَشَاقِّ الْوَاجِبَاتِ وَالْمَنْدُوبَاتِ فَإِنَّهَا مَصَالِحُ نُهِيَ عَنْهَا لَا لِكَوْنِهَا مَصَالِحَ بَلْ لِأَدَائِهَا إلَى الْمَفَاسِدِ الْحَقِيقَةِ وَتَسْمِيَتُهَا مَفَاسِدُ مِنْ مَجَازِ تَسْمِيَةِ السَّبَبِ بِاسْمِ الْمُسَبَّبِ.

 

‌‌[فَائِدَةٌ الْمَصَالِحُ الْمَحْضَةُ]

(فَائِدَةٌ) الْمَصَالِحُ الْمَحْضَةُ قَلِيلَةٌ وَكَذَلِكَ الْمَفَاسِدُ الْمَحْضَةُ، وَالْأَكْثَرُ مِنْهَا اشْتَمَلَ عَلَى الْمَصَالِحِ وَالْمَفَاسِدِ وَيَدُلُّ عَلَيْهِ قَوْلُهُ عليه السلام: «حُفَّتْ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ وَحُفَّتْ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ» . وَالْمَكَارِهُ مَفَاسِدُ مِنْ جِهَةِ كَوْنِهَا مَكْرُوهَاتٍ مُؤْلِمَاتٍ، وَالشَّهَوَاتُ مَصَالِحُ مِنْ جِهَةِ كَوْنِهَا شَهَوَاتٍ مَلَذَّاتٍ مُشْتَهَيَاتٍ، وَالْإِنْسَانُ بِطَبْعِهِ يُؤْثِرُ مَا رُجِحَتْ مَصْلَحَتُهُ عَلَى مَفْسَدَتِهِ، وَيَنْفِرُ مِمَّا رُجِحَتْ مَفْسَدَتُهُ عَلَى مَصْلَحَتِهِ، وَلِذَلِكَ شُرِعَتْ الْحُدُودُ وَوَقَعَ التَّهْدِيدُ
পৃথিবীর কোন জনপদে আমরা তোমাদের সান্নিধ্য প্রত্যাশা করব … অথচ তোমরা এমন রাজা যাদের গন্তব্যের কোনো নির্দিষ্ট দিক নেই।

আল্লাহর কসম, আল্লাহ ছাড়া কোনো কিছুই লাভ করা সম্ভব নয়, সুতরাং তাঁকে ব্যতীত অন্যের মাধ্যমে কীভাবে পৌঁছানো যাবে?

 

‌‌[পরিচ্ছেদ: জনকল্যাণ দুই প্রকার]

(পরিচ্ছেদ) জনকল্যাণ বা মাসলাহাত দুই প্রকার: একটি হলো প্রকৃত, আর তা হলো আনন্দ ও স্বাদসমূহ; দ্বিতীয়টি হলো রূপক, আর তা হলো এগুলোর কারণসমূহ। অনেক সময় জনকল্যাণের কারণগুলো অকল্যাণকর হয়ে থাকে, তবুও সেগুলোর নির্দেশ দেওয়া হয় অথবা সেগুলোকে বৈধ করা হয়; সেগুলো অকল্যাণ হওয়ার কারণে নয়, বরং সেগুলো জনকল্যাণের দিকে ধাবিত করার কারণে। যেমন প্রাণের সুরক্ষায় পচনশীল হাত কেটে ফেলা এবং জিহাদে জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। একইভাবে শরিয়ত নির্ধারিত দণ্ডসমূহ অকল্যাণ হওয়ার কারণে বাঞ্ছনীয় নয়, বরং সেগুলো যে উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত হয়েছে তার কারণে কাম্য; যেমন চোরের হাত কাটা, ডাকাতদের দমন করা, অপরাধীদের হত্যা করা, ব্যভিচারীদের রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) করা, বেত্রাঘাত করা এবং নির্বাসন দেওয়া। অনুরূপভাবে বিচক্ষণতামূলক শাস্তি বা তা'যিরসমূহও। এই সব কটিই অকল্যাণকর কাজ যা শরিয়ত অবধারিত করেছে যাতে এর মাধ্যমে নির্ধারিত প্রকৃত জনকল্যাণসমূহ অর্জিত হয়। আর এগুলোকে জনকল্যাণ হিসেবে অভিহিত করা হলো 'কারণকে ফলাফলের নামে নামকরণ' করার রূপক অলংকার।

একইভাবে অকল্যাণ বা মাফাসাদও দুই প্রকার: একটি প্রকৃত, আর তা হলো দুশ্চিন্তা ও বেদনা; দ্বিতীয়টি রূপক, আর তা হলো সেগুলোর কারণসমূহ। অনেক সময় অকল্যাণের কারণগুলো কল্যাণকর হয়ে থাকে, তবুও শরিয়ত সেগুলো থেকে নিষেধ করেছে; সেগুলো কল্যাণকর হওয়ার কারণে নয়, বরং সেগুলো অকল্যাণের দিকে ধাবিত করার কারণে। যেমন নিষিদ্ধ স্বাদ ও অপছন্দনীয় সন্দেহজনক বিষয়সমূহ লাভে সচেষ্ট হওয়া এবং ওয়াজিব ও মুস্তাহাব কার্যাবলীর কষ্ট পরিহার করে বিলাসিতায় মগ্ন হওয়া। এগুলো মূলত বাহ্যিকভাবে কল্যাণকর মনে হলেও এগুলো থেকে নিষেধ করা হয়েছে অকল্যাণ হওয়ার কারণে নয়, বরং প্রকৃত অকল্যাণের দিকে নিয়ে যায় বলে। আর এগুলোকে অকল্যাণ বলাটাও 'কারণকে ফলাফলের নামে নামকরণ' করার রূপক অলংকার।

 

‌‌[ফায়দা: নিরঙ্কুশ জনকল্যাণ]

(ফায়দা) নিরঙ্কুশ জনকল্যাণ যেমন কম, তেমনি নিরঙ্কুশ অকল্যাণও কম। অধিকাংশ বিষয়ই কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়ের সমষ্টি। এর ওপর প্রমাণ দেয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "জান্নাতকে অপ্রীতিকর বিষয় দ্বারা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং জাহান্নামকে প্রবৃত্তি দ্বারা ঘিরে রাখা হয়েছে।" অপ্রীতিকর বিষয়গুলো অপছন্দনীয় ও বেদনাদায়ক হওয়ার কারণে অকল্যাণ, আর প্রবৃত্তিগুলো স্বাদ ও আকাঙ্ক্ষিত বিষয় হওয়ার কারণে কল্যাণ। মানুষ স্বভাবগতভাবেই সেই বিষয়কে বেছে নেয় যার কল্যাণ অকল্যাণের ওপর প্রাধান্য পায় এবং সেই বিষয় থেকে দূরে থাকে যার অকল্যাণ কল্যাণের ওপর প্রাধান্য পায়। একারণেই দণ্ডবিধিসমূহ প্রবর্তন করা হয়েছে এবং শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَالزَّجْرُ وَالْوَعِيدُ، فَإِنَّ الْإِنْسَانَ إذَا نَظَرَ إلَى اللَّذَّاتِ وَإِلَى مَا يَتَرَتَّبُ عَلَيْهِمَا مِنْ الْحُدُودِ وَالْعُقُوبَاتِ الْعَاجِلَةِ وَالْآجِلَةِ نَفَرَ مِنْهَا بِطَبْعِهِ لِرُجْحَانِ مَفَاسِدِهَا، لَكِنَّ الْأَشْقِيَاءَ لَا يَسْتَحْضِرُونَ ذِكْرَ مَفَاسِدِهَا إذَا قَصَدُوهَا، وَلِذَلِكَ يُقْدِمُونَ عَلَيْهَا، فَإِنَّ الْعَاقِلَ إذَا ذَكَرَ مَا فِي قُبْلَةٍ مُحَرَّمَةٍ مِنْ التَّعْزِيرِ وَالذَّمِّ الْعَاجِلَيْنِ وَالْعِقَابِ الْآجِلِ، زَجَرَهُ ذَلِكَ.

وَكَذَلِكَ إذَا ذَكَرَ اطِّلَاعَ الرَّبِّ سُبْحَانَهُ عَلَيْهِ حَمَلَهُ أَلَمُ الِاسْتِحْيَاءِ وَالْخَجَلِ عَلَى تَرْكِ الْمَعْصِيَةِ وَاجْتِنَابِ لَذَّاتِهَا، وَكَذَلِكَ إذَا فَكَّرَ فِي الْمَصَالِحِ الشَّاقَّةِ مِنْ الْغُمُومِ وَالْآلَامِ دَعَاهُ ذَلِكَ إلَى تَرْكِهَا، فَإِذَا ذَكَرَ مَا يَتَرَتَّبُ عَلَيْهَا مِنْ مَصَالِحِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ حَمَلَهُ ذَلِكَ عَلَى الصَّبْرِ عَلَى مَكَارِهِهَا وَمَشَاقِّهَا، أَلَا تَرَى أَنَّ الْمَرِيضَ يَصْبِرُ عَلَى أَلَمِ مَرَارَةِ الدَّوَاءِ، وَأَلَمِ قَلْعِ الْأَضْرَاسِ الْمُتَوَجِّعَةِ وَأَلَمِ قَطْعِ الْأَعْضَاءِ الْمُتَآكِلَةِ؛ لِمَا يَتَوَقَّعُ مِنْ لَذَّاتِ الْعَافِيَةِ وَفَرَحَاتِهَا.

وَكَذَلِكَ إذَا ذَكَرَ اطِّلَاعَ الرَّبِّ عَلَيْهِ وَنَظَرَهُ إلَيْهِ حَمَلَهُ ذَلِكَ عَلَى الطَّاعَةِ وَتَحَمُّلِ مَكَارِهِهَا وَمَشَاقِّهَا، وَكَذَلِكَ تَرْكُ الطَّعَامِ الشَّهِيِّ وَالشَّرَابِ الْهَنِيِّ لِمَا يَتَوَقَّعُ مِنْ سُوءِ عَاقِبَةِ أَكْلِهِ وَشُرْبِهِ، وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَمَا جَعَلَ فِي الطَّاعَاتِ شَيْئًا مِنْ الْمَكَارِهِ وَالْمَشَقَّاتِ، كَمَا فَعَلَ بِالْمَلَائِكَةِ، وَلَمَا جَعَلَ فِي الْمَعَاصِي شَيْئًا مِنْ اللَّذَّاتِ وَالرَّاحَاتِ، وَلَوْ فَعَلَ ذَلِكَ لَمَا قَعَدَ أَحَدٌ عَنْ طَاعَةٍ وَلَا أَقْدَمَ عَلَى مَعْصِيَةٍ، وَلَكِنْ سَبَقَ الْقَضَاءُ بِشِدَّةِ الِابْتِلَاءِ، وَلَيْسَ الْمَلَائِكَةُ كَذَلِكَ فَإِنَّهُمْ يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ، وَلَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ، إذْ لَا مَشَقَّةَ عَلَيْهِمْ فِي ذَلِكَ وَلَا أَلَمَ.

وَكَذَلِكَ أَهْلُ الْجَنَّةِ يُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ، كَمَا يُلْهَمُونَ النَّفَسَ، وَكَذَلِكَ لَوْ شَاءَ اللَّهُ لَمْ يَخْلُقْ الْأَوْهَامَ وَلَا الشُّكُوكَ وَلَا التَّخَيُّلَاتِ وَلَا الظُّنُونَ فِي الْعَقَائِدِ وَلَا فِي غَيْرِهَا، بَلْ خَلَقَ الْعِلْمَ بِالْأَشْيَاءِ مِنْ غَيْرِ تَوَهُّمٍ مُضَلِّلٍ وَلَا شَكٍّ مُتْعِبٍ، وَلَا تَخَيُّلٍ مُجْهِلٍ وَلَا ظَنٍّ مُوهِمٍ، وَلَيْتَ شِعْرِي هَلْ تَزُولُ هَذِهِ الْأَشْيَاءُ فِي الْجَنَّةِ بِحَيْثُ
ধমক ও ভীতিপ্রদর্শন; কারণ মানুষ যখন ভোগবিলাস এবং এগুলোর ফলে দুনিয়া ও আখেরাতে যে দণ্ড ও শাস্তি নেমে আসে সেদিকে দৃষ্টিপাত করে, তখন এর অনিষ্টের আধিক্যের কারণে সে স্বভাবগতভাবেই তা থেকে বিমুখ হয়। কিন্তু দুর্ভাগারা যখন পাপে লিপ্ত হওয়ার সংকল্প করে, তখন তারা এর অনিষ্টসমূহকে স্মরণে আনে না, আর এ কারণেই তারা তাতে লিপ্ত হয়। কারণ একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখন কোনো নিষিদ্ধ চুম্বনের কারণে নগদ তিরস্কার ও নিন্দা এবং পরকালীন শাস্তির কথা স্মরণ করে, তখন তা তাকে তা থেকে বিরত রাখে।

একইভাবে যখন সে তার ওপর মহান প্রতিপালকের নজরদারির কথা স্মরণ করে, তখন লজ্জা ও সংকোচের বেদনা তাকে পাপাচার বর্জন ও তার স্বাদ পরিহারে উদ্বুদ্ধ করে। আবার যখন সে দুশ্চিন্তা ও যন্ত্রণার মতো কষ্টসাধ্য বিষয়গুলোর কল্যাণ সম্পর্কে চিন্তা করে, তখন তা তাকে সেগুলো বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করে। আর যখন সে এর ফলে অর্জিত দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণসমূহ স্মরণ করে, তখন তা তাকে এর অপছন্দনীয় ও কষ্টকর বিষয়গুলোতে ধৈর্য ধারণে উদ্বুদ্ধ করে। আপনি কি দেখেন না যে, একজন রোগী ওষুধের তিক্ততার যন্ত্রণা, ব্যথায় কাতর দাঁত উপড়ানোর কষ্ট এবং পচে যাওয়া অঙ্গ কেটে ফেলার যন্ত্রণায় ধৈর্য ধারণ করে; কারণ সে সুস্থতার স্বাদ ও আনন্দের প্রত্যাশা করে।

একইভাবে যখন সে তার ওপর প্রতিপালকের পর্যবেক্ষণ ও আল্লাহর দৃষ্টির কথা স্মরণ করে, তখন তা তাকে আনুগত্য এবং তার কষ্ট ও অরুচিকর বিষয়গুলো সহ্য করতে উদ্বুদ্ধ করে। তদ্রূপ সুস্বাদু খাবার ও তৃপ্তিদায়ক পানীয় বর্জন করাও হয় তার খাওয়া ও পান করার মন্দ পরিণতির আশঙ্কায়। আল্লাহ যদি চাইতেন তবে আনুগত্যের কাজগুলোতে কোনো অপছন্দনীয় বা কষ্টকর বিষয় রাখতেন না, যেমনটি তিনি ফেরেশতাদের ক্ষেত্রে করেছেন। আর তিনি পাপাচারের মধ্যে কোনো স্বাদ বা আরাম রাখতেন না। তিনি যদি এমনটি করতেন তবে কেউ আনুগত্য থেকে পিছিয়ে থাকত না এবং কেউ পাপে লিপ্ত হতো না। কিন্তু কঠোর পরীক্ষার ফয়সালা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত হয়ে আছে। ফেরেশতারা এমন নন; তারা দিন-রাত আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করেন, ক্লান্ত হন না এবং আল্লাহ তাদের যা আদেশ করেন তা অমান্য করেন না এবং যা করার নির্দেশ দেওয়া হয় তা পালন করেন। কারণ এতে তাদের কোনো কষ্ট বা যন্ত্রণা নেই।

একইভাবে জান্নাতবাসীদের অন্তরে তাসবীহ পাঠের প্রেরণা জোগানো হবে, যেভাবে তারা শ্বাস নিতে অনুপ্রাণিত হয়। তদ্রূপ আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তিনি আকীদা বা অন্য কোনো বিষয়ে ভ্রান্ত ধারণা, সন্দেহ, কল্পনা বা কুসংস্কার সৃষ্টি করতেন না। বরং তিনি বিভ্রান্তিকর ধারণা, ক্লান্তিকর সন্দেহ, অজ্ঞতামূলক কল্পনা কিংবা অমূলক ধারণা ছাড়াই বস্তুসমূহের প্রকৃত জ্ঞান সৃষ্টি করতেন। হায়! যদি আমি জানতাম, জান্নাতে কি এই বিষয়গুলো এমনভাবে দূরীভূত হবে যাতে
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
لَا يَبْقَى لِأَهْلِهَا إلَّا مَحْضُ الْعُلُومِ الَّتِي بِهَا يَتِمُّ نَعِيمُهُمْ وَسُرُورُهُمْ وَفَرَحُهُمْ وَحُبُورُهُمْ، أَمْ يَبْقَى ذَلِكَ كَمَا هُوَ فِي الدُّنْيَا؟ وَلَقَدْ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ فِي الْجَنَّةِ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ، وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ، وَلَعَلَّ هَذَا يَكُونُ مِنْ جُمْلَةِ مَا أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ، فَسُبْحَانَ مَنْ لَا تَنْفَعُهُ طَاعَةُ الطَّائِعِينَ، وَلَا تَضُرُّهُ مَعْصِيَةُ الْعَاصِينَ، وَإِنَّمَا نَفْعُ الطَّاعَاتِ لِأَرْبَابِهَا وَسُوءُ الْمُخَالَفَاتِ لِأَصْحَابِهَا.

 

وَالْقُلُوبُ مَعَادِنُ الْخَوَاطِرِ وَالْكُفْرِ وَالْإِيمَانِ وَالْعُزُومِ وَالْإِرَادَاتِ وَالْبُغْضِ وَالْحُبِّ وَالطَّوَاعِيَةِ وَالْإِبَاءِ وَالْمَعَارِفِ وَالْأَقْوَالِ، وَكَذَلِكَ اسْتِحْسَانُ الْحَسَنِ وَاسْتِقْبَاحُ الْقَبِيحِ، وَكَذَلِكَ الظُّنُونُ الصَّادِقَةُ وَالْكَاذِبَةُ، وَقَدْ قُسِمَ لِكُلِّ قَلْبٍ مِنْ ذَلِكَ مَا سَبَقَتْ بِهِ الْأَقْدَارُ وَجَرَتْ بِهِ الْأَقْلَامُ، وَاَللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ وَهُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ، أَسْعَدَ مَنْ أَسْعَدَ بِغَيْرِ عِلَّةٍ، وَأَشْقَى مَنْ أَشْقَى بِغَيْرِ سَبَبٍ، وَكَيْفَ الْخَلَاصُ مِمَّا حُقَّ وَكُتِبَ، وَأَيْنَ الْمَهْرَبُ مِمَّا حُتِمَ وَوَجَبَ؟ فَمِثْلُ الْقَلْبِ كَمِثْلِ نَهْرٍ تَجْرِي فِيهِ الْمِيَاهُ عَلَى الدَّوَامِ، فَكَذَلِكَ الْخَوَاطِرُ فِي وُرُودِهَا عَلَى قُلُوبِ الْأَنَامِ لَا يَذْهَبُ خَاطِرُنَا بِهِ وَلَا مَا ابْتَنَى عَلَيْهِ مِنْ الْعُزُومِ وَالْأَحْوَالِ وَالْكُفْرِ وَالْإِيمَانِ وَالطَّاعَةِ وَالْعِصْيَانِ إلَّا رَدَّهُ خَاطِرٌ إمَّا مِنْ نَوْعِهِ أَوْ مِنْ غَيْرِ نَوْعِهِ ثُمَّ الْمِيَاهُ الْجَارِيَةُ مِنْهَا مَا يَنْفَعُ، وَمِنْهَا مَا يَضُرُّ، وَمِنْهَا مَا لَا يَضُرُّ وَلَا يَنْفَعُ، فَكَذَلِكَ الْخَوَاطِرُ الْجَارِيَةُ فِي الْقُلُوبِ وَالْوَارِدَةُ عَلَيْهَا مِنْهَا مَا يَنْفَعُ وَمِنْهَا مَا يَضُرُّ وَمِنْهَا مَا لَا يَنْفَعُ وَلَا يَضُرُّ وَالْإِنْسَانُ بَعْدَ ذَلِكَ مُكَلَّفٌ بِاجْتِنَابِ الْعُزُومِ عَلَى الْمَفَاسِدِ وَوَسَائِلِهَا، وَبِالْقُصُودِ إلَى الْمَصَالِحِ وَأَسْبَابِهَا وَلَا تَكْلِيفَ قَبْلَ وُرُودِ الْخَوَاطِرِ، وَلَا بِوُرُودِ الْخَوَاطِرِ وَلَا بِمَيْلِ الطَّبْعِ إلَى مَا وَرَدَتْ بِهِ الْخَوَاطِرُ، وَلَا بِنُفُورِهِ عَمَّا أَتَتْ بِهِ الْخَوَاطِرُ.

وَالْخَوَاطِرُ ضَرْبَانِ: أَحَدُهُمَا مَا يَرِدُ عَلَى الْقُلُوبِ مِنْ غَيْرِ اكْتِسَابٍ كَوُرُودِ الْمِيَاهِ عَلَى الْأَنْهَارِ.
তার অধিবাসীদের জন্য কেবল সেই বিশুদ্ধ জ্ঞানসমূহ অবশিষ্ট থাকবে যার মাধ্যমে তাদের নেয়ামত, আনন্দ, খুশি ও উল্লাস পূর্ণতা পায়; নাকি তা দুনিয়ার ন্যায় একইভাবে অবশিষ্ট থাকবে? অথচ আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতে এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে কখনও কল্পনাও হয়নি। সম্ভবত এটি আল্লাহ তাদের জন্য যা প্রস্তুত করে রেখেছেন তারই অংশবিশেষ। সুতরাং পবিত্রতা সেই মহান সত্তার, অনুগতদের আনুগত্য যাঁর কোনো উপকারে আসে না এবং অবাধ্যদের অবাধ্যতা যাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারে না। মূলত আনুগত্যের উপকারিতা তার সম্পাদনকারীদের জন্য এবং অবাধ্যতার অশুভ পরিণাম তার লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য।

 

অন্তর হলো চিন্তা-ভাবনা, কুফর, ঈমান, সংকল্প, ইচ্ছা, ঘৃণা, ভালোবাসা, আনুগত্য, বিমুখতা, জ্ঞান এবং কথাবার্তার খনি। তদ্রূপ সুন্দরের প্রশংসা করা এবং মন্দকে মন্দ মনে করা, আর সত্য ও মিথ্যা ধারণাসমূহও (অন্তরেরই বিষয়)। প্রতিটি হৃদয়ের জন্য ততটুকুই বন্টন করা হয়েছে যা তাকদীরে পূর্বনির্ধারিত হয়েছে এবং কলম যা লিখেছে। আল্লাহ ফয়সালা করেন, তাঁর ফয়সালা রদ করার কেউ নেই এবং তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। তিনি যাকে ইচ্ছা কোনো বাহ্যিক কারণ ছাড়াই সৌভাগ্যবান করেন এবং যাকে ইচ্ছা কোনো কারণ ছাড়াই হতভাগা করেন। যা অবধারিত ও লিখিত হয়েছে তা থেকে মুক্তির উপায় কী, আর যা নির্ধারিত ও সাব্যস্ত হয়েছে তা থেকে পলায়নের পথই বা কোথায়? সুতরাং অন্তরের দৃষ্টান্ত হলো এমন একটি নদীর মতো যাতে সর্বদা পানি প্রবাহিত হয়। তদ্রূপ মানুষের হৃদয়ে আগত চিন্তা-ভাবনাগুলোর প্রবাহ এমন যে, আমাদের কোনো চিন্তা এবং তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া সংকল্প, অবস্থা, কুফর, ঈমান, আনুগত্য ও অবাধ্যতা নিঃশেষ হয় না যতক্ষণ না সমজাতীয় বা ভিন্নজাতীয় অন্য কোনো চিন্তা তা দূর করে দেয়। অতঃপর প্রবাহিত পানি যেমন কোনটি উপকারি হয়, কোনটি ক্ষতিকর হয়, আবার কোনটি ক্ষতি বা উপকার কোনোটিই করে না; তদ্রূপ হৃদয়ে প্রবাহিত ও আগত চিন্তা-ভাবনাগুলোরও কোনটি উপকারি, কোনটি ক্ষতিকর এবং কোনটি উপকার বা ক্ষতি কোনোটিই করে না। এর বাইরে মানুষকে মন্দের সংকল্প ও তার মাধ্যমসমূহ বর্জন করার এবং কল্যাণের উদ্দেশ্য ও তার উপকরণসমূহ গ্রহণ করার দায়িত্বারোপ করা হয়েছে। চিন্তা-ভাবনা আসার আগে কোনো দায়িত্বারোপ নেই, আর চিন্তা-ভাবনা আসার কারণে কিংবা চিন্তার মাধ্যমে উদ্ভূত বিষয়ের প্রতি স্বভাবজাত ঝোঁক বা তার প্রতি বিমুখতার কারণেও কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

চিন্তা-ভাবনা দুই প্রকার: এক প্রকার হলো যা কোনো চেষ্টা ছাড়াই হৃদয়ে উপস্থিত হয়, যেমন নদীতে পানি প্রবাহিত হয়।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
الضَّرْبُ الثَّانِي: مَا يَرِدُ عَلَى الْقُلُوبِ مِنْ الْخَوَاطِرِ بِالِاكْتِسَابِ، وَعَلَى الِاكْتِسَابِ يَتَرَتَّبُ الْمَدْحُ وَالذَّمُّ وَالثَّوَابُ وَالْعِقَابُ.

 

‌‌[فَصْلٌ فِي الْحَثِّ عَلَى جَلْبِ الْمَصَالِحِ وَدَرْءِ الْمَفَاسِدِ]

لَمَّا عَلِمَ الرَّبُّ سُبْحَانَهُ أَنَّهُ قَدْ جَبَلَ عِبَادَهُ عَلَى الْمَيْلِ إلَى الْأَفْرَاحِ وَاللَّذَّاتِ، وَالنُّفُورِ مِنْ الْغُمُومِ وَالْمُؤْلِمَاتِ وَأَنَّهُ قَدْ حُفَّتْ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ وَالنَّارُ بِالشَّهَوَاتِ، وَعَدَ مَنْ عَصَى هَوَاهُ وَأَطَاعَ مَوْلَاهُ بِمَا أَعَدَّهُ فِي الْجِنَانِ مِنْ الْمَثُوبَةِ وَالرِّضْوَانِ، تَرْغِيبًا فِي الطَّاعَاتِ لِيَتَحَمَّلُوا مَكَارِهَهَا وَمَشَاقَّهَا، وَيَتَوَعَّدُ مَنْ عَصَى مَوْلَاهُ وَأَطَاعَ هَوَاهُ بِمَا أَعَدَّهُ فِي النِّيرَانِ مِنْ الْعُقُوبَةِ وَالْهَوَانِ، زَجْرًا عَنْ الْمُخَالَفَاتِ لِيَجْتَنِبُوا مَلَاذَّهَا وَرَفَاهِيَتَهَا، وَمَدَحَ الطَّائِعِينَ تَرْغِيبًا فِي الدُّخُولِ فِي حَمْدِهِ وَمِدْحَتِهِ، وَذَمَّ الْعَاصِينَ تَنْفِيرًا مِنْ الدُّخُولِ فِي لَوْمِهِ وَمَذَمَّتِهِ.

وَكَذَلِكَ وَضَعَ الْحُدُودَ وَالْعُقُوبَاتِ الْعَاجِلَةَ زَجْرًا عَنْ السَّيِّئَاتِ. فَالْوَاجِبُ عَلَى الْعِبَادِ اتِّبَاعُ الرَّشَادِ، وَتَنَكُّبُ أَسْبَابِ الْفَسَادِ، وَقَضَاءُ اللَّهِ وَقَدْرُهُ مِنْ وَرَاءِ ذَلِكَ، فَلَا رَادَّ لِحُكْمِهِ وَلَا مُعَقِّبَ لِقَضَائِهِ، وَلَا خُرُوجَ لِعَبْدٍ عَمَّا حُكِمَ لَهُ أَوْ عَلَيْهِ مِنْ سَعَادَةٍ أَوْ شَقَاوَةٍ.

 

‌‌[فَصْلٌ فِي بَيَانِ أَنَّ الْأَسْبَابَ الشَّرْعِيَّةَ بِمَثَابَةِ الْأَوْقَاتِ]

فِي بَيَانِ أَنَّ الْأَسْبَابَ الشَّرْعِيَّةَ بِمَثَابَةِ الْأَوْقَاتِ

التَّكَالِيفُ كُلُّهَا مَبْنِيَّةٌ عَلَى الْأَسْبَابِ الْمُعْتَادَةِ مِنْ غَيْرِ أَنْ تَكُونَ الْأَسْبَابُ جَالِبَةً لِلْمَصَالِحِ بِأَنْفُسِهَا وَلَا دَارِئَةً لِلْمَفَاسِدِ بِأَنْفُسِهَا، بَلْ الْأَسْبَابُ فِي الْحَقِيقَةِ مَوَاقِيتُ لِلْأَحْكَامِ وَلِمَصَالِحِ الْأَحْكَامِ، وَاَللَّهُ هُوَ الْجَالِبُ لِلْمَصَالِحِ الدَّارِئُ لِلْمَفَاسِدِ، وَلَكِنَّهُ أَجْرَى عَادَتَهُ وَطَرَدَ سُنَّتَهُ بِتَرْتِيبِ بَعْضِ مَخْلُوقَاتِهِ عَلَى
দ্বিতীয় প্রকার: উপার্জনের মাধ্যমে অন্তরে যেসকল চিন্তা ও ভাবনার উদয় হয়, আর এই উপার্জনের ওপরই প্রশংসা, নিন্দা, সওয়াব ও শাস্তি নির্ভর করে।

 

‌‌[কল্যাণ আহরণ এবং অকল্যাণ প্রতিরোধের প্রতি উৎসাহ প্রদানের পরিচ্ছেদ]

যখন মহান প্রতিপালক জানলেন যে, তিনি তাঁর বান্দাদের স্বভাবগতভাবেই আনন্দ ও তৃপ্তির প্রতি অনুরাগী এবং দুঃখ ও যন্ত্রণার প্রতি বিরাগী করে সৃষ্টি করেছেন, এবং জান্নাতকে অপ্রীতিকর বিষয়সমূহ দিয়ে আর জাহান্নামকে প্রবৃত্তি বা কামনা-বাসনা দিয়ে বেষ্টন করা হয়েছে, তখন তিনি এমন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রস্তুতকৃত সওয়াব ও সন্তুষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে নিজের প্রবৃত্তির অবাধ্য হয়েছে এবং তার মাওলার আনুগত্য করেছে। এটি আনুগত্যের প্রতি উৎসাহ প্রদানের জন্য, যাতে তারা এর কষ্ট ও শ্রম সহ্য করে নেয়। আর তিনি ঐ ব্যক্তিকে জাহান্নামে প্রস্তুতকৃত শাস্তি ও লাঞ্ছনার ভয় দেখিয়েছেন, যে তার মাওলার অবাধ্য হয়েছে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। এটি নাফরমানি থেকে বিরত রাখার জন্য, যাতে তারা এর স্বাদ ও বিলাসিতা বর্জন করে। তিনি অনুগতদের প্রশংসা করেছেন যাতে তারা তাঁর প্রশংসা ও স্তুতির অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী হয়, এবং অবাধ্যদের নিন্দা করেছেন যাতে তারা তাঁর তিরস্কার ও ভর্ৎসনার অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে দূরে থাকে।

একইভাবে তিনি মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য দণ্ডবিধি ও তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। সুতরাং বান্দাদের কর্তব্য হলো সঠিক পথের অনুসরণ করা এবং বিপর্যয়ের কারণসমূহ পরিহার করা। আর এসকল কিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদির; তাঁর হুকুম রদ করার কেউ নেই এবং তাঁর ফয়সালা পরিবর্তন করার কেউ নেই। আর কোনো বান্দার পক্ষেই তার জন্য নির্ধারিত সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের ফয়সালা থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।

 

‌‌[শরয়ী কারণসমূহ সময়ের মর্যাদাসম্পন্ন হওয়ার বর্ণনায় পরিচ্ছেদ]

শরয়ী কারণসমূহ সময়ের মর্যাদাসম্পন্ন হওয়ার বর্ণনায়

সকল শরয়ী দায়বদ্ধতা সাধারণ কারণসমূহের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, তবে কারণসমূহ নিজে নিজেই কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না কিংবা নিজে নিজেই কোনো অকল্যাণ দূর করে না। বরং কারণসমূহ প্রকৃতপক্ষে বিধানাবলি এবং বিধানের নিহিত কল্যাণসমূহের জন্য নির্ধারিত সময়ের মতো। আল্লাহই হলেন কল্যাণ আনয়নকারী এবং অকল্যাণ দূরকারী। তবে তিনি তাঁর সৃষ্টিকুলের কিছু বিষয়কে অন্য কিছুর ওপর বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর চিরন্তন নিয়ম ও রীতি জারি রেখেছেন...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
بَعْضٍ، لِتَعْرِيفِ الْعِبَادِ عِنْدَ وُجُودِ الْأَسْبَابِ مَا رُتِّبَ عَلَيْهَا مِنْ خَيْرٍ فَيَطْلُبُوهُ عِنْدَ وُقُوعِهَا وَوُجُودِهَا، وَمَا رُتِّبَ عَلَيْهَا مِنْ شَرٍّ فَيَجْتَنِبُوهُ عِنْدَ قِيَامِهَا وَتَحَقُّقِهَا وَهَذَا هُوَ الْغَالِبُ فِي الْعَادَةِ، وَكَثِيرٌ مَنْ يَنْفَكُّ عَنْ ذَلِكَ، فَكَمْ مِنْ مُرَغَّبٍ لَمْ يَرْغَبْ، وَكَمْ مِنْ مُرَهَّبٍ لَمْ يُرْهَبْ، وَكَمْ مِنْ مَزْجُورٍ لَمْ يَزْدَجِرْ، وَكَمْ مِنْ مُذَكَّرٍ لَمْ يَتَذَكَّرْ، وَكَمْ مِنْ مَأْمُورٍ بِالصَّبْرِ لَمْ يَصْطَبِرْ، وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَقَطَعَ كُلَّ مُسَبَّبٍ عَنْ سَبَبِهِ، وَخَلَقَ الْمُسَبَّبَاتِ كُلَّهَا مُجَرَّدَةً عَنْ الْأَسْبَابِ، وَكَذَلِكَ لَوْ شَاءَ لَخَلَقَ الْأَسْبَابَ كُلَّهَا مُجَرَّدَةً عَنْ الْمُسَبَّبَاتِ، لَكِنَّهُ قَرَنَ الْأَسْبَابَ بِالْمُسَبَّبَاتِ فِي مُطَّرِدِ الْعَادَاتِ، لِيُضِلَّ بِذَلِكَ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ.

وَكَذَلِكَ لَوْ شَاءَ لَأَقَامَ الْأَجْسَادَ بِدُونِ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ وَلَمَا تَحَلَّلَ شَيْءٌ مِنْ أَجْزَائِهَا حَتَّى يَحْتَاجَ إلَى الْخَلَفِ وَالْإِبْدَالِ. فَلَهُ أَنْ يَخْلُقَ أَلَمَ النَّارِ بِغَيْرِ نَارٍ وَلَذَّةَ الشَّرَابِ وَالطَّعَامِ وَالْجِمَاعِ مِنْ غَيْرِ مَاءٍ وَلَا طَعَامٍ وَلَا جِمَاعٍ.

وَكَذَلِكَ الْحُكْمُ فِي جَمِيعِ الْأَسْبَابِ الْمُؤْلِمَاتِ، وَاللَّذَّاتِ لَوْ شَاءَ لَخَلَقَهَا دُونَ مُسَبِّبَاتِهَا، وَلَوْ شَاءَ لَخَلَقَ مُسَبَّبَاتِهَا دُونَهَا وَكَذَلِكَ الْقُوَى الَّتِي أَوْدَعَهَا اللَّهُ فِي النَّبَاتِ وَالْحَيَوَانِ لَوْ شَاءَ لَخَلَقَ آثَارَهَا ابْتِدَاءً كَجَذْبِ الْغِذَاءِ بِغَيْرِ قُوَّةٍ جَاذِبَةٍ، وَأَمْسَكَ الْغِذَاءَ فِي حَالِ إمْسَاكِهِ بِغَيْرِ قُوَّةٍ مُمْسِكَةٍ، وَغَذَّى بِغَيْرِ، قُوَّةٍ مُغَذِّيَةٍ، وَدَفَعَ بِغَيْرِ قُوَّةٍ دَافِعَةٍ، وَصَوَّرَ بِغَيْرِ قُوَّةٍ مُصَوِّرَةٍ، وَلَمَّا رَأَى الْأَغْبِيَاءُ الْعُمْيُ عَنْ الْأُمُورِ الْإِلَهِيَّةِ رَبْطَ الْمُسَبَّبَاتِ مِنْ غَيْرِ انْفِكَاكٍ فِي مُطَّرِدِ الْعَادَاتِ، اعْتَقَدُوا أَنَّ الْمُسَبَّبَاتِ صَادِرَةٌ عَنْ الْأَسْبَابِ، وَأَنَّ الْأَسْبَابَ أَفَادَتْهَا الْوُجُودَ؛ فَاقْتَطَعُوا ذَلِكَ عَنْ رَبِّ الْأَرْبَابِ وَمُسَبِّبِ الْأَسْبَابِ، وَأَضَافُوهُ إلَى تِلْكَ الْأَسْبَابِ:

وَلَوْ أَنَّ لَيْلَى أَبْرَزَتْ حُسْنَ وَجْهِهَا … لَهَامَ بِهَا اللُّوَّامُ مِثْلَ هُيَامِي
কিছুকে অপর কিছুর সাথে (যুক্ত করেছেন), যাতে বান্দাদের জানানো যায় যে, যখন উপকরণসমূহ বিদ্যমান থাকে, তখন তার সাথে সংশ্লিষ্ট কী কল্যাণ রয়েছে, যাতে তা ঘটার সময় তারা তা অন্বেষণ করে। আর তার সাথে কী অকল্যাণ যুক্ত রয়েছে, যাতে তা সংঘটিত হওয়ার সময় তারা তা থেকে বেঁচে থাকতে পারে। অভ্যস্ত রীতির ক্ষেত্রে এটিই প্রধানত ঘটে থাকে। তবে অনেকেই এ থেকে বিচ্যুত হয়। কত এমন ব্যক্তি আছে যাকে উৎসাহিত করা হয়েছে কিন্তু সে আগ্রহী হয়নি, কতজনকে সতর্ক করা হয়েছে কিন্তু সে ভয় পায়নি, কতজনকে ধমক দেওয়া হয়েছে কিন্তু সে বিরত হয়নি, কতজনকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে কিন্তু সে শিক্ষা গ্রহণ করেনি এবং কতজনকে ধৈর্য ধারণের আদেশ দেওয়া হয়েছে কিন্তু সে ধৈর্য ধরেনি। আর আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে প্রতিটি কার্যকারণকে তার কারণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতেন এবং সমস্ত কার্যকারণকে কোনো কারণ ছাড়াই সৃষ্টি করতেন। একইভাবে তিনি চাইলে সমস্ত কারণকে কার্যকারণহীনভাবে সৃষ্টি করতেন। কিন্তু তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত রীতি অনুযায়ী কারণসমূহকে কার্যকারণের সাথে যুক্ত করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন।

অনুরূপভাবে তিনি চাইলে খাদ্য ও পানীয় ছাড়াই দেহগুলোকে টিকিয়ে রাখতেন এবং দেহের কোনো অংশই ক্ষয়প্রাপ্ত হতো না যে তার স্থলাভিষিক্ত বা বিনিময়ের প্রয়োজন পড়ে। সুতরাং আগুনের স্পর্শ ছাড়াই আগুনের যন্ত্রণা সৃষ্টি করা এবং পানি, খাদ্য ও সহবাস ছাড়াই পানাহার ও সহবাসের তৃপ্তি সৃষ্টি করার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।

তদ্রূপ সমস্ত যন্ত্রণাদায়ক ও আনন্দদায়ক কারণসমূহের বিধানও একই; তিনি চাইলে সেগুলোকে কার্যকারণ ছাড়াই সৃষ্টি করতেন এবং তিনি চাইলে কার্যকারণগুলোকে সেগুলোর কারণ ছাড়াই সৃষ্টি করতেন। একইভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের মধ্যে আল্লাহ যে সকল শক্তি নিহিত রেখেছেন, তিনি চাইলে শুরু থেকেই সেগুলোর প্রভাব সৃষ্টি করতে পারতেন; যেমন আকর্ষণকারী শক্তি ছাড়াই খাদ্য আকর্ষণ করা, ধারণকারী শক্তি ছাড়াই তা ধরে রাখা, পুষ্টিদানকারী শক্তি ছাড়াই পুষ্টি প্রদান করা, নিঃসরণকারী শক্তি ছাড়াই তা ত্যাগ করা এবং আকৃতিদানকারী শক্তি ছাড়াই আকৃতি প্রদান করা। যখন ঐ সকল নির্বোধ ব্যক্তিরা—যারা ঐশী বিষয়াবলি সম্পর্কে অন্ধ—সুপ্রতিষ্ঠিত রীতির ক্ষেত্রে কারণ ও কার্যকারণের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক প্রত্যক্ষ করল, তখন তারা বিশ্বাস করে বসল যে কার্যকারণসমূহ মূলত কারণ থেকেই উদ্ভূত হয় এবং কারণসমূহ সেগুলোকে অস্তিত্ব দান করে। ফলে তারা বিষয়টিকে মহান রব্বুল আলামীন ও সকল কারণের স্রষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিল এবং সেগুলোকে ঐ সকল কারণের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করল:

আর লায়লা যদি তার চেহারার সৌন্দর্য উন্মোচিত করত … তবে তিরস্কারকারীরাও আমার মতোই তার প্রেমে পাগল হয়ে যেত।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَلَكِنَّهَا أَخْفَتْ مَحَاسِنَ وَجْهِهَا … فَضَلُّوا جَمِيعًا عَنْ حُضُورِ مَقَامِي

وَمَا أَشَدَّ طَمَعَ النَّاسِ فِي مَعْرِفَةِ مَا لَمْ يَضَعْ اللَّهُ عَلَى مَعْرِفَتِهِ سَبَبًا، كُلَّمَا نَظَرُوا فِيهِ وَحَرَصُوا عَلَيْهِ ازْدَادُوا حِيرَةً وَغَفْلَةً، فَالْحَزْمُ الْإِضْرَابُ عَنْهُ كَمَا فَعَلَ السَّلَفُ الصَّالِحُ، وَالْبَصَائِرُ كَالْأَبْصَارِ فَمَنْ حَرَصَ أَنْ يَرَى بِبَصَرِهِ مَا وَارَتْهُ الْجِبَالُ لَمْ يَنْفَعْهُ إطَالَةُ تَحْدِيقِهِ إلَى ذَلِكَ مَعَ قِيَامِ السَّاتِرِ.

وَكَذَلِكَ تَحْدِيقُ الْبَصَائِرِ إلَى مَا غَيَّبَهُ اللَّهُ عَنْهَا وَسَتَرَهُ بِالْأَوْهَامِ وَالظُّنُونِ وَالِاعْتِقَادَاتِ الْفَاسِدَةِ كَمْ مِنْ اعْتِقَادٍ جَزَمَ الْمَرْءُ بِهِ وَبَالَغَ فِي الْإِنْكَارِ عَلَى مُخَالِفِهِ ثُمَّ تَبَيَّنَ لَهُ خَطَؤُهُ وَقُبْحُهُ بَعْدَ الْجَزْمِ بِصَوَابِهِ وَحُسْنِهِ. وَمِنْ السَّعَادَةِ أَنْ يَخْتَارَ الْمَرْءُ لِنَفْسِهِ الْمُوَاظَبَةَ عَلَى أَفْضَلِ الْأَعْمَالِ فَأَفْضَلِهَا بِحَيْثُ لَا يَضَعُ بِذَلِكَ مَا هُوَ أَوْلَى بِالتَّقْدِيمِ مِنْهُ، وَالسَّعَادَةُ كُلُّهَا فِي اتِّبَاعِ الشَّرِيعَةِ فِي كُلِّ وِرْدٍ وَصَدْرٍ، وَنَبْذِ الْهَوَى فِيمَا يُخَالِفُهَا؛ فَقَدْ قَالَ تَعَالَى: {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى} [طه: 123] ، أَيْ فَلَا يَضِلُّ فِي الدُّنْيَا عَنْ الصَّوَابِ وَلَا يَشْقَى فِي الْآخِرَةِ بِالْعَذَابِ.

وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ: {اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ} [الأعراف: 3] ، الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 71] مَا مِنْ طَاعَةٍ يَأْتِي بِهَا الطَّالِبُ عَلَى وَجْهِهَا إلَّا أَحْدَثَتْ فِي قَلْبِهِ نُورًا، وَكُلَّمَا كَثُرَتْ الطَّاعَاتُ تَرَاكَمَتْ الْأَنْوَارُ حَتَّى يَصِيرَ الْمُطِيعُ إلَى دَرَجَاتِ الْعَارِفِينَ الْأَبْرَارِ {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} [العنكبوت: 69] وَهَذَا مِمَّا يَعْرِفُهُ الْمُطِيعُونَ الْمُخْلِصُونَ. فَإِذَا خَلَتْ الْأَعْمَالُ
কিন্তু সেটি তার চেহারার সৌন্দর্যকে গোপন করেছে … ফলে তারা সবাই আমার মাকামে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়েছে।

আল্লাহ যে বিষয়গুলো জানার জন্য কোনো উপায় নির্ধারণ করেননি, সেগুলো জানার ব্যাপারে মানুষের আকাঙ্ক্ষা কতই না তীব্র! তারা যতই সে বিষয়ে চিন্তা করে এবং তার প্রতি লালায়িত হয়, ততই তাদের বিভ্রান্তি ও উদাসীনতা বৃদ্ধি পায়। তাই এ ব্যাপারে বিচক্ষণতা হলো—তা থেকে বিমুখ থাকা, যেমনটা সালাফে সালেহীন করেছেন। অন্তঃদৃষ্টি হলো চর্মচক্ষুর মতো; সুতরাং যে ব্যক্তি তার চর্মচক্ষু দিয়ে পাহাড়ের আড়ালে থাকা কোনো বস্তু দেখার চেষ্টা করে, তবে আড়াল বিদ্যমান থাকা অবস্থায় সেদিকে দীর্ঘক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা তার কোনো উপকারে আসবে না।

অনুরূপভাবে, আল্লাহ যা অন্তঃদৃষ্টির অগোচরে রেখেছেন এবং যা কল্পনা, সংশয় ও ভ্রান্ত বিশ্বাসের আবরণে ঢেকে দিয়েছেন, সেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার অবস্থাও একই। এমন কত বিশ্বাস রয়েছে যা মানুষ অকাট্যভাবে গ্রহণ করে এবং তার বিরোধিতাকারীকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে, অথচ পরে তার সঠিকতা ও সৌন্দর্যের ব্যাপারে অকাট্য বিশ্বাসের পর তার কাছে সেই বিশ্বাসের ভুল ও কদর্যতা ধরা পড়ে। সৌভাগ্যের বিষয় হলো, মানুষ নিজের জন্য ধারাবাহিকভাবে সর্বোত্তম আমলগুলো বেছে নেবে, যাতে সে এর মাধ্যমে অধিক গুরুত্বপূর্ণ আমলকে পিছিয়ে না দেয়। আর পূর্ণাঙ্গ সৌভাগ্য নিহিত রয়েছে প্রতিটি কাজ ও পদক্ষেপে শরীয়তের অনুসরণ এবং শরীয়ত বিরোধী প্রবৃত্তিকে বর্জনের মধ্যে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর যে আমার হিদায়াতের অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না} [ত্বহা: ১২৩]। অর্থাৎ সে দুনিয়াতে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হবে না এবং আখিরাতে আজাবের মাধ্যমে দুর্ভাগা হবে না।

ইবনে আব্বাস (রাযি.) আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেন: {তোমরা অনুসরণ করো যা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে} [আল-আরাফ: ৩], তা হলো কিতাব ও সুন্নাহ। {আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করল} [আল-আহযাব: ৭১]। একজন অন্বেষণকারী যখনই যথাযথভাবে কোনো ইবাদত বা আনুগত্য করে, তা তার অন্তরে একটি আলো সৃষ্টি করে। ইবাদত যত বৃদ্ধি পায়, এই আলোগুলো ততই পুঞ্জীভূত হতে থাকে, এমনকি আনুগত্যকারী ব্যক্তি মারেফত লাভকারী নেককার বান্দাদের স্তরে উন্নীত হয়। {আর যারা আমার পথে সাধনা করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করব} [আল-আনকাবুত: ৬৯]। এটি এমন এক বিষয় যা একনিষ্ঠ আনুগত্যকারীরা উপলব্ধি করেন। সুতরাং যখন আমলসমূহ খালি হয়ে যায়
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ২০)
عَنْ الْإِخْلَاصِ لَمْ يَزْدَدْ الْعَامِلُونَ إلَّا ظُلْمَةً فِي الْقُلُوبِ، لِأَنَّهُمْ عَاصُونَ بِتَرْكِ الْإِخْلَاصِ وَإِبْطَالِ مَا أَفْسَدَهُ الرِّيَاءُ وَالتَّصَنُّعُ مِنْ الْأَعْمَالِ.

وَعَلَى الْجُمْلَةِ فَلَوْ أَنَّ الرَّبَّ سبحانه وتعالى عَرَّفَ عِبَادَهُ نَفْسَهُ وَأَوْصَافَهُ مِنْ غَيْرِ نَظَرٍ وَلَا اسْتِدْلَالٍ لَهَامُوا فِي جَلَالِهِ وَتَحَيَّرُوا فِي كَمَالِهِ، لَكِنَّهُ كَشَفَ الْحِجَابَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ السُّعَدَاءِ وَسَدَلَهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْأَشْقِيَاءِ، فَلَا يَسْتَطِيعُ أَحَدٌ كَشْفَ حِجَابٍ سَدَلَهُ اللَّهُ وَلَا حِفْظَ مَا ضَيَّعَهُ اللَّهُ وَأَهْمَلَهُ، جَرَتْ الْمَقَادِيرُ مِنْ الْأَزَلِ وَاسْتَمَرَّتْ فِي الْأَبَدِ وَجَفَّتْ الْأَقْلَامُ بِمَا قُضِيَ عَلَى الْأَنَامِ؛ فَلَا يَتَقَدَّمُ أَحَدٌ مِنْهُمْ قَدْرَ أُنْمُلَةٍ وَلَا يَتَأَخَّرُ إلَّا بِمَقَادِيرَ سَابِقَةٍ وَكِتَابَةٍ لَاحِقَةٍ. فَلَوْ تَهَيَّأَتْ أَسْبَابُ السَّعَادَةِ كُلُّهَا لِلْأَشْقِيَاءِ لَمَا سَعِدُوا، وَلَوْ تَهَيَّأَتْ أَسْبَابُ الشَّقَاوَةِ كُلُّهَا لِلسُّعَدَاءِ لَمَا شَقُوا: {وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلا مَرَدَّ لَهُ} [الرعد: 11] ، {وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلا كَاشِفَ لَهُ إِلا هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلا رَادَّ لِفَضْلِهِ} [يونس: 107] .

 

‌‌[فَصْلٌ فِي بَيَانِ مَا رُتِّبَ عَلَى الطَّاعَاتِ وَالْمُخَالَفَاتِ]

فِي بَيَانِ مَا رُتِّبَ عَلَى الطَّاعَاتِ وَالْمُخَالَفَاتِ

الطَّاعَاتُ ضَرْبَانِ: أَحَدُهُمَا مَا هُوَ مَصْلَحَةٌ فِي الْآخِرَةِ كَالصَّوْمِ وَالصَّلَاةِ وَالنُّسُكِ وَالِاعْتِكَافِ.

الضَّرْبُ الثَّانِي: مَا هُوَ مَصْلَحَةٌ فِي الْآخِرَةِ لِبَاذِلِهِ وَفِي الدُّنْيَا لِآخِذِيهِ كَالزَّكَاةِ وَالصَّدَقَاتِ وَالضَّحَايَا وَالْهَدَايَا وَالْأَوْقَافِ وَالصَّلَاةِ، وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي الطَّاعَاتِ وَالشَّرُّ كُلُّهُ فِي الْمُخَالَفَاتِ؛ وَلِذَلِكَ جَاءَ الْقُرْآنُ بِالْحَثِّ عَلَى الطَّاعَاتِ دَقِّهَا وَجُلِّهَا قَلِيلِهَا وَكَثِيرِهَا جَلِيلِهَا وَحَقِيرِهَا، وَالزَّجْرِ عَنْ الْمُخَالَفَاتِ دَقِّهَا وَجُلِّهَا قَلِيلِهَا وَكَثِيرِهَا جَلِيلِهَا وَحَقِيرِهَا، فَأَمَّا الْحَثُّ عَلَى الطَّاعَاتِ فَبِمَدْحِهَا وَبِمَدْحِ فَاعِلِيهَا، وَبِمَا وُعِدُوا عَلَيْهَا مِنْ الرِّضَا وَالْمَثُوبَاتِ، وَبِمَا رُتِّبَ عَلَيْهَا فِي الدُّنْيَا مِنْ الْكِفَايَةِ وَالْهِدَايَةِ، وَالتَّأَهُّلِ لِلشَّهَادَةِ وَالرِّوَايَةِ وَالْوِلَايَةِ.

وَأَمَّا الزَّجْرُ عَنْ الْمُخَالَفَاتِ فَبِذَمِّهَا وَذَمِّ فَاعِلِيهَا، وَبِمَا وُعِدُوا
ইখলাস বা নিষ্ঠার অভাবের কারণে আমলকারীদের অন্তরে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি পায় না, কারণ তারা ইখলাস বর্জন করার মাধ্যমে এবং রিয়া (লোকদেখানো) ও কৃত্রিমতা আমলকে যে নষ্ট করে ফেলে তার দ্বারা পাপে লিপ্ত থাকে।

সারকথা হলো, যদি মহান রব সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা ও দলিল-প্রমাণ ছাড়াই তাঁর বান্দাদের নিকট তাঁর সত্তা ও গুণাবলি পরিচিত করিয়ে দিতেন, তবে তারা তাঁর মহিমায় বিভোর হয়ে পড়ত এবং তাঁর পূর্ণতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যেত। কিন্তু তিনি তাঁর ও সৌভাগ্যবানদের মাঝখানের পর্দা উন্মোচন করেছেন এবং তাঁর ও দুর্ভাগাদের মাঝে তা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ যে পর্দা ঝুলিয়ে দিয়েছেন তা উন্মোচন করার সাধ্য কারও নেই, আর আল্লাহ যাকে বিনষ্ট করেছেন ও অবহেলা করেছেন তাকে রক্ষা করার ক্ষমতাও কারও নেই। অনাদিকাল থেকে তকদির নির্ধারিত হয়েছে এবং তা অনন্তকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সৃষ্টিজগতের ভাগ্যে যা ফয়সালা করা হয়েছে তা লিখে কলম শুকিয়ে গেছে; সুতরাং তাদের কেউ পূর্বনির্ধারিত তকদির এবং পূর্বলিখিত বিধান ব্যতীত এক আঙুলের অগ্রভাগ পরিমাণও সামনে এগুতে পারবে না এবং পিছিয়েও যেতে পারবে না। সুতরাং যদি দুর্ভাগাদের জন্য সৌভাগ্যের যাবতীয় উপায়-উপকরণ উপস্থিত করা হয়, তবুও তারা সৌভাগ্যবান হবে না। আর যদি সৌভাগ্যবানদের জন্য দুর্ভাগ্যের যাবতীয় উপায়-উপকরণ উপস্থিত করা হয়, তবুও তারা দুর্ভাগা হবে না: {আর আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়ের অমঙ্গল চান, তখন তা রদ করার কেউ নেই} [আর-রা'দ: ১১], {আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো অনিষ্ট দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার মঙ্গল চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই} [ইউনুস: ১০৭]।

 

‌‌[পরিচ্ছেদ: আনুগত্য ও অবাধ্যতার ফলশ্রুতি বর্ণনায়]

আনুগত্য ও অবাধ্যতার ওপর যা বর্তায় তার বর্ণনায়

আনুগত্য দুই প্রকার: এক প্রকার হলো যা কেবল পরকালীন কল্যাণ বয়ে আনে, যেমন: রোজা, নামাজ, হজের কার্যাদি ও ইতিকাফ।

দ্বিতীয় প্রকার: যা দানকারীর জন্য পরকালীন কল্যাণ এবং গ্রহণকারীর জন্য ইহকালীন কল্যাণ বয়ে আনে, যেমন: জাকাত, সদকা, কোরবানি, উপহার, ওয়াকফ ও নামাজ। আর যাবতীয় কল্যাণ আনুগত্যের মাঝে নিহিত এবং যাবতীয় অকল্যাণ অবাধ্যতার মাঝে নিহিত; এজন্যই কুরআন আনুগত্যের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছে—তা ক্ষুদ্র হোক বা বৃহৎ, অল্প হোক বা অধিক, মহান হোক বা তুচ্ছ। এবং অবাধ্যতা থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে—তা ক্ষুদ্র হোক বা বৃহৎ, অল্প হোক বা অধিক, মহান হোক বা তুচ্ছ। আনুগত্যের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে সেগুলোর প্রশংসা ও সম্পাদনকারীদের প্রশংসার মাধ্যমে, এবং সেগুলোর বিনিময়ে সন্তুষ্টি ও পুরস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার মাধ্যমে। আরও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এর ওপর পার্থিব জীবনে যে পর্যাপ্ততা ও হেদায়েত লাভ হয় এবং সাক্ষ্যদান, বর্ণনা ও নেতৃত্বের যে যোগ্যতা অর্জিত হয় তার মাধ্যমে।

আর অবাধ্যতা থেকে সতর্ক করা হয়েছে তার নিন্দা ও তা সম্পাদনকারীদের নিন্দার মাধ্যমে এবং তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ২১)
عَلَيْهَا مِنْ السَّخَطِ وَالْعُقُوبَاتِ، وَبِرَدِّ الشَّهَادَاتِ وَالْوِلَايَاتِ وَالِانْعِزَالِ عَنْ الْوِلَايَاتِ.

وَأَمَّا مَا قُرِنَ بِالْآيَاتِ مِنْ الصِّفَاتِ فَإِنَّهُ جَاءَ أَيْضًا حَاثًّا عَلَى الطَّاعَاتِ، وَزَجْرًا عَنْ الْمُخَالَفَاتِ، مِثْلَ أَنْ يَذْكُرَ سَعَةَ رَحْمَتِهِ لِيَرْجُوهُ فَيَعْمَلُوا بِالطَّاعَاتِ، وَيَذْكُرَ شِدَّةَ نِقْمَتِهِ لِيَخَافُوهُ فَيَجْتَنِبُوا الْمُخَالَفَاتِ، وَيَذْكُرَ نَظَرَهُ إلَيْهِمْ، لِيَسْتَحْيُوا مِنْ اطِّلَاعِهِ عَلَيْهِمْ فَلَا يَعْصُوهُ، وَيَذْكُرَ تَفَرُّدَهُ بِالضُّرِّ وَالنَّفْعِ، لِيَتَوَكَّلُوا عَلَيْهِ وَيَغُوضُوا إلَيْهِ، وَيَذْكُرَ إنْعَامَهُ عَلَيْهِمْ وَإِحْسَانَهُ إلَيْهِمْ، لِيُحِبُّوهُ وَيُطِيعُوهُ وَلَا يُخَالِفُوهُ، فَإِنَّ الْقُلُوبَ مَجْبُولَةٌ عَلَى حُبِّ مَنْ أَنْعَمَ عَلَيْهَا وَأَحْسَنَ إلَيْهَا.

وَكَذَلِكَ يَذْكُرُ أَوْصَافَ كَمَالِهِ لِيُعَظِّمُوهُ وَيَهَابُوهُ، وَيَذْكُرُ سَمْعَهُ لِيَحْفَظُوا أَلْسِنَتَهُمْ مِنْ مُخَالَفَتِهِ، وَيَذْكُرُ بَصَرَهُ لِيَسْتَحْيُوا مِنْ نَظَرِ مُرَاقَبَتِهِ، وَيَجْمَعُ بَيْنَ ذِكْرِ رَحْمَتِهِ وَعُقُوبَتِهِ، لِيَكُونُوا بَيْنَ الْخَوْفِ وَالرَّجَاءِ، فَإِنَّ السَّطْوَةَ لَوْ أُفْرِدَتْ بِالذِّكْرِ لَخِيفَ مِنْ أَدَائِهَا إلَى الْقُنُوطِ مِنْ رَحْمَتِهِ، وَلَوْ أُفْرِدَتْ الرَّحْمَةُ بِالذِّكْرِ لَخِيفَ مِنْ إفْضَائِهَا إلَى الْغُرُورِ بِإِحْسَانِهِ وَكَرَامَتِهِ، مِثْلُ قَوْلِهِ: {نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} [الحجر: 49] {وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الأَلِيمُ} [الحجر: 50] ، وَقَوْلِهِ: {وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ لِلنَّاسِ عَلَى ظُلْمِهِمْ وَإِنَّ رَبَّكَ لَشَدِيدُ الْعِقَابِ} [الرعد: 6] ، وَقَوْلِهِ: {اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ وَأَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [المائدة: 98] وَقَدْ يَجْمَعُ الْمَدَائِحَ فِي بَعْضِ الْمَوَاضِعِ، لِيَتَعَرَّفَ بِهَا إلَى عِبَادِهِ فَيَعْرِفُوهُ بِهَا وَيُعَامِلُوهُ بِمُقْتَضَاهَا.

وَكَذَلِكَ مَا ذَكَرَهُ فِي قَصَصِ الْأَوَّلِينَ وَإِنْجَاءِ الْمُؤْمِنِينَ وَإِهْلَاكِ الْكَافِرِينَ، إنَّمَا ذَكَرَهُ زَجْرًا عَنْ الْكُفْرِ وَحَثًّا عَلَى الْإِيمَانِ، فَيَا خَيْبَةَ مَنْ خَالَفَهُ وَعَصَاهُ، وَيَا غِبْطَةَ مَنْ أَطَاعَهُ وَاتَّقَاهُ.
তাতে রয়েছে ক্রোধ ও শাস্তি, এবং সাক্ষ্য ও কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান এবং পদ থেকে অপসারণ।

আর আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট সিফাত (বৈশিষ্ট্য) সমূহের বর্ণনার উদ্দেশ্যও হলো আনুগত্যে উৎসাহিত করা এবং অবাধ্যতা হতে বিরত রাখা। যেমন তিনি তাঁর প্রশস্ত রহমতের কথা উল্লেখ করেন যাতে তারা তাঁর কাছে আশা পোষণ করে এবং নেক আমল ও আনুগত্য করে। আবার তিনি তাঁর কঠোর প্রতিশোধের কথা উল্লেখ করেন যাতে তারা তাঁকে ভয় পায় এবং অবাধ্যতা বর্জন করে। তিনি তাদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিপাতের কথা উল্লেখ করেন যাতে তারা তাঁর অবগতির কারণে লজ্জাবোধ করে এবং তাঁর নাফরমানি না করে। তিনি ক্ষতি ও উপকারের ক্ষেত্রে তাঁর এককত্বের কথা উল্লেখ করেন যাতে তারা তাঁর ওপর ভরসা করে এবং তাঁর দিকেই রুজু হয়। তিনি তাদের প্রতি তাঁর নেয়ামত ও অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেন যাতে তারা তাঁকে ভালোবাসে ও তাঁর আনুগত্য করে এবং তাঁর বিরোধিতা না করে; কেননা অন্তরসমূহ স্বভাবগতভাবেই তার প্রতি অনুরক্ত হয় যে তাকে নেয়ামত দান করে ও তার প্রতি অনুগ্রহ করে।

অনুরূপভাবে তিনি তাঁর পূর্ণতার গুণাবলি উল্লেখ করেন যাতে তারা তাঁকে মহিমান্বিত মনে করে ও সম্ভ্রমপূর্ণ ভয় পায়। তিনি তাঁর শ্রবণের কথা উল্লেখ করেন যাতে তারা তাদের জিহ্বাকে তাঁর বিরুদ্ধাচরণ থেকে রক্ষা করে। তিনি তাঁর দৃষ্টির কথা উল্লেখ করেন যাতে তারা তাঁর পর্যবেক্ষণের দৃষ্টি থেকে লজ্জাবোধ করে। তিনি তাঁর রহমত ও শাস্তির কথা একত্রে উল্লেখ করেন যাতে তারা ভয় ও আশার মাঝে অবস্থান করে। কেননা যদি কেবল তাঁর প্রতাপের কথাই উল্লেখ করা হতো, তবে তা তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হওয়ার দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। আর যদি কেবল রহমতের কথাই উল্লেখ করা হতো, তবে তা তাঁর অনুগ্রহ ও সম্মানের কারণে প্রতারিত হওয়ার দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। যেমন তাঁর বাণী: "আমার বান্দাদের সংবাদ দাও যে, নিশ্চয় আমি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" "এবং আমার শাস্তিই হলো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।" এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমার রব মানুষের প্রতি তাদের জুলুম সত্ত্বেও ক্ষমাশীল এবং নিশ্চয়ই তোমার রব শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।" এবং তাঁর বাণী: "জেনে রেখো যে, আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" কখনো কখনো তিনি বিভিন্ন স্থানে তাঁর প্রশংসাসমূহ একত্রিত করেন যাতে তাঁর বান্দারা তাঁর পরিচয় লাভ করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী তাঁর সাথে আচরণ করতে পারে।

অনুরূপভাবে পূর্ববর্তীদের কাহিনীতে মুমিনদের নাজাত এবং কাফেরদের ধ্বংসের যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন, তা কেবল কুফরি থেকে সতর্ক করার জন্য এবং ঈমানের প্রতি উৎসাহিত করার জন্যই দিয়েছেন। সুতরাং কতই না দুর্ভাগা সে, যে তাঁর বিরুদ্ধাচরণ ও অবাধ্যতা করল, আর কতই না ভাগ্যবান সে, যে তাঁর আনুগত্য ও তাকওয়া অবলম্বন করল।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌[فَصْلٌ فِيمَا عُرِفَتْ حِكْمَتُهُ مِنْ الْمَشْرُوعَاتِ وَمَا لَمْ تُعْرَفْ حِكْمَتُهُ مِنْ الْمَشْرُوعَاتِ]

فِيمَا عُرِفَتْ حِكْمَتُهُ مِنْ الْمَشْرُوعَاتِ وَمَا لَمْ تُعْرَفْ حِكْمَتُهُ مِنْ الْمَشْرُوعَاتِ

الْمَشْرُوعَاتُ ضَرْبَانِ: أَحَدُهُمَا مَا ظَهَرَ لَنَا أَنَّهُ جَالِبٌ لِمَصْلَحَةٍ أَوْ دَارِئٌ لِمَفْسَدَةٍ، أَوْ جَالِبٌ دَارِئٌ لِمَفْسَدَةٍ، أَوْ جَالِبٌ دَارِئٌ لِمَصْلَحَةٍ، وَيُعَبَّرُ عَنْهُ بِأَنَّهُ مَعْقُولُ الْمَعْنَى.

الضَّرْبُ الثَّانِي: مَا لَمْ يَظْهَرْ لَنَا جَلْبُهُ لِمَصْلَحَةٍ أَوْ دَرْؤُهُ لِمَفْسَدَةٍ، وَيُعَبَّرُ عَنْهُ بِالتَّعَبُّدِ. وَفِي التَّعَبُّدِ مِنْ الطَّوَاعِيَةِ وَالْإِذْعَانِ مِمَّا لَمْ تُعْرَفْ حِكْمَتُهُ وَلَا تُعْرَفُ عِلَّتُهُ مَا لَيْسَ مِمَّا ظَهَرَتْ عِلَّتُهُ وَفُهِمَتْ حِكْمَتُهُ، فَإِنَّ مُلَابِسَهُ قَدْ يَفْعَلُهُ لِأَجْلِ تَحْصِيلِ حِكْمَتِهِ وَفَائِدَتِهِ، وَالْمُتَعَبِّدُ لَا يَفْعَلُ مَا تَعَبَّدَ بِهِ إلَّا إجْلَالًا لِلرَّبِّ وَانْقِيَادًا إلَى طَاعَتِهِ، وَيَجُوزُ أَنْ تَتَجَرَّدَ التَّعَبُّدَاتُ عَنْ جَلْبِ الْمَصَالِحِ وَدَرْءِ الْمَفَاسِدِ، ثُمَّ يَقَعَ الثَّوَابُ عَلَيْهَا بِنَاءً عَلَى الطَّاعَةِ وَالْإِذْعَانِ، مِنْ غَيْرِ جَلْبِ مَصْلَحَةٍ غَيْرِ مَصْلَحَةِ الثَّوَابِ، وَدَرْءِ مَفْسَدَةٍ غَيْرُ مَفْسَدَةِ الْعِصْيَانِ، فَيَحْصُلُ مِنْ هَذَا أَنَّ الثَّوَابَ قَدْ يَكُونُ عَلَى مُجَرَّدِ الطَّوَاعِيَةِ مِنْ غَيْرِ أَنْ تُحَصِّلَ تِلْكَ الطَّوَاعِيَةُ جَلْبَ مَصْلَحَةٍ أَوْ دَرْءَ مَفْسَدَةٍ، سِوَى مَصْلَحَةِ أَجْرِ الطَّوَاعِيَةِ.

 

‌‌[فَصْلٌ فِي تَفَاوُتِ رتب الْأَعْمَال بِتَفَاوُتِ رُتَبِ الْمَصَالِحِ وَالْمَفَاسِدِ]

طَلَبُ الشَّرْعِ لِتَحْصِيلِ أَعْلَى الطَّاعَاتِ، كَطَلَبِهِ لِتَحْصِيلِ أَدْنَاهَا فِي الْحَدِّ وَالْحَقِيقَةِ، كَمَا أَنَّ طَلَبَهُ لِدَفْعِ أَعْظَمِ الْمَعَاصِي كَطَلَبِهِ لِدَفْعِ أَدْنَاهَا، إذْ لَا تَفَاوُتَ بَيْنَ طَلَبٍ وَطَلَبٍ، وَإِنَّمَا التَّفَاوُتُ بَيْنَ الْمَطْلُوبَاتِ مِنْ جَلْبِ الْمَصَالِحِ وَدَرْءِ الْمَفَاسِدِ، لِذَلِكَ انْقَسَمَتْ الطَّاعَاتُ إلَى الْفَاضِلِ وَالْأَفْضَلِ، لِانْقِسَامِ
[পরিচ্ছেদ: শরীয়তভুক্ত বিষয়সমূহের মধ্যে যার হিকমত জানা গিয়েছে এবং যার হিকমত জানা যায়নি]

শরীয়তভুক্ত বিষয়সমূহের মধ্যে যার হিকমত জানা গিয়েছে এবং যার হিকমত জানা যায়নি সে প্রসঙ্গে

শরীয়তভুক্ত কার্যাবলী দুই প্রকার: প্রথমটি হলো যার এমন বৈশিষ্ট্য আমাদের কাছে স্পষ্ট যা কোনো কল্যাণ বয়ে আনে অথবা কোনো অকল্যাণ প্রতিহত করে, কিংবা যা অকল্যাণ প্রতিহত করার পাশাপাশি কল্যাণ বয়ে আনে, অথবা কল্যাণ অর্জনের পাশাপাশি অকল্যাণ দূর করে; আর একেই 'মা'কুলুল মানা' (যৌক্তিক অর্থবহ) হিসেবে অভিহিত করা হয়।

দ্বিতীয় প্রকার: যার কল্যাণ আনয়ন বা অকল্যাণ প্রতিরোধের বিষয়টি আমাদের নিকট স্পষ্ট নয়, একে 'তা'আব্বুদি' (নিছক ইবাদতগত) হিসেবে অভিহিত করা হয়। যার হিকমত বা কারণ (ইল্লত) জানা নেই, এমন আনুগত্য ও বশ্যতাস্বীকারের মধ্যে এমন এক বৈশিষ্ট্য নিহিত রয়েছে যা ওইসব বিষয়ের মধ্যে নেই যার কারণ স্পষ্ট ও হিকমত বোধগম্য। কারণ, কোনো ব্যক্তি কোনো কাজ তার হিকমত ও উপকারিতা অর্জনের উদ্দেশ্যে করতে পারে, কিন্তু যে ব্যক্তি নিছক ইবাদত হিসেবে তা পালন করে, সে তা একমাত্র রবের মহানুভবতার খাতিরে এবং তাঁর আনুগত্যে নিজেকে সঁপে দেওয়ার জন্যই করে থাকে। এটিও সম্ভব যে, ইবাদতসমূহ (তা'আব্বুদাত) কোনো জাগতিক কল্যাণ অর্জন বা অকল্যাণ প্রতিহত করা থেকে মুক্ত থাকবে, অতঃপর কেবল আনুগত্য ও বশ্যতার ভিত্তিতে তার ওপর সওয়াব অর্জিত হবে; এক্ষেত্রে সওয়াবের কল্যাণ ব্যতীত অন্য কোনো কল্যাণ লাভ বা পাপাচারের অকল্যাণ ব্যতীত অন্য কোনো অকল্যাণ প্রতিরোধের বিষয় থাকবে না। সুতরাং এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, সওয়াব কখনো কেবল আনুগত্যের ওপরও হতে পারে, যদিও সেই আনুগত্যে আনুগত্যের সওয়াব অর্জনের সার্থকতা ছাড়া অন্য কোনো কল্যাণ লাভ বা অকল্যাণ প্রতিরোধের বিষয় না থাকে।

 

[পরিচ্ছেদ: কল্যাণ ও অকল্যাণের স্তরের তারতম্য অনুযায়ী আমলসমূহের স্তরের তারতম্য প্রসঙ্গে]

সর্বোচ্চ স্তরের আনুগত্যগুলো অর্জনের জন্য শরীয়তের দাবি এবং সর্বনিম্ন স্তরের আনুগত্য অর্জনের দাবি সংজ্ঞা ও হাকীকতের দিক থেকে অভিন্ন; ঠিক যেমন বৃহত্তম পাপাচারগুলো প্রতিহত করার দাবি এবং ক্ষুদ্রতম পাপাচারগুলো প্রতিহত করার দাবিও অভিন্ন। কেননা, দাবির সাথে দাবির (শরীয়তের নির্দেশের মধ্যে) কোনো পার্থক্য নেই, বরং পার্থক্য হলো কাঙ্ক্ষিত বিষয়সমূহের (তথা কল্যাণ অর্জন এবং অকল্যাণ প্রতিরোধের) মধ্যে। এই কারণেই আনুগত্যসমূহ উত্তম ও উত্তমতর হিসেবে বিভক্ত হয়েছে, কারণ...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
مَصَالِحِهَا إلَى الْكَامِلِ وَالْأَكْمَلِ، وَانْقَسَمَتْ الْمَعَاصِي إلَى الْكَبِيرِ وَالْأَكْبَرِ لِانْقِسَامِ مَفَاسِدِهَا إلَى الرَّذِيلِ وَالْأَرْذَلِ.

 

‌‌[فَصْلٌ فِيمَا تَتَمَيَّزُ بِهِ الصَّغَائِرُ مِنْ الْكَبَائِرِ]

فِيمَا تَتَمَيَّزُ بِهِ الصَّغَائِرُ مِنْ الْكَبَائِرِ

إذَا أَرَدْتَ مَعْرِفَةَ الْفَرْقِ بَيْنَ الصَّغَائِرِ وَالْكَبَائِرِ فَاعْرِضْ مَفْسَدَةَ الذَّنْبِ عَلَى مَفَاسِدِ الْكَبَائِرِ الْمَنْصُوصِ عَلَيْهَا، فَإِنْ نَقَصَتْ عَنْ أَقَلِّ مَفَاسِدِ الْكَبَائِرِ فَهِيَ مِنْ الصَّغَائِرِ وَإِنْ سَاوَتْ أَدْنَى مَفَاسِدِ الْكَبَائِرِ أَوْ أَرْبَتْ عَلَيْهَا فَهِيَ مِنْ الْكَبَائِرِ. فَمَنْ شَتَمَ الرَّبَّ أَوْ الرَّسُولَ أَوْ اسْتَهَانَ بِالرُّسُلِ أَوْ كَذَّبَ وَاحِدًا مِنْهُمْ أَوْ ضَمَخَ الْكَعْبَةَ بِالْعَذِرَةِ أَوْ أَلْقَى الْمُصْحَفَ فِي الْقَاذُورَاتِ فَهَذَا مِنْ أَكْبَرِ الْكَبَائِرِ، وَلَمْ يُصَرِّحْ الشَّرْعُ بِأَنَّهُ كَبِيرَةٌ.

وَكَذَلِكَ لَوْ أَمْسَكَ امْرَأَةً مُحْصَنَةً لِمَنْ يَزْنِي بِهَا أَوْ مُسْلِمًا لِمَنْ يَقْتُلُهُ فَلَا شَكَّ أَنَّ مَفْسَدَةَ ذَلِكَ أَعْظَمُ مِنْ مَفْسَدَةِ أَكْلِ مَالِ الْيَتِيمِ مَعَ كَوْنِهِ مِنْ الْكَبَائِرِ.

وَكَذَلِكَ لَوْ دَلَّ الْكُفَّارَ عَلَى عَوْرَةِ الْمُسْلِمِينَ مَعَ عِلْمِهِ بِأَنَّهُمْ يَسْتَأْصِلُونَهُمْ بِدَلَالَتِهِ وَيَسْبُونَ حُرُمَهُمْ وَأَطْفَالَهُمْ، وَيَغْتَنِمُونَ أَمْوَالَهُمْ وَيَزْنُونَ بِنِسَائِهِمْ وَيُخَرِّبُونَ دِيَارَهُمْ، فَإِنَّ تَسَبُّبَهُ إلَى هَذِهِ الْمَفَاسِدِ أَعْظَمُ مِنْ تَوْلِيَتِهِ يَوْمَ الزَّحْفِ بِغَيْرِ عُذْرٍ مَعَ كَوْنِهِ مِنْ الْكَبَائِرِ.

وَكَذَلِكَ لَوْ كَذَبَ عَلَى إنْسَانٍ كَذِبًا يَعْلَمُ أَنَّهُ يُقْتَلُ بِسَبَبِهِ، وَلَوْ كَذَبَ عَلَى إنْسَانٍ كَذِبًا يَعْلَمُ أَنَّهُ تُؤْخَذُ مِنْهُ تَمْرَةٌ بِسَبَبِ كَذِبِهِ لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ مِنْ الْكَبَائِرِ، وَقَدْ نَصَّ الشَّرْعُ عَلَى أَنَّ شَهَادَةَ الزُّورِ وَأَكْلَ مَالَ الْيَتِيمِ مِنْ الْكَبَائِرِ فَإِنْ وَقَعَا فِي مَالٍ خَطِيرٍ فَهَذَا ظَاهِرٌ، وَإِنْ وَقَعَا فِي مَالٍ حَقِيرٍ كَزَبِيبَةٍ وَتَمْرَةٍ فَهَذَا مُشْكِلٌ، فَيَجُوزُ أَنْ يُجْعَلَ مِنْ الْكَبَائِرِ فِطَامًا عَنْ هَذِهِ الْمَفَاسِدِ، كَمَا جُعِلَ شُرْبُ قَطْرَةٍ مِنْ الْخَمْرِ مِنْ جُمْلَةِ الْكَبَائِرِ وَإِنْ لَمْ يَتَحَقَّقْ الْمَفْسَدَةُ فِيهِ، وَيَجُوزُ أَنْ يُضْبَطَ ذَلِكَ الْمَالُ بِنِصَابِ السَّرِقَةِ.
এর কল্যাণসমূহ পূর্ণ ও পূর্ণতর স্তরে বিভক্ত হয়েছে এবং পাপসমূহ কবিরা ও আকবার (বৃহত্তর) ভাগে বিভক্ত হয়েছে, কারণ সেগুলোর অনিষ্টসমূহ নিকৃষ্ট এবং নিকৃষ্টতর স্তরে বিভক্ত।

 

‌‌[পরিচ্ছেদ: যার মাধ্যমে সগিরা গুনাহ থেকে কবিরা গুনাহকে পৃথক করা যায়]

সগিরা গুনাহ থেকে কবিরা গুনাহ পৃথক হওয়ার মানদণ্ড প্রসঙ্গে

যদি তুমি সগিরা ও কবিরা গুনাহের মধ্যে পার্থক্য জানতে চাও, তবে কোনো পাপের অনিষ্টকে শরিয়তে বর্ণিত কবিরা গুনাহসমূহের অনিষ্টের সাথে তুলনা করো। যদি তা কবিরা গুনাহের সর্বনিম্ন অনিষ্টের চেয়ে কম হয়, তবে তা সগিরা গুনাহ। আর যদি তা কবিরা গুনাহের সর্বনিম্ন অনিষ্টের সমান হয় অথবা তার চেয়ে বেশি হয়, তবে তা কবিরা গুনাহ। সুতরাং যে ব্যক্তি প্রতিপালককে অথবা রাসূলকে গালি দিল, কিংবা রাসূলগণকে অবজ্ঞা করল, অথবা তাঁদের কোনো একজনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, কিংবা কাবা শরিফকে অপবিত্রতা দ্বারা লিপ্ত করল, অথবা কুরআন মাজীদকে আবর্জনার মধ্যে নিক্ষেপ করল—এগুলো সর্ববৃহৎ কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, যদিও শরিয়তে এগুলোকে স্পষ্টভাবে 'কবিরা' গুনাহ বলে উল্লেখ করা হয়নি।

তদ্রূপ কেউ যদি কোনো সতী নারীকে এমন ব্যক্তির জন্য পাকড়াও করে রাখে যে তার সাথে ব্যভিচার করবে, অথবা কোনো মুসলিমকে এমন ব্যক্তির জন্য পাকড়াও করে যে তাকে হত্যা করবে, তবে নিঃসন্দেহে এর অনিষ্ট এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করার অনিষ্টের চেয়েও বেশি, অথচ এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

তেমনিভাবে, যদি কেউ কাফেরদেরকে মুসলমানদের গোপনীয়তা বাতলে দেয় এই জানা থাকা সত্ত্বেও যে, তার এই পথ প্রদর্শনের কারণে তারা মুসলমানদের সমূলে বিনাশ করবে, তাদের নারী ও শিশুদের বন্দী করবে, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করবে, তাদের নারীদের সাথে ব্যভিচার করবে এবং তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করবে; তবে এই অনিষ্টগুলোর কারণ হওয়া যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ওজর ছাড়া পলায়ন করার চেয়েও গুরুতর, অথচ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

একইভাবে, যদি কেউ কোনো মানুষের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা বলে যা সম্পর্কে সে জানে যে এর কারণে লোকটিকে হত্যা করা হবে (তবে তা কবিরা গুনাহ); কিন্তু যদি সে কোনো মানুষের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা বলে যা সম্পর্কে সে জানে যে এর ফলে তার থেকে মাত্র একটি খেজুর কেড়ে নেয়া হবে, তবে তা কবিরা গুনাহ হবে না। আর শরিয়তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান এবং এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা কবিরা গুনাহ। যদি এই কাজগুলো কোনো মূল্যবান সম্পদের ক্ষেত্রে ঘটে তবে তা সুস্পষ্ট। কিন্তু যদি তা তুচ্ছ কোনো সম্পদ যেমন একটি কিশমিশ বা একটি খেজুরের ক্ষেত্রে ঘটে, তবে তা জটিল বিষয়। এমতাবস্থায় এই অনিষ্টগুলো থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে একে কবিরা গুনাহ গণ্য করা বৈধ হতে পারে, যেমন এক ফোঁটা মদ পান করাকেও কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যদিও তাতে (নেশার) অনিষ্ট কার্যকর হয় না। অথবা সেই সম্পদের পরিমাণকে চুরির নিসাব দ্বারাও সীমাবদ্ধ করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَالْحُكْمُ بِغَيْرِ الْحَقِّ كَبِيرَةٌ فَإِنَّ شَاهِدَ الزُّورِ مُتَسَبِّبٌ مُتَوَسِّلٌ وَالْحَاكِمُ مُبَاشِرٌ فَإِذَا جُعِلَ التَّسَبُّبُ كَبِيرَةً فَالْمُبَاشَرَةُ أَكْبَرُ مِنْ تِلْكَ الْكَبِيرَةِ، وَلَوْ شَهِدَ اثْنَانِ بِالزُّورِ عَلَى قَتْلٍ مُوجِبٍ لِلْقِصَاصِ فَسَلَّمَ الْحَاكِمُ الْمَشْهُودَ عَلَيْهِ إلَى الْوَالِي فَقَتَلَهُ وَكُلُّهُمْ عَالِمُونَ بِأَنَّهُمْ ظَالِمُونَ فَشَهَادَةُ الزُّورِ كَبِيرَةٌ وَالْحُكْمُ أَكْبَرُ مِنْهَا وَمُبَاشَرَةُ الْقَتْلِ أَكْبَرُ مِنْ الْحُكْمِ، وَالْوُقُوفُ عَلَى تَسَاوِي الْمَفَاسِدِ وَتَفَاوُتِهَا عِزَّةٌ وَلَا يَهْتَدِي إلَيْهَا إلَّا مَنْ وَفَّقَهُ اللَّهُ تَعَالَى، وَالْوُقُوفُ عَلَى التَّسَاوِي أَعَزُّ مِنْ الْوُقُوفِ عَلَى التَّفَاوُتِ، وَلَا يُمْكِنُ ضَبْطُ الْمَصَالِحِ وَالْمَفَاسِدِ إلَّا بِالتَّقْرِيبِ، وَلَا يَلْزَمُ مِنْ النَّصِّ عَلَى كَوْنِ الذَّنْبِ كَبِيرَةً أَنْ يَكُونَ مُسَاوِيًا لِغَيْرِهِ مِنْ الْكَبَائِرِ، فَقَدْ قَالَ صلى الله عليه وسلم: «إنَّ مِنْ الْكَبَائِرِ أَنْ يَشْتُمَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَشْتُمُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ؟ فَقَالَ. نَعَمْ يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ أَبَاهُ وَيَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّهُ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ. جَعَلَ صلى الله عليه وسلم التَّسَبُّبَ إلَى سَبِّهِمَا مِنْ الْكَبَائِرِ، وَهَذَا تَنْبِيهٌ عَلَى أَنَّ مُبَاشَرَةَ سَبِّهِمَا أَكْبَرُ مِنْ التَّسَبُّبِ إلَيْهِ.

وَفِي رِوَايَةِ الْبُخَارِيِّ: «إنَّ مِنْ أَكْبَرِ الْكَبَائِرِ أَنْ يَلْعَنَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ يَلْعَنُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ؟ قَالَ: يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ أَبَاهُ وَيَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّهُ»

جُعِلَ اللَّعْنُ مِنْ أَكْبَرِ الْكَبَائِرِ لِفَرْطِ قُبْحِهِ بِخِلَافِ السَّبِّ الْمُطْلَقِ. وَقَدْ نَصَّ الرَّسُولُ عليه السلام عَلَى أَنَّ عُقُوقَ الْوَالِدَيْنِ مِنْ الْكَبَائِرِ، مَعَ الْخِلَافِ فِي رُتَبِ الْعُقُوقِ، وَلَمْ أَقِفْ فِي عُقُوقِ الْوَالِدَيْنِ وَلَا فِيمَا يَخْتَصَّانِ بِهِ مِنْ الْحُقُوقِ عَلَى ضَابِطٍ أَعْتَمِدُ عَلَيْهِ، فَإِنَّ مَا يَحْرُمُ فِي حَقِّ الْأَجَانِبِ فَهُوَ حَرَامٌ فِي حَقِّهِمَا وَمَا يَجِبُ لِلْأَجَانِبِ فَهُوَ وَاجِبٌ لَهُمَا، وَلَا يَجِبُ عَلَى الْوَلَدِ طَاعَتُهُمَا فِي كُلِّ مَا يَأْمُرَانِ بِهِ وَلَا فِي كُلِّ مَا يَنْهَيَانِ عَنْهُ بِاتِّفَاقِ الْعُلَمَاءِ، وَقَدْ حَرُمَ عَلَى الْوَلَدِ الْجِهَادُ بِغَيْرِ إذْنِهِمَا لِمَا يَشُقُّ عَلَيْهِمَا مِنْ تَوَقُّعِ قَتْلِهِ أَوْ قَطْعِ عُضْوٍ مِنْ أَعْضَائِهِ، وَلِشِدَّةِ تَفَجُّعِهِمَا عَلَى ذَلِكَ، وَقَدْ أُلْحِقَ بِذَلِكَ كُلُّ سَفَرٍ يَخَافَانِ فِيهِ عَلَى نَفْسِهِ أَوْ عَلَى عُضْوٍ مِنْ أَعْضَائِهِ، وَقَدْ سَاوَى الْوَالِدَانِ الرَّقِيقَ فِي النَّفَقَةِ وَالْكُسْوَةِ وَالسُّكْنَى. وَقَدْ ضَبَطَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ الْكَبَائِرَ بِأَنْ قَالَ. كُلُّ ذَنْبٍ قُرِنَ بِهِ وَعِيدٌ أَوْ حَدٌّ أَوْ لَعْنٌ فَهُوَ مِنْ الْكَبَائِرِ. فَتَغْيِيرُ مَنَارِ الْأَرْضِ كَبِيرَةٌ لِاقْتِرَانِ اللَّعْنِ بِهِ.

وَكَذَلِكَ قَتْلُ
অন্যায়ের মাধ্যমে ফয়সালা করা একটি কবিরা গুনাহ। কেননা মিথ্যা সাক্ষী হলো সেই অন্যায়ের কারণ ও মাধ্যম সৃষ্টিকারী, আর বিচারক হলেন এর সরাসরি সম্পাদনকারী। সুতরাং যখন কারণ সৃষ্টি করাকেই কবিরা গুনাহ সাব্যস্ত করা হয়েছে, তখন সরাসরি তা সম্পাদন করা সেই কবিরা গুনাহর চেয়েও বড় অপরাধ। আর যদি দুইজন ব্যক্তি কিাসাস ওয়াজিব হয় এমন কোনো হত্যার বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়, অতঃপর বিচারক সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাসকের হাতে সোপর্দ করেন এবং শাসক তাকে হত্যা করে, আর তারা সকলেই অবগত থাকে যে তারা জালেম; তবে এক্ষেত্রে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া একটি কবিরা গুনাহ, (ভুল) রায় দেওয়া তার চেয়েও বড় অপরাধ, এবং সরাসরি হত্যা করা রায় দেওয়ার চেয়েও বড় অপরাধ। অনিষ্টসমূহের (মাফাসিদ) সমতা ও তারতম্য উপলব্ধি করা অত্যন্ত কঠিন ও দুর্লভ বিষয়; আল্লাহ তাআলা যাকে তৌফিক দান করেন তিনি ছাড়া আর কেউ এর দিশা পায় না। অনিষ্টের সমতা অনুধাবন করা তার তারতম্য অনুধাবন করার চেয়েও বেশি কঠিন। আর জনকল্যাণ (মাসলাহাত) ও অনিষ্টের (মাফাসাদাত) বিষয়টি অনুমান ও নিকটবর্তী ধারণা ছাড়া সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কোনো গুনাহ কবিরা হওয়ার ব্যাপারে নস (স্পষ্ট বর্ণনা) থাকার অর্থ এই নয় যে, তা অন্য সকল কবিরা গুনাহর সমান হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষের জন্য তার পিতামাতাকে গালি দেওয়া কবিরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।" সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! মানুষ কীভাবে তার পিতামাতাকে গালি দেয়?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, সে অন্য ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয়, তখন সেই ব্যক্তি তার পিতাকে গালি দেয়। আর সে অন্যের মাকে গালি দেয়, তখন সেই ব্যক্তি তার মাকে গালি দেয়।" এটি মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এখানে পিতামাতাকে গালমন্দ করার কারণ হওয়াকেই কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য করেছেন। এটি এই বিষয়ে একটি সতর্ক সংকেত যে, সরাসরি তাদের গালি দেওয়া এর কারণ হওয়ার চেয়েও বড় অপরাধ।

বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে: "নিশ্চয়ই সবচাইতে বড় কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো কোনো ব্যক্তির আপন পিতামাতাকে অভিশাপ দেওয়া।" সাহাবীগণ বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! মানুষ কীভাবে তার পিতামাতাকে অভিশাপ দেয়?" তিনি বললেন: "সে অন্য ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয়, বিনিময়ে সে তার পিতাকে গালি দেয়; আর সে অন্য ব্যক্তির মাকে গালি দেয়, বিনিময়ে সে তার মাকে গালি দেয়।"

অভিশাপ দেওয়াকে তার চরম জঘন্যতার কারণে 'আকবারুল কাবায়ের' (সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ) এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণ গালিগালাজ থেকে ভিন্ন। রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) স্পষ্ট করেছেন যে, পিতামাতার অবাধ্যতা করা কবিরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত, যদিও অবাধ্যতার স্তরের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। পিতামাতার অবাধ্যতা কিংবা তাদের জন্য নির্দিষ্ট অধিকারের বিষয়ে আমি এমন কোনো সুনির্দিষ্ট মূলনীতি পাইনি যার ওপর নির্ভর করা যায়। কেননা, অন্য সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যা হারাম, পিতামাতার ক্ষেত্রেও তা হারাম; আর অন্যদের জন্য যা আবশ্যক, তাদের জন্যও তা আবশ্যক। আলেমদের ঐকমত্য অনুযায়ী, পিতামাতা যা কিছু আদেশ করেন বা যা কিছু নিষেধ করেন, তার সব কিছুতেই তাদের আনুগত্য করা সন্তানের ওপর ওয়াজিব নয়। সন্তানের জন্য তাদের অনুমতি ছাড়া জিহাদে যাওয়া হারাম করা হয়েছে, কারণ এতে সন্তানের সম্ভাব্য মৃত্যু বা অঙ্গহানির আশঙ্কায় তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয় এবং তারা এতে চরমভাবে শোকাহত হন। এর সাথে এমন প্রতিটি সফরকে যুক্ত করা হয়েছে যে সফরে তারা সন্তানের জীবন বা কোনো অঙ্গহানির ভয় পান। পিতামাতা ভরণপোষণ, পোশাক-আশাক এবং বাসস্থানের ক্ষেত্রে দাসের (মালিকের প্রতি দাসের হকের) সাথে সমান পর্যায়ে উপনীত হয়েছেন। কিছু আলেম কবিরা গুনাহকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: প্রতিটি গুনাহ যার সাথে শাস্তির ধমকি, হদ বা অভিশাপের কথা উল্লেখ রয়েছে, তা-ই কবিরা গুনাহ। সুতরাং জমির সীমানা খুঁটি পরিবর্তন করা একটি কবিরা গুনাহ, কারণ এর সাথে অভিশাপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

অনুরূপভাবে হত্যা করা...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
الْمُؤْمِنِ كَبِيرَةٌ لِأَنَّهُ اقْتَرَنَ بِهِ الْوَعِيدُ وَاللَّعْنُ وَالْحَدُّ، وَالْمُحَارَبَةُ وَالزِّنَا وَالسَّرِقَةُ وَالْقَذْفُ كَبَائِرُ لِاقْتِرَانِ الْحُدُودِ بِهَا، وَعَلَى هَذَا كُلُّ ذَنْبٍ عُلِمَ أَنَّ مَفْسَدَتَهُ كَمَفْسَدَةِ مَا قُرِنَ بِهِ الْوَعِيدُ أَوْ اللَّعْنُ أَوْ الْحَدُّ أَوْ أَكْبَرُ مِنْ مَفْسَدَتِهِ فَهُوَ كَبِيرَةٌ.

 

‌‌[فَائِدَةٌ مَنْ قَذَفَ مُحْصَنًا قَذْفًا لَا يَسْمَعُهُ أَحَدٌ إلَّا اللَّهَ تَعَالَى وَالْحَفَظَةَ]

(فَائِدَةٌ) فَإِنْ قِيلَ الْكَذِبُ فِيمَا لَا يَضُرُّ وَلَا يَنْفَعُ صَغِيرَةٌ فَمَا تَقُولُونَ فِيمَنْ قَذَفَ مُحْصَنًا قَذْفًا لَا يَسْمَعُهُ أَحَدٌ إلَّا اللَّهَ تَعَالَى وَالْحَفَظَةَ؟ مَعَ أَنَّهُ لَمْ يُوَاجِهْ بِهِ الْمَقْذُوفَ وَلَمْ يَغْتَبْهُ بِهِ عِنْدَ النَّاسِ، هَلْ يَكُونُ قَذْفُهُ كَبِيرَةً مُوجِبَةً لِلْحَدِّ مَعَ خُلُوِّهِ مِنْ مَفْسَدَةِ الْأَذَى؟ قُلْنَا الظَّاهِرُ أَنَّهُ لَيْسَ بِكَبِيرَةٍ مُوجِبَةٍ لِلْحَدِّ لِانْتِفَاءِ الْمَفْسَدَةِ وَلَا يُعَاقَبُ فِي الْآخِرَةِ عِقَابَ الْمُجَاهِرِ فِي وَجْهِ الْمَقْذُوفِ أَوْ فِي مَلَأٍ مِنْ النَّاسِ، بَلْ عِقَابَ الْكَذَّابِينَ غَيْرِ الْمُصِرِّينَ وَقَدْ قَالَ الشَّاعِرُ:

فَإِنَّ الَّذِي يُؤْذِيك مِنْهُ سَمَاعُهُ … وَإِنَّ الَّذِي قَالُوا وَرَاءَك لَمْ يُقَلْ

شَبَّهَهُ بِاَلَّذِي لَمْ يُقَلْ لِانْتِفَاءِ ضَرَرِهِ وَأَذِيَّتِهِ، فَإِنْ قِيلَ إذَا اغْتَابَهُ بِالْقَذْفِ لَمْ يَتَأَذَّ الْمَقْذُوفُ مَعَ غَيْبَتِهِ، فَلِمَ أَوْجَبْتُمْ الْحَدَّ مَعَ انْتِفَاءِ مَفْسَدَةِ التَّأَذِّي؟ قُلْنَا لِأَنَّ ذَلِكَ لَوْ بَلَغَهُ لَكَانَ أَشَدَّ عَلَيْهِ مِنْ الْقَذْفِ فِي الْخَلْوَةِ، وَلِأَنَّهُ إذَا قَذَفَهُ عَلَى مَلَأٍ مِنْ النَّاسِ احْتَقَرُوهُ بِذَلِكَ وَزَهِدُوا فِي مُعَامَلَتِهِ وَمُوَاصَلَتِهِ، وَرُبَّمَا أَشَاعُوا ذَلِكَ إلَى أَنْ يَبْلُغَهُ وَلَيْسَ كَذَلِكَ قَذْفُهُ فِي الْخَلْوَةِ، وَالْإِنْسَانُ يَكْرَهُ بِطَبْعِهِ أَنْ يُهْتَكَ عِرْضُهُ فِي غَيْبَتِهِ وَأَمَّا قَذْفُهُ فِي الْخَلْوَةِ فَلَا فَرْقَ بَيْنَ إجْرَائِهِ عَلَى لِسَانِهِ وَبَيْنَ إجْرَائِهِ عَلَى قَلْبِهِ.

 

‌‌[فَصْلٌ فِي مَنْ ارْتَكَبَ كَبِيرَةً فِي ظَنِّهِ وَلَيْسَتْ فِي الْبَاطِنِ كَبِيرَةً]

فِي مَنْ ارْتَكَبَ كَبِيرَةً فِي ظَنِّهِ يَتَصَوَّرُهَا بِتَصَوُّرِ الْكَبَائِرِ وَلَيْسَتْ فِي الْبَاطِنِ كَبِيرَةً

إنْ قِيلَ لَوْ أَنَّ إنْسَانًا قَتَلَ رَجُلًا يَعْتَقِدُ أَنَّهُ مَعْصُومٌ فَظَهَرَ أَنَّهُ يَسْتَحِقُّ دَمَهُ
মুমিনের [হত্যা] কবিরা গুনাহ, কারণ এর সাথে কঠোর শাস্তির হুমকি, লানত এবং হদ যুক্ত রয়েছে। বিদ্রোহ, ব্যভিচার, চুরি এবং অপবাদ হলো কবিরা গুনাহ, কারণ এগুলোর সাথে হদ সম্পৃক্ত। এই মূলনীতির ভিত্তিতে, যে কোনো গুনাহ যার অপকারিতা এমন গুনাহের অপকারিতার সমান যার সাথে শাস্তির হুমকি, লানত অথবা হদ যুক্ত রয়েছে, কিংবা তার চেয়েও বেশি অপকারী, তবে সেটিও কবিরা গুনাহ।

 

‌‌[একটি বিশেষ আলোচনা: যে ব্যক্তি কোনো মুহসান বা সচ্চরিত্র ব্যক্তিকে এমনভাবে অপবাদ দেয় যা আল্লাহ তাআলা এবং সংরক্ষণকারী ফেরেশতাগণ ব্যতীত অন্য কেউ শুনতে পায় না]

(বিশেষ আলোচনা) যদি বলা হয়: যে মিথ্যায় কোনো ক্ষতি নেই এবং কোনো উপকারও নেই তা সগিরা গুনাহ; তাহলে আপনারা ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলবেন যে কোনো মুহসানকে এমনভাবে অপবাদ দেয় যা আল্লাহ তাআলা এবং সংরক্ষণকারী ফেরেশতাগণ ব্যতীত অন্য কেউ শুনতে পায় না? অথচ সে সরাসরি অপবাদকৃত ব্যক্তির মুখোমুখি হয়ে তা বলেনি এবং মানুষের কাছে তার গিবতও করেনি। কষ্ট দেওয়ার অপকারিতা থেকে মুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তার এই অপবাদ কি হদ কার্যকর হওয়ার মতো কবিরা গুনাহ হবে? আমরা বলি: বাহ্যত এটি হদ কার্যকর হওয়ার মতো কবিরা গুনাহ নয়, কারণ এখানে অপকারিতা বা ক্ষতির অনুপস্থিতি রয়েছে। পরকালেও তাকে ওই ব্যক্তির ন্যায় শাস্তি দেওয়া হবে না যে অপবাদকৃত ব্যক্তির সামনে কিংবা মানুষের মজলিসে প্রকাশ্যে অপবাদ দেয়। বরং তাকে ওইসব মিথ্যাবাদীদের ন্যায় শাস্তি দেওয়া হবে যারা পাপে লিপ্ত থাকতে জেদ করে না। জনৈক কবি বলেছেন:

নিশ্চয়ই যা তোমার কানে আসে তাই তোমাকে কষ্ট দেয় … আর যা তোমার অগোচরে বলা হয় তা যেন বলাই হয়নি

কবি একে 'বলা হয়নি' এমন বিষয়ের সাথে তুলনা করেছেন এর ক্ষতি ও কষ্টের অনুপস্থিতির কারণে। যদি বলা হয়: যদি সে অপবাদের মাধ্যমে গিবত করে, তবে অপবাদকৃত ব্যক্তি তার অনুপস্থিতিতে কষ্ট পায় না; এমতাবস্থায় কষ্ট দেওয়ার অপকারিতা অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও আপনারা কেন হদ আবশ্যক করেছেন? আমরা বলি: কারণ এই সংবাদটি যদি তার কাছে পৌঁছাত, তবে নির্জনে অপবাদ দেওয়ার চেয়েও এটি তার জন্য অধিকতর কষ্টদায়ক হতো। এছাড়া, যখন কেউ মানুষের সামনে তাকে অপবাদ দেয়, তখন মানুষ তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এবং তার সাথে লেনদেন ও যোগাযোগ বিমুখ হয়ে যায়। সম্ভবত তারা বিষয়টি এমনভাবে প্রচার করবে যে শেষ পর্যন্ত তা তার কানে পৌঁছাবে। নির্জনে অপবাদ দেওয়ার বিষয়টি তেমন নয়। আর মানুষ স্বভাবগতভাবেই অপছন্দ করে যে তার অনুপস্থিতিতে তার সম্মানহানি করা হোক। আর নির্জনে অপবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি মুখে উচ্চারণ করা এবং মনে মনে কল্পনা করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

 

‌‌[অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি নিজের ধারণায় কবিরা গুনাহ করল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা কবিরা গুনাহ নয়]

যে ব্যক্তি নিজের ধারণায় কোনো কবিরা গুনাহ করল—অর্থাৎ সেটিকে কবিরা গুনাহ হিসেবেই কল্পনা করেছিল—অথচ তা প্রকৃতপক্ষে কবিরা গুনাহ নয়

যদি বলা হয়, যদি কোনো মানুষ এমন একজনকে হত্যা করে যাকে সে নিরাপদ মনে করত, কিন্তু পরে প্রকাশ পেল যে সে ব্যক্তি প্রাণদণ্ডের যোগ্য ছিল...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
أَوْ وَطِئَ امْرَأَةً يَعْتَقِدُ أَنَّهَا أَجْنَبِيَّةٌ وَأَنَّهُ زَانٍ بِهَا فَإِذَا هِيَ زَوْجَتُهُ، أَوْ أَمَتُهُ أَوْ أَكَلَ مَالًا يَعْتَقِدُ أَنَّهُ لِيَتِيمٍ ثُمَّ تَبَيَّنَ أَنَّهُ مِلْكُهُ، أَوْ شَهِدَ بِالزُّورِ فِي ظَنِّهِ وَكَانَتْ شَهَادَتُهُ مُوَافِقَةً لِلْبَاطِنِ، أَوْ حَكَمَ بِبَاطِلٍ ثُمَّ ظَهَرَ أَنَّهُ حَقٌّ، فَهَلْ يَكُونُ مُرْتَكِبًا لِكَبِيرَةٍ مَعَ كَوْنِهِ لَمْ تَتَحَقَّقْ الْمَفْسَدَةُ؟ قُلْنَا أَمَّا فِي الدُّنْيَا فَيَجْرِي عَلَيْهِ أَحْكَامُ الْفَاسِقِينَ، وَتَسْقُطُ عَدَالَتُهُ لِجُرْأَتِهِ عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَتُرَدُّ شَهَادَتُهُ وَرِوَايَتُهُ، وَتَبْطُلُ بِذَلِكَ كُلُّ وِلَايَةٍ تُشْتَرَطُ فِيهَا الْعَدَالَةُ، لِأَنَّ الْعَدَالَةَ إنَّمَا شُرِطَتْ فِي الشَّهَادَاتِ وَالرِّوَايَاتِ وَالْوِلَايَاتِ، لِتَحْصُلَ الثِّقَةُ بِصِدْقِهِ فِي أَخْبَارِهِ وَشَهَادَتِهِ وَبِأَدَائِهِ الْأَمَانَةَ فِي وِلَايَتِهِ، وَقَدْ انْخَرَمَتْ الثِّقَةُ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ لِجَرَاءَتِهِ عَلَى رَبِّهِ بِارْتِكَابِ مَا يَعْتَقِدُهُ كَبِيرَةً، لِأَنَّ الْوَازِعَ عَنْ الْكَذِبِ فِي أَخْبَارِهِ وَشَهَادَتِهِ، وَعَنْ التَّقْصِيرِ فِي وِلَايَتِهِ إنَّمَا هُوَ خَوْفُهُ مِنْ الْجُرْأَةِ عَلَى رَبِّهِ بِارْتِكَابِ كَبِيرَةٍ، أَوْ بِالْإِصْرَارِ عَلَى صَغِيرَةٍ، فَإِذَا حَصَلَتْ جُرْأَتُهُ عَلَى مَا ذَكَرَتْهُ سَقَطَتْ الثِّقَةُ، بِمَا يَزَعُهُ عَنْ الْكَذِبِ فِي خَبَرِهِ وَشَهَادَتِهِ وَالنُّصْحِ فِي وِلَايَتِهِ.

وَأَمَّا مَفَاسِدُ الْآخِرَةِ وَعَذَابُهَا فَلَا يُعَذَّبُ تَعْذِيبَ زَانٍ وَلَا قَاتِلٍ وَلَا آكِلٍ مَالًا حَرَامًا، لِأَنَّ عَذَابَ الْآخِرَةِ مُرَتَّبٌ عَلَى رُتَبِ الْمَفَاسِدِ فِي الْغَالِبِ كَمَا أَنَّ ثَوَابَهَا مُرَتَّبٌ عَلَى رُتَبِ الْمَصَالِحِ فِي الْغَالِبِ، وَلَا يَتَفَاوَتَانِ بِمُجَرَّدِ الطَّاعَةِ وَلَا بِمُجَرَّدِ الْمَعْصِيَةِ، مَعَ قَطْعِ النَّظَرِ عَنْ رُتَبِ الْمَصَالِحِ وَالْمَفَاسِدِ، وَلَوْ كَانَ كَذَلِكَ لَكَانَ أَجْرُ التَّصَدُّقِ بِتَمْرَةٍ كَأَجْرِ التَّصَدُّقِ بِبَدْرَةٍ، وَلَكَانَتْ غِيبَةُ الْمُؤْمِنِينَ بِنِسْبَتِهِمْ إلَى الْكَبَائِرِ كَغِيبَتِهِمْ بِنِسْبَتِهِمْ إلَى الصَّغَائِرِ، وَلَكَانَ سَبُّ الْأَنْبِيَاءِ كَسَبِّ الْأَوْلِيَاءِ، وَالظَّاهِرُ أَنَّ هَذَا لَا يُعَذَّبُ تَعْذِيبَ مَنْ ارْتَكَبَ صَغِيرَةً لِأَجْلِ جُرْأَتِهِ وَانْتِهَاكِهِ الْحُرْمَةَ بَلْ يُعَذَّبُ عَذَابًا مُتَوَسِّطًا بَيْنَ الْكَبِيرَةِ وَالصَّغِيرَةِ بِجُرْأَتِهِ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى بِمَا يَعْتَقِدُ أَنَّهُ كَبِيرَةٌ، وَالْأَوْلَى أَنْ تُضْبَطَ الْكَبِيرَةُ بِمَا يُشْعِرُ بِتَهَاوُنِ مُرْتَكِبِهَا فِي دِينِهِ إشْعَارَ أَصْغَرِ الْكَبَائِرِ الْمَنْصُوصِ عَلَيْهَا بِذَلِكَ، وَلَمْ أَقِفْ لِأَحَدٍ مِنْ الْعُلَمَاءِ عَلَى ضَابِطٍ لِذَلِكَ.

অথবা যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো মহিলার সাথে সহবাস করে যাকে সে পরনারী মনে করে এবং মনে করে যে সে তার সাথে ব্যভিচার করছে, কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় যে সে তার স্ত্রী অথবা তার দাসী; অথবা সে এমন সম্পদ ভক্ষণ করল যা সে এতিমের সম্পদ মনে করেছিল কিন্তু পরে স্পষ্ট হলো যে তা তারই মালিকানাধীন সম্পদ; অথবা সে তার ধারণামতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিল অথচ প্রকৃতপক্ষে তার সাক্ষ্যটি সত্যের অনুকূলে ছিল; অথবা সে অন্যায় ফয়সালা করল কিন্তু পরে প্রকাশ পেল যে সেটিই ছিল সত্য—এমতাবস্থায় প্রকৃত অনিষ্ট সংঘটিত না হওয়া সত্ত্বেও সে কি কবিরা গুনাহগার বলে গণ্য হবে? আমরা বলি, পার্থিব জগতে তার ওপর ফাসিকদের বিধান জারি হবে এবং বিশ্বজগতের রবের প্রতি দুঃসাহস দেখানোর কারণে তার ন্যায়পরায়ণতা বিলুপ্ত হবে। তার সাক্ষ্য এবং বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং এর মাধ্যমে সেই সকল অভিভাবকত্ব বা কর্তৃত্ব বাতিল হয়ে যাবে যে ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা শর্ত। কেননা সাক্ষ্য প্রদান, বর্ণনা প্রদান এবং বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা এ কারণেই শর্ত করা হয়েছে যেন তার সংবাদ ও সাক্ষ্যের সত্যতা এবং তার অভিভাবকত্বে অর্পিত আমানতদারিতার ওপর আস্থা অর্জিত হয়। অথচ সে যাকে কবিরা গুনাহ মনে করে তাতে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে তার রবের প্রতি দুঃসাহস দেখানোর ফলে এই সকল ক্ষেত্রে তার ওপর থেকে আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। কারণ তার সংবাদ ও সাক্ষ্যে মিথ্যা বলা থেকে এবং তার দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা থেকে তাকে বিরত রাখার মূল কারণ হলো তার রবের প্রতি দুঃসাহস প্রদর্শন করে কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া বা সগিরা গুনাহে অবিচল থাকার ভয়। সুতরাং উল্লিখিত বিষয়ে তার যখন এই দুঃসাহস প্রকাশ পেল, তখন তাকে মিথ্যা বলা থেকে এবং দায়িত্ব পালনে একনিষ্ঠতা থেকে বিরত রাখার সেই প্রভাবকটির ওপর আস্থা বিলুপ্ত হলো।

আর পরকালের ক্ষতি ও আজাবের বিষয়ে কথা হলো, তাকে ব্যভিচারী, হত্যাকারী বা হারাম সম্পদ ভক্ষণকারীর ন্যায় শাস্তি দেওয়া হবে না। কারণ পরকালের শাস্তি সাধারণত ক্ষতির স্তরবিন্যাস অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, যেমনটি পরকালের সওয়াবও সাধারণত কল্যাণের স্তরবিন্যাস অনুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে। কেবল আনুগত্য বা কেবল অবাধ্যতার বিচারে, কল্যাণ ও অকল্যাণের স্তরবিন্যাসের দিকটি উপেক্ষা করে সওয়াব বা শাস্তির পার্থক্য হয় না। যদি তাই হতো, তবে একটি খেজুর দান করার সওয়াব এবং এক থলি স্বর্ণমুদ্রা দান করার সওয়াব সমান হতো। এবং মুমিনদেরকে কবিরা গুনাহের অপবাদ দিয়ে গিবত করা আর সগিরা গুনাহের অপবাদ দিয়ে গিবত করা সমান হয়ে যেত। আর নবীদের গালি দেওয়া ও ওলিদের গালি দেওয়াও সমান হতো। বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, এই ব্যক্তিকে কেবল একটি সগিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির মতো আজাব দেওয়া হবে না, তার এই দুঃসাহস ও মর্যাদা লঙ্ঘনের কারণে; বরং আল্লাহ তাআলার প্রতি এমন দুঃসাহস প্রদর্শনের কারণে—যা সে কবিরা গুনাহ বলে বিশ্বাস করত—তাকে কবিরা ও সগিরা গুনাহের মাঝামাঝি পর্যায়ের আজাব দেওয়া হবে। আর উত্তম হলো কবিরা গুনাহকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা যা অপরাধীর দ্বীনের প্রতি শিথিলতাকে সেভাবেই নির্দেশ করে যেভাবে দলিলে বর্ণিত ক্ষুদ্রতম কবিরা গুনাহগুলো তা নির্দেশ করে। তবে আমি এই বিষয়ে কোনো আলেমের থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড পাইনি।

(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌[فَصْلٌ فِي حُكْمِ الْإِصْرَارِ عَلَى الصَّغَائِرِ]

فِي حُكْمِ الْإِصْرَارِ عَلَى الصَّغَائِرِ

فَإِنْ قِيلَ قَدْ جَعَلْتُمْ الْإِصْرَارَ عَلَى الصَّغِيرَةِ بِمَثَابَةِ ارْتِكَابِ الْكَبِيرَةِ، فَمَا حَدُّ الْإِصْرَارِ أَيَثْبُتُ بِمَرَّتَيْنِ أَمْ بِأَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ؟ قُلْنَا إذَا تَكَرَّرَتْ مِنْهُ الصَّغِيرَةُ تَكَرُّرًا يُشْعِرُ بِقِلَّةِ مُبَالَاتِهِ بِدِينِهِ إشْعَارَ ارْتِكَابِ الْكَبِيرَةِ بِذَلِكَ رُدَّتْ شَهَادَتُهُ وَرِوَايَتُهُ بِذَلِكَ.

وَكَذَلِكَ إذَا اجْتَمَعَتْ صَغَائِرُ مُخْتَلِفَةُ الْأَنْوَاعِ بِحَيْثُ يُشْعِرُ مَجْمُوعُهَا بِمَا يُشْعِرُ أَصْغَرُ الْكَبَائِرِ.

 

‌‌[فَصْلٌ فِي إتْيَانِ الْمَفَاسِدِ ظَنًّا أَنَّهَا مِنْ الْمَصَالِحِ]

فِي إتْيَانِ الْمَفَاسِدِ ظَنًّا أَنَّهَا مِنْ الْمَصَالِحِ

مَنْ أَتَى مَا هُوَ مَصْلَحَةٌ فِي ظَنِّهِ وَهُوَ مَفْسَدَةٌ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ كَمَنْ أَكَلَ مَالًا يَعْتَقِدُهُ لِنَفْسِهِ، أَوْ وَطِئَ جَارِيَتَهُ يَظُنُّ أَنَّهَا فِي مِلْكِهِ، أَوْ لَبِسَ ثَوْبًا يَعْتَقِدُهُ لِنَفْسِهِ، أَوْ سَكَنَ دَارًا يَعْتَقِدُهَا فِي مِلْكِهِ، أَوْ اسْتَخْدَمَ عَبْدًا يَعْتَقِدُهُ لِنَفْسِهِ، ثُمَّ بَانَ أَنَّ وَكِيلَهُ أَخْرَجَ ذَلِكَ عَنْ مِلْكِهِ فَلَا إثْمَ عَلَيْهِ لِظَنِّهِ، وَلَا يَتَّصِفُ فِعْلُهُ بِكَوْنِهِ طَاعَةً وَلَا مَعْصِيَةً وَلَا مُبَاحًا، وَإِنَّمَا هُوَ مَعْفُوٌّ عَنْهُ كَأَفْعَالِ الصِّبْيَانِ وَالْمَجَانِينِ، وَيَلْزَمُ ضَمَانُ مَا فَوَّتَهُ مِنْ ذَلِكَ لِأَنَّهُ جَائِزٌ، وَالْجَوَائِزُ لَا تَتَوَقَّفُ عَلَى الْمَآثِمِ.

وَكَذَلِكَ لَوْ وَطِئَ أَجْنَبِيَّةً يَعْتَقِدُهَا زَوْجَتَهُ أَوْ أَمَتَهُ فَإِنَّهُ لَا يَأْثَمُ وَيَلْزَمُهُ مَهْرُ مِثْلِهَا.

 

‌‌[فَصْلٌ فِيمَنْ فَعَلَ مَا يَظُنُّهُ قُرْبَةً أَوْ وَاجِبًا وَهُوَ مَفْسَدَةٌ]

فِيمَنْ فَعَلَ مَا يَظُنُّهُ قُرْبَةً أَوْ وَاجِبًا وَهُوَ مَفْسَدَةٌ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ مَنْ فَعَلَ فِعْلًا يَظُنُّهُ قُرْبَةً أَوْ مُبَاحًا وَهُوَ مِنْ الْمَفَاسِدِ الْمُحَرَّمَةِ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ؛ كَالْحَاكِمِ إذَا حَكَمَ بِمَا يَظُنُّهُ حَقًّا بِنَاءً عَلَى الْحُجَجِ الشَّرْعِيَّةِ، وَكَالْمُصَلِّي
[সগীরা গুনাহে অবিচল থাকার বিধান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]

সগীরা গুনাহে অবিচল থাকার বিধান সংক্রান্ত

যদি বলা হয়, আপনারা সগীরা গুনাহের ওপর অবিচল থাকাকে কবীরা গুনাহ করার সমতুল্য গণ্য করেছেন, তবে অবিচল থাকার সীমা কী? এটি কি দুইবার করার দ্বারা সাব্যস্ত হয় নাকি তার চেয়ে বেশি? আমরা বলব: যখন কারো পক্ষ থেকে সগীরা গুনাহের পুনরাবৃত্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যা তার দ্বীনের প্রতি উদাসীনতার জানান দেয়—যেভাবে কবীরা গুনাহ লিপ্ত হওয়া উদাসীনতার জানান দেয়—তখন এর কারণে তার সাক্ষ্য ও বর্ণনা (রেওয়ায়েত) প্রত্যাখ্যান করা হবে।

অনুরূপভাবে, যখন বিভিন্ন প্রকারের সগীরা গুনাহ একত্রিত হয়, যার সমষ্টি এমন কিছুর ইঙ্গিত দেয় যা ক্ষুদ্রতম কবীরা গুনাহ দিয়ে থাকে।

 

[কল্যাণ মনে করে অকল্যাণকর কাজ করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]

কল্যাণ মনে করে অকল্যাণকর কাজ করা সংক্রান্ত

যে ব্যক্তি এমন কাজ করল যা তার ধারণায় কল্যাণকর কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা অকল্যাণকর—যেমন কেউ কোনো সম্পদ ভোগ করল যা সে নিজের মনে করেছিল, অথবা তার দাসীর সাথে সহবাস করল যাকে সে নিজের মালিকানাধীন মনে করেছিল, অথবা এমন পোশাক পরিধান করল যা নিজের মনে করেছিল, অথবা এমন ঘরে বসবাস করল যা নিজের মালিকানাধীন মনে করেছিল, অথবা এমন কোনো দাসকে কাজে লাগাল যাকে নিজের মনে করেছিল, অতঃপর প্রকাশ পেল যে তার প্রতিনিধি সেটি তার মালিকানা থেকে বের করে দিয়েছিল—তবে তার ধারণার কারণে তার কোনো গুনাহ হবে না। তার এই কাজকে আনুগত্য, অবাধ্যতা বা বৈধ (মুবাহ) হিসেবে অভিহিত করা যাবে না; বরং এটি ক্ষমাপ্রাপ্ত বিষয় হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি শিশু ও পাগলের কাজের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর এর ফলে সে যা নষ্ট করেছে তার ক্ষতিপূরণ (জামানত) দেওয়া আবশ্যক হবে, কারণ এটি একটি আইনগত দায়বদ্ধতা, আর দায়বদ্ধতা গুনাহ হওয়ার ওপর নির্ভর করে না।

অনুরূপভাবে, যদি কেউ কোনো পরনারীর সাথে এই ধারণায় সহবাস করে যে সে তার স্ত্রী বা দাসী, তবে সে গুনাহগার হবে না এবং তাকে মোহরে মিসিল প্রদান করতে হবে।

 

[যে ব্যক্তি ইবাদত বা ওয়াজিব মনে করে এমন কাজ করল যা প্রকৃতপক্ষে অকল্যাণকর, সে সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]

যে ব্যক্তি ইবাদত বা ওয়াজিব মনে করে এমন কাজ করল যা প্রকৃতপক্ষে অকল্যাণকর। যে ব্যক্তি এমন কাজ করল যা সে ইবাদত বা মুবাহ মনে করে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তা নিষিদ্ধ অকল্যাণকর কাজের অন্তর্ভুক্ত; যেমন বিচারক যখন শরয়ি দলিলের ভিত্তিতে যা সত্য মনে করেন সে অনুযায়ী বিচার করেন, এবং যেমন নামাজি...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
يُصَلِّي عَلَى ظَنِّ أَنَّهُ مُتَطَهِّرٌ، أَوْ كَمَنْ يُصَلِّي عَلَى مُرْتَدٍّ يَعْتَقِدُهُ مُسْلِمًا، وَكَالشَّاهِدِ يَشْهَدُ بِحَقٍّ عَرَفَهُ بِنَاءً عَلَى اسْتِصْحَابِ بَقَائِهِ فَظَهَرَ كَذِبُ الظَّنِّ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ، فَهَذَا خَطَأٌ مَعْفُوٌّ عَنْهُ كَاَلَّذِي قَبْلَهُ، وَلَكِنْ يُثَابُ فَاعِلُهُ عَلَى قَصْدِهِ دُونَ فِعْلِهِ، إلَّا مَنْ صَلَّى مُحْدِثًا فَإِنَّهُ يُثَابُ عَلَى قَصْدِهِ وَعَلَى مَا أَتَى بِهِ فِي صَلَاتِهِ مِمَّا لَا تُشْتَرَطُ الطَّهَارَةُ فِيهِ.

وَلَوْ أُوجِرَ مُضْطَرًّا طَعَامًا قَاصِدًا لِحِفْظِ حَيَاتِهِ وَكَانَ الطَّعَامُ مَسْمُومًا فَقُتِلَ الْمُضْطَرُّ فَإِنَّهُ يُثَابُ عَلَى قَصْدِهِ دُونَ إيجَارِهِ، وَتَجِبُ الدِّيَةُ عَلَى عَاقِلَتِهِ وَالْكَفَّارَةُ فِي مَالِهِ، وَنَظَائِرُ هَذَا كَثِيرَةٌ، وَلَوْ أَكَلَ فِي الْمَخْمَصَةِ طَعَامًا يَجْهَلُ كَوْنَهُ مَسْمُومًا فَقَتَلَهُ فَلَا دِيَةَ عَلَى عَاقِلَتِهِ، وَفِي وُجُوبِ الْكَفَّارَةِ فِي مَالِهِ اخْتِلَافُ جَارٍ فِي كُلِّ مَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ.

 

‌‌[فَصْلٌ فِي بَيَانِ تَقْسِيمِ الْمَصَالِحِ وَالْمَفَاسِدِ]

فِي بَيَانِ تَقْسِيمِ الْمَصَالِحِ وَالْمَفَاسِدِ

الْمَصَالِحُ وَالْمَفَاسِدُ أَقْسَامٌ:

أَحَدُهَا: مَا تَعْرِفُهُ الْأَذْكِيَاءُ وَالْأَغْبِيَاءُ

الثَّانِي مَا يَخْتَصُّ بِمَعْرِفَتِهِ الْأَذْكِيَاءُ، الثَّالِثُ مَا يَخْتَصُّ بِمَعْرِفَتِهِ الْأَوْلِيَاءُ، لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى ضَمِنَ لِمَنْ جَاهَدَ فِي سَبِيلِهِ أَنْ يَهْدِيَهُ إلَى سَبِيلِهِ فَقَالَ: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} [العنكبوت: 69] ، وَلِأَنَّ الْأَوْلِيَاءَ يَهْتَمُّونَ بِمَعْرِفَةِ أَحْكَامِهِ وَشَرْعِهِ فَيَكُونُ بَحْثُهُمْ عَنْهُ أَتَمَّ وَاجْتِهَادُهُمْ فِيهِ أَكْمَلَ، مَعَ أَنَّ مَنْ عَمِلَ بِمَا يَعْلَمُ وَرَّثَهُ اللَّهُ عِلْمَ مَا لَمْ يَعْلَمْ. وَكَيْفَ يَسْتَوِي الْمُتَّقُونَ وَالْفَاسِقُونَ؟ لَا وَاَللَّهِ لَا يَسْتَوُونَ فِي الدَّرَجَاتِ وَلَا فِي الْمَحْيَا وَلَا فِي الْمَمَاتِ. وَالْعُلَمَاءُ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، فَيَنْبَغِي أَنْ يُعْرِضُوا عَنْ الْجَهَلَةِ الْأَغْبِيَاءِ الَّذِينَ يَطْعَنُونَ فِي عُلُومِهِمْ وَيَلْغُونَ فِي أَقْوَالِهِمْ، وَيَفْهَمُونَ غَيْرَ مَقْصُودِهِمْ، كَمَا فَعَلَ الْمُشْرِكُونَ فِي الْقُرْآنِ الْمُبِينِ فَقَالُوا: {لا تَسْمَعُوا لِهَذَا الْقُرْآنِ وَالْغَوْا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ} [فصلت: 26] . فَكَمَا جَعَلَ لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِنْ الْمُجْرِمِينَ، جَعَلَ لِكُلِّ عَالِمٍ مِنْ الْمُقَرَّبِينَ عَدُوًّا مِنْ الْمُجْرِمِينَ. فَمَنْ صَبَرَ مِنْ الْعُلَمَاءِ عَلَى عَدَاوَةِ الْأَغْبِيَاءِ كَمَا صَبَرَ الْأَنْبِيَاءُ، نُصِرَ كَمَا نُصِرُوا وَأُجِرَ كَمَا أُجِرُوا وَظَفِرَ
তিনি পবিত্র আছেন এই ধারণার ভিত্তিতে সালাত আদায় করা, অথবা এমন কোনো মুরতাদের জানাযা পড়া যাকে তিনি মুসলিম বলে বিশ্বাস করেন, অথবা এমন একজন সাক্ষীর মতো যে তার জানা কোনো হকের সপক্ষে সাক্ষ্য দেয় এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে যে বিষয়টি পূর্বের মতোই বহাল আছে, কিন্তু পরবর্তীতে সে সব ক্ষেত্রেই ধারণার ভুল প্রকাশিত হয়; তবে এটি পূর্বের মতোই একটি ক্ষমাযোগ্য ভুল। কিন্তু পালনকারী তার নিয়তের জন্য সওয়াব পাবেন, তার আমলের জন্য নয়। তবে যে ব্যক্তি অপবিত্র অবস্থায় সালাত আদায় করে, সে তার নিয়তের জন্য এবং সালাতে করা সেই সব কাজের জন্য সওয়াব পাবে যেগুলোর জন্য পবিত্রতা শর্ত নয়।

আর যদি কোনো নিরুপায় ব্যক্তিকে তার জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে খাবার খাওয়ানো হয় এবং সেই খাবারটি বিষাক্ত হয় যার ফলে নিরুপায় ব্যক্তিটি মারা যায়, তবে সে তার নিয়তের জন্য সওয়াব পাবে, খাওয়ানোর জন্য নয়। এক্ষেত্রে তার আত্মীয়দের ওপর দিয়ত প্রদান এবং তার নিজের সম্পদের ওপর কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব হবে। এর সদৃশ উদাহরণ অনেক রয়েছে। আর যদি কেউ চরম ক্ষুধার্ত অবস্থায় এমন কোনো খাবার খায় যা বিষাক্ত হওয়া সম্পর্কে সে অবগত ছিল না এবং তা তাকে মেরে ফেলে, তবে তার আত্মীয়দের ওপর কোনো দিয়ত থাকবে না। আর তার সম্পদ থেকে কাফফারা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, যা নিজের জীবন বিনাশকারী প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

 

‌‌[পরিচ্ছেদ: কল্যাণ ও অকল্যাণের বিভাজন বর্ণনায়]

কল্যাণ ও অকল্যাণের বিভাজন বর্ণনায়

কল্যাণ ও অকল্যাণ কয়েক প্রকার:

প্রথমটি: যা বুদ্ধিমান এবং নির্বোধ সকলেই বুঝতে পারে।

দ্বিতীয়টি: যা কেবল বুদ্ধিমানদের জ্ঞানের সাথে নির্দিষ্ট। তৃতীয়টি: যা কেবল আল্লাহর ওলিদের জ্ঞানের সাথে নির্দিষ্ট, কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর পথে জিহাদকারীদের তাঁর পথের দিকে হেদায়াত দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব" [আনকাবুত: ৬৯]। আর যেহেতু ওলিগণ আল্লাহর আহকাম ও শরিয়ত সম্পর্কে জানার বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দেন, তাই এ বিষয়ে তাদের অনুসন্ধান অধিক পূর্ণাঙ্গ এবং তাদের ইজতিহাদ অধিক নিখুঁত হয়। তদুপরি, যে ব্যক্তি যা জানে সে অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তাকে এমন বিষয়ের জ্ঞান দান করেন যা সে জানত না। মুত্তাকি ও ফাসিকরা কীভাবে সমান হতে পারে? না, আল্লাহর শপথ, তারা মর্যাদায় সমান নয় এবং তাদের জীবন ও মৃত্যুও এক নয়। আলেমগণ হলেন নবীদের উত্তরসূরি, তাই তাদের উচিত সেইসব অজ্ঞ ও নির্বোধদের থেকে বিমুখ থাকা যারা তাদের ইলম নিয়ে কটাক্ষ করে, তাদের কথায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং তাদের উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে; যেমনটি মুশরিকরা সুস্পষ্ট কুরআনের ক্ষেত্রে করেছিল এবং বলেছিল: "তোমরা এই কুরআন শুনো না এবং এতে শোরগোল সৃষ্টি করো, যাতে তোমরা জয়ী হতে পারো" [ফুসসিলাত: ২৬]। সুতরাং আল্লাহ যেভাবে প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু সৃষ্টি করেছেন, তেমনিভাবে প্রত্যেক নৈকট্যপ্রাপ্ত আলেমের জন্যও অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং আলেমদের মধ্যে যারা নির্বোধদের শত্রুতার ওপর ধৈর্য ধারণ করবেন যেমনটি নবীরা ধৈর্য ধরেছিলেন, তারা তেমনিভাবে সাহায্যপ্রাপ্ত হবেন যেমনটি নবীরা হয়েছিলেন এবং তারা তেমন সওয়াব ও বিজয় লাভ করবেন।
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
كَمَا ظَفِرُوا وَكَيْفَ يَفْلَحُ مَنْ يُعَادِي حِزْبَ اللَّهِ وَيَسْعَى فِي إطْفَاءِ نُورِ اللَّهِ؟ وَالْحَسَدُ يَحْمِلُ عَلَى أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، فَإِنَّ الْيَهُودَ لَمَّا حَسَدُوا الرَّسُولَ عليه السلام حَمَلَهُمْ حَسَدُهُمْ عَلَى أَنْ قَاتَلُوهُ وَعَانَدُوهُ، مَعَ أَنَّهُمْ جَحَدُوا رِسَالَتَهُ وَكَذَّبُوا مَقَالَتَهُ.

 

‌‌[فَصْلٌ فِي بَيَانِ تَفَاوُتِ رُتَبِ الْمَصَالِحِ وَالْمَفَاسِدِ وَتَسَاوِيهَا]

الْمَصَالِحُ وَالْمَفَاسِدُ فِي رُتَبٍ مُتَفَاوِتَةٍ، وَعَلَى رُتَبِ الْمَصَالِحِ تَتَرَتَّبُ الْفَضَائِلُ فِي الدُّنْيَا، وَالْأُجُورُ فِي الْعُقْبَى، وَعَلَى رُتَبِ الْمَفَاسِدِ تَتَرَتَّبُ الصَّغَائِرُ وَالْكَبَائِرُ وَعُقُوبَاتُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَقَدْ تَسْتَوِي مَصْلَحَةُ الْفِعْلَيْنِ مِنْ كُلِّ وَجْهٍ فَيُوجِبُ الرَّبُّ تَحْصِيلَ إحْدَى الْمَصْلَحَتَيْنِ نَظَرًا لِمَنْ أَوْجَبَهَا لَهُ أَوْ عَلَيْهِ، وَيَجْعَلُ أَجْرَهَا أَتَمَّ مِنْ أَجْرِ الَّتِي لَمْ يُوجِبْهَا. فَإِنَّ دِرْهَمَ النَّفْلِ مُسَاوٍ لِدِرْهَمِ الزَّكَاةِ لَكِنَّهُ أَوْجَبَهُ لِأَنَّهُ لَوْ لَمْ يُوجِبْهُ لَتَقَاعَدَ الْأَغْنِيَاءُ عَنْ بِرِّ الْفُقَرَاءِ فَيَهْلِكُ الْفُقَرَاءُ، وَجَعَلَ الْأَجْرَ عَلَيْهِ أَكْثَرَ مِنْ الْأَجْرِ عَلَى غَيْرِهِ، تَرْغِيبًا فِي الْتِزَامِهِ وَالْقِيَامِ بِهِ، فَإِنَّهُ قَدْ يُؤْجَرُ عَلَى أَحَدِ الْعَمَلَيْنِ الْمُتَمَاثِلَيْنِ مَا لَا يُؤْجَرُ عَلَى نَظِيرِهِ، مَعَ أَنَّهُ لَا تَفَاوُتَ بَيْنَهُمَا إلَّا بِتَحَمُّلِ مَشَقَّةِ الْإِيجَابِ وَوُجُوبِ الْعِقَابِ عَلَى التَّرْكِ وَلِذَلِكَ أَمْثِلَةٌ: أَحَدُهَا: أَنَّ حَجَّ الْفَرْضِ وَعُمْرَتَهُ مُتَسَاوِيَانِ بِحَجِّ النَّفْلِ وَعُمْرَتِهِ مِنْ كُلِّ وَجْهٍ.

الثَّانِي: أَنَّ صَوْمَ رَمَضَانَ مُسَاوٍ لِصَوْمِ شَعْبَانَ مِنْ كُلِّ وَجْهٍ، مَعَ أَنَّ صَوْمَ رَمَضَانَ أَفْضَلُ مِنْ صَوْمِ شَعْبَانَ، بَلْ لَوْ وَقَعَ صَوْمُ رَمَضَانَ فِي أَقْصَرِ الْأَيَّامِ وَصَوْمُ غَيْرِهِ فِي أَطْوَلِهَا لَكَانَ صَوْمُ رَمَضَانَ أَفْضَلَ مَعَ خِفَّتِهِ وَقِصَرِهِ مِنْ صَوْمِ سَائِرِ الْأَيَّامِ مَعَ ثِقَلِهَا وَطُولِهَا.

الْمِثَالُ الثَّالِثُ: أَنَّ الذِّكْرَ الْوَاجِبَ وَالْمَنْدُوبَ مُتَسَاوِيَانِ مِنْ كُلِّ وَجْهٍ فَإِنَّ تَكْبِيرَةَ الْإِحْرَامِ مُمَاثِلَةٌ لِسَائِرِ
যেমন তারা বিজয়ী হয়েছে, আর সে কীভাবে সফল হবে যে আল্লাহর দলের সাথে শত্রুতা করে এবং আল্লাহর নূর নিভিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে? হিংসা এর চেয়েও গুরুতর কাজের দিকে প্ররোচিত করে; কেননা ইয়াহুদিরা যখন রাসূল (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি হিংসা করেছিল, তখন তাদের হিংসা তাদের তাঁকে হত্যা করার যুদ্ধ এবং তাঁর সাথে হঠকারিতা করতে প্ররোচিত করেছিল, যদিও তারা তাঁর রিসালাতকে অস্বীকার করেছিল এবং তাঁর বক্তব্যকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিল।

 

‌‌[উপকার ও অপকারসমূহের স্তরের পার্থক্য এবং তাদের সমতা বর্ণনার পরিচ্ছেদ]

উপকার ও অপকারসমূহ বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত। উপকারের স্তরের ওপর ভিত্তি করে দুনিয়ায় মর্যাদা এবং পরকালে প্রতিদান নির্ধারিত হয়। আর অপকারের স্তরের ওপর ভিত্তি করে ছোট গুনাহ ও বড় গুনাহ এবং দুনিয়া ও আখেরাতের শাস্তি নির্ধারিত হয়। কখনো কখনো দুটি কাজের উপকারিতা সর্বতোভাবে সমান হতে পারে, তখন রব যাদের জন্য বা যাদের ওপর তা ওয়াজিব করেছেন তাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে একটি উপকার অর্জন করাকে ওয়াজিব করে দেন এবং এর প্রতিদানকে সেই কাজের প্রতিদানের চেয়ে পূর্ণাঙ্গ করে দেন যা তিনি ওয়াজিব করেননি। নফল দানকৃত এক দিরহাম যাকাতের এক দিরহামের সমান, কিন্তু তিনি যাকাতকে ওয়াজিব করেছেন; কারণ তিনি যদি তা ওয়াজিব না করতেন তবে ধনীরা দরিদ্রদের প্রতি সদাচরণে অলসতা করত, ফলে দরিদ্ররা ধ্বংস হয়ে যেত। আর এর ওপর তিনি প্রতিদান অন্যটির চেয়ে বেশি রেখেছেন, যাতে এটি পালনে এবং তা সম্পাদনে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। কেননা দুটি সদৃশ কাজের একটির জন্য এমন প্রতিদান দেওয়া হতে পারে যা তার সমতুল্য অন্যটির জন্য দেওয়া হয় না, যদিও তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই কেবল ওয়াজিব হওয়ার কষ্ট বহন করা এবং বর্জনের কারণে শাস্তির আবশ্যকতা ছাড়া। এর কতগুলো উদাহরণ রয়েছে: প্রথমত: ফরয হজ ও উমরা সব দিক থেকে নফল হজ ও উমরার সমান।

দ্বিতীয়ত: রমজানের রোজা সব দিক থেকে শাবান মাসের রোজার সমান, যদিও রমজানের রোজা শাবানের রোজার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এমনকি যদি রমজানের রোজা সবচেয়ে ছোট দিনে হয় আর অন্য কোনো রোজা সবচেয়ে দীর্ঘ দিনে হয়, তবে রমজানের রোজা সহজ ও ছোট হওয়া সত্ত্বেও তা অন্যান্য দিনের রোজা কষ্টসাধ্য ও দীর্ঘ হওয়ার চেয়েও শ্রেষ্ঠ হবে।

তৃতীয় উদাহরণ: ওয়াজিব যিকির ও মুস্তাহাব যিকির সব দিক থেকে সমান; কারণ তাকবিরে তাহরিমা অন্য সকল...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
التَّكْبِيرَاتِ وَهِيَ أَفْضَلُ مِنْهَا بِلَا خِلَافٍ، وَكَذَلِكَ قِرَاءَةُ حَمْدَلَةِ الْفَاتِحَةِ فِي الصَّلَاةِ مُسَاوِيَةٌ لِقِرَاءَتِهَا فِي غَيْرِ الصَّلَاةِ مَعَ أَنَّهَا أَفْضَلُ مِنْهَا إذَا قُرِئَتْ خَارِجَ الصَّلَاةِ وَكَذَلِكَ الْأَذْكَارُ الَّتِي فِي الْقُرْآنِ إذَا قُصِدَ بِهَا الْقِرَاءَةُ شُرِطَتْ فِيهَا الطَّهَارَةُ عَنْ الْجَنَابَةِ، وَلَوْ قُصِدَ بِهَا الذِّكْرُ كَالْبَسْمَلَةِ عَلَى الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ، وَالْحَمْدَلَةِ عِنْدَ الْفَرَاغِ مِنْهَا، وَالتَّسْبِيحَاتِ الْمَذْكُورَةِ فِي الْقُرْآنِ، لَمْ يُشْتَرَطْ فِيهَا الطَّهَارَةُ عَنْ الْجَنَابَةِ، مَعَ تَسَاوِي هَذِهِ الْأَذْكَارِ مِنْ كُلِّ وَجْهٍ.

وَكَذَلِكَ مَا فَرَضَهُ اللَّهُ فِي الزَّكَاةِ قَدْ تُسَاوِي مَصْلَحَتُهُ مَصْلَحَةَ نَظِيرِهِ مِنْ الصَّدَقَاتِ فِي سَدِّ الْخَلَّاتِ وَدَفْعِ الْحَاجَاتِ وَلَهُ أَمْثِلَةٌ: أَحَدُهَا إخْرَاجُ دِرْهَمَيْنِ مُتَسَاوِيَيْنِ أَحَدُهُمَا زَكَاةٌ وَالْآخَرُ صَدَقَةٌ.

الثَّانِي: شَاتَانِ مُتَسَاوِيَتَانِ تَصَدَّقَ بِأَحَدِهِمَا وَزَكَّى بِالْأُخْرَى، الثَّالِثُ إخْرَاجُ الْعُشْرِ فِي الزَّكَاةِ مَعَ عُشْرٍ آخَرَ مِنْ ذَلِكَ الْجِنْسِ، فَالزَّكَاةُ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ أَفْضَلُ مِنْ الصَّدَقَةِ مَعَ الْقَطْعِ بِالِاسْتِوَاءِ فِي دَفْعِ الْحَاجَاتِ وَسَدِّ الْخَلَّاتِ، وَقَدْ يَكُونُ النَّفَلُ مِنْ الصَّدَقَاتِ أَكْمَلَ مَصْلَحَةً مِنْ الْفَرْضِ فِي الزَّكَاةِ وَتَكُونُ الزَّكَاةُ أَفْضَلَ. وَلَهُ أَمْثِلَةٌ. أَحَدُهَا: أَنْ يَتَصَدَّقَ بِشَاةٍ نَفِيسَةٍ أَوْ بِغَيْرِ نَفِيسٍ أَوْ حِنْطَةٍ جَيِّدَةٍ وَيُزْكِي بِشَاةٍ خَسِيسَةٍ أَوْ بَعِيرٍ رَذْلٍ أَوْ بِحِنْطَةٍ رَدِيَّةٍ.

الثَّانِي: أَنْ يُخْرِجَ بِنْتَ مَخَاضٍ فِي الزَّكَاةِ وَيَتَصَدَّقَ بِحِقَّةِ أَوْ جَذَعَةٍ.

الثَّالِثُ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِفِضَّةٍ لَيِّنَةٍ حَسَنَةٍ وَيُزْكِيَ بِفِضَّةٍ خَشِنَةٍ رَدِيَّةٍ مِنْ جِنْسِ النِّصَابِ، فَإِنَّ الْجَيِّدَ مِنْ جِنْسِ هَذِهِ الْأَجْنَاسِ أَكْمَلُ مَصْلَحَةً وَأَتَمُّ فَائِدَةً فِي بَابِ الصَّدَقَاتِ، مَعَ الْقَطْعِ بِأَنَّ أَجْرَهُ دُونَ أَجْرِ مَا ذَكَرْنَاهُ فِي الزَّكَاةِ، وَمَدَارُ ذَلِكَ كُلِّهِ قَوْلُهُ عليه السلام عَنْ رَبِّهِ عز وجل أَنَّهُ قَالَ: «وَلَنْ يَتَقَرَّبَ إلَيَّ عَبْدٌ بِمِثْلِ أَدَاءِ مَا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ» ، وَلَا شَكَّ أَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ مَعْمُولٌ بِهِ إذَا سَاوَى الْفَرْضُ النَّفَلَ كَمَا ذَكَرْنَاهُ فِي دِرْهَمِ الصَّدَقَةِ وَدِرْهَمِ الزَّكَاةِ، وَفِي حَجِّ الْفَرْضِ وَحَجِّ النَّفْلِ وَفِي صَوْمِ الْفَرْضِ وَصَوْمِ النَّفْلِ، فَإِنَّهُمَا مُتَسَاوِيَانِ مِنْ كُلِّ وَجْهٍ، أَمَّا إذَا تَفَاوَتَا بِالْقِلَّةِ وَالْكَثْرَةِ مِثْلَ أَنْ يُزَكِّيَ بِخَمْسَةِ دَرَاهِمَ وَيَتَصَدَّقَ بِعَشْرَةِ آلَافِ دِرْهَمٍ، وَزَكَّى
তাকবীরসমূহ, আর তা কোনো মতভেদ ছাড়াই এগুলোর চেয়ে উত্তম। একইভাবে সালাতের মধ্যে ফাতিহার হামদাল্লাহ (আলহামদুলিল্লাহ) পাঠ করা সালাতের বাইরে তা পাঠ করার সমান, যদিও সালাতের বাইরে পাঠ করার চেয়ে সালাতে পাঠ করার সময় তা অধিক উত্তম। অনুরূপভাবে কুরআনের যিকরসমূহ; যদি তা তিলাওয়াতের নিয়তে পাঠ করা হয় তবে তাতে জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে পবিত্র হওয়া শর্ত। আর যদি সেগুলোর মাধ্যমে যিকরের নিয়ত করা হয়, যেমন খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, খাওয়ার শেষে হামদাল্লাহ বলা এবং কুরআনে বর্ণিত তাসবীহসমূহ পাঠ করা, তবে সে ক্ষেত্রে জানাবাত থেকে পবিত্র হওয়া শর্ত নয়, যদিও সর্বদিক থেকে এই যিকরগুলো সমান।

অনুরূপভাবে আল্লাহ যাকাতের ক্ষেত্রে যা ফরয করেছেন, অভাব মোচন ও প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে তার কল্যাণ সদকার মতো তার সমজাতীয় আমলের কল্যাণের সমান হতে পারে। এর কিছু উদাহরণ রয়েছে: প্রথমটি হলো, সমান মূল্যের দুটি দিরহাম প্রদান করা, যার একটি যাকাত এবং অন্যটি সদকা।

দ্বিতীয়ত: দুটি সমান ছাগল, যার একটি সদকা হিসেবে দেওয়া হলো এবং অন্যটি যাকাত হিসেবে প্রদান করা হলো। তৃতীয়ত: যাকাতের উশর (দশমাংশ) বের করার সাথে একই জাতীয় অন্য একটি উশরও প্রদান করা। এই সব ক্ষেত্রেই অভাব মোচন ও প্রয়োজন পূরণের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে সমান হওয়া সত্ত্বেও যাকাত প্রদান করা সদকা প্রদানের চেয়ে উত্তম। আবার কখনও কখনও নফল সদকার কল্যাণ যাকাতের ফরযের চেয়েও পূর্ণাঙ্গ হতে পারে, তবুও যাকাতই অধিক উত্তম হবে। এরও কিছু উদাহরণ রয়েছে। প্রথমটি হলো: কোনো ব্যক্তি একটি মূল্যবান ছাগল কিংবা উন্নত মানের গম সদকা করল, আর যাকাত হিসেবে একটি নিম্নমানের ছাগল অথবা নিকৃষ্ট উট কিংবা মন্দ মানের গম প্রদান করল।

দ্বিতীয়ত: যাকাতের ক্ষেত্রে একটি বিন্তে মাখায (এক বছর বয়সী উটনী) প্রদান করল এবং সদকার ক্ষেত্রে হিক্কাহ (তিন বছর বয়সী উটনী) বা জাযআহ (চার বছর বয়সী উটনী) প্রদান করল।

তৃতীয়ত: সে উত্তম ও সুন্দর রূপা সদকা করল এবং যাকাত হিসেবে নিসাবভুক্ত নিম্নমানের ও রুক্ষ রূপা প্রদান করল। কেননা সদকার ক্ষেত্রে এসব প্রকারের মধ্যে উন্নত মানের বস্তুটিই অধিক পূর্ণাঙ্গ কল্যাণকর এবং অধিকতর উপকারী। তবুও এটি নিশ্চিত যে, এর সওয়াব যাকাতের ক্ষেত্রে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সওয়াবের চেয়ে কম। এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো রাসুলুল্লাহর বাণী, যা তিনি তাঁর মহান ও পরাক্রমশালী রব্ব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ বলেছেন: “আমার বান্দা আমার নিকট এমন কোনো আমলের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করতে পারে না, যা আমার কাছে তার ওপর ফরযকৃত ইবাদত আদায়ের চেয়ে অধিক প্রিয়।” কোনো সন্দেহ নেই যে, এই হাদীসটি তখন কার্যকর হয় যখন ফরয ও নফল আমল সমান হয়, যেমনটি আমরা সদকার দিরহাম ও যাকাতের দিরহামের ক্ষেত্রে এবং ফরয হজ ও নফল হজের ক্ষেত্রে এবং ফরয রোজা ও নফল রোজার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি; কারণ এই বিষয়গুলো সর্বদিক থেকেই সমান। তবে যদি পরিমাণের দিক থেকে সেগুলোর মধ্যে তারতম্য থাকে, যেমন কেউ পাঁচ দিরহাম যাকাত দিল এবং দশ হাজার দিরহাম সদকা করল, আর যাকাত দিল...
(খণ্ড: ১) কাওয়াইদুল আহকাম ফী মাসালিহিল আনাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
بِشَاةٍ وَتَصَدَّقَ بِعَشْرَةِ آلَافِ شَاةٍ، فَيُحْتَمَلُ فِي مِثْلِ هَذَا أَنْ يَكُونَ الْفَرْضُ أَفْضَلَ مِنْ النَّفْلِ مِنْ غَيْرِ نَظَرٍ إلَى تَفَاوُتِ الْمَصْلَحَتَيْنِ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يُخَصَّ الْحَدِيثُ بِالْعَمَلَيْنِ الْمُتَسَاوِيَيْنِ فِي الْمَصْلَحَةِ كَدِرْهَمِ الزَّكَاةِ مَعَ دِرْهَمِ الصَّدَقَةِ، وَشَاةِ الزَّكَاةِ مَعَ شَاةِ الصَّدَقَةِ، وَلَكِنَّ فِيهِ مُخَالَفَةً لِظَاهِرِ الْحَدِيثِ، وَلَيْسَ بِبَعِيدٍ مِنْ تَفَضُّلِ الرَّبِّ أَنْ يُؤْجَرَ عَلَى أَقَلِّ الْعَمَلَيْنِ الْمُتَجَانِسَيْنِ، أَكْبَرَ مِمَّا يُؤْجَرُ عَلَى أَكْثَرِهِمَا، كَمَا فَضُلَ أَجْرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ مَعَ قِلَّةِ عَمَلِهَا عَلَى أَجْرِ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى مَعَ كَثْرَةِ عَمَلِهِمْ، وَكَمَا فَضُلَ أَجْرُ الْفَرَائِضِ عَلَى مُسَاوِيهَا مِنْ النَّوَافِلِ طُولًا عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ، وَكَمَا أَنَّ قِيَامَ لَيْلَةِ الْقَدْرِ مُوجِبٌ لِغُفْرَانِ الذُّنُوبِ مَعَ مُسَاوَاتِهِ لِقِيَامِ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ لَيَالِيِ رَمَضَانَ.

وَكَذَلِكَ الْعَمَلُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ الْعَمَلِ فِي أَلْفِ شَهْرٍ مَعَ التَّسَاوِي.

وَكَذَلِكَ الصَّلَاةُ فِي الْمَسْجِدَيْنِ أَفْضَلُ مِنْهَا فِي سَائِرِ الْمَسَاجِدِ مَعَ تَسَاوِيهِمَا فِي جَمِيعِ مَا شُرِعَ فِيهَا، وَإِذَا كَانَتْ الْحَسَنَةُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ أَفْضَلَ مِنْ ثَلَاثِينَ أَلْفَ حَسَنَةٍ فِي غَيْرِهَا، مَعَ أَنَّ تَسْبِيحَهَا كَتَسْبِيحِ غَيْرِهَا، وَصَلَاتَهَا كَصَلَاةِ غَيْرِهَا، وَقِرَاءَتَهَا كَقِرَاءَةِ غَيْرِهَا؛ عُلِمَ أَنَّ اللَّهَ يَتَفَضَّلُ عَلَى عِبَادِهِ فِي بَعْضِ الْأَزْمَانِ بِمَا لَا يَتَفَضَّلُ بِهِ فِي غَيْرِهِ مَعَ الْقَطْعِ بِالتَّسَاوِي، وَلَيْسَ ذَلِكَ إلَّا تَفَضُّلًا مِنْ الْإِلَهِ، إذْ لَا فَرْقَ بَيْنَ وَقْتٍ وَوَقْتٍ.

وَكَذَلِكَ تَفَضُّلُهُ سُبْحَانَهُ فِي بَعْضِ الْأَمَاكِنِ بِتَضْعِيفِ الْأُجُورِ؛ كَمَا جَعَلَ الصَّلَاةَ فِي مَسْجِدِ الْمَدِينَةِ أَفْضَلَ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ مِنْ الْمَسَاجِدِ إلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ مَعَ التَّسَاوِي بَيْنَ الصَّلَوَاتِ.

وَمِمَّا يَدُلُّ أَيْضًا عَلَى أَنَّ اللَّهَ قَدْ يُؤْجِرُ عَلَى قَلِيلِ الْأَعْمَالِ مَا لَا يُؤْجِرُ عَلَى كَثِيرِهَا مَا رُوِيَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «مِثْلُكُمْ وَمِثْلُ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ كَرَجُلٍ اسْتَأْجَرَ أُجَرَاءَ فَقَالَ مَنْ يَعْمَلُ لِي مِنْ غُدْوَةَ إلَى نِصْفِ النَّهَارِ عَلَى قِيرَاطٍ، فَعَمِلَتْ الْيَهُودُ، ثُمَّ قَالَ مَنْ يَعْمَلُ لِي مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ إلَى صَلَاةِ الْعَصْرِ عَلَى قِيرَاطٍ فَعَمِلَتْ النَّصَارَى، ثُمَّ قَالَ مَنْ يَعْمَلُ لِي مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ إلَى أَنْ تَغِيبَ الشَّمْسُ عَلَى قِيرَاطَيْنِ، فَهُمْ أَنْتُمْ، فَغَضِبَتْ
একটি বকরি দ্বারা এবং দশ হাজার বকরি সদকা করল। এমতাবস্থায় এ জাতীয় ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে যে, উভয় প্রকার কল্যাণের পার্থক্যের দিকে লক্ষ্য করা ছাড়াই ফরজ আমলটি নফল আমল অপেক্ষা উত্তম হবে। আবার এটাও সম্ভব যে, হাদিসটিকে এমন দুটি আমলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করা হবে যা কল্যাণের দিক থেকে সমান; যেমন জাকাতের এক দিরহামের বিপরীতে সদকার এক দিরহাম, এবং জাকাতের একটি বকরির বিপরীতে সদকার একটি বকরি। তবে এতে হাদিসের বাহ্যিক অর্থের বিরোধিতা রয়েছে। আর রবের অনুগ্রহের দিক থেকে এটি অসম্ভব নয় যে, সমজাতীয় দুটি আমলের মধ্যে অল্প আমলটির ওপর তার চেয়ে বেশি সওয়াব প্রদান করা হবে যা অধিক আমলটির ওপর দেওয়া হয়; যেমন এই উম্মতের সওয়াব তাদের অল্প আমল সত্ত্বেও ইয়াহুদি ও নাসারাদের সওয়াবের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে তাদের অধিক আমল থাকা সত্ত্বেও। আর যেভাবে ফরজের সওয়াব তার সমপর্যায়ের নফলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে, তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাঁর প্রতি তিনি ইচ্ছা করেন তাঁর অনুগ্রহ হিসেবে। এবং যেভাবে লাইলাতুল কদরের ইবাদত গুনাহসমূহ ক্ষমা হওয়ার কারণ হয়, অথচ আমল হিসেবে তা রমজানের অন্য যে কোনো রাতের ইবাদতের সমপর্যায়ের।

অনুরূপভাবে লাইলাতুল কদরের আমল এক হাজার মাসের আমল অপেক্ষা উত্তম, যদিও উভয় আমল (প্রকৃতিগতভাবে) সমান।

একইভাবে দুই মসজিদে নামাজ আদায় করা অন্যান্য সমস্ত মসজিদে নামাজ আদায়ের চেয়ে উত্তম, যদিও সেগুলোতে যা যা শরিয়তসম্মত করা হয়েছে তার সবকিছুতেই তারা সমান। আর যখন লাইলাতুল কদরের একটি নেকি অন্য সময়ের ত্রিশ হাজার নেকি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হয়—অথচ সেই রাতের তাসবিহ অন্য সময়ের তাসবিহর মতোই, সেই রাতের নামাজ অন্য সময়ের নামাজের মতোই এবং সেই রাতের তিলাওয়াত অন্য সময়ের তিলাওয়াতের মতোই—তখন জানা গেল যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর কোনো কোনো সময়ে এমন অনুগ্রহ দান করেন যা অন্য সময়ে করেন না, যদিও আমলগতভাবে তা সমান হওয়া নিশ্চিত। আর এটি ইলাহ বা মাবুদের পক্ষ থেকে কেবলই অনুগ্রহ, কেননা সময়ের সাথে সময়ের মাঝে (স্বভাবগতভাবে) কোনো পার্থক্য নেই।

অনুরূপভাবে কোনো কোনো স্থানে সওয়াব কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ; যেমন তিনি মদিনার মসজিদে নামাজ আদায় করাকে মসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য সকল মসজিদের তুলনায় এক হাজার নামাজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ করেছেন, অথচ নামাজের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।

আল্লাহ যে অল্প আমলের বিনিময়ে এমন সওয়াব দান করেন যা অধিক আমলের বিনিময়ে করেন না—তার আরেকটি প্রমাণ হলো যা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের এবং আহলে কিতাব তথা দুই কিতাবধারীদের উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যে কিছু শ্রমিক নিয়োগ করল এবং বলল, 'কে আছ যে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এক কিরাত বিনিময়ে আমার কাজ করবে?' তখন ইয়াহুদিরা কাজ করল। এরপর সে বলল, 'কে আছ যে দুপুর থেকে আসরের নামাজ পর্যন্ত এক কিরাত বিনিময়ে কাজ করবে?' তখন নাসারারা কাজ করল। তারপর সে বলল, 'কে আছ যে আসরের নামাজ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুই কিরাত বিনিময়ে কাজ করবে?' তারাই হলে তোমরা। এতে তারা রাগান্বিত হলো...