(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: -)
الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفسير القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفسير
المؤلف: محمد بن محمد بن سويلم أبو شُهبة (ت 1403هـ)
الناشر: مكتبة السنة
الطبعة: الرابعة
عدد الصفحات: 348
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাফসীর গ্রন্থসমূহে ইসরাঈলিয়্যাত ও জাল বর্ণনা বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর
বই: তাফসীর গ্রন্থসমূহে ইসরাঈলিয়্যাত ও জাল বর্ণনা
লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুয়াইলাম আবু শাহবাহ (মৃ. ১৪০৩ হি.)
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সুন্নাহ
সংস্করণ: চতুর্থ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৮
[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمات:
شعار الكتاب وشيء من مزايا هذه الطبعة الخامسة:{وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقا} . "قرآن كريم"
عن ابن عباس قال: "كيف تسألون أهل الكتاب عن شيء وكتابكم الذي أنزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم أحدث، تقرؤنه محضا لم يشب؟ 1 [وقد حدثكم أن أهل الكتاب بدلوا كتاب الله وغيروه، وكتبوا بأيديهم الكتاب. وقالوا هو من عند الله ليشتروا به ثمنا قليلا، ألا ينهاكم ما جاءكم من العلم عن مسألتهم؟، لا والله ما رأينا منهم رجلا يسألكم عن الذي أنزل عليكم"] 1.
--------------------------------------------
ভূমিকা:গ্রন্থের মূলমন্ত্র এবং এই পঞ্চম সংস্করণের কিছু বৈশিষ্ট্য:“আর বলুন: সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়।” “আল-কুরআন”
ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “তোমরা আহলে কিতাবদের (কিতাবধারী) কোনো বিষয়ে কেন জিজ্ঞাসা করো, অথচ তোমাদের কিতাব যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে তা সর্বাধুনিক, তোমরা তা একদম খাঁটি ও নির্ভেজাল অবস্থায় পাঠ করো? ১ [আর তিনি (আল্লাহ) তোমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আহলে কিতাবরা আল্লাহর কিতাবকে পরিবর্তন ও বিকৃত করেছে এবং তারা নিজ হাতে কিতাব লিখেছে। অতঃপর তারা বলেছে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’, যাতে তারা এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করতে পারে। তোমাদের নিকট যে জ্ঞান এসেছে, তা কি তোমাদেরকে তাদের নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করা থেকে বিরত রাখে না? আল্লাহর শপথ! আমরা তাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি যে তোমাদের নিকট সেই কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যা তোমাদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।] ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৪)
مقدمة الكتاب لفضيلة الدكتور محمد محمد أبو شهبة…بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الكتاب لفضيلة الدكتور محمد محمد أبو شبهة
الحمد لله الذي أنزل على عبده محمد الكتاب، ولم يجعل له عوجا، قيِّما، لا تزيع به الأهواء، ولا تلتبس به الألسنة، ولا يتطرق إليه تحريف ولا تبديل، ولا يميل به عن الجادة الباطل: {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ، لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} 1.
والصلاة والسلام على سيدنا ونبينا. محمد، المؤيد بالقرآن معجزة عظمى، وآية باقية على وجه الدهر، ووكل إليه بينه وتفسيره فقال سبحانه: {وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم ولعلهم يتفكرون} 2.
وعلى آله وأصحابه، والمهتدين بهديه، ما بقي مسلم على وجه الأرض.
أما بعد:
فقد رغب إلي فضيلة الأستاذ الدكتور الشيخ: عبد الحليم محمود، الأمين العام لمجمع البحوث الإسلامية بالجامع الأزهر المعمور بالعلم والعلماء، أن أولف كتابا أبين فيه الإسرائيليات المبثوثة في كتب التفاسير، مع تزييفها وبيان بطلانها، وقد صادف هذا البحث المفيد هوىً في نفسي؛
1- لأني أعلم شدة حاجة المسلمين إلى مثل هذا المؤلف الذي يذب عن كتاب الله تعالى ما علق بتفسيره من الأباطيل والخرافات والأكاذيب التي كادت تطغى على التفسير الصحيح لكتاب الله تعالى وتخفى الكثير من جلاله، وجماله، وهدايته التي هي أقوم الهدايات: {إن هذا القرآن يهدي للتي هي أقوم} 3، وعقائده التي هي أسمى العقائد وأحقها بالقبول، وأليقها بالفطر البشرية، وأقربها إلى العقول، وأمسها
--------------------------------------------
ফযীলাতুশ শাইখ ডক্টর মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ আবু শাহবার গ্রন্থ-ভূমিকা...পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
ফযীলাতুশ শাইখ ডক্টর মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ আবু শাহবার গ্রন্থ-ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দা মুহাম্মাদের ওপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং এর মধ্যে কোনো বক্রতা রাখেননি; একে করেছেন সুপ্রতিষ্ঠিত, যেন প্রবৃত্তি একে লক্ষ্যচ্যুত করতে না পারে, কোনো ভাষা একে অস্পষ্ট করতে না পারে, এতে কোনো বিকৃতি বা পরিবর্তন প্রবেশ করতে না পারে এবং কোনো বাতিল একে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে: {নিশ্চয় এটি এক মহিমান্বিত কিতাব। এতে মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না—না এর সম্মুখ থেকে, আর না এর পেছন থেকে; এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} ১।
এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদের ওপর, যিনি এক মহান মুজিজা ও মহাকালের বুকে এক চিরস্থায়ী নিদর্শন হিসেবে কুরআনের মাধ্যমে সমর্থিত। আর এর বর্ণনা ও ব্যাখ্যা প্রদানের দায়িত্ব তাঁর ওপরই অর্পণ করা হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।} ২।
এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত পথে চলেন—তাদের সকলের ওপর, যতক্ষণ পৃথিবীতে কোনো মুসলিম অবশিষ্ট থাকবে।
অতঃপর:
জ্ঞান ও উলামায়ে কেরামের পদচারণায় মুখরিত জামে আল-আযহারের 'ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি'র মহাসচিব ফযীলাতুশ শাইখ প্রফেসর ডক্টর আব্দুল হালীম মাহমুদ আমার নিকট আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন, যেন আমি এমন একটি কিতাব রচনা করি যেখানে তাফসির গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে থাকা ইসরাঈলি রেওয়ায়েতসমূহ বর্ণনা করব এবং সাথে সাথে সেগুলোর অসারতা ও ভিত্তিহীনতা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলব। এই উপকারী গবেষণাটি আমার হৃদয়ের একান্ত বাসনার সাথে মিলে গিয়েছে;
১- কারণ আমি জানি যে, মুসলিমদের জন্য এ ধরণের একটি রচনার কত তীব্র প্রয়োজন রয়েছে, যা আল্লাহর কিতাবের তাফসিরে ঢুকে পড়া বাতিল, রূপকথা ও মিথ্যাচারকে প্রতিহত করবে—যা আল্লাহর কিতাবের সঠিক তাফসিরের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে উদ্যত হয়েছিল এবং এর মাহাত্ম্য, সৌন্দর্য ও হেদায়েতের অনেক কিছুকেই আড়াল করে দিচ্ছিল, যা হলো সর্বোত্তম হেদায়েত: {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ দেখায় যা সর্বাপেক্ষা সরল ও সঠিক} ৩। আর এর আকিদাহ বা বিশ্বাসসমূহ, যা হলো সর্বোচ্চ আকিদাহ এবং গ্রহণের জন্য সবচেয়ে যোগ্য, মানব স্বভাবের সাথে সর্বাধিক মানানসই, বিবেকের সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং সবচেয়ে বেশি সম্পর্কযুক্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৫)
بالقلوب، وتظهر الإسلام أمام الباحثين، ولا سيما في العصر الأخير: عصر تقدم العلوم الكونية، والمعارف البشرية، بمظهر الدين الذي يشتمل على الخرافات والترهات؛ لأن كتابه الأكبر هو: القرآن الكريم، وهذه هي: تفاسيره، فيها كثير مما يخالف حقائق العلم، وسنن الله الكونية!! ومؤلفوها هم من علماء الإسلام، بل ومن كبارهم، فهي صورة للإسلام، ولتفكير المسلمين، وذلك مثل: ما روي في بدء الخليقة، وأسرار الوجود، وتعليل بعض الظواهر الكونية، مثل: الرعد، والبرق، والخسوف، والكسوف، وبرودة مياه الآبار في الصيف، وحرارتها في الشتاء، ومثل: ما روي في تفسير: {ق} وأنه الجبل المحيط بالأرض وتفسير قوله تعالى: {ن} وأنه الحوت الذي على ظهره الأرض، وما روي في قصص الأنبياء والمرسلين من إسرائيليات باطلة لا تليق بمقام الأنبياء، وعصمتم إلى نحو ذلك، وما أكثره في كتب التفاسير.
وطالما رغب إلي الكثيرون في تأليف كتاب يحق الحق، ويبطل الباطل، ويزيح عن تفسير كتاب الله تعالى هذا الركام من الموضوعات والإسرائيليات والأباطيل، ولأني عنيت من عهد طلب العلم بتتبع الدخيل في كتب التفسير ونحوها، والرد عليها، فقد كانت ولا زالت مثار شبه، وتشكيك، واعتراضات، وتجنيات على الإسلام، والقرآن، والنبي صلوات الله وسلامه عليه.
وقد حمل كبر هذا الإثم [القساوسة] والمستشرقون، فقد وجدوا في هذه الإسرائيليات والمختلقات ما يشبع هواهم، ويرضي تعصبهم الممقوت، ويشفي نفوسهم المريضة الحاقدة على الإسلام ونبيه، والقرآن؛ هذا الحقد والضغن الذي يعتبر امتدادا للحروب الصليبية التي شنوها على الإسلام والمسلمين، والتي لا تزال إلى عصرنا هذا تتخذ أشكالا شتَّى، ومظاهر متعددة.
والعجب من هؤلاء المبشرين، والمستشرقين: أنهم في سبيل إرضاء صليبيتهم الموروثة، والتي رضعوها في لبان أمهاتهم، يصححون الموضوع والمختلق المنحول، على حين نراهم يحكمون بوضع كثير من الأحاديث الصحيحة، حتى ولو كانت في الصحيحين اللذين هما أصح الكتب البشرية على الإطلاق وذلك مثل: ما روي زورا وكذبا في قصة زواج النبي صلى الله عليه وسلم بالسيدة زينب بنت جحش، وما روي في: قصة الغرانيق، مما هو
অন্তরে, এবং এটি গবেষকদের সামনে ইসলামকে উপস্থাপন করে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক যুগে: মহাজাগতিক বিজ্ঞান ও মানবীয় জ্ঞানের অগ্রগতির যুগে, এমন এক দ্বীন হিসেবে যা রূপকথা ও অসার কথায় পরিপূর্ণ; কারণ এর মহান কিতাব হলো: আল-কুরআনুল কারীম, আর এগুলি হলো: তার তাফসীরসমূহ, যাতে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা বিজ্ঞানের সত্য এবং আল্লাহর মহাজাগতিক নিয়মের পরিপন্থী!! এবং এর লেখকরা হলেন ইসলামের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, বরং তাদের বড়দের মধ্যে গণ্য, ফলে এটি ইসলামের এবং মুসলিমদের চিন্তাধারার একটি চিত্র হয়ে দাঁড়ায়। যেমন: সৃষ্টির সূচনা, অস্তিত্বের রহস্য এবং কিছু মহাজাগতিক বিষয়ের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে, যেমন: মেঘের গর্জন, বিদ্যুৎ, চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ, গ্রীষ্মকালে কূপের পানি ঠান্ডা হওয়া এবং শীতকালে গরম হওয়া। আরও যেমন: 'ক্বাফ' এর তাফসীরে যা বর্ণিত হয়েছে যে এটি পৃথিবীকে বেষ্টনকারী পাহাড়, এবং মহান আল্লাহর বাণী: 'নুন' এর তাফসীর যে এটি একটি মাছ যার পিঠের ওপর পৃথিবী অবস্থিত। এবং নবী ও রাসূলদের কাহিনীতে যা বাতিল ইসরাইলি বর্ণনা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যা নবীগণের মর্যাদা ও তাদের নিষ্পাপত্বের (মাসুমিয়াত) সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, এবং এই জাতীয় আরও অনেক বিষয় তাফসীরের কিতাবগুলোতে কতই না বেশি।
দীর্ঘকাল ধরে অনেকেই আমার কাছে এমন একটি গ্রন্থ রচনার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন যা সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে, মিথ্যাকে বাতিল করবে এবং মহান আল্লাহর কিতাবের তাফসীর থেকে এই বানোয়াট কাহিনী, ইসরাইলি বর্ণনা ও অসার বিষয়ের স্তূপকে সরিয়ে দেবে। যেহেতু আমি ছাত্রজীবন থেকেই তাফসীর ও এই জাতীয় কিতাবগুলোতে অনুপ্রবেশকৃত বিষয়সমূহ অনুসন্ধান এবং সেগুলোর খণ্ডন করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আসছি; কারণ এগুলো ইসলাম, কুরআন এবং নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর বিরুদ্ধে সংশয়, সন্দেহ, আপত্তি ও অপবাদের উৎস ছিল এবং আজও আছে।
এই পাপের বড় বোঝাটি পাদ্রী ও প্রাচ্যবিদরা বহন করেছে। তারা এই ইসরাইলি বর্ণনা এবং মনগড়া কাহিনীগুলোর মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পেয়েছে যা তাদের প্রবৃত্তিকে তৃপ্ত করে, তাদের ঘৃণ্য গোঁড়ামিকে তুষ্ট করে এবং ইসলাম, এর নবী ও কুরআনের প্রতি তাদের বিদ্বেষপরায়ণ অসুস্থ আত্মাকে প্রশান্তি দেয়। এই বিদ্বেষ ও শত্রুতা ক্রুসেড যুদ্ধেরই একটি সম্প্রসারণ যা তারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করেছিল, যা আমাদের এই যুগ পর্যন্ত বিভিন্ন রূপ ও বহুবিধ আঙ্গিকে অব্যাহত রয়েছে।
এই মিশনারি এবং প্রাচ্যবিদদের ব্যাপারে আশ্চর্যের বিষয় হলো: তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ক্রুসেডীয় মানসিকতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য, যা তারা তাদের শৈশব থেকেই লালন করেছে, তারা বানোয়াট, মনগড়া ও মিথ্যারোপিত বর্ণনাগুলোকে সঠিক বলে প্রচার করে। অথচ আমরা দেখি যে তারা অনেক সহীহ হাদীসকে বানোয়াট বলে রায় দেয়, এমনকি সেগুলো যদি বুখারী ও মুসলিমের (সহীহাইন) মতো মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাবদ্বয়েও থাকে। যেমন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সায়্যিদাহ জয়নাব বিনতে জাহাশ-এর বিয়ের কাহিনীতে যা মিথ্যা ও অপবাদ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, এবং গারানীকের কাহিনীতে যা বর্ণিত হয়েছে, যা মূলত...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৬)
من صنع زنادقة اليهود والفرس، وأضرابهم، ونحو ذلك مما طبل له المستشرقون والمبشرون، وزمروا، وزادوا فيه، وأعادوا.
ومما يؤسف له غاية الأسف أن بعض المتعلمنين والمثقفين الذين تثقفوا بثقافة غير إسلامية، ولا سيما من صنعتهم أوروبا على عينيها، وربتهم على يديها، ويتسمون بأسماء المسلمين، قد تابعوا سادتهم المستشرقين فيما زعموا وصاروا أبواقا لهم، يرددون ما يقوله هؤلاء؛ لأنهم ينظرون إليهم على أنهم قمم في العلم والمعرفة، والشأن في المغلوب كما قال واضع أساس علم الاجتماع: العلامة ابن خلدون أن يقلد الغالب وتنماع شخصيته في شخصيته، وبذلك ساعدوا على نفث هذه السموم بين المتعلمين من شباب المسلمين!!
ولقد كان ضرر هؤلاء أشد من ضرر سادتهم المبشرين والمستشرقين؛ لأن القارئ المسلم حَذِر ولو بعض الحذر مما يقول هؤلاء أو لا يركن إليهم الركون كله، أما الكاتب المسلم: فالأمنة من جانبه أكثر، والاغترار بما يقوله أكبر.
وقد كانت المدة المحددة لهذا المؤلف ثلاثة أشهر، ولكني اشترطت ستة أشهر، وقبل الأمين العام للمجمع، ولكن ماذا تكفي ستة أشهر؟! وأنا أتولى عمادة كلية أصول الدين بجامعة الأزهر فرع أسيوط وإن شئت الحقيقة، فأنا أقوم بتأسيس فرع للجامعة بعاصمة الصعيد أسيوط.
وأقوم ببعض المحاضرات في الكلية وخارجها، وفي بعض الشهور كرمضان، والمحرم، وربيع الأول، قد تستوعب المحاضرات العامة الشهر كله، وهو جهد ينوء به الشاب، فضلا عن الشيخ المثقل بشتى المسئوليات والأعباء!! فلا عجب إذا كانت الأشهر الستة قد تضاعفت. ولما تولى فضيلة الأستاذ الدكتور الشيخ: محمد عبد الرحمن بيصار أمانة المجمع، بعد أن تولى سلفه الجليل وكالة الأزهر، كرر الرغبة في إنجاز هذا الكتاب النافع المفيد، لذلك لم يكن لي بد من أن أضاعف الجهد، وأتابع السهر، وأواصل البحث حتى أفرغ من هذا المؤلف الذي أعتقد أنه من أوجب الواجبات على علماء المسلمين، حتى أفي بما وعدت.
وهذا الموضوع1 ليس بالأمر الهين الذي يقوم به فرد واحد ولكنه يحتاج إلى جهود.
--------------------------------------------
জিন্দিক ইহুদি, পারসিক এবং তাদের সমমনাদের কারসাজি, যার সপক্ষে প্রাচ্যবিদ ও ধর্মপ্রচারকরা ঢাকঢোল পিটিয়েছেন, শোরগোল করেছেন এবং বারবার তার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, কিছু সেক্যুলার ও বুদ্ধিজীবী যারা অনৈসলামিক সংস্কৃতিতে শিক্ষিত হয়েছেন, বিশেষ করে যাদের ইউরোপ নিজের চোখের সামনে তৈরি করেছে এবং নিজের হাতে লালন-পালন করেছে, এবং যারা মুসলিম নামে পরিচিত, তারা তাদের প্রভু প্রাচ্যবিদদের বিভ্রান্তিকর দাবির অনুসরণ করেছেন এবং তাদের ভেঁপুতে পরিণত হয়েছেন। তারা প্রাচ্যবিদদের কথারই পুনরাবৃত্তি করেন; কারণ তারা তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার শিখর মনে করেন। সমাজবিজ্ঞানের জনক আল্লামা ইবনে খালদুন যেমনটি বলেছেন, বিজিত সর্বদা বিজয়ীর অনুকরণ করে এবং তার ব্যক্তিত্ব বিজয়ীর ব্যক্তিত্বের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। এর মাধ্যমে তারা মুসলিম শিক্ষিত যুবকদের মাঝে এই বিষ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছেন!!
এদের ক্ষতি তাদের প্রভু ধর্মপ্রচারক ও প্রাচ্যবিদদের ক্ষতির চেয়েও ভয়াবহ; কারণ একজন মুসলিম পাঠক প্রাচ্যবিদদের বক্তব্যের ব্যাপারে অন্তত কিছুটা সতর্ক থাকেন অথবা তাদের ওপর পুরোপুরি ভরসা করেন না। কিন্তু যখন একজন মুসলিম লেখক লিখেন, তখন তার প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি থাকে এবং তার কথায় বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও অধিক হয়।
এই গ্রন্থটি রচনার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল তিন মাস, কিন্তু আমি ছয় মাসের শর্ত দিয়েছিলাম এবং একাডেমির মহাসচিব তা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ছয় মাস কি যথেষ্ট?! অথচ আমি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আসিউত শাখার উসুলুদ্দীন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সত্যি বলতে, আমি আপার ইজিপ্টের রাজধানী আসিউতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শাখা প্রতিষ্ঠার কাজ করছি।
এছাড়া আমি অনুষদের ভেতরে ও বাইরে কিছু বক্তৃতা প্রদান করি। রমজান, মহররম ও রবিউল আউয়ালের মতো মাসগুলোতে সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠানগুলো পুরো মাস জুড়ে থাকে। এটি এমন এক পরিশ্রম যা একজন যুবকের পক্ষেও বহন করা কঠিন, সেখানে বহুমুখী দায়িত্ব ও ভারাক্রান্ত একজন বৃদ্ধের কথা তো বলাই বাহুল্য!! তাই ছয় মাস সময় যদি দ্বিগুণ হয়ে যায় তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। যখন ফজিলাতুশ শাইখ প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ আবদুর রহমান বাইসার একাডেমির মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন—তার সম্মানিত পূর্বসূরি আল-আযহারের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর—তিনি এই কল্যাণকর ও দরকারী বইটি সম্পন্ন করার আগ্রহ বারবার প্রকাশ করেন। তাই আমার জন্য প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করা, রাত জাগা এবং গবেষণা অব্যাহত রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না, যতক্ষণ না আমি এই গ্রন্থটি সমাপ্ত করি। আমি বিশ্বাস করি এটি মুসলিম উলামাদের ওপর আবশ্যকীয় কর্তব্যসমূহের অন্যতম, যাতে আমি আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারি।
আর এই বিষয়টি১ কোনো সহজ কাজ নয় যা একজন ব্যক্তি একাকী সম্পন্ন করতে পারেন, বরং এর জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৭)
متعاونة متضافرة من جماعة متخصصين في الأصلين الشريفين: القرآن والسنة، وعلومهما وغيرهما من العلوم الإسلامية، ولهم إلمام وعلم بالتقدم العلمى في الطب، والفلك وعلم سنن الله الكونية، وعلم الاجتماع البشرى، وعلم النفس وعلم الأجناس ونحوها، حتى يؤيدوا بطلان الإسرائيليات، وتهافتها بما جد من نظريات علمية مستقرة، وبذلك يتم لهم نقدها نقدا خارجيا: نقد السند، ونقدا داخليا: نقد المتن، من جهة النقل والعقل والعلم، ويكونون قد أضافوا إلى ما ذكره الأقدمون في نقدها جديدا من النقد، وجديدا من العلم.
ولكن لو أننا انتظرنا حتى تكون هذه الجماعة، وتبدأ في العمل لمضت السنون، ولم ننجز عملا، بل قد لا تتفق الجماعة على رأي في كثير من الإسرائيليات، والموضوعات؛ إذ التكوين الثقافي ليس واحدًا، والأنظار ليست واحدة، وهذه طبيعة البشر. والنقاد في كل عصر، منهم المتشدد، ومنهم المتساهل، ومنهم المتوسط المعتدل، لذلك رأيت ألا أحجم عن الكتابة في هذا الموضوع الضخم الخطير الجليل، وأن أؤدي عن علماء المسلمين فرضا مفروضا في هذا المضمار واستعنت بالله تعالى، وسألته التوفيق، والسداد، والرشاد.
وهأنذا أفي بما وعدت، وأقدم ما أنجزت، فإن كان ما وصلت إليه صوابا فمن الله تبارك وتعالى، وإن كان خطأً فمن نفسي ومن الشيطان، وبحسبي أن اجتهدت، وبذلت غاية الوسع في الاجتهاد فلن أخلو من الأجر، وصدق المبلغ عن رب العالمين صلى الله عليه وسلم حيث يقول: "إذا حكم الحاكم فاجتهد ثم أصاب فله أجران، وإذا حكم فاجتهد ثم أخطأ فله أجر" رواه البخاري ومسلم.
وقد كان اقتراح عنوان الكتاب أن يكون: الإسرائيليات في كتب التفسير"، ولكني رأيت أن أضم إلى الإسرائيليات الموضوعات أيضا في كتب التفسير؛ فإن فيها موضوعات ذات خطر على الإسلام والنبي، وذلك مثل: ما وضعه الزنادقة وأعداء الإسلام من يهود، ومجوس، ونصارى، وغيرهم، من قصص وروايات تقدح في عصمة النبي، وتظهر الإسلام بمظهر الدين الساذج الذي يشتمل على الخرافات.
ومنها: ما كان من أثر الخلافات السياسية، والدينية، والمذهبية ومنها ما وضعه قوم زعموا وبئس ما زعموا أنهم يخدمون الإسلام، ويرغبون فيه وذلك مثل: الأحاديث التي وضعت في فضائل القرآن وفي فضائل السور، وفي فضائل الأشخاص
কুরআন ও সুন্নাহ নামক দুই মহান মূলনীতি এবং তাদের সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ ও অন্যান্য ইসলামি বিদ্যায় পারদর্শী একদল বিশেষজ্ঞের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়; যাঁদের চিকিৎসা বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং আল্লাহর মহাজাগতিক বিধানের জ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান ও এই জাতীয় আধুনিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ব্যাপারে সম্যক ধারণা ও জ্ঞান রয়েছে। যাতে তাঁরা ইসরাঈলি বর্ণনাগুলোর অসারতা এবং সুপ্রতিষ্ঠিত নতুন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের আলোকে সেগুলোর অসংগতি প্রমাণ করতে পারেন। এর মাধ্যমে বাহ্যিক সমালোচনা অর্থাৎ সনদের সমালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ সমালোচনা অর্থাৎ মতনের সমালোচনা সম্পন্ন হবে—যা বর্ণনা, যুক্তি ও বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে করা হবে। এভাবে তাঁরা পূর্বসূরিদের করা সমালোচনার সাথে নতুন সমালোচনা এবং নতুন জ্ঞানের সংযোজন করবেন।
কিন্তু আমরা যদি এই দলের গঠন এবং তাদের কাজ শুরু করার অপেক্ষায় থাকি, তবে বহু বছর অতিবাহিত হয়ে যাবে অথচ আমরা কোনো কাজই সম্পন্ন করতে পারব না। বরং অনেক ইসরাঈলি বর্ণনা এবং জাল বর্ণনার ব্যাপারে হয়তো এই দল কোনো একমতে পৌঁছাতে পারবে না; কারণ সাংস্কৃতিক গঠন এক নয় এবং দৃষ্টিভঙ্গিও এক নয়, আর এটিই মানুষের স্বভাব। প্রতিটি যুগের সমালোচকদের মধ্যে কেউ কঠোর, কেউ শিথিল, আবার কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী হয়ে থাকেন। তাই আমি এই বিশাল, বিপজ্জনক ও মহান বিষয়ে লিখতে কুণ্ঠাবোধ করিনি এবং এই ময়দানে মুসলিম আলেমদের পক্ষ থেকে একটি অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব পালনের সংকল্প করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং তাঁর কাছে তাওফিক, সঠিকতা ও সঠিক পথের দিকনির্দেশনা চেয়েছি।
এই তো আমি আমার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছি এবং আমার সম্পাদিত কাজ পেশ করছি। আমি যা পৌঁছেছি তা যদি সঠিক হয় তবে তা বরকতময় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল হয় তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমি গবেষণা করেছি এবং গবেষণায় আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করেছি। সুতরাং আমি সওয়াব থেকে বঞ্চিত হব না। রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে সংবাদ বহনকারী (রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেন: "যখন কোনো বিচারক ফয়সালা করেন এবং গবেষণা করেন, অতঃপর তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তবে তার জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে। আর যখন তিনি ফয়সালা করেন এবং গবেষণা করেন, অতঃপর ভুল করেন, তবে তার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে।" ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
বইটির প্রস্তাবিত শিরোনাম ছিল "তাফসিরের কিতাবসমূহে ইসরাঈলি বর্ণনা", কিন্তু আমি ইসরাঈলি বর্ণনার পাশাপাশি তাফসিরের কিতাবসমূহে জাল বর্ণনাগুলোকেও যুক্ত করা সমীচীন মনে করেছি। কারণ এতে এমন কিছু বানোয়াট বিষয় রয়েছে যা ইসলাম ও নবীর জন্য বিপজ্জনক। যেমন: জিন্দিক এবং ইসলামের শত্রু ইহুদি, অগ্নিপূজক, খ্রিস্টান ও অন্যরা যেসব গল্প ও বর্ণনা তৈরি করেছে, যা নবীর নিষ্পাপতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং ইসলামকে একটি অসার ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে যা কুসংস্কারে আচ্ছন্ন।
এর মধ্যে কিছু রয়েছে যা রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং মাযহাবী মতভেদের প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছে। আবার কিছু রয়েছে এমন যা সেই সব লোক তৈরি করেছে যারা ধারণা করত—এবং তাদের এই ধারণা কতই না নিকৃষ্ট—যে তারা ইসলামের সেবা করছে এবং মানুষের মধ্যে ইসলামের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করছে। যেমন: কুরআনের ফজিলত, বিভিন্ন সূরার ফজিলত এবং বিভিন্ন ব্যক্তির ফজিলতে যেসব হাদিস জাল করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৮)
والأزمنة، والأمكنة، فقد استباح بعض الزهاد وبعض المتصوفة الوضع في باب الترغيب والترهيب وزعموا جهلا وزورا أن ذلك حسبة إلى الله، ومن المؤسف أن بعض أهل العلم لا يزالون يرددون أمثال هذه المرويات، ويستولون بسببها على قلوب العامة والسذج، مع أنها قد نص على وضعها واختلاقها كثير من الحفاظ، وأئمة النقد.
وبهذا وذلك: يكون الكتاب فائدته أعظم، وثمرته أعم وأشمل، ولا يفوتني في هذا المقام: أن أنوه بما قام به بعض زملائنا من جهاد مذكور مشكور في هذا الباب، وهو أخونا الأستاذ الدكتور الشيخ محمد حسين المذهبي الأستاذ بكلية أصول الدين، في كتابه "التفسير والمفسرون"، وفي الكتيب القيم الذي نشره له مجمع البحوث الإسلامية بالأزهر الشريف.
ماذا يمكن في هذا الموضوع:
وآراء الناس وأفكارهم متباينة في معالجة هذا الموضوع الخطير؟:
1- فمنهم من يرى الاستغناء عن كتب التفسير التي اشتملت على الموضوعات والإسرائليات التي جنت على الإسلام والمسلمين وجرت عليهم كل هذه الطعون والهجمات من أعداء الإسلام، وذلك بإبادتها أو حرقها، حتى يحال بين الناس، وبين قراءتها، والاكتفاء بالكتب الخالية أو المقلة منها، وتأليف تفاسير أخرى خالية من هذه الشوائب والمناكير وهو رأي فيه إسراف وغلو؛ إذ ليس من شك في أن هذه الكتب فيها بجانب الإسرائيليات علم كثير، وثقافة إسلامية أصيلة، وأن ما فيها من خير وحق أكثر مما فيها من شر وباطل، فهل لأجل القضاء على الشر نقضي على الخير، ولأجل الإجهاز على الباطل نجهز على الحق أيضا؟ أعتقد أن هذا لا يجوز عقلا، ولا شرعا.
ثم إن هذا الرأي غير ممكن تنفيذه عمليا، فنحن إذا أعدمنا ما يوجد من هذه التفاسير في المكاتب العامة، فكيف يمكن ذلك في المكاتب الخاصة؟! ومن أصحابها من يضن بها ضنه بنفسه، وليس من حق أحد أن يغتصب مال غيره، ويعدمه تعللا بهذه العلة.
الحق: أن هذا رأي فيه إسراف وغلو، وغير ممكن تنفيذه عمليا وفي الحق: أن هذه الكتب التي اشتملت على الموضوعات والإسرائليات لو وجد في عصر طبعها من تنبه لما فيها، وكان من أهل التمييز بين الصحيح والضعيف، وما هو من قبيل الإسرائيليات، وما ليس منها علق على هذه الكتب عند طبعها، لوقانا شر هذه الإسرائيليات
এবং কাল ও পাত্রভেদে কিছু সংসারত্যাগী ও সূফী পুণ্য ও ভীতির (তারগীব ও তারহীব) অধ্যায়ে হাদীস জাল করাকে বৈধ মনে করেছেন। তারা অজ্ঞতা ও মিথ্যাচারের বশবর্তী হয়ে ধারণা করেছেন যে, এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কিছু আলিম আজও এ ধরণের বর্ণনাগুলোর পুনরাবৃত্তি করে চলেছেন এবং এর মাধ্যমে সাধারণ ও সহজ-সরল মানুষের হৃদয় জয় করছেন; অথচ অনেক হাফিযে হাদীস ও সমালোচনা শাস্ত্রের ইমাম এসব বর্ণনা বানোয়াট ও মনগড়া হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন।
এর ফলে গ্রন্থটির উপকারিতা হবে আরও মহান এবং এর ফলাফল হবে আরও ব্যাপক ও পরিব্যাপ্ত। এই পর্যায়ে আমাদের কিছু সহকর্মীর প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করা আমি আবশ্যক মনে করি, যারা এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তারা হলেন আমাদের ভ্রাতা প্রফেসর ডক্টর শাইখ মুহাম্মাদ হুসাইন আয-যাহাবী (উসুলুদ্দীন অনুষদের অধ্যাপক), তাঁর "আত-তাফসীর ওয়াল মুফাসসিরুন" গ্রন্থে এবং আল-আযহার আশ-শারীফের ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত মূল্যবান পুস্তিকাটিতে তিনি এই অবদান রেখেছেন।
এই বিষয়ে কী করা সম্ভব:
এই গুরুতর বিষয়টি মোকাবিলায় মানুষের মতামত ও চিন্তা-ভাবনা কি ভিন্ন ভিন্ন?:
১- তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেই সব তাফসীর গ্রন্থ বর্জন করার পক্ষপাতী যেগুলোতে জাল বর্ণনা ও ইসরাঈলী রেওয়ায়াত রয়েছে, যা ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করেছে এবং ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে নানাবিধ অপবাদ ও আক্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে। তাদের মতে, এসব বই ধ্বংস বা পুড়িয়ে ফেলা উচিত যাতে মানুষ তা পড়তে না পারে এবং কেবল সেই সব গ্রন্থের ওপর নির্ভর করা উচিত যা এসব থেকে মুক্ত বা যেখানে এগুলোর পরিমাণ খুব কম। পাশাপাশি এসব কলুষতা ও অগ্রহণযোগ্য বিষয় থেকে মুক্ত নতুন তাফসীর গ্রন্থ রচনার প্রস্তাবও তারা দেন। তবে এটি একটি বাড়াবাড়ি ও চরমপন্থী মত। কারণ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এসব গ্রন্থে ইসরাঈলী বর্ণনার পাশাপাশি প্রচুর জ্ঞান ও মৌলিক ইসলামী সংস্কৃতি বিদ্যমান। সেখানে মন্দের চেয়ে ভালোর পরিমাণ এবং বাতিলের চেয়ে হকের পরিমাণ অনেক বেশি। সুতরাং মন্দকে নির্মূল করার জন্য কি আমরা ভালোকেও নির্মূল করব? আর বাতিলকে খতম করার জন্য কি হককেও খতম করে দেব? আমি মনে করি, যুক্তি বা শরীয়ত কোনো দিক থেকেই এটি বৈধ নয়।
তাছাড়া এই মতটি বাস্তবায়ন করাও বাস্তবে অসম্ভব। আমরা যদি পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে বিদ্যমান এই তাফসীরগুলো ধ্বংসও করি, তবে ব্যক্তিগত লাইব্রেরিগুলোর ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব? অনেক মালিক আছেন যারা এসব গ্রন্থকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয় মনে করেন। আর কারো সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া এবং এই অজুহাতে তা ধ্বংস করে দেওয়া কারো অধিকার নয়।
সত্য কথা এই যে, এটি একটি অতিশয়োক্তি ও চরমপন্থী মত এবং এটি বাস্তবায়ন করাও সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে, জাল বর্ণনা ও ইসরাঈলী রেওয়ায়াত সংবলিত এই বইগুলো যখন মুদ্রিত হয়েছিল, তখন যদি এমন কোনো সচেতন ব্যক্তি থাকতেন যিনি সহীহ ও যয়ীফের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম এবং কোনটি ইসরাঈলী বর্ণনা আর কোনটি নয় তা নিরূপণ করতে পারতেন এবং মুদ্রণকালেই এই বইগুলোর ওপর টীকা লিখে দিতেন, তবে তা আমাদের এসব ইসরাঈলী বর্ণনার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ৯)
والأكاذيب، ولما تسممت بها العقول والأفكار، ولكفانا ما نقوم به اليوم، ولكن "لو" لا تجدي الآن.
2- وهناك فريق آخر يرى أن نجمع ما طبع من هذه الكتب ونخفيها عن أعين الناس، ثم نعيد طبعها بعد تنقيتها من الإسرائيليات والموضوعات، ولكن أية قوة في العالم الإسلامي يمكنها أن تفعل هذه؟! ثم هو إن أمكن في المكاتب العامة، فكيف يمكن في المكاتب الخاصة المخفية في بيوت أصحابها؟ الحق أن هذا الرأي وإن كان أقل إسرافًا وغلوًّا من الرأي الأول، فهو غير ممكن أيضا من الناحية العلمية.
وأيضا: فهذه الإسرائيليات والموضوعات، وإن لم تكن لها قيمتها الدينية والتشريعية في نسبتها إلى النبي صلى الله عليه وسلم أو إلى الصحابة رضوان الله عليهم؛ لأنها مختلقة عليهم، منتحلة، لكن لها في نظر بعض الباحثين والمؤلفين في الحياة العقلية في الإسلام قيمتها العلمية، فهي تدل على ثقافة العصر، وأفكار أهله، وتلاقح الثقافات وتأثير بعضها في بعض؛ لأن الذي وضعها ونسبها لهؤلاء لم يكن خارجا عن البيئة، ولا منعزلا عن روح العصر، وإنما كان مؤثرا ومتأثرا، وهذا الرأي قد ردده بعض الباحثين في كتبه1، ولكني لست منه على ثلج2، ولا على اتفاق مع قائله؛ لأنها سممت الأفكار، وتجنت على التفسير والحديث، وكان لها آثارها السيئة في كتب العلوم الإسلامية، فضررها أعظم بكثير من نفعها المزعوم.
3- فلم يبقَ إلا الطريق الثالث: وهو رأي القائلين بالتنصيص على هذه الإسرائيليات والموضوعات وردها من جهة العقل والنقل وبيان أنها دخيلة على الإسلام، ومدسوسة على الرواية الإسلامية وبيان من أين دخلت عليه، وذلك بتأليف كتاب، أو كتب في هذا ونشرها نشرا موسعا، بحيث يستفيد منها كل مثقف، وكل متعلم، بل وكل من يحسن القراءة، وبذلك نقضي على ما في بعض كتب التفسير من شرور الإسرائيليات وسمومها التي أفسدت عقول كثير من الناس، ولا سيما العامة، وصاروا يتناقلونها على أن لها أصلا في الرواية الإسلامية، وما هي منها في شيء.
--------------------------------------------
এবং মিথ্যাচার, আর যখন এর দ্বারা বুদ্ধি ও চিন্তাধারা বিষাক্ত হয়ে পড়েছে, তখন আজ আমরা যা করছি তা-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট হতো, কিন্তু "যদি" শব্দ দিয়ে এখন আর কোনো কাজ হবে না।
২- অন্য একটি দল মনে করেন যে, এই বইগুলোর যা কিছু মুদ্রিত হয়েছে তা একত্রিত করা এবং মানুষের চোখের অন্তরালে রাখা উচিত, এরপর ইসরাঈলি বর্ণনা ও জাল বিষয়াবলি থেকে মুক্ত করে সেগুলো পুনরায় মুদ্রণ করা উচিত; কিন্তু মুসলিম বিশ্বের কোন শক্তির পক্ষে এটি করা সম্ভব?! তাছাড়া এটি যদি পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে সম্ভবও হয়, তবে মালিকদের ঘরে লুকানো ব্যক্তিগত লাইব্রেরিগুলোতে কীভাবে সম্ভব হবে? সত্য কথা হলো যে, এই মতটি প্রথম মতের তুলনায় কম অপব্যয়ী ও চরমপন্থী হলেও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে এটিও সম্ভব নয়।
আরও কথা হলো: এই ইসরাঈলি বর্ণনা ও জাল বিষয়গুলো যদি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুমের দিকে নিসবত করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও শরয়ী কোনো মূল্য নাও রাখে—কারণ এগুলো তাঁদের ওপর মিথ্যা রটানো ও জাল করা হয়েছে—তবুও ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের ক্ষেত্রে কিছু গবেষক ও লেখকের দৃষ্টিতে এর একটি বৈজ্ঞানিক মূল্য রয়েছে। কারণ এগুলো সমকালীন সংস্কৃতি, মানুষের চিন্তাভাবনা এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ও একে অপরের ওপর প্রভাবের পরিচয় দেয়; কারণ যিনি এগুলো তৈরি করে তাঁদের দিকে নিসবত করেছেন, তিনি পরিবেশের বাইরের কেউ ছিলেন না এবং যুগের স্পৃহা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না, বরং তিনি প্রভাবিত ও প্রভাব বিস্তারকারী ছিলেন। এই মতটি কিছু গবেষক তাঁদের বইয়ে উল্লেখ করেছেন ১, কিন্তু আমি এই ব্যাপারে আশ্বস্ত নই ২ এবং এর প্রবক্তার সাথে একমতও নই; কারণ এগুলো চিন্তাধারাকে বিষাক্ত করেছে, তাফসির ও হাদিসের ওপর জুলুম করেছে এবং ইসলামি জ্ঞানের কিতাবগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে এর কথিত উপকারের চেয়ে ক্ষতি অনেক বেশি।
৩- সুতরাং এখন কেবল তৃতীয় পথটিই অবশিষ্ট আছে: আর তা হলো ঐসব ব্যক্তিদের মত যারা এই ইসরাঈলি বর্ণনা ও জাল বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা এবং আকল (যুক্তি) ও নকল (প্রমাণ)-এর ভিত্তিতে সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করার এবং এগুলো যে ইসলামের ওপর অনুপ্রবেশকারী এবং ইসলামি বর্ণনার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট করার কথা বলেন। এর পদ্ধতি হলো এই বিষয়ে একটি বা একাধিক কিতাব রচনা করা এবং তা ব্যাপকভাবে প্রচার করা, যাতে প্রত্যেক সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি, প্রত্যেক শিক্ষিত লোক এমনকি যে পড়তে জানে এমন সবাই এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে। এর ফলে আমরা তাফসিরের কিছু কিতাবে বিদ্যমান ইসরাঈলি বর্ণনার অনিষ্ট ও বিষাক্ত ছোবল নির্মূল করতে পারব যা বহু মানুষের বিশেষ করে সাধারণ মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে নষ্ট করেছে; আর তারা এগুলোকে ইসলামি বর্ণনায় ভিত্তি আছে মনে করে একে অন্যের কাছে প্রচার করছে, অথচ ইসলামের সাথে এগুলোর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১০)
منهجي في هذا الكتاب:
أما منهجي في هذا الكتاب: فسأقدم للبحث الأصلي بمقدمات أبين فيما معنى التفسير والتأويل ومعنى الإسرائيليات، وما المراد بالموضوعات؟ وما المنهج الذي يجب أن يتبع في تفسير القرآن، والكلام عن التفسير بالمأثور، وأقسامه، والتفسير بالرأي والاجتهاد المقبول منه والمردود ودخول الوضع والإسرائيليات في التفسير بالمأثور، وأسباب ذلك وما وجه إلى هذا النوع من التفسير من نقد، والآثار السيئة التي خلفتها هذه الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفسير وغيرها.
ثم أعرض لما قام به حفاظ الحديث، وأئمة النقد، والتعديل والتجريح من جهاد مشكور في التنبيه إلى الموضوعات والإسرائيليات في كتب التفسير، ثم أعرض لأشهر كتب التفسير بالمأثور، مبينا بإيجاز قيمة كل كتاب من جهة الرواية، ولأشهر كتب التفسير بالرأي المقبول، من حيث اشتمالها على الموضوعات والإسرائيليات قلة أو كثرة، أو عدم اشتمالها من غير تعرض لما فيها من جوانب كمال أو جوانب نقص أخرى، فليس ذلك من غرضي، ولا مما يتصل بالغرض الذي وضع له الكتاب، إلى غير ذلك مما عرضت له.
وهذه المقدمات أو التمهيدات على طولها لا بد منها، حتى يكون القارئ لهذا الكتاب على بينة من أمر هذه المباحث، التي ستسلمه إلى المقصد الأصلي من الكتاب في غير اقتضاب.
ثم بعد ذلك آخذ فيما قصدت، وهو: الإبانة عن الإسرائيليات والكشف عن الموضوعات في كتب التفسير، سواء منها ما اختص بالتفسير بالمأثور، أو ما جمع فيها بين المأثور وغيره، أو ما غلب عليها التفسير بالرأي والاجتهاد، ومما ينبغي أن يعلم، أن هذه الكتب الأخيرة لا تخلو من التفسير بالمأثور قط، ولا يمكن أن تخلو منه.
وليس من غرضي في هذه الدراسة وهذا البحث أن أتناول الكتب كتابا كتابا، فهذا أمر يطول، ويلزم منه التكرار، أو الإحالة على ما فات.
ولكني سأعرض لهذه الإسرائيليات والموضوعات، وأردها من جهة العقل والنقل.
এই কিতাবে আমার পদ্ধতি:
আর এই কিতাবে আমার পদ্ধতি হলো: আমি মূল গবেষণার পূর্বে কিছু ভূমিকা পেশ করব যাতে তাফসির ও তাবিলের অর্থ এবং ইসরাইলি বর্ণনা বলতে কী বুঝায় তা স্পষ্ট করব। আর জাল বা বানোয়াট (মাওদুআত) কথা দ্বারা কী উদ্দেশ্য? কুরআন তাফসিরের ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা আবশ্যক, এবং তাফসির বিল-মা'সুর (বর্ণনা ভিত্তিক তাফসির) ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করব। সেইসাথে তাফসির বির-রায় (ইজতিহাদ ভিত্তিক তাফসির) এবং এর মধ্য থেকে কোনটি গ্রহণযোগ্য ও কোনটি প্রত্যাখ্যাত সে বিষয়ে আলোকপাত করব। এছাড়া তাফসির বিল-মা'সুরে কীভাবে জাল বর্ণনা ও ইসরাইলি রেওয়াতসমূহ প্রবেশ করেছে, তার কারণসমূহ কী এবং এই ধরনের তাফসিরের ক্ষেত্রে যে সকল সমালোচনা উত্থাপিত হয়েছে তা আলোচনা করব। পরিশেষে তাফসিরের কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে এই ইসরাইলি রেওয়াত ও জাল বর্ণনাসমূহ যে কুপ্রভাব রেখে গেছে তাও বর্ণনা করব।
এরপর আমি হাদিস বিশারদ এবং যাচাই-বাছাই ও সমালোচনা শাস্ত্রের ইমামগণ তাফসিরের কিতাবসমূহে থাকা জাল বর্ণনা ও ইসরাইলি রেওয়াত সম্পর্কে সতর্ক করার ক্ষেত্রে যে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তা তুলে ধরব। এরপর তাফসির বিল-মা'সুরের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ বর্ণনা করব এবং বর্ণনার মান অনুযায়ী সংক্ষেপে প্রতিটি কিতাবের গুরুত্ব স্পষ্ট করব। তদুপরি প্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য তাফসির বির-রায়ের কিতাবসমূহে জাল বর্ণনা ও ইসরাইলি রেওয়াত বেশি বা কম থাকা অথবা মোটেও না থাকার বিষয়টি আলোচনা করব। এক্ষেত্রে সেই কিতাবগুলোর অন্যান্য পূর্ণতা বা ত্রুটির দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করব না, কারণ সেটি আমার লক্ষ্য নয় এবং এই কিতাবটি যে উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে তার সাথেও তা সংশ্লিষ্ট নয়। এছাড়াও অন্যান্য যে সব বিষয় আমি উপস্থাপন করেছি তা বর্ণনা করব।
আর এই ভূমিকা বা উপক্রমণিকাগুলো দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যেন এই কিতাবের পাঠক এই আলোচনাগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পারেন, যা তাকে কোনো সংক্ষিপ্ততা ছাড়াই কিতাবের মূল উদ্দেশ্যের দিকে নিয়ে যাবে।
এরপর আমি আমার মূল লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হব, যা হলো: তাফসিরের কিতাবসমূহ থেকে ইসরাইলি রেওয়াতসমূহ স্পষ্ট করা এবং জাল বর্ণনাগুলোকে উন্মোচিত করা; চাই সেই কিতাবগুলো কেবল তাফসির বিল-মা'সুরের হোক, কিংবা যেখানে বর্ণনা ও অন্যান্য বিষয়ের সমন্বয় করা হয়েছে, অথবা যেগুলোতে তাফসির বির-রায় ও ইজতিহাদের প্রাধান্য রয়েছে। এটি জেনে রাখা উচিত যে, এই শেষোক্ত কিতাবগুলো কখনোই তাফসির বিল-মা'সুর থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয় এবং তা হওয়া সম্ভবও নয়।
এই অধ্যয়ন ও গবেষণায় আমার লক্ষ্য প্রতিটি কিতাব ধরে ধরে আলাদাভাবে আলোচনা করা নয়; কারণ এটি অনেক দীর্ঘ কাজ এবং এর ফলে পুনরাবৃত্তি ঘটার বা পূর্ববর্তী আলোচনার বরাতের প্রয়োজন হবে।
বরং আমি এই ইসরাইলি রেওয়াত ও জাল বর্ণনাগুলো তুলে ধরব এবং আকল (বিবেক) ও নকল (প্রমাণ/রেওয়াত) এর নিরিখে সেগুলো খণ্ডন করব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১১)
متأسيا في ذلك بأقوال جهابذة العلماء من حفاظ الحديث، وأئمة النقد الذين إليهم المرجع في التصحيح والتضعيف والتمييز بين الغث والسمين، والمقبول والمردود، وجمعوا بين المعقول والمنقول، وكذلك غيرهم ممن ليسوا من حفاظ الحديث، ولكنهم تناولوا إبطال بعض هذه الإسرائيليات، والموضوعات، من جهة العقل والنظر، وأزيد على ما ذكروه ما استفدناه من العلوم الحديثة، وما استجد من نظريات علمية مستقرة لم تكن معروفة في عصورهم وما منَّ الله به على من دراساتي القرآنية، والحديثية، ثم أنبه على مواضعها وأماكنها في كتب التفسير التي ذكرتها، من غير رد لها ونص على بطلانها وتهافتها، أو التحذير منها، حتى يكون القارئ لهذه التفاسير على بينة من حقيقة هذه المرويات، وعلى حذر من الاغترار بها وتصديقها.
والله أسأل أن يلهمني الصواب والرشد، وأن يمدني بروح من عنده إنه سميع مجيب.
كتبه
أبو السادات
محمد بن محمد أبو شهبة
من علماء الأزهر الشريف.
والمتخصص في الأصلين الشريفين:
القرآن والسنة
المحرم 1391هـ
مارس 1971م.
এ ক্ষেত্রে আমি হাদীস বিশারদ প্রাজ্ঞ আলিম এবং সমালোচনা শাস্ত্রের ইমামগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি, যারা সহীহ ও যঈফ নির্ধারণে এবং অসার ও সারগর্ভ এবং গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয়র মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস। তারা বুদ্ধিভিত্তিক ও বর্ণনাভিত্তিক দলিলের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। একইভাবে অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণও, যারা হাদীস বিশারদ নন, কিন্তু বিচার-বুদ্ধি ও যুক্তির নিরিখে এই সকল ইসরাইলি ও বানোয়াট বর্ণনাগুলোর অসারতা প্রমাণ করার প্রয়াস পেয়েছেন। তারা যা উল্লেখ করেছেন, তার সাথে আমি আধুনিক বিজ্ঞান থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বসমূহ—যা তাদের যুগে পরিচিত ছিল না—তা সংযোজন করছি। এর পাশাপাশি আল্লাহ তাআলা আমার কুরআন ও হাদীস ভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে আমাকে যা দান করেছেন তাও যুক্ত করছি। অতঃপর আমি উল্লিখিত তাফসীর গ্রন্থগুলোতে এই বর্ণনাগুলোর স্থান ও অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক করব, যেগুলোতে কোনো খণ্ডন, বাতুলতা ও অসারতার বর্ণনা বা এগুলো থেকে সতর্ক করা ছাড়াই এগুলো উল্লেখ করা হয়েছে; যাতে এই তাফসীর গ্রন্থসমূহের পাঠক এই সকল বর্ণনার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন এবং এগুলো দ্বারা প্রতারিত হওয়া ও এগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করা থেকে সতর্ক থাকতে পারেন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে সঠিক পথ ও সুবুদ্ধির ইলহাম দান করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ সাহায্য দ্বারা আমাকে ধন্য করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
লিখক
আবুল সাদাত
মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আবু শাহবাহ
আল-আযহার আশ-শরীফের আলিমগণের অন্তর্ভুক্ত।
এবং দুই মহান মূল উৎস এর বিশেষজ্ঞ:
কুরআন ও সুন্নাহ
মুহাররম ১৩৯১ হিজরী
মার্চ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১২)
معنى إسرائيليات وموضوعات وتفسير
الإسرائيليات…معنى: إسرائيليات، وموضوعات، وتفسير
يقتضينا منهج البحث التحليلي أن نبين معنى كلمة: "إسرائيليات" والمراد من "الموضوعات" و"التفسير" والتأويل، حتى يكون القارئ على علم بها نقول:
أ- الإسرائيليات:
جمع إسرائيلية، نسبة إلى بني إسرائيل، والنسبة في مثل هذا تكون لعجُز المركب الإضافي لا لصدره، وإسرئيل هو: يعقوب عليه السلام أي عبد الله وبنو إسرائيل هم: أبناء يعقوب، ومن تناسلوا منهم فيما بعد، إلى عهد موسى ومن جاء بعده من الأنبياء، حتى عهد عيسى عليه السلام وحتى عهد نبينا محمد صلى الله عليه وسلم
وقد عرفوا "باليهود" أو بـ "يهود" من قديم الزمان، أما من آمنوا بعيسى: فقد أصبحوا يطلق عليهم اسم "النصاري" وأما من آمن بخاتم الأنبياء: فقد أصبح في عداد المسلمين، ويعرفون بمسلمي أهل الكتاب"1
وقد أكثر الله من خطابهم ببني إسرائيل في القرآن الكريم تذكيرا لهم بأبوة هذا النبي الصالح، حتى يتأسوا به، ويتخلقوا بأخلاقه، ويتركوا ما كانوا عليه من نكران نعم الله عليهم وعلى آبائهم وما كانوا يتصفون به من الجحود، والغدر، واللؤم، والخيانة وكذلك ذكرهم الله سبحانه باسم اليهود في غير ما آية، وأشهر كتب اليهود هي: التوراة، وقد ذكرها الله في قوله تعالى: {الم، اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ، نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالْأِنْجِيلَ، مِنْ قَبْلُ هُدىً لِلنَّاسِ وَأَنْزَلَ
--------------------------------------------
ইসরাঈলিয়াত, মাউযুয়াত (জাল বর্ণনা) এবং তাফসীরের অর্থইসরাঈলিয়াত...ইসরাঈলিয়াত, মাউযুয়াত (জাল বর্ণনা) এবং তাফসীরের অর্থ:
বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা পদ্ধতির দাবি হলো আমরা 'ইসরাঈলিয়াত' শব্দের অর্থ এবং 'মাউযুয়াত' (জাল বর্ণনা), 'তাফসীর' ও 'তাবীল' দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট করি, যাতে পাঠক এ সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। আমরা বলছি:
ক- ইসরাঈলিয়াত:
এটি 'ইসরাঈলিয়া' শব্দের বহুবচন, যা বনী ইসরাঈলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। এ জাতীয় শব্দে সম্বন্ধ পদসমষ্টির শেষ অংশের সাথে হয়, প্রথম অংশের সাথে নয়। আর ইসরাঈল হলেন: ইয়াকুব আলাইহিস সালাম, যার অর্থ আল্লাহর বান্দা। বনী ইসরাঈল হলো: ইয়াকুবের সন্তানাদি এবং পরবর্তীতে মুসা আলাইহিস সালামের যুগ পর্যন্ত এবং তাঁর পরবর্তী নবীগণের যুগ থেকে ঈসা আলাইহিস সালামের যুগ এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ পর্যন্ত তাদের থেকে যারা বংশানুক্রমে এসেছে তারা।
তারা প্রাচীনকাল থেকেই 'ইয়াহুদী' নামে পরিচিত ছিল। আর যারা ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর ঈমান এনেছে তাদের 'নাসারা' (খ্রিস্টান) বলা হতে থাকে। আর যারা শেষ নবীর ওপর ঈমান এনেছে তারা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং তাদের 'আহলে কিতাব মুসলিম' হিসেবে অভিহিত করা হয়।১
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে তাদের 'বনী ইসরাঈল' বলে বারবার সম্বোধন করেছেন যাতে তাদের সেই পুণ্যবান নবীর পিতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, যেন তারা তাঁর অনুসরণ করে, তাঁর চরিত্রে চরিত্রবান হয় এবং তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদের ওপর আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করা এবং অস্বীকৃতি, প্রতারণা, নীচতা ও বিশ্বাসঘাতকতার যে সব গুণাবলীতে তারা ভূষিত ছিল তা ত্যাগ করে। অনুরূপভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একাধিক আয়াতে তাদের ইয়াহুদী নামেও উল্লেখ করেছেন। ইয়াহুদীদের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কিতাব হলো তাওরাত। আল্লাহ তাআলা নিম্নোক্ত বাণীতে এটি উল্লেখ করেছেন: {আলিফ-লাম-মীম। আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তিনি সত্যসহ আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী। আর তিনি তাওরাত ও ইনজীল অবতীর্ণ করেছেন, মানুষের হিদায়েতের জন্য ইতিপূর্বে, আর তিনি অবতীর্ণ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الْفُرْقَان} 1. وقال: {إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدىً وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ وَكَانُوا} 2 والمراد بها التوراة التي نزلت من عند الله قبل التحريف والتبديل، أما التوراة المحرفة المبدلة، فهي بمعزل عن كونها كلها هداية، وكونها نورا، ولا سيما بعد نزول القرآن الكريم، الذي هو الشاهد والمهيمن على الكتب السماوية السابقة، فما وافقه فهو حق، وما خالفه فهو باطل.
ومن كتبهم أيضا: الزبور وهو كتاب داود عليه السلام، وأسفار الأنبياء، الذين جاءوا بعد موسى عليه وعليهم السلام، وتسمى التوراة وما اشتملت عليه من الأسفار الموسوية وغيرها "بالعهد القديم".
وكان لليهود بجانب التوراة المكتوبة التلمود، وهي التوراة الشفهية، وهو مجموعة قواعد ووصايا وشرائع دينية وأدبية، ومدنية وشروح، وتفاسير، وتعاليم، وروايات كانت تتناقل وتدرس شفهيا من حين إلى آخر
… وقد اتسع نطاق الدرس والتعليم فيه إلى درجة عظيمة جدا، حتى صار من الصعب حفظه في الذاكرة، ولأجل دوام المطالعة، والمداولة، وحفظا للأقوال والنصوص، والآراء الأصلية المتعددة والترتيبات، والعادات الحديثة، وخوفا من نسيانها وفقدانها مع مرور الزمن، وخصوصا وقت الاضطهادات، والاضطرابات، قد دونها الحاخامون بالكتابة سياجا للتوراة، وقُبِلَت كسنة من سيدنا موسى عليه السلام3.
ومن التوراة وشروحها، والأسفار وما اشتملت عليه، والتلمود وشروحة، والأساطير والخرافات، والأباطيل التي افتروها، أو تناقلوها عن غيرهم: كانت معارف اليهود وثقافتهم، وهذه كلها كانت المنابع الأصلية للإسرائيليات التي زخرت بها بعض كتب التفسير، والتاريخ والقصص والمواعظ، وهذه المنابع إن كان فيها حق، ففيها باطل كثير، وإن كان فيها صدق، ففيها كذب صراح، وإن كان فيها سمين، ففيها غث كثير، فمن ثم انجر ذلك إلى الإسرائيليات، وقد يتوسع بعض الباحثين في الإسرائيليات، فيجعلها شاملة لما
--------------------------------------------
আল-ফুরকান} ১। এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, তাতে রয়েছে হিদায়াত ও নূর। আল্লাহর অনুগত নবীগণ ইয়াহুদীদের জন্য এর মাধ্যমে ফয়সালা দিতেন এবং রব্বানী ও আলিমগণও; কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের হিফাযতকারী করা হয়েছিল এবং তাঁরা এর সাক্ষী ছিলেন।} ২। এখানে তাওরাত বলতে সেই তাওরাতকে বোঝানো হয়েছে যা বিকৃতি ও পরিবর্তনের পূর্বে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছিল। পক্ষান্তরে বিকৃত ও পরিবর্তিত তাওরাত হিদায়াত ও নূর হওয়ার গুণ থেকে বিচ্যুত, বিশেষ করে কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ হওয়ার পর, যা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের ওপর সাক্ষী ও রক্ষক। সুতরাং যা কুরআনের অনুকূল তা সত্য, আর যা তার প্রতিকূল তা মিথ্যা।
তাদের কিতাবসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে: যাবুর, যা দাউদ আলাইহিস সালামের কিতাব, এবং সেই সব নবীদের সহীফাসমূহ যারা মূসা আলাইহিস সালামের পরে এসেছিলেন। তাওরাত এবং এর অন্তর্ভুক্ত মূসায়ী ও অন্যান্য সহীফাসমূহকে একত্রে "পুরাতন নিয়ম" (ওল্ড টেস্টামেন্ট) বলা হয়।
লিখিত তাওরাতের পাশাপাশি ইয়াহুদীদের কাছে "তালমুদ" ছিল, যা হলো মৌখিক তাওরাত। এটি বিভিন্ন ধর্মীয় ও নৈতিক নিয়ম-কানুন, উপদেশ, ধর্মীয় ও নাগরিক বিধান, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, শিক্ষা এবং বর্ণনার একটি সংকলন যা যুগ যুগ ধরে মৌখিকভাবে স্থানান্তরিত ও অধীত হতো
… এর পঠন ও শিক্ষার পরিধি অত্যন্ত বিশাল হয়ে গিয়েছিল, এমনকি তা স্মৃতিতে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই নিয়মিত পাঠ ও পর্যালোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং বিভিন্ন বক্তব্য, মূল পাঠ্য, নানাবিধ মৌলিক মতামত, বিন্যাস ও আধুনিক রীতিনীতিসমূহ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এবং সময়ের আবর্তে—বিশেষ করে নিগ্রহ ও বিশৃঙ্খলার সময়ে—সেগুলো ভুলে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে রাব্বীগণ তাওরাতের সুরক্ষাকবচ হিসেবে একে লিপিবদ্ধ করেন। এটি আমাদের নেতা মূসা আলাইহিস সালামের সুন্নাহ হিসেবে গৃহীত হয়েছিল ৩।
তাওরাত ও এর ব্যাখ্যা, সহীফাসমূহ ও এর বিষয়বস্তু, তালমুদ ও এর ব্যাখ্যা এবং সেসব উপকথা, রূপকথা ও মিথ্যাচার যা তারা নিজেরা উদ্ভাবন করেছে অথবা অন্যদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছে—এসব মিলেই ছিল ইয়াহুদীদের জ্ঞান ও সংস্কৃতি। এই সবকিছুই ছিল ইসরাঈলী বর্ণনার মূল উৎস, যা দ্বারা কিছু তাফসীর, ইতিহাস, কাহিনী ও নসীহতের কিতাবসমূহ পরিপূর্ণ হয়ে আছে। এই উৎসগুলোতে যদি সত্য থেকে থাকে, তবে তাতে প্রচুর বাতিলও রয়েছে; যদি সত্যতা থাকে, তবে তাতে প্রকাশ্য মিথ্যাও রয়েছে; যদি সারবস্তু থাকে, তবে তাতে অসারতাও প্রচুর রয়েছে। সেখান থেকেই বিষয়টি ইসরাঈলী বর্ণনার দিকে গড়িয়েছে। কোনো কোনো গবেষক ইসরাঈলী বর্ণনার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেন, ফলে তারা একে এমন সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেন যা—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
كان من معارف اليهود، وما كان من معارف النصارى التي تدور حول الأناجيل وشروحها، والرسل وسيرهم ونحو ذلك؛ وإنما سميت إسرائيليات لأن الغالب والكثير منها إنما هو من ثقافة بني إسرائيل، أو من كتبهم ومعارفهم، أو من أساطيرهم وأباطيلهم1.
والحق: أن ما في كتب التفسير من المسيحيات أو من النصرانيات هو شيء قليل بالنسبة إلى ما فيها من الإسرائيليات، ولا يكاد يذكر بجانبها، وليس لها من الآثار السيئة ما للإسرائيليات؛ إذ معظمها في الأخلاق، والمواعظ، وتهذيب النفوس، وترقيق القلوب، وأما:
--------------------------------------------
ইহুদিদের জ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়াবলি, এবং খ্রিস্টানদের জ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়াবলি যা ইঞ্জিলসমূহ ও সেগুলোর ব্যাখ্যা, রাসূলগণ ও তাঁদের জীবনী এবং এই জাতীয় বিষয়াবলিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়; সেগুলোকে মূলত ইসরাঈলিয়াত নামকরণ করা হয়েছে কারণ এগুলোর অধিকাংশ ও সিংহভাগই বনী ইসরাঈলের সংস্কৃতি থেকে আগত, অথবা তাদের কিতাবসমূহ ও জ্ঞানভাণ্ডার থেকে, কিংবা তাদের উপকথা ও অসার বিষয়াবলি থেকে।১।
প্রকৃত বিষয় হলো: তাফসিরের কিতাবসমূহে খ্রিস্টধর্মীয় বর্ণনা বা নাসরানিয়াত যা রয়েছে, তা ইসরাঈলিয়াতের তুলনায় অতি সামান্য এবং এর পাশে তা প্রায় নগণ্য। আর ইসরাঈলিয়াতের মতো এগুলোর কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই; কেননা এগুলোর অধিকাংশই নৈতিকতা, উপদেশ, নফসের পরিশুদ্ধি এবং হৃদয়কে কোমল করার বিষয়ে। আর...:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ب-
الموضوعات:فهي جمع موضوع، اسم مفعول، وهو في اللغة مأخوذ من وضع الشيء يضعه وضعا، إذا حطه وأسقطه. أو من وضعت المرأة ولدها إذا ولدته1، وأما في اصطلاح أئمة الحديث فالموضوع: هو الحديث المختلق2 المصنوع، المكذوب على رسول الله صلى الله عليه وسلم أو على من بعده من الصحابة والتابعين، ولكنه إذا أطلق ينصرف إلى الموضوع على النبي صلى الله عليه وسلم؛ أما الموضوع على غيره فيقيد، فيقال مثلا: موضوع على ابن عباس، أو على مجاهد مثلا، والمناسبة بين المعنى اللغوي والاصطلاحي ظاهرة، أما على المعنى اللغوي الأول: فلأنه منحط ساقط عن الاعتبار، وأما على الثاني: فلما فيه من معنى التوليد، والتسبب في الوجود؛ والموضوع من حيث مادته ونصه نوعان:
1- أن يضع الواضع كلاما من عند نفسه، ثم ينسبه إلى النبي صلى الله عليه وسلم أو إلى الصحابي، أو التابعي.
2- أن يأخذ الواضع كلاما لبعض الصحابة أو التابعين، أو الحكماء، والصوفية، أو ما يروى في الإسرائيليات، فينسبه إلى رسول الله؛ ليروج وينال القبول، مثال ما هو من قول الصحابة: ما يروى من حديث: "أحبب حبيبك هونا ما، عسى أن يكون
--------------------------------------------
খ-
আল-মাওজু’আত (জাল হাদিসসমূহ):এটি মাওজু শব্দের বহুবচন, যা একটি কর্মবাচক বিশেষ্য। শাব্দিক অভিধানে এটি কোনো বস্তু রাখা, নামিয়ে রাখা বা ফেলে দেওয়া থেকে গৃহীত। অথবা এটি মহিলার সন্তান প্রসব করা অর্থেও ব্যবহৃত হয়।১ আর হাদিস বিশারদগণের পরিভাষায় মাওজু হলো সেই বানোয়াট, কৃত্রিম ও মিথ্যা হাদিস, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অথবা তাঁর পরবর্তী সাহাবী ও তাবিঈগণের নামে মিথ্যাভাবে আরোপ করা হয়েছে। তবে সাধারণভাবে মাওজু শব্দটি ব্যবহার করলে তা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামে জালকৃত হাদিসকেই বোঝায়। অন্য কারো নামে জাল করা হলে তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়, যেমন বলা হয়: এটি ইবনে আব্বাসের নামে জাল করা হয়েছে অথবা মুজাহিদের নামে জাল করা হয়েছে। এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থের মধ্যকার মিল সুস্পষ্ট। প্রথম শাব্দিক অর্থের সাথে প্রাসঙ্গিকতা হলো: এটি গ্রহণযোগ্যতার স্তর থেকে নিচে পতিত ও বর্জিত। আর দ্বিতীয় শাব্দিক অর্থের সাথে প্রাসঙ্গিকতা হলো: এর মধ্যে কৃত্রিম উদ্ভাবন ও নতুন অস্তিত্ব প্রদানের অর্থ নিহিত রয়েছে। বিষয়বস্তু ও মূল পাঠের দিক থেকে মাওজু হাদিস দুই প্রকার:
১- জালকারী ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা তৈরি করে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিংবা সাহাবী বা তাবিঈর নামে চালিয়ে দেওয়া।
২- জালকারী ব্যক্তি কোনো সাহাবী, তাবিঈ, প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি, সুফি সাধক অথবা ইসরাঈলি বর্ণনার কোনো কথা গ্রহণ করে তা আল্লাহর রাসূলের নামে চালিয়ে দেওয়া; যাতে তা জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। সাহাবীদের বাণীর মধ্য থেকে নবীজির নামে জাল করার একটি উদাহরণ হলো এই বর্ণনাটি: "তোমার বন্ধুকে পরিমিতভাবে ভালোবাসো, হতে পারে সে একদিন... "
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بغيضك يوما، وأبغض بغيضك هونا ما عسى أن يكون حبيبك يوما"، فالصحيح أنه من قول سيدنا علي كرم الله وجهه، ومثال ما هو من قول التابعين: حديث: "كأنك بالدنيا لم تكن، وبالآخرة لم تزل...." فهو من كلام عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه، ومثال ما هو من كلام الحكماء "المعدة بيت الداء، والحمية رأس كل دواء"، فمن قول الحارث بن كلدة طبيب العرب.
[ومثال ما هو من كلام المتصوفة ما يروى: "كنت كنزا مخفيا، فأحببت أن أعرف، فخلقت الخلق، فعرفتهم بي، فعرفوني"]
ومثال ما هو من الإسرائيليات: "ما وسعني سمائي ولا أرضى ولكن وسعني قلب عبدي المؤمن". قال الإمام ابن تيمية: هو من الإسرائيليات، وليس له أصل معروف عن النبي صلى الله عليه وسلم.
[ومثل ذلك ما روي عن ابن عباس من أن: "عمر الدنيا سبع آلاف سنة" فهو من الإسرائيليات.
وقد نسب إلى النبي وإلى الصحابة والتابعين كثير من الإسرائيليات في بدء الخلق والمعاد وأخبار الأمم الماضية، والكونيات، وقصص الأنبياء، وسأذكر الكثير من ذلك فيما بعد، وبعضها من الخطورة على الدين بمكان.
حكم الكذب على رسول الله:
جمهور العلماء سلفا وخلفا على أن الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم من الكبائر، ولا يكفر من فعل ذلك إلا إذا كان مستحلا الكذب عليه وبالغ الإمام أبو محمد الجويني1 والد إمام الحرمين من أئمة الشافعية فقال: "يكفر من تعمد الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم" نقل ذلك عنه ابنه إمام الحرمين وقال: إنه لم يره لأحد من الأصحاب، وأنه هفوة من والده.
ووافق الجويني على هذه المقالة: الإمام ناصر الدين أحمد بن محمد بن المنير.
--------------------------------------------
...তোমার অপছন্দনীয় ব্যক্তি কোনো একদিন [হতে পারে], এবং তোমার অপছন্দনীয় ব্যক্তির সাথে পরিমিত ঘৃণা পোষণ করো, হতে পারে সে কোনো একদিন তোমার প্রিয়জন হয়ে যাবে।" সঠিক কথা হলো এটি আমাদের নেতা আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন)-এর উক্তি। আর যা তাবিঈদের উক্তি তার উদাহরণ হলো: "যেন তুমি দুনিয়াতে কখনো ছিলে না এবং পরকালে সর্বদা থাকবে..."। এটি উমর বিন আব্দুল আজিজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা। আর প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের উক্তির উদাহরণ হলো: "পাকস্থলী হলো রোগের ঘর, আর পরিমিতাহার হলো সকল ওষুধের মূল।" এটি আরবদের চিকিৎসক আল-হারিস বিন কালদাহর উক্তি।
[আর সুফিদের উক্তির উদাহরণ হলো যা বর্ণিত হয়: "আমি একটি গোপন ভাণ্ডার ছিলাম, অতঃপর আমি পরিচিত হতে ভালোবাসলাম, তাই আমি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলাম, এরপর আমি তাদের কাছে নিজের পরিচয় দিলাম, ফলে তারা আমাকে চিনল।"]
আর ইসরাঈলি বর্ণনার উদাহরণ হলো: "আমার আকাশ বা আমার জমিন আমাকে ধারণ করতে পারে না, কিন্তু আমার মুমিন বান্দার অন্তর আমাকে ধারণ করে।" ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: এটি ইসরাঈলি বর্ণনা থেকে এসেছে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এর কোনো পরিচিত ভিত্তি নেই।
[অনুরূপভাবে যা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: "দুনিয়ার আয়ু সাত হাজার বছর", এটিও ইসরাঈলি বর্ণনা।
নবী, সাহাবী ও তাবিঈদের দিকে সৃষ্টির সূচনা, পুনরুত্থান, অতীত জাতিসমূহের সংবাদ, মহাজাগতিক বিষয়াবলী এবং নবীদের কিসসা সম্পর্কে অনেক ইসরাঈলি বর্ণনা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। আমি পরবর্তীতে এর অনেকগুলো উল্লেখ করব, যার কিছু কিছু দ্বীনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
রাসূলুল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করার বিধান:
সালাফ ও খালাফ উলামায়ে কেরামের অধিকাংশের মতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর মিথ্যারোপ করা কবিরা গুনাহ। যে ব্যক্তি এমনটি করবে সে কাফির হবে না, যদি না সে তাঁর উপর মিথ্যারোপ করাকে হালাল মনে করে। শাফিঈ মাযহাবের ইমামদের মধ্যে ইমামুল হারামাইনের পিতা ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি১ কঠোরতা অবলম্বন করে বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর মিথ্যারোপ করবে সে কাফির হয়ে যাবে।" তাঁর পুত্র ইমামুল হারামাইন তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি তাঁর সাথীদের কারো মধ্যে এটি দেখেননি এবং এটি তাঁর পিতার একটি পদস্খলন।
এবং ইমাম নাসেরুদ্দিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুনাইর এই বক্তব্যে জুওয়াইনির সাথে একমত হয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المالكي1 وغيره من الحنابلة، ووافقهم الإمام الذهبي في تعمد الكذب في الحلال والحرام، ولعل مما يشهد لهم قوله تعالى: {إِنَّمَا يَفْتَرِي الْكَذِبَ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِآياتِ اللَّه} 2 فقد نفت الآية الإيمان عمن يفتري الكذب على الله، والكذب على الرسول كذب على الله، قال تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} 3.
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن كذبا علي ليس ككذبٍ على أحد، فمن كذب عليَّ متعمدا فليتبوأ مقعده من النار" رواه البخاري ومسلم وغيرهما، وقد روى من طريق متكاثرة، حتى قال العلماء: إنه متواتر، ففي قوله: "إن كذبا علي ليس ككذب على أحد" ما يشعر بأن حكم الكذب عليه ليس كحكم الكذب على غيره، والكذب على غيره كبيرة، فيكون الكذب عليه أكثر من كبيرة، أو أكبر الكبائر.
وفي معنى الكذب على النبي صلى الله عليه وسلم الكذب على الصحابة والتابعين، ولا سيما فيما لا مجال للرأي فيه مما لا يعرف إلا من المشرع؛ لأن له حكم المرفوع إلى النبي كما نبه على ذلك أئمة الحديث4؛ وأيضا فبعض الفقهاء يعتبر قولهم حجة في التشريع، إلا أني لم أقف على من قال: إن الكذب عليهم كفر، وإنما الذي قال الجويني: إنما هو في الكذب على النبي صلى الله عليه وسلم:
ولا يدخل في الكذب الرواية بالمعنى؛ لأنها إنما أجازها العلماء لعارف بالألفاظ ومدلولاتها معرفة دقيقة عالم بالشريعة ومقاصدها خبير بما يغير المعاني ويفسرها، فهي لم تخرج عند التحقيق عن مدلول اللفظ الأصلي.
هل تقبل رواية من كذب في الحديث وإن تاب؟:
ولما للكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم من إفساد في الشريعة وإبطال في الدين: ذهب
--------------------------------------------
আল-মালিকি১ এবং হাম্বলিদের মধ্যে আরও অনেকে, এবং ইমাম আয-যাহাবি হালাল ও হারামের বিষয়ে ইচ্ছাকৃত মিথ্যারোপ করার ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত হয়েছেন। সম্ভবত তাদের স্বপক্ষে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সাক্ষ্য দেয়: "নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতে বিশ্বাস করে না, তারাই কেবল মিথ্যা উদ্ভাবন করে"২। এই আয়াতে যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করে তাদের ঈমানকে অস্বীকার করা হয়েছে, আর রাসূলের ওপর মিথ্যারোপ করা মানেই আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এটি কেবল ওহী, যা তার কাছে পাঠানো হয়"৩।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যারোপ করা অন্য কারও ওপর মিথ্যারোপ করার মতো নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এটি বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এটি বহু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, এমনকি উলামায়ে কেরাম বলেছেন যে এটি মুতাওয়াতির। তাঁর এই বাণীতে: "নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যারোপ করা অন্য কারও ওপর মিথ্যারোপ করার মতো নয়" এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে, তাঁর ওপর মিথ্যারোপ করার বিধান অন্যের ওপর মিথ্যারোপ করার বিধানের মতো নয়। অন্যের ওপর মিথ্যারোপ করা কবিরা গুনাহ, সুতরাং তাঁর ওপর মিথ্যারোপ করা কবিরা গুনাহর চেয়েও বড় অথবা সবচাইতে বড় কবিরা গুনাহ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর মিথ্যারোপের অর্থের মধ্যে সাহাবী এবং তাবিঈদের ওপর মিথ্যারোপও অন্তর্ভুক্ত, বিশেষ করে এমন বিষয়গুলোতে যেখানে ব্যক্তিগত মতের কোনো অবকাশ নেই এবং যা শরীয়ত প্রণেতা ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে জানা সম্ভব নয়; কারণ হাদিসের ইমামগণ যেমনটি সতর্ক করেছেন যে, এর বিধান নবী পর্যন্ত মারফু হওয়ার মতো৪। আবার কোনো কোনো ফকিহ তাদের বক্তব্যকে শরীয়তের দলিল হিসেবে গণ্য করেন। তবে আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি বলেছেন যে তাদের ওপর মিথ্যারোপ করা কুফরি; বরং ইমাম জুয়াইনি যা বলেছেন তা কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ করার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
মিথ্যার সংজ্ঞায় অর্থের মাধ্যমে বর্ণনা (রিওয়ায়াত বিল মা'না) অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ ওলামায়ে কেরাম একে কেবল এমন ব্যক্তির জন্য জায়েজ করেছেন যিনি শব্দ ও তার অর্থ সম্পর্কে সূক্ষ্ম জ্ঞান রাখেন, শরীয়ত ও তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত এবং শব্দ ও অর্থের পরিবর্তন ও ব্যাখ্যা সম্পর্কে অভিজ্ঞ। সূক্ষ্ম বিচারে এটি মূল শব্দের অর্থ থেকে বিচ্যুত নয়।
যে ব্যক্তি হাদিসে মিথ্যারোপ করেছে, সে তওবা করলেও কি তার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে?:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ করার কারণে শরীয়তের যে বিপর্যয় ও দ্বীনের যে ক্ষতি সাধিত হয়, সে কারণে মত দিয়েছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
جمهور المحدثين إلى أن من كذب في حديث واحد فسق، وردت روايته، وبطل الاحتجاج بها، وإن تاب وحسنت توبته، ومن هؤلاء الأئمة: أحمد بن حنبل، وأبو بكر الحميدي والصيرفي، والسمعاني1.
قال أبو بكر الصيرفي: "كل من أسقطنا خبره من أهل النقل بكذب وجدناه عليه لم نعد لقبوله لتوبة تظهر" وقال أبو المظفر السمعاني: "من كذب في خبر واحد وجب إسقاط ما تقدم من حديثه".
وخالف في ذلك الإمام النووي، فقال: والمختار القطع بصحة توبته في هذا، وقبول رواياته بعدها، إذا صحت توبته بشروطها2. والحق أن ما ذهب إليه النووي قوى من جهة الاستدلال، ولكن مذهب الجمهور أحوط للأحاديث، وأبعد من الريبة في الرواية، ومن ثم نرى: أن أئمة الحديث احتاطوا له غاية الاحتياط، فجزاهم الله عن الإسلام والمسلمين خيرا.
حكم رواية الموضوعات والإسرائيليات الباطلة:
قال العلماء سلفا وخلفا: لا يحل رواية الحديث الموضوع في أي باب من الأبواب، إلا مقترنا ببيان أنه موضوع مكذوب، سواء في ذلك ما يتعلق بالحلال والحرام، أو الفضائل، أو الترغيب والترهيب أو القصص والتواريخ3، ومن رواه من غير بيان وضعه فقد باء بالإثم العظيم، وحشر نفسه في عداد الكذابين، والأصل في ذلك: ما رواه الإمام مسلم في صحيحه، بسنده أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من حدث عني بحديث يرى أنه كذب، فهو أحد الكاذبين" 4 وفي حكم الموضوعات الإسرائيليات التي ألصقت بالنبي زورا، وكذبا عليه.
--------------------------------------------
অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মত হলো, যে ব্যক্তি একটি মাত্র হাদিসে মিথ্যা বলেছে সে ফাসেক হয়ে যাবে, তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং তা দ্বারা দলিল গ্রহণ বাতিল হয়ে যাবে, যদিও সে তাওবাহ করে এবং তার তাওবাহ উত্তম হয়। এই ইমামগণের মধ্যে রয়েছেন: আহমাদ বিন হাম্বল, আবু বকর আল-হুমাইদি, আস-সাইরাফি এবং আস-সামআনি১।
আবু বকর আস-সাইরাফি বলেছেন: "বর্ণনাকারীদের মধ্যে যাদের সংবাদ আমরা তাদের কোনো মিথ্যার কারণে বর্জন করেছি, তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য কোনো তাওবাহ দেখা গেলেও আমরা পুনরায় তা গ্রহণ করব না।" এবং আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি একটি সংবাদে মিথ্যা বলেছে, তার পূর্ববর্তী সকল হাদিস বর্জন করা ওয়াজিব।"
ইমাম নববী এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তিনি বলেছেন: "এক্ষেত্রে মনোনীত মত হলো তার তাওবাহর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া এবং এর পরবর্তী বর্ণনাগুলো গ্রহণ করা, যদি তার তাওবাহ শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধ হয়।"২ সত্য হলো, ইমাম নববী যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা দলিলের দিক থেকে শক্তিশালী, কিন্তু অধিকাংশের (জমহুর) মাযহাব হাদিসের সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতামূলক এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে সন্দেহ থেকে অধিকতর মুক্ত। আর একারণেই আমরা দেখি যে, হাদিসের ইমামগণ এ বিষয়ে চরম সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
জাল হাদিস এবং বাতিল ইসরাঈলি বর্ণনা প্রচারের বিধান:
পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আলেমগণ বলেছেন: কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রেই জাল হাদিস বর্ণনা করা বৈধ নয়, যদি না এটি জাল ও মিথ্যা হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়; চাই তা হালাল-হারাম সংক্রান্ত হোক, অথবা ফযিলত, উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন (তারগিব ও তারহিব), কিংবা কিচ্ছা-কাহিনী ও ইতিহাস সংক্রান্ত হোক৩। যে ব্যক্তি এর জাল হওয়ার বর্ণনা ছাড়াই এটি বর্ণনা করবে, সে মহাপাপে লিপ্ত হবে এবং নিজেকে মিথ্যাবাদীদের কাতারে শামিল করবে। এর মূল ভিত্তি হলো যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে স্বীয় সনদে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যা সে মিথ্যা বলে মনে করে, তবে সে মিথ্যাবাদীদের একজন।"৪ আর জাল হাদিসের বিধান সেইসব ইসরাঈলি বর্ণনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে যা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নবিজির ওপর আরোপ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تحذير من يروي الموضوع المكذوب:
وقد حكم كثير من علماء الحديث وأئمته على من روى حديثا موضوعا من غير تنبيه إلى وضعه وتحذير الناس منه بالتعزير والتأديب، قال أبو العباس السراج: شهدت محمد بن إسماعيل البخاري، ودفع إليه كتاب من ابن كرام يسأله عن أحاديث، منها حديث الزهري عن سالم عن أبيه1 مرفوعا: "الإيمان لا يزيد ولا ينقص" فكتب محمد بن إسماعيل على ظهر كتابه: "من حدث بهذا استوجب الضرب الشديد، والحبس الطويل".
بل بالغ بعضهم، فأحل دمه، قال يحيى بن معين -وهو من كبار أئمة الجرح والتعديل- لما ذكر له حديث سويد الأنباري: "من عشق، وعف، وكتم، ثم مات مات شهيدا.
قال: هو حلال الدم2!!
وقد سئل الإمام ابن حجر الهيثمي عن خطيب يرقى المنبر كل جمعة، ويروي أحاديث، ولم يبين مخرجيها ودرجتها فقال: ما ذكره من الأحاديث في خطبه من غير أن يبين رواتها، أو من ذكرها فجائز، بشرط أن يكون من أهل المعرفة بالحديث، أو ينقلها من مؤلفٍ صاحبُه كذلك.
وأما الاعتماد في رواية الأحاديث على مجرد رؤيتها في كتاب ليس مؤلفه من أهل الحديث، أو في خطب ليس مؤلفها كذلك، فلا يحل؛ ومن فعل عزر عليه التعزير الشديد، وهذا حال أكثر الخطباء؛ فإنهم بمجرد رؤيتهم خطبة فيها أحاديث حفظوها، وخطبوا بها من غير أن يعرفوا أن لتلك الأحاديث أصلا أم لا، فيجب على حكام كل بلد أن يزجروا خطباءها عن ذلك.
--------------------------------------------
জাল বা বানোয়াট হাদীস বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে সতর্কতা:
অনেক হাদীস বিশারদ ও এ শাস্ত্রের ইমামগণ এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও শাসন করার ফয়সালা দিয়েছেন, যে ব্যক্তি কোনো বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করে অথচ তার বানোয়াট হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংকেত দেয় না এবং মানুষকে এ থেকে সতর্ক করে না। আবু আব্বাস আস-সাররাজ বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীকে লক্ষ্য করেছি, ইবনে কাররামের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে একটি কিতাব পাঠানো হয়েছিল যেখানে কিছু হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল যুহরী সূত্রে সালিমের তাঁর পিতা১ থেকে বর্ণিত মারফু হাদীস: "ঈমান বৃদ্ধিও পায় না এবং হ্রাসও পায় না।" মুহাম্মদ বিন ইসমাইল সেই কিতাবের পেছনে লিখেছিলেন: "যে ব্যক্তি এটি বর্ণনা করবে, সে কঠোর প্রহার এবং দীর্ঘ কারাবাসের যোগ্য।"
এমনকি তাদের কেউ কেউ বিষয়টি এতটাই গুরুতর মনে করেছেন যে, তার রক্ত হালাল বলে ঘোষণা করেছেন। জারহ ওয়া তা'দীল শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাঈনের নিকট যখন সুওয়াইদ আল-আনবারীর বর্ণিত এই হাদীসটি উল্লেখ করা হলো: "যে ব্যক্তি প্রেমে পড়ল, অতঃপর পবিত্র থাকল এবং তা গোপন রাখল, তারপর সে মারা গেল, তবে সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করল।"
তিনি বললেন: সে রক্ত হালাল করার যোগ্য২!!
ইমাম ইবনে হাজার আল-হাইতামীকে এমন একজন খতিব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যিনি প্রতি জুমায় মিম্বারে আরোহণ করেন এবং হাদীস বর্ণনা করেন, অথচ সেগুলোর উৎস ও মান স্পষ্ট করেন না। তিনি উত্তরে বলেন: খুতবার মধ্যে হাদীসের বর্ণনাকারী বা সূত্রের উল্লেখ না করে বর্ণনা করা জায়েজ, তবে শর্ত হলো বক্তাকে হাদীস শাস্ত্রের অভিজ্ঞ হতে হবে, অথবা তিনি এমন কোনো লেখকের কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দেবেন যিনি হাদীস শাস্ত্রে বিজ্ঞ।
কিন্তু কেবল এমন কোনো কিতাবে দেখার ওপর ভিত্তি করে হাদীস বর্ণনা করা যার লেখক হাদীস বিশারদ নন, অথবা এমন কোনো খুতবার সংকলন থেকে বলা যার লেখক হাদীস বিশেষজ্ঞ নন, তা বৈধ নয়। যে এমনটি করবে তাকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। অথচ অধিকাংশ খতিবের অবস্থা এমনই; তারা কোনো খুতবার বইয়ে হাদীস দেখলেই তা মুখস্থ করে নেয় এবং খুতবা দেয়, অথচ তারা জানেও না যে ওইসব হাদীসের কোনো ভিত্তি আছে কি না। তাই প্রত্যেক ভূখণ্ডের শাসকদের উচিত তাদের খতিবদের এ কাজ থেকে কঠোরভাবে বারণ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ما أشبه الليلة بالبارحة:
أقول: لا يزال بعض الخطباء، ومقيمي الشعائر الدينية الذين ليس له علم بالحديث رواية ودراية، ولا سيما من لم يتأهلوا التأهل اللازم لمن يتولى الإمامة والخطابة، والذين لا يزالون يخطبون من الدواوين، أو يعتمدون في خطبهم على الكتب التي لا يُعتمد عليها في معرفة الأحاديث والتمييز بين صحيحها، وضعيفها، وموضوعها، والذين جعلوا غايتهم استرضاء الجماهير، فيذكرون لهم أحاديث في الترغيب والترهيب، وحكايات وقصصا مثيرة عجيبة، أغلب الظن أنها من وضع القصاص، وجهلة الزهاد الذين استجابوا ذلك، وكان جل هممهم تملق الجماهير، واستمالتهم بذكر المبالغات، والتهاويل والعجائب، والغرائب وما أجدر هذه الفئة بأن يحال بينها وبين الخطابة، والوعظ، والتذكير، حتى لا يسمموا أفكار الناس ويفسخوا القيم الدينية والخلقية الصحيحة، وتكون حجة على الإسلام لا حجة له، وأحب أن أقول لهؤلاء وأمثالهم: إن في الأحاديث الصحاح والحسان، والقصص الثابت الصحيح غنية عن الأحاديث الموضوعة أو الضعيفة والقصص، وجهلة الزهاد الذين استباحوا ذلك، وكان جل همهم تملق الجماهير، واستمالتهم بذكر المبالغات، والتهاويل والعجائب، والغرائب وما أجدر هذه الفئة بأن يحال بيها وبين الخطابة، والوعظ، والتذكير، حتى لا يسموا أفكار الناس ويفسخوا القيم الدينية والخلقية الصحيحة، وتكون حجة على الإسلام لا حجة له، وأحب أن أقول لهؤلاء وأمثالهم: إن في الأحاديث الصحاح والحسان، والقصص الثابت الصحيح غنية عن الأحاديث الموضوعة أو الضعيفة والقصص المكذوب لمن يريد أن يرقق القلوب ويستولي على النفوس، فليتق الله هؤلاء في الناس، وفي أنفسهم.
ومن الحق في هذا المقام أن أقول أيضا: إن الكثيرين من المدرسين الأزهريين والوعاظ، والمرشدين، والدعاة إلى الله، والأئمة والخطباء المؤهلين تأهيلا علميا سليما، في الأزهر، وجامعته والجامعات الإسلامية الأخرى لهم من علمهم، ووعيهم الديني والثقافي وسعة اطِّلاعهم ما يعصمهم من الوقوع في رواية الموضوعات والقصص الباطلة، والإسرائيليات الزائفة، وتحري الصدق والحق في رواية الأحاديث، وذكر الأقاصيص، وأخذهم أنفسهم بالرجوع في ذلك إلى كتب العلماء الثقات الحفاظ للحديث، أو الذين لهم علم به ودراية، وهو أثر من آثار النهضة العلمية الحديثة من يوم أن أنشئت الدراسات العليا التخصصية في كليات الجامع الأزهر الشريف، عمره الله بالعلم والعلماء.
فقد كان من شعب هذه الدراسات: "شعبة التفسير والحديث" منذ ما يقرب من نصف قرن، وقد أتى على هذه الشعب حين من الدهر كان الطلاب فيها يستوعبون كل ما كتب وأُلِّفَ في العلم الذي تخصصوا فيه، وكذلك كان هناك تخصص في "الدعوة
গতকালকের সাথে আজকের রাতের কী গভীর মিল!
আমি বলছি: অনেক খতিব এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী, যাদের হাদিসের বর্ণনা (রিওয়ায়াত) এবং গবেষণা (দিরায়াত) সংক্রান্ত কোনো জ্ঞান নেই, বিশেষ করে যারা ইমামত ও খুতবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেননি, তারা এখনো বিদ্যমান। তারা এখনো বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য সংকলন থেকে খুতবা প্রদান করেন, অথবা তাদের খুতবায় এমন সব কিতাবের ওপর নির্ভর করেন যা হাদিস চেনা এবং সহিহ, যইফ ও জাল (মাওজু) হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। তারা জনসাধারণের সন্তুষ্টি অর্জনকেই নিজেদের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছেন, ফলে তারা মানুষের সামনে তারগিব ও তারহিব (উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন) বিষয়ক এমন সব হাদিস এবং উত্তেজনাপূর্ণ ও বিস্ময়কর কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনা করেন, যা সম্ভবত গল্পকার ও মূর্খ সংসারবিরাগীদের (জুহহাদ) তৈরি করা। তারা এতে সাড়া দিয়েছে এবং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল জনসাধারণের তোষামোদ করা এবং অতিরঞ্জন, বিভীষিকা ও অদ্ভুত সব কাহিনীর মাধ্যমে তাদের মন জয় করা। এই শ্রেণীটিকে খুতবা, ওয়াজ ও নসিহত থেকে বিরত রাখা কতটা জরুরি, যাতে তারা মানুষের চিন্তাধারাকে বিষাক্ত করতে না পারে এবং সঠিক ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকে নষ্ট না করে; অন্যথায় তারা ইসলামের পক্ষে প্রমাণ হওয়ার পরিবর্তে ইসলামের বিপক্ষেই প্রমাণ হয়ে দাঁড়াবে। আমি এদের এবং এদের সমমনাদের বলতে চাই: যারা মানুষের অন্তর নরম করতে এবং তাদের হৃদয় জয় করতে চান, তাদের জন্য সহিহ ও হাসান হাদিস এবং প্রমাণিত সত্য কাহিনীগুলোই জাল ও যইফ হাদিস এবং কিচ্ছা-কাহিনীর পরিবর্তে যথেষ্ট। আর সেই মূর্খ সংসারবিরাগীরা যারা একে বৈধ করে নিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল জনসাধারণের তোষামোদ করা এবং অতিরঞ্জন, বিভীষিকা ও অদ্ভুত সব কাহিনীর মাধ্যমে তাদের মন জয় করা। এই শ্রেণীটিকে খুতবা, ওয়াজ ও নসিহত থেকে বিরত রাখা কতটা জরুরি, যাতে তারা মানুষের চিন্তাধারাকে বিষাক্ত করতে না পারে এবং সঠিক ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকে নষ্ট না করে; অন্যথায় তারা ইসলামের পক্ষে প্রমাণ হওয়ার পরিবর্তে ইসলামের বিপক্ষেই প্রমাণ হয়ে দাঁড়াবে। আমি এদের এবং এদের সমমনাদের বলতে চাই: যারা মানুষের অন্তর নরম করতে এবং তাদের হৃদয় জয় করতে চান, তাদের জন্য সহিহ ও হাসান হাদিস এবং প্রমাণিত সত্য কাহিনীগুলোই জাল বা যইফ হাদিস এবং মিথ্যা কিচ্ছা-কাহিনীর পরিবর্তে যথেষ্ট; তাই এই লোকদের উচিত মানুষ এবং নিজেদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা।
এই পর্যায়ে এটি বলাও ন্যায়সঙ্গত হবে যে: আল-আজহার, তার বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক আজহারি শিক্ষক, ওয়ায়েজ, পথপ্রদর্শক, আল্লাহর পথে আহ্বানকারী দাঈ এবং সঠিকভাবে ইলমি যোগ্যতা সম্পন্ন ইমাম ও খতিবদের মধ্যে এমন জ্ঞান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং গভীর পড়াশোনা রয়েছে যা তাদের জাল হাদিস, বাতিল কিচ্ছা-কাহিনী এবং মিথ্যা ইসরাঈলি বর্ণনা প্রদান করা থেকে রক্ষা করে। তারা হাদিস বর্ণনা ও কাহিনী উল্লেখের ক্ষেত্রে সত্যতা ও হকের অনুসন্ধান করেন এবং এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও হাদিস মুখস্থকারী (হাফিজ) আলেমদের কিতাবের শরণাপন্ন হন, অথবা তাদের কাছে যান যাদের এ বিষয়ে গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা রয়েছে। আর এটি আধুনিক জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণেরই একটি প্রভাব, যা শরিফ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদগুলোতে বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে সূচিত হয়েছে। আল্লাহ এই প্রতিষ্ঠানকে ইলম ও আলেমদের দ্বারা আবাদ রাখুন।
প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে থেকে এই উচ্চশিক্ষার একটি বিভাগ ছিল "তাফসির ও হাদিস বিভাগ"। এই বিভাগের ওপর দিয়ে এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন শিক্ষার্থীরা তাদের বিশেষায়িত বিষয়ের ওপর লেখা ও সংকলিত সবকিছু আয়ত্ত করত। একইভাবে "দাওয়াহ" বিভাগেও বিশেষায়িত শিক্ষা ছিল...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২০)
والإرشاد"، ويا ليت هذه التخصصات تعود كما كانت؛ مناهج، ودراسة.
وكذلك كان من أسباب هذه النهضة الحديثة: إنشاء دور "للحديث في مصر، وفي الحجاز وغيرهما من الأقطار الإسلامية شرقا وغربا، وظهور علماء في كل قطر إسلامي أحبوا دراسة الحديث وعلومه" وإنا لنرجو أن يعود للحديث وعلومه سيرته الأولى، ومجده الغابر فاللهُمَّ حقق.
متى نشأ الوضع في الحديث؟:
كان من أثر اتساع رقعة الإسلام: دخول كثير من أبناء الأمم المغلوبة فيه ومنهم الفارسي، ومنهم الرومي، ومنهم المصري، ومنهم المخلص للإسلام، ومنهم المنافق الذي يكن في نفسه الحقد على الإسلام ويتظاهر بحبه، ومنهم الزنديق الذي يسعى بشتى الوسائل لإفساده وتشكيك الناس فيه، ومنهم اليهودي الذي لا يزال مشدودا إلى يهوديته، ومنهم النصراني الذي لا يزال يحن إلى نصرانيته.
وقد انتهز أعداء الإسلام من المنافقين، والزنادقة، واليهود سماحة السيد الحيي: عثمان بن عفان رضي الله عنه ودماثة خلقه، فبذروا البذور الأولى للفتنة، فكان ابن سبأ اليهودي الخبيث يطوف في الأقاليم، ويولب عليه الناس، وقد أخفى هذه السموم التي كان ينفثها تحت ستار التشيع، وحب سيدنا علي، وآل البيت الكرام، فصار يزعم أن عليا رضي الله عنه هو وصي النبي، والأحق بالخلافة حتى من أبي بكر، وعمر رضي الله عنهما ووضع على النبي صلى الله عليه وسلم حديثا: "لكل نبي وصي، ووصيِّي عليٌّ". لم يقف الأمر عند حد هذه الدعوة، بل ادعى ألوهيته، وقد طارده سيدنا عثمان، فهرب، فلما كان عهد سيدنا علي طارده وأحل دمه، فما كان ليرضى بهذه الدعوات الخبيثة التي يشنها هذا المغيظ المحنق على الإسلام والمسلمين.
ومما يؤسف له أن دعوته وجدت آذانا صاغية من بعض الأمة وبخاصة أهل مصر، وقد نجح هذا اليهودي الماكر في إثارة الفتة التي أطاحت برأس الخليفة الثالث: عثمان رضي الله عنه، وما إن تولى الخلافة سيدنا علي حتى وجد التركة مثقلة بالخلافات، فقد ناصبه أنصار عثمان العداوة من أول يوم، واستفحلت الفتنة، ووقعت حروب طاحنة، فني فيها كثيرون من خيرة المسلمين، وظهرت طائفة أخرى وهم الخوارج الذين لم يرتضوا
এবং দিকনির্দেশনা (ইরশাদ)", আর আফসোস! যদি এই বিশেষত্বগুলো আগের মতো পাঠ্যক্রম ও অধ্যয়ন হিসেবে ফিরে আসত।
অনুরূপভাবে, এই আধুনিক জাগরণের অন্যতম কারণ ছিল: মিসর, হিজাজ এবং পূর্ব ও পশ্চিমের অন্যান্য ইসলামি দেশগুলোতে "হাদিস কেন্দ্র" (দারুল হাদিস) প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রতিটি ইসলামি ভূখণ্ডে এমন আলেমদের উদ্ভব ঘটা যারা হাদিস ও এর শাস্ত্রসমূহ (উলুম) অধ্যয়ন করতে ভালোবেসেছিলেন। আমরা আশা করি যে হাদিস ও হাদিসশাস্ত্রের জন্য তার আদি পথ এবং অতীত গৌরব ফিরে আসবে। হে আল্লাহ! আপনি কবুল করুন।
হাদিসে জালিয়াতি (ওয়াদ’) কখন শুরু হয়েছিল?:
ইসলামের সীমানা বিস্তারের অন্যতম প্রভাব ছিল: বিজিত জাতিগুলোর অনেক লোকের ইসলামে প্রবেশ করা। তাদের মধ্যে পারস্যদেশীয় ছিল, রোমান ছিল, মিসরীয় ছিল। তাদের মধ্যে কেউ ছিল ইসলামের প্রতি একনিষ্ঠ, আবার কেউ ছিল মুনাফিক—যে অন্তরে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করত কিন্তু মুখে ভালোবাসার ভান করত। তাদের মধ্যে ছিল জিন্দিক (ধর্মত্যাগী), যারা বিভিন্ন উপায়ে ইসলামকে কলুষিত করতে এবং মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করতে সচেষ্ট ছিল। তাদের মধ্যে ইহুদিও ছিল যারা তখনও তাদের ইহুদিবাদের সাথে যুক্ত ছিল এবং খ্রিস্টানও ছিল যারা তখনও তাদের খ্রিস্টধর্মের প্রতি টান অনুভব করত।
ইসলামের শত্রু মুনাফিক, জিন্দিক এবং ইহুদিরা মহান ও লজ্জাশীল নেতা উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উদারতা এবং তাঁর কোমল চরিত্রের সুযোগ গ্রহণ করেছিল। ফলে তারা ফিতনার প্রথম বীজ বপন করে। তখন খবিস ইহুদি ইবনে সাবা বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াত এবং তাঁর বিরুদ্ধে জনগণকে উস্কানি দিত। সে তার ছড়ানো বিষগুলোকে শিয়াত (শিয়া মতবাদ) এবং আমাদের নেতা আলি ও সম্মানিত আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার আড়ালে লুকিয়ে রাখত। সে দাবি করতে লাগল যে, আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হলেন নবীর 'ওয়াসি' (স্থলাভিষিক্ত), এবং তিনি আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর চেয়েও খিলাফতের বেশি হকদার। সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে একটি হাদিস জাল করল: "প্রত্যেক নবীর একজন ওয়াসি থাকে, আর আমার ওয়াসি হলো আলি।" বিষয়টি শুধু এই প্রচারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সে তাঁর (আলি রা.-এর) উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার দাবিও করল। আমাদের নেতা উসমান তাঁকে তাড়া করেছিলেন, ফলে সে পালিয়ে যায়। এরপর যখন আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগ এল, তখন তিনিও তাঁকে তাড়া করলেন এবং তাঁর রক্ত হালাল ঘোষণা করলেন। ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণকারী এই ব্যক্তির এই জঘন্য কর্মকাণ্ডকে তিনি কখনোই মেনে নেওয়ার মতো ছিলেন না।
দুঃখের বিষয় হলো যে, উম্মাহর একটি অংশের কাছে, বিশেষ করে মিসরীয়দের কাছে তার এই আহ্বান কান পাতবার মতো জায়গা পেয়ে গিয়েছিল। এই ধূর্ত ইহুদি সেই ফিতনা উস্কে দিতে সফল হয়েছিল যা তৃতীয় খলিফা উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাতের কারণ হয়েছিল। আমাদের নেতা আলি যখন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখনই তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে মতভেদে ভারাক্রান্ত এক অবস্থা পেলেন। উসমান (রা.)-এর সমর্থকরা প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে শত্রুতা শুরু করেছিল, ফিতনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যাতে অনেক উত্তম মুসলিম প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর ফলে আরেকটি দলের উদ্ভব ঘটে, যারা হলো 'খারিজি', যারা সন্তুষ্ট ছিল না...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২১)
التحكيم بين على، ومعاوية، وكانت النهاية؛ أن أطاحت الفتنة ركنا آخر من أركان الإسلام، وهو الخليفة الرابع، وأضحت الأمة الإسلامية في فرقة واختلاف، ودب إليها داء الأمم قبلها، وتمخضت الفتنة عن شيعة1 ينتصرون لسيدنا علي، وعثمانية ينتصرون لسيدنا عثمان، وخوارج2 يعادون الشيعة وغيرهم، ومروانية ينتصرون لمعاوية وبني أمية، وقد استباح بعض هؤلاء لأنفسهم أن يؤيدوا أهواءهم ومذاهبهم بما يقويها، وليس ذلك إلا في الحديث بأنواعه من أحكام، وتفسير، وسير، وغيرها.
وكان ذلك حوالي سنة أربعين للهجرة، وما زالت حركة الوضع تسير، وتتضخم حتى دخل بسببها على الحديث بلاء غير قليل، وهذا العصر هو ما يعرف بعصر صغار الصحابة وكبار التابعين.
روى الإمام مسلم في مقدمة صحيحه بسنده عن طاوس، قال: "جاء هذا إلى ابن عباس -يعني بشير بن كعب- فجعل يحدثه، فقال له ابن عباس: عد لحديث كذا، وكذا. فعاد له، ثم حدثه فقال له: عد لحديث كذا وكذا، فعاد له، فقال له: لا أدري أعرفت حديثي كله وأنكرت هذا، أم أنكرت حديثي كله، وعرفت هذا، فقال له ابن عباس: إن كنا نحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا لم يكن يكذب عليه، فلما ركب الناس الصعب والذلول تركنا الحديث عنه".
وابن عباس توفي سنة ثمان وستين للهجرة.
وروى بسنده عن مجاهد، قال: "جاء بشير العدوي إلى ابن عباس، فجعل يحدِّث، ويقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجعل ابن عباس لا يأذن3 لحديثه، ولا ينظر إليه، فقال: يابن عباس: ما لي أراك تسمع لحديثي أحدثك عن رسول الله
--------------------------------------------
আলী এবং মুয়াবিয়ার মধ্যে সালিশি ব্যবস্থা, যার শেষ পরিণতি ছিল এই যে, ফিতনা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ চতুর্থ খলিফাকে ভূপাতিত করল এবং মুসলিম উম্মাহ বিভক্তি ও মতভেদে নিপতিত হলো। তাদের মধ্যে পূর্ববর্তী উম্মতদের ব্যাধি সংক্রমিত হলো। এই ফিতনা থেকে শিয়া১—যারা আমাদের নেতা আলীর পক্ষাবলম্বন করে, উসমানিয়া—যারা আমাদের নেতা উসমানের পক্ষাবলম্বন করে, খারিজি২—যারা শিয়া ও অন্যদের সাথে শত্রুতা করে এবং মারওয়ানিয়া—যারা মুয়াবিয়া ও বনু উমাইয়ার পক্ষাবলম্বন করে, তাদের জন্ম হলো। এদের কেউ কেউ হাদীসের বিভিন্ন প্রকার যেমন—আহকাম, তাফসীর, সীরাত ইত্যাদির মাধ্যমে নিজেদের খেয়ালখুশি ও মাযহাবকে শক্তিশালী করার সুযোগ গ্রহণ করল।
আর এটি ছিল হিজরি চল্লিশ সালের কাছাকাছি সময়ের ঘটনা। হাদীস জাল করার এই ধারা অব্যাহত থাকে এবং বাড়তে থাকে, যার ফলে হাদীসের ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। এই যুগটিই 'ছোট সাহাবী ও বড় তাবিঈদের যুগ' হিসেবে পরিচিত।
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ্ গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় (উপক্রমণিকা) তাঁর সনদসহ তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এই ব্যক্তি অর্থাৎ বশীর বিন কাব ইবনে আব্বাসের নিকট এসে হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করলে ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: অমুক অমুক হাদীসটি পুনরায় বলো। সে তা পুনরায় বলল। তারপর সে আবার হাদীস বর্ণনা করলে ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: অমুক অমুক হাদীসটি পুনরায় বলো। সে তা পুনরায় বলল। তখন সে বলল: আমি জানি না আপনি কি আমার সব হাদীস চিনেছেন আর এটি অস্বীকার করেছেন, নাকি আমার সব হাদীস অস্বীকার করেছেন আর এটি চিনেছেন? তখন ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: আমরা এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা করতাম যখন তাঁর ওপর মিথ্যাচার করা হতো না। কিন্তু যখন মানুষ বাছবিচারহীনভাবে সত্য-মিথ্যা সব কিছু গ্রহণ করা শুরু করল, তখন আমরা তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করা ছেড়ে দিলাম।"
ইবনে আব্বাস হিজরি আটষট্টি সনে ইন্তেকাল করেন।
তিনি তাঁর সনদসহ মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "বশীর আল-আদাবী ইবনে আব্বাসের নিকট এসে হাদীস বর্ণনা করতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কিন্তু ইবনে আব্বাস তাঁর হাদীসে কান দিচ্ছিলেন না৩ এবং তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেনও না। তখন বশীর বললেন: হে ইবনে আব্বাস! কী ব্যাপার, আমি দেখছি আপনি আমার হাদীস শুনছেন না? আমি আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করছি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২২)
صلى الله عليه وسلم- ولا تسمع، فقال ابن عباس: إنا كنا مرة إذا سمعنا رجلا يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ابتدرته أبصارنا، وأصغينا إليه بآذاننا، فلما ركب الناس الصعب والذلول لم نأخذ من الناس إلا ما نعرف".
وروى بسنده عن طاوس، قال: "أتي ابن عباس بكتاب فيه قضاء علي رضي الله عنه، فمحاه إلا قدر"1 وأشار سفيان بن عيينة بذراعه، وروى بسنده عن أبي إسحاق قال: "لما أحدثوا تلك الأشياء بعد علي رضي الله عنه قال رجل من أصحاب علي: قاتلهم الله، أي علم أفسدوا" قال الإمام النووي: أشار بذلك إلى ما أدخلته الروافض، والشيعة في علم علي رضي الله عنه وحديثه، وتقولوه عليه من الأباطيل وأضافوه إليه من الروايات، والأقاويل المفتعلة، والمختلقة2.
وذكر الإمام الذهبي في "التذكرة": عن خزيمة بن نصر، قال: "سمعت عليا بصفين يقول: قاتلهم الله، أي عصابة بيضاء سودوا وأي حديث من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم أفسدوا"3
وروى الإمام مسلم بسنده، عن سفيان بن عيينة، قال: سمعت رجلا سأل جابرا4 عن قوله عز وجل: {فَلَنْ أَبْرَحَ الْأَرْضَ حَتَّى يَأْذَنَ لِي أَبِي أَوْ يَحْكُمَ اللَّهُ لِي وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِينَ} فقال جابر: لم يجئ تأويل هذه!! قال سفيان: وكذب، فقلنا لسفيان: وما أراد بهذا؟ فقال: إن الرافضة تقول: إن عليًّا في السحاب، فلا نخرج مع من خرج من ولده، حتى ينادي منادٍ من السماء -يريد عليا أنه ينادي: اخرجوا مع فلان.
يقول جابر: فهذا تأويل هذه الآية، وكذب، كانت في إخوة يوسف صلى الله عليه وسلم5 وهذا لون من ألوان الدس، والوضع في التفسير، وسيأتي من ذلك أمثلة لا تحصى.
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম—এবং আপনি শুনছেন না। অতঃপর ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আমরা একসময় এমন ছিলাম যে, যখনই কাউকে বলতে শুনতাম যে 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন', তখনই আমাদের চোখগুলো তার দিকে দ্রুত ধাবিত হতো এবং আমরা কান পেতে তার কথা শুনতাম। কিন্তু যখন মানুষ সঠিক-বেঠিক সব পথে চলতে শুরু করল, তখন আমরা মানুষের কাছ থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করি যা আমরা চিনি।"
এবং তিনি তাঁর সনদে তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইবনে আব্বাসের কাছে এমন একটি কিতাব নিয়ে আসা হয়েছিল যাতে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফয়সালাসমূহ ছিল। তখন তিনি কেবল এক হাত পরিমাণ জায়গা রেখে বাকি সব মুছে ফেললেন।" সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা তাঁর বাহু দিয়ে সেটির পরিমাপ ইশারা করলেন। এবং তিনি তাঁর সনদে আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পর তারা যখন সেই সব নতুন বিষয় উদ্ভাবন করল, তখন আলীর সাথীদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি বললেন: 'আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কোন ইলমকে নষ্ট করে দিল!'" ইমাম নববী বলেছেন: এর মাধ্যমে তিনি রাফেযী ও শিয়াদের সেই সব অনুপ্রবেশের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা তারা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইলম ও হাদিসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে, এবং তারা তাঁর নামে যেসব মিথ্যা রটনা করেছে এবং তাঁর দিকে যেসব বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বর্ণনা ও উক্তি সম্পৃক্ত করেছে।
ইমাম যাহাবী 'আত-তাযকিরাহ'-তে খুযাইমাহ ইবনে নাসর থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "আমি সিফফিনের যুদ্ধে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: 'আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কতই না উজ্জ্বল একটি দলকে কলঙ্কিত করেছে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসসমূহের মধ্য থেকে কোন ইলমকে তারা নষ্ট করে দিয়েছে!'"
ইমাম মুসলিম তাঁর সনদে সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তিকে জাবিরকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুনেছি: {কাজেই আমি কক্ষনো এই ভূখণ্ড ত্যাগ করব না যতক্ষণ না আমার পিতা আমাকে অনুমতি দেন অথবা আল্লাহ আমার ব্যাপারে কোনো ফয়সালা করেন; আর তিনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।} তখন জাবির বলল: "এর ব্যাখ্যা এখনো আসেনি!" সুফিয়ান বললেন: "সে মিথ্যা বলেছে।" আমরা সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম: "সে এর দ্বারা কী বুঝাতে চেয়েছে?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই রাফেযীরা বলে যে, আলী মেঘমালার মধ্যে আছেন, তাই তাঁর সন্তানদের মধ্য থেকে যারা বিদ্রোহ করবে আমরা তাদের সাথে বের হব না, যতক্ষণ না আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী ডাক দেবেন—সে আলীর দিকে ইশারা করে যে তিনি ডাক দেবেন: 'অমুকের সাথে বের হও'।"
জাবির বলছে: "এটিই হলো এই আয়াতের ব্যাখ্যা।" অথচ সে মিথ্যা বলেছে; এটি ছিল ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর ভাইদের ব্যাপারে। এটি হলো তাফসিরের ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ ও জালিয়াতির একটি ধরণ, এবং সামনে এর অসংখ্য উদাহরণ আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وروى بسنده عن ابن سيرين1 قال: "لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة قالوا: سموا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة، فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم" وروى بسنده عن ابن المبارك قال: "بيننا وبين القوم القوائم"، يعني الإسناد2.
قال الإمام النووي: ومعنى هذا الكلام: إن جاء بإسناد صحيح قبلنا حديثه، وإلا تركناه، فجعل الحديث كالحيوان؛ لا يقوم بغير إسناد، كما لا يقوم الحيوان بغير قوائم. إلى غير ذلك من الروايات التي تدل على ظهور الوضع بعد عصر الفتنة، وأن كبار أئمة الحديث والجرح والتعديل كانوا للحركة بالمرصاد.
عرض سريع لحركة الوضع:
في عصر التابعين ومن جاء بعدهم ضعفت الخاصية التي كانت في العصر الأول وهي: التثبت والتحري في الحديث، فكثرت الرواية وانتشر الحديث، وفشا الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم وبعض صحابته، وبعد أن كان الخلفاء الراشدون المهديون يدعون إلى التحوط، والتثبت في المرويات، أضحى الأمراء والخلفاء في شغل عن ذلك بالملك والسياسة.
وقد اشتدت الخصومة بين الأحزاب السياسية، وجاءت الدولة العباسية فتقرب إليها ضعفاء الإيمان بالاختلاق في فضائلها، والحط من شأن أعدائها، بل بلغ من بعضهم أنه كان يضع الأحاديث، أو يتزيد فيها، إرضاء لما يهوى بعض الخلفاء، وذلك كما حدث من أبي البختري الكذاب: فقد دخل وهو قاضٍ على الرشيد، وهو يطير الحمام، فقال له: هل تحفظ في هذا شيئا، فروى حديثا: "أن النبي كان يطير الحمام"، وقد أدرك الرشيد كذبه، وزجره، وقال: لولا أنك من قريش لعزلتك3!! وكما حدث من
--------------------------------------------
ইবনে সিরিন১ থেকে তাঁর সনদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "তাঁরা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা সংঘটিত হলো, তখন তাঁরা বললেন: আমাদের সামনে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম প্রকাশ করো। অতঃপর আহলুস সুন্নাহর দিকে দৃষ্টি দেওয়া হতো এবং তাঁদের হাদীস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হতো এবং তাঁদের হাদীস গ্রহণ করা হতো না।" তিনি ইবনুল মুবারক থেকে তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমাদের ও সেই সম্প্রদায়ের মাঝে পা-সমূহ (পার্থক্যকারী)", অর্থাৎ সনদ২।
ইমাম নববী বলেন: এই বক্তব্যের অর্থ হলো: যদি সহীহ সনদে বর্ণিত হয় তবে আমরা তাঁর হাদীস গ্রহণ করি, অন্যথায় আমরা তা বর্জন করি। তিনি হাদীসকে চতুষ্পদ প্রাণীর সমতুল্য করেছেন; যা সনদ ব্যতীত দাঁড়াতে পারে না, যেমন পা ব্যতীত চতুষ্পদ প্রাণী দাঁড়াতে পারে না। এছাড়াও এমন আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে যা ফিতনার যুগের পর হাদীস জালকরণের প্রাদুর্ভাবের প্রমাণ দেয়। হাদীসের বড় বড় ইমামগণ এবং জারাহ ও তা'দীলের (হাদীস যাচাই-বাছাই) পারদর্শীগণ এই অপতৎপরতা দমনে সর্বদা সতর্ক পাহারায় ছিলেন।
হাদীস জালকরণ তৎপরতার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত:
তাবেঈদের যুগে এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মে প্রথম যুগের সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্যটি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা ছিল: হাদীসের ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই। ফলে বর্ণনার আধিক্য দেখা দেয় এবং হাদীস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কিছু সাহাবীর নামে মিথ্যাচারের প্রচলন ঘটে। হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীন বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও যাচাইয়ের যে নীতি অবলম্বন করতেন, তার পরিবর্তে পরবর্তী আমীর ও খলিফাগণ রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনীতিতে লিপ্ত হয়ে পড়েন।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে এবং আব্বাসীয় রাষ্ট্রের সূচনা ঘটে। ফলে ঈমানি দুর্বলতা সম্পন্ন একদল লোক তাঁদের ফযীলত সম্পর্কে মিথ্যা বর্ণনা তৈরি এবং তাঁদের শত্রুদের মানহানি করার মাধ্যমে তাঁদের নৈকট্য লাভের চেষ্টা শুরু করে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ খলিফাদের খুশির জন্য বা তাঁদের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী হাদীস জাল করত অথবা তাতে অতিরিক্ত কথা সংযোজন করত। যেমনটি ঘটেছিল চরম মিথ্যাবাদী আবু আল-বাখতারির ক্ষেত্রে: তিনি যখন বিচারক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন, তখন খলিফা রশীদের নিকট প্রবেশ করলেন। রশীদ তখন কবুতর উড়াচ্ছিলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: এই বিষয়ে আপনার কিছু জানা আছে কি? তখন সে একটি হাদীস বর্ণনা করল: "নবী কবুতর উড়াতেন।" রশীদ তার মিথ্যা ধরে ফেললেন এবং তাকে ধমক দিয়ে বললেন: তুমি কুরাইশ বংশের না হলে আমি তোমাকে অবশ্যই পদচ্যুত করতাম৩!! যেমন ঘটেছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
غياث ابن إبراهيم أنه دخل على المهدي وهو يلعب بالحمام، فروى له حديث: "لا سبق إلا في نصل أو حافر، أو جناح"، فزاد "أو جناح" إرضاء للمهدي، وقد روي أن المهدي قال له وهو خارج: أشهد أن قفاك قفا كذاب، وأمر بذبح الحمام، والكذب هو اللفظ الأخير فحسب، أما أصل الحديث فثابت، رواه أحمد وأصحاب السنن الأربعة.
وكذلك كان لنشأة الفرق الكلامية وغيرها من أهل السنة ومعتزلة، ومرجئة، وجبرية، وجهمية وكرامية و..... أثر كبير في إذكاء حركة الوضع، فقد حاول ضعفاء الإيمان، وأرقاء الدين منهم أن يؤيدوا بعض مذاهبهم وآرائهم بالأحاديث، وقد وضعت أحاديث في نصرة بعض هذه المذاهب، أو في الرد على بعضها الآخر، بحيث لا يشك الناظر فيها أنها مختلقة موضوعة، وذلك مثل: ما روي: "الإيمان قول وعمل، ويزيد وينقص"، ومثل: "الإيمان قول، والعمل شرائعه لا يزيد ولا ينقص" ومثل: ما روي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال -وقد سئل عن الإيمان: هل يزيد وينقص، فقال: "لا، زيادته كفر، ونقصانه شرك" وإن أصبع الإرجاء لتظهر واضحة في مثل ما روي: "كما لا ينفع مع الشرك شيء، كذلك لا يضر مع الإيمان شيء"، إلى غير ذلك من الأحاديث التي يظهر عليها أثر الصنعة والاختلاق1، وكذلك كان للخلافات الفقهية أثر في إذكاء حركة الوضع، فوضعت أحاديث في فضائل بعض الأئمة، كما وضعت أحاديث أخرى في ذم بعضهم، وكذلك وضعت أحاديث في الاستشهاد لبعض الفروع الفقهية ليس عيها شيء من نور النبوة، وإنما أقرب إلى قواعد الأصوليين والفقهاء، وكتب التخاريج لبعض كتب الفقه فيها من ذلك شيء غير قليل.
وكذلك وجد القصاص وأمثالهم من جهلة المتصوفة الذين استجازوا وضع الأحاديث حسبة لله تعالى، "وسنرد عليهم فيما يأتي إن شاء الله تعالى"، وقد كان القصاص في كل عصر سبب شر كثير.
وكذلك جدت أحداث استغلت للوضع كفتنة خلق القرآن وكحركة الشعوبية2،
--------------------------------------------
ঘিয়াস ইবনে ইবরাহিম আল-মাহদীর নিকট প্রবেশ করলেন যখন তিনি কবুতর নিয়ে খেলছিলেন। তিনি তাকে একটি হাদিস শোনালেন: "তীর নিক্ষেপ, ঘোড়দৌড় বা ডানা (পাখি) ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিযোগিতার পুরস্কার নেই।" তিনি আল-মাহদীকে সন্তুষ্ট করার জন্য "বা ডানা" অংশটি যুক্ত করেছিলেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তখন মাহদী বলেছিলেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তোমার ঘাড় এক মিথ্যাবাদীর ঘাড়," এবং তিনি কবুতরগুলো জবেহ করার আদেশ দেন। মিথ্যার বিষয়টি ছিল কেবল শেষের শব্দটুকু, কিন্তু হাদিসটির মূল অংশ প্রমাণিত, যা আহমদ ও চার সুনান গ্রন্থকার বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে কালাম শাস্ত্রীয় বিভিন্ন দল এবং আহলুস সুন্নাহ, মুতাজিলা, মুরজিয়া, জবরিয়া, জাহমিয়া, কাররামিয়া প্রভৃতির উদ্ভব হাদিস জাল করার প্রবণতাকে উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছিল। তাদের মধ্য থেকে যাদের ঈমান দুর্বল এবং দ্বীনদারী কম ছিল, তারা তাদের কিছু মাযহাব ও মতবাদকে হাদিসের মাধ্যমে সমর্থন করার চেষ্টা করেছিল। এই মাযহাবগুলোর কোনোটির সমর্থনে বা কোনোটির খণ্ডনে এমন কিছু হাদিস জাল করা হয়েছে যা দেখলে কোনো পর্যবেক্ষকের সন্দেহ থাকবে না যে এগুলো বানোয়াট। যেমন: "ঈমান হলো কথা ও কাজ, এটি বাড়ে এবং কমে।" আবার যেমন: "ঈমান হলো কথা, আর আমল হলো তার বিধান, এটি বাড়েও না কমেও না।" আরও যেমন বর্ণিত হয়েছে যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে এটি কি বাড়ে বা কমে, তখন তিনি বলেছিলেন: "না, এর বৃদ্ধি হলো কুফরি এবং এর হ্রাস হলো শিরক।" এখানে মুরজিয়াদের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে: "শিরকের সাথে যেমন কোনো কিছু উপকার দেয় না, তেমনি ঈমানের সাথে কোনো কিছু ক্ষতি করে না।" এই জাতীয় আরও অনেক হাদিস যাতে কৃত্রিমতা ও জালিয়াতির ছাপ স্পষ্ট। একইভাবে ফিকহি মতভেদগুলোও জালিয়াতির ধারাকে বেগবান করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছিল। কিছু ইমামের ফজিলতে হাদিস জাল করা হয়েছে, যেমন অন্যদের নিন্দায়ও হাদিস তৈরি করা হয়েছে। তেমনিভাবে কিছু ফিকহি খুঁটিনাটি বিষয়ের স্বপক্ষেও হাদিস তৈরি করা হয়েছে যেগুলোতে নবুওয়তের নূরের কোনো আভা নেই, বরং সেগুলো উসূলবিদ ও ফকিহদের নিয়মের অধিক নিকটবর্তী। ফিকহ শাস্ত্রের কিছু কিতাবের তাখরিজ গ্রন্থে এই ধরণের বর্ণনার সংখ্যা কম নয়।
অনুরূপভাবে গল্পের সংগ্রাহক এবং জাহেল সুফিদের মতো একদল লোক পাওয়া গিয়েছিল যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হাদিস জাল করাকে বৈধ মনে করত। "ইনশাআল্লাহ অচিরেই আমরা তাদের খণ্ডন করব।" এই গল্পের সংগ্রাহকরা প্রতিটি যুগে অনেক অনিষ্টের কারণ ছিল।
তেমনিভাবে কিছু ঘটনাও জালিয়াতির জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল, যেমন কুরআন সৃষ্টির ফিতনা এবং শুউবিয়া আন্দোলন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والتعصب للجنس، أو اللون، أو اللغة، أو المكان، فوضعت أحاديث في تكفير من قال بخلق القرآن، وتفضيل العجم على العرب، وفي فضائل بعض الشعوب، وفي فضائل بعض الأقاليم والبلدان.
وقد استمرت حركة الوضع إلى عصور متأخرة، فابن الجوزي يذكر في كتبه ما كان من قصاص زمانه، وهذا هو: "الرتن الهندي" يدعي الصحبة في المائة السادسة للهجرة1، ويضع الأحاديث المكذوبة والسيوطي المتوفى سنة 911هـ. يذكر ما ناله من بعض قصاص زمانه لما أنكر عليه رواية أحاديث موضوعة يدعي أنه سمعها، والشيخ اللكنوي الهندي يذكر: أنه اطلع على رسالته في: "تحريم التنباك"؛ وقد استدل فيها مؤلفها ببعض الأحاديث التي وضعها، مثل: "كل دخان حرام".
ومهما يكن من استمرار سوق الوضع قرونا، فقد ناهضها العلماء ولا سيما أئمة الحديث وجهابذته، الذين ألفوا الكتب، ودونوا الدواوين: وميزوا فيها بين الصحيح، والحسن، والضعيف، والموضوع وكذلك وضعوا في التنصيص على الأحاديث الموضوعة كتبا لا يحصيها العد، وكشفوا عن عوارها، وحذروا الناس من الاغترار بها، فجازاهم الله أعظم ما جازى علماء أمة.
--------------------------------------------
বংশীয় আভিজাত্য, বর্ণ, ভাষা কিংবা দেশ নিয়ে অন্ধ গোঁড়ামির কারণেও বহু হাদিস জাল করা হয়েছিল। এর ফলে যারা কুরআন সৃষ্টির (খালকে কুরআন) মতবাদ পোষণ করে তাদের কাফির সাব্যস্ত করা, আরবদের ওপর অনারবদের শ্রেষ্ঠত্ব দান এবং বিভিন্ন জাতি, অঞ্চল ও শহরের মর্যাদা বর্ণনায় অসংখ্য বানোয়াট হাদিস রচিত হয়েছে।
হাদিস জাল করার এই ধারা পরবর্তী শতাব্দীগুলোতেও অব্যাহত থাকে। ইমাম ইবনুল জাওযী তাঁর কিতাবসমূহে তাঁর সমসাময়িক কিচ্ছা-কাহিনীকারদের (কাসসাস) বর্ণনা দিয়েছেন। যেমন—ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীতে 'রতন আল-হিন্দি' নামক এক ব্যক্তি নিজেকে সাহাবী দাবি করে১ এবং মিথ্যা হাদিস জাল করে। ইমাম সুয়ুতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) তাঁর সময়কার কিছু কিচ্ছা-কাহিনীকারের কথা উল্লেখ করেছেন যারা তাঁর ওপর চড়াও হয়েছিল যখন তিনি তাদের বর্ণিত বানোয়াট হাদিসগুলো প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তেমনি শায়খ লখনউয়ী আল-হিন্দি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তামাক নিষিদ্ধকরণ (তাহরীমুত তনবাক) বিষয়ক একটি পুস্তিকা দেখেছেন, যেখানে তার লেখক স্বরচিত কিছু হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যেমন: "সব ধরনের ধোঁয়াই হারাম।"
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হাদিস জাল করার এই বাজার চালু থাকলেও ওলামায়ে কিরাম, বিশেষ করে হাদিসশাস্ত্রের ইমাম ও প্রাজ্ঞ মনীষীগণ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা বড় বড় গ্রন্থ ও সংকলন রচনা করেছেন এবং তাতে সহিহ, হাসান, জয়িফ ও মাওজু হাদিসের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন। একইভাবে বানোয়াট হাদিসগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তাঁরা অগণিত কিতাব রচনা করেছেন, এগুলোর অন্তঃসারশূন্যতা উন্মোচন করেছেন এবং মানুষকে এসবে বিভ্রান্ত হওয়া থেকে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলা কোনো উম্মতের আলেমদেরকে যে সর্বোত্তম প্রতিদান দেন, তাঁদেরকেও তাই দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
جـ
التفسير:التفسير لغة: مصدر فسره بتشديد السين مأخوذة من الفسر بمعنى البيان يقال: فَسَرت الكتاب "بتخفيف السين" أفسره فسرا وفسَّرته بالتشديد أفسره تفسيرا، وقيل: هو مقلوب من السفر بتقديم الفاء على السين مثل الجذب، والجبذ والمعنى واحد يقال: أسفر الصبح إذا أضاء ففيه معنى الكشف والتوضيح، وقيل: مأخوذ من التفسرة وهي: اسم لما يعرف به الطبيب المرض.
وأما في الاصطلاح: فقد اختلفت أساليب العلماء في تعريفه.
فمنهم من أطال في تعريفه فقال: هو علم نزول الآيات، وشئونها وأقاصيصها، والأسباب النازلة فيها، ثم ترتيب مكيها، ومدنيها وبيان محكمها، ومتشابهها، وناسخها،
উ:
তাফসীর:শাব্দিক অর্থে তাফসীর: এটি 'সীন' বর্ণে তাশদীদযুক্ত 'ফাসসারা' ক্রিয়ামূলের মাসদার যা 'ফাসর' থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো স্পষ্ট বর্ণনা। বলা হয়ে থাকে: 'আমি কিতাবটি ব্যাখ্যা করেছি' (সীন বর্ণের তাশদীদ ছাড়া), আমি তা ব্যাখ্যা করি। আবার সীনের তাশদীদসহ বলা হয়, আমি তা ব্যাখ্যা করেছি, আমি তা ব্যাখ্যা করি তাফসীর হিসেবে। কেউ কেউ বলেন: এটি 'সাফর' শব্দের বর্ণবিপর্যয়, যেখানে 'সীন' এর আগে 'ফা' অক্ষরকে আনা হয়েছে, যেমন 'জাযাব' ও 'জাবায' শব্দদ্বয়, যাদের অর্থ একই। বলা হয়: 'ভোর উদ্ভাসিত হয়েছে' যখন তা আলোকিত হয়; সুতরাং এর মধ্যে উন্মোচন ও স্পষ্টকরণের অর্থ নিহিত রয়েছে। আরও বলা হয়: এটি 'তাফসিরাহ' থেকে গৃহীত, আর তা হলো এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে চিকিৎসক রোগ শনাক্ত করেন।
আর পারিভাষিক অর্থে: তাফসীরের সংজ্ঞা প্রদানে আলেমদের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ দীর্ঘ সংজ্ঞা প্রদান করে বলেছেন: এটি হলো আয়াতসমূহের অবতীর্ণ হওয়া, সেগুলোর সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ও ঘটনাবলী এবং অবতীর্ণ হওয়ার কারণসমূহ সম্পর্কিত জ্ঞান। অতঃপর সেগুলোর মাক্কী ও মাদানী বিন্যাস এবং মুহকাম, মুতাশাবিহ ও নাসিখ সম্পর্কে বর্ণনা করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومنسوخها، وخاصها، وعامها، ومطلقها، ومقيدها، ومجملهان ومفسرها، وحلالها وحرامها ووعدها، ووعيدها، وأمرها، ونهيها، وعِبَرها، وأمثالها ونحو ذلك1.
ومنهم من توسط كأبي حيان في البحر المحيط فقال في تعريفه: علم يبحث فيه عن كيفية النطق بألفاظ القرآن، ومدلولاتها، وأحكامها الإفرادية، والتركيبية، ومعانيها التي تحمل عليها حالة التركيب وتتمات لذلك، ثم أخذ في شرح تعريفه2.
وهذا التعريف غير جَلِيٍّ ولا واضح، وكذلك لم يصرح بالغرضين الأهمين اللذين نزل لهما القرآن: وهما: كونه كتاب الهداية البينة التي هي أوضح الهدايات، وأقومها، والتي لو اتبعها البشر لحققت لهم السعادتين: الدنيوية والأخروية.
والكتاب السماوي المعجز، فهو المعجزة العظمى والآية الكبرى الباقية على وجه الدهر لنبينا محمد صلوات الله وسلامه عليه.
وقال الزركشي في البرهان: التفسير: علم يفهم به كتاب الله المنزل على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم وبيان معانيه واستخراج أحكامه، وحِكَمِه، واستمداد ذلك من علم اللغة، والنحو، والتصريف وعلم البيان وأصول الفقه والقراءات ويحتاج لمعرفة أسباب النزول والناسخ والمنسوخ3.
وهذا التعريف أوضح، وأيسر من التعريفين السابقين، وأدل على الغرضين الأهمين، اللذين ذكرناهما آنفا.
ومن العلماء من أوجز في التعريف، فقال: هو علم يبحث فيه عن أحوال القرآن الكريم؛ من حيث دلالته على مراد الله تعالى بقدر الطاقة البشرية4.
[وأزيد في التعريف فأقول: ومن حيث كونه المعجزة العظمى لنبينا محمد صلى الله عليه وسلم] . والمراد بأحوال القرآن الكريم من حيث كونه كتاب الهداية الأقوم، وكتاب العربية الأكبر، والمعجزة الخالدة لنبينا محمد صلى الله عليه وسلم.
[ويدخل في ذلك كل ما يتوقف عليه معرفة ذلك من العلم بأسباب النزول، ومناسبات
--------------------------------------------
...এবং এর রহিতকারী (মানসুখ), বিশেষ (খাস), সাধারণ (আম), শর্তহীন (মুতলাক), শর্তযুক্ত (মুকাইয়াদ), অস্পষ্ট (মুজমাল), ব্যাখ্যাত (মুফাসসার), এর হালাল ও হারাম, এর প্রতিশ্রুতি (ওয়াদ) ও ধমক (ওয়াইদ), এর আদেশ ও নিষেধ, এর শিক্ষা ও দৃষ্টান্তসমূহ এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয়।১
তাদের মধ্যে কেউ কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন, যেমন আবু হাইয়ান তার 'আল-বাহরুল মুহিত' গ্রন্থে। তিনি এর সংজ্ঞায় বলেছেন: এমন এক বিদ্যা যা কুরআনের শব্দাবলি উচ্চারণ পদ্ধতি, সেগুলোর অর্থগত নির্দেশিকা, সেগুলোর একক ও যৌগিক বিধানাবলি এবং বাক্য গঠনের অবস্থায় শব্দগুলো যে অর্থ বহন করে এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করে। এরপর তিনি তার সংজ্ঞার ব্যাখ্যা শুরু করেন।২
এই সংজ্ঞাটি উজ্জ্বল বা স্পষ্ট নয়। অনুরূপভাবে, এতে সেই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি যার জন্য কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে: সেই দুটি হলো—কুরআন সুস্পষ্ট হিদায়াতের কিতাব হওয়া, যা হিদায়াতসমূহের মধ্যে সর্বাধিক স্পষ্ট ও সুদৃঢ়; মানুষ যদি তা অনুসরণ করত তবে তা তাদের জন্য উভয় জগতের—দুনিয়া ও আখিরাতের—সৌভাগ্য নিশ্চিত করত।
আর তা মুজিজাপূর্ণ আসমানি কিতাব; এটি আমাদের নবী মুহাম্মদ (আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা এবং মহাকালের বুকে অবশিষ্ট থাকা মহান নিদর্শন।
যারকাশী 'আল-বুরহান' গ্রন্থে বলেছেন: তাফসির হলো এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাব অনুধাবন করা হয়, এর অর্থসমূহ স্পষ্ট করা হয় এবং এর বিধানসমূহ (আহকাম) ও প্রজ্ঞাসমূহ (হিকমত) উদ্ঘাটন করা হয়। আর এর জন্য ভাষাতত্ত্ব, ব্যাকরণ (নাহু), শব্দরূপান্তর (তাসরিফ), অলঙ্কারশাস্ত্র (ইলমুল বায়ান), উসুলুল ফিকহ ও কিরাত শাস্ত্র থেকে সাহায্য নেওয়া হয়। এছাড়াও শানে নুযুল এবং নাসিখ-মানসুখ জানার প্রয়োজন পড়ে।৩
এই সংজ্ঞাটি পূর্ববর্তী দুটি সংজ্ঞার চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট ও সহজতর এবং উপরে উল্লিখিত সেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যের প্রতি অধিকতর নির্দেশক।
আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ সংজ্ঞায় সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি এমন এক বিদ্যা যা কুরআনুল কারিমের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে—মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর উদ্দেশ্যকে নির্দেশ করার প্রেক্ষাপট থেকে।৪
[আমি সংজ্ঞায় কিছুটা যোগ করে বলছি: এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য এটি সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা হওয়ার প্রেক্ষাপট থেকে]। আর কুরআনুল কারিমের অবস্থা বলতে উদ্দেশ্য হলো—সর্বোত্তম হিদায়াতের কিতাব হওয়া, আরবি ভাষার শ্রেষ্ঠতম কিতাব হওয়া এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য চিরন্তন মুজিজা হওয়া।
[এর অন্তর্ভুক্ত হবে সেই সব বিষয় যার ওপর এগুলো জানা নির্ভর করে—যেমন শানে নুযুল ও প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কিত জ্ঞান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الآيات، والمكي والمدني، والمحكم والمتشابه، والناسخ والمنسوخ وغيرها] . كل ما يحتاج إليه المفسر من العلوم فهي وسائل لتحقيق هذين الغرضين الأكبرين، ثم إن المفسر حينما يفسر القرآن الكريم سواء أكان بالتفسير بالمأثور، أم بالاجتهاد والرأي المقبول لا يمكنه الجزم والقطع بأن هذا مراد الله تبارك وتعالى، فمن ثَمَّ كان الجزء الأخير في التعريف: "بقدر الطاقة البشرية" احتراسا لا بد منه، ولا يتأتى هذا القطع إلا لنبي مرسل يوحى إليه من ربه، وأما غيره فلا.
والمناسبة بين هذه التعاريف الاصطلاحية، والمعاني اللغوية للكلمة ظاهرة، ولا سيما على المعنيين اللغويين الأولين؛ فإن التعاريف تدور على معنى التبيين، والتوضيح والظهور بعد الخفاء.
وأما على المعنى الثالث: فلأن المفسر كأنه يسبر المعاني بمسبار1 الطبيب الماهر، ويختبرها بمخابره العلمي، حتى يتضح له المراد.
التأويل:
التأويل لغةً: أصله من الأول، وهو الرجوع، فكأن المؤول للآية رجع بها إلى ما تحتمله من المعاني.
وقيل: مأخوذ من الإيالة وهي السياسة، كأن المؤول للكلام ساسه، وتناوله بالمحاورة والمداورة حتى وصل إلى المراد منه.
أما معناه في الاصطلاح: فقد قال أبو عبيد القاسم بن سلام، وطائفة من العلماء: هما بمعنى، وعلى هذا: فيعرف بما عرف به التفسير.
وقد أنكر ذلك بعض العلماء، بل بالغوا في الإنكار.
وقال الراغب الأصفهاني في "مفرداته": التفسير أعم من التأويل وأكثر استعمالاته في الألفاظ ومفرداتها، وأكثر استعمال التأويل في المعاني والجمل، وأكثر ما يستعمل في الكتب الإلهية، وأما التفسير فيستعمل فيها وفي غيرها.
[وقال غيره: التفسير بيان لفظ لا يحتمل إلا وجهًا واحدًا. والتأويل: توجيه لفظ
--------------------------------------------
আয়াতসমূহ, মক্কী ও মাদানী, মুহকাম ও মুতাশাবিহ, নাসিখ ও মানসুখ এবং অন্যান্য বিষয়]। একজন মুফাসসিরের প্রয়োজনীয় সকল জ্ঞানই হলো এই মহান দুটি লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম। অতঃপর, মুফাসসির যখন পবিত্র কুরআনের তাফসির করেন—চাই তা বর্ণনাভিত্তিক হোক অথবা ইজতিহাদ ও গ্রহণযোগ্য মতামতের ভিত্তিতে হোক—তখন তিনি এটি দৃঢ়ভাবে ও নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না যে এটিই মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার অভিপ্রায়। একারণেই সংজ্ঞার শেষ অংশে "মানুষের সাধ্য অনুযায়ী" কথাটি একটি অপরিহার্য সতর্কতা হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এই অকাট্য সিদ্ধান্ত প্রদান কেবল সেই প্রেরিত নবীর পক্ষেই সম্ভব যাঁর নিকট তাঁর রবের পক্ষ থেকে ওহী অবতীর্ণ হয়; অন্য কারো পক্ষে তা সম্ভব নয়।
এই পারিভাষিক সংজ্ঞাগুলো এবং শব্দটির আভিধানিক অর্থের মধ্যে সামঞ্জস্য সুষ্পষ্ট, বিশেষ করে প্রথম দুটি আভিধানিক অর্থের ক্ষেত্রে; কারণ সংজ্ঞাগুলো মূলত অস্পষ্টতার পর বিষয়কে ফুটিয়ে তোলা, স্পষ্টীকরণ এবং প্রকাশের অর্থকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়।
আর তৃতীয় অর্থের প্রেক্ষিতে বলা যায়: মুফাসসির যেন একজন দক্ষ চিকিৎসকের ক্ষত পরিমাপক যন্ত্রের১ ন্যায় অর্থগুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, যতক্ষণ না তাঁর নিকট উদ্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তাবিল (ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ):
আভিধানিক অর্থে তাবিল: এর মূল উৎস হলো ‘আল-আওল’, যার অর্থ ফিরে আসা। সুতরাং আয়াতের ব্যাখ্যাকারী যেন আয়াতটিকে তার সম্ভাব্য অর্থগুলোর দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
আবার বলা হয়ে থাকে: এটি ‘আল-ইয়াহলাহ’ বা পরিচালনা থেকে গৃহীত, যেন বাণীর ব্যাখ্যাকারী শব্দটিকে নিপুণভাবে পরিচালনা করেছেন এবং একে বিভিন্ন আঙ্গিকে বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন যতক্ষণ না তিনি এর উদ্দিষ্ট মর্মার্থে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
পারিভাষিক অর্থের ক্ষেত্রে: আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনুল সাল্লাম এবং একদল আলেম বলেছেন: এ দুটি শব্দ সমার্থক। এই মতানুসারে, তাফসিরের যা সংজ্ঞা, তাবিলেরও তাই সংজ্ঞা।
কিছু আলেম এটি অস্বীকার করেছেন, বরং তাঁরা এই অস্বীকারের বিষয়ে বেশ কঠোরতা অবলম্বন করেছেন।
ইমাম রাগিব আল-আস্পাহানি তাঁর "মুফরাদাত" গ্রন্থে বলেছেন: তাফসির হলো তাবিলের চেয়ে অধিক ব্যাপক এবং শব্দ ও এর একক রূপের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগই বেশি। পক্ষান্তরে তাবিলের প্রয়োগ অর্থ ও বাক্যের ক্ষেত্রে অধিক হয়ে থাকে। এছাড়া তাবিল শব্দটি প্রধানত আসমানি কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আর তাফসির আসমানি কিতাব এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
[অন্যান্যরা বলেছেন: তাফসির হলো এমন শব্দের বর্ণনা যা কেবল একটি অর্থই বহন করে। আর তাবিল হলো শব্দকে এমন দিকে ফিরিয়ে নেয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
متوجه إلى معانٍ مختلفة إلى واحد منها، بما ظهر من الأدلة.
وقال الماتريدي: التفسير: القطع على أن المراد من اللفظ هذا، والشهادة على الله أنه عني بهذا اللفظ هذا؛ فإن قام دليل مقطوع به فصحيح، وإلا فهو تفسير بالرأي، وهو المنهي عنه. والتأويل: ترجيح أحد المحتملات بدون القطع والشهادة على الله] . وقال أبو طالب التغلبي: التفسير: بيان وضع اللفظ إما حقيقة أو مجازا، كتفسير الصراط بالطريق، والصيب بالمطر، والتأويل: تفسير باطن اللفظ مأخوذ من الأول، وهو الرجوع لعاقبة الأمر، فالتأويل إخبار عن حقيقة المراد، والتفسير، إخبار عن دليل المراد؛ لأن اللفظ يكشف عن المراد، والكاشف دليل، مثاله قوله تعالى: {إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَاد} تفسيره: أنه من الرصد، يقال: رصدته إذا رقبته، والمرصاد: مفعال منه، وتأويله: التحذير من التهاون بأمر الله، والغفلة عن الأهبة والاستعداد للعرض عليه: [وقواطع الأدلة تقتضي بيان المراد منه على خلاف وضع اللفظ في اللغة] .
وقال بعض العلماء: التفسير: يتعلق بالرواية، أي التفسير بالمأثور، والتأويل: يتعلق بالدراية؛ أي التفسير بالرأي والاجتهاد1.
ومهما يكن من شيء فقد شاع واشتهر أن التفسير أعم من أن يكون بالمأثور، أو بالرأي والاجتهاد، وأعم من أن يكون متعلقا باللفظ أو بالمعنى، وقد أصبح في ذلك حقيقة عرفية، وهذا ما سأسير عليه في هذا الكتاب إن شاء الله تعالى.
الحاجة إلى علم التفسير:
علم تفسير القرآن من العلوم المهمة التي يجب على الأمة تعلمها وقد أوجب الله على الأمة حفظ القرآن، وكذلك أوجب عليهم فهمه وتدبر معانيه، قال تعالى: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا} 2، وقال: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ} 3، وقال: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} 4، فقد دلت الآية الثانية على أنه أنزل للتدبر، وحثت الآيتان الأخريان على تدبره، وتدبر القرآن بدون فهم معانيه غير ممكن، وفهم معانيه إنما يكون بمعرفة تفسيره، فتفسير القرآن فرض على الأمة، ولكنه فرض كفائي بمعنى: إذا قام
--------------------------------------------
প্রাপ্ত দলীলসমূহের ভিত্তিতে একাধিক সম্ভাব্য অর্থের মধ্য থেকে কোনো একটির দিকে নিবিষ্ট হওয়া।
আল-মাতুরিদি বলেছেন: তাফসির হলো কোনো শব্দ থেকে উদ্দিষ্ট অর্থ এটাই—এ বিষয়ে সুনিশ্চিত হওয়া এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সাক্ষ্য দেওয়া যে, তিনি এই শব্দ দ্বারা এটাই বুঝিয়েছেন; যদি কোনো সুনিশ্চিত দলীল পাওয়া যায় তবে তা সঠিক, অন্যথায় তা ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা (তাফসির বি-রায়), যা নিষিদ্ধ। আর তাবিল হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো সাক্ষ্য বা সুনিশ্চিত হওয়া ছাড়াই সম্ভাব্য অর্থগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়া। আবু তালিব আত-তাগলাবি বলেছেন: তাফসির হলো শব্দের প্রয়োগগত অবস্থা স্পষ্ট করা, তা প্রকৃত অর্থে হোক বা রূপক অর্থে; যেমন ‘সিরাত’ শব্দের ব্যাখ্যা ‘পথ’ দ্বারা করা এবং ‘সাইয়িব’ শব্দের ব্যাখ্যা ‘বৃষ্টি’ দ্বারা করা। আর তাবিল হলো শব্দের অভ্যন্তরীণ অর্থের ব্যাখ্যা যা ‘আউয়াল’ শব্দ থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো কোনো বিষয়ের পরিণতির দিকে ফিরে যাওয়া। সুতরাং তাবিল হলো প্রকৃত উদ্দেশের বর্ণনা, আর তাফসির হলো উদ্দিষ্ট বিষয়ের প্রমাণের বর্ণনা; কারণ শব্দই উদ্দেশ্যকে উন্মোচিত করে, আর উন্মোচনকারীই হলো প্রমাণ। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক ওঁত পেতে আছেন।" এর তাফসির হলো: এটি ‘রাসাদ’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, বলা হয়: ‘আমি তাকে লক্ষ্য করেছি’ যখন আমি তাকে পর্যবেক্ষণ করেছি। আর ‘মিরসাদ’ হলো এর আধিক্যবোধক রূপ। আর এর তাবিল হলো: আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অবহেলা করা এবং তাঁর সামনে উপস্থিত হওয়ার পাথেয় ও প্রস্তুতির ব্যাপারে উদাসীন হওয়া থেকে সতর্ক করা। সুস্পষ্ট দলীলসমূহ শব্দের আভিধানিক প্রয়োগের বিপরীতে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার দাবি রাখে।
কোনো কোনো আলেম বলেছেন: তাফসির বর্ণনার (রিওয়ায়েত) সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ যা পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে; আর তাবিল উপলব্ধির (দিরায়েত) সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ যা নিজস্ব মতামত ও গবেষণার (ইজতিহাদ) মাধ্যমে প্রাপ্ত।১
যাই হোক না কেন, এটি বর্তমানে বহুল প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ যে, তাফসির শব্দটি অনেক ব্যাপক—তা বর্ণিত হোক কিংবা গবেষণা ও মতামতের ভিত্তিতে হোক এবং তা শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক কিংবা অর্থের সাথে। এটি বর্তমানে একটি পারিভাষিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে এবং আমি এই কিতাবে ইনশাআল্লাহ এই পদ্ধতিই অনুসরণ করব।
তাফসির শাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা:
কুরআন তাফসিরের জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাস্ত্র যা শেখা উম্মতের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ উম্মতের ওপর কুরআন হিফজ করা যেমন আবশ্যক করেছেন, তেমনি এর অর্থ অনুধাবন ও মর্ম নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করাও আবশ্যক করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরিত্য পেত।"২ তিনি আরও বলেছেন: "এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা করে এবং জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে।"৩ তিনি আরও বলেছেন: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করে না, নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা লাগানো আছে?"৪ এখানে দ্বিতীয় আয়াতটি প্রমাণ করে যে, কুরআন অবতীর্ণই হয়েছে গভীর চিন্তা-গবেষণার জন্য এবং অপর দুটি আয়াত তা নিয়ে চিন্তা করতে উৎসাহিত করেছে। আর কুরআনের অর্থের জ্ঞান ছাড়া চিন্তা-গবেষণা করা সম্ভব নয়। আর এর অর্থের জ্ঞান কেবল এর তাফসির জানার মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে। সুতরাং কুরআনের তাফসির করা উম্মতের ওপর ফরয, তবে তা ফরযে কিফায়া; অর্থাৎ যদি কোনো একদল লোক তা সম্পাদন করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরাঈলিয়াত ওয়াল মাওদুআত ফী কুতুবিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
به أهل العلم المتأهلون له من الأمة الإسلامية سقط عن الباقين.
والله سبحانه وتعالى إنما يخاطب كل قوم بما يفهمونه ولذلك أرسل كل رسول بلسان قومه، وأنزل كتابه بلغتهم، وقد نزل القرآن بلسان عربي مبين، في وقت بلغ فيه العرب الغاية في الفصاحة والبلاغة وكانوا يعرفون ظواهره وأحكامه، وأما دقائق معانيه وحقائق تأويله: فإنما كان يظهر لهم بعد البحث، والنظر، والتأمل، وما كان يخفى عليهم منه، أو يشكل، كانوا يسألون عنه النبي صلى الله عليه وسلم وذلك كسؤالهم له لما نزل قوله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُون} 1 فقالوا: وأينا لم يظلم؟ وفزعوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فبين لهم أن المراد بالظلم الشرك، واستدل عليه بقوله تعالى: {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيم} 2 وكبيانه للسيدة عائشة رضي الله عنها أن المراد بالحساب اليسير في قوله تعالى: {فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا} 3: العرض أي: استعراض الأعمال من غير مناقشة، وكقصة عدي بن حاتم في الخيط الأبيض، والخيط الأسود، وظنه أن المراد الحقيقة، حتى بين له النبي صلى الله عليه وسلم أن المراد بالخيط الأبيض بياض النهار، وبالخيط الأسود سواد الليل، إلى نحو ذلك مما خفي عليهم، ونحن محتاجون إلى مثل ما كانوا محتاجين إليه، بل وزيادة عما كانوا محتاجين إليه؛ لقصورنا عنهم في العلم باللغة، وأساليبها، والبلاغة وأسرارها، والعلم بأسباب النزول، والفقه في الدين، ومعرفة الحلال والحرام، والناسخ والمنسوخ، والمحكم والمتشابه.
وقد بين لهم النبي معاني القرآن، كما بين لهم ألفاظه، قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُون} 4، فمن ثم حفظوا ألفاظه، وفهموا معانيه، وفقهوا أحكامه.
قال أبو عبد الرحمن السلمي5: حدثنا الذين كانوا يقرئوننا القرآن كعثمان بن عفان، وعبد الله بن مسعود، وغيرهما أنهم كانوا إذا تعلموا من النبي صلى الله عليه وسلم عشر آيات، لم
--------------------------------------------
উম্মতে ইসলামিয়ার মধ্য থেকে যারা এ বিষয়ে পারদর্শী আলেম তারা যদি তা পালন করেন, তবে বাকিদের পক্ষ থেকে তা রহিত হয়ে যায়।
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রতিটি কওমকে তাদের বোধগম্য ভাষাতেই সম্বোধন করেন। আর এই কারণেই তিনি প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর কওমের ভাষায় প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর কিতাব তাদের ভাষাতেই অবতীর্ণ করেছেন। কুরআন সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এমন এক সময়ে যখন আরবরা অলঙ্কারশাস্ত্র ও বাগ্মিতায় চরম শিখরে পৌঁছেছিল। তারা এর প্রকাশ্য অর্থ ও বিধানগুলো জানত। আর এর সূক্ষ্ম অর্থ ও ব্যাখ্যার হাকিকতগুলো গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও চিন্তাভাবনার মাধ্যমেই তাদের কাছে স্পষ্ট হতো। এর যা কিছু তাদের কাছে অস্পষ্ট থাকত বা জটিল মনে হতো, সে সম্পর্কে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করতেন। যেমন—যখন মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হলো: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে সংমিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত" ১। তখন তারা বললেন, 'আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে জুলুম করেনি?' তারা ঘাবড়ে গিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলেন। তখন তিনি তাদের স্পষ্ট করে দিলেন যে, এখানে জুলুম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শিরক। তিনি এর স্বপক্ষে আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করলেন: "নিশ্চয়ই শিরক মহা জুলুম" ২। আবার যেমন তিনি সায়্যিদা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে স্পষ্ট করেছিলেন যে, আল্লাহর বাণী— "অচিরেই তার হিসাব সহজ করা হবে" ৩—এর অর্থ হলো 'আরয' অর্থাৎ পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব ছাড়া কেবল আমলগুলো পেশ করা। আবার যেমন আদি ইবনে হাতিমের সাদা সুতা ও কালো সুতার ঘটনা, যেখানে তিনি এর আক্ষরিক অর্থ মনে করেছিলেন, যতক্ষণ না নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে স্পষ্ট করে দিলেন যে, সাদা সুতা মানে দিনের আলো আর কালো সুতা মানে রাতের অন্ধকার। এই ধরনের আরও অনেক কিছু যা তাদের কাছে অস্পষ্ট ছিল। আমরাও ঠিক সেগুলোর মুখাপেক্ষী যেগুলোর মুখাপেক্ষী তারা ছিলেন; বরং আমরা তাদের চেয়েও বেশি মুখাপেক্ষী। কারণ ভাষা ও এর ব্যবহাররীতি, অলঙ্কারশাস্ত্র ও এর রহস্য, আসবাবুন নুযুল বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট, দীনের গভীর জ্ঞান, হালাল-হারাম চেনা এবং নাসিখ-মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত) ও মুহকাম-মুতাশাবিহ (সুস্পষ্ট ও রূপক) সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান তাদের তুলনায় অনেক কম।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কাছে কুরআনের শব্দাবলি স্পষ্ট করার পাশাপাশি এর অর্থও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ হয়েছে তা স্পষ্ট করে দেন এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে" ৪। ফলশ্রুতিতে, তারা এর শব্দাবলি মুখস্থ করেছেন, এর অর্থ অনুধাবন করেছেন এবং এর বিধিবিধান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন।
আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী ৫ বলেন: যারা আমাদের কুরআন পড়াতেন, যেমন উসমান ইবনে আফফান, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও অন্যান্যরা—তারা আমাদের বলেছেন যে, তারা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে দশটি আয়াত শিক্ষা নিতেন, তখন তারা...
--------------------------------------------