(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأدلة الشرعية على تحريم مصافحة المرأة الأجنبية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الأدلة الشرعية على تحريم مصافحة المرأة الأجنبية
المؤلف: حسام الدين بن موسى محمد بن عفانة
تقديم: الدكتور موسى البسيط، عميد كلية الدعوة والعلوم الإسلامية - أم الفحم
طبعة: أبو ديس- القدس
الطبعة: الأولى، 1414هـ - 1994.
عدد الصفحات: 62
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 شوّال 1432
অজনবী নারীর সাথে মুসাফাহা করার নিষিদ্ধতার বিষয়ে শরয়ি দলিলসমূহ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: অজনবী নারীর সাথে মুসাফাহা করার নিষিদ্ধতার বিষয়ে শরয়ি দলিলসমূহ
রচয়িতা: হুসামুদ্দীন বিন মুসা মুহাম্মাদ বিন আফানা
উপস্থাপনা: ডক্টর মুসা আল-বাসিত, ডিন, দাওয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ - উম্মুল ফাহম
প্রকাশস্থল: আবু দিস- কুদস
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৪.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ শাওয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
تقديمبقلم الدكتور موسى البسيط عميد كلية الدعوة والعلوم الإسلامية - أم الفحم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد سيد المرسلين وآله وصحبه أجمعين وبعد
لم يكن الإسلام يوماً ليحجر على العقول فيقيد حريتها في التفكير أو يلجمها بلجام التقليد الأعمى وقد انعكس ذلك على الفقه الإسلامي بصورة جلية واضحة، فوجدناه يمتاز عن سواه بالسعة والثراء.
كيف لا! وللباحث حرية التفكير والبحث وفق الأسس العلمية التي سار عليها فقهاء الأمة، من اتباع للدليل وفهم ثاقب سليم له حسب منهج السلف الصالح في تفسير النصوص وفهمها والتثبت منها ومراعاة أصول الفقه مع مجانبة الهوى والشهوة.
وكان تأثير ذلك أن تكونت المذاهب الفقهية مشكلة أطراً ومدارس فاختلاف فقهائنا ولله الحمد دليل صحه، وإمارة على الخصوبة الفكرية.
على أنه ظهر في عصور مختلفة من التاريخ الإسلامي من لا يسلك مسلك السلف من الفقه والتفقه من حيث اتباع الهوى حيناً وتقديم العقل على النقل حيناً آخر ومحاكمة النص محاكمة عقلية مجردة، ومخالفة الطريق القويم المعهود في فهم المنقول حتى أفرز ذلك آراءً فقهية مستهجنة توصف بالشذوذ والنكارة.
فكان لهؤلاء - ولا شك - الأثر السيء في مسيرة الأمة، من إحداث المعوقات وإثارة المشكلات وفتح الثغرات.
উপস্থাপনাড. মুসা আল-বাসিত-এর কলমে, ডিন, কুল্লিয়াতুদ দাওয়াহ ওয়াল উলূম আল-ইসলামিয়্যাহ - উম্মুল ফাহম
যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা, রাসূলগণের সর্দার মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
ইসলাম কখনোই মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে অবরুদ্ধ করেনি যে তার চিন্তার স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলিত করবে কিংবা তাকে অন্ধ অনুকরণের লাগাম দিয়ে বেঁধে রাখবে। আর এর প্রতিফলন ইসলামি ফিকহের ওপর অত্যন্ত উজ্জ্বল ও স্পষ্টভাবে পড়েছে; ফলে আমরা একে অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় প্রশস্ততা ও প্রাচুর্যের বৈশিষ্ট্যে অনন্য হিসেবে দেখতে পাই।
কেনই বা হবে না! একজন গবেষকের তো রয়েছে চিন্তা ও গবেষণার স্বাধীনতা—উম্মাহর ফকীহগণ যে বৈজ্ঞানিক মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে চলেছেন সে অনুযায়ী। যার অন্তর্ভুক্ত হলো দলিলের অনুসরণ করা এবং সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুযায়ী টেক্সটসমূহের ব্যাখ্যা, অনুধাবন ও তা যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রখর ও সঠিক বোধশক্তি অর্জন করা এবং প্রবৃত্তির তাড়না ও খেয়ালখুশি পরিহার করে উসূলে ফিকহের প্রতি লক্ষ্য রাখা।
আর এরই প্রভাবে বিভিন্ন ফিকহি মাযহাব ও মতাদর্শগুলো গঠিত হয়েছে। সুতরাং আমাদের ফকীহগণের মতপার্থক্য—আল্লাহরই প্রশংসা—তা বিশুদ্ধতার প্রমাণ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক উর্বরতার নিদর্শন।
তবে ইসলামি ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে এমন এক শ্রেণির মানুষের উদ্ভব ঘটেছে যারা ফিকহ ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে সালাফের পথ অনুসরণ করেনি; বরং কখনো প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে, আবার কখনো বর্ণিত দলিলের ওপর যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছে। তারা ধর্মীয় টেক্সট বা নসকে নিছক যুক্তির নিরিখে বিচার করেছে এবং বর্ণিত বিষয়াদি অনুধাবনের ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত সঠিক পদ্ধতির বিরোধিতা করেছে। যার ফলে এমন সব নিন্দনীয় ফিকহি মতামতের জন্ম হয়েছে যা বিচ্ছিন্নতা (شذوذ) এবং প্রত্যাখ্যানযোগ্যতা (منكر) হিসেবে অভিহিত।
নিঃসন্দেহে উম্মাহর পথচলায় এদের নেতিবাচক প্রভাব ছিল—যেমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, সমস্যা উসকে দেওয়া এবং ফাটল তৈরি করা।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
وإن هذا الكتاب ليتناول مسألة هامة من مسائل الفقه الاجتماعية ألا وهي حكم مصافحة المرأة الأجنبية.
ولقد عمت البلوى بها في أوساط المسلمين حتى ليخيل للناظر أن مصافحة الأجنبية مباحة وينكر على من يرى حرمتها.
وقد اتبع أخونا الدكتور حسام الدين عفانه الطريق الأمثل في معالجة هذه القضية ودرس نصوصها وتوجيه أدلتها التوجيه
اللائق بها حتى خرج بنتيجة مفادها تحريم مصافحة الأجنبية وهو الحق الذي يسنده النقل والعقل ومقصد الشريعة فأوقفنا على الصواب بعد استفراغ الجهد في بيان مواقف أتباع المذاهب الفقهية وعرض أدلتها، وأدلة المخالفين ومناقشتها بما لا يدع مجالاً لشلك ولا للتخبط.
فجزى الله أخانا خير الجزاء ونفع الله بجهده وبارك فيه إنه سميع مجيب.
নিশ্চয়ই এই গ্রন্থটি সামাজিক ফিকহ বা আইনতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তথা পরনারীর (গাইরে মাহরাম) সাথে করমর্দনের বিধান নিয়ে আলোচনা করে।
মুসলিম সমাজে এটি এমন এক সর্বব্যাপী সমস্যায় (عمت البلوى) পরিণত হয়েছে যে, কোনো পর্যবেক্ষকের মনে হতে পারে পরনারীর সাথে করমর্দন করা হয়তো বৈধ (مباح); এমনকি যে ব্যক্তি একে হারাম (حرام) মনে করে তার সমালোচনা করা হয়।
আমাদের ভাই ডক্টর হুসামুদ্দিন আফানা এই বিষয়টি নিরসনে সর্বোত্তম পন্থা অনুসরণ করেছেন এবং এ সংক্রান্ত মূলপাঠসমূহ (نصوص) অধ্যয়ন করে সেগুলোর দলিলের যথাযথ প্রয়োগ ঘটিয়েছেন।
যথাযথ পন্থায় তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, পরনারীর সাথে করমর্দন করা হারাম (تحريم)। এটিই হচ্ছে সত্য, যা শরয়ি বর্ণনা (نقل), যুক্তি (عقل) এবং শরিয়তের উদ্দেশ্যের (مقصد الشريعة) মাধ্যমে সমর্থিত। বিভিন্ন ফিকহি মাযহাবের (مذاهب) অনুসারীদের অবস্থান স্পষ্টকরণ এবং তাদের দলিলসমূহ উপস্থাপনের পাশাপাশি ভিন্নমতাবলম্বীদের দলিলসমূহ ও সেগুলোর পর্যালোচনা করার ক্ষেত্রে পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করার মাধ্যমে তিনি আমাদের সঠিক বিষয়ের ওপর স্থির করেছেন, যা কোনো সংশয় বা বিভ্রান্তির অবকাশ রাখে না।
আল্লাহ আমাদের ভাইকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর প্রচেষ্টাকে ফলপ্রসূ করুন এবং এতে বরকত দান করুন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده ولا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
(يَاأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ)
(يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا)
(يَاأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا)
أما بعد فإن أصدق الحديث كتاب الله وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار
… وبعد
فقد سئلت كثيراً عن حكم مصافحة المرأة الأجنبية خلال دروس في المسجد الأقصى المبارك وخلال محاضراتي العامة، ولما كنت أجيب بما أعلمه في هذه المسألة وهو تحريم ذلك كان يقال أن طائفة من الناس يقولون بإباحة مصافحة المرأة الأجنبية ويستدلون بحديث أم عطية رضي الله عنها وفيه: (فقبضت امرأة منا يدها) وغيره، فرغبت أن أبحث هذه المسألة بحثاً حديثياً
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল।
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।)
(হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।)
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।)
অতঃপর, নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ (সা.)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة) এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে
… এরপর—
বরকতময় মাসজিদুল আকসায় পাঠদান এবং আমার সাধারণ বক্তৃতার সময় গায়র-মাহরাম নারীর সাথে করমর্দনের বিধান (حكم) সম্পর্কে আমাকে অনেক জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। আমি যখন এই বিষয়ে আমার জানা মতে এর নিষিদ্ধতা (تحريم) সম্পর্কে উত্তর দিতাম, তখন বলা হতো যে একদল লোক গায়র-মাহরাম নারীর সাথে করমর্দন বৈধ বলে মনে করেন এবং তারা উম্মু আতিয়্যাহ (রা.)-এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন যাতে রয়েছে: "তখন আমাদের মধ্য থেকে এক নারী তার হাত গুটিয়ে নিলেন" এবং অন্যান্য বর্ণনা। তাই আমি এই বিষয়টি হাদিস শাস্ত্রীয় (حديثي) দৃষ্টিকোণ থেকে গবেষণা করতে আগ্রহী হলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وفقهياً موسعاً، فجمعت ما وقفت عليه من الأحاديث الواردة في المسألة وذكرت أقوال جماعة كثيرة من أهل العلم قديماً وحديثاً ممن وقفت على أقوالهم فتبين لي بعد البحث والتمحيص أن المسألة متفق عليها بين علماء الإسلام وأن حكمها التحريم وأن القول المخالف حديث العهد ولم يقل أحد بجواز المصافحة للأجنبية قبل الشيخ تقي الدين النبهاني فيما أعلم.
وقد ذكرت أدلة العلماء على التحريم وأتبعتها بذكر أهم الشبهات التي بني عليها القول الشاذ بالإباحة ورددت عليها وأبطلتها. وقد رجعت إلى المصادر الأصلية في التفسير والحديث وأصول الفقه والفقه وخرّجت الأحاديث التي ذكرتها، ونقلت أقوال المحدثين في ذلك.
وفي الختام أسال الله العظيم أن يفقهنا في الدين وأن ينفعنا بما علمنا وأن يجعلنا ممن يستمعون القول فيتبعون أحسنه إنه سميع قريب مجيب، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
د. حسام الدين عفانه
أبوديس - القدس
الأربعاء 25 شوال 1414 هـ / وفق 6 نيسان 1994 م
এবং ফিকহীভাবে বিস্তারিত আলোচনা, ফলে আমি এই মাসআলা সংক্রান্ত যেসকল হাদিস পেয়েছি তা একত্রিত করেছি এবং পূর্ববর্তী ও বর্তমান আলেমদের একটি বড় জামাতের বক্তব্য উল্লেখ করেছি যাদের মতামতের ব্যাপারে আমি অবগত হয়েছি। অতঃপর গভীর অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিষয়টি ইসলামের আলেমদের মধ্যে সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং এর বিধান হলো হারাম হওয়া। আর বিপরীত মতটি আধুনিককালের এবং আমার জানামতে শায়খ তাকিউদ্দীন আন-নাবহানির পূর্বে পরনারীর সাথে মুসাফাহা বৈধ হওয়ার কথা কেউ বলেননি।
আমি হারাম হওয়ার স্বপক্ষে আলেমদের দলীলসমূহ উল্লেখ করেছি এবং এরপর সেই প্রধান সংশয়গুলোও উল্লেখ করেছি যার ওপর ভিত্তি করে বৈধতার এই বিচ্ছিন্ন (شاذ) মতটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আমি সেগুলোর উত্তর দিয়েছি ও তা বাতিল করেছি। আমি তাফসির, হাদিস, উসুলুল ফিকহ ও ফিকহের মূল উৎসসমূহের সাহায্য নিয়েছি এবং আমার উল্লেখিত হাদিসগুলোর তাখরিজ (تخريج) করেছি, আর এ বিষয়ে মুহাদ্দিসগণের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছি।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন এবং আমাদের যা শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন, আর আমাদের সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা কথা শুনে এবং তার মধ্য থেকে যা উত্তম তা অনুসরণ করে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী ও দুআ কবুলকারী। এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
ড. হুসামুদ্দিন আফানা
আবু দিস - কুদস
বুধবার ২৫ শাওয়াল ১৪১৪ হিজরি / মুতাবিক ৬ এপ্রিল ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأولتعريف المصافحةالمصافحة: هي الأخذ باليد، أي وضع صفح الكف على صفح كف غيره.
قال الجوهري: [والمصافحة الأخذ باليد والتصافح مثله] (1).
وقال الفيومي: [صافحته مصافحة أفضيت بيدي إلى يده] (2).
وقال ابن منظور: [وهي مفاعلة من إلصاق صفح الكف بالكف وإقبال الوجه على الوجه] (3).
وقال الحافظ ابن حجر: [هي مفاعلة من الصفحة، والمراد بها الإفضاء بصف: [هي مفاعلة من الصفحة، والمراد بها الإفضاء بصفحة اليد إلى صفحة اليد] (4).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদমুসাফাহ-এর সংজ্ঞামুসাফাহ: এটি হলো হাতে হাত রাখা, অর্থাৎ একজনের করতলের সমতল অংশ অন্য জনের করতলের সমতল অংশের ওপর স্থাপন করা।
আল-জাওহারি বলেছেন: [মুসাফাহ হলো হাতে হাত রাখা এবং ‘তাসাফুহ’ শব্দটিও অনুরূপ] (১)।
আল-ফাইয়ুমি বলেছেন: [আমি তার সাথে মুসাফাহ করেছি, অর্থাৎ আমি আমার হাত তার হাতের সাথে মিলিয়েছি] (২)।
ইবনে মানজুর বলেছেন: [এটি এক হাতের করতলের সাথে অন্য হাতের করতল মেলানো এবং একে অপরের অভিমুখী হওয়া অর্থে ‘মুফাআলাহ’ ওযনের একটি শব্দ] (৩)।
হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার বলেছেন: [এটি ‘সাফহাহ’ শব্দ থেকে ‘মুফাআলাহ’ ওযনের শব্দ, যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মেলানো: এটি ‘সাফহাহ’ শব্দ থেকে ‘মুফাআলাহ’ ওযনের শব্দ, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এক হাতের করতলের সমতল ভাগ অন্য হাতের করতলের সমতল ভাগের সাথে মেলানো] (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الثانيتحديد المراد بالمرأة الأجنبيةمن هي المرأة الأجنبية؟
المرأة الأجنبية: هي التي يحل للشخص نكاحها، وهي غير القريبة المحرم وغير الزوجة. (1)
والمحارم من النساء هن اللواتي لا يحل نكاحهن تأبيداً أو مؤقتاً، والأصل في التحريم قوله تعالى: (حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ مِنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا
جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ وَأَنْ تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ
… ) الخ الآية. (2)
وقول الرسول صلى الله عليه وسلم: (لا يجمع بين المرأة وعمتها ولا بين المرأة وخالتها) (3).
وقوله صلى الله عليه وسلم: (إن الرضاعة تحرم ما ترحمه الولادة) (4).
وقوله عليه الصلاة والسلام: (يحرم من الرضاعة ما يحرم من النسب) (5).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদঅজনবি (أجنبية) মহিলার সংজ্ঞা নির্ধারণঅজনবি (أجنبية) নারী কে?
অজনবি (أجنبية) নারী: তিনি হলেন সেই নারী যাকে বিবাহ করা কোনো ব্যক্তির জন্য বৈধ, এবং তিনি নিকটাত্মীয় মাহরাম (محرم) নন এবং স্ত্রীও নন। (১)
নারীদের মধ্যে মাহরাম (محرم) হলেন তারা, যাদের বিবাহ করা স্থায়ীভাবে বা সাময়িকভাবে বৈধ নয়। এই নিষিদ্ধতার মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: (তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভ্রাতুষ্পুত্র ও ভগ্নিপুত্রকে, তোমাদের সেই সব মাতাকে যারা তোমাদের স্তন্যদান করেছেন, তোমাদের দুধ-বোনদের, তোমাদের শাশুড়িদের এবং তোমাদের কোলে লালিত-পালিত সেই সব কন্যাদের যাদের মায়েদের সঙ্গে তোমরা সহবাস করেছ; তবে যদি তোমরা তাদের সঙ্গে সহবাস না করে থাক তবে তোমাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই। আর তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীদের এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা, আগে যা হয়ে গেছে তা ছাড়া। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর বিবাহিত নারীগণও (তোমাদের জন্য হারাম), তবে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীগণ ছাড়া। এটি তোমাদের ওপর আল্লাহর বিধান
… ) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (২)
এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (কোনো নারী ও তার ফুফুকে একত্রে এবং কোনো নারী ও তার খালাকে একত্রে বিবাহ করা যাবে না) (৩)।
এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (নিশ্চয়ই দুগ্ধপান তা-ই হারাম করে, যা জন্মগতীয় সম্পর্ক হারাম করে) (৪)।
এবং তাঁর আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর বাণী: (বংশগত সম্পর্কের কারণে যা হারাম হয়, দুগ্ধপানের কারণেও তা হারাম হয়) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
والمحرمات من النساء ثلاثة أنواع:
الأول: المحرمات من النسب:
وهن سبع الأمهات، البنات، الأخوات، العمات، الخالات، بنات الأخ، بنات الأخت، وهن محرمات على التأبيد فلا يحل الزواج بهن بحال من الأحوال.
ويدخل في قولنا الأمهات الجدات وإن علون، ويدخل في قولنا البنات بنات البنين وبنات البنات وإن نزلت درجتهن، ويدخل في قولنا الأخوات الأخوات لأب والأخوات لأم.
الثاني: المحرمات من الرضاع:
وهن سبع أيضاً كما في المحرمات من النسب وهن الأمهات من الرضاعة، والبنات من الرضاعة، والأخوات من الضراعة، والعمات من الرضاعة، والخالات من الرضاعة، وبنات الأخ من الرضاعة، وبنات الأخت من الرضاعة.
الثالث: المحرمات بسبب المصاهرة:
1. زوجة الأب ويشمل ذلك زوجة الجد.
2. زوجة الابن ومثلها زوجة ابن الابن وزوجة ابن البنت وإن نزلت درجتهن.
3. أم الزوجة ومثلها جدتها سواء كانت الجدة من جهة الأب أو من جهة الأم.
4. بنت الزوجة وإن نزلت درجتها بشرط أن يكون الزوج قد دخل بأمها.
নারীদের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধগণ তিন প্রকার:
প্রথম: বংশীয় সম্পর্কের কারণে নিষিদ্ধ:
তারা হলেন সাতজন: মাতা, কন্যা, ভগিনী, ফুফু, খালা, ভ্রাতুষ্পুত্রী এবং ভাগিনেয়ী। তারা চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ, তাই কোনো অবস্থাতেই তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ নয়।
আমাদের 'মাতা' বলার অন্তর্ভুক্ত হলো পিতামহী ও মাতামহী, তাঁরা যত ঊর্ধ্বগামীই হোন না কেন। আর 'কন্যা' বলার অন্তর্ভুক্ত হলো পৌত্রী এবং দৌহিত্রী, তাঁরা যত নিম্নগামীই হোন না কেন। আর 'ভগিনী' শব্দের অন্তর্ভুক্ত হলো বৈমাত্রেয় ভগিনী এবং বৈপিত্রীয় ভগিনী।
দ্বিতীয়: দুগ্ধপানের কারণে নিষিদ্ধ:
বংশীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধদের ন্যায় দুগ্ধপানের কারণেও সাতজন নিষিদ্ধ। তাঁরা হলেন: দুগ্ধমাতা, দুগ্ধকন্যা, দুগ্ধভগিনী, দুগ্ধফুফু, দুগ্ধখালা, দুগ্ধ-ভ্রাতুষ্পুত্রী এবং দুগ্ধ-ভাগিনেয়ী।
তৃতীয়: বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে নিষিদ্ধ:
১. পিতার স্ত্রী, এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো পিতামহের স্ত্রী।
২. পুত্রের স্ত্রী, এবং অনুরূপভাবে পৌত্রের স্ত্রী ও দৌহিত্রের স্ত্রী, তাঁরা যত নিম্নগামীই হোন না কেন।
৩. স্ত্রীর মাতা, এবং অনুরূপভাবে তাঁর পিতামহী বা মাতামহী, চাই তাঁরা পিতার দিক থেকে হোন বা মাতার দিক থেকে।
৪. স্ত্রীর কন্যা, সে যত নিম্নগামীই হোক না কেন; তবে শর্ত হলো স্বামীকে অবশ্যই তার মাতার সাথে সহবাস সম্পন্ন করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأما المحرمات حرمة مؤقتة فهن:
أخت الزوجة والمطلقة ثلاثاً والمشغولة بحق زوج آخر بزواج أو عدة والتي لا تدين بدين سماوي والخامسة لمن عنده أربع زوجات.
وهناك تفصيلات واستثناءات في هذا الباب تراجع في مظانها من كتب الفقه. (1)
--------------------------------------------
আর সাময়িক নিষিদ্ধ (حرمة مؤقتة) নারীরা হলেন:
স্ত্রীর বোন, তিন তালাকপ্রাপ্ত (المطلقة ثلاثاً) নারী, বিবাহ বা ইদ্দত (عدة) পালনের কারণে অন্য স্বামীর হকের সাথে সম্পৃক্ত নারী, যে নারী কোনো আসমানি ধর্ম (دين سماوي) অনুসরণ করে না এবং যার চারজন স্ত্রী রয়েছে তার জন্য পঞ্চম নারী।
এই অধ্যায়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যতিক্রমী বিধান রয়েছে, যা ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الثالثحكم مصافحة المرأة الأجنبية وأقوال العلماء في ذلكاتفق علماء الأمة من السلف والخلف من أهل التفسير والحديث والفقه وغيرهم على تحريم مصافحة المرأة الأجنبية ولم يعرف لهم مخالف على مر العصور والأزمان - فيما أعلم - إلا ما أحدث في هذا العصر من قول شاذ يرى صاحبه أن مصافحة المرأة الأجنبية من قبيل المباح كما سيأتي.
وهذه أقوال العلماء في هذه المسألة من أتباع المذاهب الأربعة وغيرهم يبينون فيها أن مصافحة المرأة الأجنبية حرام شرعاً للأدلة التي سنذكرها بعد ذلك:
أولاً: أقوال علماء المذاهب الأربعة:
(أ) أقوال الحنفية:
1. قال الإمام المرغيناني صاحب كتاب الهداية: [ولا يحل له أن يمس وجهها ولا كفيها وإن كان يأمن الشهوة]. (1)
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদবেগানা নারীর সাথে করমর্দনের বিধান এবং এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের অভিমততাফসির, হাদিস, ফিকহ এবং অন্যান্য শাস্ত্রের পূর্বসূরী ও উত্তরসূরী উলামায়ে উম্মত বেগানা নারীর সাথে করমর্দন হারাম হওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আমার জানামতে—যুগ যুগ ধরে তাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো ভিন্নমত দেখা যায়নি; কেবল বর্তমান যুগে উদ্ভাবিত একটি বিচ্ছিন্ন (شاذ) মত ছাড়া, যার প্রবক্তা মনে করেন যে বেগানা নারীর সাথে করমর্দন করা মুবাহ বা বৈধ পর্যায়ের, যা সামনে আলোচিত হবে।
নিম্নে এই মাসআলায় চার মাজহাবের অনুসারী এবং অন্যান্য উলামায়ে কেরামের বক্তব্য তুলে ধরা হলো, যেখানে তারা পরবর্তী অনুচ্ছেদে বর্ণিতব্য দলিলসমূহের ভিত্তিতে স্পষ্ট করেছেন যে, বেগানা নারীর সাথে করমর্দন করা শরয়িভাবে হারাম:
প্রথমত: চার মাজহাবের উলামায়ে কেরামের বক্তব্য:
(ক) হানাফি মাজহাবের বক্তব্য:
১. হিদায়া গ্রন্থের রচয়িতা ইমাম মারগিনানি বলেন: [পুরুষের জন্য নারীর মুখমণ্ডল ও হাতের তালু স্পর্শ করা হালাল নয়, যদিও সে কামভাব থেকে নিরাপদ থাকে]। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
2. وقال السمرقندي: [وأما المس فيحرم سواء عن شهوة أو عن غير شهوة وهذا إن كانت شابة. فإن كانت عجوزاً فلا بأس بالمصافحة إن كان غالب رأيه أنه لا يشتهي، ولا تحل المصافحة إن كانت تشتهي وإن كان الرجل لا يشتهي]. (1)
3. وقال صاحب الاختيار: [ولا ينظر إلى المرأة الأجنبية إلا إلى الوجه والكفين إن لم يخف الشهوة، فإن خاف الشهوة لا يجوز إلا للحاكم والشاهد ولا يجوز أن يمس ذلك وإن أمن الشهوة]. (2)
4. وقال صاحب الدر المختار: [فلا يحل مس وجهها وكفها وإن أمن الشهوة]. (3)
5. وقال الزيلعي: [ولا يجوز له أن يمس وجهها ولا كفيها وإن أمن الشهوة لوجود المحرم وانعدام الضرورة والبلوى]. (4)
6. وقال الكاساني: [وأما حكم مس هذين العضوين - الوجه والكفين - فلا يحل مسهما]. (5)
7. وقال صاحب ملتقى الأبحر: [ولا إلى الحرة الأجنبية - أي ولا ينظر - إلا إلى الوجه والكفين إن أمن الشهوة وإلا فلا
… ولا يجوز مس ذلك وإن أمن الشهوة إن كانت شابة
… ]. (6)
--------------------------------------------
2. আস-সামারকান্দি বলেন: [আর স্পর্শ করার বিষয়টি হারাম (يحرم), চাই তা কামভাবের (شهوة) সাথে হোক বা কামভাব ছাড়া; এবং এটি তখন প্রযোজ্য যখন নারীটি যুবতী হয়। তবে তিনি যদি বৃদ্ধা হন, তবে মুসাফাহা (المصافحة) করায় কোনো দোষ নেই যদি প্রবল ধারণা (غالب رأيه) হয় যে, তিনি কামভাব উদ্রেক করবেন না। আর যদি নারীটি কামভাব উদ্রেককারী হন, তবে মুসাফাহা করা হালাল (تحل) নয়, যদিও পুরুষের কামভাব জাগ্রত না হয়]। (1)
3. আল-ইখতিয়ার-এর রচয়িতা বলেন: [অجنবী (أجنبية) নারীর দিকে তাকানো যাবে না—মুখমণ্ডল ও দুই হাতের তালু ব্যতীত—যদি কামভাবের (الشهوة) আশঙ্কা না থাকে। আর যদি কামভাবের আশঙ্কা থাকে, তবে বিচারক ও সাক্ষীর ক্ষেত্র ব্যতীত তা বৈধ (يجوز) নয়। আর কামভাবের ব্যাপারে নিরাপদ (أمن الشهوة) হলেও তা স্পর্শ করা বৈধ (يجوز) নয়]। (2)
4. আদ-দুররুল মুখতার-এর রচয়িতা বলেন: [সুতরাং কামভাব থেকে নিরাপদ (أمن الشهوة) হলেও তার মুখমণ্ডল ও হাতের তালু স্পর্শ করা হালাল (يحل) নয়]। (3)
5. আয-যাইলায়ী বলেন: [কামভাব থেকে নিরাপদ (أمن الشهوة) হলেও তার মুখমণ্ডল ও দুই হাতের তালু স্পর্শ করা তার জন্য বৈধ (يجوز) নয়; কারণ এখানে নিষিদ্ধকারী (المحرم) বিদ্যমান এবং আবশ্যকতা (الضرورة) ও সাধারণ সমস্যার (البلوى) অনুপস্থিতি রয়েছে]। (4)
6. আল-কাসানি বলেন: [আর এই দুই অঙ্গ—মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি—স্পর্শ করার বিধান (حكم) হলো, এগুলো স্পর্শ করা হালাল (يحل) নয়]। (5)
7. মুলতাকাল আবহুর-এর রচয়িতা বলেন: [এবং স্বাধীন অجنবী (أجنبية) নারীর দিকে তাকানো যাবে না—অর্থাৎ দৃষ্টিপাত করা যাবে না—মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি ব্যতীত, যদি কামভাব থেকে নিরাপদ (أمن الشهوة) থাকে; অন্যথায় নয়... এবং যুবতী নারী হলে কামভাব থেকে নিরাপদ হলেও তা স্পর্শ করা বৈধ (يجوز) নয়... ]। (6)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
(ب) أقوال المالكية:
8. قال الإمام ابن العربي: [قوله تعالى: (إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لَا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا) عن عروة عن عائشة قالت: (ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يمتحن إلا بهذه الآية (إِذَا
جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ)) قال معمر فأخبرني ابن طاووس عن أبيه قال: ما مست يده يد امرأة إلا امرأة يملكها.
وعن عائشة أيضاً في الصحيح: (ما مست يد رسول صلى الله عليه وسلم يد امرأة وقال إني لا أصافح النساء إنما قولي لمائة امرأة كقولي لامرأة واحدة).
وقد روي أنه صافحهن على ثوبه. وروي أن عمر صافحهن عنه وأنه كلف امرأة وقفت على الصفا فبايعتهن، وذلك ضعيف وإنما ينبغي التعويل على ما روي في الصحيح] (1).
9. وقال الإمام ابن العربي أيضاً: [كان النبي صلى الله عليه وسلم يصافح الرجال في البيعة تأكيداً لشدة العقدة بالقول والفعل فسأل النساء ذلك فقال لهن قولي لامرأة واحدة كقولي لمائة امرأة ولم يصافحهن لما أوعز إلينا في الشريعة من تحريم المباشرة لهن إلا من يحل له ذلك منهن]. (2)
10. وقال الباجي: [وقوله صلى الله عليه وسلم: (إني لا أصافح النساء) لا أباشر أيديهن بيدي. يريد - والله أعلم - الاجتناب، وذلك أن حكم مبايعة الرجال المصافحة، فمنع ذلك في مبايعة النساء لما فيه من مباشرتهن). (3)
--------------------------------------------
(খ) মালিকিগণের অভিমতসমূহ:
৮. ইমাম ইবনুল আরাবি (রহ.) বলেন: [আল্লাহ তাআলার বাণী: (হে নবী! যখন ঈমানদার নারীরা আপনার কাছে এসে এই মর্মে বায়আত করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না...) উরওয়াহ থেকে আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল এই আয়াতের মাধ্যমেই পরীক্ষা নিতেন)। মা'মার বলেন, অতঃপর ইবনে তাউস তাঁর পিতার সূত্রে আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি বলেন: তাঁর হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি, কেবল তাঁর মালিকানাধীন (স্ত্রী বা দাসী) নারী ব্যতীত।
সহিহ (صحيح) গ্রন্থে আয়েশা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত আছে: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি এবং তিনি বলতেন, নিশ্চয়ই আমি নারীদের সাথে করমর্দন করি না। একশ নারীর জন্য আমার কথা একজন নারীর জন্য আমার কথার মতোই।)
বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর কাপড়ের উপর দিয়ে তাদের সাথে করমর্দন করেছিলেন। আরও বর্ণিত আছে যে, ওমর (রা.) তাঁর পক্ষ থেকে তাদের সাথে করমর্দন করেছিলেন এবং তিনি একজন নারীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যিনি সাফা পাহাড়ে অবস্থান করে তাদের থেকে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন; তবে সেটি দুর্বল (ضعيف)। মূলত সহিহ (صحيح) বর্ণনায় যা এসেছে তার ওপরই নির্ভর করা উচিত।] (১)।
৯. ইমাম ইবনুল আরাবি (রহ.) আরও বলেন: [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়আতের সময় কথা ও কাজের মাধ্যমে চুক্তির দৃঢ়তাকে সুনিশ্চিত করতে পুরুষদের সাথে করমর্দন করতেন। নারীরাও সেটি চেয়েছিল, তখন তিনি তাদের বললেন: একজন নারীর প্রতি আমার কথা একশ নারীর প্রতি আমার কথার মতোই। তিনি তাদের সাথে করমর্দন করেননি, কারণ শরিয়তে আমাদের নিকট পরনারীদের সরাসরি স্পর্শ করা হারাম হওয়ার বিষয়টি নির্দেশিত হয়েছে, কেবল তাদের ব্যতীত যাদের স্পর্শ করা বৈধ।] (২)
১০. আল-বাজি বলেন: [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (নিশ্চয়ই আমি নারীদের সাথে করমর্দন করি না) অর্থাৎ আমি আমার হাত দিয়ে তাদের হাত স্পর্শ করি না। তিনি—আল্লাহই ভালো জানেন—এর মাধ্যমে পরিহার করা উদ্দেশ্য নিয়েছেন। এর কারণ হলো, পুরুষদের বায়আতের বিধান হলো করমর্দন করা, কিন্তু নারীদের বায়আতের ক্ষেত্রে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে যেহেতু এতে তাদের সরাসরি স্পর্শ করার বিষয়টি বিদ্যমান থাকে।] (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
(جـ) أقوال الشافعية:
11. قال الإمام النووي: [
… وينبغي أن يحترز من مصافحة الأمرد الحسن الوجه فإن النظر إليه حرام
… وقد قال أصحابنا كل من حرم النظر إليه حرم مسه بل المس أشد، فإنه يحل النظر إلى الأجنبية إذا أراد أن يتزوجها وفي حال البيع والشراء والأخذ والعطاء ونحو ذلك، ولا يجوز مسها في شيء من ذلك]. (1)
12. وقال الإمام النووي أيضاً بعد أن ذكر حديث عائشة - سيأتي -: [فيه أن بيعة النساء بالكلام وفيه أن كلام الأجنبية
يباح سماعه عند الحاجة وأن صوتها ليس بعورة وأن لا يلمس بشرة الأجنبية من غير ضرورة كتطبيب وفصد]. (2)
13. وقال الحافظ بن حجر أيضاً: [وفي الحديث - حديث عائشة - أن كلام الأجنبية مباح سماعه وأن صوتها ليس بعورة ومنع لمس بشرة الأجنبية من غير ضرورة لذلك]. (3)
14. وقال الحافظ بن حجر أيضاً: [ويستثنى من عموم الأمر بالمصافحة المرأة الأجنبية والأمرد الحسن]. (4)
15. وقال العلامة الحصني: [وأعلم أنه حيث حرم النظر حرم المس بطريق الأولى لأنه أبلغ لذة]. (5)
--------------------------------------------
(গ) শাফিঈগণের বক্তব্যসমূহ:
১১. ইমাম নববী বলেছেন: [ … এবং সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট দাড়িহীন কিশোরের (أمرد) সাথে মুসাফাহা করা থেকে বিরত থাকা উচিত, কেননা তার দিকে তাকানো নিষিদ্ধ (حرام) … আমাদের সহচরগণ (শাফিঈ ফকিহগণ) বলেছেন, যার দিকে তাকানো নিষিদ্ধ (حرام), তাকে স্পর্শ করাও নিষিদ্ধ (حرام); বরং স্পর্শ করা দেখার চেয়েও গুরুতর। কেননা কোনো গায়রে মাহরাম (أجنبية) নারীকে বিয়ের ইচ্ছা থাকলে কিংবা ক্রয়-বিক্রয়, আদান-প্রদান ও অনুরূপ ক্ষেত্রে তার দিকে তাকানো বৈধ (حلال) হলেও, এসবের কোনো ক্ষেত্রেই তাকে স্পর্শ করা বৈধ নয় (لا يجوز)]। (১)
১২. ইমাম নববী আয়েশা (রা.)-এর হাদিস উল্লেখ করার পর—যা পরবর্তীতে আসবে—পুনরায় বলেছেন: [এতে প্রমাণিত হয় যে, নারীদের বায়আত ছিল কেবল মৌখিক। এতে আরও রয়েছে যে, প্রয়োজনে গায়রে মাহরাম (أجنبية) নারীর কথা শোনা বৈধ (مباح) এবং তার কণ্ঠস্বর সতর (عورة) নয়। আর চিকিৎসা ও রক্তমোক্ষণের (فصد) মতো অপরিহার্যতা (ضرورة) ব্যতীত গায়রে মাহরাম (أجنبية) নারীর ত্বক স্পর্শ করা যাবে না]। (২)
১৩. হাফেজ ইবনে হাজারও বলেছেন: [হাদিসটিতে—অর্থাৎ আয়েশা (রা.)-এর হাদিসে—রয়েছে যে, গায়রে মাহরাম (أجنبية) নারীর কথা শোনা বৈধ (مباح) এবং তার কণ্ঠস্বর সতর (عورة) নয়; আর প্রয়োজন (ضرورة) ব্যতীত গায়রে মাহরাম (أجنبية) নারীর ত্বক স্পর্শ করা নিষিদ্ধ]। (৩)
১৪. হাফেজ ইবনে হাজার আরও বলেছেন: [মুসাফাহা করার সাধারণ নির্দেশের বলয় থেকে গায়রে মাহরাম (أجنبية) নারী ও সুন্দর চেহারার দাড়িহীন কিশোর (أمرد) ব্যতিক্রম বা বহির্ভূত]। (৪)
১৫. আল্লামা হিসনি বলেছেন: [জেনে রাখুন, যেখানে তাকানো নিষিদ্ধ (حرام), সেখানে স্পর্শ করা অধিকতর সঙ্গত কারণে (بطريق الأولى) নিষিদ্ধ; কেননা এতে অধিকতর উপভোগ বা তৃপ্তি রয়েছে]। (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
16. وقال الحافظ العراقي: [وفيه - حديث عائشة - أنه عليه الصلاة والسلام لم تمس يده قط يد امرأة غير زوجاته وما ملكت يمينه لا في مبايعة ولا في غيرها، وإذا لم يفعل هو
ذلك مع عصمته وانتفاء الريبة في حقه فغيره أولى بذلك، والظاهر أنه كان يمتنع من ذلك لتحريمه عليه
… ]. (1)
17. وقال الحافظ الحازمي: [وردت في الباب أحاديث ثابتة تصرح بأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يصافح امرأة أجنبية قط في المبايعة وإنما كان يبايعهن قولاً
… ]. (2)
18. وقال الشيخ برهان الدين الجعبري بعد أن ساق حديث أميمة -سيأتي-: [وهذا صحيح يدل على حرمة مصافحة النساء في المبايعة وغيرها]. (3)
(د) أقوال الحنابلة:
19. قال شيخ الإسلام ابن تيمية: [ويحرم النظر بشهوة إلى النساء والمردان ومن استحله كفر إجماعاً ويحرم النظر مع وجود ثوران الشهوة وهو منصوص الإمام أحمد والشافعي .. وكل قسم متى كان معه شهوة كان حراماً بلا ريب سواء
كانت شهوة تمتع النظر أو كانت شهوة الوطء واللمس كالنظر وأولى]. (4)
--------------------------------------------
১৬. হাফেজ আল-ইরাকি বলেছেন: [এতে—অর্থাৎ আয়েশার হাদিসে—উল্লেখ রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রী ও তাঁর মালিকানাধীন দাসী ব্যতীত অন্য কোনো নারীর হাত কখনো স্পর্শ করেননি—না বায়আত গ্রহণের সময়, না অন্য কোনো সময়ে। আর তিনি তাঁর নিষ্পাপ হওয়া এবং তাঁর ক্ষেত্রে সন্দেহের অবকাশ না থাকা সত্ত্বেও যদি তা
না করে থাকেন, তবে অন্যদের জন্য এটি বর্জন করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত। স্পষ্টত তিনি এটি বর্জন করতেন কারণ এটি তাঁর ওপর হারাম ছিল
... ]। (১)
১৭. হাফেজ আল-হাজিমি বলেছেন: [এই অধ্যায়ে সুসাব্যস্ত (ثابتة) হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে যা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়আত গ্রহণের সময় কখনো কোনো পরনারীর সাথে মুসাফাহা করেননি; বরং তিনি কেবল মৌখিকভাবে তাঁদের বায়আত গ্রহণ করতেন
... ]। (২)
১৮. শায়খ বুরহানউদ্দিন আল-জাবারী উমাইমাহ-এর হাদিস—যা সামনে আসবে—উল্লেখ করার পর বলেন: [আর এটি সহিহ (صحيح), যা বায়আত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নারীদের সাথে মুসাফাহা করার নিষিদ্ধতা নির্দেশ করে]। (৩)
(ঘ) হাম্বলি ফকিহদের মতামত:
১৯. শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: [নারী ও কিশোরদের দিকে কামলিপ্সা সহকারে তাকানো হারাম। আর যে ব্যক্তি একে বৈধ মনে করবে, সে সর্বসম্মতভাবে কাফির হয়ে যাবে। কামভাব জাগ্রত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তাকানো হারাম, যা ইমাম আহমদ ও ইমাম শাফেয়ীর সুস্পষ্ট বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত... আর কামভাব বিদ্যমান থাকলে প্রতিটি ক্ষেত্রই নিঃসন্দেহে হারাম, চাই
তা দৃষ্টিসুখ লাভের কামনায় হোক বা সহবাসের কামনায়। আর স্পর্শ করা হচ্ছে দেখার মতোই, বরং তা অধিকতর গুরুতর]। (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال ابن مفلح: [فتصافح المرأةُ المرأةَ والرجلُ الرجلَ والعجوزَ والبرزةَ غير الشابة فإنه يحرم مصافحتها ذكره في الفصول والرعاية]. (1)
21. ونقل ابن مفلح عن محمد بن عبد الله بن مهران أن أبا عبد الله - يعني الإمام أحمد - سئل عن الرجل يصافح المرأة قال: [لا وشدد فيه جداً، قلت يصافحها بثوبه. قال: لا]. (2)
22. وقال السفاريني: [
… إلا الشابة الأجنبية فتحرم مصافحتها كما في الفصول والرعاية وجزم في الإقناع كغيره لأن المصافحة شر من
النظر]. (3)
23. وقال صاحب منار السبيل: [ويحرم النظر لشهوة أو مع خوف ثورانها إلى أحد ممن ذكرنا. ولمس كنظر وأولى لأنه أبلغ منه فيحرم المس حيث يحرم النظر]. (4)
(هـ) أقوال العلماء المعاصرين:
24. قال الشيخ المحدث ناصر الدين الألباني: [وفي الحديث: (لأن يطعن في رأس أحدكم بمخيط
… ) وعيد شديد لمن مس امرأة لا تحل له ففيه دليل على تحريم مصافحة النساء لأن ذلك مما يشمله المس دون شك]. (5)
--------------------------------------------
ইবনে মুফলিহ বলেছেন: [নারীর সাথে নারী, পুরুষের সাথে পুরুষ এবং বৃদ্ধা ও অভিজ্ঞ প্রবীণ মহিলার (যিনি মানুষের সামনে আবির্ভূত হন) মুসাফাহা করার অনুমতি রয়েছে; তবে যুবতী নারী নয়, কারণ তার সাথে মুসাফাহা করা হারাম। তিনি এটি আল-ফুনুন ও আর-রিআয়াহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন]। (১)
২১. ইবনে মুফলিহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মেহরান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু আব্দুল্লাহ — অর্থাৎ ইমাম আহমাদ — কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে কোনো মহিলার সাথে মুসাফাহা করে। তিনি বললেন: [না, এবং তিনি এ বিষয়ে অত্যন্ত কড়াকড়ি করলেন। আমি বললাম, তিনি কি কাপড়ের ওপর দিয়ে তার সাথে মুসাফাহা করতে পারেন? তিনি বললেন: না]। (২)
২২. আস-সাফফারিনি বলেছেন: [ ... তবে যুবতী বেগানা নারী ব্যতীত, কেননা তার সাথে মুসাফাহা করা হারাম যেমনটি আল-ফুনুন ও আর-রিআয়াহ গ্রন্থে রয়েছে। আল-ইকনা ও অন্যান্য গ্রন্থেও এ বিষয়ে দৃঢ় মত প্রকাশ করা হয়েছে, কারণ মুসাফাহা করার বিষয়টি দৃষ্টিপাতের চেয়েও বেশি গুরুতর]। (৩)
২৩. মানার আস-সাবিল-এর লেখক বলেছেন: [আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের মধ্যে কারো দিকে কামনার সাথে বা কামোত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কায় তাকানো হারাম। আর স্পর্শ করা দৃষ্টিপাতের মতোই, বরং এটি আরও বেশি গুরুতর; সুতরাং যেখানে দৃষ্টিপাত করা হারাম সেখানে স্পর্শ করাও হারাম]। (৪)
(ঙ) সমসাময়িক আলেমদের অভিমত:
২৪. হাদিস বিশারদ (المحدث) শায়খ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি বলেছেন: [এবং হাদিসে এসেছে: (তোমাদের কারো মাথায় লোহার সুঁচ দিয়ে আঘাত করা...); এটি এমন ব্যক্তির জন্য এক কঠোর হুঁশিয়ারি যে এমন কোনো নারীকে স্পর্শ করে যে তার জন্য হালাল নয়। এতে মহিলাদের সাথে মুসাফাহা হারাম হওয়ার দলিল রয়েছে, কারণ এটি নিঃসন্দেহে স্পর্শের অন্তর্ভুক্ত]। (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
25. وقال الدكتور وهبي الزحيلي: [وتحرم مصافحة المرأة لقوله صلى الله عليه وسلم: (إني لا أصافح النساء)]. (1)
26. وقال الدكتور محمد عبد العزيز عمرو: [وانعقد الإجماع كذلك على حرمة مصافحة المرأة الأجنبية الشابة]. (2)
27. وقال الدكتور محمد سعيد رمضان البوطي: [علمت مما ذكرناه من كيفية بيعة النبي صلى الله عليه وسلم للنساء أن بيعتهن إنما تكون بالكلام فقط من غير أخذ الكف وذلك على خلاف بيعة الرجال فدل ذلك على أنه لا يجوز ملامسة الرجل بشرة امرأة
أجنبية عنه ولا أعلم خلافاً في ذلك عند علماء المسلمين اللهم إلا أن تدعو إلى ذلك ضرورة كتطبيب وفصد وقلع ضرس ونحو ذلك]. (3)
28. وقال الشيخ محمد أحمد إسماعيل: [اعلموا أيها المسلمون رحمنا الله وإياكم أنه لا يجوز للرجل أن يصافح امرأة أجنبية منه ولا يجوز له أن يلمس شيء من بدنه شيئاً من بدنها]. (4)
29. وقال العلامة المحدث فضل الله الجيلاني: [فالمصافحة سنة مجمع عليها عند التلاقي ويستثنى من عموم الأمر المرأة الأجنبية والأمرد]. (5)
--------------------------------------------
25. ড. ওয়াহবা আল-জুহাইলি বলেন: [আর নারীর সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করা হারাম (حرام), কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (নিশ্চয়ই আমি নারীদের সাথে মুসাফাহা করি না)]। (১)
26. ড. মুহাম্মদ আবদুল আজিজ আমর বলেন: [অনুরূপভাবে গায়রে মাহরাম যুবতী নারীর সাথে মুসাফাহা করা হারাম হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে]। (২)
27. ড. মুহাম্মদ সাঈদ রমাদান আল-বুতি বলেন: [নারীদের বায়আত গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা থেকে আপনি জানতে পেরেছেন যে, তাদের বায়আত গ্রহণ ছিল কেবল মৌখিকভাবে, হাত স্পর্শ করা ছাড়াই। এটি পুরুষদের বায়আত গ্রহণের পদ্ধতির বিপরীত ছিল। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, পুরুষের জন্য গায়রে মাহরাম নারীর শরীর স্পর্শ করা জায়েজ নয়। আর মুসলিম উলামাগণের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই; তবে যদি কোনো বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন—চিকিৎসা, রক্তমোক্ষণ, দাঁত তোলা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো স্বতন্ত্র]। (৩)
28. শেখ মুহাম্মদ আহমদ ইসমাইল বলেন: [হে মুসলিমগণ! আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের প্রতি রহম করুন, আপনারা জেনে রাখুন যে, কোনো পুরুষের জন্য গায়রে মাহরাম নারীর সাথে মুসাফাহা করা জায়েজ নয় এবং তার শরীরের কোনো অংশ দিয়ে ঐ নারীর শরীরের কোনো অংশ স্পর্শ করাও বৈধ নয়]। (৪)
29. আল্লামা মুহাদ্দিস ফজলুল্লাহ আল-জিলানি বলেন: [সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করা একটি সর্বসম্মত সুন্নাহ (سنة)। তবে গায়রে মাহরাম নারী এবং দাড়ি-গোঁফহীন সুন্দর কিশোর এই সাধারণ নির্দেশের বহির্ভূত]। (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
30. وقال المحدث شمس الحق العظيم أبادي: [وكان شيخنا العلامة القاضي مولانا بشير الدين بن كريم الدين القنوجي رحمه الله تعالى من أشد المنكرين على ذلك - مصافحة النساء
- وله في ذلك رسالة وبسط الكلام في عدم جواز مصافحة النساء وهو الحق]. (1)
31. وقال الشيخ أحمد عبد الرحمن البنا الشهير بالساعاتي:
… [وأحاديث الباب تدل على تحريم مصافحة المرأة الأجنبية ولمس بشرتها بغير حائل]. (2)
32. وقال الشيخ محمد سلطان المعصومي: [أن مصافحة النساء الأجنبيات لا تجوز ولا تحل سواء مع الشهوة أو لا، وسواء أكانت شابة أم لا
… وذلك مذهب الأئمة الأربعة وعامة العلماء رحمهم
الله]. (3)
33. وقال الشيخ محمد علي الصابوني: [وقد كانت بيعة الرجال أن يضع يده في يد الرسول صلى الله عليه وسلم ويبايعه على الإسلام والجهاد والسمع والطاعة، وأما النساء فلم يثبت عنه أنه صافح امرأة ولا أنه وضع يده في يدها، إنما كانت البيعة بالكلام فقط]. (4)
ثم قال: [
… ولم يثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه صافح النساء في بيعة أو
غيرها]. (5)
34. وقال الشيخ عبد العزيز بن باز ومحمد بن صالح العثيمين جواباً على السؤال التالي: هل تجوز مصافحة المرأة الأجنبية؟ وإذا كانت تضع على يدها حاجزاً من ثوب وغيره فما الحكم؟ وهل يختلف الأمر إذا كان المصافح شاباً أو شيخاً أو كانت امرأة عجوزاً؟
--------------------------------------------
30. মুহাদ্দিস শামসুল হক আজিমাবাদী বলেছেন: [এবং আমাদের শায়খ আল্লামা কাজী মাওলানা বশীর উদ্দিন বিন করীম উদ্দিন আল-কান্নুজী (রাহিমাহুল্লাহ) নারীদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করার বিষয়ে কঠোর প্রতিবাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—নারীদের সাথে মুসাফাহা
—এবং এই বিষয়ে তার একটি পুস্তিকা রয়েছে এবং তিনি নারীদের সাথে মুসাফাহা করার অবৈধতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এটিই সত্য]। (১)
31. শায়খ আহমাদ আব্দুর রহমান আল-বান্না, যিনি 'আস-সাআতি' নামে প্রসিদ্ধ, তিনি বলেছেন:
… [এবং এই অধ্যায়ের হাদিসসমূহ পরনারীর সাথে মুসাফাহা করা এবং কোনো অন্তরাল বা আবরণ ছাড়া তার ত্বক স্পর্শ করার হারাম হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে]। (২)
32. শায়খ মুহাম্মদ সুলতান আল-মাসুমি বলেছেন: [পরনারীদের সাথে মুসাফাহা করা জায়েজ নয় এবং হালাল নয়, চাই তা কুপ্রবৃত্তি সহকারে হোক বা না হোক, এবং চাই সে যুবতী হোক বা না হোক
… এবং এটিই চার ইমাম ও সাধারণ উলামায়ে কেরামের (রাহিমাহুল্লাহ) মাজহাব]। (৩)
33. শায়খ মুহাম্মদ আলী আস-সাবুনী বলেছেন: [পুরুষদের বায়াত গ্রহণ ছিল এমন যে, তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতের ওপর হাত রাখতেন এবং ইসলাম, জিহাদ, শ্রবণ ও আনুগত্যের ওপর তাঁর কাছে বায়াত হতেন। পক্ষান্তরে নারীদের ক্ষেত্রে, তাঁর থেকে এটি প্রমাণিত হয়নি (لم يثبت) যে তিনি কোনো নারীর সাথে মুসাফাহা করেছেন অথবা তাঁর হাত কোনো নারীর হাতের ওপর রেখেছেন; বরং তাদের বায়াত ছিল কেবল মৌখিকভাবে]। (৪)
অতঃপর তিনি বলেন: [
… এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত হয়নি (لم يثبت) যে তিনি বায়াত গ্রহণের সময় বা অন্য কোনো সময় নারীদের সাথে মুসাফাহা করেছেন]। (৫)
34. শায়খ আব্দুল আজীজ বিন বাজ এবং মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন নিম্নোক্ত প্রশ্নের জবাবে বলেছেন: পরনারীর সাথে মুসাফাহা করা কি জায়েজ? আর যদি সে তার হাতের ওপর কাপড় বা অন্য কিছুর আবরণ রাখে, তবে এর বিধান কী? আর মুসাফাহাকারী যুবক না কি বৃদ্ধ, অথবা নারীটি বৃদ্ধা কি না—এতে কি বিধানের কোনো পরিবর্তন হবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال الشيخان المذكوران، في الجواب: [لا تجوز مصافحة النساء غير المحارم مطلقاً، سواء كن شابات أو عجائز وسواء أكان المصافح شاباً أم شيخاً كبيراً لما في ذلك من خطر الفتنة لكل منهما، وقد صح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إني لا أصافح النساء) وقالت عائشة رضي الله عنها [ما مست يد رسول الله صلى الله عليه وسلم يد امرأة قط، ما كان يبايعهن إلا بالكلام] ولا فرق بين كونها تصافحه بحائل أو بغير حائل، لعموم الأدلة ولسد الذرائع المفضية إلى الفتنة]. (1)
35. وقال الشيخان المذكوران في نفس الكتاب جواباً على السؤال التالي: هل يجوز مصافحة النساء الأقارب من وراء حائل؟
قالا: [النساء الأقارب إن كن محارم للإنسان يعني من المحرمات عليه في النكاح فإنه يجوز أن يصافحهن من وراء حائل أو مباشرة لأن المحرم يجوز أن ينظر من المرأة التي هو محرم لها
… وجهها وكفيها وقدميها وما ذكره أهل العلم في ذلك، وأما إن كانت القريبة ليست محرماً فإنه لا يجوز أن يصافحها لا بحائل ولا بدونه حتى لو كانت من عادتهم أن يصافحوهن فإنه يجب على المرء أن يبطل تلك العادة لأنها مخالفة للشرع فإن المس أعظم من النظر وتحرك الشهوة بالمس أعظم من تحركها بالنظر غالباً، فإذا كان الإنسان لا ينظر إلى كف امرأة ليست من محارمه فكيف يقبض على هذا الكف]. (2)
--------------------------------------------
উল্লিখিত দুই শায়খ উত্তরে বলেছেন: [গায়রে মাহরাম (غير المحارم) নারীদের সাথে করমর্দন করা সাধারণভাবে বৈধ নয়, তারা যুবতী হোক বা বৃদ্ধা এবং করমর্দনকারী যুবক হোক বা অতি বৃদ্ধ; কারণ এতে উভয়ের জন্যই ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে। এটি সহিহ (صحيح) ভাবে প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি নারীদের সাথে করমর্দন করি না)। আর আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বলেছেন: [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত কখনও কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি, তিনি কেবল কথার মাধ্যমেই তাদের নিকট থেকে বায়আত গ্রহণ করতেন]। এক্ষেত্রে কাপড়ের আড়াল থাকুক বা না থাকুক কোনো পার্থক্য নেই, কারণ দলিলসমূহের ব্যাপকতা এবং ফিতনার দিকে ধাবিতকারী মাধ্যমসমূহ বন্ধ করার (سد الذرائع) আবশ্যকতা রয়েছে।] (১)
৩৫. এবং উল্লিখিত দুই শায়খ উক্ত কিতাবেই নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন: কাপড়ের আড়াল থেকে আত্মীয় নারীদের সাথে করমর্দন করা কি জায়েজ?
তাঁরা বলেন: [আত্মীয় নারীদের মধ্যে যারা মাহরাম (محارم), অর্থাৎ যাদের সাথে বিবাহ বন্ধন হারাম, তাদের সাথে কাপড়ের আড়াল থেকে বা সরাসরি করমর্দন করা জায়েজ। কেননা মাহরাম ব্যক্তির জন্য সেই নারীর চেহারা, কবজি পর্যন্ত হাত, পা এবং আহলে ইলমগণ এ বিষয়ে যা উল্লেখ করেছেন তা দেখা জায়েজ
…। কিন্তু আত্মীয় নারী যদি মাহরাম (محارم) না হয়, তবে কাপড়ের আড়াল থাকুক বা না থাকুক, তার সাথে করমর্দন করা জায়েজ নয়। এমনকি যদি তাদের সমাজে করমর্দনের প্রথাও প্রচলিত থাকে, তবে ব্যক্তির জন্য সেই প্রথা বাতিল করা ওয়াজিব (واجب); কারণ তা শরয়ি বিধানের পরিপন্থী। কেননা স্পর্শ করা দৃষ্টিপাতের চেয়েও গুরুতর এবং স্পর্শের মাধ্যমে কামভাব জাগ্রত হওয়া সাধারণত দৃষ্টিপাতের চেয়েও প্রবল। সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি তার গায়রে মাহরাম (غير المحارم) নারীর হাতের তালুর দিকে না তাকায়, তবে সে কীভাবে সেই হাত স্পর্শ করবে বা ধরবে?] (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
36. وأجابت اللجنة العامة للبحوث العلمية والإفتاء السعودية على السؤال التالي: هل يجوز لي أن أسلم على زوجة خالي أخي والدتي مع العلم أنني رضعت مع خالي من جدتي، أم يحرم لكون أنها غير محرم لي؟
الجواب: [لا يجوز لك أن تمس يدك يد زوجة خالك سواء ثبت رضاعك من جدتك أم لم يثبت لأنك أجنبي، أي لست محرماً، أما سلام السنة الذي باللسان فيجوز، قالت عائشة رضي الله عنها في تفسير آية مبايعة رسول الله صلى الله عليه وسلم للنساء: (لا والله ما مست يده يد امرأة في المبايعة قط، ما يبايعهن إلا بقوله: قد بايعتك على ذلك) رواه البخاري.
وعن أميمة بنت رقيقة قالت: [أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في نساء لنبايعه، قلنا يا رسول الله ألا تصافحنا، قال: (إني لا أصافح النساء، إنما قولي لامرأة واحدة كقولي لمائة امرأة) رواه أحمد بسند صحيح]. (1)
37. وقد قال بحرمة مصافحة النساء الأجنبيات العلامة الشيخ محمد الحامد وله رسالة في ذلك بعنوان "حكم الإسلام في مصافحة المرأة الأجنبية ". (2)
--------------------------------------------
৩৬. সৌদি আরবের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফাতওয়া বিষয়ক সাধারণ কমিটি নিমোক্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছে: আমার মায়ের ভাই তথা আমার মামার স্ত্রীকে কি আমি সালাম দিতে পারি? উল্লেখ্য যে, আমি আমার দাদির দুধ আমার মামার সাথে পান করেছি। নাকি এটি আমার জন্য নিষিদ্ধ (حرام), যেহেতু তিনি আমার মাহরাম (محرم) নন?
উত্তর: [আপনার জন্য আপনার মামার হাত স্পর্শ করা বৈধ নয়, চাই আপনার দাদির নিকট থেকে আপনার দুধ পান করার বিষয়টি প্রমাণিত হোক বা না হোক; কারণ আপনি তার জন্য একজন পরপুরুষ (أجنبي), অর্থাৎ আপনি তার মাহরাম (محرم) নন। তবে সুন্নাহসম্মত সালাম যা মৌখিকভাবে প্রদান করা হয়, তা বৈধ। আয়েশা (রা.) নারীদের নিকট থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বায়আত (مبايعة) গ্রহণের আয়াতের তাফসিরে বলেন: (আল্লাহর কসম, বায়আত (مبايعة) গ্রহণের সময় তাঁর হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তিনি কেবল কথার মাধ্যমেই তাঁদের নিকট থেকে বায়আত (مبايعة) গ্রহণ করতেন এই বলে যে: আমি তোমাদের থেকে এ বিষয়ের ওপর বায়আত (مبايعة) গ্রহণ করলাম) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
আর উমাইমা বিনতে রুকাইকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: [আমি কয়েকজন নারীর সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাঁর কাছে বায়আত (مبايعة) হওয়ার জন্য আসলাম। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদের সাথে মুসাফাহা করবেন না? তিনি বললেন: (নিশ্চয়ই আমি নারীদের সাথে মুসাফাহা করি না। একজন নারীর প্রতি আমার কথা শত নারীর প্রতি কথার মতোই) আহমাদ এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদের (سند) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন]। (১)
৩৭. আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ আল-হামিদ পরনারীদের (أجنبية) সাথে মুসাফাহা করা নিষিদ্ধ (حرام) হওয়ার কথা বলেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর "হুকমুল ইসলাম ফি মুসাফাহাতির মারআতিল আজানাবিয়্যাহ" শিরোনামে একটি রিসালাহ বা পুস্তিকা রয়েছে। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
38. وقال الدكتور عبد الكريم زيدان: [ومن عرض أقوال الفقهاء وأدلتهم وذكر ما جاء في السنة النبوية الشريفة بشأن المس والمصافحة بين الرجل والمرأة الأجنبية يترجح عندي عدم جواز المصافحة بين الرجل والمرأة الأجنبية سواء بدأ بالمصافحة الرجل أو بدأت بها المرأة سواء شابين أو عجوزين أو كان أحدهما شاباً والآخر عجوزاً، لأن الأحاديث التي ذكرنا وأفادت حظر المصافحة بين الرجل والمرأة الأجنبية جاءت مطلقة دون أن يرد فيها ما يقيد عدم الجواز بالشاب والشابة وجوازها بالنسبة للعجوز]. (1)
--------------------------------------------
38. ড. আব্দুল কারীম যাইদান বলেন: [ফকিহগণের (فقهاء) মতামত ও তাদের দলিলসমূহ পর্যালোচনা করলে এবং পরপুরুষ ও পরনারীর মধ্যে স্পর্শ ও করমর্দন (مصافحة) সংক্রান্ত সুন্নাহয় যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করলে আমার নিকট এটাই অগ্রগণ্য (يترجح) বলে মনে হয় যে, পরপুরুষ ও পরনারীর মধ্যে করমর্দন করা না-জায়েজ (عدم جواز)। চাই করমর্দনের সূচনা পুরুষ করুক অথবা নারী করুক, তারা উভয়ে যুবক-যুবতী হোক কিংবা বৃদ্ধ-বৃদ্ধা হোক অথবা তাদের একজন যুবক ও অন্যজন বৃদ্ধ হোক। কারণ আমরা যে হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি এবং যা পরপুরুষ ও পরনারীর মাঝে করমর্দন নিষিদ্ধ (حظر) হওয়ার অর্থ প্রদান করে, সেগুলো সাধারণ বা নিঃশর্ত (مطلقة) হিসেবে এসেছে। সেখানে এমন কোনো বর্ণনা আসেনি যা এই অবৈধতাকে (عدم الجواز) কেবল যুবক-যুবতীর জন্য সুনির্দিষ্ট (يقيد) করে এবং বৃদ্ধ-বৃদ্ধার ক্ষেত্রে একে বৈধতা (جواز) দান করে।] (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الرابعأدلة العلماء على تحريم مصافحة المرأة الأجنبيةبعد أن ذكرت أقوال أهل العلم من السلف والخلف التي وقفت عليها في تحريم مصافحة المرأة الأجنبية أسوق أدلتهم على ذلك:
أولاً: حديث عائشة رضي الله عنها قالت: (كانت المؤمنات إذا هاجرن إلى النبي صلى الله عليه وسلم يمتحنهن بقول الله تعالى: (يَاأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ
… ) الخ الآية. قالت: من أقر بهذا الشرط من المؤمنات فقد أقر بالمحنة (1) فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أقررن بذلك من قولهن قال لهن رسول الله صلى الله عليه وسلم انطلقن فقد بايعتكن. لا والله ما مست
يد رسول الله يد امرأة قط غير أنه يبايعهن بالكلام) رواه الإمامان البخاري ومسلم في صحيحيهما (2).
وفي رواية للبخاري عن عائشة قالت: (فمن أقر بهذا الشرط من المؤمنات قال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم قد بايعتك كلاماً. لا والله ما مست يده يد امرأة قط في المبايعة، ما بايعهن إلا بقوله قد بايعتك على ذلك). (3)
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদঅপরিচিতা (বেগানা) নারীর সাথে মুসাফাহা হারাম হওয়ার সপক্ষে আলেমগণের দলিলসমূহঅপরিচিতা নারীর সাথে মুসাফাহা করার নিষিদ্ধতার বিষয়ে সালাফ (পূর্বসূরী) ও খালাফ (উত্তরসূরী) আলেমগণের যে সকল বক্তব্য আমি অবগত হয়েছি, তা উল্লেখ করার পর এখন আমি তাঁদের দলিলসমূহ উপস্থাপন করছি:
প্রথমত: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: (মুমিন নারীগণ যখন নবী (সা.)-এর নিকট হিজরত করে আসতেন, তখন তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তাঁদের পরীক্ষা করতেন: (হে মুমিনগণ, যখন তোমাদের নিকট মুমিন নারীগণ হিজরত করে আসে, তখন তোমরা তাদের পরীক্ষা করো... ) - আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তিনি বলেন: মুমিন নারীদের মধ্যে যারা এই শর্ত স্বীকার করে নিতেন, তাঁরা সেই পরীক্ষার স্বীকৃতি প্রদান করতেন (১)। ফলে রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন তাঁদের মৌখিক স্বীকৃতির বিষয়টি নিশ্চিত হতেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁদের বলতেন: "তোমরা ফিরে যাও, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের বায়াত গ্রহণ করেছি। আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি; বরং তিনি কেবল মৌখিক বাক্যের মাধ্যমেই তাঁদের বায়াত গ্রহণ করতেন")। ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
বুখারির অন্য একটি বর্ণনায় আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (মুমিন নারীদের মধ্যে যে এই শর্ত স্বীকার করত, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বলতেন: "আমি মৌখিকভাবে তোমার বায়াত গ্রহণ করলাম।" আল্লাহর কসম, বায়াত গ্রহণের সময় তাঁর হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি; তিনি কেবল এই কথা বলার মাধ্যমেই তাঁদের বায়াত গ্রহণ করতেন যে, "আমি তোমার থেকে এই শর্তের ওপর বায়াত গ্রহণ করলাম")। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وفي رواية أخرى لحديث عائشة عند ابن ماجة: [ولا مست كف رسول الله صلى الله عليه وسلم كف امرأة قط وكان يقول لهن إذا أخذ عليهن قد بايعتكن كلاماً). (1)
قال الحافظ بن حجر: [قوله قد بايعتك كلاماً أن يقول ذلك كلاماً فقط لا مصافحة باليد كما جرت العادة بمصافحة الرجال عند المبايعة]. (2)
وقال الإمام النووي [قولها: (والله ما مست يد رسول الله صلى الله عليه وسلم يد امرأة قط غير أنه يبايعهن بالكلام) فيه أن بيعة النساء بالكلام من غير أخذ كف وفيه أن بيعة الرجال بأخذ الكف مع الكلام وفيه أن كلام الأجنبية يباح سماعه وأن صوتها ليس بعورة وأنه لا يلمس بشرة الأجنبية من غير ضرورة كتطبيب وفصد]. (3)
ثانياً: عن أميمة بنت رقيقة رضي الله عنها قالت: [أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في نسوة نبايعه فقلن نبيعك يا رسول الله على أن لا نشرك بالله شيئاً ولا نسرق ولا نزني ولا نقتل أولادنا ولا نأتي ببهتان نفتريه بين أيدينا وأرجلنا ولا نعصيك في معروف، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم (فيما استطعتن وأطقتن)، قالت: فقلن الله ورسوله أرحم بنا من أنفسنا هلم نبايعك يا رسول الله. فقال: (إني لا أصافح النساء إنما قولي لمائة امرأة كقولي لامرأة واحدة أو مثل قولي لامرأة واحدة)] رواه
الترمذي والنسائي وابن ماجة ومالك وأحمد وابن حبان والدارقطني (4).
--------------------------------------------
ইবনে মাজাহ-এ সংকলিত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতের তালু কখনো কোনো নারীর হাতের তালু স্পর্শ করেনি। তিনি যখন তাদের থেকে বায়াত গ্রহণ করতেন, তখন তাদের বলতেন: 'আমি তোমাদের থেকে মৌখিকভাবে বায়াত গ্রহণ করলাম'।] (১)
হাফিজ ইবনে হাজার (র.) বলেছেন: [তাঁর বক্তব্য 'আমি তোমাদের থেকে মৌখিকভাবে বায়াত গ্রহণ করলাম' এর অর্থ হলো—তিনি কেবল মৌখিকভাবে তা বলতেন, হাত মেলানোর (مصافحة) মাধ্যমে নয়, যেমনটি বায়াত গ্রহণের সময় পুরুষদের সাথে হাত মেলানোর রীতি প্রচলিত ছিল।] (২)
ইমাম নববী (র.) বলেন: [তাঁর কথা: (আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি, তবে তিনি তাদের সাথে মৌখিকভাবে বায়াত গ্রহণ করতেন) এতে প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের বায়াত হাতের তালু স্পর্শ করা ছাড়াই মৌখিকভাবে সম্পন্ন হতো। আর পুরুষদের বায়াত হতো মৌখিক আলোচনার সাথে হাতের তালু ধারণের মাধ্যমে। এতে আরও প্রমাণিত হয় যে, পরনারী বা গায়রে মাহরাম (أجنبية) নারীর কথা শোনা বৈধ এবং তার কণ্ঠস্বর সতর (عورة) নয়। আর চিকিৎসা বা রক্তমোক্ষণের (فصد) মতো জরুরি প্রয়োজন ছাড়া গায়রে মাহরাম নারীর ত্বক স্পর্শ করা যাবে না।] (৩)
দ্বিতীয়ত: উমাইমাহ বিনতে রুকাইকাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: [আমি কতিপয় মহিলার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বায়াত হতে আসলাম। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার কাছে এই মর্মে বায়াত হচ্ছি যে, আমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না, চুরি করব না, ব্যভিচার করব না, আমাদের সন্তানদের হত্যা করব না, জেনে-বুঝে কোনো মিথ্যা অপবাদ (بهتان) রটাব না এবং কোনো সৎ কাজে (معروف) আপনার অবাধ্য হব না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (তোমাদের সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী)। উমাইমাহ বলেন: মহিলারা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের প্রতি আমাদের নিজেদের চেয়েও অধিক দয়ালু। হে আল্লাহর রাসূল! আসুন, আমরা আপনার সাথে বায়াত হই। তখন তিনি বললেন: (নিশ্চয়ই আমি নারীদের সাথে হাত মেলাই না (أصافح)। একশ মহিলার জন্য আমার মৌখিক বক্তব্য কেবল একজন মহিলার জন্য আমার বক্তব্যের মতোই)।] এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, মালিক, আহমাদ, ইবনে হিব্বান এবং দারাকুতনি (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح. (1)
وقال الحافظ ابن كثير: هذا إسناد صحيح. (2)
وقال الشيخ ناصر الدين الألباني: إسناده صحيح. (3)
وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين. (4)
وفي رواية أخرى عند الترمذي: (فقلت: يا رسول الله بايعنا - قال سفيان تعني صافحنا - فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنما قولي لمئة امرأة كقولي لامرأة واحدة). (5)
وفي رواية أخرى عند عبد الرزاق: (قالت فقلنا ألا نصافحك يا رسول الله فقال: إني لا أصافح النساء إنما قولي لامرأة كقولي لمئة امرأة). (6)
وفي رواية أخرى: (قالت: ولم يصافح رسول الله منا امرأة) رواه احمد والحاكم بسند حسن كما قال الشيخ الألباني. (7)
وهذا الحديث يبين أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يصافح النساء في البيعة وهو نص صريح في ذلك، وإذا كان النبي صلى الله عليه وسلم لم يصافح النساء في البيعة فمن باب أولى أنه لم يصافح النساء في غير البيعة.
فالرسول صلى الله عليه وسلم مع عصمته ترك مصافحة النساء، فعلينا أن نترك ما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم لأنه أسوتنا وقدوتنا.
--------------------------------------------
ইমাম তিরমিজি বলেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)। (১)
হাফিজ ইবনে কাসির বলেন: এই সনদটি (إسناد) সহিহ (صحيح)। (২)
শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী বলেন: এর সনদটি (إسناده) সহিহ (صحيح)। (৩)
শায়খ শুয়াইব আল-আরনাউত বলেন: এর সনদটি (إسناده) শায়খায়নের (الشيخين) শর্তানুসারে (شرط) সহিহ (صحيح)। (৪)
তিরমিজির অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: (আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের থেকে বায়াত গ্রহণ করুন - সুফিয়ান বলেন, এর অর্থ হলো আমাদের সাথে মুসাফাহা করুন - তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: একশত নারীর ক্ষেত্রে আমার কথা ঠিক একজন নারীর ক্ষেত্রে আমার কথার মতোই)। (৫)
আবদুর রাজ্জাকের অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: (তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি আমাদের সাথে মুসাফাহা করবেন না? তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমি নারীদের সাথে মুসাফাহা করি না, একশত নারীর ক্ষেত্রে আমার কথা ঠিক একজন নারীর ক্ষেত্রে আমার কথার মতোই)। (৬)
অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: (তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ আমাদের মধ্য থেকে কোনো নারীর সাথে মুসাফাহা করেননি) এটি আহমদ এবং হাকিম হাসান (حسن) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন যেমনটি শায়খ আলবানী বলেছেন। (৭)
এই হাদিসটি স্পষ্ট করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়াত গ্রহণের সময় নারীদের সাথে মুসাফাহা করেননি এবং এটি এই বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট (صريح) নস (نص)। আর যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়াত গ্রহণের সময় নারীদের সাথে মুসাফাহা না করে থাকেন, তবে বায়াত ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে মুসাফাহা না করা আরও অধিক যুক্তিযুক্ত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিষ্পাপত্ব (عصمة) থাকা সত্ত্বেও নারীদের সাথে মুসাফাহা করা বর্জন করেছেন, সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বর্জন করেছেন তা আমাদেরও বর্জন করা উচিত কারণ তিনি আমাদের আদর্শ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثالثاً: عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: (كان لا يصافح النساء في البيعة) رواه الإمام أحمد في المسند. (1)
ونقل المناوي قول الهيثمي إسناده حسن. (2)
وقال الشيخ أحمد عبد الرحمن البنا الشهير بالساعاتي: [وحسنه الحافظ السيوطي]. (3)
وقال الشيخ الألباني: [وهذا إسناد حسن على ما تقرر عند العلماء من الاحتجاج بحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده كأحمد والبخاري والترمذي وغيرهم]. (4)
رابعاً: روى الإمام الترمذي قال معمر فأخبرني ابن طاووس عن أبيه قال: [ما مست يد رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا يد امرأة يملكها] وقال الشيخ الألباني صحيح. (5)
وفي رواية عن ابن جريج عن ابن طاووس عن أبيه: (كان النبي صلى الله عليه وسلم يأخذ عليهن ويقول: لا أصافح النساء) رواه عبد الرزاق. (6)
خامساً: روى أبو نعيم في المعرفة من حديث نُهَيّة بنت عبد الله البكرية قالت: وفدت مع أبي على النبي صلى الله عليه وسلم فبايع الرجال وصافحهم وبايع النساء ولم يصافحهن). (7)
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সা.): (বায়আত গ্রহণের সময় নারীদের সাথে মুসাফাহা করতেন না)। এটি ইমাম আহমদ মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। (১)
এবং আল-মুনাওয়ী আল-হাইসামীর উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন যে, এর সনদটি হাসান (حسن)। (২)
এবং আস-সাআতি নামে পরিচিত শেখ আহমদ আব্দুর রহমান আল-বান্না বলেছেন: [হাফেজ আস-সুয়ূতী একে হাসান (حسن) বলে অভিহিত করেছেন]। (৩)
এবং শেখ আলবানী বলেছেন: [এই সনদটি হাসান (حسن), যেমনটি আলেমদের নিকট সাব্যস্ত হয়েছে যে, আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যায়; যেমন আহমদ, বুখারী, তিরমিযী এবং অন্যান্যগণ]। (৪)
চতুর্থত: ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন যে, মামার বলেছেন, ইবনে তাউস তাঁর পিতা থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: [রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাত তাঁর মালিকানাধীন নারী ছাড়া অন্য কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি]। শেখ আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। (৫)
ইবনে জুরাইজ থেকে ইবনে তাউস ও তাঁর পিতার সূত্রে অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: (নবী (সা.) তাদের বায়আত গ্রহণ করতেন এবং বলতেন: আমি নারীদের সাথে মুসাফাহা করি না)। এটি আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন। (৬)
পঞ্চমত: আবু নুয়াইম আল-মারিফাহ গ্রন্থে নুহাইয়া বিনতে আব্দুল্লাহ আল-বাকরিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (আমি আমার পিতার সাথে নবী (সা.)-এর নিকট প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছিলাম, অতঃপর তিনি পুরুষদের বায়আত করলেন ও তাদের সাথে মুসাফাহা করলেন এবং নারীদের বায়আত করলেন কিন্তু তাদের সাথে মুসাফাহা করলেন না)। (৭)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
سادساً: عن عقيله بنت عبيد أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لا أمس أيدي النساء) رواه الطبراني في الأوسط وهو حديث صحيح كما قال الشيخ الألباني. (1)
وهذه الرواية وما قبلها تشهد لحديث عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يصافح النساء في البيعة وهي تؤكد أن عائشة رضي الله عنها لم تنفرد في روايتها أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يصافح النساء وأن ذلك مبلغ علم عائشة كما زعم بعض الناس، وسيأتي توضيح ذلك عند إبطال شبهات القول الشاذ في هذه المسألة.
سابعاً: عن معقل بن يسار أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (لإن يطعن في رأس أحدكم بمخيط من حديد خير له من أن يمس امرأة لا تحل له) رواه الطبراني والبيهقي.
قال المنذري: [رجال الطبراني ثقات رجال الصحيح]. (2)
وقال الشيخ الألباني: [رواه الروياني في مسنده، وهذا سند جيد رجاله كلهم ثقات من رجال الشيخين غير شداد بن سعيد فمن رجال مسلم وحده، وفيه كلام يسير لا ينزل به حديثه عن رتبة الحسن
… والمِخيَط بكسر الميم وفتح الياء ما يخاط به كالإبرة والمسله ونحوهما وفي الحديث وعيد شديد لمن مس امرأة لا تحل له، ففيه دليل على تحريم مصافحة النساء لأن ذلك مما يشمله المس دون شك]. (3)
--------------------------------------------
ষষ্ঠত: উকাইলাহ বিনতে উবাইদ থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি নারীদের হাত স্পর্শ করি না)। এটি তাবারানি আল-আওসাতে বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সঠিক (صحيح) হাদিস যেমনটি শেখ আলবানি বলেছেন। (১)
এই বর্ণনাটি এবং এর পূর্ববর্তী বর্ণনাগুলো আয়েশার হাদিসকে সমর্থন করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়আতের সময় নারীদের সাথে মুসাফাহা করেননি। এটি নিশ্চিত করে যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর বর্ণনায় একক ছিলেন না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সাথে মুসাফাহা করেননি এবং এটি কেবল আয়েশার জ্ঞানের পরিধি ছিল এমন নয় যেমনটি কিছু মানুষ দাবি করেছে। এই বিষয়ে বিচ্ছিন্ন (شاذ) মতের সংশয়গুলো নিরসনের সময় এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে।
সপ্তমত: মাকাল ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমাদের কারো মাথায় লোহার সূঁচ বিদ্ধ হওয়া তার জন্য এমন কোনো নারীকে স্পর্শ করার চেয়ে উত্তম, যে নারী তার জন্য বৈধ নয়)। এটি তাবারানি ও বায়হাকি বর্ণনা করেছেন।
মুনজিরি বলেছেন: [তাবারানির বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং সহিহ পর্যায়ের বর্ণনাকারী]। (২)
শেখ আলবানি বলেছেন: [রুয়ানি এটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন এবং এই সনদ (سند)টি উত্তম (جيد), এর বর্ণনাকারীরা সবাই নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বর্ণনাকারী, কেবল শাদ্দাদ ইবনে সাঈদ ব্যতীত, যিনি শুধু মুসলিমের বর্ণনাকারী। তাঁর ব্যাপারে সামান্য সমালোচনা রয়েছে যা তাঁর বর্ণিত হাদিসকে হাসান (الحسن) পর্যায় থেকে নিচে নামায় না...
… আর 'মিকইয়াত' (المِخيَط) - মিম বর্ণে কাসরাহ এবং ইয়া বর্ণে ফাতহসহ - এর অর্থ হলো যা দিয়ে সেলাই করা হয় যেমন সুঁই, বড় সুঁই এবং এই জাতীয় বস্তু। এই হাদিসে এমন ব্যক্তির জন্য কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে যে এমন নারীকে স্পর্শ করে যে তার জন্য বৈধ নয়। এতে নারীদের সাথে মুসাফাহা করা হারাম হওয়ার দলিল রয়েছে, কারণ নিঃসন্দেহে মুসাফাহা স্পর্শের অন্তর্ভুক্ত]। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ثامناً: روى الإمام مسلم في صحيحه بسنده عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (كتب على ابن آدم نصيبه من الزنا مدرك ذلك لا محاله، فالعينان زناهما النظر، والأذنان زناهما الاستماع، واللسان زناه الكلام، واليد زناها البطش، والرجل زناها الخطى، والقلب يهوى ويتمنى، ويصدق ذلك الفرج ويكذبه). (1)
قال الإمام النووي: [معنى الحديث أن ابن آدم قُدر عليه نصيب من الزنا فمنهم من يكون زناه حقيقياً، بإدخال الفرج بالفرج الحرام. ومنهم من يكون زناه مجازاً بالنظر الحرام أو الاستماع إلى الزنى وما يتعلق بتحصيله أو بالمس بأن يمس بيده أجنبية أو يقبلها أو بالمشي بالرجل إلى الزنى أو النظر أو اللمس أو الحديث الحرام مع أجنبية ونحو ذلك]. (2)
تاسعاً: إن الإسلام حرم النظر إلى الأجنبية بغير سبب مشروع (3) بل إن الرسول صلى الله عليه وسلم قد حث المسلم على أن يصرف بصره إذا وقع على امرأة أجنبية فقد ثبت في الحديث عن جرير بن عبد الله رضي الله عنه قال: (سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نظر الفجأة فأمرني أن أصرف بصري). (4)
وعن بريده رضي الله عنه قال: (قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا علي لا تتبع النظرة النظرة فإنما لك الأولى وليست لك الآخرة) رواه أحمد
وأبو داود والترمذي والطبراني والحاكم وقال صحيح الإسناد ووافقه الذهبي وقال الألباني حسن. (5)
--------------------------------------------
অষ্টম: ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ-তে তাঁর সনদ (سند) সহ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "আদম সন্তানের ওপর তার ব্যভিচারের অংশ নির্ধারিত আছে, যা সে অবশ্যই লাভ করবে; দুই চোখের ব্যভিচার হলো (নিষিদ্ধ) দৃষ্টিপাত করা, দুই কানের ব্যভিচার হলো (নিষিদ্ধ) শ্রবণ করা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো (নিষিদ্ধ) কথা বলা, হাতের ব্যভিচার হলো (অন্যায়ভাবে) স্পর্শ করা বা ধরা, পায়ের ব্যভিচার হলো (পাপের দিকে) হেঁটে যাওয়া, আর অন্তর কামনা ও আকাঙ্ক্ষা করে; পরিশেষে যৌনাঙ্গ তাকে সত্য প্রতিপন্ন করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।" (১)
ইমাম নববী বলেন: [হাদিসের অর্থ হলো, আদম সন্তানের জন্য ব্যভিচারের একটি অংশ নির্ধারিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কারো ব্যভিচার হয় প্রকৃত (حقيقي), অর্থাৎ নিষিদ্ধ উপায়ে যৌনাঙ্গ প্রবেশের মাধ্যমে। আর কারো ব্যভিচার হয় রূপক (مجازي) হিসেবে, যেমন: নিষিদ্ধ দৃষ্টিপাত, ব্যভিচার সংক্রান্ত বা তা অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো কিছু শ্রবণ করা, অথবা পরনারীকে হাত দিয়ে স্পর্শ করা বা চুম্বন করা, কিংবা ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে অথবা (নিষিদ্ধ) দৃষ্টি, স্পর্শ বা পরনারীর সাথে নিষিদ্ধ আলোচনার উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং এ জাতীয় কাজ]। (২)
নবম: ইসলাম শরয়ী (شرعي) কারণ ছাড়া পরনারীর দিকে তাকানো হারাম করেছে (৩); বরং রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলিমদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন পরনারীর ওপর দৃষ্টি পড়লে তারা তা সরিয়ে নেয়। জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আকস্মিক দৃষ্টিপাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে আমার দৃষ্টি সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন।" (৪)
বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হে আলী! একবার দৃষ্টি পড়ার পর পুনরায় দৃষ্টি দিও না; কারণ প্রথম দৃষ্টিটি তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য, কিন্তু পরেরটি নয়।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি, তাবারানি ও হাকেম। তিনি এটিকে সহিহ সনদ (صحيح الإسناد) বলেছেন এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, আর আলবানি একে হাসান (حسن) বলেছেন। (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال الشوكاني: [وحديث بريدة فيه دليل على أن النظر الواقع فجأة من دون قصد وتعمد لا يوجب إثم الناظر لأن التكليف به خراج عن الاستطاعة وإنما الممنوع منه النظر الواقع على طريقة التعمد أو ترك صرف البصر بعد نظر الفجأة]. (1)
والأدلة على تحريم النظر إلى الأجنبية بدون سبب مشروع كثيرة، وإذا كان النظر محرماً فمن باب أولى اللمس، لأن اللمس أعظم أثراً في النفس من مجرد النظر حيث أن اللمس أكثر إثارة للشهوة وأقوى داعياً إلى الفتنة من النظر بالعين وكل منصف يعلم ذلك كما قال العلامة الشنقيطي. (2)
وقال الإمام النووي: [وقد قال أصحابنا كل من حرم النظر إليه حُرّم مسه، بل المس أشد فإنه يحل النظر إلى أجنبية إذا أراد أن يتزوجها وفي حال البيع والشراء والأخذ والعطاء ونحو ذلك ولا يجوز مسها في شيء من ذلك]. (3)
--------------------------------------------
ইমাম শাওকানি বলেন: [বুরাইদাহ-এর হাদিসটিতে এই মর্মে দলিল রয়েছে যে, উদ্দেশ্য ও ইচ্ছা ব্যতিরেকে হঠাৎ আপতিত দৃষ্টির কারণে দর্শক গুনাহগার হবে না; কারণ এ সংক্রান্ত বিধিবিধানের বাধ্যবাধকতা মানুষের সাধ্যাতীত। প্রকৃতপক্ষে নিষিদ্ধ বিষয় হলো ইচ্ছাকৃতভাবে তাকানো অথবা হঠাৎ দৃষ্টি পড়ার পর দৃষ্টি ফিরিয়ে না নেওয়া।] (১)
শরিয়তসম্মত কারণ ব্যতীত কোনো বেগানা নারীর প্রতি তাকানো হারাম (محرم) হওয়ার সপক্ষে অসংখ্য দলিল রয়েছে। আর যদি দৃষ্টিপাত করা হারাম (محرم) হয়, তবে স্পর্শ করা তো আরও জোরালোভাবে নিষিদ্ধ হবে। কেননা কেবল দৃষ্টিপাতের তুলনায় মনের ওপর স্পর্শের প্রভাব অনেক বেশি গভীর; যেহেতু স্পর্শ কাম উত্তেজনাকে অধিক জাগ্রত করে এবং চোখের দৃষ্টির চেয়ে ফেতনার (فتنة) প্রতি অধিক শক্তিশালী আহ্বানকারী। আল্লামা শানকিতি যেমনটি বলেছেন, যেকোনো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিই তা অবগত আছেন। (২)
ইমাম নববী বলেন: [আমাদের (শাফেয়ি মাজহাবের) ফকিহগণ বলেছেন, যার দিকে তাকানো হারাম (حرام), তাকে স্পর্শ করাও হারাম (حرام); বরং স্পর্শ করা অধিকতর গুরুতর। কারণ, কোনো বেগানা নারীকে বিয়ের ইচ্ছা থাকলে কিংবা ক্রয়-বিক্রয়, আদান-প্রদান ও অনুরূপ ক্ষেত্রে তার দিকে তাকানো বৈধ (يحل) হলেও এসব ক্ষেত্রে তাকে স্পর্শ করা কোনোভাবেই বৈধ নয় (لا يجوز)।] (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
هذه أهم الأدلة على حرمة مصافحة المرأة الأجنبية وإن الناظر المخلص في هذه الأدلة ليطمئن إلى صحتها وقوتها في إثبات هذا الحكم الشرعي ويدفعه ذلك إلى العمل به إقتداءً بسيد الخلق محمد صلى الله عليه وسلم، وأما من كان صاحب هوى أو عصبية ويدعو إلى التحلل والتنصل من أحكام الشرع فلا تعجبه هذه الأدلة وقد جئناه بها ساطعة واضحة كوضوح الشمس في رابعة النهار وسيحاول بشتى الطرق والوسائل أن يتمحل في التحلل من هذا الحكم الشرعي الثابت، تارة بالتأويل الفاسد، وأخرى بالاستدلال الباطل، وثالثة باسم الضرورة أو المصلحة أو نحو ذلك من التعليلات الفاسدة والتخريجات الساقطة كما سنرى فيما بعد.
পরনারীর সাথে করমর্দন করার নিষিদ্ধতার বিষয়ে এগুলোই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল। আর এই দলিলগুলোর প্রতি কোনো নিষ্ঠাবান পর্যবেক্ষক যখন দৃষ্টিপাত করবেন, তখন এই শরয়ি বিধান (حكم شرعي) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) ও শক্তিশালী হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত হবেন। আর এটি তাকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণে এই বিধান অনুযায়ী আমল করতে উদ্বুদ্ধ করবে। পক্ষান্তরে যারা প্রবৃত্তির অনুসারী বা গোঁড়ামিতে লিপ্ত এবং যারা শরয়ি বিধানসমূহ থেকে বিচ্যুতি ও পলায়নের আহ্বান জানায়, এই দলিলগুলো তাদের পছন্দ হবে না; অথচ আমরা এগুলো তাদের সামনে দ্বিপ্রহরের সূর্যের মতো উজ্জ্বল ও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছি। সে এই প্রতিষ্ঠিত শরয়ি বিধান (حكم شرعي) থেকে নিষ্কৃতি পেতে বিভিন্ন অজুহাতে নানা পথ ও উপায়ের অপচেষ্টা চালাবে—কখনও ভ্রান্ত ব্যাখ্যার (تأويل) মাধ্যমে, কখনও বাতিল দলিল উপস্থাপনের (استدلال) মাধ্যমে, আবার কখনও ‘অপরিহার্যতা’ (ضرورة) বা ‘কল্যাণ’ (مصلحة) কিংবা এই জাতীয় নানা অসার অজুহাত ও ভিত্তিহীন চয়নকৃত মতের (تخريجات) দোহাই দিয়ে; যেমনটি আমরা পরবর্তীতে দেখতে পাব।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিল্লাহ আশ-শারইয়্যাহ আলা তাহরীম মুসাফাহাতিল মারআতিল আজ-নাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المبحث الخامسالقول الشاذ بجواز مصافحة المرأة الأجنبيةذهب الشيخ تقي الدين النبهاني مؤسس حزب التحرير إلى جواز مصافحة المرأة الأجنبية وليس له سلف فيما ذهب إليه بل خالف جماهير علماء المسلمين السابقين واللاحقين، فمن أقواله في ذلك:
1. قال النبهاني في كتابه النظام الاجتماعي في الإسلام: [أما بالنسبة للمصافحة فإنه يجوز للرجل أن يصافح المرأة وللمرأة أن تصافح الرجل دون حائل بينهما]. (1)
2. وقال أيضاً: [وتكون البيعة مصافحة باليد أو كتابة لا فرق بين الرجال والنساء فإن لهن أن يصافحن الخليفة بالبيعة كما يصافحه الرجال]. (2)
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদগায়র-মাহরাম নারীর সাথে মুসাফাহা করার বৈধতা সম্পর্কিত বিচ্ছিন্ন (شاذ) অভিমতহিজবুত তাহরীরের প্রতিষ্ঠাতা শেখ তাকিউদ্দিন আন-নাবহানি গায়র-মাহরাম নারীর সাথে মুসাফাহা করা বৈধ হওয়ার অভিমত পোষণ করেছেন। তার এই মতের সপক্ষে কোনো পূর্বসূরি নেই, বরং তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মুসলিম উলামায়ে কেরামের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের বিরোধিতা করেছেন। এ বিষয়ে তার কিছু উক্তি নিম্নরূপ:
১. আন-নাবহানি তার আন-নিযামুল ইজতিমায়ি ফিল ইসলাম গ্রন্থে বলেছেন: [আর মুসাফাহার ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য নারীকে এবং নারীর জন্য পুরুষকে কোনো প্রতিবন্ধক ছাড়াই মুসাফাহা করা বৈধ]। (১)
২. তিনি আরও বলেছেন: [আর বায়আত হাতের মাধ্যমে মুসাফাহা করে অথবা লিখিতভাবে হতে পারে; এতে নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কেননা, পুরুষদের মতো নারীদের জন্যও খলিফাকে বায়আতের জন্য মুসাফাহা করার অধিকার রয়েছে]। (২)
--------------------------------------------