(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المفصل في أحكام الأضحية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: المفصل في أحكام الأضحية
المؤلف: حسام الدين بن موسى محمد بن عفانة
عدد الصفحات: 189
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 شوّال 1432
আল-মুফাসসাল ফি আহকামিল উদহিয়্যাহ বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল
গ্রন্থ: আল-মুফাসসাল ফি আহকামিল উদহিয়্যাহ
লেখক: হুসামুদ্দিন বিন মুসা মুহাম্মদ বিন আফানা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৯
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ শাওয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
المفصل في أحكام الأضحية
تأليف
الدكتور حسام الدين عفانه
الأستاذ المشارك في الفقه والأصول
كلية الدعوة وأصول الدين
جامعة القدس
কুরবানির বিধানাবলির বিস্তারিত বিবরণ
রচনায়
ডক্টর হুসামুদ্দিন আফানা
ফিকহ ও উসুল (أصول) শাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক
দাওয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন (أصول الدين) অনুষদ
আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستهديه ونستغفره ونسترشده، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}.
أما بعد:
فإن الأضحية شعيرةٌ من شعائر الله واجبٌ تعظيمها كما قال تعالى: {ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ}.
وسنة من سنن الرسول صلى الله عليه وسلم ينبغي الالتزام بها، وإحياؤها بالعمل بها ونشرها.
فرغبت في جمع كتاب في الأضحية، أبين فيه بالتفصيل، أحكامها وشروطها وسننها وآدابها، وما يتعلق بالمضحي من شروط وسنن وآداب، ونحو ذلك على نسق الكتاب الذي سبق وألفته بعنوان [أحكام العقيقة في الشريعة الإسلامية].
وقد جمعت مادة هذا الكتاب من بطون كتب التفسير، وشروح السنة، وأمهات كتب الفقه، وصغت ذلك بأسلوب سهل ميسور، وأقول ما قاله العلامة ابن منظور صاحب لسان العرب: [وليس لي في هذا الكتاب فضيلة أَمُتُّ بها، ولا وسيلة أتمسك بها، سوى أني جمعت فيه ما تفرق في كتب السابقين].
ولما كنت أتبع منهج المحققين من الفقهاء، الذين يعتنون في كتبهم بذكر الأدلة، من كتاب الله وسنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم، حرصت على الاستدلال لكل مسألة من مسائل
الكتاب.
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট হিদায়াত প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁর নিকট সঠিক পথের দিশা যাচনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার মর্যাদা রক্ষা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}
{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে এক মহা সফলতা অর্জন করল।}
অতঃপর:
নিশ্চয়ই কুরবানি হলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি নিদর্শন, যার সম্মান করা ওয়াজিব; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {এটিই বিধান, আর যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে, নিঃসন্দেহে তা অন্তরের তাকওয়া থেকেই উৎসারিত।}
এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহসমূহের মধ্য হতে একটি সুন্নাহ, যা আঁকড়ে ধরা এবং এর ওপর আমল ও তা প্রচারের মাধ্যমে একে পুনরুজ্জীবিত করা বাঞ্ছনীয়।
তাই আমি কুরবানি বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করার সংকল্প করলাম, যেখানে আমি কুরবানির বিধিবিধান, শর্তাবলি, সুন্নাত ও আদবসমূহ এবং কুরবানিদাতার সাথে সংশ্লিষ্ট শর্ত, সুন্নাত ও আদবসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব। আমার পূর্বে রচিত [ইসলামি শরিয়তে আকিকার বিধান] শিরোনামের গ্রন্থটির বিন্যাস অনুসারেই এটি প্রস্তুত করেছি।
আমি এই গ্রন্থের উপাদানসমূহ তাফসীরের কিতাবসমূহ, হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং ফিকহের মূল কিতাবসমূহ থেকে সংগ্রহ করেছি এবং তা একটি সহজ ও প্রাঞ্জল শৈলীতে উপস্থাপনা করেছি। আমি লিসানুল আরব-এর রচয়িতা আল্লামা ইবনুল মানজুরের সেই কথাই বলছি: [এই গ্রন্থে আমার এমন কোনো বিশেষ কৃতিত্ব নেই যার দাবি আমি করতে পারি, না আছে কোনো মাধ্যম যা আমি আঁকড়ে ধরতে পারি; কেবল এটুকুই যে, আমি এতে পূর্ববর্তীদের কিতাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিষয়গুলো একত্রিত করেছি।]
যেহেতু আমি ফকিহগণের মধ্যে সেই সব গবেষকদের পদ্ধতি অনুসরণ করি, যারা তাদের কিতাবে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে দলিল উল্লেখ করার ব্যাপারে যত্নবান থাকেন, তাই আমি এই গ্রন্থের প্রতিটি মাসআলার স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপনে সচেষ্ট হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
فإن جمال الفقه وروحه الدليل، ولذا عُنيتُ بتخريج الأحاديث التي أستدل بها، فما كان في صحيحي البخاري ومسلم، أو في أحدهما اكتفيت بذلك، وما كان فيما عداهما من كتب السنة، ذكرت أقوال المحدثين في الحكم عليه، كالحافظ ابن عبد البر، والإمام النووي، والحافظ الهيثمي، والحافظ ابن حجر، والحافظ الزيلعي من المتقدمين، ومن المتأخرين محدث العصر الشيخ محمد ناصر الدين الألباني.
وقد جمعت أقوال العلماء من الصحابة - فهم سادات المفتين والعلماء - والتابعين، ومن أصحاب المذاهب الفقهية وأتباعهم، ونظرت في أدلتهم، ورجحت ما وسعني الترجيح، من غير تعصب لمذهب أو إمام، وإنما حسب ما يؤيده الدليل، وأرجو أن يكون ما رجحته هو الصواب، فإن كان كذلك، فالحمد لله أولاً وأخيراً، وإن كانت الأخرى، فأستغفر الله وأتوب إليه، وذلك من خطئي وتقصيري، وأخيراً أقول ما قاله القاضي البيساني يرحمه الله: [إني رأيت أنه لا يكتب إنسانٌ كتاباًفي يومه، إلا قال في غده: لو غُيِّرَ هذا لكان أحسن، ولو زِيدَ كذا لكان يستحسن، ولو قُدِمَ هذا لكان أفضل، ولو تُرِكَ هذا لكان أجمل، وهذا من أعظم العبر، وهو دليلٌ على استيلاء النقص على جملة البشر].
وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين
كتبه د. حسام الدين بن موسى عفانة
أبوديس/القدس
صباح يوم الاثنين الخامس عشر من شوال 1419 وفق الأول من شباط 1999
কেননা ফিকহের সৌন্দর্য ও প্রাণ হলো দলিল (الدليل), তাই আমি যে সকল হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছি সেগুলোর উৎস অনুসন্ধান বা তাখরিজ (تخريج)-এর প্রতি বিশেষ যত্নবান হয়েছি। যা কিছু সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে অথবা এ দুটির কোনো একটিতে রয়েছে, আমি তার ওপরই নির্ভর করেছি। আর যা এ দুটি ব্যতিরেকে অন্যান্য সুনান গ্রন্থে রয়েছে, সেক্ষেত্রে আমি তার মান নির্ণয়ের (الحكم) ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের উক্তি উল্লেখ করেছি; যেমন—পূর্বসূরিদের (المتقدمين) মধ্য থেকে হাফেজ ইবনে আব্দুল বার, ইমাম নববী, হাফেজ হাইসামি, হাফেজ ইবনে হাজার এবং হাফেজ যায়লায়ি। আর উত্তরসূরিদের (المتأخرين) মধ্য থেকে বর্তমান সময়ের মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি।
আমি সাহাবি (الصحابة) — যাঁরা মুফতি ও ওলামাদের শিরোমণি — তাবেয়ি (التابعين), ফিকহি মাযহাবের (المذاهب الفقهية) ইমামগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের মতামত সংগ্রহ করেছি। আমি তাঁদের দলিলসমূহ (الأدلة) পর্যবেক্ষণ করেছি এবং কোনো মাযহাব বা ইমামের প্রতি গোঁড়ামি ছাড়াই আমার সাধ্যানুযায়ী যা অগ্রগণ্য মনে হয়েছে তাকেই প্রাধান্য প্রদান (الترجيح) করেছি। বরং যা দলিল (الدليل) দ্বারা সমর্থিত হয়েছে, আমি তারই অনুসরণ করেছি। আমি আশা করি যে বিষয়টি আমি প্রাধান্য দিয়েছি সেটিই সঠিক হবে; যদি তা-ই হয় তবে আদিতে ও অন্তে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আর যদি অন্যথা হয়, তবে আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তওবা করছি; কারণ সেটি আমার ভুল ও সীমাবদ্ধতা। পরিশেষে আমি তাই বলছি যা কাজী আল-বাইসানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছিলেন: [আমি দেখেছি যে, কোনো মানুষ আজ একটি বই লেখে আর পরদিন সে বলে: যদি এটি পরিবর্তন করা হতো তবে আরও ভালো হতো, যদি এটি বৃদ্ধি করা হতো তবে তা পছন্দনীয় হতো, যদি একে আগে আনা হতো তবে তা উত্তম হতো, আর যদি এটি বাদ দেওয়া হতো তবে তা আরও সুন্দর হতো। এটি একটি বড় শিক্ষা এবং এটি সমগ্র মানবজাতির ওপর অপূর্ণতার আধিপত্যের প্রমাণ।]
আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
লিখেছেন: ড. হুসামুদ্দিন বিন মুসা আফানা
আবু দিস/জেরুজালেম
সোমবার সকাল, ১৫ই শাওয়াল ১৪১৯ হিজরি, মোতাবেক ১লা ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
شكرٌ وتقديرٌيقول الرسول صلى الله عليه وسلم (من لا يشكر الناس لا يشكر الله).
أتقدم بجزيل الشكر والتقدير إلى جمعية الإصلاح - لجنة إحياء التراث - في بيت المقدس التي بادرت إلى طبع هذا الكتاب، كما طبعت غيره من الكتب النافعة والمفيدة.
فجزى الله القائمين على اللجنة خير الجزاء، وبارك الله فيهم، وفي جهودهم الطيبة.
المؤلف
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতিরাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, "যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না।"
আমি বায়তুল মুকাদ্দাসস্থ 'জমঈয়্যাতুল ইসলাহ'—ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ কমিটি—এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করছি, যারা এই বইটি প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যেভাবে তারা অন্যান্য উপকারী ও ফলপ্রসূ গ্রন্থসমূহ প্রকাশ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা এই কমিটির দায়িত্বশীলদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাদের ও তাদের এই মহতী প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন।
লেখক
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الطبعة الأولى شوال 1419
كانون الثاني 1999
مطبعة الأمل _ القدس
تلفون: 2449064
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
প্রথম প্রকাশ শাওয়াল ১৪১৯
জানুয়ারি ১৯৯৯
আল-আমাল প্রেস — কুদস
টেলিফোন: ২৪৪৯০৬৪
সর্বস্বত্ব লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الأولحكم الأضحية وشروطها
المبحث الأولتعريف الأضحية لغةً واصطلاحاًتعريف الأضحية لغةً: الأضحية في لغة العرب فيها أربع لغات كما نقل الجوهري عن الأصمعي قوله:
প্রথম পরিচ্ছেদকোরবানির বিধান ও শর্তাবলি
প্রথম অনুচ্ছেদআভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে কোরবানির সংজ্ঞাআভিধানিক অর্থে কোরবানির সংজ্ঞা: আরবি ভাষায় 'উযহিয়্যাহ' (কোরবানি) শব্দটিতে চারটি আভিধানিক রূপ রয়েছে, যেমনটি আল-জাওহারি আল-আসমায়ি থেকে তাঁর উক্তিটি বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
[وفيها أربع لغات، إضْحِيَّةٌ.
وأُضْحِيَّةٌ والجمع أضاحي.
وضَحِيَّةٌ على فعيلة والجمع ضحايا.
وأضْحَاةٌ والجمع أضحىً كما يقال أرطاةٌ وأرْطىً
… ] (1).
ويقال ضحى تضحيةً، إذا ذبح الأضحية وقت الضحى، هذا هو الأصل فيه كما قال أهل اللغة (2).
تعريف الأضحية عند الفقهاء: عرَّف الفقهاء الأضحية بعدة تعريفات منها:
1. هي ذبح حيوان مخصوص بنية القربة في وقت مخصوص (3).
2. هي اسم لحيوان مخصوص بسن مخصوص يذبح بنية القربة في يوم مخصوص عند وجود شرائطها وسببها (4).
3. هي ما يذبح من النعم تقرباً إلى الله تعالى من يوم العيد إلى آخر أيام التشريق (5).
4. والذي أختاره في تعريف الأضحية أنها: اسمٌ لما يُذكى من النَّعم تقرباً إلى الله تعالى في أيام النحر بشرائط مخصوصة.
فالتذكية هي إزهاق روح الحيوان ليتوصل إلى حلِّ أكله، فتشمل الذبح والنحر، بل تشمل العقر أيضاً، كما لو شرد ثورٌ أو بعير فطُعِنَ برمح أو نحوه مع التسمية ونية الأضحية.
من النعم: لأن الأضحية تكون من الأنعام فقط، على الراجح من أقوال أهل العلم كما سيأتي.
والأنعام هي الإبل والبقر والغنم وتشمل الضأن والماعز.
في أيام النحر: وهذا لبيان وقت الأضحية الشرعي كما سيأتي تفصيله في محله.
--------------------------------------------
[এতে চারটি ভাষাগত রূপ রয়েছে: ইদহিয়্যাহ (إضْحِيَّةٌ)।
উদহিয়্যাহ (أُضْحِيَّةٌ) এবং এর বহুবচন হলো আদাহি (أضاحي)।
দহিয়্যাহ (ضَحِيَّةٌ) যা ‘ফাইলাহ’ ওজনে এবং এর বহুবচন হলো দহায়া (ضحايا)।
এবং আদহাত (أضْحَاةٌ) যার বহুবচন হলো আদহা (أضحىً), যেমনটি বলা হয় আরতাহ ও আরতা
… ] (১)।
আর বলা হয় ‘দহ্হা-তাদহিয়্যাহ’, যখন কেউ চাশতের সময় (وقت الضحى) কুরবানির পশু জবেহ করে। ভাষাবিদদের মতে এটিই এর মূল অর্থ (২)।
ফকিহগণের নিকট কুরবানির সংজ্ঞা: ফকিহগণ কুরবানিকে কয়েকটি সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করেছেন, তন্মধ্যে রয়েছে:
১. এটি হলো নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়তে নির্দিষ্ট পশু জবেহ করা (৩)।
২. এটি হলো নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট শর্তাবলি ও কারণ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়তে নির্দিষ্ট বয়সের নির্দিষ্ট পশু জবেহ করার নাম (৪)।
৩. এটি হলো ঈদের দিন থেকে তাশরিকের শেষ দিন পর্যন্ত আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে জবেহকৃত গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু (৫)।
৪. কুরবানির সংজ্ঞায় আমি যা নির্বাচন করেছি তা হলো: এটি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে নহরের দিনগুলোতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বৈধভাবে জবেহকৃত (تذكية) গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তুর নাম।
বৈধভাবে জবেহ (تذكية) হলো পশুকে হালাল করে খাওয়ার উদ্দেশ্যে তার প্রাণ হরণ করা, যা সাধারণ জবেহ (ذبح) এবং নহর (نحر) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। এমনকি তা ‘আকর’ (عقر) বা আয়ত্তহীন পশুকে জখম করার মাধ্যমে জবেহকেও অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন কোনো ষাঁড় বা উট যদি অবাধ্য হয়ে পালিয়ে যায় এবং বিসমিল্লাহ ও কুরবানির নিয়তে বর্শা বা অনুরূপ কিছু দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়।
গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু থেকে: কারণ আলেমদের অগ্রগণ্য (الراجح) মতানুসারে কুরবানি কেবল গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু (أنعام) থেকেই হতে হয়, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।
আর গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু হলো উট, গরু এবং ছাগল; যার মধ্যে ভেড়া ও দুম্বাও অন্তর্ভুক্ত।
নহরের দিনগুলোতে: এটি কুরবানির শরিয়তসম্মত সময় বর্ণনার জন্য, যা যথাস্থানে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
تقرباً إلى الله تعالى: فلا يعد من الأضحية ما يُذكى لغير التقرب إلى الله تعالى، مثل ما يُذكى للبيع أو الأكل أو إكرام الضيف، وكذلك لا يُعَدُ من الأضحية، ما يذكى تقرباً إلى الله تعالى في غير أيام النحر كالعقيقة (1).
بشرائط مخصوصة: وسيأتي تفصيل شروط الأضحية في موضعها إن شاء الله تعالى.
المبحث الثانيمشروعية الأضحية وفضلها
أولاً: مشروعية الأضحية:الأضحية مشروعة بكتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم القولية والفعلية وانعقد الإجماع على ذلك.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে: সুতরাং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে যা জবেহ করা হয়, তা কুরবানীর (الأضحية) অন্তর্ভুক্ত হবে না, যেমন বিক্রয়, আহার অথবা মেহমানদারির উদ্দেশ্যে জবেহকৃত পশু। অনুরূপভাবে, নহরের দিনসমূহ (أيام النحر) ব্যতীত অন্য সময়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যা জবেহ করা হয় তাও কুরবানীর (الأضحية) অন্তর্ভুক্ত হবে না, যেমন: আকিকা (العقيقة) (১)।
বিশেষ শর্তাবলির (شرائط) মাধ্যমে: ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে কুরবানীর শর্তাবলির বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদকুরবানীর (الأضحية) শরয়ি বিধান (مشروعية) ও এর ফজিলত
প্রথমত: কুরবানীর শরয়ি বিধান (مشروعية):কুরবানী (الأضحية) মহান আল্লাহর কিতাব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাচনিক ও ব্যবহারিক সুন্নাহ (سنة) দ্বারা প্রমাণিত এবং এর ওপর ইজমা (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
أما الكتاب الكريم فقوله تعالى:} فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ {سورة الكوثر الآية 2.
قال القرطبي: [قوله تعالى:} فَصَلِّ {أي أقم الصلاة المفروضة عليك، كذا رواه الضحاك عن ابن عباس.
وقال قتادة وعطاء وعكرمة:} فَصَلِّ لِرَبِّكَ {صلاة العيد يوم النحر.
} وَانْحَرْ {نُسُكك.
وقال أنس: كان النبي صلى الله عليه وسلم ينحر ثم يصلي فأُمِرَ أن يصلي ثم ينحر.
وقال سعيد بن جبير أيضاً: صل لربك صلاة الصبح المفروضة بجمع – أي مزدلفة – وانحر البدن بمنى
… ] (1).
وقال ابن كثير: [قال ابن عباس وعطاء ومجاهد وعكرمة والحسن، يعني بذلك نحر البدن ونحوها.
وكذا قال قتادة ومحمد بن كعب القرظي والضحاك والربيع وعطاء الخراساني والحكم وسعيد بن أبي خالد وغير واحد من السلف وهذا بخلاف ما كان عليه المشركون من السجود لغير الله والذبح على غير اسمه كما قال تعالى: {وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ
… } الآية] ثم قال ابن كثير بعد أن ذكر أقوالاً أخرى في تفسير الآية:
[والصحيح القول الأول أن المراد بالنحر ذبح المناسك] (2).
ومن أهل العلم من يرى أن المراد بقوله تعالى:} فَصَلِّ لِرَبِّكَ {أي صلاة العيد وبقوله:
} وَانْحَرْ {أي نحر الأضحية.
ولا يخفى أن صلاة العيد داخلة في عموم قوله تعالى:} فَصَلِّ لِرَبِّكَ {وأن الأضحية داخلة في عموم قوله تعالى:} وَانْحَرْ {(3) وهذه الأقوال في تفسير الآية محتملة.
--------------------------------------------
আল-কুরআনের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন} (সূরা আল-কাওসার, আয়াত: ২)।
ইমাম আল-কুরতুবী বলেছেন: [মহান আল্লাহর বাণী: {সালাত আদায় করুন} অর্থাৎ আপনার ওপর অর্পিত ফরয সালাত কায়েম করুন; দাহহাক ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এরূপই বর্ণনা করেছেন।
কাতাদাহ, আতা এবং ইকরিমাহ বলেছেন: {আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন} অর্থাৎ নহরের দিনে (কোরবানির দিন) ঈদের সালাত আদায় করুন।
{এবং কোরবানি করুন} অর্থাৎ আপনার কোরবানি (পশু জবাই) সম্পন্ন করুন।
আনাস (রা.) বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে কোরবানি করতেন এবং এরপর সালাত আদায় করতেন; পরবর্তীতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে তিনি প্রথমে সালাত আদায় করেন এবং এরপর কোরবানি করেন।
সাঈদ ইবনে জুবায়েরও বলেছেন: আপনার রবের উদ্দেশ্যে জাম’ (অর্থাৎ মুযদালিফায়) ফরয ফজরের সালাত আদায় করুন এবং মিনায় উট কোরবানি করুন... ] (১)।
ইবনে কাসীর বলেন: [ইবনে আব্বাস, আতা, মুজাহিদ, ইকরিমাহ এবং হাসান (রহ.) বলেছেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উট ও এই জাতীয় পশু কোরবানি করা।
কাতাদাহ, মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযী, দাহহাক, রাবী, আতা আল-খুরাসানী, হাকাম, সাঈদ ইবনে আবি খালিদ এবং সালফে সালেহীনের আরও অনেকে অনুরূপ বলেছেন। এটি মুশরিকদের রীতির বিপরীত, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে সেজদা করত এবং আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্যের নামে পশু জবাই করত। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা তা থেকে আহার করো না যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, নিশ্চয়ই এটি পাপাচার...} আয়াত] অতপর ইবনে কাসীর আয়াতের তাফসীরে অন্যান্য মতামত উল্লেখ করার পর বলেন:
[সঠিক (الصحيح) মত হলো প্রথমটিই, অর্থাৎ নহর (কোরবানি) দ্বারা ইবাদত হিসেবে পশু জবাই উদ্দেশ্য] (২)।
আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, মহান আল্লাহর বাণী: {আপনার রবের জন্য সালাত আদায় করুন} দ্বারা ঈদের সালাত এবং তাঁর বাণী:
{এবং কোরবানি করুন} দ্বারা কোরবানির পশু জবাই করা উদ্দেশ্য।
এটি স্পষ্ট যে, ঈদের সালাত মহান আল্লাহর বাণী {আপনার রবের জন্য সালাত আদায় করুন}-এর ব্যাপক অর্থের অন্তর্ভুক্ত এবং কোরবানি করা মহান আল্লাহর বাণী {কোরবানি করুন}-এর ব্যাপক অর্থের অন্তর্ভুক্ত (৩)। আর আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত এই মতগুলো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأما السنة النبوية الفعلية، فقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يضحي وكان يتولى ذبح أضحيته بنفسه صلى الله عليه وسلم فمن ذلك:
أ. ما رواه البخاري بإسناده عن أنس رضي الله عنه قال: (ضحى النبي صلى الله عليه وسلم بكبشين أملحين، فرأيته واضعاً قدمه على صفاحهما يسمِّي ويكبر فذبحهما بيده).
ورواه مسلم، ولفظه: (عن أنس قال: ضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم بكبشين أملحين أقرنين
قال: ورأيته يذبحهما بيده ورأيته واضعاً قدمه على صفاحهما قال: وسمَّى وكبر) (1).
ب. وعن عائشة رضي الله عنها: (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بكبش أقرن، يطأ في سواد، ويبرك في سواد، وينظر في سواد، فأُتِيَ به ليضحي به، فقال لها: يا عائشة هلمي المدية، ثم قال: اشحذيها بحجر. ففعلت ثم أخذها وأخذ الكبش، فأضجعه ثم ذبحه ثم قال:
باسم الله اللهم تقبل من محمد وآل محمد، ومن أمة محمد ثم ضحَّى به) رواه مسلم (2).
ج. وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: (أقام رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة عشر سنين يضحي) رواه أحمد والترمذي وقال: هذا حديث حسن (3).
د. وعن جابر رضي الله عنه قال: (شهدتُ مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الأضحى بالمصلى، فلما قضى خطبته نزل من منبره، وأُتِيَ بكبش فذبحه رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده، وقال: بسم الله والله أكبر هذا عني وعمَّن لم يضح من أمتي) رواه أبو داود والترمذي وابن ماجة وأحمد، وقال الشيخ الألباني: صحيح (4).
وأما السنة النبوية القولية، فقد وردت أحاديث كثيرة في الأضحية منها:
أ. عن البراء رضي الله عنه قال: (قال النبي صلى الله عليه وسلم: إن أول ما نبدأ به في يومنا هذا أن نصلي، ثم نرجع فننحر، من فعله فقد أصاب سنتنا، ومن ذبح قبل فإنما هو لحم قدمه لأهله ليس من النسك في شيء.
--------------------------------------------
আর রাসুলের (সা.) কর্মগত সুন্নাহর ক্ষেত্রে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানি করতেন এবং তিনি নিজেই তাঁর কোরবানির পশু জবেহ করার দায়িত্ব পালন করতেন। এর মধ্যে রয়েছে:
ক. আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, যা বুখারি তাঁর নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি ধূসর বর্ণের (সাদা-কালো মিশ্রিত) দুম্বা কোরবানি করেছেন। আমি তাঁকে তাঁর পা সেগুলোর ঘাড়ের পার্শ্বদেশে রেখে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলতে দেখেছি, অতঃপর তিনি নিজ হাতে সেগুলো জবেহ করেন)।
এবং এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তাঁর পাঠ হলো: (আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি ধূসর বর্ণের শিংবিশিষ্ট দুম্বা কোরবানি করেছেন।
তিনি বলেন: আর আমি তাঁকে নিজ হাতে সেগুলো জবেহ করতে দেখেছি এবং আমি তাঁকে তাঁর পা সেগুলোর ঘাড়ের পার্শ্বদেশে রাখা অবস্থায় দেখেছি। তিনি বলেন: আর তিনি বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পাঠ করেছেন) (১)।
খ. আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: (আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শিংবিশিষ্ট দুম্বা নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন, যা কালোর ওপর দিয়ে হাঁটত (পা কালো), কালোর ওপর হাঁটু গেড়ে বসত (পেট কালো) এবং কালোর মধ্য দিয়ে তাকাত (চোখ কালো)। অতঃপর সেটি তাঁর নিকট কোরবানির জন্য আনা হলো। তিনি আয়েশা (রা.)-কে বললেন: হে আয়েশা, ছুরিটি নিয়ে এসো। অতঃপর বললেন: এটি পাথরে ঘষে ধার দাও। আমি তাই করলাম। এরপর তিনি ছুরিটি নিলেন এবং দুম্বাটিকে ধরলেন। অতঃপর সেটিকে শায়িত করলেন এবং জবেহ করলেন। এরপর বললেন:
আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ, মুহাম্মাদের পরিবারবর্গ এবং মুহাম্মাদের উম্মতের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন। এরপর তিনি তা দ্বারা কোরবানি করলেন) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
গ. ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন এবং প্রতি বছর কোরবানি করেছেন) এটি আহমদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস (৩)।
ঘ. জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজে উপস্থিত ছিলাম। যখন তিনি তাঁর খুতবা শেষ করলেন, তখন মিম্বর থেকে নামলেন। এরপর একটি দুম্বা আনা হলো এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে সেটি জবেহ করলেন এবং বললেন: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। এটি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মধ্যে যারা কোরবানি করতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকে) এটি আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ ও আহমদ বর্ণনা করেছেন এবং শেখ আলবানি বলেছেন: সহিহ (صحيح) (৪)।
আর রাসুলের (সা.) ভাষাগত সুন্নাহর ক্ষেত্রে কোরবানি সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
ক. আল-বারা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমাদের এই দিনে আমরা যা দিয়ে প্রথম শুরু করব তা হলো নামাজ পড়া, অতঃপর আমরা ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি করব। যে ব্যক্তি এটি করবে সে আমাদের সুন্নাহর অনুসারী হলো। আর যে ব্যক্তি (নামাজের) আগেই জবেহ করল, তা কেবলই মাংস যা সে তার পরিবারের জন্য আগেভাগে প্রস্তুত করেছে, এর সাথে ইবাদতের (نسك) কোনো সম্পর্ক নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فقام أبو بردة بن نيار وقد ذبح فقال: إن عندي جذعة فقال: إذبحها ولن تجزئ عن أحدٍ بعدك.) رواه البخاري ومسلم (1).
ب. وعن جندب بن سفيان رضي الله عنه قال: (شهدتُ الأضحى مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يعدُ أن صَلَّى وفرغ من صلاته سَلَّمَ، فإذا هو يرى لحم أضاحِيَّ قد ذُبحت قبل أن يفرغ من صلاته، فقال: من كان ذبح أضحيته قبل أن يصلي أو نصلي فليذبح مكانها أخرى، ومن كان لم يذبح فليذبح باسم الله) رواه البخاري ومسلم واللفظ له (2).
ج. وعن أم سلمة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إذا دخلت العشر وأراد أحدكم أن يضحي، فلا يمس من شعره ولا بشره شيئاً) رواه مسلم (3).
وغير ذلك من الأحاديث.
وقد أجمع المسلمون على مشروعية الأضحية (4).
ثانياً: فضل الأضحية:قال الإمام ابن العربي المالكي: [ليس في فضل الأضحية حديثٌ صحيحٌ، وقد روى الناس فيها عجائب لم تصح، منها قوله: (إنها مطاياكم إلى الجنة)] (5).
وقد وردت بعض الأحاديث في فضل الأضحية، ولكنها ضعيفة، وبعضها موضوع مكذوب، وأمثل الأحاديث الواردة في فضل الأضحية ما رواه الترمذي بإسناده عن عائشة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (ما عمل آدمي من عمل يوم النحر، أحب إلى الله من إهراق
--------------------------------------------
অতঃপর আবু বুরদাহ ইবনে নিইয়ার (রা.) দাঁড়ালেন, এমতাবস্থায় যে তিনি ইতোমধ্যেই যবেহ সম্পন্ন করেছিলেন। তিনি বললেন: আমার নিকট একটি এক বছর বয়সের কম মেষশাবক (জাযআহ) রয়েছে। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: তুমি এটিই যবেহ করো, তবে তোমার পর আর কারো জন্য এটি যথেষ্ট হবে না। (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত) (১)।
খ. জুনদুব ইবনে সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে ঈদুল আযহায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি যখন নামাজ শেষ করলেন এবং নামাজ থেকে ফারেগ হয়ে সালাম ফেরালেন, তখন তিনি দেখতে পেলেন যে, নামাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই কুরবানির গোশত যবেহ করা হয়েছে। তখন তিনি বললেন: যে ব্যক্তি নামাজ পড়ার আগে বা আমরা নামাজ পড়ার আগে যবেহ করেছে, সে যেন তার পরিবর্তে অন্য একটি পশু যবেহ করে। আর যে এখনো যবেহ করেনি, সে যেন আল্লাহর নামে যবেহ করে।) (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত এবং শব্দবিন্যাস মুসলিমের) (২)।
গ. উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী ﷺ বলেছেন: (যখন জিলহজ মাসের দশ দিন শুরু হয় এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করতে চায়, সে যেন তার চুল ও নখ বা চামড়ার কোনো কিছু স্পর্শ না করে (না কাটে)।) (মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত) (৩)।
এবং এ ছাড়াও আরও অন্যান্য হাদিস রয়েছে।
এবং কুরবানির বিধানের বৈধতার (مشروعية) ওপর মুসলিমগণ ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন (৪)।
দ্বিতীয়ত: কুরবানির ফজিলত:ইমাম ইবনুল আরাবি আল-মালিকি বলেন: [কুরবানির ফজিলত সম্পর্কে কোনো সহিহ (صحيح) হাদিস নেই। এ বিষয়ে মানুষ অনেক আশ্চর্যজনক বর্ণনা প্রচার করেছে যা বিশুদ্ধ নয়, তার মধ্যে একটি হলো: "নিশ্চয় এগুলো (কুরবানির পশুগুলো) জান্নাতে যাওয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের বাহন হবে।"] (৫)।
কুরবানির ফজিলত সম্পর্কে কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তবে সেগুলো দুর্বল (ضعيف), এবং এর কোনটি বানোয়াট (موضوع) ও মিথ্যা (مكذوب)। কুরবানির ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মানসম্মত হলো তিরমিজি তার সনদ (إسناد) সহকারে আয়েশা (রা.) থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: (কুরবানির দিনে রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে প্রিয় কোনো কাজ আদম সন্তান আল্লাহর নিকট আর করে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الدم، إنها لتأتي يوم القيامة بقرونها وأشعارها وأظلافها، وإن الدم ليقع من الله بمكان قبل أن يقع من الأرض فطيبوا بها نفساً) قال الترمذي: [وفي الباب عن عمران بن حصين وزيد بن أرقم. قال أبو عيسى: هذا حديث حسن غريب لانعرفه من حديث هشام بن عروة إلا من هذا الوجه
قال أبو عيسى: ويروى عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال في الأضحية لصاحبها بكل شعرة حسنة، ويروى بقرونها] (1).
ورواه الحاكم وقال: صحيح الإسناد. ولم يخرجاه. فتعقبه الذهبي بقوله: قلت سليمان واهٍ وبعضهم تركه (2). وضعفه المنذري وأبو حاتم والشيخ الألباني (3).
وأما حديث عمران بن حصين الذي أشار إليه الترمذي فنصه: (عن عمران بن حصين رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يا فاطمة قومي إلى أضحيتك فاشهديها، فإنه يغفر لك عند أول قطرة تقطر من دمها كل ذنب عملتيه، وقولي: إن صلاتي ونسكي، ومحياي ومماتي لله رب العالمين، لا شريك له، وبذلك أمرت وأنا من المسلمين.
قال عمران: قلت يا رسول الله هذا لك ولأهل بيتك خاصة فأهل ذاك أنتم، أم للمسلمين عامة؟ قال: بل للمسلمين عامة).
رواه الحاكم وقال: هذا حديث صحيح الإسناد. ولم يخرجاه وشاهده حديث عطية عن أبي سعيد.
وتعقبه الذهبي فقال: بل أبو حمزة ضعيف جداً وإسماعيل ليس بذاك (4).
وقال الشيخ الألباني عن الحديث: منكر (5).
وأما حديث زيد بن أرقم الذي أشار إليه الترمذي ونصه: (عن زيد بن أرقم رضي الله عنه قال: قال أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا رسول الله ما هذه الأضاحي؟ قال: سنة أبيكم إبراهيم.
قالوا: فما لنا فيها يا رسول الله؟ قال: بكل شعرة حسنة.
--------------------------------------------
...রক্ত; কিয়ামতের দিন তা তার শিং, লোম ও খুরসহ উপস্থিত হবে। আর কুরবানির রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে একটি বিশেষ মর্যাদার স্থানে পৌঁছে যায়। অতএব, তোমরা সানন্দ চিত্তে কুরবানি করো।) ইমাম তিরমিজি বলেন: [এই অনুচ্ছেদে ইমরান ইবনে হুসাইন ও জায়েদ ইবনে আরকাম থেকেও বর্ণনা রয়েছে। আবু ঈসা বলেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) গরিব (غريب)। হিশাম ইবনে উরওয়ার সূত্রে এই দিকটি ছাড়া আমরা এটি সম্পর্কে জানি না।
আবু ঈসা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কুরবানি সম্পর্কে বলেছেন: কুরবানিদাতার জন্য প্রতিটি লোমের বিনিময়ে একটি নেকি রয়েছে এবং তার শিংয়ের বিনিময়েও (নেকি) বর্ণিত হয়েছে।] (১)।
হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এর সনদ সহিহ (صحيح الإسناد)। তবে বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি। যাহাবি এর সমালোচনা করে বলেছেন: আমি বলছি, সুলাইমান অত্যন্ত দুর্বল (واهٍ) এবং কেউ কেউ তাকে বর্জনীয় বা পরিত্যক্ত (تركه) বলেছেন (২)। মুনজিরি, আবু হাতিম এবং শেখ আলবানী একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন (৩)।
আর ইমরান ইবনে হুসাইন বর্ণিত যে হাদিসের দিকে ইমাম তিরমিজি ইঙ্গিত করেছেন, তার পাঠ হলো: (ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: হে ফাতিমা! তোমার কুরবানির পশুর কাছে যাও এবং তা প্রত্যক্ষ করো। কেননা তার রক্তের প্রথম ফোঁটা পড়ার সাথেই তোমার কৃত সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর তুমি বলো: নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য; তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।
ইমরান বলেন: আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এটি কি আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য খাস (خاص) বা নির্দিষ্ট, যার যোগ্য আপনারা? নাকি সমস্ত মুসলিমের জন্য আম (عام) বা সাধারণ? তিনি বললেন: বরং সমস্ত মুসলিমের জন্য সাধারণ)।
হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটির সনদ সহিহ (صحيح الإسناد)। বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি এবং আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত আতিয়্যাহর হাদিসটি এর স্বপক্ষে একটি শাহিদ (شاهد)।
যাহাবি এর সমালোচনা করে বলেছেন: বরং আবু হামজা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً) এবং ইসমাইল তেমন নির্ভরযোগ্য নন (ليس بذاك) (৪)।
শেখ আলবানী হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: এটি মুনকার (منكر) (৫)।
আর জায়েদ ইবনে আরকাম বর্ণিত যে হাদিসের দিকে ইমাম তিরমিজি ইঙ্গিত করেছেন, তার পাঠ হলো: (জায়েদ ইবনে আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! এই কুরবানিগুলো কী? তিনি বললেন: তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের সুন্নত।
তাঁরা বললেন: এতে আমাদের জন্য কী রয়েছে, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: প্রতিটি লোমের বিনিময়ে একটি করে নেকি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قالوا: فالصوف يا رسول الله؟ قال: بكل شعرة من الصوف حسنة).
رواه ابن ماجة وقال في الزوائد: في إسناده أبو داود واسمه نفيع بن الحارث، وهو متروك واتهم بوضع الحديث.
ورواه البيهقي ثم قال: قال البخاري عائذ الله المجاشعي عن أبي داود روى عنه سلام بن مسكين لا يصح حديثه. ورواه أحمد، وقال الشيخ الألباني: إنه حديث موضوع (1).
وأما الحديث الذي ذكره الإمام ابن العربي المالكي وأوردته في أول المبحث فقد ورد بألفاظ مختلفة منها:
(عظموا ضحاياكم فإنها على الصراط مطاياكم) وفي لفظٍ آخر (استفرهوا ضحاياكم فإنها مطاياكم على الصراط) وغيرهما من الألفاظ.
فهذا الحديث بألفاظه المختلفة غير ثابت عن الرسول صلى الله عليه وسلم بل هو ضعيف جداً.
قال الحافظ ابن حجر: [لم أره] ونقل عن ابن الصلاح قوله: [هذا الحديث غير معروف ولا ثابت فيمنا علمناه] ثم ذكر أن صاحب مسند الفردوس قد رواه وفيه راوٍ ضعيف جداً (2). وقال الشيخ العجلوني: [إنه ضعيف جداً] (3).
وقال الشيخ الألباني: [لا أصل له بهذا اللفظ (عظموا ضحاياكم فإنها على الصراط مطاياكم)] (4).
وقال الشيخ الألباني في موضع آخر: (استفرهوا ضحاياكم فإنها مطاياكم على الصراط) ضعيف جداً (5).
وقال الحافظ ابن عبد البر: [وقد روي في فضل الضحايا آثار حسان، فمنها ما رواه سعيد بن داود
… عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما من نفقة بعد صلة الرحم أعظم عند الله من إهراق الدم] (6).
--------------------------------------------
তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! পশমের ব্যাপারে কী হবে? তিনি বললেন: পশমের প্রতিটি চুলের বিনিময়ে একটি করে নেকি রয়েছে।
ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আয-যাওয়ায়েদ গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদে (إسناده) আবু দাউদ নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন, যাঁর নাম নুফাই বিন আল-হারিস। তিনি পরিত্যক্ত (متروك) এবং হাদিস জাল করার (وضع الحديث) দায়ে অভিযুক্ত।
বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি বলেন: বুখারি বলেছেন যে, আইজুল্লাহ আল-মুজাশিয়ি আবু দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে সাল্লাম বিন মিসকিন বর্ণনা করেছেন; তাঁর হাদিস বিশুদ্ধ বা সঠিক (لا يصح) নয়। ইমাম আহমাদও এটি বর্ণনা করেছেন এবং শায়খ আলবানি বলেছেন: নিশ্চয়ই এটি একটি জাল (موضوع) হাদিস (১)।
আর ইমাম ইবনুল আরবি আল-মালিকি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং আমি আলোচনার শুরুতে উপস্থাপন করেছি, তা বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
(তোমরা তোমাদের কোরবানির পশুগুলোকে হৃষ্টপুষ্ট করো, কারণ সেগুলো পুলসিরাতে তোমাদের বাহন হবে) এবং অন্য একটি শব্দে এসেছে (তোমরা তোমাদের কোরবানির পশুগুলোকে সুন্দর করো, কেননা সেগুলো পুলসিরাতে তোমাদের বাহন হবে) এবং এ জাতীয় অন্যান্য শব্দাবলী।
এই হাদিসটি এর বিভিন্ন শব্দসহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয় (غير ثابت), বরং এটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً)।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: [আমি এটি দেখিনি] এবং তিনি ইবনুস সালাহ থেকে তাঁর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: [আমাদের জানামতে এই হাদিসটি অপরিচিত (غير معروف) এবং প্রমাণিত (ثابت) নয়]। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মুসনাদুল ফিরদাউস গ্রন্থের লেখক এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে একজন অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً) বর্ণনাকারী (راوٍ) রয়েছেন (২)। শায়খ আজলুনি বলেছেন: [নিশ্চয়ই এটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً)] (৩)।
শায়খ আলবানি বলেন: [এই শব্দে এর কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له) (তোমরা তোমাদের কোরবানির পশুগুলোকে হৃষ্টপুষ্ট করো, কারণ সেগুলো পুলসিরাতে তোমাদের বাহন হবে)] (৪)।
শায়খ আলবানি অন্য এক স্থানে বলেছেন: (তোমরা তোমাদের কোরবানির পশুগুলোকে সুন্দর করো, কেননা সেগুলো পুলসিরাতে তোমাদের বাহন হবে) হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً) (৫)।
হাফেজ ইবনে আবদিল বার বলেন: [কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে কিছু উত্তম (حسان) বর্ণনা (آثار) বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো যা সাঈদ বিন দাউদ বর্ণনা করেছেন... ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার পর আল্লাহর নিকট রক্ত প্রবাহিত করার (কোরবানি) চেয়ে মহান কোনো ব্যয় আর নেই] (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثالثالحكمة من مشروعية الأضحيةقال أهل العلم إن الأضحية شرعت لحكم كثيرة منها:
أولاً: إحياءً لسنة إبراهيم الخليل عليه الصلاة والسلام، حينما رأى في المنام أنه يذبح ولده إسماعيل، ورؤيا الأنبياء حق وصدق، قال الله تعالى:} وَقَالَ إِنِّي ذَاهِبٌ إِلَى رَبِّي سَيَهْدِينِ (99) رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ (100) فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ (101) فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَابُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَاأَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي
তৃতীয় পরিচ্ছেদকুরবানি বিধিবদ্ধ হওয়ার তাৎপর্য (হিকমত)আলেমগণ বলেছেন যে, কুরবানি অনেক হিকমতের কারণে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রথমত: ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে, যখন তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন যে তিনি তাঁর পুত্র ইসমাইলকে জবেহ করছেন; আর নবীদের স্বপ্ন সত্য ও বাস্তব হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {তিনি বললেন, “আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন। (৯৯) হে আমার রব! আমাকে এক সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন।” (১০০) অতঃপর আমি তাকে এক ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। (১০১) অতঃপর সে যখন তাঁর সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো, তখন ইব্রাহিম বললেন, “হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি তোমাকে জবেহ করছি, এখন তোমার অভিমত কী বলো?” সে বলল, “হে পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা-ই করুন, শীঘ্রই আপনি আমাকে পাবেন...}
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ (102) فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ (103) وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَاإِبْرَاهِيمُ (104) قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ (105) إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْبَلَاءُ الْمُبِينُ (106) {سورة الصافات.
قال صاحب الظلال يرحمه الله: [ثم تجيء الحلقة الثانية من قصة إبراهيم
… لقد انتهى أمره مع أبيه وقومه. لقد أرادوا به الهلاك في النار التي أسموها الجحيم، وأراد الله أن يكونوا هم الأخسرين؛ ونجاه من كيدهم أجمعين.
عندئذ استدبر إبراهيم مرحلة من حياته ليستقبل مرحلة؛ وطوى صفحة لينشر صفحة:
} وَقَالَ إِنِّي ذَاهِبٌ إِلَى رَبِّي سَيَهْدِينِ {.
هكذا .. إني ذاهب إلى ربي .. إنها الهجرة. وهي هجرة نفسية قبل أن تكون هجرة مكانية. هجرة يترك وراءه فيها كل شيء من ماضي حياته. يترك أباه وقومه وأهله وبيته ووطنه وكل ما يربطه بهذه الأرض، وبهؤلاء الناس. ويدع وراءه كذلك كل عائق وكل شاغل. ويهاجر إلى ربه متخففاً من كل شيء، طارحاً وراءه كل شيء، مسلماً نفسه لربه لا يستبقي منها شيئاً.
موقنٌ أنَّ ربه سيهديه، وسيرعى خطاه، وينقلها في الطريق المستقيم. إنها الهجرة الكاملة من حال إلى حال، ومن وضع إلى وضع، ومن أواصر شتى إلى آصرة واحدة لا يزحمها في النفس شيء. إنه التعبير عن التجرد والخلوص والاستسلام والطمأنينة واليقين.
وكان إبراهيم حتى هذه اللحظة وحيداً لا عقب له؛ وهو يترك وراءه أواصر الأهل والقربى، والصحبة والمعرفة، وكل مألوف له في ماضي حياته، وكل ما يشده إلى الأرض التي نشأ فيها، والتي انحسم ما بينه وبين أهلها الذين ألقوه في الجحيم! فاتجه إلى ربه الذي أعلن أنه ذاهب إليه. اتجه إليه يسأله الذرية المؤمنة والخلف الصالح:
} رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ {.
واستجاب الله دعاء عبده الصالح المتجرد، الذي ترك وراؤه كل شيء، وجاء إليه بقلب
سليم
… } فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ {.
ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন (১০২) অতঃপর যখন তারা উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইবরাহিম তাকে কপালে ওপর উপুড় করে শুইয়ে দিল (১০৩) তখন আমরা তাকে ডেকে বললাম, হে ইবরাহিম (১০৪) তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। এভাবেই আমরা সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি (105) নিশ্চয়ই এটি ছিল একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা (১০৬) {সূরা আস-সাফফাত।
যিলাল-এর লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: [অতঃপর ইবরাহিমের কাহিনীর দ্বিতীয় পর্যায়টি আসে
… তাঁর পিতা ও স্বজাতির সাথে তাঁর বিষয়টি শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারা তাঁকে সেই আগুনে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল যাকে তারা 'জাহিম' নাম দিয়েছিল, আর আল্লাহ চাইলেন যেন তারাই চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়; এবং তিনি তাঁকে তাদের সকল ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করলেন।
সেই মুহূর্তে ইবরাহিম তাঁর জীবনের এক পর্যায়কে পেছনে রেখে অন্য এক পর্যায়কে বরণ করার প্রস্তুতি নেন; এবং এক অধ্যায় শেষ করে নতুন এক অধ্যায় উন্মোচন করেন:
} এবং তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, শীঘ্রই তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করবেন {।
এভাবেই .. আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি .. এটিই হলো হিজরত। আর এটি স্থানিক হিজরত হওয়ার আগে একটি মানসিক হিজরত। এমন এক হিজরত যেখানে তিনি তাঁর অতীতের সবকিছু পেছনে ফেলে যাচ্ছেন। তিনি তাঁর পিতা, স্বজাতি, পরিবার, ঘরবাড়ি, স্বদেশ এবং এই জমিন ও এই মানুষদের সাথে তাঁকে বেঁধে রাখা সবকিছু বর্জন করছেন। একইভাবে তিনি পেছনে ফেলে যাচ্ছেন সকল প্রতিবন্ধকতা ও ব্যস্ততা। তিনি সবকিছু থেকে ভারমুক্ত হয়ে এবং সবকিছু বর্জন করে তাঁর রবের দিকে হিজরত করছেন, নিজেকে সম্পূর্ণভাবে রবের কাছে সঁপে দিচ্ছেন, নিজের জন্য কিছুই অবশিষ্ট রাখছেন না।
তিনি সুনিশ্চিত যে, তাঁর রব তাঁকে পথ প্রদর্শন করবেন, তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের যত্ন নেবেন এবং তাঁকে সরল পথে পরিচালিত করবেন। এটি হলো এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায়, এক পরিস্থিতি থেকে অন্য পরিস্থিতিতে এবং নানাবিধ বন্ধন থেকে একটি মাত্র বন্ধনের দিকে পূর্ণাঙ্গ হিজরত, যেখানে অন্তরে অন্য কোনো কিছুর স্থান নেই। এটি হলো জাগতিক বিমুখতা, একনিষ্ঠতা, আত্মসমর্পণ, প্রশান্তি ও সুদৃঢ় বিশ্বাসের এক বহিঃপ্রকাশ।
ইবরাহিম এই মুহূর্ত পর্যন্ত একাকী ছিলেন, তাঁর কোনো উত্তরসূরি ছিল না; অথচ তিনি তাঁর পরিবার-পরিজনের বন্ধন, আত্মীয়তা, সাহচর্য ও পরিচিতি এবং তাঁর অতীত জীবনের সব পরিচিত বিষয় ও সেই ভূমির সাথে তাঁর টান—যেখানে তিনি বেড়ে উঠেছেন এবং যেখানকার অধিবাসীদের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল যারা তাঁকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করেছিল—সবকিছু পেছনে ফেলে আসছিলেন! অতঃপর তিনি তাঁর রবের দিকে মনোনিবেশ করলেন যাঁর দিকে যাওয়ার কথা তিনি ঘোষণা করেছিলেন। তিনি তাঁর কাছে মুমিন বংশধর এবং নেককার (صالح) উত্তরসূরি প্রার্থনা করলেন:
} হে আমার রব! আমাকে নেককার (صالح) সন্তানদের মধ্য থেকে একজন দান করুন {।
আর আল্লাহ তাঁর সেই নেককার (صالح) ও বিমুখ বান্দার দোয়া কবুল করলেন, যিনি সবকিছু পেছনে ফেলে এক অন্তর
পরিশুদ্ধ
… } নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিলেন; অতঃপর আমরা তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম {।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وهو إسماعيل - كما يرجح سياق السيرة والسورة – وسنرى آثار حلمه الذي وصفه ربه به وهو غلام. ولنا أن نتصور فرحة إبراهيم الوحيد المفرد المهاجر المقطوع من أهله وقرابته. لنا أن نتصور فرحته بهذا الغلام الذي يصفه ربه بأنه حليم.
والآن آن أن نطلع على الموقف العظيم الكريم الفريد في حياة إبراهيم. بل في حياة البشر أجمعين. وآن أن نقف من سياق القصة في القرآن أمام المثل الموحى الذي يعرضه الله للأمة المسلمة من حياة أبيها إبراهيم
} فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَابُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَاأَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ {.
يالله! ويالروعة الإيمان والطاعة والتسليم.
هذا إبراهيم الشيخ. المقطوع من الأهل والقرابة. المهاجر من الأرض والوطن. هاهو ذا يرزق في كبرته وهرمه بغلام. طالما تطلع إليه. فلما جاءه غلاماً ممتازاً يشهد له ربه بأنه حليم. وهاهو ذا ما يكاد يأنس به، وصباه يتفتح، ويبلغ معه السعي، ويرافقه في الحياة
… وها هو ما يكاد يأنس ويستروح بهذا الغلام الوحيد، حتى يرى في منامه أنه يذبحه. ويدرك أنها إشارة من ربه بالتضحية. فماذا؟ إنه لا يتردد، ولا يخالجه إلا شعور الطاعة، ولا يخطر له إلا خاطر التسليم .. نعم إنها إشارة. مجرد إشارة. وليست وحياً صريحاً، ولا أمراً مباشراً. ولكنها إشارة من ربه
… وهذا يكفي
… هذا يكفي ليلبي ويستجيب. ودون أن يعترض. ودون أن يسأل ربه
… لماذا يا ربي أذبح ابني الوحيد؟!
ولكنه لا يلبى في انزعاج، ولا يستسلم في جزع، ولا يطيع في اضطراب
… كلا إنما هو القبول والرضى والطمأنينة والهدوء. يبدو ذلك في كلماته لابنه وهو يعرض عليه الأمر الهائل في هدوء وفي اطمئنان عجيب:} قَالَ يَابُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ {
فهي كلمات المالك لأعصابه، المطمئن للأمر الذي يواجهه، الواثق بأنه يؤدي واجبه. وهي في الوقت ذاته كلمات المؤمن، الذي لا يهوله الأمر فيؤديه، في اندفاع وعجلة ليخلص منه وينتهي، ويستريح من ثقله على أعصابه!
তিনি হলেন ইসমাইল—যেমনটি সীরাত ও সূরার প্রেক্ষাপট থেকে প্রাধান্য পায়—এবং আমরা তাঁর সেই সহনশীলতার প্রভাব দেখতে পাবো যা দিয়ে তাঁর রব তাঁকে কিশোর বয়সে গুণান্বিত করেছেন। আমরা হিজরতকারী, স্বজন ও আত্মীয়-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন এবং একাকী ইব্রাহিমের আনন্দের কথা কল্পনা করতে পারি। আমরা তাঁর সেই কিশোরকে নিয়ে আনন্দের কথা কল্পনা করতে পারি যাকে তাঁর রব সহনশীল বলে অভিহিত করেছেন।
আর এখন সময় এসেছে ইব্রাহিমের জীবনের সেই মহান, মহিমান্বিত এবং অনন্য অবস্থানের ওপর দৃষ্টিপাত করার; বরং সমগ্র মানবজাতির জীবনের। আর সময় এসেছে কুরআনের বর্ণনার প্রেক্ষাপট থেকে সেই ওহীপ্রাপ্ত আদর্শের সামনে দাঁড়ানোর, যা আল্লাহ মুসলিম উম্মাহর জন্য তাদের পিতা ইব্রাহিমের জীবন থেকে পেশ করেছেন।
{অতঃপর সে যখন তার সাথে কাজ করার বয়সে পৌঁছাল, তখন সে বলল, ‘হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কী বলো?’ সে বলল, ‘হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন। ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।’}
হে আল্লাহ! ঈমান, আনুগত্য এবং আত্মসমর্পণের কী অপূর্ব মহিমা!
ইনি সেই বৃদ্ধ ইব্রাহিম। পরিবার ও আত্মীয়-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন। নিজ ভূমি ও স্বদেশ থেকে হিজরতকারী। এই তো তিনি তাঁর বার্ধক্যে ও জরাগ্রস্ত অবস্থায় এক কিশোর সন্তান লাভ করেছেন, যার জন্য তিনি দীর্ঘকাল প্রতীক্ষায় ছিলেন। যখন তাঁর নিকট এক অনন্য কিশোর এল যার ব্যাপারে তাঁর রব সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে সে সহনশীল। আর এই তো তিনি কেবল তার সাথে পরিচিত হতে শুরু করেছেন, তার কৈশোর বিকশিত হচ্ছে, সে তার সাথে কাজ করার বয়সে পৌঁছেছে এবং জীবনে তাঁর সঙ্গী হচ্ছে
… আর এই তো তিনি যখনই এই একমাত্র কিশোর সন্তানকে নিয়ে স্বস্তি ও প্রশান্তি অনুভব করতে শুরু করলেন, তখনই স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি তাকে যবেহ করছেন। তিনি উপলব্ধি করলেন যে এটি তাঁর রবের পক্ষ থেকে আত্মত্যাগের একটি ইঙ্গিত। তাহলে এখন কী? তিনি মোটেও দ্বিধা করেন না, তাঁর মনে আনুগত্যের অনুভূতি ছাড়া অন্য কিছু উদয় হয় না, আর তাঁর মনে আত্মসমর্পণের চিন্তা ছাড়া আর কিছু আসে না... হ্যাঁ, এটি একটি ইঙ্গিত মাত্র। নিছক একটি ইঙ্গিত। এটি কোনো স্পষ্ট (صريح) ওহী নয়, কিংবা কোনো সরাসরি আদেশও নয়। কিন্তু এটি তাঁর রবের পক্ষ থেকে একটি ইঙ্গিত
… আর এটাই যথেষ্ট
… সাড়া দেওয়া এবং কবুল করার জন্য এটাই যথেষ্ট। কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই। এবং তাঁর রবকে জিজ্ঞাসা করা ছাড়াই
… কেন হে আমার রব, আমি আমার একমাত্র ছেলেকে যবেহ করব?!
কিন্তু তিনি বিরক্তির সাথে সাড়া দেন না, উদ্বেগের সাথে নতি স্বীকার করেন না, কিংবা অস্থিরতার সাথে আনুগত্য করেন না
… মোটেও না, বরং এটি হলো কবুল করে নেওয়া, সন্তুষ্টি, প্রশান্তি এবং স্থিরতা। তাঁর ছেলের প্রতি তাঁর কথায় তা ফুটে ওঠে, যখন তিনি এই ভয়াবহ বিষয়টি অত্যন্ত শান্তভাবে এবং এক বিস্ময়কর প্রশান্তির সাথে পেশ করেন: {তিনি বললেন, ‘হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি তোমাকে যবেহ করছি’}
এটি হলো নিজের স্নায়ুর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা ব্যক্তির কথা, যিনি যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন তার ব্যাপারে প্রশান্ত, যিনি দৃঢ়প্রত্যয়ী যে তিনি তাঁর কর্তব্য পালন করছেন। একই সাথে এটি এমন এক মুমিনের কথা, যাকে বিষয়টি আতঙ্কিত করে না যার ফলে সে তাড়াহুড়ো করে তা সম্পন্ন করে কেবল তা থেকে মুক্তি পেতে এবং শেষ করতে, এবং নিজের স্নায়ুর ওপর থেকে এর ভার কমিয়ে স্বস্তি পেতে!
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والأمر شاق – ما في ذلك شك – فهو لا يطلب إليه أن يرسل بابنه الوحيد إلى معركة. ولا يطلب إليه أن يكلفه أمراً تنتهي به حياته
… إنما يطلب إليه أن يتولى هو بيده. يتولى ماذا؟ يتولى ذبحه .. وهو – مع هذا – يتلقى الأمر هذا التلقي، ويعرض على ابنه هذا العرض؛ ويطلب إليه أن يتروى في أمره، وأن يرى فيه رأيه!
إنه لا يأخذ ابنه على حين غرة لينفذ إشارة ربه. وينتهي. إنما يعرض الأمر عليه كالذي يعرض المألوف من الأمر. فالأمر في حسه هكذا. ربه يريد. فليكن ما يريد. على العين والرأس. وابنه ينبغي أن يعرف. وأن يأخذ الأمر طاعة وإسلاماً، لا قهراً واضطراراً. لينال هو الآخر أجر الطاعة، وليسلم هو الآخر ويتذوق حلاوة التسليم! إنه يحب لابنه أن يتذوق لذة التطوع التي ذاقها؛ وأن ينال الخير الذي يراه هو أبقى من الحياة وأقنى
فماذا يكون من أمر الغلام، الذي يعرض عليه الذبح، تصديقاً لرؤيا رآها أبوه؟
إنه يرتقي إلى الأفق الذي ارتقى إليه من قبل أبوه:} قَالَ يَاأَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ { .. إنه يتلقى الأمر لا في طاعة ولا استسلام فحسب. ولكن في رضى كذلك وفي يقين .. } يَاأَبَتِ { .. في مودة وقربى. فشبح الذبح لا يزعجه ولا يفزعه ولا يفقده رشده. بل لا يفقده أدبه ومودته.
} افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ {فهو يحس ما أحسه من قبل قلب أبيه. يحس أن الرؤيا إشارة. وأن الإشارة أمر. وأنها تكفي لكي يلبى وينفذ بغير لجلجة ولا تمحل ولا ارتياب.
ثم هو الأدب مع الله، ومعرفة حدود قدرته وطاقته في الاحتمال؛ والاستعانة بربه على ضعفه ونسبة الفضل إليه في إعانته على التضحية، ومساعدته على الطاعة:
} سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ {
…ولم يأخذها بطولة. ولم يأخذها شجاعة. ولم يأخذها اندفاعاً إلى الخطر دون مبالاة. ولم يظهر لشخصه ظلاً ولا حجماً ولا وزناً
… إنما أرجع الفضل كله لله إن هو أعانه على ما يطلب إليه، وأصبره على ما يراد به:} سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ {.
ياللأدب مع الله! ويالروعة الإيمان. ويالنبل الطاعة. ويالعظمة التسليم!
বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন—এতে কোনো সন্দেহ নেই—তাঁকে তাঁর একমাত্র সন্তানকে কোনো রণক্ষেত্রে পাঠাতে বলা হচ্ছে না। তাঁকে এমন কোনো কাজের দায়িত্বও দেওয়া হচ্ছে না যার মাধ্যমে তাঁর জীবনাবসান ঘটবে
… বরং তাঁকে বলা হচ্ছে তিনি যেন স্বয়ং নিজ হাতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিসের দায়িত্ব? তাঁকে জবেহ করার দায়িত্ব... এতৎসত্ত্বেও তিনি এই আদেশটি এভাবেই গ্রহণ করেন এবং তাঁর পুত্রের সামনে এই প্রস্তাব পেশ করেন; আর তাঁকে বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখতে এবং এ বিষয়ে তাঁর অভিমত ব্যক্ত করতে বলেন!
তিনি তাঁর প্রভুর ইঙ্গিত কার্যকর করার জন্য হঠাৎ করে তাঁর পুত্রকে পাকড়াও করেননি এবং সেখানেই ইতি টানেননি। বরং তিনি তাঁর সামনে বিষয়টি এমনভাবে পেশ করেছেন যেভাবে কোনো স্বাভাবিক বিষয় পেশ করা হয়। তাঁর অনুভূতিতে বিষয়টি এমনই ছিল। তাঁর প্রভু চাইছেন, সুতরাং তাই হোক যা তিনি চান। অত্যন্ত সানন্দে শিরোধার্য। তাঁর পুত্রেরও এটি জানা আবশ্যক। আর এই নির্দেশটিকে বলপ্রয়োগ বা নিরুপায় হয়ে নয়, বরং আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের সাথে গ্রহণ করা উচিত। যাতে সে নিজেও আনুগত্যের পুরস্কার লাভ করে এবং সে নিজেও আত্মসমর্পণ করে সেই আত্মসমর্পণের মিষ্টতা আস্বাদন করতে পারে! তিনি চেয়েছিলেন তাঁর পুত্রও যেন সেই স্বেচ্ছাসেবার স্বাদ আস্বাদন করে যা তিনি নিজে করেছেন; এবং সেই কল্যাণ লাভ করে যা তাঁর কাছে পার্থিব জীবনের চেয়ে অধিক স্থায়ী ও মূল্যবান।
তাহলে সেই কিশোরের অবস্থা কী হবে, যার সামনে তার পিতার দেখা একটি স্বপ্নের সত্যয়ন স্বরূপ জবেহ হওয়ার প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে?
সেও সেই উচ্চতায় আরোহণ করল যেখানে ইতিপূর্বে তার পিতা আরোহণ করেছিলেন: {সে বলল, হে আমার প্রিয় পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করুন, আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন}... সে এই আদেশটি কেবল আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই গ্রহণ করেনি, বরং সন্তুষ্টি ও সুনিশ্চিত বিশ্বাসের সাথেও গ্রহণ করেছে... {হে আমার প্রিয় পিতা!}... এর মধ্যে জড়িয়ে আছে মমতা ও ঘনিষ্ঠতা। জবেহ হওয়ার বিভীষিকা তাকে বিচলিত বা আতঙ্কিত করেনি এবং তার হিতাহিত জ্ঞানও লোপ করেনি। বরং তা তার আদব ও মমত্ববোধকেও বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করতে পারেনি।
{আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করুন}—সে তা-ই অনুভব করল যা ইতিপূর্বে তার পিতার অন্তর অনুভব করেছিল। সে অনুভব করল যে স্বপ্ন হলো একটি ইঙ্গিত। আর ইঙ্গিত হলো আদেশ। আর তা পালনের জন্য কোনো প্রকার দ্বিধা, ওজর বা সংশয় ব্যতিরেকেই যথেষ্ট।
অতঃপর এটি আল্লাহর প্রতি আদব, এবং ধৈর্য ধারণের ক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্য ও শক্তির সীমা অনুধাবন করা; নিজের দুর্বলতার মুহূর্তে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করা এবং আত্মত্যাগে তাওফিক ও আনুগত্যে সহায়তার সকল কৃতিত্ব তাঁর দিকেই নিবদ্ধ করা:
{আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন}
…সে বিষয়টিকে বীরত্ব হিসেবে গ্রহণ করেনি। সাহসিকতা হিসেবেও নেয়নি। কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপহীন হয়ে বিপদের দিকে ধাবিত হওয়া হিসেবেও গণ্য করেনি। সে নিজের ব্যক্তিত্বের কোনো প্রভাব, আকার বা গুরুত্ব প্রকাশ করেনি
… বরং সে সমস্ত কৃতিত্ব আল্লাহর দিকেই ফিরিয়ে দিয়েছে যে, তিনি যদি তাকে কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে সাহায্য করেন এবং উদ্দিষ্ট বিষয়ে তাকে ধৈর্য দান করেন: {আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন}।
আল্লাহর প্রতি কী অনন্য আদব! ঈমানের কী অপূর্ব সৌন্দর্য। আনুগত্যের কী মহত্ত্ব। আর আত্মসমর্পণের কী বিশালতা!
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ويخطو المشهد خطوة أخرى وراء الحوار والكلام .. يخطو إلى التنفيذ:} فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ { .. ومرةً أخرى يرتفع نبل الطاعة. وعظمة الإيمان. وطمأنينة الرضى وراء كل ما تعارف عليه بنو الإنسان ..
إن الرجل يمضي فيكب ابنه على جبينه استعداداً. وإن الغلام يستسلم فلا يتحرك امتناعاً. وقد وصل الأمر إلى أن يكون عياناً.
لقد أسلما .. فهذا هو الإسلام. هذا هو الإسلام في حقيقته. ثقة وطاعة وطمأنينة ورضى وتسليم .. وتنفيذ .. وكلاهما لا يجد في نفسه إلا هذه المشاعر التي لا يصنعها غير الإيمان
العظيم.
إنها ليست الشجاعة والجراءة. وليس الاندفاع والحماسة. لقد يندفع المجاهد في الميدان، يَقْتُلُ ويُقْتَلُ. ولقد يندفع الفدائي وهو يعلم أنه قد لا يعود. ولكن هذا كله شيء والذي يصنع إبراهيم وإسماعيل هنا شيء آخر .. ليس هنا دم فائر، ولا حماسة دافعة ولا اندفاع في عجلة تخفي وراءها الخوف من الضعف والنكوص! إنما هو الاستسلام الواعي المتعقل القاصد المريد، العارف بما يفعل، المطمئن لما يكون. لا بل هنا الرضى الهادئ المستبشر المتذوق للطاعة وطعمها الجميل!
وهنا كان إبراهيم وإسماعيل كانا قد أديا. كانا قد أسلما. كانا قد حققا الأمر
والتكليف. ولم يكن باقياً إلا أن يذبح إسماعيل، ويسيل دمه، وتزهق روحه .. وهذا أمر لا يعني شيئاً في ميزان الله، بعدما وضع إبراهيم وإسماعيل في هذا الميزان من روحهما
وعزمهما ومشاعرهما كل ما أراده ربه منهما.
كان الابتلاء قد تم. والامتحان قد وقع. ونتائجه قد ظهرت. وغاياته قد تحققت. ولم يعد إلا الألم البدني. وإلا الدم المسفوح. والجسد الذبيح. والله لا يريد أن يعذب عباده بالابتلاء. ولا يريد دمائهم وأجسادهم في شيء. ومتى خلصوا له واستعدوا للأداء بكلياتهم، فقد أدوا وقد حققوا التكليف، وقد جازوا الامتحان بنجاح.
وعرف الله من إبراهيم وإسماعيل صدقهما، فاعتبرهما قد أديا وحققا وصدقا:
} وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَاإِبْرَاهِيمُ (104) قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ {
দৃশ্যপটটি সংলাপ এবং কথোপকথন ছাড়িয়ে বাস্তবায়নের দিকে আরও এক ধাপ অগ্রসর হয়: {অতঃপর যখন তারা উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং সে তাকে কপালে ভর দিয়ে শুইয়ে দিল}। পুনরায় আনুগত্যের মহত্ত্ব, ঈমানের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সন্তুষ্টির প্রশান্তি মানবজাতির পরিচিত সবকিছুর ঊর্ধ্বে আরোহণ করে।
নিশ্চয়ই সেই পিতা অগ্রসর হন এবং প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তার পুত্রকে কপালে ভর দিয়ে উপুড় করে শুইয়ে দেন। আর কিশোরটি আত্মসমর্পণ করে, তাই সে বাধা দেওয়ার কোনো নড়াচড়া করে না। বিষয়টি এখন চাক্ষুষ বাস্তবতায় উপনীত হয়েছে।
তারা উভয়েই আত্মসমর্পণ করেছিলেন; আর এটাই হলো ইসলাম। এটাই ইসলামের প্রকৃত রূপ—আস্থা, আনুগত্য, প্রশান্তি, সন্তুষ্টি, সমর্পণ এবং বাস্তবায়ন। আর তাদের উভয়ের অন্তরে এই অনুভূতিগুলো ছাড়া আর কিছুই ছিল না, যা মহান ঈমান ব্যতীত অন্য কোনো কিছু তৈরি করতে পারে না
মহান।
এটি কেবল সাহস বা বীরত্ব নয়। এটি নিছক অন্ধ আবেগ বা উদ্দীপনাও নয়। একজন মুজাহিদ রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন, তিনি হত্যা করেন এবং শহীদ হন। একজন আত্মোৎসর্গকারী ব্যক্তি এগিয়ে যান এই জেনে যে, তিনি হয়তো আর ফিরে আসবেন না। তবে এই সবকিছু এক বিষয়, আর যা এখানে ইবরাহিম ও ইসমাইলকে তৈরি করেছে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে কোনো উত্তপ্ত রক্ত নেই, নেই কোনো অন্ধ উদ্দীপনা বা দ্রুতবেগে ধাবিত হওয়ার এমন কোনো তাড়না যার পেছনে দুর্বলতা বা পিছুটানের ভয় লুকিয়ে থাকে! বরং এটি হলো সচেতন, বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন এবং সংকল্পবদ্ধ আত্মসমর্পণ; যা নিজের কর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং পরিণাম সম্পর্কে প্রশান্ত। বরং এখানে রয়েছে সেই শান্ত ও সুসংবাদবাহী সন্তুষ্টি, যা আনুগত্যের মাধুর্য আস্বাদনকারী!
এখানেই ইবরাহিম ও ইসমাইল তাদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারা উভয়েই আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তারা আদেশ ও নির্দেশ পূর্ণ করেছিলেন। কেবল অবশিষ্ট ছিল ইসমাইলকে জবেহ করা, তার রক্ত প্রবাহিত হওয়া এবং তার প্রাণের অবসান ঘটা... আর আল্লাহর পাল্লায় এর বিশেষ গুরুত্ব নেই, যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল তাদের রবের চাহিদা মোতাবেক তাদের আত্মা, দৃঢ় সংকল্প এবং আবেগ দিয়ে সেই পাল্লা পূর্ণ করে দিয়েছেন।
পরীক্ষা পূর্ণ হয়েছিল। পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছিল এবং এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। এর উদ্দেশ্যসমূহ অর্জিত হয়েছিল। এখন কেবল শারীরিক যন্ত্রণা, প্রবাহিত রক্ত এবং জবেহকৃত দেহটুকুই অবশিষ্ট ছিল। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পরীক্ষার মাধ্যমে কষ্ট দিতে চান না। তিনি তাদের রক্ত বা দেহের প্রত্যাশী নন। যখন তারা আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হয় এবং সর্বান্তকরণে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হয়, তখনই তারা তাদের দায়িত্ব পূর্ণ করে এবং সাফল্যের সাথে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।
আল্লাহ ইবরাহিম ও ইসমাইলের সত্যবাদিতা সম্পর্কে অবগত হলেন, তাই তিনি তাদের দায়িত্ব পালনকারী ও সত্য বাস্তবায়নকারী হিসেবে গণ্য করলেন:
{এবং আমরা তাকে ডাক দিয়ে বললাম, হে ইবরাহিম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। এভাবেই আমরা সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।}
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
قد صدقت الرؤيا وحققتها فعلاً. فالله لا يريد إلا الإسلام والاستسلام بحيث لا يبقى في النفس ما تكنه عن الله أو تعزه عن أمره أو تحتفظ به دونه، ولو كان هو الابن فلذة الكبد، ولو كانت هي النفس والحياة. وأنت - يا إبراهيم - قد فعلت. جدت بكل شيء. وبأعز شيء. وجدت به في رضى وفي هدوء وفي طمأنينة وفي يقين. فلم يبق إلا اللحم والدم. وهذا ينوب عنه ذبح. أي ذبحٍ من دم ولحم! ويفدي الله هذه النفس التي أسلمت وأدت. يفديها بذبح عظيم. قيل: إنه كبش وجده إبراهيم مهيأ بفعل ربه
وإرادته ليذبحه بدلاً من اسماعيل!
وقيل له:} إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ { .. نجزيهم باختيارهم لمثل هذا البلاء. ونجزيهم بتوجيه قلوبهم ورفعها إلى مستوى الوفاء. ونجزيهم بإقدارهم وإصبارهم على الأداء.
ونجزيهم كذلك باستحقاق الجزاء!
ومضت بذلك سنة النحر في الأضحى، ذكرى لهذا الحادث العظيم الذي يرتفع منارةً لحقيقة الإيمان. وجمال الطاعة. وعظمة التسليم. والذي ترجع إليه الأمة المسلمة لتعرف فيه حقيقة أبيها إبراهيم، الذي تتبع ملته، والذي ترث نسبه وعقيدته. ولتدرك طبيعة العقيدة التي تقوم بها أو تقوم عليها، ولتعرف أنها الاستسلام لقدر الله في طاعة راضية واثقة ملبية لا تسأل ربها لماذا؟ ولا تتلجلج في تحقيق إرادته عند أول إشارة منه وأول توجيه. ولا تستبقي لنفسها في نفسها شيئاً، ولا تختار في ما تقدمه لربها هيئةً ولا طريقةً لتقديمه إلا كما يطلب هو إليها أن تقدم! ثم لتعرف أن ربها لا يريد أن يعذبها بالابتلاء
ولا أن يؤذيها بالبلاء، إنما يريد أن تأتيه طائعةً ملبيةً وافيةً مؤدية. مستسلمةً لا تقدم بين يديه، ولا تتألى عليه، فإذا عرف منها الصدق في هذا أعفاها من التضحيات والآلام.
واحتسبها لها وفاء وأداء. وقبل منها وفدّاها، وأكرمها كما أكرم أباها] (1).
وقد نقلت لك أخي القارئ كلام صاحب الظلال رغم طوله لبيان عظمة موقف إبراهيم الخليل وكيف أنه أقدم طائعاً لتنفيذ الرؤيا يذبح ولده الوحيد إسماعيل وموقف ذلك الولد
--------------------------------------------
আপনি অবশ্যই স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছেন এবং বাস্তবে তা সম্পাদন করেছেন। আল্লাহ তো কেবল ইসলাম ও আত্মসমর্পণই চান, যেন নফসের গভীরে এমন কিছু অবশিষ্ট না থাকে যা আল্লাহর কাছ থেকে গোপন রাখা হয় কিংবা তাঁর নির্দেশের মোকাবিলায় যাকে অধিক প্রিয় মনে করা হয় অথবা তাঁকে বাদ দিয়ে যাকে সংরক্ষণ করা হয়—তা যদি নিজের কলিজার টুকরো সন্তানও হয়, কিংবা নিজের প্রাণ ও জীবনও হয়। আর আপনি—হে ইব্রাহিম—তা-ই করেছেন। আপনি সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন। এবং সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটিকে উৎসর্গ করেছেন। আপনি তা বিলিয়ে দিয়েছেন সন্তুষ্টির সাথে, ধীরস্থিরভাবে, প্রশান্তি চিত্তে এবং দৃঢ় বিশ্বাসের (يقين) সাথে। ফলে কেবল রক্ত আর মাংসই অবশিষ্ট ছিল। আর এটি একটি জবেহ্ বা কোরবানির স্থলাভিষিক্ত হলো। রক্ত ও মাংসের কী এক মহান কোরবানি! আল্লাহ সেই সত্তাকে মুক্তি দিলেন যা আত্মসমর্পণ করেছিল এবং অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছিল। তিনি তাকে এক মহান জবেহ্ বা কোরবানির বিনিময়ে মুক্তি দিলেন। বলা হয়েছে: এটি ছিল একটি দুম্বা যা ইব্রাহিম তাঁর রবের নির্দেশ ও ইচ্ছায় প্রস্তুত অবস্থায় পেয়েছিলেন
ইসমাইলের পরিবর্তে সেটিকে জবেহ করার জন্য!
আর তাঁকে বলা হলো: {আমরা এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি} .. আমরা তাদের প্রতিদান দেই এ ধরনের পরীক্ষার (بلاء) জন্য তাদের মনোনীত করার মাধ্যমে। আমরা তাদের প্রতিদান দেই তাদের অন্তরকে সত্যের অভিমুখী করার এবং সেটিকে পূর্ণ বিশ্বস্ততার স্তরে উন্নীত করার মাধ্যমে। আমরা তাদের প্রতিদান দেই তাদের সক্ষমতা প্রদান করে এবং আদিষ্ট বিষয় পালনে তাদের ধৈর্যশীল করার মাধ্যমে।
এবং আমরা তাদের একইভাবে প্রতিদান দেই পুরস্কার লাভের যোগ্য করার মাধ্যমে!
এভাবেই ঈদুল আজহার দিনে পশু জবেহ করার সুন্নাহ বাস্তবায়িত হলো, সেই মহান ঘটনার স্মৃতি হিসেবে যা ঈমানের প্রকৃত রূপ, আনুগত্যের সৌন্দর্য এবং আত্মসমর্পণের মাহাত্ম্যের বাতিঘর হিসেবে সমুন্নত। যার দিকে মুসলিম উম্মাহ ফিরে তাকায় তাদের পিতা ইব্রাহিমের প্রকৃত পরিচয় জানার জন্য, যাঁর আদর্শ তারা অনুসরণ করে এবং যাঁর বংশধারা ও আকিদা (عقيدة) তারা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছে। আর তারা যেন সেই আকিদার (عقيدة) প্রকৃতি অনুধাবন করতে পারে যা তারা ধারণ করে বা যার ওপর তারা প্রতিষ্ঠিত। তারা যেন জানতে পারে যে, আকিদা হলো আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টচিত্তে, আস্থাশীল হয়ে এবং মস্তক অবনত করে এমনভাবে আত্মসমর্পণ করা, যেখানে কেউ তার রবকে প্রশ্ন করে না—কেন? এবং রবের পক্ষ থেকে সামান্যতম ইঙ্গিত বা নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথে তা বাস্তবায়নে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। তারা যেন নিজের জন্য নিজের ভেতর কিছুই অবশিষ্ট না রাখে এবং তাদের রবের নিকট যা পেশ করবে তার জন্য এমন কোনো ধরণ বা পদ্ধতি পছন্দ না করে যা তিনি পেশ করতে বলেননি। এরপর তারা যেন জানতে পারে যে, তাদের রব তাদের পরীক্ষার (ابتلاء) মাধ্যমে কষ্ট দিতে চান না
ولا أن يؤذيها بالبلاء، এবং পরীক্ষার (بلاء) মাধ্যমে তাদের ব্যথিত করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়; বরং তিনি চান বান্দা যেন তাঁর কাছে অনুগত হয়ে, তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এবং বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব পালন করে উপস্থিত হয়। এমন আত্মসমর্পণকারী হয়ে যে তাঁর সামনে অগ্রগামী হয় না এবং তাঁর ওপর ধৃষ্টতা দেখায় না; যখন তিনি তাদের মধ্যে এই সত্যতার (صدق) প্রমাণ পান, তখন তিনি তাদের ত্যাগ ও কষ্ট থেকে অব্যাহতি দেন।
এবং তিনি সেটিকে তাদের জন্য বিশ্বস্ততা ও দায়িত্ব পালন হিসেবে গণ্য করেন। তিনি তাদের পক্ষ থেকে তা কবুল করেন ও মুক্তিপণ দান করেন এবং তাদের সম্মানিত করেন যেভাবে তাদের পিতাকে সম্মানিত করেছিলেন (১)।
হে পাঠক ভাই, আমি আপনার সামনে 'জিলাল' (তাফসির জিলালিল কুরআন) লেখকের বক্তব্য দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও উদ্ধৃত করেছি খলিল ইব্রাহিমের অবস্থানের মাহাত্ম্য বর্ণনা করার জন্য এবং তিনি কীভাবে তাঁর একমাত্র সন্তান ইসমাইলকে জবেহ করার মাধ্যমে স্বপ্নের বাস্তবায়নে আনুগত্যের সাথে অগ্রসর হয়েছিলেন এবং সেই সন্তানের অবস্থান কেমন ছিল তা স্পষ্ট করার জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
المطيع المستسلم لأمر الله تعالى فإن في عملهما قدوة لنا معشر المسلمين قال تعالى:} قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ {سورة الممتحنة الآية 4.
মহান আল্লাহর আদেশের প্রতি অনুগত ও আত্মসমর্পণকারী; কেননা তাঁদের কর্মের মধ্যে আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ নিহিত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের জন্য ইবরাহীমের মধ্যে রয়েছে এক উত্তম আদর্শ} (সূরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত ৪)।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثانياً: إن ذبح الأضحية وسيلة للتوسعة على النفس وأهل البيت وإكرام الجيران والأقارب والأصدقاء والتصدق على الفقراء. وقد مضت السنة منذ عهد النبي صلى الله عليه وسلم في التوسعة على الأهل وإكرام الجيران والتصدق على الفقراء يوم الأضحى، فقد ثبت في الحديث عن أنس
… رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (من ذبح قبل الصلاة فليعد. فقال رجل: هذا يوم يشتهى فيه اللحم
وذكر هَنَةً من جيرانه فكأن رسول الله صلى الله عليه وسلم عذره، وقال عندي جذعة خير من شاتين فرخص له النبي صلى الله عليه وسلم
… ) الحديث رواه البخاري ومسلم (1).
قال الحافظ ابن حجر: [قوله وذكر فيه هَنَةً بفتح الهاء والنون الخفيفة بعدها هاء تأنيث، أي حاجة من جيرانه للَّحم] (2).
وجاء في حديث البراء رضي الله عنه قال: (خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم النحر بعد الصلاة فقال: من صلى صلاتنا ونسك نسكنا فقد أصاب النسك، ومن نسك قبل الصلاة فتلك شاة لحم. فقام أبو بردة بن نيار فقال: يا رسول الله لقد نسكت قبل أن أخرج إلى الصلاة وعرفت أن اليوم يوم أكل وشرب فتعجلت فأكلت وأطعمت أهلي وجيراني.
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: تلك شاة لحم. فقال: إن عندي عناقاً جذعةً وهي خيرٌ من شاتي لحم فهل تجزئ عني؟ قال: نعم، ولن تجزئ عن أحدٍ بعدك) رواه البخاري ومسلم، وأبو داود واللفظ له (3).
فانظر إلى قول أبي بردة: (فأكلتُ وأطعمتُ أهلي وجيراني) فإنه يشير إلى ما ذكرت.
وجاء في الحديث أن عطاء بن يسار قال: (سألت أبا أيوب الأنصاري كيف كانت الضحايا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقال: كان الرجل يضحي بالشاة عنه وعن أهل بيته فيأكلون ويطعمون حتى تباهى الناس فصارت كما ترى) رواه الترمذي وقال: حسن صحيح، ورواه ابن ماجة والبيهقي وغيرهم، وقال الشيخ الألباني: صحيح (4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: কোরবানি জবাই করা হলো নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য সচ্ছলতা বিধান এবং প্রতিবেশী, নিকটাত্মীয় ও বন্ধুদের সম্মান প্রদর্শন এবং দরিদ্রদের দান করার একটি মাধ্যম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকেই কোরবানির দিনে পরিবার-পরিজনের প্রতি উদারতা প্রদর্শন, প্রতিবেশীদের আপ্যায়ন এবং দরিদ্রদের দান করার সুন্নত (سنة) চলে আসছে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি নামাজের আগে জবাই করল, সে যেন পুনরায় তা করে। এক ব্যক্তি বললেন: এটি এমন একটি দিন যখন গোশতের আকাঙ্ক্ষা থাকে
এবং তিনি তার প্রতিবেশীদের কিছু অভাবের কথা উল্লেখ করলেন। তখন মনে হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং তিনি বললেন: "আমার কাছে একটি এক বছর বয়সী মেষশাবক আছে যা দুটি ছাগলের চেয়েও উত্তম।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন
…) হাদিসটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: [তাঁর কথা 'তিনি হানাহ (هنة) উল্লেখ করেছেন', যা হা এবং হালকা নুন এবং পরবর্তী 'হা-এ-তানিছ' বা স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'হা' (هاء تأنيث)-সহ গঠিত; অর্থাৎ তার প্রতিবেশীদের গোশতের প্রয়োজন ছিল] (২)।
বারা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির দিন নামাজের পর আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: যে ব্যক্তি আমাদের মতো নামাজ আদায় করল এবং আমাদের নিয়ম অনুযায়ী কোরবানি করল, সে সঠিক নিয়মে কোরবানি আদায় করল। আর যে নামাজের আগে জবাই করল, সেটি কেবল গোশতের ছাগল হিসেবে গণ্য হবে। তখন আবু বুরদাহ ইবনে নিয়ার দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি নামাজের জন্য বের হওয়ার আগেই জবাই করেছি এবং জানতাম যে আজ খাওয়া-দাওয়ার দিন, তাই আমি তাড়াহুড়ো করে নিজে খেয়েছি এবং আমার পরিবার ও প্রতিবেশীদের খাইয়েছি।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ওটি গোশতের ছাগল। তিনি বললেন: আমার কাছে এক বছর বয়সী একটি বকরি ছানা আছে যা দুটি গোশতের ছাগলের চেয়েও উত্তম। আমার পক্ষ থেকে কি তা যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে তোমার পর আর কারো জন্য এটি যথেষ্ট হবে না) বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন, এবং শব্দ বিন্যাস আবু দাউদ-এর (৩)।
আবু বুরদাহর উক্তির দিকে লক্ষ্য করুন: (আমি নিজে খেয়েছি এবং আমার পরিবার ও প্রতিবেশীদের খাইয়েছি), এটি আমার উল্লিখিত আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করে।
হাদিসে আরও এসেছে যে, আতা ইবনে ইয়াসার বলেন: (আমি আবু আইয়ুব আনসারীকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কোরবানি কেমন ছিল? তিনি বললেন: একজন ব্যক্তি নিজের এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বকরি কোরবানি করতেন, অতঃপর তারা নিজেরা খেতেন এবং অন্যদের খাওয়াতেন। শেষ পর্যন্ত মানুষ এটি নিয়ে গর্ব করতে শুরু করল এবং বর্তমান পরিস্থিতি তোমরা যা দেখছো তেমন হয়ে গেল) এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)। ইবনে মাজাহ, বায়হাকি এবং অন্যান্যরাও এটি বর্ণনা করেছেন এবং শেখ আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قلت: وهكذا قول أبي أيوب (فيأكلون ويطعمون)، يدل على ما سبق.
ثالثاً: شكراً لله سبحانه وتعالى على نعمه المتعددة:
فالله سبحانه وتعالى قد أنعم على الإنسان بنعمٍ كثيرةٍ لا تُعَدُ ولا تُحصى كنعمة البقاء من عام لعام. ونعمة الإيمان ونعمة السمع والبصر والمال؛ فهذه النعم وغيرها تستوجب الشكر للمنعم سبحانه وتعالى، والأضحية صورةٌ من صور الشكر لله سبحانه وتعالى، فيتقرب العبد إلى ربه بإراقة دم الأضحية امتثالاً لأمر الله سبحانه وتعالى (1)، حيث قال جل جلاله: {فصلِّ لربك وانحر} سورة الكوثر الآية 2.
--------------------------------------------
আমি বলি: আবু আইয়ুবের এই উক্তি (অতঃপর তারা আহার করে এবং আহার করায়) পূর্ববর্তী আলোচনারই প্রমাণ বহন করে।
তৃতীয়ত: মহান আল্লাহর অগণিত নিয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ:
কেননা মহান আল্লাহ মানুষকে অসংখ্য ও অগণিত নিয়ামত দান করেছেন, যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়; যেমন বছরের পর বছর বেঁচে থাকার নিয়ামত। ঈমানের নিয়ামত এবং শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও ধন-সম্পদের নিয়ামত; এই সকল নিয়ামত এবং এছাড়া অন্য সকল নিয়ামত দাতা মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়কে আবশ্যক করে তোলে। আর কোরবানি হলো মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া প্রকাশের অন্যতম একটি মাধ্যম। সুতরাং বান্দা মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে (১) কোরবানির পশুর রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে তার প্রতিপালকের নৈকট্য অর্জন করে, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {অতএব আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যেই নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন} সূরা আল-কাওসার, আয়াত ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الرابعحكم الأضحيةاختلف الفقهاء في حكم الأضحية على قولين:
القول الأول: الأضحيةُ سنةٌ مؤكدةٌ في حق الموسر، وهذا قول أكثر العلماء، وممن قال به أبو بكر الصديق وعمر بن الخطاب وبلال وسويد بن غفلة وأبو مسعود البدري وسعيد بن المسيب وسفيان الثوري وابن المبارك وعطاء وعلقمة والأسود ومالك في القول المشهور عنه والشافعي وأحمد وأبو يوسف ومحمد والزعفراني من الحنفية وإسحاق وأبو ثور والمزني وداود وابن حزم الظاهريان وابن المنذر وغيرهم (1).
القول الثاني: الأضحيةُ واجبةٌ، وبهذا قال جماعة من أهل العلم على اختلافٍ بينهم في حق من تجب:
فقال ربيعة الرأي والليث بن سعد والأوزاعي ومالك في قولٍ عنه، الأضحيةُ واجبةٌ على المقيم والمسافر الموسر إلا الحاج بمنى فلا تجب عليه وإنما المشروع في حقه الهدي (2).
وقال أبو حنيفة الأضحيةُ واجبةٌ في حق المقيم الموسر، وهو قول زفر والحسن ورواية عن أبي يوسف ومحمد. واختار شيخ الإسلام ابن تيمية القول بوجوب الأضحية (3).
سبب اختلاف الفقهاء في حكم الأضحية:
ويرجع سبب اختلاف الفقهاء في حكم الأضحية إلى أمرين:
الأول: هل فعل الرسول صلى الله عليه وسلم محمول على الوجوب أم على الندب؟
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদকোরবানির বিধান (حكم)কোরবানির বিধানের (حكم) বিষয়ে ফকিহগণ (فقهاء) দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথম মত: সচ্ছল ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোরবানি করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة)। এটি অধিকাংশ আলেমের মত। যাঁরা এই মত পোষণ করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু বকর সিদ্দিক, উমর ইবনুল খাত্তাব, বিলাল, সুওয়াইদ ইবনে গাফালা, আবু মাসউদ আল-বাদরি, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, সুফিয়ান আস-সাওরি, ইবনুল মুবারক, আতা, আলকামা, আল-আসওয়াদ, ইমাম মালেকের প্রসিদ্ধ (مشهور) মত, শাফেয়ী, আহমদ, আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং হানাফিদের মধ্য থেকে জাফরানি, ইসহাক, আবু সাওর, মুজানি, দাউদ, ইবনে হাজম আল-জাহিরিদ্বয়, ইবনুল মুনজির এবং আরও অনেকে (১)।
দ্বিতীয় মত: কোরবানি ওয়াজিব (واجب)। একদল আলেম এই মত পোষণ করেছেন, তবে কাদের ওপর এটি ওয়াজিব (واجب) হবে সেই বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে:
রাবিয়াহ আর-রায়ি, লাইস ইবনে সাদ, আওজায়ি এবং ইমাম মালেকের একটি মত অনুযায়ী: কোরবানি সচ্ছল মুকিম (مقيم) ও মুসাফিরের (مسافر) ওপর ওয়াজিব (واجب), তবে মিনায় অবস্থানকারী হাজিদের ওপর ওয়াজিব (واجب) নয়; বরং তাদের ক্ষেত্রে হাদঈর (هدي) বিধান প্রযোজ্য (২)।
ইমাম আবু হানিফা বলেছেন, কোরবানি সচ্ছল মুকিম (مقيم) ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব (واجب)। এটি জুফার, হাসান এবং আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদের একটি বর্ণনা। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াও কোরবানি ওয়াজিব (واجب) হওয়ার মতটি গ্রহণ করেছেন (৩)।
কোরবানির বিধানের (حكم) বিষয়ে ফকিহগণের (فقهاء) মতভেদের কারণ:
কোরবানির বিধানের (حكم) বিষয়ে ফকিহগণের (فقهاء) মতভেদের কারণ দুটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়:
প্রথমত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম কি ওয়াজিব হওয়ার (وجوب) ওপর নির্দেশিত নাকি মুস্তাহাব (ندب) হওয়ার ওপর?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
حيث إنه قد ثبت عن الرسول صلى الله عليه وسلم أنه كان يضحي كل عام كما ذكره ابن عمر رضي الله عنهما: (أن النبي صلى الله عليه وسلم أقام بالمدينة عشر سنين يضحي) وسيأتي.
وهذا يعني أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يترك الأضحية قط، حتى إنه كان يضحي في السفر، كما ثبت في حديث ثوبان رضي الله عنه قال: (ذبحَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم ضحيته ثم قال: يا ثوبان أصلح لحم هذه. فلم أزل أطعمه منها حتى قدم المدينة) رواه مسلم (1).
الثاني: اختلافهم في مفهوم الأحاديث الواردة في الأضحية، حيث إنه قد ثبت من حديث أم سلمة رضي الله عنها أنه عليه الصلاة والسلام قال: (إذا دخلت العشر، وأراد أحدكم أن يضحي فلا يأخذ من شعره ولا من ظفره شيئاً) رواه مسلم.
فقوله (وأراد أحدكم أن يضحي) فيه دليل على أن الأضحية متروكة لإرادة المسلم ورغبته، وما كان كذلك لا يكون واجباً.
ولمَّا أمر الرسول صلى الله عليه وسلم أبا بردة بن نيار رضي الله عنه بإعادة أضحيته إذ ذبح قبل صلاة العيد حيث
قال صلى الله عليه وسلم: (من كان قد ذبح قبل الصلاة فليعد) رواه البخاري ومسلم (2).
فهم جماعة من الفقهاء من أمره صلى الله عليه وسلم الوجوب (3).
أدلةُ الجمهور على أنَّ الأضحيةَ سنةٌ مؤكدةٌ، وليست واجبة:1. حديث أم سلمة رضي الله عنها قالت: (قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا دخلت العشر وأراد أحدكم أن يضحي فلا يمس من شعره وبشره شيئاً) (4).
قال الإمام الشافعي: [هذا دليل أن التضحية ليست بواجبة، لقوله صلى الله عليه وسلم (وأراد)، فجعله مفوضاً إلى إرادته ولو كان واجباً لقال صلى الله عليه وسلم (فلا يمس من شعره وبشره حتى يضحي) (5).
2. ما روي عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (ثلاث هن عليَّ فرائض ولكم تطوع، النحر والوتر وركعتا الضحى) رواه أحمد والبيهقي، وفي رواية أخرى عند البيهقي عن ابن عباس رفعه قال: (كُتِبَ عليَّ النحرُ ولم يكتبْ عليكم) (6).
--------------------------------------------
যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি প্রতি বছর কোরবানি করতেন, যেমনটি ইবনে উমর (রা.) উল্লেখ করেছেন: (নিশ্চয়ই নবী (সা.) মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন এবং কোরবানি করেছেন) এবং এটি সামনে আসবে।
এর অর্থ হলো নবী (সা.) কখনো কোরবানি ত্যাগ করেননি, এমনকি তিনি সফরে থাকাকালীনও কোরবানি করতেন। যেমনটি সাওবান (রা.)-এর হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর কোরবানির পশু জবাই করলেন, তারপর বললেন: হে সাওবান, এই গোশত প্রস্তুত করো। এরপর মদিনায় পৌঁছানো পর্যন্ত আমি তাঁকে তা থেকে খাওয়াতে থাকলাম।) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
দ্বিতীয়ত: কোরবানি সম্পর্কিত হাদিসগুলোর মর্ম উপলব্ধিতে তাঁদের মতপার্থক্য। উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি (সা.) বলেছেন: (যখন জিলহজের দশ দিন প্রবেশ করে এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখ থেকে কিছুই না কাটে।) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং তাঁর বাণী (এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে) এতে প্রমাণ রয়েছে যে, কোরবানি বিষয়টি মুসলিমের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর যা এমন (ঐচ্ছিক), তা আবশ্যিক (واجب) হতে পারে না।
যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আবু বুরদাহ ইবনে নিয়ার (রা.)-কে তাঁর কোরবানি পুনরায় করার নির্দেশ দিলেন যেহেতু তিনি ঈদের সালাতের আগে জবাই করেছিলেন, সেক্ষেত্রে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (যে ব্যক্তি সালাতের আগে জবাই করেছে, সে যেন পুনরায় করে।) এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২)।
একদল ফকিহ (আইনবিদ) তাঁর (সা.) নির্দেশ থেকে আবশ্যিকতা (وجوب) বুঝেছেন (৩)।
জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের দলিল যে, কোরবানি হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة), তা আবশ্যিক (واجب) নয়:১. উম্মে সালামাহ (রা.)-এর হাদিস, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন জিলহজের দশ দিন প্রবেশ করে এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও চামড়ার কিছুই স্পর্শ না করে।) (৪)।
ইমাম শাফেয়ি বলেন: [এটি দলিল যে কোরবানি আবশ্যিক (واجب) নয়, কারণ নবী (সা.) বলেছেন (ইচ্ছা করে); ফলে তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর ন্যস্ত করেছেন। যদি এটি আবশ্যিক (واجب) হতো, তবে নবী (সা.) বলতেন (সে যেন কোরবানি না করা পর্যন্ত তার চুল ও চামড়া স্পর্শ না করে)।] (৫)।
২. ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (তিনটি বিষয় আমার জন্য ফরজ (فرائض) এবং তোমাদের জন্য নফল (تطوع), সেগুলো হলো: নহর (কোরবানি), বিতর এবং চাশতের দুই রাকাত সালাত।) এটি আহমদ ও বায়হাকি বর্ণনা করেছেন। বায়হাকির অন্য এক বর্ণনায় ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমার ওপর নহর (কোরবানি) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তোমাদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হয়নি।) (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والحديث ضعيف كما قال الإمام النووي (1).
وقال الحافظ ابن حجر: [ومداره على أبي جناب الكلبي عن عكرمة، وأبو جناب ضعيف ومدلس أيضاً، وقد عنعنه وأطلق الأئمة على هذا الحديث الضعف كأحمد والبيهقي وابن الصلاح وابن الجوزي والنووي وغيرهم
… الخ] (2).
وقال الحافظ ابن حجر في موضع آخر بعد أن ذكر طرق الحديث: [فتلخص ضعف الحديث من جميع طرقه] (3).
3. عن جابر بن عبد الله: (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى بالناس يوم النحر فلما فرغ من خطبته وصلاته دعا بكبش فذبحه هو بنفسه وقال: باسم الله، الله أكبر اللهم عني وعمَّن لم يضح من أمتي) رواه أحمد وأبو داود وسكت عليه والترمذي وابن ماجة والبيهقي واللفظ له والحاكم وصححه ووافقه الذهبي وصححه الشيخ الألباني أيضاً (4).
والحديث احتج به صاحب المنتقى على عدم الوجوب حيث قال: [باب ما احتج به في عدم وجوبها بتضحية رسول الله صلى الله عليه وسلم عن أمته] (5) ثم ساق حديث جابر السابق وحديث أبي رافع وهو الحديث التالي:
4. عن أبي رافع: (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا ضحى اشترى كبشين سمينين أقرنين أملحين فإذا صلى وخطب الناس أتي بأحدهما وهو قائم في مصلاه فذبحه بنفسه بالمدية ثم يقول:
اللهم هذا عن أمتي جميعاً من شهد لك بالتوحيد وشهد لي بالبلاغ ثم يؤتى بالآخر فيذبحه بنفسه ويقول: هذا عن محمد وآل محمد فيطعمهما جميعاً المساكين ويأكل هو وأهله
--------------------------------------------
আর ইমাম নববী যেমনটি বলেছেন, হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) (১)।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: [এর ভিত্তি আবু জানাব আল-কালবি হতে ইকরিমা-র বর্ণনার ওপর, আর আবু জানাব একজন দুর্বল (ضعيف) এবং মুদাল্লিস (مدلس) বর্ণনাকারীও বটে, আর তিনি এখানে আন-আনা (عنعنه) করেছেন। আর ইমামগণ এই হাদিসটিকে দুর্বলতা (الضعف) এর পর্যায়ভুক্ত করেছেন, যেমন আহমাদ, বায়হাকি, ইবনুস সালাহ, ইবনুল জাওজি, নববী এবং অন্যান্যরা... ইত্যাদি] (২)।
হাফেজ ইবনে হাজার অন্য এক স্থানে হাদিসের সূত্রসমূহ উল্লেখ করার পর বলেন: [সারকথা হলো, হাদিসটি এর সকল সূত্রেই দুর্বল (ضعيف)] (৩)।
৩. জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানির দিন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, যখন তিনি তাঁর খুতবা ও সালাত সম্পন্ন করলেন, তখন একটি দুম্বা আনালেন এবং তা নিজ হাতে জবেহ করলেন এবং বললেন: বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবার; হে আল্লাহ! এটি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মধ্যে যারা কুরবানি দিতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকে)। এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (আবু দাউদ) এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন (سكت عليه), এছাড়া তিরমিজি, ইবনে মাজাহ ও বায়হাকি বর্ণনা করেছেন—শব্দবিন্যাস বায়হাকির, আর হাকেম এটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন, আর শেখ আলবানিও এটিকে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন (৪)।
আর আল-মুনতাকা গ্রন্থের লেখক (কুরবানি) ওয়াজিব না হওয়ার সপক্ষে এই হাদিসটি দ্বারা দলীল পেশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে কুরবানি করার মাধ্যমে কুরবানি ওয়াজিব না হওয়ার পক্ষে যেসব দলীল পেশ করা হয়েছে তার অধ্যায়] (৫), অতঃপর তিনি জাবিরের পূর্বোক্ত হাদিসটি এবং আবু রাফে-এর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যা নিম্নরূপ:
৪. আবু রাফে হতে বর্ণিত: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরবানি করতেন, তখন দুটি মোটাতাজা, শিংবিশিষ্ট এবং সাদা-কালো রঙের দুম্বা ক্রয় করতেন। যখন তিনি সালাত ও খুতবা শেষ করতেন, তখন তাঁর কাছে একটি আনা হতো এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর সালাতের স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতেন, অতঃপর তিনি নিজে ছুরি দিয়ে সেটি জবেহ করতেন এবং বলতেন:
হে আল্লাহ! এটি আমার উম্মতের সকলের পক্ষ থেকে—যারা আপনার তাওহিদের সাক্ষ্য দিয়েছে এবং আমার রিসালাত পৌঁছানোর সাক্ষ্য দিয়েছে। অতঃপর অন্যটি আনা হতো এবং তিনি সেটি নিজে জবেহ করতেন এবং বলতেন: এটি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের পক্ষ থেকে। অতঃপর তিনি উভয়টি থেকে মিসকিনদের খাওয়াতেন এবং নিজে ও তাঁর পরিবার তা থেকে খেতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
منهما فمكثنا سنين ليس رجل من بني هاشم يضحي قد كفاه الله المئونة برسول الله صلى الله عليه وسلم والعزم) رواه أحمد (1).
قال الشوكاني عن الحديث السابق بأن الحافظ سكت عنه في التلخيص (2) والأمر
كذلك (3).
وقال الهيثمي: [رواه البزار وأحمد بنحوه، ورواه الطبراني في الكبير بنحوه
… وإسناد أحمد والبزار حسن] (4). وصححه الشيخ الألباني (5).
قال الشوكاني: [ووجه دلالة الحديثين وما في معناهما على عدم الوجوب، أن الظاهر تضحيته صلى الله عليه وسلم عن أمته وعن أهله، تجزئ كل من لم يضح سواء كان متمكناً من الأضحية أو غير متمكن] (6).
5. قال الشافعي: [وبلغنا أن أبا بكر وعمر رضي الله عنهما كانا لا يضحيان كراهية أن يُرَى أنها واجبة] (7).
وقد روى ذلك عنهما أيضاً البيهقي بإسناده عن الشعبي عن أبي سريحة: [أدركت أبا بكر أو رأيت أبا بكر وعمر رضي الله عنهما كانا لا يضحيان. في بعض حديثهم - كراهية أن يقتدى بهما - أبو سريحة الغفاري هو حذيفة بن أسيد صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم (8).
قال الإمام النووي: [وأما الأثر المذكور – عن أبي بكر وعمر رضي الله عنهما – فقد رواه البيهقي بإسناد حسن] (9).
وقال الهيثمي: [ورواه الطبراني في الكبير ورجاله رجال الصحيح] (10).
--------------------------------------------
তাদের মধ্য থেকে, ফলে আমরা কয়েক বছর এমনভাবে অতিবাহিত করেছি যে বনী হাশেমের কোনো ব্যক্তিই কুরবানী করতেন না; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানী এবং তাঁর দৃঢ় সংকল্পের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদের খরচ বহন করার জন্য যথেষ্ট হয়েছিলেন।) এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (১)।
ইমাম শাওকানি পূর্বোক্ত হাদিস সম্পর্কে বলেছেন যে, হাফেজ (ইবনে হাজার) আত-তালখিস গ্রন্থে এর বিষয়ে নীরবতা (سكت عنه) অবলম্বন করেছেন (২) এবং বিষয়টিও
অনুরূপ (৩)।
ইমাম হাইসামি বলেছেন: [বাজ্জার এবং আহমাদ এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, এবং তাবারানি আল-কাবীর গ্রন্থে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ... এবং আহমাদ ও বাজ্জারের সনদ (إسناد) হাসান (حسن)] (৪)। আর শেখ আলবানী একে সহিহ (صححه) বলেছেন (৫)।
ইমাম শাওকানি বলেছেন: [উভয় হাদিস এবং এই অর্থের অন্যান্য হাদিসগুলো ওয়াজিব না হওয়ার সপক্ষে দলিলের দিকটি হলো, দৃশ্যত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে তাঁর উম্মত এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে যে কুরবানী করা হয়েছে, তা এমন প্রত্যেক ব্যক্তির পক্ষ থেকে যথেষ্ট (تجزئ) হয়ে যাবে যারা কুরবানী করেনি, তারা কুরবানী করতে সক্ষম হোক বা অক্ষম] (৬)।
৫. ইমাম শাফিঈ বলেন: [আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এই অপছন্দনীয়তা থেকে কুরবানী করতেন না যে, মানুষ একে ওয়াজিব (واجبة) মনে করতে পারে] (৭)।
ইমাম বায়হাকিও তাঁর সনদ (إسناد)-সহ ইমাম শাবি থেকে, তিনি আবু সারিহা থেকে তাঁদের উভয় সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: [আমি আবু বকরকে পেয়েছি অথবা আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে দেখেছি যে, তাঁরা কুরবানী করতেন না। তাঁদের কারো বর্ণনায় রয়েছে—এই আশঙ্কায় যে পাছে মানুষ তাঁদের অনুসরণ করে—আবু সারিহা আল-গিফারি হলেন হুজাইফা ইবনে আসিদ, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী ছিলেন (৮)।
ইমাম নববী বলেন: [আর আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত উক্ত আসার (الأثر) সম্পর্কে কথা হলো, ইমাম বায়হাকি তা হাসান (حسن) সনদ (إسناد)-সহ বর্ণনা করেছেন] (৯)।
ইমাম হাইসামি বলেছেন: [তাবারানি এটি আল-কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) সহিহ (الصحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী] (১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وصححه الشيخ الألباني (1).
6. ذكر الإمام الشافعي أنه قد بلغه عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه اشترى بدرهمين لحماً فقال: هذه أضحية ابن عباس (2).
ورواه البيهقي بإسناده عن عكرمة مولى ابن عباس: كان إذا حضر الأضحى أعطى مولىً له درهمين فقال: اشتر بهما لحماً وأخبر الناس أنه أضحى ابن عباس (3).
7. وروى البيهقي بإسناده عن أبي مسعود الأنصاري رضي الله عنه قال: [إني لأدعُ الأضحى وإني لموسر مخافةَ أن يرى جيراني أنه حتمٌ عليَّ] (4).
ورواه سعيد بن منصور في سننه بسند صحيح كما قال الحافظ ابن حجر (5).
وصحح إسناده الشيخ الألباني (6).
8. وقالوا: إن التضحية لو كانت واجبة، لما سقطت بفوات إلى غير بدل، كالجمعة وسائر الواجبات. ووافقنا الحنفية على أنها إذا فاتت لا يجب قضاؤها (7).
9. واحتجوا من القياس بأنها إراقة دم لا تجب على المسافر، فلا تجب على الحاضر كالعقيقة ولأن من لم تجب عليه العقيقة، لم تجب عليه الأضحية كالمسافر، ولأنها أضحية لا تجب على المسافر، فلم تجب على الحاضر، كالواجد لأقل النصاب (8).
--------------------------------------------
এবং শেখ আলবানী একে সহীহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন (১)।
৬. ইমাম শাফিঈ উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে তাঁর নিকট এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি দুই দিরহাম দিয়ে গোশত ক্রয় করেন এবং বলেন: এটি ইবনে আব্বাসের কোরবানি (২)।
এবং ইমাম বায়হাকী তাঁর সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: যখন কোরবানির সময় উপস্থিত হতো, তখন তিনি (ইবনে আব্বাস) তাঁর এক মুক্তদাসকে দুই দিরহাম দিতেন এবং বলতেন: এই অর্থ দিয়ে গোশত ক্রয় করো এবং মানুষকে জানিয়ে দাও যে, এটি ইবনে আব্বাসের কোরবানি (৩)।
৭. এবং বায়হাকী তাঁর সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে আবু মাসউদ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: [নিশ্চয়ই আমি সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও কোরবানি করা পরিত্যাগ করি এই ভয়ে যে—পাছে আমার প্রতিবেশীরা মনে করে বসে এটি আমার ওপর আবশ্যক] (৪)।
এবং সাঈদ বিন মনসুর তাঁর সুনান গ্রন্থে সহীহ (صحيح) সনদ (سند)-এর সাথে এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন (৫)।
এবং শেখ আলবানী এর সনদ (إسناد)-কে সহীহ (صحيح) বলে সাব্যস্ত করেছেন (৬)।
৮. এবং তাঁরা বলেন: কোরবানি যদি ওয়াজিব হতো, তবে সময় অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে কোনো বিকল্প আমল ছাড়াই তা রহিত হতো না, যেমন জুমুআ এবং অন্যান্য ওয়াজিব বিধানসমূহ। আর হানাফীগণ আমাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন যে, কোরবানির সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে তার কাজা করা ওয়াজিব নয় (৭)।
৯. তাঁরা কিয়াসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেন যে, এটি হলো রক্ত প্রবাহিত করা যা মুসাফিরের ওপর ওয়াজিব নয়, সুতরাং তা আবাসিকের ওপরও ওয়াজিব হবে না, যেমন আকিকা। আর যেহেতু যার ওপর আকিকা ওয়াজিব নয়, তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব নয় যেমন মুসাফির। আর যেহেতু এটি এমন এক কোরবানি যা মুসাফিরের ওপর ওয়াজিব নয়, তাই তা আবাসিকের ওপরও ওয়াজিব হবে না, যেমন নিসাবের চেয়ে কম সম্পদের মালিকের ক্ষেত্রে (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أدلة القائلين بوجوب الأضحية:1. احتجوا بقوله تعالى} فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ {سورة الكوثر الآية 2.
قال الكاساني: [ولنا قوله عز وجل} فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ {، قيل في التفسير: صل صلاة العيد وانحر البدن بعدها.
وقيل صل صلاة الصبح بجمعٍ – مزدلفة – وانحر بمنى ومطلق الأمر للوجوب في حق العمل ومتى وجب على النبي صلى الله عليه وسلم يجب على الأمة لأنه قدوة الأمة] (1).
قال التهانوي: [ومما يدل على وجوبها ما رواه الطبري في تفسيره: حدثنا ابن حيمد
… عن أنس بن مالك قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم ينحر قبل أن يصلي فأُمِرَ أن يصلي ثم ينحر - أراد قوله تعالى} فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ {- وسنده حسن
… .
… قال ابن جرير حدثنا ابن عبد الأعلى
… عن قتادة} فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ {، قال: صلاة الأضحى، والنحر نحر البدن، وسنده صحيح.
وحدثنا ابن حميد
… عن الربيع} فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ {، قال: إذا صليت يوم الأضحى فانحر، وسنده حسن
ودلالتها على وجوب صلاة العيد ونحر البدن ظاهرة، ولولا أنه صلى الله عليه وسلم قال: (من وجد سعة فلم يضح فلا يقربنَّ مصلانا) وفيه تقييد الوجوب بالسعة لقلنا بوجوبها على كل مسلم بالأمصار مثل الصلاة] (2).
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: [وأمَّا الأضحية فالأظهر وجوبها أيضاً، فإنها من أعظم شعائر الإسلام، وهي النسك العام في جميع الأمصار، والنسك مقرون بالصلاة، في قوله
--------------------------------------------
কুরবানি আবশ্যিক (وجوب) হওয়ার প্রবক্তাদের দলীলসমূহ:১. তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।} (সূরা আল-কাউসার, আয়াত: ২)।
ইমাম কাসানি বলেন: [আমাদের স্বপক্ষে দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন}। তাফসিরে বলা হয়েছে: ঈদের সালাত আদায় করুন এবং এরপর উট কুরবানি করুন।
আরও বলা হয়েছে, জামআ’য় (মুজদালিফা) ফজরের সালাত আদায় করুন এবং মিনায় কুরবানি করুন। কোনো কার্যের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্দেশ আবশ্যকতা (وجوب) সাব্যস্ত করে। আর যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর আবশ্যক (وجب) হয়, তা উম্মতের ওপরও আবশ্যক (يجب) হয়; কেননা তিনি উম্মতের জন্য আদর্শ।] (১)।
আল্লামা থানভি বলেন: [কুরবানি আবশ্যিক (وجوب) হওয়ার অন্যতম প্রমাণ হলো ইমাম তাবারী তার তাফসিরে যা বর্ণনা করেছেন: ইবনে হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ... আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ের আগেই কুরবানি করতেন, এরপর তাকে প্রথমে সালাত আদায় ও পরে কুরবানি করার নির্দেশ দেওয়া হয়—তিনি মহান আল্লাহর বাণী {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন} উদ্দেশ্য করেছেন—এবং এর সূত্র (سند) হাসান (حسن) ...। ... ইবনে জারীর বলেন, ইবনে আবদিল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ... কাতাদাহ থেকে {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন} প্রসঙ্গে বর্ণিত, তিনি বলেন: এটি হলো ঈদুল আজহার সালাত এবং ‘নাহর’ হলো উট কুরবানি করা। এর সূত্র (سند) বিশুদ্ধ (صحيح)।
ইবনে হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ... রাবী’ থেকে {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন} প্রসঙ্গে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আপনি ঈদুল আজহার দিন সালাত আদায় করবেন, তখন কুরবানি করুন। এর সূত্র (سند) হাসান (حسن)।
ঈদের সালাত এবং উট কুরবানি আবশ্যিক (وجوب) হওয়ার ক্ষেত্রে এর প্রমাণ সুস্পষ্ট। যদি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা না বলতেন যে: (যার সামর্থ্য আছে অথচ সে কুরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়)—যেখানে সামর্থ্যের সাথে আবশ্যকতাকে (وجوب) শর্তযুক্ত করা হয়েছে—তবে আমরা সালাতের মতোই প্রত্যেক শহরের মুসলিমদের ওপর কুরবানি আবশ্যিক (وجوب) হওয়ার কথা বলতাম।] (২)।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: [আর কুরবানির বিষয়টি হলো, অধিক স্পষ্ট মতানুসারে এটিও আবশ্যিক (وجوب)। কেননা এটি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এটি সমস্ত জনপদে পালিত একটি সাধারণ ইবাদত (নুসুক), আর এই ইবাদতকে সালাতের সাথে যুক্ত করা হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে...
--------------------------------------------