(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: -)
أخبار قبائل الخزرج   (عبد المؤمن بن خلف الدمياطي)

القسم: الأنساب


الكتاب: أخبار قبائل الخزرج

المؤلف: أبو محمد عبد المؤمن الدمياطي (613 - 705 هـ)

دراسة وتحقيق: د عبد العزيز بن عمر بن محمد البيتي

أصل التحقيق: رسالة دكتوراة - الجامعة الإسلامية

الناشر: عمادة البحث العلمي، الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 30 ذو الحجة 1443

খাযরাজ গোত্রসমূহের সংবাদসমূহ   (আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দিমইয়াতি)

বিভাগ: বংশবিদ্যা


গ্রন্থ: খাযরাজ গোত্রসমূহের সংবাদসমূহ

লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতি (৬১৩ - ৭০৫ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. আব্দুল আজিজ বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-বাইতি

সম্পাদনার উৎস: পিএইচডি থিসিস - ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ, মদিনা মুনাওয়ারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বরযুক্ত)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩০ যিলহজ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ৫)
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

‌‌مقدّمة معالي مدير الجامعة الإسلاميّة

{وَما كانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة:122].

{وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْماً} [طه:114].

وقد رتّب النبي صلى الله عليه وسلم الخير كلّه على التفقّه في الدّين

فقال صلى الله عليه وسلم: «من يرد الله به خيرا يفقّه في الدين» متّفق عليه.

وقال صلى الله عليه وسلم: «النّاس معادن خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا» متّفق عليه. وهذا مما يدلّ على أهميته وعظم شأنه.

لذلك كان الاهتمام بالعلم الشّرعيّ المستمّد من الكتاب والسنّة وفهم السّلف الصّالح هو الهدف الأسمى لمؤسس هذه الدّولة المباركة الملك عبد العزيز-يرحمه الله-وكذلك أبناؤه من بعده الذين كانت لهم اليد الطولى وقدم السبق في الاهتمام بالعلم وأهله؛ فأولوه عناية فائقة، وخصّوه بجهود مباركة، ظهرت آثارها على البلاد والعباد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামান্য ভাইস চ্যান্সেলরের ভূমিকা

“আর মুমিনদের পক্ষে একযোগে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের কওম যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন যেন তারা তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়?” [আত-তাওবাহ: ১২২]।

“আর আপনি বলুন: হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।” [ত্বহা: ১১৪]।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাবতীয় কল্যাণকে দ্বীনি প্রজ্ঞা অর্জনের ওপর নির্ভরশীল করেছেন।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: “মানুষ খনির ন্যায়; জাহিলিয়াতের যুগে যারা শ্রেষ্ঠ ছিল, ইসলামেও তারা শ্রেষ্ঠ যদি তারা দ্বীনি প্রজ্ঞা অর্জন করে।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। এটি এর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্যের প্রমাণ বহন করে।

তাই কিতাব ও সুন্নাহ এবং সালাফ আস-সালেহীনের বুঝ থেকে আহরিত শরয়ী ইলমের প্রতি গুরুত্বারোপ করাই ছিল এই বরকতময় রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আজিজ—আল্লাহ তাঁকে রহম করুন—এর মহান লক্ষ্য। তেমনিভাবে তাঁর পরবর্তী সন্তানদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য, যাঁদের জ্ঞান ও জ্ঞানীদের প্রতি গুরুত্ব প্রদানে বিশাল অবদান এবং অগ্রণী ভূমিকা ছিল; তাঁরা একে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এর জন্য বরকতময় প্রচেষ্টা উৎসর্গ করেছেন, যার প্রভাব দেশ ও জনগণের ওপর প্রকাশ পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ৬)
وكان لخادم الحرمين الشّريفين الملك عبد الله بن عبد العزيز-حفظه الله-جهود واضحة استوت على سوقها ووفّقت لمقصودها، ومن ذلك أمره بزيادة عدد الجامعات، وفتح جميع الوسائل ذات العلاقة بالتطوير والتنقيح والتأليف والنّشر كعمادات ومراكز البحث العلميّ في شتّى الجامعات وعلى رأسها الجامعة الإسلاميّة-العالمية العلمية-التي أولت البحث العلميّ اهتماما بالغا وجعلته غاية من غاياتها وهدفا من أهدافها.

ومن هنا فعمادة البحث العلميّ بالجامعة تهتم بالبحوث العلميّة نشرا وجمعا وترجمة وتحكيما في داخل الجامعة وخارجها؛ من أجل النّهوض بالبحث العلميّ، والتشجيع على التّأليف والنّشر، ومن ذلك كتاب:

[أخبار قبائل الخزرج، للحافظ النسّابة عبد المؤمن الدمياطي] تحقيق: د/عبد العزيز بن عمر بن محمّد البيتي.

أسأل الله أن يوفّقنا جميعا لما يحبّ ويرضى ويرزقنا الإخلاص في القول والعمل، وصلّى الله وسلّم وبارك على نبيّنا محمّد وعلى آله وأصحابه أجمعين، وآخر دعوانا أن الحمد لله ربّ العالمين.

 

معالي مدير الجامعة الإسلاميّة

أ. د/محمد بن علي العقلا
দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ -আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন- এর সুস্পষ্ট কিছু প্রচেষ্টা ছিল যা আপন মহিমায় সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তার উদ্দেশ্য অর্জনে সফল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির নির্দেশ প্রদান এবং উন্নয়ন, সংস্কার, রচনা ও প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট সকল পথ উন্মুক্ত করা, যেমন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ ও কেন্দ্রসমূহ। আর এসবের শীর্ষে রয়েছে এই ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়—যা একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান—যা বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং একে নিজের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পরিণত করেছে।

সেই সূত্র ধরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রকাশনা, সংকলন, অনুবাদ ও পর্যালোচনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে; যাতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানোন্নয়ন ঘটে এবং গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশনায় উৎসাহ প্রদান করা যায়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো এই গ্রন্থটি:

[আখবারু কাবায়িলিল খাজরাজ, হাফিজ ও বংশবিশারদ আব্দুল মুমিন আদ-দিমিয়াতি রচিত] তাহকিক: ড. আব্দুল আজিজ বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-বাইতি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দান করেন এবং আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস নসিব করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের শেষ আহ্বান হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় রেক্টর

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ বিন আলি আল-উকলা
(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمة
ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المقدمة

{يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (102)(1)، وقال سبحانه: {يا أَيُّهَا النّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وَبَثَّ مِنْهُما رِجالاً كَثِيراً وَنِساءً وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحامَ إِنَّ اللهَ كانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} (1)(2)، وقال جل شأنه:

{يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً} (71)(3)، وقال جل شأنه: {سُبْحانَكَ لا عِلْمَ لَنا إِلاّ ما عَلَّمْتَنا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ}(4).

أما بعد؛ فإن خير الكلام؛ كلام الله سبحانه وتعالى، وخير الهدي؛ هدي نبينا محمّد صلى الله عليه وسلم، فبعد أن منّ الله سبحانه وتعالى عليّ -بفضله وتوفيقه-بالانتهاء من مرحلة العالمية (الماجستير) تطلعت إلى إكمال مرحلة العالمية (الدكتوراه) في مجال تخصصي للسيرة النبوية والتاريخ الإسلامي، وبدأت البحث، إلى أن وفّقني الله سبحانه وتعالى فعثرت على نسخة مهمة ونادرة من كتاب «أخبار قبائل الخزرج» للإمام النسّابة

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية 102.

(2) سورة النساء، الآية 1.

(3) سورة الأحزاب، الآية 70 - 71.

(4) سورة البقرة، الآية 32.

ভূমিকা

{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (১০২)(১), এবং তিনি পবিত্র ও মহান সত্তা বলেছেন: {হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা (ছিন্ন করা) থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর সদা পর্যবেক্ষণকারী।} (১)(২), এবং তিনি সুমহান মর্যাদাবান সত্তা বলেছেন:

{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল।} (৭১)(৩), এবং তিনি সুমহান মর্যাদাবান সত্তা বলেছেন: {আপনি পবিত্র ও মহান! আমরা ততটুকুই জানি যতটুকু আপনি আমাদের শিখিয়েছেন। নিশ্চয়ই আপনি মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।}(৪)।

অতঃপর; নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো মহান আল্লাহর বাণী এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও তাওফীকে আমাকে 'আলামিয়্যাহ' (মাস্টার্স) পর্যায় সম্পন্ন করার মাধ্যমে ধন্য করার পর, আমি আমার বিশেষায়িত ক্ষেত্র সীরাতে নববী ও ইসলামি ইতিহাসে 'আলামিয়্যাহ' (ডক্টরেট) পর্যায় সম্পন্ন করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি। আমি গবেষণা শুরু করি, যতক্ষণ না মহান আল্লাহ আমাকে তাওফীক দান করলেন এবং আমি ইমাম নাসসাবাহ (বংশলতিকাবিদ)-এর রচিত «আখবারু কাবাইলি আল-খাজরাজ» (খাজরাজ গোত্রসমূহের সংবাদ) গ্রন্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেলাম।

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০২।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত ১।

(৩) সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৭০ - ৭১।

(৪) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৩২।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ১০)
شرف الدين أبي محمّد عبد المؤمن بن خلف الدمياطي (613 - 705 هـ) وكان ذلك بمكتبة الجامعة الإسلامية، وتكرم المسؤلون بقسم المخطوطات بتصويرها لي؛ فجزاهم الله خيرا، وقبلت رسالة للدكتوراه بعنوان:

[أخبار قبائل الخزرج لعبد المؤمن الدّمياطي-دراسة وتحقيق-]

***
শরাফ উদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দিমইয়াতি (৬১৩ - ৭০৫ হিজরি)। এটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত ছিল এবং পাণ্ডুলিপি বিভাগের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ অনুগ্রহপূর্বক এটি আমাকে অনুলিপি করে দিয়েছেন; আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। অতঃপর নিম্নোক্ত শিরোনামে পিএইচডি গবেষণাপত্রটি গৃহীত হয়েছে:

[আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতি রচিত 'খাজরাজ গোত্রসমূহের সংবাদ' -গবেষণা ও সম্পাদনা-]

***
(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌(أولا) الكتاب وأهميته:

يتناول كتاب «أخبار قبائل الخزرج» لعبد المؤمن الدمياطي ذكر أنساب قبائل الخزرج بن حارثة، وتراجم كل قبيلة وما فيها من البطون الذين نصروا، رجالا ونساء وذرياتهم وحلفائهم ومواليهم، واشتمل على ذكر الصحابة والصحابيات رضي الله عنهم، والتابعين ومن بعدهم ووصل بتراجم وأنساب بعضهم إلى عصره في القرن السابع الهجري، مبرزا كذلك جملا من سيرهم وأخبارهم ورواة الحديث منهم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، مبينا مواضع هذه الأحاديث والأخبار في الكتب المختلفة التي ينقل أو يروي عنها.

وهذا الكتاب-فيما أحسب(1) -هو أول كتاب مفرد عن أخبار وتراجم وأنساب قبائل الخزرج بن حارثة، أخي الأوس بن حارثة، ويعد أصلا في تخصصه وفنه.

وتوجد من هذا الكتاب نسخة في المكتبة الآصفية بحيدرآباد بالهند تحت رقم (198) رجال، وهي التي صورها معهد المخطوطات بجامعة الدول العربية عام 1371 هـ، وأودعا في مكتبته تحت رقم (3165)، وانتسخت الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة صورة من نسخة المعهد موجودة في مكتبتها تحت رقم (2879)، وقد كتبت هذه النسخة على يد أحد تلاميذ الحافظ عبد المؤمن الدمياطي المعروف بحسن الخط والإتقان، وروجعت النسخة على أصل المؤلف؛ فهي نسخة نفيسة لقربها من عصر المؤلف.

وكتاب «أخبار قبائل الخزرج» للدمياطي مع شهرته بين تلاميذه ومن جاء بعدهم، غير أن معظم من ترجم للدمياطي من المهتمين بالمخطوطات لم يشيروا

--------------------------------------------

(1) راجعت العديد من المظان، فلم أجد من سبق عبد المؤمن الدمياطي بمؤلف مفرد عن الخزرج بن حارثة.

(প্রথমত) গ্রন্থ ও এর গুরুত্ব:

আব্দুল মুমিন আদ-দামিয়াতী রচিত ‘আখবারু ক্বাবাইলিল খাযরাজ’ গ্রন্থটি খাযরাজ ইবনে হারিসা গোত্রসমূহের বংশপরম্পরা এবং প্রতিটি গোত্র ও তার অন্তর্ভুক্ত সেই সকল উপগোত্রসমূহের পুরুষ, নারী, তাদের বংশধর, মিত্র ও মুক্তদাসদের জীবনী আলোচনা করে যারা ইসলামকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছিলেন। এতে সাহাবী ও সাহাবীয়াত (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তাবিঈগণ এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের বিবরণ রয়েছে। তিনি কারো কারো জীবনী ও বংশপরম্পরাকে সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে তাঁর নিজ সময় পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন। পাশাপাশি তিনি তাঁদের জীবনচরিত, সংবাদ এবং তাঁদের মধ্যে যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন তাঁদের আলোচনা করেছেন; একইসাথে তিনি যে সকল গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি বা বর্ণনা দিয়েছেন, সেগুলোতে উক্ত হাদিস ও সংবাদসমূহের উৎসসমূহও নির্দেশ করেছেন।

আমার জানামতে(১) এই গ্রন্থটিই হলো আউস ইবনে হারিসার ভাই খাযরাজ ইবনে হারিসা গোত্রসমূহের সংবাদ, জীবনী ও বংশপরম্পরা বিষয়ে রচিত প্রথম স্বতন্ত্র গ্রন্থ এবং এটি এর সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বিষয়ে একটি মৌলিক আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

ভারতের হায়দ্রাবাদের আসিফিয়া লাইব্রেরিতে এই গ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপি (১৯৮) রিজাল নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এটি সেই পাণ্ডুলিপি যার অনুলিপি ১৩৭১ হিজরিতে আরব লীগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট প্রস্তুত করেছিল এবং তাদের লাইব্রেরিতে (৩১৬৫) নম্বর দিয়ে সংরক্ষণ করেছিল। মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় উক্ত ইনস্টিটিউটের পাণ্ডুলিপি থেকে একটি অনুলিপি সংগ্রহ করেছে যা তাদের লাইব্রেরিতে (২৮৭৯) নম্বরে বিদ্যমান। এই পাণ্ডুলিপিটি হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দামিয়াতীর জনৈক ছাত্রের হাতে লেখা, যিনি সুনিপুণ ও চমৎকার হস্তলিপির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তদুপরি, এই অনুলিপিটি লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে; ফলে লেখকের সময়ের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান পাণ্ডুলিপি।

দামিয়াতী রচিত ‘আখবারু ক্বাবাইলিল খাযরাজ’ গ্রন্থটি তাঁর ছাত্রবর্গ ও পরবর্তী প্রজন্মের নিকট সমধিক পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও, পাণ্ডুলিপি বিশারদদের মধ্যে যাঁরা দামিয়াতীর জীবনী রচনা করেছেন তাঁদের অধিকাংশ এই গ্রন্থের দিকে ইঙ্গিত করেননি...

--------------------------------------------

(১) আমি অনেক সম্ভাব্য উৎস ও আকর গ্রন্থ অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু খাযরাজ ইবনে হারিসার বিষয়ে স্বতন্ত্র রচনার ক্ষেত্রে আব্দুল মুমিন আদ-দামিয়াতীর পূর্বে অন্য কাউকে পাইনি।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ১২)
لوجود هذه النسخة التي تقدم ذكرها(1).

أما (الأوس والخزرج) فهما: ابنا حارثة بن ثعلبة بن عمرو بن عامر بن حارثة بن امرؤ القيس بن ثعلبة بن مازن بن الأزد بن الغوث بن نبت بن مالك بن زيد بن كهلان بن سبأ بن يشجب بن يعرب بن قحطان(2)، وإلى قحطان تنتهي وتجتمع القبائل اليمنية كلها(3)، وهذه القبائل كانت تقطن في اليمن حتى وقعت بعض الظروف والأحوال التي أدت إلى تفرقها وتحولها من مساكنها، ومن أهمها تهدم سدّ مأرب الشهير، وقد استوطن (الأوس والخزرج)، المدينة، واستقروا بها في حدود عام 207/م(4).

ويعرف (الأوس والخزرج) في الإسلام بالأنصار، قال أنس بن مالك رضي الله عنه «سمّانا الله»(5)، فهم أنصار الله سبحانه وتعالى، وأنصار دينه القويم، وأنصار خاتم النبيين محمّد صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) انظر مثلا: خير الدين الزركلي في: الأعلام (ج 4، ص 169)، ومصطفى جواد في: تكملة إكمال الإكمال لابن الصابوني (ص 162 حاشية)، وأحمد أحمد بدوي في: الحياة العقلية في عصر الحروب الصليبية (ص 145)، وفهمي سعد في: نساء رسول الله للدمياطي (ص 6)، ومجدي السيد إبراهيم في: التسلي والاغتباط للدمياطي (ص 13). ولم يشر للكتاب في مؤلفات الدمياطي، وعبد الملك بن دهيش في: المتجر الرابح للدمياطي، وذيل بروكلمان على تاريخ الأدب العربي (ج 2 ص 79) انظر. C.BROKELMANN'LEIDEN.8391's.II'p/97. QESCHICHTE DER ARABISCHEN Dr :

(2) نسب معد (ص 362،132،131)، وقال أبو عمر ابن عبد البر: أن العرب كلها جذمان، والجذم: الأصل، فأحدهما: عدنان، والآخر: قحطان، فإلى هذين الجذمين ينتهي كل عربي في الأرض … ، ولا بد أن يقال: عدناني أو قحطاني. الأنباه على قبائل الرواة (ص 30).

(3) السيرة النبوية لابن هشام (م 1 ص 5).

(4) السيرة النبوية الصحيحة لأكرم العمري (ج 1 ص 229).

(5) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/مناقب الأنصار (ر/3565).

যেহেতু এই পাণ্ডুলিপিটির অস্তিত্ব রয়েছে যার কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে(১)।

আর (আউস ও খাজরাজ) সম্পর্কে কথা হলো যে, তারা দু’জন হলেন: হারিসা ইবনে সা’লাবা ইবনে আমর ইবনে আমির ইবনে হারিসা ইবনে ইমরুল কায়েস ইবনে সা’লাবা ইবনে মাযিন ইবনে আল-আযদ ইবনে আল-গাউস ইবনে নাবত ইবনে মালিক ইবনে যায়েদ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা ইবনে ইয়াশজুব ইবনে ইয়ারুব ইবনে কাহতান-এর বংশধর(২), এবং কাহতান পর্যন্তই সমস্ত ইয়েমেনি গোত্রগুলো শেষ হয় এবং মিলিত হয়(৩)। এই গোত্রগুলো ইয়েমেনে বসবাস করত যতক্ষণ না এমন কিছু পরিস্থিতি ও অবস্থার সৃষ্টি হয় যা তাদের বিচ্ছিন্নতা এবং তাদের আবাসস্থল থেকে স্থানান্তরের দিকে নিয়ে যায়, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিখ্যাত মারিব বাঁধের ধ্বংস হওয়া। আর (আউস ও খাজরাজ) মদিনায় বসতি স্থাপন করে এবং সেখানে আনুমানিক ২০৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করে(৪)।

ইসলামে (আউস ও খাজরাজ) ‘আনসার’ নামে পরিচিত। আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: "আল্লাহ আমাদের এই নাম দিয়েছেন"(৫)। সুতরাং তারা হলেন মহান আল্লাহর সাহায্যকারী, তাঁর সুদৃঢ় দ্বীনের সাহায্যকারী এবং শেষ নবী মুহাম্মদ (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাহায্যকারী।

--------------------------------------------

(১) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: খাইরুদ্দিন আল-যিরিকলি: আল-আ'লাম (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৬৯); মুস্তফা জাওয়াদ: ইবনে আল-সাবুনির ‘তাকমিলাত ইকমাল আল-ইকমাল’ (পৃষ্ঠা ১৬২, পাদটীকা); আহমদ আহমদ বাদাওয়ী: আল-হায়াত আল-আকলিয়া ফি আসর আল-হুরুব আল-সালিবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা ১৪৫); ফাহমি সাদ: আদ-দুময়াতীর ‘নিসাউ রাসুলিল্লাহ’ (পৃষ্ঠা ৬); এবং মাজদি আল-সাঈদ ইব্রাহিম: আদ-দুময়াতীর ‘আত-তাসাল্লি ওয়াল-ইগতিবাত’ (পৃষ্ঠা ১৩)। আদ-দুময়াতীর রচনার তালিকায় এই বইটির কথা উল্লেখ করা হয়নি। আরও দেখুন: আব্দুল মালিক বিন দেহিশ: আদ-দুময়াতীর ‘আল-মাতজারুর রাবিহ’; এবং ব্রোকলম্যানের ‘জাইল আলা তারিখুল আদাব আল-আরাবি’ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৯)। দেখুন: ড. সি. ব্রোকলম্যান, লাইডেন, ৮৩৯১, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯৭।

(২) নাসাব মা’আদ (পৃষ্ঠা ১৩১, ১৩২, ৩৬২); এবং আবু উমর ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: সমস্ত আরব দু’টি মূল শাখার অন্তর্ভুক্ত, শাখা বা মূল বলতে 'জাযম' বোঝানো হয়েছে; একটি হলো আদনান এবং অন্যটি হলো কাহতান। পৃথিবীর প্রতিটি আরবের বংশধারা এই দু’টি মূল শাখায় গিয়ে মিলিত হয়... এবং অবশ্যই তাকে আদনানি অথবা কাহতানি বলতে হবে। আল-আনবাহ আলা কাবাইল আল-রুওয়াহ (পৃষ্ঠা ৩০)।

(৩) ইবনে হিশামের আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫)।

(৪) আকরাম আল-উমরীর আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ আস-সহিহাহ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২৯)।

(৫) সহিহ বুখারি, কিতাব: সাহাবিদের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: আনসারদের ফযিলত (হাদিস নং ৩৫৬৫)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد أثنى الله سبحانه وتعالى في كتابه العزيز على هؤلاء الأنصار في العديد من الآيات الكريمات، فقال سبحانه وتعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَهاجَرُوا وَجاهَدُوا بِأَمْوالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللهِ وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا أُولئِكَ بَعْضُهُمْ أَوْلِياءُ بَعْضٍ}(1)، وقال عز وجل: {وَالَّذِينَ آمَنُوا وَهاجَرُوا وَجاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللهِ وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا أُولئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ} (74)(2)، وقال عز وجل: {وَالسّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهاجِرِينَ وَالْأَنْصارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسانٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهارُ خالِدِينَ فِيها أَبَداً ذلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} (100)(3)، وقال عز وجل: {لَقَدْ تابَ اللهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهاجِرِينَ وَالْأَنْصارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي ساعَةِ الْعُسْرَةِ}(4) الآية، وقال عز وجل: {وَالَّذِينَ تَبَوَّؤُا الدّارَ وَالْإِيمانَ مِنْ قَبْلِهِمْ} {يُحِبُّونَ مَنْ هاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حاجَةً مِمّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كانَ بِهِمْ خَصاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (9)(5).

هذه بعض المآثر البينة التي حفظها القرآن الكريم وجعلها خالدة تالدة لهؤلاء الأنصار من (الأوس والخزرج) الذين كان منهم نجوم الاهتداء وأئمة الإقتداء، والواسطة فيما نقلوه لمن بعدهم من الدين الحنيف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فرضي الله عنهم وأرضاهم أجمعين.

--------------------------------------------

(1) سورة الأنفال، الآية 72.

(2) سورة الأنفال، الآية 74.

(3) سورة التوبة، الآية 100.

(4) سورة التوبة، الآية 117.

(5) سورة الحشر، الآية 9.

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর সম্মানিত কিতাবে এই আনসারদের প্রশংসা করেছেন অনেকগুলো মহিমান্বিত আয়াতে, তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করেছে এবং যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারা একে অপরের বন্ধু}(১), এবং তিনি আরও বলেছেন: {আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারাই সত্যকার মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজিক} (৭৪)(২), এবং তিনি আরও বলেছেন: {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য} (১০০)(৩), এবং তিনি আরও বলেছেন: {আল্লাহ ক্ষমা করেছেন নবীকে এবং মুহাজির ও আনসারদের, যারা সংকটের মুহূর্তে তাঁর অনুসরণ করেছিল}(৪) আয়াতের শেষ পর্যন্ত, এবং তিনি আরও বলেছেন: {আর যারা তাদের পূর্বে এই নগরে (মদিনায়) বসবাস করেছে এবং ঈমান এনেছে, তারা তাদের কাছে হিজরতকারীদের ভালোবাসে এবং যা তাদের (মুহাজিরদের) দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা নিজেদের অন্তরে কোনো চাহিদা অনুভব করে না এবং তারা নিজেদের ওপর তাদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত হয়। যাদের মনের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম} (৯)(৫)।

এগুলো হলো সেই সুষ্পষ্ট গৌরবের কিছু নিদর্শন যা কুরআনুল কারীম সংরক্ষণ করেছে এবং (আউস ও খাযরাজ গোত্রের) সেই আনসারদের জন্য চিরস্থায়ী মর্যাদা হিসেবে নির্ধারণ করেছে, যাদের মধ্যে হিদায়াতের নক্ষত্র ও অনুসরণের ইমামগণ বিদ্যমান ছিলেন। তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে প্রাপ্ত এই হানীফ দ্বীন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছেন। আল্লাহ তাদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাদেরকেও সন্তুষ্ট করুন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনফাল, আয়াত ৭২।

(২) সূরা আল-আনফাল, আয়াত ৭৪।

(৩) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ১০০।

(৪) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ১১৭।

(৫) সূরা আল-হাশর, আয়াত ৯।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد أثنى رسول الله صلى الله عليه وسلم على الأنصار مثمنا لهم دورهم في تبني دعوته وإعانته على نشرها، معرّفا بفضائلهم ومناقبهم، فأوصى بهم وشدد صلى الله عليه وسلم في وصيته، كما أوصى أمته بهم خيرا، بل إنه صلى الله عليه وسلم خصهم بالاستغفار لهم ولأبنائهم فدعا لهم ورضي عنهم وأحبهم وأكرمهم وأصبحوا منه ووعدهم باللقيا على حوضه الشريف صلى الله عليه وسلم، ومن الأحاديث التي توضح ذلك ما يلي:

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: صعد النبي صلى الله عليه وسلم المنبر ولم يصعده بعد ذلك اليوم فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: «أوصيكم بالأنصار فإنّهم كرشي وعيبتي(1) وقد قضوا الّذي عليهم وبقي الّذي لهم، فاقبلوا من محسنهم وتجاوزوا عن مسيئهم»(2).

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «الأنصار كرشي وعيبتي، والنّاس سيكثرون، ويقلّون، فاقبلوا من محسنهم وتجاوزوا عن مسيئهم»(3).

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أمّا بعد أيّها النّاس! فإنّ النّاس يكثرون، وتقلّ الأنصار حتّى يكونوا كالملح في الطّعام، فمن ولي منكم أمرا يضر فيه أحدا أو ينفعه، فليقبل من محسنهم ويتجاوز عن مسيئهم»(4).

وعن سهل بن سعد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الّلهم لا عيش إلا عيش

--------------------------------------------

(1) الكرش: بمنزلة المعدة مستقر الغذاء والنماء. والعيبة: ما يحرز فيه الرجل نفيس ما عنده، وقيل: مستودع الثياب، أي أنهم بطانته وخاصته وموضع سره وأمانته. انظر: فتح الباري (ج 7 ص 152).

(2) صحيح البخاري، ك/المناقب، ب/قول النبي صلى الله عليه وسلم «اقبلوا من محسنهم … »، (ر/3588).

(3) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/قول النبي صلى الله عليه وسلم «اقبلوا من محسنهم … »، (ر/3590). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/من فضائل الأنصار، (ر/2510).

(4) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/قول النبي صلى الله عليه وسلم «اقبلوا من محسنهم … »، (ر/3589).

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর দাওয়াত গ্রহণ ও তা প্রসারে তাদের ভূমিকার মূল্যায়ন করেছেন। তিনি তাদের মর্যাদা ও গুণাবলী বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে অসিয়ত করেছেন এবং তাঁর অসিয়তে কঠোর তাকিদ দিয়েছেন। যেমন তিনি তাঁর উম্মতকেও তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত করেছেন। বরং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য এবং তাদের সন্তানদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি তাদের জন্য দোয়া করেছেন, তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, তাদের ভালোবেসেছেন ও সম্মানিত করেছেন এবং তারা তাঁর অতি আপনজনে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি তাদের সাথে তাঁর পবিত্র হাওজে সাক্ষাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যে হাদীসগুলো এ বিষয়টিকে স্পষ্ট করে, তা নিম্নরূপ:

আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং সেই দিনের পর তিনি আর কখনো মিম্বরে আরোহণ করেননি। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন, তারপর বললেন: «আমি তোমাদের আনসারদের ব্যাপারে অসিয়ত করছি, কেননা তারা আমার অতি আপনজন এবং গোপনীয়তা রক্ষার আধার(১)। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং তাদের পাওনা (অধিকার) এখনো অবশিষ্ট আছে। সুতরাং তোমরা তাদের নেককারদের থেকে (তা) গ্রহণ করো এবং তাদের ভুলকারীদের মার্জনা করো»(২)।

আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আনসারগণ আমার অতি আপনজন এবং আমার গোপন রহস্যের আধার। অচিরেই মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের সংখ্যা কমে যাবে। সুতরাং তোমরা তাদের নেককারদের থেকে গ্রহণ করো এবং তাদের ভুলকারীদের মার্জনা করো»(৩)।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «অতঃপর হে লোকসকল! নিশ্চয়ই মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং আনসারদের সংখ্যা হ্রাস পাবে, এমনকি তারা খাবারে লবণের মতো হয়ে যাবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এমন কোনো দায়িত্বে আসবে যাতে সে কারো ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে, সে যেন তাদের নেককারদের থেকে গ্রহণ করে এবং তাদের ভুলকারীদের মার্জনা করে»(৪)।

সাহল বিন সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে আল্লাহ! জীবন তো কেবল...

--------------------------------------------

(১) কার্শ: পাকস্থলীর সমতুল্য যা খাদ্য ও পুষ্টির আধার। আইবাহ: যাতে মানুষ তার মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করে। কেউ কেউ বলেছেন: পোশাক রাখার পাত্র। অর্থাৎ তারা তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গী, বিশেষ আস্থাভাজন এবং তাঁর গোপন রহস্য ও আমানত রক্ষার আধার। দেখুন: ফাতহুল বারী (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৫২)।

(২) সহীহ বুখারী, কিতাবুল মানাকিব, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «তোমরা তাদের নেককারদের থেকে গ্রহণ করো...», (হাদীস নং ৩৫৮৮)।

(৩) সহীহ বুখারী, কিতাবুল ফাদাইলুস সাহাবা, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «তোমরা তাদের নেককারদের থেকে গ্রহণ করো...», (হাদীস নং ৩৫৯০)। এবং সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ফাদাইলুস সাহাবা, অধ্যায়: আনসারদের ফজিলতসমূহ থেকে, (হাদীস নং ২৫১০)।

(৪) সহীহ বুখারী, কিতাবুল ফাদাইলুস সাহাবা, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «তোমরা তাদের নেককারদের থেকে গ্রহণ করো...», (হাদীস নং ৩৫৮৯)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الآخرة فاغفر للمهاجرين والأنصار»(1).

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اللهمّ لا عيش إلا عيش الآخرة فأصلح الأنصار والمهاجرة»(2).

وعن أنس رضي الله عنه قال: كانت الأنصار يوم الخندق تقول:

نحن الذين بايعوا محمّدا … على الجهاد ما حيينا أبدا.

فأجابهم النبي صلى الله عليه وسلم: «اللهمّ لا عيش إلا عيش الآخرة فأكرم الأنصار والمهاجرة»(3).

وعن أنس رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا عيش إلاّ عيش الآخرة فاغفر للأنصار»(4).

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اللهم اغفر للأنصار، ولأبناء الأنصار»(5).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قريش والأنصار وجهينة ومزينة وأسلم وأشجع وغفار، مواليّ؛ ليس لهم مولى دون الله ورسوله»(6).

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/دعاء النبي صلى الله عليه وسلم «أصلح الأنصار والمهاجرة»، (ر/3586). وصحيح مسلم، ك/الجهاد والسير، ب/غزوة الأحزاب وهي الخندق، (ر/1804).

(2) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/دعاء النبي صلى الله عليه وسلم «أصلح الأنصار والمهاجرة»، (ر/3584).

(3) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/دعاء النبي صلى الله عليه وسلم «أصلح الأنصار والمهاجرة»، (ر/3585). وصحيح مسلم، ك/الجهاد والسير، ب/غزوة الأحزاب وهي الخندق، (ر/1805).

(4) صحيح البخاري، ك/التفسير، ب/سورة المنافقون، (ر/3584).

(5) صحيح البخاري، ك/التفسير، ب/سورة المنافقون، (ر/4623). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/من فضائل الأنصار، (ر/2506).

(6) صحيح البخاري، ك/المناقب، ب/مناقب قريش (ر/3313). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/من فضائل غفار وأسلم وجهينة وأشجع ومزينة وتميم ودوس وطيء، (ر/2520).

পরকাল, তাই আপনি মুহাজির ও আনসারদের ক্ষমা করুন।"(১).

আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! পরকালের জীবন ছাড়া আর কোনো জীবন নেই, অতএব আপনি আনসার ও মুহাজিরদের সংশোধন করে দিন।"(২).

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: খন্দকের যুদ্ধের দিন আনসারগণ বলছিলেন:

আমরাই তারা যারা মুহাম্মাদের কাছে বাইআত গ্রহণ করেছি... আজীবন জিহাদ করার ওপর।

অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের উত্তরে বললেন: "হে আল্লাহ! পরকালের জীবন ছাড়া আর কোনো জীবন নেই, অতএব আপনি আনসার ও মুহাজিরদের সম্মানিত করুন।"(৩).

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পরকালের জীবন ছাড়া আর কোনো জীবন নেই, অতএব আপনি আনসারদের ক্ষমা করুন।"(৪).

আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! আপনি আনসারদের ক্ষমা করুন এবং আনসারদের সন্তানদেরও।"(৫).

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কুরাইশ, আনসার, জুহাইনা, মুযাইনা, আসলাম, আশজা' এবং গিফার হলো আমার বন্ধু; আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ছাড়া তাদের আর কোনো অভিভাবক নেই।"(৬).

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, কিতাব: সাহাবীগণের মর্যাদা, অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দু'আ: "আনসার ও মুহাজিরদের সংশোধন করুন", (হাদিস নং ৩৫৮৬)। সহীহ মুসলিম, কিতাব: জিহাদ ও সফর, অধ্যায়: আহযাব তথা খন্দকের যুদ্ধ, (হাদিস নং ১৮০৪)।

(২) সহীহ বুখারী, কিতাব: সাহাবীগণের মর্যাদা, অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দু'আ: "আনসার ও মুহাজিরদের সংশোধন করুন", (হাদিস নং ৩৫৮৪)।

(৩) সহীহ বুখারী, কিতাব: সাহাবীগণের মর্যাদা, অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দু'আ: "আনসার ও মুহাজিরদের সংশোধন করুন", (হাদিস নং ৩৫৮৫)। সহীহ মুসলিম, কিতাব: জিহাদ ও সফর, অধ্যায়: আহযাব তথা খন্দকের যুদ্ধ, (হাদিস নং ১৮০৫)।

(৪) সহীহ বুখারী, কিতাব: তাফসীর, অধ্যায়: সূরা আল-মুনাফিকুন, (হাদিস নং ৩৫৮৪)।

(৫) সহীহ বুখারী, কিতাব: তাফসীর, অধ্যায়: সূরা আল-মুনাফিকুন, (হাদিস নং ৪৬২৩)। সহীহ মুসলিম, কিতাব: সাহাবীগণের মর্যাদা, অধ্যায়: আনসারগণের মর্যাদা হতে, (হাদিস নং ২৫০৬)।

(৬) সহীহ বুখারী, কিতাব: মানাকিব, অধ্যায়: কুরাইশদের মর্যাদা (হাদিস নং ৩৩১৩)। সহীহ মুসলিম, কিতাব: সাহাবীগণের মর্যাদা, অধ্যায়: গিফার, আসলাম, জুহাইনা, আশজা', মুযাইনা, তামীম, দাওস ও তাই গোত্রের মর্যাদা হতে, (হাদিস নং ২৫২০)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وعن عبد الله بن زيد بن عاصم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: « … لولا الهجرة لكنت امرأ من الأنصار، ولو سلك الأنصار واديا وشعبا لسلكت وادي الأنصار وشعبها، الأنصار شعار والناس دثار(1)، إنكم ستلقون بعدي أثرة(2) فاصبروا حتى تلقوني على الحوض»(3).

وعن البراء بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الأنصار، لا يحبّهم إلا مؤمن، ولا يبغضهم إلا منافق، فمن أحبّهم أحبّه الله، ومن أبغضهم أبغضه الله»(4).

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «آية الإيمان حبّ الأنصار وآية النّفاق بغض الأنصار»(5).

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: « … لو سلكت الأنصار واديا أو شعبا لسلكت وادي الأنصار أو شعبهم»(6).

--------------------------------------------

(1) شعار: الثوب الذي يلي الجلد من الجسد، دثار: الثوب الذي فوقه، وهي استعارة لطيفة لفرط قربهم منه وأنه ألصق الناس به وأقربهم إليه من غيرهم، انظر: فتح الباري (ج 7 ص 649).

(2) أثرة: أي الشدة، وقيل يصير الأمر في غيرهم فيختصون دونهم بالأموال أو بحظ دنيوي، انظر: فتح الباري (ج 7 ص 147، ص 649، ج 13 ص 8).

(3) صحيح البخاري، ك/المغازي، ب/غزوة الطائف، (ر/4075). وصحيح مسلم، ك/الزكاة، ب/إعطاء المؤلفة قلوبهم على الإسلام وتصبر من قوى إيمانه، (ر/1061).

(4) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحاية، ب/حب الأنصار من الإيمان (ر/3572). وصحيح مسلم، ك/الإيمان، ب/الدليل على أن حب الأنصار وعلى رضي الله عنهم من الإيمان وعلاماته وبغضهم من علامات النفاق، (ر/75).

(5) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحاية، ب/حب الأنصار من الإيمان (ر/3573). وصحيح مسلم، ك/الإيمان، ب/الدليل على أن حب الأنصار وعلى رضي الله عنهم من الإيمان وعلاماته وبغضهم من علامات النفاق، (ر/74).

(6) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/مناقب الأنصار، (ر/3567). وصحيح مسلم، ك/الإيمان، ب/الدليل على أن حب الأنصار وعلى رضي الله عنهم من الإيمان وعلاماته وبغضهم من علامات النفاق، (ر/1059).

আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আসিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: « … হিজরত না থাকলে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। আনসাররা যদি কোনো উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়ে চলে, তবে আমিও আনসারদের উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়ে চলব। আনসাররা হলো অন্তর্বাস এবং অন্য মানুষরা হলো বহির্বাস(১)। নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে অধিকার হরণ ও বৈষম্যের সম্মুখীন হবে(২), সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধারণ করো যতক্ষণ না হাওযের পাড়ে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো।»(৩)।

বারা ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আনসারদের কেবল মুমিনরাই ভালোবাসে এবং কেবল মুনাফিকরাই তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। সুতরাং যে তাদের ভালোবাসবে আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন, আর যে তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করবে আল্লাহ তাকে ঘৃণা করবেন।»(৪)।

আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ঈমানের নিদর্শন হলো আনসারদের ভালোবাসা এবং নিফাকের নিদর্শন হলো আনসারদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা।»(৫)।

আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: « … আনসাররা যদি কোনো উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলে, তবে আমিও আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়েই চলব।»(৬)।

--------------------------------------------

(১) শি’আর: ওই পোশাক যা শরীরের চামড়ার সাথে লেগে থাকে। দিসার: ওই পোশাক যা এর উপরে থাকে। এটি তাদের নবীজির অত্যন্ত নৈকট্যের একটি চমৎকার রূপক এবং অন্য সবার চেয়ে তারা তাঁর বেশি ঘনিষ্ঠ ও কাছের মানুষ হওয়ার প্রমাণ। দেখুন: ফাতহুল বারী (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৬৪৯)।

(২) আসারাহ্: অর্থাৎ কঠোরতা বা কাঠিন্য; বলা হয়েছে এর অর্থ হলো নেতৃত্ব অন্যদের হাতে চলে যাওয়া, ফলে তারা ধন-সম্পদ বা পার্থিব স্বার্থে অন্যদের তুলনায় বঞ্চিত হবে। দেখুন: ফাতহুল বারী (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৪৭, ৬৪৯; খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৮)।

(৩) সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, অনুচ্ছেদ: তায়েফ যুদ্ধ, (হাদিস নং ৪০৭৫)। সহীহ মুসলিম, কিতাবুজ যাকাত, অনুচ্ছেদ: যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে হয় তাদের দান করা এবং যার ঈমান মজবুত তাকে ধৈর্য ধরতে বলা, (হাদিস নং ১০৬১)।

(৪) সহীহ বুখারী, কিতাবুল ফাদায়িলুস সাহাবা, অনুচ্ছেদ: আনসারদের ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ (হাদিস নং ৩৫৭২)। সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: আনসার ও আলীর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের প্রমাণ ও নিদর্শন এবং তাদের প্রতি ঘৃণা নিফাকের নিদর্শন হওয়া, (হাদিস নং ৭৫)।

(৫) সহীহ বুখারী, কিতাবুল ফাদায়িলুস সাহাবা, অনুচ্ছেদ: আনসারদের ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ (হাদিস নং ৩৫৭৩)। সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: আনসার ও আলীর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের প্রমাণ ও নিদর্শন এবং তাদের প্রতি ঘৃণা নিফাকের নিদর্শন হওয়া, (হাদিস নং ৭৪)।

(৬) সহীহ বুখারী, কিতাবুল ফাদায়িলুস সাহাবা, অনুচ্ছেদ: আনসারদের ফযীলত, (হাদিস নং ৩৫৬৭)। সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: আনসার ও আলীর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের প্রমাণ ও নিদর্শন এবং তাদের প্রতি ঘৃণা নিফাকের নিদর্শন হওয়া, (হাদিস নং ১০৫৯)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو سلك الناس واديا وسلكت الأنصار شعبا لاخترت شعب الأنصار»(1).

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم للأنصار: «إنّكم سترون بعدي أثرة شديدة، فاصبروا حتّى تلقوا الله ورسوله صلى الله عليه وسلم على الحوض»(2).

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله للأنصار: «إنكم ستلقون بعدي أثرة، فاصبروا حتى تلقوني وموعدكم الحوض»(3).

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم للأنصار أيضا: «اللهم أنتم من أحب الناس إلي» قالها ثلاث مرات(4).

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لهم أيضا: «والذي نفسي بيده إنكم أحب الناس إلي» مرتين(5).

وعن زيد بن أرقم رضي الله عنه قالت الأنصار إن لكل قوم أتباعا، وإنا قد اتبعناك، فادع الله أن يجعل أتباعنا منا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «اللهم اجعل أتباعهم منهم»(6).

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، ك/المغازي، ب/غزوة الطائف، (ر/4078). وصحيح مسلم، ك/الإيمان، ب/الدليل على أن حب الأنصار وعلى رضي الله عنهم من الإيمان وعلاماته وبغضهم من علامات النفاق، (ر/1059).

(2) صحيح البخاري، ك/الخمس، ب/ما كان للنبي صلى الله عليه وسلم يعطي المؤلفة قلوبهم وغيرهم من الخمس ونحوه (ر/2978). وصحيح مسلم ك/الإيمان، ب/الدليل على أن حب الأنصار وعلى رضي الله عنهم من الإيمان وعلاماته وبغضهم من علامات النفاق، (ر/1059).

(3) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/قول النبي صلى الله عليه وسلم للأنصار «اصبروا حتى تلقوني على الحوض»، (ر/3582).

(4) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/قول النبي صلى الله عليه وسلم للأنصار «أنتم أحب الناس إلى»، (ر/3574). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/من فضائل الأنصار، (ر/2508).

(5) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/قول النبي صلى الله عليه وسلم للأنصار «أنتم أحب الناس إلي» (ر/3575). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/من فضائل الأنصار، (ر/2509).

(6) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/أتباع الأنصار، (ر/3577).

আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যদি মানুষ কোনো উপত্যকায় চলে আর আনসারগণ কোনো গিরিপথ দিয়ে চলে, তবে আমি আনসারদের গিরিপথই বেছে নেব»(১)।

আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনসারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে কঠোর পক্ষপাতিত্ব প্রত্যক্ষ করবে, সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধারণ করো যতক্ষণ না হাউজের পাড়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে মিলিত হও»(২)।

আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ আনসারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে পক্ষপাতিত্বের সম্মুখীন হবে, সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধারণ করো যতক্ষণ না তোমরা আমার সাথে সাক্ষাৎ করো এবং তোমাদের সাথে সাক্ষাতের নির্ধারিত স্থান হলো হাউজ»(৩)।

আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুনরায় আনসারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: «হে আল্লাহ! মানুষের মাঝে তোমরাই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়» তিনি কথাটি তিনবার বলেছেন(৪)।

আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই তোমরা মানুষের মাঝে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়» তিনি দুইবার বলেছেন(৫)।

যায়িদ ইবনে আরকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আনসারগণ বলেছিলেন যে, প্রত্যেক কওমেরই অনুসারী থাকে, আর আমরা আপনাকে অনুসরণ করেছি; সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের অনুসারীদের আমাদেরই অন্তর্ভুক্ত করেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে আল্লাহ! তাদের অনুসারীদের তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করে দিন»(৬)।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, পরিচ্ছেদ: গাজওয়ায়ে তায়েফ, (হা/৪০৭৮); সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, পরিচ্ছেদ: আনসার ও আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ মুনাফিকির আলামত হওয়ার প্রমাণ, (হা/১০৫৯)।

(২) সহীহ বুখারী, কিতাবুল খুমুস, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক মুআল্লাফাতুল কুলুব ও অন্যদের খুমুস থেকে প্রদান করা প্রসঙ্গে (হা/২৯৭৮); সহীহ মুসলিম কিতাবুল ঈমান, পরিচ্ছেদ: আনসার ও আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ মুনাফিকির আলামত হওয়ার প্রমাণ, (হা/১০৫৯)।

(৩) সহীহ বুখারী, কিতাব ফাযায়েলুল সাহাবা, পরিচ্ছেদ: আনসারদের উদ্দেশ্যে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উক্তি: «হাউজের পাড়ে আমার সাথে সাক্ষাৎ না হওয়া পর্যন্ত তোমরা ধৈর্য ধরো», (হা/৩৫৮২)।

(৪) সহীহ বুখারী, কিতাব ফাযায়েলুল সাহাবা, পরিচ্ছেদ: আনসারদের উদ্দেশ্যে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উক্তি: «তোমরা মানুষের মাঝে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়», (হা/৩৫৭৪); সহীহ মুসলিম, কিতাব ফাযায়েলুস সাহাবা, পরিচ্ছেদ: আনসারদের ফজিলতসমূহ, (হা/২৫০৮)।

(৫) সহীহ বুখারী, কিতাব ফাযায়েলুল সাহাবা, পরিচ্ছেদ: আনসারদের উদ্দেশ্যে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উক্তি: «তোমরা মানুষের মাঝে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়» (হা/৩৫৭৫); সহীহ মুসলিম, কিতাব ফাযায়েলুস সাহাবা, পরিচ্ছেদ: আনসারদের ফজিলতসমূহ, (হা/২৫০৯)।

(৬) সহীহ বুখারী, কিতাব ফাযায়েলুল সাহাবা, পরিচ্ছেদ: আনসারদের অনুসারীবৃন্দ, (হা/৩৫৭৭)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: صحبت جرير بن عبد الله، فكان يخدمني وهو أكبر من أنس، قال جرير: إني رأيت الأنصار يصنعون شيئا لا أجد أحدا منهم إلا أكرمته(1).

وعن قتادة قال: ما نعلم حيّا من أحياء العرب أكثر شهيدا، أعزّ يوم القيامة من الأنصار(2).

وعند ما ذكر النبي صلى الله عليه وسلم فضائل دور الأنصار ذكر منهم من بني الخزرج: دور بني النجار، وهم من بني عمرو بن الخزرج، ودور بني ساعدة وهم من بني كعب بن الخزرج، أخي الأوس ابنا حارثة،

فعن أبي أسيد رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم: «خير دور الأنصار، بنو النجار، ثم بنو عبد الأشهل، ثم بنو الحارث بن خزرج، ثم بنو ساعدة، وفي كل دور الأنصار خير»(3).

{إِذْ هَمَّتْ طائِفَتانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلا} قال جابر بن عبد الله: نزلت فينا وما أحب أنها لم تنزل، والله يقول: {وَاللهُ وَلِيُّهُما}(4).

وكان لبعض بني الخزرج خاصة مناقب عديدة، منهم: معاذ بن جبل رضي الله عنه، ففي

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، ك/الجهاد والسير، ب/فضل الخدمة في الغزو، (ر/2731). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة ب/في حسن صحبة الأنصار، (ر/2513).

(2) صحيح البخاري، ك/المغازي، ب/من قتل من مسلمين يوم أحد، (ر/3850).

(3) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/فضل دور الأنصار، (ر/3578). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة ب/في خير دور الأنصار، (ر/2511). وبنو عبد الأشهل من الأوس والنسبة إليهم الأشهلي، وهناك بنو عبد الأشهل من الخزرج، وهم بنو عبد الأشهل بن حارثة بن دينار بن النجار من الخزرج، انظر: أسد الغابة (ج 1 ص 302).

(4) صحيح البخاري، ك/المغازي، ب/ إِذْ هَمَّتْ طائِفَتانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلا وَاللهُ وَلِيُّهُما وَعَلَى اللهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ، (ر/3825). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة ب/من فضائل الأنصار، (ر/2505). وانظر عن سبب النزول في: تفسير ابن كثير (ج 2 ص 92).

আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জারীর ইবনে আবদুল্লাহর সাহচর্যে ছিলাম, তখন তিনি আমার সেবা করতেন অথচ তিনি আনাসের চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। জারীর বলেন: আমি আনসারদের এমন কিছু (মর্যাদাপূর্ণ কাজ) করতে দেখেছি যে, তাদের মধ্যে কাউকে পেলেই আমি তাকে সম্মান করি(১)।

কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আরব গোত্রগুলোর মধ্যে আমাদের জানামতে এমন কোনো গোত্র নেই যারা আনসারদের চেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে এবং কিয়ামতের দিন তাদের চেয়ে বেশি মর্যাদাবান হবে(২)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আনসারদের বিভিন্ন বংশের মর্যাদা বর্ণনা করলেন, তখন তিনি তাদের মধ্যে বনু খাযরাজ থেকে বনু নাজ্জার বংশের কথা উল্লেখ করলেন—যারা বনু আমর ইবনে খাযরাজের অন্তর্ভুক্ত—এবং বনু সা’ইদা বংশের কথা উল্লেখ করলেন যারা বনু কা’ব ইবনে খাযরাজের অন্তর্ভুক্ত, যারা আউস ও খাযরাজ নামক হারিসার দুই পুত্রের বংশধর।

আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আনসারদের বংশগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো বনু নাজ্জার, এরপর বনু আবদিল আশহাল, এরপর বনু হারিস ইবনে খাযরাজ, এরপর বনু সা’ইদা; তবে আনসারদের প্রতিটি বংশেই কল্যাণ রয়েছে»(৩)।

{যখন তোমাদের দুটি দল ভীরুতা প্রদর্শনের সংকল্প করেছিল} জাবির ইবনে আবদুল্লাহ বলেন: আয়াতটি আমাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, আর আমি এটা পছন্দ করি না যে এটি অবতীর্ণ না হতো, কারণ আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহ তাদের উভয়ের অভিভাবক}(৪)।

বনু খাযরাজের নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির বিশেষ অনেক মর্যাদা ছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: মু’আয ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু), সুতরাং

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, অধ্যায়: জিহাদ ও অভিযান, পরিচ্ছেদ: যুদ্ধে সেবার মর্যাদা, (হাদিস নং ২৭৩১)। সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবীগণের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: আনসারদের সাথে সুন্দর সাহচর্য রাখা প্রসঙ্গে, (হাদিস নং ২৫১৩)।

(২) সহীহ বুখারী, অধ্যায়: মাগাযী (যুদ্ধাভিযান), পরিচ্ছেদ: উহুদ যুদ্ধে যে সকল মুসলিম শহীদ হয়েছেন, (হাদিস নং ৩৮৫০)।

(৩) সহীহ বুখারী, অধ্যায়: সাহাবীগণের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: আনসারদের বংশগুলোর মর্যাদা, (হাদিস নং ৩৫৭৮)। সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবীগণের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: আনসারদের শ্রেষ্ঠ বংশসমূহ প্রসঙ্গে, (হাদিস নং ২৫১১)। বনু আবদিল আশহাল আউস গোত্রভুক্ত এবং তাদের দিকে সম্বন্ধ করে 'আশহালী' বলা হয়। আবার খাযরাজ গোত্রেও বনু আবদিল আশহাল রয়েছে, তারা হলো বনু আবদিল আশহাল ইবনে হারিসা ইবনে দীনার ইবনে নাজ্জার আল-খাযরাজী, দেখুন: আসাদুল গাবাহ (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০২)।

(৪) সহীহ বুখারী, অধ্যায়: মাগাযী, পরিচ্ছেদ: (যখন তোমাদের দুটি দল ভীরুতা প্রদর্শনের সংকল্প করেছিল অথচ আল্লাহ তাদের উভয়ের অভিভাবক এবং মুমিনদের উচিত আল্লাহর ওপরই ভরসা করা), (হাদিস নং ৩৮২৫)। সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবীগণের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: আনসারদের কিছু মর্যাদা, (হাদিস নং ২৫০৫)। আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর (২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯২)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
حديث عبد الله بن عمرو قال:

قال النبي صلى الله عليه وسلم: «استقرئوا القرآن من أربعة: من عبد الله بن مسعود … ، وسالم مولى أبي حذيفة، وأبي بن كعب، ومعاذ بن جبل»(1).

وكذلك منهم: أبيّ بن كعب رضي الله عنه، فمن حديث أنس رضي الله عنه قال:

قال النبي صلى الله عليه وسلم:

«خذوا القرآن من أربعة: من عبد الله بن مسعود … ، وسالم مولى أبي حذيفة، ومعاذ بن جبل، وأبيّ بن كعب»(2)،

و {لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا» قال: وسماني؟ قال: «نعم» فبكى(3).

ومنهم أيضا: أبو طلحة زيد بن سهل رضي الله عنه، وقال عنه أنس بن مالك: «لما كان يوم أحد انهزم الناس عن النبي صلى الله عليه وسلم، وأبو طلحة بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم مجوّب(4) به عليه بحجفة له»(5).

ومنهم أيضا: عبد الله بن عمرو بن حرام رضي الله عنه، فعن ابنه جابر رضي الله عنهما قال: جيء بأبي يوم أحد قد مثّل به حتى وضع بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد سجي ثوبا، فذهبت أريد أن أكشف عنه فنهاني قومي … ، فسمع صوت صائحة فقال: «من هذه؟» فقالوا: ابنة عمرو أو أخت عمرو، قال: «فلم تبكي؟، أو لا تبكي، فما زالت الملائكة تظله بأجنحتها حتى رفع»(6).

ومنهم أيضا: أنس بن مالك بن النضر رضي الله عنه، خادم النبي صلى الله عليه وسلم،

فعن أم سليم رضي الله عنها أنها طلبت من النبي صلى الله عليه وسلم أن يدعو له فقال: «اللهم أكثر ماله وولده

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/مناقب سالم مولى أبي حذيفة رضي الله عنه، (ر/3548). وصحيح مسلم ك/فضائل الصحابة ب/من فضائل عبد الله بن مسعود وأمه رضي الله عنهما، (ر/2464).

(2) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/مناقب أبي بن كعب رضي الله عنه، (ر/3597).

(3) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/مناقب أبي بن كعب رضي الله عنه، (ر/3598). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/من فضائل أبي بن كعب وجماعة من الأنصار رضي الله عنهم، (ر/799).

(4) مجوب: أي مترس عليه يقيه بها، ويقال للترس: جوبة، والحجفة: الترس، انظر: فتح البري (ج 7 ص 160).

(5) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/مناقب أبي طلحة رضي الله عنه، (ر/3600).

(6) صحيح البخاري، ك/الجنائز، ب/ما يكره من النياحة على الميت، (ر/1231). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/من فضائل عبد الله بن عمرو بن حرام، (ر/2471).

আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা চার ব্যক্তির নিকট থেকে কুরআন শিক্ষা করো: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ … , আবু হুজায়ফার মুক্তদাস সালিম, উবাই ইবনে কাব এবং মুয়াজ ইবনে জাবাল»(১)।

তেমনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«তোমরা চার ব্যক্তির নিকট থেকে কুরআন গ্রহণ করো: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ … , আবু হুজায়ফার মুক্তদাস সালিম, মুয়াজ ইবনে জাবাল এবং উবাই ইবনে কাব»(২),

এবং {লাম ইয়াকুনিল্লাজিনা কাফারু...} (সুরা আল-বাইয়্যিনাহ) পাঠ করলেন। তিনি (উবাই) জিজ্ঞেস করলেন: "তিনি (আল্লাহ) কি আমার নাম নিয়েছেন?" তিনি (রাসূল) বললেন: «হ্যাঁ», তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন(৩)।

তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন: আবু তালহা জায়েদ ইবনে সাহল রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁর সম্পর্কে আনাস ইবনে মালিক বলেন: «উহুদ যুদ্ধের দিন যখন মানুষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ছেড়ে পিছু হটছিল, তখন আবু তালহা তাঁর একটি ঢাল দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে তাঁকে আড়াল করে রাখছিলেন(৪)»(৫)।

তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁর পুত্র জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উহুদ যুদ্ধের দিন আমার পিতাকে আনা হলো, তাঁর দেহ বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে রাখা হলো এবং একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো। আমি তাঁর মুখ থেকে কাপড় সরাতে চাইলে আমার কওম আমাকে নিষেধ করল … , তখন জনৈক ক্রন্দনকারিণীর শব্দ শোনা গেল। তিনি (রাসূল) বললেন: «এটি কে?» তারা বলল: আমরের কন্যা অথবা আমরের বোন। তিনি বললেন: «কেন কাঁদছ? তোমরা কাঁদো আর না কাঁদো, ফেরেশতারা তাকে তাদের ডানা দিয়ে ছায়া দিচ্ছিল যতক্ষণ না তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে»(৬)।

তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন: আনাস ইবনে মালিক ইবনে নজর রাদিয়াল্লাহু আনহু, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম।

উম্মে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আনাসের জন্য দোয়া করতে অনুরোধ করলেন। তখন তিনি বললেন: «হে আল্লাহ, আপনি তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিন

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, অধ্যায়: সাহাবীদের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: আবু হুজায়ফার মুক্তদাস সালিম রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা, (হা/৩৫৪৮)। এবং সহিহ মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবীদের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও তাঁর মায়ের মর্যাদা, (হা/২৪৬৪)।

(২) সহিহ বুখারি, অধ্যায়: সাহাবীদের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা, (হা/৩৫৯৭)।

(৩) সহিহ বুখারি, অধ্যায়: সাহাবীদের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা, (হা/৩৫৯৮)। এবং সহিহ মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবীদের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: উবাই ইবনে কাব ও আনসারদের এক দলের মর্যাদা, (হা/৭৯৯)।

(৪) মুজাওওয়াব: অর্থাৎ যিনি ঢাল দিয়ে কাউকে রক্ষা করেন। ঢালকে 'জুবাহ' বলা হয়। আল-হাজাফাহ অর্থও ঢাল। দেখুন: ফাতহুল বারি (৭ম খণ্ড, পৃ. ১৬০)।

(৫) সহিহ বুখারি, অধ্যায়: সাহাবীদের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা, (হা/৩৬০০)।

(৬) সহিহ বুখারি, অধ্যায়: জানাজা, পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির ওপর বিলাপ করা অপছন্দনীয় হওয়া প্রসঙ্গে, (হা/১২৩১)। এবং সহিহ মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবীদের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা, (হা/২৪৭১)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ২০)
وبارك له فيما أعطيته»(1)، وكذلك كان أنس بن مالك رضي الله عنه يقول: أسر إلي النبي صلى الله عليه وسلم سرا، فما أخبرت به أحدا بعده، ولقد سألتني أم سليم؟ فما أخبرتها به(2). وقال غيلان بن جرير: كنا ندخل على أنس فيحدّثنا بمناقب الأنصار ومشاهدهم(3).

ومن الخزرج أيضا أربعة نفر جمعوا القرآن على عهد النبي صلى الله عليه وسلم، ومنهم: زيد بن ثابت بن الضحاك رضي الله عنه. فعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: «جمع القرآن على عهد النبي صلى الله عليه وسلم أربعة نفر كلهم من الأنصار، أبيّ، ومعاذ بن جبل، وأبو زيد، وزيد بن ثابت»(4).

ومنهم أيضا:

حسان بن ثابت، وقال له النبي صلى الله عليه وسلم: «أجب عني، اللهم أيّده بروح القدس»(5)، وفي حديث البراء بن مالك رضي الله عنه قال:

قال النبي صلى الله عليه وسلم لحسان: «اهجهم أو هاجهم وجبريل معك»(6)، وقالت عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها: كان ينافح عن النبي صلى الله عليه وسلم(7).

وكثير غير هؤلاء ممن ذكروا في هذا الكتاب المخطوط لعبد المؤمن الدمياطي.

وحظي نساء الأنصار أيضا بمكانة عظيمة لدورهنّ الكبير والخطير في المجتمع الإسلامي بالمدينة آنذاك، وكان لنساء الخزرج خاصة أثر بارز ومميز من هذه الأحداث

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، ك/الدعوات، ب/قول الله تعالى وَصَلِّ عَلَيْهِمْ ومن خص أخاه بالدعاء دون نفسه، (ر/5975). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/من فضائل أنس بن مالك رضي الله عنه، (ر/2480).

(2) صحيح البخاري، ك/الاستئذان، ب/حفظ السر، (ر/5931). وصحيح مسلم، فضائل الصحابة ب/من فضائل أنس بن مالك رضي الله عنه، (ر/2482).

(3) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/مناقب الأنصار، (ر/3565).

(4) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/مناقب زيد بن ثابت رضي الله عنه، (ر/3599)، وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة ب/من فضائل أبي بن كعب وجماعة من الأنصار، (ر/2465).

(5) صحيح البخاري، ك/بدء الخلق، ب/ذكر الملائكة، (ر/3041). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/فضائل حسان بن ثابت رضي الله عنه (ر/2485).

(6) صحيح البخاري، ك/بدء الخلق، ب/ذكر الملائكة، (ر/3041). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/فضائل حسان بن ثابت رضي الله عنه (ر/2486).

(7) صحيح البخاري، ك/المناقب، ب/من أحب أن لا يسب نسبه، (ر/3338). وصحيح مسلم، فضائل الصحابة الصحابة ب/فضائل حسان بن ثابت، (ر/2789،2487).

এবং আপনি তাঁকে যা দান করেছেন তাতে বরকত দিন»(১), একইভাবে আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে গোপনে একটি কথা বলেছিলেন, যা আমি তাঁর পরে আর কাউকে জানাইনি। এমনকি উম্মে সুলাইম আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কিন্তু আমি তাকেও তা বলিনি(২)। গাইলান ইবন জারীর বলেন: আমরা আনাসের কাছে যেতাম, তখন তিনি আমাদের কাছে আনসারদের মর্যাদা এবং তাঁদের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করতেন(৩)।

খাযরাজ গোত্র থেকেও এমন চারজন ব্যক্তি ছিলেন যাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে কুরআন একত্রিত করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: যায়দ ইবন সাবিত ইবন আদ-দাহহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু। আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে চারজন ব্যক্তি কুরআন একত্রিত করেছিলেন যাঁদের সবাই আনসারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন: উবাই, মুআয ইবন জাবাল, আবু যায়দ এবং যায়দ ইবন সাবিত»(৪)।

তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন:

হাসসান ইবন সাবিত, যাঁর সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন: «আমার পক্ষ থেকে উত্তর দাও, হে আল্লাহ! তাঁকে রুহুল কুদুস (জিবরাঈল) দ্বারা শক্তিশালী করুন»(৫)। বারা ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে তিনি বলেন:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসসানকে বলেছিলেন: «তাদের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা রচনা করো অথবা তাদের মোকাবিলা করো, আর জিবরাঈল তোমার সাথে আছেন»(৬)। মুমিনদের জননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা প্রদান করতেন(৭)।

আবদুল মুমিন আদ-দামইয়াতির এই পাণ্ডুলিপিতে যাঁদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের বাইরেও আরও অনেকে রয়েছেন।

তৎকালীন মদীনায় ইসলামী সমাজে তাঁদের বিশাল ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে আনসারী নারীরাও সুমহান মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন। বিশেষ করে খাযরাজী নারীদের এই ঘটনাসমূহে এক উজ্জ্বল ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ প্রভাব ছিল।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, কিতাবুদ দাওয়াত (দুআর অধ্যায়), পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী 'তুমি তাদের জন্য দুআ করো' এবং যে ব্যক্তি নিজের আগে ভাইয়ের জন্য দুআ নির্দিষ্ট করে, (হাদীস/৫৯৭৫)। সহীহ মুসলিম, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবা (সাহাবীদের মর্যাদার অধ্যায়), পরিচ্ছেদ: আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা, (হাদীস/২৪৮০)।

(২) সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইস্তিযান (অনুমতি প্রার্থনার অধ্যায়), পরিচ্ছেদ: গোপনীয়তা রক্ষা করা, (হাদীস/৫৯৩১)। সহীহ মুসলিম, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবা, পরিচ্ছেদ: আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা, (হাদীস/২৪৮২)।

(৩) সহীহ বুখারী, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবা, পরিচ্ছেদ: আনসারদের মর্যাদা, (হাদীস/৩৫৬৫)।

(৪) সহীহ বুখারী, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবা, পরিচ্ছেদ: যায়দ ইবন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা, (হাদীস/৩৫৯৯)। সহীহ মুসলিম, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবা, পরিচ্ছেদ: উবাই ইবন কাব ও আনসারদের একটি দলের মর্যাদা, (হাদীস/২৪৬৫)।

(৫) সহীহ বুখারী, কিতাবু বাদউল খালক (সৃষ্টির সূচনা), পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের আলোচনা, (হাদীস/৩০৪১)। সহীহ মুসলিম, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবা, পরিচ্ছেদ: হাসসান ইবন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা, (হাদীস/২৪৮৫)।

(৬) সহীহ বুখারী, কিতাবু বাদউল খালক, পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের আলোচনা, (হাদীস/৩০৪১)। সহীহ মুসলিম, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবা, পরিচ্ছেদ: হাসসান ইবন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা, (হাদীস/২৪৮৬)।

(৭) সহীহ বুখারী, কিতাবুল মানাকিবে, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তার বংশ মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হওয়া পছন্দ করে, (হাদীস/৩৩৩৮)। সহীহ মুসলিম, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবা, পরিচ্ছেদ: হাসসান ইবন সাবিতের মর্যাদা, (হাদীস/২৪৮৭, ২৭৮৯)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ২১)
من خلال المشاركات الجهادية والزوجية والأسرية الفاعلة لترابط الجماعة المسلمة، وسطر التاريخ لكثير منهنّ فضائل ومناقب وحسن عمل وحسن ختام، وخلد ذكرهنّ مع النبي صلى الله عليه وسلم، فمنهن:

أم سليم بنت ملحان-واسمه: مالك-بن خالد بن زيد بن حرام بن جندب بن عامر بن غنم بن عديّ بن النجّار بن ثعلبة بن عمرو بن الخزرج، قال ابنها أنس بن مالك:

أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن يدخل بيتا بالمدينة؛ غير بيت أم سليم، إلا على أزواجه، فقيل له؟، فقال: «إني أرحمهما(1)، قتل أخوها معي»(2)، وكانت تحمل القرب وتفرغها في أفواه القوم يوم أحد(3).

وأختها أم حرام بنت ملحان، قال عنها أنس:

كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدخل على أم حرام بنت ملحان فتطعمه، وكانت تحت عبادة بن الصامت، فدخل عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم فأطعمته وجعلت تفلي رأسه، فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم استيقظ وهو يضحك!، قالت: فقلت وما يضحكك يا رسول الله؟ قال: «ناس من أمّتي عرضوا عليّ غزاة في سبيل الله يركبون ثبج(4) هذا البحر ملوكا على الأسرة .. » قالت: فقلت يا رسول الله ادع الله أن يجعلني منهم، فدعا لها رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم وضع رأسه، ثم استيقظ وهو يضحك! فقلت: وما يضحكك يا رسول الله؟ قال: «ناس من أمتي عرضوا علي غزاة في سبيل الله» كما قال في الأول، قالت: فقلت يا رسول الله ادع الله أن يجعلني منهم، قال: «أنت من الأولين»، فركبت البحر زمن معاوية بن أبي سفيان،

--------------------------------------------

(1) قال ابن حجر العسقلاني في قوله «إني ارحمها .. » هذه العلة أولى من قول من قال: إنما كان يدخل عليها لأنها كانت محرما له، والنبي صلى الله عليه وسلم كان يجبر قلب أم سليم بزيارتها، ويعلل ذلك بأن أخاها قتل معه، ففيه أنه خلفه في أهله بخير بعد وفاته، وذلك من حسن عهده صلى الله عليه وسلم. انظر: فتح الباري (ج 6 ص 60).

(2) صحيح البخاري، ك/الجهاد والسير، ب/فضل من جهز غازيا أو خلفه بخير، (ر/2689). وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/من فضائل أم سليم ابن أنس بن مالك، (ر/2455).

(3) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/مناقب أبي طلحة رضي الله عنه، (ر/3600). وصحيح مسلم، ك/الجهاد والسير، ب/غزوة النساء مع الرجال، (ر/1811).

(4) ثبج البحر: أي يركبون ظهر البحر، انظر: فتح الباري (ج 11 ص 76).

মুসলিম উম্মাহর সংহতি রক্ষায় সক্রিয় জিহাদি, বৈবাহিক ও পারিবারিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইতিহাস তাদের অনেকেরই গুণাবলি, মর্যাদা, নেক আমল এবং সুন্দর পরিণতির কথা লিপিবদ্ধ করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের স্মৃতি অমর হয়ে আছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

উম্মে সুলাইম বিনতে মিলহান—তাঁর পিতার নাম মালেক—ইবনে খালিদ ইবনে যায়েদ ইবনে হারাম ইবনে জুন্দুব ইবনে আমির ইবনে গানাম ইবনে আদি ইবনে নাজ্জার ইবনে সা’লাবা ইবনে আমর ইবনে খাযরাজ। তাঁর পুত্র আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় তাঁর স্ত্রীদের ঘর ব্যতীত উম্মে সুলাইমের ঘর ছাড়া অন্য কোনো ঘরে প্রবেশ করতেন না। তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «আমি তাঁর প্রতি করুণা করি(১), তাঁর ভাই আমার সাথে (যুদ্ধে) নিহত হয়েছেন»(২)। তিনি উহুদ যুদ্ধের দিন মশক বহন করতেন এবং মানুষের মুখে পানি ঢেলে দিতেন(৩)।

এবং তাঁর বোন উম্মে হারাম বিনতে মিলহান, তাঁর সম্পর্কে আনাস (রা.) বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হারাম বিনতে মিলহানের নিকট যেতেন এবং তিনি তাঁকে খাবার খাওয়াতেন। তিনি উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.)-এর স্ত্রী ছিলেন। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আসলেন, তিনি তাঁকে খাওয়ালেন এবং তাঁর মাথা থেকে উকুন বেছে দিতে লাগলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে পড়লেন এবং হাসতে হাসতে জেগে উঠলেন! উম্মে হারাম বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিসে আপনাকে হাসালো? তিনি বললেন: «আমার উম্মতের কিছু লোক আমার সামনে পেশ করা হয়েছে যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধরত, তারা সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের ওপর(৪) আরোহণ করছে, যেন সিংহাসনের ওপর উপবিষ্ট রাজা...» উম্মে হারাম বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দুআ করলেন। এরপর তিনি আবার মাথা রাখলেন এবং পুনরায় হাসতে হাসতে জেগে উঠলেন! আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! কিসে আপনাকে হাসালো? তিনি প্রথমবারের মতোই বললেন: «আমার উম্মতের কিছু লোক আমার সামনে পেশ করা হয়েছে যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধরত...» উম্মে হারাম বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেন: «তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত হবে»। অতঃপর তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের যুগে সমুদ্র যাত্রা করেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর «আমি তাঁর প্রতি করুণা করি...» বাণীর ব্যাখ্যায় বলেন: এই কারণটি সেই ব্যক্তির কথার চেয়ে অধিকতর গ্রহণযোগ্য যিনি বলেন যে, তিনি তাঁর মাহরাম হওয়ার কারণে তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন। মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইমের নিকট গিয়ে তাঁর মন সান্ত্বনা দিতেন এবং এর কারণ হিসেবে বলতেন যে, তাঁর ভাই তাঁর সাথে শহীদ হয়েছেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সাথে উত্তম আচরণ করেছেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্দর আদর্শের অংশ। দেখুন: ফাতহুল বারী (৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬০)।

(২) সহীহ বুখারী, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কোনো গাজীকে যুদ্ধের সরঞ্জাম দেয় বা তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের দেখাশোনা করে তার মর্যাদা (হা/২৬৮৯)। সহীহ মুসলিম, কিতাবুত ফাদাইলিস সাহাবা, অনুচ্ছেদ: আনাস ইবনে মালেকের মা উম্মে সুলাইমের মর্যাদা (হা/২৪৫৫)।

(৩) সহীহ বুখারী, কিতাবুত ফাদাইলিস সাহাবা, অনুচ্ছেদ: আবু তালহা (রা.)-এর মর্যাদা (হা/৩৬০০)। সহীহ মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, অনুচ্ছেদ: পুরুষদের সাথে নারীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ (হা/১৮১১)।

(৪) সাবাজুল বাহর: অর্থাৎ তারা সমুদ্রের পিঠে বা বিশাল ঢেউয়ের ওপর আরোহণ করবে। দেখুন: ফাতহুল বারী (১১শ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৬)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ২২)
فصرعت عن دابتها حين خرجت من البحر فهلكت(1).

وأم سليط بنت عبيد … ، قال عمر بن الخطاب: كانت تزفر لنا القرب يوم أحد، وحفظ لها ذلك حين قسم مروطا بين نساء أهل المدينة، فبقي مرط جيد، فقال له بعض من عنده: يا أمير المؤمنين أعط هذا بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم التي عندك، يريدون أم كلثوم بنت علي، فقال عمر، أم سليط أحقّ به(2).

وأم عمارة، وأم منيع، وهما المرأتان اللتان بايعتا النبي صلى الله عليه وسلم في ليلة العقبة الثانية مع وفد الأنصار(3).

ومن حلفاء الخزرج أيضا: عبد الله بن سلام بن الحراث، من بني إسرائيل، من سبط: يوسف ابن يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم صلّى الله عليهم أجمعين، وهو حليف لبني قوقل-واسمه غنم-بن عوف،

{وَشَهِدَ شاهِدٌ مِنْ بَنِي إِسْرائِيلَ}(4).

ومن موالي الخزرج أيضا: أبو عمرة سيرين، وأبو الحسن بن الحسن البصري وذريتهما، وهما من موالي بني عدي بن النّجّار بن ثعلبة بن عمرة بن الخزرج.

ومن هنا نلاحظ ما حفظه لنا القرآن الكريم والسنة المطهرة وكتب الأخبار، من صور مشرقة للأنصار المؤمنين حقا الذين نصروا الله ورسوله، وأظهروا الدين وآووا

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، ك/الجهاد والسير، ب/الدعاء بالجهاد والشهادة للرجال والنساء، (ر/2636). وصحيح مسلم، ك/الإمارة، ب/فضل الغزو في البحر، (ر/1912).

(2) فتح الباري (ج 7 ص 261).

(3) فتح الباري (ج 7 ص 261).

(4) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/مناقب عبد الله بن سلام رضي الله عنه، (ر/3601)، وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/من فضائل عبد الله بن سلام رضي الله عنه، (ر/2483)، والآية في سورة الأحقاف، رقم 10.

অতঃপর তিনি যখন সমুদ্র থেকে বের হলেন, তখন তিনি তাঁর সওয়ারি থেকে পড়ে গেলেন এবং ইন্তেকাল করলেন(১).

এবং উম্মে সালীত বিনতে উবাইদ … , উমর ইবনুল খাত্তাব বলেন: তিনি উহুদের দিন আমাদের জন্য পানির মশক বহন করে আনতেন। উমর (রা.) যখন মদীনার নারীদের মধ্যে চাদর বণ্টন করেছিলেন, তখন তাঁর এই অবদানের কথা স্মরণে রেখেছিলেন। এরপর একটি উৎকৃষ্ট চাদর অবশিষ্ট রয়ে গেল। তখন তাঁর নিকট উপস্থিত জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন! এই চাদরটি আপনার নিকট থাকা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাতনিকে প্রদান করুন—তারা এর দ্বারা আলীর কন্যা উম্মে কুলসুমকে উদ্দেশ্য করেছিলেন। তখন উমর (রা.) বললেন, উম্মে সালীতই এর অধিক হকদার(২).

এবং উম্মে আম্মারা ও উম্মে মানী'—তাঁরা সেই দুই নারী যারা আনসারদের প্রতিনিধি দলের সাথে দ্বিতীয় আকাবার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বায়আত গ্রহণ করেছিলেন(৩).

খাযরাজ গোত্রের মিত্রদের মধ্যে আরও ছিলেন: বনী ইসরাঈলের আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম ইবনুল হারিস, যিনি ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম (তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর বংশধর। তিনি বনী কাওকাল—যার নাম গনাম—ইবনে আউফের মিত্র ছিলেন,

{এবং বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল}(৪).

খাযরাজের মুক্তদাসদের (মাওয়ালী) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন: আবু আমরাহ সিরীন এবং আবুল হাসান ইবনুল হাসান আল-বসরী ও তাঁদের বংশধরগণ। তাঁরা বনী আদী ইবনে নাজ্জার ইবনে সা'লাবাহ ইবনে আমরাহ ইবনুল খাযরাজের মুক্তদাস ছিলেন।

এখান থেকে আমরা লক্ষ্য করি যে, পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং ইতিহাস গ্রন্থসমূহ আমাদের জন্য সেই প্রকৃত মুমিন আনসারদের যে উজ্জ্বল চিত্র সংরক্ষণ করেছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করেছিলেন, দ্বীনকে বিজয়ী করেছিলেন এবং আশ্রয় প্রদান করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, অনুচ্ছেদ: নারী ও পুরুষদের জন্য জিহাদ ও শাহাদাতের দোয়া করা, (হা/২৬৩৬)। এবং সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ইমারাহ, অনুচ্ছেদ: সমুদ্রে যুদ্ধের মর্যাদা, (হা/১৯১২)।

(২) ফাতহুল বারী (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৬১)।

(৩) ফাতহুল বারী (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৬১)।

(৪) সহীহ বুখারী, কিতাব ফাযায়িলুস সাহাবা, অনুচ্ছেদ: আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর মর্যাদা, (হা/৩৬০১); সহীহ মুসলিম, কিতাব ফাযায়িলুস সাহাবা, অনুচ্ছেদ: আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর কিছু মর্যাদা, (হা/২৪৮৩); এবং আয়াতটি সূরা আল-আহকাফের ১০ নম্বর আয়াত।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الرسول صلى الله عليه وسلم وصحابته الكرام رضي الله عنهم وأرضاهم أجمعين، وسبقوا إلى إجابة الدعوة، وبذلوا المهج واحتسبوا الأجر في طاعة ربهم عز وجل.

{يا أَيُّهَا النّاسُ إِنّا خَلَقْناكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثى وَجَعَلْناكُمْ شُعُوباً وَقَبائِلَ لِتَعارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقاكُمْ}(1).

وحذر المجتمع الإسلامي من اتخاذ الأنساب مجالا للتعالي والتكبر والفخر والطعن في الأنساب وغاية لقطع الأرحام ودعوى الجاهلية. ومن الآيات الكريمة التي تحدثت عن أهمية النسب وصلته بتعاليم الإسلام الخالدة ما يلي:

--------------------------------------------

(1) سورة الحجرات، الآية 13.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের সন্তুষ্ট করুন), তাঁরা দাওয়াতের আহ্বানে সাড়া দেওয়ায় অগ্রগামী ছিলেন, তাঁরা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন এবং তাঁদের মহান প্রতিপালকের আনুগত্যে সওয়াবের আশা করেছেন।

{হে মানুষ, নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী}(১)।

আর তিনি ইসলামি সমাজকে সতর্ক করেছেন বংশপরিচয়কে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন, অহংকার, গর্ব এবং অন্যের বংশের নিন্দা করার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা থেকে, যা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার কারণ হয় এবং জাহিলিয়াতের আহ্বানের অন্তর্ভুক্ত। বংশমর্যাদার গুরুত্ব এবং ইসলামের শাশ্বত শিক্ষার সাথে এর সম্পর্কের বিষয়ে যে সকল আয়াতে কারীমা আলোচনা করা হয়েছে তার মধ্যে নিম্নোক্তগুলো অন্যতম:

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১৩।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
قوله سبحانه وتعالى: {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ مِنَ الْماءِ بَشَراً فَجَعَلَهُ نَسَباً وَصِهْراً وَكانَ رَبُّكَ قَدِيراً} (54)(1).

{فَإِذا نُفِخَ فِي الصُّورِ فَلا أَنْسابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلا يَتَساءَلُونَ (101) فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوازِينُهُ فَأُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (102)(2).

{فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحامَكُمْ (22) أُولئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمى أَبْصارَهُمْ} (23)(3).

ومع هذه الدعوة الصادقة والصريحة من الكتاب العزيز لمعرفة الأنساب التي تؤدي إلى صلة الأرحام وذوي القربى .. ، والابتعاد عن التفاخر والتعصب الذين يقودان إلى الفساد والضلال الجاهلي، فإن الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم ما زال يحضّ الناس أيضا على تعلم الأنساب وحفظها والاهتمام بها.

فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال:

قال النبي صلى الله عليه وسلم: «تعلّموا من أنسابكم ما تصلون به أرحامكم، فإن صلة الرّحم محبة في الأهل مثراة في المال، منسأة في الأثر»(4).

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اعرفوا أنسابكم تصلوا أرحامكم، فإنه لا قرب بالرحم إذا قطعت، وإن كانت قريبة، ولا بعد بها إذا وصلت وإن كانت بعيدة»(5).

--------------------------------------------

(1) سورة الفرقان، الآية 54.

(2) سورة المؤمنون، الآية 101 - 102.

(3) سورة محمّد، الآية 22 - 23.

(4) سنن الترمذي، ك/البر الصلة، ب/تعلم النسب، (ر/1979)، والمستدرك للحاكم، ك/البر والصلة، (4/ 161) وقال: هذا حديث صحيح ولم يخرجاه. وسلسلة الأحاديث الصحيحة، للألباني (ر/276).

(5) مسند أبي داود الطيالسي (ر/2757) عن سعيد عن ابن عباس رضي الله عنهم، والمستدرك للحاكم، ك/البر والصلة (4/ 161) وقال: هذا حديث صحيح الإسناد على شرط الشيخين ولم يخرجاه، وسلسلة الأحاديث الصحيحة، للألباني (ر/277).

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {আর তিনিই সেই সত্তা, যিনি পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বংশগত ও বৈবাহিক আত্মীয়তায় আবদ্ধ করেছেন; এবং তোমার পালনকর্তা মহাক্ষমতাশালী।} (৫৪)(১).

{অতঃপর যখন শিঙায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে, সেদিন তাদের মধ্যে পারস্পরিক কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরের খোঁজ-খবরও নেবে না। (১০১) যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম।} (১০২)(২).

{তোমরা যদি বিমুখ হও, তবে কি তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে? (২২) এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তাদের বধির করে দিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টি অন্ধ করে দিয়েছেন।} (২৩)(৩).

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের বংশপরম্পরা জানার এই সত্যনিষ্ঠ ও সুস্পষ্ট আহ্বানের সাথে—যা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা ও নিকটাত্মীয়দের হক আদায়ের দিকে ধাবিত করে এবং বংশীয় অহংকার ও গোঁড়ামি থেকে দূরে রাখে যা জাহেলিয়াতের বিপর্যয় ও পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায়—নিশ্চয়ই সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে বংশপরম্পরা শিক্ষা করতে, তা সংরক্ষণ করতে এবং এ বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করতে অনবরত উৎসাহিত করেছেন।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা তোমাদের বংশপরম্পরা সম্পর্কে ততটুকু জ্ঞান অর্জন করো, যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারো। কেননা আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি করে, সম্পদে বরকত আনে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।»(৪).

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা তোমাদের বংশপরিচয় জানো যাতে তোমরা আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখতে পারো। কারণ, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হলে নৈকট্য বজায় থাকে না যদিও তা রক্তসম্পর্কীয়ভাবে নিকটবর্তী হয়, আর আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা হলে কোনো দূরত্ব থাকে না যদিও তা রক্তসম্পর্কীয়ভাবে দূরবর্তী হয়।»(৫).

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৫৪।

(২) সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১০১ - ১০২।

(৩) সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ২২ - ২৩।

(৪) সুনান আত-তিরমিযী, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, পরিচ্ছেদ: বংশ পরিচয় শিক্ষা করা, (হাদিস নং ১৯৭৯), এবং হাকাম-এর আল-মুস্তাদরাক, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, (৪/ ১৬১), তিনি বলেন: এটি সহিহ হাদিস তবে বুখারি ও মুসলিম তা বর্ণনা করেননি। আর আলবানী সংকলিত সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ (হাদিস নং ২৭৬)।

(৫) মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি (হাদিস নং ২৭৫৭) সাঈদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং হাকাম-এর আল-মুস্তাদরাক, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ (৪/ ১৬১), তিনি বলেন: এই হাদিসের সনদ বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ, তবে তাঁরা তা বর্ণনা করেননি, আর আলবানী সংকলিত সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ (হাদিস নং ২৭৭)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من سره أن يبسط له رزقه أو ينسأ له في أثره، فليصل رحمه»(1).

فجعل غاية تعلم الأنساب صلة الأرحام وذوي القربى، لا التفاخر والطعن بالأنساب والأحساب، ودعا الرسول صلى الله عليه وسلم إلى التمسك بها-أي تعلم الأنساب- والابتعاد عن ادعائها.

وعن أبي ذر رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «ليس من رجل ادعى لغير أبيه وهو يعلمه إلا كفر، ومن ادعى قوما ليس له فيهم نسب فليتبوأ مقعده من النار»(2).

وعن جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «ما بال دعوى أهل الجاهلية … ، دعوها فإنها خبيثة»(3).

وكان نبينا محمّد صلى الله عليه وسلم على معرفة ودراية بالأنساب فقد ساق نسبه حتى (عدنان)(4)، وكان يحب أن لا يسبّ نسبه وكان ذلك حين استأذنه حسّان بن ثابت في هجاء المشركين-أي من قريش-قال: «كيف بنسبي»؟، فقال حسّان: لأسلّنّك منهم كما تسلّ الشّعرة من العجين(5).

وقال ابن عباس: كان النبي صلى الله عليه وسلم «ينادي بطون قريش- ويدعوهم قبائل قبائل»(6)، ويعرف صلى الله عليه وسلم أنساب قبائل العرب وربما نسب بعض أصحابه،

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، ك/البيوع، ب/من أحب البسط في الرزق، (ر/1961)، وصحيح مسلم، ك/البر والصلة، ب/صلة الرحم وتحريم قطيعتها، (ر/2557).

(2) صحيح البخاري، ك/المناقب، ب/نسبة اليمن إلى إسماعيل، (ر/3317)، وصحيح مسلم، ك/الإيمان، ب/بيان حال إيمان من رغب عن أبيه وهو يعلم، (ر/61).

(3) صحيح البخاري، ك/المناقب، ب/ما ينهى من دعوى الجاهلية (ر/3330)، وصحيح مسلم، ك/البر والصلة والآداب، ب/نصر الأخ ظالما أو مظلوما (ر/2584).

(4) صحيح البخاري، ب/مبعث النبي صلى الله عليه وسلم (ج 3 ص 1398).

(5) صحيح البخاري، ك/المناقب، ب/من أحب أن لا يسب نسبه، (ر/3338)، وصحيح مسلم، ك/فضائل الصحابة، ب/فضائل حسان بن ثابت رضي الله عنه (ر/2490).

(6) صحيح البخاري، ك/المناقب، ب/من انتسب إلى آبائه في الإسلام والجاهلية، (ر/3335).

আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি চায় যে তার রিযিক প্রশস্ত করা হোক অথবা তার আয়ু বৃদ্ধি করা হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে»(১)।

সুতরাং বংশপরম্পরা শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো আত্মীয়তার বন্ধন ও নিকটাত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করা, বংশমর্যাদা বা আভিজাত্য নিয়ে অহংকার করা কিংবা বংশ তুলে খোটা দেওয়া নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি আঁকড়ে ধরার—অর্থাৎ বংশবিদ্যা শেখার—এবং মিথ্যা বংশ দাবি করা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো ব্যক্তি যদি জেনে-বুঝে নিজের পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করে, তবে সে কুফরি করল। আর যে ব্যক্তি এমন কোনো জাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি করে যাদের সাথে তার কোনো বংশীয় সম্পর্ক নেই, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়»(২)।

জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জাহেলিয়াতের যুগের এই ডাকের কী হলো … , তোমরা এটা বর্জন করো, কারণ এটি অত্যন্ত নোংরা»(৩)।

আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বংশপরম্পরা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা রাখতেন। তিনি নিজের বংশধারা (আদনান) পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন(৪)। তিনি চাইতেন যেন তাঁর বংশধারাকে গালি না দেওয়া হয়। এটি তখন ঘটেছিল যখন হাসসান বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু মুশরিকদের—অর্থাৎ কুরাইশদের—ব্যঙ্গ করে কবিতা রচনার অনুমতি চেয়েছিলেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: «আমার বংশের কী হবে?» হাসসান বললেন: আমি আপনাকে তাদের মধ্য থেকে এমনভাবে বের করে আনব যেভাবে আটা থেকে চুল টেনে বের করা হয়(৫)।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম «কুরাইশদের শাখা-প্রশাখা ধরে ডাকতেন এবং তাদের গোত্র ধরে ধরে দাওয়াত দিতেন»(৬)। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরব গোত্রগুলোর বংশধারা সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং মাঝেমধ্যে তাঁর সাহাবীদের কারো কারো বংশ পরিচয় বর্ণনা করতেন।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, কিতাবুল বুয়ূ' (ক্রয়-বিক্রয়), অধ্যায়: যে ব্যক্তি রিযিক প্রশস্ত হওয়া পছন্দ করে, (হাদীস নং ১৯৬১); সহীহ মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ (সদাচরণ ও আত্মীয়তা রক্ষা), অধ্যায়: আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং তা ছিন্ন করার নিষেধাজ্ঞা, (হাদীস নং ২৫৫৭)।

(২) সহীহ বুখারী, কিতাবুল মানাক্বিব (মর্যাদা), অধ্যায়: ইসমাইল আলাইহিস সালামের দিকে ইয়ামেনবাসীদের বংশীয় সম্পৃক্ততা, (হাদীস নং ৩৩১৭); সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: জেনে-বুঝে আপন পিতা থেকে বিমুখ হওয়া ব্যক্তির ঈমানের অবস্থা বর্ণনা, (হাদীস নং ৬১)।

(৩) সহীহ বুখারী, কিতাবুল মানাক্বিব, অধ্যায়: জাহেলিয়াতের ডাকের ব্যাপারে যা নিষেধ করা হয়েছে (হাদীস নং ৩৩৩০); সহীহ মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ ওয়াল আদাব, অধ্যায়: ভাইকে সাহায্য করা চাই সে জালিম হোক বা মজলুম (হাদীস নং ২৫৮৪)।

(৪) সহীহ বুখারী, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তি (৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩৯৮)।

(৫) সহীহ বুখারী, কিতাবুল মানাক্বিব, অধ্যায়: যে ব্যক্তি পছন্দ করে যেন তার বংশকে গালি না দেওয়া হয়, (হাদীস নং ৩৩৩৮); সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ফাদাইলুস সাহাবা (সাহাবীদের মর্যাদা), অধ্যায়: হাসসান বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা (হাদীস নং ২৪৯০)।

(৬) সহীহ বুখারী, কিতাবুল মানাক্বিব, অধ্যায়: ইসলাম ও জাহেলিয়াত আমলে যে নিজের বাপ-দাদাদের সাথে বংশীয় সম্পৃক্ততা বজায় রেখেছে, (হাদীস নং ৩৩৩৫)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وكان أبو بكر الصديق رضي الله عنه من أعلم قريش بأنسابها(1)، وكذلك كان باقي الخلفاء الراشدين رضي الله عنهم من أعلم الناس بالأنساب(2).

{إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقاكُمْ} ما تعدون الحسب؟، أفضلكم حسبا أحسنكم خلقا(6).

وعرّف ابن عباس رضي الله عنه ببعض مفاسد الجاهلية ومنها قوله: خلال من خلال الجاهلية: الطعن في الأنساب(7).

وهكذا كان الناس في صدر الإسلام أيضا يتعلمون الأنساب كما يتعلمون الفقه فكانوا إذا قصدوا سعيد بن المسيب للتفقه في الدين؛ قصدوا عبد الله بن ثعلبة، ليأخذوا عنه الأنساب(8)، وكان هناك عدد كبير من الصحابة والتابعين ومن بعدهم ممن ممن اهتموا بالأنساب(9)، وبدأ التأليف فيه كعلم مفرد من النصف الثاني من القرن الثاني الهجري(10).

--------------------------------------------

(1) بحوث في تاريخ السنة لأكرم العمري (ص 232)، الأنساب للسمعاني (ج 1 ص 22).

(2) جمهرة ابن حزم (ص 5).

(3) الأدب المفرد، ك/صلة الرحيم، ب/تعلموا من أنسابكم ما تصلون به أرحامكم، (ر/38).

(4) بحوث في تاريخ السنة لأكرم العمري (ص 232).

(5) الأدب المفرد، ك/صلة الرحم، ب/تعلموا من أنسابكم ما تصلون به أرحامكم، (ر/38).

(6) الأدب المفرد، ك/الشعر، ب/الحسب (ر/902).

(7) صحيح البخاري، ك/فضائل الصحابة، ب/القسامة في الجاهلية، (ر/3637).

(8) الأنباه على قبائل الرواة (ص 13).

(9) انظر مثلا: ك/طبقات النسابين، لبكر أبو زيد.

(10) بحوث في تاريخ السنة (ص 235).

আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কুরাইশদের মধ্যে তাদের বংশলতিকা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন(১), এবং একইভাবে বাকি খোলাফায়ে রাশেদীন (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বংশলতিকা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন(২)।

{নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী}। তোমরা আভিজাত্য বলতে কী বোঝ? তোমাদের মধ্যে আভিজাত্যে সেই শ্রেষ্ঠ যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর(৬)।

এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জাহেলিয়াতের কিছু অনিষ্টের পরিচয় দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই উক্তি: জাহেলিয়াতের বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি বৈশিষ্ট্য হলো— বংশমর্যাদা নিয়ে খোটা দেওয়া বা নিন্দা করা(৭)।

এভাবেই ইসলামের প্রাথমিক যুগেও মানুষ ফিকহ শেখার মতো বংশলতিকা বিদ্যা শিখত। তাই যখন তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) অর্জনের জন্য সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের নিকট যাওয়ার ইচ্ছা করত, তখন তারা আব্দুল্লাহ ইবনে ছালাবার নিকট যাওয়ারও ইচ্ছা করত যেন তারা তাঁর কাছ থেকে বংশলতিকা সম্পর্কে শিখতে পারে(৮)। সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এমন এক বিশাল সংখ্যক লোক ছিলেন যারা বংশলতিকা শাস্ত্রের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন(৯)। আর হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা শুরু হয়(১০)।

--------------------------------------------

(১) আকরাম আল-উমরীর 'বুহুস ফী তারিখিস সুন্নাহ' (পৃ. ২৩২), সাম'ানীর 'আল-আনসাব' (খণ্ড ১, পৃ. ২২)।

(২) ইবনে হাজমের 'জামহারা' (পৃ. ৫)।

(৩) আল-আদাবুল মুফরাদ, কিতাবুস সিলাতুর রাহিম, অধ্যায়/তোমরা তোমাদের বংশলতিকা সম্পর্কে জানো যা দ্বারা তোমরা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করবে, (হাদিস নং ৩৮)।

(৪) আকরাম আল-উমরীর 'বুহুস ফী তারিখিস সুন্নাহ' (পৃ. ২৩২)।

(৫) আল-আদাবুল মুফরাদ, কিতাবুস সিলাতুর রাহিম, অধ্যায়/তোমরা তোমাদের বংশলতিকা সম্পর্কে জানো যা দ্বারা তোমরা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করবে, (হাদিস নং ৩৮)।

(৬) আল-আদাবুল মুফরাদ, কিতাবুল আশ-শি'র, অধ্যায়/আল-হাসাব (হাদিস নং ৯০২)।

(৭) সহীহ বুখারী, কিতাব ফাযায়িলুস সাহাবা, অধ্যায়/জাহেলিয়াত যুগে আল-কাসামাহ, (হাদিস নং ৩৬৩৭)।

(৮) আল-আনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত (পৃ. ১৩)।

(৯) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: বকর আবু যায়িদের 'তাবাকাতুন নাসসাবীন'।

(১০) বুহুস ফী তারিখিস সুন্নাহ (পৃ. ২৩৫)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وأطلق على الأنساب اسم (العلم)، فقال ابن حزم الأندلسي: أنه علم رفيع؛ وعلم فاضل(1)، وقال ابن عبد البر القرطبي: وهو علم لا يليق جهله بذوي الهمم(2)، وقال السمعاني: وهذا العلم لهذه الأمة من أهم العلوم(3)، وقد ذكروا له فوائد شرعية وفقهية وتاريخية عديدة(4).

ومن هنا أيضا تبرز أهمية إخراج هذا النص المخطوط النفيس «أخبار قبائل الخزرج» للحافظ عبد المؤمن الدمياطي، إذ في إخراجه إضاءة الطريق أمام المؤمن الذي أحب أن يسير إلى الله على بصيرة.

ثم إن مؤلف هذا الكتاب هو: شرف الدين أبو محمّد عبد المؤمن بن خلف الدمياطي (613 - 705 هـ 1217 - 1306 م)، قال عنه تلميذه الحافظ أبو عبد الله أحمد بن محمّد الذهبي: شيخنا الإمام العلامة الحافظ الحجة الفقيه النسابة شيخ المحدثين صاحب التصانيف(5). أما تلميذه الحافظ أبو الحجاج المزي فقاله عنه: كان آخر من بقي من الحفاظ أهل الحديث أصحاب الرواية العالية والديانة الوافرة(6). وقال وقال عنه ابن حجر العسقلاني: حدث عن خلائق وطال عمره وتفرد بأشياء، وأربى في علم النسب على المتقدمين وله حرمة وجلالة(7).

لذلك فدراسة حياة هذا الحافظ الفذ الذي كان له نصيب وافر في تخليد مآثر

--------------------------------------------

(1) جمهرته (ص 2).

(2) الأنباه على قبائل الرواة (ص 11).

(3) الأنساب (ج 1 ص 18).

(4) وانظر أيضا: نهاية الأرب في معرفة أنساب العرب للقلقشندي (ص 13)، ومقدمة طرفة الأصحاب في معرفة الأنساب، لأشرف ابن رسول، تحقيق/صلاح الدين المنجد، ومجموعة الرسائل الكمالية (8) في الأنساب، نشر/محمّد سعيد الكمال.

(5) تذكرة الحفاظ (ج 4 ص 1477).

(6) طبقات الفقهاء الشافعيين لابن كثير (ج 2 ص 951).

(7) الدرر الكامنة (ج 2 ص 417 - 418).

বংশবিদ্যাকে (ইলম বা) ‘জ্ঞান’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইবনে হাজম আল-আন্দালুসী বলেছেন: এটি একটি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন জ্ঞান এবং একটি ফযিলতপূর্ণ বিদ্যা(১)। ইবনে আবদিল বার আল-কুরতুবী বলেছেন: এটি এমন এক বিদ্যা যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের জন্য শোভনীয় নয়(২)। সামআনী বলেছেন: এই উম্মতের জন্য এই বিদ্যা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত(৩)। তাঁরা এর নানাবিধ শরয়ি, ফিকহি এবং ঐতিহাসিক উপকারের কথা উল্লেখ করেছেন(৪)।

এ কারণেই হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দিময়াতির এই মূল্যবান পাণ্ডুলিপি ‘আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ’ (খাযরাজ গোত্রসমূহের সংবাদ) প্রকাশের গুরুত্ব ফুটে ওঠে; কেননা এটি প্রকাশের মাধ্যমে সেই মুমিনের সামনে পথ আলোকিত হবে, যে দূরদৃষ্টির সাথে আল্লাহর দিকে পরিচালিত হতে চায়।

অতঃপর এই গ্রন্থের লেখক হলেন: শরফুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দিময়াতি (৬১৩ - ৭০৫ হিজরি / ১২১৭ - ১৩০৬ খ্রিস্টাব্দ)। তাঁর সম্পর্কে তাঁর ছাত্র হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মাদ আয-যাহাবি বলেন: আমাদের শায়খ, ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, হুজ্জাহ (প্রমাণ), ফকিহ, বংশবিদ্যাবিশারদ, মুহাদ্দিসগণের প্রধান এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা(৫)। আর তাঁর ছাত্র হাফেজ আবু আল-হাজ্জাজ আল-মিযযি তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি ছিলেন উচ্চ সনদধারী এবং অগাধ দ্বীনদারির অধিকারী মুহাদ্দিস হাফেজগণের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি(৬)। ইবনে হাজার আল-আসকালানি তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি বহু মানুষের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, দীর্ঘায়ু লাভ করেছেন এবং বেশ কিছু বিষয়ে একক বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন। তিনি বংশবিদ্যায় পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর রয়েছে বিশেষ সম্মান ও গাম্ভীর্য(৭)।

তাই এই অনন্য সাধারণ হাফেজের জীবন নিয়ে গবেষণা করা জরুরি, যিনি কীর্তিসমূহ অমর করে রাখার ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রেখেছেন

--------------------------------------------

(১) জামহারাতুহু (পৃ. ২)।

(২) আল-আনবাহু আলা কাবায়িলির রুওয়াত (পৃ. ১১)।

(৩) আল-আনসাব (খণ্ড ১, পৃ. ১৮)।

(৪) এবং আরও দেখুন: আল-কালকাশান্দি রচিত নিহায়াতুল আরাব ফি মা’রিফাতি আনসাবিল আরব (পৃ. ১৩), এবং সালাহুদ্দীন আল-মুনজিদ সম্পাদিত আশরাফ ইবনে রাসুল রচিত তুহফাতুল আসহাব ফি মা’রিফাতিল আনসাব-এর ভূমিকা, এবং মুহাম্মাদ সাঈদ আল-কামাল প্রকাশিত বংশবিদ্যা বিষয়ক মাজমুয়াতুর রাসায়িল আল-কামালিয়্যাহ (৮)।

(৫) তাযকিরাতুল হুফফায (খণ্ড ৪, পৃ. ১৪৭7)।

(৬) ইবনে কাসির রচিত তাবাকাতুল ফুকাহা আশ-শাফিয়্যিন (খণ্ড ২, পৃ. ৯৫১)।

(৭) আদ-দুরারুল কামিনাহ (খণ্ড ২, পৃ. ৪১৭ - ৪১৮)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
هؤلاء «الخزرج وذرياتهم وحلفائهم ومواليهم» ودراسة منهجه وموارده جديرة بالاهتمام لكثرة الفوائد العلمية المستخلصة من علمه وحفظه وإتقانه، ولنتأسي بخيرة سلف هذه الأمة المحمّدية.

***
এঁরাই হলেন «খাযরাজ, তাঁদের বংশধর, তাঁদের মিত্র এবং তাঁদের মুক্তদাসগণ»। তাঁর কর্মপন্থা ও উৎসসমূহ অধ্যয়ন করা বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে, কারণ তাঁর ইলম, স্মৃতিশক্তি এবং নিপুণতা হতে অসংখ্য ইলমি ফায়দা আহরণ করা সম্ভব; আর যেন আমরা এই মুহাম্মাদী উম্মাহর সর্বোত্তম সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারি।

***
(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌(ثانيا) خطة البحث:

تحتوي الرسالة على مقدمة وثلاثة أبواب، والفهارس والملاحق وهي كالتالي:- (الباب الأول): حياة الحافظ عبد المؤمن الدمياطي، وتضمن عشرة فصول:

الفصل الأول: عصر وبيئة الحافظ عبد المؤمن الدمياطي.

الفصل الثاني: اسمه ونسبه ومولده وأسرته وهيأته وأخلاقه.

الفصل الثالث: عناية الحافظ عبد المؤمن الدمياطي بطلب العلم.

الفصل الرابع: رحلات الحافظ عبد المؤمن الدمياطي.

الفصل الخامس: شيوخ الحافظ عبد المؤمن الدمياطي.

الفصل السادس: تلاميذ الحافظ عبد المؤمن الدمياطي.

الفصل السابع: مكانة الحافظ عبد المؤمن الدمياطي العلمية وجهوده.

الفصل الثامن: مؤلفات الحافظ عبد المؤمن الدمياطي، ومروياته ومسموعاته.

الفصل التاسع: تدريس الحافظ عبد المؤمن الدمياطي ومناصبه.

الفصل العاشر: وفاة الحافظ عبد المؤمن الدمياطي رحمه الله تعالى.

(الباب الثاني): دراسة مخطوطة «أخبار قبائل الخزرج» وتضمن ثلاثة فصول:

الفصل الأول: وصف المخطوطة.

الفصل الثاني: منهج الحافظ عبد المؤمن الدمياطي.

الفصل الثالث: موارد الحافظ عبد المؤمن الدمياطي.
(দ্বিতীয়ত) গবেষণা পরিকল্পনা:

এই গবেষণাপত্রটিতে একটি ভূমিকা, তিনটি পরিচ্ছেদ, নির্ঘণ্ট ও পরিশিষ্টসমূহ রয়েছে যা নিম্নরূপ:- (প্রথম পরিচ্ছেদ): হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির জীবনী, এবং এটি দশটি অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অধ্যায়: হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির যুগ ও পরিবেশ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জন্ম, পরিবার, অবয়ব ও চারিত্রিক গুণাবলি।

তৃতীয় অধ্যায়: জ্ঞানার্জনে হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির বিশেষ গুরুত্বারোপ।

চতুর্থ অধ্যায়: হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির ইলমি সফরসমূহ।

পঞ্চম অধ্যায়: হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির শিক্ষকবৃন্দ।

ষষ্ঠ অধ্যায়: হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-dimইয়াতির ছাত্রবৃন্দ।

সপ্তম অধ্যায়: হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির ইলমি মর্যাদা ও তাঁর প্রচেষ্টাসমূহ।

অষ্টম অধ্যায়: হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির রচনাবলি, তাঁর বর্ণিত রেওয়ায়েত ও শ্রবণকৃত বিষয়সমূহ।

নবম অধ্যায়: হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির শিক্ষকতা ও তাঁর পদমর্যাদাসমূহ।

দশম অধ্যায়: হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) ওফাত।

(দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ): ‘আখবারু ক্বাবাইলি আল-খাজরাজ’ পাণ্ডুলিপির অধ্যয়ন এবং এটি তিনটি অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অধ্যায়: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা।

দ্বিতীয় অধ্যায়: হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির কর্মপদ্ধতি।

তৃতীয় অধ্যায়: হাফেজ আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
(الباب الثالث): تحقيق نص كتاب «أخبار قبائل الخزرج» لعبد المؤمن الدمياطي، وتضمن مايلي:- أولا: منهج التحقيق.

ثانيا: تحقيق نص كتاب «أخبار قبائل الخزرج» للحافظ الدمياطي.

ثالثا: أهم نتائج الدراسة والتحقيق.

رابعا: الفهارس الفنية وهي:-

1 - فهرس الآيات الكريمة التي وردت في النص.

2 - فهرس الأحاديث الشريفة التي وردت في النص.

3 - فهرس قبائل الخزرج.

4 - فهرس بطون الخزرج وحلفائهم ومواليهم.

5 - فهرس أسانيد عبد المؤمن الدمياطي التي ساقها في الكتاب.

6 - فهرس المصادر والمراجع.

7 - الملاحق:

أ-نماذج من نسخ المخطوطة.

ب-مشجرات أنساب قبائل الخزرج كما وردت في الكتاب.

***
(তৃতীয় অধ্যায়): আবদুল মুমিন আদ-দিমইয়াতি বিরচিত «আখবারু কাবাইলিল খাজরাজ» গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা, এবং এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:-

প্রথমত: সম্পাদনা পদ্ধতি।

দ্বিতীয়ত: হাফেজ আদ-দিমইয়াতি বিরচিত «আখবারু কাবাইলিল খাজরাজ» গ্রন্থের মূল পাঠের সম্পাদনা।

তৃতীয়ত: অধ্যয়ন ও সম্পাদনার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ।

চতুর্থত: বিন্যাসিত সূচিপত্রসমূহ, যা হলো:-

১ - মূল পাঠে উল্লিখিত পবিত্র আয়াতসমূহের সূচি।

২ - মূল পাঠে উল্লিখিত হাদিস শরিফসমূহের সূচি।

৩ - খাজরাজ গোত্রসমূহের সূচি।

৪ - খাজরাজের উপগোত্র, তাদের মিত্র এবং অনুসারীদের সূচি।

৫ - গ্রন্থে উল্লিখিত আবদুল মুমিন আদ-দিমইয়াতির সনদসমূহের সূচি।

৬ - উৎস ও তথ্যসূত্রের সূচি।

৭ - পরিশিষ্টসমূহ:

ক-পাণ্ডুলিপির অনুলিপিগুলোর নমুনা।

খ-গ্রন্থে বর্ণিত খাজরাজ গোত্রসমূহের বংশবৃক্ষসমূহ।

***
(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌(ثالثا) أهمية علم النسب عند العرب (1):

{يا أَيُّهَا النّاسُ إِنّا خَلَقْناكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثى وَجَعَلْناكُمْ شُعُوباً وَقَبائِلَ لِتَعارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقاكُمْ}(4).

--------------------------------------------

(1) معظم ما كتبته في أهمية علم النسب نقلته من كتابي شيخنا أكرم العمري: طبقات خليفة بن خياط (ص 32 م- 41 م)، وبحوث في تاريخ السنة المشرفة (231 - 241)، وإضافات أخرى ذكرت إحالاتها.

(2) انظر: طبقات النسابين، لبكر أبو زيد (ص 6).

(3) مقدمة المجموعة الكمالية (8) في الأنساب، لمحمد سعيد الكمال (ص 15).

(4) سورة الحجرات، آية (13).

(তৃতীয়ত) আরবদের নিকট বংশবিদ্যার গুরুত্ব (১):

{হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী (আল্লাহভীরু)।}(৪).

--------------------------------------------

(১) বংশবিদ্যার গুরুত্ব সম্পর্কে আমি যা কিছু লিখেছি তার অধিকাংশ আমাদের শায়খ আকরাম আল-উমারীর দুটি গ্রন্থ থেকে সংকলন করেছি: 'তবাকাতু খলিফা ইবনে খইয়াত' (পৃ. ৩২-৪১) এবং 'বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ আল-মুশাররাফাহ' (২৩১ - ২৪১)। এছাড়া আরও কিছু সংযোজন রয়েছে যার উদ্ধৃতিসমূহ আমি উল্লেখ করেছি।

(২) দেখুন: তবাকাতুন নাসসাবিন, বকর আবু যায়েদ (পৃ. ৬)।

(৩) মুকাদ্দিমাতুল মাজমুআতুল কামালিয়াহ (৮) ফিল আনসাব, মুহাম্মদ সাঈদ আল-কামাল (পৃ. ১৫)।

(৪) সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত (১৩)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد نسب النبي صلى الله عليه وسلم نفسه وحض على تعلم الأنساب، فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال:

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تعلموا من أنسابكم ما تصلون به أرحامكم فإن صلة الرحم محبة في الأهل مثراة في المال منسأة في الأثر»(1).

وحذر صلى الله عليه وسلم من الانتساب لغير قوم الرجل،

فعن أبي ذر رضي الله عنه قال: قال صلى الله عليه وسلم: «ليس من رجل ادّعى لغير أبيه وهو يعلمه إلا كفر، ومن ادّعى قوما ليس له فيهم نسب فليتبوأ مقعده من النّار»(2).

وكان الرسول صلى الله عليه وسلم يعرف أنساب قبائل العرب وربما نسب بعض الصحابة، وكان أبو بكر الصديق رضي الله عنه أعلم قريش بأنسابها بشهادة النبي صلى الله عليه وسلم له بذلك، وورد عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قوله: «تعلموا من الأنساب ما تصلون به أرحامكم وتعرفون به ما يحل لكم مما حرم عليكم من النساء؛ ثم انتهوا».

وقد حض النبي صلى الله عليه وسلم على تعلم الأنساب لأن بعضا من الأحكام الشرعية يحتاج في تطبيقها إلى معرفة بالأنساب، ولذلك كانت معرفة الأنساب فرضا على المسلمين ولها فوائد دينية وسياسية واجتماعية فمنها:

معرفة نسب نبينا محمد صلى الله عليه وسلم الذي بعثه الله تعالى بدين الإسلام إلى الإنس والجن.

ومعرفة الإنسان أباه وأمه وكل من يلقاه بنسب في رحم محرمة، وعلى ذلك يترتب معرفة:

--------------------------------------------

(1) سلسلة الأحاديث الصحيحة للألباني رقم (276).

(2) صحيح البخاري، ك/المناقب، ب/نسبة اليمن إلى إسماعيل، (ر/3317)، وصحيح مسلم، ك/الإيمان، ب/بيان حال إيمان من رغب عن أبيه وهو يعلم، (ر/61).

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের বংশপরিচয় ব্যক্ত করেছেন এবং বংশবিদ্যা শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের বংশপরিচয় সম্পর্কে ততটুকু জ্ঞান অর্জন করো, যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারো। কেননা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি করে, সম্পদে বরকত আনে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।"(১)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের কওম ব্যতীত অন্য কারও সাথে বংশীয় সম্বন্ধ যুক্ত করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন,

আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জেনে-শুনে নিজেকে নিজের পিতা ব্যতীত অন্য কারও সন্তান বলে দাবি করে, সে কুফরি করল। আর যে ব্যক্তি নিজেকে এমন কোনো কওমের সাথে সম্পৃক্ত করল যাদের সাথে তার বংশীয় কোনো সম্পর্ক নেই, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"(২)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরব গোত্রসমূহের বংশপরিচয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং কখনো কখনো কিছু সাহাবীর বংশপরম্পরা বর্ণনা করতেন। আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কুরাইশদের বংশবিদ্যা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন, যার সাক্ষ্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে প্রদান করেছিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা বংশবিদ্যা থেকে ততটুকু শিক্ষা করো যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে পারো এবং যার দ্বারা তোমরা জানতে পারো যে নারীদের মধ্যে কাদের তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে এবং কাদের হারাম করা হয়েছে; এরপর ক্ষান্ত হও।"

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশবিদ্যা শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করেছেন, কারণ কিছু শরয়ী বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে বংশপরিচয় জানা প্রয়োজন। এই কারণে বংশবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা মুসলমানদের জন্য জরুরি এবং এর অনেক ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশপরিচয় জানা, যাকে মহান আল্লাহ তাআলা মানব ও জিন জাতির নিকট ইসলাম ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন।

মানুষের তার পিতা, মাতা এবং যাদের সাথে বংশীয় সূত্রে মাহরামের সম্পর্ক রয়েছে তাদের সম্পর্কে জানা। এর উপর ভিত্তি করে যা জানা আবশ্যক তা হলো:

--------------------------------------------

(১) আলবানীর সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহা, নম্বর (২৭৬)।

(২) সহীহ বুখারী, কিতাবুল মানাকিব, অধ্যায়: ইসমাইলের প্রতি ইয়ামেনের নিসবত, (হাদিস নম্বর ৩৩১৭); এবং সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: জেনে-শুনে নিজের পিতাকে অস্বীকারকারীর ঈমানের অবস্থা বর্ণনা, (হাদিস নম্বর ৬১)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
أ-أحكام الورثة.

ب-أحكام الأولياء في النكاح، فيقدم بعضهم على بعض.

ج-أحكام الوقف إذا خص الواقف بعض الأقارب أو بعض الطبقات دون بعض.

د-أحكام العاقلة في الدية حتى تضرب الدية على بعض العصبة دون بعض.

هـ-اعتبار النسب في كفاءة الزوج للزوجة في النكاح عند الشافعي.

و-مراعاة النسب الشريف في المرأة المنكوحة،

لقوله صلى الله عليه وسلم: «تنكح المرأة لأربع؟: لمالها ولحسبها وجمالها ودينها»(1)، والحسب هو شرف الآباء.

ومعرفة الأنساب في تدوين كتب رجال الحديث الشريف.

ومعرفة أسماء أمهات المؤمنين المفروض حقهن على جميع المسلمين، ونكاحهن حرام على جميع المؤمنين.

ومعرفة أسماء أكابر الصحابة من المهاجرين والأنصار.

ومعرفة من يجب له حق في الخمس من ذوي القربى.

ومعرفة من تحرم عليه الصدقة من آل محمد صلى الله عليه وسلم(2).

ولما أنشأ أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه ديوان الجند رتبه على القبائل، وراعى فيه رضي الله عنه القرابة من النبي صلى الله عليه وسلم في تسلسل القبائل التي سجلها، فقدم

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، ك/النكاح، ب/الأكفاء في الدين، (ر/4802)، وصحيح مسلم، ك/الرضاع، ب/استحباب نكاح ذات الدين، (ر/1466).

(2) انظر: جمهرة ابن حزم (ص 2 - 3)، وطرفة الأصحاب (ص 14 - 15)، ونهاية الأرب للقلقشندي (ص 13 - 14).

ক- উত্তরাধিকারীদের বিধানসমূহ।

খ- বিবাহে অভিভাবকদের বিধানসমূহ, যেখানে একজনকে অন্যের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

গ- ওয়াকফের বিধানসমূহ, যখন ওয়াকফকারী কিছু আত্মীয় বা কিছু স্তরকে অন্যদের বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট করেন।

ঘ- রক্তপণের (দিয়াত) ক্ষেত্রে 'আকিলাহ' (রক্তপণ বহনকারী আত্মীয়)-এর বিধানসমূহ, যাতে রক্তপণ কিছু আসাবার (পিতা বা পুত্র পক্ষীয় আত্মীয়) ওপর ধার্য করা হয় এবং অন্যদের বাদ দেওয়া হয়।

ঙ- ইমাম শাফেয়ীর মতে বিবাহে স্ত্রীর জন্য স্বামীর সমতা (কুফু) বিচারে বংশমর্যাদাকে বিবেচনা করা।

চ- বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে উচ্চবংশীয় আভিজাত্যের প্রতি লক্ষ্য রাখা,

যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নারীদের চারটি গুণের কারণে বিবাহ করা হয়: তাদের সম্পদ, তাদের বংশমর্যাদা, তাদের সৌন্দর্য এবং তাদের দ্বীনদারী»(১), আর 'হাসাব' (বংশমর্যাদা) হলো পূর্বপুরুষদের আভিজাত্য।

এবং ইলমে হাদিসের বর্ণনাকারীদের (রিজাল) জীবনী গ্রন্থ সংকলনে বংশতালিকাসমূহ জানা।

এবং উম্মাহাতুল মুমিনীনগণের নাম জানা, যাদের হক আদায় করা সমস্ত মুসলিমের ওপর আবশ্যক এবং যাদের বিবাহ করা সমস্ত মুমিনের ওপর হারাম।

এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে প্রবীণ সাহাবীদের নাম জানা।

এবং (গনিমতের মালের) এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) যাদের জন্য পাওনা, সেই নিকটাত্মীয়দের চেনা।

এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধরদের মধ্যে কাদের ওপর সাদকা হারাম তা জানা(২)।

যখন আমিরুল মুমিনীন ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সৈনিকদের জন্য দেওয়ান (রেজিস্ট্রার) প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তিনি তা গোত্রভিত্তিক বিন্যাস করেন। সেখানে তিনি নিবন্ধিত গোত্রসমূহের ধারাবাহিকতায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের আত্মীয়তার নৈকট্যকে বিবেচনায় রেখেছিলেন। ফলে তিনি অগ্রাধিকার দেন—

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, বিবাহ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: দ্বীনের ক্ষেত্রে সমতা, (হা/৪৮০২), এবং সহিহ মুসলিম, দুগ্ধপান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: দ্বীনদার নারীকে বিবাহ করা মুস্তাহাব, (হা/১৪৬৬)।

(২) দেখুন: জমহুরাহ ইবনে হাজম (পৃ. ২ - ৩), তুহফাতুল আসহাব (পৃ. ১৪ - ১৫), এবং নিহায়াতুল আরাব লিল কালকাশান্দি (পৃ. ১৩ - ১৪)।

(খণ্ড: ১) আখবারু কাবায়িলিল খাযরাজ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
بني هاشم على غيرهم من العشائر القرشية، وقدم قريشا على غيرها من القبائل العربية، وقد أصبح هذا التسلسل في ترتيب العشائر أساسا اتبعته كتب النسب التي كتبت في النصف الثاني من القرن الثاني الهجري فما بعد، ويمكن أن نعد ديوان الجند أول تقييد شامل للأنساب، وكانت الحاجات العملية هي التي أدت إلى ظهوره.

وذكر عبد العزيز الدوري: أنه كان لدى القبائل العربية كتب وسجلات حفظت فيها أنسابها وأخبارها وأشعارها وذلك خلال القرن الأول للهجرة(1).

ولقد أعطت السابقة إلى الإسلام والمشاركة في الغزوات الأولى مع النبي صلى الله عليه وسلم أصحابها مكانة مرموقة بين المسلمين، وهذا ما حدث للمهاجرين الأولين وأهل بدر وأحد وأهل العقبة من الأنصار، وقد امتدت تلك الآثار إلى أبنائهم وأحفادهم، فاهتم هؤلاء بحفظ أنسابهم والتعريف بها لما في ذلك من قيمة اجتماعية.

وقد ظل التماسك القبلي قويا عندما استقر العرب في الأمصار المفتوحة فكانت خطط الأمصار التوطينية كالكوفة والبصرة، قائمة على أساس قبلي حيث سكنت كل عشيرة في موضع خاص بها، فكانت القبيلة تمثل الوحدة العسكرية في ميادين القتال كما كانت أساسا للتنظيم الاجتماعي والإداري في الأمصار.

ومما تقدم نجد أن معرفة الأنساب ضرورة دينية وأخلاقية واجتماعية وعسكرية وإدارية، فاستمر الاهتمام بها حتى برز في ظل الدولة الإسلامية عدد من كبار النسابين الذين كانوا يعتمدون على ذاكرتهم قبل تدوين الأنساب، منهم من جيل الصحابة رضي الله عنهم:

--------------------------------------------

(1) كتب الأنساب وتاريخ الجزيرة العربية، (مجلة دراسات تاريخ الجزيرة العربية، الجزء الأول ص 129).

বনু হাশিমকে কুরাইশ বংশের অন্যান্য গোত্রের ওপর এবং কুরাইশকে অন্যান্য আরব গোত্রের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। গোত্র বিন্যাসের এই ক্রমধারাটি দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ এবং তার পরবর্তী সময়ে রচিত বংশলতিকা বিষয়ক গ্রন্থসমূহের অনুসৃত ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। আর আমরা ‘দিওয়ানুল জুন্দ’ (সৈন্যদপ্তর)-কে বংশলতিকার প্রথম ব্যাপক নথিভুক্তকরণ হিসেবে গণ্য করতে পারি; মূলত ব্যবহারিক প্রয়োজনেই এর উদ্ভব ঘটেছিল।

আব্দুল আজিজ আদ-দাওরী উল্লেখ করেছেন যে: প্রথম হিজরি শতাব্দীতে আরব গোত্রগুলোর নিকট এমন কিছু গ্রন্থ ও নিবন্ধন খাতা ছিল যাতে তারা তাদের বংশপরিচয়, ইতিহাস ও কবিতা সংরক্ষণ করত(১)।

ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামিতা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে প্রাথমিক যুদ্ধগুলোতে অংশগ্রহণ মুসলিমদের মাঝে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এক মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দান করেছিল। আর এটিই ঘটেছিল প্রাথমিক যুগের মুহাজির, বদর ও উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং আনসারদের মধ্য হতে ‘আকাবা’র শপথ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে। সেই প্রভাব তাদের সন্তান ও বংশধরদের পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল; ফলে সামাজিক গুরুত্বের কারণে তারা তাদের বংশপরিচয় সংরক্ষণ ও তার পরিচিতি তুলে ধরার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করতেন।

আরবগণ যখন বিজিত শহরগুলোতে বসতি স্থাপন করেন, তখনো তাদের গোত্রীয় সংহতি সুদৃঢ় ছিল। ফলে কুফা ও বসরার মতো শহরগুলোর আবাসন পরিকল্পনা গোত্রীয় ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছিল, যেখানে প্রতিটি গোত্র তাদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করত। ফলে রণক্ষেত্রে যেমন গোত্রগুলো একেকটি সামরিক ইউনিটের প্রতিনিধিত্ব করত, তেমনি শহরগুলোতেও তা ছিল সামাজিক ও প্রশাসনিক সংগঠনের মূল ভিত্তি।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, বংশলতিকার জ্ঞান লাভ করা একটি ধর্মীয়, নৈতিক, সামাজিক, সামরিক ও প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা ছিল। তাই এর প্রতি গুরুত্বারোপ অব্যাহত থাকে, যার ফলে ইসলামি রাষ্ট্রের অধীনে বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত বংশলতিকা বিশারদ (নাসসাব) আত্মপ্রকাশ করেন, যারা বংশলতিকা লিপিবদ্ধ হওয়ার পূর্বে তাদের প্রখর স্মৃতির ওপর নির্ভর করতেন। তাদের মধ্যে সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রজন্মের ব্যক্তিবর্গও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন:

--------------------------------------------

(১) কুতুবুল আনসাব ওয়া তারিখুল জাজিরাতিল আরাবিয়্যাহ, (মাজাল্লাতু দিরাসাতিন তারিখিল জাজিরাতিল আরাবিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, ১২৯ পৃষ্ঠা)।