(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: -)
التلويح على التوضيح لمتن التنقيح   (السعد التفتازاني - المحبوبي صدر الشريعة الأصغر)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: التلويح على التوضيح لمتن التنقيح في أصول الفقه

المؤلف: سعد الدين مسعود بن عمر التفتازاني (ت 792 هـ)

ومعه: التوضيح في حل غوامض التنقيح، لصدر الشريعة المحبوبي (ت 747 هـ)

الناشر: مطبعة محمد علي صبيح وأولاده بالأزهر - مصر

الطبعة: 1377 هـ - 1957 م

عدد الأجزاء: 2

(وصَوّرَتْها: دار الكتب العلمية - بيروت)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تنبيه: «التوضيح في حل غوامض التنقيح» لصدر الشريعة المحبوبي بأعلى الصفحة، يليه -مفصولا بفاصل- شرْحُه: «التلويح على التوضيح» للسعد التفتازاني

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাতনুত তানকিহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আত-তাওদিহ-এর ওপর টিকাগ্রন্থ আত-তালউইহ    (আস-সাদ আত-তাফতাজানি - আল-মাহবুবি সদরুশ শরিয়াহ আল-আসগার)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্রের মূলনীতি)

বই: উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের মাতনুত তানকিহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আত-তাওদিহ-এর ওপর টিকাগ্রন্থ আত-তালউইহ

লেখক: সাদুদ দ্বীন মাসউদ ইবনে উমর আত-তাফতাজানি (মৃত্যু ৭৯২ হিজরি)

এবং এর সাথে রয়েছে: তানকিহ-এর জটিল বিষয়সমূহের সমাধানে আত-তাওদিহ, লেখক: সদরুশ শরিয়াহ আল-মাহবুবি (মৃত্যু ৭৪৭ হিজরি)

প্রকাশক: আল-আজহারস্থ মুহাম্মদ আলী সাবিহ ও তাঁর সন্তানগণের মুদ্রণালয় - মিশর

সংস্করণ: ১৩৭৭ হিজরি - ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

(মুদ্রণ ও পুনঃপ্রকাশ: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত)

[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

সতর্কতা: «আত-তাওদীহ ফী হাল্লি গাওয়ামিদিন তানকীহ» সদরুশ শরীয়াহ আল-মাহবুবী কর্তৃক পৃষ্ঠার উপরিভাগে রয়েছে, যার পর -একটি বিভাজক দ্বারা পৃথককৃত- সেটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে: «আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ» যা সা’দ উদ্দীন তাফতাজানী কর্তৃক রচিত

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

‌‌[التلويح]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْكَمَ بِكِتَابِهِ أُصُولَ الشَّرِيعَةِ الْغَرَّاءِ، وَرَفَعَ بِخِطَابِهِ فُرُوعَ الْحَنِيفِيَّةِ السَّمْحَةِ الْبَيْضَاءِ، حَتَّى أَضْحَتْ كَلِمَتُهُ الْبَاقِيَةُ رَاسِخَةَ الْأَسَاسِ شَامِخَةَ الْبِنَاءِ. كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ، أَوْقَدَ مِنْ مِشْكَاةِ السُّنَّةِ لِاقْتِبَاسِ أَنْوَارِهَا سِرَاجًا وَهَّاجًا، وَأَوْضَحَ لِإِجْمَاعِ الْآرَاءِ عَلَى اقْتِفَاءِ آثَارِهَا قِيَاسًا وَمِنْهَاجًا، حَتَّى صَادَفْت بِحَارَ الْعِلْمِ وَالْهُدَى تَتَلَاطَمُ أَمْوَاجًا. وَرَأَيْت النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا، وَالصَّلَاةُ عَلَى مَنْ أَرْسَلَهُ لِسَاطِعِ الْحُجَّةِ مِعْوَانًا وَظَهِيرًا، وَجَعَلَهُ لِوَاضِحِ الْمَحَجَّةِ سُلْطَانًا وَنَصِيرًا، مُحَمَّدٍ الْمَبْعُوثِ هُدًى لِلْأَنَامِ مُبَشِّرًا وَنَذِيرًا، وَدَاعِيًّا إلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا، ثُمَّ عَلَى مَنْ الْتَزَمَ بِمُقْتَضَى إشَارَاتِهِ الدَّالَّةِ عَلَى طَرِيقِ الْعِرْفَانِ، وَاعْتَصَمَ فِيهَا بِمَا تَوَاتَرَ مِنْ نُصُوصِهِ الظَّاهِرَةِ الْبَيَانَ، وَاغْتَنَمَ فِي شَرِيفِ سَاحَتِهِ كَرَامَةَ الِاسْتِصْحَابِ وَالِاسْتِحْسَانِ، مِنْ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَاَلَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ.

وَبَعْدُ فَإِنَّ عِلْمَ الْأُصُولِ الْجَامِعَ بَيْنَ الْمَعْقُولِ وَالْمَنْقُولِ، النَّافِعَ فِي الْوُصُولِ إلَى مَدَارِك الْمَحْصُولِ أَجَلُّ مَا يَتَنَسَّمُ فِي إحْكَامِ أَحْكَامِ الشَّرْعِ قَبُولَ الْقَبُولِ، وَأَعَزُّ مَا يُتَّخَذُ لِإِعْلَاءِ أَعْلَامِ الْحَقِّ عَقُولُ الْعُقُولِ، وَإِنَّ كِتَابَ التَّنْقِيحِ - مَعَ شَرْحِهِ الْمُسَمَّى بِالتَّوْضِيحِ لِلْإِمَامِ الْمُحَقِّقِ وَالنِّحْرِيرِ الْمُدَقِّقِ عَلَمِ الْهِدَايَةِ وَعَالِمِ الدِّرَايَةِ مُعَدِّلِ مِيزَانِ الْمَعْقُولِ، وَالْمَنْقُولِ، وَمُنَقِّحِ أَغْصَانِ الْفُرُوعِ وَالْأُصُولِ صَدْرِ الشَّرِيعَةِ وَالْإِسْلَامِ، أَعْلَى اللَّهُ دَرَجَتَهُ فِي دَارِ السَّلَامِ - كِتَابٌ شَامِلٌ لِخُلَاصَةِ كُلِّ مَبْسُوطٍ وَافٍ، وَنِصَابٌ كَامِلٌ مِنْ خِزَانَةِ كُلِّ مُنْتَخَبٍ كَافٍ، وَبَحْرٌ مُحِيطٌ بِمُسْتَصْفَى كُلِّ مَدِيدٍ وَبَسِيطٍ، وَكَنْزٌ مُغْنٍ عَمَّا سِوَاهُ مِنْ كُلِّ وَجِيزٍ وَوَسِيطٍ، فِيهِ كِفَايَةٌ لِتَقْدِيمِ مِيزَانِ الْأُصُولِ وَتَهْذِيبِ أَغْصَانِهَا، وَهُوَ نِهَايَةٌ فِي تَحْصِيلِ مَبَانِي الْفُرُوعِ وَتَعْدِيل أَرْكَانِهَا، نَعَمْ قَدْ سَلَكَ مِنْهَاجًا بَدِيعًا فِي كَشْفِ أَسْرَارِ التَّحْقِيقِ، وَاسْتَوْلَى عَلَى الْأَمَدِ الْأَقْصَى مِنْ رَفْعِ مَنَارِ التَّدْقِيقِ، مَعَ شَرِيفِ زِيَادَاتٍ مَا مَسَّتْهَا أَيْدِي الْأَفْكَارِ، وَلَطِيفِ مَا فَتَقَ بِهَا رَتْقَ آذَانِهِمْ أُولُو الْأَبْصَارِ، وَلِهَذَا طَارَ كَالْأَمْطَارِ فِي الْأَقْطَارِ، وَصَارَ كَالْأَمْثَالِ فِي الْأَمْصَارِ، وَنَالَ فِي الْآفَاقِ حَظًّا مِنْ الِاشْتِهَارِ، وَلَا اشْتِهَارَ الشَّمْسِ فِي نِصْفِ النَّهَارِ.

وَقَدْ صَادَفْت مُجْتَازِي مَا وَرَاءَ النَّهْرِ لِكَثِيرٍ مِنْ فُضَلَاءِ الدَّهْرِ أَفْئِدَةً تَهْوَى إلَيْهِ وَأَكْبَادًا هَائِمَةً عَلَيْهِ، وَعُقُولًا جَاثِيَةً بَيْنَ يَدَيْهِ، وَرَغَبَاتٍ مُسْتَوْقِفَةَ الْمَطَايَا لَدَيْهِ، مُعْتَصِمِينَ فِي كَشْفِ أَسْتَارِهِ بِالْحَوَاشِي وَالْأَطْرَافِ، قَانِعِينَ فِي بِحَارِ أَسْرَارِهِ عَلَى اللَّآلِئِ بِالْأَصْدَافِ لَا تَحُلُّ أَنَامِلُ الْأَنْظَارِ عُقَدَ مُعْضِلَاتِهِ

—

[আত-তালউইহ]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর কিতাবের মাধ্যমে উজ্জ্বল শরীয়তের মূলনীতিসমূহকে সুদৃঢ় করেছেন এবং তাঁর বাণীর মাধ্যমে সহজ-সরল ও শুভ্র হানিফী মিল্লাতের শাখা-প্রশাখাগুলোকে সমুন্নত করেছেন; ফলে তাঁর চিরস্থায়ী বাণী সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর এক সুউচ্চ প্রাসাদে পরিণত হয়েছে। তা যেন এক উত্তম বৃক্ষ, যার মূল গভীরে প্রোথিত এবং শাখা আকাশে বিস্তৃত। তিনি সুন্নাহর প্রদীপাধার থেকে এর আলো গ্রহণের জন্য এক উজ্জ্বল প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করেছেন এবং এর পদাঙ্ক অনুসরণে ঐক্যবদ্ধ মতামতের জন্য কিয়াস ও পদ্ধতিকে সুস্পষ্ট করেছেন, ফলে আমি জ্ঞান ও হিদায়াতের সাগরসমূহকে উত্তাল ঢেউয়ের মতো দেখতে পেলাম। এবং আমি দেখলাম যে মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করছে। এবং সালাত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাকে তিনি উজ্জ্বল দলীল প্রতিষ্ঠায় সাহায্যকারী ও সহায়করূপে পাঠিয়েছেন এবং যাকে সুস্পষ্ট পথের জন্য শক্তি ও সাহায্যকারী করেছেন; তিনি হলেন মুহাম্মদ, যাকে সৃষ্টির হিদায়াত স্বরূপ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করা হয়েছে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপরূপে। অতঃপর সালাত বর্ষিত হোক তাদের ওপর, যারা সত্য পরিচয়ের পথপ্রদর্শক তাঁর ইঙ্গিতসমূহের দাবি অনুযায়ী অটল রয়েছে এবং যারা তাতে তাঁর সুস্পষ্ট ও মুতাওয়াতির বর্ণনাগুলোকে আঁকড়ে ধরেছে এবং যারা তাঁর মহান আঙ্গিনায় ইস্তিসহাব ও ইস্তিহসানের সম্মান ও মর্যাদা অর্জন করেছে—তাঁরা হলেন মুহাজির, আনসার এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন।

অতঃপর, নিশ্চয়ই উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্র যা বুদ্ধিগত ও শ্রুতিগত জ্ঞানের সমন্বয়কারী এবং যা অর্জিত জ্ঞানের উপলব্ধিতে পৌঁছাতে অত্যন্ত উপকারী; শরীয়তের বিধানসমূহ সুদৃঢ়করণের ক্ষেত্রে তা গ্রহণীয় বিষয়গুলোর মধ্যে অতি মহান, এবং সত্যের পতাকাকে সমুন্নত করার জন্য বিচারবুদ্ধির নির্যাসসমূহের মধ্যে এটি অতি মূল্যবান পাথেয়। আর নিশ্চয়ই ‘তানকীহ’ কিতাবটি—তার ‘তাওদীহ’ নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ, যা গবেষক ইমাম, সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিত, হেদায়েতের আলোকবর্তিকা, গভীর জ্ঞানের অধিকারী, বুদ্ধিগত ও শ্রুতিগত জ্ঞানের মানদণ্ড নির্ধারণকারী এবং শাখা ও মূলনীতির ডালপালার সংস্কারক ‘সদরুশ শরীয়াহ ওয়াল ইসলাম’—আল্লাহ জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন—কর্তৃক রচিত; এটি এমন এক গ্রন্থ যা প্রতিটি বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ রচনার সারমর্মকে ধারণ করে আছে এবং প্রতিটি পর্যাপ্ত ও নির্বাচিত গ্রন্থের ভাণ্ডার হতে এক পূর্ণাঙ্গ অংশ স্বরূপ। এটি প্রতিটি দীর্ঘ ও বিস্তৃত গ্রন্থের নির্যাসবেষ্টিত এক মহাসমুদ্র এবং প্রতিটি সংক্ষিপ্ত ও মধ্যম মানের গ্রন্থ হতে অমুখাপেক্ষীকারী এক গুপ্তধন। এতে উসুলের মানদণ্ড উপস্থাপন এবং এর শাখা-প্রশাখা সংস্কারের জন্য যথেষ্ট উপকরণ রয়েছে। আর এটি ফুরু (শাখা)-এর বুনিয়াদ অর্জন এবং এর স্তম্ভসমূহ বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়। হ্যাঁ, তিনি গবেষণার রহস্য উন্মোচনে এক অনন্য পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন এবং সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মিনার সমুন্নত করার ক্ষেত্রে দূরতম লক্ষ্যে পৌঁছেছেন। এতে রয়েছে এমন কিছু শ্রেষ্ঠ সংযোজন যা ইতিপূর্বে চিন্তার হাত স্পর্শ করেনি, এবং এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয় যার দ্বারা প্রজ্ঞাবানগণ তাদের কর্ণের রুদ্ধ দুয়ার উন্মোচন করেছেন। এ কারণেই তা বৃষ্টির ন্যায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এবং জনপদসমূহে প্রবাদের ন্যায় প্রসিদ্ধ হয়েছে। এটি দিগন্তজুড়ে এমন খ্যাতি অর্জন করেছে যা দ্বিপ্রহরের সূর্যের ন্যায় দেদীপ্যমান।

এবং আমি মা-ওয়ারাউন নাহর অতিক্রম করার সময় এ সময়ের বহু গুণীজনের মধ্যে এমন সব অন্তর পেয়েছি যা এর প্রতি অনুরাগী, এমন সব প্রাণ যা এর জন্য ব্যাকুল, এমন সব বুদ্ধি যা এর সামনে নতজানু এবং এমন সব আকাঙ্ক্ষা যা এর সমীপে বাহনসমূহকে থামিয়ে দিয়েছে। তারা এর রহস্যের পর্দা উন্মোচনে কেবল পার্শ্বটীকা ও প্রান্তিক টীকাসমূহের আশ্রয় নিয়েছিল এবং এর রহস্যের অগাধ সমুদ্রে মুক্তার বিনিময়ে ঝিনুকেই তুষ্ট ছিল; সূক্ষ্ম দৃষ্টির আঙুলসমূহ এর জটিল বিষয়গুলোর গ্রন্থি উন্মোচন করতে পারছিল না।

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مُقَدِّمَة]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ حَامِدًا لِلَّهِ تَعَالَى أَوَّلًا وَثَانِيًا وَلِعَنَانِ الثَّنَاءِ إلَيْهِ ثَانِيًا وَعَلَى أَفْضَلِ رُسُلِهِ وَآلِهِ مُصَلِّيًا وَفِي حَلْبَةِ

ــ

‌‌[التلويح]

وَلَا يَفْتَحُ بَنَانُ الْبَيَانِ أَبْوَابَ مُغْلَقَاتِهِ فَلَطَائِفُهُ بَعْدُ تَحْتَ حُجُبِ الْأَلْفَاظِ مَسْتُورَةٌ وَخَرَائِدُهُ فِي خِيَامِ الْأَسْتَارِ مَقْصُورَةٌ تَرَى حَوَالَيْهَا هِمَمًا مُسْتَشْرِفَةَ الْأَعْنَاقِ، وَدُونَ الْوُصُولِ إلَيْهَا أَعْيُنًا سَاهِرَةَ الْأَحْدَاقِ، فَأَمَرْت بِلِسَانِ الْإِلْهَامِ، لَا كَوَهْمٍ مِنْ الْأَوْهَامِ، أَنْ أَخُوضَ فِي لُجَجِ فَوَائِدِهِ وَأَغُوصَ عَلَى غُرَرِ فَرَائِدِهِ، وَأَنْشُرَ مَطْوِيَّاتِ رُمُوزِهِ، وَأُظْهِرَ مَخْفِيَّاتِ كُنُوزِهِ، وَأُسَهِّلَ مَسَالِكَ شِعَابِهِ، وَأُذَلِّلَ شَوَارِدَ صِعَابِهِ، بِحَيْثُ يَصِيرُ الْمَتْنُ مَشْرُوحًا، وَيَزِيدُ الشَّرْحُ بَيَانًا وَوُضُوحًا، فَطَفِقْت أَقْتَحِمُ مَوَارِدَ الشَّهْرِ فِي ظُلَمِ الدَّيَاجِرِ، وَأَحْتَمِلُ مُكَابَدَ الْفِكْرِ فِي ظَمَإِ الْهَوَاجِرِ، رَاكِبًا كُلَّ صَعْبٍ وَذَلُولٍ، لِاقْتِنَاصِ شَوَارِدِ الْأُصُولِ، وَنَازِفًا غِلَالَةَ الْجِدِّ فِي الْأُصُولِ إلَى مَقَاصِدِ الْأَبْوَابِ وَالْفُصُولِ، حَتَّى اسْتَوْلَيْت عَلَى الْغَايَةِ الْقُصْوَى مِنْ أَسْرَارِ الْكِتَابِ، وَأَمَطْت عَنْ وُجُوهِ خَرَائِدِ قِنَاعِ الِارْتِيَابِ، ثُمَّ جَمَعْت هَذَا الشَّرْحَ الْمَرْسُومَ بِالتَّلْوِيحِ إلَى كَشْفِ حَقَائِقِ التَّنْقِيحِ.

مُشْتَمِلًا عَلَى تَقْرِيرِ قَوَاعِدِ الْفَنِّ وَتَحْرِيرِ مَعَاقِدِهِ، وَتَفْسِيرِ مَقَاصِدِ الْكِتَابِ وَتَكْثِيرِ فَوَائِدِهِ، مَعَ تَنْقِيحٍ لِمَا آثَرَ فِيهِ الْمُصَنِّفُ بَسْطَ الْكَلَامِ، وَتَوْضِيحٍ لِمَا اقْتَصَرَ فِيهِ عَلَى ضَبْطِ الْمَرَامِ، فِي ضِمْنِ تَقْرِيرَاتِ تَنْفَتِحُ لِوُرُودِهَا أَصْدَافُ الْآذَانِ، وَتَحْقِيقَاتٍ تَهْتَزُّ لِإِدْرَاكِهَا أَعْطَافُ الْأَذْهَانِ، وَتَوْجِيهَاتٍ يَنْشَطُ لِاسْتِمَاعِهَا الْكَسْلَانُ، وَتَقْسِيمَاتٍ يَطْرَبُ عِنْدَ سَمَاعِهَا الثَّكْلَانُ، مُعَوِّلًا فِي مُتُونِ الرِّوَايَةِ عَلَى مَا اُشْتُهِرَ مِنْ الْكُتُبِ الشَّرِيفَةِ، وَمُعَرِّجًا فِي عُيُونِ الدِّرَايَةِ عَلَى مَا تَقَرَّرَ مِنْ النُّكَتِ اللَّطِيفَةِ، وَسَيَحْمَدُ الْغَائِصُ فِي بِحَارِ التَّحْقِيقِ الْفَائِضِ عَلَيْهِ أَنْوَارُ التَّوْفِيقِ، مَا أَوْدَعْت هَذَا الْكِتَابَ الَّذِي لَا يَسْتَكْشِفُ الْقِنَاعَ عَنْ حَقَائِقِهِ إلَّا الْمَاهِرُ مِنْ عُلَمَاءِ الْفَرِيقَيْنِ، وَلَا يَسْتَهِلُّ لِلِاطِّلَاعِ عَلَى دَقَائِقِهِ إلَّا الْبَارِعُ فِي أُصُولِ الْمَذْهَبَيْنِ، مَعَ بِضَاعَةٍ فِي صِنَاعَةِ التَّوْجِيهِ وَالتَّعْدِيلِ، وَإِحَاطَةٍ بِقَوَانِينِ، الِاكْتِسَابِ وَالتَّحْصِيلِ، وَاَللَّهُ سُبْحَانَهُ وَلِيُّ الْإِعَانَةِ وَالتَّأْيِيدِ، وَالْمَلِيُّ بِإِفَاضَةِ الْإِصَابَةِ وَالتَّسْدِيدِ، وَهُوَ حَسْبِي وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.

(قَوْلُهُ حَامِدًا) حَالٌ مِنْ الْمُسْتَكِنِ فِي مُتَعَلَّقِ الْبَاءِ أَيْ بِسْمِ اللَّهِ أَبْتَدِئُ الْكِتَابَ حَامِدًا آثَرَ طَرِيقَةَ الْحَالِ عَلَى مَا هُوَ الْمُتَعَارَفُ عِنْدَهُمْ مِنْ الْجُمْلَةِ الِاسْمِيَّةِ وَالْفِعْلِيَّةِ نَحْوُ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَأَحْمَدُ اللَّهَ تَسْوِيَةً بَيْنَ الْحَمْدِ وَالتَّسْمِيَةِ وَرِعَايَةً لِلتَّنَاسُبِ بَيْنَهُمَا فَقَدْ وَرَدَ فِي الْحَدِيثِ «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَمْ يُبْدَأْ فِيهِ بِبِسْمِ اللَّهِ فَهُوَ أَبْتَرُ كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَمْ يُبْدَأْ فِيهِ بِالْحَمْدِ لِلَّهِ فَهُوَ أَجْزَمُ» فَحَاوَلَ أَنْ يَجْعَلَ الْحَمْدَ قَيْدًا لِلِابْتِدَاءِ حَالًا عَنْهُ كَمَا وَقَعَتْ التَّسْمِيَةُ كَذَلِكَ إلَّا أَنَّهُ
[ভূমিকা]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করছি প্রথমত ও দ্বিতীয়ত, এবং প্রশংসার লাগাম তাঁরই দিকে দ্বিতীয়বার ফেরাচ্ছি, আর তাঁর শ্রেষ্ঠ রাসূল ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর দরুদ পাঠ করছি এবং এই প্রতিযোগিতার ময়দানে

—

[আত-তালউইহ] বর্ণনার আঙুল তার রুদ্ধ দ্বারসমূহ উন্মোচন করতে পারে না। কারণ তার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো এখনো শব্দের পর্দার অন্তরালে লুকায়িত এবং তার অনন্য তত্ত্বসমূহ আবরণের তাবুর ভেতরে আবদ্ধ। আপনি তার চারপাশে দীর্ঘগ্রীবা আকাঙ্ক্ষাসমূহ দেখতে পাবেন, আর সেখানে পৌঁছানোর পথে রয়েছে অনিদ্র নয়নমণি। অতঃপর আমি ইলহামের (ঐশী প্রেরণা) ভাষায় আদিষ্ট হলাম—যা কোনো কাল্পনিক ধারণা নয়—যেন আমি তার উপকারিতার অতল সাগরে অবগাহন করি এবং তার দুর্লভ মুক্তাসমূহ আহরণে ডুব দেই। এবং তার সংকেতসমূহের ভাঁজ উন্মোচন করি, তার গুপ্ত ভাণ্ডারসমূহ প্রকাশ করি, তার দুর্গম পথগুলোকে সহজ করি এবং তার কঠিন ও জটিল বিষয়গুলোকে বশীভূত করি; যাতে মূল পাঠটি ব্যাখ্যায়িত হয় এবং ব্যাখ্যাটি বর্ণনায় আরও স্পষ্ট ও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। ফলে আমি ঘোর অন্ধকারের মাঝে রাত জাগরণের পথে অগ্রসর হতে শুরু করলাম এবং দ্বিপ্রহরের তৃষ্ণার ন্যায় চিন্তার ক্লেশ সহ্য করতে লাগলাম; মূলনীতির জটিল বিষয়গুলো শিকার করার জন্য আমি প্রতিটি কঠিন ও সহজ পথ পাড়ি দিয়েছি এবং মূলনীতিসমূহে কঠোর পরিশ্রমের চরম সীমায় পৌঁছেছি, যাতে অধ্যায় ও পরিচ্ছেদসমূহের মূল লক্ষ্য অর্জন করা যায়। অবশেষে আমি কিতাবের রহস্যের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হলাম এবং তার সূক্ষ্ম অর্থরাজির চেহারা থেকে সন্দেহের পর্দা উন্মোচন করলাম। এরপর আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সংকলন করলাম, যার নাম দিয়েছি 'আত-তালওয়ীহ ইলা কাশফি হাকায়িকিত তানকীহ'। এটি এই শিল্পের মূলনীতিসমূহের সংস্থাপন ও এর নিগূঢ় বিষয়সমূহের বিশ্লেষণ, এবং কিতাবের লক্ষ্যসমূহের ব্যাখ্যা ও এর উপকারিতাসমূহের সম্প্রসারণকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর সাথে রয়েছে সেই সকল বিষয়ের পরিমার্জন যেখানে গ্রন্থকার দীর্ঘ আলোচনার অবতারণা করেছেন এবং সেই সকল বিষয়ের স্পষ্টীকরণ যেখানে তিনি কেবল মূল উদ্দেশ্যটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। এ সবকিছু এমন সব উপস্থাপনার মাধ্যমে যা শ্রবণে কর্ণের কর্ণকুহর উন্মোচিত হয় এবং এমন সব গবেষণালব্ধ সত্যের মাধ্যমে যার উপলব্ধিতে মেধার দিগন্ত পুলকিত হয়। আরও রয়েছে এমন সব দিকনির্দেশনা যা শ্রবণে অলস ব্যক্তিও উদ্যমী হয়ে ওঠে এবং এমন সব বিন্যাস যা শুনে শোকসন্তপ্ত ব্যক্তিও উৎফুল্ল হয়। বর্ণনার মূল পাঠসমূহের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ও সম্মানিত গ্রন্থাবলির ওপর নির্ভর করা হয়েছে এবং জ্ঞানলব্ধ নিগূঢ় তত্ত্বের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও সূক্ষ্ম বিষয়াবলির প্রতি প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে। অচিরেই গবেষণার সমুদ্রে অবগাহনকারী ব্যক্তি—যার ওপর তাওফিকের নূর বিচ্ছুরিত হয়েছে—এই কিতাবে আমার গচ্ছিত রাখা বিষয়বস্তুর প্রশংসা করবে; এমন এক কিতাব যার গূঢ় রহস্যের আবরণ কেবল উভয় দলের বিজ্ঞ আলেমগণই উন্মোচন করতে পারেন এবং যার সূক্ষ্ম বিষয়াবলি অবগত হওয়ার জন্য কেবল উভয় মাযহাবের উসূলে পারদর্শীগণই সক্ষম। সাথে প্রয়োজন হবে ব্যাখ্যা প্রদান ও যৌক্তিক বিন্যাসের শৈল্পিক পুঁজি এবং জ্ঞান অর্জন ও লাভের নিয়মাবলির ওপর পূর্ণ দখল। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা সাহায্য ও সমর্থনের অভিভাবক এবং তিনিই নির্ভুলতা ও সঠিকতা প্রদানের পূর্ণ ক্ষমতাবান। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

(তাঁর উক্তি: ‘হামিদান’) এটি ‘বা’ বর্ণটির সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সুপ্ত থাকা সর্বনাম থেকে ‘হাল’ (অবস্থা) প্রকাশ করছে। অর্থাৎ: আল্লাহর নামে আমি প্রশংসারত অবস্থায় গ্রন্থটি শুরু করছি। তিনি তাঁদের মধ্যে প্রচলিত বিশেষ্যসূচক ও ক্রিয়াসূচক বাক্যের পদ্ধতি—যেমন ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং ‘আহমাদুল্লাহ’—এর পরিবর্তে ‘হাল’-এর পদ্ধতিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এটি তিনি করেছেন হামদ (প্রশংসা) ও তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ)-এর মধ্যে সমতা বিধান এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য। কেননা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: “প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর নাম দিয়ে শুরু করা হয় না, তা বরকতহীন। আর প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ বা বরকতহীন।” তাই তিনি প্রশংসাকে সূচনার একটি অবস্থা হিসেবে নির্ধারণ করার চেষ্টা করেছেন যেভাবে তাসমিয়াও একইভাবে সূচিত হয়েছে। তবে তিনি...
(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ৪)
الصَّلَوَاتِ مُجَلِّيًا وَمُصَلِّيًا.

وَبَعْدُ: فَإِنَّ الْعَبْدَ الْمُتَوَسِّلَ إلَى اللَّهِ تَعَالَى بِأَقْوَى الذَّرِيعَةِ عُبَيْدَ

ــ

‌‌[التلويح]

قَدَّمَ التَّسْمِيَةَ؛ لِأَنَّ النَّصَّيْنِ مُتَعَارِضَانِ ظَاهِرًا، إذْ الِابْتِدَاءُ بِأَحَدِ الْأَمْرَيْنِ يُفَوِّتُ الِابْتِدَاءَ بِالْآخَرِ وَقَدْ أَمْكَنَ الْجَمْعُ بِأَنْ يُقَدَّمَ أَحَدُهُمَا عَلَى الْآخَرِ فَيَقَعُ الِابْتِدَاءُ بِهِ حَقِيقَةً وَبِالْآخَرِ بِالْإِضَافَةِ إلَى مَا سِوَاهُ فَعَمِلَ بِالْكِتَابِ الْوَارِدِ بِتَقْدِيمِ التَّسْمِيَةِ وَالْإِجْمَاعِ الْمُنْعَقِدِ عَلَيْهِ وَتَرَكَ الْعَاطِفَ لِئَلَّا يُشْعِرَ بِالتَّبَعِيَّةِ فَيُخِلُّ بِالتَّسْوِيَةِ وَلَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ حَامِدًا حَالًا مِنْ فَاعِلِ يَقُولُ؛ لِأَنَّ قَوْلَهُ وَبَعْدُ فَإِنَّ الْعَبْدَ عَلَى مَا فِي النُّسْخَةِ الْمُقَرَّرَةِ عِنْدَ الْمُصَنِّفِ صَارِفٌ عَنْ ذَلِكَ. وَأَمَّا عَلَى النُّسْخَةِ الْقَدِيمَةِ الْخَالِيَةِ عَنْ هَذَا الصَّارِفِ فَالظَّاهِرُ أَنَّهُ حَالٌ عَنْهُ.

وَأَمَّا تَفْصِيلُ الْحَمْدِ بِقَوْلِهِ أَوَّلًا وَثَانِيًا فَيَحْتَمِلُ وُجُوهًا: الْأَوَّلُ أَنَّ الْحَمْدَ يَكُونُ عَلَى النِّعْمَةِ وَغَيْرِهَا فَاَللَّهُ تَعَالَى يَسْتَحِقُّ الْحَمْدَ أَوَّلًا بِكَمَالِ ذَاتِهِ وَعَظَمَةِ صِفَاتِهِ وَثَانِيًا بِجَمِيلِ نَعْمَائِهِ وَجَزِيلِ آلَائِهِ الَّتِي مِنْ جُمْلَتِهَا التَّوْفِيقُ لِتَأْلِيفِ هَذَا الْكِتَابِ الثَّانِي أَنَّ نِعْمَةَ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى كَثْرَتِهَا تَرْجِعُ إلَى إيجَادٍ وَإِبْقَاءٍ أَوَّلًا وَإِيجَادٍ وَإِبْقَاءٍ ثَانِيًا فَيَحْمَدَهُ عَلَى الْقِسْمَيْنِ تَأَسِّيًا بِالسُّوَرِ الْمُفْتَتَحَةِ بِالتَّحْمِيدِ حَيْثُ أُشِيرَ فِي الْفَاتِحَةِ إلَى الْجَمِيعِ وَفِي الْأَنْعَامِ إلَى الْإِيجَادِ وَفِي الْكَهْفِ إلَى الْإِبْقَاءِ أَوَّلًا وَفِي السَّبَأِ إلَى الْإِيجَادِ وَفِي الْمَلَائِكَةِ إلَى الْإِبْقَاءِ.

ثَانِيًا الثَّالِثُ الْمُلَاحَظَةُ لِقَوْلِهِ تَعَالَى {لَهُ الْحَمْدُ فِي الأُولَى وَالآخِرَةِ} [القصص: 70] عَلَى مَعْنَى أَنَّهُ يَسْتَحِقُّ الْحَمْدَ فِي الدُّنْيَا عَلَى مَا يُعْرَفُ بِالْحُجَّةِ مِنْ كَمَالِهِ وَيَصِلُ إلَى الْعِبَادِ مِنْ نَوَالِهِ وَفِي الْآخِرَةِ عَلَى مَا يُشَاهَدُ مِنْ كِبْرِيَائِهِ وَيُعَايَنُ مِنْ نَعْمَائِهِ الَّتِي لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ وَإِلَيْهِ الْإِشَارَةُ بِقَوْلِهِ تَعَالَى {وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [يونس: 10] فَإِنْ قُلْت فَقَدْ وَقَعَ التَّعَرُّضُ لِلْحَمْدِ عَلَى الْكِبْرِيَاءِ وَالْآلَاءِ فِي دَارَيْ الْفَنَاءِ وَالْبَقَاءِ فَمَا مَعْنَى قَوْلِهِ وَلِعَنَانِ الثَّنَاءِ ثَانِيًا أَيْ: صَارِفًا عَطْفًا عَلَى " حَامِدًا " قُلْتُ: مَعْنَاهُ قَصْدُ تَعْظِيمِهِ وَنِيَّةُ التَّقَرُّبِ إلَيْهِ فِي كُلِّ مَا يَصْلُحُ لِذَلِكَ مِنْ الْأَقْوَالِ وَالْأَفْعَالِ وَصَرْفُ الْأَمْوَالِ إشَارَةٌ إلَى أَنْوَاعِ الْعِبَادَاتِ فَإِنَّ نِعَمَ اللَّهِ تَعَالَى تَسْتَوْجِبُ الشُّكْرَ بِالْقَلْبِ وَاللِّسَانِ وَالْجَوَارِحِ وَالْحَمْدُ لَا يَكُونُ إلَّا بِاللِّسَانِ، وَفِيهِ إشَارَةٌ إلَى أَنَّ الْأَخْذَ فِي الْعُلُومِ الْإِسْلَامِيَّةِ يَنْبَغِي أَنْ يَعْرِضَ عَنْ جَانِبِ الْخَلْقِ وَيَصْرِفَ أَعِنَّةَ الثَّنَاءِ مِنْ جَمِيعِ الْجِهَاتِ إلَى جَنَابِ الْحَقِّ تَعَالَى وَتَقَدَّسَ عَالِمًا بِأَنَّهُ الْمُسْتَحِقُّ لِلثَّنَاءِ وَحْدَهُ، فَإِنْ قُلْتَ: مِنْ شَرْطِ الْحَالِ الْمُقَارَنَةُ لِلْعَامِلِ وَالْأَحْوَالُ الْمَذْكُورَةُ أَعْنِي حَامِدًا وَغَيْرَهُ لَا تُقَارِنُ الِابْتِدَاءَ بِالتَّسْمِيَةِ قُلْتُ: لَيْسَ الْبَاءُ صِلَةً لِ " أَبْتَدِئُ " بَلْ الظَّرْفُ حَالٌ وَالْمَعْنَى مُتَبَرِّكًا بِسْمِ اللَّهِ أَبْتَدِئُ الْكِتَابَ، وَالِابْتِدَاءُ أَمْرٌ عُرْفِيٌّ يُعْتَبَرُ مُمْتَدًّا مِنْ حِينِ الْأَخْذِ فِي التَّصْنِيفِ إلَى الشَّرْعِ فِي الْبَحْثِ وَيُقَارِنُهُ التَّبَرُّكُ بِالتَّسْمِيَةِ وَالْحَمْدِ وَالصَّلَاةِ، فَإِنْ قُلْتَ: فَعَلَى الْوَجْهِ الثَّالِثِ يَكُونُ حَامِدًا ثَانِيًا بِمَعْنَى نَاوِيًا لِلْحَمْدِ وَعَازِمًا عَلَيْهِ لِيَكُونَ مُقَارِنًا لِلْعَامِلِ وَحِينَئِذٍ يَلْزَمُ الْجَمْعُ بَيْنَ الْحَقِيقَةِ وَالْمَجَازِ قُلْتُ: يُجْعَلُ مِنْ قَبِيلِ الْمَحْذُوفِ أَيْ وَحَامِدًا ثَانِيًا بِمَعْنَى عَازِمًا عَلَيْهِ
সালাতসমূহ (প্রেরণ করছি), যা সত্যকে প্রোজ্জ্বলকারী এবং সালাত পাঠকারী হিসেবে।

অতঃপর: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমের সাহায্যে অসিলা অন্বেষণকারী বান্দা, ক্ষুদ্র বান্দা...

—

[আত-তালবিহ]

তিনি বিসমিল্লাহকে প্রথমে রেখেছেন; কারণ নস বা বর্ণনাদ্বয় বাহ্যত পরস্পর বিরোধী, যেহেতু দুই বিষয়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে শুরু করা অন্যটির মাধ্যমে শুরু করার সুযোগকে রহিত করে। আর এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন এভাবে সম্ভব হয়েছে যে, একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে; ফলে প্রথমটির মাধ্যমে শুরু করাটা প্রকৃতগতভাবে সম্পন্ন হবে এবং অন্যটির মাধ্যমে শুরু করাটা তার অবশিষ্ট অংশের তুলনায় আপেক্ষিকভাবে সম্পন্ন হবে। ফলে তিনি বিসমিল্লাহকে আগে রাখার ব্যাপারে কুরআনের বর্ণনা এবং এর ওপর প্রতিষ্ঠিত ইজমার অনুসরণ করেছেন। আর তিনি সংযোজক অব্যয় বর্জন করেছেন যাতে তা অনুগামিতার ধারণা না দেয়, যা সমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটাত। আর ‘হামিদান’ (প্রশংসাকারী অবস্থায়) শব্দটি ‘ইয়াকুলু’ (তিনি বলছেন) ক্রিয়ার কর্তার ‘হাল’ বা অবস্থা হওয়া বৈধ নয়; কারণ গ্রন্থকারের নিকট নির্ধারিত পাণ্ডুলিপিতে ‘অতঃপর নিশ্চয়ই বান্দা’—এই উক্তিটি সেই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়। তবে এই প্রতিবন্ধকহীন প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে বাহ্যত এটি ‘হাল’ হিসেবেই বিবেচিত।

আর 'প্রথমত' এবং 'দ্বিতীয়ত' বলার মাধ্যমে প্রশংসার যে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তার বেশ কিছু দিক হতে পারে: প্রথমটি হলো, প্রশংসা নিয়ামত প্রাপ্তি এবং নিয়ামত ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ের ওপর হয়ে থাকে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা প্রথমত তাঁর সত্তার পূর্ণতা এবং গুণাবলির মহানুভবতার কারণে প্রশংসার হকদার, আর দ্বিতীয়ত তাঁর সুন্দর নিয়ামতরাজি এবং প্রচুর অনুগ্রহের কারণে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো এই কিতাবটি রচনার তাওফিক লাভ করা। দ্বিতীয়টি হলো, আল্লাহ তাআলার নিয়ামতসমূহ আধিক্য সত্ত্বেও মূলত প্রথম পর্যায়ের সৃষ্টি ও স্থায়িত্ব প্রদান এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের সৃষ্টি ও স্থায়িত্ব প্রদানের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। তাই তিনি উভয় প্রকারের ওপর আল্লাহর প্রশংসা করছেন আল-কুরআনের সেই সূরাগুলোর অনুসরণ করে যেগুলো প্রশংসার (হামদ) মাধ্যমে শুরু হয়েছে। যেমন, সূরা ফাতিহাতে সবকিছুর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, সূরা আনআম-এ সৃষ্টির প্রতি, সূরা কাহফে প্রথম পর্যায়ের স্থায়িত্ব প্রদানের প্রতি, সূরা সাবা-তে সৃষ্টির প্রতি এবং সূরা মালাইকাতে স্থায়িত্ব প্রদানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, তৃতীয় বিষয়টি হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য রাখা: "ইহকাল ও পরকালে সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য।" [কাসাস: ৭০] এর অর্থ হলো যে, তিনি দুনিয়াতে প্রশংসার যোগ্য ঐসব পূর্ণতা ও নিদর্শনের ভিত্তিতে যা দলীলের মাধ্যমে জানা যায় এবং তাঁর অনুগ্রহ হিসেবে বান্দাদের নিকট পৌঁছায়। আর পরকালে প্রশংসার যোগ্য তাঁর সেই মহানুভবতার কারণে যা সেখানে প্রত্যক্ষ করা যাবে এবং সেই সব নেয়ামতের কারণে যা সচক্ষে দেখা যাবে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরে কখনও তার কল্পনাও জাগেনি। আর মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে: "আর তাদের শেষ প্রার্থনা হবে যে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।" [ইউনুস: ১০] আপনি যদি বলেন যে, নশ্বর পৃথিবী ও পরকাল—উভয় জগতেই আল্লাহর মহিমা ও নেয়ামতের ওপর প্রশংসার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে, তবে "প্রশংসার লাগামকে প্রত্যাবর্তনকারী" (সানিয়ান) কথাটির অর্থ কী? অর্থাৎ যা "প্রশংসাকারী" (হামিদান) শব্দের ওপর ব্যাকরণগতভাবে যুক্ত হয়ে প্রশংসার মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে। আমি বলব: এর অর্থ হলো মহান আল্লাহর মাহাত্ম্য বর্ণনার উদ্দেশ্য করা এবং তাঁর নৈকট্য লাভের নিয়ত করা সেই সকল কথা, কাজ ও সম্পদ ব্যয়ের মাধ্যমে যা এর জন্য উপযুক্ত। এটি মূলত ইবাদতের বিভিন্ন প্রকারের দিকে ইঙ্গিত। কেননা মহান আল্লাহর নেয়ামতসমূহ অন্তর, জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দাবি রাখে, আর প্রশংসা বা হামদ কেবল জিহ্বার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। এতে এই ইঙ্গিতও রয়েছে যে, ইসলামি জ্ঞানচর্চায় ব্রতী ব্যক্তির উচিত সৃষ্টির দিক থেকে বিমুখ হওয়া এবং সকল দিক থেকে প্রশংসার লাগামকে মহান ও পবিত্র আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া, এটা জেনে যে একমাত্র তিনিই প্রশংসার যোগ্য। যদি আপনি বলেন: "হাল" বা অবস্থার শর্ত হলো তা "আমেল" বা ক্রিয়ার সাথে সমসাময়িক হতে হয়, অথচ এখানে উল্লিখিত অবস্থাগুলো অর্থাৎ "প্রশংসাকারী" ও অন্যান্যগুলো আল্লাহর নামের মাধ্যমে শুরু করার সাথে সমসাময়িক নয়। আমি বলব: এখানে "বিসমি" এর "বা" অক্ষরটি "আমি শুরু করছি" ক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত নয়, বরং এই শব্দসমষ্টিটি এখানে "হাল" বা অবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ হলো: আল্লাহর নামের বরকত গ্রহণকারী অবস্থায় আমি কিতাবটি শুরু করছি। আর "শুরু করা" বিষয়টি একটি প্রচলিত বিষয়, যা গ্রন্থ রচনা হাতে নেওয়া থেকে শুরু করে মূল আলোচনা শুরু করা পর্যন্ত বিস্তৃত সময়কে বোঝায়। আর আল্লাহর নাম, প্রশংসা ও দরুদের মাধ্যমে বরকত লাভের বিষয়টি এর সাথে সমসাময়িক হয়। যদি আপনি বলেন: তবে তৃতীয় পদ্ধতি অনুযায়ী "প্রশংসাকারী" ও "প্রত্যাবর্তনকারী" এর অর্থ হবে প্রশংসার নিয়তকারী ও সংকল্পকারী, যাতে তা ক্রিয়ার সাথে সমসাময়িক হতে পারে; আর এমতাবস্থায় প্রকৃত ও রূপক অর্থের সংমিশ্রণ অনিবার্য হয়ে পড়ে। আমি বলব: একে "মাহযুফ" বা উহ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, অর্থাৎ "প্রশংসাকারী ও প্রত্যাবর্তনকারী" এর অর্থ হবে "এর সংকল্পকারী" হওয়া।

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ৫)
اللَّهِ بْنَ مَسْعُودِ بْنِ تَاجِ الشَّرِيعَةِ سَعِدَ جَدُّهُ وَأُنْجِحَ جَدُّهُ يَقُولُ لَمَّا وَفَّقَنِي اللَّهُ بِتَأْلِيفِ تَنْقِيحِ الْأُصُولِ أَرَدْت أَنْ أَشْرَحَ مُشْكِلَاتِهِ وَأَفْتَحَ مُغْلَقَاتِهِ مُعْرِضًا عَنْ شَرْحِ الْمَوَاضِعِ الَّتِي مَنْ يَحِلُّهَا بِغَيْرِ إطْنَابٍ لَا يَحِلُّ لَهُ النَّظَرُ فِي ذَلِكَ الْكِتَابِ وَاعْلَمْ أَنِّي لَمَّا سَوَّدْت كِتَابَ التَّنْقِيحِ، وَسَارَعَ بَعْضُ الْأَصْحَابِ إلَى انْتِسَاخِهِ وَمُبَاحَثَتِهِ وَانْتَشَرَ النَّسْخُ فِي بَعْضِ الْأَطْرَافِ ثُمَّ بَعْدَ ذَلِكَ وَقَعَ فِيهِ قَلِيلٌ مِنْ التَّغْيِيرَاتِ وَشَيْءٌ مِنْ الْمَحْوِ وَالْإِثْبَاتِ فَكَتَبْت فِي هَذَا الشَّرْحِ عِبَارَةَ الْمَتْنِ عَلَى النَّمَطِ الَّذِي تَقَرَّرَ عِنْدِي لِتَغْيِيرِ النُّسَخِ الْمَكْتُوبَةِ قَبْلَ التَّغْيِيرَاتِ إلَى هَذَا النَّمَطِ، ثُمَّ لَمَّا تَيَسَّرَ إتْمَامُهُ وَفُضَّ بِالِاخْتِتَامِ خِتَامُهُ مُشْتَمِلًا عَلَى تَعْرِيفَاتٍ وَحُجَجٍ مُؤَسَّسَةٍ عَلَى قَوَاعِدِ الْمَعْقُولِ

ــ

‌‌[التلويح]

فَلَا يَلْزَمُ الْجَمْعُ.

قَوْلُهُ (وَعَلَى أَفْضَلِ رُسُلِهِ مُصَلِّيًا) لَمَّا كَانَ أَجَلُّ النِّعَمِ الْوَاصِلَةِ إلَى الْعَبْدِ هُوَ دِينُ الْإِسْلَامِ، وَبِهِ التَّوَصُّلُ إلَى النِّعَمِ الدَّائِمَةِ فِي دَارِ السَّلَامِ، وَذَلِكَ بِتَوَسُّطِ النَّبِيِّ عليه الصلاة والسلام صَارَ الدُّعَاءُ لَهُ تِلْوَ الثَّنَاءِ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى فَأَرْدَفَ الْحَمْدَ بِالصَّلَاةِ، وَفِي تَرْكِ التَّصْرِيحِ بِاسْمِ النَّبِيِّ عليه السلام عَلَى مَا فِي النُّسْخَةِ الْمُقَرَّرَةِ تَنْوِيهٌ بِشَأْنِهِ وَتَنْبِيهٌ عَلَى أَنَّ كَوْنَهُ أَفْضَلَ الرُّسُلِ عليه السلام أَمْرٌ جَلِيٌّ لَا يَخْفَى عَلَى أَحَدٍ. وَالْحَلْبَةُ بِالسُّكُونِ خَيْلٌ تُجْمَعُ لِلسِّبَاقِ مِنْ كُلِّ أَوْبٍ اُسْتُعِيرَتْ لِلْمِضْمَارِ. وَالْمُجَلِّي هُوَ السَّابِقُ مِنْ أَفْرَاسِ السِّبَاقِ وَالْمُصَلِّي هُوَ الَّذِي يَتْلُوهُ؛ لِأَنَّ رَأْسَهُ عِنْدَ صَلَوَيْهِ، وَمَعْنَى ذَلِكَ تَكْثِيرُ الصَّلَاةِ وَتَكْرِيرُهَا أَوْ أَشَارَ بِالْمُجَلِّي إلَى الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ وَبِالْمُصَلِّي إلَى الصَّلَاةِ عَلَى الْآلِ؛ لِأَنَّهَا إنَّمَا تَكُونُ ضِمْنًا وَتَبَعًا، ثُمَّ لَا يَخْفَى حُسْنُ مَا فِي قَرَائِنِ الْحَمْدِ وَالصَّلَاةِ مِنْ التَّجْنِيسِ وَمَا فِي الْقَرِينَةِ الثَّانِيَةِ مِنْ الِاسْتِعَارَةِ بِالْكِنَايَةِ وَالتَّخْيِيلِ وَالتَّرْشِيحِ وَمَا فِي الرَّابِعَةِ مِنْ التَّمْثِيلِ، وَإِنَّ تَقْدِيمَ الْمَعْمُولَاتِ فِي الْقَرَائِنِ الثَّلَاثِ الْأَخِيرَةِ لِرِعَايَةِ السَّجْعِ وَالِاهْتِمَامِ، إذْ الْحَصْرُ لَا يُنَاسِبُ الْمَقَامَ، وَإِنَّ انْتِصَابَ أَوَّلًا وَثَانِيًا عَلَى الظَّرْفِيَّةِ. وَأَمَّا التَّنْوِينُ فِي أَوَّلًا مَعَ أَنَّهُ أَفْعَلُ التَّفْضِيلِ بِدَلِيلِ الْأُولَى وَالْأَوَائِلِ كَالْفَضْلِ وَالْأَفَاضِلِ فَلِأَنَّهُ هَاهُنَا ظَرْفٌ بِمَعْنَى قَبْلُ، وَهُوَ حِينَئِذٍ مُنْصَرِفٌ لَا وَصْفِيَّةَ لَهُ أَصْلًا، وَهَذَا مَعْنَى مَا قَالَ فِي الصِّحَاحِ إذَا جَعَلْته صِفَةً لَمْ تَصْرِفْهُ تَقُولُ لَقِيتُهُ عَامًا أَوَّلَ وَإِذَا لَمْ تَجْعَلْهُ صِفَةً صَرَفْته تَقُولُ لَقِيتُهُ عَامًا أَوَّلًا وَمَعْنَاهُ فِي الْأَوَّلِ أَوَّلُ مِنْ هَذَا الْعَامِ، وَفِي الثَّانِي قَبْلَ هَذَا الْعَامِ.

قَوْلُهُ (سَعِدَ جَدُّهُ) فِيهِ إيهَامٌ، إذْ الْجَدُّ الْبَخْتُ وَأَبُ الْأَبِ.

قَوْلُهُ (وَفَّقَنِي اللَّهُ) التَّوْفِيقُ جَعْلُ الْأَسْبَابِ مُتَوَافِقَةً وَيُعَدَّى بِاللَّامِ وَتَعْدِيَتُهُ بِالْبَاءِ تَسَامُحٌ أَوْ تَضْمِينٌ لِمَعْنَى التَّشْرِيفِ وَالْمُصَنِّفُ كَثِيرًا مَا يَتَسَامَحُ فِي صَلَاةِ الْأَفْعَالِ مَيْلًا مِنْهُ إلَى جَانِبِ الْمَعْنَى.

قَوْلُهُ (وَفَضُّ) مِنْ فَضَضْت خَتْمَ الْكِتَابِ فَتَحْته وَالْفَضُّ الْكَسْرُ بِالتَّفْرِيقِ وَاخْتَتَمْت الْكِتَابَ بَلَغْتُ آخِرَهُ وَالْخِتَامُ الطِّينُ الَّذِي يُخْتَمُ بِهِ جَعَلَ الْكِتَابَ قَبْلَ التَّمَامِ لِاحْتِجَابِهِ عَنْ نَظَرِ الْأَنَامِ بِمَنْزِلَةِ الشَّيْءِ الْمَخْتُومِ الَّذِي لَا يُطَّلَعُ عَلَى مَخْزُونَاتِهِ وَلَا يُحَاطُ بِمُسْتَوْدَعَاتِهِ، ثُمَّ جَعَلَ عَرْضَهُ عَلَى الطَّالِبِينَ بَعْدَ الِاخْتِتَامِ وَعَدَمَ مَنْعِهِمْ عَنْ مُطَالَعَتِهِ بَعْدَ التَّمَامِ بِمَنْزِلَةِ فَضِّ الْخِتَامِ.

قَوْلُهُ (مُؤَسَّسَةً عَلَى قَوَاعِدِ الْمَعْقُولِ) أَيْ مَبْنِيَّةً عَلَى
আল্লাহর ইবনে মাসউদ ইবনে তাজ আল-শরীয়াহ (তাঁর সৌভাগ্য ও সফলতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাক) বলেন: যখন আল্লাহ আমাকে 'তানকীহ আল-উসুল' রচনার তাওফিক দান করলেন, তখন আমি এর জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা এবং এর দুর্বোধ্য বিষয়গুলো উন্মোচন করার ইচ্ছা পোষণ করলাম। আমি সেই স্থানগুলোর ব্যাখ্যা পরিহার করেছি যা দীর্ঘ আলোচনা ছাড়াই সমাধান করা সম্ভব এবং যে ব্যক্তি তা সমাধান করতে সক্ষম নয় তার পক্ষে এই কিতাবটি অধ্যয়ন করা সমীচীন নয়। জেনে রাখুন যে, আমি যখন 'তানকীহ' কিতাবটির খসড়া প্রস্তুত করেছিলাম, তখন আমার কিছু সহকর্মী দ্রুততার সাথে এর অনুলিপি তৈরি ও তা নিয়ে আলোচনায় লিপ্ত হয়েছিলেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে এর অনুলিপি ছড়িয়ে পড়েছিল। অতঃপর এতে সামান্য কিছু পরিবর্তন এবং কিছু বর্জন ও সংযোজন ঘটে। তাই আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে (শরহে) মূল পাঠের (মতন) ইবারতসমূহ সেই পদ্ধতিতে লিখেছি যা আমার নিকট চূড়ান্ত হয়েছে, যাতে পরিবর্তনের পূর্বে লিখিত অনুলিপিগুলো এই নতুন পদ্ধতিতে পরিবর্তিত করে নেওয়া হয়। অতঃপর যখন এটি সম্পন্ন করা সহজ হলো এবং সমাপ্তির মাধ্যমে এর পূর্ণতা লাভ করল, যা জ্ঞানভিত্তিক নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন সংজ্ঞা ও দলীলাদি দ্বারা সমৃদ্ধ।

—

‌ ‌[আত-তালউইহ]

সুতরাং (উভয়কে) একত্রিত করা আবশ্যক নয়।

তাঁর বক্তব্য "(এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ রাসূলের উপর দরুদ পাঠরত অবস্থায়)": যেহেতু বান্দার নিকট পৌঁছানো নিয়ামতসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো ইসলাম ধর্ম, এবং এর মাধ্যমেই শান্তির আবাসে চিরস্থায়ী নিয়ামতসমূহ লাভ করা সম্ভব হয়, আর এটি নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর মধ্যস্থতায় অর্জিত হয়েছে, তাই মহান আল্লাহর প্রশংসার পরপরই তাঁর জন্য দুআ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ফলে তিনি প্রশংসার পর দরুদ যুক্ত করেছেন। নির্ধারিত পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী নবীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করার মধ্যে তাঁর মর্যাদার মহিমা প্রকাশ এবং এই বিষয়ের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে যে, তাঁর শ্রেষ্ঠ রাসূল হওয়াটা এক সুস্পষ্ট বিষয় যা কারো কাছে গোপন নয়। 'হালবাহ' (সুকুন যোগে) শব্দটি দ্বারা প্রতিযোগিতার জন্য সকল প্রান্ত থেকে একত্রিত করা ঘোড়াসমূহকে বোঝায়, যা এখানে দৌড়ের ময়দানের রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 'মুজাল্লি' হলো প্রতিযোগিতার ঘোড়াসমূহের মধ্যে প্রথম বা অগ্রগামীটি, আর 'মুসাল্লি' হলো সেই ঘোড়া যা তার ঠিক পেছনে থাকে; কারণ তার মাথা থাকে প্রথমটির পশ্চাদ্দেশের দুই হাড়ের সন্নিকটে। এর অর্থ হলো দরুদ পাঠের আধিক্য ও পুনরাবৃত্তি করা। অথবা 'মুজাল্লি' দ্বারা নবীর ওপর দরুদ এবং 'মুসাল্লি' দ্বারা তাঁর বংশধরদের ওপর দরুদকে ইঙ্গিত করা হয়েছে; কেননা তা মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অনুগামী হিসেবে আসে। অতঃপর প্রশংসা ও দরুদ সংক্রান্ত বাক্যগুলোর শব্দসামঞ্জস্যের সৌন্দর্য এবং দ্বিতীয় বাক্যাংশে রূপক ইঙ্গিত, কল্পনা ও অলঙ্করণ এবং চতুর্থ বাক্যাংশে দৃষ্টান্তের প্রয়োগ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। শেষ তিনটি বাক্যাংশে সংশ্লিষ্ট পদগুলোকে আগে নিয়ে আসা হয়েছে অন্ত্যমিল রক্ষা এবং গুরুত্ব প্রদানের উদ্দেশ্যে, যেহেতু সীমাবদ্ধকরণ এই প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আর 'আউওয়ালান' ও 'ছানিয়ান' শব্দদ্বয় কালবাচক বিশেষ্য হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়েছে। 'আউওয়ালান' শব্দটিতে তানউইন হওয়ার কারণ হলো—যদিও এটি আধিক্যবাচক বিশেষণ, যার প্রমাণ এর স্ত্রীলিঙ্গ ও বহুবচনের রূপসমূহ—কিন্তু এখানে এটি 'পূর্বে' অর্থে একটি কালবাচক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তখন এটি রূপান্তরশীল হয়ে যায় এবং এতে কোনো বিশেষণীয় গুণ অবশিষ্ট থাকে না। এটিই 'সিহাহ' গ্রন্থে বর্ণিত অর্থের অনুরূপ যে, যখন আপনি একে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করবেন তখন তা রূপান্তরহীন হবে; যেমন আপনি বলবেন 'আমি তার সাথে গত বছরের আগের বছর সাক্ষাৎ করেছি'। আর যখন একে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করবেন না তখন তা রূপান্তরশীল হবে; যেমন আপনি বলবেন 'আমি তার সাথে গত বছরের পূর্বে সাক্ষাৎ করেছি'। প্রথম ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো 'এই বছরের পূর্ববর্তী প্রথম বছর', আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে অর্থ হলো 'এই বছরের আগে' ।

তার উক্তি (তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে) এতে অস্পষ্টতা বা দ্ব্যর্থবোধকতা রয়েছে, কারণ 'জাদ্দ' অর্থ হলো সৌভাগ্য এবং দাদার পিতা।

তার উক্তি (আল্লাহ আমাকে তাওফিক দান করেছেন), 'তাওফিক' এর অর্থ হলো উপকরণসমূহকে পরস্পরের অনুকূল বা সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা। এটি সাধারণত 'লাম' অব্যয় দ্বারা ব্যবহৃত হয়, আর এখানে 'বা' অব্যয় দ্বারা এর ব্যবহার করা হয়েছে শিথিলতা হিসেবে অথবা 'সম্মান প্রদান' অর্থে একে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গ্রন্থকার প্রায়শই অর্থগত দিকের প্রতি লক্ষ্য রেখে ক্রিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে এরূপ নমনীয়তা বা শিথিলতা প্রদর্শন করেন।

তার উক্তি (এবং উন্মোচন), এটি 'আমি কিতাবের সিলমোহর উন্মোচন করেছি' বাক্য থেকে গৃহীত, যার অর্থ আমি এটি খুলেছি। 'ফাদ' শব্দের অর্থ হলো বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে কোনো কিছু ভেঙে ফেলা। 'আমি কিতাবটি সমাপ্ত করেছি' এর অর্থ হলো আমি এর শেষ সীমায় পৌঁছেছি। আর 'খিতাম' হলো সেই মাটি যা দ্বারা সিলমোহর দেওয়া হয়। কিতাবটি সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে মানুষের দৃষ্টি থেকে গোপন থাকায় একে একটি মোহরাঙ্কিত বস্তুর সাথে তুলনা করা হয়েছে, যার অভ্যন্তরীণ রহস্য সম্পর্কে জানা যায় না এবং এর গচ্ছিত বিষয়াদি সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয় না। অতঃপর সমাপ্তির পর জ্ঞানান্বেষীদের সামনে এটি উপস্থাপন করা এবং অধ্যয়ন থেকে তাদের বারণ না করাকে সিলমোহর উন্মোচনের সমতুল্য গণ্য করা হয়েছে।

তার উক্তি (যৌক্তিক মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত) অর্থাৎ যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وَتَفْرِيعَاتٍ مُرَصَّصَةٍ بَعْدَ ضَبْطِ الْأُصُولِ وَتَرْتِيبٍ أَنِيقً لَمْ يَسْبِقْنِي عَلَى مِثْلِهِ أَحَدٌ مَعَ تَدْقِيقَاتٍ غَامِضَةٍ لَمْ يَبْلُغْ فُرْسَانُ هَذَا الْعِلْمِ إلَى هَذَا الْأَمَدِ سَمَّيْت هَذَا الْكِتَابَ بِالتَّوْضِيحِ فِي حَلِّ غَوَامِضِ التَّنْقِيحِ، وَاَللَّهُ تَعَالَى مَسْئُولٌ أَنْ يَعْصِمَ عَنْ الْخَطَأِ وَالْخَلَلِ كَلَامَنَا وَعَنْ السَّهْوِ وَالزَّلَلِ أَقْلَامَنَا وَأَقْدَامَنَا.

{إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ} [فاطر: 10] افْتَتَحَ بِالضَّمِيرِ قَبْلَ الذِّكْرِ لِيَدُلَّ عَلَى حُضُورِهِ فِي الذِّهْنِ، فَإِنَّ ذِكْرَ اللَّهِ تَعَالَى كَيْفَ لَا يَكُونُ فِي الذِّهْنِ سِيَّمَا عِنْدَ افْتِتَاحِ الْكَلَامِ كَقَوْلِهِ تَعَالَى {وَبِالْحَقِّ أَنْزَلْنَاهُ وَبِالْحَقِّ نَزَلَ} [الإسراء: 105] وَقَوْلُهُ {إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ} [الواقعة: 77] وَقَوْلُهُ الطَّيِّبُ صِفَةُ الْكَلِمِ. وَالْكَلِمُ إنْ كَانَ جَمْعًا وَكُلُّ جَمْعٍ يُفَرَّقُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ وَاحِدَةٍ بِالتَّاءِ يَجُوزُ فِي وَصْفِهِ التَّذْكِيرُ وَالتَّأْنِيثُ نَحْوُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ وَنَحْوُ

ــ

‌‌[التلويح]

الْوُجُوهِ وَالشَّرَائِطِ الْمَذْكُورَةِ فِي عِلْمِ الْمِيزَانِ لَا كَمَا هُوَ دَأْبُ قُدَمَاءِ الْمَشَايِخِ مِنْ الِاقْتِصَارِ عَلَى حُصُولِ الْمَقْصُودِ.

قَوْلُهُ (وَتَرْتِيبٍ أَنِيقً) أَيْ: حَسَنٍ مُعْجِبٍ يُرِيدُ بِهِ بَعْضَ مَا تَصَرَّفَ فِيهِ مِنْ التَّقْدِيمِ وَالتَّأْخِيرِ فِي الْمَبَاحِثِ وَالْأَبْوَابِ عَلَى الْوَجْهِ الْأَحْسَنِ الْأَلْيَقِ لَمْ يَسْبِقْنِي وَالصَّوَابُ لَمْ يَسْبِقْنِي إلَى مِثْلِهِ سَبَقْت الْعَالَمِينَ إلَى الْمَعَالِي.

‌‌1 -

قَوْلُهُ (لَمْ يَبْلُغْ) صِفَةُ تَدْقِيقَاتٍ وَالْعَائِدُ مَحْذُوفٌ أَيْ لَمْ يَبْلُغْهَا فُرْسَانُ عِلْمِ الْأُصُولِ إلَى هَذِهِ الْغَايَةِ مِنْ الزَّمَانِ أَوْ الْمُرَادُ لَمْ يَصِلْ فُرْسَانُ هَذَا الْعِلْمِ إلَى تِلْكَ الْغَايَةِ مِنْ التَّدْقِيقِ فَيَكُونُ مِنْ وَضْعِ الظَّاهِرِ مَوْضِعَ الضَّمِيرِ وَتَعْدِيَةُ الْبُلُوغِ بِإِلَى لِجَعْلِهِ بِمَعْنَى الْوُصُولِ وَالِانْتِهَاءِ.

قَوْلُهُ (سَمَّيْت هَذَا الْكِتَابَ) جَوَابٌ لَمَّا وَضَعَ اسْمَ الْإِشَارَةِ مَوْضِعَ الضَّمِيرِ لِكَمَالِ الْعِنَايَةِ بِتَمْيِيزِهِ، فَإِنْ قُلْتَ: لَمَّا لِثُبُوتِ الثَّانِي لِثُبُوتِ الْأَوَّلِ فَيَقْتَضِي سَبَبِيَّةَ مَا ذَكَرَهُ بَعْدَ لَمَّا لِتَسْمِيَةِ هَذَا الْكِتَابِ بِالتَّوْضِيحِ فَمَا وَجْهُهُ قُلْتُ: وَجْهُهُ أَنَّ الضَّمِيرَ فِي إتْمَامِهِ لِلشَّرْحِ الْمَذْكُورِ الْمَوْصُوفِ بِأَنَّهُ شَرْحٌ لِمُشْكِلَاتِ التَّنْقِيحِ وَفَتْحٌ لِمُغْلَقَاتِهِ وَإِتْمَامُ مِثْلِ هَذَا الشَّرْحِ مَعَ اشْتِمَالِهِ عَلَى الْأُمُورِ الْمَذْكُورَةِ يَصْلُحُ سَبَبًا لِتَسْمِيَتِهِ بِالتَّوْضِيحِ فِي حَلِّ غَوَامِضِ التَّنْقِيحِ.

قَوْلُهُ (إلَيْهِ يَصْعَدُ) افْتِتَاحٌ غَرِيبٌ وَاقْتِبَاسٌ لَطِيفٌ أَتَى بِالضَّمِيرِ قَبْلَ الذِّكْرِ دَلَالَةً عَلَى حُضُورِ ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى فِي قَلْبِ الْمُؤْمِنِ سِيَّمَا عِنْدَ افْتِتَاحِ الْكَلَامِ فِي أُصُولِ الشَّرْعِ وَإِشَارَةً إلَى أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى مُتَعَيِّنٌ لِتَوَجُّهِ الْمَحَامِدِ إلَيْهِ لَا يَفْتَقِرُ إلَى التَّصْرِيحِ بِذِكْرِهِ وَلَا يَذْهَبُ الْوَهْمُ إلَى غَيْرِهِ، إذْ لَهُ الْعَظَمَةُ وَالْجَلَالَةُ وَمِنْهُ الْعَطَاءُ وَالنَّوَالُ وَإِيمَاءً إلَى أَنَّ الشَّارِعَ فِي الْعُلُومِ الْإِسْلَامِيَّةِ يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ مَطْمَحُ نَظَرِهِ وَمَقْصِدُ هِمَّتِهِ جَنَابَ الْحَقِّ تَعَالَى وَتَقَدَّسَ وَيَقْتَصِرُ عَلَى طَلَبِ رِضَاهُ وَلَا يَلْتَفِتُ إلَى مَا سِوَاهُ لَا يُقَالُ: إنْ ابْتَدَأَ الْمَتْنَ بِالتَّسْمِيَةِ فَلَا إضْمَارَ قَبْلَ الذِّكْرِ، وَإِنْ لَمْ يَبْدَأْ لَزِمَ تَرْكُ الْعَمَلِ بِالسُّنَّةِ؛ لِأَنَّا نَقُولُ يَكْفِي فِي الْعَمَلِ بِالسُّنَّةِ أَنْ تُذْكَرَ التَّسْمِيَةُ بِاللِّسَانِ أَوْ تَخْطُرَ بِالْبَالِ أَوْ تُكْتَبَ عَلَى قَصْدِ التَّبَرُّكِ مِنْ غَيْرِ أَنْ تُجْعَلَ جُزْءًا مِنْ الْكِتَابِ وَعَلَى كُلِّ تَقْدِيرٍ يَكُونُ الْإِضْمَارُ قَبْلَ ذِكْرِ الْمَرْجِعِ فِي الْكِتَابِ، وَالصُّعُودُ الْحَرَكَةُ إلَى الْمَعَالِي مَكَانًا وَجِهَةً
এবং মূলনীতিসমূহ সুদৃঢ় করার পর সুবিন্যস্ত শাখাসমূহ এবং এমন এক চমৎকার বিন্যাস যার অনুরূপ ইতিপূর্বে আমার আগে কেউ করেননি, সাথে রয়েছে এমন কিছু নিগূঢ় সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ যার সীমায় এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ ইতিপূর্বে পৌঁছাতে পারেননি। আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি 'আত-তাওদীহ ফী হাল্লি গাওয়ামিদি আত-তানকীহ'। মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের কথাকে ভুল ও ত্রুটি থেকে এবং আমাদের কলম ও পদযুগলকে বিচ্যুতি ও স্খলন থেকে রক্ষা করেন।

{তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ উঠে যায়} [ফাতির: ১০]। তিনি বিশেষ্য উল্লেখ করার পূর্বেই সর্বনাম (দমীর) দিয়ে শুরু করেছেন যাতে তা অন্তরে আল্লাহর উপস্থিতির প্রতি নির্দেশ করে। কেননা আল্লাহর যিকির কীভাবে অন্তরে না থেকে পারে, বিশেষ করে কোনো কথা শুরুর সময়? যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং সত্যের সাথে আমি তা অবতীর্ণ করেছি এবং সত্যের সাথেই তা অবতীর্ণ হয়েছে} [বনী ইসরাঈল: ১০৫], এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয় এটি এক সম্মানিত কুরআন} [আল-ওয়াকিয়া: ৭৭]। আর 'আত-তাইয়িব' শব্দটি 'আল-কালিম'-এর বিশেষণ। 'কালিম' যদি এমন এক জাতীয় বহুবচন হয় যার একবচনের সাথে কেবল 'তা' যুক্ত করে পার্থক্য করা হয়, তবে এর গুণ বর্ণনায় পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ই ব্যবহার করা বৈধ। যেমন— ‘নখলিন খাভিয়াহ’ (অসার খেজুর গাছ) এবং যেমন

---

[আত-তালবীহ]

সেই সব দিক ও শর্তাবলি যা যুক্তিবিদ্যায় (ইলমুল মিজান) বর্ণিত হয়েছে, প্রাচীন মাশায়েখদের (আলেমদের) অভ্যাসের মতো নয় যারা কেবল উদ্দেশ্য অর্জনের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতেন।

তাঁর বক্তব্য (এবং চমৎকার বিন্যাস) অর্থাৎ: উত্তম ও বিস্ময়কর। এর মাধ্যমে তিনি আলোচনা এবং অধ্যায়সমূহে আগে-পিছে করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুন্দর ও উপযুক্ত পন্থায় যে পরিবর্তনগুলো করেছেন তার অংশবিশেষ বুঝিয়েছেন। (তিনি বলেছেন) 'আমার আগে কেউ যায়নি', আর সঠিক কথা হলো 'এর মতো বিন্যাসে আমার আগে কেউ যায়নি'। 'আমি জগৎসমূহকে শ্রেষ্ঠত্বের দিকে ছাড়িয়ে গিয়েছি।'

‌ ‌১ -

তাঁর বক্তব্য (পৌঁছায়নি) শব্দটি 'সূক্ষ্ম বিশ্লেষণসমূহের' (তাদকিজাত) বিশেষণ, আর এর সম্বন্ধীয় সর্বনামটি উহ্য রয়েছে। অর্থাৎ: উসূল শাস্ত্রের পারদর্শীরা এই সময় পর্যন্ত সেগুলোতে পৌঁছাতে পারেননি। অথবা এর অর্থ হলো: এই শাস্ত্রের পারদর্শীরা সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের সেই চরম সীমায় পৌঁছাতে পারেননি। সেক্ষেত্রে এটি হবে সর্বনামের স্থলে প্রকাশ্য বিশেষ্যের ব্যবহার। আর 'বুলুগ' (পৌঁছানো) শব্দটিকে 'ইলা' অব্যয় দ্বারা ব্যবহারের কারণ হলো একে 'উসুল' (উপনীত হওয়া) এবং 'ইতি' (সমাপ্তি) অর্থে গ্রহণ করা।

তাঁর বক্তব্য (আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি) হলো ‘লাম্মা’ (যখন)-এর জবাব, যেখানে তিনি এর স্বাতন্ত্র্য প্রকাশের প্রতি পূর্ণ গুরুত্বারোপ করার জন্য সর্বনামের পরিবর্তে ইশারা সূচক বিশেষ্য ব্যবহার করেছেন। অতঃপর আপনি যদি বলেন: ‘লাম্মা’ শব্দটি যেহেতু প্রথম বিষয়টি সাব্যস্ত হওয়ার কারণে দ্বিতীয় বিষয়টি সাব্যস্ত হওয়াকে বুঝায়, তাই এটি ‘লাম্মা’-এর পরে বর্ণিত বিষয়টিকে এই কিতাবটির নাম ‘আত-তাওদীহ’ রাখার কারণ হিসেবে দাবি করে, সুতরাং এর যৌক্তিকতা কী? আমি বলব: এর যৌক্তিকতা হলো, ‘ইতমামিহি’ (তার সমাপ্তকরণ) শব্দের সর্বনামটি উল্লিখিত সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শরাহ) দিকে ফিরেছে যা ‘আত-তানকীহ’-এর জটিল বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা এবং এর রুদ্ধ বিষয়গুলোর উন্মোচনকারী হিসেবে বিশেষিত। আর উল্লিখিত বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত থাকাসহ এই ধরনের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ সম্পন্ন করা ‘আত-তানকীহ’-এর দুর্বোধ্য বিষয়সমূহ সমাধানের ক্ষেত্রে কিতাবটির নাম ‘আত-তাওদীহ’ (সুস্পষ্টকরণ) রাখার জন্য উপযুক্ত কারণ হতে পারে।

গ্রন্থকারের বক্তব্য ‘তাঁর দিকে উপরে উঠে’ হলো একটি চমৎকার প্রারম্ভ এবং একটি সূক্ষ্ম উদ্ধৃতি। তিনি নামের উল্লেখের পূর্বেই সর্বনাম ব্যবহার করেছেন, যা মুমিনের অন্তরে মহান আল্লাহর স্মরণের উপস্থিতির প্রমাণ দেয়; বিশেষ করে শরীয়তের মূলনীতি বিষয়ক আলোচনার প্রারম্ভে। এটি এই বিষয়ের প্রতিও ইঙ্গিত করে যে, সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর দিকেই নিবদ্ধ হওয়া সুনির্ধারিত, তাই তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না এবং কল্পনাও অন্য কোনো সত্তার দিকে ধাবিত হয় না। কেননা মাহাত্ম্য ও গরিমা কেবল তাঁরই এবং সকল দান ও অনুগ্রহ তাঁরই পক্ষ থেকে। এতে আরও ইঙ্গিত রয়েছে যে, ইসলামি জ্ঞানচর্চায় ব্রতী ব্যক্তির দৃষ্টির লক্ষ্যস্থল এবং সংকল্পের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সত্যমাবুদ আল্লাহ তাআলার পবিত্র সত্তা এবং কেবল তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকা এবং তিনি ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা। এ কথা বলা যাবে না যে: যদি মূল পাঠ বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হয় তবে তো বিশেষ্যের উল্লেখের পূর্বেই সর্বনাম ব্যবহারের বিষয় থাকে না, আর যদি বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু না হয় তবে সুন্নতের ওপর আমল বর্জন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে; কারণ আমরা বলি যে, সুন্নতের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে মুখে বিসমিল্লাহ পাঠ করা বা মনে মনে তা স্মরণ করা অথবা বরকত লাভের উদ্দেশ্যে তা লিখে নেওয়াই যথেষ্ট, একে কিতাবের অংশ গণ্য না করেই। আর যে কোনো অবস্থাতেই কিতাবে মূল বিশেষ্যের উল্লেখের পূর্বেই সর্বনামের ব্যবহার হয়েছে। আর ‘উপরে উঠা’ হলো স্থান ও দিকের বিবেচনায় উচ্চতার দিকে গতিশীল হওয়া।

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ৭)
مُنْقَعِرٍ (مِنْ مَحَامِدَ لِأُصُولِهَا مِنْ شَارِعِ الشَّرْعِ مَاءً وَلِفُرُوعِهَا مِنْ قَبُولِ الْقَبُولِ نَمَاءً) الْقَبُولُ

ــ

‌‌[التلويح]

اُسْتُعِيرَ لِلتَّوَجُّهِ إلَى الْعَالِي قَدْرًا وَمَرْتَبَةً وَالْكَلِمُ مِنْ الْكَلِمَةِ بِمَنْزِلَةِ التَّمْرِ مِنْ التَّمْرَةِ يُفَرَّقُ بَيْنَ الْجِنْسِيِّ وَوَاحِدِهِ بِالتَّاءِ، وَاللَّفْظُ مُفْرَدٌ إلَّا أَنَّهُ كَثِيرًا مَا يُسَمَّى جَمْعًا نَظَرًا إلَى الْمَعْنَى الْجِنْسِيِّ وَلِاعْتِبَارِ جَانِبَيْ اللَّفْظِ وَالْمَعْنَى يَجُوزُ فِي وَصْفِهِ التَّذْكِيرُ وَالتَّأْنِيثُ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ مُنْقَعِرٍ} [القمر: 20] أَيْ مُنْقَطِعٍ عَنْ مَغَارِسِهِ سَاقِطٍ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ وَقَالَ {كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ} [الحاقة: 7] أَيْ مُتَآكِلَةِ الْأَجْوَافِ، ثُمَّ الْكَلِمُ غُلِّبَ عَلَى الْكَثِيرِ لَا يُسْتَعْمَلُ فِي الْوَاحِدِ أَلْبَتَّةَ حَتَّى تَوَهَّمَ بَعْضُهُمْ أَنَّهَا جَمْعُ كَلِمَةٍ وَلَيْسَ عَلَى حَدِّ تَمْرٍ وَتَمْرَةٍ إلَّا أَنَّ الْكَلِمَ الطَّيِّبَ بِتَذْكِيرِ الْوَصْفِ يَدُلُّ عَلَى مَا ذَكَرْنَا مَعَ أَنَّ " فَعِلًا " لَيْسَ مِنْ أَبْنِيَةِ الْجَمْعِ فَلَا يَنْبَغِي أَنْ يُشَكَّ فِي أَنَّهُ اسْمُ جَمْعٍ كَتَمْرٍ وَرَكْبٍ وَأَنَّهُ لَيْسَ بِجَمْعٍ كَنِسَبٍ وَرُتَبٍ فَفِي قَوْلِهِ وَالْكَلِمُ إنْ كَانَ جَمْعًا حَرَازَةٌ لَا تَخْفَى وَالصَّوَابُ، وَإِنْ كَانَ بِالْوَاوِ.

قَوْلُهُ (مِنْ مَحَامِدَ) حَالٌ مِنْ الْكَلِمِ بَيَانًا لَهُ عَلَى مَا قَالَ النَّبِيُّ عليه السلام هُوَ «سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَاَللَّهُ أَكْبَرُ، إذَا قَالَهَا الْعَبْدُ عَرَجَ بِهَا الْمَلَكُ إلَى السَّمَاءِ فَحَيَّا بِهَا وَجْهَ الرَّحْمَنِ فَإِذَا لَمْ يَكُنْ لَهُ عَمَلٌ صَالِحٌ لَمْ يُقْبَلْ» ، وَإِنَّمَا صَلُحَ الْجَمْعُ الْمُنَكَّرُ بَيَانًا لِلْمُعَرَّفِ الْمُسْتَغْرَقِ لِمَا سَيَجِيءُ مِنْ أَنَّ النَّكِرَةَ تَعُمُّ بِالْوَصْفِ كَامْرَأَةٍ كُوفِيَّةٍ، وَلِأَنَّ التَّنْكِيرَ هَاهُنَا لِلتَّكْثِيرِ، وَهُوَ يُنَاسِبُ التَّعْمِيمَ.

وَالْمَحَامِدُ جَمْعُ مَحْمَدَةٍ بِمَعْنَى الْحَمْدِ، وَهُوَ مُقَابَلَةُ الْجَمِيلِ مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ غَيْرِهَا بِالثَّنَاءِ وَالتَّعْظِيمِ بِاللِّسَانِ. وَالشُّكْرُ مُقَابَلَةُ النِّعْمَةِ بِالْإِظْهَارِ وَتَعْظِيمُ الْمُنْعِمِ قَوْلًا أَوْ عَمَلًا أَوْ اعْتِقَادًا فَلِاخْتِصَاصِ الْحَمْدِ بِاللِّسَانِ كَانَ بَيَانُ الْكَلِمِ بِهَا أَنْسَبَ وَالْمَشَارِعُ جَمْعُ مَشْرَعَةِ الْمَاءِ وَهِيَ مَوْرِدُ الشَّارِبَةِ وَالشَّرْعُ وَالشَّرِيعَةُ مَا شَرَعَ اللَّهُ تَعَالَى لِعِبَادِهِ مِنْ الدِّينِ أَيْ أَظْهَرَ وَبَيَّنَ وَحَاصِلُهُ الطَّرِيقَةُ الْمَعْهُودَةُ الثَّابِتَةُ مِنْ النَّبِيِّ عليه السلام جَعَلَهَا عَلَى طَرِيقِ الِاسْتِعَارَةِ الْمَكْنِيَّةِ بِمَنْزِلَةِ رَوْضَاتٍ وَجَنَّاتٍ فَأَثْبَتَ لَهَا مَشَارِعَ يَرِدُهَا الْمُتَعَطِّشُونَ إلَى زُلَالِ الرَّحْمَةِ وَالرِّضْوَانِ وَبِهَذَا الطَّرِيقِ أَثْبَتَ لِقَبُولِ الْعِبَادَةِ الَّذِي هُوَ مَهَبُّ أَلْطَافِ الرَّحْمَنِ وَمَطْلَعُ أَنْوَارِ الْغُفْرَانِ رِيحَ الصَّبَا الَّتِي بِهَا رُوحُ الْأَبْدَانِ وَنَمَاءُ الْأَغْصَانِ فَإِنَّ الْقَبُولَ الْأَوَّلَ رِيحُ الصَّبَا وَمَهَبُّهَا الْمُسْتَوِي مَطْلَعُ الشَّمْسِ إذَا اسْتَوَى اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَيُقَابِلُهَا الدَّبُورُ وَالْعَرَبُ تَزْعُمُ أَنَّ الدَّبُورَ تُزْعِجُ السَّحَابَ وَتُشَخِّصُهُ فِي الْهَوَاءِ، ثُمَّ تَسُوقُهُ فَإِذَا عَلَا كُشِفَ عَنْهُ وَاسْتَقْبَلَتْهُ الصَّبَا فَوَزَّعَتْ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ حَتَّى يَصِيرَ كِسَفًا وَاحِدًا، ثُمَّ يَنْزِلُ مَطَرًا تَنْمِي بِهِ الْأَشْجَارُ وَالْقَبُولُ الثَّانِي مِنْ الْمَصَادِرِ الشَّاذَّةِ لَمْ يُسْمَعْ لَهُ ثَانٍ وَالنَّمَاءُ الزِّيَادَةُ وَالِارْتِفَاعُ نَمَا يَنْمِي نَمَاءً وَنَمَا يَنْمُو نُمُوًّا وَحَقِيقَةُ النُّمُوِّ الزِّيَادَةُ فِي أَقْطَارِ الْجِسْمِ عَلَى تَنَاسُبٍ طَبِيعِيٍّ، ثُمَّ فِي وَصْفِ الْمَحَامِدِ بِمَا ذَكَرَ تَلْمِيحٌ إلَى قَوْله تَعَالَى {ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلا كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ} [إبراهيم: 24] فَإِنَّ الْمَحَامِدَ لَمَّا كَانَتْ هِيَ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ فَالْمَحْمَدَةُ
গভীরে প্রোথিত (এমন সকল প্রশংসা হতে যা এর মূলসমূহের জন্য শরিয়ত প্রবর্তকের পক্ষ থেকে পানি স্বরূপ এবং এর শাখা-প্রশাখার জন্য কবুলিয়াতের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি স্বরূপ) কবুলিয়াত।

—

[আত-তালউইহ]

এটি মর্যাদা ও মর্তবায় উচ্চ কারো প্রতি নিবেদিত হওয়ার ক্ষেত্রে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর 'কালিম' (শব্দসমষ্টি) এবং 'কালিমা' (একটি শব্দ) এর পারস্পরিক সম্পর্ক ঠিক তেমন, যেমন 'তামর' (খেজুরসমূহ) এবং 'তামরাহ' (একটি খেজুর) এর সম্পর্ক; যেখানে জাতীয় বিশেষ্য বা ইসমে জিনস এবং তার এককের মধ্যে 'তা' (ة) বর্ণের মাধ্যমে পার্থক্য করা হয়। এই শব্দটি মূলত একবচন, তবে এর জাতীয় বা অর্থগত ব্যাপকতার দিকে লক্ষ্য রেখে একে প্রায়শই বহুবচন বলা হয়। শব্দ এবং অর্থ—এই উভয় দিক বিবেচনা করার অবকাশ থাকায় এর বর্ণনায় (গুণবাচক বিশেষণে) পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ই ব্যবহার করা বৈধ। যেমন মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "মনে হচ্ছিল তারা যেন সমূলে উপড়িত খেজুর গাছ।" [সূরা আল-কামার: ২০]। এখানে 'মুনকা'য়ির' (পুংলিঙ্গ) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ—যা তার রোপণস্থল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যমীনের ওপর পতিত হয়ে আছে। আবার আল্লাহ বলেন: "মনে হচ্ছিল তারা যেন অসার বা ফাঁপা খেজুর গাছ।" [সূরা আল-হাক্কাহ: ৭]। এখানে 'খাওয়িয়াহ' (স্ত্রীলিঙ্গ) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ—যার অভ্যন্তরীণ অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে শূন্য হয়ে গেছে। অতঃপর, 'কালিম' শব্দটি বহুবচনের অর্থে প্রাধান্য পেয়েছে, এটি একবচনের ক্ষেত্রে একেবারেই ব্যবহৃত হয় না; এমনকি কেউ কেউ একে 'কালিমা' এর বহুবচন হিসেবেও ধারণা করেছেন। যদিও এটি 'তামর' ও 'তামরাহ' এর পুরোপুরি সমপর্যায়ের নয়, তবুও 'আল-কালিমুত তায়্যিব' (উত্তম বাক্যসমূহ) বাক্যাংশে বিশেষণের পুংলিঙ্গ রূপটি আমাদের উল্লিখিত বক্তব্যেরই প্রমাণ দেয়। এছাড়া 'ফা-ই-লুন' ওজনটি বহুবচনের কোনো গঠনরীতি নয়। সুতরাং এটি যে 'তামর' ও 'রাকব' এর মতো একটি 'ইসমে জাম' (সমষ্টিবাচক বিশেষ্য) এবং 'নিসাব' ও 'রুতাব' এর মতো সাধারণ বহুবচন নয়—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। অতএব, তার বক্তব্য—'কালিম যদি বহুবচন হয়'—এর মধ্যে এমন এক জড়তা বা জটিলতা রয়েছে যা অস্পষ্ট নয়; আর সঠিক হলো 'ইন' (যদি), যদিও তা 'ওয়াও' সহকারে বর্ণিত হয়।

তার উক্তি (প্রশংসাসমূহ হতে) শব্দটি 'কালিম' (শব্দসমূহ) হতে 'হাল' বা অবস্থা হিসেবে সেটির স্পষ্টীকরণের জন্য এসেছে, যেমনটি নবী (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ অতি মহান; যখন কোনো বান্দা এগুলো পাঠ করে, তখন ফেরেশতা তা নিয়ে আসমানের দিকে আরোহণ করেন এবং এর মাধ্যমে দয়াময় (রহমান)-এর চেহারার প্রতি সম্মান নিবেদন করেন। তবে যদি তার কোনো সৎ কর্ম না থাকে, তবে তা কবুল করা হয় না।" আর অনির্দিষ্ট বহুবচন শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক নির্দিষ্ট বিশেষ্যের স্পষ্টীকরণ হিসেবে যথাযথ হয়েছে; কারণ অচিরেই সামনে আসবে যে, অনির্দিষ্ট শব্দ গুণ বা বিশেষণের মাধ্যমে ব্যাপকতা লাভ করে, যেমন 'কুফাবাসী একজন নারী'। এছাড়া এখানে শব্দকে অনির্দিষ্ট রাখা হয়েছে আধিক্য বুঝানোর জন্য, যা ব্যাপকতা বা সাধারণীকরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

‘মাহামিদুল’ হলো ‘মাহমাদাহ’ শব্দের বহুবচন যা ‘হামদ’ (প্রশংসা) এর অর্থে ব্যবহৃত। আর তা হলো জিহ্বার মাধ্যমে গুণগান ও সম্মানের সাথে সুন্দর নিআমত বা অন্য কিছুর প্রতিদান প্রদান করা। এবং ‘শুকর’ (কৃতজ্ঞতা) হলো নিআমতকে প্রকাশের মাধ্যমে এবং নিআমতদাতার প্রতি কথা, কাজ বা বিশ্বাসের দ্বারা সম্মান প্রদর্শন করে তার প্রতিদান দেওয়া। যেহেতু প্রশংসা বা হামদ জিহ্বার সাথে নির্দিষ্ট, তাই এর মাধ্যমে কথা ব্যক্ত করা অধিকতর সঙ্গতিপূর্ণ। এবং ‘মাশারি’ হলো ‘মাশরাআতুল মা’ (পানির ঘাট) এর বহুবচন, আর তা হলো পানকারীদের পানি সংগ্রহের স্থান। আর ‘শার’ ও ‘শরীয়াহ’ হলো মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য দ্বীনের যে বিধান প্রবর্তন করেছেন, অর্থাৎ যা তিনি প্রকাশ ও সুস্পষ্ট করেছেন। এর সারমর্ম হলো নবী আলাইহিস সালাম থেকে প্রাপ্ত সুপ্রতিষ্ঠিত পরিচিত পথ। তিনি এটিকে ‘ইস্তিয়ারা মাকনিয়্যাহ’ বা পরোক্ষ রূপক হিসেবে বাগান ও উদ্যানের সমতুল্য করেছেন। অতঃপর তিনি এর জন্য এমন পানির ঘাটসমূহ সাব্যস্ত করেছেন যেখানে রহমত ও সন্তুষ্টির সুশীতল পানির প্রত্যাশী তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়। এবং এই পদ্ধতিতে তিনি ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য—যা হলো রহমানের অনুগ্রহের প্রবাহিত হওয়ার স্থান এবং ক্ষমার নূরসমূহের উদয়স্থল—পূবালী বায়ু সাব্যস্ত করেছেন, যার মাধ্যমে শরীরের প্রাণশক্তি এবং ডালপালার বৃদ্ধি ঘটে। কেননা প্রথম প্রকারের ‘কবুল’ (কবুলিয়াত) হলো পূবালী বায়ু এবং এর সমান্তরাল প্রবাহের স্থান হলো সূর্যের উদয়স্থল যখন দিন ও রাত সমান হয়। আর এর বিপরীতে রয়েছে পশ্চিমী বায়ু; আর আরবরা মনে করে যে, পশ্চিমী বায়ু মেঘকে আন্দোলিত করে এবং তাকে শূন্যে উত্থিত করে, অতঃপর তাকে তাড়িয়ে নিয়ে যায়, আর যখন তা উপরে উঠে যায় তখন মেঘ সরে যায় এবং পূবালী বায়ু তাকে গ্রহণ করে, ফলে তা এর এক অংশকে অন্য অংশের উপর বিন্যস্ত করে দেয় যতক্ষণ না তা একখণ্ড মেঘে পরিণত হয়, অতঃপর তা বৃষ্টি হিসেবে বর্ষিত হয় যার মাধ্যমে বৃক্ষরাজি বৃদ্ধি পায়। এবং দ্বিতীয় প্রকারের ‘কবুল’ হলো সেই বিরল ক্রিয়ামূলসমূহের অন্তর্ভুক্ত যার দ্বিতীয় কোনো উদাহরণ শোনা যায়নি। আর ‘নামা’ অর্থ হলো বৃদ্ধি ও উচ্চতা; যেমন বৃদ্ধি পাওয়া। আর বৃদ্ধির প্রকৃত অর্থ হলো প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে শরীরের অবয়ব বৃদ্ধি পাওয়া। অতঃপর প্রশংসাসমূহকে উল্লিখিত বর্ণনায় বিশেষিত করার মাঝে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে: {আল্লাহ একটি উদাহরণ পেশ করেছেন: পবিত্র বাক্য একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা আকাশে বিস্তৃত।} [সূরা ইব্রাহিম: ২৪]। সুতরাং প্রশংসাসমূহ যখন পবিত্র বাক্য, আর পবিত্র বাক্য যেহেতু পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়, তাই প্রতিটি প্রশংসাবাক্য

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الْأَوَّلُ رِيحُ الصِّبَا (عَلَى أَنْ جَعَلَ أُصُولَ الشَّرِيعَةِ مُمَهَّدَةَ الْمَبَانِي وَفُرُوعَهَا رَقِيقَةَ الْحَوَاشِي) أَيْ لَطِيفَةَ الْأَطْرَافِ وَالْجَوَانِبِ وَدَقِيقَةَ الْمَعَانِي (بُنِيَ عَلَى أَرْبَعَةِ أَرْكَانٍ قَصَرَ الْأَحْكَامَ وَأَحْكَمَهُ

ــ

‌‌[التلويح]

شَجَرَةٌ لَهَا أَصْلٌ هُوَ الْإِيمَانُ وَالِاعْتِقَادَاتُ وَفُرُوعٌ هُوَ الْأَعْمَالُ وَالطَّاعَاتُ وَتَحْقِيقُ ذَلِكَ أَنَّ الْحَمْدَ، وَإِنْ كَانَ فِي اللُّغَةِ فِعْلَ اللِّسَانِ خَاصَّةً إلَّا أَنَّ حَمْدَ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى مَا صَرَّحَ بِهِ الْإِمَامُ الرَّازِيّ فِي تَفْسِيرِهِ لَيْسَ قَوْلَ الْقَائِلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ، بَلْ مَا يُشْعِرُ بِتَعْظِيمِهِ وَيُنْبِئُ عَنْ تَمْجِيدِهِ مِنْ اعْتِقَادِ اتِّصَافِهِ بِصِفَاتِ الْكَمَالِ وَالتَّرْجَمَةِ عَنْ ذَلِكَ بِالْمَقَالِ وَالْإِتْيَانِ بِمَا يَدُلُّ عَلَيْهِ مِنْ الْأَعْمَالِ فَالِاعْتِقَادُ أَصْلٌ لَوْلَاهُ لَكَانَ الْحَمْدُ كَشَجَرَةٍ خَبِيثَةٍ اُجْتُثَّتْ مِنْ فَوْقِ الْأَرْضِ مَا لَهَا مِنْ قَرَارٍ وَالْعَمَلُ فَرْعٌ لَوْلَاهُ لَمَا كَانَ لِلْحَمْدِ نَمَاءٌ إلَى اللَّهِ تَعَالَى وَقَبُولٌ عِنْدَهُ بِمَنْزِلَةِ دَوْحَةٍ لَا غُصْنَ لَهَا وَشَجَرَةٍ لَا ثَمَرَةَ عَلَيْهَا، إذْ الْعَمَلُ هُوَ الْوَسِيلَةُ إلَى نَيْلِ الْجَنَّاتِ وَرَفْعِ الدَّرَجَاتِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ} [فاطر: 10] ، وَفِي الْحَدِيثِ «فَإِذَا لَمْ يَكُنْ عَمَلٌ صَالِحٌ لَمْ يُقْبَلْ» فَأَشَارَ الْمُصَنِّفُ إلَى أَنَّ لِشَجَرَةِ الْمَحَامِدِ أَصْلًا ثَابِتًا هُوَ الِاعْتِقَادُ الرَّاسِخُ الْإِسْلَامِيُّ الْمُبْتَنَى عَلَى عِلْمِ التَّوْحِيدِ وَالصِّفَاتِ وَفَرْعًا نَامِيًا إلَى اللَّهِ تَعَالَى مَقْبُولًا عِنْدَهُ هُوَ الْعَمَلُ الصَّالِحُ الْمُوَافِقُ لِلشَّرِيعَةِ الْمُطَهَّرَةِ الْمُبْتَنَى عَلَى عِلْمِ الشَّرَائِعِ وَالْأَحْكَامِ وَأَشَارَ إلَى الِاخْتِصَاصِ وَالدَّوَامِ بِقَوْلِهِ إلَيْهِ يَصْعَدُ بِتَقْدِيمِ الظَّرْفِ الْمُفِيدِ لِلِاخْتِصَاصِ وَلَفْظِ الْمُضَارِعِ الْمُنْبِئِ عَنْ الِاسْتِمْرَارِ.

قَوْلُهُ (عَلَى أَنْ جَعَلَ) تَعْلِيقٌ لِلْمَحَامِدِ بِبَعْضِ النِّعَمِ إشَارَةً إلَى عِظَمِ أَمْرِ الْعِلْمِ الَّذِي وَقَعَ التَّصْنِيفُ فِيهِ وَدَلَالَةً عَلَى جَلَالَةِ قَدْرِهِ وَالشَّرِيعَةُ نِعْمَ الْفِقْهُ وَغَيْرُهُ مِنْ الْأُمُورِ الثَّابِتَةِ بِالْأَدِلَّةِ السَّمْعِيَّةِ كَمَسْأَلَةِ الرُّؤْيَةِ وَالْمَعَادِ وَكَوْنِ الْإِجْمَاعِ وَالْقِيَاسِ حُجَّةً وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ وَأُصُولُ الشَّرِيعَةُ أَدِلَّتُهَا الْكُلِّيَّةُ وَمَبَانِي الْأُصُولِ مَا تُبْتَنَى هِيَ عَلَيْهِ مِنْ عِلْمِ الذَّاتِ وَالصِّفَاتِ وَالنُّبُوَّاتِ وَتَمْهِيدُهَا تَسْوِيَتُهَا وَإِصْلَاحُهَا بِكَوْنِهَا عَلَى وَفْقِ الْحَقِّ وَنَهْجِ الصَّوَابِ وَفُرُوعُ الشَّرِيعَةِ أَحْكَامُهَا الْمُفَصِّلَةُ الْمُبَيِّنَةُ فِي عِلْمِ الْفِقْهِ وَمَعَانِيهَا الْعِلَلُ الْجُزْئِيَّةُ التَّفْصِيلِيَّةُ عَلَى كُلِّ مَسْأَلَةٍ وَدِقَّتهَا كَوْنُهَا غَامِضَةً لَطِيفَةً لَا يَصِلُ إلَيْهَا كُلُّ أَحَدٍ بِسُهُولَةٍ وَجَمِيعُ ذَلِكَ نِعَمٌ تَسْتَوْجِبُ الْحَمْدَ، إذْ بِالشَّرِيعَةِ نِظَامُ الدُّنْيَا وَثَوَابُ الْعُقْبَى وَبِدِقَّةِ مَعَانِي الْفِقْهِ رِفْعَةُ دَرَجَاتِ الْعُلَمَاءِ وَنَيْلُهُمْ الثَّوَابَ فِي دَارِ الْجَزَاءِ، وَفِي هَذَا الْكَلَامِ إشَارَةٌ إلَى أَنَّ عِلْمَ الْأُصُولِ فَوْقَ الْفِقْهِ وَدُونَ الْكَلَامِ؛ لِأَنَّ مَعْرِفَةَ الْأَحْكَامِ الْجُزْئِيَّةِ بِأَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ مَوْقُوفَةٌ عَلَى مَعْرِفَةِ أَحْوَالِ الْأَدِلَّةِ الْكُلِّيَّةِ مِنْ حَيْثُ تُوَصِّلُ إلَى الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ وَهِيَ مَوْقُوفَةٌ عَلَى مَعْرِفَةِ الْبَارِي وَصِفَاتِهِ وَصِدْقِ الْمُبَلِّغِ وَدَلَالَةِ مُعْجِزَاتِهِ وَنَحْوَ ذَلِكَ مِمَّا يَشْتَمِلُ عَلَيْهِ عِلْمُ الْكَلَامِ الْبَاحِثُ عَنْ أَحْوَالِ الصَّانِعِ وَالنُّبُوَّةِ وَالْإِمَامَةِ وَالْمَعَادِ وَمَا يَتَّصِلُ بِذَلِكَ عَلَى قَانُونِ الْإِسْلَامِ.

قَوْلُهُ (بُنِيَ عَلَى أَرْبَعَةِ أَرْكَانٍ) بِمَنْزِلَةِ الْبَدَلِ مِنْ الْجُمْلَةِ السَّابِقَةِ شَبَّهَ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ بِقَصْرٍ مِنْ جِهَةِ أَنَّ الْمُلْتَجِئَ إلَيْهَا يَأْمَنُ مِنْ غَوَائِلِ عَدُوِّ الدِّينِ وَعَذَابِ النَّارِ
প্রথমটি হলো পুবালি বাতাস (সাবা) (এজন্য যে, তিনি শরীয়তের মূলনীতিসমূহকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর স্থাপন করেছেন এবং এর শাখা-প্রশাখাগুলোকে সূক্ষ্ম প্রান্তবিশিষ্ট করেছেন) অর্থাৎ এর প্রান্ত ও দিকসমূহ ললিত এবং অর্থসমূহ সূক্ষ্ম (এটি চারটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত যা বিধানসমূহকে সীমিত করেছে এবং একে সুসংহত করেছে

ــ

‌ ‌[আত-তালওয়ীহ]

এটি এমন একটি বৃক্ষ যার মূল হলো ঈমান ও বিশ্বাসসমূহ এবং শাখা হলো আমল ও আনুগত্য। এর প্রকৃত তাৎপর্য হলো এই যে, 'হামদ' বা প্রশংসা যদিও আভিধানিক অর্থে কেবল জিহ্বার কাজ, কিন্তু মহান আল্লাহর প্রশংসা—যেমনটি ইমাম রাযী তাঁর তাফসীরে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন—তা কেবল বক্তার 'আলহামদুলিল্লাহ' বলা নয়। বরং তা হলো এমন কিছু যা তাঁর মহিমা অনুভব করায় এবং তাঁর গৌরব প্রকাশ করে; যা মূলত তাঁকে পরিপূর্ণ গুণাবলি দ্বারা গুণান্বিত মনে করা, কথার মাধ্যমে তার বর্ণনা দেওয়া এবং আমলের মাধ্যমে তা প্রমাণ করার সমন্বিত রূপ। সুতরাং বিশ্বাস হলো এই বৃক্ষের মূল, যা না থাকলে প্রশংসা এমন একটি নিকৃষ্ট গাছের মতো হতো যাকে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং যার কোনো স্থায়িত্ব নেই। আর আমল বা কাজ হলো তার শাখা, যা না থাকলে মহান আল্লাহর নিকট প্রশংসার কোনো প্রবৃদ্ধি বা কবুলিয়ত থাকতো না; এমতাবস্থায় এটি এমন এক বিশাল বৃক্ষের মতো হতো যার কোনো ডালপালা নেই এবং এমন এক গাছের মতো যাতে কোনো ফল নেই। কেননা আমলই হলো জান্নাত লাভ এবং উচ্চ মর্যাদা লাভের মাধ্যম। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সৎকর্ম তিনি উপরে উঠিয়ে নেন" [ফাতির: ১০]। এবং হাদিসে এসেছে: "যখন কোনো সৎকর্ম থাকে না, তখন তা কবুল করা হয় না।" সুতরাং গ্রন্থকার ইঙ্গিত করেছেন যে, প্রশংসার বৃক্ষের একটি সুদৃঢ় মূল রয়েছে, যা হলো তাওহীদ ও গুণাবলি সংক্রান্ত ইলমের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সুসংহত ইসলামী আকিদা। আর এর একটি ক্রমবর্ধমান শাখা রয়েছে যা মহান আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য, আর তা হলো পবিত্র শরীয়তসম্মত সৎকর্ম যা বিধান ও শরীয়তের ইলমের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। গ্রন্থকার তাঁর বক্তব্যে "তাঁরই দিকে তা আরোহণ করে" বলে নির্দিষ্টতা ও স্থায়িত্বের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন; যেখানে নির্দিষ্টতা বুঝাতে বিশেষ পদটিকে আগে আনা হয়েছে এবং নিরন্তরতা বুঝাতে বর্তমানকাল নির্দেশক ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য (এই যে তিনি বানিয়েছেন) হলো কিছু নিআমতের সাথে প্রশংসার সংশ্লিষ্টতা প্রদান করা, যা সেই ইলম বা জ্ঞানের বিষয়ের মহত্ত্বের দিকে ইশারা এবং এর মর্যাদার উচ্চতার দলীল, যে বিষয়ে গ্রন্থটি রচিত হয়েছে। আর শরীয়ত হলো উত্তম ফিকহ এবং অন্যান্য সেই সব বিষয় যা শ্রবণনির্ভর দলীলাদি দ্বারা প্রমাণিত, যেমন আল্লাহর দিদার বা দর্শন লাভ ও পরকালের বিষয় এবং ইজমা ও কিয়াস হুজ্জাত বা দলীল হওয়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ। আর শরীয়তের উসুল বা মূলনীতিসমূহ হলো এর সামগ্রিক দলীলাদি। আর উসুলের ভিত্তি হলো সেই সব বিষয় যার ওপর এগুলো প্রতিষ্ঠিত, যেমন আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি এবং নবুওয়ত সংক্রান্ত জ্ঞান। আর এগুলোর বিন্যাস ও প্রস্তুতি হলো একে সত্যের সাথে সংগতিপূর্ণ ও সঠিক পথে পরিচালনার মাধ্যমে সুবিন্যস্ত ও সুসংহত করা। আর শরীয়তের ফুরু বা শাখাসমূহ হলো এর সেই বিস্তারিত বিধানাবলি যা ফিকহ শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে, এবং এগুলোর নিহিত অর্থ হলো প্রতিটি মাসআলার সাথে সংশ্লিষ্ট আংশিক ও বিস্তারিত কারণসমূহ। আর এগুলোর সূক্ষ্মতা হলো এমন নিগূঢ় হওয়া যে পর্যন্ত প্রত্যেকে সহজে পৌঁছাতে পারে না; আর এগুলোর সবই এমন নিআমত যা প্রশংসার দাবি রাখে। কেননা শরীয়তের মাধ্যমেই দুনিয়ার শৃঙ্খলা এবং পরকালের সওয়াব অর্জিত হয়, আর ফিকহের অর্থসমূহের সূক্ষ্মতার কারণেই ওলামায়ে কেরামের মর্যাদা সুউচ্চ হয় এবং প্রতিদান দিবসে তাদের পুরস্কার প্রাপ্তি ঘটে। আর এই আলোচনার মধ্যে এ কথার ইশারা রয়েছে যে, উসুল শাস্ত্র ফিকহ শাস্ত্রের ঊর্ধ্বে এবং ইলমুল কালামের নিচে; কারণ বিস্তারিত দলীলাদির মাধ্যমে আংশিক বিধানাবলির জ্ঞান লাভ করা সামগ্রিক দলীলাদির অবস্থা সম্পর্কে জানার ওপর নির্ভরশীল, যা শরয়ী বিধানাবলি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। আর এটি নির্ভর করে স্রষ্টার পরিচয় ও তাঁর গুণাবলি, সত্যের প্রচারকের সত্যবাদিতা ও তাঁর মুজিযাসমূহের প্রমাণ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়াবলির ওপর, যা ইলমুল কালামের অন্তর্ভুক্ত। এই শাস্ত্র ইসলামের নিয়মানুযায়ী স্রষ্টার অবস্থা, নবুওয়ত, ইমামত, পরকাল এবং এই সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করে।

তাঁর বাণী (চারটি রুকন বা স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গঠিত) পূর্ববর্তী বাক্যের স্থলাভিষিক্ত (বাদল) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি শরঈ বিধানসমূহকে একটি প্রাসাদের সাথে তুলনা করেছেন এই দিক থেকে যে, যে ব্যক্তি এর নিকট আশ্রয় গ্রহণ করবে, সে দ্বীনের শত্রুর অনিষ্ট এবং জাহান্নামের আজাব থেকে নিরাপদ থাকবে।

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ৯)
بِالْمُحْكَمَاتِ غَايَةَ الْإِحْكَامِ وَجَعَلَ الْمُتَشَابِهَاتِ مَقْصُورَاتِ خِيَامِ الِاسْتِتَارِ ابْتِلَاءً لِقُلُوبِ الرَّاسِخِينَ) فَإِنَّ إنْزَالَ الْمُتَشَابِهَاتِ عَلَى مَذْهَبِنَا وَهُوَ الْوَقْفُ اللَّازِمُ عَلَى قَوْله تَعَالَى {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلا اللَّهُ} [آل عمران: 7] لِابْتِلَاءِ الرَّاسِخِينَ فِي الْعِلْمِ بِكَبْحِ عَنَانِ ذِهْنِهِمْ عَنْ التَّفَكُّرِ فِيهَا، وَالْوُصُولِ إلَى مَا يَشْتَاقُونَ إلَيْهِ مِنْ الْعِلْمِ بِالْأَسْرَارِ الَّتِي أَوْدَعَهَا فِيهَا وَلَمْ يُظْهِرْ أَحَدًا مِنْ خَلْقِهِ عَلَيْهَا (وَالنُّصُوصُ مِنَصَّةُ عَرَائِسِ أَبْكَارِ أَفْكَارِ الْمُتَفَكِّرِينَ) مِنَصَّةُ الْعَرُوسِ مَكَانٌ يُرْفَعُ الْعَرُوسُ عَلَيْهِ لِلْجِلْوَةِ (وَكَشْفِ

ــ

‌‌[التلويح]

فَأَضَافَ الْمُشَبَّهَ بِهِ إلَى الْمُشَبَّهِ كَمَا فِي لُجَيْنِ الْمَاءِ وَالْأَحْكَامُ تَسْتَنِدُ إلَى أَدِلَّةٍ جُزْئِيَّةٍ تَرْجِعُ مَعَ كَثْرَتِهَا إلَى أَرْبَعَةِ دَلَائِلَ هِيَ أَرْكَانُ قَصْرِ الْأَحْكَامِ فَذَكَرَهَا فِي أَثْنَاءِ الْكَلَامِ عَلَى التَّرْتِيبِ الَّذِي بَنَى الشَّارِعُ الْأَحْكَامَ عَلَيْهَا مِنْ تَقْدِيمِ الْكِتَابِ، ثُمَّ السُّنَّةِ، ثُمَّ الْإِجْمَاعِ، ثُمَّ الْعَمَلِ بِالْقِيَاسِ ذَكَرَ الثَّلَاثَةَ الْأُوَلَ صَرِيحًا وَالْقِيَاسَ بِقَوْلِهِ وَوَضَعَ مَعَالِمَ الْعِلْمِ عَلَى مَسَالِكِ الْمُعْتَبِرِينَ أَيْ الْقَائِلِينَ الْمُتَأَمِّلِينَ فِي النُّصُوصِ وَعَلَّلَ الْأَحْكَامَ مِنْ قَوْله تَعَالَى {فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الأَبْصَارِ} [الحشر: 2] تَقُولُ اعْتَبَرْت الشَّيْءَ إذَا نَظَرْت إلَيْهِ وَرَاعَيْت وَالْعِلْمُ الْأَثَرُ الَّذِي يُسْتَدَلُّ بِهِ عَلَى الطَّرِيقِ عَبَّرَ بِهِ عَنْ عِلَّةِ الْحُكْمِ الَّتِي بِهَا يُسْتَدَلُّ عَلَى ثُبُوتِ الْحُكْمِ فِي الْمَقِيسِ، فَإِنْ قُلْتَ: لَيْسَ تَرْتِيبُ الشَّارِعِ تَقْدِيمَ السُّنَّةِ عَلَى الْإِجْمَاعِ مُطْلَقًا، بَلْ إذَا كَانَتْ قَطْعِيَّةً قُلْتُ: الْكَلَامُ فِي مَتْنِ السُّنَّةِ وَلَا خَفَاءَ فِي تَقَدُّمِهِ، وَإِنَّمَا يُؤَخَّرُ حَيْثُ يُؤَخَّرُ لِعَارِضِ الظَّنِّ فِي ثُبُوتِهِ، ثُمَّ ذَكَرَ بَعْضَ أَقْسَامِ الْكِتَابِ إشَارَةً إلَى أَنَّهُ كَمَا يَشْتَمِلُ الْقَصْرُ عَلَى مَا هُوَ غَايَةٌ فِي الظُّهُورِ وَعَلَى مَا هُوَ دُونَهُ وَعَلَى مَا هُوَ غَايَةٌ فِي الْخَفَاءِ وَالِاسْتِتَارِ بِحَيْثُ لَا يَصِلُ إلَيْهِ غَيْرُ رَبِّ الْقَصْرِ وَعَلَى مَا هُوَ دُونَهُ كَذَلِكَ قَصْرُ الْأَحْكَامِ يَشْتَمِلُ عَلَى مُحْكَمٍ هُوَ غَايَةٌ فِي الظُّهُورِ وَنَصٍّ هُوَ دُونَهُ وَعَلَى مُتَشَابِهٍ هُوَ غَايَةٌ فِي الْخَفَاءِ وَمُجْمَلٍ هُوَ دُونَهُ وَسَيَجِيءُ تَفْسِيرُهَا.

قَوْلُهُ (مَقْصُورَاتٌ) أَيْ مَحْبُوسَاتٌ جَعَلَ خِيَامَ الِاسْتِتَارِ مَضْرُوبَةً عَلَى الْمُتَشَابِهِ مُحِيطَةً بِهِ بِحَيْثُ لَا يُرْجَى بُدُوُّهُ وَظُهُورُهُ أَصْلًا عَلَى مَا هُوَ الْمَذْهَبُ مِنْ أَنَّ الْمُتَشَابِهَ لَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إلَّا اللَّهُ وَفَائِدَةُ إنْزَالِهِ ابْتِلَاءُ الرَّاسِخِينَ فِي الْعِلْمِ بِمَنْعِهِمْ عَنْ التَّفْكِيرِ فِيهِ وَالْوُصُولِ إلَى مَا هُوَ غَايَةُ مُتَمَنَّاهُمْ مِنْ الْعِلْمِ بِأَسْرَارِهِ فَكَمَا أَنَّ الْجُهَّالَ مُبْتَلَوْنَ بِتَحْصِيلِ مَا هُوَ غَيْرُ مَطْلُوبٍ عِنْدَهُمْ مِنْ الْعِلْمِ وَالْإِمْعَانِ فِي الطَّلَبِ كَذَلِكَ الْعُلَمَاءُ مُبْتَلَوْنَ بِالْوَقْفِ وَتَرْكِ مَا هُوَ مَحْبُوبٌ عِنْدَهُمْ، إذْ ابْتِلَاءُ كُلِّ أَحَدٍ إنَّمَا يَكُونُ بِمَا هُوَ عَلَى خِلَافِ هَوَاهُ وَعَكْسِ مُتَمَنَّاهُ.

قَوْلُهُ (بِكَبْحِ عَنَانِ ذِهْنِهِمْ) تَقُولُ كَبَحْت الدَّابَّةَ إذَا جَذَبْتهَا إلَيْك بِاللِّجَامِ لِكَيْ تَقِفَ وَلَا تَجْرِيَ.

قَوْلُهُ (أَوْدَعَهَا فِيهَا) أَيْ أَوْدَعَ اللَّهُ الْأَسْرَارَ فِي الْمُتَشَابِهَاتِ وَالْإِيدَاعُ مُتَعَدٍّ إلَى مَفْعُولَيْنِ تَقُولُ أَوْدَعْته مَالًا إذَا دَفَعْته إلَيْهِ لِيَكُونَ وَدِيعَةً عِنْدَهُ، وَإِنَّمَا عَدَّاهُ بِفِي تَسَامُحًا أَوْ تَضْمِينًا بِمَعْنَى الْإِدْرَاجِ وَالْوَضْعِ.

قَوْلُهُ (مَنَصَّةً) بِفَتْحِ الْمِيمِ الْمَكَانُ الَّذِي يُرْفَعُ عَلَيْهِ الْعَرُوسُ لِلْجِلْوَةِ مِنْ نَصَصْت الشَّيْءَ رَفَعْته وَالْعَرُوسُ نَعْتٌ يَسْتَوِي فِيهِ الرَّجُلُ وَالْمَرْأَةُ مَا دَامَا فِي
সুদৃঢ় আয়াতসমূহের মাধ্যমে চূড়ান্ত সুবিন্যস্ত করেছেন এবং রূপক আয়াতসমূহকে (মুতাশাবিহাত) গোপনীয়তার তাঁবুর ভেতর সীমাবদ্ধ রেখেছেন, যেন তা জ্ঞানে পরিপক্ক ব্যক্তিদের হৃদয়ের জন্য একটি পরীক্ষা হয়। কেননা আমাদের মাযহাব অনুযায়ী মুতাশাবিহাত বা রূপক আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করার উদ্দেশ্য হলো—আর তা হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর ওয়াকফে লাযিম (আবশ্যক বিরতি) করা যে, "আল্লাহ ব্যতীত কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না" [আল ইমরান: ৭]—জ্ঞানে পরিপক্ক ব্যক্তিদের ধীশক্তিকে সে বিষয়ে চিন্তা করা থেকে বিরত রাখা এবং সেই রহস্যময় জ্ঞান লাভ করা থেকে তাদের নিবৃত্ত রাখা যা তিনি এগুলোর মাঝে গচ্ছিত রেখেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির কাউকেই সে বিষয়ে অবহিত করেননি, যদিও তারা সেই জ্ঞান লাভের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। (এবং নুসুস বা অকাট্য দলীলসমূহ হলো চিন্তাশীলদের কুমারী চিন্তাধারারূপী নববধূর বাসর মঞ্চ।) বাসর মঞ্চ হলো এমন এক স্থান যেখানে নববধূকে প্রদর্শনের জন্য উঁচুতে বসানো হয়। (এবং উন্মোচন...

ــ

‌ ‌[আত-তালবীহ]

তিনি মুসাব্বাহ বিহি-কে (যার সাথে তুলনা করা হয়েছে) মুসাব্বাহ-এর (যাকে তুলনা করা হয়েছে) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, যেমন পানির রূপার ক্ষেত্রে করা হয়েছে। আর বিধানসমূহ এমন কিছু আংশিক দলিলের ওপর নির্ভরশীল যা সংখ্যায় অধিক হওয়া সত্ত্বেও চারটি মূল দলিলের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, যেগুলো হলো বিধানের প্রাসাদের স্তম্ভসমূহ। সুতরাং তিনি আলোচনার মাঝখানে এগুলোকে সেই ক্রমানুসারে উল্লেখ করেছেন যার ওপর ভিত্তি করে শরীয়তদাতা বিধানসমূহ বিন্যস্ত করেছেন; অর্থাৎ প্রথমে কিতাব (কুরআন), অতঃপর সুন্নাহ, অতঃপর ইজমা এবং এরপর কিয়াসের ওপর আমল করা। তিনি প্রথম তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং কিয়াসকে তার এই কথা দ্বারা বুঝিয়েছেন যে, "তিনি বিজ্ঞজনদের পথে ইলমের নিশানাসমূহ স্থাপন করেছেন"; অর্থাৎ যারা নুসূস বা মূল পাঠ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন এবং মহান আল্লাহর বাণী—"হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো" [হাশর: ২]—থেকে বিধানের কারণ (ইল্লত) অন্বেষণ করেন। আপনি বলেন "আমি বিষয়টি বিবেচনা করেছি" যখন আপনি সেটির দিকে গভীর দৃষ্টিপাত করেন এবং পর্যবেক্ষণ করেন। আর "ইলম" হলো এমন নিদর্শন যার মাধ্যমে পথ চেনা যায়; এর দ্বারা তিনি বিধানের সেই কারণকে বুঝিয়েছেন যার মাধ্যমে মূল বিষয়ের বিধানটি সাদৃশ্যপূর্ণ শাখায় সাব্যস্ত করার দলিল পাওয়া যায়। যদি আপনি বলেন: শরীয়তদাতার বিন্যাস কি ঢালাওভাবে ইজমার ওপর সুন্নাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া নয়? বরং তা তখনই যখন সুন্নাহ অকাট্য হয়। আমি বলব: আলোচনা হচ্ছে সুন্নাহর মূল সত্তা নিয়ে এবং এর অগ্রাধিকারের বিষয়টি সুষ্পষ্ট। আর সুন্নাহকে যেখানে বিলম্বিত করা হয়, সেখানে মূলত এটি সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রবল ধারণার (জন্ন) অবকাশ থাকার রূপ আপতিত হওয়ার কারণেই বিলম্বিত করা হয়। এরপর তিনি কিতাবের কিছু প্রকারভেদ উল্লেখ করেছেন এই ইশারা স্বরূপ যে, যেমন একটি প্রাসাদে এমন কিছু থাকে যা অত্যন্ত প্রকাশ্য, আবার কিছু থাকে যা তার চেয়ে কম প্রকাশ্য, আবার এমন কিছু থাকে যা অত্যন্ত গোপন ও আবৃত যে প্রাসাদের মালিক ছাড়া আর কেউ সেখানে পৌঁছাতে পারে না এবং কিছু থাকে যা তার চেয়ে কম গোপন; ঠিক তেমনি বিধানের প্রাসাদও "মুহকাম" (যা চরমভাবে সুস্পষ্ট), "নস" (যা তার চেয়ে কম স্পষ্ট), "মুতাশাবিহ" (যা চরমভাবে অস্পষ্ট বা গোপন) এবং "মুজমাল" (যা তার চেয়ে কম অস্পষ্ট) বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। অচিরেই এগুলোর ব্যাখ্যা আসবে।

তাঁর বক্তব্য (মাকসুরাত) অর্থাৎ আবদ্ধ বা সীমাবদ্ধ। তিনি রূপক বা অস্পষ্ট বিষয়গুলোর (মুতাশাবিহাত) ওপর গোপনীয়তার তাবু স্থাপন করেছেন এবং সেগুলোকে এমনভাবে পরিবেষ্টিত করেছেন যাতে সেগুলোর প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ হওয়ার কোনো আশাই না থাকে। এটি সেই মাযহাব বা মতাদর্শের ভিত্তিতে বলা হয়েছে যে, মুতাশাবিহাতের ব্যাখ্যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। আর এটি অবতীর্ণ করার উদ্দেশ্য হলো জ্ঞানে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা; যাতে তারা এ নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করা এবং এর রহস্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভের চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছানো থেকে বিরত থাকে। যেভাবে মূর্খরা তাদের কাছে কাম্য নয় এমন জ্ঞান অর্জন এবং জ্ঞান অন্বেষণে গভীর অভিনিবেশের মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়, তেমনিভাবে আলেমগণও বিরতি গ্রহণ এবং তাদের কাছে প্রিয় বিষয়টি ত্যাগ করার মাধ্যমে পরীক্ষিত হন। কারণ প্রত্যেকের পরীক্ষা কেবল তার প্রবৃত্তি ও আকাঙ্ক্ষার বিপরীত বিষয়ের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

তাঁর বক্তব্য (তাদের চিন্তার লাগাম টেনে ধরার মাধ্যমে): আপনি যখন কোনো পশুকে লাগাম দিয়ে নিজের দিকে টেনে ধরেন যাতে সেটি থেমে যায় এবং দৌড় না দেয়, তখন বলা হয় 'আমি জন্তুটির লাগাম টেনে ধরেছি' বা তাকে অবদমিত করেছি।

তাঁর বক্তব্য (তিনি সেগুলোকে এতে গচ্ছিত রেখেছেন) অর্থাৎ আল্লাহ মুতাশাবিহাতসমূহের (অস্পষ্ট বিষয়াদি) মধ্যে রহস্যসমূহ গচ্ছিত রেখেছেন। ‘আল-ইদা’ বা গচ্ছিত রাখা ক্রিয়াটি দুটি কর্মপদ গ্রহণ করে। আপনি বলেন ‘আমি তাকে সম্পদ গচ্ছিত দিয়েছি’ যখন আপনি তা তার নিকট অর্পণ করেন যেন তা তার কাছে আমানত হিসেবে থাকে। আর এখানে ‘ফী’ (মধ্যে) অব্যয়টি ভাষাগত শৈথিল্য অথবা সন্নিবেশিত করা ও স্থাপন করার অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য (উঁচু মঞ্চ), মীম বর্ণে ফাতহা যোগে, এটি এমন স্থান যার ওপর বর বা কনেকে জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য উঠানো হয়। এটি ‘নাসাসতুশ শাইআ’ (আমি বস্তুটি উঠালাম) থেকে গৃহীত। ‘আরূস’ শব্দটি এমন একটি বিশেষণ যা পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য যতক্ষণ তারা বিবাহের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে থাকে।
(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الْقِنَاعِ عَنْ جَمَالِ مُجَمَّلَاتٍ كِتَابَةً بِسُنَّةِ نَبِيِّهِ الْمُصْطَفَى وَفَصْلِ خِطَابِهِ) أَيْ الْخِطَابِ الْفَاصِلِ بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ (صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ مَا رَفَعَ أَعْلَامَ الدِّينِ بِإِجْمَاعِ الْمُجْتَهِدِينَ، وَوَضَعَ مَعَالِمَ الْعِلْمِ عَلَى مَسَالِكِ الْمُعْتَبِرِينَ) أَرَادَ بِمَعَالِمِ الْعِلْمِ الْعِلَلَ الَّتِي يَعْلَمُ الْقَائِسُ بِهَا الْحُكْمَ فِي الْمَقِيسِ، وَأَرَادَ بِالْمُعْتَبِرِينَ بِكَسْرِ الْبَاءِ الْقَائِسِينَ، وَمَسَالِكُهُمْ هِيَ مَوَاقِعُ سُلُوكِهِمْ بِأَقْدَامِ الْفِكْرِ مِنْ مَوَادِّ النُّصُوصِ إلَى الْأَحْكَامِ الثَّابِتَةِ فِي الْفُرُوعِ، فَمَبْدَأُ سُلُوكِهِمْ هُوَ لَفْظُ النَّصِّ فَيَعْبُرُونَ مِنْهُ إلَى مَعَانِيهِ اللُّغَوِيَّةِ الظَّاهِرَةِ، ثُمَّ مِنْهَا إلَى مَعَانِيهِ الشَّرْعِيَّةِ الْبَاطِنَةِ فَيَجِدُونَ فِيهَا عَلَامَاتٍ وَأَمَارَاتٍ وَضَعَهَا الشَّارِعُ لِيَهْتَدُوا بِهَا إلَى مَقَاصِدِهِمْ، وَلَمَّا قَالَ بُنِيَ عَلَى أَرْبَعَةِ أَرْكَانٍ قَصَرَ الْأَحْكَامَ ذَكَرَ الْأَرْكَانَ الْأَرْبَعَةَ وَهِيَ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَالْإِجْمَاعُ وَالْقِيَاسُ عَلَى الْوَجْهِ الَّذِي بَنَى الشَّارِعُ قَصْرَ الْأَحْكَامِ عَلَيْهَا.

(وَبَعْدُ فَإِنَّ الْعَبْدَ الْمُتَوَسِّلَ إلَى اللَّهِ تَعَالَى بِأَقْوَى الذَّرِيعَةِ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودِ بْنِ تَاجِ الشَّرِيعَةِ سَعِدَ جَدُّهُ وَجَدَّ سَعْدُهُ يَقُولُ لَمَّا رَأَيْت فُحُولَ الْعُلَمَاءِ مُكِبِّينَ فِي كُلِّ عَهْدٍ وَزَمَانٍ عَلَى مُبَاحَثَةِ أُصُولِ الْفِقْهِ) أَيْ مُقْبِلِينَ عَلَيْهَا مِنْ أَكَبَّ عَلَى وَجْهِهِ سَقَطَ عَلَيْهِ فَإِنَّ مَنْ أَقْبَلَ عَلَى الشَّيْءِ غَايَةَ الْإِقْبَالِ فَكَأَنَّهُ أَكَبَّ عَلَيْهِ (لِلشَّيْخِ الْإِمَامِ مُقْتَدَى الْأَئِمَّةِ الْعِظَامِ فَخْرِ الْإِسْلَامِ عَلِيٍّ الْبَزْدَوِيِّ بَوَّأَهُ اللَّهُ تَعَالَى دَارَ السَّلَامِ وَهُوَ كِتَابٌ جَلِيلُ الشَّأْنِ

ــ

‌‌[التلويح]

إعْرَاسِهِمَا يُجْمَعُ الْمُؤَنَّثُ عَلَى عَرَائِسَ وَالْمُذَكَّرُ عَلَى عُرُسٍ بِضَمَّتَيْنِ، وَفِي هَذَا الْكَلَامِ نَوْعُ حَزَازَةٍ؛ لِأَنَّ الْمَعَانِيَ الَّتِي أُظْهِرَتْ بِالنُّصُوصِ وَجُلِّيَتْ بِهَا عَلَى النَّاظِرِينَ هِيَ مَفْهُومَاتُهَا وَالْأَحْكَامُ الْمُسْتَفَادَةُ مِنْهَا وَهِيَ لَيْسَتْ نَتَائِجَ أَفْكَارِ الْمُتَفَكِّرِينَ، بَلْ أَحْكَامُ الْمَلِكِ الْحَقِّ الْمُبِينِ فَكَأَنَّهُ أَرَادَ أَنَّ الْمُجْتَهِدِينَ يَتَأَمَّلُونَ فِي النُّصُوصِ فَيَطَّلِعُونَ عَلَى مَعَانٍ وَدَقَائِقَ وَيَسْتَخْرِجُونَ أَحْكَامًا وَحَقَائِقَ وَهِيَ نَتَائِجُ أَفْكَارِهِمْ الظَّاهِرَةِ عَلَى النُّصُوصِ بِمَنْزِلَةِ الْعَرُوسِ عَلَى الْمَنَصَّةِ.

قَوْلُهُ (وَفَصْلُ خِطَابِهِ) أَيْ خِطَابِهِ الْفَاصِلِ الْمُمَيِّزِ بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ أَوْ خِطَابِهِ الْمَفْصُولِ الَّذِي يَتَبَيَّنُهُ مَنْ يُخَاطَبُ بِهِ وَلَا يَلْتَبِسُ عَلَيْهِ عَلَى أَنَّ الْفَصْلَ مَصْدَرٌ بِمَعْنَى الْفَاعِلِ أَوْ الْمَفْعُولِ، وَهَذَا مِنْ عَطْفِ الْخَاصِّ عَلَى الْعَامِّ تَنْبِيهًا عَلَى عِظَمِ أَمْرِهِ وَفَخَامَةِ قَدْرِهِ، إذْ السُّنَّةُ ضَرْبَانِ قَوْلٌ وَفِعْلٌ وَالْقَوْلُ هُوَ الْمَوْضُوعُ لِبَيَانِ الشَّرَائِعِ الْمَبْنِيُّ عَلَيْهِ أَكْثَرُ الْأَحْكَامِ الْمُتَّفَقُ عَلَى حُجِّيَّتِهِ بَيْنَ الْأَنَامِ.

قَوْلُهُ (مَا رَفَعَ) أَيْ مَا دَامَ رَايَاتُ مَرَاسِمِ الدِّينِ مَرْفُوعَةً عَالِيَةً بِإِجْمَاعِ الْمُجْتَهِدِينَ الْبَاذِلِينَ وُسْعَهُمْ فِي إعْلَاءِ كَلِمَةِ اللَّهِ وَإِحْيَاءِ مَرَاسِمِ الدِّينِ فَإِنَّ الْحُكْمَ الْمُجْمَعَ عَلَيْهِ مَرْفُوعٌ لَا يُوضَعُ وَمَنْصُوبٌ لَا يُخْفَضُ.

قَوْلُهُ (جَلِيلَ الشَّأْنِ) أَيْ عَظِيمَ الْأَمْرِ بَاهِرَ الْبُرْهَانِ أَيْ غَالِبَ الْحُجَّةِ وَفَائِقَهَا مَرْكُوزٌ أَيْ مَدْفُونٌ مِنْ رَكَّزْت الرُّمْحَ غَرَزْته فِي الْأَرْضِ وَالْكُنُوزُ الْأَمْوَالُ الْمَدْفُونَةُ وَالصُّخُورُ وَالْحِجَارَةُ الْعِظَامُ شَبَهٌ بِهَا عِبَارَاتُهُ الصَّعْبَةُ الْجَزْلَةُ لِصُعُوبَةِ التَّوَصُّلِ بِهَا إلَى فَهْمِ الْمَعَانِي الَّتِي هِيَ بِمَنْزِلَةِ الْجَوَاهِرِ النَّفِيسَةِ وَالرَّمْزُ الْإِشَارَةُ بِالشَّفَتَيْنِ أَوْ الْحَاجِبِ تَعَدَّى بِإِلَى فَأَصْلُ الْكَلَامِ مَرْمُوزٌ إلَى غَوَامِضِ حَذْفِ الْجَارِّ

(তাঁর মনোনীত নবীর সুন্নাহ এবং তাঁর ফাসলুল খিতাবের মাধ্যমে অলঙ্কৃত বিষয়াবলির সৌন্দর্য থেকে পর্দা উন্মোচন করে) অর্থাৎ সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী ভাষণ (আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যতক্ষণ মুজতাহিদগণের ঐকমত্যের মাধ্যমে দ্বীনের পতাকা সমুন্নত থাকে এবং গবেষণা ও কিয়াসকারীদের পথে ইলমের নিদর্শনসমূহ স্থাপিত থাকে)। ইলমের নিদর্শনসমূহ বলতে তিনি সেইসব কারণ বা ইল্লতসমূহকে বুঝিয়েছেন যার মাধ্যমে কিয়াসকারী ব্যক্তি কিয়াসকৃত বিষয়ের বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। আর ‘মু’তাবিরীন’ (বা-বর্ণের নিচে কাসরা যোগে) শব্দ দ্বারা তিনি কিয়াসকারীগণকে উদ্দেশ্য করেছেন। আর তাদের পথ বা ‘মাসালিক’ হলো নস বা মূল পাঠের বিষয়বস্তু থেকে ফুরুঈ বা শাখা মাসআলার সাব্যস্ত বিধানসমূহের দিকে চিন্তাশক্তির পদচারণার স্থানসমূহ। সুতরাং তাদের এই পথচলার সূচনা হয় নসের শব্দ থেকে, এরপর তারা তা থেকে এর বাহ্যিক আভিধানিক অর্থের দিকে অগ্রসর হন, অতঃপর সেখান থেকে এর অভ্যন্তরীণ শরয়ি অর্থের দিকে গমন করেন। ফলে সেখানে তারা এমন কিছু চিহ্ন ও নিদর্শন খুঁজে পান যা শারিয়াত প্রণেতা স্থাপন করেছেন যাতে তারা এর মাধ্যমে নিজ লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে পারেন। আর যখন তিনি বললেন যে, ‘চারটি রুকনের ওপর ভিত্তি করে বিধানসমূহ সীমাবদ্ধ করা হয়েছে’, তখন তিনি সেই চারটি রুকন উল্লেখ করেন আর সেগুলো হলো: কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস; এমনভাবে যেভাবে শারিয়াত প্রণেতা এগুলোর ওপর বিধানসমূহের প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন।

(অতঃপর, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর নিকট অতি শক্তিশালী মাধ্যমের দ্বারা উসিলা অন্বেষণকারী বান্দা উবায়দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ইবনে তাজুশ শারী'য়াহ —তার পূর্বপুরুষ সৌভাগ্যবান এবং তার সৌভাগ্য সুপ্রসন্ন— বলেন: যখন আমি দেখলাম যে, প্রত্যেক যুগ ও সময়ে প্রাজ্ঞ আলেমগণ উসূলে ফিকহ এর গবেষণায় নিবিষ্টচিত্ত রয়েছেন।) অর্থাৎ এর প্রতি ধাবিত হওয়া; এটি ‘আকাব্বা আলা ওয়াজহিহি’ (সে উপুড় হয়ে পড়ল) থেকে উদ্ভূত। কেননা, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ের দিকে চরমভাবে নিবিষ্ট হয়, সে যেন তার ওপর উপুড় হয়ে পড়ল। (শাইখ, ইমাম, মহান ইমামগণের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, ফখরুল ইসলাম আলী আল-বাজদাওয়ী—আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে স্থান দান করুন—এর কিতাব; আর এটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাপূর্ণ একটি কিতাব।

ــ

‌ ‌[আত-তালবীহ]

তাদের বিবাহ; স্ত্রীলিঙ্গকে ‘আরাইস’ এবং পুংলিঙ্গকে ‘উরুস’ (উভয় বর্ণে পেশসহ) হিসেবে বহুবচন করা হয়। এই বক্তব্যের মধ্যে এক ধরণের অসংগতি বা অস্বস্তি রয়েছে; কারণ নস বা মূল পাঠের মাধ্যমে যে অর্থসমূহ প্রকাশ করা হয়েছে এবং দর্শকদের সামনে যা স্পষ্ট করা হয়েছে, তা হলো ঐ পাঠেরই মর্মার্থ এবং তা থেকে আহরিত বিধানাবলি। এগুলো চিন্তাবিদদের চিন্তাপ্রসূত ফলাফল নয়, বরং এগুলো সত্য ও সুস্পষ্ট রাজাধিরাজের পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান। তিনি যেন বোঝাতে চেয়েছেন যে, মুজতাহিদগণ নসসমূহের মধ্যে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করেন এবং এর ফলে তারা বিভিন্ন সূক্ষ্ম অর্থ ও নিগূঢ় বিষয়াবলি সম্পর্কে অবগত হন এবং সেখান থেকে বিধান ও সত্যকে উদঘাটন করেন। নসসমূহের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত তাদের এই চিন্তালব্ধ বিষয়গুলো যেন বিয়ের সুসজ্জিত মঞ্চে উপবিষ্ট কনের মতো।

তাঁর বাণী (এবং তাঁর ফাসলুল খিতাব) অর্থাৎ তাঁর এমন ফয়সালাকারী বক্তব্য যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে; অথবা তাঁর এমন সুস্পষ্ট বক্তব্য যা সম্বোধিত ব্যক্তির কাছে সুষ্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় এবং তার নিকট কোনো সংশয় থাকে না। এখানে ‘ফাসল’ শব্দটি মাসদার হলেও তা ইসমে ফায়েল বা ইসমে মাফউলের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি সাধারণ বিষয়ের ওপর বিশেষ বিষয়ের সংযুক্তি, যা এই বিষয়ের গুরুত্ব ও মর্যাদার বিশালত্ব বোঝানোর জন্য করা হয়েছে। কারণ সুন্নাহ দুই প্রকার: কথা ও কাজ। আর ‘কথা’ হলো এমন বিষয় যা শরয়ি বিধিবিধান বর্ণনার জন্য প্রবর্তিত এবং যার ওপর অধিকাংশ হুকুম প্রতিষ্ঠিত, আর মানুষের মধ্যে এর দলীল হওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মত।

তাঁর বাণী (যতদিন উড্ডীন থাকবে) অর্থাৎ আল্লাহর কালিমাকে উচ্চকিত করতে এবং দ্বীনের নিদর্শনসমূহকে পুনর্জীবিত করতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালানো মুজতাহিদগণের ঐকমত্যের মাধ্যমে দ্বীনি নিদর্শনের পতাকাসমূহ যতদিন সুউচ্চ ও উড্ডীন থাকবে। কেননা ইজমার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হুকুম বা বিধান সর্বদা সমুন্নত থাকে, যা কখনো অবনমিত হয় না এবং তা সুপ্রতিষ্ঠিত, যা কখনো অপসারিত হয় না।

তাঁর বাণী (মহান মর্যাদাসম্পন্ন) অর্থাৎ যা বিষয়ে মহান এবং যার প্রমাণ উদ্ভাসিত; অর্থাৎ যা দলিলে প্রবল এবং শ্রেষ্ঠ। 'মারকুয' অর্থ প্রোথিত বা দাফনকৃত; এটি 'আমি বর্শা গেঁথে দিয়েছি' থেকে আগত, অর্থাৎ আমি তা মাটিতে গেঁথেছি। আর 'কুনূয' (ধনভাণ্ডার) হলো দাফনকৃত সম্পদ। শিলা ও বিশাল পাথরসমূহকে তাঁর কঠিন ও বলিষ্ঠ শব্দাবলির সাথে তুলনা করা হয়েছে; কারণ সেগুলোর মাধ্যমে এমন সব অর্থ উপলব্ধিতে পৌঁছানো কঠিন যা মূল্যবান মণিরত্ন সদৃশ। আর 'রাময' হলো ওষ্ঠদ্বয় বা ভ্রু-পল্লবের মাধ্যমে ইশারা করা। এটি 'ইলা' অব্যয় দ্বারা ক্রিয়াশীল হয়, ফলে বাক্যের মূল রূপ হলো 'অস্পষ্ট বিষয়গুলোর দিকে ইশারা করা হয়েছে', এখানে অব্যয়টি উহ্য রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ১১)
بَاهِرُ الْبُرْهَانِ مَرْكُوزٌ كُنُوزُ مَعَانِيهِ فِي صُخُورِ عِبَارَاتِهِ وَمَرْمُوزٌ غَوَامِضُ نُكَتِهِ فِي دَقَائِقِ إشَارَاتِهِ وَوَجَدْت بَعْضَهُمْ طَاعِنِينَ عَلَى ظَوَاهِرِ أَلْفَاظِهِ؛ لِقُصُورِ نَظَرِهِمْ عَنْ مَوَاقِعِ أَلْحَاظِهِ) أَيْ لَا يُدْرِكُونَ بِإِمْعَانِ النَّظَرِ مَا يُدْرِكُهُ هُوَ بِلِحَاظِ عَيْنِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْظُرَ إلَيْهِ قَصْدًا (أَرَدْت تَنْقِيحَهُ وَتَنْظِيمَهُ وَحَاوَلْت) أَيْ طَلَبْت (تَبْيِينَ مُرَادِهِ وَتَفْهِيمَهُ وَعَلَى قَوَاعِدِ الْمَعْقُولِ وَتَأْسِيسِهِ وَتَقْسِيمِهِ مُورِدًا فِيهِ زُبْدَةَ مَبَاحِثِ الْمَحْصُولِ وَأُصُولِ الْإِمَامِ الْمُدَقِّقِ جَمَالِ الْعَرَبِ ابْنِ الْحَاجِبِ مَعَ تَحْقِيقَاتٍ بَدِيعَةٍ وَتَدْقِيقَاتٍ غَامِضَةٍ مَنِيعَةٍ تَخْلُو الْكُتُبُ عَنْهَا سَالِكًا فِيهِ مَسْلَكَ الضَّبْطِ وَالْإِيجَازِ مُتَشَبِّثًا بِأَهْدَابِ السِّحْرِ مُتَمَسِّكًا بِعُرْوَةِ الْإِعْجَازِ) اخْتَارَ فِي الْإِعْجَازِ الْعُرْوَةَ وَفِي السِّحْرِ الْأَهْدَابَ؛ لِأَنَّ الْإِعْجَازَ أَقْوَى وَأَوْثَقُ مِنْ السِّحْرِ وَاخْتَارَ فِي الْعُرْوَةِ لَفْظَ الْوَاحِدِ وَفِي الْأَهْدَابِ لَفْظَ الْجَمْعِ؛ لِأَنَّ الْإِعْجَازَ فِي الْكَلَامِ أَنْ يُؤَدَّى الْمَعْنَى بِطَرِيقٍ هُوَ أَبْلَغُ مِنْ جَمِيعِ مَا عَدَاهُ مِنْ الطُّرُقِ، وَلَا يَكُونُ هَذَا إلَّا وَاحِدًا وَأَمَّا السِّحْرُ فِي الْكَلَامِ فَهُوَ دُونَ الْإِعْجَازِ وَطُرُقُهُ فَوْقَ

ــ

‌‌[التلويح]

وَأَوْصَلَ الْفِعْلَ فَصَارَ غَوَامِضُ مُسْنَدًا إلَيْهِ وَالنُّكْتَةُ اللَّطِيفَةُ الْمُنَقَّحَةُ مِنْ نَكَتَ فِي الْأَرْضِ بِالْقَضِيبِ إذَا ضَرَبَ فَأَثَّرَ فِيهَا يَعْنِي قَدْ أَوْمَأَ إلَى النُّكَتِ الْخَفِيَّةِ اللَّطِيفَةِ فِي أَثْنَاءِ إشَارَاتِهِ الدَّقِيقَةِ وَالنَّظَرُ تَأَمُّلُ الشَّيْءِ بِالْعَيْنِ وَالْإِمْعَانُ فِيهِ وَاللَّحْظُ النَّظَرُ إلَى الشَّيْءِ بِمُؤَخَّرِ الْعَيْنِ وَاللَّحَاظُ بِالْفَتْحِ مُؤَخَّرُ الْعَيْنِ وَالتَّنْقِيحُ التَّهْذِيبُ تَقُولُ نَقَّحْت الْجِذْعَ وَشَذَّبْته إذَا قَطَعْت مَا تَفَرَّقَ مِنْ أَغْصَانِهِ وَلَمْ يَكُنْ فِي لُبِّهِ وَتَنْظِيمُ الدُّرَرِ فِي السِّلْكِ جَمْعُهَا كَمَا يَنْبَغِي مُتَرَتِّبَةً مُتَنَاسِقَةً وَالْكَلَامُ لَا يَخْلُو عَنْ تَعْرِيضٍ مَا بَانَ فِي أُصُولِ فَخْرِ الْإِسْلَامِ زَوَائِدَ يَجِبُ حَذْفُهَا وَشَتَائِتَ يَجِبُ نَظْمُهَا وَمَغَالِقَ يَجِبُ حَلُّهَا وَأَنَّهُ لَيْسَ بِمَبْنِيٍّ عَلَى قَوَاعِدِ الْمَعْقُولِ بِأَنْ يُرَاعَى فِي التَّعْرِيفَاتِ وَالْحُجَجِ شَرَائِطُهَا الْمَذْكُورَةُ فِي عِلْمِ الْمِيزَانِ، وَفِي التَّقْسِيمَاتِ عَدَمُ تَدَاخُلِ الْأَقْسَامِ إلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا لَمْ يَلْتَفِت إلَيْهِ الْمَشَايِخُ.

قَوْلُهُ (مُورِدًا فِيهِ) فِي ذَلِكَ الْمُنَقَّحِ الْمَوْصُوفِ يَعْنِي كِتَابَهُ وَكَذَا الضَّمَائِرُ الَّتِي تَأْتِي بَعْدَ ذَلِكَ.

قَوْلُهُ (الْإِعْجَازُ فِي الْكَلَامِ أَنْ يُؤَدَّى الْمَعْنَى بِطَرِيقٍ هُوَ أَبْلَغُ مِنْ جَمِيعِ مَا عَدَاهُ مِنْ الطُّرُقِ) لَيْسَ تَفْسِيرُ الْمَفْهُومِ إعْجَازَ الْكَلَامِ؛ لِأَنَّهُ لَا يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ بِالْبَلَاغَةِ، بَلْ هُوَ عِبَارَةٌ عَنْ كَوْنِ الْكَلَامِ بِحَيْثُ لَا يُمْكِنُ مُعَارَضَتُهُ وَالْإِتْيَانُ بِمِثْلِهِ مِنْ أَعْجَزْتُهُ جَعَلْته عَاجِزًا وَلِهَذَا اخْتَلَفُوا فِي جِهَةِ إعْجَازِ الْقُرْآنِ مِنْ الِاتِّفَاقِ عَلَى كَوْنِهِ مُعْجِزًا فَقِيلَ إنَّهُ بِبَلَاغَتِهِ وَقِيلَ بِإِخْبَارِهِ عَنْ الْمُغَيَّبَاتِ، وَقِيلَ بِأُسْلُوبِهِ الْغَرِيبِ وَقِيلَ بِصَرْفِ اللَّهِ الْعُقُولَ عَنْ الْمُعَارَضَةِ، بَلْ الْمُرَادُ أَنَّ إعْجَازَ كَلَامِ اللَّهِ تَعَالَى إنَّمَا هُوَ بِهَذَا الطَّرِيقِ، وَهُوَ كَوْنُهُ فِي غَايَةِ الْبَلَاغَةِ وَنِهَايَةِ الْفَصَاحَةِ عَلَى مَا هُوَ الرَّأْيُ الصَّحِيحُ فَبِاعْتِبَارِ أَنَّهُ يُشْتَرَطُ فِي إعْجَازِ الْكَلَامِ كَوْنُهُ أَبْلَغَ مِنْ جَمِيعِ مَا عَدَاهُ يَكُونُ وَاحِدًا لَا تَعَدُّدَ فِيهِ بِخِلَافِ سِحْرِ الْكَلَامِ فَإِنَّهُ عِبَارَةٌ عَنْ دِقَّتِهِ وَلُطْفِ مَأْخَذِهِ، وَهَذَا يَقَعُ عَلَى طُرُقٍ مُتَعَدِّدَةٍ وَمَرَاتِبَ مُخْتَلِفَةٍ فَلِهَذَا قَالَ أَهْدَابُ السِّحْرِ بِلَفْظِ الْجَمْعِ

যার প্রমাণ সমুজ্জ্বল, এর অর্থের ভাণ্ডারসমূহ এর বাচনভঙ্গির পাথরে নিহিত এবং এর সূক্ষ্ম পয়েন্টগুলোর গূঢ় রহস্য এর ইঙ্গিতের সূক্ষ্মতায় সংকেতবদ্ধ। আমি তাদের কয়েকজনকে এর শব্দের বাহ্যিক রূপের ওপর আপত্তি তুলতে দেখেছি; এর কারণ হলো এর সূক্ষ্ম দৃষ্টির লক্ষ্যস্থল অনুধাবনে তাদের দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা। (অর্থাৎ, গভীর চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না, যা তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে না তাকিয়েও তাঁর চোখের পলকে বা নজরেই বুঝতে পারেন।) আমি একে পরিমার্জন ও সুবিন্যস্ত করতে চেয়েছি এবং চেষ্টা করেছি (অর্থাৎ অন্বেষণ করেছি) এর উদ্দেশ্য বর্ণনা ও তা বুঝিয়ে দেওয়ার। এবং যুক্তিনির্ভর নিয়মকানুন, এর ভিত্তি ও বিন্যাসের আলোকে আমি এতে 'আল-মাহসুল'-এর আলোচনার নির্যাস এবং সূক্ষ্মদর্শী ইমাম, আরবদের সৌন্দর্য ইবনুল হাজিব-এর উসুল বা মূলনীতিসমূহ সন্নিবেশিত করেছি। সেই সাথে এতে রয়েছে চমৎকার বিশ্লেষণ এবং এমন গূঢ় ও শক্তিশালী সূক্ষ্ম বিষয়াবলী যা অন্যান্য কিতাবসমূহে পাওয়া যায় না; আমি এতে সূক্ষ্মতা ও সংক্ষেপণের পথ অনুসরণ করেছি, বাগ্মিতার জাদুকরী প্রান্তভাগ আঁকড়ে ধরেছি এবং অলৌকিকত্বের মজবুত হাতল ধারণ করেছি। তিনি অলৌকিকত্বের ক্ষেত্রে 'মজবুত হাতল' এবং জাদুকরী বাণীর ক্ষেত্রে 'প্রান্তভাগ' শব্দটি নির্বাচন করেছেন; কারণ অলৌকিকত্ব হলো জাদুকরী প্রভাবের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও সুদৃঢ়। আর তিনি 'হাতল'-এর ক্ষেত্রে একবচন এবং 'প্রান্তভাগ'-এর ক্ষেত্রে বহুবচন শব্দ চয়ন করেছেন; কেননা কথার মধ্যে অলৌকিকত্ব হলো অর্থকে এমন পদ্ধতিতে প্রকাশ করা যা অন্য সকল পদ্ধতির চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল ও শ্রেষ্ঠ, আর এটি কেবল একটিই হতে পারে। পক্ষান্তরে কথার মধ্যে জাদুকরী প্রভাব অলৌকিকত্বের চেয়ে নিম্নস্তরের এবং এর পদ্ধতিসমূহ অনেক।

—

‌ [আত-তালবীহ]

এবং তিনি ক্রিয়াটিকে যুক্ত করেছেন, ফলে 'গাওয়ামিদ' (জটিল বিষয়সমূহ) মুসনাদ ইলাইহি (উদ্দেশ্য) হয়েছে। আর সূক্ষ্ম ও পরিশোধিত ‘নুকতাহ’ (তত্ত্ব) শব্দটি ‘নাকাতা ফিল আরদি বিল কাদিবি’ থেকে গৃহীত, যার অর্থ যখন কেউ লাঠি দিয়ে মাটিতে আঘাত করে এবং তাতে চিহ্ন পড়ে। অর্থাৎ তিনি তাঁর সূক্ষ্ম ইঙ্গিতসমূহের মাঝে লুকায়িত সূক্ষ্ম তত্ত্বগুলোর দিকে ইশারা করেছেন। ‘নাজার’ হলো কোনো বস্তুকে চাক্ষুষ অবলোকন ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা। ‘লাহজ’ হলো চোখের কোণ দিয়ে কোনো কিছুর দিকে তাকানো, আর ‘লাহাজ’ (লাম অক্ষরে ফাতহাহসহ) হলো চোখের কোণ। ‘তানকীহ’ হলো সংশোধন ও পরিমার্জন। আপনি বলবেন, ‘আমি গাছের কাণ্ডকে ছেঁটেছি এবং তা পরিষ্কার করেছি’ যখন আপনি এর ডালপালার ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে থাকা অংশগুলো কেটে ফেলেন যা এর মূল সারবস্তুর অন্তর্ভুক্ত নয়। আর সুতায় মুক্তা গাঁথা হলো সেগুলোকে যথাযথভাবে ক্রমানুসারে ও সুবিন্যস্তভাবে একত্রিত করা। এই বক্তব্যের মধ্যে এই ইশারা বিদ্যমান যে, ফখরুল ইসলামের উসুল-এ এমন কিছু অতিরিক্ত বিষয় প্রকাশ পেয়েছে যা বর্জন করা আবশ্যক, এমন কিছু বিক্ষিপ্ত বিষয় রয়েছে যা সুবিন্যস্ত করা আবশ্যক এবং এমন কিছু জটিলতা রয়েছে যা সমাধান করা আবশ্যক। আর এটি যুক্তিবিদ্যার নিয়মের ওপর ভিত্তি করে রচিত নয় যে, সংজ্ঞা ও দলীল-প্রমাণের ক্ষেত্রে তর্কশাস্ত্রে বর্ণিত শর্তাবলির অনুসরণ করা হবে এবং শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে শ্রেণিগুলোর একে অপরের মধ্যে ঢুকে না পড়ার বিষয়টি রক্ষা করা হবে; এ জাতীয় আরও অনেক বিষয় রয়েছে যার প্রতি পূর্ববর্তী মাশায়েখগণ ভ্রূক্ষেপ করেননি।

তাঁর বক্তব্য (তাতে অবতারণা করে) অর্থাৎ সেই বর্ণিত পরিশোধিত গ্রন্থে; এর অর্থ হলো তাঁর কিতাব এবং এর পরবর্তীতে আসা সর্বনামগুলোর অবস্থাও অনুরূপ।

তাঁর উক্তি (কথার অলৌকিকত্ব বা ইজায হলো অর্থকে এমন পন্থায় প্রকাশ করা যা অন্য সকল পন্থা অপেক্ষা অধিক অলঙ্কারপূর্ণ) এটি কথার ইজাযের মূল ধারণাগত ব্যাখ্যা নয়; কারণ ইজাযের আভিধানিক অর্থের জন্য অলঙ্কারপূর্ণ হওয়া অপরিহার্য নয়। বরং এটি হলো কথা এমন স্তরের হওয়া যে তার মোকাবিলা করা এবং তার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসা অসম্ভব। এটি ‘আমি তাকে অক্ষম করেছি’ বাক্য থেকে গৃহীত। এই কারণেই কুরআনের অলৌকিকত্বের বিষয়ে ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও এর অলৌকিকত্বের কারণ নিয়ে উলামাগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন, এটি তার অলঙ্কারশৈলীর কারণে; কেউ বলেছেন, অদৃশ্যের সংবাদ দেওয়ার কারণে; কেউ বলেছেন, এর অনন্য শৈলীর কারণে; আবার কেউ বলেছেন, আল্লাহ তাআলা মানুষের বুদ্ধিকে এর মোকাবিলা করা থেকে বিমুখ রাখার কারণে। বরং উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তাআলার বাণীর অলৌকিকত্ব এই পন্থায়ই সম্পন্ন হয়, আর তা হলো এটি চরম অলঙ্কারিতা ও চূড়ান্ত প্রাঞ্জলতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া—যা সঠিক মত হিসেবে স্বীকৃত। যেহেতু কথার ইজায বা অলৌকিকত্বের জন্য শর্ত হলো এটি অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক অলঙ্কারপূর্ণ হওয়া, তাই এটি একটিই বিষয় এবং এতে কোনো বহুত্ব নেই। পক্ষান্তরে কথার জাদু বা ‘সিহরুল কালাম’ এর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এটি কথার সূক্ষ্মতা ও এর উৎসের চমৎকারিত্বের বহিঃপ্রকাশ। আর এটি নানাবিধ পন্থা ও বিভিন্ন স্তরে সংঘটিত হয়। এই কারণেই লেখক ‘জাদুর প্রান্তসমূহ’ বুঝাতে বহুবচন শব্দ ব্যবহার করেছেন।

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الْوَاحِدِ فَأَوْرَدَ فِيهِ لَفْظَ الْجَمْعِ (وَسَمَّيْته بِتَنْقِيحِ الْأُصُولِ، وَاَللَّهُ تَعَالَى مَسْئُولٌ أَنْ يُمَتِّعَ بِهِ مُؤَلِّفَهُ وَكَاتِبَهُ وَقَارِئَهُ وَطَالِبَهُ وَيَجْعَلَهُ خَالِصًا لِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ إنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ)

 

أُصُولُ الْفِقْهِ أَيْ هَذَا أُصُولُ الْفِقْهِ أَوْ أُصُولُ الْفِقْهِ مَا هِيَ فَنُعَرِّفُهَا أَوَّلًا بِاعْتِبَارِ الْإِضَافَةِ وَثَانِيًا بِاعْتِبَارِ أَنَّهُ لَقَبٌ لِعِلْمٍ مَخْصُوصٍ

ــ

‌‌[التلويح]

وَعُرْوَةُ الْإِعْجَازِ بِلَفْظِ الْمُفْرَدِ وَهُدْبُ الثَّوْبِ مَا عَلَى أَطْرَافِهِ وَعُرْوَةُ الْكُوزِ كُلْيَتُهُ الَّذِي تُؤْخَذُ عَنْهُ أَخَذَهُ وَهِيَ أَقْوَى مِنْ الْهُدْبِ فَخَصَّهَا بِالْإِعْجَازِ الَّذِي هُوَ أَوْثَقُ مِنْ السِّحْرِ، وَفِي الصِّحَاحِ السِّحْرُ الْأُخْذَةُ وَكُلُّ مَا لَطُفَ مَأْخَذُهُ وَدَقَّ فَهُوَ سِحْرٌ، وَمَعْنَى تَمَسُّكِهِ بِذَلِكَ مُبَالَغَتُهُ فِي تَلْطِيفِ الْكَلَامِ وَتَأْدِيَةِ الْمَعَانِي بِالْعِبَارَاتِ اللَّائِقَةِ الْفَائِقَةِ حَتَّى كَأَنَّهُ يَتَقَرَّبُ إلَى السِّحْرِ وَالْإِعْجَازِ وَهَاهُنَا بَحْثَانِ الْأَوَّلُ أَنَّ كَوْنَ طَرِيقِ تَأْدِيَة الْمَعْنَى أَبْلَغَ مِنْ جَمِيعِ مَا عَدَاهُ مِنْ الطُّرُقِ الْمُحَقَّقَةِ الْمَوْجُودَةِ غَيْرُ كَافٍ فِي الْإِعْجَازِ، بَلْ لَا بُدَّ مِنْ الْعَجْزِ عَنْ مُعَارَضَتِهِ وَالْإِتْيَانِ بِمِثْلِهِ مِنْ الطُّرُقِ الْمُحَقَّقَةِ وَالْمُقَدَّرَةِ حَتَّى لَا يُمْكِنَ الْإِتْيَانُ بِمِثْلِهِ غَيْرَ مَشْرُوطٍ؛ لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَادِرٌ عَلَى الْإِتْيَانِ بِمِثْلِ الْقُرْآنِ مَعَ كَوْنِهِ مُعْجِزًا فَمَا مَعْنَى قَوْلِهِ أَبْلَغَ مِنْ جَمِيعِ مَا عَدَاهُ وَالثَّانِي أَنَّ الطَّرَفَ الْأَعْلَى مِنْ الْبَلَاغَةِ وَمَا يَقْرُبُ مِنْهُ مِنْ الْمَرَاتِبِ الْعَلِيَّةِ الَّتِي لَا يُمْكِنُ لِلْبَشَرِ الْإِتْيَانُ بِمِثْلِهِ كِلَاهُمَا مُعْجِزٌ عَلَى مَا ذُكِرَ فِي الْمِفْتَاحِ وَنِهَايَةِ الْإِعْجَازِ وَحِينَئِذٍ يَتَعَدَّدُ طَرِيقُ الْإِعْجَازِ أَيْضًا بِأَنْ يَكُونَ عَلَى الطَّرَفِ الْأَعْلَى أَوْ عَلَى بَعْضِ الْمَرَاتِبِ الْقَرِيبَةِ مِنْهُ وَالْجَوَابُ عَنْ الْأَوَّلِ أَنَّ الْإِعْجَازَ لَيْسَ إلَّا فِي كَلَامِ اللَّهِ تَعَالَى وَمَعْنَى كَوْنِهِ أَبْلَغَ مِنْ جَمِيعِ مَا عَدَاهُ أَنَّهُ أَبْلَغُ مِنْ كُلِّ مَا هُوَ غَيْرُ كَلَامِ اللَّهِ تَعَالَى مُحَقَّقًا وَمُقَدَّرًا حَتَّى لَا يُمْكِنَ الْإِتْيَانُ لِلْغَيْرِ بِمِثْلِهِ وَعَنْ الثَّانِي أَنَّ الْإِعْجَازَ سَوَاءٌ كَانَ فِي الطَّرَفِ الْأَعْلَى أَوْ فِيمَا يَقْرُبُ مِنْهُ مُتَّحِدٌ بِاعْتِبَارِ أَنَّهُ حَدٌّ مِنْ الْكَلَامِ هُوَ أَبْلَغُ مِمَّا عَدَاهُ بِمَعْنَى أَنَّهُ لَا يُمْكِنُ لِلْغَيْرِ مُعَارَضَتُهُ وَالْإِتْيَانُ بِمِثْلِهِ بِخِلَافِ سِحْرِ الْكَلَامِ فَإِنَّهُ لَيْسَ لَهُ حَدٌّ يَضْبِطُهُ

 

‌‌[التَّعْرِيفُ إمَّا حَقِيقِيٌّ وَإِمَّا اسْمِيٌّ]

‌‌[تَعْرِيفُ أُصُولِ الْفِقْهِ بِاعْتِبَارِ الْإِضَافَةِ]

قَوْلُهُ (أُصُولُ الْفِقْهِ) الْكِتَابُ مُرَتَّبٌ عَلَى مُقَدِّمَةٍ وَقِسْمَيْنِ؛ لِأَنَّ الْمَذْكُورَ فِيهِ إمَّا مَقَاصِدُ الْفَنِّ أَوْ لَا الثَّانِي الْمُقَدِّمَةُ وَالْأَوَّلُ إمَّا أَنْ يَكُونَ الْبَحْثُ فِيهِ عَنْ الْأَدِلَّةِ، وَهُوَ الْقِسْمُ الْأَوَّلُ عَنْ الْأَحْكَامِ، وَهُوَ الْقِسْمُ الثَّانِي، إذْ لَا يُبْحَثُ فِي هَذَا الْفَنِّ عَنْ غَيْرِهِمَا وَالْقِسْمُ الْأَوَّلُ مَبْنِيٌّ عَلَى أَرْبَعَةِ أَرْكَانٍ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَالْإِجْمَاعُ وَالْقِيَاسُ، وَهُوَ مُذَيَّلٌ بِبَابَيْ التَّرْجِيحِ وَالِاجْتِهَادِ وَالثَّانِي عَلَى ثَلَاثَةِ أَبْوَابٍ فِي الْحُكْمِ وَالْمَحْكُومِ بِهِ وَالْمَحْكُومِ عَلَيْهِ وَسَتَعْرِفُ بَيَانَ الِانْحِصَارِ وَالْمُقَدِّمَةُ مَسُوقَةٌ لِتَعْرِيفِ الْعِلْمِ وَتَحْقِيقِ مَوْضُوعِهِ؛ لِأَنَّ مِنْ حَقِّ الطَّالِبِ لِلْكَثْرَةِ الْمَضْبُوطَةِ بِجِهَةٍ وَاحِدَةٍ أَنْ يَعْرِفَهَا بِتِلْكَ الْجِهَةِ لِيَأْمَنَ مِنْ فَوَاتِ الْمَقْصُودِ وَالِاشْتِغَالِ بِغَيْرِهِ وَكُلُّ عِلْمٍ هُوَ كَثْرَةٌ مَضْبُوطَةٌ بِتَعْرِيفِهِ الَّذِي بِهِ يَتَمَيَّزُ عِنْدَ الطَّالِبِ وَمَوْضُوعُهُ الَّذِي بِهِ يَمْتَازُ فِي نَفْسِهِ عَنْ سَائِرِ الْعُلُومِ فَحِينَ تَشَوَّفَتْ نَفْسُ السَّامِعِ إلَى التَّعْرِيفِ لِيَتَمَيَّزَ الْعِلْمُ عِنْدَهُ قَالَ الْمُصَنِّفُ هَذَا الَّذِي أَذْكُرُهُ أُصُولُ الْفِقْهِ إغْنَاءً
একক ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি এতে বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করেছেন (এবং আমি এর নামকরণ করেছি ‘তানকীহুল উসুল’, আর আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি এর মাধ্যমে এর রচয়িতা, লেখক, পাঠক এবং শিক্ষার্থীকে উপকৃত করবেন এবং একে তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করবেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম কল্যাণকামী, অতি দয়ালু)।

উসুলুল ফিকহ; অর্থাৎ এটি হলো উসুলুল ফিকহ, অথবা উসুলুল ফিকহ কী? সুতরাং আমরা প্রথমে এর পরিচয় প্রদান করব ইজাফাত বা সম্বন্ধের বিচারে এবং দ্বিতীয়ত একটি বিশেষ শাস্ত্রের পারিভাষিক নাম হওয়ার বিচারে।

—

[আত-তালবীহ]

অলৌকিকত্বের হাতল (উরওয়াহ) একবচন শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে। কাপড়ের আঁচল (হুদব) হলো এর প্রান্তভাগে যা থাকে। আর জগ বা পাত্রের হাতল (উরওয়াহ) হলো এর সেই অংশ যা দিয়ে তা ধরা হয়, যা আঁচলের চেয়ে শক্তিশালী। তাই তিনি একে অলৌকিকত্বের (ইজায) সাথে নির্দিষ্ট করেছেন, যা জাদুর চেয়ে অধিক মজবুত। 'সিহাহ' অভিধানে বর্ণিত হয়েছে যে, জাদু (সিহর) হলো আকর্ষণ বা মন্ত্র; আর যার উৎস সূক্ষ্ম ও নিগূঢ়, তাই জাদু। এবং তার তা আঁকড়ে ধরার অর্থ হলো বাক্যকে সুনিপুণ করা এবং উপযুক্ত ও উৎকৃষ্ট অভিব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে তার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা, এমনকি মনে হয় যেন তা জাদু ও অলৌকিকত্বের (ইজায) নিকটবর্তী হয়ে যাচ্ছে। এখানে দুটি আলোচনা রয়েছে। প্রথমটি হলো: অর্থ প্রকাশের পদ্ধতিটি বিদ্যমান সকল বাস্তব পদ্ধতির চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল হওয়া অলৌকিকত্বের (ইজায) জন্য যথেষ্ট নয়। বরং এর মোকাবিলা করতে এবং বিদ্যমান বা সম্ভাব্য পদ্ধতিসমূহের মাধ্যমে এর সদৃশ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম হওয়া অপরিহার্য, যেন শর্তহীনভাবে এর সদৃশ কিছু আনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেননা আল্লাহ তাআলা কুরআনের সদৃশ কিছু আনতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কুরআন একটি মুজিযা বা অলৌকিক বিষয়। সুতরাং "অন্যান্য সকল পদ্ধতির চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল" - তার এই কথার অর্থ কী? দ্বিতীয়টি হলো: বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রের সর্বোচ্চ শিখর এবং তার নিকটবর্তী উচ্চতর স্তরসমূহ যা মানুষের পক্ষে নিয়ে আসা সম্ভব নয়, 'মিফতাহ' এবং 'নিহায়াতুল ইজায' কিতাবে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী উভয়ই অলৌকিক। আর সেক্ষেত্রে অলৌকিকত্বের পদ্ধতিও একাধিক হতে পারে, তা সর্বোচ্চ শিখরে হোক কিংবা তার নিকটবর্তী কোনো স্তরে হোক। প্রথমটির উত্তর হলো: অলৌকিকত্ব (ইজায) কেবল আল্লাহ তাআলার কালামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর এটি "অন্যান্য সকল কিছুর চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল" হওয়ার অর্থ হলো এটি আল্লাহ তাআলার কালাম ব্যতীত অন্য সকল বাস্তব ও সম্ভাব্য বাণীর চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল, ফলে অন্য কারো পক্ষে এর সদৃশ কিছু নিয়ে আসা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়টির উত্তর হলো: অলৌকিকত্ব (ইজায) চাই তা সর্বোচ্চ শিখরে হোক কিংবা তার কাছাকাছি হোক, এই বিবেচনায় এক ও অভিন্ন যে তা বাণীর এমন এক সীমা যা অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল। এর অর্থ হলো অন্য কারো পক্ষে এর বিরোধিতা করা বা এর সদৃশ কিছু নিয়ে আসা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে 'কথার জাদু'র বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এর কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নেই যা একে নিয়ন্ত্রণ করে।

‌ ‌[সংজ্ঞা হয় প্রকৃত অথবা নামীয়]

‌ ‌[ইদাফাত বা সংযুক্তি হিসেবে উসুলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা]

তাঁর উক্তি (উসূলুল ফিকহ): গ্রন্থটি একটি ভূমিকা ও দুটি ভাগে বিন্যস্ত; কারণ এতে যা বর্ণিত হয়েছে তা হয় এই শাস্ত্রের মূল লক্ষ্যসমূহ, অথবা তা নয়। দ্বিতীয়টি হলো ভূমিকা। আর প্রথমটি হলো—হয় তাতে দলিলসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা প্রথম ভাগ; নতুবা বিধানসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা দ্বিতীয় ভাগ। কারণ এই শাস্ত্রে এই দুটি বিষয় ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা করা হয় না। প্রথম ভাগটি চারটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস; এবং এর পরিশিষ্ট হিসেবে তারজীহ ও ইজতিহাদ বিষয়ক দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। দ্বিতীয় ভাগটি তিনটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত: হুকুম, মাহকুম বিহি ও মাহকুম আলাইহি। আপনি অচিরেই এই শ্রেণীবিন্যাসের কারণ জানতে পারবেন। আর ভূমিকাটি উপস্থাপন করা হয়েছে শাস্ত্রের সংজ্ঞা প্রদান এবং এর বিষয়বস্তু সুনির্দিষ্ট করার জন্য; কারণ কোনো একটি নির্দিষ্ট দিক দ্বারা সুসংবদ্ধ বহু বিষয়ের অনুসন্ধানকারীর অধিকার হলো সেটিকে সেই নির্দিষ্ট দিক দিয়েই চেনা, যাতে মূল উদ্দেশ্য হারিয়ে যাওয়া এবং অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকা যায়। আর প্রতিটি শাস্ত্রই তার সংজ্ঞার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল অনেক বিষয়ের সমষ্টি, যার দ্বারা শিক্ষার্থীর নিকট তা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয় এবং এর বিষয়বস্তুর মাধ্যমে তা নিজস্ব সত্তায় অন্যান্য শাস্ত্র থেকে স্বতন্ত্র রূপ পায়। এমতাবস্থায় যখন শ্রোতার মন সংজ্ঞাটি জানার জন্য ব্যাকুল হলো যাতে শাস্ত্রটি তার নিকট সুস্পষ্ট হয়, তখন গ্রন্থকার বললেন: এটিই যা আমি উল্লেখ করছি, (অর্থাৎ) উসূলুল ফিকহ, যা পর্যাপ্ত পরিচয় হিসেবে বর্ণিত।

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أَمَّا تَعْرِيفُهَا بِاعْتِبَارِ الْإِضَافَةِ فَيَحْتَاجُ إلَى تَعْرِيفِ الْمُضَافِ وَالْمُضَافِ إلَيْهِ فَقَالَ (الْأَصْلُ مَا يُبْتَنَى عَلَيْهِ غَيْرُهُ) فَالِابْتِنَاءُ شَامِلٌ لِلِابْتِنَاءِ الْحِسِّيِّ وَهُوَ ظَاهِرٌ وَالِابْتِنَاءِ الْعَقْلِيِّ وَهُوَ تَرَتُّبُ الْحُكْمِ عَلَى دَلِيلِهِ (وَتَعْرِيفُهُ بِالْمُحْتَاجِ إلَيْهِ لَا يَطَّرِدُ) وَقَدْ عَرَّفَهُ الْإِمَامُ

ــ

‌‌[التلويح]

لِلسَّامِعِ عَنْ السُّؤَالِ وَقَالَ عَنْ لِسَانِهِ أُصُولُ الْفِقْهِ مَا هِيَ، ثُمَّ أَخَذَ فِي تَعْرِيفِهِ وَأُصُولُ الْفِقْهِ لَقَبٌ لِهَذَا الْفَنِّ مَنْقُولٌ عَنْ مُرَكَّبٍ إضَافِيٍّ فَلَهُ بِكُلِّ اعْتِبَارٍ تَعْرِيفٌ قَدَّمَ بَعْضُهُمْ التَّعْرِيفَ اللَّقَبِيَّ نَظَرًا إلَى أَنَّ الْمَعْنَى الْعِلْمِيَّ هُوَ الْمَقْصُودُ فِي الْإِعْلَامِ وَأَنَّهُ مِنْ الْإِضَافِيِّ بِمَنْزِلَةِ الْبَسِيطِ مِنْ الْمُرَكَّبِ وَالْمُصَنِّفُ قَدَّمَ الْإِضَافِيَّ نَظَرًا إلَى أَنَّ الْمَنْقُولَ عَنْهُ مُقَدَّمٌ وَإِلَى أَنَّ الْفِقْهَ مَأْخُوذٌ فِي التَّعْرِيفِ اللَّقَبِيِّ، فَإِنْ قَدَّمَ تَفْسِيرَهُ أَمْكَنَ ذِكْرُهُ فِي اللَّقَبِيِّ كَمَا قَالَ الْمُصَنِّفُ هُوَ الْعِلْمُ بِالْقَوَاعِدِ الَّتِي يُتَوَصَّلُ بِهَا الْفِقْهُ وَإِلَّا اُحْتِيجَ إلَى إيرَادِ تَفْسِيرِهِ تَارَةً فِي اللَّقَبِيِّ وَتَارَةً فِي الْإِضَافِيِّ كَمَا فِي أُصُولِ ابْنِ الْحَاجِبِ وَلَمَّا كَانَ أُصُولُ الْفِقْهِ عِنْدَ قَصْدِ الْمَعْنَى الْإِضَافِيِّ جَمْعًا وَعِنْدَ قَصْدِ الْمَعْنَى اللَّقَبِيِّ مُفْرَدًا كَعَبْدِ اللَّهِ قَالَ فَنُعَرِّفُهَا أَوَّلًا بِاعْتِبَارِ الْإِضَافَةِ بِتَأْنِيثِ الضَّمِيرِ، وَقَالَ فَالْآنَ نُعَرِّفُهُ بِاعْتِبَارِ أَنَّهُ لَقَبٌ لِعِلْمٍ مَخْصُوصٍ بِتَذْكِيرِهِ وَاللَّقَبُ عِلْمٌ يُشْعِرُ بِمَدْحٍ أَوْ ذَمٍّ وَأُصُولُ الْفِقْهِ عِلْمٌ لِهَذَا الْفَنِّ مُشْعِرٌ بِكَوْنِهِ مَبْنَى الْفِقْهِ الَّذِي بِهِ نِظَامُ الْمَعَاشِ وَنَجَاةُ الْمَعَادِ، وَذَلِكَ مَدْحٌ.

قَوْلُهُ (أَمَّا تَعْرِيفُهَا بِاعْتِبَارِ الْإِضَافَةِ فَيَحْتَاجُ إلَى تَعْرِيفِ الْمُضَافِ) ، وَهُوَ الْأُصُولُ. (وَالْمُضَافِ إلَيْهِ) ، وَهُوَ الْفِقْهُ؛ لِأَنَّ تَعْرِيفَ الْمُرَكَّبِ يَحْتَاجُ إلَى تَعْرِيفِ مُفْرَدَاتِهِ الْغَيْرِ الْبَيِّنَةِ ضَرُورَةَ تَوَقُّفِ مَعْرِفَةِ الْكُلِّ عَلَى مَعْرِفَةِ أَجْزَائِهِ وَيَحْتَاجُ إلَى تَعْرِيفِ الْإِضَافَةِ أَيْضًا؛ لِأَنَّهَا بِمَنْزِلَةِ الْجُزْءِ الصُّورِيِّ إلَّا أَنَّهُمْ لَمْ يَتَعَرَّضُوا لَهُ لِلْعِلْمِ بِأَنَّ مَعْنَى إضَافَةِ الْمُشْتَقِّ وَمَا فِي مَعْنَاهُ اخْتِصَاصُ الْمُضَافِ إلَيْهِ بِاعْتِبَارِ مَفْهُومِ الْمُضَافِ مَثَلًا دَلِيلُ الْمَسْأَلَةِ مَا يَخْتَصُّ بِهَا بِاعْتِبَارِ كَوْنِهِ دَلِيلًا عَلَيْهَا فَأَصْلُ الْفِقْهِ مَا يَخْتَصُّ بِهِ مِنْ حَيْثُ إنَّهُ مَبْنِيٌّ لَهُ وَمُسْتَنِدٌ إلَيْهِ فَالْأُصُولُ جَمْعُ أَصْلٍ، وَهُوَ فِي اللُّغَةِ مَا يُبْنَى عَلَيْهِ الشَّيْءُ مِنْ حَيْثُ إنَّهُ يُبْتَنَى عَلَيْهِ وَبِهَذَا الْقَيْدِ خَرَجَ أَدِلَّةُ الْفِقْهِ مَثَلًا مِنْ حَيْثُ تُبْتَنَى عَلَى عِلْمِ التَّوْحِيدِ فَإِنَّهَا بِهَذَا الِاعْتِبَارِ فُرُوعٌ لَا أُصُولٌ وَقَيْدُ الْحَيْثِيَّةِ لَا بُدَّ مِنْهُ فِي تَعْرِيفِ الْإِضَافِيَّاتِ إلَّا أَنَّهُ كَثِيرًا مَا يُحْذَفُ لِشُهْرَةِ أَمْرِهِ، ثُمَّ نَقَلَ الْأَصْلَ فِي الْعُرْفِ إلَى مَعَانٍ أُخَرَ، مِثْلُ الرَّاجِحِ وَالْقَاعِدَةِ الْكُلِّيَّةِ وَالدَّلِيلِ فَذَهَبَ بَعْضُهُمْ إلَى أَنَّ الْمُرَادَ هَاهُنَا الدَّلِيلُ وَأَشَارَ الْمُصَنِّفُ إلَى أَنَّ النَّقْلَ خِلَافُ الْأَصْلِ وَلَا ضَرُورَةَ فِي الْعُدُولِ إلَيْهِ؛ لِأَنَّ الِابْتِنَاءَ كَمَا يَشْمَلُ الْحِسِّيَّ كَابْتِنَاءِ السَّقْفِ عَلَى الْجُدْرَانِ وَابْتِنَاءِ أَعَالِي الْجُدْرَانِ عَلَى أَسَاسِهِ وَأَغْصَانِ الشَّجَرِ عَلَى دَوْحَتِهِ كَذَلِكَ يَشْمَلُ الِابْتِنَاءَ الْعَقْلِيَّ كَابْتِنَاءِ الْحُكْمِ عَلَى دَلِيلِهِ فَهَاهُنَا يُحْمَلُ عَلَى الْمَعْنَى اللُّغَوِيِّ وَبِالْإِضَافَةِ إلَى الْفِقْهِ الَّذِي هُوَ مَعْنًى عَقْلِيٌّ يُعْلَمُ أَنَّ الِابْتِنَاءَ هَاهُنَا عَقْلِيٌّ فَيَكُونُ أُصُولُ الْفِقْهِ مَا يُبْنَى هُوَ عَلَيْهِ وَيَسْتَنِدُ
আর ইদাফাত (সম্বন্ধ) হিসেবে এর সংজ্ঞা প্রদান করতে হলে মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত শব্দ) এবং মুদাফ ইলাইহি (যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে)-এর সংজ্ঞার প্রয়োজন। তাই তিনি বলেছেন: (আসল বা মূল হলো তা, যার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হয়)। সুতরাং এই ‘নির্মাণ’ বা ভিত্তি হওয়া বিষয়টি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যা সুস্পষ্ট, এবং বুদ্ধিবৃত্তিক নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যা হলো দলিলের ওপর হুকুম বা বিধানের বিন্যস্ত হওয়া। (আর একে ‘যার দিকে প্রয়োজন রয়েছে’ বলে সংজ্ঞায়িত করা সংজ্ঞার শর্তানুসারে সঠিক বা সর্বব্যাপী নয়)। ইমাম একে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

—

[আত-তালউইহ]

শ্রোতার পক্ষ থেকে প্রশ্নের অবতারণা করে তার জবানিতে বলা হয়েছে: উসুলুল ফিকহ কী? অতঃপর তিনি এর সংজ্ঞায়নের কাজ শুরু করেছেন। উসুলুল ফিকহ হলো এই শাস্ত্রের জন্য একটি উপাধি যা একটি সম্বন্ধবাচক যৌগিক শব্দ থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। তাই প্রতিটি বিবেচনাতেই এর একটি সংজ্ঞা রয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ উপাধিগত সংজ্ঞাকে আগে উল্লেখ করেছেন এই দৃষ্টিতে যে, জ্ঞাপন করার ক্ষেত্রে এর শাস্ত্রীয় অর্থই হলো মূল উদ্দেশ্য এবং সম্বন্ধবাচক রূপের তুলনায় এটি যৌগিক শব্দের বিপরীতে একক শব্দের ন্যায়। আর গ্রন্থকার সম্বন্ধবাচক রূপকে আগে এনেছেন এই বিবেচনায় যে, মূল উৎসটি অগ্রগণ্য এবং ফিকহ বিষয়টি উপাধিগত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং ফিকহের ব্যাখ্যা আগে প্রদান করা হলে উপাধিগত সংজ্ঞায় তার উল্লেখ করা সম্ভব হবে, যেমনটি গ্রন্থকার বলেছেন: এটি হলো এমন সব মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান যার মাধ্যমে ফিকহ অর্জন করা যায়। অন্যথায় ফিকহের ব্যাখ্যা একবার উপাধিগত সংজ্ঞায় এবং আরেকবার সম্বন্ধবাচক সংজ্ঞায় উল্লেখ করার প্রয়োজন হতো, যেমনটি ইবনে হাজিব-এর উসুল গ্রন্থে হয়েছে। আর যেহেতু উসুলুল ফিকহ শব্দটি সম্বন্ধবাচক অর্থ গ্রহণের সময় বহুবচন এবং উপাধিগত অর্থ গ্রহণের সময় একবচন (যেমন আবদুল্লাহ নাম) হিসেবে গণ্য হয়, তাই তিনি স্ত্রীলিঙ্গ সর্বনাম ব্যবহার করে বলেছেন: "আমরা প্রথমে সম্বন্ধের বিচারে এর সংজ্ঞা প্রদান করছি।" এবং পরে পুংলিঙ্গ সর্বনাম ব্যবহার করে বলেছেন: "এখন আমরা একে একটি বিশেষ শাস্ত্রের উপাধি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করছি।" উপাধি হলো এমন নাম যা প্রশংসা বা নিন্দার ইঙ্গিত দেয়। আর উসুলুল ফিকহ হলো এই শাস্ত্রের এমন একটি নাম যা এর ফিকহের ভিত্তি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যার মাধ্যমে পার্থিব জীবনের শৃঙ্খলা এবং পরকালীন মুক্তি অর্জিত হয়; আর এটি একটি প্রশংসা।

তার উক্তি: (আর সম্বন্ধের বিচারে এর সংজ্ঞায়ন করার ক্ষেত্রে সম্বন্ধযুক্ত পদের সংজ্ঞায়ন প্রয়োজন), আর তা হলো মূলনীতিসমূহ (উসুল)। (এবং যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে), আর তা হলো ফিকহ; কারণ কোনো যৌগিক শব্দের সংজ্ঞায়ন তার অস্পষ্ট একক শব্দগুলোর সংজ্ঞায়নের মুখাপেক্ষী; যেহেতু কোনো পূর্ণ বিষয়ের জ্ঞান তার অংশসমূহের জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল হওয়া অপরিহার্য। তদুপরি এটি সম্বন্ধের (ইযাফাত) সংজ্ঞারও মুখাপেক্ষী; কারণ এটি রূপগত অংশের মর্যাদায়। তবে তাঁরা এটি নিয়ে আলোচনা করেননি এই জ্ঞানের কারণে যে, উদ্ভূত শব্দ এবং এর সমার্থবোধক শব্দের সম্বন্ধের অর্থ হলো সম্বন্ধযুক্ত পদের ধারণার বিচারে তা যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তার সাথে নির্দিষ্ট হওয়া। উদাহরণস্বরূপ, কোনো মাসআলার দলিল হলো তা-ই যা উক্ত মাসআলার সাথে নির্দিষ্ট এই বিচারে যে এটি তার ওপর দলিল। সুতরাং ফিকহের মূল হলো তা-ই যা ফিকহের সাথে নির্দিষ্ট এই হিসেবে যে, ফিকহ তার ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং তার ওপর নির্ভরশীল। অতএব 'উসুল' হলো 'আসল'-এর বহুবচন; আর আভিধানিক অর্থে তা হলো এমন বস্তু যার ওপর অন্য কিছু নির্মাণ করা হয় এই দিক থেকে যে এটি তার ভিত্তি। আর এই শর্তের মাধ্যমে উদাহরণস্বরূপ ফিকহের দলিলসমূহ পৃথক হয়ে যায় যখন সেগুলো তাওহিদ শাস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়; কারণ এই বিচারে সেগুলো শাখা, মূল নয়। আর সম্বন্ধযুক্ত বিষয়াবলির সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে প্রেক্ষিতের শর্তারোপ করা আবশ্যক, তবে বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়ার কারণে তা প্রায়ই বিলুপ্ত রাখা হয়। অতঃপর পরিভাষায় 'আসল' শব্দটিকে অন্য কিছু অর্থে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেমন: অগ্রগণ্য বিষয়, সামগ্রিক মূলনীতি এবং দলিল। ফলে তাঁদের কেউ কেউ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, এখানে 'আসল' দ্বারা দলিল উদ্দেশ্য। লেখক ইঙ্গিত করেছেন যে, আভিধানিক অর্থ থেকে পারিভাষিক অর্থে স্থানান্তর করা মূল নিয়মের পরিপন্থী এবং এর দিকে ফিরে যাওয়ার কোনো আবশ্যকতা নেই; কারণ ভিত্তি হওয়া বিষয়টি যেমন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে—যেমন দেয়ালের ওপর ছাদের ভিত্তি থাকা, ভিটির ওপর দেয়ালের ওপরের অংশের ভিত্তি থাকা এবং গাছের গুঁড়ির ওপর ডালপালার ভিত্তি থাকা—তেমনিভাবে তা বুদ্ধিভিত্তিক ভিত্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন দলিলের ওপর বিধির (হুকুম) ভিত্তি থাকা। সুতরাং এখানে শব্দটিকে আভিধানিক অর্থেই গ্রহণ করা হবে। আর ফিকহের সাথে সম্বন্ধ করার মাধ্যমে—যা একটি বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়—এটি জানা যায় যে এখানে ভিত্তি হওয়া বিষয়টিও বুদ্ধিভিত্তিক। অতএব উসুলুল ফিকহ হলো তা-ই যার ওপর ফিকহ প্রতিষ্ঠিত ও নির্ভরশীল।

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
فِي الْمَحْصُولِ بِهَذَا، وَاعْلَمْ أَنَّ التَّعْرِيفَ، إمَّا حَقِيقِيٌّ كَتَعْرِيفِ الْمَاهِيَّاتِ الْحَقِيقِيَّةِ، وَإِمَّا اسْمِيٌّ كَتَعْرِيفِ الْمَاهِيَّاتِ الِاعْتِبَارِيَّةِ كَمَا إذَا رَكَّبْنَا شَيْئًا مِنْ أُمُورٍ هِيَ أَجْزَاؤُهُ بِاعْتِبَارِ تَرْكِيبِنَا، ثُمَّ وَضَعْنَا لِهَذَا الْمُرَكَّبِ اسْمًا كَالْأَصْلِ وَالْفِقْهِ وَالْجِنْسِ وَالنَّوْعِ وَنَحْوِهَا فَالتَّعْرِيفُ الِاسْمِيُّ هُوَ تَبْيِينُ

ــ

‌‌[التلويح]

إلَيْهِ لَا مَعْنَى بِمُسْتَنَدِ الْعِلْمِ وَمُبْتَنَاهُ إلَّا دَلِيلُهُ وَبِهَذَا يَنْدَفِعُ مَا يُقَالُ إنَّ الْمَعْنَى الْعُرْفِيَّ أَعْنِي الدَّلِيلَ مُرَادٌ قَطْعًا فَأَيُّ حَاجَةٍ إلَى جَعْلِهِ بِالْمَعْنَى اللُّغَوِيِّ الشَّامِلِ لِلْمَقْصُودِ وَغَيْرِهِ.

فَإِنْ قُلْتَ: ابْتِنَاءُ الشَّيْءَ عَلَى الشَّيْءِ إضَافَةٌ بَيْنَهُمَا، وَهُوَ أَمْرٌ عَقْلِيٌّ قَطْعًا قُلْتُ: أَرَادَ بِالِابْتِنَاءِ الْحِسِّيِّ كَوْنَ الشَّيْئَيْنِ مَحْسُوسَيْنِ وَحِينَئِذٍ يَدْخُلُ فِيهِ مِثْلُ ابْتِنَاءِ السَّقْفِ عَلَى الْجِدَارِ وَابْتِنَاءِ الْمُشْتَقِّ عَلَى الْمُشْتَقِّ مِنْهُ كَالْفِعْلِ عَلَى الْمَصْدَرِ أَوْ أَرَادَ مَا هُوَ الْمُعْتَبَرُ فِي الْعُرْفِ مِنْ أَنَّ ابْتِنَاءَ السَّقْفِ عَلَى الْجِدَارِ بِمَعْنَى كَوْنِهِ مُبْتَنِيًا عَلَيْهِ وَمَوْضُوعًا فَوْقَهُ مِمَّا يُدْرَكُ بِالْحِسِّ وَحِينَئِذٍ يَخْرُجُ مِثْلُ ابْتِنَاءِ الْفِعْلِ عَلَى الْمَصْدَرِ مِنْ الْحِسِّيِّ وَلَا يَدْخُلُ فِي الْعَقْلِيِّ بِتَفْسِيرِهِ وَالْحَقُّ أَنَّ تَرَتُّبَ الْحُكْمِ عَلَى دَلِيلِهِ لَا يَصْلُحُ تَفْسِيرًا لِلِابْتِنَاءِ الْعَقْلِيِّ، وَإِنَّمَا هُوَ مِثَالٌ لَهُ لِلْقَطْعِ بِأَنَّ ابْتِنَاءَ الْمَجَازِ عَلَى الْحَقِيقَةِ وَالْأَحْكَامِ الْجُزْئِيَّةِ عَلَى الْقَوَاعِدِ الْكُلِّيَّةِ وَالْمَعْلُولَاتِ عَلَى عِلَلِهَا وَالْأَفْعَالِ عَلَى الْمَصَادِرِ وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ ابْتِنَاءٌ عَقْلِيٌّ.

قَوْلُهُ (وَاعْلَمْ أَنَّ التَّعْرِيفَ إمَّا حَقِيقِيٌّ) الْمَاهِيَّةُ إمَّا أَنْ يَكُونَ لَهَا تَحَقُّقٌ وَثُبُوتٌ مَعَ قَطْعِ النَّظَرِ عَنْ اعْتِبَارِ الْعَقْلِ أَوْ لَا الْأُولَى الْمَاهِيَّةُ الْحَقِيقِيَّةُ أَيْ الثَّابِتَةُ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ وَلَا بُدَّ فِيهَا مِنْ احْتِيَاجِ بَعْضِ الْأَجْزَاءِ إلَى الْبَعْضِ إذَا كَانَتْ مُرَكَّبَةً وَالثَّانِيَةُ الْمَاهِيَّةُ الِاعْتِبَارِيَّةُ أَيْ الْكَائِنَةُ بِحَسَبِ اعْتِبَارِ الْعَقْلِ كَمَا إذَا اعْتَبَرَ الْوَاضِعُ عِدَّةَ أُمُورٍ فَوَضَعَ بِإِزَائِهَا اسْمًا مِنْ غَيْرِ احْتِيَاجِ الْأُمُورِ بَعْضُهَا إلَى بَعْضٍ كَالْأَصْلِ الْمَوْضُوعِ بِإِزَاءِ الشَّيْءِ وَوَصَفَ ابْتِنَاءَ الْغَيْرِ عَلَيْهِ وَالْفِقْهَ الْمَوْضُوعَ بِإِزَاءِ الْمَسَائِلِ الْمَخْصُوصَةِ وَالْجِنْسَ الْمَوْضُوعَ بِإِزَاءِ الْكُلِّيِّ الْمَقُولِ عَلَى الْكَثْرَةِ الْمُخْتَلِفَةِ الْحَقِيقَةِ وَالنَّوْعَ الْمَوْضُوعَ بِإِزَاءِ الْكُلِّيِّ الْمَقُولِ عَلَى الْكَثْرَةِ الْمُتَّفِقَةِ الْحَقِيقَةُ فِي جَوَابِ مَا هُوَ وَالتَّمْثِيلُ بِالْمُرَكَّبَةِ مِنْ عِدَّةِ أُمُورٍ لَا يُنَافِي كَوْنَ بَعْضِ الْمَاهِيَّاتِ الِاعْتِبَارِيَّةِ بَسَائِطَ عَلَى أَنَّ الْحَقَّ أَنَّهَا إنَّمَا يُقَالُ لَهَا الْأُمُورُ الِاعْتِبَارِيَّةُ لَا الْمَاهِيَّاتُ الِاعْتِبَارِيَّةُ إذَا تَمَهَّدَ هَذَا فَنَقُولُ مَا يَتَعَقَّلُهُ الْوَاضِعُ لِيَضَعَ بِإِزَائِهِ اسْمًا إمَّا أَنْ يَكُونَ لَهُ مَاهِيَّةٌ حَقِيقَةً أَوْ لَا وَعَلَى الْأَوَّلِ إمَّا أَنْ يَكُونَ مُتَعَقَّلُهُ نَفْسَ حَقِيقَةِ ذَلِكَ الشَّيْءِ أَوْ وُجُودَهَا وَاعْتِبَارَاتٍ مِنْهُ فَتَعْرِيفُ الْمَاهِيَّةِ الْحَقِيقِيَّةِ لِمُسَمَّى الِاسْمِ مِنْ حَيْثُ إنَّهَا مَاهِيَّةٌ حَقِيقَةً تَعْرِيفٌ حَقِيقِيٌّ يُفِيدُ تَصَوُّرَ الْمَاهِيَّةِ فِي الذِّهْنِ بِالذَّاتِيَّاتِ كُلِّهَا أَوْ بَعْضِهَا أَوْ بِالْعَرَضِيَّاتِ أَوْ بِالْمُرَكَّبِ مِنْهُمَا وَتَعْرِيفُ مَفْهُومِ الِاسْمِ وَمَا تَعَقَّلَهُ الْوَاضِعُ فَوَضَعَ الِاسْمَ بِإِزَائِهِ تَعْرِيفٌ اسْمِيٌّ يُفِيدُ تَبْيِينَ مَا وُضِعَ الِاسْمُ بِإِزَائِهِ بِلَفْظٍ أَشْهَرَ كَقَوْلِنَا الْغَضَنْفَرُ الْأَسَدُ أَوْ بِلَفْظٍ يَشْتَمِلُ عَلَى تَفْصِيلِ مَا دَلَّ عَلَيْهِ الِاسْمُ إجْمَالًا كَقَوْلِنَا الْأَصْلُ مَا يُبْتَنَى عَلَيْهِ غَيْرُهُ فَتَعْرِيفُ الْمَعْلُومَاتِ لَا يَكُونُ إلَّا اسْمِيًّا، إذْ لَا حَقَائِقَ لَهَا، بَلْ مَفْهُومَاتٌ وَتَعْرِيفُ الْمَوْجُودَاتِ قَدْ يَكُونُ اسْمِيًّا وَقَدْ يَكُونُ حَقِيقِيًّا، إذْ لَهَا مَفْهُومَاتٌ وَحَقَائِقُ.

فَإِنْ قُلْتَ: ظَاهِرُ عِبَارَتِهِ مُشْعِرٌ بِأَنَّ تَعْرِيفَ الْمَاهِيَّاتِ الْحَقِيقِيَّةِ
‘আল-মাহসুল’ গ্রন্থে এর মাধ্যমে (তা বর্ণিত হয়েছে)। জেনে রাখুন যে, সংজ্ঞা হয় হয় প্রকৃত (হাকিকি)—যেমন প্রকৃত সত্তাসমূহের (মাহিয়্যাত) সংজ্ঞা, অথবা নামগত (ইসমী)—যেমন ধারণাগত সত্তাসমূহের সংজ্ঞা। যেমন যখন আমরা বিভিন্ন বিষয় থেকে এমন কিছু গঠন করি যা আমাদের গঠনের বিবেচনায় তার অংশ হয়, অতঃপর আমরা সেই যৌগিক বিষয়টির জন্য একটি নাম নির্ধারণ করি, যেমন ‘আসল’ (মূল), ‘ফিকহ’, ‘জিনস’ (বর্গ), ‘নাও’ (প্রকার) এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ। সুতরাং নামগত সংজ্ঞা হলো স্পষ্টীকরণ

—

[আত-তালওয়িহ]

তার প্রতি। ইলমের ভিত্তি ও তার কাঠামোর কোনো অর্থ নেই তার দলীল (প্রমাণ) ব্যতীত। এর মাধ্যমে সেই আপত্তিটি নিরসন হয় যাতে বলা হয় যে, নিশ্চয়ই পারিভাষিক অর্থ—অর্থাৎ ‘দলীল’—নিশ্চিতভাবেই উদ্দেশ্য; সুতরাং একে আভিধানিক অর্থে গ্রহণ করার কী প্রয়োজন যা উদ্দিষ্ট এবং অনুদ্দিষ্ট উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

আপনি যদি বলেন: এক বস্তুর ওপর অন্য বস্তুর ভিত্তি হওয়া মূলত তাদের মধ্যকার একটি সম্বন্ধ মাত্র, যা নিশ্চিতভাবে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়। আমি বলব: তিনি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ভিত্তি বলতে উভয় বস্তু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হওয়াকে বুঝিয়েছেন। এমতাবস্থায় এর অন্তর্ভুক্ত হবে দেয়ালের ওপর ছাদের ভিত্তি হওয়া এবং মূল শব্দের ওপর জাত শব্দের ভিত্তি হওয়ার বিষয়টি, যেমন মূল ধাতুর ওপর ক্রিয়ার ভিত্তি হওয়া। অথবা তিনি লোকপ্রথা বা প্রচলিত রীতিতে যা স্বীকৃত তা বুঝিয়েছেন, আর তা হলো দেয়ালের ওপর ছাদের ভিত্তি হওয়ার অর্থ সেটি তার ওপর নির্মিত ও স্থাপিত হওয়া, যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয়। এমতাবস্থায় মূল ধাতুর ওপর ক্রিয়ার ভিত্তি হওয়ার বিষয়টি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পর্যায় থেকে বহির্ভূত হয়ে যাবে এবং তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী তা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়েরও অন্তর্ভুক্ত হবে না। প্রকৃত কথা হলো, দলীলের ওপর বিধানের বিন্যাস হওয়া বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তির সঠিক ব্যাখ্যা হতে পারে না, বরং এটি কেবল এর একটি উদাহরণ মাত্র। কারণ এটি সুনিশ্চিত যে, প্রকৃত অর্থের ওপর রূপক অর্থের ভিত্তি হওয়া, সামগ্রিক মূলনীতির ওপর আংশিক বিধানসমূহের ভিত্তি হওয়া, কারণের ওপর ফলাফলের ভিত্তি হওয়া এবং মূল ধাতুর ওপর ক্রিয়ার ভিত্তি হওয়া—এই সবকিছু এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি হিসেবেই গণ্য।

তাঁর উক্তি (এবং জেনে রাখুন যে, সংজ্ঞা হয় প্রকৃত), কোনো সত্তার বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনার বাইরেও কোনো বাস্তব স্থিতি ও বিদ্যমানতা থাকে অথবা থাকে না। প্রথমটি হলো প্রকৃত সত্তা, যা বাস্তবেই সুপ্রতিষ্ঠিত। আর যদি তা যৌগিক হয়, তবে তাতে এক অংশের প্রতি অপর অংশের মুখাপেক্ষিতা থাকা অনিবার্য। দ্বিতীয়টি হলো বিবেচনাপ্রসূত সত্তা, যা বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনার প্রেক্ষিতে বিদ্যমান। যেমন কোনো প্রবর্তক কয়েকটি বিষয়কে বিবেচনা করলেন এবং সেগুলোর বিপরীতে একটি নাম নির্ধারণ করলেন, যদিও সেই বিষয়গুলোর একে অপরের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন নেই। যেমন ‘মূল’ শব্দটি এমন বিষয়ের বিপরীতে নির্ধারিত হয়েছে যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে; ‘ফিকহ’ শব্দটি নির্দিষ্ট মাসআলাসমূহের জন্য নির্ধারিত; ‘লিঙ্গ’ শব্দটি এমন সাধারণ বিষয়ের জন্য নির্ধারিত যা ভিন্ন ভিন্ন সত্তা বিশিষ্ট বহুত্বের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; এবং ‘প্রজাতি’ শব্দটি এমন সাধারণ বিষয়ের জন্য নির্ধারিত যা অভিন্ন সত্তা বিশিষ্ট বহুত্বের ক্ষেত্রে ‘তা কী’—এই প্রশ্নের উত্তরে প্রযোজ্য হয়। কয়েকটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত যৌগিক বস্তুর উদাহরণ দেওয়া কিছু বিবেচনাপ্রসূত সত্তার সরল হওয়ার পরিপন্থী নয়। তবে সঠিক মত হলো, এগুলোকে ‘বিবেচনাপ্রসূত বিষয়’ বলা হয়, ‘বিবেচনাপ্রসূত সত্তা’ নয়। যখন বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন আমরা বলি—প্রবর্তক কোনো নাম নির্ধারণ করার জন্য যা কল্পনা করেন, তার কি কোনো প্রকৃত সত্তা আছে নাকি নেই? প্রথম ক্ষেত্রে, তার কল্পনা কি সেই বস্তুর মূল সত্তা, নাকি তার অস্তিত্ব এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিবেচনা? সুতরাং কোনো নামধারী বস্তুর প্রকৃত সত্তার সংজ্ঞা প্রদান করা, সেই সত্তাটি প্রকৃতপক্ষে একটি প্রকৃত সত্তা হওয়ার দিক থেকে, তাকেই ‘প্রকৃত সংজ্ঞা’ বলে। এটি মনের মধ্যে সেই সত্তার এমন একটি ধারণা প্রদান করে যা তার সমস্ত বা আংশিক মৌলিক বৈশিষ্ট্য, কিংবা আপেক্ষিক বৈশিষ্ট্য, অথবা উভয়টির সমষ্টির মাধ্যমে অর্জিত হয়। আর নামের মর্মার্থ এবং প্রবর্তক যা কল্পনা করে তার বিপরীতে নাম রেখেছেন, তার সংজ্ঞা প্রদান করাকে ‘শাব্দিক সংজ্ঞা’ বলা হয়। এটি যার জন্য নামটি রাখা হয়েছে তার ব্যাখ্যা প্রদান করে আরও অধিক পরিচিত শব্দের মাধ্যমে, যেমন আমাদের বলা—শার্দূল হলো সিংহ; অথবা এমন শব্দের মাধ্যমে যা নামের সংক্ষিপ্ত অর্থকে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করে, যেমন আমাদের কথা—মূল হলো তা, যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে। অতএব, কেবল ধারণাযোগ্য বিষয়সমূহের সংজ্ঞা শুধু শাব্দিক হয়, কারণ এগুলোর কোনো বাস্তব সত্তা নেই, বরং এগুলো কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক মর্মার্থ। আর বিদ্যমান বস্তুসমূহের সংজ্ঞা কখনও শাব্দিক হয় আবার কখনও প্রকৃত হয়, কারণ এগুলোর মর্মার্থ এবং বাস্তব সত্তা উভয়ই রয়েছে।

আপনি যদি বলেন: তাঁর বক্তব্যের বাহ্যিক দিকটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রকৃত সত্তাসমূহের সংজ্ঞায়ন

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
أَنَّ هَذَا الِاسْمَ لِأَيِّ شَيْءٍ وُضِعَ (وَشَرْطٌ لِكِلَا التَّعْرِيفَيْنِ الطَّرْدُ) أَيْ كُلُّ مَا صَدَقَ عَلَيْهِ الْحَدُّ صَدَقَ عَلَيْهِ الْمَحْدُودُ (وَالْعَكْسُ) أَيْ كُلُّ مَا صَدَقَ مَا عَلَيْهِ الْمَحْدُودُ صَدَقَ عَلَيْهِ الْحَدُّ فَإِذَا قِيلَ فِي تَعْرِيفِ الْإِنْسَانِ: إنَّهُ حَيَوَانٌ مَاشٍ لَا يَطَّرِدُ وَلَوْ قِيلَ حَيَوَانٌ إنْ كَانَ بِالْفِعْلِ لَا يَنْعَكِسُ (وَلَا شَكَّ أَنَّ تَعْرِيفَ الْأَصْلِ تَعْرِيفٌ اسْمِيٌّ) أَيْ بَيَانُ أَنَّ لَفْظَ الْأَصْلِ لِأَيِّ شَيْءٍ وُضِعَ

ــ

‌‌[التلويح]

حَقِيقِيٌّ أَلْبَتَّةَ كَمَا أَنَّ تَعْرِيفَ الْمَاهِيَّاتِ الِاعْتِبَارِيَّةِ اسْمِيٌّ أَلْبَتَّةَ قُلْتُ: فِي الْعُدُولِ عَنْ ظَاهِرِ الْعِبَارَةِ سَعَةٌ إلَّا أَنَّ التَّحْقِيقَ أَنَّ الْمَاهِيَّةَ الْحَقِيقِيَّةَ قَدْ تُؤْخَذُ مِنْ حَيْثُ إنَّهَا حَقِيقَةُ مُسَمَّى الِاسْمِ وَمَاهِيَّته الثَّابِتَةُ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ وَتَعْرِيفُهَا بِهَذَا الِاعْتِبَارِ حَقِيقِيٌّ أَلْبَتَّةَ؛ لِأَنَّهُ جَوَابٌ لِ " مَا " الَّتِي لِطَلَبِ الْحَقِيقَةِ وَهِيَ مُتَأَخِّرَةٌ عَنْ " هَلْ " الْبَسِيطَةِ الطَّالِبَةِ لِوُجُودِ الشَّيْءِ الْمُتَأَخِّرَةِ عَنْ " مَا " الَّتِي لِطَلَبِ تَفْسِيرِ الِاسْمِ وَبَيَانِ مَفْهُومِهِ وَقَدْ تُؤْخَذُ مِنْ حَيْثُ إنَّهَا مَفْهُومُ الِاسْمِ وَمُتَعَقَّلُ الْوَاضِعِ عِنْدَ وَضْعِ الِاسْمِ وَتَعْرِيفًا بِهَذَا الِاعْتِبَارِ اسْمِيٌّ أَلْبَتَّةَ؛ لِأَنَّهُ جَوَابٌ عَنْ " مَا " الَّتِي لِطَلَبِ مَفْهُومِ الِاسْمِ وَمُتَعَقَّلِ الْوَاضِعِ فَهَذَا التَّعْرِيفُ قَدْ يَكُونُ نَفْسَ حَقِيقَةِ ذَلِكَ الشَّيْءِ بِأَنْ يَكُونَ مُتَعَقَّلُ الْوَاضِعِ نَفْسَ الْحَقِيقَةِ وَقَدْ يَكُونُ غَيْرَهَا وَلِهَذَا صَرَّحُوا بِأَنَّهُ قَدْ يَتَّحِدُ التَّعْرِيفُ الِاسْمِيُّ وَالْحَقِيقِيُّ إلَّا أَنَّهُ قَبْلَ الْعِلْمِ بِوُجُودِ الشَّيْءِ يَكُونُ اسْمِيًّا وَبَعْدَ الْعِلْمِ بِوُجُودِهِ يَنْقَلِبُ حَقِيقِيًّا مَثَلًا تَعْرِيفُ الْمُثَلَّثِ فِي مَبَادِئِ الْهَنْدَسَةِ بِشَكْلٍ يُحِيطُ بِهِ ثَلَاثَةُ أَضْلَاعٍ تَعْرِيفٌ اسْمِيٌّ وَبَعْدَ الدَّلَالَةِ عَلَى وُجُودِهِ يَصِيرُ هُوَ بِعَيْنِهِ تَعْرِيفًا حَقِيقِيًّا.

قَوْلُهُ (وَشَرْطٌ لِكِلَا التَّعْرِيفَيْنِ) أَيْ الْحَقِيقِيِّ وَالِاسْمِيِّ الطَّرْدُ وَالْعَكْسُ أَمَّا الطَّرْدُ فَهُوَ صِدْقُ الْمَحْدُودِ عَلَى مَا صَدَقَ عَلَيْهِ الْحَدُّ مُطَّرِدًا كُلِّيًّا أَيْ كُلَّمَا صَدَقَ عَلَيْهِ الْحَدُّ صَدَقَ عَلَيْهِ الْمَحْدُودُ، وَهُوَ مَعْنَى قَوْلِهِمْ كُلَّمَا وُجِدَ الْحَدُّ وُجِدَ الْمَحْدُودُ فَبِالِاطِّرَادِ يَصِيرُ الْحَدُّ مَانِعًا عَنْ دُخُولِ غَيْرِ الْمَحْدُودِ. وَأَمَّا الْعَكْسُ فَأَخَذَهُ بَعْضُهُمْ مِنْ عَكْسِ الطَّرْدِ بِحَسَبِ مُتَفَاهَمِ الْعُرْفِ، وَهُوَ جَعْلُ الْمَحْمُولِ مَوْضُوعًا مَعَ رِعَايَةِ الْكَمِّيَّةِ بِعَيْنِهَا كَمَا يُقَالُ كُلُّ إنْسَانٍ ضَاحِكٌ وَبِالْعَكْسِ أَيْ كُلُّ ضَاحِكٍ إنْسَانٌ وَكُلُّ إنْسَانٍ حَيَوَانٌ وَلَا عَكْسَ أَيْ لَيْسَ كُلُّ حَيَوَانٍ إنْسَانًا فَلِهَذَا قَالَ فِي الْعَكْسِ إنَّ كُلَّ مَا صَدَقَ عَلَيْهِ الْمَحْدُودُ صَدَقَ عَلَيْهِ الْحَدُّ عَكْسًا لِقَوْلِنَا كُلُّ مَا صَدَقَ عَلَيْهِ الْحَدُّ صَدَقَ عَلَيْهِ الْمَحْدُودُ فَصَارَ حَاصِلُ الطَّرْدِ حُكْمًا كُلِّيًّا بِالْمَحْدُودِ عَلَى الْحَدِّ وَالْعَكْسُ حُكْمًا كُلِّيًّا بِالْحَدِّ عَلَى الْمَحْدُودِ وَبَعْضُهُمْ أَخَذَهُ مِنْ أَنَّ عَكْسَ الْإِثْبَاتِ نَفْيٌ فَفَسَّرَهُ بِأَنَّهُ كُلَّمَا انْتَفَى الْحَدُّ انْتَفَى الْمَحْدُودُ أَيْ كُلَّمَا لَمْ يَصْدُقْ عَلَيْهِ الْحَدُّ لَمْ يَصْدُقْ عَلَيْهِ الْمَحْدُودُ فَصَارَ الْعَكْسُ حُكْمًا كُلِّيًّا بِمَا لَيْسَ بِمَحْدُودٍ عَلَى مَا لَيْسَ بِحَدٍّ وَالْحَاصِلُ وَاحِدٌ، وَهُوَ أَنْ يَكُونَ الْحَدُّ جَامِعًا لِأَفْرَادِ الْمَحْدُودِ كُلِّهَا.

قَوْلُهُ (وَلَا شَكَّ أَنَّ تَعْرِيفَ الْأَصْلِ اسْمِيٌّ) ؛ لِأَنَّهُ تَبْيِينُ أَنَّ لَفْظَ الْأَصْلِ فِي اللُّغَةِ مَوْضُوعٌ لِلْمُرَكَّبِ الِاعْتِبَارِيِّ الَّذِي هُوَ الشَّيْءُ مَعَ وَصْفِ ابْتِنَاءِ الْغَيْرِ عَلَيْهِ أَوْ احْتِيَاجِ الْغَيْرِ إلَيْهِ، وَهَذَا لَا دَخْلَ لَهُ فِي بَيَانِ فَسَادِ التَّعْرِيفِ، إذْ عَدَمُ الِاطِّرَادِ مُفْسِدٌ لَهُ اسْمِيًّا كَانَ أَوْ غَيْرَهُ
এই নামটি কোন্ জিনিসের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। (আর উভয় প্রকার সংজ্ঞার জন্য শর্ত হলো 'তারদ' বা ব্যাপ্তি) অর্থাৎ যার ওপরই সংজ্ঞাটি প্রযোজ্য হবে, তার ওপর সংজ্ঞায়িত বস্তুটিও প্রযোজ্য হবে। (এবং 'আকস' বা বিপরীতমুখিতা) অর্থাৎ যার ওপরই সংজ্ঞায়িত বস্তুটি প্রযোজ্য হবে, তার ওপর সংজ্ঞাও প্রযোজ্য হবে। সুতরাং যদি মানুষের সংজ্ঞায় বলা হয়: 'সে একটি চলনশীল প্রাণী', তবে তা 'তারদ' হবে না। আর যদি কেবল 'প্রাণী' বলা হয়, তবে তা 'আকস' হবে না। (এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, 'আসল'-এর সংজ্ঞাটি একটি শাব্দিক সংজ্ঞা) অর্থাৎ 'আসল' শব্দটি কোন্ বিষয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার বর্ণনা।

—

[আত-তালবীহ]

এটি নিশ্চিতভাবেই প্রকৃত (হাকিকি), যেমনিভাবে ইতিবারি (বিবেচনামূলক) মাহিয়াতসমূহের সংজ্ঞা নিশ্চিতভাবেই ইসমী (নামীয়)। আমি বলি: শব্দের প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরে আসার অবকাশ রয়েছে, তবে প্রকৃত সত্য এই যে, হাকিকি মাহিয়াতকে এই দিক থেকে গ্রহণ করা যেতে পারে যে সেটি ওই নামের নামকরণের প্রকৃত রূপ এবং বাস্তব ক্ষেত্রে তার সুপ্রতিষ্ঠিত মাহিয়াত। এই বিবেচনায় এর সংজ্ঞা নিশ্চিতভাবেই হাকিকি; কারণ এটি সেই 'কী' (মা) প্রশ্নের উত্তর যা প্রকৃত রূপ অনুসন্ধানের জন্য করা হয়। আর এটি (হাকিকত সন্ধানী 'মা') ওই 'সরল অস্তিত্বজ্ঞাপক' (হাল-এ-বাসিতা) প্রশ্নের পরবর্তী স্তর যা বস্তুর অস্তিত্ব অনুসন্ধান করে, যা আবার ওই 'কী' (মা) প্রশ্নের পরবর্তী স্তর যা নামের ব্যাখ্যা এবং তার ধারণার স্পষ্টীকরণ অনুসন্ধান করে। আবার একে এই দিক থেকেও গ্রহণ করা যেতে পারে যে এটি নামের একটি ধারণা এবং নামকরণের সময় প্রবর্তকের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক উপলব্ধি। এই বিবেচনায় সংজ্ঞাটি নিশ্চিতভাবেই ইসমী; কারণ এটি ওই 'কী' (মা) প্রশ্নের উত্তর যা নামের ধারণা এবং প্রবর্তকের বুদ্ধিবৃত্তিক উপলব্ধি অনুসন্ধান করে। অতএব, এই সংজ্ঞাটি ওই বস্তুর প্রকৃত সত্তাও হতে পারে—যদি প্রবর্তকের বুদ্ধিবৃত্তিক উপলব্ধি খোদ প্রকৃত সত্তারই অনুরূপ হয়—আবার তা ভিন্নও হতে পারে। এই কারণেই তারা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ইসমী এবং হাকিকি সংজ্ঞা কখনও কখনও অভিন্ন হতে পারে; তবে পার্থক্য এই যে, বস্তুর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানার পূর্বে তা থাকে ইসমী এবং অস্তিত্ব জানার পর তা হাকিকি সংজ্ঞায় রূপান্তরিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, জ্যামিতির প্রাথমিক পর্যায়ে ত্রিভুজের সংজ্ঞা হিসেবে 'তিনটি বাহু দ্বারা সীমাবদ্ধ আকৃতি' বলা একটি ইসমী সংজ্ঞা, আর এর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়ার পর এটিই হুবহু হাকিকি সংজ্ঞায় পরিণত হয়।

তাঁর বক্তব্য (এবং উভয় প্রকার সংজ্ঞার জন্য শর্ত হলো) অর্থাৎ প্রকৃত এবং পারিভাষিক উভয় প্রকার সংজ্ঞার জন্য শর্ত হলো তারদ (ব্যাপকতা) এবং আকস (বিপরীতমুখিতা)। তারদ হলো সংজ্ঞায়িত বস্তুর সত্যতা সাব্যস্ত হওয়া ঐ বিষয়ের ওপর যার ওপর সংজ্ঞাটি সামগ্রিকভাবে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সত্য হয়। অর্থাৎ যখনই সংজ্ঞাটি কোনো বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হবে, তখনই সংজ্ঞায়িত বস্তুটিও তার ওপর প্রযোজ্য হবে। এটিই তাদের এই উক্তির মর্ম যে, যখনই সংজ্ঞা পাওয়া যাবে, তখনই সংজ্ঞায়িত বিষয়টিও পাওয়া যাবে। সুতরাং ব্যাপকতার মাধ্যমে সংজ্ঞাটি সংজ্ঞায়িত বস্তু ব্যতীত অন্য কিছুর প্রবেশকে বাধা প্রদানকারী হয়ে ওঠে। আর আকস-এর ক্ষেত্রে কেউ কেউ একে প্রচলিত প্রথাগত বুঝ অনুযায়ী তারদ-এর বিপরীত দিক থেকে গ্রহণ করেছেন। আর তা হলো পরিমাণের যথার্থতা বজায় রেখে বিধেয়কে উদ্দেশ্যে পরিণত করা। যেমন বলা হয়—প্রত্যেক মানুষই হাস্যশীল এবং এর বিপরীতে প্রত্যেক হাস্যশীলই মানুষ। আবার প্রত্যেক মানুষই প্রাণী, কিন্তু এর বিপরীতটি সঠিক নয়—অর্থাৎ প্রত্যেক প্রাণীই মানুষ নয়। এ কারণেই আকস-এর ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন যে, সংজ্ঞায়িত বস্তুটি যার ওপর সত্য হয়, সংজ্ঞাটিও তার ওপর সত্য হবে। এটি আমাদের এই উক্তির বিপরীত যে, সংজ্ঞাটি যার ওপর সত্য হয়, সংজ্ঞায়িত বস্তুটিও তার ওপর সত্য হবে। ফলে তারদ-এর সারকথা দাঁড়ালো সংজ্ঞার ওপর সংজ্ঞায়িত বস্তুর মাধ্যমে একটি সামগ্রিক বিধান আরোপ করা। আর আকস হলো সংজ্ঞায়িত বস্তুর ওপর সংজ্ঞার মাধ্যমে একটি সামগ্রিক বিধান আরোপ করা। আবার কেউ কেউ একে এভাবে গ্রহণ করেছেন যে, সাব্যস্তকরণের বিপরীত হলো না-বোধক হওয়া। তাই তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, যখনই সংজ্ঞা অনুপস্থিত থাকবে, তখনই সংজ্ঞায়িত বিষয়টিও অনুপস্থিত থাকবে। অর্থাৎ যার ওপর সংজ্ঞাটি প্রযোজ্য হবে না, তার ওপর সংজ্ঞায়িত বস্তুটিও প্রযোজ্য হবে না। ফলে আকস এমন একটি সামগ্রিক বিধানে পরিণত হলো যা অ-সংজ্ঞায়িত বিষয়ের মাধ্যমে অ-সংজ্ঞার ওপর প্রযোজ্য হয়। তবে এর মূল নির্যাস অভিন্ন, আর তা হলো—সংজ্ঞাটি যেন সংজ্ঞায়িত বস্তুর সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্তকারী হয়।

তাঁর বক্তব্য (এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আসলের সংজ্ঞাটি শাব্দিক বা নামীয়); কারণ এটি এই বিষয়ের স্পষ্টীকরণ যে, ভাষাগতভাবে 'আসল' শব্দটি এমন এক ধারণাগত যৌগিক অর্থের জন্য নির্ধারিত, যা হলো কোনো বস্তু এবং তার সাথে এমন এক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় যে অন্য কিছু তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে অথবা অন্য কিছু তার মুখাপেক্ষী হবে। আর এটি সংজ্ঞার অসারতা প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখে না, কেননা ধারাবাহিকতার অভাব (আদমুল ইত্তিরাদ) সংজ্ঞাকে বাতিল করে দেয়, তা শাব্দিক সংজ্ঞা হোক বা অন্য কিছু।

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
فَالتَّعْرِيفُ الَّذِي ذُكِرَ فِي الْمَحْصُولِ لَا يَطَّرِدُ (لِأَنَّهُ) أَيْ الْأَصْلَ (لَا يُطْلَقُ عَلَى الْفَاعِلِ) أَيْ الْعِلَّةِ الْفَاعِلِيَّةِ (وَالصُّورَةِ) أَيْ الْعِلَّةِ الصُّورِيَّةِ (وَالْغَايَةِ) أَيْ الْعِلَّةِ الْغَائِبَةِ (وَالشُّرُوطِ) كَأَدَوَاتِ الصِّنَاعَةِ مَثَلًا فَعُلِمَ أَنَّ هَذَا التَّعْرِيفَ صَادِقٌ عَلَى هَذِهِ الْأَشْيَاءِ لِكَوْنِهَا مُحْتَاجًا إلَيْهَا وَالْمَحْدُودُ لَا يَصْدُقُ عَلَيْهَا؛ لِأَنَّ شَيْئًا مِنْ هَذِهِ الْأَشْيَاءِ لَا يُسَمَّى أَصْلًا فَلَا يَصِحُّ هَذَا التَّعْرِيفُ الِاسْمِيُّ (وَالْفِقْهُ مَعْرِفَةُ النَّفْسِ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا وَيُزَادُ عَمَلًا لِيُخْرِجَ الِاعْتِقَادِيَّات وَالْوِجْدَانِيَّات فَيَخْرُجُ الْكَلَامُ وَالتَّصَرُّفُ وَمَنْ لَمْ يَزِدْ أَرَادَ الشُّمُولَ) هَذَا التَّعْرِيفُ مَنْقُولٌ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ فَالْمَعْرِفَةُ إدْرَاكُ الْجُزْئِيَّاتِ عَنْ دَلِيلٍ فَخَرَجَ التَّقْلِيدُ وَقَوْلُهُ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا يُمْكِنُ أَنْ يُرَادَ بِهِ مَا تَنْتَفِعُ بِهِ النَّفْسُ وَمَا تَتَضَرَّرُ بِهِ فِي الْآخِرَةِ كَمَا فِي قَوْله تَعَالَى {لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ} [البقرة: 286] ، فَإِنْ أُرِيدَ بِهِمَا الثَّوَابُ وَالْعِقَابُ فَاعْلَمْ أَنَّ مَا يَأْتِي بِهِ الْمُكَلَّفُ، إمَّا وَاجِبٌ أَوْ مَنْدُوبٌ أَوْ مُبَاحٌ أَوْ مَكْرُوهٌ كَرَاهَةَ تَنْزِيهٍ أَوْ مَكْرُوهٌ كَرَاهَةَ تَحْرِيمٍ أَوْ حَرَامٌ فَهَذِهِ سِتَّةٌ، ثُمَّ لِكُلِّ وَاحِدٍ طَرَفَانِ طَرَفُ الْفِعْلِ وَطَرَفُ التَّرْكِ يَعْنِي عَدَمَ الْفِعْلِ فَصَارَتْ اثْنَيْ عَشَرَ فَفِعْلُ الْوَاجِبِ

ــ

‌‌[التلويح]

فَفِي الْجُمْلَةِ تَعْرِيفُ الْأَصْلِ بِالْمُحْتَاجِ إلَيْهِ غَيْرُ مُطَّرِدٍ، إذْ لَا يَصْدُقُ أَنَّ كُلَّ مُحْتَاجٍ إلَيْهِ أَصْلٌ؛ لِأَنَّ مَا يَحْتَاجُ إلَيْهِ الشَّيْءُ إمَّا دَاخِلٌ فِيهِ أَوْ خَارِجٌ عَنْهُ وَالْأَوَّلُ إمَّا أَنْ يَكُونَ وُجُودُ الشَّيْءِ مَعَهُ بِالْقُوَّةِ، وَهُوَ الْمَادَّةُ كَالْخَشَبِ لِلسَّرِيرِ أَوْ بِالْفِعْلِ، وَهُوَ الصُّورَةُ كَالْهَيْئَةِ السَّرِيرِيَّةِ لَهُ. وَالثَّانِي إنْ كَانَ مَا مِنْهُ الشَّيْءُ فَهُوَ الْفَاعِلُ كَالنَّجَّارِ لِلسَّرِيرِ، وَإِنْ كَانَ مَا لِأَجْلِهِ الشَّيْءُ فَهُوَ الْغَايَةُ كَالْجُلُوسِ عَلَى السَّرِيرِ وَإِلَّا فَهُوَ الشَّرْطُ كَآلَاتِ النَّجَّارِ وَقَابِلِيَّةِ الْخَشَبِ وَنَحْوِ ذَلِكَ فَهَذِهِ أَقْسَامٌ خَمْسَةٌ لِلْمُحْتَاجِ إلَيْهِ لَا يُطْلَقُ لَفْظُ الْأَصْلِ لُغَةً إلَّا عَلَى وَاحِدٍ مِنْهَا هُوَ الْمَادَّةُ كَمَا يُقَالُ أَصْلُ هَذَا السَّرِيرِ خَشَبٌ كَذَا وَالْأَرْبَعَةُ الْبَاقِيَةُ يَصْدُقُ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهَا أَنَّهُ مُحْتَاجٌ إلَيْهِ وَلَا يَصْدُقُ عَلَيْهِ أَنَّهُ أَصْلٌ فَلَا يَكُونُ التَّعْرِيفُ مُطَّرِدًا مَانِعًا وَهَاهُنَا بَحْثٌ مِنْ وُجُوهٍ أَحَدُهَا مَنْعُ اشْتِرَاطِ الطَّرْدِ فِي مُطْلَقِ التَّعْرِيفِ لَا سِيَّمَا فِي الِاسْمِيِّ فَإِنَّ كُتُبَ اللُّغَةِ مَشْحُونَةٌ بِتَفْسِيرِ الْأَلْفَاظِ بِمَا هُوَ أَعَمُّ مِنْ مَفْهُومَاتِهَا وَقَدْ صَرَّحَ الْمُحَقِّقُونَ بِأَنَّ التَّعْرِيفَاتِ النَّاقِصَةَ يَجُوزُ أَنْ تَكُونَ أَعَمَّ بِحَيْثُ لَا يُفِيدُ الِامْتِيَازُ إلَّا عَنْ بَعْضِ مَا عَدَا الْمَحْدُودَ وَأَنَّ الْغَرَضَ مِنْ تَفْسِيرِ الشَّيْءِ قَدْ يَكُونُ تَمَيُّزَهُ عَنْ شَيْءٍ مُعَيَّنٍ فَيُكْتَفَى بِمَا يُفِيدُ الِامْتِيَازَ عَنْهُ كَمَا إذَا قَصَدَ التَّمْيِيزَ بَيْنَ الْأَصْلِ وَالْفُرُوعِ فَيُفَسَّرُ الْأَوَّلُ بِالْمُحْتَاجِ إلَيْهِ وَالثَّانِي بِالْمُحْتَاجِ وَثَانِيهَا مَنْعُ عَدَمِ صِدْقِ الْأَصْلِ عَلَى الْفَاعِلِ كَيْفَ وَالْفِعْلُ مُتَرَتِّبٌ عَلَيْهِ وَمُسْتَنِدٌ إلَيْهِ وَلَا مَعْنَى لِلِابْتِنَاءِ إلَّا ذَلِكَ. وَثَالِثُهَا أَنَّ كَلَامَهُ فِي بَابِ الْمَجَازِ عِنْدَ بَيَانِ جَرَيَانِ الْأَصَالَةِ وَالتَّبَعِيَّةُ مِنْ الْجَانِبَيْنِ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ كُلَّ مُحْتَاجٍ إلَيْهِ فَهُوَ أَصْلٌ. وَرَابِعُهَا أَنَّا إذَا قُلْنَا الْفِكْرُ تَرْتِيبُ أُمُورٍ مَعْلُومَةٍ فَلَا شَكَّ أَنَّ الْأُمُورَ الْمَعْلُومَةَ مَادَّةٌ لِلْفِكْرِ وَأَصْلٌ لَهُ مَعَ أَنَّ ابْتِنَاءَ الْفِكْرِ عَلَيْهَا لَيْسَ حِسِّيًّا، وَهُوَ ظَاهِرٌ وَلَا عَقْلِيًّا بِتَفْسِيرِ الْمُصَنِّفِ، وَهُوَ تَرَتُّبُ الْحُكْمِ عَلَى دَلِيلِهِ.

قَوْلُهُ (وَالْفِقْهُ) نَقَلَ لِلْمُضَافِ تَعْرِيفَيْنِ مَقْبُولًا وَمُزَيَّفًا وَلِلْمُضَافِ إلَيْهِ
আল-মাহসুল গ্রন্থে যে সংজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা সংগতিপূর্ণ নয়; (কেননা তা) অর্থাৎ 'আসল' শব্দটি (কর্তার ওপর প্রয়োগ করা হয় না) অর্থাৎ কার্যকরী কারণ, (এবং রূপের ওপরও নয়) অর্থাৎ আকৃতিগত কারণ, (এবং উদ্দেশ্যের ওপরও নয়) অর্থাৎ চূড়ান্ত লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যমূলক কারণ, (এবং শর্তাবলির ওপরও নয়) যেমন উদাহরণস্বরূপ শিল্পের সরঞ্জামসমূহ। এর দ্বারা জানা গেল যে, এই সংজ্ঞাটি এই বিষয়গুলোর ওপরও আপতিত হয় যেহেতু এগুলোও প্রয়োজনীয় বিষয়, অথচ সংজ্ঞায়িত বিষয়টি (আসল) এগুলোর ওপর সত্য হয় না; কারণ এই বিষয়গুলোর কোনোটিকেই 'আসল' বলা হয় না। ফলে এই আভিধানিক সংজ্ঞাটি সঠিক নয়। (আর ফিকহ হলো নিজের জন্য যা কল্যাণকর এবং যা ক্ষতিকর তা জানা। আর এর সাথে ‘আমল’ বা কর্ম শব্দটি যোগ করা হয় যাতে বিশ্বাসগত এবং আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো বের হয়ে যায়; ফলে ইলমুল কালাম এবং আধ্যাত্মিক আচরণ এর বহির্ভূত হয়ে যায়। আর যারা এই শব্দটি বৃদ্ধি করেননি, তারা ব্যাপকতা উদ্দেশ্য করেছেন।) এই সংজ্ঞাটি ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত। এখানে 'জানা' বলতে দলিলের ভিত্তিতে আংশিক বিষয়সমূহের উপলব্ধিকে বোঝায়, যার ফলে অন্ধ অনুসরণ এর বহির্ভূত হয়ে যায়। আর তাঁর উক্তি "যা নিজের অনুকূলে এবং যা নিজের প্রতিকূলে" দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে যা দ্বারা আত্মা পরকালে উপকৃত হবে এবং যা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {সে যা অর্জন করেছে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করেছে তা তার বিরুদ্ধেই} [সূরা আল-বাকারা: ২৮৬]। যদি এই দুটি দ্বারা সওয়াব এবং আজাব উদ্দেশ্য হয়, তবে জেনে রাখুন যে, একজন মুকাল্লাফ বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যা সম্পাদন করে, তা হয় ওয়াজিব, অথবা মানদুব, অথবা মুবাহ, অথবা মাকরুহে তানজিহি, অথবা মাকরুহে তাহরিমি, অথবা হারাম—এই হলো ছয়টি প্রকার। তারপর এগুলোর প্রত্যেকটির দুটি দিক রয়েছে: একটি করার দিক এবং অন্যটি বর্জন করার দিক অর্থাৎ কাজটি না করা। ফলে এগুলো বারোটিতে রূপ নিল। সুতরাং ওয়াজিব পালন করা...

—

[আত-তালউইহ]

সুতরাং মোটের উপর, 'আসল' (মূল)-কে 'মুহতাজ ইলাইহি' (যার দিকে মুখাপেক্ষী হওয়া হয়) দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা 'মুত্তারিদ' (সার্বিক) নয়; কারণ এটি সত্য নয় যে যার দিকে মুখাপেক্ষী হওয়া হয় তার প্রতিটিই 'আসল'। কেননা কোনো বস্তু যার দিকে মুখাপেক্ষী হয়, তা হয় তার অন্তর্ভুক্ত হবে অথবা তার বহির্ভূত হবে। প্রথমটি (অন্তর্ভুক্ত বিষয়টি) হয় এমন হবে যে যার সাথে বস্তুর অস্তিত্ব সুপ্তভাবে থাকে, আর তা হলো 'মাদ্দাহ' (উপাদান), যেমন খাটের জন্য কাঠ; অথবা সক্রিয়ভাবে থাকে, আর তা হলো 'সুরাহ' (আকৃতি), যেমন খাটের গঠনাকৃতি। আর দ্বিতীয়টি (বহির্ভূত বিষয়টি) যদি এমন হয় যা থেকে বস্তুর উদ্ভব ঘটে, তবে তা হলো 'ফায়েল' (কর্তা), যেমন খাটের জন্য ছুতার; আর যদি এমন হয় যার জন্য বস্তুটি তৈরি হয়, তবে তা হলো 'গায়াত' (উদ্দেশ্য), যেমন খাটের ওপর বসা; অন্যথায় তা হবে 'শর্ত' (শর্তাবলি), যেমন ছুতারের যন্ত্রপাতি, কাঠের গ্রহণযোগ্যতা এবং এই জাতীয় বিষয়াদি। সুতরাং এগুলো 'মুহতাজ ইলাইহি'-এর পাঁচটি প্রকার, যার মধ্য থেকে ভাষাগতভাবে 'আসল' শব্দটি কেবল একটির ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, আর তা হলো 'মাদ্দাহ' (উপাদান); যেমন বলা হয়, এই খাটের 'আসল' হলো অমুক কাঠ। অবশিষ্ট চারটির প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে এটি সত্য যে সেটি 'মুহতাজ ইলাইহি' (প্রয়োজনীয়), কিন্তু এটি সত্য নয় যে সেটি 'আসল'; ফলে সংজ্ঞাটি 'মুত্তারিদ' (সার্বিক) এবং 'মানি' (প্রতিবন্ধক) হলো না। এখানে কয়েক দিক থেকে পর্যালোচনা রয়েছে। প্রথমটি হলো, সাধারণ সংজ্ঞার ক্ষেত্রে 'তরদ' (ব্যাপ্তি)-এর শর্ত থাকাকে অস্বীকার করা, বিশেষ করে শাব্দিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে; কারণ অভিধানের কিতাবসমূহ শব্দাবলির এমন সব ব্যাখ্যায় পরিপূর্ণ যা তাদের মূল ধারণার চেয়ে অধিক ব্যাপক। গবেষকগণ স্পষ্ট করেছেন যে, অসম্পূর্ণ সংজ্ঞাসমূহ অধিক ব্যাপক হওয়া জায়েয, যাতে সংজ্ঞায়িত বস্তুটি ছাড়া অন্য সব বস্তু থেকে পার্থক্য করার পরিবর্তে কেবল কিছু বস্তু থেকে পার্থক্য করার ফায়দা প্রদান করে। এবং কোনো বস্তুর ব্যাখ্যার উদ্দেশ্য কখনো কেবল একটি নির্দিষ্ট বস্তু থেকে সেটিকে আলাদা করা হতে পারে, ফলে যা থেকে পার্থক্য করা উদ্দেশ্য তা অর্জিত হলেই যথেষ্ট মনে করা হয়; যেমন যখন 'আসল' ও 'ফুরু' (শাখা)-এর মধ্যে পার্থক্য করার সংকল্প করা হয়, তখন প্রথমটিকে 'মুহতাজ ইলাইহি' এবং দ্বিতীয়টিকে 'মুহতাজ' দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়। দ্বিতীয়টি হলো, 'ফায়েল' (কর্তা)-এর ওপর 'আসল' শব্দটির প্রয়োগ না হওয়াকে অস্বীকার করা; কেননা কর্ম তো কর্তার ওপরই বিন্যস্ত এবং তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত, আর ভিত্তি হওয়ার তো এছাড়া অন্য কোনো অর্থ নেই। তৃতীয়টি হলো, 'মাজায' (রূপক) অধ্যায়ে উভয় দিক থেকে মৌলিকতা ও আনুগত্যের প্রবাহ বর্ণনাকালে তাঁর বক্তব্য একথাই প্রমাণ করে যে, যার দিকে মুখাপেক্ষী হওয়া হয় তার প্রতিটিই 'আসল'। চতুর্থটি হলো, আমরা যখন বলি যে চিন্তা হলো জানা বিষয়সমূহের বিন্যাস, তখন এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সেই জানা বিষয়গুলো চিন্তার জন্য উপাদান এবং মূল; যদিও এগুলোর ওপর চিন্তার নির্ভরশীলতা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়—যা সুস্পষ্ট—এবং লেখকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী তা বুদ্ধিগতও নয়, যা হলো দলিলের ওপর বিধানের বিন্যস্ত হওয়া।

তাঁর বাণী (এবং ফিকহ): তিনি মুদাফ-এর (সম্বন্ধিত পদের) জন্য দুটি সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন—একটি গ্রহণযোগ্য এবং অন্যটি ত্রুটিপূর্ণ; এবং মুদাফ ইলাইহি-এর (যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে তার) জন্যও [সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন]।

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وَالْمَنْدُوبِ مِمَّا يُثَابُ عَلَيْهِ وَفِعْلُ الْحَرَامِ وَالْمَكْرُوهِ تَحْرِيمًا وَتَرْكُ الْوَاجِبِ مِمَّا يُعَاقَبُ عَلَيْهِ وَالْبَاقِي لَا يُثَابُ، وَلَا يُعَاقَبُ عَلَيْهِ فَلَا يَدْخُلُ فِي شَيْءٍ مِنْ الْقِسْمَيْنِ وَإِنْ أُرِيدَ بِالنَّفْعِ عَدَمُ الْعِقَابِ وَبِالضَّرَرِ الْعِقَابُ فَفِعْلُ الْحَرَامِ وَالْمَكْرُوهِ تَحْرِيمًا وَتَرْكُ الْوَاجِبِ يَكُونُ مِنْ الْقِسْمِ الثَّانِي أَيْ مِمَّا يُعَاقَبُ عَلَيْهِ وَالتِّسْعَةُ الْبَاقِيَةُ تَكُونُ مِنْ الْأَوَّلِ أَيْ مِمَّا لَا يُعَاقَبُ عَلَيْهِ وَإِنْ أُرِيدَ بِالنَّفْعِ الثَّوَابُ وَبِالضَّرَرِ عَدَمُ الثَّوَابِ فَفِعْلُ الْوَاجِبِ وَالْمَنْدُوبِ مِمَّا يُثَابُ عَلَيْهِ، ثُمَّ الْعَشَرَةُ الْبَاقِيَةُ مِمَّا لَا يُثَابُ عَلَيْهِ عَلَيْهَا وَيُمْكِنُ أَنْ يُرَادَ بِمَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا مَا يَجُوزُ لَهَا وَمَا يَجِبُ عَلَيْهَا فَفِعْلُ مَا سِوَى الْحَرَامِ وَالْمَكْرُوهِ تَحْرِيمًا وَتَرْكُ مَا سِوَى الْوَاجِبِ مِمَّا يَجُوزُ لَهَا وَفِعْلُ الْوَاجِبِ وَتَرْكُ الْحَرَامِ وَالْمَكْرُوهِ تَحْرِيمًا مِمَّا يَجِبُ عَلَيْهَا بَقِيَ فِعْلُ الْحَرَامِ وَالْمَكْرُوهِ تَحْرِيمًا وَتَرْكُ الْوَاجِبِ خَارِجَيْنِ عَنْ الْقِسْمَيْنِ وَيُمْكِنُ أَنْ يُرَادَ بِمَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا مَا يَجُوزُ لَهَا وَمَا يُحَرَّمُ عَلَيْهَا فَيَشْمَلَانِ جَمِيعَ الْأَصْنَافِ إذَا عَرَفْت هَذَا فَالْحَمْلُ عَلَى وَجْهٍ لَا يَكُونُ بَيْنَ الْقِسْمَيْنِ وَاسِطَةٌ أَوْلَى، ثُمَّ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا يَتَنَاوَلُ الِاعْتِقَادِيَّات كَوُجُوبِ الْإِيمَانِ وَنَحْوِهِ وَالْوِجْدَانِيَّات أَيْ الْأَخْلَاقَ الْبَاطِنَةَ وَالْمَلَكَاتِ النَّفْسَانِيَّةِ وَالْعَمَلِيَّاتِ كَالصَّلَاةِ وَالصَّوْمِ

ــ

‌‌[التلويح]

تَعْرِيفَيْنِ صَرَّحَ بِتَزْيِيفِ أَحَدِهِمَا دُونَ الْآخَرِ، ثُمَّ ذَكَرَ مِنْ عِنْدِهِ تَعْرِيفًا ثَالِثًا فَالْأَوَّلُ: مَعْرِفَةُ النَّفْسِ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا يَجُوزُ أَنْ يُرِيدَ بِالنَّفْسِ الْعَبْدَ نَفْسَهُ؛ لِأَنَّ أَكْثَرَ الْأَحْكَامِ مُتَعَلِّقَةٌ بِأَعْمَالِ الْبَدَنِ وَأَنْ يُرِيدَ النَّفْسَ الْإِنْسَانِيَّةَ، إذْ بِهَا الْأَفْعَالُ وَمَعَهَا الْخِطَابُ، وَإِنَّمَا الْبَدَنُ آلَةٌ وَفَسَّرَ الْمَعْرِفَةَ بِإِدْرَاكِ الْجُزْئِيَّاتِ عَنْ دَلِيلٍ وَالْقَيْدُ الْأَخِيرُ مِمَّا لَا دَلَالَةَ عَلَيْهِ أَصْلًا لَا لُغَةً وَلَا اصْطِلَاحًا وَذَهَبَ فِي قَوْلِهِ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا إلَى مَا يُقَالُ إنَّ اللَّامَ لِلِانْتِفَاعِ وَعَلَى لِلتَّضَرُّرِ وَقَيَّدَهُمَا بِالْأُخْرَوِيِّ احْتِرَازًا عَمَّا تَنْتَفِيهِ النَّفْسُ أَوْ تَتَضَرَّرُ فِي الدُّنْيَا مِنْ اللَّذَّاتِ وَالْآلَامِ وَالْمُشْعِرُ بِهَذَا التَّقَيُّدِ شُهْرَةُ أَنَّ الْفِقْهَ مِنْ الْعُلُومِ الدِّينِيَّةِ فَذَكَرَ عَلَى هَذَا التَّقْدِيرِ ثَلَاثَةَ مَعَانٍ، ثُمَّ ذَكَرَ مَعْنَيَيْنِ آخَرَيْنِ فَصَارَتْ الْمَعَانِي الْمُحْتَمَلَةُ خَمْسَةً: ثَلَاثَةٌ مِنْهَا تَشْمَلُ جَمِيعَ أَقْسَامِ مَا يَأْتِي بِهِ الْمُكَلَّفُ وَاثْنَانِ لَا تَشْمَلُهَا كُلَّهَا وَالْأَقْسَامُ اثْنَا عَشَرَ؛ لِأَنَّ مَا يَأْتِي بِهِ الْمُكَلَّفُ إنْ تَسَاوَى فِعْلُهُ وَتَرْكُهُ فَمُبَاحٌ وَإِلَّا، فَإِنْ كَانَ فِعْلُهُ أَوْلَى فَمَعَ الْمَنْعِ عَنْ التَّرْكِ وَاجِبٌ وَبِدُونِهِ مَنْدُوبٌ، وَإِنْ كَانَ تَرْكُهُ أَوْلَى فَمَعَ الْمَنْعِ عَنْ الْفِعْلِ بِدَلِيلٍ قَطْعِيٍّ حَرَامٌ وَبِدَلِيلٍ ظَنِّيٍّ مَكْرُوهٌ كَرَاهَةَ التَّحْرِيمِ وَبِدُونِ الْمَنْعِ عَنْ الْفِعْلِ مَكْرُوهٌ كَرَاهَةَ التَّنْزِيهِ هَذَا عَلَى رَأْيِ مُحَمَّدٍ رحمه الله، وَهُوَ الْمُنَاسِبُ هَاهُنَا؛ لِأَنَّ الْمُصَنِّفَ جَعَلَ الْمَكْرُوهَ تَنْزِيهًا مِمَّا يَجُوزُ فِعْلُهُ وَالْمَكْرُوه تَحْرِيمًا مِمَّا لَا يَجُوزُ فِعْلُهُ، بَلْ يَجِبُ تَرْكُهُ كَالْحَرَامِ، وَهَذَا لَا يَصِحُّ عَلَى رَأْيِهِمَا، وَهُوَ أَنَّ مَا يَكُونُ تَرْكُهُ أَوْلَى مِنْ فِعْلِهِ فَهُوَ مَعَ الْمَنْعِ عَنْ الْفِعْلِ حَرَامٌ وَبِدُونِهِ مَكْرُوهٌ كَرَاهَةَ التَّنْزِيهِ إنْ كَانَ إلَى الْحِلِّ أَقْرَبَ بِمَعْنَى أَنَّهُ لَا يُعَاقَبُ فَاعِلُهُ لَكِنْ يُثَابُ تَارِكُهُ أَدْنَى ثَوَابٍ وَكَرَاهَةُ التَّحْرِيمِ إنْ كَانَ إلَى الْحَرَامِ أَقْرَبَ بِمَعْنَى أَنَّ فَاعِلَهُ مُسْتَحِقٌّ مَحْذُورًا دُونَ الْعُقُوبَةِ بِالنَّارِ كَحِرْمَانِ الشَّفَاعَةِ، ثُمَّ الْمُرَادُ بِالْوَاجِبِ مَا يَشْمَلُ الْفَرْضَ أَيْضًا؛ لِأَنَّ اسْتِعْمَالَهُ بِهَذَا الْمَعْنَى شَائِعٌ عِنْدَهُمْ كَقَوْلِهِمْ الزَّكَاةُ وَاجِبَةٌ وَالْحَجُّ وَاجِبٌ بِخِلَافِ إطْلَاقِ الْحَرَامِ عَلَى الْمَكْرُوهِ تَحْرِيمًا.
এবং মানদুব হলো এমন কাজ যার ওপর সওয়াব অর্জিত হয়। হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি করা এবং ওয়াজিব বর্জন করা এমন কাজ যার ওপর শাস্তি দেওয়া হয়। আর অবশিষ্ট কাজগুলোতে সওয়াবও নেই এবং শাস্তিও নেই; ফলে সেগুলো এই দুই প্রকারের কোনোটির অন্তর্ভুক্ত হবে না। যদি উপকার দ্বারা শাস্তির অনুপস্থিতি এবং অপকার দ্বারা শাস্তি উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, তবে হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি করা এবং ওয়াজিব বর্জন করা দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে—অর্থাৎ যার ওপর শাস্তি দেওয়া হয়; আর অবশিষ্ট নয়টি প্রকার প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে—অর্থাৎ যার ওপর শাস্তি দেওয়া হবে না। আর যদি উপকার বলতে সওয়াব এবং অপকার বলতে সওয়াব না হওয়া উদ্দেশ্য হয়, তবে ওয়াজিব ও মানদুব সম্পাদন করা এমন কাজ যার ওপর সওয়াব পাওয়া যায়; এমতাবস্থায় অবশিষ্ট দশটি প্রকার এমন হবে যার ওপর সওয়াব পাওয়া যায় না। এটিও সম্ভব যে, 'যা তার অনুকূলে' এবং 'যা তার প্রতিকূলে' দ্বারা যা তার জন্য বৈধ এবং যা তার ওপর আবশ্যক তা উদ্দেশ্য করা। সে ক্ষেত্রে হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি ব্যতীত অন্য সকল কাজ করা এবং ওয়াজিব ব্যতীত অন্য সব কিছু বর্জন করা এমন যা তার জন্য বৈধ। আর ওয়াজিব পালন করা এবং হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি বর্জন করা এমন কাজ যা তার ওপর আবশ্যক। এমতাবস্থায় হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি করা এবং ওয়াজিব বর্জন করা—এই দুটি বিষয় দুই প্রকারের বাইরে থেকে যায়। আবার এটিও সম্ভব যে, 'যা তার জন্য' এবং 'যা তার বিপক্ষে' দ্বারা যা তার জন্য বৈধ এবং যা তার ওপর হারাম তা উদ্দেশ্য হওয়া; সেক্ষেত্রে এই দুই প্রকার সকল শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করে নেবে। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন বিষয়টিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা উত্তম যাতে দুই প্রকারের মাঝে কোনো মধ্যবর্তী অবস্থা না থাকে। অতঃপর, 'যা তার পক্ষে' এবং 'যা তার বিপক্ষে'—এগুলো বিশ্বাসগত বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন ঈমান আনা ওয়াজিব হওয়া ইত্যাদি; এবং অনুভূতিগত বিষয়সমূহ অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ চরিত্র ও মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যসমূহ; এবং আমলগত বিষয়সমূহ যেমন নামাজ ও রোজা।

—

[আত-তালওয়ীহ]

তিনি দুটি সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন এবং একটির অসারতা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন অন্যটির বিপরীতে। এরপর তিনি নিজের পক্ষ থেকে একটি তৃতীয় সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি হলো: নফসের (ব্যক্তির) নিজের অনুকূলে ও প্রতিকূলে কী রয়েছে (অর্থাৎ অধিকার ও দায়িত্ব) সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। এখানে ‘নফস’ দ্বারা বান্দার নিজের সত্তাকে উদ্দেশ্য করা বৈধ; কারণ শরীয়তের অধিকাংশ বিধান শরীরের আমল বা কার্যাবলীর সাথে সম্পর্কিত। অথবা এর দ্বারা মানবীয় রূহকে উদ্দেশ্য করা হতে পারে, কেননা এর মাধ্যমেই কার্যাবলী সম্পাদিত হয় এবং এটিই সম্বোধনের (শরীয়তের নির্দেশের) পাত্র, আর শরীর তো কেবল একটি যন্ত্র মাত্র। তিনি ‘মারেফাত’ বা জ্ঞানকে দলীলসহ খুঁটিনাটি বিষয়াবলির উপলব্ধি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন; অথচ এই শেষোক্ত শর্তটির (দলীলসহ হওয়া) সপক্ষে আভিধানিক বা পারিভাষিক কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি তাঁর উক্তি ‘তার অনুকূলে ও তার প্রতিকূলে’ (মা লাহা ওয়া মা আলাইহা) এর ক্ষেত্রে এই অভিমত গ্রহণ করেছেন যে, ‘লাম’ বর্ণটি উপকারের জন্য এবং ‘আলা’ বর্ণটি ক্ষতির জন্য ব্যবহৃত হয়। এবং তিনি এই উভয়কে পরকালীন বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট করেছেন যাতে নফস দুনিয়াতে যেসব ভোগবিলাস দ্বারা উপকৃত হয় বা যেসব কষ্ট দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা থেকে বেঁচে থাকা যায়। এই সীমাবদ্ধতার দিকে ইঙ্গিতকারী বিষয়টি হলো ফিকহ একটি দ্বীনি বিজ্ঞান বা দ্বীনি ইলম হিসেবে প্রসিদ্ধ হওয়া। এই বিবেচনায় তিনি তিনটি অর্থ উল্লেখ করেছেন, এরপর আরও দুটি অর্থ উল্লেখ করেছেন; ফলে সম্ভাব্য অর্থের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে তিনটি অর্থ মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) সম্পাদিত সকল প্রকার কাজকে শামিল করে, আর দুটি অর্থ সবগুলোকে শামিল করে না। প্রকারভেদ হলো বারোটি; কারণ মুকাল্লাফ যা কিছু সম্পাদন করে, যদি তার করা ও না করা সমান হয় তবে তা ‘মুবাহ’।

আর যদি সমান না হয়, বরং তা করা উত্তম হয় এবং না করার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে তবে তা ‘ওয়াজিব’, আর নিষেধাজ্ঞা না থাকলে তা ‘মানদুব’। আর যদি তা ছেড়ে দেওয়া উত্তম হয়, তবে অকাট্য দলীলের মাধ্যমে কাজটি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা ‘হারাম’, আর ধারণা প্রসূত বা যন্নী দলীলের ভিত্তিতে হলে তা ‘মাকরুহ তাহরিমি’। আর করার ওপর যদি (দৃঢ়) নিষেধাজ্ঞা না থাকে তবে তা ‘মাকরুহ তানজিহি’। এটি ইমাম মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মত অনুযায়ী, এবং এটিই এখানে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ গ্রন্থকার মাকরুহ তানজিহিকে এমন বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা করা বৈধ, আর মাকরুহ তাহরিমিকে এমন বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা করা বৈধ নয়, বরং হারামের মতো তা ত্যাগ করা ওয়াজিব।

কিন্তু সাহেবাইনের (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ) মত অনুযায়ী এটি সঠিক নয়। তাঁদের মতটি হলো, যে কাজটি করার চেয়ে ছেড়ে দেওয়া উত্তম, তা যদি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে তবে তা হারাম, আর নিষেধাজ্ঞা না থাকলে তা মাকরুহ তানজিহি—যদি তা হালালের নিকটবর্তী হয়; যার অর্থ হলো এর সম্পাদনকারী শাস্তির সম্মুখীন হবে না কিন্তু বর্জনকারী সামান্য সওয়াব পাবে। আর যদি তা হারামের নিকটবর্তী হয় তবে তা মাকরুহ তাহরিমি। যার অর্থ হলো, এর সম্পাদনকারী অপছন্দনীয় কাজের কারণে পাকড়াও হওয়ার যোগ্য, তবে জাহান্নামের আগুনের শাস্তি ব্যতীত; যেমন শাফায়াত থেকে বঞ্চিত হওয়া। অতঃপর, এখানে ওয়াজিব দ্বারা এমন বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যা ফরজকেও অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা ফকীহদের নিকট এই অর্থে এর ব্যবহার সুপ্রসিদ্ধ, যেমন তাঁদের উক্তি: ‘যাকাত ওয়াজিব’ এবং ‘হজ ওয়াজিব’। এটি মাকরুহ তাহরিমিকে ঢালাওভাবে হারাম বলার বিপরীত।

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَالْبَيْعِ وَنَحْوِهَا فَمَعْرِفَةُ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا مِنْ الِاعْتِقَادِيَّات هِيَ عِلْمُ الْكَلَامِ وَمَعْرِفَةُ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا مِنْ الْوِجْدَانِيَّاتِ هِيَ عِلْمُ الْأَخْلَاقِ وَالتَّصَوُّفُ كَالزُّهْدِ وَالصَّبْرِ وَالرِّضَا وَحُضُورِ الْقَلْبِ فِي الصَّلَاةِ وَنَحْوِ ذَلِكَ، وَمَعْرِفَةُ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا مِنْ الْعَمَلِيَّاتِ هِيَ الْفِقْهُ الْمُصْطَلَحُ، فَإِنْ أَرَدْت بِالْفِقْهِ هَذَا الْمُصْطَلَحَ زِدْت عَمَلًا عَلَى قَوْلِهِ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا وَإِنْ أَرَدْت مَا يَشْمَلُ الْأَقْسَامَ الثَّلَاثَةَ لَمْ تَزِدْ وَأَبُو حَنِيفَةَ رحمه الله إنَّمَا لَمْ يَزِدْ عَمَلًا؛ لِأَنَّهُ أَرَادَ الشُّمُولَ أَيْ أَطْلَقَ الْفِقْهَ عَلَى الْعِلْمِ بِمَا لَهَا وَعَلَيْهَا سَوَاءٌ كَانَ مِنْ الِاعْتِقَادِيَّات أَوْ الْوِجْدَانِيَّاتِ أَوْ الْعَمَلِيَّاتِ، ثُمَّ سَمَّى الْكَلَامَ فِقْهًا أَكْبَرَ

ــ

‌‌[التلويح]

وَالْمُرَادُ بِالْمَنْدُوبِ مَا يَشْمَلُ السُّنَّةَ وَالنَّقْلَ فَصَارَتْ الْأَقْسَامُ سِتَّةً وَلِكُلٍّ مِنْهَا طَرَفَا فِعْلٍ أَيْ إيقَاعٍ عَلَى مَا هُوَ الْمَعْنَى الْمَصْدَرِيُّ وَتَرْكٍ أَيْ عَدَمِ فِعْلٍ فَتَصِيرُ اثْنَيْ عَشَرَ وَالْمُرَادُ بِمَا يَأْتِي بِهِ الْمُكَلَّفُ الْفِعْلَ بِمَعْنَى الْحَاصِلِ مِنْ الْمَصْدَرِ كَالْهَيْئَةِ الَّتِي تُسَمَّى صَلَاةً وَالْحَالَةُ الَّتِي تُسَمَّى صَوْمًا وَنَحْوُ ذَلِكَ مِمَّا هُوَ أَثَرٌ صَادِرٌ عَنْ الْمُكَلَّفِ وَطَرَفُ فِعْلِهِ إيقَاعًا وَطَرَفُ تَرْكِهِ عَدَمُ إيقَاعِهِ وَالْأُمُورُ الْمَذْكُورَةُ مِنْ الْوَاجِبِ وَالْحَرَامِ وَغَيْرِهِمَا، وَإِنْ كَانَتْ فِي الْحَقِيقَةِ مِنْ صِفَاتِ فِعْلِ الْمُكَلَّفِ خَاصَّةً إلَّا أَنَّهَا قَدْ تُطْلَقُ عَلَى عَدَمِ الْفِعْلِ أَيْضًا فَيُقَالُ عَدَمُ مُبَاشَرَةِ الْوَاجِبِ حَرَامٌ وَعَدَمُ مُبَاشَرَةِ الْحَرَامِ وَاجِبٌ، وَهُوَ الْمُرَادُ هَاهُنَا، وَإِنَّمَا فَسَّرَ التَّرْكَ بِعَدَمِ الْفِعْلِ لِيَصِيرَ قِسْمًا آخَرَ، إذْ لَوْ أُرِيدَ بِهِ كَفُّ النَّفْسِ لَكَانَ تَرْكُ الْحَرَامِ مَثَلًا فِعْلَ الْوَاجِبِ بِعَيْنِهِ، فَإِنْ قُلْتَ: أَيُّ حَاجَةٍ إلَى اعْتِبَارِ الْفِعْلِ وَالتَّرْكِ وَجَعْلِ الْأَقْسَامِ اثْنَيْ عَشَرَ وَهَلَّا اقْتَصَرَ عَلَى السِّتَّةِ بِأَنْ يُرَادَ بِالْوَاجِبِ مَثَلًا أَهَمَّ مِنْ الْفِعْلِ وَالتَّرْكِ قُلْتُ؛ لِأَنَّهُ إذَا قَالَ الْوَاجِبُ يَدْخُلُ فِيمَا يُثَابُ عَلَيْهِ لَمْ يَصِحَّ ذَلِكَ فِي الْوَاجِبِ بِمَعْنَى عَدَمِ فِعْلِ الْحَرَامِ فَلَا بُدَّ مِنْ التَّفْصِيلِ الْمَذْكُورِ، ثُمَّ لَا يَخْفَى أَنَّ الْمُرَادَ أَنَّ عَدَمَ الْإِتْيَانِ بِالْوَاجِبِ يَسْتَحِقُّ الْعِقَابَ إلَّا أَنَّهُ قَدْ لَا يُعَاقَبُ لِعَفْوٍ مِنْ اللَّهِ تَعَالَى أَوْ سَهْوٍ مِنْ الْعَبْدِ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ وَبَاقِي كَلَامِهِ وَاضِحٌ إلَّا أَنَّ فِيهِ مَبَاحِثَ الْأَوَّلُ أَنَّهُ جَعَلَ تَرْكَ الْحَرَامِ مِمَّا لَا يُثَابُ عَلَيْهِ وَلَا يُعَاقَبُ وَاعْتُرِضَ عَلَيْهِ بِأَنَّهُ وَاجِبٌ وَالْوَاجِبُ يُثَابُ عَلَيْهِ، وَفِي التَّنْزِيلِ {وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى} [النازعات: 40] {فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى} [النازعات: 41] وَجَوَابُهُ أَنَّ الْمُثَابَ عَلَيْهِ فِعْلُ الْوَاجِبِ لَا عَدَمُ مُبَاشَرَةِ الْحَرَامِ وَإِلَّا لَكَانَ لِكُلِّ أَحَدٍ فِي كُلِّ لَحْظَةٍ مَثُوبَاتٌ كَثِيرَةٌ بِحَسَبِ كُلِّ حَرَامٍ لَا يَصْدُرُ عَنْهُ وَنَهْيُ النَّفْسِ كَفُّهَا عَنْ الْحَرَامِ، وَهُوَ مِنْ قَبِيلِ فِعْلِ الْوَاجِبِ وَلَا نِزَاعَ فِي أَنَّ تَرْكَ الْحَرَامِ بِمَعْنَى كَفِّ النَّفْسِ عَنْهُ عِنْدَ تَهَيُّؤِ الْأَسْبَابِ وَمَيَلَانِ النَّفْسِ إلَيْهِ مِمَّا يُثَابُ عَلَيْهِ. وَالثَّانِي أَنَّ الْمُرَادَ بِالْجَوَازِ فِي الْوَجْهِ الرَّابِعِ عَدَمُ مَنْعِ الْفِعْلِ وَالتَّرْكِ عَلَى مَا يُنَاسِبُ الْإِمْكَانَ الْخَاصَّ لِيُقَابِلَ الْوُجُوبَ، وَفِي الْخَامِسِ عَدَمُ مَنْعِ الْفِعْلِ عَلَى مَا يُنَاسِبُ الْإِمْكَانَ الْعَامَّ لِيُقَابِلَ الْحُرْمَةَ، فَإِنْ قُلْتَ: إنْ أُرِيدَ بِالْجَوَازِ عَدَمُ مَنْعِ الْفِعْلِ وَالتَّرْكِ لَمْ يَصِحَّ قَوْلُهُ فَفِعْلُ مَا سِوَى الْحَرَامِ وَالْمَكْرُوهِ تَحْرِيمًا وَتَرْكُ
ক্রয়-বিক্রয় এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি। সুতরাং বিশ্বাসগত বিষয়াদির মধ্য থেকে নফসের সপক্ষে ও বিপক্ষে যা রয়েছে তা জানাই হলো ইলমুল কালাম। এবং আধ্যাত্মিক বা অনুভূতির বিষয়াদির মধ্য থেকে নফসের সপক্ষে ও বিপক্ষে যা রয়েছে তা জানাই হলো চরিত্র ও তাসাউউফ শাস্ত্র; যেমন: সংসারবিরাগ (যুহদ), ধৈর্য, সন্তুষ্টি, সালাতে একাগ্রতা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। আর কর্মগত বিষয়াদির মধ্য থেকে নফসের সপক্ষে ও বিপক্ষে যা রয়েছে তা জানাই হলো পারিভাষিক ফিকহ। সুতরাং আপনি যদি 'ফিকহ' দ্বারা এই পারিভাষিক অর্থ উদ্দেশ্য নেন, তবে তার উক্তি 'নফসের সপক্ষে ও বিপক্ষে যা রয়েছে' এর সাথে 'আমালান' (কর্মগতভাবে) শব্দটি বৃদ্ধি করবেন। আর যদি আপনি এমন কিছু উদ্দেশ্য নেন যা এই তিন বিভাগকেই অন্তর্ভুক্ত করে, তবে আপনি তা বৃদ্ধি করবেন না। আর ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) মূলত 'আমালান' শব্দটি এজন্য বৃদ্ধি করেননি যে, তিনি ব্যাপকতা উদ্দেশ্য নিয়েছেন; অর্থাৎ তিনি 'ফিকহ' শব্দটিকে নফসের সপক্ষে ও বিপক্ষে যা রয়েছে তার জ্ঞানের ওপর সাধারণভাবে প্রয়োগ করেছেন, চাই তা বিশ্বাসগত হোক, আধ্যাত্মিক হোক কিংবা কর্মগত হোক। অতঃপর তিনি কালাম শাস্ত্রকে 'আল-ফিকহুল আকবার' (সর্বশ্রেষ্ঠ ফিকহ) নামে অভিহিত করেছেন।

—

[আত-তালবীহ]

আর মানদুব (পছন্দনীয়) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা সুন্নাত ও নফলকে অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে প্রকারগুলো ছয়ে দাঁড়ালো। এগুলোর প্রত্যেকটির দুটি দিক রয়েছে—কাজ করা অর্থাৎ সম্পাদন করা (ক্রিয়ামূলের অর্থ অনুযায়ী) এবং কাজ ত্যাগ করা অর্থাৎ কাজ না করা। এভাবে এগুলো বারোটি প্রকারে পরিণত হয়। মুকাল্লাফ (শরীয়তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) যা সম্পাদন করেন তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন কাজ যা ক্রিয়ামূল থেকে অর্জিত হয়, যেমন সেই রূপ বা কাঠামো যাকে সালাত বলা হয় এবং সেই অবস্থা যাকে সিয়াম (রোজা) বলা হয়, এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা মুকাল্লাফ থেকে প্রকাশ পাওয়া একটি ক্রিয়া বা প্রভাব। তার কাজের দিকটি হলো সম্পাদন করা এবং ত্যাগের দিকটি হলো তা সম্পাদন না করা। আর ওয়াজিব, হারাম ও অন্যান্য যেসব বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও প্রকৃতপক্ষে সেগুলো বিশেষভাবে মুকাল্লাফের কাজের বৈশিষ্ট্য, তবুও সেগুলো কাজ না করার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়। তাই বলা হয় যে, ওয়াজিব পালন না করা হলো হারাম এবং হারাম কাজে লিপ্ত না হওয়া হলো ওয়াজিব। আর এখানে এটাই উদ্দেশ্য। তিনি ত্যাগের ব্যাখ্যা 'কাজ না করা' দ্বারা এজন্যই করেছেন যাতে তা একটি পৃথক বিভাগে পরিণত হয়। কারণ, যদি এর দ্বারা প্রবৃত্তিকে নিবৃত্ত রাখা উদ্দেশ্য হতো, তবে হারামের ত্যাগ উদাহরণস্বরূপ স্বয়ং ওয়াজিব পালন হিসেবে গণ্য হতো। আপনি যদি বলেন: কাজ এবং ত্যাগের বিবেচনা করে প্রকারগুলোকে বারোটি করার কী প্রয়োজন ছিল? কেন তিনি ছয়টির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেন না যে, ওয়াজিব দ্বারা উদ্দেশ্য হবে কাজ ও ত্যাগের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু? আমি উত্তরে বলব: কারণ তিনি যখন বলেন যে 'ওয়াজিব' এমন সব কাজের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর সওয়াব প্রদান করা হয়, তখন হারাম কাজ না করার অর্থে ওয়াজিবের ক্ষেত্রে তা সঠিক হবে না। তাই উল্লিখিত বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন রয়েছে। অতঃপর এটি অস্পষ্ট নয় যে, উদ্দেশ্য হলো ওয়াজিব পালন না করা শাস্তির যোগ্য, তবে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ক্ষমা অথবা বান্দার পক্ষ থেকে ভুলবশত ঘটা কিংবা এই জাতীয় কোনো কারণে শাস্তি নাও হতে পারে। তার বাকি কথাগুলো স্পষ্ট, তবে এখানে কয়েকটি আলোচ্য বিষয় আছে। প্রথমটি হলো, তিনি হারামের ত্যাগকে এমন বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন যার ওপর সওয়াবও নেই এবং শাস্তিও নেই। এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, এটি তো ওয়াজিব, আর ওয়াজিবের ওপর সওয়াব প্রদান করা হয়। পবিত্র কোরআনে এসেছে: "পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোর ভয় করে এবং প্রবৃত্তিকে লালসা থেকে নিবৃত্ত রাখে, জান্নাতই হবে তার আবাস।" এর উত্তর হলো, সওয়াব প্রদান করা হয় ওয়াজিব কাজ সম্পাদন করার ওপর, কেবল হারাম কাজে লিপ্ত না হওয়ার কারণে নয়। অন্যথায় প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য সওয়াব জমা হতো সেই সব হারামের বিনিময়ে যা তার থেকে প্রকাশ পাচ্ছে না। আর প্রবৃত্তিকে নিবৃত্ত রাখা মানে হারাম থেকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখা, যা ওয়াজিব কাজের অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই যে, হারামের কারণগুলো উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এবং প্রবৃত্তির টান থাকা সত্ত্বেও নিজেকে তা থেকে বিরত রাখারূপ ত্যাগের ওপর সওয়াব পাওয়া যায়। দ্বিতীয়টি হলো, চতুর্থ প্রকারে 'জাওয়াজ' (বৈধতা) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কাজ এবং ত্যাগ উভয়টির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকা, যা বিশেষ সম্ভাবনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যাতে তা ওয়াজিবের বিপরীতে অবস্থান করে। আর পঞ্চম প্রকারে কাজটির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকা, যা সাধারণ সম্ভাবনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যাতে তা হারামের বিপরীতে অবস্থান করে। আপনি যদি বলেন: যদি বৈধতা দ্বারা কাজ এবং ত্যাগ উভয়টির ওপর নিষেধাজ্ঞা না থাকা বোঝায়, তবে তার এই কথাটি সঠিক হবে না যে, হারাম এবং মাকরূহে তাহরীমী ব্যতীত অন্য কিছু করা এবং ত্যাগ করা

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
(وَقِيلَ الْعِلْمُ بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الْعَمَلِيَّةِ مِنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ) فَالْعِلْمُ جِنْسٌ، وَالْبَاقِي فَصْلٌ فَقَوْلُهُ بِالْأَحْكَامِ يُمْكِنُ أَنْ يُرَادَ بِالْحُكْمِ هَاهُنَا إسْنَادُ أَمْرٍ إلَى آخَرَ وَيُمْكِنُ أَنْ يُرَادَ الْحُكْمُ الْمُصْطَلَحُ، وَهُوَ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى الْمُتَعَلَّقُ إلَخْ، فَإِنْ أُرِيدَ الْأَوَّلُ يَخْرُجُ الْعِلْمُ بِالذَّوَاتِ وَالصِّفَاتِ الَّتِي لَيْسَتْ بِأَحْكَامٍ عَنْ الْحَدِّ أَيْ يُخْرِجُ التَّصَوُّرَاتِ وَيُبْقِي التَّصْدِيقَاتِ وَبِالشَّرْعِيَّةِ يُخْرِجُ الْعِلْمَ بِالْأَحْكَامِ الْعَقْلِيَّةِ وَالْحِسِّيَّةِ كَالْعِلْمِ بِأَنَّ الْعَالَمَ مُحْدَثٌ وَالنَّارَ مُحْرِقَةٌ وَإِنْ أُرِيدَ الثَّانِي فَقَوْلُهُ بِالْأَحْكَامِ يَكُونُ احْتِرَازًا عَنْ عِلْمِ مَا سِوَى خِطَابِ اللَّهِ تَعَالَى الْمُتَعَلِّقِ إلَى آخِرِهِ فَالْحُكْمُ بِهَذَا التَّفْسِيرِ قِسْمَانِ شَرْعِيٌّ

ــ

‌‌[التلويح]

مَا سِوَى الْوَاجِبِ مِمَّا يَجُوزُ لَهَا؛ لِأَنَّ مَا سِوَى الْحَرَامِ وَالْمَكْرُوهِ تَحْرِيمًا يَشْمَلُ الْوَاجِبَ مَعَ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ بِهَذَا الْمَعْنَى وَكَذَا تَرْكُ مَا سِوَى الْوَاجِبِ يَشْمَلُ تَرْكَ الْحَرَامِ وَالْمَكْرُوهِ تَحْرِيمًا مَعَ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ قُلْتُ: هَذَا مَخْصُوصٌ بِقَرِينَةِ التَّصْرِيحِ بِدُخُولِهِ فِيمَا يَجِبُ عَلَيْهَا. وَالثَّالِثُ أَنَّ مَا يُحَرَّمُ عَلَيْهَا فِي الْوَجْهِ الْخَامِسِ بِمَعْنَى الْمَنْعِ عَنْ الْفِعْلِ يَشْمَلُ الْحَرَامَ وَالْمَكْرُوهَ تَحْرِيمًا وَالرَّابِعُ أَنْ لَيْسَ الْمُرَادُ بِمَعْرِفَةِ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا تَصَوُّرُهُمَا وَلَا التَّصْدِيقُ بِثُبُوتِهِمَا لِظُهُورِ أَنْ لَيْسَ الْفِقْهُ عِبَارَةً عَنْ تَصَوُّرِ الصَّلَاةِ وَغَيْرِهَا وَلَا عَنْ التَّصْدِيقِ بِوُجُودِهَا فِي نَفْسِ الْأَمْرِ، بَلْ الْمُرَادُ مَعْرِفَةُ أَحْكَامِهَا مِنْ الْوُجُوبِ وَغَيْرِهِ كَالتَّصْدِيقِ بِأَنَّ هَذَا وَاجِبٌ وَذَاكَ حَرَامٌ وَإِلَيْهِ أَشَارَ بِقَوْلِهِ كَوُجُوبِ الْإِيمَانِ فَأَحْكَامُ الْوِجْدَانِيَّاتِ مِنْ الْوُجُوبِ وَنَحْوِهِ تُدْرَكُ بِالدَّلِيلِ وَثُبُوتُهَا فِي نَفْسِ الْأَمْرِ بِالْوِجْدَانِ كَمَا فِي الْعَمَلِيَّاتِ بِعُرْفِ وُجُوبِ الصَّلَاةِ بِالدَّلِيلِ وَوُجُودُهَا بِالْحِسِّ، ثُمَّ لَا يَخْفَى أَنَّ اعْتِرَاضَهُ عَلَى التَّعْرِيفِ الثَّانِي بِأَنَّهُ لَا يَجُوزُ أَنْ يُرَادَ بِالْأَحْكَامِ كُلِّهَا وَلَا بَعْضِهَا الْمُعَيَّنِ وَلَا الْمُبْهَمِ وَارِدٌ هَاهُنَا فِيمَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا مَعَ أَنَّ إطْلَاقَ اللَّفْظِ الْمُحْتَمَلِ لِلْمَعَانِي الْمُتَعَدِّدَةِ مَعَ عَدَمِ تَعَيُّنِ الْمُرَادِ غَيْرُ مُسْتَحْسَنٍ فِي التَّعْرِيفَاتِ.

‌‌1 -

قَوْلُهُ (وَقِيلَ الْعِلْمُ) عَرَّفَ أَصْحَابُ الشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - الْفِقْهَ بِأَنَّهُ الْعِلْمُ بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الْعَمَلِيَّةِ مِنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ وَبَيَانُ ذَلِكَ أَنَّ مُتَعَلَّقَ الْعِلْمِ إمَّا حُكْمٌ أَوْ غَيْرُهُ وَالْحُكْمُ إمَّا مَأْخُوذٌ مِنْ الشَّرْعِ أَوْ لَا وَالْمَأْخُوذُ مِنْ الشَّرْعِ إمَّا أَنْ يَتَعَلَّقَ بِكَيْفِيَّةِ الْعَمَلِ أَوْ لَا وَالْعَمَلُ إمَّا أَنْ يَكُونَ الْعِلْمُ بِهِ حَاصِلًا مِنْ دَلِيلِهِ التَّفْصِيلِيِّ الَّذِي نِيطَ بِهِ الْحُكْمُ أَوْ لَا فَالْعِلْمُ الْمُتَعَلِّقُ بِجَمِيعِ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الْعَمَلِيَّةِ الْحَاصِلُ مِنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ هُوَ الْفِقْهُ وَخَرَجَ الْعِلْمُ بِغَيْرِ الْأَحْكَامِ مِنْ الذَّوَاتِ وَالصِّفَاتِ وَالْعِلْمُ بِالْأَحْكَامِ الْغَيْرِ الْمَأْخُوذَةِ مِنْ الشَّرْعِ كَالْأَحْكَامِ الْمَأْخُوذَةِ مِنْ الْعَقْلِ كَالْعِلْمِ بِأَنَّ الْعَالَمَ حَادِثٌ أَوْ مِنْ الْحِسِّ كَالْعِلْمِ بِأَنَّ النَّارَ مُحْرِقَةٌ أَوْ مِنْ الْوَضْعِ وَالِاصْطِلَاحِ كَالْعِلْمِ بِأَنَّ الْفَاعِلَ مَرْفُوعٌ وَخَرَجَ الْعِلْمُ بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ النَّظَرِيَّةِ وَتُسَمَّى اعْتِقَادِيَّةً وَأَصْلِيَّةً كَكَوْنِ الْإِجْمَاعِ حُجَّةً وَالْإِيمَانِ وَاجِبًا وَخَرَجَ أَيْضًا عِلْمُ اللَّهِ تَعَالَى وَعِلْمُ جِبْرِيلَ وَالرَّسُولِ - عَلَيْهِمَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ - وَكَذَا عِلْمُ الْمُقَلِّدِ؛ لِأَنَّهُ لَمْ يَحْصُلْ مِنْ الْأَدِلَّةِ التَّفْصِيلِيَّةِ.

قَوْلُهُ (يُمْكِنُ أَنْ يُرَادَ بِالْحُكْمِ) الْحُكْمُ يُطْلَقُ فِي الْعُرْفِ
(এবং বলা হয়েছে যে, বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে ব্যবহারিক শরয়ী বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করাই হলো ফিকহ।) এখানে 'জ্ঞান' (ইলম) হলো সাধারণ পদ (জিনস), আর অবশিষ্টাংশ হলো বিশেষ গুণ (ফসল)। সুতরাং তাঁর উক্তি 'বিধানাবলি' (বিল আহকাম) দ্বারা এখানে বিধান বলতে কোনো বিষয়কে অন্য কোনো বিষয়ের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা উদ্দেশ্য হতে পারে; আবার পারিভাষিক বিধানও উদ্দেশ্য হতে পারে, যা হলো মহান আল্লাহর ঐ সম্বোধন যা সংশ্লিষ্ট... ইত্যাদি। যদি প্রথমটি উদ্দেশ্য হয়, তবে যেসব সত্তা ও গুণাবলি বিধানের অন্তর্ভুক্ত নয় সেগুলোর জ্ঞান সংজ্ঞা থেকে বাদ পড়ে যাবে; অর্থাৎ তা কল্পনা বা ধারণাসমূহকে (তাসাউরাত) বাদ দেয় এবং প্রত্যয়নসমূহকে (তাসদিকাত) বহাল রাখে। আর 'শরয়ী' (বিধানাবলি) বলার মাধ্যমে বুদ্ধিভিত্তিক ও ইন্দ্রিয়লব্ধ বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান বাদ পড়ে যায়, যেমন- মহাবিশ্ব নতুন বা সৃষ্ট হওয়ার জ্ঞান এবং আগুন দহনকারী হওয়ার জ্ঞান। আর যদি দ্বিতীয়টি উদ্দেশ্য হয়, তবে তাঁর উক্তি 'বিধানাবলি' দ্বারা মহান আল্লাহর সংশ্লিষ্ট সম্বোধন ব্যতীত অন্য সব বিষয়ের জ্ঞান থেকে বিরত থাকা বা তা বাদ দেওয়া উদ্দেশ্য হবে... শেষ পর্যন্ত। সুতরাং এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিধান দুই প্রকার, যার একটি হলো শরয়ী।

—

[আল-তালবীহ]

ওয়াজিব ব্যতীত অন্য যা কিছু তার জন্য জায়েজ; কারণ হারাম এবং মাকরূহে তাহরিমি ব্যতীত অন্য সবকিছুই ওয়াজিবকে অন্তর্ভুক্ত করে, যদিও এই অর্থে তা জায়েজ নয়। অনুরূপভাবে ওয়াজিব ব্যতীত অন্য সবকিছুর বর্জন হারাম এবং মাকরূহে তাহরিমি বর্জনকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যদিও তা জায়েজ নয়। আমি বলি: এটি তার উপর যা ওয়াজিব তার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুস্পষ্ট বর্ণনার লক্ষণ দ্বারা নির্দিষ্ট। তৃতীয়ত, পঞ্চম দিক থেকে তার জন্য যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা কোনো কাজ থেকে বিরত রাখার অর্থে হারাম এবং মাকরূহে তাহরিমি উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। চতুর্থত, নিজের অধিকার এবং কর্তব্যের জ্ঞান বলতে উদ্দেশ্য কেবল তাদের ধারণা লাভ করা বা তাদের অস্তিত্বের প্রতি স্বীকৃতি দান করা নয়। কারণ এটি স্পষ্ট যে, ফিকহ কেবল সালাত বা অন্য কিছুর ধারণা লাভের নাম নয় এবং বাস্তবে সেগুলোর অস্তিত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার নামও নয়। বরং উদ্দেশ্য হলো ওয়াজিব হওয়া বা অন্য বিষয়গুলোর বিধানাবলি জানা, যেমন এই স্বীকৃতি দেওয়া যে—এটি ওয়াজিব এবং ওটি হারাম। আর ‘ঈমানের ওয়াজিব হওয়ার মতো’ উক্তিটির মাধ্যমে তিনি এ দিকেই ইশারা করেছেন। সুতরাং অভ্যন্তরীণ উপলব্ধিগত বিষয়সমূহের বিধান যেমন ওয়াজিব হওয়া ইত্যাদি দলিলের মাধ্যমে অনুভূত হয়, আর বাস্তবে সেগুলোর অস্তিত্ব অনুভবের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়; যেমনটি ব্যবহারিক আমলগত বিষয়গুলোতে ঘটে থাকে—সালাতের ওয়াজিব হওয়া দলিলের মাধ্যমে জানা যায় এবং তার অস্তিত্ব ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতির মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। অতঃপর এটি গোপন নয় যে, দ্বিতীয় সংজ্ঞার ওপর তার উত্থাপিত আপত্তি—অর্থাৎ বিধানাবলি দ্বারা তার প্রতিটি অংশ বা নির্দিষ্ট কোনো অংশ কিংবা অস্পষ্ট কোনো অংশকে উদ্দেশ্য করা সঠিক নয়—তা এখানে ‘যা তার সপক্ষে এবং যা তার বিপক্ষে’ কথাটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অথচ সংজ্ঞার ক্ষেত্রে একাধিক অর্থ বহনকারী শব্দের ব্যবহার—যেখানে উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়—তা মোটেও সমীচীন নয়।

১ -

তাঁর উক্তি: (এবং বলা হয়েছে যে, এটি হলো জ্ঞান)। ইমাম শাফিঈ -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- এর অনুসারীগণ ফিকহের সংজ্ঞায় বলেছেন যে, এটি হলো বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে আহরিত আমল-সংক্রান্ত শরয়ী বিধানাবলির জ্ঞান। এর ব্যাখ্যা হলো যে, জ্ঞানের বিষয়বস্তু হয় কোনো বিধান হবে অথবা অন্য কিছু। আর বিধানটি হয় শরীয়ত থেকে গৃহীত হবে অথবা হবে না। আর শরীয়ত থেকে যা গৃহীত, তা হয় কাজের পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট হবে অথবা হবে না। আর কাজ সম্পর্কিত সেই জ্ঞানটি হয় এমন বিস্তারিত দলীল থেকে অর্জিত হবে যার সাথে বিধানটি সংশ্লিষ্ট, অথবা হবে না। সুতরাং বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে অর্জিত সমস্ত আমল-সংক্রান্ত শরয়ী বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞানই হলো ফিকহ। এর মাধ্যমে বিধান বহির্ভূত বিষয় যেমন সত্তা ও গুণাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান বাদ পড়ে গেল। এবং শরীয়ত থেকে গৃহীত নয় এমন বিধানাবলির জ্ঞানও বাদ পড়ে গেল, যেমন বুদ্ধি বা আকল থেকে প্রাপ্ত বিধান; যথা: জগত নশ্বর—এই জ্ঞান। অথবা পঞ্চেন্দ্রিয় থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান; যথা: আগুন দহনকারী—এই জ্ঞান। অথবা ভাষাগত রীতি ও পারিভাষিক জ্ঞান; যথা: কর্তা সর্বদা পেশযুক্ত হয়—এই জ্ঞান। এবং তাত্ত্বিক শরয়ী বিধানাবলির জ্ঞানও বাদ পড়ে গেল, যাকে আকিদাগত ও মূলগত বিধান বলা হয়; যেমন ইজমা একটি দলিল হওয়া এবং ঈমান আনা ওয়াজিব হওয়া। এবং আল্লাহ তাআলার জ্ঞান, জিবরাঈল ও রাসূলের —তাঁদের প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক— জ্ঞানও বাদ পড়ে গেল। অনুরূপভাবে মুকাল্লিদের জ্ঞানও বাদ পড়ল; কারণ তা বিস্তারিত দলীল থেকে অর্জিত হয়নি।

তাঁর বক্তব্য: (হুকুম বা বিধান দ্বারা যা উদ্দেশ্য হওয়া সম্ভব), প্রচলিত রীতি বা পরিভাষায় 'হুকুম' শব্দটি প্রয়োগ করা হয়

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أَيْ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى بِمَا يَتَوَقَّفُ عَلَى الشَّرْعِ وَغَيْرُ شَرْعِيٍّ أَيْ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى بِمَا لَا يَتَوَقَّفُ عَلَى الشَّرْعِ كَوُجُوبِ الْإِيمَانِ بِاَللَّهِ تَعَالَى وَوُجُوبِ تَصْدِيقِ النَّبِيِّ عليه السلام وَنَحْوِهِمَا مِمَّا لَا يَتَوَقَّفُ عَلَى الشَّرْعِ لِتَوَقُّفِ الشَّرْعِ عَلَيْهِ، ثُمَّ الشَّرْعِيُّ، إمَّا نَظَرِيٌّ، وَإِمَّا عَمَلِيٌّ فَقَوْلُهُ الْعَمَلِيَّةُ يُخْرِجُ الْعِلْمَ بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ النَّظَرِيَّةِ كَالْعِلْمِ بِأَنَّ الْإِجْمَاعَ حُجَّةٌ وَقَوْلُهُ مِنْ أَدِلَّتِهَا أَيْ الْعِلْمِ

ــ

‌‌[التلويح]

عَلَى إسْنَادِ أَمْرٍ إلَى آخَرَ أَيْ نِسْبَتِهِ إلَيْهِ بِالْإِيجَابِ أَوْ السَّلْبِ، وَفِي اصْطِلَاحٍ الْأُصُولِ عَلَى خِطَابِ اللَّهِ تَعَالَى الْمُتَعَلِّقِ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ بِالِاقْتِضَاءِ أَوْ التَّخْيِيرِ، وَفِي اصْطِلَاحِ الْمَنْطِقِ عَلَى إدْرَاكِ أَنَّ النِّسْبَةَ وَاقِعَةٌ أَوْ لَيْسَتْ بِوَاقِعَةٍ وَيُسَمَّى تَصْدِيقًا، وَهُوَ لَيْسَ بِمُرَادٍ هَاهُنَا؛ لِأَنَّهُ عِلْمٌ وَالْفِقْهُ لَيْسَ عِلْمًا بِالْعُلُومِ الشَّرْعِيَّةِ وَالْمُحَقِّقُونَ عَلَى أَنَّ الثَّانِيَ أَيْضًا لَيْسَ بِمُرَادٍ وَإِلَّا لَكَانَ ذِكْرُ الشَّرْعِيَّةِ وَالْعَمَلِيَّةِ تَكْرَارًا، بَلْ الْمُرَادُ النِّسْبَةُ التَّامَّةُ بَيْنَ الْأَمْرَيْنِ الَّتِي الْعِلْمُ بِهَا تَصْدِيقٌ وَبِغَيْرِهَا تَصَوُّرٌ وَإِلَى هَذَا أَشَارَ بِقَوْلِهِ يَخْرُجُ التَّصَوُّرَاتُ وَيَبْقَى التَّصْدِيقَاتُ فَيَكُونُ الْفِقْهُ عِبَارَةً عَنْ التَّصْدِيقِ بِالْقَضَايَا الشَّرْعِيَّةِ الْمُتَعَلِّقَةِ بِكَيْفِيَّةِ الْعَمَلِ تَصْدِيقًا حَاصِلًا مِنْ الْأَدِلَّةِ التَّفْصِيلِيَّةِ الَّتِي نُصِّبَتْ فِي الشَّرْعِ عَلَى تِلْكَ الْقَضَايَا وَفَوَائِدُ الْقُيُودِ ظَاهِرَةٌ عَلَى هَذَا التَّقْدِيرِ وَالْمُصَنِّفُ جَوَّزَ أَنْ يُرَادَ بِالْحُكْمِ هَاهُنَا مُصْطَلَحُ الْأُصُولِ فَاحْتَاجَ إلَى تَكَلُّفٍ فِي تَبْيِينِ فَوَائِدِ الْقُيُودِ وَتَعَسُّفٍ فِي تَقْدِيرِ مُرَادِ الْقَوْمِ فَذَهَبَ إلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِالشَّرْعِيِّ مَا يَتَوَقَّفُ عَلَى الشَّرْعِ وَلَا يُدْرَكُ لَوْلَا خِطَابُ الشَّارِعِ وَالْأَحْكَامُ مِنْهَا مَا هُوَ خِطَابٌ بِمَا يَتَوَقَّفُ عَلَى الشَّرْعِ كَوُجُوبِ الصَّلَاةِ وَالصَّوْمِ وَمِنْهَا مَا هُوَ خِطَابٌ بِمَا لَا يَتَوَقَّفُ عَلَيْهِ كَوُجُوبِ الْإِيمَانِ بِاَللَّهِ تَعَالَى وَوُجُوبِ تَصْدِيقِ النَّبِيِّ عليه السلام؛ لِأَنَّ ثُبُوتَ الشَّرْعِ مَوْقُوفٌ عَلَى الْإِيمَانِ بِوُجُودِ الْبَارِي تَعَالَى وَعِلْمِهِ وَقُدْرَتِهِ وَكَلَامِهِ وَعَلَى التَّصْدِيقِ بِنُبُوَّةِ النَّبِيِّ عليه السلام بِدَلَالَةِ مُعْجِزَاتِهِ فَلَوْ تَوَقَّفَ شَيْءٌ مِنْ هَذِهِ الْأَحْكَامِ عَلَى الشَّرْعِ لَزِمَ الدَّوْرُ فَالتَّقْيِيدُ بِالشَّرْعِيَّةِ يُخْرِجُ هَذِهِ الْأَحْكَامَ؛ لِأَنَّهَا لَيْسَتْ شَرْعِيَّةً بِمَعْنَى التَّوَقُّفِ عَلَى الشَّرْعِ، وَإِنَّمَا قَالَ الْخِطَابُ بِمَا يَتَوَقَّفُ أَوْ لَا يَتَوَقَّفُ؛ لِأَنَّ الْحُكْمَ الْمُفَسَّرَ بِالْخِطَابِ قَدِيمٌ عِنْدَهُمْ فَكَيْفَ يَتَوَقَّفُ عَلَى الشَّرْعِ وَلِقَائِلٍ أَنْ يَمْنَعَ تَوَقُّفَ الشَّرْعِ عَلَى وُجُوبِ الْإِيمَانِ وَنَحْوِهِ سَوَاءٌ أُرِيدَ بِالشَّرْعِ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى أَوْ شَرِيعَةُ النَّبِيِّ عليه السلام وَتَوَقُّفُ التَّصْدِيقِ بِثُبُوتِ شَرْعِ النَّبِيِّ عليه السلام عَلَى الْإِيمَانِ بِاَللَّهِ تَعَالَى وَصِفَاتِهِ وَعَلَى التَّصْدِيقِ بِنُبُوَّةِ النَّبِيِّ عليه السلام وَدَلَالَةِ مُعْجِزَاتِهِ لَا يَقْتَضِي تَوَقُّفَهُ عَلَى وُجُوبِ الْإِيمَانِ وَالتَّصْدِيقِ وَلَا عَلَى الْعِلْمِ بِوُجُوبِهِمَا غَايَتُهُ أَنَّهُ يَتَوَقَّفُ عَلَى نَفْسِ الْإِيمَانِ وَالتَّصْدِيقِ، وَهُوَ غَيْرُ مُفِيدٍ وَلَا مُنَافٍ لِتَوَقُّفِ وُجُوبِ الْإِيمَانِ وَنَحْوِهِ عَلَى الشَّرْعِ كَمَا هُوَ الْمَذْهَبُ عِنْدَهُمْ مِنْ أَنْ لَا وُجُوبَ إلَّا بِالسَّمْعِ.

قَوْلُهُ، (ثُمَّ الشَّرْعِيُّ) أَيْ الْمُتَوَقِّفُ عَلَى الشَّرْعِ إمَّا نَظَرِيٌّ لَا يَتَعَلَّقُ بِكَيْفِيَّةِ عَمَلٍ وَإِمَّا عَمَلِيٌّ يَتَعَلَّقُ بِهَا فَالتَّقْيِيدُ بِالْعَمَلِيَّةِ لِإِخْرَاجِ النَّظَرِيَّةِ يَكُونُ الْإِجْمَاعُ حُجَّةً، وَهَذَا إنَّمَا يَصِحُّ عَلَى
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার ওই সম্বোধন যা শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং অ-শরয়ি, অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার ওই সম্বোধন যা শরীয়তের ওপর নির্ভর করে না; যেমন আল্লাহ তাআলার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব হওয়া এবং নবীর (আলাইহিস সালাম) সত্যতা স্বীকার করা ওয়াজিব হওয়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল নয়, যেহেতু শরীয়ত নিজেই এই বিষয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল। অতঃপর শরয়ি বিষয় হয় তাত্ত্বিক, অথবা ব্যবহারিক। সুতরাং তাঁর উক্তি 'ব্যবহারিক' শব্দটি তাত্ত্বিক শরয়ি বিধানের জ্ঞানকে বহির্ভূত করে দেয়, যেমন ইজমা যে একটি দলীল তা জানা। আর তাঁর উক্তি 'তার দলীলসমূহ থেকে', অর্থাৎ সেই জ্ঞান।

ــ

‌ ‌[আত-তালওয়ীহ]

একটি বিষয়কে অন্য একটি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করা, অর্থাৎ ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে তার দিকে সম্বন্ধ করাকে হুকুম বলা হয়। উসুল শাস্ত্রের পরিভাষায়, মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট মহান আল্লাহর সেই বাণীকে হুকুম বলা হয়, যা কোনো কিছু দাবি করে অথবা পছন্দ করার স্বাধীনতা প্রদান করে। আর যুক্তিবিদ্যার পরিভাষায়, কোনো সম্বন্ধ বাস্তবায়িত হওয়া বা না হওয়াকে উপলব্ধি করার নাম হুকুম, যাকে তাসদিক বা প্রত্যয়ন বলা হয়। তবে এখানে এই অর্থটি উদ্দেশ্য নয়; কারণ এটি একটি জ্ঞান (ইলম), আর ফিকহ কেবল শরয়ী জ্ঞানসমূহের সমষ্টি নয়। গবেষক আলেমদের মতে, দ্বিতীয় অর্থটিও (উসুলী পরিভাষা) এখানে উদ্দেশ্য নয়, অন্যথায় 'শরয়ী' ও 'আমলী' শব্দদ্বয়ের উল্লেখ পুনরাবৃত্তি হিসেবে গণ্য হতো। বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো দুটি বিষয়ের মধ্যবর্তী এমন পূর্ণাঙ্গ সম্বন্ধ, যা জানলে তাসদিক (প্রত্যয়ন) হয় এবং যা ছাড়া অন্য কিছুকে তাসাউয়ুর (ধারণা) বলা হয়। আর একথার প্রতিই তিনি তার এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন যে, এর দ্বারা তাসাউয়ুরসমূহ বের হয়ে যায় এবং তাসদিকসমূহ অবশিষ্ট থাকে। ফলে ফিকহ হলো আমলের পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ী বিষয়াবলির এমন এক তাসদিক বা প্রত্যয়ন, যা সেই বিষয়াবলির ওপর শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে অর্জিত হয়। আর এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী সংজ্ঞায় ব্যবহৃত শর্তগুলোর উপকারিতা স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে গ্রন্থকার এখানে 'হুকুম' দ্বারা উসুলী পরিভাষা উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা রেখেছেন, যার ফলে শর্তগুলোর উপকারিতা বর্ণনায় তাকে অতিরিক্ত কষ্ট করতে হয়েছে এবং আলেমদের উদ্দেশ্য নির্ধারণে জটিলতার আশ্রয় নিতে হয়েছে। তাই তিনি এই মত পোষণ করেছেন যে, শরয়ী বলতে এমন বিষয়কে বোঝায় যা শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং বিধানদাতার (শারী') বাণী ব্যতীত যা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। আর হুকুমসমূহের মধ্যে কিছু এমন আছে যা শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল বিষয়ের সম্বোধন, যেমন সালাত ও সওমের ওয়াজিব হওয়া। আবার কিছু এমন আছে যা শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল নয় এমন বিষয়ের সম্বোধন, যেমন মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং নবী আলাইহিস সালামকে সত্য বলে স্বীকার করার আবশ্যকতা। কারণ শরীয়ত সাব্যস্ত হওয়া মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব, তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও বাণীর প্রতি ঈমান আনার ওপর এবং তাঁর মুজিজাসমূহের প্রমাণের ভিত্তিতে নবী আলাইহিস সালামের নবুওয়তকে সত্য বলে স্বীকার করার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং এই বিধানগুলোর কোনোটি যদি শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল হতো, তবে চক্রক দোষ (দাওর) অনিবার্য হতো। তাই 'শরয়ী' শর্তটি এই বিধানগুলোকে বের করে দেয়; কারণ এগুলো শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার অর্থে শরয়ী নয়। তিনি 'এমন বিষয়ের সম্বোধন যা নির্ভরশীল বা নির্ভরশীল নয়' একারণে বলেছেন যে, সম্বোধন দ্বারা ব্যাখ্যাত হুকুমটি তাদের মতে অনাদি (কাদীম), সুতরাং তা কীভাবে শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে? তবে কেউ চাইলে ঈমান ওয়াজিব হওয়া ইত্যাদির ওপর শরীয়তের নির্ভরশীলতাকে অস্বীকার করতে পারেন, চাই শরীয়ত দ্বারা মহান আল্লাহর বাণী উদ্দেশ্য হোক কিংবা নবী আলাইহিস সালামের শরীয়ত। আর নবী আলাইহিস সালামের শরীয়ত সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি আল্লাহ ও তাঁর সিফাতসমূহের প্রতি ঈমান এবং তাঁর নবুওয়ত ও মুজিজার সত্যতা স্বীকার করার ওপর নির্ভরশীল হওয়া মানেই ঈমান ও তাসদিকের 'ওয়াজিব' হওয়ার ওপর বা তাদের ওয়াজিব হওয়ার জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল হওয়া নয়; বড়জোর তা স্বয়ং ঈমান ও তাসদিকের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে। আর এটি কোনো ফলপ্রসূ বিষয় নয় এবং ঈমান ওয়াজিব হওয়া ইত্যাদির শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল হওয়ারও পরিপন্থী নয়; যেমনটি তাদের অভিমত যে—শরীয়তের শ্রবণযোগ্য দলীল (সাম'ই দলীল) ব্যতীত কোনো কিছুই ওয়াজিব হয় না।

তাঁর বক্তব্য: (অতঃপর শরয়ী), অর্থাৎ যা শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল; তা হয় তাত্ত্বিক যা কোনো কাজের পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, অথবা ব্যবহারিক যা তার সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং ব্যবহারিকতার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করার উদ্দেশ্য হলো তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে বের করে দেওয়া যেখানে ইজমা দলিল হিসেবে গণ্য হয়; আর এটি কেবল তখনই সঠিক হবে যখন

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الْحَاصِلِ لِلشَّخْصِ الْمَوْصُوفِ بِهِ مِنْ أَدِلَّتِهَا الْمَخْصُوصَةِ بِهَا وَهِيَ الْأَدِلَّةُ الْأَرْبَعَةُ، وَهَذَا الْقَيْدُ يُخْرِجُ التَّقْلِيدَ؛ لِأَنَّ الْمُقَلِّدَ وَإِنْ كَانَ قَوْلُ الْمُجْتَهِدِ دَلِيلًا لَهُ لَكِنَّهُ لَيْسَ مِنْ تِلْكَ الْأَدِلَّةِ الْمَخْصُوصَةِ وَقَوْلُهُ التَّفْصِيلِيَّةُ يُخْرِجُ الْإِجْمَالِيَّةَ كَالْمُقْتَضِي وَالنَّافِي، وَقَدْ زَادَ ابْنُ الْحَاجِبِ عَلَى هَذَا قَوْلَهُ بِالِاسْتِدْلَالِ، وَلَا شَكَّ أَنَّهُ مُكَرَّرٌ.

وَلَمَّا عُرِفَ الْفِقْهُ بِالْعِلْمِ بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ وَجَبَ تَعْرِيفُ الْحُكْمِ وَتَعْرِيفُ الشَّرْعِيَّةِ فَقَالَ (وَالْحُكْمُ قِيلَ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى) هَذَا التَّعْرِيفُ مَنْقُولٌ عَنْ الْأَشْعَرِيِّ فَقَوْلُهُ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى يَشْمَلُ جَمِيعَ الْخِطَابَاتِ.

وَقَوْلُهُ (الْمُتَعَلِّقُ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ) يُخْرِجُ مَا لَيْسَ كَذَلِكَ فَبَقِيَ فِي الْحَدِّ نَحْوُ {وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ} [الصافات: 96] مَعَ أَنَّهُ لَيْسَ بِحُكْمٍ فَقَالَ (بِالِاقْتِضَاءِ) أَيْ الطَّلَبِ وَهُوَ إمَّا طَلَبُ الْفِعْلِ جَازِمًا كَالْإِيجَابِ أَوْ غَيْرَ جَازِمٍ كَالنَّدْبِ وَإِمَّا طَلَبُ التَّرْكِ جَازِمًا كَالتَّحْرِيمِ أَوْ غَيْرَ جَازِمٍ كَالْكَرَاهَةِ (أَوْ التَّخْيِيرِ) أَيْ الْإِبَاحَةِ

ــ

‌‌[التلويح]

التَّقْدِيرِ الثَّانِي لَوْ كَانَ الْحُكْمُ الْمُصْطَلَحُ شَامِلًا لِلنَّظَرِيِّ، وَفِيهِ كَلَامٌ سَيَجِيءُ.

قَوْلُهُ (أَيْ الْعِلْمُ الْحَاصِلُ) قَدْ يُتَوَهَّمُ أَنَّ قَوْلَهُ مِنْ أَدِلَّتِهَا مُتَعَلِّقٌ بِالْأَحْكَامِ وَحِينَئِذٍ لَا يَخْرُجُ عِلْمُ الْمُقَلِّدِ؛ لِأَنَّهُ عِلْمٌ بِالْأَحْكَامِ الْحَاصِلَةِ عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ عِلْمُ الْمُقَلِّدِ حَاصِلًا عَنْ الْأَدِلَّةِ فَدَفْعُ ذَلِكَ مُتَعَلِّقٌ بِالْعِلْمِ لَا بِالْأَحْكَامِ إذْ الْحَاصِلُ مِنْ الدَّلِيلِ هُوَ الْعِلْمُ بِالشَّيْءِ لَا الشَّيْءُ نَفْسُهُ عَلَى أَنَّهُ إذَا أُرِيدَ بِالْحُكْمِ الْخِطَابُ فَهُوَ قَدِيمٌ لَا يَحْصُلُ مِنْ شَيْءٍ، وَمَعْنَى حُصُولِ الْعِلْمِ مِنْ الدَّلِيلِ أَنَّهُ يَنْظُرُ فِي الدَّلِيلِ فَيَعْلَمُ مِنْهُ الْحُكْمَ فَعِلْمُ الْمُقَلِّدِ، وَإِنْ كَانَ مُسْتَنِدًا إلَى قَوْلِ الْمُجْتَهِدِ الْمُسْتَنِدِ إلَى عِلْمِهِ الْمُسْتَنِدِ إلَى دَلِيلِ الْحُكْمِ لَكِنَّهُ لَمْ يَحْصُلْ مِنْ النَّظَرِ فِي الدَّلِيلِ وَقَيَّدَ الْأَدِلَّةَ بِالتَّفْصِيلِيَّةِ؛ لِأَنَّ الْعِلْمَ بِوُجُوبِ الشَّيْءِ لِوُجُودِ الْمُقْتَضِي أَوْ بِعَدَمِ وُجُودِهِ لِوُجُودِ النَّافِي لَيْسَ مِنْ الْفِقْهِ.

قَوْلُهُ (وَلَا شَكَّ أَنَّهُ مُكَرَّرٌ) ذَهَبَ ابْنُ الْحَاجِبِ إلَى أَنَّ حُصُولَ الْعِلْمِ بِالْأَحْكَامِ عَنْ الْأَدِلَّةِ قَدْ يَكُونُ بِطَرِيقِ الضَّرُورَةِ كَعِلْمِ جِبْرِيلَ وَالرَّسُولِ عليهما السلام وَقَدْ يَكُونُ بِطَرِيقِ الِاسْتِدْلَالِ أَوْ الِاسْتِنْبَاطِ كَعِلْمِ الْمُجْتَهِدِ وَالْأَوَّلُ لَا يُسَمَّى فِقْهًا اصْطِلَاحًا فَلَا بُدَّ مِنْ زِيَادَةِ قَيْدِ الِاسْتِدْلَالِ أَوْ الِاسْتِنْبَاطِ احْتِرَازًا عَنْهُ وَالْمُصَنِّفُ تَوَهَّمَ أَنَّهُ احْتِرَازٌ عَنْ عِلْمِ الْمُقَلِّدِ فَجَزَمَ بِأَنَّهُ مُكَرَّرٌ لِخُرُوجِهِ بِقَوْلِهِ مِنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ، فَإِنْ قِيلَ حُصُولُ الْعِلْمِ عَنْ الدَّلِيلِ مُشْعِرٌ بِالِاسْتِدْلَالِ، إذْ لَا مَعْنَى لِذَلِكَ إلَّا أَنْ يَكُونَ الْعِلْمُ مَأْخُوذًا عَنْ الدَّلِيلِ فَيَخْرُجُ عِلْمُ جِبْرِيلَ وَالرَّسُولِ عليهما السلام أَيْضًا قُلْنَا لَوْ سَلَّمَ فَذَكَرَ الِاسْتِدْلَالَ لِلتَّصْرِيحِ بِمَا عَلِمَ الْتِزَامًا أَوْ لِدَفْعِ الْوَهْمِ أَوْ لِلْبَيَانِ دُونَ الِاحْتِرَازِ وَمِثْلُهُ شَائِعٌ فِي التَّعْرِيفَاتِ.

قَوْلُهُ (وَلَمَّا عَرَّفَ الْفِقْهَ) الْمَذْكُورُ فِي كُتُبِ الشَّافِعِيَّةِ أَنَّ خِطَابَ اللَّهِ تَعَالَى الْمُتَعَلِّقَ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ تَعْرِيفٌ لِلْحُكْمِ الشَّرْعِيِّ الْمُتَعَارَفِ بَيْنَ الْأُصُولِيِّينَ لَا لِلْحُكْمِ الْمَأْخُوذِ فِي تَعْرِيفِ الْفِقْهِ وَالْمُصَنِّفُ ذَهَبَ إلَى أَنَّهُ تَعْرِيفٌ لَهُ وَأَنَّ الشَّرْعِيَّ قَيْدٌ زَائِدٌ عَلَى خِطَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَأَنَّ كَوْنَهُ تَعْرِيفًا لِلْحُكْمِ الشَّرْعِيِّ إنَّمَا هُوَ رَأْيُ بَعْضِ الْأَشَاعِرَةِ كُلُّ ذَلِكَ لِعَدَمِ تَصَفُّحِهِ كُتُبَهُمْ فَنَقُولُ عَرَّفَ بَعْضُ
যা সেই গুণের অধিকারী ব্যক্তির জন্য এর নির্দিষ্ট দলিলসমূহ থেকে অর্জিত হয়, আর তা হলো চারটি দলিল। এই শর্তটি তাকলিদকে (অন্ধ অনুসরণ) বহির্ভূত করে; কারণ মুকাল্লিদের নিকট যদিও মুজতাহিদের কথা একটি দলিল, কিন্তু তা সেই নির্দিষ্ট দলিলসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তাঁর ‘তাফসিলিয়্যাহ’ (বিস্তারিত) কথাটি ইজমালিয়্যাহ (সংক্ষিপ্ত)-কে বহির্ভূত করে, যেমন মুকতাদি ও নাফী। ইবনুল হাজিব এর সাথে ‘ইসতিদলাল’ (যুক্তিপ্রমাণ উপস্থাপন) কথাটি বৃদ্ধি করেছেন, তবে নিঃসন্দেহে এটি একটি পুনরাবৃত্তি।

যখন ফিকহকে শরয়ি বিধানসমূহের জ্ঞান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তখন হুকুমের (বিধান) সংজ্ঞা এবং শরয়ি শব্দের সংজ্ঞা প্রদান করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। অতঃপর তিনি বললেন (আর হুকুম হলো—বলা হয়ে থাকে—আল্লাহ তাআলার সম্বোধন)। এই সংজ্ঞাটি আল-আশআরি থেকে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং তাঁর কথা ‘আল্লাহ তাআলার সম্বোধন’ সমস্ত সম্বোধনকে অন্তর্ভুক্ত করে।

এবং তার বক্তব্য (মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট) এমন বিষয়গুলোকে সংজ্ঞার বহির্ভূত করে দেয় যা এই প্রকৃতির নয়। ফলে সংজ্ঞার মধ্যে {আর আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা করো তা সৃষ্টি করেছেন} [আস-সাফফাত: ৯৬]-এর মতো আয়াতগুলো থেকে যায়, যদিও তা কোনো শরয়ি বিধান বা হুকুম নয়। তাই তিনি বলেছেন (দাবি বা চাহিদার মাধ্যমে), অর্থাৎ তলব। আর এই তলব বা দাবি হয় কোনো কাজ করার দৃঢ় নির্দেশ যেমন ওয়াজিব বা আবশ্যকতা, অথবা অদৃঢ় নির্দেশ যেমন মুস্তাহাব বা সুপারিশ। আবার এটি হয় কোনো কাজ বর্জন করার দৃঢ় নির্দেশ যেমন হারাম বা নিষিদ্ধকরণ, অথবা অদৃঢ় নির্দেশ যেমন মাকরূহ বা অপছন্দনীয়তা, অথবা (পছন্দের সুযোগ প্রদান করা) অর্থাৎ মুবাহ বা বৈধতা।

ــ

‌‌[আত-তালবীহ]

দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি হলো যদি পারিভাষিক 'হুকুম' তাত্ত্বিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে, আর এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

তাঁর উক্তি (অর্থাৎ অর্জিত জ্ঞান): এটি ধারণা করা হতে পারে যে, তাঁর উক্তি "সেগুলোর প্রমাণাদি হতে" বিষয়টি "বিধানাবলি" (আহকাম)-এর সাথে সম্পৃক্ত। এমতাবস্থায় মুকাল্লিদ-এর (অনুসারী) জ্ঞান সংজ্ঞা হতে বহির্ভূত হবে না; কারণ মুকাল্লিদের জ্ঞানও বিস্তারিত প্রমাণাদি হতে অর্জিত বিধানাবলিরই জ্ঞান, যদিও মুকাল্লিদের এই জ্ঞান সরাসরি প্রমাণাদি হতে অর্জিত হয়নি। সুতরাং এই ধারণা নিরসনের উত্তর হলো—উক্ত সম্পর্কটি "জ্ঞান"-এর সাথে, "বিধানাবলি"-এর সাথে নয়। কারণ প্রমাণ হতে যা অর্জিত হয় তা হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান, স্বয়ং ওই বিষয়টি নয়। অধিকন্তু, যদি বিধান (হুকুম) দ্বারা আল্লাহর "সম্বোধন" (খিতাব) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, তবে তা অনাদি (কাদিম), যা কোনো কিছু থেকে উৎপন্ন বা অর্জিত হয় না। আর প্রমাণ হতে জ্ঞান অর্জিত হওয়ার অর্থ হলো—ব্যক্তি প্রমাণের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করে এবং তা থেকে বিধানটি জানতে পারে। সুতরাং মুকাল্লিদ-এর জ্ঞান যদিও মুজতাহিদের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল—যা মুজতাহিদের নিজস্ব জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল এবং সেই জ্ঞান আবার বিধানের মূল প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল—তথাপি মুকাল্লিদের এই জ্ঞান প্রমাণের মধ্যে নিজস্ব দৃষ্টিপাত বা গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত হয়নি। আর তিনি প্রমাণাদিকে "বিস্তারিত" (তাফصیلی) বিশেষণে বিশেষিত করেছেন; কারণ কোনো কিছুর আবশ্যকতা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা যা মূলত প্রবর্তক বা হেতু বিদ্যমান থাকার কারণে হয়, অথবা প্রতিবন্ধক বিদ্যমান থাকার কারণে কোনো কিছুর অস্তিত্বহীনতা সম্পর্কে জানা—তা ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়।

তাঁর উক্তি (এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি পুনরাবৃত্তি): ইবনুল হাজিব এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, দলিলসমূহ হতে বিধানাবলির জ্ঞান লাভ কখনও অপরিহার্য (জরুরি) পদ্ধতিতে হতে পারে, যেমন জিবরাঈল ও রাসূল (আলাইহিমাস সালাম)-এর জ্ঞান। আবার কখনও তা ইস্তিদলাল (প্রমাণ প্রয়োগ) বা ইস্তিনবাত (তত্ত্ব উদ্ঘাটন) পদ্ধতিতে হতে পারে, যেমন মুজতাহিদের জ্ঞান। প্রথম প্রকারটিকে পারিভাষিক পরিভাষায় ‘ফিকহ’ বলা হয় না; তাই তা বর্জন করার জন্য ‘ইস্তিদলাল’ বা ‘ইস্তিনবাত’-এর শর্ত যুক্ত করা আবশ্যক। কিন্তু গ্রন্থকার ধারণা করেছেন যে, এটি মুকাল্লিদের জ্ঞানকে বর্জন করার জন্য আনা হয়েছে, তাই তিনি দৃঢ়তার সাথে একে পুনরাবৃত্তি বলেছেন; কারণ ‘তার বিস্তারিত দলিলসমূহ হতে’—এই উক্তির মাধ্যমেই তা বহির্ভূত হয়ে যায়। যদি বলা হয় যে, দলিল হতে জ্ঞান অর্জন হওয়া স্বয়ং ইস্তিদলালকেই নির্দেশ করে, কারণ জ্ঞানটি দলিল হতে গৃহীত হওয়া ছাড়া এর আর কোনো অর্থ হয় না; ফলে জিবরাঈল ও রাসূল (আলাইহিমাস সালাম)-এর জ্ঞানও এর থেকে বহির্ভূত হয়ে যায়। আমরা বলব: যদি এটি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও ইস্তিদলাল শব্দের উল্লেখ করা হয়েছে যা আবশ্যিকভাবে বোধগম্য ছিল তাকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার জন্য, অথবা কোনো ভ্রান্তি নিরসনের জন্য কিংবা নিছক বিশদ বর্ণনার জন্য, বর্জনের উদ্দেশ্যে নয়। আর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এরূপ প্রয়োগ অত্যন্ত সুপরিচিত।

তাঁর বক্তব্য (এবং যখন তিনি ফিকহের সংজ্ঞা দিয়েছেন): শাফেয়িগণের গ্রন্থসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো, মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট মহান আল্লাহর সম্বোধন হলো উসূলবিদদের নিকট পরিচিত ‘শরয়ি হুকুম’-এর সংজ্ঞা; এটি ফিকহের সংজ্ঞায় গৃহীত ‘হুকুম’-এর সংজ্ঞা নয়। তবে গ্রন্থকার এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি এরই সংজ্ঞা এবং ‘শরয়ি’ বিশেষণটি মহান আল্লাহর সম্বোধনের ওপর একটি অতিরিক্ত শর্ত। আর একে ‘শরয়ি হুকুম’-এর সংজ্ঞা হিসেবে গণ্য করা কেবল কতিপয় আশআরীগণের অভিমত—এসব কিছুর কারণ হলো তাঁদের কিতাবসমূহ তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা না করা। তাই আমরা বলছি, কেউ কেউ সংজ্ঞা দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ২২)
(وَقَدْ زَادَ الْبَعْضُ أَوْ الْوَضْعِ لِيَدْخُلَ الْحُكْمُ بِالسَّبَبِيَّةِ وَالشَّرْطِيَّةِ وَنَحْوِهِمَا) اعْلَمْ أَنَّ الْخِطَابَ نَوْعَانِ، إمَّا تَكْلِيفِيٌّ، وَهُوَ الْمُتَعَلِّقُ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ بِالِاقْتِضَاءِ أَوْ التَّخْيِيرِ، وَإِمَّا وَضْعِيٌّ، وَهُوَ الْخِطَابُ بِأَنَّ هَذَا سَبَبُ ذَلِكَ أَوْ شَرْطُهُ كَالدُّلُوكِ سَبَبٌ لِلصَّلَاةِ وَالطَّهَارَةُ شَرْطٌ فَلَمَّا ذَكَرَ أَحَدَ النَّوْعَيْنِ، وَهُوَ التَّكْلِيفِيُّ وَجَبَ ذِكْرُ النَّوْعِ الْآخَرِ، وَهُوَ الْوَضْعِيُّ وَالْبَعْضُ لَمْ يَذْكُرْ الْوَضْعِيَّ؛ لِأَنَّهُ دَاخِلٌ فِي الِاقْتِضَاءِ أَوْ التَّخْيِيرِ؛ لِأَنَّ الْمَعْنَى مِنْ كَوْنِ الدُّلُوكِ سَبَبًا لِلصَّلَاةِ أَنَّهُ إذَا وُجِدَ الدُّلُوكُ وَجَبَتْ الصَّلَاةُ حِينَئِذٍ وَالْوُجُوبُ مِنْ بَابِ الِاقْتِضَاءِ لَكِنَّ الْحَقَّ هُوَ الْأَوَّلُ؛ لِأَنَّ الْمَفْهُومَ مِنْ الْحُكْمِ الْوَضْعِيِّ تَعَلُّقُ شَيْءٍ بِشَيْءٍ آخَرَ، وَالْمَفْهُومُ مِنْ الْحُكْمِ التَّكْلِيفِيِّ لَيْسَ هَذَا وَلُزُومُ أَحَدِهِمَا لِلْآخَرِ

ــ

‌‌[التلويح]

الْأَشَاعِرَةِ الْحُكْمَ الشَّرْعِيَّ بِخِطَابِ اللَّهِ تَعَالَى الْمُتَعَلِّقِ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ وَالْخِطَابُ فِي اللُّغَةِ تَوْجِيهُ الْكَلَامِ نَحْوَ الْغَيْرِ لِلْإِفْهَامِ، ثُمَّ نُقِلَ إلَى مَا يَقَعُ بِهِ التَّخَاطُبُ، وَهُوَ هَاهُنَا الْكَلَامُ النَّفْسِيُّ الْأَزَلِيُّ وَمَنْ ذَهَبَ إلَى أَنَّ الْكَلَامَ لَا يُسَمَّى فِي الْأَزَلِ خِطَابًا فَسَّرَ الْخِطَابَ بِالْكَلَامِ الْمُوَجَّهِ لِلْإِفْهَامِ أَوْ الْكَلَامِ الْمَقْصُودِ مِنْهُ إفْهَامُ مَنْ هُوَ مُتَهَيِّئٌ لِفَهْمِهِ، وَمَعْنَى تَعَلُّقِهِ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ تَعَلُّقُهُ بِفِعْلٍ مِنْ أَفْعَالِهِمْ وَإِلَّا لَمْ يُوجَدْ حُكْمٌ أَصْلًا، إذْ لَا خِطَابَ يَتَعَلَّقُ بِجَمِيعِ الْأَفْعَالِ فَدَخَلَ فِي الْحَدِّ خَوَاصُّ النَّبِيِّ عليه السلام كَإِبَاحَةِ مَا فَوْقَ الْأَرْبَعِ مِنْ النِّسَاءِ وَخَرَجَ خِطَابُ اللَّهِ الْمُتَعَلِّقُ بِأَحْوَالِ ذَاتِهِ وَصِفَاتِهِ وَتَنْزِيهَاتِهِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا لَيْسَ بِفِعْلِ الْمُكَلَّفِ لَا يُقَالُ إضَافَةُ الْخِطَابِ إلَى اللَّهِ تَعَالَى تَدُلُّ عَلَى أَنْ لَا حُكْمَ إلَّا خِطَابُهُ تَعَالَى وَقَدْ وَجَبَ طَاعَةُ النَّبِيِّ عليه السلام وَأُولِي الْأَمْرِ وَالسَّيِّدِ فَخِطَابُهُمْ أَيْضًا حُكْمٌ؛ لِأَنَّا نَقُولُ إنَّمَا وَجَبَتْ طَاعَتُهُمْ بِإِيجَابِ اللَّهِ تَعَالَى إيَّاهَا فَلَا حُكْمَ إلَّا حُكْمُهُ تَعَالَى، ثُمَّ اُعْتُرِضَ عَلَى هَذَا التَّعْرِيفِ بِأَنَّهُ غَيْرُ مَانِعٍ؛ لِأَنَّهُ يَدْخُلُ فِيهِ الْقَصَصُ الْمُبَيِّنَةُ لِأَحْوَالِ الْمُكَلَّفِينَ وَأَفْعَالِهِمْ وَالْأَخْبَارُ الْمُتَعَلِّقَةُ بِأَعْمَالِهِمْ كَقَوْلِهِ تَعَالَى {وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ} [الصافات: 96] مَعَ أَنَّهَا لَيْسَتْ أَحْكَامًا فَزِيدَ عَلَى التَّعْرِيفِ قَيْدٌ يُخَصِّصُهُ وَيُخْرِجُ مَا دَخَلَ فِيهِ مِنْ غَيْرِ أَفْرَادِ الْمَحْدُودِ، وَهُوَ قَوْلُهُمْ بِالِاقْتِضَاءِ أَوْ التَّخْيِيرِ، فَإِنَّ تَعَلُّقَ الْخِطَابِ بِالْأَفْعَالِ فِي الْقَصَصِ وَالْإِخْبَارِ عَنْ الْأَعْمَالِ لَيْسَ تَعَلُّقَ الِاقْتِضَاءِ أَوْ التَّخْيِيرِ، إذْ مَعْنَى التَّخْيِيرِ إبَاحَةُ الْفِعْلِ وَالتَّرْكِ لِلْمُكَلَّفِ، وَمَعْنَى الِاقْتِضَاءِ طَلَبُ الْفِعْلِ مِنْهُ مَعَ الْمَنْعِ عَنْ التَّرْكِ، وَهُوَ الْإِيجَابُ أَوْ بِدُونِهِ، وَهُوَ النَّدْبُ أَوْ طَلَبُ التَّرْكِ مَعَ الْمَنْعِ عَنْ الْفِعْلِ، وَهُوَ التَّحْرِيمُ أَوْ بِدُونِهِ، وَهُوَ الْكَرَاهَةُ وَقَدْ يُجَابُ بِأَنَّهُ لَا حَاجَةَ إلَى زِيَادَةِ قَوْلِهِمْ بِالِاقْتِضَاءِ أَوْ التَّخْيِيرِ؛ لِأَنَّ قَيْدَ الْحَيْثِيَّةِ مُرَادٌ وَالْمَعْنَى خِطَابُ اللَّهِ الْمُتَعَلِّقُ بِفِعْلِ الْمُكَلَّفِ مِنْ حَيْثُ هُوَ فِعْلُ الْمُكَلَّفِ وَلَيْسَ تَعَلُّقُ الْخِطَابِ بِالْأَفْعَالِ فِي صُوَرِ النَّقْضِ مِنْ حَيْثُ إنَّهَا أَفْعَالُ الْمُكَلَّفِينَ، وَهُوَ ظَاهِرٌ.

قَوْلُهُ (وَقَدْ زَادَ الْبَعْضُ) اعْتَرَضَتْ الْمُعْتَزِلَةُ عَلَى هَذَا التَّعْرِيفِ بِثَلَاثَةِ أَوْجُهٍ الْأَوَّلُ أَنَّ الْخِطَابَ عِنْدَكُمْ قَدِيمٌ وَالْحُكْمُ حَادِثٌ لِكَوْنِهِ مُتَّصِفًا بِالْحُصُولِ بَعْدَ الْعَدَمِ كَقَوْلِنَا حَلَّتْ الْمَرْأَةُ بَعْدَ مَا لَمْ تَكُنْ حَلَالًا وَلِكَوْنِهِ مُعَلَّلًا بِالْحَادِثِ كَقَوْلِنَا حَلَّتْ بِالنِّكَاحِ
(কেউ কেউ "অথবা বিধান আরোপ" কথাটি বৃদ্ধি করেছেন যাতে কারণিকতা, শর্তারোপ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো বিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়) জেনে রাখুন যে, আল্লাহর সম্বোধন দুই প্রকার: হয় তা বিধানমূলক (তাকলিফি), যা দাবি বা ইচ্ছাধিকার প্রদানের মাধ্যমে মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট; অথবা তা ঘোষণামূলক (ওয়াদয়ি), যা হচ্ছে এই মর্মে সম্বোধন যে এটি ওই বিষয়ের কারণ অথবা তার শর্ত, যেমন সূর্য ঢলে পড়া নামাজের জন্য কারণ এবং পবিত্রতা অর্জন করা নামাজের জন্য শর্ত। সুতরাং যখন তিনি দুই প্রকারের একটি অর্থাৎ বিধানমূলক প্রকারটি উল্লেখ করেছেন, তখন অপর প্রকার অর্থাৎ ঘোষণামূলক প্রকারটি উল্লেখ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। তবে কেউ কেউ ঘোষণামূলক প্রকারটি উল্লেখ করেননি; কারণ এটি দাবি বা ইচ্ছাধিকার প্রদানের অন্তর্ভুক্ত; কেননা সূর্য ঢলে পড়া নামাজের কারণ হওয়ার অর্থ হলো এই যে, যখন সূর্য ঢলে পড়া সংঘটিত হবে তখন নামাজ আবশ্যক হবে, আর আবশ্যকতা হলো দাবির অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সঠিক মত হলো প্রথমটি; কারণ ঘোষণামূলক বিধান থেকে যা বোঝা যায় তা হলো এক বস্তুর সাথে অন্য বস্তুর সংশ্লিষ্টতা, আর বিধানমূলক হুকুম থেকে যা বোঝা যায় তা এটি নয়, যদিও একটি অন্যটির জন্য অপরিহার্য হয়ে থাকে।

—

[আত-তালবীহ]

আশআরিগণ শরয়ি বিধানের সংজ্ঞা দিয়েছেন যে, তা হলো মুকাল্লাফ বা শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট মহান আল্লাহর সম্বোধন। আভিধানিক অর্থে সম্বোধন হলো অন্যকে কোনো কিছু বোঝানোর জন্য কথার অভিমুখ তার দিকে পরিচালনা করা। অতঃপর তা এমন কিছুর অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করে যার মাধ্যমে পারস্পরিক কথোপকথন সম্পন্ন হয়; আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অনাদি নফসি কালাম বা আল্লাহর সত্তাগত কথা। যারা মনে করেন যে অনাদিকালে কথাকে সম্বোধন বলা যায় না, তারা সম্বোধনের ব্যাখ্যা করেছেন এমন কথা দ্বারা যা অন্যকে বোঝানোর জন্য পরিচালিত হয়, অথবা এমন কথা যার দ্বারা তাকে বোঝানো উদ্দেশ্য যে বোঝার জন্য প্রস্তুত। মুকাল্লাফদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার অর্থ হলো তাদের কোনো না কোনো কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া, অন্যথায় আদতেই কোনো বিধানের অস্তিত্ব থাকত না; কেননা এমন কোনো সম্বোধন নেই যা সকল কার্যের সাথে সংশ্লিষ্ট। ফলে এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে নবী আলাইহিস সালামের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ, যেমন চারজনের অধিক স্ত্রী গ্রহণ বৈধ হওয়া। আর এতে বাদ পড়েছে আল্লাহর সত্তা, গুণাবলী, পবিত্রতা এবং মুকাল্লাফদের কাজ নয় এমন অন্যান্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধন। এমনটি বলা যাবে না যে, আল্লাহর দিকে সম্বোধনকে সম্পর্কিত করা একথাই প্রমাণ করে যে মহান আল্লাহর বাণী ছাড়া আর কোনো বিধান নেই, অথচ নবী আলাইহিস সালাম, উলিল আমর বা কর্তৃত্বশীল ব্যক্তি এবং মনিবের আনুগত্য করা ওয়াজিব, তাই তাদের সম্বোধনও একটি বিধান। কারণ আমরা বলব, তাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব হয়েছে মূলত মহান আল্লাহ তা ওয়াজিব করেছেন বলেই। সুতরাং মহান আল্লাহর বিধান ব্যতীত আর কোনো বিধান নেই। অতঃপর এই সংজ্ঞার ওপর এই আপত্তি করা হয়েছে যে, এটি অন্য কিছুকে বাদ দিতে সক্ষম নয়; কারণ এর মধ্যে মুকাল্লাফদের অবস্থা ও কার্যাবলী বর্ণনা করে এমন সব কিচ্ছা-কাহিনী এবং তাদের আমল সংক্রান্ত সংবাদসমূহও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা করো তা সৃষ্টি করেছেন।" অথচ এগুলো কোনো বিধান নয়। তাই সংজ্ঞার সাথে এমন একটি শর্ত যোগ করা হয়েছে যা একে সুনির্দিষ্ট করে এবং সংজ্ঞায়িত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বিষয়গুলোকে বের করে দেয়; আর তা হলো তাদের এই কথা: দাবি বা পছন্দের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে। কেননা কিচ্ছা-কাহিনী এবং আমল সম্পর্কিত সংবাদসমূহে কার্যাবলীর সাথে সম্বোধনের যে সংশ্লিষ্টতা, তা দাবি বা পছন্দের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে নয়। কারণ পছন্দের সুযোগের অর্থ হলো মুকাল্লাফকে কোনো কাজ করা বা না করার স্বাধীনতা দেওয়া। আর দাবির অর্থ হলো তার কাছে কোনো কাজ তলব করা; যদি তা বর্জন করা নিষিদ্ধ করার সাথে হয় তবে তা হলো ইজাব বা ওয়াজিব করা, আর যদি তা বর্জন করার নিষেধাজ্ঞা ছাড়া হয় তবে তা হলো নাদব বা মুস্তাহাব করা। অথবা কাজ বর্জন করার দাবি করা; যদি তা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে তবে তা হলো তাহরিম বা হারাম করা, আর যদি তা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা না থাকে তবে তা হলো কারাহাত বা মাকরূহ করা। এর উত্তর এভাবেও দেওয়া যেতে পারে যে, তাদের দাবি বা পছন্দের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে কথাটি অতিরিক্ত যোগ করার প্রয়োজন নেই; কারণ এখানে প্রেক্ষিত বা দিকের শর্তটিই উদ্দেশ্য। অর্থাৎ এর অর্থ হলো: মুকাল্লাফের কাজের সাথে মহান আল্লাহর সম্বোধন, এই প্রেক্ষাপটে যে সেটি মুকাল্লাফের কাজ। অথচ আপত্তির ক্ষেত্রগুলোতে কার্যাবলীর সাথে সম্বোধনের সংশ্লিষ্টতা মুকাল্লাফদের কাজ হওয়ার প্রেক্ষাপটে নয়, আর এটি সুস্পষ্ট।

তাঁর বক্তব্য: (এবং কেউ কেউ বর্ধিত করেছেন) মুতাজিলাগণ এই সংজ্ঞার ওপর তিনটি দিক থেকে আপত্তি উত্থাপন করেছেন। প্রথমত, আপনাদের নিকট সম্বোধন (খিতাব) হলো অনাদি (কাদিম), আর বিধান (হুকুম) হলো নব্য (হাদিস); কারণ এটি অনস্তিত্বের পর অস্তিত্ব লাভ করার বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। যেমন আমাদের বক্তব্য: "মহিলাটি হালাল হওয়ার পূর্বে হালাল ছিলেন না, অতঃপর হালাল হয়েছেন।" এবং যেহেতু এটি একটি নব্য বিষয়ের মাধ্যমে কারণযুক্ত, যেমন আমাদের কথা: "তিনি নিকাহর মাধ্যমে হালাল হয়েছেন।"

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
فِي صُورَةٍ لَا يَدُلُّ عَلَى اتِّحَادِهِمَا نَوْعًا (وَبَعْضُهُمْ قَدْ عَرَّفَ الْحُكْمَ الشَّرْعِيَّ بِهَذَا) أَيْ بَعْضُ الْمُتَأَخِّرِينَ مِنْ مُتَابِعِي الْأَشْعَرِيِّ قَالُوا الْحُكْمُ الشَّرْعِيُّ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى

ــ

‌‌[التلويح]

وَحُرِّمَتْ بِالطَّلَاقِ الثَّانِي أَنَّهُ يَشْتَمِلُ عَلَى كَلِمَةٍ أَوْ، وَهُوَ لِلتَّشْكِيكِ وَالتَّرْدِيدِ فِينَا فِي التَّعْرِيفِ وَالتَّحْدِيدِ. الثَّالِثُ أَنَّهُ غَيْرُ جَامِعٍ لِلْأَحْكَامِ الْوَضْعِيَّةِ مِثْلَ سَبَبِيَّةِ الدُّلُوكِ لِوُجُوبِ الصَّلَاةِ وَشَرْطِيَّةِ الطَّهَارَةِ لَهَا وَمَانِعِيَّةِ النَّجَاسَةِ عَنْهَا وَالْمُصَنِّفُ أَهْمَلَ فِي تَفْسِيرِ الْخِطَابِ الْوَضْعِيِّ ذِكْرَ الْمَانِعِيَّةِ فَأَجَابَتْ الْأَشَاعِرَةُ عَنْ الْأَوَّلِ بِمَنْعِ اتِّصَافِ الْحُكْمِ بِالْحُصُولِ بَعْدَ الْعَدَمِ، بَلْ الْمُتَّصِفُ بِذَلِكَ هُوَ التَّعَلُّقُ وَالْمَعْنَى تَعَلَّقَ الْحِلُّ بِهَا بَعْدَ مَا لَمْ يَكُنْ مُتَعَلِّقًا وَبِمَنْعِ تَعْلِيلِ الْحُكْمِ بِالْحَادِثِ بِمَعْنَى تَأْثِيرِ الْحَادِثِ فِيهِ، بَلْ مَعْنَاهُ كَوْنُ الْحَادِثِ أَمَارَةً عَلَيْهِ وَمُعَرِّفًا لَهُ، إذْ الْعِلَلُ الشَّرْعِيَّةُ أَمَارَاتٌ وَمُعَرِّفَاتٌ لَا مُوجِبَاتٌ وَمُؤَثِّرَاتٌ وَالْحَادِثُ يَصْلُحُ أَمَارَةً وَمُعَرِّفًا لِلْقَدِيمِ كَالْعَالَمِ لِلصَّانِعِ وَعَنْ الثَّانِي بِأَنَّ أَوْ هَاهُنَا لِتَقْسِيمِ الْمَحْدُودِ وَتَفْصِيلِهِ؛ لِأَنَّهُ نَوْعَانِ نَوْعٌ لَهُ تَعَلُّقُ الِاقْتِضَاءِ وَنَوْعٌ لَهُ تَعَلُّقُ التَّخْيِيرِ فَلَا يُمْكِنُ جَمْعُهُمَا فِي حَدٍّ وَاحِدٍ بِدُونِ التَّفْصِيلِ.

وَأَمَّا الثَّالِثُ فَالْتَزَمَهُ بَعْضُهُمْ وَزَادَ فِي التَّعْرِيفِ قَيْدًا يَعُمُّهُ وَيَجْعَلُهُ شَامِلًا لِلْحُكْمِ الْوَضْعِيِّ فَقَالَ بِالِاقْتِضَاءِ أَوْ التَّخْيِيرِ أَوْ الْوَضْعِ أَيْ وَضْعِ الشَّارِعِ وَجَعْلِهِ وَأَجَابَ بَعْضُهُمْ بِأَنَّا لَا نُسَلِّمُ أَنَّ خِطَابَ الْوَضْعِ حُكْمٌ وَنَحْنُ لَا نُسَمِّيهِ حُكْمًا، وَإِنْ اصْطَلَحَ غَيْرُنَا عَلَى تَسْمِيَتِهِ حُكْمًا فَلَا مُشَاحَّةَ مَعَهُ وَعَلَيْهِ تَغْيِيرُ التَّعْرِيفِ، وَلَوْ سُلِّمَ فَلَا نُسَلِّمُ خُرُوجَهَا عَنْ الْحَدِّ فَإِنَّ مُرَادَنَا مِنْ الِاقْتِضَاءِ وَالتَّخْيِيرِ أَعَمُّ مِنْ التَّصْرِيحِ وَالضِّمْنِيِّ وَخِطَابُ الْوَضْعِ مِنْ قَبِيلِ الضِّمْنِيِّ، إذْ مَعْنَى سَبَبِيَّةِ الدُّلُوكِ وُجُوبُ الصَّلَاةِ عِنْدَهُ، وَمَعْنَى شَرْطِيَّةِ الطَّهَارَةِ وُجُوبُهَا فِي الصَّلَاةِ أَوْ حُرْمَةُ الصَّلَاةِ بِدُونِهَا، وَمَعْنَى مَانِعِيَّةِ النَّجَاسَةِ حُرْمَةُ الصَّلَاةِ مَعَهَا أَوْ وُجُوبُ إزَالَتِهَا حَالَةَ الصَّلَاةِ وَكَذَا فِي جَمِيعِ الْأَسْبَابِ وَالشُّرُوطِ وَالْمَوَانِعُ وَذَهَبَ الْمُصَنِّفُ أَنَّ الْحَقَّ زِيَادَةُ الْقَيْدِ؛ لِأَنَّ الْخِطَابَ نَوْعَانِ تَكْلِيفِيٌّ وَوَضْعِيٌّ فَلَمَّا ذَكَرَ أَحَدَهُمَا وَجَبَ ذِكْرُ الْآخَرِ وَلَا وَجْهَ لِجَعْلِ الْوَضْعِ دَاخِلًا فِي الِاقْتِضَاءِ أَوْ التَّخْيِيرِ أَيْ فِي التَّكْلِيفِيِّ؛ لِأَنَّهُمَا مَفْهُومَانِ مُتَغَايِرَانِ وَلُزُومُ أَحَدِهِمَا لِلْآخَرِ فِي بَعْضِ الصُّوَرِ لَا يَدُلُّ عَلَى اتِّحَادِهِمَا وَأَنْتَ خَبِيرٌ بِأَنَّهُ لَا تَوْجِيهَ لِهَذَا الْكَلَامِ أَصْلًا أَمَّا أَوَّلًا فَلِأَنَّ الْخَصْمَ يَمْنَعُ كَوْنَ الْخِطَابِ الْوَضْعِيِّ حُكْمًا وَيَصْطَلِحُ عَلَى تَسْمِيَةِ بَعْضِ أَقْسَامِ الْخِطَابِ حُكْمًا دُونَ الْبَعْضِ فَكَيْفَ يَجِبُ عَلَيْهِ ذِكْرُ الْوَضْعِيِّ فِي تَعْرِيفِ الْحُكْمِ، بَلْ كَيْفَ يَصِحُّ.

وَأَمَّا ثَانِيًا فَلِأَنَّهُ يَمْنَعُ كَوْنَهُ خَارِجًا عَنْ التَّعْرِيفِ وَيَجْعَلُ الْخِطَابَ التَّكْلِيفِيَّ أَعَمَّ مِنْهُ شَامِلًا لَهُ فَأَيُّ ضَرَرٍ لَهُ فِي تَغَايُرِ مَفْهُومَيْهِمَا، بَلْ كَيْفَ يَتَّحِدُ مَفْهُومُ الْعَامِّ وَالْخَاصِّ عَلَى أَنَّ قَوْلَهُ الْمَفْهُومَ مِنْ الْخِطَابِ الْوَضْعِيِّ تَعَلُّقُ شَيْءٍ بِشَيْءٍ فِيهِ تَسَامُحٌ، وَالْمَعْنَى أَنَّ الْمَفْهُومَ مِنْهُ الْخِطَابُ بِتَعَلُّقِ شَيْءٍ بِشَيْءٍ لِكَوْنِهِ شَرْطًا لَهُ أَوْ سَبَبًا أَوْ مَانِعًا.

‌‌1 -

قَوْلُهُ (وَبَعْضُهُمْ عَرَّفَ) ذَكَرَ فِي بَعْضِ الْمُخْتَصَرَاتِ أَنَّ الْحُكْمَ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى إشَارَةً إلَى الْحُكْمِ الشَّرْعِيِّ الْمَعْهُودِ وَصَرَّحَ فِي كَثِيرٍ مِنْ الْكُتُبِ بِأَنَّ
এমন এক সুরতে যা তাদের প্রকারগত ঐক্যের প্রমাণ দেয় না (এবং তাদের কেউ কেউ শরয়ী হুকুমকে এর মাধ্যমেই সংজ্ঞায়িত করেছেন) অর্থাৎ আশআরী মতাদর্শের অনুসারী পরবর্তী আলেমদের একদল বলেছেন, শরয়ী হুকুম হলো মহান আল্লাহর সম্বোধন।

—

[আত-তালবীহ] দ্বিতীয় আপত্তির মাধ্যমে এটি দূষণীয় প্রমাণিত হয়েছে যে, এতে 'অথবা' শব্দটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; আর সংজ্ঞা প্রদান ও সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমাদের মাঝে এটি সংশয় ও দোদুল্যমানতা তৈরি করে। তৃতীয় আপত্তি হলো, এটি হুকমে ওয়াজঈ (আরোপিত বিধান) সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে না; যেমন সালাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য সূর্য ঢলে পড়াকে কারণ (সবব) সাব্যস্ত করা, সালাতের জন্য পবিত্রতাকে শর্ত করা এবং সালাতের ক্ষেত্রে অপবিত্রতাকে প্রতিবন্ধক (মানে) গণ্য করা। আর গ্রন্থকার হুকমে ওয়াজঈর ব্যাখ্যায় 'প্রতিবন্ধকতা' (মানি'ইয়্যাহ)-এর বিষয়টি উল্লেখ করতে অবহেলা করেছেন। অতঃপর আশায়েরা সম্প্রদায় প্রথম আপত্তির উত্তরে বলেন যে, হুকুম বা বিধানকে অনস্তিত্বের পর অস্তিত্বশীল হওয়ার গুণে গুণান্বিত করা যাবে না; বরং এই গুণে গুণান্বিত হওয়া কেবল তার সংশ্লিষ্টতার (তাআল্লুক) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর অর্থ হলো, হালাল বা বৈধতা ওই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে যা ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট ছিল না। আরও উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, কোনো সৃষ্ট বা নশ্বর বিষয়ের মাধ্যমে অনাদি বিধানের কারণ দর্শানোকে তারা অস্বীকার করেছেন যদি এর দ্বারা সৃষ্ট বিষয়টি বিধানের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী হওয়ার অর্থ গ্রহণ করা হয়। বরং এর অর্থ হলো, সৃষ্ট বিষয়টি সেই বিধানের জন্য কেবল একটি আলামত বা নিদর্শন এবং পরিচয়দানকারী; কেননা শরয়ী কারণসমূহ (ইল্লাত) হলো কেবল নিদর্শন ও পরিচয়জ্ঞাপক, কোনো কিছুকে আবশ্যিককারী বা প্রভাব বিস্তারকারী নয়। আর সৃষ্টিজগত যেমন স্রষ্টার পরিচায়ক, তেমনি সৃষ্ট বস্তুও অনাদি (কাদিম) বিষয়ের জন্য নিদর্শন ও পরিচয়জ্ঞাপক হওয়ার যোগ্যতা রাখে। আর দ্বিতীয় আপত্তির উত্তরে বলা হয়েছে যে, এখানে 'অথবা' শব্দটি সংজ্ঞায়িত বিষয়ের প্রকারভেদ ও বিস্তারিত বিবরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে; কারণ এটি দুই প্রকার: এক প্রকার হলো যার সংশ্লিষ্টতা দাবিমূলক (ইকতিদা) এবং অন্য প্রকার হলো যার সংশ্লিষ্টতা ঐচ্ছিক (তাখয়ির)। সুতরাং বিস্তারিত বিবরণ ছাড়া একটি মাত্র সংজ্ঞার ভেতর এই উভয় প্রকারকে একত্র করা সম্ভব নয়।

আর তৃতীয় মতটির ব্যাপারে কেউ কেউ অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন এবং সংজ্ঞায় এমন একটি শর্ত যোগ করেছেন যা একে সাধারণ করে দেয় এবং একে নির্ধারণী বিধানের (হুকমে ওয়াদঈ) জন্য অন্তর্ভুক্তকারী করে তোলে। ফলে তিনি বলেছেন: দাবি (ইকতিদা), পছন্দ (তাখয়ীর) অথবা নির্ধারণ (ওয়াদ) তথা শরীয়ত প্রণেতার নির্ধারণ ও স্থাপনের মাধ্যমে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ উত্তর দিয়েছেন যে, আমরা এটি স্বীকার করি না যে নির্ধারণী সম্বোধন (খিতাবে ওয়াদঈ) একটি বিধান (হুকম), এবং আমরা একে বিধান নামে অভিহিত করি না। যদিও অন্যরা একে বিধান হিসেবে নামকরণের পরিভাষা গ্রহণ করেছেন, তবে তাদের সাথে কোনো বিবাদ নেই এবং সেক্ষেত্রে তাদের জন্য সংজ্ঞা পরিবর্তন করা আবশ্যক। আর যদি স্বীকার করে নেওয়াও হয় যে এটি একটি বিধান, তবুও আমরা এটি মানি না যে তা সংজ্ঞার বাইরে চলে যাচ্ছে। কারণ দাবি ও পছন্দের মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য হলো স্পষ্ট ও উহ্য—উভয় বিষয়ের চেয়েও ব্যাপকতর। আর নির্ধারণী সম্বোধন হলো উহ্য বা অন্তর্নিহিত বিষয়ের পর্যায়ভুক্ত। কেননা সূর্য ঢলে পড়াকে কারণ (সবব) হওয়ার অর্থ হলো সেই সময়ে সালাত ওয়াজিব হওয়া। আর পবিত্রতা শর্ত হওয়ার অর্থ হলো সালাতে তা বজায় রাখা ওয়াজিব হওয়া অথবা তা ছাড়া সালাত হারাম হওয়া। আর অপবিত্রতা প্রতিবন্ধক (মানি') হওয়ার অর্থ হলো অপবিত্রতাসহ সালাত আদায় করা হারাম হওয়া অথবা সালাতের অবস্থায় তা দূর করা ওয়াজিব হওয়া। একইভাবে সকল কারণ, শর্ত ও প্রতিবন্ধকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। গ্রন্থকার মনে করেন যে, সঠিক হলো সংজ্ঞায় শর্তটি বৃদ্ধি করা; কারণ সম্বোধন (খিতাব) দুই প্রকার: তাকলীফী (আদেশ-নিষেধমূলক) ও ওয়াদঈ (নির্ধারণী)। সুতরাং যখন তিনি একটির কথা উল্লেখ করেছেন, তখন অন্যটিও উল্লেখ করা আবশ্যক। আর নির্ধারণী বিধানকে দাবি বা পছন্দের তথা তাকলীফী বিধানের অন্তর্ভুক্ত করার কোনো যুক্তি নেই; কারণ তারা দুটি ভিন্ন ভিন্ন ধারণা। আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটির সাথে অপরটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার অর্থ এই নয় যে তারা অভিন্ন। আপনি ভালো করেই জানেন যে, এই বক্তব্যের আদৌ কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। প্রথমত, কারণ প্রতিবাদী পক্ষ নির্ধারণী সম্বোধনকে বিধান হিসেবে অস্বীকার করেন এবং তিনি সম্বোধনের কিছু অংশকে বিধান হিসেবে নামকরণ করেন আর অন্য অংশকে করেন না। এমতাবস্থায় বিধানের সংজ্ঞায় নির্ধারণী বিধানকে উল্লেখ করা তার জন্য কীভাবে আবশ্যক হতে পারে, বরং তা কীভাবে সঠিক হতে পারে?

দ্বিতীয়ত, কারণ এটি একে সংজ্ঞার বাইরে থাকতে বাধা দেয় এবং তাকলিফী সম্বোধনকে (খিতাব তাকলিফী) এর চেয়ে ব্যাপকতর করে তোলে যা একে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং তাদের দুই ধারণার ভিন্নতায় তাঁর কী ক্ষতি? বরং সাধারণ এবং বিশেষের ধারণা কীভাবে এক হতে পারে? উপরন্তু, ওয়াদঈ সম্বোধন থেকে যা বোঝা যায় তা হলো এক বস্তুর সাথে অন্য বস্তুর সম্পৃক্ততা—তাঁর এই বক্তব্যে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। এর অর্থ হলো, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এক বস্তুর সাথে অন্য বস্তুর সম্পৃক্ততা বিষয়ক সম্বোধন, যা ওই বস্তুর জন্য শর্ত, কারণ বা প্রতিবন্ধক হওয়ার কারণে হয়ে থাকে।

‌ ‌১ -

তাঁর উক্তি (এবং তাদের কেউ কেউ সংজ্ঞা দিয়েছেন): কিছু সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'হুকুম' হলো মহান আল্লাহর সম্বোধন, যা পরিচিত শরয়ী হুকুমের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। এবং অনেক কিতাবে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে
(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
(فَالْحُكْمُ عَلَى هَذَا إسْنَادُ أَمْرٍ إلَى آخَرَ وَالْفُقَهَاءُ يُطْلِقُونَهُ عَلَى مَا ثَبَتَ بِالْخِطَابِ كَالْوُجُوبِ وَالْحُرْمَةِ مَجَازًا) بِطَرِيقِ إطْلَاقِ اسْمِ الْمَصْدَرِ عَلَى الْمَفْعُولِ (كَالْخَلْقِ عَلَى الْمَخْلُوقِ) لَكِنْ لَمَّا شَاعَ فِيهِ صَارَ مَنْقُولًا اصْطِلَاحِيًّا، وَهُوَ حَقِيقَةٌ اصْطِلَاحِيَّةٌ (يَرُدُّ عَلَيْهِ) أَيْ عَلَى تَعْرِيفِ الْحُكْمِ، وَهُوَ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى إلَخْ (إنَّ الْحُكْمَ الْمُصْطَلَحَ بَيْنَ) الْفُقَهَاءِ (مَا ثَبَتَ بِالْخِطَابِ لَا هُوَ) أَيْ لَا الْخِطَابُ فَلَا يَكُونُ مَا ذُكِرَ تَعْرِيفًا لِلْحُكْمِ الْمُصْطَلَحِ بَيْنَ الْفُقَهَاءِ، وَهُوَ الْمَقْصُودُ بِالتَّعْرِيفِ هُنَا (وَأَيْضًا يَخْرُجُ مِنْهُ مَا يَتَعَلَّقُ بِفِعْلِ الصَّبِيِّ) كَجَوَازِ بَيْعِهِ وَصِحَّةِ إسْلَامِهِ وَصَلَاتِهِ وَكَوْنِهَا مَنْدُوبَةً وَنَحْوِ ذَلِكَ فَإِنَّهُ لَيْسَ بِمُتَعَلِّقٍ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ مَعَ أَنَّهُ حُكْمٌ، فَإِنْ قِيلَ هُوَ حُكْمٌ بِاعْتِبَارِ تَعَلُّقِهِ بِفِعْلِ

ــ

‌‌[التلويح]

الْحُكْمَ الشَّرْعِيَّ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى فَتَوَهَّمَ الْمُصَنِّفُ أَنَّ هَذَا تَعْرِيفٌ لِلْحُكْمِ عِنْدَ الْبَعْضِ وَلِلْحُكْمِ الشَّرْعِيِّ عِنْدَ الْبَعْضِ وَلَا خِلَافَ لِأَحَدٍ مِنْ الْأَشَاعِرَةِ فِي أَنَّ هَذَا التَّعْرِيفَ لِلْحُكْمِ الشَّرْعِيِّ قَالَ الْمُصَنِّفُ إذَا كَانَ تَعْرِيفًا لِلْحُكْمِ فَمَعْنَى الشَّرْعِيِّ مَا يَتَوَقَّفُ عَلَى الشَّرْعِ لِيَكُونَ قَيْدًا مُفِيدًا مُخْرِجًا لِوُجُوبِ الْإِيمَانِ وَنَحْوِهِ وَإِذَا كَانَ تَعْرِيفًا لِلْحُكْمِ الشَّرْعِيِّ فَمَعْنَى الشَّرْعِيِّ مَا وَرَدَ بِهِ خِطَابُ الشَّرْعِ لَا مَا يَتَوَقَّفُ عَلَى الشَّرْعِ وَإِلَّا لَكَانَ الْحَدُّ أَعَمَّ مِنْ الْمَحْدُودِ لِتَنَاوُلِهِ مِثْلَ وُجُوبِ الْإِيمَانِ مَعَ أَنَّ الْمَحْدُودَ لَا يَتَنَاوَلُهُ حِينَئِذٍ لِعَدَمِ تَوَقُّفِهِ عَلَى الشَّرْعِ.

قَوْلُهُ (فَالْحُكْمُ عَلَى هَذَا) أَيْ عَلَى تَقْدِيرِ أَنْ يَكُونَ خِطَابُ اللَّهِ إلَخْ تَعْرِيفًا لِلْحُكْمِ الشَّرْعِيِّ إسْنَادُ أَمْرٍ إلَى آخَرَ لَا خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى الْمُتَعَلِّقُ بِفِعْلِ الْمُكَلَّفِ وَإِلَّا لَكَانَ ذِكْرُ الشَّرْعِيَّةِ مُكَرَّرًا لِمَا سَبَقَ مِنْ أَنَّ الشَّرْعَ عَلَى هَذَا التَّقْدِيرِ مَا وَرَدَ بِهِ خِطَابُ الشَّرْعِ لَا مَا يَتَوَقَّفُ عَلَى الشَّرْعِ، فَإِنْ قِيلَ فَيَدْخُلُ فِي الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ مِثْلُ وُجُوبِ الْإِيمَانِ مِنْ أَنَّهُ لَيْسَ مِنْ الْفِقْهِ قُلْنَا يَخْرُجُ بِقَيْدِ الْعَمَلِيَّةِ.

قَوْلُهُ (وَالْفُقَهَاءُ) يُرِيدُ أَنَّ الْحُكْمَ فِي اصْطِلَاحِ الْفُقَهَاءِ حَقِيقَةٌ فِيمَا ثَبَتَ بِالْخِطَابِ مِنْ الْوُجُوبِ وَالْحُرْمَةِ وَنَحْوِهِمَا، وَهُوَ مَجَازٌ لُغَوِيٌّ حَيْثُ أَطْلَقَ الْمَصْدَرَ أَعْنِي الْحُكْمَ عَلَى الْمَفْعُولِ أَعْنِي الْمَحْكُومَ بِهِ.

قَوْلُهُ (يَرُدُّ عَلَيْهِ) إشَارَةٌ إلَى اعْتِرَاضَاتٍ عَلَى تَعْرِيفِ الْحُكْمِ مَعَ الْجَوَابِ عَنْ الْبَعْضِ الْأَوَّلِ أَنَّ الْمَقْصُودَ تَعْرِيفُ الْحُكْمِ الْمُصْطَلَحُ بَيْنَ الْفُقَهَاءِ، وَهُوَ مَا ثَبَتَ بِالْخِطَابِ كَالْوُجُوبِ وَالْحُرْمَةِ وَغَيْرِهِمَا مِمَّا هُوَ مِنْ صِفَاتِ فِعْلِ الْمُكَلَّفِ لَا نَفْسِ الْخِطَابِ الَّذِي هُوَ مِنْ صِفَاتِ اللَّهِ تَعَالَى، وَهَذَا مِمَّا أُورِدَ فِي كُتُبِ الشَّافِعِيَّةِ وَأُجِيبَ عَنْهُ بِوُجُوهٍ: الْأَوَّلُ أَنَّهُ كَمَا أُرِيدَ بِالْحُكْمِ مَا حُكِمَ بِهِ أُرِيدَ بِالْخِطَابِ مَا خُوطِبَ بِهِ لِلْقَرِينَةِ الْعَقْلِيَّةِ عَلَى أَنَّ الْوُجُوبَ لَيْسَ نَفْسَ كَلَامِ اللَّهِ الثَّانِي أَنَّ الْحُكْمَ هُوَ الْإِيجَابُ وَالتَّحْرِيمُ وَنَحْوَهُمَا وَإِطْلَاقُهُ عَلَى الْوُجُوبِ وَالْحُرْمَةِ تَسَامُحٌ الثَّالِثُ، وَهُوَ لِلْعَلَّامَةِ الْمُحَقِّقِ عَضُدِ الْمِلَّةِ وَالدِّينِ أَنَّ الْحُكْمَ نَفْسُ خِطَابِ اللَّهِ تَعَالَى فَالْإِيجَابُ هُوَ نَفْسُ قَوْلِهِ افْعَلْ وَلَيْسَ لِلْفِعْلِ مِنْهُ صِفَةٌ حَقِيقِيَّةٌ فَإِنَّ الْقَوْلَ لَيْسَ لِمُتَعَلَّقِهِ مِنْهُ صِفَةٌ لِتَعَلُّقِهِ بِالْمَعْدُومِ، وَهُوَ إذَا نُسِبَ إلَى الْحَاكِمِ يُسَمَّى إيجَابًا وَإِذَا نُسِبَ إلَى مَا فِيهِ الْحُكْمُ
(সুতরাং এই ভিত্তিতে হুকুম হলো এক বিষয়কে অন্য বিষয়ের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা। আর ফকীহগণ রূপকভাবে খিতাব বা সম্বোধনের মাধ্যমে যা সাব্যস্ত হয়—যেমন ওয়াজিব বা হারাম হওয়া—তাকে হুকুম বলেন) মাসদারের (ক্রিয়ামূল) নাম মাফউলের (কর্মপদ) ওপর প্রয়োগ করার পদ্ধতিতে (যেমন 'সৃষ্টি' শব্দকে 'সৃষ্ট বস্তু'র ওপর প্রয়োগ করা হয়)। কিন্তু যখন এটি এই অর্থে প্রসিদ্ধ হলো, তখন তা একটি পারিভাষিক শব্দে পরিণত হলো এবং এটি একটি পারিভাষিক হাকীকত। (এর ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয়) অর্থাৎ হুকুমের সংজ্ঞার ওপর, আর তা হলো মহান আল্লাহর খিতাব বা সম্বোধন ইত্যাদি। (নিশ্চয়ই ফকীহগণের নিকট পারিভাষিক হুকুম হলো) যা খিতাব বা সম্বোধনের দ্বারা সাব্যস্ত হয়, স্বয়ং খিতাব বা সম্বোধন নয়। সুতরাং যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ফকীহগণের নিকট পারিভাষিক হুকুমের সংজ্ঞা হতে পারে না, অথচ এখানে সংজ্ঞার মাধ্যমে এটিই উদ্দেশ্য। (তদপুরি, এর থেকে শিশুর কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাদ পড়ে যায়) যেমন তার ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়া, তার ইসলাম ও সালাত সহীহ হওয়া এবং তা মুস্তাহাব হওয়া ইত্যাদি। কেননা এটি হুকুম হওয়া সত্ত্বেও মুকাল্লাফদের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। যদি বলা হয় যে, এটি কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার বিবেচনায় একটি হুকুম...

---

‌ ‌[আত-তালওয়ীহ]

শরীয়তসম্মত বিধান হলো মহান আল্লাহর বাণী; ফলে গ্রন্থকার ধারণা করেছেন যে, এটি কারো কারো মতে ‘হুকুম’ (বিধান)-এর সংজ্ঞা এবং কারো কারো মতে ‘হুকুম শরয়ী’ (শরীয়তসম্মত বিধান)-এর সংজ্ঞা। অথচ আশায়েরা মতাবলম্বীদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, এই সংজ্ঞাটি ‘হুকুম শরয়ী’-এর জন্যই। গ্রন্থকার বলেছেন, যদি এটি ‘হুকুম’-এর সংজ্ঞা হয়, তবে ‘শরয়ী’ শব্দের অর্থ হবে যা শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল, যাতে এটি একটি ফলপ্রসূ শর্ত হিসেবে ঈমানের আবশ্যকতা এবং অনুরূপ বিষয়গুলোকে সংজ্ঞা থেকে বহির্ভূত রাখতে পারে। আর যদি এটি ‘হুকুম শরয়ী’-এর সংজ্ঞা হয়, তবে ‘শরয়ী’ শব্দের অর্থ হবে যা শরীয়তের বাণীর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, তা নয় যা শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল। অন্যথায়, সংজ্ঞাটি সংজ্ঞায়িত বিষয় অপেক্ষা অধিক ব্যাপক হয়ে পড়বে; কারণ এটি তখন ঈমানের আবশ্যকতার মতো বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করবে, অথচ সংজ্ঞায়িত বিষয়টি তখন তাকে অন্তর্ভুক্ত করে না, যেহেতু তা শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল নয়।

তাঁর কথা (অতএব এই ভিত্তিতে বিধানটি) অর্থাৎ আল্লাহর বাণী ইত্যাদিকে শরয়ী বিধানের সংজ্ঞা হিসেবে বিবেচনা করার ভিত্তিতে—তা হলো এক বিষয়কে অন্য বিষয়ের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা, কেবল মুকাল্লাফের (শরীয়তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর মহান বাণী নয়। নতুবা "শরয়ী" কথাটির উল্লেখ পুনরাবৃত্তি হতো, কারণ ইতোপূর্বেই অতিবাহিত হয়েছে যে, এই বিবেচনায় শরীয়ত তা-ই যা শরীয়তের বাণী দ্বারা উপস্থাপিত হয়েছে, তা নয় যা শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, এতে ঈমান ওয়াজিব হওয়ার মতো বিষয়গুলোও শরয়ী বিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে, অথচ তা ফিকহের অংশ নয়; তবে আমরা বলব যে, তা "আমালী" (কর্মগত) হওয়ার শর্তের মাধ্যমে সংজ্ঞার বাইরে চলে যাবে।

তার কথা (এবং ফকীহগণ) দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, ফকীহগণের পরিভাষায় হুকুম বা বিধান হলো প্রকৃত অর্থে তা-ই যা বাণীর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, যেমন ওয়াজিব হওয়া, হারাম হওয়া এবং অনুরূপ বিষয়গুলো। আর এটি একটি ভাষাগত রূপক, যেখানে মাসদার (মূল শব্দ) অর্থাৎ "হুকুম" শব্দটিকে মাফউল (কর্মপদ) অর্থাৎ "মাহকুম বিহি" (যাহা দ্বারা বিধান দেওয়া হয়েছে) অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য (এর ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয়) দ্বারা হুকুমের সংজ্ঞার ওপর উত্থাপিত আপত্তিসমূহ এবং তার মধ্য থেকে কয়েকটির উত্তরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রথমত, উদ্দেশ্য হলো ফকীহগণের নিকট পরিভাষাগত হুকুমের সংজ্ঞা প্রদান করা; আর তা হলো যা আল্লাহর সম্বোধন দ্বারা সাব্যস্ত হয়, যেমন ওয়াজিব হওয়া এবং হারাম হওয়া ও এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়, যা মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির কাজের বৈশিষ্ট্য, খোদ সম্বোধন নয় যা আল্লাহ তাআলার বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। আর এটি শাফেয়ী মাযহাবের কিতাবসমূহে উপস্থাপিত একটি বিষয়, যার উত্তর বিভিন্নভাবে দেওয়া হয়েছে: প্রথমত, হুকুম দ্বারা যেমন যা দ্বারা হুকুম দেওয়া হয় তা উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, তেমনি বুদ্ধিগত প্রমাণের ভিত্তিতে সম্বোধন দ্বারাও যা দ্বারা সম্বোধন করা হয় তা উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, কারণ ওয়াজিব হওয়া আল্লাহর কথার মূল সত্তা নয়। দ্বিতীয়ত, হুকুম হলো মূলত ওয়াজিব করা ও হারাম করা এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ। আর ওয়াজিব হওয়া ও হারাম হওয়া-এর ক্ষেত্রে হুকুম শব্দের প্রয়োগ হলো ভাষাগত শিথিলতা। তৃতীয়ত, আর এটি আল্লামা মুহাক্কিক আদুদুল মিল্লাত ওয়াদ্দীন-এর অভিমত যে, হুকুম হলো স্বয়ং আল্লাহ তাআলার সম্বোধন। সুতরাং ওয়াজিব করা হলো মূলত তাঁর তুমি করো এই বাণীটিই। আর এর কারণে কাজের মধ্যে কোনো প্রকৃত গুণ বা বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয় না; কেননা কোনো কথা তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য কোনো গুণের উদ্ভব ঘটায় না, কারণ তা অনস্তিত্বশীল বিষয়ের সাথেও সম্পৃক্ত হতে পারে। আর এটি যখন বিধানদাতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তখন একে ইজাব বা ওয়াজিব করা বলা হয়, আর যখন তা হুকুমের বিষয়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَلِيِّهِ قُلْنَا هَذَا فِي الْإِسْلَامِ وَالصَّلَاةِ لَا يَصِحُّ.

وَأَمَّا فِي غَيْرِ الْإِسْلَامِ وَالصَّلَاةِ فَإِنَّ تَعَلُّقَ الْحَقِّ بِمَالِهِ أَوْ بِذِمَّتِهِ حُكْمٌ شَرْعِيٌّ، ثُمَّ أَدَاءُ الْوَلِيِّ حُكْمٌ آخَرُ مُتَرَتِّبٌ عَلَى الْأَوَّلِ لَا عَيْنُهُ وَسَيَجِيءُ فِي بَابِ الْحُكْمِ الْأَحْكَامُ الْمُتَعَلِّقَةُ بِأَفْعَالِهِ، فَيَنْبَغِي أَنْ يُقَالَ بِأَفْعَالِ الْعِبَادِ وَيَخْرُجُ مِنْهُ مَا ثَبَتَ بِالْقِيَاسِ إذْ لَا خِطَابَ هُنَا، (إلَّا أَنْ يُقَالَ) اعْلَمْ أَنَّ الْمَصَادِرَ قَدْ تَقَعُ ظَرْفًا، نَحْوُ آتِيك طُلُوعَ الْفَجْرِ أَيْ وَقْتَ طُلُوعِهِ فَقَوْلُهُ إلَّا أَنْ يُقَالَ هَذَا الْقَبِيلُ فَإِنَّهُ اسْتِثْنَاءٌ مُفَرَّغٌ مِنْ قَوْلِهِ وَيَخْرُجُ مِنْهُ مَا ثَبَتَ بِالْقِيَاسِ أَيْ جَمِيعُ الْأَوْقَاتِ إلَّا وَقْتَ قَوْلِهِ فِي جَوَابِ الْإِشْكَالِ (يُدْرَكُ بِالْقِيَاسِ أَنَّ الْخِطَابَ وَرَدَ بِهَذَا إلَّا أَنَّهُ ثَبَتَ بِالْقِيَاسِ) فَإِنَّ الْقِيَاسَ مُظْهِرٌ لِلْحُكْمِ لَا مُثْبِتٌ فَانْدَفَعَ الْإِشْكَالُ (وَأَيْضًا يَخْرُجُ نَحْوُ آمِنُوا وَفَاعْتَبِرُوا) أَيْ مِنْ الْحَدِّ مَعَ أَنَّهَا حُكْمٌ فَالْمُرَادُ بِالْإِيمَانِ هُنَا التَّصْدِيقُ فَوُجُوبُ التَّصْدِيقِ حُكْمٌ مَعَ أَنَّهُ لَيْسَ مِنْ الْأَفْعَالِ إذْ الْمُرَادُ بِالْأَفْعَالِ الْمَذْكُورَةِ أَفْعَالُ الْجَوَارِحِ وَوُجُوبُ الِاعْتِبَارِ أَيْ الْقِيَاسُ حُكْمٌ مَعَ أَنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَفْعَالِ الْجَوَارِحِ.

(وَيَقَعُ التَّكْرَارُ بَيْنَ الْعَمَلِيَّةِ وَبَيْنَ الْمُتَعَلِّقِ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ) ؛ لِأَنَّهُ قَالَ فِي حَدِّ الْفِقْهِ

ــ

‌‌[التلويح]

وَهُوَ الْفِعْلُ يُسَمَّى وُجُوبًا وَهُمَا مُتَّحِدَانِ بِالذَّاتِ مُخْتَلِفَانِ بِالِاعْتِبَارِ فَلِذَلِكَ تَرَاهُمْ يَجْعَلُونَ أَقْسَامَ الْحُكْمِ الْوُجُوبَ وَالْحُرْمَةَ مَرَّةً وَالْإِيجَابَ وَالتَّحْرِيمَ أُخْرَى وَتَارَةً الْوُجُوبَ وَالتَّحْرِيمَ كَمَا فِي أُصُولِ ابْنِ الْحَاجِبِ الثَّانِي أَنَّهُ غَيْرُ مُنْعَكِسٍ لِخُرُوجِ الْأَحْكَامِ الْمُتَعَلِّقَةِ بِأَفْعَالِ الصِّبْيَانِ فَالْأَوْلَى أَنْ يُقَالَ الْمُتَعَلِّقُ بِأَفْعَالِ الْعِبَادِ وَقَدْ أُجِيبَ عَنْ ذَلِكَ فِي كُتُبِهِمْ بِأَنَّ الْأَحْكَامَ الَّتِي يُتَوَهَّمُ تَعَلُّقُهَا بِفِعْلِ الصَّبِيِّ إنَّمَا هِيَ مُتَعَلِّقَةٌ بِفِعْلِ الْوَلِيِّ مَثَلًا يَجِبُ عَلَيْهِ أَدَاءُ الْحُقُوقِ مِنْ مَالِ الصَّبِيِّ وَرَدَّهُ الْمُصَنِّفُ أَوَّلًا بِأَنَّهُ لَا يَصِحُّ فِي جَوَازِ بَيْعِهِ وَصِحَّةِ إسْلَامِهِ وَصَلَاتِهِ وَكَوْنِهَا مَنْدُوبَةً وَثَانِيًا بِأَنَّ تَعَلُّقَ الْحَقِّ بِمَالِ الصَّبِيِّ أَوْ ذِمَّتِهِ حُكْمٌ شَرْعِيٌّ وَأَدَاءَ الْوَلِيِّ حُكْمٌ آخَرُ مُتَرَتِّبٌ عَلَيْهِ، وَهَذَا السُّؤَالُ لَا يَتَأَتَّى عَلَى مَذْهَبِ مَنْ عَرَّفَ الْحُكْمَ بِهَذَا التَّعْرِيفِ فَإِنَّهُمْ مُصَرِّحُونَ بِأَنْ لَا حُكْمَ بِالنِّسْبَةِ إلَى الصَّبِيِّ إلَّا وُجُوبُ أَدَاءِ الْحَقِّ مِنْ مَالِهِ، وَذَلِكَ عَلَى الْوَلِيِّ، ثُمَّ لَا يَخْفَى أَنَّ تَعَلُّقَ الْحُكْمِ بِمَالِهِ أَوْ ذِمَّتِهِ لَا يَدْخُلُ فِي تَعْرِيفِ الْحُكْمِ، وَإِنْ أُقِيمَ الْعِبَادُ مَقَامَ الْمُكَلَّفِينَ لِانْتِفَاءِ التَّعَلُّقِ بِالْأَفْعَالِ بِأَنَّ الصِّحَّةَ وَالْفَسَادَ لَيْسَا مِنْ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ؛ لِأَنَّ كَوْنَ الْمَأْتِيِّ بِهِ مُوَافِقًا لِمَا وَرَدَ بِهِ الشَّرْعُ أَوْ مُخَالِفًا أَمْرٌ يُعْرَفُ بِالْعَقْلِ كَكَوْنِ الشَّخْصِ مُصَلِّيًا أَوْ تَارِكًا لِلصَّلَاةِ، وَمَعْنَى جَوَازِ الْبَيْعِ صِحَّتُهُ، وَمَعْنَى كَوْنِ صَلَاتِهِ مَنْدُوبَةً أَنَّ الْوَلِيَّ مَأْمُورٌ بِأَنْ يُحَرِّضَهُ عَلَى الصَّلَاةِ وَيَأْمُرَهُ بِهَا لِقَوْلِهِ عليه السلام «مُرُوهُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعٍ» الثَّالِثُ أَنَّ التَّعْرِيفَ غَيْرُ مُتَنَاوِلٍ لِلْحُكْمِ الثَّابِتِ بِالْقِيَاسِ لِعَدَمِ خِطَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَأَجَابَ بِأَنَّ الْقِيَاسَ مُظْهِرٌ لِلْحُكْمِ لَا مُثْبِتٌ وَلَا يَخْفَى عَلَيْك أَنَّ السُّؤَالَ وَارِدٌ فِيمَا ثَبَتَ بِالسُّنَّةِ وَالْإِجْمَاعِ أَيْضًا وَالْجَوَابُ أَنَّ كُلًّا مِنْهُمَا كَاشِفٌ عَنْ خِطَابِ اللَّهِ وَمُعَرِّفٌ لَهُ، وَهَذَا مَعْنَى كَوْنِهَا أَدِلَّةَ الْأَحْكَامِ الرَّابِعُ أَنَّهُ غَيْرُ شَامِلٍ لِلْأَحْكَامِ الْمُتَعَلِّقَةِ
তাঁর অভিভাবকের বিষয়ে আমরা বলেছি যে, ইসলাম এবং সালাতের ক্ষেত্রে এটি শুদ্ধ নয়।

আর ইসলাম ও সালাত ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে, তার সম্পদ বা দায়বদ্ধতার সাথে অধিকারের সংশ্লিষ্টতা একটি শরয়ি বিধান। অতঃপর অভিভাবকের পক্ষ থেকে তা আদায় করা অন্য একটি বিধান, যা প্রথমটির ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে তা প্রথমটির হুবহু অংশ নয়। এবং ‘বিধান’ (হুকুম) অধ্যায়ে তাঁর কার্যাবলীর সাথে সম্পর্কিত বিধানসমূহ আসবে। সুতরাং ‘বান্দাদের কার্যাবলী’ বলা সমীচীন। আর এর থেকে কিয়াস দ্বারা প্রমাণিত বিষয়সমূহ বের হয়ে যাবে, যেহেতু এখানে কোনো সরাসরি সম্বোধন (খিতাব) নেই। (তবে যদি বলা হয়) জেনে রাখুন যে, মাসদারসমূহ (ক্রিয়ামূল) কখনও যরফ (ক্রিয়ার আধার) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন: ‘আমি তোমার কাছে ফজর উদয়ের সময় আসব’, অর্থাৎ তার উদয়ের সময়ে। সুতরাং তার কথা ‘তবে যদি বলা হয়’ এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। এটি তার কথা ‘এবং এর থেকে কিয়াস দ্বারা প্রমাণিত বিষয়সমূহ বের হয়ে যাবে’ থেকে একটি ‘ইসতিসনা-এ-মুফাররাগ’ (শূন্যব্যতিক্রম), অর্থাৎ সকল সময় বাদ যাবে কেবল জটিলতার উত্তরে তার বলার সময়টি ব্যতীত। (কিয়াসের মাধ্যমে এটি উপলব্ধি করা হয় যে, সম্বোধনটি এর মাধ্যমেই এসেছে, তবে তা কিয়াসের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়েছে।) কেননা কিয়াস হলো বিধানের প্রকাশকারী, উদ্ভাবনকারী বা মূল সাব্যস্তকারী নয়। ফলে এ সংশয়টি দূর হয়ে গেল। (তদপুরি, ‘তোমরা ঈমান আনো’ এবং ‘তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো তথা কিয়াস করো’ এর মতো বিষয়গুলোও বের হয়ে যাবে) অর্থাৎ সংজ্ঞার গণ্ডি থেকে, অথচ এগুলো হুকুম বা বিধান। এখানে ঈমান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘তাসদিক’ বা অন্তরের সত্যায়ন। সুতরাং সত্যায়ন ওয়াজিব হওয়া একটি বিধান, যদিও তা (বাহ্যিক) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা উল্লিখিত কার্যাবলী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ। আর ই'তিবার বা কিয়াস ওয়াজিব হওয়া একটি বিধান, অথচ এটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।

(এবং 'ব্যবহারিকতা' ও 'মুকাল্লাফদের কার্যাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট'—এই দুটির মধ্যে পুনরাবৃত্তি ঘটেছে); কারণ তিনি ফিকহের সংজ্ঞায় এমনটি বলেছেন।

—

[আত-তালউইহ]

এবং এটি হলো সেই কাজ যাকে আবশ্যকতা (উজুব) বলা হয়। এই দুটি (ইজাব ও উজুব) সত্তাগতভাবে অভিন্ন কিন্তু বিবেচনার দিক থেকে ভিন্ন। একারণেই আপনি তাদের দেখবেন যে, তারা হুকুমের প্রকারভেদ করতে গিয়ে কখনো 'ওয়াজিব' ও 'হারাম' বলেন, আবার কখনো 'ইজাব' ও 'তাহরীম' বলেন, আবার কখনো 'ওয়াজিব' ও 'তাহরীম' ব্যবহার করেন, যেমনটি ইবনু হাজিবের উসুল গ্রন্থে পাওয়া যায়। দ্বিতীয় আপত্তি হলো, এই সংজ্ঞাটি ব্যাপক নয় (অর্থাৎ সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়), কারণ শিশুদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ এর বাইরে থেকে যায়। তাই উত্তম হলো 'বান্দাদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট' বলা। তাদের কিতাবসমূহে এর উত্তর এই বলে দেওয়া হয়েছে যে, শিশুর কাজের সাথে যে বিধানসমূহ সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হয়, সেগুলো আসলে অভিভাবকের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, শিশুর সম্পদ থেকে পাওনা পরিশোধ করা অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব। লেখক (মুসান্নিফ) প্রথমত একে এই বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, শিশুর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়া, তার ইসলাম গ্রহণ ও সালাত বিশুদ্ধ হওয়া এবং তা মুস্তাহাব হওয়ার ক্ষেত্রে এই উত্তর সঠিক নয়। দ্বিতীয়ত তিনি বলেছেন যে, শিশুর সম্পদ বা জিম্মায় কোনো অধিকার সংশ্লিষ্ট হওয়া একটি শরয়ি বিধান, আর অভিভাবকের তা আদায় করা অন্য একটি বিধান যা প্রথমটির ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়। আর এই প্রশ্নটি সেই মাযহাবের ওপর প্রযোজ্য হয় না যারা বিধানকে এই সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করেছেন; কারণ তারা স্পষ্টভাবে বলেন যে, শিশুর ক্ষেত্রে সম্পদ থেকে পাওনা পরিশোধের আবশ্যকতা ছাড়া অন্য কোনো বিধান নেই এবং তা অভিভাবকের ওপর বর্তায়। এরপর এটি অস্পষ্ট নয় যে, শিশুর সম্পদ বা জিম্মায় বিধানের সংশ্লিষ্টতা 'বিধান'-এর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হয় না, যদিও কাজের সাথে সংশ্লিষ্টতা না থাকার কারণে ‘মুকাল্লাফ’ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্থলে 'বান্দা' শব্দটি রাখা হয়। কারণ বিশুদ্ধতা ও অসারতা শরয়ি বিধানের অন্তর্ভুক্ত নয়; কেননা সম্পাদিত কাজটি শরয়ি নির্দেশনার অনুকূলে হওয়া বা প্রতিকূলে হওয়া এমন একটি বিষয় যা বুদ্ধি দ্বারা উপলব্ধি করা যায়, যেমন কোনো ব্যক্তির সালাত আদায়কারী হওয়া বা সালাত ত্যাগকারী হওয়া। ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ হওয়ার অর্থ হলো তা বিশুদ্ধ হওয়া। আর তার সালাত মুস্তাহাব হওয়ার অর্থ হলো অভিভাবককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তিনি তাকে সালাতের প্রতি উৎসাহিত করেন এবং তাকে এর আদেশ দেন; যেমন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের সালাতের আদেশ দাও যখন তাদের বয়স সাত বছর।" তৃতীয় আপত্তি হলো, এই সংজ্ঞা কিয়াসের মাধ্যমে প্রমাণিত বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে না, কারণ সেখানে মহান আল্লাহর সরাসরি বাণী অনুপস্থিত। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, কিয়াস বিধানকে প্রকাশ করে মাত্র, তা নতুন করে সাব্যস্ত করে না। আর আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই প্রশ্ন সুন্নাহ এবং ইজমার মাধ্যমে প্রমাণিত বিধানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এর উত্তর হলো, সুন্নাহ ও ইজমার প্রতিটিই আল্লাহর বাণীকে উন্মোচন করে এবং তার পরিচয় প্রদান করে; আর এটিই হলো এগুলো বিধানের দলিল হওয়ার প্রকৃত অর্থ। চতুর্থত, এটি সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে না...

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الْعِلْمُ بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الْعَمَلِيَّةِ وَالْحُكْمُ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى الْمُتَعَلِّقُ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ فَيَكُونُ حَدُّ الْفِقْهِ الْعِلْمُ بِخِطَابَاتِ اللَّهِ تَعَالَى الْمُتَعَلِّقَةِ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ الشَّرْعِيَّةِ الْعَمَلِيَّةِ فَيَقَعُ التَّكْرَارُ (إلَّا أَنْ يُقَالَ نَعْنِي بِالْأَفْعَالِ مَا يَعُمُّ فِعْلَ الْجَوَارِحِ وَفِعْلَ الْقَلْبِ وَبِالْعَمَلِيَّةِ مَا يَخْتَصُّ بِالْجَوَارِحِ) فَانْدَفَعَ بِهَذِهِ الْعِنَايَةِ التَّكْرَارُ وَخَرَجَ جَوَابُ الْإِشْكَالِ الْمُتَقَدِّمِ، وَهُوَ قَوْلُهُ يَخْرُجُ نَحْوَ آمِنُوا وَفَاعْتَبِرُوا؛ لِأَنَّهُمَا مِنْ أَفْعَالِ الْقَلْبِ.

(وَالشَّرْعِيَّةُ مَا لَا تُدْرَكُ لَوْلَا خِطَابُ الشَّارِعِ) سَوَاءٌ كَانَ الْخِطَابُ وَارِدًا فِي عَيْنِ هَذَا الْحُكْمِ أَوْ وَارِدًا فِي صُورَةٍ يَحْتَاجُ إلَيْهَا هَذَا الْحُكْمُ كَالْمَسَائِلِ الْقِيَاسِيَّةِ فَتَكُونُ أَحْكَامُهَا شَرْعِيَّةً إذْ لَوْلَا خِطَابُ الشَّارِعِ فِي الْمَقِيسِ عَلَيْهِ لَا يُدْرَكُ الْحُكْمُ فِي الْمَقِيسِ (فَيَدْخُلُ فِي حَدِّ الْفِقْهِ حُسْنُ كُلِّ فِعْلٍ وَقُبْحُهُ عِنْدَ نُفَاةِ كَوْنِهِمَا عَقْلِيَّيْنِ) اعْلَمْ أَنَّ عِنْدَنَا وَعِنْدَ جُمْهُورِ الْمُعْتَزِلَةِ حُسْنَ بَعْضِ الْأَفْعَالِ وَقُبْحَهَا يُدْرَكَانِ عَقْلًا وَبَعْضُهَا لَا بَلْ يَتَوَقَّفُ عَلَى

ــ

‌‌[التلويح]

بِأَفْعَالِ الْقَلْبِ، مِثْلُ وُجُوبِ الْإِيمَانِ أَيْ التَّصْدِيقِ وَوُجُوبِ الِاعْتِبَارِ أَيْ الْقِيَاسِ؛ لِأَنَّ الظَّاهِرَ مِنْ الْأَفْعَالِ أَفْعَالُ الْجَوَارِحِ. الْخَامِسُ أَنَّهُ لَمَّا أَخَذَ فِي تَعْرِيفِ الْحُكْمِ الْمُتَعَلِّقِ بِفِعْلِ الْمُكَلَّفِ اخْتَصَّ بِالْعَمَلِيَّاتِ وَخَرَجَتْ النَّظَرِيَّاتُ بِنَاءً عَلَى اخْتِصَاصِ الْفِعْلِ بِالْجَوَارِحِ فَيَكُونُ ذِكْرُ الْعَمَلِيَّةِ فِي تَعْرِيفِ الْفِقْهِ مُكَرَّرًا وَأَجَابَ عَنْهُمَا بِأَنَّ الْمُرَادَ بِالْفِعْلِ مَا يَعُمُّ الْقَلْبَ وَالْجَوَارِحَ وَبِالْعَمَلِ مَا يَخُصُّ الْجَوَارِحَ فَلَا يَخْرُجُ مِثْلُ وُجُوبِ الْإِيمَانِ وَالِاعْتِبَارِ عَنْ تَعْرِيفِ الْحُكْمِ وَلَا يَكُونُ ذِكْرُ الْعَمَلِيَّةِ مُكَرَّرًا لِإِفَادَتِهِ خُرُوجَ مَا لَا يَتَعَلَّقُ بِفِعْلِ الْجَوَارِحِ عَنْ تَعْرِيفِ الْفِقْهِ وَلِقَائِلٍ أَنْ يَقُولَ إذَا حُمِلَ الْحُكْمُ فِي تَعْرِيفِ الْفِقْهِ عَلَى الْمُصْطَلَحِ فَذِكْرُ الْعَمَلِيَّةِ مُكَرَّرٌ قَطْعًا؛ لِأَنَّ مِثْلَ وُجُوبِ الْإِيمَانِ خَارِجٌ بِقَيْدِ الشَّرْعِيَّةِ عَلَى مَا مَرَّ وَمِثْلَ كَوْنِ الْإِجْمَاعِ حُجَّةً غَيْرُ دَاخِلٍ فِي الْحُكْمِ الْمُصْطَلَحِ لِخُرُوجِهِ بِقَيْدِ الِاقْتِضَاءِ أَوْ التَّخْيِيرِ لَا يُقَالُ مَعْنَى كَوْنِ السُّنَّةِ وَالْإِجْمَاعِ وَالْقِيَاسِ حُجَجًا وُجُوبُ الْعَمَلِ بِمُقْتَضَاهَا فَيَدْخُلُ فِي الِاقْتِضَاءِ الضِّمْنِيُّ؛ لِأَنَّا نَقُولُ فَحِينَئِذٍ لَا يَخْرُجُ بِقَيْدِ الْعَمَلِيَّةِ وَيَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ الْعِلْمُ بِهِ مِنْ الْفِقْهِ وَيُمْكِنُ أَنْ يُقَالَ إنَّ التَّقْيِيدَ بِالْعَمَلِيَّةِ يُقَيِّدُ إخْرَاجَ مِثْلِ جَوَازِ الْإِجْمَاعِ وَوُجُوبِ الْقِيَاسِ، وَهُوَ حُكْمٌ شَرْعِيٌّ.

قَوْلُهُ (وَالشَّرْعِيَّةُ مَا لَا يُدْرَكُ لَوْلَا خِطَابُ الشَّارِعِ) بِنَفْسِ الْحُكْمِ أَوْ بِأَصْلِهِ الْمَقِيسِ هُوَ عَلَيْهِ فَيَخْرُجُ عَنْهَا وُجُوبُ الْإِيمَانِ وَيَدْخُلُ مِثْلُ كَوْنِ الْإِجْمَاعِ أَوْ الْقِيَاسِ حُجَّةً عَلَى تَقْدِيرِ أَنْ يَكُونَ حُكْمًا، وَإِنَّمَا لَمْ يُفَسِّرْ الشَّرْعِيَّةَ بِمَا وَرَدَ بِهِ خِطَابُ الشَّرْعِ؛ لِأَنَّ التَّقْدِيرَ أَنَّ الْحُكْمَ مُفَسَّرٌ بِخِطَابِ اللَّهِ تَعَالَى إلَى آخِرِهِ وَحِينَئِذٍ يَكُونُ تَقْيِيدُهُ بِالشَّرْعِ تَكْرَارًا أَوْ عِنْدَ الْأَشَاعِرَةِ مَا وَرَدَ بِهِ خِطَابُ الشَّرْعِ فِي قَوْلِهِ مَا لَا يُدْرَكُ لَوْلَا خِطَابُ الشَّرْعِ، إذْ لَا مَجَالَ لِلْعَقْلِ فِي دَرْكِ الْأَحْكَامِ فَلَوْ كَانَ خِطَابُ اللَّهِ تَعَالَى إلَى آخِرِهِ تَعْرِيفًا لِلْحُكْمِ عَلَى مَا زَعَمَ الْمُصَنِّفُ لَا لِلْحُكْمِ الشَّرْعِيِّ لَكَانَ ذِكْرُ الشَّرْعِيِّ تَكْرَارًا أَلْبَتَّةَ أَيَّ تَفْسِيرٍ فَسَّرَ.

قَوْلُهُ (فَيَدْخُلُ) يُرِيدُ أَنَّ تَعْرِيفَ الْفِقْهِ عَلَى رَأْيِ
শারী’আহ’র ব্যবহারিক বিধানাবলির জ্ঞান। আর বিধান (হুকুম) হলো মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট মহান আল্লাহর সম্বোধন। সুতরাং ফিকহ-এর সংজ্ঞা হয়—মুকাল্লাফদের শারী’আহ সংশ্লিষ্ট ব্যবহারিক কর্মের সাথে সম্পৃক্ত মহান আল্লাহর সম্বোধনসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। ফলে এখানে পুনরাবৃত্তি ঘটে (তবে যদি বলা হয় যে, ‘কর্মসমূহ’ বলতে আমরা এমন বিষয়কে বুঝিয়েছি যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ এবং অন্তরের কাজ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, আর ‘ব্যবহারিক’ বলতে যা কেবল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে নির্দিষ্ট), তবে এই সতর্ক ব্যাখ্যার মাধ্যমে পুনরাবৃত্তি দূর হয়ে যায় এবং পূর্বোক্ত আপত্তির উত্তরও পরিস্ফুট হয়; আর তা হলো তাঁর এই বক্তব্য যে, ‘তোমরা ঈমান আনো’ এবং ‘তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো’-এর মতো বিষয়গুলো সংজ্ঞা থেকে বের হয়ে যায়, কারণ এ দুটি অন্তরের কর্মের অন্তর্ভুক্ত।

(শরয়ী বিধান হলো তা যা শরীয়তদাতার সম্বোধন ব্যতীত অনুধাবন করা যায় না) চাই সেই সম্বোধনটি সরাসরি এই নির্দিষ্ট বিধানের ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হোক অথবা এমন কোনো অবস্থায় অবতীর্ণ হোক যা এই বিধানের জন্য প্রয়োজন, যেমন কিয়াসভিত্তিক মাসআলাসমূহ। ফলে সেগুলোর বিধানসমূহ শরয়ী হবে; কারণ যদি মাক্বীস আলাইহি-এর ক্ষেত্রে শরীয়তদাতার সম্বোধন না থাকত, তবে মাক্বীস-এর বিধানটি অনুধাবন করা যেত না। (সুতরাং যারা কাজের ভালো ও মন্দ হওয়া বুদ্ধিগ্রাহ্য হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন, তাদের নিকট প্রতিটি কাজের সৌন্দর্য ও কদর্যতা ফিকহের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হবে)। জেনে রাখুন যে, আমাদের নিকট এবং জমহুর মুতাযিলাদের নিকট কিছু কাজের সৌন্দর্য ও কদর্যতা বিবেকের মাধ্যমে অনুধাবন করা যায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে তা হয় না; বরং তা নির্ভর করে

--

[আত-তালবীহ]

অন্তরের কাজসমূহ দ্বারা, যেমন ঈমানের ওয়াজিব হওয়া অর্থাৎ সত্যায়ন করা এবং ই'তিবার বা বিবেচনার ওয়াজিব হওয়া অর্থাৎ কিয়াস করা; কারণ কাজ বলতে সাধারণত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজই প্রকাশ পায়। পঞ্চম বিষয়টি হলো, যখন তিনি হুকুম বা বিধানের সংজ্ঞায় মুকাল্লাফ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকে গ্রহণ করেছেন, তখন এটি আমলী বা প্রায়োগিক বিষয়গুলোর সাথে সুনির্দিষ্ট হয়ে গেছে এবং তাত্ত্বিক বিষয়গুলো এই ভিত্তিতে বের হয়ে গেছে যে, 'কাজ' অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথেই খাস। এমতাবস্থায় ফিকহের সংজ্ঞায় 'আমলী' শব্দের উল্লেখ করা পুনরাবৃত্তি হিসেবে গণ্য হবে। তিনি এই উভয় বিষয়ের উত্তর দিয়েছেন এভাবে যে, 'কাজ' (ফেল) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা অন্তর এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উভয়কে শামিল করে, আর 'আমল' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা কেবল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে খাস। ফলে ঈমান ও ই'তিবারের আবশ্যকতা হুকুমের সংজ্ঞা থেকে বের হয়ে যাবে না এবং 'আমলী' শব্দের উল্লেখ করা পুনরাবৃত্তি হবে না, কারণ এটি ফিকহের সংজ্ঞা থেকে এমন বিষয়গুলোকে বের করে দেওয়ার ফায়দা প্রদান করে যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। তবে কেউ বলতে পারেন যে, যদি ফিকহের সংজ্ঞায় হুকুম শব্দটিকে পারিভাষিক অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে 'আমলী' শব্দের উল্লেখ নিশ্চিতভাবেই পুনরাবৃত্তি; কেননা ঈমানের ওয়াজিব হওয়ার মতো বিষয়গুলো 'শারয়ী' শর্তের মাধ্যমেই বের হয়ে গেছে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর ইজমা দলীল হওয়ার মতো বিষয়গুলো পারিভাষিক হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ তা 'ইকতিজা' (দাবি) বা 'তাখয়ীর' (ঐচ্ছিকতা)-এর শর্তের কারণে বের হয়ে যায়। এটি বলা যাবে না যে, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস দলীল হওয়ার অর্থ হলো সেগুলোর চাহিদা অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়া, ফলে তা পরোক্ষভাবে 'ইকতিজা'-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে; কারণ আমরা বলব যে, এমতাবস্থায় এটি 'আমলী' হওয়ার শর্তের দ্বারাও বের হবে না এবং এগুলো সম্পর্কে জানা ফিকহের অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় এটি বলা সম্ভব যে, 'আমলী' হওয়ার শর্তারোপ ইজমা জায়েজ হওয়া এবং কিয়াস ওয়াজিব হওয়ার মতো বিষয়গুলোকে বের করে দেয়, অথচ তা একটি শারয়ী হুকুম।

লেখকের বক্তব্য: (শারঈ বা শরিয়তসম্মত তা-ই যা শরিয়তদাতার সম্বোধন ব্যতীত অনুধাবন করা যায় না) তা স্বয়ং বিধানের মাধ্যমে হোক অথবা এমন মূলনীতির (আসল) মাধ্যমে হোক যার ওপর ভিত্তি করে কিয়াস করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঈমান আনা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি সংজ্ঞা থেকে বের হয়ে যায় এবং ইজমা বা কিয়াস দলিল হওয়ার বিষয়টি এর অন্তর্ভুক্ত হয় এই বিবেচনায় যে তা একটি বিধান। তিনি ‘শারঈ’ শব্দটিকে ‘শরিয়তের সম্বোধনে যা বর্ণিত হয়েছে’ তা দিয়ে ব্যাখ্যা করেননি; কারণ এটি ধরে নেওয়া হয়েছে যে ‘হুকুম’ বা বিধানের ব্যাখ্যা আল্লাহ তাআলার সম্বোধন ইত্যাদি শব্দমালা দ্বারা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় একে ‘শারঈ’ শব্দ দ্বারা সীমাবদ্ধ করা পুনরুক্তি হবে। অথবা আশআরিয়াদের নিকট ‘যা শরিয়তের সম্বোধনে বর্ণিত হয়েছে’ এটিই তাঁর এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য: ‘যা শরিয়তের সম্বোধন ব্যতীত অনুধাবন করা যায় না’। কেননা বিধান উপলব্ধিতে বিবেকের কোনো অবকাশ নেই। সুতরাং গ্রন্থকার যেমনটি দাবি করেছেন যে, ‘আল্লাহ তাআলার সম্বোধন’ ইত্যাদি হলো ‘বিধানের’ সংজ্ঞা, ‘শারঈ বিধানের’ সংজ্ঞা নয়, তবে সেক্ষেত্রেও যে কোনো ব্যাখ্যা অনুযায়ী ‘শারঈ’ শব্দের উল্লেখ করা নিশ্চিতভাবে পুনরুক্তি হতো।

লেখকের বক্তব্য: (অতঃপর অন্তর্ভুক্ত হবে) তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, কোনো এক মতানুসারে ফিকহের সংজ্ঞা

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
خِطَابِ الشَّارِعِ فَالْأَوَّلُ لَا يَكُونُ مِنْ الْفِقْهِ، بَلْ هُوَ عِلْمُ الْأَخْلَاقِ وَالثَّانِي هُوَ الْفِقْهُ وَحَدُّ الْفِقْهِ يَكُونُ صَحِيحًا جَامِعًا مَانِعًا عَلَى هَذَا الْمَذْهَبِ.

وَأَمَّا عِنْدَ الْأَشْعَرِيِّ وَأَتْبَاعِهِ فَحُسْنُ كُلِّ فِعْلٍ وَقُبْحُهُ شَرْعِيٌّ فَيَكُونَانِ مِنْ الْفِقْهِ مَعَ أَنَّ حُسْنَ التَّوَاضُعِ وَالْجُودَ وَنَحْوَهُمَا وَقُبْحَ أَضْدَادِهِمَا لَا يُعَدَّانِ مِنْ الْفِقْهِ الْمُصْطَلَحِ عِنْدَ أَحَدٍ فَيَدْخُلُ فِي حَدِّ الْفِقْهِ الْمُصْطَلَحِ مَا لَيْسَ مِنْهُ فَلَا يَكُونُ هَذَا تَعْرِيفًا صَحِيحًا لِلْفِقْهِ الْمُصْطَلَحِ عَلَى مَذْهَبِ الْأَشْعَرِيِّ. (وَلَا يُزَادُ عَلَيْهِ) أَيْ عَلَى حَدِّ الْفِقْهِ الْمُصْطَلَحِ (الَّتِي لَا يُعْلَمُ كَوْنُهَا مِنْ الدِّينِ ضَرُورَةً لِإِخْرَاجِ مِثْلِ الصَّلَاةِ وَالصَّوْمِ فَإِنَّهُمَا مِنْهُ وَلَيْسَ الْمُرَادُ بِالْأَحْكَامِ بَعْضَهَا وَإِنْ قَلَّ) اعْلَمْ أَنَّ هَذَا الْقَيْدَ ذُكِرَ فِي الْمَحْصُولِ لِيُخْرِجَ مِثْلَ الصَّلَاةِ وَالصَّوْمِ وَأَمْثَالِهِمَا إذْ لَوْ لَمْ يُخْرِجْ لَكَانَ الشَّخْصُ الْعَالِمُ بِوُجُوبِهِمَا فَقِيهًا وَلَيْسَ كَذَلِكَ

ــ

‌‌[التلويح]

الْأَشَاعِرَةِ شَامِلٌ لِلْعِلْمِ عَنْ دَلِيلٍ بِحُسْنِ الْجُودِ وَالتَّوَاضُعِ أَيْ وُجُوبِهِمَا أَوْ نَدْبِهِمَا وَقُبْحِ الْبُخْلِ وَالتَّكَبُّرِ أَيْ حُرْمَتِهِمَا أَوْ كَرَاهَتِهِمَا وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ؛ لِأَنَّهَا أَحْكَامٌ لَا تُدْرَكُ لَوْلَا خِطَابُ الشَّرْعِ عَلَى رَأْيِهِمْ مَعَ أَنَّ الْعِلْمَ بِهَا مِنْ عِلْمِ الْأَخْلَاقِ لَا مِنْ عِلْمِ الْفِقْهِ وَأَقُولُ إنَّمَا يَلْزَمُ ذَلِكَ لَوْ كَانَتْ هَذِهِ الْأَحْكَامُ عَمَلِيَّةً بِالْمَعْنَى الْمَذْكُورِ، وَهُوَ مَمْنُوعٌ. كَيْفَ وَالْأُمُورُ الْمَذْكُورَةُ أَخْلَاقُ مَلَكَاتٍ نَفْسَانِيَّةٍ جَعَلَ الْمُصَنِّفُ الْعِلْمَ بِحُسْنِهَا وَقُبْحِهَا مِنْ عِلْمِ الْأَخْلَاقِ وَقَدْ صَرَّحَ فِيمَا سَبَقَ بِأَنَّهُ يُزَادُ عَمَلًا عَلَى مَعْرِفَةِ النَّفْسِ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا لِيَخْرُجَ عِلْمُ الْأَخْلَاقِ وَبِأَنَّ مَعْرِفَةَ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا مِنْ الْوِجْدَانِيَّاتِ أَيْ الْأَخْلَاقِ الْبَاطِنِيَّةِ وَالْمَلَكَاتِ النَّفْسَانِيَّةِ عِلْمُ الْأَخْلَاقِ، وَمِنْ الْعَمَلِيَّاتِ عِلْمُ الْفِقْهِ فَكَأَنَّهُ نَسِيَ مَا ذَكَرَهُ ثَمَّةَ أَوْ ذَهِلَ عَنْ قَيْدِ الْعَمَلِيَّةِ هَاهُنَا.

قَوْلُهُ (وَلَا يُرَادُ عَلَيْهِ) الْمُصْطَلَحُ بَيْنَ الشَّافِعِيَّةِ أَنَّ الْعِلْمَ بِالْأَحْكَامِ إنَّمَا يُسَمَّى فِقْهًا إذَا كَانَ حُصُولُهُ بِطَرِيقِ النَّظَرِ وَالِاسْتِدْلَالِ حَتَّى أَنَّ الْعِلْمَ بِوُجُوبِ الصَّلَاةِ وَالصَّوْمِ وَنَحْوِ ذَلِكَ مِمَّا اشْتَهَرَ كَوْنُهُ مِنْ الدِّينِ بِالضَّرُورَةِ بِحَيْثُ يَعْلَمُهُ الْمُتَدَيِّنُ وَغَيْرُهُ لَا يُعَدُّ مِنْ الْفِقْهِ اصْطِلَاحًا وَلِهَذَا يَذْكُرُونَ قَيْدَ الِاكْتِسَابِ وَالِاسْتِدْلَالِ فَالْإِمَامُ قَيَّدَ فِي الْمَحْصُولِ الْأَحْكَامَ بِاَلَّتِي لَا يُعْلَمُ كَوْنُهَا مِنْ الدِّينِ بِالضَّرُورَةِ، وَقَالَ هُوَ احْتِرَازٌ عَنْ الْعِلْمِ بِوُجُوبِ الصَّلَاةِ وَالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا يُسَمَّى فِقْهًا بِمَعْنَى أَنَّهُ لَا يَدْخُلُ فِي مُسَمَّى الْفِقْهِ وَلَا يُعَدُّ مِنْهُ عَلَى مَا صَرَّحَ بِهِ فِي قَيْدِ الْعَمَلِيَّةِ لَا بِمَعْنَى أَنَّهُ لَوْ لَمْ يُحْتَرَزْ عَنْهُ لَزِمَ أَنْ يَكُونَ الْعَالِمُ بِمُجَرَّدِ وُجُوبِهِمَا فَقِيهًا عَلَى مَا فَهِمَهُ الْمُصَنِّفُ فَاعْتَرَضَ بِمَنْعِ لُزُومِ ذَلِكَ بِنَاءً عَلَى أَنَّ الْفَقِيهَ مَنْ لَهُ الْفِقْهُ وَالْفِقْهُ لَيْسَ عِلْمًا بِبَعْضِ الْأَحْكَامِ، وَإِنْ قَلَّ حَتَّى يَكُونَ الْعَالِمُ بِمَسْأَلَةٍ أَوْ مَسْأَلَتَيْنِ فَقِيهًا، بَلْ الْعَالِمُ بِمِائَةِ مَسْأَلَةٍ غَرِيبَةٍ اسْتِدْلَالِيَّةٍ وَحْدَهَا لَا يُسَمَّى فَقِيهًا، ثُمَّ إذَا كَانَ اصْطِلَاحُهُمْ عَلَى أَنَّ الْعِلْمَ بِضَرُورِيَّاتِ الدِّينِ لَيْسَ مِنْ الْفِقْهِ فَلَا بُدَّ مِنْ إخْرَاجِهَا عَنْ تَعْرِيفِهِمْ الْفِقْهَ فَلَا يَكُونُ الْقَيْدُ الْمُخْرِجُ لَهَا ضَائِعًا وَلَا الْقَوْلُ بِكَوْنِهَا مِنْ الْفِقْهِ صَحِيحًا عِنْدَهُمْ وَلَا الِاصْطِلَاحُ عَلَى ذَلِكَ صَالِحًا لِلِاعْتِرَاضِ عَلَيْهِمْ.

قَوْلُهُ (ثُمَّ اعْلَمْ أَنَّهُ لَا يُرَادُ بِالْأَحْكَامِ) اعْتِرَاضٌ عَلَى تَعْرِيفِ الْفِقْهِ بِأَنَّ الْمُرَادَ بِالْأَحْكَامِ إمَّا الْكُلُّ أَيْ
শারিয়াতদাতার সম্বোধন। সুতরাং প্রথমটি ফিকহের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা হলো নীতিশাস্ত্র; আর দ্বিতীয়টিই হলো ফিকহ। এই মাযহাব অনুযায়ী ফিকহের সংজ্ঞাটি সঠিক, সর্বাঙ্গীণ ও অন্যকে বর্জনকারী (জামে-মানে) হয়।

পক্ষান্তরে ইমাম আশআরী ও তাঁর অনুসারীদের মতে, প্রতিটি কাজের সৌন্দর্য ও কুশ্রীতা শারঈ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এই উভয়টিই ফিকহের অন্তর্ভুক্ত হবে, অথচ বিনয় ও দানশীলতার সৌন্দর্য এবং তাদের বিপরীত গুণাবলির কুশ্রীতা কারো নিকটই পারিভাষিক ফিকহের অংশ হিসেবে গণ্য হয় না। এর ফলে পারিভাষিক ফিকহের সংজ্ঞার মধ্যে এমন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যা তার অংশ নয়। সুতরাং আশআরী মাযহাব অনুযায়ী এটি পারিভাষিক ফিকহের কোনো সঠিক সংজ্ঞা হতে পারে না। (আর এর সাথে অধিক কিছু যোগ করা হবে না) অর্থাৎ পারিভাষিক ফিকহের সংজ্ঞার সাথে (যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যিকভাবে জানা যায় না, যাতে সালাত ও সাওমের মতো বিষয়গুলোকে বাদ দেওয়া যায়; কেননা এই দুটি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। আর বিধানাবলি বলতে এখানে তাদের সামান্য অংশ উদ্দেশ্য নয়)। জেনে রাখুন যে, এই শর্তটি 'আল-মাহসুল' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যাতে সালাত, সাওম ও এই জাতীয় বিষয়গুলোকে বের করে দেওয়া যায়; কারণ যদি এগুলোকে বের করা না হতো, তবে এই দুটির আবশ্যকতা সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তিও ফকীহ হিসেবে গণ্য হতেন, অথচ বিষয়টি তেমন নয়।

—

‌ ‌[আত-তালবীহ]

আশআরিদের মতে, এটি দলিলের ভিত্তিতে দানশীলতা ও বিনয়ের উত্তম হওয়া—অর্থাৎ এ দুটির আবশ্যকতা বা পছন্দনীয় হওয়া—এবং কৃপণতা ও অহংকারের মন্দ হওয়া—অর্থাৎ এ দুটির নিষিদ্ধ হওয়া বা অপছন্দনীয় হওয়া—এবং এজাতীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ তাদের মতানুসারে, এগুলো এমন কিছু বিধান যা শররিয়তের নির্দেশ ছাড়া অনুধাবন করা সম্ভব নয়, যদিও এই বিষয়ক জ্ঞান মূলত নীতিশাস্ত্রের (আখলাক) অন্তর্ভুক্ত, ফিকহ শাস্ত্রের নয়। আর আমি বলছি, এটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হতো যদি এই বিধানগুলো বর্ণিত অর্থে ব্যবহারিক বা কর্মমুখী হতো, অথচ তা অসিদ্ধ। কীভাবে তা সম্ভব, যখন উল্লিখিত বিষয়গুলো নফসের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও স্থায়ী স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত? গ্রন্থকার নিজেই এদের ভালো-মন্দ সংক্রান্ত জ্ঞানকে নীতিশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি ইতিপূর্বে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, নফসের অধিকার ও তার ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহের জ্ঞানের সাথে 'আমল' (কর্ম) শব্দটিকে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয় যাতে নীতিশাস্ত্র ফিকহ থেকে পৃথক হয়ে যায়। তিনি আরও বলেছিলেন যে, নফসের অধিকার ও দায়িত্বসমূহের মধ্যে যা অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও নফসের স্থায়ী স্বভাবের জ্ঞান, তা হলো নীতিশাস্ত্র; আর যা ব্যবহারিক বা কর্ম-সংক্রান্ত জ্ঞান, তা হলো ফিকহ শাস্ত্র। সুতরাং মনে হচ্ছে, তিনি সেখানে যা উল্লেখ করেছিলেন তা ভুলে গিয়েছেন অথবা এখানে 'ব্যবহারিক' হওয়ার শর্তটির কথা বিস্মৃত হয়েছেন।

তার বক্তব্য (এবং এর ওপর কোনো আপত্তি উত্থাপন করা হবে না): শাফেঈগণের মাঝে প্রচলিত পরিভাষা হলো বিধানাবলির জ্ঞানকে কেবল তখনই ফিকহ বলা হয়, যখন তা চিন্তা-গবেষণা ও দালিলিক প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এমনকি সালাত, সাওম এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা দ্বীনের অকাট্য ও স্বতঃসিদ্ধ (দারুরাত) বিষয় হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ এবং যা ধার্মিক ও সাধারণ মানুষ নির্বিশেষে সকলেই অবগত, তা পারিভাষিক দৃষ্টিতে ফিকহ হিসেবে গণ্য হয় না। এই কারণেই তারা ‘অর্জিত হওয়া’ (ইকতিসাব) এবং ‘দলিল ভিত্তিক হওয়া’র (ইস্তিদলাল) শর্ত উল্লেখ করেন। তাই ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী তার ‘আল-মাহসুল’ গ্রন্থে বিধানাবলিকে এমন সব বিষয়ের সাথে শর্তযুক্ত করেছেন যা দ্বীনের অকাট্য ও স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বলেছেন যে, এটি সালাত ও সাওমের ওয়াজিব হওয়ার জ্ঞানকে পরিধি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য একটি সতর্কতা। কেননা একে ‘ফিকহ’ বলা হয় না—এই অর্থে যে, তা ফিকহ নামক সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয় না এবং এর অংশ হিসেবেও গণ্য হয় না, যেমনটি তিনি ‘আমালিয়্যাহ’ (ব্যবহারিক) শর্তটির আলোচনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এর অর্থ এমন নয় যে, যদি একে বাদ দেওয়া না হতো তবে গ্রন্থকারের উপলব্ধি অনুযায়ী কেবল এ দুটির ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে জ্ঞান রাখলেই তাকে ‘ফকীহ’ বলা আবশ্যক হয়ে যেত। তাই গ্রন্থকার এই আবশ্যকতাকে অস্বীকার করে আপত্তি জানিয়েছেন এই ভিত্তিতে যে, ফকীহ হলেন তিনি যার মাঝে ফিকহী দক্ষতা বিদ্যমান, আর ফিকহ কেবল অল্প কিছু বিধানের জ্ঞানের নাম নয়, যার ফলে মাত্র একটি বা দুটি মাসআলা জানলেই কেউ ফকীহ হয়ে যাবে। বরং কেবল একশটি বিরল ও গবেষণালব্ধ মাসআলার জ্ঞানী ব্যক্তিকেও ফকীহ বলা হয় না। অতঃপর, যখন তাদের পরিভাষা হলো দ্বীনের অকাট্য ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোর জ্ঞান ফিকহের অন্তর্ভুক্ত নয়, তখন ফিকহের সংজ্ঞা থেকে এগুলোকে বের করে দেওয়া অপরিহার্য। ফলে যে শর্তের মাধ্যমে এগুলোকে বের করা হয়েছে তা নিরর্থক নয় এবং তাদের নিকট এগুলোকে ফিকহের অন্তর্ভুক্ত মনে করাও সঠিক নয়, আর এই পরিভাষার কারণে তাদের ওপর আপত্তি করাও সংগত নয়।

লেখকের উক্তি (অতঃপর জেনে রাখুন যে, বিধানসমূহ দ্বারা এটি উদ্দেশ্য নয়) এটি ফিকহের সংজ্ঞার ওপর একটি আপত্তি, যার ভিত্তি হলো বিধানসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হয় হয় সকল বিধান, অর্থাৎ

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فَأَقُولُ هَذَا الْقَيْدُ ضَائِعٌ؛ لِأَنَّا لَا نُسَلِّمُ أَنَّهُ لَوْ لَمْ يُخْرِجْ لَكَانَ الشَّخْصُ الْعَالِمُ بِوُجُوبِهِمَا فَقِيهًا؛ لِأَنَّ الْمُرَادَ بِالْأَحْكَامِ لَيْسَ بَعْضَهَا وَإِنْ قَلَّ فَإِنَّ الشَّخْصَ الْعَالِمَ بِمِائَةِ مَسْأَلَةٍ مِنْ أَدِلَّتِهَا سَوَاءٌ يَعْلَمُ كَوْنَهَا مِنْ الدِّينِ ضَرُورَةً أَوْ لَا يَعْلَمُ كَالْمَسَائِلِ الْغَرِيبَةِ الَّتِي فِي كِتَابِ الرَّهْنِ وَنَحْوِهِ لَا يُسَمَّى فَقِيهًا فَالْعِلْمُ بِوُجُوبِ الصَّلَاةِ وَالصَّوْمِ مِنْ الْفِقْهِ مَعَ أَنَّ الْعَالِمَ بِذَلِكَ وَحْدَهُ لَا يُسَمَّى فَقِيهًا كَالْعِلْمِ بِمِائَةِ مَسْأَلَةٍ غَرِيبَةٍ فَإِنَّهُ مِنْ الْفِقْهِ لَكِنَّ الْعَالِمَ بِهَا وَحْدَهَا لَيْسَ بِفَقِيهٍ فَلَا مَعْنَى لِإِخْرَاجِهِمَا مِنْهُ بِذَلِكَ الْعُذْرِ الْفَاسِدِ، ثُمَّ اعْلَمْ أَنَّهُ لَا يُرَادُ بِالْأَحْكَامِ الْكُلُّ؛ لِأَنَّ الْحَوَادِثَ لَا تَكَادُ تَتَنَاهَى، وَلَا ضَابِطَ يَجْمَعُ أَحْكَامَهَا، وَلَا يُرَادُ كُلُّ وَاحِدٍ لِوُجُودٍ لَا أَدْرِي، وَلَا بَعْضَ لَهُ نِسْبَةٌ مُعَيَّنَةٌ بِالْكُلِّ كَالنِّصْفِ أَوْ الْأَكْثَرِ لِلْجَهْلِ بِهِ، وَلَا التَّهَيُّؤُ لِلْكُلِّ إذْ التَّهَيُّؤُ الْبَعِيدُ قَدْ يُوجَدُ لِغَيْرِ الْفَقِيهِ وَالْقَرِيبُ مَجْهُولٌ غَيْرُ مُنْضَبِطٍ، وَلَا يُرَادُ أَنَّهُ يَكُونُ بِحَيْثُ يَعْلَمُ بِالِاجْتِهَادِ حُكْمَ كُلِّ وَاحِدٍ؛ لِأَنَّ الْعُلَمَاءَ الْمُجْتَهِدِينَ لَمْ يَتَيَسَّرْ لَهُمْ عِلْمُ بَعْضِ الْأَحْكَامِ مُدَّةَ حَيَاتِهِمْ كَأَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - لَمْ يَدْرِ الدَّهْرَ وَلِلْخَطَأِ فِي الِاجْتِهَادِ وَلِأَنَّ حُكْمَ بَعْضِ الْحَوَادِثِ رُبَّمَا يَكُونُ مِمَّا لَيْسَ لِلِاجْتِهَادِ فِيهِ مَسَاغٌ وَأَيْضًا لَا يَلِيقُ فِي الْحُدُودِ أَنْ يُذْكَرَ الْعِلْمُ وَيُرَادَ بِهِ تَهَيُّؤٌ مَخْصُوصٌ إذْ لَا دَلَالَةَ لِلَّفْظِ عَلَيْهِ أَصْلًا وَإِذَا عَرَفْت هَذَا فَلَا بُدَّ أَنْ يَكُونَ الْفِقْهُ عِلْمًا بِجُمْلَةٍ مُتَنَاهِيَةٍ مَضْبُوطَةٍ فَلِهَذَا قَالَ:

ــ

‌‌[التلويح]

الْمَجْمُوعُ، وَإِمَّا كُلُّ وَاحِدٍ، وَإِمَّا بَعْضٌ لَهُ نِسْبَةٌ مُعَيَّنَةٌ إلَى الْكُلِّ كَالنِّصْفِ أَوْ الْأَكْثَرِ كَالثُّلُثَيْنِ مَثَلًا، وَإِمَّا الْبَعْضُ مُطْلَقًا، وَإِنْ قَلَّ وَالْأَقْسَامُ بِأَسْرِهَا بَاطِلَةٌ، أَمَّا الْأَوَّلُ فَلِأَنَّ الْحَوَادِثَ، وَإِنْ كَانَتْ مُتَنَاهِيَةً فِي نَفْسِهَا بِانْقِضَاءِ دَارِ التَّكْلِيفِ إلَّا أَنَّهَا لِكَثْرَتِهَا وَعَدَمِ انْقِطَاعِهَا مَا دَامَتْ الدُّنْيَا غَيْرَ دَاخِلَةٍ تَحْتَ حَصْرِ الْحَاصِرِينَ وَضَبْطِ الْمُجْتَهِدِينَ، وَهُوَ الْمَعْنِيُّ بِقَوْلِهِ لَا تَكَادُ تَتَنَاهَى فَلَا يَعْلَمُ أَحْكَامَهَا جُزْئِيًّا فَجُزْئِيًّا لِعَدَمِ إحَاطَةِ الْبَشَرِ بِذَلِكَ وَلَا كُلِّيًّا تَفْصِيلِيًّا؛ لِأَنَّهُ لَا ضَابِطَ يَجْمَعُهَا لِاخْتِلَافِ الْحَوَادِثِ اخْتِلَافًا لَا يَدْخُلُ تَحْتَ الضَّبْطِ فَلَا يَكُونُ أَحَدٌ فَقِيهًا.

وَأَمَّا الثَّانِي فَلِأَنَّ بَعْضَ مَنْ هُوَ فَقِيهٌ بِالْإِجْمَاعِ قَدْ لَا يَعْرِفُ بَعْضَ الْأَحْكَامِ كَمَالِكٍ سُئِلَ عَنْ أَرْبَعِينَ مَسْأَلَةً فَقَالَ فِي سِتٍّ وَثَلَاثِينَ لَا أَدْرِي.

وَأَمَّا الثَّالِثُ فَلِأَنَّ الْكُلَّ مَجْهُولُ الْكَمِّيَّةِ وَالْجَهْلُ بِكَمِّيَّةِ الْكُلِّ يَسْتَلْزِمُ الْجَهْلَ بِكَمِّيَّةِ الْكُسُورِ الْمُضَافَةِ إلَيْهِ مِنْ النِّصْفِ وَغَيْرِهِ ضَرُورَةً وَبِهَذَا يَظْهَرُ أَنَّهُ لَا يَصِحُّ أَنْ يُرَادَ أَكْثَرُ الْأَحْكَامِ؛ لِأَنَّهُ عِبَارَةٌ عَمَّا فَوْقَ النِّصْفِ، وَهُوَ أَيْضًا مَجْهُولٌ.

وَأَمَّا الرَّابِعُ فَلِأَنَّهُ يَسْتَلْزِمُ أَنْ يَكُونَ الْعَالِمُ بِمَسْأَلَةٍ أَوْ مَسْأَلَتَيْنِ مِنْ الدَّلِيلِ فَقِيهًا وَلَيْسَ كَذَلِكَ اصْطِلَاحًا، وَهَذَا مَذْكُورٌ فِيمَا سَبَقَ فَلَمْ يُصَرِّحْ بِهِ هَاهُنَا، بَلْ أَشَارَ إلَيْهِ بِلَفْظِ " ثُمَّ " أَيْ بَعْدَمَا لَا يُرَادُ الْبَعْضُ، وَإِنْ قَلَّ لِإِيرَادِ الْكُلُّ إلَى آخِرِهِ وَهَاهُنَا بَحْثٌ، وَهُوَ أَنَّ مِنْ الْأَحْكَامِ مَا يَصِحُّ حَمْلُهُ عَلَى الْكُلِّ دُونَ كُلِّ وَاحِدٍ كَقَوْلِنَا كُلُّ الْقَوْمِ يَرْفَعُ هَذَا الْحَجَرَ لَا كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ وَمِنْهَا مَا هُوَ بِالْعَكْسِ كَقَوْلِنَا كُلُّ وَاحِدٍ مِنْ النَّاسِ يَكْفِيهِ هَذَا الطَّعَامُ لَا كُلُّ النَّاسِ وَمِنْهَا مَا لَا يَخْتَلِفُ كَقَوْلِنَا

আমি বলি, এই শর্তটি অনর্থক; কারণ আমরা এটি মেনে নেই না যে, যদি তিনি এই বিষয়গুলোকে বাদ না দিতেন, তবে সেই দুইটির (সালাত ও সাওম) আবশ্যকতা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তি ফকীহ হয়ে যেতেন। কেননা ‘আহকাম’ (বিধানাবলী) বলতে এর কিছু অংশকে বোঝানো হয়নি, তা পরিমাণে যত অল্পই হোক না কেন। কারণ যে ব্যক্তি তার দলিলসহ একশত মাসআলা জানেন—তা দ্বীনের স্বতঃসিদ্ধ বিষয় হিসেবে জানুন বা না জানুন, যেমন ‘কিতাবুর রাহন’ (বন্ধক অধ্যায়) বা এই জাতীয় বিষয়ের বিরল মাসআলাসমূহ—তাকে ফকীহ বলা হয় না। সুতরাং সালাত ও সাওমের আবশ্যকতা সম্পর্কে জ্ঞান ফিকহের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কেবল এ সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিকে ফকীহ বলা হয় না, যেমন একশত বিরল মাসআলার জ্ঞান ফিকহের অংশ হওয়া সত্ত্বেও কেবল সেগুলোর জ্ঞান রাখা ব্যক্তিকে ফকীহ বলা হয় না। অতএব, সেই অসার অজুহাতে এই দুইটিকে ফিকহ থেকে বের করে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এরপর জেনে রাখুন যে, ‘আহকাম’ দ্বারা সকল বিধান উদ্দেশ্য নয়; কেননা ঘটনাবলী প্রায় অসীম, আর সেগুলোর সমস্ত বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। আর প্রতিটি বিধান আলাদাভাবেও উদ্দেশ্য নয়, কারণ ‘আমি জানি না’ কথাটির অস্তিত্ব রয়েছে। আবার মোটের তুলনায় কোনো নির্দিষ্ট অনুপাতও উদ্দেশ্য নয়—যেমন অর্ধেক বা অধিকাংশ—কারণ মোট সংখ্যাটিই অজানা। এমনকি সবগুলোর জন্য প্রস্তুতি থাকাও উদ্দেশ্য নয়; কারণ ‘দূরবর্তী প্রস্তুতি’ (যোগ্যতা) একজন অ-ফকীহ ব্যক্তির মধ্যেও থাকতে পারে, আর ‘নিকটবর্তী প্রস্তুতি’ অজ্ঞাত এবং তা কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ডে আবদ্ধ নয়। আর এমনটিও উদ্দেশ্য নয় যে, তিনি এমন হবেন যে ইজতিহাদের মাধ্যমে প্রতিটি বিধান জেনে নিবেন; কারণ মুজতাহিদ আলেমগণের জন্য তাঁদের সারাজীবনে কিছু বিধানের জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয়নি; যেমন ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাঁর সমগ্র জীবনে অনেক বিষয় জানতেন না। এছাড়া ইজতিহাদে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং কিছু ঘটনার বিধান এমনও হতে পারে যেখানে ইজতিহাদ করার কোনো অবকাশ নেই। তাছাড়া সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ‘ইলম’ (জ্ঞান) শব্দ উল্লেখ করে তা দ্বারা ‘বিশেষ প্রস্তুতি’ উদ্দেশ্য নেওয়া সমীচীন নয়; কারণ শব্দটির মধ্যে এর স্বপক্ষে আদৌ কোনো প্রমাণ নেই। আপনি যখন এটি বুঝতে পারলেন, তখন নিশ্চিতভাবেই ফিকহ হতে হবে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল সমষ্টির জ্ঞান। এই কারণেই তিনি বলেছেন:

—

‌ ‌[আত-তালবীহ]

(হয়) সমষ্টি, অথবা এর প্রতিটি একক, অথবা মোটের সাথে নির্দিষ্ট অনুপাত রাখে এমন কোনো অংশ যেমন অর্ধেক অথবা দুই-তৃতীয়াংশের মতো অধিকাংশ, অথবা সাধারণভাবে যেকোনো অংশ যদিও তা সামান্য হয়। আর এই সকল প্রকারই বাতিল। প্রথম প্রকারের কারণ হলো, ঘটনাবলি যদিও তকলীফের জগৎ (দুনিয়া) শেষ হওয়ার মাধ্যমে সত্তাগতভাবে সসীম, তবুও দুনিয়া বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত এর আধিক্য ও অবিচ্ছিন্নতার কারণে তা গণনাকারীদের সীমাবদ্ধতার ভেতরে আসে না এবং মুজতাহিদদের আয়ত্তে থাকে না। আর এটিই তাঁর এই বক্তব্যের মর্ম যে, "এগুলো প্রায় শেষ হবার নয়"। ফলে এগুলোর বিধানসমূহ প্রতিটি পৃথক পৃথকভাবে জানা সম্ভব নয়, কারণ মানুষের পক্ষে তা পরিবেষ্টন করা অসম্ভব। আবার বিস্তারিতভাবে সামগ্রিক রূপেও তা জানা সম্ভব নয়; কারণ এমন কোনো মূলনীতি নেই যা এ সবগুলোকে একত্র করতে পারে, যেহেতু ঘটনাবলির ভিন্নতা এমন যা কোনো ধরাবাঁধা নিয়মের অধীনে আসে না। অন্যথায় কেউ ফকীহ হতে পারত না।

আর দ্বিতীয় প্রকারের কারণ হলো, সর্বসম্মতিক্রমে যিনি ফকীহ তিনিও কখনো কখনো কিছু বিধান জানেন না, যেমন ইমাম মালিক; তাকে চল্লিশটি মাসয়ালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ছত্রিশটি মাসয়ালার ক্ষেত্রে বলেছিলেন, "আমি জানি না"।

আর তৃতীয় কারণ হলো, যেহেতু সমষ্টির পরিমাণ অজ্ঞাত, আর কোনো কিছুর মূল পরিমাণের ব্যাপারে অজ্ঞতা আবশ্যকীয়ভাবেই তার সাথে সম্পর্কিত ভগ্নাংশসমূহ—যেমন অর্ধেক বা অন্যান্য অংশ—সেগুলোর পরিমাণ সম্পর্কেও অজ্ঞতা তৈরি করে। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, অধিকাংশ বিধান উদ্দেশ্য গ্রহণ করাও সঠিক নয়; কারণ এটি অর্ধেক অপেক্ষা বেশির অভিব্যক্তি মাত্র, যা নিজেও অজ্ঞাত।

আর চতুর্থ কারণটি হলো, এটি এমন বিষয়কে আবশ্যক করে যে, দলিলের মাধ্যমে একটি বা দুটি মাসআলা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিও ফকিহ হিসেবে গণ্য হবেন, অথচ পারিভাষিক দিক থেকে বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। এই বিষয়টি পূর্বেও উল্লেখ করা হয়েছে, তাই এখানে তিনি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি; বরং তিনি "অতঃপর" শব্দের মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন। অর্থাৎ কিছু অংশ উদ্দেশ্য না হওয়ার পর—যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়—যাতে সমষ্টিকে উপস্থাপন করা যায় শেষ পর্যন্ত। এখানে একটি পর্যালোচনা রয়েছে, আর তা হলো: বিধানসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা একক ব্যক্তি ব্যতীত সমষ্টির উপর প্রয়োগ করা সঠিক। যেমন আমাদের এই কথা বলা যে, "সম্প্রদায়ের সবাই মিলে এই পাথরটি উত্তোলন করছে", তাদের প্রত্যেকে আলাদা আলাদাভাবে নয়। আবার এর বিপরীতটিও হতে পারে, যেমন আমাদের এই কথা বলা যে, "মানুষের প্রত্যেকের জন্য এই খাবারটি যথেষ্ট", যা সকল মানুষের জন্য নয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে এর কোনো পার্থক্য হয় না, যেমন আমরা বলি...
(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
(بَلْ هُوَ الْعِلْمُ بِكُلِّ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الْعَمَلِيَّةِ الَّتِي قَدْ ظَهَرَ نُزُولُ الْوَحْيِ بِهَا وَاَلَّتِي انْعَقَدَ الْإِجْمَاعُ عَلَيْهَا مِنْ أَدِلَّتِهَا مَعَ مَلَكَةِ الِاسْتِنْبَاطِ الصَّحِيحِ مِنْهَا) فَالْمُعْتَبَرُ أَنْ يَعْلَمَ فِي أَيِّ وَقْتٍ كَانَ جَمِيعَ مَا قَدْ ظَهَرَ نُزُولُ الْوَحْيِ بِهِ فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ فَالصَّحَابَةُ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمْ - كَانُوا فُقَهَاءَ فِي وَقْتِ نُزُولِ بَعْضِ الْأَحْكَامِ بَعْدَهُ، ثُمَّ مَا لَمْ يَظْهَرْ نُزُولُ الْوَحْيِ بِهِ قَدْ لَا يَعْلَمُهُ الْفَقِيهُ وَالصَّحَابَةُ رضي الله عنهم لِعَرَبِيَّتِهِمْ كَانُوا عَالِمِينَ بِمَا ذَكَرَ وَلَمْ يُطْلَقْ الْفَقِيهُ إلَّا عَلَى الْمُسْتَنْبِطِينَ

ــ

‌‌[التلويح]

ضَرَبْت كُلَّ الْقَوْمِ أَوْ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ وَمَعْرِفَةُ الْأَحْكَامِ مِنْ هَذَا الْقَبِيلِ، إذْ مَعْرِفَةُ جَمِيعِ الْأَحْكَامِ مَعْرِفَةُ كُلِّ حُكْمٍ وَبِالْعَكْسِ، وَإِنْ الْتَزَمَ الْمُصَنِّفُ أَنَّ مَعْرِفَةَ جَمِيعِ الْأَحْكَامِ أَعَمُّ مِنْ مَعْرِفَةِ كُلِّ وَاحِدٍ أَوْ الْبَعْضِ فَقَطْ فَعَدَمُ تَنَاهِي الْحَوَادِثِ لَا يُنَافِي ذَلِكَ وَالظَّاهِرُ أَنَّهُ قَصَدَ بِالْكُلِّ مَجْمُوعَ الْأَحْكَامِ الْمَاضِيَةِ وَالْآتِيَةِ وَبِكُلِّ وَاحِدٍ مَا يَقَعُ وَيَدْخُلُ فِي الْوُجُودِ عَلَى التَّفْصِيلِ وَيَلْتَفِتُ إلَيْهِ ذِهْنُ الْمُجْتَهِدِينَ حَيْثُ عَلَّلَ عَدَمَ إرَادَةِ الْأَوَّلِ بِلَا تَنَاهِي الْحَوَادِثِ وَالثَّانِي بِثُبُوتٍ لَا أَدْرِي وَلَمَّا أَجَابَ ابْنُ الْحَاجِبِ بِأَنَّ الْمُرَادَ بِالْأَحْكَامِ الْمَجْمُوعُ، وَمَعْنَى الْعِلْمِ بِهَا التَّهَيُّؤُ لِذَلِكَ رَدَّهُ الْمُصَنِّفُ بِأَنَّ التَّهَيُّؤَ الْبَعِيدَ حَاصِلٌ لِغَيْرِ الْفَقِيهِ، وَالْقَرِيبُ غَيْرُ مَضْبُوطٍ، إذْ لَا يُعْرَفُ أَنَّ أَيَّ قَدْرٍ مِنْ الِاسْتِعْدَادِ يُقَالُ لَهُ التَّهَيُّؤُ الْقَرِيبُ وَلَمَّا فَسَّرَ التَّهَيُّؤَ بِكَوْنِ الشَّخْصِ بِحَيْثُ يَعْلَمُ بِالِاجْتِهَادِ حُكْمَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْ الْحَوَادِثِ لِاسْتِجْمَاعِهِ الْمَأْخَذَ وَالْأَسْبَابَ وَالشَّرَائِطَ الَّتِي يَتَمَكَّنُ بِهَا مِنْ تَحْصِيلِهَا وَيَكْفِيهِ الرُّجُوعُ إلَيْهَا فِي مَعْرِفَةِ الْأَحْكَامِ رَدَّهُ الْمُصَنِّفُ بِأَرْبَعَةِ أَوْجُهٍ يُمْكِنُ الْجَوَابُ عَنْهَا بِأَنَّا لَا نُسَلِّمُ أَنَّ عَدَمَ تَيَسُّرِ مَعْرِفَةِ بَعْضِ الْأَحْكَامِ لِبَعْضِ الْفُقَهَاءِ أَوْ الْخَطَأَ فِي الِاجْتِهَادِ يُنَافِي التَّهَيُّؤَ بِالْمَعْنَى الْمَذْكُورِ لِجَوَازِ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ لِتَعَارُضِ الْأَدِلَّةِ أَوْ وُجُودِ الْمَوَانِعِ أَوْ مُعَارَضَةِ الْوَهْمِ الْعَقْلِيِّ أَوْ مُشَاكَلَةِ الْحَقِّ الْبَاطِلَ وَنَحْوِ ذَلِكَ وَلَا نُسَلِّمُ أَنَّ شَيْئًا مِنْ الْأَحْكَامِ الَّتِي لَمْ يَرِدْ بِهَا نَصٌّ وَلَا إجْمَاعٌ يَكُونُ بِحَيْثُ لَا مَسَاغَ فِيهِ لِلِاجْتِهَادِ وَيَدُلُّ عَلَيْهِ حَدِيثُ مُعَاذٍ رضي الله عنه حَيْثُ اعْتَمَدَ الِاجْتِهَادَ بِرَأْيِهِ فِيمَا لَا يَجِدُ فِيهِ النَّصَّ وَلَمْ يَقُلْ النَّبِيُّ عليه السلام، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَحَلٌّ لِلِاجْتِهَادِ وَلَا نُسَلِّمُ أَنْ لَا دَلَالَةَ لِلَفْظِ الْعِلْمِ عَلَى التَّهَيُّؤِ الْمَخْصُوصِ فَإِنَّ مَعْنَاهُ مَلَكَةٌ يَقْتَدِرُ بِهَا عَلَى إدْرَاكِ جُزْئِيَّاتِ الْأَحْكَامِ، وَإِطْلَاقُ الْعِلْمِ عَلَيْهَا شَائِعٌ ذَائِعٌ فِي الْعُرْفِ كَقَوْلِهِمْ فِي تَعْرِيفِ الْعُلُومِ عِلْمُ كَذَا وَكَذَا فَإِنَّ الْمُحَقِّقِينَ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِهِ هَذِهِ الْمَلِكَةُ وَيُقَالُ لَهَا أَيْضًا الصِّنَاعَةُ لَا نَفْسُ الْإِدْرَاكِ وَكَقَوْلِهِمْ وَجْهُ الشَّبَهِ بَيْنَ الْعِلْمِ وَالْحَيَاةِ كَوْنُهُمَا جِهَتَيْ الْإِدْرَاكِ.

قَوْلُهُ، (بَلْ هُوَ الْعِلْمُ) تَعْرِيفٌ مُخْتَرَعٌ لِلْفِقْهِ بِحَيْثُ تَنْضَبِطُ مَعْلُومَاتُهُ وَالتَّقْيِيدُ بِكُلِّ الْأَحْكَامِ يَخْرُجُ بِهِ الْبَعْضُ إلَّا أَنَّهُ يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ إذَا ظَهَرَ نُزُولُ الْوَحْيِ بِحُكْمٍ أَوْ بِحُكْمَيْنِ فَالْعَالِمُ بِهِ مَعَ الْمَلَكَةِ الْمَذْكُورَةِ لَا يُسَمَّى فَقِيهًا وَإِذَا عَلِمَ ثَلَاثَةَ أَحْكَامٍ يُسَمَّى فَقِيهًا وَقَيَّدَ نُزُولَ الْوَحْيِ بِالظُّهُورِ احْتِرَازًا عَمَّا نَزَلَ بِهِ الْوَحْيُ وَلَمْ يُبَلَّغْ بَعْدُ فَلَيْسَ مِنْ شَرْطِ الْفَقِيهِ مَعْرِفَتُهُ.

قَوْلُهُ (مَعَ مَلَكَةِ الِاسْتِنْبَاطِ) أَيْ الْعِلْمِ بِمَا ذَكَرَ بِشَرْطِ كَوْنِهِ
(বরং তা হলো এমন সমস্ত ব্যবহারিক শারয়ি বিধানের জ্ঞান, যা ওহী অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে এবং যার ওপর দলিলের ভিত্তিতে ইজমা বা সর্বসম্মত ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সাথে তা থেকে সঠিক উপায়ে মাসআলা উদ্ভাবনের যোগ্যতাও অন্তর্ভুক্ত।) সুতরাং ধর্তব্য হলো, যেকোনো সময়ে সেই সময় পর্যন্ত ওহী অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে তার সবটুকুই অবগত থাকা। সাহাবীগণ—আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—কিছু বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকেই ফকিহ ছিলেন; অতঃপর ওহী না আসার কারণে যা প্রকাশ পায়নি, ফকিহ তা অবগত নাও থাকতে পারেন। সাহাবীগণ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—তাঁদের আরবি ভাষাগত পারদর্শিতার কারণে উল্লিখিত বিষয়সমূহ জানতেন; আর যারা বিধান উদ্ভাবন করতে পারতেন, কেবল তাঁদের ক্ষেত্রেই 'ফকিহ' শব্দটির প্রয়োগ হতো।

ــ

‌ ‌[আত-তালবিহ]

আমি পুরো সম্প্রদায়কে আঘাত করেছি অথবা তাদের প্রত্যেককে; আর বিধানসমূহের জ্ঞানও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। কেননা সকল বিধানের জ্ঞান রাখা হলো প্রতিটি বিধানের জ্ঞান রাখা এবং এর বিপরীতটিও সত্য। যদি গ্রন্থকার এই মত পোষণ করেন যে, সকল বিধানের জ্ঞান প্রতিটি বিধানের বা কেবল কিছু অংশের জ্ঞানের চেয়ে অধিক ব্যাপক, তবে ঘটনার অসীমতা তার পরিপন্থী নয়। প্রকাশ্যত তিনি 'কুল্ল' (সমষ্টি) দ্বারা অতীত ও ভবিষ্যৎ বিধানের সমষ্টি উদ্দেশ্য নিয়েছেন এবং 'প্রতিটি' দ্বারা বিস্তারিতভাবে যা অস্তিত্ব লাভ করে ও যা মুজতাহিদদের চিন্তায় আসে তা উদ্দেশ্য নিয়েছেন; যেহেতু তিনি প্রথমটি উদ্দেশ্য না হওয়ার কারণ হিসেবে ঘটনার অসীমতাকে এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে 'আমি জানি না' (লা আদরি) এর সাব্যস্ত হওয়াকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন। যখন ইবনুল হাজিব উত্তর দিলেন যে, বিধানসমূহ দ্বারা সমষ্টি উদ্দেশ্য এবং সেগুলোর জ্ঞানের অর্থ হলো তার জন্য প্রস্তুতি, তখন গ্রন্থকার তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন যে, দূরবর্তী প্রস্তুতি ফকিহ নন এমন ব্যক্তির জন্যও হাসিল হয় এবং নিকটবর্তী প্রস্তুতি সুনির্দিষ্ট নয়; কারণ প্রস্তুতির কোন মাত্রাকে নিকটবর্তী প্রস্তুতি বলা হবে তা জানা নেই। যখন প্রস্তুতির ব্যাখ্যা এভাবে করা হলো যে, কোনো ব্যক্তির এমন অবস্থায় থাকা যাতে তিনি ইজতিহাদের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনার বিধান জানতে পারেন, কারণ তার মধ্যে উৎস, মাধ্যম ও শর্তসমূহ একত্রিত হয়েছে যা তাকে তা অর্জনে সক্ষম করে তোলে এবং বিধানসমূহ জানার ক্ষেত্রে এগুলোর দিকে ফিরে যাওয়াই তার জন্য যথেষ্ট; তখন গ্রন্থকার একে চারটি দিক থেকে প্রত্যাখ্যান করেন। তবে এগুলোর উত্তর এভাবে দেওয়া সম্ভব যে, আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে, কোনো কোনো ফকিহ-র জন্য কিছু বিধান জানা সহজ না হওয়া অথবা ইজতিহাদে ভুল হওয়া উল্লিখিত অর্থে প্রস্তুতির পরিপন্থী। কেননা এটি দলিলের পারস্পরিক বিরোধিতা, প্রতিবন্ধকের উপস্থিতি, বুদ্ধিদীপ্ত সংশয় বা সত্য ও মিথ্যার সাদৃশ্যের কারণে হতে পারে। আর আমরা এটিও স্বীকার করি না যে, যে সকল বিধানের ক্ষেত্রে কোনো নস বা ইজমা নেই, সেগুলোতে ইজতিহাদের কোনো সুযোগ নেই। এর প্রমাণ হলো মুয়াজ (রা.)-এর হাদিস, যেখানে তিনি নস না পাওয়া বিষয়ে নিজের মতের ভিত্তিতে ইজতিহাদের ওপর নির্ভর করেছিলেন; আর নবী (সা.) এটি বলেননি যে, 'যদি সেখানে ইজতিহাদের কোনো ক্ষেত্র না থাকে তবে কী হবে?' আমরা এটিও মানি না যে, 'ইলম' (জ্ঞান) শব্দটি বিশেষ প্রস্তুতির ওপর প্রমাণ বহন করে না। কারণ এর অর্থ হলো এমন এক 'মালাকা' (যোগ্যতা) যার মাধ্যমে বিধানসমূহের বিস্তারিত অংশগুলো অনুধাবন করতে সক্ষম হওয়া যায়। এর ওপর 'ইলম' শব্দের প্রয়োগ প্রচলিত প্রথা বা উরফে অত্যন্ত সুপরিচিত; যেমন বিভিন্ন শাস্ত্রের সংজ্ঞায় বলা হয় 'অমুক অমুক শাস্ত্রের ইলম'। কেননা গবেষক আলেমদের মতে এর দ্বারা উক্ত 'মালাকা' বা যোগ্যতাই উদ্দেশ্য। একে 'সিনাআত' (শিল্প)ও বলা হয়ে থাকে, এটি নিছক উপলব্ধির নাম নয়। যেমন তাদের বক্তব্য—ইলম ও জীবনের মধ্যে সাদৃশ্যের দিক হলো উভয়ই উপলব্ধির ক্ষেত্র হওয়া।

তাঁর উক্তি, (বরং তা হলো ইলম বা জ্ঞান) এটি ফিকহশাস্ত্রের জন্য উদ্ভাবিত একটি সংজ্ঞা, যার মাধ্যমে এর বিষয়বস্তুসমূহ সুশৃঙ্খল হয়। এবং "সকল বিধানের" মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করার দ্বারা আংশিক বিধান বের হয়ে যায়, তবে এটি নির্দেশ করে যে, যখন একটি বা দুটি বিধানের ওহী নাযিল হওয়া প্রকাশ পায়, তখন উল্লিখিত যোগ্যতার (মালাকাহ) অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও সেই বিষয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিকে ফকিহ বলা হবে না। আর যখন তিনি তিনটি বিধান জানবেন, তখন তাকে ফকিহ বলা হবে। এবং ওহী নাযিল হওয়াকে "প্রকাশিত হওয়ার" সাথে শর্তযুক্ত করেছেন ওই ওহী থেকে বেঁচে থাকার জন্য যা নাযিল হয়েছে কিন্তু এখনও পৌঁছানো হয়নি; কারণ তা জানা ফকিহ হওয়ার শর্ত নয়।

তাঁর উক্তি (উদ্ঘাটনের যোগ্যতার সাথে) অর্থাৎ উল্লিখিত বিষয়গুলো জানার সাথে শর্ত হলো যে

(খণ্ড: ১) আত-তালবীহ আলাত তাওদীহ লিমাতনিত তানকীহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
مِنْهُمْ وَعِلْمُ الْمَسَائِلِ الْإِجْمَاعِيَّةِ يُشْتَرَطُ إلَّا فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَدَمِ الْإِجْمَاعِ فِي زَمَنِهِ لَا الْمَسَائِلُ الْقِيَاسِيَّةُ لِلدَّوْرِ، بَلْ يُشْرَطُ مَلَكَةُ الِاسْتِنْبَاطِ الصَّحِيحِ هُوَ أَنْ يَكُونَ مَقْرُونًا

ــ

‌‌[التلويح]

مَقْرُونًا بِمَلَكَةِ اسْتِنْبَاطِ الْفُرُوعِ الْقِيَاسِيَّةِ مِنْ تِلْكَ الْأَحْكَامِ أَوْ اسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ مِنْ أَدِلَّتِهَا حَتَّى إنَّ الْعِلْمَ بِالْحُكْمِ بِمُجَرَّدِ سَمَاعِ النَّصِّ لِلْعِلْمِ بِاللُّغَةِ مِنْ غَيْرِ اقْتِدَارٍ عَلَى النَّظَرِ وَالِاسْتِدْلَالِ لَا يُعَدُّ مِنْ الْفِقْهِ وَالْأَوَّلُ أَوْجَهُ.

قَوْلُهُ (لَا الْمَسَائِلُ الْقِيَاسِيَّةُ) أَيْ لَا يُشْتَرَطُ فِي الْفَقِيهِ الْعِلْمُ بِالْمَسَائِلِ الْقِيَاسِيَّةِ؛ لِأَنَّهَا نَتِيجَةُ الْفَقَاهَةِ وَالِاجْتِهَادِ لِكَوْنِهَا فُرُوعًا مُسْتَنْبَطَةً بِالِاجْتِهَادِ فَيَتَوَقَّفُ الْعِلْمُ بِهَا عَلَى كَوْنِ الشَّخْصِ فَقِيهًا فَلَوْ تَوَقَّفَتْ الْفَقَاهَةُ عَلَيْهَا لَزِمَ الدَّوْرُ، فَإِنْ قِيلَ هَذَا إنَّمَا يَسْتَقِيمُ فِي أَوَّلِ الْقَائِسِينَ.

وَأَمَّا مَنْ بَعْدَهُ فَيَجُوزُ أَنْ يُشْتَرَطَ فِيهِ الْعِلْمُ بِالْمَسَائِلِ الْقِيَاسِيَّةِ الَّتِي اسْتَنْبَطَهَا الْمُجْتَهِدُ الْأَوَّلُ مِنْ غَيْرِ لُزُومِ دَوْرٍ قُلْنَا لَا يَجُوزُ لِلْمُجْتَهِدِ التَّقْلِيدُ، بَلْ يَجِبُ عَلَيْهِ أَنْ يَعْرِفَ الْمَسَائِلَ الْقِيَاسِيَّةَ بِاجْتِهَادِهِ فَلَوْ اُشْتُرِطَ الْعِلْمُ بِهَا لَزِمَ الدَّوْرُ نَعَمْ يُشْتَرَطُ أَنْ يَعْرِفَ أَقْوَالَ الْمُجْتَهِدِينَ فِي الْمَسَائِلِ الْقِيَاسِيَّةِ لِئَلَّا يَقَعَ فِي مُخَالَفَةِ الْإِجْمَاعِ، فَإِنْ قِيلَ الْمَسَائِلُ الْقِيَاسِيَّةُ مِمَّا ظَهَرَ نُزُولُ الْوَحْيِ بِهَا، إذْ الْقِيَاسُ مُظْهِرٌ لَا مُثْبِتٌ فَيُشْتَرَطُ لِلْمُجْتَهِدِ الْأَخِيرِ الْعِلْمُ بِهَا قُلْنَا نُزُولُ الْوَحْيِ بِهَا إنَّمَا ظَهَرَ لِلْمُجْتَهِدِ السَّابِقِ لَا فِي الْوَاقِعِ وَلَا عِنْدَ الْمُجْتَهِدِ الثَّانِي وَلَيْسَ لَهُ تَقْلِيدُ الْأَوَّلِ فَلَا يُشْتَرَطُ لَهُ مَعْرِفَتُهُ وَيُمْكِنُ أَنْ يُرَادَ مَا ظَهَرَ نُزُولُ الْوَحْيِ بِهِ لَا يَتَوَسَّطُ الْقِيَاسُ، ثُمَّ هَاهُنَا أَبْحَاثٌ الْأَوَّلُ أَنَّ الْمَقْصُودَ تَعْرِيفُ الْفِقْهِ الْمُصْطَلَحُ بَيْنَ الْقَوْمِ، وَهُوَ عِنْدَهُمْ اسْمٌ لِعِلْمٍ مَخْصُوصٍ مُعَيَّنٍ كَسَائِرِ الْعُلُومِ وَعَلَى مَا ذَكَرَهُ الْمُصَنِّفُ هُوَ اسْمٌ لِمَفْهُومٍ كُلِّيٍّ يَتَبَدَّلُ بِحَسَبِ الْأَيَّامِ وَالْأَعْصَارِ فَيَوْمًا يَكُونُ عِلْمًا بِجُمْلَةٍ مِنْ الْأَحْكَامِ وَيَوْمًا بِأَكْثَرَ وَأَكْثَرَ وَهَكَذَا يَتَزَايَدُ إلَى انْقِرَاضِ زَمَنِ النَّبِيِّ عليه السلام، ثُمَّ أَخَذَ يَتَزَايَدُ بِحَسَبِ الْأَعْصَارِ وَانْعِقَادِ الْإِجْمَاعَاتِ وَأَيْضًا يَنْتَقِصُ بِحَسَبِ النَّوَاسِخِ وَالْإِجْمَاعِ عَلَى خِلَافِ أَخْبَارِ الْآحَادِ. الثَّانِي أَنَّ التَّعْرِيفَ لَا يَصْدُقُ عَلَى فِقْهِ الصَّحَابَةِ فِي زَمَنِ النَّبِيِّ عليه السلام لِعَدَمِ الْإِجْمَاعِ فِي زَمَانِهِ وَكَأَنَّهُ أَرَادَ أَنَّهُ الْعِلْمُ بِمَا ظَهَرَ نُزُولُ الْوَحْيِ بِهِ فَقَطْ إنْ لَمْ يَكُنْ إجْمَاعٌ وَبِهِ وَبِمَا انْعَقَدَ عَلَيْهِ الْإِجْمَاعُ إنْ كَانَ وَمِثْلُهُ فِي التَّعْرِيفَاتِ بَعِيدٌ. الثَّالِثُ أَنَّهُ يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ الْعِلْمُ بِالْأَحْكَامِ الْقِيَاسِيَّةِ خَارِجًا عَنْ الْفِقْهِ، وَذَلِكَ عِنْدَهُمْ مُعْظَمُ مَسَائِلِ الْفِقْهِ اللَّهُمَّ إلَّا أَنْ يُقَالَ إنَّهُ فِقْهٌ بِالنِّسْبَةِ إلَى مَنْ أَدَّى إلَيْهِ اجْتِهَادُهُ، إذْ قَدْ ظَهَرَ عَلَيْهِ نُزُولُ الْوَحْيِ بِهِ وَحِينَئِذٍ يَكُونُ الْفِقْهُ بِالنِّسْبَةِ إلَى كُلِّ مُجْتَهِدٍ شَيْئًا آخَرَ. الرَّابِعُ أَنَّهُ إنْ أُرِيدَ بِظُهُورِ نُزُولِ الْوَحْيِ لِظُهُورٍ فِي الْجُمْلَةِ فَكَثِيرٌ مِنْ فُقَهَاءِ الصَّحَابَةِ لَمْ يَعْرِفُوا كَثِيرًا مِنْ الْأَحْكَامِ الَّتِي ظَهَرَ نُزُولُ الْوَحْيِ بِهَا عَلَى بَعْضِ الصَّحَابَةِ كَمَا رَجَعُوا فِي كَثِيرٍ مِنْ الْوَقَائِعِ إلَى عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا - وَلَمْ يَقْدَحْ ذَلِكَ فِي فَقَاهَتِهِمْ، وَإِنْ أُرِيدَ الظُّهُورُ عَلَى الْأَعَمِّ الْأَغْلَبِ فَهُوَ غَيْرُ مَضْبُوطٍ لِكَثْرَةِ الرُّوَاةِ وَتَفَرُّقِهِمْ فِي الْأَسْفَارِ وَالْأَشْغَالِ وَلَوْ سُلِّمَ فَيَلْزَمُ أَنْ لَا يَكُونَ الْعِلْمُ بِالْحُكْمِ الَّذِي يَرْوِيهِ الْآحَادُ مِنْ الْفِقْهِ حَتَّى يَصِيرَ
তাদের মধ্য থেকে; এবং ঐকমত্যপূর্ণ মাসআলাসমূহের জ্ঞান থাকা শর্ত, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য নয়, কারণ তাঁর যুগে ইজমা বা ঐকমত্যের অস্তিত্ব ছিল না। তবে কিয়াসী (অনুমানলব্ধ) মাসআলাসমূহের জ্ঞান শর্ত নয়, অন্যথায় 'দাওর' বা চক্রক অনিবার্য হবে। বরং শর্ত হলো সঠিক উদ্ভাবনী শক্তি বা ইস্তিনবাতের যোগ্যতা থাকা, যা সংশ্লিষ্ট হবে...

—

‌ ‌[আত-তালবীহ]

সেই সব বিধান থেকে কিয়াসী শাখা-প্রশাখা উদ্ভাবনের যোগ্যতার সাথে, অথবা দলিলসমূহ থেকে বিধানসমূহ উদ্ভাবনের যোগ্যতার সাথে। এমনকি কেবল ভাষা সম্পর্কে জ্ঞানের কারণে নস বা মূল পাঠ শুনেই কোনো বিধান জেনে নেওয়াকে ফিকহ হিসেবে গণ্য করা হবে না, যদি তাতে চিন্তা-গবেষণা এবং দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার সামর্থ্য না থাকে। আর প্রথম মতটিই অধিকতর অগ্রগণ্য।

তাঁর উক্তি (কিয়াসী মাসআলাসমূহ নয়) অর্থাৎ একজন ফকীহের জন্য কিয়াসী মাসআলাসমূহের জ্ঞান থাকা শর্ত নয়; কারণ এগুলো হলো ফিকহী প্রজ্ঞা ও ইজতিহাদের ফলাফল, যেহেতু এগুলো ইজতিহাদের মাধ্যমে উদ্ভাবিত শাখা-প্রশাখা। সুতরাং এই মাসআলাগুলোর জ্ঞান থাকা ব্যক্তির ফকীহ হওয়ার ওপর নির্ভরশীল। এখন যদি ফকীহ হওয়া এই মাসআলাগুলোর জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে তা 'দাওর' বা চক্রক সৃষ্টি করবে। যদি বলা হয় যে, এটি কেবল প্রথম কিয়াসকারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

আর তার পরের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, প্রথম মুজতাহিদ কর্তৃক উদ্ভাবিত কিয়াসি মাসআলাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা শর্ত করা জায়েয হতে পারে, যাতে কোনো চক্রাকার আবর্তন লাজিম না হয়। আমরা বলি যে, মুজতাহিদের জন্য তাকলীদ করা জায়েয নয়, বরং তার জন্য নিজের ইজতিহাদের মাধ্যমে কিয়াসি মাসআলাসমূহ জানা ওয়াজিব। সুতরাং যদি পূর্ববর্তী মাসআলাগুলোর জ্ঞান থাকা শর্ত করা হয়, তবে চক্রাকার আবর্তন লাজিম হবে। হ্যাঁ, কিয়াসি মাসআলাসমূহে মুজতাহিদগণের বক্তব্যসমূহ জানা শর্ত, যাতে ইজমার বিরোধিতা সংঘটিত না হয়। যদি বলা হয় যে, কিয়াসি মাসআলাসমূহ এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা ওহী নাযিল হওয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, কারণ কিয়াস তো কেবল প্রকাশকারী, সাব্যস্তকারী নয়; সুতরাং পরবর্তী মুজতাহিদের জন্য সে সম্পর্কে জ্ঞান রাখা শর্ত। আমরা বলি যে, সেগুলোর ব্যাপারে ওহী নাযিল হওয়া কেবল পূর্ববর্তী মুজতাহিদের নিকটই প্রকাশ পেয়েছে, বাস্তবে বা দ্বিতীয় মুজতাহিদের নিকট নয়। আর তার জন্য প্রথম মুজতাহিদের তাকলীদ করা জায়েয নয়, তাই তার জন্য সেটি জানা শর্ত নয়। আর এটাও উদ্দেশ্য হওয়া সম্ভব যে, যা ওহী নাযিলের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে তাতে কিয়াসের মধ্যস্থতা নেই। অতঃপর এখানে কিছু আলোচনা রয়েছে: প্রথমত, উদ্দেশ্য হলো আলিমগণের পরিভাষায় ফিকহ-এর সংজ্ঞা প্রদান করা, যা তাদের নিকট অন্যান্য ইলমের ন্যায় একটি বিশেষ ও নির্দিষ্ট ইলমের নাম। আর গ্রন্থকার যা উল্লেখ করেছেন, সে অনুযায়ী এটি একটি সামগ্রিক ধারণার নাম যা দিন ও যুগের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়। কোনো দিন তা একগুচ্ছ বিধানের ইলম হয়, আবার কোনো দিন তার চেয়েও বেশি, আর এভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ শেষ হওয়া পর্যন্ত তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। অতঃপর তা বিভিন্ন যুগ এবং ইজমা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। তদ্রূপ নাসেখ এবং আখবারে আহাদের বিপরীতে ইজমা সংঘটিত হওয়ার কারণে তা হ্রাসও পায়। দ্বিতীয়ত, এই সংজ্ঞা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সাহাবায়ে কিরামের ফিকহ-এর ওপর প্রযোজ্য হয় না, কারণ তাঁর যুগে ইজমা ছিল না। যেন তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, যদি ইজমা না থাকে তবে কেবল যার ব্যাপারে ওহী নাযিল হওয়া প্রকাশ পেয়েছে তার ইলম, আর যদি ইজমা থাকে তবে ওহী এবং যার ওপর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার ইলম। সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এমনটি হওয়া সুদূরপরাহত। তৃতীয়ত, এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় যে কিয়াসি বিধানসমূহের জ্ঞান ফিকহ-এর বহির্ভূত হবে, অথচ তাদের নিকট এগুলোই ফিকহ-এর অধিকাংশ মাসআলা। তবে হ্যাঁ, যদি এটি বলা হয় যে, এটি কেবল সেই ব্যক্তির সাপেক্ষে ফিকহ যার ইজতিহাদ তাকে সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিয়েছে, যেহেতু তার নিকট সে বিষয়ে ওহী নাযিল হওয়া প্রকাশ পেয়েছে। এমতাবস্থায় ফিকহ প্রত্যেক মুজতাহিদের সাপেক্ষে ভিন্ন ভিন্ন কিছু হবে। চতুর্থত, যদি ওহী নাযিল হওয়া প্রকাশ পাওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হয় সামগ্রিকভাবে প্রকাশ পাওয়া, তবে সাহাবায়ে কিরামের অনেক ফকীহ এমন অনেক বিধান জানতেন না যা অন্য কিছু সাহাবীর নিকট ওহীর মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল; যেমন তারা অনেক ঘটনার ক্ষেত্রে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার শরণাপন্ন হতেন, অথচ এটি তাদের ফকীহ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করেনি। আর যদি অধিকাংশের নিকট প্রকাশ পাওয়া উদ্দেশ্য হয়, তবে রাবীদের আধিক্য এবং সফর ও অন্যান্য ব্যস্ততায় তাদের ছড়িয়ে পড়ার কারণে তা সুনির্দিষ্ট নয়। আর যদি এটি মেনেও নেওয়া হয়, তবে এমন বিধানের জ্ঞান ফিকহ-এর অন্তর্ভুক্ত না হওয়া লাজিম আসবে যা কেবল একক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যতক্ষণ না তা সুপ্রসিদ্ধ হয়।